(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: -)
معالم أصول الفقه عند أهل السنة والجماعة القسم: أصول الفقه
الكتاب: معالم أصول الفقه عند أهل السنة والجماعة
المؤلف: محمَّد بنْ حسَيْن بن حَسنْ الجيزاني
الناشر: دار ابن الجوزي
الطبعة: الطبعة الخامسة، 1427 هـ
عدد الصفحات: 643
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট উসূলে ফিকহের নিদর্শনসমূহ বিভাগ: উসূলে ফিকহ
কিতাব: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট উসূলে ফিকহের নিদর্শনসমূহ
লেখক: মুহাম্মাদ বিন হুসাইন বিন হাসান আল-জিজানি
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি
সংস্করণ: পঞ্চম সংস্করণ, ১৪২৭ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪৩
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
ـ[معالم أصول الفقه عند أهل السنة والجماعة]ـ
المؤلف: محمَّد بنْ حسَيْن بن حَسنْ الجيزاني
الناشر: دار ابن الجوزي
الطبعة: الطبعة الخامسة، 1427 هـ
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
―[আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর নিকট উসুলুল ফিকহ-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ]―
লেখক: মুহাম্মদ বিন হুসাইন বিন হাসান আল-জিজানি
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযি
সংস্করণ: পঞ্চম সংস্করণ, ১৪২৭ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الطبعة الخامسة - 1427 هـ
أصل هذا الكتاب
رسالة "دكتوراه" نوقشت في الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة.
وقد تكونت لجنة المناقشة من أصحب الفضيلة:
- د. عمر بن عبد العزيز أستاذ أصول الفقه بقسم الدراسات العليا بجامعة أم القرى بمكة المكرمة مشرفاً.
- د. علي بن عباس الحكمي رئيس قسم الدراسات العليا الشرعية بجامعة أم القرى بمكة المكرمة عضواً.
- د. أحمد محمود عبد الوهاب أستاذ أصول الفقه بقسم الدراسات العليا بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة عضواً.
وقد أجيزت مع مرتبة الشرف الأولى ، وكان ذلك في 25 /1/1415 هـ.
পঞ্চম সংস্করণ - ১৪২৭ হিজরি
এই বইটির মূল উৎস
মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থাপিত একটি "পিএইচডি" থিসিস।
থিসিস মূল্যায়ন কমিটি নিম্নোক্ত বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল:
- ড. ওমর বিন আব্দুল আজিজ, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কা আল-মুকাররামার উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যাপক - তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে।
- ড. আলী বিন আব্বাস আল-হাকামি, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কা আল-মুকাররামার উচ্চতর শরয়ি শিক্ষা বিভাগের প্রধান - সদস্য হিসেবে।
- ড. আহমদ মাহমুদ আব্দুল ওয়াহাব, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যাপক - সদস্য হিসেবে।
এটি প্রথম শ্রেণীর সম্মাননাসহ গৃহীত হয়েছে, এবং তা ছিল ২৫/১/১৪১৫ হিজরি তারিখে।
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدمة (1)
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين.
أما بعد:
فإن الله سبحانه أرسل رسوله محمدًا صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره الكافرون.
فأشرقت برسالته الأرض بعد ظلماتها، وتألفت به القلوب بعد شتاتها، وامتلأ به الكون نورًا وابتهاجًا، ودخل الناس في دين الله أفواجًا.
فلما أكمل الله تعالى به الدين، وأتم به النعمة على عباده المؤمنين، استأثر به ونقله إلى الرفيق الأعلى، وقد ترك أمته على المحجة البيضاء، والطريق الواضحة الغراء.
ثم قام بالدين بعده عصابة الإيمان وعسكر القرآن، أولئك أصحابه صلى الله عليه وسلم ألين الأمة قلوبًا، وأعمقها علمًا، وأقلها تكلفًا، وأحسنها بيانًا، وأصدقها إيمانًا، فتحوا القلوب بعدلهم بالقرآن والإيمان، والقرى بالجهاد بالسيف والسنان.
وألقوا إلى التابعين ما تلقوه من مشكاة النبوة خالصًا صافيًا.
وكان سندهم فيه عن نبيهم صلى الله عليه وسلم عن جبريل عن رب العالمين سندًا صحيحًا عاليًا وقالوا: هذا عهد نبينا إلينا وقد عهدنا إليكم.
فجرى التابعون لهم بإحسان على منهاجهم القويم، واقتفوا على آثارهم صراطهم المستقيم.
ثم سلك تابعوا التابعين هذا المسلك الرشيد، وهدوا إلى الطيب من القول، وهدوا إلى صراط الحميد.
--------------------------------------------
ভূমিকা (১)
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূলগণের ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।
ফলে তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে পৃথিবী অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়ার পর আলোকিত হয়েছে, তাঁর মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হৃদয়গুলো একত্রিত হয়েছে, মহাবিশ্ব নূর ও আনন্দে পরিপূর্ণ হয়েছে এবং মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করেছে।
অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে দ্বীনকে পূর্ণ করলেন এবং তাঁর মুমিন বান্দাদের ওপর নিআমত সম্পূর্ণ করলেন, তখন তিনি তাঁকে নিজের কাছে নিয়ে নিলেন এবং উচ্চতম সান্নিধ্যে স্থানান্তরিত করলেন। এমতাবস্থায় তিনি তাঁর উম্মতকে এক উজ্জ্বল প্রমাণ ও সুস্পষ্ট সুমহান পথের ওপর রেখে গেছেন।
এরপর তাঁর পর দ্বীনের দায়িত্ব পালন করলেন ঈমানের সেই জামায়াত ও কুরআনের সেই বাহিনী; তাঁরা হলেন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণ, যাঁরা এই উম্মতের মধ্যে হৃদয়ের দিক থেকে সবচেয়ে কোমল, ইলমের দিক থেকে সবচেয়ে গভীর, কৃত্রিমতার দিক থেকে সবচেয়ে মুক্ত, বর্ণনার দিক থেকে সবচেয়ে উত্তম এবং ঈমানের দিক থেকে সবচেয়ে সত্যবাদী ছিলেন। তাঁরা কুরআন ও ঈমানের ইনসাফ দিয়ে মানুষের অন্তরসমূহ জয় করেছেন এবং তলোয়ার ও বল্লমের মাধ্যমে জিহাদ করে জনপদসমূহ জয় করেছেন।
তাঁরা নবুওয়াতের প্রদীপ থেকে যা কিছু গ্রহণ করেছিলেন, তা তাবিঈদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন একদম স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ অবস্থায়।
এতে তাঁদের সনদ ছিল তাঁদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে, তিনি জিবরাঈল থেকে, আর তিনি জগতসমূহের রব থেকে—যা একটি সহীহ ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সনদ। তাঁরা বলেছেন: "এটি আমাদের নিকট আমাদের নবীর অঙ্গীকার, আর আমরা তোমাদের নিকট সেই অঙ্গীকারই করছি।"
ফলে ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণ তাঁদের সেই সুদৃঢ় মানহাজের ওপর পরিচালিত হয়েছেন এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁদের সেই সিরাত-ই-মুস্তাকীমের ওপর চলেছেন।
এরপর তাবি-তাবিঈগণও এই সঠিক পথ অবলম্বন করেছেন, তাঁদেরকে উত্তম বাণীর দিকে পথপ্রদর্শন করা হয়েছে এবং প্রশংসিত আল্লাহর পথের দিশা দেওয়া হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ثم سار على آثارهم الرعيل الأول من أتباعهم، ودرج على منهاجهم الموفقون من أشياعهم، زاهدين في التعصب للرجال، واقفين مع الحجة والاستدلال، يسيرون مع الحق أين سارت ركائبه، ويستقلون مع الصواب حيث استقلت مضاربه، فدين الله في نفوسهم أعظم وأجل من أن يقدموا عليه قول أحد من الناس، أو يعارضوه برأي أو قياس.
ثم خلف من بعدهم خلوف فرقوا دينهم وكانوا شيعًا، كل حزب بما لديهم فرحون؛ حيث استعملوا قياساتهم الفاسدة، وآراءهم الباطلة، وشبههم الداحضة في رد النصوص الصحيحة الصريحة.
فردوا لأجلها ألفاظ النصوص التي وجدوا السبيل إلى تكذيب رواتها وتخطئتهم، وردوا معاني النصوص التي لم يجدوا إلى ألفاظها سبيلاً.
فقابلوا الألفاظ بالتكذيب، والمعاني بالتحريف والتأويل.
وملئوا بذلك الأوراق سوادًا، والقلوب شكوكًا، والعالم فسادًا.
وكل من له مسكة من عقل يعلم أن فساد العالم وخرابه، إنما نشأ من تقديم الرأي على الوحي، والهوى على العقل.
وما استحكم هذان الأصلان الفاسدان في قلبٍ إلا استحكم هلاكه، وفي أمة إلا فسد أمرها أتم فساد.
فلا إله إلا الله، كم نُفي بهذه الآراء من حق وأثبت من باطل، وأميت بها من هدى، وأحيي بها من ضلالة، ولا حول ولا قوة إلا بالله.
لأجل ذلك فإن تجلية منهج السلف وبيان طريقتهم سبيل النجاة والخلاص، فهم الفرقة الناجية المذكورة، والطائفة الظاهرة المنصورة.
وقد أحببت أن أسهم -ولو بجهد المقل- في إيضاح منهج سلفنا الصالح في علم أصول الفقه على وجه الخصوص.
وبعد أن استخرت الله ربي، واستشرت بعض أساتذتي اخترت أن يكون موضوع رسالتي في مرحلة الدكتوراه: "منهج أهل السنة والجماعة في تحرير أصول الفقه" (1) .
--------------------------------------------
এরপর তাদের অনুসারীদের প্রথম দল তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে যারা সফল তারা তাদের মানহাজ বা পদ্ধতির ওপর অটল থাকলেন। তারা ব্যক্তিপূজা বা সংকীর্ণ গোঁড়ামি থেকে মুক্ত ছিলেন এবং দলিল ও প্রমাণের সাথে অটল ছিলেন। সত্যের কাফেলা যেখানেই যেত তারা তার সাথে চলতেন এবং সঠিক বিষয়টি যেখানেই থিতু হতো তারা সেখানেই অবস্থান নিতেন। তাদের অন্তরে আল্লাহর দ্বীন এতটাই মহান ও মর্যাদাপূর্ণ ছিল যে, তারা কোনো মানুষের কথাকে তার ওপর প্রাধান্য দিতেন না, কিংবা কোনো রায় (মত) বা কিয়াস (অনুমান) দিয়ে তার বিরোধিতা করতেন না।
অতঃপর তাদের পরে এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরিদের আগমন ঘটল যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করল এবং নানা দলে বিভক্ত হয়ে পড়ল; প্রতিটি দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়েই আনন্দিত। তারা সহীহ ও সুস্পষ্ট দলিলসমূহ প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে তাদের ভ্রষ্ট কিয়াস (যুক্তি), বাতিল মতবাদ এবং অসার সংশয়গুলোকে ব্যবহার করল।
আর এর মাধ্যমেই তারা সেই দলিলগুলোর শব্দগুলোকে প্রত্যাখ্যান করল যেগুলোর বর্ণনাকারীদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করার বা ভুল ধরার সুযোগ তারা পেয়েছে। আর যে দলিলগুলোর শব্দের ক্ষেত্রে তারা কোনো পথ পায়নি, সেগুলোর অর্থকে তারা প্রত্যাখ্যান করল।
ফলে তারা দলিলগুলোর শব্দসমূহকে অস্বীকারের মাধ্যমে এবং অর্থসমূহকে বিকৃতি ও মনগড়া ব্যাখ্যার মাধ্যমে মোকাবিলা করল।
এর মাধ্যমে তারা কাগজের পাতাগুলোকে কালিমালিপ্ত করল, অন্তরগুলোকে সংশয়ে পূর্ণ করল এবং বিশ্বে বিপর্যয় ছড়িয়ে দিল।
সামান্যতম বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তিও এটা জানেন যে, জগতের বিপর্যয় ও ধ্বংসের মূল কারণ হলো ওহীর ওপর মানুষের রায়কে এবং বিবেকের ওপর প্রবৃত্তিকে প্রাধান্য দেওয়া।
এই দুটি ভ্রষ্ট মূলনীতি যখনই কোনো অন্তরে বদ্ধমূল হয়েছে, তখনই তার ধ্বংস অনিবার্য হয়েছে; আর যখনই কোনো জাতির মধ্যে এর বিস্তার ঘটেছে, তখনই তাদের অবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
অতএব আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। এই সকল মতবাদের কারণে কত সত্যকেই না অস্বীকার করা হয়েছে এবং কত বাতিলকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে! এর মাধ্যমে কত হিদায়াতকে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কত গোমরাহীকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে! আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় এবং কোনো শক্তি নেই।
সেই কারণেই সালাফদের মানহাজ উন্মোচন করা এবং তাদের পথ ও পদ্ধতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলো মুক্তি ও পরিত্রাণের পথ। কারণ তারাই হলেন সেই নাজাতপ্রাপ্ত দল এবং সাহায্যপ্রাপ্ত বিজয়ী গোষ্ঠী।
আর আমি বিশেষভাবে উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রে আমাদের সালাফে সালেহীনের মানহাজ স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে সচেষ্ট হয়েছি—যদিও তা সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য প্রচেষ্টা মাত্র।
আমার রব আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করার পর এবং আমার কতিপয় উস্তাদের পরামর্শ গ্রহণ করে আমি আমার ডক্টরেট গবেষণার বিষয় হিসেবে নির্বাচন করেছি: "উসূলুল ফিকহ সংকলনে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
والمؤمل -بعونه تعالى- أن يحقق هذا الكتاب المقاصد التالية:
الأول: التعريف بجهود أهل السنة والجماعة في علم أصول الفقه، وجمع أبحاثهم الأصولية وترتيبها ليسهل الوصول إليها.
