(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: -)
العمدة من الفوائد والآثار الصحاح في مشيخة شهدة   (شهدة)

القسم: كتب السنة


الكتاب: العمدة من الفوائد والأثار الصحاح والغرائب في مشيخة شهدة

المؤلف: شُهْدة بِنْت أحمد بْن الفرج بْن عُمَر الإبري فخر النساء بِنْت أَبِي نصر الدينوري الأصل البغدادي الكاتبة (ت 574هـ)

تحقيق: فوزي عبد المطلب

الناشر: مكتبة الخانجي بالقاهرة

الطبعة: الأولى، 1415هـ - 1994م

عدد الصفحات: 176

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শুহদাহ-র মাশয়াখা (শিক্ষক-তালিকা) সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য ফাওয়াইদ ও সহিহ আসারসমূহ   (শুহদাহ)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


কিতাব: শুহদাহ-র মাশয়াখা (শিক্ষক-তালিকা) সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য ফাওয়াইদ, সহিহ এবং বিরল আসারসমূহ

লেখক: শুহদাহ বিনতে আহমদ বিন আল-ফারাজ বিন উমর আল-ইবরি, ফাখরুন নিসা, আবু নসরের কন্যা, আদি নিবাস দিনাওয়ার, বাগদাদী, লিপিকার (মৃত্যু ৫৭৪ হিজরি)

সম্পাদনা: ফাওজি আব্দুল মুত্তালিব

প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজি, কায়রো

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌مقدمات

‌‌مقدمة الكتاب

…

بسم الله الرحمن الرحيم

مقدمة:

الحمد لله رب العالمين، حمدًا كثيرًا طبيًا طاهرًا مباركًا فيه، سبحانك لا نحصي ثناء عليك أنت كما أثنيتَ على نفسك، تباركتَ تعاليتَ، ذا الجلال والإكرام.

لك الحمد الدائم السرمد، حمدًا لا يحصيه العدد، ولا يقطعه الأبد، كما ينبغي لك أن تحمد، وكما أنت له أهل، وكما هو لك علينا حق.

اللهم صلِّ على محمد وعلى آل محمد، كما صليتَ على إبراهيم وعلى آل إبراهيم، إنك حميد مجيد، اللهم بارك على محمد وعلى آل محمد، كما باركت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم، إنك حميد مجيد، وسلِّم تسليمًا كثيرًا.

وبعد …

فهذا كتاب "العمدة" في مشخية شُهْدَة بِنْتُ أَحْمَدَ بْنِ الْفَرَجِ الديِّنَوَرِي الإِبَرِي، وكما قال الذهبي: الجِهَة، المُعَمَّرة، الكاتبة، مسندة العراق فخر النساء1.

وهذا الكتاب -كما يبدو من قراءته- يهدف إلى أمور هامة، بعضها عام، بعضها خاص:

1- فهو في حديث رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم في جملته وتبليغه، تيمنًا بقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "نضر الله امرءًا سمع منا شيئًا، فبلغه كما سمع، فربَّ مُبَلَّغ أوعى من سامع" 2.

--------------------------------------------

1 سير أعلام النبلاء "20/ 542" ترجمة رقم "344"، ومعنى الجهة: سيدة القوم.

2 ت "5/ 34" " 42" كتاب العلم "7" باب ما جاء في الحث على تبليغ السماع من طريق محمود بن غيلان، عن أبي داود، عن شعبة، عن سماك بن حرب، عن عبد الرحمن بن عبد الله بن مسعود، عن أبيه به.

قال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح.
ভূমিকা

‌গ্রন্থের ভূমিকা

…

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

উপস্থাপনা:

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; প্রচুর, পবিত্র ও বরকতপূর্ণ প্রশংসা। আপনি পবিত্র, আমরা আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না; আপনি তেমনই যেমনটি আপনি নিজের প্রশংসা নিজে করেছেন। আপনি বরকতময় ও সুউচ্চ, আপনি মহিমা ও সম্মানের অধিকারী।

আপনারই জন্য চিরন্তন ও শাশ্বত প্রশংসা; এমন প্রশংসা যা সংখ্যায় গণনা করা যায় না এবং যা কখনো শেষ হবে না। আপনার যেমন প্রশংসা হওয়া উচিত এবং আপনি যার যোগ্য, এবং যা আপনার প্রতি আমাদের উপর পাওনা হক।

হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহিম ও ইবরাহিমের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও অত্যন্ত মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর বরকত দান করুন, যেমন আপনি ইবরাহিম ও ইবরাহিমের পরিবারের ওপর বরকত দান করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও অত্যন্ত মহিমান্বিত। এবং আপনি প্রচুর পরিমাণে শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর …

এটি শুহদাহ বিনতে আহমাদ ইবনুল ফারাজ আদ-দিনাওয়ারি আল-ইবারির মাশয়াখাহ (শিক্ষক তালিকা) বিষয়ক গ্রন্থ "আল-উমদাহ"। ইমাম আয-যাহাবি তার সম্পর্কে যেমন বলেছেন: সম্মানিত নারী, দীর্ঘায়ুপ্রাপ্ত, লেখিকা, ইরাকের সনদ বর্ণনাকারী এবং নারীদের গৌরব।১

এই গ্রন্থটি—এটি পাঠ করলে যেমনটি স্পষ্ট হয়—কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের লক্ষ্য রাখে, যার কিছু সাধারণ এবং কিছু বিশেষ:

১- এটি সামগ্রিকভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস বর্ণনা ও প্রচারের উদ্দেশ্যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর বরকত হাসিলের জন্য: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো কিছু শুনেছে, অতঃপর তা ঠিক সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে যেভাবে শুনেছে। কারণ অনেক সময় যাকে পৌঁছানো হয় সে শ্রবণকারীর চেয়ে বেশি সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।" ২

--------------------------------------------

১ সিয়ারু আলামিন নুবালা "২০/ ৫৪২", জীবনী নং "৩৪৪"। 'জিহাহ' শব্দের অর্থ: কওমের নেত্রী বা মহীয়সী নারী।

২ তিরমিজি "৫/ ৩৪" "৪২" কিতাবুল ইলম "৭", শ্রবণকৃত বিষয় প্রচারের উৎসাহ প্রদান বিষয়ক অধ্যায়; মাহমুদ ইবনে গাইলান সূত্রে, আবু দাউদ থেকে, শু'বাহ থেকে, সিমাক ইবনে হারব থেকে, আবদুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম তিরমিজি বলেন: এই হাদিসটি হাসান সহিহ।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
2- وهو -وهذا خاص- في بيان ما روته هذه المحدِّثة الفضلى عن بعض شيوخها، وهذا ما يسمى "بالمشيخة"، وإذا كانت هذه المشيخات كثيرة للرجال؛ كمشيخة ابن طهمان، ومشيخة ابن الجوزي وغيرهما، فمشيخات النساء المحدِّثات قليلة؛ بل نادرة، وهذا الكتاب منها.

والمشيخات تدل على مدى العناية بحديث رَسُولُ اللَّهِ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ سلم- وهي تدل كذلك على اتصال الأسانيد في كل عصر؛ في الحديث عامة، وفي الكتب خاصة؛ إذ يُنْقَل هذا وذاك جيلًا عن جيل؛ بحيث تستمر هذه الخصيصة للأمة المحمدية؛ اتصال أسانيد علمها وعلمائها.

والمشيخات مظهر من مظاهر هذا الاتصال، وقد قامت صاحبة هذه المشيخة بجهد وافر في هذين المجالين:

فالشيوخ الذين روت عنهم شُهْدَة هم من أصحاب المصنفات، وقد أعطتنا في هذه المشيخة نماذج من حديث هؤلاء الذي أودعوه في كتبهم.

3- ومن فوائد هذا الكتاب وأهدافه: تقديم الأسانيد العالية، فشهدة قد عُمِّرت حتى قاربت المائة -كما يقول الذهبي وغيره- حتى ألحقت الصغار بالكبار؛ أي: تساوى الصغار مع الكبار في أخذ الأحاديث عن الشيوخ نتيجة لعلو أسانيدها1.

وما من شيخ من الشيوخ الذين أخذت عنهم إلا وعُمِّر في الغالب الأعم، وكانت تبين هذا في إثبات التاريخ الذي أخذه الشيخ عن الآخر، فهذه زيادة توثيق، وهو أيضًا بيان لعلو الإسناد.

ومن أمثلة علو الإسناد في هذه المشيخة أن إسناد شهدة علا حتى تساوى

--------------------------------------------

1 وفيات الأعيان لابن خلكان "2/ 477".
২- আর এটি - এবং এটি একটি বিশেষ দিক - এই মহীয়সী নারী হাদীসবিশারদ তাঁর কিছু উস্তাদ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তার বর্ণনায় নিহিত; আর একেই "মাশয়াখা" বলা হয়। যদি পুরুষদের ক্ষেত্রে এই মাশয়াখাগুলো অনেক বেশি হয়ে থাকে; যেমন ইবনে তাহমানের মাশয়াখা, ইবনে শাওজির মাশয়াখা এবং আরও অনেকের, তবে নারী হাদীসবিশারদদের মাশয়াখা খুবই কম, বরং বিরল; আর এই বইটি তারই অন্তর্ভুক্ত।

এই মাশয়াখাগুলো আল্লাহর রাসূল -তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক- এর হাদীসের প্রতি গভীর যত্নের প্রমাণ বহন করে। এটি একইভাবে প্রত্যেক যুগে সনদের ধারাবাহিকতারও প্রমাণ দেয়; সাধারণভাবে হাদীসের ক্ষেত্রে এবং বিশেষভাবে গ্রন্থসমূহের ক্ষেত্রে; কেননা এগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্থানান্তরিত হয়ে আসছে, যাতে মুহাম্মাদী উম্মতের এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যটি স্থায়ী থাকে; আর তা হলো তাদের ইলম এবং উলামাদের সনদের অবিচ্ছিন্নতা।

মাশয়াখাগুলো এই ধারাবাহিকতারই একটি বহিঃপ্রকাশ, এবং এই মাশয়াখার লেখিকা এই উভয় ক্ষেত্রে প্রচুর পরিশ্রম করেছেন:

শুহদাহ যে সকল উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা ছিলেন গ্রন্থ সংকলক। তিনি এই মাশয়াখার মধ্যে সেই সকল হাদীসের নমুনা পেশ করেছেন যা তাঁরা তাঁদের গ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ করেছিলেন।

৩- এই কিতাবের উপকারিতা ও উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে রয়েছে: উচ্চমানের সনদ উপস্থাপন করা। শুহদাহ দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন এমনকি তাঁর বয়স একশ বছরের কাছাকাছি হয়েছিল - যেমনটি যাহাবী ও অন্যান্যরা বলেছেন - যার ফলে তিনি ছোটদেরকে বড়দের স্তরে পৌঁছিয়ে দিয়েছিলেন; অর্থাৎ তাঁর সনদের উচ্চতার কারণে উস্তাদদের থেকে হাদীস গ্রহণের ক্ষেত্রে ছোটরা বড়দের সমান হয়ে গিয়েছিল১।

তিনি যে সকল উস্তাদ থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন, তাঁদের প্রায় প্রত্যেকেই দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন। তিনি একজন উস্তাদ অপরজন থেকে হাদীস গ্রহণের তারিখ বর্ণনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করতেন। এটি যেমন নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করে, তেমনি এটি সনদের উচ্চতারও প্রমাণ।

এই মাশয়াখায় সনদের উচ্চতার অন্যতম উদাহরণ হলো যে, শুহদাহর সনদ এতোটাই উন্নত হয়েছিল যে তা সমান হয়ে গিয়েছিল

--------------------------------------------

১. ইবনে খাল্লিকান রচিত ওফায়াতুল আইয়ান "২/ ৪৭৭"।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
بمسلم -رحمة الله عليه- وهو في القرن الثالث، وهي في القرن السادس. "انظر رقم 43 من هذه المشيخة".

وكانت تبين ذلك أحيانًا وتترك للقارئ -وهو متخصص غالبًا- أن يتنبه إلى ذلك.

والإسناد العالي إذا كان رواته موثَّقين -ورجال شهدة كذلك- فيه شرف الاقتراب من رسول لله صلى الله عليه وسلم وكثير من الفوائد الأخرى التي بينتها كتب علوم الحديث.

4- ومن أهداف هذه المشيخة وفوائدها: تقديم طائفة من العلم النبوي الشريف، من حديث رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فغالب أحاديث هذا الكتاب صحيحة، وهي إما متفق عليها؛ أخرجها الشيخان أو أخرجها أحدهما، أو هي على شرط أحدهما.

وهي تبين ذلك في آخر كل حديث، وتبين من الفوائد الحديثية التي تكون في الإسناد أو المتن.

ترجمة شُهْدَة:

ويجدر بنا أن نقدم ترجمة لهذه العالمة الفضلى تضفي عليها وعلى كتابها هذا وضوحًا وبيانًا:

هي -كما قال الذهبي- بنت المحدث أبي نصر أحمد بن الفجر الدينوري الإبَرِيّ "نسبة إلى عمل الإبر"1، وهو من مشاهير بغداد ومحدثيها2، وقد قدمنا له ترجمة في التعليق على الحديث رقم "102".

وأبوها له تأثير واضح على شهدة؛ فقد أسمعها الحديث وهي بنت ثماني سنوات، فهي تقول في الحديث رقم "102": إنه أسمعها في سنة تسعين وأربعمائة، وهي قد ولدت ببغداد سنة "482هـ"، فتكون سنها حنيئذ ثماني سنوات؛ بل وقد أجيز لها وهي أقل من هذه السن "انظر رقم 96".

--------------------------------------------

1 سير أعلام النبلاء "20/ 542".

2 الأنساب للسمعاني "1/ 118".
ইমাম মুসলিম -তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক- এবং তিনি ছিলেন তৃতীয় শতাব্দীর, আর তিনি (শুহদাহ) ছিলেন ষষ্ঠ শতাব্দীর। "এই মাশইয়াখাহ-এর ৪৩ নম্বরটি দেখুন।"

তিনি কখনও কখনও এটি স্পষ্ট করতেন এবং কখনও কখনও পাঠকের জন্য ছেড়ে দিতেন—যিনি সাধারণত একজন বিশেষজ্ঞ—যাতে তিনি সে বিষয়ে সচেতন হতে পারেন।

উচ্চ সনদ (আল-ইসনাদ আল-আলি), যদি তার বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য হন—এবং শুহদাহ্-এর বর্ণনাকারীরাও তদ্রূপ—তাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সান্নিধ্য লাভের মর্যাদা এবং আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে যা উলুমুল হাদিসের গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে।

৪- এই মাশইয়াখাহ-এর অন্যতম লক্ষ্য ও উপকারিতা হলো: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস থেকে একগুচ্ছ মহান নববী ইলম উপস্থাপন করা। কারণ এই গ্রন্থের অধিকাংশ হাদিসই সহিহ; সেগুলো হয় মুত্তাফাকুন আলাইহি (অর্থাৎ দুই শাইখ তা বর্ণনা করেছেন), অথবা তাদের কোনো একজন তা বর্ণনা করেছেন, অথবা সেগুলো তাদের কোনো একজনের শর্ত অনুযায়ী সহিহ।

আর তিনি প্রতিটি হাদিসের শেষে তা উল্লেখ করেছেন এবং সনদ বা মতনের মধ্যে বিদ্যমান হাদিস শাস্ত্রীয় উপকারিতাগুলো বর্ণনা করেছেন।

শুহদাহ্-এর জীবনী:

আমাদের জন্য এই মহীয়সী নারী আলেমার একটি জীবনী উপস্থাপন করা সমীচীন, যা তাঁর এবং তাঁর এই গ্রন্থের ওপর অধিকতর স্পষ্টতা ও আলোকপাত করবে:

তিনি হলেন—যেমনটি যাহাবি বলেছেন—মুহাদ্দিস আবু নাসর আহমদ বিন আল-ফজর আদ-দিনাওয়ারি আল-ইবারির কন্যা (সুঁই তৈরির কাজের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে এই নিসবত)১, যিনি বাগদাদের বিখ্যাত ব্যক্তি ও মুহাদ্দিসগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন২। আমরা ইতিপূর্বে ১০২ নম্বর হাদিসের টীকায় তাঁর জীবনী উপস্থাপন করেছি।

শুহদাহর ওপর তাঁর পিতার স্পষ্ট প্রভাব ছিল; তিনি তাকে হাদিস শ্রবণ করিয়েছিলেন যখন তার বয়স ছিল মাত্র আট বছর। তিনি ১০২ নম্বর হাদিসে বলেছেন যে, তাঁর পিতা তাকে ৪৯০ হিজরি সনে হাদিস শ্রবণ করান, অথচ তিনি ৪৮২ হিজরি সনে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সুতরাং সেই সময় তাঁর বয়স ছিল আট বছর; এমনকি এর চেয়ে কম বয়সেও তাকে ইজাজাহ (বর্ণনার অনুমতি) প্রদান করা হয়েছিল (৯৬ নম্বর দেখুন)।

--------------------------------------------

১. সিয়ারু আ’লামিন নুবালা "২০/ ৫৪২"।

২. আল-আনসাব লিস-সামআনি "১/ ১১৮"।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
وبفضل دعائه لها، وبركته -كما تقول- وعت في هذه السن، وسجلت كثيرًا من السماعات في مشيختها هذه في تلك السن.

وما زالت تَسْمَعُ وتُسْمِعُ إلى أن توفيت سنة "574"1، وقد قاربت المائة.

سمعت من: أبي الْخَطَّابِ نَصْرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ البَطِر2 القارئ المحدث "494هـ"، وأبي عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بن طلحة النَّعَّالي، وطِرَاد بن محمد الزينبي -وهو أكثير شيوخها رواية في هذه المشيخة وقد ابتدأت به- وغيرهم مثل: أبي الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ أيوب، وأبي الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْقَادِرِ بن يوسف، وفخر الإسلام أبي بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الحسين الشاشي، وطلحة بن محمد الزينبي، وثابت بن بندار، وجعفر السَّرَّاج، وغيرهم كثيرًا، مما هو ثابت في هذه المشيخة وما ليس فيها، وكل هؤلاء من أكابر علماء عصرها.

وحدث عنها: ابن عساكر، والسمعاني، وابن الجوزي، وعبد الغني المقدسي، وعبد القادر الرهاوي، وابن الأخضر - مُخَرِّج هذه المشيخة- والشيخ الموفق، والشيخ العماد، الشهاب بن راجح، والبهاء بن عبد الرحمن، والفخر الإربِلِي، وتاج الدين عبد الله بن حَمُّويه، وأعز بن العُلَّيْق، وإبراهيم بن الخَيِّر، وبهاء الدين بن الجميزي، ومحمد بن المنِّي، وأبو القاسم بن قميرة، وخلق كثير3، وآخر من رَوى عنها ابن قميرة، وتوفي سنة ستين وخمسمائة؛ أي: بين وفاتيهما ستة وثمانون عامًا4.

--------------------------------------------

1 سير أعلام النبلاء "20/ 543".

2 ترجم له الذهبي في سير أعلام النبلاء "19/ 46-48" قال: الشيخ المقرئ الفاضل، مسند العراق، أَبُو الْخَطَّابِ نَصْرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْبَطِرِ البغدادي البزاز القارئ، ولقد سنة ثمان وتسعين وثلاثمائة … قال ابن سُكَّرَة: شيخ مستور ثقة … وقال السمعاني: وكان صالحًا صدوقًا، صحيح السماع، وهو آخر من حدث عن ابن البَيَّع وابن رِزْقويه وابن بِشْرَان.

مات سنة "494" وله ست وتسعون سنة.

3 سير أعلام النبلاء "20/ 542" وابن الدبيثي، انظر هامش تكملة الإكمال "84".

4 هامش تكملة الإكمال ص84، 85، وقيل: إن آخر من حدَّث عنها بالإجازة محمد بن عبد الهادي بن قدامة المقدسي.
তাঁর জন্য তাঁর দুআ এবং তাঁর বরকতের বদৌলতে—যেমনটি তিনি বলেন—তিনি এই বয়সে বোধশক্তি লাভ করেন এবং সেই বয়সেই তাঁর এই মাশইয়াখাহ-তে অনেক শ্রবণ (সামাআত) লিপিবদ্ধ করেন।

তিনি শ্রবণ করা ও অন্যকে শোনানো অব্যাহত রাখেন যতক্ষণ না তিনি ৫৭৪ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন১, যখন তাঁর বয়স প্রায় একশ বছর হয়েছিল।

তিনি শ্রবণ করেছেন: আবুল খাত্তাব নাসর বিন আহমাদ বিন আল-বাত্বির২ কারী ও মুহাদ্দিস (৪৯৪ হি.), আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমাদ বিন তালহা আন-নিআলী, ত্বিরাদ বিন মুহাম্মাদ আজ-জাইনাবী—যিনি এই মাশইয়াখাহ-তে তাঁর বর্ণনাকৃত শায়খদের মধ্যে অধিক বর্ণনাকারী এবং তিনি তাঁকে দিয়েই শুরু করেছেন—এবং আরও অন্যান্যদের থেকে, যেমন: আবুল হাসান আলী বিন আল-হুসাইন বিন আইয়ুব, আবুল হুসাইন আহমাদ বিন আব্দুল কাদির বিন ইউসুফ, ফখরুল ইসলাম আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আল-হুসাইন আশ-শাশী, তালহা বিন মুহাম্মাদ আজ-জাইনাবী, সাবিত বিন বুন্দার, জাফর আস-সাররাজ এবং আরও অনেকে, যাদের নাম এই মাশইয়াখাহ-তে সাব্যস্ত রয়েছে এবং যাদের নাম এতে নেই; আর তারা সকলেই ছিলেন তাঁর যুগের বড় বড় আলেমদের অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: ইবন আসাকির, আস-সামআনী, ইবনুল জাওযী, আব্দুল গনী আল-মাকদিসী, আব্দুল কাদির আর-রুহাবী, ইবনুল আখদার—এই মাশইয়াখাহ-এর সংকলক—এবং শায়খ আল-মুওয়াফফাক, শায়খ আল-ইমাদ, আশ-শিহাব বিন রাজেহ, আল-বাহা বিন আব্দুর রহমান, আল-ফখর আল-ইরবিলী, তাজউদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন হাম্মুওয়াহ, আআজ্জ বিন আল-উল্লাইক্ব, ইব্রাহিম বিন আল-খাইর, বাহাউদ্দীন বিন আল-জুমাইযী, মুহাম্মাদ বিন আল-মান্নী, আবুল কাসিম বিন কুমাইরা এবং আরও অনেকে৩। তাঁর থেকে সর্বশেষ যিনি বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন ইবন কুমাইরা, যিনি ৬৬০ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন; অর্থাৎ তাঁদের উভয়ের মৃত্যুর ব্যবধান হলো ছিয়াশি বছর৪।

--------------------------------------------

১ সিয়ারু আলামিন নুবালা (২০/৫৪৩)।

২ আয-যাহাবী ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ (১৯/৪৬-৪৮)-এ তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: শায়খ, কারী, ফযীলতপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, ইরাকের মুসনিদ, আবুল খাত্তাব নাসর বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-বাত্বির আল-বাগদাদী আল-বায্যায আল-কারী। তাঁর জন্ম ৩৯৮ হিজরিতে … ইবন সুক্কারাহ বলেন: তিনি একজন পর্দানশীন নির্ভরযোগ্য শায়খ … আস-সামআনী বলেন: তিনি নেককার ও সত্যবাদী ছিলেন, তাঁর শ্রবণ সহীহ ছিল। তিনি হলেন সর্বশেষ ব্যক্তি যিনি ইবন আল-বাইয়ি, ইবন রিযকুওয়াইহ এবং ইবন বিশরান থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিনি ৪৯৪ হিজরিতে ৯৬ বছর বয়সে মারা যান।

৩ সিয়ারু আলামিন নুবালা (২০/৫৪২) এবং ইবন আদ-দুবাইসী, দেখুন তাকমিলাতুল ইকমাল-এর টীকা (৮৪)।

৪ তাকমিলাতুল ইকমাল-এর টীকা পৃষ্ঠা ৮৪, ৮৫। বলা হয়েছে যে, ইজাযতের মাধ্যমে তাঁর থেকে সর্বশেষ বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল হাদী বিন কুদামা আল-মাকদিসী।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
مكانتها:

وأثنَى عليها العلماء كمحدِّثة عالمة، قال ابن نقطة: سماعها صحيح1.

وقال الشيخ الموفق: انتهى إليها إسناد بغداد، وعُمِّرَت حتى ألحقت الصغار بالكبار "أي: بأسانيدها العالية".

وقال ابن الجوزي: عاشت مخالطة العلماء. وقرئ عليها الحديث سنين2.

ولقبها الذهبي "بمسندة العراق"، وابن الدبيثي "بأسند أهل زمانها"، وقال: وكان سماعها صحيحًا.

وقال ابن العماد: "المُسْنِدَة، فخر النساء، كانت ديِّنَة عابدة صالحة، سمعها أبوها الكثير، وصارت مسندة العراق"3.

ومن مكانتها عند العلماء أنهم اعتمدوا عليها في رواية الكتب؛ ومن ذلك كتاب "الأموال لأبي عُبيد"؛ ففي أوله: "قرئ على الشيخة الصالحة الكاتبة فخر النساء شهدة بنت أبي نصر أحمد بن الفرج عن عمر الإبري الدينوري بمنزلها ببغداد في الحادي عشر من شعبان سنة أربع ستين وخمسمائة، أخبركم النقيب الكامل أَبُو الْفَوَارِسِ طَرَّادُ بْنُ مُحَمَّدِ بن علي الزينبي في ثاني ذِي الْحِجَّةِ مِنْ سَنَةِ تِسْعِينَ وأربعمائة"4.

وهذه هي السنة التي أسمعها أبوها الحديث، وكان عندها ثماني سنوات من عمرها، ثم سُمِعَ منها بعد أربع وسبعين سنة من سماعها له من شيخها طراد، وهذا ما يؤدي إلى العلو في الإسناد، وإلحاق الصغار بالكبار، كما قال العلماء عنها.

كما روت كتبًا لابن أبي الدنيا؛ منها كتاب الشكر له، ففيه: "حدثنا الشيخ الفقيه الإمام الأجل العالم العامل، الصالح المتقن، بقية السلف الصالح،

--------------------------------------------

1 التقييد "ص501".

2 المنتظم "10/ 288".

3 شذارت الذهب "4/ 248".

