(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: -)
الأسلوب   (أحمد الشايب)

القسم: البلاغة


الكتاب: الأسلوب

المؤلف: أحمد الشايب

الناشر: مكتبة النهضة المصرية

الطبعة: الثانية عشرة 2003

عدد الصفحات: 206

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-উসলুব   (আহমদ আল-শায়িব)

বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত)


বই: আল-উসলুব

লেখক: আহমদ আল-শায়িব

প্রকাশক: মাকতাবাতুন নাহদাতিল মিসরিয়্যাহ

সংস্করণ: দ্বাদশ, ২০০৩

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৬

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة الطبعة الثانية عشرة:

أريد بهذه المقدمة أن أبين في إجمالي هذا المنهج الجديد لعلم البلاغة العربية، وهو منهج أجملته في كتاب "الأسلوب" منذ ظهرت طبعته الأولى في سنة 1939 ودرسته في كليتي الآداب ودار العلوم بجامعة القاهرة.

ويقوم هذا المنهج على ملاحظة أن الدراسة النظرية للبلاغة العربية انتهت عند المتقدمين إلى علوم المعاني، والبيان، والبديع، يدرسون في الأول الجملة منفصلة أو متصلة، ويدرسون في الأخيرين الصورة بسيطة أو مركبة من تشبيه ومجاز وكناية وحسن تعليل، مع توابع أخرى في علم البديع، وهذه الدراسات على خطرها لا تستوعب أصول البلاغة كما يجب أن تكون، لتساير الأدب الإنشائي في أساليبه وفنونه.

لذلك أشرنا في هذا الكتاب إلى أن علم البلاغة العربية يجب أن يوضع وضعًا جديدًا يلائم ما انتهت إليه الحركة الأدبية في ناحيتيها العلمية والإنشائية.

ورأينا أن يدخل علم البلاغة في بابين أو كتابين:

الأول: باب الأسلوب أو كتابه ويتناول دراسة: الحروف، والكلمات، والجمل، والصور، والفقرات، والعبارات، على أن تدرس درسًا مفصلًا دقيقًا يعتمد على علم الصوت، والنفس، والموسيقى وما إليها مما يقَوِّم الأسلوب على أنه صورة فنية أدبية، وفي هذا الباب أو الكتاب تدخل موضوعات المعاني والبيان والبديع، لا على أنها علوم مستقلة، بل على أنها فصول في باب الأسلوب يتناول بحوثها كما يتناول غيرها.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌দ্বাদশ সংস্করণের ভূমিকা:

এই ভূমিকার মাধ্যমে আমি আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) এই নতুন পদ্ধতির একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরতে চাই। ১৯৩৯ সালে 'আল-উসলুব' (শৈলী) বইটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশের পর থেকে আমি এই পদ্ধতিটির সারসংক্ষেপ প্রদান করেছি এবং কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য অনুষদ ও দারুল উলুমে এটি পড়িয়েছি।

এই পদ্ধতিটি এই পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত যে, প্রাচীন পণ্ডিতদের নিকট আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের তাত্ত্বিক অধ্যয়ন ইলমুল মাআনি, ইলমুল বায়ান এবং ইলমুল বাদি-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তারা প্রথমটিতে (মাআনি) বিযুক্ত বা সংযুক্ত বাক্য নিয়ে আলোচনা করতেন এবং শেষ দুটিতে (বায়ান ও বাদি) উপমা, রূপক, ইঙ্গিত এবং 'হুসনে তালিল' বা উত্তম কারণ প্রদর্শনের মতো সরল বা জটিল চিত্রকল্পের পাশাপাশি ইলমুল বাদি-এর অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। এই অধ্যয়নগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এগুলো অলঙ্কারশাস্ত্রের মূলনীতিসমূহকে সেভাবে পূর্ণাঙ্গরূপে ধারণ করতে পারে না যেভাবে সৃজনশীল সাহিত্যের বিভিন্ন শৈলী ও কলার সাথে তাল মিলিয়ে চলা প্রয়োজন।

এই কারণেই আমরা এই বইটিতে ইঙ্গিত দিয়েছি যে, আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রকে এমন একটি নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন যা জ্ঞানতাত্ত্বিক এবং সৃজনশীল—উভয় দিক থেকে সাহিত্য আন্দোলনের বর্তমান অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

আর আমরা মনে করি যে, অলঙ্কারশাস্ত্রকে দুটি পরিচ্ছেদ বা গ্রন্থে বিন্যস্ত করা উচিত:

প্রথমটি: শৈলী (উসলুব) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ বা গ্রন্থ। এটি বর্ণ, শব্দ, বাক্য, চিত্রকল্প, অনুচ্ছেদ এবং বাচনভঙ্গি পর্যালোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট। এই পর্যালোচনাটি ধ্বনিবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, সঙ্গীততত্ত্ব এবং শৈলীকে একটি শৈল্পিক সাহিত্যিক রূপ হিসেবে গঠনকারী অন্যান্য বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও বিস্তারিতভাবে সম্পন্ন হতে হবে। এই পরিচ্ছেদ বা গ্রন্থের অধীনেই ইলমুল মাআনি, ইলমুল বায়ান এবং ইলমুল বাদি-এর বিষয়বস্তুগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে; তবে এগুলো স্বতন্ত্র কোনো শাস্ত্র হিসেবে নয়, বরং উসলুব বা শৈলী বিষয়ক পরিচ্ছেদের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ হিসেবে আলোচিত হবে, যেখানে অন্যান্য বিষয়ের ন্যায় এগুলোকেও পর্যালোচনা করা হবে।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الفهرس:

الباب الأول: مقدمات

صفحة

9 الفصل الأول: في البلاغة بين العلوم الأدبية

اللغة الفصحة والعامية، العامية ليست لغة الأدب الرسمي، الأدب وعناصره، النقد الأدبي والبلاغة والقرق

بينهما، تاريخ الأدب ومقوماته، متن اللغة، وفقه اللغة، والصرف، والنحو، والعروض.

19 الفصل الثاني: في التعريف بالبلاغة

البلاغة كما عرفها المسلمون والفرنجة، علوم البلاغة العربية وقصورها، البلاغة وعلم النفس، القوى

النفسية والفنون الأدبية، معنى مطابقة لمقتضى الحال، الوحدة النفسية والوحدة الأدبية.

26 الفصل الثالث: في علوم البلاغة

النحو ومهمته الأولية، المنطق، ووظيفته الأولية، البلاغة تعتمد عليها وتمتاز بالجمال الفني أو المطابقة.

30 الفصل الرابع البلاغة بين العلم والفن

الفرق بين العلم والفن، البلاغة علما، البلاغة والفنون العلمية، البلاغة والفنون الجميلة.

35 الفصل الخامس: موضوع علم البلاغة موضوع البلاغة متصل بغايتها، الأسلوب وعلوم البلاغة العربية،

الفنون الأدبية، نواحي القصور في دراستنا البلاغة، حاجتنا إلى علم بلاغي جديد.
সূচিপত্র:

প্রথম অধ্যায়: ভূমিকা

পৃষ্ঠা

৯ প্রথম পরিচ্ছেদ: সাহিত্যিক জ্ঞানশাখাসমূহের মধ্যে অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত)

প্রমিত ও কথ্য ভাষা, কথ্য ভাষা আনুষ্ঠানিক সাহিত্যের ভাষা নয়, সাহিত্য ও তার উপাদানসমূহ, সাহিত্য সমালোচনা ও অলঙ্কারশাস্ত্র এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্য, সাহিত্যের ইতিহাস ও এর ভিত্তি উপাদানসমূহ, মূল ভাষা, ভাষাতত্ত্ব, শব্দতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব এবং ছন্দতত্ত্ব।

১৯ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) সংজ্ঞায়ন

মুসলিম ও ইউরোপীয়দের সংজ্ঞায় অলঙ্কারশাস্ত্র, আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের শাখাগুলো ও এর সীমাবদ্ধতা, অলঙ্কারশাস্ত্র ও মনোবিজ্ঞান, মনস্তাত্ত্বিক শক্তি ও সাহিত্যিক কলাসমূহ, পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী সঙ্গতিপূর্ণ হওয়ার অর্থ, মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য ও সাহিত্যিক ঐক্য।

২৬ তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) জ্ঞানশাখাসমূহ

বাক্যতত্ত্ব ও এর প্রাথমিক দায়িত্ব, যুক্তিবিদ্যা ও এর প্রাথমিক কাজ, অলঙ্কারশাস্ত্র এগুলোর ওপর নির্ভরশীল এবং শৈল্পিক সৌন্দর্য বা সঙ্গতি দ্বারা বিশিষ্টতা লাভ করে।

৩০ চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিজ্ঞান ও শিল্পের মাঝে অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত)

বিজ্ঞান ও শিল্পের মধ্যে পার্থক্য, বিজ্ঞান হিসেবে অলঙ্কারশাস্ত্র, অলঙ্কারশাস্ত্র ও বৈজ্ঞানিক কলাসমূহ, অলঙ্কারশাস্ত্র ও চারুকলাসমূহ।

৩৫ পঞ্চম পরিচ্ছেদ: অলঙ্কারশাস্ত্রের বিষয়বস্তু; অলঙ্কারশাস্ত্রের বিষয়বস্তু এর উদ্দেশ্যের সাথে সম্পৃক্ত, শৈলী ও আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের জ্ঞানসমূহ, সাহিত্যিক কলাসমূহ, আমাদের অলঙ্কারশাস্ত্রের অধ্যয়নে সীমাবদ্ধতার দিকগুলো, একটি নতুন অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ৬)
الباب الثاني: التعريف بالأسلوب

40 الفصل الأول: في حد الأسلوب

المعنى اللغوي، رأى ابن خلدون وتحليله، التعريف الاصطلاحي، تعريف عام: تحصل وتقسيم وتعريف.

47 الفصل الثاني: تكوين الأسلوب

الطالب المبتدئ، وتكون أسلوبه. صلته بطلاب الفنون. الكاتب المنتهي وإنشاؤه الأسلوب، ما يلزم

الكاتب.

50 الفصل الثالث: عناصر الأسلوب

الأسلوب العلمي وعنصراه، الأسلوب الأدبي شعرًا ونثرًا، عناصر الأسلوب الأدبي.

الباب الثالث: الأسلوب والموضوع

56 الفصل الأول: الأسلوب العلمي والأدبي

تكوين الأسلوب العلمي، خواص الأسلوب الأدبي، الفرق بينهما، شواهد

62 الفصل الثاني: في أسلوب الشعر

بين الشعر والنثر، خواص أسلوب الشعر: الوزن، والقافية، والكلمات، والصور، والتراكيب، والعبارات.

73 الفصل الثالث: في اختلاف أساليب الشعر

أساس الاختلاف هو اختلاف الانفعالات وطبيعتها، اختلاف
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রীতির পরিচিতি

৪০ প্রথম অধ্যায়: রীতির সংজ্ঞা প্রসঙ্গে

আভিধানিক অর্থ, ইবনে খালদুনের মত ও তার বিশ্লেষণ, পারিভাষিক সংজ্ঞা, সাধারণ সংজ্ঞা: অর্জন, বিভাজন ও সংজ্ঞা।

৪৭ দ্বিতীয় অধ্যায়: রীতি গঠন

শিক্ষানবিশ শিক্ষার্থী এবং তার রীতি গঠন। শিল্পকলার শিক্ষার্থীদের সাথে তার সম্পর্ক। অভিজ্ঞ লেখক এবং তার রীতি সৃষ্টি, লেখকের জন্য যা আবশ্যক।

৫০ তৃতীয় অধ্যায়: রীতির উপাদানসমূহ

বৈজ্ঞানিক রীতি ও তার উপাদানদ্বয়, কবিতা ও গদ্যের সাহিত্যিক রীতি, সাহিত্যিক রীতির উপাদানসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রীতি ও বিষয়বস্তু

৫৬ প্রথম অধ্যায়: বৈজ্ঞানিক ও সাহিত্যিক রীতি

বৈজ্ঞানিক রীতি গঠন, সাহিত্যিক রীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ, উভয়ের মধ্যে পার্থক্য, নিদর্শনসমূহ।

৬২ দ্বিতীয় অধ্যায়: কাব্যরীতি প্রসঙ্গে

কবিতা ও গদ্যের মাঝে, কাব্যরীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ: ছন্দ, অন্ত্যমিল, শব্দাবলি, চিত্রকল্প, গঠনশৈলী এবং বাক্যসমূহ।

৭৩ তৃতীয় অধ্যায়: কাব্যরীতির ভিন্নতা প্রসঙ্গে

ভিন্নতার ভিত্তি হলো আবেগ ও তার প্রকৃতির ভিন্নতা, পার্থক্য...
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ৭)
أساليب الفن الواحد، شخصية الشاعر وتأثيرها في ذلك، مظاهر هذا الاختلاف، الانفعالات النفسية

والفنون الشعرية، أساليب الحماسة، والنسيب، والرثاء والمدح والهجاء والوصف.

93 الفصل الرابع: في اختلاف أساليب النثر

النثر العلمي ومقوماته، أساليب المقالة، والتاريخ والسيرة، والمناظرة، والجدل، والتأليف، أساليب النثر

الأدبي: الوصف، والرواية، والمقامة، والرسالة، والخطابة.

الفصل الرابع: الأسلوب والأديب

121 الفصل الأول: تمهيد

الأسلوب هو الموضوع، الأسلوب هو الكاتب، الشخصية والأسلوب، الشخصية الفردية والاجتماعية في

الأسلوب.

126 الفصل الثاني: الأسلوب والشخصية

التعريف بالشخصية، مظهرها في أساليب القدامى والمحدثين،

مقومات الشخصية، وآثارها الأسلوبية، الأصالة والتقليد.

137 الفصل الثالث: دلالة الأسلوب على الشخصية

في الشعر، في الخطابة، في الكتابة، في التأليف، شواهد تحليلية للقدامى والمعاصرين.

157 الفصل الرابع: أثر الشخصية في اختلاف الأساليب

نواحي هذه الدراسة: في العبارة، في مقدار الملاءمة بين اللفظ والمعنى في الصنعة البديعية، شواهد

تحليلية شعرًا ونثرًا.
একটি শিল্পের বিবিধ শৈলী, কবির ব্যক্তিত্ব ও এতে তার প্রভাব, এই পার্থক্যের স্বরূপসমূহ, মনস্তাত্ত্বিক আবেগসমূহ

এবং কাব্যকলাসমূহ, বীরত্বগাথা (হামাসা), প্রেমগীতি (নাসিব), শোকগাথা, প্রশংসা, নিন্দা ও বর্ণনার শৈলীসমূহ।

৯৩ চতুর্থ অধ্যায়: গদ্যের শৈলীসমূহের ভিন্নতা প্রসঙ্গে

জ্ঞানতাত্ত্বিক গদ্য ও তার উপাদানসমূহ, প্রবন্ধের শৈলীসমূহ, ইতিহাস ও জীবনী, বিতর্ক, বাদানুবাদ ও গ্রন্থ রচনা, সাহিত্যিক গদ্যের

শৈলীসমূহ: বর্ণনা, আখ্যান (রেওয়ায়াত), মাকামাহ, পত্র এবং বাগ্মিতা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শৈলী ও সাহিত্যিক

১২১ প্রথম অধ্যায়: ভূমিকা

শৈলীই হলো বিষয়বস্তু, শৈলীই হলো লেখক, ব্যক্তিত্ব ও শৈলী, শৈলীতে ব্যক্তিগত ও সামাজিক

ব্যক্তিত্ব।

১২৬ দ্বিতীয় অধ্যায়: শৈলী ও ব্যক্তিত্ব

ব্যক্তিত্বের সংজ্ঞা, প্রাচীন ও আধুনিকদের শৈলীতে এর বহিঃপ্রকাশ,

ব্যক্তিত্বের উপাদানসমূহ এবং এর শৈলীগত প্রভাব, মৌলিকত্ব ও অনুকরণ।

১৩৭ তৃতীয় অধ্যায়: ব্যক্তিত্বের ওপর শৈলীর প্রমাণিকতা

কবিতায়, ভাষণে, লেখায়, গ্রন্থ রচনায়; প্রাচীন ও সমসাময়িকদের বিশ্লেষণাত্মক উদাহরণ।

১৫৭ চতুর্থ অধ্যায়: শৈলীর ভিন্নতায় ব্যক্তিত্বের প্রভাব

এই গবেষণার দিকসমূহ: বাক্যের ক্ষেত্রে, শব্দ ও অর্থের সামঞ্জস্যের মাত্রার ক্ষেত্রে, অলঙ্কারশাস্ত্রে, কবিতা ও গদ্যের

বিশ্লেষণাত্মক উদাহরণ।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ৮)
الباب الخامس: صفات الأسلوب

185 الوضوح، القوة، الجمال

186 الفصل الأول: وضوح الأسلوب

معنى الوضوح ومصدره الأول، وضوح الفكرة، وضوح العبارة.

194 الفصل الثاني: قوة الأسلوب

معنى القوة ومصدرها الأساسي، قوة التصوير، قوة التركيب.

