(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: -)
الإنصاف في مسائل الخلاف بين النحويين البصريين والكوفيين القسم: النحو والصرف
الكتاب: الإنصاف في مسائل الخلاف بين النحويين البصريين والكوفيين
المؤلف: كمال الدين، أبو البركات، عبد الرحمن بن محمد بن أبي سعيد الأنباري النحوي (513 - 577 هـ)
وبحاشيته: «الانتصاف من الإنصاف» لمحمد محيي الدين عبد الحميد [ت 1392 هـ]
الناشر: المكتبة العصرية
الطبعة: الأولى 1424 هـ - 2003 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইনসাফ ফি মাসাইলিল খিলাফ বাইনান নাহউয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন ওয়াল কুফিইয়্যিন বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: আল-ইনসাফ ফি মাসাইলিল খিলাফ বাইনান নাহউয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন ওয়াল কুফিইয়্যিন
লেখক: কামালুদ্দিন, আবু আল-বারাকাত, আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবি সাঈদ আল-আনবারি আন-নাহবি (৫১৩ - ৫৭৭ হিজরি)
এবং এর টীকায়: «আল-ইনতিসাফ মিনাল ইনসাফ» মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আব্দুল হামিদ [মৃত্যু ১৩৯২ হিজরি]
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৫)
المجلد الأول
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، الذي بعثه الله بالحنِيفِيّة الواضحة والدين القويم، فهدى الناس من الضلالة وبصَّرهم من العمى وأخرجهم من الظلمات إلى النور، وعلى آله مصابيح الظلام وهُداة الأنام، وصَحْبه القادة المَغَاوير أولي الآراء الراجحة والحجج الواضحة والمنهاج المستقيم، وعلى من سلك طريقه واقتفى أثره وتبع سنّته إلى يوم الدين.
وأما بعد؛ فإني منذ أكثر من خمسة عشر عامًا كنت قد عُنِيتُ بتخريج كتاب"الإنصاف، في مسائل الخلاف، بين النحويين البصريين والكوفيين" الذي صنفه الإمام الحجة والعالم الثبت كمال الدين أبو البركات عبد الرحمن بن محمد بن أبي سعيد، الأنباري، النحوي، المولود في سنة 531، والمتوفى في سنة 577 من الهجرة، بعد أن قرأت بعض مسائله لأبنائي من طلبة الدراسات العليا في كلية اللغة العربية إحدى كليات الجامع الأزهر، وعَلَّقت عليه تعليقات ذات شأن، ثم رأيت أن أذيع الكتاب مع شرحي عليه الذي أسميته "الانتصاف من الإنصاف" ليكون بين يَدَي قرّاء العربية "كتاب لطيف، يشتمل على مشاهير المسائل الخلافية بين نحويِّي البصرة والكوفة، على ترتيب المسائل الخلافية بين الشافعي وأبي حنيفة"1، وكان أن قدّمت الكتاب للنشر، ولكن أزمة الورق في أعقاب الحرب العالمية الثانية وقفت حائلًا منيعًا بين نشر الكتاب مع شرحي عليه، وكنت بين اثنتين: إما أن أنشر الكتاب وحده وأترك شرحي الذي كَابَدْت فيه ما لا يعلمه إلا الله من الجهد والعناء، وإما أن أتركهما جميعًا حتى يأذن الله بنشرهما معًا، وترددت كثيرًا فيما عسى أن أختار من هاتين الخلّتين، وصحّ العزم آخر الأمر على أن أرضى بنشر كتاب "الإنصاف" غُفْلًا مما كتبته عليه؛ رغبة في أن يعرفه قرّاء العربية ويَرَوْا أنه من أفضل ما صنّف علماؤنا في فنون العربية، فيُقْبِلوا عليه ويرتاحوا له. وظهر الكتاب كما
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ডভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু এবং বিচার দিবসের মালিক। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসুলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সত্তার ওপর, যাঁকে আল্লাহ সুস্পষ্ট একনিষ্ঠ ধর্ম এবং সুদৃঢ় জীবনব্যবস্থা দিয়ে পাঠিয়েছেন। ফলে তিনি মানুষকে পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়াত দান করেছেন, অন্ধত্ব থেকে দৃষ্টি দান করেছেন এবং অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন। আরও সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গের ওপর, যারা অন্ধকারের প্রদীপ ও সৃষ্টির পথপ্রদর্শক; এবং তাঁর অকুতোভয় বীর সাহাবীবর্গের ওপর, যারা সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, সুস্পষ্ট প্রমাণাদি এবং সরল পথের অধিকারী ছিলেন। আরও বর্ষিত হোক তাঁদের ওপর, যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর পথ অবলম্বন করেছেন, তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর সুন্নাহর অনুসারী হয়েছেন।
অতঃপর, আমি পনের বছরেরও বেশি সময় আগে ‘আল-ইনসাফ ফি মাসাইলিল খিলাফ বাইনান নাহবিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন’ (বসরা ও কুফার ব্যাকরণবিদদের মধ্যকার মতভেদপূর্ণ বিষয়সমূহের ন্যায়সংগত মীমাংসা) নামক গ্রন্থটির সম্পদনা ও সূত্র নির্দেশনার (তাখরীজ) প্রতি মনোনিবেশ করেছিলাম। এই গ্রন্থটি রচনা করেছেন প্রামাণ্য ইমাম ও নির্ভরযোগ্য পণ্ডিত কামালুদ্দীন আবুল বারাকাত আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি সাঈদ আল-আনবারী আন-নাহবী। তিনি হিজরি ৫৩১ সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং হিজরি ৫৭৭ সনে মৃত্যুবরণ করেন। আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম অনুষদ আরবি ভাষা অনুষদের উচ্চতর গবেষণার ছাত্রদের নিকট এই গ্রন্থের কিছু মাসআলা পাঠ করার পর আমি এতে গুরুত্বপূর্ণ টীকা প্রদান করি। এরপর আমি ইচ্ছা করি যে, গ্রন্থটি আমার লিখিত ব্যাখ্যাসহ প্রকাশ করব, যার নাম দিয়েছি ‘আল-ইন্তিসাফ মিনাল ইনসাফ’, যাতে তা আরবি ভাষার পাঠকদের নিকট এমন এক ‘মনোরম গ্রন্থ হিসেবে গণ্য হয়, যা বসরা ও কুফার ব্যাকরণবিদদের মধ্যকার প্রসিদ্ধ মতভেদপূর্ণ বিষয়াবলিকে ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আবু হানিফার মধ্যকার ফিকহি মতভেদের বিন্যাসে অন্তর্ভুক্ত করে।’১ আমি গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য জমা দিয়েছিলাম, কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কাগজের সংকট আমার ব্যাখ্যাসহ গ্রন্থটি প্রকাশের পথে এক দুর্ভেদ্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তখন আমি দুটি বিষয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম: হয় আমি মূল গ্রন্থটি একাই প্রকাশ করব এবং আমার সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি বর্জন করব যার জন্য আমি এমন কঠোর শ্রম ও কষ্ট সহ্য করেছি যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না; অথবা আমি উভয়টিই স্থগিত রাখব যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা একত্রে প্রকাশের সুযোগ করে দেন। এই দুটি বিকল্পের মধ্যে কোনটি গ্রহণ করব তা নিয়ে আমি দীর্ঘ সময় দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম। পরিশেষে আমি আমার লিখিত টীকা ছাড়াই কেবল ‘আল-ইনসাফ’ গ্রন্থটি প্রকাশের ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করি; যেন আরবি ভাষার পাঠকরা এটি জানতে পারেন এবং উপলব্ধি করতে পারেন যে, এটি আমাদের আলেমদের রচিত ভাষাবিদ্যার শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর অন্যতম, যার ফলে তারা এর প্রতি আগ্রহী হন এবং পরিতৃপ্ত হন। গ্রন্থটি সেভাবেই আত্মপ্রকাশ করল যেমন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৬)
أراد الناشرون، فإذا أماثل العلماء يَرْضَوْنَ عنه ويجدون فيه طلبة طالما تاقت إليها أنفسهم، وإذا هم يقبلون على قراءته ويستنجزون الوعد بإخراج "الانتصاف" معه.
وهأنذا أعود إلى أوراقي التي كنت كتبتها يومئذ فأختار منها ما لا أجد مناصًا من إذاعته مما يؤيّد رأيًا أو يدفع رأيًا، ومما يشرح شاهدًا أو يذكر شاهدًا من أشباه ما ذكره المؤلف وأمثاله، أو مما يقوي حجَّته ويؤيدها، أو مما يقع حجة للخصم الآخر عليه، أو مما يوجّه الشاهد على غير ما رآه، ونحو ذلك مما ستقف عليه إن شاء الله تعالى، وقد تركت كثيرًا مما كنت أعددته وقت القراءة الأولى مخافة الملَال والسَّأم، ولعلِّي عائد إلى هذا الذي تركته اليوم فباسطٌ فيه القول وناشره، والله المسئول أن يوفّق إلى ذلك ويهيئ له أسبابه، ويدفع عنه موانعه، إنه ولي الإجابة، بيده الخير وهو على كل شيء قدير.
وقد وضعت لكل مسألة عنوانًا وجعلته بين قوسين معقوفين هكذا [] .
اللهم إنك تعلم ما نخفي وما نعلن، وما يخفى عليك شيء في الأرض ولا في السماء، ربّ اجعلني ممن يستمعون القول فيتّبعون أحسنه، ربّ اغفر لي ولوالدي وللمؤمنين يوم يقوم الحساب، ربّ تقبل مني واقبلني، وتجاوز عني، إنك أنت البرّ الرءوف الرحيم؟
كتبه المعتز بالله
محمد محيي الدين عبد الحميد
প্রকাশকরা চেয়েছিলেন, ফলে বরেণ্য আলেমগণ এর প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং এতে এমন এক জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারক খুঁজে পেয়েছেন যার জন্য তাদের অন্তর দীর্ঘকাল ব্যাকুল ছিল। তারা এটি পাঠে মনোনিবেশ করেছেন এবং এর সাথে "আল-ইনসাফ" প্রকাশের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করার তাগিদ দিচ্ছেন।
আর আমি আজ আমার সেই পাণ্ডুলিপিগুলোর দিকে ফিরে তাকাচ্ছি যা আমি সে সময় লিখেছিলাম। সেখান থেকে আমি এমন বিষয়গুলো নির্বাচন করছি যা প্রকাশ করা আমি অনিবার্য মনে করি—তা কোনো মতের সমর্থন বা খণ্ডনকারী হোক, কোনো উদাহরণের ব্যাখ্যা দানকারী বা লেখকের উল্লিখিত উদাহরণের অনুরূপ কোনো উদাহরণ হোক, অথবা যা লেখকের দলিলকে শক্তিশালী ও সমর্থিত করে, অথবা যা প্রতিপক্ষের অনুকূলে লেখকের বিপক্ষে দলিল হিসেবে গণ্য হয়, কিংবা যা কোনো উদাহরণকে লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যতীত অন্যভাবে উপস্থাপিত করে এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা ইনশাআল্লাহ আপনি দেখতে পাবেন। ক্লান্তি ও বিরক্তির আশঙ্কায় আমি প্রথম পাঠের সময় প্রস্তুতকৃত অনেক কিছুই বর্জন করেছি। সম্ভবত আজ যা আমি রেখে দিচ্ছি তার দিকে ভবিষ্যতে ফিরে আসব এবং তা বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ প্রকাশ করব। আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা যেন তিনি এর তাওফিক দান করেন, এর জন্য আনুষঙ্গিক কারণসমূহ প্রস্তুত করে দেন এবং এর সকল বাধা দূর করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা কবুলকারী, তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাশীল।
আমি প্রতিটি বিষয়ের জন্য একটি শিরোনাম নির্ধারণ করেছি এবং তা এভাবে তৃতীয় বন্ধনীতে [] আবদ্ধ করেছি।
হে আল্লাহ! আমরা যা গোপন করি এবং যা প্রকাশ করি তা আপনি জানেন। পৃথিবী ও আকাশের কোনো কিছুই আপনার অগোচর নয়। হে আমার রব! আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা কথা শ্রবণ করে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে। হে আমার রব! আমাকে, আমার পিতামাতাকে এবং সকল মুমিনকে হিসাবের দিনে ক্ষমা করুন। হে আমার রব! আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন এবং আমাকে গ্রহণ করুন, আর আমার অপরাধ মার্জনা করুন। নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা, স্নেহশীল ও পরম দয়ালু।
আল্লাহর প্রতি আস্থাশীল মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আবদুল হামিদ কর্তৃক লিখিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
قال الشيخ الإمام، العالم، الزاهد، كما الدين عبد الرحمن بن أبي سعيد الأنباري وفّقه الله:
الحمد لله الملك الحق المبين، والصلاة [والسلام] على صفوته النبي العربي المبعوث بالدين المتين، وعلى آله وأصحابه وعِتْرَتِه البررة المتقين.
وبعد؛ فإن جماعة من الفقهاء المتأدّبين، والأدباء المتفقّهين، المشتغلين عليّ بعلم العربية، بالمدرسة النِّظامية – عَمَرَ الله مبانيها! ورحم الله بانيها! سألوني أن ألخص لهم كتابًا لطيفًا، يشتمل على مشاهير المسائل الخلافية بين نحويي البصرة والكوفة، على ترتيب المسائل الخلافية بين الشافعي وأبي حنيفة؛ ليكون أول كتاب1 صُنّف في علم العربية على هذا الترتيب، وأُلِّف على هذا الأسلوب؛ لأنه ترتيب لم يصنف عليه أحد من السلف، ولا ألف عليه أحد من الخلف.
فتوَخَّيْتُ2 إجابتهم على وَفْقِ مسألتهم، وتَحَرَّيت إسعافهم لتحقيق طَلِبَتِهم؛ وفتحت في ذلك الطرق، وذكرت من مذهب كل فريق ما اعتمد عليه أهل التحقيق، واعتمدت في النصرة على ما أذهب إليه من مذهب أهل الكوفة أو البصرة على سبيل الإنصاف، لا التّعصّب والإسراف، مستجيرًا بالله، مستخيرًا له فيما قصدتُ إليه؛ فالله تعالى ينفع به؛ إنه قريب مجيب.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
শাইখ, ইমাম, আলেম, দুনিয়াবিমুখ যাহিদ, কামালুদ্দীন আবদুর রহমান ইবনে আবি সাঈদ আল-আনবারী (আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন) বলেছেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রকৃত অধিপতি, চিরসত্য ও সুস্পষ্ট। এবং দরুদ [ও সালাম] বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত ব্যক্তি, সুদৃঢ় দ্বীনসহ প্রেরিত আরবীয় নবী এবং তাঁর নেককার ও মুত্তাকী পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও বংশধরদের ওপর।
এরপর; আদব বা ভাষাশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি সম্পন্ন একদল ফকীহ এবং ফিকহশাস্ত্রে পারদর্শী একদল সাহিত্যিক—যারা নিযামিয়া মাদ্রাসায় আমার কাছে আরবি ভাষা শিক্ষা করছেন (আল্লাহ এর ভবনগুলোকে আবাদ রাখুন এবং এর প্রতিষ্ঠাতাকে রহম করুন!)—আমাকে অনুরোধ করেছেন যেন আমি তাদের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব সংকলন করি। এটি বসরা ও কুফার ব্যাকরণবিদদের মধ্যকার প্রসিদ্ধ মতপার্থক্যমূলক মাসআলাগুলোর ওপর ভিত্তি করে রচিত হবে, যেমনিভাবে ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আবু হানিফার মধ্যকার মতপার্থক্যমূলক মাসআলাগুলো বিন্যস্ত করা হয়; যাতে এটিই হয় আরবি ভাষাশাস্ত্রে এই বিশেষ বিন্যাসে রচিত এবং এই শৈলীতে প্রণীত প্রথম কিতাব। কারণ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী পণ্ডিতগণের কেউ এই বিন্যাসে কোনো কিতাব রচনা করেননি।
তাই আমি তাদের আবেদন অনুযায়ী উত্তর দেওয়ার সংকল্প করলাম এবং তাদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করার চেষ্টা করলাম। আমি এই বিষয়ে পথ উন্মোচন করেছি এবং প্রতিটি দলের মাযহাব থেকে সেসব দলীল উল্লেখ করেছি যার ওপর মুহাক্কিকগণ নির্ভর করেছেন। কুফা বা বসরা—উভয় দলের মধ্য থেকে যার পক্ষেই আমি সমর্থন প্রদান করেছি, তা করেছি ইনসাফের ভিত্তিতে, কোনো গোঁড়ামি বা বাড়াবাড়ি ছাড়াই। আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি এবং আমার এই লক্ষ্যের ব্যাপারে তাঁর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে উপকার সাধন করুন; নিশ্চয়ই তিনি নিকটবর্তী ও দোয়ায় সাড়া দানকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৮)
1-
مسألة: [الاختلاف في أصل اشتقاق الاسم] 1
ذهب الكوفيون إلى أن الاسم مشتق من الوَسْم وهو العلامة وذهب البصريون إلى أنه مشتق من السُّمُوِّ وهو العُلُوّ.
أما الكوفيون فاحتجوا بأن قالوا: إنما قلنا إنه مشتق من الوَسْم لأن الوَسْم في اللغة هو العلامة، والاسم وَسْمٌ على المسمى، فصار كالوسم عليه؟ فلهذا قلنا: إنه مشتق من الوَسْمِ، ولذلك قال أبو العباس أحمد بن يحيى ثعلب: الاسم سمةٌ تُوضَع على الشيء يعرف بها. والأصل في اسم وسم، إلا أنه حذفت منه الفاء التي هي الواو في وَسْم، وزيدت الهمزة في أوله عِوَضًا عن المحذوف، ووزنه إِعْلٌ؛ لحذف الفاء منه.
وأما البصريون فاحتجوا بأن قالوا: إنما قلنا إنه مشتق من السُّمُوِّ لأن السُّمُوَّ في اللغة هو العلو، يقال: سما يَسْمُو سُمُوًّا، إذا علا، ومنه سمّيت السماء سماء لعلوّها، والاسم يَعْلُو على المسمّى، ويدل على ما تحته من المعنى، ولذلك قال أبو العباس محمد بن يزيد المبرِّد: الاسم ما دلَّ على مسمّى تحته، وهذا القول كافٍ في الاشتقاق، لا في التّحديد، فلمّا سَمَا الاسم على مُسمّاه وعَلَا على ما تحته من معناه دلَّ على أنه مشتقُّ من السُّمُوِّ، لا من الوَسْمِ.
