(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: -)
الإيضاح في علوم البلاغة   (جلال الدين القزويني)

القسم: البلاغة


الكتاب: الإيضاح في علوم البلاغة

المؤلف: محمد بن عبد الرحمن بن عمر، أبو المعالي، جلال الدين القزويني الشافعي، المعروف بخطيب دمشق (ت 739هـ)

المحقق: محمد عبد المنعم خفاجي

الناشر: دار الجيل - بيروت

الطبعة: الثالثة

عدد الأجزاء: 3

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

অলঙ্কারশাস্ত্রের বিশদ ব্যাখ্যা (আল-ঈযাহ ফী উলূমিল বালাগাহ)   (জালালুদ্দিন আল-কাযভীনি)

বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত)


কিতাব: অলঙ্কারশাস্ত্রের বিশদ ব্যাখ্যা (আল-ঈযাহ ফী উলূমিল বালাগাহ)

লেখক: মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন উমর، আবু আল-মাআলি، জালালুদ্দিন আল-কাযভীনি আশ-শাফিয়ি، যিনি দামেস্কের খতিব হিসেবে পরিচিত (মৃত্যু ৭৩৯ হিজরি)

মুহাক্কিক: মুহাম্মদ আবদুল মুনইম খাফাজি

প্রকাশক: দার আল-জিল - বৈরুত

সংস্করণ: তৃতীয়

খণ্ড সংখ্যা: ৩

[কিতাবটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার প্রকাশকাল: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المجلد الأول

‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

الكلمة الأولى

أحمده وأسأله التوفيق والسداد، وبعد:

فهذ اشرح جديد مفصل، لكتاب الإيضاح، تأليف العالم الإمام الخطيب القزويني، إمام البلاغة وشيخ البيان، المتوفى عام 739هـ.

توخيت فيه عمق البحث، ودقة التحليل، والعناية ببسط المسائل، وحل المشكلات، وأومأت فيه إلى شتى المراجع والمصادر. ليكون جامعًا لمسائل البلاغة ومصدرا للدراسات العالية فيها، ومرجعا للطلاب والدارسين والباحثين. والله يعلم مقدار ما أخذ مني من جهد وبحث ومراجعة، ومع ذلك فقد ثابرت على كتابته وإخراجه، لسد النقص الذي نلمسه في دراسات البلاغة.

وقد ظهرت الطبعة الأولى لهذا الكتاب عام 1949، وها هي ذي الطبعة الثانية منقحة مهذبة. والله أسأله أن يجعله خالصًا لوجهه، وأن ينفع به العلم والثقافة ولغة الكتاب العزيز. فهو وليي، نعم المولى ونعم النصير.

وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب.

محمد عبد المنعم خفاجي.
প্রথম খণ্ড

ভূমিকা

...

পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

প্রথম কথা

আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তাঁর কাছে তাওফিক ও সঠিক পথপ্রদর্শনের প্রার্থনা করছি। অতঃপর:

এটি অলঙ্কারশাস্ত্রের ইমাম এবং ইলমে বয়ানের শায়খ ইমাম খতিব আল-কাযউইনী (মৃত্যু: ৭৩৯ হিজরী) রচিত ‘আল-ঈযাহ’ কিতাবের একটি নতুন ও বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

এতে আমি গবেষণার গভীরতা, বিশ্লেষণের সূক্ষ্মতা, মাসআলাসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা এবং জটিলতা নিরসনের প্রতি লক্ষ্য রেখেছি। এছাড়াও আমি এতে বিভিন্ন উৎস ও মূলগ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত করেছি, যাতে এটি বালাগাতের মাসআলাসমূহের সংকলন, উচ্চতর গবেষণার উৎস এবং ছাত্র, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স হতে পারে। আল্লাহই জানেন এই কাজে আমাকে কী পরিমাণ পরিশ্রম, গবেষণা ও পর্যালোচনার মোকাবিলা করতে হয়েছে; তা সত্ত্বেও আমি এটি রচনা ও প্রকাশের ব্যাপারে অবিচল ছিলাম, যাতে অলঙ্কারশাস্ত্রের অধ্যয়নে আমরা যে অভাব অনুভব করি তা পূরণ করা যায়।

এই কিতাবটির প্রথম সংস্করণ ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি হচ্ছে এর পরিমার্জিত ও পরিশীলিত দ্বিতীয় সংস্করণ। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ভাষাকে উপকৃত করেন। তিনি আমার অভিভাবক, কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।

আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই, আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।

মুহাম্মদ আব্দুল মুনিম খাফাজী।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌مقدمات:

‌‌نشأة البلاغة العربية ومراحل التأليف فيها:

1- كان القرن الثاني الهجري أول عصر شهد نشأة آراء كثيرة أصيلة ومترجمة حول البلاغة1 وعناصرها، بعد فساد الملكات، وقد أخذ العلماء في بحث أصول بلاغات العرب، وفي تدوين آرائهم في معنى كلمة البلاغة والفصاحة. وأهم ما يؤثر من ذلك: وصية بشر بن المعتمر -من زعماء المعتزلة وتوفي نحو عام 210هـ- في البلاغة2، وتفسير ابن المقفع للبلاغة3، وتعريف العتابي لها4، ووصية5 أبي تمام للبحتري تدخل في هذا الباب، ويقول البحتري خير الكلام ما قل ودل ولم يمل6، وفي البيان للجاحظ تحديد البلاغة كما يراها حكيم الهند7، ويقسمها الكندي فيلسوف العرب المتوفى عام260هـ إلى ثلاثة أنواع: فنوع لا تعرفه العامة ولا تتكلم به، ونوع بالعكس،

--------------------------------------------

1 لا تجد في العصر الجاهلي كلمات من البلاغة إلا ما روي عن عامر بن الظرب حين سئل من أبلغ الناس؟ فقال: من حلى المعنى المزين باللفظ الوجيز وطبق المفصل قبل التحزيز "206 جـ1 العمدة، 280 جـ2 الأمالي" وفي العصر الأموي نجد لمعاوية كلمات في البلاغة ولسواه، روي أن معاوية سأل صحارًا عنها فأجابه "راجع 81 جـ1 البيان، 18 جـ2 الكامل".

2 104 وما بعدهاجـ1 البيان.

3 91 جـ1 البيان، 214 جـ1 العمدة، 75 جـ1 البيان، 44-46 الرسالة العذراء، 2 و3 و22 و23 جـ3 العقد، 140-150 جـ1 زهر الآداب.

4 90 و157 جـ1 البيان.

5 151 جـ1 زهر الآداب.

6 36 جـ1 المستطرف وتروى عن الثعالبي برواية أخرى: "ماقل ودل" "218 جـ1 العمدة".

7 78 و79 جـ1 البيان، 20-38 الصناعتين، 144 جـ1 زهر، 44 الرسالة العذراء.
‌ভূমিকা:

‌আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের উদ্ভব ও এর ওপর গ্রন্থ রচনার পর্যায়সমূহ:

১- হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দী ছিল প্রথম যুগ, যখন মানুষের সহজাত ভাষাগত দক্ষতার অবনতি ঘটার পর অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) ও এর উপাদানগুলো সম্পর্কে অনেক মৌলিক ও অনূদিত মতামতের উদ্ভব ঘটেছিল। আলেমগণ আরবদের অলঙ্কারশাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ অনুসন্ধান করতে এবং অলঙ্কার (বালাগাত) ও বিশুদ্ধতা (ফাসাহাত) শব্দ দুটির অর্থের ব্যাপারে তাঁদের মতামত লিপিবদ্ধ করতে শুরু করেন। এই বিষয়ে বর্ণিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে: মুতাজিলা নেতাদের অন্যতম বিশর ইবনুল মুতাম্মিরের (মৃত্যু আনুমানিক ২১০ হিজরি) অলঙ্কারশাস্ত্র বিষয়ক উপদেশ; অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর ইবনুল মুকাফফার ব্যাখ্যা; আল-ইতাবি প্রদত্ত এর সংজ্ঞা এবং আল-বুহুতুরির প্রতি আবু তাম্মামের উপদেশও এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। বুহুতুরি বলেন, সর্বোত্তম কথা হলো তা-ই যা সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থবহ এবং বিরক্তিকর নয়। জাহিজের 'আল-বায়ান' গ্রন্থে অলঙ্কারশাস্ত্রের এমন এক সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে যা ভারতের কোনো একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তির মতামত অনুযায়ী বর্ণিত। আরব দার্শনিক আল-কিন্দি (মৃত্যু ২৬০ হিজরি) একে তিন প্রকারে বিভক্ত করেছেন: এক প্রকার যা সাধারণ মানুষ জানে না এবং সে ভাষায় কথা বলে না, অন্য প্রকারটি এর বিপরীত...

--------------------------------------------

১ জাহেলি যুগে অলঙ্কারশাস্ত্র সম্পর্কে কোনো উক্তি পাওয়া যায় না, কেবল আমির বিন আজ-জারিব থেকে বর্ণিত কথাটি ছাড়া— যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বাগ্মী কে? তিনি বলেছিলেন: "যে ব্যক্তি তার অর্থকে সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে সুশোভিত করে এবং কাটার আগেই জয়েন্টের ওপর আঘাত করে।" [আল-উমদাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৬; আল-আমালি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৮০]। উমাইয়া যুগে আমরা মুয়াবিয়া এবং অন্যদের অলঙ্কারশাস্ত্র বিষয়ক উক্তি দেখতে পাই। বর্ণিত আছে যে, মুয়াবিয়া সাহার-এর কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন। [দেখুন: আল-বায়ান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৮১; আল-কামিল, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৮]।

২ আল-বায়ান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০৪ ও পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো।

৩ আল-বায়ান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯১; আল-উমদাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২১৪; আল-বায়ান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭৫; আর-রিসালাতুল আজরা, পৃষ্ঠা ৪৪-৪৬; আল-ইকদ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২, ৩, ২২ ও ২৩; জাহরুল আদাব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪০-১৫০।

৪ আল-বায়ান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯০ ও ১৫৭।

৫ জাহরুল আদাব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৫১।

৬ আল-মুসতাতরাফ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৬; আস-সা’লাবি থেকে অন্য এক বর্ণনায় এটি বর্ণিত হয়েছে: "যা সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ।" [আল-উমদাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২১৮]।

৭ আল-বায়ান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭৮ ও ৭৯; আস-সিনাআতাইন, পৃষ্ঠা ২০-৩৮; জাহরুল আদাব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪৪; আর-রিসালাতুল আজরা, পৃষ্ঠা ৪৪।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
ونوع تعرفه ولا تتكلم به وهو أحمدها1، وذكر بزر جمهر حكيم الفرس فضائل الكلام ورذائلة في كلمة مترجمة رواها صاحب الموازنة2. إلى آخر هذه الكلمات والآراء.

2- ثم ألفت بعد ذلك كتب تجمع كثيرًا من الآراء والدراسات الموجزة حول البلاغة وبحوثها. ومن هذه الكتب: مجاز القرآن لأبي عبيدة م 207هـ والفصاحة للدينوري م 280هـ3 والتشبيه والتمثيل للفضل بن نوبخت4 وصناعة الكلام للجاحظ5، ونظم القرآن 6 والتمثيل 7 له أيضًا، والبلاغة وقواعد الشعر للمبرد8.. وفي الكامل إشارات لمسائل كثيرة في البلاغة، وكذلك الرسالة العذراء لابن المدبر، والبلاغة للحراني"9"، وقواعد الشعر لثعلب، وقد نشرته عام 1948 بشروح كثيرة، والبلاغة والخطابة للمروزي 10 والمطابق والمجانس لابن الحرون 11 وتهذيب الفصاحة لأبي سعيد الأصفهاني12 وإعجاز القرآن في نظمه وتأليفه للواسطي المعتزلي م 306هـ، وصنعة البلاغة للباحث، وللسيرافي م 368هـ. ونظم القرآن لابن الأخشيد 13، وكذلك لابن أبي داود م 316هـ 14 وكتاب الرد على من نفى المجاز في القرآن للحسن بن جعفر 15 ومن هذه الكتب أيضًا المفصل في البيان، والفصاحة للمرزباني م 378هـ.

على أن أهم الكتب التي تناولت بعض مسائل البلاغة بالبحث،

--------------------------------------------

1 219 جـ1 العمدة.

2 183 الموازنة.

3 116 الفهرست لابن النديم.

4 383 المرجع.

5 38 الجاحظ لمردم.

6 40 المرجع.

7 76 جـ6 معجم الأدباء.

8 88 فهرست، 144 جـ7 معجم الأدباء.

9 178 فهرست.

10 215 فهرست.

11 212 فهرست.

12 197 فهرست.

13 57 و58 فهرست.

14 324 فهرست.

15 520 فهرست.
এবং এক প্রকার যা আপনি জানেন কিন্তু তা নিয়ে কথা বলেন না, আর এটিই হচ্ছে সবচেয়ে প্রশংসনীয়১। পারস্যের বিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব বুযুর্গ মেহের কথা বলার শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর দোষত্রুটি সম্পর্কে একটি অনূদিত বাণীতে উল্লেখ করেছেন, যা 'আল-মুওয়াযানা' গ্রন্থের লেখক বর্ণনা করেছেন২। এই সকল বক্তব্য ও মতামতের শেষ পর্যন্ত।

২- এরপর এমন সব গ্রন্থ রচিত হয়েছে যা অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) এবং এর গবেষণার বিষয়ে অনেক মতামত ও সংক্ষিপ্ত অধ্যয়নকে একত্রিত করেছে। এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: আবু উবাইদাহ (মৃত্যু ২০৭ হি.) রচিত 'মাজাযুল কুরআন', আদ-দিনাওয়ারি (মৃত্যু ২৮০ হি.) রচিত 'আল-ফাসাহাহ'৩, ফযল ইবনে নাওবাখত রচিত 'আত-তাশবিহ ওয়াল তামসিল'৪, আল-জাহিজ রচিত 'সিনাআতুল কালাম'৫, তাঁরই রচিত 'নাযমুল কুরআন'৬ এবং 'আত-তামসিল'৭, আল-মুবররাদ রচিত 'আল-বালাগাত ওয়া কাওয়াইদুশ শি'র'৮। 'আল-কামিল' গ্রন্থেও অলঙ্কারশাস্ত্রের অনেক বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। অনুরূপভাবে ইবনুল মুদাব্বিরের 'আর-রিসালাতুল আযরা', আল-হাররানির 'আল-বালাগাত'৯, সা'লাবের 'কাওয়াইদুশ শি'র'—যা আমি ১৯৪৮ সালে অনেক ব্যাখ্যাসহ প্রকাশ করেছি, আল-মারওয়াযির 'আল-বালাগাত ওয়াল খাতাবাহ'১০, ইবনুল হারুনের 'আল-মুতাবিক ওয়াল মুজানিস'১১, আবু সাঈদ আল-আসফাহানির 'তাহযিবুল ফাসাহাহ'১২, মুতাযিলি পণ্ডিত আল-ওয়াসিতি (মৃত্যু ৩০৬ হি.) রচিত 'ই'জাযুল কুরআন ফি নাযমিহি ওয়া তালিফিহি', আল-বাহিসের 'সানআতুল বালাগাত' এবং আস-সিরাফি (মৃত্যু ৩৬৮ হি.)। ইবনুল আখশিদের 'নাযমুল কুরআন'১৩, অনুরূপভাবে ইবনে আবু দাউদ (মৃত্যু ৩১৬ হি.) এর রচিত গ্রন্থ১৪ এবং হাসান ইবনে জাফর রচিত 'কিতাবুর রাদ্দ আলা মান নাফাল মাজায ফিল কুরআন'১৫। এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে আল-মারযুবানি (মৃত্যু ৩৭৮ হি.) রচিত 'আল-মুফাসসাল ফিল বায়ান' এবং 'আল-ফাসাহাহ'।

তবে অলঙ্কারশাস্ত্রের কিছু মাসআলা নিয়ে গবেষণামূলক আলোচনা করেছে এমন গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহের মধ্যে—

--------------------------------------------

১ ২১৯, ১ম খণ্ড, আল-উমদাহ।

২ ১৮৩, আল-মুওয়াযানা।

৩ ১১৬, ইবনুন নাদিম রচিত আল-ফিহরিস্ত।

৪ ৩৮৩, পূর্বোক্ত উৎস।

৫ ৩৮, মুরদুম রচিত আল-জাহিজ।

৬ ৪০, পূর্বোক্ত উৎস।

৭ ৭৬, ৬ষ্ঠ খণ্ড, মু'জামুল উদাবা।

৮ ৮৮, ফিহরিস্ত; ১৪৪, ৭ম খণ্ড, মু'জামুল উদাবা।

৯ ১৭৮, ফিহরিস্ত।

১০ ২১৫, ফিহরিস্ত।

১১ ২১২, ফিহরিস্ত।

১২ ১৯৭, ফিহরিস্ত।

১৩ ৫৭ ও ৫৮, ফিহরিস্ত।

১৪ ৩২৪, ফিহরিস্ত।

১৫ ৫২০, ফিহরিস্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
أو التي ألفت فيها خاصة هي: كتاب جمهرة أشعار العرب لأبي زيد القرشي، ففي مقدمته بحوث موجزة طريفة تتصل بالبلاغة. وكتاب البيان والتبيين للجاحظ، وهو أهم ماألف في هذا الطور من كتب تتصل ببلاغات العرب نثرًا وشعرًا، وتتعرض لتحديد البلاغة بما حولها من آراء كانت ذائعة في عصر الجاحظ، وفيه كثير من بحوث البلاغة، فهو يعرف الاستعارة1 ويتكلم على السجع2 ويشير إلى التفصيل والتقسيم3 والاستطراد والكناية4 والأمثال5 والاحتراس6 والقلب7 والأسلوب الحكيم 8، والجاحظ أول من تكلم على المذهب الكلامي9 ويرى البلاغة في النظم لا في المعاني10 وهو ماذهب إليه ابن خلدون 11، والجاحظ يشيد بالإيجاز12، كما يدعو في البيان كثيرًا إلى ترك الوحشي والسوقي، ويحث على الإفهام والوضوح، وعلى ترك التعمق والتهذيب في صناعة الكلام، إلى غير ذلك من شتى مادونه في البيان. ولا يضير الجاحظ أن كانت دراساته موجزة مفرقة كما يقول أبو هلال 13، فهي على كل حال ذات أثر كبير في نشأة البيان، وهي التي أوحت إلى كثير أن يعدوا الجاحظ الواضع الأول لعلم البيان. ومن الخطأ التهوين بأثر الجاحظ في البيان كما ذهب إليه بعض الباحثين المحدثين.

--------------------------------------------

1 116 جـ1 البيان.

2 194 جـ1 البيان.

3 170 جـ1 و91 جـ2 البيان.

4 180 جـ و8 و29 و31 و80 جـ3 البيان.

865 و88 و114 و183 جـ1 و224 جـ2 البيان.

1616 جـ1 البيان.

7 180 جـ1 البيان.

2018 و202 جـ2 البيان.

1019 البديع لابن المعتز نشر محمد خفاجي، 76 جـ2 العمدة.

4010 جـ3 الحيوان.

57711 مقدمة ابن خلدون. ويقول شيلر: في الفن الشكل هو كل شيء والمعنى ليس شيئًا مذكورًا.

8312 و86 جـ1 ومواضيع أخرى.

13 ص6 و7 الصناعتين.
অথবা যে গ্রন্থগুলো বিশেষভাবে এই বিষয়ে রচিত হয়েছে সেগুলো হলো: আবু যায়েদ আল-কুরাশি রচিত 'জামহারাতু আশ'আরিল আরব', যার ভূমিকায় অলঙ্কারশাস্ত্র সংশ্লিষ্ট সংক্ষিপ্ত ও চমৎকার কিছু গবেষণা রয়েছে। আর আল-জাহিয রচিত 'আল-বায়ান ওয়াত তাবিঈন' গ্রন্থটি হলো এই স্তরে রচিত গদ্য ও পদ্যের অলঙ্কারশাস্ত্র বিষয়ক গ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি জাহিযের যুগে প্রচলিত বিভিন্ন মতামতের আলোকে অলঙ্কারশাস্ত্রের সংজ্ঞা ও এর পরিধি নির্ধারণের প্রচেষ্টা চালায়। এতে অলঙ্কারশাস্ত্রের বহুবিধ গবেষণা বিদ্যমান; তিনি রূপক (ইস্তিয়ারা) এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, অনুপ্রাস (সাজ) নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং বিস্তারিত বর্ণনা ও বিভাজন (তাফসির ও তাকসিম), প্রসজ্যান্তর (ইস্তিদরাদ), পরোক্ষ উক্তি (কিনায়া), প্রবাদ-প্রবচন (আমসাল), সতর্কতা (ইহতিরাস), শব্দ বা অর্থের পরিবর্তন (কালব) এবং প্রাজ্ঞোচিত শৈলী (আল-উসলুব আল-হাকিম) এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আল-জাহিযই প্রথম ব্যক্তি যিনি কালামি ধারা (আল-মাজহাব আল-কালামি) নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন অলঙ্কার নিহিত থাকে বাক্য বিন্যাসে (নাজম), অর্থের (মাআনি) মধ্যে নয়; ইবনে খালদুনও এই মতই পোষণ করেছেন। জাহিয সংক্ষেপণের (ইজায) প্রশংসা করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর 'আল-বায়ান' গ্রন্থে প্রায়শই কর্কশ ও বাজারু ভাষা ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বিষয়বস্তু সহজবোধ্য ও স্পষ্ট করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। সেই সাথে তিনি বাক্য নির্মাণে কৃত্রিম পরিমার্জন ও অতি-গভীরতা বর্জনের তাগিদ দিয়েছেন, এছাড়াও 'আল-বায়ান' গ্রন্থে তিনি আরও নানা বিষয় লিপিবদ্ধ করেছেন। আবু হিলাল যেমনটি বলেছেন যে, জাহিযের গবেষণাগুলো সংক্ষিপ্ত ও বিক্ষিপ্ত ছিল, তাতে তাঁর গুরুত্ব ক্ষুণ্ণ হয় না; কারণ যে কোনো বিচারেই অলঙ্কারশাস্ত্রের উদ্ভব ও বিকাশে এগুলোর বিশাল প্রভাব রয়েছে। আর এটিই অনেককে এই ধারণা দিয়েছে যে, আল-জাহিযকেই অলঙ্কারশাস্ত্রের আদি প্রবর্তক হিসেবে গণ্য করা উচিত। আধুনিক কোনো কোনো গবেষক যেমনটি মনে করেন, অলঙ্কারশাস্ত্রে জাহিযের প্রভাবকে খাটো করে দেখা একটি ভুল।

--------------------------------------------

১ ১১৬, খণ্ড ১, আল-বায়ান।

২ ১৯৪, খণ্ড ১, আল-বায়ান।

৩ ১৭০, খণ্ড ১ এবং ৯১, খণ্ড ২, আল-বায়ান।

৪ ১৮০, খণ্ড ১ এবং ৮, ২৯, ৩১, ৮০, খণ্ড ৩, আল-বায়ান।

৫ ৮৬, ৮৮, ১১৪, ১৮৩, খণ্ড ১ এবং ২২৪, খণ্ড ২, আল-বায়ান।

৬ ১৬, খণ্ড ১, আল-বায়ান।

৭ ১৮০, খণ্ড ১, আল-বায়ান।

৮ ২০১ এবং ২০২, খণ্ড ২, আল-বায়ান।

৯ ইবনুল মুতায রচিত 'আল-বাদি', মুহাম্মদ খাফাজি কর্তৃক সম্পাদিত; ৭৬, খণ্ড ২, আল-উমদাহ।

১০ ৪০, খণ্ড ৩, আল-হায়াওয়ান।

১১ ৫৭, মুকাদ্দিমাহ ইবনে খালদুন। শিলার বলেন: শিল্পকলায় রূপই (Form) সব, অর্থ সেখানে উল্লেখযোগ্য কিছু নয়।

১২ ৮৩ এবং ৮৬, খণ্ড ১ এবং অন্যান্য স্থান।

১৩ পৃষ্ঠা ৬ ও ৭, আস-সিনাআতাইন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
3- وقد بدأ التدوين في البلاغة على يد ابن المعتز الذي ألفه كتابه القيم "البديع"1 وثعلب الذي ألف كتابه "قواعد الشعر"، وبعد قليل ظهر نقد النثر كما ظهر نقد الشعر لقدامة بن جعفر المتوفى عام 337هـ. ثم كتاب الصناعتين لأبي هلال المتوفى عام 395هـ، ثم كتاب الموازنة للآمدي، والوساطة للجرجاني، وإعجاز القرآن للباقلاني، وسر الفصاحة لابن سنان الخفاجي، والعمدة لابن رشيق وهما أكثر الكتب اتصالًا بالبلاغة.

