(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الإيضاح في علوم البلاغة القسم: البلاغة
الكتاب: الإيضاح في علوم البلاغة
المؤلف: محمد بن عبد الرحمن بن عمر، أبو المعالي، جلال الدين القزويني الشافعي، المعروف بخطيب دمشق (ت 739هـ)
المحقق: محمد عبد المنعم خفاجي
الناشر: دار الجيل - بيروت
الطبعة: الثالثة
عدد الأجزاء: 3
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
অলঙ্কারশাস্ত্রের বিশদ ব্যাখ্যা (আল-ঈযাহ ফী উলূমিল বালাগাহ) বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত)
কিতাব: অলঙ্কারশাস্ত্রের বিশদ ব্যাখ্যা (আল-ঈযাহ ফী উলূমিল বালাগাহ)
লেখক: মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন উমর، আবু আল-মাআলি، জালালুদ্দিন আল-কাযভীনি আশ-শাফিয়ি، যিনি দামেস্কের খতিব হিসেবে পরিচিত (মৃত্যু ৭৩৯ হিজরি)
মুহাক্কিক: মুহাম্মদ আবদুল মুনইম খাফাজি
প্রকাশক: দার আল-জিল - বৈরুত
সংস্করণ: তৃতীয়
খণ্ড সংখ্যা: ৩
[কিতাবটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলার প্রকাশকাল: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
المجلد الأول
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
الكلمة الأولى
أحمده وأسأله التوفيق والسداد، وبعد:
فهذ اشرح جديد مفصل، لكتاب الإيضاح، تأليف العالم الإمام الخطيب القزويني، إمام البلاغة وشيخ البيان، المتوفى عام 739هـ.
توخيت فيه عمق البحث، ودقة التحليل، والعناية ببسط المسائل، وحل المشكلات، وأومأت فيه إلى شتى المراجع والمصادر. ليكون جامعًا لمسائل البلاغة ومصدرا للدراسات العالية فيها، ومرجعا للطلاب والدارسين والباحثين. والله يعلم مقدار ما أخذ مني من جهد وبحث ومراجعة، ومع ذلك فقد ثابرت على كتابته وإخراجه، لسد النقص الذي نلمسه في دراسات البلاغة.
وقد ظهرت الطبعة الأولى لهذا الكتاب عام 1949، وها هي ذي الطبعة الثانية منقحة مهذبة. والله أسأله أن يجعله خالصًا لوجهه، وأن ينفع به العلم والثقافة ولغة الكتاب العزيز. فهو وليي، نعم المولى ونعم النصير.
وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب.
محمد عبد المنعم خفاجي.
প্রথম খণ্ডভূমিকা...পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রথম কথা
আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তাঁর কাছে তাওফিক ও সঠিক পথপ্রদর্শনের প্রার্থনা করছি। অতঃপর:
এটি অলঙ্কারশাস্ত্রের ইমাম এবং ইলমে বয়ানের শায়খ ইমাম খতিব আল-কাযউইনী (মৃত্যু: ৭৩৯ হিজরী) রচিত ‘আল-ঈযাহ’ কিতাবের একটি নতুন ও বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
এতে আমি গবেষণার গভীরতা, বিশ্লেষণের সূক্ষ্মতা, মাসআলাসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা এবং জটিলতা নিরসনের প্রতি লক্ষ্য রেখেছি। এছাড়াও আমি এতে বিভিন্ন উৎস ও মূলগ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত করেছি, যাতে এটি বালাগাতের মাসআলাসমূহের সংকলন, উচ্চতর গবেষণার উৎস এবং ছাত্র, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স হতে পারে। আল্লাহই জানেন এই কাজে আমাকে কী পরিমাণ পরিশ্রম, গবেষণা ও পর্যালোচনার মোকাবিলা করতে হয়েছে; তা সত্ত্বেও আমি এটি রচনা ও প্রকাশের ব্যাপারে অবিচল ছিলাম, যাতে অলঙ্কারশাস্ত্রের অধ্যয়নে আমরা যে অভাব অনুভব করি তা পূরণ করা যায়।
এই কিতাবটির প্রথম সংস্করণ ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি হচ্ছে এর পরিমার্জিত ও পরিশীলিত দ্বিতীয় সংস্করণ। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ভাষাকে উপকৃত করেন। তিনি আমার অভিভাবক, কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।
আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই, আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।
মুহাম্মদ আব্দুল মুনিম খাফাজী।
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
مقدمات:
نشأة البلاغة العربية ومراحل التأليف فيها:1- كان القرن الثاني الهجري أول عصر شهد نشأة آراء كثيرة أصيلة ومترجمة حول البلاغة1 وعناصرها، بعد فساد الملكات، وقد أخذ العلماء في بحث أصول بلاغات العرب، وفي تدوين آرائهم في معنى كلمة البلاغة والفصاحة. وأهم ما يؤثر من ذلك: وصية بشر بن المعتمر -من زعماء المعتزلة وتوفي نحو عام 210هـ- في البلاغة2، وتفسير ابن المقفع للبلاغة3، وتعريف العتابي لها4، ووصية5 أبي تمام للبحتري تدخل في هذا الباب، ويقول البحتري خير الكلام ما قل ودل ولم يمل6، وفي البيان للجاحظ تحديد البلاغة كما يراها حكيم الهند7، ويقسمها الكندي فيلسوف العرب المتوفى عام260هـ إلى ثلاثة أنواع: فنوع لا تعرفه العامة ولا تتكلم به، ونوع بالعكس،
--------------------------------------------
ভূমিকা:
আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের উদ্ভব ও এর ওপর গ্রন্থ রচনার পর্যায়সমূহ:১- হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দী ছিল প্রথম যুগ, যখন মানুষের সহজাত ভাষাগত দক্ষতার অবনতি ঘটার পর অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) ও এর উপাদানগুলো সম্পর্কে অনেক মৌলিক ও অনূদিত মতামতের উদ্ভব ঘটেছিল। আলেমগণ আরবদের অলঙ্কারশাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ অনুসন্ধান করতে এবং অলঙ্কার (বালাগাত) ও বিশুদ্ধতা (ফাসাহাত) শব্দ দুটির অর্থের ব্যাপারে তাঁদের মতামত লিপিবদ্ধ করতে শুরু করেন। এই বিষয়ে বর্ণিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে: মুতাজিলা নেতাদের অন্যতম বিশর ইবনুল মুতাম্মিরের (মৃত্যু আনুমানিক ২১০ হিজরি) অলঙ্কারশাস্ত্র বিষয়ক উপদেশ; অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর ইবনুল মুকাফফার ব্যাখ্যা; আল-ইতাবি প্রদত্ত এর সংজ্ঞা এবং আল-বুহুতুরির প্রতি আবু তাম্মামের উপদেশও এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। বুহুতুরি বলেন, সর্বোত্তম কথা হলো তা-ই যা সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থবহ এবং বিরক্তিকর নয়। জাহিজের 'আল-বায়ান' গ্রন্থে অলঙ্কারশাস্ত্রের এমন এক সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে যা ভারতের কোনো একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তির মতামত অনুযায়ী বর্ণিত। আরব দার্শনিক আল-কিন্দি (মৃত্যু ২৬০ হিজরি) একে তিন প্রকারে বিভক্ত করেছেন: এক প্রকার যা সাধারণ মানুষ জানে না এবং সে ভাষায় কথা বলে না, অন্য প্রকারটি এর বিপরীত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
ونوع تعرفه ولا تتكلم به وهو أحمدها1، وذكر بزر جمهر حكيم الفرس فضائل الكلام ورذائلة في كلمة مترجمة رواها صاحب الموازنة2. إلى آخر هذه الكلمات والآراء.
2- ثم ألفت بعد ذلك كتب تجمع كثيرًا من الآراء والدراسات الموجزة حول البلاغة وبحوثها. ومن هذه الكتب: مجاز القرآن لأبي عبيدة م 207هـ والفصاحة للدينوري م 280هـ3 والتشبيه والتمثيل للفضل بن نوبخت4 وصناعة الكلام للجاحظ5، ونظم القرآن 6 والتمثيل 7 له أيضًا، والبلاغة وقواعد الشعر للمبرد8.. وفي الكامل إشارات لمسائل كثيرة في البلاغة، وكذلك الرسالة العذراء لابن المدبر، والبلاغة للحراني"9"، وقواعد الشعر لثعلب، وقد نشرته عام 1948 بشروح كثيرة، والبلاغة والخطابة للمروزي 10 والمطابق والمجانس لابن الحرون 11 وتهذيب الفصاحة لأبي سعيد الأصفهاني12 وإعجاز القرآن في نظمه وتأليفه للواسطي المعتزلي م 306هـ، وصنعة البلاغة للباحث، وللسيرافي م 368هـ. ونظم القرآن لابن الأخشيد 13، وكذلك لابن أبي داود م 316هـ 14 وكتاب الرد على من نفى المجاز في القرآن للحسن بن جعفر 15 ومن هذه الكتب أيضًا المفصل في البيان، والفصاحة للمرزباني م 378هـ.