الثاني: تحرير القواعد الأصولية المتفق عليها عند أهل السنة والجماعة، وبيان القواعد الأصولية المختلف فيها.
الثالث: حماية ركن العقيدة، وذلك بالتنبيه على القواعد الأصولية التي بُنيت على أصول عقدية باطلة.
أما الخطة التي سرت عليها: فقد تضمنت -بعد المقدمة- تمهيدًا، وبابين، وخاتمة، رسمها كالآتي:
التمهيد: وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: التعريف بأهل السنة والجماعة.
المبحث الثاني: تعريف أصول الفقه، وموضوعه، ومصادره، وفائدته.
المبحث الثالث: تاريخ علم أصول الفقه عند أهل السنة والجماعة.
* الباب الأول: الأدلة الشرعية عند أهل السنة والجماعة.
وفيه أربعة فصول:
- الفصل الأول: الكلام على الأدلة الشرعية إجمالاً.
وفيه ثلاث مباحث:
المبحث الأول: الأدلة الشرعية من حيث أصلها ومصدرها.
المبحث الثاني: الأدلة الشرعية من حيث القطع والظن.
المبحث الثالث: الأدلة الشرعية من حيث النقل والعقل.
- الفصل الثاني: الأدلة المتفق عليها.
وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: الكتاب.
এবং আল্লাহ তাআলার সাহায্যে আশা করা যায় যে, এই বইটি নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যগুলো পূরণ করবে:
প্রথম: উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের প্রচেষ্টাগুলো পরিচিত করা এবং তাদের উসুলি গবেষণাগুলোকে একত্রিত ও বিন্যস্ত করা যাতে সেগুলো সহজেই পাওয়া যায়।
দ্বিতীয়: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট ঐকমত্যপূর্ণ উসুলি নীতিগুলো সুসংজ্ঞায়িত করা এবং মতপার্থক্যপূর্ণ উসুলি নীতিসমূহ স্পষ্ট করা।
তৃতীয়: আকিদার রুকন বা ভিত্তি সংরক্ষণ করা, আর তা হলো সেই সকল উসুলি নীতির ব্যাপারে সতর্ক করার মাধ্যমে যা ভ্রান্ত আকিদাগত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আমি যে কর্মপরিকল্পনা অনুসরণ করেছি তা হলো: ভূমিকা বা মুকাদ্দিমার পর এতে একটি উপক্রমণিকা, দুটি মূল অধ্যায় এবং একটি উপসংহার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার রূপরেখা নিম্নরূপ:
উপক্রমণিকা: এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচিতি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞা, এর আলোচ্য বিষয়, উৎসসমূহ এবং এর উপযোগিতা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের ইতিহাস।
* প্রথম অধ্যায়: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট শরয়ী দলিলসমূহ।
এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
- প্রথম পরিচ্ছেদ: সামগ্রিকভাবে শরয়ী দলিলসমূহের আলোচনা।
এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: মূল ও উৎসের বিচারে শরয়ী দলিলসমূহ।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: অকাট্যতা (কাতয়ী) এবং ধারণা-নির্ভরতার (যন্নী) বিচারে শরয়ী দলিলসমূহ।
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: বর্ণনা (নকল) ও যুক্তির (আকল) বিচারে শরয়ী দলিলসমূহ।
- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সর্বসম্মত দলিলসমূহ।
এতে চারটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: কিতাব (কুরআন)।
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث الثاني: السنة.
المبحث الثالث: الإجماع.
المبحث الرابع: القياس.
- الفصل الثالث: الأدلة المختلف فيها.
وفيه خمسة مباحث:
المبحث الأول: الاستصحاب.
المبحث الثاني: قول الصحابي.
المبحث الثالث: شرع من قبلنا.
المبحث الرابع: الاستحسان.
المبحث الخامس: المصالح المرسلة.
- الفصل الرابع: النسخ، والتعارض، والترجيح، وترتيب الأدلة.
وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: النسخ.
المبحث الثاني: التعارض.
المبحث الثالث: الترجيح.
المبحث الرابع: ترتيب الأدلة.
* الباب الثاني: القواعد الأصولية عند أهل السنة والجماعة.
وفيه ثلاثة فصول:
- الفصل الأول: الحكم الشرعي.
- وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: تعريف الحكم الشرعي وأقسامه.
وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: تعريف الحكم الشرعي.
المطلب الثاني: الحكم التكليفي.
المطلب الثالث: الحكم الوضعي.
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সুন্নাহ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ইজমা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: কিয়াস।
- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মতভেদপূর্ণ দলীলসমূহ।
এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইসতিসহাব।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সাহাবীর বক্তব্য।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আমাদের পূর্ববর্তীদের শরীয়ত।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ইসতিহসান।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: মাসালিহে মুরসালাহ।
- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নাসখ (রহিতকরণ), তা'আরুদ (পরস্পর বিরোধ), তারজীহ (প্রাধান্য দান) এবং দলীলসমূহের বিন্যাস।
এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: নাসখ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তা'আরুদ (পরস্পর বিরোধ)।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তারজীহ (প্রাধান্য দান)।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: দলীলসমূহের বিন্যাস।
* দ্বিতীয় অধ্যায়: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট উসূলী মূলনীতিসমূহ।
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
- প্রথম পরিচ্ছেদ: হুকুম শরয়ী (শরীয়তের বিধান)।
- এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: হুকুম শরয়ীর সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ।
এতে তিনটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: হুকুম শরয়ীর সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: হুকুম তাকলীফী।
তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: হুকুম ওয়াদঈ।
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الثاني: لوازم الحكم الشرعي.
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: الحاكم.
وفيه مسألة واحدة وهي: التحسين والتقبيح العقليان.
المطلب الثاني: التكليف.
المبحث الثالث: قواعد في الحكم الشرعي.
- الفصل الثاني: دلالات الألفاظ وطرق الاستنباط.
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: المبادئ اللغوية.
المبحث الثاني: النص، والظاهر، والمؤول، والمجمل، والبيان.
المبحث الثالث: الأمر والنهي، والعام والخاص، والمطلق والمقيد، والمنطوق والمفهوم.
- الفصل الثالث: الاجتهاد، والتقليد، والفتوى.
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: الاجتهاد.
المبحث الثاني: التقليد.
المبحث الثالث: الفتوى.
الخاتمة: وقد ذكرت فيها أهم النتائج والتوصيات.
وتتميمًا للفائدة ذيلت الكتاب بملحق تضمن ثلاث قوائم:
1- قائمة بجهود ابن تيمية في أصول الفقه.
2- قائمة بجهود ابن القيم في أصول الفقه.
3- قائمة بالأبحاث الأصولية عند أهل السنة والجماعة.
أما المنهج الذي سلكته في هذا الكتاب فهو الآتي:
أولاً: الاختصار وعدم التطويل.
وذلك لسعة موضوع الكتاب وتشعب أبحاثه وكثرة مسائله، فما لا يدرك كله لا يترك جله، وقد علمت - يقينًا - أن الإتيان على موضوعات هذا الكتاب
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরয়ী বিধানের আবশ্যিক বিষয়সমূহ।
এবং এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: হাকেম (বিধান দাতা)।
এবং এতে একটি মাসআলা রয়েছে, আর তা হলো: আকলি (বিবেচনাপ্রসূত) ভালো-মন্দ।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: তাকলীফ (দায়িত্বারোপ)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শরয়ী বিধানের মূলনীতিসমূহ।
- দ্বিতীয় অধ্যায়: শব্দের অর্থ নির্দেশক পদ্ধতিসমূহ ও মাসআলা উদ্ভাবনের তরিকাসমূহ।
এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ভাষাতাত্ত্বিক মূলনীতিসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নাস, জাহির, মুআউয়াল, মুজমাল এবং বায়ান।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আমর ও নাহি, আম ও খাস, মুতলাক ও মুকাইয়াদ, এবং মানতুক ও মাফহুম।
- তৃতীয় অধ্যায়: ইজতিহাদ, তাকলীদ এবং ফতোয়া।
এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইজতিহাদ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাকলীদ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফতোয়া।
উপসংহার: এতে আমি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ও সুপারিশসমূহ উল্লেখ করেছি।
এবং বইটির উপযোগিতা পূর্ণ করার জন্য আমি শেষে একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেছি যা তিনটি তালিকাকে অন্তর্ভুক্ত করে:
১- উসূলে ফিকহের ক্ষেত্রে ইবনে তাইমিয়ার অবদানের তালিকা।
২- উসূলে ফিকহের ক্ষেত্রে ইবনুল কাইয়্যিমের অবদানের তালিকা।
৩- আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট উসূলী গবেষণাসমূহের তালিকা।
এই বইটিতে আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা নিম্নরূপ:
প্রথমত: সংক্ষিপ্তকরণ এবং দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করা।
এর কারণ হলো বইটির বিষয়ের ব্যাপকতা, এর গবেষণার শাখা-প্রশাখা এবং এর মাসআলাসমূহের আধিক্য। ফলে যা সম্পূর্ণরূপে অর্জন করা সম্ভব নয়, তার অধিকাংশ বর্জন করা সমীচীন নয়। আর আমি নিশ্চিতভাবে জেনেছি যে, এই বইটির বিষয়বস্তুসমূহ সমাপ্ত করা (বা পূর্ণরূপে উপস্থাপন করা) ...
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
يحتاج إلى فريق من الباحثين، وعددٍ -لا أملكه- من السنين.
فاكتفيتُ لذلك برسم خطوطٍ عريضة تعينُ الباحثين، ووضع معالم تضيء الطريق للسالكين.
ثانيًا: التأصيل مع الدليل.
فقد اقتصرت في هذا الكتاب على بيان مذهب أهل السنة والجماعة، مع ذكر أدلتهم، ولم أتعرض لمذاهب المخالفين لهم؛ إذ الغاية المنشودة من هذا الكتاب الإبانة عن الأدلة الشرعية ومنهج الاستدلال بها لدى أهل السنة والجماعة، والإفصاح عن مسلكهم في القواعد الأصولية.
ثالثًا: الاقتصار على كتب أهل السنة والجماعة.
فجميع ما تم تقريره وتحريره في هذا الكتاب منقول نقلاً مباشرًا من كلام أهل السنة والجماعة فيما كتبوه في أصول الفقه وفي غيره.
إن منهج أهل السنة والجماعة لا يؤصل ولا يحصل من كتب مخالفيهم.
نعم هناك مسائل كثيرة وافقهم عليها مخالفوهم، إلا أن المقصود بيانه والمطلوب تبيانه - في هذا الكتاب - لا يتأتى إلا بالنهل من معين أهل السنة الصافي والارتواء من موردهم العذب.
ويستثنى من ذلك القضايا اللغوية، ونسبة مذاهب المخالفين لأصحابها ونحو ذلك.
رابعًا: إيراد كلام أهل العلم بنصه ما أمكن؛ ففي نقله كذلك توثيق للمادة العلمية، وتوضيح للفكرة. وفيه أيضًا دلالة على المصادر، كما أن في ذلك تعرضًا لبيان الدليل وذكرًا للتعليل.
وفي الختام أحمد الله عز وجل على نعمه المتوالية العظيمة وآلائه المتتابعة الجسيمة، وأشكره سبحانه على تيسيره وتوفيقه، فله الحمد في الآخرة والأولى.
اللهم لا أحصي ثناءً عليك، أنت كما أثنيت على نفسك.
ثم أقدم شكري وتقديري إلى فضيلة الأستاذ الدكتور عمر بن عبد العزيز - وفقه الله لما يحب ويرضى - الذي أكرمني بإشرافه وتوجيهه لهذا البحث.
এর জন্য প্রয়োজন একদল গবেষক এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ বছর—যা আমার কাছে নেই।
তাই আমি কেবল এমন কিছু মূলরেখা অঙ্কন করেই সন্তুষ্ট হয়েছি যা গবেষকদের সহায়তা করবে এবং এমন কিছু নিদর্শন স্থাপন করেছি যা পথিকদের পথকে আলোকিত করবে।
দ্বিতীয়ত: দলীলসহ মূলনীতি নির্ধারণ।
আমি এই বইটিতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব বর্ণনা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং তাদের দলীলসমূহ উল্লেখ করেছি। আমি তাদের বিরোধীদের মাযহাব নিয়ে আলোচনা করিনি; কারণ এই বইটির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট শরয়ি দলীলসমূহ এবং তা থেকে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি সুস্পষ্ট করা এবং উসূলি মূলনীতিসমূহে তাদের কর্মপন্থা প্রকাশ করা।
তৃতীয়ত: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের কিতাবসমূহের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা।
এই বইটিতে যা কিছু সাব্যস্ত ও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তা সরাসরি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বক্তব্য থেকে সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়েছে—যা তারা উসূলে ফিকহ এবং অন্যান্য বিষয়ে লিখেছেন।
নিশ্চয়ই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ বা পদ্ধতি তাদের বিরোধীদের কিতাব থেকে প্রতিষ্ঠিত হয় না এবং সেখান থেকে তা অর্জিতও হয় না।
হ্যাঁ, এমন অনেক মাসআলা রয়েছে যেগুলোতে তাদের বিরোধীরা তাদের সাথে একমত হয়েছে, তবে এই বইটিতে যা বর্ণনা করা উদ্দেশ্য এবং যা স্পষ্ট করা কাম্য, তা কেবল আহলুস সুন্নাহর স্বচ্ছ ঝরনাধারা থেকে গ্রহণ করা এবং তাদের সুপেয় উৎস থেকে তৃষ্ণা নিবারণের মাধ্যমেই সম্ভব।
তবে ভাষাগত বিষয়াদি এবং বিরোধীদের মতবাদসমূহকে তাদের প্রবক্তাদের সাথে সম্পর্কিত করা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো এর ব্যতিক্রম।
চতুর্থত: যথাসম্ভব আহলে ইলমদের বক্তব্য হুবহু উদ্ধৃত করা; কারণ এভাবে উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে ইলমি বিষয়ের প্রামাণিকতা নিশ্চিত হয় এবং মূল ভাবনাটি স্পষ্ট হয়। এতে উৎসসমূহের নির্দেশনাও পাওয়া যায়, পাশাপাশি দলীল বর্ণনা এবং তার যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করার সুযোগ তৈরি হয়।
পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি তাঁর অবিরাম মহান নিআমত এবং ক্রমাগত বিশাল অনুগ্রহের জন্য। আমি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং তাঁর সহজতা ও তাওফীকের জন্য শুকরিয়া আদায় করছি। ইহকাল ও পরকালে সমস্ত প্রশংসা কেবল তাঁরই জন্য।
হে আল্লাহ! আমি আপনার প্রশংসা গুনে শেষ করতে পারব না, আপনি ঠিক তেমনই যেমনটি আপনি নিজের প্রশংসা নিজে করেছেন।
এরপর আমি শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ডক্টর উমর বিন আব্দুল আযীয—আল্লাহ তাঁকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজের তাওফীক দান করুন—যিনি এই গবেষণায় তাঁর তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনা দিয়ে আমাকে সম্মানিত করেছেন, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
اللهم بارك له في عمره وماله وولده، وعلمه وعمله، واكتب له التوفيق والسداد في الدنيا والآخرة.
