(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: -)
الإنصاف في مسائل الخلاف بين النحويين البصريين والكوفيين   (أبو البركات الأنباري)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: الإنصاف في مسائل الخلاف بين النحويين البصريين والكوفيين

المؤلف: كمال الدين، أبو البركات، عبد الرحمن بن محمد بن أبي سعيد الأنباري النحوي (513 - 577 هـ)

وبحاشيته: «الانتصاف من الإنصاف» لمحمد محيي الدين عبد الحميد [ت 1392 هـ]

الناشر: المكتبة العصرية

الطبعة: الأولى 1424 هـ - 2003 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইনসাফ ফি মাসাইলিল খিলাফ বাইনান নাহউয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন ওয়াল কুফিইয়্যিন   (আবু আল-বারাকাত আল-আনবারি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: আল-ইনসাফ ফি মাসাইলিল খিলাফ বাইনান নাহউয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন ওয়াল কুফিইয়্যিন

লেখক: কামালুদ্দিন, আবু আল-বারাকাত, আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবি সাঈদ আল-আনবারি আন-নাহবি (৫১৩ - ৫৭৭ হিজরি)

এবং এর টীকায়: «আল-ইনতিসাফ মিনাল ইনসাফ» মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আব্দুল হামিদ [মৃত্যু ১৩৯২ হিজরি]

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المجلد الأول

‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، الذي بعثه الله بالحنِيفِيّة الواضحة والدين القويم، فهدى الناس من الضلالة وبصَّرهم من العمى وأخرجهم من الظلمات إلى النور، وعلى آله مصابيح الظلام وهُداة الأنام، وصَحْبه القادة المَغَاوير أولي الآراء الراجحة والحجج الواضحة والمنهاج المستقيم، وعلى من سلك طريقه واقتفى أثره وتبع سنّته إلى يوم الدين.

وأما بعد؛ فإني منذ أكثر من خمسة عشر عامًا كنت قد عُنِيتُ بتخريج كتاب"الإنصاف، في مسائل الخلاف، بين النحويين البصريين والكوفيين" الذي صنفه الإمام الحجة والعالم الثبت كمال الدين أبو البركات عبد الرحمن بن محمد بن أبي سعيد، الأنباري، النحوي، المولود في سنة 531، والمتوفى في سنة 577 من الهجرة، بعد أن قرأت بعض مسائله لأبنائي من طلبة الدراسات العليا في كلية اللغة العربية إحدى كليات الجامع الأزهر، وعَلَّقت عليه تعليقات ذات شأن، ثم رأيت أن أذيع الكتاب مع شرحي عليه الذي أسميته "الانتصاف من الإنصاف" ليكون بين يَدَي قرّاء العربية "كتاب لطيف، يشتمل على مشاهير المسائل الخلافية بين نحويِّي البصرة والكوفة، على ترتيب المسائل الخلافية بين الشافعي وأبي حنيفة"1، وكان أن قدّمت الكتاب للنشر، ولكن أزمة الورق في أعقاب الحرب العالمية الثانية وقفت حائلًا منيعًا بين نشر الكتاب مع شرحي عليه، وكنت بين اثنتين: إما أن أنشر الكتاب وحده وأترك شرحي الذي كَابَدْت فيه ما لا يعلمه إلا الله من الجهد والعناء، وإما أن أتركهما جميعًا حتى يأذن الله بنشرهما معًا، وترددت كثيرًا فيما عسى أن أختار من هاتين الخلّتين، وصحّ العزم آخر الأمر على أن أرضى بنشر كتاب "الإنصاف" غُفْلًا مما كتبته عليه؛ رغبة في أن يعرفه قرّاء العربية ويَرَوْا أنه من أفضل ما صنّف علماؤنا في فنون العربية، فيُقْبِلوا عليه ويرتاحوا له. وظهر الكتاب كما

--------------------------------------------

1 من كلام مؤلف "الإنصاف" في وصف كتابه.
প্রথম খণ্ড

ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু এবং বিচার দিবসের মালিক। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসুলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সত্তার ওপর, যাঁকে আল্লাহ সুস্পষ্ট একনিষ্ঠ ধর্ম এবং সুদৃঢ় জীবনব্যবস্থা দিয়ে পাঠিয়েছেন। ফলে তিনি মানুষকে পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়াত দান করেছেন, অন্ধত্ব থেকে দৃষ্টি দান করেছেন এবং অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন। আরও সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গের ওপর, যারা অন্ধকারের প্রদীপ ও সৃষ্টির পথপ্রদর্শক; এবং তাঁর অকুতোভয় বীর সাহাবীবর্গের ওপর, যারা সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, সুস্পষ্ট প্রমাণাদি এবং সরল পথের অধিকারী ছিলেন। আরও বর্ষিত হোক তাঁদের ওপর, যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর পথ অবলম্বন করেছেন, তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর সুন্নাহর অনুসারী হয়েছেন।

অতঃপর, আমি পনের বছরেরও বেশি সময় আগে ‘আল-ইনসাফ ফি মাসাইলিল খিলাফ বাইনান নাহবিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন’ (বসরা ও কুফার ব্যাকরণবিদদের মধ্যকার মতভেদপূর্ণ বিষয়সমূহের ন্যায়সংগত মীমাংসা) নামক গ্রন্থটির সম্পদনা ও সূত্র নির্দেশনার (তাখরীজ) প্রতি মনোনিবেশ করেছিলাম। এই গ্রন্থটি রচনা করেছেন প্রামাণ্য ইমাম ও নির্ভরযোগ্য পণ্ডিত কামালুদ্দীন আবুল বারাকাত আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি সাঈদ আল-আনবারী আন-নাহবী। তিনি হিজরি ৫৩১ সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং হিজরি ৫৭৭ সনে মৃত্যুবরণ করেন। আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম অনুষদ আরবি ভাষা অনুষদের উচ্চতর গবেষণার ছাত্রদের নিকট এই গ্রন্থের কিছু মাসআলা পাঠ করার পর আমি এতে গুরুত্বপূর্ণ টীকা প্রদান করি। এরপর আমি ইচ্ছা করি যে, গ্রন্থটি আমার লিখিত ব্যাখ্যাসহ প্রকাশ করব, যার নাম দিয়েছি ‘আল-ইন্তিসাফ মিনাল ইনসাফ’, যাতে তা আরবি ভাষার পাঠকদের নিকট এমন এক ‘মনোরম গ্রন্থ হিসেবে গণ্য হয়, যা বসরা ও কুফার ব্যাকরণবিদদের মধ্যকার প্রসিদ্ধ মতভেদপূর্ণ বিষয়াবলিকে ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আবু হানিফার মধ্যকার ফিকহি মতভেদের বিন্যাসে অন্তর্ভুক্ত করে।’১ আমি গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য জমা দিয়েছিলাম, কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কাগজের সংকট আমার ব্যাখ্যাসহ গ্রন্থটি প্রকাশের পথে এক দুর্ভেদ্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তখন আমি দুটি বিষয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম: হয় আমি মূল গ্রন্থটি একাই প্রকাশ করব এবং আমার সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি বর্জন করব যার জন্য আমি এমন কঠোর শ্রম ও কষ্ট সহ্য করেছি যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না; অথবা আমি উভয়টিই স্থগিত রাখব যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা একত্রে প্রকাশের সুযোগ করে দেন। এই দুটি বিকল্পের মধ্যে কোনটি গ্রহণ করব তা নিয়ে আমি দীর্ঘ সময় দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম। পরিশেষে আমি আমার লিখিত টীকা ছাড়াই কেবল ‘আল-ইনসাফ’ গ্রন্থটি প্রকাশের ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করি; যেন আরবি ভাষার পাঠকরা এটি জানতে পারেন এবং উপলব্ধি করতে পারেন যে, এটি আমাদের আলেমদের রচিত ভাষাবিদ্যার শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর অন্যতম, যার ফলে তারা এর প্রতি আগ্রহী হন এবং পরিতৃপ্ত হন। গ্রন্থটি সেভাবেই আত্মপ্রকাশ করল যেমন...

--------------------------------------------

১. ‘আল-ইনসাফ’ গ্রন্থের লেখক কর্তৃক নিজ গ্রন্থের বর্ণনায় ব্যবহৃত উক্তি থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ৬)
أراد الناشرون، فإذا أماثل العلماء يَرْضَوْنَ عنه ويجدون فيه طلبة طالما تاقت إليها أنفسهم، وإذا هم يقبلون على قراءته ويستنجزون الوعد بإخراج "الانتصاف" معه.

وهأنذا أعود إلى أوراقي التي كنت كتبتها يومئذ فأختار منها ما لا أجد مناصًا من إذاعته مما يؤيّد رأيًا أو يدفع رأيًا، ومما يشرح شاهدًا أو يذكر شاهدًا من أشباه ما ذكره المؤلف وأمثاله، أو مما يقوي حجَّته ويؤيدها، أو مما يقع حجة للخصم الآخر عليه، أو مما يوجّه الشاهد على غير ما رآه، ونحو ذلك مما ستقف عليه إن شاء الله تعالى، وقد تركت كثيرًا مما كنت أعددته وقت القراءة الأولى مخافة الملَال والسَّأم، ولعلِّي عائد إلى هذا الذي تركته اليوم فباسطٌ فيه القول وناشره، والله المسئول أن يوفّق إلى ذلك ويهيئ له أسبابه، ويدفع عنه موانعه، إنه ولي الإجابة، بيده الخير وهو على كل شيء قدير.

وقد وضعت لكل مسألة عنوانًا وجعلته بين قوسين معقوفين هكذا [] .

اللهم إنك تعلم ما نخفي وما نعلن، وما يخفى عليك شيء في الأرض ولا في السماء، ربّ اجعلني ممن يستمعون القول فيتّبعون أحسنه، ربّ اغفر لي ولوالدي وللمؤمنين يوم يقوم الحساب، ربّ تقبل مني واقبلني، وتجاوز عني، إنك أنت البرّ الرءوف الرحيم؟

كتبه المعتز بالله

محمد محيي الدين عبد الحميد
প্রকাশকরা চেয়েছিলেন, ফলে বরেণ্য আলেমগণ এর প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং এতে এমন এক জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারক খুঁজে পেয়েছেন যার জন্য তাদের অন্তর দীর্ঘকাল ব্যাকুল ছিল। তারা এটি পাঠে মনোনিবেশ করেছেন এবং এর সাথে "আল-ইনসাফ" প্রকাশের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করার তাগিদ দিচ্ছেন।

আর আমি আজ আমার সেই পাণ্ডুলিপিগুলোর দিকে ফিরে তাকাচ্ছি যা আমি সে সময় লিখেছিলাম। সেখান থেকে আমি এমন বিষয়গুলো নির্বাচন করছি যা প্রকাশ করা আমি অনিবার্য মনে করি—তা কোনো মতের সমর্থন বা খণ্ডনকারী হোক, কোনো উদাহরণের ব্যাখ্যা দানকারী বা লেখকের উল্লিখিত উদাহরণের অনুরূপ কোনো উদাহরণ হোক, অথবা যা লেখকের দলিলকে শক্তিশালী ও সমর্থিত করে, অথবা যা প্রতিপক্ষের অনুকূলে লেখকের বিপক্ষে দলিল হিসেবে গণ্য হয়, কিংবা যা কোনো উদাহরণকে লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যতীত অন্যভাবে উপস্থাপিত করে এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা ইনশাআল্লাহ আপনি দেখতে পাবেন। ক্লান্তি ও বিরক্তির আশঙ্কায় আমি প্রথম পাঠের সময় প্রস্তুতকৃত অনেক কিছুই বর্জন করেছি। সম্ভবত আজ যা আমি রেখে দিচ্ছি তার দিকে ভবিষ্যতে ফিরে আসব এবং তা বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ প্রকাশ করব। আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা যেন তিনি এর তাওফিক দান করেন, এর জন্য আনুষঙ্গিক কারণসমূহ প্রস্তুত করে দেন এবং এর সকল বাধা দূর করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা কবুলকারী, তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাশীল।

আমি প্রতিটি বিষয়ের জন্য একটি শিরোনাম নির্ধারণ করেছি এবং তা এভাবে তৃতীয় বন্ধনীতে [] আবদ্ধ করেছি।

হে আল্লাহ! আমরা যা গোপন করি এবং যা প্রকাশ করি তা আপনি জানেন। পৃথিবী ও আকাশের কোনো কিছুই আপনার অগোচর নয়। হে আমার রব! আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা কথা শ্রবণ করে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে। হে আমার রব! আমাকে, আমার পিতামাতাকে এবং সকল মুমিনকে হিসাবের দিনে ক্ষমা করুন। হে আমার রব! আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন এবং আমাকে গ্রহণ করুন, আর আমার অপরাধ মার্জনা করুন। নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা, স্নেহশীল ও পরম দয়ালু।

আল্লাহর প্রতি আস্থাশীল মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আবদুল হামিদ কর্তৃক লিখিত।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

قال الشيخ الإمام، العالم، الزاهد، كما الدين عبد الرحمن بن أبي سعيد الأنباري وفّقه الله:

الحمد لله الملك الحق المبين، والصلاة [والسلام] على صفوته النبي العربي المبعوث بالدين المتين، وعلى آله وأصحابه وعِتْرَتِه البررة المتقين.

وبعد؛ فإن جماعة من الفقهاء المتأدّبين، والأدباء المتفقّهين، المشتغلين عليّ بعلم العربية، بالمدرسة النِّظامية – عَمَرَ الله مبانيها! ورحم الله بانيها! سألوني أن ألخص لهم كتابًا لطيفًا، يشتمل على مشاهير المسائل الخلافية بين نحويي البصرة والكوفة، على ترتيب المسائل الخلافية بين الشافعي وأبي حنيفة؛ ليكون أول كتاب1 صُنّف في علم العربية على هذا الترتيب، وأُلِّف على هذا الأسلوب؛ لأنه ترتيب لم يصنف عليه أحد من السلف، ولا ألف عليه أحد من الخلف.

فتوَخَّيْتُ2 إجابتهم على وَفْقِ مسألتهم، وتَحَرَّيت إسعافهم لتحقيق طَلِبَتِهم؛ وفتحت في ذلك الطرق، وذكرت من مذهب كل فريق ما اعتمد عليه أهل التحقيق، واعتمدت في النصرة على ما أذهب إليه من مذهب أهل الكوفة أو البصرة على سبيل الإنصاف، لا التّعصّب والإسراف، مستجيرًا بالله، مستخيرًا له فيما قصدتُ إليه؛ فالله تعالى ينفع به؛ إنه قريب مجيب.

--------------------------------------------

1 يذكر لنا التاريخ أن أبا جعفر النحاس المصري، تلميذ الأخفش الصغير وأبي العباس المبرد والزجاج، والمتوفى سنة 338 "أي قبل مولد المؤلف بنحو 165 عامًا" قد ألف كتابًا في اختلاف البصريين والكوفيين، وسماه" المبهج" ولعل المؤلف لم يطلع عليه، ولم يسمع به.

2 توخيت: قصدت.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শাইখ, ইমাম, আলেম, দুনিয়াবিমুখ যাহিদ, কামালুদ্দীন আবদুর রহমান ইবনে আবি সাঈদ আল-আনবারী (আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন) বলেছেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রকৃত অধিপতি, চিরসত্য ও সুস্পষ্ট। এবং দরুদ [ও সালাম] বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত ব্যক্তি, সুদৃঢ় দ্বীনসহ প্রেরিত আরবীয় নবী এবং তাঁর নেককার ও মুত্তাকী পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও বংশধরদের ওপর।

এরপর; আদব বা ভাষাশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি সম্পন্ন একদল ফকীহ এবং ফিকহশাস্ত্রে পারদর্শী একদল সাহিত্যিক—যারা নিযামিয়া মাদ্রাসায় আমার কাছে আরবি ভাষা শিক্ষা করছেন (আল্লাহ এর ভবনগুলোকে আবাদ রাখুন এবং এর প্রতিষ্ঠাতাকে রহম করুন!)—আমাকে অনুরোধ করেছেন যেন আমি তাদের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব সংকলন করি। এটি বসরা ও কুফার ব্যাকরণবিদদের মধ্যকার প্রসিদ্ধ মতপার্থক্যমূলক মাসআলাগুলোর ওপর ভিত্তি করে রচিত হবে, যেমনিভাবে ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আবু হানিফার মধ্যকার মতপার্থক্যমূলক মাসআলাগুলো বিন্যস্ত করা হয়; যাতে এটিই হয় আরবি ভাষাশাস্ত্রে এই বিশেষ বিন্যাসে রচিত এবং এই শৈলীতে প্রণীত প্রথম কিতাব। কারণ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী পণ্ডিতগণের কেউ এই বিন্যাসে কোনো কিতাব রচনা করেননি।

তাই আমি তাদের আবেদন অনুযায়ী উত্তর দেওয়ার সংকল্প করলাম এবং তাদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করার চেষ্টা করলাম। আমি এই বিষয়ে পথ উন্মোচন করেছি এবং প্রতিটি দলের মাযহাব থেকে সেসব দলীল উল্লেখ করেছি যার ওপর মুহাক্কিকগণ নির্ভর করেছেন। কুফা বা বসরা—উভয় দলের মধ্য থেকে যার পক্ষেই আমি সমর্থন প্রদান করেছি, তা করেছি ইনসাফের ভিত্তিতে, কোনো গোঁড়ামি বা বাড়াবাড়ি ছাড়াই। আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি এবং আমার এই লক্ষ্যের ব্যাপারে তাঁর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে উপকার সাধন করুন; নিশ্চয়ই তিনি নিকটবর্তী ও দোয়ায় সাড়া দানকারী।

--------------------------------------------

১ ইতিহাস আমাদের জানায় যে, ছোট আখফাশ, আবুল আব্বাস আল-মুবররিদ এবং আজ-জাজ্জাজের ছাত্র আবু জাফর আন-নাহহাস আল-মিসরী, যিনি ৩৩৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন (অর্থাৎ লেখকের জন্মের প্রায় ১৬৫ বছর পূর্বে), তিনি বসরীয় ও কুফীয়দের মতপার্থক্য নিয়ে একটি কিতাব রচনা করেছিলেন এবং তার নাম দিয়েছিলেন 'আল-মুবহিজ'। সম্ভবত লেখক এটি দেখেননি এবং এর নামও শোনেননি।

২ তাওয়াখ্খাইতু: অর্থ—আমি সংকল্প করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ৮)
1-‌‌ مسألة: [الاختلاف في أصل اشتقاق الاسم] 1

ذهب الكوفيون إلى أن الاسم مشتق من الوَسْم وهو العلامة وذهب البصريون إلى أنه مشتق من السُّمُوِّ وهو العُلُوّ.

أما الكوفيون فاحتجوا بأن قالوا: إنما قلنا إنه مشتق من الوَسْم لأن الوَسْم في اللغة هو العلامة، والاسم وَسْمٌ على المسمى، فصار كالوسم عليه؟ فلهذا قلنا: إنه مشتق من الوَسْمِ، ولذلك قال أبو العباس أحمد بن يحيى ثعلب: الاسم سمةٌ تُوضَع على الشيء يعرف بها. والأصل في اسم وسم، إلا أنه حذفت منه الفاء التي هي الواو في وَسْم، وزيدت الهمزة في أوله عِوَضًا عن المحذوف، ووزنه إِعْلٌ؛ لحذف الفاء منه.

وأما البصريون فاحتجوا بأن قالوا: إنما قلنا إنه مشتق من السُّمُوِّ لأن السُّمُوَّ في اللغة هو العلو، يقال: سما يَسْمُو سُمُوًّا، إذا علا، ومنه سمّيت السماء سماء لعلوّها، والاسم يَعْلُو على المسمّى، ويدل على ما تحته من المعنى، ولذلك قال أبو العباس محمد بن يزيد المبرِّد: الاسم ما دلَّ على مسمّى تحته، وهذا القول كافٍ في الاشتقاق، لا في التّحديد، فلمّا سَمَا الاسم على مُسمّاه وعَلَا على ما تحته من معناه دلَّ على أنه مشتقُّ من السُّمُوِّ، لا من الوَسْمِ.

ومنهم من تمسك بأن قال: إنما قلنا إنه مشتق من السمو وذلك لأن هذه الثلاثَةَ أقسام2، التي هي الاسم والفعل والحرف لها ثلاثُ مراتب؛ فمنها ما

--------------------------------------------

1 انظر في هذه المسألة: لسان العرب "س م و" وشرح موفق الدين بن يعيش على مفصل الزمخشري "ص26 ط أوروبة" وكتاب "أسرار العربية" لصاحب الإنصاف "ص3 ليدن" وأوضح المسالك لابن هشام "شرح الشاهد رقم 5 بتحقيقنا".

2 اقرأ كلمة "الثلاثة" بالنصب على أنها بدل من اسم الإشارة، واقرأ كلمة "الأقسام" بالنصب أيضًا على أنها بدل من الثلاثة، ولا تضف الثلاثة إلى الأقسام كما كنت تضيف لو قلت "ثلاثة الأقسام" فإن إضافة اسم العدد المقترن بأل إلى المعدود المقترن بها أيضًا مذهب كوفي يرى المحققون من النحاة أنه بمعزل عن السماع والقياس.
১-‌‌ মাসআলা: [ইসিম (নাম) শব্দটির বুৎপত্তিগত মূল নিয়ে মতভেদ] ১

কুফাবাসীদের (কুফিয়্যীন) মতে 'ইসিম' শব্দটি 'ওয়াসম' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ চিহ্ন। আর বসরবাসীদের (বসরিয়্যীন) মতে এটি 'সুমু' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ উচ্চতা।

কুফাবাসীরা যুক্তি প্রদান করে বলেন: আমরা একারণেই বলেছি যে এটি 'ওয়াসম' থেকে উদ্ভূত, কারণ আভিধানিক ভাষায় 'ওয়াসম' অর্থ হলো চিহ্ন। আর নাম (ইসিম) হলো নামধারী বা নামধারী সত্তার ওপর একটি চিহ্ন, ফলে এটি তার ওপর একটি চিহ্নের ন্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কারণে আমরা বলেছি যে এটি 'ওয়াসম' থেকে উদ্ভূত। এজন্যই আবুল আব্বাস আহমাদ বিন ইয়াহইয়া সা'লাব বলেছেন: নাম (ইসিম) হলো একটি চিহ্ন যা কোনো বস্তুর ওপর রাখা হয় যাতে তার মাধ্যমে তাকে চেনা যায়। 'ইসিম' শব্দের মূল রূপ ছিল 'ওয়াসম', তবে এর 'ফা' বর্ণটি (যা ওয়াহ্-এ 'ওয়াও') বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং বিলুপ্ত বর্ণের পরিবর্তে শুরুতে একটি হামজা যোগ করা হয়েছে। এর ওজন বা ছন্দ হলো 'ই'লুন'; এর 'ফা' বর্ণটি বিলুপ্ত হওয়ার কারণে।

আর বসরবাসীরা যুক্তি প্রদান করে বলেন: আমরা একারণেই বলেছি যে এটি 'সুমু' থেকে উদ্ভূত, কারণ আভিধানিক ভাষায় 'সুমু' অর্থ হলো উচ্চতা। বলা হয়ে থাকে: 'সামা-ইয়াসমু-সুমুওয়ান', যখন কোনো কিছু উচ্চ হয়। এ থেকেই আকাশকে তার উচ্চতার কারণে 'সামাউ' নামকরণ করা হয়েছে। আর নাম (ইসিম) নামধারী বা নামধারী সত্তার ওপর উচ্চ স্থান লাভ করে এবং এর নিচে থাকা অর্থের ওপর তা প্রমাণ বা নির্দেশনা প্রদান করে। এজন্যই আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াজিদ আল-মুবররিদ বলেছেন: নাম বা ইসিম হলো তা-ই যা তার নিম্নে থাকা নামধারীর ওপর নির্দেশনা দেয়। বুৎপত্তি নির্ণয়ে এই কথাটিই যথেষ্ট, সংজ্ঞায়নের জন্য নয়। সুতরাং যখন নাম (ইসিম) তার নামধারীর ওপর উচ্চ হলো এবং এর অর্থের নিম্নে যা রয়েছে তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করল, তখন এটি প্রমাণ করে যে এটি 'সুমু' থেকে উদ্ভূত, 'ওয়াসম' থেকে নয়।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই যুক্তি আঁকড়ে ধরেছেন যে: আমরা বলেছি এটি 'সুমু' থেকে উদ্ভূত হওয়ার কারণ হলো এই যে, এই তিনটি বিভাগ২, যা হলো বিশেষ্য (ইসিম), ক্রিয়া (ফেল) এবং অব্যয় (হরফ)—এদের তিনটি স্তর রয়েছে; এর মধ্যে যা

--------------------------------------------

১ এই মাসআলাটি দেখুন: লিসানুল আরব 'স-ম-অ', যামাখশারীর মুফাসসাল-এর ওপর মুয়াফফাকুদ্দিন বিন ইয়াঈশ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "পৃষ্ঠা ২৬, ইউরোপ সংস্করণ", 'ইনসাফ' প্রণেতার 'আসরারুল আরাবিয়্যাহ' "পৃষ্ঠা ৩, লাইডেন", এবং ইবনে হিশামের 'আওদাহুল মাসালিক' "আমাদের সম্পাদিত ৫ নম্বর শাহিদের ব্যাখ্যা"।

২ 'আস-সালাসা' শব্দটি যবর (নসব) দিয়ে পড়ুন ইশারা সূচক শব্দ থেকে বদল হিসেবে। এবং 'আল-আকসাম' শব্দটিও যবর দিয়ে পড়ুন 'আস-সালাসা' থেকে বদল হিসেবে। 'আস-সালাসা' শব্দটিকে 'আল-আকসাম' এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (ইজাফাত) করবেন না, যেভাবে আপনি 'সালাসাাতুল আকসাম' (তিনটি বিভাগ) বলার সময় করতেন। কারণ 'আল' যুক্ত সংখ্যাবাচক শব্দকে একইভাবে 'আল' যুক্ত গণনার বস্তুর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা কুফাবাসীদের একটি অভিমত, যা ব্যাকরণবিদ মুহাক্কিকদের মতে ভাষাগত প্রয়োগ ও নিয়মের পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ৯)
يُخْبَر به ويُخْبَر عنه وهو الاسم نحو" اللهُ ربُّنا، ومحمدٌ نبيُّنا" وما أشبه ذلك، فأخبرتَ بالاسم وعنه، ومنها ما يُخْبَر به ولا يُخْبَر عنه، وهو الفعل، نحو "ذهب زيد، وانطلق عمرو" وما أشبه ذلك، فأخبرت بالفعل، ولو أخبرت عنه فقلت "ذهب ضرب، وانطلق كتب" لم يكن كلامًا؛ ومنها ما لا يخبر به ولا يخبر عنه، وهو الحرف، نحو "من، ولن، وبل" وما أشبه ذلك؛ فلما كان الاسم يخبر به ويخبر عنه، والفعل يخبر به ولا يخبر عنه، والحرف لا يخبر به ولا يخبر عنه، فقد سما [الاسم] على الفعل والحرف: أي عَلَا، فدلَّ على أنه من السُّمُوِّ والأصل فيه سِمْوٌ على وزن فِعْلٍ1 – بكسر الفاء سكون العين– فحذف اللام التي هي الواو وجعلت الهمزة عوضًا عنها، ووزنه إِفْعٌ؛ لحذف اللام منه.

وأما الجواب عن كلمات الكوفيين: قولهم "إنما قلنا إنه مشتق من الوَسْم لأن الوَسْم في اللغة العلامة، والاسم وَسْمٌ على المسمَّى وعلامة عليه يعرف به" قلنا: هذا وكان صحيحًا من جهة المعنى إلا أنه فاسد من جهة اللفظ، وهذه الصناعة لفظية، فلا بدَّ فيها من مراعاة اللفظ. ووجه فساده من جهة اللفظ من خمسة أوجه:

الوجه الأول: أنَّا أجمعنا على أن الهمزة في أوله همزة التعويض، وهمزة التعويض إنما تقع تعويضًا عن حذف اللام، لا عن حذف الفاء2، ألا ترى أنهم

--------------------------------------------

1 اعلم أولًا أن العرب قد قالوا "اسم" بكسر همزة الوصل وبضمها أيضًا، وقالوا "سم" بكسر السين وضمها أيضًا وجعل حركات الإعراب على الميم، وقالوا "سما" مقصورًا على مثال هدى وتقى وضحى، وستأتي هذه اللغات مع الشواهد التي ساقها المؤلف، ثم اعلم أن النحاة قد اختلفوا في وزن "سمو" على مذهب البصريين؛ فمنهم من قال: أصله سمو -بكسر السين وسكون الميم- ونظيره من الصحيح حمل وجذع، ومن المعتلّ قنو، فمن حذف الواو ولم يعوّض من المحذوف شيئًا أبقى السين على كسرتها التي كانت لها، ومن حذف الواو وعوّض من المحذوف همزة الوصل ألقى كسرة السين على الهمزة فصارت السين ساكنة، ومنهم من قال: أصله سمو-بضم السين وسكون الميم- ونظيره من الصحيح قُفْل وقُرْط، ومن المعتل عُضْو، فمن حذف الواو ولم يعوّض أبقى ضمه السين على حالها، ومن حذف الواو وعوض منها همزة الوصل ألقى ضمة السين على الهمزة، ثم اعلم أن جمع الاسم على "أسماء" لا يقوي أحد هذين الرأيين ولا يرشحه، وذلك لأن أفعالًا من أوزان الجموع يكون لفعل المكسور أوله الساكن ثانيه كما يكون لفعل المضموم أوله الساكن ثانيه الصحيح والمعتل في ذلك سواء، فأنت تقول: أحمال، وأجذاع، وأقناء، وأقفال، وأقراط، وأعضاء.

2 اعلم أولًا أن العرب قد حذفوا فاء الكلمة أحيانًا، وحذفوا لام الكلمة أحيانا أخرى، وأن هذا الحذف قد يكون لعلّة تصريفية، وقد يكون اعتباطًا لا لعلّة تصريفية اقتضته ولا لسبب أوجبه إلا مجرد التخفيف، وأنهم قد يحذفون ويعوضون من المحذوف شيئًا، وقد يحذفون ولا يعوضون من المحذوف شيئًا أصلًا، فأما المحذوف لعلّة تصريفية فلا نريد أن نتعرض له لأنه مبين في كتب التصريف بعلله وأسبابه التي اقتضته، وأما الحذف لغير علّة تصريفية استوجبته فهو موضوع حديثنا =
যার মাধ্যমে সংবাদ প্রদান করা হয় এবং যার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয়, আর তা হলো 'ইসম' (বিশেষ্য); যেমন: "আল্লাহ আমাদের রব, এবং মুহাম্মদ আমাদের নবী" এবং এই জাতীয় উদাহরণ। এখানে আপনি ইসমের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন এবং ইসম সম্পর্কেও সংবাদ দিয়েছেন। আবার কিছু এমন শব্দ আছে যার মাধ্যমে সংবাদ দেওয়া হয় কিন্তু তার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয় না, আর তা হলো 'ফেল' (ক্রিয়া); যেমন: "জায়েদ চলে গেল, এবং আমর রওয়ানা হলো" এবং এই জাতীয় উদাহরণ। এখানে আপনি ফেলের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, কিন্তু আপনি যদি ফেল সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে বলেন "গেল প্রহার করল, এবং রওয়ানা হলো লিখল", তবে তা কোনো অর্থবহ বাক্য হবে না। আবার কিছু শব্দ এমন যা সংবাদ প্রদানের মাধ্যমও হয় না এবং তার সম্পর্কে সংবাদও দেওয়া যায় না, আর তা হলো 'হরফ' (অব্যয়); যেমন: "থেকে, কখনোই না, বরং" এবং এই জাতীয় শব্দ। যেহেতু ইসমের মাধ্যমে সংবাদ দেওয়া যায় এবং তার সম্পর্কেও সংবাদ দেওয়া যায়, আর ফেলের মাধ্যমে সংবাদ দেওয়া গেলেও তার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া যায় না, এবং হরফের ক্ষেত্রে কোনোটিই সম্ভব নয়, সেহেতু ইসম ফেল ও হরফের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে: অর্থাৎ তা উচ্চতর হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, ইসম শব্দটি 'সুমুউ' (উচ্চতা) শব্দ থেকে গৃহীত। এর মূল রূপ ছিল 'সিমউন' যা 'ফিবলুন' ১—এর ওজনে (ফা অক্ষরে কাসরা এবং আইন অক্ষরে সুকুন যোগে)। এরপর শেষাক্ষর 'লাম' যা এখানে 'ওয়াও', তা বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং এর পরিবর্তে শুরুতে একটি হামজা যুক্ত করা হয়েছে। এর বর্তমান ওজন হলো 'ইফউন'; যেহেতু এর শেষাক্ষর 'লাম' বিলুপ্ত করা হয়েছে।

আর কুফাবাসীদের বক্তব্যের উত্তর হলো: তাদের এই দাবি যে, "আমরা বলেছি এটি 'ওয়াসম' শব্দ থেকে উদ্ভূত, কারণ আভিধানিক অর্থে 'ওয়াসম' মানে চিহ্ন, আর ইসম বা নাম হলো নামধারী ব্যক্তির জন্য একটি চিহ্ন যা দ্বারা তাকে চেনা যায়"—আমরা বলি: অর্থের দিক থেকে এটি সঠিক হলেও শব্দের গঠনের দিক থেকে এটি অশুদ্ধ। আর এই শাস্ত্রটি যেহেতু শব্দকেন্দ্রিক, তাই এতে শব্দের গঠনগত বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। শব্দগত দিক থেকে এটি পাঁচটি কারণে অশুদ্ধ:

প্রথম কারণ: আমরা এ বিষয়ে একমত হয়েছি যে, এর শুরুতে যে হামজাটি রয়েছে তা হলো বিলুপ্ত অক্ষরের ক্ষতিপূরণস্বরূপ (হামজাতুত তাউইদ)। আর ক্ষতিপূরণমূলক হামজা সাধারণত শেষাক্ষর বা 'লাম' বিলুপ্তির ক্ষেত্রেই যুক্ত হয়, প্রথমাখর বা 'ফা' বিলুপ্তির ক্ষেত্রে নয় ২। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে তারা

--------------------------------------------

১ প্রথমে জেনে রাখা উচিত যে, আরবরা 'ইসম' শব্দটি হামজায় কাসরা (ই) এবং দম্মাহ (উ) উভয় যোগেই উচ্চারণ করত। তারা 'সিম' শব্দটিও সীন অক্ষরে কাসরা এবং দম্মাহ যোগে ব্যবহার করত এবং মীম অক্ষরে ইরাব বা বিভক্তি প্রদান করত। তারা 'সুমা' শব্দটিও ব্যবহার করত যা হুদা, তুক্বা এবং দুহা এর মতো মাকসুর (শেষে আলিফ মাকসুরা যুক্ত)। এই শব্দরূপগুলো লেখক কর্তৃক উপস্থাপিত প্রমাণাদিসহ সামনে আসবে। এরপর জেনে নিন যে, বসরী মতানুসারে 'সিমউন' এর ওজনের ক্ষেত্রে নাহুবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন: এর মূল হলো 'সিমউন'—সীন অক্ষরে কাসরা এবং মীম অক্ষরে সুকুন যোগে—সহীহ শব্দের মধ্যে এর দৃষ্টান্ত হলো 'হিমলুন' ও 'জিজউন', এবং মোতাল বা দুর্বল শব্দের মধ্যে 'কিনউন'। যারা 'ওয়াও' বিলুপ্ত করেছেন এবং তার পরিবর্তে কিছুই আনেননি, তারা সীনের কাসরা বহাল রেখেছেন। আর যারা 'ওয়াও' বিলুপ্ত করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে শুরুতে হামজায়ে ওয়াসল এনেছেন, তারা সীনের কাসরাটি হামজাকে দিয়ে দিয়েছেন, ফলে সীনটি সাকিন হয়ে গেছে। আবার কেউ বলেছেন: এর মূল হলো 'সুমউন'—সীন অক্ষরে দম্মাহ এবং মীম অক্ষরে সুকুন যোগে—সহীহ শব্দের মধ্যে এর দৃষ্টান্ত হলো 'কুফলুন' ও 'কুরতুন', এবং মোতাল শব্দের মধ্যে 'উদউন'। যারা 'ওয়াও' বিলুপ্ত করেছেন এবং বিনিময় প্রদান করেননি, তারা সীনের দম্মাহ বহাল রেখেছেন। আর যারা 'ওয়াও' বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে হামজায়ে ওয়াসল এনেছেন, তারা সীনের দম্মাহ হামজাকে দিয়েছেন। এরপর জেনে নিন যে, 'ইসম' এর বহুবচন 'আসমা' হওয়া এই দুই মতের কোনোটিকে এককভাবে শক্তিশালী বা অগ্রাধিকার দেয় না। কারণ 'আফআলুন' ওজনটি যেমন প্রথমাখরে কাসরা ও দ্বিতীয়াখরে সাকিন বিশিষ্ট শব্দের বহুবচন হিসেবে আসে, তেমনি প্রথমাখরে দম্মাহ ও দ্বিতীয়াখরে সাকিন বিশিষ্ট শব্দের বহুবচন হিসেবেও আসে; এক্ষেত্রে সহীহ এবং মোতাল শব্দ উভয়ই সমান। আপনি যেমন বলেন: আহমাল, আজজা, আকনা, তেমনি বলেন: আকফাল, আকরাত, আজদা।

২ প্রথমে জেনে রাখুন যে, আরবরা কখনো শব্দের প্রথম বর্ণ (ফা) বিলুপ্ত করে, আবার কখনো শেষ বর্ণ (লাম) বিলুপ্ত করে। এই বিলুপ্তি কখনো ইলমে সরফের নিয়ম অনুযায়ী কোনো কারণে হয়, আবার কখনো কোনো নিয়ম ছাড়াই কেবল শব্দ উচ্চারণে লঘুতা বা সহজিকরণের জন্য হয়। তারা কখনো কোনো বর্ণ বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে অন্য কিছু নিয়ে আসে, আবার কখনো কিছুই আনে না। সরফ বা রূপান্তরের নিয়ম অনুযায়ী যা বিলুপ্ত হয়, তা নিয়ে আমরা এখানে আলোচনা করতে চাই না; কারণ সেটি সরফের কিতাবসমূহে কারণসহ বর্ণিত আছে। আর সরফের নিয়ম ছাড়া যা বিলুপ্ত হয়, সেটিই আমাদের বর্তমান আলোচনার বিষয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ১০)
لما حذفوا اللام التي هي الواو من بَنَوٍ عوَّضوا عنها الهمزة في أوله فقالوا: ابْنٌ، ولما حذفوا الفاء التي هي الواو من وِعْدٍ لم يعوِّضوا عنها الهمزة في أوله فلم يقولوا إِعْدٌ، وإنما عوضوا عنها الهاء في آخره فقالوا: عِدَة؛ لأن القياس فيما حُذِفَ منه لامُه أن يُعَوَّض بالهمزة في أوله، وفيما حذف منه فاؤه أن يعوض بالهاء في آخره، والذي يدل على صحة ذلك أنه لا يوجد في كلامهم ما حذف فاؤه وعوِّض بالهمزة في أوله، كما لا يوجد في كلامهم ما حذف لامه وعُوِّض بالهاء في آخره1، فلما وجدنا في أول "اسم" همزة التعويض علمنا أنه محذوف اللام، لا محذوف الفاء؛ لأن حمله على ما له نظير أولى من حمله على ما ليس له نظير؛ فدلَّ على أنه مشتق من السُّمُوِّ لا من الوَسْم.