4- ثم جاء بعد ذلك أبو بكر عبد القاهر الجرجاني شيخ البلاغة العربية والمتوفى عام 471هـ. فألف في البلاغة كتابين جليلين هما:

1- أسرار البلاغة، وفيه دراسات واسعة تتناول بحوث علم البيان من تشبيه ومجاز واستعارة وفيه شرح للسرقات وبعض ألوان البديع.

2- دلائل الإعجاز، وفيه بحوث كثيرة هي أصول علم المعاني. كماأنه تحدث فيه عن الكناية وعن التمثيل والمجاز والاستعارة والسرقات أيضًا.

5 - وبعد عصر الجرجاني بحث الزمخشري في تفسيره، والرازي في كتابه "نهاية الإعجاز"، وابن الأثير صاحب المثل2 السائر، وبدر الدين بن مالك صاحب المصباح، والتنوخي صاحب "الأقصى القريب"، وكثير من العلماء، في البلاغة والفصاحة.

ومن أهم هؤلاء العلماء في هذا الطور أبو يعقوب السكاكي المتوفى عام 626هـ تلميذ الحاتمي3، الذي ألف كتابه "المفتاح"، وجعله

--------------------------------------------

1 على نهجه ألف ابن منقذ المتوفى عام 84هـ كتابه "البديع".

2 شرحه عز الدين بن أبي الحديد م 665هـ في كتابه "الفلك الدائر على المثل السائر".

3 73 المفتاح.
৩- অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগত) সংকলন শুরু হয়েছিল ইবনুল মুতায-এর হাতে, যিনি তার মূল্যবান গ্রন্থ "আল-বাদি" রচনা করেছিলেন এবং সা’লাব-এর হাতে, যিনি তার গ্রন্থ "কাওয়াইদুশ শি’র" রচনা করেছিলেন। এর অল্পকাল পরেই কুদামা ইবনে জাফরের (মৃত্যু ৩৩৭ হিজরি) গদ্য সমালোচনা ও কাব্য সমালোচনা প্রকাশিত হয়। এরপর আবু হিলালের (মৃত্যু ৩৯৫ হিজরি) "কিতাবুস সিনাআতাইন", তারপর আল-আমেদির "আল-মুওয়াযানা", আল-জুরজানির "আল-ওয়াসাতা", আল-বাকিলানির "ইজাযুল কুরআন", ইবনে সিনান আল-খাফাজির "সিররুল ফাসাহা" এবং ইবনে রশিকের "আল-উমদাহ" প্রকাশিত হয়; আর এই শেষোক্ত দুটি গ্রন্থ অলঙ্কারশাস্ত্রের সাথে সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত।

৪- এরপর আবির্ভূত হন আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের ইমাম আবু বকর আব্দুল কাহের আল-জুরজানি (মৃত্যু ৪৭১ হিজরি)। তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর দুটি মহিমান্বিত গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলো হলো:

১- আসরারুল বালাগাহ; এতে ইলমে বায়ানের অন্তর্ভুক্ত উপমা (তাশবিহ), রূপক (মাজায) ও রূপালঙ্কার (ইসতিআরা) সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে এবং এতে সাহিত্যিক চুরিকর্ম (সারিকাত) ও অলঙ্করণের (বাদি) কিছু প্রকারের ব্যাখ্যা রয়েছে।

২- দালায়েলুল ইজায; এতে এমন অনেক গবেষণা রয়েছে যা ইলমে মাআনি-র মূল ভিত্তি। এছাড়াও তিনি এতে পরোক্ষ উক্তি (কিনায়া), উপমাধর্মী রূপক (তামসিল), মাজায, ইসতিআরা এবং সাহিত্যিক চুরিকর্ম সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন।

৫ - জুরজানির যুগের পর যামাখশারি তার তাফসিরে, রাজি তার "নিহায়াতুল ইজায" গ্রন্থে, "আল-মাসালুস সাঈর" এর লেখক ইবনুল আসির, "আল-মিসবাহ" এর লেখক বদরুদ্দিন ইবনে মালিক, "আল-আকসাল কারিব" এর লেখক আল-তানুখি এবং আরও অনেক আলেম অলঙ্কার ও বাগ্মিতা বিষয়ে গবেষণা করেছেন।

এই পর্যায়ের আলেমদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলেন আবু ইয়াকুব আস-সাক্কাকি (মৃত্যু ৬২৬ হিজরি), যিনি আল-হাতিমির ছাত্র ছিলেন। তিনি তার গ্রন্থ "আল-মিফতাহ" রচনা করেন এবং একে...

--------------------------------------------

১- তার পথ অনুসরণ করে ইবনে মুনকিয (মৃত্যু ৮৪ হিজরি) তার গ্রন্থ "আল-বাদি" রচনা করেন।

২- ইজ্জুদ্দিন ইবনে আবিল হাদিদ (মৃত্যু ৬৬৫ হিজরি) তার "আল-ফালাকুদ দায়ির আলাল মাসালিস সাঈর" গ্রন্থে এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

৩- ৭৩ আল-মিফতাহ।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
أقسامًا، وخص البلاغة بالقسم الثالث منه، وقسمها إلى ثلاثة أقسام: المعاني -البيان- البديع. وبذلك تميزت علوم البلاغة ومباحث كل علم منها بالتفصيل.

والفلسفة والمنطق تغلب على السكاكي إلى حد كبير، من حيث كان يغلب الذوق والطبع على عبد القاهر.

وبذلك تنتهي مراحل التأليف والابتكار في بحوث البلاغة وتدوينها تدوينًا كاملًا.

6- وجاء الخطيب القزويني المتوفى عام 739 فألف في البلاغة كتابيه: تلخيص1 المفتاح والإيضاح. وقد ألف الإيضاح ليكون كالشرح لتلخيص المفتاح وجمع فيه كثيرًا من آراء عبد القاهر والسكاكي في شيء من التنظيم والشرح.

وعلى متن التلخيص كثرت الشروح والحواشي والتقارير وفي مقدمتها الأطول للعصام، والمطول2 للسعد وشروح التلخيص وسواها … وهذه أهم كتب البلاغة وشروحها في هذا العهد. قوانين البلاغة لعبد اللطيف البغدادي م 629هـ، والتبيان لابن الزملكاني م651هـ، والمعيار للزنجاني م654هـ، وبديع القرآن لابن أبي الأصبع م654هـ، والفوائد الغياثية للعضد م 756هـ وشرحها الكرماني م 786هـ والتبيان لشرف الدين الطيبي م743هـ، والطراز ليحيى ابن حمزة العلوي م 749هـ، وعروس الأفراح للسبكي م 773هـ، والسمرقندية للسمرقندي وهي رسالة في الاستعارات، وتوفي السمرقندي عام 880هـ.

--------------------------------------------

1 لزكريا الأنصاري م 926هـ "مختصر تلخيص المفتاح": وللعباسي م 963 شرح لشواهد التلخيص سماه معاهد التنصيص.

2 عليه كتاب في شرح شواهده اسمه عقود الدرر في حل أبيات المطول والمختصر، وهو مطبوع طبعة حجر عام 1307هـ في 166 صفحة.
বিভাগসমূহে, এবং অলঙ্কারশাস্ত্রকে (বালাগাত) এর তৃতীয় বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এটিকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন: আল-মাআনি, আল-বায়ান এবং আল-বাদি। এর মাধ্যমেই অলঙ্কারশাস্ত্রের শাখাগুলো এবং প্রতিটি শাখার আলোচ্য বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে।

আর আল-সাক্কাকীর ওপর দর্শন ও যুক্তিশাস্ত্রের প্রভাব ছিল অত্যন্ত বেশি, যেখানে আব্দুল কাহিরের ওপর শৈল্পিক রুচি ও স্বভাবজাত প্রতিভার প্রভাব ছিল প্রবল।

এর মাধ্যমেই অলঙ্কারশাস্ত্রের গবেষণায় গ্রন্থনা ও উদ্ভাবনের ধাপসমূহ এবং এর পূর্ণাঙ্গ সংকলন সম্পন্ন হওয়ার পর্যায় শেষ হয়।

৬- অতঃপর আসলেন আল-খতিব আল-কাযউইনী (মৃত্যু ৭৩৯ হিজরী) এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর তাঁর দুটি গ্রন্থ রচনা করলেন: তালখিসুল মিফতাহ এবং আল-ইজাহ। তিনি আল-ইজাহ গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন তালখিসুল মিফতাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে এবং এতে তিনি আব্দুল কাহির ও সাক্কাকীর বহু মতামত সুশৃঙ্খলভাবে ও ব্যাখ্যাসহ সংকলন করেছেন।

আর তালখিস-এর মূল পাঠের (মাতন) ওপর অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ, টীকা ও পাদটীকা লিখিত হয়েছে, যার মধ্যে অগ্রগণ্য হলো আল-ইসাম রচিত 'আল-আতওয়াল', আস-সাদ রচিত 'আল-মুতাউওয়াল' এবং তালখিস-এর অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ … আর এগুলোই এই যুগের অলঙ্কারশাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ও তাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ। যেমন: আব্দুল লতিফ আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৬২৯ হি.) রচিত 'কাওয়ানীনুল বালাগাত', ইবনুল যামলকানী (মৃত্যু ৬৫১ হি.) রচিত 'আত-তিবইয়ান', আয-যানজানী (মৃত্যু ৬৫৪ হি.) রচিত 'আল-মিইয়ার', ইবনু আবিল আসবা' (মৃত্যু ৬৫৪ হি.) রচিত 'বাদিউল কুরআন', আল-আদুদ (মৃত্যু ৭৫৬ হি.) রচিত 'আল-ফাওয়ায়িদুল গিয়াসিয়্যাহ' এবং আল-কিরমানী (মৃত্যু ৭৮৬ হি.) রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, শরফুদ্দিন আত-তিবী (মৃত্যু ৭৪৩ হি.) রচিত 'আত-তিবইয়ান', ইয়াহিয়া ইবনে হামযাহ আল-আলাওয়ী (মৃত্যু ৭৪৯ হি.) রচিত 'আত-তিরাজ', আস-সুবকী (মৃত্যু ৭৭৩ হি.) রচিত 'আরূসুল আফরাহ' এবং আস-সামারকন্দী রচিত 'আস-সামারকন্দিয়্যাহ' যা রূপক (ইস্তিআরাহ) বিষয়ক একটি পুস্তিকা, এবং আস-সামারকন্দী ৮৮০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

--------------------------------------------

১ জাকারিয়া আল-আনসারী (মৃত্যু ৯২৬ হি.) রচিত "মুখতাসার তালখিসিল মিফতাহ": আর আল-আব্বাসী (মৃত্যু ৯৬৩ হি.) তালখিস-এর কাব্যিক প্রমাণের (শাওয়াহিদ) একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন 'মাআহিদুত তানসীস'।

২ এর কাব্যিক প্রমাণের ব্যাখ্যার ওপর একটি গ্রন্থ রয়েছে যার নাম 'উকূদুদ দুরার ফি হাল্লি আবইয়াতিল মুতাউওয়াল ওয়াল মুখতাসার', এটি ১৩০৭ হিজরীতে ১৬৬ পৃষ্ঠায় লিথোগ্রাফে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
9- شروح المفتاح للسكاكي.

أ- شرحه بتمامه المولى حسام.

ب- وشرح القسم الثالث منه: الشيرازي م 710هـ في "مفتاح الفتاح"، والترمذي وهو معاصر للشيرازي، والخلخالي م 745هـ، والسعد "712-791هـ"، والسيد م 816هـ في "المصباح" الذي ألفه عام 803 "1"هـ، وعماد الدين الكاشي. وله رسالة في حل المتشابهات التي أوردها الخطيب على المفتاح، والأبهري سلطان شاه، وطاشكبري زاده م 962هـ، وشيخ زاده م 951هـ، والشربيني م 769هـ، والخوارزمي، وقد فرغ منه عام 642هـ، والفناري م834، وله على شرحي السعد والسيد تعليقات، وابن كمال باشام 940، وسواهم.

ج- واختصر القسم الثالث منه:

المعانيجي م 990هـ، والقزويني 666-739هـ، والأيجي م756هـ في الفوائد الغياثية، وبدر الدين ابن مالك م 686هـ في "المصباح في اختصار المفتاح" ونظم "المصباح" المراكشي، ثم شرحه وسماه "ضوء المصباح على ترجيز المصباح"، واختصر هذا المختصر ابن النحوية م 718هـ، وسماه "ضوء الصباح"، ثم شرحه في مجلدين في كتاب أسفار المصباح عن ضوء المصباح، ولمحمد بن خضر "مصباح الزمان في شرح المصباح".

هذا وقد ألف السعد "المطول على تلخيص المفتاح للخطيب القزويني" وانتهى من تأليفه عام 748هـ، كما انتهى من تأليف مختصر المطول عام 756هـ.. وفرع ابن يعقوب من تأليف شرحه على مختصر

--------------------------------------------

1 على شرح السيد حواش: للبسطامي م 871هـ، وللمولى اللطفي م 900هـ، ولحميد الدين م 908هـ، ولأسعد الناجي م 922، ولمحيي الدين الفنري م 954، وللشهاب الخفاجي م 1069هـ.
৯- সাক্কাকীর মিফতাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ।

ক- এটি পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যাখ্যা করেছেন মাওলা হুসাম।

খ- এবং এর তৃতীয় অংশের ব্যাখ্যা করেছেন: শিরাজি (মৃত্যু ৭১০ হিজরি) 'মিফতাহুল ফাত্তাহ' গ্রন্থে, এবং তিরমিযি—যিনি শিরাজির সমসাময়িক ছিলেন, খালখালি (মৃত্যু ৭৪৫ হিজরি), সা'দ (৭১২-৭৯১ হিজরি), সাইয়্যেদ (মৃত্যু ৮১৬ হিজরি) তাঁর 'আল-মিসবাহ' গ্রন্থে যা তিনি ৮০৩ (১) হিজরি সালে রচনা করেছেন, এবং ইমাদুদ্দিন কাশি। মিফতাহ-এর ওপর খাতিব যে অস্পষ্ট বিষয়গুলো উত্থাপন করেছেন, তা সমাধানের ওপর তাঁর একটি পুস্তিকা রয়েছে। আরও ব্যাখ্যা করেছেন আবহারি সুলতান শাহ, তাশ কুবরি যাদেহ (মৃত্যু ৯৬২ হিজরি), শাইখ যাদেহ (মৃত্যু ৯৫১ হিজরি), শারবিনি (মৃত্যু ৭৬৯ হিজরি), এবং খাওয়ারিজমি—যিনি এটি ৬৪২ হিজরি সালে সম্পন্ন করেছেন, ফানারি (মৃত্যু ৮৩৪ হিজরি)—সা'দ ও সাইয়্যেদ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থদ্বয়ের ওপর তাঁর টীকা রয়েছে, ইবনে কামাল পাশা (মৃত্যু ৯৪০ হিজরি) এবং অন্যান্যরা।

গ- এবং এর তৃতীয় অংশটি সংক্ষেপ করেছেন:

মানিজি (মৃত্যু ৯৯০ হিজরি), কাযবিনি (৬৬৬-৭৩৯ হিজরি), আইজি (মৃত্যু ৭৫৬ হিজরি) 'আল-ফাওয়াইদ আল-গিয়াসিয়্যাহ' গ্রন্থে, বদরুদ্দিন ইবনে মালিক (মৃত্যু ৬৮৬ হিজরি) 'আল-মিসবাহ ফি ইখতিসারিল মিফতাহ' গ্রন্থে এবং মাররাকুশি 'আল-মিসবাহ'-কে কাব্যরূপ দিয়েছেন, অতঃপর তিনি নিজেই এটি ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন 'দাউউল মিসবাহ আলা তারজিযিল মিসবাহ'। এই সংক্ষিপ্ত রূপটিকে আবার সংক্ষেপ করেছেন ইবনে নাহউইয়্যাহ (মৃত্যু ৭১৮ হিজরি) এবং এর নাম দিয়েছেন 'দাউউস সাবাহ', অতঃপর তিনি এটি দুই খণ্ডে ব্যাখ্যা করেছেন 'আসফারুল মিসবাহ আন দাউইল মিসবাহ' নামক কিতাবে। মুহাম্মদ বিন খিজরের রয়েছে 'মিসবাহুয যামান ফি শারহিল মিসবাহ'।

উল্লেখ্য যে, সা'দ খাতিব কাযবিনির 'তালখিসুল মিফতাহ'-এর ওপর 'আল-মুতাবওয়াল' রচনা করেছেন এবং এটি রচনার কাজ ৭৪৮ হিজরি সালে সমাপ্ত করেছেন, যেমনটি তিনি 'মুখতাসারুল মুতাবওয়াল' রচনা সম্পন্ন করেছেন ৭৫৬ হিজরি সালে। আর ইবনে ইয়াকুব মুখতাসারের ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা সম্পন্ন করেছেন...

--------------------------------------------

১. সাইয়্যেদ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর টীকা লিখেছেন: বিস্তামি (মৃত্যু ৮৭১ হিজরি), মাওলা লুতফি (মৃত্যু ৯০০ হিজরি), হামিদুদ্দিন (মৃত্যু ৯০৮ হিজরি), আসআদ নাজি (মৃত্যু ৯২২ হিজরি), মুহিউদ্দিন ফানারি (মৃত্যু ৯৫৪ হিজরি) এবং শিহাব খাফাজি (মৃত্যু ১০৬৯ হিজরি)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
السعد في مكناسة في المحرم 1108هـ.. وانتهى ابن السبكي من تأليف شرحه "عروس الأفراح" على مختصر السعد في جمادى الأولى عام 758هـ.. وانتهى الدسوقي من كتابة شرحه على مختصر السعد في شوال عام 1210هـ.

8- يمتاز الإيضاح للخطيب القزويني بعدة ميزات ظاهرة: فهو أوفى كتاب في بحوث البلاغة، وهو أوضح الكتب المؤلفة فيها نظامًا وأسلوبًا، وهو كثير البحث والتعمق والاستنباط لأسرار البلاغة العربية، فوق أنه كتاب تطبيقي جميل في البلاغة، وينقد القزويني فيه كثيرًا من آراء السكاكي، وإن كان يعتمد الخطيب فيه على عبد القاهر والسكاكي كثيرًا. ومع ذلك فالخطيب يجمع في كتابه خلاصات لبحوث علماء البلاغة في شتى العصور حتى عصره، والكتاب بعد ذلك غزير المادة، كبير الفائدة في الأدب والنقد والبلاغة والبيان1.

وهناك مؤلفات جديدة ظهرت في البلاغة في عصر الحواشي، ومن بينها عقود الجمان للسيوطي. كما ظهرت في العصر الحديث عدة مؤلفات في البلاغة فيها لون من التهذيب والتنسيق وحسن الأخذ والاختيار.

وبذلك تنتهي مراحل التأليف في البلاغة منذ نشأتهاحتى الآن.

--------------------------------------------

1 شرحه الاقصرائي م 800هـ وحيدرة م 820هـ، والأستاذ الصعيدي والأستاذ التنوخي.
আস-সা'দ ১১০৮ হিজরির মুহাররম মাসে মিকনাসায়... এবং ইবনুন সুবকী ৭৫৮ হিজরির জুমাদাল উলা মাসে আস-সা'দের সংক্ষিপ্তসারের (মুখতাসার) ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আরুসুল আফরাহ" রচনার কাজ শেষ করেন... এবং আদ-দুসুকি ১২১০ হিজরির শাওয়াল মাসে আস-সা'দের সংক্ষিপ্তসারের ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখার কাজ সমাপ্ত করেন।

৮- খতিব আল-কাযউইনীর "আল-ঈযাহ" গ্রন্থটি বেশ কিছু সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্যের অধিকারী: এটি অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) গবেষণার ক্ষেত্রে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ, এবং এটি এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে পদ্ধতি ও শৈলীর দিক থেকে সবচেয়ে স্পষ্ট। এটি আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্য উদ্ঘাটন, গভীর অনুসন্ধান ও উদ্ভাবন সমৃদ্ধ একটি গ্রন্থ। তদুপরি, এটি অলঙ্কারশাস্ত্রের একটি চমৎকার প্রায়োগিক গ্রন্থ। কাযউইনী এতে সাক্কাকীর অনেক মতামতের সমালোচনা করেছেন, যদিও খতিব এই গ্রন্থে আব্দুল কাহের এবং সাক্কাকীর ওপর অনেক বেশি নির্ভর করেছেন। তা সত্ত্বেও, খতিব তাঁর গ্রন্থে তাঁর সময় পর্যন্ত বিভিন্ন যুগের অলঙ্কারবিদদের গবেষণার সারসংক্ষেপ একত্রিত করেছেন। এছাড়াও গ্রন্থটি বিষয়বস্তুগতভাবে সমৃদ্ধ এবং সাহিত্য, সমালোচনা, অলঙ্কারশাস্ত্র ও বয়ান শাস্ত্রে অত্যন্ত উপকারী১।

হাশিয়া (টীকা) সংকলনের যুগে অলঙ্কারশাস্ত্রে আরও কিছু নতুন রচনা প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে সুয়ূতী-র "উকূদুল জুমান" অন্যতম। অনুরূপভাবে, আধুনিক যুগে অলঙ্কারশাস্ত্রে বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে যাতে এক ধরণের সংস্কার, বিন্যাস এবং চমৎকার চয়ন ও নির্বাচনের ছাপ রয়েছে।

এর মাধ্যমেই অলঙ্কারশাস্ত্রের উৎপত্তি থেকে বর্তমান পর্যন্ত এর রচনাকালের পর্যায়গুলো সমাপ্ত হলো।

--------------------------------------------

১ এর ব্যাখ্যা লিখেছেন আল-আকসারায়ি (মৃত্যু ৮০০ হি.) ও হাইদারা (মৃত্যু ৮২০ হি.), এবং উস্তাদ আস-সাইদী ও উস্তাদ আত-তানূখী।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
الخطيب وأثره في البلاغة العربية:

والخطيب القزويني1 هو "جمال الدين أبو المعالي محمد بن عبد الرحمن، ابن خطيب دمشق" كما يقول جورجي زيدان، وبتفصيل أوسع هو "الشيخ الإمام العالم العلامة خطيب الخطباء، مفتي المسلمين، جلال الدين، أبو عبد الله، محمد، ابن قاضي القضاة سعد الدين أبي محمد عبد الرحمن، ابن إمام الدين أبي حفص عمر، القزويني الشافعي" كما يقول تلاميذه أو هو نفسه في مقدمة كتابه "الإيضاح" فهو من أسرة علمية ودينية كبيرة، كان لها ولاشك أثرها في حياته وتفكيره وروحه.

