(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: -)
مرويات المزاح والدعابة عن النبي - صلى الله عليه وسلم - والصحابة   (فهد بن مقعد العتيبي)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: مرويات المزاح والدعابة عن النبي - صلى الله عليه وسلم - والصحابة

المؤلف: فهد بن مقعد النفيعي العتيبي

تقديم: د. باسم فيصل الجوابرة، الشيخ عبد المحسن بن ناصر العبيكان

الناشر: دار بلنسية - الرياض

الطبعة: الأولى، 1424 هـ

عدد الصفحات: 115

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 ربيع الآخر 1443

নবী -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এবং সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত রসিকতা ও কৌতুক বিষয়ক বর্ণনাসমূহ   (ফাহাদ বিন মাকআদ আল-উতাইবী)

বিভাগ: তাখরীজ ও আতরাফ


গ্রন্থ: নবী -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এবং সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত রসিকতা ও কৌতুক বিষয়ক বর্ণনাসমূহ

লেখক: ফাহাদ বিন মাকআদ আন-নুফাইয়ি আল-উতাইবী

ভূমিকা: ড. বাসিম ফয়সাল আল-জাওয়াবিরাহ, শাইখ আব্দুল মুহসিন বিন নাসের আল-উবাইকান

প্রকাশক: দার বালানসিয়াহ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১)
مرويات المزاح والدعابة عن النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة

 

تقديم

د. باسم فيصل الجوابرة

فضيلة الشيخ عبد المحسن بن ناصر العبيكان

 

تأليف

فهد بن مقعد النفيعي العتيبي

 

دار بلنسية
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবীগণের কৌতুক ও রসিকতা সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো

 

উপস্থাপনায়

ড. বাসিম ফয়সাল আল-জাওয়াবিরাহ

ফযীলাতুশ শায়খ আব্দুল মুহসিন বিন নাসির আল-উবাইকান

 

রচনা

ফাহাদ বিন মাকআদ আন-নুফাইয়ি আল-উতয়াইবি

 

দারু বালাঁসিয়া
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أفضل الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، أما بعد:

فقد اطلعت على كتاب مرويات المزاح والدعابة عن النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة، فوجدته كتاباً مفيداً جمع فيه الأخ فهد الأحاديث والآثار في المزاح والدعابة وبذل فيه جهداً مشكوراً، فجزاه الله خير الجزاء، وجعله في موازين أعماله.

 

د. باسم فيصل الجوابرة

الأستاذ بكلية أصول الدين

قسم السنة

الرياض 4/ 8/ 1420 هـ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে সর্বোত্তম সত্তার ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর। অতঃপর:

আমি 'নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সাহাবীগণের কৌতুক ও রসিকতা সম্পর্কিত বর্ণনা' নামক বইটি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং একে একটি উপকারী গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি, যেখানে ভাই ফাহাদ কৌতুক ও রসিকতা বিষয়ক হাদীস ও আছারসমূহ সংকলন করেছেন এবং এতে প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং একে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করুন।

 

ড. বাসিম ফয়সাল আল-জাওয়াবেরা

উসূলুদ্দীন অনুষদের অধ্যাপক

সুন্নাহ বিভাগ

রিয়াদ ৪/ ৮/ ১৪২০ হিজরী
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، أما بعد.

فقد اطلعت على الرسالة المسماة مرويات المزاح والدعابة عن النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة، والتي قام بتأليفها الأخ الشيخ فهد بن مقعد العتيبي، ولقد أجاد وأفاد وبلغ الغاية في المراد.

فنسأل الله لنا وله التوفيق والسداد والإعانة من رب العباد والسير على نهج خير هاد، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

 

كتبه الفقير إلى الله عز شأنه

عبد المحسن بن ناصر العبيكان
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। অতঃপর:

আমি "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত কৌতুক ও রসিকতা সংক্রান্ত বর্ণনাধারা" নামক পুস্তিকাটি পর্যবেক্ষণ করেছি, যা ভ্রাতৃপ্রতিম শায়খ ফাহাদ বিন মাকআদ আল-উতাইবী রচনা করেছেন। তিনি অত্যন্ত চমৎকার ও ফলপ্রসূ কাজ করেছেন এবং উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে উপনীত হয়েছেন।

আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের এবং তাঁর জন্য তাওফিক, সঠিক পথনির্দেশনা ও বান্দাদের রবের পক্ষ থেকে সাহায্য এবং সর্বোত্তম পথপ্রদর্শকের আদর্শের ওপর চলার প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীবর্গের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

 

সুমহান মর্যাদার অধিকারী আল্লাহর মুখাপেক্ষী কর্তৃক লিখিত:

আবদুল মুহসিন বিন নাসির আল-উবাইকান
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، مَن يهده الله فلا مضل له، ومَن يضلل فلا هادي له، وأشهد ألَّا إله إلَّا الله، وأشهد أنَّ محمدًا عبده ورسوله.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71].

أمَّا بعد؛ فإن خير الكلام كلام الله، وخير الهدي هدي محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة في دين الله بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অকল্যাণ এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।” [আল-ইমরান: ১০২]।

“হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে নিজেদের অধিকার দাবি করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।” [আন-নিসা: ১]।

“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য লাভ করবে।” [আল-আহজাব: ৭০, ৭১]।

অতঃপর; নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ। প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وبعد:

فإن الله عز وجل بعث أنبياءً ورسلًا إلى أُممهم، فأدَّى كل نبي رسالته أكمل أداء، وعلى أتم وجه، فمنهم مَن أثْمَرَت دعوته وهو بين ظهرانيهم، ومنهم من جعل بينه وبين إتمام دعوته عوائق من فعل أشقياء قومه، ومنهم من انتقم الله عز وجل له من قومه، ومنهم. . . . .، ومنهم. . .

ثم ختمهم بمحمد صلى الله عليه وسلم، فاختصه بمنزلة رفيعة فجعله آخرهم وخاتمهم وأفضلهم، وجعل شرعه ودعوته ودينه أكمل الأديان والشرائع، ومهيمنًا عليها، ثم جعل أنصاره وأصحابه أفضل الأمم قاطبة، لكمال متابعتهم له، واقتدائهم به، فما مِن خيرٍ إلَّا حثَّ أمَّته عليه، وما مِن شرٍّ إلَّا حذَّرَهَا منه، فصار هديه أكمل الهدي، وصار أتباعه مُبَلِّغين لهديه إلى مَن بعدهم، وما ذاك إلَّا لمَّا رأوا من حُسن سياسته لهم وجميل معاملته إياهم، وكريم أخلاقه وطيب شمائله، والنفوس مجبولة على حب مَن حسنت معاشرته وصحبته، كيف لا ورب العالمين عز وجل يقول: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ}، فمِن رحمة الله عز وجل لهذه الأمة أن جعل نبيها أكمل الناس خُلُقًا، وأليَنَهم جانِبًا، وأكثرهم تحمُّلًا، وأسهلهم أخلاقًا، فكل هدي دون هديه، وكل خُلُق دون خلقه، وما امتداح
অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল তাঁর উম্মতদের নিকট নবী ও রাসূলদের প্রেরণ করেছেন, ফলে প্রত্যেক নবীই তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব পূর্ণতমভাবে এবং সর্বোত্তম উপায়ে আঞ্জাম দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ এমন ছিলেন যাঁর দাওয়াত তাঁর উপস্থিতিতেই ফলপ্রসূ হয়েছিল, আবার কারো কারো দাওয়াত পূর্ণ হওয়ার পথে তাঁর সম্প্রদায়ের দুর্ভাগা লোকদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। আবার আল্লাহ আযযা ওয়া জাল তাঁদের কারো কারো পক্ষে তাঁদের কওমের ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ করেছেন, এবং তাঁদের মধ্যে কেউ... এবং তাঁদের মধ্যে কেউ...

অতঃপর তিনি তাঁদের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে, এবং তাঁকে এক সুউচ্চ মর্যাদায় ভূষিত করেছেন, তাঁকে করেছেন তাঁদের সর্বশেষ, পরিসমাপ্তি দানকারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ। আর তাঁর শরীয়ত, দাওয়াত ও দীনকে করেছেন সকল দীন ও শরীয়তের মধ্যে পূর্ণতম এবং সেগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী। এরপর তিনি তাঁর সাহায্যকারী ও সাহাবীগণকে সমগ্র উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠতর করেছেন, তাঁর পূর্ণ আনুগত্য এবং তাঁর যথাযথ অনুকরণের কারণে। সুতরাং এমন কোনো কল্যাণ নেই যার প্রতি তিনি তাঁর উম্মতকে উৎসাহিত করেননি, এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি তাদের সতর্ক করেননি। ফলে তাঁর হেদায়েত হয়েছে পূর্ণতম হেদায়েত, এবং তাঁর অনুসারীরা তাঁর এই হেদায়েতকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছেদানকারীতে পরিণত হয়েছেন। আর এটি সম্ভব হয়েছে কেবল তাঁদের প্রতি তাঁর উত্তম পরিচালনা, সুন্দর আচরণ, মহান চরিত্র ও পবিত্র গুণাবলীর কারণে। আর মানুষের অন্তরসমূহ স্বভাবগতভাবেই তাকে ভালোবাসে যার সাহচর্য ও মেলামেশা সুন্দর হয়। কেনই বা হবে না, যখন রাব্বুল আলামীন আযযা ওয়া জাল বলছেন: “আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন। যদি আপনি রূঢ় ও কঠোর চিত্ত হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত।” সুতরাং এই উম্মতের প্রতি আল্লাহ আযযা ওয়া জালের এটি একটি বিশেষ রহমত যে, তিনি তাদের নবীকে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী, সর্বাধিক নম্র স্বভাবের, সর্বাধিক ধৈর্যশীল এবং সর্বাধিক সহজ আচরণের অধিকারী করেছেন। ফলে তাঁর হেদায়েতের নিচে অন্য সকল হেদায়েত, এবং তাঁর চরিত্রের নিচে অন্য সকল চরিত্র। আর তাঁর প্রশংসা...
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
الله عز وجل له بخاف على كل ذي لب، قال تعالى: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم: 4]، وتع: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} [التوبة: 128].

فمِن رأفته ورحمته: إيناسه لأصحابه ومباسطته إياهم، ومداعبته لهم لتقوى الآصِرَةُ بينه وبينهم، وليكون أنموذجًا لكمال الصحبة. فكان ذلك حتى أحبوه أشد من حبهم لأبنائهم وأموالهم بل ومن أنفسهم. فقبلوا قوله وفعله وأمره ونهيه وصدَّقُوه في كُلٍّ، ثم حملوا رسالته وانتهجوا نهجه في كل صغير وكبير فكانوا بذلك خير الناس، فإنه لما كَمُلَت بنبيهم القدوة، شرف به الاقتداء، ومع ذلك لم يحبسوا هذا الخير لأنفسهم، بل بلغوه من وراءهم، ولم يكتموا شيئًا، فقبل مَن بعدهم بلاغهم لأنهم «أي صحابته» أعلم الخلق بدين الله عز وجل بعد نبيهم صلى الله عليه وسلم، وآمنهم على شرعه، فهم خير قرن، وخير صحب، وخير رعيل، فأخذوا الدين صافيًا فبلغوه كما أخذوه.