كما أقدم شكري وتقديري للمناقشين الكريمين: فضيلة الدكتور علي بن عباس الحكمي، وفضيلة الدكتور أحمد محمود عبد الوهاب الشنقيطي وفقهما الله، وذلك لما بذلاه من وقت وجهد في تقويم هذا البحث وتوجيهه.
ثم أشكر كل من أسدى إلي عونًا، أو صنع إلي معروفًا، فجزى الله الجميع خير الجزاء.
ولا يفوتني أن أتوجه بالشكر الجزيل إلى ذلك الصرح العلمي الشامخ (الجامعة الإسلامية) ، على جهودها العظيمة في مجال توجيه أبناء المسلمين، وبث العقيدة الصحيحة في نفوسهم، وعلى جهودها في مجال البحث العلمي، ونشر منهج السلف الصالح.
هذا جهد فما كان فيه من حق وصواب فهو من الله وحده، وما كان فيه من خطأ وضلالة فمني ومن الشيطان، وأستغفر الله الكريم وأتوب إليه.
اللهم اجعل هذا العمل خالصًا لك وحدك، لا حظ فيه لسواك.
سبحان ربك رب العزة عما يصفون، وسلام على المرسلين، والحمد لله رب العالمين.
****
হে আল্লাহ, আপনি তার আয়ু, সম্পদ ও সন্তানে এবং তার ইলম ও আমলে বরকত দান করুন, আর দুনিয়া ও আখিরাতে তার জন্য তাওফিক ও কল্যাণ লিখে দিন।
পাশাপাশি আমি শ্রদ্ধেয় দুই পরীক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি: ফজিলতুত ডক্টর আলি ইবন আব্বাস আল-হাকামি এবং ফজিলতুত ডক্টর আহমদ মাহমুদ আবদিল ওয়াহহাব আশ-শানকিতি—আল্লাহ তাঁদের তাওফিক দান করুন—এই গবেষণাটি মূল্যায়ন ও দিকনির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁরা যে সময় ও শ্রম ব্যয় করেছেন তার জন্য।
এরপর আমি তাদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি যারা আমাকে সাহায্য করেছেন অথবা আমার প্রতি কোনো উপকার করেছেন; আল্লাহ সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
সেই সুউচ্চ ইলমি প্রতিষ্ঠানকে (ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়) আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতেও আমি ভুলছি না, মুসলিম সন্তানদের দিকনির্দেশনা প্রদান এবং তাদের অন্তরে সঠিক আকিদা সঞ্চারের ক্ষেত্রে তাদের মহান প্রচেষ্টার জন্য, এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সালাফে সালেহীনের মানহাজ প্রসারের ক্ষেত্রে তাদের মেহনতের জন্য।
এটি একটি প্রচেষ্টা মাত্র; এর মধ্যে যা কিছু সত্য ও সঠিক তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল ও ভ্রান্তি তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমি দয়াময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই কাছে তওবা করছি।
হে আল্লাহ, এই আমলটিকে একমাত্র আপনার সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করুন, এতে আপনি ছাড়া অন্য কারো কোনো অংশ রাখবেন না।
আপনার রব, যিনি সম্মানের অধিকারী, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি পবিত্র। আর রাসুলগণের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
****
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
التمهيدوفيه ثلاثة مباحث:
* المبحث الأول:
التعريف بأهل السنة والجماعة.
* المبحث الثاني:
تعريف أصول الفقه وموضوعه ومصادره وفائدته.
* المبحث الثالث:
تاريخ علم أصول الفقه عند أهل السنة والجماعة.
প্রারম্ভিকাএতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
* প্রথম পরিচ্ছেদ:
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচয়।
* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:
উসূলুল ফিকহের সংজ্ঞা, এর আলোচ্য বিষয়, এর উৎসসমূহ এবং এর উপকারিতা।
* তৃতীয় পরিচ্ছেদ:
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের ইতিহাস।
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الأول: التعريف بأهل السنة والجماعةلأهل السنة والجماعة إطلاقان: إطلاق عام وإطلاق خاص (1) ، أما الإطلاق العام فهو مقابل الشيعة، فيدخل فيه جميع الطوائف إلا الرافضة، وأما الإطلاق الخاص فهو مقابل المبتدعة وأهل الأهواء، فلا يدخل فيه سوى أهل الحديث والسنة المحضة الذين يثبتون الصفات لله تعالى، ويقولون: إن القرآن غير مخلوق، وإن الله يرى في الآخرة، وغير ذلك من الأصول المعروفة عند أهل السنة، والمراد في هذا المقام الإطلاق الخاص.
والمراد بالسنة (2) ههنا: الطريقة المسلوكة في الدين وهي ما عليه الرسول صلى الله عليه وسلم وخلفاؤه الراشدون من الاعتقادات والأعمال والأقوال، وإن كان الغالب تخصيص اسم السنة بما يتعلق بالاعتقادات لأنها أصل الدين، والمخالف فيها على خطر عظيم (3) .
والمراد بالجماعة ههنا: الاجتماع الذي هو ضد الفرقة (4) .
فأهل السنة والجماعة هم أهل السنة لأنهم تمسكوا بسنة النبي صلى الله عليه وسلم وهديه، واقتفوا طريقته باطنًا وظاهرًا، في الاعتقادات والأقوال والأعمال (5) .
وأهل السنة والجماعة هم الجماعة التي يجب اتباعها (6) لأنهم اجتمعوا
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের পরিচয়আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত কথাটির দুটি প্রয়োগ রয়েছে: একটি সাধারণ প্রয়োগ এবং অন্যটি বিশেষ প্রয়োগ (১)। সাধারণ প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি শিয়াদের বিপরীতে ব্যবহৃত হয়, ফলে এতে রাফেজি ব্যতীত সকল দল অন্তর্ভুক্ত হয়। আর বিশেষ প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি বিদআতি ও প্রবৃত্তি পূজারীদের বিপরীতে ব্যবহৃত হয়, ফলে এতে কেবল আহলুল হাদীস ও খাঁটি সুন্নাহর অনুসারীরাই অন্তর্ভুক্ত হন যারা মহান আল্লাহর গুণাবলী সাব্যস্ত করেন এবং বলেন যে: কুরআন মাখলুক বা সৃষ্টি নয়, পরকালে আল্লাহকে দেখা যাবে এবং আহলুস সুন্নাহর নিকট সুপরিচিত অন্যান্য মূলনীতিগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত। আর এখানে বিশেষ প্রয়োগটিই উদ্দেশ্য।
এখানে 'সুন্নাহ' (২) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: দ্বীনের অনুসৃত পথ, যা বিশ্বাস, কর্ম ও কথার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত। যদিও সাধারণত সুন্নাহ শব্দটি আকিদা বা বিশ্বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটিই দ্বীনের মূলভিত্তি এবং এতে বিরোধিতাকারী গুরুতর বিপদের সম্মুখীন (৩)।
এখানে 'জামা'আত' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ঐক্যবদ্ধ হওয়া, যা বিভক্তির বিপরীত (৪)।
সুতরাং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত হলেন সুন্নাহর অনুসারী, কারণ তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ও হিদায়াতকে আঁকড়ে ধরেছেন এবং বিশ্বাস, কথা ও কাজের ক্ষেত্রে গোপনে ও প্রকাশ্যে তাঁর পদ্ধতির অনুসরণ করেছেন (৫)।
আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত হলেন সেই জামা'আত বা দল যাদের অনুসরণ করা আবশ্যক (৬), কারণ তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
على الحق وأخذوا به، ولأنهم يجتمعون دائمًا على أئمتهم، وعلى الجهاد، وعلى السنة والاتباع، وترك البدع والأهواء والفرق (1) .
وهم أهل الحديث والأثر لشدة عنايتهم بحديث النبي صلى الله عليه وسلم رواية ودراية واتباعًا، فهم يقدمون الأثر على النظر (2) .
وهم الفرقة الناجية (3) المذكورة في قوله صلى الله عليه وسلم «والذي نفس محمد بيده لتفترقن أمتي على ثلاث وسبعين فرقة، واحدة في الجنة وثنتان وسبعون في النار» . قيل: يا رسول الله من هم؟ قال: «الجماعة» (4) .
وهم الطائفة المنصورة (5) المذكورة في قوله صلى الله عليه وسلم: «لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق، لا يضرهم من خذلهم حتى يأتي أمر الله وهم كذلك» (6) .
--------------------------------------------
সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তা আঁকড়ে ধরেছে। কারণ তারা সর্বদা তাদের ইমামদের ওপর, জিহাদের ওপর এবং সুন্নাহ ও অনুসরণের ওপর ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং বিদআত, প্রবৃত্তি ও দলাদলি বর্জন করে (১)।
তাঁরাই হলেন আহলুল হাদিস ও আহলুল আসার; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিসের বর্ণনা, অনুধাবন ও অনুসরণের ক্ষেত্রে তাঁদের চরম গুরুত্ব প্রদানের কারণে। তাঁরা যুক্তি বা রায়ের ওপর আসারকে (দলিলকে) প্রাধান্য দেন (২)।
তাঁরাই হলো সেই মুক্তিপ্রাপ্ত দল (৩) যাদের কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণীতে উল্লেখ করা হয়েছে: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! অবশ্যই আমার উম্মত তেহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে; একটি দল জান্নাতে যাবে আর বাহাত্তরটি দল জাহান্নামে যাবে।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: "আল-জামাআহ" (৪)।
তাঁরাই হলো সেই সাহায্যপ্রাপ্ত দল (৫) যাদের কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে। যারা তাদের অপদস্থ করতে চাইবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) আসবে এবং তারা সেই অবস্থাতেই থাকবে" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وهم السلف، إذ المراد بالسلف الصحابة رضوان الله عليهم، وتابعوهم، وأتباعهم إلى يوم الدين. وقد يراد بالسلف القرون المفضلة الثلاثة المتقدمة (1) .
و
من خصائص أهل السنة والجماعة:1- أنه ليس لهم متبوع يتعصبون له إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهم أعلم الناس بأقواله وأحواله، وأعظمهم تمييزًا بين صحيحها وسقيمها (2) .
2- أنهم "جعلوا الكتاب والسنة إمامهم، وطلبوا الدين من قبلهما، وما وقع لهم من معقولهم وخواطرهم وآرائهم عرضوه على الكتاب والسنة، فإن وجدوه موافقًا لهما قبلوه وشكروا الله حيث أراهم ذلك ووفقهم له، وإن وجدوه مخالفًا لهما تركوا ما وقع لهم وأقبلوا على الكتاب والسنة، ورجعوا بالتهمة على أنفسهم، فإن الكتاب والسنة لا يهديان إلا إلى الحق، ورأي الإنسان قد يكون حقًا وقد يكون باطلاً" (3) .
3- أنه ليس لهم لقب يعرفون به ولا نسبة ينتسبون إليها، كما قال بعض الأئمة وقد سئل عن السنة، فقال: السنة ما لا اسم له سوى السنة. وأهل البدع ينتسبون إلى المقالة تارة، وإلى القائل تارة، وأهل السنة بريئون من هذه النسب كلها وإنما نسبتهم إلى الحديث والسنة (4) .
4- أنهم مع اختلاف بلدانهم وزمانهم وتباعد ديارهم، تجد أن جميع كتبهم المصنفة من أولها إلى آخرها في باب الاعتقاد، على وتيرة واحدة ونمط واحد، يجرون فيه على طريقة لا يحيدون عنها، قلوبهم في ذلك على قلب واحد، ونقلهم لا ترى فيه اختلافًا ولا تفرقًا، بل لو جمعت ما جرى على ألسنتهم ونقلوه عن سلفهم وجدته كأنه جاء عن قلب واحد وجرى على لسان واحد، وهل على الحق دليل أبينُ من هذا؟ قال الله تعالى: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافًا كَثِيرًا} [النساء: 82] (5) .
