القسم: العروض والقوافي
الكتاب: القوافي
المؤلف: أبو الحسن المجاشعي بالولاء، البلخي ثم البصري، المعروف بالأخفش الأوسط (ت 215هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 18
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: আরূজ ও কাওয়াফি
বই: আল-কাওয়াফি
লেখক: আবুল হাসান আল-মুজাশিয়ি বিল-ওয়ালা, আল-বালখি অতঃপর আল-বাসরি, যিনি আখফাশ আল-আওসাত নামে পরিচিত (মৃ. ২১৫ হিজরি)
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
তারা তামীম গোত্রের বিরুদ্ধে জিফারে উপস্থিত হয়েছিল … তারাই উকাজের দিনের সাথী, নিশ্চয়ই আমি
তাদের উত্তম বীরত্বগাথা প্রত্যক্ষ করেছি … আমার অন্তরের ভালোবাসা নিয়ে তাদের কাছে এসেছি।
আর কবিতায় 'রামাল' (ছন্দ) রয়েছে, যা আরবদের নিকট একটি ত্রুটি হিসেবে গণ্য। এটি আরবদের পারিভাষিক নামকরণের অন্তর্ভুক্ত। এটি মূলত এমন সব দুর্বল কবিতা, যার গঠন সুসংহত নয়। তারা এক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে না। যেমন উবাইদের উক্তি:
মালহুব তার অধিবাসীদের থেকে জনশূন্য হয়ে পড়েছে … অতঃপর কুতবিয়্যাত এবং যানুব।
এবং ইবনুল জিবারার উক্তির ন্যায়:
জেনে রেখো, আল্লাহর উদ্দেশ্যেই সেই সম্প্রদায় যাদের … বনূ সাহমের বোন জন্ম দিয়েছে।
হিশাম এবং আবু আব্দ … মানাফ, যিনি অদম্য নেতা।
এবং অধিকাংশ খণ্ডিত (মাজজু) ছন্দকে তারা রামাল হিসেবে গণ্য করে।
এতে 'তাহরিদ'ও রয়েছে। তারা এতে কোনো নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে না, তবে এর দ্বারা তারা বক্রতা বা অসামঞ্জস্যতা বোঝায়, যেমনটি দুই পায়ের বক্রতার ক্ষেত্রে দেখা যায়।
আমি অনেক আরবকে বলতে শুনেছি: সকল কবিতা হলো কাসিদ, রামাল এবং রাজায। কাসিদ হলো তবিল (দীর্ঘ ছন্দ), পূর্ণ বাসিত, পূর্ণ কামিল, পূর্ণ মাদিদ, পূর্ণ ওয়াফির এবং পূর্ণ রাজায। এটি এমন ছন্দ যা উষ্ট্রে আরোহীরা গেয়ে থাকে, এবং আমরা তাদের এই কাঠামো ব্যতীত অন্য কিছু গাইতে শুনিনি। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে তারা খাফিফ ছন্দেও গান গায়। এই কাব্যধারাগুলো ব্যতীত যা কিছু আছে এবং রাজায ব্যতীত অন্য সবকিছুই হলো রামাল। আরবদের নিকট রাজায হলো এমন ছন্দ যা তিনটি অংশের ওপর ভিত্তি করে রচিত, যা তারা তাদের কর্মক্ষেত্রে ও বাজারে গুনগুন করে গেয়ে থাকে এবং উট চালনার সময় গায়। আমি যাদের ওপর আস্থা রাখি তাদের মধ্যে কেউ কেউ খলীল থেকে এই পঙক্তিটির মতো বর্ণনা করেছেন: এটি সেই অধ্যায় থেকে যেখানে ইয়া, ওয়াও এবং