ولد عام 666هـ، وتعلم الفقه، وتولى القضاء، وانتقل إلى دمشق، وتولى الخطابة في مسجدها، ثم تولى القضاء بمصر، وتمكن نفوذه فيها أيام الملك الناصر، اكتسب مالًا طائلًا، ثم جاء إلى دمشق وتوفي فيها. وأشهر مؤلفاته تلخيص المفتاح، والإيضاح في المعاني والبيان2، وكانت وفاته عام 739هـ، كمايقول صاحب الدرر الكامنة.

وتدل مؤلفات الخطيب في البلاغة على ثقافة بلاغية وأدبية واسعة وقراءة مستفيضة لأهم المؤلفات في البلاغة وفي مقدمتها: "أسرار البلاغة" و"دلائل الإعجاز" لعبد القاهر، والمفتاح للسكاكي.

ألف الخطيب مختصرًا صغيرًا للمفتاح في البلاغة، أو للقسم

--------------------------------------------

1 شذرات الذهب، الدرر الكامنة في أعيان المائة الثامنة، وسواها.

2 وقد حرف جورجي زيدان اسمه فذكره "الإفصاح" بدل الإيضاح ""44 جـ3 تاريخ أدب اللغة العربية".
আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রে আল-খতিব এবং তাঁর প্রভাব:

আল-খতিব আল-কাযউইনি হলেন "জামালুদ্দিন আবুল মাআলি মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান, দামেস্কের খতিবের পুত্র", যেমনটি জুরজি যাইদান বলেছেন। আরও বিস্তারিতভাবে তিনি হলেন "শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, আল্লামা, খতিবদের খতিব, মুসলিমদের মুফতি, জালালুদ্দিন, আবু আব্দুল্লাহ, মুহাম্মদ, প্রধান বিচারপতি সাদউদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমানের পুত্র, ইমামুদ্দিন আবু হাফস উমরের পৌত্র, আল-কাযউইনি আশ-শাফিয়ি", যা তাঁর ছাত্রগণ অথবা তিনি নিজে তাঁর "আল-ইদাহ" গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। তিনি একটি সুপরিচিত ইলমি ও দ্বীনি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যা নিঃসন্দেহে তাঁর জীবন, চিন্তা ও আধ্যাত্মিক চেতনায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

তিনি ৬৬৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন এবং দামেস্কে স্থানান্তরিত হয়ে সেখানকার মসজিদে খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর তিনি মিসরের বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মালিক আন-নাসিরের শাসনামলে সেখানে তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি প্রচুর ধন-সম্পদ অর্জন করেন, এরপর দামেস্কে ফিরে আসেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলো হলো 'তালখিসুল মিফতাহ' এবং 'আল-ইদাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান'। 'আদ-দুরার আল-কামিনা' গ্রন্থের লেখকের বর্ণনা অনুযায়ী, ৭৩৯ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু হয়।

অলঙ্কারশাস্ত্রে আল-খতিবের রচনাবলি তাঁর ব্যাপক অলঙ্কারিক ও সাহিত্যিক সংস্কৃতি এবং এই শাস্ত্রের প্রধান গ্রন্থসমূহের ওপর তাঁর গভীর ও বিস্তারিত অধ্যয়নের প্রমাণ দেয়, যেগুলোর শীর্ষে রয়েছে: আব্দুল কাহিরের "আসরারুল বালাগাহ" ও "দালায়িলুল ইজায" এবং সাক্কাকির "আল-মিফতাহ"।

আল-খতিব অলঙ্কারশাস্ত্রে 'আল-মিফতাহ' এর একটি ছোট সংক্ষিপ্ত সংস্করণ বা সারাংশ রচনা করেন...

--------------------------------------------

১ শাযারাতুয যাহাব, আদ-দুরারুল কামিনা ফি আয়ানিল মায়াতিল থামিনা এবং অন্যান্য।

২ জুরজি যাইদান তাঁর নাম বিকৃত করে 'আল-ইদাহ' এর পরিবর্তে 'আল-ইফসাহ' বলে উল্লেখ করেছেন (তারিখু আদাবিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
الثالث بعبارة أوضوح، وسماه "تلخيص المفتاح1" لخص فيه ذلك السفر القيم وقدم فيه وأخر، وحذف واختصر، وفيه بعض آراء له لم يرتضها جهابذة هذه الفنون، "ومن العجيب أن يسمي كتابه بهذا الاسم، وهو في رأي أحد الباحثين ليس بالتلخيص له وحده، بل أشبه بأن يكون تلخيصًا لكتابي أسرار البلاغة ودلائل الإعجاز لعبد القاهر ولسر الفصاحة لابن سنان الخفاجي.. وروح التلخيص من الكتاب الأخير واضح كل الوضوح في مقدمته"2 وقد يكون في هذا الرأي لون من المبالغة، فمتن التلخيص ليس تلخيصًا للأسرار ودلائل وسر الفصاحة في قليل ولا كثير، إنما هو تلخيص للقسم الثالث من المفتاح وحده، وما فيه من روح التأثر بعبد القاهر فمرجعه إلى المفتاح نفسه، الذي اعتمد فيه السكاكي على عبد القاهر إلى حد بعيد. وقد يستساغ ذلك في الإيضاح لا في "تلخيص المفتاح".

ثم ألف الخطيب كتابه الإيضاح في البلاغة على ترتيب التلخيص، وبسط القول فيه ليكون كالشرح له، فأوضح مواضعه المشكلة، وفصل معانيه المجملة، واعتمد على المفتاح والأسرار والدلائل وغير هذه المؤلفات في بحوثه ودراساته فيه، كما يشير إليه الخطيب نفسه في مقدمة الإيضاح. والكتاب "فيه أمهات مسائل هذه الفنون بعبارة واضحة فيها روح من أسلوب عبد القاهر الجامع بين التحقيق العلمي والرصانة الأدبية3.

--------------------------------------------

1 شرحه الخلخالي م 745، وناظر الجيش م 778هـ والبابرتي م 786، وشمس الدين القونوي م 788هـ، التيزيتي م 793هـ، والسيد عبد الله م 800هـ، وعصام الدين م 951هـ، والسعد م 791هـ … وعلى شرح السعد شروح: ليسن الحمصي م 961، ولابن يعقوب م 1108هـ وللدسوقي هـ 1230هـ.

2 62، 137 بحوث وآراء في علوم البلاغة للأستاذ المرحوم أحمد المراغي.

3 63 المراجع.. وفي المكتبة الأزهرية حاشية مخطوطة على أبيات الإيضاح، وهي نسخة في مجلد بقلم فارسي في 126 ورقة بنمرة "43" 1095 وفيها نسخة أخرى في مجلد بقلم معتاد بخط محمد حسن سنة 1365 في 150 ورقة بنمرة "2110" 5286 شرح مخطوط على الإيضاح، بدار الكتب المصرية.
তৃতীয় অংশটি আরও স্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এর নামকরণ করেছেন "তালখিসুল মিফতাহ"। তিনি এতে সেই মূল্যবান গ্রন্থটিকে সংক্ষেপ করেছেন, বিষয়বস্তুকে আগে-পিছে করেছেন, কিছু অংশ বাদ দিয়েছেন এবং পরিমার্জন করেছেন। এতে তাঁর এমন কিছু মতামত রয়েছে যা এই শিল্পসমূহের বিজ্ঞ পণ্ডিতগণ পছন্দ করেননি। "আশ্চর্যের বিষয় হলো তিনি তাঁর কিতাবের এই নামকরণ করেছেন, অথচ একজন গবেষকের মতে এটি কেবল তাঁর (মিফতাহের) সংক্ষেপ নয়, বরং এটি আব্দুল কাহিরের 'আসরারুল বালাগাহ' ও 'দালাইলুল ই'জাজ' এবং ইবনে সিনান আল-খাফাজির 'সিররুল ফাসাহাহ' কিতাবদ্বয়ের সংক্ষেপ হওয়ার অধিক সদৃশ। আর শেষোক্ত কিতাবটির সংক্ষেপের ছাপ এর মুখবন্ধে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।" এই মতামতে কিছুটা অতিরঞ্জন থাকতে পারে, কারণ তালখিস-এর মূল পাঠ (মাতন) 'আসরার', 'দালাইল' ও 'সিররুল ফাসাহাহ'-এর সংক্ষেপ নয়—কম বা বেশি কোনো অর্থেই নয়—বরং এটি কেবল 'মিফতাহ'-এর তৃতীয় অংশের সংক্ষেপ। আর এতে আব্দুল কাহিরের প্রভাবের যে ছাপ রয়েছে, তার উৎস মূলত 'মিফতাহ' নিজেই, যেটিতে সাক্কাকি অনেকাংশেই আব্দুল কাহিরের ওপর নির্ভর করেছিলেন। আর এটি 'আল-ইজাহ' কিতাবের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, কিন্তু 'তালখিসুল মিফতাহ'-এর ক্ষেত্রে নয়।

এরপর খতিব (আল-কাযউইনি) অলঙ্কার শাস্ত্রের ওপর 'তালখিস'-এর বিন্যাস অনুযায়ী তাঁর 'আল-ইজাহ' কিতাবটি রচনা করেন এবং এতে বিস্তারিত আলোচনা করেন যাতে এটি তার ব্যাখ্যার (শারহ) মতো হয়। ফলে তিনি এর জটিল স্থানগুলোকে স্পষ্ট করেছেন এবং সংক্ষিপ্ত অর্থগুলোকে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর গবেষণা ও পর্যালোচনায় 'মিফতাহ', 'আসরার', 'দালাইল' এবং অন্যান্য গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন, যেমনটি খতিব নিজেই 'আল-ইজাহ'-এর মুখবন্ধে উল্লেখ করেছেন। আর কিতাবটিতে "এই শিল্পসমূহের মৌলিক মাসআলাসমূহ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বিদ্যমান, যাতে আব্দুল কাহিরের শৈলীর ছাপ রয়েছে—যা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং সাহিত্যিক গাম্ভীর্যের এক অনন্য সমন্বয়।"

--------------------------------------------

১. এর ব্যাখ্যা (শারহ) লিখেছেন আল-খালখালি (মৃত্যু ৭৪৫ হি.), নাযিরুল জাইশ (মৃত্যু ৭৭৮ হি.), আল-বাবেরতি (মৃত্যু ৭৮৬ হি.), শামসুদ্দিন আল-কুনাউই (মৃত্যু ৭৮৮ হি.), আত-তিযিতি (মৃত্যু ৭৯৩ হি.), আস-সাইয়্যিদ আব্দুল্লাহ (মৃত্যু ৮০০ হি.), ইসামুদ্দিন (মৃত্যু ৯৫১ হি.), আস-সাদ (মৃত্যু ৭৯১ হি.) … আর সাদের শারহ-এর ওপর আরও কিছু ব্যাখ্যা রয়েছে: লিসানুল হিমসি (মৃত্যু ৯৬১ হি.), ইবনে ইয়াকুব (মৃত্যু ১১০৮ হি.) এবং আদ-দাসুকি (মৃত্যু ১২৩০ হি.)।

২. ৬২, ১৩৭, মরহুম উস্তাদ আহমদ আল-মারাগির 'বুহুস ওয়া আরা ফি উলুমিল বালাগাহ'।

৩. ৬৩, তথ্যসূত্র... আল-আযহার লাইব্রেরিতে 'আল-ইজাহ'-এর কবিতাগুলোর ওপর একটি পাণ্ডুলিপি হাশিয়া রয়েছে, যা ফারসি কলমে লেখা ১২৬ পৃষ্ঠার একটি খণ্ড, নম্বর "৪৩" ১০৯৫। সেখানে সাধারণ কলমে লেখা অন্য একটি কপিও রয়েছে যা ১৩৬৫ সনে মুহাম্মদ হাসান কর্তৃক লিখিত, ১৫০ পৃষ্ঠার একটি খণ্ড, নম্বর "২১১০" ৫২৮৬, যা দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত 'আল-ইজাহ'-এর ওপর একটি পাণ্ডুলিপি ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وعلى "تلخيص المفتاح للخطيب" كثير من الشروح والحواشي والتقارير ممايدل على مدى شهرته العلمية عند الباحثين. ولا يزال منهج الخطيب في البلاغة وفي تلخيصه بالذات هو المنهج العلمي في علوم البلاغة إلى عصرنا الراهن.

وكتاب الإيضاح عمل جليل في البلاغة سواء في ترتيبه وتقسيمه وتنظيم بحوثه، أم في استيعابه واستقصائه وتحليله، أم في جمعه واستمداده من شتى المصادر والمراجع، أم في أسلوبه الأدبي وروحه وكثرة تطبيقاته الأدبية، وهو أهم كتاب دراسي في البلاغة في العصر الحاضر.

وهذا شرح جديد للإيضاح، يتناول بالبحث والتحليل والدراسة والتعليق والشرح جميع مسائله وشواهده، ويشير إلى مصادره ومراجعه التي ألف منهاالخطيب هذا الكتاب. وهو عمل سيكون له أثره في البلاغة العربية، وفي خدمة الإيضاح وتذليل صعوبات البحث فيه بتوفيق الله.

ويمتاز هذا الشرح بدقة البحث. وطول المراجعة، وكثرة الشرح والتفصيل، والإلمام بكل رأي، وتحليل كل مذهب ما عليه وماله، وبعرض آراء جديدة في شتى بحوث البلاغة وعلومها.. كما يمتازا بمقدمته التي هي تأريخ للبلاغة ونشأتها وأطوار التأليف فيها، وغير ذلك مما يحتوي عليه من مميزات، وقد وضعنا للكتاب بعض العناوين المساعدة على فهمه وإيضاحه.
খতিবকৃত ‘তালখিসুল মিফতাহ’-এর ওপর অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ, টীকা ও পাদটীকা রচিত হয়েছে, যা গবেষকদের নিকট এর জ্ঞানতাত্ত্বিক সুখ্যাতির ব্যাপ্তি প্রমাণ করে। অলঙ্কারশাস্ত্রে এবং বিশেষত তার এই সারসংক্ষেপে খতিবের অনুসৃত পদ্ধতিটি বর্তমান যুগ পর্যন্ত অলঙ্কারশাস্ত্রের জ্ঞানতাত্ত্বিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

‘আল-ইজাহ’ গ্রন্থটি অলঙ্কারশাস্ত্রের এক মহৎ কর্ম—তা এর বিন্যাস, বিভাজন ও গবেষণা পরিচালনার সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতেই হোক, কিংবা এর বিষয়বস্তুর ব্যাপকতা, গভীর অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের বিচারেই হোক। এছাড়া বিভিন্ন উৎস ও তথ্যসূত্র থেকে বিষয়বস্তু আহরণ ও সংকলন, এর সাহিত্যিক শৈলী ও প্রাণবন্ততা এবং প্রচুর পরিমাণে প্রায়োগিক সাহিত্যের ব্যবহারের দিক থেকেও এটি অনন্য। বর্তমান যুগে অলঙ্কারশাস্ত্রের পাঠ্যবই হিসেবে এটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

এটি ‘আল-ইজাহ’-এর একটি নতুন ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যাতে গভীর গবেষণা, বিশ্লেষণ, পর্যালোচনা, টীকা ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে এর সকল মাসআলা এবং কাব্যিক উদাহরণ (শাওয়াহিদ) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে খতিব যে সকল উৎস ও তথ্যসূত্রের ওপর ভিত্তি করে এই কিতাবটি রচনা করেছিলেন, সেগুলোও নির্দেশ করা হয়েছে। এটি এমন একটি কাজ যা আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রে এবং ‘আল-ইজাহ’-এর খিদমতে কার্যকর প্রভাব ফেলবে এবং আল্লাহর তৌফিকে এই গ্রন্থে গবেষণার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতাসমূহ সহজতর করে তুলবে।

এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য হলো গবেষণার সূক্ষ্মতা, দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ, বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল মতামতের যথাযথ প্রতিফলন। এতে প্রতিটি মতবাদের পক্ষে ও বিপক্ষের যুক্তিসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় নতুন নতুন মতামত উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া এটি এর ভূমিকাটির কারণেও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, যাতে অলঙ্কারশাস্ত্রের ইতিহাস, এর উৎপত্তি এবং এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনার বিভিন্ন পর্যায় আলোচিত হয়েছে। এর পাশাপাশি এতে আরও অনেক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। আমরা কিতাবটি অনুধাবন ও সহজীকরণের সুবিধার্থে কিছু সহায়ক শিরোনামও যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌ترجمة الخطيب:

عن الدر الكامنة لابن حجر 1، والعقد المذهب لابن الملقن، وشذرات الذهب2.

هو قاضي القضاة أبو المعالي جلال الدين محمد بن القاضي سعد الدين أبي القاسم عبد الرحمن بن إمام الدين عمر القزويني الشافعي.

ولد بالموصل سنة 666 وسكن بلاد الروم، مع والده وأخيه واشتغل بالعلم وتفقه على والده وولي قضاء نيكسار من بلاد الروم ثم قدم دمشق وسمع من العز الفاروثي وطائفة وحدث وتفقه واشتغل في الفنون وأتقن الأصول والعربية والمعاني والبيان، وكان فهما ذكيا مفوهًا ذا ذوق سليم حسن الإيراد والمحاضرة حلو العبارة فصيحًا جميل الهيئة كبير الذهن جوادًا أديبًا حسن الخط، وناب عن أخيه الأكبر إمام الدين قاضي قضاة الشام إلى أن مات أخوه سنة 699 ثم ولي خطابة جامع دمشق فأقام بها مادة طويلة ثم طلبه الملك الناصر إلى القاهرة في سنة 724 وكان قدومه على البريد يوم الجمعة فاتفق أنه اجتمع بالناصر ساعة وصوله فأمر به أن يخطب بجامع القلعة فخطب مرتجلًا مع ما هو عليه من التعب وأثر السفر فأعجب به السلطان وشكره وسأله عن حاله وكم عليه من الدين فذكر أن عليه ثلاثين ألف فأمر بوفائها عنه فشافهه بقضاء دمشق فباشرها والخطابة جميعًا إلى أن ولاه قضاء الديار المصرية في سنة 727 فعم أمره جدًّا وصرف مال الأوقاف على الفقراء والمحتاجين وحج مع السلطان فأعانه بمال وأحسن إلى المصريين والشاميين وكان لهم ذخرًا وملجأ ولم يزل على

--------------------------------------------

1 ص6 جـ4 طبع الهند عام 1350هـ - لابن حجر م852.

2 123/ 6 شذرات الذهب.
‌খতিব-এর জীবনী:

ইবনে হাজারের আদ-দুরারুল কামিনাহ্ ১, ইবনুল মুলাক্কিনের আল-ইকদূল মুযাহ্হাব এবং শাযারাতুয যাহাব ২ থেকে সংগৃহীত।

তিনি হলেন প্রধান বিচারপতি আবুল মাআলী জালালুদ্দীন মুহাম্মদ বিন বিচারক সা’দুদ্দীন আবুল কাসিম আব্দুর রহমান বিন ইমামুদ্দীন উমর আল-কাযভিনী আশ-শাফিয়ী।

তিনি ৬৬৬ হিজরিতে মুসিলে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর পিতা ও ভাইয়ের সাথে রোম দেশে বসবাস করেন। তিনি ইলম অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন এবং তাঁর পিতার নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি রোম দেশের নিকসার অঞ্চলের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর তিনি দামেস্কে আগমন করেন এবং ইয আল-ফারুসী ও একদল আলিমের নিকট হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি হাদীস বর্ণনা করেন, ফিকহ অর্জন করেন এবং বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানে পাণ্ডিত্য লাভ করেন। তিনি উসূল, আরবি ভাষা, আল-মাআনি এবং আল-বায়ান শাস্ত্রে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন। তিনি অত্যন্ত সমঝদার, মেধাবী, সুবক্তা, মার্জিত রুচিবোধ সম্পন্ন, চমৎকার উপস্থাপক ও বক্তা ছিলেন। তাঁর বাক্যশৈলী ছিল মিষ্টি, তিনি ছিলেন বাগ্মী, সুশ্রী অবয়বের অধিকারী, উচ্চ মেধা সম্পন্ন, দানবীর, সাহিত্যিক এবং সুন্দর হস্তলিপির অধিকারী। তিনি তাঁর বড় ভাই ইমামুদ্দীন—যিনি শামের প্রধান বিচারপতি ছিলেন—তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৬৯৯ হিজরিতে ভাইয়ের মৃত্যু পর্যন্ত। এরপর তিনি দামেস্ক জামে মসজিদের খতিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘকাল সেখানে অবস্থান করেন। অতঃপর ৭২৪ হিজরিতে সুলতান আন-নাসির তাঁকে কায়রোতে তলব করেন। তিনি ডাকযোগে জুমার দিনে সেখানে উপস্থিত হন। কাকতালীয়ভাবে পৌঁছানোর সাথে সাথেই সুলতান নাসিরের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটে। সুলতান তাঁকে কেল্লার মসজিদে খুতবা দেওয়ার আদেশ দেন। সফরের ক্লান্তি ও ছাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি তাৎক্ষণিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে খুতবা প্রদান করেন। সুলতান তাঁর ওপর অত্যন্ত মুগ্ধ হন, তাঁর শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন এবং তাঁর অবস্থা ও ঋণের পরিমাণ জানতে চান। তিনি জানান যে তাঁর ত্রিশ হাজার মুদ্রা ঋণ আছে; তখন সুলতান তা পরিশোধ করার নির্দেশ দেন। সুলতান তাঁকে সরাসরি দামেস্কের বিচারকের পদে নিয়োগ দেন। তিনি বিচারকার্য ও খতিবের দায়িত্ব উভয়টিই পালন করতে থাকেন, যতক্ষণ না ৭২৭ হিজরিতে সুলতান তাঁকে মিসর অঞ্চলের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব প্রদান করেন। সেখানে তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি অত্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তিনি ওয়াকফকৃত অর্থ দরিদ্র ও অভাবীদের মাঝে ব্যয় করতেন এবং সুলতানের সাথে হজ পালন করেন। সুলতান তাঁকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেন। তিনি মিসরীয় ও শামবাসীদের প্রতি সদয় আচরণ করেন এবং তাঁদের জন্য তিনি ছিলেন এক মহান সম্পদ ও আশ্রয়স্থল। তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে এভাবেই...