--------------------------------------------

= الآن؛ إذ كانت كلمة "اسم" من هذا النوع، فنقول: أما حذف الفاء لغير علة مع عدم التعويض عنها فنحو "سم" على مذهب الكوفيين الذين يقولون إن أصله "وسم" فحذفت الواو التي هي فاء الكلمة بدون علة اقتضت هذا الحذف ولم يعوض من هذا المحذوف شيء أصلًا، وأما حذف الفاء من غير علّة تصريفيّة مع التعويض عنها فنحو "اسم" على مذهب الكوفيين أيضًا، فقد حذفت الواو التي هي فاء الكلمة وعوض عنها همزة الوصل في مكانها، ونحو "لدة" للترب المساوي في السن فإن أصله ولد بدليل أنه من الولادة، و"حشة" اسم للأرض الموحشة التي لا أنيس فيها فإن أصله من الوحش، و "رقة" اسم للفضة فإن أصله واوي الفاء بدليل الورق بفتح الواو وكسر الراء بمعناه، ونحوه "جهة" اسم للمكان الذي تتوجه إليه، فإن الاشتقاق يدل على أن أصله من واوي الفاء نحو الوجهة والتوجه وتوجهت تلقاء كذا، وما أشبه ذلك. وأما ما حذفت لامه اعتباطًا ولم يعوض منها شيء فنحو غد، ويد، ودم، وأب، وأخ، وحم، ومنه "سم" عند البصريين الذين يقولون: إن أصله "سمو" فحذفت الواو ولم يعوض منها شيء، وأما ما حذفت لامه اعتباطًا وعوض منها شيء فنحو "اسم" عند البصريين أيضًا؛ فقد حذفت لامه وهو الواو وعوض منها همزة الوصل، ونظيره "ابن" فإن أصله "بنو" فحذفت لامه اعتباطًا وعوض منها همزة الوصل، ومن ذلك "سنة" و "شفة" و "عزة" و "ثبة" و "كرة" و "عضة" و "ثبة" و "إرة" وأخواتها، فقد حذفت لامات هذه الكلمات وعوض من هذه اللام تاء التأنيث في مكان المحذوف. وإنما بسطنا لك هذا الموضوع لتعلم أنه ليس هناك ضابط لا ينخرم للحذف والتعويض، ثم نقول: حاصل الوجه الأول مما رد به المؤلف على ما ذهب إليه الكوفيون أنه إذا عوض حرف من حرف لزم أن يكون حرف العوض في غير مكان الحرف المعوض منه، وللكوفيين أن يمنعوا ذلك، وأن يقولوا: لا، بل يجوز الأمران جميعًا: أن يكون العوض في مكان المعوض منه، وأن يكون حرف العوض في غير مكان الحرف المعوض منه، وقد عرفت أمثلة ذلك في محذوف الفاء وفي محذوف اللام، كما عرفت فساد قول المؤلف "كما لا يوجد في كلامهم ما حذف لامه وعوض بالهاء في آخره".

1 قد علمت أنه وجد في كلامهم ما حذف لامه وعوض بالهاء في آخره، وذلك مثل: عزة، وعضة، وإرة بكسر أوائلهنَّ وفتح ثانيهنَّ مخففًا ومثل: كرة، وقلة، وثبة بضم أوئلهنَّ وفتح ثانيهنَّ مخففًا ومثل: سنة، وشفة بفتح أولهما وثانيهما كما وجد في كلامهم ما حذفت فاؤه وعوض منها التاء في آخره نحو لدة ورقة وحشة وجهة من أسماء الأعيان، ونحو عدة وزنه وهبة وصفة وجدة من المصادر.
যখন তারা 'বানাও' শব্দ থেকে 'লাম' বর্ণ তথা 'ওয়াও' বিলুপ্ত করল, তখন এর পরিবর্তে শব্দের শুরুতে একটি 'হামজা' নিয়ে আসল এবং বলল 'ইবন'। আবার যখন তারা 'ওয়াদ' শব্দ থেকে 'ফা' বর্ণ তথা 'ওয়াও' বিলুপ্ত করল, তখন তারা এর বিনিময়ে শব্দের শুরুতে হামজা নিয়ে আসেনি, তাই তারা 'ই'দ' বলেনি। বরং তারা এর পরিবর্তে শেষে 'হা' যুক্ত করে বলল 'ইদাহ'। কারণ নিয়ম হলো, যা থেকে 'লাম' বর্ণ বিলুপ্ত হয় তার শুরুতে 'হামজা' দিয়ে ক্ষতিপূরণ করা হয়, আর যা থেকে 'ফা' বর্ণ বিলুপ্ত হয় তার শেষে 'হা' দিয়ে ক্ষতিপূরণ করা হয়। এই নিয়মের সঠিকতার প্রমাণ হলো, তাদের (আরবদের) ভাষায় এমন কোনো উদাহরণ পাওয়া যায় না যেখানে 'ফা' বর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে অথচ শুরুতে 'হামজা' দিয়ে তার ক্ষতিপূরণ করা হয়েছে। ঠিক তেমনি তাদের ভাষায় এমন কোনো উদাহরণও নেই যেখানে 'লাম' বর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে অথচ শেষে 'হা' দিয়ে তার ক্ষতিপূরণ করা হয়েছে। সুতরাং যখন আমরা 'ইসম' শব্দের শুরুতে ক্ষতিপূরণকারী 'হামজা' পেলাম, তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে এটি 'লাম' বর্ণ বিলুপ্ত হওয়া শব্দ, 'ফা' বর্ণ বিলুপ্ত হওয়া শব্দ নয়। কেননা কোনো বিষয়কে তার অনুরূপ উদাহরণের ওপর কিয়াস করা, সদৃশহীন উদাহরণের ওপর কিয়াস করার চেয়ে উত্তম। এটি প্রমাণ করে যে, 'ইসম' শব্দটি 'সুমুউ' (উচ্চতা) থেকে উদ্ভূত, 'ওয়াসম' (চিহ্ন দেওয়া) থেকে নয়।

--------------------------------------------

= এখন; যেহেতু 'ইসম' শব্দটি এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, তাই আমরা বলি: কোনো কারণ ছাড়াই 'ফা' বর্ণ বিলুপ্ত হওয়া এবং এর কোনো ক্ষতিপূরণ না থাকার উদাহরণ হলো কুফাবাসী ভাষাবিদদের মতে 'সিম' শব্দটি। তারা বলেন, এর মূল হলো 'ওয়াসম', এখানে 'ফা' বর্ণ তথা 'ওয়াও' কোনো সংগত কারণ ছাড়াই বিলুপ্ত হয়েছে এবং এই বিলুপ্তির বিপরীতে কোনো কিছুই ক্ষতিপূরণ হিসেবে আনা হয়নি। আর কোনো রূপান্তরগত (তাসরিফী) কারণ ছাড়াই 'ফা' বর্ণ বিলুপ্ত হওয়া এবং তার বিপরীতে ক্ষতিপূরণ থাকার উদাহরণ কুফাবাসীদের মতেই 'ইসম' শব্দটি। তাদের মতে, এর 'ফা' বর্ণ তথা 'ওয়াও' বিলুপ্ত হয়েছে এবং তার স্থানে শুরুতে 'হামজায়ে ওয়াসল' দ্বারা ক্ষতিপূরণ করা হয়েছে। এর আরও উদাহরণ হলো সমবয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত 'লিদাহ' শব্দটি; এর মূল হলো 'উইলদ', কারণ এটি 'বিলাদাহ' (জন্ম) থেকে উদ্ভূত। 'হাশশাহ' শব্দটি এমন জনমানবহীন ভূমিকে বলা হয় যেখানে কোনো সঙ্গী নেই; এর মূল হলো 'ওয়াহশ'। 'রিক্কাহ' শব্দটি রৌপ্যের নাম; এর মূলের শুরুতে 'ওয়াও' ছিল, যার প্রমাণ হলো একই অর্থে 'ওয়ারাক' শব্দের ব্যবহার। অনুরূপভাবে 'জিহাহ' শব্দটি গন্তব্যস্থলের নাম; এর শব্দমূল বা বুৎপত্তি প্রমাণ করে যে এর মূলে শুরুতে 'ওয়াও' ছিল, যেমন: 'উজিহাহ', 'তাওয়াজ্জুহ' এবং 'তাওয়াজ্জাহতু' ইত্যাদি। আর যে শব্দগুলোর 'লাম' বর্ণ কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই (ইত্তিবাতান) বিলুপ্ত হয়েছে এবং কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি, তার উদাহরণ হলো: গাদ, ইয়াদ, দাম, আব, আখ, হাম। বসরীবাসী ভাষাবিদদের মতে 'সিম' শব্দটিও এই পর্যায়ের, তারা বলেন এর মূল হলো 'সুমুউ', এখান থেকে 'ওয়াও' বিলুপ্ত হয়েছে এবং কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। পক্ষান্তরে যে শব্দগুলোর 'লাম' বর্ণ কারণ ছাড়াই বিলুপ্ত হয়েছে এবং তার পরিবর্তে কিছু যুক্ত করা হয়েছে, বসরীবাসীদের মতে 'ইসম' শব্দটি তেমনই একটি শব্দ। এর 'লাম' বর্ণ তথা 'ওয়াও' বিলুপ্ত হয়েছে এবং এর পরিবর্তে 'হামজায়ে ওয়াসল' আনা হয়েছে। এর সদৃশ শব্দ হলো 'ইবন', যার মূল ছিল 'বানাও', এর 'লাম' বর্ণ কারণ ছাড়াই বিলুপ্ত হয়েছে এবং শুরুতে 'হামজায়ে ওয়াসল' দ্বারা তার ক্ষতিপূরণ করা হয়েছে। এর আরও উদাহরণ হলো: সানাহ, শাফাহ, ইজ্জাহ, থুবাহ, কুরাহ, ইদাহ ও ইন্নাহ এবং তাদের সমগোত্রীয় শব্দগুলো। এই শব্দগুলোর 'লাম' বর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে এবং বিলুপ্ত বর্ণের পরিবর্তে শেষে 'তায়ে তানিস' (স্ত্রীবাচক তা) যুক্ত করা হয়েছে। আমরা এই বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করেছি যাতে আপনি জানতে পারেন যে, বিলুপ্তি ও ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে এমন কোনো অটল নিয়ম নেই যা কখনো লঙ্ঘন হয় না। এরপর আমরা বলি: লেখক কুফাবাসীদের মতের খণ্ডনে যে প্রথম যুক্তিটি দিয়েছেন তার সারকথা হলো—যখন একটি বর্ণের পরিবর্তে অন্য একটি বর্ণ ক্ষতিপূরণ হিসেবে আসে, তখন ক্ষতিপূরণকারী বর্ণটি মূল বর্ণের স্থান ব্যতীত অন্য স্থানে হওয়া আবশ্যক। কুফাবাসীরা এটি অস্বীকার করতে পারেন এবং বলতে পারেন যে, উভয়টিই জায়েজ: ক্ষতিপূরণকারী বর্ণটি মূল বর্ণের স্থানেও হতে পারে, আবার অন্য স্থানেও হতে পারে। আপনি 'ফা' বিলুপ্ত হওয়া এবং 'লাম' বিলুপ্ত হওয়া শব্দগুলোর উদাহরণে এর নমুনা দেখেছেন। এর মাধ্যমেই লেখকের এই উক্তির অসারতা স্পষ্ট হয় যে— "যেমন তাদের ভাষায় এমন কোনো উদাহরণ নেই যার লাম বর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে এবং শেষে হা দ্বারা তার ক্ষতিপূরণ করা হয়েছে।"

১ আপনি ইতিপূর্বেই জেনেছেন যে, তাদের ভাষায় এমন উদাহরণ বিদ্যমান যার 'লাম' বর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে এবং শেষে 'হা' দ্বারা ক্ষতিপূরণ করা হয়েছে। যেমন: 'ইজ্জাহ', 'ইদাহ' এবং 'ইরাহ' (প্রথম বর্ণে কাসরা এবং দ্বিতীয় বর্ণে ফাতহা ও তাশদিদহীন)। অনুরূপভাবে: 'কুরাহ', 'কুল্লাহ' এবং 'থুবাহ' (প্রথম বর্ণে পেশ এবং দ্বিতীয় বর্ণে ফাতহা)। আরও উদাহরণ: 'সানাহ' এবং 'শাফাহ' (প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় বর্ণে ফাতহা)। যেমনটি তাদের ভাষায় পাওয়া যায় যে, 'ফা' বর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে এবং শেষে 'তা' দ্বারা তার ক্ষতিপূরণ করা হয়েছে। বস্তুবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রে যেমন: লিদাহ, রিক্কাহ, হাশশাহ ও জিহাহ; এবং মাসদারের ক্ষেত্রে যেমন: ইদাহ, জিনাহ, হিবাহ, সিফাহ এবং জিদাহ।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ১১)
والوجه الثاني: أنك تقول "أسْمَيتُه" ولو كان مشتقًّا من الوَسْم لوجب أن تقول "وَسَمْتُه" فلما لم تقل إلا "أسميت" دلَّ على أنه من السُّمُوِّ، وكان الأصل فيه "أَسْمَوتُ"1، إلا أن الواو التي هي اللام لما وقعت رابعة قلبت ياء، كما قالوا: أَعْلَيْتُ، وأدعيت، والأصل: أعلوت، وأدعوت، إلا أنه لما وقعت الواو رابعة قلبت ياء، فكذلك ها هنا.

وإنما وجب أن تُقْلَب الواو ياء رابعة من هذا النحو حَمْلًا للماضي على المضارع، والمضارع يجب قلب الواو فيه ياء نحو "يُعْلِي، ويُدْعِي، ويُمْسِي" والأصل فيه "يُعْلِوْ، ويُدْعِوْ، ويُسْمِوْ" وإنما وجب قلبها ياءً في المضارع لوقوعها ساكنة مكسورًا2 ما قبلها؛ لأن الواو متى وقعت ساكنة مكسورًا ما قبلها وجب قلبها ياء، ألا ترى أنهم قالوا: ميقات، وميعاد، وميزان، والأصل: مِوْقَات، ومِوْعَاد، ومِوْزَان؛ لأنه من الوَقْت، والوَعْد، والوَزْن؛ إلا أنه لما وقعت الواو ساكنة مكسورًا ما قبلها وجب قلبها ياء؛ فكذلك ها هنا. وإنما حملوا الماضي على المضارع مراعاة لما بَنَوْا عليه كلامهم من اعتبار حكم المشاكلة، والمحافظة على أن تجري الأبواب على سَنَن واحدة، ألا ترى أنهم حملوا المضارع على الماضي إذا اتصل به ضمير جماعة النسوة نحو

--------------------------------------------

1 للكوفيين أن يدعوا أن هذه الكلمة قد حصل فيها قلب مكاني، وأنهم قالوا أول الأمر "أوسمت" على وزن أفعلت، ثم نقلوا الواو التي هي فاء الكلمة إلى موضع اللام فقالوا "أسموت" على وزن أعلفت، ثم قلبوا هذه الواو -بعد أن صارت في آخر الكلمة- ياء فصارت "أسميت" وبهذه الطريقة نفسها يجيبون عن الوجوه الآتية الثالث والرابع والخامس، وقد تنبه موفق الدين بن يعيش إلى ذلك فقال "فإن أدعى القلب فليس ذلك بالسهل؛ فلا يصار إليه وعنه مندوحة" ا. هـ.

2 في كلام المؤلف ما يدل على أنه يشترط لقلب الواو ياء أن تكون هذه الواو ساكنة، وليس ذلك بمستقيم على إطلاقه؛ فإن الواو المتطرفة -أي الواقعة في آخر الكلمة- تنقلب ياء إذا انكسر ما قبلها، مطلقًا، أي سواء أكانت ساكنة أم متحركة بل هي لا تكون ساكنة في آخر الكلمة إلا لعارض لا دخل له في قلبها؛ وذلك، من قبل أن آخر الكلم المتمكنة هو محل الإعراب، وانظر إلى قولهم "رضي" وهو فعل ماضٍ من الرضوان، فإن أصل يائه واو مفتوحة، وانظر إلى قولهم "غزى" و"دعى" بالبناء للمفعول؛ فإن أصل يائهما الواو، بدليل قولهم: دعاه يدعوه، وغزاه يغزوه، وقد انقلبت واوهما ياء لمجرد كونها طرفًا مكسورًا ما قبلها، ثم انظر بعد ذلك إلى قولهم "الداعي، والغازي، والراضي" فإنك ستجد أن أصل هذه الياءات واو، بدليل الاشتقاق الذي أشرنا إليه، وقد انقلبت الواو في الكلمات الثلاث ياء لوقوعها في آخر الكلمة وكسر ما قبلها وأما سكون هذه الكلمات في حالة الرفع وحالة الجر فلعله أخرى، وهي استثقال الضمة والكسرة على الواو والياء، والذي يؤكد لك ذلك أن هذه الواوات تقلب ياء في حالة النصب أيضًا مع ظهور الفتحة على الواو، وعلى الياء.

وإنما يشترط سكون الواو مع انكسار ما قبلها لقلبها ياء إذا كانت في وسط الكلمة نحو ميعاد وميقات وميزان، وقد بين المؤلف أصل هذه الكلمات.
দ্বিতীয় দিকটি হলো: আপনি বলেন "আসমাইতুহু" (আমি তাকে নামকরণ করেছি)। যদি এটি 'আল-ওয়াসম' (চিহ্নিতকরণ) থেকে উদ্ভূত হতো, তবে অবশ্যই আপনাকে বলতে হতো "ওয়াসামতুহু"। যেহেতু আপনি কেবল "আসমাইতু" বলেন, এটি প্রমাণ করে যে শব্দটি 'আস-সুমুউ' (উচ্চতা) থেকে এসেছে। এর মূল রূপ ছিল "আসমাতু"১, কিন্তু 'ওয়াও' বর্ণটি যা কালিমার শেষ বর্ণ (লাম), তা চতুর্থ স্থানে পতিত হওয়ার কারণে 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হয়েছে। যেমন তারা বলে থাকে: "আলাইতু" এবং "আদআইতু", অথচ এগুলোর মূল রূপ ছিল "আলাউতু" এবং "আদআউতু"; কিন্তু 'ওয়াও' চতুর্থ স্থানে আসার কারণে তা 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হয়েছে, আর এখানেও ঠিক তাই ঘটেছে।

এই ধরণের ক্ষেত্রে চতুর্থ 'ওয়াও'-কে 'ইয়া'-তে রূপান্তর করা ওয়াজিব হয়েছে অতীতকালকে বর্তমানকালের অনুগামী করার জন্য। বর্তমানকালে 'ওয়াও'-কে 'ইয়া'-তে রূপান্তর করা ওয়াজিব, যেমন "ইউ'লী", "ইউদ'ঈ", এবং "ইউমসী", যার মূল রূপ ছিল "ইউ'লিও", "ইউদ'ইও", এবং "ইউসমিও"। বর্তমানকালে একে 'ইয়া'-তে রূপান্তর করা ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো এটি তার পূর্ববর্তী বর্ণে কাসরা (জের) থাকা অবস্থায় সাকিন হিসেবে এসেছে২; কারণ 'ওয়াও' যখনই সাকিন হয় এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণে কাসরা থাকে, তখন তাকে 'ইয়া'-তে রূপান্তর করা ওয়াজিব হয়ে যায়। আপনি কি দেখছেন না যে তারা বলে: 'মীকাত', 'মী'আদ', এবং 'মীযান', অথচ এগুলোর মূল রূপ ছিল: 'মিওয়াকাত', 'মিওয়াকাদ', এবং 'মিওয়াজান'; কারণ এগুলো 'আল-ওয়াক্ত', 'আল-ওয়াদ' এবং 'আল-ওয়াযন' থেকে এসেছে। কিন্তু 'ওয়াও' সাকিন হওয়া এবং তার পূর্বে কাসরা থাকার কারণে তাকে 'ইয়া'-তে রূপান্তর করা ওয়াজিব হয়েছে; এখানেও বিষয়টি তেমনই। তারা অতীতকালকে বর্তমানকালের অনুগামী করেছে তাদের বক্তব্যের গঠনশৈলীতে সামঞ্জস্য রক্ষার খাতিরে এবং ব্যাকরণের সকল পরিচ্ছেদকে একই নিয়মে পরিচালিত করার জন্য। আপনি কি দেখছেন না যে তারা বর্তমানকালকে অতীতকালের অনুগামী করে যখন তার সাথে স্ত্রীবাচক বহুবচন সর্বনাম যুক্ত হয়, যেমন-

--------------------------------------------

১ কুফী ব্যাকরণবিদদের দাবি হলো, এই শব্দটিতে 'কালব মাকানী' (বর্ণের স্থান পরিবর্তন) ঘটেছে। তারা বলেন যে, আদিতে তারা 'আফআলতু' এর ওজনে "আওসামতু" বলত, এরপর কালিমার 'ফা' বর্ণ 'ওয়াও'-কে 'লাম' বর্ণের স্থানে স্থানান্তর করে তারা "আসমাতু" বলত। অতঃপর এই 'ওয়াও' শব্দের শেষে আসার পর একে 'ইয়া'-তে রূপান্তর করে "আসমাইতু" তে পরিণত করা হয়েছে। এই একই পদ্ধতিতে তারা পরবর্তী তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম দিকগুলোর উত্তর দিয়ে থাকেন। মুওয়াফফাকুদ্দীন ইবনে ইয়াঈশ এ বিষয়ে সজাগ করে দিয়ে বলেছেন: "যদি স্থান পরিবর্তনের দাবি করা হয় তবে তা সহজসাধ্য নয়; তাই অন্য কোনো বিকল্প পথ খোলা থাকলে সেদিকে যাওয়া উচিত নয়।" সমাপ্ত।

২ লেখকের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, 'ওয়াও'-কে 'ইয়া'-তে রূপান্তরের জন্য এই 'ওয়াও' সাকিন হওয়া শর্ত। কিন্তু এই শর্তটি সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; কারণ শব্দের শেষে অবস্থিত 'ওয়াও' যদি তার পূর্বে কাসরা থাকে, তবে তা সর্বাবস্থায় 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হয়—চাই তা সাকিন হোক বা হরকতযুক্ত হোক। বরং শব্দের শেষে এটি সাকিন কেবল এমন কোনো বাহ্যিক কারণে হয় যার সাথে রূপান্তরের কোনো সম্পর্ক নেই। কেননা সুগঠিত শব্দের শেষ বর্ণটি হলো বিভক্তির স্থান। আপনি তাদের "রাদিয়া" শব্দটির দিকে লক্ষ্য করুন, যা 'রেদওয়ান' থেকে উদ্ভূত একটি অতীতকালীন ক্রিয়া। এখানে 'ইয়া' এর মূল ছিল যবরযুক্ত 'ওয়াও'। আবার কর্মবাচ্যে "গুযিয়া" এবং "দু'ইয়া" শব্দগুলোর দিকে দেখুন; এগুলোর 'ইয়া' এর মূল ছিল 'ওয়াও', যার প্রমাণ হলো তাদের বক্তব্য: "দা'আহু ইয়াদ'উহু" এবং "গাযাহু ইয়াগযুহু"। এখানে 'ওয়াও' কেবল শব্দের শেষে অবস্থিত হওয়ার কারণে এবং তার পূর্বে কাসরা থাকার কারণে 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হয়েছে। এরপর "আদ-দা'ঈ", "আল-গাযী" এবং "আর-রাযী" শব্দগুলোর দিকে লক্ষ্য করুন, আপনি দেখতে পাবেন যে এই 'ইয়া'-গুলোর মূল হলো 'ওয়াও'। এটি সেই ব্যুৎপত্তিগত প্রমাণ দ্বারা সাব্যস্ত যা আমরা উল্লেখ করেছি। এই তিনটি শব্দে 'ওয়াও' শব্দের শেষে এবং তার পূর্বে কাসরা থাকার কারণে 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হয়েছে। আর পেশ এবং যের অবস্থায় এই শব্দগুলোর সাকিন হওয়া অন্য একটি কারণে, আর তা হলো 'ওয়াও' এবং 'ইয়া' এর উপর পেশ ও যের পড়া কষ্টসাধ্য হওয়া। এই বিষয়টি আপনার কাছে আরও নিশ্চিত হবে যে, এই 'ওয়াও'-গুলো যবরের (নসব) অবস্থায়ও 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হয়, যদিও যবর প্রকাশ পাওয়া কষ্টসাধ্য নয়।

আর 'ওয়াও' সাকিন থাকা এবং তার পূর্বে কাসরা থাকাকে 'ইয়া'-তে রূপান্তরের শর্ত কেবল তখনই ধরা হয় যখন সেটি শব্দের মাঝখানে থাকে, যেমন: 'মী'আদ', 'মীকাত' এবং 'মীযান'। লেখক এই শব্দগুলোর মূল রূপ স্পষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ১২)
"تَضْرِبْنَ" وحذفوا الهمزة من أخوات "أُكْرِمُ" نحو "نُكْرِم، وتُكْرِم، ويُكْرِم" والأصل فيه "نُؤَكْرِم، وتُؤَكْرِم، ويُؤَكْرِم" كما قال:

[1]

فإنه أهل لأن يُؤَكْرَما

حملًا على أُكْرِم وإنما حذفت إحدى الهمزتين من"أُكرم" لأن الأصل فيه "أُأَكْرِم" فلما اجتمع فيه همزتان كرهوا اجتماعهما؛ فحذفوا إحداهما تخفيفًا، ثم حملوا سائر أخواتها عليها في الحذف، وكذلك حذفوا الواو من أخوات يَعِدُ، نحو "أَعِدُ، ونَعِدُ، وتَعِدُ" والأصل فيها: "أَوْعِد، ونَوْعِد، وتَوْعِد، حملًا على يَعِد، وإنما حذفت الواو من"يعد" لوقوعها بين1 ياء وكسرة ثم حملوا سائر أخواتها عليها

--------------------------------------------

[1] هذا البيت من الرجز المشطور، وهو لأبي حيّان الفقعسي، ومع كثرة ترديد النحاة وأهل اللغة لهذا الشاهد فإني لم أقف له على سوابق أو لواحق، وقد استشهد به ابن هشام في أوضحه"رقم 580" والأشموني "رقم 1252" وأنظره في اللسان أيضًا "ك ر م" وقوله "أهل" معناه مستحق وذو أهلية، و "يؤكرم" بالبناء للمجهول، وأراد يكرم. والشاهد فيه قوله "يؤكرم" فإن هذه الكلمة قد جاءت على الأصل الأصيل، لكنها مخالفة للاستعمال المُتْلَئِب، لأنهم يحذفون الهمزة من مضارع أفعل كأكرم وأورد وأوفى وذلك لأنهم استثقلوا وجود همزتين متواليتين في أول الكلمة في قولهم "أأكرم" وحملوا "نؤكرم" و "تؤكرم" و"يؤكرم" على المبدوء بهمزة المضارعة قصدًا إلى التجانس ومعاملة للأشباه معاملة واحدة، وإن لم يكن في المبدوء بالنون والياء والتاء من الثقل مثل ما في المبدوء بالهمزة، وقد عاود هذا الراجز الأصل المهجور حين اضطر لإقامة الوزن، ونظيره قول خطام المجاشعي، وانظره في اللسان "ث ف ى":

لم يبقَ منْ آي بها يُحَلَّيْن" … غيرُ خِطَامٍ ورمادٍ كِنْفَيْنِ

وصَالِيَاتٍ كَكَمَا يُؤَثْفَيْن

_________

1 جملة ما يشترط لحذف الواو التي هي فاء الفعل من المضارع ثلاثة شروط:

الأول: أن تكون ياء المضارعة مفتوحة، فلو كانت الياء مضمومة كما في نحو يوافق ويوائم وكما في نحو يوعد ويولد ويوزن -بالبناء للمجهول- لم تحذف الواو؛ لأن ضمة الياء تجانس الواو فتشدّ أزرها وتمنعها من تسلّط الياء عليها.

والشرط الثاني: أن تكون عين الفعل مكسورة، فلو كانت العين مضمومة نحو يوجه ويوضؤ، أو كانت مفتوحة نحو يوهل، ونحو يوصل ويوعد ويوفى -بالبناء للمجهول- لم تحذف الواو؛ لأن الفتحة التي بعدها لا تجانس الياء التي قبلها فلا تتقوى بها الياء.