--------------------------------------------
তারা হলেন সালাফ; কেননা সালাফ বলতে সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), তাবেয়ী এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাদের অনুসারীদের বোঝানো হয়। আবার সালাফ বলতে অগ্রবর্তী উত্তম তিন প্রজন্মকেও বোঝানো হতে পারে (১)।
এবং
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে রয়েছে:১- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত এমন কোনো অনুসৃত ব্যক্তি তাদের নেই যার প্রতি তারা অন্ধ পক্ষপাতিত্ব করে। তারা তাঁর কথা ও অবস্থা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং এর সহীহ (সঠিক) ও সাকীম (ভ্রান্ত)-এর মধ্যে পার্থক্য করায় সবচেয়ে বেশি পারদর্শী (২)।
২- তারা "কুরআন ও সুন্নাহকে তাদের ইমাম বানিয়েছে এবং এই দুই উৎস থেকেই দ্বীন অন্বেষণ করেছে। তাদের বিচারবুদ্ধি, চিন্তা ও মতামতের মধ্য থেকে যা কিছুই তাদের সামনে এসেছে, তা তারা কুরআন ও সুন্নাহর সামনে উপস্থাপন করেছে। যদি তারা সেটাকে কুরআন ও সুন্নাহর অনুকূলে পেয়েছে, তবে তা গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহ তাদের তা দেখানো ও তাওফীক দেওয়ার জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করেছে। আর যদি সেটাকে কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী পেয়েছে, তবে যা তাদের সামনে এসেছে তা বর্জন করেছে এবং কুরআন ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করেছে এবং নিজেদের ধারণাকেই অভিযুক্ত করেছে। কেননা কুরআন ও সুন্নাহ কেবল সত্যের দিকেই পরিচালিত করে, আর মানুষের মতামত কখনো সঠিক হতে পারে আবার কখনো ভুল হতে পারে" (৩)।
৩- তাদের এমন কোনো লকব (উপাধি) নেই যার দ্বারা তারা পরিচিত হন এবং এমন কোনো নিসবত (সম্পর্ক) নেই যার সাথে তারা নিজেদের সম্পৃক্ত করেন। যেমনটি কোনো এক ইমামকে সুন্নাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: সুন্নাহ হলো তা-ই, যার সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কোনো নাম নেই। বিদআতিরা কখনো কোনো মতবাদের দিকে, আবার কখনো কোনো প্রবক্তার দিকে নিজেদের সম্পৃক্ত করে; আর আহলুস সুন্নাহ এই সমস্ত নিসবত থেকে মুক্ত, বরং তাদের নিসবত কেবল হাদীস ও সুন্নাহর দিকে (৪)।
৪- শহর ও সময়ের ভিন্নতা এবং আবাসস্থলের দূরত্ব সত্ত্বেও দেখা যায় যে, আকিদার অধ্যায়ে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তাদের রচিত সমস্ত গ্রন্থ একই ধারা ও একই পদ্ধতিতে রচিত। তারা এমন এক পথে চলে যেখান থেকে তারা বিচ্যুত হয় না। এ বিষয়ে তাদের সবার অন্তর যেন এক অন্তরের মতো। তাদের বর্ণনায় আপনি কোনো মতভেদ বা বিচ্ছিন্নতা দেখতে পাবেন না। বরং আপনি যদি তাদের মুখ নিঃসৃত বাণী এবং তাদের সালাফদের থেকে তারা যা বর্ণনা করেছেন তা একত্রিত করেন, তবে দেখবেন যে তা যেন এক অন্তর থেকে এসেছে এবং এক জবান থেকে উচ্চারিত হয়েছে। সত্যের এর চেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ আর কী হতে পারে? আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতভেদ পেত} [আন-নিসা: ৮২] (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
قال أبو المظفر ابن السمعاني: "وكان السبب في اتفاق أهل الحديث أنهم أخذوا الدين من الكتاب والسنة وطريق النقل، فأورثهم الاتفاق والائتلاف، وأهل البدع أخذوا الدين من عقولهم فأورثهم التفرق والاختلاف، فإن النقل والرواية من الثقات والمتقنين قلما تختلف، وإن اختلفت في لفظة أو كلمة فذلك الاختلاف لا يضر الدين ولا يقدح فيه، وأما المعقولات والخواطر والآراء فقلما تتفق، بل عقل كل واحدٍ ورأيه وخاطره يُرِي صاحبه غير ما يُرِي الآخر" (1) .
5- أنهم وسط بين الفرق، كما أن أهل الإسلام وسط بين الملل (2) .
****
--------------------------------------------
আবু আল-মুজাফ্ফার ইবনে আস-সামআনী বলেন: "আহলুল হাদিসের ঐকমত্যের কারণ হলো তারা দ্বীন গ্রহণ করেছেন কিতাব, সুন্নাহ এবং নক্ল তথা বর্ণনার পথ থেকে, যা তাদের মাঝে ঐক্য ও সংহতি তৈরি করেছে। আর বিদআতীরা দ্বীন গ্রহণ করেছে তাদের বুদ্ধি থেকে, যা তাদের মাঝে বিভক্তি ও মতপার্থক্য তৈরি করেছে। কেননা নির্ভরযোগ্য ও দক্ষ বর্ণনাকারীদের থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা ও রেওয়ায়েত খুব কমই ভিন্ন হয়; আর যদি কোনো শব্দ বা বাক্যে পার্থক্য ঘটেও, তবে সেই পার্থক্য দ্বীনের কোনো ক্ষতি করে না এবং তাতে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না। অন্যদিকে, যুক্তিগ্রাহ্য বিষয়সমূহ, খেয়াল-খুশি এবং মতামত খুব কমই এক হয়; বরং প্রত্যেকের বুদ্ধি, মত ও চিন্তা তার অধিকারীকে অন্যের চেয়ে ভিন্ন কিছু দেখায়।" (১)।
৫- তারা বিভিন্ন ফিরকা বা দলের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী, যেমন ইসলামি উম্মত অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী (২)।
****
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الثاني: تعريف أصول الفقه وموضوعه ومصادره وفائدته
أولاً: تعريف أصول الفقه:أصول الفقه باعتباره عَلَمًا ولقبًا على الفن المعروف يمكن تعريفه بأنه: "أدلة الفقه الإجمالية، وكيفية الاستفادة منها، وحال المستفيد" (1) .
وقد اشتمل هذا التعريف على ثلاثة من مباحث علم الأصول الأربعة وهي: الأدلة، وطرق الاستنباط، والاجتهاد، وذلك كما يلي:
1- "أدلة الفقه الإجمالية"، وهي: الأدلة الشرعية المتفق عليها والمختلف فيها.
2- "كيفية الاستفادة منها"؛ أي: كيفية استفادة الأحكام الشرعية من الأدلة الشرعية، والمقصود بذلك طرق الاستنباط، مثل: الأمر والنهي، والعام والخاص، والمطلق والمقيد، والمجمل والمبين، والمنطوق والمفهوم.
3- "حال المستفيد"؛ أي: المجتهد. ويدخل في ذلك مباحث التعارض والترجيح، والفتوى؛ لأنها من خصائص المجتهد، وتدخل مباحث التقليد أيضًا لكون المقلد تابعًا له.
بقي من مباحث علم الأصول رابعها وهو مبحث الأحكام، وهذا المبحث لا يدخل في هذا التعريف باعتبار أن موضوع أصول الفقه هو الأدلة، فتكون الأحكام بهذا الاعتبار مقدمة من مقدمات علم أصول الفقه غير داخلة في موضوعه.
وعلى كل فإن مباحث هذا العلم أربعة: الأدلة، وطرق الاستنباط، والاجتهاد، والأحكام. وعند التأمل نجد مبحث الأحكام من المباحث الثابتة في هذا العلم، سواء ذكر في التعريف أم لم يذكر، وسواء اعتبر موضوعًا لعلم الأصول أم لم يُعتبر.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞা, এর আলোচ্য বিষয়, এর উৎসসমূহ ও এর প্রয়োজনীয়তা
প্রথমত: উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞা:একটি সুনির্দিষ্ট শাস্ত্র হিসেবে উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞা এভাবে দেওয়া যেতে পারে: "ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ, সেগুলো থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি এবং বিধান আহরণকারীর অবস্থা।" (১)
এই সংজ্ঞায় উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের চারটি প্রধান আলোচনার তিনটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সেগুলো হলো: দলিলসমূহ, বিধান আহরণের পদ্ধতি এবং ইজতিহাদ। বিস্তারিত নিম্নরূপ:
১- "ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ": অর্থাৎ ওই সকল শরয়ি দলিল যেগুলোর ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে অথবা মতভেদ রয়েছে।
২- "সেগুলো থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি": অর্থাৎ শরয়ি দলিলসমূহ থেকে কীভাবে শরয়ি বিধানসমূহ গ্রহণ করতে হয়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিধান আহরণের পদ্ধতিসমূহ; যেমন: আদেশ ও নিষেধ, সাধারণ ও বিশেষ, নিঃশর্ত ও শর্তযুক্ত, অস্পষ্ট ও সুস্পষ্ট এবং শব্দার্থ ও এর অন্তর্নিহিত মর্ম।
৩- "বিধান আহরণকারীর অবস্থা": অর্থাৎ মুজতাহিদ। এর মধ্যে দলিলের পারস্পরিক বিরোধ ও প্রাধান্য নির্ধারণ এবং ফতোয়া প্রদানের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত; কারণ এগুলো মুজতাহিদের বিশেষ গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া তাকলিদ সংক্রান্ত আলোচনাও এর অন্তর্ভুক্ত, যেহেতু মুকাল্লিদ মুজতাহিদের অনুসারী হয়ে থাকেন।
উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের চতুর্থ যে আলোচনাটি বাকি রইল তা হলো বিধান (আহকাম) সংক্রান্ত আলোচনা। এই বিষয়টি উল্লিখিত সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়নি এই বিবেচনায় যে, উসুলুল ফিকহের মূল আলোচ্য বিষয় হলো দলিলসমূহ। সেই হিসেবে বিধানসমূহ এই শাস্ত্রের একটি ভূমিকা হিসেবে গণ্য হবে, যা এর মূল আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়।
যাই হোক না কেন, এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো চারটি: দলিলসমূহ, বিধান আহরণের পদ্ধতি, ইজতিহাদ এবং বিধানসমূহ। গভীর চিন্তা করলে দেখা যায় যে, বিধান সংক্রান্ত আলোচনা এই শাস্ত্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, চাই তা সংজ্ঞায় উল্লেখ করা হোক বা না হোক, এবং একে উসুলুল ফিকহের আলোচ্য বিষয় হিসেবে গণ্য করা হোক বা না হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
أما
تعريف أصول الفقه باعتباره مركبًا فإن هذا يحتاج إلى تعريف كلمة أصول وكلمة الفقه.
أما الأصول: فإنها جمع أصل، والأصل في اللغة: ما يستند وجود الشيء إليه (1) .
وفي الاصطلاح: يطلق على الدليل غالبًا، كقولهم: "أصل هذه المسألة الكتاب والسنة"؛ أي: دليلها، ويُطلق على غير ذلك، إلا أن هذا الإطلاق هو المراد في علم الأصول (2) .
وأما الفقه في اللغة: فهو الفهم، ويطلق على العلم، وعلى الفطنة (3) .
وفي الاصطلاح: هو "العلم بالأحكام الشرعية العملية المكتسب من أدلتها التفصيلية" (4) .
ثانيًا: موضوع أصول الفقه:هو معرفة الأدلة الشرعية ومراتبها وأحوالها (5) .
ثالثًا: مصادر أصول الفقه:والمقصود بمصادر أصول الفقه الأدلة والأصول التي بُنيت عليها قواعده، وهي (6) :
أ- استقراء نصوص الكتاب والسنة الصحيحة.
--------------------------------------------
যৌগিক শব্দ হিসেবে উসূলে ফিকহের সংজ্ঞা: এটি 'উসূল' ও 'ফিকহ' শব্দ দুটির পরিচয় জানার মুখাপেক্ষী।
আর উসূল: এটি 'আসল' শব্দের বহুবচন। আভিধানিক অর্থে 'আসল' হলো: যার ওপর কোনো জিনিসের অস্তিত্ব নির্ভর করে (১)।
পারিভাষিক অর্থে: এটি সাধারণত দালীল বা প্রমাণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়ে থাকে: "এই মাসআলার আসল হলো কিতাব ও সুন্নাহ"; অর্থাৎ: এর প্রমাণ। এটি অন্যান্য অর্থেও ব্যবহৃত হয়, তবে উসূল শাস্ত্রে এই অর্থটিই (প্রমাণ) উদ্দেশ্য (২)।
আর আভিধানিক অর্থে ফিকহ হলো: বুঝ বা উপলব্ধি। এটি জ্ঞান এবং বিচক্ষণতা অর্থেও ব্যবহৃত হয় (৩)।
পারিভাষিক অর্থে: এটি হলো "বিস্তারিত প্রমাণাদি হতে অর্জিত ব্যবহারিক শরয়ী বিধানাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান" (৪)।
দ্বিতীয়ত: উসূলে ফিকহের আলোচ্য বিষয়:এটি হলো শরয়ী প্রমাণাদি, সেগুলোর স্তরবিন্যাস এবং এগুলোর অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা (৫)।
তৃতীয়ত: উসূলে ফিকহের উৎসসমূহ:উসূলে ফিকহের উৎস বলতে ওই সকল প্রমাণ ও মূলনীতিসমূহকে বোঝায় যেগুলোর ওপর এর নিয়মাবলি ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আর সেগুলো হলো (৬):
ক) কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহর পাঠসমূহের (নস) বিশ্লেষণমূলক অনুসন্ধান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ب- الآثار المروية عن الصحابة والتابعين.