--------------------------------------------

১ পৃষ্ঠা ৬, খণ্ড ৪, ভারত সংস্করণ ১৩৫০ হিজরি - ইবনে হাজার (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি)।

২ ১২৩/ ৬ শাযারাতুয যাহাব।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
حاله إلى أن أعيد إلى قضاء الشام بسبب أحوال أولاده وفرح به أهل الشام فأقام قليلًا وتعلل وأصابه فالج فمات منه في سنة 739 عن 73 سنة فأسفوا عليه كثيرًا وشيعه عالم عظيم، وللشعراء فيه مدائح كثيرة ومراث عددة وكان يرغب الناس في الاشتغال بأصول الفقه وفي المعاني والبيان. وتصنيفه المسمى تلخيص المفتاح مشهور ونظمه السيوطي وسماه عقود الجمان.. وله إيضاح التلخيص أيضًا. وكان يعظم الأرجاني الشاعر ويقول أنه لم يكن للعجم نظيره واختصر ديوانه فسماه "السور المرجاني من شعر الأرجاني". وقال الذهبي: عظم شأنه لماولي قضاء الديار المصرية وبلغ من العز ما لا يوصف بحيث لاترد له شفاعة وربما رمي علي يد السلطان نفسه وكان فصيحًا حلو العبارة، مليح الصورة، سمحًا حليمًا كثيرة التحمل وسيرته تحتمل كراريس، وذكر اليوسفي في سيرة الملك الناصر محمد أن القاضي كان محسنًا إلى الناس كثير التصدق والمكارم والبر لأرباب البيوت، قال: أنه لم يوجد لأحد من القضاة منزلة عند سلطان تركي نظير نزله جلال الدين، وكان الناصر يحتمل ما ينقل إليه من سيرة ولده حتى كان يقول لوالي البلد: أكبس فلانًا ثم يرسل إليه يقول: لا تفعل، نبقى في حياء من والده … فرحمه الله تعالى عليهم وغفرانه.

وترجم له السيوطي في بغية الوعاة "ص66"، فنسبه إلى أبي دلف العجلي، وذكر ما لايخرج عما سبق، ثم قال: ولا أعلمه نظم شيئًا مع قوة باعه في الأدب، ومات في منتصف جمادى الأولى عام 739هـ.

ويقول صاحب الدرر الكامنة: أن له ابنًا اسمه محمد بن محمد بن عبد الرحمن بن عمر القزويني، وهو ابن القاضي جلال الدين خطيب جامع دمشق.. وقد ترجم له1.

--------------------------------------------

1 185 جـ4.. ويقول فيه: أنه ولد عام 701هـ وتفقه ومهر في الخطابة ومات في جمادي الآخر عام 742هـ.
তাঁর অবস্থা এমন ছিল যে, তাঁর সন্তানদের অবস্থার কারণে তাকে পুনরায় শামের বিচারপতির পদে ফিরিয়ে আনা হয়। এতে শামের অধিবাসীরা আনন্দিত হন। তিনি সেখানে অল্পকাল অবস্থান করেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। অতঃপর তিনি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন এবং এরই কারণে ৭৩৯ হিজরিতে ৭৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে মানুষ অত্যন্ত শোক প্রকাশ করে এবং এক বিশাল জনসমুদ্র তাঁর জানাজায় অংশগ্রহণ করে। কবিগণ তাঁর প্রশংসায় অনেক স্তুতিবাক্য এবং অসংখ্য শোকগাঁথা রচনা করেছেন। তিনি মানুষকে উসুলুল ফিকহ এবং মাআনি ও বয়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) চর্চায় উৎসাহিত করতেন। তাঁর রচিত 'তালখিসুল মিফতাহ' নামক গ্রন্থটি অত্যন্ত সুপ্রসিদ্ধ, যা সুয়ূতী ছন্দোবদ্ধ করেছেন এবং তার নাম দিয়েছেন 'উকূদুল জুমান'। এছাড়া তাঁর 'ঈযাউত তালখিস' নামক একটি গ্রন্থও রয়েছে। তিনি কবি আরজানিকে অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং বলতেন যে অনারবদের মধ্যে তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই। তিনি তাঁর কাব্যগ্রন্থ (দিওয়ান) সংক্ষিপ্ত করেন এবং তার নাম দেন "আস-সূরুল মারজানি মিন শি’রিল আরজানি"। আয-যাহাবী বলেন: যখন তিনি মিশরের বিচারপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তখন তাঁর মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং তিনি এমন অবর্ণনীয় সম্মানে ভূষিত হন যে, তাঁর কোনো সুপারিশই ফিরিয়ে দেওয়া হতো না। এমনকি অনেক সময় তা স্বয়ং সুলতানের মাধ্যমেই সম্পন্ন হতো। তিনি ছিলেন সুবক্তা, মিষ্টভাষী, সুশ্রী চেহারার অধিকারী, উদার, ধৈর্যশীল ও অত্যন্ত সহনশীল। তাঁর জীবনচরিত কয়েক খণ্ড বইয়েও শেষ হওয়ার নয়। আল-ইউসুফী সুলতান আল-নাসির মুহাম্মাদের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, কাজী মানুষের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন এবং তিনি অনেক দান-সদকা ও মহৎ কাজ করতেন এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোকদের প্রতি অত্যন্ত সদাচারী ছিলেন। তিনি বলেন: কোনো তুর্কি সুলতানের কাছে অন্য কোনো বিচারপতির মর্যাদা জালালুদ্দীনের মতো ছিল না। সুলতান নাসির তাঁর (জালালুদ্দীনের) ছেলের ব্যাপারে যা কিছু শোনা যেত তাও সহ্য করতেন, এমনকি তিনি নগরের শাসনকর্তাকে বলতেন: 'অমুককে পাকড়াও কর', আবার পরক্ষণেই লোক পাঠিয়ে বলতেন: 'করো না, আমরা তাঁর পিতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধের কারণে লজ্জিত হই' ... তাঁদের ওপর আল্লাহ তাআলার রহমত ও ক্ষমা বর্ষিত হোক।

আস-সুয়ূতী 'বুগইয়াতুল উয়াত' (পৃষ্ঠা ৬৬) গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন। তিনি তাঁর বংশপরম্পরা আবু দুলাফ আল-ইজলির দিকে সম্পৃক্ত করেছেন এবং পূর্বে যা আলোচিত হয়েছে তারই অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি বলেন: সাহিত্যে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনো কবিতা রচনা করেছেন বলে আমার জানা নেই। তিনি ৭৩৯ হিজরির জুমাদাল উলা মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইন্তেকাল করেন।

'আদ-দুরারুল কামিনাহ' এর লেখক বলেন: তাঁর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে উমর আল-কাযউইনী নামে এক পুত্র ছিল, যিনি দামেস্কের জামে মসজিদের খতিব কাজী জালালুদ্দীনের পুত্র। তাঁর জীবনীও সংকলিত হয়েছে ১।

--------------------------------------------

১ খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৮৫... সেখানে তিনি বলেন: তিনি ৭০১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ফিকহ শাস্ত্র অর্জন করেন এবং বক্তৃতায় দক্ষতা লাভ করেন। তিনি ৭৪২ হিজরির জুমাদাল আখিরায় ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌أول كتاب الإيضاح

‌‌تمهيد

…

أول كتاب الإيضاح للخطيب القزويني:

تمهيد:

قال الشيخ الإمام، العالم العلامة خطيب الخطباء، مفتي المسلمين، جلال الدين: أبو عبد الله محمد، ابن قاضي القضاة سعد الدين أبي محمد عبد الرحمن، ابن إمام الدين أبي حفص عمر، القزويني الشافعي. متع الله المسلمين بمحياه، وأحسن عقباه:

الحمد لله رب العالمين وصلاته على محمد وعلى آل محمد أجمعين.

أمابعد: فهذا كتاب في علم البلاغة وتوابعها1، ترجمته 2 بـ"الإيضاح" وجعلته علي ترتيب مختصري الذي سميته تلخيص المفتاح. وبسطت فيه القول ليكون كالشرح له، فأوضحت مواضعه المشكلة، وفصلت معانيه المجملة وعمدت إلى ماخلاعنه المختصر، مماتضمنه "مفتاح العلوم3"، وإلى ماخلاعنه المفتاح من كلام الشيخ الإمام عبد القاهر الجرجاني4 رحمه الله -في كتابيه: دلائل الإعجاز، وأسرار البلاغة، وإلى ما تيسر النظر فيه من كلام غيرهما5، فاستخرجت زبدة6 ذلك كله، وهذبتها ورتبتها، حتى استقر كل شيء منها في محله، وأضفت إلى ذلك ما أدى إليه فكرى، ولم أجده لغيري. فجاء بحمد الله جامعًا لأشتات هذا العلم. وإليه أرغب في أن يجعله نافعًا لمن نظر فيه من أولى الفهم.

وهو حسبي ونعم الوكيل.

--------------------------------------------

1 علم البلاغة يشتمل على المعاني والبيان وتوابعها هو علم البديع والكلام في السرقات الشعرية.

2 المراد: سميته.

3 تأليف السكاكي م 626هـ.

4 هو شيخ البلاغة العربية وفيلسوفها. توفي عام 471هـ. واسمه أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن الجرجاني: وله ترجمة في فوات الوفيات وفي بغية الوعاة للسيوطي وعرض له ولكتابيه: الأسرار والدلائل صاحب كتاب بحوث وآراء في علوم البلاغة "ص58، 129-132".. وقد ألفت فيه كتابًا عنوانه "عبد القاهر والبلاغة العربية".

5 أي غير السكاكي والجرجاني.

6 زيدة الشيء: جوهرة وخلاصته.
আল-ইদাহ গ্রন্থের শুরু

ভূমিকা

...

খতিব আল-কাজভিনী রচিত আল-ইদাহ গ্রন্থের শুরু:

ভূমিকা:

শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, খতিবদের খতিব, মুসলিমদের মুফতি, জালালুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ, ইবনে কাজিউল কুজাত সা’দুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান, ইবনে ইমামুদ্দীন আবু হাফস উমর আল-কাজভিনী আশ-শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর হায়াত দ্বারা মুসলিমদের উপকৃত করুন এবং তাঁর শেষ পরিণাম সুন্দর করুন) বলেছেন:

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর সালাত বর্ষিত হোক মুহাম্মদ ও তাঁর সকল পরিবারের ওপর।

অত:পর, এটি অলঙ্কারশাস্ত্র ও এর অনুষঙ্গসমূহ সংক্রান্ত একটি কিতাব, আমি এর নামকরণ করেছি "আল-ইদাহ" এবং একে আমার সংক্ষেপিত গ্রন্থ "তালখীসুল মিফতাহ"-এর বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছি। আমি এতে আলোচনাকে বিস্তারিত করেছি যাতে এটি তার ব্যাখ্যাস্বরূপ হয়, ফলে আমি এর জটিল স্থানগুলো স্পষ্ট করেছি, এর সংক্ষিপ্ত অর্থগুলোকে বিশদভাবে বর্ণনা করেছি এবং "মিফতাহুল উলুম" গ্রন্থে থাকা যেসব বিষয় সংক্ষেপিত গ্রন্থে বাদ পড়েছিল তা এতে সন্নিবেশিত করার সংকল্প করেছি। এছাড়া শায়খ ইমাম আব্দুল কাহির আল-জুরজানী (রহ.)-এর দুই কিতাব "দালাইলুল ই'জাজ" ও "আসরারুল বালাগাত"-এর যেসব আলোচনা "মিফতাহ" গ্রন্থে নেই এবং অন্যদের যেসব বক্তব্য পর্যালোচনা করা সহজ হয়েছে, তাও এতে যুক্ত করেছি। আমি এই সবকিছুর সারমর্ম নিংড়ে নিয়েছি এবং সেগুলোকে সুবিন্যস্ত ও পরিমার্জিত করেছি, যতক্ষণ না প্রতিটি বিষয় তার যথাযথ স্থানে স্থিতি লাভ করেছে। এর সাথে আমি আমার নিজস্ব চিন্তা-প্রসূত বিষয়গুলোও যোগ করেছি যা অন্য কারো কাছে পাইনি। ফলে আল্লাহর প্রশংসায় এটি এই শাস্ত্রের বিবিধ বিষয়ের এক সংকলন হয়ে উঠেছে। আমি তাঁরই নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে বোধশক্তিসম্পন্ন পাঠকদের জন্য উপকারী করেন।

তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

--------------------------------------------

১. অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) ইলমুল মা’আনি, ইলমুল বায়ান এবং এর অনুষঙ্গ অর্থাৎ ইলমুল বাদী’ ও কাব্যিক চৌর্যবৃত্তি সংক্রান্ত আলোচনাকে অন্তর্ভুক্ত করে।

২. উদ্দেশ্য হলো: আমি এর নামকরণ করেছি।

৩. সাক্কাকীর রচনা, মৃত্যু ৬২৬ হিজরী।

৪. তিনি আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের শায়খ ও দার্শনিক। ৪৭১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর নাম আবু বকর আব্দুল কাহির বিন আব্দুর রহমান আল-জুরজানী। 'ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত' এবং সুয়ূতী রচিত 'বুগয়াতুল উয়াত' গ্রন্থে তাঁর জীবনী রয়েছে। 'বুহুস ওয়া আরা ফি উলুমিল বালাগাত' (পৃষ্ঠা ৫৮, ১২৯-১৩২) গ্রন্থের লেখক তাঁর এবং তাঁর দুই কিতাব 'আসরার' ও 'দালাইল' সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। আমি তাঁর সম্পর্কে "আব্দুল কাহির ও আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র" শিরোনামে একটি বই লিখেছি।

৫. অর্থাৎ সাক্কাকী এবং জুরজানী ব্যতীত অন্য ব্যক্তিগণ।

৬. কোনো জিনিসের সারমর্ম: এর মূল নির্যাস ও সারাংশ।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌مقدمة 1:

في الكشف عن معنى الفصاحة والبلاغة:

وانحصار علم البلاغة في علمي2 المعاني والبيان للناس في تفسير الفصاحة والبلاغة أقوال مختلفة، لم أجد فيما بلغني منها. ما يصلح لتعريفها به، ولا ما يشير إلى الفرق بين كون الموصوف بهما الكلام وكون الموصوف بهما المتكلم 3، فالأولى أن نقتصر على تلخيص القول فيهما بالاعتبارين، فنقول:

--------------------------------------------

1 الإيضاح مقسم إلى: مقدمة وثلاثة فنون وخاتمة، فالمقدمة ليست من قبيل مقاصد علم البلاغة وتوابعها، بل هي تمهيد لذلك. والفنون الثلاثة هي من مقاصد البلاغة إلا أن موضوع كل فن منها يختلف عن موضوع الآخر، فموضوع الفن الأول -وهو علم المعاني- الاحتراز عن الخطأ في تأدية المعنى المراد، وموضوع الفن الثاني -علم البيان- الاحتراز عن التعقيد المعنوي، وموضوع الفن الثالث -البديع- ليس الاحتراز عن شيء أصلًا، بل مجرد تحسين اللفظ وتزيينه. والخاتمة تشمل السرقات والكلام علي حسن الابتداء والتخلص وحسن الخاتمة، فهي من الفن الثالث أو متصلة به بصلة كبيرة.

والمقدمة هنا لبيان معنى شيئين: الأول معنى الفصاحة والبلاغة، والثاني انحصار علم البلاغة في علمي المعاني والبيان، وكل ذلك مما يرتبط بالمقصود من الكتاب.. فالمقدمة هنا هي مقدمة كتاب.

وذكر معنى الفصاحة والبلاغة قبل الشروع في مسائل المعاني والبيان والبديع ضروري، لتوقف معرفة معانيها علي معرفة معنى البلاغة والفصاحة.

2 في الأصل "في علم".

3 في هذا الكلام شيء من المجازفة: فقد سبق أبو هلال ببيان الفرق بين الفصاحة والبلاغة في الصناعتين، فذكر أن البلاغة هي كل ماتبلغ به المعنى قلب السامع فتمكنه في نفسه لتمكنه في نفسك مع صورة مقبولة
ভূমিকা ১:

ফাসাহাত (প্রাঞ্জলতা) এবং বালাগাতের (অলঙ্কারশাস্ত্র) অর্থ উন্মোচন প্রসঙ্গে:

এবং বালাগাত শাস্ত্রকে মাআনি (অর্থতত্ত্ব) ও বায়ান (বর্ণনাশৈলী) নামক দুটি বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা প্রসঙ্গে। ফাসাহাত ও বালাগাতের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। আমার নিকট এই বিষয়ে যা পৌঁছেছে, তার মধ্যে আমি এমন কিছু পাইনি যা এদের সংজ্ঞায়িত করার জন্য উপযুক্ত, কিংবা যা বাক্য এই দুই গুণে গুণান্বিত হওয়া এবং বক্তা এই দুই গুণে গুণান্বিত হওয়ার মধ্যকার পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত করে। সুতরাং এই উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে এ দুটির আলোচনার সারসংক্ষেপের ওপর সীমাবদ্ধ থাকাই সমীচীন। অতএব আমরা বলি:

--------------------------------------------

১. আল-ইজাহ গ্রন্থটি একটি ভূমিকা, তিনটি শিল্প (ফন) এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত। সুতরাং ভূমিকাটি বালাগাত শাস্ত্রের মূল উদ্দেশ্য বা তার অনুষঙ্গসমূহের পর্যায়ভুক্ত নয়, বরং এটি সেই বিষয়ের একটি উপক্রমণিকা মাত্র। আর তিনটি শিল্প হলো বালাগাতের মূল উদ্দেশ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তবে এগুলোর প্রত্যেকটির বিষয়বস্তু একে অপর থেকে ভিন্ন। প্রথম শিল্পের বিষয়বস্তু—যা হলো 'ইলমুল মাআনি'—উদ্দিষ্ট অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে ভুল থেকে বেঁচে থাকা। দ্বিতীয় শিল্পের বিষয়বস্তু—যা হলো 'ইলমুল বায়ান'—অর্থগত জটিলতা থেকে বেঁচে থাকা। এবং তৃতীয় শিল্পের বিষয়বস্তু—যা হলো 'বাদি'—মূলত কোনো কিছু থেকে বেঁচে থাকার জন্য নয়, বরং কেবল শব্দের সৌন্দর্য বর্ধন ও অলঙ্করণ। আর উপসংহারটি কাব্যিক চুরিকর্ম (সারিকাত), সুন্দর প্রারম্ভিক আলোচনা, সুন্দরভাবে প্রসঙ্গ পরিবর্তন এবং সুন্দর সমাপ্তি সংক্রান্ত আলোচনাকে অন্তর্ভুক্ত করে; সুতরাং এটি তৃতীয় শিল্পের অন্তর্ভুক্ত অথবা তার সাথে নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট।

এখানকার ভূমিকাটি দুটি বিষয় স্পষ্ট করার জন্য: প্রথমটি হলো ফাসাহাত ও বালাগাতের অর্থ, এবং দ্বিতীয়টি হলো বালাগাত শাস্ত্রকে মাআনি ও বায়ান শাস্ত্রদ্বয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা। এর সবকিছুই গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সম্পর্কিত। সুতরাং এখানকার ভূমিকাটি হলো গ্রন্থের ভূমিকা।

মাআনি, বায়ান ও বাদি শাস্ত্রের মাসআলাসমূহ শুরু করার আগে ফাসাহাত ও বালাগাতের অর্থ উল্লেখ করা আবশ্যক, কারণ ওই শাস্ত্রগুলোর জ্ঞান অর্জন করা ফাসাহাত ও বালাগাতের অর্থ জানার ওপর নির্ভরশীল।

২. মূল পাঠে রয়েছে "ইলমে"।

৩. এই বক্তব্যে কিছুটা অতিরঞ্জন রয়েছে: কেননা আবু হিলাল আল-আসকারি ইতিপূর্বেই 'আস-সিনাআতাইন' গ্রন্থে ফাসাহাত ও বালাগাতের মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বালাগাত হলো এমন সব কিছু যার মাধ্যমে তুমি শ্রোতার অন্তরে উদ্দিষ্ট অর্থ পৌঁছে দাও এবং তার মনে তা সেভাবেই বদ্ধমূল করো যেমনটি তোমার নিজের মনে বদ্ধমূল রয়েছে, সাথে একটি গ্রহণযোগ্য অবয়বও বিদ্যমান থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
.........................................................................

--------------------------------------------

= ومعرض حسن، ثم قال: وأما الفصاحة فقد اختلفوا فيها، فقال قوم: إنها مأخوذة من قولهم: أفصح فلان عما في نفسه إذا أظهره وعلى هذا ترجع الفصاحة والبلاغة إلى معنى واحد وإن اختلف أصلهما في اللغة، وقال بعضهم: الفصاحة تمام آلة البيان، وعلى هذا تكون الفصاحة والبلاغة مختلفين، وذلك أن الفصاحة تمام آلة البيان فهي مقصورة على اللفظ والبلاغة إنما هي إنهاء المعنى إلى القلب فكأنها مقصورة على المعنى إلخ "39 وما بعدها صناعتين".

وذكر ابن سنان الخفاجي في سر الفصاحة أن الفصاحة مقصورة على وصف الألفاظ والبلاغة لاتكون إلاوصفًا للألفاظ مع المعاني، فلا يقال في كلمة واحدة أنها بليغة وإن قيل أنها فصيحة إذا فضلت عن مثلها، وكل كلام بليغ فصيح وليس كل فصيح بليغًا كالذي يقع فيه الإسهاب في غير موضعه، ثم قال: والفصاحة على ذلك شطر البلاغة وأحد جزءيها، ولها شروط إذا تكاملت في الألفاظ فلا مزيد على فصاحتها، وتلك الشروط: منها ما يتعلق باللفظة الواحدة، ومنها ما يوجد في الألفاظ المنظومة بعضها مع بضع.. وهذا كله هو خلاصة رأي القزويني أقتبسه من ابن سنان "راجع ص55 وما بعدها من سر الفصاحة طبعة الرحمانية" وذكر ابن رشيق في العمدة: أن البلاغة والفصاحة راجعان إلى اللفظ والمعنى جميعًا إلخ "ص80 طبعة هندية".

وذكر عبد القاهر: أن البلاغة والفصاحة وما يجري مجارها مما يفرد فيه اللفظ بالنعت والصفة وينسب فيه الفضل والمزية إليه دون المعنى معناها حسن الدلالة وتمامها فيما له كانت دلالة ثم تبرجها في صورة هي أبهى، ولا جهة لذلك غير أن يؤتى المعنى من الجهة التي هي أصح لتأديته ويختار له اللفظ الذي هو أخص به وأكشف عنه وأحرى بأن يظهر مزية "ص35 من دلائل الإعجاز"، وقال في أسرار البلاغة: أما رجوع الاستحسان "أي الوصف بالبلاغة والفصاحة" إلى اللفظ من غير شرك من المعنى فيه فلا يعدو نمطًا واحدًا، هو أن تكون اللفظ مما يتعارفه الناس في استعمالهم ويتداولونه في زمانهم، ولا يكون وحشيًّا غريبًا أو عاميًّا سخيفًا"ص3 أسرار البلاغة"، فالبلاغة والفصاحة عنده مترادفان، وإن اختلف فهم كلامه فيهما وفي هل يرجعان عنده إلى اللفظ أو إلى المعنى. ويرى عبد القاهر أن الفصاحة تقال لكون اللفظ جاريًا على القوانين المستنبطة من استقراء كلامهم كثير الاستعمال على ألسنة العرب الموثوق بعربيتهم "ص353 دلائل الإعجاز" وهو كلام السكاكي أيضًا "ص176 من المفتاح".