ثم أتت بعدهم قرون تترا منهم مَن سلك سبيلهم حذوا القذّة بالقذّة فوفِّق لكل خير؛ ومنهم مَن خالف هَديهم، فَتَشَعَّبَت به الطُّرُق. وما ذاك إلَّا بالخروج عن هدي النبي صلى الله عليه وسلم وسنته {جَزَاءً وِفَاقًا} فعبد الله بما لم يشرع ودَعَوْا إليه بما لم يأذن به. فلم
মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহর রাসুলের মর্যাদা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছেই অস্পষ্ট নয়। মহান আল্লাহ বলেন: "এবং নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।" [আল-কালাম: ৪]। এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন। তোমাদের যে কষ্ট হয় তা তাঁর কাছে পীড়াদায়ক; তিনি তোমাদের অতিশয় হিতাকাঙ্ক্ষী, মুমিনদের প্রতি তিনি পরম স্নেহশীল ও দয়ালু।" [আত-তাওবাহ: ১২৮]।

তাঁর এই স্নেহ ও দয়ারই বহিঃপ্রকাশ ছিল: তাঁর সাহাবীদের সাথে আন্তরিকতা ও সহজ-সাবলীল মেলামেশা এবং তাঁদের সাথে হাস্যরস করা, যাতে তাঁর ও তাঁদের মধ্যকার বন্ধন সুদৃঢ় হয় এবং তিনি যেন সাহচর্যের পূর্ণতার এক আদর্শ হিসেবে পরিগণিত হন। এটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তাঁরা তাঁকে তাঁদের সন্তানসন্ততি, ধন-সম্পদ এমনকি নিজেদের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। ফলে তাঁরা তাঁর প্রতিটি কথা, কাজ, আদেশ ও নিষেধ গ্রহণ করে নিয়েছিলেন এবং প্রতিটি বিষয়ে তাঁকে সত্যবাদী বলে বিশ্বাস করেছিলেন। অতঃপর তাঁরা তাঁর রিসালাতের আমানত বহন করেন এবং ছোট-বড় প্রতিটি বিষয়ে তাঁর পথ অনুসরণ করেন; এর মাধ্যমেই তাঁরা মানবজাতির মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে গণ্য হন। কেননা তাঁদের নবীর মাধ্যমে যখন অনুসরণের আদর্শ পূর্ণতা পেল, তখন তাঁর অনুকরণ করাও এক বিশেষ সম্মানের বিষয়ে পরিণত হলো। এতদসত্ত্বেও তাঁরা এই কল্যাণ কেবল নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন এবং কোনো কিছুই গোপন করেননি। অতঃপর তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম তাঁদের এই বাণী গ্রহণ করে নেন, কারণ তাঁরা (সাহাবীগণ) ছিলেন তাঁদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী এবং তাঁর শরীয়তের ব্যাপারে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আমানতদার। তাঁরাই ছিলেন সর্বোত্তম যুগ, সর্বোত্তম সহচর এবং সর্বোত্তম কাফেলা। তাঁরা দ্বীনকে স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধরূপে গ্রহণ করেছিলেন এবং যেভাবে গ্রহণ করেছিলেন ঠিক সেভাবেই তা পৌঁছে দিয়েছিলেন।

অতঃপর তাঁদের পর একের পর এক অনেক প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যারা সাহাবীদের পথকে হুবহু অনুসরণ করেছে, তারা সকল কল্যাণের তাওফীক লাভ করেছে। আর তাঁদের মধ্যে যারা তাঁদের হিদায়াতের বিরোধিতা করেছে, তারা বিভিন্ন ভ্রান্ত পথে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আর এর কারণ ছিল কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিদায়াত ও তাঁর সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত হওয়া, যা ছিল "উপযুক্ত প্রতিফল"। ফলে তারা এমন পন্থায় আল্লাহর ইবাদত করল যা তিনি শরীয়তসম্মত করেননি এবং এমন বিষয়ের দিকে মানুষকে আহ্বান জানাল যার অনুমতি তিনি প্রদান করেননি। সুতরাং তারা...
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
تثمر دعوتهم إلا أكلًا خمطًا، فلو أن القوم انتهجوا نهجه في الدعوة إلى الله لكفوا مؤونة الاستجابة، ولم تلحقهم بعد ذلك تبعة، لكنهم خالفوا فأخطأوا، فليتهم خرجوا كفافًا.

وأعظم من ذلك خطأ أن يُحوِّر البعض سنن النبي صلى الله عليه وسلم بزعم أن ذلك يجعلها مقبولة عند أهل العصر، فهلَّا عرضوا فعلهم هذا على قوله تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا}، وقوله صلى الله عليه وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد»، أم أنهم يرون أن لكل عَصْرٍ أمرًا؟
তাদের দাওয়াত তিক্ত ফল ব্যতীত আর কিছুই উৎপাদন করে না। যদি এই কওম আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর পথ অনুসরণ করত, তবে তারা সাড়া পাওয়ার ক্লেশ থেকে বেঁচে যেত এবং এর পরে তাদের কোনো দায়ভার বহন করতে হতো না। কিন্তু তারা বিরোধিতা করেছে এবং ভুল করেছে; হায়! তারা যদি সমান-সমান অবস্থায় ফিরে আসত।

এর চেয়েও বড় ভুল হলো এই যে, কেউ কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহসমূহকে এই দাবির বশবর্তী হয়ে বিকৃত করে যে, এটি বর্তমান যুগের মানুষের কাছে সেগুলোকে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। তারা কি তাদের এই কাজটিকে মহান আল্লাহর এই বাণীর সামনে উপস্থাপন করে দেখে না: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের উপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম}, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর সামনে: «যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের ব্যাপারে এমন নতুন কিছুর উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত», নাকি তারা মনে করে যে, প্রতিটি যুগের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে?
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
جهل القوم (وأيم الله) هديه أو تجاهلوه، ومما جهلوا: هديه وأدبه في المباسطة والمزاح والإيناس، ففرط بعض وأفرط آخرون، والقصد بين ذلك. فمن فرط لم يتدبر قوله تعالى: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ}، وقوله: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} ولم يقف عند شمائله صلى الله عليه وسلم وحسن عشرته، ومن أفرط خالف وجانب ونسب غير هدي النبي صلى الله عليه وسلم إليه، بل زاد ضغثًا على إبَّالة، والطين بلَّة لما سوَّغ لنفسه ذلك، فليته عرض ذلك على سنن الأنبياء وأخلاقهم إن كان عارفًا بها؟ فمن أين جوَّز لنفسه رديء الكلام والكذب الحرام والسخرية بالدين والمسلمين و .. و .. ثم يزعم أن ذلك من باب تأليف القلوب وإمتاع السامعين وإيناسهم.

أما نحن فنبرأ إلى الله من نسبة شيء إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم لم
মানুষ (আল্লাহর শপথ) তাঁর আদর্শ সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করেছে অথবা তা উপেক্ষা করেছে। তারা যেসব বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল তার মধ্যে অন্যতম হলো: সাবলীল মেলামেশা, কৌতুক এবং হৃদ্যতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শ ও শিষ্টাচার। এ ক্ষেত্রে একদল অবহেলা করেছে, আবার অন্যদল বাড়াবাড়ি করেছে; অথচ লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল এই দুইয়ের মাঝামাঝি থাকা। যারা অবহেলা করেছে তারা মহান আল্লাহর এই বাণী নিয়ে চিন্তা করেনি: "আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের কারণেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন। আর আপনি যদি কর্কশ ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।" এবং তাঁর এই বাণী: "আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।" তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর উত্তম জীবনচারের গুরুত্ব অনুধাবন করেনি। আর যারা বাড়াবাড়ি করেছে তারা বিরোধিতা করেছে ও সঠিক পথ পরিহার করেছে এবং যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ নয়, তা তাঁর দিকে সম্বন্ধিত করেছে। বরং তারা বোঝার ওপর শাকের আঁটি চাপিয়েছে এবং পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করেছে যখন তারা নিজের জন্য একে বৈধ সাব্যস্ত করেছে। হায়! সে যদি এগুলোকে নবীদের সুন্নাত ও তাঁদের চরিত্রের আলোকে যাচাই করত—যদি সে এ সম্পর্কে অবগত থাকত! সে কীভাবে নিজের জন্য কুরুচিপূর্ণ কথা, হারাম মিথ্যাচার এবং দ্বীন ও মুসলিমদের নিয়ে উপহাস করাকে বৈধ করে নিল? এরপর সে আবার দাবি করে যে, এগুলো মানুষের অন্তর জয় করার জন্য, শ্রোতাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য এবং তাদের সাথে হৃদ্যতা গড়ে তোলার অংশ।

পক্ষান্তরে আমরা আল্লাহর কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি এমন কিছু সম্বন্ধ করা থেকে দায়মুক্তি ঘোষণা করছি যা...
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
يفعله ولم يأمر به، والحمد لله الذي منَّ علينا بأن ميَّزَنا بمنهج وهدي واضح جلي مُغْنٍ عما سواه، فلا هدي لأحدٍ قبل هدي محمد صلى الله عليه وسلم ولا معصوم غيره، وكل يُؤخذ مِنْ قوله ويُترك إلَّا نبينا صلى الله عليه وسلم.

هذا؛ ولما أوجب الله عز وجل على المسلمين النصيحة لله ولرسوله ولأئمتهم وعامتهم، رأيت أن أبين هدي النبي صلى الله عليه وسلم في المزاح والمباسطة ليتأسى متأسٍّ، ويتبين مخطئ وتَقَرَّ عينُ مُتَّبِع، فجمعت صورًا من مزاحه وضروب دعابته وحرصت على ما صح منها- قدر المستطاع- وما كان سوى ذلك بيَّنته- ما أمكن- والله المستعان.

