(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
حاشية الآجرومية القسم: النحو والصرف
الكتاب: حاشية الآجرومية
المؤلف: عبد الرحمن بن محمد بن قاسم العاصمي الحنبلي النجدي (ت 1392هـ)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 120
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হাশিয়া আল-আজরুমিয়্যাহ বিভাগ: নাহু ও সরফ
কিতাব: হাশিয়া আল-আজরুমিয়্যাহ
গ্রন্থকার: আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন কাসিম আল-আসিমী আল-হাম্বলী আন-নাজদী (মৃত্যু ১৩৯২ হিজরি)
[কিতাবের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২০
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بقلم الفقير إلى ربه
عبد الرحمن بن محمد بن قاسم
رحمه الله تعالى
1312-1392 هـ
তাঁর প্রতিপালকের প্রতি মুখাপেক্ষী দাসের লেখনীতে
আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন কাসিম
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন
১৩১২-১৩৯২ হিজরি
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
ترجمة مؤلف المتن هو: أبو عبد الله، محمد بن محمد، بن داود، الصنهاجي، نسبة إلى إحدى القبائل بالمغرب، النحوي، المعروف بابن آجروم، ومعناه بلسان البربر: الفقير الصوفي الورع، كان إماما في النحو وغيره، ولد بفاس، سنة 674هـ وتوفي بها سنة 723هـ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
মূল পাঠের (متن) লেখকের জীবনী তিনি হলেন: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে দাউদ আস-সিনহাজি, মরক্কোর একটি গোত্রের সাথে তাঁর সম্বন্ধ (نسبة); তিনি ব্যাকরণবিদ (نحوي) হিসেবে পরিচিত এবং ইবনে আজুররুম নামে প্রসিদ্ধ। বার্বার ভাষায় এর অর্থ হলো: নিঃস্ব, সুফি ও পরহেযগার (ورع)। তিনি ব্যাকরণ শাস্ত্র ও অন্যান্য বিদ্যায় একজন ইমাম (إمام) ছিলেন। তিনি ৬৭৪ হিজরি সনে ফাস নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭২৩ হিজরি সনে সেখানেই ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم (1)
الكَلَام: هُوَ اللَّفْظُ الْمُرَكَّبُ الْمُفِيدُ بِالْوَضْعِ (2) .
ــ
مقدمة
النحو: يطلق على معان، منها: القصد، والجهة، والمثل، والمقدار. وحده: علم بأصول، يتوصل بها إلى معرفة أحوال أواخر الكلم، إعرابا وبناء. وموضوعه: الكلمات العربية. وثمرته: صيانة اللسان عن الخطأ في كلام الله، وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم، وكلام العرب، والاستعانة به على فهم معاني ذلك؛ واستمداده: من كلام الله، وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم، وكلام العرب؛ وحكمه في الشرع: فرض كفاية؛ وواضعه: أبو الأسود الدؤلي، بأمر علي رضي الله عنه.
(1) بدأ بالبسملة: اقتداء بالكتاب العزيز، وتأسيًا بالنبي صلى الله عليه وسلم، في مكاتباته ومراسلاته، وعملا بحديث: «كل أمر ذي بال، لا يبدأ فيه، ببسم الله الرحمن الرحيم فهو أقطع» أي: ناقص البركة، والبداءة بها للاستعانة على ما يهتم به.
والاسم: يأتي بيانه، و (الله) علم على ربنا تبارك وتعالى، وهو أعرف المعارف؛ و (الرحمن) اسمه تعالى، وهو دال على الصفة القائمة به، فهو الرحمن لجميع الخلق، و (الرحيم) اسمه تعالى، وهو دال على الصفة القائمة به، وعلى تعلقها بالمرحوم، واقتصر على البسملة لأنها من أبلغ الثناء والذكر.
(2) بدأ المصنف بالكلام: لأنه المقصود بذات، ولأنه الذي يقع به التفاهم، والتخاطب.
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম (১)
কালাম (বাক্য): এটি হলো এমন শব্দ (اللفظ) যা সুসংবদ্ধ (المركب), অর্থবহ (المفيد) এবং যা আরবি ভাষারীতি অনুযায়ী (بالوضع) গঠিত (২)।
--
উপস্থাপনা
নাহু (ব্যাকরণ): এটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে: উদ্দেশ্য (القصد), দিক (الجهة), সদৃশ (المثل) এবং পরিমাণ (المقدار)। এর পারিভাষিক সংজ্ঞা (حد) হলো: এমন কিছু মূলনীতির জ্ঞান (علم بأصول), যার মাধ্যমে শব্দের শেষাবস্থার পরিবর্তন (إعراب) এবং অপরিবর্তনীয়তা (بناء) সম্পর্কে জানা যায়। এর আলোচ্য বিষয় (موضوع): আরবি শব্দসমূহ। এর সুফল (ثمرة): আল্লাহর কালাম, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী (হাদিস) এবং আরবদের কথা বুঝতে গিয়ে ভুল করা থেকে জিহ্বাকে রক্ষা করা এবং এগুলোর অর্থ অনুধাবনে সহায়তা লাভ করা। এর উৎস (استمداد): আল্লাহর কালাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী (হাদিস) এবং আরবদের কথা। শরয়ি বিধানে এর হুকুম (حكم): ফরজে কিফায়া (فرض كفاية)। এর প্রবর্তক (واضع): আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নির্দেশে আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালি।
(১) তিনি বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করেছেন: মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের অনুসরণ করে, তাঁর চিঠিপত্র ও পত্রবিনিময়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শ অনুসরণ করে এবং এই হাদিসের ওপর আমল করার লক্ষ্যে: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা" অর্থাৎ: বরকতহীন (ناقص البركة)। আর গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাহায্য লাভের উদ্দেশ্যেই এর মাধ্যমে শুরু করা হয়।
'ইসম' (নাম): এর বর্ণনা সামনে আসবে। আর 'আল্লাহ' হলো আমাদের বরকতময় ও মহান রবের একটি নাম (علم), যা সকল পরিচিত বিষয়ের মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত। 'আর-রহমান' মহান আল্লাহর একটি নাম, যা তাঁর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট গুণের পরিচায়ক, সুতরাং তিনি সকল সৃষ্টির প্রতি দয়ালু। 'আর-রাহীম' মহান আল্লাহর একটি নাম, যা তাঁর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট গুণের পরিচায়ক এবং দয়া প্রাপ্ত ব্যক্তির সাথে সেই গুণের সম্পর্কের ওপর নির্দেশক। তিনি কেবল বিসমিল্লাহর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন কারণ এটি অত্যন্ত অর্থবহ প্রশংসা ও জিকির।
(২) গ্রন্থকার কালাম (বাক্য) দিয়ে শুরু করেছেন: কারণ এটিই মূল উদ্দেশ্য এবং এর মাধ্যমেই পারস্পরিক বোধগম্যতা ও কথোপকথন সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
.........................................................
ــ
والكلام في اللغة، هو: ما تكلم به الإنسان، قليلا كان أو كثيرًا، مفيدا أو غير مفيد، وفي اصطلاح النحويين هو: ما جمع القيود الأربعة التي ذكرها المصنف، وأحدها اللفظ، وهو في اللغة: الطرح والرمي، يقال أكلت الثمرة ولفظت النواة؛ وفي الاصطلاح هو: الصوت المشتمل على بعض الحروف الهجائية، التي أولها الألف، وآخرها الياء، كزيد، فخرج بذلك الكتابة، والرموز، والإشارة، ولو مفهومة.
والثاني: المركب؛ والتركيب في اللغة: وضع شيء على شيء، يراد به الثبوت أو عدمه. وفي الاصطلاح: ما تركب من كلمتين، فصاعدا، كزيد قائم (1) فخرج ما كان ملفوظا به غير مركب، كزيد.
والثالث: المفيد، والفائدة لغة: ما استفاده الإنسان من علم، أو مال، أو جاه، أو غير ذلك؛ واصطلاحا: ما أفاد فائدة، يحسن سكوت المتكلم عليها، بحيث لا يصير السامع، منتظرًا لشيء آخر، كقام زيد (2) فخرج: ما كان لفظا مركبا، ولم يفد، كغلام زيد.
والرابع: الوضع يعني العربي، والوضع لغة: الإسقاط من قولهم وضعت الدين عن فلان، إذا أسقطته؛ واصطلاحا: جعل اللفظ دليلا على المعنى، كوضع زيد على الذات المشخصة مثلا، وخرج بالوضع العربي: ما ليس بعربي، ككلام الأعاجم، وقيل: معنى الوضع القصد، وهو قصد المتكلم إفهام السامع، فيخرج كلام النائم، والسكران، ومن تكلم ولم يرد إفهام أحد، ويدخل فيه: كلام البربر، وغيرهم، والصحيح: الأول.
--------------------------------------------
—
আভিধানিক (لغة) অর্থে বাক্য (كلام) হলো: মানুষ যা বলে, তা অল্প হোক বা বেশি, অর্থবহ হোক বা অর্থহীন। আর ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় (اصطلاح) তা হলো: যা গ্রন্থকার বর্ণিত চারটি শর্তের সমষ্টি। তার একটি হলো উচ্চারণ (لفظ); যা আভিধানিক (لغة) অর্থে: নিক্ষেপ করা বা ফেলে দেওয়া। বলা হয়ে থাকে, ‘আমি ফলটি খেলাম এবং আটিটি ফেলে দিলাম (لفظت)’; আর পরিভাষায় (اصطلاح) তা হলো: এমন শব্দ যা হিজরি বর্ণমালার কিছু অক্ষরকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার শুরু আলিফ এবং শেষ ইয়া, যেমন: ‘জাইদ’। এর মাধ্যমে লেখা, সংকেত এবং ইশারা বাদ পড়ে যায়, যদিও তা বোধগম্য হয়।
দ্বিতীয়টি হলো: যৌগিক (مركب)। আভিধানিক (لغة) অর্থে যৌগিকতা (تركيب) হলো: এক বস্তুকে অন্য বস্তুর ওপর রাখা, যার দ্বারা স্থায়িত্ব বা অস্থিরতা উদ্দেশ্য হয়। আর পরিভাষায় (اصطلاح): যা দুই বা ততোধিক শব্দ দ্বারা গঠিত হয়, যেমন: ‘জাইদ দণ্ডায়মান’ (১)। ফলে যা উচ্চারিত কিন্তু যৌগিক নয়, তা বাদ পড়ে যায়, যেমন: ‘জাইদ’।
তৃতীয়টি হলো: অর্থপূর্ণ (مفيد)। আভিধানিক (لغة) অর্থে ফায়দা বা উপকার (فائدة) হলো: মানুষ জ্ঞান, সম্পদ, পদমর্যাদা বা অন্য কিছু থেকে যা লাভ করে। আর পরিভাষায় (اصطلاح): যা এমন অর্থ প্রদান করে যাতে বক্তার নীরব থাকা সঠিক হয়, ফলে শ্রোতা অন্য কিছুর প্রতীক্ষায় থাকে না, যেমন: ‘জাইদ দাঁড়িয়েছে’ (২)। এর মাধ্যমে যা উচ্চারিত ও যৌগিক কিন্তু অর্থপূর্ণ নয় তা বাদ পড়ে যায়, যেমন: ‘জাইদের গোলাম’।
চতুর্থটি হলো: বিন্যাস (وضع) অর্থাৎ আরবি বিন্যাস। আভিধানিক (لغة) অর্থে বিন্যাস (وضع) হলো: কমিয়ে দেওয়া বা ফেলে দেওয়া, যেমন তাদের উক্তি—‘আমি অমুকের ঋণ কমিয়ে দিয়েছি (وضعت)’, যখন তা মওকুফ করা হয়। আর পরিভাষায় (اصطلاح): শব্দকে কোনো অর্থের নির্দেশক হিসেবে নির্ধারণ করা, যেমন: ‘জাইদ’ শব্দটিকে একটি নির্দিষ্ট সত্তার জন্য নির্ধারণ করা। আর আরবি বিন্যাসের মাধ্যমে যা অনারবি তা বাদ পড়ে যায়, যেমন অনারবদের কথা। কেউ কেউ বলেছেন: বিন্যাস (وضع) এর অর্থ হলো উদ্দেশ্য (قصد); আর তা হলো বক্তা কর্তৃক শ্রোতাকে বুঝানোর ইচ্ছা করা। ফলে ঘুমন্ত ব্যক্তি ও মাতাল ব্যক্তির কথা এবং যে ব্যক্তি কাউকে কিছু বুঝানোর ইচ্ছা ছাড়াই কথা বলে, তাদের কথা বাদ পড়ে যায়। তবে বারবার (Barbar) ও অন্যদের কথা এর অন্তর্ভুক্ত হবে। আর প্রথম মতটিই সঠিক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وأَقْسَامُهُ ثَلَاثَةٌ (1) : اسْمٌ، وَفِعْلٌ (2) ، وَحَرْفٌ جَاءَ لِمَعْنًي (3) .
ــ
(1) أي: وأجزاء الكلام، الذي يتركب من مجموعها، لا من جميعها: ثلاثة؛ ودليل حصرها في الثلاثة: الاستقراء.
(2) فالاسم لغة: ما دل على مسمى، كزيد؛ واصطلاحا: كلمة دلت على معنى في نفسها، ولم تقترن بزمان وضعا؛ وحكمه: الإعراب، والبناء طارئ عليه؛ واشتقاقه: من السمو وهو الارتفاع، أو السمة، وهي العلامة، وأقسامه ثلاثة: ظاهر كزيد، ومضمر كأنا وأنت، ومبهم كهذا وهذه، وهؤلاء.
والفعل لغة: الحدث؛ واصطلاحا: كلمة دلت على معنى في غيرها، ولم تقترن بزمان، واشتقاقه: من الحدث، وهو المصدر كضرب، مشتق من الضرب؛ وأقسامه ثلاثة: ماض، كضرب، ومضارع، كيضرب، وأمر كاضرب؛ وعلامته: قد، والسين، وسوف وتاء التأنيث الساكنة، وتاء الفاعل.
(3) الحرف لغة: الطرف، والجانب؛ فإن حرف كل شيء طرفه وجانبه، ومنه {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ عَلَى حَرْفٍ} أي طرف، وجانب من الدين. واصطلاحا: كلمة دلت على معنى في غيرها، ولم تقترن بزمان، وحكمه: البناء ولا يعرب منه شيء أبدًا.
وأقسامه ثلاثة: قسم مختص بالاسم، كحروف الجر، وحروف النداء، وقسم مختص بالفعل كقد، ولم، وقسم مشترك بينهما كهل وبل؛ وعلامته: خلوه من العلامة.
