(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: -)
الانتصار في الرد على المعتزلة القدرية الأشرار القسم: الفرق والردود
الكتاب: الانتصار في الرد على المعتزلة القدرية الأشرار
المؤلف: يحيى بن أبي الخير العمراني (ت 558 هـ) (شيخ الشافعية باليمن)
المحقق: سعود بن عبد العزيز الخلف (عضو هيئة التدريس في الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة)
أصل التحقيق: رسالة دكتوراة من قسم العقيدة في الجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية بإشراف الشيخ عبد المحسن بن حمد العباد 1411 هـ
الناشر: أضواء السلف، الرياض - السعودية
الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1999 م
عدد الأجزاء: 3
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দুষ্ট মুতাজিলা কাদারিয়াদের খণ্ডনে বিজয় বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডনসমূহ
গ্রন্থ: দুষ্ট মুতাজিলা কাদারিয়াদের খণ্ডনে বিজয়
লেখক: ইয়াহইয়া বিন আবিল খায়ের আল-ইমরানি (মৃত্যু ৫৫৮ হি.) (ইয়েমেনের শাফেয়ি মাযহাবের শায়খ)
সম্পাদক: সউদ বিন আব্দুল আজিজ আল-খালাফ (মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিষদের সদস্য)
সম্পাদনার মূল উৎস: মদিনা নববী ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আকিদাহ বিভাগের একটি ডক্টরেট থিসিস, যা শায়খ আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ আল-আব্বাদের তত্ত্বাবধানে ১৪১১ হিজরিতে সম্পন্ন হয়েছে
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হি. - ১৯৯৯ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة معالي مدير الجامعة الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله الأمين، وعلى آله وأصحابه والتابعين، ومن تبعهم إلى يوم الدين، أما بعد:
فإن أشرف ما تتجه إليه الهمم العالية هو طلب العلم، والبحث والنظر فيه، وتنقيح مسائله، وسلوك طريقه؛ لأن ذلك هو الذي يوصل إلى السعادة كما قال الرسول صلى الله عليه وسلم: «من سلك طريقا يلتمس فيه علما سهل الله له به طريقا إلى الجنة». وقال الله تعالى: {إنما يخشى الله من عباده العلماء}.
وأول ما بدئ به رسول الله عنه هو وحي الله إليه بالعلم: {اقرأ باسم ربك الذي خلق * خلق الإنسان من علق * اقرأ وربك الأكرم * الذي علم بالقلم - علم الإنسان ما لم يعلم}.
وقال تعالى يخاطبه: {فاعلم أنه لا إله إلا الله واستغفر لذنبك .. } وقال تعالى: {وقل رب زدني علما}.
وما قامت الحياة السعيدة في الحياة الدنيا والآخرة إلا بالعلم النافع.
ولذا كان التعليم هو الهدف الأعظم لمؤسس المملكة العربية السعودية الملك عبد العزيز رحمه الله، ولأبنائه من بعده، ففي عهد خادم الحرمين الشريفين أول وزير للمعارف بلغت مسيرة التعليم العالي وارتقت الجامعات،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় পরিচালকের ভূমিকা সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, তাবিঈন এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাঁদের সবার ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই উচ্চাকাঙ্ক্ষাগুলো যে সর্বোত্তম লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হয় তা হলো জ্ঞান অন্বেষণ করা, এতে গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ করা, এর মাসআলাসমূহ পরিশুদ্ধ করা এবং এর পথে চলা; কারণ এটিই সেই পথ যা সৌভাগ্যের দিকে নিয়ে যায়, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন»। এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে}।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যা দিয়ে সর্বপ্রথম শুরু করা হয়েছিল তা হলো জ্ঞান বিষয়ক আল্লাহর ওহী: {পাঠ করুন আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন * সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক (জমাট রক্তপিণ্ড) থেকে * পাঠ করুন এবং আপনার প্রতিপালক পরম দয়ালু * যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন - শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না}।
এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে সম্বোধন করে বলেছেন: {অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আপনার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন...} এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং বলুন, হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন}।
দুনিয়া ও আখিরাতের সুখী জীবন কেবল উপকারী জ্ঞানের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আর এ কারণেই শিক্ষা ছিল সৌদি আরব রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আব্দুল আজিজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এবং তাঁর পরবর্তী সন্তানদের মহান লক্ষ্য। সুতরাং খাদেমুল হারামাইন শরীফাইনের আমলে—যিনি ছিলেন প্রথম শিক্ষামন্ত্রী—উচ্চশিক্ষার যাত্রা এক অনন্য পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ উন্নত হয়েছে,
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٤)
ومن هذه الجامعات العملاقة، الجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية، فهي صرح شامل، يشرف بأن يكون إحدى المؤسسات العلمية والثقافية، التي تعمل على هدي الشريعة الإسلامية، وتقوم بتنفيذ السياسة التعلمية بتوفير التعليم الجامعي والدراسات العليا، والنهوض بالبحث العلمي والقيام والنشر، وخدمة المجتمع في نطاق اختصاصها.
ومن هنا، فعمادة البحث العلمي بالجامعة تضطلع بنشر البحوث العلمية ضمن واجباتها التي تمثل جانبا هاما من جوانب رسالة الجامعة ألا وهو النهوض بالبحث العلمي والقيام بالتأليف والترجمة والنشر.
ومن ذلك كتاب: «الانتصار في الرد على القدرية المعتزلة الأشرار» بتحقيق الدكتور / سعود بن عبد العزيز الخلف، وهو رسالة جامعية اجتهد فيها المحقق بالتعريف بالمؤلف والكتاب وإخراجه والتعليق على المسائل التي تطرق إليها المصنف حسب الحاجة إلى التوضيح والتأصيل وفق منهج السلف الصالح، فجزى الله الجميع خيرا.
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه والتابعين وتابعيهم بإحسان إلى يوم الدين.
مدير الجامعة الإسلامية د / صالح بن عبد الله العبود
এই বিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে অন্যতম হলো মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান, যা ইসলামি শরিয়তের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত অন্যতম বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গৌরবান্বিত। এটি স্নাতক ও উচ্চতর শিক্ষার ব্যবস্থা করার মাধ্যমে শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন, বৈজ্ঞানিক গবেষণার উন্নয়ন, রচনা ও প্রকাশনার কাজ পরিচালনা এবং নিজ কর্মপরিধির আওতায় সমাজের সেবা নিশ্চিত করে থাকে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ তার দায়িত্বের অংশ হিসেবে বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলো প্রকাশের ভার গ্রহণ করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—আর তা হলো বৈজ্ঞানিক গবেষণার মানোন্নয়ন এবং গ্রন্থ রচনা, অনুবাদ ও প্রকাশনা কার্যক্রম পরিচালনা করা।
এরই ধারাবাহিকতায় ড. সাউদ বিন আব্দুল আজিজ আল-খালাফ এর তাহকিককৃত ‘আল-ইন্তিসার ফির রাদ্দি আলাল কাদারিইয়াতিল মুতাজিলাতিল আশরার’ (দুষ্ট কাদারিয়া মুতাজিলাদের খণ্ডনে বিজয়) নামক গ্রন্থটি প্রকাশ করা হচ্ছে। এটি একটি একাডেমিক অভিসন্দর্ভ, যাতে গবেষক লেখক ও গ্রন্থের পরিচিতি তুলে ধরতে এবং সলফে সালেহিনের মানহাজ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও মূলনীতি প্রদানের মাধ্যমে গ্রন্থটির সম্পাদনা ও টীকা যুক্ত করতে যথেষ্ট প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। আল্লাহ সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ড. সালেহ বিন আব্দুল্লাহ আল-আবূদ
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدِّمة
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيآت أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيرا، أما بعد:
فإن الله عز وجل قد امتن على هذه الأمة بمنة عظيمة إذ أرسل فيها هذا النبي الكريم وأنزل عليه هذا الكتاب العظيم وتكفل جل وعلا بحفظ كتابه ودينه، فسلم لهذه الأمة مصدر الخير والنور والهداية، كتاب الله عز وجل وسنة نبيه محمّد صلى الله عليه وسلم، فتمسك بها أهل القرون الأولى من هذه الأمة تمسك الغريق بحبل النجاة وقارب السلامة، وقد أدركوا أن ذلك المصدر هو حبل الله المتين وطريقه القويم الذي لا يزيغ عنه إلا هالك، فكانوا منه ينهلون وعليه يعولون وإليه يفزعون كلما حزبهم أمر أو اختلطت عليهم واقعة، فيجدون فيه فصل أمرهم وحكم ما بينهم.
فيثوبون منه إلى الحق وحلاوته والاجتماع وقوته وسلامة الصدر وراحته، وقد أدرك أعداء هذا الدين ما لهذا المصدر من الأثر العظيم وأن هذه الأمة لا تهلك وفيها كتاب ربها وسنة نبيها صلى الله عليه وسلم يحكمان في الصغيرة والكبيرة والدقيقة والجليلة. وقد أيقنوا أن لا سبيل إلى الوصول إلى كتاب الله وسنة النبي صلى الله عليه وسلم بالتحريف أو التمزيق، وقد تكفل الله لوحيه بالحفظ والبقاء.
فأعملوا فكرهم واستحثوا عقولهم كيف يحجبون المسلمين عن مصدر عزهم ومعدن فلاحهم؟ فوقعوا على داء الأمم قبلنا ومفرق الجموع إلى شيع وأحزاب مختلفة متناحرة، ألا وهو الجدل والكلام الذي أخبر عنه
ভূমিকা
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই, তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:
মহান আল্লাহ এই উম্মতের ওপর এক মহান অনুগ্রহ করেছেন যখন তিনি তাদের মাঝে এই সম্মানিত নবীকে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর ওপর এই মহান কিতাব নাজিল করেছেন। মহান আল্লাহ স্বয়ং তাঁর কিতাব ও দ্বীন সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ফলে তিনি এই উম্মতের জন্য কল্যাণ, নূর ও হেদায়েতের উৎস—আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহকে নিরাপদ রেখেছেন। এই উম্মতের প্রথম যুগের ব্যক্তিবর্গ একে এমনভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন যেমন একজন ডুবন্ত ব্যক্তি মুক্তির রশি বা নিরাপত্তার নৌকাকে আঁকড়ে ধরে। তাঁরা উপলব্ধি করেছিলেন যে, এই উৎসই হলো আল্লাহর মজবুত রশি এবং তাঁর সঠিক পথ, যা থেকে কেবল ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিই বিচ্যুত হয়। সুতরাং তাঁরা এখান থেকেই জ্ঞান আহরণ করতেন, এর ওপরই নির্ভর করতেন এবং যখনই কোনো কঠিন বিষয় বা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতেন, তখনই এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতেন। ফলে তাঁরা এর মধ্যেই নিজদের বিষয়ের ফয়সালা এবং পারস্পরিক বিবাদের সমাধান খুঁজে পেতেন।
এর মাধ্যমে তাঁরা সত্যের স্বাদ ও তার মিষ্টতা, ঐক্যের শক্তি এবং হৃদয়ের প্রশান্তি ও স্বস্তির দিকে ফিরে আসতেন। এই দ্বীনের শত্রুরা বুঝতে পেরেছিল যে, এই উৎসের প্রভাব কত সুদূরপ্রসারী এবং এই উম্মত ততক্ষণ ধ্বংস হবে না যতক্ষণ তাদের মাঝে তাদের রবের কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ বিদ্যমান থাকবে, যা ছোট-বড় এবং সূক্ষ্ম ও প্রকাশ্য সকল বিষয়ে ফয়সালা প্রদান করবে। তারা নিশ্চিতভাবে জেনেছিল যে, বিকৃতি সাধন বা বিলুপ্ত করার মাধ্যমে আল্লাহর কিতাব ও নবীর সুন্নাহর ক্ষতি করার কোনো পথ নেই, যেহেতু আল্লাহ তাঁর ওহীর সংরক্ষণ ও স্থায়িত্বের দায়িত্ব নিয়েছেন।
তাই তারা তাদের চিন্তা ও বুদ্ধিকে এই কাজে নিয়োজিত করল যে, কীভাবে মুসলমানদের তাদের সম্মানের উৎস এবং সফলতার মূল ভিত্তি থেকে বিচ্যুত করা যায়? অবশেষে তারা পূর্ববর্তী উম্মতদের সেই ব্যাধির সন্ধান পেল যা জনসমষ্টিকে বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত করে আপোসে যুদ্ধে লিপ্ত করে দেয়; আর তা হলো বিতর্ক ও কালামশাস্ত্র (তর্কশাস্ত্র), যা সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٦)
النبي صلى الله عليه وسلم بقوله تحذيراً وتنبيها: "ما ضل قوم بعدي هدى كانوا عليه إلا أوتوا الجدل" ثم قرأ {مَا ضَرَبُوهُ لَكَ إِلاَّ جَدَلاً بَلْ هُمْ قَوْمٌ خَصِمُون}
(1).
وقوله عليه الصلاة والسلام: "ذروني ما تركتكم فإنما أهلك من كان قبلكم كثرة سؤالهم واختلافهم على أنبيائهم فما نهيتكم عنه فاجتنبوه وما أمرتكم به فأتوا منه ما استطعتم"
(2).
فألقى هؤلاء الأعداء هذا الداء بين المسلمين، فتلقفه من لم يكن له في الإسلام سابقة ولا قدم في العلم راسخة، ونشره بين المسلمين فعُطِل به كتاب الله عزوجل وردت سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وظهر بسببه القيل والقال، وكثر التنقيب والتدقيق والسؤال، وقفا الناس به ما لا علم لهم به ولا سبيل لهم إليه إلا بالوحي الإلهي والنور الرباني، فجادلوا في الحق وتخرصوا بالباطل وجعلوا كتاب الله وراءهم ظهريا، وهم في ذلك كله يحسبون أنهم يحسنون صنعاً وأنهم لدين الله نصروا، ولعدوه كسروا، وهم في الحقيقة لم يكسروا إلا دينهم ولم يغلوا إلا قناة جماعتهم، ففاء المسلمون من هذا البلاء بالتحزب والتشيع والفرقة التي أوصلتهم إلى التباغض والتكفير والتلاعن كما فعل الذين من قبلهم.
هذا كله حدث وكتاب الله يتلى بين ظهرانيهم، وسنة نبيه محمد صلى الله عليه وسلم بأيديهم إلا أنهما معطلان عن أن يحكما في عقيدة أو شريعة، وقد أصاب الأعداء بذلك من المسلمين مقتلا أفرز ما هو ظاهر من حال المسلمين لا يخفى على ذي عينين، ولولا أن الله قد تكفل من رحمته ولطفه وكرمه أن لا تستباح بيضة المسلمين وأن لا يطمس الحق والنور فيهم ببقاء طائفة على الحق ظاهرة وله محكمة لحاق بالأمة الإسلامية ما حاق بالأمم قبلها من اندثار الحق واندراس آثاره، وعموم الضلالة
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সতর্কবাণী ও হুঁশিয়ারি স্বরূপ বলেছেন: "কোনো জাতি হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার পর কেবল তখনই পথভ্রষ্ট হয়, যখন তাদের মধ্যে বিতর্কের বিস্তার ঘটে।" অতঃপর তিনি পাঠ করলেন, "তারা কেবল বিতর্কের উদ্দেশ্যেই আপনার কাছে এ কথা বলে; বরং তারা তো এক কলহপ্রিয় জাতি।"
(১).
এবং তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বাণী: "আমি তোমাদের যে বিষয়গুলোতে ছাড় দিয়েছি (অর্থাৎ যা নিয়ে নীরব থেকেছি), সে ব্যাপারে আমাকে প্রশ্ন করো না। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবীদের কাছে অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। সুতরাং আমি তোমাদের যা নিষেধ করেছি তা থেকে বিরত থাকো, আর যা আদেশ করেছি তা সাধ্যমতো পালন করো।"
(২).