ذلك؛ (والمرغوب إلى من يقف على هذا الكتاب أن يعذر صاحبه فإنه علَّقَهُ في حال بعده عن وطنه وغيبته عن كتبه، فما عسى أن يبلغ خاطره المكدود وسعيه المجهود مع بضاعته المزجاة التي حقيق بحاملها أن يُقال فيه: «تسمع بالمعيدي خير من أن تراه» وها هو قد نصب نفسه هدفًا لسهام الراشقين، وغرضًا لألسنة الطاعنين، فلقارئه غنمه وعلى مؤلفه غرمه، وهذه بضاعته تفرض عليه، وَمَوْلِيَّتُهُ تهدى إليك، فإن صادفت كفؤًا كريمًا لها لن تعدم منه إمساكًا بمعروف أو تسريحًا بإحسان، وإن صادفت غيره فالله
যা তিনি করেছেন অথচ এর নির্দেশ দেননি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এই মর্মে যে, তিনি আমাদের এক সুস্পষ্ট ও সমুজ্জ্বল মানহাজ ও হিদায়াত দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন যা অন্য সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিদায়াতের উপরে কারো কোনো হিদায়াত নেই এবং তিনি ব্যতীত আর কেউ নিষ্পাপ নন। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত প্রত্যেকের কথা গ্রহণ করা যেতে পারে আবার বর্জনও করা যেতে পারে।

অতঃপর; যেহেতু মহান আল্লাহ মুসলিমদের ওপর আল্লাহ, তাঁর রাসূল, মুসলিমদের ইমামগণ এবং সাধারণ জনগণের প্রতি কল্যাণকামিতা (নাসিহাত) অপরিহার্য করেছেন, তাই আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কৌতুক ও হাস্যরসের ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শ বর্ণনা করা সমীচীন মনে করেছি, যাতে কোনো অনুসরণকারী অনুসরণ করতে পারে, ভুলকারীর ভুল স্পষ্ট হয় এবং অনুসারীর চক্ষু শীতল হয়। ফলে আমি তাঁর কৌতুক ও রসিকতার নানাবিধ চিত্র একত্রিত করেছি এবং সাধ্যানুযায়ী তার মধ্যে যা বিশুদ্ধ তা গ্রহণ করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি। আর যা এর ব্যতিক্রম ছিল তা সাধ্যমতো স্পষ্ট করে দিয়েছি। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

তাছাড়া; এই কিতাবটি পাঠকারীর কাছে আবেদন এই যে, তিনি যেন এর লেখকের ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। কেননা তিনি এটি এমন অবস্থায় সংকলন করেছেন যখন তিনি তাঁর স্বদেশ থেকে দূরে এবং তাঁর গ্রন্থরাজি থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। সুতরাং তাঁর ক্লান্ত মস্তিষ্ক ও পরিশ্রান্ত প্রচেষ্টা এবং এই সামান্য পুঁজি নিয়ে কতটুকুই বা অর্জন করা সম্ভব! যার বাহক সম্পর্কে বলা সংগত যে: 'মুআইদী সম্পর্কে শোনার চেয়ে তাকে দেখা উত্তম নয়'। আর এই তো লেখক নিজেকে তীর নিক্ষেপকারীদের লক্ষ্যবস্তু এবং নিন্দুকদের জিহ্বার শিকারে পরিণত করেছেন। সুতরাং এর কল্যাণ পাঠকের জন্য, আর এর দায়ভার লেখকের। এটিই লেখকের পুঁজি যা আপনার কাছে পেশ করা হয়েছে এবং লেখকের এই নিবেদন আপনার প্রতি উপহারস্বরূপ। এটি যদি কোনো যোগ্য ও মহান ব্যক্তির কাছে পৌঁছে, তবে তিনি হয় একে সম্মানের সাথে গ্রহণ করবেন অথবা সদাচরণের সাথে প্রত্যাখ্যান করবেন। আর যদি তা অন্য কারো কাছে পৌঁছে, তবে আল্লাহই সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
تعالى المستعان وعليه التكلان.

وقد رضي من مهرها بدعوة خالصة إن وافقت قبولًا واستحسانًا، وبرد جميل إن كان حظها احتقارًا واستهجانًا، والمنصف يهب خطأ المخطئ لإصابته وسيئاته لحسناته، فهذه سُنَّة الله في عباده جزاءً وثوابًا. ومَن ذا الذي يكون قوله كله سديدًا، وعمله كله صوابًا، وهل ذلك إلا المعصوم الذي لا ينطق عن الهوى، ونطقه وحي يُوحى». وسميته «مَرْوِيَّاتُ الْمُزَاح والدّعَابَة عن النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة» وجعلت أبوابًا وفصولًا دونك تقسيمها:

1. الباب الأول: فيه ذكر معنى المزاح والدعابة لغة ومما اشتقتا وأقوال أهل اللغة في تصريفهما.

2. الباب الثاني: أقوال السلف في ذم المزاح مطلقًا.

3. الباب الثالث: أدلة القائلين بتحريمه والرد عليهم.

4. الباب الرابع: الرخصة في بعض المزاح بشروطه.

5. الباب الخامس: مزاح النبي صلى الله عليه وسلم وحُسن خلقه.

وفيه فصول:

1) الفصل الأول: في مزاحه صلى الله عليه وسلم مع أهله.

2) الفصل الثاني: في مزاحه صلى الله عليه وسلم مع أصحابه.

3) الفصل الثالث: في مزاحه صلى الله عليه وسلم مع الصبيان.

6. الباب السادس: في مزاح الصحابة والسلف ودعاباتهم.
সুউচ্চ মহান আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করা হয় এবং তাঁর ওপরই ভরসা রাখা হয়।

তিনি এর মোহরানা হিসেবে একটি একনিষ্ঠ দোয়াতেই সন্তুষ্ট হয়েছেন, যদি তা কবুলিয়াত ও পছন্দনীয়তা লাভ করে; আর যদি তা তুচ্ছজ্ঞান ও নিন্দার ভাগিদার হয়, তবে সুন্দরের সাথে তা প্রত্যাখ্যান করাতেই তিনি সন্তুষ্ট। একজন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি ভুলকারীর ভুলকে তার সঠিক কাজের খাতিরে এবং তার মন্দ কাজগুলোকে তার ভালো কাজের খাতিরে ক্ষমা করে দেন; কেননা প্রতিদান ও সওয়াব প্রদানের ক্ষেত্রে বান্দাদের প্রতি আল্লাহর এটাই নিয়ম। আর এমন কে আছে যার সকল কথা নির্ভুল এবং সকল কাজ সঠিক? তিনি তো কেবল সেই নিষ্পাপ সত্তা, যিনি নিজের প্রবৃত্তির তাড়নায় কোনো কথা বলেন না, বরং তাঁর কথা তো কেবল ওহি যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়। আমি এর নামকরণ করেছি ‘নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবীগণ হতে বর্ণিত কৌতুক ও রসিকতা বিষয়ক বর্ণনাগুলো’ এবং আমি একে বিভিন্ন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি, যার বিভাজন নিম্নরূপ:

১. প্রথম অধ্যায়: এতে কৌতুক ও রসিকতার আভিধানিক অর্থ, শব্দদ্বয়ের বুৎপত্তি এবং এদের শব্দরূপান্তর বিষয়ে ভাষাবিদগণের বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে।

২. দ্বিতীয় অধ্যায়: ঢালাওভাবে কৌতুকের নিন্দায় সালাফদের বক্তব্যসমূহ।

৩. তৃতীয় অধ্যায়: যারা একে হারাম মনে করেন তাদের দলিলসমূহ এবং তার খণ্ডন।

৪. চতুর্থ অধ্যায়: নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে কিছু কৌতুকের অনুমতি।

৫. পঞ্চম অধ্যায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কৌতুক ও তাঁর উত্তম চরিত্র।

এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

১) প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর পরিবারের সাথে তাঁর কৌতুক প্রসঙ্গে।

২) দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সাহাবীদের সাথে তাঁর কৌতুক প্রসঙ্গে।

৩) তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শিশুদের সাথে তাঁর কৌতুক প্রসঙ্গে।

৬. ষষ্ঠ অধ্যায়: সাহাবী ও সালাফদের কৌতুক ও রসিকতা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
7. الباب السابع: فيما لا يجوز من المزاح.

ثم «الخاتمة لهذا البحث».

فكل صواب فيه فمن الله وحده لا شريك له، وما كان سوى ذلك فمن نفسي ومن الشيطان.

وعلى الله قصد السبيل وهو المستعان، وعليه التكلان ولا قوة إلا به.

 

وكتب:

أبو أنس

فهد بن مقعد بن حاسن النفيعي العتيبي
৭. সপ্তম পরিচ্ছেদ: ঠাট্টা-বিদ্রূপের যে সকল বিষয় বৈধ নয় সে প্রসঙ্গে।

অতপর "এই গবেষণার উপসংহার"।

এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা একমাত্র অংশীদারহীন আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা এর ব্যতিক্রম তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে।

সঠিক পথ প্রদর্শন আল্লাহরই দায়িত্ব এবং তিনিই একমাত্র সাহায্যস্থল, তাঁর ওপরই সকল নির্ভরতা এবং তাঁর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই।

 

লিখিত:

আবু আনাস

ফাহাদ বিন মাকআদ বিন হাসিন আল-নুফাইয়ি আল-উতাইবি
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الباب الأول

في ذكر معنى المزاح والدعابة لغة، ومما اشتقتا منه، وأقوال أهل اللغة في تصريفهما

قال أبو بكر بن دريد:

«الْمَزْحُ: ضد الجدِّ، والمِزَاحُ: مصدر مازحته ممازحة ومزاحًا. والاسم المُزاح، ورجل مازح ومُمَازح وهو مصدر مزحتُ أمزح مزحًا».

وقال في باب النوادر:

«ويُقَالُ المِزاح والمُزاح، والمِزاحة، والمُزاحة أيضًا».

وأنشد:

أما المزاحة والمراء فَدَعْهُمَا … خُلُقانِ لا أرضاهما لصديق

 

وقال ابن منظور الإفريقي في «لسان العرب»:

«المُزَّح من الرجال: الخارجون من طبع الثقلاء المتميِّزُون من طبع البغضاء».

وقال أيضًا:

«الدعابة: اللعب، وقد دَعِبَ فهو دَعَّاب لعَّاب، والدُّعْبُبُ
প্রথম পরিচ্ছেদ

আভিধানিকভাবে কৌতুক ও পরিহাসের অর্থ, তাদের ব্যুৎপত্তি এবং শব্দরূপান্তর বিষয়ে ভাষাবিদগণের বক্তব্য প্রসঙ্গে

আবু বকর ইবন দুরিদ বলেছেন:

«‘আল-মাযহ’ (কৌতুক) হলো গাম্ভীর্যের বিপরীত। ‘আল-মিযাহ’ হলো ‘মাযাহতুহু’ (আমি তার সাথে কৌতুক করেছি) ক্রিয়ার ক্রিয়ামূল, যা ‘মুমাজাহাতান’ ও ‘মিযাহান’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বিশেষ্য হলো ‘আল-মুযাহ’। কৌতুককারী ব্যক্তিকে ‘মাযিহ’ ও ‘মুমাজিহ’ বলা হয়। এটি ‘মাযাহতু’, ‘আমযাহু’, ‘মাযহান’-এর ক্রিয়ামূল।»

তিনি বিরল শব্দের পরিচ্ছেদে বলেছেন:

«একে আল-মিযাহ, আল-মুযাহ, আল-মিযাহাহ এবং আল-মুযাহাহ-ও বলা হয়।»

তিনি কাব্য আবৃত্তি করেন:

কৌতুক এবং বাদানুবাদ—এ দুটি বর্জন করো … এ দুটি এমন স্বভাব যা আমি কোনো বন্ধুর জন্য পছন্দ করি না।

 

ইবন মানজুর আল-ইফরিকি ‘লিসানুল আরব’ গ্রন্থে বলেছেন:

«ব্যক্তিদের মধ্যে ‘আল-মুয্যাহ’ (রসিক) তারা, যারা নিরস বা গাম্ভীর্যভারাক্রান্ত স্বভাব থেকে মুক্ত এবং যারা বিদ্বেষপূর্ণ স্বভাব থেকে স্বতন্ত্র।»

তিনি আরও বলেছেন:

«‘আদ-দু’আবাহ’ হলো ক্রীড়া বা কৌতুক। যখন কেউ এটি করে তখন তাকে ‘দা’আব’ ও ‘লা’আব’ (রসিক ও ক্রীড়াশীল) বলা হয়। আর ‘আদ-দুববুব’...
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الدُّعابة، والدُّعْبيب أيضًا: المزَّاح».