على أن أهم الكتب التي تناولت بعض مسائل البلاغة بالبحث،
--------------------------------------------
এবং এক প্রকার যা আপনি জানেন কিন্তু তা নিয়ে কথা বলেন না, আর এটিই হচ্ছে সবচেয়ে প্রশংসনীয়১। পারস্যের বিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব বুযুর্গ মেহের কথা বলার শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর দোষত্রুটি সম্পর্কে একটি অনূদিত বাণীতে উল্লেখ করেছেন, যা 'আল-মুওয়াযানা' গ্রন্থের লেখক বর্ণনা করেছেন২। এই সকল বক্তব্য ও মতামতের শেষ পর্যন্ত।
২- এরপর এমন সব গ্রন্থ রচিত হয়েছে যা অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) এবং এর গবেষণার বিষয়ে অনেক মতামত ও সংক্ষিপ্ত অধ্যয়নকে একত্রিত করেছে। এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: আবু উবাইদাহ (মৃত্যু ২০৭ হি.) রচিত 'মাজাযুল কুরআন', আদ-দিনাওয়ারি (মৃত্যু ২৮০ হি.) রচিত 'আল-ফাসাহাহ'৩, ফযল ইবনে নাওবাখত রচিত 'আত-তাশবিহ ওয়াল তামসিল'৪, আল-জাহিজ রচিত 'সিনাআতুল কালাম'৫, তাঁরই রচিত 'নাযমুল কুরআন'৬ এবং 'আত-তামসিল'৭, আল-মুবররাদ রচিত 'আল-বালাগাত ওয়া কাওয়াইদুশ শি'র'৮। 'আল-কামিল' গ্রন্থেও অলঙ্কারশাস্ত্রের অনেক বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। অনুরূপভাবে ইবনুল মুদাব্বিরের 'আর-রিসালাতুল আযরা', আল-হাররানির 'আল-বালাগাত'৯, সা'লাবের 'কাওয়াইদুশ শি'র'—যা আমি ১৯৪৮ সালে অনেক ব্যাখ্যাসহ প্রকাশ করেছি, আল-মারওয়াযির 'আল-বালাগাত ওয়াল খাতাবাহ'১০, ইবনুল হারুনের 'আল-মুতাবিক ওয়াল মুজানিস'১১, আবু সাঈদ আল-আসফাহানির 'তাহযিবুল ফাসাহাহ'১২, মুতাযিলি পণ্ডিত আল-ওয়াসিতি (মৃত্যু ৩০৬ হি.) রচিত 'ই'জাযুল কুরআন ফি নাযমিহি ওয়া তালিফিহি', আল-বাহিসের 'সানআতুল বালাগাত' এবং আস-সিরাফি (মৃত্যু ৩৬৮ হি.)। ইবনুল আখশিদের 'নাযমুল কুরআন'১৩, অনুরূপভাবে ইবনে আবু দাউদ (মৃত্যু ৩১৬ হি.) এর রচিত গ্রন্থ১৪ এবং হাসান ইবনে জাফর রচিত 'কিতাবুর রাদ্দ আলা মান নাফাল মাজায ফিল কুরআন'১৫। এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে আল-মারযুবানি (মৃত্যু ৩৭৮ হি.) রচিত 'আল-মুফাসসাল ফিল বায়ান' এবং 'আল-ফাসাহাহ'।
তবে অলঙ্কারশাস্ত্রের কিছু মাসআলা নিয়ে গবেষণামূলক আলোচনা করেছে এমন গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহের মধ্যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
أو التي ألفت فيها خاصة هي: كتاب جمهرة أشعار العرب لأبي زيد القرشي، ففي مقدمته بحوث موجزة طريفة تتصل بالبلاغة. وكتاب البيان والتبيين للجاحظ، وهو أهم ماألف في هذا الطور من كتب تتصل ببلاغات العرب نثرًا وشعرًا، وتتعرض لتحديد البلاغة بما حولها من آراء كانت ذائعة في عصر الجاحظ، وفيه كثير من بحوث البلاغة، فهو يعرف الاستعارة1 ويتكلم على السجع2 ويشير إلى التفصيل والتقسيم3 والاستطراد والكناية4 والأمثال5 والاحتراس6 والقلب7 والأسلوب الحكيم 8، والجاحظ أول من تكلم على المذهب الكلامي9 ويرى البلاغة في النظم لا في المعاني10 وهو ماذهب إليه ابن خلدون 11، والجاحظ يشيد بالإيجاز12، كما يدعو في البيان كثيرًا إلى ترك الوحشي والسوقي، ويحث على الإفهام والوضوح، وعلى ترك التعمق والتهذيب في صناعة الكلام، إلى غير ذلك من شتى مادونه في البيان. ولا يضير الجاحظ أن كانت دراساته موجزة مفرقة كما يقول أبو هلال 13، فهي على كل حال ذات أثر كبير في نشأة البيان، وهي التي أوحت إلى كثير أن يعدوا الجاحظ الواضع الأول لعلم البيان. ومن الخطأ التهوين بأثر الجاحظ في البيان كما ذهب إليه بعض الباحثين المحدثين.
--------------------------------------------
অথবা যে গ্রন্থগুলো বিশেষভাবে এই বিষয়ে রচিত হয়েছে সেগুলো হলো: আবু যায়েদ আল-কুরাশি রচিত 'জামহারাতু আশ'আরিল আরব', যার ভূমিকায় অলঙ্কারশাস্ত্র সংশ্লিষ্ট সংক্ষিপ্ত ও চমৎকার কিছু গবেষণা রয়েছে। আর আল-জাহিয রচিত 'আল-বায়ান ওয়াত তাবিঈন' গ্রন্থটি হলো এই স্তরে রচিত গদ্য ও পদ্যের অলঙ্কারশাস্ত্র বিষয়ক গ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি জাহিযের যুগে প্রচলিত বিভিন্ন মতামতের আলোকে অলঙ্কারশাস্ত্রের সংজ্ঞা ও এর পরিধি নির্ধারণের প্রচেষ্টা চালায়। এতে অলঙ্কারশাস্ত্রের বহুবিধ গবেষণা বিদ্যমান; তিনি রূপক (ইস্তিয়ারা) এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, অনুপ্রাস (সাজ) নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং বিস্তারিত বর্ণনা ও বিভাজন (তাফসির ও তাকসিম), প্রসজ্যান্তর (ইস্তিদরাদ), পরোক্ষ উক্তি (কিনায়া), প্রবাদ-প্রবচন (আমসাল), সতর্কতা (ইহতিরাস), শব্দ বা অর্থের পরিবর্তন (কালব) এবং প্রাজ্ঞোচিত শৈলী (আল-উসলুব আল-হাকিম) এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আল-জাহিযই প্রথম ব্যক্তি যিনি কালামি ধারা (আল-মাজহাব আল-কালামি) নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন অলঙ্কার নিহিত থাকে বাক্য বিন্যাসে (নাজম), অর্থের (মাআনি) মধ্যে নয়; ইবনে খালদুনও এই মতই পোষণ করেছেন। জাহিয সংক্ষেপণের (ইজায) প্রশংসা করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর 'আল-বায়ান' গ্রন্থে প্রায়শই কর্কশ ও বাজারু ভাষা ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বিষয়বস্তু সহজবোধ্য ও স্পষ্ট করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। সেই সাথে তিনি বাক্য নির্মাণে কৃত্রিম পরিমার্জন ও অতি-গভীরতা বর্জনের তাগিদ দিয়েছেন, এছাড়াও 'আল-বায়ান' গ্রন্থে তিনি আরও নানা বিষয় লিপিবদ্ধ করেছেন। আবু হিলাল যেমনটি বলেছেন যে, জাহিযের গবেষণাগুলো সংক্ষিপ্ত ও বিক্ষিপ্ত ছিল, তাতে তাঁর গুরুত্ব ক্ষুণ্ণ হয় না; কারণ যে কোনো বিচারেই অলঙ্কারশাস্ত্রের উদ্ভব ও বিকাশে এগুলোর বিশাল প্রভাব রয়েছে। আর এটিই অনেককে এই ধারণা দিয়েছে যে, আল-জাহিযকেই অলঙ্কারশাস্ত্রের আদি প্রবর্তক হিসেবে গণ্য করা উচিত। আধুনিক কোনো কোনো গবেষক যেমনটি মনে করেন, অলঙ্কারশাস্ত্রে জাহিযের প্রভাবকে খাটো করে দেখা একটি ভুল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
3- وقد بدأ التدوين في البلاغة على يد ابن المعتز الذي ألفه كتابه القيم "البديع"1 وثعلب الذي ألف كتابه "قواعد الشعر"، وبعد قليل ظهر نقد النثر كما ظهر نقد الشعر لقدامة بن جعفر المتوفى عام 337هـ. ثم كتاب الصناعتين لأبي هلال المتوفى عام 395هـ، ثم كتاب الموازنة للآمدي، والوساطة للجرجاني، وإعجاز القرآن للباقلاني، وسر الفصاحة لابن سنان الخفاجي، والعمدة لابن رشيق وهما أكثر الكتب اتصالًا بالبلاغة.
4- ثم جاء بعد ذلك أبو بكر عبد القاهر الجرجاني شيخ البلاغة العربية والمتوفى عام 471هـ. فألف في البلاغة كتابين جليلين هما:
1- أسرار البلاغة، وفيه دراسات واسعة تتناول بحوث علم البيان من تشبيه ومجاز واستعارة وفيه شرح للسرقات وبعض ألوان البديع.
2- دلائل الإعجاز، وفيه بحوث كثيرة هي أصول علم المعاني. كماأنه تحدث فيه عن الكناية وعن التمثيل والمجاز والاستعارة والسرقات أيضًا.
5 - وبعد عصر الجرجاني بحث الزمخشري في تفسيره، والرازي في كتابه "نهاية الإعجاز"، وابن الأثير صاحب المثل2 السائر، وبدر الدين بن مالك صاحب المصباح، والتنوخي صاحب "الأقصى القريب"، وكثير من العلماء، في البلاغة والفصاحة.