ج- إجماع السلف الصالح.
د- قواعد اللغة العربية وشواهدها المنقولة عن العرب.
هـ- الفطرة السوية والعقل السليم.
و اجتهادات أهل العلم واستنباطاتهم وفق الضوابط الشرعية.
رابعًا: فائدة أصول الفقه:من فوائد علم أصول الفقه:
1- ضبط أصول الاستدلال، وذلك ببيان الأدلة الصحيحة من الزائفة.
2- إيضاح الوجه الصحيح للاستدلال، فليس كل دليل صحيح يكون الاستدلال به صحيحًا.
3- تيسير عملية الاجتهاد وإعطاء الحوادث الجديدة ما يناسبها من الأحكام.
4- بيان ضوابط الفتوى، وشروط المفتي، وآدابه.
5- معرفة الأسباب التي أدت إلى وقوع الخلاف بين العلماء، والتماس الأعذار لهم في ذلك.
6- الدعوة إلى اتباع الدليل حيثما كان، وترك التعصب والتقليد الأعمى.
7- حفظ العقيدة الإسلامية بحماية أصول الاستدلال والرد على شبه المنحرفين.
8- صيانة الفقه الإسلامي من الانفتاح المترتب على وضع مصادر جديدة للتشريع، ومن الجمود المترتب على دعوى إغلاق باب الاجتهاد.
9- ضبط قواعد الحوار والمناظرة، وذلك بالرجوع إلى الأدلة الصحيحة المعتبرة.
10- الوقوف على سماحة الشريعة الإسلامية ويسرها، والاطلاع على محاسن هذا الدين.
খ- সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে বর্ণিত আসারসমূহ।
গ- সালাফে সালেহীনের ঐক্যমত।
ঘ- আরবি ভাষার নিয়মাবলী এবং আরবদের থেকে বর্ণিত এর প্রয়োগ ও প্রমাণসমূহ।
ঙ- সহজাত স্বভাব এবং সুস্থ বিবেক।
চ- শরীয়তের নীতিমালা অনুযায়ী আলেমদের ইজতিহাদ ও উদ্ভাবনসমূহ।
চতুর্থ: উসূলে ফিকহের উপকারিতা:উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের উপকারিতাসমূহের মধ্যে রয়েছে:
১- দলীল গ্রহণের মূলনীতিসমূহ সুসংহত করা, আর তা সহীহ দলীলকে অসার দলীল থেকে পৃথক করার মাধ্যমে।
২- দলীল উপস্থাপনের সঠিক পদ্ধতি স্পষ্ট করা; কারণ প্রতিটি সহীহ দলীল থেকে গৃহীত দলীলসমূহ সঠিক নাও হতে পারে।
৩- ইজতিহাদ প্রক্রিয়া সহজতর করা এবং নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতির ক্ষেত্রে তার উপযোগী বিধান প্রদান করা।
৪- ফতোয়ার নীতিমালা, মুফতির শর্তাবলী এবং তাঁর আদবসমূহ বর্ণনা করা।
৫- আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টির কারণসমূহ জানা এবং এ বিষয়ে তাঁদের গ্রহণযোগ্য কারণসমূহ অনুসন্ধান করা।
৬- দলীল যেখানেই থাকুক না কেন তার অনুসরণের দাওয়াত দেওয়া এবং গোঁড়ামি ও অন্ধ অনুকরণ বর্জন করা।
৭- দলীল গ্রহণের মূলনীতিসমূহ সংরক্ষণের মাধ্যমে ইসলামী আকীদা রক্ষা করা এবং বিপথগামীদের সংশয়ের জবাব দেওয়া।
৮- শরীয়তের নতুন নতুন উৎস তৈরির ফলে সৃষ্ট শিথিলতা এবং ইজতিহাদের দরজা বন্ধের দাবির ফলে সৃষ্ট স্থবিরতা থেকে ইসলামী ফিকহকে রক্ষা করা।
৯- নির্ভরযোগ্য ও সহীহ দলীলের দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে আলোচনা ও বিতর্কের নিয়মাবলী সুসংহত করা।
১০- ইসলামী শরীয়তের উদারতা ও সহজতা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা এবং এই দ্বীনের সৌন্দর্যসমূহ প্রত্যক্ষ করা।
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المبحث الثالث: تاريخ أصول الفقه عند أهل السنة والجماعةإن علم أصول الفقه عند أهل السنة والجماعة مر بثلاث مراحل رئيسية، تتمثل المرحلة الأولى في تدوين الإمام الشافعي لهذا العلم الجليل، وتتجلى المرحلة الثانية في الاتجاه الحديثي لعلم الأصول وذلك على يد إمامين جليلين هما الخطيب البغدادي وابن عبد البر، وفي المرحلة الثالثة برز جانب الإصلاح وتقويم العوج الطارئ على علم الأصول، وكان ذلك على يد الإمامين العظيمين ابن تيمية وابن القيم. وكان لهؤلاء الأئمة الخمسة ولغيرهم من أئمة أهل السنة والجماعة جهود بارزة ومؤلفات عديدة أوضحت المنهج، ورسمت الطريق، وحددت المعالم.
وبالنظر إلى تلك الجهود وهذه المؤلفات نجد أن منها ما هو خاص بأصول الفقه مشتمل على جملة أبحاثه، ومنها ما هو خاص في فن معين غير أصول الفقه، لكنه مشتمل على أبحاث أصولية قلت أو كثرت (1) .
وعند النظر إلى المؤلفات الأصولية الخاصة تبرز لنا أربعة مؤلفات، امتاز كل واحد من هذه المؤلفات بما يستأهل لأجله أن يفرد بدراسة مستقلة، وهذه المؤلفات هي: كتاب "الرسالة" للإمام الشافعي، و "الفقيه والمتفقه" للخطيب البغدادي، و"روضة الناظر" لابن قدامة، و"شرح الكوكب المنير" لابن النجار الفتوحي.
فالمقام إذن يقتضي تقسيم هذا المبحث إلى مطلبين:
المطلب الأول: المراحل التي مر بها علم أصول الفقه عند أهل السنة والجماعة.
المطلب الثاني: دراسة مستقلة للكتب الأربعة؛ وهي: الرسالة، والفقيه والمتفقه، وروضة الناظر، وشرح الكوكب المنير.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট উসুলুল ফিকহের ইতিহাসনিশ্চয়ই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রটি তিনটি প্রধান পর্যায় অতিক্রম করেছে। প্রথম পর্যায়টি হলো ইমাম শাফিঈ কর্তৃক এই মহান শাস্ত্রের সংকলন। দ্বিতীয় পর্যায়টি উসুল শাস্ত্রের হাদিসভিত্তিক ধারায় পরিলক্ষিত হয়, যা দুইজন মহান ইমাম—খতিব আল-বাগদাদি এবং ইবন আবদিল বার-এর হাত ধরে সম্পন্ন হয়েছে। আর তৃতীয় পর্যায়ে উসুল শাস্ত্রে অনুপ্রবেশকারী বিচ্যুতি সংশোধন ও সংস্কারের দিকটি প্রকাশ পায়, যা সংঘটিত হয়েছে দুই মহান ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং ইবনুল কাইয়্যিমের মাধ্যমে। এই পাঁচজন ইমাম এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্যান্য ইমামগণের রয়েছে অনন্য প্রচেষ্টা এবং অসংখ্য রচনা, যা মানহাজ বা পদ্ধতিকে স্পষ্ট করেছে, পথরেখা অঙ্কন করেছে এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্ধারণ করে দিয়েছে।
উক্ত প্রচেষ্টা এবং এই কিতাবগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, তার মধ্যে কিছু হলো উসুলুল ফিকহের জন্য বিশেষায়িত, যা এর সামগ্রিক আলোচনাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আবার কিছু এমন শাস্ত্রের জন্য বিশেষায়িত যা উসুলুল ফিকহ নয়, তবে তাতে কম-বেশি উসুলি আলোচনা বিদ্যমান রয়েছে (১)।
উসুল বিষয়ক বিশেষায়িত কিতাবগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে চারটি কিতাব আমাদের সামনে প্রধান হয়ে ওঠে। এই কিতাবগুলোর প্রত্যেকটি এমন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যার জন্য একে স্বতন্ত্রভাবে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন। এই কিতাবগুলো হলো: ইমাম শাফিঈর "আর-রিসালাহ", খতিব আল-বাগদাদির "আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ", ইবনু কুদামাহর "রাওদাতুন নাজির" এবং ইবনুন নাজ্জার আল-ফুতুহির "শারহুল কাওকাবিল মুনির"।
সুতরাং বর্তমান প্রেক্ষাপট এই পরিচ্ছেদকে দুটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত করার দাবি রাখে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রটি যেসব পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: উল্লিখিত চারটি কিতাবের স্বতন্ত্র পর্যালোচনা; যথা: আর-রিসালাহ, আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ, রাওদাতুন নাজির এবং শারহুল কাওকাবিল মুনির।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المطلب الأول: المراحل التي مر بها علم أصول الفقه عند أهل السنة والجماعة-
المرحلة الأولى:تبدأ هذه المرحلة ب
عصر الإمام الشافعي، وتنتهي بنهاية القرن الرابع تقريبًا. وأهم ما يميز هذه المرحلة هو تدوين الإمام الشافعي لعلم أصول الفقه (1) ، وما يتصل بهذا التدوين من ظروف وأحوال.
لقد جاء الشافعي في عصر ظهرت فيه مدرستان، استقامت كل واحدة على منهج واحد معين، وكان الفقهاء إلا قليلاً يسيرون على منهج إحدى المدرستين لا يخالفونه إلى نهج الأخرى، إحدى هاتين المدرستين: مدرسة الحديث وكانت بالمدينة، وشيخها هو مالك بن أنس (2) صاحب الموطأ.
والمدرسة الثانية: مدرسة الرأي، وكانت بالعراق، وشيوخها هم أصحاب أبي حنيفة (3) من بعده.
لقد غلب على مدرسة الحديث جانب الرواية؛ لكون المدينة موطن الصحابة ومكان الوحي، وغلب على مدرسة الرأي جانب الرأي لعدم توافر
--------------------------------------------
প্রথম অনুচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের নিকট উসূলুল ফিকহ শাস্ত্র যে পর্যায়গুলো অতিক্রম করেছে-
প্রথম পর্যায়:এই পর্যায়টি ইমাম শাফেয়ীর যুগ থেকে শুরু হয় এবং আনুমানিক চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শেষে সমাপ্ত হয়। এই পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ইমাম শাফেয়ী কর্তৃক উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের সংকলন (১), এবং এই সংকলনের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি ও অবস্থাসমূহ।
ইমাম শাফেয়ী এমন এক যুগে আবির্ভূত হয়েছিলেন যখন দুটি ঘরানা বা মাযহাবের বিকাশ ঘটেছিল, যার প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। অল্প কয়েকজন ব্যতীত ফকীহগণ এই দুই পদ্ধতির যেকোনো একটি অনুসরণ করতেন এবং অন্যটির বিপরীতে ভিন্ন কোনো পথ অবলম্বন করতেন না। এই দুটি ঘরানার একটি হলো: হাদিসপন্থী ঘরানা (মাদরাসাতুল হাদিস), যা মদীনায় অবস্থিত ছিল এবং এর প্রধান শায়খ ছিলেন মুয়াত্তা প্রণেতা মালিক বিন আনাস (২)।
আর দ্বিতীয় ঘরানাটি হলো: রায় বা যুক্তিপন্থী ঘরানা (মাদরাসাতুর রায়), যা ইরাকে অবস্থিত ছিল এবং এর প্রধানগণ ছিলেন আবু হানিফার (৩) পরবর্তী তাঁর অনুসারীবৃন্দ।
হাদিসপন্থী ঘরানার ওপর বর্ণনার দিকটি প্রবল ছিল; কারণ মদীনা ছিল সাহাবায়ে কেরামের আবাসস্থল এবং ওহী নাযিলের স্থান। অন্যদিকে রায়পন্থী ঘরানার ওপর রায়ের (যুক্তি বা মতামত) দিকটি প্রবল ছিল কারণ সেখানে পর্যাপ্ত (হাদিস) লভ্য না থাকায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أسباب الرواية لديهم، فقد كثرت الفتن والوضع والوضاعون.
إن كلتا المدرستين تتفق على وجوب الأخذ بالكتاب والسنة وعدم تقديم الرأي على النص.
لقد استطاع الإمام الشافعي الجمع بين هذين المنهجين، والفوز بمحاسن هاتين المدرستين، فاجتمع للشافعي فقه الإمام مالك بالمدينة حيث تلقى عنه، وفقه أبي حنيفة بالعراق إذ تلقاه عن صاحبه محمد بن الحسن (1) ، إضافة إلى فقه أهل الشام وأهل مصر حيث أخذ عن فقهائهما.
يضاف إلى ذلك مدرسة مكة التي تُعني بتفسير القرآن الكريم وأسباب نزوله، ولغة العرب وعاداتهم، إذ تلقى العلم بمكة على من كان فيها من الفقهاء والمحدثين حتى بلغ منزلة الإفتاء. كما أن الشافعي خرج إلى البادية ولازم هُذيلاً وكانت من أفصح العرب، فتعلم كلامها وأخذ طبعها، وحفظ الكثير من أشعار الهذليين وأخبار العرب.
بهذه المعطيات استطاع الإمام الشافعي أن يضع للفقهاء أصولاً للاستنباط، وقواعد للاستدلال، وضوابط للاجتهاد.
وجعل الفقه مبنيًا على أصول ثابتة لا على طائفة من الفتاوى والأقضية. لقد فتح الشافعي بذلك عين الفقه، وسن الطريق لمن جاء بعده من المجتهدين ليسلكوا مثل ما سلك وليتموا ما بدأ (2) .
