(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: -)
حاشية مقدمة التفسير لابن قاسم   (عبد الرحمن بن قاسم)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: حاشية مقدمة التفسير (المقدمة والحاشية كلاهما للشيخ ابن قاسم رحمه الله)

المؤلف: عبد الرحمن بن محمد بن قاسم العاصمي القحطاني الحنبلي النجدي (ت 1392هـ)

الناشر: بدون ناشر

الطبعة: الثانية، 1410 هـ - 1990 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 162

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে কাসিম রচিত মুকাদ্দিমাতুত তাফসিরের হাশিয়া   (আব্দুর রহমান ইবনে কাসিম)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)


কিতাব: হাশিয়াতু মুকাদ্দিমাতিত তাফসির (মুকাদ্দিমা এবং হাশিয়া উভয়ই শাইখ ইবনে কাসিম রাহিমাহুল্লাহর)

লেখক: আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আল-আসিমী আল-কাহতানী আল-হানবালী আন-নাজদী (ওফাত: ১৩৯২ হিজরি)

প্রকাশক: কোনো প্রকাশক নেই

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১০ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬২

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ৩)
بقلم

الفقير إلى الله تعالى

عبد الرحمن بن محمد بن قاسم

الحنبلي النجدي

رحمه الله تعالى

(1312-1392 هـ)
রচনায়

মহান আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী

আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন কাসিম

আল-হাম্বলী আন-নাজদী

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন

(১৩১২-১৩৯২ হিজরি)
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وسبحان الله رب العرش عما يصفون، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله الصادق المأمون، صَلَّى اللهُ عَليهِ وَعَلى آلِهِ وأَصحابِهِ والتَّابعينَ الذين هم بهديه متمسكون وسلم تسليمًا كثيرًا.

أما بعد: فحيث إن كتاب الله وبيانه أهم ما يهتم به، فهذه حاشية على المقدمة في تفسيره، توضح المقاصد، وتعين مريد معرفة معانيه، كأصل يتوصل بها إلى المراد منه، على ما كان عليه السلف الصالح، الله ولي التوفيق.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত এবং সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; আরশের রব আল্লাহ পবিত্র, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি উর্ধ্বে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা এবং সত্যবাদী (الصادق) ও বিশ্বস্ত (المأمون) রাসূল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং ঐ সমস্ত অনুসারীদের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক যারা তাঁর হিদায়াতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছেন।

অতঃপর: যেহেতু আল্লাহর কিতাব ও তার বর্ণনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তাই এটি তাঁর তাফসীর বিষয়ক মুকাদ্দিমা (المقدمة)-এর ওপর একটি টীকা (حاشية), যা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহকে স্পষ্ট করে এবং এর অর্থসমূহ জানতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে সাহায্য করে; একটি মূলনীতি (أصل) হিসেবে যার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত অর্থে পৌঁছানো যায়, সেই আদর্শ অনুযায়ী যার ওপর সালাফে সালেহীন (পুণ্যবান পূর্বসূরিগণ) ছিলেন। আল্লাহই তাওফিক দানকারী।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم (1)

 

الحمدُ للهِ الذي أنزَلَ الكتابَ تِبياناً لِكُلِّ شيء وهدى للمتقين (2) .

--------------------------------------------

(1) ابتدأ بالبسملة: اقتداء بالكتاب العزيز، وتأسيا بالنبي صلى الله عليه وسلم في مكاتباته، وعملا بحديث: «كل أمر ذي بال، لا يبدأ فيه ببسم الله الرحمن الرحيم، فهو أقطع» ، أي ناقص البركة والاسم مشتق من السمو، والله أعرف المعارف الجامع لمعاني الأسماء الحسنى والصفات العليا، وهو مشتق أي: دال على صفة له تعالى، وهي الإلهية ومعناه: ذو الألوهية والعبودية على خلقه أجمعين، والرحمن: رحمة عامة لجميع المخلوقات والرحيم: رحمة خاصة بالمؤمنين، اسمان مشتقان من الرحمة على وجه المبالغة.

(2) الحمد ثناء، والألف واللام لاستغراق جميع المحامد؛ وقال الشيخ: الحمد، ذكر محاسن المحمود، مع حبه وإجلاله وتعظيمه وثنى بالحمد له بعد البسملة اقتداء بالقرآن العظيم وبالنبي الكريم، وعملا بحديث: «كل أمر ذي بال، لا يبدأ فيه بالحمد لله فهو أجذم» .

وإنزال القرآن على محمد صلى الله عليه وسلم لا يمتري فيه مسلم قال تعالى: {تَنْزِيلُ الْكِتَابِ لا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ} {نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأَمِينُ * عَلَى قَلْبِكَ} إلى غير ذلك من الآيات، وتواترت به السنة وأجمع عليه المسلمون، وسماه تعالى كتابا: لجمعه العلوم، والقصص، والأخبار على أبلغ وجه.

… وجعله تبيانا لكل شيء، بين فيه علم كل شيء، من خبر ما سبق، وعلم ما سيأتي، وكل حلال وحرام، وما الناس إليه محتاجون في أمر دينهم ودنياهم، ومعاشهم ومعادهم؛ قال تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} فقد اشتمل على ما يجري في العالم، وقال صلى الله عليه وسلم: «كتاب الله فيه نبأ ما قبلكم، وخبر ما بعدكم، وحكم ما بينكم» ، وقد أفرد الناس كتبا فيما تضمنه، من جميع فنون العلوم؛ فلا إله إلا الله، ماذا حرمه المعرضون عنه من العلم والهدى؟!

… وجعله تعالى هدى للمتقين قال تعالى: {ذَلِكَ الْكِتَابُ لا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ} ويطلق الهدى، ويراد به: ما يقر في القلوب من الإيمان، ويراد به بيان الحق، وتوضيحه، والدلالة عليه والإرشاد إليه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (১)

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন সবকিছুর বিশদ বর্ণনাস্বরূপ এবং মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত হিসেবে (২)।

--------------------------------------------

(1) বাসমালার মাধ্যমে শুরু করা হয়েছে: মহাগ্রন্থের (কুরআন) অনুসরণ করে, পত্র আদান-প্রদানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবং এই হাদিসের ওপর আমল করে: «প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) দ্বারা শুরু করা হয় না, তা কর্তিত», অর্থাৎ বরকতহীন। আর 'ইসম' (নাম) শব্দটি 'সুমুউ' (উচ্চতা) থেকে উদ্ভূত। 'আল্লাহ' হলো সমস্ত পরিচিতি বা সংজ্ঞার মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত সত্তা, যা সমস্ত সুন্দর নাম ও উচ্চতর গুণাবলির অর্থকে ধারণ করে। এটি একটি ব্যুৎপন্ন শব্দ, অর্থাৎ যা মহান আল্লাহর একটি গুণের ওপর প্রমাণবহ, আর তা হলো 'উলুহিয়াত' (উপাস্য হওয়া); এর অর্থ হলো: সমস্ত সৃষ্টির ওপর উলুহিয়াত ও ইবাদতের অধিকারী। 'আর-রাহমান': সকল সৃষ্টির জন্য সাধারণ রহমত এবং 'আর-রাহিম': মুমিনদের জন্য বিশেষ রহমত; এ দুটি নামই 'রহমত' থেকে অতিশয়োক্তি অর্থে ব্যুৎপন্ন।

(2) 'হামদ' হলো প্রশংসা, আর 'আলিফ' ও 'লাম' (ال) সমস্ত প্রশংসাকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। শায়খ বলেছেন: 'হামদ' হলো প্রশংসিতের গুণাবলি বর্ণনা করা, সাথে ভালোবাসা, মহিমা ও সম্মান প্রদর্শন করা। বাসমালার পর দ্বিতীয়ত তিনি আল্লাহর প্রশংসা করেছেন মহান কুরআন ও সম্মানিত নবীর অনুসরণ করে এবং এই হাদিসের ওপর আমল করে: «প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা (আল-হামদুলিল্লাহ) দ্বারা শুরু করা হয় না, তা ছিন্ন বা অসম্পূর্ণ।»

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার ব্যাপারে কোনো মুসলিম সন্দেহ পোষণ করে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {এই কিতাব অবতীর্ণকরণে কোনো সন্দেহ নেই, যা বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে} {নির্ভরযোগ্য রূহ এটি নিয়ে আপনার অন্তরে অবতরণ করেছেন}—এসব আয়াত ছাড়াও আরও অনেক আয়াত রয়েছে। আর সুন্নাহ দ্বারা এটি অকাট্যভাবে (متواتر) প্রমাণিত এবং মুসলিমগণ এর ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা একে 'কিতাব' নামকরণ করেছেন: কারণ এটি অত্যন্ত অলঙ্কারপূর্ণভাবে বিভিন্ন জ্ঞান, কাহিনী ও সংবাদকে একত্রিত করেছে।

… এবং তিনি একে সবকিছুর বিশদ বর্ণনাস্বরূপ করেছেন, এতে সবকিছুর জ্ঞান বর্ণনা করা হয়েছে—অতীতের সংবাদ, ভবিষ্যতের জ্ঞান, সকল হালাল ও হারাম এবং মানুষের দ্বীন ও দুনিয়া, জীবন ও আখেরাতের বিষয়ে যা কিছু প্রয়োজন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা}। সুতরাং এটি পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তার সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহর কিতাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিষয়ের মীমাংসা রয়েছে।» মানুষ এতে বিদ্যমান জ্ঞানের প্রতিটি শাখা নিয়ে স্বতন্ত্র কিতাবসমূহ রচনা করেছেন। সুতরাং আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যারা তা থেকে বিমুখ হয় তারা জ্ঞান ও হিদায়াতের কত কিছুই না হারালো!

… এবং মহান আল্লাহ একে মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত}। 'হিদায়াত' শব্দটি প্রয়োগ করা হয় এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য নেওয়া হয়: অন্তরে প্রোথিত ঈমান; আবার কখনো এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয়: সত্যের বর্ণনা, স্পষ্টিকরণ এবং সত্যের দিকে পথনির্দেশ ও দিশা প্রদান।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ৮)
وأشهد أن لا إله إلا الله الملك الحق المبين (1) .

--------------------------------------------

(1) أشهد، أي: أقطع وأجزم أن لا معبود حق، إلا الله وحده لا شريك له، ووحده: حال من الاسم الشريف تأكيد للإثبات ولا شريك له: تأكيد للنفي، تأكيد بعد تأكيد اهتماما بمقام التوحيد.

الملك: حقيقة، كما قال تعالى: {هُوَ اللهُ الَّذِي لا إِلَهَ إِلا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ} ، وقال صلى الله عليه وسلم: «لا مالك إلا الله» الحق، قال تعالى: {فَذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمُ الْحَقُّ} فهو سبحانه الحق المبين، وقوله الحق وكتابه الحق، له الملك لا إله إلا هو، العزيز الحكيم.
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি রাজাধিরাজ (الملك), পরম সত্য (الحق) এবং সুপ্রকাশিত (المبين) (১) ।

--------------------------------------------

(১) আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, অর্থাৎ: আমি সুদৃঢ়ভাবে ও অটল বিশ্বাসের সাথে ঘোষণা করছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। "একক" (وحده) শব্দটি এখানে ইসম-ই শরিফের 'হাল' (حال) বা অবস্থা হিসেবে ইতিবাচকতাকে সুসংহত (تأكيد) করার জন্য এসেছে; আর "তাঁর কোনো শরিক নেই" (لا شريك له) বাক্যটি নেতিবাচকতার বিষয়টিকে সুসংহত (تأكيد) করার জন্য এসেছে। তাওহিদ (التوحيد)-এর মর্যাদার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করার লক্ষ্যেই এখানে একের পর এক তাকিদ বা নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।

রাজাধিরাজ (الملك): এটি একটি বাস্তব সত্য, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনিই রাজাধিরাজ (الملك), অতি পবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তাদানকারী, রক্ষণাবেক্ষণকারী, পরাক্রমশালী, প্রতাপান্বিত, মহিমান্বিত}। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ ছাড়া কোনো মালিক নেই»। পরম সত্য (الحق): মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব তিনিই আল্লাহ, তোমাদের সত্য (الحق) প্রতিপালক}। সুতরাং তিনি সুপবিত্র, পরম সত্য (الحق) ও সুপ্রকাশিত (المبين); তাঁর কথা সত্য এবং তাঁর কিতাব সত্য; সার্বভৌমত্ব কেবল তাঁরই, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ৯)
وأَشهدُ أنَّ محمداً عَبدُهُ ورَسولُهُ الصَّادقُ الأَمينُ (1) صَلَّى اللهُ عَليهِ وَعَلى آلِهِ وأَصحابِهِ والتَّابعينَ (2) وسلم تسليمًا كثيرًا (3) .

--------------------------------------------

(1) أي: وأجزم أن محمدا، وهو أشرف أسمائه صلى الله عليه وسلم اسم مفعول من حمد فهو محمد إذ كان كثير الخصال التي يحمد عليها فهو الذي يحمد أكثر مما يحمد غيره من البشر؛ عبده: أشرف اسم له أيضا فإنه لا أشرف ولا أتم للمؤمن، من وصفه بالعبودية لله تعالى ورسوله، أي: مرسله وسفيره بأداء شريعته الصادق فيما يبلغه عن الله تعالى، قال تعالى: {وَالَّذِي جَاءَ بِالصِّدْقِ} الأمين، وعلى وحيه، وكان صلى الله عليه وسلم يسمى الأمين قبل بعثته، وأيده الله بالآيات، والدلالات الواضحات القاطعات بصدقه.

(2) الصلاة من الله عليه صلى الله عليه وسلم هو الثناء والعناية به، وإظهار شرفه وفضله وعلى آله أهل بيته، وقيل أتباعه، وأصحابه: جمع صاحب، وهم: من اجتمع بالنبي صلى الله عليه وسلم مؤمنا ومات على ذلك والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.

(3) سلم: من السلامة بمعنى التحية، أو الأمان أو السلامة من النقائص، طلب السلامة له من الله، أو اسم الله عليه، إذ كان اسم الله يذكر على الأعمال، توقعا لاجتماع معاني الخيرات فيه، وتسليما مصدر مؤكد، كثيرا: دائما أبدا، والصلاة والسلام عليه صلى الله عليه وسلم مستحبة كل وقت، وتتأكد عند ذكر اسمه صلى الله عليه وسلم وآله وأصحابه والتابعون لهم، تبع في ذلك.
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, যিনি সত্যবাদী (الصادق) ও বিশ্বস্ত (الأمين) (১)। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ ও তাবেয়ীগণের ওপর (২), আর বর্ষিত হোক অবারিত শান্তি (৩)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: আমি দৃঢ়তার সাথে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)—যা তাঁর নামসমূহের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত—এটি ‘হামদ’ (প্রশংসা) ধাতু থেকে উদ্ভূত কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول); সুতরাং তিনি হলেন ‘মুহাম্মদ’, যেহেতু তাঁর মধ্যে প্রশংসনীয় গুণাবলি প্রচুর, তাই অন্য যেকোনো মানুষের তুলনায় তাঁর অধিক প্রশংসা করা হয়। ‘আবদুহু’ (তাঁর বান্দা): এটিও তাঁর জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম, কেননা একজন মুমিনের জন্য মহান আল্লাহর দাসত্বে গুণান্বিত হওয়ার চেয়ে অধিক সম্মানজনক ও পূর্ণাঙ্গ আর কিছু নেই। তাঁর ‘রাসুল’ (প্রেরিত পুরুষ), অর্থাৎ তাঁর শরিয়ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি আল্লাহর প্রেরিত দূত ও প্রতিনিধি, যিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু পৌঁছে দেন তাতে সত্যবাদী (الصادق); মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যিনি সত্য নিয়ে এসেছেন}। তিনি ওহির আমানত রক্ষায় বিশ্বস্ত (الأمين); নব্যুওয়াত লাভের পূর্বেই তিনি ‘আল-আমিন’ নামে ভূষিত ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে বিভিন্ন নিদর্শন এবং তাঁর সত্যতার সপক্ষে সুস্পষ্ট ও অকাট্য প্রমাণাদি দ্বারা শক্তিশালী করেছেন।

(২) আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর ‘সালাত’ বা রহমত বর্ষিত হওয়ার অর্থ হলো তাঁর প্রশংসা করা, তাঁর প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করা এবং তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা। তাঁর ‘আল’ বলতে তাঁর পরিবার-পরিজনকে বোঝায়, আবার কেউ কেউ বলেছেন তাঁর অনুসারীবৃন্দ। ‘আসহাবিহি’ (সাহাবীগণ) শব্দটি ‘সাহিব’ শব্দের বহুবচন, আর তাঁরা হলেন: যারা ঈমান অবস্থায় নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সান্নিধ্য লাভ করেছেন এবং সেই ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন। আর কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন (তাবেয়ীগণ)।

(৩) ‘সাল্লামা’ (শান্তি বর্ষিত হোক) শব্দটি ‘সালামাহ’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ অভিবাদন, নিরাপত্তা অথবা সকল ত্রুটি থেকে মুক্তি; এটি আল্লাহর নিকট তাঁর জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করা, অথবা তাঁর ওপর আল্লাহর নামের বরকত কামনা করা; যেহেতু বরকতের আশায় বিভিন্ন কাজে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয়। ‘তাসলিমান’ শব্দটি এখানে দৃঢ়তাসূচক ক্রিয়ামূল (مصدر مؤكد)। ‘কাথিরান’ অর্থ সর্বদা ও চিরকাল। তাঁর ওপর ‘সালাত’ ও ‘সালাম’ পাঠ করা সব সময় মুস্তাহাব (مستحب), আর তাঁর নাম এবং তাঁর পরিবার, সাহাবী ও তাবেয়ীগণের নাম উল্লেখ করার সময় এটি পাঠ করা আরও জোরালোভাবে বিধেয়; এ ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের রীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ১০)
أَمَّا بَعدُ: فَهذهِ مُقدِّمَةٌ في التَّفسيرِ (1) تُعينُ على فهم القرآن العظيم (2)

--------------------------------------------

(1) أما بعد: كلمة يؤتى بها للانتقال من أسلوب إلى غيره، ويستحب الإتيان بها في الخطب، والمكاتبات، اقتداء به صلى الله عليه وسلم وهي مبنية على الضم، لقطعها عن الإضافة مع نية المضاف إليه، أي: بعد ذكر الله والثناء عليه، والشهادتين، والصلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم وآله وأصحابه وأتباعه، فهذه إشارة إلى ما تصور في الذهن، وأقيم مقام المكتوب الموجود مقدمة: وهي من الكتاب فصل، يعقد في أوله، ومن كل شيء أوله، أو ما يتوقف عليه الشيء توقفا عقليا، أو عاديا أو جعليا وهذه نبذة مختصرة في أول التفسير الذي هو الكشف والإيضاح والتبيين والتأويل للقرآن العظيم.