ومنهم من تمسك بأن قال: إنما قلنا إنه مشتق من السمو وذلك لأن هذه الثلاثَةَ أقسام2، التي هي الاسم والفعل والحرف لها ثلاثُ مراتب؛ فمنها ما
--------------------------------------------
১-
মাসআলা: [ইসিম (নাম) শব্দটির বুৎপত্তিগত মূল নিয়ে মতভেদ] ১
কুফাবাসীদের (কুফিয়্যীন) মতে 'ইসিম' শব্দটি 'ওয়াসম' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ চিহ্ন। আর বসরবাসীদের (বসরিয়্যীন) মতে এটি 'সুমু' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ উচ্চতা।
কুফাবাসীরা যুক্তি প্রদান করে বলেন: আমরা একারণেই বলেছি যে এটি 'ওয়াসম' থেকে উদ্ভূত, কারণ আভিধানিক ভাষায় 'ওয়াসম' অর্থ হলো চিহ্ন। আর নাম (ইসিম) হলো নামধারী বা নামধারী সত্তার ওপর একটি চিহ্ন, ফলে এটি তার ওপর একটি চিহ্নের ন্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কারণে আমরা বলেছি যে এটি 'ওয়াসম' থেকে উদ্ভূত। এজন্যই আবুল আব্বাস আহমাদ বিন ইয়াহইয়া সা'লাব বলেছেন: নাম (ইসিম) হলো একটি চিহ্ন যা কোনো বস্তুর ওপর রাখা হয় যাতে তার মাধ্যমে তাকে চেনা যায়। 'ইসিম' শব্দের মূল রূপ ছিল 'ওয়াসম', তবে এর 'ফা' বর্ণটি (যা ওয়াহ্-এ 'ওয়াও') বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং বিলুপ্ত বর্ণের পরিবর্তে শুরুতে একটি হামজা যোগ করা হয়েছে। এর ওজন বা ছন্দ হলো 'ই'লুন'; এর 'ফা' বর্ণটি বিলুপ্ত হওয়ার কারণে।
আর বসরবাসীরা যুক্তি প্রদান করে বলেন: আমরা একারণেই বলেছি যে এটি 'সুমু' থেকে উদ্ভূত, কারণ আভিধানিক ভাষায় 'সুমু' অর্থ হলো উচ্চতা। বলা হয়ে থাকে: 'সামা-ইয়াসমু-সুমুওয়ান', যখন কোনো কিছু উচ্চ হয়। এ থেকেই আকাশকে তার উচ্চতার কারণে 'সামাউ' নামকরণ করা হয়েছে। আর নাম (ইসিম) নামধারী বা নামধারী সত্তার ওপর উচ্চ স্থান লাভ করে এবং এর নিচে থাকা অর্থের ওপর তা প্রমাণ বা নির্দেশনা প্রদান করে। এজন্যই আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ বিন ইয়াজিদ আল-মুবররিদ বলেছেন: নাম বা ইসিম হলো তা-ই যা তার নিম্নে থাকা নামধারীর ওপর নির্দেশনা দেয়। বুৎপত্তি নির্ণয়ে এই কথাটিই যথেষ্ট, সংজ্ঞায়নের জন্য নয়। সুতরাং যখন নাম (ইসিম) তার নামধারীর ওপর উচ্চ হলো এবং এর অর্থের নিম্নে যা রয়েছে তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করল, তখন এটি প্রমাণ করে যে এটি 'সুমু' থেকে উদ্ভূত, 'ওয়াসম' থেকে নয়।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই যুক্তি আঁকড়ে ধরেছেন যে: আমরা বলেছি এটি 'সুমু' থেকে উদ্ভূত হওয়ার কারণ হলো এই যে, এই তিনটি বিভাগ২, যা হলো বিশেষ্য (ইসিম), ক্রিয়া (ফেল) এবং অব্যয় (হরফ)—এদের তিনটি স্তর রয়েছে; এর মধ্যে যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৯)
يُخْبَر به ويُخْبَر عنه وهو الاسم نحو" اللهُ ربُّنا، ومحمدٌ نبيُّنا" وما أشبه ذلك، فأخبرتَ بالاسم وعنه، ومنها ما يُخْبَر به ولا يُخْبَر عنه، وهو الفعل، نحو "ذهب زيد، وانطلق عمرو" وما أشبه ذلك، فأخبرت بالفعل، ولو أخبرت عنه فقلت "ذهب ضرب، وانطلق كتب" لم يكن كلامًا؛ ومنها ما لا يخبر به ولا يخبر عنه، وهو الحرف، نحو "من، ولن، وبل" وما أشبه ذلك؛ فلما كان الاسم يخبر به ويخبر عنه، والفعل يخبر به ولا يخبر عنه، والحرف لا يخبر به ولا يخبر عنه، فقد سما [الاسم] على الفعل والحرف: أي عَلَا، فدلَّ على أنه من السُّمُوِّ والأصل فيه سِمْوٌ على وزن فِعْلٍ1 – بكسر الفاء سكون العين– فحذف اللام التي هي الواو وجعلت الهمزة عوضًا عنها، ووزنه إِفْعٌ؛ لحذف اللام منه.
وأما الجواب عن كلمات الكوفيين: قولهم "إنما قلنا إنه مشتق من الوَسْم لأن الوَسْم في اللغة العلامة، والاسم وَسْمٌ على المسمَّى وعلامة عليه يعرف به" قلنا: هذا وكان صحيحًا من جهة المعنى إلا أنه فاسد من جهة اللفظ، وهذه الصناعة لفظية، فلا بدَّ فيها من مراعاة اللفظ. ووجه فساده من جهة اللفظ من خمسة أوجه:
الوجه الأول: أنَّا أجمعنا على أن الهمزة في أوله همزة التعويض، وهمزة التعويض إنما تقع تعويضًا عن حذف اللام، لا عن حذف الفاء2، ألا ترى أنهم
--------------------------------------------
যার মাধ্যমে সংবাদ প্রদান করা হয় এবং যার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয়, আর তা হলো 'ইসম' (বিশেষ্য); যেমন: "আল্লাহ আমাদের রব, এবং মুহাম্মদ আমাদের নবী" এবং এই জাতীয় উদাহরণ। এখানে আপনি ইসমের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন এবং ইসম সম্পর্কেও সংবাদ দিয়েছেন। আবার কিছু এমন শব্দ আছে যার মাধ্যমে সংবাদ দেওয়া হয় কিন্তু তার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয় না, আর তা হলো 'ফেল' (ক্রিয়া); যেমন: "জায়েদ চলে গেল, এবং আমর রওয়ানা হলো" এবং এই জাতীয় উদাহরণ। এখানে আপনি ফেলের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, কিন্তু আপনি যদি ফেল সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে বলেন "গেল প্রহার করল, এবং রওয়ানা হলো লিখল", তবে তা কোনো অর্থবহ বাক্য হবে না। আবার কিছু শব্দ এমন যা সংবাদ প্রদানের মাধ্যমও হয় না এবং তার সম্পর্কে সংবাদও দেওয়া যায় না, আর তা হলো 'হরফ' (অব্যয়); যেমন: "থেকে, কখনোই না, বরং" এবং এই জাতীয় শব্দ। যেহেতু ইসমের মাধ্যমে সংবাদ দেওয়া যায় এবং তার সম্পর্কেও সংবাদ দেওয়া যায়, আর ফেলের মাধ্যমে সংবাদ দেওয়া গেলেও তার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া যায় না, এবং হরফের ক্ষেত্রে কোনোটিই সম্ভব নয়, সেহেতু ইসম ফেল ও হরফের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে: অর্থাৎ তা উচ্চতর হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, ইসম শব্দটি 'সুমুউ' (উচ্চতা) শব্দ থেকে গৃহীত। এর মূল রূপ ছিল 'সিমউন' যা 'ফিবলুন' ১—এর ওজনে (ফা অক্ষরে কাসরা এবং আইন অক্ষরে সুকুন যোগে)। এরপর শেষাক্ষর 'লাম' যা এখানে 'ওয়াও', তা বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং এর পরিবর্তে শুরুতে একটি হামজা যুক্ত করা হয়েছে। এর বর্তমান ওজন হলো 'ইফউন'; যেহেতু এর শেষাক্ষর 'লাম' বিলুপ্ত করা হয়েছে।
আর কুফাবাসীদের বক্তব্যের উত্তর হলো: তাদের এই দাবি যে, "আমরা বলেছি এটি 'ওয়াসম' শব্দ থেকে উদ্ভূত, কারণ আভিধানিক অর্থে 'ওয়াসম' মানে চিহ্ন, আর ইসম বা নাম হলো নামধারী ব্যক্তির জন্য একটি চিহ্ন যা দ্বারা তাকে চেনা যায়"—আমরা বলি: অর্থের দিক থেকে এটি সঠিক হলেও শব্দের গঠনের দিক থেকে এটি অশুদ্ধ। আর এই শাস্ত্রটি যেহেতু শব্দকেন্দ্রিক, তাই এতে শব্দের গঠনগত বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। শব্দগত দিক থেকে এটি পাঁচটি কারণে অশুদ্ধ:
প্রথম কারণ: আমরা এ বিষয়ে একমত হয়েছি যে, এর শুরুতে যে হামজাটি রয়েছে তা হলো বিলুপ্ত অক্ষরের ক্ষতিপূরণস্বরূপ (হামজাতুত তাউইদ)। আর ক্ষতিপূরণমূলক হামজা সাধারণত শেষাক্ষর বা 'লাম' বিলুপ্তির ক্ষেত্রেই যুক্ত হয়, প্রথমাখর বা 'ফা' বিলুপ্তির ক্ষেত্রে নয় ২। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে তারা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১০)
لما حذفوا اللام التي هي الواو من بَنَوٍ عوَّضوا عنها الهمزة في أوله فقالوا: ابْنٌ، ولما حذفوا الفاء التي هي الواو من وِعْدٍ لم يعوِّضوا عنها الهمزة في أوله فلم يقولوا إِعْدٌ، وإنما عوضوا عنها الهاء في آخره فقالوا: عِدَة؛ لأن القياس فيما حُذِفَ منه لامُه أن يُعَوَّض بالهمزة في أوله، وفيما حذف منه فاؤه أن يعوض بالهاء في آخره، والذي يدل على صحة ذلك أنه لا يوجد في كلامهم ما حذف فاؤه وعوِّض بالهمزة في أوله، كما لا يوجد في كلامهم ما حذف لامه وعُوِّض بالهاء في آخره1، فلما وجدنا في أول "اسم" همزة التعويض علمنا أنه محذوف اللام، لا محذوف الفاء؛ لأن حمله على ما له نظير أولى من حمله على ما ليس له نظير؛ فدلَّ على أنه مشتق من السُّمُوِّ لا من الوَسْم.
--------------------------------------------
যখন তারা 'বানাও' শব্দ থেকে 'লাম' বর্ণ তথা 'ওয়াও' বিলুপ্ত করল, তখন এর পরিবর্তে শব্দের শুরুতে একটি 'হামজা' নিয়ে আসল এবং বলল 'ইবন'। আবার যখন তারা 'ওয়াদ' শব্দ থেকে 'ফা' বর্ণ তথা 'ওয়াও' বিলুপ্ত করল, তখন তারা এর বিনিময়ে শব্দের শুরুতে হামজা নিয়ে আসেনি, তাই তারা 'ই'দ' বলেনি। বরং তারা এর পরিবর্তে শেষে 'হা' যুক্ত করে বলল 'ইদাহ'। কারণ নিয়ম হলো, যা থেকে 'লাম' বর্ণ বিলুপ্ত হয় তার শুরুতে 'হামজা' দিয়ে ক্ষতিপূরণ করা হয়, আর যা থেকে 'ফা' বর্ণ বিলুপ্ত হয় তার শেষে 'হা' দিয়ে ক্ষতিপূরণ করা হয়। এই নিয়মের সঠিকতার প্রমাণ হলো, তাদের (আরবদের) ভাষায় এমন কোনো উদাহরণ পাওয়া যায় না যেখানে 'ফা' বর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে অথচ শুরুতে 'হামজা' দিয়ে তার ক্ষতিপূরণ করা হয়েছে। ঠিক তেমনি তাদের ভাষায় এমন কোনো উদাহরণও নেই যেখানে 'লাম' বর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে অথচ শেষে 'হা' দিয়ে তার ক্ষতিপূরণ করা হয়েছে। সুতরাং যখন আমরা 'ইসম' শব্দের শুরুতে ক্ষতিপূরণকারী 'হামজা' পেলাম, তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে এটি 'লাম' বর্ণ বিলুপ্ত হওয়া শব্দ, 'ফা' বর্ণ বিলুপ্ত হওয়া শব্দ নয়। কেননা কোনো বিষয়কে তার অনুরূপ উদাহরণের ওপর কিয়াস করা, সদৃশহীন উদাহরণের ওপর কিয়াস করার চেয়ে উত্তম। এটি প্রমাণ করে যে, 'ইসম' শব্দটি 'সুমুউ' (উচ্চতা) থেকে উদ্ভূত, 'ওয়াসম' (চিহ্ন দেওয়া) থেকে নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১১)
والوجه الثاني: أنك تقول "أسْمَيتُه" ولو كان مشتقًّا من الوَسْم لوجب أن تقول "وَسَمْتُه" فلما لم تقل إلا "أسميت" دلَّ على أنه من السُّمُوِّ، وكان الأصل فيه "أَسْمَوتُ"1، إلا أن الواو التي هي اللام لما وقعت رابعة قلبت ياء، كما قالوا: أَعْلَيْتُ، وأدعيت، والأصل: أعلوت، وأدعوت، إلا أنه لما وقعت الواو رابعة قلبت ياء، فكذلك ها هنا.
وإنما وجب أن تُقْلَب الواو ياء رابعة من هذا النحو حَمْلًا للماضي على المضارع، والمضارع يجب قلب الواو فيه ياء نحو "يُعْلِي، ويُدْعِي، ويُمْسِي" والأصل فيه "يُعْلِوْ، ويُدْعِوْ، ويُسْمِوْ" وإنما وجب قلبها ياءً في المضارع لوقوعها ساكنة مكسورًا2 ما قبلها؛ لأن الواو متى وقعت ساكنة مكسورًا ما قبلها وجب قلبها ياء، ألا ترى أنهم قالوا: ميقات، وميعاد، وميزان، والأصل: مِوْقَات، ومِوْعَاد، ومِوْزَان؛ لأنه من الوَقْت، والوَعْد، والوَزْن؛ إلا أنه لما وقعت الواو ساكنة مكسورًا ما قبلها وجب قلبها ياء؛ فكذلك ها هنا. وإنما حملوا الماضي على المضارع مراعاة لما بَنَوْا عليه كلامهم من اعتبار حكم المشاكلة، والمحافظة على أن تجري الأبواب على سَنَن واحدة، ألا ترى أنهم حملوا المضارع على الماضي إذا اتصل به ضمير جماعة النسوة نحو
--------------------------------------------
দ্বিতীয় দিকটি হলো: আপনি বলেন "আসমাইতুহু" (আমি তাকে নামকরণ করেছি)। যদি এটি 'আল-ওয়াসম' (চিহ্নিতকরণ) থেকে উদ্ভূত হতো, তবে অবশ্যই আপনাকে বলতে হতো "ওয়াসামতুহু"। যেহেতু আপনি কেবল "আসমাইতু" বলেন, এটি প্রমাণ করে যে শব্দটি 'আস-সুমুউ' (উচ্চতা) থেকে এসেছে। এর মূল রূপ ছিল "আসমাতু"১, কিন্তু 'ওয়াও' বর্ণটি যা কালিমার শেষ বর্ণ (লাম), তা চতুর্থ স্থানে পতিত হওয়ার কারণে 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হয়েছে। যেমন তারা বলে থাকে: "আলাইতু" এবং "আদআইতু", অথচ এগুলোর মূল রূপ ছিল "আলাউতু" এবং "আদআউতু"; কিন্তু 'ওয়াও' চতুর্থ স্থানে আসার কারণে তা 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হয়েছে, আর এখানেও ঠিক তাই ঘটেছে।
এই ধরণের ক্ষেত্রে চতুর্থ 'ওয়াও'-কে 'ইয়া'-তে রূপান্তর করা ওয়াজিব হয়েছে অতীতকালকে বর্তমানকালের অনুগামী করার জন্য। বর্তমানকালে 'ওয়াও'-কে 'ইয়া'-তে রূপান্তর করা ওয়াজিব, যেমন "ইউ'লী", "ইউদ'ঈ", এবং "ইউমসী", যার মূল রূপ ছিল "ইউ'লিও", "ইউদ'ইও", এবং "ইউসমিও"। বর্তমানকালে একে 'ইয়া'-তে রূপান্তর করা ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো এটি তার পূর্ববর্তী বর্ণে কাসরা (জের) থাকা অবস্থায় সাকিন হিসেবে এসেছে২; কারণ 'ওয়াও' যখনই সাকিন হয় এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণে কাসরা থাকে, তখন তাকে 'ইয়া'-তে রূপান্তর করা ওয়াজিব হয়ে যায়। আপনি কি দেখছেন না যে তারা বলে: 'মীকাত', 'মী'আদ', এবং 'মীযান', অথচ এগুলোর মূল রূপ ছিল: 'মিওয়াকাত', 'মিওয়াকাদ', এবং 'মিওয়াজান'; কারণ এগুলো 'আল-ওয়াক্ত', 'আল-ওয়াদ' এবং 'আল-ওয়াযন' থেকে এসেছে। কিন্তু 'ওয়াও' সাকিন হওয়া এবং তার পূর্বে কাসরা থাকার কারণে তাকে 'ইয়া'-তে রূপান্তর করা ওয়াজিব হয়েছে; এখানেও বিষয়টি তেমনই। তারা অতীতকালকে বর্তমানকালের অনুগামী করেছে তাদের বক্তব্যের গঠনশৈলীতে সামঞ্জস্য রক্ষার খাতিরে এবং ব্যাকরণের সকল পরিচ্ছেদকে একই নিয়মে পরিচালিত করার জন্য। আপনি কি দেখছেন না যে তারা বর্তমানকালকে অতীতকালের অনুগামী করে যখন তার সাথে স্ত্রীবাচক বহুবচন সর্বনাম যুক্ত হয়, যেমন-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১২)
"تَضْرِبْنَ" وحذفوا الهمزة من أخوات "أُكْرِمُ" نحو "نُكْرِم، وتُكْرِم، ويُكْرِم" والأصل فيه "نُؤَكْرِم، وتُؤَكْرِم، ويُؤَكْرِم" كما قال:
[1]فإنه أهل لأن يُؤَكْرَما
حملًا على أُكْرِم وإنما حذفت إحدى الهمزتين من"أُكرم" لأن الأصل فيه "أُأَكْرِم" فلما اجتمع فيه همزتان كرهوا اجتماعهما؛ فحذفوا إحداهما تخفيفًا، ثم حملوا سائر أخواتها عليها في الحذف، وكذلك حذفوا الواو من أخوات يَعِدُ، نحو "أَعِدُ، ونَعِدُ، وتَعِدُ" والأصل فيها: "أَوْعِد، ونَوْعِد، وتَوْعِد، حملًا على يَعِد، وإنما حذفت الواو من"يعد" لوقوعها بين1 ياء وكسرة ثم حملوا سائر أخواتها عليها
--------------------------------------------
"তাদরিবনা" এবং তারা "উকরিমু"-এর সমজাতীয় রূপসমূহ যেমন "নুকরিমু, তুকরিমু ও ইউকরিমু" থেকে হামযাহ বিলুপ্ত করেছে। এগুলোর মূল রূপ ছিল "নুআকরিমু, তুআকরিমু ও ইউআকরিমু", যেমনটি কবি বলেছেন:
[১]নিশ্চয়ই সে ব্যক্তি সম্মানিত হওয়ার (ইউআকরামা) যোগ্য।
এটি "উকরিমু"-এর অনুকরণে করা হয়েছে। "উকরিমু" থেকে দুটি হামযাহর একটি কেবল এজন্যই বিলুপ্ত করা হয়েছে যে, এর মূল রূপ ছিল "উআকরিমু"। যখন এতে দুটি হামযাহ একত্রে মিলিত হলো, তারা সেটির একত্রীকরণ অপছন্দ করল; তাই উচ্চারণের সহজতার জন্য একটিকে বিলুপ্ত করে দিল। এরপর তারা এর সমজাতীয় অন্যান্য রূপগুলোকেও বিলুপ্তির ক্ষেত্রে এর ওপর কিয়াস বা তুলনা করল। একইভাবে তারা "ইয়া’ইদু"-এর সমজাতীয় রূপসমূহ যেমন "আইদু, নাইদু ও তাইদু" থেকে 'ওয়াও' বিলুপ্ত করেছে। এগুলোর মূল রূপ ছিল: "আউ’ইদ, নাউ’ইদ ও তাউ’ইদ", যা "ইয়া’ইদু"-এর অনুকরণে হয়েছে। "ইয়া’ইদু" থেকে 'ওয়াও' বিলুপ্ত করা হয়েছে কারণ এটি ইয়া এবং কাসরাহর (যের) মাঝখানে অবস্থিত হয়েছে, অতঃপর তারা এর সমজাতীয় অন্য রূপগুলোকেও এর ওপর কিয়াস করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
في الحذف، كلُّ ذلك لتحصيل التشاكل والفرار من نَفْرة الاختلاف، فكذلك ههنا حملوا الماضي على المضارع، وبل أولى، وذلك لأن مراعاة المشاكلة بالقلب أَقْيَسُ من مراعاة المشاكلة بالحذف؛ لأن القلب تغيير يعرض في نفس الحرف، والحذف إسقاط لأصل الحرف، والإسقاط في باب التغيير أتمُّ من القلب، فإذا جاز أن يُرَاعُوا المشاكلة بالحذف فبالقلب أولى.