199 الفصل الثالث: جمال الأسلوب

معنى الجمال ومصدره الأصيل، الناحية السلبية، الناحية الإيجابية

202 الفصل الرابع: تداخل الصفات وتعادلها

معنى ذلك، صفات الأسلوب وأنغام الموسيقى، الأسلوب المثالي من هذا الوجه، أمثله.
পঞ্চম অধ্যায়: শৈলীর বৈশিষ্ট্যসমূহ

১৮৫ স্পষ্টতা, শক্তি, সৌন্দর্য

১৮৬ প্রথম পরিচ্ছেদ: শৈলীর স্পষ্টতা

স্পষ্টতার অর্থ ও তার প্রধান উৎস, চিন্তার স্পষ্টতা, অভিব্যক্তির স্পষ্টতা।

১৯৪ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শৈলীর শক্তি

শক্তির অর্থ ও তার মৌলিক উৎস, চিত্রায়নের শক্তি, গঠনের শক্তি।

১৯৯ তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শৈলীর সৌন্দর্য

সৌন্দর্যের অর্থ ও তার আদি উৎস, নেতিবাচক দিক, ইতিবাচক দিক

২০২ চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বৈশিষ্ট্যসমূহের পারস্পরিক প্রবেশ ও সমতা

এর অর্থ, শৈলীর বৈশিষ্ট্য ও সুরের মূর্ছনা, এই দৃষ্টিকোণ থেকে আদর্শ শৈলী, উদাহরণসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الباب الأول: مقدمات

‌‌الفصل الأول: البلاغة بين العلوم الأدبية

1- ليس من غرضنا في هذه الصفحات أن نعرض للقول في أصل اللغة العربية ونشأتها، وبيان الأطوار الأولية التي تعثرت فيها حتى استقامت، وصارت صالحة للتفاهم بين أفراد الأمة العربية، أو قبائلها المختلفة، تفاهمًا شفويا أو كتابيا.

كذلك ليس من شأننا هنا أن نبحث فيما طرأ على هذه اللغة الفصحى بعد الإسلام من العوامل التي شوهت فصاحتها، وآذت سلامتها في أكثر الألسنة حتى شاع فيها اللحن، وانحط الأسلوب، وأصبحنا بذلك نرى لغتين: أحدهما لغة فصيحة ممتازة يقصد إليها الخاصة حين يتناولون الشئون الهامة: خطابة أو حوارًا أو مرسالة أو تأليفًا. والثانية: لغة عامية، هي لغة السواد الأعظم من هذه الشعوب المستعربة، ولغة الخاصة حين يرجعون إلى الحياة الاجتماعية العادية بين الناس.

أقول: إن ذلك وغيره من أبحاث فقه اللغة وتاريخها، وحسبنا هنا أن نقف حيث نعيش، وعند نهاية هذه الأطوار لننظر في هاتين اللغتين، وماذا عسى أن يصل -أو يفصل- بينها وبين الأدب الرسمي، هذا الذي ندرسه في مراجعه المقررة،
প্রথম পরিচ্ছেদ: ভূমিকা

‌প্রথম অধ্যায়: সাহিত্য বিষয়ক জ্ঞানসমূহের মাঝে অলংকারশাস্ত্র

১- এই পৃষ্ঠাগুলোতে আমাদের উদ্দেশ্য আরবি ভাষার মূল ও উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনা করা নয়, এবং সেই প্রাথমিক পর্যায়গুলোর বর্ণনা প্রদান করাও নয় যেগুলোর মধ্য দিয়ে হোঁচট খেতে খেতে এটি স্থিতিশীল হয়েছে এবং আরব জাতির ব্যক্তিগণ বা বিভিন্ন গোত্রসমূহের মধ্যে মৌখিক বা লিখিতভাবে পারস্পরিক বোঝাপড়ার জন্য উপযুক্ত হয়ে উঠেছে।

অনুরূপভাবে, ইসলামের পর এই বিশুদ্ধ ভাষার ওপর আপতিত সেই প্রভাবকসমূহ নিয়ে গবেষণা করাও আমাদের এখানে উদ্দেশ্য নয়, যা এর প্রাঞ্জলতাকে বিকৃত করেছে এবং অধিকাংশের রসনায় এর বিশুদ্ধতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, এমনকি তাতে ব্যাকরণগত ভুল ছড়িয়ে পড়েছে এবং বাচনভঙ্গি নিম্নগামী হয়েছে। এর ফলে আমরা এখন দুটি ভাষা দেখতে পাই: একটি হচ্ছে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও উৎকৃষ্ট ভাষা, যা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী যেমন—বক্তৃতা, কথোপকথন, পত্রালাপ বা গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকেন। আর দ্বিতীয়টি হলো: কথ্য ভাষা, যা এই আরবীয়করণ হওয়া জাতিসমূহের সাধারণ জনগণের ভাষা, এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গেরও ভাষা যখন তারা সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাভাবিক সামাজিক জীবনে ফিরে আসেন।

আমি বলছি: এগুলো এবং এর বাইরে অন্য বিষয়গুলো মূলত ভাষাতত্ত্ব ও ভাষার ইতিহাসের গবেষণার অন্তর্ভুক্ত। আমাদের জন্য এখানে এতটুকুই যথেষ্ট যে, আমরা বর্তমানে যেখানে অবস্থান করছি সেখানে এবং এই পর্যায়গুলোর শেষে এসে এই দুটি ভাষার প্রতি দৃষ্টিপাত করব। আর কী বিষয় এই ভাষাগুলো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সাহিত্যের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে অথবা বিচ্ছেদ ঘটায়—যে সাহিত্য আমরা নির্ধারিত উৎসগ্রন্থসমূহে অধ্যয়ন করে থাকি।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ১০)
ونحمل الطلاب على تأثره أو الانتفاع به، ونزودهم بالوسائل تعينهم على فهمه وتذوقه، وعلى الإنشاء الأدبي الصحيح.

2- اللغة العامية هي لغة الحياة العامة، والتعاون الاجتماعي اللازم لسير الحياة السريعة ونظامها المطرد الشامل، وذلك لسهولتها وشيوعها، ولأنها القدر المشترك بين جميع الطبقات، فالكل يعرفها ويلجأ إليها في حرية ويسر، ولما كانت لغة الشعب ومن صنعه فقد أخضعها لحريته، وأزال عنها القيود العلمية والاصطلاحية وأعانها على أداء مهمتها كما تتطلب الحياة الجارية، فصارت لغة مرنة طيعة قابلة للتطور السريع، لا تنفر من لفظ دخيل، أو تركيب غريب، وإنما تقبله وتشربه روحها فيصقله الاستعمال ويصبح مألوفًا مقبولا، ومن الطبعي إذًا أن تختلف هذه اللغات العامية العربية باختلاف الأقطار والأقاليم وذلك لنفس الأسباب التي اختلفت من أجلها اللغات القديمة حين انفصلت من أصولها الأولى.

فأهل مصر لهم عاميتهم، وأهل العراق لهم عاميتهم، وكذلك المغاربة، كما أن لأهل الصعيد لغتهم العامية التي تخالف لغة سكان الشمال، الذين يختلفون هم أيضًا في عاميتهم، باختلاف الأقاليم، ومعنى هذا أن العامية توشك أن تكون هي اللغة القومية لكل قطر من أقطار الشرق العربي، تتأثر بجوه، وطبيعته، ومزاج أهله، وثقافتهم وأخلاقهم، وتعود بذلك سجل حياتهم الصادق وأقدر على تشرب روحهم وتصوير أفكارهم ونزعاتهم، حين عجزت الفصحى أو عجزوا هم عن أن يلبسوها من شخصيتهم ثوبًا قوميًّا طريفًا ممتازًا. لذلك نشأت هذه الدراسات الحديثة التي تعنى بالعامية فتقيد ألفاظها، ونحوها، ولهجاتها، وآدابها نظمًا ونثرًا، إما لأنها طور من أطوار التاريخ اللغوي والأدبي والاجتماعي، وإما لأنها قد تكون أساسا لهذه اللغات الإقليمية التي قد ينتفع بها فيما بعد كما يرى بعض المفكرين.
আমরা ছাত্রদের এটি দ্বারা প্রভাবিত হতে বা এর থেকে উপকৃত হতে উদ্বুদ্ধ করি এবং আমরা তাদের এমন মাধ্যমসমূহ সরবরাহ করি যা তাদের এটি বুঝতে, আস্বাদন করতে এবং সঠিক সাহিত্যিক রচনায় সহায়তা করে।

২- আঞ্চলিক ভাষা হলো সাধারণ জীবনের ভাষা এবং দ্রুতগতির জীবনের চলমানতা ও তার সামগ্রিক নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক সহযোগিতার মাধ্যম। আর এটি এর সহজবোধ্যতা ও ব্যাপক প্রচারের কারণে এবং এটি সকল স্তরের মানুষের মাঝে একটি সাধারণ বিষয় হওয়ার কারণে। ফলে প্রত্যেকে এটি জানে এবং অত্যন্ত স্বাধীনতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে এর আশ্রয় নেয়। যেহেতু এটি জনগণের ভাষা এবং তাদেরই সৃষ্টি, তাই তারা একে নিজেদের স্বাধীনতার অনুগত করেছে, এর থেকে জ্ঞানতাত্ত্বিক ও পারিভাষিক বিধিনিষেধসমূহ অপসারণ করেছে এবং একে তার ভূমিকা পালনে সহায়তা করেছে যেভাবে প্রাত্যহিক জীবনের চাহিদা থাকে। ফলে এটি একটি নমনীয় ও অনুগত ভাষায় পরিণত হয়েছে যা দ্রুত বিবর্তনে সক্ষম। এটি কোনো বিদেশি শব্দ বা অদ্ভুত গঠনশৈলীকে প্রত্যাখ্যান করে না, বরং একে গ্রহণ করে এবং নিজের সত্তার সাথে মিশিয়ে নেয়, অতঃপর ব্যবহারের মাধ্যমে তা পরিমার্জিত হয় এবং পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। সুতরাং এটি স্বাভাবিক যে, এই আরবি আঞ্চলিক ভাষাগুলো দেশ ও অঞ্চলের ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হবে, ঠিক সেই একই কারণে যে কারণে প্রাচীন ভাষাগুলো তাদের আদি উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় ভিন্নতা লাভ করেছিল।

মিসরীয়দের নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে, ইরাকিদের নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে এবং একইভাবে মাগরেববাসীদেরও। যেমন উচ্চ মিসরের অধিবাসীদের নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে যা উত্তরের অধিবাসীদের ভাষার বিপরীত, যারা আবার অঞ্চলের ভিন্নতার কারণে তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষাতেও ভিন্নতা রাখে। এর অর্থ হলো, আঞ্চলিক ভাষাটি আরব প্রাচ্যের প্রতিটি দেশের জাতীয় ভাষায় পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এটি সেই দেশের পরিবেশ, প্রকৃতি, মানুষের মেজাজ, সংস্কৃতি ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং এর মাধ্যমে তাদের জীবনের এক সত্যনিষ্ঠ দলিলে পরিণত হয় এবং তাদের মানসিকতাকে ধারণ করতে ও তাদের চিন্তা ও প্রবণতাগুলোকে চিত্রায়িত করতে অধিক সক্ষম হয়, যখন প্রমিত ভাষা অক্ষম হয়েছে অথবা তারা প্রমিত ভাষাকে তাদের ব্যক্তিত্বের একটি চমৎকার ও বিশিষ্ট জাতীয় পোশাকে আবৃত করতে অক্ষম হয়েছে। এই কারণেই এই আধুনিক গবেষণাগুলোর উদ্ভব হয়েছে যা আঞ্চলিক ভাষাকে গুরুত্ব দেয় এবং এর শব্দাবলি, ব্যাকরণ, উপভাষা এবং পদ্য ও গদ্য সাহিত্যকে লিপিবদ্ধ করে। হয়তো এই কারণে যে এটি ভাষাগত, সাহিত্যিক ও সামাজিক ইতিহাসের একটি পর্যায়, অথবা এই কারণে যে এটি সেই আঞ্চলিক ভাষাগুলোর ভিত্তি হতে পারে যা থেকে পরবর্তীতে উপকৃত হওয়া যেতে পারে, যেমনটি কিছু চিন্তাবিদ মনে করেন।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ১১)
ومع ذلك لا تعد العامية لغة رسمية ولا يعد أدبها أدبًا رسميًّا يدرس على أنه مقرر يحتذيه المتعلمون لسببين اثنين:

أحدهما: شيوع الخطأ اللفظي والخروج على قوانين النحو والتصريف وعدم التحرج في قبول كل دخيل أو أعجمي من الألفاظ والتراكيب، حتى هجر فيها النحو العربي، وخضعت العبارات لصور أجنبية في تأليف الجمل، وتكوين الأساليب.

ثانيهما: ما غلب على معانيها من التفاهة والعرف، فأغلبها أوامر ونواه وأخبار عادية تتصل بالحياة الجارية، وتتكرر كل وقت، وكل يوم مما لا يستحق درسًا أو تقييدًا: والأدب يجمع بين أمرين:

1- صحة اللفظ.

2- وقيمة المعنى أو سموه، حتى يستحق أن يسمع أو يقرأ في كتاب.

وليس معنى هذا خلو العامية من الألفاظ الصحيحة أو المعاني القيمة، كلا، فاللغة العامية هي الفصحى طرأت عليها أخطاء، ودخلت عليها تراكيب، لم تستطع أن تمحو صوابها كله، كذلك نجد فيها فنونا أدبية من النثر والنظم -كالجدل والحكم والأمثال والأغاني والمواويل والأزجال- تجعلها معرضا لكثير من المعاني والموضوعات الأدبية القيمة، ولكنها من الأدب الشعبي على أية حال. ولسنا بذلك ننكر قيمة هذا الأدب في جماله وتصويره حياة الشعوب لذلك قامت له دراسات خاصة تقابل دراسات الأدب الفصيح.

3- أما اللغة الفصحى، التي لم تشوه بهذه الأخطاء اللفظية، فهي لغة الأدب الرسمي، يعتمد عليها الكتاب حين يريدون التعبير عن الأفكار أو تصوير الشعور؛ أو تأليف المسائل والآراء العلمية إذا كانت الفن الكلامي الذي يؤدي ما في النفوس من ثرات العقول ونوازع الانفعال والميول، فإذا حاولنا الظفر بمثال
তা সত্ত্বেও, কথ্য ভাষা দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে গণ্য হয় না এবং এর সাহিত্যকেও দাপ্তরিক সাহিত্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় না যা শিক্ষার্থীদের অনুসরণযোগ্য পাঠ্যক্রম হিসেবে পড়ানো হয়। এর দুটি কারণ রয়েছে:

প্রথমত: শাব্দিক ভুলের ব্যাপকতা এবং ব্যাকরণ ও শব্দতত্ত্বের নিয়মের বিচ্যুতি। সেই সাথে যেকোনো বিদেশি বা অনারব শব্দ ও গঠন গ্রহণে সংকোচহীনতা, যার ফলে এতে আরবি ব্যাকরণ পরিত্যক্ত হয়েছে এবং বাক্য গঠন ও শৈলী নির্মাণের ক্ষেত্রে বাক্যগুলো বিদেশি রূপের অনুগত হয়ে পড়েছে।

দ্বিতীয়ত: এর অর্থগত তুচ্ছতা ও লৌকিকতার আধিক্য। কারণ এর অধিকাংশ হলো দৈনন্দিন জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট সাধারণ আদেশ-নিষেধ এবং সংবাদ, যা প্রতি মুহূর্তে ও প্রতিদিন পুনরাবৃত্ত হয় এবং তা অধ্যয়ন বা লিপিবদ্ধ করার যোগ্য নয়। আর সাহিত্য দুটি বিষয়ের সমন্বয় ঘটায়:

১- শব্দের বিশুদ্ধতা।

২- অর্থের মূল্য বা তার আভিজাত্য, যাতে তা কোনো গ্রন্থে পঠিত বা শ্রুত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে।

এর অর্থ এই নয় যে কথ্য ভাষা সঠিক শব্দ বা মূল্যবান অর্থ থেকে শূন্য; কক্ষনো না। বরং কথ্য ভাষা মূলত সেই মার্জিত ভাষাই যাতে ভুলভ্রান্তি দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন বিদেশি গঠন এতে প্রবেশ করেছে, তবে তা এর সমস্ত সঠিকত্বকে মুছে ফেলতে পারেনি। অনুরূপভাবে, আমরা এতে গদ্য ও পদ্যের বিভিন্ন সাহিত্যকলা খুঁজে পাই—যেমন বিতর্ক, প্রজ্ঞা, প্রবাদ-প্রবচন, গান, মাওয়াবিল ও আজজাল—যা একে অনেক মূল্যবান সাহিত্যিক অর্থ ও বিষয়ের প্রদর্শনীতে পরিণত করে, কিন্তু যাই হোক না কেন, এটি লোকসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত। আমরা এর সৌন্দর্য এবং জনগণের জীবনের চিত্রায়নে এই সাহিত্যের গুরুত্বকে অস্বীকার করি না। এই কারণেই মার্জিত সাহিত্যের গবেষণার সমান্তরালে এর জন্য বিশেষ গবেষণার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

৩- পক্ষান্তরে মার্জিত ভাষা, যা এই সকল শাব্দিক বিকৃতি দ্বারা কলুষিত হয়নি, তা হলো দাপ্তরিক সাহিত্যের ভাষা। লেখকগণ যখন তাদের চিন্তা প্রকাশ করতে বা অনুভূতি চিত্রায়িত করতে চান, অথবা বৈজ্ঞানিক সমস্যা ও মতামত সংকলন করতে চান, তখন এর ওপরই নির্ভর করেন; যেহেতু এটি এমন এক বাচনিক শিল্প যা অন্তরে নিহিত বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য এবং আবেগের তাড়না ও প্রবণতাসমূহকে প্রকাশ করে। আমরা যদি এর একটি উদাহরণ পেতে চেষ্টা করি...
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ১২)
للأدب بحثنا عنه في المؤلفات المدونة باللغة الصحيحة، مهما يكن نوع هذا الأدب خاصا أو عاما؛ وليكن قول المتنبي:

من الحلم أن تستعمل الجهل دونه … إذا اتسعت في الحلم طرق المظالم

وأن ترد الماء الذي شطره دم … فتسقى إذا لم يسق من لم يزاحم

ومن عرف الأيام معرفتي بها … وبالناس روى رمحه غير راحم

فلا هو مرحوم إذا ظفروا به … ولا في الردى الجاري عليهم بآثم

فأول ما يلقانا من هذا المثال هو "عاطفة" أو انفعال السخط والعدوان الذي سيطر على نفس الشاعر فأنطقه بهذه الأبيات القوية الثائرة التي حشد فيها الظلم والدم وأنكر الإنصاف والتراحم. وهذه العاطفة نفسها قد سندتها فكرة هي لها كالبرهان المنطقي، فالجهل حتى إذا لم ينفع الحلم، والجهاد الأحمر واجب إذا لم يكن منه بد لتحقيق الرغبات، فالحق للقوة، والناس لا يؤمنون إلا بالرهبة، والويل للضعيف إذا هان.