(2) تعين: أي تساعد على فهم، أي تصور وإدراك معاني القرآن: اسم علم لكتاب الله، قيل سمي به الكتاب المقروء، وقيل لجمعه ثمرات الكتب السابقة، أو لجمعه أنواع العلوم، أو السور ووصف بالعظيم، والذكر الحكيم والصراط المستقيم وغير ذلك مما يدل على شرفه، ولا ريب: أن كل كلام، المقصود

منه فهم معانيه، لا مجرد ألفاظه، والقرآن أولى بذلك، وقد ندب تعالى إلى ذلك فقال: {لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ} {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ} وتدبره بدون فهم معانيه محال، والعادة تمنع أن يقرأ قوم كتابا في فن من العلم ولا يستشرحونه، فكيف بكلام الله الذي هو عصمتهم وبه نجاتهم وسعادتهم وقيام دينهم ودنياهم؟
অতঃপর (أما بعد): এটি তাফসির (تفسير) বিষয়ে একটি ভূমিকা (مقدمة) (১) যা মহান কুরআন অনুধাবনে সহায়তা করে (২)

--------------------------------------------

(১) অতঃপর (أما بعد): এটি একটি শব্দ যা এক শৈলী থেকে অন্য শৈলীতে পরিবর্তনের জন্য ব্যবহৃত হয়। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণে খুতবা ও চিঠিপত্রে এটি ব্যবহার করা মুস্তাহাব (مستحب)। এটি 'যম্ম' বা পেশের ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبنية على الضم), কারণ এর পরবর্তী সম্বন্ধপদ বা ইদাফাতকে (إضافة) উহ্য রাখা হয়েছে, যদিও অর্থগতভাবে তা উদ্দেশ্য। অর্থাৎ: আল্লাহর জিকির, তাঁর প্রশংসা, শাহাদাতদ্বয় এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবার, সাহাবিগণ ও অনুসারীদের ওপর দরুদ পাঠের পর। 'এটি' (فهذه) দ্বারা অন্তরে যা পরিকল্পিত হয়েছে সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা বিদ্যমান লিখিত বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত। ভূমিকা (مقدمة): এটি গ্রন্থের শুরুতে স্থাপিত একটি পরিচ্ছেদ, যেকোনো বিষয়ের শুরুকেই এটি বলা হয়, অথবা এটি এমন বিষয় যার ওপর কোনো কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক, স্বাভাবিক বা বিধিবদ্ধভাবে নির্ভর করে। আর এটি হলো মহান কুরআনের তাফসিরের (تفسير) শুরুতে একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ; আর তাফসির হলো মহান কুরআনের রহস্য উন্মোচন, স্পষ্টীকরণ, বিশদ বর্ণনা এবং ব্যাখ্যা (تأويل) প্রদান করা।

(২) সহায়তা করে (تعين): অর্থাৎ বুঝতে তথা কুরআনের অর্থসমূহ কল্পনা ও অনুধাবনে সাহায্য করে। কুরআন: এটি আল্লাহর কিতাবের একটি সুনির্দিষ্ট নাম; বলা হয়েছে, এটি পঠিত কিতাব হওয়ার কারণে এই নামকরণ করা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের নির্যাস ধারণ করার কারণে, অথবা বিভিন্ন প্রকারের জ্ঞান বা সুরাসমূহকে একত্রিত করার কারণে একে কুরআন বলা হয়। একে মহান (عظيم), প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ (الذكر الحكيم), সরল পথ (الصراط المستقيم) এবং আরও এমন সব গুণে বিশেষিত করা হয়েছে যা এর উচ্চ মর্যাদাকে প্রমাণ করে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রতিটি বাণীর মূল লক্ষ্য হলো তার অর্থ অনুধাবন করা, কেবল শব্দাবলি পাঠ করা নয়। আর কুরআন এই ক্ষেত্রে অধিকতর হকের দাবিদার। আল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে উৎসাহিত করে বলেছেন: {যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গবেষণা (تدبر) করে} এবং {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা (تدبر) করে না?}। আর অর্থ অনুধাবন করা ছাড়া গবেষণা (تدبر) করা অসম্ভব। সাধারণ নিয়মানুযায়ী এটি অসম্ভব যে, কোনো সম্প্রদায় জ্ঞানের কোনো বিষয়ের ওপর একটি বই পড়বে অথচ তার ব্যাখ্যা চাইবে না। তাহলে আল্লাহর কালামের ক্ষেত্রে কী ধারণা হতে পারে যা তাদের জন্য রক্ষাকবচ এবং যার মাধ্যমেই তাদের মুক্তি, সৌভাগ্য এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়?
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ১১)
الجديرِ بأنْ تُصرَفَ لَهُ الهِمَمَ ففيهِ الهُدى والنُّورُ (1) ومَن أَخَذَ بِهِ هُدِيَ إِلى صِراطٍ مستقيم (2) .

--------------------------------------------

(1) أي: فالقرآن العظيم، هو الجدير أي: الخليق بأن تصرف له الهمم جمع همة، يقال: هممت بالشيء إذا أردته بل وتثنى عليه الخناصر، ويستمسك به ويعتصم به ففيه الهدى والنور والشفاء لما في الصدور، قال تعالى: {قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ} وقال: {هُدًى لِلْمُتَّقِينَ} .

{وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ} {نُورًا نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشاءُ مِنْ عِبَادِنَا} وتكفل الله لمن اتبعه أن لا يضل في الدنيا ولا يشقى في الآخرة.

(2) أي: ومن أخذ بكتاب الله، واعتصم به ودعا إليه، هدي إلى صراط مستقيم قال تعالى: {فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلا يَضِلُّ وَلا يَشْقَى} وفي صحيح مسلم: «إني تارك فيكم ثقلين، أولهما كتاب الله، فيه الهدى والنور، من استمسك به، وأخذ به كان على الهدى، ومن أخطأه ضل، فخذوا بكتاب الله، واستمسكوا به» .

… وللترمذي وغيره: «ستكون فتن» ، قيل: فما المخرج منها؟ قال: «كتاب الله فيه نبأ ما قبلكم، وخبر ما بعدكم، وحكم ما بينكم، هو الفصل ليس بالهزل، من تركه من جبار قصمه الله، ومن ابتغى الهدى من غيره أضله الله، وهو حبل الله المتين والذكر الحكيم، وهو الصراط المستقيم، وهو الذي لا تزيغ به الأهواء، ولا تلتبس به الألسنة، ولا يشبع منه العلماء، ولا يخلق على كثرة الرد، ولا تنقضي عجائبه، من قال به صدق، ومن عمل به أجر، ومن حكم به عدل، ومن دعا إليه هدي إلى صراط مستقيم» .
এটিই সেই বিষয় যার প্রতি একাগ্রতা নিবদ্ধ করা সমীচীন; কারণ এতেই রয়েছে হিদায়াত ও আলো (১) এবং যে ব্যক্তি একে অবলম্বন করবে সে সরল পথের দিশা পাবে (২)।

--------------------------------------------

(1) অর্থাৎ: মহান কুরআনই হলো সেই যোগ্য বা উপযুক্ত বিষয় যার প্রতি সকল একাগ্রতা (হিম্মাহ-এর বহুবচন) নিবদ্ধ করা বাঞ্ছনীয়। বলা হয়: 'আমি কোনো বিষয়ে হিম্মত করেছি' অর্থাৎ আমি তা সংকল্প করেছি। বরং এটিই সেই বিষয় যার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করা হয় এবং একেই শ্রেষ্ঠত্বের আসনে স্থান দেওয়া হয়, একে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরা হয় এবং এর মাধ্যমেই সুরক্ষা অন্বেষণ করা হয়। কেননা এতেই রয়েছে হিদায়াত, নূর এবং অন্তরের ব্যাধির আরোগ্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এবং অন্তরের ব্যাধির আরোগ্য, আর মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত এসেছে}। তিনি আরও বলেছেন: {মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত}।

{এবং নিশ্চিত বিশ্বাসী কওমের জন্য হিদায়াত ও রহমত} {এমন এক নূর যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি}। আর আল্লাহ তাআলা এই কিতাবের অনুসারীদের জন্য এই মর্মে জামানত দিয়েছেন যে, তারা দুনিয়াতে পথভ্রষ্ট হবে না এবং আখিরাতে হতভাগ্য হবে না।

(2) অর্থাৎ: যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব গ্রহণ করল, একে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরল এবং এর দিকে দাওয়াত দিল, সে সরল পথের দিশা পেল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর যে আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হবে না}। আর সহীহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে: «আমি তোমাদের মাঝে দুটি ভারী বস্তু রেখে যাচ্ছি, যার প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব। এতে রয়েছে হিদায়াত ও আলো। যে একে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং গ্রহণ করবে সে হিদায়াতের ওপর থাকবে, আর যে একে বর্জন করবে সে পথভ্রষ্ট হবে। অতএব তোমরা আল্লাহর কিতাবকে গ্রহণ করো এবং একে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো»।

… তিরমিযী এবং অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: «শীঘ্রই ফিতনা দেখা দেবে», জিজ্ঞেস করা হলো: তা থেকে উত্তরণের পথ কী? তিনি বললেন: «আল্লাহর কিতাব। এতে রয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিবাদের মীমাংসা। এটি অকাট্য ফয়সালা, কোনো নিরর্থক কৌতুক নয়। কোনো স্বৈরাচারী একে বর্জন করলে আল্লাহ তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন। যে ব্যক্তি একে ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত খুঁজবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এটি আল্লাহর মজবুত রশি এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ। এটিই সরল পথ। এটি এমন এক কিতাব যার প্রভাবে কুপ্রবৃত্তি বিভ্রান্ত হয় না, বিভিন্ন ভাষা একে অস্পষ্ট করতে পারে না, উলামায়ে কেরাম এর জ্ঞান আহরণে তৃপ্ত হন না, বারবার পাঠের ফলে এটি পুরনো হয় না এবং এর বিস্ময়কর দিকগুলো শেষ হয় না। যে ব্যক্তি এর ভিত্তিতে কথা বলে সে সত্য বলে, যে এর ওপর আমল করে সে প্রতিদানপ্রাপ্ত হয়, যে এর মাধ্যমে বিচার করে সে ইনসাফ করে এবং যে এর দিকে আহ্বান করে সে সরল পথের দিশা পায়»।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৩)
تنزيل القرآن (1)

 

أَجمَعوا: على أنَّ القُرآنَ كلامُ اللهِ حَقيقَةً منزل غير مخلوق (2) .

--------------------------------------------

(1) أي بيان أن القرآن كلام الله، نزل من الله سمعه منه جبريل وسمعه محمد من جبريل عليهما الصلاة والسلام.

(2) أي: أجمع أهل العلم من الصحابة والتابعين، وتابعيهم على أن القرآن كلام الله حقيقة قال تعالى: {فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلامَ اللهِ} وغير ذلك وقال شيخ الإسلام وغيره: أجمعوا على أن القرآن كلام الله منزل من الله، كما قال تعالى: {وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ إِلَيْكُمُ الْكِتَابَ مُفَصَّلاً وَالَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْلَمُونَ أَنَّهُ مُنَزَّلٌ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ} فأخبر أنهم يعلمون ذلك، والعلم لا يكون إلا حقا، فمن لم يقر بذلك من هذه الأمة، كان أهل الكتاب المقرون بذلك خيرا منه من هذا الوجه.

… وقال تعالى: {تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ} {تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللهِ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ} {تَنْزِيلٌ مِنَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} ولم يخبر عن شيء، أنه منزل من الله، إلا كلامه جل وعلا، وهو غير مخلوق بإجماع المسلمين ومن قال كلام الله مخلوق، فهو ⦗ص: 14⦘ كافر، قال: واشتهر عن السلف تكفير من قال القرآن مخلوق، وأنه يستتاب فإن تاب وإلا قتل.
কুরআন অবতীর্ণ হওয়া (১)

 

তাঁরা সকলে ঐক্যমত (أجمعوا) পোষণ করেছেন: যে কুরআন প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর বাণী (كلام الله), এটি অবতীর্ণ (منزل), অসৃষ্ট (غير مخلوق) (২)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ এই বিষয়ের বর্ণনা যে, কুরআন আল্লাহর বাণী; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, জিবরাঈল (আ.) তা তাঁর নিকট থেকে শুনেছেন এবং মুহাম্মাদ (সা.) জিবরাঈল (আ.)-এর নিকট থেকে তা শুনেছেন, তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

(২) অর্থাৎ: সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তী অনুসারী বিজ্ঞ আলেমগণ এই বিষয়ে ঐক্যমত (أجمعوا) হয়েছেন যে, কুরআন প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর বাণী (كلام الله)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাকে আশ্রয় দান করো যাতে সে আল্লাহর বাণী শুনতে পায়} এবং আরও অনেক আয়াত। শায়খুল ইসলাম ও অন্যান্যগণ বলেছেন: তাঁরা এই মর্মে ঐক্যমত (أجمعوا) হয়েছেন যে, কুরআন আল্লাহর বাণী যা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (منزل), যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিতভাবে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। আর আমি যাদেরকে কিতাব দান করেছি, তারা জানে যে এটি তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ (منزل)}। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে তারা তা জানে, আর প্রকৃত জ্ঞান কেবল সত্য বিষয়েরই হয়ে থাকে। সুতরাং এই উম্মতের যে ব্যক্তি এটি স্বীকার করবে না, আহলে কিতাব যারা এটি স্বীকার করে তারা এই দিক থেকে তার চেয়ে উত্তম হবে।

… আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এই কিতাব মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (تنزيل)} {এই কিতাব মহা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (تنزيل)} {এটি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (تنزيل)}। মহান আল্লাহ তাঁর বাণী ব্যতীত অন্য কোনো কিছু সম্পর্কে সংবাদ দেননি যে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (منزل), আর মুসলমানদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) অনুযায়ী এটি অসৃষ্ট (غير مخلوق)। আর যে ব্যক্তি বলবে যে আল্লাহর বাণী সৃষ্ট (مخلوق), সে ⦗পৃষ্ঠা: ১৪⦘ কাফির (كافر)। তিনি বলেন: সালাফদের থেকে এটি প্রসিদ্ধ যে, যে ব্যক্তি কুরআন সৃষ্ট (مخلوق) হওয়ার দাবি করে তারা তাকে কাফির (كافر) সাব্যস্ত করেছেন এবং তাকে তওবা করতে বলা হবে; যদি সে তওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হবে।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৪)
سَمِعَهُ جِبريلٌ مِن اللهِ (1) وَسَمِعَهُ مُحمَّدٌ مِن جبريل (2) .

--------------------------------------------

(1) جل وعلا، قال شيخ الإسلام: كما نص على ذلك أحمد، وغيره من الأئمة قال تعالى: {قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ} فأخبر سبحانه أنه نزله روح القدس، وهو الروح الأمين كما قال تعالى: {نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأَمِينُ * عَلَى قَلْبِكَ} وقوله الأمين: دليل على أنه مؤتمن على ما أرسل به، لا يزيد فيه ولا ينقص.

… وهذا بيان لنزول جبريل به من الله، فإنه إذا كان روح القدس نزل بالقرآن العربي، لزم أن يكون نزله من الله، فلا يكون شيء منه، نزل من عين من الأعيان المخلوقة، ولا نزل من نفسه، وإذا كان روح القدس نزل به من الله، علم أنه سمعه من الله ولم يؤلفه هو، وهذا بيان من الله: أن القرآن الذي هو اللسان العربي المبين، سمعه روح القدس من الله؛ ولم يقل أحد من السلف أنه سمعه محمد من الله.

… ولو كان جبريل لم يسمعه من الله، وإنما وجده مكتوبا كانت العبارة عبارة جبريل وكان القرآن كلام جبريل، ترجم به عن الله، كما يترجم عن الأخرس الذي أكتب كلاما، ولم يقدر أن يتكلم به، وهذا خلاف دين المسلمين.

(2) عليهما السلام قال تعالى: {قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللهِ} وقال: {إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ * فَإِذَا قَرَأْنَاهُ}

أي: قرأه رسولنا {فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} فاستمع له وأنصت {ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} أن نبينه بلسانك، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ذلك إذا أتاه جبريل استمع، فإذا انطلق جبريل، قرأه كما قرأه جبريل وهو كقوله: {نَتْلُو عَلَيْكَ مِنْ نَبَأِ مُوسَى وَفِرْعَوْنَ بِالْحَقِّ} وقوله: {نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَذَا الْقُرْآنَ} ونحو ذلك.

… فإنه تعالى أضافه تارة إلى رسول من البشر، وتارة إلى رسول من الملائكة فقال: {إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ} إلى قوله: {تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ} والرسول هنا: محمد صلى الله عليه وسلم وقال: {إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ * ذِي قُوَّةٍ عِنْدَ ذِي الْعَرْشِ مَكِينٍ * مُطَاعٍ ثَمَّ أَمِينٍ} إلى قوله: {إِنْ هُوَ إِلا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ} فالرسول هنا جبريل، وأضافه سبحانه إلى كل منهما باسم رسوله لأن ذلك يدل على أنه مبلغ له عن غيره، وأنه رسول فيه لم يحدث هو شيئا منه.

… قال الشيخ: ولم يقل أحد من السلف، إن جبريل أحدث ألفاظه ولا محمدا صلى الله عليه وسلم ولا إن الله تعالى خلقه في الهوى أو غيره من المخلوقات، ولا إن جبريل أخذه من اللوح المحفوظ، بل هذه الأقوال، هي: من أقوال بعض الملحدين من الفلاسفة وغيرهم.
জিবরাঈল (আ.) তা আল্লাহর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন (১) এবং মুহাম্মাদ (সা.) তা জিবরাঈলের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন (২)।

--------------------------------------------

(১) মহামহিমান্বিত ও মহান। শাইখুল ইসলাম বলেন: যেমনটি ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্য ইমামগণ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, পবিত্র রূহ (জিবরাঈল) একে আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ করেছেন}। অতএব সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, রূহুল কুদুস এটি অবতীর্ণ করেছেন, আর তিনি হলেন রূহুল আমীন (বিশ্বস্ত আত্মা)। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: {আপনার হৃদয়ে রূহুল আমীন তা নিয়ে অবতরণ করেছেন}। আর তাঁর 'আমীন' (বিশ্বস্ত) হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে যে, তাঁকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে তার ব্যাপারে তিনি আমানতদার; তিনি এতে কোনো কিছু বৃদ্ধি বা হ্রাস করেন না।

… এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈলের মাধ্যমে তা অবতীর্ণ হওয়ার বর্ণনা। কেননা যখন রূহুল কুদুস আরবি কুরআনের সাথে অবতীর্ণ হয়েছেন, তখন এটি আবশ্যক হয় যে তিনি তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং এর কোনো অংশই কোনো সৃষ্টি থেকে অবতীর্ণ হয়নি এবং তাঁর নিজের পক্ষ থেকেও আসেনি। আর যখন রূহুল কুদুস আল্লাহর পক্ষ থেকে তা নিয়ে অবতরণ করেছেন, তখন বুঝা যায় যে তিনি তা আল্লাহর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তিনি নিজে তা রচনা করেননি। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে স্পষ্ট বর্ণনা যে: এই কুরআন যা সুস্পষ্ট আরবি ভাষা, রূহুল কুদুস তা আল্লাহর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন; এবং পূর্বসূরিদের (سلف) মধ্যে কেউ বলেননি যে, মুহাম্মাদ (সা.) তা সরাসরি আল্লাহর কাছ থেকে শ্রবণ করেছেন।

… যদি জিবরাঈল তা আল্লাহর নিকট থেকে শ্রবণ না করতেন বরং কেবল লিখিত অবস্থায় পেতেন, তবে এই শব্দমালা হতো জিবরাঈলের এবং কুরআন হতো জিবরাঈলের বাণী, যা তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুবাদ করেছেন—যেমন কোনো মূক ব্যক্তির পক্ষ থেকে অনুবাদ করা হয় যার কথা লিখে দেওয়া হয়েছে কিন্তু তিনি তা বলতে সক্ষম নন। আর এটি মুসলিমদের দ্বীনের পরিপন্থী বিষয়।

(২) তাঁদের উভয়ের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, যে ব্যক্তি জিবরাঈলের শত্রু হয়—তবে তিনি তো আল্লাহর অনুমতিক্রমে তা আপনার হৃদয়ে অবতীর্ণ করেছেন}। এবং তিনি বলেন: {নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব। সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি}

অর্থাৎ: আমাদের রাসূল (জিবরাঈল) তা পাঠ করেন {তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন} সুতরাং আপনি মনোযোগ দিয়ে তা শ্রবণ করুন এবং নীরব থাকুন {অতঃপর এর বিশদ বর্ণনা দেওয়া আমাদেরই দায়িত্ব} অর্থাৎ আপনার রসনার মাধ্যমে তা বর্ণনা করা। এরপর থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট যখন জিবরাঈল আসতেন, তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। যখন জিবরাঈল চলে যেতেন, তিনি জিবরাঈলের পাঠের অনুরূপ তা পাঠ করতেন। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: {আমরা আপনার নিকট মুসা ও ফেরাউনের সংবাদ থেকে সত্যসহ পাঠ করছি} এবং তাঁর বাণী: {আমরা আপনার নিকট সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি, যেহেতু আমরা আপনার নিকট এই কুরআন ওহী পাঠিয়েছি} এবং অনুরূপ আয়াতসমূহ।

… কেননা আল্লাহ তাআলা একে কখনো মানুষের মধ্য থেকে প্রেরিত রাসূলের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, আবার কখনো ফেরেশতাদের মধ্য থেকে প্রেরিত রাসূলের দিকে। তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের বাণী} থেকে {যা বিশ্বপ্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ} আয়াত পর্যন্ত। এখানে রাসূল হলেন মুহাম্মাদ (সা.)। এবং তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের বাণী, যিনি শক্তিশালী, আরশ অধিপতির নিকট মর্যাদাশীল, সেখানে তিনি মান্যবর ও বিশ্বস্ত} থেকে {এটি তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ব্যতীত আর কিছু নয়} আয়াত পর্যন্ত। এখানে রাসূল হলেন জিবরাঈল (আ.)। সুবহানাহু ওয়া তাআলা একে তাঁদের উভয়ের প্রত্যেকের দিকে 'রাসূল' হিসেবে সম্বন্ধ করেছেন কারণ এটি প্রমাণ করে যে, তিনি অন্যের পক্ষ থেকে তা পৌঁছিয়ে দিচ্ছেন এবং তিনি এই বিষয়ে একজন বাণীবাহক মাত্র, তিনি নিজে থেকে এতে কোনো কিছু উদ্ভাবন করেননি।

… শাইখ বলেন: পূর্বসূরিদের (سلف) মধ্যে কেউ বলেননি যে, জিবরাঈল এর শব্দগুলো উদ্ভাবন করেছেন, কিংবা মুহাম্মাদ (সা.) তা করেছেন; অথবা মহান আল্লাহ তা শূন্যে বা অন্য কোনো সৃষ্টিতে সৃষ্টি করেছেন; কিংবা জিবরাঈল তা লাওহে মাহফুজ থেকে গ্রহণ করেছেন। বরং এই মতগুলো হলো দার্শনিক ও অন্যদের মধ্যকার কিছু নাস্তিকদের বক্তব্য।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৫)
وسَمِعَهُ الصَّحابَةُ مِن مُحمَّدٍ صلى الله عليه وسلم (1) .