وأما قلب الواو ياء في الماضي في نحو "تغازَيْتُ، وترجَّيبت" وإن لم تقلب ياء في المضارع لأن الأصل في تغازيت: غازيت، وفي ترجَّيت: رجَّيت، فزيدت التاء فيهما لتدلَّ على المطاوعة، وغازيت ورجَّيت يجب قلب الواو فيهما ياء في المضارع، ألا ترى أنك تقول في المضارع: أُغَازِي، وأُرَجِّي، فكذلك في الماضي، وإذا لزم هذا القلب قبل الزيادة في "غازيت أغازي، ورجَّيت أرجِّي" فكذلك بعد الزيادة في تغازيت وترجَّيتُ، حملًا لتغازيت على غازيت، وترجَّيتُ على رجَّيت، مراعاة للتشاكل، وفرارًا من نفرة الاختلاف.
والوجه الثالث: أنك تقول في تصغيره "سُمَيّ" ولو كان مشتقّا من الوَسْم لكان يجب أن تقول في تصغيره "وُسَيْم" كما يجب أن تقول في تصغير زِنَة: وُزَيْنَة، وفي تصغير عِدَة: وُعَيْدَة؛ لأن التصغير يردُّ الأشياء إلى أصولها، فلما لم يجز أن يقال إلا سُمَي دلَّ على أنه مشتق من السُّمُوّ، لا من الوَسْمِ.
والأصل في سُمَيّ: سُمَيْو، إلا أنه لما اجتمعت الياء والواو والسابق منهما ساكن قلبوا الواو ياء، وجعلوهما ياء مشدّدة، كما قالوا: سيِّد وجيِّد وهيِّن وميِّت. والأصل فيه: سَيْود وجَيْود وهَيْون ومَيْوِت؛ لأنه من السودد والجودة والهوان والموت، إلا أنه لما اجتمعت الياء والواو والسابق منهما ساكن قلبوا الواو ياء، وجعلوهما ياء مشددة، وكذلك أيضًا قالوا: طَوَيْتُ طَيًّا، ولَوَيَتُ لَيًّا، وشَوَيَتُ شَيًّا، والأصل فيه: طَوْيًا ولَوْيًا وشَوْيًا، إلا أنه لما اجتمعت الواو والياء والسابق منهما ساكن قلبوا الواو ياء، وجعلوهما ياء مشددة، وإنما وجب قلب الواو إلى الياء دون قلب الياء إلى الواو لأن الياء أَخْفُّ من الواو؛ فلما وجب قلب أحدهما إلى الآخر كان قلبُ الأثْقَلِ إلى الأخفِّ من قلب الأخَفِّ إلى الأثقل.
والوجه الرابع: أنك تقول في تكسير "أَسْمَاء1" ولو كان مشتقًّا من الوَسْمِ
--------------------------------------------
বিলোপের ক্ষেত্রে, এই সবই করা হয়েছে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য এবং বৈসাদৃশ্যজনিত বিরাগ থেকে বাঁচার জন্য। অনুরূপভাবে এখানেও তারা অতীতকালকে (মাজি) বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালের (মুদারে) অনুরূপ করেছেন, বরং এটি করাই অধিক উত্তম। কারণ হৃদয়ের পরিবর্তনের (কালব) মাধ্যমে সামঞ্জস্য রক্ষা করা বিলোপের (হাফয) মাধ্যমে সামঞ্জস্য রক্ষার চেয়ে অধিকতর যুক্তিযুক্ত; কেননা পরিবর্তন (কালব) হলো বর্ণের নিজস্ব অবস্থার মধ্যে ঘটা একটি রূপান্তর, আর বিলোপ (হাফয) হলো মূল বর্ণের বিচ্যুতি। পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটানো কালব বা রূপান্তরের চেয়ে অধিক চরম। সুতরাং যদি বিলোপের মাধ্যমে সামঞ্জস্য রক্ষা করা জায়েজ হয়, তবে রূপান্তরের (কালব) মাধ্যমে তা রক্ষা করা আরও বেশি সংগত।
আর 'তাগাযাইতু' ও 'তারাজ্জাইতু' এর মতো শব্দগুলোতে অতীতকালে 'ওয়াও'-কে 'ইয়া' দ্বারা রূপান্তর করার বিষয়টি—যদিও বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালে (মুদারে) তা 'ইয়া' দ্বারা রূপান্তরিত হয় না—তার কারণ হলো, 'তাগাযাইতু' এর মূল ছিল 'গাযাইতু' এবং 'তারাজ্জাইতু' এর মূল ছিল 'রাজ্জাইতু'। অতঃপর অনুগামীতা (মুতাওয়াআত) বুঝানোর জন্য উভয়টিতে 'তা' বর্ণটি অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে। আর 'গাযাইতু' ও 'রাজ্জাইতু' এর ক্ষেত্রে বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালে (মুদারে) 'ওয়াও'-কে 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তন করা ওয়াজিব। আপনি কি দেখেন না যে, আপনি বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালে বলেন: 'উগাযি' এবং 'উরাজ্জি'? অনুরূপভাবে অতীতকালেও হবে। আর যখন অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত হওয়ার পূর্বেই 'গাযাইতু-উগাযি' এবং 'রাজ্জাইতু-উরাজ্জি' তে এই রূপান্তর অপরিহার্য ছিল, তখন 'তাগাযাইতু' ও 'তারাজ্জাইতু' তে অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত হওয়ার পরও তা বহাল থাকবে; যাতে করে 'তাগাযাইতু'-কে 'গাযাইতু' এর ওপর এবং 'তারাজ্জাইতু'-কে 'রাজ্জাইতু' এর ওপর কিয়াস করা যায়, সামঞ্জস্য রক্ষা পায় এবং বৈসাদৃশ্যজনিত অনীহা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
তৃতীয় কারণ: আপনি এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপে (তাসগির) বলেন 'সুমাই'। এটি যদি 'ওয়াসম' থেকে উদ্গত হতো, তবে এর তাসগিরের ক্ষেত্রে 'উসাইম' বলা আবশ্যক হতো, যেমনটি 'যিনাতুন' এর তাসগিরে 'উযাইনাতুন' এবং 'ইদাতুন' এর তাসগিরে 'উয়াইদাতুন' বলা আবশ্যক হয়। কারণ তাসগির কোনো শব্দকে তার মূল রূপের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। যেহেতু 'সুমাই' ছাড়া অন্য কিছু বলা বৈধ নয়, তাই এটি প্রমাণ করে যে এটি 'সুমুউ' থেকে উদ্গত, 'ওয়াসম' থেকে নয়।
'সুমাই' এর মূল রূপ ছিল: 'সুমাইউ'। কিন্তু যখন 'ইয়া' ও 'ওয়াও' একত্রে আসে এবং তাদের প্রথমটি সুকুনযুক্ত হয়, তখন তারা 'ওয়াও'-কে 'ইয়া' তে রূপান্তর করে দেয় এবং উভয়কে একটি তাশদীদযুক্ত 'ইয়া' তে পরিণত করে। যেমন তারা বলেছে: 'সাইয়িদ', 'জাইয়িদ', 'হাইয়িন' এবং 'মাইয়্যিত'। এগুলোর মূল ছিল: 'সাইউয়ুদ', 'জাইউয়ুদ', 'হাইউয়ুন' এবং 'মাইউয়িত'; কারণ এগুলো 'সুদুদ', 'জাওদাহ', 'হাওয়ান' এবং 'মাউত' থেকে এসেছে। কিন্তু যখন 'ইয়া' ও 'ওয়াও' একত্রে এসেছে এবং প্রথমটি সুকুনযুক্ত হয়েছে, তখন তারা 'ওয়াও'-কে 'ইয়া' তে রূপান্তর করেছে এবং সেগুলোকে তাশদীদযুক্ত 'ইয়া' বানিয়ে দিয়েছে। অনুরূপভাবে তারা আরও বলেছে: 'তাওয়াইতু তাইয়্যান', 'লাওয়াইতু লাইয়্যান' এবং 'শাওয়াইতু শাইয়্যান'। এগুলোর মূল ছিল: 'তাইওয়ান', 'লাইওয়ান' এবং 'শাইওয়ান'। তবে যখন 'ওয়াও' ও 'ইয়া' একত্রে এসেছে এবং প্রথমটি সুকুনযুক্ত হয়েছে, তখন তারা 'ওয়াও'-কে 'ইয়া' তে রূপান্তর করেছে এবং সেগুলোকে তাশদীদযুক্ত 'ইয়া' করে দিয়েছে। আর 'ইয়া'-কে 'ওয়াও' তে রূপান্তর না করে 'ওয়াও'-কে 'ইয়া' তে রূপান্তর করা ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো, 'ইয়া' বর্ণটি 'ওয়াও' এর চেয়ে হালকা। ফলে যখন একটিকে অন্যটিতে রূপান্তর করা আবশ্যক হয়, তখন ভারী বর্ণকে হালকা বর্ণে রূপান্তর করা হালকা বর্ণকে ভারী বর্ণে রূপান্তরের চেয়ে অধিক সংগত।
চতুর্থ কারণ: আপনি এর বহুবচনে (তাকসির) বলেন 'আসমা'। যদি এটি 'ওয়াসম' থেকে উদ্গত হতো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لوجب أن تقول: أوسام، وأواسيم؛ فلما لم يجز أن يقال إلا أسماء دلَّ على أنه مشتقّ من السُّمُوِّ، لا من الوَسْمِ.
والأصل في أسْمَاء أسْمَاو، إلا أنه لما وقعت الواو طرفًا وقبلها ألف زائد قلبت همزة كما قالوا: سَمَاء، وكَسَاء، ورَجَاء، ونَجَاء. والأصل فيه: سماو، وكساو، ورجاو، ونجاو؛ لقولهم: سَمَوْت وكَسَوْت ورَجَوْت ونَجَوْت، إلا أنه لما وقعت الواو طرفًا وقبلها ألف زائدة قلبت همزة.
ومنهم من قال1: إنما قلبت ألفًا لأن الألف التي قبلها لما كانت ساكنة خفية زائدة -والحرف الساكن حاجزٌ غيرُ حصين- لم يعتدُّوا بها، فقدُّروا أن الفتحة التي قبل الألف قد وليت الواو2 وهي متحركة، والواو متى تحركت وانفتح ما قبلها وجب أن تقلب ألفًا، ألا ترى أنهم قالوا: سَمَا، وعَلَا، ودَعَا، وغَزَا، والأصل فيها سَمَوَ وعَلَوَ ودَعَوَ وغَزَوَ؛ لقولهم: سَمَوْت وعَلَوْت ودَعَوْت وغَزَوْت، إلا أنه لمَّا تحركت الواو وانفتح ما قبلها قلبت ألفًا، فكذلك ههنا قلبوا الواو في أسْمَاوٍ ألفًا، فاجتمع فيه ألفان: ألف زائدة، وألف منقلبة عن لام الكلمة، والألفان ساكنان، وهما لا يجتمعان، فقلبت الألف الثانية المنقلبة عن لام الكلمة همزة لالتقاء الساكنين، وإنما قلبت إلى الهمزة دون غيرها من الحروف لأنها أقربُ الحروف إليها؛ لأن الهمزة هَوَائية، كما أن الألف هَوَائية، فلما كانت أَقْرَبَ الحروف إليها؛ كان قلبها إليها أولى من قلبها إلى غيرها.
والوجه الخامس: أنه قد جاء عن العرب أنهم قالوا في اسم: سُمًى، على مثال عُلًى، والأصل فيه سُمَوٌ، إلا أنهم قلبوا الواو منه ألفًا لتحركها وانفتاح ما قبلها، فصار سُمًى، قال الشاعر:
[2]واللهُ أَسْمَاكَ سُمًى مُبَارَكًا
… آثرَكَ الله به إيثَارَكَا
--------------------------------------------
তবে ‘আউসাম’ এবং ‘আওয়াসিম’ বলা আবশ্যক হতো; যেহেতু ‘আসমা’ ছাড়া অন্য কিছু বলা বৈধ নয়, সেহেতু এটি প্রমাণিত হয় যে এটি ‘সুমুউ’ (উচ্চতা) থেকে নির্গত, ‘ওয়াসম’ (চিহ্ন) থেকে নয়।
আর ‘আসমা’ শব্দের মূল হলো ‘আসমাউ’, তবে যখন ‘ওয়াও’ শব্দের শেষে আসে এবং তার পূর্বে একটি অতিরিক্ত আলিফ থাকে, তখন তা হামযাতে পরিণত হয়। যেমন তারা বলে থাকে: ‘সামাউ’, ‘কিসাউ’, ‘রাজাউ’ এবং ‘নাজাউ’। এগুলোর মূল হলো: সামাউ, কিসাউ, রাজাউ এবং নাজাউ; কারণ তারা বলে থাকে: সামাউতু, কাসাউতু, রাজাউতু এবং নাজাতু। তবে যখন ‘ওয়াও’ শব্দের শেষে পতিত হয় এবং তার পূর্বে অতিরিক্ত আলিফ থাকে, তখন তা হামযাতে রূপান্তরিত হয়।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন১: এটি আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে কারণ তার পূর্বের আলিফটি যখন সাকিন (স্থির), প্রচ্ছন্ন এবং অতিরিক্ত ছিল—আর সাকিন অক্ষর কোনো শক্তিশালী প্রতিবন্ধক নয়—তাই তারা সেটিকে ধর্তব্যের মধ্যে আনেনি। ফলে তারা ধরে নিয়েছে যে, আলিফের পূর্বের ফাতহা (যবর) সরাসরি ‘ওয়াও’ এর সাথে মিলিত হয়েছে২ এবং তা হরকতযুক্ত। আর ‘ওয়াও’ যখন হরকতযুক্ত হয় এবং তার পূর্বের অক্ষর ফাতহা বিশিষ্ট হয়, তখন তাকে আলিফে রূপান্তর করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। আপনি কি দেখেন না যে তারা বলে: ‘সামা’, ‘আলা’, ‘দাআ’ এবং ‘গাযা’, অথচ এগুলোর মূল হলো সামাওয়া, আলাওয়া, দাআওয়া এবং গাযাওয়া; কারণ তারা বলে: সামাউতু, আলাউতু, দাআউতু এবং গাযাউতু। তবে যখন ‘ওয়াও’ হরকতযুক্ত হয়েছে এবং তার পূর্বের অক্ষর ফাতহা বিশিষ্ট হয়েছে, তখন তাকে আলিফে রূপান্তর করা হয়েছে। ঠিক তেমনি এখানেও তারা ‘আসমাউ’ শব্দের ‘ওয়াও’কে আলিফে রূপান্তর করেছে। ফলে সেখানে দুটি আলিফ একত্রিত হয়েছে: একটি অতিরিক্ত আলিফ এবং অন্যটি শব্দের শেষ অক্ষর (লাম কালিমাহ) থেকে রূপান্তরিত আলিফ। আর দুটি আলিফই সাকিন, যা একত্রে অবস্থান করতে পারে না। তাই দুই সাকিনের মিলনের কারণে শব্দের শেষ অক্ষর থেকে রূপান্তরিত দ্বিতীয় আলিফটিকে হামযায় রূপান্তর করা হয়েছে। অন্য কোনো অক্ষরের পরিবর্তে হামযায় রূপান্তরের কারণ হলো এটিই আলিফের সবচেয়ে নিকটতম অক্ষর; কেননা হামযা হলো বায়বীয় (হাওয়াইয়াহ) বর্ণ, যেমনটি আলিফও বায়বীয়। যেহেতু এটি তার সবচেয়ে নিকটতম বর্ণ, তাই একে অন্য বর্ণের পরিবর্তে হামযায় রূপান্তর করাই অধিকতর শ্রেয় ছিল।
পঞ্চম দিকটি হলো: আরবদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তারা ‘ইসম’ (নাম) এর ক্ষেত্রে ‘সুমান’ বলেছে, যেমনটি ‘উলান’ এর দৃষ্টান্ত। এর মূল হলো ‘সুমাউন’, তবে তারা এর ‘ওয়াও’কে আলিফে রূপান্তর করেছে কারণ তা হরকতযুক্ত এবং তার পূর্বের অক্ষর ফাতহা বিশিষ্ট, ফলে তা ‘সুমান’ এ পরিণত হয়েছে। কবি বলেছেন:
[২]আল্লাহ তোমাকে এক বরকতময় নাম দান করেছেন... আল্লাহ তোমাকে এর মাধ্যমে অন্যদের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وفيه خمس لغات: اسم بكسر الهمزة، واسم بضمها، وسِمٌ بكسر السّين وسُمٌ بضمها. قال الشاعر:
[3]وعامنا أَعْجَبَنَا مُقَدَّمُه
… يُدْعَى أَبَا السَّمح وقِرْضَابٌ سُمُه
مُبْتَرِكًا لِكُلِّ عظم يَلْحُمُه
وقال:
[4]باسم الذي في كل سورة سِمُه
… قد وردت على طريق تَعْلَمُه
--------------------------------------------
এতে পাঁচটি উচ্চারণরীতি রয়েছে: হামযাহর নিচে কাসরা দিয়ে ‘ইসম’, হামযাহর ওপরে যম্মাহ দিয়ে ‘উসম’, সীনের নিচে কাসরা দিয়ে ‘সিম’ এবং সীনের ওপরে যম্মাহ দিয়ে ‘সুম’। কবি বলেছেন:
[৩]আমাদের বছরের সূচনা আমাদের মুগ্ধ করেছিল... তাকে ‘আবুস সামহ’ (সহজদায়ক) বলে ডাকা হতো অথচ ‘ক্বিরদ্বাব’ (সর্বগ্রাসী দুর্ভিক্ষ) ছিল তার নাম (সুমুহু)।
তা প্রতিটি হাড়ের ওপর জেঁকে বসত এবং তা থেকে গোশত সাবাড় করে দিত।
তিনি আরও বলেছেন:
[৪]সেই সত্তার নামে, প্রতিটি সূরায় যাঁর নাম (সিমুহু) বিদ্যমান... যা এমন পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে যা তুমি জানো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ويروى سُمُهْ بضم السّين، وسُمًى على وزن عُلًى، على ما بيّنّا. والله أعلم.