وقوله: جاء لمعنى، أي: وضع للدلالة على معنى من المعاني، كوضع «قد» للتحقيق، من نحو قد قام زيد (1) . احترازًا من حروف
--------------------------------------------
এর প্রকারভেদ তিনটি (১): বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف) যা কোনো অর্থের জন্য এসেছে (৩)।
—
(১) অর্থাৎ: বাক্যের (كلام) অংশসমূহ, যা এগুলোর সমষ্টির মাধ্যমে গঠিত হয়, সবগুলোর সমন্বয়ে নয়: তিনটি; এবং এগুলোকে তিনটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রমাণ হলো অনুসন্ধান (الاستقراء)।
(২) আভিধানিকভাবে বিশেষ্য (اسم): যা কোনো নামধারী সত্তার ওপর নির্দেশ করে, যেমন: যায়েদ; আর পারিভাষিক অর্থে: এমন শব্দ যা নিজে নিজের অর্থ প্রকাশ করে এবং গঠনের দিক থেকে কোনো কালের (زمان) সাথে যুক্ত হয় না। এর হুকুম (حكم) হলো: মূলত এটি পরিবর্তনশীল (إعراب) হয় এবং এর ওপর অপরিবর্তনীয়তা (بناء) আপতিত হয়। এর উৎপত্তি হয়েছে: 'সুমুউ' (السمو) থেকে যার অর্থ উচ্চতা, অথবা 'সিমা' (السمة) থেকে যার অর্থ চিহ্ন। এর প্রকার তিনটি: প্রকাশ্য (ظاهر) যেমন 'যায়েদ', প্রচ্ছন্ন (مضمر) যেমন 'আমি' ও 'তুমি', এবং অস্পষ্ট বা ইঙ্গিতবাচক (مبهم) যেমন 'এটি', 'এই স্ত্রীলোকটি' এবং 'এরা'।
আর আভিধানিকভাবে ক্রিয়া (فعل): কোনো ঘটনা (الحدث); আর পারিভাষিক অর্থে: এমন শব্দ যা অন্য কোনো কিছুর প্রেক্ষিতে অর্থ প্রকাশ করে এবং কোনো কালের (زمان) সাথে যুক্ত নয় (দ্রষ্টব্য: মূল পাঠে এভাবেই আছে)। এর উৎপত্তি হয়েছে: ঘটনা (الحدث) থেকে, যা হলো মূল ধাতু (المصدر), যেমন: 'সে প্রহার করেছে' শব্দটি 'প্রহার করা' থেকে উৎপন্ন। এর প্রকার তিনটি: অতীতকালীন (ماض) যেমন 'সে প্রহার করেছে', বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন (مضارع) যেমন 'সে প্রহার করছে বা করবে', এবং আদেশসূচক (أمر) যেমন 'তুমি প্রহার করো'। এর চিহ্নসমূহ হলো: 'কদ' (قد), 'সিন' (السين), 'সাওফা' (سوف), সুকুনযুক্ত স্ত্রীলিঙ্গবাচক তা (تاء التأنيث الساكنة) এবং কর্তাবাচক তা (تاء الفاعل)।
(৩) আভিধানিকভাবে অব্যয় (حرف): প্রান্ত বা পার্শ্ব; কেননা প্রতিটি জিনিসের 'হারফ' হলো তার প্রান্ত ও পার্শ্ব। এ থেকেই এসেছে আল্লাহর বাণী: {আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধার সাথে (অর্থাৎ দ্বীনের এক কিনারায় থেকে) আল্লাহর ইবাদত করে}, অর্থাৎ দ্বীনের এক প্রান্তে বা পার্শ্বে থেকে। পারিভাষিক অর্থে: এমন শব্দ যা অন্য শব্দ ছাড়া নিজের পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না এবং কোনো কালের (زمان) সাথে যুক্ত হয় না। এর হুকুম (حكم) হলো: এটি অপরিবর্তনীয় (بناء) এবং এর কোনো কিছুই কখনো পরিবর্তনশীল (إعراب) হয় না।
এর প্রকার তিনটি: এক প্রকার বিশেষ্যের (اسم) সাথে নির্দিষ্ট, যেমন অব্যয়সমূহ (حروف الجر) এবং সম্বোধনসূচক অব্যয়সমূহ (حروف النداء); এক প্রকার ক্রিয়ার (فعل) সাথে নির্দিষ্ট যেমন 'কদ' (قد) ও 'লাম' (لم); এবং এক প্রকার উভয় ক্ষেত্রে সাধারণ যেমন 'হাল' (هل) ও 'বাল' (بل)। এর চিহ্ন হলো: কোনো চিহ্ন না থাকা।
আর লেখকের উক্তি: "যা কোনো অর্থের জন্য এসেছে", অর্থাৎ যা বিভিন্ন অর্থের মধ্য থেকে কোনো একটি অর্থ নির্দেশ করার জন্য গঠিত হয়েছে, যেমন 'কদ' (قد) শব্দটি নিশ্চয়তা (تحقيق) প্রদানের জন্য গঠিত হয়েছে, যেমন: 'নিশ্চয় যায়েদ দাঁড়িয়েছে' (১)। এটি সেই বর্ণগুলো থেকে বাঁচার জন্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
فالاسم يُعْرَفُ: بالْخَفْض، وَالتَّنْوِينِ (1) ،
ــ
= المباني التي هي حروف الهجاء.
وأقل ما يتركب منه الكلام: كلمتان، والكلمتان إما اسمان كزيد قائم (1) أو اسم وفعل، كقام زيد، أو من الثلاثة، كلم يقم زيد (2) والكلام: ما جمع القيود الأربعة المتقدمة، وإن لم يصل إلى ثلاث كلمات، كزيد قائم، والكلام، والكلم: ما تركب من ثلاث كلمات فأكثر، وأفاد، كقد قام زيد، فهو كلام وكلم، والكلمة هي: القول المفرد كزيد، والقول: كغلام زيد، ويطلق على الجميع.
(1) أي: فالقسم الأول من أقسام الكلام: الاسم؛ وبدأ به، لكونه أشرف أنواع الكلام، ولأنه قد يستغني بنفسه في الكلام عن قسيميه، يعرف، أي: يميز عن الفعل والحرف، بعلامات، بالخفض في آخره، والخفض لغة: التذلل، والخضوع؛ واصطلاحا: تغيير مخصوص، يجلبه عامل مخصوص، علامته: الكسرة وما ناب عنها كمررت بغلام زيد الفاضل (3) .
والتنوين لغة: التصويت، من قولهم نون الطائر: إذا صوت؛
--------------------------------------------
সুতরাং বিশেষ্য চেনা যায়: নিম্নস্বর এবং তানভীন দ্বারা (১),
—
= ভিত্তি যা বর্ণমালার অক্ষরসমূহ।
এবং বাক্য সর্বনিম্ন যা দ্বারা গঠিত হয় তা হলো: দুটি শব্দ; আর শব্দ দুটি হয় হয়তো উভয়ই বিশেষ্য যেমন ‘যাইদ দণ্ডায়মান’ (১), অথবা একটি বিশেষ্য ও একটি ক্রিয়া যেমন ‘যাইদ দাঁড়িয়েছে’, অথবা তিনটির সমন্বয়ে যেমন ‘যাইদ দাঁড়ায়নি’ (২)। আর ‘কালাম’ বা বাক্য হলো: যা পূর্বে উল্লিখিত চারটি শর্তকে একত্রিত করে, যদিও তা তিনটি শব্দ পর্যন্ত না পৌঁছায়, যেমন ‘যাইদ দণ্ডায়মান’। আর ‘কালাম’ ও ‘কালিম’ হলো: যা তিন বা ততোধিক শব্দ দ্বারা গঠিত হয় এবং অর্থ প্রদান করে, যেমন ‘নিশ্চয়ই যাইদ দাঁড়িয়েছে’, সুতরাং এটি কালাম এবং কালিম উভয়ই। আর ‘কালিমা’ হলো: একক অর্থবোধক শব্দ যেমন ‘যাইদ’। আর ‘কাউল’ হলো: যেমন ‘যাইদের গোলাম’, এবং এটি সবকিছুর ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।
(১) অর্থাৎ: বাক্যের প্রকারভেদের মধ্যে প্রথম প্রকার হলো: বিশেষ্য; এবং তিনি এটি দিয়ে শুরু করেছেন কারণ এটি বাক্যের প্রকারসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, এবং কারণ এটি বাক্যে তার অপর দুটি প্রতিপক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে সক্ষম। চেনা যায়, অর্থাৎ: কিছু চিহ্নের মাধ্যমে ক্রিয়া ও অব্যয় থেকে পৃথক করা যায়; যেমন শব্দের শেষে নিম্নস্বর হওয়া। নিম্নস্বর বা খফয আভিধানিক অর্থে: বিনয় ও নম্রতা; আর পরিভাষায়: এটি একটি সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন, যা একটি সুনির্দিষ্ট আমলকারী দ্বারা আনীত হয় এবং এর চিহ্ন হলো কাসরা (জের) ও তার স্থলাভিষিক্ত বিষয়সমূহ, যেমন ‘আমি সচ্চরিত্রবান যাইদের গোলামের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম’ (৩)।
আর তানভীন আভিধানিক অর্থে: শব্দ করা; যেমন আরবদের প্রবাদ: ‘পাখিটি নূন করেছে’ অর্থাৎ যখন সে শব্দ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
............................................................
ــ
واصطلاحاً: نون ساكنة زائدة، تلحق آخر الاسم لفظا، وتفارقه خطا، ووقفا، لغير توكيد، فخرج بالساكنة، نون: ضيفن، اسم للطفيلي، وخرج بالزائدة: الأصلية كنون غضنفر (1) ، وباللاحقة للآخر: النون في منكر ونكير (2) ، وبالمفارقة خطا: اللاحقة لبعض ألقوا في، المطلقة أو المقيدة، ولغير توكيد: نون التوكيد (3) .
والتنوين أربعة أقسام، تنوين التمكين، وهو: اللاحق للأسماء المعربة، فرقا بين المتمكن الأمكن، والمتمكن غير الأمكن؛ فما نون منها، فهو متمكن في الإسمية أمكن، من غيره كزيد، وما لم ينون فمتمكن غير أمكن، كأحمد، وتنوين التنكير، وهو: اللاحق للأسماء المبنية، فرقا بين معرفتها ونكرتها، فما نون منها فهو نكرة، وما لم ينون فهو معرفة، كسيبويهٍ وسيبويهِ، وصهٍ وصهِ، وتنوين المقابلة، وهو: اللاحق لجمع المؤنث السالم، في مقابلة النون، في جمع المذكر السالم، كمسلمات.
وتنوين العوض، وهو أقسام، عوض عن جملة، وهو: اللاحق لإذ؛ كقوله: {وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ} (4) .
التقدير: وأنتم حين إذ بلغت الروح الحلقوم، تنظرون؛ الثاني: عوض عن كلمة، وهو: اللاحق لكل، وبعض؛ كما في قوله تعالى: {قُلْ كُلٌّ يَعْمَلُ عَلَى
--------------------------------------------
ــ
আর পরিভাষায়: এটি একটি অতিরিক্ত (زائدة) সাকিনযুক্ত (ساكنة) নুন, যা উচ্চারণের ক্ষেত্রে ইসম বা বিশেষ্যের শেষে যুক্ত হয়, কিন্তু লিখনে এবং বিরতির সময় তা পৃথক থাকে, এবং যা তাকীদ বা দৃঢ়তার জন্য আসে না। 'সাকিনযুক্ত' (ساكنة) শর্তটি যুক্ত করার মাধ্যমে 'দ্বয়ফান' (ضيفن) শব্দের নুনটি বাদ পড়েছে, যা এক প্রকার পরান্নভোজী ব্যক্তির নাম। 'অতিরিক্ত' (زائدة) বলার মাধ্যমে মূলবর্ণ বা আসল (أصلية) নুন বাদ পড়েছে, যেমন 'গাদানফার' (১) শব্দের নুনটি। আর 'শেষে যুক্ত হওয়া' শর্তের মাধ্যমে 'মুনকার' (منكر) (২) এবং 'নাকীর' শব্দের নুন বাদ পড়েছে। আর 'লিখনে পৃথক হওয়া' শর্তের মাধ্যমে কতিপয় কবিতার অন্ত্যমিলের শেষে যুক্ত হওয়া নুন বাদ পড়েছে, যা মুতলাক (مطلقة) হোক কিংবা মুকায়্যাদ (مقيدة) হোক। আর 'তাকীদের জন্য নয়' বলার মাধ্যমে তাকীদবোধক (التوكيد) (৩) নুন উদ্দেশ্য।
তানভীন চার প্রকার: তানভীনে তামকীন; এটি সেই তানভীন যা মু'রাব বা পরিবর্তনশীল (معربة) ইসমসমূহের শেষে যুক্ত হয়—'মুতামাক্কিন আমকান' এবং 'মুতামাক্কিন গায়রে আমকান'-এর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য। সুতরাং এসব ইসমের মধ্যে যেটিতে তানভীন যুক্ত হয়, সেটি ইসম হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যের তুলনায় অধিকতর শক্তিশালী বা 'আমকান', যেমন: যায়দ। আর যেটিতে তানভীন যুক্ত হয় না, সেটি 'মুতামাক্কিন গায়রে আমকান', যেমন: আহমাদ। তানভীনে তানকীর; এটি সেই তানভীন যা মাবনী বা অপরিবর্তনীয় (مبني) ইসমসমূহের শেষে যুক্ত হয়—তাদের নির্দিষ্ট (معرفة) ও অনির্দিষ্ট (نكرة) অবস্থার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য। সুতরাং এগুলোর মধ্যে যেটিতে তানভীন হয় সেটি নাকেরা বা অনির্দিষ্ট (نكرة), আর যেটিতে তানভীন হয় না সেটি মা'রিফা বা নির্দিষ্ট (معرفة); যেমন: 'সিবওয়াইহিন' ও 'সিবওয়াইহি' এবং 'সাহিন' ও 'সাহি'। তানভীনে মুকাবালা; এটি সেই তানভীন যা জম' মুয়ান্নাস সালেমের শেষে যুক্ত হয়, জম' মুজাক্কার সালেমের নুনের বিপরীতে; যেমন: মুসলিমাত।
তানভীনে ইওয়াজ (বিনিময়ের তানভীন); এটি কয়েক প্রকার: কোনো বাক্যের পরিবর্তে বিনিময়; যা 'ইয' (إذ)-এর শেষে যুক্ত হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর তখন তোমরা তাকিয়ে থাকবে।" (৪)
বাক্যটির প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: "আর তোমরা সেই সময়ে, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হবে, তাকিয়ে থাকবে।" দ্বিতীয় প্রকার হলো: শব্দের পরিবর্তে বিনিময়; যা 'কুল্লুন' এবং 'বাদুন' শব্দের শেষে যুক্ত হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "বলুন, প্রত্যেকেই কাজ করে নিজ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وَدخولِ الألِفِ وَالَّلام عليه (1) .
ــ
= شَاكِلَتِهِ} (1) ، والتقدير: كل أحد، أو كل إنسان، وقوله: {تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ} (2) ، أي: على بعضهم؛ الثالث: عوض عن حرف؛ وهو اللاحق لجوار، وغواش، ونحوهما، في حالتي الرفع والجر، وضابطه: كل جمع على وزن فواعل، وآخره ياء، فتحذف الياء، ويصير التنوين عوضا عنها، وفي حالة النصب تثبت الياء وتظهر عليها الفتحة.
(1) في أوله، سواء أفاد التعريف، كالرجل والغلام، أو لم يفد كالفضل والعباس، وسواء كانت للعهد الذكري، كجاء رجل فأكرمت الرجل (3) أو العهد الذهني، كجاء القاضي (4) أو العهد الحضوري، كـ {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} (5)
--------------------------------------------
এবং শব্দের শুরুতে আলিফ ও লাম (الألف واللام) এর প্রবেশ (১)।
—
= {তার পদ্ধতি অনুযায়ী} (১), আর এর উহ্য রূপ (التقدير): প্রত্যেক ব্যক্তি অথবা প্রত্যেক মানুষ; এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এই রাসূলগণ, আমি তাদের কতককে কতকের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি} (২), অর্থাৎ: তাদের এক অংশকে অন্য অংশের ওপর। তৃতীয়ত: বর্ণের পরিবর্তে (عوض عن حرف); আর তা হলো সেই তানউইন যা ‘জাওয়ার’ ও ‘গাওয়াশ’ এবং এই জাতীয় শব্দগুলোর শেষে রফ‘ (الرفع) ও জর (الجر) এর অবস্থায় যুক্ত হয়। এর নিয়ম হলো: ‘ফাওয়ায়িল’ (فواعل) ওযনের প্রতিটি বহুবচন (جمع) যার শেষে ‘ইয়া’ (ياء) রয়েছে, সেক্ষেত্রে ‘ইয়া’ বিলুপ্ত করা হয় এবং তানউইন (تنوين) তার স্থলাভিষিক্ত (عوض) হয়; আর নসব (النصب) এর অবস্থায় ‘ইয়া’ বহাল থাকে এবং তাতে ফাতহা (الفتحة) প্রকাশ পায়।
(১) শব্দের শুরুতে, চাই তা নির্দিষ্টকরণ (التعريف) বুঝাক, যেমন ‘আর-রাজুল’ ও ‘আল-গুলাম’, অথবা নির্দিষ্টকরণ না বুঝাক যেমন ‘আল-ফাদল’ ও ‘আল-আব্বাস’; চাই তা উল্লেখ-ভিত্তিক নির্দিষ্টতা (العهد الذكري) বুঝাতে হোক, যেমন: 'একজন লোক এল অতঃপর আমি লোকটিকে (আর-রাজুল) সম্মান করলাম' (৩); অথবা পরিচিত জ্ঞান-ভিত্তিক নির্দিষ্টতা (العهد الذهني) বুঝাতে হোক, যেমন: 'কাজী (আল-কাদী) সাহেব এলেন' (৪); অথবা উপস্থিত কোনো কিছুর নির্দিষ্টতা (العهد الحضوري) বুঝাতে হোক, যেমন: {আজ (আল-ইয়াওম) আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম} (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وَحُرُوف الْخَفْضِ، وَهيَ: مِنْ (1) ،
ــ
= وسواء كانت للجنس، كأهلك الناس الدينار، والدرهم (1) أو للاستغراق كـ {خُلِقَ الْإِنْسَانُ ضَعِيفًا} (2) ودخولها على غير الاسم شاذ. وعبر الأكثر بأل، لأن القاعدة: أن الكلمة إذا كانت على حرفين، ينطق بلفظها.
(1) أي: ويعرف الاسم أيضا بدخول حروف الخفض التسعة عليه، وكان حقها أن تذكر في مخفوضات الأسماء، وأحدها: من، بدأ بها لأنها أم الحروف، وتجر ما لا يجر غيرها، كعند، ولدى؛ وتفيد معان كثيرة، منها: الابتداء الزماني، كسرت من الغد (3) ، والمكاني، كخرجت من البيت.
ومنها: التبعيض، كأخذت من الدراهم، والبدل، كقوله تعالى {أَرَضِيتُمْ بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآَخِرَةِ} (4) .