ومن أهم هؤلاء العلماء في هذا الطور أبو يعقوب السكاكي المتوفى عام 626هـ تلميذ الحاتمي3، الذي ألف كتابه "المفتاح"، وجعله
--------------------------------------------
৩- অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগত) সংকলন শুরু হয়েছিল ইবনুল মুতায-এর হাতে, যিনি তার মূল্যবান গ্রন্থ "আল-বাদি" রচনা করেছিলেন এবং সা’লাব-এর হাতে, যিনি তার গ্রন্থ "কাওয়াইদুশ শি’র" রচনা করেছিলেন। এর অল্পকাল পরেই কুদামা ইবনে জাফরের (মৃত্যু ৩৩৭ হিজরি) গদ্য সমালোচনা ও কাব্য সমালোচনা প্রকাশিত হয়। এরপর আবু হিলালের (মৃত্যু ৩৯৫ হিজরি) "কিতাবুস সিনাআতাইন", তারপর আল-আমেদির "আল-মুওয়াযানা", আল-জুরজানির "আল-ওয়াসাতা", আল-বাকিলানির "ইজাযুল কুরআন", ইবনে সিনান আল-খাফাজির "সিররুল ফাসাহা" এবং ইবনে রশিকের "আল-উমদাহ" প্রকাশিত হয়; আর এই শেষোক্ত দুটি গ্রন্থ অলঙ্কারশাস্ত্রের সাথে সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত।
৪- এরপর আবির্ভূত হন আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের ইমাম আবু বকর আব্দুল কাহের আল-জুরজানি (মৃত্যু ৪৭১ হিজরি)। তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর দুটি মহিমান্বিত গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলো হলো:
১- আসরারুল বালাগাহ; এতে ইলমে বায়ানের অন্তর্ভুক্ত উপমা (তাশবিহ), রূপক (মাজায) ও রূপালঙ্কার (ইসতিআরা) সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে এবং এতে সাহিত্যিক চুরিকর্ম (সারিকাত) ও অলঙ্করণের (বাদি) কিছু প্রকারের ব্যাখ্যা রয়েছে।
২- দালায়েলুল ইজায; এতে এমন অনেক গবেষণা রয়েছে যা ইলমে মাআনি-র মূল ভিত্তি। এছাড়াও তিনি এতে পরোক্ষ উক্তি (কিনায়া), উপমাধর্মী রূপক (তামসিল), মাজায, ইসতিআরা এবং সাহিত্যিক চুরিকর্ম সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন।
৫ - জুরজানির যুগের পর যামাখশারি তার তাফসিরে, রাজি তার "নিহায়াতুল ইজায" গ্রন্থে, "আল-মাসালুস সাঈর" এর লেখক ইবনুল আসির, "আল-মিসবাহ" এর লেখক বদরুদ্দিন ইবনে মালিক, "আল-আকসাল কারিব" এর লেখক আল-তানুখি এবং আরও অনেক আলেম অলঙ্কার ও বাগ্মিতা বিষয়ে গবেষণা করেছেন।
এই পর্যায়ের আলেমদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলেন আবু ইয়াকুব আস-সাক্কাকি (মৃত্যু ৬২৬ হিজরি), যিনি আল-হাতিমির ছাত্র ছিলেন। তিনি তার গ্রন্থ "আল-মিফতাহ" রচনা করেন এবং একে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
أقسامًا، وخص البلاغة بالقسم الثالث منه، وقسمها إلى ثلاثة أقسام: المعاني -البيان- البديع. وبذلك تميزت علوم البلاغة ومباحث كل علم منها بالتفصيل.
والفلسفة والمنطق تغلب على السكاكي إلى حد كبير، من حيث كان يغلب الذوق والطبع على عبد القاهر.
وبذلك تنتهي مراحل التأليف والابتكار في بحوث البلاغة وتدوينها تدوينًا كاملًا.
6- وجاء الخطيب القزويني المتوفى عام 739 فألف في البلاغة كتابيه: تلخيص1 المفتاح والإيضاح. وقد ألف الإيضاح ليكون كالشرح لتلخيص المفتاح وجمع فيه كثيرًا من آراء عبد القاهر والسكاكي في شيء من التنظيم والشرح.
وعلى متن التلخيص كثرت الشروح والحواشي والتقارير وفي مقدمتها الأطول للعصام، والمطول2 للسعد وشروح التلخيص وسواها
… وهذه أهم كتب البلاغة وشروحها في هذا العهد. قوانين البلاغة لعبد اللطيف البغدادي م 629هـ، والتبيان لابن الزملكاني م651هـ، والمعيار للزنجاني م654هـ، وبديع القرآن لابن أبي الأصبع م654هـ، والفوائد الغياثية للعضد م 756هـ وشرحها الكرماني م 786هـ والتبيان لشرف الدين الطيبي م743هـ، والطراز ليحيى ابن حمزة العلوي م 749هـ، وعروس الأفراح للسبكي م 773هـ، والسمرقندية للسمرقندي وهي رسالة في الاستعارات، وتوفي السمرقندي عام 880هـ.
--------------------------------------------
বিভাগসমূহে, এবং অলঙ্কারশাস্ত্রকে (বালাগাত) এর তৃতীয় বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এটিকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন: আল-মাআনি, আল-বায়ান এবং আল-বাদি। এর মাধ্যমেই অলঙ্কারশাস্ত্রের শাখাগুলো এবং প্রতিটি শাখার আলোচ্য বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে।
আর আল-সাক্কাকীর ওপর দর্শন ও যুক্তিশাস্ত্রের প্রভাব ছিল অত্যন্ত বেশি, যেখানে আব্দুল কাহিরের ওপর শৈল্পিক রুচি ও স্বভাবজাত প্রতিভার প্রভাব ছিল প্রবল।
এর মাধ্যমেই অলঙ্কারশাস্ত্রের গবেষণায় গ্রন্থনা ও উদ্ভাবনের ধাপসমূহ এবং এর পূর্ণাঙ্গ সংকলন সম্পন্ন হওয়ার পর্যায় শেষ হয়।
৬- অতঃপর আসলেন আল-খতিব আল-কাযউইনী (মৃত্যু ৭৩৯ হিজরী) এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর তাঁর দুটি গ্রন্থ রচনা করলেন: তালখিসুল মিফতাহ এবং আল-ইজাহ। তিনি আল-ইজাহ গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন তালখিসুল মিফতাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে এবং এতে তিনি আব্দুল কাহির ও সাক্কাকীর বহু মতামত সুশৃঙ্খলভাবে ও ব্যাখ্যাসহ সংকলন করেছেন।
আর তালখিস-এর মূল পাঠের (মাতন) ওপর অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ, টীকা ও পাদটীকা লিখিত হয়েছে, যার মধ্যে অগ্রগণ্য হলো আল-ইসাম রচিত 'আল-আতওয়াল', আস-সাদ রচিত 'আল-মুতাউওয়াল' এবং তালখিস-এর অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
… আর এগুলোই এই যুগের অলঙ্কারশাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ও তাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ। যেমন: আব্দুল লতিফ আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৬২৯ হি.) রচিত 'কাওয়ানীনুল বালাগাত', ইবনুল যামলকানী (মৃত্যু ৬৫১ হি.) রচিত 'আত-তিবইয়ান', আয-যানজানী (মৃত্যু ৬৫৪ হি.) রচিত 'আল-মিইয়ার', ইবনু আবিল আসবা' (মৃত্যু ৬৫৪ হি.) রচিত 'বাদিউল কুরআন', আল-আদুদ (মৃত্যু ৭৫৬ হি.) রচিত 'আল-ফাওয়ায়িদুল গিয়াসিয়্যাহ' এবং আল-কিরমানী (মৃত্যু ৭৮৬ হি.) রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, শরফুদ্দিন আত-তিবী (মৃত্যু ৭৪৩ হি.) রচিত 'আত-তিবইয়ান', ইয়াহিয়া ইবনে হামযাহ আল-আলাওয়ী (মৃত্যু ৭৪৯ হি.) রচিত 'আত-তিরাজ', আস-সুবকী (মৃত্যু ৭৭৩ হি.) রচিত 'আরূসুল আফরাহ' এবং আস-সামারকন্দী রচিত 'আস-সামারকন্দিয়্যাহ' যা রূপক (ইস্তিআরাহ) বিষয়ক একটি পুস্তিকা, এবং আস-সামারকন্দী ৮৮০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
9- شروح المفتاح للسكاكي.
أ- شرحه بتمامه المولى حسام.
ب- وشرح القسم الثالث منه: الشيرازي م 710هـ في "مفتاح الفتاح"، والترمذي وهو معاصر للشيرازي، والخلخالي م 745هـ، والسعد "712-791هـ"، والسيد م 816هـ في "المصباح" الذي ألفه عام 803 "1"هـ، وعماد الدين الكاشي. وله رسالة في حل المتشابهات التي أوردها الخطيب على المفتاح، والأبهري سلطان شاه، وطاشكبري زاده م 962هـ، وشيخ زاده م 951هـ، والشربيني م 769هـ، والخوارزمي، وقد فرغ منه عام 642هـ، والفناري م834، وله على شرحي السعد والسيد تعليقات، وابن كمال باشام 940، وسواهم.
ج- واختصر القسم الثالث منه:
المعانيجي م 990هـ، والقزويني 666-739هـ، والأيجي م756هـ في الفوائد الغياثية، وبدر الدين ابن مالك م 686هـ في "المصباح في اختصار المفتاح" ونظم "المصباح" المراكشي، ثم شرحه وسماه "ضوء المصباح على ترجيز المصباح"، واختصر هذا المختصر ابن النحوية م 718هـ، وسماه "ضوء الصباح"، ثم شرحه في مجلدين في كتاب أسفار المصباح عن ضوء المصباح، ولمحمد بن خضر "مصباح الزمان في شرح المصباح".
هذا وقد ألف السعد "المطول على تلخيص المفتاح للخطيب القزويني" وانتهى من تأليفه عام 748هـ، كما انتهى من تأليف مختصر المطول عام 756هـ.. وفرع ابن يعقوب من تأليف شرحه على مختصر
--------------------------------------------
৯- সাক্কাকীর মিফতাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ।
ক- এটি পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যাখ্যা করেছেন মাওলা হুসাম।
খ- এবং এর তৃতীয় অংশের ব্যাখ্যা করেছেন: শিরাজি (মৃত্যু ৭১০ হিজরি) 'মিফতাহুল ফাত্তাহ' গ্রন্থে, এবং তিরমিযি—যিনি শিরাজির সমসাময়িক ছিলেন, খালখালি (মৃত্যু ৭৪৫ হিজরি), সা'দ (৭১২-৭৯১ হিজরি), সাইয়্যেদ (মৃত্যু ৮১৬ হিজরি) তাঁর 'আল-মিসবাহ' গ্রন্থে যা তিনি ৮০৩ (১) হিজরি সালে রচনা করেছেন, এবং ইমাদুদ্দিন কাশি। মিফতাহ-এর ওপর খাতিব যে অস্পষ্ট বিষয়গুলো উত্থাপন করেছেন, তা সমাধানের ওপর তাঁর একটি পুস্তিকা রয়েছে। আরও ব্যাখ্যা করেছেন আবহারি সুলতান শাহ, তাশ কুবরি যাদেহ (মৃত্যু ৯৬২ হিজরি), শাইখ যাদেহ (মৃত্যু ৯৫১ হিজরি), শারবিনি (মৃত্যু ৭৬৯ হিজরি), এবং খাওয়ারিজমি—যিনি এটি ৬৪২ হিজরি সালে সম্পন্ন করেছেন, ফানারি (মৃত্যু ৮৩৪ হিজরি)—সা'দ ও সাইয়্যেদ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থদ্বয়ের ওপর তাঁর টীকা রয়েছে, ইবনে কামাল পাশা (মৃত্যু ৯৪০ হিজরি) এবং অন্যান্যরা।
গ- এবং এর তৃতীয় অংশটি সংক্ষেপ করেছেন:
মানিজি (মৃত্যু ৯৯০ হিজরি), কাযবিনি (৬৬৬-৭৩৯ হিজরি), আইজি (মৃত্যু ৭৫৬ হিজরি) 'আল-ফাওয়াইদ আল-গিয়াসিয়্যাহ' গ্রন্থে, বদরুদ্দিন ইবনে মালিক (মৃত্যু ৬৮৬ হিজরি) 'আল-মিসবাহ ফি ইখতিসারিল মিফতাহ' গ্রন্থে এবং মাররাকুশি 'আল-মিসবাহ'-কে কাব্যরূপ দিয়েছেন, অতঃপর তিনি নিজেই এটি ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন 'দাউউল মিসবাহ আলা তারজিযিল মিসবাহ'। এই সংক্ষিপ্ত রূপটিকে আবার সংক্ষেপ করেছেন ইবনে নাহউইয়্যাহ (মৃত্যু ৭১৮ হিজরি) এবং এর নাম দিয়েছেন 'দাউউস সাবাহ', অতঃপর তিনি এটি দুই খণ্ডে ব্যাখ্যা করেছেন 'আসফারুল মিসবাহ আন দাউইল মিসবাহ' নামক কিতাবে। মুহাম্মদ বিন খিজরের রয়েছে 'মিসবাহুয যামান ফি শারহিল মিসবাহ'।
উল্লেখ্য যে, সা'দ খাতিব কাযবিনির 'তালখিসুল মিফতাহ'-এর ওপর 'আল-মুতাবওয়াল' রচনা করেছেন এবং এটি রচনার কাজ ৭৪৮ হিজরি সালে সমাপ্ত করেছেন, যেমনটি তিনি 'মুখতাসারুল মুতাবওয়াল' রচনা সম্পন্ন করেছেন ৭৫৬ হিজরি সালে। আর ইবনে ইয়াকুব মুখতাসারের ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা সম্পন্ন করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
السعد في مكناسة في المحرم 1108هـ.. وانتهى ابن السبكي من تأليف شرحه "عروس الأفراح" على مختصر السعد في جمادى الأولى عام 758هـ.. وانتهى الدسوقي من كتابة شرحه على مختصر السعد في شوال عام 1210هـ.