والشرط الثالث: أن يكون وقوع الواو بين ياء مفتوحة وكسرة في فعل، فلو كان وقوع ذلك في اسم نحو يوعيد –على مثال يقطين من الوعد لم تحذف الواو.
"তাদরিবনা" এবং তারা "উকরিমু"-এর সমজাতীয় রূপসমূহ যেমন "নুকরিমু, তুকরিমু ও ইউকরিমু" থেকে হামযাহ বিলুপ্ত করেছে। এগুলোর মূল রূপ ছিল "নুআকরিমু, তুআকরিমু ও ইউআকরিমু", যেমনটি কবি বলেছেন:

[১]

নিশ্চয়ই সে ব্যক্তি সম্মানিত হওয়ার (ইউআকরামা) যোগ্য।

এটি "উকরিমু"-এর অনুকরণে করা হয়েছে। "উকরিমু" থেকে দুটি হামযাহর একটি কেবল এজন্যই বিলুপ্ত করা হয়েছে যে, এর মূল রূপ ছিল "উআকরিমু"। যখন এতে দুটি হামযাহ একত্রে মিলিত হলো, তারা সেটির একত্রীকরণ অপছন্দ করল; তাই উচ্চারণের সহজতার জন্য একটিকে বিলুপ্ত করে দিল। এরপর তারা এর সমজাতীয় অন্যান্য রূপগুলোকেও বিলুপ্তির ক্ষেত্রে এর ওপর কিয়াস বা তুলনা করল। একইভাবে তারা "ইয়া’ইদু"-এর সমজাতীয় রূপসমূহ যেমন "আইদু, নাইদু ও তাইদু" থেকে 'ওয়াও' বিলুপ্ত করেছে। এগুলোর মূল রূপ ছিল: "আউ’ইদ, নাউ’ইদ ও তাউ’ইদ", যা "ইয়া’ইদু"-এর অনুকরণে হয়েছে। "ইয়া’ইদু" থেকে 'ওয়াও' বিলুপ্ত করা হয়েছে কারণ এটি ইয়া এবং কাসরাহর (যের) মাঝখানে অবস্থিত হয়েছে, অতঃপর তারা এর সমজাতীয় অন্য রূপগুলোকেও এর ওপর কিয়াস করেছে।

--------------------------------------------

[১] এই কবিতাটি রজজ ছন্দভুক্ত একটি খণ্ড কবিতা, যা আবু হাইয়ান আল-ফাক’আসির। ব্যাকরণবিদ এবং ভাষাতাত্ত্বিকদের নিকট এই উদাহরণটি প্রচুর ব্যবহৃত হলেও আমি এর পূর্বাপর কোনো চরণ খুঁজে পাইনি। ইবনে হিশাম তাঁর 'আওদাহুল মাসালিক' (৫৪০ নং) গ্রন্থে এবং আশমুনি (১২৫২ নং) গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন। লিসানুল আরব অভিধানেও 'কা-রা-মা' মূলে এটি দেখা যেতে পারে। কবির উক্তি "আহল" এর অর্থ হলো উপযুক্ত বা যোগ্য। আর "ইউআকরামা" শব্দটি কর্মবাচ্য (মাজহুল), যার দ্বারা তিনি 'সম্মানিত হওয়া' বুঝিয়েছেন। এখানে প্রামাণ্য বিষয় হলো "ইউআকরামা" শব্দটি, কারণ এটি তার মূল রূপ অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়েছে, তবে তা প্রচলিত নিয়মের পরিপন্থী। কারণ তারা 'আফ’আলা' ওজনের মুদারে (বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল) যেমন 'আকরামা', 'আওরাদা' ও 'আওফা' থেকে হামযাহ বিলুপ্ত করে থাকে। কেননা "উআকরিমু" বলার সময় শব্দের শুরুতে পরপর দুটি হামযাহর উপস্থিতি তারা ভারী মনে করে। তারা সদৃশ শব্দগুলোকে একই নিয়মে ফেলার উদ্দেশ্যে মুদারে’র হামযাহ দ্বারা শুরু হওয়া শব্দের অনুকরণে "নুআকরিমু", "তুআকরিমু" এবং "ইউআকরিমু" শব্দগুলো থেকেও হামযাহ বিলুপ্ত করেছে; যদিও নুন, ইয়া এবং তা দ্বারা শুরু হওয়া শব্দগুলোতে হামযাহ দ্বারা শুরু হওয়া শব্দের মতো উচ্চারণে ভারী ভাব ছিল না। তবে এই কবি ছন্দ রক্ষা করার তাগিদে সেই পরিত্যক্ত মূল রূপটি পুনরায় ব্যবহার করেছেন। এর অনুরূপ উদাহরণ হলো খিতাম আল-মুজাশয়ি-এর উক্তি, যা লিসানুল আরবে 'ছা-ফা-ইয়া' মূলে দেখা যেতে পারে:

সেখানে (চিহ্নগুলোর) কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই যার দ্বারা সেগুলো সুশোভিত হতো... কেবল উটের নাসারজ্জু এবং পাশের ছাই ব্যতীত

এবং উত্তপ্ত পাথরগুলো যা উনুনের পায়ার মতো স্থাপন করা হয়েছে।

_________

১। মুদারে’র 'ফা' বর্ণ থেকে 'ওয়াও' বিলুপ্ত করার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে:

প্রথম: মুদারে’র 'ইয়া' বর্ণটি ফাতহাহ (জবর) যুক্ত হতে হবে। যদি 'ইয়া' বর্ণটি দম্মাহ (পেশ) যুক্ত হয় যেমন "ইউওয়াফিকু" এবং "ইউওয়া-ইমু" এবং কর্মবাচ্যের ক্ষেত্রে যেমন "ইউ'আদু", "ইউলাদু" এবং "ইউযানু" তবে 'ওয়াও' বিলুপ্ত হবে না। কারণ 'ইয়া'-এর পেশ 'ওয়াও'-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা একে শক্তিশালী করে এবং 'ইয়া'-এর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

দ্বিতীয় শর্ত: ক্রিয়ার আইন বর্ণটি কাসরাহ (যের) যুক্ত হতে হবে। যদি আইন বর্ণটি পেশ যুক্ত হয় যেমন "ইয়াওজুহু" এবং "ইয়াওদুউ", অথবা জবর যুক্ত হয় যেমন "ইয়াওহালু" এবং কর্মবাচ্যের ক্ষেত্রে যেমন "ইউসালু", "ইউ'আদু" এবং "ইউফা", তবে 'ওয়াও' বিলুপ্ত হবে না। কারণ এর পরবর্তী জবর পূর্ববর্তী 'ইয়া'-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, ফলে 'ইয়া' এর মাধ্যমে শক্তিশালী হয় না।

তৃতীয় শর্ত: 'ওয়াও'-এর অবস্থানটি কোনো ক্রিয়াপদের মধ্যে জবরযুক্ত 'ইয়া' এবং কাসরাহর মাঝখানে হতে হবে। যদি এটি কোনো বিশেষ্য বা ইসম-এর মধ্যে হয় যেমন "ইয়াউ’ঈদ" — যা প্রতিশ্রুতির অর্থ থেকে 'ইয়াকতীন' ওজনে গঠিত — তবে 'ওয়াও' বিলুপ্ত হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ১৩)
في الحذف، كلُّ ذلك لتحصيل التشاكل والفرار من نَفْرة الاختلاف، فكذلك ههنا حملوا الماضي على المضارع، وبل أولى، وذلك لأن مراعاة المشاكلة بالقلب أَقْيَسُ من مراعاة المشاكلة بالحذف؛ لأن القلب تغيير يعرض في نفس الحرف، والحذف إسقاط لأصل الحرف، والإسقاط في باب التغيير أتمُّ من القلب، فإذا جاز أن يُرَاعُوا المشاكلة بالحذف فبالقلب أولى.

وأما قلب الواو ياء في الماضي في نحو "تغازَيْتُ، وترجَّيبت" وإن لم تقلب ياء في المضارع لأن الأصل في تغازيت: غازيت، وفي ترجَّيت: رجَّيت، فزيدت التاء فيهما لتدلَّ على المطاوعة، وغازيت ورجَّيت يجب قلب الواو فيهما ياء في المضارع، ألا ترى أنك تقول في المضارع: أُغَازِي، وأُرَجِّي، فكذلك في الماضي، وإذا لزم هذا القلب قبل الزيادة في "غازيت أغازي، ورجَّيت أرجِّي" فكذلك بعد الزيادة في تغازيت وترجَّيتُ، حملًا لتغازيت على غازيت، وترجَّيتُ على رجَّيت، مراعاة للتشاكل، وفرارًا من نفرة الاختلاف.

والوجه الثالث: أنك تقول في تصغيره "سُمَيّ" ولو كان مشتقّا من الوَسْم لكان يجب أن تقول في تصغيره "وُسَيْم" كما يجب أن تقول في تصغير زِنَة: وُزَيْنَة، وفي تصغير عِدَة: وُعَيْدَة؛ لأن التصغير يردُّ الأشياء إلى أصولها، فلما لم يجز أن يقال إلا سُمَي دلَّ على أنه مشتق من السُّمُوّ، لا من الوَسْمِ.

والأصل في سُمَيّ: سُمَيْو، إلا أنه لما اجتمعت الياء والواو والسابق منهما ساكن قلبوا الواو ياء، وجعلوهما ياء مشدّدة، كما قالوا: سيِّد وجيِّد وهيِّن وميِّت. والأصل فيه: سَيْود وجَيْود وهَيْون ومَيْوِت؛ لأنه من السودد والجودة والهوان والموت، إلا أنه لما اجتمعت الياء والواو والسابق منهما ساكن قلبوا الواو ياء، وجعلوهما ياء مشددة، وكذلك أيضًا قالوا: طَوَيْتُ طَيًّا، ولَوَيَتُ لَيًّا، وشَوَيَتُ شَيًّا، والأصل فيه: طَوْيًا ولَوْيًا وشَوْيًا، إلا أنه لما اجتمعت الواو والياء والسابق منهما ساكن قلبوا الواو ياء، وجعلوهما ياء مشددة، وإنما وجب قلب الواو إلى الياء دون قلب الياء إلى الواو لأن الياء أَخْفُّ من الواو؛ فلما وجب قلب أحدهما إلى الآخر كان قلبُ الأثْقَلِ إلى الأخفِّ من قلب الأخَفِّ إلى الأثقل.

والوجه الرابع: أنك تقول في تكسير "أَسْمَاء1" ولو كان مشتقًّا من الوَسْمِ

--------------------------------------------

1 وقد جمعوا "أسماء" على "أساميّ" بتشديد الياء وأصله على مذهب البصريين "أساميو" مثل قراطيس وعصافير، أما الياء فهي منقلبة عن حرف اللين الذي هو الألف في أسماء وقرطاس والواو في عصفور، وما الواو فهي لام الكلمة على مذهبهم، فلما اجتمعت الواو والياء في كلمة واحدة وكان السابق منهما ساكنًا قلبوا الواو ياء ثم أدغموا الياء في الياء، وربما حذفوا الياء المنقلبة عن حرف اللين وأبقوا الواو فانقلبت ياء لتطرفها إثر كسرة فقالوا "الأسامي" وتحذف هذه الياء الخفيفة في حالتي الرفع والجر، ومن ذلك قول الشاعر:

ولنا أسام ما تليق بغيرنا … ومشاهد تهتل حين ترانا
বিলোপের ক্ষেত্রে, এই সবই করা হয়েছে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য এবং বৈসাদৃশ্যজনিত বিরাগ থেকে বাঁচার জন্য। অনুরূপভাবে এখানেও তারা অতীতকালকে (মাজি) বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালের (মুদারে) অনুরূপ করেছেন, বরং এটি করাই অধিক উত্তম। কারণ হৃদয়ের পরিবর্তনের (কালব) মাধ্যমে সামঞ্জস্য রক্ষা করা বিলোপের (হাফয) মাধ্যমে সামঞ্জস্য রক্ষার চেয়ে অধিকতর যুক্তিযুক্ত; কেননা পরিবর্তন (কালব) হলো বর্ণের নিজস্ব অবস্থার মধ্যে ঘটা একটি রূপান্তর, আর বিলোপ (হাফয) হলো মূল বর্ণের বিচ্যুতি। পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটানো কালব বা রূপান্তরের চেয়ে অধিক চরম। সুতরাং যদি বিলোপের মাধ্যমে সামঞ্জস্য রক্ষা করা জায়েজ হয়, তবে রূপান্তরের (কালব) মাধ্যমে তা রক্ষা করা আরও বেশি সংগত।

আর 'তাগাযাইতু' ও 'তারাজ্জাইতু' এর মতো শব্দগুলোতে অতীতকালে 'ওয়াও'-কে 'ইয়া' দ্বারা রূপান্তর করার বিষয়টি—যদিও বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালে (মুদারে) তা 'ইয়া' দ্বারা রূপান্তরিত হয় না—তার কারণ হলো, 'তাগাযাইতু' এর মূল ছিল 'গাযাইতু' এবং 'তারাজ্জাইতু' এর মূল ছিল 'রাজ্জাইতু'। অতঃপর অনুগামীতা (মুতাওয়াআত) বুঝানোর জন্য উভয়টিতে 'তা' বর্ণটি অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে। আর 'গাযাইতু' ও 'রাজ্জাইতু' এর ক্ষেত্রে বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালে (মুদারে) 'ওয়াও'-কে 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তন করা ওয়াজিব। আপনি কি দেখেন না যে, আপনি বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালে বলেন: 'উগাযি' এবং 'উরাজ্জি'? অনুরূপভাবে অতীতকালেও হবে। আর যখন অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত হওয়ার পূর্বেই 'গাযাইতু-উগাযি' এবং 'রাজ্জাইতু-উরাজ্জি' তে এই রূপান্তর অপরিহার্য ছিল, তখন 'তাগাযাইতু' ও 'তারাজ্জাইতু' তে অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত হওয়ার পরও তা বহাল থাকবে; যাতে করে 'তাগাযাইতু'-কে 'গাযাইতু' এর ওপর এবং 'তারাজ্জাইতু'-কে 'রাজ্জাইতু' এর ওপর কিয়াস করা যায়, সামঞ্জস্য রক্ষা পায় এবং বৈসাদৃশ্যজনিত অনীহা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

তৃতীয় কারণ: আপনি এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপে (তাসগির) বলেন 'সুমাই'। এটি যদি 'ওয়াসম' থেকে উদ্গত হতো, তবে এর তাসগিরের ক্ষেত্রে 'উসাইম' বলা আবশ্যক হতো, যেমনটি 'যিনাতুন' এর তাসগিরে 'উযাইনাতুন' এবং 'ইদাতুন' এর তাসগিরে 'উয়াইদাতুন' বলা আবশ্যক হয়। কারণ তাসগির কোনো শব্দকে তার মূল রূপের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। যেহেতু 'সুমাই' ছাড়া অন্য কিছু বলা বৈধ নয়, তাই এটি প্রমাণ করে যে এটি 'সুমুউ' থেকে উদ্গত, 'ওয়াসম' থেকে নয়।

'সুমাই' এর মূল রূপ ছিল: 'সুমাইউ'। কিন্তু যখন 'ইয়া' ও 'ওয়াও' একত্রে আসে এবং তাদের প্রথমটি সুকুনযুক্ত হয়, তখন তারা 'ওয়াও'-কে 'ইয়া' তে রূপান্তর করে দেয় এবং উভয়কে একটি তাশদীদযুক্ত 'ইয়া' তে পরিণত করে। যেমন তারা বলেছে: 'সাইয়িদ', 'জাইয়িদ', 'হাইয়িন' এবং 'মাইয়্যিত'। এগুলোর মূল ছিল: 'সাইউয়ুদ', 'জাইউয়ুদ', 'হাইউয়ুন' এবং 'মাইউয়িত'; কারণ এগুলো 'সুদুদ', 'জাওদাহ', 'হাওয়ান' এবং 'মাউত' থেকে এসেছে। কিন্তু যখন 'ইয়া' ও 'ওয়াও' একত্রে এসেছে এবং প্রথমটি সুকুনযুক্ত হয়েছে, তখন তারা 'ওয়াও'-কে 'ইয়া' তে রূপান্তর করেছে এবং সেগুলোকে তাশদীদযুক্ত 'ইয়া' বানিয়ে দিয়েছে। অনুরূপভাবে তারা আরও বলেছে: 'তাওয়াইতু তাইয়্যান', 'লাওয়াইতু লাইয়্যান' এবং 'শাওয়াইতু শাইয়্যান'। এগুলোর মূল ছিল: 'তাইওয়ান', 'লাইওয়ান' এবং 'শাইওয়ান'। তবে যখন 'ওয়াও' ও 'ইয়া' একত্রে এসেছে এবং প্রথমটি সুকুনযুক্ত হয়েছে, তখন তারা 'ওয়াও'-কে 'ইয়া' তে রূপান্তর করেছে এবং সেগুলোকে তাশদীদযুক্ত 'ইয়া' করে দিয়েছে। আর 'ইয়া'-কে 'ওয়াও' তে রূপান্তর না করে 'ওয়াও'-কে 'ইয়া' তে রূপান্তর করা ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো, 'ইয়া' বর্ণটি 'ওয়াও' এর চেয়ে হালকা। ফলে যখন একটিকে অন্যটিতে রূপান্তর করা আবশ্যক হয়, তখন ভারী বর্ণকে হালকা বর্ণে রূপান্তর করা হালকা বর্ণকে ভারী বর্ণে রূপান্তরের চেয়ে অধিক সংগত।

চতুর্থ কারণ: আপনি এর বহুবচনে (তাকসির) বলেন 'আসমা'। যদি এটি 'ওয়াসম' থেকে উদ্গত হতো—

--------------------------------------------

১ তারা 'আসমা' এর বহুবচন 'আসামী' হিসেবেও ব্যবহার করেছেন যেখানে 'ইয়া' এর ওপর তাশদীদ রয়েছে। বসরীদের মাযহাব অনুযায়ী এর মূল হলো 'আসামীউ', যেমন 'কারাতীস' এবং 'আসফীর'। এখানে 'ইয়া' বর্ণটি লীন (কোমল) বর্ণ থেকে পরিবর্তিত হয়েছে যা 'আসমা' ও 'কিরতাস' এর ক্ষেত্রে 'আলিফ' এবং 'উসফুর' এর ক্ষেত্রে 'ওয়াও'। আর 'ওয়াও' বর্ণটি তাদের মাযহাব অনুযায়ী শব্দের শেষ বর্ণ (লাম কালিমাহ)। সুতরাং যখন এক শব্দে 'ওয়াও' ও 'ইয়া' একত্রে এসেছে এবং তাদের প্রথমটি সুকুনযুক্ত ছিল, তখন তারা 'ওয়াও'-কে 'ইয়া' তে রূপান্তর করেছে এবং অতঃপর এক 'ইয়া'-কে অপর 'ইয়া'-র মধ্যে সন্ধি (ইদগাম) করেছে। কখনো কখনো তারা কোমল বর্ণ থেকে পরিবর্তিত 'ইয়া'-টিকে বিলোপ করে দেয় এবং 'ওয়াও'-টিকে রেখে দেয়, ফলে সেটি তার পূর্বের কাসরা (জের) এর কারণে 'ইয়া' তে রূপান্তরিত হয়। তখন তারা 'আল-আসামী' বলে থাকে। আর রফ' (পেশ) ও জার (জের) এর অবস্থায় এই হালকা 'ইয়া' বিলোপ হয়ে যায়। কবির উক্তিটি সেই ধরনেরই:

আমাদের এমন সব নাম রয়েছে যা অন্য কারো জন্য উপযুক্ত নয়... এবং এমন সব দৃশ্য যা আমাদের দেখলে অশ্রুসিক্ত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ১৪)
لوجب أن تقول: أوسام، وأواسيم؛ فلما لم يجز أن يقال إلا أسماء دلَّ على أنه مشتقّ من السُّمُوِّ، لا من الوَسْمِ.

والأصل في أسْمَاء أسْمَاو، إلا أنه لما وقعت الواو طرفًا وقبلها ألف زائد قلبت همزة كما قالوا: سَمَاء، وكَسَاء، ورَجَاء، ونَجَاء. والأصل فيه: سماو، وكساو، ورجاو، ونجاو؛ لقولهم: سَمَوْت وكَسَوْت ورَجَوْت ونَجَوْت، إلا أنه لما وقعت الواو طرفًا وقبلها ألف زائدة قلبت همزة.

ومنهم من قال1: إنما قلبت ألفًا لأن الألف التي قبلها لما كانت ساكنة خفية زائدة -والحرف الساكن حاجزٌ غيرُ حصين- لم يعتدُّوا بها، فقدُّروا أن الفتحة التي قبل الألف قد وليت الواو2 وهي متحركة، والواو متى تحركت وانفتح ما قبلها وجب أن تقلب ألفًا، ألا ترى أنهم قالوا: سَمَا، وعَلَا، ودَعَا، وغَزَا، والأصل فيها سَمَوَ وعَلَوَ ودَعَوَ وغَزَوَ؛ لقولهم: سَمَوْت وعَلَوْت ودَعَوْت وغَزَوْت، إلا أنه لمَّا تحركت الواو وانفتح ما قبلها قلبت ألفًا، فكذلك ههنا قلبوا الواو في أسْمَاوٍ ألفًا، فاجتمع فيه ألفان: ألف زائدة، وألف منقلبة عن لام الكلمة، والألفان ساكنان، وهما لا يجتمعان، فقلبت الألف الثانية المنقلبة عن لام الكلمة همزة لالتقاء الساكنين، وإنما قلبت إلى الهمزة دون غيرها من الحروف لأنها أقربُ الحروف إليها؛ لأن الهمزة هَوَائية، كما أن الألف هَوَائية، فلما كانت أَقْرَبَ الحروف إليها؛ كان قلبها إليها أولى من قلبها إلى غيرها.

والوجه الخامس: أنه قد جاء عن العرب أنهم قالوا في اسم: سُمًى، على مثال عُلًى، والأصل فيه سُمَوٌ، إلا أنهم قلبوا الواو منه ألفًا لتحركها وانفتاح ما قبلها، فصار سُمًى، قال الشاعر:

[2]

واللهُ أَسْمَاكَ سُمًى مُبَارَكًا … آثرَكَ الله به إيثَارَكَا

--------------------------------------------

[2] هذا بيت من الرجز المشطور يقوله ابن خالد القناني نسبة إلى القنان بفتح القاف هو جبل لبني أسد فيه ماء يُسَمّى العسيلة – وقد أنشده في اللسان "س م و" وأنشده ابن يعيش، وابن هشام في أوضح المسالك "رقم 5 بتحقيقنا" و "أسماك" أراد ألهم آلك أن يسموك، و "سما" =

_________

1 ينسب العلامة رضي الدين في شرح الشافية هذا الرأي إلى حذاق الصرفيين.

2 الصواب أن يقال "قد وليتها الواو".
তবে ‘আউসাম’ এবং ‘আওয়াসিম’ বলা আবশ্যক হতো; যেহেতু ‘আসমা’ ছাড়া অন্য কিছু বলা বৈধ নয়, সেহেতু এটি প্রমাণিত হয় যে এটি ‘সুমুউ’ (উচ্চতা) থেকে নির্গত, ‘ওয়াসম’ (চিহ্ন) থেকে নয়।

আর ‘আসমা’ শব্দের মূল হলো ‘আসমাউ’, তবে যখন ‘ওয়াও’ শব্দের শেষে আসে এবং তার পূর্বে একটি অতিরিক্ত আলিফ থাকে, তখন তা হামযাতে পরিণত হয়। যেমন তারা বলে থাকে: ‘সামাউ’, ‘কিসাউ’, ‘রাজাউ’ এবং ‘নাজাউ’। এগুলোর মূল হলো: সামাউ, কিসাউ, রাজাউ এবং নাজাউ; কারণ তারা বলে থাকে: সামাউতু, কাসাউতু, রাজাউতু এবং নাজাতু। তবে যখন ‘ওয়াও’ শব্দের শেষে পতিত হয় এবং তার পূর্বে অতিরিক্ত আলিফ থাকে, তখন তা হামযাতে রূপান্তরিত হয়।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন১: এটি আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে কারণ তার পূর্বের আলিফটি যখন সাকিন (স্থির), প্রচ্ছন্ন এবং অতিরিক্ত ছিল—আর সাকিন অক্ষর কোনো শক্তিশালী প্রতিবন্ধক নয়—তাই তারা সেটিকে ধর্তব্যের মধ্যে আনেনি। ফলে তারা ধরে নিয়েছে যে, আলিফের পূর্বের ফাতহা (যবর) সরাসরি ‘ওয়াও’ এর সাথে মিলিত হয়েছে২ এবং তা হরকতযুক্ত। আর ‘ওয়াও’ যখন হরকতযুক্ত হয় এবং তার পূর্বের অক্ষর ফাতহা বিশিষ্ট হয়, তখন তাকে আলিফে রূপান্তর করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। আপনি কি দেখেন না যে তারা বলে: ‘সামা’, ‘আলা’, ‘দাআ’ এবং ‘গাযা’, অথচ এগুলোর মূল হলো সামাওয়া, আলাওয়া, দাআওয়া এবং গাযাওয়া; কারণ তারা বলে: সামাউতু, আলাউতু, দাআউতু এবং গাযাউতু। তবে যখন ‘ওয়াও’ হরকতযুক্ত হয়েছে এবং তার পূর্বের অক্ষর ফাতহা বিশিষ্ট হয়েছে, তখন তাকে আলিফে রূপান্তর করা হয়েছে। ঠিক তেমনি এখানেও তারা ‘আসমাউ’ শব্দের ‘ওয়াও’কে আলিফে রূপান্তর করেছে। ফলে সেখানে দুটি আলিফ একত্রিত হয়েছে: একটি অতিরিক্ত আলিফ এবং অন্যটি শব্দের শেষ অক্ষর (লাম কালিমাহ) থেকে রূপান্তরিত আলিফ। আর দুটি আলিফই সাকিন, যা একত্রে অবস্থান করতে পারে না। তাই দুই সাকিনের মিলনের কারণে শব্দের শেষ অক্ষর থেকে রূপান্তরিত দ্বিতীয় আলিফটিকে হামযায় রূপান্তর করা হয়েছে। অন্য কোনো অক্ষরের পরিবর্তে হামযায় রূপান্তরের কারণ হলো এটিই আলিফের সবচেয়ে নিকটতম অক্ষর; কেননা হামযা হলো বায়বীয় (হাওয়াইয়াহ) বর্ণ, যেমনটি আলিফও বায়বীয়। যেহেতু এটি তার সবচেয়ে নিকটতম বর্ণ, তাই একে অন্য বর্ণের পরিবর্তে হামযায় রূপান্তর করাই অধিকতর শ্রেয় ছিল।

পঞ্চম দিকটি হলো: আরবদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তারা ‘ইসম’ (নাম) এর ক্ষেত্রে ‘সুমান’ বলেছে, যেমনটি ‘উলান’ এর দৃষ্টান্ত। এর মূল হলো ‘সুমাউন’, তবে তারা এর ‘ওয়াও’কে আলিফে রূপান্তর করেছে কারণ তা হরকতযুক্ত এবং তার পূর্বের অক্ষর ফাতহা বিশিষ্ট, ফলে তা ‘সুমান’ এ পরিণত হয়েছে। কবি বলেছেন:

[২]

আল্লাহ তোমাকে এক বরকতময় নাম দান করেছেন... আল্লাহ তোমাকে এর মাধ্যমে অন্যদের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

--------------------------------------------

[২] এটি ইবনে খালিদ আল-কানানি কর্তৃক পঠিত ‘রাজাজ মাশতুর’ ছন্দের একটি পঙক্তি। কানানি হলো কাফ বর্ণে ফাতহা যোগে ‘কুনান’ এর দিকে নিসবত, যা বনু আসাদ গোত্রের একটি পাহাড় যেখানে ‘আল-উসাইলাহ’ নামক একটি জলাশয় রয়েছে। এটি ‘লিসানুল আরব’ অভিধানে ‘স-ম-ও’ মূলশব্দের অধীনে উদ্ধৃত হয়েছে। ইবনে ইয়াঈশ এবং ইবনে হিশাম ‘আওদাহুল মাসালিক’ গ্রন্থে (আমাদের সম্পাদনায় ৫ নম্বর) এটি উদ্ধৃত করেছেন। ‘আসমাকে’ দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে আল্লাহ তোমার পরিবারকে তোমার নাম রাখার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আর ‘সামা’ =

_________

১ আল্লামা রাযি উদ্দিন ‘শারহুশ শাফিয়াহ’ গ্রন্থে এই মতটি দক্ষ রূপতত্ত্ববিদদের দিকে নিসবত করেছেন।

২ সঠিক হলো এটি বলা যে "ওয়াও তার (ফাতহার) সাথে মিলিত হয়েছে"।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ১৫)
وفيه خمس لغات: اسم بكسر الهمزة، واسم بضمها، وسِمٌ بكسر السّين وسُمٌ بضمها. قال الشاعر:

[3]

وعامنا أَعْجَبَنَا مُقَدَّمُه … يُدْعَى أَبَا السَّمح وقِرْضَابٌ سُمُه

مُبْتَرِكًا لِكُلِّ عظم يَلْحُمُه

وقال:

[4]

باسم الذي في كل سورة سِمُه … قد وردت على طريق تَعْلَمُه

--------------------------------------------

= أي اسما "مباركًا" أي ذا بركة "آثرك" ميزك واختصك، و"إيثارك" هو مصدر مضاف إلى ضمير المخاطب، ويجوز أن يكون هذا الضمير فاعل المصدر، كم يجوز أن يكون مفعوله؛ فعلى الأول يكون المعنى: آثرك الله بهذا الاسم المبارك إيثارًا مثل إيثارك أنت الناس بالمعروف والعطاء وعلى الوجه الثاني يكون المعنى: آثرك الله بالاسم المبارك إيثارًا مثل إيثاره إيَّاك بالفضل ومكارم الأخلاق. والاستشهاد به في قوله "سما" فقد زعم المؤلف أن هذه الكلمة مقصورة مثل هُدَى وتُقَى وضحى، وعلى هذا يكون نصبها بفتحة مقدرة على الألف المحذوفة لالتقاء الساكنين، كما تقول: استيقظت ضحى، واتقيت تقى، واتبعت هدى، ولكن هذا الذي ذكره المؤلف ليس بمتعين، فإنه يجوز أن تكون كلمة "سما" في هذا البيت قد جاءت على لغة من يقول "سم" بكسر السين أو ضمها وآخره صحيح مثل غد ويد ودم وأب وأخ، ويكون منصوبًا منونًا كما تقول: أزورك غدًا، واتخذت عندك يدًا، وقد أرقت دمًا، وما أشبه ذلك، ومتى جاز في هذا الشاهد هذان الوجهان لم يصلح أن يكون دليلًا على إحدى اللغتين بعينها؛ لأن الدليل متى تطرق إليه الاحتمال سقط به الاستدلال، كما يقولون، ونظير هذا البيت في احتمال اللغتين ما أنشده أبو العباس:

فدعْ عنك ذكر اللهو، واعمدْ بمدحه … لخير معد كلها حيثما انتمى

لأعظمها قدرًا، وأكرمها أبًا، … وأحسنها وجهًا، وأعلنها سما

والذي يتعين أن يكون مقصورًا ما حكاه صاحب الإفصاح من قول بعضهم "ما سماك" فإنه قد أثبت الألف مع الإضافة، وذلك يفيد كونه مقصورًا؛ إذ لو كان عنده صحيح الآخر كيد وغد لقال "ما سمك" بضم الميم، فتأمل ذلك.

[3] هذه ثلاثة أبيات من الرجز المشطور أنشدها كلها صاحب اللسان "ق ر ض ب -برك- س م و" من غير عزو، وأنشد موفق الدين بن يعيش أولهما وثانيها من غير عزو أيضًا، وأنشدهما ابن جني في شرح تصريف المازني "1/ 60" وتقول "قرضب الرجل فهو قرضاب" إذا أكل شيئًا يابسًا، وتقول "رجل مبترك" إذا كان معتمدًا على الشيء ملحًا فيه، يريد أنهم ظنوا في مقدم العام أنه سيكون عام رخاء، فإذا هو يكون عام شدة وجدب، يلح على أموالهم بالإفناء حتى يأتي عليها، والاستشهاد فيه بقوله "سمه" وهو يروى بكسر السين وضمها، فيكون دليلًا على أن من العرب من يقول في الاسم "سم" بحذف لامه من غير تعويض ومعاملته معاملة الصحيح الآخر كغد ويد ودم وأخ وأب، وذلك ظاهر.

[4] هذان بيتان من الرجز المشطور أنشدهما ابن منظور في اللسان "س م و"، وأنشدهما موفق =
এতে পাঁচটি উচ্চারণরীতি রয়েছে: হামযাহর নিচে কাসরা দিয়ে ‘ইসম’, হামযাহর ওপরে যম্মাহ দিয়ে ‘উসম’, সীনের নিচে কাসরা দিয়ে ‘সিম’ এবং সীনের ওপরে যম্মাহ দিয়ে ‘সুম’। কবি বলেছেন:

[৩]

আমাদের বছরের সূচনা আমাদের মুগ্ধ করেছিল... তাকে ‘আবুস সামহ’ (সহজদায়ক) বলে ডাকা হতো অথচ ‘ক্বিরদ্বাব’ (সর্বগ্রাসী দুর্ভিক্ষ) ছিল তার নাম (সুমুহু)।

তা প্রতিটি হাড়ের ওপর জেঁকে বসত এবং তা থেকে গোশত সাবাড় করে দিত।

তিনি আরও বলেছেন:

[৪]

সেই সত্তার নামে, প্রতিটি সূরায় যাঁর নাম (সিমুহু) বিদ্যমান... যা এমন পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে যা তুমি জানো।

--------------------------------------------

= অর্থাৎ একটি "বরকতময়" নাম, যা বরকতপূর্ণ। "আসারাকা" (তোমাকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন) মানে তোমাকে স্বতন্ত্র করেছেন এবং নির্দিষ্ট করেছেন। আর "ঈসারুকা" হলো একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল) যা সম্বোধিত সর্বনামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (মুদাফ) হয়েছে। এটি সম্ভব যে এই সর্বনামটি মাসদারের কর্তা (ফায়েল) হবে, আবার এটি কর্ম (মাফউল) হওয়াও সম্ভব। প্রথম সুরত অনুযায়ী অর্থ হবে: আল্লাহ তোমাকে এই বরকতময় নামের মাধ্যমে এমনভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন যেমনটি তুমি মানুষকে নেক কাজ ও দান-দক্ষিণার মাধ্যমে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকো। আর দ্বিতীয় সুরত অনুযায়ী অর্থ হবে: আল্লাহ তোমাকে এই বরকতময় নামের মাধ্যমে এমনভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন যেমনটি তিনি তোমাকে অনুগ্রহ ও মহান চরিত্রের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। এখানে প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে "সামা" শব্দটিকে। লেখক দাবি করেছেন যে এই শব্দটি ‘মাকসুর’ (হ্রস্ব আলিফযুক্ত), যেমন— হুদা, তুক্বা এবং দুহা। এই মতানুসারে শব্দটির ‘নসব’ (দ্বিতীয়া বিভক্তি) হবে দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে বিলুপ্ত হওয়া আলিফের ওপর একটি উজ্জ্ব ফাতহার মাধ্যমে; যেমন আপনি বলে থাকেন: "আমি দুহা (পূর্বাহ্নে) জাগ্রত হয়েছি", "আমি তুক্বা (তাকওয়া) অবলম্বন করেছি" এবং "আমি হুদা (হেদায়েত) অনুসরণ করেছি"। কিন্তু লেখক যা উল্লেখ করেছেন তা অবধারিত নয়; কারণ এটিও সম্ভব যে এই চরণে "সামা" শব্দটি সেই ব্যক্তির ভাষা অনুযায়ী এসেছে যে "সিম" (সীনের কাসরা দিয়ে) অথবা "সুম" (সীনের যম্মাহ দিয়ে) বলে থাকে এবং এর শেষ অক্ষরটি সহীহ (অব্যয়হীন), যেমন— গাদ (আগামীকাল), হাত (ইয়াদ), রক্ত (দাম), পিতা (আব) এবং ভাই (আখ)। সেক্ষেত্রে এটি তানভীনসহ মানসুব হবে, যেমন আপনি বলেন: "আমি গাদান (আগামীকাল) তোমার সাথে সাক্ষাৎ করব", "আমি তোমার প্রতি ইয়াদান (একটি হাত/অনুগ্রহ) লাভ করেছি", "দামান (রক্ত) প্রবাহিত হয়েছে" এবং এই জাতীয় উদাহরণ। যখন এই শ্লোকে উভয় সুরতের সম্ভাবনা বিদ্যমান, তখন এটি নির্দিষ্ট কোনো একটি ভাষার জন্য দলিল হিসেবে উপযুক্ত হতে পারে না; কারণ আলেমগণ বলে থাকেন, "যখন দলিলে একাধিক সম্ভাবনা দেখা দেয়, তখন তা দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রমাণ পেশ করার যোগ্যতা হারিয়ে যায়"। এই শ্লোকটি উভয় ভাষার সম্ভাবনা রাখার ক্ষেত্রে আবু আব্বাসের বর্ণিত এই চরণের অনুরূপ:

অতএব ক্রীড়া-কৌতুকের আলোচনা পরিহার করো এবং তাঁর প্রশংসার সংকল্প করো... যিনি সমস্ত মা’আদ গোত্রের মধ্যে শ্রেষ্ঠ যেখানেই তার বংশ বিস্তৃত হয়েছে।

মর্যাদায় তাঁদের মধ্যে যিনি মহান, পিতৃকুল বিচারে সর্বাধিক সম্মানিত... চেহারার দিক থেকে যিনি অতি সুন্দর এবং যাঁর নাম (সামা) অত্যন্ত প্রসিদ্ধ।

আর যে শব্দটি অবধারিতভাবে মাকসুর হবে, তা হলো ‘সাহিবুল ইফসাহ’ যা বর্ণনা করেছেন যে কেউ কেউ বলেন "মা সামাকা" (তোমার নাম কী)। এখানে ইদাফাতের (সম্বন্ধ) সময় আলিফকে বহাল রাখা হয়েছে, যা শব্দটির মাকসুর হওয়ার প্রমাণ বহন করে। কারণ যদি তাঁর নিকট শব্দটি ‘হাত’ (ইয়াদ) বা ‘আগামীকাল’ (গাদ) এর মতো শেষ বর্ণ সহীহ হতো, তবে তিনি মিমের ওপরে পেশ দিয়ে "মা সুমুকা" বলতেন। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন।

[৩] এগুলো রাজায মাশতুর ছন্দের তিনটি চরণ। লিসানুল আরবের গ্রন্থকার এগুলোকে কোনো উদ্ধৃতি ছাড়াই "ক্ব-র-য-ব", "ব-র-ক" এবং "স-ম-ও" পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন। মুওয়াফফাকুদ্দীন ইবনে ইয়াইশও প্রথম ও দ্বিতীয় চরণটি কোনো উদ্ধৃতি ছাড়াই উল্লেখ করেছেন। ইবনে জিন্নি এগুলোকে আল-মাযিনির ‘তাসরিফ’ গ্রন্থের ব্যাখ্যায় (১/৬০) উল্লেখ করেছেন। বলা হয় "ক্বারদ্বাবার রাজুলু ফাহুয়া ক্বিরদ্বাবুন" যখন সে কোনো শুষ্ক জিনিস ভক্ষণ করে। আর বলা হয় "রাজুলুন মুবতারিকুন" যখন সে কোনো বিষয়ের ওপর সওয়ার হয় বা তাতে লেগে থাকে। কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তারা বছরের শুরুতে ভেবেছিল এটি সচ্ছলতার বছর হবে, কিন্তু পরে দেখা গেল এটি অত্যন্ত কঠোর ও দুর্ভিক্ষের বছর। এটি তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস করতে করতে এমনভাবে জেঁকে বসেছিল যে তা শেষ করেই ছাড়ে। এখানে দলিল হলো "সুমুহু" শব্দটি, যা সীনের কাসরা এবং যম্মাহ উভয়ভাবে বর্ণিত হয়েছে। এটি এই বিষয়ের দলিল যে, আরবদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা নামের ক্ষেত্রে (কোনো বিনিময় ছাড়াই এর শেষ বর্ণ বিলুপ্ত করে দিয়ে) ‘সুম’ বলে থাকে এবং একে ‘আগামীকাল’ (গাদ), ‘হাত’ (ইয়াদ), ‘রক্ত’ (দাম), ‘ভাই’ (আখ) ও ‘পিতা’ (আব) এর মতো সহীহুল আখির শব্দের মতো গণ্য করে। আর এটি সুস্পষ্ট।

[৪] এই দুটি রাজায মাশতুর ছন্দের চরণ যা ইবনে মানযুর লিসানুল আরবে (স-ম-ও) পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন। মুওয়াফফাকও এগুলো উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ১৬)
ويروى سُمُهْ بضم السّين، وسُمًى على وزن عُلًى، على ما بيّنّا. والله أعلم.

