0/0
(খণ্ড: ১) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: -)
تاريخ بغداد - ت بشار   (الخطيب البغدادي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: [تاريخ بغداد]

(تاريخ مدينة السلام وأخبار محدثيها وذكر قطانها العلماء من غير أهلها ووارديها)

المؤلف: أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي (392 - 463 هـ)

حققه وضبط نصه وعلق عليه: د بشار عواد معروف

الناشر: دار الغرب الإسلامي - بيروت

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2002 م

عدد الأجزاء: 17 (16 والفهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তারিখ বাগদাদ - বাশশার সম্পাদিত   (আল-খতীব আল-বাগদাদী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ (তবকাত)


গ্রন্থ: [তারিখ বাগদাদ]

(মদিনাতুস সালামের ইতিহাস, এর হাদিস বিশারদগণের সংবাদ এবং সেখানকার বাসিন্দা আলেমদের বর্ণনা—যারা সেখানকার আদি অধিবাসী নন এবং যারা সেখানে আগমন করেছেন)

লেখক: আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খতীব আল-বাগদাদী (৩৯২ - ৪৬৩ হিজরী)

তাহকীক, পাঠ বিন্যাস ও টীকা প্রদান: ড. বাশশার আওয়াদ মারুফ

প্রকাশক: দারুল গরব আল-ইসলামী - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২২ হিজরী - ২০০২ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১৭ (১৬ ও নির্ঘণ্ট)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٢٩١)
‌‌

بسم الله الرحمن الرحيم

وبه أستعين

{الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ ثُمَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ} لا يحصي عدد نعمته العادون، ولا يؤدي حق شكره المجتهدون، ولا يبلغ مدى عظمته الواصفون، {بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَإِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ}

أحمده على الآلاء، وأشكره على النعماء، وأستعين به في الشدة والرخاء، وأتوكل عليه فيما أجراه من القدر والقضاء، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأعتقد أن لا رب إلا إياه، شهادة من لا يرتاب في شهادته، واعتقاد من لا يستنكف عن عبادته، وأشهد أن محمدا عبده الأمين، ورسوله المكين، ختم الله به النبيين، وأرسله إلى الخلق أجمعين، بلسان عربي مبين، فبلغ الرسالة، وأوضح الدلالة، وأظهر المقالة، ونصح الأمة، وكشف الغمة، وجاهد في سبيل الله المشركين، وعبد ربه حتى أتاه اليقين، فصلى الله على محمد سيد المرسلين، وعلى أهل بيته الطيبين، وأصحابه المنتجبين، وأزواجه الطاهرات أمهات المؤمنين، وتابعيهم بالإحسان إلى يوم الدين.

هذا كتاب تاريخ مدينة السلام، وخبر بنائها، وذكر كبراء نزالها،

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং তাঁরই নিকট আমি সাহায্য প্রার্থনা করছি।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো সৃষ্টি করেছেন; এরপরও যারা কুফরি করে তারা তাদের রবের সমকক্ষ দাঁড় করায়। গণনাকারীরা তাঁর নেয়ামতের সংখ্যা গণনা করতে পারে না, প্রচেষ্টাকারীরা তাঁর কৃতজ্ঞতার হক আদায় করতে পারে না এবং বর্ণনাকারীরা তাঁর মহত্ত্বের সীমা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। তিনি আসমানসমূহ ও জমিনের অভিনব স্রষ্টা; যখন তিনি কোনো বিষয়ের ফয়সালা করেন, তখন কেবল তাকে বলেন: ‘হও’, অমনি তা হয়ে যায়।

আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর দানসমূহের জন্য, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি তাঁর নেয়ামতসমূহের জন্য, বিপদ ও সুসময়ে তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তিনি তাকদির ও ফয়সালার যা কিছু জারি করেছেন তাতে তাঁরই ওপর ভরসা করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি বিশ্বাস করি যে তিনি ছাড়া কোনো রব নেই—এমন ব্যক্তির সাক্ষ্য যার সাক্ষ্যে কোনো সন্দেহ নেই এবং এমন ব্যক্তির বিশ্বাস যে তাঁর ইবাদতে বিমুখতা প্রদর্শন করে না। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর বিশ্বস্ত বান্দা ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন রাসূল। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে নবীগণের ধারার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং তাঁকে সকল সৃষ্টির নিকট সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় প্রেরণ করেছেন। অতঃপর তিনি রিসালাতের দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছেন, সঠিক পথনির্দেশনা স্পষ্ট করেছেন, সত্য বাণী প্রকাশ করেছেন, উম্মাহকে নসিহত করেছেন, অন্ধকার দূর করেছেন এবং আল্লাহর পথে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন। আর তিনি তাঁর রবের ইবাদত করেছেন তাঁর নিকট মৃত্যু আসা পর্যন্ত। সুতরাং আল্লাহর দরুদ ও রহমত বর্ষিত হোক রাসূলদের সরদার মুহাম্মদের ওপর, তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গের ওপর, তাঁর মনোনীত সাহাবীগণের ওপর, তাঁর পবিত্রা পত্নীগণ অর্থাৎ মুমিনদের জননীদের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।

এটি মদিনাতুস সালাম (বাগদাদ)-এর ইতিহাসের গ্রন্থ, এর পত্তনের সংবাদ এবং এর বিশিষ্ট অধিবাসীদের বিবরণের সংকলন।
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٢٩٢)
ووارديها، وتسمية علمائها، ذكرت من ذلك ما بلغني علمه، وانتهت إلي معرفته، مستعينا على ما يعرض من جميع الأمور بالله الكريم، فإنه لا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

أخبرنا عبد العزيز بن أبي الحسن القرميسيني، قال: سمعت عمر بن أحمد بن عثمان يقول: سمعت أبا بكر النيسابوري يقول: سمعت يونس بن عبد الأعلى يقول: قال لي الشافعي: يا أبا موسى دخلت بغداد؟ قال: قلت: لا. قال: ما رأيت الدنيا!

‌‌

‌‌باب

القول في حكم بلد بغداد وغلته، وما جاء في جواز بيع أرضه

وكراهته

أول ما نبدأ به في كتابنا هذا: ذكر أقوال العلماء في أرض بغداد وحكمها، وما حفظ عنهم من الجواز والكراهة لبيعها؛ فذكر عن غير واحد منهم أن بغداد دار غصب لا تشترى مساكنها ولا تباع. ورأى بعضهم نزولها باستئجار، فإن تطاولت الأيام فمات صاحب منزل أو حانوت أو غير ذلك من الأبنية لم يجيزوا بيع الموروث، بل رأوا أن تباع الأنقاض دون الأرض، لأن الأنقاض ملك لأصحابها، وأما الأرض فلا حق لهم فيها إذا كانت غصبا.

أخبرنا أبو القاسم الأزهري، قال: أخبرنا أحمد بن محمد بن موسى القرشي. وأخبرنا أبو محمد الحسن بن علي الجوهري، قال: أخبرنا محمد بن العباس الخزاز؛ قالا: أخبرنا أحمد بن جعفر بن محمد أبو الحسين، قال:
এবং সেখানে আগত ব্যক্তিবর্গ ও সেখানকার আলেমদের নাম; আমি এই বিষয়ে আমার কাছে যা জ্ঞান পৌঁছেছে এবং যা আমি অবগত হয়েছি তা উল্লেখ করেছি। আমি সকল বিষয়ে মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি, কেননা সুউচ্চ মহিয়ান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত (পাপ থেকে ফেরার) কোনো উপায় নেই এবং (ইবাদত করার) কোনো শক্তি নেই।

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনে আবুল হাসান আল-কুরমিসিনি, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনে আহমাদ ইবনে উসমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আমি আবু বকর আন-নিসাবুরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আমি ইউনুস ইবনে আব্দুল আলাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ইমাম শাফেয়ী আমাকে বললেন: হে আবু মুসা! তুমি কি বাগদাদে প্রবেশ করেছ? তিনি বললেন: আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তবে তুমি পৃথিবীই দেখনি!

‌‌

‌‌পরিচ্ছেদ

বাগদাদ শহরের বিধান ও এর শস্য-ফসল এবং এর জমি ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধতা ও অপছন্দনীয়তা প্রসঙ্গে আলোচনা

আমাদের এই কিতাবে আমরা সর্বপ্রথম যা দিয়ে শুরু করছি তা হলো: বাগদাদের ভূমি ও এর বিধান সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্য এবং এর ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধতা ও অপছন্দনীয়তা সম্পর্কে যা তাঁদের থেকে সংরক্ষিত রয়েছে। তাঁদের অনেকের পক্ষ থেকেই বর্ণিত হয়েছে যে, বাগদাদ হলো জবরদখলকৃত এলাকা, এর ঘরবাড়ি ক্রয়ও করা যাবে না, বিক্রয়ও করা যাবে না। তাঁদের কেউ কেউ সেখানে ভাড়ার বিনিময়ে বসবাস করা বৈধ মনে করতেন। যদি দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো ঘর বা দোকান বা অন্য কোনো স্থাপনার মালিক মারা যেত, তবে তাঁরা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি বিক্রয় করা জায়েজ মনে করতেন না; বরং তাঁরা মত দিতেন যে, ভূমি ব্যতীত কেবল স্থাপনাসমূহ (পুরনো ইমারত বা ধ্বংসাবশেষ) বিক্রয় করা যাবে। কারণ স্থাপনাসমূহ মালিকদের মালিকানাধীন, কিন্তু ভূমি যদি জবরদখলকৃত হয় তবে তাতে তাদের কোনো অধিকার নেই।

আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আল-আযহারি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আল-কুরাশি। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে আলি আল-জাওহারি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাস আল-খাজ্জায; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মাদ আবু আল-হুসাইন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٢٩٣)
حدثني أبو الفضل جعفر بن محمد المؤدب: أن أباه لما مات أرادت والدته أن تبيع دارا ورثتها، فقالت لي: يا بني امض إلى أحمد بن حنبل وإلى بشر بن الحارث فسلهما عن ذلك، فإني لا أحب أن أقطع أمرا دونهما، وأعلمهما أن بنا حاجة إلى بيعها. قال: فسألتهما عن ذلك، فاتفق قولهما على بيع الأنقاض دون الأرض، فرجعت إلى والدتي فأخبرتها بذلك فلم تبعها.

ومنع جماعة من العلماء من بيع أرض بغداد لكونها من أرض السواد؛ وأرض السواد عندهم موقوفة لا يصح بيعها. وأجازت طائفة بيعها، واحتجت بأن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أقر السواد في أيدي أهله، وجعل أخذ الخراج منهم عوضا عن ذلك.

وكان غير واحد من السلف يكره سكنى بغداد والمقام بها، ويحث على الخروج منها، وقيل: إن الفضيل بن عياض كان لا يرى الصلاة في شيء من بغداد لأجل أنها عنده غصب.

أخبرنا أبو القاسم الأزهري، قال: أخبرنا أحمد بن محمد بن موسى القرشي. وأخبرنا الحسن بن علي الجوهري، قال: أخبرنا محمد بن العباس الخزاز قالا: أخبرنا أحمد بن جعفر بن محمد بن عبيد الله المنادي، قال: حدثنا أبو العباس أحمد بن محمد بن بكر بن خالد النيسابوري المعروف بابن القصير، قال: حدثنا عمرو بن أيوب، قال: سألت الفضيل بن عياض عن المقام ببغداد، فقال لي: لا تقم بها، اخرج عنها، فإن أخبثهم مؤذنوهم.

أخبرنا أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن أحمد بن إسحاق الحافظ بأصبهان،
আবু আল-ফজল জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দিব আমাকে বর্ণনা করেছেন: যখন তাঁর পিতা মারা গেলেন, তখন তাঁর মা তাঁর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত একটি ঘর বিক্রি করতে চাইলেন। তিনি আমাকে বললেন: হে বৎস! তুমি আহমদ ইবনে হাম্বল এবং বিশর ইবনুল হারিসের কাছে যাও এবং তাঁদের এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো, কারণ আমি তাঁদের পরামর্শ ছাড়া কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। আর তাঁদের জানিও যে, আমাদের এটি বিক্রি করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তিনি বললেন: আমি তাঁদের উভয়কে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তাঁদের উভয়ের অভিমত কেবল ইমারতের কাঠামো বা ধ্বংসাবশেষ বিক্রির ব্যাপারে একমত হলো, কিন্তু জমি নয়। আমি আমার মায়ের কাছে ফিরে এলাম এবং তাঁকে বিষয়টি জানালাম, ফলে তিনি তা আর বিক্রি করলেন না।

ওলামাদের একটি দল বাগদাদের জমি বিক্রি করা নিষেধ করেছেন, কারণ এটি 'সাওয়াদ' (ইরাকের উর্বর ভূমি) অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত; আর তাঁদের নিকট সাওয়াদের ভূমি হলো ওয়াকফকৃত, যার কেনাবেচা বৈধ নয়। তবে অন্য একদল ওলামা এটি বিক্রি করা বৈধ বলেছেন এবং তাঁরা এই মর্মে দলিল পেশ করেছেন যে, ওমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু সাওয়াদের ভূমি এর বাসিন্দাদের হাতেই বহাল রেখেছিলেন এবং এর বিনিময়ে তাঁদের ওপর খারাজ ধার্য করেছিলেন।

সালাফদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি বাগদাদে বসবাস করা ও সেখানে অবস্থান করা অপছন্দ করতেন এবং সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দিতেন। বর্ণিত আছে যে, ফুদাইল ইবনে ইয়াজ বাগদাদের কোনো স্থানেই নামাজ পড়াকে সঠিক মনে করতেন না, কারণ তাঁর মতে এই ভূমি ছিল জবরদখলকৃত।

আবু আল-কাসিম আল-আযহারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-কুরাশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। হাসান ইবনে আলী আল-জাওহারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস আল-খাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আহমদ ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-মুনাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বকর ইবনে খালিদ আন-নিসাপুরী—যিনি ইবনুল কাসীর নামে পরিচিত—আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে আইয়ুব আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ফুদাইল ইবনে ইয়াজকে বাগদাদে অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি আমাকে বললেন: সেখানে অবস্থান করো না, সেখান থেকে চলে যাও; কেননা তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হলো তাদের মুয়াজ্জিনরা।

আসবাহানের হাফেজ আবু নুআইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন,
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٢٩٤)
قال: أخبرنا أحمد بن بندار بن إسحاق، قال: أخبرنا محمد بن يحيى بن منده، قال: حدثنا إبراهيم بن يزداد البغدادي بأصبهان، قال: حدثنا محمد بن يحيى الأزدي، قال: قلت لعبد الله بن داود: إن لي خالة ببغداد، قال: أقطعها قطع القثاء.

حدثني أبو محمد الحسن بن محمد بن الحسن الخلال وأبو طالب عمر بن إبراهيم بن سعيد الفقيه؛ قالا: أخبرنا يوسف بن عمر القواس، قال: حدثنا محمد بن إسحاق المقرئ، قال: حدثني أبو عبد الله أحمد بن يوسف بن الضحاك، قال: سمعت أبي يقول: سمعت بشر بن الحارث يقول: بغداد ضيقة على المتقين، ما ينبغي لمؤمن أن يقيم فيها، قلت له: فهذا أحمد بن حنبل فما تقول؟ قال: دفعتنا الضرورة إلى المقام بها كما دفعت الضرورة إلى أكل الميتة.