--------------------------------------------

(1) ولا نزاع في ذلك، وقال الشيخ: هذا مذهب سلف الأمة وأئمتها، والدلائل على ذلك كثيرة، من الكتاب والسنة والإجماع؛ وكانوا يقولون: هذا عهده إلينا ونحن عهدناه إليكم وفي السنن أنه صلى الله عليه وسلم كان يعرض نفسه على الناس بالمواسم، فيقول: «ألا رجل يحملني إلى قومه لأبلغ كلام ربي» ، وفي الصحيح: «بلغوا عني ولو آية» ، وقال: «ليبلغ الشاهد الغائب» .
সাহাবায়ে কেরাম এটি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শ্রবণ করেছেন (১)।

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। শাইখ বলেছেন: এটিই উম্মাহর পূর্বসূরি (سلف) এবং তাঁদের ইমামগণের মতাদর্শ (مذهب)। এর স্বপক্ষে কুরআন, সুন্নাহ (سنة) এবং ঐকমত্য (إجماع)-এর বহু দলিল (الدلائل) বিদ্যমান। তাঁরা বলতেন: এটি আমাদের প্রতি তাঁর পক্ষ থেকে অর্পিত নির্দেশ এবং আমরা তা আপনাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছি। সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হজের মৌসুমে মানুষের কাছে নিজেকে পেশ করতেন এবং বলতেন: «এমন কি কোনো ব্যক্তি আছে যে আমাকে তার কওমের নিকট নিয়ে যাবে, যাতে আমি আমার রবের বাণী পৌঁছে দিতে পারি?» সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: «আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও।» তিনি আরও বলেছেন: «উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়।»
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৬)
وَهُوَ الذي نَتلُوهُ بِأَلسِنَتِنا (1) وفِيما بَينَ الدَّفتَينِ (2) وما في صدورنا (3) مسموعا ومكتوبا ومحفوظا (4) وكل حرف منه،

--------------------------------------------

(1) أي: والقرآن العزيز هو الذي نتلوه بألسنتنا ولا يخرج بذلك عن كونه كلام الله حقيقة؛ فإنه إذا أريد بالتلاوة الكلام نفسه، الذي يتلى فالتلاوة هي المتلو.

(2) أي: القرآن الكريم، هو ما بين ضمامتي المصحف، ولا يخرج بذلك عن أن يكون كلام الله حقيقة، قال الشيخ: ما يكتب في المصاحف من كلامه فهو كلامه مكتوبا في المصاحف، وكلامه غير مخلوق، والمداد الذي يكتب به كلامه، وغير كلامه مخلوق، وقد فرق تعالى بين كلامه وبين مداد كلماته فقال: {قُلْ لَوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِكَلِمَاتِ رَبِّي} .

(3) أي: والقرآن العظيم، هو ما في صدورنا حفظناه عن ظهر قلب، ولا يخرج بذلك عن أن يكون كلام الله حقيقة.

(4) أي: والقرآن الكريم، كلام الله حقيقة، مسموعا حال تلاوتنا له، ومكتوبا فيما بين الدفتين، قال الشيخ: وإذا كتب في المصاحف، كان ما كتب من كلام رب العالمين غير مخلوق، وإن كان المداد وشكله مخلوقا، وأيضا فإذا قرأ الناس كلام الله ⦗ص: 17⦘ فالكلام في نفسه غير مخلوق، إذا كان الله تكلم به، فإن الكلام كلام من قاله مبتدئا أمرا يأمر به، أو خبرا يخبره، ليس هو كلام المبلغ له عن غيره، وإذا قرأه المبلغ يقال: هذا كلام الله؛ فإن الكلام إنما يضاف حقيقة إلى من قاله مبتدئا لا إلى من قاله مبلغا مؤديا.

… والقرآن كلام الله محفوظا في صدورنا، قال أحمد: القرآن كلام الله غير مخلوق، حيث تصرف.

قال الشيخ: أي: حيث كتب وقرئ، مما هو في نفس الأمر كلام الله فهو كلامه، وكلام غير مخلوق، وما كان من صفات العباد وأفعالهم التي يقرءون ويكتبون بها كلامه، كأصواتهم ومدادهم فهو مخلوق ولهذا من لم يهتد إلى هذا الفرق يحار فإنه معلوم أن القرآن واحد، ويقرؤه خلق كثير، والقرآن لا يكثر في نفسه بكثرة قراءة القراء، وإنما يكثر ما يقرءون به القرآن، فما يكثر ويحدث في العباد فهو مخلوق، والقرآن نفسه، لفظه ومعناه، الذي تكلم الله به، وسمعه جبريل من الله، وسمعه محمد من جبريل، وبلغه محمد صلى الله عليه وسلم إلى الناس، وأنذر به الأمم قرآن واحد، وهو كلام الله ليس بمخلوق.

… قال أبو حامد الإسفراييني: مذهبي ومذهب الشافعي، وفقهاء الأمصار، أن القرآن كلام الله غير مخلوق، ومن قال مخلوق فهو كافر، والقرآن حمله جبريل مسموعا من الله والنبي صلى الله عليه وسلم سمعه

من جبريل والصحابة سمعوه من رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو الذي نتلوه نحن بألسنتنا وفيما بين الدفتين، وما في صدورنا مسموعا ومكتوبا ومحفوظا وكل حرف منه كالباء والتاء، كلام الله غير مخلوق، ومن قال مخلوق: فهو كافر، وعليه لعائن الله والناس أجمعين.
এটি তাই যা আমরা আমাদের জিহ্বা দ্বারা তিলাওয়াত করি (১), যা দুই মলাটের (মুসহাফের) অভ্যন্তরে বিদ্যমান (২), যা আমাদের অন্তরে সংরক্ষিত (৩); যা শ্রুত, লিখিত ও হিফজকৃত (৪) এবং এর প্রতিটি অক্ষর...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: এবং কুরআনুল আযীয হলো তা-ই যা আমরা আমাদের জিহ্বা দ্বারা তিলাওয়াত করি; আর এর মাধ্যমে তা প্রকৃত অর্থেই আল্লাহর কালাম হওয়া থেকে বিচ্যুত হয় না। কেননা তিলাওয়াত দ্বারা যদি স্বয়ং সেই কালাম উদ্দেশ্য হয় যা পাঠ করা হচ্ছে, তবে তিলাওয়াতই হলো পঠিত বিষয়।

(২) অর্থাৎ: কুরআনুল কারীম হলো তা যা মুসহাফের দুই মলাটের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে। এর দ্বারা তা প্রকৃত আল্লাহর কালাম হওয়া থেকে বের হয়ে যায় না। শায়খ বলেন: মুসহাফসমূহে তাঁর যে কালাম লেখা হয়েছে, তা মুসহাফে লিখিত অবস্থায় তাঁরই কালাম। আর তাঁর কালাম অনাদি বা অসৃষ্ট (غير مخلوق)। যে কালি দ্বারা তাঁর কালাম লেখা হয় তা এবং তাঁর কালাম ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা সৃষ্ট (مخلوق)। মহান আল্লাহ তাঁর কালাম এবং তাঁর কালামের কালির মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি বলেছেন: {বলুন, যদি সমুদ্র আমার রবের কালামের (কালি) হতো}।

(৩) অর্থাৎ: কুরআনুল আযীম হলো তা যা আমাদের অন্তরে রয়েছে এবং যা আমরা মুখস্থ করেছি। এর মাধ্যমে এটি প্রকৃত আল্লাহর কালাম হওয়া থেকে বিচ্যুত হয় না।

(৪) অর্থাৎ: কুরআনুল কারীম প্রকৃত অর্থেই আল্লাহর কালাম; যা আমাদের তিলাওয়াতের সময় শ্রুত হয় এবং দুই মলাটের মাঝে লিখিত থাকে। শায়খ বলেন: যখন এটি মুসহাফে লিপিবদ্ধ হয়, তখন রাব্বুল আলামীনের কালাম থেকে যা কিছু লেখা হয়েছে তা অনাদি বা অসৃষ্ট (غير مخلوق), যদিও কালি এবং এর বর্ণমালার অবয়ব সৃষ্ট (مخلوق)। তদ্রূপ মানুষ যখন আল্লাহর কালাম পাঠ করে ⦗পৃষ্ঠা: ১৭⦘ তখন কালামটি স্বয়ং অনাদি বা অসৃষ্ট (غير مخلوق), যেহেতু আল্লাহ তা পাঠ করেছেন। কেননা কালাম হলো সেই সত্তারই কালাম যিনি প্রথম তা বলেছেন কোনো নির্দেশ প্রদান করতে গিয়ে কিংবা কোনো সংবাদ প্রদান করতে গিয়ে; এটি সেই ব্যক্তির কালাম নয় যে এটি অন্যের পক্ষ থেকে পৌঁছে দিচ্ছে। আর যখন বাহক এটি পাঠ করেন, তখন বলা হয়: এটি আল্লাহর কালাম। কারণ কালামকে প্রকৃতপক্ষে সেই সত্তার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয় যিনি এটি প্রথমে বলেছেন, তাঁর দিকে নয় যিনি এটি কেবল পৌঁছে দিচ্ছেন বা আদায় করছেন।

… এবং কুরআন আমাদের অন্তরে সংরক্ষিত আল্লাহর কালাম। ইমাম আহমাদ বলেন: কুরআন যেখানেই ব্যবহৃত হোক না কেন তা আল্লাহর কালাম এবং অনাদি বা অসৃষ্ট (غير مخلوق)।

শায়খ বলেন: অর্থাৎ যেখানেই তা লেখা হোক বা পড়া হোক, যা বাস্তবে আল্লাহর কালাম তা তাঁরই কালাম এবং তা অনাদি বা অসৃষ্ট (غير مخلوق)। আর বান্দাদের গুণাবলি ও কার্যাবলি যা দ্বারা তারা তাঁর কালাম পাঠ করে বা লেখে—যেমন তাদের কণ্ঠস্বর ও কালি—তা সৃষ্ট (مخلوق)। এই কারণেই যারা এই সূক্ষ্ম পার্থক্যের ব্যাপারে হেদায়েত পায়নি তারা বিভ্রান্ত হয়। কেননা এটি সুবিদিত যে কুরআন এক, অথচ অসংখ্য সৃষ্টি তা পাঠ করে। পাঠকদের পাঠের আধিক্যের কারণে কুরআন নিজে সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় না; বরং বান্দারা যা দ্বারা কুরআন পাঠ করে তা-ই বৃদ্ধি পায়। সুতরাং বান্দাদের মাঝে যা বৃদ্ধি পায় এবং নতুনভাবে ঘটে তা সৃষ্ট (مخلوق)। আর স্বয়ং কুরআন—এর শব্দ ও অর্থ—যা আল্লাহ বলেছেন, যা জিবরাঈল আল্লাহর নিকট থেকে শুনেছেন, যা মুহাম্মাদ জিবরাঈলের নিকট থেকে শুনেছেন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন এবং তা দ্বারা উম্মতদের সতর্ক করেছেন, তা একটাই কুরআন। আর তা আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্ট (مخلوق) নয়।

… আবু হামিদ আল-ইসফারায়িনী বলেন: আমার মাযহাব এবং ইমাম শাফিয়ী ও অপরাপর অঞ্চলের ফকীহগণের মাযহাব হলো, কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তা সৃষ্ট (مخلوق) নয়। যে ব্যক্তি বলবে এটি সৃষ্ট (مخلوق), সে কাফির (كافر)। জিবরাঈল কুরআন বহন করে এনেছেন আল্লাহর নিকট থেকে শুনে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা শুনেছেন জিবরাঈলের নিকট থেকে, সাহাবায়ে কিরাম তা শুনেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট থেকে। আর এটিই সেই সত্তা যা আমরা আমাদের জিহ্বা দ্বারা তিলাওয়াত করি, যা মুসহাফের দুই মলাটের মাঝে এবং আমাদের অন্তরে রয়েছে; যা শ্রুত, লিখিত এবং সংরক্ষিত। এর প্রতিটি অক্ষর যেমন 'বা' এবং 'তা' আল্লাহর কালাম এবং অনাদি বা অসৃষ্ট (غير مخلوق)। যে ব্যক্তি বলবে এটি সৃষ্ট (مخلوق), সে কাফির (كافر); তার ওপর আল্লাহ এবং সকল মানুষের অভিশাপ।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৮)
كالباءِ والتَّاءِ، كلامُ اللهِ غيرُ مَخلوقٍ (1) مِنهُ بدأ وإليه يعود (2) .

--------------------------------------------

(1) أي: وكل حرف من القرآن، الذي هو لفظه، قبل أن ينزل به جبريل، وبعدما نزل به، كالباء والتاء، إلى آخر حروف الهجاء الثمانية والعشرين، كلام الله، غير مخلوق، ولم يقل أحد من السلف إنه مخلوق، وإنما قاله الجعد بن درهم، ورد السلف هذا القول، قال الشيخ: كما تواترت الآثار عنهم بذلك وصنف في ذلك مصنفات متعددة، قال: ومن قال إنه مخلوق، فقد خالف إجماع السلف، ومن قال إنه مخلوق، يقول: إنه خلق في بعض المخلوقات القائمة بنفسها، فمن ذلك المخلوق، نزل وبدأ لا من الله وإخباره تعالى إنه نزل من الله، يناقض أن يكون قد نزل من غير الله.

(2) أي: هو تعالى الذي تكلم به، لم يبتدأ من غيره، ومنه نزل كما قال تعالى: {تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللهِ} وقال بعضهم: منه خرج قال الشيخ: وليس مقصود السلف، أنه منه خرج، ومنه بدأ أنه فارق ذاته، وحل في غيره، فإن الصفة لا تفارق الموصوف وتحل بغيره، وإنما قالوا ذلك: ردًا على المعتزلة والجهمية

الذين يقولون: بدأ من المخلوق الذي خلق فيه، وكيف يجوز أن يفارق ذات الله كلامه، أو غيره من صفاته، وإليه يعود، أي علمه فلا يبقى في المصاحف منه حرف، ولا في الصدور منه آية.

… قال عمرو بن دينار: أدركت مشايخنا والناس منذ سبعين سنة، وقال مرة: أدركت أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فمن دونهم يقولون: القرآن كلام الله، منه بدأ وإليه يعود، وفي الأثر: «إن القرآن يسرى به، حتى لا يبقى في المصاحف منه حرف ولا في القلوب منه آية» .
যেমন 'বা' এবং 'তা'; আল্লাহর বাণী অসৃষ্ট (غير مخلوق) (১), তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই এটি ফিরে যাবে (২)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: কুরআনের প্রতিটি হরফ, যা এর শব্দরূপ; জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তা নিয়ে অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে এবং অবতীর্ণ হওয়ার পরেও—যেমন 'বা' ও 'তা' থেকে শুরু করে হিজরী বর্ণমালার আটাশটি অক্ষর পর্যন্ত—সবই আল্লাহর বাণী, যা অসৃষ্ট (غير مخلوق)। পূর্বসূরিদের (سلف) মধ্য হতে কেউ একে সৃষ্টি বলেননি। কেবল জাদ বিন দিরহাম এটি বলেছিল এবং পূর্বসূরিগণ (سلف) এই মতকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। শায়খ বলেন: এ বিষয়ে তাঁদের থেকে আসারসমূহ (آثار) মুতাওয়াতির (متواتر) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং এ প্রসঙ্গে অসংখ্য গ্রন্থ রচিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন: যে ব্যক্তি একে সৃষ্টি বলে, সে পূর্বসূরিদের (سلف) ঐকমত্য (إجماع) লঙ্ঘন করল। আর যে একে সৃষ্টি বলে, সে দাবি করে যে এটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো স্বতন্ত্র সৃষ্টির মাঝে সৃষ্টি করা হয়েছে; ফলে তা সেই সৃষ্টি হতে শুরু হয়েছে এবং সেখান থেকেই অবতীর্ণ হয়েছে, আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। অথচ মহান আল্লাহর এই সংবাদ যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, তা অন্য কারো থেকে অবতীর্ণ হওয়ার ধারণাকে খণ্ডন করে।

(২) অর্থাৎ: মহান আল্লাহ নিজেই এটি ব্যক্ত করেছেন, এটি অন্য কারো থেকে শুরু হয়নি। এটি তাঁর পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ হয়েছে যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "কিতাব অবতীর্ণকরণ আল্লাহর পক্ষ থেকে"। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: "তাঁর থেকে এটি নির্গত হয়েছে"। শায়খ বলেন: পূর্বসূরিদের (سلف) উদ্দেশ্য এটি নয় যে এটি আল্লাহর সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্য কারো মাঝে প্রবিষ্ট হয়েছে; কেননা গুণ (صفة) কখনো গুণী থেকে পৃথক হয়ে অন্য কারো মাঝে প্রবিষ্ট হয় না। বরং তাঁরা এটি মুতাজিলা (معتزلة) এবং জাহমিয়াদের (جهمية) খণ্ডন করতে বলেছেন, যারা দাবি করে যে এটি এমন এক সৃষ্টি থেকে শুরু হয়েছে যার মাঝে এটি সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহর বাণী বা তাঁর অন্য কোনো গুণ কীভাবে তাঁর সত্তা থেকে পৃথক হওয়া সম্ভব? "তাঁর দিকেই এটি ফিরে যাবে" অর্থাৎ এর জ্ঞান তুলে নেওয়া হবে, ফলে মুসহাফে (مصاحف) এর কোনো হরফ আর অবশিষ্ট থাকবে না এবং অন্তরে কোনো আয়াত বাকি থাকবে না।

… আমর ইবনে দিনার বলেন: আমি সত্তর বছর যাবত আমাদের শায়খ এবং মানুষদের পেয়েছি, এবং একবার তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী (أصحاب النبي) এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিদের পেয়েছি; তাঁরা বলতেন: কুরআন আল্লাহর বাণী, তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই এটি ফিরে যাবে। আসার-এ (أثر) বর্ণিত হয়েছে: "কুরআনকে উঠিয়ে নেওয়া হবে, এমনকি মুসহাফে (مصاحف) এর একটি হরফও অবশিষ্ট থাকবে না এবং হৃদয়ে কোনো আয়াত বাকি থাকবে না।"
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ১৯)
وهُو كلامُ اللهِ حُروفُهُ ومَعانيهِ ليسَ الحروفُ دون المعاني، ولا المعاني دون الحروف (1) .

--------------------------------------------

(1) ذكره الشيخ وغيره في عقائد السلف، وقال: الذي عليه السلف، أن القرآن كلام الله، تكلم الله بحروفه ومعانيه، ليس شيئا منه كلاما لغيره، لا لجبريل ولا لمحمد، ولا لغيرهما بل كفر الله من جعله قول البشر، فالقرآن كلام الله حروفه ومعانيه والنبي صلى الله عليه وسلم إذا تكلم بكلامه تكلم بحروفه ومعانيه بصوته، ثم المبلغ عنه يبلغ كلامه بحركاته وصوته، والمبلغ عنه مبلغ حديثه كما سمعه، لكن بصوت نفسه، لا بصوت الرسول فالقرآن هو كلام الله، تكلم الله به بصوته، والمبلغ عن الله مبلغ كلام الله بصوت نفسه كما أن كلام الرسول تكلم به بصوته والمبلغ عنه بلغ بصوت نفسه.