--------------------------------------------

= الدين بن يعيش من غير عزو، وأنشدهما ابن جني في شرح تصريف المازني "1/ 60" وحكي في اللسان روايتهما عن ابن بري عن أبي زيد، وقال: إنهما لرجل من كلب، لكن الرواية هناك هكذا:

أَرْسَلَ فيها بازلًا يُقَرِّمُهْ … وهو به ينحو طريقًا يعلمُهْ

باسم الذي في كل سورة سُمُهْ

والاستشهاد به في قوله "سمه" وهو نظير ما ذكرناه في الشاهد السابق.
আর এটি সীন অক্ষরে পেশ যোগে 'সুমুহু' এবং 'উলা' এর ওজনে 'সুমা' হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

= ইবন ইয়াঈশ কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র ছাড়াই এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইবন জিন্নি তাঁর 'শারহু তাসরিফ আল-মাজিনি' (১/৬০) গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন। 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে ইবন বাররি হতে আবু যায়েদ থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন: এটি কালব গোত্রের এক ব্যক্তির কবিতা, তবে সেখানে বর্ণনাটি এভাবে এসেছে:

তিনি তাদের মধ্যে একটি শক্তিশালী উট পাঠালেন যা তিনি সযত্নে লালন করতেন … এবং তিনি এর মাধ্যমে পরিচিত পথেই চলছিলেন

সেই সত্তার নামে যাঁর নাম প্রতিটি সূরায় বিদ্যমান

এখানে দলীল হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্র হলো তাঁর উক্তি 'সুমুহু' (سمه), যা আমাদের পূর্ববর্তী দলীলে উল্লিখিত বিষয়ের অনুরূপ।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ১৭)
2-‌‌ مسألة: [الاختلاف في إعراب الأسماء الستة] 1

ذهب الكوفيّون إلى أن الأسماء الستة المعتلّة وهي: أبُوكَ، وأخُوكَ وحَمُوكَ، وهَنُوكَ، وفُوكَ، وذو مال مُعْرَبَة من مكانين. وذهب البصريون إلى أنها معربة من مكان واحد، والواو والألف والياء هي حروف الإعراب. وإليه ذهب أبو الحسن الأخفش في أحد القولين. وذهب في القول الثاني إلى أنها ليست بحروف إعراب، ولكنها دلائلُ الإعرابِ، كالواو والألف والياء في التثنية والجمع، وليست بلام الفعل. وذهب علي بن عيسي الرَّبَعِي إلى أنها إذا كانت مرفوعة ففيها نقل بلا قلب، وإذا كانت منصوبة ففيها قلب بلا نقل، وإذا كانت مجرورة ففيها نقل وقلب. وذهب أبو عثمان المازني إلى أن الباء2 حرف الإعراب، وإنما الواو والألف والياء نشأت عن إشباع الحركات.

وقد يحكى عن بعض العرب أنهم يقولون: هذا أَبُك، ورأيت أَبَك، ومررت بِأَبِك -من غير واو ولا ألف ولا ياء- كما يقولون في حالة الإفراد من غير إضافة3.

وقد يحكى أيضًا عن بعض العرب أنهم يقولون: هذا أَبَاك، ورأيت

--------------------------------------------

1 انظر في هذه المسألة: شرح الأشموني "1/ 36-43 بتحقيقنا" وأوضح المسالك "الشواهد 6-9 بتحقيقنا" وشرح التوضيح للشيخ خالد "1/ 72-77 بولاق" وشرح موفق الدين بن يعيش على مفصل الزمخشري "ص60-63 أوروبة" وشرح رضي الدين على كافية ابن الحاجب "1/ 23 وما بعدها".

2 الباء: أراد الباء التي في قولك "جاء أبوك" ومعنى كونها حرف الإعراب أن الإعراب واقع عليها، يعني أنها مرفوعة بالضمة الظاهرة التي على الباء والواو للإشباع.

3 وقد جاء على هذه اللغة قول الشاعر:

بأبه اقتدى عدي في الكرم … ومن يشابه أبه فما ظلم

وقوله الآخر:

سوى أبك الأعلى وأن محمدًا … علا على كل عالٍ يا ابن عمّ محمد
২-‌‌ মাসআলা: [ছয়টি বিশেষ্যের (আল-আসমাউল সিততাহ) শব্দরূপ বা ইরাব সংক্রান্ত মতভেদ] ১

কুফাবাসীদের অভিমত হলো, ছয়টি দোষযুক্ত (মোতাল) বিশেষ্য—যথা: তোমার পিতা, তোমার ভাই, তোমার শ্বশুর, তোমার লজ্জাস্থান, তোমার মুখ এবং সম্পদশালী ব্যক্তি—এগুলো দুটি স্থান থেকে শব্দরূপ (ইরাব) লাভ করে। অন্যদিকে বসরাবাসীদের অভিমত হলো, এগুলো একটি স্থান থেকেই শব্দরূপ লাভ করে; আর ওয়াও, আলিফ ও ইয়া হলো ইরাবের বর্ণ। আবুল হাসান আল-আখফাশ তাঁর দুটি মতের একটিতে এই মতটিই পোষণ করেছেন। তবে তাঁর দ্বিতীয় মতানুসারে, এগুলো ইরাবের বর্ণ নয়, বরং এগুলো দ্বিবচন ও বহুবচনের ওয়াও, আলিফ ও ইয়া-র মতো ইরাবের নিদর্শন মাত্র; আর এগুলো শব্দের মূল ক্রিয়ামূলের বর্ণ (লামুল ফেল) নয়। আলী বিন ঈসা আর-রাবাঈ-এর মত হলো, যখন এগুলো রফ (পেশ) অবস্থায় থাকে তখন সেখানে অক্ষর পরিবর্তন ছাড়াই স্থানান্তরের (নাক্বল) প্রক্রিয়া ঘটে; যখন নাসব (যবর) অবস্থায় থাকে তখন স্থানান্তর ছাড়াই পরিবর্তনের (ক্বলব) প্রক্রিয়া ঘটে; আর যখন জর (জের) অবস্থায় থাকে তখন স্থানান্তর ও পরিবর্তন উভয় প্রক্রিয়াই ঘটে। আবু উসমান আল-মাজিনি মনে করেন যে, 'বা' অক্ষরটিই হলো ইরাবের বর্ণ, আর ওয়াও, আলিফ ও ইয়া কেবল হরকতের প্রলম্বিত উচ্চারণ (ইশব’া) থেকে উৎপন্ন হয়েছে।

কোনো কোনো আরবের ক্ষেত্রে এমনও বর্ণিত আছে যে তারা বলে থাকেন: এটি তোমার বাবা (হাযা আবুক), আমি তোমার বাবাকে দেখেছি (রাআইতু আবাক), এবং আমি তোমার বাবার পাশ দিয়ে গিয়েছি (মারারতু বি-আবিক) — ওয়াও, আলিফ বা ইয়া ছাড়াই — যেমনটি তারা সম্বন্ধহীন (ইদাফত ছাড়া) একবচনের ক্ষেত্রে বলে থাকেন।৩

আবার কোনো কোনো আরবের ক্ষেত্রে এটিও বর্ণিত আছে যে তারা বলেন: এটি তোমার বাবা (হাযা আবাক), এবং আমি দেখেছি...

--------------------------------------------

১. এই মাসআলাটি সম্পর্কে দেখুন: আমাদের সম্পাদিত শরহুল আশমুনি (১/ ৩৬-৪৩), আমাদের সম্পাদিত আওদাহুল মাসালিক (শাওয়াহিদ ৬-৯), শেখ খালেদ কৃত শরহুত তাওদীহ (১/ ৭২-৭৭ বুলাক সংস্করণ), যামাখশারির মুফাসসাল গ্রন্থের ওপর মুওয়াফফাকুদ্দিন ইবনে ইয়াইশ কৃত শরহ (পৃষ্ঠা ৬০-৬৩ ইউরোপ সংস্করণ), এবং ইবনুল হাজিবের কাফিয়া গ্রন্থের ওপর রজিউদ্দীন কৃত শরহ (১/ ২৩ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহ)।

২. বা: তিনি 'আবুকা' শব্দে থাকা 'বা' অক্ষরটিকে বুঝিয়েছেন। এটি ইরাবের বর্ণ হওয়ার অর্থ হলো ইরাব এই বর্ণের ওপরই অর্পিত হয়; অর্থাৎ এটি 'বা' অক্ষরের ওপর দৃশ্যমান পেশ (দম্মা) দ্বারা রফ প্রাপ্ত হয় এবং ওয়াও-টি কেবল প্রলম্বিত উচ্চারণের (ইশব’া) কারণে যুক্ত হয়েছে।

৩. এই ভাষারীতিতে কবির কাব্য উদ্ধৃত হয়েছে:

আদি তার পিতার উদারতাকে অনুসরণ করেছে … আর যে তার পিতার সাদৃশ্য গ্রহণ করে সে কোনো অন্যায় করেনি।

এবং অন্য এক কবির উক্তি:

তোমার মহান পিতা ব্যতীত, আর নিশ্চয়ই মুহাম্মদ … সকল উচ্চতার উপরে উঠেছেন হে মুহাম্মদের ভ্রাতুষ্পুত্র।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ১৮)
أبَاكَ، ومررت بأبَاكَ -بالألف في حالة الرفع والنصب والجر- فيجعلونه اسمًا مقصورًا، قال الشاعر:

[5]

إن أَبَاهَا وأَبَا أَبَاهَا … قَدْ بَلَغَا في المَجْدِ غَايَتَاهَا

ويحكى عن الإمام أبي حنيفة أنه سئل عن إنسان رَمَى إنسانًا بحجر فقتله: هل يجب عليه القَوَدُ؟ فقال: لا، ولو رماه بِأَبَا قُبَيْسٍ -بالألف، على هذه اللغة- لأن أصله أبَوٌ، فلما تحركت الواو وانفتح ما قبلها قلبوها ألفًا بعد إسكانها إضعافًا لها، كما قالوا: عَصًا، وقَفًا، وأصله عَصَو وقَفَوا، فلما تحركت الواو وانفتح ما قبلها قلبوها ألفًا، فكذلك ههنا.

والذي يعتمد عليه في النُّصْرَة أهل الكوفة والبصرة القولان الأولان؛ فهذا منتهى القول في تفصيل المذاهب واللغات؛ فلنبدأ بذكر الحجَجِ والاستدلالات:

أما الكوفيون فاحتجوا بأن قالوا: أجمعنا على أن هذه الحركات -التي هي الضمة والفتحة والكسرة- تكون إعرابًا لهذه الأسماء في حال الإفراد، نحو قولك: هذا أبٌ لك، ورأيت أبًا لك، ومررت بأبٍ لك، وما أشبه ذلك، والأصل فيه أبَوٌ، فاستثقلوا الإعراب على الواو، فأوقَعُوه على الباء وأسقطوا الواو؛ فكانت الضمة علامة للرفع، والفتحة علامة للنصب، والكسرة علامة للجر، فإذا قلت في الإضافة: هذا أبوك، وفي النصب: رأيت أبَاكَ، وفي الجر: مررت بِأَبِيك، والإضافة طارئة على الإفراد كانت الضمة والفتحة والكسرة باقية على ما كانت عليه في حال الإفراد؛ لأن الحركة التي تكون إعرابًا للمفرد في حال الإفراد هي بعينها تكون إعرابًا له في حال الإضافة، ألا ترى أنك تقول: هذا غلام، ورأيت غلامًا، ومررت بغلام، فإذا أضفته قلت: هذا غلامك، ورأيت غلامك، ومررت

--------------------------------------------

[5] هذان بيتان من الرجز المشطور ينسبهما قوم إلى أبي النجم الفضل بن قدامة العجلي، وينسبهما قوم آخرون إلى رؤبة بن العجاج، وهما من شواهد الأشموني "رقم 16" وابن هشام في أوضح المسالك "رقم 9" وابن عقيل "رقم 6" وابن يعيش "ص62" ولاشاهد فيه قوله "أباها" وأنت ترى أنه قد ذكر الأب بالألف ثلاث مرات في البيت الأول فأما في المرتين الأولى والثانية فلا تتعين في واحدة منهما لغة من يجيء بالأسماء الستة بالألف في الأحوال كلها، بل يجوز أن يكون الراجز قد جاء بالكلمتين على هذه اللغة، ويجوز أن يكون قد جاء بهما على اللغة المشهورة عند جمهرة العرب، وذلك لأن الكلمتين في موضع النصب لكون الأولى اسم إن والثانية معطوفة على اسم إن، وفي حالة النصب تستوي لغة التمام ولغة القصر، أما الكلمة الثالثة فتتعين فيها لغة القصر بسبب كونها في موضع الجر وقد أتي بها بالألف، والأولى أن تحمل الأولى والثانية على لغة القصر بقرينة الكلمة الثالثة؛ ليكو الكلام جاريًا على مهيع واحد.
আবাক (তোমার পিতা), এবং আমি তোমার পিতার (বি-আবাক) পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম—রফ, নসব এবং জর তিন অবস্থাতেই আলিফ যোগে—তারা একে ইসম মাকসুর হিসেবে গণ্য করেন। কবি বলেছেন:

[৫]

নিশ্চয়ই তার পিতা এবং তার পিতার পিতা … তারা উভয়েই মর্যাদার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছেন।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে অন্য এক ব্যক্তিকে পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে: তার ওপর কি কিসাস (প্রতিশোধমূলক শাস্তি) ওয়াজিব হবে? তিনি বললেন: না, এমনকি যদি সে তাকে আবা কুবাইস (পাহাড়) দিয়েও আঘাত করে—এখানে এই ভাষারীতি অনুযায়ী আলিফ সহকারে 'আবা' বলা হয়েছে—কারণ এর মূল হলো 'আবাওুন'। যখন ওয়াও হরকতযুক্ত হলো এবং তার পূর্বের অক্ষরে ফাতহাহ (যবর) হলো, তখন তারা ওয়াও-কে সাকিন করার পর দুর্বল করার জন্য আলিফে রূপান্তরিত করল; যেমনটি তারা বলে থাকে: 'আসা' (লাঠি) এবং 'কাফা' (ঘাড়), যার মূল ছিল 'আসাউন' এবং 'কাফাউুন'। যখন ওয়াও হরকতযুক্ত হলো এবং তার পূর্বের অক্ষরে ফাতহাহ হলো, তখন তারা তাকে আলিফে রূপান্তর করল, এখানেও বিষয়টি অনুরূপ।

কুফা ও বসরাবাসীদের সাহায্য ও সমর্থনের ক্ষেত্রে যা নির্ভর করা হয় তা হলো প্রথম দুটি মত। এটিই হলো মাযহাব ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের বিস্তারিত আলোচনার শেষ প্রান্ত। এখন আমরা প্রমাণ ও যুক্তিনির্ভর আলোচনা শুরু করছি:

কুফাবাসীরা এই বলে দলিল পেশ করেছেন যে: আমরা একমত হয়েছি যে, এই হরকতগুলো—যা হলো পেশ (যম্মাহ), যবর (ফাতহাহ) এবং যের (কাসরাহ)—একবচন অবস্থায় এই নামগুলোর জন্য ইরাব (বিভক্তি) হিসেবে গণ্য হয়। যেমন আপনার কথা: 'হাযা আবুন লাকা' (এটি তোমার এক পিতা), 'রায়াইতু আবান লাকা' (আমি তোমার এক পিতাকে দেখলাম), 'মারারতু বি-আবিন লাকা' (আমি তোমার এক পিতার পাশ দিয়ে গেলাম) এবং এর অনুরূপ উদাহরণগুলো। এর মূল শব্দ ছিল 'আবাওুন', তারা ওয়াও-এর ওপর হরকত উচ্চারণ করাকে ভারী মনে করল, তাই তারা সেই হরকতকে 'বা' অক্ষরের ওপর নিয়ে আসলো এবং ওয়াও-কে বিলুপ্ত করল। ফলে পেশ হলো রফ-এর আলামত, যবর হলো নসব-এর আলামত এবং যের হলো জর-এর আলামত। এরপর আপনি যখন ইদাফাত (সম্বন্ধযুক্ত) করে বলেন: 'হাযা আবূকা' (এটি তোমার পিতা), নসব-এর ক্ষেত্রে: 'রায়াইতু আবাকা' (আমি তোমার পিতাকে দেখলাম), এবং জর-এর ক্ষেত্রে: 'মারারতু বি-আবিকা' (আমি তোমার পিতার পাশ দিয়ে গেলাম); যেহেতু ইদাফাত একবচন অবস্থার পরে আসে, তাই পেশ, যবর এবং যের একবচন অবস্থায় যেমন ছিল তেমনই বহাল থাকে। কারণ যে হরকত একবচন অবস্থায় শব্দের ইরাব হয়, সেটিই ইদাফাতের অবস্থায়ও তার ইরাব হিসেবে বহাল থাকে। আপনি কি দেখছেন না যে আপনি বলেন: 'হাযা গুলামুন' (এটি এক গোলাম), 'রায়াইতু গুলামান' (আমি এক গোলামকে দেখলাম), 'মারারতু বি-গুলামিন' (আমি এক গোলামের পাশ দিয়ে গেলাম)। যখন আপনি একে সম্বন্ধযুক্ত করেন, তখন বলেন: 'হাযা গুলামুকা' (এটি তোমার গোলাম), 'রায়াইতু গুলামাকা' (আমি তোমার গোলামকে দেখলাম), এবং 'মারারতু...'।

--------------------------------------------

[৫] এই দুটি পংক্তি 'রাজায মাশতুর' ছন্দের। কেউ কেউ একে আবুল নাজম আল-ফাদল ইবনে কুদামাহ আল-ইজলি-এর প্রতি এবং অন্যরা রু’বাহ ইবনুল আজ্জাজ-এর প্রতি নিসবত করেন। পংক্তি দুটি আশমুনি (নম্বর ১৬), ইবনে হিশামের আওদাহুল মাসালিক (নম্বর ৯), ইবনে আকিল (নম্বর ৬) এবং ইবনে ইয়াইশ (পৃষ্ঠা ৬২)-এর শওয়াহিদ বা প্রমাণ হিসেবে উদ্ধৃত হয়েছে। এখানে দলিল হলো তার 'আবাহা' উক্তিটি। আপনি লক্ষ্য করছেন যে, তিনি প্রথম চরণে তিনবার 'পিতা' শব্দটি আলিফ সহযোগে উল্লেখ করেছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় বারের ক্ষেত্রে এমন ভাষা নির্দিষ্ট করা যায় না যা সব অবস্থায় আসমায়ে সিত্তা-কে আলিফ দিয়ে পড়ে, বরং এটা সম্ভব যে কবি এই শব্দ দুটিকে উক্ত ভাষারীতি অনুযায়ী এনেছেন। আবার এটাও সম্ভব যে তিনি আরবদের সাধারণ প্রসিদ্ধ ভাষা অনুযায়ী তা এনেছেন। কারণ শব্দ দুটি নসব-এর স্থানে রয়েছে; প্রথমটি 'ইন্না'-এর ইসম হওয়ার কারণে এবং দ্বিতীয়টি তার ওপর আতফ (সংযুক্ত) হওয়ার কারণে। আর নসব-এর অবস্থায় পূর্ণরূপের ভাষা এবং কাসর-এর ভাষা উভয়ই সমান হয়। তবে তৃতীয় শব্দটির ক্ষেত্রে 'লুগাতে কাসর' বা আলিফ দ্বারা পড়ার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়, কারণ শব্দটি জর-এর স্থানে থাকা সত্ত্বেও তা আলিফ দ্বারা আনা হয়েছে। আর উত্তম হলো প্রথম ও দ্বিতীয় শব্দকেও তৃতীয় শব্দের সাদৃশ্যে 'লুগাতে কাসর' হিসেবে গণ্য করা, যাতে করে পুরো বক্তব্যটি একই ধারায় প্রবাহিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ১৯)
بغلامِكَ؛ فتكون الضمة والفتحة والكسرة التي كانت إعرابًا له في حال الإفراد هي بعينها إعرابًا له في حال الإضافة، فكذلك ههنا، والذي يدلُّ على صحة هذا تغيُّر الحركات على الباء في حال الرفع والنصب والجر، وكذلك الواو والألف والياء بعد هذه الحركات تجري مجرى الحركات في كونها إعرابًا؛ بدليل أنها تتغير في حال الرفع والنصب والجر؛ فدلّ على أن الضمة والواو علامة للرفع، والفتحة والألف علامة للنصب، والكسرة والياء علامة للجر، فدلّ على أنه معرب من مكانين1.

ومنهم من تمسّك بأن قال: إنما أعربت هذه الأسماء الستة من مكانين لقلّة حروفها، تكثيرًا لها، وليزيدوا بالإعراب في الإيضاح والبيان؛ فوجَبَ أن تكون معربة من مكانين على ما ذهبنا إليه.

وأما البصريون فاحتجوا بأن قالوا: إنما قلنا "إنه معرب من مكان واحد" لأن الإعراب إنما دخل الكلام في الأصل لمعنًى وهو الفَصْل، وإزالة اللَّبْسِ، والفَرْقُ بين المعاني المختلفة بعضها من بعض، من الفاعلية والمفعولية إلى غير ذلك وهذا المعنى يحصل بإعراب واحد؛ فلا حاجة إلى أن يجمعوا بين إعرابين؛ لأن أحد الإعرابين يقوم مقام الآخر، فلا حاجة إلى أن يجمع بينهما في كلمة واحدة.

ألا ترى أنهم لا يجمعون بين علامتي تأنيث في كلمة واحدة نحو مسلمات وصالحات، وإن كان الأصل فيه مسلمتات وصالحتات؛ لأن كل واحدة من التاءين تدلّ على ما تدلّ عليه الأخرى من التأنيث، وتقوم مقامَهَا، فلم يجمعوا بينهما؛ فكذلك ههنا.

والذي يدلّ على صحة ما ذهبنا إليه وفساد ما ذهبوا إليه أن ما ذهبنا إليه له نظير في كلام العرب؛ فإن كل معرب في كلامهم ليس له إلا إعراب واحد، وما ذهبوا إليه لا نظير له في كلامهم؛ فإنه ليس في كلامهم معرب له إعرابان2، فَبَانَ

--------------------------------------------

1 ونظير هذا ما قالوه في امرئ وابنم؛ فإنه يقال "جاء امرؤ" بضم كل من الراء والهمزة، ومنه قوله تعالى: {إِنِ امْرُؤٌ هَلَكَ} ويقال"رأيت امرأ" بفتح كل من الراء والهمزة، ومنه قول الله تعالى: {مَا كَانَ أَبُوكِ امْرَأَ سَوْءٍ} وقول الشاعر:

إن امرأ غرّه منكن واحدة … بعدي وبعدك في الدنيا لمغرور

ويقال "مررت بامرئ" بكسر كل من الراء والهمزة، ومنه قول الله جلّ ذكره: {لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُغْنِيهِ} وكذلك يصنعون مع "ابنم".

2 قد حدثناك حديث صنيع العرب في "امرئ" و "ابنم" وأنهم -في ظاهر الأمر- يعربونهما من مكانين: الحرف الآخر، والحرف الذي قبل الآخر، فللكوفيين أن يقولوا: لن نسلّم أن هذا لا نظير له في كلام العرب، بل له نظير من الصحيح الآخر وهو امرؤ وابنم، فإنا رأينا العرب تعربهما من مكانين
তোমার গোলাম শব্দে; ফলে একবচন অবস্থায় যে দম্মাহ, ফাতহাহ এবং কাসরাহ ই’রাব হিসেবে ছিল, সম্বন্ধযুক্ত (ইদাফাত) অবস্থায়ও ঠিক সেগুলোই ই’রাব হিসেবে বজায় থাকে। এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ। আর এর বিশুদ্ধতার প্রমাণ হলো রাফা, নাসব এবং জার অবস্থায় 'বা' অক্ষরের হরকতের পরিবর্তন হওয়া। একইভাবে এই হরকতগুলোর পরবর্তী ওয়াও, আলিফ এবং ইয়া-ও হরকতগুলোর মতোই ই’রাব হিসেবে গণ্য হয়; এর প্রমাণ হলো রাফা, নাসব এবং জার অবস্থায় এগুলোর পরিবর্তন হওয়া। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, দম্মাহ ও ওয়াও হলো রাফার আলামত, ফাতহাহ ও আলিফ হলো নাসবের আলামত এবং কাসরাহ ও ইয়া হলো জারের আলামত। অতএব এটি প্রমাণ করে যে, শব্দটি দুটি স্থান থেকে ই’রাব গ্রহণ করে ১।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই যুক্তি আঁকড়ে ধরেছেন যে: এই ছয়টি বিশেষ্য অক্ষরের স্বল্পতার কারণে দুটি স্থান থেকে ই’রাব গ্রহণ করেছে, যাতে শব্দে অক্ষরের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং ই’রাবের মাধ্যমে স্পষ্টতা ও বর্ণনা বৃদ্ধি পায়; ফলে আমাদের অভিমত অনুযায়ী এগুলো দুটি স্থান থেকে ই’রাব গ্রহণকারী হওয়া আবশ্যক।

পক্ষান্তরে বসরার ভাষাবিদগণ এই বলে দলিল পেশ করেছেন যে: আমরা বলেছি 'এটি কেবল একটি স্থান থেকে ই’রাব গ্রহণ করে', কারণ মূলত কোনো অর্থের উদ্দেশ্যেই বাক্যে ই’রাবের অনুপ্রবেশ ঘটেছে, আর সেই অর্থটি হলো বিভাজন করা, অস্পষ্টতা দূর করা এবং বিভিন্ন অর্থের মধ্যে পার্থক্য করা—যেমন ফায়িল (কর্তা) ও মাফউল (কর্ম) এবং অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা। আর এই উদ্দেশ্যটি একটি মাত্র ই’রাবের মাধ্যমেই অর্জিত হয়; সুতরাং দুটি ই’রাবকে একত্র করার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ একটি ই’রাব অন্যটির স্থলাভিষিক্ত হয়, তাই একটি শব্দে দুটি ই’রাব একত্র করার কোনো আবশ্যকতা নেই।

আপনি কি দেখছেন না যে, তারা একটি শব্দে দুটি স্ত্রীলিঙ্গ জ্ঞাপক চিহ্ন একত্র করেন না, যেমন: মুসলিমাত ও সালিহাত, যদিও এর মূল রূপ ছিল 'মুসলিমতাত' ও 'সালিহতাত'; কেননা দুটি 'তা'-এর প্রত্যেকটিই স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে এবং একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হয়, তাই তারা এ দুটিকে একত্র করেননি। এখানেও বিষয়টি তেমনই।

আমরা যে মতটি গ্রহণ করেছি তার বিশুদ্ধতা এবং তাদের মতের অসারতার প্রমাণ হলো এই যে, আমাদের মতটির উদাহরণ আরবদের কথায় বিদ্যমান; কারণ তাদের ভাষায় প্রতিটি মু’রাব (ই’রাব গ্রহণকারী) শব্দের কেবল একটিই ই’রাব থাকে। আর তারা যা বলেছে আরবদের ভাষায় তার কোনো নজির নেই; কেননা তাদের ভাষায় এমন কোনো মু’রাব শব্দ নেই যার দুটি ই’রাব রয়েছে ২, ফলে এটি স্পষ্ট হলো—

--------------------------------------------

১. তারা 'ইমরু' এবং 'ইবনাম' শব্দের ক্ষেত্রে যা বলেছেন এটি তার অনুরূপ; কেননা বলা হয় 'জা-আ ইমরুউ' (ইমরু শব্দের রা এবং হামযা উভয়টিতে দম্মাহ দিয়ে), এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {যদি কোনো ব্যক্তি মারা যায়}। আবার বলা হয় 'রাইতু ইমরাআন' (রা এবং হামযা উভয়টিতে ফাতহাহ দিয়ে), এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {তোমার পিতা কোনো মন্দ লোক ছিলেন না} এবং কবির উক্তি:

নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি তোমাদের মধ্য থেকে একজনকে পেয়ে প্রতারিত হয়... সে দুনিয়াতে আমার পরে এবং তোমার পরে প্রবঞ্চিত।

আবার বলা হয় 'মারারতু বি-ইমরিয়িন' (রা এবং হামযা উভয়টিতে কাসরাহ দিয়ে), এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {সেদিন তাদের প্রত্যেকের জন্য এমন এক অবস্থা থাকবে যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে}। 'ইবনাম' শব্দের ক্ষেত্রেও তারা অনুরূপ করে থাকেন।

২. আমরা ইতিপূর্বেই 'ইমরু' ও 'ইবনাম' শব্দের ক্ষেত্রে আরবদের আচরণের কথা উল্লেখ করেছি এবং এটি বাহ্যত দেখা যায় যে, তারা এ দুটি শব্দকে দুটি স্থান থেকে ই’রাব প্রদান করেন: শেষ অক্ষর এবং তার আগের অক্ষর। সুতরাং কুফাবাসীদের এটি বলার সুযোগ রয়েছে যে: আমরা এটি মেনে নেব না যে আরবদের কথায় এর কোনো নজির নেই, বরং সহীহুল আখির (শেষ অক্ষরটি সবল এমন) শব্দসমূহের মধ্যে 'ইমরু' ও 'ইবনাম' এর নজির রয়েছে। কেননা আমরা দেখেছি আরবরা এ দুটিকে দুটি স্থান থেকে ই’রাব প্রদান করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ২০)
أن ما ذهبنا إليه له نظير في كلامهم، وما ذهبوا إليه لا نظير له في كلامهم، والمصِيرُ إلى ما له نظِيرُ أولى من المصير إلى ما ليس له نظير.

ومنهم من تمسّك بأن قال: لو جاز أن يجتمع في اسم واحد إعرابان مختلفان لجاز أن يجتمع فيه إعرابان مختلفان؛ فكما يمتنع أن يجتمع فيه إعرابان مختلفان فكذلك يمتنع أن يجتمع فيه إعرابان متفقان؛ لامتناع اجتماع إعرابين في كلمة واحدة.

والاعتمادُ على الاستدلال الأول، وهذا الاستدلال عندي فاسدٌ؛ لأن الإعراب في الأصل إنما دخل للفَصْل بين المعاني بعضها من بعض من الفاعلية والمفعولية على ما بَيَّنَّا؛ فلو جوَّزنا أن يُجْمَع في اسم واحد إعرابان مختلفان لأدَّي ذلك إلى التناقض؛ لأن كل واحد من الإعرابين يدلُّ على نقيض ما يدلُّ عليه الآخر؛ ألا ترى أنَّا لو قدَّرنا الرفع والنصب في اسم واحد لدلَّ الرفع على الفاعلية والنصب على المفعولية، وكل منهما نقيض الآخر، بخلاف ما لو قدرنا إعرابين متفقين فإنه لا يدلُّ أحد الإعرابين على نقيض ما يدل عليه الآخر؛ فبان الفرق بينهما، وأن الاعتماد على الاستدلال الأول.