أنبأنا أبو الحسن أحمد بن أبي جعفر القطيعي، قال: حدثنا عبيد الله بن عبد الرحمن، قال: أخبرنا أبي عبد الرحمن بن محمد الزهري، قال: حدثنا محمد بن إبراهيم بن جناد، قال: سمعت أبا عمران الجصاص، قال: قلت لأحمد بن حنبل: يا أبا عبد الله هذه أربعة دراهم: درهم من تجارة برة، ودرهم من صلة الإخوان، ودرهم من التعليم، ودرهم من غلة بغداد، فقال: ما منها شيء أحب إلي من التجارة، ولا فيها شيء أكره عندي من صلة الإخوان؛ وأما التعليم فإني أرجو أن لا يكون به بأس لمن احتاج إليه، وأما غلة بغداد فأنت تعرفها، إيش تسألني عنها.

حدثني عبد العزيز بن علي الوراق، قال: أخبرنا علي بن عبد الله
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন বুন্দার বিন ইসহাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন মানদাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন ইজদাদ আল-বাগদাদী আসবাহানে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আল-আজদী, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন দাউদকে বললাম: বাগদাদে আমার এক খালা আছেন। তিনি বললেন: তাকে এমনভাবে বর্জন করো (সম্পর্ক ছিন্ন করো) যেভাবে শসা কাটা হয়।

আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আল-খাল্লাল এবং আবু তালিব উমর বিন ইব্রাহিম বিন সাঈদ আল-ফকিহ; তারা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউসুফ বিন উমর আল-কাওয়াস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন ইউসুফ বিন আদ-দাহহাক, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি বিশর বিন আল-হারিসকে বলতে শুনেছি: মুত্তাকীদের জন্য বাগদাদ সংকীর্ণ, কোনো মুমিনের জন্য সেখানে বসবাস করা সমীচীন নয়। আমি তাকে বললাম: এই যে আহমাদ বিন হাম্বল (সেখানে অবস্থান করছেন), তবে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: সেখানে অবস্থান করতে আমাদের প্রয়োজনীয়তা বাধ্য করেছে যেমনটি প্রয়োজনীয়তা মানুষকে মৃত প্রাণী ভক্ষণে বাধ্য করে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আহমাদ বিন আবি জাফর আল-কাতী'ঈ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ আজ-জুহরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম বিন জুনাদ, তিনি বলেন: আমি আবু ইমরান আল-জাসসাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমাদ বিন হাম্বলকে বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ, এই হলো চারটি দিরহাম: একটি দিরহাম সৎ ব্যবসা থেকে অর্জিত, একটি দিরহাম ভাইদের উপঢৌকন থেকে, একটি দিরহাম শিক্ষা প্রদান থেকে এবং একটি দিরহাম বাগদাদের উৎপন্ন শস্য (গাল্লা) থেকে। তিনি বললেন: এগুলোর মধ্যে ব্যবসার দিরহামটিই আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়, আর ভাইদের উপঢৌকনের দিরহামটি আমার কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয়; আর শিক্ষা প্রদানের বিষয়ে আমি আশা করি যে যার প্রয়োজন রয়েছে তার জন্য এতে কোনো দোষ নেই; আর বাগদাদের উৎপন্ন শস্যের (গাল্লা) ব্যাপারটি তো তুমি জানোই, এ সম্পর্কে তুমি আমাকে কী জিজ্ঞেস করছো!

আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ বিন আলী আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আব্দুল্লাহ...
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٢٩٥)
الهمذاني بمكة، قال: حدثنا الخلدي، قال: حدثني أحمد بن عبد الله بن خالد، قال: سئل أحمد بن محمد بن حنبل عن مسألة في الورع، فقال: أنا أستغفر الله، لا يحل لي أن أتكلم في الورع، وأنا آكل من غلة بغداد، لو كان بشر بن الحارث صلح أن يجيبك عنه؛ فإنه كان لا يأكل من غلة بغداد ولا من طعام السواد، فهو يصلح أن يتكلم في الورع.

أخبرنا أبو القاسم الأزهري، قال: أخبرنا أحمد بن محمد بن موسى. وأخبرنا الحسن بن علي الجوهري، قال: أخبرنا محمد بن العباس؛ قالا: أخبرنا أحمد بن جعفر بن محمد، قال: وكان مما بقي في كتابي غير مسموع عن أبي الحسن علي بن إسماعيل البزاز المعروف بعلويه، قال: حدثنا يحيى بن الصامت، قال: سأل رجل عبد الله بن المبارك: أين ترى لي أن أنزل من بغداد متى ما دخلتها؟ قال: إن ابتليت بذلك فانزل نهر الدجاج فإنه في أيدي أربابه لم يغصبوا عليه أحدا.

أخبرنا عبيد الله بن أبي الفتح الفارسي، قال: حدثنا علي بن محمد بن إبراهيم الجوهري، قال: حدثنا أبو الحسين طلحة بن أحمد بن حفص الصفار، قال: حدثنا العباس بن يوسف، قال: حدثنا أبو الطيب الرام، قال: سمعت ابن المبارك يقول [من الخفيف]:

الزم الثغر والتعبد فيه … ليس بغداد مسكن الزهاد

إن بغداد للملوك محل … ومناخ للقارئ الصياد
মক্কায় হামদানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খলদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে খালিদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বলকে পরহেযগারি (ওয়ারআ) সম্পর্কে একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আমার জন্য পরহেযগারি নিয়ে কথা বলা হালাল নয় যখন আমি বাগদাদের উৎপন্ন ফসল ভক্ষণ করছি। যদি বিশর ইবনুল হারিস বেঁচে থাকতেন তবে তিনি তোমার এই মাসআলার উত্তর দেওয়ার উপযুক্ত হতেন; কারণ তিনি বাগদাদের ফসল কিংবা সাওয়াদ অঞ্চলের খাবার খেতেন না, তাই তিনিই পরহেযগারি সম্পর্কে কথা বলার যোগ্য ব্যক্তি।

আবুল কাসিম আল-আযহারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। হাসান ইবনে আলী আল-জাওহারিও আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তারা উভয়ে বলেছেন: আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার কিতাবে আবুল হাসান আলী ইবনে ইসমাইল আল-বাযযায, যিনি আলওয়াইহ নামে পরিচিত, তাঁর থেকে সরাসরি না শুনে কিতাবে যা অবশিষ্টাংশ ছিল তার মধ্যে এটি একটি। তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনুস সামিত আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে জিজ্ঞাসা করলেন: আমি যখনই বাগদাদে প্রবেশ করব, তখন আপনার মতে আমার কোথায় অবস্থান করা উচিত? তিনি বললেন: তুমি যদি তাতে লিপ্ত হও-ই, তবে নহরুদ দাজাজ এলাকায় অবস্থান করো; কারণ এটি এর প্রকৃত মালিকদের হাতেই রয়েছে এবং তারা এটি কারো কাছ থেকে অন্যায়ভাবে ছিনিয়ে নেয়নি।

ওবায়দুল্লাহ ইবনে আবুল ফাতহ আল-ফারিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-জাওহারি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল হুসাইন তালহা ইবনে আহমাদ ইবনে হাফস আস-সাফফার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্বাস ইবনে ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু তায়্যিব আর-রাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি [খাফিফ ছন্দে]:

সীমান্তের প্রহরা এবং তাতে ইবাদতে নিমগ্ন থাকো … বাগদাদ দুনিয়াত্যাগী তাপসদের আবাসস্থল নয়

নিশ্চয়ই বাগদাদ রাজন্যবর্গের আবাসভূমি … এবং সুযোগসন্ধানী ক্বারীদের বিশ্রামের আস্তানা
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٢٩٦)
أخبرنا أبو محمد عبد الله بن أحمد بن عبد الله الأصبهاني، قال: أخبرنا جعفر بن محمد بن نصير الخلدي، قال: أخبرنا مفضل بن محمد الجندي، قال: أخبرنا يونس بن حمد، قال: حدثنا يزيد بن أبي حكيم، قال: سمعت سفيان الثوري يقول: المتعبد ببغداد كالمتعبد في الكنيف.

أخبرنا الأزهري، قال: أخبرنا أحمد بن محمد بن موسى. وأخبرنا الجوهري، قال: أخبرنا محمد بن العباس؛ قالا: أخبرنا أحمد بن جعفر، قال: حدثني جدي محمد بن عبيد الله المنادي، قال: قال لي أحمد بن حنبل: أنا أذرع هذه الدار التي أسكنها فأخرج الزكاة عنها في كل سنة، أذهب في ذلك إلى قول عمر بن الخطاب في أرض السواد.

أخبرنا أبو الحسين محمد بن علي بن محمد بن مخلد الوراق وأبو الحسين أحمد بن علي بن الحسين التوزي المحتسب؛ قالا: أخبرنا أبو الحسن محمد بن جعفر بن هارون النحوي الكوفي، قال: حدثنا أبو القاسم الحسن بن محمد السكوني، قال: قال أبو بكر محمد بن خلف، وهو وكيع القاضي: لم تزل بغداد مثل أرض السواد إلى سنة خمس وأربعين ومائة.

قلت: يعني: إنها كانت تمسح ويؤخذ عنها الخراج، حتى بناها أبو جعفر المنصور ومصرها ونزلها وأنزلها الناس معه.
আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ আল-আসবাহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: জাফর বিন মুহাম্মদ বিন নুসায়ের আল-খুলদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: মুফাদদাল বিন মুহাম্মদ আল-জুন্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইউনুস বিন হামাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াজিদ বিন আবি হাকিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি সুফিয়ান আস-সাওরিকে বলতে শুনেছি: বাগদাদে ইবাদতকারী ব্যক্তি যেন শৌচাগারে ইবাদতকারী ব্যক্তি।

আল-আজহারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। এবং আল-জাওহারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আহমদ বিন জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমার দাদা মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-মুনাদি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আহমদ বিন হাম্বল আমাকে বলেছেন: আমি যে বাড়িতে বসবাস করি তা পরিমাপ করি এবং প্রতি বছর তার পক্ষ থেকে যাকাত আদায় করি, এ ব্যাপারে আমি সাওয়াদ ভূমির বিষয়ে উমর ইবনুল খাত্তাবের অভিমত অনুসরণ করি।

আবুল হোসেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মাখলাদ আল-ওয়াররাক এবং আবুল হোসেন আহমদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন আত-তাউজি আল-মুহতাসিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন জাফর বিন হারুন আন-নাহবী আল-কুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবুল কাসেম আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আস-সাকুনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন খালাফ—যিনি ওয়াকি আল-কাদি—বলেছেন: বাগদাদ একশ পঁয়তাল্লিশ হিজরি সাল পর্যন্ত সাওয়াদ ভূমির মতোই ছিল।

আমি বলছি: এর অর্থ হলো—তা পরিমাপ করা হতো এবং তা থেকে খরাজ (ভূমি কর) গ্রহণ করা হতো, যতক্ষণ না আবু জাফর আল-মানসুর এটি নির্মাণ করেন, একে নগরে রূপান্তর করেন এবং সেখানে বসতি স্থাপন করেন ও তাঁর সাথে লোকদের সেখানে বসতি দান করেন।
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٢٩٧)
‌‌

‌‌باب

الخبر عن السواد وفعل عمر فيه ولأية علة ترك قسمته بين

مفتتحيه

أخبرنا أبو علي الحسن بن أحمد بن إبراهيم بن شاذان البزاز، قال: حدثنا دعلج بن أحمد بن دعلج المعدل، قال: حدثنا محمد بن علي بن زيد الصائغ، قال: حدثنا سعيد بن منصور، قال: حدثنا هشيم، قال: أخبرنا العوام بن حوشب، قال: حدثنا إبراهيم التيمي، قال: لما افتتح المسلمون السواد قالوا لعمر بن الخطاب: اقسمه بيننا، فأبى. فقالوا: إنا افتتحناها عنوة. قال: فما لمن جاء بعدكم من المسلمين؟ فأخاف أن تفاسدوا بينكم في المياه، وأخاف أن تقتتلوا. فأقر أهل السواد في أرضهم وضرب على رؤوسهم الضرائب، يعني الجزية، وعلى أرضهم الطسق، يعني الخراج، ولم يقسمها بينهم.

أخبرنا القاضي أبو عمر القاسم بن جعفر بن عبد الواحد الهاشمي بالبصرة، قال: حدثنا أبو علي محمد بن أحمد بن عمرو اللؤلؤي، قال: حدثنا أبو داود سليمان بن الأشعث، قال: حدثنا أحمد بن حنبل، قال: حدثنا عبد الرحمن، يعني ابن مهدي، عن مالك، عن زيد بن أسلم، عن أبيه، عن عمر، قال: لولا آخر المسلمين ما فتحت قرية إلا قسمتها كما قسم رسول الله

পরিচ্ছেদ

সওয়াদ (ইরাকের উর্বর ভূমি) সংক্রান্ত সংবাদ, সেখানে উমরের কর্মপদ্ধতি এবং কোন কারণে তিনি তা বিজয়ীদের মধ্যে বণ্টন করা পরিহার করেছিলেন সে সম্পর্কিত আলোচনা

আবু আলী হাসান ইবন আহমদ ইবন ইব্রাহিম ইবন শাযান আল-বাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: দাউলাজ ইবন আহমদ ইবন দাউলাজ আল-মুআদ্দাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন যাইদ আস-সাইগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবন মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আওয়াম ইবন হাওশাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম আত-তাইমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন মুসলিমগণ সওয়াদ বিজয় করলেন, তখন তারা উমর ইবনুল খাত্তাবকে বললেন: এটি আমাদের মধ্যে বণ্টন করে দিন। কিন্তু তিনি তা করতে অস্বীকার করলেন। তারা বললেন: আমরা এটি যুদ্ধের মাধ্যমে জয় করেছি। তিনি বললেন: তবে তোমাদের পরে যেসব মুসলিম আসবে তাদের কী হবে? আমি আশঙ্কা করছি যে তোমরা পানির বণ্টন নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত হবে এবং একে অপরের সাথে যুদ্ধে জড়াবে। অতঃপর তিনি সওয়াদবাসীদের তাদের ভূমিতে বহাল রাখলেন এবং তাদের ওপর মাথাপিছু কর অর্থাৎ জিযিয়া এবং তাদের ভূমির ওপর নির্দিষ্ট কর অর্থাৎ খারাজ ধার্য করলেন এবং তা বিজয়ীদের মধ্যে বণ্টন করলেন না।

বসরার কাযী আবু উমর কাসিম ইবন জাফর ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাশিমী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আলী মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আমর আল-লুলুয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআছ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান অর্থাৎ ইবন মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মালিক হতে, তিনি যাইদ ইবন আসলাম হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যদি পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমদের কথা বিবেচ্য না হতো, তবে আমি যে জনপদই জয় করতাম, তা অবশ্যই বণ্টন করে দিতাম যেমনটি আল্লাহর রাসূল বণ্টন করেছিলেন।
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٢٩٨)
صلى الله عليه وسلم خيبر.

أخبرنا القاضي أبو بكر أحمد بن الحسن بن أحمد الحرشي بنيسابور، قال: أخبرنا أبو العباس محمد بن يعقوب الأصم، قال: أخبرنا محمد بن عبد الله بن عبد الحكم، قال: أخبرنا ابن وهب، قال: أخبرنا هشام بن سعد، عن زيد بن أسلم، عن أبيه، قال: سمعت عمر بن الخطاب يقول: لولا أني أترك الناس ببانا لا شيء لهم، ما فتحت قرية إلا قسمناها كما قسم رسول الله صلى الله عليه وسلم خيبر.