… وقال صلى الله عليه وسلم: «زينوا القرآن بأصواتكم» فجعل الكلام كلام الباري، وجعل الصوت الذي يقرؤه العبد، صوت القارئ، وأصوات العباد ليست هي الصوت الذي يتكلم الله به، ولا مثله، فإن الله تعالى ليس كمثله شيء، لا في ذاته، ولا في صفاته، ولا في أفعاله، فليس كلامه مثل كلامهم، ولا أصواته مثل أصواتهم ولا يلزم إذا كان صوت المبلغ مخلوقا، أن يكون كلام الله مخلوقا.
এটি আল্লাহর কালাম, এর অক্ষরসমূহ এবং এর অর্থসমূহ (উভয়ই); শুধু অর্থ ব্যতীত কেবল অক্ষর নয়, আর অক্ষর ব্যতীত কেবল অর্থও নয় (১)।

--------------------------------------------

(১) শাইখ এবং অন্যান্যগণ এটি সালাফদের আকিদাহ বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: সালাফগণ যে বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন তা হলো—কুরআন আল্লাহর কালাম; আল্লাহ এর অক্ষর ও অর্থসহ তা ব্যক্ত করেছেন। এর কোনো অংশই অন্য কারো কথা নয়—না জিবরাইলের, না মুহাম্মাদের, আর না অন্য কারো। বরং আল্লাহ তাকে কাফির সাব্যস্ত করেছেন যে একে মানুষের বাণী মনে করে। সুতরাং কুরআন আল্লাহর কালাম—এর অক্ষর ও অর্থ উভয়ই। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাঁর নিজ কালাম বলতেন, তখন তিনি তা অক্ষর ও অর্থসহ তাঁর নিজ কণ্ঠে বলতেন। অতঃপর তাঁর পক্ষ থেকে প্রচারকারী ব্যক্তি নিজের অঙ্গভঙ্গি ও কণ্ঠে তাঁর কালাম পৌঁছে দেন। আর বর্ণনাকারী তাঁর হাদিস পৌঁছে দেন যেভাবে তিনি তা শুনেছেন, তবে তা তাঁর নিজ কণ্ঠে, রাসূলের কণ্ঠে নয়। সুতরাং কুরআন আল্লাহর কালাম, আল্লাহ তা নিজ কণ্ঠে ব্যক্ত করেছেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রচারকারী ব্যক্তি আল্লাহর কালাম পৌঁছে দেন নিজের কণ্ঠে, ঠিক যেমন রাসূলের বাণী তিনি নিজে তাঁর কণ্ঠে ব্যক্ত করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে প্রচারকারী ব্যক্তি তা নিজের কণ্ঠে পৌঁছে দিয়েছেন।

… আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কণ্ঠস্বর দ্বারা কুরআনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করো।" এখানে তিনি কালামকে স্রষ্টার কালাম হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, আর বান্দা যে শব্দে তা পাঠ করে, তাকে ক্বারীর (পাঠকের) কণ্ঠস্বর হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আর বান্দাদের কণ্ঠস্বর আল্লাহর কণ্ঠস্বরের মতো নয় এবং তার সাদৃশ্যও নয়। কেননা মহান আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি বা কার্যাবলিতে তাঁর সদৃশ কেউ নেই। সুতরাং তাঁর কালাম মানুষের কালামের মতো নয় এবং তাঁর কণ্ঠস্বরও মানুষের কণ্ঠস্বরের মতো নয়। প্রচারকারীর কণ্ঠস্বর সৃষ্টি (مخلوق) হওয়ার কারণে আল্লাহর কালাম সৃষ্টি (مخلوق) হওয়া আবশ্যক হয় না।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ২০)
وبدعوا من قال: إنه فاض على نفس النبي، مِنَ العَقلِ الفَعَّالِ، أو غَيرِهِ كالفَلاسِفَةِ والصَّابِئِيَّةِ (1) .

--------------------------------------------

(1) أي: وبدع السلف من الصحابة والتابعين، مَن قالَ: إنَّ القُرآنَ فاضَ على نَفسِ النبي محمد صلى الله عليه وسلم من العقل والفعال، أو غير العقل الفعال، فإن المتفلسفة كابن سينا وأضرابه، والصابئة وهم قوم: يشبه دينهم دين النصارى، زعموا أن كلام الله ليس له وجود، إلا في نفوس الأنبياء، تفاض عليهم المعان، من الروح، الذي هو العقل الفعال أو غير ذلك.

… قال الشيخ: وهذا القول أعظم كفرا وضلالا، من قول الجهمية وغيرهم، وقال: تنازع الناس في كلام الله نزاعا كثيرا، والطوائف الكبار نحو ست فرق، فأبعدها عن الإسلام قول من يقول، من المتفلسفة والصابئة، إن كلام الله إنما يفيض على النفوس، إما من العقل الفعال، وإما من غيره وليس

بكلام الله في الحقيقة، وإنما هذا في الحقيقة كلام النبي، وإنما سمي كلام الله مجازا.

… قال: ورأوا أن الرسول سمى القرآن كلام الله، فقالوا: هذا القرآن كلام الله، ولكن المعنى أنه فاض على نفس النبي من العقل الفعال، وربما قالوا: إن العقل هو جبريل، قال: وقد ضل بكلام ابن سينا وأضرابه، كثير من المشهورين، مثل أبي حامد، ذكر هذا المعنى في بعض كتبه.

… وصنفوا رسائل إخوان الصفا وغيرها، وجمعوا فيها على زعمهم، بين مقالات الصابئة المتأخرين، التي هي الفلسفة المبتدعة، وبين ماجاء به الرسول صلى الله عليه وسلم عن الله، فأتوا بما زعموا أنه معقول، ولا دليل على كثير منه، وبما ذكروا أنه منقول، وفيه من الكذب والتحريف، أمر عظيم وإنما يضلون به كثيرا، بما فيه من الأمور الطبيعية والرياضية التي لا تعلق لها بأمر النبوات والرسالات، لا بنفي ولا بإثبات ولكن ينتفع بها في مصالح الدنيا، كالصناعة والحياكة والبناية، والخياطة، ونحو ذلك.
এবং তারা সেই ব্যক্তিকে বিদআতী (مبتدع) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যে বলেছে: এটি (কুরআন) সক্রিয় বুদ্ধি অথবা অন্য কিছু থেকে নবিজির আত্মার ওপর বিচ্ছুরিত হয়েছে, যেমনটি দার্শনিক ও সাবিয়্যাহ সম্প্রদায় বলে থাকে (১)।

--------------------------------------------

(1) অর্থাৎ: সাহাবী ও তাবিঈদের মধ্য থেকে সালাফগণ সেই ব্যক্তিকে বিদআতী (مبتدع) বলেছেন যে বলে: কুরআন সক্রিয় বুদ্ধি অথবা সক্রিয় বুদ্ধি ব্যতীত অন্য কিছু থেকে নবি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নফসের ওপর বিচ্ছুরিত হয়েছে। কেননা ইবনে সিনা ও তাঁর সমমনা দার্শনিকগণ এবং সাবিয়্যাহ—যারা এমন এক জাতি যাদের ধর্ম খ্রিস্টানদের ধর্মের অনুরূপ—তারা দাবি করত যে, আল্লাহর বাণীর কোনো অস্তিত্ব নেই, বরং তা কেবল নবীদের অন্তরে বিদ্যমান থাকে; সক্রিয় বুদ্ধি নামক রূহ বা অন্য কিছু থেকে তাঁদের অন্তরে এ সকল অর্থ বিচ্ছুরিত হয়।

… শায়খ (ইবনে তাইমিয়্যাহ) বলেন: এই কথাটি জাহমিয়্যাহ ও অন্যদের বক্তব্যের চেয়েও জঘন্যতম কুফর ও গোমরাহি। তিনি আরও বলেন: আল্লাহর কালাম নিয়ে মানুষের মাঝে অনেক মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে এবং বড় বড় দলগুলো প্রায় ছয়টি ফিরকায় বিভক্ত। তাদের মধ্যে ইসলাম থেকে সবচেয়ে দূরে রয়েছে সেই দার্শনিক ও সাবিয়্যাহদের কথা, যারা বলে: আল্লাহর কালাম কেবল অন্তরে বিচ্ছুরিত হয়—হয় সক্রিয় বুদ্ধি থেকে অথবা অন্য কিছু থেকে; এবং এটি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কালাম নয়, বরং এটি প্রকৃতপক্ষে নবিজির কালাম এবং একে রূপকভাবে আল্লাহর কালাম বলা হয়।

… তিনি বলেন: তারা লক্ষ্য করেছে যে রাসুল কুরআনকে আল্লাহর কালাম বলে অভিহিত করেছেন, তাই তারা বলেছে: এই কুরআন আল্লাহর কালাম, তবে এর অর্থ হলো এটি সক্রিয় বুদ্ধি থেকে নবিজির অন্তরে বিচ্ছুরিত হয়েছে। তারা সম্ভবত এও বলে থাকে যে, সেই বুদ্ধিই হলো জিবরাঈল। তিনি বলেন: ইবনে সিনা ও তাঁর সমমনাদের কথায় অনেক প্রসিদ্ধ ব্যক্তি বিভ্রান্ত হয়েছেন, যেমন আবু হামিদ; তিনি তাঁর কিছু কিতাবে এই অর্থের উল্লেখ করেছেন।

… তারা 'রাসাইল ইখওয়ানুস সাফা' ও অন্যান্য কিতাব রচনা করেছে এবং তাতে তাদের ধারণা অনুযায়ী পরবর্তীকালের দার্শনিক সাবিয়্যাহদের মতবাদ—যা মূলত একটি উদ্ভাবিত দর্শন—এবং রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন, তার মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছে। তারা এমন সব বিষয় নিয়ে এসেছে যেগুলোকে তারা যুক্তিগ্রাহ্য বলে দাবি করে, অথচ তার অধিকাংশেরই কোনো দলিল নেই। আর তারা যা কিছু উদ্ধৃত (منقول) বলে উল্লেখ করেছে, তাতে প্রচুর মিথ্যা ও বিকৃতি রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা অনেককে পথভ্রষ্ট করে, কারণ এতে এমন কিছু প্রাকৃতিক ও গাণিতিক বিষয় রয়েছে যার সাথে নবুওয়াত বা রিসালাতের সত্যতা বা অসারতা প্রমাণের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এগুলো দুনিয়াবি প্রয়োজনে উপকারে আসে, যেমন শিল্পকর্ম, বয়ন শিল্প, নির্মাণ শিল্প, সেলাই এবং এই জাতীয় কাজসমূহ।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ২১)
أَوْ أنَّهُ مَخلوقٌ في جِسمٍ مِنَ الأَجسامِ كالمعتزلة والجهمية (1) .

--------------------------------------------

(1) أي: وبدع السلف من قال، إن كلام الله مخلوق، خلقه الله في جسم من الأجسام المخلوقة، فمن ذلك الجسم ابتدأ لا من الله، قال الشيخ: كما هو قول الجهمية، الذين قالوا بخلق

القرآن، من المعتزلة والنجارية والضرارية وغيرهم، والسلف: يسمون كل من نفى الصفات، وقال: إن القرآن مخلوق

وإن الله لا يرى في الآخرة جهميا فإن جهما أول من ظهرت عنه تلك البدعة، وانتشرت في خلافة هشام بن عبد الملك، وإن كان جعد سبقه إلى بعض ذلك، في أوائل المائة الثانية، وهؤلاء هم الذين دعوا من دعوه من الخلفاء إلى مقالتهم حتى امتحن الناس في القرآن بالمحنة المشهورة في إمارة المأمون ورفع الله شأن من ثبت فيها من أئمة السنة كالإمام أحمد بن حنبل وموافقيه وكشفها الله عن الناس في إمارة المتوكل.

… وقال أول من أظهر إنكار التكليم الجعد، وأمر علماء الإسلام كالحسن البصري وغيره، بقتله، وأخذ عنه الجهم بن صفوان فأنكر أن يكون الله يتكلم، ثم نافق المسلمين، فأقر بلفظ الكلام، وقال: كلامه يخلق في محل، كالهواء وورق الشجر.

… وقال: الجهمية والمعتزلة هم الذين يقولون كلام الله مخلوق، يخلقه في بعض الأجسام، فمن ذلك الجسم ابتدأ لا من الله ولا يقوم عندهم بالله كلام ولا إرادة، وبالجملة: فقد اتفق سلف الأمة، وأئمتها: على أن الجهمية من أشر طوائف أهل البدع، حتى أخرجهم كثير من السلف، من الثنتين والسبعين فرقة، قال: وهم أول من عارض الوحي بالرأي.
অথবা তা কোনো বস্তুর অভ্যন্তরে সৃষ্ট (مخلوق), যেমন মুতাজিলা এবং জাহমিয়্যাহদের অভিমত (১)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: সালাফ বা পূর্বসূরিগণ (سلف) তাদের বিদআতী (بدعي) সাব্যস্ত করেছেন যারা বলে যে, আল্লাহর কালাম সৃষ্ট (مخلوق)। আল্লাহ তাআলা কোনো একটি সৃষ্ট বস্তুর মধ্যে এটি সৃষ্টি করেছেন, ফলে তা সেই বস্তু থেকেই শুরু হয়েছে, আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। শায়খ বলেন: যেমনটি জাহমিয়্যাহদের বক্তব্য, যারা সৃষ্টির

প্রবক্তা (خلق القرآن); এদের মধ্যে মুতাজিলা, নাজ্জারিয়া, দিরারিয়া এবং অন্যান্যরা রয়েছে। আর সালাফগণ (سلف) ঐ প্রত্যেক ব্যক্তিকে 'জাহমি' বলে অভিহিত করেন যে আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করে এবং বলে যে: কুরআন সৃষ্ট (مخلوق)

এবং পরকালে আল্লাহকে দেখা যাবে না। কেননা জাহম (ইবনে সাফওয়ান) হলো প্রথম ব্যক্তি যার থেকে সেই বিদআত (بدعة) প্রকাশ পেয়েছিল এবং হিশাম বিন আব্দুল মালিকের খিলাফতকালে তা ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও জা’দ (ইবনুল দিরহাম) দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুতে এর কিছু বিষয়ে তার পূর্ববর্তী ছিল। এরাই সেই সব লোক যারা খলিফাদের তাদের এই মতবাদের দিকে প্ররোচিত করেছিল, এমনকি আল-মামুনের শাসনামলে 'প্রসিদ্ধ পরীক্ষা' (المحنة) এর মাধ্যমে মানুষকে কুরআন সম্পর্কে পরীক্ষা করা হয়েছিল। যারা এই পরীক্ষায় অটল ছিলেন, আল্লাহ সুন্নাহর সেই ইমামগণের মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন, যেমন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং তাঁর অনুসারীরা; আর মুতাওয়াক্কিল-এর শাসনামলে আল্লাহ মানুষের উপর থেকে এই বিপদ দূর করেন।

… তিনি বলেন, আল্লাহর কথা বলার গুণ অস্বীকার করার বিষয়টি সর্বপ্রথম জা’দ প্রকাশ করে এবং হাসান বসরীসহ অন্যান্য মুসলিম পণ্ডিতগণ তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। তার কাছ থেকে জাহম ইবনে সাফওয়ান (এই মতবাদ) গ্রহণ করে এবং আল্লাহ কথা বলেন—এই বিষয়টি অস্বীকার করে। এরপর সে মুসলমানদের সাথে মুনাফিকি করে এবং 'কালাম' (কথা) শব্দটিকে মৌখিকভাবে স্বীকার করে কিন্তু বলে: তাঁর কালাম কোনো স্থানে সৃষ্টি হয়, যেমন বাতাস কিংবা গাছের পাতায়।

… তিনি বলেন: জাহমিয়্যাহ ও মুতাজিলারা হলো তারাই যারা বলে আল্লাহর কালাম সৃষ্ট (مخلوق), তিনি কোনো কোনো বস্তুর মধ্যে তা সৃষ্টি করেন, সুতরাং সেই বস্তু থেকেই এর সূচনা হয়, আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। তাদের নিকট আল্লাহর সত্তার সাথে কোনো কথা বা ইচ্ছা বিদ্যমান নেই। মোদ্দাকথা হলো: উম্মতের সালাফ (سلف) এবং ইমামগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, জাহমিয়্যাহরা বিদআতী দলগুলোর (أهل البدع) মধ্যে নিকৃষ্টতম, এমনকি অনেক সালাফ (سلف) তাদের বাহাত্তরটি ফেরকার (فرقة) অন্তর্ভুক্ত করেননি। তিনি বলেন: ওহীর বিপরীতে নিজস্ব রায়ের (رأي) মাধ্যমে বিরোধিতাকারীদের মধ্যে তারাই প্রথম।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ২২)
أو في جِبريلَ، أو مُحمّدٍ، أو جِسمٍ آخرَ غيرهما، كالكلابية والأشعرية (1) .

--------------------------------------------

(1) فإنهم يقولون: إن القرآن العربي ليس هو كلام الله، وإنماكلامه المعنى القائم بذاته والقرآن العربي خلق ليدل على ذلك المعنى كما نقله الشيخ وغيره، وقال عنهم: إما أن يكون خلق في بعض الأجسام الهوائية، أو غيره، أو ألهمه جبريل فعبر عنه بالقرآن العربي، وألهمه محمد صلى الله عليه وسلم فعبر عنه بالقرآن العربي، أو يكون أخذه جبريل من اللوح المحفوظ أو غيره فهذه الأقوال التي تقال تفريع على هذا القول، يعني بخلق القرآن.

… وقوله: {مُنَزَّلٌ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ} وأمثاله يعلم منه أن القرآن العربي نزل من الله، لا من الهواء، ولا من اللوح المحفوظ، ولا من جسم آخر، ولا من جبريل، ولا محمد، ولا غيرهما، قال: وهذا لا ينافي ما جاء عن ابن عباس، وغيره من السلف، في تفسير قوله: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ} أنه أنزل إلى بيت العزة من السماء الدنيا، ثم أنزل بعد ذلك منجما مفرقا، بحسب الحوادث، ولا ينافي أنه مكتوب في اللوح المحفوظ، قبل نزوله كما قال تعالى: {بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ * فِي لَوْحٍ مَحْفُوظٍ} وقوله: {إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ * فِي كِتَابٍ مَكْنُونٍ} وقوله: {كَلا إِنَّهَا تَذْكِرَةٌ * فَمَنْ شَاءَ ذَكَرَهُ * فِي صُحُفٍ مُكَرَّمَةٍ} وقال: {وَإِنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتَابِ} وكونه مكتوبا في اللوح المحفوظ، وفي صحف مطهرة بأيدي الملائكة، لا ينافي أن يكون جبريل نزل به من الله، سواء كتبه قبل أن يرسل به جبريل أو غير ذلك.

… وإذا كان قد أنزله مكتوبا إلى بيت العزة، جملة واحدة في ليلة القدر، فقد كتبه كله قبل أن ينزله، والله تعالى يعلم ما كان وما يكون، أن لو كان كيف كان يكون، ثم ذكر مقادير

الخلائق وكتب أعمالهم قبل أن يعلموها ثم قال: ومن قال إن جبريل أخذ القرآن عن الكتاب، لم يسمعه من الله، كان هذا باطلا من وجوه، وذكر الآيات الدالة على أنه منزل من الله لا من غيره، وأن الرسول مأمور بتبليغ ما أنزل إليه من ربه، وذكر أن ابن كلاب وموافقيه، وصفوا الله بالكلام في الأزل، لكن لم يجعلوه قادرا على الكلام، ولا متكلما بمشيئته وأن الحقائق المتنوعة شيء واحد، وذلك معلوم الفساد بالضرورة.

… وذكر هو وابن القيم عن الكلابية، ومن اتبعهم كالقلانسي والأشعري، أن كلام الله معنى قائم بذات الله، هو الأمر بكل مأمور، أمر الله به، والخبر عن كل مخبر، أخبر الله عنه، إن عبر عنه بالعربية كان قرآنا، أو بالعبرية كان توراة، أو بالسريانية كان إنجيلا، والأمر والنهي والخبر، ليست أنواعا له، وإنما كلها صفات له إضافية.
أو في جِبريلَ، أو مُحمّدٍ، أو جِسمٍ آخرَ غيرهما، كالكلابية والأشعرية (1) .