«وأدْعَبَ الرجل أَمْلَحَ، أي: قال كلمة مَليحَة، وهو يَدْعَبُ دَعْبًا، أي: قال قولًا يُسْتَمْلَحَ. كما يقال مزح يمزح». اهـ بتصرف.

هذا ملخص ما ذكره أهل اللغة في معنى المداعبة والمزاح.

تنبيه:

ذهب بعض أهل العلم إلى أن كلمة «مِزَاح» مشتقة مِن «زاح» أي: مال وحاد.

مستدلين على ذلك بما رُوِي عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه قال: «هل تدرون لِمَ سُمِّيَ المزاح؟» قالوا: لا. قال: «لأنه زاح عن الحَق».

وهذا الذي ذهب إليه بعض أهل العلم غير صحيح، والجواب عليه من وجوه:

أولًا: أن هذا الأثر المنسوب إلى عمر بن الخطاب - رضي الله
'দুআবা' এবং 'দুবীব' অর্থ হলো: কৌতুককারী।

«আর 'আদ'আবা' অর্থ হলো কোনো ব্যক্তি চমৎকার কথা বলেছে, অর্থাৎ সে একটি সুন্দর কথা বলেছে। সে 'ইয়াদ'আবু দা'বান' (ক্রিয়ারূপ), অর্থাৎ সে এমন কথা বলেছে যা সুন্দর মনে করা হয়। যেমন বলা হয় 'মাযাহা ইয়ামযাহু' (সে কৌতুক করেছে)»। — সংক্ষেপিত।

কৌতুক ও পরিহাসের অর্থ সম্পর্কে ভাষা বিশারদগণ যা উল্লেখ করেছেন, এটি তারই সারসংক্ষেপ।

সতর্কবার্তা:

কতিপয় আলিম এই মত পোষণ করেছেন যে, 'মিযাহ' (কৌতুক) শব্দটি 'যাহা' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো: বিচ্যুত হওয়া বা সরে যাওয়া।

তাঁরা এর সপক্ষে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত একটি উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেন যে, তিনি বলেছেন: «তোমরা কি জানো কেন একে 'মিযাহ' (কৌতুক) নামকরণ করা হয়েছে?» তাঁরা বললেন: না। তিনি বললেন: «কারণ এটি সত্য থেকে বিচ্যুত (যাহা) করে দেয়»।

কতিপয় আলিমের এই মতটি সঠিক নয় এবং এর উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়:

প্রথমত: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকে নিসবতকৃত এই বর্ণনাটি—
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
عنه - لم تصح نسبته إليه، بل هو (ضعيف) كما حقق ذلك الشيخ نجم عبد الرحمن خلف في تخريج «كتاب الصمت» لابن أبي الدنيا.

ثانيًا: أن هذا القول لازمه أن حرف «الميم» في كلمة «مزاح» زائدٌ على أصل الكلمة، وهذا غير صحيح، بل هو أصلي في اسم الكلمة وفعلها. فنقول: «يمزح مزحًا ومزاحًا» وقد بيَّنْتُ لك ذلك فيما تقدَّم، فأغنى عن الإعادة.

ثالثًا: أن مفهوم الأثر مخالف لحكم المزاح شرعًا، إذ أن مفهومه: أن المزاح باطل، لأنه مال وحاد عن الحق، وما كان غير حق فهو باطل، ولا شك ببطلان هذا المعنى، لثبوت المزاح عن النبي صلى الله عليه وسلم قولًا وفعلًا، وعن أصحابه رضي الله عنهم، وإقراره لهم، واستمرارهم على ذلك بعد وفاته صلى الله عليه وسلم، ولم يُعلَم عن أحد منهم أنه كره المزاح مطلقًا.

رابعًا: مخالفة هذا الأثر- مع كونه لا يثبت سندًا- لما ثبت عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه في غير ما حديث من أنه مازح النبي صلى الله عليه وسلم وإخوانه من الصحابة رضي الله عنهم، وتمازحوا بحضرته فلم ينكر عليهم، وَسَتَمُرُّ بك أمثلة لذلك إن شاء الله.

خامسًا: ثم على فرض ثبوت الأمر عن عمر رضي الله عنه، فإنه من الممكن أن يُحْمَل معناه على أن المزاح غير حق فيؤخذ
তাঁর থেকে—এটি তাঁর প্রতি সম্বন্ধ করা সহীহ নয়; বরং এটি (দুর্বল), যেমনটি শেখ নাজম আবদুর রহমান খালাফ ইবনে আবিদ দুনিয়ার ‘কিতাবুস সামত’-এর তাখরীজে যাচাই করেছেন।

দ্বিতীয়ত: এই বক্তব্যের অনিবার্য দাবি হলো যে, ‘মুজাহ’ (রসিকতা) শব্দের ‘মীম’ বর্ণটি শব্দের মূল অক্ষরের অতিরিক্ত, অথচ এটি সঠিক নয়; বরং এটি বিশেষ্য এবং ক্রিয়া উভয় ক্ষেত্রেই মৌলিক। আমরা বলি: ‘সে রসিকতা করে, রসিকতা করা ও কৌতুক করা’। আমি ইতিপূর্বেই আপনার নিকট বিষয়টি বর্ণনা করেছি, যা পুনরাবৃত্তির প্রয়োজনীয়তা দূর করে।

তৃতীয়ত: এই আসারের (বর্ণনার) মর্মার্থ শরীয়তে রসিকতার বিধানের বিপরীত। কেননা এর অর্থ দাঁড়ায়: রসিকতা বাতিল বা অসার, কারণ এটি সত্য থেকে বিচ্যুত ও সরে যাওয়া। আর যা সত্য নয় তা-ই বাতিল। এই অর্থের অসারতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা ও কাজ থেকে রসিকতা প্রমাণিত রয়েছে। তাঁর সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকেও তা প্রমাণিত এবং তাঁদের প্রতি তাঁর মৌন সমর্থন ছিল। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকালের পরেও তাঁরা এটি অব্যাহত রেখেছিলেন। তাঁদের মধ্য থেকে কেউ ঢালাওভাবে রসিকতাকে অপছন্দ করেছেন বলে জানা যায় না।

চতুর্থত: এই আসারটি—সনদগতভাবে সাব্যস্ত না হওয়া সত্ত্বেও—উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে একাধিক হাদীসে যা প্রমাণিত হয়েছে তার বিরোধী। উমর (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবী ভাইদের সাথে রসিকতা করতেন এবং তাঁরাও তাঁর উপস্থিতিতে পরস্পর রসিকতা করতেন, অথচ তিনি তা অস্বীকার করেননি। ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই আপনার সামনে এর কিছু উদাহরণ আসবে।

পঞ্চমত: তারপর যদি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বিষয়টি সাব্যস্ত বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবে এর অর্থকে এভাবে গ্রহণ করা সম্ভব যে, রসিকতা সত্য নয় বিধায় তা গ্রহণ করা হবে...
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
على ظاهره، ولا يلزم من ذلك أن يكون باطلًا، إذ ما كلُّ ما ليس بحق يكون باطلًا مطلقًا، وإلا لَمَا مازح النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه ولما عَدَّه بعض الأئمة سُنَّةً مستحبة وعلى هذا: فالمزاح ضربٌ من الكلام المستحسن الذي لا يُؤخذ على أنه حق وصدق، كما لا يلزم منه أن يكون كذبًا وباطلًا، إذ بإمكان المرء أن يمازح أخاه متجنبًا الفحش في القول والفعل، والكذب والإخبار بخلاف الواقع.

وما أحسن ما قاله القاضي عياض في شرحه لحديث أم زرع:

قال: «وأما قول من قال: (إنما سُمي المزاح مزاحًا؛ لأنه زاح عن الحق)، فلا يصح لفظًا ومعنى، أما معنى: فقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يمزح ولا يقول إلَّا حقًّا. وأما اللفظ فإن الميم في المزاح أصلية، ثابتة في الاسم والفعل» اهـ.
এর প্রকাশ্য অর্থের ওপর; আর তা থেকে এটি বাতিল হওয়া আবশ্যক হয় না, কেননা যা কিছু সত্য নয় তার সবই নিরঙ্কুশভাবে বাতিল হয় না। অন্যথায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের সাথে কৌতুক করতেন না এবং কোনো কোনো ইমাম একে মুস্তাহাব সুন্নাত হিসেবে গণ্য করতেন না। এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায়: কৌতুক হলো এক প্রকারের উত্তম কথা যা ধ্রুব সত্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় না, আবার এর থেকে এটি মিথ্যা বা বাতিল হওয়াও আবশ্যক হয় না। কেননা একজন ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাথে কৌতুক করতে পারে কথা ও কাজে অশ্লীলতা, মিথ্যা এবং বাস্তবতার পরিপন্থী সংবাদ প্রদান পরিহার করে।

উম্মু যার-এর হাদিসের ব্যাখ্যায় কাজী আয়াজ যা বলেছেন তা কতই না চমৎকার:

তিনি বলেন: «আর যারা বলেন যে: (কৌতুককে একারণেই 'মিজাহ' বলা হয়; কারণ তা সত্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে), তাদের এই কথা শব্দগত ও অর্থগত কোনোভাবেই সঠিক নয়। অর্থের দিক থেকে কথা হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কৌতুক করতেন এবং তিনি সত্য ব্যতিরেকে কিছুই বলতেন না। আর শব্দের দিক থেকে কথা হলো: 'মিজাহ' শব্দে 'মীম' বর্ণটি মূল বর্ণ, যা বিশেষ্য ও ক্রিয়া উভয় রূপেই সুপ্রতিষ্ঠিত» সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الباب الثاني

في ذكر ما روي عن السلف في ذم المزاح والإكثار منه

وردت نقول كثيرة جدًّا عن السلف الكرام في ذم المزاح والتزهيد فيه، والتحذير من الإكثار منه، لما يعقب ذلك من وحشة وتنافر وقطيعة وتناكر.

فمن تلك نقول:

1. ما صح عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه قال: «لا يبلغ رجل حقيقة الإيمان حتى يدَعَ المِرَاءَ وهو مُحِقٌّ، والكذبَ في المزاح».