هكذا صنف الإمام الشافعي كتاب "الرسالة"، فكان أول كتاب في علم أصول الفقه (3) .
--------------------------------------------
তাদের কাছে বর্ণনার কারণসমূহ; কারণ ফিতনা, জালিয়াতি এবং মিথ্যুক বর্ণনাকারীদের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল।
উভয় চিন্তাধারাই (মাদ্রাসা) কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করা এবং দলিলের (নস) ওপর ব্যক্তিগত রায়কে (মতামত) প্রাধান্য না দেওয়ার বিষয়ে একমত।
ইমাম শাফেয়ী এই উভয় পদ্ধতির সমন্বয় ঘটাতে এবং উভয় ধারার সৌন্দর্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ফলে শাফেয়ীর মধ্যে মদিনার ইমাম মালিকের ফিকহ—যা তিনি তাঁর থেকে সরাসরি গ্রহণ করেছেন—এবং ইরাকের আবু হানিফার ফিকহ—যা তিনি তাঁর শিষ্য মুহাম্মদ বিন হাসান (১) থেকে গ্রহণ করেছেন—একত্রিত হয়েছিল। এর পাশাপাশি সিরিয়া ও মিসরীয়দের ফিকহও এতে যুক্ত হয়েছিল, কারণ তিনি সেসব স্থানের ফকিহদের কাছ থেকেও শিক্ষা লাভ করেছিলেন।
এর সাথে মক্কার শিক্ষাধারার সংযোগ ঘটেছিল, যা আল-কুরআনের তাফসীর, শানে নুযুল এবং আরবদের ভাষা ও রীতিনীতি নিয়ে কাজ করত। কারণ তিনি মক্কায় থাকাকালীন সেখানকার ফকিহ এবং মুহাদ্দিসদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, এমনকি ফতোয়া দেওয়ার স্তরে উপনীত হয়েছিলেন। তাছাড়া শাফেয়ী মরুভূমিতে গমন করেছিলেন এবং হুজায়ল গোত্রের সাথে অবস্থান করেছিলেন, যারা ছিল আরবদের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধভাষী। ফলে তিনি তাদের ভাষা শিখেছিলেন, তাদের স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছিলেন এবং হুজায়লদের অনেক কবিতা ও আরবদের ইতিহাস মুখস্থ করেছিলেন।
এই উপকরণগুলোর মাধ্যমে ইমাম শাফেয়ী ফকিহদের জন্য মাসআলা উদ্ভাবনের মূলনীতি, দলীল উপস্থাপনের নিয়মাবলী এবং ইজতিহাদের মানদণ্ড প্রণয়ন করতে সক্ষম হন।
তিনি ফিকহ শাস্ত্রকে নিছক কিছু ফতোয়া ও বিচারিক রায়ের ওপর নয়, বরং সুদৃঢ় মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এর মাধ্যমে শাফেয়ী ফিকহের প্রকৃত চক্ষু উন্মোচন করেছিলেন এবং পরবর্তী মুজতাহিদদের জন্য এমন একটি পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন, যাতে তারা তাঁর মতোই চলতে পারেন এবং তিনি যা শুরু করেছিলেন তা সম্পন্ন করতে পারেন (২)।
এভাবেই ইমাম শাফেয়ী "আর-রিসালা" গ্রন্থটি রচনা করেন, যা ছিল উসুলুল ফিকহ বা ফিকহের মূলনীতি শাস্ত্রের প্রথম কিতাব (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قال الإمام أحمد بن حنبل (1) : "كان الفقه قفلاً على أهله حتى فتحه الله بالشافعي" (2) .
وقال أيضًا: "كانت أقضيتنا في أيدي أصحاب أبي حنيفة ما تنزع، حتى رأينا الشافعي، فكان أفقه الناس في كتاب الله، وفي سنة رسوله صلى الله عليه وسلم، ولا يشبع صاحب الحديث من كتب الشافعي" (3) .
وقال أيضًا: "لولا الشافعي ما عرفنا فقه الحديث" (4) .
وقد اشتمل كتاب "الرسالة" على أكثر مباحث الشافعي الأصولية، لكنه لم يشتمل عليها كلها، بل للشافعي مباحث مستقلة غيرها في الأصول (5) .
فمن ذلك كتاب "جماع العلم" (6) الذي اشتمل على حكاية قول الطائفة التي ردت الأخبار كلها، وحكاية قول من رد خبر الواحد، ومناظرة في الإجماع، وغير ذلك، وقد كان تأليفه له بعد كتاب "الرسالة" (7) ، ومن ذلك كتاب "اختلاف الحديث" (8) فقد ألفه بعد كتاب "جماع العلم" (9) وبين فيه أنواع الاختلاف الوارد في الأحاديث النبوية وبوبه تبويبًا فقهيًا.
وللشافعي أيضًا كتاب"صفة نهي النبي صلى الله عليه وسلم " (10) ،وكتاب"إبطال الاستحسان" (11) ، أما الكلام على كتاب "الرسالة" فسيأتي لاحقًا، إن شاء الله تعالى (12) .
--------------------------------------------
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (১) বলেন: "ফিকহ শাস্ত্র এর পারদর্শীদের জন্য একটি তালাবদ্ধ বিষয় ছিল, যতক্ষণ না আল্লাহ শাফি'ঈর মাধ্যমে তা উন্মুক্ত করেছেন" (২)।
তিনি আরও বলেন: "আমাদের বিচারিক সিদ্ধান্তসমূহ আবু হানিফার অনুসারীদের হাতে ছিল যা পরিবর্তন করা যেত না, যতক্ষণ না আমরা শাফি'ঈকে দেখলাম। তিনি আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফকিহ (বিজ্ঞ) ছিলেন। আর হাদিসের অনুসারীরা শাফি'ঈর কিতাবসমূহ পড়ে তৃপ্ত হয় না" (৩)।
তিনি আরও বলেন: "শাফি'ঈ না থাকলে আমরা হাদিসের ফিকহ (গভীর জ্ঞান) জানতে পারতাম না" (৪)।
আর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থটি শাফি'ঈর অধিকাংশ উসূল সংক্রান্ত আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করেছে, তবে এতে সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়নি; বরং উসূল শাস্ত্রে শাফি'ঈর এছাড়া আরও স্বতন্ত্র আলোচনা রয়েছে (৫)।
এর মধ্যে রয়েছে 'জিমাউল ইলম' (৬) গ্রন্থটি, যা ওই দলের বক্তব্যের বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করেছে যারা সকল বর্ণনা (আখবার) প্রত্যাখ্যান করেছিল, এবং যারা খবরে ওয়াহিদ প্রত্যাখ্যান করেছিল তাদের বক্তব্যের বিবরণ, ইজমা বিষয়ক বিতর্ক এবং আরও অন্যান্য বিষয়। তিনি এটি 'আর-রিসালাহ' (৭) গ্রন্থের পরে রচনা করেছিলেন। এর মধ্যে আরও রয়েছে 'ইখতিলাফুল হাদিস' (৮) গ্রন্থটি; তিনি এটি 'জিমাউল ইলম' (৯) গ্রন্থের পরে রচনা করেন এবং এতে নব্যুয়্যতি হাদিসসমূহে আসা মতভেদের প্রকারসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং একে ফিকহি বিন্যাসে বিন্যস্ত করেছেন।
শাফি'ঈর আরও রয়েছে 'সিফাতু নাহয়িন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম' (১০) এবং 'ইবতালুল ইসতিহসান' (১১) নামক গ্রন্থ। আর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থটি সম্পর্কে আলোচনা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে আসবে (১২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لقد وضع الشافعي اللبنة الأولى في تدوين علم الأصول، وأوضح معالم هذا الفن وجلَّى صورته.
والإمام الشافعي فيما فعل كان مقتفيًا بأثر من قبله، متبعًا لا مبتدعًا، اعتمد فيه على هدي الكتاب والسنة وسيرة الصحابة رضوان الله عليهم وآثار الأئمة المهتدين، واستفاد -أيضًا- من علم العربية وأخبار الناس، والرأي والقياس، ولعل أهم القضايا الأصولية التي قررها الشافعي وسعى إلى بيانها في آثاره التي بين أيدينا:
1- بيان الأدلة الشرعية، وهي: الكتاب، والسنة، والإجماع، والقياس، وتوضيح مراتبها.
2- إثبات حجية السنة عمومًا، وتثبيت خبر الواحد خصوصًا، وبيان أنه لا تعارض بين الكتاب والسنة، ولا بين أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم.
3- بيان وجوب اتباع سبيل المؤمنين.
4- تحديد ضوابط الأخذ بالرأي، وشروط استعمال القياس.
5- إبطال القول على الله بلا علم، دون حجة أو برهان.
6- التنبيه على أن القرآن نزل بلغة العرب، وأن فيه عددًا من الوجوه الموجودة في اللسان العربي.
7- بيان الأوامر والنواهي.
8- ذكر الناسخ والمنسوخ.
هذا فيما يتعلق بجهود الإمام الشافعي وآثاره.
ثم تتابعت بعد بذلك جهود علماء أهل السنة، وكانت معظم هذه الجهود في هذه المرحلة الزمنية تتركز على الاعتصام بالكتاب والسنة.
فمن ذلك:
"رسالة الإمام أحمد في طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم " (1) ، وكتاب "أخبار الآحاد"، وكتاب "الاعتصام بالكتاب والسنة"، كلاهما من الجامع الصحيح للإمام
--------------------------------------------
ইমাম শাফেঈ উসূল শাস্ত্র লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন এবং এই বিদ্যার নিদর্শনগুলো স্পষ্ট করেছেন ও এর রূপ পরিষ্কার করেছেন।
ইমাম শাফেঈ যা কিছু করেছেন তাতে তিনি পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, তিনি ছিলেন অনুসারী, উদ্ভাবক নন। এতে তিনি কিতাব, সুন্নাহ, সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) জীবনচরিত এবং হেদায়াতপ্রাপ্ত ইমামদের আসার-এর ওপর নির্ভর করেছেন। এছাড়াও তিনি আরবি ভাষা ও সাহিত্য, মানুষের ইতিহাস, রায় এবং কিয়াস থেকে উপকৃত হয়েছেন। সম্ভবত আমাদের হাতে থাকা তাঁর রচনাবলিতে শাফেঈ কর্তৃক নির্ধারিত এবং ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উসূলী বিষয়গুলো হলো:
১- শরয়ী দলিলসমূহের বর্ণনা, আর তা হলো: কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস; এবং এগুলোর স্তরের ব্যাখ্যা।
২- সাধারণভাবে সুন্নাহর প্রামাণ্যতা সাব্যস্ত করা এবং বিশেষভাবে খবরে ওয়াহিদ প্রতিষ্ঠা করা; এবং কিতাব ও সুন্নাহর মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসগুলোর মধ্যেও কোনো বিরোধ নেই—তা স্পষ্ট করা।
৩- মুমিনদের পথ অনুসরণের আবশ্যকতা বর্ণনা করা।
৪- রায় গ্রহণের মূলনীতি নির্ধারণ এবং কিয়াস ব্যবহারের শর্তাবলি।
৫- জ্ঞান ব্যতীত এবং কোনো দলিল বা প্রমাণ ছাড়া আল্লাহর ব্যাপারে কথা বলা বাতিল করা।
৬- কুরআন যে আরবি ভাষায় নাযিল হয়েছে এবং এতে আরবি ভাষার নানাবিধ ভঙ্গি বিদ্যমান রয়েছে সে বিষয়ে সজাগ করা।
৭- আদেশ ও নিষেধের বর্ণনা।
৮- নাসিখ ও মানসূখ-এর উল্লেখ।
এটি হলো ইমাম শাফেঈর প্রচেষ্টা এবং তাঁর রচনাবলি সংক্রান্ত বিষয়।
এরপর ধারাবাহিকভাবে আহলে সুন্নাতের আলেমদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে এবং এই সময়কালের অধিকাংশ প্রচেষ্টা কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল।
এর মধ্যে রয়েছে:
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য বিষয়ে ইমাম আহমাদের রিসালাহ” (১), এবং “আখবারুল আহাদ” কিতাব ও “আল-ইতিসাম বিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ” কিতাব—উভয়টি ইমামের জামে সহীহ থেকে সংগৃহীত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
البخاري (1) ، وما صنفه خطيب أهل السنة الإمام ابن قتيبة (2) : كتاب "تأويل مشكل القرآن" (3) وكتاب "تأويل مختلف الحديث" (4) .
وغير ذلك مما كتبه أئمة السلف (5) في كتب العقائد والرد على الفرق الضالة حيث قرروا وجوب التمسك بالكتاب والسنة، وأقاموا لهذا الأصل العظيم الأدلة والشواهد الشرعية.
وخلاصة القول:
أنه قد تم في هذه المرحلة تدوين علم أصول الفقه، وذلك على يد الإمام الشافعي الذي كان أهلاً للقيام بهذا الدور العظيم لما اجتمع فيه من علم الكتاب والسنة، وفقه الاستنباط، وعلم اللغة، إضافة إلى ما أوتي من عقل وذكاء، وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء.
ثم بعد ذلك جاءت جهود العلماء متممة لما بدأه الشافعي، خاصة فيما يتعلق بوجوب الاعتصام بالكتاب والسنة، فكانت هذه الجهود وتلك بمثابة الخطوط العريضة لمنهج أهل السنة والجماعة، والقواعد العامة لطريقتهم في أصول الفقه، وكان لهذه المرحلة الزمنية الأثر البليغ والتأثير العظيم في جهود العلماء اللاحقة، كما سيظهر ذلك جليًا في المرحلة الثانية والثالثة.