অতঃপর এই শত্রুরা মুসলিমদের মাঝে এই ব্যাধি ছড়িয়ে দিল, আর তা লুফে নিল এমন সব লোক ইসলামে যাদের কোনো পূর্ব-অগ্রগামিতা নেই এবং জ্ঞানেও যাদের কোনো সুদৃঢ় অবস্থান নেই। তারা মুসলিমদের মাঝে তা প্রচার করল, যার ফলে মহান আল্লাহর কিতাবকে অকার্যকর করা হলো এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাতকে প্রত্যাখ্যান করা হলো। এর কারণে অনর্থক বাদানুবাদ প্রকাশ পেল এবং অত্যধিক চুলচেরা বিশ্লেষণ ও প্রশ্নের আধিক্য দেখা দিল। মানুষ এমন সব বিষয়ের অনুসরণ করল যে সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং ঐশী ওহী ও রব্বানী নূর ছাড়া যা জানার কোনো পথও নেই। ফলে তারা সত্য নিয়ে বিতর্ক করল, মিথ্যার আশ্রয়ে অনুমাননির্ভর কথা বলল এবং আল্লাহর কিতাবকে নিজেদের পিঠের পেছনে ফেলে রাখল। অথচ তারা এসবের মাধ্যমে মনে করছিল যে তারা ভালো কাজ করছে এবং আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য করছে ও তাঁর শত্রুকে পরাস্ত করছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে তারা কেবল নিজেদের দ্বীনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং নিজেদের ঐক্যই বিনষ্ট করেছে। ফলে মুসলিমরা এই বিপর্যয়ের কারণে দলাদলি, উপদলীয় বিভেদ এবং ফিরকায় বিভক্ত হয়ে পড়ল, যা তাদেরকে পরস্পর বিদ্বেষ, কাফির সাব্যস্ত করা এবং একে অপরকে অভিশাপ দেওয়ার পর্যায়ে নিয়ে গেল, যেমনটি তাদের পূর্ববর্তীরা করেছিল।
এসব কিছু ঘটেছে অথচ আল্লাহর কিতাব তাদের সামনেই তিলাওয়াত করা হচ্ছে এবং তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাতও তাদের হাতে রয়েছে; কিন্তু আকিদাহ কিংবা শরীয়তের ফয়সালা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই উভয়কেই অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। শত্রুরা এর মাধ্যমে মুসলিমদের এমন এক মরণাঘাত হেনেছে যা মুসলিমদের বর্তমান প্রকাশ্য অবস্থা থেকে ফুটে উঠেছে এবং যা যেকোনো চক্ষুষ্মান ব্যক্তির কাছে স্পষ্ট। আল্লাহ যদি তাঁর রহমত, অনুগ্রহ ও দয়ায় এই জিম্মাদারি না নিতেন যে, মুসলিমদের মূল সত্তা সমূলে বিনষ্ট হবে না এবং সত্যের ওপর একটি বিজয়ী দলের বিদ্যমানতার মাধ্যমে—যারা এর বিধানসমূহ অটুট রাখবে—তাদের মধ্য থেকে সত্য ও নূর মুছে যাবে না, তবে মুসলিম উম্মাহর ভাগ্যেও তা-ই জুটত যা পূর্ববর্তী উম্মতদের ভাগ্যে জুটেছিল; অর্থাৎ সত্যের বিলুপ্তি, তার নিদর্শনসমূহ মুছে যাওয়া এবং সর্বব্যাপী পথভ্রষ্টতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٧)
وتنكب طريق الهداية حتى لا يستطيع أحد منهم أن يتوصل إلى النور الإلهي والهدي الرباني بما عندهم من كتاب، لتحريف الكتب الإلهية وانقراض أهل الحق فيهم، وإجماعهم على الضلالة والغواية.
فلولا هذا اللطف منه جل وعلا لضللنا جميعا كما ضلوا، وقد كان ضُلاَّل أهل الكتاب ومجرموهم أول من أدخل هذا الشر على المسلمين، فبدعة التشيع أول من دعى إليها عبد الله بن سبأ اليهودي،
(1) وبدعة القدر تعزى إلى رجل نصراني في البصرة يقال له سوسن
(2)، وبدعة نفي الصفات أخذت عن بيان بن سمعان عن طالوت ابن أخت لبيد بن أعصم وزوج ابنته وأخذها لبيد بن أعصم الساحر عن يهودي من اليمن
(3)، ثم إن هذه البدع والانحرافات بدأت تجد من مرضى القلوب والاعتقاد أذناً صاغية، حتى وجدت أتباعاً وأنصارا كمنوا على بدعتهم وقت ظهور السنة وسيادتها على المجتمع الإسلامي في زمن أواخر الصحابة وأوائل عهد بني أمية إلى أواسط العهد العباسي الأول حيث ترجمت كتب اليونان وتلقفها هؤلاء المرضى فدعموا شبههم بالكلام والجدل، حتى فتنوا كثيرا من المسلمين عن الحق بتأويلات ما أنزل الله بها من سلطان، ولم يأت عليها منه برهان، وإنما هي شبه لَبَّسَتْ على مرضى القلوب وضعاف الإيمان.
وكان عسكر الإيمان وجند الرحمن ينافحون عن الحق وله يناصرون، يسرون بذلك ويعلنون لتستبين السبيل وتتضح المحجة لمن أراد الله سلامته وهدايته، فأقاموا الدروس والحلقات، ونادوا على المنابر بالآيات البينات فبينوا ووضحوا طريقة الرسول وشريعة الإسلام، وكتبوا وألفوا وردوا على أهل الباطل في كل ميدان، فأقاموا الحجة على الناس ليحيا من حي عن بينة ويهلك من هلك عن بينة، وكان لهم على كل بدعة جولة بالحق يدمغون بها الباطل فإذا هو زاهق، وكان رابع الخلفاء الراشدين
--------------------------------------------
তারা হেদায়াতের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে, ফলে তাদের কাছে থাকা কিতাবের মাধ্যমে তাদের কারো পক্ষে ঐশী নূর এবং রব্বানি হেদায়াত পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব নয়; কারণ তারা আসমানি কিতাবসমূহ বিকৃত করেছে, তাদের মধ্যে সত্যপন্থীদের বিলুপ্তি ঘটেছে এবং তারা পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহির ওপর একমত হয়েছে।
মহান আল্লাহর এই অনুগ্রহ না থাকলে আমরাও তাদের মতো সবাই পথভ্রষ্ট হয়ে যেতাম। মূলত আহলে কিতাবদের (কিতাবধারী) পথভ্রষ্ট ও অপরাধীরাই সর্বপ্রথম মুসলমানদের মধ্যে এই অনিষ্টের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিল। শিয়া মতবাদের বিদআত সর্বপ্রথম আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা নামক এক ইহুদি প্রচার করেছিল;
(১) কদরিয়া (তাকদির অস্বীকারকারী) বিদআত বসরার সাউসান নামক এক খ্রিস্টান ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়;
(২) আর আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার বিদআত গ্রহণ করা হয়েছে বায়ান ইবনে সামআনের কাছ থেকে, সে গ্রহণ করেছিল লাবিদ ইবনে আসমের ভাগনে ও জামাতা তালুতের কাছ থেকে, আর জাদুকর লাবিদ ইবনে আসম তা গ্রহণ করেছিল ইয়েমেনের এক ইহুদির কাছ থেকে।
(৩) অতঃপর এই বিদআত ও বিচ্যুতিগুলো ব্যাধিগ্রস্ত অন্তর এবং বিশ্বাসীদের মাঝে মনোযোগী শ্রোতা পেতে শুরু করে। এমনকি তারা এমন অনুসারী ও সাহায্যকারীও পেয়ে যায় যারা সাহাবায়ে কেরামের শেষ যুগ থেকে উমাইয়া বংশের শুরুর দিক এবং প্রথম আব্বাসীয় যুগের মধ্যভাগ পর্যন্ত মুসলিম সমাজে সুন্নাহর প্রকাশ ও প্রাধান্যের সময়ে তাদের বিদআত গোপন করে রেখেছিল। এ সময়ে গ্রীক গ্রন্থসমূহ অনুবাদ করা হয় এবং এই ব্যাধিগ্রস্ত লোকেরা তা লুফে নেয়; ফলে তারা ইলমুল কালাম ও বিতর্কের মাধ্যমে তাদের সন্দেহগুলোকে শক্তিশালী করে। এমনকি তারা আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ কোনো প্রমাণ ছাড়াই বিভিন্ন ব্যাখ্যার মাধ্যমে অনেক মুসলমানকে সত্য থেকে বিচ্যুত করে ফিতনায় ফেলে দেয়। মূলত এগুলো ছিল নিছক সন্দেহ যা ব্যাধিগ্রস্ত অন্তর ও দুর্বল ঈমানদারদের বিভ্রান্ত করেছিল।
তখন ঈমানের সেনাদল এবং রহমানের সৈনিকরা সত্যের পক্ষ নিয়ে লড়াই করছিলেন এবং সত্যকে সাহায্য করছিলেন। তারা প্রকাশ্যে ও গোপনে এটি জারি রেখেছিলেন যাতে পথ সুস্পষ্ট হয় এবং আল্লাহ যার নিরাপত্তা ও হেদায়াত চান তার কাছে সঠিক পথ উন্মোচিত হয়। তারা পাঠদান ও ইলমি হালকা কায়েম করেন, মিম্বরগুলোতে সুস্পষ্ট আয়াতের মাধ্যমে আহ্বান জানান; ফলে তারা রাসুলের পদ্ধতি ও ইসলামের শরিয়তকে স্পষ্ট ও ব্যাখ্যা করেন। তারা প্রতিটি ময়দানে গ্রন্থ রচনা করেন এবং বাতিলপন্থীদের জবাব প্রদান করেন। তারা মানুষের ওপর দলিল প্রতিষ্ঠা করেন যাতে যে জীবিত থাকবে সে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই জীবিত থাকে এবং যে ধ্বংস হবে সে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই ধ্বংস হয়। প্রতিটি বিদআতের বিরুদ্ধে সত্যের মাধ্যমে তাদের এমন লড়াই ছিল যা দ্বারা তারা বাতিলকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতেন এবং তা বিলুপ্ত হয়ে যেত। আর চতুর্থ খলিফা রাশেদ ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٨)
أبو السبطين علي رضي الله عنه أول من واجه هذه الانحرافات بعد بروزها واضحة في المجتمع الإسلامي، فجالد الخارجين بسنانه وبيانه، فأظهره الله عليهم في الحالين، ثم من بعده الصحابة الذين أدركوا هذه الفتن كجابر وابن عباس وابن عمر وغيرهم رضي الله عنهم، ثم كبار التابعين، ثم تابعيهم إلى الأئمة الأربعة، ثم كبار تلاميذهم، ثم بدأت الفتنة تأتي على أتباع الأئمة ممن لم يستنر بنور الكتاب والسنة ولم يعتمد عليهما الاعتماد الواجب من أمثالهم، حتى أصبح كثير منهم له إمام في الفقه وإمام من المتكلمين في العقائد، فعم البلاء وانتشر الداء، وثبتت الفئة التي على كتاب الله اعتمدت ولسنة نبيه صلى الله عليه وسلم نصرت وهي التي تكفل الله ببقائها، فمضت في طريقها توضح السبيل وتنير الطريق في كل مكان وزمان، وهذا من عظيم منن الله عزوجل وفضله على هذه الأمة إذ لا تجتمع على ضلالة، ولا يندرس فيها الحق وتذهب آثاره بحيث يخفى على جميع الأمة.
وكان ممن نصر الحق وأبانه ونصح لله ودينه الإمام يحيى بن أبي الخير العمراني، إمام الشافعية في بلاد اليمن فأقام الحجة وأظهر المحجة ودعى إلى نبذ البدعة والكلام والالتزام بالكتاب وسنة سيد الأنام في العقائد وفي الأحكام، فنفع الله به خلقاً كثيراً، اعتصموا بكتاب الله بدعوته، واهتدوا إلى الالتزام بسنة النبي صلى الله عليه وسلم في العقائد والأحكام ببيانه ومنهجه، وقد كتب في هذا ثلاثة كتب هي: (مختصرة في مسألة الكلام) رد فيه على الأشعرية والمعتزلة و (رسالة في المعتقد على مذهب أهل الحديث) وكتابه الكبير (الانتصار) الذي نصر به الحق ودحض به الباطل وأقام به الحجة على كل مبتدع، وقد وفقني الله عزوجل إلى الاطلاع عليه فاجتهدت في تحقيق نصه والتعليق عليه لعلي أكون بذلك مشاركا لمؤلفه في الدعوة إلى الكتاب والسنة على نهج السلف لعل الله عزوجل يذكر به غافلا أو يعلم به جاهلا أو يهدي به من فضله وكرمه مبتدعاً. وقد قسمت عملي في الكتاب إلى قسمين:
القسم الأول: الدراسة للمؤلف والكتاب.
القسم الثاني: تحقيق النص والتعليق عليه.
আবুস সিবতাইন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি মুসলিম সমাজে এই বিচ্যুতিগুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাওয়ার পর সর্বপ্রথম এগুলোর মোকাবিলা করেন। তিনি তাঁর তরবারি ও বাগ্মিতার মাধ্যমে বিচ্যুতদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন, ফলে আল্লাহ উভয় ক্ষেত্রেই তাঁকে তাদের ওপর জয়ী করেন। অতঃপর তাঁর পরবর্তী সাহাবীগণ যারা এই ফিতনাগুলো প্রত্যক্ষ করেছিলেন—যেমন জাবির, ইবনে আব্বাস, ইবনে ওমর এবং অন্যান্যরা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম); অতঃপর বড় বড় তাবেয়ীগণ, এরপর তাবে-তাবেয়ীগণ থেকে শুরু করে চার ইমাম পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত ছিল। এরপর এই ফিতনা ইমামদের এমন সব অনুসারীদের মাঝে আসতে শুরু করে যারা কুরআন ও সুন্নাহর আলোয় আলোকিত হয়নি এবং তাঁদের মতো এ দুইয়ের ওপর যথাযথভাবে নির্ভর করেনি। এমনকি তাদের অনেকে ফিকহ শাস্ত্রে এক ইমামের অনুসারী এবং আকিদাহর ক্ষেত্রে মুতাকাল্লিমিনদের (কালামশাস্ত্রবিদ) মধ্য থেকে অন্য কোনো ইমামের অনুসারী হয়ে পড়ে। ফলে বিপর্যয় ব্যাপক হয় এবং ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেই দলটি অবিচল থাকে যারা আল্লাহর কিতাবের ওপর নির্ভর করেছিল এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহকে সাহায্য করেছিল; আর আল্লাহ তাদের টিকে থাকার দায়িত্ব নিয়েছেন। তারা প্রতিটি স্থানে ও সময়ে সঠিক পথ স্পষ্ট করার এবং পথ প্রদর্শনের কাজে এগিয়ে চলে। এটি উম্মতের ওপর মহান আল্লাহর এক বিশাল নিয়ামত ও অনুগ্রহ যে, এই উম্মত কখনো পথভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না এবং এর মধ্য থেকে সত্য বিলুপ্ত হবে না এবং সত্যের চিহ্নগুলো এমনভাবে হারিয়ে যাবে না যা পুরো উম্মতের কাছে গোপন থেকে যায়।
যারা সত্যকে সাহায্য করেছেন, তা স্পষ্ট করেছেন এবং আল্লাহ ও তাঁর দ্বীনের জন্য একনিষ্ঠভাবে নসীহত করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইয়েমেনের শাফেয়ী মাযহাবের ইমাম, ইমাম ইয়াহইয়া বিন আবিল খায়ের আল-উমরানী। তিনি অকাট্য দলিল প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন এবং আকিদাহ ও বিধিবিধানের ক্ষেত্রে বিদআত ও ইলমুল কালাম বর্জন করে কিতাবুল্লাহ ও সাইয়্যিদুল আনাম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে বহু মানুষকে উপকৃত করেছেন, যারা তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরেছে এবং তাঁর ব্যাখ্যা ও পদ্ধতির আলোকে আকিদাহ ও বিধিবিধানের ক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুসরণের হেদায়েত লাভ করেছে। তিনি এই বিষয়ে তিনটি গ্রন্থ রচনা করেছেন: 'মুখতাসারা ফী মাসআলাতিল কালাম' (যাতে তিনি আশআরী ও মুতাজিলাদের প্রতিবাদ করেছেন), 'রিসালা ফী আল-মু’তাকাদ আলা মাযহাবি আহলিল হাদীস' এবং তাঁর বিশাল গ্রন্থ 'আল-ইনতিসার', যার মাধ্যমে তিনি সত্যকে বিজয়ী করেছেন, বাতিলকে পরাস্ত করেছেন এবং প্রত্যেক বিদআতীর বিরুদ্ধে প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মহান আল্লাহ আমাকে এটি দেখার তাওফিক দান করেছেন, তাই আমি এর মূল পাঠ্য সম্পাদনা ও এর ওপর টীকা প্রদানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। উদ্দেশ্য হলো, আমি যেন সালাফদের অনুসৃত পথে কুরআন ও সুন্নাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে লেখকের অংশীদার হতে পারি; হয়তো মহান আল্লাহ এর মাধ্যমে কোনো অসচেতন ব্যক্তিকে সচেতন করবেন, কোনো অজ্ঞকে জ্ঞান দান করবেন অথবা তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় কোনো বিদআতীকে হেদায়েত দান করবেন। আমি আমার কাজকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি:
প্রথম ভাগ: লেখক ও কিতাব পরিচিতি।
দ্বিতীয় ভাগ: মূল পাঠ্য সম্পাদনা ও তার ওপর টীকা প্রদান।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ١١)
المبحث الأول: حياته الشخصية
أولا: اسمه:يحيى بن أبي الخير بن سالم بن أسعد بن عبد الله بن محمد بن موسى ابن عمران العمراني.
هكذا سماه الجعدي في طبقاته - ص (174) وهو أقرب من كتب عنه لأنه تلميذ ابنه طاهر بن يحيى بن أبي الخير.
وذكره النووي في تهذيب الأسماء واللغات (2/ 278) فقال: "يحيى بن أبي الخير سالم بن أسعد بن يحيى العمراني بن عمران".
والسبكي في طبقاته (7/ 336) قال: "يحيى بن أبي الخير بن سالم بن سعيد بن عبد الله بن محمد بن موسى بن عمران العمراني".
وابن قاضي شهبة في طبقاته (1/ 372) قال: "يحيى بن أبي الخير بن سالم بن أسعد بن يحيى".
