(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث الواردة في اللعب والرياضة   (صالح بن فريح البهلال)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: الأحاديث الواردة في اللُّعَب والرياضة -دراسة حديثية فقهية-

المؤلف: د. صالح فريح البهلال

أصل الكتاب: أطروحة دكتوراه في التفسير والحديث - قسم الثقافة الإسلامية، في جامعة الملك سعود عام 1430 هـ

الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية -الدمام

الطبعة: الأولى، 1435 هـ

عدد الصفحات: 538

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 ربيع الآخر 1443

খেলাধুলা এবং ব্যায়াম সম্পর্কিত হাদীসসমূহ   (সালিহ বিন ফুরাইহ আল-বাহলাল)

বিভাগ: তাখরিজ এবং আতরাফ


গ্রন্থ: খেলাধুলা এবং ব্যায়াম সম্পর্কিত হাদীসসমূহ -হাদীসভিত্তিক ও ফিকহী গবেষণা-

লেখক: ড. সালিহ ফুরাইহ আল-বাহলাল

মূল গ্রন্থ: তাফসীর ও হাদীসের উপর পিএইচডি থিসিস - ইসলামী সংস্কৃতি বিভাগ، কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, ১৪৩০ হিজরী

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযী প্রকাশনা ও বিতরণ، সৌদি আরব -দাম্মাম

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৫ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله، وسلم تسليمًا كثيرًا.

أما بعد:

فإن من خير أوقات المسلم الأوقات التي يقضيها في رياض السنة؛ يتفيأ ظلالها، ويقبس من مشكاتها؛ يأخذ من النبي الكريم صلى الله عليه وسلم نور الهدى، وإشراقة الوحي، ومحض النصيحة؛ فيعبد الله على بصيرة، ويأخذ منه سهولة الأخلاق، وحسن المعاملة، وكرم الخليقة؛ فيحسن مخالطة الخلق، ويأخذ منه حلَّ المشكلة، وفك الأزمة، وكشف الغمة؛ فتنجلي عنه المضايق، وترتفع البوائق، ويجد برد السرور، فحديثه صلى الله عليه وسلم ليس كحديث غيره من الخلق، فقد قال عنه ربه -سبحانه-: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (4)} [النجم] فنُعْمى وحسن عُقبى لمن اتَّبعه وصدَّقه، وسحقًا وبؤسى لمن كذَّبه وأساء إليه.

وإن من منة الله على هذه الأمة أن قيَّض لحديث نبيها محمد صلى الله عليه وسلم علماء نحارير، أوغلوا في تحصيله، وأمعنوا في تنقيته، فاستبطنوا دخائله، واستجلوا غوامضه، وأحصوا مسائله، وصنفوا فيه المجاميع والأسفار.

وكان من طرائقهم -عليهم الرحمة والرضوان- في التصنيف إفراد الأحاديث ذات الموضوع الواحد في مؤلِّفٍ واحد.

وهذا مهيَعٌ حسن؛ يدني قطوف الباب، ويقرِّب فوائده، ويلُمُّ شتاته، ويجمع أحكامه.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই একজন মুসলিমের সর্বোত্তম সময়গুলো হলো সেই সময় যা সে সুন্নাহর বাগানে অতিবাহিত করে; সে এর ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে এবং এর প্রদীপ থেকে আলো সংগ্রহ করে। সে দয়ালু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে হিদায়াতের নূর, ওহীর দ্যুতি এবং খাঁটি নসিহত গ্রহণ করে; ফলে সে দূরদর্শিতার সাথে আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাঁর নিকট থেকে নম্র স্বভাব, সদ্ব্যবহার ও চারিত্রিক উদারতা শিক্ষা নেয়; এর মাধ্যমে সে সৃষ্টির সাথে সুন্দর মেলামেশা করে। সে তাঁর থেকে সমস্যার সমাধান, সংকটের মুক্তি এবং দুশ্চিন্তা দূর করার উপায় লাভ করে; ফলে তার সকল সংকীর্ণতা দূর হয়ে যায়, বিপদাপদ দূরীভূত হয় এবং সে প্রশান্তির শীতলতা অনুভব করে। কেননা তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা সৃষ্টির অন্য কারও কথার মতো নয়, তাঁর সম্পর্কে তাঁর রব -সুবহানাহু- বলেছেন: {আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না (৩) তা তো কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয় (৪)} [নাজম]। সুতরাং তার জন্য রয়েছে নিআমত ও উত্তম পরিণাম যে তাঁর অনুসরণ করল ও তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করল, আর তার জন্য রয়েছে ধ্বংস ও দুর্ভাগ্য যে তাঁকে অস্বীকার করল ও তাঁর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করল।

আর এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ হলো যে, তিনি তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের জন্য এমন প্রাজ্ঞ আলেমদের নিয়োজিত করেছেন, যারা হাদীস অর্জনে গভীরভাবে নিবিষ্ট হয়েছেন এবং তা পরিশুদ্ধ করতে মনোনিবেশ করেছেন। তাঁরা হাদীসের অন্তর্নিহিত বিষয়সমূহ অনুধাবন করেছেন, এর জটিল বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছেন, এর মাসআলাসমূহ গণনা করেছেন এবং এ বিষয়ে বড় বড় সংকলন ও গ্রন্থ রচনা করেছেন।

গ্রন্থ রচনায় তাঁদের —তাঁদের ওপর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক— অন্যতম পদ্ধতি ছিল একক বিষয়ভিত্তিক হাদীসগুলোকে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলন করা।

আর এটি একটি চমৎকার পদ্ধতি; যা সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের ফলগুলোকে হাতের নাগালে এনে দেয়, এর উপকারিতাগুলোকে নিকটবর্তী করে, এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করে এবং এর হুকুম-আহকামগুলোকে একীভূত করে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
ورغبةً في اللحاق بطريق أولئك السَّراة حرصت أن تكون رسالتي للدكتوراة داخلة في قبيل ذلك النوع من التصنيف، فكان عنوانها كالتالي:

(الأحاديث الواردة في اللُّعب والرياضة)

دراسة حديثية فقهية

 

وفيما يلي بيان ل‌‌مشكلة البحث، وحدوده، وأهميته، وأسباب اختياره، والدراسات السابقة فيه، والخطة التفصيلية له، ومنهج البحث والدراسة فيه.

• مشكلة البحث:

لقد انتشرت اللُّعب والرياضة في عصرنا انتشارًا لم يعهد له مثيل من قبل؛ والمتأمل في السُّنَّة يجد أنها تحوي جملة وافرة من هذا القبيل؛ بيدَ أنه متفرقٌ في تضاعيف الكتب، ولا يوجد تتبعٌ شموليٌّ له -فيما أعلم-.

وقد يخفى شيءٌ من ذلك على غير المختصين، فيقع اللبس، والخلط؛ من جهة العلم بوجود الحديث، أو درجته، أو فقهه.

وإن جمع الأحاديث الواردة في ذلك مع بيان حكمها وفقهها سبيلٌ لتقريب العلم فيها وتأصيله.

 

•‌‌ حدود البحث:

أما حدود البحث فهو في كتب الحديث عامة، فقد اجتهدت في جمع كل ما يتعلق باللُّعب والرياضة، من الأحاديث المرفوعة للنبي صلى الله عليه وسلم ، وقد بلغت ثمانية وخمسين ومئة حديث؛ منها ستة وثلاثون ومئة حديث خارج الصحيحين؛ أربعون حديثًا منها من أحاديث العلل.

ثم بعد ذلك اجتهدت في بيان فقهها، وقد ربَت المسائل الفقهية على مئة مسألة فقهية، منها ثلاثون مسألة من المسائل المعاصرة.

 

•‌‌ أهمية البحث، وأسباب اختياره:

1 - مسيس الحاجة إلى تأصيل مثل هذا الموضوع؛ خصوصًا في هذا
সেই সব অগ্রপথিকদের পথ অনুসরণ করার বাসনায় আমি আমার ডক্টরেট থিসিসটি এই ধরনের শ্রেণীবিন্যাসের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি, যার শিরোনাম নিম্নরূপ:

(খেলাধুলা ও ব্যায়াম সংক্রান্ত হাদিসসমূহ)

হাদিসতাত্ত্বিক ও ফিকহি পর্যালোচনা

 

নিচে গবেষণার সমস্যা, এর পরিধি, গুরুত্ব, নির্বাচনের কারণ, এই বিষয়ে পূর্ববর্তী অধ্যয়ন, এর বিস্তারিত পরিকল্পনা এবং এতে গবেষণা ও পর্যালোচনার পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো।

• গবেষণার সমস্যা:

আমাদের বর্তমান যুগে খেলাধুলা ও ব্যায়াম এমনভাবে বিস্তার লাভ করেছে যা আগে কখনও দেখা যায়নি। সুন্নাহর প্রতি দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, এতে এই সংক্রান্ত প্রচুর বর্ণনা রয়েছে; তবে সেগুলো বিভিন্ন কিতাবের ভাঁজে ভাঁজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এবং আমার জানামতে এগুলোর কোনো সামগ্রিক অনুসন্ধান নেই -যতদূর আমি জানি-।

আর বিশেষজ্ঞ নন এমন ব্যক্তিদের কাছে এর অনেক কিছুই অস্পষ্ট থাকতে পারে, ফলে হাদিসের অস্তিত্ব, এর মান বা এর ফিকহ সম্পর্কে বিভ্রান্তি ও সংমিশ্রণ ঘটতে পারে।

এই সংক্রান্ত হাদিসগুলো সংগ্রহ করে সেগুলোর বিধান ও ফিকহ স্পষ্ট করা এই জ্ঞানকে নিকটবর্তী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করার একটি পথ।

 

•‌‌ গবেষণার পরিধি:

গবেষণার পরিধির ক্ষেত্রে তা সাধারণত হাদিসের কিতাবসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (মারফু) খেলাধুলা ও ব্যায়াম সংক্রান্ত সব হাদিস সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছি, যার সংখ্যা একশত আটান্নটিতে পৌঁছেছে; এর মধ্যে একশত ছত্রিশটি হাদিস সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর বাইরে এবং এর মধ্যে চল্লিশটি হাদিস ‘ইল্লাত’ (সুক্ষ্ম ত্রুটি) যুক্ত হাদিসের অন্তর্ভুক্ত।

এরপর আমি সেগুলোর ফিকহ বর্ণনার চেষ্টা করেছি। এতে ফিকহি মাসআলাসমূহের সংখ্যা একশ ছাড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে ত্রিশটি মাসআলা সমসাময়িক বিষয় সংক্রান্ত।

 

•‌‌ গবেষণার গুরুত্ব ও তা নির্বাচনের কারণসমূহ:

১ - এ জাতীয় বিষয়ের মূলনীতি নির্ধারণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা; বিশেষ করে এই
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
العصر؛ إذ أضحت مسائل اللُّعب والرياضة من أولويات الاهتمامات عند كثير من الناس، وخصوصًا الشباب(1)، فأحببت بحكم التخصص أن أجمع ما ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم في ذلك مع بيان فقهه؛ لأن السُّنَّة أصلٌ في معرفة الأحكام، قال الإمام سفيان الثوري رحمه الله : «إنما الدين بالآثار وليس بالرأي، إنما الدين بالآثار وليس بالرأي، إنما الدين بالآثار وليس بالرأي»(2)، وقال أحوذي هذا العلم عبد الرحمن بن مهدي رحمه الله : «لو استقبلت من أمري ما استدبرت؛ لكتبت بجنب كل حديث تفسيره»(3).

2 - جِدَّة الموضوع؛ حيث لم يسبق أن كتب فيه كتابة موضوعية حديثية مستوعبة -فيما اطلعت عليه-.

3 - الحاجة إلى تأصيل بعض المسائل المعاصرة، وذكر ضوابطها الشرعية.

4 - أن فيه إبرازًا لمدى شمول الشريعة الإسلامية وسعتها وسماحتها، في استيعاب جميع حاجات النفس البشرية، وأن فيها فسحة في ممارسة اللهو المباح.

 

•‌‌ الدراسات السابقة:

بعد فحص في فهارس المكتبات الكبيرة، كمكتبة الملك فهد الوطنية، ومكتبة الملك فيصل، ومكتبات الجامعات، والمكتبات التجارية وقفت على عدد من الكتب، ومنها:

1 - المسابقات، وأحكامها في الشريعة الإسلامية، تأليف د. سعد بن ناصر الشثري، دار الحبيب، الرياض.

--------------------------------------------

(1) (1) أجرت مجلة الأسرة في عددها 83 استبانة على ألف شاب وشابة، من طلاب الجامعات في الرياض، والدمام، وجدة، فكانت النتيجة ما يلي: بلغت نسبة الثقافة عندهم في الرياضة (87 %)، وفي الفن (88 %)، أما الثقافة الإسلامية، فبلغت (58 %).

(2) أخرجه الخطيب في شرف أصحاب الحديث ص 6.

(3) أخرجه الخطيب في الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع 2/ 152.
বর্তমান যুগ; যেহেতু খেলাধুলা ও শরীরচর্চার বিষয়টি অনেক মানুষের কাছে, বিশেষ করে যুবকদের কাছে প্রধান আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়েছে(১), তাই আমি আমার বিশেষত্বের খাতিরে এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা ফিকহী ব্যাখ্যাসহ জমা করতে চেয়েছি; কারণ সুন্নাহ হলো বিধান জানার মূল ভিত্তি। ইমাম সুফিয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: «নিশ্চয়ই দ্বীন হলো আছার (বর্ণনা) ভিত্তিক, রায় (ব্যক্তিগত মতামত) ভিত্তিক নয়; নিশ্চয়ই দ্বীন হলো আছার ভিত্তিক, রায় ভিত্তিক নয়; নিশ্চয়ই দ্বীন হলো আছার ভিত্তিক, রায় ভিত্তিক নয়»(২)। এই ইলমের দিকপাল আবদুর রহমান বিন মাহদী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: «আমি যদি আমার জীবনের ফেলে আসা দিনগুলো ফিরে পেতাম, তবে প্রতিটি হাদিসের পাশেই তার ব্যাখ্যা লিখে রাখতাম»(৩)।

২ - বিষয়বস্তুর নতুনত্ব; আমার জানামতে এই বিষয়ে ইতিপূর্বে কোনো বস্তুনিষ্ঠ ও হাদিসভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচিত হয়নি।

৩ - সমকালীন কিছু বিষয়ের শরয়ী মূলনীতি নির্ধারণ এবং এর আইনি সীমাবদ্ধতাগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা।

৪ - এতে ইসলামি শরীয়তের ব্যাপকতা, প্রশস্ততা ও সহনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে, যা মানুষের সকল প্রয়োজন পূরণ করতে সক্ষম এবং এতে বৈধ বিনোদনের সুযোগ রয়েছে।

 

•‌‌ পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

কিং ফাহাদ জাতীয় লাইব্রেরি, কিং ফয়সাল লাইব্রেরি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি এবং বাণিজ্যিক লাইব্রেরিগুলোর ক্যাটালগ পরীক্ষা করার পর আমি বেশ কিছু বই পেয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - আল-মুসাবাহকাত ওয়া আহকামুহা ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ (প্রতিযোগিতা এবং ইসলামি শরীয়তে তার বিধানসমূহ), লেখক: ড. সাদ বিন নাসের আশ-শিসরি, দারুল হাবিব, রিয়াদ।

--------------------------------------------

(১) (১) আল-উসরাহ ম্যাগাজিন তাদের ৮৩তম সংখ্যায় রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজার ছাত্র-ছাত্রীর ওপর একটি জরিপ চালিয়েছে। তার ফলাফল ছিল নিম্নরূপ: তাদের মধ্যে খেলাধুলা বিষয়ক সচেতনতার হার ছিল (৮৭%), শিল্পকলা বিষয়ক (৮৮%), আর ইসলামি সংস্কৃতি বিষয়ক সচেতনতার হার ছিল (৫৮%)।

(২) আল-খাতিব 'শারাফু আসহাবিল হাদিস' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, পৃষ্ঠা: ৬।

(৩) আল-খাতিব 'আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামি' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, ২/১৫২।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
2 - أحكام المسابقات وتطبيقاتها المعاصرة، إعداد: عبد الرحمن بن محمد البديع، وهو بحث تكميلي لنيل درجة الماجستير من المعهد العالي للقضاء.

3 - أحكام المسابقات في الفقه الإسلامي، إعداد: أحمد بن حامد الطلحي، وهي رسالة ماجستير مقدمة لجامعة أم القرى.

4 - الألعاب الرياضية، أحكامها وضوابطها في الفقه الإسلامي، إعداد: علي بن حسين بن أمين يونس. وهي رسالة ماجستير مقدمة لكلية الشريعة في الجامعة الأردنية، دار النفائس، الأردن.

5 - فنون الرياضة والألعاب وأحكامها في الشريعة الإسلامية، إعداد: محمد بن سعيد بسمار، وهي رسالة ماجستير، مقدمة إلى كلية الشريعة في جامعة دمشق، وهذه الرسالة لم تنشر حتى في الجامعة التي نوقشت فيها؛ لكن يسر الله الاتصال بمؤلفها، فأرسلها كاملة على البريد الإلكتروني.

6 - عقد السباق، تأليف د. عبد الفتاح إدريس، النسر الذهبي للطباعة.

7 - موقف الشريعة الإسلامية من الميسر والمسابقات الرياضية، تأليف د. رمضان حافظ عبد الرحمن، دار الطرفين، الطائف.

8 - بغية المشتاق في حكم اللهو واللعب والسباق، تأليف د. حمدي شلبي، مكتبة ابن سينا، القاهرة.

9 - قضايا اللهو والترفيه بين الحاجة النفسية والضوابط الشرعية، تأليف مادون رشيد، دار طيبة، الرياض.

وهذه الرسائل فقهية محضة ليس من مقصود أصحابها جمع الأحاديث، ولا دراستها؛ إذ لا يبلغ مجموع ما ذكروه من الأحاديث سوى الربع مما في الرسالة.

 

•‌‌ أهداف البحث:

1 - تمييز الثابت من غيره في أحاديث اللُّعَب والرِّياضة.

2 - معرفة أنواع اللُّعب والرياضة الموجودة في عهد النبوة.
২ - প্রতিযোগিতার বিধিবিধান ও এর সমসাময়িক প্রয়োগসমূহ, প্রস্তুতিতে: আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-বাদী, এটি উচ্চতর বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউট থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য একটি সম্পূরক গবেষণা।

৩ - ইসলামি ফিকহে প্রতিযোগিতার বিধিবিধান, প্রস্তুতিতে: আহমদ বিন হামিদ আত-তালহি, এটি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থাপিত একটি মাস্টার্স থিসিস।

৪ - শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা, ইসলামি ফিকহে এর বিধিবিধান ও মূলনীতি, প্রস্তুতিতে: আলী বিন হুসাইন বিন আমিন ইউনুস। এটি জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদে উপস্থাপিত একটি মাস্টার্স থিসিস, দারুন নাফাইস, জর্ডান।

৫ - ইসলামি শরীয়তে শরীরচর্চা ও খেলাধুলার শিল্প এবং এর বিধিবিধান, প্রস্তুতিতে: মুহাম্মদ বিন সাঈদ বাসমার, এটি দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদে উপস্থাপিত একটি মাস্টার্স থিসিস। এই থিসিসটি এমনকি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি আলোচিত হয়েছিল সেখানেও প্রকাশিত হয়নি; তবে আল্লাহ এর লেখকের সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং তিনি এটি পূর্ণাঙ্গভাবে ইমেইলের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন।

৬ - প্রতিযোগিতার চুক্তি, রচনায়: ড. আবদিল ফাত্তাহ ইদ্রিস, আন-নাসর আল-জাহাবি প্রিন্টিং।

৭ - জুয়া ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিষয়ে ইসলামি শরীয়তের অবস্থান, রচনায়: ড. রমজান হাফেজ আবদুর রহমান, দারুত তারাফাইন, তায়েফ।

৮ - আমোদ-প্রমোদ, খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতার বিধানে বুগইয়াতুল মুশতাক, রচনায়: ড. হামদি শালবি, ইবনে সিনা লাইব্রেরি, কায়রো।

৯ - মনস্তাত্ত্বিক প্রয়োজন ও শরয়ী নির্দেশনার মাঝে আমোদ-প্রমোদ ও বিনোদনের বিষয়সমূহ, রচনায়: মাদন রশিদ, দারু তাইয়েবা, রিয়াদ।

এই থিসিসগুলো বিশুদ্ধ ফিকহ সংক্রান্ত, এগুলোর লেখকদের উদ্দেশ্য হাদীস সংকলন বা তার পর্যালোচনা করা ছিল না; কেননা তারা যে পরিমাণ হাদীস উল্লেখ করেছেন তার সমষ্টি এই থিসিসে (বক্ষ্যমাণ গবেষণা) থাকা হাদীসসমূহের মাত্র এক-চতুর্থাংশ।

 

•‌‌ গবেষণার লক্ষ্যসমূহ:

১ - খেলাধুলা ও শরীরচর্চা সংক্রান্ত হাদীসগুলোর মধ্যে সাব্যস্ত বা প্রমাণিত এবং অপ্রমাণিত হাদীসগুলোকে পৃথক করা।

২ - নবুওয়াতের যুগে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রকার খেলাধুলা ও শরীরচর্চা সম্পর্কে অবগত হওয়া।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
3 - الوقوف على المباح والمحرم من اللعب والرياضة.