4 الأموال "ص9".
তাঁর মর্যাদা:

ওলামায়ে কেরাম তাঁকে একজন বিজ্ঞ নারী মুহাদ্দিস হিসেবে প্রশংসা করেছেন। ইবনু নুকতাহ বলেন: "তাঁর শ্রুতি বিশুদ্ধ ছিল।" ১।

শায়খ আল-মুওয়াফফাক বলেন: "বাগদাদের সনদসমূহ তাঁর নিকট এসে সমাপ্ত হয়েছে। তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন, এমনকি তিনি ছোটদেরকে বড়দের কাতারে শামিল করে দিয়েছেন (অর্থাৎ তাঁর উচ্চাঙ্গের সনদের মাধ্যমে)।"

ইবনুল জাওযী বলেন: "তিনি আলেমদের সান্নিধ্যে জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং বছরের পর বছর ধরে তাঁর নিকট হাদিস পাঠ করা হয়েছে।" ২।

আয-যাহাবী তাঁকে 'ইরাকের মুসনিদাহ' (সর্বোচ্চ সনদধারী নারী) উপাধিতে ভূষিত করেছেন এবং ইবনু আদ-দুবাইসি তাঁকে 'তৎকালীন সময়ের সর্বোচ্চ সনদধারী' হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন: "তাঁর শ্রুতি বিশুদ্ধ ছিল।"

ইবনুল ইমাদ বলেন: "তিনি ছিলেন মুসনিদাহ, ফখরুন নিসা। তিনি ছিলেন দ্বীনদার, ইবাদতগুজার ও পুণ্যবতী। তাঁর পিতা তাঁকে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করিয়েছেন এবং তিনি ইরাকের মুসনিদাহ হয়েছিলেন।" ৩।

ওলামায়ে কেরামের নিকট তাঁর মর্যাদার অন্যতম প্রমাণ হলো যে, তাঁরা গ্রন্থ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর ওপর নির্ভর করতেন; এর একটি উদাহরণ হলো আবু উবাইদের "কিতাবুল আমওয়াল"; এর শুরুতে বর্ণিত হয়েছে: "পুণ্যবতী শায়খাহ, লেখিকা ফখরুন নিসা শুহদাহ বিনতে আবু নাসর আহমাদ ইবনুল ফারাজ ইবনে উমর আল-ইবরি আদ-দিনাওয়ারির নিকট তাঁর বাগদাদের বাসভবনে ৫৬৪ হিজরির ১১ই শাবান তারিখে পাঠ করা হয়েছে। (শুহদাহ বলেন:) পূর্ণাঙ্গ নকিব আবুল ফাওয়ারিস ত্বরাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আয-যাইনাবি ৪৯০ হিজরির ২রা জিলহজ তারিখে আপনাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন।" ৪।

এটি ছিল সেই বছর যখন তাঁর পিতা তাঁকে হাদিস শ্রবণ করিয়েছিলেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র আট বছর। অতঃপর তাঁর শায়খ ত্বরাদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণের চুয়াত্তর বছর পর তাঁর কাছ থেকে তা শোনা হয়েছে। এটিই সনদের উচ্চতা (উলুও) এবং ছোটদেরকে বড়দের সাথে যুক্ত করার কারণ, যেমনটি আলেমগণ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন।

একইভাবে তিনি ইবনে আবিদ দুনিয়ার গ্রন্থসমূহও বর্ণনা করেছেন; এর মধ্যে তাঁর 'কিতাবুল শুকর' অন্যতম। সেখানে রয়েছে: "আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন শায়খ, ফকিহ, অত্যন্ত সম্মানিত ইমাম, বিজ্ঞ আমলকারী, নেককার ও নিপুণ ব্যক্তিত্ব, সালাফে সালেহীনের উত্তরসূরি..."

--------------------------------------------

১. আত-তাকয়িদ, পৃষ্ঠা ৫০১।

২. আল-মুনতাযাম, ১০/২৮৮।

৩. শাযারাতুয যাহাব, ৪/২৪৮।

৪. আল-আমওয়াল, পৃষ্ঠা ৯।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
أبو الحسن علي بن خلف بن معزوز بن فتوح المالكي التلمساني، المعروف بالكومي -أدام الله توفيقه- قراءة مني عليه بمصر … قال الكومي: وقرئ على الشيخة العالمة فخر النساء شهدة بن أبي نصر أَحْمَد بْن الفرج بْن عمر الإبري رضي الله عنها وأنا أسمع أخبركم أبو الحسن أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْقَادِرِ بْنِ محمد بن يوسف في رمضان سنة تسعين وأربعمائة … "1.

ويلاحظ أنها سمعت هذا الكتاب أيضًا وهي بنت ثماني سنوات تقريبًا، وهي السنة نفسها التي سمعت فيها من أبيها، والتي سمعت فيها كتاب الأموال لأبي عبيد.

وروت أيضًا كتاب الصمت وآداب اللسان له. ففي إسناده: "أخبرنا الشيخ الصالح المُعَمَّر أبو الحسن بن أبي عبد الله بن المقَيِّر البغدادي الحنبلي، قراءة عليه، وأنا أسمع، قيل له: أخبرتكم الشيخة الكاتبة فخر النساء شهدة بنت أبي نصر أحمد بن أبي الفرج الإبري قراءة عليها وأنت تسمع"2.

ويقول ابن نقطة: ولها رواية في مسند مُسدَّد عن ثابت بن بندار3.

وروت أيضًا مصارع العشاق لابن السراج، وذم المسكر، واليقين، وكتاب محاسبة النفس والإزراء، والفرج بعد الشدة، وكلها لابن أبي الدنيا.

وروت وسمعت من أبي الْفَوَارِسِ طَرَّادُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ علي الزينبي كتاب الوجد والوجل والتوثق بالعمل لابن أبي الدنيا، وستة مجالس من أمالي أبي جعفر البختري، والجزء الأول من الفوائد المنتقاة والغرائب الحسان العوالي تخريج أبي الفتح بن أبي الفوارس.

وروت وسمعت من الحسين بن أحمد بن طلحة النعالي الجزء الثاني والرابع من أمالي الحسين بن إسماعيل المحاملي، والجزء الثالث من كتاب الديباج لإسحاق بن إبراهيم الختلي، والجزء الأول من كتاب الجامع عن عبد الرزاق بن همام الصنعاني، وروت عن الحسين بن أحمد الباقلاني الجزء الثاني والخامس من

--------------------------------------------

1 كتاب الشكر "ص61، 63، 64".

2 كتاب الصمت، وآداب اللسان "ص171".

3 التقييد "ص501".
আবুল হাসান আলি বিন খালাফ বিন মা'যূয বিন ফুতূহ আল-মালিকি আত-তিলিমসানি, যিনি আল-কুমি নামে পরিচিত -আল্লাহ তার তাওফিক অব্যাহত রাখুন- মিশরে আমি তার কাছে পাঠ করার সময় … কুমি বলেন: আর শায়খা আলিমা ফখরুন নিসা শুহদাহ বিনতে আবি নাসর আহমাদ বিন আল-ফারাজ বিন উমার আল-ইবরি (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি শুনছিলাম, আবুল হাসান আহমাদ বিন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ চারশত নব্বই হিজরি সালের রমজান মাসে তোমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন … "১.

আরও লক্ষ্য করা যায় যে, তিনি এই কিতাবটিও শুনেছিলেন যখন তার বয়স ছিল প্রায় আট বছর, আর এটি ছিল সেই একই বছর যে বছর তিনি তার পিতার কাছ থেকে শ্রবণ করেছিলেন এবং যে বছর তিনি আবু উবাইদ-এর 'কিতাবুল আমওয়াল' শ্রবণ করেছিলেন।

তিনি তার (ইবনে আবিদ দুনইয়ার) 'কিতাবুস সামত ওয়া আদাবুল লিসান'-ও বর্ণনা করেছেন। এর সনদে রয়েছে: "নেককার দীর্ঘজীবী শায়খ আবুল হাসান বিন আবি আব্দুল্লাহ বিন আল-মুকায়্যির আল-বাগদাদি আল-হাম্বলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তার কাছে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম, তাকে বলা হলো: লেখিকা শায়খা ফখরুন নিসা শুহদাহ বিনতে আবি নাসর আহমাদ বিন আবিল ফারাজ আল-ইবরি আপনাদের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন এবং আপনি তা শুনছিলেন" ২।

ইবনু নুকতাহ বলেন: মুসাদ্দাদ-এর মুসনাদ গ্রন্থে সাবিত বিন বুন্দার থেকে তার বর্ণনা রয়েছে ৩।

তিনি ইবনুস সাররাজ-এর 'মাসারিউল উশাক', এবং ইবনে আবিদ দুনইয়ার 'যাম্মুল মুসকির', 'আল-ইয়াকিন', 'কিতাবু মুহাসাবাতিন নাফসি ওয়াল ইযরা' এবং 'আল-ফারাজু বা'দাশ শিদ্দাহ'ও বর্ণনা করেছেন।

তিনি আবুল ফাওয়ারিস তাররাদ বিন মুহাম্মদ বিন আলি আজ-জাইনাতি থেকে ইবনে আবিদ দুনইয়ার 'কিতাবুল ওয়াজদি ওয়াল ওয়াজালি ওয়াত তাওসুকি বিল আমাল', আবু জাফর আল-বাখতারির 'আমালি' থেকে ছয়টি মাজলিস এবং আবুল ফাতাহ বিন আবিল ফাওয়ারিসের তাখরিজকৃত 'আল-ফাওয়াইদুল মুনতাকাহ ওয়াল গারায়িবুল হিসানিল আওয়ালি'-র প্রথম অংশ বর্ণনা করেছেন এবং শুনেছেন।

তিনি আল-হুসাইন বিন আহমাদ বিন তালহা আন-নাআলি থেকে আল-হুসাইন বিন ইসমাইল আল-মাহামিলির 'আমালি'-র দ্বিতীয় ও চতুর্থ খণ্ড, ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-খুত্তালির 'কিতাবুদ দিবায'-এর তৃতীয় খণ্ড এবং আব্দুর রাজ্জাক বিন হাম্মাম আস-সানআনি থেকে 'কিতাবুল জামি'-র প্রথম খণ্ড বর্ণনা করেছেন ও শুনেছেন। তিনি আল-হুসাইন বিন আহমাদ আল-বাকিল্লানি থেকে বর্ণনা করেছেন দ্বিতীয় ও পঞ্চম খণ্ড...

--------------------------------------------

১ কিতাবুল শুকর "পৃষ্ঠা ৬১, ৬৩, ৬৪"।

২ কিতাবুস সামত ওয়া আদাবুল লিসান "পৃষ্ঠা ১৭১"।

৩ আত-তাকয়িদ "পৃষ্ঠা ৫০১"।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
منتقى حديث الحسين بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ شَاذَانَ.

وسمعت من الحسن بن أحمد الدقاق الجزء الأول من غرائب حديث مالك بن أنس. وروت عن جعفر بن أحمد السراج جزءًا من كرامات الأولياء للحسن الخلال، وحضرت على إبراهيم بن عثمان بن يوسف الكاشغري الجزء الثالث والرابع من مشيخة يعقوب بن سفيان.

وروت وسمعت من أبي المعالي ثابت بن بندار البقال جزءًا فيه قراءات النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وقطعة من كتاب الخيل. وسمعت من أبي الخطاب نصر بن أحمد البطرواني الجزء السادس من أمالي المحاملي.

وروت الجزء الرابع من حديث أبي سهل أحمد القطان عن الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بن شاذان عن العلاف كتاب التصديق بالنظر إلى الله عز وجل وما أعد لأوليائه لمحمد الآجري، وعن عبد الرحمن بن نجم الحنبلي الجزء الثاني من حديث المحاملي.

وروى عنها ابن الجوزي كتاب التصديق بالنظر إلى الله -عز جل- وما أعد لأوليائه لمحمد الآجري، وسمع منها علي بن هبة الله الشافعي الجزء الأول من غرائب حديث مالك بن أنس، وعبد الله بن عمر بن أبي بكر المقدسي الجزء الخامس من المنتقى من حديث ابن شاذان، والحسن بن عمر بن نصر الجزء الأول والرابع من أمالي المحاملي، وروى عنها عبد الرحمن بن عبد الوهاب الحنبلي الجزء الرابع من أمالي المحاملي. وسمع عليها يونس بن سعيد بن مسافر بن جميل القطان المقري كتاب محاسبة النفس لابن أبي الدنيا. ويحيى بن أبي السعود بن القميرة التاجر كتاب الفرج بعد الشدة لابن أبي الدنيا. وروى عنها عبد اللطيف بن محمد سبط التعاويذي ستة مجالس من أمالي البختري وضوء الصباح عجيبة بنت الباقداري كتاب الوجد والوجل لابن أبي الدنيا. وسمع منها بهاء الدين عبد الرحمن بن إبراهيم المقدسي كتاب ذم المسكر لابن أبي الدنيا، وعثمان بن أبي نصر بن منصور الواعظ المسعودي، ومحمد بن إبراهيم الإربلي جزءًا من حديث القطان، وأبو بكر عبد الله الرياني المتوفَّى سنة 627هـ.

وروت كتاب المحبة لله سبحانه وتعالى لإبراهيم بن عبد لله بن الجنيد
হুসাইন ইবন আহমাদ ইবন ইব্রাহিম ইবনুল হাসান ইবন মুহাম্মদ ইবন শাযানের হাদিসের সংকলন।

আর আমি হাসান ইবন আহমাদ আদ-দাক্কাকের নিকট থেকে মালিক ইবন আনাসের গারাইব হাদিসের প্রথম খণ্ড শ্রবণ করেছি। তিনি জাফর ইবন আহমাদ আস-সাররাজের সূত্রে হাসান আল-খাল্লাল রচিত কারামাতুল আউলিয়া-এর একটি অংশ বর্ণনা করেছেন। আর আমি ইব্রাহিম ইবন উসমান ইবন ইউসুফ আল-কাশগারির নিকট ইয়াকুব ইবন সুফিয়ানের মাশাইখাতের তৃতীয় ও চতুর্থ খণ্ডে উপস্থিত ছিলাম।

তিনি বর্ণনা করেছেন এবং আবুল মাআলি সাবিত ইবন বুন্দার আল-বাক্কালের নিকট থেকে এমন একটি অংশ শ্রবণ করেছেন যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিরাতসমূহ এবং কিতাবুল খাইল-এর একটি অংশ রয়েছে। আর আমি আবুল খাত্তাব নাসর ইবন আহমাদ আল-বাতরুয়ানির নিকট থেকে আল-মুহামিলির আমালির ষষ্ঠ খণ্ড শ্রবণ করেছি।

তিনি হাসান ইবন আহমাদ ইবন ইব্রাহিম ইবন শাযানের সূত্রে আবু সাহল আহমাদ আল-কাত্তানের হাদিসের চতুর্থ খণ্ড বর্ণনা করেছেন; তিনি আল-আল্লাফের সূত্রে মুহাম্মদ আল-আজুরি রচিত আল্লাহর প্রতি তাকানোর সত্যায়ন এবং তিনি তাঁর বন্ধুদের জন্য যা প্রস্তুত রেখেছেন সেই সংক্রান্ত গ্রন্থ বর্ণনা করেছেন। আর তিনি আবদুর রহমান ইবন নাজমু আল-হাম্বলির সূত্রে মুহামিলির হাদিসের দ্বিতীয় খণ্ড বর্ণনা করেছেন।

ইবনুল জাওযি তাঁর সূত্রে মুহাম্মদ আল-আজুরি রচিত আল্লাহর প্রতি তাকানোর সত্যায়ন এবং তিনি তাঁর বন্ধুদের জন্য যা প্রস্তুত রেখেছেন সেই সংক্রান্ত গ্রন্থ বর্ণনা করেছেন। আলি ইবন হিবাতুল্লাহ আশ-শাফিয়ি তাঁর নিকট থেকে মালিক ইবন আনাসের গারাইব হাদিসের প্রথম খণ্ড শ্রবণ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর ইবন আবু বকর আল-মাকদিসি ইবন শাযানের হাদিসের নির্বাচিত সংকলন (মুনতাকা) থেকে পঞ্চম খণ্ড শ্রবণ করেছেন। হাসান ইবন উমর ইবন নাসর আল-মুহামিলির আমালির প্রথম ও চতুর্থ খণ্ড শ্রবণ করেছেন। আর আবদুর রহমান ইবন আবদুল ওয়াহহাব আল-হাম্বলি তাঁর সূত্রে আল-মুহামিলির আমালির চতুর্থ খণ্ড বর্ণনা করেছেন। ইউনুস ইবন সাঈদ ইবন মুসাফির ইবন জামিল আল-কাত্তান আল-মুকারি তাঁর কাছে ইবন আবিদ দুনিয়া রচিত নফসের হিসাব গ্রহণ সংক্রান্ত গ্রন্থ শ্রবণ করেছেন। ব্যবসায়ী ইয়াহইয়া ইবন আবুস সউদ ইবনুল কুমাইরা তাঁর কাছে ইবন আবিদ দুনিয়া রচিত বিপদের পর মুক্তি সংক্রান্ত গ্রন্থ শ্রবণ করেছেন। আবদুল লতিফ ইবন মুহাম্মদ সিবতুত তায়াবিযি তাঁর সূত্রে আল-বখতারির আমালির ছয়টি মজলিস বর্ণনা করেছেন। দ্বাউস সাবাহ আজিবা বিনতে আল-বাকদারি ইবন আবিদ দুনিয়া রচিত কিতাবুল ওয়াজদি ওয়াল ওয়াজাল বর্ণনা করেছেন। বাহাউদ্দিন আবদুর রহমান ইবন ইব্রাহিম আল-মাকদিসি তাঁর নিকট থেকে ইবন আবিদ দুনিয়া রচিত নেশাদ্রব্যের নিন্দা সংক্রান্ত গ্রন্থ শ্রবণ করেছেন। উসমান ইবন আবু নাসর ইবন মনসুর আল-ওয়ায়িজ আল-মাসউদি এবং মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহিম আল-ইরবিলি আল-কাত্তানের হাদিসের একটি অংশ শ্রবণ করেছেন। এবং আবু বকর আবদুল্লাহ আর-রাইয়ানি, যিনি ৬২৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

তিনি ইব্রাহিম ইবন আবদুল্লাহ ইবনুল জুনাইদ রচিত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার জন্য ভালোবাসা সংক্রান্ত গ্রন্থটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
الختلي، والجزء التاسع من فوائد عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الله الدقاق، والجزء الثاني من حديث محمد بن عبد بن خلف الدقاق عن شيوخه، وحديث الْحُسَيْنُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَيَّاشٍ القطان عن شيوخه.

كما روت مشيخة ابن شاذان الكبرى، وهو الحافظ أبو علي الحسين بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شاذان البزاز، وهي ترويها عن أبي غالب محمد بن الحسن الباقلاني، عن أَبِي عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بن إبراهيم بن شاذان، وقد سجلت منها بعض هذه المرويات في هذا الكتاب "67-70"1.

وكل هذا وغيره يعطينا مدى إسهامها في أداء حديث رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كما يعطينا هنا مدى ثقة العلماء بها، وبما عندها من العلم، فنقلوه عنها.

ونلحظ هنا أنها لقبت بالكاتبة، وكما يقول ابن الجوزي: كان لها خط حسن2، وتحلت مع ذلك بالدين والصلاح والأخلاق الفاضلة والأعمال البارَّة الخيِّرة. قال ابن الجوزي: كان لها بِرٌّ وخير3. وقال ابن الدبيثي: امرأة جليلة صالحة، ذات دين وورع وعبادة4.

وظلت كذلك إلا أن توفيت ببغداد سنة أربع وسبعين وخمسمائة، في ليلة الإثنين رابع عشر المحرم كما أرَّخ ذلك لها تلميذها أبو الفرج بن الجوزي، وقال: وصلى عليها بجامع القصر، وأزيل شباك المقصورة لأجلها، وحضرها خلق كثير، وعامة العلماء، ودفنت بمقبرة باب أبرز5.

والمُحَدِّثة العالمة شهدة وغيرها يعطين مثلًا رائعًا وقدوة حسنة صالحة للسيدات المسلمات؛ كي يسهمن في رواية الحديث النبوي، ونقل العلم الإلهي، مثلهن في ذلك مثل الرجال سواء بسواء؛ كي تستقيم الحياة بما يحملن من هدى

--------------------------------------------

1 أعلام النساء "2/ 309-312".

2 فهرس الفهارس "2/ 626".

3 المنتظم "10/ 288"، ومشيخة ابن الجوزي "202".

4 هامش تكملة الإكمال "ص84".

5 المنتظم "10/ 288"، ومشيخة ابن الجوزي، وفيه "بيرز" بدل "أبرز".
আল-খাতালি, এবং উসমান ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দাক্কাকের 'ফাওয়ায়িদ'-এর নবম খণ্ড, এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দ ইবনে খালাফ আদ-দাক্কাকের তাঁর শায়খদের সূত্রে বর্ণিত হাদিসের দ্বিতীয় খণ্ড, এবং আল-হুসাইন ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আইয়াশ আল-কাত্তানের তাঁর শায়খদের সূত্রে বর্ণিত হাদিস।

যেমন তিনি ইবনে শাযানের বড় 'মাশয়াখা' বর্ণনা করেছেন, আর তিনি হলেন হাফেজ আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে শাযান আল-বাযযায। তিনি এটি বর্ণনা করেছেন আবু গালিব মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-বাকিল্লানি থেকে, তিনি আবু আলী আল-হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে শাযান থেকে। এই কিতাবে আমি এই বর্ণনার কিছু অংশ লিপিবদ্ধ করেছি "৬৭-৭০"১।

এই সমস্ত কিছু এবং আরও অনেক কিছু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস বর্ণনায় তাঁর অবদানের মাত্রা আমাদের কাছে স্পষ্ট করে। পাশাপাশি এটি আমাদের দেখায় যে উলামায়ে কেরাম তাঁর প্রতি এবং তাঁর ইলমের প্রতি কতটা আস্থাশীল ছিলেন, তাই তাঁরা তাঁর কাছ থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন।

আমরা এখানে লক্ষ্য করি যে তাঁকে 'আল-কাতিবাহ' (লেখিকা) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। যেমনটি ইবনে আল-জাওযী বলেন: তাঁর হাতের লেখা অত্যন্ত সুন্দর ছিল২। এর পাশাপাশি তিনি দীনদারি, নেক আমল, উত্তম চরিত্র এবং সৎ ও কল্যাণকর কাজে ভূষিত ছিলেন। ইবনে আল-জাওযী বলেন: তাঁর মধ্যে ছিল সততা ও কল্যাণ৩। আর ইবনে আদ-দুবাইসি বলেন: তিনি ছিলেন একজন মহীয়সী ও পুণ্যবতী নারী, দীনদারি, তাকওয়া ও ইবাদতগুজারিতে অনন্য৪।

তিনি এভাবেই জীবন অতিবাহিত করেন যতক্ষণ না পাঁচশত চুয়াত্তর হিজরি সালের চৌদ্দই মহরম সোমবার রাতে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন। যেমনটি তাঁর ছাত্র আবুল ফারাজ ইবনে আল-জাওযী তারিখ লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন: জামে কসরে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং তাঁর জানাজার সম্মানে মাকসুরার জালি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অসংখ্য মানুষ এবং সাধারণ আলেমরা তাঁর জানাজায় উপস্থিত হয়েছিলেন। তাঁকে বাব আবরায গোরস্থানে দাফন করা হয়৫।

মুহাদ্দিসা এবং বিদুষী নারী শুহদাহ ও অন্যান্যরা মুসলিম নারীদের জন্য এক চমৎকার দৃষ্টান্ত এবং উত্তম আদর্শ স্থাপন করেছেন; যাতে করে তাঁরাও নববী হাদিস বর্ণনা এবং খোদায়ী ইলম হস্তান্তরের ক্ষেত্রে পুরুষদের মতোই সমানভাবে অবদান রাখতে পারেন; যাতে তাঁদের বহন করা হিদায়াতের মাধ্যমে জীবন সুশৃঙ্খল ও সঠিক পথে পরিচালিত হয়।

--------------------------------------------

১ আলামুন নিসা "২/ ৩০৯-৩১২"।

২ ফিহরিসুল ফাহারিস "২/ ৬২৬"।

৩ আল-মুনতাযাম "১০/ ২৮৮", এবং মাশয়াখাতু ইবনে আল-জাওযী "২০২"।

৪ তাকমিলাতুল ইকমালের পাদটীকা "পৃষ্ঠা ৮৪"।

৫ আল-মুনতাযাম "১০/ ২৮৮", এবং মাশয়াখাতু ইবনে আল-জাওযী; যেখানে "আবরায"-এর পরিবর্তে "বিরায" উল্লেখ আছে।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
نبوي كريم للنشء والأجيال، فتأثيرهن كبير في هذا الشأن.

تعريف بالكتاب:

والكتاب -كما قلنا- هو في مشيختها، خرَّجه في حياتها تلميذها عبد العزيز بن محمود بن المبارك بن الأخضر أبو محمد الحافظ، وهو من الحفاظ المكثرين الأثبات المأمونين، وهو واسع الرواية، صحيح الأصول، بيَّن ذلك ابن نُقْطَة، ثم قال: منه تعلمنا واستفدنا وما رأينا مثله1.

وكان مولده سنة أربع وعشرين وخمسمائة، وتوفي في سادس شوال من سنة إحدى عشرة وستمائة.

وكان هذا التخريج في حياة شهدة بدليل أن الكتاب سمع عليها ونقله غير ابن الأخضر -كما يتضح من الإسناد- ومن صفحة العنوان: رواية شمس الدين عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الرَّشِيدِ بْنِ علي بن بُنيمان "548-624" فقد قرأه عليها في حياتها، وكما يتضح من السماع بآخر هذه المشيخة.

وتبلغ هذه المشيخة "114" رواية، جُلُّها أحاديث مرفوعة، والقليل منها موقوف على الصحابة، أو بعض التابعين، أو تابعي التابعين.

وتأتي لكل شيخ من شيوخها بروايات تختلف قلة وكثرة من شيخ إلى شيخ، وأكثر الروايات عن طِرَاد الزينبي التي ابتدأت به؛ إذ بلغت الروايات عنه إحدى عشرة رواية.

ومجموع شيوخها هنا "27" شيخًا.

وغالبًا ما تعقب على الحديث بذكر من أخرجه من الصحيحين، أو تبين درجته وعلو إسناده.