وهنا وقد ظفرنا بعنصرين من عناصر الأدب: العاطفة Emotion والفكرة Thought وبعد هذا نلاحظ أن هذه العاطفة القوية احتاجت في تصويرها هنا إلى عناصر وفنون بيانية من التشبيه، والاستعارة، والكناية، وذلك لعجز اللغة العادية عن تصوير القوة الانفعالية في نفس الشاعر فاحتال وكون من هذه العناصر الحربية لغة فنية هي كفاء ما في نفسه من شعور، فهذه الصور تؤلف عنصرًا ثالثًا هو الخيال Imagination وهو لازم في كثير من الأحيان للتعبير عن العاطفة.

وأخيرًا نجد العبارة اللفظية التي قد تسمى الأسلوب Style وهي الوسيلة اللازمة لنقل أو إظهار ما نفس الأديب من تلك العناصر المعنوية فصار الأدب ينحل إلى هذه العناصر الرئيسية الأربعة؛ وهذا التحليل نفسه يتوافر في النثر كما توافر
সাহিত্যের জন্য আমরা বিশুদ্ধ ভাষায় সংকলিত গ্রন্থসমূহ অনুসন্ধান করি, চাই সেই সাহিত্য বিশেষ হোক কিংবা সাধারণ; উদাহরণস্বরূপ মুتانাব্বির এই উক্তিটি নেওয়া যাক:

সহনশীলতার পরিচয় হলো এর স্থলে কঠোরতা ব্যবহার করা … যখন সহনশীলতার পথে জুলুমের পথ প্রশস্ত হয়ে যায়

আর সেই পানির ঘাটে উপনীত হওয়া যার অর্ধেকই রক্ত … ফলে তুমি তৃষ্ণা নিবারণ করবে যখন সেই ব্যক্তি বঞ্চিত থাকবে যে ভিড় করবে না

আর যে ব্যক্তি কালচক্র সম্পর্কে আমার মতো অবগত … এবং মানুষ সম্পর্কে অভিজ্ঞ, সে দয়াহীনভাবে আপন বর্শাকে সিক্ত করবে

সুতরাং শত্রুরা তাকে বাগে পেলে সে দয়া পাবে না … আর তাদের ওপর আপতিত ধ্বংসের জন্য সে কোনো পাপী সাব্যস্ত হবে না

এই উদাহরণটি থেকে আমাদের সামনে সর্বপ্রথম যা ফুটে ওঠে তা হলো "আবেগ" অথবা ক্ষোভ ও আগ্রাসনের এক উত্তেজনা যা কবির সত্তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, ফলে তিনি এই শক্তিশালী ও বৈপ্লবিক পংক্তিগুলো উচ্চারণ করেছেন যাতে তিনি জুলুম ও রক্তকে পুঞ্জীভূত করেছেন এবং ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক দয়াকে অস্বীকার করেছেন। আর এই আবেগটি নিজেই একটি চিন্তার দ্বারা সমর্থিত যা এর জন্য যৌক্তিক প্রমাণের মতো; যেমন- সহনশীলতা যখন ফলপ্রসূ হয় না তখন কঠোরতা অবলম্বন করা, আর লক্ষ্য অর্জনে যখন কোনো বিকল্প থাকে না তখন রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম অপরিহার্য। কেননা শক্তিই সত্যের মাপকাঠি, আর মানুষ ভীতি ছাড়া অন্য কিছুতে বিশ্বাস করে না, আর দুর্বলের জন্য দুর্ভোগ যখন সে হীনতা স্বীকার করে।

এখানে আমরা সাহিত্যের উপাদানগুলোর মধ্য থেকে দুটি উপাদান লাভ করেছি: আবেগ (Emotion) এবং চিন্তা (Thought)। এরপর আমরা লক্ষ্য করি যে, এই শক্তিশালী আবেগটিকে ফুটিয়ে তোলার জন্য এখানে উপমা, রূপক এবং ইঙ্গিতধর্মী অলঙ্কারশাস্ত্রের বিভিন্ন কৌশলের প্রয়োজন হয়েছে। এর কারণ হলো সাধারণ ভাষা কবির অন্তরের এই আবেগীয় শক্তিকে চিত্রায়িত করতে অক্ষম ছিল, তাই তিনি কৌশল অবলম্বন করেছেন এবং এই যুদ্ধংদেহী উপাদানগুলোর সমন্বয়ে একটি শৈল্পিক ভাষা নির্মাণ করেছেন যা তার অন্তরের অনুভূতির উপযুক্ত প্রতিফলন। সুতরাং এই চিত্রকল্পগুলো একটি তৃতীয় উপাদান গঠন করে, যা হলো কল্পনা (Imagination); আর আবেগকে প্রকাশের জন্য এটি অনেক ক্ষেত্রেই অপরিহার্য।

সবশেষে আমরা পাচ্ছি শাব্দিক প্রকাশভঙ্গি যাকে শৈলী (Style) বলা যেতে পারে, আর এটিই হলো সাহিত্যিকের অন্তরে বিদ্যমান সেই ভাবগত উপাদানগুলোকে ব্যক্ত বা সঞ্চারিত করার প্রয়োজনীয় মাধ্যম। ফলে সাহিত্য এই চারটি প্রধান উপাদানে বিশ্লেষিত হয়; আর এই বিশ্লেষণ গদ্যের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনি প্রযোজ্য যেমনটি প্রযোজ্য ছিল...
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ১৪)
لاحق، والأدب فن إنشائي إيجابي ينتج هذه القطع الممتازة التي نظفر بها بصدق الشعور وحسن التفكير والتعبير، ولكن النقد فن وصفي سلبي في أصله، يقوم بمحاسبة الأدب المنشئ، وكثيرًا ما يستحيل فنًّا نافعا يرشد الأدباء كما تقوم بذلك البلاغة.

وقد زها النقد الأدبي منذ العصر الجاهلي وتواردت عليه فيما بعد جهود النحاة واللغويين والأدباء1، وألفت فيه كتب شتى تجمع مسائل مختلطة بغيرها من مسائل النحو والبلاغة والسير والأنساب. وكان الذوق هو الحكم الأول في ناحيته الفنية وإن حاول بعض المحدثين أن يضعوا له قوانين عامة تشبه القوانين العلمية2.

5- ولقد كان النقد الأدبي من أهم العوامل في إيجاد البلاغة وذلك أن هذه الملاحظات والأحكام النقدية أفادت جماعة العلماء فأحالوها قوانين وأصولا، ودونوها في فصول مختلطة بالنقد حينًا ومنفصلة أخيرًا، حتى كان أساسًا صالحًا لتكوين قواعد بلاغية قامت بوظيفتها فيما مضى وهي الآن آخذة في الاكتمال لعلها تنهض بالواجب عليها من الآن.

ومن يقرأ المؤلفين في هذا الباب من عهد الجاحظ المتوفى سنة 355هـ، وابن المعتز 936هـ، وقدامه 310هـ، والعسكري 350هـ، وعبد القاهر الجرجراني 317هـ، والثعالبي 429هـ، وابن رشيق 463هـ، إلى الزمخشري 538هـ، والسكاكي 626هـ. يتراءى له مما قلنا من أن النقد كان عاملا هاما في هذا التقنين البياني: وأن هذين العلمين -أو الفنين- قد عاشا مختلطين لم ينفصلا إلا بعد جهد عنيف: وهذا الاختلاط بين مسائلهما طبعي ما دام موضوعهما واحدًا هو النصوص الأدبية من حيث توافر الجمال والتأثير. فالبلاغة ترشدنا بقواعدها

--------------------------------------------

1 تاريخ النقد الأدبي عند العرب للمرحوم الأستاذ طه إبراهيم.

2 أصول النقد الأدبي للمؤلف.
পরবর্তী বিষয় হলো, সাহিত্য হলো একটি ইতিবাচক সৃজনশীল শিল্প যা সেই সব চমৎকার রচনা তৈরি করে যা আমরা অনুভূতির সততা এবং চিন্তা ও প্রকাশের উৎকর্ষের মাধ্যমে লাভ করি। তবে সমালোচনা মূলত একটি নেতিবাচক বর্ণনামূলক শিল্প, যা সৃজনশীল সাহিত্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এবং অনেক সময় এটি একটি উপকারী শিল্পে পরিণত হয় যা সাহিত্যিকদের পথপ্রদর্শন করে, যেমনটি অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) করে থাকে।

জাহেলি যুগ থেকেই সাহিত্য সমালোচনা সমৃদ্ধ হয়েছে এবং পরবর্তীতে এতে ব্যাকরণবিদ, ভাষাবিদ ও সাহিত্যিকদের প্রচেষ্টা যুক্ত হয়েছে১, এবং এই বিষয়ে বিভিন্ন গ্রন্থ রচিত হয়েছে যা ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র, জীবনী ও বংশলতিকার বিভিন্ন বিষয়ের সাথে মিশ্রিত বিবিধ আলোচনার সমাহার। এর শৈল্পিক দিকের ক্ষেত্রে রুচিবোধই ছিল প্রধান বিচারক, যদিও কিছু আধুনিক পণ্ডিত এর জন্য বৈজ্ঞানিক নিয়মের অনুরূপ কিছু সাধারণ নিয়ম নির্ধারণ করার চেষ্টা করেছেন২।

৫- বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্র উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সাহিত্য সমালোচনা ছিল অন্যতম প্রধান উপাদান। কারণ, এই সমালোচনামূলক পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তসমূহ একদল আলিমকে উপকৃত করেছিল, ফলে তারা এগুলোকে নিয়ম ও নীতিতে রূপান্তরিত করেছিলেন এবং সেগুলোকে কখনও সমালোচনার সাথে মিশ্রিত অধ্যায়ে আবার কখনও পৃথকভাবে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত এটি অলঙ্কারশাস্ত্রের নিয়মাবলি গঠনের একটি উপযুক্ত ভিত্তিতে পরিণত হয়, যা অতীতে তার দায়িত্ব পালন করেছে এবং বর্তমানে এটি পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যাতে করে সম্ভবত এখন থেকে এটি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারে।

যারা এই বিষয়ে ৩৫৫ হিজরিতে ইন্তেকালকারী জাহিজ, ৯৩৬ হিজরিতে ইবনে আল-মু’তায, ৩১০ হিজরিতে কুদামা, ৩৫০ হিজরিতে আল-আসকারি, ৩১৭ হিজরিতে আব্দুল কাহের আল-জুরজানি, ৪২৯ হিজরিতে আস-সা’লাবি, ৪৬৩ হিজরিতে ইবনে রাশিক থেকে শুরু করে ৫৩৮ হিজরিতে আয-যামাখশারি এবং ৬২৬ হিজরিতে আস-সাক্কাকি পর্যন্ত লেখকদের গ্রন্থসমূহ পাঠ করবেন, তাদের নিকট আমাদের বলা কথাটি স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, এই আলঙ্কারিক নিয়মাবদ্ধকরণের ক্ষেত্রে সমালোচনা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আর এই দুটি ইলম বা শিল্প একে অপরের সাথে সংমিশ্রিত অবস্থায় অতিবাহিত হয়েছে এবং কঠোর প্রচেষ্টা ব্যতিরেকে তারা পৃথক হয়নি। তাদের এই বিষয়বস্তুর মধ্যকার সংমিশ্রণটি স্বাভাবিক, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের উভয়ের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে সাহিত্যিক পাঠ্যসমূহ—সৌন্দর্য ও প্রভাবের প্রাচুর্যের প্রেক্ষাপটে। সুতরাং অলঙ্কারশাস্ত্র তার নিয়মাবলির মাধ্যমে আমাদের পথ দেখায়—

--------------------------------------------

১. মরহুম উস্তাদ তাহা ইব্রাহিম রচিত 'তারিখুন নাকদিল আদাবি ইনদাল আরব' (আরবদের নিকট সাহিত্য সমালোচনার ইতিহাস)।

২. লেখক রচিত 'উসুলুন নাকদিল আদাবি' (সাহিত্য সমালোচনার মূলনীতি)।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ১৫)
بقواعدها إلى الطرق والوسائل التي تجعل كلامنا نافعًا مؤثرًا والنقد يضع لنا المقاييس العامة التي نقدر بها ما في الكلام من فائدة أو قوة أو جمال. ومع ذلك فيمكن الفرق بينهما من وجهين:

الأول:

إن البلاغة أقرب إلى الناحية الفنية الإيجابية ما دامت قواعدها ترشدنا إلى الإنشاء الصحيح، وإلى الطرق المختلفة لتأليف الكلام الممتاز بالإفادة وقوة التأثير، وإلى نوع الفن الأدبي الذي يكون أوفق من سواه لمقتضى الحال.

وأما النقد فإنه يفرض أن الكلام قد تم إنشاؤه، وانتهى منه صاحبه، ثم يعرض علينا مقاييسه العامة التي نقيس بها الكلام لبيان قيمته الفنية والحكم له أو عليه فهو متأخر الوظيفة، يُعنى كما قلنا، بمحاسبة الأديب بعد أن ترشده البلاغة إلى حسن التعبير.

الثاني:

إن البلاغة تعنى أكثر ما تعنى بالأسلوب. فهي كذلك تفرض أن الكاتب لديه ما يود أن يقوله أو يكتبه من المعاني والأفكار أيا كانت قيمتها أو درجتها، من السمو أو الضعة، ثم ترسم له خطة الأداء قولًا أو كتابة: ولكن النقد يتناول الاثنين: المعاني والأساليب فيسأل عن صحة المعاني وقيمتها، ومقدار آثارها في القراء أو السامعين، ثم يتبين في الأسلوب -ولكن من ناحية عامة- مقدار ما فيه من الوضوح والقوة والجمال. وهنا نلاحظ أن دائرة النقد أوسع، وإن كانت قوانين البلاغة أدق من مقاييس النقد الأدبي كما يمر بك بعد حين1.

6- هذا الأدب الذي أشرنا إليه كثيرًا ما يجاوز الباحثون نقده إلى معارف

--------------------------------------------

1 راجع winehestsr principles of Ligerary Crtieism p16
এর নিয়মনীতির মাধ্যমে এমন সব পথ ও পদ্ধতির দিকে নির্দেশ করে, যা আমাদের কথাকে ফলপ্রসূ ও প্রভাবশালী করে তোলে; আর সমালোচনা আমাদের জন্য এমন সাধারণ মানদণ্ড নির্ধারণ করে, যার মাধ্যমে আমরা বক্তব্যের মধ্যস্থিত উপকারিতা, শক্তি বা সৌন্দর্য নিরূপণ করি। তবুও, এ দুটির মধ্যে দুটি দিক থেকে পার্থক্য করা সম্ভব:

প্রথমত:

অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) ইতিবাচক শৈল্পিক দিকের অধিক নিকটবর্তী, যতক্ষণ এর নিয়মনীতি আমাদের সঠিক রচনাশৈলীর দিকে, এবং ফলপ্রসূতা ও প্রভাব বিস্তারের শক্তিতে শ্রেষ্ঠ বক্তব্য সংকলনের বিভিন্ন পদ্ধতির দিকে, এবং এমন সাহিত্যিক শিল্পের প্রকারের দিকে পথপ্রদর্শন করে যা পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী অন্য যে কোনো কিছুর তুলনায় অধিকতর উপযোগী হয়।

আর সমালোচনার ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয় যে, বক্তব্যটি ইতিমধ্যে রচিত হয়ে গেছে এবং লেখক তা সম্পন্ন করেছেন; অতঃপর তা আমাদের সামনে এর সাধারণ মানদণ্ডগুলো উপস্থাপন করে, যার মাধ্যমে আমরা বক্তব্যের শৈল্পিক মূল্য স্পষ্ট করার জন্য এবং তার সপক্ষে বা বিপক্ষে রায় দেওয়ার জন্য তা পরিমাপ করি। সুতরাং এটি কাজের দিক থেকে পরবর্তী পর্যায়ের; যা আমরা বলেছি যে, অলঙ্কারশাস্ত্র সাহিত্যিককে সুন্দর অভিব্যক্তির পথ দেখানোর পর এটি তাকে পর্যালোচনা করার দায়িত্ব পালন করে।

দ্বিতীয়ত:

অলঙ্কারশাস্ত্র প্রধানত বর্ণনাভঙ্গির (শৈলী) সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি একইভাবে ধরে নেয় যে, লেখকের কাছে এমন কিছু অর্থ ও চিন্তা রয়েছে যা তিনি বলতে বা লিখতে চান, তার মূল্য বা মান যাই হোক না কেন—উন্নত কিংবা নিম্নমানের; অতঃপর এটি তার জন্য মৌখিক বা লিখিত উপস্থাপনার একটি পরিকল্পনা এঁকে দেয়। কিন্তু সমালোচনা উভয় বিষয় নিয়েই আলোচনা করে: অর্থ এবং বর্ণনাভঙ্গি; ফলে এটি অর্থের সঠিকতা ও মূল্য সম্পর্কে এবং পাঠক বা শ্রোতাদের ওপর তার প্রভাবের মাত্রা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে। অতঃপর এটি বর্ণনাভঙ্গিতে—তবে সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে—তার মধ্যকার স্পষ্টতা, শক্তি ও সৌন্দর্যের পরিমাণ নির্ণয় করে। এখানে আমরা লক্ষ্য করি যে, সমালোচনার পরিধি অধিক বিস্তৃত, যদিও অলঙ্কারশাস্ত্রের নিয়মাবলি সাহিত্য সমালোচনার মানদণ্ডের তুলনায় অধিক সূক্ষ্ম, যা আপনি কিছুক্ষণ পরেই জানতে পারবেন ১।

৬- এই সাহিত্য যার দিকে আমরা বারবার ইঙ্গিত করেছি, গবেষকগণ প্রায়শই এর সমালোচনা ছাড়িয়ে অন্যান্য জ্ঞানরাজ্যের দিকে অগ্রসর হন