وأما من ذهب إلى أنها ليست بحروف إعراب1، ولكنها دلائل الإعراب، فقال: لأنها لو كانت حروفَ إعرابٍ كالدال من "زيد" والراء من "عمرو" لما كان فيها دلالة على الإعراب، ألا ترى أنك إذا قلت: "ذهب زيد، وانطلق عمرو" لم يكن في نفس الدال والراء دلالة على الإعراب، فلما كان ههنا هذه الأحرف تدلُّ على الإعراب دلَّ على أنها دلائل الإعراب، وليست بحروف إعراب.

وهذا القول فساد؛ لأنّا نقول: لا يخلو أن تكون هذه الأحرفُ دلائلَ الإعراب في الكلمة أو في غيرها؛ فإن كانت تدل على الإعراب في الكلمة فوجَبَ أن يكون الإعراب فيها؛ لأنها آخر الكلمة، فيئُول هذا القول إلى قول الأكثرين، وإن كانت تدل على إعراب في غير الكلمة فيؤدي إلى أن تكون الكلمة مبنية، وليس من مذهب هذا القائل أنها مبنية، فسنبيّن فساد مذهبه أن الواو والألف والياء في التثنية والجمع ليست بحروف إعراب، ولكنها دلائل الإعراب، مستقصًى في موضعه، إن شاء الله تعالى.

--------------------------------------------

1 قد حكى المؤلف هذا القول أحد قولين لأبي الحسن الأخفش، والعلامة أبو الحسن الأشموني يحكي القولين وينسبهما إلى هشام، وهو هشام بن معاوية أحد أصحاب الكسائي كما سماه المؤلف ابن الأنباري في المسألة الحادية عشرة من هذا الكتاب.
আমরা যে মত পোষণ করেছি তার উদাহরণ তাদের (আরবদের) কথাবার্তায় পাওয়া যায়, কিন্তু তারা যে মত পোষণ করেছে তার কোনো উদাহরণ তাদের কথায় নেই। আর যার উদাহরণ পাওয়া যায় সেটি গ্রহণ করা যার কোনো উদাহরণ নেই সেটি গ্রহণ করার চেয়ে অধিক উত্তম।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই যুক্তি আঁকড়ে ধরেছেন যে: যদি একটি বিশেষ্যে (ইসম) দুটি ভিন্ন ইরাব একত্রিত হওয়া সম্ভব হতো, তবে তাতে দুটি ভিন্ন ইরাব একত্রিত হওয়া বৈধ হতো; সুতরাং যেহেতু একটি শব্দে দুটি ভিন্ন ইরাব একত্রিত হওয়া অসম্ভব, তেমনিভাবে দুটি অভিন্ন ইরাব একত্রিত হওয়াও অসম্ভব; কারণ একটি শব্দে দুটি ইরাব একত্রিত হওয়া মূলতই অসম্ভব।

তবে নির্ভরযোগ্য হলো প্রথম যুক্তিটি। আর এই যুক্তিটি আমার নিকট ত্রুটিযুক্ত; কেননা ইরাব মূলত প্রবর্তিত হয়েছে অর্থসমূহের একটিকে অন্যটি থেকে পৃথক করার জন্য, যেমন ফায়িল (কর্তা) ও মাফউল (কর্ম) এর মধ্যে পার্থক্য করা, যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি। যদি আমরা একটি ইসমে দুটি ভিন্ন ইরাব একত্রিত হওয়া বৈধ মনে করি, তবে তা পরস্পরবিরোধী ফলাফল বয়ে আনবে; কারণ প্রতিটি ইরাব এমন বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করবে যা অপরটির বিপরীত। আপনি কি দেখেন না যে, আমরা যদি একটি ইসমে রফ ও নাসব একসাথে কল্পনা করি, তবে রফ ফায়িল হওয়ার প্রতি এবং নাসব মাফউল হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করবে, অথচ তাদের প্রত্যেকেই অপরের বিপরীত। এর বিপরীতে যদি আমরা দুটি অভিন্ন ইরাব কল্পনা করি, তবে তাদের একটি অপরটির বিপরীত কোনো অর্থের দিকে ইঙ্গিত করবে না। সুতরাং উভয়ের মাঝে পার্থক্য স্পষ্ট হলো এবং প্রমাণিত হলো যে নির্ভরযোগ্যতা প্রথম যুক্তির ওপরই ন্যস্ত।

আর যারা এই মত পোষণ করেছেন যে, এগুলো ইরাবের হরফ নয় বরং ইরাবের নিদর্শন, তারা বলেন: কারণ এগুলো যদি 'যায়েদ' শব্দের 'দাল' এবং 'আমর' শব্দের 'রা' এর মতো ইরাবের হরফ হতো, তবে সেগুলোর মধ্যে ইরাবের কোনো সংকেত থাকত না। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, যখন আপনি বলেন: "যায়েদ গিয়েছে, এবং আমর রওনা হয়েছে", তখন 'দাল' এবং 'রা' এর নিজস্ব সত্তায় ইরাবের কোনো নিদর্শন থাকে না। কিন্তু এখানে যেহেতু এই হরফগুলো ইরাবের প্রতি নির্দেশ করে, তাই বুঝা গেল যে এগুলো ইরাবের নিদর্শন, ইরাবের হরফ নয়।

আর এই বক্তব্যটি ত্রুটিপূর্ণ; কারণ আমরা বলি: এই হরফগুলো হয় শব্দের ভেতরের ইরাবের নিদর্শন হবে অথবা শব্দ বহির্ভূত অন্য কিছুর। যদি সেগুলো শব্দের ইরাব নির্দেশ করে, তবে ইরাবটি সেই হরফগুলোর মধ্যেই হওয়া আবশ্যক; কারণ সেগুলো শব্দের শেষে অবস্থিত। এমতাবস্থায় এই মতটি অধিকাংশ ভাষাবিদের মতের দিকেই ফিরে যায়। আর যদি সেগুলো শব্দ বহির্ভূত কোনো কিছুর ইরাব নির্দেশ করে, তবে এর পরিণাম এই দাঁড়ায় যে শব্দটি মাবনি (অপরিবর্তনীয়)। অথচ এই মতের প্রবক্তাদের মাযহাব এটি নয় যে শব্দটি মাবনি। সুতরাং দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে ওয়াও, আলিফ ও ইয়া ইরাবের হরফ নয় বরং ইরাবের নিদর্শন—এই মতের অসারতা আমরা যথাস্থানে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

--------------------------------------------

১. লেখক আবুল হাসান আল-আখফাশের দুটি মতের একটি হিসেবে এই মতটি উল্লেখ করেছেন। আর আল্লামা আবুল হাসান আল-আশমুনি এই দুটি মতই বর্ণনা করেছেন এবং সেগুলোকে হিশামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। তিনি হলেন হিশাম ইবনে মুয়াবিয়া, যিনি কিসায়ির অন্যতম শিষ্য ছিলেন; যেমনটি লেখক ইবনুল আম্বারি এই কিতাবের একাদশ মাসয়ালায় তার নাম উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ২১)
فأما من ذهب إلى أنها إذا كانت مرفوعة ففيها نقل بلا قلب، وإذا كانت منصوبة ففيها قلب بلا نقل، وإذا كانت مجرورة ففيها نقل وقلب؛ فقال: لأن الأصل في قولك هذا أبوه "هذا أبَوُهُ" فاستثقلت الضمة على الواو، فنقلت إلى ما قبلها1، وبقيت الواو على حالها، فكان فيه نقل بلا قلب، والأصل في قولك رأيت أباه "رأيت أبَوَهُ" فتحركت الواو وانفتح ما قبلها فانقلبت ألفًا؛ فكان فيه قلب بلا نقل، والأصل في قولك مررت بأبيك "مررت بِأَبَوِك" فاستثقلت الكسرة على الواو، فنقلت إلى ما قبلها2، فقلبت الواو ياء لسكونها3 وانكسار ما قبلها، فكان فيه نقل وقلب.

وأما مَنْ ذهب إلى أن الباء حرف الإعراب، وإنما الواو والألف والياء نشأت عن إشباع الحركات؛ فقال: لأن الباء تختلف عليها الحركات في حالة الرفع والنصب والجر كما تختلف حركات الإعراب على سائر حروف الإعراب؛ فدلّ على أن الباء حرف الإعراب، وأن هذه الحركات -التي هي الضمة والفتحة والكسرة- حركات إعراب، وإنما أشبعت فنشأت عنها هذه الحروف -التي هي الواو والألف والياء- فالواو عن إشباع الضمة، والألف عن إشباع الفتحة، والياء عن إشباع الكسرة، وقد جاء ذلك كثيرًا في استعمالهم، قال الشاعر في إشباع الضمة:

[6]

الله يعلم أنَّا في تَلَفُّتِنَا … يوم الفِرَاقِ إلى إخواننا صُوَرُ

--------------------------------------------

[6] أنشد ابن منظور هذين البيتين في اللسان "ش ر ى" وأنشد أولهما في "ص ور" من غير عزو، وأنشدهما ابن جني في سر الصناعة "1/ 29" من غير عزو أيضًا وأنشدهما الرضي، وقد شرحهما البغداديّ في الخزانة "1/ 58 بولاق" ولم يعزهما، وكلهم يروي البيتين ببعض اختلاف في بعض ألفاظهما، وسننبّه عليه، وصور: جمع أصور، وهو وصف فعله صور يصور صورًا -على مثال فرح يفرح فرحًا- ومعناه المائل العين، وروى ابن منظور "وأنني حوثما يشرى الهوى بصري" وحوثما: لغة في حيثما، و"يشرى" مضارع أشراه إلى ناحية كذا بمعنى أماله، وهو بمعنى "يثني" في رواية المؤلف، يريد أنه كان دائم التلفت إلى أحبابه يوم الفراق، وأنه كان يتجه في التفاته إلى الجهة التي يسلكها أحبته، ومحلّ الاستشهاد قوله "فأنظور" فإنه أراد "فأنظر" لكنه لما كان محتاجًا إلى الواو في القافية أشبع الضمة التي على الظاء فنشأت الواو.

وأقول: قال أبو الطيب المتنبي:

ويطعمه التوراب قبل فطامه … ويأكله قبل البلوغ إلى الأكل

=

_________

1، 2 حكى العلامة ابن مالك في شرح التسهيل أنك إذا قلت "هذا أبو زيد" فأصله "أبو زيد" بفتح الباء وضم الواو للإعراب، ثم أتبعت الباء للواو فضمت، فصار الباء والواو جميعًا مضمومين، ثم استثقلت الضمة على الواو فحذفت، وهذا أدق مما ذكره المؤلف؛ قالوا: لأن نقل الحركة إلى حرف متحرك غير معهود، ويقال مثل ذلك في حالة الجر.

3 انظر الهامش 2 في ص11.
আর যারা এই মত পোষণ করেন যে, এটি যখন রফ’ (পেশযুক্ত) অবস্থায় থাকে তখন তাতে পরিবর্তন (কল্ব) ছাড়াই স্থানান্তর (নক্ল) ঘটে, যখন নসব (যবরযুক্ত) অবস্থায় থাকে তখন তাতে স্থানান্তর ছাড়াই পরিবর্তন ঘটে এবং যখন জর (জেরযুক্ত) অবস্থায় থাকে তখন তাতে স্থানান্তর ও পরিবর্তন উভয়ই ঘটে; তারা বলেন: কারণ আপনার বক্তব্য ‘হাযা আবুহু’ (এ তার পিতা)-এর মূল রূপ ছিল ‘হাযা আবওয়ুহু’। এখানে ওয়াও-এর ওপর পেশ (জম্মা) অত্যন্ত ভারী মনে হওয়ায় তা তার পূর্ববর্তী বর্ণের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে১ এবং ওয়াও তার নিজ অবস্থায় রয়ে গেছে; ফলে এতে পরিবর্তন ছাড়াই স্থানান্তর ঘটেছে। আপনার বক্তব্য ‘রাআইতু আবাহু’ (আমি তার পিতাকে দেখেছি)-এর মূল ছিল ‘রাআইতু আবওয়াহু’। এখানে ওয়াও-টি হারাকাতযুক্ত এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণটি যবরযুক্ত (মাফতুহ) হওয়ায় তা আলিফে পরিবর্তিত হয়ে গেছে; ফলে এতে স্থানান্তর ছাড়াই পরিবর্তন ঘটেছে। আর আপনার বক্তব্য ‘মারারতু বি-আবীকা’ (আমি তোমার পিতার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি)-এর মূল ছিল ‘মারারতু বি-আবওয়িকা’। এখানে ওয়াও-এর নিচে জের (কাসরা) ভারী মনে হওয়ায় তা তার পূর্ববর্তী বর্ণের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে২, অতঃপর ওয়াও-টি সাকিন হওয়ায় এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণটি জেরযুক্ত হওয়ায় তা ইয়া-তে পরিবর্তিত হয়ে গেছে; ফলে এতে স্থানান্তর ও পরিবর্তন উভয়ই ঘটেছে।

আর যারা এই মত পোষণ করেন যে, ‘বা’ বর্ণটিই হলো ই’রাবের (বিভক্তির) স্থান, আর ওয়াও, আলিফ ও ইয়া বর্ণগুলো মূলত হারাকাত বা স্বরচিহ্নকে প্রলম্বিত (ইশব্বা’) করার ফলেই সৃষ্টি হয়েছে; তারা বলেন: কারণ ‘বা’ বর্ণের ওপর রফ’, নসব ও জর অবস্থায় হারাকাতগুলো পরিবর্তিত হয় যেভাবে অন্যান্য ই’রাবের বর্ণের ওপর হারাকাত পরিবর্তিত হয়ে থাকে। এটি প্রমাণ করে যে ‘বা’ বর্ণটিই হলো ই’রাবের বর্ণ, এবং এই হারাকাতগুলো—যা হলো পেশ, যবর ও জের—সেগুলোই হলো ই’রাবের হারাকাত। এগুলোকে প্রলম্বিত করার ফলেই এই বর্ণগুলো—যা হলো ওয়াও, আলিফ ও ইয়া—উৎপন্ন হয়েছে। সুতরাং ওয়াও এসেছে পেশের প্রলম্বিত রূপ থেকে, আলিফ এসেছে যবরের প্রলম্বিত রূপ থেকে এবং ইয়া এসেছে জেরের প্রলম্বিত রূপ থেকে। আরবদের ব্যবহারে এর প্রচুর প্রয়োগ রয়েছে। কবি পেশকে প্রলম্বিত করার বিষয়ে বলেছেন:

[৬]

আল্লাহ জানেন যে আমাদের ফিরে তাকানোর মাঝে … বিচ্ছেদের দিনে আমাদের ভাইদের প্রতি আমাদের চোখগুলো ছিল অবনত (অশ্রুসজল)।

--------------------------------------------

[৬] ইবনে মঞ্জুর ‘লিসান’ গ্রন্থের ‘শ-র-য়’ অধ্যায়ে এই দুই পংক্তি উদ্ধৃত করেছেন এবং প্রথম পংক্তিটি ‘স-ও-র’ অধ্যায়ে কোনো নাম উল্লেখ ছাড়াই উদ্ধৃত করেছেন। ইবনে জিন্নি ‘সিররুত সিনাআহ’ (১/২৯) গ্রন্থে এবং রাযিও এটি উদ্ধৃত করেছেন। আল-বাগদাদী ‘আল-খিজানাহ’ (১/৫৮ বুলাক) গ্রন্থে এগুলোর ব্যাখ্যা করেছেন কিন্তু কোনো কবির নাম উল্লেখ করেননি। তাঁরা সবাই পংক্তি দুটি কিছু শব্দের ভিন্নতাসহ বর্ণনা করেছেন, যা আমরা উল্লেখ করব। ‘সুওয়ার’ হলো ‘আসওয়ার’-এর বহুবচন, যা ‘সওরা ইয়াসউরু’ ক্রিয়া থেকে নির্গত একটি বিশেষণ—যেমন ‘ফারিহা ইয়াফরাহু ফারাহান’—এর অর্থ হলো যার চোখ বাঁকা বা অবনত। ইবনে মঞ্জুর বর্ণনা করেছেন ‘আর আমি যেখানেই আমার দৃষ্টিকে মোহিত হতে দেখি’, ‘হাওসামা’ হলো ‘হাইসুমা’-এর একটি উপভাষা। ‘ইয়াশরা’ হলো ‘আশরাহু’-এর মুজারি (বর্তমান কাল), যার অর্থ হলো কোনো এক দিকে ঝুঁকে পড়া। লেখকের বর্ণনায় এটি ‘ইয়াসনি’ (ফিরিয়ে আনা) অর্থ প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে কবি বুঝিয়েছেন যে, বিচ্ছেদের দিনে তিনি বারবার তার প্রিয়জনদের দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং তার দৃষ্টি সেই দিকে নিবদ্ধ ছিল যেদিকে তার প্রিয়জনরা যাচ্ছিল। এখানে প্রমাণের স্থান হলো তাঁর উক্তি ‘ফআনজুরু’ (আমি তাকাই), কারণ তিনি চেয়েছিলেন ‘ফআনজুর’ বলতে, কিন্তু ছন্দ মেলাতে গিয়ে ওয়াও-এর প্রয়োজন হওয়ায় তিনি ‘জ’ বর্ণের ওপর থাকা পেশকে প্রলম্বিত করেছেন, ফলে ওয়াও সৃষ্টি হয়েছে।

আমি (সম্পাদক) বলছি: আবু তাইয়্যেব আল-মুতানাব্বি বলেছেন:

তাকে দুধ ছাড়ানোর আগেই মাটি (তাওরাব) খাওয়ানো হয় … এবং খাওয়ার উপযোগী হওয়ার আগেই তা তাকে খেয়ে ফেলে।

=

_________

১, ২ আল্লামা ইবনে মালিক ‘শারহুত তাসসীল’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, যখন আপনি বলবেন ‘হাযা আবু যাইদিন’, তখন এর মূল ছিল ‘আবাউ যাইদিন’—বা বর্ণে যবর এবং ওয়াও বর্ণে ই’রাবের কারণে পেশ ছিল। অতঃপর ‘বা’ বর্ণটি ওয়াও-এর অনুগামী হয়ে পেশযুক্ত হয়েছে, ফলে বা ও ওয়াও উভয়ই পেশযুক্ত হয়ে পড়ে। এরপর ওয়াও-এর ওপর পেশ ভারী মনে হওয়ায় তা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এটি লেখকের বক্তব্যের চেয়ে অধিক সূক্ষ্ম; তারা বলেন: কারণ কোনো হারাকাতযুক্ত বর্ণের দিকে হারাকাত স্থানান্তর করা সচরাচর দেখা যায় না। জর বা জেরের অবস্থার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

৩ পৃষ্ঠা ১১-এর ২ নম্বর টীকা দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ২২)
وأنني حيثما يَثْنِي الهوى بصري … من حيثما سلكوا أدنو فَأَنْظُورُ

أراد "فَأَنْظُرُ" فأشبع الضمّ، فنشأت الواو، وقال الآخر:

[7]

هجَوْتَ زَبَّان ثمَّ جِئْتَ معتذرا … من هَجْوِ زِبَّانَ لم تَهْجُو ولم تَدَعِ

أراد "لم تَهْجُ"، وقال الآخر:

[8]

كأنَّ في أنيابها القَرَنْفُولُ

--------------------------------------------

= وضبط الشرّاح قوله "التوراب" بفتح التاء وسكون الواو، ثم راحوا ينددون بها ويقولون: إنه يخترع لكلام العرب أوزانًا لم يقولوها، ولو أنهم ضبطوا الكلمة بضم التاء لوجدوا لها مساغًا ونظائر في كلام من يحتجون بكلامه ويخرجونه، فإن العرب يقولون "التراب" بضم التاء … الغراب، ثم إذا أشبعت التاء نشأت واو مثل واو "أنظور".

[7] نسب جماعة هذا البيت إلى أبي عمرو بن العلاء، يقوله للفرزدق الشاعر، وكان الفرزدق قد هجاه ثم اعتذر له، والبيت من شواهد الأشموني "رقم 44" و "زبان" بفتح الزاي وتشديد الباء اسم رجل، وقد ذكر المجد في القاموس جماعة ممن تسموا بهذا الاسم منهم أبو عمرو بن العلاء المازني النحوي اللغوي المقرئ قيل، هذا اسمه، وقيل: بل لقبه واسمه العريان أو يحيى، والاسشتهاد به في قوله "لم تهجو" فإن حق العربية عليه أن يقول" لم تهج" بحذف الواو التي هي لام الفعل، لأن الفعل المضارع المعتل اللام يجزم بحذف لامه، وللعلماء في تخريج مثل ذلك رأيان: أولهما أن هذه الواو هي لام الفعل التي يحذفها جمهرة العرب من المضارع في حالة الجزم، ولم يحذفها هذا الشاعر اكتفاء بحذف الحركة كما يصنع في الفعل الصحيح الآخر، والرأي الثاني هو الذي ذكره المؤلف هنا، وتلخيصه من الواو التي هي لام الكلمة قد حذفت، وأما هذه الواو فإنها واو أخرى نشأت عن إشباع ضمة الجيم، نظير الواو في "أنظور" في الشاهد السابق، وانظر الشاهدين 11 و 17.

[8] هذا بيت من الرجز المشطور، وقد أنشد ابن منظور في اللسان "ق ر ن ف ل" رجزين كل واحد منهما يشتمل على هذا البيت مع مغايرة طفيفة، أما أول الرجزين فقول الراجز:

وا، بأبي ثغرك ذاك المعسول … كأن في أنيابه القرنفول

وأما الثاني فقول الآخر:

خود أناة كالمهاة عطبول … كأن في أنيابها القرنفول

و"القرنفول" هو القرنفل الذي ورد في قول امرئ القيس:

إذا التفت نحوي تضوَّع ريحها … نسيم الصبا جاءت بريا القرنفل

يريد الراجز أن يصف ثغر هذه الجارية الناعمة التي يتغزل فيها بأنه طيب الريح جميل النكهة، ومحل الاستشهاد فيه قوله "القرنفول" فإن أصل الكلمة "القرنفل" فلما اضطر إلى الواو لإقامة الوزن الذي بنى عليه رجزه أشبع ضمة الفاء فنشأت الواو عن هذا الإشباع.
এবং আমি যেখানেই প্রবৃত্তি আমার দৃষ্টিকে ফেরায় … তারা যেখান দিয়েই চলুক, আমি নিকটে যাই এবং দেখি।

তিনি 'আমি দেখি' বুঝাতে চেয়েছেন, কিন্তু পেশকে দীর্ঘ (ইশবা) করেছেন, ফলে একটি 'ওয়াও' সৃষ্টি হয়েছে। অন্য একজন বলেছেন:

[৭]

তুমি জাব্বানকে বিদ্রূপ করেছ, তারপর ক্ষমা চাইতে এসেছ … জাব্বানকে বিদ্রূপ করার ব্যাপারে তুমি বিদ্রূপও করোনি, আবার ছেড়েও দাওনি।

তিনি 'তুমি বিদ্রূপ করোনি' বুঝাতে চেয়েছেন। অন্য একজন বলেছেন:

[৮]

যেন তার দাঁতগুলোর মাঝে লবঙ্গ রয়েছে।

--------------------------------------------

= ব্যাখ্যাকারগণ তাঁর 'আত-তাওরাব' শব্দটিকে তা-বর্ণে জবর এবং ওয়াও-বর্ণে সাকিন দিয়ে পড়েছেন। এরপর তারা এর সমালোচনা করতে শুরু করেন এবং বলেন যে, তিনি আরবদের কথার জন্য এমন ছন্দ আবিষ্কার করছেন যা তারা বলেনি। অথচ তারা যদি শব্দটিকে তা-বর্ণে পেশ দিয়ে পড়তেন, তবে তারা এর সার্থকতা এবং এমন উদাহরণ তাদের কথায় খুঁজে পেতেন যাদের কথাকে তারা দলিল হিসেবে পেশ করেন ও বিশ্লেষণ করেন। কারণ আরবরা 'আত-তুরাব' (মাটি) বলে থাকে তা-বর্ণে পেশ দিয়ে … যেমন 'আল-গুরাব'। অতঃপর যদি তা-বর্ণের পেশকে দীর্ঘ (ইশবা) করা হয়, তবে 'আনজুরু' শব্দের ওয়াও-এর মতো একটি ওয়াও সৃষ্টি হয়।

[৭] একদল বিশেষজ্ঞ এই কবিতাটি আবু আমর ইবনুল আলার দিকে সম্পর্কিত করেছেন, যা তিনি কবি ফারাযদাককে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন। ফারাযদাক তাঁকে বিদ্রূপ করেছিলেন এবং পরে তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। এই কবিতাটি আশমুনির ৪৪ নম্বর উদাহরণের অন্তর্ভুক্ত। 'জাব্বান' (যা-বর্ণে জবর এবং বা-বর্ণে তাশদীদসহ) একজন ব্যক্তির নাম। আল-মাজদ তাঁর 'কামুস' গ্রন্থে এই নামে একদল লোকের কথা উল্লেখ করেছেন, যাদের মধ্যে আবু আমর ইবনুল আলা আল-মাযেনি আন-নাহবি আল-লুগাভি আল-মুকরি অন্যতম। বলা হয়, এটি তাঁর নাম, আবার কেউ বলেন এটি তাঁর উপাধি এবং তাঁর নাম আল-আরইয়ান অথবা ইয়াহইয়া। এখানে প্রমাণের বিষয়টি হলো 'লাম তাহজু' শব্দটিতে। কারণ আরবির নিয়ম অনুযায়ী সেখানে 'ওয়াও' (যা ক্রিয়ামূলের শেষ বর্ণ) বিলুপ্ত করে পেশসহ 'লাম তাহজু' হওয়া উচিত ছিল। কেননা যে মুজারে ক্রিয়ার শেষে দুর্বল বর্ণ (হরফে ইল্লাত) থাকে, জজম অবস্থায় সেই বর্ণটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। এ ধরণের ক্ষেত্রে আলেমদের দুটি মত রয়েছে: প্রথমত, এই ওয়াও-টি মূলত ক্রিয়ার শেষ বর্ণ যা অধিকাংশ আরব জজম অবস্থায় মুজারে থেকে বিলুপ্ত করে দেয়। কিন্তু এই কবি সঠিক অন্ত্যবর্ণবিশিষ্ট ক্রিয়ার মতো কেবল হরকত বিলুপ্ত করেই ক্ষান্ত হয়েছেন, তাই তিনি ওয়াওটি বিলুপ্ত করেননি। দ্বিতীয় মতটি লেখক এখানে উল্লেখ করেছেন। তার সারসংক্ষেপ হলো—ক্রিয়ার মূল অংশ হিসেবে যে ওয়াও ছিল তা বিলুপ্ত হয়েছে, আর এই বর্তমান ওয়াও-টি হলো জীম বর্ণের পেশকে দীর্ঘ (ইশবা) করার ফলে সৃষ্ট অন্য একটি ওয়াও, যেমনটি পূর্ববর্তী উদাহরণে 'আনজুরু' শব্দের ক্ষেত্রে হয়েছিল। দেখুন উদাহরণ ১১ ও ১৭।

[৮] এটি রাজায মাশতুর ছন্দের একটি পঙক্তি। ইবনে মানযুর তাঁর 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে 'ক-র-ন-ফ-ল' মূলধাতুর অধীনে দুটি রাজায কবিতা উদ্ধৃত করেছেন, যার প্রতিটিতে সামান্য ভিন্নতাসহ এই পঙক্তিটি রয়েছে। প্রথম রাজাযটি হলো:

হায়, তোমার বাবার কসম, তোমার সেই মিষ্টি মুখ … যেন তার দাঁতগুলোতে লবঙ্গ রয়েছে।

আর দ্বিতীয়টি হলো অন্য একজনের উক্তি:

কোমল ও ধীরস্থির সেই হরিণীর মতো দীর্ঘাঙ্গী নারী … যেন তার দাঁতগুলোতে লবঙ্গ রয়েছে।

আর 'আল-কারানফুল' হলো সেই লবঙ্গ যা ইমরুল কায়েসের উক্তিতে এসেছে:

যখন সে আমার দিকে ফেরে, তার সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে … যেন পুবালি বাতাস লবঙ্গের ঘ্রাণ নিয়ে এসেছে।

রাজায রচয়িতা এখানে সেই কোমলমতী বালিকার দাঁতের বর্ণনা দিতে চেয়েছেন যার প্রতি তিনি প্রণয় প্রকাশ করছেন, যে তার মুখ সুগন্ধযুক্ত এবং সুন্দর স্বাদের। এখানে প্রমাণের স্থান হলো 'আল-কারানফুল' শব্দটি, কারণ শব্দটির মূল রূপ হলো 'আল-কারানফুল'। কিন্তু তিনি যখন তাঁর রাজায ছন্দের প্রয়োজনে ওয়াও-এর মুখাপেক্ষী হলেন, তখন তিনি ফা-বর্ণের পেশকে দীর্ঘ (ইশবা) করলেন, ফলে এই দীর্ঘায়নের কারণে ওয়াও-টি সৃষ্টি হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ২৩)
أراد"القَرَنْفُلْ" وقال الشاعر في إشباع الفتحة:

[9]

وأنتِ من الغوائل حين تُرْمَى … ومِنْ ذَمِّ الرجال بِمُنْتَزَاح

أراد "بِمُنْتَزَح" فأشبع الفتحة فنشأت الألف، وقال الآخر:

[10]

أقول إذا خرَّت على الْكَلْكَالِ … يا نَاقَتَا ما جُلْتِ من مَجَالٍ

أراد" الكَلْكَلَ"، وقال الآخر:

[11]

إذا العجوز غضبت فَطَلِّقِ … ولا تَرَضَّاهَا ولا تمَلَّقِ

--------------------------------------------

[9] هذا البيت من كلام ابن هرمة، واسمه إبراهيم بن علي، شاعر من مخضرمي الدولتين الأموية والعباسية، وهو من كلمة يرثي فيها ابنه، وقد أنشده ابن منظور "ن ز ح" ونسبه إليه، وأنشده ابن جني في سر الصناعة "1/ 29" وقال قبل إنشاده "وأنشدنا أبو علي لابن هرمة يرثي ابنه" ا. هـ، و "منتزاح" مصدر ميمي فعله "انتزح ينتزح" أي بعد وتقول "أنت بمنتزح من كذا" تريد أنت ببعد منه، أو أنت في مكان بعيد منه، والاستشهاد بالبيت في قوله "بمنتزاح" فإن أصله "بمنتزح" لكنه لما اضطر لإقامة وزن البيت أشبع فتحة الزاي فنشأت من هذا الإشباع ألف.

[10] هذان بيتان من الرجز المشطور، وقد أنشدهما ابن منظور "ك ل ل" من غير عزو. و "الكلكال" والكلكل: الصدر من كل شيء، وقيل: هو باطن الزور، وقيل: هو ما بين الترقوتين، وقوله "يا ناقتا" هو ناقة مضاف لياء المتكلم، وقد قلب الكسرة التي قبل الياء فتحة ثم قلب الياء ألفًا، وقد جاء في لسان العرب "يا ناقتي" على الأصل، والاستشهاد بالبيت في قوله "الكلكال" فإن أصله "الكلكل" كما هو الوارد في قول امرئ القيس:

فقلت له لما تمطي بصلبه … وأردف أعجازًا وناء بكلكل

لكن الراجز لما اضطر أشبع فتحة الكاف الثانية فنشأت عن هذا الإشباع ألف، كما أن راجزًا آخر -وهو منظور بن مرثد الأسدي- اضطر إلى تضعيف اللام الأخيرة فقال:

كأن مهواها على الكلكل … موضع كفي راهب يصلي

[11] هذان بيتان من الرجز المشطور، وقد أنشدهما ابن منظور "ر ض ى" من غير عزو، وقوله "لا ترضاها" معناه لا تتطلب رضاها، وقوله "لا تملق" أصله لا تتملق، فحذف إحدى التاءين، ومعناه لا تتكلف الملق بها، والاستشهاد به في قوله "ولا ترضاها" فقد كان من حق العربية عليه أن يقول "ولا ترضها" فيكون الفعل المضارع مجزومًا بلا الناهية، وعلامة جزمه حذف الألف، وللعلماء في هذه الألف قولان: أحدهما: أن هذه الألف هي لام الكلمة التي كان يجب عليه حذفها للجازم، لكنه اكتفي بحذف الحركة كما يكتفي بحذف الحركة في الفعل الصحيح الآخر، والقول الثاني: أن لام الفعل قد حذفت كما هو مقتضى الجزم، وهذه الألف ناشئة عن إشباع فتحة الضاد، فالفعل مجزوم بحذف الألف والفتحة قبلها دليل عليها، وقد ذكرنا هذين الرأيين في شرح الشاهد "رقم 7" وانظر أيضًا الشاهد17.