وبيان الجنس، نحو: {فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ} (5) ، والتعليل، نحو: {مِمَّا
--------------------------------------------
এবং জার-এর অক্ষরসমূহ (حروف الخفض), আর সেগুলো হলো: 'মিন' (من) (১) ,
ــ
= আর চাই তা জাতিবাচকতার (جنس) জন্য হোক, যেমন: 'দিনার ও দিরহাম মানুষকে ধ্বংস করেছে' (১) অথবা ব্যাপকতা (استغراق) বুঝাতে হোক যেমন: {মানুষকে দুর্বল (ضعيف) হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে} (২) এবং বিশেষ্য (اسم) ব্যতীত অন্য শব্দের ওপর এর প্রবেশ বিরল (شاذ)। অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ একে 'আল' (أل) দ্বারা ব্যক্ত করেছেন, কারণ নিয়ম হলো: শব্দ যদি দুই অক্ষরের হয়, তবে তার মূল শব্দরূপেই উচ্চারণ করা হয়।
(১) অর্থাৎ: বিশেষ্যকে (اسم) তার ওপর নয়টি জার-এর অক্ষর (حروف الخفض) প্রবেশের মাধ্যমেও চেনা যায়। আর এগুলোর প্রকৃত স্থান ছিল বিশেষ্যের মাজরুর (مجرور) হওয়ার আলোচনায় উল্লেখ করা। সেগুলোর একটি হলো: 'মিন' (من); তিনি এটি দিয়ে শুরু করেছেন কারণ এটি এই অক্ষরগুলোর মূল, এবং এটি এমন শব্দকেও মাজরুর (مجرور) করে যা অন্যগুলো করতে পারে না, যেমন: 'ইনদা' এবং 'লাদা'; এটি অনেক অর্থ প্রদান করে, যার মধ্যে রয়েছে: সময়ের সূচনা বুঝাতে, যেমন: 'আমি আগামীকাল থেকে সফর করেছি' (৩), এবং স্থান বুঝাতে, যেমন: 'আমি ঘর থেকে বের হয়েছি'।
এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: অংশবিশেষ বুঝাতে (تبعيض), যেমন: 'আমি দিরহামগুলো থেকে কিছু নিয়েছি', এবং বিনিময় (بدل) বুঝাতে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে পার্থিব জীবনে সন্তুষ্ট হয়েছ?} (৪)।
এবং শ্রেণি বর্ণনা (بيان الجنس) করতে, যেমন: {সুতরাং তোমরা মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকো} (৫), এবং কারণ বর্ণনা (تعليل) করতে, যেমন: {যেহেতু...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
...................................................................
ــ
= خَطِيئَاتِهِمْ} (1) .
وتأتي صلة إذا دخلت على نكرة، وتقدمها نفي أو نهي أو استفهام، نحو: ما جاء من أحد، ولا تضرب من أحد، وهل رأيت من أحد (2) ، وتأتي بمعنى: الباء، نحو: {يَنْظُرُونَ مِنْ طَرْفٍ خَفِيٍّ} (3) ، وبمعنى: عن، نحو: {فَوَيْلٌ لِلْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمْ مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ} (4) ، وبمعنى: في، نحو: {أَرُونِي مَاذَا خَلَقُوا مِنَ الْأَرْضِ} (5) ، وبمعنى: عند، نحو: {لَنْ تُغْنِيَ عَنْهُمْ أَمْوَالُهُمْ وَلَا أَوْلَادُهُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا} (6) ، وبمعنى: على، نحو: {وَنَصَرْنَاهُ مِنَ الْقَوْمِ} (7) فكل ما
--------------------------------------------
—
= তাদের অপরাধসমূহ} (১)।
এটি সংযোগকারী (صلة) হিসেবে আসে যখন এটি কোনো অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (نكرة) ওপর প্রবেশ করে এবং এর পূর্বে না-বোধক (نفي), নিষেধবাচক (نهي) অথবা প্রশ্নবোধক (استفهام) অব্যয় থাকে। যেমন: 'মা জাআ মিন আহাদিন' (কোনো একজনও আসেনি), 'লা তাদ্বরিব মিন আহাদিন' (কাউকেও প্রহার করো না), এবং 'হাল রাইতা মিন আহাদিন' (তুমি কি কাউকে দেখেছ?) (২)। এটি কখনো 'বা' (الباء) অক্ষরের অর্থে আসে, যেমন: {তারা আড়চোখে তাকায়} (৩)। কখনো 'আন' (عن) এর অর্থে আসে, যেমন: {দুর্ভোগ সেই কঠোরহৃদয় ব্যক্তিদের জন্য যারা আল্লাহর স্মরণে বিমুখ} (৪)। কখনো এটি 'ফি' (في) এর অর্থে আসে, যেমন: {আমাকে দেখাও তারা পৃথিবীর কী সৃষ্টি করেছে} (৫)। কখনো এটি 'ইনদা' (عند) এর অর্থে আসে, যেমন: {আল্লাহর নিকট তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজেই আসবে না} (৬)। আর কখনো এটি 'আলা' (على) এর অর্থে আসে, যেমন: {আমি তাকে সেই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছিলাম} (৭)। সুতরাং যা কিছু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وَإلي (1) ، وَعَنْ (2) ، وَعَلَي (3) ،
ــ
= دخلت عليه من، من نحو هذه الأمثلة، فهو اسم ومجرور بها، وتفيد أمرا معنويا، يختلف باختلاف مدخولها، كما في هذه الأمثلة.
(1) وإلى: تفيد معان، أشهرها: الانتهاء، نحو: {ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ} (1) وسرت من البصرة إلى الكوفة، وتأتي بمعنى: مع، نحو {وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَهُمْ إِلَى أَمْوَالِكُمْ} (2) .
(2) فعن، من معانيها: المجاوزة، نحو رميت السهم عن القوس، وتأتي بمعنى: بعد نحو: {لَتَرْكَبُنَّ طَبَقًا عَنْ طَبَقٍ} (3) ، وبمعنى: على، نحو: {وَمَنْ يَبْخَلْ فَإِنَّمَا يَبْخَلُ عَنْ نَفْسِهِ} (4) ، أي: على نفسه، وتفيد التعليل، نحو: {إِلَّا عَنْ مَوْعِدَةٍ} ، وبمعنى: من، نحو: {يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ} ، وبمعنى: الباء، نحو: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى} (5) .
(3) وعلى، ومن معانيها الاستعلاء، نحو: علوت على الجبل؛ والظرفية،
--------------------------------------------
এবং ইলা (إلى) (১), এবং আন (عن) (২), এবং আলা (على) (৩),
—
= এই উদাহরণগুলোর মতো এগুলোর পূর্বে ‘মিন’ প্রবেশ করেছে, ফলে এটি একটি বিশেষ্য (اسم) এবং তা দ্বারা মাজরুর (مجرور) হয়েছে। এটি একটি অর্থগত বিষয় প্রদান করে, যা এর পরবর্তী শব্দের (مدخول) ভিন্নতার কারণে পরিবর্তিত হয়, যেমনটি এই উদাহরণগুলোতে দেখা যায়।
(১) এবং ইলা (إلى): এটি বেশ কিছু অর্থ প্রদান করে, যার মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলো: সমাপ্তি (الانتهاء), যেমন: {অতঃপর তোমরা রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো} (১) এবং ‘আমি বসরা থেকে কুফা পর্যন্ত ভ্রমণ করেছি’। এটি ‘সাথে’ (مع) অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেমন: {আর তোমরা তাদের ধন-সম্পদ তোমাদের ধন-সম্পদের সাথে (মিশিয়ে) ভক্ষণ করো না} (২)।
(২) অতঃপর আন (عن): এর অর্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: অতিক্রম করা (المجاوزة), যেমন: ‘আমি ধনুক থেকে তীর নিক্ষেপ করেছি’। এটি ‘পরে’ (بعد) অর্থেও আসে, যেমন: {অবশ্যই তোমরা এক স্তর থেকে অন্য স্তরে আরোহণ করবে} (৩)। এটি ‘উপরে’ (على) অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেমন: {আর যে কার্পণ্য করে, সে তো নিজের ওপরই কার্পণ্য করে} (৪), অর্থাৎ: নিজের উপরেই। এটি কারণ দর্শানো (التعليل) অর্থ প্রদান করে, যেমন: {কেবল এক ওয়াদার কারণে}। এটি ‘হতে’ (من) অর্থেও আসে, যেমন: {তিনি তাঁর বান্দাদের নিকট থেকে তওবা কবুল করেন}। এবং এটি ‘বা’ (الباء) হরফের অর্থেও আসে, যেমন: {আর তিনি নিজ খেয়াল-খুশি থেকে কথা বলেন না} (৫)।
(৩) এবং আলা (على): এর অন্যতম অর্থ হলো উচ্চতা বা উপরে থাকা (الاستعلاء), যেমন: ‘আমি পাহাড়ের উপরে আরোহণ করলাম’; এবং এটি আধারে অবস্থান (الظرفية) বুঝাতেও ব্যবহৃত হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَفي (1) ،......................................................
ــ
نحو: {وَدَخَلَ الْمَدِينَةَ عَلَى حِينِ غَفْلَةٍ مِنْ أَهْلِهَا} (1) ، وبمعنى: عن، كقول الشاعر:
… ... إذا رضيت علي بنو قشير (2)
وتأتي للتعليل، نحو: {لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ} (3) ، وبمعنى: من، نحو: {إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ} (4) .
(1) في: من معانيها الظرفية، نحو: جلست في المسجد، والسببية، نحو: «دخل الجنة رجل في ذباب» ، والاستعلاء، نحو: {وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ} (5) ، وبمعنى: مع، نحو {ادْخُلُوا فِي أُمَمٍ} ، وبمعنى: عند، نحو: {وَإِنَّا لَنَرَاكَ فِينَا ضَعِيفًا} (6) ،
--------------------------------------------
এবং 'ফি' (في) (১), ......................................................
—
যেমন: {এবং তিনি শহরে প্রবেশ করলেন এমন এক সময়ে যখন তার অধিবাসীরা ছিল অসতর্ক} (১), এবং 'আন' (عن) অর্থে, যেমন কবির উক্তি:
… ... যখন বনু কুশাইর আমার প্রতি সন্তুষ্ট হলো (২)
আর এটি কারণ দর্শানোর (التعليل) জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন: {যাতে তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা কর এই জন্য যে, তিনি তোমাদের হিদায়াত করেছেন} (৩), এবং 'মিন' (من) অর্থে, যেমন: {যখন তারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নেয়, তখন পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে} (৪) ।
(১) ফি (في): এর অর্থসমূহের মধ্যে রয়েছে আধারত্ব (الظرفية), যেমন: আমি মসজিদে বসেছি; কারণ দর্শানো (السببية), যেমন: «একটি মাছির কারণে এক ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করল»; উপরে থাকা বা উচ্চতা (الاستعلاء), যেমন: {এবং আমি অবশ্যই তোমাদের খেজুর গাছের কাণ্ডে ক্রুশবিদ্ধ করব} (৫); এবং 'মা'আ' (مع) অর্থে, যেমন: {তোমরা বিভিন্ন জাতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রবেশ করো}; এবং 'ইনদা' (عند) অর্থে, যেমন: {এবং নিশ্চয়ই আমরা আমাদের মাঝে তোমাকে দুর্বল দেখছি} (৬) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَرُبَّ (1) ، والْبَاءُ، والْكافُ، وَالَّلامُ (2) .
ــ
وبمعنى: عن نحو: {أَتُجَادِلُونَنِي فِي أَسْمَاءٍ} (1) ، وبمعنى: من، نحو: {يُخْرِجُ الْخَبْءَ فِي السَّمَاوَاتِ} .
(1) أي، ومن حروف الجر، رب، وتأتي للتقليل، نحو: رب رجل صالح لقيته (2) ، وللتكثير، نحو: رب رجل طالح لقيته، ويشترط تصديرها، وتأخير عاملها؛ وأن يكون فعلها ماضيا، وتنكير مجرورها، وأن تكون النكرة موصوفة بجملة.
(2) الباء من معانيها: التعويض نحو ابتعته بدرهم، والتعدية، نحو: مررت بزيد، والإلصاق، نحو {امْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ} (3) ، والبدل نحو: فليت لي بهم قوما (4) ، والسببية، نحو: {فَبِظُلْمٍ} ، والظرفية، نحو: جلست بالمسجد، والمصاحبة نحو: {فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ} ، والاستعانة، نحو: {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} ، وبمعنى: عن، نحو: {سَأَلَ سَائِلٌ بِعَذَابٍ وَاقِعٍ} ، وبمعنى: من، نحو: شرب بماء
--------------------------------------------
এবং 'রুব্বা' (رُبَّ), 'বা' (الباء), 'কাফ' (الكاف) এবং 'লাম' (اللام)।
--
আর এটি 'আন' (عن) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন: {তোমরা কি আমার সাথে এমন নামগুলো নিয়ে বিতর্ক করছ?} (১), এবং 'মিন' (من) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন: {যিনি আসমানসমূহের গোপন বস্তু বের করেন}।
(১) অর্থাৎ, 'হরফে জর' (حروف الجر) সমূহের মধ্যে একটি হলো 'রুব্বা' (رُبَّ); এটি কখনো স্বল্পতা (التقليل) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেমন: "হয়তো কোনো একজন নেককার ব্যক্তির সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে" (২); আবার কখনো আধিক্য (التكثير) বোঝাতে আসে, যেমন: "হয়তো অনেক পাপিষ্ঠ ব্যক্তির সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে"। এর ব্যবহারের জন্য শর্ত হলো এটিকে বাক্যের শুরুতে আসা এবং এর 'আমেল' (عامل)-কে পরে আনা; আর এর ক্রিয়াটি 'অতীতকাল' (ماضي) হতে হয়, যার পূর্বে এটি বসেছে সেই শব্দটি 'অনির্দিষ্ট' (نكرة) হতে হয় এবং সেই অনির্দিষ্ট শব্দটি একটি 'বাক্য' (جملة) দ্বারা বিশেষিত হতে হয়।
(২) 'বা' (الباء) এর অর্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: বিনিময় (التعويض), যেমন: আমি এটি এক দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করেছি; অতিক্রম করা (التعدية), যেমন: আমি জায়েদকে অতিক্রম করেছি; সংস্পর্শ (الإلصاق), যেমন: {তোমরা তোমাদের মাথা মাসাহ করো} (৩); স্থলাভিষিক্ততা (البدل), যেমন: "যদি তাদের পরিবর্তে আমার অন্য কোনো গোত্র হতো" (৪); কারণ (السببية), যেমন: {অতঃপর জুলুমের কারণে}; আধেয়তা (الظرفية), যেমন: আমি মসজিদে বসেছি; সঙ্গ (المصاحبة), যেমন: {অতঃপর আপনার রবের প্রশংসার সাথে তাসবিহ পাঠ করুন}; সাহায্য গ্রহণ (الاستعانة), যেমন: {পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে}; 'আন' (عن) এর অর্থে, যেমন: {এক যাচনাকারী আসন্ন আজাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল}; এবং 'মিন' (من) এর অর্থে, যেমন: পানি থেকে পান করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
.......................................................
ــ
البحر (1) ، وبمعنى اللام، نحو: {وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ الْبَحْرَ} (2) ، والكاف، ومن معانيها: التشبيه، نحو: زيد كالأسد، والتعليل، نحو: {وَاذْكُرُوهُ كَمَا هَدَاكُمْ} (3) ، واللام؛ ومن معانيها: الملك، نحو: المال لزيد والاستحقاق، نحو: الحمد لله، والاختصاص، نحو الجل للفرس، والعاقبة، نحو: ابنوا للخراب، والانتهاء، نحو: {كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُسَمًّى} (4) ، والتعليل، نحو: جئت لطلب العلم، وبمعنى: في، نحو: {وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ} (5) ، وبمعنى: بعد، نحو: {أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ} .
--------------------------------------------
—
সমুদ্র (১), এবং এটি ‘লাম’-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন: {আর যখন আমি তোমাদের জন্য সমুদ্রকে বিভক্ত করেছিলাম} (২), এবং ‘কাফ’; এর অর্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: উপমা, যেমন: যায়িদ সিংহের মতো; এবং কারণ দর্শানো, যেমন: {আর তাঁকে স্মরণ করো যেভাবে তিনি তোমাদের পথপ্রদর্শন করেছেন} (৩); এবং ‘লাম’; এর অর্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: মালিকানা, যেমন: সম্পদ যায়িদের; প্রাপ্যতা, যেমন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; বিশেষত্ব, যেমন: ঘোড়ার জীন; পরিণতি, যেমন: ধ্বংস হওয়ার জন্য নির্মাণ করো; সমাপ্তি, যেমন: {প্রত্যেকটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলমান থাকে} (৪); এবং কারণ দর্শানো, যেমন: আমি জ্ঞান অর্জনের জন্য এসেছি; এবং ‘ফী’-এর অর্থে, যেমন: {আর আমি কিয়ামতের দিনের জন্য ন্যায়বিচারের পাল্লাসমূহ স্থাপন করব} (৫); এবং ‘বাদ’-এর অর্থে, যেমন: {সূর্য ঢলে পড়ার পর নামাজ কায়েম করো}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وحُرُوفُ القَسَمِ، وهِيَ: الْوَاوُ، والْبَاءُ، والتَّاءُ (1) .