والمخطوط الذي اعتمدت عليه في تحقيق الكتاب هو في مكتبة كوبريلي

--------------------------------------------

1 التقييد "ص364".
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিত সুন্নাহ নতুন প্রজন্ম ও উত্তরসূরিদের জন্য, আর এই বিষয়ে তাদের (নারীদের) প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক।

গ্রন্থ পরিচিতি:

আমরা যেমনটি বলেছি, এই গ্রন্থটি হলো তার মাশায়িখদের (শিক্ষকদের) তালিকা সংবলিত। এটি তার জীবদ্দশাতেই তার ছাত্র হাফেজ আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ ইবন মাহমুদ ইবনুল মুবারক ইবনুল আখদার সংকলন করেছেন। তিনি ছিলেন অধিক বর্ণনাকারী, নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত। তার বর্ণনার পরিধি ছিল বিশাল এবং মূল উৎসগুলো ছিল নির্ভুল। ইবনে নুকতাহ এ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন এবং তারপর বলেছেন: "তার কাছ থেকে আমরা শিখেছি ও উপকৃত হয়েছি এবং তার মতো আর কাউকে দেখিনি"১।

তার জন্ম ছিল ৫২৪ হিজরি সনে এবং তিনি ৬১১ হিজরি সনের ৬ই শাওয়াল মৃত্যুবরণ করেন।

এই সংকলনটি শাহদাহ-র জীবদ্দশাতেই সম্পন্ন হয়েছিল, যার প্রমাণ হলো যে কিতাবটি তার কাছে পাঠ করে শোনা হয়েছে এবং ইবনুল আখদার ছাড়াও অন্যরাও এটি বর্ণনা করেছেন—যেমনটি সনদ থেকে স্পষ্ট হয়। শিরোনামের পৃষ্ঠা থেকেও জানা যায়: এটি শামসুদ্দিন আলি ইবন আব্দির রশিদ ইবন আলি ইবন বুনিমান (৫৪৮-৬২৪) এর বর্ণনা, তিনি তার জীবদ্দশাতেই এটি তার কাছে পাঠ করেছিলেন, যা এই মাশয়াখাহর শেষে শ্রবণ সংক্রান্ত টিকা থেকে স্পষ্ট হয়।

এই মাশয়াখাহ বা শিক্ষক-তালিকায় ১১৪টি বর্ণনা রয়েছে, যার অধিকাংশই মারফূ হাদিস এবং সামান্য কিছু সাহাবায়ে কেরাম, কিছু তাবেয়ি অথবা তাবে-তাবেয়িদের ওপর মাউকুফ (তাদের কথা বা কাজ হিসেবে বর্ণিত)।

তিনি তার প্রত্যেক শিক্ষকের সূত্রে বিভিন্ন বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন, যার সংখ্যা এক শিক্ষক থেকে অন্য শিক্ষকের ক্ষেত্রে কম-বেশি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বর্ণনা এসেছে তিরাদ আজ-জায়নাবীর সূত্রে, যাকে দিয়ে তিনি শুরু করেছেন; তার থেকে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ১১টি।

এখানে তার মোট শিক্ষকের সংখ্যা ২৭ জন।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি হাদিসের শেষে বুখারি ও মুসলিমের মধ্যে কে তা বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেছেন, অথবা হাদিসের মান ও সনদের উচ্চ মর্যাদা (উলুউ) বর্ণনা করেছেন।

কিতাবটির তাহকিকের (সম্পাদনা) ক্ষেত্রে আমি যে পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, তা কোপরুলু লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত।

--------------------------------------------

১ আত-তাকয়িদ, পৃষ্ঠা ৩৬৪।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
بتركيا، ويتكون من "36" لوحة ومسطرته "17" سطرًا، وفي كل سطر ثنتا عشرة كلمة تقريبًا، وهو بخط النسخ.

وفي الصفحة الأولى من المخطوط بعد العنوان ما يبين أن هذه النسخة هي ملك لأبي محمد عبد الرحيم بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الزجاج المقري عفيف الدين1، وكانت قراءته لها على أبي مظفر النهراوني بحضور جماعة في يوم الأحد ثالث عشر من جمادى الآخرة من سنة سبع وأربعين وستمائة بمسجد الشيخ بالمأمونية.

هذا يوضح أن هذه النسخة كُتبت في حياة هذا الشيخ أو قبله، وهو عاش ما بين "612-685"، ولا يستبعد أنها كتبت في حياة شهدة نفسها. والله أعلم.

وفي هذا المخطوط ما يدل على صحة نسبته إلى شهدة، فقد روت شهدة معظم نسخة جعفر بن نسطور الرومي في هذه المشيخة "أرقام 96-101". وقال ابن حجر في الإصابة عندما تكلم عن هذه النسخة: "وسمعت من حديثه أيضًا -أي: حديث جعفر بن نسطور- في آخر مشيخة شهدة بنت الإبري" "الإصابة 1/ 551". وكذلك ذكرها في لسان الميزان، وساق حديث جعفر الذي يرويه منها.

وقد ذكر الشيخ عبد الحي الكتاني هذا الكتاب وسنده إليه، فقال: "مشيخة شهدة الكاتبة: هي ست الكتبة بنت أحمد، تخريج أبي محمد بن الأخضر، به -أي: بسنده الذي ذكره في أول كتاب فهرس الفهارس- إلى السيوطي، عن البُلْقِيني، عن أبي إسحاق التنوخي، عن المزي، عن ست الأهل بنت علوان، عن البهاء عبد الرحمن بن إبراهيم المقدسي، عن شهدة بنت أحمد بن عمر. "ح" وبأسانيدنا إلى الحجار، عن أبي الفضل عبد العزيز بن داود الزاهد عنها "فهرس الفهارس 2/ 655".

أقول: أروي عن الشيخ عبد الحي الكتاني هذا الكتاب وغيره بالإجازة عن

--------------------------------------------

1 شذرات الذهب "5/ 391" وفيه: "فقيه حنبلي زاهد، سني، أثري، عارف بمذهب أحمد، ولد سنة اثنتي عشرة وستمائة، وتوفي سنة 685".
তুরস্কে [রয়েছে], এটি ৩৬টি পাতা (ফলক) নিয়ে গঠিত এবং এর প্রতি পৃষ্ঠায় ১৭টি লাইন রয়েছে। প্রতি লাইনে প্রায় বারোটি করে শব্দ আছে এবং এটি নাসখ লিপিতে লিখিত।

পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠায় শিরোনামের পরে যা উল্লেখ রয়েছে তা থেকে স্পষ্ট হয় যে, এই অনুলিপিটি আবু মুহাম্মদ আবদুর রহিম বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আজ-জাজ্জাজ আল-মুকরি আফিফ উদ্দিনের১ মালিকানাধীন ছিল। তিনি এটি আবু মুজাফফর আন-নাহরাওয়ানির কাছে একদল লোকের উপস্থিতিতে ৬৪৭ হিজরি সালের ১৩ই জুমাদাল আখিরা, রবিবার মামুনিয়ার শাইখ মসজিদে পাঠ করেছিলেন।

এটি স্পষ্ট করে যে, এই অনুলিপিটি এই শাইখের জীবদ্দশায় বা তার আগে লেখা হয়েছে। তিনি ৬১২ থেকে ৬৮৫ হিজরির মধ্যে জীবিত ছিলেন। এটি অসম্ভব নয় যে, অনুলিপিটি খোদ শাহদাহর জীবদ্দশায়ই লেখা হয়েছিল। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এই পাণ্ডুলিপিতে এমন কিছু রয়েছে যা শাহদাহর প্রতি এর নিসবত বা সম্পৃক্ততার বিশুদ্ধতা প্রমাণ করে। শাহদাহ এই মাশয়াখাহ-তে জাফর বিন নাসতুর আর-রুমির অনুলিপির অধিকাংশ বর্ণনা করেছেন (নম্বর ৯৬-১০১)। ইবনে হাজার আল-ইসাবাহ গ্রন্থে এই অনুলিপি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "আমি তার হাদিস থেকেও শুনেছি—অর্থাৎ জাফর বিন নাসতুরের হাদিস—শাহদাহ বিনত আল-ইবরির মাশয়াখাহ-এর শেষে" (আল-ইসাবাহ ১/৫৫১)। একইভাবে তিনি এটি লিসানুল মিযান গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন এবং জাফরের হাদিসটি সেখান থেকে বর্ণনা করেছেন।

শাইখ আব্দুল হাই আল-কাত্তানি এই কিতাব এবং এর প্রতি তার সনদের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "মাশয়াখাহ শাহদাহ আল-কাতিবাহ: তিনি হলেন সিত্তুল কাতাবাহ বিনত আহমদ, এটি আবু মুহাম্মদ বিন আল-আখদারের তাখরিজকৃত। এর মাধ্যমে—অর্থাৎ তার সেই সনদের মাধ্যমে যা তিনি ফিহরিসুল ফাহারিস কিতাবের শুরুতে উল্লেখ করেছেন—সুয়ুতি পর্যন্ত, তিনি বুলকিনি থেকে, তিনি আবু ইসহাক আত-তানুখি থেকে, তিনি আল-মিযযি থেকে, তিনি সিত্তুল আহল বিনত আলওয়ান থেকে, তিনি আল-বাহা আবদুর রহমান বিন ইবরাহিম আল-মাকদিসি থেকে, তিনি শাহদাহ বিনত আহমদ বিন উমর থেকে। 'হ' (রূপান্তর) এবং আল-হাজ্জারের প্রতি আমাদের সনদের মাধ্যমে, তিনি আবুল ফজল আবদুল আজিজ বিন দাউদ আজ-জাহিদ থেকে, তিনি তার (শাহদাহ) থেকে" (ফিহরিসুল ফাহারিস ২/৬৫৫)।

আমি বলছি: আমি শাইখ আব্দুল হাই আল-কাত্তানি থেকে এই কিতাব এবং অন্যান্য কিতাব ইজাজতের মাধ্যমে বর্ণনা করছি...

--------------------------------------------

১. শাযারাতুজ জাহাব (৫/৩৯১); সেখানে রয়েছে: "তিনি একজন হাম্বলি ফকিহ, যাহেদ (দুনিয়াবিমুখ), সুন্নি, আসারি এবং আহমদের (ইমাম আহমদ) মাযহাব সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি ৬১২ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৮৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।"
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
شيخي محمد الحافظ بن عبد اللطيف، عنه، وعن غيره عنه. والله الموفق.

عملي في هذا المخطوط:

واتبعتُ في تحقيق هذا المخطوط الخطوات التالية:

1- نسخت المخطوط ورقَّمت رواياته، وقد بلغت "114" رواية كما ذكرت.

2- خرجت هذه الروايات بقدر الطاقة، وقد روعي في هذا التخريج أن يتبين منه ما إذا كان الحديث صحيحًا أو غير صحيح، وبحمد الله تعالى فإن معظم الأحاديث في البخاري ومسلم أو في أحدهما.

3- قد تكون الرواية التي ساقتها شهدة مختصرة، فأجتهد في إثباتها كاملة من كتب التخريج، وأثبت ذلك في الهامش بطبيعة الحال.

4- أُعقِّب بشرح للحديث أو بيان أحكامه بقدر الطاقة تتميمًا لفائدة الكتاب -إن شاء الله تعالى- وذلك من كتب شروح الحديث وغيرها.

هذا وقد ساق الله عز وجل نسخة أخرى لهذه المشيخة؛ ولكنها منقولة عن أصل لا أعرف مصدره وكثيرة الأخطاء وناقصة قليلًا من أولها وكثيرًا من آخرها؛ ولكنها أفادت في التنبيه على بعض ما أبهم في النسخة الأصل، ورمزت لها بـ"ب".

نسأل الله تعالى أن يوفقنا إلى ما فيه رضاه، وأن يغفر زلاتنا، ويقيل عثراتنا، وأن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم.

وصلى الله تعالى وسلم وبارك على سيدنا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين، والحمد لله رب العالمين.

القاهرة في: 25 من ربيع أول 1414هـ

12 من سبتمبر 1993م

الدكتور رفعت فوزي عبد المطلب

أبو شهبة
আমার শাইখ মুহাম্মাদ আল-হাফিয বিন আব্দুল লতিফ, তাঁর থেকে এবং তাঁর মাধ্যমে অন্যদের থেকে। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।

এই পাণ্ডুলিপিতে আমার কাজ:

এই পাণ্ডুলিপির সম্পাদনায় আমি নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ অনুসরণ করেছি:

১- আমি পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করেছি এবং এর বর্ণনাগুলোকে ক্রমিক নম্বর প্রদান করেছি; আমি যেমনটি উল্লেখ করেছি যে তা ১১৪টি বর্ণনায় পৌঁছেছে।

২- আমি সাধ্যমতো এই বর্ণনাগুলোর তাখরীজ বা উৎস অনুসন্ধান করেছি। এই তাখরীজের ক্ষেত্রে হাদীসটি সহীহ নাকি সহীহ নয় তা স্পষ্ট করার প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। আল্লাহ তাআলার প্রশংসায়, অধিকাংশ হাদীস বুখারী ও মুসলিম অথবা এই দুইটির কোনো একটিতে রয়েছে।

৩- শুহদাহ কর্তৃক বর্ণিত বর্ণনাটি সংক্ষিপ্ত হয়ে থাকলে আমি তা তাখরীজের কিতাবসমূহ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এবং স্বাভাবিকভাবেই তা টীকায় উল্লেখ করেছি।

৪- বইটির উপযোগিতা পূর্ণ করার লক্ষ্যে—ইনশাআল্লাহ—আমি সাধ্যমতো হাদীসের ব্যাখ্যা বা এর বিধানসমূহ বর্ণনার মাধ্যমে সংযোজন করেছি, যা হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও অন্যান্য উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এই মাশয়াখার (শাইখদের তালিকা) জন্য অন্য একটি পাণ্ডুলিপি মিলিয়ে দিয়েছেন; তবে সেটি এমন একটি মূল কপি থেকে উদ্ধৃত যার উৎস আমার জানা নেই এবং এতে প্রচুর ভুল রয়েছে। এর শুরুর দিক থেকে সামান্য এবং শেষ দিক থেকে অনেকখানি অপূর্ণতা রয়েছে; তবে মূল পাণ্ডুলিপির কিছু অস্পষ্ট বিষয় চিহ্নিত করতে এটি সাহায্য করেছে এবং আমি একে "ব" সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের তাঁর সন্তুষ্টির পথে চলার তাওফীক দান করেন, আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করেন, আমাদের পদস্খলন মার্জনা করেন এবং এই কাজকে একমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত করেন।

আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

কায়রো: ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪১৪ হিজরি

১২ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ

ডক্টর রিফাত ফাওজি আব্দুল মুত্তালিব

আবু শুহবাহ
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
‌‌المخطوطات:
পাণ্ডুলিপিসমূহ:
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
بسم الله الرحمن الرحيم

[1] أخبرنا القاضي الإمام العالم أَقْضَى الْقُضَاةِ شَمْسُ الدِّينِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الرَّشِيدِ بن علي بُنَيْمَان1 بِالْمَوْصِلِ، قَدِمَ عَلَيْنَا رَسُولا فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ بَعْدَ الصَّلاةِ سَلْخَ شهر الله رجب من سنة ستمائة، قراءة عليه هو يَسْمَعُ، قِيلَ لَهُ: أَخْبَرَتْكُمْ شُهدة بِنْتُ أَحْمَدَ بْنِ الْفَرَجِ الإِبَرِيُّ.

‌‌[الشيخ الأول] :

قَالَتْ: أنا الشَّرِيفُ أَبُو الْفَوَارِسِ طَرَّادُ بْنُ مُحَمَّدِ بن علي الزَّيْنَبي2 بقراءة

--------------------------------------------

[1] خ "2/ 424" "59" كتاب بدء الخلق - "6" باب ذكر الملائكة - من طريق الحسن بن الربيع عن أبي الأحوص عن الأعمش به.

م "4/ 2036" "46" كتاب القدر - "1" باب كيفية الخلق الآدمي في بطن أمه، وكتابة رزقه وأجله وعمله وشقاته وسعادته - من طريق أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ وغيره، عن أبي معاوية ووكيع، عن الأعمش به.

1 انظر ترجمته في التكملة لوفيات النقلة (3/ 117، 118) وفيه: "الهمذاني المقرئ الحداد سبط الحافظ أبي العلاء الهمذاني، بتُسْتَر، ودفن بها، قرأ القرآن الكريم على جده لأمه الحافظ أبي العلاء بهمذان، وسمع بها من أبي الخير محمد بن أحمد الباغبان، وجده أبي العلاء، وحضر أبا الوقت عبد الأول بن عيسى السِّجْزِي، ودخل بغداد في صباه وتفقه بها بالمدرسة النظامية على مذهب الإمام الشافعي رضي الله عنه على أبي الخير أحمد بن إسماعيل القَزْوِيني، وسمع منه، واستملى عليه. وسمع أيضًا من أبي الفرج محمد بن أحمد بن نبهان، وأبي الفتح عبيد الله بن شاتيل، وأبي السعادات نصر الله بن عبد الرحمن القزَّاز، وأبي حفص عمر بن أبي بكر بن التبان، وجماعة كبيرة. ومضى إلى الشام، وإلى ديار مصر، وكتب في سفره هذا عن جماعة، وعاد إلى همذان، وتولى القضاء بها من الديوان العزيز -مجده الله تعالى- وقدم بغداد وتولى أيضًا قضاء الجانب الغربي منها، ثم توجه إلى تستر وولي القضاء بها سكنها إلى حين وفاته".

وحدَّث ببغداد، وغيرها.

ولد سنة ثمان وأربعين وخمسمائة بهمذان، وتوفي سنة 621 في التاسع والعشرين من صفر منها.

2 هو طراد بن محمد بن علي بن حسن بن محمد، قال الذهبي: الإمام الأنبل، مسند العراق، نقيب النقباء، الكاملُ، أبو الفوارس بن أبي الحسن القرشي، الهاشمي، العباسي، الزينبي، البغدادي.

ولد سنة ثمان وتسعين، وسمع أبا نصر بن حسنُون النَّرْسي، وأبا الحسن بن رِزْقويه، وهلالًا الحفار، وأبا الحسين بن بِشْران، والحسين بن بَرْهان، وأبا الفرج بن المسلمة، وأبا الحسن بن الحمَّامي، وطائفة، وأملى مجالس عدة، وخُرِّج له "العوالي" المشهورة، و"فضائل الصحابة". =
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

[১] আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক ইমাম আলিম, প্রধান বিচারপতি শামসুদ্দিন আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুর রশিদ ইবনে আলী বুনাইমান ১ মসুলে, তিনি আমাদের কাছে দূত হিসেবে এসেছিলেন ছয়শ হিজরি সনের আল্লাহর মাস রজবের শেষ শুক্রবারে জুমার সালাতের পর। তার উপস্থিতিতে পাঠ করা হয়েছে এবং তিনি তা শ্রবণ করেছেন। তাকে বলা হয়েছে: আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন শুহদাহ বিনতে আহমাদ ইবনুল ফারাজ আল-ইবারি।

‌‌[প্রথম শাইখ] :

তিনি বললেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শরীফ আবুল ফাওয়ারিস ত্বরাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আজ-জায়নাবি ২ পাঠ করার মাধ্যমে।

--------------------------------------------

[১] খাহ (বুখারি) "২/ ৪২৪" "৫৯" সৃষ্টি জগতের সূচনা অধ্যায় - "৬" ফেরেশতাদের বর্ণনার পরিচ্ছেদ - হাসান ইবনুর রাবি'র সূত্রে আবু আহওয়াস থেকে তিনি আ'মাশ থেকে উক্ত বর্ণনা করেছেন।

মিম (মুসলিম) "৪/ ২০৩৬" "৪৬" কদর (তকদির) অধ্যায় - "১" মায়ের গর্ভে মানব সৃষ্টির পদ্ধতি এবং তার রিজিক, মৃত্যু, আমল এবং তার দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্য লিখে নেওয়ার পরিচ্ছেদ - আবু বকর ইবনে আবি শায়বা ও অন্যদের সূত্রে আবু মুয়াবিয়া ও ওয়াকি' থেকে তিনি আ'মাশ থেকে উক্ত বর্ণনা করেছেন।

১. তার জীবনী দেখুন 'আত-তাকমিলা লি ওয়াফায়াতিন নাক্বলা' (৩/ ১১৭, ১১৮) গ্রন্থে। সেখানে রয়েছে: "হামাদানি মুকরি হাদদাদ, হাফিজ আবুল আলা আল-হামাদানীর নাতি, তুস্তারে এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হয়েছে। তিনি তার মাতামহ হাফিজ আবুল আলার কাছে হামাদানে কুরআন পাঠ করেছেন এবং সেখানে আবুল খায়ের মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-বাগবান ও তার দাদা আবুল আলার কাছে শ্রবণ করেছেন। তিনি আবুল ওয়াকত আব্দুল আউয়াল ইবনে ঈসা আস-সিজজির মজলিসে উপস্থিত হয়েছেন। শৈশবে বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং সেখানে নিজামিয়া মাদরাসায় ইমাম শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর মাযহাব অনুযায়ী আবুল খায়ের আহমদ ইবনে ইসমাইল আল-কাযওয়িনীর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং তাঁর কাছ থেকে শ্রবণ করেন ও তাঁর নিকট শ্রুত হাদিস লিপিবদ্ধ করেন। তিনি আবুল ফারাজ মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে নাবহান, আবুল ফাতাহ উবাইদুল্লাহ ইবনে শাতিল, আবুল সা'দাত নাসরুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-কাযযায, আবু হাফস উমর ইবনে আবি বকর ইবনে তাব্বান এবং এক বিশাল জামাতের নিকট থেকেও শ্রবণ করেছেন। তিনি সিরিয়া ও মিশরে ভ্রমণ করেছেন এবং এই সফরে অনেকের নিকট থেকে লিপিবদ্ধ করেছেন। এরপর হামাদানে ফিরে আসেন এবং সেখানকার রাজকীয় কার্যালয় (আল্লাহ এর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন) থেকে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। বাগদাদে এসে সেখানকার পশ্চিম অংশেরও বিচারক নিযুক্ত হন। এরপর তুস্তারে গমন করেন এবং সেখানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই বসবাস করেন।"

তিনি বাগদাদ ও অন্যান্য স্থানে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

তিনি ৫৪৮ হিজরি সনে হামাদানে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬২১ হিজরি সনের ২৯ সফর মৃত্যুবরণ করেন।

২. তিনি হলেন ত্বরাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হাসান ইবনে মুহাম্মদ। আয-যাহাবি বলেন: মহৎ ইমাম, ইরাকের মুসনিদ, প্রধানদের নেতা, আল-কামিল (পূর্ণাঙ্গ), আবুল ফাওয়ারিস ইবনে আবুল হাসান আল-কুরাশি, আল-হাশিমি, আল-আব্বাসি, আজ-জায়নাবি, আল-বাগদাদি।

তিনি ৪৯৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং আবু নাসর ইবনে হাসনুন আন-নারসি, আবুল হাসান ইবনে রিজকুবাহ, হিলাল আল-হাফফার, আবুল হোসেন ইবনে বিশরান, হুসাইন ইবনে বুরহান, আবুল ফারাজ ইবনে মুসলিমাহ, আবুল হাসান ইবনে হাম্মামি ও এক দল লোকের কাছে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি বেশ কিছু মজলিসে হাদিস পাঠ করিয়েছেন এবং তাঁর জন্য বিখ্যাত "আল-আওয়ালি" ও "ফাদাইলুস সাহাবা" সংকলন করা হয়েছে। =
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
الْبَلْخِيِّ، وَأَجَازَ لِي فِي سَنَةِ تسعين وأربعمائة، وَأَنَا أَسْمَعُ، أنا الشَّرِيفُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ دَاوُدَ بْنِ عِيسَى بْنِ مُوسَى بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قِرَاءَةً فِي شَهْرِ رَمَضَانَ مِنْ سنة إحدى عشرة وأربعمائة، ثنا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الدَّقَّاقُ إِمْلاءً، نا أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَنْصُورٍ الْحَارِثِيُّ، سَنَةَ إِحْدَى وَسَبْعِينَ وَمِائَتَيْنِ، نا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، ثنا الأَعْمَشُ، نا زَيْدُ1 بْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه سلم- وهو الصادق المصدوق2:

--------------------------------------------

= حدث عنه ولداه: علي الوزير، ومحمد، وابن ناصر، وعمر بن عبد الله الحربي، وأحمد بن المقرب، ويحيى بن ثابت، وشهدة الكاتبة، وكمال بنت أبي محمد السمرقندي، وعمها إسماعيل، وهبة الله بن طاوس، وتَجَنِّي الوهبانية، وأبو الكرام الشَّهْرَزُوري، وعبد الله بن علي الطامَذِي الأصبهاني، وخلق، آخرهم موتًا خطيب الموصل أبو الفضل الطوسي.

قال السمعاني: ساد الدهر رتبة، وعلوًّا، وفضلًا، ورأيًا، وشهامة، ولي نقابة البصرة، ثم بغداد، ومُتِّعَ بسمعه وبصره وقوته، وترسل عن الديوان، فحدث بأصبهان، وكان يحضر مجلس إملائه جميع أهل العلم، لم يُرَ ببغداد مثل مجالسه بعد القَطيعي. وقد أملى بمكة سنة تسع وثمانين وبالمدينة، وألحق الصغار بالكبار.

قال أبو علي بن سُكَّرة: كان أعلى أهل بغداد منزلة عند الخليفة.

وقال السلفي: كان حنفيًّا من جِلَّة الناس وكبرائهم، ثقة، ثبتًا، لم ألحقه.

مات في سلخ شوال، سنة إحدى وتسعين وأربعمائة، ودفن بداره حولًا، ثم نُقل. "سير أعلام النبلاء 19/ 37-39".

وقال السلفي في الوجيز "ص77": ولم أرَ ببغداد من أهل العلم أجل رتبة منه، ولم يكن يتقدم عليه أحد في مجلس الخليفة. وكان جليل القدر والخطر متواضعًا إلى غاية.

1 في الأصل: يزيد، وهو خطأ، والتصحيح من كتب التخريج ومن كتب الرواة.

2 الصادق المصدوق معناه: الصادق في قوله، المصدوق فيما يأتي من الوحي الكريم.