ونظير هذين البيتين قول عبد يغوث بن وقاص الحارثي:

وتضحك مني شيخة عبشمية … كأن لم تري قبلي أسيرًا يمانيًا

=
তিনি "আল-করনফুল" বুঝিয়েছেন এবং কবি জবরকে দীর্ঘায়িত করার ক্ষেত্রে বলেছেন:

[৯]

যখন বিপদ আপতিত হয় তখন তুমি তা থেকে মুক্ত... আর পুরুষদের নিন্দা থেকেও তুমি দূরে।

তিনি "বি-মুনতাযাহ" বুঝাতে চেয়েছিলেন, অতঃপর তিনি জবরকে দীর্ঘায়িত করেছেন যার ফলে আলিফ সৃষ্টি হয়েছে। অন্য এক কবি বলেছেন:

[10]

আমি বললাম যখন উটটি তার বুকের ওপর পড়ে গেল... হে আমার উষ্ট্রী, তুমি কোনো সুযোগই গ্রহণ করলে না।

তিনি "আল-কালকাল" বুঝাতে চেয়েছেন। অন্যজন বলেছেন:

[11]

বৃদ্ধা যখন রাগান্বিত হবে তখন তাকে তালাক দিয়ে দাও... তার সন্তুষ্টি খুঁজো না এবং তোষামোদ করো না।

--------------------------------------------

[৯] এই পঙক্তিটি ইবনে হারমার কথা থেকে নেওয়া হয়েছে, তার নাম হলো ইব্রাহিম ইবনে আলী। তিনি উমাইয়া ও আব্বাসীয় উভয় যুগের একজন কবি। এটি তার একটি কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে যেখানে তিনি তার পুত্রের জন্য শোকগাঁথা রচনা করেছেন। ইবনে মানযুর এটি "ন য হ" মূল ধাতুর অধীনে উদ্ধৃত করেছেন এবং তার প্রতি নিসবত করেছেন। ইবনে জিন্নি 'সিররুল সিনাআহ' (১/২৯) গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করে এর আগে বলেছেন: "আবু আলী ইবনে হারমার শোকগাঁথা থেকে আমাদের শুনিয়েছেন।" "মুনতাযাহ" শব্দটি একটি মাসদারে মিমি যার ক্রিয়া হলো "ইনতাযাহা ইয়ানতাযিহু", এর অর্থ হলো দূরে থাকা। আপনি যখন বলেন "তুমি অমুক বস্তু থেকে মুনতাযাহ-তে আছো", তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তুমি তা থেকে দূরে আছো অথবা তুমি তা থেকে দূরে কোনো স্থানে আছো। এই পঙক্তিটি থেকে দলিল গ্রহণের বিষয়টি হলো তার "বি-মুনতাযাহ" শব্দটির মধ্যে, যার মূল রূপ ছিল "বি-মুনতাযাহ" (সংক্ষিপ্ত জবরসহ)। কিন্তু যখন তিনি কবিতার ছন্দ ঠিক রাখতে বাধ্য হয়েছেন, তখন তিনি 'যা' বর্ণের ওপর জবরকে দীর্ঘায়িত করেছেন, ফলে এই দীর্ঘায়িত করার কারণে একটি আলিফ সৃষ্টি হয়েছে।

[১০] এই দুটি পঙক্তি রাজায মাশতুর ছন্দের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে মানযুর কোনো লেখকের নাম উল্লেখ ছাড়াই "ক ল ল" মূল ধাতুর অধীনে এগুলো উদ্ধৃত করেছেন। "আল-কালকাল" এবং "আল-কালকাল": এর অর্থ হলো যেকোনো জিনিসের বুক। বলা হয় এটি বুকের অভ্যন্তরীণ অংশ, আবার বলা হয় এটি দুই কণ্ঠাস্থির মধ্যবর্তী স্থান। তার উক্তি "ইয়া নাকাতা" মূলত "ইয়া নাগতি" (হে আমার উষ্ট্রী), যা মুতাকাল্লিমের ইয়া-র দিকে ইদাফত করা হয়েছে। এখানে ইয়ার পূর্বের জেরকে জবর দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং তারপর ইয়া-কে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে এটি মূল রূপে "ইয়া নাগতি" হিসেবে এসেছে। এই পঙক্তিটি থেকে দলিল গ্রহণের বিষয়টি হলো "কালকাল" শব্দটির মধ্যে, যার মূল ছিল "কালকাল" (সংক্ষিপ্ত জবরসহ), যেমনটি ইমরুল কায়সের উক্তিতে পাওয়া যায়:

অতঃপর আমি তাকে বললাম যখন সে তার মেরুদণ্ড টানটান করল... আর তার নিতম্ব পশ্চাতে প্রসারিত করল এবং তার বুক দিয়ে ভর দিল।

কিন্তু কবি যখন বাধ্য হয়েছেন তখন তিনি দ্বিতীয় কাফ বর্ণের জবরকে দীর্ঘায়িত করেছেন, ফলে এই দীর্ঘায়িত করার মাধ্যমে আলিফ সৃষ্টি হয়েছে। ঠিক যেমন অন্য এক কবি—মানযুর ইবনে মারসাদ আল-আসাদি—বাধ্য হয়ে শেষের লাম বর্ণটিকে দ্বিত্ব করে বলেছেন:

যেন তার অবতরণ স্থল আল-কালকাল-এর ওপর... প্রার্থনারত কোনো সন্ন্যাসীর দুই হাতের তালুর অবস্থানের মতো।

[১১] এই দুটি পঙক্তিও রাজায মাশতুর ছন্দের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে মানযুর "র দ ই" মূল ধাতুর অধীনে এগুলো উদ্ধৃত করেছেন কোনো নাম উল্লেখ ছাড়াই। তার উক্তি "লা তারদ্বাহা" এর অর্থ হলো তুমি তার সন্তুষ্টি তালাশ করো না। তার উক্তি "লা তামাল্লাক" এর মূল হলো "লা তাতামাল্লাক", এখানে দুটি 'তা' বর্ণের একটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং এর অর্থ হলো তার সাথে তোষামোদ করার কষ্ট করো না। এর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের বিষয়টি হলো "লা তারদ্বাহা" শব্দটির মধ্যে। আরবির নিয়ম অনুযায়ী তার উচিত ছিল "লা তারদ্বাহা" (আলিফ ছাড়া) বলা, যাতে বর্তমানকালীন ক্রিয়াটি নিষেধসূচক 'লা' দ্বারা মাজযুম হতো এবং তার জযম হওয়ার চিহ্ন হতো আলিফ বিলুপ্ত হওয়া। এই আলিফ সম্পর্কে আলেমদের দুটি মত রয়েছে: প্রথমটি হলো—এই আলিফটি হলো সেই মূল বর্ণ যা জযমের কারণে বিলুপ্ত করা আবশ্যক ছিল, কিন্তু তিনি কেবল জযম প্রদানের মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছেন যেমনটি ব্যঞ্জনবর্ণে শেষ হওয়া ক্রিয়ার ক্ষেত্রে করা হয়। দ্বিতীয় মতটি হলো—ক্রিয়ার শেষ বর্ণটি যথানিয়মে বিলুপ্ত হয়ে গেছে, আর এই আলিফটি 'দ্বদ' বর্ণের জবরকে দীর্ঘায়িত করার ফলে সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং ক্রিয়াটি আলিফ বিলুপ্তির মাধ্যমেই মাজযুম হয়েছে এবং এর পূর্বের জবরটি সেই বিলুপ্ত আলিফের প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। আমরা ৭ নম্বর প্রমাণের ব্যাখ্যায় এই দুটি মত উল্লেখ করেছি। ১৭ নম্বর প্রমাণটিও দেখুন।

এই দুটি পঙক্তির অনুরূপ হলো আবদ ইয়াগুস ইবনে ওয়াক্কাস আল-হারিসির উক্তি:

আবশাম গোত্রের এক বৃদ্ধা আমাকে দেখে উপহাস করছে... যেন সে আমার আগে কোনো ইয়ামানি বন্দিকে দেখেনি।

=
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ২৪)
أراد "ولا ترضها"، وقال عنترة:

[12]

يَنْبَاع مِنْ ذِفْرَى غَضُوبٍ جَسْرَةٍ … زَيَّافَةٍ مثل الفَنِيقِ المُكْدَمِ

أراد "يَنْبَع". وقال الشاعر في إشباع الكسرة:

[13]

تَنْفِي يداها الحصى في كلِّ هَاجِرَةٍ … نَفْيَ الدَّرَاهِيمِ تَنْقَادُ الصَّيَارِيفِ

--------------------------------------------

= فإن قوله "كأن لم تري" يجري فيه الرأيان اللذان ذكرناهما، ويزيد هذا البيت وجهًا ثالثًا، وحاصله أن قوله "تري" بفتح التاء والراء وسكون الياء، وهذه الياء هي ياء المؤنثة المخاطب، وليست لام الكلمة ولا ألف إشباع، وكأنه بعد أن ذكر ضحكها منه التفت إليها فقال مخاطبًا لها: كأنك لم تري قبل هذه المرة أسيرًا يمانيًا.

[12] هذا البيت -كما قال المؤلف- لعنترة بن شداد العبسي، من قصيدته المعلقة المشهورة، وهو من شواهد الرضي، وقد شرحه البغدادي في الخزانة "1/ 59" وقوله "ينباع" معناه ينبع، تقول "نبع الماء، والعرق، ونحوهما، ينبع" من باب فتح يفتح، ويأتي أيضًا من بابي نصر وضرب -إذا خرج، والذفرى بكسر الذال سكون الفاء- العظم الذي خلف الأذن، و"غضوب" هي الناقة و"جسرة" الطويلة العظيمة الجسم، و "زيافة" هي السريعة السير، و"الفنيق" الفحل المكرم الذي لا يؤذي لكرامته على أهله، و"المكدم" الفحل القوي، وقالوا "بعير مكدم" يريدون أنه غليظ شديد، وقالوا أيضًا "قدح مكدم" يريدون أن زجاجه غليظ، والاستشهاد به في قوله "ينباع" فإن أصله -على ما قال المؤلف- ينبع، مثل يقطع ويفتح، فلما اضطر لإقامة الوزن أشبع فتحة الباء فنشأت عن هذا الإشباع ألف، وعلى هذا يكون وزن ينباع يفعال، وهذا أحد وجهين للنحاة في هذه الكلمة، والثاني أن الياء ياء المضارعة كما في الرأي الأول، لكن النون التي بعدها ليست أصلًا، ولكنها زائدة، والحروف الأصلية هي الباء وما بعدها، وأصل هذه الألف ياء، فقلبت ألفًا لتحركها وانفتاح ما قبلها، فوزن ينباع على هذا ينفعل، مثل ينقاد وينداح، وهذا بعيد لا يقره الاشتقاق ولا المعنى المراد

ونظير هذه الشواهد التي أثرها المؤلف لإشباع الفتحة حتى تنشأ ألف قول الراجز:

أعوذ بالله من العقراب … الشائلات عقد الأذناب

أراد "العقرب" فأشبع فتحة الراء فنشأت ألف، ومثله قول الراجز الآخر وأنشده ابن منظور "د ر هـ م".

لو أن عندي مائتي درهام … لجاز في آفاقها خاتامي

أراد "مائتي درهم" فأشبع فتحه الهاء فنشأت ألف، ومثل ذلك في قوله "خاتامي" فإنه أراد "خاتمي" فأشبع فتحة التاء فتولدت ألف، ونظيره قول الراجز الآخر، وأنشده ابن منظور أيضًا "خ ت م" لبعض بني عقيل:

لئن كان ما حدثته اليوم صادقًا … صم في نهار القيظ للشمس باديا

أوأركب حمارًا بين سرج وفروة … وأعر من الخاتام صغرى شماليا

أراد أن يقول "وأعر من الخاتم" فأشبع فتحة التاء فتولدت من ذلك الإشباع ألف.

[13] هذا البيت من كلام الفرزدق همام بن غالب، وقد أنشد ابن منظور "ص ر ف - د ر هـ م" =
তিনি "এবং তাতে সন্তুষ্ট হয়ো না" বুঝিয়েছেন, আর আনতারা বলেছেন:

[১২]

ক্রুদ্ধ শক্তিশালী উষ্ট্রীর কর্ণমূল হতে (ঘাম) নির্গত হচ্ছে... যা বলিষ্ঠ ও সম্মানিত উষ্ট্রের ন্যায় দ্রুতপদবিক্ষেপে চলে।

তিনি "ইয়ানবাউ" (নিঃসৃত হওয়া) বুঝিয়েছেন। আর কবি কাসরার (জেরের) ইশবায়ে (দীর্ঘায়নে) বলেছেন:

[১৩]

প্রচণ্ড দ্বিপ্রহরে তার (উষ্ট্রীটির) সম্মুখপদদ্বয় কঙ্করগুলোকে এমনভাবে সরিয়ে দিচ্ছে... যেমন মুদ্রা-পরীক্ষকগণ দিরহামসমূহ সরিয়ে পরীক্ষা করে।

--------------------------------------------

= কেননা তাঁর উক্তি "যেন তুমি দেখনি" এর মধ্যে আমাদের উল্লিখিত মতদ্বয় প্রযোজ্য হবে। এই পংক্তিটি আরও একটি তৃতীয় মতের সুযোগ করে দেয়, যার সারসংক্ষেপ হলো- "তারী" শব্দটিতে 'তা' ও 'রা' বর্ণে ফাতহা (যবর) এবং 'ইয়া' বর্ণে সুকুন রয়েছে। এই 'ইয়া' হলো সম্বোধনসূচক স্ত্রীলিঙ্গবাচক ইয়া, এটি শব্দের মূল বর্ণ কিংবা ইশবা-র কারণে সৃষ্ট আলিফ নয়। যেন কবি তার (উষ্ট্রীর) উপহাস করার কথা উল্লেখ করার পর তার দিকে ফিরে সম্বোধন করে বললেন: যেন তুমি এর আগে কোনো ইয়ামানী বন্দীকে দেখনি।

[১২] এই পংক্তিটি -যেমনটি লেখক বলেছেন- আনতারা ইবনে শাদ্দাদ আল-আবসির, যা তার বিখ্যাত মুআল্লাকা কাব্য থেকে গৃহীত। এটি রাজী-র শওয়াহিদ বা প্রমাণসূত্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং বাগদাদী 'আল-খিজানাহ' (১/৫৯) গ্রন্থে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর উক্তি "ইয়ানবা-উ" এর অর্থ হলো "ইয়ানবাউ" (নিঃসৃত হওয়া)। বলা হয়- "পানি বা ঘাম নির্গত হয়েছে", এটি 'ফাতাহা-ইয়াফতাহু' পরিচ্ছেদ হতে আসে, আবার 'নাসারা' ও 'দারাবা' পরিচ্ছেদ থেকেও এসে থাকে। 'যিফরা' (যাল-এ কাসরা ও ফা-এ সুকুন যোগে) হলো কানের পেছনের হাড়। 'গাদুব' হলো উষ্ট্রী। 'জাসরাহ' হলো দীর্ঘকায় ও শক্তিশালী দেহবিশিষ্ট। 'যাইয়াফাহ' হলো দ্রুতগামী। 'ফানিকে' হলো সম্মানিত উষ্ট্র যাকে তার মালিকের কাছে মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার কারণে কষ্ট দেওয়া হয় না। 'মুকদাম' হলো শক্তিশালী উষ্ট্র। তারা 'বাঈরুন মুকদাম' বলে স্থূল ও শক্তিশালী উষ্ট্র বুঝায়। তারা 'কাদাহুন মুকদাম' ও বলে থাকে যার দ্বারা স্থূল কাঁচ বুঝানো হয়। এখানে প্রমাণস্থল হলো "ইয়ানবা-উ" শব্দটি, যার মূল হলো -লেখকের বর্ণনা মতে- "ইয়ানবাউ", যেমন "ইয়াকতাউ" ও "ইয়াফতাহু"। যখন তিনি ছন্দ রক্ষার প্রয়োজনে বাধ্য হলেন, তখন 'বা' বর্ণের ফাতহাকে দীর্ঘ করলেন (ইশবা), ফলে এই দীর্ঘায়নের ফলে একটি আলিফ সৃষ্টি হলো। এই হিসেবে "ইয়ানবা-উ" এর ওজন হবে "ইয়াফ-আল"। এই শব্দটিতে নাহুবিদদের দুটি মতের মধ্যে এটি একটি। দ্বিতীয় মতটি হলো- 'ইয়া' বর্ণটি মুদারি-র আলামত যেমনটি প্রথম মতে ছিল, কিন্তু পরবর্তী 'নুন' বর্ণটি মূল শব্দের অংশ নয় বরং অতিরিক্ত। মূল বর্ণগুলো হলো 'বা' এবং তার পরবর্তী বর্ণগুলো। এই আলিফটির মূল ছিল 'ইয়া', যা তার হরকত ও পূর্বের বর্ণের ফাতহা হওয়ার কারণে আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে। এই মতে "ইয়ানবা-উ" এর ওজন হবে "ইয়ানফাই-লু", যেমন "ইয়ানকাদু" ও "ইয়ানদাহু"। তবে এই মতটি দূরবর্তী, যা শব্দমূল বা উদ্দিষ্ট অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।

লেখক ফাতহার দীর্ঘায়নের (ইশবা) ফলে আলিফ তৈরির যে উদাহরণগুলো এনেছেন, রাজেয-এর এই উক্তিটি তার অনুরূপ:

আমি বিচ্ছু হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই... যার লেজের গিঁটগুলো খাড়া হয়ে থাকে।

তিনি "আল-আকরাব" (বিচ্ছু) বুঝিয়েছেন, অতঃপর 'রা' বর্ণের ফাতহাকে দীর্ঘ করার ফলে আলিফ সৃষ্টি হয়েছে। এর অনুরূপ অন্য এক রাজেয-এর উক্তি, যা ইবনে মানযুর 'দা-রা-হা-মিম' মূলে উল্লেখ করেছেন:

যদি আমার কাছে দুইশ দিরহাম থাকত... তবে তার দিগন্তসমূহে আমার আংটি কার্যকর হতো।

তিনি "মাইআতাই দিরহাম" বুঝিয়েছেন, অতঃপর 'হা' বর্ণের ফাতহাকে দীর্ঘ করার ফলে আলিফ সৃষ্টি হয়েছে। অনুরূপভাবে "খাতামী" শব্দেও তিনি "খাতামি" বুঝিয়েছেন এবং 'তা' বর্ণের ফাতহাকে দীর্ঘ করার ফলে আলিফ তৈরি হয়েছে। এর সদৃশ অন্য এক রাজেয-এর উক্তি, যা ইবনে মানযুর বনু আকীলের জনৈক ব্যক্তির সূত্রে 'খা-তা-মিম' মূলে বর্ণনা করেছেন:

আজ তুমি যা বলেছ তা যদি সত্য হয়... তবে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদে দিনের বেলা রোজা রাখো।

অথবা জিন ও পশমযুক্ত চামড়ার মাঝে গাধার পিঠে আরোহণ করো... আর আমার বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলকে আংটিমুক্ত করো।

তিনি "আল-খাতাম" (আংটি) বলতে চেয়েছিলেন, অতঃপর 'তা' বর্ণের ফাতহাকে দীর্ঘ করার ফলে আলিফ তৈরি হয়েছে।

[১৩] এই পংক্তিটি হাম্মাম ইবনে গালিব আল-ফারাজদাকের উক্তি থেকে নেওয়া হয়েছে। ইবনে মানযুর এটি 'সা-রা-ফা' ও 'দা-রা-হা-মিম' মূলে উল্লেখ করেছেন। =
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ২৫)
أراد "الدراهم" و "الصيارف" فأشبع الكسرة فنشأت الياء، ويحتمل أن يكون الدراهيمُ جمعَ دِرْهَام، ولا يحتمل الصياريف هذا الاحتمال، وقال الآخر:

[14]

كأني بِفَتْخَاء الجناحين لقوة … على عَجَل منِّي أُطَأْطِئُ شِيمَالي

أراد "شِمَالِي"، وقال الآخر:

[15]

لمَّا نزلنا نصبنا ظل أخْبِيَةٍ … وفار للقوم باللحم المَرَاجِيلُ

--------------------------------------------

= منسوبًا له، وأنشده ابن جني في سرّ الصناعة "1/ 28" وهو من شواهد سيبويه "1/ 10"، وهو من شواهد ابن هشام في أوضح المسالك "رقم 567 بتحقيقنا" والأشموني "رقم 689 بتحقيقنا" وابن عقيل "رقم 253 بتحقيقنا" وقوله "تنفي" معناه تطرد وتبعد، و"يداها" أي يدا الناقة التي يصفها، و "هاجرة" هي القوت حين ينتصف النهار ويشتد الحر، و "تنقاد" أحد مصادر نقد الدراهم ينقدها نقدًا؛ إذا ميّز رديئها من جيدها، و"الصياريف" جمع صيرف -بوزن جعفر- وهو الخبير بالنقد الذي يبادل على بعضه ببعض. والاسشهاد به في قوله "الدراهيم" و "الصياريف" فإن الأصل الدراهم والصيارف، فأشبع كسرة الهاء في الدراهم وكسرة الراء في الصيارف فتولدت عن كل إشباع منهما ياء، وهذا تام الدلالة في الصياريف، أما في الدراهيم فقد يقال: إنه جمع درهام لا درهم -كما نبه إليه المؤلف- فالإشباع والتوليد في المفرد، والخطب في ذلك سهل، ونظير ذلك قول ابن مقبل:

قد كنت أحجو أبا عمرو أخاثقه … حتى ألمت بنا يومًا ملمات

فقلت والمرء تخطيه عطيته … أوفى عطيته إياي ميئات

أراد أن يقول "مئات" فأشبع كسرة الميم فتولدت ياء، وقد استباح الشعراء المحدثون لأنفسهم أن يرتكبوا مثل هذه الضرورات فقال أحد الخالديين شاعري سيف الدولة الحمداني:

خولتنا شمسًا وبدرًا أشرقت … بهما لدينا الظلمة الحنديس

فإنه أراد أن يقول "الحندس" فأشبع كسرة الدال فتولدت ياء، والحندس: الشديد الظلام.

[14] هذا البيت لامرئ القيس بن حجر الكندي، وقد أنشده ابن منظور "ش م ل". وقوله "فتخاء الجناحين" هي العقاب اللينة الجناح، وذلك أسهل لطيرانها، و"لقوة" بفتح اللام أو كسرها، مع سكون القاف فيهما هي الخفيفة السريعة. يصف ناقته التي ارتحلها بالسرعة، فشبهها بالعقاب. والاستشهاد بالبيت في قوله "شيمالي" فإن أصلها شمالي، فلما اضطر لإقامة الوزن أشبع كسرة الشين فتولدت ياء، وهذه إحدى روايتين في هذه الكلمة في هذا البيت، والرواية الأخرى "أطأطئ شملالي" والشملال لغة في الشمال، ومن العلماء من يجعل الشيمال بالياء لغة أخرى في الشمال، ومن العلماء من ينكر أنها لغة ويذهب إلى ما ذهب المؤلف إليه من أن الشاعر اضطر فأشبع الكسرة، والخطب في ذلك سهل؛ فإن الذي أثبتها لغة اعتمد على قول الشاعر أو مثله ممن يستشهد بقوله.

[15] هذا البيت لعبدة بن الطبيب، من قصيدة له ثابتة في المفضليات "المفضلية 26" وقد أنشد هذا البيت ابن عبد ربه في العقد الفريد "1/ 192" وله عنده قصة، والأخبية: جمع خباء - =
তিনি "আদ-দিরাহাম" ও "আস-সায়ারিফ" বুঝাতে চেয়েছেন, ফলে তিনি কাসরাকে (জের) দীর্ঘ করেছেন যার ফলে ইয়া-এর উদ্ভব হয়েছে। এটা সম্ভব যে 'আদ-দিরাহীম' শব্দটি 'দিরহাম' (আলিফসহ)-এর বহুবচন হতে পারে, তবে 'আস-সায়ারীফ' শব্দের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা নেই। অপর এক কবি বলেছেন:

[১৪]

যেন আমি নরম ডানাবিশিষ্ট এক দ্রুতগামী ঈগলের পিঠে রয়েছি... তাড়াহুড়ো করে আমি আমার বাম হাত নিচু করছি।

তিনি "শিমালী" (শিন-এর নিচে শুধু জেরসহ) বুঝাতে চেয়েছেন। অপর এক কবি বলেছেন:

[১৫]

যখন আমরা অবতরণ করলাম, তখন আমরা তাঁবুর ছায়া স্থাপন করলাম... এবং লোকজনের জন্য গোশতসহ ডেকচিগুলো উথলিয়ে উঠল।

--------------------------------------------

= এটি তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত। ইবনে জিন্নি 'সিররুস সিনাআ' (১/২৮) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি সিবাওয়াইহ (১/১০), ইবনে হিশাম তাঁর 'আওদাহুল মাসালিক' (আমাদের সম্পাদিত ৫৬৭ নম্বর), আশমুনি (আমাদের সম্পাদিত ৬৮৯ নম্বর) এবং ইবনে আকিল (আমাদের সম্পাদিত ২৫৩ নম্বর)-এ প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন। 'তানফি' শব্দের অর্থ সে বিতাড়িত করে বা দূরে সরিয়ে দেয়। 'ইয়াদাহা' বলতে ওই উষ্ট্রীর হাত দুটিকে বুঝানো হয়েছে যার বর্ণনা তিনি দিচ্ছেন। 'হাজিরা' হলো দুপুরের প্রখর রোদের সময় যখন গরম তীব্র হয়। 'তানক্কাদ' শব্দটি 'নাকদুদ দিরাহাম' থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো দিরহাম যাচাই করা; যখন মন্দ মুদ্রা থেকে ভালো মুদ্রাকে পৃথক করা হয়। 'আস-সায়ারীফ' শব্দটি 'সাইরাফ' (জা'ফর-এর ওজনে) এর বহুবচন—যিনি মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ। এর মাধ্যমে দলীল পেশ করা হয়েছে 'আদ-দিরাহীম' ও 'আস-সায়ারীফ' শব্দ দুটিতে; কারণ এর মূল রূপ হলো 'আদ-দিরাহাম' ও 'আস-সায়ারিফ'। সুতরাং তিনি 'আদ-দিরাহাম' শব্দের 'হা' বর্ণের কাসরা এবং 'আস-সায়ারিফ' শব্দের 'রা' বর্ণের কাসরাকে দীর্ঘায়িত করেছেন, ফলে উভয় ক্ষেত্রে ইশব্বা’ (দীর্ঘকরণ)-এর কারণে একটি করে 'ইয়া' উৎপন্ন হয়েছে। 'আস-সায়ারীফ' শব্দের ক্ষেত্রে এই প্রমাণটি পূর্ণাঙ্গ। আর 'আদ-দিরাহীম' শব্দের ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে যে, এটি 'দিরহাম' (আলিফসহ)-এর বহুবচন—যেমনটি লেখক উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি সহজ। এর অনুরূপ হলো ইবনে মুকবিলের উক্তি:

আমি আবু আমরকে একজন বিশ্বস্ত ভাই মনে করতাম... যতক্ষণ না একদিন আমাদের ওপর বিপদ আপতিত হলো।

তখন আমি বললাম—মানুষ তো তার কাঙ্ক্ষিত দান থেকে বঞ্চিত হতে পারে—আমার প্রতি তার শ্রেষ্ঠ দান ছিল শত শত।

তিনি "মিআত" (মীম-এ জেরসহ) বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মীমের কাসরাকে দীর্ঘ করায় একটি 'ইয়া' উৎপন্ন হয়েছে। পরবর্তী যুগের কবিগণও নিজেদের জন্য এ ধরনের কাব্যিক প্রয়োজনীয়তা (জরুরাত) জায়েয মনে করেছেন। সাইফুদ্দৌলা আল-হামদানীর দুই রাজকবি আল-খালিদাইয়্যিনের একজন বলেছেন:

তুমি আমাদের সূর্য ও চন্দ্র দান করেছ যা আমাদের নিকটকার ঘোর অন্ধকারকে আলোকিত করেছে।

এখানে তিনি "আল-হিনদিস" বলতে চেয়েছেন, কিন্তু দাল-এর কাসরাকে দীর্ঘ করায় 'ইয়া' উৎপন্ন হয়েছে। 'আল-হিনদিস' অর্থ হলো তীব্র অন্ধকার।

[১৪] এই পঙক্তিটি ইমরুল কায়েস বিন হুজর আল-কিন্দি-র। ইবনে মানযুর 'শিন-মীম-লাম' মূলে এটি উল্লেখ করেছেন। তাঁর উক্তি "ফাতখাউল জানাহাইন" অর্থ হলো নরম ডানাবিশিষ্ট ঈগল, যা তার ওড়ার জন্য সহজতর। "লাকওয়াহ" (লাম-এর যবর বা যের এবং কাফ-এর সাকিনসহ) অর্থ হলো হালকা ও দ্রুতগামী। তিনি তাঁর আরোহণকৃত উষ্ট্রীর গতি বর্ণনা করতে গিয়ে একে ঈগলের সাথে তুলনা করেছেন। এই পঙক্তিটির মাধ্যমে দলীল পেশ করা হয়েছে "শীমালী" শব্দটিতে; কারণ এর মূল হলো "শিমালী"। যখন তিনি ছন্দ ঠিক রাখতে বাধ্য হলেন, তখন 'শিন' বর্ণের কাসরাকে দীর্ঘায়িত করলেন এবং একটি 'ইয়া' উৎপন্ন হলো। এই শব্দটির ক্ষেত্রে এটি দুটি বর্ণনার একটি; অন্য বর্ণনাটি হলো "উত্বাত্বিউ শিমলালী"। "শিমলাল" শব্দটি "শিমাল"-এরই একটি রূপভেদ। কিছু আলেম "শীমালী" (ইয়া-সহ) শব্দটিকে "শিমাল"-এর অন্য একটি ভাষাগত রূপ হিসেবে গণ্য করেন। আবার কিছু আলেম এটি ভাষা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং লেখকের মতের দিকে যান যে, কবি নিরুপায় হয়ে কাসরাকে দীর্ঘ করেছেন। বিষয়টি সহজ; কারণ যারা একে স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, তারা কবির এই উক্তি বা এ জাতীয় প্রামাণ্য বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছেন।

[১৫] এই পঙক্তিটি আবদাহ বিন আত-তয়্যিব-এর। এটি তাঁর 'আল-মুফাদ্দালিয়্যাত' (মুফাদ্দালিয়্যাহ ২৬) সংকলনের একটি কাসিদা থেকে নেওয়া। ইবনে আবদে রাব্বিহি 'আল-ইকদুল ফারিদ' (১/১৯২) গ্রন্থে এই পঙক্তিটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সাথে একটি ঘটনা রয়েছে। "আল-আখবিয়াহ" শব্দটি "খিবায়ুন"-এর বহুবচন—
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ২৬)
أراد "المراجِلَ"، وقال الآخر:

[16]

لا عهد لي بنِيضَال … أصبحت كالشِّنِّ البَال

أراد "بِنِضَال"، وقال الآخر:

[17]

ألم يأتِيكَ والأنباء تَنْمِي … بما لَاقَتْ لَبُونُ بني زِيَاد

--------------------------------------------

= بوزن كساء وأكسية، ورداء وأردية والمراجيل: جمع مرجل، وهو القدر التي يطبخ فيها الطعام، يقول: إنهم حين حطوا رحالهم أسرعوا فنحروا الذبائح وأوقدوا عليها ففارت قدورهم باللحم، يصف أنفسهم بالكرم، والاستشهاد بالبيت في قوله "المراجيل" فإن أصله المراجل؛ لأنه جمع مرجل على وزن منبر، ولكنه لما اضطر أشبع كسرة الجيم فتولدت عنها ياء. 16 هذان بيتان من الرجز، وقد أنشدهما ابن منظور "ن ض ل" غير معزو، والنيضال: مصدر "ناضله يناضله" إذا باراه في الرمي، و"الشن" القربة الصغيرة، والبال: أي البالي.

ومحلّ الاستشهاد بهذا الشاهد قوله "بنيضال" فإنه مصدر ناضله كما بيّنا لك، والأصل أن يقول "بنضال" كما تقول: قاتل قتالًا ومقاتلة، ولكنه لما اضطر أشبع كسرة النون فتولدت ياء، وهذا الذي حكاه المؤلف في هذه الكلمة هو رأي أبي العباس ثعلب، وأما سيبويه فإنه ذهب إلى أن مصدر الفعل الذي على فاعل كقاتل وشارك يأتي على فعال بكسر الفاء غالبًا، وربما جاء على فيعال بزيادة ياء بعد الفاء تقابل الألف الزائدة في الفعل لئلا يكونوا قد تركوا من حروف الفعل شيئًا.

[17] هذا البيت من كلام قيس بن زهير بن جذيمة العبسي، وقد أنشده ابن منظور "أت ى" منسوبًا إليه، وهو من شواهد الأشموني "رقم 43" وابن هشام في أوضح المسالك "رقم 20" وفي مغني اللبيب "رقم 156 بتحقيقنا" والأنباء: جمع نبأ، وهو كالخبر وزنًا ومعنًى، وقيل: النبأ خاص بذي الشأن من الأخبار، وتنمي: تزيد وتكثر، وهو من بابي ضرب ونصر، واللبون: الإبل ذوات اللبن، وبنو زياد: هم الكملة من الرجال الربيع وعمارة وقيس وأنس، بنو زياد بن سفيان بن عبد الله العبسي، وأمهم فاطمة بنت الخرشب الأنمارية، وكان قيس بن زهير قد طرد إبلًا للربيع بن زياد في قصة مشهورة. والاستشهاد بالبيت في قوله "ألم يأتيك" فإن "يأتي" فعل مضارع معتل الآخر، وقد دخل عليه الجازم، وجمهرة العرب يجزمونه بحذف حرف العلة -وهو هنا الياء- فيقولون "ألم يأتك" وللعلماء في هذه الياء رأيان أحدهما: أنها لام الفعل، وأن الشاعر اكتفى بحذف الحركة كما يفعل مع الفعل الصحيح الآخر؛ فيكون "يأتي" مجزومًا وعلامة جزمه السكون، والرأي الثاني: أن الشاعر جزم "يأتي" بحذف حرف العلة كما يصنع جمهرة العرب، إلا أنه اضطر لإقامة الوزن فأشبع كسرة التاء فتولدت عنها ياء، فهذه الياء ياء الإشباع وليست لام الكلمة، وهذا الرأي الأخير هو الذي ذهب إليه المؤلف، قال ابن منظور "وأما قول قيس بن زهير العبسي ألم يأتيك … فإنما أثبت الياء ولم يحذفها للجزم ضرورة، وردّه إلى أصله، قال المازني: ويجوز في الشعر أن تقول: زيد يرميك برفع الياء، ويغزوك برفع الواو، وهذا قاضي =
তিনি "আল-মরাজিল" বুঝিয়েছেন, আর অন্যজন বলেছেন:

[১৬]

তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই... আমি জীর্ণ পুরোনো পানির মশকের মতো হয়ে গেছি।

তিনি "বিনদাল" বুঝিয়েছেন, আর অন্যজন বলেছেন:

[১৭]

তোমার কাছে কি সংবাদ আসেনি, অথচ সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে... বনু জিয়াদের দুগ্ধবতী উটগুলো কীসের সম্মুখীন হয়েছিল?