--------------------------------------------
আর এটি সীন অক্ষরে পেশ যোগে 'সুমুহু' এবং 'উলা' এর ওজনে 'সুমা' হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
2-
مسألة: [الاختلاف في إعراب الأسماء الستة] 1
ذهب الكوفيّون إلى أن الأسماء الستة المعتلّة وهي: أبُوكَ، وأخُوكَ وحَمُوكَ، وهَنُوكَ، وفُوكَ، وذو مال مُعْرَبَة من مكانين. وذهب البصريون إلى أنها معربة من مكان واحد، والواو والألف والياء هي حروف الإعراب. وإليه ذهب أبو الحسن الأخفش في أحد القولين. وذهب في القول الثاني إلى أنها ليست بحروف إعراب، ولكنها دلائلُ الإعرابِ، كالواو والألف والياء في التثنية والجمع، وليست بلام الفعل. وذهب علي بن عيسي الرَّبَعِي إلى أنها إذا كانت مرفوعة ففيها نقل بلا قلب، وإذا كانت منصوبة ففيها قلب بلا نقل، وإذا كانت مجرورة ففيها نقل وقلب. وذهب أبو عثمان المازني إلى أن الباء2 حرف الإعراب، وإنما الواو والألف والياء نشأت عن إشباع الحركات.
وقد يحكى عن بعض العرب أنهم يقولون: هذا أَبُك، ورأيت أَبَك، ومررت بِأَبِك -من غير واو ولا ألف ولا ياء- كما يقولون في حالة الإفراد من غير إضافة3.
وقد يحكى أيضًا عن بعض العرب أنهم يقولون: هذا أَبَاك، ورأيت
--------------------------------------------
২-
মাসআলা: [ছয়টি বিশেষ্যের (আল-আসমাউল সিততাহ) শব্দরূপ বা ইরাব সংক্রান্ত মতভেদ] ১
কুফাবাসীদের অভিমত হলো, ছয়টি দোষযুক্ত (মোতাল) বিশেষ্য—যথা: তোমার পিতা, তোমার ভাই, তোমার শ্বশুর, তোমার লজ্জাস্থান, তোমার মুখ এবং সম্পদশালী ব্যক্তি—এগুলো দুটি স্থান থেকে শব্দরূপ (ইরাব) লাভ করে। অন্যদিকে বসরাবাসীদের অভিমত হলো, এগুলো একটি স্থান থেকেই শব্দরূপ লাভ করে; আর ওয়াও, আলিফ ও ইয়া হলো ইরাবের বর্ণ। আবুল হাসান আল-আখফাশ তাঁর দুটি মতের একটিতে এই মতটিই পোষণ করেছেন। তবে তাঁর দ্বিতীয় মতানুসারে, এগুলো ইরাবের বর্ণ নয়, বরং এগুলো দ্বিবচন ও বহুবচনের ওয়াও, আলিফ ও ইয়া-র মতো ইরাবের নিদর্শন মাত্র; আর এগুলো শব্দের মূল ক্রিয়ামূলের বর্ণ (লামুল ফেল) নয়। আলী বিন ঈসা আর-রাবাঈ-এর মত হলো, যখন এগুলো রফ (পেশ) অবস্থায় থাকে তখন সেখানে অক্ষর পরিবর্তন ছাড়াই স্থানান্তরের (নাক্বল) প্রক্রিয়া ঘটে; যখন নাসব (যবর) অবস্থায় থাকে তখন স্থানান্তর ছাড়াই পরিবর্তনের (ক্বলব) প্রক্রিয়া ঘটে; আর যখন জর (জের) অবস্থায় থাকে তখন স্থানান্তর ও পরিবর্তন উভয় প্রক্রিয়াই ঘটে। আবু উসমান আল-মাজিনি মনে করেন যে, 'বা' অক্ষরটিই হলো ইরাবের বর্ণ, আর ওয়াও, আলিফ ও ইয়া কেবল হরকতের প্রলম্বিত উচ্চারণ (ইশব’া) থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
কোনো কোনো আরবের ক্ষেত্রে এমনও বর্ণিত আছে যে তারা বলে থাকেন: এটি তোমার বাবা (হাযা আবুক), আমি তোমার বাবাকে দেখেছি (রাআইতু আবাক), এবং আমি তোমার বাবার পাশ দিয়ে গিয়েছি (মারারতু বি-আবিক) — ওয়াও, আলিফ বা ইয়া ছাড়াই — যেমনটি তারা সম্বন্ধহীন (ইদাফত ছাড়া) একবচনের ক্ষেত্রে বলে থাকেন।৩
আবার কোনো কোনো আরবের ক্ষেত্রে এটিও বর্ণিত আছে যে তারা বলেন: এটি তোমার বাবা (হাযা আবাক), এবং আমি দেখেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أبَاكَ، ومررت بأبَاكَ -بالألف في حالة الرفع والنصب والجر- فيجعلونه اسمًا مقصورًا، قال الشاعر:
[5]إن أَبَاهَا وأَبَا أَبَاهَا
… قَدْ بَلَغَا في المَجْدِ غَايَتَاهَا
ويحكى عن الإمام أبي حنيفة أنه سئل عن إنسان رَمَى إنسانًا بحجر فقتله: هل يجب عليه القَوَدُ؟ فقال: لا، ولو رماه بِأَبَا قُبَيْسٍ -بالألف، على هذه اللغة- لأن أصله أبَوٌ، فلما تحركت الواو وانفتح ما قبلها قلبوها ألفًا بعد إسكانها إضعافًا لها، كما قالوا: عَصًا، وقَفًا، وأصله عَصَو وقَفَوا، فلما تحركت الواو وانفتح ما قبلها قلبوها ألفًا، فكذلك ههنا.
والذي يعتمد عليه في النُّصْرَة أهل الكوفة والبصرة القولان الأولان؛ فهذا منتهى القول في تفصيل المذاهب واللغات؛ فلنبدأ بذكر الحجَجِ والاستدلالات:
أما الكوفيون فاحتجوا بأن قالوا: أجمعنا على أن هذه الحركات -التي هي الضمة والفتحة والكسرة- تكون إعرابًا لهذه الأسماء في حال الإفراد، نحو قولك: هذا أبٌ لك، ورأيت أبًا لك، ومررت بأبٍ لك، وما أشبه ذلك، والأصل فيه أبَوٌ، فاستثقلوا الإعراب على الواو، فأوقَعُوه على الباء وأسقطوا الواو؛ فكانت الضمة علامة للرفع، والفتحة علامة للنصب، والكسرة علامة للجر، فإذا قلت في الإضافة: هذا أبوك، وفي النصب: رأيت أبَاكَ، وفي الجر: مررت بِأَبِيك، والإضافة طارئة على الإفراد كانت الضمة والفتحة والكسرة باقية على ما كانت عليه في حال الإفراد؛ لأن الحركة التي تكون إعرابًا للمفرد في حال الإفراد هي بعينها تكون إعرابًا له في حال الإضافة، ألا ترى أنك تقول: هذا غلام، ورأيت غلامًا، ومررت بغلام، فإذا أضفته قلت: هذا غلامك، ورأيت غلامك، ومررت
--------------------------------------------
আবাক (তোমার পিতা), এবং আমি তোমার পিতার (বি-আবাক) পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম—রফ, নসব এবং জর তিন অবস্থাতেই আলিফ যোগে—তারা একে ইসম মাকসুর হিসেবে গণ্য করেন। কবি বলেছেন:
[৫]নিশ্চয়ই তার পিতা এবং তার পিতার পিতা … তারা উভয়েই মর্যাদার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছেন।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে অন্য এক ব্যক্তিকে পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে: তার ওপর কি কিসাস (প্রতিশোধমূলক শাস্তি) ওয়াজিব হবে? তিনি বললেন: না, এমনকি যদি সে তাকে আবা কুবাইস (পাহাড়) দিয়েও আঘাত করে—এখানে এই ভাষারীতি অনুযায়ী আলিফ সহকারে 'আবা' বলা হয়েছে—কারণ এর মূল হলো 'আবাওুন'। যখন ওয়াও হরকতযুক্ত হলো এবং তার পূর্বের অক্ষরে ফাতহাহ (যবর) হলো, তখন তারা ওয়াও-কে সাকিন করার পর দুর্বল করার জন্য আলিফে রূপান্তরিত করল; যেমনটি তারা বলে থাকে: 'আসা' (লাঠি) এবং 'কাফা' (ঘাড়), যার মূল ছিল 'আসাউন' এবং 'কাফাউুন'। যখন ওয়াও হরকতযুক্ত হলো এবং তার পূর্বের অক্ষরে ফাতহাহ হলো, তখন তারা তাকে আলিফে রূপান্তর করল, এখানেও বিষয়টি অনুরূপ।
কুফা ও বসরাবাসীদের সাহায্য ও সমর্থনের ক্ষেত্রে যা নির্ভর করা হয় তা হলো প্রথম দুটি মত। এটিই হলো মাযহাব ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের বিস্তারিত আলোচনার শেষ প্রান্ত। এখন আমরা প্রমাণ ও যুক্তিনির্ভর আলোচনা শুরু করছি:
কুফাবাসীরা এই বলে দলিল পেশ করেছেন যে: আমরা একমত হয়েছি যে, এই হরকতগুলো—যা হলো পেশ (যম্মাহ), যবর (ফাতহাহ) এবং যের (কাসরাহ)—একবচন অবস্থায় এই নামগুলোর জন্য ইরাব (বিভক্তি) হিসেবে গণ্য হয়। যেমন আপনার কথা: 'হাযা আবুন লাকা' (এটি তোমার এক পিতা), 'রায়াইতু আবান লাকা' (আমি তোমার এক পিতাকে দেখলাম), 'মারারতু বি-আবিন লাকা' (আমি তোমার এক পিতার পাশ দিয়ে গেলাম) এবং এর অনুরূপ উদাহরণগুলো। এর মূল শব্দ ছিল 'আবাওুন', তারা ওয়াও-এর ওপর হরকত উচ্চারণ করাকে ভারী মনে করল, তাই তারা সেই হরকতকে 'বা' অক্ষরের ওপর নিয়ে আসলো এবং ওয়াও-কে বিলুপ্ত করল। ফলে পেশ হলো রফ-এর আলামত, যবর হলো নসব-এর আলামত এবং যের হলো জর-এর আলামত। এরপর আপনি যখন ইদাফাত (সম্বন্ধযুক্ত) করে বলেন: 'হাযা আবূকা' (এটি তোমার পিতা), নসব-এর ক্ষেত্রে: 'রায়াইতু আবাকা' (আমি তোমার পিতাকে দেখলাম), এবং জর-এর ক্ষেত্রে: 'মারারতু বি-আবিকা' (আমি তোমার পিতার পাশ দিয়ে গেলাম); যেহেতু ইদাফাত একবচন অবস্থার পরে আসে, তাই পেশ, যবর এবং যের একবচন অবস্থায় যেমন ছিল তেমনই বহাল থাকে। কারণ যে হরকত একবচন অবস্থায় শব্দের ইরাব হয়, সেটিই ইদাফাতের অবস্থায়ও তার ইরাব হিসেবে বহাল থাকে। আপনি কি দেখছেন না যে আপনি বলেন: 'হাযা গুলামুন' (এটি এক গোলাম), 'রায়াইতু গুলামান' (আমি এক গোলামকে দেখলাম), 'মারারতু বি-গুলামিন' (আমি এক গোলামের পাশ দিয়ে গেলাম)। যখন আপনি একে সম্বন্ধযুক্ত করেন, তখন বলেন: 'হাযা গুলামুকা' (এটি তোমার গোলাম), 'রায়াইতু গুলামাকা' (আমি তোমার গোলামকে দেখলাম), এবং 'মারারতু...'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بغلامِكَ؛ فتكون الضمة والفتحة والكسرة التي كانت إعرابًا له في حال الإفراد هي بعينها إعرابًا له في حال الإضافة، فكذلك ههنا، والذي يدلُّ على صحة هذا تغيُّر الحركات على الباء في حال الرفع والنصب والجر، وكذلك الواو والألف والياء بعد هذه الحركات تجري مجرى الحركات في كونها إعرابًا؛ بدليل أنها تتغير في حال الرفع والنصب والجر؛ فدلّ على أن الضمة والواو علامة للرفع، والفتحة والألف علامة للنصب، والكسرة والياء علامة للجر، فدلّ على أنه معرب من مكانين1.
ومنهم من تمسّك بأن قال: إنما أعربت هذه الأسماء الستة من مكانين لقلّة حروفها، تكثيرًا لها، وليزيدوا بالإعراب في الإيضاح والبيان؛ فوجَبَ أن تكون معربة من مكانين على ما ذهبنا إليه.
وأما البصريون فاحتجوا بأن قالوا: إنما قلنا "إنه معرب من مكان واحد" لأن الإعراب إنما دخل الكلام في الأصل لمعنًى وهو الفَصْل، وإزالة اللَّبْسِ، والفَرْقُ بين المعاني المختلفة بعضها من بعض، من الفاعلية والمفعولية إلى غير ذلك وهذا المعنى يحصل بإعراب واحد؛ فلا حاجة إلى أن يجمعوا بين إعرابين؛ لأن أحد الإعرابين يقوم مقام الآخر، فلا حاجة إلى أن يجمع بينهما في كلمة واحدة.
ألا ترى أنهم لا يجمعون بين علامتي تأنيث في كلمة واحدة نحو مسلمات وصالحات، وإن كان الأصل فيه مسلمتات وصالحتات؛ لأن كل واحدة من التاءين تدلّ على ما تدلّ عليه الأخرى من التأنيث، وتقوم مقامَهَا، فلم يجمعوا بينهما؛ فكذلك ههنا.
والذي يدلّ على صحة ما ذهبنا إليه وفساد ما ذهبوا إليه أن ما ذهبنا إليه له نظير في كلام العرب؛ فإن كل معرب في كلامهم ليس له إلا إعراب واحد، وما ذهبوا إليه لا نظير له في كلامهم؛ فإنه ليس في كلامهم معرب له إعرابان2، فَبَانَ
--------------------------------------------
তোমার গোলাম শব্দে; ফলে একবচন অবস্থায় যে দম্মাহ, ফাতহাহ এবং কাসরাহ ই’রাব হিসেবে ছিল, সম্বন্ধযুক্ত (ইদাফাত) অবস্থায়ও ঠিক সেগুলোই ই’রাব হিসেবে বজায় থাকে। এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ। আর এর বিশুদ্ধতার প্রমাণ হলো রাফা, নাসব এবং জার অবস্থায় 'বা' অক্ষরের হরকতের পরিবর্তন হওয়া। একইভাবে এই হরকতগুলোর পরবর্তী ওয়াও, আলিফ এবং ইয়া-ও হরকতগুলোর মতোই ই’রাব হিসেবে গণ্য হয়; এর প্রমাণ হলো রাফা, নাসব এবং জার অবস্থায় এগুলোর পরিবর্তন হওয়া। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, দম্মাহ ও ওয়াও হলো রাফার আলামত, ফাতহাহ ও আলিফ হলো নাসবের আলামত এবং কাসরাহ ও ইয়া হলো জারের আলামত। অতএব এটি প্রমাণ করে যে, শব্দটি দুটি স্থান থেকে ই’রাব গ্রহণ করে ১।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই যুক্তি আঁকড়ে ধরেছেন যে: এই ছয়টি বিশেষ্য অক্ষরের স্বল্পতার কারণে দুটি স্থান থেকে ই’রাব গ্রহণ করেছে, যাতে শব্দে অক্ষরের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং ই’রাবের মাধ্যমে স্পষ্টতা ও বর্ণনা বৃদ্ধি পায়; ফলে আমাদের অভিমত অনুযায়ী এগুলো দুটি স্থান থেকে ই’রাব গ্রহণকারী হওয়া আবশ্যক।
পক্ষান্তরে বসরার ভাষাবিদগণ এই বলে দলিল পেশ করেছেন যে: আমরা বলেছি 'এটি কেবল একটি স্থান থেকে ই’রাব গ্রহণ করে', কারণ মূলত কোনো অর্থের উদ্দেশ্যেই বাক্যে ই’রাবের অনুপ্রবেশ ঘটেছে, আর সেই অর্থটি হলো বিভাজন করা, অস্পষ্টতা দূর করা এবং বিভিন্ন অর্থের মধ্যে পার্থক্য করা—যেমন ফায়িল (কর্তা) ও মাফউল (কর্ম) এবং অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা। আর এই উদ্দেশ্যটি একটি মাত্র ই’রাবের মাধ্যমেই অর্জিত হয়; সুতরাং দুটি ই’রাবকে একত্র করার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ একটি ই’রাব অন্যটির স্থলাভিষিক্ত হয়, তাই একটি শব্দে দুটি ই’রাব একত্র করার কোনো আবশ্যকতা নেই।
আপনি কি দেখছেন না যে, তারা একটি শব্দে দুটি স্ত্রীলিঙ্গ জ্ঞাপক চিহ্ন একত্র করেন না, যেমন: মুসলিমাত ও সালিহাত, যদিও এর মূল রূপ ছিল 'মুসলিমতাত' ও 'সালিহতাত'; কেননা দুটি 'তা'-এর প্রত্যেকটিই স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে এবং একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হয়, তাই তারা এ দুটিকে একত্র করেননি। এখানেও বিষয়টি তেমনই।
আমরা যে মতটি গ্রহণ করেছি তার বিশুদ্ধতা এবং তাদের মতের অসারতার প্রমাণ হলো এই যে, আমাদের মতটির উদাহরণ আরবদের কথায় বিদ্যমান; কারণ তাদের ভাষায় প্রতিটি মু’রাব (ই’রাব গ্রহণকারী) শব্দের কেবল একটিই ই’রাব থাকে। আর তারা যা বলেছে আরবদের ভাষায় তার কোনো নজির নেই; কেননা তাদের ভাষায় এমন কোনো মু’রাব শব্দ নেই যার দুটি ই’রাব রয়েছে ২, ফলে এটি স্পষ্ট হলো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২০)
أن ما ذهبنا إليه له نظير في كلامهم، وما ذهبوا إليه لا نظير له في كلامهم، والمصِيرُ إلى ما له نظِيرُ أولى من المصير إلى ما ليس له نظير.
ومنهم من تمسّك بأن قال: لو جاز أن يجتمع في اسم واحد إعرابان مختلفان لجاز أن يجتمع فيه إعرابان مختلفان؛ فكما يمتنع أن يجتمع فيه إعرابان مختلفان فكذلك يمتنع أن يجتمع فيه إعرابان متفقان؛ لامتناع اجتماع إعرابين في كلمة واحدة.
والاعتمادُ على الاستدلال الأول، وهذا الاستدلال عندي فاسدٌ؛ لأن الإعراب في الأصل إنما دخل للفَصْل بين المعاني بعضها من بعض من الفاعلية والمفعولية على ما بَيَّنَّا؛ فلو جوَّزنا أن يُجْمَع في اسم واحد إعرابان مختلفان لأدَّي ذلك إلى التناقض؛ لأن كل واحد من الإعرابين يدلُّ على نقيض ما يدلُّ عليه الآخر؛ ألا ترى أنَّا لو قدَّرنا الرفع والنصب في اسم واحد لدلَّ الرفع على الفاعلية والنصب على المفعولية، وكل منهما نقيض الآخر، بخلاف ما لو قدرنا إعرابين متفقين فإنه لا يدلُّ أحد الإعرابين على نقيض ما يدل عليه الآخر؛ فبان الفرق بينهما، وأن الاعتماد على الاستدلال الأول.