ويرى السكاكي أن البلاغة بلوغ المتكلم في تأدية المعاني حدًّا له اختصاص بتوفية خواص التراكيب حقها وإيراد أنواع التشبيه والمجاز والكناية على وجهها، وأما الفصاحة فهي عنده قسمان: قسم يرجع إلى المعنى وهو خلوص الكلام من التعقيد المعنوي، وقسم يرجع إلى اللفظ وهو أن تكون الكلمة عربية أصلية جارية على ألسنة الفصحاء من العرب الموثوق بعربيتهم، لا مما أحدثه المولدون، ولا مما أخطأت فيه العامة "وأن تكون" سليمة من التنافر "راجع ص176 من المفتاح".

ويرى ابن الأثير أنه يحتاج في تأليف الكلمات إلى ثلاثة أشياء: اختيار الألفاظ المفردة، ونظم كل كلمة مع أختها بحيث لا يكون هناك قلق ولا منافرة، والغرض المقصود من ذلك الكلام على اختلاف أنواعه … والأول والثاني عنده هما المراد بالفصاحة، والثلاثة بجملتها هي المراد بالبلاغة. وتكلم في كتابة المثل السائر على الصناعة اللفظية "وهي عنده قسمان: قسم اللفظة المفردة، وقسم الألفاظ المركبة"، وعلى الصناعة المعنوية.

--------------------------------------------

= এটি একটি উত্তম বর্ণনা। অতঃপর তিনি বলেন: বাকপটুতা (ফাসাহাত) সম্পর্কে আলেমগণ মতবিরোধ করেছেন। একদল বলেছেন: এটি তাদের এই কথা থেকে নেওয়া হয়েছে—‘অমুক ব্যক্তি তার অন্তরের কথা স্পষ্ট করেছে’ যখন সে তা প্রকাশ করে। এই মতানুসারে ফাসাহাত এবং অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) একই অর্থের দিকে ফিরে যায়, যদিও ভাষাতাত্ত্বিকভাবে তাদের মূল উৎস ভিন্ন। আবার কেউ কেউ বলেছেন: ফাসাহাত হলো বর্ণনার উপকরণের পূর্ণতা। এই ভিত্তি অনুযায়ী ফাসাহাত এবং বালাগাত পরস্পর ভিন্ন। কারণ ফাসাহাত হলো বর্ণনার উপকরণের পূর্ণতা যা কেবল শব্দের মাঝে সীমাবদ্ধ; আর বালাগাত হলো অর্থকে হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়া, তাই এটি যেন কেবল অর্থের মাঝেই সীমাবদ্ধ... ইত্যাদি (সিনাআতাইন, পৃষ্ঠা ৩৯ ও পরবর্তী অংশ)।

ইবনে সিনান আল-খাফাজি ‘সিররুল ফাসাহাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ফাসাহাত কেবল শব্দের গুণাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ, আর বালাগাত হলো অর্থের সাথে শব্দেরও গুণ হওয়া। তাই একটি একক শব্দকে ‘বালিগ’ (অলঙ্কারপূর্ণ) বলা হয় না, যদিও তাকে ‘ফাসিহ’ (সুস্পষ্ট) বলা যেতে পারে যদি তা তার সমপর্যায়ের শব্দের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয়। প্রতিটি বালিগ (অলঙ্কারপূর্ণ) কথা ফাসিহ (সুস্পষ্ট), কিন্তু প্রতিটি ফাসিহ কথা বালিগ নয়; যেমন যেখানে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ আলোচনা করা হয়। অতঃপর তিনি বলেন: এই দৃষ্টিতে ফাসাহাত হলো বালাগাতের অর্ধেক এবং এর অন্যতম একটি অংশ। এর কিছু শর্ত রয়েছে, যা শব্দাবলিতে পূর্ণতা পেলে তার ফাসাহাতের ওপর আর কোনো আধিক্য থাকে না। সেই শর্তগুলোর মধ্যে কিছু একক শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং কিছু সুশৃঙ্খল শব্দমালার পরস্পরের বিন্যাসের মাঝে বিদ্যমান। এই পুরো বিষয়টিই কাজভিনি-র মতামতের সারসংক্ষেপ যা তিনি ইবনে সিনান থেকে গ্রহণ করেছেন (দ্রষ্টব্য: সিররুল ফাসাহাত, রহমানিয়া সংস্করণ, পৃষ্ঠা ৫৫ ও পরবর্তী অংশ)। ইবনে রাশিক ‘আল-উমদাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: বালাগাত এবং ফাসাহাত উভয়ই শব্দ ও অর্থ উভয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে... ইত্যাদি (ভারতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ৮০)।

আব্দুল কাহির উল্লেখ করেছেন: বালাগাত, ফাসাহাত এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি—যাতে শব্দকে এককভাবে বিশেষণ ও গুণাবলি দ্বারা বিশেষিত করা হয় এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশেষত্ব কেবল শব্দের প্রতি নিহিত থাকে, অর্থের প্রতি নয়—এর অর্থ হলো নির্দেশনার সৌন্দর্য এবং তার পূর্ণতা, যার মাধ্যমে তা অর্থ নির্দেশ করে এবং এরপর তা অত্যন্ত চমৎকার রূপে প্রকাশিত হয়। আর এর অন্য কোনো দিক নেই এটি ছাড়া যে, অর্থকে এমন এক দিক থেকে উপস্থাপন করতে হবে যা তা আদায়ের ক্ষেত্রে অধিকতর সঠিক এবং এর জন্য এমন শব্দ চয়ন করতে হবে যা তার জন্য অধিকতর নির্দিষ্ট, তার রহস্য উন্মোচনকারী এবং তার বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য অধিকতর উপযুক্ত (দালাইলুল ই’জায, পৃষ্ঠা ৩৫)। তিনি ‘আসরারুল বালাগাহ’ গ্রন্থে বলেছেন: প্রশংসনীয় হওয়া (অর্থাৎ বালাগাত ও ফাসাহাতের গুণে গুণান্বিত হওয়া) যদি অর্থের অংশীদারিত্ব ছাড়া কেবল শব্দের দিকে ফিরে যায়, তবে তা কেবল একটি রীতিই হতে পারে; আর তা হলো শব্দটি এমন হওয়া যা মানুষ তাদের কথাবার্তায় চেনে এবং তাদের সময়ে বহুল প্রচলিত। তা যেন শ্রুতিকটু, অপরিচিত বা নিম্নমানের স্থূল শব্দ না হয় (আসরারুল বালাগাহ, পৃষ্ঠা ৩)। সুতরাং তার মতে বালাগাত এবং ফাসাহাত সমার্থক, যদিও এই দুটি বিষয়ে এবং শব্দ বা অর্থের কোনটির দিকে তা ফিরে যায়—এ বিষয়ে তার বক্তব্যের অনুধাবনে ভিন্নতা রয়েছে। আব্দুল কাহির মনে করেন যে, ফাসাহাত বলা হয় শব্দের এমন হওয়ার কারণে যা আরবদের কথাবার্তা পর্যালোচনার মাধ্যমে আহরিত নিয়মনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং যে আরবদের বিশুদ্ধ ভাষার ওপর আস্থা রাখা যায় তাদের মুখে বহুল ব্যবহৃত (দালাইলুল ই’জায, পৃষ্ঠা ৩৫৩)। এটি সাক্কাকি-রও বক্তব্য (মিফতাহ, পৃষ্ঠা ১৭৬)।

সাক্কাকি মনে করেন যে, বালাগাত হলো বক্তার অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছানো যা বাক্য কাঠামোর বৈশিষ্ট্যসমূহের যথাযথ হক আদায় করা এবং উপমা (তাশবিহ), রূপক (মাজায) ও ইশারা (কিনায়া)-র প্রকারভেদগুলোকে তার সঠিক স্থানে প্রয়োগ করার সাথে নির্দিষ্ট। আর ফাসাহাত তার নিকট দুই প্রকার: এক প্রকার যা অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো কথা অর্থগত জটিলতা থেকে মুক্ত হওয়া। দ্বিতীয় প্রকার যা শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো শব্দটি মূল আরবি হওয়া এবং যাদের বিশুদ্ধ ভাষার ওপর আস্থা রাখা যায় এমন আরবের সাবলীল ভাষাভাষীদের মুখে প্রচলিত হওয়া; তা যেন আধুনিকদের উদ্ভাবিত বা সাধারণ মানুষের ভুল উচ্চারিত না হয় এবং যেন তা শ্রুতিকটু ধ্বনি সংঘাত থেকে মুক্ত থাকে (দ্রষ্টব্য: মিফতাহ, পৃষ্ঠা ১৭৬)।

ইবনুল আসির মনে করেন যে, শব্দ সংযোজনের ক্ষেত্রে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন: একক শব্দ চয়ন, প্রতিটি শব্দকে তার পার্শ্ববর্তী শব্দের সাথে এমনভাবে বিন্যস্ত করা যেন সেখানে কোনো শিথিলতা বা শ্রুতিকটুতা না থাকে এবং বিভিন্ন প্রকারের কথা থেকে মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জন করা … তার নিকট প্রথম ও দ্বিতীয়টি হলো ফাসাহাত, আর তিনটি বিষয়ের সমষ্টি হলো বালাগাত। তিনি ‘আল-মাসালুস সাইর’ গ্রন্থে শব্দগত শিল্প (যা তার নিকট দুই প্রকার: একক শব্দের অংশ এবং যৌগিক শব্দের অংশ) এবং অর্থগত শিল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
كل واحدة منهما1 تقع صفة لمعنيين: أحدهما الكلام كمافي قولك قصيدة فصيحة أو بليغة، ورسالة فصيحة أو بليغة، والثاني المتكلم كما في قولك شاعر فصيح أو بليغ، وكاتب فصيح أو بليغ. والفصاحة خاصة تقع صفة للمفرد فيقال: كلمة فصيحة، ولايقال كلمة2

--------------------------------------------

1- أي من البلاغة والفصاحة.

2- هذا هو الفرق بين الفصاحة والبلاغة عند الخطيب، فالفصاحة عنده صفة للمفرد والكلام والمتكلم، والبلاغة صفة للكلام والمتكلم فقط. ولاشك أن من يرى أن البلاغة والفصاحة مترادفان بحيز أن يقال كلمة بليغة كمايقال كلمة فصيحة، وإن كان عبد القاهر -الذي يرى أن الفصاحة والبلاغة مترادفان- يجعلهما وصفًا للكلام لا للفظ المفرد فلاتقول عنده كلمة فصيحة ولا كلمة بليغة.

هذا والمراد بالكلام ما يقابل الكلمة فيشمل المركب الإسنادي والمركب الناقص جميعًا، فإنه قد يكون بيت من القصيدة غير مشتمل على إسناد يصح السكوت عليه مع أنه متصف بالفصاحة مثل:

إذا ما الغانيات برزن يومًا … وزججن الحواجب والعيونا

فيكون المراد بالكلام تامًّا أو ناقصًا. وورد على هذا الرأي اعتراضات منها: أن المركب الناقص إنما يصح إدخاله في مدلول الكلام لو كانوا يطلقون على مثل هذا المركب أنه كلام فصيح ولم ينقل عنهم ذلك بل المنقول وصفهم له بأنه فصيح دون كونه كلامًا، على أنه يجوز أن يكون وصفه بالفصاحة باعتبار فصاحة مفرداته.

وقيل أن المركب الناقص خارج عن المفرد وعن المركب التام فلايتصف بالفصاحة والبلاغة بالنظر لذاته بل قد يوصف بها بالنظر لمفرداته.

والصحيح أن المراد بالكلام مايقابل المفرد، حقيقة "وهو اللفظة الواحدة المفردة" أو حكماً "وهو المركب الناقص"، فالمركب الناقص على هذا داخل في المفرد؛ لأن المفرد يطلق على ما يقابل المركب، وعلى ما يقابل المثنى والمجموع وعلى ما يقابل الكلام، ومقابلة المفرد ههنا بالكلام قرينة دالة على أنه أريد به ما ليس بكلام تام الإفادة، فيكون المركب الناقص داخلًا فيه -أي في المفرد.
তাদের দুটির১ প্রতিটিই দুটি বিষয়ের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়: এর মধ্যে একটি হলো বাক্য, যেমন আপনি বলে থাকেন 'একটি প্রাঞ্জল বা অলঙ্কারপূর্ণ কবিতা' এবং 'একটি প্রাঞ্জল বা অলঙ্কারপূর্ণ পত্র'। দ্বিতীয়টি হলো বক্তা, যেমন আপনি বলে থাকেন 'একজন প্রাঞ্জল বা অলঙ্কারপূর্ণ কবি' এবং 'একজন প্রাঞ্জল বা অলঙ্কারপূর্ণ লেখক'। আর প্রাঞ্জলতা বিশেষভাবে একক শব্দের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়; ফলে বলা হয়: 'একটি প্রাঞ্জল শব্দ', কিন্তু বলা হয় না শব্দ২

--------------------------------------------

১- অর্থাৎ বালাগাত (অলঙ্কার শাস্ত্র) ও ফাসাহাত (প্রাঞ্জলতা) থেকে।

২- আল-খাতিব-এর মতে এটিই ফাসাহাত ও বালাগাতের মধ্যে পার্থক্য। তাঁর নিকট ফাসাহাত হলো একক শব্দ, বাক্য এবং বক্তার বিশেষণ; আর বালাগাত হলো কেবল বাক্য এবং বক্তার বিশেষণ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যারা বালাগাত ও ফাসাহাতকে সমার্থক মনে করেন, তাদের নিকট 'অলঙ্কারপূর্ণ শব্দ' বলাও সঙ্গত যেভাবে 'প্রাঞ্জল শব্দ' বলা হয়। যদিও আবদুল কাহির —যিনি ফাসাহাত ও বালাগাতকে সমার্থক মনে করেন— উভয়কে বাক্যের বিশেষণ হিসেবে গণ্য করেন, একক শব্দের জন্য নয়; তাই তাঁর মতে 'প্রাঞ্জল শব্দ' বা 'অলঙ্কারপূর্ণ শব্দ' কোনটিই বলা যায় না।

এখানে বাক্য দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা একক শব্দের বিপরীত, ফলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য এবং অপূর্ণ যৌগ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা কবিতার কোনো চরণে এমন হতে পারে যাতে এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য নেই যার ওপর থামা যায়, অথচ তা প্রাঞ্জলতা গুণে গুণান্বিত হয়, যেমন:

যখন সুন্দরী নারীরা কোনো একদিন আত্মপ্রকাশ করল … এবং তারা তাদের ভ্রু ও চক্ষুদ্বয় সজ্জিত করল

সুতরাং বাক্য দ্বারা পূর্ণাঙ্গ বা অপূর্ণ উভয়ই উদ্দেশ্য হতে পারে। তবে এই মতের ওপর কিছু আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: অপূর্ণ যৌগকে বাক্যের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা তখনই সঠিক হতো যদি ভাষাবিদগণ এই জাতীয় যৌগকে 'প্রাঞ্জল বাক্য' বলে অভিহিত করতেন। কিন্তু তাদের থেকে এমন কিছু বর্ণিত হয়নি, বরং যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো তারা একে 'প্রাঞ্জল' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, 'বাক্য' হিসেবে নয়। তদুপরি, এর প্রাঞ্জলতার বর্ণনা এর অন্তর্ভুক্ত একক শব্দগুলোর প্রাঞ্জলতার বিবেচনায়ও হতে পারে।

আবার বলা হয়েছে যে, অপূর্ণ যৌগ হলো একক শব্দ এবং পূর্ণাঙ্গ বাক্য উভয়টি থেকে ভিন্ন। তাই এটি নিজ সত্তার বিচারে ফাসাহাত ও বালাগাত দ্বারা গুণান্বিত হয় না, বরং এর একক শব্দগুলোর বিচারে এমনটি হতে পারে।

সঠিক কথা হলো, বাক্য দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা একক শব্দের বিপরীত— তা প্রকৃতগতভাবে হোক (যা একটিমাত্র একক শব্দ) অথবা বিধানগতভাবে হোক (যা অপূর্ণ যৌগ)। সুতরাং অপূর্ণ যৌগ এই দৃষ্টিতে একক শব্দের অন্তর্ভুক্ত; কারণ 'একক শব্দ' কথাটি কখনো যৌগের বিপরীতে ব্যবহৃত হয়, কখনো দ্বিবচন ও বহুবচনের বিপরীতে, আবার কখনো পূর্ণাঙ্গ বাক্যের বিপরীতে। এখানে একক শব্দের বিপরীতে 'বাক্য' শব্দের ব্যবহার একটি প্রমাণ যা নির্দেশ করে যে, এখানে এমন কিছু বোঝানো হয়েছে যা পূর্ণ অর্থবহ বাক্য নয়। ফলে অপূর্ণ যৌগ এর অন্তর্ভুক্ত হবে— অর্থাৎ একক শব্দের অন্তর্ভুক্ত হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
بليغة1.

--------------------------------------------

1 إذالم يسمع ذلك عن العرب، وهذا هو التعليل الصحيح. وبعضهم يعلل لهذا بأن البلاغة إنما هي باعتبار المطابقة لمقتضى الحال وهي لا تتحقق في المفرد، وورد على هذا التعليل بأن عدم تحقق المطابقة لمقتضى الحال في المفرد إنما هو في بلاغة الكلام والمتكلم، فلم لا يجوز أن تكون هناك بلاغة أخرى غير المطابقة يصح وجودها في الكلمة؟
প্রাঞ্জল ১।

--------------------------------------------

১. যেহেতু এটি আরবদের থেকে শ্রুত নয়, এবং এটিই হলো সঠিক কারণ। কেউ কেউ এর কারণ হিসেবে বলেন যে, প্রাঞ্জলতা (বালাগাত) কেবল পরিস্থিতির চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার নিরিখেই বিবেচিত হয়, যা একক শব্দের ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হয় না। এই ব্যাখ্যার ওপর আপত্তি করা হয়েছে যে, একক শব্দের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যের অভাব কেবল বাক্য এবং বক্তার প্রাঞ্জলতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; সুতরাং পরিস্থিতির সামঞ্জস্য বিধান করা ব্যতিরেকে অন্য কোনো প্রকারের প্রাঞ্জলতা শব্দের ক্ষেত্রে থাকা কেন সম্ভব হবে না?
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
الفصاحة1:

أما فصاحة المفرد2 فهي خلوصه3 من تنافر الحروف والغرابة ومخالفة القياس اللغوي:

--------------------------------------------

1 هي في اللغة تنبئ التزامًا عن الظهور والإبانة "راجع ص353 من الدلائل" يقال: فصح الأعجمي وأفصح: إذا انطلق لسانه وخلصت لغته من اللكنة وجادت فلم يلحن، وأفصح به أي صرح، وفصح اللبن إذا أخذت رغوته وذهب لباؤه، قال أبو محجن الثقفي أو نضلة السلمي:

رأوه، فازدروه، وهو خرق … وينفع أهله الرجل القبيح

فلم يخشوا مصالته عليهم … وتحت الرغوة اللبن الفصيح

2 بدأ بذكر أقسام الفصاحة وتعريف كل قسم منها على حدة دون أن يعرفها في نفسها على الإطلاق لتعذر جمع المعاني المختلفة غير المشتركة في أمر يعمها في تعريف واحد.. وقدم الكلام على الفصاحة قبل البلاغة؛ لأن معرفة البلاغة سواء كانت بلاغة كلام متكلم موقوفة على معرفة الفصاحة في الجملة "إذ لا دخل لفصاحة المتكلم في بلاغة الكلام أو المتكلم"، لكون الفصاحة مأخوذة في تعريف البلاغة، ولهذا أيضًا قدم فصاحة المفرد على فصاحة الكلام والمتكلم، أما توقف فصاحة الكلام على فصاحة المفرد فظاهر، وأما توقف فصاحة المتلكم عليه فبواسطة أخذ فصاحة الكلام المتوقف عليها في فصاحة المفرد.. هذا وعيب المفرد أما في مادته أي حروفه وهو التنافر أو في صورته وهو المخالفة للقياس اللغوي المستنبط من استقراء اللغة "فالقياس اللغوي هو الضابط المتقرر من استعمالات العرب وهو القياس الصرفي"، وأما من دلالته على معناه وهو الغرابة.

3 تفسير الفصاحة بالخلوص من هذه العيوب لا يخلو عن تسامح؛ لأن الفصاحة تحصل عند الخلوص؛ لأنها هي كون الكلمة جارية على القوانين الصرفية متناسبة الحروف كثيرة الاستعمال، ويلزم من ذلك الخلوص، وبتفصيل أدق أقول: الفصاحة هي كون اللفظ جاريا على القوانين المستنبطة من استقراء كلام العرب كثير الاستعمال على ألسنة العرب الموثوق بعربيتهم.
সাবলীলতা১:

একক শব্দের সাবলীলতা২ হলো তা অক্ষরের কর্কশতা, অস্পষ্টতা এবং ভাষাগত নিয়মের পরিপন্থী হওয়া৩ থেকে মুক্ত থাকা:

--------------------------------------------

১ এটি আভিধানিকভাবে অনিবার্যভাবে প্রকাশ এবং স্পষ্টতাকে নির্দেশ করে (দালাইল-এর ৩৫৩ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)। বলা হয়: অনারব ব্যক্তি সাবলীল হয়েছে এবং স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে, যখন তার জিহ্বা সচল হয়, তার ভাষা জড়তা মুক্ত হয় এবং তা উন্নত হয় ফলে সে ব্যাকরণগত ভুল করে না। আর 'আফসাহা বিহি' অর্থ সে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে। দুধকে 'ফাসাহা' বলা হয় যখন এর ফেনা সরিয়ে ফেলা হয় এবং এর গাদ চলে যায়। আবু মুহজিন আস-সাকাফি বা নাদলা আস-সুলামি বলেছেন:

তারা তাকে দেখল এবং তুচ্ছজ্ঞান করল, অথচ সে ছিল এক উদার পুরুষ … এবং কদর্য ব্যক্তিও তার পরিবারের উপকার করে।

তারা তাদের ওপর তার বীরত্বের ভয় করেনি … অথচ ফেনার নিচে বিশুদ্ধ দুধ বিদ্যমান।

২ তিনি সাবলীলতার প্রকারভেদ এবং প্রত্যেক প্রকারের পৃথক সংজ্ঞা দিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন, সাবলীলতার কোনো সাধারণ সংজ্ঞা প্রদান করা ছাড়াই; কারণ এমন কোনো সাধারণ বিষয়ে এই ভিন্ন ভিন্ন অর্থগুলোকে একটি সংজ্ঞায় একত্রিত করা দুঃসাধ্য। তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) আলোচনার পূর্বে সাবলীলতার (ফাসাহাত) আলোচনা উপস্থাপন করেছেন; কারণ বালাগাত সম্পর্কে জানা—তা বাক্যের অলঙ্কার হোক বা বক্তার—তা সাধারণভাবে ফাসাহাত জানার ওপর নির্ভরশীল (কেননা বাক্যের অলঙ্কার বা বক্তার অলঙ্কারের ক্ষেত্রে বক্তার সাবলীলতার কোনো ভূমিকা নেই), যেহেতু ফাসাহাত বিষয়টি বালাগাতের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। একারণেই তিনি বাক্যের এবং বক্তার সাবলীলতার আগে একক শব্দের সাবলীলতাকে অগ্রগণ্য করেছেন। বাক্যের সাবলীলতা যে একক শব্দের সাবলীলতার ওপর নির্ভরশীল তা সুস্পষ্ট। আর বক্তার সাবলীলতা এর ওপর নির্ভরশীল হওয়ার বিষয়টি বাক্যের সাবলীলতার মাধ্যমে ঘটে যা একক শব্দের ওপর নির্ভরশীল। একক শব্দের ত্রুটি হয় তার উপাদানে অর্থাৎ অক্ষরে, যা হলো কর্কশতা; অথবা তার গঠনে, যা হলো ভাষাগত অনুসন্ধান থেকে প্রাপ্ত ভাষাগত নিয়মের পরিপন্থী হওয়া (ভাষাগত নিয়ম হলো আরবদের প্রয়োগ থেকে প্রতিষ্ঠিত মানদণ্ড, যা রূপতাত্ত্বিক নিয়ম); অথবা অর্থের নির্দেশনার ক্ষেত্রে, যা হলো অস্পষ্টতা।

৩ এই ত্রুটিগুলো থেকে মুক্ত হওয়াকে সাবলীলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা শিথিলতামুক্ত নয়; কারণ ত্রুটি থেকে মুক্ত হলে সাবলীলতা অর্জিত হয়। কেননা সাবলীলতা হলো শব্দটি রূপতাত্ত্বিক নিয়ম অনুযায়ী হওয়া, অক্ষরের সামঞ্জস্য থাকা এবং অধিক ব্যবহৃত হওয়া, যার অনিবার্য ফলাফল হলো ত্রুটিমুক্ত হওয়া। আরও সূক্ষ্ম বর্ণনায় আমি বলি: সাবলীলতা হলো শব্দটি আরবদের কালামের গবেষণালব্ধ নিয়মানুযায়ী হওয়া, যা সেই সব আরবদের জিহ্বায় অধিক ব্যবহৃত যাদের ভাষাগত বিশুদ্ধতা নির্ভরযোগ্য।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
فالتنافر1:

منه ما تكون الكلمة بسببه متناهية في الثقل على اللسان وعسر النطق بها، كما روي أن أعرابيًّا سئل عن ناقته فقال: تركتها ترعى الهعخع2.