فكأنَّ عمر رضي الله عنه أراد حديث أبي أمامة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أنا زعيم بيت في ربض الجنة لمن ترك المراء وإن كان محقًّا، وبيت في وسط الجنة لمن ترك الكذب وإن كان مازحًا، وبيت في أعلى الجنة لمن حسن خلقه».
দ্বিতীয় অধ্যায়

কৌতুক এবং এর আধিক্যের নিন্দায় সালাফদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে সে প্রসঙ্গে

সম্মানিত সালাফদের থেকে কৌতুক এবং এর প্রতি অনীহা সৃষ্টির নিন্দায়, এবং এর আধিক্য থেকে সতর্ক করার ক্ষেত্রে প্রচুর বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে। কারণ এর ফলে জনবিচ্ছিন্নতা, পারস্পরিক বিদ্বেষ, সম্পর্কচ্ছেদ এবং একে অপরের প্রতি বিরূপ ভাব সৃষ্টি হয়।

সেই বর্ণনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

1. উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "কোনো ব্যক্তি ঈমানের প্রকৃত হাকিকতে পৌঁছাতে পারবে না যতক্ষণ না সে হকের ওপর থাকা সত্ত্বেও ঝগড়া-বিবাদ বর্জন করবে এবং কৌতুকের ছলেও মিথ্যা বলা ত্যাগ করবে।"

যেন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি জান্নাতের পাদদেশে একটি প্রাসাদের জিম্মাদার সেই ব্যক্তির জন্য যে সত্যের ওপর থাকা সত্ত্বেও ঝগড়া-বিবাদ ত্যাগ করে; এবং জান্নাতের মধ্যস্থলে একটি প্রাসাদের জিম্মাদার সেই ব্যক্তির জন্য যে কৌতুকের ছলেও মিথ্যা বর্জন করে; এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ শিখরে একটি প্রাসাদের জিম্মাদার সেই ব্যক্তির জন্য যার চরিত্র সুন্দর।"
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
2. رُوِيَ عن عمر رضي الله عنه أنه قال: «مَن مَزَح استُخِفَّ به».

ويروى بلفظ: «مَن كَثُر ضحكه استُخِفَّ به وذهب بهاؤه».

3. وقال عمر بن عبد العزيز رحمه الله: «اتقوا الله، وإياي والمزاحة، فإنها تورث الضَّغِينَةَ وتُثير الحَمَقَة. تحدثوا بالقرآن، وتجالسوا به، فإن ثقُل عليكم فحديث حسن من حديث الرجال».

4. ويروى عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه قال: «من كثر كلامه وضحكه ومزاحه، قلَّت هيبته، ومن أكثر من شيء عُرِفَ به».

ويُروى مثله عن الأحنف بن قيس.

ويُروى نحوه مرفوعًا إلى النبي صلى الله عليه وسلم من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

إلا أنه لا يصح بل هو حديث منكر كما في «العلل المتناهية»
2. উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি কৌতুক করে তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করা হয়»।

এবং এমন শব্দেও বর্ণিত হয়েছে: «যার হাসি অধিক হয় তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করা হয় এবং তার মর্যাদা ও গাম্ভীর্য বিলীন হয়ে যায়»।

3. উমর ইবন আব্দুল আজিজ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: «তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং কৌতুক পরিহার করো, কেননা তা অন্তরে বিদ্বেষের জন্ম দেয় এবং নির্বুদ্ধিতাকে উসকে দেয়। তোমরা কুরআনের বিষয়ে আলোচনা করো এবং কুরআনের মজলিস করো, আর যদি তা তোমাদের জন্য ভারী মনে হয় তবে মহৎ ব্যক্তিদের সুন্দর আলোচনা ও ঘটনাবলি স্মরণ করো»।

4. উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «যার কথাবার্তা, হাসি ও কৌতুক বৃদ্ধি পায়, তার প্রভাব ও গাম্ভীর্য হ্রাস পায়; আর যে ব্যক্তি যা বেশি করে সে তা দিয়েই পরিচিতি লাভ করে»।

আহনাফ ইবন কায়েস থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণিত হাদিসে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত মারফূ হিসেবেও অনুরূপভাবে বর্ণিত হয়েছে।

তবে তা সহিহ নয়, বরং এটি একটি মুনকার হাদিস যেমনটি «আল-ইলাল আল-মুতানাহিয়াহ» গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
لابن الجوزي (2/ 707).

5. وقال إبراهيم النخعي: «لا يكون المزاح إلا من سُخْفٍ وبَطَرٍ».

6. وقال خالد بن صفوان: «المُزاح: سِبَاب النَوْكَى».

7. وقال في التحذير من سوء عاقبة الإكثار من المزاح: «يصُكُّ أحدكم صاحبه بأشد من الجندل، ويُنْشِقُهُ أَحَرَّ من الخردل، ويُفْرِغ عليه أحرَّ من المرجل، ثم يقول إنما كنت أمازحك».

8. وفي مثل هذا يقول محمد الورَّاق:

تلقى الفتى يلقى أخاه وَخِدْنَهُ … في لَحْنِ منطِقِهِ بما لا يُغْفَرُ

ويقول كنت ممازحًا وملاعبًا … هيهات نارك في الحشا تَتسعَّرُ

ألهبتها وطفقت تضحك لاهيًا … مما به وفؤاده يتفطرُ

أو ما علمت، ومثل جهلك غالبٌ … أن المزاح هو السِّباب الأكبرُ

9. وروي عن الحسن بن حُيَي: «المزاح استدراج من
ইবনুল জাওযীর বর্ণনা (২/ ৭০৭)।

৫. এবং ইব্রাহিম আন-নাখায়ি বলেছেন: «তামাশা কেবল নির্বুদ্ধিতা ও দম্ভ থেকেই সৃষ্টি হয়»।

৬. এবং খালিদ বিন সাফওয়ান বলেছেন: «তামাশা হলো মূর্খদের গালিগালাজ»।

৭. এবং অতিরিক্ত তামাশার অশুভ পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করতে গিয়ে তিনি বলেন: «তোমাদের কেউ তার সঙ্গীকে পাথরের চেয়েও শক্ত আঘাত করে, তাকে সরিষার চেয়েও তীব্র ঝাঁঝালো কিছুর ঘ্রাণ নিতে বাধ্য করে এবং তার ওপর ফুটন্ত কড়াইয়ের চেয়েও তপ্ত কিছু ঢেলে দেয়, এরপর বলে যে আমি তো কেবল তোমার সাথে তামাশা করছিলাম»।

৮. এই বিষয়েই মুহাম্মদ আল-ওয়াররাক বলেন:

তুমি দেখবে কোনো যুবক তার ভাই ও বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করে … তার কথার ভঙ্গিতে এমন সব বিষয় নিয়ে যা ক্ষমার অযোগ্য

সে বলে আমি তো কেবল তামাশা ও কৌতুক করছিলাম … অথচ হায়! তোমার জ্বালানো আগুন তার অন্তরে দাউদাউ করে জ্বলছে

তুমি আগুন জ্বালিয়ে দিলে আর উদাসীন হয়ে হাসতে শুরু করলে … যা ঘটছে তাতে তার হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছে

তুমি কি জানো না—আর তোমার মতো অজ্ঞতাই তো প্রবল— … যে তামাশাই হলো সবচাইতে বড় গালি

৯. এবং হাসান বিন হুয়াই থেকে বর্ণিত হয়েছে: «তামাশা হলো প্রলোভনের একটি মাধ্যম যা...»
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الشيطان واختداع من الهوى».

10. وقال عبد الرحمن بن الحسين: «كان يُقال: المزاح مسلبة البهاء، مقطعة للصداقة».

زاد ابن حبان: « … ويورث الضَغَنَ ويُنبتُ الغلَّ».

11. وقال ميمون بن مِهْران الجَزَرِي: «إذا كان المزاح أمام الكلام، فآخره الشتم واللِّطام».

وفي هذا يقول الشاعر:

فإياك إياك المزاح فإنه … يُجرِّي عليك الطفل والدَّنِسَ والنَّدلا

ويذهب ماء الوجه بعد بهائه … ويورثه من بعد عزته ذُلَّا

12. وقال محمد بن المنكدر: «قالت لي أمي: لا تمازح الصبيان فتهون عليهم».

13. وما أعظم ما أوصى مسعر بن كدام ابنه كدامًا به إذ يقول:
শয়তান এবং প্রবৃত্তির প্ররোচনা।

১০. আব্দুর রহমান ইবনুল হুসাইন বলেন: «বলা হতো: কৌতুক মর্যাদা হরণকারী এবং বন্ধুত্বের বিচ্ছেদকারী।»

ইবনে হিব্বান আরও যোগ করেছেন: « … এটি বিদ্বেষের জন্ম দেয় এবং অন্তরে ঘৃণা উৎপাদন করে।»

১১. মাইমুন ইবনে মিহরান আল-জাজারি বলেন: «কথার শুরুতে যদি কৌতুক থাকে, তবে তার শেষ হয় গালিগালাজ এবং চড়-থাপ্পড়ের মাধ্যমে।»

এ প্রসঙ্গে কবি বলেন:

সুতরাং তুমি কৌতুক থেকে সাবধান থাকো, কারণ এটি … তোমার ওপর শিশু, অপবিত্র এবং নিচ ব্যক্তিদের দুঃসাহসী করে তোলে।

এটি চেহারার উজ্জ্বলতা ও লাবণ্য দূর করে দেয় … এবং সম্মানের পরে লাঞ্ছনা নিয়ে আসে।

১২. মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির বলেন: «আমার মা আমাকে বলেছিলেন: তুমি বালকদের সাথে কৌতুক করো না, অন্যথায় তাদের নিকট তোমার মর্যাদা হ্রাস পাবে।»

১৩. মিসআর ইবনে কিদাম তার পুত্র কিদামকে কতই না চমৎকার উপদেশ দিয়েছিলেন যখন তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
إني نَحَلْتُكَ يا كدام نصيحتي … فاسمع لقول أبٍ عليك شفيق

أما المزاحة والمراء فَدَعْهُما … خُلُقَان لا أَرضاهُما لصديق

إني بَلوتُهما فلم أحْمَدْهُما … لمجاور جارًا ولا لرفيق

والجهل يُزرِي بالفتى في قومه … وعروقُهُ في الناس أيُّ عروق

14. وقال أبو حاتم بن حبان: «إن من المزاح ما يكون سببًا لتهييج المراء، والواجب على العاقل اجتنابه … ».

وقال أيضًا: «والمزاح إذا كان فيه إثم فهو يُسَوِّدُ الوجه ويدمي القلب ويحيي الضغينة».

15. وقال الإمام ابن عبد البر: «وقد كره جماعة من العلماء الخوض في المزاح لما فيه من ذميم العاقبة، ومن التوصل إلى الأعراض واستحلاب الضغائن، وإفساد الإخاء؛ وكان يقال: لكل شيء بَدْءٌ، وبَدءُ العداوة المزاح، وكان يقال: لو كان المزاح فحلًا ما أَلقَحَ إلا الشر».