8- يمتاز الإيضاح للخطيب القزويني بعدة ميزات ظاهرة: فهو أوفى كتاب في بحوث البلاغة، وهو أوضح الكتب المؤلفة فيها نظامًا وأسلوبًا، وهو كثير البحث والتعمق والاستنباط لأسرار البلاغة العربية، فوق أنه كتاب تطبيقي جميل في البلاغة، وينقد القزويني فيه كثيرًا من آراء السكاكي، وإن كان يعتمد الخطيب فيه على عبد القاهر والسكاكي كثيرًا. ومع ذلك فالخطيب يجمع في كتابه خلاصات لبحوث علماء البلاغة في شتى العصور حتى عصره، والكتاب بعد ذلك غزير المادة، كبير الفائدة في الأدب والنقد والبلاغة والبيان1.
وهناك مؤلفات جديدة ظهرت في البلاغة في عصر الحواشي، ومن بينها عقود الجمان للسيوطي. كما ظهرت في العصر الحديث عدة مؤلفات في البلاغة فيها لون من التهذيب والتنسيق وحسن الأخذ والاختيار.
وبذلك تنتهي مراحل التأليف في البلاغة منذ نشأتهاحتى الآن.
--------------------------------------------
আস-সা'দ ১১০৮ হিজরির মুহাররম মাসে মিকনাসায়... এবং ইবনুন সুবকী ৭৫৮ হিজরির জুমাদাল উলা মাসে আস-সা'দের সংক্ষিপ্তসারের (মুখতাসার) ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আরুসুল আফরাহ" রচনার কাজ শেষ করেন... এবং আদ-দুসুকি ১২১০ হিজরির শাওয়াল মাসে আস-সা'দের সংক্ষিপ্তসারের ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখার কাজ সমাপ্ত করেন।
৮- খতিব আল-কাযউইনীর "আল-ঈযাহ" গ্রন্থটি বেশ কিছু সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্যের অধিকারী: এটি অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) গবেষণার ক্ষেত্রে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ, এবং এটি এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে পদ্ধতি ও শৈলীর দিক থেকে সবচেয়ে স্পষ্ট। এটি আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্য উদ্ঘাটন, গভীর অনুসন্ধান ও উদ্ভাবন সমৃদ্ধ একটি গ্রন্থ। তদুপরি, এটি অলঙ্কারশাস্ত্রের একটি চমৎকার প্রায়োগিক গ্রন্থ। কাযউইনী এতে সাক্কাকীর অনেক মতামতের সমালোচনা করেছেন, যদিও খতিব এই গ্রন্থে আব্দুল কাহের এবং সাক্কাকীর ওপর অনেক বেশি নির্ভর করেছেন। তা সত্ত্বেও, খতিব তাঁর গ্রন্থে তাঁর সময় পর্যন্ত বিভিন্ন যুগের অলঙ্কারবিদদের গবেষণার সারসংক্ষেপ একত্রিত করেছেন। এছাড়াও গ্রন্থটি বিষয়বস্তুগতভাবে সমৃদ্ধ এবং সাহিত্য, সমালোচনা, অলঙ্কারশাস্ত্র ও বয়ান শাস্ত্রে অত্যন্ত উপকারী১।
হাশিয়া (টীকা) সংকলনের যুগে অলঙ্কারশাস্ত্রে আরও কিছু নতুন রচনা প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে সুয়ূতী-র "উকূদুল জুমান" অন্যতম। অনুরূপভাবে, আধুনিক যুগে অলঙ্কারশাস্ত্রে বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে যাতে এক ধরণের সংস্কার, বিন্যাস এবং চমৎকার চয়ন ও নির্বাচনের ছাপ রয়েছে।
এর মাধ্যমেই অলঙ্কারশাস্ত্রের উৎপত্তি থেকে বর্তমান পর্যন্ত এর রচনাকালের পর্যায়গুলো সমাপ্ত হলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الخطيب وأثره في البلاغة العربية:
والخطيب القزويني1 هو "جمال الدين أبو المعالي محمد بن عبد الرحمن، ابن خطيب دمشق" كما يقول جورجي زيدان، وبتفصيل أوسع هو "الشيخ الإمام العالم العلامة خطيب الخطباء، مفتي المسلمين، جلال الدين، أبو عبد الله، محمد، ابن قاضي القضاة سعد الدين أبي محمد عبد الرحمن، ابن إمام الدين أبي حفص عمر، القزويني الشافعي" كما يقول تلاميذه أو هو نفسه في مقدمة كتابه "الإيضاح" فهو من أسرة علمية ودينية كبيرة، كان لها ولاشك أثرها في حياته وتفكيره وروحه.
ولد عام 666هـ، وتعلم الفقه، وتولى القضاء، وانتقل إلى دمشق، وتولى الخطابة في مسجدها، ثم تولى القضاء بمصر، وتمكن نفوذه فيها أيام الملك الناصر، اكتسب مالًا طائلًا، ثم جاء إلى دمشق وتوفي فيها. وأشهر مؤلفاته تلخيص المفتاح، والإيضاح في المعاني والبيان2، وكانت وفاته عام 739هـ، كمايقول صاحب الدرر الكامنة.
وتدل مؤلفات الخطيب في البلاغة على ثقافة بلاغية وأدبية واسعة وقراءة مستفيضة لأهم المؤلفات في البلاغة وفي مقدمتها: "أسرار البلاغة" و"دلائل الإعجاز" لعبد القاهر، والمفتاح للسكاكي.
ألف الخطيب مختصرًا صغيرًا للمفتاح في البلاغة، أو للقسم
--------------------------------------------
আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রে আল-খতিব এবং তাঁর প্রভাব:
আল-খতিব আল-কাযউইনি হলেন "জামালুদ্দিন আবুল মাআলি মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান, দামেস্কের খতিবের পুত্র", যেমনটি জুরজি যাইদান বলেছেন। আরও বিস্তারিতভাবে তিনি হলেন "শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, আল্লামা, খতিবদের খতিব, মুসলিমদের মুফতি, জালালুদ্দিন, আবু আব্দুল্লাহ, মুহাম্মদ, প্রধান বিচারপতি সাদউদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমানের পুত্র, ইমামুদ্দিন আবু হাফস উমরের পৌত্র, আল-কাযউইনি আশ-শাফিয়ি", যা তাঁর ছাত্রগণ অথবা তিনি নিজে তাঁর "আল-ইদাহ" গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। তিনি একটি সুপরিচিত ইলমি ও দ্বীনি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যা নিঃসন্দেহে তাঁর জীবন, চিন্তা ও আধ্যাত্মিক চেতনায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
তিনি ৬৬৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন এবং দামেস্কে স্থানান্তরিত হয়ে সেখানকার মসজিদে খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর তিনি মিসরের বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মালিক আন-নাসিরের শাসনামলে সেখানে তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি প্রচুর ধন-সম্পদ অর্জন করেন, এরপর দামেস্কে ফিরে আসেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলো হলো 'তালখিসুল মিফতাহ' এবং 'আল-ইদাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান'। 'আদ-দুরার আল-কামিনা' গ্রন্থের লেখকের বর্ণনা অনুযায়ী, ৭৩৯ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
অলঙ্কারশাস্ত্রে আল-খতিবের রচনাবলি তাঁর ব্যাপক অলঙ্কারিক ও সাহিত্যিক সংস্কৃতি এবং এই শাস্ত্রের প্রধান গ্রন্থসমূহের ওপর তাঁর গভীর ও বিস্তারিত অধ্যয়নের প্রমাণ দেয়, যেগুলোর শীর্ষে রয়েছে: আব্দুল কাহিরের "আসরারুল বালাগাহ" ও "দালায়িলুল ইজায" এবং সাক্কাকির "আল-মিফতাহ"।
আল-খতিব অলঙ্কারশাস্ত্রে 'আল-মিফতাহ' এর একটি ছোট সংক্ষিপ্ত সংস্করণ বা সারাংশ রচনা করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الثالث بعبارة أوضوح، وسماه "تلخيص المفتاح1" لخص فيه ذلك السفر القيم وقدم فيه وأخر، وحذف واختصر، وفيه بعض آراء له لم يرتضها جهابذة هذه الفنون، "ومن العجيب أن يسمي كتابه بهذا الاسم، وهو في رأي أحد الباحثين ليس بالتلخيص له وحده، بل أشبه بأن يكون تلخيصًا لكتابي أسرار البلاغة ودلائل الإعجاز لعبد القاهر ولسر الفصاحة لابن سنان الخفاجي.. وروح التلخيص من الكتاب الأخير واضح كل الوضوح في مقدمته"2 وقد يكون في هذا الرأي لون من المبالغة، فمتن التلخيص ليس تلخيصًا للأسرار ودلائل وسر الفصاحة في قليل ولا كثير، إنما هو تلخيص للقسم الثالث من المفتاح وحده، وما فيه من روح التأثر بعبد القاهر فمرجعه إلى المفتاح نفسه، الذي اعتمد فيه السكاكي على عبد القاهر إلى حد بعيد. وقد يستساغ ذلك في الإيضاح لا في "تلخيص المفتاح".