4 - تأصيل هذا الموضوع تأصيلًا شرعيًّا.

 

•‌‌ منهج البحث:

سأسلك -إن شاء الله- في بحثي المنهج الاستقرائي الاستنتاجي مع استخدام المنهج المقارن.

 

•‌‌ إجراءات البحث:

1 - جمع الأحاديث المتعلقة باللعب والرياضة من كتب الحديث -قدر المستطاع-.

 

2 - توزيع الأحاديث على الأبواب حسب‌‌ خطة البحث.

3 - ستكون خطوات الدراسة المفصلة كالتالي:

أ وضع عنوانات للأبواب، والفصول، والمباحث، والمطالب.

ب التعريف بالعنوانات.

ت جمع الأحاديث تحت ذلك العنوان.

ث تخريج الأحاديث والحكم عليها حسب ما جرى عليه العمل في مسار الحديث في قسم الثقافة في جامعة الملك سعود.

ج بيان الغريب عقب كل حديث.

ح بعد سرد الأحاديث ذات الوحدة الموضوعية، يذكر فقه الحديث.

 

• خطة البحث:

يشتمل هذا البحث على مقدمة، وتمهيد، وبابين، وخاتمة:

 

• المقدمة: وفيها بيان أهمية الموضوع، وأسباب اختياره، مع ذكر أهدافه، وخطة البحث فيه.

 

• تمهيد، ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف باللُّعَب.
৩ - খেলাধুলা ও শরীরচর্চার ক্ষেত্রে বৈধ ও অবৈধ বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া।

৪ - এই বিষয়টির একটি শরয়ী মূলনীতি নির্ধারণ করা।

 

•‌‌ গবেষণার পদ্ধতি:

আমি আমার গবেষণায় -ইনশাআল্লাহ- তুলনামূলক পদ্ধতির ব্যবহারের পাশাপাশি আরোহী ও অবরোহী পদ্ধতি অনুসরণ করব।

 

•‌‌ গবেষণার পদক্ষেপসমূহ:

১ - হাদিসের কিতাবসমূহ থেকে খেলাধুলা ও শরীরচর্চা সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলো সংগ্রহ করা -সাধ্যানুযায়ী-।

 

২ - গবেষণার পরিকল্পনা অনুযায়ী হাদিসগুলোকে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করা।

৩ - বিস্তারিত পর্যালোচনার ধাপগুলো হবে নিম্নরূপ:

ক. অধ্যায়, পরিচ্ছেদ, অনুচ্ছেদ এবং উপ-অনুচ্ছেদসমূহের শিরোনাম নির্ধারণ করা।

খ. শিরোনামগুলোর পরিচয় প্রদান।

গ. উক্ত শিরোনামের অধীনে হাদিসসমূহ সংগ্রহ করা।

ঘ. কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি বিভাগের হাদিস শাখার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (তাখরিজ) ও সেগুলোর মান নির্ধারণ করা।

ঙ. প্রতিটি হাদিসের পর দুর্বোধ্য শব্দগুলোর (গরীব) ব্যাখ্যা প্রদান করা।

চ. একই বিষয়বস্তুর হাদিসগুলো বর্ণনার পর হাদিসের মর্মার্থ ও ফিকহ উল্লেখ করা।

 

• গবেষণার পরিকল্পনা:

এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমনিকা, দুইটি মূল অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত:

 

• ভূমিকা: এতে বিষয়ের গুরুত্ব, এটি নির্বাচনের কারণসমূহ এবং সেই সাথে এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও গবেষণার পরিকল্পনা বর্ণনা করা হয়েছে।

 

• উপক্রমনিকা, এটি তিনটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: খেলাধুলার পরিচয়।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث الثاني: تعريف الرياضة.

المبحث الثالث: حكم اللَّعب في الإسلام.

 

• الباب الأول: الأحاديث الواردة في اللُّعب وفيه فصلان:

الفصل الأول: اللعب المتعلقة بالجماد، وفيه تسعة مباحث:

المبحث الأول: اللعب بالتراب، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: تعريف اللعب بالتراب.

المطلب الثاني: ما ورد في اللعب بالتراب.

المبحث الثاني: اللعب بالأرجوحة، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: تعريف الأرجوحة.

المطلب الثاني: ما ورد في اللعب بالأرجوحة.

المبحث الثالث: اللعب بالعهن، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: تعريف اللعب بالعهن.

المطلب الثاني: ما ورد في اللعب بالعهن.

المبحث الرابع: اللعب بالبنات، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: تعريف اللعب بالبنات.

المطلب الثاني: ما ورد في اللعب بالبنات.

المبحث الخامس: اللعب بالكُرَّج، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: تعريف اللعب بالكُرَّج.

المطلب الثاني: ما ورد في اللعب بالكُرَّج.

المبحث السادس: اللعب بالخذف، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: تعريف الخذف.

المطلب الثاني: ما ورد في اللعب بالخذف.

المبحث السابع: اللعب بالنرد، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: تعريف النرد.

المطلب الثاني: ما ورد في النرد.

المبحث الثامن: اللعب بالشطرنج، وفيه مطلبان:
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ক্রীড়ার সংজ্ঞা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামে খেলার বিধান।

 

• প্রথম অধ্যায়: খেলাধুলা বিষয়ক হাদিসসমূহ এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: জড়বস্তু সম্পর্কিত খেলাধুলা, এতে নয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মাটি দিয়ে খেলা, এতে দুটি অনুবিভাগ রয়েছে:

প্রথম অনুবিভাগ: মাটি দিয়ে খেলার সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুবিভাগ: মাটি দিয়ে খেলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দোলনায় খেলা, এতে দুটি অনুবিভাগ রয়েছে:

প্রথম অনুবিভাগ: দোলনার সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুবিভাগ: দোলনায় খেলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রঙিন পশম দিয়ে খেলা, এতে দুটি অনুবিভাগ রয়েছে:

প্রথম অনুবিভাগ: রঙিন পশম দিয়ে খেলার সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুবিভাগ: রঙিন পশম দিয়ে খেলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পুতুল নিয়ে খেলা, এতে দুটি অনুবিভাগ রয়েছে:

প্রথম অনুবিভাগ: পুতুল নিয়ে খেলার সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুবিভাগ: পুতুল নিয়ে খেলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: কাঠের ঘোড়া দিয়ে খেলা, এতে দুটি অনুবিভাগ রয়েছে:

প্রথম অনুবিভাগ: কাঠের ঘোড়া দিয়ে খেলার সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুবিভাগ: কাঠের ঘোড়া দিয়ে খেলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ঢিল ছোড়া খেলা, এতে দুটি অনুবিভাগ রয়েছে:

প্রথম অনুবিভাগ: ঢিল ছোড়ার সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুবিভাগ: ঢিল ছোড়া খেলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: নার্দ (পাশা) খেলা, এতে দুটি অনুবিভাগ রয়েছে:

প্রথম অনুবিভাগ: নার্দের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুবিভাগ: নার্দ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: দাবা খেলা, এতে দুটি অনুবিভাগ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
المطلب الأول: تعريف الشطرنج.

المطلب الثاني: ما ورد في الشطرنج.

المبحث التاسع: اللعب بعظم وضاح، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: تعريف عظم وضاح.

المطلب الثاني: ما ورد في عظم وضاح.

الفصل الثاني: اللُّعب المتعلقة بالحيوان، وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: اللعب بالحمام، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: ما ورد في اللعب بالحمام بدون عوض.

المطلب الثاني: ما ورد في اللعب بالحمام بعوض.

المبحث الثاني: اللعب بالنُّغَر، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: تعريف النغر.

المطلب الثاني: ما ورد في اللعب بالنغر.

المبحث الثالث: التحريش بين البهائم، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: تعريف التحريش بين البهائم.

المطلب الثاني: ما ورد في التحريش بين البهائم.

المبحث الرابع: ما ورد في اللعب بالكلب.

 

• الباب الثاني: الأحاديث الواردة في الرياضة، وفيه ثمانية فصول:

الفصل الأول: الرمي، وفيه خمسة مباحث:

المبحث الأول: تعريف الرمي.

المبحث الثاني: ما ورد في فضل الرمي، وفيه ثمانية مطالب:

المطلب الأول: ما ورد في الأمر بالرمي.

المطلب الثاني: ما ورد في ثواب الرمي.

المطلب الثالث: ما ورد في أن الرمي ليس من اللهو الباطل.

المطلب الرابع: ما ورد في التحذير من نسيان الرمي.

المطلب الخامس: ما ورد في شهود الملائكة للرمي.

المطلب السادس: ما ورد أن الرمي مطردة للهم.
প্রথম অনুচ্ছেদ: দাবা খেলার সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দাবা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

নবম পরিচ্ছেদ: আজমু ওয়াদ্দাহ (সাদা হাড়) নিয়ে খেলা, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: আজমু ওয়াদ্দাহ-এর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আজমু ওয়াদ্দাহ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: প্রাণী সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা, এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কবুতর নিয়ে খেলা, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: বিনিময়হীন কবুতর খেলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বিনিময়ের বিনিময়ে কবুতর খেলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নুগার পাখি নিয়ে খেলা, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: নুগার পাখির সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নুগার পাখি নিয়ে খেলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পশুদের মধ্যে লড়াই বাঁধানো, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: পশুদের মধ্যে লড়াই বাঁধানোর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পশুদের মধ্যে লড়াই বাঁধানো সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কুকুর নিয়ে খেলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

 

• দ্বিতীয় খণ্ড: শরীরচর্চা বা ক্রীড়া সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ, এতে আটটি অধ্যায় রয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: তীরন্দাজি, এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তীরন্দাজির সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তীরন্দাজির ফজিলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, এতে আটটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তীরন্দাজির নির্দেশ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তীরন্দাজির সওয়াব সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তীরন্দাজি যে অনর্থক ক্রীড়া নয়, সে সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তীরন্দাজি ভুলে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্কবাণী।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তীরন্দাজিতে ফেরেশতাদের উপস্থিত থাকা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তীরন্দাজি যে দুশ্চিন্তা দূরকারী, সে সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
المطلب السابع: ما جاء أن الرمي من الفطرة.

المطلب الثامن: ما ورد أن المتناضلين في صلاة ما داموا يتناضلون.

المبحث الثالث: ما ورد في السبْق في الرمي بدون عوض.

المبحث الرابع: ما ورد في السبْق في الرمي بعوض.

المبحث الخامس: اتخاذ ذي الروح غرضًا، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: معنى اتخاذ ذي الروح غرضًا.

المطلب الثاني: ما ورد في اتخاذ ذي الروح غرضًا.

الفصل الثاني: اللعب بالحراب، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: تعريف اللعب بالحراب.

المبحث الثاني: ما ورد في اللعب بالحراب.

الفصل الثالث: ركوب الخيل، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: فضل ركوب الخيل.

المبحث الثاني: السبْق على الخيل، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: ما ورد في السبْق على الخيل بدون عوض.

المطلب الثاني: ما ورد في السبْق على الخيل بعوض، وفيه ثلاثة فروع:

الفرع الأول: ما ورد في جواز بذل العوض في سبْق الخيل مطلقًا.

الفرع الثاني: ما ورد في تحريم أخذ العوض في سبْق الخيل مطلقًا.

الفرع الثالث: ما ورد في جواز بذل العوض في سبْق الخيل بشرط وجود محلل.

المبحث الثالث: ما ورد فيما ينهى عنه في سبْق الخيل.

الفصل الرابع: ركوب الإبل، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: ما ورد في السبق على الإبل بدون عوض.

المبحث الثاني: ما ورد في السبْق على الإبل بعوض.

الفصل الخامس: المشي على الأقدام، وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: ما ورد في السبق في المشي على الأقدام بدون عوض.
সপ্তম অনুচ্ছেদ: তীরন্দাজি ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বর্ণনা।

অষ্টম অনুচ্ছেদ: প্রতিযোগীরা যতক্ষণ তীরন্দাজিতে লিপ্ত থাকে, ততক্ষণ তারা সালাতরত থাকার বর্ণনা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিনিময়হীন তীরন্দাজি প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত বর্ণনা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিনিময়যুক্ত তীরন্দাজি প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত বর্ণনা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: প্রাণবিশিষ্ট কোনো কিছুকে লক্ষ্যবস্তু বানানো; এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রাণবিশিষ্ট কোনো কিছুকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর অর্থ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: প্রাণবিশিষ্ট কোনো কিছুকে লক্ষ্যবস্তু বানানো সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: বর্শা চালনা; এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: বর্শা চালনার সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বর্শা চালনা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায়: ঘোড়সওয়ারি; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ঘোড়সওয়ারির শ্রেষ্ঠত্ব।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা; এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: বিনিময়হীন ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত বর্ণনা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বিনিময়যুক্ত ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত বর্ণনা; এতে তিনটি শাখা রয়েছে:

প্রথম শাখা: সাধারণভাবে ঘোড়দৌড়ে বিনিময় প্রদানের বৈধতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় শাখা: সাধারণভাবে ঘোড়দৌড়ে বিনিময় গ্রহণ নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয় শাখা: 'মুহাল্লিল' (তৃতীয় পক্ষ) থাকার শর্তে ঘোড়দৌড়ে বিনিময় প্রদানের বৈধতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ঘোড়দৌড়ে যা নিষিদ্ধ সে সম্পর্কে বর্ণিত বিষয়াবলি।

চতুর্থ অধ্যায়: উষ্ট্রারোহণ; এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: বিনিময়হীন উটের দৌড় প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত বর্ণনা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিনিময়যুক্ত উটের দৌড় প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত বর্ণনা।

পঞ্চম অধ্যায়: পদব্রজে প্রতিযোগিতা; এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: বিনিময়হীন পদব্রজে প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الثاني: ما ورد في السبْق في المشي على الأقدام بعوض.

المبحث الثالث: ما ورد في استحباب الإسراع في المشي عند التعب.

المبحث الرابع: ما ورد في ذم سرعة المشي.

الفصل السادس: المصارعة، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف المصارعة.

المبحث الثاني: ما ورد في المصارعة بغير عوض.

المبحث الثالث: ما ورد في المصارعة بعوض.

الفصل السابع: السباحة، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: تعريف السباحة.

المبحث الثاني: ما ورد في السباحة.

الفصل الثامن: رفع الحجر، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: تعريف رفع الحجر.

المبحث الثاني: ما ورد في رفع الحجر.

 

• الخاتمة: وفيها أبرز النتائج.

 

•‌‌ منهجي في الرسالة:

‌‌أولًا: منهجي في دراسة الأحاديث:

‌‌1 - نص الحديث:

1) قمت بجمع الأحاديث المرفوعة فقط، ولم أُدخِل في الدراسة الآثار الموقوفة والمقطوعة.

2) أنقل نص الحديث الموافق للمعنى، والأدل على المقصود مع إسناده كاملًا، فإن كان هناك أكثر من مصدر فإني أقدم النص الأعلى إسنادًا، فإن كان هناك أكثر من مصدر فإني أقدم نص الإمام الأقدم وفاة.

3) إذا كان للحديث روايات أخرى، فإني لا أدرسها إلا إذا كان لها تعلق بالمبحث.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিনিময়ের বিনিময়ে পদব্রজে প্রতিযোগিতার বিবরণ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ক্লান্তির সময় দ্রুত হাঁটা মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: দ্রুত হাঁটার নিন্দায় যা বর্ণিত হয়েছে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: কুস্তি, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কুস্তির সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিনিময় ছাড়া কুস্তি লড়ার বিবরণ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিনিময়ের বিনিময়ে কুস্তি লড়ার বিবরণ।

সপ্তম অধ্যায়: সাঁতার, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সাঁতারের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাঁতার কাটা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে।

অষ্টম অধ্যায়: পাথর উত্তোলন, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: পাথর উত্তোলনের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পাথর উত্তোলন প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে।

 

• উপসংহার: এতে রয়েছে প্রধান ফলাফলসমূহ।

 

•‌‌ গবেষণাপত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতি:

‌‌প্রথমত: হাদিস পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতি:

‌‌১ - হাদিসের পাঠ:

১) আমি কেবল মারফু হাদিসসমূহ সংগ্রহ করেছি এবং এই গবেষণায় মাওকুফ ও মাকতু আছারসমূহ অন্তর্ভুক্ত করিনি।

২) আমি অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং উদ্দিষ্ট বিষয়ের অধিকতর নির্দেশক হাদিসের পাঠ পূর্ণ সনদসহ উদ্ধৃত করি। যদি একাধিক উৎস থাকে, তবে আমি উচ্চতর সনদের পাঠটিকে অগ্রাধিকার দেই। আর যদি একাধিক উৎস থাকে, তবে আমি মৃত্যুসন অনুযায়ী প্রাচীনতর ইমামের উদ্ধৃত পাঠকে অগ্রগণ্য করি।

৩) যদি হাদিসের অন্যান্য বর্ণনা থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদের সাথে সম্পৃক্ত না হলে আমি সেগুলো পর্যালোচনা করি না।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
4) التزمت ذكر جميع ما جاء في كتب السُّنَّة مما رأيته داخلًا تحت موضوع الرسالة -حسب استطاعتي-.

5) قمت بترتيب ما تَحَصُّل لديّ من الأحاديث على الأبواب والفصول والمباحث الواردة في الخطة التفصيلية للبحث.

6) رتبت الأحاديث ذات الدلالة الموضوعية الواحدة في مكان واحد، مبتدئًا بالصحيح، ثم الضعيف.

7) إذا وجد في الكتاب المطبوع الذي نقلت منه النص خطأ ظاهر فإني أصححه، وأنبه على ذلك في الهامش.

8) وضعت على كل حديث رقمًا تسلسليًّا خاصًّا، فإن تكرر فإني لا أضع له رقمًا، وإنما أحيل على الرقم الذي ورد به.

 

‌‌2 - تراجم الرواة:

1) بعد إيراد نص الحديث أعقد عنوانًا باسم: «رواة الحديث»، وبعده أترجم للرواة الواردين في إسناد الحديث المختار.

2) إذا كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما، فإنني أكتفي بتخريجه دون ترجمة لرواته؛ لتلقي الأمة لهذين الكتابين بالقبول.

3) إذا كان الحديث في غير الصحيحين، فإني أترجم لجميع الرواة الواردين في إسناد الحديث المختار، مرتبًا لهم من أول الإسناد المختار حتى الصحابي.

4) لا أترجم للصحابة، إلا إذا كان في صحبته شبهة فإني أنقل من كلام أهل العلم ما يبين حاله.

5) أذكر اسم الراوي كاملًا مميزًا له عن غيره، وأذكر كنيته ولقبه إن وجد، وأعتمد في سياق اسم المترجم على سياق ابن حجر في التقريب، وقد أخرج عن سياقه أحيانًا.