أخبرنا أبو بكر أحمد بن محمد بن أحمد بن غالب الخوارزمي، قال: أخبرنا عمر بن نوح البجلي، قال: أخبرنا أبو خليفة، قال: حدثنا محمد بن كثير، قال: أخبرنا سفيان، عن أبي إسحاق، عن حارثة بن مضرب قال: أراد عمر أن يقسم السواد، فعدوهم، فأصاب كل رجل ثلاثة من الفلاحين، فاستشار عمر فيهم أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا: للناس نائبة، ولا يبقى لمن بعدهم شيء، فتركهم.
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার।

নিসাবুরে আল-কাজী আবু বকর আহমদ ইবনে হাসান ইবনে আহমদ আল-হিরাশী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম্ম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে সাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি: আমি যদি মানুষকে নিঃস্ব ও রিক্তহস্ত অবস্থায় রেখে যাওয়ার আশঙ্কা না করতাম যাদের কিছুই থাকবে না, তবে আমি যে কোনো জনপদ জয় করলেই তা বণ্টন করে দিতাম, যেমনটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার বণ্টন করেছিলেন।

আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে গালিব আল-খাওয়ারিজমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে নুহ আল-বাজালি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু খালিফা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে কাসীর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি হারিসা ইবনে মুদাররিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর (রা.) সাওয়াদ (ইরাকের উর্বর ভূমি) বণ্টন করার ইচ্ছা করেছিলেন। অতঃপর তাঁরা অধিবাসীদের গণনা করলেন এবং দেখা গেল প্রত্যেক যোদ্ধার ভাগে তিনজন করে কৃষক পড়ছে। তখন উমর (রা.) তাঁদের ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করলেন। তাঁরা বললেন: মানুষের ওপর আপদ-বিপদ আসতে পারে এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। ফলে তিনি তা (বণ্টন করা) ছেড়ে দিলেন।
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٢٩٩)
أخبرنا أبو الحسين علي بن محمد بن عبد الله بن بشران المعدل، قال: حدثنا أبو علي إسماعيل بن محمد الصفار، قال: حدثنا الحسن بن علي بن عفان قال: حدثنا يحيى بن آدم، قال: أخبرنا ابن المبارك، عن ابن لهيعة، عن يزيد بن أبي حبيب، قال: كتب عمر إلى سعد حين افتتح العراق: أما بعد، فقد بلغني كتابك تذكر أن الناس سألوك أن تقسم بينهم مغانمهم وما أفاء الله عليهم؛ فإذا أتاك كتابي هذا فانظر ما أجلب الناس به عليك إلى العسكر من كراع أو مال فاقسمه بين من حضر من المسلمين، واترك الأرضين والأنهار لعمالها ليكون ذلك في أعطيات المسلمين؛ فإنك إن قسمتها بين من حضر لم يكن لمن بقي بعدهم شيء.

قلت: اختلف الفقهاء في الأرض التي يغنمها المسلمون ويقهرون العدو عليها؛ فذهب بعضهم إلى أن الإمام بالخيار بين أن يقسمها على خمسة أسهم، فيعزل منها السهم الذي ذكره الله تعالى في آية الغنيمة، فقال: {وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ} الآية، ويقسم السهام الأربعة الباقية بين الذين افتتحوها؛ فإن لم يختر ذلك وقف جميعها كما فعل عمر بن الخطاب في أرض السواد. وممن ذهب إلى هذا القول: سفيان بن سعيد الثوري، وأبو حنيفة النعمان بن ثابت.

وقال مالك بن أنس: تصير الأرض وقفا بنفس الاغتنام، ولا خيار فيها للإمام.
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হোসেন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান আল-মুআদ্দিল, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আলী ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাসান বিন আলী বিন আফফান, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আদম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল মুবারক, ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ওমর (রা.) ইরাক বিজয়ের সময় সা'দ (রা.)-এর নিকট লিখেছিলেন: অতঃপর, আমার নিকট আপনার পত্র পৌঁছেছে যাতে আপনি উল্লেখ করেছেন যে, লোকেরা আপনার নিকট তাদের গণিমত এবং আল্লাহ তাদের যা কিছু দান করেছেন তা বণ্টন করার জন্য আবেদন করেছে। যখন আমার এই পত্র আপনার নিকট পৌঁছাবে, তখন আপনি দেখুন মানুষ যুদ্ধের ঘোড়া বা সম্পদ যা কিছু সৈন্যবাহিনীতে নিয়ে এসেছে, তা উপস্থিত মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করে দিন। আর ভূমি ও নদীসমূহ সেগুলোর শ্রমিকদের (আগের অধিবাসীদের) জন্য রেখে দিন যাতে তা মুসলমানদের অনুদান বা ভাতার কাজে আসে; কারণ আপনি যদি তা উপস্থিতদের মধ্যে বণ্টন করে দেন, তবে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।

আমি বলছি: মুসলমানরা যে ভূমি গণিমত হিসেবে লাভ করে এবং শত্রুকে পরাজিত করে তা দখল করে, সে বিষয়ে ফকিহগণ মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, ইমামের এখতিয়ার রয়েছে যে তিনি তা পাঁচ ভাগে ভাগ করবেন, অতঃপর আল্লাহ তাআলা গণিমতের আয়াতে যে অংশের কথা উল্লেখ করেছেন তা আলাদা করবেন, তিনি বলেছেন: "আর জেনে রেখো যে, তোমরা যা কিছু গণিমত হিসেবে লাভ করো, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর জন্য" (আয়াতাংশ), এবং অবশিষ্ট চার ভাগ বিজয়ীদের মধ্যে বণ্টন করে দেবেন। আর যদি তিনি তা না করেন, তবে সম্পূর্ণ ভূমি ওয়াকফ হিসেবে রেখে দেবেন, যেমনটি ওমর ইবনুল খাত্তাব সাওয়াদ ভূমির ক্ষেত্রে করেছিলেন। যারা এই মত পোষণ করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: সুফিয়ান বিন সাঈদ সাওরি এবং আবু হানিফা নুমান বিন সাবিত।

আর মালিক বিন আনাস বলেছেন: ভূমি গণিমত হওয়ার সাথে সাথেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াকফ হয়ে যায় এবং এতে ইমামের কোনো এখতিয়ার থাকে না।
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣٠٠)
وقال محمد بن إدريس الشافعي: ليس للإمام إيقافها وإنما يلزمه قسمتها؛ فإن اتفق المسلمون على إيقافها ورضوا ألا تقسم جاز ذلك. واحتج من ذهب إلى هذا القول بما روي أن عمر بن الخطاب قسم أرض السواد بين غانميها وحازوها؛ ثم استنزلهم بعد ذلك عنها واسترضاهم منها ووقفها. فأما الأحاديث التي تقدمت بأن عمر لم يقسمها فإنها محمولة على أنه امتنع من إمضاء القسم واستدامته بأن انتزع الأرض من أيديهم، أو أنه لم يقسم بعض السواد وقسم بعضه ثم رجع فيه.

أخبرنا أبو محمد عبد الله بن يحيى بن عبد الجبار السكري، قال: أخبرنا إسماعيل بن محمد الصفار، قال: حدثنا الحسن بن علي بن عفان، قال: حدثنا يحيى بن آدم، قال: حدثنا ابن أبي زائدة، عن إسماعيل بن أبي خالد، عن قيس بن أبي حازم، قال: كنا ربع الناس يوم القادسية، فأعطانا عمر ربع السواد، فأخذناه ثلاث سنين، ثم وفد جرير إلى عمر بعد ذلك، فقال: أما والله، لولا أني قاسم مسؤول لكنتم على ما قسم لكم، فأرى أن ترده على المسلمين؛ ففعل، وأجازه بثمانين دينارا.

أخبرنا الحسن بن أبي بكر، قال: أخبرنا عبد الله بن إسحاق بن إبراهيم البغوي، قال: أخبرنا علي بن عبد العزيز، قال: أخبرنا أبو عبيد القاسم بن سلام، قال: حدثنا هشيم، عن إسماعيل، عن قيس، قال: قالت امرأة من بجيلة يقال لها أم كرز لعمر: يا أمير المؤمنين، إن أبي هلك وسهمه ثابت في السواد وإني لم أسلمه فقال لها: يا أم كرز إن قومك قد صنعوا ما قد علمت. قالت: إن كانوا صنعوا ما صنعوا فإني لست أسلم حتى تحملني على ناقة ذلول عليها قطيفة حمراء وتملأ كفي ذهبا. قال: ففعل عمر ذلك.
এবং মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আল-শাফিঈ বলেছেন: ইমামের জন্য এটি ওয়াকফ করে রাখা বৈধ নয়, বরং তা বণ্টন করা তাঁর জন্য আবশ্যক। তবে যদি মুসলিমরা এটি ওয়াকফ করে রাখার বিষয়ে একমত হয় এবং বণ্টন না করার ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকে, তবে তা জায়েজ। যারা এই মত পোষণ করেছেন তারা এই মর্মে বর্ণিত বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব সাওয়াদের জমি বিজয়ীদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছিলেন এবং তারা তা দখল করে নিয়েছিল; এরপর তিনি তাদেরকে তা ছেড়ে দিতে রাজি করান এবং তাদের সন্তুষ্ট করে তা ওয়াকফ করে দেন। আর উমর তা বণ্টন করেননি মর্মে পূর্বে যেসব হাদিস অতিবাহিত হয়েছে, সেগুলোকে এভাবে ব্যাখ্যা করা হবে যে, তিনি বণ্টনের কার্যকারিতা ও তা বহাল রাখা থেকে বিরত ছিলেন এবং তাদের হাত থেকে জমিটি ফিরিয়ে নিয়েছিলেন; অথবা তিনি সাওয়াদের কিছু অংশ বণ্টন করেননি এবং কিছু অংশ বণ্টন করেছিলেন, অতঃপর তা ফেরত নিয়েছিলেন।

আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল জব্বার আস-সুক্কারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আলী ইবনে আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি যাইদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি কাইস ইবনে আবি হাযিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কাদিসিয়ার যুদ্ধের দিন আমরা মোট জনশক্তির এক-চতুর্থাংশ ছিলাম। ফলে উমর আমাদের সাওয়াদের এক-চতুর্থাংশ প্রদান করেন এবং আমরা তিন বছর তা ভোগ করি। এরপর জারীর উমরের নিকট প্রতিনিধি হয়ে আসলে উমর বলেন: "আল্লাহর কসম, আমি যদি একজন দায়িত্বশীল বণ্টনকারী না হতাম, তবে তোমাদের জন্য যা বণ্টন করা হয়েছে তোমরা তার উপরেই থাকতে। তবে আমি মনে করি তোমরা এটি মুসলিমদের নিকট ফিরিয়ে দাও।" ফলে তিনি তাই করলেন এবং উমর তাকে আশি দিনার প্রদান করে পুরস্কৃত করলেন।

হাসান ইবনে আবি বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-বাগাওয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল থেকে, তিনি কাইস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বাজিলা গোত্রের উম্মে কারয নামক এক নারী উমরকে বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন, আমার পিতা মারা গেছেন এবং সাওয়াদের ভূমিতে তার অংশ নির্ধারিত রয়েছে, আর আমি তা সমর্পণ করিনি।" উমর তাকে বললেন: "হে উম্মে কারয, তোমার কওম যা করেছে তা তো তুমি জানো।" সে বলল: "তারা যা করেছে তা যদি করেই থাকে, তবুও আমি ততক্ষণ পর্যন্ত এটি সমর্পণ করব না যতক্ষণ না আপনি আমাকে একটি শান্ত উটনীর পিঠে আরোহণ করাবেন যার উপরে লাল মখমলের গদি থাকবে এবং আমার দুই হাত স্বর্ণ দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন।" বর্ণনাকারী বলেন: উমর তাই করলেন।
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣٠١)
قال أبو عبيد: فاحتج قوم بفعل عمر هذا، وقالوا: ألا تراه قد أرضى جريرا والبجلية وعوضهما. وإنما وجه هذا عندي: أن عمر كان نفل جريرا وقومه ذلك نفلا قبل القتال، وقبل خروجه إلى العراق، فأمضى له نفله، ولو لم يكن نفلا ما خصه وقومه بالقسمة خاصة دون الناس، وإنما استطاب أنفسهم خاصة لأنهم قد كانوا أحرزوا ذلك وملكوه بالنفل، فلا حجة في هذا لمن زعم أنه لا بد للإمام من استرضائهم.

قلت: ثم إن عمر أقر أهل السواد فيه وضرب عليهم الخراج بعد أن سلم إليهم الأرض يعملون فيها وينتفعون بها، وبعث عماله لمساحتها وقبض الواجب عنها؛ فأخبرنا الحسن بن أبي بكر، قال: أخبرنا عبد الله بن إسحاق البغوي، قال: أخبرنا علي بن عبد العزيز، قال: حدثنا أبو عبيد القاسم بن سلام، قال: حدثنا الأنصاري محمد بن عبد الله، ولا أعلم إسماعيل بن إبراهيم إلا قد حدثناه أيضا عن سعيد بن أبي عروبة، عن قتادة، عن أبي مجلز: أن عمر بن الخطاب بعث عمار بن ياسر إلى أهل الكوفة على صلاتهم وجيوشهم، وعبد الله بن مسعود على قضائهم وبيت مالهم، وعثمان بن حنيف على مساحة الأرض. ثم فرض لهم في كل يوم شاة، أو قال: جعل لهم كل يوم شاة، شطرها وسواقطها لعمار، والشطر الآخر بين هذين. ثم قال: ما أرى قرية يؤخذ منها كل يوم شاة إلا سريعا في خرابها. قال: فمسح عثمان بن حنيف الأرض فجعل على جريب الكرم عشرة دراهم، وعلى جريب النخل خمسة دراهم، وعلى جريب القضب ستة دراهم، وعلى جريب البر أربعة
আবু উবাইদ বলেন: একদল লোক উমরের এই কাজের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন এবং বলেছেন: “আপনি কি দেখছেন না যে তিনি জারীর ও বাজালা গোত্রকে সন্তুষ্ট করেছেন এবং তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন?” আমার নিকট এর ব্যাখ্যা হলো: উমর যুদ্ধের পূর্বে এবং ইরাকে অভিযানে যাওয়ার পূর্বেই জারীর ও তার কওমকে তা অতিরিক্ত দান (নফল) হিসেবে প্রদান করেছিলেন। সুতরাং তিনি তার সেই দানই কার্যকর করেছেন। যদি এটি নফল দান না হতো, তবে তিনি অন্য সব মানুষকে বাদ দিয়ে কেবল তাকে ও তার কওমকে বণ্টনের জন্য বিশেষভাবে মনোনীত করতেন না। তিনি কেবল তাদের মন তুষ্ট করতে চেয়েছিলেন কারণ তারা সেই নফল দানের মাধ্যমেই তা অর্জন করেছিল এবং তার মালিক হয়েছিল। সুতরাং যারা দাবি করে যে ইমামের জন্য তাদের সন্তুষ্ট করা আবশ্যক, তাদের জন্য এতে কোনো দলিল নেই।