--------------------------------------------

= এটি কিসাউন ও আকসিয়াতুন এবং রিদাউন ও আরদিয়াতুনের ওজনে। আল-মরাজিল হলো মিরজালের বহুবচন, যা এমন এক ডেকচি যাতে খাবার রান্না করা হয়। কবি বলছেন: যখন তারা তাদের আসবাবপত্র নামিয়ে রাখল, দ্রুত পশু জবেহ করল এবং তাতে আগুন জ্বালাল, তখন তাদের ডেকচিগুলো মাংসে টগবগ করতে লাগল। তিনি নিজেদের দানশীলতার বর্ণনা দিচ্ছেন। আর এই কবিতাটি থেকে দলিল গ্রহণের স্থান হলো "আল-মরাজিল" শব্দটি, কারণ এর মূল রূপ হলো "আল-মরাজিল" (ইয়া ব্যতীত); যেহেতু এটি মিনবার-এর ওজনে মিরজাল-এর বহুবচন। কিন্তু তিনি যখন ছন্দের প্রয়োজনে বাধ্য হলেন, তখন জিম বর্ণের কাসরাহ বা জেরকে প্রলম্বিত করলেন, যার ফলে একটি ইয়া উৎপন্ন হলো। ১৬. এই দুটি পংক্তি রাজাজ ছন্দের। ইবনে মানযুর কবির নাম উল্লেখ না করেই 'ন-য-ল' মূলধাতুর অধীনে এটি উদ্ধৃত করেছেন। নিদাল হলো 'নাদালাহ-ইয়ুনাহিলু' এর মাসদার বা ক্রিয়ামূল, যখন কেউ তীর নিক্ষেপে প্রতিযোগিতা করে। আর 'শান' হলো ছোট পানির মশক, আর 'বাল' অর্থ জীর্ণ বা পুরোনো।

এই দলিলটির মাধ্যমে প্রমাণ গ্রহণের স্থান হলো তাঁর উক্তি "বিনিদাল", কারণ এটি নাদালাহ এর মাসদার যেমনটি আমরা আপনার কাছে ব্যাখ্যা করেছি। মূলত "বিনদাল" (ইয়া ব্যতীত) বলা উচিত ছিল, যেমন আপনি বলেন: "কাতলা কিতালাল" এবং "মুকাতালাহ"। কিন্তু তিনি যখন ছন্দের কারণে বাধ্য হলেন, তখন নুন বর্ণের কাসরাহকে প্রলম্বিত করলেন, ফলে একটি ইয়া সৃষ্টি হলো। লেখক এই শব্দের ক্ষেত্রে যা উল্লেখ করেছেন তা আবু আব্বাস সা’লাবের অভিমত। তবে সিবওয়াইহ-এর মতে, ফা-আলা ওজনের ক্রিয়ার মাসদার সাধারণত ফিয়াল ওজনে ফা বর্ণের কাসরাহ সহ আসে। কখনও কখনও এটি ফিয়াল ওজনেও আসে যেখানে ফা এর পরে একটি অতিরিক্ত ইয়া যুক্ত হয়, যা ক্রিয়ার অতিরিক্ত আলিফের সমান্তরাল হয়, যাতে তারা ক্রিয়ার কোনো বর্ণ বাদ না দেয়।

[১৭] এই পংক্তিটি কায়েস ইবনে জুহাইর ইবনে জাজিমা আল-আবসীর কথা। ইবনে মানযুর 'আ-তা-ইয়া' মূলধাতুর অধীনে এটি তাঁর নামে উদ্ধৃত করেছেন। এটি আশমুনী (৪৩ নং), ইবনে হিশামের আওদাহুল মাসালিক (২০ নং) এবং মুগনী আল-লাবীব (আমাদের তাহকীক অনুযায়ী ১৫৬ নং)-এর অন্যতম উদাহরণ। আনবা হলো নাবা (সংবাদ)-এর বহুবচন, যা ওজন ও অর্থের দিক থেকে খবর-এর মতো। বলা হয়: নাবা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তানমি অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া ও ছড়িয়ে পড়া। লাবুন হলো দুধ দেয় এমন উট। বনু জিয়াদ হলো বীর পুরুষদের একটি দল: রাবী, আম্মারা, কায়েস এবং আনাস; তারা জিয়াদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আবসীর পুত্র। তাদের মা ফাতেমা বিনতে আল-খুরশুব আল-আনমারিয়া। কায়েস ইবনে জুহাইর এক প্রসিদ্ধ ঘটনায় রাবী ইবনে জিয়াদের উট তাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। আর এই কবিতাটি থেকে দলিল গ্রহণের স্থান হলো তাঁর উক্তি "আলাম ইয়া’তিকা"। কেননা "ইয়া’তি" হলো শেষে ইল্লত বর্ণযুক্ত একটি বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া, যার শুরুতে জাজম প্রদানকারী অব্যয় এসেছে। অধিকাংশ আরবরা একে ইল্লত বর্ণ তথা ইয়া বিলুপ্ত করার মাধ্যমে জাজম প্রদান করে এবং বলে "আলাম ইয়া’তিকা" (ইয়া ব্যতীত)। এই ইয়া বর্ণটি সম্পর্কে আলেমদের দুটি মত রয়েছে: প্রথমটি হলো, এটি ক্রিয়ার মূল শেষ বর্ণ, এবং কবি এখানে হরফ বিলুপ্ত না করে কেবল স্বরচিহ্ন বিলুপ্ত করাকেই যথেষ্ট মনে করেছেন যেমনটি সুস্থ শেষ বর্ণবিশিষ্ট ক্রিয়ার ক্ষেত্রে করা হয়। এমতাবস্থায় এটি সুকুন দ্বারা মাজজুম হবে। দ্বিতীয় মতটি হলো, কবি এটি ইল্লত বর্ণ বিলোপের মাধ্যমেই মাজজুম করেছেন যেমনটি অধিকাংশ আরব করে থাকেন। তবে তিনি কবিতার ছন্দ রক্ষার তাগিদে তা বর্ণের কাসরাহকে প্রলম্বিত করতে বাধ্য হয়েছেন, যার ফলে একটি ইয়া উৎপন্ন হয়েছে। সুতরাং এই ইয়া বর্ণটি হলো প্রলম্বিতকরণের ইয়া (ইয়াউল ইশবা), এটি শব্দের মূল বর্ণ নয়। লেখক এই শেষোক্ত মতটিই গ্রহণ করেছেন। ইবনে মানযুর বলেছেন: "কায়েস ইবনে জুহাইর আল-আবসীর উক্তি 'আলাম ইয়া’তিকা' এর ক্ষেত্রে তিনি ইয়া বর্ণটিকে বহাল রেখেছেন এবং ছন্দের প্রয়োজনে জাজমের কারণে তা বিলোপ করেননি বরং একে তার মূলে ফিরিয়ে নিয়েছেন।" আল-মাযিনী বলেন: কবিতায় "যাইদুন ইয়ারমিকা" ইয়া-তে পেশ দিয়ে এবং "ইয়াগযুকা" ওয়াও-তে পেশ দিয়ে বলা জায়েজ। আর এটিই চূড়ান্ত...
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ২৭)
أراد "ألم يأتِكَ" فأشبع الكسر فنشأت الياء.

وإشباعُ الحركات حتى تنشأ عنها هذه الحروف كثير في كلامهم1، فكذلك ههنا.

وهذا القول ظاهر الفساد؛ لأن إشباع الحركات إنما يكون في ضرورة الشعر كما أنشدوه من الأبيات، وأما في حال اختيار الكلام فلا يجوز ذلك بالإجماع، وههنا بالإجماع تقول في حال الاختيار: هذا أبُوكَ، ورأيت أبَاكَ، ومررت بِأَبِيكَ؛ وكذلك سائِرُها، فدلّ على أنها ليست للإشباع عن الحركات، وأن الحركات ليست للإعراب، على ما سنبيّن في الجواب عن كلمات الكوفيين.

أما الجواب عن كلمات الكوفيّين: أما قولهم "إن هذه الحركات تكون حركات إعراب في حال الإفراد فكذلك في حال الإضافة" قلنا: هذا فاسد؛ لأن حرف الإعراب في حال الإفراد هو الباء؛ لأن اللام التي هي الواو من "أبَو" لمّا حذفت من آخر الكلمة صارت العين التي هي الباء بمنزلة اللام في كونها آخر الكلمة؛ فكانت الحركات عليها حركات إعراب، فأما في حال الإضافة فحرف الإعراب هو حرف العلة؛ لأنهم لما أرادوا أن يجعلوا اختلاف الحروف بمنزلة اختلاف الحركات ردُّوا اللام في الإضافة؛ ليدلوا على أن من شأنهم الإعراب بالحروف توطئة لما يأتي من باب التثنية والجمع، وإذا كان حرف الإعراب هو حرف العلة لم تكن هذه الحركات على الباء في حال الإضافة حركات إعراب؛ لأن حركات الإعراب لا تكون في حَشْو الكلمة، وصار هذا بمنزلة تاء التأنيث إذا

--------------------------------------------

= بالتنوين، فتجري الحرف المعتل مجرى الحرف الصحيح من جميع الوجوه في الأسماء والأفعال جميعًا لأنه الأصل" ا. هـ. وكلام المازني هو الرأي الأول الذي ذكرناه لك، وقد ذكرنا مثلهما في شرح الشاهدين 7 و 11 فتأمل والله يرشدك.

_________

1 وربما عكسوا ذلك، فقطعوا المدة وحذفوا حرف العلة اكتفاء بالحركة المناسبة له، ومن ذلك ما أنشده سيبويه "1/ 9":

كنواح ريش حمامة نجدية … ومسحت باللثتين عصف الإثمد

فإنه أراد أن يقول "كنواحي ريش حمامة" فحذف الياء اعتمادًا على الكسرة التي قبلها أن تدلّ عليها، ومثل قول الشاعر وهو من شواهد الأشموني "رقم 18":

في كلت رجليها سلامي واحده … كلتاهما قد قرنت بزائده

فإنه أراد أن يقول "في كلتا رجليها" فحذف الألف، واكتفى بالفتحة التي قبلها أن تكون مرشدًا إليها، وقد أنشد المؤلف هذا البيت لما قلنا في المسألة "رقم 62" وذكر معه نظائر، وأعاده مع أمثاله في المسألة "رقم 72" فارتقب ما يجيء هناك.
তিনি "আলাম ইয়া'তিকা" বুঝাতে চেয়েছেন, তাই তিনি কাসরাকে (জের) দীর্ঘায়িত করেছেন ফলে একটি 'ইয়া' বর্ণ উৎপন্ন হয়েছে।

আর হরকতসমূহকে দীর্ঘায়িত করা যাতে তা থেকে এই বর্ণগুলো উৎপন্ন হয়, তা তাদের কথাবার্তায় বহুল প্রচলিত ১, ঠিক তেমনি এখানেও ঘটেছে।

আর এই উক্তিটি স্পষ্টভাবে অশুদ্ধ; কারণ হরকতের দীর্ঘায়ন কেবল কাব্যের প্রয়োজনেই (দরুরাতে শে'র) ঘটে থাকে, যেমনটি তারা বিভিন্ন কবিতায় আবৃত্তি করেছেন। কিন্তু স্বাভাবিক কথোপকথনের অবস্থায় সর্বসম্মতিক্রমে এটি জায়েয নয়। আর এখানে সর্বসম্মতিক্রমে স্বাভাবিক অবস্থায় বলা হয়: "হাযা আবূকা" (এটি তোমার পিতা), "রাআইতু আবাকা" (আমি তোমার পিতাকে দেখেছি), এবং "মারারতু বি-আবীকা" (আমি তোমার পিতার নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি); একইভাবে অন্যান্য ক্ষেত্রেও। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, এগুলো হরকত দীর্ঘ করার কারণে নয়, এবং হরকতগুলো ইরাবের (বিভক্তি) জন্য নয়, যেমনটি আমরা কুফীবাসীদের বক্তব্যের উত্তরে অচিরেই বর্ণনা করব।

কুফীবাসীদের বক্তব্যের উত্তর প্রসঙ্গে: তাদের এই বক্তব্য যে "এই হরকতগুলো একক অবস্থায় যেমন ইরাবের হরকত হয়, তেমনি সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায়ও (ইযাফাত) তাই হবে"—আমরা বলব: এটি অশুদ্ধ; কারণ একক অবস্থায় ইরাবের বর্ণ হলো 'বা' (ب); কারণ 'লাম' বর্ণটি—যা "আবুন" (أبَو) শব্দের 'ওয়াও'—যখন শব্দের শেষ থেকে বিলুপ্ত করা হলো, তখন 'আইন' বর্ণটি—যা 'বা' (ب)—শব্দের শেষ বর্ণ হিসেবে 'লাম' বর্ণের স্থলাভিষিক্ত হলো; ফলে এর ওপর অবস্থিত হরকতগুলোই ইরাবের হরকত হিসেবে গণ্য হলো। পক্ষান্তরে সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায় (ইযাফাত) ইরাবের বর্ণ হলো হরফে ইল্লাত (দুর্বল বর্ণ); কারণ তারা যখন বর্ণের পরিবর্তনকে হরকতের পরিবর্তনের স্থলাভিষিক্ত করতে চাইলেন, তখন ইযাফাতের ক্ষেত্রে 'লাম' বর্ণটিকে ফিরিয়ে আনলেন; যাতে তারা বুঝাতে পারেন যে বর্ণের মাধ্যমে ইরাব প্রদান করা তাদের একটি রীতি, যা দ্বিবচন ও বহুবচনের অধ্যায়ের ভূমিকা স্বরূপ। আর যখন ইরাবের বর্ণটি হরফে ইল্লাত হলো, তখন ইযাফাতের অবস্থায় 'বা' বর্ণের ওপর থাকা এই হরকতগুলো ইরাবের হরকত রইল না; কারণ ইরাবের হরকত শব্দের মাঝখানে থাকে না। আর এটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'তা'-এর মতো হয়ে গেল যখন...

--------------------------------------------

= তানউইন সহযোগে, ফলে এটি ইসিম ও ফেয়েল উভয় ক্ষেত্রেই সর্বদিক দিয়ে হরফে মু'তালকে (দুর্বল বর্ণ) হরফে সহীহ-এর (সবল বর্ণ) ন্যায় পরিগণিত করবে, কারণ এটিই মূল ভিত্তি।" সমাপ্ত। আর মাযিনির বক্তব্য হলো সেই প্রথম মতটি যা আমরা আপনার নিকট উল্লেখ করেছি। আমরা শাহেদ (প্রমাণ) নং ৭ ও ১১-এর ব্যাখ্যায় অনুরূপ উল্লেখ করেছি, সুতরাং চিন্তা করুন এবং আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন।

_________

১. কখনও কখনও তারা এর বিপরীতটি করেন, ফলে তারা দীর্ঘ স্বরকে সংক্ষিপ্ত করেন এবং তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হরকতের ওপর নির্ভর করে হরফে ইল্লাতকে বিলুপ্ত করেন। এর একটি উদাহরণ হলো যা সিবওয়াইহ (১/৯) আবৃত্তি করেছেন:

নাজদীয় কবুতরের পালকের করুণ সুরের ন্যায় … এবং সে মাড়িতে সুরমার চূর্ণ ঘষল

এখানে তিনি "কানা ওয়াহি রিশি হামামাতিন" বলতে চেয়েছেন, তাই তিনি পূর্ববর্তী কাসরার ওপর নির্ভর করে 'ইয়া' বর্ণটিকে বিলুপ্ত করেছেন যাতে তা বিলুপ্ত বর্ণের প্রতি ইঙ্গিত করে। যেমনটি কবির উক্তি, যা আশমুনির প্রমাণসমূহের (নং ১৮) অন্তর্ভুক্ত:

তার দুই পায়ের প্রত্যেকটিতে একটি করে কনিষ্ঠাঙ্গুলির গ্রন্থি রয়েছে … তাদের উভয়ই একটি অতিরিক্ত অংশের সাথে যুক্ত হয়েছে

এখানে তিনি "ফী কিলতা রিজলাইহা" বলতে চেয়েছেন, তাই তিনি আলিফ বিলুপ্ত করেছেন এবং পূর্ববর্তী ফাতহার (যবর) ওপর নির্ভর করেছেন যাতে তা বিলুপ্ত বর্ণের নির্দেশক হয়। লেখক ৬২ নং মাসআলায় আমাদের বক্তব্যের সপক্ষে এই কবিতাটি আবৃত্তি করেছেন এবং এর সাথে অনুরূপ উদাহরণ উল্লেখ করেছেন। তিনি ৭২ নং মাসআলায় পুনরায় এটি উদাহরণসহ উল্লেখ করেছেন, সুতরাং সেখানে যা আসছে তার জন্য অপেক্ষা করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ২৮)
اتصلت ببناء الاسم نحو قائم وقائمة فإنها تصير حرف الإعراب؛ لأنها صارت آخر الكلمة وتخرج ما قبلها عن تلك الصفة؛ لأنه قد صار بمنزلة حَشْوِ الكلمة؛ فكذلك ههنا، وبَلْ أولى؛ فإن تاء التأنيث زائدة على بناء الاسم وليست أصلية، وحرف العلة ههنا أصليٌّ في بناء الاسم وليس زائدًا، وإذا تُرِكَ ما قبل الزائد حَشْوًا فلَأن يترك ما قبل الأصليّ حشوًا كان ذلك من طريق الأولى.

وأما قولهم "إن الحركة التي تكون إعرابًا للمفرد في حال الإفراد هي بعينها تكون إعرابًا له في حال الإضافة نحو: هذا غلامٌ، وهذا غلامك "قلنا: إنما تكون الحركة فيهما واحدة إذا كان حرف الإعراب فيهما واحدًا، نحو "هذا غلام، وهذا غلامك" وقد بيّنا اختلاف حرف الإعراب فيهما؛ فلا يُقَاسُ أحدهما على الآخر، وإن ادَّعَوْا أن حرف الإعراب فيهما واحد -على خلاف التحقيق من مذهبهم- وزعموا أن الحرف للإعراب وليس بلام الكلمة، وأنه والحركة مَزِيدَانِ للإعراب، فقد بيّنا أن ذلك لا نظير له في كلامهم، وأن أحدهما زيادة بغير فائدة، وأوضحنا فساده بما يغني عن الإعادة.

وأما قولهم "تغيّر الحركات على الباء في حال الرفع والنصب والجر يدلّ على أنها حركات إعراب" قلنا: هذا لا يدل على أنها حركات إعراب؛ لأنها إنما تغيرت توطئة للحروف التي بعدها؛ لأنها من جنسها، كما قلنا في الجمع السالم نحو "مسلمون ومسلمين" فإن ضمة الميم في الرفع تتغيّر إلى الكسرة في حال الجر والنصب، وليس ذلك بإعراب، وإنما جعلت الضمة تَوْطِئة للواو، والكسرة توطئة للياء، فكذلك ههنا، وإذا بطل أن تكون هذه الحركات حركات إعراب، وأجمعنا على أن هذه الحروف -التي في الواو والألف والياء- تدل على الرفع والنصب والجر الذي هو جملة الإعراب؛ فلا حاجة إلى أن يكون معربًا من مكان آخر.

وأما قولهم"إنما أعربت هذه الأسماء الستة من مكانين لقلة حروفها" قلنا: هذا ينتقض بغدٍ ويدٍ ودمٍ؛ فإنها قليلة الحروف [و] لا تعرب في حال الإضافة إلا من مكان واحد.

وأما قولهم "ليزيدو بالإعراب في الإيضاح والبيان" قلنا: الإيضاح والبيان قد حصل بإعراب واحد، فصار الإعراب الزائد لغير فائدة، والحكم لا يزيد شيئًا لغير فائدة؛ فوجب أن تكون معربة من مكان واحد كسائر ما أعرب من الكلام، والله أعلم.
বিশেষ্যের কাঠামোর সাথে যুক্ত হয় যেমন ‘কায়েম’ ও ‘কায়েমাহ’; এক্ষেত্রে এটি ই’রাবের অক্ষরে পরিণত হয়, কারণ এটি শব্দের শেষে অবস্থিত। এটি তার পূর্ববর্তী অক্ষরকে সেই বৈশিষ্ট্য (ই’রাব গ্রহণের স্থান হওয়া) থেকে বের করে দেয়, কারণ সেটি তখন শব্দের মধ্যবর্তী অংশে পরিণত হয়। এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ, বরং আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। কারণ স্ত্রীবাচক ‘তা’ বিশেষ্যের কাঠামোর অতিরিক্ত অংশ, মূল নয়; অথচ এখানে ‘হরফে ইল্লাত’ বা স্বরবর্ণটি বিশেষ্যের কাঠামোর মূল অংশ, অতিরিক্ত নয়। যদি অতিরিক্ত বর্ণের পূর্ববর্তী অংশকে মধ্যবর্তী ধরা হয়, তবে মূল বর্ণের পূর্ববর্তী অংশকে মধ্যবর্তী ধরা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত।

আর তাদের এই বক্তব্য যে, "একবচনের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় যে হরকতটি ই’রাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সমাসবদ্ধ অবস্থায়ও হুবহু সেই হরকতটিই ই’রাব হয়; যেমন: ‘হাযা গুলামুন’ এবং ‘হাযা গুলামুকা’"; এর উত্তরে আমরা বলি: উভয়ের ক্ষেত্রে হরকত কেবল তখনই এক হবে যখন উভয়ের ই’রাবের অক্ষর এক হবে, যেমন ‘হাযা গুলাম’ ও ‘হাযা গুলামুকা’। আমরা ইতিপূর্বে উভয়ের ই’রাবের অক্ষরের ভিন্নতা স্পষ্ট করেছি; সুতরাং একটিকে অন্যটির ওপর তুলনা করা যাবে না। আর যদি তারা দাবি করে যে—তাদের মতবাদের সঠিক তাহকিকের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও—উভয় ক্ষেত্রে ই’রাবের অক্ষর এক, এবং তারা মনে করে যে বর্ণটি ই’রাবের জন্য এসেছে, শব্দের মূল শেষ অক্ষর নয়, এবং বর্ণ ও হরকত উভয়ই ই’রাবের জন্য অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে; তবে আমরা স্পষ্ট করেছি যে, তাদের ভাষায় এর কোনো নজির নেই এবং এর মধ্যে একটি হবে নিরর্থক আধিক্য। আমরা এর অসারতা এমনভাবে স্পষ্ট করেছি যা পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন রাখে না।

আর তাদের এই বক্তব্য যে, "রফা, নসব ও জর অবস্থায় ‘বা’ বর্ণের ওপর হরকতের পরিবর্তন হওয়া প্রমাণ করে যে এগুলো ই’রাবের হরকত"; এর উত্তরে আমরা বলি: এটি প্রমাণ করে না যে এগুলো ই’রাবের হরকত। কারণ এগুলো কেবল পরবর্তী বর্ণগুলোর সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য পরিবর্তিত হয়েছে; যেহেতু এগুলো সমজাতীয়। যেমনটি আমরা নিরাপদ বহুবচনের ক্ষেত্রে বলি, যেমন: ‘মুসলিমুনা’ ও ‘মুসলিমিনা’। এখানে রফা অবস্থায় মীম-এর পেশ জর ও নসব অবস্থায় যের-এ পরিবর্তিত হয়, অথচ এটি ই’রাব নয়। বরং পেশকে ‘ওয়াও’-এর অনুকূল করার জন্য এবং যেরকে ‘ইয়া’-এর অনুকূল করার জন্য আনা হয়েছে। এখানেও বিষয়টি ঠিক তেমনি। যখন এই হরকতগুলো ই’রাবের হরকত হওয়া বাতিল হয়ে গেল এবং আমরা একমত হলাম যে এই বর্ণগুলো—যা ‘ওয়াও’, ‘আলিফ’ ও ‘ইয়া’-তে বিদ্যমান—রফা, নসব ও জর অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ ই’রাব নির্দেশ করে, তখন অন্য কোনো স্থান থেকে একে ই’রাব প্রদানকারী করার আর কোনো প্রয়োজন থাকে না।

আর তাদের এই কথা যে, "এই ছয়টি বিশেষ্যকে অক্ষরের স্বল্পতার কারণে দুই স্থান থেকে ই’রাব প্রদান করা হয়েছে"; এর উত্তরে আমরা বলি: ‘আগামীকাল’, ‘হাত’ এবং ‘রক্ত’ শব্দগুলো দ্বারা এটি খণ্ডন হয়ে যায়। কারণ এগুলোর অক্ষর কম হওয়া সত্ত্বেও সমাসবদ্ধ অবস্থায় কেবল এক স্থান থেকেই ই’রাব গ্রহণ করে।

আর তাদের এই বক্তব্য যে, "যাতে ই’রাবের মাধ্যমে স্পষ্টতা ও বর্ণনা বৃদ্ধি পায়"; এর উত্তরে আমরা বলি: স্পষ্টতা ও বর্ণনা তো একটি ই’রাব দ্বারাই অর্জিত হয়ে গেছে, ফলে অতিরিক্ত ই’রাবটি নিরর্থক হয়ে দাঁড়ায়। আর কোনো বিধান উপযোগিতা ছাড়া বৃদ্ধি করা হয় না। সুতরাং বাক্যের অন্যান্য ই’রাব গ্রহণকারী শব্দের ন্যায় এটিকেও এক স্থান থেকেই ই’রাব প্রদান করা আবশ্যক। আল্লাহ অধিক অবগত।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ২৯)
3-‌‌ مسألة: [القولُ في إعراب المثنَّى والجمع على حَدِّه] 1

ذهب الكوفيُّون إلى أن الألف والواو والياء في التثنية والجمع بمنزلة الفتحة والضمة والكسرة في أنها إعراب، وإليه ذهب أبو عليّ قُطْرُبُ بن المستنير، وزعم قوم أنه مذهب سيبويه، وليس بصحيح. وذهب البصريّون إلى أنها حروف إعراب. وذهب أبو الحسن الأخفش وأبو العباس المبرّد وأبو عثمان المازني إلى أنها ليست بإعراب ولا حروف إعراب، ولكنها تدل على الإعراب، وذهب أبو عمر الجَرْمِي إلى أن انقلابها هو الإعراب، وحُكي عن أبي إسحاق الزجاج أن التثنية والجمع مبنيان، وهو خلاف الإجماع.

أما الكوفيون فاحتجوا بأن قالوا: الدليل على أنها إعراب كالحركات أنها تتغير كتغير الحركات، ألا ترى أنك تقول: قام الزيدان، ورأيت الزيدين، ومررت بالزيدين. وذهب الزيدون، ورأيت الزيدين، ومررت بالزيدين، فتتغير كتغير الحركات، نحو "قام زيد، ورأيت زيدًا، ومررت بزيد" وما أشبه ذلك، فلما تغيرت كتغير الحركات دلّ على أنها إعراب بمنزلة الحركات، ولو كانت حروفَ إعراب لما جاز أن تتغير ذَوَاتُها عن حالها؛ فلما تغيرت تغير الحركات دلّ على أنها بمنزلتها، ولهذا سماها سيبويه حروف الإعراب؛ لأنها الحروف التي أعرب الاسم بها، كما يقال: حركات الإعراب -أي الحركات التي أعرب الاسم بها- والذي يدل على ذلك أنه جعل الألف في التثنية رفعًا فقال: يكون في الرفع ألفًا، وجعل الياء فيها جرًّا فقال: يكون في الجر ياء مفتوحًا ما قبلها، وجعل الياء أيضًا نصبًا حملًا على الجر فقال:

--------------------------------------------

1 انظر في هذه المسألة: شرح الرضي على كافية ابن الحاجب "2/ 160" وشرح موفق الدين بن يعيش على المفصل "ص63 و 588 أوروبة" وشرح الأشموني "1/ 44 بتحقيقنا" وحاشية الصبان "1/ 80 بولاق" وتصريح الشيخ خالد "1/ 77 بولاق".
৩-‌‌ মাসআলা: [দ্বিবচন এবং বিধিবদ্ধ বহুবচনের ইরাব (শব্দরূপ) বিষয়ক আলোচনা] ১

কুফাবাসী ব্যাকরণবিদগণ এই মত পোষণ করেন যে, দ্বিবচন এবং বহুবচনের ক্ষেত্রে আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া হলো ফাতহা, দাম্মা এবং কাসরার সমতুল্য এই অর্থে যে, এগুলোই সরাসরি ইরাব। আবু আলী কুতরুব ইবনুল মুসতানিরও এই মত গ্রহণ করেছেন। একদল লোক দাবি করেন যে এটি সিবওয়াইহ-এর মাযহাব, তবে তা সঠিক নয়। অন্যদিকে বসরাবাসীগণ মনে করেন যে, এগুলো হলো ইরাবের বর্ণ (হুরুফুল ইরাব)। আবু হাসান আল-আখফাশ, আবু আব্বাস আল-মুবররাদ এবং আবু উসমান আল-মাযিনী এই মত পোষণ করেন যে, এগুলো ইরাবও নয় এবং ইরাবের বর্ণও নয়, বরং এগুলো ইরাবের পরিচয় প্রদান করে। আবু আমর আল-জারমী মনে করেন যে, এগুলোর রূপান্তর হওয়াই হলো ইরাব। আবু ইসহাক আয-যাজ্জাজ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, দ্বিবচন এবং বহুবচন উভয়ই মাবনী (অপরিবর্তনীয়), যা ইজমার (সর্বসম্মতির) পরিপন্থী।

কুফাবাসীরা এই বলে দলিল পেশ করেছেন যে: এগুলো হারাকাতের মতোই ইরাব হওয়ার প্রমাণ হলো যে, হারাকাতের পরিবর্তনের মতো এগুলোও পরিবর্তিত হয়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে আপনি বলেন: যায়েদান (দুই যায়েদ) দাঁড়িয়েছে, আমি যায়েদাইনকে (দুই যায়েদকে) দেখেছি এবং আমি যায়েদাইনের (দুই যায়েদের) পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি। একইভাবে যায়েদুন (যায়েদগণ) গিয়েছে, আমি যায়েদিনকে (যায়েদগণকে) দেখেছি এবং আমি যায়েদিনের (যায়েদগণের) পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি। সুতরাং হারাকাতের পরিবর্তনের মতোই এগুলোর পরিবর্তন ঘটে, যেমন: ‘যায়েদ দাঁড়িয়েছে, আমি যায়েদকে দেখেছি এবং আমি যায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি’ এবং এ জাতীয় উদাহরণ। যখন এগুলো হারাকাতের পরিবর্তনের ন্যায় পরিবর্তিত হলো, তখন তা প্রমাণ করে যে এগুলো হারাকাতের স্থলাভিষিক্ত ইরাব। যদি এগুলো ইরাবের বর্ণ হতো তবে এগুলোর মূল সত্তার অবস্থার পরিবর্তন হওয়া বৈধ হতো না। সুতরাং যখন হারাকাতের পরিবর্তনের মতো এগুলোর পরিবর্তন ঘটল, তখন তা প্রমাণ করে যে এগুলো হারাকাতের সমপর্যায়ভুক্ত। এই কারণেই সিবওয়াইহ এদেরকে 'হুরুফুল ইরাব' (ইরাবের বর্ণ) নামকরণ করেছেন; কারণ এগুলো এমন বর্ণ যার মাধ্যমে ইসমে (বিশেষ্য) ইরাব প্রকাশ করা হয়, যেমনটি বলা হয়: ‘হারাকাতুল ইরাব’ (ইরাবের হারাকাত)—অর্থাৎ সেই হারাকাতসমূহ যার মাধ্যমে ইসমে ইরাব প্রদান করা হয়েছে। এর সপক্ষে প্রমাণ হলো যে, তিনি দ্বিবচনের ক্ষেত্রে আলিফকে রাফা (পেশ) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং বলেছেন: ‘রাফা অবস্থায় এটি আলিফ হবে’। এবং যার (জের) অবস্থায় এতে ইয়া নির্ধারণ করেছেন এবং বলেছেন: ‘যার অবস্থায় এটি এমন ইয়া হবে যার পূর্বের বর্ণে ফাতহা থাকবে’। আবার নসবকেও (জবর) যার-এর অনুগামী করে ইয়া নির্ধারণ করেছেন এবং বলেছেন:

--------------------------------------------

১ এই মাসআলার ব্যাপারে দেখুন: ইবনুল হাজিবের কাফিয়ার ওপর আর-রাদীর শরহ (২/১৬০), আল-মুফাসসালের ওপর মুয়াফফাকুদ্দীন ইবনে ইয়াঈশের শরহ (পৃ. ৬৩ ও ৫৮৮ ইউরোপ), আমাদের তাহকীকসহ আল-আশমুনীর শরহ (১/৪৪), সাব্বানের হাশিয়া (১/৮০ বুলাক) এবং শেখ খালিদের তাসরীহ (১/৭৭ বুলাক)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ৩০)
ويكون في النصب كذلك، وهكذا جَعَل الواو والياء في الجمع رفعًا وجرًّا نصبًا، والرفع والجر والنصب لا يكون إلا إعرابًا؛ فدلّ على أنها إعراب.

قالوا: ولا يجوز أن يقال "إن هذا يؤدي إلى أن يكون معربًا لا حرفَ إعراب له وهذا لا نظير له، وذلك لا يجوز" لأنّا نقول هنا: إنما لا يجوز فيما يكون إعرابه بالحركة لا بالحرف؛ لأن الحركة تدخل في الحرف، بخلاف ما إذا كان معربًا بالحرف؛ لأن الحرف لا يدخل في الحرف، والذي يدل على ذلك الخمسة الأمثلة وهي: يَفْعَلَانِ، وتَفْعَلَانِ، ويَفْعَلُونَ، وتَفْعَلُونَ، وتَفْعَلِينَ يا امرأة فإنها لما كانت معربة بالحرف لم يكن لها حرف إعراب، ألا ترى أن النون علامة الرفع كالضمة في تَضْرِبُ؟ وإذا جاز أن تكون هذه الخمسة الأمثلة معربة ولا حرفَ إعرابٍ لها لأن إعرابها بالحرف، فكذلك ههنا يجوز أن يكون الاسم في التثنية والجمع معربًا ولا حرف إعراب له؛ لأن إعرابه بالحرف.

وأما البصريون فاحتجوا بأن قالوا: إنما قلنا إنها حروف إعراب وليست بإعراب لأن هذه الحروف إنما زيدت للدلالة عَلَى التثنية والجمع؟ ألا ترى أن الواحد يدل على مفرد؛ فإذا زيدت هذه الحروف دلّت على التثنية والجمع؟ فلما زيدت بمعنى التثنية والجمع صارت من تمام صيغة الكلمة التي وُضِعَتْ لذلك المعنى؛ فصارت بمنزلة التاء في قائمة والألف في حُبْلَى، وكما أن التاء والألف حرفا إعراب فكذلك هذه الحروف ههنا.

وأما من ذهب إلى أنها ليست بإعراب ولا حروف إعراب ولكنها تدل على الإعراب فقال: لأنها لو كانت إعرابًا لما اخْتَلّ معنى الكلمة بإسقاطها كإسقاط الضمة من دال زيد في قولك "قام زيد" وما أشبه ذلك، ولو أنها حروف إعراب كالدال من "زيد" لما كان فيها دلالة على الإعراب، كما لو قلت "قام زيد" من غير حركة، وهي تدل على الإعراب؛ لأنك إذا قلت "رجلان" علم أنه رفع؛ فدلّ على أنها ليست بإعراب ولا حروف إعراب، ولكنها تدلّ على الإعراب.