فنخلص من هذا إلى أن المؤلفين اتفقوا على اسمه، واختلفوا في اسم أبيه وجده الأول والثاني وهو اختلاف قريب، ما عدا تسمية جده الثاني يحيى عند النووي وابن قاضي شهبة، وأقربهم إلى الصواب تلميذ تلاميذه ابن سمرة، الجعدي لقرب عهده منه ولأن من كتب عن العمراني اعتمد على ابن سمرة، وقد تكون تلك الاختلافات تصحيفا أو تحريفا من النساخ والله أعلم.
ثانيا: نسبته:العمراني: وهي نسبة إلى عمران بن ربيعة بن عبس بن زهرة بن غالب ابن عبد الله بن عك بن عدنان، هكذا ذكره ابن سمرة الجعدي.
ونسبه الحموي في معجم البلدان (3/ 296) بقوله (السيري ثم العمراني) وهي نسبة إلى البلدة التي ولد فيها.
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর ব্যক্তিগত জীবন
প্রথমত: তাঁর নাম:ইয়াহইয়া বিন আবুল খায়ের বিন সালিম বিন আসআদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন মুসা ইবনে ইমরান আল-উমরানি।
আল-জাদি তাঁর 'তাবাকাত' (পৃ. ১৭৪) গ্রন্থে তাঁকে এভাবেই নামকরণ করেছেন। তাঁর সম্পর্কে যারা লিখেছেন তাদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তি, কারণ তিনি তাঁর পুত্র তাহের বিন ইয়াহইয়া বিন আবুল খায়েরের ছাত্র ছিলেন।
আন-নববী 'তহজীবুল আসমা ওয়াল লুগাত' (২/২৭৮) গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "ইয়াহইয়া বিন আবুল খায়ের সালিম বিন আসআদ বিন ইয়াহইয়া আল-উমরানি বিন ইমরান।"
আস-সুবকি তাঁর 'তাবাকাত' (৭/৩৩৬) গ্রন্থে বলেছেন: "ইয়াহইয়া বিন আবুল খায়ের বিন সালিম বিন সাঈদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন মুসা বিন ইমরান আল-উমরানি।"
এবং ইবনে কাজি শুহবাহ তাঁর 'তাবাকাত' (১/৩৭২) গ্রন্থে বলেছেন: "ইয়াহইয়া বিন আবুল খায়ের বিন সালিম বিন আসআদ বিন ইয়াহইয়া।"
এ থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, লেখকগণ তাঁর নামের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তবে তাঁর পিতা এবং প্রথম ও দ্বিতীয় দাদার নামের ব্যাপারে কিছুটা মতভেদ করেছেন—যা খুবই সামান্য মতভেদ। তবে ব্যতিক্রম হলো আন-নববী ও ইবনে কাজি শুহবাহর নিকট তাঁর দ্বিতীয় দাদার নাম ইয়াহইয়া হওয়া। তাঁদের মধ্যে সঠিকের সবচেয়ে নিকটবর্তী হলেন তাঁর ছাত্রদের ছাত্র ইবনে সামুরাহ আল-জাদি; কারণ তিনি তাঁর সময়ের নিকটবর্তী ছিলেন এবং আল-উমরানি সম্পর্কে যারা লিখেছেন তারা ইবনে সামুরাহর ওপরই নির্ভর করেছেন। আর এই পার্থক্যগুলো অনুলিপিকারীদের হাতের ভুল বা বিকৃতি হতে পারে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
দ্বিতীয়ত: তাঁর নিসবত বা সম্বন্ধ:আল-উমরানি: এটি ইমরান বিন রাবিয়াহ বিন আবস বিন জাহরা বিন গালিব বিন আব্দুল্লাহ বিন আক বিন আদনানের দিকে সম্বন্ধিত; ইবনে সামুরাহ আল-জাদি এভাবেই উল্লেখ করেছেন।
আল-হামাউই 'মুজামুল বুলদান' (৩/২৯৬) গ্রন্থে তাঁর নিসবত উল্লেখ করে বলেছেন: "(আস-সাইরি অতঃপর আল-উমরানি)", যা মূলত তিনি যে শহরে জন্মগ্রহণ করেছেন সেই শহরের দিকে সম্বন্ধিত।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ثالثا: كنيته:أبو الحسين وكناه النووي وابن قاضي شهبة بأبي الخير.
رابعا: مولده:ولد الشيخ يحيى رحمه الله في مصنعة سير
(1) في اليمن سنة تسع وثمانين وأربعمائة من الهجرة.
خامسا: موطن نشأته:ولد العمراني رحمه الله في اليمن وعاش فيها ومات فيها ولم يخرج منها إلا إلى مكة والمدينة حاجا وزائرا، وكانت اليمن في الفترة التي عاش فيها الشيخ العمراني تموج بالفتن والحروب والمذاهب المنحرفة، فقد كان فيها الشيعة الزيدية في صعده
(2) وما حولها إلى نجران، والإسماعيلية الباطنية ويمثلهم الصلحيون
(3) وكانوا تغلبوا على عموم اليمن ثم انحسر ملكهم إلى جبله
(4) وحصن أشيح
(5) وبعض الحصون الأخرى.
ومنهم الزريعيون في عدن وأبين
(6) وتعز وكانوا تابعين للصليحيين ثم استقلوا بالحكم. ومنهم الياميون أبناء علي بن حاتم اليامي وكانوا في صنعاء وأعمالها. والدولة السنية التي كانت موجودة هي دولة بني نجاح الأحباش في زبيد
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: তাঁর উপনাম:আবুল হুসাইন; তবে ইমাম আন-নাবাবি এবং ইবনু কাদি শুহবাহ তাঁকে 'আবুল খায়ের' উপনামেও অভিহিত করেছেন।
চতুর্থত: তাঁর জন্ম:শাইখ ইয়াহইয়া রাহিমাহুল্লাহ হিজরি চারশত ঊননব্বই সনে ইয়ামানের মাসনাআতু সাইর
(১) নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।
পঞ্চমত: তাঁর বেড়ে ওঠার স্থান:আল-ইমরানি রাহিমাহুল্লাহ ইয়ামানে জন্মগ্রহণ করেন, সেখানেই জীবন অতিবাহিত করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি হজ পালন ও জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মক্কা ও মদিনা গমন ব্যতীত অন্য কোথাও বের হননি। শাইখ আল-ইমরানি যে সময়কালে বেঁচে ছিলেন, তখন ইয়ামান ফিতনা-ফ্যাসাদ, যুদ্ধবিগ্রহ এবং পথভ্রষ্ট মতবাদসমূহে উত্তাল ছিল। সেখানে সা’দাহ এবং এর আশপাশের অঞ্চল থেকে শুরু করে নাজরান পর্যন্ত যায়দি শিয়াদের প্রভাব ছিল। আর ইসমাইলি বাতিনিদের প্রতিনিধিত্ব করছিল সুলাইহিগণ; তারা একসময় সমগ্র ইয়ামানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল, পরবর্তীতে তাদের শাসন ক্ষমতা জিবলাহ,
(৪) আশيح দুর্গ
(৫) এবং আরও কিছু দুর্গের মধ্যে সংকুচিত হয়ে আসে।
তাদের মধ্যে আদান, আবইয়ান
(৬) এবং তাঈজ অঞ্চলে ছিল জুরাইয়িরা; যারা প্রথমে সুলাইহিগণের অনুসারী ছিল, পরবর্তীতে তারা স্বাধীনভাবে শাসন পরিচালনা করে। তাদের মধ্যে সানআ এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহে আলি বিন হাতিম আল-ইয়ামির বংশধর ইয়ামিগণও ছিল। সে সময়ে সেখানে বিদ্যমান সুন্নি রাষ্ট্রটি ছিল জাবিদ-এ আবিসিনীয় বনু নাজাহদের রাষ্ট্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وتهامة وهي امتداد لدولة بني زياد، وقد قضى على هذه الدولة بنو مهدي الذين انتحلوا مذهب الخوارج وفتكوا بالناس وأهلكوا الحرث والنسل واستمرت دولتهم خمسة عشر عاما، وكان بين تلك الإمارات وأولئك الحكام حروب دائمة متصلة تنشر الدمار والخراب في كل مكان، وفي كثير من الأحيان كانت الدولة تنقسم على نفسها ويبرز فيها طامعون إلى أن قضى على جميع هؤلاء الدولة الأيوبية سنة (569 هـ)
(1).
سادسا: أولاده:لم يذكر للشيخ من الأولاد سوى ابنه طاهر وبنتين، تزوج الفقيه عمرو بن عبد الله بن سليمان إحداهما فتوفيت في نفاسها فتزوج الأخرى.
سابعا: وفاته:توفي العمراني رحمه الله في ذي السفال
(2) مبطونا شهيدا قبيل الفجر من ليلة الأحد لست وعشرين من ربيع الآخر سنة ثمان وخمسين وخمسمائة من الهجرة وله تسع وستون سنة، وكان نزعه ليلتين ويوما بينهما.
ولم يترك صلاة في مرضه، يسأل عن وقت كل صلاة بالإيماء لأنه اعتقل لسانه، وكان كثير التهليل يعرف منه بالإشارة بالمسبحة
(3).
--------------------------------------------
এবং তিহামাহ হলো বনু যিয়াদ রাষ্ট্রের সম্প্রসারিত অংশ। এই রাষ্ট্রকে বনু মাহদিরা ধ্বংস করে দিয়েছিল, যারা খাওয়ারিজ মতবাদ গ্রহণ করেছিল এবং মানুষের ওপর চরম জুলুম-নিপীড়ন চালিয়েছিল এবং ফসল ও বংশধরদের (জনজীবন) ধ্বংস করেছিল। তাদের রাষ্ট্র পনের বছর স্থায়ী হয়েছিল। এই সব আমিরাত ও শাসকদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন ও স্থায়ী যুদ্ধ লেগে থাকত যা সর্বত্র ধ্বংস ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিত। অনেক সময় রাষ্ট্রটি নিজেই বিভক্ত হয়ে পড়ত এবং উচ্চাভিলাষী ব্যক্তিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠত, শেষ পর্যন্ত ৫৬৯ হিজরিতে আইয়ুবীয় রাষ্ট্র এই সবকিছুর অবসান ঘটায়।
(১).
ষষ্ঠত: তাঁর সন্তানাদি:শাইখের সন্তানদের মধ্যে তাঁর পুত্র তাহির এবং দুই কন্যা ছাড়া আর কারও কথা উল্লেখ করা হয়নি। ফকিহ আমর বিন আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান তাঁদের একজনকে বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু সন্তান প্রসবকালীন রক্তস্রাব (নিফাস) অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন, এরপর তিনি অপর কন্যাকে বিয়ে করেন।
সপ্তমত: তাঁর মৃত্যু:আল-ইমরানি (রহিমাহুল্লাহ) যি-সুফালে
(২) পেটের রোগে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন। এটি ছিল ৫৫৮ হিজরির ২৬শে রবিউল আখের, রবিবার দিবাগত রাতে ফজরের ঠিক আগে। তাঁর বয়স হয়েছিল ঊনসত্তর বছর। তাঁর মৃত্যুযন্ত্রণা স্থায়ী হয়েছিল দুই রাত এবং এর মধ্যবর্তী একদিন।
তিনি অসুস্থ অবস্থায় কোনো সালাত ত্যাগ করেননি। তিনি ইশারার মাধ্যমে প্রতিটি সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন, কারণ তাঁর জবান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তিনি প্রচুর পরিমাণে তাহলীল পাঠ করতেন যা তসবিহ পাঠের ইশারার মাধ্যমে বুঝা যেত।
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ١٤)
المبحث الثاني: حياته العلمية وآثاره
أولاً: طلبه للعلم ورحلاته فيه:الشيخ العمراني رحمه الله أوقف حياته للعلم تعلما وتعليما وتأليفا، لهذا نجده رحمه الله قوي العزيمة في تحصيل العلم جاد الرغبة، فيه تنقل بين بلدان اليمن طلبا للعلم.
وله تخصص بالفقه الشافعي مع المشاركة في علوم اللغة والعقيدة، وكان خاله أبو الفتوح بن عثمان بن أسعد بن عبد الله بن محمد بن موسى بن عمران أول من أخذ عنه من الشيوخ، فقد أخذ عنه كتاب (كافي الفرائض في المواريث) للصردفي.
وارتحل رحمه الله إلى ذي الحفر
(1) وقرأ كتاب (التنبيه) للشيرازي، وأخذ عن الشيخ الفقيه عبد الله بن أحمد بن محمد بن أبي عبد الله الهمداني (المهذب) وحفظه عنه و (اللمع) كلاهما لأبي إسحاق، و (الملخص) و (إرشاد ابن عبدويه)، و (كافي الفرائض) للصردفي أيضا.
ثم ارتحل إلى أحاظه
(2) فقرأ على الشيخ زيد بن الحسن الفايشي فأعاد عنده (المهذب)، وأخذ عنه تعليق الشيخ أبي إسحاق في أصول الفقه، و (غريب الحديث) لأبي عبيد في اللغة، و (مختصر العين) للخوافي، و (نظام الغريب) للربعي وكتاب (التبصرة في أصول الدين) تصنيف أبي الفتوح على مذهب السلف، وأخذ عن خبيره
(3) عمر بن إسماعيل الجماعي الخولاني كتابي (الكافي) للصفار في النحو و (الجمل) للزجاجي.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানচর্চামূলক জীবন ও কর্মসমূহ
প্রথমত: তাঁর ইলম অন্বেষণ ও ইলমি সফরসমূহ:শায়খ আল-ইমরানি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর জীবনকে শিক্ষা গ্রহণ, শিক্ষাদান এবং গ্রন্থ রচনার জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। এ কারণেই আমরা তাঁকে ইলম অর্জনে অত্যন্ত দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ও গভীর আগ্রহী হিসেবে দেখতে পাই। তিনি ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে ইয়েমেনের বিভিন্ন জনপদের মাঝে সফর করেছেন।
শাফিয়ি ফিকহে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ছিল, এর পাশাপাশি ভাষা ও আকাইদ শাস্ত্রেও তাঁর বিচরণ ছিল। তাঁর শায়খদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি ছিলেন তাঁর মামা আবু আল-ফুতুহ বিন উসমান বিন আস'আদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন মুসা বিন ইমরান। তিনি তাঁর কাছে সারদাফি রচিত (কাফিয়ুল ফারায়েজ ফিল মাওয়ারিস) গ্রন্থটি অধ্যয়ন করেন।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) জি-হাফার
(১)-এ সফর করেন এবং সেখানে শিরাজির (আত-তানবিহ) গ্রন্থটি পাঠ করেন। তিনি ফকিহ শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি আব্দুল্লাহ আল-হামদানির নিকট থেকে (আল-মুহাজ্জাব) গ্রহণ করেন এবং তাঁর থেকে এটি মুখস্থ করেন। এছাড়াও তিনি তাঁর থেকে আবু ইসহাকের রচিত (আল-লুমা), (আল-মুলাখখাস), (ইরশাদু ইবনি আবদাওয়াইহ) এবং পুনরায় সারদাফি রচিত (কাফিয়ুল ফারায়েজ) অধ্যয়ন করেন।
অতঃপর তিনি আহাজা
(২)-তে সফর করেন এবং শায়খ জায়েদ বিন আল-হাসান আল-ফাইশির নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি পুনরায় (আল-মুহাজ্জাব) অধ্যয়ন করেন। এছাড়াও তিনি তাঁর নিকট থেকে উসুলুল ফিকহ বিষয়ে শায়খ আবু ইসহাকের (তালিক) বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ভাষা বিজ্ঞানে আবু উবাইদের (গারিবুল হাদিস), খাওয়াফি রচিত (মুখতাসারুল আইন), রাবাঈ রচিত (নিযামুল গারিব) এবং সালাফদের মাজহাব অনুযায়ী আবু আল-ফুতুহ রচিত (আত-তাবসিরাহ ফি উসুলিদ দিন) গ্রন্থটি গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর বন্ধু
(৩) উমর বিন ইসমাইল আল-জামাঈ আল-খাওলানির নিকট নাহু শাস্ত্রে সাফ্ফার রচিত (আল-কাফি) এবং জাজ্জাজি রচিত (আল-জুমাল) গ্রন্থদ্বয় অধ্যয়ন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ١٥)
ولما وصل الفقيه زيد بن عبد الله اليفاعي سنة (512 هـ) إلى الجند
(1) قادما من مكة جاءه جماعة من الفقهاء ومن ضمنهم الشيخ العمراني فقرأ عليه (النكت) وهو في المسائل المختلف فيها بين الإمامين الشافعي وأبي حنيفة تصنيف أبي إسحاق الشيرازي، كما سمع (المنهاج) للقاضي أبي الطيب الطبري ودرس كتاب (التعليق في الخلاف) للشيخ أبي إسحاق و (التبصرة في أصول الدين) لأبي الفتوح مرة أخرى وكتباً أخرى، وبقي عند الشيخ اليفاعي إلى أن توفي سنة (514 هـ)
(2) فانتقل إلى سهفنة
(3) فأخذ عن القاضي مسلم بن أبي بكر بن أحمد الصعبي كتاب (الحروف السبعة في الرد على المعتزلة وغيرهم من أهل الزيغ والبدعة) للشيخ حسين بن جعفر المراغي
(4).