আমি বলছি: অতঃপর উমর ‘সাওয়াদ’ অঞ্চলের অধিবাসীদের সেখানে বহাল রাখলেন এবং তাদের ওপর ভূমি কর ধার্য করলেন; ভূমিটি তাদের কাছে সোপর্দ করার পর তারা তাতে চাষাবাদ করত এবং তা থেকে উপকৃত হতো। তিনি ভূমি জরিপ করতে এবং তা থেকে প্রাপ্য অংশ গ্রহণ করতে তাঁর আমিলদের (কর্মকর্তাদের) পাঠালেন। আল-হাসান ইবনে আবু বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইসহাক আল-বাগাওয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবদুল আজিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আনসারী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন—আমি জানি না ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিমও আমাদের এটি শুনিয়েছেন কি না—সাঈদ ইবনে আবু আরুবাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু মিজলাজ থেকে বর্ণনা করেন: উমর ইবনে আল-খাত্তাব আম্মার ইবনে ইয়াসিরকে কুফাবাসীদের সালাত ও সেনাবাহিনীর দায়িত্ব দিয়ে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে বিচার বিভাগ ও বায়তুল মালের দায়িত্ব দিয়ে এবং উসমান ইবনে হুনাইফকে ভূমি জরিপের দায়িত্ব দিয়ে পাঠালেন। অতঃপর তিনি তাদের জন্য প্রতিদিন একটি বকরি নির্ধারণ করে দিলেন—অথবা বর্ণনাকারী বলেছেন: তাদের জন্য প্রতিদিন একটি বকরি বরাদ্দ করলেন—যার অর্ধেক ও তার পায়া-কলিজা জাতীয় অংশ আম্মারের জন্য, আর বাকি অর্ধেক এই অন্য দুইজনের জন্য। অতঃপর তিনি বললেন: “আমি এমন কোনো জনপদ দেখি না যেখান থেকে প্রতিদিন একটি বকরি নেওয়া হয়, আর তা দ্রুত ধ্বংস হয়ে যায় না।” বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর উসমান ইবনে হুনাইফ ভূমি জরিপ করলেন এবং প্রতি জারীব আঙ্গুর বাগানের ওপর দশ দিরহাম, প্রতি জারীব খেজুর বাগানের ওপর পাঁচ দিরহাম, প্রতি জারীব পশুখাদ্যের জমির ওপর ছয় দিরহাম এবং প্রতি জারীব গমের ওপর চার দিরহাম ধার্য করলেন।
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣٠٢)
دراهم، وعلى جريب الشعير درهمين.

أخبرنا علي بن محمد بن عبد الله القرشي، قال: أخبرنا إسماعيل بن محمد الصفار، قال: حدثنا سعدان بن نصر، قال: حدثنا وكيع، عن ابن أبي ليلى، عن الحكم: أن عمر بن الخطاب بعث عثمان بن حنيف فمسح السواد، فوضع على كل جريب عامر أو غامر حيث يناله الماء قفيزا ودرهما. قال وكيع: يعني الحنطة والشعير، ووضع على جريب الكرم عشرة دراهم، وعلى جريب الرطاب خمسة دراهم.

أخبرنا الحسن بن أبي بكر، قال: أخبرنا عبد الله بن إسحاق، قال: أخبرنا علي بن عبد العزيز، قال: حدثنا أبو عبيد، قال: أخبرنا إسماعيل بن مجالد، عن أبيه مجالد بن سعيد، عن الشعبي: أن عمر بعث عثمان بن حنيف فمسح السواد، فوجده ستة وثلاثين ألف ألف جريب، فوضع على كل جريب درهما وقفيزا. قال أبو عبيد: أرى حديث مجالد عن الشعبي هو المحفوظ.
দিরহাম, এবং যব চাষকৃত প্রতি জারিবের ওপর দুই দিরহাম।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কুরাশী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সা'দান ইবনে নাসর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি', ইবন আবি লায়লা থেকে, তিনি হাকাম থেকে বর্ণনা করেন: উমর ইবনুল খাত্তাব উসমান ইবনে হুনাইফকে পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি সাওয়াদ (ইরাকের উর্বর ভূমি) জরিপ করেছিলেন। অতঃপর তিনি আবাদি কিংবা অনাবাদি জমি যেখানে পানি পৌঁছে এমন প্রতি জারিবের ওপর এক কাফিজ ও এক দিরহাম নির্ধারণ করেছিলেন। ওয়াকি' বলেন: অর্থাৎ গম ও যব। আর তিনি আঙ্গুর বাগানের প্রতি জারিবের ওপর দশ দিরহাম এবং শাকসবজি বা তাজা ফলের প্রতি জারিবের ওপর পাঁচ দিরহাম ধার্য করেছিলেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে আবি বকর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ইসহাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আব্দুল আজিজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উবাইদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল ইবনে মুজালিদ, তার পিতা মুজালিদ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি আশ-শা'বী থেকে বর্ণনা করেন: উমর উসমান ইবনে হুনাইফকে পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি সাওয়াদ জরিপ করেছিলেন। তিনি তা ছত্রিশ মিলিয়ন (তিন কোটি ৬০ লক্ষ) জারিব পেয়েছিলেন। অতঃপর তিনি প্রতি জারিবের ওপর এক দিরহাম ও এক কাফিজ ধার্য করেছিলেন। আবু উবাইদ বলেন: আমি মনে করি আশ-শা'বী থেকে বর্ণিত মুজালিদের হাদীসটিই সংরক্ষিত (সঠিক)।
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣٠٣)
ويقال: إن حد السواد الذي وقعت عليه المساحة من لدن تخوم الموصل مادا مع الماء إلى ساحل البحر ببلاد عبادان من شرقي دجلة، هذا طوله. وأما عرضه: فحده منقطع الجبل من أرض حلوان إلى منتهى طرف القادسية المتصل بالعذيب من أرض العرب. فهذا حدود السواد وعليها وقع الخراج.

أخبرنا أبو عبد الله الحسين بن شجاع الصوفي، قال: أخبرنا أبو علي محمد بن أحمد بن الحسن الصواف، قال: أخبرنا محمد بن عبدوس بن كامل ومحمد بن عثمان بن أبي شيبة؛ قالا: حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة، قال: حدثنا حميد بن عبد الرحمن، عن حصين، عن مطرف، قال: ما فوق حلوان فهو ذمة، وما دون حلوان من السواد فهو فيء، وسوادنا هذا فيء.

أخبرنا أبو نعيم أحمد بن عبد الله الحافظ بأصبهان، قال: حدثنا أبو بكر محمد بن جعفر بن أحمد بن الليث الواسطي قال: حدثنا أسلم بن سهل، قال: حدثنا محمد بن صالح، قال: حدثنا هشام بن محمد بن السائب، قال: سمعت أبي يقول: إنما سمي السواد سوادا لأن العرب حين جاءوا نظروا إلى مثل الليل من النخل والشجر والماء فسموه سوادا.

أخبرنا أبو الحسين أحمد بن محمد بن الحسين الأصبهاني بها، قال: أخبرنا أبو القاسم سليمان بن أحمد بن أيوب الطبراني، قال: حدثنا علي بن عبد العزيز قال: قال أبو عبيد: كان الأصمعي يتأول في سواد العراق إنما سمي به للكثرة، وأما أنا فأحسبه سمي بالسواد للخضرة التي في النخيل والشجر والزرع؛ لأن العرب قد تلحق لون الخضرة بالسواد فتوضع أحدهما موضع الآخر. ومن ذلك قول الله تعالى حين ذكر الجنتين فقال: {مُدْهَامَّتَانِ} هما في التفسير: خضراوان، فوصفت الخضرة
এবং বলা হয় যে: সাওয়াদ অঞ্চলের সীমানা—যার ওপর ভূমি জরিপ পরিচালিত হয়েছে—তা মসুলের সীমান্ত এলাকা থেকে পানির প্রবাহ বরাবর দজলা নদীর পূর্ব দিকে আব্বাদান দেশের সমুদ্র উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত; এটিই এর দৈর্ঘ্য। আর এর প্রস্থ হলো: হুলওয়ান ভূমির পাহাড়ের প্রান্ত থেকে কাদিসিয়ার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত, যা আরব ভূমির উযাইবের সাথে সংযুক্ত। এগুলোই হলো সাওয়াদ অঞ্চলের সীমানা এবং এর ওপরই খারাজ (ভূমি কর) ধার্য করা হয়েছিল।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন শুজা আল-সুফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-হাসান আল-সাওয়াফ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবদুস বিন কামিল এবং মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আবু শাইবা; তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আবু শাইবা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদ বিন আবদুর রহমান, হুসাইন থেকে, তিনি মুতাররিফ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হুলওয়ানের ওপরের অংশ হলো যিম্মি (চুক্তিভুক্ত এলাকা), আর হুলওয়ানের নিচের সাওয়াদ এলাকা হলো ফাই (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ), আর আমাদের এই সাওয়াদ এলাকা হলো ফাই।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসফাহানের হাফিজ আবু নুয়াইম আহমদ বিন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আহমদ বিন আল-লাইস আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসলাম বিন সাহল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সালেহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন মুহাম্মদ বিন আল-সায়িব, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: সাওয়াদকে ‘সাওয়াদ’ নামকরণ করা হয়েছে কারণ আরবরা যখন সেখানে পৌঁছেছিল, তারা খেজুর গাছ, অন্যান্য গাছপালা এবং পানির প্রাচুর্যের কারণে এলাকাটিকে রাতের অন্ধকারের মতো দেখেছিল, তাই তারা এর নাম দিয়েছিল ‘সাওয়াদ’।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসফাহানের আবু আল-হুসাইন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম সুলাইমান বিন আহমদ বিন আইয়ুব আল-তাবারানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আব্দুল আজিজ, তিনি বলেন: আবু উবাইদ বলেছেন: আল-আসমাঈ ইরাকের সাওয়াদ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতেন যে, প্রাচুর্যের কারণে এর এই নামকরণ হয়েছে। তবে আমি মনে করি, খেজুর গাছ, অন্যান্য গাছপালা এবং শস্যক্ষেতের ঘন সবুজের কারণেই একে সাওয়াদ বলা হয়েছে; কারণ আরবরা অনেক সময় গাঢ় সবুজ রঙকে কালোর সাথে যুক্ত করে এবং একটিকে অন্যটির স্থলে ব্যবহার করে। মহান আল্লাহর বাণী থেকেও এর প্রমাণ পাওয়া যায় যখন তিনি দুটি জান্নাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: {গূঢ় শ্যামলবর্ণ}, যার তাফসিরে বলা হয়েছে: এ দুটি হলো গাঢ় সবুজ। এখানে সবুজের গুণ বর্ণনা করা হয়েছে—
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣٠٤)
بالدهمة وهي من سواد الليل، وقد وجدنا مثله في أشعارهم، قال ذو الرمة:

قد أقطع النازح المجهول معسفه في ظل أخضر يدعو هامه البوم يريد بالأخضر: الليل، سماه بهذا لظلمته وسواده.

أخبرنا علي بن محمد بن عبد الله المعدل، قال: أخبرنا إسماعيل بن محمد الصفار، قال: حدثنا الحسن بن علي بن عفان، قال: حدثنا يحيى بن آدم قال: قال حسن، يعني ابن صالح: وأما سوادنا هذا فإنا سمعنا أنه كان في أيدي النبط فظهر عليهم أهل فارس فكانوا يؤدون إليهم الخراج، فلما ظهر المسلمون على أهل فارس تركوا السواد ومن لم يقاتلهم من النبط والدهاقين على حالهم، ووضعوا الجزية على رؤوس الرجال، ومسحوا عليهم ما كان في أيديهم من الأرض، ووضعوا عليها الخراج، وقبضوا كل أرض ليست في يد أحد، فكانت صوافي إلى الإمام.

قال يحيى: كل أرض كانت لعبدة الأوثان من العجم، أو لأهل الكتاب من العجم أو العرب، ممن تقبل منهم الجزية، فإن أرضيهم أرض خراج إن صالحوا على الجزية على رؤوسهم والخراج على أرضيهم؛ فإن ذلك يقبل منهم، وإن ظهر عليهم المسلمون فإن الإمام يقسم جميع ما أجلبوا به في العسكر من كراع أو سلاح أو مال بعدما يخمسه وهي الغنيمة التي لا يوقف شيء منها، وذلك قوله عز وجل: {وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ} وأما القرى والمدائن والأرض فهي فيء كما قال الله تعالى: {مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى} فالإمام بالخيار في ذلك إن شاء وقفه وتركه للمسلمين، وإن شاء قسمه بين من حضره.
‘দাহমাহ’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রাতের অন্ধকার। আমরা আরব কবিদের কাব্যে এর অনুরূপ প্রয়োগ পেয়েছি। যুর-রুম্মাহ বলেছেন:

"আমি অনেক সময় অজানা দূরবর্তী দুর্গম পথ পাড়ি দিই এমন এক সবুজ ছায়ার (অন্ধকারের) মাঝে, যেখানে পেঁচা তার মস্তক কম্পিত করে ডাকতে থাকে।" এখানে 'সবুজ' দ্বারা তিনি রাত বুঝিয়েছেন; তার অন্ধকার ও কৃষ্ণবর্ণের কারণে তিনি রাতকে এই নামে অভিহিত করেছেন।

আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-মুআদ্দাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আলী ইবনে আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান—অর্থাৎ ইবনে সালিহ—বলেছেন: আমাদের এই সোয়াদ (ইরাকের উর্বর ভূমি) অঞ্চল সম্পর্কে আমরা সংবাদ পেয়েছি যে, এটি নবতীদের অধিকারে ছিল। এরপর পারস্যবাসীরা তাদের ওপর জয়লাভ করে এবং তারা তাদের নিকট খরাজ প্রদান করত। যখন মুসলমানরা পারস্যবাসীদের ওপর বিজয় লাভ করল, তখন তারা সোয়াদ অঞ্চল এবং যারা তাদের সাথে যুদ্ধ করেনি এমন নবতী ও দিহকানদের তাদের পূর্বাবস্থায় বহাল রাখল। তারা পুরুষদের ওপর জিজিয়া ধার্য করল এবং তাদের অধিকারে থাকা ভূমি জরিপ করে তার ওপর খরাজ আরোপ করল। আর যে ভূমির কোনো মালিক ছিল না, তা তারা কবজা করল; ফলে তা ইমামের খাস সম্পত্তিতে পরিণত হলো।

ইয়াহইয়া বলেন: অনারব মূর্তিপূজক অথবা অনারব ও আরব আহলে কিতাবদের এমন প্রত্যেক ভূমি যাদের থেকে জিজিয়া গ্রহণ করা হয়, তাদের ভূমি হলো খরাজি ভূমি, যদি তারা মাথাপিছু জিজিয়া এবং ভূমির ওপর খরাজ প্রদানের শর্তে সন্ধি করে। এটি তাদের থেকে গ্রহণ করা হবে। আর মুসলমানরা যদি তাদের ওপর বিজয় লাভ করে, তবে সৈন্যবাহিনীর সাথে থাকা ঘোড়া, অস্ত্রশস্ত্র বা ধন-সম্পদ—সবই এক-পঞ্চমাংশ বের করার পর ইমাম বণ্টন করে দেবেন। এটিই হলো সেই গনিমত যার কোনো অংশ স্থগিত রাখা হয় না। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {আর জেনে রেখো যে, যা কিছু তোমরা গনিমত হিসেবে লাভ করেছ, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর জন্য}। আর জনপদ, নগর ও ভূমির ক্ষেত্রে তা হলো 'ফাই', যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসুলকে যা 'ফাই' হিসেবে দিয়েছেন}। সুতরাং এ বিষয়ে ইমামের এখতিয়ার রয়েছে; তিনি চাইলে তা ওয়াকফ করে মুসলমানদের কল্যাণের জন্য রেখে দিতে পারেন, আর চাইলে উপস্থিত সবার মাঝে বণ্টন করে দিতে পারেন।
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣٠٥)
أخبرنا الحسن بن أبي بكر، قال: أخبرنا عبد الله بن إسحاق، قال: حدثنا علي بن عبد العزيز قال: قال أبو عبيد: إنما جعل، يعني عمر، الخراج على الأرضين التي تغل من ذوات الحب والثمار والتي تصلح للغلة من العامر والغامر؛ وعطل من ذلك المساكن والدور التي هي منازلهم فلم يجعل عليهم فيها شيئا.