وأما من ذهب إلى أنها ليست بحروف إعراب1، ولكنها دلائل الإعراب، فقال: لأنها لو كانت حروفَ إعرابٍ كالدال من "زيد" والراء من "عمرو" لما كان فيها دلالة على الإعراب، ألا ترى أنك إذا قلت: "ذهب زيد، وانطلق عمرو" لم يكن في نفس الدال والراء دلالة على الإعراب، فلما كان ههنا هذه الأحرف تدلُّ على الإعراب دلَّ على أنها دلائل الإعراب، وليست بحروف إعراب.
وهذا القول فساد؛ لأنّا نقول: لا يخلو أن تكون هذه الأحرفُ دلائلَ الإعراب في الكلمة أو في غيرها؛ فإن كانت تدل على الإعراب في الكلمة فوجَبَ أن يكون الإعراب فيها؛ لأنها آخر الكلمة، فيئُول هذا القول إلى قول الأكثرين، وإن كانت تدل على إعراب في غير الكلمة فيؤدي إلى أن تكون الكلمة مبنية، وليس من مذهب هذا القائل أنها مبنية، فسنبيّن فساد مذهبه أن الواو والألف والياء في التثنية والجمع ليست بحروف إعراب، ولكنها دلائل الإعراب، مستقصًى في موضعه، إن شاء الله تعالى.
--------------------------------------------
আমরা যে মত পোষণ করেছি তার উদাহরণ তাদের (আরবদের) কথাবার্তায় পাওয়া যায়, কিন্তু তারা যে মত পোষণ করেছে তার কোনো উদাহরণ তাদের কথায় নেই। আর যার উদাহরণ পাওয়া যায় সেটি গ্রহণ করা যার কোনো উদাহরণ নেই সেটি গ্রহণ করার চেয়ে অধিক উত্তম।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই যুক্তি আঁকড়ে ধরেছেন যে: যদি একটি বিশেষ্যে (ইসম) দুটি ভিন্ন ইরাব একত্রিত হওয়া সম্ভব হতো, তবে তাতে দুটি ভিন্ন ইরাব একত্রিত হওয়া বৈধ হতো; সুতরাং যেহেতু একটি শব্দে দুটি ভিন্ন ইরাব একত্রিত হওয়া অসম্ভব, তেমনিভাবে দুটি অভিন্ন ইরাব একত্রিত হওয়াও অসম্ভব; কারণ একটি শব্দে দুটি ইরাব একত্রিত হওয়া মূলতই অসম্ভব।
তবে নির্ভরযোগ্য হলো প্রথম যুক্তিটি। আর এই যুক্তিটি আমার নিকট ত্রুটিযুক্ত; কেননা ইরাব মূলত প্রবর্তিত হয়েছে অর্থসমূহের একটিকে অন্যটি থেকে পৃথক করার জন্য, যেমন ফায়িল (কর্তা) ও মাফউল (কর্ম) এর মধ্যে পার্থক্য করা, যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি। যদি আমরা একটি ইসমে দুটি ভিন্ন ইরাব একত্রিত হওয়া বৈধ মনে করি, তবে তা পরস্পরবিরোধী ফলাফল বয়ে আনবে; কারণ প্রতিটি ইরাব এমন বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করবে যা অপরটির বিপরীত। আপনি কি দেখেন না যে, আমরা যদি একটি ইসমে রফ ও নাসব একসাথে কল্পনা করি, তবে রফ ফায়িল হওয়ার প্রতি এবং নাসব মাফউল হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করবে, অথচ তাদের প্রত্যেকেই অপরের বিপরীত। এর বিপরীতে যদি আমরা দুটি অভিন্ন ইরাব কল্পনা করি, তবে তাদের একটি অপরটির বিপরীত কোনো অর্থের দিকে ইঙ্গিত করবে না। সুতরাং উভয়ের মাঝে পার্থক্য স্পষ্ট হলো এবং প্রমাণিত হলো যে নির্ভরযোগ্যতা প্রথম যুক্তির ওপরই ন্যস্ত।
আর যারা এই মত পোষণ করেছেন যে, এগুলো ইরাবের হরফ নয় বরং ইরাবের নিদর্শন, তারা বলেন: কারণ এগুলো যদি 'যায়েদ' শব্দের 'দাল' এবং 'আমর' শব্দের 'রা' এর মতো ইরাবের হরফ হতো, তবে সেগুলোর মধ্যে ইরাবের কোনো সংকেত থাকত না। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, যখন আপনি বলেন: "যায়েদ গিয়েছে, এবং আমর রওনা হয়েছে", তখন 'দাল' এবং 'রা' এর নিজস্ব সত্তায় ইরাবের কোনো নিদর্শন থাকে না। কিন্তু এখানে যেহেতু এই হরফগুলো ইরাবের প্রতি নির্দেশ করে, তাই বুঝা গেল যে এগুলো ইরাবের নিদর্শন, ইরাবের হরফ নয়।
আর এই বক্তব্যটি ত্রুটিপূর্ণ; কারণ আমরা বলি: এই হরফগুলো হয় শব্দের ভেতরের ইরাবের নিদর্শন হবে অথবা শব্দ বহির্ভূত অন্য কিছুর। যদি সেগুলো শব্দের ইরাব নির্দেশ করে, তবে ইরাবটি সেই হরফগুলোর মধ্যেই হওয়া আবশ্যক; কারণ সেগুলো শব্দের শেষে অবস্থিত। এমতাবস্থায় এই মতটি অধিকাংশ ভাষাবিদের মতের দিকেই ফিরে যায়। আর যদি সেগুলো শব্দ বহির্ভূত কোনো কিছুর ইরাব নির্দেশ করে, তবে এর পরিণাম এই দাঁড়ায় যে শব্দটি মাবনি (অপরিবর্তনীয়)। অথচ এই মতের প্রবক্তাদের মাযহাব এটি নয় যে শব্দটি মাবনি। সুতরাং দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে ওয়াও, আলিফ ও ইয়া ইরাবের হরফ নয় বরং ইরাবের নিদর্শন—এই মতের অসারতা আমরা যথাস্থানে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব, ইনশাআল্লাহ তাআলা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২১)
فأما من ذهب إلى أنها إذا كانت مرفوعة ففيها نقل بلا قلب، وإذا كانت منصوبة ففيها قلب بلا نقل، وإذا كانت مجرورة ففيها نقل وقلب؛ فقال: لأن الأصل في قولك هذا أبوه "هذا أبَوُهُ" فاستثقلت الضمة على الواو، فنقلت إلى ما قبلها1، وبقيت الواو على حالها، فكان فيه نقل بلا قلب، والأصل في قولك رأيت أباه "رأيت أبَوَهُ" فتحركت الواو وانفتح ما قبلها فانقلبت ألفًا؛ فكان فيه قلب بلا نقل، والأصل في قولك مررت بأبيك "مررت بِأَبَوِك" فاستثقلت الكسرة على الواو، فنقلت إلى ما قبلها2، فقلبت الواو ياء لسكونها3 وانكسار ما قبلها، فكان فيه نقل وقلب.
وأما مَنْ ذهب إلى أن الباء حرف الإعراب، وإنما الواو والألف والياء نشأت عن إشباع الحركات؛ فقال: لأن الباء تختلف عليها الحركات في حالة الرفع والنصب والجر كما تختلف حركات الإعراب على سائر حروف الإعراب؛ فدلّ على أن الباء حرف الإعراب، وأن هذه الحركات -التي هي الضمة والفتحة والكسرة- حركات إعراب، وإنما أشبعت فنشأت عنها هذه الحروف -التي هي الواو والألف والياء- فالواو عن إشباع الضمة، والألف عن إشباع الفتحة، والياء عن إشباع الكسرة، وقد جاء ذلك كثيرًا في استعمالهم، قال الشاعر في إشباع الضمة:
[6]الله يعلم أنَّا في تَلَفُّتِنَا
… يوم الفِرَاقِ إلى إخواننا صُوَرُ
--------------------------------------------
আর যারা এই মত পোষণ করেন যে, এটি যখন রফ’ (পেশযুক্ত) অবস্থায় থাকে তখন তাতে পরিবর্তন (কল্ব) ছাড়াই স্থানান্তর (নক্ল) ঘটে, যখন নসব (যবরযুক্ত) অবস্থায় থাকে তখন তাতে স্থানান্তর ছাড়াই পরিবর্তন ঘটে এবং যখন জর (জেরযুক্ত) অবস্থায় থাকে তখন তাতে স্থানান্তর ও পরিবর্তন উভয়ই ঘটে; তারা বলেন: কারণ আপনার বক্তব্য ‘হাযা আবুহু’ (এ তার পিতা)-এর মূল রূপ ছিল ‘হাযা আবওয়ুহু’। এখানে ওয়াও-এর ওপর পেশ (জম্মা) অত্যন্ত ভারী মনে হওয়ায় তা তার পূর্ববর্তী বর্ণের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে১ এবং ওয়াও তার নিজ অবস্থায় রয়ে গেছে; ফলে এতে পরিবর্তন ছাড়াই স্থানান্তর ঘটেছে। আপনার বক্তব্য ‘রাআইতু আবাহু’ (আমি তার পিতাকে দেখেছি)-এর মূল ছিল ‘রাআইতু আবওয়াহু’। এখানে ওয়াও-টি হারাকাতযুক্ত এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণটি যবরযুক্ত (মাফতুহ) হওয়ায় তা আলিফে পরিবর্তিত হয়ে গেছে; ফলে এতে স্থানান্তর ছাড়াই পরিবর্তন ঘটেছে। আর আপনার বক্তব্য ‘মারারতু বি-আবীকা’ (আমি তোমার পিতার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি)-এর মূল ছিল ‘মারারতু বি-আবওয়িকা’। এখানে ওয়াও-এর নিচে জের (কাসরা) ভারী মনে হওয়ায় তা তার পূর্ববর্তী বর্ণের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে২, অতঃপর ওয়াও-টি সাকিন হওয়ায় এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণটি জেরযুক্ত হওয়ায় তা ইয়া-তে পরিবর্তিত হয়ে গেছে; ফলে এতে স্থানান্তর ও পরিবর্তন উভয়ই ঘটেছে।
আর যারা এই মত পোষণ করেন যে, ‘বা’ বর্ণটিই হলো ই’রাবের (বিভক্তির) স্থান, আর ওয়াও, আলিফ ও ইয়া বর্ণগুলো মূলত হারাকাত বা স্বরচিহ্নকে প্রলম্বিত (ইশব্বা’) করার ফলেই সৃষ্টি হয়েছে; তারা বলেন: কারণ ‘বা’ বর্ণের ওপর রফ’, নসব ও জর অবস্থায় হারাকাতগুলো পরিবর্তিত হয় যেভাবে অন্যান্য ই’রাবের বর্ণের ওপর হারাকাত পরিবর্তিত হয়ে থাকে। এটি প্রমাণ করে যে ‘বা’ বর্ণটিই হলো ই’রাবের বর্ণ, এবং এই হারাকাতগুলো—যা হলো পেশ, যবর ও জের—সেগুলোই হলো ই’রাবের হারাকাত। এগুলোকে প্রলম্বিত করার ফলেই এই বর্ণগুলো—যা হলো ওয়াও, আলিফ ও ইয়া—উৎপন্ন হয়েছে। সুতরাং ওয়াও এসেছে পেশের প্রলম্বিত রূপ থেকে, আলিফ এসেছে যবরের প্রলম্বিত রূপ থেকে এবং ইয়া এসেছে জেরের প্রলম্বিত রূপ থেকে। আরবদের ব্যবহারে এর প্রচুর প্রয়োগ রয়েছে। কবি পেশকে প্রলম্বিত করার বিষয়ে বলেছেন:
[৬]আল্লাহ জানেন যে আমাদের ফিরে তাকানোর মাঝে
… বিচ্ছেদের দিনে আমাদের ভাইদের প্রতি আমাদের চোখগুলো ছিল অবনত (অশ্রুসজল)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২২)
وأنني حيثما يَثْنِي الهوى بصري
… من حيثما سلكوا أدنو فَأَنْظُورُ
أراد "فَأَنْظُرُ" فأشبع الضمّ، فنشأت الواو، وقال الآخر:
[7]هجَوْتَ زَبَّان ثمَّ جِئْتَ معتذرا
… من هَجْوِ زِبَّانَ لم تَهْجُو ولم تَدَعِ
أراد "لم تَهْجُ"، وقال الآخر:
[8]كأنَّ في أنيابها القَرَنْفُولُ
--------------------------------------------
এবং আমি যেখানেই প্রবৃত্তি আমার দৃষ্টিকে ফেরায়
… তারা যেখান দিয়েই চলুক, আমি নিকটে যাই এবং দেখি।
তিনি 'আমি দেখি' বুঝাতে চেয়েছেন, কিন্তু পেশকে দীর্ঘ (ইশবা) করেছেন, ফলে একটি 'ওয়াও' সৃষ্টি হয়েছে। অন্য একজন বলেছেন:
[৭]তুমি জাব্বানকে বিদ্রূপ করেছ, তারপর ক্ষমা চাইতে এসেছ
… জাব্বানকে বিদ্রূপ করার ব্যাপারে তুমি বিদ্রূপও করোনি, আবার ছেড়েও দাওনি।
তিনি 'তুমি বিদ্রূপ করোনি' বুঝাতে চেয়েছেন। অন্য একজন বলেছেন:
[৮]যেন তার দাঁতগুলোর মাঝে লবঙ্গ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أراد"القَرَنْفُلْ" وقال الشاعر في إشباع الفتحة:
[9]وأنتِ من الغوائل حين تُرْمَى
… ومِنْ ذَمِّ الرجال بِمُنْتَزَاح
أراد "بِمُنْتَزَح" فأشبع الفتحة فنشأت الألف، وقال الآخر:
[10]أقول إذا خرَّت على الْكَلْكَالِ
… يا نَاقَتَا ما جُلْتِ من مَجَالٍ
أراد" الكَلْكَلَ"، وقال الآخر:
[11]إذا العجوز غضبت فَطَلِّقِ
… ولا تَرَضَّاهَا ولا تمَلَّقِ
--------------------------------------------
তিনি "আল-করনফুল" বুঝিয়েছেন এবং কবি জবরকে দীর্ঘায়িত করার ক্ষেত্রে বলেছেন:
[৯]যখন বিপদ আপতিত হয় তখন তুমি তা থেকে মুক্ত... আর পুরুষদের নিন্দা থেকেও তুমি দূরে।
তিনি "বি-মুনতাযাহ" বুঝাতে চেয়েছিলেন, অতঃপর তিনি জবরকে দীর্ঘায়িত করেছেন যার ফলে আলিফ সৃষ্টি হয়েছে। অন্য এক কবি বলেছেন:
[10]আমি বললাম যখন উটটি তার বুকের ওপর পড়ে গেল... হে আমার উষ্ট্রী, তুমি কোনো সুযোগই গ্রহণ করলে না।
তিনি "আল-কালকাল" বুঝাতে চেয়েছেন। অন্যজন বলেছেন:
[11]বৃদ্ধা যখন রাগান্বিত হবে তখন তাকে তালাক দিয়ে দাও... তার সন্তুষ্টি খুঁজো না এবং তোষামোদ করো না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أراد "ولا ترضها"، وقال عنترة:
[12]يَنْبَاع مِنْ ذِفْرَى غَضُوبٍ جَسْرَةٍ
… زَيَّافَةٍ مثل الفَنِيقِ المُكْدَمِ
أراد "يَنْبَع". وقال الشاعر في إشباع الكسرة:
[13]تَنْفِي يداها الحصى في كلِّ هَاجِرَةٍ
… نَفْيَ الدَّرَاهِيمِ تَنْقَادُ الصَّيَارِيفِ
--------------------------------------------
তিনি "এবং তাতে সন্তুষ্ট হয়ো না" বুঝিয়েছেন, আর আনতারা বলেছেন:
[১২]ক্রুদ্ধ শক্তিশালী উষ্ট্রীর কর্ণমূল হতে (ঘাম) নির্গত হচ্ছে... যা বলিষ্ঠ ও সম্মানিত উষ্ট্রের ন্যায় দ্রুতপদবিক্ষেপে চলে।
তিনি "ইয়ানবাউ" (নিঃসৃত হওয়া) বুঝিয়েছেন। আর কবি কাসরার (জেরের) ইশবায়ে (দীর্ঘায়নে) বলেছেন:
[১৩]প্রচণ্ড দ্বিপ্রহরে তার (উষ্ট্রীটির) সম্মুখপদদ্বয় কঙ্করগুলোকে এমনভাবে সরিয়ে দিচ্ছে... যেমন মুদ্রা-পরীক্ষকগণ দিরহামসমূহ সরিয়ে পরীক্ষা করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أراد "الدراهم" و "الصيارف" فأشبع الكسرة فنشأت الياء، ويحتمل أن يكون الدراهيمُ جمعَ دِرْهَام، ولا يحتمل الصياريف هذا الاحتمال، وقال الآخر:
[14]كأني بِفَتْخَاء الجناحين لقوة
… على عَجَل منِّي أُطَأْطِئُ شِيمَالي
أراد "شِمَالِي"، وقال الآخر:
[15]لمَّا نزلنا نصبنا ظل أخْبِيَةٍ
… وفار للقوم باللحم المَرَاجِيلُ
--------------------------------------------
তিনি "আদ-দিরাহাম" ও "আস-সায়ারিফ" বুঝাতে চেয়েছেন, ফলে তিনি কাসরাকে (জের) দীর্ঘ করেছেন যার ফলে ইয়া-এর উদ্ভব হয়েছে। এটা সম্ভব যে 'আদ-দিরাহীম' শব্দটি 'দিরহাম' (আলিফসহ)-এর বহুবচন হতে পারে, তবে 'আস-সায়ারীফ' শব্দের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা নেই। অপর এক কবি বলেছেন:
[১৪]যেন আমি নরম ডানাবিশিষ্ট এক দ্রুতগামী ঈগলের পিঠে রয়েছি... তাড়াহুড়ো করে আমি আমার বাম হাত নিচু করছি।
তিনি "শিমালী" (শিন-এর নিচে শুধু জেরসহ) বুঝাতে চেয়েছেন। অপর এক কবি বলেছেন:
[১৫]যখন আমরা অবতরণ করলাম, তখন আমরা তাঁবুর ছায়া স্থাপন করলাম... এবং লোকজনের জন্য গোশতসহ ডেকচিগুলো উথলিয়ে উঠল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أراد "المراجِلَ"، وقال الآخر:
[16]لا عهد لي بنِيضَال
… أصبحت كالشِّنِّ البَال
أراد "بِنِضَال"، وقال الآخر:
[17]ألم يأتِيكَ والأنباء تَنْمِي
… بما لَاقَتْ لَبُونُ بني زِيَاد
--------------------------------------------
তিনি "আল-মরাজিল" বুঝিয়েছেন, আর অন্যজন বলেছেন:
[১৬]তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই... আমি জীর্ণ পুরোনো পানির মশকের মতো হয়ে গেছি।
তিনি "বিনদাল" বুঝিয়েছেন, আর অন্যজন বলেছেন:
[১৭]তোমার কাছে কি সংবাদ আসেনি, অথচ সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে... বনু জিয়াদের দুগ্ধবতী উটগুলো কীসের সম্মুখীন হয়েছিল?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أراد "ألم يأتِكَ" فأشبع الكسر فنشأت الياء.
وإشباعُ الحركات حتى تنشأ عنها هذه الحروف كثير في كلامهم1، فكذلك ههنا.