6) من حيث الحكم على المترجم، فلا يخلو إما أن يكون من رجال التقريب أو لا، فإن كان من رجال التقريب، وكان ظاهر العدالة، أو الجرح، بحيث لم يختلف فيه اختلافًا مؤثِّرًا فإنني أنقل عبارة الحافظ ابن حجر في
4) আমি সাধ্যমতো সুন্নাহর কিতাবসমূহে বর্ণিত সেই সমস্ত বিষয় উল্লেখ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যা এই গবেষণার বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত বলে আমি মনে করেছি।

5) আমি সংগৃহীত হাদিসগুলোকে গবেষণার বিস্তারিত পরিকল্পনায় উল্লিখিত অনুচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ ও আলোচনার ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করেছি।

6) আমি একই বিষয়ভিত্তিক অর্থের হাদিসগুলোকে এক স্থানে বিন্যস্ত করেছি, এক্ষেত্রে সহিহ হাদিস দিয়ে শুরু করে এরপর জয়িফ হাদিস উল্লেখ করেছি।

7) আমি যে মুদ্রিত কিতাব থেকে মূল পাঠ গ্রহণ করেছি, তাতে যদি কোনো প্রকাশ্য ভুল পেয়ে থাকি, তবে আমি তা সংশোধন করেছি এবং টীকায় সে বিষয়ে সতর্ক করেছি।

8) আমি প্রতিটি হাদিসের জন্য একটি বিশেষ ক্রমিক নম্বর দিয়েছি; যদি কোনো হাদিস পুনরাবৃত্তি হয়, তবে আমি সেটিকে নতুন নম্বর দেইনি, বরং পূর্বের নম্বরের দিকে ইঙ্গিত করেছি।

 

‌‌২ - রাবিদের জীবনী:

1) হাদিসের মূল পাঠ উল্লেখ করার পর আমি ‘হাদিসের রাবিগণ’ শিরোনামে একটি অনুচ্ছেদ করেছি এবং এরপর নির্বাচিত হাদিসের সনদে আসা রাবিদের জীবনী আলোচনা করেছি।

2) হাদিসটি যদি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা তার কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি উম্মতের নিকট এই কিতাবদ্বয়ের গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাবিদের জীবনী উল্লেখ না করে কেবল তাখরিজ করেই ক্ষান্ত হয়েছি।

3) হাদিসটি যদি সহিহাইন ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবে থাকে, তবে আমি নির্বাচিত হাদিসের সনদে আসা সকল রাবির জীবনী উল্লেখ করেছি এবং সনদের শুরু থেকে সাহাবি পর্যন্ত ক্রমানুসারে সাজিয়েছি।

4) আমি সাহাবিদের জীবনী উল্লেখ করিনি, তবে যদি কারও সাহাবি হওয়ার ব্যাপারে কোনো সংশয় থাকে, সেক্ষেত্রে তার অবস্থা স্পষ্ট করার জন্য আলেমদের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি।

5) আমি রাবির পূর্ণ নাম উল্লেখ করেছি যাতে তাকে অন্য থেকে পৃথক করা যায়, এবং তার উপনাম ও উপাধি থাকলে তাও উল্লেখ করেছি। রাবির নাম বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি ইবনে হাজারের ‘তাকরিব’ গ্রন্থের ধারার ওপর নির্ভর করেছি, তবে কখনো কখনো এর ব্যতিক্রমও করেছি।

6) রাবির ব্যাপারে হুকুম বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন যে, তিনি হয় ‘তাকরিব’-এর রাবিদের অন্তর্ভুক্ত হবেন অথবা হবেন না। যদি তিনি ‘তাকরিব’-এর রাবিদের অন্তর্ভুক্ত হন এবং তার ন্যায়পরায়ণতা বা সমালোচনা স্পষ্ট হয়, যেখানে কোনো প্রভাবশালী মতভেদ নেই, তবে আমি হাফেজ ইবনে হাজারের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি...
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
التقريب، ثم أشير إلى مصدرين من مصادر ترجمته، وهما: تهديب الكمال، وتقريب التهذيب، وقد أزيد عليهما لغرض -يقتضي- ذلك، فإن كان الراوي مختَلَفًا في حاله، فإنني أسوق من أقوال أهل الجرح والتعديل ما يتضح به حاله، منقولة من مصادرها، وأرتب الكلام فيه -غالبًا- بذكر من وثقه، ثم من توسط فيه، ثم من جرحه، وأختم كلام أهل العلم فيه بعبارة ابن حجر من التقريب، أو من غيره عند الحاجة، التي هي عبارة عن تلخيص لأقوال الأئمة في الراوي، وربما ذكرت عبارة الذهبي من الكاشف أو كتبه الأخرى، فإن ظهر لي تعقيب على كلمة الذهبي أو ابن حجر ذكرته بعد ذلك، وإن كان الراوي ليس من رجال التقريب، فإنني أنقل من كلام أهل العلم ما تتضح به حاله محيلًا على أهم مصادره، مناقشًا ما يحتاج منها إلى مناقشة.

7) بعد الانتهاء من الترجمة أحيل إلى مصادرها التي استقيت منها تلك النصوص، مرتبًا لها حسب أسبقية وفاة أصحابها.

8) إذا تكرر الراوي خلال الرسالة فإنني أحيل على موطن ترجمته في الموضوع السابق، ذاكرًا ملخص حاله.

 

‌‌3 - تخريج الحديث:

1) أعقد عنوانًا باسم: «تخريج الحديث»، ثم أخرج الحديث تحته.

2) إذا كان الحديث في الصحيحين، فإني أكتفي بالعزو إليهما، فإن وجد الحديث عند غيرهما، فإني أقتصر على تخريجه من الكتب الستة.

3) إذا ورد في غير الصحيحين طريق أخرى مخالفة لما في الصحيحين، أو ورد زيادة لفظية مما يتعلق بالموضوع عند غيرهما فإني أخرج الحديث تخريجًا يتبين به درجة ذلك الطريق، أو تلك الزيادة.

4) أقسم التخريج على المتابعات، جاعلًا إسناد الإمام الذي نقلته من كتابه منطلقًا لترتيبها، مبتدئًا بالمتابعة التامة فالقاصرة.

5) أكتفي بتسمية الراوي موضع المتابعة دون ذكر الوسائط بينه وبين المصنفين، وقد أسميهم عند الحاجة.
'আত-তাক্বরীব', এরপর আমি তার জীবনীর উৎসসমূহের মধ্য থেকে দুটি উৎসের প্রতি নির্দেশ করি, আর তা হলো: 'তাহযীবুল কামাল' এবং 'তাক্বরীবুত তাহযীব'। কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে আমি এগুলোর অতিরিক্ত গ্রন্থও উল্লেখ করতে পারি। যদি রাবীর অবস্থা সম্পর্কে মতভেদ থাকে, তবে আমি জারহ ও তা'দীল (সমালোচনা ও গুণগান) শাস্ত্রের ইমামদের বক্তব্যসমূহ মূল উৎস থেকে উদ্ধৃত করি যা দ্বারা তার অবস্থা স্পষ্ট হয়ে যায়। আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রথমে নির্ভরযোগ্যতা প্রদানকারীদের কথা উল্লেখ করি, এরপর মধ্যপন্থী বক্তব্যসমূহ এবং সবশেষে যারা তাকে দুর্বল বলেছেন তাদের বক্তব্য উল্লেখ করার মাধ্যমে আলোচনা সাজাই। অতঃপর আমি হাফিয ইবনু হাজার-এর 'তাক্বরীব' থেকে অথবা প্রয়োজনে অন্য কোনো কিতাব থেকে তাঁর মন্তব্য উল্লেখ করার মাধ্যমে বক্তব্য শেষ করি, যা মূলত রাবীর ব্যাপারে ইমামদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ। কখনও কখনও আমি ইমাম যাহাবীর 'আল-কাশিফ' বা তাঁর অন্যান্য কিতাব থেকেও মন্তব্য উল্লেখ করি। এরপর যদি ইবনু হাজার বা ইমাম যাহাবীর মন্তব্যের ওপর কোনো পর্যালোচনার প্রয়োজন মনে হয়, তবে আমি তা উল্লেখ করি। আর যদি রাবী 'তাক্বরীব' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত না হন, তবে আমি বিজ্ঞ আলিমগণের বক্তব্য থেকে এমন উদ্ধৃতি প্রদান করি যা দ্বারা তার অবস্থা স্পষ্ট হয়ে যায় এবং এর প্রধান উৎসগুলোর হাওয়ালা প্রদান করি, সাথে সাথে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করি।

৭) জীবনী বর্ণনা শেষ করার পর আমি সেই উৎসসমূহের হাওয়ালা প্রদান করি যেখান থেকে আমি তথ্যসমূহ গ্রহণ করেছি। এগুলোকে আমি গ্রন্থকারদের মৃত্যুসন অনুযায়ী ক্রমানুসারে সাজিয়েছি।

৮) যদি অভিসন্দর্ভের কোনো স্থানে রাবীর পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে আমি ইতিপূর্বে যেখানে তার জীবনী আলোচিত হয়েছে সেই স্থানের হাওয়ালা প্রদান করি এবং তার অবস্থার সারসংক্ষেপ উল্লেখ করি।

 

‌‌৩ - হাদিস তাখরীজ:

১) আমি ‘হাদিস তাখরীজ’ শিরোনামে একটি পরিচ্ছেদ করি, এরপর তার অধীনে হাদিসের উৎস নির্দেশ বা তাখরীজ করি।

২) যদি হাদিসটি সহীহায়নে (বুখারী ও মুসলিম) থাকে, তবে আমি কেবল সেই দুটির হাওয়ালার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকি। আর যদি হাদিসটি এই দুটি ছাড়াও অন্য কিতাবে থাকে, তবে আমি কুতুবে সিত্তাহ (ছয়টি কিতাব) থেকে তার তাখরীজ করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকি।

৩) যদি সহীহায়ন ব্যতীত অন্য কিতাবে এমন কোনো ভিন্ন সূত্র বর্ণিত হয় যা সহীহায়নের সূত্রের বিপরীত, অথবা অন্য কোনো কিতাবে বিষয়টির সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো অতিরিক্ত শব্দ বর্ণিত হয়, তবে আমি হাদিসটির এমনভাবে তাখরীজ করি যাতে সেই সূত্রের মান বা সেই অতিরিক্ত অংশের মর্যাদা স্পষ্ট হয়ে যায়।

৪) আমি মুতাবা'আত (সমর্থনকারী বর্ণনা) অনুযায়ী তাখরীজকে বিভক্ত করি এবং যে ইমামের কিতাব থেকে আমি বর্ণনাটি গ্রহণ করেছি তার সনদকে সাজানোর ভিত্তি হিসেবে ধরি। এক্ষেত্রে আমি প্রথমে মুতাবাআতে তাম্মাহ (পূর্ণাঙ্গ সমর্থন) এবং এরপর মুতাবাআতে কাসিরাহ (আংশিক সমর্থন) উল্লেখ করি।

৫) আমি মুতাবাআতের স্তরের রাবীর নাম উল্লেখ করার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকি, তার এবং গ্রন্থকারদের মধ্যবর্তী মাধ্যমগুলো উল্লেখ করি না; তবে প্রয়োজনবোধে কখনও কখনও আমি তাদের নামও উল্লেখ করি।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
6) أرتب هذه المصادر -عند اتحاد المتابعة- مبتدئًا بأصحاب الكتب الستة، ثم الأقدم وفاة.

7) أعتني ببيان الفروق المؤثرة بين ألفاظ الروايات مستعملًا العبارات الاصطلاحية التي تدل على تلك الفروق، وأحيانًا أذكر المتن كاملًا عند الحاجة إلى ذكره.

 

‌‌4 - الحكم على الحديث:

1) أعقد عنوانًا باسم: «الحكم على الحديث» ثم أذكر تحته درجة الحديث.

2) أبدأ بالحكم على إسناد الإمام الذي خرجت حديثه، فإن وقفت على أئمة حكموا عليه ذكرت أحكامهم.

3) إذا كان الحديث من أحاديث العلل فإنني أدرس العلة، وأبين وجوه الاختلاف في الحديث المعل، ثم أذكر الوجه الراجح، مستصحبًا من أقوال الأئمة ما يتضح به الحكم على الحديث.

4) إذا انتهيت من الحكم على الحديث، وكان قد ورد في التخريج له متابعات تقوية فإني أذكرها وأتكلم عليها.

 

‌‌5 - التعليق على الأحاديث:

1) أعقد عنوانًا باسم: «غريب الحديث» ثم أذكر تحته الكلمات الغريبة في الحديث.

2) اقتصرت في التعليق على ما يحتاج إليه كبيان غريب، أو دفع إيهام، أو نحو ذلك.

3) أنقل ذلك من كتب اللغة، وغريب الحديث، أو من غيرها عند الحاجة.

4) إذا تكرر الحديث، فإني أبين غريبه في أول موضع من مواضعه.
6) আমি এই উৎসগুলোকে সাজাই—যখন মুতাবাআত (সমর্থনমূলক বর্ণনা) অভিন্ন হয়—কুতুবে সিত্তার সংকলকদের দিয়ে শুরু করে, অতঃপর মৃত্যু তারিখের দিক থেকে যারা প্রাচীন তাঁদের ক্রমানুসারে।

7) আমি বর্ণনাসমূহের শব্দের মধ্যে প্রভাবশালী পার্থক্যগুলো ব্যাখ্যা করার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করি এবং এই পার্থক্যগুলো নির্দেশকারী পারিভাষিক শব্দাবলি ব্যবহার করি। কখনও প্রয়োজনে পূর্ণ মতন (মূল পাঠ) উল্লেখ করি।

 

‌‌৪ - হাদিসের হুকুম (মান) নির্ধারণ:

১) আমি ‘হাদিসের হুকুম’ নামে একটি শিরোনাম দিই, অতঃপর তার নিচে হাদিসের স্তর উল্লেখ করি।

২) আমি যে ইমামের হাদিসটি তাখরিজ করেছি, প্রথমে তাঁর সনদের ওপর হুকুম প্রদান করি। যদি এমন ইমামগণকে পাই যারা এর ওপর হুকুম দিয়েছেন, তবে আমি তাঁদের হুকুমগুলো উল্লেখ করি।

৩) হাদিসটি যদি ‘ইল্লাত’ (সূক্ষ্ম ত্রুটি) সম্বলিত হাদিসগুলোর অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে আমি সেই ইল্লাতটি নিয়ে গবেষণা করি এবং ত্রুটিপূর্ণ হাদিসটির মধ্যকার মতভেদের দিকগুলো স্পষ্ট করি। অতঃপর অগ্রগণ্য দিকটি উল্লেখ করি এবং ইমামদের এমন বক্তব্যগুলো গ্রহণ করি যার মাধ্যমে হাদিসের হুকুম স্পষ্ট হয়।

৪) যখন আমি হাদিসের হুকুম বর্ণনা শেষ করি এবং যদি তাখরিজে এমন কোনো ‘মুতাবাআত’ (সমর্থনমূলক বর্ণনা) থাকে যা হাদিসটিকে শক্তিশালী করে, তবে আমি সেগুলো উল্লেখ করি এবং সে বিষয়ে আলোচনা করি।

 

‌‌৫ - হাদিসের ওপর টীকা প্রদান:

১) আমি ‘গারিবুল হাদিস’ (হাদিসের দুষ্পাঠ্য শব্দ) নামে একটি শিরোনাম দিই, অতঃপর তার অধীনে হাদিসের কঠিন শব্দগুলো উল্লেখ করি।

২) আমি টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকি, যেমন কঠিন শব্দের ব্যাখ্যা, অস্পষ্টতা দূরীকরণ বা এই জাতীয় বিষয়।

৩) আমি এগুলো আভিধানিক গ্রন্থ, গারিবুল হাদিস বিষয়ক গ্রন্থ অথবা প্রয়োজনে অন্য উৎস থেকে উদ্ধৃত করি।

৪) হাদিসটি যদি পুনরাবৃত্ত হয়, তবে আমি প্রথম স্থানেই এর কঠিন শব্দগুলো ব্যাখ্যা করি।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌ثانيًا: منهجي في فقه الحديث:

1 - أعقد عنوانًا للدراسة الفقهية لحديث -أو أحاديث- الفصل، أو المبحث، أو المطلب، باسم: (فقه الفصل) أو (فقه المبحث) أو (فقه المطلب) أو (فقه المطلب).

2 - أقتصر على المسألة -أو المسائل- المتعلقة بالمبحث صراحة أو تضمينًا.

3 - أنص على دلالة حديث المبحث -أو أحاديث المبحث- على المسألة الواردة.

4 - أذكر أقوال أهل العلم، مقتصرًا على المذاهب الأربعة المشهورة، وقد أذكر غيرهم من الأئمة لحاجة.

5 - أذكر أقوى أدلة الأقوال في نظري، وأجيب عنها باختصار.

6 - أنص على القول الراجح عندي في المسألة مبينًا وجه رجحانه باختصار.

7 - أذكر المسائل العصرية المتعلقة بالمبحث، وأتكلم عن أحكامها باختصار.

8 - أذكر آراء العلماء المعاصرين في المسألة المعاصرة.

وفي ختام هذا العمل أقدم خالص الشكر وأوفاه، وأجزله وأعلاه، إلى ولي الشكر ومستحقه، فأحمد لله -تعالى- أولًا وآخرًا، ظاهرًا وباطنًا، كما يحب -سبحانه- ويرضى، فلولاه ما تيسر هذا البحث، ولا تم هذا العمل، فاللهم ربي لك الحمد كما ينبغي لجلال وجهك، وعظيم سلطانك.

ثم أشكر والديَّ الكريمين، على حسن تربيتهما، وجميل رعايتهما، ودوام دعائهما، فاللهم ارحمهما كما ربَّيَاني صغيرًا، وأخص والدي الذي فتح لي أبواب مكتبته، وأفادني بتوجيهاته، فاللهم اجزه عني خير ما جَزَيت والدًا عن ولده.

كما أشكر فضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور علي بن عبد الله الصباح
দ্বিতীয়ত: ফিকহুল হাদিস বিষয়ে আমার পদ্ধতি:

১ - আমি কোনো পরিচ্ছেদ, গবেষণাক্ষেত্র বা উপ-অনুচ্ছেদের হাদিস বা হাদিসসমূহের ফিকহি পর্যালোচনার জন্য ‘পরিচ্ছেদের ফিকহ’ অথবা ‘গবেষণাক্ষেত্রের ফিকহ’ অথবা ‘উপ-অনুচ্ছেদের ফিকহ’ অথবা ‘উপ-অনুচ্ছেদের ফিকহ’ নামে শিরোনাম নির্ধারণ করেছি।

২ - আমি সেই মাসয়ালা বা মাসয়ালাসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি যা গবেষণাক্ষেত্রের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট।

৩ - উল্লিখিত মাসয়ালার ওপর গবেষণাক্ষেত্রের হাদিস বা হাদিসসমূহের দলীল হওয়ার বিষয়টি আমি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি।

৪ - আমি আলেমদের মতামত উল্লেখ করেছি এবং তা প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি; তবে প্রয়োজনে আমি অন্যান্য ইমামদের অভিমতও উল্লেখ করেছি।

৫ - আমি আমার দৃষ্টিতে বিভিন্ন মতের সবচেয়ে শক্তিশালী দলীলগুলো উল্লেখ করেছি এবং সংক্ষেপে সেগুলোর উত্তর প্রদান করেছি।

৬ - আমি মাসয়ালাটিতে আমার নিকট অগ্রগণ্য অভিমতটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি এবং সংক্ষেপে এর অগ্রগণ্য হওয়ার কারণ বর্ণনা করেছি।

৭ - আমি গবেষণাক্ষেত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট সমসাময়িক মাসয়ালাগুলো উল্লেখ করেছি এবং সংক্ষেপে সেগুলোর বিধান সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

৮ - আমি আধুনিক মাসয়ালাসমূহের ক্ষেত্রে সমসাময়িক আলেমদের মতামত উল্লেখ করেছি।

এই কাজের সমাপ্তিলগ্নে আমি কৃতজ্ঞতা পাওয়ার একমাত্র মালিক ও যোগ্য সত্তার নিকট আমার অকৃত্রিম, পূর্ণাঙ্গ এবং সর্বোত্তম শুকরিয়া পেশ করছি। আমি শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করছি, যেমনটি পবিত্র সত্তা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। তিনি না চাইলে এই গবেষণা সহজ হতো না এবং এই কাজটি সম্পন্ন হতো না। হে আল্লাহ, হে আমার প্রতিপালক! আপনার জন্যই সকল প্রশংসা, যা আপনার মহান সত্তার মহিমা এবং আপনার সুমহান রাজত্বের উপযোগী।

অতঃপর আমি আমার সম্মানিত পিতা-মাতাকে তাঁদের উত্তম লালন-পালন, সুন্দর যত্ন এবং নিরন্তর দোয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। হে আল্লাহ! তাঁদের প্রতি দয়া করুন যেমন দয়া করে তাঁরা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন। আমি বিশেষভাবে আমার পিতার কথা উল্লেখ করছি, যিনি তাঁর ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারের দরজা আমার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং তাঁর দিকনির্দেশনা দিয়ে আমাকে উপকৃত করেছেন। হে আল্লাহ! আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, যা আপনি একজন পিতাকে তাঁর সন্তানের পক্ষ থেকে দান করে থাকেন।

সেই সাথে আমি মাননীয় শায়খ প্রফেসর ডক্টর আলী বিন আব্দুল্লাহ আস-সাবাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
المشرف على الرسالة الذي غمرني بكريم أخلاقه، وسعة صدره لما أطرحه من إشكالات وتساؤلات، فجزاه الله عني خير الجزاء.

كما أشكر فضيلة الشيخين الدكتور: الشريف حاتم العوني، والأستاذ الدكتور: عبد العزيز الجاسم على تفضلهما بقبول مناقشة الرسالة، وقد أفدت من ملحوظاتهما، فجزاهما الله خيرًا.

ثم إني أقول كما قال القلقشندي في مقدمة صبح الأعشى: «وليعذر الواقف عليه، فنتائج الأفكار على اختلاف القرائح لا تتناهى، وإنما ينفق كلُّ أحدٍ على قدر سعته، لا يكلف الله نفسًا إلا ما آتاها، ورحم الله من وقف فيه على سهوٍ أو خطأٍ فأصلحه عاذرًا لا عاذلًا، فليس المبرأ من الخَطَل(1) إلا من وقى الله وعصم، وقد قيل: الكتاب كالمكلف، لا يسلم من المؤاخذة، ولا يرتفع عنه القلم، والله تعالى يقرنه بالتوفيق، ويرشد فيه إلى أوضح طريق، وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب»(2).

اللهم إني أستوهبك منك توفيقًا قائدًا إلى الرشد، وقلبًا ثابتًا على الحق، ونطقًا مؤيَّدًا بالحجة، وإصابة ذائدة عن الزيغ، فما المفزع إلا إليك، ولا التوفيق إلا منك، ولا الاستعانة إلا بك؛ إنك ربي نعم المعين(3).

وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

كتبه

د/ صالح بن فريح البهلال

29/ 8 / 1434 هـ

--------------------------------------------

(1) قال في المصباح المنير ص 93: «خَطِلَ في منطقه ورأيه خَطَلًا؛ من باب «تعب»؛ أخطأ فهو خَطِلٌ».

(2) صبح الأعشى 1/ 36.