قال في شرح المشكاة: الأولى أن تجعل الجملة اعتراضية لا حالية؛ لتعم الأحوال كلها، وأن يكون من عادته ودأبه ذلك، فما أحسن موقعها! وقال الحافظ في الفتح: الصادق معناه: المخبر بالقول الحق، وتطلق على الفعل، يقال: صدق القتال، وهو صادق فيه، والمصدوق معناه: الذي يُصدق له في القول، يقال: صدقته الحديث، إذا أخبرته به إخبارًا جازمًا، أو معناه: الذي صدقه الله تعالى وعده.
আল-বালখী, এবং তিনি চারশ নব্বই হিজরি সনে আমাকে ইজাজত দিয়েছেন এমতাবস্থায় যে আমি শ্রবণ করছিলাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শরীফ আবু আল-হাসান আলী বিন আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন দাউদ বিন ঈসা বিন মুসা বিন আলী বিন আবদুল্লাহ বিন আল-আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব, চারশ এগারো হিজরি সনের রমজান মাসে পাঠের মাধ্যমে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর উসমান বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইয়াজিদ আদ-দাক্কাক শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আব্দুর রহমান বিন মানসুর আল-হারিসী, দুইশ একাত্তর হিজরি সনে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জায়েদ বিন ওয়াহাব, তিনি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল—তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আর তিনি হলেন সত্যবাদী ও সত্যপ্রত্যায়িত:

--------------------------------------------

= তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর দুই পুত্র: আলী আল-ওয়াজীর ও মুহাম্মদ; এবং ইবনু নাসির, উমর বিন আবদুল্লাহ আল-হারবী, আহমদ বিন আল-মুকাররাব, ইয়াহইয়া বিন সাবিত, শাহদাহ আল-কাতিবাহ, কামাল বিনতে আবি মুহাম্মদ আস-সামারকান্দী ও তাঁর চাচা ইসমাইল, হিবাতুল্লাহ বিন তাউস, তাজানী আল-ওয়াহবানিয়্যাহ, আবু আল-কারাম আশ-শাহরাজুরী, আবদুল্লাহ বিন আলী আত-তামাযী আল-আসফাহানী এবং এক বিশাল জামাত, যাদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণ করেছেন মসুলের খতীব আবু আল-ফাদল আত-তূসী।

আস-সামআনী বলেছেন: তিনি তাঁর যুগে পদমর্যাদা, উচ্চতা, ফযীলত, প্রজ্ঞা ও বীরত্বে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। তিনি বসরার এবং পরবর্তীতে বাগদাদের নকীব (প্রধান) মনোনীত হন। তিনি তাঁর শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং শারীরিক শক্তি দ্বারা শেষ পর্যন্ত উপকৃত হয়েছেন। তিনি রাজকীয় দিওয়ানের পক্ষ থেকে দূত হিসেবে প্রেরিত হতেন। তিনি আসফাহানে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর হাদিস শ্রুতিলিখনের মজলিসে সকল আলিম উপস্থিত হতেন। আল-কাতী‘য়ীর পর বাগদাদে তাঁর মজলিসের ন্যায় আর কোনো মজলিস দেখা যায়নি। তিনি চারশ উননব্বই হিজরি সনে মক্কায় এবং মদীনায় হাদিস শ্রুতিলিখন করিয়েছেন, এবং তিনি ছোটদের বড়দের স্তরে উন্নীত করেছেন।

আবু আলী বিন সুক্কারাহ বলেছেন: খলীফার নিকট বাগদাদবাসীদের মধ্যে তাঁর মর্যাদা ছিল সর্বোচ্চ।

আস-সিলাফী বলেছেন: তিনি হানাফী মাযহাবের অনুসারী এবং বরেণ্য ও মহান ব্যক্তিদের একজন ছিলেন; তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় ছিলেন, তবে আমি তাঁর সাক্ষাৎ পাইনি।

তিনি চারশ একানব্বই হিজরি সনের শাওয়াল মাসের শেষে মৃত্যুবরণ করেন এবং এক বছরকাল তাঁর নিজ বাড়িতে সমাহিত ছিলেন, এরপর তাঁকে স্থানান্তর করা হয়। "সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৯/৩৭-৩৯"।

আস-সিলাফী 'আল-ওয়াজিজ' (পৃষ্ঠা ৭৭) গ্রন্থে বলেছেন: আমি বাগদাদে তাঁর চেয়ে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন কোনো আলিম দেখিনি এবং খলীফার মজলিসে কেউ তাঁর অগ্রবর্তী হতো না। তিনি অত্যন্ত মর্যাদা ও প্রতিপত্তির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও চরম বিনয়ী ছিলেন।

১ মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: ইয়াজিদ, যা ভুল; সংশোধন করা হয়েছে তাখরীজ ও রাবীদের জীবনীগ্রন্থসমূহ হতে।

২ সত্যবাদী ও সত্যপ্রত্যায়িত (আস-সাদিকুল মাসদুক) এর অর্থ হলো: নিজ কথায় সত্যবাদী, এবং তাঁর নিকট আগত ওহীর ক্ষেত্রে তিনি সত্যপ্রত্যায়িত।

'শারহুল মিশকাত' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এই বাক্যটিকে 'হাল' হিসেবে না ধরে 'জুমলা ই'তিরাদিয়্যাহ' (প্রাসঙ্গিক বাক্য) হিসেবে গণ্য করাই উত্তম; যাতে তা সকল অবস্থার ওপর ব্যাপক হয় এবং এটি যেন তাঁর স্থায়ী গুণ প্রকাশ করে; আর এটি কতই না চমৎকার প্রয়োগ! আল-হাফিয 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে বলেছেন: আস-সাদিক শব্দের অর্থ—সত্য সংবাদ প্রদানকারী, এটি কর্মের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমন বলা হয়: সে যুদ্ধে সত্যতা দেখিয়েছে (বীরত্বে অটল ছিল), অর্থাৎ সে তাতে সত্যবাদী ছিল। আর আল-মাসদুক অর্থ—যাকে কথার ক্ষেত্রে সত্য প্রতিপন্ন করা হয়। বলা হয়: আমি তার সংবাদ সত্য প্রতিপন্ন করেছি, যখন আমি তাকে সুনিশ্চিত সংবাদ প্রদান করেছি। অথবা এর অর্থ: যাকে মহান আল্লাহ তাঁর ওয়াদার ক্ষেত্রে সত্য প্রতিপন্ন করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
"إِنَّ أَحَدَكُمْ يُجمع خلقُه فِي بَطْنِ أُمِّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا -أَوْ قَالَ: أَرْبَعِينَ لَيْلَةً- ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يُرسِل اللَّهُ عز وجل الملَك، فَيُؤْمَرُ بِأَرْبَعِ كَلِمَاتٍ".

قَالَ: "فَيُكْتَبُ رِزْقُهُ، وَأَجَلُهُ، وَعَمَلُهُ، وَشَقِيٌّ أَوْ سَعِيدٌ، ثُمَّ يُنْفَخُ فِيهِ الرُّوحُ، فَوَالَّذِي لا إِلَهَ غَيْرُهُ إِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ الْجَنَّةِ، حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلا ذِرَاعٌ، فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ، فيُختم لَهُ بِعَمَلِ النَّارِ، فَيَكُونُ مِنْ أَهْلِ النَّارِ، وَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ النَّارِ، حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلا ذِرَاعٌ، فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ، فيُختم لَهُ بِعَمَلِ الْجَنَّةِ، فيكون من أهلها"1.

--------------------------------------------

1 في الحديث أن الأعمال -حسنها وسيئها- أمارات، وليست بموجبات، وأن مصير الأمور في العاقبة إلى ما سبق به القضاء، وجرى به القدر في الابتداء، وفيه القسم على الخبر الصدق تأكيدًا في نفس السامع.

وفيه التنبيه على صدق البعث بعد الموت؛ لأن مَن قدر على خلق الشخص من ماء مهين، ثم نقله إلى العلقة، ثم إلى المضغة، ثم ينفخ فيه الروح، قادر على نفخ الروح بعد أن يصير ترابًا، ويجمع أجزاءه بعد أن يفرقها. ولقد كان قادرًا على أن يخلقه دَفْعَةً واحدة؛ ولكن اقتضت الحكمة بنقله في الأطوار رفقًا بالأم؛ لأنها لم تكن معتادة، فكانت المشقة تعظم عليها، فهيأه في بطنها بالتدريج إلى أن تكامل. وإذا تأمل الإنسان في أصل خلقه من نطفة، وتنقله في تلك الأطوار إلى أن صار إنسانًا جميل الصورة، مفضلًا بالعقل والفَهْم والنطق كان حقًّا عليه أن يشكر من أنشأه وهيأه، ويعبده حق عبادته، ويطيعه ولا يعصيه.

وفيه الحث على الاستعاذة من سوء الخاتمة، وقد عمل به جمع جم من السلف وأئمة الخلف.

وفيه أن الله يعلم الجزئيات كما يعلم الكليات لتصريح الخبر بأنه يأمر بكتابة أحوال الشخص مفصلة.

وفيه أنه سبحانه مريد لجميع الكائنات بمعنى أنه خالقها ومقدرها لا أنه يحبها يرضاها.

وفيه أن الأقدار غالبة، فلا ينبغي لأحد أن يغتر بظاهر الحال؛ ومن ثم شرع الدعاء بالثبات على الدين وبحسن الخاتمة.

وقال ابن رجب في شرح الجزء الأخير من الحديث:

وقد رُوي هذا الحديث عن النبي -صلى الله عليه سلم- من وجوه متعددة، وخرَّجه الطبراني من حديث علي بن أبي طالب عن النبي صلى الله عليه وسلم وزاد فيه: "صاحب الجنة مختوم له بعمل أهل الجنة، وصاحب النار مختوم له بعمل أهل النار وإن عمل أي عمل، وقد يسلك بأهل السعادة طريق أهل الشقاوة حتى يقال: ما أشبههم بهم بل هم منهم وتدركهم فتستنقذهم، وقد يسلك بأهل الشقاوة طريق أهل السعادة =
"নিশ্চয়ই তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন -অথবা তিনি বলেছেন: চল্লিশ রাত- একত্রিত করা হয়, তারপর অনুরূপ সময় ধরে তা রক্তপিণ্ডে পরিণত হয়, এরপর অনুরূপ সময় ধরে তা মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়, এরপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা একজন ফেরেশতা পাঠান এবং তাকে চারটি বিষয় লিখে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।"

তিনি বললেন: "অতঃপর তার রিযিক, তার আয়ুষ্কাল, তার আমল এবং সে কি দুর্ভাগা না সৌভাগ্যবান - তা লিখে দেওয়া হয়। এরপর তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেওয়া হয়। সুতরাং সেই সত্তার কসম, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, নিশ্চয়ই তোমাদের কেউ জান্নাতবাসীদের আমল করতে থাকে, এমনকি তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাতের ব্যবধান থাকে, তখন তার ওপর তাকদীরের লিখন প্রবল হয়ে যায় এবং সে জাহান্নামীদের আমল করে বসে, ফলে সে জাহান্নামী হয়। আর তোমাদের কেউ জাহান্নামীদের আমল করতে থাকে, এমনকি তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক হাতের ব্যবধান থাকে, তখন তার ওপর তাকদীরের লিখন প্রবল হয়ে যায় এবং সে জান্নাতবাসীদের আমল করে বসে, ফলে সে জান্নাতী হয়"১।

--------------------------------------------

১ হাদীসটিতে রয়েছে যে, আমলসমূহ -তা ভালো হোক বা মন্দ- তা কেবল আলামত বা লক্ষণ মাত্র, তা জান্নাত বা জাহান্নাম অবধারিতকারী বিষয় নয়। পরিণতির বিষয়গুলো আদি লগ্নে নির্ধারিত ফয়সালা ও তাকদীরের প্রবাহ অনুযায়ীই হয়ে থাকে। আর এতে শ্রোতার মনে দৃঢ়তা সৃষ্টির জন্য সত্য সংবাদের ওপর শপথ করে তা গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এতে মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের সত্যতার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে; কারণ যিনি একজন ব্যক্তিকে তুচ্ছ পানি থেকে সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন, অতঃপর তাকে রক্তপিণ্ডে, তারপর মাংসপিণ্ডে রূপান্তর করেছেন এবং পরিশেষে তাতে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন, তিনি তাকে মাটি হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় রূহ ফুঁকতে এবং তার বিচ্ছিন্ন অংশগুলো একত্রিত করতে অবশ্যই সক্ষম। তিনি তাকে এক নিমিষেই সৃষ্টি করতে সক্ষম ছিলেন; কিন্তু তাঁর হিকমত বা প্রজ্ঞার দাবি ছিল মায়ের প্রতি কোমলতা স্বরূপ তাকে বিভিন্ন স্তরে রূপান্তর করা। কেননা মা এতে অভ্যস্ত ছিলেন না, ফলে (একবারে সৃষ্টি হলে) কষ্ট তার জন্য অসহনীয় হতো। এজন্য তিনি তাকে মায়ের পেটে ধীরে ধীরে পূর্ণতা দান করেছেন। মানুষ যখন তার সৃষ্টির মূল উৎস বীর্যবিন্দু এবং বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে সুন্দর আকৃতি সম্পন্ন এবং বুদ্ধি, অনুধাবন ও বাকশক্তি সম্পন্ন মানুষে পরিণত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবে, তখন তার ওপর আবশ্যক হবে সেই সত্তার শুকরিয়া আদায় করা যিনি তাকে অস্তিত্ব দান করেছেন ও সুসংগঠিত করেছেন, এবং তাঁর যথাযথ ইবাদত করা, তাঁর আনুগত্য করা ও নাফরমানি না করা।

এতে অশুভ পরিণতি (সূউল খাতিমাহ) থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনার অনুপ্রেরণা রয়েছে। সালাফদের এক বিশাল জামাত এবং পরবর্তী ইমামগণ এর ওপর আমল করেছেন।

এতে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তাআলা খুঁটিনাটি বিষয়গুলোও তেমন জানেন যেমনটি তিনি সামগ্রিক বিষয়গুলো জানেন; কারণ বর্ণনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, তিনি ব্যক্তির অবস্থা বিস্তারিতভাবে লিখে রাখার নির্দেশ দেন।

এতে আরও রয়েছে যে, তিনি সুবহানাহু সকল অস্তিত্বশীল বস্তুর ইচ্ছাকারী; অর্থাৎ তিনি এগুলোর স্রষ্টা ও নির্ধারণকারী, এর অর্থ এই নয় যে তিনি (মন্দ কাজগুলো) ভালোবাসেন বা তাতে সন্তুষ্ট হন।

এতে এটিও রয়েছে যে, তাকদীরের ফয়সালাই চূড়ান্ত হয়; সুতরাং কারও উচিত নয় বাহ্যিক অবস্থা দেখে ধোঁকায় পড়া। এ কারণেই দ্বীনের ওপর অটল থাকা এবং শুভ পরিণতির জন্য দুআ করার বিধান দেওয়া হয়েছে।

ইবনু রজব হাদীসের শেষ অংশের ব্যাখ্যায় বলেছেন:

এই হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তাবারানী এটি আলী বিন আবু তালিব (রা.) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে অতিরিক্ত রয়েছে: "জান্নাতী ব্যক্তির শেষ আমল জান্নাতীদের আমলই নির্ধারিত, আর জাহান্নামী ব্যক্তির শেষ আমল জাহান্নামীদের আমলই নির্ধারিত, সে যে আমলই করুক না কেন। কখনো সৌভাগ্যবানদের হতভাগাদের পথে পরিচালিত করা হয় এমনকি বলা হয়: তারা কতই না তাদের সদৃশ, বরং তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সৌভাগ্য তাদের পেয়ে বসে এবং তাদের উদ্ধার করে। আবার কখনো হতভাগাদের সৌভাগ্যবানদের পথে পরিচালিত করা হয় =
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ الأَعْمَشِ عَنْ زَيْدٍ أَبِي سُلَيْمَانَ الجهني.

--------------------------------------------

= حتى يقال: ما أشبههم بهم بل هم منهم وتدركهم الشقاة، من كتبه الله سعيدًا في أم الكتاب لم يخرجه من الدنيا حتى يستعمله بعمل يسعده قبل موته ولو بفواق ناقة"، ثم قال: "الأعمال بخواتيمها، الأعمال بخواتيهما".

وخرج البزار في مسنده بهذا المعنى أيضًا من حديث ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم.

وفي الصحيحين عن سهل بن سعد أن النبي صلى الله عليه وسلم التقى هو والمشركون، وفي أصحابه رجل لا يدع شاذة وفاذة إلا اتبعها يضربها بسيفه، فقالوا: ما أجزأ منا اليوم أحد كما أجزأ فلان، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "هو من أهل النار"، فقال رجل من القوم: أنا صاحبه فاتبعه، فجرح الرجل جرحًا شديدًا، فاستجعل الموت، فوضع نصل سيفه على الأرض وذبابه بين ثدييه، ثم تحامل على سيفه فقتل نفسه، فخرج الرجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: أشهد أنك رسول الله، وقص عليه القصة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن الرجل ليعمل بعمل أهل الجنة فيما يبدو للناس وهو من أهل النار، وإن الرجل ليعمل بعمل أهل النار فيما يبدو للناس وهو من أهل الجنة". زاد البخاري رواية: "إنما الأعمال بالخواتيم".

وقوله: "فيما يبدو للناس" إشارة إلى أن باطن الأمر يكون بخلاف ذلك، وأن خاتمة السوء تكون بسبب دسيسة باطنة للعبد لا يطلع عليها الناس، إما من جهة عمل سيئ ونحو ذلك، فتلك الخصلة الخفية توجب سوء الخاتمة عند الموت، وكذلك قد يعمل الرجل عمل أهل النار وفي باطنه خصلة خفية من خصال الخير، فتغلب عليه تلك الخصلة في آخر عمره فتوجب له حسن الخاتمة.

قال عبد العزيز بن أبي رواد: حضرت رجلًا عن الموت يلقن الشهادة "لا إله إلا الله"، فقال في آخر ما قال: هو كافر بما تقول، ومات على ذلك، قال: فسألت عنه، فإذا هو مدمن خمر، وكان عبد العزيز يقول: اتقوا الذنوب؛ فإنها هي التي أوقعته.

وفي الجملة فالخواتيم ميراث السوابق، فكل ذلك سبق في الكتاب السابق، ومن هنا كان يشتد خوف السلف من سوء الخواتيم، ومنهم من كان يقلق من ذكر السوابق، وقد قيل: إن قلوب الأبرار معلقة بالخواتيم، يقولون: بماذا يختم لنا؟ وقلوب المقربين معلقة بالسوابق، يقولون: ماذا سبق لنا؟

وبكى بعض الصحابة عند موته فسئل عن ذلك فقال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إن الله تعالى قبض خلقه قبضتين فقال: هؤلاء في الجنة، وهؤلاء في النار، ولا أدري في أي القبضتين كنت؟ "، فقال بعض السلف: ما أبكى العيون وما أبكاها الكتاب السابق.

وقال سفيان لبعض الصالحين: هل أبكاك قط علم الله فيك؟ فقال له ذلك الرجل: تركني لا أفرح أبدًا. وكان سفيان يشتد قلقه من السوابق والخواتيم فكان يبكي ويقول: أخاف أن أكون في أم الكتاب شقيًّا، ويبكي ويقول: أخاف أن أسلَب الإيمان عند الموت.

وكان مالك بن دينار يقوم طول ليله قابضًا على لحيته ويقول: يا رب، قد علمت ساكن الجنة من ساكن النار، ففي أي الدراين منزل مالك؟

وقال حاتم الأصم: من خلا قلبه من ذكر أربعة أخطار فهو مغتر فلا يأمن الشقاء:

الأول: خطر يوم الميثاق حين قال: هؤلاء في الجنة ولا أبالي، وهؤلاء في النار ولا أبالي، فلا يعلم في أي الفريقين كان.

والثاني: حين خلق في ظلمات ثلاث، فنادى الملَك بالشقاوة والسعادة، ولا يدري أمن الأشقياء هو أم من السعداء.

والثالث: ذكر هول المطلع، فلا يدري أيُبَشَّر برضا الله أم بسخطه.

والرابع: يوم يصدر الناس أشتاتًا، فلا يدري أي الطريقين يسلك به.

وقال سهل التستري: المريد يخاف أن يبتلى المعاصي، والعارف يخاف أن يبتلى بالكفر. ومن هنا كان =
বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন আ’মাশ থেকে, তিনি যায়িদ আবু সুলায়মান আল-জুহানি থেকে।

--------------------------------------------

= এমনকি বলা হয়: তারা তাদের কতই না সদৃশ, বরং তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত এবং দুর্ভাগ্য তাদের পাকড়াও করে। যাকে আল্লাহ উম্মুল কিতাবে সৌভাগ্যবান হিসেবে লিখেছেন, তিনি তাকে মৃত্যু পর্যন্ত দুনিয়া থেকে বের করবেন না যতক্ষণ না তাকে এমন কোনো আমলে লিপ্ত করবেন যা তার মৃত্যুর পূর্বে তাকে সৌভাগ্যবান করে দেয়, যদিও তা উটের দুধ দোয়ানোর সামান্য সময়ের ব্যবধানেও হয়।” তারপর তিনি বললেন: “আমলসমূহ শেষ আমলের ওপর নির্ভরশীল, আমলসমূহ শেষ আমলের ওপর নির্ভরশীল।”

আল-বাযযার তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে ইবনে উমর থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে এই একই অর্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

সহিহাইন গ্রন্থে সাহল বিন সা'দ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুশরিকরা যুদ্ধে মুখোমুখি হলেন। তাঁর সাহাবীদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল যে কোনো শত্রুকেই ছাড়ছিল না বরং তার পিছু ধাওয়া করে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করছিল। লোকেরা বলল: আজ আমাদের মাঝে অমুক ব্যক্তির মতো আর কেউ অবদান রাখতে পারেনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত।” তখন লোকদের মধ্যে একজন বলল: আমি তার সঙ্গী হবো (তার খবর নিতে)। সে তার পিছু নিল। লোকটি গুরুতর আহত হলো এবং মৃত্যু ত্বরান্বিত করতে চাইল। সে তার তলোয়ারের হাতল মাটিতে রাখল এবং তলোয়ারের অগ্রভাগ নিজের দুই স্তনের মাঝখানে রাখল। তারপর তলোয়ারের ওপর ভর দিয়ে নিজেকে হত্যা করল। তখন সেই ব্যক্তিটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বলল: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর রাসূল। সে তাঁকে পুরো ঘটনা বর্ণনা করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “মানুষের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি জান্নাতীদের মতো আমল করে অথচ সে জাহান্নামী। আবার মানুষের দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তি জাহান্নামীদের মতো আমল করে অথচ সে জান্নাতী।” বুখারির এক বর্ণনায় বর্ধিত অংশ রয়েছে: “নিশ্চয়ই আমলসমূহ শেষ আমলের ওপর নির্ভরশীল।”

এবং তাঁর উক্তি: “মানুষের দৃষ্টিতে যা প্রকাশ পায়” এটি এই বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে যে, বিষয়টির অভ্যন্তর ভিন্ন হতে পারে। মন্দ পরিণতি বান্দার কোনো অভ্যন্তরীণ গুপ্ত দোষের কারণে হয় যা মানুষ জানতে পারে না; হয় কোনো মন্দ আমলের কারণে বা এই জাতীয় কিছুর কারণে। সেই গোপন বৈশিষ্ট্যটিই মৃত্যুর সময় মন্দ পরিণতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনুরূপভাবে কোনো ব্যক্তি জাহান্নামীদের আমল করতে পারে কিন্তু তার অন্তরে কল্যাণের কোনো গোপন বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে, যার ফলে তার জীবনের শেষ সময়ে সেই বৈশিষ্ট্যটি বিজয়ী হয় এবং তার উত্তম পরিণতির কারণ হয়।

আব্দুল আজিজ বিন আবি রাওয়াদ বলেন: আমি এক ব্যক্তির মৃত্যুকালে উপস্থিত ছিলাম যাকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কালিমার তালকিন দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু সে তার শেষ কথায় বলল: তুমি যা বলছ তা সে অস্বীকার করে এবং এ অবস্থাতেই সে মারা গেল। তিনি বলেন: আমি তার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম যে সে মদ্যপানে অভ্যস্ত ছিল। আব্দুল আজিজ বলতেন: তোমরা পাপ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ এটিই তাকে এই অবস্থায় ফেলেছে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, পরিণাম হলো পূর্ববর্তী অবস্থার উত্তরাধিকার। এর সবকিছুই পূর্ববর্তী কিতাবে নির্ধারিত হয়ে আছে। এ কারণেই সালাফদের অন্তরে মন্দ পরিণতির ভয় অত্যন্ত তীব্র ছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পূর্বলব্ধ ফয়সালার কথা স্মরণে অস্থির হয়ে পড়তেন। বলা হয়ে থাকে: পুণ্যবানদের অন্তর পরিণামের সাথে ঝুলন্ত থাকে, তারা বলে: আমাদের শেষ পরিণতি কী হবে? আর আল্লাহর নিকটবর্তী বান্দাদের অন্তর পূর্বলব্ধ ফয়সালার সাথে ঝুলন্ত থাকে, তারা বলে: আমাদের ভাগ্যে আগে কী লেখা হয়েছে?

জনৈক সাহাবী তাঁর মৃত্যুর সময় কাঁদছিলেন। তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “আল্লাহ তা’আলা তাঁর সৃষ্টিজগতকে দুই মুষ্টিতে নিয়েছেন এবং বলেছেন: এরা জান্নাতী এবং এরা জাহান্নামী। আমি জানি না আমি কোন মুষ্টির অন্তর্ভুক্ত ছিলাম?” জনৈক সালাফ বলেছেন: চোখসমূহকে যা কাঁদিয়েছে এবং কাঁদিয়ে যাচ্ছে তা হলো পূর্বলিখিত কিতাব।

সুফিয়ান জনৈক নেককার ব্যক্তিকে বললেন: তোমার ব্যাপারে আল্লাহর জ্ঞান কি তোমাকে কখনো কাঁদিয়েছে? তখন সেই ব্যক্তি তাঁকে বলল: এটি আমাকে কখনো আনন্দিত হতে দেয় না। সুফিয়ান পূর্বফয়সালা ও শেষ পরিণতির বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন থাকতেন। তিনি কাঁদতেন এবং বলতেন: আমি ভয় করি যে উম্মুল কিতাবে আমি হতভাগ্য হিসেবে লিপিবদ্ধ আছি কি না। তিনি আরও কেঁদে বলতেন: আমি ভয় করি যে মৃত্যুর সময় আমার থেকে ঈমান ছিনিয়ে নেওয়া হয় কি না।

মালিক বিন দিনার সারা রাত নিজের দাড়ি ধরে দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং বলতেন: হে রব, আপনি তো জান্নাতবাসীকে জাহান্নামবাসী থেকে আলাদা করে জানেন, তবে মালিকের আবাসস্থল এই দুই ঘরের মধ্যে কোনটি?

হাতেম আল-আসাম বলেছেন: যার অন্তর চারটি বিপদ থেকে উদাসীন থাকে সে প্রতারিত, তাই সে দুর্ভাগ্যের বিষয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারে না:

প্রথম: অঙ্গীকার দিবসের বিপদ, যখন তিনি বলেছিলেন: এরা জান্নাতে যাবে তাতে আমার কোনো পরোয়া নেই, আর এরা জাহান্নামে যাবে তাতেও আমার কোনো পরোয়া নেই। সুতরাং সে জানে না সে কোন দলের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দ্বিতীয়: যখন তিনটি অন্ধকারের মধ্যে সৃষ্টি করা হয়েছিল, তখন ফেরেশতা দুর্ভাগ্য বা সৌভাগ্যের ঘোষণা দিয়েছিল; সে জানে না সে কি হতভাগ্যদের অন্তর্ভুক্ত নাকি সৌভাগ্যবানদের।

তৃতীয়: মৃত্যুর ফেরেশতার উপস্থিতির সময়ের ভয়ংকর দৃশ্য স্মরণে রাখা; কারণ সে জানে না তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির সংবাদ দেওয়া হবে নাকি তাঁর অসন্তুষ্টির।

চতুর্থ: সেই দিন যখন মানুষ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে বের হবে; সে জানে না তাকে কোন পথে নিয়ে যাওয়া হবে।

সাহল আত-তুস্তারি বলেছেন: মুরিদ ভয় পায় যে সে পাপে লিপ্ত হয় কি না, আর আরিফ ভয় পায় যে সে কুফরিতে লিপ্ত হয় কি না। আর এখান থেকেই =
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
[2] أَخْبَرَنَا طِرَاد، نا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَان السُّكَّرِي المُعَدِّل، أنا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الصَّفَّار قِرَاءَةً في سنة ست وثلاثين وثلاثمائة، أنا أحمد بن منصور، ونا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، ثنا مَعْمَرٌ، عَنْ هِشَامِ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّهَا قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إني بَنِي أَبِي سَلَمَةَ فِي حَجْرِي1، ليس لَهُمْ شَيْءٌ إِلا مَا أَنْفَقْتُ عَلَيْهِمْ، وَلَسْتُ بِتَارِكَتِهِمْ، أَفَلِي أَجْرٌ إِنْ أَنْفَقْتُ عَلَيْهِمْ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: "أَنْفِقِي عَلَيْهِمْ؛ فَإِنَّ لَكِ أَجْرَ مَا أَنْفَقْتِ عَلَيْهِمْ".