وهذا القول ظاهر الفساد؛ لأن إشباع الحركات إنما يكون في ضرورة الشعر كما أنشدوه من الأبيات، وأما في حال اختيار الكلام فلا يجوز ذلك بالإجماع، وههنا بالإجماع تقول في حال الاختيار: هذا أبُوكَ، ورأيت أبَاكَ، ومررت بِأَبِيكَ؛ وكذلك سائِرُها، فدلّ على أنها ليست للإشباع عن الحركات، وأن الحركات ليست للإعراب، على ما سنبيّن في الجواب عن كلمات الكوفيين.
أما الجواب عن كلمات الكوفيّين: أما قولهم "إن هذه الحركات تكون حركات إعراب في حال الإفراد فكذلك في حال الإضافة" قلنا: هذا فاسد؛ لأن حرف الإعراب في حال الإفراد هو الباء؛ لأن اللام التي هي الواو من "أبَو" لمّا حذفت من آخر الكلمة صارت العين التي هي الباء بمنزلة اللام في كونها آخر الكلمة؛ فكانت الحركات عليها حركات إعراب، فأما في حال الإضافة فحرف الإعراب هو حرف العلة؛ لأنهم لما أرادوا أن يجعلوا اختلاف الحروف بمنزلة اختلاف الحركات ردُّوا اللام في الإضافة؛ ليدلوا على أن من شأنهم الإعراب بالحروف توطئة لما يأتي من باب التثنية والجمع، وإذا كان حرف الإعراب هو حرف العلة لم تكن هذه الحركات على الباء في حال الإضافة حركات إعراب؛ لأن حركات الإعراب لا تكون في حَشْو الكلمة، وصار هذا بمنزلة تاء التأنيث إذا
--------------------------------------------
তিনি "আলাম ইয়া'তিকা" বুঝাতে চেয়েছেন, তাই তিনি কাসরাকে (জের) দীর্ঘায়িত করেছেন ফলে একটি 'ইয়া' বর্ণ উৎপন্ন হয়েছে।
আর হরকতসমূহকে দীর্ঘায়িত করা যাতে তা থেকে এই বর্ণগুলো উৎপন্ন হয়, তা তাদের কথাবার্তায় বহুল প্রচলিত ১, ঠিক তেমনি এখানেও ঘটেছে।
আর এই উক্তিটি স্পষ্টভাবে অশুদ্ধ; কারণ হরকতের দীর্ঘায়ন কেবল কাব্যের প্রয়োজনেই (দরুরাতে শে'র) ঘটে থাকে, যেমনটি তারা বিভিন্ন কবিতায় আবৃত্তি করেছেন। কিন্তু স্বাভাবিক কথোপকথনের অবস্থায় সর্বসম্মতিক্রমে এটি জায়েয নয়। আর এখানে সর্বসম্মতিক্রমে স্বাভাবিক অবস্থায় বলা হয়: "হাযা আবূকা" (এটি তোমার পিতা), "রাআইতু আবাকা" (আমি তোমার পিতাকে দেখেছি), এবং "মারারতু বি-আবীকা" (আমি তোমার পিতার নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি); একইভাবে অন্যান্য ক্ষেত্রেও। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, এগুলো হরকত দীর্ঘ করার কারণে নয়, এবং হরকতগুলো ইরাবের (বিভক্তি) জন্য নয়, যেমনটি আমরা কুফীবাসীদের বক্তব্যের উত্তরে অচিরেই বর্ণনা করব।
কুফীবাসীদের বক্তব্যের উত্তর প্রসঙ্গে: তাদের এই বক্তব্য যে "এই হরকতগুলো একক অবস্থায় যেমন ইরাবের হরকত হয়, তেমনি সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায়ও (ইযাফাত) তাই হবে"—আমরা বলব: এটি অশুদ্ধ; কারণ একক অবস্থায় ইরাবের বর্ণ হলো 'বা' (ب); কারণ 'লাম' বর্ণটি—যা "আবুন" (أبَو) শব্দের 'ওয়াও'—যখন শব্দের শেষ থেকে বিলুপ্ত করা হলো, তখন 'আইন' বর্ণটি—যা 'বা' (ب)—শব্দের শেষ বর্ণ হিসেবে 'লাম' বর্ণের স্থলাভিষিক্ত হলো; ফলে এর ওপর অবস্থিত হরকতগুলোই ইরাবের হরকত হিসেবে গণ্য হলো। পক্ষান্তরে সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায় (ইযাফাত) ইরাবের বর্ণ হলো হরফে ইল্লাত (দুর্বল বর্ণ); কারণ তারা যখন বর্ণের পরিবর্তনকে হরকতের পরিবর্তনের স্থলাভিষিক্ত করতে চাইলেন, তখন ইযাফাতের ক্ষেত্রে 'লাম' বর্ণটিকে ফিরিয়ে আনলেন; যাতে তারা বুঝাতে পারেন যে বর্ণের মাধ্যমে ইরাব প্রদান করা তাদের একটি রীতি, যা দ্বিবচন ও বহুবচনের অধ্যায়ের ভূমিকা স্বরূপ। আর যখন ইরাবের বর্ণটি হরফে ইল্লাত হলো, তখন ইযাফাতের অবস্থায় 'বা' বর্ণের ওপর থাকা এই হরকতগুলো ইরাবের হরকত রইল না; কারণ ইরাবের হরকত শব্দের মাঝখানে থাকে না। আর এটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'তা'-এর মতো হয়ে গেল যখন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
اتصلت ببناء الاسم نحو قائم وقائمة فإنها تصير حرف الإعراب؛ لأنها صارت آخر الكلمة وتخرج ما قبلها عن تلك الصفة؛ لأنه قد صار بمنزلة حَشْوِ الكلمة؛ فكذلك ههنا، وبَلْ أولى؛ فإن تاء التأنيث زائدة على بناء الاسم وليست أصلية، وحرف العلة ههنا أصليٌّ في بناء الاسم وليس زائدًا، وإذا تُرِكَ ما قبل الزائد حَشْوًا فلَأن يترك ما قبل الأصليّ حشوًا كان ذلك من طريق الأولى.
وأما قولهم "إن الحركة التي تكون إعرابًا للمفرد في حال الإفراد هي بعينها تكون إعرابًا له في حال الإضافة نحو: هذا غلامٌ، وهذا غلامك "قلنا: إنما تكون الحركة فيهما واحدة إذا كان حرف الإعراب فيهما واحدًا، نحو "هذا غلام، وهذا غلامك" وقد بيّنا اختلاف حرف الإعراب فيهما؛ فلا يُقَاسُ أحدهما على الآخر، وإن ادَّعَوْا أن حرف الإعراب فيهما واحد -على خلاف التحقيق من مذهبهم- وزعموا أن الحرف للإعراب وليس بلام الكلمة، وأنه والحركة مَزِيدَانِ للإعراب، فقد بيّنا أن ذلك لا نظير له في كلامهم، وأن أحدهما زيادة بغير فائدة، وأوضحنا فساده بما يغني عن الإعادة.
وأما قولهم "تغيّر الحركات على الباء في حال الرفع والنصب والجر يدلّ على أنها حركات إعراب" قلنا: هذا لا يدل على أنها حركات إعراب؛ لأنها إنما تغيرت توطئة للحروف التي بعدها؛ لأنها من جنسها، كما قلنا في الجمع السالم نحو "مسلمون ومسلمين" فإن ضمة الميم في الرفع تتغيّر إلى الكسرة في حال الجر والنصب، وليس ذلك بإعراب، وإنما جعلت الضمة تَوْطِئة للواو، والكسرة توطئة للياء، فكذلك ههنا، وإذا بطل أن تكون هذه الحركات حركات إعراب، وأجمعنا على أن هذه الحروف -التي في الواو والألف والياء- تدل على الرفع والنصب والجر الذي هو جملة الإعراب؛ فلا حاجة إلى أن يكون معربًا من مكان آخر.
وأما قولهم"إنما أعربت هذه الأسماء الستة من مكانين لقلة حروفها" قلنا: هذا ينتقض بغدٍ ويدٍ ودمٍ؛ فإنها قليلة الحروف [و] لا تعرب في حال الإضافة إلا من مكان واحد.
وأما قولهم "ليزيدو بالإعراب في الإيضاح والبيان" قلنا: الإيضاح والبيان قد حصل بإعراب واحد، فصار الإعراب الزائد لغير فائدة، والحكم لا يزيد شيئًا لغير فائدة؛ فوجب أن تكون معربة من مكان واحد كسائر ما أعرب من الكلام، والله أعلم.
বিশেষ্যের কাঠামোর সাথে যুক্ত হয় যেমন ‘কায়েম’ ও ‘কায়েমাহ’; এক্ষেত্রে এটি ই’রাবের অক্ষরে পরিণত হয়, কারণ এটি শব্দের শেষে অবস্থিত। এটি তার পূর্ববর্তী অক্ষরকে সেই বৈশিষ্ট্য (ই’রাব গ্রহণের স্থান হওয়া) থেকে বের করে দেয়, কারণ সেটি তখন শব্দের মধ্যবর্তী অংশে পরিণত হয়। এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ, বরং আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। কারণ স্ত্রীবাচক ‘তা’ বিশেষ্যের কাঠামোর অতিরিক্ত অংশ, মূল নয়; অথচ এখানে ‘হরফে ইল্লাত’ বা স্বরবর্ণটি বিশেষ্যের কাঠামোর মূল অংশ, অতিরিক্ত নয়। যদি অতিরিক্ত বর্ণের পূর্ববর্তী অংশকে মধ্যবর্তী ধরা হয়, তবে মূল বর্ণের পূর্ববর্তী অংশকে মধ্যবর্তী ধরা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত।
আর তাদের এই বক্তব্য যে, "একবচনের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় যে হরকতটি ই’রাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সমাসবদ্ধ অবস্থায়ও হুবহু সেই হরকতটিই ই’রাব হয়; যেমন: ‘হাযা গুলামুন’ এবং ‘হাযা গুলামুকা’"; এর উত্তরে আমরা বলি: উভয়ের ক্ষেত্রে হরকত কেবল তখনই এক হবে যখন উভয়ের ই’রাবের অক্ষর এক হবে, যেমন ‘হাযা গুলাম’ ও ‘হাযা গুলামুকা’। আমরা ইতিপূর্বে উভয়ের ই’রাবের অক্ষরের ভিন্নতা স্পষ্ট করেছি; সুতরাং একটিকে অন্যটির ওপর তুলনা করা যাবে না। আর যদি তারা দাবি করে যে—তাদের মতবাদের সঠিক তাহকিকের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও—উভয় ক্ষেত্রে ই’রাবের অক্ষর এক, এবং তারা মনে করে যে বর্ণটি ই’রাবের জন্য এসেছে, শব্দের মূল শেষ অক্ষর নয়, এবং বর্ণ ও হরকত উভয়ই ই’রাবের জন্য অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে; তবে আমরা স্পষ্ট করেছি যে, তাদের ভাষায় এর কোনো নজির নেই এবং এর মধ্যে একটি হবে নিরর্থক আধিক্য। আমরা এর অসারতা এমনভাবে স্পষ্ট করেছি যা পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন রাখে না।
আর তাদের এই বক্তব্য যে, "রফা, নসব ও জর অবস্থায় ‘বা’ বর্ণের ওপর হরকতের পরিবর্তন হওয়া প্রমাণ করে যে এগুলো ই’রাবের হরকত"; এর উত্তরে আমরা বলি: এটি প্রমাণ করে না যে এগুলো ই’রাবের হরকত। কারণ এগুলো কেবল পরবর্তী বর্ণগুলোর সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য পরিবর্তিত হয়েছে; যেহেতু এগুলো সমজাতীয়। যেমনটি আমরা নিরাপদ বহুবচনের ক্ষেত্রে বলি, যেমন: ‘মুসলিমুনা’ ও ‘মুসলিমিনা’। এখানে রফা অবস্থায় মীম-এর পেশ জর ও নসব অবস্থায় যের-এ পরিবর্তিত হয়, অথচ এটি ই’রাব নয়। বরং পেশকে ‘ওয়াও’-এর অনুকূল করার জন্য এবং যেরকে ‘ইয়া’-এর অনুকূল করার জন্য আনা হয়েছে। এখানেও বিষয়টি ঠিক তেমনি। যখন এই হরকতগুলো ই’রাবের হরকত হওয়া বাতিল হয়ে গেল এবং আমরা একমত হলাম যে এই বর্ণগুলো—যা ‘ওয়াও’, ‘আলিফ’ ও ‘ইয়া’-তে বিদ্যমান—রফা, নসব ও জর অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ ই’রাব নির্দেশ করে, তখন অন্য কোনো স্থান থেকে একে ই’রাব প্রদানকারী করার আর কোনো প্রয়োজন থাকে না।
আর তাদের এই কথা যে, "এই ছয়টি বিশেষ্যকে অক্ষরের স্বল্পতার কারণে দুই স্থান থেকে ই’রাব প্রদান করা হয়েছে"; এর উত্তরে আমরা বলি: ‘আগামীকাল’, ‘হাত’ এবং ‘রক্ত’ শব্দগুলো দ্বারা এটি খণ্ডন হয়ে যায়। কারণ এগুলোর অক্ষর কম হওয়া সত্ত্বেও সমাসবদ্ধ অবস্থায় কেবল এক স্থান থেকেই ই’রাব গ্রহণ করে।
আর তাদের এই বক্তব্য যে, "যাতে ই’রাবের মাধ্যমে স্পষ্টতা ও বর্ণনা বৃদ্ধি পায়"; এর উত্তরে আমরা বলি: স্পষ্টতা ও বর্ণনা তো একটি ই’রাব দ্বারাই অর্জিত হয়ে গেছে, ফলে অতিরিক্ত ই’রাবটি নিরর্থক হয়ে দাঁড়ায়। আর কোনো বিধান উপযোগিতা ছাড়া বৃদ্ধি করা হয় না। সুতরাং বাক্যের অন্যান্য ই’রাব গ্রহণকারী শব্দের ন্যায় এটিকেও এক স্থান থেকেই ই’রাব প্রদান করা আবশ্যক। আল্লাহ অধিক অবগত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
3-
مسألة: [القولُ في إعراب المثنَّى والجمع على حَدِّه] 1
ذهب الكوفيُّون إلى أن الألف والواو والياء في التثنية والجمع بمنزلة الفتحة والضمة والكسرة في أنها إعراب، وإليه ذهب أبو عليّ قُطْرُبُ بن المستنير، وزعم قوم أنه مذهب سيبويه، وليس بصحيح. وذهب البصريّون إلى أنها حروف إعراب. وذهب أبو الحسن الأخفش وأبو العباس المبرّد وأبو عثمان المازني إلى أنها ليست بإعراب ولا حروف إعراب، ولكنها تدل على الإعراب، وذهب أبو عمر الجَرْمِي إلى أن انقلابها هو الإعراب، وحُكي عن أبي إسحاق الزجاج أن التثنية والجمع مبنيان، وهو خلاف الإجماع.
أما الكوفيون فاحتجوا بأن قالوا: الدليل على أنها إعراب كالحركات أنها تتغير كتغير الحركات، ألا ترى أنك تقول: قام الزيدان، ورأيت الزيدين، ومررت بالزيدين. وذهب الزيدون، ورأيت الزيدين، ومررت بالزيدين، فتتغير كتغير الحركات، نحو "قام زيد، ورأيت زيدًا، ومررت بزيد" وما أشبه ذلك، فلما تغيرت كتغير الحركات دلّ على أنها إعراب بمنزلة الحركات، ولو كانت حروفَ إعراب لما جاز أن تتغير ذَوَاتُها عن حالها؛ فلما تغيرت تغير الحركات دلّ على أنها بمنزلتها، ولهذا سماها سيبويه حروف الإعراب؛ لأنها الحروف التي أعرب الاسم بها، كما يقال: حركات الإعراب -أي الحركات التي أعرب الاسم بها- والذي يدل على ذلك أنه جعل الألف في التثنية رفعًا فقال: يكون في الرفع ألفًا، وجعل الياء فيها جرًّا فقال: يكون في الجر ياء مفتوحًا ما قبلها، وجعل الياء أيضًا نصبًا حملًا على الجر فقال:
--------------------------------------------
৩-
মাসআলা: [দ্বিবচন এবং বিধিবদ্ধ বহুবচনের ইরাব (শব্দরূপ) বিষয়ক আলোচনা] ১
কুফাবাসী ব্যাকরণবিদগণ এই মত পোষণ করেন যে, দ্বিবচন এবং বহুবচনের ক্ষেত্রে আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া হলো ফাতহা, দাম্মা এবং কাসরার সমতুল্য এই অর্থে যে, এগুলোই সরাসরি ইরাব। আবু আলী কুতরুব ইবনুল মুসতানিরও এই মত গ্রহণ করেছেন। একদল লোক দাবি করেন যে এটি সিবওয়াইহ-এর মাযহাব, তবে তা সঠিক নয়। অন্যদিকে বসরাবাসীগণ মনে করেন যে, এগুলো হলো ইরাবের বর্ণ (হুরুফুল ইরাব)। আবু হাসান আল-আখফাশ, আবু আব্বাস আল-মুবররাদ এবং আবু উসমান আল-মাযিনী এই মত পোষণ করেন যে, এগুলো ইরাবও নয় এবং ইরাবের বর্ণও নয়, বরং এগুলো ইরাবের পরিচয় প্রদান করে। আবু আমর আল-জারমী মনে করেন যে, এগুলোর রূপান্তর হওয়াই হলো ইরাব। আবু ইসহাক আয-যাজ্জাজ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, দ্বিবচন এবং বহুবচন উভয়ই মাবনী (অপরিবর্তনীয়), যা ইজমার (সর্বসম্মতির) পরিপন্থী।
কুফাবাসীরা এই বলে দলিল পেশ করেছেন যে: এগুলো হারাকাতের মতোই ইরাব হওয়ার প্রমাণ হলো যে, হারাকাতের পরিবর্তনের মতো এগুলোও পরিবর্তিত হয়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে আপনি বলেন: যায়েদান (দুই যায়েদ) দাঁড়িয়েছে, আমি যায়েদাইনকে (দুই যায়েদকে) দেখেছি এবং আমি যায়েদাইনের (দুই যায়েদের) পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি। একইভাবে যায়েদুন (যায়েদগণ) গিয়েছে, আমি যায়েদিনকে (যায়েদগণকে) দেখেছি এবং আমি যায়েদিনের (যায়েদগণের) পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি। সুতরাং হারাকাতের পরিবর্তনের মতোই এগুলোর পরিবর্তন ঘটে, যেমন: ‘যায়েদ দাঁড়িয়েছে, আমি যায়েদকে দেখেছি এবং আমি যায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি’ এবং এ জাতীয় উদাহরণ। যখন এগুলো হারাকাতের পরিবর্তনের ন্যায় পরিবর্তিত হলো, তখন তা প্রমাণ করে যে এগুলো হারাকাতের স্থলাভিষিক্ত ইরাব। যদি এগুলো ইরাবের বর্ণ হতো তবে এগুলোর মূল সত্তার অবস্থার পরিবর্তন হওয়া বৈধ হতো না। সুতরাং যখন হারাকাতের পরিবর্তনের মতো এগুলোর পরিবর্তন ঘটল, তখন তা প্রমাণ করে যে এগুলো হারাকাতের সমপর্যায়ভুক্ত। এই কারণেই সিবওয়াইহ এদেরকে 'হুরুফুল ইরাব' (ইরাবের বর্ণ) নামকরণ করেছেন; কারণ এগুলো এমন বর্ণ যার মাধ্যমে ইসমে (বিশেষ্য) ইরাব প্রকাশ করা হয়, যেমনটি বলা হয়: ‘হারাকাতুল ইরাব’ (ইরাবের হারাকাত)—অর্থাৎ সেই হারাকাতসমূহ যার মাধ্যমে ইসমে ইরাব প্রদান করা হয়েছে। এর সপক্ষে প্রমাণ হলো যে, তিনি দ্বিবচনের ক্ষেত্রে আলিফকে রাফা (পেশ) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং বলেছেন: ‘রাফা অবস্থায় এটি আলিফ হবে’। এবং যার (জের) অবস্থায় এতে ইয়া নির্ধারণ করেছেন এবং বলেছেন: ‘যার অবস্থায় এটি এমন ইয়া হবে যার পূর্বের বর্ণে ফাতহা থাকবে’। আবার নসবকেও (জবর) যার-এর অনুগামী করে ইয়া নির্ধারণ করেছেন এবং বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ويكون في النصب كذلك، وهكذا جَعَل الواو والياء في الجمع رفعًا وجرًّا نصبًا، والرفع والجر والنصب لا يكون إلا إعرابًا؛ فدلّ على أنها إعراب.