--------------------------------------------

(১) কেননা তাঁরা বলেন: আরবি কুরআন আল্লাহর কালাম (كلام الله) নয়, বরং তাঁর কালাম হলো সেই অর্থ যা তাঁর স্বীয় সত্তায় বিদ্যমান (المعنى القائم بذاته)। আর এই আরবি কুরআন সৃষ্টি করা হয়েছে সেই অর্থের ওপর প্রমাণ নির্দেশ করার জন্য, যেমনটি শাইখ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁদের সম্পর্কে বলেছেন: হয় এটি কোনো বায়বীয় সত্তার মধ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে, অথবা অন্য কোথাও। অথবা জিবরাঈলকে এটি ইলহাম করা হয়েছে এবং তিনি তা আরবি কুরআনের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। অথবা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এটি ইলহাম করা হয়েছে এবং তিনি তা আরবি কুরআনের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। অথবা জিবরাঈল এটি লাওহে মাহফুজ বা অন্য কোনো স্থান থেকে গ্রহণ করেছেন। এই যে মতগুলো ব্যক্ত করা হয়, তা মূলত 'কুরআন সৃষ্টি' সংক্রান্ত এই মূল মতবাদেরই শাখা-প্রশাখা।

… এবং আল্লাহর বাণী: {তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ} এবং এই জাতীয় আয়াতসমূহ থেকে এটি জানা যায় যে, আরবি কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (منزل) হয়েছে; কোনো বায়ু থেকে নয়, লাওহে মাহফুজ থেকে নয়, অন্য কোনো সত্তা থেকে নয়, জিবরাঈল কিংবা মুহাম্মদ থেকেও নয়, এবং অন্য কারো পক্ষ থেকেও নয়। তিনি বলেন: এটি ইবনে আব্বাস এবং অন্যান্য সালাফদের থেকে বর্ণিত সেই ব্যাখ্যার সাথে সাংঘর্ষিক নয় যা তাঁরা আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি তা কদরের রাতে নাযিল করেছি} এর তাফসিরে বলেছেন—অর্থাৎ এটি দুনিয়ার আসমানের বাইতুল ইজ্জাহতে নাযিল করা হয়েছে, অতঃপর ঘটনানুসারে পর্যায়ক্রমে ও পৃথকভাবে (منجما مفرقا) নাযিল করা হয়েছে। এটি অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ থাকার সাথেও সাংঘর্ষিক নয়, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বরং এটি এক সম্মানিত কুরআন, যা লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত}। এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কুরআন, যা এক গোপন কিতাবে রক্ষিত}। এবং তাঁর বাণী: {কখনো নয়, এটি তো এক উপদেশবাণী, সুতরাং যে ইচ্ছা করবে সে তা স্মরণ রাখবে, যা অতি মর্যাদাশীল কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ}। এবং তিনি বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই তা উম্মুল কিতাবে রয়েছে}। লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ থাকা এবং ফেরেশতাদের হাতে থাকা পবিত্র কিতাবসমূহে বিদ্যমান থাকা এই বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক নয় যে, জিবরাঈল তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন, চাই তিনি এটি জিবরাঈলের মাধ্যমে পাঠানোর আগে লিখে থাকুন বা অন্য কিছু।

… আর যখন তিনি একে কদরের রাতে পূর্ণাঙ্গভাবে লিখিত অবস্থায় বাইতুল ইজ্জাহতে অবতীর্ণ করেছেন, তখন তিনি তা অবতীর্ণ করার পূর্বেই সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা যা হয়েছে এবং যা হবে—এমনকি যা ঘটেনি তা যদি ঘটত তবে কেমন হতো—তাও জানেন। অতঃপর তিনি মাখলুকাতের তাকদির বা পরিমাপসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং তারা কাজ করার আগেই তাদের আমলসমূহ লিপিবদ্ধ করার কথা বলেছেন। তারপর তিনি বলেন: যে ব্যক্তি বলে যে জিবরাঈল কুরআন কোনো কিতাব থেকে গ্রহণ করেছেন এবং আল্লাহর কাছ থেকে তা শ্রবণ করেননি, তবে তার এই দাবি কয়েক কারণে বাতিল (باطل)। তিনি এই মর্মে আয়াতসমূহ উল্লেখ করেছেন যা প্রমাণ করে যে, কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, অন্য কারো পক্ষ থেকে নয়। আর রাসুলকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে তা প্রচার বা তাবলিগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে কুল্লাব এবং তাঁর অনুসারীরা আল্লাহকে অনাদি কাল থেকেই কালাম বা কথা বলার গুণে গুণান্বিত করেছেন, কিন্তু তাঁরা তাঁকে কথা বলতে সক্ষম (قادرا على الكلام) মনে করেননি এবং আল্লাহ নিজ ইচ্ছায় কথা বলেন—তাও তাঁরা সাব্যস্ত করেননি। তাঁরা মনে করেন যে, বিবিধ হাকিকত বা বাস্তবতাগুলো মূলত একটিই জিনিস, যার অসারতা অকাট্যভাবে সুপরিচিত।

… তিনি এবং ইবনুল কায়্যিম কুল্লাবিয়াহ এবং তাঁদের অনুসারী যেমন কালানিসি ও আশআরী সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহর কালাম হলো তাঁর সত্তায় বিদ্যমান একটি অর্থ (معنى قائم بذات الله), যা সকল নির্দেশিত বিষয়ের জন্য নির্দেশ (أمر) এবং সকল সংবাদ প্রদানকৃত বিষয়ের জন্য সংবাদ (خبر)। যদি তা আরবি ভাষায় প্রকাশ করা হয় তবে তা কুরআন, আর হিব্রু ভাষায় প্রকাশ করা হলে তা তাওরাত, অথবা সিরীয় ভাষায় প্রকাশ করা হলে তা ইনজিল। আর নির্দেশ, নিষেধ এবং সংবাদ—এগুলো তাঁর কালামের বিভিন্ন প্রকার নয়, বরং এগুলো কেবল তাঁর আপেক্ষিক বা অতিরিক্ত কিছু গুণ।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ২৪)
أَو أنَّهُ حُروفٌ وأَصواتٌ، قَديمةٌ أَزَلِيَّةٌ كَالكَلاميَّةِ (1)

--------------------------------------------

(1) من السالمية وغيرهم من أتباع الأئمة الأربعة، وغيرهم قال الشيخ، يقولون: إن كلام الله حروف وأصوات قديمة أزلية وإنها مع ذلك معان تقوم بذلك المتكلم وهم يوافقون الأشعرية والكلابية، في أن تكليم الله، ليس إلا مجرد إدراك للمتكلم ليس هو أمرا منفصلا عن المستمع، وأيضا: قد وافقت ابن كلاب، أن الله لا يتكلم بمشيئته وقدرته وقالت: بل الكلام القديم هو حروف، أو حروف وأصوات لازمة لذات الرب، أزلا وأبدا، لا يتكلم بمشيئته وقدرته، ولا يتكلم بها شيئا بعد

شيء، وهذا أيضا معلوم الفساد بالضرورة، ومنهم من يزعم، أن ذلك القديم هو ما يسمع من العباد من الأصوات بالقرآن وهو أظهر فسادا مما قبله.
অথবা তা হলো বর্ণ (حروف) ও ধ্বনি (أصوات), যা কালামিয়্যাগণের (الكلامية) ন্যায় অনাদি (قديمة) ও চিরন্তন (أزلية) (১)

--------------------------------------------

(১) সালমিয়্যাহ এবং চার ইমামের অনুসারীদের মধ্যকার অন্যান্যদের পক্ষ থেকে, এবং অন্যান্যরা; শাইখ বলেছেন: তারা বলেন যে, আল্লাহর কালাম (كلام الله) হলো অনাদি (قديمة) ও চিরন্তন (أزلية) বর্ণ (حروف) ও ধ্বনি (أصوات); এবং তা সত্ত্বেও সেগুলো বক্তার সত্তায় বিদ্যমান অর্থসমূহ (معان)। তারা আশআরিয়্যাহ ও কুল্লাবিয়্যাহদের সাথে এ বিষয়ে একমত যে, আল্লাহর কথা বলা (تكليم الله) কেবল বক্তার একটি উপলব্ধি মাত্র, এটি শ্রবণকারীর থেকে কোনো পৃথক বিষয় নয়। আরও বলা হয়েছে: তারা ইবনে কুল্লাবের সাথে একমত পোষণ করেছে যে, আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা (مشيئة) ও ক্ষমতা (قدرة) দ্বারা কথা বলেন না। তারা বলে: বরং অনাদি কালাম (الكلام القديم) হলো বর্ণ (حروف), অথবা রবের সত্তার সাথে অনাদি ও অনন্তকাল ধরে অবিচ্ছেদ্য বর্ণ (حروف) ও ধ্বনি (أصوات); তিনি তাঁর ইচ্ছা (مشيئة) ও ক্ষমতা (قدرة) দ্বারা কথা বলেন না এবং ধারাবাহিকভাবে একের পর এক কথা বলেন না।

আর এর অসারতাও অকাট্যভাবে সুনিশ্চিত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করে যে, সেই অনাদি (القديم) বিষয়টি হলো যা বান্দাদের থেকে কুরআনের ধ্বনি হিসেবে শোনা যায়; এটি পূর্বের মতবাদের চেয়েও অধিকতর অসার।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ২৫)
أَو أنَّهُ حادِثٌ قائِمٌ بِذاتِ اللهِ، مُمتَنِعٌ في الأزل، كالهاشمية والكرامية (1) .

--------------------------------------------

(1) أي: وبدع السلف، قول من قال: إن القرآن حادث، قائم بذات الله، بعد أن لم يكن متكلما بكلام، بل ما زال عندهم قادرا على الكلام، وهو عندهم لم يزل متكلما بمعنى أنه قادر على الكلام، وإلا فوجود الكلام عندهم في الأزل ممتنع كوجود الأفعال عندهم وعند من وافقهم، من أهل الكلام، كالمعتزلة وأتباعهم وهم يقولون: إنه حروف وأصوات حادثة بذات الرب، بقدرته ومشيئته ولا يقولون إن الأصوات المسموعة، والمداد الذي في المصحف قديم، بل يقولون: إن ذلك محدث كما قال الشيخ.

… وقال أيضا عنهم: لكنه لم يمكنه أن يتكلم بمشيئته في الأزل لامتناع حوادث لا أول لها وهؤلاء جعلوا الرب في الأزل غير قادر على الكلام بمشيئته ولا على الفعل.

… وذكر ابن القيم: مذهب الاتحادية وأنهم يقولون: كل كلام في الوجود كلام الله، بناء على أصلهم الفاسد: أن الله سبحانه هو عين هذا الوجود، وذكر المذاهب المتقدم ذكرها ثم قال: والبراهين العقلية والأدلة القطعية شاهدة ببطلان هذه المذاهب كلها، وأنها مخالفة لصريح العقل والنقل، والعجب أنها دائرة بين فضلاء العالم لا يكادون يعرفون غيرها.

… قال الشيخ: وكان قد كثر ظهور هؤلاء، في أول المائة الثانية والثالثة في إمارة المأمون بسبب تعريب كتب الروم، المشركين الصابئين الذين كانوا قبل النصارى، ومن أشبههم من فارس والهند، وظهرت هذه المقالة في أهل العلم والكلام، وفي أهل السيف والإمارة وصار في أهلها من الخلفاء والأمراء، والولاة والقضاة والفقهاء، ما امتحنوا به المؤمنين والمؤمنات، والمسلمين والمسلمات الذين اتبعوا ما أنزل إليهم من ربهم، ولم يبدلوا ولم يبتدعوا وذلك لقصور وتفريط من أكثرهم في معرفة حقيقة ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم وأتباعه وإلا فلو كان كثيرا فيهم لم يتمكن أولئك المبتدعة لما يخالف دين الإسلام، من التمكن منهم.

… وقال: ولهذا وافقهم في بعض ما ابتدعوه كثير، من أهل الفقه، والحديث والتصوف وذكر ابن القيم أنه لما ابتلي الناس بأهل البدع وقام سوقها أقام الله لدينه شيخ الإسلام، فغزاهم مدة حياته باليد والقلب واللسان، وكشف للناس باطلهم وبين تلبيسهم وتدليسهم، وقابلهم بصريح المعقول وصحيح المنقول، وأشفى واشتفى فجزاه الله أحسن الجزاء.
অথবা এটি আল্লাহর সত্তায় উদ্ভূত (حادث) একটি বিষয়, যা অনাদিকাল থেকে বিদ্যমান থাকা অসম্ভব (ممتنع), যেমন হাশেমিয়া ও কাররামিয়াদের মত (১)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: এবং সালাফদের দৃষ্টিতে এটি একটি বিদআত (بدعة); যারা বলে যে কুরআন হলো আল্লাহর সত্তায় সৃষ্ট বা নতুনভাবে উৎপন্ন (حادث), অথচ আল্লাহ পূর্বে কথা বলতেন না; বরং তাদের মতে আল্লাহ সর্বদা কথা বলতে সক্ষম ছিলেন। তাদের নিকট আল্লাহ অনাদিকাল থেকেই কথা বলায় সক্ষম এই অর্থে যে, তিনি কথা বলতে পারতেন। অন্যথায়, তাদের এবং তাদের অনুসারী ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের (যেমন মুতাজিলা ও তাদের অনুসারী) মতে অনাদিকাল থেকে কথার অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব (ممتنع), যেমনটি তাদের নিকট ক্রিয়াবলির অস্তিত্ব থাকাও অসম্ভব। তারা বলে: এটি বর্ণ ও শব্দ সমষ্টি যা রবের সত্তায় নতুনভাবে উৎপন্ন (حادث), যা তাঁর ক্ষমতা ও ইচ্ছায় সৃষ্টি হয়েছে। তারা এটি বলে না যে শ্রুত শব্দসমূহ এবং মুসহাফের কালি অনাদি; বরং তারা বলে যে এগুলো নতুনভাবে সৃষ্ট (محدث), যেমনটি শায়খ উল্লেখ করেছেন।

… তিনি তাদের সম্পর্কে আরও বলেন: তবে অনাদি কাল থেকে স্বীয় ইচ্ছায় কথা বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না, কারণ শুরুহীন কোনো নতুন ঘটনার (حوادث) অস্তিত্ব থাকা তাদের মতে অসম্ভব (امتناع)। এরা রবকে অনাদি কালে স্বীয় ইচ্ছায় কথা বলতে বা কোনো কাজ করতে অক্ষম সাব্যস্ত করেছে।

… ইবনুল কাইয়্যিম ইত্তিহাদিদের (সর্বেশ্বরবাদী) মতবাদ উল্লেখ করেছেন যে, তারা বলে: এই মহাবিশ্বের সকল কথাই আল্লাহর কথা। তাদের এই ভ্রান্ত মূলনীতির ভিত্তিতে যে—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা স্বয়ং এই অস্তিত্বেরই নির্যাস। তিনি পূর্বে বর্ণিত মতবাদগুলো উল্লেখ করে বলেন: আকলি বা যুক্তিনির্ভর প্রমাণ এবং অকাট্য (قطعية) দলিলসমূহ এই সকল মতবাদের অসারতা প্রমাণ করে। এগুলো সুস্পষ্ট বিবেক ও বর্ণিত দলিলের (نقل) বিরোধী। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই মতবাদগুলো দুনিয়ার বিদগ্ধ পণ্ডিতদের মাঝেও প্রচলিত, অথচ তারা এর বাইরে অন্য কিছু প্রায় জানেই না।

… শায়খ বলেন: দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীর শুরুতে মামুনের শাসনামলে এদের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায়। এর কারণ ছিল রোমানদের কিতাবসমূহের অনুবাদ—যারা ছিল খ্রিস্টানদের পূর্ববর্তী মুশরিক সাবিয়ি এবং পারস্য ও ভারতের অনুরূপ লোকদের কিতাবসমূহের অনুবাদের কারণেও এটি ঘটেছিল। এই মতবাদটি আলেম, কালাম শাস্ত্রবিদ এবং ক্ষমতাধর শাসক শ্রেণির মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি খলিফা, আমির, গভর্নর, বিচারক এবং ফকিহদের একদল এতে প্রভাবিত হয়ে মুমিন পুরুষ-নারী এবং মুসলিমদের পরীক্ষায় ফেলেন—যারা তাদের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বিষয়ের অনুসরণ করতেন এবং দ্বীন পরিবর্তন বা কোনো বিদআত (ابتدعوا) করেননি। এর কারণ ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর অনুসারীরা যা নিয়ে এসেছিলেন তার প্রকৃত বাস্তবতা উপলব্ধিতে অধিকাংশের ত্রুটি ও অবহেলা। অন্যথায়, যদি তাদের মাঝে সঠিক জ্ঞান পর্যাপ্ত থাকত, তবে সেই বিদআতিরা (مبتدعة) ইসলাম বিরোধী এই মতবাদগুলো তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে সক্ষম হতো না।

… তিনি বলেন: এই কারণেই অনেক ফিকহবিদ, হাদিস বিশারদ এবং সুফি তাদের উদ্ভাবিত কিছু বিদআতের (ابتدعوه) সাথে একমত হয়েছিলেন। ইবনুল কাইয়্যিম উল্লেখ করেছেন যে, যখন মানুষ বিদআতিদের (أهل البدع) মাধ্যমে পরীক্ষায় পতিত হলো এবং বিদআতের বাজার রমরমা হয়ে উঠল, তখন আল্লাহ তাঁর দ্বীনের জন্য শায়খুল ইসলামকে দাঁড় করালেন। তিনি তাঁর সারা জীবন হাত, অন্তর ও জিহ্বা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তিনি মানুষের সামনে তাদের বাতিল আকিদা উন্মোচন করেন এবং তাদের বিভ্রান্তি ও প্রতারণা (تدليس) স্পষ্ট করে দেন। তিনি সুস্পষ্ট যুক্তি এবং বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণিত দলিলের মাধ্যমে তাদের মোকাবিলা করেন। তিনি মানুষকে সত্যের সন্ধান দিয়ে তৃপ্ত করেছেন এবং নিজেও তৃপ্ত হয়েছেন। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ২৬)
ومَن قالَ: لَفظِي بِالقُرآنِ مَخلوقٌ فَجَهمِيٌّ، أَو غير مخلوق فمبتدع (1) .

--------------------------------------------

(1) قال الإمام أحمد وغيره: وأن القرآن الذي يقرؤه المسلمون هو كلام الله على الحقيقة، وحيث تصرف كلام الله فهو غير مخلوق، وقال الشيخ: أنكر الأئمة قول من قال: لفظي بالقرآن مخلوق، أو غير مخلوق، وقالوا: من قال مخلوق، فهو جهمي ومن قال غير مخلوق، فهو مبتدع، وكذلك قالوا في التلاوة والقراءة لأن اللفظ والتلاوة والقراءة يراد بها المصدر الذي هو فعل العبد، وأفعال العباد مخلوقة فمن جعل شيئا من أفعالهم وأصواتهم وغير ذلك من صفاتهم غير مخلوق فهو مبتدع، ويراد باللفظ نفس الكلام الملفوظ كما يراد بالتلاوة والقراءة نفس الكلام وهو القرآن نفسه.

… ولا ريب أن من حدث عن النبي صلى الله عليه وسلم بحديث إذا سمعوه قالوا: هذا كلام النبي لأنهم قد علموا أنه تكلم بذلك الكلام، لفظه ومعناه وتكلم به بصوته، ثم المبلغ له عنه بلغه بصوت نفسه، فمن قال: إن هذا القرآن العزيز المسموع، ليس هو كلام الله، أو هو كلام القارئين كان فساد قوله معلوما بالضرورة شرعا وعقلا، كما أن من قال هذا الصوت المسموع ليس هو صوت العبد، أو هو صوت الله، كان فساد قوله معلوما بالضرورة شرعا وعقلا، وليس لأحد من الوسائط فيه، إلا التبليغ بأفعاله، لم يحدث أحد منهم شيئا من حروفه ولا نظمه ولا معانيه.