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ رَاهَوَيْهِ، وَعَنْ عَبْدِ الرزاق.

--------------------------------------------

= الصحابة ومن بعدهم من السلف الصالح يخافون على أنفسهم النفاق ويشتد قلقهم وجزعهم منه، فالمؤمن يخاف على نفسه النفاق الأصغر، ويخاف أن يغلب ذلك عليه عند الخاتمة فيخرجه إلى النفاق الأكبر، كما تقدم أن دسائس السوء الخفية توجب سوء الخاتمة، وقدكان النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يكثر أن يقول في دعائه: "يا مقلب القلوب، ثبت قلبي على دينك"، ققيل له: يا نبي الله، آمنا بك وبما جئت به، فهل تخاف علينا؟ فقال: "نعم، إن القلوب بين أصبعين من أصابع الرحمن عز وجل يقبلها كيف شاء" خرجه الإمام أحمد والترمذي من حديث أنس.

وخرج الإمام أحمد من حديث أم سلمة أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يكثر في دعائه أن يقول: "اللهم يا مقلب القلوب ثبت قلبي على دينك"، فقلت: يا رسول الله، أوإن القلوب لتنقلب؟ قال: "نعم، ما من خلق الله من بني آدم من بشر إلا أن قلبه بين أصبعين من أصابع الله عز وجل فإن شاء الله عز وجل أقامه وإن شاء أزاغه"، فنسأل الله ربنا ألا يزيغ قلوبنا بعد إذ هدانا، ونسأله أن يهب لنا من لدنه رحمة إنه هو الوهاب، قالت: قلت: يا رسول الله، ألا تعلمني دعوة أدعو بها لنفسي؟ قال: "بلى، قولي: اللهم رب النبي محمد صلى الله عليه وسلم اغفر لي ذنبي، وأذهب غيظ قلبي، واؤجرني من مضلات الفتن ما أحييتني"، وفي هذا المعنى أحاديث كثيرة.

وخرج مسلم من حديث عبد الله بن عمرو: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إن قلوب بني آدم كلها بين أصبعين من أصابع الرحمن عز وجل كقلب واحد يصرفه حيث يشاء"، ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اللهم مصرف القلوب صرف قلوبنا على طاعتك".

"جامع العلوم والحكم 69-71".

[2] م "2/ 695" "12" كتاب الزكاة - "14" باب فضل النفقة والصدقة على الأقربين والزوج والأولاد والوالدين ولو كانوا مُشْرِكِينَ - من طريق أبي أسامة، عن هشام به.

ومن طريق إسحاق بن إبراهيم وعبد الرزاق عن معمر به.

خ "3/ 428" "69" كتاب النفقات - "14" باب {وَعَلَى الْوَارِثِ مِثْلُ ذَلِكَ} وهل على المرأة من شيء - من طريق موسى بن إسماعيل، عن وهيب، عن هشام به.

1 حَجْرِي: أي كنفي وحمايتي.
[২] আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তিরাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-হুসাইন আলি বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন বিশরান আস-সুক্কারি আল-মুয়াদ্দিল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আস-সাফ্ফার ৩৩৬ হিজরিতে পাঠ করার মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন মনসুর, এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক বিন হাম্মাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'মার, হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি যায়নাব বিনতে আবি সালামাহ থেকে, তিনি উম্মু সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসুল, আবু সালামাহর সন্তানরা আমার কোলে রয়েছে, আমি তাদের জন্য যা ব্যয় করি তা ছাড়া তাদের কাছে আর কিছুই নেই, এবং আমি তাদের ছেড়ে চলেও যেতে পারি না। আমি যদি তাদের জন্য ব্যয় করি, তবে কি আমি প্রতিদান পাব? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তুমি তাদের জন্য ব্যয় করো; কারণ তুমি তাদের জন্য যা ব্যয় করবে তার প্রতিদান তুমি পাবে।"

ইমাম মুসলিম এটি ইসহাক বিন রাহওয়াইহ এবং আবদুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

= সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী সালাফে সালেহীনরা নিজেদের ব্যাপারে নিফাক (মুনাফিকি) হওয়ার ভয় পেতেন এবং এ নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ ও অস্থিরতা অত্যন্ত তীব্র ছিল। মুমিন ব্যক্তি নিজের ওপর নেফাকে আসগর (ছোট মুনাফিকি)-এর ভয় করেন এবং আশঙ্কা করেন যে, মৃত্যুর সময় হয়তো তা তার ওপর জয়ী হয়ে যাবে এবং তাকে নেফাকে আকবর (বড় মুনাফিকি)-এর দিকে নিয়ে যাবে। যেমন আগে আলোচনা হয়েছে যে, গোপন মন্দ প্রবৃত্তিগুলো মন্দ পরিণতির কারণ হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দোয়ায় প্রায়ই বলতেন: "হে অন্তর পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অটল রাখুন"। তাঁকে বলা হলো: হে আল্লাহর নবী, আমরা আপনার ওপর এবং আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর ঈমান এনেছি, আপনি কি আমাদের ব্যাপারে ভয় পান? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, নিশ্চয়ই সকল অন্তর দয়াময় (রাহমান) আযযা ওয়া জাল্লার আঙুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙুলের মাঝে রয়েছে, তিনি যেভাবে ইচ্ছা সেগুলোকে পরিবর্তন করেন।" ইমাম আহমদ ও তিরমিজি এটি আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আহমদ উম্মু সালামাহর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দোয়ায় প্রায়ই বলতেন: "হে আল্লাহ, হে অন্তর পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অটল রাখুন"। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, মানুষের অন্তর কি পরিবর্তিত হয়? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, বনী আদমের মধ্য থেকে আল্লাহর সৃষ্টি এমন কোনো মানুষ নেই যার অন্তর আল্লাহর আযযা ওয়া জাল্লার আঙুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙুলের মাঝে নেই। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা চাইলে তাকে সোজা পথে অটল রাখেন এবং চাইলে তাকে বিপথগামী করে দেন"। সুতরাং আমরা আমাদের রব আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের হেদায়েত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে বিপথগামী না করেন। এবং আমরা তাঁর কাছে তাঁর পক্ষ থেকে রহমত প্রার্থনা করি, নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা। তিনি (উম্মু সালামাহ) বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কি আমাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দেবেন না যা দিয়ে আমি নিজের জন্য প্রার্থনা করতে পারি? তিনি বললেন: "অবশ্যই, বলো: হে আল্লাহ, নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রব, আপনি আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন, আমার অন্তরের ক্রোধ দূর করে দিন এবং আমি যতদিন বেঁচে থাকি ততদিন আমাকে বিভ্রান্তিকর ফিতনা থেকে রক্ষা করুন।" এ বিষয়ে আরও অনেক হাদিস রয়েছে।

ইমাম মুসলিম আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই বনী আদমের সমস্ত অন্তর দয়াময় (রাহমান) আযযা ওয়া জাল্লার আঙুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙুলের মাঝে একটি অন্তরের ন্যায় রয়েছে, তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিচালনা করেন।" অতপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "হে আল্লাহ, হে অন্তরসমূহের পরিচালক, আমাদের অন্তরকে আপনার আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে দিন।"

"জামেউল উলুম ওয়াল হিকাম ৬৯-৭১"

[২] মুসলিম "২/ ৬৯৫" "১২" জাকাত অধ্যায় - "১৪" পরিচ্ছেদ: নিকটাত্মীয়, স্বামী, সন্তান ও পিতামাতা মুশরিক হলেও তাদের ওপর ব্যয় এবং সদকার ফজিলত - আবু উসামার সূত্রে হিশাম থেকে।

এবং ইসহাক বিন ইবরাহিম ও আবদুর রাজ্জাকের সূত্রে মা'মার থেকে।

বুখারি "৩/ ৪২৮" "৬৯" ব্যয় (নাফাকাহ) অধ্যায় - "১৪" পরিচ্ছেদ: {উত্তরাধিকারীর ওপরও অনুরূপ দায়িত্ব বর্তাবে} এবং নারীর ওপর কিছু ওয়াজিব কিনা - মুসা বিন ইসমাইলের সূত্রে উহাইব থেকে হিশামের বর্ণনায়।

১ আমার কোলে: অর্থাৎ আমার আশ্রয়ে ও রক্ষণাবেক্ষণে।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
[3] أَخْبَرَنَا طَرَّادُ، نا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقَوَيْهِ1 قَالَ: أنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ حَرْبٍ، نا عَلِيُّ بن حرب، نا سفيان ابن عُيَيْنَةَ2، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بن جبير بن مُعْطِم، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنِّي أَنَا مُحَمَّدٌ، وَأَنَا أَحْمَدُ، وَأَنَا الْمَاحِي الَّذِي يُمحى بِي الكفر، وَأَنَا الْحَاشِرُ الَّذِي أَحْشُرُ النَّاسَ، وأنا العاقب 3 الذي ليس بعده نَبِيٌّ".

أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ.

[4] أَخْبَرَنَا طَرَّادٌ، أنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ رزق البزاز4 في شهر

--------------------------------------------

[3] خ "2/ 512" "61" كتاب المناقب - "7" باب ما جاء في أسماء الرسول صلى الله عليه وسلم مِنْ طريق إبراهيم من المنذر، عن معن، عن مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ محمد بن جبير به، رقم "3532".

م "4/ 1828" "43" كتاب الفضائل - "34" باب في أسماء النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم من طريق سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عن محمد بن جبير به، رقم "124/ 2354".

1 له ترجمة في تاريخ بغداد "1/ 351" قال الخطيب البغدادي فيها: "كان ثقة صدوقًا كثير السماع والكتابة، وحسن الاعتقاد جميل المذهب … وهو أول شيخ كتبت عنه".

2 في الأصل: سفيان بن عيينة، عن محمد بن جبير بن مطعم، وسقط بينهما "الزهري"، من الكاتب كما يتبين من كتب التخريج، ومن نسخة "ب".

3 العاقب: قال أبو عبيد: كل شيء خلف بعد شيء فهو عاقب؛ ولذا قيل لولد الرجل بعده: هو عقبه، وكذا آخر كل شيء. ورواه ابن وهب عن مالك قال: معنى العاقب: ختم الله به الأنبياء، وختم بمسجده هذه المساجد؛ يعني: مساجد الأنبياء.

[4] خ "1/ 209" "10" كتاب الأذان - "11" باب أذان الأعمى - من طريق عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن ابن شهاب به، وفيه:"ثم قال: كان رجلًا أعمى لا ينادي حتى يقال له: أصبحت أصبحت". رقم "617".

م "2/ 766" "13" كتاب الصيام - "8" باب بيان أن الدخول في الصوم يحصل بطلوع الفجر، وأن له الأكل وغيره حتى يطلع الفجر، وبيان صفة الفجر الذي تتعلق به الأحكام، من الدخول في الصوم، ودخول وقت صلاة الصبح، وغير ذلك - من طريق حرملة بن يحيى، عن ابن وهب، عن يونس، عن ابن شهاب به، رقم "37/ 1092".

وفي بعض روايات مسلم: "ولم يكن بينهما إلا أن ينزل هذا ويرقى هذا".

قال العلماء: معناه أن بلالًا كان يؤذن قبل الفجر، ويتربص بعد أذانه للدعاء ونحوه، ثم يرقب الفجر، فإذا قارب طلوعه نزل فأخبر ابن أم مكتوم، فيتأهب ابن أم مكتوم للطهارة وغيرها، ثم يرقى ويشرع في الأذان مع أول طلوع الفجر.

4 هو ابن رزقويه الذي سبقت ترجمته في التعليق على الحديث السابق.
[৩] তাররাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে রিজকুওয়াইহ ১ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমর ইবনে আলী ইবনে হারব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবনে হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ ২ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুহরী থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতয়িম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি মুহাম্মদ, আমি আহমদ, আমি আল-মাহীর (বিদূরণকারী), যার মাধ্যমে আল্লাহ কুফরকে বিদূরিত করেন, আমি আল-হাশির (একত্রকারী), যার পদতলে মানুষকে সমবেত করা হবে, এবং আমি আল-আকিব ৩ (সর্বশেষ আগমনকারী), যার পরে আর কোনো নবী নেই।"

এটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম যুহরীর হাদীস থেকে, মুহাম্মদ থেকে, তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

[৪] তাররাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে রিজক আল-বাযযার ৪ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন... মাসে...

--------------------------------------------

[৩] বুখারী "২/৫১২" "৬১" কিতাবুল মানাকিব - "৭" পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামসমূহ সম্পর্কে যা এসেছে, ইব্রাহিম ইবনে মুনযির থেকে, মা’ন থেকে, মালিক থেকে, ইবনে শিহাব থেকে, মুহাম্মদ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে বর্ণিত, নম্বর "৩৫৩২"।

মুসলিম "৪/১৮২৮" "৪৩" কিতাবুল ফাদায়িল - "৩৪" পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামসমূহ সম্পর্কে, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহর সূত্রে, যুহরী থেকে, মুহাম্মদ ইবনে জুবায়েরের মাধ্যমে বর্ণিত, নম্বর "১২৪/২৩৫৪"।

১ তারিখ বাগদাদে "১/৩৫১" তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে। খতীব বাগদাদী সেখানে বলেছেন: "তিনি বিশ্বস্ত, অত্যন্ত সত্যবাদী, অধিক শ্রবণকারী ও লেখক ছিলেন, এবং সুন্দর আকিদা ও উত্তম মাযহাবের অধিকারী ছিলেন... তিনি প্রথম শায়খ যার নিকট থেকে আমি লিখেছি।"

২ মূল পাঠে রয়েছে: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতয়িম থেকে; এখানে লেখকের হাত থেকে তাদের মাঝে "যুহরী" নামটি বাদ পড়েছে, যা তাখরীজের কিতাবসমূহ এবং "বা" পাণ্ডুলিপি থেকে স্পষ্ট হয়।

৩ আল-আকিব: আবু উবাইদ বলেছেন: যে কোনো জিনিসের পরে যা আসে তাই হলো আকিব; এ কারণেই কোনো ব্যক্তির সন্তানদের তার পরে 'আকিব' (বংশধর) বলা হয়, এবং একইভাবে কোনো কিছুর শেষকেও তাই বলা হয়। ইবনে ওয়াহাব মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আকিবের অর্থ হলো: আল্লাহ যার মাধ্যমে নবীদের ধারা সমাপ্ত করেছেন এবং যার মসজিদের মাধ্যমে এই মসজিদসমূহের (নবীদের মসজিদসমূহ) ধারা সমাপ্ত করেছেন।

[৪] বুখারী "১/২০৯" "১০" কিতাবুল আযান - "১১" পরিচ্ছেদ: অন্ধ ব্যক্তির আযান - আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামার সূত্রে, মালিক থেকে, ইবনে শিহাবের মাধ্যমে বর্ণিত। তাতে রয়েছে: "অতঃপর তিনি বললেন: তিনি একজন অন্ধ লোক ছিলেন, যতক্ষণ না তাঁকে বলা হতো: 'ভোর হয়েছে, ভোর হয়েছে', ততক্ষণ তিনি আযান দিতেন না।" নম্বর "৬১৭"।

মুসলিম "২/৭৬৬" "১৩" কিতাবুস সিয়াম - "৮" পরিচ্ছেদ: এই বর্ণনা যে, ফজর উদিত হওয়ার মাধ্যমেই রোজা শুরু হয়, এবং ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত তার জন্য পানাহার ও অন্যান্য বিষয় বৈধ, এবং ফজরের বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা যার সাথে বিধানসমূহ অর্থাৎ রোজা শুরু হওয়া এবং ফজরের সালাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়া ইত্যাদি সম্পৃক্ত - হারমালা ইবনে ইয়াহইয়ার সূত্রে, ইবনে ওয়াহাব থেকে, ইউনুস থেকে, ইবনে শিহাবের মাধ্যমে বর্ণিত, নম্বর "৩৭/১০৯২"।

মুসলিমের কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে: "তাদের দুজনের আযানের মাঝে কেবল এতটুকু সময় থাকত যে, একজন নামতেন আর অপরজন উঠতেন।"

উলামায়ে কেরাম বলেন: এর অর্থ হলো বিলাল ফজরের আগে আযান দিতেন এবং আযানের পরে দোয়ার জন্য অপেক্ষা করতেন, অতঃপর ফজরের প্রতীক্ষা করতেন। যখন ফজর উদিত হওয়ার নিকটবর্তী হতো, তিনি নেমে আসতেন এবং ইবনে উম্মে মাকতুমকে সংবাদ দিতেন। তখন ইবনে উম্মে মাকতুম পবিত্রতা অর্জন ও অন্যান্য কাজের প্রস্তুতি নিতেন, অতঃপর তিনি উপরে উঠে ফজর উদিত হওয়ার সাথে সাথে আযান শুরু করতেন।

৪ তিনি হলেন ইবনে রিজকুওয়াইহ যার জীবনী পূর্ববর্তী হাদীসের টীকায় গত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
رمضان سنة إحدى عشرة وأربعمائة، نا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ، سنة تسع وثلاثين وثلاثمائة، نا جَدِّي عَلِيُّ بْنُ حَرْبٍ، نا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِنَّ بِلالا يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ، فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى تَسْمَعُوا آذَانَ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ".

أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ.

[5] أَخْبَرَنَا طَرَّادٌ، أنا أَبُو الْفَتْحِ هِلالُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ سَعْدَانَ بن

--------------------------------------------

[5] خ "1/ 294" "11" وكتاب الجمعة - "32" باب إذا رأى الإمام رجلًا جاء وهو يخطب أمره أن يصلي ركعتين - من طريق أبي النعمان، عن حماد بن زيد به. رقم "930".

وفي الباب الذي بعده "33" باب من جاء والإمام يخطب صلى ركعتين خفيفتين - من طريق علي بن عبد الله، عن سفيان، عن عمرو به. رقم "931".

م "2/ 596" "7" كتاب الجمعة، "14" باب التحية والإمام يخطب - من طريق أبي الربيع الزهراني وقتيبة بن سعيد، عن حماد به. رقم "54/ 875".

كما روى مسلم عن طريق الليث، عن أبي الزبير، عن جابر أنه قال: جاء سليك الغطفاني يوم الجمعة، ورسول الله صلى الله عليه وسلم قاعد على المنبر، فقعد سليك قبل أن يصلي، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: "أركعت ركعتين؟ " قال: لا. قال: "قم فاركعهما". رقم "58/ 875".

وروى الترمذي من طريق سفيان بن عيينة عن محمد بن عجلان عن عياض بن عبد الله بن أبي سرح: "أن أبا سعيد الخدري دخل يوم الجمعة ومروانُ يخطب، فقام يصلي، فجاء الحرس ليُجلسوه، فأبَى حتى صلى، فلما انصرف أتيناه، فقلنا: رحمك الله، إن كادوا ليقعوا بك! إن كادوا ليقعوا بك! فقال: ما كنت لأتركهما بعد شيء رأيتُه من رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم ذكر أن رجلًا جاء يوم الجمعة في هيئة بذة والنبي صلى الله عليه وسلم يخطب يوم الجمعة فأمره فصلى ركعتين، والنبي صلى الله عليه وسلم يخطب".

قال ابن أبي عمر: كان سفيان بن عيينة يصلي ركعتين إذا جاء والإمام يخطب، وكان يأمر به، وكان أبو عبد الرحمن المقري يراه.

قال أبو عيسى: وسمعت ابن أبي عمر يقول: قال سفيان بن عيينة: كان محمد بن عجلان ثقة مأمونًا في الحديث.

قال: وفي الباب عن جابر، وأبي هريرة، وسهل بن سعد. =
চারশত এগারো হিজরীর রমজান মাস। আমাদের জানিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া তিনশত উনচল্লিশ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে, আমাদের বর্ণনা করেছেন আমার দাদা আলী ইবনে হারব, আমাদের বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই বিলাল রাতে আযান দেয়, তাই তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ইবনে উম্মে মাকতূমের আযান শুনতে পাও।"

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এটি যুহরীর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।

[৫] আমাদের জানিয়েছেন তাররাদ, আমাদের জানিয়েছেন আবুল ফাতহ হিলাল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে সা’দান ইবনে...

--------------------------------------------

[৫] বুখারী "১/ ২৯৪" "১১" এবং জুমুআ অধ্যায় - "৩২" অনুচ্ছেদ: ইমাম যদি কাউকে খুতবা চলাকালীন আসতে দেখেন, তবে তাকে দুই রাকাত সালাত আদায়ের নির্দেশ দেবেন - আবু নুমান-এর সূত্রে হাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে বর্ণিত। হাদীস নং "৯৩০"।

এবং এর পরবর্তী অনুচ্ছেদে "৩৩" অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি ইমামের খুতবা চলাকালীন আসবে, সে যেন সংক্ষিপ্ত দুই রাকাত সালাত আদায় করে - আলী ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্রে সুফিয়ান থেকে এবং তিনি আমর থেকে বর্ণনা করেছেন। হাদীস নং "৯৩১"।

মুসলিম "২/ ৫৯৬" "৭" জুমুআ অধ্যায়, "১৪" অনুচ্ছেদ: ইমামের খুতবা চলাকালীন অভিবাদন এবং সালাত - আবু রাবী আল-যাহরানী এবং কুতাইবা ইবনে সাঈদের সূত্রে হাম্মাদ থেকে বর্ণিত। হাদীস নং "৮৭৫/৫৪"।

অনুরূপভাবে ইমাম মুসলিম লাইসের সূত্রে আবু যুবাইর থেকে এবং তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: জুমুআর দিন সুলাইক আল-গাতাফানী আসলেন যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরে বসা ছিলেন। সুলাইক সালাত আদায়ের আগেই বসে পড়লেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: "তুমি কি দুই রাকাত সালাত আদায় করেছ?" তিনি বললেন: না। নবীজি বললেন: "দাঁড়াও এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করো।" হাদীস নং "৮৭৫/৫৮"।

ইমাম তিরমিযী সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনার সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে এবং তিনি ইয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি সারহ থেকে বর্ণনা করেন: "নিশ্চয়ই আবু সাঈদ আল-খুদরী জুমুআর দিন প্রবেশ করলেন যখন মারওয়ান খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ালেন, তখন প্রহরীরা তাকে বসিয়ে দেওয়ার জন্য আসলেন। কিন্তু তিনি সালাত আদায় না করা পর্যন্ত বসতে অস্বীকার করলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, আমরা তার কাছে গেলাম এবং বললাম: আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, তারা তো প্রায় আপনার ওপর চড়াও হতে যাচ্ছিল! তারা তো প্রায় আপনার ওপর চড়াও হতে যাচ্ছিল! তখন তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে যা আমি দেখেছি, তারপর আমি এই দুই রাকাত কখনোই ছাড়তে পারি না। এরপর তিনি উল্লেখ করলেন যে, এক ব্যক্তি জুমুআর দিন মলিন বেশে আসলেন যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমুআর খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি তাকে নির্দেশ দিলেন এবং সে দুই রাকাত সালাত আদায় করল যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুতবা দিচ্ছিলেন।"

ইবনে আবি উমর বলেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা যখন ইমামের খুতবা চলাকালীন আসতেন, তখন তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং এর নির্দেশ দিতেন, আর আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরীও তা সমর্থন করতেন।

আবু ঈসা বলেন: আমি ইবনে আবি উমরকে বলতে শুনেছি, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে আজলান হাদীসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত ছিলেন।

তিনি বলেন: এ বিষয়ে জাবির, আবু হুরায়রা এবং সাহল ইবনে সাদ থেকেও বর্ণনা রয়েছে। =
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَاهَوَيْهِ بْنِ مِهْيَارِ بْنِ الْمَرْزُبَانِ الكَسْكَرِي1، قِرَاءَةً، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَيَّاشٍ الْقَطَّانُ قِرَاءَةً، فِي رَجَبٍ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وثلاثين وثلاثمائة، ثنا أَبُو الأَشْعَثِ أَحْمَدُ بْنُ الْمِقْدَامِ الْعِجْلِيُّ يَوْمَ الاثْنَيْنِ لَسِتٍّ خَلَوْنَ مِنْ شَوَّالٍ سَنَةَ تِسْعٍ وَأَرْبَعِينَ وَمِائَتَيْنِ، ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَجُلا أَتَى الْمَسْجِدَ، وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "أَصَلَّيْتَ يَا فُلانُ؟ " قَالَ: لا، قال: "قم فَارْكَعْ".

أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ حَمَّادٍ وَغَيْرِهِ عَنْ عَمْرٍو.

--------------------------------------------

= قال أبو عيسى: حديث أبي سعيد الخدري حديث حسن صحيح.

والعمل على هذا عند بعض أهل العلم.

وبه يقول الشافعي، وأحمد، وإسحاق.

وقال بعضهم: إذا دخل والإمام يخطب فإنه يجلس ولا يصلي.

وهوقول سفيان الثوري، وأهل الكوفة.

والقول الأول أصح.

حدثنا قتيبة، حدثنا العلاء بن خالد القرشي قال: رأيت الحسن البصري دخل المسجد يوم الجمعة والإمام يخطب، فصلى ركعتين، ثم جلس.

إنما فعل الحسن اتباعًا للحديث، وهو رَوى عن جابر عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هذا الحديث. "الترمذي" "2/ 385-387".

قال البغوي رحمه الله في فقه هذا الحديث: في الحديث دليل على أن الإمام إذا تكلم في أثناء الخطبة لا يعيدها، وذهب بعض الفقهاء إلى أنه يعيد الخطبة.

وفيه دليل على أن مَن دخل والإمام يخطب لا يجلس حتى يصلي ركعتين، وهو قول كثير من أهل العلم، وإليه ذهب الحسن، وبه قال ابن عيينة، والشافعي، وأحمد، وإسحاق، وقال بعضهم: يجلس ولا يصلي، وهو قول سفيان الثوري، وأصحاب الرأي، وفيه: أن التطوع ركعتان ليلًا ونهارًا. "شرح السنة 4/ 266".