--------------------------------------------

1 هو وصف في الكلمة يوجب ثقلها على اللسان وعسر النطق بها، والحكم في التنافر هو الذوق، وهو قوة يدرك بها لطائف الكلام ووجوه تحسينه، فكل ما يعده الذوق الصحيح ثقيلًا متعسر النطق به فهو متنافر سواء كان من قرب المخارج أو بعدها أو غير ذلك، وقد صرح بذلك ابن الأثير في "المثل السائر". وقال الزوزني: أن قرب المخارج سبب للثقل المخل بالفصاحة، وأن في قوله تعالى: {أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ} ثقلًا قريبًا من التناهي فيخل بفصاحة الكلمة، ولكن الكلام الطويل المشتمل على كلمة غير فصيحة لا يخرج عن الفصاحة، كما لا يخرج الكلام الطويل المشتمل على كلمة غير عربية عن أن يكون عربيًّا. ورد رأي الزوزني بما يأتي:

1 أن فصاحة الكلمات مأخوذة في تعريف فصاحة الكلام من غير تفرقة بين طويل وقصير.

2 وأن الزوزني يرى أن الكلام ما ليس بكلمة، وحينئذ فالقول بوجود كلمة غير فصيحة في كلام فصيح أكثر فسادًا من ذلك القول على تفسير غيره، فالفساد لازم لكلام الزوزني في المركب التام وفي المركب الناقص إذا اشتمل كل منهما على كلمة غير فصيحة، أما على قول غير الزوزني وهو الشارح "السعد" فالفساد في المركب التام فقط؛ لأنه يجعل المركب الناقص داخلًا في الكلمة.

3 على أن القياس على الكلام العربي ظاهر الفساد؛ لأن القرآن عربي باعتبار كله أو جله، وأيضًا فلم يشترط في عربية الكلام عربية الكلمات.

4 ولو سلم عدم خروج السورة عن الفصاحة مع اشتمالها على كلمة غير فصيحة، فإن مجرد اشتمال القرآن على كلام غير فصيح بل على كلمة فصيحة مما يقود إلى نسبة الجهل أو العجز لله.

2 هي اسم شجرة من شجر الصحراء، وتنطق الكلمة بصور كثيرة، وقيل أنها كلمة معاياة لا أصل لها في اللغة.
শব্দ-বৈরিতা১:

এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার কারণে শব্দটি জিহ্বার ওপর চরম ভারী হয়ে পড়ে এবং উচ্চারণ করা কঠিন হয়ে যায়, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক গ্রাম্য আরবকে তার উষ্ট্রী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলেছিল: "আমি তাকে আল-হাখ-খা ঘাস খেতে রেখে এসেছি।"২

--------------------------------------------

১ এটি শব্দের এমন একটি গুণ যা জিহ্বার ওপর তার ভারী হওয়া এবং উচ্চারণ কষ্টসাধ্য হওয়াকে আবশ্যক করে তোলে। শব্দ-বৈরিতার ক্ষেত্রে বিচারক বা মানদণ্ড হলো রুচিবোধ (যাওক); এটি এমন এক শক্তি যার মাধ্যমে বাক্যের সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ এবং এর সৌন্দর্য বৃদ্ধির দিকগুলো অনুধাবন করা যায়। অতএব, সঠিক রুচিবোধ যা কিছুকে ভারী এবং উচ্চারণ করা কঠিন মনে করে, তা-ই শব্দ-বৈরিতা হিসেবে গণ্য হবে; চাই তা উচ্চারণস্থলের নৈকট্যের কারণে হোক বা দূরত্বের কারণে কিংবা অন্য কোনো কারণে। ইবনুল আসীর ‘আল-মাসালুস সা’ইর’ গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। আর জাওজানি বলেছেন: উচ্চারণস্থলের নৈকট্য হলো ভারী হওয়ার কারণ যা প্রাঞ্জলতাকে ক্ষুণ্ণ করে। আর আল্লাহর বাণী: {হে আদম সন্তান, আমি কি তোমাদের নির্দেশ দেইনি?} এর মধ্যে এমন ভারী ভাব রয়েছে যা চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি, ফলে তা শব্দের প্রাঞ্জলতাকে ক্ষুণ্ণ করে। কিন্তু কোনো দীর্ঘ বক্তব্য যদি এমন কোনো শব্দ ধারণ করে যা প্রাঞ্জল নয়, তবে তা প্রাঞ্জলতার গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায় না, যেমন কোনো দীর্ঘ বক্তব্য যদি কোনো অনারব শব্দ ধারণ করে তবে সেটি আরবি হওয়া থেকে বের হয়ে যায় না। জাওজানির এই মতকে নিম্নোক্ত বিষয়াদির মাধ্যমে খণ্ডন করা হয়েছে:

১. বাক্যের প্রাঞ্জলতার সংজ্ঞায় শব্দের প্রাঞ্জলতাকে গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত বাক্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি।

২. জাওজানি মনে করেন যে, বাক্য (কালাম) তা-ই যা একক শব্দ নয়; সেক্ষেত্রে একটি প্রাঞ্জল বাক্যের মধ্যে অ-প্রাঞ্জল শব্দের অস্তিত্বের কথা বলা অন্যের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ঐ কথার চেয়েও বেশি ত্রুটিপূর্ণ। সুতরাং জাওজানির বক্তব্য অনুযায়ী এই ত্রুটি পূর্ণ যৌগিক বাক্য এবং অপূর্ণ যৌগিক বাক্য উভয়ের ক্ষেত্রেই আবশ্যক হবে যখন তারা কোনো অ-প্রাঞ্জল শব্দ ধারণ করবে। তবে জাওজানি ব্যতীত অন্যদের মতে—যিনি হলেন ব্যাখ্যাকার 'সাদ'—এই ত্রুটি কেবল পূর্ণ যৌগিক বাক্যের ক্ষেত্রেই হয়; কারণ তিনি অপূর্ণ যৌগিক বাক্যকে একক শব্দের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করেন।

৩. তাছাড়া আরবি বাক্যের ওপর এই তুলনা বা কিয়াস করা সুস্পষ্টভাবে ভুল; কারণ কুরআন তার সামগ্রিক বিচারে অথবা অধিকাংশের বিচারে আরবি। অধিকন্তু, কোনো বক্তব্যের আরবি হওয়ার জন্য তার প্রতিটি শব্দের আরবি হওয়া শর্ত করা হয়নি।

৪. যদি এটি মেনেও নেওয়া হয় যে, কোনো একটি সূরা একটি অ-প্রাঞ্জল শব্দ ধারণ করা সত্ত্বেও প্রাঞ্জলতার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যায় না, তবুও কুরআনে অ-প্রাঞ্জল বাক্য থাকা, বরং একটি অ-প্রাঞ্জল শব্দ থাকাই এমন বিষয় যা আল্লাহর দিকে অজ্ঞতা বা অক্ষমতা সম্বন্ধ করার দিকে পরিচালিত করে।

২ এটি মরুভূমির গাছগুলোর মধ্যে একটি গাছের নাম, এবং শব্দটি অনেকভাবে উচ্চারিত হয়। বলা হয়ে থাকে যে, এটি একটি দুর্বোধ্য শব্দ যার ভাষায় কোনো মূল ভিত্তি নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ومنه ما هو دون ذلك كلفظ مستشزر في قول امرئ القيس:

غدائره مستشزرات إلى العلا … تضل العقاص في مثنى ومرسل1

والغرابة:

أن تكون الكلمة وحشية لا يظهر معناها، فيحتاج في معرفته

--------------------------------------------

1 من معلقة امرئ القيس أمام الشعراء الجاهليين التي مطلعها:

قفا نبك من ذكرى حبيب ومنزل … بسقط اللوى بن الدخول فحومل

وقبل هذا البيت:

وفرع يزين المتن أسود فاحم … أثيث كقنو النخلة المتعثكل

الفرع: الشعر التام. المتن: ظهر المرأة. أثيث: كثير. قنو النخلة: عنقودها. المتعكثل: المتراكم. الغدائر: الذوائب، جمع غديرة. والضمير فيها عائد إلى الفرع في البيت الأول. مستشزرات أي مرتفعات إن كان بكسر الزاي على لفظ اسم الفاعل، أو مرفوعات إن روي بالفتح على لفظ اسم المفعول، استشزره أي رفعه متعديًا، واستشزر أي ارتفع لازمًا. تضل: تغيب وتختفي. العقاص: جمع عقيصة وهي الخصلة المجموعة من الشعر. المثنى: المفتول. المرسل: خلاف المثنى.

والمعنى: أن ذوائبه مشدودة على الرأس وأن شعره مقسم إلى عقاص ومثنى ومرسل والأول يغيب في الأخيرين. والمراد وصف الشعر بالكثافة والكثرة والطول.. والشاهد هنا قوله مستشزرات فهو لفظ متنافر ثقيل على اللسان، ولكنه أقل ثقلًا من "الهعخع".. وقال الخلخالي: أن سبب الثقل في مستشزرات راجع إلى توسط الشين التي هي من الحروف المهموسة "وهي عشرة يجمعها قولهم: سكت فحثه شخص. وما عداها فحروف مجهورة" الرخوة "وهي ما عدا الحروف الشديدة التي يجمعها قولهم: أجد قط بكت، وما عدا الحروف المتوسطة التي يجمعها قولهم: لن عمر"، بين التاء التي هي من المهموسة الشديدة وبين الزاي التي من المجهورة الرخوة، ولو قال: مستشرف لزال الثقل.

ورد رأي الخلخالي بأن الراء المهملة أيضًا هي من الحروف المجهورة.. ومن الألفاظ المتنافرة: أطلخم بمعنى اشتد، ومثعنجر: للسائل من الماء أو الدمع.
আর এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা তার চেয়ে কিছুটা কম (ভারী), যেমন ইমরুল কায়সের কাব্যে 'মুস্তাশযিরাত' শব্দটি:

তার চুলের বেণীগুলো উপরের দিকে উঁচুকৃত … চুলের পাকানো ও খোলা গোছাগুলোর মাঝে বেণীগুলো হারিয়ে যায়।

আর অস্পষ্টতা (গারাবাত):

শব্দটি এমন অপরিচিত হওয়া যার অর্থ স্পষ্ট নয়, ফলে তার অর্থ বোঝার জন্য প্রয়োজন হয়

--------------------------------------------

১. এটি জাহেলী যুগের কবিদের অগ্রগামী ইমরুল কায়সের 'মুআল্লাকা' কাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে, যার শুরু হলো:

থামো, আমরা প্রিয়ার স্মৃতি ও তার বাসস্থানের জন্য কাঁদি … যা দাকুল ও হাওমালের মধ্যবর্তী বালুকাময় প্রান্তরে অবস্থিত।

আর আলোচিত পঙক্তিটির আগের পঙক্তি হলো:

আর এমন এক গুচ্ছ চুল যা পিঠকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে, তা কুচকুচে কালো, আর ঘন স্তূপীকৃত খেজুরের ছড়ার মতো নিবিড়।

'ফারউন' মানে পূর্ণ চুল। 'মাতন' মানে মহিলার পিঠ। 'আসীস' মানে ঘন। 'কিনউ নাখলা' মানে খেজুরের ছড়া। 'মুতাআসকিল' মানে স্তূপীকৃত। 'গাদায়ের' হলো বেণী, যা 'গাদীরা' শব্দের বহুবচন। আর এতে থাকা সর্বনামটি প্রথম পঙক্তির 'ফারউন' শব্দের দিকে ফিরেছে। 'মুস্তাশযিরাত' অর্থ উন্নত বা উঁচুকৃত, যদি 'যায়' অক্ষরে কাসরা (জের) দিয়ে 'ইসমে ফায়েল' হিসেবে পড়া হয়; অথবা উত্তোলিত, যদি ফাতহা (যবর) দিয়ে 'ইসমে মাফউল' হিসেবে পড়া হয়। 'ইস্তাশযাহু' অর্থ সেটিকে উঁচু করেছে (সকর্মক), আর 'ইস্তাশযারা' অর্থ সে উঁচু হয়েছে (অকর্মক)। 'তাদিল্লু' অর্থ হারিয়ে যাওয়া বা অদৃশ্য হওয়া। 'উকাস' হলো 'আকীসা' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ চুলের একত্রিত করা গোছা। 'মুসান্না' মানে পাকানো চুল। 'মুরসাল' হলো 'মুসান্না'-র বিপরীত (অর্থাৎ খোলা চুল)।

ভাবার্থ: তার বেণীগুলো মাথার ওপর শক্ত করে বাঁধা এবং তার চুলগুলো কয়েকটি ভাগে বিভক্ত—কিছু গোছানো, কিছু পাকানো এবং কিছু খোলা; আর প্রথমটি শেষ দুটির মধ্যে হারিয়ে যায়। এখানে চুলের ঘনত্ব, আধিক্য এবং দৈর্ঘ্য বর্ণনা করা উদ্দেশ্য। আর এখানে উপজীব্য হলো 'মুস্তাশযিরাত' শব্দটি, যা একটি শ্রুতিকটু এবং জিহ্বার জন্য ভারী শব্দ, তবে এটি 'আল-হু'খু' শব্দের চেয়ে কম ভারী। খালখালি বলেন: 'মুস্তাশযিরাত' শব্দে ভারী হওয়ার কারণ হলো 'শীন' বর্ণটির অবস্থান, যা একটি 'হামস' (ফিসফিস ধ্বনি) বিশিষ্ট বর্ণ [আর এগুলো ১০টি যা 'সাকাতা ফাহাছছাহু শাখসুন' বাক্যে একত্রিত] এবং 'রিখওয়া' (শিথিল ধ্বনি) বিশিষ্ট বর্ণ [যা 'আজিদ কাতিব বকাত' বাক্যের তীব্র বর্ণগুলো এবং 'লিন উমার' বাক্যের মধ্যম বর্ণগুলো বাদে বাকি সব]। এই 'শীন' বর্ণটি 'তা' (যা তীব্র হামস বর্ণ) এবং 'যায়' (যা উচ্চস্বর বিশিষ্ট শিথিল বর্ণ)-এর মাঝে আসার কারণে এই ভারী ভাব তৈরি হয়েছে। তিনি যদি 'মুস্তাশরিফ' বলতেন তবে এই ভারী ভাব দূর হয়ে যেত।

খালখালির এই মতটি এই বলে খণ্ডন করা হয়েছে যে, নুক্তাবিহীন 'রা' বর্ণটিও উচ্চস্বর বিশিষ্ট বর্ণ। এছাড়া অন্যান্য শ্রুতিকটু শব্দের মধ্যে রয়েছে: 'ইতলাখাম্মা' যার অর্থ তীব্র হওয়া, এবং 'মুসআনজির' যা প্রবহমান পানি বা চোখের জলের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
إلى أن ينقر1 عنها في كتب اللغة المبسوطة، كما روي عن عيسي بن عمر2 النحوي أنه سقط عن حماره، فاجتمع عليه الناس، فقال: ما لكم تكأكأتم علي تكأكؤكم على ذي جنة افرنقعوا عني، أي اجتمعتم تنحوا.

أو يخرج لها وجه بعيد3 كما في قول العجاج4:

ومقلة وحاجبًا مزججا … وفاحما ومرسنا مسرجا

--------------------------------------------

1- ينقر: أن ينقش. والكلمة الوحشية هي التي لا تكون مأنوسة الاستعمال عند العرب الخلص من سكان البادية، لا بالنسبة للمولدين.

2- عالم جليل من ثقيف ومن أئمة النحو واللغة ومن المتقعرين في كلامهم توفي عام 150هـ، وتروى هذه القصة عن أبي علقمة النحوي حين هاجت به مرة ببعض طرق البصرة فوثب عليه قوم يعضون إبهامه ويؤذنون في أذنه، وكان أبو علقمة نحويًّا مغربًا في ألفاظه.

وقوله: ذي جنة، أي صاحب جنون.

3- سبب هذا التخريج هو عدم ظهور معنى الكلمة، وسبب التقبيس والتنقير عن الكلمة في المعاجم هو وحشيتها.

وما يحتاج إلى تخريج يعده بعض البلاغيين من التعقيد، والبعض يجعله خطأ، وكلا الوجهين غير صحيح؛ لأن الوارد من هذا الباب إنما مورد من عربي موثوق بعربيته فلا يعد خطأ، كما أن هنا فرقا بين هذا الباب وبين التعقيد؛ لأن التعقيد فيه خطأ ناشئ، عن عدم ظهور الدلالة على المراد. وهنا لا خطأ ولا خفاء في الدلالة فلا تعقيد.

4- شاعر راجز مشهور أدرك الدولة الأموية. والبيت من أرجوزة العجاج "ما هاج أحزانًا وشجوًا قد شجا". وفي أسرار البلاغة ص48 ذكره عبد القاهر مع الاستعارات القبيحة "في قوله: ومرسنا".. المقلة: العين. مزججا: مدققًا مطولًا. فاحما: أي شعرًا أسود كالفحم. المرسن: الأنف … والشاهد في البيت في قوله مسرجًا فإنه غير ظاهر المعنى. إذ أن العلماء قد اختلفوا في معناه. والحاصل أن مسرجًا اسم مفعول مشتق فلا بد له من أصل يرجع إليه فقيل هو:

1 فعل "بالتشديد" للنسبة مثل كرمته أي نسبته للكرم.

ولما لم يوجد التسريج الذي حق النسبة أن تكون إليه جعلنا مسرجًا منسوبًا للسرج أو للسريجي نسبة تشبيهية أي هو منسوب لهما من حيث أنه شبيه بهما. ووجه بعد هذا التخريج أن مجرد النسبة لا يدل على التشبيه.

2 وقيل أنه من فعل بتشديد العين بمعنى صيرورة فاعله كأصله مثل قوس الرجل أي صار كالقوس، فمسرج أي صائر كالسراج أو كالسريجي.. وهذا مردود بأن سرج على هذا لازم فلا يصاغ منه اسم مفعول.

3 وقيل أنه من فعل بمعنى صيرورة فاعله أصله أو صيرورته ذا أصله مثل عجزت المرأة أي صارت عجوزًا وورق الشجر صار ذا ورق، فمسرج أي صار سراجًا أو سريجًا أي مثل أحدهما أو صار ذا سراج وهذا مردود بما يرد به الوجه السابق.