‌‌

‌‌باب

ذكر حكم بيع أرض السواد وما روي في ذلك من الصحة والفساد

أخبرنا علي بن محمد بن عبد الله المعدل، قال: أخبرنا إسماعيل بن محمد الصفار، قال: أخبرنا الحسن بن علي بن عفان، قال: أخبرنا يحيى بن آدم، قال: حدثني الحسن بن صالح، قال أبو علي الصفار: أظنه عن منصور، عن عبيد أبي الحسن، عن عبد الله بن مغفل المزني، قال: لا تباع أرض دون الجبل إلا أرض بني صلوبا وأرض الحيرة فإن لهم عهدا.

أخبرنا الحسن بن أبي بكر، قال: أخبرنا عبد الله بن إسحاق البغوي، قال: أخبرنا علي بن عبد العزيز، قال: حدثنا أبو عبيد، قال: حدثنا عباد بن
আল-হাসান বিন আবি বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী বিন আব্দুল আজিজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উবাইদ বলেছেন: তিনি অর্থাৎ উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু), কেবল সেই সকল জমির ওপর খারাজ (ভূমি কর) ধার্য করেছিলেন যা শস্য ও ফল উৎপাদন করে এবং যা আবাদি হোক বা অনাবাদি—ফসলের জন্য উপযুক্ত; আর তিনি মানুষের ঘরবাড়ি ও আবাসস্থলগুলোকে এর থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন, ফলে সেগুলোর ওপর তিনি কোনো কিছু ধার্য করেননি।

‌‌

‌‌পরিচ্ছেদ

সাওয়াদ অঞ্চলের জমি বিক্রির বিধান এবং এই বিষয়ে বর্ণিত শুদ্ধ ও অশুদ্ধ বর্ণনাসমূহের উল্লেখ

আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-মুআদ্দিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান বিন আলী বিন আফফান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আদম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান বিন সালিহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আলী আস-সাফফার বলেন: আমি মনে করি তিনি মনসুর থেকে, তিনি উবাইদ আবুল হাসান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন মুগাফফাল আল-মুযানী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: পাহাড়ের নিচের দিকের (সাওয়াদ অঞ্চলের) কোনো জমি বিক্রি করা যাবে না, কেবল বনু সালুবা এবং আল-হিরাহ অঞ্চলের জমি ব্যতীত, কারণ তাদের সাথে চুক্তি রয়েছে।

আল-হাসান বিন আবি বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন ইসহাক আল-বাগাওয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী বিন আব্দুল আজিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উবাইদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্বাদ বিন...
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣٠٦)
العوام، عن حجاج، عن الحكم، عن عبد الله بن مغفل، قال: لا تشترين من أهل السواد إلا من أهل الحيرة وبانقيا وأليس. قال أبو عبيد: فأما أهل الحيرة؛ فإن خالد بن الوليد كان صالحهم في دهر أبي بكر، وأما أهل بانقيا وأليس فإنهم دلوا أبا عبيد وجرير بن عبد الله البجلي على مخاضة حتى عبروا إلى فارس؛ فبذلك كان صلحهم وأمانهم.

قلت: ويروى عن الحسن بن صالح بن حي: أنه رخص في شراء أرض الصلح، وكره شراء أرض العنوة، وهو مذهب مالك بن أنس.

وجاء عن مجاهد بن جبر في أرض العنوة نحو ذلك؛ أخبرنا أبو الحسن محمد بن أحمد بن محمد بن أحمد بن رزق البزاز، قال: أخبرنا محمد بن يحيى بن عمر بن علي بن حرب الطائي، قال: حدثنا علي بن حرب، عن سفيان بن عيينة، عن ابن أبي نجيح، عن مجاهد، قال: أيما مدينة افتتحت عنوة فأسلموا قبل أن يقسموا فأموالهم للمسلمين.

أخبرنا محمد بن أبي نصر النرسي، قال: حدثني جدي علي بن أحمد بن محمد بن يوسف القاضي بسر من رأى، قال: أخبرنا إبراهيم بن عبد الصمد الهاشمي، قال: أخبرنا أبو مصعب، عن مالك بن أنس، قال: أما أهل الصلح فإن من أسلم منهم أحق بأرضه وماله، وأما أهل العنوة الذين أخذوا عنوة فإن من أسلم منهم أحرز له إسلامه نفسه، وكانت أرضه للمسلمين فيئا؛ لأن أهل العنوة قد غلبوا على بلادهم وصارت فيئا للمسلمين.
আল-আওয়াম, হাজ্জাজ থেকে, তিনি আল-হাকাম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "তোমরা আল-হিরাহ, বানিয়াকয়া এবং উলাইস অঞ্চলের অধিবাসী ব্যতীত সাওয়াদ (ইরাকের উর্বর ভূমি) অঞ্চলের লোকদের থেকে ভূমি ক্রয় করো না।" আবু উবাইদ বলেন: "আল-হিরাহবাসীদের বিষয়ে কথা হলো, আবু বকরের যুগে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ তাদের সাথে সন্ধি করেছিলেন। আর বানিয়াকয়া এবং উলাইসবাসীদের বিষয় হলো, তারা আবু উবাইদ এবং জারির ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাজালিকে একটি পারাপারের পথ (খেয়াঘাট) দেখিয়ে দিয়েছিল যার মাধ্যমে তারা পারস্যের দিকে অতিক্রম করেছিলেন; মূলত সেই কারণেই তাদের সাথে সন্ধি ও নিরাপত্তার অঙ্গীকার হয়েছিল।"

আমি বলছি: আল-হাসান ইবনে সালিহ ইবনে হাই থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সন্ধিকৃত ভূমি (আর্দ আস-সুলহ) ক্রয়ের অনুমতি দিতেন এবং জোরপূর্বক বিজিত ভূমি (আর্দ আল-আনওয়াহ) ক্রয় করা অপছন্দ করতেন। আর এটিই মালিক ইবনে আনাসের মাযহাব (মতাদর্শ)।

মুজাহিদ ইবনে জাবর থেকেও জোরপূর্বক বিজিত ভূমির ব্যাপারে অনুরূপ বর্ণনা এসেছে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে রিজক আল-বাযযাঝ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমর ইবনে আলি ইবনে হারব আত-তাঈ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলি ইবনে হারব, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে, তিনি ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যে শহরই জোরপূর্বক বিজয় করা হয়েছে এবং (সম্পদ) বণ্টনের পূর্বেই সেখানকার অধিবাসীরা ইসলাম গ্রহণ করেছে, তবে তাদের সম্পদ মুসলিমদের প্রাপ্য হবে।"

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবি নাসর আন-নারসি, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার দাদা আলি ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-কাদি 'সুররা মান রাআ' নগরে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইব্রাহিম ইবনে আব্দুস সামাদ আল-হাশিমি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুসআব, মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি বলেন: "সন্ধিকারী (আহলুস সুলহ) জনগোষ্ঠীর কেউ যদি ইসলাম গ্রহণ করে, তবে সে তার ভূমি ও সম্পদের ব্যাপারে অধিক হকদার। আর যারা জোরপূর্বক বিজিত (আহলুল আনওয়াহ) হয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে তার ইসলাম গ্রহণ তার নিজের প্রাণের রক্ষা কবচ হবে, কিন্তু তার ভূমি মুসলিমদের জন্য 'ফাই' (যুদ্ধলব্ধ রাষ্ট্রীয় সম্পদ) হিসেবে গণ্য হবে; কারণ বিজিতরা তাদের ভূখণ্ডের ওপর পরাজিত হয়েছে এবং তা মুসলিমদের জন্য 'ফাই' বা রাষ্ট্রীয় সম্পদে পরিণত হয়েছে।"
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣٠٧)
أخبرنا الحسن بن أبي بكر، قال: أخبرنا عبد الله بن إسحاق، قال: أخبرنا علي بن عبد العزيز، قال: حدثنا أبو عبيد، قال: حدثني يحيى بن عبد الله بن بكير، قال: قال مالك: كل أرض فتحت صلحا فهي لأهلها، لأنهم منعوا بلادهم حتى صالحوا عليها، وكل بلاد أخذت عنوة فهي فيء للمسلمين.

أخبرنا علي بن محمد المعدل، قال: أخبرنا إسماعيل بن محمد الصفار، قال: حدثنا الحسن بن علي العامري، قال: قال يحيى بن آدم: وكره حسن، يعني ابن صالح، شراء أرض الخراج، ولم ير بأسا بشراء أرض الصلح مثل الحيرة ونحوها.

قلت: فهؤلاء الذين كرهوا شراء أرض السواد إنما كرهوه لجهتين؛ هما: أن الخراج كانوا يذهبون إلى أنه صغار فلم يروا أن يدخلوا فيه؛ والثانية أن السواد لما فتح عنوة ووقف فلم يقسم حصل عندهم مما لا يجوز بيعه سوى من رخص في المواضع التي ذكر أن لأهلها ذمة وهي بانقيا والحيرة وأليس خاصة. وقد روي عن محمد بن سيرين أنه قال: بعض السواد عنوة وبعضه صلح، من غير تمييز لأحد الأمرين من الآخر.

أخبرنا علي بن محمد المعدل، قال: أخبرنا إسماعيل بن محمد الصفار، قال: حدثنا الحسن بن علي، قال: حدثنا يحيى بن آدم، قال: أخبرنا أبو زبيد، عن أشعث، عن ابن سيرين، قال: السواد منه صلح ومنه عنوة؛ فما
আল-হাসান ইবনে আবি বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবু উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মালিক বলেছেন: যে সকল ভূমি সন্ধির মাধ্যমে বিজিত হয়েছে তা তার অধিবাসীদের মালিকানাধীন থাকবে, কারণ তারা তাদের ভূখণ্ড রক্ষা করেছিল যতক্ষণ না তারা তার ওপর সন্ধি স্থাপন করেছে; আর যেসব ভূখণ্ড যুদ্ধজয়ের মাধ্যমে অধিকৃত হয়েছে, তা মুসলমানদের জন্য 'ফাই' (রাষ্ট্রীয় সম্পদ)।

আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আল-হাসান ইবনে আলী আল-আমিরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে আদম বলেছেন: হাসান—অর্থাৎ ইবনে সালিহ—খরাজী ভূমি ক্রয় করা অপছন্দ করতেন, তবে হীরা এবং তার সদৃশ সন্ধিকৃত ভূমি ক্রয় করাতে কোনো সমস্যা মনে করতেন না।

আমি বলছি: যারা সাওয়াদ অঞ্চলের ভূমি ক্রয় করা অপছন্দ করেছেন, তারা মূলত দুটি কারণে তা অপছন্দ করেছেন; সেগুলো হলো: প্রথমত, তারা মনে করতেন যে খরাজ প্রদান করা এক প্রকার লাঞ্ছনা বা হীনতা, তাই তারা এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া সমীচীন মনে করেননি; দ্বিতীয়ত, সাওয়াদ অঞ্চল যখন যুদ্ধজয়ের মাধ্যমে বিজিত হয়েছিল এবং একে ওয়াকফ করে রাখা হয়েছিল কিন্তু বণ্টন করা হয়নি, তখন তাদের নিকট এটি এমন বিষয়ে পরিণত হয়েছিল যার ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়; কেবল সেই স্থানগুলো ব্যতীত যেগুলোর অধিবাসীদের জন্য জিম্মা (নিরাপত্তা চুক্তি) থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে অনুমতি প্রদান করা হয়েছে, আর সেগুলো বিশেষভাবে বানিয়া, হীরা এবং আলিস। মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: সাওয়াদ অঞ্চলের কিছু অংশ যুদ্ধজয়ের মাধ্যমে এবং কিছু অংশ সন্ধির মাধ্যমে বিজিত হয়েছে, তবে একটিকে অন্যটি থেকে পৃথক করার কোনো উপায় রাখা হয়নি।

আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আল-হাসান ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু জুবাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আশআস থেকে, তিনি ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: সাওয়াদ অঞ্চলের কিছু অংশ সন্ধিকৃত এবং কিছু অংশ যুদ্ধজয়ের মাধ্যমে বিজিত; সুতরাং যা...
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣٠٨)
كان منه عنوة فهو للمسلمين، وما كان منه صلحا فلهم أموالهم.

وقال يحيى: حدثنا الحسن بن صالح، عن أشعث، عن ابن سيرين، قال: ما نعلم من له صلح ممن ليس له صلح من أهل السواد.

قلت: فيحتمل أن يكون الصلح الذي ذكره ابن سيرين من السواد هو لأهل المواضع التي سميناها في حديث أبي عبيد، ويحتمل أن يكون لقوم آخرين، وإنا نظرنا في ذلك فوجدنا في السواد شيئا ذكر أنه صلح سوى ما تقدم ذكرنا له.

أخبرنا علي بن أبي بكر العبدي، قال: أخبرنا إسماعيل بن محمد الصفار، قال: أخبرنا الحسن بن علي، قال: حدثنا يحيى بن آدم، قال: حدثنا الحسن بن صالح، عن أشعث، عن الشعبي، قال: صالح خالد بن الوليد أهل الحيرة وأهل عين التمر، قال: وكتب بذلك إلى أبي بكر فأجازه.

قال يحيى: قلت للحسن بن صالح: فأهل عين التمر مثل أهل الحيرة، إنما هو شيء عليهم وليس على أرضيهم؟ قال: نعم. وقال يحيى: حدثنا حسن بن صالح، عن جابر، عن الشعبي، قال: لأهل الأنبار عهد، أو قال: عقد.