(3) مقتبسة من مقامات الحريري ص 14 و 18.
গবেষণাপত্রটির তত্ত্বাবধায়ক, যিনি আমাকে তাঁর মহানুভব চরিত্র এবং আমার উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যা ও প্রশ্নের ক্ষেত্রে তাঁর প্রশস্ত হৃদয়ের মাধ্যমে সিক্ত করেছেন; আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

একইভাবে আমি শ্রদ্ধেয় দুই শাইখ—ডক্টর শরিফ হাতেম আল-আওনি এবং প্রফেসর ডক্টর আব্দুল আজিজ আল-জাসিমকে ধন্যবাদ জানাই এই গবেষণাপত্রটির মূল্যায়নে সম্মত হওয়ার সদয় সম্মতির জন্য। আমি তাঁদের পর্যবেক্ষণসমূহ থেকে উপকৃত হয়েছি; আল্লাহ তাঁদের উভয়কে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

এরপর আমি আল-কালকাশান্দি 'সুবহুল আ’শা'-এর ভূমিকায় যা বলেছেন তা-ই বলছি: «পাঠক যেন এটি পাঠ করার সময় ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন; কারণ মেধার ভিন্নতা অনুযায়ী চিন্তার ফলাফল সীমাহীন। প্রত্যেকে কেবল তার সামর্থ্য অনুযায়ীই ব্যয় করে। আল্লাহ কোনো প্রাণসত্তাকে যা দিয়েছেন তার অতিরিক্ত বোঝা চাপান না। আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যিনি এতে কোনো অসাবধানতা বা ভুল লক্ষ্য করেছেন এবং দোষারোপ না করে ক্ষমাশীল হয়ে তা সংশোধন করেছেন। কেননা ভুল-ত্রুটি(১) থেকে মুক্ত কেবল সেই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ রক্ষা করেছেন এবং নিরাপদ রেখেছেন। বলা হয়ে থাকে: গ্রন্থ হলো দায়বদ্ধ ব্যক্তির ন্যায়, যা সমালোচনা থেকে রেহাই পায় না এবং তার ওপর থেকে কলমও উঠে যায় না। মহান আল্লাহ একে তাওফিকের সাথে যুক্ত করুন এবং এতে সবচেয়ে স্পষ্ট পথের দিকে পরিচালিত করুন। আর আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে ফিরে যাই»(২)।

হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এমন তাওফিক প্রার্থনা করছি যা সঠিক পথের দিকে ধাবিত করে, এমন হৃদয় যা সত্যের ওপর অবিচল থাকে, এমন কথা যা প্রমাণের দ্বারা সমর্থিত এবং এমন সঠিকতা যা বিচ্যুতিকে প্রতিহত করে। আশ্রয় নেওয়ার স্থান তো কেবল আপনিই, আর তাওফিক কেবল আপনার পক্ষ থেকেই আসে এবং সাহায্য প্রার্থনা কেবল আপনার কাছেই করা হয়; নিশ্চয়ই আপনি আমার প্রতিপালক, সর্বোত্তম সাহায্যকারী(৩)।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

লিখেছেন

ড. সালিহ বিন ফুরাইহ আল-বাহলাল

২৯/ ০৮ / ১৪৩৪ হিজরি

--------------------------------------------

(১) 'আল-মিসবাহুল মুনির' গ্রন্থের ৯৩ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে: "সে তার কথাবার্তা ও মতামতে অসংলগ্নতা করেছে; এটি 'তা'ইবা' বাবের অনুগামী; অর্থাৎ সে ভুল করেছে, ফলে সে অসংলগ্ন বা ভ্রান্ত।"

(২) সুবহুল আ’শা ১/ ৩৬।

(৩) মাকামাতে হারিরি, ১৪ ও ১৮ পৃষ্ঠা থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌تمهيد

ويشتمل على ثلاثة مباحث:

- المبحث الأول: تعريف اللُّعب.

- المبحث الثاني: تعريف الرِّياضة.

- المبحث الثالث: حكم اللعب في الإسلام.
ভূমিকা

এটি তিনটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:

- প্রথম পরিচ্ছেদ: খেলার সংজ্ঞা।

- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরীরচর্চার সংজ্ঞা।

- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামে খেলার বিধান।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الأول تعريف اللُّعَب (1)

اللُّعَب: جمع لُعبة -بالضم- وهي: كلُّ ملعوب به، فيقال له: لُعبَةٌ، ومنه الشِطرنج والنَرْد؛ تقول: لِمَن اللُّعْبَةُ؟ وتقول: اقْعُد حتى أفرغ من هذه اللُّعب، واللُّعبَةُ نوْبَةُ اللَّعِبِ، واللُّعبَةُ التمثالُ.

وأصل اللفظ مأخوذ من اللَّعِب، وهو ضدُّ الجدِّ، ولَعِبَ فلان: إذا كان فعلُهُ غيْرَ قاصِدٍ به مقصَدًا صحيحًا(2).

واللُّعب من الألفاظ المشتركة؛ يطلق تارة على العبث، والفعل غير الجاد، ويطلق على الأفعال التي يترتب عليها فوائد ومقاصد معتبرة شرعًا، والذي يحدد المعنى هو القرائن الواردة في السياق(3).

--------------------------------------------

(1) فإن قيل: فلم اختير لفظ: (اللُّعب) دون (الألعاب)؟

فالجواب أن يقال: إن لفظ: (اللُّعَب) أفصح؛ فهو من جموع الكثرة، وأما لفظ: (ألعاب) فمن جموع القلة، والفرق بين الجمعين هو: أن جمع القلة يطلق على العشرة فما دونها، وجمع الكثرة يطلق على ما فوق العشرة، واللُّعَب أكثر من العشرة. ينظر: حاشية الصبان 4/ 170، وضياء السالك 4/ 182 - 193.

وقد سمى العلامة اللغوي المحقق أحمد تيمور باشا كتابًا له باسم: «لُعَب العرب» وذكر فيه ما ذكرته معاجم اللغة من لُعَب العرب، وبعض ما ذكر من اللُّعَب مذكور في هذه الرسالة.

(2) الصحاح للجوهري 1/ 219، ومفردات القرآن للراغب ص 468، ولسان العرب 7/ 739، والمصباح المنير ص 554، كلها في مادة: (لعب).

(3) قضايا اللهو والترفيه لمادون رشيد ص 72.
প্রথম পরিচ্ছেদ: লু'আব (খেলনা/খেলা)-এর সংজ্ঞা (১)

লু'আব: এটি যম্মাহ (পেশ) যোগে 'লু'বাহ' শব্দের বহুবচন—আর তা হলো: যা কিছু দ্বারা খেলাধুলা করা হয়, তাকেই 'লু'বাহ' বলা হয়। দাবা এবং নার্দ (পাশা খেলা) এর অন্তর্ভুক্ত; আপনি বলতে পারেন: এই খেলাটি (লু'বাহ) কার? এবং আপনি বলতে পারেন: বসুন যতক্ষণ না আমি এই খেলাগুলো (লু'আব) থেকে অবসর হই। আর 'লু'বাহ' অর্থ খেলার পালা, আবার 'লু'বাহ' অর্থ মূর্তি বা প্রতিকৃতিও হয়।

শব্দটির মূল উৎস 'লা'ইব' (খেলা) থেকে গৃহীত, যা 'জিদ্দ' (গাম্ভীর্য)-এর বিপরীত। অমুক ব্যক্তি খেলা (লা'ইবা) করেছে: যখন তার কাজটি কোনো সঠিক উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য হয় না(২)।

'লু'ব' শব্দটি বহু অর্থবোধক শব্দের অন্তর্ভুক্ত; কখনও এটি নিরর্থক কাজ এবং অগম্ভীর কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনও এমন সব কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার পেছনে শরিয়তসম্মত উপকারিতা ও উদ্দেশ্য বিদ্যমান থাকে। প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান আলামতসমূহ এর অর্থ নির্ধারণ করে দেয়(৩)।

--------------------------------------------

(১) যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন 'আল'আব' শব্দের পরিবর্তে 'লু'আব' শব্দটিকে বেছে নেওয়া হলো?

উত্তর হলো: 'লু'আব' শব্দটি অধিক প্রাঞ্জল; কারণ এটি আধিক্যবাচক বহুবচন (জম'উল কাসরাহ), আর 'আল'আব' শব্দটি হলো স্বল্পবাচক বহুবচন (জম'উল কিল্লাহ)। এই দুই প্রকার বহুবচনের মধ্যে পার্থক্য হলো: স্বল্পবাচক বহুবচন দশ বা তার কম সংখ্যার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, আর আধিক্যবাচক বহুবচন দশের অধিক সংখ্যার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আর খেলাধুলা দশের অধিক। দ্রষ্টব্য: হাশিয়াহ আস-সাব্বান ৪/১৭০, জিয়াউস সালিক ৪/১৮২-১৯৩।

ভাষাবিদ ও গবেষক আল্লামা আহমাদ তাইমুর পাশা তাঁর একটি বইয়ের নাম রেখেছেন: 'লু'আবুল আরব' (আরবদের খেলাধুলা), যেখানে তিনি অভিধানসমূহে বর্ণিত আরবদের বিভিন্ন খেলাধুলার কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে বর্ণিত কিছু খেলা এই রিসালায় (প্রবন্ধে) উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) আস-সিহাহ লিল-জাওহারি ১/২১৯, মুফরাদাতুল কুরআন নির-রাগিব পৃ. ৪৬৮, লিসানুল আরব ৭/৭৩৯, আল-মিসবাহুল মুনির পৃ. ৫৫৪; সবগুলোই (ল-ই-ব) মূলধাতুর অধীনে।

(৩) কাদায়া আল-লাহউ ওয়াত তারফিহ, মাদুন রশিদ, পৃ. ৭২।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌المبحث الثاني تعريف الرياضة

الرياضة لغة: مصدر راضَ يروضُ روْضًا ورِياضًا؛ أي: ذلَّل؛ يقال: راضَ المهر، وراضَ نفسه بالتقوى، وراض القوافي الصعبة؛ كلُّها بمعنى ذلَّلَ(1).

وهي اصطلاحًا: القيام بحركات خاصة؛ تكسب البدن قوة ومرونة، وهو ما يسمى بالرياضة البدنية(2).

--------------------------------------------

(1) القاموس المحيط ص 831، وتاج العروس 18/ 374.

(2) المعجم الوسيط 1/ 382.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরীরচর্চার সংজ্ঞা

আভিধানিক অর্থে রিয়াজাহ (শরীরচর্চা): এটি ‘রা-দা’, ‘ইয়ারুদু’, ‘রাওদান’ এবং ‘রিয়াজাতান’ ক্রিয়ামূল থেকে উদ্গত; যার অর্থ হলো: বশীভূত করা বা অনুগত করা। বলা হয়ে থাকে: ‘ঘোড়ার বাচ্চাকে বশ করা’, ‘তাকওয়ার মাধ্যমে নফসকে অনুগত করা’ এবং ‘কঠিন অন্ত্যমিলসমূহকে আয়ত্ত করা’; এই সবগুলোর অর্থই হলো বশীভূত করা(১)।

পারিভাষিক অর্থে: নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক কসরত সম্পাদন করা; যা শরীরকে শক্তি ও নমনীয়তা প্রদান করে, আর একেই শারীরিক ব্যায়াম বা শরীরচর্চা বলা হয়(২)।

--------------------------------------------

(১) আল-কামুসুল মুহিত, পৃষ্ঠা ৮৩১; এবং তাজুল আরুস ১৮/৩৭৪।

(২) আল-মু’জামুল ওয়াসিত ১/৩৮২।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌المبحث الثالث حكم اللَّعب في الإسلام

لقد جاء الإسلام (بتحصيل المصالح وتكميلها، وتعطيل المفاسد وتقليلها)(1)، فأتى شاملًا جميع ما يحتاجه الإنسان في روحه وجسمه، فأشبع حاجات البدن؛ كما أشبع حاجات الروح، فلم يجعل للإنسان الحرية المطلقة في ممارسة اللعب؛ فيفوت عليه بذلك القصد من خلقه -وهو عبادة الله-، ولم يحجِّر عليه في تحريم شيءٍ يصادم غريزته البشرية في حالتها السوية، بل دعاه إلى أن يعطي بدنه حقه من الراحة واللعب، فلقد بلغ النبي صلى الله عليه وسلم أن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنه ما -يقوم الليل ويصوم النهار- فقال له: «لا تفعل؛ صم وأفطر، وقم ونم؛ فإن لجسدك عليك حقًّا … »(2)،

فالإسلام دين الحنيفية السمحة، وهو مبنيٌّ على التخفيف والتيسير، لا على الضيق والحرج، وقد رفع الله فيه الآصار والأغلال التي كانت على من قبلنا.

ولأجل ذا أباح الإسلام استعمال بعض اللَّعب الذي يعين المسلم على مكابدة العبادة، ويخفف عليه مشاق الحياة، شريطة أن يكون منضبطًا بحدود الشرع، والأصل في ذلك الحديث الذي يرويه حنظلة رضي الله عنه أنه قال: لقيني أبو بكر فقال: كيف أنت يا حنظلة؟ قال: قلت: نافق حنظلة. قال:

--------------------------------------------

(1) هذه الجملة من العبارات التي اشتهرت عن شيخ الإسلام ابن تيمية، فهو كثيرًا ما يوردها، ينظر على سبيل المثال: مجموع الفتاوى 1/ 138 و 10/ 512 و 20/ 48 و 136 - 193 - 234 و 31/ 266.

(2) أخرجه البخاري ح (1975) ومسلم ح (1159) والنسائي ح (2391).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামে খেলাধুলার বিধান

নিশ্চয়ই ইসলাম এসেছে (কল্যাণসমূহ অর্জন ও সেগুলো পূর্ণতা দান এবং অপকারসমূহ প্রতিহত ও সেগুলো হ্রাস করার উদ্দেশ্যে)(১)। এটি মানুষের আত্মা ও দেহের প্রয়োজনীয় সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে পূর্ণাঙ্গরূপে এসেছে। এটি দেহের চাহিদা মিটিয়েছে যেমনটি আত্মার চাহিদা মিটিয়েছে। এটি মানুষকে খেলাধুলা করার ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা দেয়নি; পাছে তার সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য—অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদত—বিঘ্নিত হয়। আবার মানুষের স্বাভাবিক ও সুস্থ প্রবৃত্তির সাথে সাংঘর্ষিক কোনো কিছু হারাম করে তার ওপর সংকীর্ণতাও আরোপ করেনি, বরং তাকে তার শরীরের বিশ্রাম ও খেলাধুলার হক প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা রাতভর সালাত আদায় করেন এবং প্রতিদিন রোজা রাখেন। তখন তিনি তাকে বললেন: «এমনটি করো না; রোজা রাখো এবং রোজা ভঙ্গ করো, রাতে ইবাদত করো এবং ঘুমাও; কেননা তোমার ওপর তোমার শরীরের হক রয়েছে ...»(২)

বস্তুত ইসলাম হলো সহজ-সরল একনিষ্ঠ ধর্ম, যা সহজীকরণ ও শিথিলতার ওপর প্রতিষ্ঠিত, সংকীর্ণতা ও কষ্টের ওপর নয়। আল্লাহ এতে সেই সকল কঠিন বিধান ও শৃঙ্খল দূর করে দিয়েছেন যা আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ছিল।

একারণেই ইসলাম এমন কিছু খেলাধুলার অনুমতি দিয়েছে যা মুসলিমকে ইবাদতের কঠোর পরিশ্রমে সহায়তা করে এবং জীবনের ক্লান্তি লাঘব করে; তবে শর্ত হলো তা শরিয়তের সীমানায় নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। এর মূল ভিত্তি হলো হানজালা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে আমার দেখা হলো, তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে হানজালা, তুমি কেমন আছো? আমি বললাম: হানজালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে। তিনি বললেন:

--------------------------------------------

(১) এই বাক্যটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর প্রসিদ্ধ উক্তিগুলোর অন্যতম, তিনি এটি অধিক হারে উল্লেখ করতেন; উদাহরণস্বরূপ দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া ১/১৩৮, ১০/৫১২, ২০/৪৮, ১৩৬ - ১৯৩ - ২৩৪ এবং ৩১/২৬৬।

(২) বুখারি হাদিস নং (১৯৭৫), মুসলিম হাদিস নং (১১৫৯) এবং নাসায়ি হাদিস নং (২৩৯১)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
سبحان الله! ما تقول؟ قال: قلت: نكون عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ، يذكرنا بالنار والجنة حتى كأنا رأي عين، فإذا خرجنا من عند رسول الله صلى الله عليه وسلم عافسنا(1) الأزواج والأولاد والضيعات(2)، فنسينا كثيرًا، قال أبو بكر: فوالله إنا لنلقى مثل هذا، فانطلقت أنا وأبو بكر حتى دخلنا على رسول الله صلى الله عليه وسلم ، قلت: نافق حنظلة يا رسول الله. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «وما ذاك؟». قلت: يا رسول الله نكون عندك؛ تذكرنا بالنار والجنة حتى كأنا رأي عين، فإذا خرجنا من عندك عافسنا الأزواج والأولاد والضيعات، نسينا كثيرًا. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «والذي نفسي بيده إن لو تدومون على ما تكونون عندي، وفي الذكر لصافحتكم الملائكة على فرشكم، وفي طرقكم، ولكن يا حنظلة ساعةً وساعةً(3)». ثلاث مرات(4).

وتقول عائشة رضي الله عنه ا: «والله لقد رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقوم على باب حجرتي، والحبشة يلعبون بحرابهم في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم ، يسترني بردائه؛ لكي أنظر إلى لعبهم، ثم يقوم من أجلي، حتى أكون أنا التي أنصرف،

--------------------------------------------

(1) قال النووي في شرحه على مسلم 17/ 66: «-هو بالفاء والسين المهملة- معناه: حاولنا ذلك، ومارسناه، واشتغلنا له؛ وروى الخطابي هذا الحرف عانسنا -بالنون- قال: ومعناه: لاعبنا، ورواه ابن قتيبة -بالشين المعجمة- قال: ومعناه: عانقنا والأول هو المعروف.

(2) الضيعات: جمع ضيعة -بالضاد المعجمة-، وهي معاش الرجل من مال أو حرفة أو صناعة. ينظر: المرجع السابق.

(3) قال علي القاري في مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح 3/ 11: «يعني لا يكون الرجل منافقًا بأن يكون في وقت على الحضور، وفي وقت على الفتور، ففي ساعة الحضور تؤدون حق ربكم، وفي ساعة الفتور تقضون حظوظ أنفسكم، ويحتمل أن يكون قوله: «ساعة وساعة» للترخيص، أو للتحفظ؛ لئلا تسأم النفس عن العبادة، وحاصله أن يا حنظلة؛ هذه المداومة على ما ذكر مشقة؛ لا يطيقها كل أحد، فلم يكلَّف بها، وإنما الذي يطيقه الأكثرون أن يكون الإنسان على هذه الحالة ساعة، ولا عليه بأن يصرف نفسه للمعافسة المذكورة وغيرها ساعةً أخرى».

وليس معناه كما يفهمه بعض الجَهَلة القائلين: ساعة لقلبك وساعة لربك، فيجعلون العمر ساعتين؛ ساعة في المشروع وساعة في الممنوع، وذلك ضلالٌ مبين.