4 وقيل هو اسم مفعول من سرج الله وجهه أي نوره وبهجه، فمعنى مسرج: منور، فليس فيه نسبة تشبيهية، وهذا وإن لم يكن غريبًا من حيث عدم احتياجه لتخريج بعيد، لكنه بعيد من حيث أنه يحتاج إلى تفتيش عليه في كتب اللغة المبسوطة.
যতক্ষণ না বিশাল অভিধান গ্রন্থগুলোতে সেগুলো অনুসন্ধান করা হয়, যেমনটি বৈয়াকরণ ঈসা বিন উমর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর গাধা থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। তখন লোকজন তাঁর চারপাশে ভিড় জমালে তিনি বললেন: "তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা আমার চারপাশে এভাবে ভিড় করেছো যেভাবে তোমরা কোনো উন্মাদের চারপাশে ভিড় করো? তোমরা আমার কাছ থেকে সরে যাও।" অর্থাৎ তোমরা জমায়েত হয়েছিলে, এখন সরে যাও।

অথবা তার জন্য কোনো দূরবর্তী অর্থ বের করা হয়, যেমনটি আল-আজজাজের উক্তিতে পাওয়া যায়:

এবং একটি চোখ ও একটি ধনুকাকৃতি ভ্রু … আর কুচকুচে কালো চুল ও প্রদীপ্ত নাসিকা।

--------------------------------------------

১- ইয়ানকুর: অর্থাৎ অনুসন্ধান করা বা খোদাই করা। আর 'ওয়াহশিয়া' (অপরিচিত) শব্দ হলো সেই শব্দ যা খাঁটি মরুবাসী আরবদের কাছে ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিচিত নয়, আধুনিকদের কথা তো বলাই বাহুল্য।

২- সাকীফ গোত্রের একজন মহান আলিম এবং নাহু ও লুগাত শাস্ত্রের অন্যতম ইমাম। তিনি তাঁর কথাবার্তায় কঠিন ও অপ্রচলিত শব্দ ব্যবহারের জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। এই গল্পটি আবু আলকামা নাহবী সম্পর্কেও বর্ণিত হয় যে, একবার বসরার কোনো এক পথে তাঁর মৃগীরোগ দেখা দিলে একদল লোক তাঁর কাছে এসে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি কামড়াতে থাকে এবং তাঁর কানে আযান দিতে থাকে। আবু আলকামা ছিলেন তাঁর শব্দচয়নে অত্যন্ত অপরিচিত ও কঠিন শব্দ ব্যবহারকারী বৈয়াকরণ।

আর তাঁর উক্তি: "যি জান্নাহ" অর্থাৎ পাগল বা উন্মাদ।

৩- এই ধরনের ব্যাখ্যার কারণ হলো শব্দের অর্থ স্পষ্ট না হওয়া। আর অভিধানে শব্দের অর্থ তন্ন তন্ন করে খোঁজা বা অনুসন্ধানের কারণ হলো শব্দটির অপরিচিত বা ভীতিকর (ওয়াহশিয়া) রূপ।

আর যে শব্দের ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়, কোনো কোনো আলংকারিক তাকে 'তাকঈদ' (জটিলতা) হিসেবে গণ্য করেন, আবার কেউ কেউ একে ভুল মনে করেন। তবে উভয় মতই সঠিক নয়; কারণ এই পরিচ্ছেদে যা বর্ণিত হয়েছে তা এমন আরবদের থেকে বর্ণিত যাদের আরবি ভাষা নির্ভরযোগ্য, তাই একে ভুল বলা যাবে না। তেমনিভাবে এই পরিচ্ছেদ এবং 'তাকঈদ' বা জটিলতার মাঝে পার্থক্য রয়েছে; কারণ 'তাকঈদ'-এ অর্থ স্পষ্ট না হওয়ার কারণে একটি ত্রুটি সৃষ্টি হয়। কিন্তু এখানে অর্থের বর্ণনায় কোনো ভুল বা অস্পষ্টতা নেই, তাই এটি 'তাকঈদ' নয়।

৪- একজন বিখ্যাত রাজায কবি যিনি উমাইয়া খেলাফতের সময়কাল পেয়েছেন। কবিতাটি আল-আজজাজের রাজায কাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে। আব্দুল কাহির জুরজানি 'আসরারুল বালাগাহ' (পৃষ্ঠা ৪৮)-এ 'মুসাররাজ' শব্দটিকে কুরুচিপূর্ণ রূপকের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 'মুকলাহ' অর্থ চোখ। 'মুযাজ্জাজ' অর্থ সূক্ষ্ম ও দীর্ঘ। 'ফাহিম' অর্থ কয়লার মতো কালো চুল। 'মারসান' অর্থ নাক... এই চরণে সাক্ষ্য বা মূল আলোচ্য বিষয় হলো 'মুসাররাজ' শব্দটি, কারণ এর অর্থ স্পষ্ট নয়। কেননা উলামাগণ এর অর্থের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। সারকথা হলো 'মুসাররাজ' একটি কর্মবাচক বিশেষ্য (ইসমে মাফউল) যা কোনো মূল ধাতু থেকে গঠিত, তাই একে অবশ্যই কোনো মূলে ফিরিয়ে নিতে হবে। বলা হয়েছে এটি:

১- 'তাশদীদ' যুক্ত ক্রিয়া থেকে সম্বন্ধের জন্য এসেছে, যেমন ‘কাররামতুহু’ অর্থাৎ আমি তাকে সম্মানের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছি।

যেহেতু এমন কোনো 'তাসরীজ' পাওয়া যায়নি যার দিকে সম্বন্ধ করা সঠিক হয়, তাই আমরা 'মুসাররাজ' শব্দটিকে 'সারজ' (প্রদীপ) অথবা 'সারীজী' (এক প্রকার উন্নত তলোয়ার)-এর সাথে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সম্বন্ধযুক্ত করেছি। অর্থাৎ এটি এই দুইটির সাথে সম্বন্ধযুক্ত এই দিক থেকে যে এটি তাদের সদৃশ। এই ব্যাখ্যার দূরবর্তিতার কারণ হলো, কেবল সম্বন্ধ করা সাদৃশ্য বোঝায় না।

২- বলা হয়েছে যে, এটি 'আইন' বর্ণে তাশদীদ যুক্ত এমন ক্রিয়া থেকে এসেছে যা কর্তাকে তার মূলের ন্যায় করে দেয়, যেমন 'ক্বাউসা আর-রাজুল' অর্থাৎ লোকটি ধনুকের মতো হয়ে গেল। সুতরাং 'মুসাররাজ' অর্থ যে প্রদীপের মতো বা সারীজীর মতো হয়ে গেছে। এটি প্রত্যাখ্যাত এই কারণে যে, এই অর্থে 'সারাজা' ক্রিয়াটি অকর্মক, তাই এটি থেকে কর্মবাচক বিশেষ্য (ইসমে মাফউল) গঠন করা যায় না।

৩- বলা হয়েছে যে, এটি এমন ক্রিয়া থেকে এসেছে যার অর্থ হলো কর্তাকে তার মূলে পরিণত করা অথবা কর্তাকে মূলের অধিকারী করা। যেমন 'আজাঝাতিল মারআহ' অর্থাৎ মহিলাটি বৃদ্ধায় পরিণত হলো এবং 'ওয়ারাক্বাশ শাজার' অর্থাৎ গাছটি পাতাবিশিষ্ট হলো। সুতরাং 'মুসাররাজ' অর্থ প্রদীপে বা সারীজীতে পরিণত হওয়া, অর্থাৎ তাদের কোনো একটির মতো হওয়া অথবা প্রদীপবিশিষ্ট হওয়া। পূর্ববর্তী কারণের ভিত্তিতে এটিও প্রত্যাখ্যাত।

৪- বলা হয়েছে এটি 'সারাজাল্লাহু ওয়াজহাহু' (আল্লাহ তার মুখমণ্ডলকে উজ্জ্বল করেছেন) থেকে কর্মবাচক বিশেষ্য, অর্থাৎ তার মুখমণ্ডলকে নূরানী ও উজ্জ্বল করেছেন। সুতরাং 'মুসাররাজ' শব্দের অর্থ হলো 'উজ্জ্বল'। এতে কোনো সাদৃশ্যমূলক সম্বন্ধ নেই। যদিও এটি দূরবর্তী ব্যাখ্যার প্রয়োজনাভাবের দিক থেকে অপরিচিত নয়, কিন্তু এটি এই দিক থেকে দূরবর্তী যে এর জন্য বিশাল ভাষাগ্রন্থগুলোতে ব্যাপক অনুসন্ধানের প্রয়োজন হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
فإنه لم يعرف ما أراد بقوله "مسرجًا"، حتى اختلف في تخريجه: فقيل هو من قولهم للسيوف: سريجية، أي منسوبة إلى قين1 يقال له "سريج"، يريد أنه في الاستواء والدقة كالسيف السريجي، وقيل: من السراج، يريد أنه في البريق كالسراج2. وهذا يقرب من قولهم: سرج وجهه أي حسن، وسرج الله وجهه أي بهجه وحسنه3.

--------------------------------------------

1 القين: الحداد.

2 هذان التخريجان هما حاصل الوجه الأول الذي سبق ذكره والذي سبق بيان ما عليه من رد.

3 أي أن الوجه المذكور قريب من هذا الوجه الثاني في أن كلا منهما غريب والكلمة عليهما غير ظاهرة المعنى، وهذا التخريج الثاني هو الوجه الرابع الذي سبق ذكره، ورد بأنه يحتاج إلى تفتيش على معناه فهو غريب. وقال الإمام المرزوقي: أن مسرجًا لفظ مستحدث من السراج أي أنه لفظ أحدثه المولدون وأخذوه من السراج واستعملوه بمعنى حسن ولم يكن ذلك اللفظ واقعًا في لغة العرب أصلًا، ويرد عليه أن العجاج قبل عصر التوليد والاستحداث.

ووجه القرب بين الوجهين المذكورين أن مسرجًا عليهما مشتق من سرج، لكن على الوجه الأول مشتق منه للنسبة التشبيهية، وعلى الوجه الثاني مشتق منه اشتقاقًا لغويًّا لا على إفادة النسبة التشبيهية.
কেননা তিনি "মুসাররাজান" শব্দটির দ্বারা কী বুঝাতে চেয়েছেন তা জানা যায়নি, এমনকি এর ব্যুৎপত্তিগত বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও মতভেদ হয়েছে: বলা হয়েছে যে, এটি তলোয়ারের ক্ষেত্রে তাদের ব্যবহৃত "সুরাইজিয়্যাহ" শব্দ থেকে এসেছে, অর্থাৎ "সুরাইজ" নামক জনৈক কামারের১ দিকে এটি সম্বন্ধযুক্ত; তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, এটি সমতা ও সূক্ষ্মতায় সুরাইজি তলোয়ারের মতো। আবার বলা হয়েছে: এটি "সিরাজ" (প্রদীপ) থেকে এসেছে; তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে এটি উজ্জ্বলতায় প্রদীপের মতো।২ আর এটি তাদের এই কথার নিকটবর্তী যে: "তার চেহারা সুন্দর হয়েছে", এবং "আল্লাহ তার চেহারাকে উজ্জ্বল ও সুন্দর করেছেন"।৩

--------------------------------------------

১ আল-কাইন: কামার বা কর্মকার।

২ এই দুটি বিশ্লেষণ হলো পূর্বে উল্লিখিত প্রথম পন্থার সারসংক্ষেপ এবং যার খণ্ডন ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

৩ অর্থাৎ উল্লিখিত বিষয়টি এই দ্বিতীয় বিষয়ের নিকটবর্তী এই দিক থেকে যে, উভয়েই বিরল এবং এগুলোতে শব্দটির অর্থ স্পষ্ট নয়। এই দ্বিতীয় বিশ্লেষণটি হলো পূর্বে উল্লিখিত চতুর্থ দিক, এবং এটি এই বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে যে এর অর্থের জন্য অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে, তাই এটি বিরল। ইমাম মারজুকি বলেছেন: "মুসাররাজান" শব্দটি "সিরাজ" থেকে গৃহীত একটি নতুন শব্দ, অর্থাৎ এটি পরবর্তী যুগের লোকদের উদ্ভাবিত শব্দ যা তারা "সিরাজ" থেকে গ্রহণ করেছে এবং "সুন্দর" অর্থে ব্যবহার করেছে, অথচ মূল আরবি ভাষায় এই শব্দটি আদতে বিদ্যমান ছিল না। এর বিপক্ষে যুক্তি হলো, কবি আল-আজজাজ এই নবসৃষ্টির যুগের পূর্বের মানুষ ছিলেন। আর উল্লিখিত দুই পন্থার মধ্যে সাদৃশ্যের কারণ হলো যে, উভয় ক্ষেত্রে "মুসাররাজান" শব্দটি "সারাজা" থেকে ব্যুৎপন্ন, তবে প্রথম পন্থায় এটি রূপক তুলনার জন্য এবং দ্বিতীয় পন্থায় এটি নিছক ভাষাগতভাবে ব্যুৎপন্ন হয়েছে, রূপক তুলনার অর্থ প্রদানের জন্য নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ومخالفة القياس1:

كما في قول الشاعر2:

الحمد لله العلي الأجلل … "أنت مليك الناس ربا فاقبل"

قإن القياس الأجل بالإدغام.

وقيل هي:3 خلوصه مما ذكر4، ومن الكراهة في السمع5

--------------------------------------------

1 هو أن تكون الكلمة على خلاف قانون مفردات الألفاظ الموضوعة، أعني على خلاف ما ثبت عن الواضع، فالموافقة للقياس أن تكون الكلمة على وفق ما ثبت عن الواضع سواء وافقت القانون التصريفي أم خالفته ولكن ثبتت عن الواضع كذلك، والمخالفة أن تكون الكلمة على خلاف ما ثبت عن الواضع سواء خالفت القانون الصرفي أيضًا أم لا، فنحو آل وماء وأبي يأبي وعور يعور فصيح؛ لأنه ثبت عن الواضع كذلك.

2 هو أبو النجم الراجز المشهور. وهذا الشاهد في الكتاب لسيبويه صحيفة 302 من الجزء الثاني وروايته فيه هكذا: الحمد لله الوهوب المجزل.

ومثل البيت قول الشاعر:

مهلًا أعاذل قد جربت من خلقي … أني أجود لأقوام وإن ضننوا

3 أي فصاحة المفرد.

4 أي من التنافر والغرابة ومخالفة القياس.

5 وهذا القول لابن الأثير في "المثل السائر". قال: الألفاظ داخلة في حيز الأصوات، فما استلذه السمع منها فهو الحسن، وما استكرهه فهو القبيح "راجع ص58 المثل السائر"، وهو رأي أشار إليه ابن سنان الخفاجي في سر الفصاحة ص61.
এবং নিয়মের (কিয়াস) পরিপন্থী হওয়া১:

যেমন কবির উক্তিতে২:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সুউচ্চ ও মহিমান্বিত … আপনি মানুষের মালিক ও প্রতিপালক, সুতরাং কবুল করুন।

কেননা নিয়ম অনুযায়ী শব্দটি ইদগামসহ ‘আল-আজাল্লু’ হওয়ার কথা ছিল।

আর বলা হয়েছে যে, এটি হলো:৩ উল্লেখিত বিষয়সমূহ৪ এবং শ্রবণে অপ্রীতিকর হওয়া৫ থেকে মুক্ত থাকা।

--------------------------------------------

১. এটি হলো শব্দটি নির্ধারিত শব্দগঠন প্রক্রিয়ার নিয়মের পরিপন্থী হওয়া, অর্থাৎ ভাষা প্রবর্তকের পক্ষ থেকে যা সাব্যস্ত হয়েছে তার বিপরীত হওয়া। কিয়াসের অনুকূলে হওয়া বলতে বোঝায় শব্দটি ভাষা প্রবর্তকের নিকট থেকে যেভাবে সাব্যস্ত হয়েছে তার অনুরূপ হওয়া, চাই তা রূপান্তরের নিয়মের অনুকূলে হোক বা পরিপন্থী হোক কিন্তু ভাষা প্রবর্তকের নিকট থেকে এভাবেই সাব্যস্ত হয়েছে। আর পরিপন্থী হওয়া মানে হলো শব্দটি ভাষা প্রবর্তকের নিকট থেকে সাব্যস্ত রূপের বিপরীত হওয়া, চাই তা রূপান্তরের নিয়মেরও পরিপন্থী হোক বা না হোক। যেমন: পরিবার, পানি, অস্বীকার করা এবং একচক্ষু বিশিষ্ট হওয়া শব্দগুলো বিশুদ্ধ; কারণ এগুলো ভাষা প্রবর্তকের নিকট থেকে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

২. তিনি হলেন প্রসিদ্ধ রাজয কাব্য রচয়িতা আবু আন-নাজম। এই উদাহরণটি সিবওয়াইহ-এর কিতাবের দ্বিতীয় খণ্ডের ৩০২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে এবং সেখানে এর পাঠ নিম্নরূপ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মহা দাতা ও মহানুভব।

এই কবিতার অনুরূপ অন্য এক কবির উক্তি:

থামো হে তিরস্কারকারী! তুমি তো আমার স্বভাব সম্পর্কে জেনেছ যে, আমি মানুষের প্রতি দানশীলতা প্রদর্শন করি, যদিও তারা কৃপণতা করে।

৩. অর্থাৎ একবচনের বিশুদ্ধতা।

৪. অর্থাৎ শ্রুতিকটুতা, দুর্বোধ্যতা এবং নিয়মের পরিপন্থী হওয়া থেকে মুক্ত হওয়া।

৫. এটি ইবনুল আসিরের ‘আল-মাসালুস সাঈর’ গ্রন্থের উক্তি। তিনি বলেছেন: শব্দসমূহ ধ্বনির অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং শ্রবণেন্দ্রিয় যা উপভোগ করে তা-ই সুন্দর, আর যা অপছন্দ করে তা-ই কদর্য (দেখুন: আল-মাসালুস সাঈর, পৃষ্ঠা: ৫৮)। এটি এমন একটি অভিমত যার প্রতি ইবনে সিনান আল-খাফাজি ‘সিররুল ফাসাহাহ’ (পৃষ্ঠা: ৬১) গ্রন্থে ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
بأن تمج الكلمة ويتبرأ من سماعها كما يتبرأ من سماع الأصوات المنكرة. فإن اللفظ من قبيل الأصوات، والأصوات منها ما تستلذ النفس سماعه ومنها ما تكره سماعه، كلفظ الجرشي في قول أبي الطيب:

"مبارك الاسم أغر اللقب" … كريم الجرشي شريف النسب1

أي كريم النفس، وفيه2 نظر.

ثم علامة كون الكلمة فصيحة، أن يكون استعمال العرب الموثوق بعربيتهم لها كثيرًا، أو أكثر من استعمالهم ما بمعناها3.

--------------------------------------------

1- من قصيدة يمدح بها المتنبي سيف الدولة.. الأغر من الخيل: الأبيض الجبهة، ثم استعير لكل واضح. الجرشي: النفس. والمعنى أن اسم سيف الدولة علي وهو اسم جميل ميمون ولقبه لقب واضح مشهور، وهو كر يم النفس عظيم الحسب، شريف النسب.. والشاهد الجرشي فإنها لفظ غير فصيح، لكراهته في السمع كما يقول هذا القائل، أو لغرابته على رأي من عداه من البلاغيين والبيت في ص62 من سر الفصاحة.

2- أي في هذا القول وهو أن تكون كراهة الكلمة في السمع سببًا لعدم فصاحتها.. ووجه النظر كما قالوا هو ما يأتي:

1 أن الكراهة في السمع إنما هي من جهة الغرابة المفسرة بالوحشية مثل تكأكأتم، وافرنقعوا، ونحو ذلك.

2 وأن الكراهة في السمع وعدمها يرجعان إلى عدم طيب النغم أو إلى طيبه لا إلى نفس اللفظ. ويمكن رد هذا الوجه الثاني بالقطع باستكراه الجرشي دون "النفس" مع قطع النظر عن النغم.

3- هذا منقول عن السكاكي "ص176 من المفتاح". وخلاصته: أن فصاحة الكلمة تعرف بأحد أمرين:

1 أن تكون هذه الكلمة كثيرة الاستعمال عند العرب الموثوق بعربيتهم: إذا لم يكن لها مرادف.

2 أو أن تكون هذه الكلمة أكثر استعمالًا عندهم من الكلمات الأخرى المرادفة لها المشتركة معها في المعنى وهذا فيما إذا كان للكلمة مرادف.
যাতে শব্দটি শ্রুতিটু কটু হয় এবং তা শোনা থেকে মানুষ বিমুখ থাকে, যেমনটা মানুষ অপ্রীতিকর শব্দ শোনা থেকে বিমুখ থাকে। কারণ শব্দ হচ্ছে এক প্রকার ধ্বনি, আর ধ্বনির মধ্যে এমন কিছু আছে যা শুনতে আত্মা আনন্দ পায় এবং এমন কিছু আছে যা শুনতে সে অপছন্দ করে, যেমন আবু তায়্যিবের উক্তিতে 'জুরাশি' শব্দটি:

"বরকতময় নাম, উজ্জ্বল উপাধি" … উদার আত্মা, মহান আভিজাত্য১

অর্থাৎ উদার আত্মা, আর এতে আপত্তি২ রয়েছে।

অতঃপর শব্দ প্রাঞ্জল হওয়ার আলামত হলো, যাদের আরব্য ভাষার ওপর আস্থা রাখা যায় এমন আরবদের মাঝে এর ব্যবহার প্রচুর হওয়া, অথবা তাদের নিকট এর সমার্থবোধক শব্দের ব্যবহারের চেয়ে এর ব্যবহার অধিক হওয়া৩।

--------------------------------------------

১- মুতানাব্বি সাইফুদ দাওলাহর প্রশংসা করে রচিত একটি কাসিদা থেকে। ঘোড়ার ক্ষেত্রে 'আগার' অর্থ যার কপাল সাদা, এরপর তা স্পষ্ট বা প্রকাশ্য সবকিছুর জন্য রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। 'জুরাশি' অর্থ আত্মা। অর্থ হলো: সাইফুদ দাওলাহর নাম হলো আলী, যা একটি সুন্দর ও বরকতময় নাম এবং তার উপাধি স্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ, আর তিনি উদার আত্মা ও মহান বংশীয় মর্যাদার অধিকারী, সম্মানিত বংশের... এখানে উদ্ধৃতিযোগ্য হলো 'জুরাশি' শব্দটি, কারণ এটি একটি অপ্রাঞ্জল শব্দ। কেননা এটি শুনতে শ্রুতিকটু যেমনটি এই প্রবক্তা বলছেন, অথবা এটি অন্য আলঙ্কারিকদের মতে এটি শব্দটির অপরিচিত বা দুর্বোধ্য হওয়ার কারণে। আর এই পঙক্তিটি 'সিররুল ফাসাহাহ' গ্রন্থের ৬২ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

২- অর্থাৎ এই বক্তব্যে, যে শব্দটি শুনতে অপ্রীতিকর হওয়া তার প্রাঞ্জলতা না থাকার কারণ... আপত্তির দিকটি হলো যেমন তারা বলেছেন:

১. শ্রুতিকটু হওয়া কেবল শব্দ অপরিচিত বা দুর্বোধ্য হওয়ার দিক থেকে হয় যেমন তাকা’কা’তুম, ইফরানকা’উ এবং এই জাতীয় শব্দ।

২. শ্রবণ কটু হওয়া বা না হওয়া সুরের মাধুর্য থাকা বা না থাকার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, শব্দের মূল সত্তার সাথে নয়। তবে এই দ্বিতীয় বিষয়টি এভাবে খণ্ডন করা যায় যে, সুরের কথা বিবেচনা না করলেও 'জুরাশি' শব্দটির প্রতি মানুষের অনীহা 'নাফস' শব্দের চেয়ে নিশ্চিতভাবেই বেশি।

৩- এটি সাক্কাকি-এর 'মিফতাহুল উলুম' (পৃষ্ঠা ১৭৬) থেকে সংগৃহীত। এর সারকথা হলো: শব্দের প্রাঞ্জলতা দুটি বিষয়ের মাধ্যমে চেনা যায়:

১. যাদের আরব্য ভাষার ওপর আস্থা রাখা যায় এমন আরবদের মাঝে এই শব্দটির ব্যবহার প্রচুর হওয়া—যদি শব্দটির কোনো সমার্থক শব্দ না থাকে।

২. অথবা যাদের মাঝে এই শব্দের ব্যবহার সমার্থবোধক অন্য শব্দের ব্যবহারের চেয়ে অধিক হওয়া—যদি শব্দটির সমার্থক শব্দ থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وأما فصاحة الكلام:

فهي خلوصه من ضعف التأليف وتنافر الكلمات والتعقيد، مع فصاحتها.

فالضعف1:

كما في قولنا ضرب غلامه زيدًا، فإن رجوع الضمير إلى المفعول المتأخر لفظًا ممتنع عند الجمهور، لئلا يلزم رجوعه إلى ما هو متأخر لفظًا ورتبة.

--------------------------------------------

1 هو أن يكون تأليف الكلام على خلاف القانون النحوي المشهور بين الجمهور كالإضمار قبل الذكر لفظًا ومعنى وحكمًا، نحو ضرب غلامه زيدًا، فلو تقدم المرجع على الضمير لفظًا "بأن يتقدم عليه لفظًا ورتبة مثل ضرب زيد غلامه أو لفظًا فقط مثل ضرب زيدًا غلامه"، أو تقدم معنى بأن يتقدم المرجع على الضمير لفظًا لكن هناك ما يدل على تقدمه معنى، كالفعل المتقدم الدال على المرجع تضمنا نحو اعدلوا هو أقرب للتقوى، وكسياق الكلام المستلزم له استلزامًا قريبا نحو ولأبويه أي المورث أو بعيدًا نحو توارت بالحجاب أي الشمس، وكون المرجع فاعلًا المتقضى لتقدمه على المفعول نحو خاف ربه عمر، أو مبتدأ المقتضى لتقدمه على الخبر مثل في داره زيد، أو مفعولًا أول في باب أعطى مثل أعط درهمه زيدًا، أو تقدم حكمًا، بأن يتأخر لمرجع عن الضمير لفظًا وليس هناك ما يقتضي ذكره قبله إلا حكم الواضع بأن المرجع يجب تقدمه، لكن خولف حكم الواضع لأغراض تأتي في بحث وضع المضمر موضع المظهر. فالمرجع المتأخر لغرض متقدم حكمًا مثل: ربه رجلًا، ونعم رجلًا زيد، وقل هو الله أحد. وفي باب التنازع مثل ضربني وضربته محمد وباب البدل والمبتدأ المفسر بالخبر.