قالوا: ولا يجوز أن يقال "إن هذا يؤدي إلى أن يكون معربًا لا حرفَ إعراب له وهذا لا نظير له، وذلك لا يجوز" لأنّا نقول هنا: إنما لا يجوز فيما يكون إعرابه بالحركة لا بالحرف؛ لأن الحركة تدخل في الحرف، بخلاف ما إذا كان معربًا بالحرف؛ لأن الحرف لا يدخل في الحرف، والذي يدل على ذلك الخمسة الأمثلة وهي: يَفْعَلَانِ، وتَفْعَلَانِ، ويَفْعَلُونَ، وتَفْعَلُونَ، وتَفْعَلِينَ يا امرأة فإنها لما كانت معربة بالحرف لم يكن لها حرف إعراب، ألا ترى أن النون علامة الرفع كالضمة في تَضْرِبُ؟ وإذا جاز أن تكون هذه الخمسة الأمثلة معربة ولا حرفَ إعرابٍ لها لأن إعرابها بالحرف، فكذلك ههنا يجوز أن يكون الاسم في التثنية والجمع معربًا ولا حرف إعراب له؛ لأن إعرابه بالحرف.
وأما البصريون فاحتجوا بأن قالوا: إنما قلنا إنها حروف إعراب وليست بإعراب لأن هذه الحروف إنما زيدت للدلالة عَلَى التثنية والجمع؟ ألا ترى أن الواحد يدل على مفرد؛ فإذا زيدت هذه الحروف دلّت على التثنية والجمع؟ فلما زيدت بمعنى التثنية والجمع صارت من تمام صيغة الكلمة التي وُضِعَتْ لذلك المعنى؛ فصارت بمنزلة التاء في قائمة والألف في حُبْلَى، وكما أن التاء والألف حرفا إعراب فكذلك هذه الحروف ههنا.
وأما من ذهب إلى أنها ليست بإعراب ولا حروف إعراب ولكنها تدل على الإعراب فقال: لأنها لو كانت إعرابًا لما اخْتَلّ معنى الكلمة بإسقاطها كإسقاط الضمة من دال زيد في قولك "قام زيد" وما أشبه ذلك، ولو أنها حروف إعراب كالدال من "زيد" لما كان فيها دلالة على الإعراب، كما لو قلت "قام زيد" من غير حركة، وهي تدل على الإعراب؛ لأنك إذا قلت "رجلان" علم أنه رفع؛ فدلّ على أنها ليست بإعراب ولا حروف إعراب، ولكنها تدلّ على الإعراب.
وهذا القول فساد، وذلك لأن قولهم "إن هذه الحروف تدل على الإعراب لا يخلو: إما أن تدل على إعراب في الكلمة، أو في غيرها؛ فإن كانت تدل على إعراب في الكلمة فوجب أن تقدر في هذه الحروف، لأنها أواخر الكلمة، فيئول هذا القول إلى أنها حروف الإعراب كقول أكثر البصريين، وإن كانت تدل على إعراب في غير الكلمة فوجب أن تكون الكلمة مبنيّة، وليس من مذهب أبي الحسن الأَخْفَش وأبي العبّاس المبرد وأبي عثمان المازنيّ أن التثنية والجمع مبنيّان.
নসবের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ হবে, এবং এভাবেই তিনি জমা (বহুবচন)-এর ক্ষেত্রে ওয়াও এবং ইয়া-কে রফ, জর এবং নসব হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আর রফ, জর ও নসব কেবল ই'রাব (বিভক্তি)-ই হয়ে থাকে; সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে এগুলোই হলো ই'রাব সরাসরি।
তাঁরা বলেন: এটি বলা বৈধ নয় যে, "এর ফলে বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যেখানে শব্দটি মু'রাব (পরিবর্তনশীল) হওয়া সত্ত্বেও তার কোনো হরফে ই'রাব (বিভক্তির বর্ণ) থাকবে না, অথচ এর কোনো নজির বা সদৃশ উদাহরণ নেই, আর তা জায়েজ হতে পারে না।" কারণ আমরা এখানে বলি: এটি কেবল তখনই নাজায়েজ যখন ই'রাব হারাকাত (স্বরচিহ্ন) দ্বারা হয়, হরফ (বর্ণ) দ্বারা নয়; কারণ হারাকাত হরফের মধ্যে প্রবেশ করে। কিন্তু যখন হরফ দ্বারা ই'রাব সম্পন্ন হয় তখন বিষয়টি ভিন্ন; কারণ এক হরফ অন্য হরফের মধ্যে প্রবেশ করে না। এর প্রমাণ হলো 'পাঁচটি উদাহরণ' (আল-আমসিলাতুল খামসাহ), যথা: তারা দুইজন করছে, তোমরা দুইজন করছ, তারা সকলে করছে, তোমরা সকলে করছ এবং হে নারী! তুমি করছ। যেহেতু এই উদাহরণগুলো হরফ দ্বারা মু'রাব হয়েছে, সেহেতু এদের কোনো পৃথক হরফে ই'রাব নেই। আপনি কি দেখছেন না যে, 'সে প্রহার করছে' শব্দের পেশ (যাম্মাহ)-এর ন্যায় এখানে 'নুন' হলো রফ-এর আলামত বা চিহ্ন? যদি এই পাঁচটি উদাহরণ মু'রাব হওয়া সত্ত্বেও তাদের কোনো হরফে ই'রাব না থাকা জায়েজ হয়—যেহেতু তাদের ই'রাব হলো হরফ দ্বারা—তবে এখানেও দ্বিবচন ও বহুবচনের ইসম (বিশেষ্য) মু'রাব হওয়া এবং তার কোনো হরফে ই'রাব না থাকা বৈধ হবে; কারণ এর ই'রাবও হরফ দ্বারাই সম্পন্ন হয়েছে।
পক্ষান্তরে বসরী ব্যাকরণবিদগণ এই বলে দলিল পেশ করেছেন যে: আমরা কেবল একারণেই বলেছি যে এগুলো হলো হরফে ই'রাব (বিভক্তির বর্ণ), ই'রাব (বিভক্তি) নয়; কারণ এই হরফগুলো কেবল দ্বিবচন ও বহুবচনের অর্থ প্রকাশের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। আপনি কি দেখছেন না যে, একবচন কেবল একক সত্তাকে নির্দেশ করে; কিন্তু যখন এই হরফগুলো যুক্ত করা হয়, তখন তা দ্বিবচন ও বহুবচনের অর্থ প্রদান করে? সুতরাং যখন এগুলো দ্বিবচন ও বহুবচনের অর্থের জন্য যুক্ত করা হলো, তখন এগুলো সেই অর্থের জন্য গঠিত শব্দের মূল কাঠামোর পূর্ণতা হিসেবে গণ্য হলো; যেমনটি 'দণ্ডায়মান' (স্ত্রীলিঙ্গ) শব্দের 'তা' এবং 'গর্ভবতী' শব্দের 'আলিফ'-এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর 'তা' এবং 'আলিফ' যেমন হরফে ই'রাব, তেমনি এখানেও এই হরফগুলো হরফে ই'রাব হিসেবে গণ্য হবে।
আর যারা এই মত পোষণ করেন যে, এগুলো ই'রাবও নয় এবং হরফে ই'রাবও নয়, বরং এগুলো কেবল ই'রাবের নির্দেশক; তাঁরা বলেন: কারণ এগুলো যদি ই'রাব হতো, তবে এগুলো বিলুপ্ত করলে শব্দের অর্থ বিঘ্নিত হতো না, যেমনটি আপনার উক্তি 'যাইদ দাঁড়িয়েছে'-এর 'যাইদ' শব্দের 'দাল' থেকে পেশ (যাম্মাহ) বিলুপ্ত করলে ঘটে থাকে এবং এই জাতীয় অন্যান্য উদাহরণ। আবার এগুলো যদি 'যাইদ' শব্দের 'দাল'-এর ন্যায় হরফে ই'রাব হতো, তবে সেগুলোর মধ্যে ই'রাবের কোনো নির্দেশক ক্ষমতা থাকত না, যেমনটি আপনি যদি হারাকাত (স্বরচিহ্ন) ছাড়া 'যাইদ দাঁড়িয়েছে' বলেন। অথচ এগুলো ই'রাবকে নির্দেশ করে; কারণ আপনি যখন 'দুইজন ব্যক্তি' বলেন, তখন এটি যে রফ-এর অবস্থায় আছে তা জানা যায়। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, এগুলো ই'রাবও নয় এবং হরফে ই'রাবও নয়, বরং এগুলো ই'রাবের নির্দেশক মাত্র।
তবে এই অভিমতটি ত্রুটিপূর্ণ। এর কারণ হলো, তাঁদের এই বক্তব্য যে—'এই হরফগুলো ই'রাবকে নির্দেশ করে'—তা দুটি অবস্থার বাইরে নয়: হয় তা ওই শব্দের ভেতরের ই'রাবকে নির্দেশ করবে, অথবা অন্য কিছুর ই'রাবকে। যদি তা ওই শব্দের ই'রাবকেই নির্দেশ করে, তবে তা এই হরফগুলোর মধ্যেই নিহিত থাকা আবশ্যক, কারণ এগুলোই শব্দের শেষ প্রান্ত। ফলে এই অভিমতটি শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ বসরী ব্যাকরণবিদের মতের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে যে—এগুলো হলো হরফে ই'রাব। আর যদি তা অন্য কোনো শব্দের ই'রাবকে নির্দেশ করে, তবে সংশ্লিষ্ট শব্দটি 'মাবনি' (অপরিবর্তনীয়) হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। অথচ আবুল হাসান আল-আখফাশ, আবুল আব্বাস আল-মুবররাদ এবং আবু উসমান আল-মাযিনী—তাঁদের কারো মতেই দ্বিবচন ও বহুবচনের রূপগুলো 'মাবনি' নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وأما مَنْ ذهب إلى أن انقلابها هو الإعراب فقد أفسده بعض النحويين من وجهين؛
أحدهما: أن هذا يؤدي إلى أن يكون الإعراب بغير حركة ولا حرف، وهذا لا نظير له في كلامهم.
والوجه الثاني: أن هذا يؤدي إلى أن يكون التثنية ولجمع في حال الرفع مبنيين؛ لأن أولَ أحوال الاسم الرفعُ ولا انقلاب له، وأن يكونا في حال النصب والجر معربين؛ لانقلابهما. وليس من مذهب أبي عمر الجَرْمِي أن التثنية والجمع مبنيان في حال من الأحوال.
وأما مَنْ ذهب إلى أنهما مبنيان فقال: إنما قلت ذلك لأن هذه الحروف زيدت على بناء المفرد في التثنية والجمع، فنزِّلا منزلة ما ركب من الاسمين نحو "خَمْسَةَ عَشَرَ" وما أشبهه.
وهذا القول أيضًا يفسد من وجهين؛ أحدهما: أن التثنية والجمع وضعًا على هذه الصيغة لأن يَدُلَّا على معنييهما من التثنية والجمع، وإنما يفرد المفرد في الحكم لوجود لفظه، وإذا كان كذلك لم يجرِ أن يُشَبَّهَا بما ركب من شيئين منفصلين كخمسة عشر وما أشبهه، والوجه الثاني: أنهما لو كانا مبنيين لكان يجب أن لا يختلف آخرهما باختلاف العوامل فيهما؛ لأن المبني ما لا يختلف آخره باختلاف العوامل فيه، فلما اختلف ههنا آخر التثنية والجمع باختلاف العوامل فيهما دلّ على أنهما معربان لا مبنيان.
وأما الجواب عن كلمات الكوفيين: أمّا قولهم "إنها هي الإعراب كالحركات بدليل أنها تتغير تغيُّر الحركات" فالجواب عنه من ثلاثة أوجه:
أحدها: أن القياس كان يقتضي أن لا تتغير كقراءة من قرأ: "إِنَّ هَذَانِ لَسَاحِرَانِ" على لغة بني الحارث بن كعب، إلا أنهم عَدَلُوا عن هذا القياس لإزالة اللَّبْس، ألا ترى أنك لو قلت "ضرب الزيدان العمران" لوقَع الالتبَاسُ، وليس هذا بمنزلة المقصور في نحو "ضرب موسى عيسى" لأن المقصور يزول عنه اللبس بالوصف والتوكيد؛ لأنه ليس من شرط وصف المقصور أن يكون مقصورًا، وكذلك التوكيد؛ بخلاف المثنى والمجموع؛ لأنه من شرط وصف المثنى أن يكون مثنى، ومن شرط وصف المجموع أن يكون مجموعًا1، وكذلك التوكيد، فَبَانَ الفرق بينهما؛ والذي يدل على أن هذه الأحرف ليست إعرابًا كالحركات أنها لو كانت هي الإعراب كالحركات لكان يجب أن لا يُخِلَّ سقوطُها بمعنى الكلمة كما لو
--------------------------------------------
আর যারা এই মত পোষণ করেছেন যে এদের রূপান্তরই হলো ই'রাব (বিভক্তি), কিছু বৈয়াকরণ তাদের এই মতটিকে দুটি দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন;
প্রথমত: এটি এমন একটি পরিণতির দিকে নিয়ে যায় যেখানে ই'রাব কোনো হরকত (স্বরচিহ্ন) বা হরফ (বর্ণ) ছাড়াই সাব্যস্ত হয়, যা তাদের (আরবদের) বাক্যে নজিরবিহীন।
দ্বিতীয়ত: এটি এই পরিণতির দিকে নিয়ে যায় যে, দ্বিবচন ও বহুবচন পেশের (রাফ) অবস্থায় 'মাবনি' (অপরিবর্তনীয়) হবে; কারণ বিশেষ্যের প্রাথমিক অবস্থা হলো পেশ এবং এতে কোনো রূপান্তর নেই। আর যবর (নাসব) ও যেরের (জার) অবস্থায় সেগুলো 'মু'রাব' (পরিবর্তনশীল) হবে, কারণ সেখানে রূপান্তর রয়েছে। অথচ আবু আমর আল-জারমি-র মাযহাব (অভিমত) এটি নয় যে, দ্বিবচন ও বহুবচন কোনো অবস্থাতেই মাবনি হবে।
আর যারা এই মত পোষণ করেছেন যে তারা উভয়ই মাবনি, তারা বলেছেন: আমি এ কথা বলেছি কারণ দ্বিবচন ও বহুবচনে এই অক্ষরগুলো একবচনের কাঠামোর অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়েছে, ফলে সেগুলোকে দুটি বিশেষ্যের সমন্বয়ে গঠিত শব্দের মর্যাদায় গণ্য করা হয়েছে, যেমন "খামসাতা আশারা" এবং এর সদৃশ শব্দগুলো।
এই মতটিও দুটি দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ; প্রথমত: দ্বিবচন ও বহুবচনকে এই কাঠামোতে গঠনই করা হয়েছে যাতে তারা দ্বিবচন ও বহুবচনের অর্থের ওপর দালালত (নির্দেশ) করতে পারে। মূলত একবচনকে হুকুমের ক্ষেত্রে আলাদা করা হয় তার শব্দের অস্তিত্বের কারণে। যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে তাদের (দ্বিবচন ও বহুবচনের) সাথে দুটি পৃথক বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত শব্দ, যেমন পনের এবং এর সদৃশ শব্দের তুলনা করা চলে না। দ্বিতীয়ত: তারা যদি মাবনি হতো, তবে আমিল (প্রভাবক) পরিবর্তনের ফলে তাদের শেষাংশে পরিবর্তন না হওয়া আবশ্যক ছিল; কারণ মাবনি হলো তাই যার শেষাংশ আমিল পরিবর্তনের ফলে পরিবর্তিত হয় না। যেহেতু এখানে আমিল পরিবর্তনের ফলে দ্বিবচন ও বহুবচনের শেষাংশ পরিবর্তিত হয়েছে, তাই এটি প্রমাণ করে যে তারা মু'রাব, মাবনি নয়।
আর কুফাবাসীদের যুক্তির জবাব হলো: তাদের এই বক্তব্য যে "সেগুলো হরকতের মতোই ই'রাব, যার প্রমাণ হলো সেগুলো হরকতের মতোই পরিবর্তিত হয়"—এর জবাব তিনটি দিক থেকে দেওয়া যায়:
প্রথমত: নিয়ম অনুযায়ী (কিয়াস) এগুলো পরিবর্তিত না হওয়া আবশ্যক ছিল, যেমন বনু হারিস বিন কাব-এর উপভাষা অনুযায়ী যারা পাঠ করেছেন: "নিশ্চয় এই দুইজন জাদুকর", তবে বিভ্রান্তি দূর করার জন্য তারা এই নিয়মের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। আপনি কি দেখছেন না যে, আপনি যদি বলেন "দুই জায়েদ দুই আমরকে প্রহার করেছে" (দ্বিবচনের রূপ পরিবর্তন না করে), তবে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হবে? এটি 'মাকসুর' শব্দের মতো নয়, যেমন "মুসা ঈসাকে প্রহার করেছে", কারণ মাকসুর শব্দের বিভ্রান্তি গুণবাচক শব্দ (সিফাত) এবং তাকিদ (নিশ্চয়তা) দ্বারা দূর করা যায়; কারণ মাকসুর শব্দের গুণের ক্ষেত্রে মাকসুর হওয়া শর্ত নয়, তাকিদের ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু দ্বিবচন ও বহুবচনের বিষয়টি ভিন্ন; কারণ দ্বিবচনের সিফাত হওয়ার জন্য দ্বিবচন হওয়া শর্ত এবং বহুবচনের সিফাত হওয়ার জন্য বহুবচন হওয়া শর্ত১, তেমনি তাকিদের ক্ষেত্রেও। ফলে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে গেল। আর এই বর্ণগুলো যে হরকতের মতো ই'রাব নয় তার প্রমাণ হলো, যদি এগুলো হরকতের মতো ই'রাব হতো তবে শব্দ থেকে এগুলো ঝরে পড়লে শব্দের অর্থের কোনো ক্ষতি হতো না, যেমনটি হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
سقطت الحركات؛ لأن سقوط الإعراب لا يخلُّ بمعنى الكلمة، ألا ترى أنك لو أسقطت الضمة والفتحة والكسرة من الاسم نحو "قام زَيْدْ، ورأيت زَيْدْ، ومررت بزَيْدْ" لم يخلّ بمعنى الاسم، ولو أسقطت الألف والواو والياء من التثنية والجمع لأخلّ بمعنى التثنيه والجمع؟ فلما أخَلَّ سقوط هذه الحروف بمعنى التثنية والجمع بخلاف الحركات دلَّ على أنها ليست بإعراب كالحركات.