وهذا القول فساد، وذلك لأن قولهم "إن هذه الحروف تدل على الإعراب لا يخلو: إما أن تدل على إعراب في الكلمة، أو في غيرها؛ فإن كانت تدل على إعراب في الكلمة فوجب أن تقدر في هذه الحروف، لأنها أواخر الكلمة، فيئول هذا القول إلى أنها حروف الإعراب كقول أكثر البصريين، وإن كانت تدل على إعراب في غير الكلمة فوجب أن تكون الكلمة مبنيّة، وليس من مذهب أبي الحسن الأَخْفَش وأبي العبّاس المبرد وأبي عثمان المازنيّ أن التثنية والجمع مبنيّان.
নসবের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ হবে, এবং এভাবেই তিনি জমা (বহুবচন)-এর ক্ষেত্রে ওয়াও এবং ইয়া-কে রফ, জর এবং নসব হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আর রফ, জর ও নসব কেবল ই'রাব (বিভক্তি)-ই হয়ে থাকে; সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে এগুলোই হলো ই'রাব সরাসরি।

তাঁরা বলেন: এটি বলা বৈধ নয় যে, "এর ফলে বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যেখানে শব্দটি মু'রাব (পরিবর্তনশীল) হওয়া সত্ত্বেও তার কোনো হরফে ই'রাব (বিভক্তির বর্ণ) থাকবে না, অথচ এর কোনো নজির বা সদৃশ উদাহরণ নেই, আর তা জায়েজ হতে পারে না।" কারণ আমরা এখানে বলি: এটি কেবল তখনই নাজায়েজ যখন ই'রাব হারাকাত (স্বরচিহ্ন) দ্বারা হয়, হরফ (বর্ণ) দ্বারা নয়; কারণ হারাকাত হরফের মধ্যে প্রবেশ করে। কিন্তু যখন হরফ দ্বারা ই'রাব সম্পন্ন হয় তখন বিষয়টি ভিন্ন; কারণ এক হরফ অন্য হরফের মধ্যে প্রবেশ করে না। এর প্রমাণ হলো 'পাঁচটি উদাহরণ' (আল-আমসিলাতুল খামসাহ), যথা: তারা দুইজন করছে, তোমরা দুইজন করছ, তারা সকলে করছে, তোমরা সকলে করছ এবং হে নারী! তুমি করছ। যেহেতু এই উদাহরণগুলো হরফ দ্বারা মু'রাব হয়েছে, সেহেতু এদের কোনো পৃথক হরফে ই'রাব নেই। আপনি কি দেখছেন না যে, 'সে প্রহার করছে' শব্দের পেশ (যাম্মাহ)-এর ন্যায় এখানে 'নুন' হলো রফ-এর আলামত বা চিহ্ন? যদি এই পাঁচটি উদাহরণ মু'রাব হওয়া সত্ত্বেও তাদের কোনো হরফে ই'রাব না থাকা জায়েজ হয়—যেহেতু তাদের ই'রাব হলো হরফ দ্বারা—তবে এখানেও দ্বিবচন ও বহুবচনের ইসম (বিশেষ্য) মু'রাব হওয়া এবং তার কোনো হরফে ই'রাব না থাকা বৈধ হবে; কারণ এর ই'রাবও হরফ দ্বারাই সম্পন্ন হয়েছে।

পক্ষান্তরে বসরী ব্যাকরণবিদগণ এই বলে দলিল পেশ করেছেন যে: আমরা কেবল একারণেই বলেছি যে এগুলো হলো হরফে ই'রাব (বিভক্তির বর্ণ), ই'রাব (বিভক্তি) নয়; কারণ এই হরফগুলো কেবল দ্বিবচন ও বহুবচনের অর্থ প্রকাশের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। আপনি কি দেখছেন না যে, একবচন কেবল একক সত্তাকে নির্দেশ করে; কিন্তু যখন এই হরফগুলো যুক্ত করা হয়, তখন তা দ্বিবচন ও বহুবচনের অর্থ প্রদান করে? সুতরাং যখন এগুলো দ্বিবচন ও বহুবচনের অর্থের জন্য যুক্ত করা হলো, তখন এগুলো সেই অর্থের জন্য গঠিত শব্দের মূল কাঠামোর পূর্ণতা হিসেবে গণ্য হলো; যেমনটি 'দণ্ডায়মান' (স্ত্রীলিঙ্গ) শব্দের 'তা' এবং 'গর্ভবতী' শব্দের 'আলিফ'-এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর 'তা' এবং 'আলিফ' যেমন হরফে ই'রাব, তেমনি এখানেও এই হরফগুলো হরফে ই'রাব হিসেবে গণ্য হবে।

আর যারা এই মত পোষণ করেন যে, এগুলো ই'রাবও নয় এবং হরফে ই'রাবও নয়, বরং এগুলো কেবল ই'রাবের নির্দেশক; তাঁরা বলেন: কারণ এগুলো যদি ই'রাব হতো, তবে এগুলো বিলুপ্ত করলে শব্দের অর্থ বিঘ্নিত হতো না, যেমনটি আপনার উক্তি 'যাইদ দাঁড়িয়েছে'-এর 'যাইদ' শব্দের 'দাল' থেকে পেশ (যাম্মাহ) বিলুপ্ত করলে ঘটে থাকে এবং এই জাতীয় অন্যান্য উদাহরণ। আবার এগুলো যদি 'যাইদ' শব্দের 'দাল'-এর ন্যায় হরফে ই'রাব হতো, তবে সেগুলোর মধ্যে ই'রাবের কোনো নির্দেশক ক্ষমতা থাকত না, যেমনটি আপনি যদি হারাকাত (স্বরচিহ্ন) ছাড়া 'যাইদ দাঁড়িয়েছে' বলেন। অথচ এগুলো ই'রাবকে নির্দেশ করে; কারণ আপনি যখন 'দুইজন ব্যক্তি' বলেন, তখন এটি যে রফ-এর অবস্থায় আছে তা জানা যায়। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, এগুলো ই'রাবও নয় এবং হরফে ই'রাবও নয়, বরং এগুলো ই'রাবের নির্দেশক মাত্র।

তবে এই অভিমতটি ত্রুটিপূর্ণ। এর কারণ হলো, তাঁদের এই বক্তব্য যে—'এই হরফগুলো ই'রাবকে নির্দেশ করে'—তা দুটি অবস্থার বাইরে নয়: হয় তা ওই শব্দের ভেতরের ই'রাবকে নির্দেশ করবে, অথবা অন্য কিছুর ই'রাবকে। যদি তা ওই শব্দের ই'রাবকেই নির্দেশ করে, তবে তা এই হরফগুলোর মধ্যেই নিহিত থাকা আবশ্যক, কারণ এগুলোই শব্দের শেষ প্রান্ত। ফলে এই অভিমতটি শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ বসরী ব্যাকরণবিদের মতের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে যে—এগুলো হলো হরফে ই'রাব। আর যদি তা অন্য কোনো শব্দের ই'রাবকে নির্দেশ করে, তবে সংশ্লিষ্ট শব্দটি 'মাবনি' (অপরিবর্তনীয়) হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। অথচ আবুল হাসান আল-আখফাশ, আবুল আব্বাস আল-মুবররাদ এবং আবু উসমান আল-মাযিনী—তাঁদের কারো মতেই দ্বিবচন ও বহুবচনের রূপগুলো 'মাবনি' নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ৩১)
وأما مَنْ ذهب إلى أن انقلابها هو الإعراب فقد أفسده بعض النحويين من وجهين؛

أحدهما: أن هذا يؤدي إلى أن يكون الإعراب بغير حركة ولا حرف، وهذا لا نظير له في كلامهم.

والوجه الثاني: أن هذا يؤدي إلى أن يكون التثنية ولجمع في حال الرفع مبنيين؛ لأن أولَ أحوال الاسم الرفعُ ولا انقلاب له، وأن يكونا في حال النصب والجر معربين؛ لانقلابهما. وليس من مذهب أبي عمر الجَرْمِي أن التثنية والجمع مبنيان في حال من الأحوال.

وأما مَنْ ذهب إلى أنهما مبنيان فقال: إنما قلت ذلك لأن هذه الحروف زيدت على بناء المفرد في التثنية والجمع، فنزِّلا منزلة ما ركب من الاسمين نحو "خَمْسَةَ عَشَرَ" وما أشبهه.

وهذا القول أيضًا يفسد من وجهين؛ أحدهما: أن التثنية والجمع وضعًا على هذه الصيغة لأن يَدُلَّا على معنييهما من التثنية والجمع، وإنما يفرد المفرد في الحكم لوجود لفظه، وإذا كان كذلك لم يجرِ أن يُشَبَّهَا بما ركب من شيئين منفصلين كخمسة عشر وما أشبهه، والوجه الثاني: أنهما لو كانا مبنيين لكان يجب أن لا يختلف آخرهما باختلاف العوامل فيهما؛ لأن المبني ما لا يختلف آخره باختلاف العوامل فيه، فلما اختلف ههنا آخر التثنية والجمع باختلاف العوامل فيهما دلّ على أنهما معربان لا مبنيان.

وأما الجواب عن كلمات الكوفيين: أمّا قولهم "إنها هي الإعراب كالحركات بدليل أنها تتغير تغيُّر الحركات" فالجواب عنه من ثلاثة أوجه:

أحدها: أن القياس كان يقتضي أن لا تتغير كقراءة من قرأ: "إِنَّ هَذَانِ لَسَاحِرَانِ" على لغة بني الحارث بن كعب، إلا أنهم عَدَلُوا عن هذا القياس لإزالة اللَّبْس، ألا ترى أنك لو قلت "ضرب الزيدان العمران" لوقَع الالتبَاسُ، وليس هذا بمنزلة المقصور في نحو "ضرب موسى عيسى" لأن المقصور يزول عنه اللبس بالوصف والتوكيد؛ لأنه ليس من شرط وصف المقصور أن يكون مقصورًا، وكذلك التوكيد؛ بخلاف المثنى والمجموع؛ لأنه من شرط وصف المثنى أن يكون مثنى، ومن شرط وصف المجموع أن يكون مجموعًا1، وكذلك التوكيد، فَبَانَ الفرق بينهما؛ والذي يدل على أن هذه الأحرف ليست إعرابًا كالحركات أنها لو كانت هي الإعراب كالحركات لكان يجب أن لا يُخِلَّ سقوطُها بمعنى الكلمة كما لو

--------------------------------------------

1 لكن لا يلزم أن يكون وصف جمع المذكر جمعًا مذكرًا؛ بل يجوز أن يكون جمع تكسير نحو" هؤلاء الزيدون الأفاضل" فيزول عنه اللبس بالوصف، وزواله بالتوكيد ظاهر؛ فلم يتم الفرق.
আর যারা এই মত পোষণ করেছেন যে এদের রূপান্তরই হলো ই'রাব (বিভক্তি), কিছু বৈয়াকরণ তাদের এই মতটিকে দুটি দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন;

প্রথমত: এটি এমন একটি পরিণতির দিকে নিয়ে যায় যেখানে ই'রাব কোনো হরকত (স্বরচিহ্ন) বা হরফ (বর্ণ) ছাড়াই সাব্যস্ত হয়, যা তাদের (আরবদের) বাক্যে নজিরবিহীন।

দ্বিতীয়ত: এটি এই পরিণতির দিকে নিয়ে যায় যে, দ্বিবচন ও বহুবচন পেশের (রাফ) অবস্থায় 'মাবনি' (অপরিবর্তনীয়) হবে; কারণ বিশেষ্যের প্রাথমিক অবস্থা হলো পেশ এবং এতে কোনো রূপান্তর নেই। আর যবর (নাসব) ও যেরের (জার) অবস্থায় সেগুলো 'মু'রাব' (পরিবর্তনশীল) হবে, কারণ সেখানে রূপান্তর রয়েছে। অথচ আবু আমর আল-জারমি-র মাযহাব (অভিমত) এটি নয় যে, দ্বিবচন ও বহুবচন কোনো অবস্থাতেই মাবনি হবে।

আর যারা এই মত পোষণ করেছেন যে তারা উভয়ই মাবনি, তারা বলেছেন: আমি এ কথা বলেছি কারণ দ্বিবচন ও বহুবচনে এই অক্ষরগুলো একবচনের কাঠামোর অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়েছে, ফলে সেগুলোকে দুটি বিশেষ্যের সমন্বয়ে গঠিত শব্দের মর্যাদায় গণ্য করা হয়েছে, যেমন "খামসাতা আশারা" এবং এর সদৃশ শব্দগুলো।

এই মতটিও দুটি দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ; প্রথমত: দ্বিবচন ও বহুবচনকে এই কাঠামোতে গঠনই করা হয়েছে যাতে তারা দ্বিবচন ও বহুবচনের অর্থের ওপর দালালত (নির্দেশ) করতে পারে। মূলত একবচনকে হুকুমের ক্ষেত্রে আলাদা করা হয় তার শব্দের অস্তিত্বের কারণে। যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে তাদের (দ্বিবচন ও বহুবচনের) সাথে দুটি পৃথক বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত শব্দ, যেমন পনের এবং এর সদৃশ শব্দের তুলনা করা চলে না। দ্বিতীয়ত: তারা যদি মাবনি হতো, তবে আমিল (প্রভাবক) পরিবর্তনের ফলে তাদের শেষাংশে পরিবর্তন না হওয়া আবশ্যক ছিল; কারণ মাবনি হলো তাই যার শেষাংশ আমিল পরিবর্তনের ফলে পরিবর্তিত হয় না। যেহেতু এখানে আমিল পরিবর্তনের ফলে দ্বিবচন ও বহুবচনের শেষাংশ পরিবর্তিত হয়েছে, তাই এটি প্রমাণ করে যে তারা মু'রাব, মাবনি নয়।

আর কুফাবাসীদের যুক্তির জবাব হলো: তাদের এই বক্তব্য যে "সেগুলো হরকতের মতোই ই'রাব, যার প্রমাণ হলো সেগুলো হরকতের মতোই পরিবর্তিত হয়"—এর জবাব তিনটি দিক থেকে দেওয়া যায়:

প্রথমত: নিয়ম অনুযায়ী (কিয়াস) এগুলো পরিবর্তিত না হওয়া আবশ্যক ছিল, যেমন বনু হারিস বিন কাব-এর উপভাষা অনুযায়ী যারা পাঠ করেছেন: "নিশ্চয় এই দুইজন জাদুকর", তবে বিভ্রান্তি দূর করার জন্য তারা এই নিয়মের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। আপনি কি দেখছেন না যে, আপনি যদি বলেন "দুই জায়েদ দুই আমরকে প্রহার করেছে" (দ্বিবচনের রূপ পরিবর্তন না করে), তবে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হবে? এটি 'মাকসুর' শব্দের মতো নয়, যেমন "মুসা ঈসাকে প্রহার করেছে", কারণ মাকসুর শব্দের বিভ্রান্তি গুণবাচক শব্দ (সিফাত) এবং তাকিদ (নিশ্চয়তা) দ্বারা দূর করা যায়; কারণ মাকসুর শব্দের গুণের ক্ষেত্রে মাকসুর হওয়া শর্ত নয়, তাকিদের ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু দ্বিবচন ও বহুবচনের বিষয়টি ভিন্ন; কারণ দ্বিবচনের সিফাত হওয়ার জন্য দ্বিবচন হওয়া শর্ত এবং বহুবচনের সিফাত হওয়ার জন্য বহুবচন হওয়া শর্ত১, তেমনি তাকিদের ক্ষেত্রেও। ফলে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে গেল। আর এই বর্ণগুলো যে হরকতের মতো ই'রাব নয় তার প্রমাণ হলো, যদি এগুলো হরকতের মতো ই'রাব হতো তবে শব্দ থেকে এগুলো ঝরে পড়লে শব্দের অর্থের কোনো ক্ষতি হতো না, যেমনটি হয়...

--------------------------------------------

১ তবে পুরুষবাচক বহুবচনের সিফাত পুরুষবাচক বহুবচন হওয়াই আবশ্যক নয়; বরং তা ভগ্ন বহুবচন (জম'আ তাকসীর) হতে পারে, যেমন- "এই জায়েদগণ মহৎ ব্যক্তিগণ"। ফলে সিফাতের মাধ্যমে বিভ্রান্তি দূর হয়ে যায় এবং তাকিদের মাধ্যমে বিভ্রান্তি দূর হওয়া তো স্পষ্ট; তাই পার্থক্যটি আর অবশিষ্ট রইল না।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ৩২)
سقطت الحركات؛ لأن سقوط الإعراب لا يخلُّ بمعنى الكلمة، ألا ترى أنك لو أسقطت الضمة والفتحة والكسرة من الاسم نحو "قام زَيْدْ، ورأيت زَيْدْ، ومررت بزَيْدْ" لم يخلّ بمعنى الاسم، ولو أسقطت الألف والواو والياء من التثنية والجمع لأخلّ بمعنى التثنيه والجمع؟ فلما أخَلَّ سقوط هذه الحروف بمعنى التثنية والجمع بخلاف الحركات دلَّ على أنها ليست بإعراب كالحركات.

والوجه الثاني: أن هذه الحروف إنما تغيرت في التثنية والجمع؛ لأن لهما خاصية لا تكون في غيرها استحَقّا من أجلها التغيير، وذلك أن كل اسم معتل لا تدخله الحركات –نحو "رَحًى، وعَصًا، وحُبَلي، وبُشْرى" له نظير من الصحيح يدل على مثل إعرابه، فنظير رحًى وعصًا: جمَل وجَبَل، ونظير حُبْلى وبُشْرى: حمراء وصحراء، وأما التثنية وهذا الجمع الذي على حدها، فلا نظير لواحد منهما إلا بتثنية أو جمع، فعوضا من فقد النظير الدالّ على مثل إعرابها تغيُّر هذه الحروف فيهما.

والوجه الثالث: أن هذا ينتقض بالضمائر المتصلة والمنفصلة؛ فإنها تتغير في حال الرفع والنصب والجر، وليس تغيرها إعرابًا، ألا ترى أنك تقول في المنفصلة "أنا، وأنت" في حال الرفع، و "إياي، وإياك" في حال النصب، وتقول في المتصلة "مررت بك" فتكون الكاف في موضع جر وهي اسم مخاطب، و "رأيتك" فتكون في موضع نصب، وتقول "قمت، وقعدت" فتكون التاء في موضع رفع، فتتغير هذه الضمائر في هذه الأحوال وإن لم يكن تغيرها إعرابًا.

وأما قولهم "إن سيبويه سماها حروف الإعراب" قلنا: هذه حجة عليكم؛ لأن حروف الإعراب هي أواخر الكلم، وهذه الحروف هي أواخر الكلم؛ فكانت حروف الإعراب، قولهم "إنما سماها حروف الإعراب، لأنها التي أُعْرِبَ الاسم بها، كما تقول: حركات الإعراب قلنا: هذا خلاف الظاهر؛ فإن الظاهر في اصطلاح النحويين أنه إذا أطلق حرف الإعراب إنما يطلق على آخر حرف من الكلمة، نحو الدال من "زيد" والراء من "عمرو" لا على الحرف الذي يكون إعرابًا للكلمة، ألا ترى أن الخمسة الأمثلة أعربت بالحرف، ولا حرفَ إعرابٍ لها؟

وأما قولهم "إنه جعل الألف والواو والياء في التثنية والجمع رفعًا وجرًّا ونصبًا إلى آخر ما ذكروه" قلنا: معنى قوله "يكون في الرفع ألفًا، ويكون في الجر ياء، وفي النصب كذلك" أي أنه يقع موقع المرفوع، وإن لم يكن مرفوعًا ويقع موقع المجرور وإن لم يكن مجرورًا، ويقع موقع المنصوب وإن لم يكن منصوبًا، كما يقال: ضمير المرفوع، وضمير المنصوب، وضمير المجرور، وإن لم يكن
হরকতসমূহ বিলুপ্ত হয়েছে; কারণ ই'রাবের বিলুপ্তি শব্দের অর্থে কোনো ব্যাঘাত ঘটায় না। আপনি কি দেখেন না যে, আপনি যদি বিশেষ্য থেকে দম্মাহ, ফাতহাহ এবং কাসরাহ বিলুপ্ত করেন—যেমন: "যায়দ দাঁড়াল, আমি যায়দকে দেখলাম, আমি যায়দের নিকট দিয়ে গেলাম"—তবে বিশেষ্যের অর্থে কোনো ত্রুটি ঘটে না? কিন্তু আপনি যদি দ্বিবচন ও বহুবচন থেকে আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া বিলুপ্ত করেন, তবে তা দ্বিবচন ও বহুবচনের অর্থে ত্রুটি সৃষ্টি করবে। সুতরাং যেহেতু এই বর্ণগুলোর বিলুপ্তি দ্বিবচন ও বহুবচনের অর্থে ত্রুটি সৃষ্টি করে (হরকতের বিপরীত), তাই এটি প্রমাণ করে যে এগুলো হরকতের মতো ই'রাব নয়।

দ্বিতীয় কারণ: এই বর্ণগুলো দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে পরিবর্তিত হয়; কারণ এ দুটির এমন কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্যগুলোতে নেই এবং যে কারণে তারা এই পরিবর্তনের উপযুক্ত হয়েছে। বিষয়টি হলো, প্রতিটি দুর্বল বর্ণযুক্ত (মুতাল) বিশেষ্য যেগুলোতে হরকত প্রবেশ করে না—যেমন: "রাহা, আসা, হুবলা এবং বুশরা"—সেগুলোর সঠিক বর্ণযুক্ত (সহীহ) সমজাতীয় শব্দ রয়েছে যা তাদের ই'রাবের ধরন প্রকাশ করে। যেমন: "রাহা" এবং "আসা"-এর সমজাতীয় শব্দ হলো "জামাল" এবং "জাবাল"; আর "হুবলা" এবং "বুশরা"-এর সমজাতীয় হলো "হামরা" এবং "সাহরা"। কিন্তু দ্বিবচন এবং এই পর্যায়ের বহুবচনের ক্ষেত্রে, দ্বিবচন বা বহুবচন ব্যতীত এদের কোনোটিরই কোনো সমজাতীয় শব্দ নেই। সুতরাং তাদের ই'রাবের নির্দেশক সমজাতীয় শব্দের অভাবের বিনিময় স্বরূপ এগুলোতে এই বর্ণগুলোর পরিবর্তন নির্ধারণ করা হয়েছে।

তৃতীয় কারণ: এই বিষয়টি সংলগ্ন ও বিযুক্ত সর্বনামসমূহের মাধ্যমে খণ্ডিত হয়; কারণ এগুলো রফউ, নাসব এবং জার—এই অবস্থাসমূহে পরিবর্তিত হয়, অথচ তাদের এই পরিবর্তন ই'রাব নয়। আপনি কি দেখেন না যে, বিযুক্ত সর্বনামের ক্ষেত্রে রফউ-এর অবস্থায় আপনি বলেন "আমি" ও "তুমি", আর নাসব-এর অবস্থায় বলেন "কেবল আমাকে" ও "কেবল তোমাকে"? আবার সংলগ্ন সর্বনামের ক্ষেত্রে বলেন "আমি তোমার নিকট দিয়ে গেলাম", তখন 'কাফ' বর্ণটি জারের স্থলে থাকে এবং তা সম্বোধনবাচক বিশেষ্য; আবার বলেন "আমি তোমাকে দেখলাম", তখন তা নাসবের স্থলে থাকে; এবং বলেন "আমি দাঁড়ালাম" ও "আমি বসলাম", তখন 'তা' বর্ণটি রফউ-এর স্থলে থাকে। সুতরাং এই সর্বনামগুলো এই সকল অবস্থায় পরিবর্তিত হয়, যদিও তাদের এই পরিবর্তন ই'রাব নয়।

আর তাদের এই উক্তি যে, "সিবওয়াইহ এগুলোকে ই'রাবের বর্ণ হিসেবে নামকরণ করেছেন"—আমরা বলি: এটি আপনাদের বিপক্ষেই একটি প্রমাণ; কারণ ই'রাবের বর্ণ হলো শব্দের শেষ বর্ণসমূহ, আর এই বর্ণগুলোও শব্দের শেষ বর্ণ; তাই এগুলো ই'রাবের বর্ণ হিসেবে গণ্য। তাদের উক্তি যে, "তিনি এগুলিকে ই'রাবের বর্ণ নাম দিয়েছেন কারণ এগুলোর মাধ্যমেই বিশেষ্যকে ই'রাব দেওয়া হয়, যেমনটি আপনি বলেন: ই'রাবের হরকতসমূহ"—আমরা বলি: এটি বাহ্যিক সংজ্ঞার পরিপন্থী; কারণ ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় এটি স্পষ্ট যে, যখন 'ই'রাবের বর্ণ' শব্দটি নিঃশর্তভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা শব্দের শেষ বর্ণের ওপরই প্রযুক্ত হয়, যেমন: "যায়দ"-এর দাল এবং "আমর"-এর রা। এটি সেই বর্ণের ওপর প্রযুক্ত হয় না যা শব্দের ই'রাব হিসেবে কাজ করে। আপনি কি দেখেন না যে, পাঁচটি উদাহরণ (ক্রিয়া) বর্ণের মাধ্যমে ই'রাব প্রাপ্ত হয়, অথচ সেগুলোর কোনো ই'রাবের বর্ণ (শেষ বর্ণ হিসেবে) নেই?

আর তাদের উক্তি যে, "তিনি দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া-কে রফউ, জার ও নাসব হিসেবে গণ্য করেছেন..." তাদের উল্লিখিত শেষ পর্যন্ত—আমরা বলি: তাঁর কথার অর্থ হলো "রফউ-এর অবস্থায় আলিফ হবে, আর জার ও নাসব-এর অবস্থায় ইয়া হবে" অর্থাৎ এগুলো মারফূ'-এর স্থলে অবস্থান করে যদিও তা মারফূ' নয়, এবং মাজরূর-এর স্থলে অবস্থান করে যদিও তা মাজরূর নয়, এবং মানসূব-এর স্থলে অবস্থান করে যদিও তা মানসূব নয়। যেমনটি বলা হয়: মারফূ' সর্বনাম, মানসূব সর্বনাম এবং মাজরূর সর্বনাম, যদিও তা...
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
شيء منها مرفوعًا ولا منصوبًا ولا مجرورًا، وإنما المرفوع والمنصوب والمجرور ما يقع موقعها من الأسماء المعربة؛ فكذلك هذه الحروف تقع موقع ما يحلّ فيه الإعراب وإن لم يكن فيها إعراب لوقوعها موقع ما يحلّ فيه الإعراب إذا وجد، وصار هذا كقول علماء العربية "حروف الزوائد عشرة يجمعها لا أنسيتموه" وإن كانت هذه الحروف قد تقع زائدة وأصلية، ألا ترى أن اللام أصلية في"جَبَل، وجَمَل" كما هي زائدة في "زَيْدَلٍ، وعَبْدَلٍ" وكذلك سائرها، ثم سُمِّيتْ بذلك لأن الحروف الزوائد لا تخرج عنها، فكذلك ههنا؛ فدلّ على أنها حروف الإعراب، والذي يدل على أنها ليست هي الإعراب أنا لو قلنا إنها هي الإعراب لأدّى إلى أن يكون معرب لا حَرْفَ إعراب له، وهذا لا نظير له.

قولهم:"هذا إنما لا يجوز فيما يكون إعرابه بالحركة لا بالحرف" قلنا: لا نسلم، بل الأصل في كل معرب أن يكون له حرف إعراب، سواء كان معربًا بالحركة أو معربًا بالحرف، فأما الخمسة1 أمثلة فمنهم من ذهب إلى أن لها حرف إعراب وهي الألف في "يفعلان" والواو في "يفعلون والياء في "تفعلين" فعلى هذا لا نسلم، ولئن سلّمنا على المذهب المشهور فإنما أعربت ولا حرف إعراب لها على خلاف الأصل، وذلك لأنّا لو قدَّرْنَا لها حرف إعراب لم يَخْلُ: إما أن يكون اللام، أو الضمير، أو النون؛ بطل أن يكون حرف الإعراب اللام؛ لأن من الإعراب الجزم؛ فلو جعلناه اللام لوجب أن يسكن في حالة الجزم؛ فكان يؤدّي إلى أن يحذف ضمير الفاعل2، وذلك لا يجوز، وبطل أيضًا أن يكون الضمير حرف الإعراب؛ لأن الضمير في الحقيقة ليس جزءًا من الفعل، وإنما هو اسم قائم بنفسه في موضع رفع؛ لأنه فاعل؛ فلا يجوز أن يكون إعرابًا لكلمة أخرى، وعلى هذا تخرج الألف والواو والياء في تثنية الأسماء وجمعها؛ فإنها حروف لا تقوم بنفسها ولا موضع لها من الإعراب؛ فجاز أن تكون حروف الإعراب، وبطل أن تكون النون حرف الإعراب؛ لأنها ليست كحرف من الفعل، وإنما هي بمنزلة الحركة التي هي الضمة، ولهذا تحذف في الجزم والنصب، ولا يُخِلُّ حذفها بمعنى الفعل، ولو كانت حرف الإعراب لما حذفت مع تحركها ولأخلّ حذفها بمعنى الفعل، ولكان الإعراب جاريًا عليها؛ فلذلك لم يجز أن تكون حرف الإعراب، وعلى هذا تخرج الألف والواو والياء في التثنية والجمع؛ فإنها بمنزلة حروفها، ويختلُّ معناهما بحذفها؛ فلذلك جاز أن تكون حروف الإعراب على ما بينَّا، والله أعلم

--------------------------------------------

1 هذا التعبير غير جائز عند البصريين والكوفيين جميعًا؛ والصواب أن يقال "فأما خمسة الأمثلة".

2 للتخلّص من التقاء الساكنين: اللام حالة الجزم، والألف أو الواو أو الياء اللائي هنّ ضمائر الفاعلين.
এগুলোর কোনটিই রফ' (পেশ) যুক্ত, নসব (যবর) যুক্ত বা জর (জের) যুক্ত নয়; বরং রফ', নসব এবং জর যুক্ত হয় সেইসব রূপান্তরযোগ্য বিশেষ্য (আসমা মু’রাবা), যা এদের স্থানে অবস্থান করে। অনুরূপভাবে, এই হরফগুলো এমন কিছুর স্থানে অবস্থান করে যাতে ইরাব (শব্দরূপ পরিবর্তন) কার্যকর হয়, যদিও এগুলোর মধ্যে কোনো ইরাব নেই; কারণ এগুলো এমন কিছুর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে যেখানে ইরাব বিদ্যমান থাকে। আর এটি আরবি ভাষাবিদদের এই উক্তির মতো হয়েছে: "অতিরিক্ত হরফসমূহ দশটি, যা 'লা আনসাইতুমুহু' বাক্যাংশটি দ্বারা সংগৃহীত।" যদিও এই হরফগুলো কখনো অতিরিক্ত হিসেবে আবার কখনো মূল অক্ষর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আপনি কি দেখেন না যে, 'লাম' হরফটি 'জাবাল' (পাহাড়) এবং 'জামাল' (উট) শব্দে মূল অক্ষর, যেমনটি এটি 'যাইদাল' এবং 'আবদাল' শব্দে অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে। তদ্রূপ অন্যান্য হরফগুলোও। অতঃপর এদের এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ অতিরিক্ত হরফসমূহ এর বাইরে যায় না। এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ; সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে এগুলোই হলো ইরাব-এর হরফ (শব্দরূপ পরিবর্তনের অক্ষর)। আর যা প্রমাণ করে যে এগুলোই সরাসরি ইরাব নয় তা হলো—যদি আমরা বলতাম যে এগুলোই ইরাব, তবে এটি এমন এক অবস্থায় নিয়ে যেত যেখানে একটি শব্দ রূপান্তরযোগ্য (মু’রাব) অথচ তার কোনো ইরাব বহনকারী হরফ নেই; আর এর কোনো নজির নেই।

তাদের বক্তব্য: "এটি কেবল সেখানেই বৈধ নয় যেখানে ইরাব হরকতের (স্বরচিহ্ন) মাধ্যমে হয়, হরফের (অক্ষর) মাধ্যমে নয়।" আমরা বলি: আমরা এটি স্বীকার করি না; বরং প্রত্যেক মু’রাব (রূপান্তরযোগ্য শব্দ) এর মূল নিয়ম হলো তার একটি 'ইরাব বহনকারী হরফ' থাকবে, চাই তা হরকতের মাধ্যমে ইরাবপ্রাপ্ত হোক কিংবা হরফের মাধ্যমে। আর 'পাঁচটি উদাহরণ' (আল-আমসিলাতুল খামসাহ) সম্পর্কে কেউ কেউ এই মত পোষণ করেছেন যে, সেগুলোর ইরাব বহনকারী হরফ রয়েছে; আর তা হলো 'ইয়াফআলাানি'-এর আলিফ, 'ইয়াফআলূনা'-এর ওয়াও এবং 'তাফআলিনা'-এর ইয়া। এই মতানুসারেও আমরা তাদের কথা মেনে নিই না। আর যদি আমরা প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী মেনেও নিই, তবে তা মূল নিয়মের বিপরীতে ইরাবপ্রাপ্ত হয়েছে অথচ তার কোনো ইরাব বহনকারী হরফ নেই। কারণ, আমরা যদি সেগুলোর জন্য কোনো ইরাব বহনকারী হরফ ধরে নিই, তবে তা তিনটি অবস্থার বাইরে হবে না: হয় তা হবে 'লাম' (ক্রিয়ার শেষ মূল অক্ষর), অথবা যমীর (সর্বনাম), অথবা 'নূন'। ইরাব বহনকারী হরফটি 'লাম' হওয়া বাতিল; কারণ ইরাবের একটি অবস্থা হলো 'জাযম' (সুদুন)। যদি আমরা 'লাম'-কে ইরাব বহনকারী হরফ গণ্য করি, তবে জাযমের অবস্থায় একে সাকিন করা আবশ্যক হতো; যার ফলে ফায়িল বা কর্তার যমীরটি বিলুপ্ত করা লাগত, যা বৈধ নয়। অনুরূপভাবে, যমীর ইরাব বহনকারী হরফ হওয়াও বাতিল; কারণ যমীর প্রকৃতপক্ষে ক্রিয়ার অংশ নয়, বরং এটি একটি স্বতন্ত্র বিশেষ্য যা রফ-এর স্থানে থাকে, যেহেতু এটি ফায়িল (কর্তা)। সুতরাং এটি অন্য কোনো শব্দের জন্য ইরাব হওয়া জায়েয নয়। এই নিরিখে বিশেষ্যের দ্বিবচন ও বহুবচনের আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া স্বতন্ত্র হিসেবে গণ্য হবে; কারণ সেগুলো এমন হরফ যা নিজে নিজে দাঁড়াতে পারে না এবং ইরাবে তাদের নিজস্ব কোনো স্থান নেই; তাই সেগুলো ইরাব বহনকারী হরফ হওয়া জায়েয। আর 'নূন' ইরাব বহনকারী হরফ হওয়াও বাতিল; কারণ এটি ক্রিয়ার কোনো অক্ষরের মতো নয়, বরং এটি পেশ বা দম্মা হরকতের সমতুল্য। এই কারণেই জাযম ও নসবের অবস্থায় এটি বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং এটি বিলুপ্ত করলে ক্রিয়ার অর্থের কোনো ক্ষতি হয় না। যদি এটি ইরাব বহনকারী হরফ হতো, তবে হরকত থাকা অবস্থায় এটি বিলুপ্ত হতো না এবং এটি বিলুপ্ত করলে ক্রিয়ার অর্থের ব্যাঘাত ঘটত, আর এর উপরেই ইরাব কার্যকর হতো। তাই এটি ইরাব বহনকারী হরফ হওয়া বৈধ নয়। এই নিরিখে দ্বিবচন ও বহুবচনের আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া ভিন্নতর হবে; কেননা এগুলো সেগুলোর মূল বর্ণের স্থলাভিষিক্ত এবং এগুলো বিলুপ্ত করলে অর্থের বিকৃতি ঘটে। আমাদের বর্ণিত কারণগুলোর প্রেক্ষিতেই সেগুলো ইরাব বহনকারী হরফ হওয়া বৈধ হয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

১ এই অভিব্যক্তিটি বসরী এবং কূফী উভয় মতাদর্শের ভাষাবিদদের নিকট জায়েয নয়; সঠিক হলো "খামসাতুল আমসিলা" বলা।

২ 'ইলতিকাউস সাকিনাঈন' বা দুটি সাকিন অক্ষরের একত্র হওয়া থেকে বাঁচার জন্য: জাযমের অবস্থায় ক্রিয়ার শেষ মূল অক্ষর 'লাম' এবং আলিফ, ওয়াও অথবা ইয়া - যা ফায়িল বা কর্তার যমীর।