ثم ألف الخطيب كتابه الإيضاح في البلاغة على ترتيب التلخيص، وبسط القول فيه ليكون كالشرح له، فأوضح مواضعه المشكلة، وفصل معانيه المجملة، واعتمد على المفتاح والأسرار والدلائل وغير هذه المؤلفات في بحوثه ودراساته فيه، كما يشير إليه الخطيب نفسه في مقدمة الإيضاح. والكتاب "فيه أمهات مسائل هذه الفنون بعبارة واضحة فيها روح من أسلوب عبد القاهر الجامع بين التحقيق العلمي والرصانة الأدبية3.
--------------------------------------------
তৃতীয় অংশটি আরও স্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এর নামকরণ করেছেন "তালখিসুল মিফতাহ"। তিনি এতে সেই মূল্যবান গ্রন্থটিকে সংক্ষেপ করেছেন, বিষয়বস্তুকে আগে-পিছে করেছেন, কিছু অংশ বাদ দিয়েছেন এবং পরিমার্জন করেছেন। এতে তাঁর এমন কিছু মতামত রয়েছে যা এই শিল্পসমূহের বিজ্ঞ পণ্ডিতগণ পছন্দ করেননি। "আশ্চর্যের বিষয় হলো তিনি তাঁর কিতাবের এই নামকরণ করেছেন, অথচ একজন গবেষকের মতে এটি কেবল তাঁর (মিফতাহের) সংক্ষেপ নয়, বরং এটি আব্দুল কাহিরের 'আসরারুল বালাগাহ' ও 'দালাইলুল ই'জাজ' এবং ইবনে সিনান আল-খাফাজির 'সিররুল ফাসাহাহ' কিতাবদ্বয়ের সংক্ষেপ হওয়ার অধিক সদৃশ। আর শেষোক্ত কিতাবটির সংক্ষেপের ছাপ এর মুখবন্ধে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।" এই মতামতে কিছুটা অতিরঞ্জন থাকতে পারে, কারণ তালখিস-এর মূল পাঠ (মাতন) 'আসরার', 'দালাইল' ও 'সিররুল ফাসাহাহ'-এর সংক্ষেপ নয়—কম বা বেশি কোনো অর্থেই নয়—বরং এটি কেবল 'মিফতাহ'-এর তৃতীয় অংশের সংক্ষেপ। আর এতে আব্দুল কাহিরের প্রভাবের যে ছাপ রয়েছে, তার উৎস মূলত 'মিফতাহ' নিজেই, যেটিতে সাক্কাকি অনেকাংশেই আব্দুল কাহিরের ওপর নির্ভর করেছিলেন। আর এটি 'আল-ইজাহ' কিতাবের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, কিন্তু 'তালখিসুল মিফতাহ'-এর ক্ষেত্রে নয়।
এরপর খতিব (আল-কাযউইনি) অলঙ্কার শাস্ত্রের ওপর 'তালখিস'-এর বিন্যাস অনুযায়ী তাঁর 'আল-ইজাহ' কিতাবটি রচনা করেন এবং এতে বিস্তারিত আলোচনা করেন যাতে এটি তার ব্যাখ্যার (শারহ) মতো হয়। ফলে তিনি এর জটিল স্থানগুলোকে স্পষ্ট করেছেন এবং সংক্ষিপ্ত অর্থগুলোকে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর গবেষণা ও পর্যালোচনায় 'মিফতাহ', 'আসরার', 'দালাইল' এবং অন্যান্য গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন, যেমনটি খতিব নিজেই 'আল-ইজাহ'-এর মুখবন্ধে উল্লেখ করেছেন। আর কিতাবটিতে "এই শিল্পসমূহের মৌলিক মাসআলাসমূহ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বিদ্যমান, যাতে আব্দুল কাহিরের শৈলীর ছাপ রয়েছে—যা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং সাহিত্যিক গাম্ভীর্যের এক অনন্য সমন্বয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وعلى "تلخيص المفتاح للخطيب" كثير من الشروح والحواشي والتقارير ممايدل على مدى شهرته العلمية عند الباحثين. ولا يزال منهج الخطيب في البلاغة وفي تلخيصه بالذات هو المنهج العلمي في علوم البلاغة إلى عصرنا الراهن.
وكتاب الإيضاح عمل جليل في البلاغة سواء في ترتيبه وتقسيمه وتنظيم بحوثه، أم في استيعابه واستقصائه وتحليله، أم في جمعه واستمداده من شتى المصادر والمراجع، أم في أسلوبه الأدبي وروحه وكثرة تطبيقاته الأدبية، وهو أهم كتاب دراسي في البلاغة في العصر الحاضر.
وهذا شرح جديد للإيضاح، يتناول بالبحث والتحليل والدراسة والتعليق والشرح جميع مسائله وشواهده، ويشير إلى مصادره ومراجعه التي ألف منهاالخطيب هذا الكتاب. وهو عمل سيكون له أثره في البلاغة العربية، وفي خدمة الإيضاح وتذليل صعوبات البحث فيه بتوفيق الله.
ويمتاز هذا الشرح بدقة البحث. وطول المراجعة، وكثرة الشرح والتفصيل، والإلمام بكل رأي، وتحليل كل مذهب ما عليه وماله، وبعرض آراء جديدة في شتى بحوث البلاغة وعلومها.. كما يمتازا بمقدمته التي هي تأريخ للبلاغة ونشأتها وأطوار التأليف فيها، وغير ذلك مما يحتوي عليه من مميزات، وقد وضعنا للكتاب بعض العناوين المساعدة على فهمه وإيضاحه.
খতিবকৃত ‘তালখিসুল মিফতাহ’-এর ওপর অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ, টীকা ও পাদটীকা রচিত হয়েছে, যা গবেষকদের নিকট এর জ্ঞানতাত্ত্বিক সুখ্যাতির ব্যাপ্তি প্রমাণ করে। অলঙ্কারশাস্ত্রে এবং বিশেষত তার এই সারসংক্ষেপে খতিবের অনুসৃত পদ্ধতিটি বর্তমান যুগ পর্যন্ত অলঙ্কারশাস্ত্রের জ্ঞানতাত্ত্বিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
‘আল-ইজাহ’ গ্রন্থটি অলঙ্কারশাস্ত্রের এক মহৎ কর্ম—তা এর বিন্যাস, বিভাজন ও গবেষণা পরিচালনার সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতেই হোক, কিংবা এর বিষয়বস্তুর ব্যাপকতা, গভীর অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের বিচারেই হোক। এছাড়া বিভিন্ন উৎস ও তথ্যসূত্র থেকে বিষয়বস্তু আহরণ ও সংকলন, এর সাহিত্যিক শৈলী ও প্রাণবন্ততা এবং প্রচুর পরিমাণে প্রায়োগিক সাহিত্যের ব্যবহারের দিক থেকেও এটি অনন্য। বর্তমান যুগে অলঙ্কারশাস্ত্রের পাঠ্যবই হিসেবে এটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
এটি ‘আল-ইজাহ’-এর একটি নতুন ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যাতে গভীর গবেষণা, বিশ্লেষণ, পর্যালোচনা, টীকা ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে এর সকল মাসআলা এবং কাব্যিক উদাহরণ (শাওয়াহিদ) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে খতিব যে সকল উৎস ও তথ্যসূত্রের ওপর ভিত্তি করে এই কিতাবটি রচনা করেছিলেন, সেগুলোও নির্দেশ করা হয়েছে। এটি এমন একটি কাজ যা আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রে এবং ‘আল-ইজাহ’-এর খিদমতে কার্যকর প্রভাব ফেলবে এবং আল্লাহর তৌফিকে এই গ্রন্থে গবেষণার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতাসমূহ সহজতর করে তুলবে।
এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য হলো গবেষণার সূক্ষ্মতা, দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ, বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল মতামতের যথাযথ প্রতিফলন। এতে প্রতিটি মতবাদের পক্ষে ও বিপক্ষের যুক্তিসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় নতুন নতুন মতামত উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া এটি এর ভূমিকাটির কারণেও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, যাতে অলঙ্কারশাস্ত্রের ইতিহাস, এর উৎপত্তি এবং এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনার বিভিন্ন পর্যায় আলোচিত হয়েছে। এর পাশাপাশি এতে আরও অনেক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। আমরা কিতাবটি অনুধাবন ও সহজীকরণের সুবিধার্থে কিছু সহায়ক শিরোনামও যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ترجمة الخطيب:عن الدر الكامنة لابن حجر 1، والعقد المذهب لابن الملقن، وشذرات الذهب2.
هو قاضي القضاة أبو المعالي جلال الدين محمد بن القاضي سعد الدين أبي القاسم عبد الرحمن بن إمام الدين عمر القزويني الشافعي.