আলিফ ছন্দাক্ষর (রবী) হিসেবে গণ্য হয়। জেনে রাখুন যে ইয়া, ওয়াও এবং আলিফ যদি মূল অক্ষরের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ইয়া ও ওয়াও সাকিন বা হারাকাত বিশিষ্ট হয়, তবে তাদের ছন্দাক্ষর হিসেবে গণ্য করা হয়। একইভাবে অতিরিক্ত অক্ষরগুলোও যদি শব্দের মূল কাঠামোর সাথে যুক্ত হয়। মূল অক্ষরের অন্তর্ভুক্ত ইয়া যেমন—'ইয়ারমি' ও 'ইয়াকদি'র ইয়া, এবং ওয়াও যেমন—'ইয়াগজু' ও 'ইয়াদউ'র ওয়াও। আর 'কাদা' এবং 'রামা'র আলিফ। এবং অতিরিক্ত অক্ষর যা শব্দের মূল কাঠামোর সাথে যুক্ত হয় যেমন—'বুশরা' এবং 'মা’যা'র আলিফ, 'কুমহাদু' এবং 'কালানসু'র ওয়াও যখন আপনি 'কুমহাদুওয়াহ' ও 'কালানসুওয়াহ' বোঝাতে চান, এবং 'রুবায়ি' ও 'কারাসি'র ইয়া। এই সবই ছন্দাক্ষর হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
আপনি চাইলে এদের ছন্দাক্ষর হিসেবে গণ্য নাও করতে পারেন এবং এদেরকে মদ্দ (দীর্ঘ স্বর) হিসেবে ব্যবহৃত ইয়া, ওয়াও এবং আলিফের সাথে তুলনা করতে পারেন। কবি বলেছেন: নিশ্চয়ই তুমি যা সৃষ্টি করো তা বাস্তবায়ন করো, কিন্তু কিছু লোক সৃষ্টি করে অথচ তা বাস্তবায়ন করে না। অতঃপর তিনি বলেছেন:
অশ্লীলতা থেকে রক্ষার পর্দা এবং ভালোর … পথে তোমার মাঝে কোনো পর্দা নেই।
এখানে তিনি 'রা' বর্ণকে ছন্দাক্ষর করেছেন এবং ইয়া বর্ণকে—যা মূল অক্ষরের অংশ—সেটিকে সংযুক্তি (ওয়াসল) হিসেবে গণ্য করেছেন। কবি আরও বলেছেন:
যখন প্রজ্ঞা তাকে নিবৃত্ত করে তখন তারা সেখানে অবস্থান করে,
যেমন নবিতরা ফানজাজা খেলতে গিয়ে অবস্থান করে।
এখানে তিনি 'হাজা' শব্দের আলিফকে—যা মূল বর্ণ—সংযুক্তি হিসেবে ধরেছেন এবং 'জিম' বর্ণকে ছন্দাক্ষর করেছেন। একইভাবে 'ইয়াগজু'র ওয়াও যদি অন্ত্যমিলের শেষে আসে তবে আপনি তাকে সংযুক্তি হিসেবে গণ্য করতে পারেন। মূল অক্ষরগুলোর মধ্যে আলিফ যতবার ছন্দাক্ষর হিসেবে এসেছে, ওয়াও এবং ইয়া তার চেয়ে কম এসেছে। কবি বলেছেন:
আমি স্মরণ করেছি যখন প্রবৃত্তিগুলো লালসার দিকে ডাকছিল,
এবং উটগুলো আরোহীদের নিয়ে লাগাম টেনে ধরছিল।
এখানে তিনি আলিফকে ছন্দাক্ষর করেছেন। আর এটি বহুল প্রচলিত।
এক্ষেত্রে ইমালাযুক্ত (স্বর পরিবর্তনকারী) এবং ইমালাবিহীন শব্দ সমান। যদি কেউ 'কাফা'র সাথে 'হুবলা' বলে, অথবা 'কাফা'র সাথে 'ফাতা' বলে, তবে তা জায়েজ হবে। কারণ আলিফকে ইমালা করা হলেও তা আলিফই থাকে। আপনি কি দেখেন না যে 'আলিম' শব্দটি 'কাদিম' শব্দের সাথে অন্ত্যমিল হিসেবে জায়েজ, অথচ কেউ 'কাদিম' শব্দটিকে ইমালা করে না। যদি ইমালার