ــ
= وتنقسم هذه الحروف إلى قسمين، قسم: لا يدخل إلا على الظاهر فقط، وهو رب، والكاف؛ وقسم: يدخل على الظاهر والمضمر، وهو ما عداهما؛ وتنقسم أيضا إلى قسمين قسم: لا يجر إلا نكرة، وهو رب فقط، وقسم: يجر النكرة والمعرفة، وهو ما عدا رب.
(1) أي: ويعرف الاسم أيضا، بدخول حروف القسم عليه؛ وإنما فصلها لاختصاصها بالقسم، وهو الحلف، وقدم الواو لاشتهارها في القسم، نحو: والله (1) وثنى بالباء، نحو: أقسم بالله، الله أقسم به (2) ، وثلث بالتاء، نحو: تالله (3) ، وهي قسمان: قسم يجر الظاهر والمضمر، وهي الباء وقسم لا يجر إلا الظاهر فقط، وهي الواو والتاء.
والذي لا يجر إلا الظاهر فقط، ينقسم إلى قسمين: قسم يجر كل ظاهر، وهي الواو، نحو: والله {وَالْعَصْرِ} وقسم لا يجر إلا لفظ الجلالة فقط، وهي التاء، نحو: {تَاللَّهِ لَأَكِيدَنَّ أَصْنَامَكُمْ} (4) ، وقد سمع من كلام العرب: ترب الكعبة، وتالرحمن، وقد سمع من كلامهم القسم بغير هذه الحروف الثلاثة، نحو: لله، والهمزة نحو: ألله، والهاء نحو: هالله، فكل كلمة دخل عليها واحد من هذه الأحرف، أو
--------------------------------------------
এবং শপথের অব্যয়সমূহ (حروف القسم), আর সেগুলো হলো: ওয়াও (الواو), বা (الباء) এবং তা (التاء) (১)।
—
= এই অব্যয়গুলো দুই ভাগে বিভক্ত; এক প্রকার: যা কেবল স্পষ্ট বিশেষ্যের (الظاهر) ওপর প্রবেশ করে, আর তা হলো ‘রুব্বা’ (رب) এবং ‘কাফ’ (الكاف); আর দ্বিতীয় প্রকার: যা স্পষ্ট বিশেষ্য (الظاهر) ও সর্বনাম (المضمر) উভয়ের ওপর প্রবেশ করে, আর তা হলো এই দুটি ব্যতীত অন্যগুলো। এগুলো আবার অন্য দুই প্রকারেও বিভক্ত; এক প্রকার: যা কেবল অনির্দিষ্ট বিশেষ্যকে (نكرة) ‘জর’ প্রদান করে, আর তা হলো কেবল ‘রুব্বা’ (رب), এবং দ্বিতীয় প্রকার: যা অনির্দিষ্ট (نكرة) ও নির্দিষ্ট (معرفة) উভয় প্রকার বিশেষ্যকেই ‘জর’ প্রদান করে, আর তা হলো ‘রুব্বা’ (رب) ব্যতীত অন্যগুলো।
(১) অর্থাৎ: বিশেষ্যকেও (اسم) চেনা যায় তার শুরুতে শপথের অব্যয়সমূহের (حروف القسم) প্রবেশের মাধ্যমে। শপথ বা কসমের (الحلف) সাথে বিশিষ্ট সম্পর্কের কারণে লেখক এগুলোকে পৃথকভাবে উল্লেখ করেছেন। আর শপথের ক্ষেত্রে অধিক প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণে তিনি ‘ওয়াও’কে (الواو) আগে এনেছেন, যেমন: ‘ওয়াল্লাহি’ (আল্লাহর শপথ)। দ্বিতীয়ত ‘বা’ (الباء) উল্লেখ করেছেন, যেমন: ‘আকসিমু বিল্লাহি’ (আমি আল্লাহর নামে শপথ করছি), ‘আল্লাহু আকসিমু বিহি’ (আল্লাহ, আমি তাঁর নামে শপথ করছি)। তৃতীয়ত ‘তা’ (التاء) উল্লেখ করেছেন, যেমন: ‘তাল্লাহি’ (আল্লাহর শপথ)। এগুলো আবার দুই প্রকার: এক প্রকার যা স্পষ্ট বিশেষ্য (الظاهر) ও সর্বনাম (المضمر) উভয়কেই ‘জর’ প্রদান করে, আর তা হলো ‘বা’ (الباء)। দ্বিতীয় প্রকার যা কেবল স্পষ্ট বিশেষ্যকেই (الظاهر) ‘জর’ দেয়, আর তা হলো ‘ওয়াও’ (الواو) ও ‘তা’ (التاء)।
আর যা কেবল স্পষ্ট বিশেষ্যকে (الظاهر) ‘জর’ দেয় তা আবার দুই প্রকার: এক প্রকার সব ধরণের স্পষ্ট বিশেষ্যকেই ‘জর’ দেয়, আর তা হলো ‘ওয়াও’ (الواو); যেমন: ‘ওয়াল্লাহি’ (আল্লাহর শপথ), এবং ‘ওয়াল আসরি’ (সময়ের শপথ)। দ্বিতীয় প্রকার যা কেবল আল্লাহ শব্দ বা ‘লফজুল জালালাহ’র (لفظ الجلالة) পূর্বেই আসে, আর তা হলো ‘তা’ (التاء); যেমন: {তাল্লাহি লা-আকিদান্না আসনামাকুম} (আল্লাহর শপথ, অবশ্যই আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ করব)। আরবদের কথাবার্তায় ‘তারাব্বিল কাবাতি’ (ترب الكعبة) এবং ‘তার-রাহমানি’ (تالرحمن) শব্দগুলোও শোনা গেছে। এছাড়া এই তিনটি অব্যয় ছাড়াও অন্য শব্দের মাধ্যমেও শপথ করার কথা তাদের ভাষ্যে পাওয়া যায়, যেমন: ‘লিল্লাহি’ (لله), হামজার মাধ্যমে ‘আ-আল্লাহি’ (ألله) এবং হা-এর মাধ্যমে ‘হা-আল্লাহি’ (هالله)। সুতরাং যে শব্দের শুরুতে এই অক্ষরগুলোর কোনোটি আসবে, অথবা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
والفِعْلَ يُعْرَفُ بِقَدْ، وَالسينِ و"سَوْفَ" وَتَاءِ التأْنيثِ السَّاكِنة (1) .
ــ
= صح أن يدخل عليها فهي اسم.
وللاسم علامات غير ما ذكر، كحروف النداء، نحو: يا زيد (1) ، والإسناد إليه، وهي من أوضح علاماته، نحو: قام زيد، فزيد اسم بإسناد القيام إليه، وبه عرف إسمية تاء الفاعل، نحو: ضربت فالتاء اسم، بدليل إسناد الضرب إليها. وتنقسم هذه العلامات إلى قسمين، قسم علامة للاسم من آخره، وهي حروف الخفض والتنوين؛ وقسم علامة له من أوله وهي إلى وحروف الجر، وحروف القسم.
(1) أي: والقسم الثاني، من أقسام الكلام: الفعل، يعرف أي: يميز عن الاسم والحرف بعلامات، بقد سواء كانت للتحقيق، نحو: قد قام زيد (2) ، أو للتقريب، نحو: قد قامت الصلاة، أو للتكثير، نحو: قد يجود الكريم، أو للتقليل، نحو: قد يجود البخيل.
والسين وهي: حرف تنفيس، ومعناه الزمن القريب، نحو: سيقوم زيد (3) . وسوف وهي: حرف تسويف، ومعناه الزمن البعيد، نحو: {سَوْفَ تَعْلَمُونَ} (4) ، وتاء التأنيث الساكنة، أي: وتاء تأنيث الفاعل، الذي أسند إليه الفعل، سواء كان الفعل الذي لحقته التاء حقيقيا: كقامت هند، أو معنويا: كطلعت الشمس (5) ، فخرجت تاء ربت وثمت، لأنها لم تسند إلى فاعل والمتحركة كتاء مسلمة.
--------------------------------------------
এবং ক্রিয়া চেনা যায় ‘ক্বদ’, ‘সিন’, ‘সাওফা’ এবং স্থির তায়ের তানিছ (১) দ্বারা।
—
= সেগুলোর ওপর প্রবেশ করা যদি শুদ্ধ হয় তবে তা বিশেষ্য।
বিশেষ্যের জন্য যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ছাড়াও আরও কিছু আলামত বা চিহ্ন রয়েছে, যেমন সম্বোধনসূচক হরফসমূহ, যথা: হে জায়েদ (১), এবং তার দিকে ইসনাদ (إسناد) করা; আর এটি বিশেষ্যের স্পষ্টতম আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেমন: জায়েদ দাঁড়িয়েছে। এখানে জায়েদ হলো বিশেষ্য, কেননা তার দিকে দাঁড়ানোর বিষয়টি ইসনাদ (إسناد) করা হয়েছে। এর মাধ্যমেই ফায়িল বা কর্তার ‘তা’-এর বিশেষ্য হওয়া সম্পর্কে জানা যায়, যেমন: ‘আমি প্রহার করেছি’। এখানে ‘তা’ হলো একটি বিশেষ্য, যার প্রমাণ হলো তার দিকে প্রহারের বিষয়টি ইসনাদ (إسناد) করা হয়েছে। এই আলামতগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: এক প্রকার আলামত যা বিশেষ্যের শেষে যুক্ত হয়, তা হলো হরফে খফয ও তানভিন; এবং অন্য প্রকার আলামত যা শুরুতে যুক্ত হয়, তা হলো ‘ইলা’, হরফে জার ও শপথের হরফসমূহ।
(১) অর্থাৎ: কালাম বা বাক্যের প্রকারভেদসমূহের মধ্যে দ্বিতীয় প্রকার হলো: ক্রিয়া। এটি অর্থাৎ বিশেষ্য ও অব্যয় থেকে কতিপয় আলামত দ্বারা আলাদা করা যায়; ‘ক্বদ’ দ্বারা, তা সুনিশ্চিতকরণের জন্য হোক, যেমন: জায়েদ দাঁড়িয়েছে (২), অথবা নৈকট্য বোঝাতে হোক, যেমন: নামায শুরু হয়ে গেছে, অথবা আধিক্য বোঝাতে হোক, যেমন: দাতা ব্যক্তি দান করে থাকে, কিংবা স্বল্পতা বোঝাতে হোক, যেমন: কৃপণ ব্যক্তি মাঝে মাঝে দান করে থাকে।
এবং ‘সিন’ যা হলো: নিকটবর্তী ভবিষ্যৎ জ্ঞাপক হরফ, যার অর্থ হলো নিকটবর্তী সময়, যেমন: অচিরেই জায়েদ দাঁড়াবে (৩)। এবং ‘সাওফা’ যা হলো: দূরবর্তী ভবিষ্যৎ জ্ঞাপক হরফ, যার অর্থ হলো দীর্ঘ সময়, যেমন: {অচিরেই তোমরা জানতে পারবে} (৪), এবং স্থির তায়ের তানিছ, অর্থাৎ: ক্রিয়া যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে সেই কর্তার স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার সূচক ‘তা’। চাই সেই ক্রিয়া যার সাথে ‘তা’ যুক্ত হয়েছে তা প্রকৃত স্ত্রীলিঙ্গ হোক: যেমন হিন্দ দাঁড়িয়েছে, অথবা রূপক স্ত্রীলিঙ্গ হোক: যেমন সূর্য উদিত হয়েছে (৫)। এর মাধ্যমে ‘রব্বাত’ এবং ‘সুম্মাত’-এর ‘তা’ বের হয়ে গেল, কারণ এগুলো কোনো ফায়িল বা কর্তার দিকে সম্বন্ধ করা হয়নি। আর হরকতবিশিষ্ট ‘তা’-ও এর অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমন ‘মুসলিমাতুন’-এর ‘তা’।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
والْحَرْفُ مَا لَا يَِِصْلُحُ مَعَهُ دَلِيلُ الاِسْمِ وَلَا دَلِيلُ الْفِعْل (1) .
ــ
= وللفعل علامات غير ما ذكر كتاء الفاعل، نحو: ضربت، ولم، نحو: لم يقم (1) ، فكل كلمة دخل عليها شيء من علاماته، أو صح أن يدخل عليها، فهي فعل، وتنقسم هذه العلامات إلى ثلاثة أقسام، قسم مختص بالمضارع، وهو: السين، وسوف، ولم؛ وقسم مختص بالماضي، وهو: تاء الفاعل، وتاء التأنيث الساكنة؛ وقسم مشترك بينهما، وهو: قد، نحو: قد قام زيد، وقد يقوم زيد (2) .
واختلف النحويون في: نعم وبئس، هل هما فعلان، أو اسمان؟ والصحيح أنهما فعلان، بدليل دخول تاء التأنيث الساكنة عليهما، نحو: نعمت وبئست، وكذا عسى وليس، نحو: عست هند أن تقوم، وليست هند قائمة (3) وعلامة فعل الأمر دلالته على الطلب، واشتقاقه من المصدر، وقبوله نون التوكيد، نحو: اضربن، وياء المؤنثة المخاطبة، نحو: اضربي، وخرج نحو: صه ومه، ونزال ودراك، ونحوها.
(1) أي: والقسم الثالث من أقسام الكلام: الحرف وهو ما لا يصلح معه، أي: وهو كلمة لا يصلح معها دليل الاسم، أي: علامة الاسم، ولا دليل الفعل أي علامة الفعل، فعلامته: عدم قبوله شيئا من علامات الاسم، أو من علامات الفعل، ولذلك قال بعضهم:
والحرف ما ليست له علامة
… فقس على قولي تكن علامة
--------------------------------------------
এবং অব্যয় (حرف) হলো এমন শব্দ যার সাথে বিশেষ্যের (اسم) আলামত বা ক্রিয়ার (فعل) আলামত কোনোটিই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় (১)।
—
= ক্রিয়ার (فعل) আরও কিছু আলামত রয়েছে যা উল্লেখ করা হয়নি, যেমন কর্তাবাচক 'তা' (تاء الفاعل), যথা: 'দারাবতু' (ضربت), এবং 'লাম' (لم), যথা: 'লাম ইয়াকুম' (لم يقم) (১)। সুতরাং যে শব্দের ওপর তার আলামতগুলোর কোনোটি যুক্ত হয় বা যুক্ত হওয়া শুদ্ধ হয়, সেটিই ক্রিয়া (فعل)। এই আলামতসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত—এক প্রকার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালবাচক ক্রিয়ার (مضارع) সাথে নির্দিষ্ট, আর তা হলো: সিন (السين), সাওফা (سوف) এবং লাম (لم); এক প্রকার অতীত কালবাচক ক্রিয়ার (ماضي) সাথে নির্দিষ্ট, আর তা হলো: কর্তাবাচক 'তা' (تاء الفاعل) এবং স্থির স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'তা' (تاء التأنيث الساكنة); এবং এক প্রকার উভয় ক্রিয়ার মধ্যে সাধারণ, আর তা হলো: কাদ (قد), যথা: 'কাদ ক্বামা যাইদুন' (قد قام زيد) এবং 'কাদ ইয়াকুমু যাইদুন' (قد يقوم زيد) (২)।
নাহুবিদগণ 'নি’মা' (نعم) এবং 'বি’সা' (بئস) এর ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন যে, এগুলো কি ক্রিয়া (فعل) না কি বিশেষ্য (اسم)? সঠিক মত হলো এই যে, এগুলো ক্রিয়া (فعل), যার প্রমাণ হলো এদের শেষে স্থির স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'তা' (تاء التأنيث الساكنة) যুক্ত হওয়া, যথা: 'নি’মাত' (نعمت) এবং 'বি’সাত' (بئست)। অনুরূপভাবে 'আসা' (عسى) এবং 'লায়সা' (ليس) ও ক্রিয়া, যথা: 'আসাত হিন্দুন আন তাকুমা' (عست هند أن تقوم) এবং 'লায়সাত হিন্দুন কায়িমাতান' (ليست هند قائمة) (৩)। আদেশসূচক ক্রিয়ার (فعل الأمر) আলামত হলো কোনো কিছু তলব বা প্রার্থনা করা (طلب) বোঝানো, ক্রিয়ামূল (مصدر) থেকে ব্যুৎপন্ন হওয়া এবং তাকিদবাচক নুন (نون التوكيد) গ্রহণ করা, যথা: 'ইদরিবান্না' (اضربن), এবং সম্বোধনবাচক স্ত্রীলিঙ্গ 'ইয়া' (ياء المؤنثة المخاطبة) গ্রহণ করা, যথা: 'ইদরিবী' (اضربي)। এর ফলে 'সাহ' (صه), 'মাহ' (مه), 'নাযালি' (نزال), 'দারাকি' (دراك) এবং এই জাতীয় শব্দগুলো (আদেশসূচক ক্রিয়া থেকে) বাদ পড়ে যাবে।
(১) অর্থাৎ: কালাম বা বাক্যের তৃতীয় প্রকার হলো অব্যয় (حرف), আর তা হলো এমন শব্দ যার সাথে বিশেষ্যের (اسم) আলামত বা ক্রিয়ার (فعل) আলামত খাপ খায় না। অর্থাৎ এটি এমন শব্দ যার সাথে বিশেষ্যের (اسم) কোনো আলামত বা ক্রিয়ার (فعل) কোনো আলামত গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং এর আলামত হলো বিশেষ্য (اسم) বা ক্রিয়ার (فعل) কোনো আলামত গ্রহণ না করা। এজন্য জনৈক ব্যাকরণবিদ বলেছেন:
অব্যয় (حرف) হলো এমন যার কোনো আলামত নেই... আমার এই কথার ওপর অনুমান করো, তবেই তুমি বিজ্ঞ হিসেবে গণ্য হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
بَابُ: الإِعرَابِ (1)
الإعْرَابُ هُوَ: تَغْييرُ أَوَاخِرِ الْكلِمِ (2) لاِخْتِلَاف ِ الْعَوَامِلِ الْداخِلَة عَلَيهَا لَفْظاً أَوْ تَقْدِيراً (3) .