والوجه الثاني: أن هذه الحروف إنما تغيرت في التثنية والجمع؛ لأن لهما خاصية لا تكون في غيرها استحَقّا من أجلها التغيير، وذلك أن كل اسم معتل لا تدخله الحركات –نحو "رَحًى، وعَصًا، وحُبَلي، وبُشْرى" له نظير من الصحيح يدل على مثل إعرابه، فنظير رحًى وعصًا: جمَل وجَبَل، ونظير حُبْلى وبُشْرى: حمراء وصحراء، وأما التثنية وهذا الجمع الذي على حدها، فلا نظير لواحد منهما إلا بتثنية أو جمع، فعوضا من فقد النظير الدالّ على مثل إعرابها تغيُّر هذه الحروف فيهما.
والوجه الثالث: أن هذا ينتقض بالضمائر المتصلة والمنفصلة؛ فإنها تتغير في حال الرفع والنصب والجر، وليس تغيرها إعرابًا، ألا ترى أنك تقول في المنفصلة "أنا، وأنت" في حال الرفع، و "إياي، وإياك" في حال النصب، وتقول في المتصلة "مررت بك" فتكون الكاف في موضع جر وهي اسم مخاطب، و "رأيتك" فتكون في موضع نصب، وتقول "قمت، وقعدت" فتكون التاء في موضع رفع، فتتغير هذه الضمائر في هذه الأحوال وإن لم يكن تغيرها إعرابًا.
وأما قولهم "إن سيبويه سماها حروف الإعراب" قلنا: هذه حجة عليكم؛ لأن حروف الإعراب هي أواخر الكلم، وهذه الحروف هي أواخر الكلم؛ فكانت حروف الإعراب، قولهم "إنما سماها حروف الإعراب، لأنها التي أُعْرِبَ الاسم بها، كما تقول: حركات الإعراب قلنا: هذا خلاف الظاهر؛ فإن الظاهر في اصطلاح النحويين أنه إذا أطلق حرف الإعراب إنما يطلق على آخر حرف من الكلمة، نحو الدال من "زيد" والراء من "عمرو" لا على الحرف الذي يكون إعرابًا للكلمة، ألا ترى أن الخمسة الأمثلة أعربت بالحرف، ولا حرفَ إعرابٍ لها؟
وأما قولهم "إنه جعل الألف والواو والياء في التثنية والجمع رفعًا وجرًّا ونصبًا إلى آخر ما ذكروه" قلنا: معنى قوله "يكون في الرفع ألفًا، ويكون في الجر ياء، وفي النصب كذلك" أي أنه يقع موقع المرفوع، وإن لم يكن مرفوعًا ويقع موقع المجرور وإن لم يكن مجرورًا، ويقع موقع المنصوب وإن لم يكن منصوبًا، كما يقال: ضمير المرفوع، وضمير المنصوب، وضمير المجرور، وإن لم يكن
হরকতসমূহ বিলুপ্ত হয়েছে; কারণ ই'রাবের বিলুপ্তি শব্দের অর্থে কোনো ব্যাঘাত ঘটায় না। আপনি কি দেখেন না যে, আপনি যদি বিশেষ্য থেকে দম্মাহ, ফাতহাহ এবং কাসরাহ বিলুপ্ত করেন—যেমন: "যায়দ দাঁড়াল, আমি যায়দকে দেখলাম, আমি যায়দের নিকট দিয়ে গেলাম"—তবে বিশেষ্যের অর্থে কোনো ত্রুটি ঘটে না? কিন্তু আপনি যদি দ্বিবচন ও বহুবচন থেকে আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া বিলুপ্ত করেন, তবে তা দ্বিবচন ও বহুবচনের অর্থে ত্রুটি সৃষ্টি করবে। সুতরাং যেহেতু এই বর্ণগুলোর বিলুপ্তি দ্বিবচন ও বহুবচনের অর্থে ত্রুটি সৃষ্টি করে (হরকতের বিপরীত), তাই এটি প্রমাণ করে যে এগুলো হরকতের মতো ই'রাব নয়।
দ্বিতীয় কারণ: এই বর্ণগুলো দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে পরিবর্তিত হয়; কারণ এ দুটির এমন কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্যগুলোতে নেই এবং যে কারণে তারা এই পরিবর্তনের উপযুক্ত হয়েছে। বিষয়টি হলো, প্রতিটি দুর্বল বর্ণযুক্ত (মুতাল) বিশেষ্য যেগুলোতে হরকত প্রবেশ করে না—যেমন: "রাহা, আসা, হুবলা এবং বুশরা"—সেগুলোর সঠিক বর্ণযুক্ত (সহীহ) সমজাতীয় শব্দ রয়েছে যা তাদের ই'রাবের ধরন প্রকাশ করে। যেমন: "রাহা" এবং "আসা"-এর সমজাতীয় শব্দ হলো "জামাল" এবং "জাবাল"; আর "হুবলা" এবং "বুশরা"-এর সমজাতীয় হলো "হামরা" এবং "সাহরা"। কিন্তু দ্বিবচন এবং এই পর্যায়ের বহুবচনের ক্ষেত্রে, দ্বিবচন বা বহুবচন ব্যতীত এদের কোনোটিরই কোনো সমজাতীয় শব্দ নেই। সুতরাং তাদের ই'রাবের নির্দেশক সমজাতীয় শব্দের অভাবের বিনিময় স্বরূপ এগুলোতে এই বর্ণগুলোর পরিবর্তন নির্ধারণ করা হয়েছে।
তৃতীয় কারণ: এই বিষয়টি সংলগ্ন ও বিযুক্ত সর্বনামসমূহের মাধ্যমে খণ্ডিত হয়; কারণ এগুলো রফউ, নাসব এবং জার—এই অবস্থাসমূহে পরিবর্তিত হয়, অথচ তাদের এই পরিবর্তন ই'রাব নয়। আপনি কি দেখেন না যে, বিযুক্ত সর্বনামের ক্ষেত্রে রফউ-এর অবস্থায় আপনি বলেন "আমি" ও "তুমি", আর নাসব-এর অবস্থায় বলেন "কেবল আমাকে" ও "কেবল তোমাকে"? আবার সংলগ্ন সর্বনামের ক্ষেত্রে বলেন "আমি তোমার নিকট দিয়ে গেলাম", তখন 'কাফ' বর্ণটি জারের স্থলে থাকে এবং তা সম্বোধনবাচক বিশেষ্য; আবার বলেন "আমি তোমাকে দেখলাম", তখন তা নাসবের স্থলে থাকে; এবং বলেন "আমি দাঁড়ালাম" ও "আমি বসলাম", তখন 'তা' বর্ণটি রফউ-এর স্থলে থাকে। সুতরাং এই সর্বনামগুলো এই সকল অবস্থায় পরিবর্তিত হয়, যদিও তাদের এই পরিবর্তন ই'রাব নয়।
আর তাদের এই উক্তি যে, "সিবওয়াইহ এগুলোকে ই'রাবের বর্ণ হিসেবে নামকরণ করেছেন"—আমরা বলি: এটি আপনাদের বিপক্ষেই একটি প্রমাণ; কারণ ই'রাবের বর্ণ হলো শব্দের শেষ বর্ণসমূহ, আর এই বর্ণগুলোও শব্দের শেষ বর্ণ; তাই এগুলো ই'রাবের বর্ণ হিসেবে গণ্য। তাদের উক্তি যে, "তিনি এগুলিকে ই'রাবের বর্ণ নাম দিয়েছেন কারণ এগুলোর মাধ্যমেই বিশেষ্যকে ই'রাব দেওয়া হয়, যেমনটি আপনি বলেন: ই'রাবের হরকতসমূহ"—আমরা বলি: এটি বাহ্যিক সংজ্ঞার পরিপন্থী; কারণ ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় এটি স্পষ্ট যে, যখন 'ই'রাবের বর্ণ' শব্দটি নিঃশর্তভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা শব্দের শেষ বর্ণের ওপরই প্রযুক্ত হয়, যেমন: "যায়দ"-এর দাল এবং "আমর"-এর রা। এটি সেই বর্ণের ওপর প্রযুক্ত হয় না যা শব্দের ই'রাব হিসেবে কাজ করে। আপনি কি দেখেন না যে, পাঁচটি উদাহরণ (ক্রিয়া) বর্ণের মাধ্যমে ই'রাব প্রাপ্ত হয়, অথচ সেগুলোর কোনো ই'রাবের বর্ণ (শেষ বর্ণ হিসেবে) নেই?
আর তাদের উক্তি যে, "তিনি দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া-কে রফউ, জার ও নাসব হিসেবে গণ্য করেছেন..." তাদের উল্লিখিত শেষ পর্যন্ত—আমরা বলি: তাঁর কথার অর্থ হলো "রফউ-এর অবস্থায় আলিফ হবে, আর জার ও নাসব-এর অবস্থায় ইয়া হবে" অর্থাৎ এগুলো মারফূ'-এর স্থলে অবস্থান করে যদিও তা মারফূ' নয়, এবং মাজরূর-এর স্থলে অবস্থান করে যদিও তা মাজরূর নয়, এবং মানসূব-এর স্থলে অবস্থান করে যদিও তা মানসূব নয়। যেমনটি বলা হয়: মারফূ' সর্বনাম, মানসূব সর্বনাম এবং মাজরূর সর্বনাম, যদিও তা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী মাসাইলিল খিলাফ বাইনাল নাহভিয়্যিনাল বাসরিয়্যিনা ওয়াল কুফিয়্যিন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
شيء منها مرفوعًا ولا منصوبًا ولا مجرورًا، وإنما المرفوع والمنصوب والمجرور ما يقع موقعها من الأسماء المعربة؛ فكذلك هذه الحروف تقع موقع ما يحلّ فيه الإعراب وإن لم يكن فيها إعراب لوقوعها موقع ما يحلّ فيه الإعراب إذا وجد، وصار هذا كقول علماء العربية "حروف الزوائد عشرة يجمعها لا أنسيتموه" وإن كانت هذه الحروف قد تقع زائدة وأصلية، ألا ترى أن اللام أصلية في"جَبَل، وجَمَل" كما هي زائدة في "زَيْدَلٍ، وعَبْدَلٍ" وكذلك سائرها، ثم سُمِّيتْ بذلك لأن الحروف الزوائد لا تخرج عنها، فكذلك ههنا؛ فدلّ على أنها حروف الإعراب، والذي يدل على أنها ليست هي الإعراب أنا لو قلنا إنها هي الإعراب لأدّى إلى أن يكون معرب لا حَرْفَ إعراب له، وهذا لا نظير له.
قولهم:"هذا إنما لا يجوز فيما يكون إعرابه بالحركة لا بالحرف" قلنا: لا نسلم، بل الأصل في كل معرب أن يكون له حرف إعراب، سواء كان معربًا بالحركة أو معربًا بالحرف، فأما الخمسة1 أمثلة فمنهم من ذهب إلى أن لها حرف إعراب وهي الألف في "يفعلان" والواو في "يفعلون والياء في "تفعلين" فعلى هذا لا نسلم، ولئن سلّمنا على المذهب المشهور فإنما أعربت ولا حرف إعراب لها على خلاف الأصل، وذلك لأنّا لو قدَّرْنَا لها حرف إعراب لم يَخْلُ: إما أن يكون اللام، أو الضمير، أو النون؛ بطل أن يكون حرف الإعراب اللام؛ لأن من الإعراب الجزم؛ فلو جعلناه اللام لوجب أن يسكن في حالة الجزم؛ فكان يؤدّي إلى أن يحذف ضمير الفاعل2، وذلك لا يجوز، وبطل أيضًا أن يكون الضمير حرف الإعراب؛ لأن الضمير في الحقيقة ليس جزءًا من الفعل، وإنما هو اسم قائم بنفسه في موضع رفع؛ لأنه فاعل؛ فلا يجوز أن يكون إعرابًا لكلمة أخرى، وعلى هذا تخرج الألف والواو والياء في تثنية الأسماء وجمعها؛ فإنها حروف لا تقوم بنفسها ولا موضع لها من الإعراب؛ فجاز أن تكون حروف الإعراب، وبطل أن تكون النون حرف الإعراب؛ لأنها ليست كحرف من الفعل، وإنما هي بمنزلة الحركة التي هي الضمة، ولهذا تحذف في الجزم والنصب، ولا يُخِلُّ حذفها بمعنى الفعل، ولو كانت حرف الإعراب لما حذفت مع تحركها ولأخلّ حذفها بمعنى الفعل، ولكان الإعراب جاريًا عليها؛ فلذلك لم يجز أن تكون حرف الإعراب، وعلى هذا تخرج الألف والواو والياء في التثنية والجمع؛ فإنها بمنزلة حروفها، ويختلُّ معناهما بحذفها؛ فلذلك جاز أن تكون حروف الإعراب على ما بينَّا، والله أعلم
--------------------------------------------
এগুলোর কোনটিই রফ' (পেশ) যুক্ত, নসব (যবর) যুক্ত বা জর (জের) যুক্ত নয়; বরং রফ', নসব এবং জর যুক্ত হয় সেইসব রূপান্তরযোগ্য বিশেষ্য (আসমা মু’রাবা), যা এদের স্থানে অবস্থান করে। অনুরূপভাবে, এই হরফগুলো এমন কিছুর স্থানে অবস্থান করে যাতে ইরাব (শব্দরূপ পরিবর্তন) কার্যকর হয়, যদিও এগুলোর মধ্যে কোনো ইরাব নেই; কারণ এগুলো এমন কিছুর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে যেখানে ইরাব বিদ্যমান থাকে। আর এটি আরবি ভাষাবিদদের এই উক্তির মতো হয়েছে: "অতিরিক্ত হরফসমূহ দশটি, যা 'লা আনসাইতুমুহু' বাক্যাংশটি দ্বারা সংগৃহীত।" যদিও এই হরফগুলো কখনো অতিরিক্ত হিসেবে আবার কখনো মূল অক্ষর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আপনি কি দেখেন না যে, 'লাম' হরফটি 'জাবাল' (পাহাড়) এবং 'জামাল' (উট) শব্দে মূল অক্ষর, যেমনটি এটি 'যাইদাল' এবং 'আবদাল' শব্দে অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে। তদ্রূপ অন্যান্য হরফগুলোও। অতঃপর এদের এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ অতিরিক্ত হরফসমূহ এর বাইরে যায় না। এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ; সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে এগুলোই হলো ইরাব-এর হরফ (শব্দরূপ পরিবর্তনের অক্ষর)। আর যা প্রমাণ করে যে এগুলোই সরাসরি ইরাব নয় তা হলো—যদি আমরা বলতাম যে এগুলোই ইরাব, তবে এটি এমন এক অবস্থায় নিয়ে যেত যেখানে একটি শব্দ রূপান্তরযোগ্য (মু’রাব) অথচ তার কোনো ইরাব বহনকারী হরফ নেই; আর এর কোনো নজির নেই।
তাদের বক্তব্য: "এটি কেবল সেখানেই বৈধ নয় যেখানে ইরাব হরকতের (স্বরচিহ্ন) মাধ্যমে হয়, হরফের (অক্ষর) মাধ্যমে নয়।" আমরা বলি: আমরা এটি স্বীকার করি না; বরং প্রত্যেক মু’রাব (রূপান্তরযোগ্য শব্দ) এর মূল নিয়ম হলো তার একটি 'ইরাব বহনকারী হরফ' থাকবে, চাই তা হরকতের মাধ্যমে ইরাবপ্রাপ্ত হোক কিংবা হরফের মাধ্যমে। আর 'পাঁচটি উদাহরণ' (আল-আমসিলাতুল খামসাহ) সম্পর্কে কেউ কেউ এই মত পোষণ করেছেন যে, সেগুলোর ইরাব বহনকারী হরফ রয়েছে; আর তা হলো 'ইয়াফআলাানি'-এর আলিফ, 'ইয়াফআলূনা'-এর ওয়াও এবং 'তাফআলিনা'-এর ইয়া। এই মতানুসারেও আমরা তাদের কথা মেনে নিই না। আর যদি আমরা প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী মেনেও নিই, তবে তা মূল নিয়মের বিপরীতে ইরাবপ্রাপ্ত হয়েছে অথচ তার কোনো ইরাব বহনকারী হরফ নেই। কারণ, আমরা যদি সেগুলোর জন্য কোনো ইরাব বহনকারী হরফ ধরে নিই, তবে তা তিনটি অবস্থার বাইরে হবে না: হয় তা হবে 'লাম' (ক্রিয়ার শেষ মূল অক্ষর), অথবা যমীর (সর্বনাম), অথবা 'নূন'। ইরাব বহনকারী হরফটি 'লাম' হওয়া বাতিল; কারণ ইরাবের একটি অবস্থা হলো 'জাযম' (সুদুন)। যদি আমরা 'লাম'-কে ইরাব বহনকারী হরফ গণ্য করি, তবে জাযমের অবস্থায় একে সাকিন করা আবশ্যক হতো; যার ফলে ফায়িল বা কর্তার যমীরটি বিলুপ্ত করা লাগত, যা বৈধ নয়। অনুরূপভাবে, যমীর ইরাব বহনকারী হরফ হওয়াও বাতিল; কারণ যমীর প্রকৃতপক্ষে ক্রিয়ার অংশ নয়, বরং এটি একটি স্বতন্ত্র বিশেষ্য যা রফ-এর স্থানে থাকে, যেহেতু এটি ফায়িল (কর্তা)। সুতরাং এটি অন্য কোনো শব্দের জন্য ইরাব হওয়া জায়েয নয়। এই নিরিখে বিশেষ্যের দ্বিবচন ও বহুবচনের আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া স্বতন্ত্র হিসেবে গণ্য হবে; কারণ সেগুলো এমন হরফ যা নিজে নিজে দাঁড়াতে পারে না এবং ইরাবে তাদের নিজস্ব কোনো স্থান নেই; তাই সেগুলো ইরাব বহনকারী হরফ হওয়া জায়েয। আর 'নূন' ইরাব বহনকারী হরফ হওয়াও বাতিল; কারণ এটি ক্রিয়ার কোনো অক্ষরের মতো নয়, বরং এটি পেশ বা দম্মা হরকতের সমতুল্য। এই কারণেই জাযম ও নসবের অবস্থায় এটি বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং এটি বিলুপ্ত করলে ক্রিয়ার অর্থের কোনো ক্ষতি হয় না। যদি এটি ইরাব বহনকারী হরফ হতো, তবে হরকত থাকা অবস্থায় এটি বিলুপ্ত হতো না এবং এটি বিলুপ্ত করলে ক্রিয়ার অর্থের ব্যাঘাত ঘটত, আর এর উপরেই ইরাব কার্যকর হতো। তাই এটি ইরাব বহনকারী হরফ হওয়া বৈধ নয়। এই নিরিখে দ্বিবচন ও বহুবচনের আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া ভিন্নতর হবে; কেননা এগুলো সেগুলোর মূল বর্ণের স্থলাভিষিক্ত এবং এগুলো বিলুপ্ত করলে অর্থের বিকৃতি ঘটে। আমাদের বর্ণিত কারণগুলোর প্রেক্ষিতেই সেগুলো ইরাব বহনকারী হরফ হওয়া বৈধ হয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------