--------------------------------------------
বুখারি (১), এবং আহলুস সুন্নাহর খতিব ইমাম ইবনে কুতাইবা (২) যা রচনা করেছেন: "তাউইলু মুশকিলিল কুরআন" (৩) এবং "তাউইলু মুখতালিফিল হাদিস" (৪) গ্রন্থদ্বয়।
এছাড়া সালাফ ইমামগণ (৫) আকিদাহ বিষয়ক গ্রন্থসমূহে এবং ভ্রান্ত দলগুলোর খণ্ডনে যা লিখেছেন, যেখানে তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা সাব্যস্ত করেছেন এবং এই মহান মূলনীতির স্বপক্ষে শরিয়তসম্মত দলিল ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন।
সারকথা হলো:
এই পর্যায়ে উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র সংকলিত হয়েছে এবং তা হয়েছে ইমাম শাফেয়ির হাতে, যিনি এই মহান দায়িত্ব পালনের যোগ্য ছিলেন। কারণ তাঁর মধ্যে কুরআন ও সুন্নাহর ইলম, মাসআলা উদ্ভাবনের (ইস্তিনবাত) প্রজ্ঞা এবং ভাষাতত্ত্বের গভীর জ্ঞানের সমন্বয় ঘটেছিল; এর সাথে যোগ হয়েছিল তাঁকে প্রদত্ত মেধা ও বুদ্ধি। আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন।
এরপর ইমাম শাফেয়ি যা শুরু করেছিলেন, আলেমদের প্রচেষ্টা সেটিকে পূর্ণতা দান করে; বিশেষ করে কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করার আবশ্যকতা সম্পর্কিত বিষয়ে। ফলে এই সকল প্রচেষ্টা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজের রূপরেখা এবং উসুলুল ফিকহে তাঁদের পদ্ধতির সাধারণ নীতিমালা হিসেবে পরিগণিত হয়। এই সময়কালটি পরবর্তী আলেমদের প্রচেষ্টার ওপর সুদূরপ্রসারী ও বিশাল প্রভাব ফেলেছিল, যা দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
-
المرحلة الثانية:تبدأ هذه المرحلة من أوائل القرن الخامس، وحتى نهاية القرن السابع على وجه التقريب، وقد برز في هذه المرحلة إمامان:
إمام أهل السنة في المشرق الخطيب البغدادي، صاحب كتاب "تاريخ بغداد".
وإمام أهل السنة في المغرب أبو عمر بن عبد البر (1) ، صاحب كتاب "التمهيد".
أما حافظ بغداد فقد صنف في أصول الفقه كتاب "الفقيه والمتفقه" الذي جعله نصيحة لأهل الحديث، ويُعد هذا الكتاب امتدادًا لكتاب الرسالة للشافعي، ثم إنه أضاف فيه قضايا جدلية ومباحث متعلقة بأدب الفقه، وسيأتي الكلام لاحقًا على هذا الكتاب (2) .
وأما حافظ الأندلس فقد صنف كتاب "جامع بيان العلم وفضله" استجابة لمن سأله عن معنى العلم، وعن تثبيت الحجاج بالعلم، وتبيين فساد القول في دين الله بغير فهم، وتحريم الحكم بغير حجة، وما الذي أجيز من الاحتجاج والجدل، وما الذي كره منه؟ وما الذي ذم من الرأي، وما حُمد منه؟ وما يجوز من التقليد، وما حرم منه؟ (3) فأجابه الشيخ إلى ما سأل قائلاً:
"ورغبتُ أن أقدم لك قبل هذا من آداب التعلم وما يلزم العالم والمتعلم التخلق به والمواظبة عليه، وكيف وجه الطلب، وما حُمد ومُدح فيه من الاجتهاد والنصب إلى سائر أنواع آداب التعلم والتعليم وفضل ذلك، وتلخيصه
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পর্যায়:এই পর্যায়টি মোটামুটিভাবে পঞ্চম শতাব্দীর শুরু থেকে সপ্তম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পর্যায়ে দুইজন ইমাম বিশেষভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন:
প্রাচ্যের আহলুস সুন্নাহর ইমাম আল-খতিব আল-বাগদাদি, যিনি "তারিখ বাগদাদ" গ্রন্থের রচয়িতা।
এবং মাগরেব বা পাশ্চাত্যের আহলুস সুন্নাহর ইমাম আবু উমর ইবনে আব্দুল বার (১), যিনি "আত-তামহিদ" গ্রন্থের রচয়িতা।
বাগদাদের হাফেজ উসুলুল ফিকহ বিষয়ে "আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ" নামক গ্রন্থটি রচনা করেছেন, যেটিকে তিনি আহলুল হাদিসদের জন্য নসিহত বা উপদেশ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। এই গ্রন্থটিকে ইমাম শাফেয়ির "আর-রিসালা" গ্রন্থের একটি সম্প্রসারণ হিসেবে গণ্য করা হয়। পরবর্তীতে তিনি এতে কিছু বিতর্কমূলক মাসয়ালা এবং ফিকহের শিষ্টাচার সংক্রান্ত আলোচনা যুক্ত করেছেন। এই কিতাব সম্পর্কে সামনে আরও আলোচনা আসবে (২)।
আর আন্দালুসের হাফেজ "জামে বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি" গ্রন্থটি রচনা করেছেন সেই ব্যক্তির উত্তরে যিনি তাকে ইলমের মর্মার্থ, ইলমের মাধ্যমে দলিল ও যুক্তি প্রতিষ্ঠিত করা, সঠিক উপলব্ধি ব্যতীত আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কথা বলার অসারতা স্পষ্ট করা এবং প্রমাণ ব্যতীত কোনো বিধান আরোপের নিষিদ্ধতা সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন। এ ছাড়াও কোন্ ধরনের বিতর্ক ও যুক্তি প্রদান অনুমোদিত আর কোন্টি অপছন্দনীয়? ব্যক্তিগত মতামতের কোনটি নিন্দনীয় আর কোনটি প্রশংসনীয়? এবং তাকলিদ বা অনুকরণের কোনটি বৈধ আর কোনটি অবৈধ—এসব বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে শায়খ তাকে উত্তর প্রদান করেন এই বলে:
"আমি চেয়েছি এর আগে আপনার সামনে ইলম অর্জনের আদবসমূহ পেশ করতে এবং একজন আলেম ও শিক্ষার্থীর যেসব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করা ও যার ওপর অবিচল থাকা আবশ্যক, তা বর্ণনা করতে। সেই সাথে ইলম অন্বেষণের পদ্ধতি, এতে ইজতিহাদ ও কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসনীয় দিকসমূহ এবং শিক্ষা ও পাঠদানের অন্যান্য সমস্ত আদব ও তার ফজিলতের সংক্ষিপ্ত সার আলোচনা করতে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
بابًا بابًا مما روي عن سلف هذه الأمة رضي الله عنهم أجمعين لتتبع هديهم، وتسلك سبيلهم وتعرف ما اعتمدوا عليه من ذلك مجتمعين أو مختلفين في المعنى منه، فأجبتك إلى ما رغبت
… " (1) .
ومما مضى تبين أن الكتاب يبحث في موضوعين:
الأول: في فضل العلم وآداب أهله.
والثاني: في مباحث أصولية.
استغرق الموضوع الأول نصف الكتاب الأول تقريبًا.
وكان من أبرز المباحث الأصولية التي تكلم عليها في النصف الآخر من الكتاب.
* أصول العلم: الكتاب، والسنة، والإجماع، والقياس.
* ما جاء في أن العلم هو ما كان مأخوذًا عن الصحابة، وما لم يؤخذ عنهم فليس بعلم.
* الاجتهاد والقياس.
* التقليد والاتباع.
* الفتوى.
* موضع السنة من الكتاب وبيانها له.
ويلاحظ: استفادة ابن عبد البر من مروياته الحديثية، ومن النقل عن أئمة المالكية (2) ، وحرصه على نقل ما عليه سلف الأمة، وهو يعقب -في الغالب- على ما يروي من آثار وأحاديث وعلى ما ينقل بقوله: "قال أبو عمر"، أو "قلت" (3) .
--------------------------------------------
এই উম্মতের সালাফদের (পূর্বসূরিদের) — আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন — কাছ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে একের পর এক অধ্যায় হিসেবে [উপস্থাপিত করা হয়েছে], যাতে তাঁদের হেদায়েত অনুসরণ করা যায়, তাঁদের পথে চলা যায় এবং তাঁরা যা কিছুর ওপর নির্ভর করেছেন তা জানা যায়, চাই তা ঐক্যবদ্ধভাবে হোক অথবা এর অর্থের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মতের হোক। ফলে আপনি যা চেয়েছেন সে অনুযায়ী আমি আপনার আহ্বানে সাড়া দিয়েছি
… " (১) ।
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, গ্রন্থটি দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে:
প্রথমটি: ইলমের (জ্ঞান) মর্যাদা এবং ইলম অন্বেষণকারীদের আদব (শিষ্টাচার) সম্পর্কে।
দ্বিতীয়টি: উসূলি (মূলনীতি সংক্রান্ত) গবেষণাসমূহ।
প্রথম বিষয়টি গ্রন্থের প্রথম অর্ধাংশ জুড়ে বিস্তৃত।
গ্রন্থের অপর অর্ধাংশে আলোচিত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উসূলি বিষয়সমূহ ছিল:
* ইলমের মূলনীতি: কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস।
* ইলম হলো তা যা সাহাবীদের থেকে গ্রহণ করা হয়েছে, আর যা তাঁদের থেকে গ্রহণ করা হয়নি তা ইলম নয় — এই মর্মে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে।
* ইজতিহাদ ও কিয়াস।
* তাকলীদ ও ইত্তিবা।
* ফতোয়া।
* কুরআনের তুলনায় সুন্নাহর অবস্থান এবং তার ব্যাখ্যা প্রদান।
লক্ষণীয় যে: ইবনে আবদিল বার তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ থেকে এবং মালেকি ইমামগণের (২) বক্তব্য উদ্ধৃত করার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। তিনি উম্মতের সালাফরা যে বিষয়ের ওপর ছিলেন তা উদ্ধৃত করার ব্যাপারে যত্নশীল ছিলেন। তিনি তাঁর বর্ণিত আছার ও হাদিসসমূহের এবং অন্যান্য উদ্ধৃতির ওপর অধিকাংশ সময় মন্তব্য করেন তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে: "আবু উমর বলেছেন" অথবা "আমি বলছি" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقد نقل ابن عبد البر من كتب الشافعي في مواضع (1) ، وعن محمد بن الحسن في مواضع (2) .
وفي الجملة فإن هذا الكتاب مليء بالآثار والنقول المسندة عن عدد كبير من الصحابة رضي الله عنهم والتابعين من بعدهم، ومشتمل على أقوال ثلة من أهل العلم المتقدمين. والكتاب بحاجة إلى دراسة حديثية لآثاره وأسانيده (3) ، وتنظيم طباعي، وتحقيق علمي لمباحثه الأصولية، ومقدمة دراسية عن المؤلف وكتابه، وفهارس دقيقة متنوعة.
وقد ظهر في هذه المرحلة أيضًا كتابان:
الأول: كتاب "تقويم الأدلة" لأبي زيد الدبوسي (4) .
والثاني: كتاب "المستصفى" للإمام الغزالي (5) .
وكلا هذين الكتابين يمثل اتجاهًا مستقلاً في أصول الفقه.
فالأول يقول عنه ابن خلدون (6) : "أما طريقة الحنفية فكتبوا فيها كثيرًا،
--------------------------------------------
ইবনে আবদিল বার বেশ কিছু স্থানে (১) ইমাম শাফেয়ীর কিতাবসমূহ থেকে এবং বেশ কিছু স্থানে (২) মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।
সারকথা হলো, এই কিতাবটি বিপুল সংখ্যক সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাদের পরবর্তী তাবিঈদের থেকে বর্ণিত আসার এবং সনদযুক্ত বর্ণনা দ্বারা পরিপূর্ণ। এছাড়াও এতে পূর্ববর্তী একদল আলিমের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিতাবটির আসার এবং সনদগুলোর জন্য একটি হাদীসতাত্ত্বিক পর্যালোচনার (৩), মুদ্রণ বিন্যাসের, এর উসূলী আলোচনাগুলোর তাত্ত্বিক সম্পাদনার, লেখক ও তাঁর কিতাব সম্পর্কে একটি গবেষণামূলক ভূমিকা এবং সূক্ষ্ম ও বৈচিত্র্যময় নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্রের প্রয়োজন রয়েছে।
এই পর্যায়ে আরও দুটি কিতাব আত্মপ্রকাশ করেছে:
প্রথমটি: আবু যায়দ আদ-দাবূসীর (৪) রচিত কিতাব ‘তাকভীমূল আদিল্লাহ’।
দ্বিতীয়টি: ইমাম গাযালীর (৫) রচিত কিতাব ‘আল-মুস্তাসফা’।
এই উভয় কিতাব উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে একটি স্বতন্ত্র ধারার প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রথমটি সম্পর্কে ইবনে খালদুন (৬) বলেন: “হানাফী পদ্ধতির ক্ষেত্রে তারা এতে প্রচুর লিখেছেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وكان من أحسن كتابة فيها للمتقدمين تأليف أبي زيد الدبوسي" (1) .
وقال أيضًا: "وجاء أبو زيد الدبوسي من أئمتهم -أي الحنفية- فكتب في القياس بأوسع من جميعهم، وتمم الأبحاث والشروط التي يحتاج إليها فيه. وكملت صناعة أصول الفقه بكماله، وتهذبت مسائله وتمهدت قواعده" (2) .