1 له ترجمة في تاريخ بغداد "14/ 75". وقال الخطيب: كتبنا عنه وكان صدوقًا … وسألته عن مولده، فقال: ولد في شهر ربيع الآخر من سنة اثنتين وعشرين وثلاثمائة … ومات سنة أربع عشرة وأربعمائة.
আবদুর রহমান বিন মাহাওয়াইহ বিন মিহইয়ার বিন আল-মারযুবান আল-কাসকারি, পাঠ করার মাধ্যমে, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন ইয়াহইয়া বিন আইয়াশ আল-কাত্তান, পাঠ করার মাধ্যমে, ৩৩২ হিজরীর রজব মাসে, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল আশআস আহমাদ বিন আল-মিকদাম আল-ইজলি, ২৪৯ হিজরীর শাওয়াল মাসের ছয় দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার দিনে, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যায়িদ, আমর বিন দীনার থেকে, তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমার দিন খুতবা দিচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: "হে অমুক, তুমি কি সালাত আদায় করেছ?" সে বলল: না। তিনি বললেন: "দাঁড়াও এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করো।"

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাম্মাদ ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত আমরের হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন।

--------------------------------------------

= আবু ঈসা বলেন: আবু সাঈদ আল-খুদরীর হাদীসটি হাসান সহীহ।

কিছু আহলে ইলমের নিকট এর ওপর আমল রয়েছে।

আর এটিই শাফেঈ, আহমাদ ও ইসহাকের অভিমত।

এবং তাদের কেউ কেউ বলেছেন: যখন সে প্রবেশ করবে এবং ইমাম খুতবা দিতে থাকবেন, তখন সে বসে পড়বে এবং সালাত আদায় করবে না।

এটি সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসীদের অভিমত।

তবে প্রথম কথাটিই অধিকতর সঠিক।

আমাদের নিকট কুতাইবা হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-আলা বিন খালিদ আল-কুরাশী হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাসান বসরীকে জুমার দিন মসজিদে প্রবেশ করতে দেখেছি যখন ইমাম খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং এরপর বসলেন।

হাসান মূলত হাদীস অনুসরণের উদ্দেশ্যেই এটি করেছেন এবং তিনি জাবির থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। "তিরমিযী" (২/ ৩৮৫-৩৮৭)।

আল-বাগভী (রাহিমাহুল্লাহ) এই হাদীসের ফিকহ সম্পর্কে বলেন: হাদীসটিতে এই মর্মে দলিল রয়েছে যে, ইমাম যদি খুতবার মাঝখানে কথা বলেন তবে তাকে পুনরায় খুতবা দিতে হবে না। যদিও কিছু ফকীহ মনে করেন যে তাকে পুনরায় খুতবা দিতে হবে।

এবং এতে দলিল রয়েছে যে, ইমাম খুতবা দেওয়া অবস্থায় যে ব্যক্তি প্রবেশ করবে সে দুই রাকাত সালাত আদায় না করা পর্যন্ত বসবে না। এটি বহু আহলে ইলমের অভিমত এবং হাসানের অভিমতও এটিই। ইবনে উইয়াইনা, শাফেঈ, আহমাদ ও ইসহাক এই অভিমতই পোষণ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন: সে বসবে এবং সালাত আদায় করবে না; এটি সুফিয়ান সাওরী ও আসহাবুর রায়ের অভিমত। এতে আরও রয়েছে যে, দিনে ও রাতে নফল সালাত দুই রাকাত করে। "শারহুস সুন্নাহ" (৪/ ২৬৬)।

১. তার জীবনী 'তারিখে বাগদাদ' (১৪/ ৭৫) এ রয়েছে। আল-খাতীব বলেন: আমরা তার থেকে লিখেছি এবং তিনি সত্যবাদী ছিলেন ... আমি তাকে তার জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বলেন: তিনি ৩২২ হিজরীর রবিউস সানী মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন ... এবং তিনি ৪১৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
[6] أَخْبَرَنَا طَرَّادٌ، أنا هِلالٌ، أنا الْحُسَيْنُ بْنُ يَحْيَى، ثنا عَلِيُّ بْنُ مُسْلِمٍ، ثنا أَبُو دَاوُدَ، ثنا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ صَالِحٍ أَبِي الْخَلِيلِ، عَنْ عَبْدِ الله بن الحارث،

--------------------------------------------

[6] خ "2/ 82" "34" كتاب البيوع - "19" باب إذا بين البيعان ولم يكتما ونصحا - عن طريق سليمان بن حرب، عن شعبة، عن قتادة به. رقم "2079".

"أطرافه في: 2082، 2108، 2110، 2114".

م "3/ 1164" "21" كتاب البيوع - "11" باب الصدق في البيع - من طريق محمد بن المثنى، عن يحيى بن سعيد، عن شعبة، عن عمر بن علي، عن يحيى بن سعيد وعبد الرحمن بن مهدي، عن شعبة، عن قتادة به. رقم "47/ 1532".

والحديث بظاهره يدل على خيار المجلس.

قال الإمام البغوي مبينًا آراء العلماء في ذلك:

اختلف أهل العلم في ثبوت خيار المكان للمتبايعين؛ فذهب أكثرهم إلى أنهما بالخيار بين فسخ البيع وإمضائه ما لم يتفرقا بالأبدان، يُروى فيه عن ابن عباس، وأبي هريرة، وعبد الله بن عمرو، وحكيم بن حزام، وهو قول عبد الله بن عمر، وأبي بَرْزَة الأسلمي، وإليه ذهب شريح، وسعيد بن المسيَّب، والحسن البصري، والشعبي، وطاوس، وعطاء بن أبي رباح، وبه قال الزهري والأوزاعي، وابن المبارك، والشافعي، وأحمد، وإسحاق، وأبو عبيد، وأبو ثور.

وقال النخعي: لا يثبت خيار المكان، ويلزم اليبع بنفس التواجب وهو قول مالك، والثوري، وأصحاب الرأي، وحملوا التفرقَ المذكور في الحديث على التفرق في الرأي والكلام.

والأول أصح؛ لأن العلم قد استقر بين العامة على أن ملك البائع لا يزال إلا بقبول من جهة المشتري، فتأويل الحديث على أمر معلوم عند العامة إخلاء الحديث عن الفائدة، والدليل على أن المراد منه هو التفرق بالأبدان ما رُوي أن ابن عمر كان إذا ابتاع الشيء يعجبه أن يجب له، فارق صاحبه، فمشى قليلًا، ثم رجع فحمل التفرق على التفرق بالأبدان، وراوي الحديث أعلم بالحديث من غيره.

وروي عن أبي الوضيء قال: كنا في غزاة، فباع صاحب لنا فرسًا له من رجل، وباتا ليلة، فلما أردنا الرحيل خاصمه إلى أبي برزة، فقال أبو برزة: لا أراكما تفرقتما، سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "البيعان بالخيار مالم يتفرقا".

ورُوي عن عبد الله بن عمرو بن العاص أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "المتبايعان بالخيار ما لم يتفرقا، إلا صفقة خيار، ولا يحل له أن يفارق صاحبه خشية أن يستقيله". ففيه دليل على أن المراد من التفرق الأبدان، وقوله: "خشية أن يستقيله" أراد: خشية أن يفسخ العقد، فيكون بمنزلة الاستقالة؛ لأن الإقالة لا تعلق لها بمجلس العقد؛ بل يجوز بعد التفرق كما يجوز قبله، وقوله في الحديث: "إلا بيع الخيار" معناه: أن يقول أحدهما لصاحبه: اختر، فقول: اخترت، فيكون هذا إلزامًا للبيع منهما، وإن كان المجلس قائمًا، ويسقط خيارهما، وتأوَّله بعضهم على خيار الشرط، وقال: هذا استثناء يرجع إلى مفهوم مدة الخيار، معناه: كل واحد منهما بالخيار ما لم يتفرقا، فإذا تفرقا لزم البيع إلا أن يتبايعا بشرط خيار ثلاثة أيام، فيبقى خيار الشرط بعد التفرق، وهذا تأويل بعيد؛ لأن الاستثناء يرجع إلى ما ظهر من الكلام، وظاهر الكلام إثبات الخيار، والاستثناء من الإثبات نفي، ومن النفي إثبات. وفي الحديث بيان أن على البائع إذا علم بما باع عيبًا ألا يكتمه. "شرح السنة 8/ 39-41، 45".
[৬] আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাররাদ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিলাল, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন বিন ইয়াহইয়া, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী বিন মুসলিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাম, কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি সালিহ আবু আল-খালিল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আল-হারিস থেকে বর্ণনা করেন।

--------------------------------------------

[৬] বুখারি "২/ ৮২" "৩৪" ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় - "১৯" পরিচ্ছেদ: যখন ক্রেতা-বিক্রেতা সত্য প্রকাশ করে, কোনো কিছু গোপন না করে এবং সদুপদেশ দেয় - সুলাইমান বিন হারব-এর সূত্রে, তিনি শু'বা থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে এই সনদে। নম্বর "২০৭৯"।

"এর অন্যান্য অংশ রয়েছে: ২০৮২, ২১০৮, ২১১০, ২১১৪ নম্বরে।"

মুসলিম "৩/ ১১৬৪" "২১" ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় - "১১" পরিচ্ছেদ: কেনা-বেচায় সততা অবলম্বন - মুহাম্মদ বিন আল-মুসান্না-এর সূত্রে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে, তিনি শু'বা থেকে, তিনি উমর বিন আলী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ ও আব্দুর রহমান বিন মাহদী থেকে, তারা শু'বা থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে এই সনদে। নম্বর "৪৭/ ১৫৩২"।

হাদিসটি বাহ্যত মজলিসের ইখতিয়ার (চুক্তি বাতিলের অধিকার) সাব্যস্ত হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে।

ইমাম বাগাওয়ী এই বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মতামত স্পষ্ট করে বলেন:

ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য স্থানের ইখতিয়ার (খিয়ারুল মাকান) সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে আহলে ইলমগণ মতভেদ করেছেন। তাদের অধিকাংশের মত হলো, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা সশরীরে বিচ্ছিন্ন না হবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করা বা বহাল রাখার ব্যাপারে ইখতিয়ারপ্রাপ্ত থাকবেন। এই মতটি ইবনে আব্বাস, আবু হুরাইরাহ, আব্দুল্লাহ বিন আমর এবং হাকিম বিন হিযাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। এটিই আব্দুল্লাহ বিন উমর ও আবু বারযাহ আল-আসলামীর অভিমত। শুরাইহ, সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিব, হাসান বসরী, শাবী, তাউস এবং আতা বিন আবি রাবাহ এই মতের দিকেই গিয়েছেন। ইমাম যুহরী, আওযাঈ, ইবনুল মুবারক, শাফেয়ী, আহমাদ, ইসহাক, আবু উবাইদ এবং আবু সাওর-ও একই কথা বলেছেন।

ইমাম নাখঈ বলেন: স্থানের ইখতিয়ার সাব্যস্ত হবে না; বরং কেবল প্রস্তাব ও গ্রহণের (ঈজাব ও কবুল) মাধ্যমেই ক্রয়-বিক্রয় আবশ্যক হয়ে যাবে। এটি ইমাম মালিক, সাওরী এবং আসহাবে রায়ের (হানাফী) অভিমত। তারা হাদিসে উল্লেখিত 'বিচ্ছিন্ন হওয়া' (তাফাররুক)-কে মত এবং কথার মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হওয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

প্রথম মতটিই অধিকতর সঠিক; কারণ সাধারণ মানুষের মাঝে এই জ্ঞান প্রতিষ্ঠিত যে, বিক্রেতার মালিকানা কেবল ক্রেতার পক্ষ থেকে কবুল বা গ্রহণের মাধ্যমেই বিলুপ্ত হয়। সুতরাং হাদিসটিকে সাধারণ মানুষের জানা বিষয়ের ওপর তাফসির বা ব্যাখ্যা করা হলে হাদিসটি তার বিশেষ ফায়দা বা তাৎপর্য থেকে খালি হয়ে যায়। এছাড়া হাদিসে 'বিচ্ছিন্ন হওয়া' বলতে যে সশরীরে বা শারীরিকভাবে পৃথক হওয়া বোঝানো হয়েছে, তার দলিল হলো— বর্ণিত আছে যে, ইবনে উমর যখন কোনো কিছু কিনতেন এবং তা তার পছন্দ হতো, তখন তিনি তা চূড়ান্ত করার জন্য তার সাথীর কাছ থেকে পৃথক হয়ে যেতেন এবং সামান্য হাঁটাচলা করে পুনরায় ফিরে আসতেন। তিনি 'বিচ্ছিন্ন হওয়া'-কে সশরীরে বিচ্ছিন্ন হওয়া হিসেবেই গ্রহণ করতেন; আর হাদিসের বর্ণনাকারী অন্য যে কারো চেয়ে হাদিস সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত।

আবু ওয়াদ্বী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা এক যুদ্ধে ছিলাম। আমাদের এক সাথী তার একটি ঘোড়া এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। তারা সারারাত একত্রে কাটান। যখন আমরা প্রস্থানের ইচ্ছা করলাম, তখন ক্রেতা ব্যক্তিটি ঘোড়া নিয়ে (ফেরত দেওয়ার জন্য) আবু বারযাহ-এর কাছে বিবাদে লিপ্ত হলো। তখন আবু বারযাহ বললেন: "আমি তো দেখছি না যে তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়েছ। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'ক্রেতা ও বিক্রেতা ততক্ষণ পর্যন্ত ইখতিয়ারপ্রাপ্ত থাকবে যতক্ষণ না তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়'।"

আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে ততক্ষণ ইখতিয়ারপ্রাপ্ত থাকে যতক্ষণ না তারা পৃথক হয়, তবে যদি ইখতিয়ারের শর্তে কেনা-বেচা হয় (সেটি ভিন্ন কথা)। আর কোনো ব্যক্তির জন্য তার সাথীকে এই ভয়ে ছেড়ে চলে যাওয়া হালাল নয় যে, সে হয়তো চুক্তিটি রদ (ইস্তিকালা) করে দিতে পারে।" এর মধ্যে দলিল রয়েছে যে, বিচ্ছিন্ন হওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সশরীরে পৃথক হওয়া। আর তাঁর কথা "চুক্তি রদ করার ভয়ে"—এর অর্থ হলো: চুক্তিটি বাতিল করে দেওয়ার ভয়ে, যা ইস্তিকালা বা মৌখিকভাবে চুক্তি বাতিলের আবেদনের সমপর্যায়ভুক্ত। কারণ 'ইস্তিকালা'-র সাথে চুক্তিকালীন মজলিসের কোনো সম্পর্ক নেই; বরং এটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরেও যেমন জায়েজ, তেমনি আগেও জায়েজ। আর হাদিসে "ইখতিয়ারের কেনা-বেচা ব্যতীত" কথাটির অর্থ হলো: তাদের একজন অন্যজনকে বলবে, 'আপনি বেছে নিন বা সিদ্ধান্ত নিন', তখন সে বলবে 'আমি গ্রহণ করলাম বা সিদ্ধান্ত নিলাম'। এর ফলে মজলিস বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও উভয়ের পক্ষ থেকে ক্রয়-বিক্রয়টি বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে এবং তাদের ইখতিয়ার বা বাতিল করার অধিকার বিলুপ্ত হবে। কেউ কেউ একে 'শর্তের ইখতিয়ার' (খিয়ারুশ শর্ত) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং বলেছেন: এটি এমন একটি ব্যতিক্রম যা ইখতিয়ারের মেয়াদের ধারণার দিকে ফিরে যায়। এর অর্থ হলো: যতক্ষণ তারা বিচ্ছিন্ন না হবে ততক্ষণ উভয়ে ইখতিয়ারপ্রাপ্ত থাকবে, আর যখন তারা বিচ্ছিন্ন হবে তখন কেনা-বেচা আবশ্যক হয়ে যাবে; তবে যদি তারা তিন দিনের ইখতিয়ারের শর্তে ক্রয়-বিক্রয় করে, তবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও সেই শর্তের ইখতিয়ার বহাল থাকবে। তবে এই ব্যাখ্যাটি দূরবর্তী (দুর্বল); কারণ ব্যতিক্রম বা ইস্তিসনা সাধারণত কথার বাহ্যিক অর্থের দিকেই ফিরে যায়। আর কথার বাহ্যিক দিক হলো ইখতিয়ার সাব্যস্ত করা, আর ইতিবাচক থেকে নেতিবাচক এবং নেতিবাচক থেকে ইতিবাচক ব্যতিক্রম হয়। হাদিসটিতে এই বর্ণনাও রয়েছে যে, বিক্রেতা যদি তার বিক্রিত পণ্যের কোনো দোষ বা খুঁত জানে, তবে তা গোপন করা তার জন্য অনুচিত। "শারহুস সুন্নাহ ৮/ ৩৯-৪১, ৪৫"।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٣٦)
عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "وَالبَّيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا، فَإِنْ صَدَقَا وبيَّنا بُورك لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا، وَإِنْ كَتَمَا مُحق بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا".

أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ مِنْ حَدِيثِ هَمَّامٍ وَغَيْرِهِ عَنْ قَتَادَةَ.

[7] أَخْبَرَنَا طَرَّادٌ، أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ عُمَرَ بْنِ بَرْهَان الغزَّال1 الشَّيْخُ الصَّالِحُ، ثنا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الدَّقَّاقُ إِمْلاءً، نا أَبُو قِلابَةَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقَاشِيُّ، ثنا أَزْهَرُ بْنُ سَعْدٍ السَّمَّانُ، ثنا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبِيدَة، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي 2، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ" 3.

وَلا أَدْرِي أَذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ قَرْنِهِ قَرْنَيْنِ أَوْ ثَلاثَةً.

أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَوْنٍ وَغَيْرِهِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ.

[8] أَخْبَرَنَا طَرَّادٌ، ثنا أَبُو الْفَرَجِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْحَسَنِ بن

--------------------------------------------

[7] خ "2/ 251" "52" كتاب الشهادات - "9" باب لا يشهد على شهادة جور إذا أشهد - من طريق محمد بن كثير، عن سفيان، عن منصور، عن إبراهيم به. رقم "2652". "أطرافه في: 3651، 6429، 6658] .

م "4/ 1963" "44" كتاب فضائل الصحابة - "52" باب فضل الصحابة، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يلونهم - من طريق الحسن بن علي الحلواني، عن أزهر بن سعد السمان به. رقم "212/ 2533".

1 له ترجمة في تاريخ بغداد "8/ 82، 83" قال الخطيب: وكان شيخًا ثقة صالحًا كثير البكاء عن الذكر. توفي سنة اثنتي عشرة وأربعمائة.

2 المراد بقرنه صلى الله عليه وسلم أصحابه، ثم الذين يلونهم: يعني أتباعهم، ثم الذين يلونهم: يعني أتباع التابعين، وهذا يقتضي أن الصحابة أفضل من التابعين، والتابعون أفضل من أتباع التابعين.

والقرن مأخوذ من الاقتران في الأمر الذي يجمعهم، قيل: والقرن ثمانون سنة، أو أربعون، أو مائة، أو غير ذلك.

3 في الأصل: "ثم الذين يلونهم" الثالثة، وهي ليست في "ب" وليست في كتب التخريج.

[8] م "4/ 2119" "49" كتاب التوبة - "8" باب قبول توبة القاتل، وإن كثر قتله - من طريق أبي بكر بن أبي شيبة، عن عفان بن مسلم به. "50/ 2766". =
হাকিম ইবনে হিজাম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ক্রেতা ও বিক্রেতা যতক্ষণ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের (চুক্তি বহাল রাখা বা বাতিলের) ইখতিয়ার থাকে। যদি তারা সত্য কথা বলে এবং (পণ্যের ত্রুটি-বিচ্যুতি) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে, তবে তাদের কেনা-বেচায় বরকত দেওয়া হয়। আর যদি তারা সত্য গোপন করে এবং মিথ্যা বলে, তবে তাদের কেনা-বেচার বরকত মিটিয়ে দেওয়া হয়।"

ইমাম বুখারী এটি কাতাদাহ থেকে হাম্মাম ও অন্যদের বর্ণিত হাদীস থেকে সংকলন করেছেন।

[৭] আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাররাদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে উমর ইবনে বারহান আল-গাজ্জাল (১), যিনি একজন সৎ শাইখ ছিলেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে শ্রুতলিপি প্রদান করেছেন আবু আমর উসমান ইবনে আহমাদ আদ-দাক্কাক। তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু কিলাবাহ আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আর-রাকাশি। তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আযহার ইবনে সা’দ আস-সাম্মান। তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবনু আউন, ইবরাহীম থেকে, তিনি উবাইদাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের মানুষ (২), তারপর যারা তাদের পরবর্তী, তারপর যারা তাদের পরবর্তী (৩)।"

আর আমি জানি না যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর যুগের পরে দুই যুগ নাকি তিন যুগের কথা উল্লেখ করেছেন।

ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি ইবনু আউন ও অন্যদের বর্ণিত ইবরাহীম থেকে হাদীস হিসেবে সংকলন করেছেন।

[৮] আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাররাদ, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবুল ফারাজ আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে হাসান ইবনে

--------------------------------------------

[৭] বুখারী "২/ ২৫১" "৫২" সাক্ষ্য অধ্যায় - "৯" পরিচ্ছেদ: মিথ্যা সাক্ষ্যের ওপর সাক্ষ্য দিবে না যদি তাকে সাক্ষ্য দিতে বলা হয় - মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর-এর সূত্র থেকে, সুফিয়ান থেকে, মানসুর থেকে, ইবরাহীমের সূত্রে। নং "২৬৫২"। [এর অন্যান্য সূত্র রয়েছে: ৩৬৫১, ৬৪২৯, ৬৬৫৮]।

মুসলিম "৪/ ১৯৬৩" "৪৪" সাহাবীদের ফযিলত অধ্যায় - "৫২" পরিচ্ছেদ: সাহাবীদের মর্যাদা, তারপর যারা তাদের পরবর্তী, তারপর যারা তাদের পরবর্তী - হাসান ইবনে আলী আল-হুলওয়ানি-এর সূত্র থেকে, আযহার ইবনে সা’দ আস-সাম্মানের সূত্রে। নং "২১২/ ২৫৩৩"।

১ 'তারিখ বাগদাদে' (৮/ ৮২, ৮৩) তাঁর জীবনী রয়েছে। আল-খাতিব বলেন: তিনি একজন নির্ভরযোগ্য, সৎ শাইখ ছিলেন এবং যিকিরের সময় প্রচুর কাঁদতেন। তিনি ৪১২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

২ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ বলতে তাঁর সাহাবীদের বুঝানো হয়েছে। তারপর যারা তাদের পরবর্তী অর্থাৎ তাদের অনুসারী (তাবেয়ী), তারপর যারা তাদের পরবর্তী অর্থাৎ অনুসারীদের অনুসারী (তাবে-তাবেয়ী)। এটি দাবি করে যে, সাহাবীগণ তাবেয়ীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং তাবেয়ীগণ তাবে-তাবেয়ীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। "করন" শব্দটি কোনো বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া থেকে নেওয়া হয়েছে যা তাদের একত্রিত করে। বলা হয়েছে: করন হলো আশি বছর, অথবা চল্লিশ, অথবা একশ, অথবা এর ব্যতিক্রম কিছু।

৩ মূল কপিতে "তারপর যারা তাদের পরবর্তী" তৃতীয়বার রয়েছে, কিন্তু "বা" পাণ্ডুলিপিতে বা হাদীস সংকলনের গ্রন্থসমূহে এটি নেই।

[৮] মুসলিম "৪/ ২১১৯" "৪৯" তাওবা অধ্যায় - "৮" পরিচ্ছেদ: হত্যাকারীর তাওবা কবুল হওয়া, যদিও তার হত্যার পরিমাণ বেশি হয় - আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ-এর সূত্র থেকে, আফফান ইবনে মুসলিমের সূত্রে। "৫০/ ২৭৬৬"। =
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٣٧)
الْمُسْلِمَة الْمُعَدِّل1 قِرَاءَةً فِي سَنَةِ اثنتي عشرة وأربعمائة، ثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ يوسف بن خَلادٌ، ثنا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي أُسَامَةَ، ثنا عَفَّانُ، ثنا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ أَنَّ عَوْنًا وَسَعِيدَ بْنَ أَبِي بُرْدة حدثاه أَنَّهُمَا شَهِدَا أَبَا بُرْدَةَ يُحَدِّثُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "لا يَمُوتُ رَجُلٌ مُسْلِمٌ إِلا أَدْخَلَ اللَّهُ تبارك وتعالى مَكَانَهُ النَّارَ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا".

قَالَ: فَاسْتَحْلَفَهُ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ2 بِاللَّهِ الَّذِي لا إِلَهَ إِلا هُوَ ثَلاثَ مَرَّاتٍ أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ عَنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: فَحَلَفَ لَهُ. فَلَمْ يُحَدِّثْنِي سَعِيدٌ أَنَّهُ اسْتَحْلَفَهُ، وَلَمْ ينكر على عون قوله.

--------------------------------------------

= قال ابن حجر: "ورواه البخاري في تاريخه عن طريق محمد بن إسحاق بن طلحة التيمي، وعمارة القرشي، وعبد الملك بن عمير، وعمرو بن قيس السكوني - كلهم عن أبي بردة به.

"ثم ذكر علله والاختلاف فيه على أبي بردة، قال: والحديث في الشفاعة وأن قومًا يعذبون، ثم يخرجون أكثر وأبين".

قلت -أي ابن حجر: يجوز تخصيص هذا بحديث الشفاعة، فيحتمل أن الطائفة المعذبة من العصاة لا يحصل لهم هذا النداء ابتداء. والله أعلم. "الإمتاع بالأربعين المتباينة بشرط السماع ص287، 288".

وروى القطيعي في جزء الألف دينار "ص144" ما يبين فكاك المؤمن من أمة محمد بغيره من أهل الأديان -روى من طريق بشر "بن موسى الأسدي" عن عبد الرحمن القرى، عن سعيد بن أبي بن أيوب، عن أبي القاسم -رجل من أهل حمص، عن عمرو بن قيس السكوني، عن أبي بردة الأشعري، عن أبيه، عن النبي- صلى الله عليه وسلم أنه قال: "أمتي مرحومة، مغفور لها، جعل عذابها بينها في الدنيا، فإذا كان يوم القيامة أعطي كل رجل من أمتي رجلًا من أهل الأديان، فقثيل: هذا فداؤك من النار".

أقول: إن كثيرًا من النكبات التي يصاب بها المسلمون من كيد بعض اليهود والنصارى من الأجانب غير المصريين، فلعل الله عز وجل يعوض المسلمين خيرًا في الآخرة بما جاء في هذا الحديث الشريف. والله أعلم.

1 له ترجمة في تاريخ بغداد "5/ 67، 68" قال الخطيب: كتبت عنه وكان ثقة، وبلغني أنه ولد في آخر ذي القعدة من سنة سبع وثلاثين وثلاثمائة … مات سنة خمس عشرة وأربعمائة.

2 "فاستحلفه عمر بن عبد العزيز" إنما استحلفه لزيادة الاستيثاق والطمأنينة، ولما حصل له من السرور بهذه البشارة العظيمة للمسلمين أجمعين، ولأنه إذا كان عنده فيه شك وخوف غلط، أو نسيان أو اشتباه، أو نحو ذلك، أمسك عن اليمين، فإذا حلف تحقق انتفاء هذه الأمور، وعرف صحة الحديث.