وذكر محمد بن خلف وكيع القاضي أن محمد بن إسحاق الصغاني أخبرهم، قال: حدثنا أبو سعيد الحداد، قال: حدثنا محمد بن الحسن، عن أبي شيبة، عن الحكم، قال: كلواذا صلح؛ أخبرنا بذلك محمد بن علي
যা শক্তি প্রয়োগে বিজিত হয়েছে তা মুসলিমদের জন্য, আর যা সন্ধির মাধ্যমে বিজিত হয়েছে তাদের ধন-সম্পদ তাদেরই থাকবে।

এবং ইয়াহইয়া বলেন: হাসান ইবনে সলিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আশআস থেকে, তিনি ইবনে সিরিন থেকে; তিনি বলেন: সাওয়াদবাসীদের মধ্যে কার সাথে সন্ধি হয়েছিল আর কার সাথে হয়নি তা আমাদের জানা নেই।

আমি বললাম: ইবনে সিরিন সাওয়াদের যে সন্ধির কথা উল্লেখ করেছেন, তা হতে পারে সেই সব স্থানের অধিবাসীদের জন্য যাদের নাম আমরা আবু উবাইদের হাদিসে উল্লেখ করেছি, আবার এও সম্ভব যে তারা অন্য কোনো সম্প্রদায়। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করেছি এবং সাওয়াদে এমন কিছু পেয়েছি যা আমাদের পূর্বে উল্লিখিত স্থানসমূহ ছাড়াও সন্ধির অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলী ইবনে আবু বকর আল-আবদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে সলিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আশআস থেকে, তিনি শাবি থেকে; তিনি বলেন: খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ হীরাবাসী এবং আইনুত তামরবাসীদের সাথে সন্ধি করেছিলেন। তিনি বলেন: তিনি এ বিষয়ে আবু বকরের নিকট পত্র লিখলেন এবং তিনি তা অনুমোদন করলেন।

ইয়াহইয়া বলেন: আমি হাসান ইবনে সলিহকে বললাম: আইনুত তামরবাসীরা কি হীরাবাসীদের মতো, যাদের ওপর কেবল দায়বদ্ধতা ধার্য করা হয়েছিল কিন্তু তাদের ভূমির ওপর নয়? তিনি বললেন: হ্যাঁ। এবং ইয়াহইয়া বলেন: হাসান ইবনে সলিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাবির থেকে, তিনি শাবি থেকে; তিনি বলেন: আনবারবাসীদের জন্য একটি প্রতিশ্রুতি—বা তিনি বলেছেন একটি চুক্তি—রয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে খালাফ ওয়াকি আল-কাদি উল্লেখ করেছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানি তাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু সাঈদ আল-হাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু শায়বাহ থেকে, তিনি হাকাম থেকে; তিনি বলেন: কুলওয়াজা সন্ধির অন্তর্ভুক্ত ছিল; মুহাম্মদ ইবনে আলী আমাদের এ বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣٠٩)
الوراق، قال: أخبرنا محمد بن جعفر التميمي، قال: حدثنا الحسن بن محمد السكوني، قال: حدثنا محمد بن خلف.

وبغداد من أفنية كلواذا، فقد حصلت من بلاد الصلح على هذه الرواية، وفي كونها صلحا جواز بيع أرضها؛ ولا أحسب الذين كرهوا شراء أرض بغداد انتهت إليهم هذه الرواية عن الحكم. وقد كان الليث بن سعد اشترى شيئا من أرض مصر وحكمها حكم سواد العراق؛ وإنما استجاز الليث ذلك لأنه كان يحدث عن يزيد بن أبي حبيب: أن مصر صلح. وكان مالك بن أنس وعبد الله بن لهيعة ونافع بن يزيد ينكرون على الليث ذلك الفعل؛ لأن مصر كانت عندهم عنوة. ولعل حديث يزيد بن أبي حبيب لم ينته إليهم، أو بلغهم فلم يثبت عندهم، والله أعلم.

‌‌

‌‌فصل

قد ذكرنا فيما تقدم القول بأن السواد في الجملة فتح عنوة وصار غنيمة للمسلمين، فقال بعض أهل العلم: لما لم يقسم ووقف صار بيعه لا يصح، ويؤيد هذا قول عمر بن الخطاب لطلحة بن عبيد الله وعتبة بن فرقد.

أما قوله لطلحة؛ فأخبرنا الحسين بن شجاع الصوفي، قال: حدثنا محمد بن أحمد بن الحسن الصواف، قال: حدثنا محمد بن عبدوس بن كامل ومحمد بن عثمان بن أبي شيبة؛ قالا: أخبرنا أبو بكر بن أبي شيبة، قال: حدثنا حميد بن عبد الرحمن، عن حسن، عن مطرف، عن بعض أصحابه، قال: اشترى طلحة بن عبيد الله أرضا من النشاستك، نشاستك بني طلحة، هذا الذي عند السيلحين. فأتى عمر بن الخطاب فذكر ذلك له، فقال: إني اشتريت أرضا معجبة. فقال له عمر: ممن اشتريتها؟ اشتريتها من أهل الكوفة؟
আল-ওয়াররাক বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আত-তামিমি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাকুনি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে খালাফ।

এবং বাগদাদ কালওয়াজার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর অন্তর্ভুক্ত; এই বর্ণনা অনুযায়ী এটি সন্ধিভুক্ত ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আর এটি সন্ধিভুক্ত হওয়ার কারণে এর জমি কেনাবেচা বৈধ। যারা বাগদাদের জমি কেনা অপছন্দ করতেন, আমি মনে করি না যে আল-হাকাম থেকে বর্ণিত এই বর্ণনাটি তাদের কাছে পৌঁছেছিল। আল-লাইস ইবনে সাদ মিসরের কিছু জমি ক্রয় করেছিলেন, অথচ এর বিধান ইরাকের সাওয়াদ (উর্বর ভূমি) এর বিধানের মতোই। লাইস এটি এজন্য বৈধ মনে করেছিলেন যে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করতেন যে, মিসর সন্ধির মাধ্যমে বিজিত হয়েছে। মালিক ইবনে আনাস, আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়া এবং নাফে ইবনে ইয়াজিদ লাইসের এই কাজের বিরোধিতা করতেন; কারণ তাদের মতে মিসর বলপ্রয়োগের (আনওয়াতান) মাধ্যমে বিজিত হয়েছিল। সম্ভবত ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিবের হাদিসটি তাদের নিকট পৌঁছেনি, অথবা পৌঁছে থাকলেও তা তাদের নিকট প্রমাণিত হয়নি। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

‌‌

‌‌পরিচ্ছেদ

আমরা ইতিপূর্বে এই বক্তব্য উল্লেখ করেছি যে, সাওয়াদ (ইরাকের উর্বর ভূমি) মোটের ওপর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিজিত হয়েছে এবং তা মুসলমানদের জন্য গনিমত হিসেবে গণ্য হয়েছে। ফলে কিছু আলেম বলেছেন: যেহেতু তা বণ্টন করা হয়নি বরং ওয়াকফ করে দেয়া হয়েছে, তাই এর কেনাবেচা সঠিক হবে না। আর উমর ইবনুল খাত্তাব কর্তৃক তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ এবং উতবা ইবনে ফারকাদকে বলা কথাটি এই মতকে সমর্থন করে।

তালহার প্রতি তাঁর বলা কথার ব্যাপারে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন ইবনে শুজা আস-সুফি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনুল হাসান আস-সাউওয়াফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে আবদুস ইবনে কামিল এবং মুহাম্মাদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শায়বা; তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে আবি শায়বা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান, হাসান থেকে, তিনি মুতাররিফ থেকে, তিনি তাঁর জনৈক সাথী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ আন-নাশাসতাজ থেকে কিছু জমি ক্রয় করেছিলেন—যা বনু তালহার নাশাসতাজ এবং এটি সায়লাহিনের নিকট অবস্থিত। অতঃপর তিনি উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট আসলেন এবং বিষয়টি তাঁর কাছে উল্লেখ করে বললেন: আমি একটি চমৎকার জমি কিনেছি। উমর তাকে বললেন: তুমি কার কাছ থেকে এটি কিনেছ? তুমি কি কুফাবাসীদের কাছ থেকে এটি কিনেছ?
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣١٠)
اشتريتها من أهل القادسية؟ قال طلحة: وكيف أشتريها من أهل القادسية كلهم؟ قال: إنك لم تصنع شيئا إنما هي فيء.

وأما قوله لعتبة؛ فأخبرنا محمد بن أحمد بن رزق وأبو الحسين علي بن محمد بن عبد الله بن بشران؛ قالا: حدثنا إسماعيل بن محمد الصفار، قال: حدثنا الحسن بن علي بن عفان، قال: حدثنا يحيى بن آدم، عن عبد السلام بن حرب، عن بكير بن عامر، عن عامر، قال: اشترى عتبة بن فرقد أرضا من أرض الخراج، ثم أتى عمر فأخبره، فقال: ممن اشتريتها؟ قال: من أهلها. قال: فهؤلاء أهلها المسلمون أبعتموه شيئا؟ قالوا: لا. قال: فاذهب فاطلب مالك.

وأخبرنا ابن رزق وابن بشران؛ قالا: حدثنا إسماعيل بن محمد، قال: حدثنا الحسن، قال: حدثنا يحيى، قال: حدثنا قيس، عن أبي إسماعيل، عن الشعبي، عن عتبة بن فرقد، قال: اشتريت عشرة أجربة من أرض السواد على شاطئ الفرات لقضب لدوابي، فذكرت ذلك لعمر،
আপনি কি এটি কাদিসিয়ার অধিবাসীদের থেকে ক্রয় করেছেন? তালহা বললেন: আমি কীভাবে তাদের সকলের থেকে এটি ক্রয় করব? তিনি বললেন: আপনি কিছুই করেননি, কারণ এটি কেবল ফায় (রাষ্ট্রীয় সম্পদ)।

আর উতবার প্রতি তাঁর উক্তির বিষয়ে: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন রিজক এবং আবুল হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান; তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাসান বিন আলী বিন আফফান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আদম, তিনি আব্দুস সালাম বিন হারব থেকে, তিনি বুকাইর বিন আমির থেকে, তিনি আমির থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: উতবা বিন ফারকাদ খারাজি ভূমির অন্তর্ভুক্ত একটি জমি ক্রয় করেন। এরপর তিনি উমরের নিকট এসে তাঁকে অবহিত করলেন। তিনি (উমর) জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কার থেকে এটি ক্রয় করেছেন? তিনি বললেন: এর মালিকদের থেকে। তিনি (উমর) বললেন: এই মুসলিমরাই তো এর মালিক, তোমরা কি তাঁর কাছে কিছু বিক্রি করেছ? তারা বলল: না। তিনি বললেন: তবে যান এবং আপনার অর্থ ফেরত চান।

আমাদের আরও সংবাদ দিয়েছেন ইবনে রিজক এবং ইবনে বিশরান; তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাসান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কাইস, তিনি আবু ইসমাঈল থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি উতবা বিন ফারকাদ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি আমার পশুদের পশুখাদ্যের জন্য ফোরাত নদীর তীরে সাওয়াদ অঞ্চলের দশ জারিব জমি ক্রয় করলাম। এরপর আমি উমরের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম,
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣١١)
فقال لي: اشتريتها من أصحابها؟ قلت: نعم. قال: رح إلي، فرحت إليه، فقال: يا هؤلاء أبعتموه شيئا؟ قالوا: لا، قال: ابتغ مالك حيث وضعته.

وقال قوم: بل السواد ملك لأهله؛ لأن عمر أقره في أيديهم وفرض الخراج عليهم.

وقال قوم: باعهم عمر الأرض بالخراج، فلهم رقاب الأرض يتوارثونها ويتبايعونها. واحتجوا على ذلك بما أخبرنا القاضي أبو الفرج محمد بن أحمد بن الحسن الشافعي، قال: حدثنا أحمد بن يوسف بن خلاد المعدل، قال: حدثنا محمد بن يونس، قال: حدثنا عبد الله بن داود الخريبي، قال: كان الحسن والحسين لا يريان بأسا بأرض الخراج.

وأخبرنا ابن رزق وابن بشران؛ قالا: أخبرنا إسماعيل بن محمد الصفار، قال: حدثنا الحسن بن علي، قال: حدثنا يحيى بن آدم، قال: حدثنا حسن بن صالح، عن ابن أبي ليلى، قال: اشترى الحسن بن علي ملحة أو ملحا، واشترى الحسين شريدين من أرض الخراج، وقال: قد رد إليهم عمر أرضيهم وصالحهم على الخراج الذي وضعه عليهم. قال: وكان ابن أبي ليلى لا يرى بشرائها بأسا.
তিনি আমাকে বললেন: "তুমি কি এটি এর মালিকদের কাছ থেকে ক্রয় করেছ?" আমি বললাম: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "আমার কাছে এসো।" আমি তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি (বিক্রেতাদের উদ্দেশ্যে) বললেন: "হে লোকসকল, তোমরা কি তাঁর কাছে কিছু বিক্রয় করেছ?" তারা বলল: "না।" তিনি বললেন: "তোমার অর্থ যেখানে রেখেছিলে সেখান থেকেই তা তালাশ করো।"

একদল লোক বলেছেন: বরং সাওয়াদ (ইরাকের উর্বর ভূমি) এর অধিবাসীদেরই সম্পদ; কেননা উমর (রা.) তা তাঁদের হাতেই বহাল রেখেছিলেন এবং তাঁদের ওপর খারাজ (ভূমি কর) ধার্য করেছিলেন।

অন্য একদল বলেছেন: উমর (রা.) খারাজের বিনিময়ে তাঁদের কাছে ভূমি বিক্রয় করেছিলেন, ফলে ভূমির মূল মালিকানা তাঁদেরই অর্পিত হয়, যা তাঁরা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেন এবং পরস্পরের মধ্যে কেনাবেচাও করেন। তাঁরা এ বিষয়ে আমাদের নিকট কাজী আবুল ফরাজ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাসান শাফিঈ বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন ইউসুফ বিন খাল্লাদ আল-মুয়াদ্দাল। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইউনুস। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন দাউদ আল-খুরাইবি। তিনি বলেন: হাসান এবং হুসাইন (রা.) খারাজি ভূমির মালিকানায় কোনো সমস্যা মনে করতেন না।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে রিযক এবং ইবনে বিশরান; তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন আলী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আদম। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন সালিহ, ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন: হাসান বিন আলী 'মিলহাহ' বা লবণাক্ত ভূমি ক্রয় করেছিলেন এবং হুসাইন খারাজি ভূমি থেকে 'শারীদাইন' নামক দুটি অংশ ক্রয় করেছিলেন। তিনি বলেন: উমর (রা.) তাঁদের নিকট তাঁদের ভূমি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাঁদের ওপর ধার্যকৃত খারাজের বিনিময়ে তাঁদের সাথে সন্ধি করেছিলেন। তিনি বলেন: ইবনে আবি লায়লা তা ক্রয়ে কোনো সমস্যা মনে করতেন না।
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣١٢)
أخبرنا عبد الله بن يحيى بن عبد الجبار السكري، قال: أخبرنا إسماعيل بن محمد الصفار، قال: حدثنا الحسن بن علي بن عفان، قال: حدثنا يحيى بن آدم، قال: حدثنا ابن المبارك، عن سفيان بن سعيد، قال: إذا ظهر على بلاد العدو فالإمام بالخيار إن شاء قسم البلاد والأموال والسبي بعدما يخرج الخمس من ذلك، وإن شاء من عليهم فترك الأرض والأموال فكانوا ذمة للمسلمين كما صنع عمر بن الخطاب بأهل السواد. فإن تركهم صاروا عهدا توارثوا وباعوا أرضهم. قال يحيى: وسمعت حفص بن غياث يقول: تباع ويقضى بها الدين وتقسم في المواريث.

أخبرنا الحسن بن أبي بكر، قال: أخبرنا عبد الله بن إسحاق، قال: حدثنا علي بن عبد العزيز، قال: قال أبو عبيد: ومع هذا كله إنه قد تسهل في الدخول في أرض الخراج أئمة يقتدى بهم، ولم يشترطوا عنوة ولا صلحا، منهم من الصحابة عبد الله بن مسعود، ومن التابعين محمد بن سيرين وعمر بن عبد العزيز، وكان ذلك رأي سفيان الثوري فيما يحكى عنه.