কারণে এটি ইয়া হয়ে যেত, তবে 'আলিম' শব্দের আলিফ ইয়া হয়ে যেত এবং তা তأسিস (ভিত্তি) হতো না। কিন্তু ইমালা হলো কিছু আরবের বিরতির (ওয়াকফ) সময় তনবিনের স্থলে থাকা আলিফকে হামজা করার মতো। যেমন কিছু আরব বিরতির সময় বলে: 'রায়াইতু রাজুলান (হামজাযুক্ত)'। মনে হয় যেন সে আলিফকে হামজা করছে। যখন সে মিলিয়ে পড়ে, তখন তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। যদি ইমালা করা শব্দকে ইমালাবিহীন শব্দের সাথে ব্যবহার করা জায়েজ না হতো, তবে যখন কেউ বলত: 'রায়াইতু ওমার' এবং হামজা উচ্চারণ করত, তখন তাকে সেই কবিতায় 'মুকাইয়াদ' (আবদ্ধ) করতে হতো এবং হামজাকে ছন্দাক্ষর করতে হতো। কারণ সেই আলিফ তনবিনের স্থলাভিষিক্ত আলিফ নয়। তবে উত্তম হলো ইমালা না করা। তাই বলা হবে: 'কাফা'র সাথে 'হুবলা'। আর কেউ চাইলে 'কাফা'র সাথে 'হুবলা'কে ইমালাও করতে পারে, কারণ আরবদের কথায় এটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
শব্দের গঠনের সাথে যুক্ত অতিরিক্ত বর্ণকে ছন্দাক্ষর হিসেবে ব্যবহারের উদাহরণে কবি বলেছেন:
তুমি কি সুমহান আল্লাহর নামে শপথ করোনি যে,
তোমার বাহনগুলো সর্বোত্তম বাহন সমূহের অন্তর্ভুক্ত হবে?
এখানে তিনি ইয়া-কে ছন্দাক্ষর করেছেন, যা 'ফায়ীল' ওজনের ইয়ার স্থানে রয়েছে এবং হারাকাত বিশিষ্ট ইয়া-কে বিলুপ্ত করেছেন যখন তা বিলুপ্ত করার প্রয়োজন ছিল। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি অতিরিক্ত অক্ষরকে বিলুপ্ত করেছেন। কিন্তু এটি উত্তম নয়। কারণ এতে প্রথম অংশটি দুর্বল হয়ে যায় এবং দ্বিতীয় অংশে গিয়ে হোঁচট লাগে। তাই যখন এমন কোনো শব্দ আসল যা প্রথমটির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, তখন আপনি তাকে বিরতি বা সাকিন অবস্থায় পড়ার কারণে হালকা হিসেবে রেখে দিলেন।
তিনি 'তাসগির' (ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ) এবং তদ্রূপ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বর্ণগুলো বর্জন করেছেন কারণ তিনি বিদ্যমান গঠনের পরিবর্তে অন্য একটি গঠন চাচ্ছেন। যদি তিনি তা চাইতেন তবে 'মাগজু' এবং 'আদু' বলতেন, যখন তিনি গঠনটি চাচ্ছেন। কারণ যখন প্রথমটি হালকা করা হয় তখন শেষটি ইয়া হয়ে যায়। হালকা করার সময় আপনি বলবেন: 'মাগজু', যেমনটি আপনি 'আল-আলি' শব্দকে হালকা করেছেন। তখন এটি একটি হালকা ওয়াও হিসেবে বাকি থাকে যার পূর্বে হারাকাত রয়েছে, ফলে আপনি এটিকে ইয়া-তে রূপান্তরিত করেন যেমনটি 'আদল' এবং তদ্রূপ শব্দগুলোতে করেছেন।