ثم انتقل إلى ذي أشرق
(5) سنة (517 هـ) فسمع (الجامع للسنن) للترمذي على الشيخ سالم بن عبد الله بن محمد بن سالم بن عبد الله.
كما طالع بذي أشرق شروح المزني وكتبا أخرى (كالمجموع) للمحاملي و (الشامل) لابن الصباغ وكتاب (الفروع) لسليم و (شرح المولدات) للقاضي أبي الطيب و (العدة) للقاضي حسين بن علي الطبري.
وقد حج رحمه الله وزار مسجد النبي صلى الله عليه وسلم وقبر النبي صلى الله عليه وسلم في المدينة سنة (521 هـ).
ولقي في مكة الفقيه الواعظ محمد بن أحمد العثماني الديباجي فتناظرا
--------------------------------------------
যখন ফকিহ জাইদ বিন আবদুল্লাহ আল-ইয়াফায়ি ৫১২ হিজরিতে মক্কা থেকে আল-জান্দে
(১) আসলেন, তখন একদল ফকিহ তাঁর নিকট আগমন করেন, যাদের মধ্যে শায়খ আল-উমরানিও ছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট আবু ইসহাক আশ-শিরাজির সংকলিত 'আন-নুকাত' পাঠ করেন, যা ইমাম শাফেয়ি ও ইমাম আবু হানিফার মধ্যকার মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাসমূহের ওপর রচিত। পাশাপাশি তিনি কাজি আবু তাইয়িব আত-তবারির 'আল-মিনহাজ' শ্রবণ করেন এবং শায়খ আবু ইসহাকের 'আত-তালিক ফিল খিলাফ' ও আবুল ফুতুহর 'আত-তাবসিরা ফি উসুল আদ-দিন' কিতাব দুটি পুনরায় অধ্যয়ন করেন এবং আরও অন্যান্য কিতাব পাঠ করেন। তিনি শায়খ আল-ইয়াফায়ির নিকট ৫১৪ হিজরিতে তাঁর ইন্তেকাল
(২) পর্যন্ত অবস্থান করেন। এরপর তিনি সাহফানায়
(৩) চলে যান এবং সেখানে কাজি মুসলিম বিন আবু বকর বিন আহমাদ আস-সাবি-এর নিকট শায়খ হুসাইন বিন জাফর আল-মারাগির 'আল-হুরুফ আস-সাবআ ফি আর-রাদ্দি আলাল মুতাজিলা ওয়া গাইরিহিম মিন আহলিয যাইগি ওয়াল বিদা' কিতাবটি গ্রহণ করেন
(৪)।
অতঃপর তিনি ৫১৭ হিজরিতে জি আশরাক
(৫) নামক স্থানে গমন করেন এবং সেখানে শায়খ সালিম বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন সালিম বিন আবদুল্লাহর নিকট তিরমিজির 'আল-জামি লিস-সুনান' শ্রবণ করেন।
জি আশরাকে অবস্থানকালে তিনি আল-মুজানির ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং অন্যান্য কিতাবাদি যেমন আল-মুহামিলির 'আল-মাজমু', ইবনুস সাব্বাগের 'আশ-শামিল', সুলিমের 'আল-ফুরু', কাজি আবু তাইয়িবের 'শারহুল মুওয়াল্লাদাত' এবং কাজি হুসাইন বিন আলি আত-তবারির 'আল-উদ্দাহ' অধ্যয়ন করেন।
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ৫২১ হিজরিতে হজ পালন করেন এবং মদিনায় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ ও নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মুবারক জিয়ারত করেন।
মক্কায় তিনি ফকিহ ও ওয়ায়েজ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-উসমানি আদ-দিবাজির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁরা পরস্পর মুনাজারা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وتذاكرا في مسائل الفقه والأصول وكان الديباجي أشعريا فنصر العمراني رحمه الله مذهب السلف في أن القراءة هي المقروء
(1) واحتج على الديباجي بقوله تعالى: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ}
(2) وأن الإشارة بهذا إلى المتلو المقروء إلى أن سكب الديباجي العرق عن وجهه.
ثم عاد رحمه الله إلى بلده مصنعة سير وبقي فيها يصنف ويدرس إلى سنة (549 هـ) حيث تعذر سكنى سير بسبب حروب وفتن جرت بين أهلها فانتقل إلى ذي السفال، ثم إلى ذي أشرق ومكث فيها سبع سنين وكسرا انشغل خلالها بالتدريس والإقراء والتصنيف كما سمع خلالها عام (555 هـ) (صحيح البخاري) و (سنن أبي داود) من الشيخ الحافظ علي بن أبي بكر الهمداني.
ثم ظهر ابن مهدي الخارجي واستولى على زبيد وتهامة ثم خلفه بعد موته ابنه مهدي بن علي فأغار على الجند وبواديها، فجعل الشيخ العمراني رحمه الله خوف ابن مهدي سبيلاً للخروج من ذي أشرق فقد كان كره البقاء فيها بسبب فتن وقعت بين فقهاء ذي أشرق وفقهاء زبيد تسببت بالتباغض والتحاسد والتكفير، فتوجه الشيخ بعد خروجه في شوال سنة (557 هـ) إلى ضراس
(3) ثم إلى ذي السفال واستقر بها إلى أن توفي رحمه الله في ربيع الآخر سنة (558 هـ) كما سبق ذكره
(4).
--------------------------------------------
তারা ফিকহ ও উসূলের মাসআলাসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন। দিবাজি ছিলেন আশআরী মতাবলম্বী, আর আল-উমরানী (রাহিমাহুল্লাহ) সালাফদের মাযহাবকে সমর্থন করেন যে, কিরাআত (পাঠ করা) ও মাকরূ (পঠিত বিষয়) একই
(১)। তিনি দিবাজির বিপক্ষে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: {নিশ্চয়ই এই কুরআন সেই পথ দেখায় যা অধিকতর সরল}
(২) এবং তিনি যুক্তি দেন যে, 'এই' শব্দটির মাধ্যমে তিলাওয়াতকৃত বা পঠিত বিষয়টিকেই নির্দেশ করা হয়েছে। এক পর্যায়ে দিবাজির চেহারা থেকে ঘাম ঝরতে শুরু করল।
এরপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) নিজের দেশ মাসনাআতে সায়র-এ ফিরে যান এবং সেখানে ৫৪৯ হিজরি সাল পর্যন্ত গ্রন্থ রচনা ও অধ্যাপনায় নিয়োজিত থাকেন। সে সময় সায়র-এর অধিবাসীদের মধ্যে যুদ্ধ ও ফিতনা ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, ফলে তিনি যী আল-সুফাল-এ চলে যান। এরপর তিনি যী আশরাক-এ যান এবং সেখানে সাত বছরের কিছু বেশি সময় অবস্থান করেন। এই সময়ে তিনি পাঠদান, কিরাআত এবং গ্রন্থ রচনায় মগ্ন ছিলেন। এরই মাঝে ৫৫৫ হিজরি সালে তিনি শায়খ হাফেজ আলী বিন আবু বকর আল-হামদানী থেকে 'সহীহ বুখারী' এবং 'সুনান আবু দাউদ' শ্রবণ করেন।
এরপর খারেজী ইবনে মাহদী আবির্ভূত হয় এবং যাবীদ ও তিহামাহ দখল করে নেয়। তার মৃত্যুর পর তার পুত্র মাহদী বিন আলী স্থলাভিষিক্ত হয়ে আল-জানাদ ও এর গ্রামাঞ্চলগুলোতে আক্রমণ চালায়। শায়খ উমরানী (রাহিমাহুল্লাহ) ইবনে মাহদীর ভয়কে যী আশরাক থেকে বের হওয়ার অযুহাত হিসেবে গ্রহণ করেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি সেখানে অবস্থান করা অপছন্দ করছিলেন, কারণ যী আশরাক ও যাবীদের ফকীহদের মধ্যে এমন কিছু ফিতনা তৈরি হয়েছিল যার ফলে পারস্পরিক ঘৃণা, হিংসা এবং একে অপরকে কাফির বলার (তাকফীর) প্রবণতা দেখা দিয়েছিল। শায়খ ৫৫৭ হিজরি সালের শাওয়াল মাসে সেখান থেকে বের হয়ে যিরাস-এর
(৩) উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং এরপর যী আল-সুফাল-এ গিয়ে থিতু হন। সেখানেই তিনি ৫৫৮ হিজরি সালের রবিউল আখের মাসে মৃত্যুবরণ করেন, যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ١٧)
ثانيا: شيوخهذكرنا فيما تقدم رحلات العمراني رحمه الله وطلبه للعلم وقد أخذ في رحلاته تلك عن شيوخ اليمن في وقته، وهم:
1 - خاله أبو الفتوح بن عثمان بن أسعد بن عبد الله بن محمد بن موسى ابن عمران
(1).
2 - الشيخ موسى بن علي الصعبي قال عنه الجعدي: سكن ذي الحفر في نعيمه تفقه بمقبل بن زهير وكان مدرسا في ذي الحفر توفي سنة (450 هـ)
(2).
3 - الشيخ عبد الله بن أحمد بن محمد بن أبي عبد الله الهمداني سكن زبران من بادية الجند وتوفي سنة (518 هـ) تفقه بشيوخ منهم الفقيه أبو بكر بن جعفر بن عبد الرحمن المخائي وزيد بن عبد الله اليفاعي وأكثر أخذه عنه، وقرأ على ابن عبدويه (الإرشاد) في أصول الفقه والجدل له وسمع عليه قراءة المهذب وكان زاهدا ورعاً
(3).
4 - الشيخ الفقيه عبد الله بن عمير العريفي تفقه بزيد بن عبد الله اليفاعي
(4).
5 - الشيخ زيد بن الحسن بن محمد الفايشي ولد سنة (458 هـ) وتوفي سنة (528 هـ) تفقه بشيوخ كثير وكان عالماً بعلوم كثيرة، منها علم القراءت من طريق أبي معشر الطبري حيث قرأ عليه بمكة ومنها التفسير والحديث
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: তাঁর উস্তাদগণআমরা ইতিপূর্বে আল-ইমরানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সফরসমূহ এবং তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ সম্পর্কে আলোচনা করেছি। তিনি তাঁর সেই সফরগুলোতে তৎকালীন ইয়েমেনের শায়খদের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেছেন, তাঁরা হলেন:
১ - তাঁর মামা আবুল ফুতুহ বিন উসমান বিন আস'আদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন মূসা ইবনে ইমরান
(১)।
২ - শায়খ মূসা বিন আলী আস-সা'বী; আল-জা'দী তাঁর সম্পর্কে বলেন: তিনি নাঈমাহ-এর যিল-হাফার অঞ্চলে বসবাস করতেন। তিনি মুকবিল বিন যুহাইর-এর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং যিল-হাফার-এ শিক্ষকতা করতেন। তিনি ৪৫০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন
(২)।
৩ - শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি আব্দুল্লাহ আল-হামদানী; তিনি জানাদ মরুভূমির যাবরান-এ বসবাস করতেন এবং ৫১৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বেশ কয়েকজন উস্তাদের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফকীহ আবু বকর বিন জাফর বিন আব্দুর রহমান আল-মুখায়ী এবং যায়েদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ইয়াফায়ী; তাঁর অধিকাংশ শিক্ষা অর্জন ছিল ইয়াফায়ীর নিকট থেকে। তিনি ইবনে আবদুওয়াইহ-এর নিকট তাঁর রচিত উসূলে ফিকহ ও জাদল (বিতর্কশাস্ত্র) বিষয়ক গ্রন্থ 'আল-ইরশাদ' পাঠ করেন এবং তাঁর নিকট 'আল-মুহাযযাব' পাঠ শ্রবণ করেন। তিনি একজন যাহেদ (দুনিয়াবিমুখ) ও পরহেজগার ব্যক্তি ছিলেন
(৩)।
৪ - শায়খুল ফকীহ আব্দুল্লাহ বিন উমাইর আল-আরিফী; তিনি যায়েদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ইয়াফায়ীর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন
(৪)।
৫ - শায়খ যায়েদ বিন হাসান বিন মুহাম্মাদ আল-ফায়িশী; তিনি ৪৫৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫২৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি অনেক উস্তাদের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং তিনি বহু বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন; যার মধ্যে আবু মা'শার আত-তাবারীর সূত্রে কিরাআত শাস্ত্র অন্যতম—যা তিনি মক্কায় তাঁর নিকট পাঠ করেছিলেন—এবং আরও রয়েছে তাফসীর ও হাদীস শাস্ত্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ١٨)
واللغة والنحو والفقه والخلاف وأصول الفقه وعلم الكلام في التوحيد وكان كثير الحج وربما جاور في مكة وكان رحالاً في طلب العلم فبذلك كثرت علومه وظهرت فضائله وكان قواماً بالليل يصلي بالسُبُع من القرآن كل ليلة في غالب أحواله وأكثر زمانه، وصنف في مذهب الشافعي مختصراً مليحا سماه كتاب (التهذيب) وتفقه به خلق كثير
(1).
6 - عمرو بن بيشى وهو من ترب الشيخ العمراني أخذ عنه كتاب (كافي النحو) لأبي جعفر الصفار و (الجمل) للزجاجي
(2).
7 - الإمام زيد بن عبد الله بن جعفر بن إبراهيم اليفاعي من أعيان علماء اليمن وأشياخ فقهاء الزمن أستاذ الأستاذين وشيخ المصنفين أخذ عن جلة علماء اليمن ثم ارتحل إلى مكة فقرأ على تلاميذ أبي إسحاق الشيرازي ثم عاد إلى اليمن فاجتمع الناس إليه للتدريس، وخاف الأمير مفضل بن أبي البركات بن الوليد الحميري القرمطي من تجمعهم أن يخرجوا عليه فأمر خاصته بإحداث فتنة بين هذا الشيخ والشيخ أبي بكر بن جعفر بن عبد الرحمن المخائي وبالفعل تمت الفتنة بينهما وتشتت أتباع الشيخين فهاجر الشيخ زيد اليفاعي مرة أخرى إلى مكة وجاور فيها ثنتي عشرة سنة يدرس ويفتي، ثم عاد إلى اليمن بعد هلاك الأمير المفضل بن أبي البركات سنة (513 هـ)، فسكن الفقيه زيد الجند واجتمع عليه جلة فقهاء اليمن يقرؤون عليه ويسمعون منه حتى توفي رحمه الله سنة (515 هـ)
(3).
8 - القاضي مسلم بن أبي بكر بن أحمد بن عبد الله الصعبي كان عالما بعلم الكلام محجاجا ظريفا ماهرا في الأصول مع تبريزه في الفقه وقد بيض الجعدي تاريخ ولادته ووفاته
(4).
--------------------------------------------
এবং ভাষা, ব্যাকরণ, ফিকহ, খিলাফ (মতভেদ শাস্ত্র), উসুলুল ফিকহ এবং তাওহীদ বিষয়ক ইলমুল কালামে পারদর্শী ছিলেন। তিনি প্রচুর হজ পালন করতেন এবং মাঝেমধ্যে মক্কায় অবস্থান করতেন। তিনি জ্ঞান অন্বেষণে প্রচুর সফর করতেন, যার ফলে তাঁর জ্ঞান সমৃদ্ধ হয়েছিল এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পেয়েছিল। তিনি অধিকাংশ সময় এবং তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় রাত জেগে ইবাদত করতেন, প্রতি রাতে কুরআনের এক-সপ্তমাংশ তিলাওয়াত করে সালাত আদায় করতেন। তিনি শাফিঈ মাযহাব অনুসারে একটি চমৎকার সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করেন যার নাম দিয়েছেন 'কিতাবুত তাহযীব' এবং অসংখ্য মানুষ তাঁর নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেছেন
(১)।
৬ - আমরু বিন বিশী: তিনি শায়খ আল-উমরানীর সমসাময়িক ছিলেন। তিনি তাঁর কাছ থেকে আবু জাফর আস-সাফফারের 'কাফি আন-নাহু' এবং আয-যাজ্জাজীর 'আল-জুমাল' গ্রন্থটি গ্রহণ করেছেন
(২)।
৭ - ইমাম যায়েদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন ইব্রাহিম আল-ইয়াফাই: তিনি ইয়েমেনের বিশিষ্ট আলেমদের অন্যতম এবং সমসাময়িক ফকিহদের প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি উস্তাদদের উস্তাদ এবং গ্রন্থকারদের শায়খ। তিনি ইয়েমেনের প্রখ্যাত আলেমদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন, এরপর মক্কায় সফর করেন এবং সেখানে আবু ইসহাক আশ-শিরাজীর ছাত্রদের কাছে পাঠ গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ইয়েমেনে ফিরে আসেন এবং তাঁর কাছে পাঠদানের জন্য মানুষ সমবেত হতে থাকে। আমীর মুফাদ্বল বিন আবি আল-বারাকাত বিন আল-ওয়ালীদ আল-হিমইয়ারী আল-কারমাতি তাদের এই সমবেত হওয়া দেখে আশঙ্কা করলেন যে তারা হয়তো তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে। তাই তিনি তাঁর বিশেষ অনুসারীদের নির্দেশ দিলেন এই শায়খ এবং শায়খ আবু বকর বিন জাফর বিন আব্দুর রহমান আল-মুখায়ীর মধ্যে ফিতনা সৃষ্টি করতে। প্রকৃতপক্ষে তাদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টি হলো এবং দুই শায়খের অনুসারীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। এরপর শায়খ যায়েদ আল-ইয়াফাই আবারও মক্কায় হিজরত করেন এবং সেখানে বারো বছর অবস্থান করে পাঠদান ও ফতোয়া প্রদান করেন। অতঃপর ৫১৩ হিজরিতে আমীর আল-মুফাদ্বল বিন আবি আল-বারাকাতের মৃত্যুর পর তিনি ইয়েমেনে ফিরে আসেন। ফকিহ যায়েদ আল-জানাদে বসবাস শুরু করেন এবং ইয়েমেনের বিশিষ্ট ফকিহগণ তাঁর কাছে সমবেত হয়ে পাঠ গ্রহণ ও শ্রবণ করতে থাকেন। অবশেষে ৫১৫ হিজরিতে তিনি রহমতুল্লাহি আলাইহি ইন্তেকাল করেন
(৩)।
৮ - কাজী মুসলিম বিন আবি বকর বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সা'বি: তিনি ইলমুল কালামে পারদর্শী, একজন নিপুণ তার্কিক এবং উসুলশাস্ত্রে দক্ষ ছিলেন, পাশাপাশি ফিকহ শাস্ত্রেও তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ছিল। আল-জা'দী তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর তারিখের স্থানটি ফাঁকা রেখেছেন
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ١٩)
9 - الشيخ سالم بن عبد الله بن محمد بن سالم ولد في رمضان سنة (451 هـ)، وتوفي في ذي الحجة سنة (532 هـ) في ذي أشرق، وكان إمام جامعها تفقه بأبيه وأخذ عن أبيه كتاب جامع الترمذي وعنه أخذه العمراني رحمه الله
(1).