ــ
(1) لما ذكر المصنف الكلام وأقسامه: ذكر الإعراب لأنه المقصود بتصنيف الكتاب، والباب لغة: المدخل إلى الشيء، واصطلاحا: اسم لجملة من العلم، تحته فصول ومسائل غالبا، والإعراب لغة، يطلق على معان: منها التغيير، من قولهم أعربت معدة البعير إذا تغيرت؛ والتفسير والإبانة، كما في الحديث: «الثيب تعرب عن نفسها» أي: تفسر وتبين، ومنه: جارية عروب، أي: حسناء، فالكلمة إذا أعربت ظهر معناها وبان؛ واصطلاحا: ما ذكره المصنف.
(2) أي: أحوال أواخر الكلم، لا أوائلها، ولا أوساطها، لأن ذلك من أبحاث الصرف، مثل فلس وفليس، ودرهم ودريهم، فلا يسمى هذا التغيير إعرابا، وإنما يتبين بالإعراب: أحوال أواخر الكلم فقط، والمراد بتغيير حال الآخر: تصييره مرفوعا، أو منصوبا، أو مخفوضا بعد أن كان ساكنا.
(3) أي: تغييرها بسبب اختلاف العوامل الداخلة على الكلم، والعوامل: جمع عامل، وهو ما أوجب كون آخر الكلمة على وجه مخصوص، من رفع أو نصب أو خفض أو جزم، والعوامل: أكثر من مائة عامل،
পরিচ্ছেদ: ইরাব (১)
ইরাব হলো: শব্দের ওপর প্রবেশকারী আমিলসমূহের ভিন্নতার কারণে শব্দের শেষাবস্থার পরিবর্তন, যা শাব্দিক অথবা প্রচ্ছন্নভাবে হয়ে থাকে (৩)।
--
(১) গ্রন্থকার যখন কালাম ও তার প্রকারভেদ বর্ণনা করেছেন, তখন তিনি ইরাব প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন; কেননা এটিই কিতাবটি রচনার মূল লক্ষ্য। আভিধানিক অর্থে ‘বাব’ হলো কোনো কিছুতে প্রবেশের পথ; আর পরিভাষায় এটি ইলমের এমন এক সমষ্টির নাম যার অধীনে সাধারণত বিভিন্ন পরিচ্ছেদ ও মাসআলা থাকে। আভিধানিক দিক থেকে ইরাব শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: তার মধ্যে একটি হলো পরিবর্তন; যেমন তারা বলে থাকে: ‘উটটির পাকস্থলী পরিবর্তিত হয়ে গেছে’ যখন তাতে পরিবর্তন দেখা দেয়। অপর অর্থ হলো ব্যাখ্যা করা ও সুস্পষ্ট করা; যেমনটি হাদিসে এসেছে: «বিবাহিত নারী তার নিজের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বর্ণনা দেয়» অর্থাৎ: সে ব্যাখ্যা করে ও সুস্পষ্ট করে। আর এখান থেকেই ‘জারিয়া আরুব’ শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হলো সুন্দরী নারী। কোনো শব্দকে যখন ইরাব করা হয়, তখন তার অর্থ প্রকাশিত ও সুস্পষ্ট হয়ে যায়। আর পারিভাষিক অর্থে ইরাব হলো তা-ই যা গ্রন্থকার উল্লেখ করেছেন।
(২) অর্থাৎ: শব্দের শেষভাগের অবস্থা, শুরু বা মধ্যভাগের নয়। কারণ সেগুলো সরফ শাস্ত্রের আলোচনার বিষয়; যেমন ‘ফালস’ থেকে ‘ফুলাইস’ এবং ‘দিরহাম’ থেকে ‘দুরাইহিম’। এই পরিবর্তনকে ইরাব বলা হয় না; বরং ইরাবের মাধ্যমে কেবল শব্দের শেষাংশের অবস্থাই স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়। আর শেষাংশের অবস্থা পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো: শব্দটিকে সাকিন (স্থির) থাকার পর রফ, নসব অথবা খফদ অবস্থায় রূপান্তর করা।
(৩) অর্থাৎ: শব্দের ওপর প্রবেশকারী আমিলসমূহের ভিন্নতার কারণে সেগুলোর পরিবর্তন হওয়া। ‘আওয়ামিল’ হলো ‘আমিল’-এর বহুবচন; আর আমিল হলো তা-ই যা শব্দের শেষাংশকে রফ, নসব, খফদ বা জজম-এর মতো কোনো একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় থাকতে বাধ্য করে। আর আমিলসমূহ একশটিরও বেশি।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
.................................................................
ــ
قوله: لفظا، أي: فيما كان آخره صحيحا، وهو ما عري آخره، عن أحد حروف العلة، الواو، والألف، والياء، إما بالضمة، كزيد يضرب، أو بالفتحة، كلن يضرب عمرو زيدا (1) ، أو بالكسرة في الاسم والسكون في الفعل، كلم يمرر بزيد (2) ، فالتغيير الحاصل، هو الإعراب.
وقوله: أو تقديرا، يعني: فيما ليس آخره صحيحا كأن يكون مقصورا، وضابطه: كل اسم معرب، آخره ألف لازمة، قبلها فتحة، نحو: قام الفتى (3) ، ورأيت الفتى (4) ، ومررت بالفتى (5) أو منقوصا، وضابطه: كل اسم معرب، آخره ياء لازمة، قبلها كسرة، نحو: جاء القاضي (6) ، ومررت بالقاضي (7) ، أو تكون الألف محذوفة، أو الياء،
--------------------------------------------
ــ
তাঁর কথা: শাব্দিকভাবে (لفظا), অর্থাৎ: যার শেষাংশ সহিহ (صحيح) হয়েছে; আর তা হলো এমন শব্দ যার শেষাংশ কোনো ইল্লত বা রুগ্ন বর্ণ (حروف العلة) অর্থাৎ—ওয়াও, আলিফ এবং ইয়া থেকে মুক্ত। এটি হয় দম্মা বা পেশের (ضمة) মাধ্যমে, যেমন: ‘যায়েদুন ইয়াদরিবু’ (زيد يضرب); অথবা ফাতহা বা জবরের (فتحة) মাধ্যমে, যেমন: ‘লান ইয়াদরিবা আমরুন যায়েদান’ (لن يضرب عمرو زيدا) (১); অথবা বিশেষ্যের ক্ষেত্রে কাসরা বা জেরের (كسرة) মাধ্যমে এবং ক্রিয়ার ক্ষেত্রে সুকুন বা জজমের (سكون) মাধ্যমে, যেমন: ‘লাম ইয়ামরুর বি-যায়েদিন’ (لم يمرر بزيد) (২)। সুতরাং যে পরিবর্তন সাধিত হয়, সেটিই হলো ই'রাব (إعراب)।
এবং তাঁর কথা: উহ্যভাবে (تقديرا), অর্থাৎ: যার শেষাংশ সহিহ (صحيح) নয়, যেমন সেটি মাকসুর (مقصور) হওয়া। এর নিয়ম হলো: প্রত্যেক মু'রাব বিশেষ্য (اسم معرب), যার শেষে একটি অপরিহার্য আলিফ বা আলিফে লাযিমা (ألف لازمة) থাকে এবং তার পূর্বের বর্ণে ফাতহা থাকে, যেমন: ‘ক্বামাল ফাতা’ (قام الفتى) (৩), ‘রাআইতুল ফাতা’ (رأيت الفتى) (৪) এবং ‘মারারতু বিল ফাতা’ (مررت بالفتى) (৫)। অথবা সেটি মানকুস (منقوص) হওয়া; এর নিয়ম হলো: প্রত্যেক মু'রাব বিশেষ্য (اسم معرب), যার শেষে একটি অপরিহার্য ইয়া বা ইয়ায়ে লাযিমা (ياء لازمة) থাকে এবং তার পূর্বের বর্ণে কাসরা থাকে, যেমন: ‘জাআল ক্বাদি’ (جاء القاضي) (৬) এবং ‘মারারতু বিল ক্বাদি’ (مررت بالقاضي) (৭), অথবা আলিফ বা ইয়া বিলুপ্ত হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وأقسامه أربعة (1) : رَفْعٌ، وَنَصْبٌ، وَخَفْضٌ، وَجَزْمٌ (2) ؛
ــ
نحو: قام فتى (1) ، ورأيت فتى (2) ، ومررت بفتى (3) ، أو مضارعا، معتل الآخر، كيخشى، ويدعو، ويرمي (4) ؛ وأما المضاف إلى ما قبل ياء المتكلم، في نحو: غلامي، فتقدر فيه الحركات الثلاث، على ما قبل ياء المتكلم (5) .
(1) أقسام الإعراب، بمعنى أنواعه، وفي بعض النسخ: وعلاماته، وألقابه أربعة، على سبيل الإجمال، لأن للإعراب أقساما وألقابا، فالأقسام ما ذكره؛ والألقاب هي: الضم والفتح، والكسر، والسكون.
(2) الرفع في اللغة: التعلية؛ وفي الاصطلاح: تغيير مخصوص، يجلبه عامل مخصوص، علامته الضمة، وما ناب عنها؛ والنصب في اللغة: الاستواء، وفي الاصطلاح: تغيير مخصوص، يجلبه عامل
مخصوص، علامته الفتحة، وما ناب عنها؛ والخفض تقدم؛ والجزم
في اللغة: الحز والقطع، وفي الاصطلاح: تغيير مخصوص، يجلبه
--------------------------------------------
এবং এর প্রকার চারটি (১): রফ (পেশ), নসব (জবর), খফদ (জের) এবং জজম (সুকুন) (২);
—
যেমন: ‘ক্বামা ফাতা’ (১), ‘রাআইতু ফাতা’ (২), ‘মারারতু বি-ফাতিন’ (৩), অথবা শেষাক্ষর ইল্লাতযুক্ত মুদারে ক্রিয়া; যেমন: ইয়াখশা, ইয়াদ’উ এবং ইয়ারমি (৪); আর যা ইয়ায়ে মুতাকাল্লিমের পূর্ববর্তী অক্ষরের সাথে সম্বন্ধযুক্ত (ইদাফাত), যেমন: ‘গুলামি’ (আমার গোলাম), সেক্ষেত্রে ইয়ায়ে মুতাকাল্লিমের পূর্ববর্তী অক্ষরে তিনটি হরকতই উজ্জ্য ধরা হয় (৫)।
(১) ইরাবের প্রকারসমূহ, অর্থাৎ এর শ্রেণীবিভাগ। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে ‘এর আলামতসমূহ’ এবং ‘এর উপাধিগুলো চারটি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে—এটি মূলত সারসংক্ষেপ হিসেবে; কারণ ইরাবের যেমন প্রকারভেদ রয়েছে, তেমনি এর নির্দিষ্ট উপাধিও রয়েছে। লেখক এখানে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো প্রকারভেদ; আর উপাধিগুলো হলো: দম্মাহ, ফাতহাহ, কাসরাহ এবং সুকুন।
(২) আভিধানিক অর্থে রফ হলো উচ্চ করা; আর পরিভাষায়: এটি এমন এক বিশেষ পরিবর্তন যা নির্দিষ্ট আমেল (প্রভাবক) দ্বারা ঘটে থাকে, যার আলামত হলো দম্মাহ এবং এর স্থলাভিষিক্ত আলামতসমূহ। আভিধানিক অর্থে নসব হলো সোজা বা সমান্তরাল করা; আর পরিভাষায়: এটি এমন এক বিশেষ পরিবর্তন যা নির্দিষ্ট আমেল দ্বারা আনীত হয়, যার আলামত হলো ফাতহাহ এবং এর স্থলাভিষিক্ত আলামতসমূহ। খফদ-এর আলোচনা ইতিপূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে। আভিধানিক অর্থে জজম হলো কর্তন করা বা বিচ্ছিন্ন করা; আর পরিভাষায়: এটি এমন এক বিশেষ পরিবর্তন যা আমেল দ্বারা আনীত হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فللأسمَاءِ مِنْ ذَلِكَ الرَّفعُ، والنَّصْبُ، والخَفْضُ، ولا جَزمَ فيها (1) .
وللأفعال مِنْ ذَلِكَ الرَّفْعُ، والنَّصبُ، والجَزْمُ، ولَا خَفْض َ فيها (2) .
ــ
عامل مخصوص، علامته السكون وما ناب عنه.
وبدأ بالرفع: لاختصاصه بعمد الكلام، وثنى بالنصب، لوجوده في العمد، وفي الفضلات وثلث بالخفض: لاختصاصه بالأسماء، وهي أشرف من الأفعال، وأخر الجزم، لكون لا يوجد إلا في الفعل.
(1) أي: فللأسماء من الأقسام الأربعة المذكورة: الرفع، نحو: جاء زيد، والنصب، نحو: رأيت زيدا، والخفض، نحو: مررت بزيد، ولا جزم في الأسماء.
(2) أي: وللأفعال من هذه الأربعة المذكورة، الرفع، نحو: يقوم زيد، والنصب، نحو: لن يقوم زيد، والجزم، نحو: لم يقم زيد (1) ، ولا خفض في الأفعال، والحاصل: أن هذه الأقسام الأربعة ترجع إلى قسمين: قسم مشترك بين الأسماء والأفعال، وقسم مختص بأحدهما، فالمشترك: الرفع والنصب، والمختص بالاسم الخفض، وبالفعل الجزم واختصاص الخفض بالاسم لأن الاسم خفيف، والخفض ثقيل، فأعطي الخفيف الثقيل، والجزم حذف حركة أو حرف، فهو خفيف، والفعل ثقيل؛ لأن لفظه مفرد، ودلالته مركبة، فهو ثقيل، فأعطي الثقيل الخفيف، طلبا للتعادل.
--------------------------------------------
বিশেষ্য পদের জন্য উক্ত প্রকারগুলো হতে রয়েছে রফ, নাসব এবং খফদ; আর তাতে কোনো জজম নেই (১)।
আর ক্রিয়া পদের জন্য উক্ত প্রকারগুলো হতে রয়েছে রফ, নাসব এবং জজম; আর তাতে কোনো খফদ নেই (২)।
—
এটি একটি নির্দিষ্ট আমিল (আমলকারী), যার চিহ্ন হলো সুকুন এবং যা তার স্থলাভিষিক্ত হয়।
তিনি রফ দ্বারা শুরু করেছেন: কারণ এটি বাক্যের প্রধান স্তম্ভ বা অপরিহার্য অংশগুলোর সাথে নির্দিষ্ট। দ্বিতীয়ত নাসব উল্লেখ করেছেন, কারণ এটি বাক্যের প্রধান স্তম্ভ এবং অতিরিক্ত অংশ—উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্যমান থাকে। তৃতীয়ত খফদ উল্লেখ করেছেন: কারণ এটি বিশেষ্য পদের সাথে নির্দিষ্ট, আর বিশেষ্য পদ ক্রিয়া পদের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ। আর জজমকে সবার শেষে রেখেছেন, কারণ এটি ক্রিয়া পদ ব্যতীত অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।
(১) অর্থাৎ: উল্লেখিত চারটি প্রকারের মধ্যে বিশেষ্য পদের জন্য রয়েছে: রফ, যেমন: জা-আ যাইদুন (যাইদ এসেছে); নাসব, যেমন: রাআইতু যাইদান (আমি যাইদকে দেখেছি); এবং খফদ, যেমন: মারারতু বি-যাইদিন (আমি যাইদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি)। বিশেষ্য পদে কোনো জজম নেই।
(২) অর্থাৎ: উল্লেখিত এই চারটি প্রকারের মধ্যে ক্রিয়া পদের জন্য রয়েছে: রফ, যেমন: ইয়াকূমু যাইদুন (যাইদ দন্ডায়মান হচ্ছে); নাসব, যেমন: লান ইয়াকূমা যাইদুন (যাইদ কক্ষনো দন্ডায়মান হবে না); এবং জজম, যেমন: লাম ইয়াকুম যাইদুন (যাইদ দন্ডায়মান হয়নি) (১)। ক্রিয়া পদে কোনো খফদ নেই। সারকথা হলো: এই চারটি প্রকার দুই ভাগে বিভক্ত: এক প্রকার বিশেষ্য ও ক্রিয়া পদের মধ্যে সাধারণ, আর অন্যটি কোনো একটির সাথে নির্দিষ্ট। সাধারণ হলো রফ ও নাসব। আর বিশেষ্য পদের সাথে নির্দিষ্ট হলো খফদ এবং ক্রিয়া পদের সাথে নির্দিষ্ট হলো জজম। বিশেষ্য পদের সাথে খফদ-এর সংশ্লিষ্টতার কারণ হলো, বিশেষ্য পদ হালকা এবং খফদ হলো ভারী; তাই হালকাকে ভারী অবস্থাটি প্রদান করা হয়েছে। আর জজম হলো হরকত বা হরফ বিলোপ করা, যা একটি হালকা বিষয়; অন্যদিকে ক্রিয়া পদ হলো ভারী, কারণ এর শব্দ একক হলেও এর অর্থগত তাৎপর্য যৌগিক। তাই ভারসাম্য রক্ষার নিমিত্তে ভারী পদকে হালকা অবস্থা প্রদান করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بابُ: مَعْرِفَةِ عَلَامَاتِ الإِِعْرَابِ (1)
للرفْعِ في أَرْبَعُ عَلَامَاتٍ: الضَّمَّةُ، والوَاوُ، وَالألِفُ،
وَالنُّونُ (2) .