--------------------------------------------

১ দেখুন: উইনচেস্টার, প্রিন্সিপালস অব লিটারারি ক্রিটিসিজম, পৃষ্ঠা ১৬।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ১৬)
ومحاولات عدة تزيد جوانبه إيضاحًا وتعلل كثيرًا من مظاهره الأخرى فتجدهم مثلا يقفون عند الأدب الجاهلي، ويدرسون فنونه المختلفة ويحللون نصوصه إلى عناصرها، ويلاحظون على هذه الفنون والعناصر ملاحظات تتصل بسذاجتها، أو قوتها، أو شدة اتصالها بالبادية أو الحياة الصحراوية الفقيرة المضطربة، ثم يستخلصون من ذلك البحث الشامل العميق أحكامًا عامة تدون في فصول منسقة هي تاريخ الأدب الجاهلي، ومثل ذلك يقال في العصر الأموي والعباسي والعصر الحديث، ترى لكل عصر خواصه الأدبية، والمؤثرات المختلفة -العلمية والفنية والاقتصادية، والسياسية، والدينية، والشخصية- التي أكسبت الأدب هذه الخواص فامتاز بها من سواه وصار عصرًا أدبيًّا مستقلًّا عن سائر العصور، ونتائج هذه الأبحاث هي تاريخ الأدب الذي يمكن تعريفه بأنه بيان المشخصات الأدبية لكل عصر مع شرح أسبابها، ومن هنا نعرف أن تاريخ الأدب ليس قصصًا وأنسابًا ونوادر، وإنما هو نقد وتحليل وتعليل، شأنه شأن التاريخ الطبيعي حين يتناول الكائنات بالتحليل والتفسير والموازنة والاستنباط ليصل عن ذلك إلى أحكام عامة تكون التاريخ، وكذلك الشأن في التاريخ السياسي والاجتماعي والاقتصادي، كله نقد وتنسيق لا قصص وأساطير وعلى هذا الأساس قام الخلاف حول التاريخ أعلم هو أم أدب؟ فمن نظر إلى المسائل الواقعية التي يتناولها ويدرسها رأى فيه علما له حقائقه ونتائجه؛ ومن نظر إلى تدخل الشخصية ووجهة النظر في تصور الحوادث وتصورها قرر أنه أدب، والحق أنه أدب بالمعنى العام أو علم بالمعنى العام ففيه من كل شيء يقفه هذا الموقف الوسيط: ومما تقدم نستطيع استخلاص النتائج الآتية:

الأول: أن الأدب فن خالص، وهو من الفنون الجميلة التي تعتمد على الجمال في التعبير عن عواطف الإنسان وأفكاره، أو عن شخصيته الفنية، ولكن تاريخ الأدب يجمع بين الناحية الفنية التي يلجأ إليها المؤرخ حين يحلل الأدب ويتبين خواصه
এবং বহুবিধ প্রচেষ্টা এর বিভিন্ন দিককে আরও স্পষ্ট করে এবং এর অন্যান্য অনেক বৈশিষ্ট্যকে ব্যাখ্যা করে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি তাদের দেখতে পাবেন তারা জাহিলী সাহিত্যের কাছে অবস্থান করছে, এর বিভিন্ন শিল্পকলা অধ্যয়ন করছে, এর পাঠ্যসমূহকে এর উপাদানগুলোতে বিশ্লেষণ করছে এবং এই শিল্প ও উপাদানগুলোর ওপর এমন সব পর্যবেক্ষণ প্রদান করছে যা সেগুলোর সরলতা, শক্তি, অথবা মরুময় অঞ্চল বা দরিদ্র ও অস্থির মরু-জীবনের সাথে সেগুলোর নিবিড় সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট। অতঃপর তারা সেই ব্যাপক ও গভীর গবেষণা থেকে সাধারণ কিছু সিদ্ধান্ত বের করে আনেন, যা বিন্যস্ত অধ্যায়সমূহে লিপিবদ্ধ হয়; আর এটিই হলো জাহিলী সাহিত্যের ইতিহাস। উমাইয়া যুগ, আব্বাসী যুগ এবং আধুনিক যুগের ক্ষেত্রেও অনুরূপ কথা প্রযোজ্য। আপনি প্রতিটি যুগের নিজস্ব সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য এবং বিভিন্ন প্রভাবক—বৈজ্ঞানিক, শৈল্পিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত—দেখতে পাবেন, যা সাহিত্যকে এই বৈশিষ্ট্যগুলো দান করেছে, যার ফলে তা অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র হয়েছে এবং অন্যান্য যুগ থেকে একটি স্বাধীন সাহিত্যিক যুগে পরিণত হয়েছে। আর এই গবেষণাসমূহের ফলাফলই হলো সাহিত্যের ইতিহাস, যাকে সংজ্ঞায়িত করা যায় এভাবে যে: এটি প্রতিটি যুগের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্যসমূহের বর্ণনা এবং সাথে সাথে সেগুলোর কারণসমূহের ব্যাখ্যা। এ থেকে আমরা জানতে পারি যে, সাহিত্যের ইতিহাস কেবল গল্প-কাহিনি, বংশলতিকা এবং বিরল ঘটনাপ্রবাহ নয়; বরং এটি হলো সমালোচনা, বিশ্লেষণ এবং কার্যকরণ বর্ণনা। এর বিষয়টি প্রাকৃতিক ইতিহাসের মতো, যখন তা সৃষ্টিজগতকে বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, তুলনা এবং গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিচার করে, যাতে এর মাধ্যমে এমন কিছু সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় যা ইতিহাস গঠন করে। রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ইতিহাসের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই; এর পুরোটাই সমালোচনা এবং বিন্যাস, কেবল গল্প এবং উপকথা নয়। আর এই ভিত্তির ওপরই ইতিহাস নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে যে, এটি কি বিজ্ঞান নাকি সাহিত্য? সুতরাং যে ব্যক্তি এটি যে বাস্তব বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও অধ্যয়ন করে সেগুলোর দিকে তাকান, তিনি একে এমন একটি বিজ্ঞান হিসেবে দেখেন যার নিজস্ব সত্যতা ও ফলাফল রয়েছে; আর যে ব্যক্তি ঘটনাপ্রবাহের কল্পনা ও চিত্রায়নে ব্যক্তিত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গির অনুপ্রবেশ লক্ষ্য করেন, তিনি সিদ্ধান্ত দেন যে এটি সাহিত্য। সত্য কথা হলো, এটি সাধারণ অর্থে সাহিত্য অথবা সাধারণ অর্থে বিজ্ঞান; এতে প্রতিটি বিষয়ের এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা একে এই মধ্যবর্তী অবস্থানে দাঁড় করায়। আর উপরের আলোচনা থেকে আমরা নিম্নোক্ত ফলাফলগুলো আহরণ করতে পারি:

প্রথমত: সাহিত্য একটি বিশুদ্ধ শিল্প, এবং এটি এমন এক চারুকলা যা মানুষের আবেগ ও চিন্তা অথবা তার শৈল্পিক ব্যক্তিত্ব প্রকাশের ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের ওপর নির্ভর করে। তবে সাহিত্যের ইতিহাস সেই শৈল্পিক দিকের সমন্বয় ঘটায় যেটির আশ্রয় ঐতিহাসিক গ্রহণ করেন যখন তিনি সাহিত্য বিশ্লেষণ করেন এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট করেন।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ১৭)
خواصه الجميلة أو غيرها وبين الناحية العلمية التي تعنى بالتعليل والموازنات، واستنباط الأحكام، ولذلك سموا الأول أدبًا إنشائيًّا أو أدبًا بالمعنى الخاص، وسموا الثاني أدبًا وصفيًّا أو أدبًا بالمعنى العام.

الثانية: أن النقد الأدبي كما رأيت جزء من تاريخ الأدب، أو هو أداته الرئيسية فعليه يعتمد المؤرخ قبل كل شيء ما دام يتعمق في درس الأدب وتحليله، وبيان خواصه التي يتخذها دارس التاريخ الأدبي موضوعا لعمله الوصفي الشارح، ثم يلجأ إلى المؤثرات الشخصية أو الجغرافية، أو السياسية، أو الدينية التي أكسبت الأدب ميزانه الخاصة.

الثالثة: أن علم البلاغة نافع للأديب، والناقد، والمؤرخ، ولكل كاتب، أو متكلم، أو خطيب، أو مدرس، فإنه ينير أمام هؤلاء جميعًا، ويعينهم على أن تكون آثارهم اللغوية مفيدة، مؤثرة، ممتعة، تغذي العقل والشعور والأذواق وإن كان التشريع للأدباء غير مقبول دائمًا الآن.

7- وهناك علوم أدبية أخرى لا بد للأديب من الإلمام بها إلمامًا كافيًا ليقي نفسه شر الأخطاء في التعبير: اللغة، والصرف، والنحو، والعروض ونريد باللغة شيئين: متنها، وفقهها، فمتن اللغة كلماتها، وأمثالها، وحكمها، وعباراتها الاصطلاحية ولتلك معاجمها ومراجعها، ولسنا ندعو إلى حفظ ذلك واستيعابه فهو عسير أو مستحيل على أن تحصيله من قراءة النصوص أنفع لبيان المواقع المناسبة لاستعمال الكلمات والحكم والأمثال ولتفهم معانيها الواضحة الدقيقة مما يحيط بها من العبارات والمناسبات، وفقه اللغة تاريخها وفلسفتها، ومن النافع للأديب أن يعرف كيف نشأت اللغة وانفصلت عن أصلها القديم، وتكونت ببيئتها الخاصة وكيف تأثرت وانتقلت عبارتها من الاستعمال الحقيقي إلى المجازي وما هي وسائل إكثارها وضعًا أو تعريفًا أو توليدًا أو نحتًا فذلك أليق به وأنفع
তার সুন্দর বৈশিষ্ট্যসমূহ বা অন্য কিছু এবং বৈজ্ঞানিক দিকের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা যা কারণ অনুসন্ধান, তুলনা এবং বিধান আহরণের সাথে সংশ্লিষ্ট। এজন্য তারা প্রথমটিকে সৃজনশীল সাহিত্য বা বিশেষ অর্থে সাহিত্য বলে অভিহিত করেছেন, আর দ্বিতীয়টিকে বর্ণনামূলক সাহিত্য বা সাধারণ অর্থে সাহিত্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

দ্বিতীয়ত: সাহিত্য সমালোচনা যেমনটি আপনি দেখেছেন, তা সাহিত্যের ইতিহাসের একটি অংশ, অথবা এটি তার প্রধান হাতিয়ার। সুতরাং ইতিহাসবিদ সর্বোপরি এর ওপর নির্ভর করেন যতক্ষণ না তিনি সাহিত্য পাঠ ও বিশ্লেষণে এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনায় গভীরভাবে প্রবেশ করেন, যা সাহিত্যের ইতিহাসের গবেষক তার বর্ণনামূলক ও ব্যাখ্যামূলক কাজের বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি সেই ব্যক্তিগত, ভৌগোলিক, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় প্রভাবকসমূহের শরণাপন্ন হন যা সাহিত্যকে তার বিশেষ মানদণ্ড দান করেছে।

তৃতীয়ত: অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) সাহিত্যিক, সমালোচক, ইতিহাসবিদ এবং প্রত্যেক লেখক, বক্তা, বাগ্মী বা শিক্ষকের জন্য উপকারী। কারণ এটি এই সকলের সামনে আলোকবর্তিকা স্বরূপ এবং তাদের ভাষাগত কর্মসমূহকে ফলপ্রসূ, প্রভাবশালী ও আনন্দদায়ক করতে সাহায্য করে, যা বুদ্ধি, অনুভূতি ও রুচিকে খোরাক দেয়; যদিও বর্তমানে সাহিত্যিকদের জন্য নিয়ম-নীতি নির্ধারণ করা সর্বদা গ্রহণযোগ্য নয়।

৭- এছাড়া আরও কিছু সাহিত্যিক বিদ্যা রয়েছে যা সম্পর্কে একজন সাহিত্যিকের পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা অপরিহার্য যাতে তিনি নিজেকে প্রকাশভঙ্গির ভুলত্রুটি থেকে রক্ষা করতে পারেন: ভাষা (অভিধানতত্ত্ব), রূপতত্ত্ব (সরফ), বাক্যতত্ত্ব (নাহু) এবং ছন্দতত্ত্ব (আরুয)। আর ভাষা বলতে আমরা দুটি বিষয়কে বুঝাতে চাই: এর শব্দভাণ্ডার (মতন) এবং এর ভাষাতত্ত্ব (ফিকহ)। ভাষার শব্দভাণ্ডার হলো এর শব্দাবলি, প্রবাদ-প্রবচন, হিকমত এবং পারিভাষিক শব্দসমষ্টি, আর এগুলোর জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট অভিধান ও উৎসগ্রন্থ। আমরা এগুলো মুখস্থ করা বা সম্পূর্ণ আয়ত্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি না, কারণ তা অত্যন্ত কঠিন বা অসম্ভব। তবে মূল পাঠ্যসমূহ পড়ার মাধ্যমে তা অর্জন করা শব্দ, হিকমত ও প্রবাদ ব্যবহারের উপযুক্ত ক্ষেত্রসমূহ স্পষ্ট করার জন্য এবং পারিপার্শ্বিক বাক্য ও অনুষঙ্গ থেকে সেগুলোর সুস্পষ্ট ও সূক্ষ্ম অর্থ অনুধাবনের জন্য অধিক উপকারী। আর ভাষাতত্ত্ব হলো ভাষার ইতিহাস ও দর্শন। একজন সাহিত্যিকের জন্য এটি জানা অত্যন্ত উপকারী যে কীভাবে ভাষার উৎপত্তি হয়েছে এবং তা তার প্রাচীন মূল উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, কীভাবে নিজস্ব পরিবেশে এটি গড়ে উঠেছে এবং কীভাবে এর শব্দাবলি প্রভাবিত হয়ে প্রকৃত অর্থ থেকে রূপক অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে, আর ভাষা সমৃদ্ধ করার মাধ্যমগুলোই বা কী—তা শব্দ গঠন, আরবীকরণ, নবসৃজন কিংবা শব্দ-সংক্ষেপণ (নাহত) যেভাবেই হোক না কেন; এটিই তার জন্য অধিক শোভনীয় ও কল্যাণকর।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ১৮)
له وبخاصة إذا كان مؤرخا أو ناقدًا، والصرف يفيد في التصرف في الكلمات تبعًا للمعاني المتباينة كما بقي الأديب الخروج عن الأصول المرعية حين التصرف والتصريف بالجمع والتصغير والنسب والإبدال والتوكيد وبناء المشتقات، وأما النحو فمهمته تصحيح التراكيب والعبارات متخذًا المعاني الجزئية مقياسه لذلك يظهر أثره الواضح في حسن التأليف وسلاسة العبارة والحرص على دقة المعنى ووضوحه، فالنحو لا يقف عند حركات الإعراب بل يشمل موسيقى العبارات ومنطق المعاني، والأذن تتأذى من الأخطاء النحوية. كما يتأذى العقل من التعقيد اللفظي والمعنوي جميعًا والعروض للناظم هو مقياسه الموسيقى والخطأ العروضي كالخطأ النحوي فهذه التفعيلة التي تتكرر في السطر تحفظ وحدته الوزنية ثم تحفظ وحدة البيت حين تتكرر في سطره الثاني، وتكرار الوزن في كل بيت يحفظ للقصيدة وحدتها الموسيقية، كما أن وحدة القافية ضبط لهذه النعمة الأخيرة التي تنتهي بها الأبيات جميعًا، هذا هو الكثير الشائع فإذا تركناه إلى تعدد البحور والقوافي لم نعدم الموسيقى العروضية، وإنما نكون قد ظفرنا منها بتنوع لا يرفضه الذوق على الإطلاق.

8- هذه هي العلوم الأدبية المباشرة أجملنا القول فيها لبيان مكانة البلاغة بينهما، ولهذه الصلات التي تربطها بالأدب ربطًا قويًّا مباشرًا لا يليق بالمتأدب تجاهله، على أن الأدب والأديب لا يكتفيان بما ذكرنا هنا، بل لا بد لكمالها من هذه الثقافة العامة التي قال عنها الأقدمون إنها الأخذ من كل فن بطرق1، وهذه الثقافة تتناول الفلسفة والتاريخ والدين والقانون والفنون الجميلة وغيرهما؛ إذ إن الأدب يختصرها في نصوصه، والأديب يحتاج إليها منشئًا أو ناقدًا أو مؤرخًا كما سبق بيانه وقد عقد ابن الأثير في صدر كتابه المثل السائر فصلًا في آلات علم البيان وأدواته يحسن الرجوع إليه لمن أراد.