أما حديث ابن مسعود؛ فأخبرناه أبو سعيد محمد بن موسى بن الفضل بن شاذان الصيرفي بنيسابور، قال: حدثنا أبو العباس محمد بن يعقوب الأصم، قال: حدثنا أبو عمر أحمد بن عبد الجبار العطاردي، قال: حدثنا أبو معاوية عن الأعمش. وأخبرناه أبو الحسن محمد بن أحمد بن رزق البزاز، قال: أخبرنا عثمان بن أحمد الدقاق، قال: حدثنا محمد بن عبيد الله المنادي، قال: أخبرنا أبو بدر، قال: حدثنا سليمان بن مهران، وهو الأعمش، عن شمر
আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল জব্বার আস-সুক্কারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে আফফান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আদম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আল-মুবারক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি বলেছেন: যখন শত্রু দেশের ওপর বিজয় লাভ করা হয়, তখন ইমামের ইখতিয়ার থাকে; তিনি চাইলে এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) বের করার পর জমি, সম্পদ ও যুদ্ধবন্দীদের বণ্টন করে দিতে পারেন, আর চাইলে তাদের প্রতি অনুগ্রহ করে জমি ও সম্পদ তাদের কাছেই রেখে দিতে পারেন, ফলে তারা মুসলমানদের জিম্মি হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি ওমর ইবনুল খাত্তাব সাওয়াদবাসীর সাথে করেছিলেন। যদি তিনি তাদের ছাড় দিয়ে দেন, তবে তারা চুক্তিবদ্ধ প্রজায় পরিণত হয়; তারা তাদের জমির উত্তরাধিকার লাভ করে এবং তা বিক্রিও করতে পারে। ইয়াহইয়া বলেন: আমি হাফস ইবনে গিয়াসকে বলতে শুনেছি: তা বিক্রি করা যাবে, এর মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করা যাবে এবং মিরাসি সম্পদ হিসেবে বণ্টন করা যাবে।

আল-হাসান ইবনে আবি বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উবাইদ বলেছেন: এই সব কিছু সত্ত্বেও, এমন অনেক অনুসরণীয় ইমাম রয়েছেন যারা খারাজি জমিতে প্রবেশের (মালিকানা গ্রহণের) ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন এবং তারা তা শক্তি প্রয়োগে বিজয় (আনওয়াতান) কিংবা সন্ধির (সুলহান) মাধ্যমে বিজিত হওয়ার শর্তারোপ করেননি। তাদের মধ্যে সাহাবীদের মধ্য থেকে রয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, এবং তাবেয়ীদের মধ্য থেকে রয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে সিরিন ও ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ। সুফিয়ান সাওরি থেকেও এই একই অভিমত বর্ণিত হয়েছে।

ইবনে মাসউদের হাদিসের ব্যাপারে বলা যায়—নিশাপুরে আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনুল ফজল ইবনে শাদান আস-সাইরাফি আমাদের তা সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-আসাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ওমর আহমদ ইবনে আব্দুল জব্বার আল-আতারিদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুয়াবিয়া আল-আমাশ থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। আর আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে রিজক আল-বাজজাজ আমাদের তা সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উসমান ইবনে আহমদ আদ-দাক্কাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-মুনাদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বদর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনে মিহরান—যিনি আল-আমাশ নামে পরিচিত—শিমর থেকে।
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣١٣)
ابن عطية، عن المغيرة بن سعد بن الأخرم، عن أبيه، قال: قال عبد الله: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تتخذوا الضيعة فترغبوا في الدنيا. قال عبد الله: وبراذان ما براذان، وبالمدينة ما بالمدينة. فقد ذكر ابن مسعود في هذا الحديث أن له براذان مالا.

أخبرنا أبو أحمد عبد الله بن عبيد الله بن أحمد الدقاق وأبو محمد عبد الله بن يحيى السكري قالا: أخبرنا إسماعيل بن محمد الصفار، قال: حدثنا سعدان بن نصر، قال: حدثنا أبو معاوية، عن الحجاج، عن القاسم بن عبد الرحمن، قال: اشترى عبد الله أرضا من أرض الخراج، قال: فقال له صاحبها، يعني دهقانها: أنا أكفيك إعطاء خراجها والقيام عليها.

وأما حديث ابن سيرين؛ فأخبرناه الحسن بن أبي بكر، قال: أخبرنا عبد الله بن إسحاق البغوي، قال: أخبرنا علي بن عبد العزيز، قال: حدثنا أبو عبيد، قال: حدثني قبيصة، عن سفيان، عن عبد العزيز بن قرير، عن ابن سيرين: أنه كانت له أرض من أرض الخراج، فكان يعطيها بالثلث والربع.
ইবনে আতিয়্যাহ থেকে, তিনি মুগীরা ইবনে সাদ ইবনুল আখরাম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা ভূসম্পত্তি আঁকড়ে ধরো না, নতুবা তোমরা দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বে।" আবদুল্লাহ বললেন: "বারাজানে আমার যা সম্পদ আছে তা আছেই, আর মদিনায় যা আছে তা আছেই।" ইবনে মাসউদ এই হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, বারাজানে তার সম্পদ ছিল।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আহমদ আদ-দাক্কাক এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া আস-সুকারী। তারা উভয়েই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সা’দান ইবনে নাসর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, হাজ্জাজ থেকে, তিনি কাসিম ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ খেরাজি জমির অন্তর্ভুক্ত কিছু জমি ক্রয় করেছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তার মালিক অর্থাৎ সেই ভূস্বামী (দিহকান) তাকে বলল: "আমি আপনার পক্ষ থেকে এর খাজনা প্রদান এবং এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালনের জন্য যথেষ্ট।"

আর ইবনে সীরীনের হাদিসের ব্যাপারে; আমাদের কাছে এটি হাসান ইবনে আবু বকর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইসহাক আল-বাগাবী, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আবদুল আজিজ, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উবাইদ, তিনি বলেছেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন কাবিসা, সুফিয়ান থেকে, তিনি আবদুল আজিজ ইবনে কুরাইর থেকে, তিনি ইবনে সীরীন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তার খেরাজি জমির অন্তর্ভুক্ত কিছু জমি ছিল, যা তিনি এক-তৃতীয়াংশ এবং এক-চতুর্থাংশ ফসলের বিনিময়ে বর্গা প্রদান করতেন।
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣١٤)
وأما حديث عمر بن عبد العزيز؛ فأخبرناه الحسن بن أبي بكر، قال: أخبرنا عبد الله بن إسحاق، قال: أخبرنا علي بن عبد العزيز، قال: حدثنا أبو عبيد، قال: حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، عن حماد بن سلمة، عن رجاء أبي المقدام، عن نعيم بن عبد الله: أن عمر بن عبد العزيز أعطاه أرضا بجزيتها. قال عبد الرحمن: يعني من أرض السواد. قال أبو عبيد: وكأن عمر بن عبد العزيز تأول الرخصة في أرض الخراج أن الجزية التي قال الله تعالى: {حَتَّى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ} إنما هي على الرؤوس لا على الأرض، وكذلك يروى عنه. قال أبو عبيد: وكان يقول: فالداخل في أرض الجزية ليس يدخل في هذه الآية.

قال أبو عبيد: وقد احتج قوم من أهل الرخصة بإقطاع عثمان من أقطع من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم بالسواد، والذي يروى عن سفيان أنه قال: إذا أقر الإمام أهل العنوة في أرضهم توارثوها وتبايعوها، فهذا يبين لك أن رأيه الرخصة فيها.

قال أبو عبيد: وإنما كان اختلافهم في الأرضين المغلة التي يلزمها الخراج من ذوات المزارع والشجر، فأما المساكن والدور بأرض السواد فما علمنا أحدا كره شراءها وحيازتها وسكناها، قد اقتسمت الكوفة خططا في زمن عمر بن الخطاب وهو أذن في ذلك، ونزلها من أكابر أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم رجال منهم: سعد بن أبي وقاص، وعبد الله بن مسعود، وعمار،
আর উমর ইবন আব্দুল আজিজের বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে: আল-হাসান ইবন আবি বকর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবন ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবন আব্দুল আজিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবন মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবন সালামাহ থেকে, তিনি রাজা আবু আল-মিকদাম থেকে, তিনি নুআইম ইবন আব্দুল্লাহ থেকে: উমর ইবন আব্দুল আজিজ তাকে একটি ভূমি এর জিজিয়াসহ দান করেছিলেন। আব্দুর রহমান বলেন: অর্থাৎ সাওয়াদ অঞ্চলের ভূমি থেকে। আবু উবাইদ বলেন: মনে হয় উমর ইবন আব্দুল আজিজ খরাজী ভূমির ক্ষেত্রে এই অবকাশের ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, আল্লাহ তাআলা যে জিজিয়া সম্পর্কে বলেছেন: 'যতক্ষণ না তারা বিনীতভাবে নিজ হাতে জিজিয়া প্রদান করে', তা কেবল ব্যক্তিদের ওপর ধার্যকৃত, ভূমির ওপর নয়। তার থেকে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। আবু উবাইদ বলেন: তিনি বলতেন: সুতরাং যারা জিজিয়া প্রদানকৃত ভূমিতে প্রবেশ করবে, তারা এই আয়াতের আওতাভুক্ত নয়।

আবু উবাইদ বলেন: অবকাশের প্রবক্তা একদল লোক উসমান (রা.) কর্তৃক সাওয়াদ অঞ্চলে নবী (সা.)-এর সাহাবীগণের কয়েকজনকে ভূমি বরাদ্দ দেওয়াকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আর সুফিয়ান থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: ইমাম যদি বিজিত অঞ্চলের অধিবাসীদের তাদের ভূমিতে বহাল রাখেন, তবে তারা সেটির উত্তরাধিকারী হবে এবং তা ক্রয়-বিক্রয়ও করতে পারবে। এটি আপনার কাছে স্পষ্ট করে দেয় যে, তার মত এই বিষয়ে অবকাশের পক্ষেই ছিল।

আবু উবাইদ বলেন: তাদের মধ্যকার মতপার্থক্য ছিল কেবল সেই উৎপাদনশীল ভূমিগুলো নিয়ে যেগুলোর ওপর খরাজ ধার্য হয়, যেমন শস্যক্ষেত এবং ফলের বাগান। কিন্তু সাওয়াদ অঞ্চলের বাসস্থান এবং ঘরবাড়ির ক্ষেত্রে আমরা এমন কাউকে চিনি না যিনি তা ক্রয় করা, মালিকানায় রাখা বা সেখানে বসবাস করাকে অপছন্দ করেছেন। উমর ইবনুল খাত্তাবের যুগে কুফা শহরকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা হয়েছিল এবং তিনি এর অনুমতি দিয়েছিলেন। সেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রবীণ সাহাবীগণের একটি দল বসতি স্থাপন করেছিলেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস, আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ এবং আম্মার,
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣١٥)
وحذيفة، وسلمان، وخباب، وأبو مسعود، وغيرهم. ثم قدمها علي عليه السلام فيمن معه من الصحابة فأقام بها خلافته كلها، ثم كان التابعون بعد بها، فما بلغنا أن أحدا منهم ارتاب بها ولا كان في نفسه منها شيء بحمد الله ونعمته، وكذلك سائر السواد. والحديث في هذا أكثر من أن يحصى.

أخبرنا أبو القاسم الأزهري، قال: أخبرنا أحمد بن محمد بن موسى القرشي. وأخبرنا الحسن بن علي الجوهري، قال: أخبرنا محمد بن العباس بن حيويه الخزاز، قالا: أخبرنا أحمد بن جعفر أبو الحسين، قال: كان فيما حدثني عن العباس بن عبد الله الترقفي قال: حدثني علي بن الصباح ابن أخت الهروي، قال: أتيت عبد الله بن داود الخريبي فسألته عن سكنى بغداد، قال: وما بأس. قلت له: فإن سفيان الثوري كان لا يدخلها. فقال: كان سفيان يكره جوار القوم وقربهم. قلت: فابن المبارك يقولون: إنه كان كلما دخلها تصدق بدينار. فقال: ومن يصحح هذا لنا عن ابن المبارك؟ قلت: فشعيب بن حرب، والفضيل بن عياض. فقال: لم تذكر لنا فقيها بعد. قلت: فما تقول في أرض السواد؟ فقال: خذ بيدك من اتخذ من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم في أرض السواد، اتخذ بها سعد بن أبي وقاص، وابن
এবং হুজায়ফা, সালমান, খাব্বাব, আবু মাসউদ ও অন্যান্যরা। এরপর আলি আলাইহিস সালাম তাঁর সাথে থাকা সাহাবীদের নিয়ে সেখানে আগমন করেন এবং সেখানেই তাঁর পুরো খেলাফতকাল অতিবাহিত করেন। এরপর তাবেঈগণ সেখানে অবস্থান করেন। আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর অনুগ্রহে আমাদের কাছে এমন কোনো সংবাদ পৌঁছেনি যে, তাঁদের কেউ এ বিষয়ে কোনো সংশয় পোষণ করেছেন কিংবা তাঁদের মনে এ নিয়ে কোনো দ্বিধা ছিল। সওয়াদ ভূমির অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এ বিষয়ক বর্ণনা বা হাদিস গণনার অতীত।

আমাদের জানিয়েছেন আবু আল-কাসিম আল-আজহারি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুসা আল-কুরাশি। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান বিন আলি আল-জাওহারি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আল-আব্বাস বিন হাইউয়াহ আল-খাজ্জায, তাঁরা উভয়ই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন জাফর আবু আল-হুসাইন, তিনি বলেন: আব্বাস বিন আব্দুল্লাহ আত-তারকুফি আমার কাছে যা বর্ণনা করেছেন তাতে ছিল, তিনি বলেন: আলি বিন আস-সাবাহ ইবন উখতিল হারাউয়ি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন দাউদ আল-খুরাইবি-র কাছে গিয়ে বাগদাদে বসবাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: এতে সমস্যা কী? আমি তাঁকে বললাম: সুফিয়ান আস-সাওরি তো সেখানে প্রবেশ করতেন না। তিনি বললেন: সুফিয়ান সেই কওমের সান্নিধ্য ও তাদের নিকটবর্তী হওয়া অপছন্দ করতেন। আমি বললাম: ইবনুল মুবারকের ব্যাপারে তারা বলে যে, তিনি যখনই সেখানে প্রবেশ করতেন, তখনই একটি দিনার সদকা করতেন। তিনি বললেন: ইবনুল মুবারকের পক্ষ থেকে এটি আমাদের কাছে কে নির্ভরযোগ্যভাবে বর্ণনা করবে? আমি বললাম: তাহলে শুআইব বিন হারব এবং ফুদাইল বিন ইয়াদ? তিনি বললেন: তুমি আমাদের কাছে এখনও কোনো ফকিহ বা বিজ্ঞ আলিমের নাম উল্লেখ করোনি। আমি বললাম: তাহলে সওয়াদ ভূমি সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে যারা সওয়াদ ভূমিতে বসতি স্থাপন করেছিলেন, তাদের নাম তোমার হাতে গণনা করো; সেখানে সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস এবং ইবন...
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣١٦)
مسعود، وعمار بن ياسر، وحذيفة، وسلمان الفارسي، وأنس بن مالك. قال الترقفي: وسمعت الحسن بن الربيع البوراني قال: قيل لابن المبارك: إن الناس يقولون: إنك كلما دخلت بغداد تصدقت بدينار. فقال: إن دنانيرنا إذا لكثيرة. قال أبو الحسين أحمد بن جعفر: وهذا احتجاز من ابن المبارك وليس هو بجواب سؤال السائل، وكأنه كره المراجعة فاستعمل المحاجزة، وإلا فإن المشهور عنه فيها التغليظ والذم الصريح والصدقة إذا دخلها مجتازا غير مختار، وقد ذكر عنه في ذم ساكنيها مع الكلام أشعار. فمنها ما أخبرته عن أبي الحسن محمد بن محمد المعروف بحبش بن أبي الورد قال: قال ابن المبارك يذم الناسك الذي يسكن بغداد [من الخفيف]:

أيها الناسك الذي لبس الصو … ف وأضحى يعد في العباد

الزم الثغر والتعبد فيه … ليس بغداد مسكن الزهاد
মাসউদ, আম্মার বিন ইয়াসির, হুযাইফা, সালমান আল-ফারিসি এবং আনাস বিন মালিক। আল-তারকাফি বলেন: আমি হাসান বিন আল-রাবি' আল-বুরানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ইবনুল মুবারককে বলা হলো: মানুষ বলে যে, আপনি যখনই বাগদাদে প্রবেশ করেন, তখনই এক দীনার সদকা করেন। তিনি বললেন: তবে তো আমাদের দীনারের সংখ্যা অনেক বেশি হতো। আবু আল-হুসাইন আহমদ বিন জাফর বলেন: এটি ইবনুল মুবারকের পক্ষ থেকে একটি কৌশলী এড়িয়ে যাওয়া ছিল, এটি প্রশ্নকারীর প্রশ্নের সরাসরি উত্তর ছিল না। মনে হয় তিনি তর্কে জড়ানো অপছন্দ করতেন, তাই তিনি এই কৌশল অবলম্বন করেছেন। অন্যথায়, বাগদাদের ব্যাপারে তাঁর কঠোর অবস্থান ও স্পষ্ট নিন্দা প্রসিদ্ধ। আর তিনি কেবল তখনই সদকা করতেন যখন অনিচ্ছাকৃতভাবে যাতায়াতের পথে সেখানে প্রবেশ করতেন। বাগদাদের অধিবাসীদের নিন্দায় তাঁর থেকে কবিতার পঙক্তিও বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো যা আমি আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ—যিনি হাবাশ বিন আবিল ওয়ারদ নামে পরিচিত—তাঁর থেকে জানতে পেরেছি। তিনি বলেন: ইবনুল মুবারক বাগদাদে বসবাসকারী ইবাদতগুজার ব্যক্তির নিন্দা করে বলেছেন [খাফিফ ছন্দে]:

হে ঐ তাপস, যে পশমি বস্ত্র পরি … ধান করেছ এবং ইবাদতগুজারদের মধ্যে গণ্য হতে শুরু করেছ

সীমান্তের প্রহরায় অবিচল থাকো এবং সেখানেই ইবাদত করো … বাগদাদ বিবাগী বা দুনিয়াত্যাগীদের আবাসস্থল নয়।
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣١٧)
إن بغداد للملوك محل … ومناخ للقارئ الصياد

أخبرنا أبو القاسم عبيد الله بن أحمد بن عثمان الصيرفي، قال: حدثنا محمد بن العباس الخزاز، قال: حدثنا عبد الله بن محمد بن عبد العزيز، قال: حدثنا أبو زكريا يحيى بن أيوب العابد، قال: شهدت معروفا، يعني الكرخي، ورجل عنده فذكر أن بغداد غصب، فقال له معروف: يا هذا اتق الله، احفظ لسانك ما نعرف شيئا غصب.

أخبرنا محمد بن علي الوراق وأحمد بن علي التوزي القاضي المحتسب؛ قالا: حدثنا محمد بن جعفر بن هارون الكوفي، قال: حدثنا الحسن بن محمد السكوني، قال: حدثنا محمد بن خلف، قال: زعم عبد الله بن أبي سعد، قال: حدثني أحمد بن حميد بن جبلة، قال: حدثني أبي، عن جدي جبلة، قال: كانت مدينة أبي جعفر قبل بنائها مزرعة للبغداديين يقال لها: المباركة، وكانت لستين نفسا من البغداديين فعوضهم منها عوضا أرضاهم، فأخذ جدي جبلة قسمه منهم. وكان شارع طريق الأنبار لأهل قرية بباب الشام يسمون الترابنة. قال: وقال ابن أبي سعد، عن أبيه، قال: سمعت السري بن الحكم، وأظنه من بجيلة، يزعم أن المنصور كان ابتاع منه ما بين قنطرة البردان إلى الجسر، وأنه لم يقبض ثمن ذلك منه، وأن
নিশ্চয়ই বাগদাদ রাজাদের আবাসস্থল ... এবং শিকারি পাঠকদের বিশ্রামের জায়গা।

আবু আল-কাসিম উবাইদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে উসমান আস-সাইরাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস আল-খায্যায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আল-আবিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মারুফকে (অর্থাৎ আল-কারখি) প্রত্যক্ষ করেছি, সে সময় তাঁর নিকট একজন লোক উপস্থিত ছিল যে উল্লেখ করল যে বাগদাদ জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। তখন মারুফ তাকে বললেন: হে লোক! আল্লাহকে ভয় করো, তোমার জিহ্বা সংযত করো; আমরা কোনো কিছু জোরপূর্বক দখলের কথা জানি না।

মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-ওয়াররাক এবং আহমদ ইবনে আলী আত-তাওযী আল-কাদি আল-মুহতাসিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তাঁরা উভয়ে বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে হারুন আল-কুফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে মুহাম্মদ আস-সাকুনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে খালাফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবি সা’দ দাবি করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে হুমায়দ ইবনে জাবালাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার দাদা জাবালাহ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু জাফরের শহর (বাগদাদ) নির্মাণের পূর্বে এটি বাগদাদবাসীদের একটি কৃষিভূমি ছিল যাকে 'আল-মুবারাকা' বলা হতো। এটি বাগদাদের ষাট জন ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিল, অতঃপর তিনি (খলিফা মনসুর) তাদের এমন বিনিময় প্রদান করলেন যাতে তারা সন্তুষ্ট হলো। এরপর আমার দাদা জাবালাহ তাদের থেকে নিজের প্রাপ্য অংশ গ্রহণ করলেন। আর আনবার অভিমুখী রাস্তার সড়কটি ছিল 'বাব আশ-শাম'-এর একটি গ্রামের অধিবাসীদের জন্য, যাদেরকে 'তারাবিনা' বলা হতো। তিনি বলেন: ইবনে আবি সা’দ তাঁর পিতার সূত্রে বলেছেন, তিনি বলেন: আমি সারী ইবনুল হাকামকে বলতে শুনেছি—আর আমার ধারণা তিনি বাজীলা গোত্রের ছিলেন—তিনি দাবি করছিলেন যে, আল-মনসুর তাঁর কাছ থেকে কানতারা আল-বারাদান হতে সেতু পর্যন্ত এলাকাটি ক্রয় করেছিলেন, কিন্তু তিনি এর মূল্য তাঁর কাছ থেকে বুঝে পাননি, এবং...
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣١٨)
حد أرضه من الجسر حتى ينتهي إلى قرية تعرف بالأثلة على فرسخ من الجانب الشرقي، ومنزله بالحطمية على ميلين من بغداد، ورفع في ذلك إلى الرشيد وإلى المأمون فلم يعطياه.

قلت: وفي حديثي ابن أبي سعد هذين إبطال لقول من زعم أن بغداد دار غصب، ودحض لزعمه وكسر لدعواه. وقد قدمنا القول عمن حكيناه عنه في إجازة بيع أرض السواد، ويحصل منه أن أرض بغداد ملك لأربابها، يصح أن تورث وتستغل وتباع، وعلى ذلك كان من أدركنا من العلماء والقضاة والشهود والفقهاء، لا يكرهون الشهادة في مبيع، ولا يتوقفون عن الحكم في موروث، وبهم يقتدى فيما وقع التنازع فيه، وحكمهم هو الحجة على مخالفيه. مع ما أخبرنا أبو القاسم الأزهري، قال: أخبرنا أحمد بن محمد بن موسى. وأخبرنا الحسن بن علي الجوهري، قال: أخبرنا محمد بن العباس بن حيويه؛ قالا: أخبرنا أحمد بن جعفر ابن المنادي، قال: سأل رجل أحمد بن محمد بن حنبل عن العقار الذي كان يستغله ويسكن في دار منه، كيف سبيله عنده؟ فقال له: هذا شيء ورثته عن أبي؛ فإن جاءني أحد فصحح أنه له خرجت عنه ودفعته إليه.
তাঁর জমির সীমানা ছিল সেতু থেকে আল-আসলাহ নামক পরিচিত একটি গ্রাম পর্যন্ত, যা পূর্ব দিক থেকে এক ফারসাখ দূরে অবস্থিত। তাঁর আবাসস্থল ছিল বাগদাদ থেকে দুই মাইল দূরে আল-হাতামিয়্যাহ নামক স্থানে। বিষয়টি আর-রশিদ এবং আল-মামুনের নিকট উত্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু তাঁরা তা তাঁকে প্রদান করেননি।

আমি বলছি: ইবন আবি সা'দ বর্ণিত এই দুটি বর্ণনার মধ্যে ঐ সকল ব্যক্তির বক্তব্যের অসারতা প্রমাণিত হয় যারা দাবি করে যে বাগদাদ হলো একটি জবরদখলকৃত ভূমি; এটি তাদের ভ্রান্ত ধারণার খণ্ডন এবং তাদের দাবির অকার্যকারিতা প্রমাণ করে। আমরা ইতোপূর্বে ঐ সকল ব্যক্তিদের বক্তব্য পেশ করেছি যাদের থেকে আমরা সাওয়াদ অঞ্চলের ভূমি বিক্রয়ের বৈধতার কথা বর্ণনা করেছি। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বাগদাদের ভূমি এর প্রকৃত মালিকদের নিজস্ব সম্পত্তি; তা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করা, তার দ্বারা উপকৃত হওয়া এবং তা বিক্রয় করা শরীয়তসম্মত। আমাদের দেখা আলিম, বিচারক, সাক্ষী এবং ফকীহগণ এই মতেরই ওপর অটল ছিলেন। তাঁরা কোনো ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সাক্ষী হতে অপছন্দ করতেন না এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে রায় দিতে দ্বিধাবোধ করতেন না। বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তাঁদেরকেই অনুসরণ করা হয় এবং তাঁদের সিদ্ধান্তই এর বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে অকাট্য দলিল। এর পাশাপাশি আবুল কাসিম আল-আযহারী আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আল-হাসান বিন আলী আল-জাওহারীও আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন আল-আব্বাস বিন হাইয়্যুবাইহ আমাদের অবহিত করেছেন; তাঁরা উভয়ে বলেন: আহমাদ বিন জাফর ইবনুল মুনাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বলকে সেই স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন যার দ্বারা তিনি উপকৃত হতেন এবং সেখানকার একটি বাড়িতে বসবাস করতেন—তাঁর নিকট এর বিধান কী? তিনি তাকে বললেন: "এটি এমন সম্পদ যা আমি আমার পিতার নিকট থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি; যদি কেউ আমার কাছে আসে এবং প্রমাণ করতে পারে যে এটি তার হক, তবে আমি তা ছেড়ে দেব এবং তার নিকট হস্তান্তর করব।"
(খণ্ড: ١) তারীখি বাগদাদ - ত বাশশার (পৃষ্ঠা: ٣١٩)
‌‌

‌‌ذكر أقاليم الأرض السبعة وقسمتها

وإن الإقليم الذي فيه بغداد سرتها

ذكر علماء الأوائل أن أقاليم الأرض سبعة، وأن الهند رسمتها فجعلت إقليم بابل وسطها، وجعلت صفة الأقاليم كأنها حلقة مستديرة يكتنفها ست دوائر على هذه الصفة:

فالدائرة الوسطى هي إقليم بابل، والدوائر الست المحدقة بالدائرة الوسطى، كل دائرة منها إقليم من الأقاليم الستة.

فالإقليم الأول منها إقليم بلاد الهند.

والإقليم الثاني إقليم الحجاز.

والإقليم الثالث إقليم مصر.

والإقليم الرابع إقليم بابل، وهو الممثل بالدائرة الوسطى التي اكتنفتها سائر الدوائر، وهو أوسط الأقاليم وأعمرها وفيه جزيرة العرب وفيه العراق الذي هو سرة الدنيا. وحد هذا الإقليم مما يلي أرض الحجاز وأرض نجد الثعلبية من طريق مكة، وحده مما يلي الشام وراء مدينة نصيبين من ديار ربيعة بثلاثة عشر فرسخا، وحده مما يلي أرض خراسان وراء نهر بلخ، وحده مما يلي الهند خلف الدبيل بستة فراسخ، وبغداد في وسط هذا الإقليم.

পৃথিবীর সাতটি অঞ্চল এবং তাদের বিভাজনের বিবরণ

এবং যে অঞ্চলে বাগদাদ অবস্থিত তা হলো এর নাভিকেন্দ্র

প্রাচীন পণ্ডিতগণ উল্লেখ করেছেন যে পৃথিবীর অঞ্চলসমূহ সাতটি। হিন্দুস্তান (ভারত) এগুলোর মানচিত্র এমনভাবে অঙ্কন করেছে যে বাবেল অঞ্চলকে তারা এর মধ্যস্থলে রেখেছে। তারা অঞ্চলসমূহের বৈশিষ্ট্যকে একটি গোলাকার চক্রের ন্যায় নির্ধারণ করেছে, যা এই বর্ণনা অনুযায়ী ছয়টি বৃত্ত দ্বারা পরিবেষ্টিত:

মধ্যবর্তী বৃত্তটি হলো বাবেল অঞ্চল এবং মধ্যবর্তী বৃত্তটিকে পরিবেষ্টনকারী ছয়টি বৃত্তের প্রতিটি বৃত্ত হলো অন্য ছয়টি অঞ্চলের একটি অঞ্চল।

এর মধ্যে প্রথম অঞ্চলটি হলো হিন্দুস্তান অঞ্চল।

দ্বিতীয় অঞ্চলটি হলো হিজাজ অঞ্চল।

তৃতীয় অঞ্চলটি হলো মিশর অঞ্চল।

চতুর্থ অঞ্চলটি হলো বাবেল অঞ্চল, যা সেই মধ্যবর্তী বৃত্ত দ্বারা নির্দেশিত যাকে অন্য সকল বৃত্ত পরিবেষ্টন করে রেখেছে। এটি অঞ্চলসমূহের মধ্যে সর্বাধিক মধ্যবর্তী ও জনবহুল এবং এতে রয়েছে আরব উপদ্বীপ ও ইরাক, যা বিশ্বের নাভিমূল। মক্কার পথ হয়ে হিজাজ ভূমি ও নজদ-ই-সা’লাবিয়্যাহর পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে এই অঞ্চলের সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। সিরিয়ার দিক থেকে এর সীমানা দিয়ারে রাবিআহ-এর নাসিবিন শহরের তের ফারসাখ সামনে পর্যন্ত বিস্তৃত। খোরাসান ভূমির দিক থেকে এর সীমানা বলখ নদীর ওপারে এবং হিন্দুস্তানের দিক থেকে এর সীমানা দায়বুলের ছয় ফারসাখ পেছনে। বাগদাদ এই অঞ্চলের মধ্যস্থলে অবস্থিত।