فَأمَّا الضَّمَّةُ فَتَكُون عَلَامَةً للرَّفْعِ في أرْبَعَةِ مَوَاضِيعَ: الاِسمِ المُفْرَدِ (3) ، وجَمْعِ التَّكْسِيرِ (4) ،
ــ
(1) أي: هذا باب هو: سبب في معرفة علامات أقسام الإعراب، التي هي الرفع، والنصب، والخفض، والجزم.
(2) أي: للرفع من حيث هو، أربع علامات، الأولى: الضمة، وهي الأصل، والغالب في كل مرفوع أن يرفع بالضمة، وثنى بالواو، لكونها تنشأ عنها العلة إذا أشبعت، وثلث بالألف، لأنها أخت الواو، في المد واللين، وختم بالنون: لضعف شبهها بحروف الغنة، عند سكونها.
(3) وهو في هذا الباب: ما ليس مثنى، ولا مجموعا، ولا ملحقا بهما، ولا من الأسماء الخمسة، فأخرج المثنى، كالزيدان، والمجموع كالزيدون، والملحق بهما، ككلا وكلتا، وكعشرون وبابه، والأسماء الخمسة، وهي: أبوك وأخوك، وما أشبه ذلك. ولا فرق في هذا الباب، بأن يكون معربا بالضمة الظاهرة، كجاء زيد، وقامت هند، والمقدرة كجاء الفتى، والحبلى، والقاضي، وغلامي (1) .
(4) وهو لغة: التغيير واصطلاحا: ما تغير فيه بناء مفرده؛ وهو ستة (1)
--------------------------------------------
অনুচ্ছেদ: ইরাব (إعراب) এর চিহ্নসমূহ পরিচিতি (১)
রফ (رفع) এর জন্য চারটি চিহ্ন রয়েছে: যম্মাহ (ضمة), ওয়াও (واو), আলিফ (ألف),
এবং নূন (نون) (২)।
যম্মাহ (ضمة) চারটি স্থানে রফ (رفع) এর চিহ্ন হয়ে থাকে: একবচন বিশেষ্য (الاسم المفرد) (৩), ভগ্ন বহুবচন (جمع التكسير) (৪),
--
(১) অর্থাৎ: এই অনুচ্ছেদটি হলো ইরাব (إعراب) এর প্রকারভেদসমূহের চিহ্ন জানার মাধ্যম, আর সেই প্রকারগুলো হলো রফ (رفع), নাসব (نصب), খাফদ (خفض) এবং জযম (جزم)।
(২) অর্থাৎ: রফ (رفع) এর মৌলিকত্বের বিচারে এর চারটি চিহ্ন রয়েছে। প্রথমটি: যম্মাহ (ضمة), যা হলো মূল চিহ্ন; আর সাধারণত সকল মারফু (مرفوع) শব্দের ক্ষেত্রে যম্মাহ (ضمة) দ্বারাই রফ (رفع) প্রদান করা হয়। দ্বিতীয়ত ওয়াও (واو)-কে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ একে পরিপূর্ণরূপে উচ্চারণ করলে ইল্লত (علة) বর্ণ সৃষ্টি হয়। তৃতীয়ত আলিফ (ألف)-কে আনা হয়েছে, কারণ এটি মাদ্দ (مد) এবং লীন (لين) হওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াও (واو) এর সহোদর। পরিশেষে নূন (نون)-কে রাখা হয়েছে সাকিন অবস্থায় গুন্নাহর বর্ণের সাথে এর ক্ষীণ সাদৃশ্য থাকার কারণে।
(৩) আর এই অধ্যায়ে 'একবচন বিশেষ্য' বলতে উদ্দেশ্য হলো: যা দ্বিবচন (مثنى) নয়, বহুবচন (مجموع) নয়, এদের সাথে সংযুক্ত (ملحق) কোনো শব্দ নয় এবং আসমায়ে খামসাহ (الأسماء الخمسة) এর অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং এর মাধ্যমে দ্বিবচন যেমন 'যাইদানি' (الزيدان), বহুবচন যেমন 'যাইদুনা' (الزيدون), এদের সাথে সংযুক্ত শব্দ যেমন 'কিলা' (كلا) ও 'কিলতা' (كلتا) এবং 'ইশরুনা' (عشرون) ও এর সমপর্যায়ভুক্ত শব্দসমূহ এবং আসমায়ে খামসাহ যথা: 'আবুকা' (أبوك), 'আখুকা' (أخوك) ও তদ্রূপ শব্দগুলো বহির্ভূত হয়ে গেল। এই অধ্যায়ে ইরাব প্রকাশ্য যম্মাহ (ضمة ظاهرة) দ্বারা হওয়া (যেমন: جاء زيد এবং قامت هند) অথবা উহ্য যম্মাহ (ضمة مقدرة) দ্বারা হওয়া (যেমন: جاء الفتى, الحبلى, القاضي এবং غلامي) এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই (১)।
(৪) এটি আভিধানিক অর্থে: পরিবর্তন; আর পারিভাষিক অর্থে: যার একবচনের গঠন কাঠামো পরিবর্তিত হয়ে যায়; এটি ছয় প্রকার (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَجَمْعِ الْمُؤَنثِ السَّالِمِ (1) ، والْفِعْل الْمُضَارِعِ الذي لَمْ يَتَّصلْ بآخره شَيْءٌ (2) .
ــ
أقسام التغيير بالزيادة على المفرد، من غير تغيير شكل، نحو: صنو وصنوان، أو بالنقص عن المفرد، من غير تغيير شكل، نحو: تخمة وتخم، أو بتبديل شكل، من غير زيادة ولا نقص، نحو: أسد وأسد، أو الزيادة على المفرد، مع تغيير الشكل، كرجل ورجال، أو النقص عن المفرد، مع تغيير الشكل كرسول ورسل، أو التغيير بالزيادة والنقص، وتغيير الشكل، نحو: غلام وغلمان، فهذه كلها ترفع بالضمة الظاهرة كجاء الرجال وجاءت الهنود، أو المقدرة كجاءت الأسارى والعذارى (1) .
(1) وضابطه: ما جمع بالألف وتاء مزيدتين على مفرده، نحو: جاءت الهندات، فخرج ما كانت ألفه أصلية، نحو: قضاة وغزاة، وما كانت تاؤه أصلية، كأبيات وأموات، فلا يقال فيه جمع مؤنث سالم، وتقييده بجمع التأنيث والسلامة جري على الغالب وإلا فقد يكون لمذكر، نحو: اصطبلات، جمع اصطبل، وقد يكون مكسرا، نحو: جبليات، جمع حبلى.
(2) يوجب بناءه، كنون النسوة، نحو: يتربصن، أو نون التوكيد، نحو:
--------------------------------------------
এবং জমা মুয়ান্নাস সালিম (جمع مؤنث سالم) (১), এবং সেই ফেলে মুদারে (فعل مضارع) (২) যার শেষে কোন কিছু যুক্ত হয়নি।
—
একবচনের (مفرد) ওপর অক্ষর বৃদ্ধির মাধ্যমে কাঠামোর পরিবর্তন ছাড়াই পরিবর্তনের প্রকারভেদসমূহ, যেমন: 'সিনউন' থেকে 'সিনওয়ানুন' (صنو وصنوان); অথবা কাঠামোর পরিবর্তন ছাড়াই একবচন (مفرد) থেকে অক্ষর হ্রাসের মাধ্যমে, যেমন: 'তুখমাতুন' থেকে 'তুখামুন' (تخمة وتخم); অথবা অক্ষর বৃদ্ধি বা হ্রাস ছাড়াই কেবল হরকতের পরিবর্তনের মাধ্যমে, যেমন: 'আসাদুন' থেকে 'উসুদুন' (أسد وأسد); অথবা রূপ পরিবর্তনের পাশাপাশি একবচনের (مفرد) ওপর অক্ষর বৃদ্ধির মাধ্যমে, যেমন: 'রাজুলুন' থেকে 'রিজালুন' (رجل ورجال); অথবা রূপ পরিবর্তনের পাশাপাশি একবচন (مفرد) থেকে অক্ষর হ্রাসের মাধ্যমে, যেমন: 'রাসূলুন' থেকে 'রুসুলুন' (رسول ورسل); অথবা অক্ষর বৃদ্ধি ও হ্রাস এবং রূপ—উভয় পরিবর্তনের মাধ্যমে, যেমন: 'গুলামুন' থেকে 'গিলমানুন' (غلام وغلمان)। এই সবগুলোর ক্ষেত্রে রফা (رفع) হয় প্রকাশ্য পেশ (ضمة ظاهرة) দ্বারা, যেমন: 'জাআর রিজালু' (جاء الرجال) এবং 'জাআতিল হুনুদু' (جاءت الهنود); অথবা তা হয় প্রচ্ছন্ন পেশ (ضمة مقدرة) দ্বারা, যেমন: 'জাআতিল আসারা' (جاءت الأسارى) এবং 'ওয়াল আজারা' (والعذارى) (১)।
(১) এর সংজ্ঞা হলো: যা তার একবচনের (مفرد) শেষে অতিরিক্ত একটি আলিফ ও তা (تاء) যোগ করে জমা বা বহুবচন করা হয়েছে, যেমন: 'জাআতিল হিন্দাতু' (جاءت الهندات)। ফলে এই সংজ্ঞার বাইরে চলে যাবে ওই শব্দগুলো যার আলিফটি মূল অক্ষর, যেমন: 'কুযাতুন' (قضاة) এবং 'গুজাতুন' (غزاة); এবং যার তা (تاء) অক্ষরটি মূল, যেমন: 'আবইয়াতুন' (أبيات) এবং 'আমওয়াতুন' (أموات)। সুতরাং এগুলোর ক্ষেত্রে জমা মুয়ান্নাস সালিম (جمع مؤنث سالم) বলা যাবে না। আর একে স্ত্রীলিঙ্গ এবং অক্ষত (سالم) হিসেবে বিশেষিত করাটা অধিকাংশ সময়ের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে, নতুবা এটি কখনও কখনও পুংলিঙ্গের জন্যও হতে পারে, যেমন: 'ইস্তাবলাতুন' (اصطبلات) যা 'ইস্তাবলুন' (اصطبل) এর বহুবচন। আবার কখনও এটি জমা মুকাসসার বা ভগ্ন বহুবচনও হতে পারে, যেমন: 'হুবলিয়াতুন' (حبليات) যা 'হুবলা' (حبلى) এর বহুবচন।
(২) যা একে মাবনি (مبني) বা অপরিবর্তনীয় হওয়া আবশ্যক করে, যেমন: নূনে নিসওয়াহ (نون النسوة), যেমন: 'ইয়াতারাব্বাসনা' (يتربصন), অথবা নূনে তাকিদ (نون التوكيد)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأمَّا الْوَاوُ فَتَكونُ عَلَامَةً لِلرَّفْعِ في مَوْضعَيْن: في جَمْع المذكَّر السَّالم (1) ،
ــ
ليسجنن، وليكونن، أو ينقل إعرابه كألف الاثنين، نحو: يضربان، أو واو الجمع، نحو: يضربون، أو يا المخاطبة، نحو: تضربين، فما لم يتصل بآخره شيء، فهو مرفوع بالضمة الظاهرة، نحو: يضرب، أو المقدرة على الألف، نحو: يخشى، أو على الواو، نحو: يدعو، أو الياء، نحو: يرمي (1) .
(1) وهو: لفظ دل على أكثر من اثنين، بزيادة في آخره، صالح للتجريد، وعطف أمثاله عليه، نحو جاء الزيدون (2) وسمي سالما: لسلامة بناء المفرد فيه، مع قطع النظر عن زيادة الواو والنون، والياء والنون، وسواء كان علما، كالزيدون، أو صفة كمسلمون.
ويشترط في العلم: أن يكون لمذكر عاقل، خال من تاء التأنيث، ومن التركيب، فإن لم يكن علما لم يجمع جمع مذكر سالم، فلا يقال في رجل، رجلون، ولمذكر أخرج ما كان علما لمؤنث كزينب، فلا يقال: زينبون؛ وعاقل: أخرج ما كان علما لمذكر غير عاقل، كلاحق فلا يقال: لاحقون؛ وخال من تاء التأنيث أخرج ما كان فيه تاء التأنيث كطلحة، فلا يقال طلحتون؛ ومن التركيب، أخرج ما كان مركبا تركيب مزج، كبعلبك، فلا يقال بعلبكون؛ أو تركيب إسناد، كشاب قرناها، فلا يقال شاب قرناهون؛ أو تركيب عدد كأحد عشر، فلا يقال: أحد عشرون.
ويشترط في الصفة: أن تكون صفة لمذكر عاقل، خالية من تاء التأنيث ليست من باب أفعل فعلاء، ولا فعلان فعلى، ولا مما
--------------------------------------------
আর 'ওয়াও' (الواو) দুটি ক্ষেত্রে রফ (الرفع)-এর আলামত হয়ে থাকে: জমা মুজাক্কার সালেম (جمع المذكر السالم) (১)-এ,
ــ
সে অবশ্যই কারারুদ্ধ হবে, এবং সে অবশ্যই হবে; অথবা এর ই'রাব (إعراب) দ্বিবচনের আলিফ (ألف الاثنين)-এর ন্যায় পরিবর্তিত হবে, যেমন: يضربان; অথবা জমা-এর ওয়াও (واو الجمع)-এর ন্যায়, যেমন: يضربون; অথবা মুখাতিবা-এর ইয়া (يا المخاطبة)-এর ন্যায়, যেমন: تضربিন। সুতরাং যার শেষে কোনো কিছু যুক্ত হয়নি, তা প্রকাশ্য দম্মা (الضمة الظاهرة) দ্বারা মারফু (مرفوع) হয়, যেমন: يضرب; অথবা আলিফের ওপর প্রচ্ছন্ন (المقدرة) দম্মা দ্বারা, যেমন: يخشى; অথবা ওয়াও-এর ওপর, যেমন: يدعو; অথবা ইয়া-এর ওপর, যেমন: يرمي (১)।
(1) আর এটি এমন শব্দ যা শেষে অতিরিক্ত অক্ষর যোগ করার মাধ্যমে দুইয়ের অধিক ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, যা পরিহার করা সম্ভব এবং তার ওপর তার সদৃশ শব্দকে আতফ (عطف) করা যায়। যেমন: الزيدون (জায়েদগণ) এসেছে (২)। একে সালেম (سالم) বলা হয় একবচন বা মুফরাদ (مفرد)-এর গঠন ঠিক থাকার কারণে, যদিও শেষে ওয়াও ও নুন অথবা ইয়া ও নুন অতিরিক্ত যোগ করা হয়। চাই তা আলম বা নামবাচক বিশেষ্য (علم) হোক যেমন الزيدون, অথবা সিফাত বা গুণবাচক বিশেষ্য (صفة) হোক যেমন মুসলিমুন।
এবং আলম বা নামবাচক বিশেষ্য (علم)-এর ক্ষেত্রে শর্ত হলো: তা বুদ্ধিমান পুরুষের জন্য হতে হবে, তায়-এ তানিছ (تاء التأنيث) থেকে মুক্ত হতে হবে এবং তারকীব (تركيب) বা সংমিশ্রণ থেকে মুক্ত হতে হবে। যদি তা নামবাচক বিশেষ্য (علم) না হয় তবে তাকে জমা মুজাক্কার সালেম (جمع مذكر سالم) করা যাবে না, যেমন رجل (পুরুষ) শব্দের জমা رجلون বলা যাবে না। 'পুরুষের জন্য' শর্তটি দ্বারা নারীর নামবাচক বিশেষ্য (علم) সমূহ যেমন زينب (জয়নব) বাদ পড়েছে, তাই زينبون বলা যাবে না। 'বুদ্ধিমান' বা আকেল (عاقল) শর্তটি দ্বারা বিবেকহীন পুরুষের নামবাচক বিশেষ্য (علم) যেমন لاحق (লাহিক - একটি ঘোড়ার নাম) বাদ পড়েছে, তাই لاحقون বলা যাবে না। 'তায়-এ তানিছ মুক্ত' শর্তটি দ্বারা ওই সকল শব্দ বাদ পড়েছে যাতে তায়-এ তানিছ (تاء التأنيث) রয়েছে যেমন طلحة (তালহা), তাই طلحتون বলা যাবে না। আর 'সংমিশ্রণ' বা তারকীব (تركيب) থেকে মুক্ত হওয়ার শর্তটি দ্বারা তারকীব-এ মাজজি (تركيب مزج) বাদ পড়েছে যেমন بعلبك (বালবিক), তাই بعلبكون বলা যাবে না; অথবা তারকীব-এ ইসনাদি (تركيب إسناد) যেমন شاب قرناها, তাই شاب قرناهون বলা যাবে না; অথবা সংখ্যাবাচক তারকীব (تركيب عدد) যেমন أحد عشر, তাই أحد عشرون বলা যাবে না।
এবং সিফাত বা গুণবাচক বিশেষ্য (صفة)-এর ক্ষেত্রে শর্ত হলো: তা বুদ্ধিমান পুরুষের গুণ হতে হবে, তায়-এ তানিছ (تاء التأنيث) থেকে মুক্ত হতে হবে এবং তা أفعل فعلاء বা فعلان فعلى এর পরিমাপে হতে পারবে না, এবং এমন শব্দ হতে পারবে না যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وفي الأَْسْمَاءِ الْخَمْسَةِ، وَهِيَ: أَبُوكَ، وأَخوكَ، وحَمُوكَ، وفُوكَ، وذو مَال (1) .