(4) أخرجه مسلم ح (2750)، والترمذي ح (2514)، وابن ماجه ح (4239).
সুবহানাল্লাহ! তুমি একি বলছ? তিনি বললেন: আমি বললাম: আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে থাকি, তখন তিনি আমাদের সামনে জাহান্নাম ও জান্নাতের কথা এমনভাবে আলোচনা করেন যেন আমরা তা স্বচক্ষে দেখছি। এরপর যখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে বেরিয়ে যাই, তখন আমরা স্ত্রী, সন্তান ও বিষয়-সম্পত্তি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি(১) ও অনেক কিছু ভুলে যাই(২)। আবু বকর বললেন: আল্লাহর কসম, আমরাও তো এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হই। এরপর আমি ও আবু বকর রওনা হলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপস্থিত হলাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! হানজালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «সেটি কী কারণে?». আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যখন আপনার কাছে থাকি, আপনি আমাদের জাহান্নাম ও জান্নাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন যেন আমরা তা স্বচক্ষে দেখছি। কিন্তু যখন আপনার কাছ থেকে বেরিয়ে যাই, তখন আমরা স্ত্রী, সন্তান ও বিষয়-সম্পত্তি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি এবং অনেক কিছু ভুলে যাই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমরা যদি আমার কাছে যে অবস্থায় থাকো এবং সর্বদা জিকিরের ওপর কায়েম থাকতে, তবে ফেরেশতারা তোমাদের বিছানায় এবং পথে তোমাদের সাথে করমর্দন করত। কিন্তু হে হানজালা, সময় তো সময়ের মতো (অর্থাৎ সব সময় এক রকম যায় না)(৩)»। তিনি এটি তিনবার বললেন(৪)।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: «আল্লাহর কসম, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার কক্ষের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, তখন হাবশীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে তাদের বর্শা নিয়ে খেলছিল। তিনি আমাকে তাঁর চাদর দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন যাতে আমি তাদের খেলা দেখতে পারি। এরপর তিনি আমার জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন, যতক্ষণ না আমি নিজেই চলে যাই।

--------------------------------------------

(১) ইমাম নববী মুসলিমের শরহে (১৭/ ৬৬) বলেছেন: «এটি 'ফা' এবং নুুকতাহীন 'সিন' বর্ণের মাধ্যমে গঠিত—এর অর্থ হলো: আমরা সেটির চেষ্টা করেছি, চর্চা করেছি এবং তাতে মশগুল হয়েছি। আল-খাত্তাবি এই শব্দটিকে 'আনেসনা' (নূন সহযোগে) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এর অর্থ আমরা খেলাধুলা করেছি। ইবনে কুতাইবা একে 'আশাসনা' (শীন সহযোগে) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এর অর্থ আমরা আলিঙ্গন করেছি। তবে প্রথমটিই প্রসিদ্ধ।

(২) আদ-দাইআত: এটি 'দাইআহ' শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো কোনো ব্যক্তির সম্পদ, পেশা বা কারুশিল্পের মাধ্যমে অর্জিত জীবিকা। দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস।

(৩) মোল্লা আলী কারী 'মিরকাতুল মাফাতিহ শরহে মিশকাতুল মাসাবিহ' (৩/ ১১) গ্রন্থে বলেছেন: «অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি একই সাথে সব সময় উপস্থিতির অবস্থায় (আধ্যাত্মিক নিবিষ্টতা) থাকতে না পেরে মাঝে মাঝে শিথিল হয়ে পড়লে সে মুনাফিক হবে না। সুতরাং উপস্থিতির সময়ে তোমরা তোমাদের রবের হক আদায় করো এবং অবসরের সময়ে তোমরা তোমাদের নিজেদের প্রয়োজন ও আনন্দ পূরণ করো। এটিও সম্ভব যে, 'সময়ে সময়ে' কথাটি অনুমতির জন্য অথবা আত্মরক্ষার জন্য বলা হয়েছে; যাতে নফস ইবাদত থেকে ক্লান্ত হয়ে না পড়ে। সারকথা হলো, হে হানজালা! উল্লিখিত বিষয়ের ওপর স্থায়ীভাবে থাকা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য; যা প্রত্যেকের পক্ষে সম্ভব নয়, তাই এর দায়িত্ব দেয়া হয়নি। বরং অধিকাংশ মানুষের পক্ষে যা সম্ভব তা হলো কোনো এক সময় মানুষ এই অবস্থায় থাকবে এবং অন্য সময়ে উল্লিখিত ব্যস্ততা বা অন্য কিছুতে নিজেকে নিয়োজিত করলে তাতে তার কোনো দোষ নেই»। এবং এর অর্থ এটি নয় যা কিছু মূর্খরা বুঝে থাকে যারা বলে: এক মুহূর্ত তোমার হৃদয়ের জন্য এবং এক মুহূর্ত তোমার রবের জন্য; ফলে তারা জীবনকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলে; এক মুহূর্ত শরিয়তসম্মত কাজে এবং অন্য মুহূর্ত নিষিদ্ধ কাজে। এটি একটি স্পষ্ট বিভ্রান্তি।

(৪) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, হাদিস নং (২৭৫০); তিরমিজি, হাদিস নং (২৫১৪) এবং ইবনে মাজাহ, হাদিস নং (৪২৩৯)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
فاقدروا قدر الجارية الحديثة السن، حريصةً على اللعب»(1).

وفي رواية قالت عائشة: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يومئذٍ: «لتعلم يهود أن في ديننا فسحة، إني أرسلت بحنيفية سمحة»(2).

--------------------------------------------

(1) حديث صحيح، سيأتي تخريجه -إن شاء الله- ضمن أحاديث الدراسة.

(2) أخرج هذه الزيادة أحمد 41/ 349 ح (24855) والسراج في مسنده 3/ 124 ح (2148) كلاهما من طريق سليمان بن داود، عن عبد الرحمن بن أبي الزناد، عن أبيه، عن عروة، عن عائشة به.

وإسنادها ضعيف، ففيه عبد الرحمن بن أبي الزناد مختلفٌ فيه، فقد وثقه بعض الأئمة، كمالك، وكان يأمر بالكتابة عنه، كما وثقه الترمذي، والعجلي، ويعقوب بن شيبة، وزاد يعقوب: «صدوقٌ»، وفي حديثه ضعف.

وضعفه آخرون، فكان ابن مهدي يخط على حديثه، وقال أحمد: «مضطرب الحديث»، وقال ابن معين: «ليس ممن يحتج به أصحاب الحديث، ليس بشيء»، وقال أبو حاتم: «يكتب حديثه، ولا يحتج به»، وقال النسائي: «ضعيف».

وفصل فيه آخرون، فقال ابن المديني: «حديثه بالمدينة مقارب، وما حدث به بالعراق فهو مضطرب»، وبنحوه قال يعقوب بن شيبة، وعمرو الفلاس، والساجي.

وقال ابن المديني: «قد نظرت فيما روى عنه سليمان بن داود الهاشمي فرأيتها مقاربة».

وقال صالح جزرة: «يروي عن أبيه أشياء لم يروها غيره».

ولخص حاله الحافظ ابن حجر، فقال: «صدوقٌ، تغير حفظه لما قدم بغداد»، ولعل قول الحافظ هو الأقرب.

ينظر: سنن الترمذي عند ح (1755)، والجرح والتعديل 5/ 252، والضعفاء والمجروحون للنسائي (367)، والثقات للعجلي 2/ 77، وتاريخ بغداد 10/ 228، وتهذيب الكمال 17/ 95، وتهذيب التهذيب 6/ 155، وتقريب التهذيب (3861).

وبناء على هذا فعبد الرحمن صدوق فيما حدث به بالمدينة، ضعيفٌ فيما حدث به ببغداد، وقد روى عنه سليمان بن داود وهو الهاشمي، كما جاء مصرحًا به في رواية السراج، وقد نص ابن المديني على أن روايته عنه مقاربة، لكن يشكل عليه أن عبد الرحمن بن أبي الزناد تفرد بهذه الزيادة؛ مما يقوي القول بشذوذها؛ إذ أصل الحديث في الصحيحين بدونها؛ فقد راوه عبيد بن عمير، كما في صحيح مسلم ح (892)، وسعيد بن المسيب، كما في صحيح مسلم ح (893) كلاهما (عبيد، وسعيد) عن عائشة بدونها. =

= كما رواه الزهري، كما في صحيح البخاري ح (454)، وصحيح مسلم ح (892)، ومحمد بن عبد الرحمن الأسدي، كما في صحيح البخاري ح (950)، وصحيح مسلم ح (892)، وهشام بن عروة، كما في صحيح مسلم ح (892) ثلاثتهم (الزهري، والأسدي، وهشام) عن عروة بدونها.

وهذا ما يؤكد مقولة صالح جزرة: «يروي عن أبيه أشياء لم يروها غيره».

وللحديث طريقٌ أخرى؛ إذ أخرجه الحميدي 1/ 123 ح (254) عن ابن عيينة، عن يعقوب بن زيد التيمي، عن عائشة بلفظ: «العبوا يا بني أرفدة؛ تعلمْ اليهود والنصارى أن في ديننا فسحة».

والذي يظهر أن في السند انقطاعًا؛ فيعقوب بن زيد لم يدرك عائشة، وقد دل على هذا عدة قرائن، وهي:

أن ابن سعد في الطبقات 9/ 243 ذكر في ترجمة يعقوب أنه مات في أول ولاية أبي جعفر المنصور، وقد تولى أبو جعفر الخلافة آخر سنة (136 هـ) كما في البداية والنهاية لابن كثير 10/ 58، وقد ماتت عائشة رضي الله عنه ا سنة (57) أو (58 هـ) كما في تهذيب الكمال 35/ 235، فبين وفاة عائشة ووفاة يعقوب ما يزيد على خمس وثمانين سنة، وقد قال الذهبي في تاريخ الإسلام 9/ 340: «كأنه مات شابًّا».

أن كل من ترجم له، لم يذكر من شيوخه عائشة، ولو ثبتت روايته عنها لكانت أولى من يذكر، وذلك مثل ابن أبي حاتم في الجرح والتعديل 9/ 207، والذهبي في تاريخ الإسلام 9/ 340، والمزي في تهذيب الكمال 32/ 323، وأقدم شيخ ذكروه هو: أسعد بن سهل بن حنيف، وهو معدودٌ في الصحابة، له رؤية، ولم يسمع من النبي صلى الله عليه وسلم ، مات سنة (100 هـ) كما في التقريب (402).

أن ابن حجر ذكره في التقريب (7816) في الطبقة الخامسة، وهي عنده: الطبقة الصغرى من التابعين، الذين رأوا الواحد والاثنين من الصحابة، ولم يثبت لبعضهم السماع من الصحابة.

وللحديث طريقٌ آخر؛ فقد أخرجه أبو عبيد في غريب الحديث 2/ 10 - 11 - ومن طريقه الحارث بن أسامة بغية الباحث 2/ 826 ح (866) -من طريق أبي معاوية، والديلمي في مسند الفردوس 2/ 110 من طريق عبد الواحد بن زياد، وعلقة أبو حاتم كما في العلل ص 1599 عن مروان بن معاوية الفزاري، ثلاثتهم: (أبو معاوية، وعبد الواحد، ومروان) عن عبد الرحمن بن إسحاق بنحوه؛ إلا أن أبا معاوية رواه عنه، عن الشعبي مرسلًا، ورواه عبد الواحد، ومروان -مرة- عنه، عن الشعبي، عن عائشة، ورواه مروان -مرة- عنه، عن القاسم بن محمد، عن عائشة.

وهذه الأوجه ضعيفة، فقد اضطرب فيه عبد الرحمن بن إسحاق، وهو ضعيف الحديث كما في التقريب (2799).

ولجزء الحديث الأول شاهدٌ أخرجه البيهقي في شعب الإيمان 5/ 247 ح (6542) من طريق عمرو بن أبي عمرو، عن المطلب: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «الهوا والعبوا؛ فإني أكره أن يرى في دينكم غلظة»، وهذا سندٌ ضعيف؛ فالمطلب بن عبد الله من صغار التابعين كما في التقريب (6710) وقد قال فيه أبو حاتم في المراسيل ص 164: «عامة حديثه مراسيل»؛ ولذا قال البيهقي عقيب إخراجه: «هذا منقطع».

ولجزء الحديث الأخير: «إني أرسلت بحنيفية سمحة» عدة شواهد لا يخلو واحدٌ منها من ضعف، ويغني عنها ما أخرجه البخاري في صحيحه، باب الدين يسر، وقول النبي صلى الله عليه وسلم : «أحب الدين إلى الله الحنيفية السمحة» ح (39) وأورد تحته حديث أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن الدين يسر، ولن يشاد الدين أحدٌ إلا غلبه، فسددوا، وقاربوا، وأبشروا … ».
"সুতরাং তোমরা অল্পবয়স্কা কিশোরীর অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখো, যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী।"(১).

এবং এক বর্ণনায় আয়েশা (রা.) বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই দিন বলেছিলেন: "যাতে ইহুদিরা জানতে পারে যে আমাদের দ্বীনের মধ্যে প্রশস্ততা রয়েছে; নিশ্চয়ই আমি একনিষ্ঠ উদার দ্বীনসহ প্রেরিত হয়েছি।"(২).

--------------------------------------------

(১) সহিহ হাদিস, ইনশাআল্লাহ গবেষণামূলক হাদিসসমূহের আলোচনার মধ্যে এর তাখরিজ (সূত্র বিশ্লেষণ) সামনে আসবে।

(২) এই অতিরিক্ত অংশটি আহমদ ৪১/৩৪৯, হাদিস নং (২৪৮৫৫) এবং সিরাজ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে ৩/১২৪, হাদিস নং (২১৪৮) বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ই সুলাইমান ইবন দাউদ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবন আবিয যিনাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

এর সনদ দুর্বল (যয়িফ), কারণ এতে আবদুর রহমান ইবন আবিয যিনাদ রয়েছেন যার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। মালিকের মতো কোনো কোনো ইমাম তাঁকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলেছেন এবং তাঁর থেকে হাদিস লিখে রাখার নির্দেশ দিতেন। অনুরূপভাবে তিরমিযী, আজলি এবং ইয়াকুব ইবন শাইবাহ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন; ইয়াকুব আরও যোগ করেছেন: "তিনি সত্যবাদী (সদুক)", তবে তাঁর হাদিসে দুর্বলতা রয়েছে।

অন্যান্যরা তাঁকে দুর্বল বলেছেন। ইবন মাহদি তাঁর বর্ণিত হাদিসের ওপর দাগ টেনে দিতেন (প্রত্যাখ্যান করতেন)। আহমদ বলেছেন: "তিনি হাদিস বর্ণনায় অস্থির (মুততারিব)"; ইবন মাঈন বলেছেন: "তিনি এমন ব্যক্তি নন যাঁদের মাধ্যমে হাদিস বিশারদগণ দলিল পেশ করেন, তাঁর হাদিস তেমন কিছু নয়"; আবু হাতিম বলেছেন: "তাঁর হাদিস লিখে রাখা হবে কিন্তু তা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়"; নাসাঈ বলেছেন: "তিনি দুর্বল"।

অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ এ বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন। ইবনুল মাদিনি বলেছেন: "মদিনায় থাকাকালীন তাঁর বর্ণিত হাদিস গ্রহণযোগ্যতার কাছাকাছি, কিন্তু ইরাকে গিয়ে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা অস্থির (মুততারিব)"। ইয়াকুব ইবন শাইবাহ, আমর আল-ফাল্লাস এবং সাজিও অনুরূপ কথা বলেছেন।

ইবনুল মাদিনি আরও বলেন: "আমি সুলাইমান ইবন দাউদ আল-হাশেমি তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা যাচাই করে দেখেছি এবং সেগুলোকে আমি গ্রহণযোগ্যতার কাছাকাছি পেয়েছি"।

সালিহ জাযরাহ বলেছেন: "তিনি তাঁর পিতা থেকে এমন সব বিষয় বর্ণনা করেন যা অন্য কেউ বর্ণনা করেনি"।

হাফিজ ইবন হাজার তাঁর অবস্থা সংক্ষেপে এভাবে বর্ণনা করেছেন: "তিনি সত্যবাদী (সদুক), তবে বাগদাদে আসার পর তাঁর মুখস্থশক্তিতে পরিবর্তন ঘটেছিল"। সম্ভবত হাফিজের এই বক্তব্যটিই অধিক সঠিক।

দ্রষ্টব্য: সুনানুত তিরমিযী (হাদিস নং ১৭৫৫ এর অধীনে), আল-জারহু ওয়াত তা'দীল ৫/২৫২, নাসাঈর আদ-দুয়াফা ওয়াল মাত্রুকুন (৩৬৭), আজলির আস-সিকাত ২/৭৭, তারিখু বাগদাদ ১০/২২৮, তাহযীবুল কামাল ১৭/৯৫, তাহযীবুত তাহযীব ৬/১৫৫, তাকরীবুত তাহযীব (৩৮৬১)।

এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, আবদুর রহমান মদিনায় যা বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি সত্যবাদী, কিন্তু বাগদাদে যা বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি দুর্বল। তাঁর থেকে সুলাইমান ইবন দাউদ বর্ণনা করেছেন যিনি আল-হাশেমি—যেমনটি সিরাজের বর্ণনায় স্পষ্টভাবে এসেছে। ইবনুল মাদিনিও স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর থেকে সুলাইমানের বর্ণনা সঠিকের কাছাকাছি। তবে এখানে সমস্যা হলো, আবদুর রহমান ইবন আবিয যিনাদ এককভাবে এই অতিরিক্ত অংশটি বর্ণনা করেছেন; যা এই বর্ণনাটি 'শায' (বিচ্ছিন্ন/অগ্রহণযোগ্য) হওয়ার মতকে শক্তিশালী করে। কারণ সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ মূল হাদিসটি এই অংশ ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে। যেমনটি উবাইদ ইবন উমাইর (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৮৯২) এবং সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৮৯৩) বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ই (উবাইদ ও সাঈদ) আয়েশা (রা.) থেকে এই অংশ ব্যতিরেকে বর্ণনা করেছেন। =

= অনুরূপভাবে যুহরী (সহিহ বুখারি হাদিস নং ৪৫৪, সহিহ মুসলিম হাদিস নং ৮৯২), মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান আল-আসাদি (সহিহ বুখারি হাদিস নং ৯৫০, সহিহ মুসলিম হাদিস নং ৮৯২) এবং হিশাম ইবন উরওয়াহ (সহিহ মুসলিম হাদিস নং ৮৯২) বর্ণনা করেছেন। তাঁরা তিনজনই (যুহরী, আসাদি এবং হিশাম) উরওয়াহ থেকে এই অংশ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন।

এটি সালিহ জাযরাহ-র সেই বক্তব্যকে নিশ্চিত করে যে: "তিনি তাঁর পিতা থেকে এমন কিছু বিষয় বর্ণনা করেন যা অন্য কেউ বর্ণনা করেনি"।

এই হাদিসের আরেকটি সূত্র রয়েছে; হুমাইদি ১/১২৩, হাদিস নং (২৫৪) ইবন উয়াইনাহ থেকে, তিনি ইয়াকুব ইবন যাইদ আত-তাইমি থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "হে বনু আরফিদা, তোমরা খেলা করো; যাতে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা জানতে পারে যে আমাদের দ্বীনের মধ্যে প্রশস্ততা রয়েছে"।

এবং যা প্রকাশ পায় তা হলো এই সনদে ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা) রয়েছে; কেননা ইয়াকুব ইবন যাইদ আয়েশা (রা.)-কে পাননি। বেশ কিছু প্রমাণাদি এর সপক্ষে রয়েছে, তা হলো:

১. ইবন সাদ 'আত-তাবাকাত' ৯/২৪৩-এ ইয়াকুবের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আবু জাফর আল-মানসুরের শাসনের শুরুতে মৃত্যুবরণ করেন। ইবন কাসিরের 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' ১০/৫৮ অনুযায়ী আবু জাফর ১৩৬ হিজরির শেষ দিকে খেলাফত গ্রহণ করেন। অন্যদিকে আয়েশা (রা.) ৫৭ বা ৫৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (দ্রষ্টব্য: তাহযীবুল কামাল ৩৫/২৩৫)। ফলে আয়েশা (রা.)-এর মৃত্যু ও ইয়াকুবের মৃত্যুর মাঝে পঁচাশী বছরেরও বেশি সময়ের ব্যবধান রয়েছে। যাহাবি 'তারিখুল ইসলাম' ৯/৩৪০-এ বলেছেন: "মনে হয় তিনি যুবক অবস্থায় মারা গেছেন"।।

২. তাঁর জীবনী যারা লিখেছেন, তাঁদের কেউ তাঁর উস্তাদদের তালিকায় আয়েশা (রা.)-এর নাম উল্লেখ করেননি। যদি তাঁর থেকে বর্ণনা প্রমাণিত হতো, তবে তা সবার আগে উল্লেখ করা হতো। যেমনটি ইবন আবি হাতিম 'আল-জারহু ওয়াত তা'দীল' ৯/২০৭, যাহাবি 'তারিখুল ইসলাম' ৯/৩৪০ এবং মিয্যি 'তাহযীবুল কামাল' ৩২/৩২৩-এ করেছেন। তাঁরা তাঁর সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ যে উস্তাদের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি হলেন আসআদ ইবন সাহল ইবন হুনাইফ, যাঁকে সাহাবিদের কাতারে গণ্য করা হয় এবং তাঁর (নবীজীকে) দেখার সৌভাগ্য হয়েছে, কিন্তু তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সরাসরি কিছু শোনেননি। তিনি ১০০ হিজরিতে মারা যান (দ্রষ্টব্য: তাকরীব নং ৪০২)।

৩. ইবন হাজার তাঁকে 'তাকরীব' (৭৮১৬)-এ পঞ্চম স্তরের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা তাঁর পরিভাষায় তাবেঈদের কনিষ্ঠ স্তর, যারা এক বা দুইজন সাহাবিকে দেখেছেন কিন্তু তাঁদের কারও কারও সাহাবিদের থেকে সরাসরি শোনার বিষয়টি প্রমাণিত নয়।

এই হাদিসের আরও একটি সূত্র রয়েছে; আবু উবাইদ 'গারীবুল হাদিস' ২/১০-১১ গ্রন্থে—এবং তাঁর সূত্রে হারিস ইবন উসামা 'বুগইয়াতুল বাহিস' ২/৮২৬, হাদিস নং (৮৬৬) গ্রন্থে—আবু মুয়াবিয়া থেকে; দাইলামি 'মুসناদুল ফিরদাউস' ২/১১০ গ্রন্থে আবদুল ওয়াহিদ ইবন যিয়াদ থেকে; এবং আবু হাতিম 'আল-ইলাল' পৃ. ১৫৯৯-এ মারওয়ান ইবন মুয়াবিয়া আল-ফাযারি থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা তিনজনই (আবু মুয়াবিয়া, আবদুল ওয়াহিদ এবং মারওয়ান) আবদুর রহমান ইবন ইসহাক থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে আবু মুয়াবিয়া তাঁর থেকে এবং তিনি শাবি থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবদুল ওয়াহিদ ও মারওয়ান (একবার) তাঁর থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার মারওয়ান (আরেকবার) তাঁর থেকে, তিনি কাসিম ইবন মুহাম্মদ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।

এই বর্ণনাভঙ্গিগুলো দুর্বল; কেননা আবদুর রহমান ইবন ইসহাক এতে অস্থিরতা (ইজতিরাব) সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল, যেমনটি 'তাকরীব' (২৭৯৯)-এ বর্ণিত হয়েছে।

হাদিসের প্রথম অংশের জন্য একটি শাহিদ (সমর্থনমূলক বর্ণনা) রয়েছে যা বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান' ৫/২৪৭, হাদিস নং (৬৫৪২) গ্রন্থে আমর ইবন আবি আমর থেকে, তিনি মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমোদ-প্রমোদ ও খেলাধুলা করো; কেননা আমি তোমাদের দ্বীনের মধ্যে রুক্ষতা দেখা অপছন্দ করি"। এই সনদটি দুর্বল; কেননা মুত্তালিব ইবন আবদুল্লাহ ছোট তাবেঈদের অন্তর্ভুক্ত যেমনটি 'তাকরীব' (৬৭১০)-এ রয়েছে। আবু হাতিম 'আল-মারাসীল' পৃ. ১৬৪-এ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তাঁর অধিকাংশ হাদিসই মুরসাল"; একারণেই বায়হাকি এটি বর্ণনা করার পর বলেছেন: "এটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন)"।

হাদিসের শেষ অংশ "নিশ্চয়ই আমি উদার একনিষ্ঠ দ্বীনসহ প্রেরিত হয়েছি"—এর জন্য বেশ কিছু শাহিদ রয়েছে যেগুলোর কোনটিই দুর্বলতামুক্ত নয়। তবে বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে "দ্বীন সহজ" অনুচ্ছেদে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় দ্বীন হলো উদার একনিষ্ঠ দ্বীন" হাদিস নং (৩৯)-এর অধীনে আবু হুরাইরা (রা.) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন তা এগুলোর প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়। তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। দ্বীন নিয়ে যে কড়াকড়ি করবে সে তাতে পরাজিত হবে। সুতরাং তোমরা সঠিক পথে থাকো, মধ্যপন্থা অবলম্বন করো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো…"।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ففي هذه الأحاديث دلالة على مراعاة الإسلام لحق الجسم في الراحة،
সুতরাং এই হাদিসসমূহে শরীরের বিশ্রামের হকের প্রতি ইসলামের বিশেষ বিবেচনার প্রমাণ রয়েছে,
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وإعطائه حقه في استعمال اللعب، ما دام أنه ضمن الإطار الشرعي.