… وذكر ابن القيم: أن المنع من أحمد في النفي والإثبات من كمال علمه باللغة والسنة، وتحقيقه لهذا الباب والذي قصده

أن اللفظ يراد به أمران، أحدهما: الملفوظ نفسه، وهو غير مقدور للعبد، ولا فعل له، والثاني: التلفظ به والأداء له وفعله، فإطلاق الخلق على اللفظ، قد يوهم المعنى الأول، وهو خطأ، وإطلاق نفي الخلق عليه قد يوهم المعنى الثاني، وهو خطأ فمنع الإطلاقين.

… وذكر هو وشيخ الإسلام: اضطراب الناس في كلام الله، ثم قال: وأما التكفير فالصواب أن من اجتهد من أمة محمد صلى الله عليه وسلم وقصد الحق فأخطأ لم يكفر، بل يغتفر له خطؤه ومن تبين له ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم فشاق الرسول، من بعد ما تبين له الهدى واتبع غير سبيل المؤمنين، فهو كافر، ومن اتبع هواه وقصر في طلب الحق، وتكلم بلا علم فهو عاص، مذنب ثم قد يكون فاسقا وقد تكون له حسنات ترجح على سيئاته.

… فالتكفير يختلف، بحسب اختلاف حال الشخص فليس كل مخطئ ولا مبتدع، ولا جاهل، ولا ضال، يكون كافرا، بل ولا فاسقا بل ولا عاصيا، لا سيما في مثل مسألة الكلام، قد غلط فيها خلق من أئمة الطوائف المعروفين عند الناس بالعلم والدين، وغالبهم يقصد وجها من الحق، فيتبعه ويعزب عنه وجه آخر، لا يحققه فيبقى عارفا بعض الحق جاهلا بعضه، بل منكرا له، ومن هنا نشأ نزاعهم.
এবং যে ব্যক্তি বলবে: ‘আমার কুরআনের উচ্চারণ সৃষ্টি (مخلوق)’, সে একজন জাহমি; অথবা ‘সৃষ্টি নয়’, তবে সে একজন নব উদ্ভাবনকারী (مبتدع) (১) ।

--------------------------------------------

(১) ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্যরা বলেছেন: আর মুসলমানরা যে কুরআন পাঠ করে তা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কালাম, এবং আল্লাহর কালামকে যেভাবে ব্যবহার করা হোক না কেন, তা সৃষ্টি নয় (غير مخلوق)। আর শাইখ বলেছেন: ইমামগণ ঐ ব্যক্তির বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে বলে: ‘আমার কুরআনের উচ্চারণ সৃষ্টি (مخلوق)’ অথবা ‘সৃষ্টি নয় (غير مخلوق)’; এবং তারা বলেছেন: যে ব্যক্তি বলবে ‘সৃষ্টি (مخلوق)’, সে একজন জাহমি এবং যে বলবে ‘সৃষ্টি নয় (غير مخلوق)’, সে একজন নব উদ্ভাবনকারী (مبتدع)। তেমনিভাবে তারা তিলাওয়াত ও কিরাআত সম্পর্কেও অনুরূপ বলেছেন, কারণ উচ্চারণ, তিলাওয়াত ও কিরাআত বলতে সেই উৎস বা ক্রিয়ামূল (مصدر) বোঝানো হয় যা বান্দার কাজ; আর বান্দাদের কার্যাবলি সৃষ্টি (مخلوقة)। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের কাজ, শব্দ এবং তাদের অন্যান্য গুণাবলির কোনো কিছুকে সৃষ্টি নয় (غير مخلوق) হিসেবে গণ্য করবে, সে একজন নব উদ্ভাবনকারী (مبتدع)। আর উচ্চারণ বলতে খোদ উচ্চারিত কথাকেও বোঝানো হয়, যেমনটি তিলাওয়াত ও কিরাআত দ্বারা খোদ বক্তব্য অর্থাৎ কুরআনকেই বোঝানো হয়।

… এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করে, তা শুনে লোকেরা বলে: ‘এটি নবীর কথা’; কারণ তারা নিশ্চিতভাবে জানে যে তিনি সেই কথাটি উচ্চারণ করেছেন—তার শব্দ ও অর্থ উভয়সহ—এবং তিনি তা নিজ কণ্ঠে ব্যক্ত করেছেন। অতঃপর তার পক্ষ থেকে প্রচারকারী তা নিজ কণ্ঠে পৌঁছে দিয়েছেন। অতএব যে ব্যক্তি বলবে: ‘এই শ্রবণকৃত মর্যাদাবান কুরআন আল্লাহর কালাম নয়, অথবা এটি পাঠকারীদের কথা’, তবে শরয়ি ও যৌক্তিক অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে তার বক্তব্যের অসারতা সুস্পষ্ট। যেমনটি কেউ যদি বলে: ‘এই শ্রবণকৃত আওয়াজ বান্দার আওয়াজ নয়, অথবা এটি আল্লাহর আওয়াজ’, তবে শরয়ি ও যৌক্তিক অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে তার বক্তব্যের অসারতাও সুস্পষ্ট। আর এক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীদের কারোরই তার নিজ কার্যাবলির মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া ব্যতীত অন্য কোনো ভূমিকা নেই; তাদের কেউ এর কোনো অক্ষর, বিন্যাস বা অর্থের কোনো কিছুই নতুন করে সৃষ্টি করেনি।

… ইবনুল কাইয়্যিম উল্লেখ করেছেন: নেতিবাচক ও ইতিবাচক উভয় প্রকার বক্তব্য থেকে ইমাম আহমাদের এই নিষেধাজ্ঞা তার ভাষা ও সুন্নাহর পরিপূর্ণ জ্ঞান এবং এই বিষয়ের সুগভীর তাহকিকেরই বহিঃপ্রকাশ। আর তিনি যা উদ্দেশ্য করেছেন তা হলো

‘উচ্চারণ’ (لفظ) দ্বারা দুটি বিষয় বোঝানো হয়: প্রথমটি হলো খোদ উচ্চারিত বিষয়টি (ملفوظ), যা বান্দার ক্ষমতার আয়ত্তে নয় এবং এটি তার কাজও নয়। আর দ্বিতীয়টি হলো উচ্চারণ করার প্রক্রিয়া, এর সম্পাদন ও কাজ। তাই ‘উচ্চারণ’ (لفظ)-কে ঢালাওভাবে সৃষ্টি (خلق) বলা প্রথম অর্থের ভ্রম সৃষ্টি করতে পারে, যা ভুল; আবার এর থেকে ঢালাওভাবে সৃষ্টির বিষয়টিকে অস্বীকার করা দ্বিতীয় অর্থের ভ্রম তৈরি করতে পারে, যা-ও ভুল। ফলে তিনি উভয় প্রকার ঢালাও প্রয়োগ নিষিদ্ধ করেছেন।

… তিনি এবং শাইখুল ইসলাম আল্লাহর কালামের বিষয়ে মানুষের মতবিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেন: আর তাকফিরের (কাফির সাব্যস্ত করার) বিষয়ে সঠিক মত হলো—মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি ইজতিহাদ করে সত্যের অন্বেষণ করেছে কিন্তু ভুল করেছে, তাকে কাফির বলা হবে না, বরং তার ভুল ক্ষমাযোগ্য। তবে যার কাছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা সুস্পষ্ট হয়েছে, অতঃপর হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর সে রাসুলের বিরোধিতা করল এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করল, তবে সে কাফির। আর যে ব্যক্তি নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করল এবং সত্য অন্বেষণে অবহেলা করল এবং জ্ঞান ছাড়াই কথা বলল, সে অবাধ্য (عاص) ও পাপী; এরপর সে পাপাচারী (فاسق) হতে পারে, আবার তার এমন কিছু নেক আমলও থাকতে পারে যা তার মন্দ কাজগুলোর ওপর প্রাধান্য পাবে।

… সুতরাং তাকফির বা কাফির সাব্যস্ত করার বিষয়টি ব্যক্তির অবস্থার ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়। প্রত্যেক ভুলকারী, নব উদ্ভাবনকারী (مبتدع), অজ্ঞ অথবা পথভ্রষ্ট ব্যক্তিই কাফির হয়ে যায় না; এমনকি সে পাপাচারী (فاسق) বা অবাধ্য (عاص) হয় না—বিশেষ করে ‘কালাম’ বা আল্লাহর কথা সম্পর্কিত মাসআলার মতো বিষয়ে, যেখানে জ্ঞান ও দ্বীনের জন্য মানুষের কাছে সুপরিচিত বিভিন্ন ঘরানার বহু ইমাম ভুল করেছেন। তাদের অধিকাংশ সত্যের একটি দিক উদ্দেশ্য করেছেন এবং সেটিই অনুসরণ করেছেন, আর অন্য দিকটি তাদের অগোচরে রয়ে গেছে যার তারা সঠিক অনুসন্ধান করেননি। ফলে তারা সত্যের কিছু অংশ জানেন এবং কিছু অংশ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকেন, বরং তা অস্বীকারও করে বসেন; আর এখান থেকেই তাদের বিবাদের সূত্রপাত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ২৯)
مواضع نزوله (1) .

 

أجمعوا على أن القرآن مائة وأربع عشرة سورة (2) .

--------------------------------------------

(1) أي: ذكر مواضع نزول القرآن، من الله عز وجل، على محمد صلى الله عليه وسلم وأوقاته، ومعرفة علم نزوله وجهاته، وترتيب ما نزل بمكة والمدينة وغيرهما: من أشرف علوم القرآن ومن فوائده، العلم بالمتأخر إن كان ناسخا، أو مخصصا أو غير ذلك.

(2) أي: أجمع أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم في زمن عثمان، على ترتيب سور القرآن في المصحف مائة وأربع عشرة سورة، وقيل الأنفال وبراءة سورة وشبهة من قال ذلك: أنها لم تكتب بينهما البسملة ويرده تسمية النبي صلى الله عليه وسلم لهما، وكان في مصحف ابن مسعود مائة واثنتي عشرة سورة، لأنه لم يكتب المعوذتين وفي مصحف أبي: مائة وست عشرة سورة لأنه كتب في آخره سورتي: اللهم إنا نستعينك، واللهم إياك نعبد واستقر الأمر على مائة وأربع عشر سورة؛ والسورة قيل، من الإبانة، والارتفاع وقيل: لشرفها وارتفاعها، كسور البلد، وقيل: لكونها قطعة من القرآن، وجزاء منه، وقيل: من الجمع والإحاطة لآياتها.
অবতরণের স্থানসমূহ (১)।

 

তাঁরা একমত হয়েছেন (أجمعوا) যে, কুরআন একশত চৌদ্দটি সূরা (২)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর কুরআন অবতরণের স্থানসমূহ ও এর সময়কাল উল্লেখ করা এবং এর অবতরণ বিষয়ক জ্ঞান ও এর দিকসমূহ জানা এবং মক্কা, মদিনা ও অন্যান্য স্থানে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ক্রমবিন্যাস জানা কুরআনের সর্বোত্তম জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এর অন্যতম উপকারিতা হলো, পরবর্তী অবতীর্ণ বিষয় সম্পর্কে অবগত হওয়া; যদি তা রহিতকারী (ناسخ), বা সুনির্দিষ্টকারী (مخصص) অথবা অন্য কিছু হয়।

(২) অর্থাৎ: উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ মুসহাফে কুরআনের সূরাগুলোর বিন্যাসের ক্ষেত্রে একশত চৌদ্দটি সূরার ওপর ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, আনফাল ও বারাআত (তওবা) একই সূরা; যারা এটি বলেন তাদের সংশয় হলো: এই দুই সূরার মাঝে বিসমিল্লাহ লেখা হয়নি। তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক এ দুটির পৃথক নামকরণ তাদের এই মতকে প্রত্যাখ্যান করে। ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুসহাফে একশত বারোটি সূরা ছিল, কারণ তিনি মুআউওয়াযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস) লিখতেন না। উবাই (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুসহাফে একশত ষোলোটি সূরা ছিল, কারণ তিনি এর শেষে 'আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা' এবং 'আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না'বুদু' নামক দুটি সূরা লিখেছিলেন। অবশেষে একশত চৌদ্দটি সূরার ওপর বিষয়টি স্থির হয়। 'সূরা' শব্দটি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি স্পষ্টতা ও উচ্চতা থেকে উদ্ভূত। আবার বলা হয়েছে: এর মর্যাদা ও উচ্চতার কারণে একে সূরা বলা হয়, যেমনটি শহরের প্রাচীরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেউ বলেছেন: যেহেতু এটি কুরআনের একটি খণ্ড বা অংশ। আবার কেউ বলেছেন: এর আয়াতসমূহকে একত্রিত ও পরিবেষ্টিত করে রাখার কারণে একে সূরা বলা হয়।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ৩০)
والمشهور: سبع وعشرون مدني (1) وباقيه مكي، واستنثي آيات (2) .

--------------------------------------------

(1) ورد عن ابن عباس، وقتادة، وأبي بن كعب، وغيرهم، أنه نزل في المدينة سبع وعشرون سورة من القرآن، البقرة، وآل عمران، والنساء، والمائدة والأنفال، وبراءة والرعد، والنحل، والحج والنور، والأحزاب، ومحمد، والفتح والحجرات، والرحمن والحديد، والمجادلة، والحشر، والممتحنة والصف، والجمعة، والمنافقون والتغابن والطلاق والتحريم إلى رأس العشر، وإذا زلزلت وإذا جاء نصر الله وسائر السور بمكة، وروي غير ذلك.

… قال القاضي: وغيره: المرجع في معرفة المكي من المدني، لحفظ الصحابة والتابعين ولم يرد عن النبي صلى الله عليه وسلم في ذلك قول، لأنه لم يؤمر به، ولم يجعل الله علم ذلك من فرائض الأمة، وإن وجب في بعضه على أهل العلم، معرفة تاريخ الناسخ والمنسوخ فقد يعرف ذلك بغير نص الرسول صلى الله عليه وسلم وكان ابن مسعود وغيره يقول: «ما نزلت آية من كتاب الله، إلا ونحن نعلم فيمن نزلت؟ وأين نزلت» .

(2) أي: وباقي القرآن العزيز، سوى السبع والعشرين سورة على ما تقدم، نزل بمكة ويدخل في ذلك: ما نزل بضواحيها وكذا المدينة وورد عن ابن عباس وغيره: ذكر ما نزل بمكة وما استثني من الآيات، مما نزل بمكة وقيل والمدينة فروى أبو

حاتم وغيره، عن مجاهد، أنه سأل ابن عباس عن ذلك، فقال سورة الأنعام، نزلت بمكة جملة واحدةن، فهي مكية، إلا ثلاث آيات منها نزلت بالمدينة {قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ} إلى تمام الآيات الثلاث، وسورة النحل، سوى ثلاث آيات من آخرها، نزلت بالمدينة منصرفة من أحد؛ والحج سوى ثلاث آيات {هَذَانِ خَصْمَانِ} إلى تمام الثلاث، نزلت بالمدينة، وسورة الشعراء، سوى {وَالشُّعَرَاءُ} إلى آخرها، ولقمان، سوى ثلاث من {وَلَوْ أَنَّمَا فِي الْأَرْضِ} والزمر سوى ثلاث من {يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا} والتغابن إلا آيات من آخرها والمزمل إلا آيتين {إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ} وعدا المدنيات كما تقدم، باقيه مكي، وروي عن قتادة وعكرمة والحسن وغيرهم، نحو ذلك، وقيل: غير ذلك، وذكر ابن كثير وغيره تفصيل المدني والمكي وما استثني.

… والآية من العلامة على انقطاع الكلام، عن الذي قبلها وعن الذي بعدها، وانفصالها وقيل: لأنها جماعة حروف من القرآن وطائفة منه، وقيل: لأنها عجب يعجز البشر عن التكلم بمثلها.

… وعدد آيات القرآن الكريم: ستة آلاف قيل: ومائتان وأربعة عشرة وقيل غير ذلك.
এবং প্রসিদ্ধ (المشهور) মতানুসারে: সাতাশটি মাদানি (مدني) (১) এবং অবশিষ্টগুলো মক্কি (مكي), আর কিছু আয়াত (الآية) এর ব্যতিক্রম (২) ।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আব্বাস, কাতাদাহ, উবাই ইবনে কাব এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মদিনায় কুরআনের সাতাশটি সূরা নাযিল হয়েছে। সেগুলো হলো: আল-বাকারা, আল-ইমরান, আন-নিসা, আল-মায়িদা, আল-আনফাল, বারাআত (আত-তাওবা), আর-রাদ, আন-নাহল, আল-হাজ্জ, আন-নূর, আল-আহজাব, মুহাম্মাদ, আল-ফাতহ, আল-হুজুরাত, আর-রহমান, আল-হাদিদ, আল-মুজাদালা, আল-হাশর, আল-মুমতাহিনা, আস-সাফ, আল-জুমুআ, আল-মুনাফিকুন, আত-তাগাবুন, আত-তালাক এবং আত-তাহরিম দশম আয়াতের শুরু পর্যন্ত, এবং 'ইজা জুলজিলাত' (আল-যিলযাল) ও 'ইজা জাআ নাসরুল্লাহ' (আন-নাসর)। আর অন্যান্য সকল সূরা মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে, তবে এর ব্যতিক্রম বর্ণনাও রয়েছে।

… কাজি এবং অন্যরা বলেছেন: মক্কি (مكي) এবং মাদানি (مدني) সূরা শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো সাহাবী (صحابة) ও তাবিঈগণের (التابعين) মুখস্থ বর্ণনা। এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো বক্তব্য বর্ণিত হয়নি, কারণ তাঁকে এর নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং আল্লাহ তাআলা এই জ্ঞান অর্জনকে উম্মতের জন্য আবশ্যিক কর্তব্য করেননি। যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে আলেমগণের জন্য নাসিখ (ناسخ) এবং মানসুখ (منسوখ) এর ইতিহাস জানা আবশ্যক, তবে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সরাসরি উক্তি ছাড়াও জানা সম্ভব। ইবনে মাসউদ এবং অন্যরা বলতেন: "আল্লাহর কিতাবের এমন কোনো আয়াত (الآية) নাযিল হয়নি, যার সম্পর্কে আমরা জানি না যে তা কার বিষয়ে এবং কোথায় নাযিল হয়েছে।"

(২) অর্থাৎ: পূর্বে উল্লিখিত সাতাশটি সূরা ব্যতীত আল-কুরআনের বাকি অংশ মক্কায় নাযিল হয়েছে। এর মধ্যে মক্কার উপকণ্ঠগুলোতে যা নাযিল হয়েছে তাও অন্তর্ভুক্ত এবং মদিনার ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। ইবনে আব্বাস ও অন্যদের থেকে মক্কায় যা নাযিল হয়েছে এবং মক্কি (مكي) সূরার মধ্যে যে আয়াতগুলো ব্যতিক্রম (অর্থাৎ মদিনায় নাযিল হওয়া) সে সম্পর্কে বর্ণনা পাওয়া যায়। আবার মাদানি (مدني) সূরার ব্যতিক্রম আয়াত সম্পর্কেও বলা হয়েছে। আবু হাতিম এবং অন্যরা মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবনে আব্বাসকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: সূরা আল-আনআম সম্পূর্ণ একবারে মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে, তাই এটি মক্কি (مكي); তবে এর তিনটি আয়াত মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে, যা শুরু হয়েছে {বলুন: এসো, আমি তিলাওয়াত করি} থেকে তিনটি আয়াত শেষ হওয়া পর্যন্ত। আর সূরা আন-নাহলের শেষ তিন আয়াত ব্যতীত বাকি অংশ মক্কি, যা উহুদ যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে মদিনায় নাযিল হয়েছে। সূরা আল-হাজ্জের {এরা দুজন বিবাদমান পক্ষ} থেকে তিনটি আয়াত মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। সূরা আশ-শুআরা এর {এবং কবিগণ} থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যতীত বাকি সব মক্কি। সূরা লুকমানের {আর পৃথিবীতে যদি (যত গাছ আছে)} থেকে তিনটি আয়াত ব্যতীত সব মক্কি। সূরা আজ-জুমারের {হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ} থেকে তিনটি আয়াত ব্যতীত সব মক্কি। সূরা আত-তাগাবুনের শেষ দিকের কিছু আয়াত ব্যতীত এবং সূরা আল-মুজ্জাম্মিলের {নিশ্চয়ই আপনার রব জানেন} দুটি আয়াত ব্যতীত বাকি সব মক্কি। আর পূর্বে বর্ণিত মাদানি (مدني) সূরাগুলো বাদে অবশিষ্ট সব মক্কি (مكي)। কাতাদাহ, ইকরিমাহ, হাসান এবং অন্যদের থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আবার ভিন্ন মতও রয়েছে। ইবনে কাসির এবং অন্যরা মাদানি (مدني), মক্কি (مكي) এবং ব্যতিক্রম আয়াতসমূহের বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করেছেন।

… আর আয়াত (الآية) হলো সেই চিহ্ন যা তার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী বক্তব্য থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার নির্দেশ দেয়। কেউ কেউ বলেন: যেহেতু এটি কুরআনের কিছু অক্ষরের সমষ্টি বা তার একটি অংশ, তাই একে আয়াত (الآية) বলা হয়। আবার বলা হয়েছে: এটি এক বিস্ময়কর বিষয় যা রচনা করতে মানুষ অক্ষম।

… আর পবিত্র কুরআনের মোট আয়াত (الآية) সংখ্যা হলো ছয় হাজার; কেউ বলেছেন দুইশত চৌদ্দটি, আবার ভিন্ন মতও রয়েছে।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ৩১)
ومنه: النهاري، والليلي والصيفي والشتائي (1) .