إلى غير ذلك من النُّقُول وفيما ذكرناه غُنيَةً إن شاء الله.

ثم اعلم- رحمك الله وسَدَّدَك- أن هذه الآثار والنقولَ التي سقت لك بعضها وما كان في معناها محمولةٌ على الإكثار من
হে কুদাম, আমি তোমাকে আমার উপদেশ প্রদান করলাম … সুতরাং তোমার প্রতি দয়াপরবশ এক পিতার কথা শোনো

আর কৌতুক ও ঝগড়া-বিবাদ—এ দুটোই তুমি বর্জন করো … এ এমন দুটি স্বভাব যা আমি কোনো বন্ধুর জন্য পছন্দ করি না

আমি এ দুটো পরীক্ষা করেছি এবং এগুলোর প্রশংসা করিনি … কোনো প্রতিবেশীর জন্য নয়, আর না কোনো সঙ্গীর জন্য

আর মূর্খতা এক যুবককে তার সম্প্রদায়ের মাঝে লাঞ্ছিত করে … মানুষের মাঝে তার বংশমর্যাদা যেমনই হোক না কেন

১৪. এবং আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন: «নিশ্চয়ই কৌতুকের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা বিবাদ উসকে দেওয়ার কারণ হয়, আর বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য তা বর্জন করা আবশ্যক … »।

তিনি আরও বলেন: «আর কৌতুকের মাঝে যখন পাপ থাকে, তখন তা চেহারাকে কালো করে দেয়, অন্তরকে রক্তাক্ত করে এবং বিদ্বেষকে পুনর্জীবিত করে»।

১৫. এবং ইমাম ইবনে আবদিল বার বলেন: «আলেমদের একটি দল কৌতুকের গভীরে প্রবেশ করাকে অপছন্দ করেছেন; কারণ এর পরিণাম নিন্দনীয় এবং এটি সম্মানহানি, বিদ্বেষ উদ্রেক ও ভ্রাতৃত্ব নষ্ট করার মাধ্যম হয়ে থাকে। বলা হতো: প্রত্যেক জিনিসেরই একটি সূচনা আছে, আর শত্রুতার সূচনা হলো কৌতুক। আরও বলা হতো: কৌতুক যদি কোনো শক্তিশালী পুরুষ জন্তু হতো, তবে তা মন্দ ছাড়া আর কিছুই প্রসব করত না»।

এ ছাড়াও আরও অনেক উদ্ধৃতি রয়েছে, আর আমরা যা উল্লেখ করেছি ইনশাআল্লাহ তা যথেষ্ট হবে।

অতঃপর জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন এবং আপনাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন—আমি আপনার কাছে এই যে সকল বর্ণনা ও উদ্ধৃতি তুলে ধরলাম এবং এই অর্থের যা কিছু রয়েছে, তা মূলত কৌতুকের অতিশয্য বা আধিক্যের ওপর প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
المزاح والضحك والمداومة عليه والإفراط فيه؛ لأن الإكثار منه مشغلٌ للعبد عن الذي خُلِقَ له، ومضيِّعٌ للأوقات في اللعب والهزل، كما أنه مسقط للمهابة والوقار. فضلًا عن أن يكون مُقَسٍّ للقلب، بل مُميتًا له، وعلى هذا يُحْمَل حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تكثروا الضحك فإن كثرة الضحك تميت القلب».

কৌতুক, হাসি এবং এতে সর্বদা লিপ্ত থাকা ও আতিশয্য করা; কারণ এর আধিক্য বান্দাকে সেই লক্ষ্য থেকে বিমুখ করে দেয় যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং খেলাধুলা ও অনর্থক কাজে সময় নষ্ট করে, তদুপরি এটি গাম্ভীর্য ও মর্যাদা বিলুপ্ত করে। এছাড়া এটি অন্তরকে কঠোর করে, বরং একে মৃত বানিয়ে ফেলে। আর এই অর্থেই আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসটি গ্রহণ করা হয়, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা অধিক হেসো না, কারণ অতিরিক্ত হাসি অন্তরকে মৃত বানিয়ে দেয়»।

(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الباب الثالث

في ذكر أدلة القائلين بتحريمه والرد عليهم

ربما ذهب بعضهم إلى القول بحرمة المزاح والنهي عنه مطلقًا مستدلين على ذلك بأدلة من أظهرها:

 

‌‌أولًا: ما رواه الترمذي من حديث ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا تمار أخاك ولا تمازحه ولا تَعِدْهُ موعدًا فَتُخْلِفه».

قالوا: فهذا دليل صحيح صريح في النهي عن المزاح.

فَيُرَدُّ عليهم بأن يُقال:

إن القول بأن الحديث (صحيح صريح) غير صحيح من وجهين هما:

 

‌‌الوجه الأول: أما القول بصحة سنده فاعلم «رحمك الله» أن الحديث (إسناده ضعيف) أولًا.

وأنا أسوق لك إسناده من «جامع الترمذي» قال: «حدثنا زياد بن أيوب قال: حدثنا المحاربي، عن الليث بن أبي سليم، عن عبد الله بن بشير، عن عكرمة مولى ابن عباس، عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: فذكره.

وقال الترمذي: «هذا حديث حسن غريب لا نعرفه إلا من
তৃতীয় অধ্যায়

কৌতুক নিষিদ্ধকারীদের দলীল এবং তাদের খণ্ডন প্রসঙ্গে

সম্ভবত তাদের কেউ কেউ কৌতুক হারাম হওয়া এবং একে নিরঙ্কুশভাবে নিষেধ করার অভিমত ব্যক্ত করেছেন এবং এর সপক্ষে এমন কিছু দলীল পেশ করেছেন যার মধ্যে অন্যতম হলো:

 

‌‌প্রথমত: তিরমিযী ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমার ভাইয়ের সাথে বিতর্ক করো না, তার সাথে কৌতুক করো না এবং তাকে এমন কোনো ওয়াদা দিও না যা তুমি ভঙ্গ করবে।»

তারা বলেন: কৌতুক নিষেধ করার ক্ষেত্রে এটি একটি বিশুদ্ধ ও সুস্পষ্ট দলীল।

এর উত্তরে তাদের বলা হবে যে:

হাদীসটি (বিশুদ্ধ ও সুস্পষ্ট)—এই দাবিটি দুটি কারণে সঠিক নয়, তা হলো:

 

‌‌প্রথম কারণ: হাদীসের সনদের বিশুদ্ধতার দাবির প্রেক্ষিতে জেনে রাখুন—«আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন»—প্রথমত হাদীসটির (সনদ দুর্বল)।

আর আমি আপনার সামনে «জামে তিরমিযী» থেকে এর সনদটি উপস্থাপন করছি, তিনি বলেছেন: «যিয়াদ ইবনে আইয়ুব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-মুহারিবী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন লায়স ইবনে আবি সুলাইম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বাশীর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এটি উল্লেখ করেছেন।

ইমাম তিরমিযী বলেছেন: «এটি একটি হাসান গরীব হাদীস, যা আমরা কেবল... মাধ্যমেই জানতে পেরেছি।»
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
هذا الوجه».

ومن هذا الوجه رواه أبو نعيم عن أبي إسحاق إبراهيم بن محمد قال: حدثنا محمد بن أحمد المؤمل قال: حدثنا زياد بن أيوب به.

وقال أبو نعيم: «هذا حديث غريب من حديث عكرمة لم يَرْوِه عنه إلا ليث عن عبد الملك».

فالحديث إذن لم يخرجه إلا الترمذي وأبو نعيم، من طريق واحد، وكلاهما جزم بأن الحديث ليس له طريق غير هذا الطريق.

إذا عُلِمَ ذلك فإن هذا الطريق فيه علَّتان:

الأولى: عنعنة المحاربي وهو عبد الرحمن بن محمد فإنه كان يدلس، كما نقله الحافظ العسقلاني في «التقريب» عن الإمام أحمد.

وممن وصفه بالتدليس: العُقَيْلي.

وقال عبد الله بن الإمام أحمد عن أبيه: (بلغنا أنه كان يدلس) كما نقل ذلك عن السيوطي في «أسماء المدلسين».
এই সূত্র।

এবং এই সূত্রেই আবু নুআয়ম এটি আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মুআম্মাল বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট যিয়াদ ইবনে আইয়ুব এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু নুআয়ম বলেন: «ইকরিমা বর্ণিত এটি একটি গরীব (অপরিচিত) হাদিস; লায়স বিন আব্দুল মালিক ছাড়া অন্য কেউ এটি তার থেকে বর্ণনা করেনি»।

সুতরাং হাদিসটি তিরমিজি ও আবু নুআয়ম ছাড়া অন্য কেউ একটি মাত্র সূত্রের মাধ্যমে বের করেননি, এবং তারা উভয়ই নিশ্চিত করেছেন যে এই সূত্রটি ছাড়া হাদিসটির আর কোনো সূত্র নেই।

যখন এটি জানা গেল, তখন নিশ্চিতভাবে এই সূত্রে দুটি ত্রুটি রয়েছে:

প্রথমটি: আল-মুহারিবীর 'আনআনা' (সরাসরি না শোনার অস্পষ্টতা), আর তিনি হলেন আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ। কেননা তিনি তাদলিস (বর্ণনাকারীর নাম গোপন) করতেন, যেমনটি হাফিজ আল-আসকালানি ইমাম আহমদ থেকে উদ্ধৃত করে «আত-তাক্বরীব» গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

যিনি তাকে তাদলিসকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে আল-উকায়লী অন্যতম।

ইমাম আহমদের পুত্র আব্দুল্লাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন: (আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে তিনি তাদলিস করতেন), যেমনটি আস-সুয়ূতী থেকে «আসমাউল মুদাল্লিসীন» গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
العلة الثانية:

(ليث بن أبي سليم).

وهو من الضعفاء المعروفين وأقوال أئمة الجرح فيه كثيرة أسوق لك ما تحصل به المعرفة بحاله إن شاء الله:

فقال عنه الإمام أحمد فيما رواه عن ابنه عبد الله: «مضطرب الحديث».

وقال الإمام أحمد أيضًا: «ما رأيت يحيى بن سعيد أسوأ رأيًا منه في ليث بن أبي سليم وابن إسحاق وهمام، لا يستطيع أحد أن يراجعه فيهم».

وقال عثمان بن أبي شيبة: «سألت جريرًا عن ليث ويزيد بن أبي زياد وعطاء بن السائب فقال: «كان ليث أكثر تخليطًا»، وقال أحمد: «أقول كما قال عن ابنه».

وقال ابن أبي حاتم عن أبيه: «كان ضعيف الحديث»، يعني ليث بن أبي سليم.

وقال ابن معين: «ضعيف إلا أنه يكتب حديثه»، وقال مرة: «منكر الحديث»، وقال النسائي: «ضعيف».

وكان ابن عيينة يُضَعِّفُه.