--------------------------------------------

1 راجع مقدمة ابن خلدون فصل: علم الأدب.
বিশেষ করে তিনি যদি একজন ঐতিহাসিক বা সমালোচক হন, তবে এটি তাঁর জন্য বিশেষ উপকারী। সরফ (শব্দতত্ত্ব) ভিন্ন ভিন্ন অর্থ অনুযায়ী শব্দের রূপান্তরের ক্ষেত্রে সুফল দান করে, ঠিক যেভাবে এটি সাহিত্যিককে শব্দ পরিবর্তন ও রূপান্তরের সময়—যেমন বহুবচন গঠন, ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ তৈরি (তাসগির), সম্বন্ধবাচক শব্দ (নিসবত), বর্ণ পরিবর্তন (ইবদাল), তাকিদ প্রদান এবং ব্যুৎপন্ন শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে—প্রচলিত মূলনীতিসমূহ থেকে বিচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করে। আর নাহু (ব্যাকরণ)-এর কাজ হলো সূক্ষ্ম অর্থসমূহকে মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করে বাক্যবিন্যাস ও প্রকাশভঙ্গিকে সংশোধন করা। এই কারণেই রচনাশৈলীর সৌন্দর্য, প্রকাশভঙ্গির সাবলীলতা এবং অর্থের নির্ভুলতা ও স্পষ্টতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এর সুস্পষ্ট প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং নাহু কেবল ইরাব (বিভক্তি)-এর হরকতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বাক্যের ছন্দময়তা এবং অর্থের যৌক্তিকতাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। ব্যাকরণগত ভুল শ্রবণে কান যেমন কষ্ট পায়, তেমনি শাব্দিক ও অর্থগত জটিলতায় বিবেকও পীড়িত হয়। আর ছন্দশাস্ত্র (আরুজ) হলো ছন্দকারের জন্য সুরের মানদণ্ড। ছন্দগত ভুল ব্যাকরণগত ভুলের মতোই। চরণের মধ্যে যে 'তাফইলা' (ছন্দমাত্রা)-এর পুনরাবৃত্তি ঘটে, তা লাইনের ওজনের ঐক্য বজায় রাখে; অতঃপর দ্বিতীয় চরণে যখন এর পুনরাবৃত্তি ঘটে, তখন তা পঙ্ক্তির (বাইত) ঐক্য রক্ষা করে। প্রতিটি পঙ্ক্তিতে ছন্দের পুনরাবৃত্তি কবিতার সুরের ঐক্যকে সুরক্ষিত রাখে। তেমনিভাবে অন্ত্যমিলের (কাফিয়া) ঐক্য হলো সেই সর্বশেষ সুষমার নিয়ন্ত্রক যার মাধ্যমে সমস্ত পঙ্ক্তি সমাপ্ত হয়। এটিই অধিক প্রচলিত পদ্ধতি। যদি আমরা বহুবিধ ছন্দ (বহর) ও অন্ত্যমিল ব্যবহার করি, তবে আমরা ছন্দগত সুর থেকে বঞ্চিত হই না, বরং এর মাধ্যমে আমরা এমন এক বৈচিত্র্য লাভ করি যা রুচিবোধ মোটেও প্রত্যাখ্যান করে না।

৮- এগুলিই হলো সরাসরি সাহিত্য-সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ। এগুলোর মধ্যে বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্রের মর্যাদা স্পষ্ট করার জন্য আমরা সংক্ষেপে আলোচনা করেছি। সাহিত্যের সাথে এর যে সুদৃঢ় ও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে, তা কোনো সাহিত্যমনস্ক ব্যক্তির পক্ষে উপেক্ষা করা সমীচীন নয়। তবে সাহিত্য এবং সাহিত্যিক কেবল এখানেই যা উল্লেখ করা হয়েছে তাতে সীমাবদ্ধ থাকতে পারেন না, বরং এর পূর্ণতার জন্য সেই সাধারণ সংস্কৃতির প্রয়োজন রয়েছে যে সম্পর্কে পূর্বসূরিগণ বলেছেন যে, তা হলো: প্রত্যেক শিল্প থেকে কিঞ্চিৎ গ্রহণ করা১। এই সংস্কৃতি দর্শন, ইতিহাস, ধর্ম, আইন এবং চারুকলাসহ অন্যান্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা সাহিত্য তার পাঠ্যের মধ্যে এগুলোকে সংক্ষিপ্ত করে আনে। আর একজন সাহিত্যিক যখন লেখক, সমালোচক কিংবা ঐতিহাসিক হিসেবে কাজ করেন, তখন তাঁর এই বিষয়গুলোর প্রয়োজন পড়ে, যা পূর্বেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইবনুল আসীর তাঁর 'আল-মাসালুস সাঈর' গ্রন্থের শুরুতে 'ইলমে বয়ান'-এর উপকরণ ও সরঞ্জামাদি নিয়ে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন, যা আগ্রহী ব্যক্তির জন্য পাঠ করা উত্তম।

--------------------------------------------

১. দ্রষ্টব্য: মুকাদ্দিমা ইবনে খালদুন, পরিচ্ছেদ: ইলমুল আদব।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الثاني: في التعريف بالبلاغة

المشهور في كتب البلاغة1 أن البلاغة لغة تنبئ عن الوصول والانتهاء، يقال: بلغ فلان مراده إذا وصل إليه، وبلغ الركب المدينة إذا انتهى إليها، واصطلاحًا: تكون وصفًا للكلام والمتكلم؛ فبلاغة الكلام مطابقته لمقتضى الحال، والحال هو الأمر الداعي للمتكلم إلى أن يميز بكلامه بميزة هي مقتضى الحال فإنكار المخاطب للمعنى حال يقضي أن تؤكد له الجملة فتقول: إن محمدًا ناجح، وذلك التأكيد هو مقتضى الحال. وبلاغة المتكلم ملكة يقتدر بها على تأليف كلام بليغ في أي معنى قصد، والبلاغة هذه تستلزم أمرين:

الأول: احتراز الخطأ في تأدية المعنى المقصود خوفا من أن يؤدى بلفظ غير مطابق لمقتضى الحال فلا يكون بليغا.

الثاني: تمييز الكلام الفصيح من غيره حتى نضمن سلامة العبارة من الخطأ والتعقيد، فمست الحاجة إلى علمين لتحقق سلامة اللفظ من ناحية، ولملاءمته لمقتضى الحال من ناحية أخرى؛ الأول علم البيان والثاني علم المعاني: وقد يسميان بعلم البلاغة لذلك، ولما كان علم البديع يعرف به وجوه تحسين الكلام جعل تابعًا لهذين العلمين فصارت مباحث البلاغة منحصر في هذه الثلاثة: المعاني والبيان والبديع.

--------------------------------------------

1 راجع شروح التلخيص ج1 ص73 مطبعة السعادة بمصر.
দ্বিতীয় অধ্যায়: বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) এর পরিচয় প্রসঙ্গে

বালাগাতের কিতাবসমূহে প্রসিদ্ধ বিষয় হলো এই যে, বালাগাত আভিধানিক অর্থে পৌঁছানো এবং সমাপ্তিতে উপনীত হওয়া বুঝায়। বলা হয়ে থাকে: 'অমুক ব্যক্তি তার উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছেছে', যখন সে সেখানে পৌঁছে যায়; আর 'কাফেলাটি শহরে পৌঁছেছে', যখন তারা সেখানে গিয়ে উপনীত হয়। আর পারিভাষিক অর্থে এটি বাক্য এবং বক্তার গুণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং বাক্যের বালাগাত হলো পরিস্থিতির দাবি (মুকতাদাল হাল) অনুযায়ী হওয়া। আর 'হাল' বা পরিস্থিতি হলো এমন একটি বিষয় যা বক্তাকে তার বাক্যে এমন একটি বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করে যা পরিস্থিতির দাবি। যেমন: সম্বোধিত ব্যক্তির কোনো বিষয়কে অস্বীকার করা এমন একটি পরিস্থিতি যা বাক্যটিকে তাকিদ বা নিশ্চয়তা দিয়ে ব্যক্ত করার দাবি রাখে; এমতাবস্থায় আপনি বলবেন: 'নিশ্চয়ই মুহাম্মদ সফল', আর এই তাকিদ বা নিশ্চয়তা প্রদানই হলো পরিস্থিতির দাবি। আর বক্তার বালাগাত হলো এমন এক যোগ্যতা যার মাধ্যমে তিনি যেকোনো উদ্দিষ্ট অর্থে অলঙ্কারপূর্ণ বাক্য রচনা করতে সক্ষম হন। আর এই বালাগাত দুটি বিষয়কে অপরিহার্য করে তোলে:

প্রথমত: উদ্দিষ্ট অর্থ প্রকাশে ভুল থেকে বেঁচে থাকা, এই ভয়ে যে সেটি এমন শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হতে পারে যা পরিস্থিতির দাবির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, ফলে তা অলঙ্কারপূর্ণ হবে না।

দ্বিতীয়ত: বিশুদ্ধ বাক্যকে অন্যান্য বাক্য থেকে পৃথক করা, যাতে বাক্যটি ভুল এবং জটিলতা থেকে মুক্ত হওয়া নিশ্চিত করা যায়। ফলে একদিকে শব্দের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে এবং অন্যদিকে পরিস্থিতির দাবির সাথে তার সামঞ্জস্য বিধানের জন্য দুটি শাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়; প্রথমটি হলো ইলমুল বায়ান এবং দ্বিতীয়টি হলো ইলমুল মাআনি। এ কারণেই এই উভয়কে অনেক সময় ইলমুল বালাগাত বলা হয়। আর যেহেতু ইলমুল বাদী-এর মাধ্যমে বাক্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধির দিকগুলো জানা যায়, তাই একে এই দুই শাস্ত্রের অনুগামী করা হয়েছে। ফলে বালাগাতের আলোচ্য বিষয়সমূহ এই তিনটিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে: মাআনি, বায়ান এবং বাদী।

--------------------------------------------

১. দ্রষ্টব্য: শুরূহুত তালখীস, ১ম খণ্ড, ৭৩ পৃষ্ঠা, মাতবাআতুস সাআদাহ, মিশর।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ২০)
أما هذه التعريف فلا اعتراض لنا عليه في جملته؛ إذ كانت البلاغة في أصح وأحدث معانيها لا تخرج عما أورده هؤلاء الأقدمون من الناحية النظرية الإجمالية يقول الأستاذ Genung: "البلاغة فن تطبيق الكلام المناسب للموضوع وللحالة على حاجة القارئ أو السامع"1 فتجد أن الحدود واحدة في جوهرها وإن لوحظ في الأخير هذه الناحية العلمية في صراحة واضحة، ولكن المسألة هي: كيف فهم علماء البلاغة عندنا معنى المطابقة أولًا؟ وما الوسائل التي اعتمدوا عليها في دروس البلاغة لتحقيق هذه المطابقة ثانيا؟ وما هذه العلوم البلاغية ثالثا؟

إذا وقفنا عند هذه المسائل التي انتهت إليها أبحاثهم رأيناهم يذكرون أن خطاب الذكي يخالف خطاب الغبي، وخطاب الموقن غير خطاب المتردد، وعلى هذا الأساس غالبا، تقوم المطابقة لتغذية قوة الإدراك ووسيلة ذلك التصرف في الجملة وعناصرها، خبرًا وإنشاءً، فصلًا ووصلًا، تعريفًا وتنكيرًا، ذكرًا وحذفًا ثم الاختلاف بين التشبيه والمجاز والكتابة مما لا يتجاوز كله دراسة الجملة والصورة دراسة قاصرة، ومعنى ذلك أمور ثلاثة:

1- غاية البلاغة فيما يبدو من هذه الدراسة العلمية يغلب عليها الاتجاه إلى القوة الفكرية وإقناع العقل إقناعًا جزئيًّا قائمًا على ذكائه أو بلادته وعلى شكله أو إنكاره.

2- ووسيلة ذلك الصورة -التي تختصر علم البيان وقسما من البديع- والجملة الخبرية والإنشائية، وقد دُرستا في علم المعاني من بعض النواحي لا غيره.

--------------------------------------------

1 راجع Genung The Working principles of Rhetoric.
এই সংজ্ঞার ব্যাপারে সামগ্রিকভাবে আমাদের কোনো আপত্তি নেই; কারণ অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) সর্বাধিক সঠিক এবং আধুনিক অর্থসমূহ সেই সকল প্রাচীন পণ্ডিতদের উপস্থাপিত সামগ্রিক তাত্ত্বিক আলোচনার বাইরে নয়। অধ্যাপক জেনুং (Genung) বলেন: "অলঙ্কারশাস্ত্র হলো বিষয়বস্তু ও পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কথা পাঠক বা শ্রোতার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োগ করার কলাকৌশল।"১ সুতরাং আপনি দেখতে পাবেন যে, সংজ্ঞাগুলো মূলে একই রকম, যদিও শেষেরটিতে এই বৈজ্ঞানিক দিকটি স্পষ্ট ও প্রাঞ্জলভাবে লক্ষ্য করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো: প্রথমত, আমাদের অলঙ্কারশাস্ত্রবিদরা 'সামঞ্জস্যবিধান' (মুতাবাকাত)-এর অর্থ কীভাবে বুঝেছেন? দ্বিতীয়ত, এই সামঞ্জস্যবিধান অর্জনের লক্ষ্যে অলঙ্কারশাস্ত্রের পাঠে তারা কোন কোন উপকরণের ওপর নির্ভর করেছেন? এবং তৃতীয়ত, এই অলঙ্কারশাস্ত্রের শাখাগুলো কী কী?

তাদের গবেষণার শেষ প্রান্তে পৌঁছে আমরা যদি এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করি, তবে দেখব যে তারা উল্লেখ করেছেন—মেধাবীর প্রতি সম্বোধন আর নির্বোধের প্রতি সম্বোধন ভিন্ন হয়, এবং সুনিশ্চিত ব্যক্তির প্রতি সম্বোধন আর দ্বিধাগ্রস্ত ব্যক্তির প্রতি সম্বোধন আলাদা হয়। এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ভিত্তির ওপরই বোধশক্তিকে পুষ্ট করার জন্য 'সামঞ্জস্যবিধান' গড়ে ওঠে। আর এর উপায় হলো বাক্যের গঠন ও তার উপাদানগুলোর ব্যবহারের পরিবর্তন ঘটানো; তা সংবাদজ্ঞাপক (খবর) হোক বা আকাঙ্ক্ষামূলক (ইনশা), সংযোগ (ফাসল) হোক বা বিচ্ছেদ (ওয়াসল), নির্দিষ্টকরণ (তারিফ) হোক বা অনির্দিষ্টকরণ (তানকির), উল্লেখকরণ (যিকির) হোক বা উহ্য রাখা (হাফয)। এরপর উপমা (তাশবিহ), রূপক (মাজায) ও লিখনশৈলীর (কিনায়া) মধ্যকার পার্থক্যসমূহ, যার কোনোটিই বাক্য ও চিত্রের সীমাবদ্ধ পর্যালোচনার বাইরে যায় না। আর এর অর্থ হলো তিনটি বিষয়:

১- এই বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, অলঙ্কারশাস্ত্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য প্রধানত বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির দিকে ধাবিত এবং কোনো ব্যক্তির মেধা বা স্থূলতা এবং সন্দেহ বা অস্বীকৃতির ওপর ভিত্তি করে তার মস্তিষ্ককে আংশিকভাবে আশ্বস্ত করার ওপর নির্ভরশীল।

২- আর এর মাধ্যম হলো চিত্রকল্প—যা বর্ণনাশৈলী বিজ্ঞান (ইলমুল বায়ান) এবং অলঙ্কার বিজ্ঞানের (ইলমুল বাদি) একটি অংশকে সংক্ষিপ্ত করে—এবং সংবাদজ্ঞাপক ও আকাঙ্ক্ষামূলক বাক্য। এই বিষয়গুলো শব্দার্থ বিজ্ঞানে (ইলমুল মাআনি) কেবল নির্দিষ্ট কিছু দিক থেকেই আলোচিত হয়েছে, অন্য কিছুতে নয়।

--------------------------------------------

১ জেনুং-এর 'দ্য ওয়ার্কিং প্রিন্সিপলস অফ রেটোরিক' (Genung The Working principles of Rhetoric) দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ২১)
3- وعلم المعاني هو الكفيل بدراسةالجملة عندهمه، كما أن البيان يدرس الصورة تشبيهًا ومجازًا وكناية، وأما البديع فقد عدوه شيئًا ثانويًّا لا دخل له في صميم البلاغة لأنه قائم على دراسة طرق التحسين الذي يلحق بالكلام، كالسجع، والجناس، والمقابلة، وأسلوب الحكيم، والتقسيم وما إلى ذلك مما يعرف بالمحسنات اللفظية والمعنوية.

أما عن غاية البلاغة فليس المراد من الكلام وقفًا على تغذية الفكر وحده فهناك قوي نفسية أخرى تعني بالبلاغة بها لتغذيتها وتهذبها، من ذلك قوة الانفعال وقوة الإرادة. ولا نقول إن الأدب العربي قصر في ذلك، وإنما نقول إن الدراسة النظرية فيما انتهت إليه هي التي ضاقت عن العناية بهذه المواهب النفسية كما يتضح ذلك مما يلي:

وأما عن الوسيلة فلم تكن اللغة العربية محصورة في الصورة الجملة وحدها فهناك الحرف والكلمة والعبارة والأسلوب عامة، وهناك هذه الفنون الأدبية المختلفة شعرًا ونثرًا كالخطابة، والرسالة، والوصف، والجدل، وغيرها مما أهملته هذه الدراسة -أو العلوم البلاغية- في اللغة حسبما انتهى إليه وضعها الأخير.

لنفهم المطابقة لمقتضى الحال فهمًا عميقًا شاملًا يجب أن نقيمه -من حيث الغاية والوسيلة- على طبيعة النفس الإنسانية ومواهبها من ناحية، وعلى الأدب: أسلوبه وفنونه المختلفة من ناحية أخرى.

علم النفس ينفعنا هنا، ويعاون مع النقد الأدبي والبلاغة في تفسير مطابقة الكلام لمقتضى الحال، وفي بيان موضوع دراسة البلاغة بيانًا مفصلًا منظمًا، فكيف نوضح ذلك.