نعم لو تقدم المرجع في كل ذلك جاز ولا يكون هناك ضعف ولا يضر ذلك بفصاحة الكلام.. وقد أشار السكاكي إلى ضعف التأليف في المفتاح ص94.
আর বাক্যের প্রাঞ্জলতা:

তা হলো বাক্যের শব্দগুলো প্রাঞ্জল হওয়ার পাশাপাশি বাক্যটি রচনার দুর্বলতা, শব্দের শ্রুতিকটুতা এবং জটিলতা থেকে মুক্ত হওয়া।

দুর্বলতা ১:

যেমন আমাদের এই উক্তিতে ‘দরাবা গুলামুহু যাইদান’ (তার গোলাম যায়েদকে মেরেছে), এখানে সর্বনামের প্রত্যাবর্তন এমন কর্মের (মাফউল) দিকে যা শব্দে পরে এসেছে, যা জুমহুর (অধিকাংশ) বৈয়াকরণিকদের মতে নিষিদ্ধ; যাতে করে সর্বনামের প্রত্যাবর্তন এমন কিছুর দিকে না হয় যা শব্দ এবং মর্যাদা উভয় দিক থেকেই পরে অবস্থিত।

--------------------------------------------

১. এটি হলো বাক্যের বিন্যাস জুমহুর বা অধিকাংশের মাঝে প্রসিদ্ধ নাহু শাস্ত্রের নিয়মের পরিপন্থী হওয়া, যেমন শাব্দিক, অর্থগত ও বিধানগতভাবে উল্লেখ করার আগেই সর্বনাম ব্যবহার করা, যেমন ‘দরাবা গুলামুহু যাইদান’। তবে যদি মারজি (যার দিকে সর্বনাম ফিরছে) শব্দে সর্বনামের আগে আসত— অর্থাৎ শব্দে ও মর্যাদায় আগে আসা যেমন ‘দরাবা যাইদুন গুলামাহু’, অথবা কেবল শব্দে আগে আসা যেমন ‘দরাবা যাইদান গুলামুহু’— অথবা অর্থগতভাবে আগে হওয়া যেখানে মারজি শব্দে পরে থাকলেও এমন কিছু থাকে যা তার আগে থাকাকে বুঝায়; যেমন পূর্ববর্তী ক্রিয়া যা মারজিকে পরোক্ষভাবে নির্দেশ করে, যেমন: ‘তোমরা ইনসাফ করো, এটি (ইনসাফ) তাকওয়ার নিকটবর্তী’। অথবা বাক্যের প্রেক্ষাপট যা মারজিকে অবধারিত করে— যেমন নিকটবর্তী প্রেক্ষাপটে ‘তার পিতামাতার জন্য’ অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির; অথবা দূরবর্তী প্রেক্ষাপটে ‘তা পর্দার আড়ালে চলে গেল’ অর্থাৎ সূর্য। অথবা মারজিটি ‘ফায়েল’ হওয়া যা ‘মাফউল’-এর আগে থাকাকে দাবি করে, যেমন ‘উমর তার রবকে ভয় করলেন’। অথবা ‘মুবতাদা’ হওয়া যা ‘খবর’-এর আগে থাকাকে দাবি করে, যেমন ‘যাইদ তার ঘরে আছে’। অথবা ‘আ’তা’ অধ্যায়ের প্রথম ‘মাফউল’ হওয়া, যেমন ‘যায়েদকে তার দিরহাম দিয়ে দাও’। অথবা বিধানগতভাবে আগে হওয়া, যেখানে মারজি শব্দে পরে আসে এবং আগে আসার কোনো কারণ থাকে না কেবল ভাষাবিদদের এই নিয়ম ছাড়া যে মারজিকে আগে আসতে হবে, কিন্তু কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে সেই নিয়মের ব্যতিক্রম করা হয়েছে যা ‘প্রকাশ্য বিশেষ্যের স্থলে সর্বনাম ব্যবহার’ সংক্রান্ত আলোচনায় আসবে। সুতরাং বিশেষ উদ্দেশ্যে পরে আসা মারজিটি বিধানগতভাবে আগে গণ্য হবে, যেমন: ‘রাব্বাহু রাজুলান’, ‘যাইদ কতই না চমৎকার ব্যক্তি’ এবং ‘বলুন, তিনি আল্লাহ এক’। আর ‘তানাজু’ অধ্যায়ে যেমন ‘মুহাম্মাদ আমাকে মেরেছে এবং আমিও তাকে মেরেছি’ এবং বদল ও খবর দ্বারা ব্যাখ্যাত মুবতাদার অধ্যায়েও এমনটি হয়।

হ্যাঁ, যদি এই সকল ক্ষেত্রে মারজি আগে আসত তবে তা বৈধ হতো এবং সেখানে কোনো দুর্বলতা থাকত না এবং তা বাক্যের প্রাঞ্জলতাকে ক্ষুণ্ণ করত না। সাক্কাকি ‘আল-মিফতাহ’ গ্রন্থের ৯৪ পৃষ্ঠায় রচনার দুর্বলতার (দা’ফুল তালিফ) দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقيل يجوز1، كقول الشاعر2:

جزى ربه عنه عدي بن حاتم … جزاء الكلاب العاويات، وقد فعل3

وأجيب عنه بأن الضمير لمصدر جزى، أي "جزى"، رب الجزاء4 كما في قوله تعالى: {اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} ، أي العدل.

--------------------------------------------

1 أي يجوز رجوع الضمير إلى المفعول المتأخر لفظًا.

2 هو النابغة الذبياني الشاعر الجاهلي المشهور، كما في الخصائص لابن جني.

3 يدعو الشاعر على عدي بأن يجزيه شرًّا كجزاء الكلاب العاويات التي تضرب وترمى بالحجارة، ثم يقول الشاعر. بل قد حصل هذا الجزاء فعلًا وأصبح حقيقة لا دعاء. والشاهد في البيت قوله: "جزى ربه عني عدي بن حاتم"، فقد رجع الضمير إلى المفعول المتأخر في اللفظ كما هو متأخر في الرتبة.

ومثل هذا البيت قول سليط بن سعد:

جزى بنوه أبا الغيلان عن كبر … وحسن فعل كما يجزى سنمار

ومثله:

ألا ليت شعرى هل يلومن قومه … زهيرا على ما جرى من كل جانب

وفي معنى البيت قول النابغة:

جزى الله عبسًا عبس آل بغيض … جزاء الكلاب العاويات وقد فعل

ومن ضعف التأليف:

فلو أن مجدًا أخلد الدهر واحدًا … من الناس أبقى مجده الدهر "مطعما".

4 في هذا تكلف وحمل للأسلوب على ما لا يفيده وإن كان أخف من حمل البيت على ضعف التأليف.
এবং বলা হয়েছে যে এটি জায়েজ (বৈধ)১, যেমন কবির উক্তি২:

তার রব তাকে আদী ইবনে হাতিমের পক্ষ থেকে প্রতিদান দিয়েছেন … চিৎকারকারী কুকুরের প্রতিদানের ন্যায়, আর তিনি তা করেছেন।৩

এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, সর্বনামটি ‘জাযা’ (প্রতিদান দেওয়া) ক্রিয়ার মূল শব্দের (মাসদার) দিকে ফিরেছে, অর্থাৎ “প্রতিদান দিয়েছেন”, প্রতিদানের রব৪—যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {তোমরা ন্যায়বিচার করো, তা তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী}, অর্থাৎ ‘ন্যায়বিচার’।

--------------------------------------------

১. অর্থাৎ শাব্দিকভাবে পরে আসা কর্মের (মাফউল) দিকে সর্বনাম ফিরে যাওয়া জায়েজ।

২. তিনি হলেন বিখ্যাত জাহেলী কবি নাবিগাহ আদ-দুবইয়ানি, যেমনটি ইবনে জিন্নীর ‘আল-খাসাইস’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

৩. কবি আদীর বিরুদ্ধে এই বলে বদদোয়া করছেন যে, তাকে যেন চিৎকারকারী কুকুরের মতো নিকৃষ্ট প্রতিদান দেওয়া হয় যাদের প্রহার করা হয় এবং পাথর ছুড়ে মারা হয়। অতঃপর কবি বলছেন, বরং এই প্রতিদান বাস্তবে ঘটে গেছে এবং এটি নিছক প্রার্থনার চেয়েও বড় এক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। এই পঙক্তির সাক্ষ্য (শাহেদ) হলো তার উক্তি: "তার রব আদী ইবনে হাতিমের পক্ষ থেকে প্রতিদান দিয়েছেন", এখানে সর্বনামটি শাব্দিকভাবে পরে আসা কর্মের দিকে ফিরেছে, যা বিন্যাসের দিক থেকেও পরে।

এই পঙক্তির সদৃশ হলো সুলাইত ইবনে সা’দ-এর উক্তি:

তার সন্তানরা বৃদ্ধ বয়সে এবং তার সুন্দর আচরণের জন্য আবু আল-গাইলানকে প্রতিদান দিয়েছে … যেমন প্রতিদান দেওয়া হয়েছিল সিনিম্মারকে।

এবং অনুরূপ আরও একটি উক্তি:

হায় যদি আমি জানতাম! তার সম্প্রদায় কি জুহাইরকে তিরস্কার করবে … যা সব দিক থেকে ঘটে গেছে তার জন্য?

উক্ত পঙক্তির অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ নাবিগাহ-র আরেকটি উক্তি হলো:

আল্লাহ আবস গোত্রকে, আল-বাগিদের বংশধর আবসকে প্রতিদান দিয়েছেন … চিৎকারকারী কুকুরের প্রতিদানের ন্যায়, আর তিনি তা করেছেন।

আর রচনার দুর্বলতার (দা’ফ আত-তালিফ) উদাহরণ হলো:

যদি মর্যাদা কালপরিক্রমায় কোনো একজন মানুষকে অমর করে রাখত … তবে তার মর্যাদা 'মুতয়াম'কে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখত।

৪. এতে কিছুটা কষ্টকল্পনা (তাকাল্লুফ) রয়েছে এবং বাক্যরীতিকে এমন এক অর্থের দিকে ধাবিত করা হয়েছে যা সাধারণ অবস্থায় সেটি প্রকাশ করে না, যদিও তা পঙক্তিটিকে রচনার দুর্বলতার (দা’ফ আত-তালিফ) দোষে দুষ্ট সাব্যস্ত করার চেয়ে কিছুটা সহজতর।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
والتنافر1:

منه ما تكون الكلمات بسببه متناهية في الثقل على لسان وعسر النطق بها متتابعة، كما في البيت الذي أنشده الجاحظ2:

وقبر حرب بمكان قفر … وليس قرب قبر حرب قبر3

ومنه ما هو دون ذلك كما في قول أبي تمام:

كريم متى أمدحه والورى معي … "وإذا ما لمته لمته وحدي4".

--------------------------------------------

1 هو أن تكون الكلمات ثقيلة على اللسان وإن كان كل منها فصيحة.

2 البيت في دلائل الإعجاز ص46 مع تعليق لعبد القاهر عليه..

وهو لا يعرف قائله.

3 حرب: اسم رجل. القفر: الخالي من الماء والكلأ.. ويقول القزويني الرحالة في "عجائب المخلوقات: أن هاتفًا من الجن صاح بحرب ابن أمية فمات فرثاه ذلك الجني بهذا البيت.. قوله "قفر" بالرفع نعت مقطوع. والبيت خبر مراد منه التأسف والتحزن.

4 الواو في "والورى" للحال، وهو مبتدأ، وخبره "معي".. يقول أبو تمام في ممدوحه: هو كريم في خلقه ومعروفه، إذا ما مدحته كان الورى كلهم معي يمدحون ويشيدون أو يسمعون ويؤيدون، وإذا ما أردت لومه على تأخير معروف أو على شبه ذلك وقفت وحدي لا يشاركني في ذلك أحد ولا يؤيدني فيه إنسان.. والبيت في ص46 من دلائل الإعجاز، وذكر الصاحب إسماعيل بن عباد الكاتب أنه أنشد القصيدة التي منها هذا البيت بحضرة الأستاذ ابن العميد الوزير، فلما بلغ هذا البيت قال له الأستاذ: هل تعرف فيه شيئًا من الهجنة؟ قال: نعم مقابلة المدح باللوم وإنما يقابل بالذم أو الهجاء، فقال الأستاذ: غير هذا أريد، فقال: لا أدري غير ذلك، فقال الأستاذ: هذا التكرير في أمدحه أمدحه مع الجمع بين الحاء والهاء وهما من حروف الحلق خارج حد الاعتدال نافر كل النفار، فأشاد الصاحب بذوقه ونقده.
শব্দের বিসংগতি১:

এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার কারণে শব্দগুলো জিহ্বার জন্য অত্যন্ত ভারী হয়ে পড়ে এবং সেগুলো পর পর উচ্চারণ করা কঠিন হয়ে যায়, যেমন সেই পঙক্তিতে যা আল-জাহিজ২ আবৃত্তি করেছেন:

হারবের কবর এক নির্জন স্থানে … এবং হারবের কবরের নিকটে অন্য কোনো কবর নেই৩

আবার এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা এর চেয়ে কম মাত্রার, যেমন আবু তাম্মামের উক্তিতে:

সে দয়ালু, যখন আমি তার প্রশংসা করি তখন সৃষ্টিজগত আমার সাথে থাকে … "এবং যখন আমি তাকে তিরস্কার করি, আমি একাই তাকে তিরস্কার করি৪" ।

--------------------------------------------

১ এটি হলো শব্দের উচ্চারণ জিহ্বার ওপর ভারী হওয়া, যদিও তাদের প্রতিটি শব্দ স্বতন্ত্রভাবে প্রাঞ্জল।

২ এই পঙক্তিটি দালাইলুল ই'জাজের ৪৬ পৃষ্ঠায় রয়েছে এবং এর ওপর আব্দুল কাহিরের মন্তব্য রয়েছে। এর রচয়িতা অজ্ঞাত।

৩ হারব: একজন ব্যক্তির নাম। কাফর: পানি ও ঘাসহীন জনশূন্য স্থান। পরিব্রাজক কাজভিনি "আজায়িবুল মাখলুকাত"-এ বলেছেন: জনৈক জিন হারব ইবনে উমাইয়াকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করলে সে মারা যায়, তখন সেই জিনটি এই পঙক্তির মাধ্যমে তার শোকগাঁথা পাঠ করে। তার উক্তি "কাফরুন" শব্দটি পেশ (রাফা) যুক্ত হওয়া একটি বিচ্ছিন্ন গুণবাচক শব্দ। পঙক্তিটি একটি সংবাদ, যার মাধ্যমে আফসোস ও দুঃখ প্রকাশ করা উদ্দেশ্য।

৪ "ওয়াল-ওয়ারা" এর "ওয়াও" টি হাল-এর জন্য, এটি মুবতাদা এবং এর খবর হলো "মাঈ"। আবু তাম্মাম তার প্রশংসিত ব্যক্তি সম্পর্কে বলছেন: সে তার স্বভাব ও দানে দয়ালু, যখনই আমি তার প্রশংসা করি তখন সমস্ত সৃষ্টি আমার সাথে থেকে প্রশংসা ও গুণকীর্তন করে অথবা শুনে সমর্থন জানায়। আর যখন আমি কোনো দানে দেরি হওয়ার কারণে বা অনুরূপ কারণে তাকে তিরস্কার করতে চাই, তখন আমি একাই দাঁড়িয়ে যাই, কেউ সেখানে আমার শরিক হয় না এবং কোনো মানুষ আমাকে সমর্থন দেয় না। এই পঙক্তিটি দালাইলুল ই'জাজের ৪৬ পৃষ্ঠায় রয়েছে। লেখক সাহেব ইসমাইল ইবনে আব্বাদ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উস্তাদ ইবনে আল-আমিদ উজিরের উপস্থিতিতে এই পঙক্তি সংবলিত কবিতাটি পাঠ করেছিলেন। যখন তিনি এই পঙক্তিতে পৌঁছালেন, উস্তাদ তাকে বললেন: তুমি কি এতে কোনো ত্রুটি দেখতে পাচ্ছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ, প্রশংসার বিপরীতে তিরস্কার আনা হয়েছে, অথচ এর বিপরীতে নিন্দা বা ব্যঙ্গ আসা উচিত ছিল। উস্তাদ বললেন: আমি এটি ছাড়া অন্য কিছু জানতে চাচ্ছি। তিনি বললেন: আমি অন্য কিছু জানি না। তখন উস্তাদ বললেন: "আদ-হাহু" এর এই পুনরাবৃত্তি এবং "হা" (ح) ও "হা" (ه) এর একত্রীকরণ—যা কন্ঠনালীর বর্ণ—তা স্বাভাবিক সীমার বাইরে এবং চরম শ্রুতিকটু। তখন সাহেব (ইবনে আব্বাদ) তার রুচি ও সমালোচনার প্রশংসা করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈজাহ ফী উলূমিল বালাগাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
فإن في قوله: أمدحه "أمدحه" ثقلًا لما بين الحاء والهاء من التنافر1.

والتعقيد2:

أن لا يكون الكلام ظاهر الدلالة على المراد به وله3 سببان: أحدهما ما يرجع إلى اللفظ وهو أن يختل نظم4 الكلام. ولا يدري

--------------------------------------------

1 وهناك فرق آخر بين البيت والبيت الذي قبله، وهو أن منشأ الثقل في الأول نفس اجتماع الكلمات وفي البيت الثاني اجتماع حروف منها. ومجموع الحروف التي في الكلمتين والتي حصل الثقل باجتماعها أربعة وهي: الحاءان والهاءان، فما ذكر من مجموع الحروف التي حصل الثقل باجتماعها حاصل مع تكرير أمدحه، ولو قال وفي الثاني تكرير حروف منها لكان أوضح وأخضر. أما ثقل مجرد الجمع بين الحاء والهاء فلا يخل بالفصاحة لوقوعه في التنزيل كما في قوله "فسبحه".

2 أي كون الكلام معقدًا فهو مصدر المبني للمفعول لا للفاعل، والمراد بأنه مصدر المبني للمفعول الحاصل بالمصدر أي الهيئة المترتبة عليه. وتجد الكلام في التعقيد في "أسرار البلاغة ص118، وفي دلائل الإعجاز ص65، وفي المفتاح ص176".

3 أي عدم ظهور المعنى المراد منه للمتكلم، أما الغرابة فهي كون اللفظ غير ظاهر الدلالة على المعنى الموضوع له، وأما اللغز والمعمى: فقيل هما غير فصيحين مطلقًا ولا يعدان من البديع لعدم ظهور الدلالة، وقيل أن الدلالة فيهما إن كانت ظاهرة للفطن فهما فصيحان ويعدان من البديع وإلا فلا. واللغز والمعمى بمعنى وهو قول يدل ظاهره على خلاف المراد.

4 النظم هو تأليف الكلمات مترتبة المعاني متناسقة الدلالات على حسب ما يقتضيه العقل لا تواليها في النطاق وضم بعضها إلى بعض كيفما اتفق، بخلاف نظم الحروف فإنه تواليها في النطق من غير اعتبار معنى يقتضيه "راجع دلائل الإعجاز ص40 و45".
কেননা তাঁর বাণী: "আমি তাঁর প্রশংসা করি" (আমদাহুহু) এর মধ্যে "হা" (ح) এবং "হা" (هـ) বর্ণের পারস্পরিক বৈষম্যের কারণে এক প্রকার শ্রুতিকটু গুরুভার রয়েছে।১

আর জটিলতা (তাক্বীদ):২

তা হলো বাক্যটি তার কাঙ্ক্ষিত অর্থের ওপর সুস্পষ্ট নির্দেশক না হওয়া। এর৩ দুটি কারণ রয়েছে: একটি শব্দের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, আর তা হলো বাক্যের বিন্যাস৪ বিশৃঙ্খল হওয়া। এবং কেউ জানে না

--------------------------------------------

১ এখানে এই পঙ্ক্তি এবং এর পূর্ববর্তী পঙ্ক্তির মাঝে আরেকটি পার্থক্য রয়েছে। আর তা হলো, প্রথমটিতে গুরুভারের উৎস হলো খোদ শব্দগুলোর একত্র হওয়া, আর দ্বিতীয় পঙ্ক্তিতে এর উৎস হলো শব্দের অন্তর্গত বর্ণগুলোর একত্র হওয়া। দুটি শব্দের মধ্যে যে বর্ণগুলোর সমষ্টির কারণে এই গুরুভারের সৃষ্টি হয়েছে তা সংখ্যায় চারটি: দুটি 'হা' (ح) এবং দুটি 'হা' (هـ)। সুতরাং বর্ণসমষ্টির কারণে যে গুরুভার সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে, তা "আমি তাঁর প্রশংসা করি" (আমদাহুহু) শব্দের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমেই ঘটেছে। যদি তিনি বলতেন যে "দ্বিতীয়টিতে কিছু বর্ণের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে", তবে তা অধিকতর স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত হতো। তবে কেবল 'হা' (ح) এবং 'হা' (هـ) এর একত্র হওয়া অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রাঞ্জলতা (ফাসাহাত) বিনষ্ট করে না, কারণ পবিত্র কুরআনে এর ব্যবহার রয়েছে যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "সুতরাং আপনি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করুন" (ফাসাব্বিহহু)।

২ অর্থাৎ বাক্যটি জটিল হওয়া। এটি কর্মবাচ্যের ক্রিয়ামূল (মাসদার), কর্তৃবাচ্যের নয়। আর কর্মবাচ্যের ক্রিয়ামূল দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ক্রিয়ামূলের ফলস্বরূপ অর্জিত অবস্থা। আপনি জটিলতা সংক্রান্ত আলোচনা "আসরারুল বালাগাহ" এর ১১৮ পৃষ্ঠায়, "দালাইলুল ই'জায" এর ৬৫ পৃষ্ঠায় এবং "আল-মিফতাহ" এর ১৭৬ পৃষ্ঠায় পাবেন।

৩ অর্থাৎ বক্তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী অর্থটি স্পষ্ট না হওয়া। পক্ষান্তরে "গারাবাত" বা অপরিচিতি হলো শব্দটি তার মূল অর্থের ওপর সুস্পষ্ট নির্দেশক না হওয়া। আর ধাঁধা ও হেঁয়ালি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এগুলো একেবারেই প্রাঞ্জল নয় এবং নির্দেশনার অস্পষ্টতার কারণে এগুলোকে অলঙ্কারশাস্ত্রের (বাদী') অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। আবার কেউ কেউ বলেছেন, এগুলোর নির্দেশনা যদি বুদ্ধিমানদের কাছে স্পষ্ট হয় তবে তা প্রাঞ্জল এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত হবে, অন্যথায় নয়। ধাঁধা এবং হেঁয়ালি একই অর্থবোধক, আর তা হলো এমন কথা যার বাহ্যিক রূপ কাঙ্ক্ষিত অর্থের বিপরীত নির্দেশ করে।

৪ বিন্যাস হলো শব্দের এমন সমন্বয় যেখানে অর্থের ক্রমধারা ও নির্দেশনার সংগতি বুদ্ধিবৃত্তিক চাহিদার ভিত্তিতে বজায় থাকে; উচ্চারণে শব্দের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা বা এলোমেলোভাবে একটির সাথে অন্যটি জুড়ে দেওয়া বিন্যাস নয়। এটি বর্ণ বিন্যাসের বিপরীত, কারণ বর্ণ বিন্যাস হলো কোনো প্রকার অর্থ বিবেচনা না করেই কেবল উচ্চারণে বর্ণের অনুক্রম রক্ষা করা। (দেখুন: দালাইলুল ই'জায পৃষ্ঠা ৪০ ও ৪৫)।