ولد بالموصل سنة 666 وسكن بلاد الروم، مع والده وأخيه واشتغل بالعلم وتفقه على والده وولي قضاء نيكسار من بلاد الروم ثم قدم دمشق وسمع من العز الفاروثي وطائفة وحدث وتفقه واشتغل في الفنون وأتقن الأصول والعربية والمعاني والبيان، وكان فهما ذكيا مفوهًا ذا ذوق سليم حسن الإيراد والمحاضرة حلو العبارة فصيحًا جميل الهيئة كبير الذهن جوادًا أديبًا حسن الخط، وناب عن أخيه الأكبر إمام الدين قاضي قضاة الشام إلى أن مات أخوه سنة 699 ثم ولي خطابة جامع دمشق فأقام بها مادة طويلة ثم طلبه الملك الناصر إلى القاهرة في سنة 724 وكان قدومه على البريد يوم الجمعة فاتفق أنه اجتمع بالناصر ساعة وصوله فأمر به أن يخطب بجامع القلعة فخطب مرتجلًا مع ما هو عليه من التعب وأثر السفر فأعجب به السلطان وشكره وسأله عن حاله وكم عليه من الدين فذكر أن عليه ثلاثين ألف فأمر بوفائها عنه فشافهه بقضاء دمشق فباشرها والخطابة جميعًا إلى أن ولاه قضاء الديار المصرية في سنة 727 فعم أمره جدًّا وصرف مال الأوقاف على الفقراء والمحتاجين وحج مع السلطان فأعانه بمال وأحسن إلى المصريين والشاميين وكان لهم ذخرًا وملجأ ولم يزل على
--------------------------------------------
খতিব-এর জীবনী:ইবনে হাজারের আদ-দুরারুল কামিনাহ্ ১, ইবনুল মুলাক্কিনের আল-ইকদূল মুযাহ্হাব এবং শাযারাতুয যাহাব ২ থেকে সংগৃহীত।
তিনি হলেন প্রধান বিচারপতি আবুল মাআলী জালালুদ্দীন মুহাম্মদ বিন বিচারক সা’দুদ্দীন আবুল কাসিম আব্দুর রহমান বিন ইমামুদ্দীন উমর আল-কাযভিনী আশ-শাফিয়ী।
তিনি ৬৬৬ হিজরিতে মুসিলে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর পিতা ও ভাইয়ের সাথে রোম দেশে বসবাস করেন। তিনি ইলম অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন এবং তাঁর পিতার নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি রোম দেশের নিকসার অঞ্চলের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর তিনি দামেস্কে আগমন করেন এবং ইয আল-ফারুসী ও একদল আলিমের নিকট হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি হাদীস বর্ণনা করেন, ফিকহ অর্জন করেন এবং বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানে পাণ্ডিত্য লাভ করেন। তিনি উসূল, আরবি ভাষা, আল-মাআনি এবং আল-বায়ান শাস্ত্রে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন। তিনি অত্যন্ত সমঝদার, মেধাবী, সুবক্তা, মার্জিত রুচিবোধ সম্পন্ন, চমৎকার উপস্থাপক ও বক্তা ছিলেন। তাঁর বাক্যশৈলী ছিল মিষ্টি, তিনি ছিলেন বাগ্মী, সুশ্রী অবয়বের অধিকারী, উচ্চ মেধা সম্পন্ন, দানবীর, সাহিত্যিক এবং সুন্দর হস্তলিপির অধিকারী। তিনি তাঁর বড় ভাই ইমামুদ্দীন—যিনি শামের প্রধান বিচারপতি ছিলেন—তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৬৯৯ হিজরিতে ভাইয়ের মৃত্যু পর্যন্ত। এরপর তিনি দামেস্ক জামে মসজিদের খতিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘকাল সেখানে অবস্থান করেন। অতঃপর ৭২৪ হিজরিতে সুলতান আন-নাসির তাঁকে কায়রোতে তলব করেন। তিনি ডাকযোগে জুমার দিনে সেখানে উপস্থিত হন। কাকতালীয়ভাবে পৌঁছানোর সাথে সাথেই সুলতান নাসিরের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটে। সুলতান তাঁকে কেল্লার মসজিদে খুতবা দেওয়ার আদেশ দেন। সফরের ক্লান্তি ও ছাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি তাৎক্ষণিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে খুতবা প্রদান করেন। সুলতান তাঁর ওপর অত্যন্ত মুগ্ধ হন, তাঁর শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন এবং তাঁর অবস্থা ও ঋণের পরিমাণ জানতে চান। তিনি জানান যে তাঁর ত্রিশ হাজার মুদ্রা ঋণ আছে; তখন সুলতান তা পরিশোধ করার নির্দেশ দেন। সুলতান তাঁকে সরাসরি দামেস্কের বিচারকের পদে নিয়োগ দেন। তিনি বিচারকার্য ও খতিবের দায়িত্ব উভয়টিই পালন করতে থাকেন, যতক্ষণ না ৭২৭ হিজরিতে সুলতান তাঁকে মিসর অঞ্চলের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব প্রদান করেন। সেখানে তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি অত্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তিনি ওয়াকফকৃত অর্থ দরিদ্র ও অভাবীদের মাঝে ব্যয় করতেন এবং সুলতানের সাথে হজ পালন করেন। সুলতান তাঁকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেন। তিনি মিসরীয় ও শামবাসীদের প্রতি সদয় আচরণ করেন এবং তাঁদের জন্য তিনি ছিলেন এক মহান সম্পদ ও আশ্রয়স্থল। তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে এভাবেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
حاله إلى أن أعيد إلى قضاء الشام بسبب أحوال أولاده وفرح به أهل الشام فأقام قليلًا وتعلل وأصابه فالج فمات منه في سنة 739 عن 73 سنة فأسفوا عليه كثيرًا وشيعه عالم عظيم، وللشعراء فيه مدائح كثيرة ومراث عددة وكان يرغب الناس في الاشتغال بأصول الفقه وفي المعاني والبيان. وتصنيفه المسمى تلخيص المفتاح مشهور ونظمه السيوطي وسماه عقود الجمان.. وله إيضاح التلخيص أيضًا. وكان يعظم الأرجاني الشاعر ويقول أنه لم يكن للعجم نظيره واختصر ديوانه فسماه "السور المرجاني من شعر الأرجاني". وقال الذهبي: عظم شأنه لماولي قضاء الديار المصرية وبلغ من العز ما لا يوصف بحيث لاترد له شفاعة وربما رمي علي يد السلطان نفسه وكان فصيحًا حلو العبارة، مليح الصورة، سمحًا حليمًا كثيرة التحمل وسيرته تحتمل كراريس، وذكر اليوسفي في سيرة الملك الناصر محمد أن القاضي كان محسنًا إلى الناس كثير التصدق والمكارم والبر لأرباب البيوت، قال: أنه لم يوجد لأحد من القضاة منزلة عند سلطان تركي نظير نزله جلال الدين، وكان الناصر يحتمل ما ينقل إليه من سيرة ولده حتى كان يقول لوالي البلد: أكبس فلانًا ثم يرسل إليه يقول: لا تفعل، نبقى في حياء من والده
… فرحمه الله تعالى عليهم وغفرانه.
وترجم له السيوطي في بغية الوعاة "ص66"، فنسبه إلى أبي دلف العجلي، وذكر ما لايخرج عما سبق، ثم قال: ولا أعلمه نظم شيئًا مع قوة باعه في الأدب، ومات في منتصف جمادى الأولى عام 739هـ.
ويقول صاحب الدرر الكامنة: أن له ابنًا اسمه محمد بن محمد بن عبد الرحمن بن عمر القزويني، وهو ابن القاضي جلال الدين خطيب جامع دمشق.. وقد ترجم له1.
--------------------------------------------
তাঁর অবস্থা এমন ছিল যে, তাঁর সন্তানদের অবস্থার কারণে তাকে পুনরায় শামের বিচারপতির পদে ফিরিয়ে আনা হয়। এতে শামের অধিবাসীরা আনন্দিত হন। তিনি সেখানে অল্পকাল অবস্থান করেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। অতঃপর তিনি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন এবং এরই কারণে ৭৩৯ হিজরিতে ৭৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে মানুষ অত্যন্ত শোক প্রকাশ করে এবং এক বিশাল জনসমুদ্র তাঁর জানাজায় অংশগ্রহণ করে। কবিগণ তাঁর প্রশংসায় অনেক স্তুতিবাক্য এবং অসংখ্য শোকগাঁথা রচনা করেছেন। তিনি মানুষকে উসুলুল ফিকহ এবং মাআনি ও বয়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) চর্চায় উৎসাহিত করতেন। তাঁর রচিত 'তালখিসুল মিফতাহ' নামক গ্রন্থটি অত্যন্ত সুপ্রসিদ্ধ, যা সুয়ূতী ছন্দোবদ্ধ করেছেন এবং তার নাম দিয়েছেন 'উকূদুল জুমান'। এছাড়া তাঁর 'ঈযাউত তালখিস' নামক একটি গ্রন্থও রয়েছে। তিনি কবি আরজানিকে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং বলতেন যে অনারবদের মধ্যে তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই। তিনি তাঁর কাব্যগ্রন্থ (দিওয়ান) সংক্ষিপ্ত করেন এবং তার নাম দেন "আস-সূরুল মারজানি মিন শি’রিল আরজানি"। আয-যাহাবী বলেন: যখন তিনি মিশরের বিচারপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তখন তাঁর মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং তিনি এমন অবর্ণনীয় সম্মানে ভূষিত হন যে, তাঁর কোনো সুপারিশই ফিরিয়ে দেওয়া হতো না। এমনকি অনেক সময় তা স্বয়ং সুলতানের মাধ্যমেই সম্পন্ন হতো। তিনি ছিলেন সুবক্তা, মিষ্টভাষী, সুশ্রী চেহারার অধিকারী, উদার, ধৈর্যশীল ও অত্যন্ত সহনশীল। তাঁর জীবনচরিত কয়েক খণ্ড বইয়েও শেষ হওয়ার নয়। আল-ইউসুফী সুলতান আল-নাসির মুহাম্মাদের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, কাজী মানুষের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন এবং তিনি অনেক দান-সদকা ও মহৎ কাজ করতেন এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোকদের প্রতি অত্যন্ত সদাচারী ছিলেন। তিনি বলেন: কোনো তুর্কি সুলতানের কাছে অন্য কোনো বিচারপতির মর্যাদা জালালুদ্দীনের মতো ছিল না। সুলতান নাসির তাঁর (জালালুদ্দীনের) ছেলের ব্যাপারে যা কিছু শোনা যেত তাও সহ্য করতেন, এমনকি তিনি নগরের শাসনকর্তাকে বলতেন: 'অমুককে পাকড়াও কর', আবার পরক্ষণেই লোক পাঠিয়ে বলতেন: 'করো না, আমরা তাঁর পিতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধের কারণে লজ্জিত হই'
... তাঁদের ওপর আল্লাহ তাআলার রহমত ও ক্ষমা বর্ষিত হোক।
আস-সুয়ূতী 'বুগইয়াতুল উয়াত' (পৃষ্ঠা ৬৬) গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন। তিনি তাঁর বংশপরম্পরা আবু দুলাফ আল-ইজলির দিকে সম্পৃক্ত করেছেন এবং পূর্বে যা আলোচিত হয়েছে তারই অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি বলেন: সাহিত্যে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনো কবিতা রচনা করেছেন বলে আমার জানা নেই। তিনি ৭৩৯ হিজরির জুমাদাল উলা মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইন্তেকাল করেন।
'আদ-দুরারুল কামিনাহ' এর লেখক বলেন: তাঁর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে উমর আল-কাযউইনী নামে এক পুত্র ছিল, যিনি দামেস্কের জামে মসজিদের খতিব কাজী জালালুদ্দীনের পুত্র। তাঁর জীবনীও সংকলিত হয়েছে ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أول كتاب الإيضاح
تمهيد…أول كتاب الإيضاح للخطيب القزويني:
تمهيد:
قال الشيخ الإمام، العالم العلامة خطيب الخطباء، مفتي المسلمين، جلال الدين: أبو عبد الله محمد، ابن قاضي القضاة سعد الدين أبي محمد عبد الرحمن، ابن إمام الدين أبي حفص عمر، القزويني الشافعي. متع الله المسلمين بمحياه، وأحسن عقباه:
الحمد لله رب العالمين وصلاته على محمد وعلى آل محمد أجمعين.