--------------------------------------------

1 المرجع السابق 2.
৩- তাঁদের নিকট ইলমুল মাআনী হলো বাক্য পর্যালোচনার দায়িত্বপ্রাপ্ত শাস্ত্র, যেমন ইলমুল বায়ান রূপক চিত্রসমূহ তথা উপমা, রূপক ও পরোক্ষ ইঙ্গিত (কিনায়া) নিয়ে আলোচনা করে। আর বাদি শাস্ত্রকে তাঁরা একটি গৌণ বিষয় হিসেবে গণ্য করেছেন যার অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) মূল সত্তার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই; কেননা এটি কথার মধ্যে সৌন্দর্য বৃদ্ধির পদ্ধতিসমূহ পর্যালোচনার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেমন অন্ত্যানুপ্রাস, যমক, বৈপরীত্য, প্রাজ্ঞজনোচিত ভঙ্গি, বিভাজন এবং শব্দগত ও অর্থগত অলঙ্কার হিসেবে পরিচিত অন্যান্য বিষয়সমূহ।

অলঙ্কারশাস্ত্রের লক্ষ্যের বিষয়ে বলা যায়, কথার উদ্দেশ্য কেবল চিন্তাশক্তিকে সমৃদ্ধ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সেখানে অন্যান্য মনস্তাত্ত্বিক শক্তিও রয়েছে যা অলঙ্কারশাস্ত্র তাকে সমৃদ্ধ ও পরিশীলিত করার জন্য গুরুত্ব প্রদান করে, যেমন আবেগীয় শক্তি ও ইচ্ছাশক্তি। আমরা এটি বলছি না যে আরবি সাহিত্য এ ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করেছে, বরং আমরা বলছি যে তাত্ত্বিক পাঠ তার চূড়ান্ত রূপ লাভের ক্ষেত্রে এই মনস্তাত্ত্বিক প্রতিভাসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার ব্যাপারে সংকুচিত হয়ে পড়েছে, যা নিম্নোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হবে:

আর উপকরণের বিষয়ে বলা যায়, আরবি ভাষা কেবল বাক্য কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; সেখানে বর্ণ, শব্দ, বাক্যাংশ এবং সামগ্রিক শৈলী বিদ্যমান। এছাড়া কবিতা ও গদ্যের বিভিন্ন সাহিত্যিক মাধ্যম রয়েছে, যেমন ভাষণ, পত্রলিখন, বর্ণনা, বিতর্ক এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ যা এই পাঠ - অথবা অলঙ্কারশাস্ত্র - ভাষায় তার সর্বশেষ অবস্থানুযায়ী অবহেলা করেছে।

পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী ভাষার প্রয়োগকে (মুতাবাকাতুন লি-মুকতাদাল হাল) গভীরভাবে ও সামগ্রিকভাবে বোঝার জন্য আমাদের উচিত—লক্ষ্য ও উপকরণের দিক থেকে—একদিকে মানবাত্মার প্রকৃতি ও তার প্রতিভার ওপর এবং অন্যদিকে সাহিত্য: তার শৈলী ও বিভিন্ন শিল্পরূপের ওপর একে প্রতিষ্ঠিত করা।

মনোবিজ্ঞান এখানে আমাদের উপকারে আসে এবং পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী কথার সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যা করতে এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের পঠন-পাঠনের বিষয়টি বিস্তারিত ও সুশৃঙ্খলভাবে বর্ণনা করতে সাহিত্য সমালোচনা ও অলঙ্কারশাস্ত্রকে সহায়তা করে। সুতরাং আমরা কীভাবে তা স্পষ্ট করব?

--------------------------------------------

১. পূর্বোক্ত উৎস, ২।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ২২)
1- هناك أولا قوة الإدراك The power of intellect تلك القوة التي بها يعرف الإنسان ويفكر ويعلل ويستنبط، وهذه القوة تحتاج في ثقافتها والتأثير فيها إلى الحقائق الصحيحة المعقولة بالبراهين الصادقة، ومعنى المطابقة بالنسبة لهذه القوة تمكين القراء والسامعين من إدراك المعاني وفهمها والاقتناع بها وهي القوة التي تغلب على رجال العلم، والفلسفة والسياسة، ويشتد سلطانها أيام الاستقرار وفي البيئات الخصبة الغنية. وأما الكلام الذي يلائم هذه القوة فهو النثر العلمي أو الأدب بالمعنى العام، كالتاريخ والنقد والعلوم والفلسفة: من كل ما يزود بالحقائق الحيوية النافعة.

2- قوة الانفعال "العاطفة" The power of emotion: وبها يشعر الإنسان ويتخيل، وهي الظاهرة التي تتحكم كثيرًا في حياة الشبان والفنيين والنساء وتوقظها البيئات الجميلة والمواقف العنيفة، والحوادث القوية وأيام الثورات، والكلام الذي يتجه إلى العاطفة يجب ألا يقف عند إفهام الحقائق، بل لا بد من إيقاظ الشعور وبعث الخيال وذلك هو الشعر والنثر الأدبي الممتاز، كالقطع الوصفية، والرسائل الشاكية أو الغزلية والقصص القيمة، والروايات المؤثرة، مما يسود فيه عنصر العاطفة.

3- ثالثًا قوة الإرادة The power will: وهي القوة العملية التي يعتمد عليها الإنسان في تنفيذ ما يعتقد، وفي الاتصال العملي بالحياة والكلام الذي يلائم هذه القوة يجب أن يجمع بين أمرين: الإفهام والتأثير، عن طريقي الإدراك والوجدان، وبذلك يدفع الإنسان إلى العمل ويؤثر في سلوكه وأخلاقه، وهي كما تعلم موهبة الجند والقواد، ورجال المغامرات، وذوي المذاهب والآراء الحديثة، وأكثر ما تلزم أيام المحن والانقلاب. والخطابة هي الفن الكلامي
১- প্রথমত রয়েছে উপলব্ধির শক্তি: এটি সেই শক্তি যার মাধ্যমে মানুষ জানতে পারে, চিন্তা করে, যুক্তি প্রদান করে এবং সিদ্ধান্ত উদ্ঘাটন করে। এই শক্তি তার উৎকর্ষ সাধন ও তাতে প্রভাব বিস্তারের জন্য সঠিক প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত যুক্তিগ্রাহ্য ও সঠিক সত্যের মুখাপেক্ষী। এই শক্তির ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যের অর্থ হলো পাঠক ও শ্রোতাদের অর্থ উপলব্ধি করা, তা বুঝতে পারা এবং তা গ্রহণে আশ্বস্ত হওয়ার সক্ষমতা প্রদান করা। এটি সেই শক্তি যা বিজ্ঞানী, দার্শনিক ও রাজনীতিবিদদের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে এবং স্থিতিশীলতার দিনগুলোতে ও সমৃদ্ধ উর্বর পরিবেশে এর কর্তৃত্ব প্রবল হয়। আর যে কথা এই শক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা হলো বৈজ্ঞানিক গদ্য অথবা সাধারণ অর্থে সাহিত্য, যেমন: ইতিহাস, সমালোচনা, বিজ্ঞান ও দর্শন—অর্থাৎ যা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী সত্য সরবরাহ করে।

২- আবেগ বা অনুভূতির শক্তি: এর মাধ্যমে মানুষ অনুভব করে এবং কল্পনা করে। এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যা যুবক, শিল্পী ও নারীদের জীবনে অধিকাংশ সময় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। সুন্দর পরিবেশ, কঠোর পরিস্থিতি, বড় ধরনের ঘটনা এবং বিপ্লবের দিনগুলো এই শক্তিকে জাগ্রত করে। যে কথা আবেগের দিকে ধাবিত হয়, তার জন্য কেবল সত্য বুঝিয়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়, বরং অনুভূতিকে জাগ্রত করা এবং কল্পনাকে উদ্দীপ্ত করা অপরিহার্য। আর তা হলো কবিতা ও চমৎকার সাহিত্যিক গদ্য, যেমন বর্ণনামূলক অংশ, অভিযোগমূলক বা প্রেমপত্র, মূল্যবান গল্প এবং প্রভাবশালী উপন্যাস—যাতে আবেগের উপাদান প্রবল থাকে।

৩- তৃতীয়ত হলো ইচ্ছাশক্তি: এটি একটি প্রায়োগিক শক্তি যার ওপর মানুষ তার বিশ্বাস বাস্তবায়নে এবং জীবনের বাস্তব যোগাযোগের ক্ষেত্রে নির্ভর করে। যে কথা এই শক্তির সাথে মানানসই, তাতে অবশ্যই দুটি বিষয়ের সমন্বয় থাকতে হবে: উপলব্ধি ও অনুভূতির মাধ্যমে বোধগম্যতা তৈরি করা এবং প্রভাব বিস্তার করা। এর মাধ্যমে মানুষ কর্মে উদ্বুদ্ধ হয় এবং এটি তার আচরণ ও চরিত্রের ওপর প্রভাব ফেলে। আপনি যেমন জানেন, এটি সৈনিক, সেনাপতি, দুঃসাহসী ব্যক্তি এবং আধুনিক মতবাদ ও চিন্তাধারার অধিকারীদের একটি বিশেষ প্রতিভা; আর এটি পরীক্ষা ও বিপ্লবের দিনগুলোতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। আর বাগ্মিতা হলো বাচনিক শিল্প...
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ২৩)
الذي يعد أنسب الفنون لقوة الإرادة، ولذلك تعد فنًّا عمليًّا، وهي تجمع بين قوتي الإقناع والتأثير الذين يدفعان الإرادة إلى العمل الحاسم.

وهنا نرى أن معنى المطابقة البلاغية قد اتسع فتناول مظاهر النفس الإنسانية ومواهبها المختلفة، كما اشتمل على الفنون الأدبية جميعًا، ولاحظ فوق ذلك الزمان، والمكان، والنوع الذي نتحدث إليه، وإذا تقدمنا قليلا فلاحظنا الفرد ومواهبه الخاصة، والأساليب وعناصرها التفصيلية، وأنواعها المتعددة تراءى لنا هذا المدى الواسع الذي تنبسط فيه الناحية التطبيقية لفن البلاغة، وأدركنا إدراكًا صحيحًا، ما قيل إن المتكلم مع المخاطب كالطبيب مع المريض يجب أن يفحصه فحصًا دقيقًا، وأن يفرض له من الدواء -أو الكلام- ما يلائمه وإلا أضر به، ونقول إن البليغ مع المخاطبين كالقائد أمام الحصن يجب أن يهاجمه من حيث ينتظر الظفر، وبالسلاح الذي به يفوز.

وإتمامًا لهذه المسألة نقول: من المقرر الثابت في علم النفس أن هذه القوى المعنوية ليست منفصلة إحداها عن الباقي في الطبيعة النفسية، بل هي خاضعة لنظرية الوحدة الروحية؛ فهي مظاهر تتوارد على نفس الإنسان حسب الدواعي والمؤثرات، فالإنسان مرة يفكر بنفسه، وأخرى منفعل بها، وثالثة مريد معتزم والنفس هي هي، إلا أنها تلبس لكل حال ثوبًا يناسبها، وهي مع ذلك متواصلة متعاونة، فالفكر يشد أزر العاطفة، وهي توقظه، وهما يبعثان الإرادة، ويندر أن توجد فكرة لا تثير عاطفة ولا تحرك إرادة، ومثل ذلك يقال عن الفنون الأدبية التي تغذي هذه المواهب النفسية، وهذا بيان ما تريد:

1- فليست هذه الفنون متضادة بحيث لا يلتقي فن بالآخر ولا يصل إليه بسبب، كلا، فكل فن منهما يتصل بالباقي أشد الاتصال؛ إذ تتألف من عناصر واحدة هي اللفظ والمعنى الذي ينحل إلى العاطفة والخيال والفكرة، وإن كانت تتفاوت في مقدار ما يحويه كل منهما من هذه العناصر تفاوتًا يقوم على طبيعتها
যা ইচ্ছাশক্তির জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত শিল্প হিসেবে বিবেচিত, আর এ কারণেই এটি একটি ব্যবহারিক শিল্প হিসেবে গণ্য হয়; এটি প্ররোচনা ও প্রভাব বিস্তারের এমন এক সমন্বয় ঘটায় যা ইচ্ছাশক্তিকে চূড়ান্ত কর্মতৎপরতার দিকে ধাবিত করে।

এখানে আমরা দেখতে পাই যে, আলংকারিক সামঞ্জস্যের অর্থ বিস্তৃত হয়েছে, ফলে তা মানবীয় আত্মার বহিঃপ্রকাশ ও তার বিভিন্ন প্রতিভাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যেমনটি তা সমস্ত সাহিত্যশিল্পকেও শামিল করেছে। তদুপরি এটি কাল, স্থান এবং আমরা যার সাথে কথা বলছি তার প্রকারকেও বিবেচনায় রেখেছে। আমরা যদি আরও কিছুটা অগ্রসর হয়ে ব্যক্তি এবং তার বিশেষ প্রতিভা, শৈলীসমূহ ও সেগুলোর বিস্তারিত উপাদান এবং এর বহুবিধ প্রকারের দিকে লক্ষ করি, তবে অলংকারশাস্ত্রের ফলিত দিকের সেই বিশাল পরিধি আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়। তখন আমরা সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারি যা বলা হয়েছে— শ্রোতার সাথে বক্তার সম্পর্ক হলো রোগীর সাথে চিকিৎসকের মতো; চিকিৎসকের উচিত তাকে সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা এবং তার জন্য উপযুক্ত ওষুধ—বা কথা—নির্ধারণ করা, অন্যথায় তা তার ক্ষতি করবে। আমরা বলি যে, শ্রোতাদের সামনে একজন বাগ্মী ব্যক্তি হলেন দুর্গের সামনে দাঁড়ানো একজন সেনাপতির মতো; তাকে সেখান থেকেই আক্রমণ করতে হবে যেখান থেকে বিজয়ের আশা করা যায় এবং সেই অস্ত্র দিয়েই আঘাত করতে হবে যা দ্বারা সে জয়ী হতে পারে।

এই বিষয়ের পূর্ণতা দানে আমরা বলি: মনোবিজ্ঞানে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, এই মানসিক শক্তিগুলো মনস্তাত্ত্বিক প্রকৃতিতে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং এগুলো আত্মিক ঐক্যের তত্ত্বের অধীন। এগুলো মানুষের হৃদয়ে বিভিন্ন কারণ ও প্রভাবক অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আসা বিভিন্ন বহিঃপ্রকাশ মাত্র। মানুষ কখনো নিজ সত্তা দিয়ে চিন্তা করে, কখনো তার দ্বারা প্রভাবিত হয়, আবার কখনো সে সংকল্পবদ্ধ ও ইচ্ছুক হয়—অথচ সত্তা বা আত্মা অভিন্নই থাকে; কেবল এটি প্রতিটি অবস্থার জন্য তার উপযোগী পোশাক পরিধান করে। তা সত্ত্বেও এগুলো পরস্পর সংযুক্ত ও সহযোগী; চিন্তা আবেগকে শক্তিশালী করে আর আবেগ চিন্তাকে জাগ্রত করে, এবং এ উভয়টিই ইচ্ছাশক্তিকে উদ্দীপ্ত করে। এমন কোনো চিন্তা খুঁজে পাওয়া বিরল যা কোনো আবেগকে আলোড়িত করে না কিংবা ইচ্ছাশক্তিকে নাড়া দেয় না। এই মনস্তাত্ত্বিক প্রতিভাগুলোকে পরিপুষ্টকারী সাহিত্যশিল্পের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আপনি যা চান তার ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

১- এই শিল্পগুলো এমন কোনো পরস্পরবিরোধী বিষয় নয় যে একটির সাথে অন্যটির সাক্ষাৎ হবে না কিংবা কোনোভাবেই একটি অন্যটির সাথে মিলিত হবে না; মোটেই না। বরং এগুলোর প্রতিটি অন্যটির সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যুক্ত। কারণ এগুলো অভিন্ন উপাদান দ্বারা গঠিত, যা হলো শব্দ এবং অর্থ; আর সেই অর্থ আবার আবেগ, কল্পনা ও চিন্তায় বিশ্লেষিত হয়—যদিও এ উপাদানগুলোর পরিমাণের দিক থেকে একেক শিল্পে একেক রকম তারতম্য থাকতে পারে, যা তাদের নিজ নিজ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ২৪)
وغايتها، على أنها جميعا تصدر عن الإنسان وترمي إلى تهذيبه كذلك، وقد رأيت أنها جميعًا تندرج تحت هذا المعنى العام لكلمة الأدب.

2- كذلك لا تتعارض هذه الفنون من حيث صلتها بقوى النفس الإنسانية فالخطابة مثلا تغذي الفكر والعاطفة وإن كانت تتجه إلى الإرادة اتجاها أساسيًّا مقصودًا لذاته، فهي تستخدم هاتين القوتين لتنفذ خلالهما إلى الإرادة لتبعثها وتحمل صاحبها على العلم، كذلك الشعر يؤثر في الفكر والإرادة مباشرًا وغير مباشر، لما فيه من الحقائق والعواطف، وبخاصة إذا كان شعرًا خطابيًّا تهذيبيًّا، والنثر العلمي يتجه بحقائقه مباشرة إلى الفكر، ولكن الحقائق عماد العاطفة وسبب قوتها وصدقها، وهي كذلك أساس العقيدة التي تتكئ عليها الإرادة ونتيجة ذلك أن أي هذه الفنون يؤثر في قوى النفس جميعا وإن تفاوتت الآثار بتغير الفنون فهي متعاونة متواصلة شأن القوى النفسية ذاتها.

3- ويقال نحو ذلك بالنسبة لطبقات الناس وبيئاتهم، فكما أن هذه الطبقات الإنسانية -مهما تختلف مواهبها في الدرجة- ذات وحدة روحية أو نفسية عامة، وبينها قدر مشترك منها مهما تتباين بها الأزمنة والأمكنة، كذلك الفنون الأدبية، يجد كل نوع بل كل فرد في أي نوع منها ناحية تغذي نفسه وتؤثر فيه، فالناس جميعا لهم عقول، وعواطف، وعزائم، والفنون فيها ما يفيد المرأة ويثير الرجل، وفيها ما ينفع الشاب ويهيج الفيلسوف، وفيها ما يشجي الجنيد ويستفز الحليم، إذا كان الأدب صادرًا عن الإنسان ومتجهًا إلى الإنسان.