--------------------------------------------

(1) أي، ومن القرآن: ما نزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم بالنهار، وهو أكثر القرآن، ومنه ما نزل بالليل، قيل منه آية تحويل القبلة، قال ابن عمر: أنزل عليه الليلة قرآن، وقد أمر أن يستقبل القبلة، ومنه أواخر آل عمران، فروى ابن حبان وغيره من حديث عائشة أنه قال: أنزل عليَّ هذه الليلة {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ} الآيات ومنه: {وَاللهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ} وآية: الثلاثة الذين خلفوا وقيل: وسورة الأنعام، ومريم، وغير ذلك، ومنه ما هو بالليل والنهار كآية التيمم.

… ومنه ما نزل بالصيف كآية الكلالة، وفي الشتاء، كالتي في أول السورة والآيات النازلة في غزوة تبوك، في شدة الحر {وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ ائْذَنْ لِي} وآيات الذين جاءوا بالإفك، نزلت في يوم شات وليلة الأحزاب {اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ} حتى قال شيخ الإسلام: سورة الحج، فيها مكي ومدني، وليلي ونهاري، وسفري وحضري، وشتائي وصيفي.

… وقال ابن العربي: من القرآن ما نزل سمائيا وأرضيا، وما نزل بين السماء والأرض، وما نزل تحت الأرض في الغار، يعني سورة المرسلات، ولمسلم: انتهى إلى سدرة المنتهى، وفيه فأعطي خواتيم سورة البقرة.
ومنه: দিবাভাগে অবতীর্ণ (النهاري), নৈশকালীন (الليلي), গ্রীষ্মকালীন (الصيفي) এবং শীতকালীন (الشتائي) (১) ।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ কুরআনের অন্তর্ভুক্ত হলো এমন বিষয়: যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দিবাভাগে অবতীর্ণ হয়েছে, আর এটিই কুরআনের অধিকাংশ। আবার এর কিছু অংশ রাতে অবতীর্ণ হয়েছে; বলা হয়ে থাকে যে কিবলা পরিবর্তনের আয়াত এর অন্তর্ভুক্ত। ইবনে উমর (রা.) বলেন: আজ রাতে তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাঁকে কিবলার দিকে মুখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সূরা আল-ইমরানের শেষ দিকের আয়াতসমূহ; ইবনে হিব্বান ও অন্যান্যরা আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আজ রাতে আমার ওপর {নিশ্চয় আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে...} আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়েছে।" আরও এর অন্তর্ভুক্ত হলো: {আল্লাহ তোমাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন} আয়াতটি এবং সেই তিন ব্যক্তির আয়াত যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিলেন। আরও বলা হয়েছে: সূরা আল-আনআম, মারইয়াম এবং অন্যান্য সূরাগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত। আবার কিছু আয়াত রাতে ও দিনে উভয় সময়েই অবতীর্ণ হয়েছে, যেমন তায়াম্মুমের আয়াত।

… আর কিছু আয়াত গ্রীষ্মকালে অবতীর্ণ হয়েছে যেমন 'কালালাহ' সংক্রান্ত আয়াত। আর শীতকালে অবতীর্ণ হয়েছে যেমন সূরার শুরুর আয়াতগুলো এবং প্রচণ্ড গরমে তাবুক যুদ্ধের সময় অবতীর্ণ আয়াতসমূহ: {তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে আমাকে অব্যাহতি দিন...}। এছাড়া ইফক বা অপবাদের ঘটনার আয়াতগুলো শীতের দিনে অবতীর্ণ হয়েছিল। আর আহযাব যুদ্ধের রাতে অবতীর্ণ হয়েছিল: {তোমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করো...}। এমনকি শায়খুল ইসলাম বলেছেন: সূরা আল-হজ্জ-এর মধ্যে মক্কী (مكي), মাদানী (مدني), নৈশকালীন (الليلي), দিবাভাগে অবতীর্ণ (النهاري), সফরকালীন (سفري), আবাসনকালীন (حضري), শীতকালীন (الشتائي) এবং গ্রীষ্মকালীন (الصيفي) অংশ বিদ্যমান।

… ইবনুল আরাবী বলেছেন: কুরআনের কিছু অংশ আসমানিভাবে এবং কিছু জমিনে অবতীর্ণ হয়েছে; কিছু আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানে, আবার কিছু জমিনের নিচে গুহায় অবতীর্ণ হয়েছে, অর্থাৎ সূরা আল-মুরসালাত। আর সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে: তিনি সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন এবং সেখানে তাঁকে সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো প্রদান করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ৩২)
وأَوَّل ما أُنزِلَ: اقْرَأ ثُمَّ الْمُدَّثِّرْ (1) وآخِرُهُ: المائدة وبراءة

--------------------------------------------

(1) أي: وأول ما أنزل من القرآن، على رسول الله صلى الله عليه وسلم صدر سورة اقرأ يوم الاثنين بلا خلاف ففي الصحيحين من حديث عائشة قالت: أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي: الرؤيا الصادقة، قالت: حتى فاجأه الحق وهو في غار حراء فجاءه الملك فقال: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} حتى بلغ {مَا لَمْ يَعْلَمْ} وللحاكم وغيره عنها: أول سورة نزلت،

من القرآن {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} وروي نحوه عن أبي موسى وغيره.

… ثم أنزل عليه صدر سورة {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ} بعد فترة الوحي ولما جاءه الملك، فرق منه فقال: دثروني فأنزل الله {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ} ثم حمي الوحي، وتتابع ويدل على ذلك ما في الصحيحين، من حديث جابر، بينما أنا أمشي سمعت صوتا من السماء، فرفعت رأسي، فإذا الملك الذي جاءني بحراء جالس على كرسي، بين السماء والأرض فرجعت فقلت زملوني، فدثروني فأنزل الله {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ} ولأن نزولها بعد سبب التدثر.
সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো: ‘ইকরা’ (সূরা আল-আলাক), অতঃপর ‘আল-মুদ্দাসসির’ (১) এবং এর সর্বশেষ হলো: সূরা আল-মায়িদাহ ও বারাআত (আত-তাওবাহ)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: কুরআন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো কোনো মতভেদ ছাড়াই সোমবার দিন অবতীর্ণ হওয়া সূরা ইকরা-এর প্রথমাংশ। সহীহাইন-এ আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ওহী সূচনার প্রথম পর্যায় ছিল সত্য স্বপ্ন। তিনি বলেন: এমনকি একদিন তাঁর নিকট সত্য (ওহী) আগমন করল যখন তিনি হেরা গুহায় অবস্থান করছিলেন। তখন ফেরেশতা এসে তাঁকে বললেন: {পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন}—{যা তিনি জানতেন না} পর্যন্ত। আল-হাকিম ও অন্যান্যদের বর্ণনায় তাঁর (আয়িশা) থেকে বর্ণিত হয়েছে: কুরআন থেকে সর্বপ্রথম অবতীর্ণ সূরা হলো,

কুরআন থেকে {পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন}। আবু মুসা (রা.) ও অন্যান্যদের থেকেও অনুরূপ বর্ণিত (روي) হয়েছে।

… অতঃপর ওহী সাময়িক স্থগিত থাকার পর তাঁর ওপর সূরা {হে চাদরাচ্ছাদিত} এর প্রথমাংশ অবতীর্ণ হয়। যখন ফেরেশতা তাঁর নিকট আসলেন, তখন তিনি ভীত হলেন এবং বললেন: আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত করো। তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন {হে চাদরাচ্ছাদিত}। এরপর ওহী তেজোদ্দীপ্ত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে অবতীর্ণ হতে থাকে। সহীহাইন-এ জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি এর প্রমাণ দেয়; (তিনি বলেন:) “একদা আমি হাঁটছিলাম, হঠাৎ আকাশ থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। আমি মাথা তুলে দেখলাম যে, হেরা গুহায় আমার নিকট আসা সেই ফেরেশতা আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে একটি কুরসিতে উপবিষ্ট। আমি ফিরে এসে বললাম, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো। তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {হে চাদরাচ্ছাদিত}।” কেননা চাদর মুড়ি দেওয়ার প্রেক্ষাপটেই এটি অবতীর্ণ হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
والفتح وآية الكلالة، والربا والدين (1) .

--------------------------------------------

(1) أي: وآخر ما نزل من القرآن، سورة المائدة، قاله: عبد الله بن عمرو حسنه الترمذي، وللنسائي وغيره، عن عائشة: أما إنها آخر سورة نزلت، فما وجدتم فيها من حلال فأحلوه، وما وجدتم فيها من حرام فحرموه صححه الحاكم، وفي الصحيح عن البراء آخر آية نزلت {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلالَةِ} وآخر سورة نزلت: براءة وأولها نزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم لما رجع من غزو تبوك وهم بالحج فأردف بها عليا.

… ولمسلم عن ابن عباس، آخر سورة نزلت {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ} وفي الصحيح عنه، آخر ما نزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم آية الربا، ورواه أحمد عن عمر وروي عن ابن عباس من طرق

إن آخر آية نزلت: {وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللهِ} وقال ابن جريج: عاش بعدها تسع ليال، ولعل الآيات، نزلت دفعة واحدة وكل أخبر بما بلغه، و {يَسْتَفْتُونَكَ} آخر ما يتعلق بالمواريث وقيل ومنه: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ} الآيتين وقيل: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} فالله أعلم.
এবং আল-ফাতহ (বিজয়), কালালাহ বিষয়ক আয়াত, রিবা (সুদ) এবং ঋণ (১)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ অংশ হলো সূরা আল-মায়িদাহ। এটি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেছেন এবং তিরমিজি একে হাসান (حسن) বলেছেন। নাসায়ি ও অন্যান্যদের বর্ণনায় আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত: জেনে রেখো, এটিই অবতীর্ণ হওয়া সর্বশেষ সূরা। সুতরাং এতে তোমরা যা হালাল হিসেবে পাবে তাকে হালাল গণ্য করবে এবং যা হারাম হিসেবে পাবে তাকে হারাম গণ্য করবে। হাকেম একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। এবং সহিহ গ্রন্থে বারা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হলো: "তারা আপনার নিকট ফাতাওয়া প্রার্থনা করে; আপনি বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে কালালাহ সম্পর্কে ফাতাওয়া দিচ্ছেন"; আর সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা হলো বারাআত (সূরা আত-তাওবাহ)। এর প্রথমাংশ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর তখন অবতীর্ণ হয় যখন তিনি তাবুক যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করেন এবং হজের সংকল্প করেন, তখন তিনি আলীকে (রা.) এর ঘোষণার দায়িত্ব দিয়ে পেছনে পাঠান।

… এবং মুসলিমে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, সর্বশেষ অবতীর্ণ পূর্ণাঙ্গ সূরা হলো: "যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে"। এবং সহিহ গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর সর্বশেষ যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো রিবা (সুদ) সংক্রান্ত আয়াত। আহমাদ এটি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বিভিন্ন সূত্রে (طرق) বর্ণিত হয়েছে

যে, সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হলো: "এবং তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে"। ইবনে জুরাইজ বলেন: তিনি (রাসূলুল্লাহ) এরপর মাত্র নয় রাত জীবিত ছিলেন। সম্ভবত আয়াতগুলো একই সময়ে অবতীর্ণ হয়েছিল এবং প্রত্যেকে তার নিকট যা পৌঁছেছে সেই অনুযায়ী সংবাদ দিয়েছেন। আর "তারা আপনার নিকট ফাতাওয়া প্রার্থনা করে" আয়াতটি উত্তরাধিকার (মিরাস) সংক্রান্ত বিষয়াবলির মাঝে সর্বশেষ। কারো মতে: "অবশ্যই তোমাদের নিকট তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে একজন রাসূল এসেছেন" আয়াতদ্বয় সর্বশেষ। আবার কারো মতে: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম" আয়াতটি সর্বশেষ। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
إنزاله (1)

 

أُنزِلَ القُرآن جُملةً في لَيلَةِ القَدرِ، إلى بيتِ العِزَّةِ، في السَّماءِ الدّنيا (2) وأُنزِلَ مُنَجَّماً بحسب الوقائع (3) .

--------------------------------------------

(1) أي: إنزال القرآن العظيم، من الله تعالى، على رسوله صلى الله عليه وسلم وصفة ما يصيبه عن ذلك وكتابته وجمعه.

(2) أي: إنزال القرآن جملة واحدة في ليلة القدر، قال تعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ} وقال: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ} ولا نزاع في ذلك، وحكي الإجماع، على أنه أنزل جملة واحدة إلى بيت العزة، في السماء الدنيا، كما قاله ابن عباس، وغيره وتقدم، أنه لا ينافي كونه مكتوبا في اللوح المحفوظ قبل نزوله كما قال تعالى: {بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ * فِي لَوْحٍ مَحْفُوظٍ} .

(3) أي: وأنزل القرآن من الله تعالى، نزل به جبريل على رسول الله صلى الله عليه وسلم منجما، أي: مفرقا، يتلو بعضه بعضا، بحسب الوقائع قال تعالى: {وَلا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا} قال ابن عباس، وغيره: أنزل القرآن في ليلة القدر، إلى السماء الدنيا، جملة واحدة ثم أنزل بعد ذلك وقرأ الآية.

… وقال تعالى: {وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلاً} .

… وتقدم قول الشيخ: إن كون جبريل نزل به من الله على محمد صلى الله عليه وسلم كما قال تعالى {نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأَمِينُ * عَلَى قَلْبِكَ} لا ينافي كونه تعالى: كتبه قبل أن يرسل به، ولا كونه قد أنزل مكتوبا إلى بيت العزة، جملة واحدة، وأنه تعالى: كتب أعمال الخلائق، قبل أن يعملوها، ومن قال: إن جبريل أخذه عن الكتاب لم يسمعه من الله، فقوله باطل، مخالف للكتاب والسنة وإجماع سلف الأمة.

… وفي الصحيح: إذا تكلم الله بالوحي، أخذت السموات منه رجفة، أو قال: رعدة شديدة خوفا من الله عز وجل، فإذا سمع ذلك أهل السموات صعقوا وخروا لله سجدا فيكون أول من يرفع رأسه جبريل فيكلمه الله من وحيه بما أراد، وكلما مر بسماء سأله ملائكتها، ماذا قال ربنا يا جبريل؟ فيقول: قال الحق وهو العلي الكبير وغير ذلك من الأحاديث.
এর অবতরণ (১)

 

লাইলাতুল কদরে কুরআনকে একত্রে (جملة) দুনিয়ার আকাশের বাইতুল ইজ্জতে অবতীর্ণ করা হয়েছে (২) এবং ঘটনাক্রম অনুযায়ী তা পর্যায়ক্রমে (منجما) অবতীর্ণ করা হয়েছে (৩)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল (সা.)-এর প্রতি মহান কুরআনের অবতরণ, এই প্রক্রিয়ায় তাঁর ওপর যা আপতিত হতো তার ধরন এবং এর লিখন ও সংকলন।

(২) অর্থাৎ: লাইলাতুল কদরে পূর্ণ কুরআন একত্রে (جملة واحدة) অবতরণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আমি তা লাইলাতুল কদরে অবতীর্ণ করেছি} এবং তিনি বলেন: {নিশ্চয়ই আমি তা এক বরকতময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি}। এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই এবং এ ব্যাপারে ঐক্যমত্য (إجماع) বর্ণিত হয়েছে যে, এটি দুনিয়ার আকাশের বাইতুল ইজ্জতে একত্রে (جملة واحدة) অবতীর্ণ করা হয়েছে, যেমনটি ইবনে আব্বাস (রা.) এবং অন্যান্যগণ বলেছেন। আর এটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অবতরণের পূর্বে লাওহে মাহফুজে এটি লিপিবদ্ধ থাকার সাথে এই অবতরণ সাংঘর্ষিক নয়, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বরং এটি এক সম্মানিত কুরআন, যা সংরক্ষিত ফলকে (লাওহে মাহফুজ) বিদ্যমান}।

(৩) অর্থাৎ: মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে; জিবরাইল (আ.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট তা পর্যায়ক্রমে (منجما) তথা পৃথক পৃথকভাবে (مفرقا) নিয়ে অবতরণ করেছেন, যা ঘটনাক্রম অনুযায়ী একের পর এক তিলাওয়াত করা হতো। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা আপনার কাছে কোনো সমস্যা নিয়ে আসলে আমি আপনাকে তার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা দান করি}। ইবনে আব্বাস (রা.) এবং অন্যান্যগণ বলেছেন: কুরআন লাইলাতুল কদরে দুনিয়ার আকাশে একত্রে (جملة واحدة) অবতীর্ণ করা হয়েছে, এরপর তা দীর্ঘ সময় ধরে অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন।

… এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি কুরআনকে খণ্ড খণ্ড করে অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তা মানুষের কাছে বিরতি দিয়ে পাঠ করতে পারেন এবং আমি তা পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করেছি}।

… শাইখের পূর্বোক্ত উক্তি: জিবরাইল (আ.) আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এটি নিয়ে মুহাম্মাদ (সা.)-এর নিকট অবতরণ করেছেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বিশ্বস্ত আত্মা তা নিয়ে আপনার হৃদয়ে অবতরণ করেছেন}। এটি মহান আল্লাহর পূর্ব-লিখনের সাথে কিংবা একত্রে (جملة واحدة) বাইতুল ইজ্জতে লিখিত অবস্থায় অবতরণের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। এবং মহান আল্লাহ মাখলুকের কর্মকাণ্ড তারা সম্পন্ন করার আগেই লিখে রেখেছেন। আর যে ব্যক্তি বলে: জিবরাইল (আ.) তা কিতাব থেকে গ্রহণ করেছেন, আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে শোনেননি, তার এই উক্তি বাতিল (باطل), যা কিতাব, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফদের ঐক্যমত্যের (إجماع) পরিপন্থী।

… এবং সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: যখন আল্লাহ ওহির মাধ্যমে কথা বলেন, তখন আকাশসমূহ প্রকম্পিত হয় অথবা তিনি বলেছেন: আল্লাহর ভয়ে প্রবলভাবে কাঁপতে থাকে। আকাশবাসীরা যখন তা শুনতে পায়, তখন তারা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে। জিবরাইল (আ.) সর্বপ্রথম তাঁর মাথা তোলেন, অতঃপর আল্লাহ তাঁর ওহির মধ্য থেকে যা ইচ্ছা তাঁর সাথে কথা বলেন। তিনি যখনই কোনো আসমান অতিক্রম করেন, সেখানকার ফেরেশতারা তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, হে জিবরাইল! আমাদের রব কী বলেছেন? তিনি বলেন: ‘তিনি সত্য বলেছেন এবং তিনি সমুচ্চ, মহান’—এরূপ আরও অনেক হাদিস রয়েছে।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ৩৬)
يُلقيهِ جِبريلُ، إلى النَّبي صلى الله عليه وسلم في مثل صلصلة الجرس، وهو أشده عليه (1) .