10 - الشيخ سراج الدين شيخ المحدثين الحافظ أبو الحسن علي بن أبي بكر ابن حمير بن الهمداني العرشاني، روى عنه الشيخ العمراني (صحيح البخاري) و (سنن أبي داود)، وقال الجعدي: كان إماما في الحديث متقنا للرواة عالما بصحيحه ومعلوله وله تصنيف مليح محقق يعرف بكتاب (الزلازل والأشراط) وتوفي سنة (557 هـ)
(2).
ثالثا: تلاميذه:قال ابن سمرة الجعدي عن العمراني: "وانتشر علمه في الأجانب والقرباء، وأجاب عن المعضلات، وأوضح المشكلات وقسم الأوصاف والاحترازات وطبق الأرض بالأصحاب فما أعلم في أكثر هذا المخلاف فقيها مجودا ومناظرا مجتهدا إلا من أصحابه أو أصحاب أصحابه"
(3).
وقد أقام رحمه الله كما سبق ذكره في بلده مصنعة سير بعد عودته من الحج سنة (521 هـ) يدرس إلى سنة (549 هـ) ثم انتقل إلى ذي أشرق واستمر في التصنيف والتدريس إلى سنة (557 هـ) قبل وفاته ببضعة أشهر وكان رحمه الله كما ذكر عنه ابن سمرة الجعدي والسبكي: من أحسن العلماء تعليما وتدريسا وطريقته كما ذكرها الجعدي بقوله: "وكان رحمه الله إذا درس من يعلم فهمه فإنه بعد فراغ القارئ من الفصل يعيده هو بنفسه
--------------------------------------------
৯ - শায়খ সালিম বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন সালিম ৪৫১ হিজরীর রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৩২ হিজরীর জিলহজ মাসে যি-আশরাকে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সেখানকার জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং তাঁর পিতার নিকট থেকে জামে তিরমিযী কিতাবটি গ্রহণ করেন, আর তাঁর নিকট থেকে আল-ইমরানী (রহিমাহুল্লাহ) সেটি গ্রহণ করেন
(১)।
১০ - শায়খ সিরাজুদ্দিন, মুহাদ্দিসগণের শায়খ, আল-হাফিয আবুল হাসান আলী বিন আবি বকর ইবনে হুমাইর বিন আল-হামদানি আল-আরশানি। শায়খ আল-ইমরানী তাঁর নিকট থেকে (সহীহ বুখারী) এবং (সুনানে আবু দাউদ) বর্ণনা করেছেন। আল-জাদি বলেছেন: তিনি ইলমে হাদিসে একজন ইমাম ছিলেন, বর্ণনাকারীদের বিষয়ে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন এবং হাদিসের সহীহ ও মা’লুল (ত্রুটিযুক্ত) হওয়ার বিষয়ে প্রাজ্ঞ ছিলেন। তাঁর একটি সুন্দর ও গবেষণামূলক সংকলন রয়েছে যা ‘কিতাবুয যালাযিল ওয়াল আশরাত’ নামে পরিচিত। তিনি ৫৫৭ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন
(২)।
তৃতীয়ত: তাঁর ছাত্রবৃন্দ:ইবনে সামুরাহ আল-জাদি আল-ইমরানী সম্পর্কে বলেন: "তাঁর ইলম নিকট ও দূর-দূরান্তের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি জটিল বিষয়সমূহের উত্তর দিয়েছেন, অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছেন, বৈশিষ্ট্যাবলি ও সতর্কতাসমূহ বিন্যস্ত করেছেন এবং পৃথিবীকে তাঁর শিষ্যদের দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। আমি এই মিকলাফের (অঞ্চল) অধিকাংশ স্থানে এমন কোনো সুনিপুণ ফকিহ এবং মুজতাহিদ বিতার্কিক সম্পর্কে জানি না, যিনি তাঁর শিষ্য অথবা তাঁর শিষ্যদের শিষ্য নন"
(৩)।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ইতিপূর্বে উল্লেখিত তথ্যানুযায়ী ৫২১ হিজরীতে হজ থেকে ফিরে আসার পর নিজ এলাকা মাসনাআত সায়েরে অবস্থান করেন এবং ৫৪৯ হিজরী পর্যন্ত পাঠদান করেন। এরপর তিনি যি-আশরাকে স্থানান্তরিত হন এবং তাঁর মৃত্যুর কয়েকমাস আগে ৫৫৭ হিজরী পর্যন্ত রচনা ও পাঠদান অব্যাহত রাখেন। ইবনে সামুরাহ আল-জাদি এবং আস-সুবকি তাঁর সম্পর্কে যেমন উল্লেখ করেছেন, তিনি ছিলেন শিক্ষাদান ও পাঠদানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। আল-জাদি তাঁর পাঠদান পদ্ধতি সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি (রহিমাহুল্লাহ) যখন এমন কাউকে পড়াতেন যার বোধগম্যতা সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল, তখন পাঠক অনুচ্ছেদ পড়া শেষ করলে তিনি নিজেই পুনরায় সেটি বুঝিয়ে বলতেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
عليه حفظا مع تنبيهه له على خلاف الإمام مالك وأبي حنيفة خاصة، وقد يذكر معهما غيرهما في بعض المسائل، ثم يذاكره باحتراز الأقيسة والوجوه في أصولها. لم خصت بجعلها أصولاً؟ وذلك إما من جهة النص عليها في الكتاب والسنة، أو تسليم المخالف في حكم المسألة المقيسة، وإن كان في عبارة الكتاب استغلاق أو قصر فهم القارئ أبدلها له بعبارة أخرى إلى أن يتصور القارئ الفصل ويفهمه، ومن كان من الطلبة غير فاهم لم يسلك به هذا المسلك بل يجيبه عما سأل عنه لا غير مع رده عليه التصحيف"
(1).
فلا غرو بعد هذا أن يكون الشيخ رحمه الله إمام الشافعية باليمن وجميع من جاءوا بعده ممن ترجم لهم ابن سمرة الجعدي هم تلاميذه أو من المستفيدين من علمه والغارفين من بحره، ونقتصر في الترجمة لبعضهم وهم:
1 - ابن عمه محمد بن موسى بن الحسين بن أسعد العمراني وهو أقدم أصحابه قراءة عليه وأعلاهم رتبة وأرفعهم درجة، كان حافظا مجودا جمع بين الفقه والزهد والعبادة والورع، ومع ذلك حسن الخلق توفي سنة (568 هـ) في مصنعة سير أفتى ودرس في حياة شيخه العمراني وكان يثني عليه ويمدحه
(2).
2 - ابنه طاهر بن يحيى بن أبي الخير أبو الطيب العمراني ولد في ذي الحجة سنة (518 هـ) تفقه بأبيه وخلفه في حلقته ومجلسه وأجاب على المشكلات في حياته، جالس العلماء وروى عنهم، وأخذ عن غير واحد وجاور في مكة وهاجر إليها بأولاده الرجال والنساء لعموم فتنة ابن
--------------------------------------------
তার মুখস্থ করার পাশাপাশি তাকে বিশেষভাবে ইমাম মালিক ও ইমাম আবু হানিফার মতপার্থক্য সম্পর্কে সচেতন করতেন। কোনো কোনো মাসয়ালায় কখনো কখনো তাঁদের সাথে অন্যদের কথাও উল্লেখ করতেন। অতঃপর মূলনীতির ক্ষেত্রে কিয়াস ও পদ্ধতিগত সূক্ষ্মতা নিয়ে তাঁর সাথে আলোচনা করতেন। কেন সেগুলোকে মূলনীতি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে? তা হয় কিতাব ও সুন্নাহর স্পষ্ট দলিলের কারণে, অথবা কিয়াসকৃত মাসয়ালার বিধানে বিরোধী পক্ষের সম্মতির কারণে। যদি কিতাবের ভাষায় কোনো জটিলতা থাকত অথবা পাঠকের বোধগম্যতা কম হতো, তবে তিনি তার জন্য তা অন্য শব্দে পরিবর্তন করে দিতেন যতক্ষণ না পাঠক বিষয়টি অনুধাবন ও হৃদয়ঙ্গম করতে পারত। আর ছাত্রদের মধ্যে যারা সমঝদার ছিল না, তাদের সাথে তিনি এই পদ্ধতি অনুসরণ করতেন না; বরং সে যা জিজ্ঞাসা করত কেবল তারই উত্তর দিতেন এবং তার ভুল পাঠ সংশোধন করে দিতেন
(১)。
এর পর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) ইয়ামেনের শাফেয়ী ইমাম ছিলেন এবং ইবনে সামুরা আল-জাদি যাদের জীবনী আলোচনা করেছেন, তাঁদের পরবর্তী সকলেই তাঁর ছাত্র অথবা তাঁর জ্ঞান থেকে উপকৃত এবং তাঁর জ্ঞানের সমুদ্র থেকে আহরণকারী। আমরা তাঁদের কয়েকজনের জীবনী সংক্ষেপে তুলে ধরছি, তাঁরা হলেন:
১ - তাঁর চাচাতো ভাই মুহাম্মদ বিন মুসা বিন আল-হুসাইন বিন আসআদ আল-ইমরানি। তিনি তাঁর কাছে পাঠগ্রহণকারী তাঁর সাথীদের মধ্যে প্রাচীনতম এবং মর্যাদায় সর্বোচ্চ স্তরের ছিলেন। তিনি হাফেজ ও তাজবিদ বিশেষজ্ঞ ছিলেন; তিনি ফিকহ, দুনিয়াবিমুখতা, ইবাদত ও তাকওয়ার সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। সেইসাথে তিনি সুন্দর চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি ৫৬৮ হিজরি সনে ‘মাসনাআতু সাইর’-এ মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তাঁর উস্তাদ আল-ইমরানির জীবদ্দশাতেই ফতোয়া দিতেন ও পাঠদান করতেন এবং উস্তাদ তাঁর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করতেন
(২)。
২ - তাঁর পুত্র তাহের বিন ইয়াহইয়া বিন আবু আল-খাইর আবু আল-তাইয়িব আল-ইমরানি। তিনি ৫১৮ হিজরি সনের জিলহজ মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট ফিকহ অর্জন করেন এবং তাঁর মজলিস ও পাঠদান চক্রে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি তাঁর পিতার জীবদ্দশাতেই জটিল প্রশ্নাবলির উত্তর দিতেন। তিনি আলেমদের সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি অনেকের নিকট থেকেই ইলম গ্রহণ করেছেন এবং মক্কায় অবস্থান করেছেন। সেখানে তিনি ইবনে... এর ব্যাপক ফিতনার কারণে তাঁর ছেলে-মেয়েদের নিয়ে হিজরত করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٢١)
مهدي
(1) في مخاليف اليمن. وأقام سبع سنين روى عن كبار المحدثين في الحرم، ثم عاد إلى اليمن سنة (566 هـ) وولي قضاء ذي جبلة وأعمالها وله مصنفات منها: (مقاصد اللمع) و (كسر قناة القدرية) وكتاب في (مناقب الإمامين الشافعي والإمام أحمد رحمهما الله) وكتاب (معونة الطلاب بفقه معاني كلم الشهاب) وجمع بين علم القراءات والحديث والفقه وغلب عليه الكلام وتوفي رحمه الله سنة (587 هـ)
(2).
وذكر الجعدي أن الشيخ العمراني جمع أحبابه وأصحابه وأمر ابنه طاهرا أن يصعد المنبر في ذي أشرق سنة (554 هـ) وسأله أبوه عن اعتقاده وذلك لما شاع أنه على خلاف عقيدة أبيه فأجاب الابن بما كذب كل حاسد وأدحض تلبيس كل بغيض ومعاند، فالتقاه والده عند أسفل المنبر وقال: هل أنكر الإخوان من هذا شيء
(3).
وهذا يرد على ادعاء يحيى العامري في كتابه غربال الزمان ص (437) أن طاهر بن الشيخ يحيى العمراني كان أشعريا وأنه كان ينكر على والده ويرد عليه عقيدته، لأن الجعدي تلميذ طاهر بن يحيى ونقله عنه أثبت وأدق، ولعل الذي بلغ العامري فحكاه في كتابه هو من الشائعات التي كانت بلغت العمراني رحمه الله فطلب من ابنه أن يفصح عن عقيدته على المنبر أمام الناس. وهي قوة في الحق.
3 - الفقيه أحمد بن عبد الله بن مسعود بن أسلم البريهي ثم السكسكي ثم الكندي سيف السنة زين الحنبلية سكن في إب
(4) وأفضت إليه الرئاسة فيها، جمع بين الزهد والورع والعلم والحديث، وارتحل إلى مكة وسمع فيها صحيح مسلم في سنة (580 هـ) ورجع إلى مدينة إب ثم نزل الجند
--------------------------------------------
মাহদি
(১) ইয়েমেনের মিখলাফসমূহে। তিনি সেখানে সাত বছর অবস্থান করেন এবং হারামের প্রবীণ মুহাদ্দিসগণের নিকট থেকে বর্ণনা করেন। অতঃপর ৫৬৬ হিজরিতে ইয়েমেনে ফিরে আসেন এবং 'যি জাবালা' ও তার সংলগ্ন অঞ্চলসমূহের বিচারকার্যের (কাজা) দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: (মাকাসিদ আল-লুমা'), (কাসরু কানাতিল কাদারিয়্যাহ), ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর মর্যাদা বিষয়ক একটি গ্রন্থ (মানাকিুব আল-ইমামাইন আশ-শাফিয়ী ওয়াল ইমাম আহমাদ), এবং (মাউনাতুত তুল্লাব বি-ফিকহি মাআনি কালিমুশ শিহাব)। তিনি কিরাআত শাস্ত্র, হাদিস এবং ফিকহ শাস্ত্রের সমন্বয় সাধন করেছিলেন এবং তাঁর ওপর কালাম শাস্ত্রের প্রভাব প্রবল ছিল। তিনি ৫৮৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)
(২)।
আল-জাদি উল্লেখ করেছেন যে, শেখ আল-উমরানি তাঁর প্রিয়জন ও সাথীদের একত্রিত করেন এবং তাঁর পুত্র তাহিরকে ৫৫৪ হিজরিতে 'যি আশরাক'-এ মিম্বারে আরোহণ করার নির্দেশ দেন। তাঁর পিতা তাঁকে তাঁর আকিদা (বিশ্বাস) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, কারণ তখন রটে গিয়েছিল যে সে তাঁর পিতার আকিদার বিপরীতে অবস্থান করছে। তখন পুত্র এমন উত্তর দিলেন যা প্রত্যেক হিংসুককে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং প্রত্যেক বিদ্বেষী ও একগুঁয়ে ব্যক্তির বিভ্রান্তিকে নস্যাৎ করে দিল। অতঃপর তাঁর পিতা মিম্বারের পাদদেশে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: "ভাইয়েরা কি এর মধ্য থেকে কোনো কিছু অস্বীকার করেছে?"