ــ
يستوي فيه المذكر والمؤنث، فخرج بالصفة لمذكر، ما كان صفة لمؤنث، كحائض، فلا يقال: حائضون؛ وعاقل ما كان صفة لمذكر غير عاقل، كسابق، فلا يقال سابقون؛ وخالية من تاء التأنيث، أخرج نحو: علامة، فلا يقال علامتون، وليست من باب أفعل فعلاء، نحو: أحمر فإن مؤنثه حمراء، فلا يقال أحمرون، ولا من باب فعلان فعلا، كسكران سكرى، فلا يقال سكرانون، ولا مما يستوي في المذكر والمؤنث، كصبور وجريح، فلا يقال صبورون وجريحون.
(1) فترفع بالواو، نيابة عن الضمة (1) ويشترط أن: تكون مفردة، وأن تكون مكبرة، وأن تكون مضافة، وأن تكون إضافتها إلى غير ياء المتكلم، فأخرج كونها مفردة: أن تكون مثناة، فإنها تعرب إعراب المثنى، كجاء أبوان، أو مجموعة جمع تكسير، فترفع بالضمة، كجاء آباؤك، أو جمع تصحيح، فترفع بالواو كجاء أبون. وأخرج كونها مكبرة أن تكون مصغرة، فترفع بالضمة الظاهرة، كجاء أبيك، وأخرج كونها مضافة، أن تكون غير مضافة، فترفع بالضمة الظاهرة كجاء أب، وأخرج كون إضافتها إلى غير ياء المتكلم، أن تكون إضافتها إلى ياء المتكلم، فترفع بالضمة المقدرة على ما قبل ياء المتكلم، كجاء أبي؛ ويشترط أن يكون: الفو، خاليا من الميم، وإلا أعربت بالضمة الظاهرة، ويشترط أن تكون ذو بمعنى صاحب، وأن تضاف إلى اسم جنس ظاهر، وسدس بعضهم بالهن، وإعرابه بالحروف، لغة قليلة.
--------------------------------------------
এবং পাঁচটি বিশেষ্য (الأسماء الخمسة)-এর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম, আর সেগুলো হলো: তোমার পিতা (أبوك), তোমার ভাই (أخوك), তোমার শ্বশুর (حموك), তোমার মুখ (فوك) এবং সম্পদশালী (ذو مال) (১) ।
ــ
এতে পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক উভয়ই সমান থাকে। সুতরাং পুরুষবাচকের বিশেষণের শর্ত আরোপ করায় স্ত্রীবাচকের বিশেষণসমূহ এর বাইরে চলে যায়, যেমন: ঋতুবতী (حائض); তাই 'حائضون' বলা হয় না। আর জ্ঞানসম্পন্ন (عاقل) হওয়ার শর্তের কারণে যা জ্ঞানহীন পুরুষবাচকের বিশেষণ তা বাদ পড়ে যায়, যেমন: দ্রুতগামী ঘোড়া (سابق); তাই 'سابقون' বলা হয় না। গোল তা (تاء التأنيث) থেকে মুক্ত হওয়ার শর্তের মাধ্যমে যা গোল তা যুক্ত যেমন: মহাজ্ঞানী (علامة) তা বাদ পড়ে যায়; তাই 'علامتون' বলা হয় না। আর এটি 'আফ'আলু ফাউ'লা' (أفعل فعلاء) ওজনের অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমন: লাল (أحمر), কারণ এর স্ত্রীবাচক রূপ হলো হামরা (حمراء); তাই 'أحمرون' বলা হয় না। এটি 'ফা'লানু ফা'লা' (فعلان فعلى) ওজনের অন্তর্ভুক্তও নয়, যেমন: মাতাল (سكران), যার স্ত্রীবাচক রূপ সাকরা (سكرى); তাই 'سكرانون' বলা হয় না। আবার এটি এমন শব্দের অন্তর্ভুক্তও নয় যা পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচকের ক্ষেত্রে সমানভাবে ব্যবহৃত হয়, যেমন: পরম ধৈর্যশীল (صبور) এবং আহত (جريح); তাই 'صبورون' এবং 'جريحون' বলা হয় না।
(1) এটি পেশ (ضمة)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ওয়াও (واو) দ্বারা রফ' (رفع) প্রাপ্ত হয় (১)। এবং এর জন্য শর্ত হলো: এগুলোকে একবচন (مفردة) হতে হবে, অ-ক্ষুদ্রতাসূচক (مكبرة) হতে হবে, সম্বন্ধযুক্ত (مضافة) হতে হবে এবং এই সম্বন্ধ উত্তম পুরুষের সর্বনাম বা ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম (ياء المتكلم) ব্যতীত অন্য কিছুর সাথে হতে হবে। একবচন হওয়ার শর্তের মাধ্যমে দ্বিবচন (مثناة) হওয়া বাদ পড়েছে, কেননা তখন তা দ্বিবচনের ন্যায় ই'রাব (إعرাব) গ্রহণ করবে, যেমন: 'দুইজন পিতা এসেছেন' (جاء أبوان)। অথবা যদি তা ভগ্ন বহুবচন (جمع تكسير) হয়, তবে তা পেশ (ضمة) দ্বারা রফ' প্রাপ্ত হবে, যেমন: 'তোমার পিতৃবর্গ এসেছেন' (جاء آباؤك)। অথবা যদি তা সঠিক বহুবচন (جمع تصحيح) হয়, তবে তা ওয়াও (واو) দ্বারা রফ' প্রাপ্ত হবে, যেমন: 'পিতা সব এসেছেন' (جاء أبون)। অ-ক্ষুদ্রতাসূচক হওয়ার শর্তের মাধ্যমে যা ক্ষুদ্রতাসূচক (مصغرة) তা বাদ পড়েছে, ফলে তা প্রকাশ্য পেশ (ضمة ظاهرة) দ্বারা রফ' প্রাপ্ত হবে, যেমন: 'তোমার ছোট আব্বু এসেছেন' (جاء أبيك)। সম্বন্ধযুক্ত (مضافة) হওয়ার শর্তের মাধ্যমে যা সম্বন্ধযুক্ত নয় তা বাদ পড়েছে, ফলে তা প্রকাশ্য পেশ (ضمة ظاهرة) দ্বারা রফ' প্রাপ্ত হবে, যেমন: 'একজন পিতা এসেছেন' (جاء أب)। আর ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম (ياء المتكلم) ব্যতীত অন্য কিছুর সাথে সম্বন্ধ হওয়ার শর্তের মাধ্যমে ইয়ায়ে মুতাকাল্লিমের সাথে সম্বন্ধ হওয়া বাদ পড়েছে, ফলে তা ইয়ায়ে মুতাকাল্লিমের পূর্বাক্ষরে উহ্য পেশ (ضمة مقدرة) দ্বারা রফ' প্রাপ্ত হবে, যেমন: 'আমার পিতা এসেছেন' (جاء أبي)। শর্ত হলো: 'فو' শব্দটি 'ميم' বর্ণ থেকে মুক্ত হতে হবে, অন্যথায় তা প্রকাশ্য পেশ (ضمة ظاهرة) দ্বারা ই'রাব গ্রহণ করবে। এবং শর্ত হলো: 'ذو' শব্দটি 'অধিকারী' (صاحب) অর্থে হতে হবে এবং তা কোনো প্রকাশ্য জাতিবাচক বিশেষ্যের (اسم جنس ظاهر) দিকে সম্বন্ধ হতে হবে। কেউ কেউ 'আল-হান' (الهن) শব্দটিকে ষষ্ঠ বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করেছেন, তবে অক্ষর দ্বারা এর ই'রাব হওয়া খুবই বিরল একটি ভাষা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وأمَّا الألفُ فَتكُونُ عَلَامَةً لِلرَّفْعِ فِي تَثْنِيَةِ الأسْمَاءِ خَاصَّةً (1) .
وأمَّا النُونُ فَتكُونُ عَلَامَة للرَّفع في الفِعْلِ المُضَارع، إذا اتصَلَ بِهِ ضمِير تَثْنِيةٍ، أوْ ضَمِيرُ جَمْعٍ، أوْ ضَمِيرُ المُؤنَّثَةِ
ــ
(1) أي: وأما الألف، فتكون علامة للرفع، نيابة عن الضمة، في موضع واحد، في تثنية الأسماء خاصة، أي: في الأسماء المثناة. وحد المثنى اصطلاحا: لفظ دل على اثنين، وأغنى عن المتعاطفين، بزيادة في آخره، صالح للتجريد، وعطف مثله عليه، نحو: جاء الزيدان (1) وكونه لفظ دل على اثنين: أخرج ما دل على واحد، كزيد، أو أكثر من اثنين كغلمان، وكونه أغنى عن المتعاطفين، فلا تقول جاء زيد وزيد، بل تقول جاء الزيدان وكونه بزيادة في آخره، أخرج ما دل على اثنين، كشفع، وكونه صالحا للتجريد، أخرج: كلا وكلتا، واثنان واثنتان، وبعطف مثله عليه، أخرج نحو: شمسان، فإنه ملحق بالمثنى، وألحق بالمثنى، كلا وكلتا إذا أضيفا إلى الضمير، وكذا اثنان واثنتان مطلقا، وللمثنى شروط جمعها بعضهم فقال:
شرط المثنى أن يكون معربا
… ومفردا منكرا ما ركبا
موافقا في اللفظ والمعنى له
… مماثل لم يغن عنه غيره
وقوله معربا: أخرج المبني، ومفردا: أخرج المثنى، والمجموع، ومنكرا أخرج المعرفة وما ركب، أخرج: نحو بعلبك، وموافقا في اللفظ والمعنى، أخرج البكران والعمران، وله مماثل، أخرج الشمسان، ولم يغن عنه غيره، أخرج سواءان، استغناء بسيان.
--------------------------------------------
আর আলিফ বিশেষ করে বিশেষ্যের দ্বিবচনের (تثنية) ক্ষেত্রে রফ-এর (رفع) আলামত হয় (১)।
আর নূন মুদারে ক্রিয়ার (الفعل المضارع) ক্ষেত্রে রফ-এর (رفع) আলামত হয়, যখন তার সাথে দ্বিবচনের সর্বনাম (ضمير تثنية), অথবা বহুবচনের সর্বনাম (ضمير جمع), অথবা স্ত্রীলিঙ্গ সম্বোধনের সর্বনাম (ضمير المؤنثة المخاطبة) যুক্ত হয়।
ــ
(1) অর্থাৎ: আর আলিফ হলো এক স্থানে পেশের (ضمة) পরিবর্তে রফ-এর (رفع) আলামত হয়, আর তা হলো বিশেষ করে বিশেষ্যের দ্বিবচনের (تثنية) ক্ষেত্রে, অর্থাৎ দ্বিবচন বিশেষ্যসমূহে। পারিভাষিক বিচারে দ্বিবচনের (المثنى) সংজ্ঞা হলো: এমন শব্দ যা দুই নির্দেশক (لفظ دل على اثنين) এবং শেষে অতিরিক্ত অংশ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে (بزيادة في آخره) যা সমজাতীয় একাধিক শব্দের সংযোজন (عطف) হতে অমুখাপেক্ষী করে দেয় (أغنى عن المتعاطفين), যা পৃথক করার যোগ্য (صالح للتجريد) এবং তার অনুরূপ শব্দকে তার ওপর সংযোজনযোগ্য (عطف مثله عليه); যেমন: 'যাআল যাইদানি' (১)। 'দুই নির্দেশক শব্দ' হওয়ার মাধ্যমে যা একজনকে নির্দেশ করে (যেমন: যাইদ) বা দুইয়ের অধিক নির্দেশ করে (যেমন: ছেলেরা) তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। 'সমজাতীয় শব্দের সংযোজন হতে অমুখাপেক্ষীকারী' হওয়ার মাধ্যমে এটি ‘যাইদ ও যাইদ এসেছে’ বলার প্রয়োজনীয়তা দূর করে, বরং আপনি বলবেন ‘যাআল যাইদানি’। 'শেষে অতিরিক্ত অংশ যুক্ত হওয়া'র মাধ্যমে যা দুই নির্দেশক শব্দ ‘শাফ’ (জোড়া) শব্দটিকে বাদ দেয়। 'পৃথক করার যোগ্য' হওয়ার মাধ্যমে এটি ‘কিলা’, ‘কিলতা’, ‘ইছনানি’ ও ‘ইছনাতানি’ শব্দগুলোকে বাদ দেয়। আর ‘অনুরূপ শব্দকে তার ওপর সংযোজনযোগ্য’ হওয়ার মাধ্যমে ‘শামসানি’ (দুই সূর্য) এর মতো শব্দকে বাদ দেয়, কারণ এটি দ্বিবচনের সদৃশ (ملحق بالمثنى)। আর দ্বিবচনের সদৃশ (ملحق بالمثنى) হিসেবে ‘কিলা’ ও ‘কিলতা’কে গণ্য করা হয় যখন তা সর্বনামের (ضمير) সাথে যুক্ত হয়, অনুরূপভাবে ‘ইছনানি’ ও ‘ইছনাতানি’ শব্দ দুটিকেও শর্তহীনভাবে দ্বিবচনের সদৃশ (ملحق بالمثنى) ধরা হয়। দ্বিবচনের (المثنى) শর্তাবলি কেউ কেউ কবিতায় এভাবে সংকলিত করেছেন:
দ্বিবচনের শর্ত হলো তা রূপান্তরশীল (معرب) হওয়া … এবং একবচন (مفرد), অনির্দিষ্ট (منكر) ও অ-যৌগিক (غير مركب) হওয়া।
শব্দ ও অর্থে তার অনুরূপ হওয়া … এবং তার সদৃশ কিছু থাকা যার পরিবর্তে অন্য কিছু অমুখাপেক্ষী করে না।
আর তাঁর উক্তি ‘রূপান্তরশীল’ (معرب) দ্বারা অপরিবর্তনীয় (مبني) শব্দসমূহ বাদ পড়েছে। ‘একবচন’ (مفرد) দ্বারা দ্বিবচন ও বহুবচন বাদ পড়েছে। ‘অনির্দিষ্ট’ (منكر) দ্বারা নির্দিষ্ট বিশেষ্য (معرفة) বাদ পড়েছে। আর ‘অ-যৌগিক’ দ্বারা ‘বা’লাবাক্কা’-এর মতো যৌগিক শব্দগুলো বাদ পড়েছে। ‘শব্দ ও অর্থে মিল থাকা’ দ্বারা ‘বকরানি’ ও ‘উমরানি’ এর মতো শব্দগুলো বাদ পড়েছে। ‘সদৃশ কিছু থাকা’ দ্বারা ‘শামসানি’ বাদ পড়েছে। আর ‘তার পরিবর্তে অন্য কিছু অমুখাপেক্ষী না করা’ দ্বারা ‘সাওয়াআন’ শব্দটি বাদ পড়েছে, কারণ ‘সিয়্যান’ শব্দ দ্বারা এটি হতে অমুখাপেক্ষী হওয়া যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الْمُخَاطَبَةِ (1) .