أمابعد: فهذا كتاب في علم البلاغة وتوابعها1، ترجمته 2 بـ"الإيضاح" وجعلته علي ترتيب مختصري الذي سميته تلخيص المفتاح. وبسطت فيه القول ليكون كالشرح له، فأوضحت مواضعه المشكلة، وفصلت معانيه المجملة وعمدت إلى ماخلاعنه المختصر، مماتضمنه "مفتاح العلوم3"، وإلى ماخلاعنه المفتاح من كلام الشيخ الإمام عبد القاهر الجرجاني4 رحمه الله -في كتابيه: دلائل الإعجاز، وأسرار البلاغة، وإلى ما تيسر النظر فيه من كلام غيرهما5، فاستخرجت زبدة6 ذلك كله، وهذبتها ورتبتها، حتى استقر كل شيء منها في محله، وأضفت إلى ذلك ما أدى إليه فكرى، ولم أجده لغيري. فجاء بحمد الله جامعًا لأشتات هذا العلم. وإليه أرغب في أن يجعله نافعًا لمن نظر فيه من أولى الفهم.
وهو حسبي ونعم الوكيل.
--------------------------------------------
আল-ইদাহ গ্রন্থের শুরুভূমিকা...খতিব আল-কাজভিনী রচিত আল-ইদাহ গ্রন্থের শুরু:
ভূমিকা:
শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, খতিবদের খতিব, মুসলিমদের মুফতি, জালালুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ, ইবনে কাজিউল কুজাত সা’দুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান, ইবনে ইমামুদ্দীন আবু হাফস উমর আল-কাজভিনী আশ-শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর হায়াত দ্বারা মুসলিমদের উপকৃত করুন এবং তাঁর শেষ পরিণাম সুন্দর করুন) বলেছেন:
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর সালাত বর্ষিত হোক মুহাম্মদ ও তাঁর সকল পরিবারের ওপর।
অত:পর, এটি অলঙ্কারশাস্ত্র ও এর অনুষঙ্গসমূহ সংক্রান্ত একটি কিতাব, আমি এর নামকরণ করেছি "আল-ইদাহ" এবং একে আমার সংক্ষেপিত গ্রন্থ "তালখীসুল মিফতাহ"-এর বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছি। আমি এতে আলোচনাকে বিস্তারিত করেছি যাতে এটি তার ব্যাখ্যাস্বরূপ হয়, ফলে আমি এর জটিল স্থানগুলো স্পষ্ট করেছি, এর সংক্ষিপ্ত অর্থগুলোকে বিশদভাবে বর্ণনা করেছি এবং "মিফতাহুল উলুম" গ্রন্থে থাকা যেসব বিষয় সংক্ষেপিত গ্রন্থে বাদ পড়েছিল তা এতে সন্নিবেশিত করার সংকল্প করেছি। এছাড়া শায়খ ইমাম আব্দুল কাহির আল-জুরজানী (রহ.)-এর দুই কিতাব "দালাইলুল ই'জাজ" ও "আসরারুল বালাগাত"-এর যেসব আলোচনা "মিফতাহ" গ্রন্থে নেই এবং অন্যদের যেসব বক্তব্য পর্যালোচনা করা সহজ হয়েছে, তাও এতে যুক্ত করেছি। আমি এই সবকিছুর সারমর্ম নিংড়ে নিয়েছি এবং সেগুলোকে সুবিন্যস্ত ও পরিমার্জিত করেছি, যতক্ষণ না প্রতিটি বিষয় তার যথাযথ স্থানে স্থিতি লাভ করেছে। এর সাথে আমি আমার নিজস্ব চিন্তা-প্রসূত বিষয়গুলোও যোগ করেছি যা অন্য কারো কাছে পাইনি। ফলে আল্লাহর প্রশংসায় এটি এই শাস্ত্রের বিবিধ বিষয়ের এক সংকলন হয়ে উঠেছে। আমি তাঁরই নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে বোধশক্তিসম্পন্ন পাঠকদের জন্য উপকারী করেন।
তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مقدمة 1:
في الكشف عن معنى الفصاحة والبلاغة:
وانحصار علم البلاغة في علمي2 المعاني والبيان للناس في تفسير الفصاحة والبلاغة أقوال مختلفة، لم أجد فيما بلغني منها. ما يصلح لتعريفها به، ولا ما يشير إلى الفرق بين كون الموصوف بهما الكلام وكون الموصوف بهما المتكلم 3، فالأولى أن نقتصر على تلخيص القول فيهما بالاعتبارين، فنقول:
--------------------------------------------
ভূমিকা ১:
ফাসাহাত (প্রাঞ্জলতা) এবং বালাগাতের (অলঙ্কারশাস্ত্র) অর্থ উন্মোচন প্রসঙ্গে:
এবং বালাগাত শাস্ত্রকে মাআনি (অর্থতত্ত্ব) ও বায়ান (বর্ণনাশৈলী) নামক দুটি বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা প্রসঙ্গে। ফাসাহাত ও বালাগাতের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। আমার নিকট এই বিষয়ে যা পৌঁছেছে, তার মধ্যে আমি এমন কিছু পাইনি যা এদের সংজ্ঞায়িত করার জন্য উপযুক্ত, কিংবা যা বাক্য এই দুই গুণে গুণান্বিত হওয়া এবং বক্তা এই দুই গুণে গুণান্বিত হওয়ার মধ্যকার পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত করে। সুতরাং এই উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে এ দুটির আলোচনার সারসংক্ষেপের ওপর সীমাবদ্ধ থাকাই সমীচীন। অতএব আমরা বলি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
.........................................................................
--------------------------------------------
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كل واحدة منهما1 تقع صفة لمعنيين: أحدهما الكلام كمافي قولك قصيدة فصيحة أو بليغة، ورسالة فصيحة أو بليغة، والثاني المتكلم كما في قولك شاعر فصيح أو بليغ، وكاتب فصيح أو بليغ. والفصاحة خاصة تقع صفة للمفرد فيقال: كلمة فصيحة، ولايقال كلمة2
--------------------------------------------
তাদের দুটির১ প্রতিটিই দুটি বিষয়ের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়: এর মধ্যে একটি হলো বাক্য, যেমন আপনি বলে থাকেন 'একটি প্রাঞ্জল বা অলঙ্কারপূর্ণ কবিতা' এবং 'একটি প্রাঞ্জল বা অলঙ্কারপূর্ণ পত্র'। দ্বিতীয়টি হলো বক্তা, যেমন আপনি বলে থাকেন 'একজন প্রাঞ্জল বা অলঙ্কারপূর্ণ কবি' এবং 'একজন প্রাঞ্জল বা অলঙ্কারপূর্ণ লেখক'। আর প্রাঞ্জলতা বিশেষভাবে একক শব্দের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়; ফলে বলা হয়: 'একটি প্রাঞ্জল শব্দ', কিন্তু বলা হয় না শব্দ২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
بليغة1.
--------------------------------------------
প্রাঞ্জল ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الفصاحة1:
أما فصاحة المفرد2 فهي خلوصه3 من تنافر الحروف والغرابة ومخالفة القياس اللغوي:
--------------------------------------------
সাবলীলতা১:
একক শব্দের সাবলীলতা২ হলো তা অক্ষরের কর্কশতা, অস্পষ্টতা এবং ভাষাগত নিয়মের পরিপন্থী হওয়া৩ থেকে মুক্ত থাকা:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
فالتنافر1:
منه ما تكون الكلمة بسببه متناهية في الثقل على اللسان وعسر النطق بها، كما روي أن أعرابيًّا سئل عن ناقته فقال: تركتها ترعى الهعخع2.
--------------------------------------------
শব্দ-বৈরিতা১:
এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার কারণে শব্দটি জিহ্বার ওপর চরম ভারী হয়ে পড়ে এবং উচ্চারণ করা কঠিন হয়ে যায়, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক গ্রাম্য আরবকে তার উষ্ট্রী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলেছিল: "আমি তাকে আল-হাখ-খা ঘাস খেতে রেখে এসেছি।"২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ومنه ما هو دون ذلك كلفظ مستشزر في قول امرئ القيس:
غدائره مستشزرات إلى العلا
… تضل العقاص في مثنى ومرسل1
والغرابة:
أن تكون الكلمة وحشية لا يظهر معناها، فيحتاج في معرفته
--------------------------------------------
আর এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা তার চেয়ে কিছুটা কম (ভারী), যেমন ইমরুল কায়সের কাব্যে 'মুস্তাশযিরাত' শব্দটি:
তার চুলের বেণীগুলো উপরের দিকে উঁচুকৃত … চুলের পাকানো ও খোলা গোছাগুলোর মাঝে বেণীগুলো হারিয়ে যায়।
আর অস্পষ্টতা (গারাবাত):
শব্দটি এমন অপরিচিত হওয়া যার অর্থ স্পষ্ট নয়, ফলে তার অর্থ বোঝার জন্য প্রয়োজন হয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
إلى أن ينقر1 عنها في كتب اللغة المبسوطة، كما روي عن عيسي بن عمر2 النحوي أنه سقط عن حماره، فاجتمع عليه الناس، فقال: ما لكم تكأكأتم علي تكأكؤكم على ذي جنة افرنقعوا عني، أي اجتمعتم تنحوا.