(৩)।
এটি ইয়াহইয়া আল-আমিরির তাঁর 'গিরবালুজ জামান' গ্রন্থের ৪৩৭ পৃষ্ঠার দাবির উত্তর দেয়, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে শেখ ইয়াহইয়া আল-উমরানির পুত্র তাহির আশআরি ছিলেন এবং তিনি তাঁর পিতার প্রতিবাদ করতেন ও তাঁর আকিদাকে প্রত্যাখ্যান করতেন। কারণ আল-জাদি ছিলেন তাহির ইবনে ইয়াহইয়ার ছাত্র এবং তাঁর থেকে বর্ণিত তথ্য অধিক নির্ভরযোগ্য ও সঠিক। সম্ভবত আল-আমিরির কাছে যা পৌঁছেছিল এবং তিনি যা তাঁর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন তা ছিল সেইসব গুজবের অন্তর্ভুক্ত যা আল-উমরানি (রহ.)-এর কাছেও পৌঁছেছিল, ফলে তিনি তাঁর পুত্রকে মানুষের সামনে মিম্বারে দাঁড়িয়ে নিজের আকিদা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার অনুরোধ করেছিলেন। আর এটি ছিল সত্যের পথে অবিচলতার বহিঃপ্রকাশ।
৩ - ফকিহ আহমাদ বিন আবদুল্লাহ বিন মাসউদ বিন আসলাম আল-বুরিহি, অতঃপর আস-সাকসাকি, অতঃপর আল-কিন্দি; সুন্নাহর তলোয়ার, হাম্বলিদের অলঙ্কার। তিনি ইব্ব শহরে বসবাস করতেন
(৪) এবং সেখানে নেতৃত্ব তাঁর নিকট অর্পিত হয়েছিল। তিনি যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা), তাকওয়া, ইলম এবং হাদিসের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। তিনি মক্কায় সফর করেন এবং সেখানে ৫৮০ হিজরিতে সহিহ মুসলিম শ্রবণ করেন। অতঃপর তিনি ইব্ব শহরে ফিরে আসেন এবং পরবর্তীতে আল-জানাদে অবতরণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
واجتمع إليه الأصحاب من ظبا
(1) وذي أشرق والشعبانية وأعمال الجند وغير ذلك فأسمعهم إياه في رجب بمدينة الجند سنة (581 هـ)
(2).
هؤلاء هم كبار تلاميذ العمراني وله تلاميذ آخرون ذكرهم ابن سمرة الجعدي.
وقال: "وصحب الإمام يحيى بن أبي الخير خلق كثير ممن استحق بالحفظ والنظر درجة الفتوى وممن لم يستحق، وسأذكر عدد من يحضرني معرفته مع من قدمت ذكره من المشهورين بالفتوى والتدريس".
ثم ذكر مجموعة أخرى من التلاميذ نحيل فيها إلى كتاب ابن سمرة من ص (198 - 210).
رابعا: عقيدته:العمراني رحمه الله سلفي العقيدة وداعية إلى هذه العقيدة ومنافح عنها وهو في هذا الشأن من علماء اليمن الكبار وكان وقع له رحمه الله كتاب الشريعة للآجري عن طريق تلاميذ خير بن يحيى الملامس عن أبي بكر البزار عن الآجري رحمه الله.
كما أنه اخذ عن القاضي مسلم الصعبي (كتاب الحروف السبعة في الرد على المعتزلة وغيرهم من أهل الضلالة والبدعة) لمصنفه الشيخ الحسين بن جعفر المراغي.
كما استفاد رحمه الله فائدة واسعة من كتاب شرح أصول اعتقاد أهل السنة للحافظ اللالكائي حيث اعتمد عليه في كتابه الانتصار مع الشريعة للآجري وصحيح البخاري وجامع الترمذي، وكان قد ألف كتابه (الانتصار) انتصارا للعقيدة السلفية لما طعن فيها القاضي جعفر بن عبد السلام الزيدي المعتزلي وذلك حين رد على رسالة سابقة للعمراني في بيان عقيدة
--------------------------------------------
জবা
(১), যি আশরাক, শা'বানিয়া এবং জান্দের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তাঁর কাছে ছাত্ররা সমবেত হয়েছিলেন। তিনি তাদেরকে জান্দ শহরে ৫৮১ হিজরীর রজব মাসে এটি শুনিয়েছিলেন
(২)।
এঁরাই হলেন আল-উমরানীর প্রধান ছাত্রগণ এবং তাঁর আরও ছাত্র রয়েছেন যাদের কথা ইবনে সামুরা আল-জাদি উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন: "ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে আবুল খাইরের সাহচর্য লাভ করেছেন এমন অনেক লোক, যাদের মধ্যে কেউ কেউ মুখস্থ ও গবেষণার মাধ্যমে ফতোয়া প্রদানের যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, আবার কেউ কেউ তা পারেননি। ফতোয়া ও পাঠদানের জন্য প্রসিদ্ধ যাদের কথা আমি আগে উল্লেখ করেছি, তাদের পাশাপাশি যাদের কথা আমার মনে পড়ছে আমি তাদের সংখ্যা উল্লেখ করব।"
অতঃপর তিনি ছাত্রদের আরও একটি দলের কথা উল্লেখ করেছেন, যে ব্যাপারে আমরা ইবনে সামুরার বইয়ের ১৯৮-২১০ পৃষ্ঠার প্রতি ইঙ্গিত করছি।
চতুর্থত: তাঁর আকিদাহ:আল-উমরানী (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন সালাফী আকিদাহর অনুসারী, এই আকিদাহর দিকে আহ্বানকারী এবং এর রক্ষক। এ বিষয়ে তিনি ইয়েমেনের অন্যতম বড় আলেম ছিলেন। তিনি আল-আজুররীর 'আশ-শারিয়াহ' গ্রন্থটি খায়ের ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুলামিস-এর ছাত্রদের সূত্রে, আবু বকর আল-বাজ্জার থেকে এবং তিনি আল-আজুররী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে লাভ করেছিলেন।
একইভাবে তিনি কাযী মুসলিম আস-সা'বী থেকে শেখ আল-হুসাইন ইবনে জাফর আল-মারায়ী-এর রচিত 'কিতাবুল হুরুফিস সাব'আহ ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলা ওয়া গায়রিহিম মিন আহলিদ দলালাহ ওয়াল বিদআহ' (মুতাযিলা এবং ভ্রান্ত ও বিদআতিদের খণ্ডনে সাত অক্ষরের কিতাব) গ্রহণ করেছেন।
এছাড়াও তিনি হাফেজ আল-লালকাঈর 'শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ' গ্রন্থটি থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছেন, কারণ তিনি তাঁর 'আল-ইনতিসার' গ্রন্থে আল-আজুররীর 'আশ-শারিয়াহ', সহীহ বুখারী এবং জামে আত-তিরমিযীর সাথে এটির উপর নির্ভর করেছেন। তিনি তাঁর 'আল-ইনতিসার' বইটি সালাফী আকিদাহর সমর্থনে রচনা করেছিলেন যখন যায়দী মুতাযিলা কাযী জাফর ইবনে আব্দুস সালাম এটি নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। এটি ঘটেছিল যখন তিনি আকিদাহ বর্ণনায় আল-উমরানীর পূর্ববর্তী একটি রিসালার প্রত্যুত্তর দিয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
أصحاب الحديث في القدر بكتاب سماه (الدامغ للباطل من مذهب الحنابل)
(1) فانبرى له الشيخ بهذا الكتاب المطول شرح فيه عقيدة السلف وأظهر فساد مذهب المعتزلة، كما رد فيه على الأشاعرة وأظهر انحرافهم في مسائل في الصفات وغيرها، وقد استفاد العلماء من هذا الكتاب وفرحوا به وانتسخوه ودانوا الله به واعتقدوه.
كما ناظر رحمه الله في مكة الواعظ محمد بن أحمد العثماني الديباجي الأشعري ونصر مذهب الحنابلة وأهل السنة في أن المقروء هو كلام الله عزوجل الذي تكلم الله به واحتج على الديباجي بقوله تعالى: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} وأن الإشارة بهذا إلى المتلو المقروء إلى أن سكب الديباجي العرق من وجهه
(2).
وكان رحمه الله مع ذلك يكره الخوض في الكلام فقد ذكر عنه الجعدي أنه كان يحب طلبة العلم والفقه واجتماعهم ويكره لهم الخوض في الكلام
(3).
وكتابه الانتصار يدل على سعة علمه وتمسكه بعقيدة السلف إلا أنه يؤخذ عليه رحمه الله استخدامه لبعض تعبيرات المتكلمين وتأثره بهم في المسائل الدقيقة من العقيدة كمسألة الحكمة والتعليل والاستطاعة وغيرها، وسيأتي بيان ذلك عند الحديث عن المآخذ على الكتاب.
خامسا: مذهبه الفقهيالعمراني رحمه الله إمام من أئمة الشافعية في اليمن وقد ذكر الجعدي أن اليمن كان الغالب فيه مذهب الإمام مالك وأبي حنيفة - رحمهما الله - إلى نهاية القرن الثالث الهجري
(4)، وأول من أظهر المذهب الشافعي في اليمن الفقيه موسى بن عمران المعافري
(5)، وأول من انتشر عنه المذهب الشافعي
--------------------------------------------
তকদির বা ভাগ্য বিষয়ে আহলে হাদিসদের বিরুদ্ধে তিনি (জনৈক ব্যক্তি) একটি বই লিখেছিলেন যার নাম ছিল 'আদ-দামিগু লিল-বাতিলি মিন মাজহিবিল-হানাবিল' (হাম্বলি মাজহাবের বাতিল মত খণ্ডনকারী)
(১)। ফলে শাইখ এই দীর্ঘ কিতাবের মাধ্যমে তাঁর মুখোমুখি হন, যেখানে তিনি সালাফদের আকিদা ব্যাখ্যা করেন এবং মুতাজিলা মাজহাবের অসারতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি এতে আশআরিদেরও খণ্ডন করেন এবং সিফাত বা গুণাবলীসহ অন্যান্য বিষয়ে তাদের বিচ্যুতি তুলে ধরেন। আলেমগণ এই কিতাব থেকে উপকৃত হয়েছেন, এতে আনন্দিত হয়েছেন, এটি অনুলিপি করেছেন এবং এর বিষয়বস্তুকেই আল্লাহর ইবাদত ও আকিদা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
তদ্রূপ তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) মক্কায় আশআরি মতাবলম্বী ওয়াজকারী মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-উসমানি আদ-দিবাজির সাথে মুনাজারা (বিতর্ক) করেন এবং হাম্বলি ও আহলে সুন্নাতের মাজহাবকে বিজয়ী করেন যে, যা পাঠ করা হয় তা মহান আল্লাহরই কালাম, যা আল্লাহ নিজে বলেছেন। তিনি দিবাজির বিপক্ষে আল্লাহর এই বাণী দিয়ে দলিল পেশ করেন: {নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা অত্যন্ত সুদৃঢ়।} এবং এখানে 'এই' (ইঙ্গিতবাচক শব্দ) দ্বারা যা তিলাওয়াত বা পাঠ করা হয় তাকেই বোঝানো হয়েছে। একপর্যায়ে দিবাজির কপাল থেকে ঘাম ঝরতে শুরু করে
(২)।
তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এর পাশাপাশি কালাম শাস্ত্র বা যুক্তিবাদে লিপ্ত হওয়া অপছন্দ করতেন। আল-জাদি তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইলম ও ফিকহের ছাত্রদের এবং তাদের সমাবেশকে ভালোবাসতেন, কিন্তু তাদের জন্য কালাম শাস্ত্রে মগ্ন হওয়া অপছন্দ করতেন
(৩)।
তাঁর 'আল-ইনতিসার' কিতাবটি তাঁর ইলমের বিশালতা এবং সালাফদের আকিদার ওপর অটল থাকার প্রমাণ দেয়। তবে তাঁর ব্যাপারে একটি সমালোচনা এই যে, তিনি আকিদার সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে—যেমন হিকমত (প্রজ্ঞা), তালীলা (কারণ দর্শানো), ইস্তিতআত (সক্ষমতা) ইত্যাদিতে—মুতাকেল্লিমদের (যুক্তিবিদদের) কিছু পরিভাষা ব্যবহার করেছেন এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। কিতাবটির ত্রুটিসমূহ আলোচনার সময় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
পঞ্চম: তাঁর ফিকহি মাজহাবআল-ইমরানি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইয়ামেনের শাফেয়ি মাজহাবের ইমামগণের মধ্যে অন্যতম একজন ইমাম ছিলেন। আল-জাদি উল্লেখ করেছেন যে, তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত ইয়ামেনে ইমাম মালিক ও ইমাম আবু হানিফা (রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা)-এর মাজহাবের প্রাধান্য ছিল
(৪)। ইয়ামেনে সর্বপ্রথম শাফেয়ি মাজহাব প্রকাশ করেন ফকিহ মুসা বিন عمران আল-মুআফিরি
(৫)। আর যাঁর মাধ্যমে সর্বপ্রথম শাফেয়ি মাজহাব ছড়িয়ে পড়ে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وظهر إمام الشافعية في صنعاء وعدن الشيخ القاسم بن محمد الجمحي القرشي المتوفى سنة (437 هـ) في سهفنة فقد انتشر عنه المذهب في مخلاف الجند وصنعاء وعدن ومنه استفاد فقهاء هذا المذهب في تلك البلاد، وكانت مدرسته في سهفنة فأخذ عنه شافعية المعافر
(1) ولحج
(2) وأبين وأهل الجند والسحول
(3) وأحاظه وعنه
(4) ووادي ظبا
(5).
وعن تلاميذ القاسم بن محمد انتشر المذهب الشافعي حتى وصل إلى الشيخ أبي الحسين يحيى بن أبي الخير العمراني فانتشر عنه المذهب إلى سائر البلدان وصنف فيه وألف الكتب الكثيرة وأظهرها كتاب (البيان) وهو معدود من كتب الشافعية الكبار ويحيل عليه كثيرا السبكي في طبقاته ويذكر ترجيحاته ومسائله في مواطن كثيرة من كتابه مما يدل على قيمته وقدره عند الشافعية.
وسيأتي ذكر بقية مصنفاته في المذهب في فصل خاص فهو إمام من أئمة الشافعية
(6) وقد قال عنه الجعدي: (فما أعلم في أكثر هذا المخلاف فقيها مجودا ومناظرا مجتهدا إلا من أصحابه أو أصحاب أصحابه)
(7).
سادسا: مصنفاتهأتحف العمراني رحمه الله المكتبة الإسلامية وطلاب العلم بمصنفات عديدة جلها في المذهب الشافعي وهي:
--------------------------------------------
সানআ এবং আদানে শাফেয়ী মাযহাবের ইমাম হিসেবে শায়খ আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ আল-জুমাহি আল-কুরাশি (মৃত্যু ৪৩৭ হিজরি) সাহফানাহ নামক স্থানে আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর মাধ্যমেই আল-জানাদ প্রদেশ, সানআ এবং আদানে মাযহাবটি ছড়িয়ে পড়ে এবং ঐ অঞ্চলের ফকিহগণ তাঁর কাছ থেকেই উপকৃত হন। সাহফানাহ-তে তাঁর মাদ্রাসা ছিল এবং তাঁর নিকট হতে আল-মাআফির
(১), লাহজ
(২), আবইয়ান, আল-জানাদের অধিবাসী, আস-সাহুল
(৩), আহাজাহ, আনাহ
(৪) এবং ওয়াদি জবার
(৫) শাফেয়ীরা জ্ঞান অর্জন করেন।
আল-কাসিম বিন মুহাম্মদের ছাত্রদের মাধ্যমে শাফেয়ী মাযহাব ছড়িয়ে পড়তে থাকে, এমনকি তা শায়খ আবুল হুসাইন ইয়াহইয়া বিন আবিল খাইর আল-উমরানি পর্যন্ত পৌঁছে। তাঁর মাধ্যমেই মাযহাবটি অন্যান্য জনপদে বিস্তৃত হয়। তিনি এ বিষয়ে অনেক কিতাব রচনা ও সংকলন করেন, যার মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো 'আল-বায়ান' কিতাবটি। এটি শাফেয়ীদের বড় কিতাবগুলোর মধ্যে গণ্য হয়। সুবকি তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে এর ওপর অনেক নির্ভর করেন এবং কিতাবটির বহু স্থানে তাঁর (উমরানির) অগ্রাধিকারকৃত মতামত ও মাসআলাগুলো উল্লেখ করেন, যা শাফেয়ীদের নিকট এর মূল্য ও মর্যাদার প্রমাণ বহন করে।
মাযহাবের ওপর তাঁর বাকি রচনাবলির আলোচনা একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে আসবে। তিনি শাফেয়ী ইমামগণের মধ্য হতে একজন ইমাম
(৬)। তাঁর সম্পর্কে আল-জা’দি বলেছেন: "এই মিখলাফ (অঞ্চল) এর অধিকাংশ স্থানে আমি এমন কোনো দক্ষ ফকিহ এবং মুজতাহিদ মুনাযির (তার্কিক) সম্পর্কে জানি না, যারা হয় তাঁর ছাত্র অথবা তাঁর ছাত্রদের ছাত্র নন"
(৭)।
ষষ্ঠ: তাঁর রচনাবলিআল-উমরানি (রাহিমাহুল্লাহ) ইসলামি পাঠাগার এবং ইলম অন্বেষণকারীদের বহুসংখ্যক রচনার উপহার দিয়েছেন, যার অধিকাংশই শাফেয়ী মাযহাব বিষয়ক। সেগুলো হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
أولاً: الزوائد على المهذب للشيرازي الشافعي وقد ابتدأ تصنيفه سنة (517 هـ) حيث استشار شيخه زيد بن عبد الله في جمع ما زاد على المهذب من مسائل فأشار عليه شيخه بذلك واستغرق منه ذلك أربع سنين حيث انتهى منه آخر سنة (520 هـ) وهو يقع في مجلدين
(1).