وقد جاء عن عمر بن عبد العزيز والشافعي -رحمهما الله- أنهما قالا: هذا الحديث أرجى حديث للمسلمين.
আল-মুসলিমা আল-মুয়াদদিল চারশত বারো হিজরিতে পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু বকর আহমাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে খাল্লাদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-হারিস ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবি উসামা আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আফফান আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাম আমাদের বর্ণনা করেছেন, কাতাদা থেকে বর্ণিত যে, আউন এবং সাঈদ ইবনে আবি বুরদাহ তাকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা উভয়ে আবু বুরদাহকে উমর ইবনে আব্দুল আজিজের কাছে তার পিতার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে দেখেছেন যে, তিনি বলেছেন: "কোনো মুসলিম ব্যক্তি মারা গেলে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তার পরিবর্তে জাহান্নামে একজন ইহুদি বা নাসারাকে প্রবেশ করান।"

তিনি বলেন: তখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ তাকে সেই আল্লাহর নামে তিনবার শপথ করালেন যার কোনো ইলাহ নেই, যেন তার পিতা তাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন তা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন: তখন তিনি তার কাছে শপথ করলেন। সাঈদ আমাকে বর্ণনা করেননি যে তিনি তাকে শপথ করিয়েছেন, তবে তিনি আউনের বর্ণনার প্রতিবাদ করেননি।

--------------------------------------------

= ইবনে হাজার বলেন: "আর বুখারি তার ইতিহাসে এটি মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে তালহা আত-তাইমি, আমারা আল-কুরাশি, আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর এবং আমর ইবনে কায়স আস-সুকুনি - এদের সকলের সূত্রে আবু বুরদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

"অতঃপর তিনি এর ত্রুটিসমূহ এবং আবু বুরদাহর বর্ণনায় মতভেদ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আর সুপারিশ (শাফায়াত) এবং একদল লোককে শাস্তি দেওয়ার পর তাদের বের করে আনা সংক্রান্ত হাদিসসমূহ অধিক ও স্পষ্টতর।"

আমি অর্থাৎ ইবনে হাজার বলি: এই হাদিসটিকে শাফায়াতের হাদিসের সাথে নির্দিষ্ট করা সম্ভব, ফলে হতে পারে অবাধ্যদের মধ্য থেকে যে দলটিকে শাস্তি দেওয়া হবে তারা শুরুতে এই ঘোষণা লাভ করবে না। আর আল্লাহই ভালো জানেন। "আল-ইমতা বিল আরবাঈন আল-মুতাবায়িনাহ বিশারতিস সামা পৃষ্ঠা ২৮৭, ২৮৮"।

আর আল-কাতিয়ি 'জুয আল-আলফ দিনার' (পৃষ্ঠা ১৪৪) গ্রন্থে এমন বর্ণনা করেছেন যা উম্মতে মুহাম্মাদীর মুমিনদের পরিবর্তে অন্য ধর্মাবলম্বীদের মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে। তিনি বিশর ইবনে মুসা আল-আসাদির সূত্রে আব্দুর রহমান আল-কুরা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কাসিম নামক হিমসের জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আমর ইবনে কায়স আস-সুকুনি থেকে, তিনি আবু বুরদাহ আল-আশআরি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "আমার উম্মত রহমতপ্রাপ্ত, তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে, তাদের আযাব দুনিয়াতেই তাদের নিজেদের মধ্যে রাখা হয়েছে। অতঃপর যখন কিয়ামত দিবস হবে, তখন আমার উম্মতের প্রত্যেক ব্যক্তিকে অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি দেওয়া হবে এবং বলা হবে: এটি জাহান্নাম থেকে তোমার মুক্তিপণ।"

আমি বলি: মুসলিমরা মিশরীয় নয় এমন কিছু বিদেশি ইহুদি ও নাসারাদের ষড়যন্ত্রের কারণে যে অনেক বিপদে আক্রান্ত হয়, সম্ভবত আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল এই শরিফ হাদিসে যা এসেছে তার মাধ্যমে পরকালে মুসলিমদের উত্তম প্রতিদান দান করবেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

১. তার জীবনী তারীখে বাগদাদে (৫/৬৭, ৬৮) বর্ণিত হয়েছে। আল-খাতিব বলেন: আমি তার থেকে হাদিস লিখেছি এবং তিনি বিশ্বস্ত ছিলেন। আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে তিনি তিনশত সাইত্রিশ হিজরির জিলকদ মাসের শেষে জন্মগ্রহণ করেন … এবং চারশত পনেরো হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

২. "উমর ইবনে আব্দুল আজিজ তাকে শপথ করালেন" - তিনি তাকে শপথ করিয়েছিলেন মূলত নিশ্চয়তা ও প্রশান্তি বৃদ্ধির জন্য এবং সমস্ত মুসলিমদের জন্য এই মহান সুসংবাদ লাভ করে তিনি যে আনন্দিত হয়েছিলেন তার কারণে। কারণ তার মাঝে যদি কোনো সন্দেহ, ভুল, বিস্মৃতি অথবা অস্পষ্টতা ইত্যাদি থাকার ভয় থাকত, তবে তিনি শপথ করা থেকে বিরত থাকতেন। আর যখন তিনি শপথ করলেন, তখন এসব বিষয় না থাকা নিশ্চিত হলো এবং হাদিসটির বিশুদ্ধতা জানা গেল।

আর উমর ইবনে আব্দুল আজিজ এবং ইমাম শাফেয়ি (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তারা উভয়ে বলেছেন: এই হাদিসটি মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে বেশি আশাব্যঞ্জক হাদিস।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٣٨)
أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَفَّانَ، وَمِنْ طَرِيقٍ آخَرَ عَنْ هَمَّامٍ.

[9] أَخْبَرَنَا طَرَّادٌ، ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ السُّكَّرِيُّ قِرَاءَةً، أنا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصفَّار، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الرَّمَادي، ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، ثنا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَعْطَى رِجَالا، وَلَمْ يعطِ رِجَالا، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَعْطَيْتَ فُلانًا، وَتَرَكْتَ فُلانًا، فَلَمْ تُعْطِهِ، وَهُوَ مُؤْمِنٌ، فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: "أَوَ مُسْلِمٌ؟ ". فَأَعَدْتُهَا ثَلاثًا، وَهُوَ يَقُولُ: "أَوَ مُسْلِمٌ؟ ". قَالَ: "إِنِّي لأُعْطِي رجالًا وأدع من أهو أَحَبُّ إليَّ مِنْهُمْ 1 مَخَافَةَ أَنْ يُكَبُّوا فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ"، أو قال: "على مناخرهم" 2.

--------------------------------------------

[9] خ "1/ 25" "1" كتاب الإيمان - "19" باب إذا لم يكن الإسلام على الحقيقة، وكان على الاستسلام أو الخوف من القتل - من طريق أبي اليمان، عن شعيب، عن الزهري به. رقم "27". "طرفه: 1478".

م "1/ 132" "11" كتاب الإيمان - "66" باب تألف من يخاف على إيمانه لضعفه، والنهي عن القطع بالإيمان من غير دليل قاطع - من طريق ابن أبي عمر، عن سفيان، عن الزهري به. رقم "236".

ومن طريق زهير بن حرب، عن يعقوب بن إبراهيم، عن ابن شهاب به. رقم "237".

1 "إني لأعطي رجلًا، وأدع … " إلخ، معناه: أعطي مَن أخاف عليه لضعف إيمانه أن يكفر، وأدع غيره ممن هو أحب إليَّ منه؛ لما أعلمه من طمأنينة قلبه وصلابة إيمانه.

2 قال الإمام النووي في فقه هذا الحديث:

وأما فقهه ومعانيه ففيه الفرق بين الإسلام والإيمان، وفي هذه المسألة خلاف وكلام طويل، وفيه دلالة لمذهب أهل الحق في قولهم: إن الإقرار باللسان لا ينفع إلا إذا اقترن به الاعتقاد بالقلب، خلافًا للكرامية وغلاة المرجئة في قولهم: يكفي الإقرار، وهذا خطأ ظاهر يرده إجماع المسلمين والنصوص في إكفار المنافقين وهذه صفتهم، وفيه الشفاعة إلى ولاة الأمور فيما ليس بمحرم، وفيه مراجعة المسئول في الأمر الواحد، وفيه تنبيه المفضول الفاضل على ما يراه مصلحة، وفيه أن الفاضل لا يقبل ما يشار عليه به مطلقًا بل يتأمله؛ فإن لم تظهر مصلحته لم يعمل به، وفيه الأمر بالتثبت وترك القطع بما لا يعلم القطع فيه، وفيه أن الإمام يصرف المال في مصالح المسلمين الأهم فالأهم، وفيه أنه لا يقطع لأحد بالجنة على التعيين إلا من ثبت فيه نص كالعَشَرة وأشباههم، وهذا مجمع عليه عند أهل السنة، وأما قوله صلى الله عليه وسلم: "أو مسلم؟ " فليس فيه إنكار كونه مؤمنًا؛ بل معناه النهي عن القطع بالإيمان وأن لفظة الإسلام أولى به؛ فإن الإسلام معلوم بحكم الظاهر، وأما الإيمان فباطن لا يعلمه إلا الله تعالى، وقد زعم صاحب التحرير أن هذا الحديث إشارة إلى أن الرجل لم يكن مؤمنًا، وليس كما زعم؛ بل فيه إشارة إلى إيمانه؛ فإن النبي صلى الله عليه وسلم قال في جواب سعد …

"شرح النووي على مسلم 1/ 540، 541".
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, আবু বকর থেকে, তিনি আফফান থেকে; এবং অন্য সূত্রে হাম্মাম থেকে।

[৯] তাররাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল জব্বার আস-সুকারি আমাদের নিকট পাঠ করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আবু আলী ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আহমাদ ইবনে মানসুর আর-রামানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুহরি থেকে, তিনি আমির ইবনে সাদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু লোককে দান করলেন এবং কিছু লোককে দান করলেন না। তখন আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসুল! আপনি অমুককে দিলেন, কিন্তু অমুককে বাদ দিলেন এবং তাকে কিছুই দিলেন না, অথচ সে একজন মুমিন।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নাকি মুসলিম?" আমি কথাটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করলাম এবং তিনি প্রতিবারই বলছিলেন: "নাকি মুসলিম?" এরপর তিনি বললেন: "আমি কোনো কোনো লোককে দান করি অথচ অন্যদের ছেড়ে দেই যারা আমার কাছে তাদের চেয়েও বেশি প্রিয়। এটি এই ভয়ে যে, পাছে তারা তাদের চেহারার ওপর আগুনের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হয়," অথবা তিনি বলেছিলেন: "তাদের নাসারন্ধ্রের ওপর।"

--------------------------------------------

[৯] বুখারি "১/ ২৫" "১" ঈমান অধ্যায় - "১৯" পরিচ্ছেদ: যখন ইসলাম প্রকৃত না হয়ে কেবল আত্মসমর্পণ বা হত্যার ভয়ে হয় - আবু ইয়ামান থেকে, তিনি শুআইব থেকে, তিনি যুহরি সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। হাদিস নং "২৭"। "এর অন্য অংশ: ১৪৭৮"।

মুসলিম "১/ ১৩২" "১১" ঈমান অধ্যায় - "৬৬" পরিচ্ছেদ: যার ঈমান দুর্বল হওয়ার কারণে পথভ্রষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে তার মন রক্ষা করা এবং অকাট্য দলিল ছাড়া ঈমানের বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দিতে নিষেধ করা - ইবনে আবি উমর সূত্রে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি যুহরি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। হাদিস নং "২৩৬"।

এবং জুহাইর ইবনে হারব সূত্রে, তিনি ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। হাদিস নং "২৩৭"।

১ "আমি কোনো কোনো লোককে দান করি এবং ছেড়ে দেই..." ইত্যাদি, এর অর্থ হলো: যার ঈমান দুর্বল হওয়ার কারণে কাফির হয়ে যাওয়ার ভয় আছে তাকে আমি দান করি, আর তাকে ছাড়া অন্যদের বাদ দেই যারা আমার কাছে তার চেয়ে বেশি প্রিয়; কারণ আমি তাদের অন্তরের প্রশান্তি ও ঈমানের দৃঢ়তা সম্পর্কে জানি।

২ ইমাম নববী এই হাদিসের ফিকহ সম্পর্কে বলেন:

এর ফিকহ ও অর্থের ক্ষেত্রে ইসলাম ও ঈমানের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। এই মাসআলায় মতভেদ ও দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে। এতে সত্যপন্থীদের মাযহাবের দলিল রয়েছে যারা বলেন: মৌখিক স্বীকৃতি ততক্ষণ উপকারে আসবে না যতক্ষণ না তা অন্তরের বিশ্বাসের সাথে যুক্ত হয়। এটি কাররামিয়া এবং চরমপন্থী মুরজিয়াদের মতের বিপরীত যারা বলে যে শুধু মৌখিক স্বীকৃতিই যথেষ্ট। এটি একটি স্পষ্ট ভুল যা মুসলিমদের ঐক্যমত এবং মুনাফিকদের কাফির সাব্যস্ত করার নসসমূহ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত, কারণ এটিই ছিল মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য। এতে গুনাহ নয় এমন বিষয়ে দায়িত্বশীলদের কাছে সুপারিশ করার অবকাশ রয়েছে। এতে একই বিষয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তিকে পুনরায় অনুরোধ করার সুযোগ আছে। এতে উচ্চমর্যাদার ব্যক্তিকে নিম্নমর্যাদার ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো কল্যাণকর বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করার অবকাশ আছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, উচ্চমর্যাদার ব্যক্তি তার কাছে পেশকৃত পরামর্শ সরাসরি গ্রহণ করবেন না বরং তা নিয়ে চিন্তা করবেন; যদি তার কল্যাণ স্পষ্ট না হয় তবে তিনি তা করবেন না। এতে নিশ্চিত না হয়ে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে। এতে আরও রয়েছে যে, ইমাম মুসলিমদের সম্পদের বণ্টনের ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে ক্রমানুসারে অগ্রাধিকার দেবেন। এতে আরও রয়েছে যে, নির্দিষ্টভাবে কারও জন্য জান্নাতের সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না যতক্ষণ না সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নস থাকে, যেমন দশজন জান্নাতী এবং তাদের মতো অন্যদের ক্ষেত্রে। এটি আহলে সুন্নাতের নিকট একটি সর্বসম্মত বিষয়। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "নাকি মুসলিম?"—এর মাধ্যমে তিনি ঐ ব্যক্তির মুমিন হওয়া অস্বীকার করেননি; বরং এর অর্থ হলো ঈমানের ওপর চূড়ান্ত রায় দিতে নিষেধ করা এবং 'মুসলিম' শব্দটি ব্যবহার করাই অধিক সমীচীন; কারণ ইসলাম প্রকাশ্য অবস্থা দেখে জানা যায়, আর ঈমান হলো অভ্যন্তরীণ বিষয় যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। সাহেবুত তাহরির দাবি করেছেন যে, এই হাদিসটি ঐ ব্যক্তি মুমিন না হওয়ার ইঙ্গিত দেয়; কিন্তু বিষয়টি তার দাবির মতো নয়, বরং এতে তার ঈমানেরই ইঙ্গিত রয়েছে; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাদের কথার উত্তরে বলেছিলেন...

"শারহু নববী আলা মুসলিম ১/ ৫৪০, ৫৪১"।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٣٩)
الشَّيْخُ الصَّالِحُ قِرَاءَةً، أنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ البَخْتَرِي الرَّزَّاز1 إِمْلاءً....

"ح" وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ الْبُنْدَارُ قِرَاءَةً فِي سَنَةِ اثْنَتَيْنِ وتسعين وأربعمائة، أَنْبَأَ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ السُّكَّرِيُّ2 قِرَاءَةً فِي رَبِيعِ الأَوَّلِ سنة اثنتي عشرة وأربعمائة قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ صَالِحٍ الصفَّار فِي الْمُحَرَّمِ سنة إحدى وأربعين وثلاثمائة قَالا: ثنا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرِ بْنِ مَنْصُورٍ الْبَزَّازُ.

"ح" وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَيُّوبَ قراءة في سنة تسعين وأربعمائة، أَنْبَأَ أَبُو طَاهِرٍ عَبْدُ الْغَفَّارِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ المؤدِّب بِقِرَاءَةِ ابْنِ النَّحْوِيِّ فِي سَنَةَ ثمان وعشرين وأربعمائة، أنبا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بن الحسن بن إسحاق الصواف قراءة في منزله، ثنا أَبُو عَلِيٍّ بِشْرُ بْنُ مُوسَى بْنِ صَالِحِ بْنِ شَيْخِ بْنِ عُمَيْرَةَ3، ثنا الْحُمَيْدِيُّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، ثنا سُفْيَانُ، عَنِ

--------------------------------------------

= وأما النسائي فأخرجه في التفسير "الكبرى 6/ 391، 392 رقم 11311" عن عبيد الله بن سعيد "عن سفيان".

وأما ابن ماجه فأخرجه في الفتن "3953" من حديث أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ به.

وخالف هؤلاء مالك بن إسماعيل وعمرو الناقد، فروياه عن سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ بإسقاط حبيبة.

وطريق مالك خرجها البخاري "7059"، وطريق الناقد خرجها مسلم "2880"، وخالف سفيان بن عيينة جمهور الرواة عن الزهري، فرواه عقيل وابن أبي عتيق وشعيب -وهذه الثلاثة في البخاري- ويونس وصالح -وهاتان في مسلم- ليس في شيء منها ذكر حبيبة "هامش الرباعي ص24، 25".

1 له ترجمة في تاريخ بغداد "3/ 132"، قال الخطيب: كان ثقة ثبتًا. مات سنة تسع وثلاثين وثلاثمائة. وفي المخطوط: "البزاز" وما أثبتناه هو الصواب. انظر: تاريخ بغداد، وسير أعلام النبلاء "15/ 385"، وتوضيح المشتبه 4/ 166، 167.

2 له ترجمة في تاريخ بغداد "10/ 199" "قال الخطيب: كتبنا عنه وكان صدوقًا، مات سنة سبع عشرة وأربعمائة".

3 له ترجمة في تاريخ بغداد "7/ 86-88"، وفيه قال الدراقطني:.... ولد سنة 191، ومات سنة 288.
সৎ শাইখ পাঠের মাধ্যমে (শুনেছেন), আমাকে আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন আমর বিন বাখতারি আর-রাজজাজ ১ শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে (পড়িয়েছেন)....

"হ" এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আবিল কাসিম আলি বিন আহমাদ আল-বুন্দার চারশত বিরানব্বই হিজরি সালে পাঠের মাধ্যমে, সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল জব্বার আস-সুক্কারি ২ চারশত বারো হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আবু আলি ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বিন সালেহ আস-সাফফার-এর নিকট তিনশত একচল্লিশ হিজরি সালের মহররম মাসে পাঠ করা হয়েছিল। তাঁরা উভয়ই বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সা’দান বিন নাসর বিন মানসুর আল-বাজজাজ।

"হ" এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল হাসান আলি বিন আল-হুসাইন বিন আলি বিন আইয়ুব চারশত নব্বই হিজরি সালে পাঠের মাধ্যমে, সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আব্দুল গাফফার বিন মুহাম্মাদ বিন জাফর আল-মুয়াদ্দিব ইবনুন নাহভির পাঠের মাধ্যমে চারশত আটাশ হিজরি সালে, সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আল-হাসান বিন ইসহাক আস-সাওয়াফ তাঁর নিজ বাসভবনে পাঠের মাধ্যমে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলি বিশর বিন মুসা বিন সালেহ বিন শাইখ বিন উমাইরা ৩, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুমাইদি আবদুল্লাহ বিন আজ-জুবাইর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, ... হতে।

--------------------------------------------

= আর ইমাম নাসায়ি এটি তাফসির অধ্যায়ে 'আল-কুবরা' (৬/৩৯১, ৩৯২, নং ১১৩১১) উবাইদুল্লাহ বিন সাঈদ হতে 'সুফিয়ান হতে' সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

আর ইবনে মাজাহ এটি ফিতনা অধ্যায়ে (৩৯৫৩) আবু বকর বিন আবি শায়বার হাদিস হতে বর্ণনা করেছেন।

আর মালিক বিন ইসমাইল ও আমর আন-নাকিদ তাঁদের বিরোধিতা করেছেন; তাঁরা সুফিয়ান বিন উয়াইনা হতে, তিনি যুহরি হতে হাবিবাহ্-কে বাদ দিয়ে বর্ণনা করেছেন।

মালিকের বর্ণিত পথটি বুখারি (৭০৫৯) বর্ণনা করেছেন এবং নাকিদের বর্ণিত পথটি মুসলিম (২৮৮০) বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান বিন উয়াইনা যুহরি হতে বর্ণনাকারী অধিকাংশ রাবির বিরোধিতা করেছেন। এটি উকাল, ইবনে আবি আতিক এবং শুয়াইব বর্ণনা করেছেন—এই তিনটি বুখারিতে আছে—এবং ইউনুস ও সালেহ—এই দুটি মুসলিমে আছে—এদের কোনোটিতেই হাবিবাহ্-র উল্লেখ নেই (রাবাঈ-র টীকা, পৃষ্ঠা ২৪, ২৫)।

১ তাঁর জীবনী তারিখু বাগদাদ (৩/১৩২) এ রয়েছে, খতিব বলেছেন: তিনি বিশ্বস্ত ও সুদৃঢ় ছিলেন। তিনি তিনশত উনচল্লিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। পাণ্ডুলিপিতে "আল-বাজজাজ" আছে, তবে আমরা যা সংশোধন করেছি সেটিই সঠিক। দেখুন: তারিখু বাগদাদ, সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৫/৩৮৫), তাওদিহুল মুশতাবিহ ৪/১৬৬, ১৬৭।

২ তাঁর জীবনী তারিখু বাগদাদ (১০/১৯৯) এ রয়েছে (খতিব বলেছেন: আমরা তাঁর নিকট হতে লিখেছি এবং তিনি সত্যবাদী ছিলেন, তিনি চারশত সতেরো হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন)।

৩ তাঁর জীবনী তারিখু বাগদাদ (৭/৮৬-৮৮) এ রয়েছে, তাতে দারাকুতনি বলেছেন:.... তিনি ১৯১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৮৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٤٠)
الشَّيْخُ الصَّالِحُ قِرَاءَةً، أنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ البَخْتَرِي الرَّزَّاز1 إِمْلاءً....

"ح" وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ الْبُنْدَارُ قِرَاءَةً فِي سَنَةِ اثْنَتَيْنِ وتسعين وأربعمائة، أَنْبَأَ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ السُّكَّرِيُّ2 قِرَاءَةً فِي رَبِيعِ الأَوَّلِ سنة اثنتي عشرة وأربعمائة قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَبِي عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ صَالِحٍ الصفَّار فِي الْمُحَرَّمِ سنة إحدى وأربعين وثلاثمائة قَالا: ثنا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرِ بْنِ مَنْصُورٍ الْبَزَّازُ.

"ح" وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَيُّوبَ قراءة في سنة تسعين وأربعمائة، أَنْبَأَ أَبُو طَاهِرٍ عَبْدُ الْغَفَّارِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ المؤدِّب بِقِرَاءَةِ ابْنِ النَّحْوِيِّ فِي سَنَةَ ثمان وعشرين وأربعمائة، أنبا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بن الحسن بن إسحاق الصواف قراءة في منزله، ثنا أَبُو عَلِيٍّ بِشْرُ بْنُ مُوسَى بْنِ صَالِحِ بْنِ شَيْخِ بْنِ عُمَيْرَةَ3، ثنا الْحُمَيْدِيُّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، ثنا سُفْيَانُ، عَنِ

--------------------------------------------

= وأما النسائي فأخرجه في التفسير "الكبرى 6/ 391، 392 رقم 11311" عن عبيد الله بن سعيد "عن سفيان".

وأما ابن ماجه فأخرجه في الفتن "3953" من حديث أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ به.

وخالف هؤلاء مالك بن إسماعيل وعمرو الناقد، فروياه عن سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ بإسقاط حبيبة.

وطريق مالك خرجها البخاري "7059"، وطريق الناقد خرجها مسلم "2880"، وخالف سفيان بن عيينة جمهور الرواة عن الزهري، فرواه عقيل وابن أبي عتيق وشعيب -وهذه الثلاثة في البخاري- ويونس وصالح -وهاتان في مسلم- ليس في شيء منها ذكر حبيبة "هامش الرباعي ص24، 25".

1 له ترجمة في تاريخ بغداد "3/ 132"، قال الخطيب: كان ثقة ثبتًا. مات سنة تسع وثلاثين وثلاثمائة. وفي المخطوط: "البزاز" وما أثبتناه هو الصواب. انظر: تاريخ بغداد، وسير أعلام النبلاء "15/ 385"، وتوضيح المشتبه 4/ 166، 167.

2 له ترجمة في تاريخ بغداد "10/ 199" "قال الخطيب: كتبنا عنه وكان صدوقًا، مات سنة سبع عشرة وأربعمائة".

3 له ترجمة في تاريخ بغداد "7/ 86-88"، وفيه قال الدراقطني:.... ولد سنة 191، ومات سنة 288.
নেককার শায়খ পাঠের মাধ্যমে আমাদের শুনিয়েছেন, আমার কাছে আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আল-বাখতারি আর-রাজজাজ১ তা শ্রুতিলিখনের (ইমলা) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন....