وقال أبو حاتم وأبو زرعة: «ليث لا يُشْتَغَل به هو مضطرب الحديث».
দ্বিতীয় ত্রুটি:

(লাইস ইবনে আবি সুলাইম)।

তিনি সুপরিচিত দুর্বল বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর ব্যাপারে জারহ (সমালোচনা) শাস্ত্রের ইমামগণের অনেক উক্তি রয়েছে। আমি আপনার সামনে সেগুলো উপস্থাপন করছি যা দ্বারা ইনশাআল্লাহ তাঁর অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা যাবে:

ইমাম আহমাদ তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর বর্ণিত বর্ণনায় তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি হাদিস বর্ণনায় অসংলগ্ন»।

ইমাম আহমাদ আরও বলেছেন: «আমি লাইস ইবনে আবি সুলাইম, ইবনে ইসহাক এবং হাম্মামের ব্যাপারে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের চেয়ে অধিক নেতিবাচক ধারণা পোষণকারী আর কাউকে দেখিনি; এই বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে কেউ তাঁর সাথে উচ্চবাচ্য করার সাহস পেত না»।

উসমান ইবনে আবি শাইবাহ বলেন: «আমি জারীরকে লাইস, ইয়াযিদ ইবনে আবি যিয়াদ এবং আতা ইবনে সাইব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: ‘লাইস সবচেয়ে বেশি তালগোল পাকাতেন (সংমিশ্রণ করতেন)’; ইমাম আহমাদ বলেন: ‘আমিও তাই বলি যেমনটি তিনি তাঁর পুত্রের বর্ণনায় বলেছেন’»।

ইবনুল আবি হাতিম তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন: «তিনি হাদিসে দুর্বল ছিলেন», অর্থাৎ লাইস ইবনে আবি সুলাইম।

ইবনে মাঈন বলেন: «তিনি দুর্বল, তবে তাঁর হাদিস লিখে রাখা হয়», তিনি অন্য এক সময় বলেছেন: «তিনি অগ্রহণযোগ্য হাদিস বর্ণনাকারী», এবং নাসায়ী বলেছেন: «দুর্বল»।

ইবনে উয়াইনা তাঁকে দুর্বল সাব্যস্ত করতেন।

আবু হাতিম এবং আবু যুরআ বলেছেন: «লাইসকে নিয়ে সময় ব্যয় করার প্রয়োজন নেই, তিনি হাদিস বর্ণনায় অসংলগ্ন»।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقال أبو زرعة أيضًا: «ليِّن الحديث، لا تقوم به الحُجَّة عند أهل العلم بالحديث».

وقال ابن حبان: «اختلط في آخر عمره فكان يقلب الأسانيد، ويرفع المراسيل، يأتي عن الثقات بما ليس من حديثهم، تركه القطان وابن مهدي وابن معين وأحمد».

وقال الحاكم: «مجمع على سوء حفظه».

وقال الجوزجاني: «يضعف حديثه».

وقال الدارقطني: «ليس بحافظ»، و «سيِّئ الحفظ»، و «ضعيف»، و «ليس بالقوي».

وقال البوصيري في «زوائد ابن ماجه»: «ضعيف مدلس».

وقال الحافظ ابن حجر في «التقريب»: «صدوق اختلط أخيرًا فَتُرِكَ».

أما شيخه الهيثمي في «مجمع الزوائد» فقال: «ثقة ولكنه يدلس» وهذا تساهل ظاهر.

فإن النقول السابقة في جرح ليثٍ كافية لبيان ضَعْفِه.

فضلًا عن أن شيخ الهيثمي نفسه الحافظَ العراقيَّ حكى في «تخريج الإحياء»: «تضعيفه عن الجمهور»، ثم إن قول أبي نعيم
আবু যুরআও বলেছেন: "তিনি হাদীস বর্ণনায় শিথিল, হাদীস শাস্ত্রবিদদের নিকট তাঁর দ্বারা দলীল প্রতিষ্ঠিত হয় না।"

ইবনে হিব্বান বলেছেন: "জীবনের শেষভাগে তাঁর স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল, ফলে তিনি সনদ উল্টেপাল্টে ফেলতেন এবং মুরসাল হাদীসগুলোকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করতেন। তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে এমন সব বর্ণনা নিয়ে আসতেন যা তাঁদের হাদীস নয়। কাত্তান, ইবনে মাহদী, ইবনে মাঈন এবং আহমাদ তাঁকে বর্জন করেছেন।"

আল-হাকিম বলেছেন: "তাঁর স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার বিষয়ে ঐক্যমত রয়েছে।"

আল-জাওযাজানি বলেছেন: "তাঁর হাদীসকে দুর্বল গণ্য করা হয়।"

আদ-দারা কুতনী বলেছেন: "তিনি হাফিয নন", "দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী", "দুর্বল" এবং "তিনি শক্তিশালী নন।"

আল-বুসিরি 'যাওয়ায়েদে ইবনে মাজাহ'-তে বলেছেন: "তিনি দুর্বল এবং মুদাল্লিস।"

হাফিয ইবনে হাজার 'আত-তাকরীব'-এ বলেছেন: "তিনি সত্যবাদী ছিলেন, তবে শেষ জীবনে তাঁর স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল, তাই তাঁকে বর্জন করা হয়েছে।"

পক্ষান্তরে তাঁর উস্তাদ আল-হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ'-এ বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য, তবে তিনি তাদলীস করেন"; আর এটি একটি স্পষ্ট শিথিলতা।

লায়সের জারহ (সমালোচনা) সম্পর্কে পূর্ববর্তী উদ্ধৃতিগুলো তাঁর দুর্বলতা স্পষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।

তদুপরি স্বয়ং হাইসামির উস্তাদ হাফিয ইরাকী 'তাখরীজুল ইহয়া'-তে জমহুর (অধিকাংশ) আলিমের নিকট তাঁর দুর্বল হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। এরপর আবু নুআইমের বক্তব্য হলো
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
في «الحلية» بعد أن خَرَّج الحديث: «هذا حديث غريب من حديث عكرمة لم يروه عنه إلا ليث عن عبد الملك» تضعيف منه لهذا الطريق كما هو ظاهر، والله أعلم.

ومن أجل هاتين العلَّتين ضعف الحديث جمع من أهل العلم أذكر لك بعضهم:

1. الحافظ أبو الفضل زين الدين العراقي في «تخريج الإحياء» (2/ 180)، وتبعه المناوي في «فيض القدير» (6/ 421).

2. الحافظ ابن حجر العسقلاني في «بلوغ المرام» (18/ 1412) من «سبل السلام».

3. رمز له تلميذه السيوطي بالضعف في «الجامع الصغير» برقم (9865).

4. استغرب الحديث ابن العربي المالكي في «عارضة الأحوذي في شرح الترمذي» (8/ 161)، وانظر ما قاله المباركفوري في «تحفة الأحوذي» (6/ 131).

5. وقال الإمام عبد الرحمن بن الدَّيْبَع الشَّيْباني في «تمييز الطيب من الخبيث فيما يدور على ألسنة الناس من الحديث» برقم (1615): «في سنده ضعيف، والله تعالى أعلم».

6. وضعفه أيضًا العجلوني في «كشف الخفا ومزيل الإلباس عما اشتهر من الحديث على ألسنة الناس» برقم (3045).
'হিলয়াহ' গ্রন্থে হাদিসটি সংকলন করার পর বলা হয়েছে: "ইকরিমা থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি গরিব (একক), এটি তার থেকে আব্দুল মালিকের সূত্রে লাইস ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি।" এটি স্পষ্টতই এই সনদের প্রতি তার পক্ষ থেকে একটি দুর্বল সাব্যস্তকরণ, আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

আর এই দুটি ত্রুটির কারণে একদল আলেম হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন, আমি আপনার কাছে তাদের কয়েকজনের কথা উল্লেখ করছি:

১. হাফেজ আবুল ফজল জয়নুদ্দিন আল-ইরাকি 'তাখরিজুল ইহয়া' (২/১৮০) গ্রন্থে, এবং আল-মুনাবি 'ফয়দুল কদির' (৬/৪২১) গ্রন্থে তার অনুসরণ করেছেন।

২. হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি 'বুলুগুল মারাম' গ্রন্থে ['সুবুলুস সালাম' এর (১৮/১৪১২) উদ্ধৃতিতে]।

৩. তার ছাত্র আস-সুয়ূতি 'আল-জামেউস সগির' গ্রন্থে ৯৮৬৫ নম্বর হাদিসে একে দুর্বলতার প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছেন।

৪. ইবনুল আরাবি আল-মালিকি 'আরিদাতুল আহওয়াজি ফি শারহিত তিরমিজি' (৮/১৬১) গ্রন্থে হাদিসটিকে গরিব (অপরিচিত) বলেছেন; আর মুবারকপুরি 'তুহফাতুল আহওয়াজি' (৬/১৩১) গ্রন্থে যা বলেছেন তা দেখুন।

৫. এবং ইমাম আব্দুর রহমান বিন আদ-দাইবা আশ-শায়বানি 'তাময়িজুত তয়্যিব মিনাল খবিস ফিমা ইয়াদুরু আলা আলসিনাতিন নাসি মিনাল হাদিস' গ্রন্থে ১৬১৫ নম্বর হাদিসে বলেছেন: "এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে, আর আল্লাহ তায়ালা-ই সবচেয়ে ভালো জানেন।"

৬. এবং আল-আজলুনিও 'কাশফুল খাফা ওয়া মুজিলুল ইলবাস আম্মাশতাহারা মিনাল হাদিসি আলা আলসিনাতিন নাস' গ্রন্থে ৩০৪৫ নম্বর হাদিসে একে দুর্বল বলেছেন।
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
7. وممن ضعفه من علماء العصر الإمام العلامة الحافظ شيخنا الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز رحمه الله.

8. ومنهم محدِّث الدِّيار الشاميَّة الشيخ محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله كما في «ضعيف الجامع» برقم (6274).

9. ومنهم الشيخ الفاضل عبد القادر الأرنؤوط كما في تخريجه لـ «جامع الأصول» لابن الأثير (11/ 735).

وبعد أن سُقْتُ لك سند الحديث «وهو سند فذٌّ» وبيَّنت لك عِلله وعَضَّدتُ القول بتضعيفه بذكر تضعيف أئمة هذا الشأن له، فلا أظنك إلا موقِنًا ببطلان القول بصحَّته، وبقي أن نُبَيِّن بطلان ما ادَّعوه من أن الحديث صريحٌ في حرمة المزاح فأقول:

 

‌‌الوجه الثاني:

اعلم رحمك الله أن الحديث «على فرض ثبوته» غير صريح في تحريم المزاح مطلقًا، لما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يمازح أصحابه في غير ما حديث، وكانوا يتمازحون بحضرته فلم ينكر عليهم. وبذلك صَحَّت الأحاديث.