وإن المتأمل لأنواع اللَّعب في الإسلام يجد أنها أقسام ثلاثة:

القسم الأول: ما كان من اللَّعب مفضيًا إلى ما حرم الله، وهو ما كانت مفسدته خالصة، أو كانت مفسدته راجحة على مصلحته، فهذا قد حرمه الإسلام، قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ (90) إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ (91)} [المائدة] وعليه يحمل حديث أنس رضي الله عنه عند من صححه(1)، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لست من دَدٍ(2)، ولا الدَّدُ مني»(3).

--------------------------------------------

(1) أثبته الحافظ كما في هدي الساري ص 84.

(2) قال الزبيدي في تاج العروس 8/ 69: «الدَّدُ مخفّف: اللَّهوُ واللَّعِبُ، وفيه أربع لغات: تقول هذا دَدٌ كَيَدٍ، ودَدَا كقفًا، ودَدَنٌ بالنُّون ثالثةً، ودَدَدٌ بثلاث دالاتٍ».

قال ابن الأثير في النهاية 2/ 109: «ومعنى تنكير الدَّدِ في الجملة الأولى: الشيِّاعُ والاستغراق، وأن لا يبقى شيءٌ منه إلا وهو مُنَزَّهٌ عنه؛ أي: ما أنا في شيءٍ من اللَّهو واللَّعِب، وتعريفه في الجملة الثانية؛ لأنه صار معهودًا بالذكر؛ كأنه قال: ولا ذلك النوع مني، وإنما لم يقل: ولا هو مني؛ لأن الصريح آكد وأبلغ، وقيل: اللام في الدَّد لاستغراق جنس اللعب؛ أي: ولا جنس اللعب مني سواءً كان الذي قلته أو غيره من أنواع اللعب واللهو».

اختار الزمخشري في الفائق 1/ 137 أن اللام للعهد، قال: «وليس بحسن أن يكون لتعريف الجنس؛ لأن الكلام يتفكك ويخرج عن التئامه، ونظيره جاءني رجل وكان من فعل الرجل كذا».

(3) أخرجه البخاري في الأدب المفرد 1/ 274 ح (785)، والبزار 12/ 345 - 346 ح (6231)، والطبراني في الأوسط 1/ 132 ح (413)، وابن عدي في الكامل 7/ 243، والدولابي في الكنى 1/ 179، والبيهقي 10/ 217، وابن عساكر 38/ 369 من طرق عن يحي بن محمد بن قيس، سمعت عمرو بن أبي عمرو مولى المطلب، سمعت أنس بن مالك به، وعلقه العقيلي في الضعفاء 4/ 427 عن عمرو به. قال ابن عدي: «وهذا الحديث يُعرف بيحيى بن قيس».

ويحيى بن محمد بن قيس متكلمٌ فيه، وقد ضعفه ابن معين، قال العقيلي: «لا يتابع على حديثه»، وقال ابن حبان: «كان يقلب الأسانيد، ويرفع المراسيل من غير تعمد، لا يُحتَجُّ به»، وقال أبو حاتم: «يكتب حديثه»، وقال أبو زرعة: «أحاديثه متقاربة إلا حديثين حدَّث بهما» وساق له ابن عدي أربعة أحاديث، منها هذا الحديث، ثم قال: «وله أحاديث غير ما ذكرت، وعامة أحاديثه مستقيمة إلا هذه الأحاديث التي بيَّنتها»، لخص حاله الحافظ ابن حجر في قوله: «صدوقٌ يخطئُ كثيرًا».

يُنظر: الجرح والتعديل لابن أبي حاتم 9/ 184، والضعفاء للعقيلي 4/ 427، والكامل لابن عدي 7/ 243، وكتاب المجروحين لابن حبان 3/ 119، وتهذيب الكمال 31/ 524، والتقريب (7639).

وبناء عليه فالحديث ضعيف، وتفرد به يحيى بن محمد بن قيس، وقد عدَّه من منكرات حديثه ابن عدي فيما سبق، والهيثمي في مجمع الزوائد 8/ 165.

وقد خالف يحيى بن محمد الدراورديُّ عند الطبراني في الكبير 19/ 343 ح (794)، فرواه محمد بن إسماعيل الجعفري عنه، عن عمرو بن أبي عمرو، عن المطلب بن عبد الله، عن معاوية بن أبي سفيان مرفوعًا.

قال أبو حاتم وأبو زرعة في العلل رقم (2295): «حديث معاوية أشبه».

ترجيح هذين الإمامين لطريق الدراوردي ليس مصيرًا منهما إلى تصحيحها، وإنما هو ترجيحٌ لرواية الدراوردي مقارنة بطريق يحيى بن محمد بن قيس، ويؤيد هذا أن في الطريق إلى الدراوردي محمد بن إسماعيل الجعفري، وقد قال فيه أبو حاتم في الجرح والتعديل 7/ 189: «منكر الحديث يتكلمون فيه»، كما أن في الإسناد المطلب بن عبد الله، وقد قال فيه أبو حاتم في المراسيل ص 164: «عامة حديثه مراسيل، لم يدرك أحدًا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم إلا سهل بن سعد، وأنسًا، وسلمة بن الأكوع، ومن كان قريبًا منهم».

وقد روي الحديث عن الدراوردي عن عمرو بن أبي عمرو، عن المطلب مرسلًا، وذلك فيما علقه الدارقطني في العلل 12/ 114، وقال عقبه: «والمرسل أشبه».

وللحديث شاهدٌ عن جابر، أخرجه الإسماعيلي في أسامي شيوخه 1/ 342 قال: حدثنا أبو الفضل السدوسي، من حفظه إملاءً، حدثني أبي، عن أبي عاصم النبيل، عن ابن جريج، عن أبي الزبير، عن جابر، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «لست من دد، ولا الدد مني».

وفي الإسناد شيخ الإسماعيلي، وأبو شيخه، لم أقف على حالهما، وفيه ابن جريج مدلسٌ كما في التقريب (4193) وقد عنعن.

والخلاصة أن الحديث لا يصح بوجه من الوجوه.
এবং খেলাধুলার ব্যবহারে তাকে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করা, যতক্ষণ না তা শরীয়তের কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত থাকে।

ইসলামে খেলাধুলার প্রকারভেদ সম্পর্কে যারা গভীরভাবে চিন্তা করেন তারা দেখতে পান যে, এগুলো তিন ভাগে বিভক্ত:

প্রথম প্রকার: যে ধরণের খেলাধুলা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তার দিকে ধাবিত করে, যার অপকারিতা নিরঙ্কুশ অথবা যার অপকারিতা উপকারের চেয়ে বেশি; ইসলাম তা হারাম করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্যনির্ধারক শরসমূহ—এসবই শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব, তোমরা এগুলো বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার (৯০) শয়তান তো চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে তোমাদের বিমুখ রাখতে। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না? (৯১)} [আল-মায়িদাহ]। যারা হাদিসটি সহিহ মনে করেছেন, তাদের মতে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসটি এরই অন্তর্ভুক্ত(১), যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি আমোদ-প্রমোদের(২) কেউ নই, আর আমোদ-প্রমোদও আমার নয়»(৩)।

--------------------------------------------

(১) হাফেজ (ইবনে হাজার) এটি সাব্যস্ত করেছেন, যেমনটি হাদি আস-সারি ৮৪ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

(২) জুবায়দী 'তাজুল আরুস' (৮/৬৯) গ্রন্থে বলেন: «'দাদ' (الدَّدُ) শব্দটি হ্রস্বস্বরযুক্ত: এর অর্থ হলো কৌতুক ও খেলাধুলা। এর চারটি ভাষাগত রূপ রয়েছে: আপনি বলবেন এটি 'দাদ' যেমন 'ইয়াদ', 'দাদা' যেমন 'কাফা', 'দাদান' শেষে নুনসহ এবং 'দাদাদ' তিনটি দালসহ»।

ইবনে আসীর 'আন-নিহায়া' (২/১০৯) গ্রন্থে বলেন: «প্রথম বাক্যে 'দাদ' শব্দটি অনির্দিষ্ট (নাকেরা) হওয়ার অর্থ হলো ব্যাপকতা ও পূর্ণতা বোঝানো, অর্থাৎ এর কোনো কিছুই যেন অবশিষ্ট না থাকে যা থেকে তিনি পবিত্র বা মুক্ত; অর্থাৎ আমি কোনো প্রকার আমোদ-প্রমোদ বা খেলাধুলার সাথে যুক্ত নই। দ্বিতীয় বাক্যে এটি নির্দিষ্ট (মারেফা) করা হয়েছে কারণ এটি ইতিপূর্বেই উল্লিখিত হয়ে পরিচিত হয়ে গেছে; যেন তিনি বললেন: আর ঐ প্রকারটি আমার পক্ষ থেকে নয়। এখানে 'তিনি' বা 'সেটি' (হুয়া) না বলে স্পষ্ট নাম উল্লেখ করা হয়েছে কারণ স্পষ্ট করে বলা অধিক জোরালো ও অর্থবহ। কেউ কেউ বলেছেন: 'দাদ' শব্দে যে 'লাম' যুক্ত হয়েছে তা খেলাধুলার সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য; অর্থাৎ খেলাধুলার কোনো প্রকারই আমার পক্ষ থেকে নয়, তা আমি যা বলেছি তা হোক বা খেলাধুলা ও আমোদ-প্রমোদের অন্য কোনো প্রকার হোক»।

যামাখশারী 'আল-ফায়েক' (১/১৩৭) গ্রন্থে পছন্দ করেছেন যে, এখানে 'লাম' শব্দটি পরিচিত অর্থ (আহদ) প্রকাশের জন্য। তিনি বলেন: «এটি জাতিবাচক সংজ্ঞার (জিনস) জন্য হওয়া সুন্দর নয়; কারণ এতে বাক্যের সংহতি নষ্ট হয় এবং তা সামঞ্জস্য হারায়। এর উদাহরণ হলো: আমার কাছে একজন লোক এলো এবং ঐ লোকের কাজ ছিল এমন»।

(৩) বুখারি 'আল-আদাবুল মুফরাদ' (১/২৭৪, হা/৭৮৫), বাযযার (১২/৩৪৫-৩৪৬, হা/৬২৩১), তবারানি 'আল-আওসাত' (১/১৩২, হা/৪১৩), ইবনে আদি 'আল-কামিল' (৭/২৪৩), দুলাবি 'আল-কুনা' (১/১৭৯), বায়হাকি (১০/২১৭) এবং ইবনে আসাকির (৩৮/৩৬৯) বিভিন্ন সূত্রে ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন কায়েস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি আমর বিন আবি আমর (মুত্তালিবের মুক্তদাস) থেকে শুনেছি, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। ওকাইলি 'আদ-দুয়াফা' (৪/৪২৭) গ্রন্থে আমর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদি বলেন: «এই হাদিসটি ইয়াহইয়া বিন কায়েসের মাধ্যমেই পরিচিত»।

ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন কায়েসের ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। ইবনে মাইন তাকে দুর্বল বলেছেন। ওকাইলি বলেন: «তার হাদিসের কোনো অনুসরণকারী নেই», ইবনে হিব্বান বলেন: «তিনি সনদ ওলটপালট করতেন এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে মুরসাল হাদিসকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করতেন, তাই তার দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না», আবু হাতেম বলেন: «তার হাদিস লিখে রাখা যায়», আবু যুরআ বলেন: «তার বর্ণিত দুটি হাদিস ব্যতীত বাকিগুলো স্বাভাবিক» এবং ইবনে আদি তার জন্য চারটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যার মধ্যে এই হাদিসটিও রয়েছে, এরপর বলেন: «আমি যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়াও তার আরও হাদিস রয়েছে, আর তার অধিকাংশ হাদিসই সঠিক, কেবল আমি যা বর্ণনা করেছি সেগুলো বাদে»। হাফেজ ইবনে হাজার তার অবস্থা সংক্ষেপে এভাবে বর্ণনা করেছেন: «তিনি সত্যবাদী তবে প্রচুর ভুল করতেন»।

দ্রষ্টব্য: ইবনে আবি হাতেমের 'আল-জারহু ওয়াত-তাদিল' ৯/১৮৪, ওকাইলির 'আদ-দুয়াফা' ৪/৪২৭, ইবনে আদির 'আল-কামিল' ৭/২৪৩, ইবনে হিব্বানের 'কিতাবুল মাজরুহীন' ৩/১১৯, 'তাহযিবুল কামাল' ৩১/৫২৪, 'আত-তাকরিব' (৭৬৩৯)।

এর ভিত্তিতে হাদিসটি দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন কায়েস এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আদি ইতোপূর্বে একে তার মুনকার হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং হায়সামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (৮/১৬৫) গ্রন্থেও একই মত দিয়েছেন।

তবারানি 'আল-কাবির' (১৯/৩৪৩, হা/৭৯৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, আদ-দারাওয়ারদি ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদের বিরোধিতা করেছেন। মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল-জাফরি তার সূত্রে আদ-দারাওয়ারদি থেকে, তিনি আমর বিন আবি আমর থেকে, তিনি মুত্তালিব বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আবু হাতেম এবং আবু যুরআ 'আল-ইলাল' (নং ২২৯৫) গ্রন্থে বলেন: «মুয়াবিয়ার হাদিসটি অপেক্ষাকৃত সামঞ্জস্যপূর্ণ»।

এই দুই ইমাম কর্তৃক দারাওয়ারদির সূত্রটিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অর্থ এই নয় যে তারা এটিকে সহিহ বলছেন। বরং এটি ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন কায়েসের সূত্রের তুলনায় দারাওয়ারদির বর্ণনাকে প্রাধান্য দেওয়া মাত্র। এর সপক্ষে যুক্তি হলো—দারাওয়ারদি পর্যন্ত পৌঁছানোর সূত্রে মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল-জাফরি রয়েছেন, যার সম্পর্কে আবু হাতেম 'আল-জারহু ওয়াত-তাদিল' (৭/১৮৯) গ্রন্থে বলেছেন: «তিনি মুনকারুল হাদিস, তাকে নিয়ে সমালোচনা আছে»। এছাড়া সনদে মুত্তালিব বিন আব্দুল্লাহ রয়েছেন, যার সম্পর্কে আবু হাতেম 'আল-মারাসিল' (পৃ. ১৬৪) গ্রন্থে বলেছেন: «তার অধিকাংশ হাদিসই মুরসাল। তিনি সাহল বিন সাদ, আনাস এবং সালামাহ বিন আকওয়া ও তাদের সমসাময়িকদের ব্যতীত অন্য কোনো সাহাবীর সাক্ষাৎ পাননি»।

দারাওয়ারদি থেকে আমর বিন আবি আমর থেকে, মুত্তালিবের সূত্রে হাদিসটি মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। এটি দারা কুতনি 'আল-ইলাল' (১২/১১৪) গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন: «মুরসাল হওয়াটাই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ»।

জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই হাদিসের একটি শাহিদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) রয়েছে। ইসমাইলি 'আসামী শউখিহি' (১/৩৪২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আবুল ফজল আস-সাদুসি আমাদের নিকট তার মুখস্থ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমার পিতা আমার নিকট আবু আসিম আন-নাবিল থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি আমোদ-প্রমোদের কেউ নই, আর আমোদ-প্রমোদও আমার নয়»।

এই সনদে ইসমাইলির উস্তাদ এবং উস্তাদের পিতা—আমি এই দুজনের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারিনি। এছাড়া এতে ইবনে জুরাইজ রয়েছেন যিনি মুদাল্লিস, যেমনটি 'তাকরিব' (৪১৯৩) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি এখানে 'আন' (সূত্রে) শব্দ ব্যবহার করেছেন।

সারসংক্ষেপ হলো: হাদিসটি কোনোভাবেই সহিহ বা বিশুদ্ধ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
قال القرطبي: «كل لهو دعا قليله إلى كثيره(1)، وأوقع العداوة والبغضاء بين العاكفين عليه صد عن ذكر الله وعن الصلاة فهو كشرب الخمر، وأوجب أن يكون حرامًا مثله»(2).

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: «إذا اشتملت(3) على محرم، أو استلزمت محرمًا، فإنها تحرُمُ بالاتفاق: مثل اشتمالها على الكذب، واليمين الفاجرة، أو الخيانة التي يسمونها المغاضاة، أو على الظلم، أو الإعانة عليه؛ فإن ذلك حرامٌ باتفاق المسلمين، فلو كان ذلك في المسابقة والمناضلة، فكيف إذا كان بالشطرنج والنرد؛ ونحو ذلك. وكذلك إذا قدر أنها مستلزمة فسادًا غير ذلك: مثل اجتماع على مقدمات الفواحش، أو التعاون على العدوان أو غير ذلك، أو مثل أن يفضي اللعب بها إلى الكثرة والظهور الذي يشتمل معه على ترك واجب، أو فعل محرم، فهذه الصورة وأمثالها مما يتفق المسلمون على تحريمها فيها»(4).

وقال -أيضًا-: «ما ألهى وشغل عمَّا أمر الله به فهو منهيٌّ عنه، وإن لم يحرم جنسه كالبيع، والتجارة، وسائر ما يتلهى به البطالون من أنواع اللهو، وسائر ضروب اللعب مما لا يُستعان به على حق شرعي فكله حرام»(5).

وقد ذكر الشيخ عبد الرحمن بن سعدي ضابطًا للمغالبات التي لا تجوز بعوض، ولا بغير عوض فقال: «كل مغالبة ألهت عن واجب، أو أدخلت في محرم»(6).

--------------------------------------------

(1) لعله يقصد كثيره المحرم، وإلا فليس كل ما دعا قليله إلى كثيره صار حرامًا.

(2) تفسير القرطبي 8/ 165.

(3) يعني الشطرنج، وكلامه مطردٌ في كل لعبة.

(4) مجموع الفتاوى 32/ 218.

(5) المستدرك 4/ 57.