--------------------------------------------

(1) أي: أشد كيفيات تلقي الوحي، على رسول الله صلى الله عليه وسلم من جبريل أن يأتيه الملك به في مثل صلصلة الجرس، كما في الصحيح عن ابن عمر، أنه صلى الله عليه وسلم قال: «أسمع صلاصل، ثم أسكت عن ذلك فما من مرة يوحى إلي، إلا ظننت أن نفسي

تقبض» ، وفيه: أنه أشد حالات الوحي صلى الله عليه وسلم وقال ابن عباس كان صلى الله عليه وسلم يعالج من الوحي شدة، وكان مما يحرك شفتيه فأنزل الله {إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ} نجمعه لك في صدرك {وَقُرْآنَهُ} أي: تقرؤه {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ} أي: قرأه جبريل {فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ * ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} .
জিবরাঈল (আ.) এটি নবি (সা.)-এর নিকট ঘণ্টার শব্দের ন্যায় পৌঁছে দিতেন, যা তাঁর জন্য ছিল সবচেয়ে কষ্টকর (১) ।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জিবরাঈল (আ.)-এর নিকট হতে ওহি (وحي) গ্রহণের পদ্ধতিসমূহের মধ্যে ফেরেশতা কর্তৃক ঘণ্টার শব্দের ন্যায় তা নিয়ে আসা ছিল সবচেয়ে কষ্টসাধ্য, যেমনটি ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত সহিহ (صحيح) বর্ণনায় এসেছে যে, নবি (সা.) বলেছেন: «আমি ঝনঝন শব্দ শুনতে পাই, অতঃপর আমি তা হতে নীরব হয়ে যাই। এমন কোনো বার আমার প্রতি ওহি (وحي) অবতীর্ণ হয়নি যখন আমার মনে হয়নি যে আমার প্রাণ

বের হয়ে যাবে», এবং এতে রয়েছে: এটিই ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর ওহি (وحي) অবতীর্ণ হওয়ার সবচেয়ে কঠিন অবস্থা। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ওহি (وحي) নাযিলের সময় প্রচণ্ড কষ্ট সহ্য করতেন এবং তিনি প্রায়ই তাঁর ওষ্ঠদ্বয় নাড়াতেন। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: {নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ আমাদেরই দায়িত্ব} অর্থাৎ আপনার বক্ষে এটি জমা করা আমাদের কাজ {এবং এর পাঠ করানো} অর্থাৎ আপনি তা পাঠ করবেন {সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি} অর্থাৎ জিবরাঈল (আ.) পাঠ করেন {তখন আপনি সেই পাঠ অনুসরণ করুন * অতঃপর এর বিশদ বর্ণনা করা আমাদেরই দায়িত্ব}।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ৩৭)
ويأتيه في مثل صورة الرجل يكلمه (1) وثبت أنه أنزل على سبعة أحرف (2) .

--------------------------------------------

(1) أي: ويأتيه جبريل بالوحي، أحيانا، في مثل صورة الرجل، فيكلمه جبريل به، وفي الصحيح، «وأحيانا يتمثل لي الملك فيكلمني فأعي ما يقول» ، زاد أبو عوانة، «وهو أهونه علي» وأحيانا ينفث في روعه نفثا، كما رواه الحاكم وغيره: «أن روح القدس نفث في روعي» .

(2) أي: وثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير وجه: أن القرآن أنزل على سبعة أحرف، من حديث أنس، وأبي وحذيفة وغيرهم أكثر من عشرين صحابيا قال أبو عبيدة وغيره: تواتر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أن القرآن أنزل على سبعة أحرف، ومر عمر بهشام بن حكيم، وهو يقرأ سورة الفرقان، فانطلق به إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: سمعته يقرؤها على حروف لم تقرئنيها فقال له: اقرأها ثم قال لعمر: اقرأها وقال لكل واحد منهما، هكذا أنزلت ثم قال: إن هذا القرآن أنزل على سبعة أحرف فاقرءوا ما تيسر منه.

قال الشيخ: ولا نزاع بين العلماء المعتبرين، أن الأحرف السبعة التي ذكر النبي صلى الله عليه وسلم أن القرآن أنزل عليها ليست هي قراءات السبعة أو تمام العشرة أو غير ذلك، كقول السلف إنها حرف من الأحرف السبعة، وليست هي مجموعها، وقيل: مجموع الأحرف السبعة، وهم مجمعون على أن الأحرف السبعة، لا يخالف بعضها بعضا، خلافا يتضاد فيه المعنى.
এবং তিনি (জিবরীল) তাঁর নিকট পুরুষের আকৃতিতে আসতেন এবং তাঁর সাথে কথা বলতেন (১), এবং এটি প্রমাণিত (ثبت) যে তা (কুরআন) সাতটি হরফে (سبعة أحرف) অবতীর্ণ হয়েছে (২) ।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: জিবরীল মাঝে মাঝে ওহী নিয়ে পুরুষের আকৃতিতে তাঁর নিকট আসতেন এবং জিবরীল তাঁর সাথে ওহী বিষয়ে কথা বলতেন। সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, "মাঝে মাঝে ফেরেশতা আমার জন্য মানুষের রূপ ধারণ করেন এবং আমার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি যা বলেন আমি তা আত্মস্থ করি।" আবু আওয়ানা এতে বর্ধিত করেছেন যে, "এবং এটি আমার জন্য ওহী নাযিলের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি।" আবার মাঝে মাঝে তিনি তাঁর অন্তরে ফুঁকে দিতেন, যেমনটি হাকেম এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই পবিত্র আত্মা (রুহুল কুদুস) আমার অন্তরে ফুঁকে দিয়েছেন।"

(২) অর্থাৎ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একাধিক সূত্রে এটি প্রমাণিত (ثبت) যে, কুরআন সাতটি হরফে (سبعة أحرف) অবতীর্ণ হয়েছে। এটি আনাস, উবাই, হুযাইফাহ এবং অন্যান্য বিশ জনেরও অধিক সাহাবী থেকে বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে সাব্যস্ত। আবু উবাইদাহ এবং অন্যান্যরা বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি মুতাওয়াতির (متواتر) সূত্রে বর্ণিত যে কুরআন সাতটি হরফে (سبعة أحرف) অবতীর্ণ হয়েছে। একদা উমর (রা.) হিশাম বিন হাকিমের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে সূরা আল-ফুরকান পাঠ করতে শোনেন এবং তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে যান। তিনি বললেন: আমি তাকে এমন কিছু হরফে (حروف) পাঠ করতে শুনেছি যা আপনি আমাকে পড়তে শিখাননি। তিনি তাকে বললেন: এটি পাঠ করো। এরপর উমরকে বললেন: তুমি পাঠ করো। অতঃপর উভয়ের উদ্দেশ্যেই বললেন: এভাবেই এটি অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর বললেন: নিশ্চয়ই এই কুরআন সাতটি হরফে (سبعة أحرف) অবতীর্ণ হয়েছে, সুতরাং তোমরা তা থেকে যতটুকু সহজ হয় পাঠ করো।

শাইখ বলেন: নির্ভরযোগ্য (معتبر) আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো বিরোধ নেই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন যে সাতটি হরফের (سبعة أحرف) ওপর নাযিল হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, তা প্রচলিত সাত কিরাত বা পূর্ণ দশ কিরাত বা অন্য কিছু নয়। যেমন সালাফদের (سلف) বক্তব্য হলো— এটি সাতটি হরফের (سبعة أحرف) মধ্য হতে একটি হরফ (حرف), পুরোটির সমষ্টি নয়। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি সাতটি হরফেরই (سبعة أحرف) সমষ্টি। তবে তারা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সাতটি হরফ (سبعة أحرف) একে অপরের এমন পরিপন্থী নয় যাতে অর্থের বৈপরীত্য সৃষ্টি হয়।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ৩৮)
قيل: المعاني المتفقة بألفاظ مختلفة كهلم وأقبل (1) وكتب في الرقاع وغيرها في عهد النبوة (2) .

--------------------------------------------

(1) وتعال، كما قاله ابن مسعود، ولا تتضمن تناقض المعنى، قال الشيخ: بلا نزاع، وقد يكون معنى أحدها، ليس هو معنى الآخر، لكن كلا المعنيين حق، وهذا اختلاف تنوع، وتغاير، كما في الحديث: أنزل القرآن على سبعة أحرف إن قلت غفورا رحيما، أو قلت عزيزا حكيما، فإنه كذلك، ما لم تختم آية رحمة بآية عذاب، أو آية عذاب بآية رحمة، وكما في القراءات المشهورة كلتزول وليزول وعَجبتَ وعَجبتُ ويخَدعون ويخُادعون.

(2) أي: وكتب القرآن العظيم، في الرقاع، جمع رقعة وقد تكون من جلد أو ورق أو كاغد وكتب في غير الرقاع، كاللخاف والعسب والقتب والأظلاع وصدور الرجال وغير ذلك قال زيد بن ثابت، قبض النبي صلى الله عليه وسلم ولم يكن القرآن جمع في شيء قال الخطابي: إنما لم يجمع النبي صلى الله عليه وسلم القرآن في المصحف

لما كان يترقبه من ورود ناسخ، لبعض أحكامه أو تلاوته فلما انقضى نزوله بوفاته، ألهم الله الخلفاء الراشدين لذلك، وفاء بوعده الصادق، بضمان حفظه على هذه الأمة.
বলা হয়েছে: অভিন্ন অর্থ কিন্তু ভিন্ন শব্দ, যেমন ‘হালুম্মা’ (এসো) এবং ‘আকবিল’ (এগিয়ে এসো) (১); এবং নবুয়তের যুগে তা চামড়ার টুকরো ও অন্যান্য জিনিসের ওপর লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল (২)।

--------------------------------------------

(১) এবং ‘তাআলা’ (আসুন), যেমনটি ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন। এটি অর্থের কোনো বৈপরীত্য (تناقض) অন্তর্ভুক্ত করে না। শায়খ বলেছেন: এতে কোনো বিরোধ (نزاع) নেই। হতে পারে একটির অর্থ অন্যটির মতো নয়, কিন্তু উভয় অর্থই সত্য। এটি হচ্ছে বৈচিত্র্যপূর্ণ মতভেদ (اختلاف تنوع) এবং ভিন্নতা (تغاير)। যেমন হাদিসে এসেছে: "কুরআন সাতটি হারফে (سبعة أحرف) অবতীর্ণ হয়েছে। যদি তুমি ‘গফুরুন রাহিম’ (পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু) বলো অথবা ‘আজিজুন হাকিম’ (মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়) বলো, তবে তাও সঠিক; যতক্ষণ না তুমি রহমতের আয়াতকে আজাবের আয়াত দিয়ে শেষ করো, অথবা আজাবের আয়াতকে রহমতের আয়াত দিয়ে।" আর যেমনটি প্রসিদ্ধ কিরাতসমূহের (القراءات المشهورة) ক্ষেত্রে দেখা যায়, যেমন ‘লিতাজুলা’ ও ‘লিয়াজুলা’, ‘আজাবতা’ ও ‘আজাবতু’, এবং ‘ইয়াখদাউনা’ ও ‘ইউখাদিউনা’।

(২) অর্থাৎ: মহান কুরআন চামড়ার টুকরো (رقاع) —যা ‘রুকআহ’ এর বহুবচন, তা চামড়া, পাতা বা কাগজ হতে পারে— এবং চামড়ার টুকরো ব্যতীত অন্যান্য বস্তুতেও লেখা হয়েছিল। যেমন: পাতলা পাথর (لخاف), খেজুরের ডাল (عسب), উটের জিনের কাঠ (قتب), পাঁজরের হাড় (أظلاع), মানুষের অন্তর (صدور الرجال) এবং আরও অনেক কিছুতে। যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) বলেন, নবী (সা.) ইন্তেকাল করেছেন এমতাবস্থায় যে, কুরআন কোনো একটি বস্তুতে (গ্রন্থে) সংকলিত ছিল না। খাত্তাবি বলেন: নবী (সা.) কুরআনকে কিতাব আকারে (مصحف) সংকলন করেননি কারণ তিনি কোনো কোনো বিধান বা তিলাওয়াত রহিত (ناسخ) হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। যখন তাঁর ইন্তেকালের মাধ্যমে ওহি অবতীর্ণ হওয়া সমাপ্ত হলো, আল্লাহ তাআলা খুলাফায়ে রাশিদিনকে তা সংকলন করার ইলহাম (অনুপ্রেরণা) দান করলেন। এটি ছিল এই উম্মতের জন্য কুরআন সংরক্ষণের নিশ্চয়তা প্রদানের মাধ্যমে তাঁর সত্য ওয়াদা পূর্ণ করার অংশ।
(খণ্ড: ১) হাশিয়াতু মুকাদ্দামাতিত তাফসীর লি ইবনু কাসিম (পৃষ্ঠা: ৩৯)
ثُمَّ في الصُّحُفِ، في عَهدِ أَبي بَكرٍ (1) .

--------------------------------------------

(1) أي: ثم بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم جمع القرآن العظيم في الصحف، في عهد أبي بكر رضي الله عنه؛ ففي الصحيح: أن زيد بن ثابت، قال: أرسل إليَّ أبو بكر بعد مقتل أهل اليمامة، فإذا عمر عنده، فقال أبو بكر: إن عمر أتاني فقال: إن القتل قد استحر في اليمامة بقراء القرآن وإني أخشى أن يستحر القتل بالقراء في المواطن فيذهب كثير من القرآن، وإني أرى أن تأمر بجمع القرآن، فقلت لعمر: كيف نفعل شيئا، لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال عمر: هو والله خير، فلم يزل يراجعني، حتى شرح الله صدري لذلك، ورأيت في ذلك الذي رأى عمر، قال زيد: قال أبو بكر: إنك شاب عاقل، لا نتهمك، وقد كنت تكتب الوحي، لرسول الله صلى الله عليه وسلم فتتبع القرآن، اجمعه فوالله: لو كلفوني نقل جبل من الجبال، ما كان أثقل علي مما أمرني به، من جمع القرآن قلت: كيف تفعلان شيئا لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: هو والله خير فلم يزل أبو بكر يراجعني حتى شرح الله صدري، للذي شرح له صدر أبي بكر، وعمر فتتبعت القرآن أجمعه من العسب، واللخاف، وصدور الرجال قال: فكانت الصحف، عند أبي بكر، حتى توفاه الله

ثم عند عمر حياته، ثم عند حفصة بنت عمر، وجاء نحوه من غير وجه، وقال علي: أعظم الناس في المصاحف أجرا أبو بكر، رحمة الله على أبي بكر، هو أول من جمع كتاب الله، وكان زيد بن ثابت: لا يكتب آية، إلا بشاهدي عدل مع وجدانه مكتوبا وحفظه له، مبالغة في الاحتياط.

… وقال البغوي: يقال: إن زيد بن ثابت، شهد العرضة الأخيرة التي بين فيها ما نسخ، وما بقي وكتبها لرسول الله صلى الله عليه وسلم وقرأها عليه وكان يقرئ الناس بها، حتى مات ولذلك اعتمده أبو بكر وعمر لجمعه، وولاه عثمان كتب المصاحف، ووقعت الثقة لكونهم يبدون عن تأليف معجز، ونظم معروف، قد شاهدوا تلاوته من النبي صلى الله عليه وسلم عشرين سنة، ولا ريب أنهم كتبوا ما تحققوا أنه قرآن مستقر في العرضة الأخيرة، وكذا قال غير واحد: القراءة التي عرضت على النبي صلى الله عليه وسلم في العام الذي قبض فيه، هي القراءة التي يقرؤها الناس اليوم.
এরপর সহীফাসমূহে (সংকলিত হয়েছে), আবু বকর (রা.)-এর যুগে (১) ।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর আবু বকর (রা.)-এর খেলাফতকালে মহান কুরআনকে সহীফাসমূহে একত্রিত করা হয়; সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে: যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) বলেছেন, ইয়ামামার যুদ্ধে (কুরআনের কারীদের) শাহাদাতের পর আবু বকর (রা.) আমাকে ডেকে পাঠালেন, তখন উমর (রা.) তাঁর কাছে ছিলেন। আবু বকর (রা.) বললেন: উমর আমার কাছে এসে বলল, 'ইয়ামামার যুদ্ধে কুরআনের কারীদের মধ্যে নিহতের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে এবং আমি আশঙ্কা করছি যে বিভিন্ন রণক্ষেত্রে কারীদের নিহতের সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকলে কুরআনের অনেক অংশ হারিয়ে যাবে। তাই আমি মনে করি আপনার উচিত কুরআনকে একত্রিত করার নির্দেশ দেওয়া।' আমি উমর (রা.)-কে বললাম: 'আমরা এমন কাজ কীভাবে করব যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি?' উমর (রা.) বললেন: 'আল্লাহর কসম, এটি একটি কল্যাণকর কাজ।' উমর (রা.) বারবার আমাকে এ কথা বলতে থাকলেন, অবশেষে আল্লাহ এ কাজের জন্য আমার বক্ষ উন্মোচন করে দিলেন এবং উমর (রা.) যা ভালো মনে করেছিলেন আমিও তা-ই সমীচীন মনে করলাম। যায়েদ (রা.) বললেন: আবু বকর (রা.) আমাকে বললেন: 'নিশ্চয়ই তুমি একজন বুদ্ধিমান যুবক, তোমার প্রতি আমাদের কোনো সংশয় নেই। তুমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওহি লিখতে; সুতরাং তুমি কুরআন অনুসন্ধান করো এবং তা একত্রিত করো।' আল্লাহর কসম, যদি তারা আমাকে একটি পাহাড় স্থানান্তর করার নির্দেশ দিতেন, তবে তা আমার কাছে কুরআন একত্রিত করার নির্দেশের চেয়ে বেশি ভারী মনে হতো না। আমি বললাম: 'আপনারা এমন কাজ কীভাবে করবেন যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি?' তিনি বললেন: 'আল্লাহর কসম, এটি কল্যাণকর কাজ।' আবু বকর (রা.) বারবার আমাকে এ কথা বলতে থাকলেন যতক্ষণ না আল্লাহ আমার অন্তরকে সে প্রসন্নতা দান করলেন যা আবু বকর ও উমর (রা.)-কে দান করেছিলেন। এরপর আমি খেজুরের ডাল, পাতলা পাথর এবং মানুষের স্মৃতি থেকে অনুসন্ধান করে কুরআন একত্রিত করতে শুরু করলাম। তিনি বলেন: সেই সহীফাসমূহ আবু বকর (রা.)-এর নিকট তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত সংরক্ষিত ছিল।

এরপর উমর (রা.)-এর জীবদ্দশায় তাঁর নিকট সংরক্ষিত ছিল, অতঃপর উমর (রা.)-এর কন্যা হাফসা (রা.)-এর নিকট ছিল। এ মর্মে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা এসেছে। আলী (রা.) বলেন: মুসহাফসমূহের (কুরআনের পাণ্ডুলিপি) ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিদানের অধিকারী হলেন আবু বকর (রা.)। আবু বকর (রা.)-এর প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, তিনিই সর্বপ্রথম আল্লাহর কিতাব একত্রিত করেছেন। আর যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বনের জন্য লিখিত কপি পাওয়া এবং নিজের মুখস্থ থাকার সাথে সাথে দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) সাক্ষ্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনো আয়াত লিখতেন না।

… এবং বাগাভী বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) সর্বশেষ পাঠের (আল-আরদাতুল আখিরাহ) সময় উপস্থিত ছিলেন, যাতে যা রহিত (نسخ) হয়েছে এবং যা অবশিষ্ট আছে তা স্পষ্ট করা হয়েছিল। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য তা লিখেছিলেন এবং তাঁকে পড়ে শুনিয়েছিলেন। তিনি মৃত্যু পর্যন্ত মানুষকে সেই অনুযায়ী কিরাত শিক্ষা দিতেন। একারণেই আবু বকর ও উমর (রা.) কুরআন সংকলনের জন্য তাঁর ওপর নির্ভর করেছিলেন এবং উসমান (রা.) তাঁকে মুসহাফসমূহ লেখার দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন। এ ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) অর্জিত হয়েছিল কারণ তাঁরা এমন এক মুজিজাপূর্ণ সংকলন ও সুপরিচিত বিন্যাস প্রকাশ করছিলেন, যা তাঁরা দীর্ঘ বিশ বছর ধরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তিলাওয়াত করতে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সর্বশেষ পাঠের (আল-আরদাতুল আখিরাহ) সময় কুরআন হিসেবে যা সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল বলে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছিলেন, তা-ই তাঁরা লিপিবদ্ধ করেছিলেন। একইভাবে একাধিক আলিম বলেছেন: যে কিরাতটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের বছরে তাঁর নিকট পেশ করা হয়েছিল, সেটিই সেই কিরাত যা আজ মানুষ পাঠ করছে।