ثانيا: مؤلف في الدور استخرجه من كتاب ابن اللبان وغيره.
ثالثاً: البيان: وهو من كتب الشافعية الكبار جمع فيه بين الزوائد والمهذب ومسائل الدور ومذاهب المخالفين وشرح فيه ما أشكل من مسائل المهذب ورتبه على ترتيب المهذب قال الجعدي عن البيان: كاسمه بيانا وللعلماء هدى وتبيانا وأنبابه رحمه الله البعداء وانتشر علمه في الأجانب والقرباء وأجاب عن المعضلات وأوضح المشكلات وقسم الأوصاف والاحترازات - ثم قال -: لأنه رحمه الله انتحل الشروح الكثيرة والدلائل المشهورة والمسائل المفيدة والأقيسة السديدة إلى بيانه وضمنه النكت الحسنة والمعاني المتقنة جمع فيه بين تحقيق البغداديين وتدقيق الخراسانيين، فإذا تأمله الحاذق الناظر وكدَّ في جواهره الخاطر إلى أن يستدر الناظر وسعه كفاه واستغنى به عما سواه
(2).
وقال الجندي كما نقل عنه صاحب كتاب (مصادر الفكر الإسلامي في اليمن): "انتفع به الإنس والجان، ولما قدم بغداد جعل في أطباق الذهب وطيف به مرفوعا وقد أجاب فيه عن المعضلات وأوضح فيه المشكلات وقسم به الأوصاف والاحترازات وجمع فيه بين تحقيقات أهل العراق وتدقيقات الخراسانيين"
(3).
--------------------------------------------
প্রথমত: আশ-শিরাজি আশ-শাফিয়ি রচিত আল-মুহাযযাব গ্রন্থের পরিশিষ্ট (আয-যাওয়াইদ), যা তিনি ৫১৭ হিজরি সনে সংকলন শুরু করেন। তিনি আল-মুহাযযাব গ্রন্থের অতিরিক্ত মাসআলাসমূহ একত্রিত করার বিষয়ে তার শায়খ যাইদ বিন আবদুল্লাহর পরামর্শ চাইলে শায়খ তাকে এই বিষয়ে উৎসাহ দেন। এটি সম্পন্ন করতে তার চার বছর সময় লাগে এবং ৫২০ হিজরির শেষের দিকে তিনি এটি সমাপ্ত করেন। গ্রন্থটি দুই খণ্ডে বিন্যস্ত
(১).
দ্বিতীয়ত: আদ-দাওর বিষয়ক একটি রচনা, যা তিনি ইবনুল লাব্বান ও অন্যদের গ্রন্থ থেকে চয়ন করেছেন।
তৃতীয়ত: আল-বায়ান: এটি শাফিয়ি মাযহাবের একটি অন্যতম বৃহৎ গ্রন্থ। এতে তিনি আয-যাওয়াইদ, আল-মুহাযযাব, আদ-দাওর-এর মাসআলাসমূহ এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের মাযহাবসমূহ একত্রিত করেছেন। তিনি এতে আল-মুহাযযাব গ্রন্থের অস্পষ্ট মাসআলাগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং আল-মুহাযযাবের বিন্যাস অনুযায়ী এটি সাজিয়েছেন। আল-জুয়াদি আল-বায়ান গ্রন্থ সম্পর্কে বলেন: এটি নামের মতোই সুস্পষ্ট বর্ণনা (বায়ান) এবং আলেমদের জন্য পথপ্রদর্শক ও বিশদ ব্যাখ্যা। আল্লাহ তাকে রহম করুন, তার সুখ্যাতি দূর-দূরান্তে পৌঁছে গেছে এবং তার ইলম পরিচিত ও অপরিচিত সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি এতে জটিল প্রশ্নসমূহের উত্তর দিয়েছেন, অস্পষ্ট সমস্যাবলি স্পষ্ট করেছেন এবং বৈশিষ্ট্য ও সতর্কতাগুলো বিন্যস্ত করেছেন। - এরপর তিনি বলেন -: কারণ তিনি (রহ.) তার আল-বায়ান গ্রন্থে বহু ব্যাখ্যাগ্রন্থ, প্রসিদ্ধ দলীলসমূহ, দরকারী মাসআলাসমূহ এবং সঠিক কিয়াসসমূহ গ্রহণ করেছেন এবং এর মধ্যে চমৎকার সূক্ষ্ম বিষয় ও নিপুণ অর্থসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি এতে বাগদাদিদের তাহকিক (গবেষণা) এবং খুরাসানিদের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। সুতরাং কোনো বিজ্ঞ পাঠক যখন এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং এর মণিমুক্তো আহরণে মনোনিবেশ করবেন, তখন তিনি স্বীয় সাধ্যানুযায়ী যা অর্জন করবেন তা-ই তার জন্য যথেষ্ট হবে এবং এটি তাকে অন্য সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী করে তুলবে
(২).
আল-জান্দি বলেন, যেমনটি 'মাসাদিরুল ফিকর আল-ইসলামি ফিল ইয়ামান' গ্রন্থের লেখক তার থেকে উদ্ধৃত করেছেন: "এর দ্বারা মানুষ ও জিন উপকৃত হয়েছে। যখন তিনি বাগদাদে আসলেন, তখন এটি স্বর্ণের থালায় রাখা হয়েছিল এবং সম্মানের সাথে তা সর্বত্র প্রদর্শন করা হয়েছিল। তিনি এতে জটিল সমস্যার সমাধান দিয়েছেন, অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছেন, বৈশিষ্ট্য ও সতর্কতাগুলো বিন্যস্ত করেছেন এবং এতে ইরাকবাসীদের তাহকিক ও খুরাসানিদের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটিয়েছেন"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
وكان ابتداء تصنيفه رحمه الله سنة (528 هـ) وانتهى منه سنة (533 هـ) في مدينته مصنعة سير وقد نقل عنه السبكي في مواطن كثيرة في كتابه (طبقات الشافعية) ويقابل بين أقواله وأقوال الشافعية الأخرى في العديد من المسائل، وذكر الأكوع في كتابه (المدارس الإسلامية في اليمن) ص (9) أن البيان للشيخ العمراني كان من الكتب المعتمد تدريسها في مدارس الشافعية زمن دولة بني رسول وبني طاهر.
وقد ذكر فؤاد سيد في تحقيقه لكتاب (طبقات فقهاء اليمن) أن الكتاب يقع في عشر مجلدات ومنه نسخة بدار الكتب المصرية برقم (25) فقه شافعي، وأخرى في مكتبة أحمد الثالث باستانبول برقم (671).
وذكر الحبشي في كتابه (مصادر الفكر الإسلامي في اليمن) ص (193) أنه يوجد منه نسخة في جامع تريم
(1) في أربعة مجلدات، ونسخة أخرى في جامع صنعاء كتبت سنة (810 هـ) وسنة (707) في ستة مجلدات برقم (479) كما يوجد مجلد منه في جامع المظفر بتعز ومجلد في مكتبة محمد بن يحيى الحداد في بيته في إب.
رابعا: المشكل: وهو عن المسائل المشكلة في كتاب المهذب وقد ألف رحمه الله لما طلب منه تلميذه وصاحبه محمد بن مفلح الحضرمي استخراج المسائل المشكلة في المهذب.
خامسا: الانتصار في الرد على القدرية - وهو الكتاب المحقق في هذه الرسالة وسيأتي التعريف به.
سادسا: غرائب الوسيط صنفه بذي أشرق.
سابعا: مختصر إحياء علوم الدين.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি এই গ্রন্থটি রচনা শুরু করেছিলেন ৫২৮ হিজরিতে এবং সমাপ্ত করেছিলেন ৫৩৩ হিজরিতে তাঁর নিজ শহর মাসনাআত সাইর-এ। আস-সুবকি তাঁর গ্রন্থ 'তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ'-র অনেক স্থানে তাঁর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন এবং অনেক মাসআলায় তাঁর অভিমত ও অন্যান্য শাফিঈ ফকীহদের অভিমতের মধ্যে তুলনা করেছেন। আল-আকওয়া তাঁর কিতাব 'আল-মাদারিসুল ইসলামিয়্যাহ ফিল ইয়ামান' (পৃষ্ঠা ৯)-এ উল্লেখ করেছেন যে, বনু রাসুল এবং বনু তাহির শাসনামলে শাফিঈ মাদ্রাসাগুলোতে শায়খ আল-উমরানির 'আল-বায়ান' পাঠ্যবই হিসেবে স্বীকৃত ছিল।
ফুয়াদ সাইয়্যিদ 'তাবাকাতু ফুকাহাউল ইয়ামান' কিতাবটির তাহকীকে উল্লেখ করেছেন যে, গ্রন্থটি দশ খণ্ডে বিন্যস্ত। এর একটি পাণ্ডুলিপি মিশরের দারুল কুতুবে (২৫ নম্বর শাফিঈ ফিকহ) এবং অন্য একটি ইস্তাম্বুলের তৃতীয় আহমাদ লাইব্রেরিতে (৬৭১ নম্বর) সংরক্ষিত রয়েছে।
আল-হাবাশি তাঁর কিতাব 'মাসাদিরুল ফিক্রিল ইসলামি ফিল ইয়ামান' (পৃষ্ঠা ১৯৩)-এ উল্লেখ করেছেন যে, তারিম জামে মসজিদে
(১) এর একটি চার খণ্ডের কপি রয়েছে। সানআ জামে মসজিদে একটি কপি রয়েছে যা ৮১০ হিজরি এবং ৭০৭ হিজরিতে ছয় খণ্ডে (৪৭৯ নম্বর) লিপিবদ্ধ হয়েছে। এছাড়াও তা'ইযের জামে মুজাফফরে এক খণ্ড এবং ইব্ শহরে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-হাদ্দাদের ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে এক খণ্ড বিদ্যমান।
চতুর্থ: আল-মুশকাল: এটি 'আল-মুহাজ্জাব' কিতাবের জটিল মাসআলাসমূহ নিয়ে রচিত। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি এটি তখনই রচনা করেন যখন তাঁর ছাত্র এবং সাথী মুহাম্মাদ ইবনে মুফলিহ আল-হাদরামি তাঁর কাছে মুহাজ্জাব-এর জটিল মাসআলাগুলো উদ্ঘাটনের অনুরোধ করেছিলেন।
পঞ্চম: আল-ইনতিসার ফির-রাদ্দি আলাল কাদারিইয়্যাহ - এটি সেই কিতাব যা এই অভিসন্দর্ভে তাহকীক করা হয়েছে এবং সামনে এর বিস্তারিত পরিচয় আসবে।
ষষ্ঠ: গারাইবুল ওয়াসিত, এটি তিনি যি-আশরাকে রচনা করেন।
সপ্তম: মুখতাসারু ইহয়াউ উলুমিদ দীন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
ذكر هذه الكتب الجعدي في طبقات فقهاء اليمن والحبشي وغيرهما ولم يشر أحد إلى وجود شيء منها سوى كتاب البيان وكتاب الانتصار.
ثامنا: رسالة في المعتقد على مذهب أهل الحديث، وهي الرسالة التي أنشأها للرد أولا على القاضي جعفر الزيدي وأبان فيها عقيدة السلف في القدر وغيره من المسائل وتعتبر أصلا لكتاب الانتصار لأنه كان ينقل منها المسائل وهي التي يشير إليها بقوله: "ذكرت في الرسالة، واستدللت في الرسالة"، ونحو ذلك.
كما أنه بعد أن يذكر قوله في الرسالة يذكر اعتراض الزيدي ويرد عليه، ولعل هذه الرسالة هي التي وقعت لابن القيم رحمه الله ونقل منها في كتابه اجتماع الجيوش الإسلامية ص (710) حيث قال: "قول أبي الحسين العمراني صاحب البيان فقيه الشافعية ببلاد اليمن - رحمه الله تعالى - له كتاب لطيف في السنة على مذهب أهل الحديث صرح فيه بمسألة الفوقية والعلو والاستواء حقيقة وتكلم الله عزوجل بهذا القرآن العربي المسموع بالآذان حقيقة وأن جبرائيل عليه الصلاة والسلام سمعه من الله سبحانه حقيقة وصرح فيه بإثبات الصفات الخبرية واحتج بذلك ونصره وصرح بمخالفة الجهمية والنفاة" انتهى.
تاسعا: كتاب مختصر في الرد على الأشعرية والقدرية في مسألة الكلام، وذكره رحمه الله في كتاب الانتصار عند حديثه عن صفة الكلام، والرد على المعتزلة والأشعرية.
عاشرا: الفتاوى ذكره ابن قاضي شهبة في طبقات الشافعية (1/ 373).
الحادي عشر: الأحداث.
الثاني عشر: مناقب الشافعي.
الثالث عشر: مقاصد اللمع.
আল-জাদি তার 'তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামান' গ্রন্থে, আল-হাবাশি এবং অন্যান্যরা এই গ্রন্থগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। তবে 'কিতাবুল বায়ান' এবং 'কিতাবুল ইনতিসার' ব্যতীত এগুলোর অন্য কোনোটির অস্তিত্বের ব্যাপারে কেউ ইঙ্গিত দেননি।
অষ্টম: আহলুল হাদিসের মাযহাব অনুযায়ী আকিদা বিষয়ক একটি রিসালাহ (পুস্তিকা)। এটি সেই রিসালাহ যা তিনি সর্বপ্রথম কাজি জাফর আজ-জাইদির খণ্ডনে রচনা করেছিলেন। এতে তিনি তাকদির এবং অন্যান্য মাসআলায় সালাফদের আকিদা স্পষ্ট করেছেন। এটিকে 'কিতাবুল ইনতিসার'-এর উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ তিনি তা থেকে মাসআলাগুলো উদ্ধৃত করতেন। তিনি তাঁর গ্রন্থে "আমি রিসালায় উল্লেখ করেছি", "আমি রিসালায় দলিল পেশ করেছি" ইত্যাদি বলে এই কিতাবটির দিকেই ইশারা করেছেন।
একইভাবে, তিনি রিসালায় তাঁর বক্তব্য উল্লেখ করার পর জাইদির আপত্তি তুলে ধরেন এবং তার জবাব দেন। সম্ভবত এই রিসালাহটিই ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর হস্তগত হয়েছিল এবং তিনি তাঁর 'ইজতিমাউল জুয়ুশিল ইসলামিয়্যাহ' (পৃষ্ঠা ৭১০) গ্রন্থে তা থেকে উদ্ধৃত করেছেন। সেখানে তিনি বলেন: "ইয়েমেন ভূখণ্ডের শাফেয়ী ফকিহ, বায়ান গ্রন্থের লেখক আবুল হুসাইন আল-ইমরানি (রহিমাহুল্লাহ তাআলা)-এর বক্তব্য হলো—আহলুল হাদিসের মাযহাব অনুযায়ী সুন্নাহর ওপর তাঁর একটি চমৎকার ছোট কিতাব রয়েছে। সেখানে তিনি ফাওকিয়্যাহ, উচ্চতা এবং প্রকৃতপক্ষে আরশের ওপর উঠার মাসআলাটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আর আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল এই আরবি কুরআনের মাধ্যমে কথা বলেছেন যা প্রকৃতপক্ষে কানে শোনা যায় এবং জিবরাঈল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) হাকিকিভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট থেকে তা শুনেছেন। তিনি সেখানে সংবাদনির্ভর গুণাবলি (সিফাতে খাবারিয়া) সাব্যস্ত করার বিষয়ে স্পষ্টভাবে মত প্রকাশ করেছেন এবং এর সপক্ষে দলিল ও সহায়তা প্রদান করেছেন। এছাড়া তিনি জাহমিয়া ও গুণাবলি অস্বীকারকারীদের বিরোধিতার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।" সমাপ্ত।
নবম: কালাম (আল্লাহর কথা বলা) সংক্রান্ত মাসআলায় আশআরিয়া ও কাদরিয়াদের খণ্ডনে একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব। লেখক (রহিমাহুল্লাহ) 'কিতাবুল ইনতিসার'-এ কালামের গুণাবলি এবং মুতাজিলা ও আশআরিয়াদের খণ্ডন আলোচনার সময় এটি উল্লেখ করেছেন।
দশম: আল-ফাতাওয়া। ইবনু কাজি শুহবাহ তাঁর 'তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ' (১/৩৭৩) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
একাদশ: আল-আহদাস।
দ্বাদশ: মানাকিবুশ শাফেয়ী।
ত্রয়োদশ: মাকাসিদুল লুমা।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
ذكر الكتب الثلاثة الأخيرة الزركلي في الأعلام (8/ 146) ومحقق كتاب طبقات الشافعية للأسنوي (1/ 212) ولم أر من ذكرها غيرهما.