(বর্ণনাসূত্র পরিবর্তন) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আবিল কাসিম আলি ইবনে আহমাদ আল-বুন্দার চারশত বিরানব্বই হিজরি সনে পাঠের মাধ্যমে; আমাদের জানিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল জব্বার আস-সুক্কারি২ চারশত বারো হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আবু আলি ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে সালিহ আস-সাফফারের নিকট তিনশত একচল্লিশ হিজরি সনের মহররম মাসে পাঠ করা হয়েছিল। তাঁরা উভয়ই বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সা’দান ইবনে নাসর ইবনে মনসুর আল-বাজজাজ।

(বর্ণনাসূত্র পরিবর্তন) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল হাসান আলি ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আলি ইবনে আইয়ুব চারশত নব্বই হিজরি সনে পাঠের মাধ্যমে; আমাদের জানিয়েছেন আবু তাহের আব্দুল গাফফার ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-মুয়াদ্দিব ইবনুন নাহভির পাঠের মাধ্যমে চারশত আটাশ হিজরি সনে; আমাদের জানিয়েছেন আবু আলি মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে ইসহাক আস-সাওয়াফ তাঁর বাড়িতে পাঠের মাধ্যমে; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আলি বিশর ইবনে মুসা ইবনে সালিহ ইবনে শায়খ ইবনে উমাইরা৩; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হুমাইদি আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়ের; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

= আর ইমাম নাসায়ি এটি তাঁর তাফসির গ্রন্থে (আল-কুবরা ৬/৩৯১, ৩৯২, নং ১১৩১১) উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ থেকে এবং তিনি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর ইবনে মাজাহ এটি ফিতনা অধ্যায়ে (৩৯৫৩) আবু বকর ইবনে আবি শায়বার হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর মালিক ইবনে ইসমাইল ও আমর আন-নাকিদ তাঁদের বিরোধিতা করেছেন; তাঁরা সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা থেকে এবং তিনি যুহরি থেকে ‘হাবিবা’-এর নাম বাদ দিয়ে বর্ণনা করেছেন।

মালিকের সূত্রটি ইমাম বুখারি (৭০৫৯) এবং নাকিদের সূত্রটি ইমাম মুসলিম (২৮৮০) বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা যুহরি থেকে বর্ণনাকারী অধিকাংশ বর্ণনাকারীর (জুমহুর) বিরোধিতা করেছেন। আকিল, ইবনে আবি আতিক এবং শুয়াইব এটি বর্ণনা করেছেন—এই তিনটি বর্ণনা বুখারিতে রয়েছে—এবং ইউনুস ও সালিহ এটি বর্ণনা করেছেন—এই দুটি বর্ণনা মুসলিমে রয়েছে। এর কোনোটিতেই হাবিবার উল্লেখ নেই (হাশিয়াতুর রুবায়ি, পৃষ্ঠা ২৪, ২৫)।

১. ‘তারিখু বাগদাদ’ (৩/১৩২) গ্রন্থে তাঁর জীবনী রয়েছে। খতিব বাগদাদি বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় ছিলেন। তিনি ৩৩৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। পাণ্ডুলিপিতে ‘আল-বাজজাজ’ রয়েছে, তবে আমরা যা সাব্যস্ত করেছি তা-ই সঠিক। দেখুন: তারিখু বাগদাদ, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা (১৫/৩৮৫), এবং তাওদিহুল মুশতাবিহ ৪/১৬৬, ১৬৭।

২. ‘তারিখু বাগদাদ’ (১০/১৯৯) গ্রন্থে তাঁর জীবনী রয়েছে। খতিব বাগদাদি বলেন: আমরা তাঁর থেকে হাদিস লিখেছি এবং তিনি সত্যবাদী ছিলেন। তিনি ৪১৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৩. ‘তারিখু বাগদাদ’ (৭/৮৬-৮৮) গ্রন্থে তাঁর জীবনী রয়েছে। সেখানে ইমাম দারা কুতনি বলেছেন: .... তিনি ১৯১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৮৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٤١)
الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ زَيْنَبِ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ حَبِيبَةَ، عَنْ أُمِّهَا أُمِّ حَبِيبَةَ، عَنْ زينب زوج النبي قالت: اسْتَيْقَظَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ نَوْمٍ مُحْمَرٌّ وَجْهُهُ وهو يقول: "لا إلله إِلا اللَّهُ" ثَلاثَ مَرَّاتٍ "وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ 1، فُتِحَ الْيَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ 2 مِثْلَ هَذِهِ"، وَحَلَّقَ حَلَقَةً3. قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَنَهْلَكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ؟ 4 قَالَ: "نَعَمْ، إِذَا كَثُرَ الْخَبَثُ" 5.

أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ وَهُوَ مِنْ عزيز المُدَبَّج6 ومحاسنه، وأربع صَحَابِيَّاتٍ: رَبِيبَتَانِ وَزَوْجَتَانِ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَرْوِي بَعْضُهُنَّ عَنْ بَعْضٍ7.

[11] أَخْبَرَنَا طَرَّادٌ بِانْتِقَاءِ الشَّيْخِ أَبِي عَلِيٍّ الْبَرَدَانِيُّ رحمهم الله، أنا

--------------------------------------------

1 "وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقترب": خص العرب بذلك لأنهم كانوا حينئذ معظم من أسلم. والمراد بالشر: ما وقع بعده من قتل عثمان، ثم توالت الفتن حتى صارت العرب بين الأمم كالقصعة بين الأكلة. قال القرطبي: ويحتمل أن يكون المراد بالشر ما أشار إليه في حديث أم سلمة: "ماذا أنزل الليلة من الفتن، وماذا أنزل من الخزائن"، فأشار بذلك إلى الفتوح التي فتحت بعده، فكثرت الأموال في أيديهم، فوقع التنافس الذي جر إلى الفتن، وكذا التنافس على الإمارة، فإن معظم ما أنكروه على عثمان تولية أقاربه من بني أمية وغيرهم حتى أفضى ذلك إلى قتله، وترتب على قتله من القتال بين المسلمين ما اشتهر واستمر.

1 "فتح اليم من ردم يأجوج": المراد بالردم السد الذي بناه ذو القرنين.

3 حلق حلقة: أي حلق بإصبعه الإبهام والتي تليها.

4 "أنهلك وفينا الصالحون": كأنها أخذت ذلك من قوله تعالى: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ} .

5 قال: "نعم إذا كثر الخبث": فسروه بالزنا أو بأولاد الزنا، وبالفسوق والفجور، وهو أولى؛ لأنه قابله بالصلاح. قال النووي: "ومعنى الحديث أن الخبث إذا كثر فقد يحصل الهلاك العام وإن كان هناك صالحون".

6 التدبيج: رواية الأقران كل واحد عن صاحبه، وهو واضح في هذا الحديث.

7 قال الإمام النووي: ولا يعلم حديث اجتمع أربع صحابيات بعضهن عن بعض غيره. شرح مسلم "18/ 219".

[11] خ "1/ 190" "9" كتاب مواقيت الصلاة "16" باب فضل صلاة العصر - من طريق الحميدي، عن مروان بن معاوية، عن إسماعيل، عن قيس، عن جرير به.

وفيه: "فإن استطعتم ألا تغلبوا على صلاة قبل طلوع الشمس وقبل غروبها فافعلوا"، ثم قرأ: {وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا} قال إسماعيل: افعلوا، ولا تفوتنكم. رقم "554".

"أطرافه في: 573، 4851، 7434، 7435، 7436".

م "1/ 439" "5" كتاب المساجد ومواضع الصلاة - "37" باب فضل صلاتي الصبح والعصر والمحافظة عليهما - من طريق زهير بن حرب، عن مروان بن معاوية الفزاري، عن إسماعيل بن أبي خالد، عن قيس بن أبي حازم، عن جرير به.

وفيه ما في رواية البخاري من الزيادة.

والحديث في جزء الحسن بن عرفة رقم "68"، ص"80".
যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি যয়নাব বিনতে আবি সালামাহ থেকে, তিনি হাবীবা থেকে, তিনি তাঁর মা উম্মু হাবীবা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী যয়নাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুম থেকে লাল বর্ণ মুখমণ্ডল নিয়ে জাগ্রত হলেন এবং তিনি তিনবার বলছিলেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আরবের জন্য ধ্বংস সেই অমঙ্গল থেকে যা নিকটবর্তী হয়েছে, আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীরে এই পরিমাণ ছিদ্র হয়ে গেছে," এবং তিনি (আঙুল দিয়ে) একটি বৃত্ত তৈরি করলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে নেককার লোকজন থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যখন পাপাচার বৃদ্ধি পাবে।"

এটি বুখারী ও মুসলিম যুহরীর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি বিরল 'মুদাব্বাজ' (সহকর্মীদের পরস্পরের থেকে বর্ণনা) ও এর সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত। এতে চারজন নারী সাহাবী রয়েছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দুইজন লালিত কন্যা এবং দুইজন স্ত্রী, যারা একে অপরের থেকে বর্ণনা করেছেন।

[১১] শায়খ আবু আলী আল-বারদানী (রহিমাহুমুল্লাহ)-এর নির্বাচনের ভিত্তিতে তাররাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমি...

--------------------------------------------

১ "আরবের জন্য ধ্বংস সেই অমঙ্গল থেকে যা নিকটবর্তী হয়েছে": আরবরা এতে বিশেষভাবে উল্লিখিত হয়েছে কারণ তখন তারাই ছিল ইসলাম গ্রহণকারীদের অধিকাংশ। অমঙ্গল বলতে যা বুঝানো হয়েছে: তা হলো উসমান (রা.)-এর হত্যার পর যা ঘটেছিল, তারপর একের পর এক ফিতনা আসতে থাকে যতক্ষণ না আরবরা জাতিসমূহের মধ্যে আহারকারীর সামনে খাবারের পাত্রের মতো হয়ে যায়। কুরতুবী বলেন: সম্ভবত এই অমঙ্গল দ্বারা তা-ই বুঝানো হয়েছে যা উম্মু সালামার হাদীসে নির্দেশ করা হয়েছে: "আজ রাতে কতই না ফিতনা অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং কতই না ধনভাণ্ডার অবতীর্ণ করা হয়েছে।" তিনি এর মাধ্যমে তাঁর পরবর্তী সময়ে বিজিত দেশগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যার ফলে তাদের হাতে অঢেল সম্পদ আসে এবং পারস্পরিক প্রতিযোগিতা শুরু হয় যা ফিতনার দিকে ধাবিত করে। তেমনিভাবে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতাও এর অন্তর্ভুক্ত, কেননা উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে তাদের আপত্তির প্রধান কারণ ছিল বনু উমাইয়া ও অন্যদের মধ্য থেকে তাঁর আত্মীয়দের নিয়োগ দান, এমনকি এটি তাকে হত্যার পর্যায়ে নিয়ে যায়। আর তাঁকে হত্যার ফলে মুসলমানদের মধ্যে যে যুদ্ধ বিগ্রহের সৃষ্টি হয় তা সুবিদিত ও দীর্ঘস্থায়ী।

১ "ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর থেকে আজ ছিদ্র হয়েছে": প্রাচীর বলতে যুল-কারনাইন কর্তৃক নির্মিত বাঁধকে বুঝানো হয়েছে।

৩ বৃত্ত তৈরি করলেন: অর্থাৎ বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং তার পাশের আঙুল দিয়ে বৃত্ত তৈরি করলেন।

৪ "আমরা কি ধ্বংস হয়ে যাব যখন আমাদের মাঝে নেককাররা বিদ্যমান": মনে হয় তিনি এটি আল্লাহর বাণী থেকে গ্রহণ করেছেন: {আর আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মাঝে থাকা অবস্থায় তিনি তাদের শাস্তি দেবেন}।

৫ তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যখন পাপাচার বৃদ্ধি পাবে": মুফাসসিরগণ এর ব্যাখ্যা যিনা বা যিনার মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সন্তান এবং পাপাচার ও অবাধ্যতা দিয়ে করেছেন, আর এটিই শ্রেয়; কারণ তিনি এর বিপরীতে সততাকে (সালাহ) দাঁড় করিয়েছেন। ইমাম নববী বলেন: "হাদীসের অর্থ হলো যখন পাপাচার বৃদ্ধি পায় তখন ব্যাপক ধ্বংস নেমে আসতে পারে যদিও সেখানে নেককার লোক বিদ্যমান থাকে।"

৬ তাদবীজ: সমপর্যায়ের বর্ণনাকারীদের একে অপরের থেকে বর্ণনা করা, যা এই হাদীসে স্পষ্ট।

৭ ইমাম নববী বলেন: এমন কোনো হাদীস জানা নেই যেখানে চারজন নারী সাহাবী একে অপরের থেকে বর্ণনা করেছেন এটি ছাড়া। শারহে মুসলিম "১৮/২১৯"।

[১১] বুখারী ১/১৯০ (৯) সালাতের ওয়াক্ত অধ্যায় (১৬) আসরের সালাতের ফযীলত পরিচ্ছেদ - হুমাইদী থেকে, তিনি মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া থেকে, তিনি ইসমাঈল থেকে, তিনি কায়েস থেকে, তিনি জারীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

এতে আছে: "যদি তোমরা সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগের সালাতে পরাজিত না হতে সক্ষম হও তবে তাই করো", তারপর তিনি পাঠ করলেন: {আর আপনি আপনার রবের প্রশংসার তাসবীহ পাঠ করুন সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগে}। ইসমাঈল বলেন: এটি করো এবং তা যেন তোমাদের হাতছাড়া না হয়। নম্বর ৫৫৪।

"এর অন্যান্য সূত্রসমূহ: ৫৭৩, ৪৮৫১, ৭৪৩৪, ৭৪৩৫, ৭৪৩৬"।

মুসলিম ১/৪৩৯ (৫) মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ অধ্যায় - (৩৭) ফজর ও আসরের সালাতের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তা হিফাযত করার পরিচ্ছেদ - যুহাইর ইবনে হারব থেকে, তিনি মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া আল-ফাযারী থেকে, তিনি ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি কায়েস ইবনে আবি হাযিম থেকে, তিনি জারীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

এতে বুখারীর বর্ণনায় যা অতিরিক্ত আছে তা বিদ্যমান।

হাদীসটি আল-হাসান ইবনে আরাফাহ এর জুয-এ আছে নম্বর ৬৮, পৃষ্ঠা ৮০।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٤٢)
أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ بْنِ يَعْقُوبَ الْقَطَّانُ "ح".

وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ أحمد بن محمد بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ النَّعَّالي بقراء إِسْمَاعِيلَ السَّمَرْقَنْدِيُّ فِي جُمَادَى الآخِرَةِ سنة تسعين وأربعمائة، أنا الشَّيْخَانِ أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقَوَيْهِ، وَأَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ.

"ح" وَأَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ خُشَيْش قِرَاءَةً، وَأَنْبَأَ أَبُو الْحَسَنِ1 مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَخْلَدٍ؛ أَرْبَعَتُهُمْ قَالُوا: أَنْبَأَ أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصفَّار2 قَالَ ابْنُ الْفَضْلِ: فِي مَنْزِلِهِ قَطِيعَةَ بَنِي خُزَيْمَةَ سنة أربعين وثلاثمائة مِنْ آخِرِهَا، نا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ الْعَبْدِيُّ3 أَبُو عَلِيٍّ يَوْمَ الثُّلاثَاءِ فِي ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ خَمْسِينَ وَمِائَتَيْنِ، ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ الله بن الْبَجَلِيِّ قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَطَلَعَ الْقَمَرُ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "أَمَا إِنَّكُمْ تَرَوْنَ رَبَّكُمْ عز وجل كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ، لا تُضَامُون 4 فِي رُؤْيَتِهِ، فَإِنْ قَدرتُم أَلا تُغْلَبوا 5 عَنْ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ".

أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ.

--------------------------------------------

1 كذا في الأصل، وفي سير أعلام النبلاء "أبو الحسين" "15/ 440".

2 له ترجمة في تاريخ بغداد "6/ 302"، وسير أعلام النبلاء "5/ 440"، وفي الثاني قال الدراقطني: كان ثقة متعصبًا للسنة. وقال الذهبي: انتهى إليه علو الإسناد. مات سنة إحدى وأربعين وثلاثمائة.

3 انظر ترجمته في مقدمة جزئه، ومصادرها للمحقق الفريوائي "150-257هـ".

4 "لا تضامون": روي: "لا تُضَامُون" أي: لا ينالكم ضيم في رؤيته؛ أي: تعب أو ظلم فيراه بعضكم دون بعض بأن يدفعه عن الرؤية ويستأثر بها؛ بل تشتركون في الرؤية، فهو تشبيه للرؤية بالرؤية، وروي: "لا تُضَامُّون" أي: لا ينضم بعضكم إلى بعض وقت النظر لإشكاله وخفائه، كما تفعلون عند النظر إلى الهلال ونحوه.

5 "فإن قدرتم ألا تغلبوا": بأن تستعدوا لقطع أسباب الغلبة النافية للاستطاعة كنوم وشغل مانع. وجواب الشرط محذوف تقديره: فافعلوا.
আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফাদল বিন ইয়াকুব আল-কাত্তান।

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন তালহা আল-নাআলি, যা ইসমাঈল আস-সামারকান্দি চারশ নব্বই হিজরির জুমাদাল আখিরাহ মাসে পাঠ করেছেন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই শাইখ আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন রিজকওয়াইহ এবং আবু আল-হুসাইন আলি বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান।

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম বিন খুশাইশ পাঠের মাধ্যমে, এবং সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মাখলাদ; তারা চারজনই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার। ইবনুল ফাদল বলেন: তিনশ চল্লিশ হিজরির শেষভাগে বনু খুজাইমার কাতিআতে তার নিজ বাড়িতে; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আলি আল-হাসান বিন আরাফাহ আল-আবদি, দুইশ পঞ্চাশ হিজরির যিলহজ মাসের মঙ্গলবার; আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াযিদ বিন হারুন, ইসমাঈল বিন আবি খালিদ থেকে, তিনি কাইস বিন আবি হাযিম থেকে, তিনি জারির বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজালি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বসা ছিলাম, তখন পূর্ণিমার রাতে চাঁদ উদিত হলো। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "জেনে রেখো, তোমরা তোমাদের মহান রবকে দেখতে পাবে যেমনটি তোমরা এই চাঁদকে দেখছো। তাঁকে দেখার ক্ষেত্রে তোমরা কোনো ভিড় বা কষ্টের সম্মুখীন হবে না। সুতরাং তোমরা যদি সক্ষম হও যে ফজরের পূর্বের দুই রাকাত নামাজের ক্ষেত্রে পরাজিত হবে না (অর্থাৎ তা আদায় করতে সক্ষম হও), তবে তা করো।"

ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম ইসমাঈলের হাদীস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১. মূলে এভাবেই আছে, তবে 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (১৫/৪৪০) গ্রন্থে 'আবু আল-হুসাইন' রয়েছে।

২. তার জীবনী 'তারিখে বাগদাদ' (৬/৩০২) এবং 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (৫/৪৪০) গ্রন্থে রয়েছে। দ্বিতীয় গ্রন্থে আদ-দারা কুতনি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য এবং সুন্নাহর প্রতি অত্যন্ত একনিষ্ঠ ছিলেন। আয-যাহাবি বলেছেন: তার মাধ্যমেই উচ্চস্তরের সনদ সমাপ্ত হয়েছে। তিনি তিনশ একচল্লিশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

৩. তার জীবনী তার কিতাবের (জুয) ভূমিকায় দেখুন, যার উৎসসমূহ মুহাক্কিক আল-ফারিওয়াই বর্ণনা করেছেন (১৫০-২৫৭ হিজরি)।

৪. "লা তুদহামুন": এটি 'লা তুদ-হামুন' (দাল-এ জবরসহ) শব্দে বর্ণিত হয়েছে, যার অর্থ হলো: তাঁকে দেখার ক্ষেত্রে তোমরা কোনো জুলুম বা কষ্টের শিকার হবে না; অর্থাৎ একে অপরকে সরিয়ে বা ভিড় করে দেখার মাধ্যমে কেউ বঞ্চনার শিকার হবে না, বরং দেখার ক্ষেত্রে তোমরা সবাই অংশীদার হবে। এখানে মূলত দেখার প্রক্রিয়াকে দেখার প্রক্রিয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে। এটি 'লা তুদ-হাম্মুন' (মীম-এ তাশদীদসহ) শব্দেও বর্ণিত হয়েছে, যার অর্থ হলো: দেখার অস্পষ্টতা বা জটিলতার কারণে তোমরা একে অপরের সাথে গাদাগাদি বা ভিড় করবে না, যেমনটি তোমরা নতুন চাঁদ বা অনুরূপ কিছু দেখার সময় করে থাকো।

৫. "যদি তোমরা সক্ষম হও যে তোমরা পরাজিত হবে না": অর্থাৎ সক্ষমতা বিনষ্টকারী ঘুম বা ব্যস্ততার মতো কারণগুলো দূর করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে। এখানে শর্তের উত্তরটি উহ্য রয়েছে যার সম্ভাব্য অর্থ হলো: "তবে তা করো"।
(খণ্ড: ১) আল-উমদাতু মিনাল ফাওয়াইদি ওয়াল আছারিস সিহাহ ফী মাশয়াখাতি শাহদাহ (পৃষ্ঠা: ٤٣)
‌‌[الشيخ الثاني] :

[12] أَخْبَرَنَا الشَّرِيفُ أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ السَّلامِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الأَنْصَارِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي رَبِيعٍ الأَوَّلِ من سنة تسع وتسعين وأربعمائة، أَنْبَأَ أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ، قِرَاءَةً، أنا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَاتِي2 فِي مَنْزِلِهِ برَبَضِ حُمَيْدٍ سَنَةَ أربع وأربعين وثلثمائة يَوْمَ الاثْنَيْنِ لأَرْبَعَ عَشْرَةَ لَيْلَةً بَقِيَتْ مِنْ رَجَبٍ، نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعَبْسِيُّ3، ثنا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "يُدعى نُوحٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُقَالُ لَهُ: هَلْ بَلَّغَتْ؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ، فيُدعى قَوْمُهُ، فَيُقَالُ لَهُمْ: هَلْ بلَّغكم؟، فَيَقُولُونَ: مَا أَتَانَا مِنْ نَذِيرٍ، وَمَا أَتَانَا مِنْ أَحَدٍ"، قَالَ: "فَيُقَالُ لِنُوحٍ: مَن يَشْهَدُ لَكَ؟ فَيَقُولُ: مُحَمَّدٌ وَأُمَّتُهُ"، قَالَ: "فَذَلِكَ قَوْلُهُ: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} "، قال: "والوسط العدل 4 ".

--------------------------------------------

1 "فإن قدرتم ألا تغلبوا": بأن تستعدوا لقطع أسباب الغلبة النافية للاستطاعة كنوم وشغل مانع. وجواب الشرط محذوف تقديره: فافعلوا.

[12] نسخة وكيع عن الأعمش "ص84، 85 رقم 26" بهذا الإسناد واللفظ.

خ "3/ 193، 194" "65" كتاب التفسير - "13" باب {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} [البقرة: 143]- من طريق يوسف بن راشد، عن جرير، وأبي أسامة واللفظ لجرير، عن الأعمش به. رقم "4487".

2 له ترجمة في تاريخ بغداد "12/ 32". قال الخطيب: كان ثقة "249-347هـ".

3 قال الحافظ المزي: هو آخر مَن رَوى عن وكيع. وله ترجمة في ثقات ابن حبان "8/ 88" وهو إبراهيم بن عبد الله بن عمر القصار.

4 يقول الأستاذ سيد قطب في هذا المعنى "ظلال 1/ 130-132":

إنها الأمة الوسط التي تشهد على الناس جميعًا، فتقيم بينهم العدل والقسط، وتضع لهم الموازين والقيم، وتبدي فيهم رأيها فيكون هو الرأي المعتمد، وتزن قيمهم وتصوراتهم وتقاليدهم وشعاراتهم فتفصل في أمرها، وتقول: هذا حق منها وهذا باطل. لا التي تتلقى من الناس تصوراتها وقيمها وموازينها. وهي شهيدة على الناس، وفي مقام الحكم العدل بينهم … وبينما هي تشهد على الناس =
[দ্বিতীয় শায়খ] :

[১২] আমাদের নিকট সংবাদ প্রদান করেছেন আশ-শরিফ আবুল ফজল মুহাম্মাদ ইবন আবদুস সালাম ইবন আহমাদ ইবন উমর আল-আনসারী, ৪৯৯ হিজরী সালের রবিউল আউয়াল মাসে তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান ইবন আহমাদ ইবন ইবরাহিম ইবন শাযান, পাঠ করার মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আলী ইবন আবদুর রহমান ইবন মাতি, ৩৪৪ হিজরীর রজব মাসের অবশিষ্ট চৌদ্দ রাত থাকতে (অর্থাৎ ১৬ই রজব) সোমবার দিন রাবদে হুমাইদে তাঁর নিজ বাসভবনে; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবন আবদুল্লাহ আল-আবসী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি ইবনুল জাররাহ, আল-আমাশ থেকে, তিনি আবু সলিহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন নূহ (আ.)-কে ডাকা হবে। অতঃপর তাঁকে বলা হবে: 'আপনি কি (বার্তা) পৌঁছে দিয়েছেন?' তিনি বলবেন: 'হ্যাঁ'। এরপর তাঁর কওমকে ডাকা হবে এবং তাদেরকে বলা হবে: 'তিনি কি তোমাদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন?' তারা বলবে: 'আমাদের কাছে কোনো সতর্ককারী আসেনি এবং আমাদের কাছে কেউ আসেনি'।" তিনি (রাসূলুল্লাহ) বলেন: "অতঃপর নূহ (আ.)-কে বলা হবে: 'কে আপনার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে?' তিনি বলবেন: 'মুহাম্মাদ ও তাঁর উম্মত'।" তিনি (রাসূলুল্লাহ) বলেন: "আর এটাই হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি}।" তিনি বলেন: "আর ওয়াসাত (وسط) অর্থ হলো ন্যায়নিষ্ঠ।"

--------------------------------------------

১ "যদি তোমরা পরাজিত না হতে সক্ষম হও": অর্থাৎ অক্ষমতা সৃষ্টিকারী কারণসমূহ যেমন ঘুম বা কোনো প্রতিবন্ধক কাজ দূর করার মাধ্যমে প্রস্তুতি গ্রহণ করা। শর্তের উত্তরটি এখানে উহ্য রয়েছে, যার মূল বক্তব্য হলো: তবে তাই করো।

[১২] আল-আমাশ সূত্রে ওয়াকি-এর পাণ্ডুলিপি (পৃষ্ঠা ৮৪, ৮৫, নং ২৬), এই সনদ ও শব্দে।

বুখারি (৩/১৯৩, ১৯৪) (৬৫) তাফসির অধ্যায় - (১৩) পরিচ্ছেদ: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি যাতে তোমরা মানুষের উপর সাক্ষী হতে পারো এবং রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হন} [বাকারা: ১৪৩] - ইউসুফ ইবন রাশিদ সূত্রে, জারীর ও আবু উসামা থেকে, আর শব্দগুলো জারীরের, তিনি আল-আমাশ থেকে এই সূত্রে। হাদীস নং ৪৪৮৭।

২ 'তারিখে বাগদাদ' (১২/৩২) গ্রন্থে তাঁর জীবনী রয়েছে। খতিব (বাগদাদী) বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন (২৪৯-৩৪৭ হিজরী)।

৩ হাফিজ মিযযি বলেন: তিনি ওয়াকি থেকে বর্ণনা করা সর্বশেষ ব্যক্তি। ইবন হিব্বানের 'আস-সিকাত' (৮/৮৮) গ্রন্থে তাঁর জীবনী রয়েছে, তিনি হলেন ইবরাহিম ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর আল-কাসসার।

৪ উস্তাদ সাইয়্যেদ কুতুব এই অর্থের ব্যাখ্যায় বলেন (জিললাল ১/১৩০-১৩২):

নিশ্চয়ই এটি সেই মধ্যপন্থী জাতি যারা সকল মানুষের উপর সাক্ষ্য প্রদান করবে, ফলে তারা তাদের মাঝে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে এবং তাদের জন্য মানদণ্ড ও মূল্যবোধ নির্ধারণ করবে। তাদের বিষয়ে নিজের অভিমত ব্যক্ত করবে এবং সেটিই হবে নির্ভরযোগ্য অভিমত। তারা মানুষের মূল্যবোধ, ধারণা, ঐতিহ্য ও স্লোগানসমূহ বিচার-বিশ্লেষণ করবে এবং সে বিষয়ে ফয়সালা দিয়ে বলবে: এর মধ্যে এটি সত্য এবং ওটি মিথ্যা। এই জাতি মানুষের কাছ থেকে নিজেদের ধারণা, মূল্যবোধ বা মানদণ্ড গ্রহণ করবে না। তারা মানুষের ওপর সাক্ষী এবং তাদের মাঝে ন্যায়নিষ্ঠ বিচারকের আসনে অধিষ্ঠিত … আর যখন তারা মানুষের ওপর সাক্ষ্য প্রদান করছে =