وأما الثاني وهو كتاب "المستصفى" فإنه يعتبر واسطة العقد في كتب المتكلمين الأصولية، فهو جامع لما سبقه من مؤلفات أصولية، وما بعده لا يخلو من الاستفادة منه، وبه اكتملت أركان علم الأصول، وفيه نضجت مباحثه وتمت مسائله (3) .
وقد أحسن أهل السنة التعامل مع هذين الكتابين المهمين، والاستفادة مما فيهما.
أما كتاب "تقويم الأدلة" للدبوسي فقد تصدى له أبو المظفر ابن السمعاني (4) في كتابه "قواطع الأدلة" (5) .
قال أبو المظفر في مقدمة هذا الكتاب:
"وما زلت طول أيامي أطالع تصانيف الأصحاب في هذا الباب وتصانيف غيرهم، فرأيت أكثرهم قد قنع بظاهرٍ من الكلام، ورائقٍ من العبارة، ولم يداخل حقيقة الأصول على ما يوافق معاني الفقه.
--------------------------------------------
আর এ বিষয়ে পূর্ববর্তীদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম লেখনী ছিল আবু যায়িদ আদ-দাবূসীর সংকলন (১)।
তিনি আরও বলেন: "তাদের অর্থাৎ হানাফী ইমামদের মধ্যে আবু যায়িদ আদ-দাবূসীর আগমন ঘটে, ফলে তিনি কিয়াসের ক্ষেত্রে তাদের সবার চেয়ে বেশি বিস্তৃত আলোচনা করেন এবং এতে প্রয়োজনীয় সকল গবেষণা ও শর্তাবলি পূর্ণ করেন। তাঁর মাধ্যমে উসূলে ফিকহ শাস্ত্রটি পূর্ণতা লাভ করে এবং এর মাসআলাগুলো মার্জিত ও মূলনীতিসমূহ সুদৃঢ় হয়" (২)।
আর দ্বিতীয়টি অর্থাৎ 'আল-মুসতাসফা' গ্রন্থটি মুতাকাল্লিমদের রচিত উসূলের গ্রন্থাবলির মধ্যে কেন্দ্রবিন্দু বা মণিহার হিসেবে বিবেচিত। এটি তার পূর্ববর্তী সকল উসূলি সংকলনসমূহের সংগ্রাহক, আর তার পরবর্তী কোনো গ্রন্থই এর থেকে উপকৃত হওয়া থেকে মুক্ত নয়। এর মাধ্যমেই ইলমে উসূলের ভিত্তিগুলো পূর্ণতা পেয়েছে এবং এতে এর আলোচনাগুলো পরিপক্কতা লাভ করেছে ও এর মাসআলাগুলো সমাপ্ত হয়েছে (৩)।
আহলুস সুন্নাহ এই গুরুত্বপূর্ণ কিতাব দুটির সাথে চমৎকার আচরণ করেছেন এবং এতে যা আছে তা থেকে উপকৃত হয়েছেন।
দাবূসীর 'তাকভীমুল আদিল্লাহ' কিতাবটির ব্যাপারে আবু মুযাফফর ইবনুস সামআনী (৪) তাঁর 'কাওয়াতিউল আদিল্লাহ' (৫) কিতাবে পর্যালোচনা করেছেন।
আবু মুযাফফর এই কিতাবের ভূমিকায় বলেন:
"আমি আমার সারাজীবন এই বিষয়ে আমাদের সাথী ও অন্যদের রচিত গ্রন্থসমূহ পাঠ করেছি। আমি দেখেছি যে, তাদের অধিকাংশ লোক বাহ্যিক কথাবার্তা ও চমৎকার শব্দশৈলী নিয়েই সন্তুষ্ট থেকেছেন, এবং ফিকহী অর্থগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উসূলের প্রকৃত রহস্যের গভীরে প্রবেশ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ورأيت بعضهم قد أوغل وحلل وداخل، غير أنه حاد عن محجة الفقهاء في كثير من المسائل، وسلك طريق المتكلمين الذين هم أجانب عن الفقه ومعانيه، بل لا قبيل لهم فيه ولا دبير، ولا نقير ولا قطمير....
فاستخرت الله تعالى عند ذلك، وعمدت إلى مجموع مختصر في أصول الفقه؛ أسلك فيه محض طريقة الفقهاء، من غير زيغ عنه ولا حيد ولا جنف ولا ميل، ولا أرضي بظاهر من الكلام، ومتكلف من العبارة، يهول على السامعين، ويسبي قلوب الأغتام (1) الجاهلين، لكن أقصد لباب اللب، وصفو الفطنة، وزبدة الفهم، وأنص على المعتمد عليه في كل مسألة، وأذكر من شبه المخالفين بما عوّلوا عليه.
وأخص ما ذكره القاضي أبو زيد الدبوسي في "تقويم الأدلة" بالإيراد، وأتكلم عليه بما تزاح معه الشبهة، وينحل به الإشكال، بعون الله تعالى.
وأشير عند وصولي إلى المسائل المشتهرة بين الفريقين إلى بعض المسائل التي تتفرع عنها لتكون عونًا للناظر
… " (2) .
وقد استفاد أبو المظفر من أبي زيد الدبوسي ونقل عنه عددًا من المباحث، وأورد عليه ورد عليه في مباحث أخرى (3) .
وكتاب "القواطع" امتاز بتوسطه بين طريقتين: طريقة الفقهاء، وطريقة المتكلمين.
فهو لم يجرد كتابه عن الفروع الفقهية، بل أورد فيه عددًا من المسائل الفقهية، كما أنه حرر المسائل وأصل القواعد على أدلة الكتاب والسنة وما عليه سلف هذه الأمة، وقد أكثر من النقل عن الإمام الشافعي خاصة (4) ، وعن غيره من أئمة أهل السنة.
--------------------------------------------
আমি দেখেছি যে তাদের কেউ কেউ বিষয়টির গভীরে প্রবেশ করেছেন এবং এর চুলচেরা বিশ্লেষণ ও অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছেন, তবে তারা অনেক মাসআলার ক্ষেত্রে ফকিহগণের প্রশস্ত পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন এবং মুতাকাল্লিমদের (কালামশাস্ত্রবিদ) পথ অনুসরণ করেছেন যারা ফিকহ ও এর গভীর অর্থের ব্যাপারে একেবারেই অপরিচিত; বরং এই শাস্ত্রে তাদের অগ্র-পশ্চাৎ কোনো জ্ঞান নেই, আর নেই সামান্যতম কোনো অংশীদারিত্বও...
অতঃপর আমি এ ব্যাপারে মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং উসূলে ফিকহের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন রচনার সংকল্প করেছি; যাতে আমি বিশুদ্ধভাবে ফকিহগণের পদ্ধতি অনুসরণ করব—যা থেকে কোনো প্রকার বিচ্যুতি, বক্রতা, পক্ষপাত বা ঝোঁক থাকবে না। আমি বাহ্যিক বাকচাতুর্য এবং কৃত্রিম শব্দশৈলীতে সন্তুষ্ট হই না, যা শ্রোতাদের মনে ভীতির উদ্রেক করে এবং অজ্ঞ ও অস্পষ্টভাষীদের (১) অন্তরকে মোহিত করে। বরং আমি সারবস্তুর নির্যাস, প্রজ্ঞার স্বচ্ছতা এবং উপলব্ধির সারমর্ম ব্যক্ত করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। আমি প্রতিটি মাসআলায় নির্ভরযোগ্য মতটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করব এবং বিরোধীদের সংশয়গুলো তারা যে দলিলের ওপর নির্ভর করেছে তা সহ উল্লেখ করব।
বিশেষ করে কাজী আবু যায়েদ আদ-দাবূসী 'তাকভীমুল আদিল্লাহ' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন আমি তা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেব এবং সে বিষয়ে এমনভাবে আলোচনা করব যার মাধ্যমে সংশয় দূরীভূত হয় এবং জটিলতার সমাধান হয়, মহান আল্লাহর সহায়তায়।
উভয় পক্ষের মাঝে সুপরিচিত মাসআলাগুলোতে পৌঁছালে আমি এর থেকে উদ্ভূত কিছু মাসআলার দিকে ইঙ্গিত করব, যাতে তা পাঠকের জন্য সহায়ক হয়... (২)।
আবু আল-মুজাফফর আবু যায়েদ আদ-দাবূসী থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তার থেকে বেশ কিছু তাত্ত্বিক আলোচনা উদ্ধৃত করেছেন, আবার অন্য কিছু আলোচনায় তিনি তাকে উপস্থাপন করে তার প্রত্যুত্তরও দিয়েছেন (৩)।
'আল-কাওয়াতি' গ্রন্থটি দুটি পদ্ধতির মাঝামাঝি সমন্বিত অবস্থানের কারণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত: ফকিহগণের পদ্ধতি এবং মুতাকাল্লিমগণের পদ্ধতি।
তিনি তার গ্রন্থটিকে ফিকহি শাখা-প্রশাখা থেকে মুক্ত রাখেননি, বরং এতে বেশ কিছু ফিকহি মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তেমনি তিনি মাসআলাগুলো পরিমার্জিত করেছেন এবং কিতাব, সুন্নাহ ও এই উম্মতের সালাফগণের অনুসৃত পথের দলিলাদির ভিত্তিতে মূলনীতিসমূহ প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিশেষ করে তিনি ইমাম শাফিঈ (৪) এবং আহলুস সুন্নাহর অন্যান্য ইমামদের থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাআলিমু উসুলিল ফিকহি ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وقال ابن السبكي (1) عن هذا الكتاب:
"ولا أعرف في أصول الفقه أحسن من كتاب "القواطع" ولا أجمع، كما لا أعرف فيه أجل ولا أفحل من برهان إمام الحرمين (2) . فبينهما في الحسن عموم وخصوص" (3) .
أما كتاب "المستصفى" للغزالي فقد قام باختصاره وتهذيبه الإمام الموفق ابن قدامة وذلك في كتاب "روضة الناظر وجنة المناظر"، وسيأتي الكلام على ذلك لاحقًا (4) .
وخلاصة القول:
أن هذه المرحلة اتسمت بغزارة المادة الأصولية المبنية على الأحاديث النبوية والآثار المروية عن الصحابة والتابعين، وذلك يمثله بوضوح كتاب ابن عبد البر وكتاب الخطيب البغدادي، كما أن هذه المرحلة تميزت بالاتجاه الحديثي المتمثل بذكر المرويات بأسانيدها، ولم يكن هذا الاتجاه قاصرًا على الرواية والتحديث بل انضم إلى ذلك الاستنباط والفهم، وإثبات القياس والاجتهاد، والدعوة إلى إعمال الرأي في حدود الشرع، والتحذير من التسرع في الفتيا وإصدار الأحكام، والتنبيه على فضل العلم وأدب أهله.
وكانت هذه المرحلة امتدادًا للمرحلة السابقة التي تمثلت في كتاب "الرسالة" للشافعي، فقد استفاد ابن عبد البر، والخطيب والبغدادي وابن السمعاني، استفادة مباشرة واضحة من آثار الشافعي. أما كتاب "الروضة" لابن قدامة فإنه يمثل نقلة
--------------------------------------------
ইবনে আল-সুবকী (১) এই কিতাব সম্পর্কে বলেছেন:
"আমি উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে 'আল-কাওয়াতি' কিতাবের চেয়ে উত্তম এবং অধিক তথ্যসমৃদ্ধ কোনো কিতাব জানি না, যেমন আমি এতে ইমামুল হারামাইনের (২) 'আল-বুরহান' কিতাবের চেয়ে মহান ও প্রভাবশালী কোনো কিতাব সম্পর্কে জানি না। এই দুইটির শ্রেষ্ঠত্বের মধ্যে সাধারণ ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক বিদ্যমান।" (৩)।
আর গাজালীর 'আল-মুস্তাসফা' কিতাবটির কথা বলতে গেলে, ইমাম আল-মুওয়াফফাক ইবনে কুদামা এটি সংক্ষেপ ও পরিমার্জন করেছেন, যা 'রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির' কিতাবে প্রতিফলিত হয়েছে এবং এ সম্পর্কে সামনে আলোচনা আসবে (৪)।
সারকথা হলো:
এই পর্যায়টি নবীজীর হাদিস এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের থেকে বর্ণিত আছারের ওপর ভিত্তি করে উসুলুল ফিকহের উপকরণের প্রাচুর্যের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে, যা ইবনে আব্দুল বার ও খতীব আল-বাগদাদীর কিতাবসমূহে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এছাড়াও এই পর্যায়টি সনদসহ বর্ণনা উল্লেখ করার হাদিস-ভিত্তিক ধারা দ্বারা স্বতন্ত্র ছিল। এই ধারাটি কেবল বর্ণনা ও হাদিস বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এর সাথে মাসআলা উদ্ভাবন ও অনুধাবন, কিয়াস ও ইজতিহাদ প্রতিষ্ঠা, শরীয়তের সীমানার মধ্যে নিজস্ব মত প্রকাশের আহ্বান এবং ফতোয়া প্রদান ও হুকুম জারির ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করার বিষয়ে সতর্কতা প্রদান, এবং ইলমের ফজিলত ও ইলম অন্বেষণকারীদের আদব সম্পর্কে সচেতন করার বিষয়টিও যুক্ত ছিল।
এই পর্যায়টি ছিল পূর্ববর্তী পর্যায়েরই একটি ধারাবাহিকতা, যা শাফেয়ীর 'আর-রিসালাহ' কিতাবের মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল। ইবনে আব্দুল বার, খতীব আল-বাগদাদী এবং ইবনে আল-সামআনী সরাসরি এবং স্পষ্টভাবে শাফেয়ীর রচনার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। আর ইবনে কুদামার 'আর-রওদা' কিতাবটি একটি পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে...
--------------------------------------------