وفي هذا يقول القاضي عياض: «ورُويت عن أحاديث مشهورة في ممازحته بلالًا وأبا عمير وخَوَّاتًا وزاهرًا وأنسًا وعائشة، وقال للعجُوز: «إن الجنة لا يدخلها العجوز»، وقال لامرأة سألته عن زوجها: «أهو الذي بعينه بياض؟»، وقال لآخر: «لأحملنَّك على ابن الناقة»، وقال لجابر: «فهلَّا بِكْرًا تُداعبها وتُداعبك»، وروي «تُلاعبها وتُلاعبك» في أخبار معروفة، كلها دالَّة على تواضعه
৭. বর্তমান যুগের আলেমদের মধ্যে যারা একে যঈফ (দুর্বল) বলেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম আল্লামা হাফেয আমাদের শাইখ শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ)।

৮. তাদের মধ্যে রয়েছেন শাম দেশের মুহাদ্দিস শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ), যেমনটি তিনি ‘যঈফ আল-জামি’ গ্রন্থের ৬২৭৪ নম্বর হাদীসে উল্লেখ করেছেন।

৯. তাদের মধ্যে রয়েছেন বরেণ্য শাইখ আব্দুল কাদির আল-আরনাউত, যেমনটি তিনি ইবনুল আসীরের ‘জামি আল-উসুল’ (১১/৭৩৫)-এর তাহকীকে উল্লেখ করেছেন।

আমি আপনার সামনে হাদীসটির সনদ উপস্থাপন করার পর (যা একটি একক সনদ) এবং এর ত্রুটিগুলো বর্ণনা করার পর এবং এই শাস্ত্রের ইমামদের বক্তব্য উল্লেখ করে এর দুর্বল হওয়ার মতটিকে শক্তিশালী করার পর, আমি মনে করি আপনি অবশ্যই এর সহীহ হওয়ার দাবির অসারতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন। এখন বাকি থাকল কৌতুক হারাম হওয়ার ব্যাপারে হাদীসটি সুস্পষ্ট বলে তারা যে দাবি করেছে, তার অসারতা বর্ণনা করা। আমি বলছি:

 

‌‌দ্বিতীয় দিক:

আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, জেনে রাখুন যে, হাদীসটি (যদি সাব্যস্ত হওয়া ধরেও নেওয়া হয়) ঢালাওভাবে কৌতুক হারাম হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট নয়। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে একাধিক হাদীসে প্রমাণিত যে তিনি তাঁর সাহাবীদের সাথে কৌতুক করতেন এবং তাঁরাও তাঁর উপস্থিতিতে পরস্পর কৌতুক করতেন কিন্তু তিনি তা অস্বীকার বা নিষেধ করেননি। আর এভাবেই হাদীসগুলো সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।

এই বিষয়ে কাযী আয়ায বলেন: "বিলাল, আবু উমায়ের, খাওয়ারাত, যাহির, আনাস এবং আয়েশার সাথে তাঁর কৌতুক করার বিষয়ে সুপ্রসিদ্ধ হাদীসসমূহ বর্ণিত হয়েছে। তিনি এক বৃদ্ধাকে বলেছিলেন: ‘নিশ্চয়ই কোনো বৃদ্ধা জান্নাতে প্রবেশ করবে না’। তিনি এক মহিলাকে, যে তার স্বামী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল, বলেছিলেন: ‘তিনি কি সেই ব্যক্তি যার চোখে সাদা অংশ আছে?’। তিনি অন্য একজনকে বলেছিলেন: ‘আমি অবশ্যই তোমাকে উটনীর বাচ্চার ওপর আরোহণ করাব’। তিনি জাবিরকে বলেছিলেন: ‘তুমি কেন কোনো কুমারী মেয়েকে বিবাহ করলে না, যার সাথে তুমি আমোদ-প্রমোদ করতে আর সেও তোমার সাথে আমোদ-প্রমোদ করত?’। সুপরিচিত বর্ণনাসমূহে ‘তুমি তার সাথে খেলাধুলা করতে আর সে তোমার সাথে খেলাধুলা করত’ শব্দেও বর্ণিত হয়েছে। এ সবই তাঁর বিনয় প্রকাশ করে।"
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وانبساطه للناس وتحببه».

وستمر بك- إن شاء الله- أحاديث في هذا الباب.

وقال الحافظ ابن حجر: «وقد أخرج الترمذي وحسَّنه من حديث أبي هريرة قال: قالوا: يا رسول الله، إنك تداعبنا، قال: «إني لا أقول إلا حقًّا»، وأخرج من حديث ابن عباس رضي الله عنهما رفعه: «لا تمار أخاك ولا تمازحه .. ). الحديث، والجمع بينهما: (أي مع حديث «إنا حاملوك على ولد الناقة») أن المنهي عنه ما فيه إفراط ومداومة عليه، لما فيه من الشغل عن ذكر الله والتفكُّر في مهمات الدين ويؤدي إلى قسوة القلب والإيذاء والحقد وسقوط المهابة والوقار، والذي يسلم من ذلك هو المباح فإن صادف مصلحة مثل: تطييب نفس المخاطب ومؤانسته فهو المستحب».

وعلى هذا فالحديث إن صح فهو محمول على ما لو كان في ذلك تعدٍّ أو إساءة أدب أو إيذاء من ضرب أو ترويع أو أخذ حاجة.

وعليه، يكون الحديث من جِنْس قوله صلى الله عليه وسلم: لا يَأْخُذَنَّ أحدكم متاع أخيه لَعِبًا ولا جِدًّا».
এবং মানুষের প্রতি তাঁর প্রসন্নতা ও প্রীতি প্রদর্শন।

ইনশাআল্লাহ, এই অধ্যায়ে আপনার সামনে আরও কিছু হাদিস আসবে।

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: “তিরমিযী আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান বলেছেন, তিনি বলেন: তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাদের সাথে রসিকতা করেন। তিনি বললেন: ‘আমি সত্য ছাড়া কিছু বলি না’। এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: ‘তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করো না এবং তার সাথে রসিকতা করো না...’। (হাদিসটি)। আর এই দুটির মধ্যে সমন্বয় হলো: (অর্থাৎ ‘আমরা তোমাকে উটের বাচ্চার ওপর আরোহণ করাব’ এই হাদিসের সাথে) যে, নিষিদ্ধ হলো সেই রসিকতা যাতে অতিরঞ্জন এবং নিরবচ্ছিন্নতা রয়েছে, কারণ এটি আল্লাহর জিকির এবং দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করা থেকে বিমুখ করে দেয় এবং এটি অন্তর কঠোর হওয়া, কষ্ট দেওয়া, বিদ্বেষ সৃষ্টি হওয়া এবং গাম্ভীর্য ও মর্যাদা নষ্ট হওয়ার দিকে ধাবিত করে। আর যা এসব দোষ থেকে মুক্ত তা বৈধ; আর যদি তাতে কোনো কল্যাণ থাকে যেমন: সম্বোধিত ব্যক্তির মনকে আনন্দিত করা এবং তার সাথে হৃদ্যতা তৈরি করা, তবে তা মুস্তাহাব।”

এই অনুযায়ী, হাদিসটি যদি সহিহ হয় তবে তা সেই পরিস্থিতির ওপর প্রয়োগ হবে যেখানে তাতে সীমালঙ্ঘন, আদব রক্ষা না করা অথবা প্রহার, আতঙ্কিত করা কিংবা কোনো জিনিস কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে কষ্ট দেওয়ার বিষয় থাকে।

সেই হিসেবে, হাদিসটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবে: “তোমাদের কেউ যেন তার ভাইয়ের কোনো সামগ্রী রসিকতাচ্ছলে অথবা গুরুত্বের সাথে না নেয়।”
(খণ্ড: ১) মারউইয়্যাতুল মিযাহি ওয়াদ দুআবাহ আনিন নাবিয়্যি - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - ওয়াস সাহাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وقوله صلى الله عليه وسلم: «لا يحل لمسلم أن يروِّع مسلمًا». والحديثان صحيحان.

وبما تقدَّم يتبين لك بطلان الاحتجاج بالحديث على النهي عن المزاح مطلقًا. والله الموفق.

 

‌‌ثانيًا:

وربما اسْتُدِلَّ بحديث أبي هريرة رضي الله عنه في النهي عن كثرة الضحك، على كراهية المزاح والنهي عنه. ويُرَدُّ هذا الاستدلال بأن يُقال: ليس في الحديث دليل على حرمة الضحك بل ولا حتى القهقهة. وهي الضحك مقرونًا بصوت.

فإن كتب السُّنَّة مليئة بالأحاديث التي فيها ذكر ضحك النبي صلى الله عليه وسلم حتى تبدو (أنيابه) وفي رواية (نواجذه) وفي رواية (أضراسه)، بل جاء في الحديث أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه ضحك حتى استلقى على قفاه من شدة الضحك وذلك بحضرة النبي صلى الله عليه وسلم، ولم ينكر عليه ذلك كما في حديث مبايعة هند بنت عتبة رضي الله عنها لرسول الله صلى الله عليه وسلم وقد جاءته متنكرة حتى لا يعرفها لأجل صَنيعها بعمِّه حمزة بن عبد المطلب رضي الله عنه.
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "কোনো মুসলিমের জন্য অন্য কোনো মুসলিমকে আতঙ্কিত করা বৈধ নয়।" এবং হাদিস দুটি সহিহ।

উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে আপনার কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, রসিকতাকে ঢালাওভাবে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা অসার। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।

 

‌‌দ্বিতীয়ত:

সম্ভবত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত অধিক হাসাহাসি নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত হাদিসটি দ্বারা রসিকতাকে অপছন্দীয় এবং তা নিষিদ্ধ হওয়ার স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয়। এই দলিলের প্রতিবাদে বলা যেতে পারে যে: এই হাদিসে হাসিকে হারাম বলার কোনো প্রমাণ নেই, এমনকি শব্দ করে হাসির (কাহকাহাহ) ক্ষেত্রেও নয়। আর তা হলো শব্দের সাথে হাসি।

কারণ সুন্নাহর কিতাবসমূহ এমন সব হাদিসে পরিপূর্ণ যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাসির কথা বর্ণিত হয়েছে, এমনকি তাঁর সামনের দাঁত মোবারক প্রকাশিত হয়ে পড়ত; অন্য বর্ণনায় এসেছে মাড়ির দাঁত, আবার অন্য বর্ণনায় এসেছে পেষক দাঁত। বরং হাদিসে এসেছে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হাসির তীব্রতায় চিত হয়ে শুয়ে পড়েছিলেন এবং তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতিতেই ছিল, আর তিনি এর প্রতিবাদ করেননি। যেমনটি হিন্দ বিনতে উতবা রাদিয়াল্লাহু আনহার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বায়আত গ্রহণের হাদিসে এসেছে। আর তিনি ছদ্মবেশে তাঁর কাছে এসেছিলেন যেন তাঁর চাচার সাথে অর্থাৎ হামজা ইবন আব্দুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে তিনি যা করেছিলেন সে কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চিনতে না পারেন।