أو يخرج لها وجه بعيد3 كما في قول العجاج4:
ومقلة وحاجبًا مزججا
… وفاحما ومرسنا مسرجا
--------------------------------------------
যতক্ষণ না বিশাল অভিধান গ্রন্থগুলোতে সেগুলো অনুসন্ধান করা হয়, যেমনটি বৈয়াকরণ ঈসা বিন উমর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর গাধা থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। তখন লোকজন তাঁর চারপাশে ভিড় জমালে তিনি বললেন: "তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা আমার চারপাশে এভাবে ভিড় করেছো যেভাবে তোমরা কোনো উন্মাদের চারপাশে ভিড় করো? তোমরা আমার কাছ থেকে সরে যাও।" অর্থাৎ তোমরা জমায়েত হয়েছিলে, এখন সরে যাও।
অথবা তার জন্য কোনো দূরবর্তী অর্থ বের করা হয়, যেমনটি আল-আজজাজের উক্তিতে পাওয়া যায়:
এবং একটি চোখ ও একটি ধনুকাকৃতি ভ্রু … আর কুচকুচে কালো চুল ও প্রদীপ্ত নাসিকা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فإنه لم يعرف ما أراد بقوله "مسرجًا"، حتى اختلف في تخريجه: فقيل هو من قولهم للسيوف: سريجية، أي منسوبة إلى قين1 يقال له "سريج"، يريد أنه في الاستواء والدقة كالسيف السريجي، وقيل: من السراج، يريد أنه في البريق كالسراج2. وهذا يقرب من قولهم: سرج وجهه أي حسن، وسرج الله وجهه أي بهجه وحسنه3.
--------------------------------------------
কেননা তিনি "মুসাররাজান" শব্দটির দ্বারা কী বুঝাতে চেয়েছেন তা জানা যায়নি, এমনকি এর ব্যুৎপত্তিগত বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও মতভেদ হয়েছে: বলা হয়েছে যে, এটি তলোয়ারের ক্ষেত্রে তাদের ব্যবহৃত "সুরাইজিয়্যাহ" শব্দ থেকে এসেছে, অর্থাৎ "সুরাইজ" নামক জনৈক কামারের১ দিকে এটি সম্বন্ধযুক্ত; তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, এটি সমতা ও সূক্ষ্মতায় সুরাইজি তলোয়ারের মতো। আবার বলা হয়েছে: এটি "সিরাজ" (প্রদীপ) থেকে এসেছে; তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে এটি উজ্জ্বলতায় প্রদীপের মতো।২ আর এটি তাদের এই কথার নিকটবর্তী যে: "তার চেহারা সুন্দর হয়েছে", এবং "আল্লাহ তার চেহারাকে উজ্জ্বল ও সুন্দর করেছেন"।৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ومخالفة القياس1:
كما في قول الشاعر2:
الحمد لله العلي الأجلل
… "أنت مليك الناس ربا فاقبل"
قإن القياس الأجل بالإدغام.
وقيل هي:3 خلوصه مما ذكر4، ومن الكراهة في السمع5
--------------------------------------------
এবং নিয়মের (কিয়াস) পরিপন্থী হওয়া১:
যেমন কবির উক্তিতে২:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সুউচ্চ ও মহিমান্বিত … আপনি মানুষের মালিক ও প্রতিপালক, সুতরাং কবুল করুন।
কেননা নিয়ম অনুযায়ী শব্দটি ইদগামসহ ‘আল-আজাল্লু’ হওয়ার কথা ছিল।
আর বলা হয়েছে যে, এটি হলো:৩ উল্লেখিত বিষয়সমূহ৪ এবং শ্রবণে অপ্রীতিকর হওয়া৫ থেকে মুক্ত থাকা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بأن تمج الكلمة ويتبرأ من سماعها كما يتبرأ من سماع الأصوات المنكرة. فإن اللفظ من قبيل الأصوات، والأصوات منها ما تستلذ النفس سماعه ومنها ما تكره سماعه، كلفظ الجرشي في قول أبي الطيب:
"مبارك الاسم أغر اللقب"
… كريم الجرشي شريف النسب1
أي كريم النفس، وفيه2 نظر.
ثم علامة كون الكلمة فصيحة، أن يكون استعمال العرب الموثوق بعربيتهم لها كثيرًا، أو أكثر من استعمالهم ما بمعناها3.
--------------------------------------------
যাতে শব্দটি শ্রুতিটু কটু হয় এবং তা শোনা থেকে মানুষ বিমুখ থাকে, যেমনটা মানুষ অপ্রীতিকর শব্দ শোনা থেকে বিমুখ থাকে। কারণ শব্দ হচ্ছে এক প্রকার ধ্বনি, আর ধ্বনির মধ্যে এমন কিছু আছে যা শুনতে আত্মা আনন্দ পায় এবং এমন কিছু আছে যা শুনতে সে অপছন্দ করে, যেমন আবু তায়্যিবের উক্তিতে 'জুরাশি' শব্দটি:
"বরকতময় নাম, উজ্জ্বল উপাধি"
… উদার আত্মা, মহান আভিজাত্য১
অর্থাৎ উদার আত্মা, আর এতে আপত্তি২ রয়েছে।
অতঃপর শব্দ প্রাঞ্জল হওয়ার আলামত হলো, যাদের আরব্য ভাষার ওপর আস্থা রাখা যায় এমন আরবদের মাঝে এর ব্যবহার প্রচুর হওয়া, অথবা তাদের নিকট এর সমার্থবোধক শব্দের ব্যবহারের চেয়ে এর ব্যবহার অধিক হওয়া৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأما فصاحة الكلام:
فهي خلوصه من ضعف التأليف وتنافر الكلمات والتعقيد، مع فصاحتها.
فالضعف1:
كما في قولنا ضرب غلامه زيدًا، فإن رجوع الضمير إلى المفعول المتأخر لفظًا ممتنع عند الجمهور، لئلا يلزم رجوعه إلى ما هو متأخر لفظًا ورتبة.
--------------------------------------------
আর বাক্যের প্রাঞ্জলতা:
তা হলো বাক্যের শব্দগুলো প্রাঞ্জল হওয়ার পাশাপাশি বাক্যটি রচনার দুর্বলতা, শব্দের শ্রুতিকটুতা এবং জটিলতা থেকে মুক্ত হওয়া।
দুর্বলতা ১:
যেমন আমাদের এই উক্তিতে ‘দরাবা গুলামুহু যাইদান’ (তার গোলাম যায়েদকে মেরেছে), এখানে সর্বনামের প্রত্যাবর্তন এমন কর্মের (মাফউল) দিকে যা শব্দে পরে এসেছে, যা জুমহুর (অধিকাংশ) বৈয়াকরণিকদের মতে নিষিদ্ধ; যাতে করে সর্বনামের প্রত্যাবর্তন এমন কিছুর দিকে না হয় যা শব্দ এবং মর্যাদা উভয় দিক থেকেই পরে অবস্থিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقيل يجوز1، كقول الشاعر2:
جزى ربه عنه عدي بن حاتم
… جزاء الكلاب العاويات، وقد فعل3
وأجيب عنه بأن الضمير لمصدر جزى، أي "جزى"، رب الجزاء4 كما في قوله تعالى: {اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} ، أي العدل.
--------------------------------------------
এবং বলা হয়েছে যে এটি জায়েজ (বৈধ)
১, যেমন কবির উক্তি
২:
তার রব তাকে আদী ইবনে হাতিমের পক্ষ থেকে প্রতিদান দিয়েছেন
… চিৎকারকারী কুকুরের প্রতিদানের ন্যায়, আর তিনি তা করেছেন।
৩
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, সর্বনামটি ‘জাযা’ (প্রতিদান দেওয়া) ক্রিয়ার মূল শব্দের (মাসদার) দিকে ফিরেছে, অর্থাৎ “প্রতিদান দিয়েছেন”, প্রতিদানের রব
৪—যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {তোমরা ন্যায়বিচার করো, তা তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী}, অর্থাৎ ‘ন্যায়বিচার’।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والتنافر1:
منه ما تكون الكلمات بسببه متناهية في الثقل على لسان وعسر النطق بها متتابعة، كما في البيت الذي أنشده الجاحظ2:
وقبر حرب بمكان قفر
… وليس قرب قبر حرب قبر3
ومنه ما هو دون ذلك كما في قول أبي تمام:
كريم متى أمدحه والورى معي
… "وإذا ما لمته لمته وحدي4".
--------------------------------------------
শব্দের বিসংগতি১:
এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার কারণে শব্দগুলো জিহ্বার জন্য অত্যন্ত ভারী হয়ে পড়ে এবং সেগুলো পর পর উচ্চারণ করা কঠিন হয়ে যায়, যেমন সেই পঙক্তিতে যা আল-জাহিজ২ আবৃত্তি করেছেন:
হারবের কবর এক নির্জন স্থানে
… এবং হারবের কবরের নিকটে অন্য কোনো কবর নেই৩
আবার এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা এর চেয়ে কম মাত্রার, যেমন আবু তাম্মামের উক্তিতে:
সে দয়ালু, যখন আমি তার প্রশংসা করি তখন সৃষ্টিজগত আমার সাথে থাকে
… "এবং যখন আমি তাকে তিরস্কার করি, আমি একাই তাকে তিরস্কার করি৪" ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فإن في قوله: أمدحه "أمدحه" ثقلًا لما بين الحاء والهاء من التنافر1.
والتعقيد2:
أن لا يكون الكلام ظاهر الدلالة على المراد به وله3 سببان: أحدهما ما يرجع إلى اللفظ وهو أن يختل نظم4 الكلام. ولا يدري
--------------------------------------------
কেননা তাঁর বাণী: "আমি তাঁর প্রশংসা করি" (আমদাহুহু) এর মধ্যে "হা" (ح) এবং "হা" (هـ) বর্ণের পারস্পরিক বৈষম্যের কারণে এক প্রকার শ্রুতিকটু গুরুভার রয়েছে।১
আর জটিলতা (তাক্বীদ):২
তা হলো বাক্যটি তার কাঙ্ক্ষিত অর্থের ওপর সুস্পষ্ট নির্দেশক না হওয়া। এর৩ দুটি কারণ রয়েছে: একটি শব্দের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, আর তা হলো বাক্যের বিন্যাস৪ বিশৃঙ্খল হওয়া। এবং কেউ জানে না
--------------------------------------------