ولِلنَّصبِ خَمْسُ عَلَامَاتٍ الْفَتْحَةُ، وَالأَلِفُ، وَالكَسْرَةُ، وَاليَاءُ، وَحَذْفُ النُّونِ (2) ، فَأَمَّا الفَتْحَةُ فَتَكُونُ عَلَامَة لِلنَّصْبِ في ثَلاُثَةِ مَوَاضِعَ: فِي الاِسْمِ الْمُفْرَدِ (3) ، وَجَمْعِ التَّكْسِيرِ (4) ،
ــ
(1) أي: وأما النون، فتكون علامة للرفع، نيابة عن الضمة في الفعل المضارع، إذا اتصل به ضمير تثنية، نحو: تقومان يقومان (1) ، أو ضمير جمع، نحو: تقومون يقومون (2) ، أو ضمير المؤنثة المخاطبة، نحو: تقومين (3) ، وتسمى الأفعال الخمسة، وضابطها: كل فعل مضارع أسند إلى ألف الاثنين، أو واو الجماعة، أو ياء المؤنثة المخاطبة، سواء كانت مبدوءة بالتاء أو الياء.
(2) هذا هو القسم الثاني، من أقسام الإعراب، وقدم الفتحة، لكونها الأصل، وثنى بالألف، لكونها تنشأ عنها إذا أشبعت وثلث بالكسرة، لكونها أختها في التحريك، وأعقبها بالياء، لكونها تنشأ عنها، وختم بحذف النون، لبعد المشابهة، قدم هذا إجمالا، ثم تكلم عليه تفصيلا على سبيل اللف والنشر المرتب.
(3) تقدم أنه ما ليس مثنى، ولا مجموعا ولا ملحقا بهما، ولا من الأسماء الخمسة نحو: رأيت زيدا، والفتى، وغلامي (4) .
(4) تقدم: أنه ما تغير بناء مفرده، سواء كان التغيير بالزيادة أو النقص، أو
--------------------------------------------
সম্বোধনকারী স্ত্রীলিঙ্গ (المخاطبة) (১)।
আর নসব (النصب)-এর জন্য পাঁচটি চিহ্ন রয়েছে: ফাতহাহ (الفتحة), আলিফ (الألف), কাসরাহ (الكسرة), ইয়া (الياء) এবং নুন বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون) (২)। তবে ফাতহাহ তিনটি স্থানে নসবের চিহ্ন হয়: একবচন বিশেষ্য (الاسم المفرد) (৩)-এর ক্ষেত্রে এবং অনিয়মিত বহুবচন (جمع التكسير) (৪)-এর ক্ষেত্রে,
—
(১) অর্থাৎ: আর নুন (النون) হলো রফ (الرفع)-এর চিহ্ন, যা মুদারে তথা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (الفعل المضارع)-এ যম্মাহ (الضمة)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়, যখন তার সাথে দ্বিবচন সর্বনাম (ضمير تثنية) যুক্ত হয়। যেমন: তাকুমানি (تقومان) ও ইয়াকুমানি (يقومان) (১); অথবা বহুবচন সর্বনাম (ضمير جمع) যুক্ত হয়, যেমন: তাকুমুনা (تقومون) ও ইয়াকুমুনা (يقومون) (২); অথবা সম্বোধনকারী একবচন স্ত্রীলিঙ্গ সর্বনাম (ضمير المؤنثة المخاطبة) যুক্ত হয়, যেমন: তাকুমিনা (تقومين) (৩)। এগুলোকে ‘পাঁচটি ক্রিয়া’ (الأفعال الخمسة) বলা হয়। এর নিয়ম হলো: প্রতিটি মুদারে (المضارع) ক্রিয়া যা দ্বিবচন আলিফ (ألف الاثنين), বহুবচন ওয়াও (واو الجماعة) অথবা সম্বোধনকারী স্ত্রীলিঙ্গ ইয়া (ياء المؤنثة المخاطبة)-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়, চাই তা ‘তা’ (تاء) অথবা ‘ইয়া’ (ياء) দিয়ে শুরু হোক না কেন।
(২) এটি হলো ইরাব (الإعراب)-এর প্রকারসমূহের মধ্যে দ্বিতীয় প্রকার। ফাতহাহকে প্রথমে আনা হয়েছে কারণ এটিই মূল (الأصل)। এরপর দ্বিতীয়ত আলিফকে আনা হয়েছে কারণ ফাতহাহকে দীর্ঘায়িত করলে তা থেকে আলিফ সৃষ্টি হয়। তৃতীয়ত কাসরাহকে আনা হয়েছে কারণ এটি হরকত (التحريك)-এর দিক থেকে ফাতহাহ-র সদৃশ। এরপর ইয়া-কে আনা হয়েছে কারণ কাসরাহ থেকে এর উৎপত্তি। পরিশেষে নুন বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون) দিয়ে শেষ করা হয়েছে কারণ সাদৃশ্যের দূরত্ব রয়েছে। লেখক প্রথমে এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন, এরপর সুশৃঙ্খল বিন্যাস (اللف والنشر المرتب) পদ্ধতিতে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
(৩) পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, যা দ্বিবচন (مثنى) নয়, বহুবচন (مجموع) নয় এবং এদের অনুগামীও নয়, আবার ‘পাঁচটি বিশেষ্য’ (الأسماء الخمسة)-এর অন্তর্ভুক্তও নয়। যেমন: আমি যায়দকে দেখেছি (رأيت زيدا), যুবককে (الفتى) এবং আমার গোলামকে (غلامي) (৪)।
(৪) পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে: যার একবচন রূপটি পরিবর্তিত হয়ে যায়, চাই সেই পরিবর্তন বৃদ্ধির মাধ্যমে হোক বা হ্রাসের মাধ্যমে, অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وَالْفِعْلِ الْمُضَارِعِ إِذَا دَخَلَ عِلَيْهِ نَاصِبٌ، وَلَمْ يَتَّصِلُ بِآخِرِهِ شَيْءٌ (1) ، وَأَمَّا الألِفُ فَتَكُونُ عَلَامَةً لِلنَّصْبِ في الأسْمَاءِ الْخَمْسَةِ، نَحُوَ " رَأَيْتُ أَبَاكَ وَأَخَاكَ " وَمَا أَشْبَهَ ذلِكَ (2) .
وَأَمَّا الْكّسْرَةُ فَتَكُونُ عَلَامَةً لِلنَصْبِ في جَمْعِ المُؤَنَثِ السَّالِمِ (3) .
ــ
تغيير الشكل؛ أو الزيادة والنقص، مع تغيير الشكل، أو التغيير بالزيادة والنقص والشكل، وسواء كان الإعراب فيه ظاهرا، نحو: رأيت الرجال، أو مقدرا، كرأيت الأسارى (1) .
(1) يعني: أنه ينصب بالفتحة، بشرطين، إذا دخل عليه ناصب، ولم يتصل بآخره شيء، من نحو نون التوكيد، أو نون الإناث، أو ألف الاثنين، أو واو الجمع، أو ياء المخاطبة، نحو: لن أضرب زيدا، ولن أخشى عمرا (2) .
(2) أي: وأما الألف: فتكون علامة للنصب، نيابة عن الفتحة، في موضع واحد، في الأسماء الخمسة، وتقدم شرطها، بأن تكون مفردة، وأن تكون مكبرة، وأن تكون مضافة، وأن تكون إضافتها إلى غير ياء المتكلم، وهي: نحو: رأيت أباك وأخاك، وما أشبه ذلك، من رأيت حماك، وفاك، وذا مال (3) .
(3) أي: وأما الكسرة، فتكون علامة للنصب، نيابة عن الفتحة، في جمع
--------------------------------------------
এবং বর্তমান কালীন ক্রিয়া (الفعل المضارع) যখন তার পূর্বে নাসব দানকারী (ناصب) প্রবেশ করে এবং তার শেষে কোনো কিছু যুক্ত না হয় (১); আর আলিফ (الألف) পাঁচটি বিশেষ বিশেষ্যের (الأسماء الخمسة) ক্ষেত্রে নাসবের (النصب) আলামত হয়, যেমন: "রআইতু আবাকা ওয়া আখাকা" এবং এই জাতীয় উদাহরণসমূহ (২)।
আর কাসরা (الكسرة) সুবিন্যস্ত স্ত্রীবাচক বহুবচনের (جمع المؤنث السالم) ক্ষেত্রে নাসবের (النصب) আলামত হয় (৩)।
--
আকৃতি পরিবর্তন; অথবা আকৃতি পরিবর্তনের সাথে বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়া, অথবা বৃদ্ধি, হ্রাস এবং আকৃতি পরিবর্তনের সমন্বয়ে পরিবর্তন হওয়া; চাই তাতে ই’রাব (الإعراب) প্রকাশ্য (ظاهرا) হোক, যেমন: ‘রআইতুর রিজালা’, অথবা প্রচ্ছন্ন (مقدرا) হোক, যেমন: ‘রআইতুল আসার’ (১)।
(১) অর্থাৎ: এটি ফাতহা (الفتحة) দ্বারা নাসব (النصب) প্রাপ্ত হবে দুটি শর্তে—যখন তার পূর্বে নাসব দানকারী (ناصب) আসবে এবং তার শেষে তাকিদসূচক নুন (نون التوكيد), স্ত্রীবাচক নুন (نون الإناث), দ্বিবচনের আলিফ (ألف الاثنين), বহুবচনের ওয়াও (واو الجمع) অথবা সম্বোধিত স্ত্রীলিঙ্গের ইয়া (ياء المخاطبة)-এর মতো কোনো কিছু যুক্ত হবে না। যেমন: ‘লান আদরিবা জাইদান’ এবং ‘লান আখশা আম্বরান’ (২)।
(২) অর্থাৎ: আর আলিফ (الألف) একটি স্থানে ফাতহার (الفتحة) স্থলাভিষিক্ত হয়ে নাসবের (النصب) আলামত হবে, আর তা হলো পাঁচটি বিশেষ বিশেষ্য (الأسماء الخمسة)। এর শর্তাবলি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, সেগুলোকে একবচন (مفردة), পূর্ণরূপ বা অতাসগীর (مكبرة), সম্বন্ধযুক্ত (مضافة) হতে হবে এবং তার সম্বন্ধ ইয়াউল মুতাকাল্লিম (ياء المتكلم) ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে হতে হবে। তা হলো যেমন: ‘রআইতু আবাকা ওয়া আখাকা’ এবং অনুরূপ যেমন ‘রআইতু হামাকা’, ‘ফাকা’ এবং ‘যা মালিন’ (৩)।
(৩) অর্থাৎ: আর কাসরা (الكسرة) ফাতহার (الفتحة) স্থলাভিষিক্ত হয়ে নাসবের (النصب) আলামত হবে [বহুবচনের ক্ষেত্রে...]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল আজরুমিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَأمَّا الْيَاءُ فَتَكُونُ عَلَامَةً لِلنَصْبِ في التَّثْنِيَةِ وَالْجَمْعِ (1) .
وَأمَّا حَذْفُ النُّونِ فَيَكُون عَلَامةً لِلنَّصْبِ في الأفْعَالِ الْخَمْسَةِ التي رَفْعُهَا بثَبَاتِ النُّونِ (2) .
ــ
المؤنث السالم خاصة، فإن العرب: حملوا نصبه، على جره بالكسرة قياسا على أصله جمع المذكر السالم، فإنهم حملوا نصبه على جره بالياء ليلتحق الفرع بالأصل؛ وجمع المؤنث السالم: هو ما جمع بألف وتاء مزيدتين، نحو {خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ} (1) وهذا الجمع يطرد في ستة أشياء، قال الشاطبي:
وقسه في ذي التاء ونحو ذكرى
… ودرهم مصغر وصحرا
وزينب ووصف غير العاقل
… وغير ذا مسلم للناقل
فإن كانت التاء أصلية، كأبيات وأموات، أو الألف أصلية، كقضاة ورماة، فالنصب بالفتحة الظاهرة.
(1) التثنية بمعنى المثنى، وهو: لفظ دل على اثنين، بزيادة في آخره، صالح للتجريد وعطف مثله عليه، نحو: رأيت الزيدين (2) ، وكذا ما ألحق به، كأولات، والجمع تقدم أنه: لفظ دل على أكثر من اثنين، بزيادة في آخره، صالح للتجريد، وعطف أمثاله عليه نحو: رأيت الزيدين (3) ، وكذا ما ألحق، به كعليين، وأهلين وعشرين.
(2) أي: وأما حذف النون، فيكون علامة للنصب، في الأفعال الخمسة،
--------------------------------------------
আর 'ইয়া' (ياء) দ্বিবচন (تثنية) ও বহুবচনের (جمع) ক্ষেত্রে নসবের (نصب) আলামত হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আর 'নুন' বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون) সেই পাঁচটি ক্রিয়ার (الأفعال الخمسة) ক্ষেত্রে নসবের (نصب) আলামত হয়, যেগুলোর রফ (رفع) 'নুন' বহাল থাকার (ثبات النون) মাধ্যমে হয়ে থাকে।
--
বিশেষ করে সুষম স্ত্রীবাচক বহুবচন (جمع المؤنث السالم); কারণ আরবরা এর নসবের (نصب) অবস্থাকে তার মূল তথা সুষম পুরুষবাচক বহুবচনের (جمع المذكر السالم) ওপর কিয়াস (قياس) করে কাসরার (كسرة) মাধ্যমে জার (جر) হওয়ার অবস্থার অনুগামী করেছে। তারা সুষম পুরুষবাচক বহুবচনের নসবকে তার জারের অবস্থার ন্যায় 'ইয়া' (ياء) যোগে নির্ধারণ করেছে যাতে শাখা আসলের সাথে যুক্ত হয়। আর সুষম স্ত্রীবাচক বহুবচন (جمع المؤنث السالم) হলো যা অতিরিক্ত আলিফ ও তা যোগে গঠিত হয়, যেমন: {خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ} "আল্লাহ আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন" (১)। এই বহুবচনটি ছয়টি ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে ব্যবহৃত হয়, ইমাম শাতবি (রহ.) বলেছেন:
আপনি এটিকে কিয়াস (قياس) করুন 'তা' (تاء) যুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে এবং 'জিকরা' (ذكرى) সদৃশ শব্দের ক্ষেত্রে
… এবং দিরহামের তাসগির (مصغر) ও 'সাহরা' (صحراء) শব্দের ক্ষেত্রে।
এবং জয়নব ও বিবেকহীন সত্তার গুণের (وصف) ক্ষেত্রে
… এছাড়া অন্য বিষয়গুলো বর্ণনাকারীর (ناقل) কাছ থেকে শ্রুতির ওপর নির্ভরশীল।
যদি 'তা' (تاء) মূল অক্ষর হয়, যেমন 'আবইয়াত' (أبيات) ও 'আমওয়াত' (أموات), অথবা আলিফ মূল অক্ষর হয়, যেমন 'কুযাত' (قضاة) ও 'রুমাত' (رماة), তবে নসব (نصب) স্পষ্ট ফাতহা (فتحة ظاهرة) দ্বারা হবে।
(১) এখানে তাসনিয়া (تثنية) বলতে মুসান্না (مثنى) উদ্দেশ্য, আর তা হলো: এমন শব্দ যা শেষে অতিরিক্ত অক্ষর যোগ করার মাধ্যমে দুইজনকে বুঝায়, যা অতিরিক্ত অংশ থেকে পৃথক করার এবং তার মতো অন্য শব্দকে তার ওপর আতফ (عطف) করার যোগ্য, যেমন: "আমি দুইজন জায়েদকে দেখেছি" (২)। অনুরূপভাবে যা এর সাথে সংযুক্ত (ملحق), যেমন: 'উলাত' (أولات)। আর বহুবচন (جمع) সম্পর্কে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে: তা এমন শব্দ যা শেষে অতিরিক্ত অক্ষর যোগ করার মাধ্যমে দুইয়ের অধিককে বুঝায়, যা অতিরিক্ত অংশ থেকে পৃথক করার এবং তার অনুরূপ শব্দগুলোকে তার ওপর আতফ (عطف) করার যোগ্য, যেমন: "আমি জায়েদদের দেখেছি" (৩)। তদ্রূপ যা এর সাথে সংযুক্ত (ملحق), যেমন: 'ইল্লিয়্যিন' (عليين), 'আহলিন' (أهلين) এবং 'ইশরিন' (عشرين)।
(২) অর্থাৎ: আর 'নুন' বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون) পাঁচটি ক্রিয়ার (الأفعال الخمسة) ক্ষেত্রে নসবের (نصب) আলামত হবে।
--------------------------------------------