(6) الإرشاد إلى معرفة الأحكام ص 149.
কুরতুবী বলেছেন: «প্রত্যেক এমন বিনোদন যার সামান্য অংশ অধিকের দিকে ধাবিত করে(১), এবং এতে নিমগ্ন ব্যক্তিদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে এবং আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিমুখ করে, তা মদপানের মতোই; আর তা মদের মতোই হারাম হওয়াকে অবধারিত করে»(২)।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: «যদি এটি(৩) কোনো হারাম বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, অথবা কোনো হারামের দিকে ধাবিত করে, তবে তা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম: যেমন এতে মিথ্যা, পাপাচারমূলক শপথ, অথবা খিয়ানত (যাকে তারা মুগাযাহ বলে) থাকা, অথবা জুলুম কিংবা জুলুমে সহযোগিতা থাকা; কারণ এসব বিষয় মুসলমানদের ঐক্যমতে হারাম। যদি এটি প্রতিযোগিতা ও তীরন্দাজীর ক্ষেত্রেও হয় (তবে তাও নিষিদ্ধ), তাহলে দাবা, পাশা এবং এই জাতীয় খেলার ক্ষেত্রে কেমন হবে। একইভাবে যদি ধরা হয় যে এটি এগুলো ছাড়াও অন্য কোনো ফাসাদের কারণ হয়: যেমন অশ্লীল কাজের ভূমিকার জন্য একত্রিত হওয়া, বা অন্যায় কাজে সহযোগিতা করা অথবা অন্য কিছু; অথবা যেমন এই খেলাধুলায় লিপ্ত হওয়া এমন আধিক্য ও প্রকাশ লাভ করে যার ফলে কোনো ওয়াজিব ত্যাগ করা হয় বা কোনো হারাম কাজ সংঘটিত হয়, তবে এই চিত্র এবং এর সদৃশ বিষয়গুলো এমন যার হারাম হওয়ার ব্যাপারে মুসলমানগণ একমত»(৪)।

তিনি আরও বলেছেন: «যা কিছু আল্লাহর আদেশকৃত বিষয় থেকে বিমুখ ও লিপ্ত করে রাখে, তা নিষিদ্ধ; যদিও তার মূল বিষয় হারাম না হয়—যেমন কেনাবেচা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বেকার লোকেরা যেসব বিনোদনে লিপ্ত থাকে এবং যে সকল খেলাধুলা শরয়ি কোনো হকের বিষয়ে সাহায্য করে না, তার সবই হারাম»(৫)।

শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী বিনিময় সহ বা বিনিময় ছাড়া যে সকল প্রতিযোগিতা জায়েয নয়, সেগুলোর একটি মূলনীতি উল্লেখ করে বলেছেন: «প্রত্যেক এমন প্রতিযোগিতা যা কোনো ওয়াজিব থেকে বিমুখ করে দেয় অথবা কোনো হারামের অন্তর্ভুক্ত করে দেয় (তা-ই নিষিদ্ধ)»(৬)।

--------------------------------------------

(১) সম্ভবত তিনি এর নিষিদ্ধ আধিক্যকে বুঝিয়েছেন; অন্যথায় যার সামান্য অংশ অধিকের দিকে ধাবিত করে এমন সবকিছুই হারাম হয়ে যায় না।

(২) তাফসীরে কুরতুবী ৮/ ১৬৫।

(৩) অর্থাৎ দাবা, এবং তাঁর এই বক্তব্য সকল খেলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

(৪) মাজমুউল ফাতাওয়া ৩২/ ২১৮।

(৫) আল-মুস্তাদরাক ৪/ ৫৭।

(৬) আল-ইরশাদ ইলা মা'রিফাতিল আহকাম, পৃষ্ঠা ১৪৯।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وينبني على هذا الضابط حرمة ما يلي:

1 - اللَّعِب المشتمل على مس التوحيد، كالسحر، والانحناء والسجود لغير الله، وتذويب مفهوم الولاء والبراء.

2 - اللَّعِب المفضي إلى تضييع الصلوات، أو التفريط في حق من يعولهم.

3 - اللَّعِب المفضي إلى الفواحش أو مقدماتها.

4 - اللَّعِب المشتمل على التماثيل والصور المحرمة، ويستثنى من ذلك لعب الأطفال بالبنات.

5 - اللَّعِب المفضي إلى العداوة، والبغضاء، والسباب والقتال.

6 - اللَّعِب الذي يصاحبه كشف للعورات، أو اختلاط الرجال بالنساء.

7 - اللَّعِب المؤدي إلى الهلاك، أو الضرر.

8 - اللَّعِب الذي فيه ترويع للمسلم.

9 - اللَّعِب المؤدي إلى أذى البهائم.

10 - اللَّعِب المشتمل على التشبه بالكفار.

11 - اللَّعِب المشتمل على تشبه الرجال بالنساء، أو النساء بالرجال.

12 - اللَّعِب المشتمل على الفخر، والرياء، ومناوأة أهل الإسلام.

13 - اللَّعِب المشتمل على القمار.

14 - اللَّعِب المشتمل على الإسراف والتبذير.

15 - اللَّعِب المشتمل على أصوات المعازف والموسيقى.

16 - اللَّعِب المشتمل على سفر المرأة بلا محرم.

القسم الثاني: ما كان من اللعب معينًا على الحق أو ذريعةً إليه؛ فإنه مندوبٌ فعله؛ ومثابٌ عليه؛ لذا قال النبي صلى الله عليه وسلم ، كما في حديث عقبة بن نافع رضي الله عنه : «كل شيءٍ يلهو به الرجل باطل(1) إلا رمي الرجل بقوسه، أو تأديبه

--------------------------------------------

(1) وقع في بعض كتب الحنفية خطأ فجاء عندهم بدل لفظة: (باطل) لفظة (حرام)، ولم يرد ذلك في شيءٍ من ألفاظ الحديث، ينظر على سبيل المثال: حاشية ابن عابدين 5/ 714، البحر الرائق 8/ 251، بدائع الصنائع 5/ 127.
এই নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে নিম্নে উল্লিখিত বিষয়গুলো হারাম হওয়া সাব্যস্ত হয়:

১ - এমন খেলা যা তাওহীদের ওপর আঘাত হানে, যেমন যাদু, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও সামনে মাথা নত করা ও সিজদাহ করা, এবং ‘আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা’ (আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও আল্লাহর জন্য ঘৃণা) এর ধারণাকে বিলীন করে দেওয়া।

২ - এমন খেলা যা সালাত নষ্ট হওয়ার দিকে ধাবিত করে, অথবা ভরণপোষণের অধীন ব্যক্তিদের অধিকার আদায়ে অবহেলার কারণ হয়।

৩ - এমন খেলা যা অশ্লীলতা বা অশ্লীলতার প্রারম্ভিক বিষয়ের দিকে ধাবিত করে।

৪ - এমন খেলা যাতে নিষিদ্ধ প্রতিকৃতি ও ছবি অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে শিশুদের পুতুল নিয়ে খেলা এর ব্যতিক্রম।

৫ - এমন খেলা যা শত্রুতা, বিদ্বেষ, গালিগালাজ ও মারামারি বা যুদ্ধের দিকে ধাবিত করে।

৬ - এমন খেলা যার সাথে সতর উন্মুক্ত হওয়া অথবা নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা জড়িত।

৭ - এমন খেলা যা ধ্বংস বা ক্ষতির দিকে পরিচালিত করে।

৮ - এমন খেলা যাতে কোনো মুসলিমকে ভয় দেখানো হয়।

৯ - এমন খেলা যা চতুষ্পদ প্রাণীর কষ্টের কারণ হয়।

১০ - এমন খেলা যাতে কাফিরদের সাদৃশ্য অবলম্বন রয়েছে।

১১ - এমন খেলা যাতে পুরুষের নারীর বেশ ধারণ অথবা নারীর পুরুষের বেশ ধারণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

১২ - এমন খেলা যাতে অহংকার, লোকদেখানো মানসিকতা এবং ইসলাম অনুসারীদের সাথে শত্রুতা বা বিরোধিতা রয়েছে।

১৩ - এমন খেলা যাতে জুয়া অন্তর্ভুক্ত।

১৪ - এমন খেলা যাতে অপব্যয় ও অপচয় রয়েছে।

১৫ - এমন খেলা যাতে বাদ্যযন্ত্র ও সঙ্গীতের সুর অন্তর্ভুক্ত।

১৬ - এমন খেলা যা মাহরাম ব্যতীত নারীর সফর করার বিষয়টি জড়িয়ে থাকে।

দ্বিতীয় বিভাগ: যে খেলা সত্যের ওপর সাহায্যকারী হয় অথবা সত্যের দিকে পৌঁছানোর মাধ্যম হয়; তা পালন করা পছন্দনীয় এবং এর ওপর সওয়াব রয়েছে। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—যেমনটি উকবাহ ইবনে নাফে রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: «পুরুষ মানুষ যা কিছু নিয়ে খেলা করে তা বাতিল(১) তবে তার ধনুক চালানো, অথবা তার প্রশিক্ষণ দেওয়া...

--------------------------------------------

(১) হানাফী মাযহাবের কোনো কোনো কিতাবে ভুলক্রমে ‘বাতিল’ শব্দের পরিবর্তে ‘হারাম’ শব্দ এসেছে। অথচ হাদীসের কোনো শব্দেই এমনটি বর্ণিত হয়নি। উদাহরণস্বরূপ দেখুন: হাশিয়া ইবনে আবিদিন ৫/৭১৪, আল-বাহরুর রাইক ৮/২৫১, বাদায়েউস সানায়ে ৫/১২৭।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
فرسه، أو ملاعبته لامرأته؛ فإنهن من الحق»(1).

وفي حديث عطاء بن أبي رباح قال: رأيت جابر بن عبد الله، وجابر بن عمير الأنصاري يرميان، فملَّ أحدهما، فقال الآخر: أكسلت؟ قال: نعم. فقال أحدهما للآخر: أما سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «كل شيءٍ ليس من ذكر الله فهو لهوٌ، ولعبٌ»، وفي لفظ: «وهو سهوٌ ولغوٌ؛ إلا أربعة: ملاعبة الرجل امرأته، وتأديب الرجل فرسه، ومشي الرجل بين الغرضين(2)، وتعلم الرجل السباحة»(3).

وقد تكلم أهل العلم على حديث عقبة، فقال الخطابي: «إنما استثنى رسول الله صلى الله عليه وسلم هذه الخلال من جملة ما حرم منها؛ لأن كل واحدةٍ منها إذا تأملتها وجدتها معينة على حق أو ذريعةً إليه، ويدخل في معناها ما كان من المثاقفة(4) بالسلاح والشد على الأقدام، ونحوهما مما يرتاض به الإنسان، فيتوقح(5) بذلك بدنه، ويتقوى به على مجالدة العدو»(6).

وقال القرطبي: «هذه الأمور الثلاثة، فإنه وإن كان يفعلها على أنه يتلهى بها وينشط؛ فإنها حقٌّ؛ لاتصالها بما قد يفيد؛ فإن الرمي بالقوس، وتأديب الفرس جميعًا من مَعاوِن القتال، وملاعبة الأهل قد تؤدي إلى ما يكون عنه ولدٌ يوحِّد الله ويعبده؛ فلهذا كانت هذه الثلاثة من الحق»(7).

وقال الشاطبي: «يعني بكونه باطلًا: أنه عبثٌ أو كالعبث، ليس له فيه فائدة، ولا ثمرة تجنى، بخلاف اللعب مع الزوجة؛ فإنه مباحٌ يخدم أمرًا

--------------------------------------------

(1) حديث حسن، سيأتي تخريجه مفصلًا -إن شاء الله- ضمن أحاديث الدراسة.

(2) الغرضان: الغرض هو الهدف، فيكون لهما غرضان في هدفين متقابلين يرميان من أحدهما الآخر، ثم يرميان من الآخر الأول. ينظر: الكافي لابن قدامة 2/ 343.

(3) حديث ضعيف، سيأتي تخريجه مفصلًا -إن شاء الله- ضمن أحاديث الدارسة.

(4) المثاقفة: هي الملاعبة بالسلاح، وهي محاولة إصابة الغرة في المسابقة. ينظر: أساس البلاغة للزمخشري ص 89، والمسابقة: التضارب بالسيوف والتدرب على استعمالها. ينظر: المعجم الوسيط 1/ 468.

(5) أي: فيصلب بذلك بدنه، ينظر: لسان العرب 2/ 637.

(6) معالم السنن 3/ 371.

(7) تفسير القرطبي 10/ 56 - 57.
তার ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, অথবা তার স্ত্রীর সাথে আমোদ-প্রমোদ করা; নিশ্চয়ই এগুলো হকের (সত্যের) অন্তর্ভুক্ত»(১)।

আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ এবং জাবির ইবনে উমাইর আল-আনসারিকে তীর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। তাদের একজন ক্লান্ত হয়ে পড়লে অন্যজন বললেন: আপনি কি অলস বোধ করছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন একজন অন্যজনকে বললেন: আপনি কি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেননি যে: «আল্লাহর জিকির নয় এমন প্রতিটি কাজই তামাশা ও খেলা», অন্য শব্দে আছে: «তা হলো অসতর্কতা ও অনর্থক কাজ; তবে চারটি বিষয় ব্যতীত: ব্যক্তির তার স্ত্রীর সাথে আমোদ-প্রমোদ করা, ব্যক্তির তার ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, দুই লক্ষ্যের মধ্যে ব্যক্তির হাঁটাচলা করা এবং ব্যক্তির সাঁতার শেখা»(২)(৩)।

আলেমগণ উকব্বার হাদিস সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। আল-খাত্তাবি বলেছেন: «আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বিষয়গুলোকে নিষিদ্ধ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে কেবল এজন্যই ব্যতিক্রম করেছেন যে, কারণ এগুলোর প্রত্যেকটি যখন আপনি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, তখন দেখতে পাবেন যে তা কোনো হকের ক্ষেত্রে সহায়ক অথবা হকের মাধ্যম। এর অর্থের অন্তর্ভুক্ত হবে অস্ত্রের কসরত এবং পায়ে হেঁটে দ্রুত চলা এবং অনুরূপ অন্যান্য বিষয় যা দ্বারা মানুষ শরীরচর্চা করে, ফলে তার শরীর সুদৃঢ় হয় এবং এর মাধ্যমে সে শত্রুর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার শক্তি অর্জন করে»(৬)।

আল-কুরতুবি বলেছেন: «এই তিনটি বিষয়, যদিও সে এগুলো বিনোদন এবং সজীবতার জন্য করে থাকে, তবুও তা হকের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এগুলোর সম্পর্ক এমন জিনিসের সাথে যা উপকারে আসে। কেননা ধনুক নিক্ষেপ এবং ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া—উভয়টিই যুদ্ধের সহায়ক কাজ। আর স্ত্রীর সাথে আমোদ-প্রমোদ এমন সন্তানের দিকে ধাবিত করতে পারে যে আল্লাহকে এক জানবে এবং তাঁর ইবাদত করবে; এই কারণেই এই তিনটি বিষয় হকের অন্তর্ভুক্ত»(৭)।

আশ-শাতিবি বলেছেন: «বাতিল হওয়ার অর্থ হলো: এটি নিরর্থক বা নিরর্থকের মতো, যাতে তার কোনো ফায়দা নেই এবং কোনো ফল লাভ হয় না। স্ত্রীর সাথে খেলার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম; কেননা এটি বৈধ এবং এমন এক উদ্দেশ্য হাসিল করে যা...

--------------------------------------------

(১) হাসান হাদিস, ইনশাআল্লাহ গবেষণার হাদিসসমূহের মধ্যে এর বিস্তারিত তাখরিজ সামনে আসবে।

(২) আল-গরাদাইন (দুই লক্ষ্য): আল-গরাদ হলো লক্ষ্যবস্তু। ফলে তাদের জন্য দুটি মুখোমুখি লক্ষ্যবস্তু থাকে, তারা একটি থেকে অন্যটির দিকে তীর নিক্ষেপ করে, অতঃপর দ্বিতীয়টি থেকে প্রথমটির দিকে নিক্ষেপ করে। দেখুন: আল-কাফি (ইবনে কুদামা) ২/৩৪৩।

(৩) যইফ হাদিস, ইনশাআল্লাহ গবেষণার হাদিসসমূহের মধ্যে এর বিস্তারিত তাখরিজ সামনে আসবে।

(৪) আল-মুসাকাফাহ: এটি হলো অস্ত্র নিয়ে খেলা, যা প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষকে আঘাত করার চেষ্টা করা। দেখুন: আসাসুল বালাগাহ (যামাখশারি) পৃ. ৮৯। আল-মুসাবাকাহ: তলোয়ার চালনা এবং তা ব্যবহারের প্রশিক্ষণ। দেখুন: আল-মুজামুল ওয়াসিত ১/৪৬৮।

(৫) অর্থাৎ: এর মাধ্যমে তার শরীর সুদৃঢ় হয়। দেখুন: লিসানুল আরব ২/৬৩৭।

(৬) মাআলিমুস সুনান ৩/৩৭১।

(৭) তাফসিরে কুরতুবি ১০/৫৬-৫৭।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
ضروريًّا وهو النسل، وبخلاف تأديب الفرس، وكذلك اللعب بالسهام، فإنهما يخدمان أصلًا تكميليًّا وهو الجهاد؛ فلذلك استثنى هذه الثلاثة من اللعب الباطل»(1).

وقد أجاز النبي صلى الله عليه وسلم أخذ العوض على ما كان معينًا على الحق، فقال: «لا سبَق إلا في نصلٍ، أو خفٍ، أو حافر»(2).

وقد يكون تعلم اللُّعبة واجبًا إذا تعينت طريقًا للأمر الواجب، وذلك مثل ركوب الخيل، والإبل، والرمي، إذا تعينت للجهاد الواجب، ويقاس عليها في عصرنا ما يماثلها.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: «يجب الاستعداد للجهاد بإعداد القوة، ورباط الخيل في وقت سقوطه للعجز؛ فإن ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب»(3).

القسم الثالث: ما كان من اللعب خاليًا من الإعانة على الحق، وليس فيه مفسدة، فهذا قد اختلف فيه بناء على الاختلاف في معنى البطلان في حديث عقبة السابق:

 

• فذهب بعض أهل العلم إلى أن معناه التحريم، وأن كل لهو سوى ما ذكر حرامٌ.

قال الخطابي: «قوله: «ليس من اللعب إلا ثلاث» يريد ليس المباح من اللهو إلا ثلاث، وقد جاء معنى ذلك مفسرًا(4) في هذا الحديث من رواية أخرى … قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «كل شيء يلهو به الرجل باطلٌ إلا رميه بقوسه، وتأديبه فرسه، وملاعبته امرأته؛ فإنهن من الحق»، وفي هذا بيان أن جميع أنواع اللعب محظورة، وإنما استثنى رسول الله صلى الله عليه وسلم هذه الخلال من

--------------------------------------------

(1) الموافقات 1/ 205.

(2) حديث صحيح، سيأتي تخريجه مفصلًا -إن شاء الله- ضمن أحاديث الدراسة.

(3) السياسة الشرعية ص 60.

(4) يقصد بالرواية المفسرة: (فإنهن من الحق)، حيث إن اللفظ الوارد عند أبي داود ليس في هذه الجملة.
একটি মৌলিক ও আবশ্যিক বিষয়, আর তা হলো বংশধারা; পক্ষান্তরে ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তদ্রূপ তীর নিক্ষেপ খেলার বিষয়টি এর ভিন্ন; কারণ এই দুটি একটি পরিপূরক মূলনীতির সেবা করে, আর তা হলো জিহাদ। এই কারণেই তিনি এই তিনটি বিষয়কে বাতিল বা বৃথা খেলার অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে ব্যতিক্রম রেখেছেন»(১).

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সত্যের কাজে সহায়তাকারী বিষয়ের ওপর বিনিময় গ্রহণ করা বৈধ করেছেন। তিনি বলেছেন: «তীর নিক্ষেপ, উট দৌড় অথবা ঘোড় দৌড় ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বা বিনিময় নেই»(২).

কোনো খেলাধুলা শেখা ওয়াজিব হতে পারে যদি তা কোনো ওয়াজিব বিষয় পালনের মাধ্যম হিসেবে নির্দিষ্ট হয়ে যায়। যেমন—ঘোড়ায় চড়া, উটে চড়া এবং তীর নিক্ষেপ করা, যখন এগুলো ওয়াজিব জিহাদের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে পড়ে। বর্তমান যুগে এর অনুরূপ বিষয়গুলোকে এগুলোর ওপর কিয়াস বা তুলনা করা হবে।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: «শক্তি সঞ্চয় এবং ঘোড়া প্রস্তুত রাখার মাধ্যমে জিহাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করা ওয়াজিব, এমনকি অক্ষমতার কারণে জিহাদ স্থগিত থাকার সময়েও। কেননা, যা ছাড়া কোনো ওয়াজিব কাজ সম্পন্ন হয় না, তাও ওয়াজিব»(৩).

তৃতীয় প্রকার: যে সকল খেলাধুলা সত্যের পথে কোনো সহায়তা করে না এবং যাতে কোনো ফাসাদ বা অনিষ্টও নেই। উক্কবাহ বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসে 'বাতিল' হওয়ার অর্থ কী হবে, তার ওপর ভিত্তি করে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে:

 

• জনৈক আলিমগণ এই মত পোষণ করেছেন যে, এর অর্থ হলো 'হারাম' হওয়া এবং উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়া অন্য সকল খেল-তামাশা হারাম।

খাত্তাবি বলেছেন: «তাঁর বাণী: 'তিনটি ব্যতীত কোনো খেলা নেই'—এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, তিনটি ব্যতীত অন্য কোনো খেল-তামাশা মুবাহ বা বৈধ নয়। এই হাদিসের অন্য একটি বর্ণনায় এই অর্থটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে(৪) ... রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'মানুষ যা কিছু নিয়ে আমোদ-প্রমোদ করে তার সবই বাতিল, তবে তার ধনুক দিয়ে তীর নিক্ষেপ করা, ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নিজ স্ত্রীর সাথে খেলাধুলা করা ব্যতীত; কারণ এগুলো সত্যের অন্তর্ভুক্ত।' এতে এটিই সুস্পষ্ট হয় যে, সব ধরনের খেলাধুলা নিষিদ্ধ, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেবল এই গুণগুলোকেই...