سابعا: مكانته وثناء العلماء عليهالعمراني رحمه الله تبوأ مكانة عالية بين علماء زمانه، كما كان له جاه كبير في اليمن ويكفي في بيان مكانته العالية أن الشافعية في اليمن بعده معتمدون عليه وعلى تلاميذه وكتبه كما قال ابن سمرة الجعدي: "وطبق الأرض بالأصحاب فما أعلم في أكثر هذا المخلاف فقيها مجوداً ومناظراً مجتهداً إلا من أصحابه أو أصحاب أصحابه"
(1).
كما أثنى عليه ثناءا بالغا في أول ترجمته حيث قال عنه: "الذي انتشر عنه الفقه في البلدان وجاوز علمه البحر مع السودان وسارت بتصانيفه الركبان في اليمن والشام وهو الفقيه جمال الإسلام شمس الشريعة يحيى بن أبي الخير"، ثم ساق نسبه إلى آدم عليه السلام.
كما أثنى عليه رحمه الله شيخه زيد بن الحسن الفايشي
(2)، فقال: "يحيى ابن أبي الخير فقيه يصلح للفتوى" وأمر بعض أصحابه وهو عمرو بن عبد الله بالدرس عليه، وقال الجعدي: "وكان هذا لا شك في أول أمر الإمام يحيى بن أبي الخير فلو عاش إلى تصنيفه البيان لرأى عجبا"
(3).
وكان شيخه القاضي أبو بكر بن محمد بن عبد الله اليافعي إذا تنازعت عنده الخصوم يقول: "ما قال القمران في هذه الحكومة"، وتارة يقول: "هاتوا جواب القمرين يعني الإمامين عبد الله بن يحيى الصعبي ويحيى بن أبي الخير العمراني"
(4)--------------------------------------------
শেষোক্ত তিনটি বইয়ের কথা আল-যিরিকলি 'আল-আ'লাম' (৮/১৪৬) গ্রন্থে এবং আল-আসনাবীর 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ' (১/২১২) গ্রন্থের মুহাক্কিক উল্লেখ করেছেন। আমি এ দু’জন ছাড়া অন্য কাউকে এগুলো উল্লেখ করতে দেখিনি।
সপ্তম: তাঁর মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসাআল-ইমরানী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মধ্যে এক উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন। পাশাপাশি ইয়ামেনেও তাঁর প্রভূত প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল। তাঁর উচ্চ মর্যাদা বর্ণনার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, ইয়ামেনের শাফিঈগণ তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁর ওপর, তাঁর ছাত্রদের ওপর এবং তাঁর কিতাবসমূহের ওপর নির্ভরশীল। যেমনটি ইবনে সামুরাহ আল-জা’দী বলেছেন: "তিনি তাঁর ছাত্রদের দ্বারা ভূখণ্ড ভরে দিয়েছিলেন। আমি এই অঞ্চলের অধিকাংশ স্থানে এমন কোনো দক্ষ ফকিহ এবং মুজতাহিদ তার্কিক সম্পর্কে জানি না, যিনি তাঁর ছাত্র অথবা তাঁর ছাত্রদের ছাত্র নন"
(১)।
অনুরূপভাবে তিনি তাঁর জীবনী আলোচনার শুরুতে তাঁর অত্যন্ত প্রশংসা করে বলেছেন: "যাঁর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ফিকহ প্রসারিত হয়েছে, যাঁর ইলম সুদানসহ সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে এবং যাঁর রচিত কিতাবসমূহ নিয়ে ইয়ামেন ও সিরিয়ার আরোহী কাফেলাসমূহ ভ্রমণ করেছে; তিনি হলেন ফকিহ, জামালিুল ইসলাম, শামসুশ শরীয়াহ ইয়াহইয়া বিন আবি খায়র।" এরপর তিনি আদম (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত তাঁর বংশপরম্পরা উল্লেখ করেছেন।
অনুরূপভাবে তাঁর উস্তাদ যাইদ বিন আল-হাসান আল-ফাইশি (রহিমাহুল্লাহ)-ও তাঁর প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছিলেন: "ইয়াহইয়া বিন আবি খায়র একজন ফকিহ, যিনি ফতোয়া প্রদানের যোগ্য।" তিনি তাঁর জনৈক ছাত্র আমর বিন আব্দুল্লাহকে তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল-জা’দী বলেন: "নিঃসন্দেহে এটি ছিল ইমাম ইয়াহইয়া বিন আবি খায়রের প্রাথমিক সময়ের কথা। তিনি যদি 'আল-বায়ান' গ্রন্থ রচনা পর্যন্ত বেঁচে থাকতেন, তবে তিনি বিস্ময়কর কিছু দেখতে পেতেন"
(৩)।
তাঁর উস্তাদ কাজী আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ইয়াফেঈ-এর নিকট যখন বিবাদীরা ঝগড়া নিয়ে আসত, তখন তিনি বলতেন: "এই বিচারকার্যে 'দুই চন্দ্র' কী বলেছেন?" আবার কখনও বলতেন: "দুই চন্দ্রের উত্তর নিয়ে এসো। অর্থাৎ দুই ইমাম—আব্দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া আস-সা’বী এবং ইয়াহইয়া বিন আবি খায়র আল-ইমরানী"
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
كما أثنى عليه تلميذ تلاميذه ابن أبي لحب فقال:
أجل ما العلا إلا لسيدها الحبر
… وما العلم إلا إرث آل أبي الخير
نفيل أبي يحيى طاهر في فعاله
… وثاني صنوف الخير من معدن الخير
(1)وقال عنه السبكي: "شيخ الشافعيين بإقليم اليمن صاحب البيان وغيره من المصنفات الشهيرة
… ثم قال: وكان إماما زاهدا خيراً مشهور الاسم بعيد الصيت عارفا بالفقه والأصول والكلام والنحو أعرف أهل الأرض بتصانيف أبي إسحاق الشيرازي الفقه والأصول والخلاف: يحفظ (المهذب) عن ظهر قلب، وقيل كان يقرؤه في ليلة واحدة"
(2).
وقال النووي: "كان يحفظ المهذب وشرحه بالبيان، نشر العلم ببلاد اليمن ورحل إليه"
(3).
ومثله قال الأسنوي في طبقات الشافعية
(4).
وذكر ابن سمرة الجعدي شعرا في الثناء على الشيخ العمراني ولم يذكر قائله وهو:
لله شيخ من بني عمران
… مذ كان شاد العلم لأركان
يحيى لقد أحيا الشريعة هاديا
… بزوائد وغرائب وبيان
هو درة اليمن الذي ما مثله
… من أول في عصرنا أو ثان
(5)--------------------------------------------
তেমনিভাবে তাঁর প্রশংসায় তাঁর ছাত্রদের ছাত্র ইবন আবি লাহব বলেছেন:
মর্যাদা তো কেবল তারই মহৎ পণ্ডিতের জন্য
… আর জ্ঞান তো কেবল আবু আল-খাইরের বংশধরদের উত্তরাধিকার
আবু ইয়াহইয়া-এর বংশধর তাঁর কর্মে পবিত্র
… এবং কল্যাণের আকর থেকে প্রাপ্ত কল্যাণের দ্বিতীয় প্রকার
(১)আর তাঁর সম্পর্কে আল-সুবকি বলেছেন: "তিনি ইয়ামান অঞ্চলের শাফিঈদের শাইখ, আল-বায়ান ও অন্যান্য প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলির রচয়িতা
… এরপর তিনি বলেন: তিনি ছিলেন একজন ইমাম, দুনিয়াবিমুখ ও কল্যাণকামী। তিনি সুখ্যাত ছিলেন এবং তাঁর সুনাম দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি ফিকহ, উসুল, কালাম ও নাহু শাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলেন। আবু ইসহাক আল-শিরাজির ফিকহ, উসুল এবং খিলাফ (মতামতের ভিন্নতা) বিষয়ক গ্রন্থাবলি সম্পর্কে তিনি পৃথিবীর মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জানতেন। তিনি আল-মুহাজ্জাব গ্রন্থটি মুখস্থ জানতেন, এবং বলা হয় যে তিনি এটি এক রাতেই পড়ে শেষ করতেন।"
(২)।
আল-নওয়াবি বলেছেন: "তিনি আল-মুহাজ্জাব মুখস্থ জানতেন এবং আল-বায়ান গ্রন্থের মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি ইয়ামান দেশে ইলম প্রচার করেছেন এবং মানুষ তাঁর কাছে ইলম অর্জনের জন্য সফর করে আসত।"
(৩)।
এবং অনুরূপ কথা আল-আসনাবি তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ গ্রন্থে বলেছেন
(৪)।
আর ইবন সামুরাহ আল-জাদি শাইখ আল-উমরানির প্রশংসায় একটি কবিতা উল্লেখ করেছেন তবে তিনি এর কবির নাম উল্লেখ করেননি, যা হলো:
আল্লাহর জন্য নিবেদিত বনু উমরান গোত্রের সেই শাইখ
… যিনি শুরু থেকেই ইলমের স্তম্ভসমূহকে সুদৃঢ় করেছেন
ইয়াহইয়া, যিনি পথপ্রদর্শক হিসেবে শরীয়তকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন
… অতিরিক্ত মাসআলা, বিরল বর্ণনা এবং সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার মাধ্যমে
তিনি ইয়ামানের এমন এক মুক্তা যার সমতুল্য কেউ নেই
… আমাদের যুগে প্রথম বা দ্বিতীয় পর্যায়ের কেউ তাঁর মতো নয়
(৫)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
المبحث الأول: اسم الكتابورد اسم الكتاب في المخطوط هكذا: (الانتصار في الرد على المعتزلة القدرية الأشرار) وقد كتب فوق كلمة المعتزلة (صح) مما يدل على إضافتها في حال مقابلة أو نحوها. وذكره الجعدي باسم: (الانتصار في الرد على القدرية الأشرار).
وذكره السبكي باسم: (الانتصار في الرد على القدرية).
প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের নামপাণ্ডুলিপিতে গ্রন্থের নাম এভাবে এসেছে: (আল-ইন্তিসার ফির-রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদরিয়্যাহ আল-আশরার)। আর ‘মুতাযিলা’ শব্দের উপরে ‘সহীহ’ শব্দটি লেখা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এটি পাণ্ডুলিপি যাচাই বা এজাতীয় কোনো অবস্থায় যোগ করা হয়েছে। আল-জাদি একে এই নামে উল্লেখ করেছেন: (আল-ইন্তিসার ফির-রাদ্দি আলাল কাদরিয়্যাহ আল-আশরার)।
আর আস-সুবকি একে এই নামে উল্লেখ করেছেন: (আল-ইন্তিসার ফির-রাদ্দি আলাল কাদরিয়্যাহ)।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
المبحث الثاني: توثيق نسبة الكتاب إلى المؤلفعزا الكتاب إلى المؤلف كما مر كل من ترجم له مثل ابن سمرة والسبكي والأسنوي وابن قاضي شهبة وياقوت الحموي ويحيى بن أبي بكر العامري صاحب كتاب غربال الزمان والزركلي في الأعلام وكذلك هو في كتاب مصادر الفكر الإسلامي في اليمن ص (193) وفي فهرست دار الكتب المصرية.
كما دون على الكتاب اسمه واضحا وهي نسخة دار الكتب، أما النسخة اليمانية المرموز لها? - ح - فإنها ناقصة من أولها.
وقد ذكر اسمه في أول الكتاب حيث قال: بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله وحده، قال الشيخ الإمام الأوحد وجمال الدين مبطل حجج الزائغين يحيى بن أبي الخير بن أسعد العمراني اليماني قدس الله - روحه -.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের প্রামাণ্যতাযারা তাঁর জীবনী রচনা করেছেন তারা সকলেই গ্রন্থটিকে লেখকের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে; যেমন—ইবনে সামুরাহ, সুবকি, আসনাউই, ইবনে কাযি শুহবাহ, ইয়াকুত আল-হামাউই, 'গিরবালুয যামান' গ্রন্থের লেখক ইয়াহইয়া ইবনে আবি বকর আল-আমিরি এবং 'আল-আলাম' গ্রন্থে যিরিকলি। একইভাবে এটি 'মাসাদিরুল ফিকর আল-ইসলামি ফিল ইয়ামান' গ্রন্থের ১৯৩ পৃষ্ঠায় এবং মিশরের দারুল কুতুবের ক্যাটালগেও বর্ণিত হয়েছে।
এছাড়া গ্রন্থটির ওপর স্পষ্টভাবে তাঁর নাম লিপিবদ্ধ আছে এবং এটি হলো দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপি। আর যে ইয়েমেনি পাণ্ডুলিপিটিকে 'হা' প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে, সেটির প্রথমাংশ অসম্পূর্ণ।
গ্রন্থের শুরুতেই তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। অনন্য ইমাম, জামালুদ্দীন এবং পথভ্রষ্টদের দলিলসমূহ খণ্ডনকারী শাইখ ইয়াহইয়া ইবনে আবুল খাইর ইবনে আস'আদ আল-উমরানি আল-ইয়ামানি বলেছেন—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
المبحث الثالث: سبب تأليف الكتابذكر العمراني رحمه الله في مقدمة كتابه أنه ألفه ردا على القاضي جعفر بن أحمد بن عبد السلام الزيدي 1 الذي كان قاضيا لصنعاء وقدم إب وأظهر فيها الاعتزال، فكتب الشيخ العمراني رسالة فيها معتقد أهل
1 من كبار علماء الزيدية في اليمن وهو الذي جلب كتب المعتزلة من العراق إلى اليمن بإيعاز من المتوكل علي بن أحمد بن سليمان وقد تولى للإمام المذكور القضاء في صنعاء، قال عنه الجعدي: "إنه سأل المناظرة من علماء السنة فبعث إليه الإمام يحيى بن أبي الخير الفقيه علي بن عبد الله بن عبد الله بن عيسى الهرمي فاجتمعوا في حصن شواحط وكان لهم فيه محفل عظيم مشهور سنة (554 هـ) "، انظر: طبقات فقهاء اليمن ص 180، تاريخ اليمن الإسلامي لأحمد المطاع ص 323، وانظر: كتاب الصلة بين الزيدية والمعتزلة ص 71.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ রচনার কারণইমরানি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি কাজি জাফর ইবনে আহমদ ইবনে আবদুস সালাম আল-জাইদি ১-এর প্রতিবাদে রচনা করেছেন, যিনি সানআর কাজি ছিলেন এবং ইব শহরে এসে সেখানে মুতাজিলা মতবাদ প্রকাশ করেছিলেন। ফলে শেখ ইমরানি একটি পুস্তিকা লিখলেন যাতে আহলে... এর আকিদা রয়েছে।
১ ইয়ামেনের জাইদিয়া আলেমদের মধ্যে অন্যতম প্রধান ব্যক্তি। তিনি মুতাওয়াক্কিল আলী ইবনে আহমদ ইবনে সুলাইমানের নির্দেশে ইরাক থেকে ইয়ামেনে মুতাজিলাদের কিতাবসমূহ নিয়ে আসেন। তিনি উল্লিখিত ইমামের শাসনামলে সানআর বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। জাদি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি সুন্নী আলেমদের কাছে বিতর্কের আহ্বান জানান, অতঃপর ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে আবিল খায়ের তাঁর কাছে ফকিহ আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ঈসা আল-হারামিকে প্রেরণ করেন। তাঁরা ৫৫৪ হিজরি সালে শাওয়াহিতে দুর্গে একত্রিত হন এবং সেখানে তাঁদের একটি বিশাল ও প্রসিদ্ধ সভা অনুষ্ঠিত হয়।" দেখুন: তাবাকাতু ফুকাহায়িল ইয়ামেন, পৃষ্ঠা ১৮০; আহমাদ আল-মুতা'র রচিত তারিখুল ইয়ামেন আল-ইসলামি, পৃষ্ঠা ৩২৩ এবং দেখুন: কিতাবুস সিলাতু বাইনাল জাইদিয়্যাতি ওয়াল মুতাজিলাহ, পৃষ্ঠা ৭১।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনতিসার ফির রাদ্দি আলাল মুতাযিলাতিল কাদারিয়াতিল আশরার
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
الحديث نصيحة للمسلمين وتحذيرا من الوقوع في الضلال فرد عليه المعتزلي في كتاب سماه (الدامغ للباطل من مذهب الحنابل)
(1) فرد عليه العمراني رحمه الله بهذا الكتاب المطول وأضاف إليه الرد على أصناف المبتدعة المخالفين لعقيدة أهل الحديث.
--------------------------------------------
হাদীসটি মুসলিমদের জন্য নসিহত এবং বিভ্রান্তিতে নিপতিত হওয়া থেকে সতর্কবার্তা। অতঃপর জনৈক মুতাযিলী এর জবাবে 'আদ-দামিগ লিল-বাতিল মিন মাযহাবিল হানাবিল' (হাম্বলী মাযহাবের বাতিল অপনোদনকারী) নামক একটি কিতাব রচনা করে
(১)। এর প্রেক্ষিতে উমরানী (রহিমাহুল্লাহ) এই বিশদ কিতাবটির মাধ্যমে তার প্রত্যুত্তর দেন এবং এতে আহলে হাদীসের আকীদা বিরোধী বিভিন্ন শ্রেণির বিদআতীদের খণ্ডনও যুক্ত করেন।
--------------------------------------------