--------------------------------------------

(১) আল-মুওয়াফাকাত, ১/২০৫।

(২) সহিহ হাদিস, ইনশাআল্লাহ গবেষণার হাদিসগুলোর মধ্যে এর বিস্তারিত সূত্র নির্দেশ (তাখরিজ) করা হবে।

(৩) আস-সিয়াসা আশ-শারঈয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৬০।

(৪) তিনি ব্যাখ্যামূলক বর্ণনা বলতে বুঝিয়েছেন: (কারণ এগুলো সত্যের অন্তর্ভুক্ত); যেহেতু আবু দাউদের শব্দাবলিতে এই বাক্যটি নেই।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
جملة ما حرم منها؛ لأن كل واحدة منها إذا تأملتها وجدتها معينة على حق أو ذريعة إليه … »(1).

وقال الكاساني: «اللعب حرام في الأصل إلا أن اللهو بهذه الأشياء -يعني: السبق في الخف والحافر والنصل- صار مستثنى من التحريم شرعًا لقوله - عليه الصلاة والسلام -: «كل لعب حرام إلا ملاعبة الرجل امرأته وقوسه وفرسه» حرم - عليه الصلاة والسلام كل لعب- واستثنى الملاعبة بهذه الأشياء المخصوصة فبقيت الملاعبة بما وراءها على أصل التحريم»(2).

وقال البغوي: «فيه بيان أن جميع أنواع اللهو محظورة، واستثنى منها هذه الثلاث؛ لكونها ذريعة إلى الحق، ويدخل في معناها المثاقفة بالسلاح، والشد على الأقدام، ونحوها»(3).

وقال الهيتمي: «وذلك لأنه أفاد أن كل ما يلتهي به الإنسان مما لا يفيد في العاجل والآجل فائدة دينية فهو باطل، والاعتراض فيه متعين، إلا هذه الأمور الثلاثة، فإنه وإن فعلها على أنه يلتهي بها ويستأنس وينشط فإنها حقٌّ؛ لاتصالها بما قد يفيد»(4).

 

• وذهب بعض أهل العلم إلى أن معناه؛ أي: ليس فيه نفعٌ، فيباح فعله، وهو ظاهر ترجمة البخاري في صحيحه(5)، إذ قال: «باب كل لهو باطل إذا شغله عن طاعة الله».

قال العيني: «أي: هذا باب ترجمته كل لهو باطل، وهي لفظ حديث أخرجه أحمد والأئمة الأربعة من حديث عقبة بن عامر رفعه: «كل ما يلهو به المرء المسلم باطلٌ إلا رميه بقوسه، وتأديب فرسه، وملاعبة أهله» ولما لم يكن هذا الحديث على شرطه جعل منه ترجمة ولم يخرجه في الجامع».

ثم شرع العيني بشرح الترجمة، فقال: «قوله: «إذا شغله» الضمير

--------------------------------------------

(1) معالم السنن 3/ 371.

(2) بدائع الصنائع 6/ 206.

(3) شرح السُّنَّة 10/ 383.

(4) كف الرعاع ص 145.

(5) صحيح البخاري كتاب الاستئذان ص 1334.
নিষিদ্ধ বিষয়সমূহের সমষ্টি; কারণ আপনি যদি এগুলোর প্রত্যেকটি নিয়ে চিন্তা করেন, তবে দেখবেন যে সেগুলো সত্যের পথে সহায়ক অথবা সত্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যম … »(১).

আল-কাসানী বলেন: «খেলাধুলা মূলত হারাম, তবে এই বিষয়গুলো নিয়ে আমোদ-প্রমোদ করা—অর্থাৎ: উট, ঘোড়া ও তীরের প্রতিযোগিতা—শরীয়ত অনুযায়ী হারাম হওয়া থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হয়েছে। কারণ নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: «সব ধরণের খেলাধুলা হারাম, কেবল ব্যক্তির তার স্ত্রীর সাথে ক্রীড়া, ধনুক চালনা এবং ঘোড়া নিয়ে ক্রীড়া ব্যতীত।» তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সকল খেলাধুলা হারাম করেছেন এবং এই নির্দিষ্ট বিষয়গুলোর সাথে ক্রীড়াকে ব্যতিক্রম করেছেন। ফলে এগুলো ছাড়া অন্যান্য ক্রীড়া মূল হারামের বিধানের অন্তর্ভুক্ত রয়ে গেছে।»(২).

আল-বাগভী বলেন: «এতে বর্ণনা রয়েছে যে সব ধরণের আমোদ-প্রমোদ নিষিদ্ধ, আর এই তিনটি বিষয়কে তার থেকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে; কারণ এগুলো সত্যের দিকে ধাবিত হওয়ার মাধ্যম। আর অস্ত্রের প্রশিক্ষণ, পায়ে হেঁটে দ্রুত চলা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোও এর অর্থের অন্তর্ভুক্ত হবে।»(৩).

আল-হায়তামী বলেন: «তা এজন্য যে, তিনি (নবীজী) বুঝিয়েছেন যে, মানুষ যা দিয়ে আমোদ-প্রমোদ করে এবং যা দুনিয়া ও আখেরাতে কোনো ধর্মীয় উপকার দেয় না, তা বাতিল। আর সেগুলোর প্রতিবাদ করা আবশ্যক, কেবল এই তিনটি বিষয় ব্যতীত। কেননা এগুলো মানুষ আমোদ-প্রমোদ, প্রশান্তি বা প্রাণচাঞ্চল্যের জন্য করলেও তা মূলত সত্যের অংশ; যেহেতু এগুলো উপকারী বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত।»(৪).

 

• কোনো কোনো আলেম অভিমত দিয়েছেন যে, এর অর্থ হলো—তাতে কোনো উপকার নেই, তাই এটি করা বৈধ। ইমাম বুখারীর তাঁর সহীহ গ্রন্থের অধ্যায় বিন্যাস থেকেও এটিই স্পষ্ট হয়(৫), যেখানে তিনি বলেছেন: «পরিচ্ছেদ: প্রতিটি আমোদ-প্রমোদই বাতিল যদি তা আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিমুখ করে দেয়।»

আল-আইনী বলেন: «অর্থাৎ: এটি এমন একটি পরিচ্ছেদ যার শিরোনাম হলো 'প্রতিটি আমোদ-প্রমোদই বাতিল'। এটি মূলত একটি হাদীসের শব্দ যা ইমাম আহমাদ ও চার ইমাম উকবাহ বিন আমির থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন: «মুসলিম ব্যক্তি যা দিয়ে আমোদ-প্রমোদ করে তার সবই বাতিল, কেবল ধনুক দিয়ে তীর ছোঁড়া, নিজের ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তার স্ত্রীর সাথে ক্রীড়া করা ব্যতীত।» যেহেতু এই হাদীসটি ইমাম বুখারীর শর্ত অনুযায়ী ছিল না, তাই তিনি এটিকে অধ্যায়ের শিরোনাম বানিয়েছেন এবং জামে (সহীহ) গ্রন্থে হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেননি।»

এরপর আল-আইনী শিরোনামের ব্যাখ্যা শুরু করে বলেন: «তাঁর উক্তি: 'যদি তা তাকে বিমুখ করে দেয়'—এখানে সর্বনামটি

--------------------------------------------

(১) মাআলিমুস সুনান ৩/৩৭১।

(২) বাদায়েউস সানায়ে ৬/২০৬।

(৩) শারহুস সুন্নাহ ১০/৩৮৩।

(৪) কাফফুল রাআ' পৃষ্ঠা ১৪৫।

(৫) সহীহ বুখারী, কিতাবুল ইস্তিজান পৃষ্ঠা ১৩৩৪।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
المرفوع فيه يرجع إلى اللعب، والمنصوب إلى اللاهي، يدل عليه لفظ اللهو، وقيد بقوله: «إذا شغله»؛ لأنه إذا لم يشغله عن طاعة الله يكون مباحًا»(1).

وقال الغزالي: «قوله: «باطل» لا يدل على التحريم؛ بل يدل على عدم الفائدة»(2).

وقال ابن العربي: «باطل» ليس يريد به حرامًا، وإنما يريد به أنه عارٍ من الثواب، وأنه للدنيا محضًا، لا تعلق به بالآخرة»(3).

قال ابن قدامة: «وسائر اللعب إذا لم يتضمن ضررًا، ولا شغلًا عن فرض فالأصل إباحته»(4).

وقال الشاطبي: «وكذلك اللهو واللعب والفراغ من كل شغل إذا لم يكن في محظور، ولا يلزم عنه محظور فهو مباح»(5).

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: «والباطل من الأعمال هو ما ليس فيه منفعة … إذ مجرد كونه -باطلًا- إنما يقتضي عدم منفعته؛ لا يقتضي تحريمه، إلا أن يتضمن مفسدة»(6).

وقال في موضع آخر: «وأما اللذة التي لا تعقب لذة في دار القرار، ولا ألمًا، ولا تمنع لذة دار القرار، فهذه لذة باطلة؛ إذ لا منفعة فيها ولا مضرة، وزمانها يسير؛ ليس لتمتع النفس بها قدر، وهي لا بد أن تشغل عما هو خير منها في الآخرة، وإن لم تشغل عن أصل اللذة في الآخرة، وهذا هو الذي عناه النبي صلى الله عليه وسلم بقوله: «كل لهو يلهو به الرجل فهو باطل إلا رميه بقوسه، وتأديبه فرسه، وملاعبته امرأته؛ فإنهن من الحق» … فما أعان على اللذة المقصودة من الجهاد والنكاح فهو حق، وأما ما لم يعن على ذلك فهو باطل لا فائدة فيه، ولكن إذا لم يكن فيه مضرة راجحة لم يحرم ولم ينه عنه»(7).

--------------------------------------------

(1) عمدة القارئ 22/ 424.

(2) إحياء علوم الدين 2/ 285.

(3) عارضة الأحوذي 7/ 136.

(4) المغني 14/ 157.

(5) الموافقات 1/ 204 - 205.

(6) الاستقامة 1/ 277 - 278، وينظر: مجموع الفتاوى 5/ 516، و 32/ 223.

(7) الاستقامة 2/ 153.
এতে যা মারফু’ তা খেলাধুলার দিকে ফিরে যায়, আর যা মানসুব তা বিনোদনকারীর দিকে। 'লাহু' (বিনোদন) শব্দটি এর প্রমাণ দেয়। এটি 'যখন তাকে ব্যস্ত করে ফেলে' শর্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ; কারণ যদি এটি আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিচ্যুত না করে তবে তা বৈধ হবে»(১).

ইমাম গাজালী বলেন: «তাঁর বাণী: 'বাতিল' শব্দটি হারামের প্রমাণ দেয় না; বরং এটি উপকারের অনুপস্থিতির প্রমাণ দেয়»(২).

ইবনুল আরাবী বলেন: «'বাতিল' দ্বারা তিনি হারাম উদ্দেশ্য করেননি, বরং এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে এটি সওয়াবশূন্য এবং নিছক দুনিয়াবী বিষয়, যার সাথে আখিরাতের কোনো সম্পর্ক নেই»(৩).

ইবনু কুদামা বলেন: «অন্যান্য সকল খেলাধুলা যদি ক্ষতিকর না হয় এবং কোনো ফরজ কাজ থেকে বিরত না রাখে, তবে মূলগতভাবে তা বৈধ»(৪).

ইমাম শাতবি বলেন: «অনুরূপভাবে বিনোদন, খেলাধুলা এবং সকল কাজ থেকে অবসর যাপন যদি কোনো নিষিদ্ধ কাজে না হয় এবং এর থেকে কোনো নিষিদ্ধ কাজ অপরিহার্য না হয়ে পড়ে, তবে তা বৈধ»(৫).

শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ বলেন: «কাজের মধ্যে বাতিল (অসার) হলো তা যাতে কোনো উপকার নেই … কেননা কেবল 'বাতিল' হওয়াটাই এর উপকারের অভাবকে আবশ্যক করে; এটি এর হারাম হওয়াকে আবশ্যক করে না, যতক্ষণ না এতে কোনো ফিতনা বা অনিষ্ট থাকে»(৬).

তিনি অন্য স্থানে বলেন: «আর সেই আনন্দ যা চিরস্থায়ী আবাসে (আখিরাতে) কোনো আনন্দ বা বেদনার অনুগামী হয় না এবং চিরস্থায়ী আবাসের আনন্দকেও বাধাগ্রস্ত করে না, তা হলো বাতিল বা অসার আনন্দ; কারণ এতে কোনো উপকারও নেই, কোনো ক্ষতিও নেই। এর সময়কাল সল্পস্থায়ী; আত্মার উপভোগের জন্য এর কোনো গুরুত্ব নেই। এটি অবশ্যই আখিরাতের আরও উত্তম কোনো কাজ থেকে বিমুখ করবে, যদিও তা আখিরাতের মূল আনন্দ থেকে বিমুখ না করে। আর এটিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণীর মাধ্যমে উদ্দেশ্য করেছেন: «মানুষ যে সব বিনোদনে লিপ্ত হয় তার সবই বাতিল, কেবল তিনটি কাজ ব্যতীত: ধনুকের সাহায্যে তীর নিক্ষেপ করা, নিজের ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নিজ স্ত্রীর সাথে খেলাধুলা করা; কেননা এগুলো সত্যের অন্তর্ভুক্ত» … সুতরাং জিহাদ ও বিবাহ থেকে উদ্দিষ্ট আনন্দের ক্ষেত্রে যা সহায়ক হয় তা সত্য, আর যা এগুলোতে সহায়ক হয় না তা বাতিল বা অসার যাতে কোনো ফায়দা নেই। কিন্তু যদি তাতে বড় কোনো ক্ষতি না থাকে তবে তা হারামও নয় এবং তা থেকে নিষেধও করা হয়নি»(৭).

--------------------------------------------

(১) উমদাতুল কারী ২২/ ৪২৪।

(২) ইহয়াউ উলুমিদ্দীন ২/ ২৮৫।

(৩) আরিদাতুল আহওয়াযী ৭/ ১৩৬।

(৪) আল-মুগনী ১৪/ ১৫৭।

(৫) আল-মুওয়াফাকাত ১/ ২০৪ - ২০৫।

(৬) আল-ইস্তিকামাহ ১/ ২৭৭ - ২৭৮, আরও দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া ৫/ ৫১৬, এবং ৩২/ ২২৩।

(৭) আল-ইস্তিকামাহ ২/ ১৫৩।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীছুল ওয়ারিদাতু ফিল লা'বি ওয়ার রিয়াদ্বাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وبنحو هذا الكلام قال العلامة ابن القيم(1)، والحافظ ابن حجر(2)، والشوكاني(3)، والمعلمي(4).

وهذا القول الأخير هو الأظهر؛ في تفسير معنى الباطل؛ لأنه قد ورد في السُّنَّة ترخيص النبي صلى الله عليه وسلم لأنواع من اللهو ليست من هذه الثلاثة، ولا في معناها، كلُعَب البنات، واللَّعب بالأرجوحة، والمزاح، وضرب النساء بالدف في النكاح، ونحو ذلك.

ومع القول بأن اللعب الذي لا نفع فيه ولا ضرر مباحٌ ممارسته؛ إلا أنه ينبغي التنبه لأمور:

1 - أنه ينبغي للاعب أن يحسن نيته أثناء اللعب، فينوي به التقوِّي على الطاعة؛ فإنه بذلك يكون مأجورًا -إن شاء الله- فقد قال صلى الله عليه وسلم : «إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى»(5)، وقد سأل معاذ بنُ جبل أبا موسى الأشعري رضي الله عنه ما: كيف تقرأ القرآن؟ قال: قائمًا، وقاعدًا، وعلى راحلتي، وأتفوَّقه تفوُّقًا(6)، قال معاذ: أما أنا فأنام وأقوم، فأحتسب نومتي كما أحتسب قومتي(7).

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: «من استعان بالمباح الجميل على الحق، فهذا من الأعمال الصالحة؛ ولهذا جاء في الحديث الصحيح أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «في بُضع أحدكم صدقة» قالوا: أيأتي أحدنا شهوته ويكون له أجر؟

--------------------------------------------

(1) روضة المحبين ص 162، والجواب الكافي ص 169.

(2) فتح الباري 11/ 91.

(3) نيل الأوطار 8/ 179.

(4) التنكيل 2/ 48.

(5) أخرجه البخاري ح (1)، ومسلم ح (1907)، وأبو داود ح (2203)، والترمذي ح (1647)، والنسائي ح (75)، وابن ماجه ح (4227) من حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه .

(6) أي: لا أقرأ وردي منه دفعةً واحدة، ولكن أقرؤه شيئًا بعد شيء؛ في ليلي ونهاري؛ مأخوذٌ من فُواق الناقة؛ ثم تُراح، حتى تدر، ثم تحلب. ينظر: النهاية لابن الأثير 3/ 480.

(7) أخرجه البخاري ح (4341)، وح (4342)، ومسلم ح (1824)، وأبو داود ح (4354).
অনুরূপ কথা আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম(১), হাফেয ইবনে হাজার(২), শাওকানি(৩) এবং মুআল্লিমী(৪) বলেছেন।

'বাতিল' বা নিরর্থক বিষয়ের অর্থ ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এই শেষোক্ত মতটিই অধিকতর সুস্পষ্ট; কারণ সুন্নাহতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন কিছু প্রকারের বিনোদনের অনুমতি পাওয়া যায় যা উল্লিখিত তিনটির অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সেগুলোর অর্থের পর্যায়ভুক্তও নয়; যেমন মেয়েদের পুতুল খেলা, দোলনায় খেলা, কৌতুক করা, বিবাহে মহিলাদের দফ বাজানো এবং এজাতীয় বিষয়গুলো।

যে খেলায় কোনো উপকার নেই আবার কোনো ক্ষতিও নেই, তা চর্চা করা মুবাহ বা বৈধ হওয়ার এই বক্তব্যের সাথে সাথে কিছু বিষয়ে সজাগ থাকা প্রয়োজন:

১ - খেলোয়াড়ের উচিত খেলার সময় তার নিয়ত বা উদ্দেশ্যকে সংশোধন করা, যেন এর মাধ্যমে ইবাদতের শক্তি অর্জনের নিয়ত করা হয়; কারণ এর ফলে সে ইনশাআল্লাহ সওয়াব লাভ করবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে»(৫)। মুয়ায ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু মুসা আল-াশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: আপনি কীভাবে কুরআন তিলাওয়াত করেন? তিনি বললেন: দাঁড়িয়ে, বসে, আমার সওয়ারিতে থাকা অবস্থায় এবং আমি তা বিরতি দিয়ে দিয়ে নিয়মিত তিলাওয়াত করি(৬)। মুয়ায রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আর আমি তো ঘুমাই এবং জাগ্রত হই, সুতরাং আমি আমার ঘুমের মাধ্যমেও সওয়াব আশা করি যেমনটি আমি আমার জাগ্রত অবস্থার (ইবাদতের) মাধ্যমে সওয়াব আশা করি(৭)।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: «যে ব্যক্তি হকের পথে সুন্দর মুবাহ (বৈধ) বিষয়ের সাহায্য নেয়, তবে তা নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত হবে; এই কারণেই সহীহ হাদীসে এসেছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের প্রত্যেকের দাম্পত্য মিলনেও সদকা রয়েছে»। তারা বললেন: আমাদের কেউ কি তার কামবৃত্তি পূরণ করবে আর তাতেও কি তার জন্য সওয়াব হবে?

--------------------------------------------

(১) রওজাতুল মুহিব্বীন, পৃষ্ঠা ১৬২; আল-জাওয়াবুল কাফি, পৃষ্ঠা ১৬৯।

(২) ফাতহুল বারী, ১১/৯১।

(৩) নাইলুল আওতার, ৮/১৭৯।

(৪) আত-তানকীল, ২/৪৮।

(৫) ইমাম বুখারী (হাদীস ১), মুসলিম (হাদীস ১৯০৭), আবু দাউদ (হাদীস ২২০৩), তিরমিযী (হাদীস ১৬৪৭), নাসাঈ (হাদীস ৭৫) এবং ইবনে মাজাহ (হাদীস ৪২২৭) ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৬) অর্থাৎ: আমি আমার পঠিতব্য অংশটুকু একবারে পড়ি না, বরং দিনে ও রাতে অল্প অল্প করে বিরতি দিয়ে পড়ি; এটি উটনীর দুধ দোহনের সময়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যাকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম দেওয়া হয় যেন সে আবার দুধ দেয়, তারপর আবার দোহন করা হয়। দেখুন: ইবনুল আসীরের আন-নিহায়াহ ৩/৪৮০।

(৭) ইমাম বুখারী (হাদীস ৪৩৪১, ৪৩৪২), মুসলিম (হাদীস ১৮২৪) এবং আবু দাউদ (হাদীস ৪৩৫৪) এটি বর্ণনা করেছেন।