4- وسنرى في غضون هذا البحث أن صفة القوة ألزم للأسلوب الحضاري، والوضوح أظهر في الأسلوب العلمي، والجمال أخص صفات الأسلوب الأدبي، فليس معنى ذلك أن الخطابة تستغني عن الوضوح أو الجمال وإلا فلن تفهم، ولن يحتملها الناس، فتفقد إقناعها وتأثيرها، وبذلك لا تتحقق غايتها العملية،
এবং এর লক্ষ্যও তাই, কারণ এগুলোর সবই মানুষের নিকট হতে নিঃসৃত হয় এবং একইভাবে তাকে পরিমার্জিত করার লক্ষ্য রাখে। আর আপনি দেখেছেন যে, এগুলো সবই ‘আদব’ (সাহিত্য) শব্দের এই সাধারণ অর্থের অন্তর্ভুক্ত।

2- তেমনিভাবে, মানুষের আত্মিক শক্তিগুলোর সাথে সম্পর্কের দিক থেকে এই শিল্পকলাগুলো একে অপরের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। উদাহরণস্বরূপ, বাগ্মিতা (খিতাবাত) চিন্তা ও আবেগকে পুষ্ট করে, যদিও এটি মৌলিকভাবে এবং স্বকীয় উদ্দেশ্যেই মানুষের ইচ্ছাশক্তির (ইরাদা) দিকে ধাবিত হয়। এটি এই দুই শক্তিকে ব্যবহার করে যাতে তাদের মাধ্যমে ইচ্ছাশক্তিতে প্রবেশ করতে পারে এবং তাকে জাগ্রত করে ব্যক্তিকে কার্যে প্রবৃত্ত করতে পারে। একইভাবে, কবিতা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চিন্তা ও ইচ্ছাশক্তির ওপর প্রভাব ফেলে, কারণ এতে সত্য ও আবেগের সমন্বয় থাকে; বিশেষ করে যদি তা হয় উপদেশমূলক ও সংস্কারমূলক কবিতা। আর বৈজ্ঞানিক গদ্য তার তথ্যাবলীর মাধ্যমে সরাসরি চিন্তাশক্তির দিকে ধাবিত হয়, কিন্তু এই সত্য বা তথ্যাবলীই হলো আবেগের মূল স্তম্ভ এবং তার শক্তি ও সত্যতার কারণ। এমনকি এটিই সেই আকিদার ভিত্তি যার ওপর ইচ্ছাশক্তি নির্ভর করে। এর ফলে এই শিল্পকলাগুলোর প্রতিটিই আত্মার (নফস) সকল শক্তির ওপর প্রভাব ফেলে, যদিও শিল্পের ভিন্নতার কারণে প্রভাবের মাত্রায় তারতম্য হতে পারে; কিন্তু এগুলো একে অপরের সহযোগী ও সংযুক্ত, ঠিক যেমনটি আত্মার শক্তিগুলোর বৈশিষ্ট্য।

3- মানুষের শ্রেণিবিভাগ এবং তাদের পরিবেশের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। মানুষের এই শ্রেণিগুলো—তাদের মেধার স্তরে যতই পার্থক্য থাকুক না কেন—একটি সাধারণ আধ্যাত্মিক বা মানসিক ঐক্যের অধিকারী এবং কাল ও পাত্রের ভিন্নতা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে একটি সাধারণ যোগসূত্র বিদ্যমান। সাহিত্যিক শিল্পকলাগুলোর ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমনই; প্রতিটি প্রকারের মধ্যে, বরং প্রতিটি ব্যক্তি যেকোনো প্রকারের শিল্পের মধ্যে এমন একটি দিক খুঁজে পায় যা তার আত্মাকে পুষ্ট করে এবং তাকে প্রভাবিত করে। কেননা সকল মানুষেরই বুদ্ধি, আবেগ এবং সংকল্প রয়েছে। আর শিল্পকলার মধ্যে এমন কিছু আছে যা নারীর উপকারে আসে এবং পুরুষকে উদ্দীপ্ত করে; এমন কিছু আছে যা যুবককে উপকৃত করে এবং দার্শনিককে আলোড়িত করে; এবং এমন কিছু আছে যা যোদ্ধাকে বিচলিত করে এবং ধীরস্থির ব্যক্তিকে উত্তেজিত করে—যদি সেই সাহিত্য মানুষের নিকট হতে উৎসারিত হয়ে মানুষের উদ্দেশ্যেই নিবেদিত হয়।

4- আমরা এই গবেষণার মধ্যে দেখতে পাব যে, সভ্যতা-কেন্দ্রিক বা প্রায়োগিক শৈলীর জন্য শক্তির বৈশিষ্ট্যটি অধিকতর প্রয়োজন, বৈজ্ঞানিক শৈলীতে স্পষ্টতা অধিক প্রকাশ্য, এবং সৌন্দর্য হলো সাহিত্যিক শৈলীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বাগ্মিতা স্পষ্টতা বা সৌন্দর্য থেকে অমুখাপেক্ষী; অন্যথায় তা বোধগম্য হবে না এবং মানুষ তা সহ্য করতে পারবে না। ফলে এটি তার প্ররোচিত করার ক্ষমতা ও প্রভাব হারিয়ে ফেলবে এবং এর মাধ্যমে তার ব্যবহারিক লক্ষ্য অর্জিত হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ২৫)
ولا يمكن أن ينكر الأسلوب العلمي القوة والجمال، فرارًا من الثقل والجفأ فلا يقبل عليه القراء ولا يفيدون منه شيئا، ولن يكتفي الشعر مثلا بجمال الأسلوب دون الوضوح والقوة، وإلا فقد ميزته الأدبية التي هي أداء المعاني العقلية، وميزته الفنية الهامة التي هي إثارة العواطف في نفوس القراء، فلا بد إذًا من توافر هذه الصفات في كل أسلوب وإن كان يجبهك منها أوضحها في الفن الذي تدرسه.

5- وخلاصة هذا الفصل أن هناك وحدتين: وحدة نفسية، ووحدة أدبية والأولى تتوافر في طبيعة النفس الإنسانية وتتراءى لنا مظاهر شتى تتعاقب عليها فكرًا أو عاطفة أو إرادة، وأي قوة في إحداها تفيد سائرها ما دام الإنسان حريصًا على حفظ التوازن بينها، والثانية تظهر في طبيعة الكلام وصدوره عن نفس البليغ واشتماله على تلك العناصر الأدبية التي هي في الأصل عناصر نفسية صالحة لتثقيف الإنسان وتهذيبه من أي طبقة كان، وفي أي بيئة من البيئات.
বৈজ্ঞানিক শৈলীর পক্ষে শক্তি ও সৌন্দর্যকে অস্বীকার করা সম্ভব নয়, জড়তা ও রুক্ষতা পরিহারের লক্ষ্যে; অন্যথায় পাঠকরা এর প্রতি আকৃষ্ট হবে না এবং তা থেকে কোনো উপকার লাভ করবে না। উদাহরণস্বরূপ, কবিতা কেবল শৈলীর সৌন্দর্যের ওপর তুষ্ট থাকবে না স্পষ্টতা ও শক্তিমত্তা ব্যতিরেকে, অন্যথায় এটি তার সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য হারাবে যা হলো বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থসমূহ সম্পাদন করা, এবং তার গুরুত্বপূর্ণ শৈল্পিক বৈশিষ্ট্যও হারাবে যা হলো পাঠকদের মনে আবেগ সঞ্চার করা। সুতরাং প্রতিটি শৈলীতেই এই গুণাবলির উপস্থিতি আবশ্যক, যদিও আপনি যে শিল্পটি অধ্যয়ন করছেন তাতে এর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট বৈশিষ্ট্যটিই আপনার সম্মুখে প্রতিভাত হয়।

৫- এই অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ হলো এই যে, সেখানে দুটি ঐক্য রয়েছে: মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য এবং সাহিত্যিক ঐক্য। প্রথমটি মানবাত্মার প্রকৃতির মধ্যে বিদ্যমান থাকে এবং আমাদের সামনে এর নানাবিধ রূপ প্রকাশিত হয় যা চিন্তা, আবেগ বা ইচ্ছাশক্তি হিসেবে পর্যায়ক্রমে আবির্ভূত হয়। এর যেকোনো একটির শক্তি বাকিগুলোর উপকার করে যতক্ষণ মানুষ এগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকে। আর দ্বিতীয়টি বাণীর প্রকৃতির মধ্যে এবং একজন বাগ্মীর অন্তর থেকে তা নিঃসৃত হওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এটি এমন সব সাহিত্যিক উপাদান ধারণ করে যা মূলত মনস্তাত্ত্বিক উপাদান, যা মানুষকে শিক্ষিত ও মার্জিত করার উপযোগী, সে যে স্তরেরই হোক না কেন এবং যেকোনো পরিবেশেরই অধিবাসী হোক না কেন।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الفصل الثالث: في علوم البلاغة

رأينا في الفصل الأول أن البلاغة -في ناحيتها النظرية- علم من العلوم الأدبية، وهنا نذكر أنها -في ناحيتها الفنية- في حاجة إلى علوم أخرى تعد وسائل لها، ويجب أن تقوم كل منها بواجب أولى في الإنشاء البليغ ثم يتقدم الفن البلاغي بعد ذلك ليتم ما عليه من حسن التعبير ومطابقته لمقتضى الحال، وأهم هذه العلوم البلاغية أنثان: هما النحو والمنطق.

1- فالنحو -ومنه الصرف- يرشدنا إلى بناء الكلمات اللغوية وتصريفها وبيان علاقاتها معًا في الجمل والعبارات، ثم يعيننا كذلك في تكوين التراكيب الصحيحة، والفِقَر المترابطة الأجزاء، وبذلك تنتهي مهمته ما دام قد حقق لنا صحة العبارة في ذاتها بصرف النظر عن صلتها بالقراء أو السامعين، وعلى الفن البلاغي بعد ذلك أن يتصرف العبارة -مع بقاء صحتها- تصرفًا يجعلها سلسة، قوية التأثير، بعيدة عن التنافر سهلة قريبة الفهم، فقد تكون العبارة صحيحة التكوين النحوي ولكنها مع ذلك سقيمة التراكيب صعبة الفهم، لا ترضي الذوق، وإذًا فلا يمكن أن تسمى بليغة لأن البلاغة تستلزم أمرين: هذا الصواب النحوي الذي أشرنا إليه، ثم الجمال والملائمة لأذواق المخاطبين وعقولهم من أمثلة ذلك قول المتنبي:

وشيخٌ في الشباب وليس شيخًا … يُسَمَّى كلُّ من بَلغَ المشيبا

لكثرة الاضطراب في تكوين العبارة حتى صارت بطيئة الفهم، وترتيبها الطبيعي هكذا: "هو شيخ في الشباب، وليس كل من بلغ المشيب يسمى شيخًا".
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্রের জ্ঞান প্রসঙ্গে

আমরা প্রথম পরিচ্ছেদে দেখেছি যে, বালাগাত—তার তাত্ত্বিক দিক থেকে—একটি সাহিত্যিক জ্ঞান। এখানে আমরা উল্লেখ করছি যে, বালাগাত—তার শৈল্পিক দিক থেকে—অন্যান্য কিছু জ্ঞানের মুখাপেক্ষী যা এর মাধ্যম হিসেবে গণ্য হয়। সাবলীল রচনার ক্ষেত্রে এগুলোর প্রত্যেকটির প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করা আবশ্যক, অতঃপর বালাগাত বা অলঙ্কারশৈলী অগ্রসর হয়ে অভিব্যক্তির সৌন্দর্য এবং পরিস্থিতির চাহিদার সাথে তার সামঞ্জস্য বিধানের কাজ সম্পন্ন করে। অলঙ্কারশাস্ত্রের এই সহায়ক জ্ঞানসমূহের মধ্যে প্রধান দুটি হলো: নাহু (ব্যাকরণ) এবং মানতিক (তর্কশাস্ত্র)।

১- সুতরাং নাহু—এবং এর অন্তর্ভুক্ত সরফ—আমাদেরকে ভাষাগত শব্দ গঠন, শব্দের রূপান্তর এবং বাক্য ও বাচনভঙ্গিতে শব্দগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এরপর এটি আমাদের সঠিক বাক্য গঠন এবং সুসংবদ্ধ অনুচ্ছেদ তৈরিতেও সহায়তা করে। পাঠক বা শ্রোতার সাথে বাণীর সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনা না করে যতক্ষণ পর্যন্ত এটি বাক্যের নিজস্ব ব্যাকরণগত শুদ্ধতা নিশ্চিত করে, ততক্ষণ পর্যন্তই এর কাজ সীমাবদ্ধ। এরপর অলঙ্কারশৈলীর কাজ হলো বাক্যটির শুদ্ধতা বজায় রেখে তাকে এমনভাবে বিন্যস্ত করা যাতে তা প্রাঞ্জল, শক্তিশালী প্রভাবসম্পন্ন, শ্রুতিকটুতা হতে মুক্ত এবং সহজবোধ্য হয়। কারণ অনেক সময় একটি বাক্য ব্যাকরণগতভাবে সঠিক হওয়া সত্ত্বেও তার গঠনশৈলী দুর্বল ও দুর্বোধ্য হতে পারে, যা রুচিসম্মত হয় না। এমতাবস্থায় তাকে 'বালিগ' বা অলঙ্কারপূর্ণ বলা সম্ভব নয়। কারণ বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্র দুটি বিষয়কে অপরিহার্য করে: প্রথমত, ইতিপূর্বে উল্লিখিত ব্যাকরণগত শুদ্ধতা; এবং দ্বিতীয়ত, সৌন্দর্য ও শ্রোতার রুচি ও বিবেকের সাথে সামঞ্জস্যতা। এর একটি উদাহরণ হলো মুতানাব্বির এই উক্তি:

যৌবনেই এক বৃদ্ধ, অথচ সে বৃদ্ধ নয় … পলিত কেশধারী সকলকেই বৃদ্ধ বলা যায় না।

এখানে বাক্য গঠনে অধিক বিশৃঙ্খলার কারণে তা বুঝতে বিলম্ব ঘটে; এর স্বাভাবিক বিন্যাস হলো এরকম: "সে যৌবনেই একজন বৃদ্ধ (প্রজ্ঞাবান), আর বার্ধক্যে উপনীত হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকেই বৃদ্ধ বলা যায় না।"
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ২৭)
فهذه الصحة النحوية، والمطابقة لقواعد لإعراب لا تكفي لتحقيق البلاغة ما دام التقديم والتأخير قد مزق أوصال العبارة كما رأيت، وكذلك قول ابن المقفع: "ليعلم إخوانك والعامة أنك إن استطعت أن تكون إلى أن تفعل ما لا تقول أقرب منك إلى أن تقول ما لا تفعل فعلت"، وهذا الذي ذكرناه هنا هو ما ألم به الأستاذ عبد القاهر الجرجاني في معرض القول في نظم الكلام وتأليفه حيث يقول1: "فإن قلت: أفليس هو كلامًا قد اطرد على الصواب، وسلم من العيب؟ أفما يكون في كثرة الصواب فضيلة؟ قيل: أَمّا والصواب كما ترى فلا؛ لأنا لسنا في ذكر تقويم اللسان، والتحرز من اللحن، وزيغ الإعراب فنعتد بمثل هذا الصواب وإنما نحن في أمور تدرك بالفكر اللطيفة، ودقائق يوصل إليها بثاقب الفهم فليس درك صواب دركا فيما نحن فيه حتى يشرف موضعه، ويصعب الوصول إليه، وكذلك لا يكون ترك خطأ تركا حتى يُحتاج في التحفظ منه إلى لطف نظر، وفضلِ روية، وقوة ذهن، وشدة تيقظ، وهذا باب ينبغي أن تراعيه وأن تعُنى به، حتى إذا وازنت بين كلام وكلام دريت كيف تصنع، فضممت إلى كل شكل شكله، وقابلته بما هو نظير له وميزت ما الصنعة منه في لفظه مما هي منه في نظمه، ثم ذكر مثالا لحسن التأليف قول الشاعر:

سَالتْ عليِه شِعاب الحيّ حين دعا … أنصاره بوجوه كالدنانير

"فإنك ترى هذه الاستعارة على لطفها وغرابتها، وإنما تم لها هذا الحسن وانتهى إلى حيث انتهى، بما توخى في وضع الكلام من التقديم والتأخير، وتجدها قد ملحت ولطفت بمعاونة ذلك، ومؤازرته لها، وإن شككت فاعمد إلى الجارين والظرف، فأزل كلا منهما عن مكانه الذي وضعه الشاعر فيه

--------------------------------------------

1 ص77 دلائل الإعجاز. ويلاحظ أن نظم الكلام يقابل الأسلوب ولكننا آثرنا الثانية لخفتها وشيوعها.
এই ব্যাকরণগত শুদ্ধতা এবং ইরাবের নিয়মের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করা বালাগাত বা অলংকারিক উৎকর্ষ অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়, যতক্ষণ না শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ বিন্যাস বাক্যরীতিকে খণ্ডিত করে ফেলে যেমনটি আপনি দেখেছেন। ইবনুল মুকাফফার এই উক্তিটিও তেমনি: "তোমার ভাইদের ও সাধারণ মানুষকে জানতে দাও যে, তুমি যা বলো না তা করার সক্ষমতা যদি তোমার যা করো না তা বলার চেয়ে বেশি হয়, তবে তাই করো।" আর আমরা এখানে যা উল্লেখ করেছি, উস্তাদ আব্দুল কাহের আল-জুরজানী কালামের বিন্যাস ও রচনার আলোচনার প্রসঙ্গে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন: "যদি আপনি বলেন: এটি কি এমন একটি কথা নয় যা সঠিকভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং ত্রুটিমুক্ত হয়েছে? অধিক শুদ্ধতার মাঝে কি কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই? উত্তরে বলা হবে: আপনি যেমনটি শুদ্ধতা দেখছেন সে বিচারে না; কারণ আমরা এখানে জিহ্বার সংশোধন, ভুল উচ্চারণ থেকে বেঁচে থাকা কিংবা ইরাবের বিচ্যুতি নিয়ে আলোচনা করছি না যে এই ধরনের শুদ্ধতাকে আমরা গণ্য করব। বরং আমরা এমন সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি যা সূক্ষ্ম চিন্তার মাধ্যমে অনুধাবন করা যায় এবং প্রখর বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সেই সূক্ষ্মতায় পৌঁছানো যায়। সুতরাং আমাদের আলোচ্য বিষয়ে শুদ্ধতা অর্জন ততক্ষণ পর্যন্ত সার্থক নয় যতক্ষণ না এর অবস্থান উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন হয় এবং সেখানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। একইভাবে ভুল বর্জন করা ততক্ষণ পর্যন্ত সার্থকতা পায় না যতক্ষণ না তা থেকে বেঁচে থাকার জন্য সূক্ষ্ম দৃষ্টি, উন্নত চিন্তা, মানসিক শক্তি এবং তীব্র সতর্কতার প্রয়োজন হয়। এটি এমন একটি অধ্যায় যা আপনার পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং এর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত, যাতে আপনি যখন এক কালামের সাথে অন্য কালামের তুলনা করবেন, তখন বুঝতে পারেন কীভাবে তা সম্পাদন করতে হবে। ফলে আপনি প্রতিটি রূপকে তার স্বগোত্রীয়র সাথে মেলাবেন, তার সদৃশ বিষয়ের সাথে তুলনা করবেন এবং শব্দের বিন্যাসের কারণে যে শিল্প তৈরি হয়েছে আর শব্দের উচ্চারণের কারণে যে শিল্প তৈরি হয়েছে তার পার্থক্য করতে পারবেন।" এরপর তিনি সুন্দর রচনার উদাহরণ হিসেবে কবির এই পংক্তিটি উল্লেখ করেন:

গোত্রের উপত্যকাগুলো তার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলো যখন সে ডাকল … তার সাহায্যকারীদের, যাদের চেহারা ছিল স্বর্ণমুদ্রার মতো।

"আপনি এই রূপকটি তার সূক্ষ্মতা ও চমৎকারিত্ব সত্ত্বেও দেখতে পাচ্ছেন যে, এটি পূর্ণতা পেয়েছে এবং তার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে কেবল কালামের বিন্যাসে শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ করার সুনির্দিষ্ট ব্যবহারের মাধ্যমে। আপনি দেখতে পাবেন যে এটি সেই কৌশলের সাহায্য ও সমর্থনের মাধ্যমেই মাধুর্যমণ্ডিত ও সূক্ষ্ম হয়েছে। যদি আপনি সন্দেহ করেন, তবে হারফে জার ও যরফ দুটির দিকে লক্ষ্য করুন এবং কবি সেগুলোকে যেখানে স্থাপন করেছেন সেখান থেকে সরিয়ে দিন।"

--------------------------------------------

১. দলাইলুল ইজায, পৃষ্ঠা ৭৭। লক্ষণীয় যে, 'নাজমুল কালাম' বা বাক্যের বিন্যাস 'শৈলী' বা স্টাইল-এর সমার্থক, তবে আমরা সহজবোধ্য ও বহুল প্রচলিত হওয়ার কারণে দ্বিতীয়টি পছন্দ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ২৮)
فقل: سَالت شعاب الحي بوجوه كالدنانير عليه حين دعا أنصاره، ثم انظر كيف يكون الحال وكيف تعدم أريحيتك التي كانت وكيف تذهب النشوة التي كنت تجدها؟ "1.

2- وأما المنطق فإنه يعلمنا طرق التفكير الصحيح، ويشرح لنا خواص الفكرة الصحيحة في ذاتها، لا يعنيه بعد ذلك أكانت مفهومه للناس أم لا، استطاعوا أن يدركوا الفكرة واضحة قوية رائعة أم سطحية فاترة فعلى البلاغة بعد تسلم هذه الأفكار الصحيحة أن تقوم بجهد فنِّي خطير فتبسط الأفكار، وتحسن ترتيبها، وعرضها، وأداءها بعبارة واضحة جميلة، وتلائم بينها وبين من كتبت لهم، وبذلك تتحقق البلاغة من هذه الجهة المعنوية أيضًا، وهنا نقول كما قلنا قبلا: إن الأفكار قد تكون صحيحة في ذاتها، مسلمة المقدمات والبراهين، وهي مع ذلك أبعد ما تكون عن البلاغة وحسن البيان؛ لأنها ليست في مستوى القراء، غربية عن بيئتها الزمانية أو المكانية، تعوزها الروعة والقوة أو العبارة المناسبة لها، ومن هنا عيب التحدث إلى العامة بأفكار الخاصة كما أن عكس ذلك عيب أيضًا.

مهمة البلاغة إذًا الحرص على صحة الأفكار والمعلومات، ثم عرضها عرضا واضحًا قويًّا ملائمًا للمخاطبين، ومن كلام بشر بن المعتمر2 "ومن أراد معنى كريما، فإن حق المعنى الشريف اللفظ الشريف ومن حقهما أن تصونهما عما يفسدهما أو يهجنهما، وعما تعود من أجله أن كون أسوأ حالًا منك قبل أن تلتمس إظهارهما وترتهن نفسك بملابستهما، وقضاء حقهما، وكن في ثلاث منازل، فإن أوى الثلاث أن يكون لفظك رشيقا عذاب، وفخما

--------------------------------------------

1 المرجع السابق ص78.

2 البيان والتبيين للجاحظ ج1 ص105.
অতএব বলুন: মহল্লার উপত্যকাগুলো এমন সব মুখাবয়বে প্লাবিত হলো যা দিনারের মতো উজ্জ্বল ছিল, যখন তিনি তাঁর সাহায্যকারীদের ডাকলেন। তারপর দেখুন অবস্থা কেমন হয় এবং আপনার মধ্যে যে পূর্ববর্তী সজীবতা ছিল তা কীভাবে নিঃশেষ হয়ে যায় এবং আপনি যে পুলক অনুভব করতেন তা কীভাবে বিলীন হয়ে যায়?

২- আর যুক্তিবিদ্যার কথা যদি বলি, তবে তা আমাদের সঠিক চিন্তাপদ্ধতি শিক্ষা দেয় এবং চিন্তা বা ধারণার নিজস্ব সত্তার ভেতরে তার সঠিক হওয়ার বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা করে। মানুষের কাছে তা বোধগম্য হলো কি হলো না, তারা কি সেই ধারণাটিকে স্পষ্ট, শক্তিশালী ও চমৎকার হিসেবে উপলব্ধি করতে পারল নাকি তা ভাসাভাসা ও নিস্প্রভ রয়ে গেল—সেটি যুক্তিবিদ্যার বিবেচ্য বিষয় নয়। অলঙ্কারশাস্ত্রের দায়িত্ব হলো, এই সঠিক চিন্তাগুলো গ্রহণ করার পর এক মহান শিল্পনিপুণ প্রচেষ্টায় লিপ্ত হওয়া, যেন সে সেই চিন্তাগুলোকে সহজবোধ্য করে তোলে এবং সেগুলোর সুবিন্যাস, উপস্থাপন ও প্রকাশভঙ্গিকে স্পষ্ট ও সুন্দর বাক্যে রূপদান করে। আর যাদের উদ্দেশ্যে তা লেখা হচ্ছে, তাদের সাথে এর উপযুক্ত সমন্বয় সাধন করে। এর মাধ্যমেই এই অর্থগত দিক থেকেও অলঙ্কারশাস্ত্রের সার্থকতা অর্জিত হয়। আর এখানে আমরা ঠিক তাই বলব যা আমরা পূর্বেও বলেছি: কোনো চিন্তা বা ধারণা হয়তো নিজের সত্তায় সঠিক হতে পারে, তার ভূমিকা ও প্রমাণসমূহ স্বীকৃত হতে পারে, কিন্তু তা সত্ত্বেও তা অলঙ্কারশাস্ত্র ও সুষ্পষ্ট বর্ণনাশৈলী থেকে বহু দূরে অবস্থান করতে পারে; কারণ তা হয়তো পাঠকদের পর্যায়ের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়, কিংবা তার কাল ও পাত্রের পরিবেশের জন্য অপরিচিত, অথবা এতে সেই চমৎকারিত্ব, প্রভাব বা উপযুক্ত প্রকাশভঙ্গির অভাব রয়েছে। এখান থেকেই সাধারণ মানুষের কাছে উচ্চমার্গের চিন্তা নিয়ে কথা বলাকে দোষণীয় মনে করা হয়, যেমনটি এর বিপরীতটাও একটি দোষ।

অতএব, অলঙ্কারশাস্ত্রের কাজ হলো চিন্তা ও তথ্যের সঠিকতার প্রতি যত্নশীল হওয়া, অতঃপর তা সম্বোধিত ব্যক্তিদের সামনে স্পষ্ট, শক্তিশালী ও উপযুক্তরূপে উপস্থাপন করা। বিশর ইবনুল মুতামিরের বক্তব্য থেকে: "আর যে ব্যক্তি কোনো মহৎ অর্থ প্রকাশ করতে চায়, তবে সেই শ্রেষ্ঠ অর্থের পাওনা হলো শ্রেষ্ঠ শব্দ। আর উভয়ের অধিকার হলো আপনি সেগুলোকে এমন সব বিষয় থেকে হেফাযত করবেন যা সেগুলোকে কলুষিত বা ত্রুটিযুক্ত করে, এবং এমন অবস্থা থেকেও রক্ষা করবেন যার ফলে সেগুলোকে প্রকাশ করার চেষ্টা করার এবং সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে সেগুলোর হক আদায় করার আগের অবস্থার চেয়েও শোচনীয় অবস্থায় পড়তে হয়। আর আপনি তিনটি স্তরের মধ্যে অবস্থান করুন; যার মধ্যে প্রথমটি হলো আপনার শব্দ চয়ন যেন মার্জিত, সুপেয় ও গাম্ভীর্যপূর্ণ হয়।"

--------------------------------------------

১. পূর্বোক্ত সূত্র, পৃষ্ঠা ৭৮।

২. আল-জাহিয রচিত আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়ীন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০৫।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ২৯)
سهلًا، ويكون معناك ظاهرًا مكشوفًا وقريبًا معروفًا، إمَّا عند الخاصة إن كنت للخاصة قصدت، وإمَّا عند العامة إن كنت للعامة أردت. والمعنى ليس يشرف بأن يكون من معاني الخاصة وكذلك ليس يتضح بأن يكون من معاني العامة، وإنما مدار الشرف على الصواب وإحراز المنفعة، مع موافقة الحال، وما يجب لكل مقام من المقال، وكذلك اللفظ العامي والخاصي فإن أمكنك أن تبلغ من بيان لسانك وبلاغة قلمك ولطف مداخلك واقتدارك على نفسك على أن تفهم العامة معاني الخاصة وتكسوها الألفاظ الواسطة التي لا تلطف عن الدهماء ولا تجفو عن الأكفاء فأنت البليغ التام".

وخلاصة هذا الفصل أن هنا مسألتيين يجب أن تتوافرا في الكلام البليغ هما الصحة والمناسبة. فالأولى من وحي المنطق والنحو، والثانية هي الميزة التي يختص بها الفن الجميل.

وهنا ننتبه إلى هذا الفرق بين علوم البلاغة كما وردت في كتب البلاغة العربية وبين علوم البلاغة كما ذُكرت هنا، فليست الأولى إلا فصولا في باب الأسلوب حسب منهجنا الحديث، وإنّ كُلًّا من النحو والمنطق علم مستقل لا يدخل في صميم البلاغة ولكنه يمهد لها، ويسبقها إلى تحقيق الصحة في العبارة والفكرة، وبعد ذلك تتقدم البلاغة لتوفير المناسبة أو المطابقة التي هي وظيفة الفن البلاغي الأصيل.
সহজবোধ্য, এবং আপনার অভিপ্রায় হবে সুস্পষ্ট, উন্মুক্ত এবং নিকটবর্তী ও সুপরিচিত; হয় বিশিষ্টজনদের কাছে যদি আপনি বিশিষ্টজনদের উদ্দেশ্য করে থাকেন, অথবা সাধারণ মানুষের কাছে যদি আপনি সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্য করে থাকেন। আর অর্থের মাহাত্ম্য কেবল বিশিষ্টজনদের পরিভাষা হওয়ার কারণে হয় না, তেমনি তা কেবল সাধারণের পরিভাষা হওয়ার কারণেও স্পষ্ট হয় না; বরং মাহাত্ম্যের মূল ভিত্তি হলো নির্ভুলতা এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করা, সেই সাথে অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রাখা এবং প্রতিটি পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী যথাযথ বাক্য প্রয়োগ করা। অনুরূপভাবে সাধারণ ও বিশেষ শব্দাবলির ক্ষেত্রেও; যদি আপনি আপনার রসনার বর্ণনাভঙ্গি, কলমের প্রাঞ্জলতা, সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি এবং দক্ষতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিশিষ্টজনদের গূঢ় অর্থসমূহ বোঝাতে সক্ষম হন এবং সেগুলোকে এমন মধ্যমপন্থী শব্দে অলঙ্কৃত করেন যা সাধারণের জন্য দুর্বোধ্য নয় এবং বিদগ্ধজনদের কাছেও রূঢ় নয়, তবেই আপনি একজন পূর্ণাঙ্গ বাগ্মী।

এই পরিচ্ছেদের সারকথা হলো, প্রাঞ্জল বাক্যে দুটি বিষয়ের সমন্বয় থাকা আবশ্যক: শুদ্ধতা এবং উপযোগিতা। প্রথমটি যুক্তিবিদ্যা ও ব্যাকরণ থেকে সংগৃহীত, আর দ্বিতীয়টি হলো সেই বৈশিষ্ট্য যা চারুকলাকে অনন্য বিশেষত্ব দান করে।

এখানে আমাদের আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে বর্ণিত অলঙ্কারবিদ্যা এবং এখানে বর্ণিত অলঙ্কারবিদ্যার মধ্যকার পার্থক্যের প্রতি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। আমাদের আধুনিক পদ্ধতি অনুযায়ী পূর্বোক্ত শাস্ত্রগুলো কেবল রচনাশৈলী অধ্যায়ের কয়েকটি পরিচ্ছেদ মাত্র। প্রকৃতপক্ষে ব্যাকরণ ও যুক্তিবিদ্যা প্রতিটিই স্বতন্ত্র শাস্ত্র যা অলঙ্কারশাস্ত্রের মূল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এর পটভূমি তৈরি করে এবং বাক্যে ও চিন্তায় শুদ্ধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অলঙ্কারশাস্ত্রের অগ্রগামী হিসেবে কাজ করে। এরপর অলঙ্কারশাস্ত্র অগ্রসর হয় বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা বা সামঞ্জস্য বিধানের কাজ নিয়ে, যা মূলত প্রকৃত অলঙ্কারশিল্পের প্রধান কাজ।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الفصل الرابع: البلاغة بين العلم والفن

حينما يدرس الطالب قواعد البلاغة ومسائلها دراسة نظرية منظمة، يقال: إنه يدرس علم البلاغة، كما يدرس مواضع الفصل والوصل، وقوانين التشبيه والمجاز، وأصول الخطابة والرواية والوصف، فإذا ما أخذ يطبق هذه القواعد تطبيقًا عمليًّا بإنشاء الكلام البليغ، قيل: إنه يعالج فن البلاغة؛ كأن يرتجل الخطابة، أو يكتب القصة، ويبدع الوصف: فالعلم هو المعارف الإنسانية في أسلوب منسق، والفن هو هذه المعارف في شكل عملي تطبيقي، والفن نوعان: نافع كالصناعات التي يكون عمل الجسم فيها أظهر من عمل الذوق، وفن جميل، وفيه يكون أثر الذوق، ومظهره أشد من أثر الجسم كالموسيقى والأدب والرسم والتصوير؛ فهذه كلها لغات حسية جميلة تعبر عن عاطفة الإنسان وشخصيته الفنية تعبيرًا جميلًا بوسائلها المختلفة، كألحان الموسيقى، وعبارات الأدب، وألوان الرسم، وأدات التصوير، وهو عمل الصور -أي التماثيل- وهناك كلام كثير في الفروق بين العلم والفن ليس هنا موضع الخوض فيه1.

وإنما نذكر في هذا الفصل صلة البلاغة بكل من العلم والفن مع الإشارة إلى فوائدها في كل ناحية من هذه النواحي متوخين الإيجاز ما دام كافيًا.

1- وقد أسبقنا القول في أن البلاغة علم أدبي، وكنا نلاحظ هناك نسبتها إلى الأدب بمعناه الخاص غالبًا، أي هذه النصوص الممتازة من الشعر والنثر، وقرناها

--------------------------------------------

1 راجع للمؤلف: أصول النقد الأدبي ص65 طبعة ثانية.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিজ্ঞান ও শিল্পের মাঝে অলঙ্কারশাস্ত্র

যখন একজন শিক্ষার্থী অলঙ্কারশাস্ত্রের নিয়মাবলী ও বিষয়সমূহ সুশৃঙ্খল তাত্ত্বিক পদ্ধতিতে অধ্যায়ন করে, তখন বলা হয়: সে অলঙ্কার বিজ্ঞান (ইলমে বালাগাত) পাঠ করছে। যেমন সে পাঠ করে বাক্যের বিচ্ছেদ ও সংযোগের স্থানসমূহ, উপমা ও রূপকের নিয়মাবলী এবং বাগ্মিতা, আখ্যান ও বর্ণনার মূলনীতিসমূহ। আর যখন সে এই নিয়মগুলোকে অলঙ্কারপূর্ণ বাক্য রচনার মাধ্যমে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে শুরু করে, তখন বলা হয়: সে অলঙ্কার শিল্প (ফননে বালাগাত) চর্চা করছে; যেমন তাৎক্ষণিক বক্তৃতা প্রদান করা, গল্প লেখা কিংবা সুনিপুণ বর্ণনা প্রদান করা। সুতরাং বিজ্ঞান হলো সুসংবদ্ধ পদ্ধতিতে লব্ধ মানবীয় জ্ঞান, আর শিল্প হলো এই জ্ঞানেরই একটি ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক রূপ। শিল্প দুই প্রকার: একটি হলো প্রয়োজনীয় শিল্প, যেমন সেই সব হস্তশিল্প যাতে রুচিবোধের চেয়ে দৈহিক শ্রমের আধিক্য থাকে; আর অন্যটি হলো ললিতকলা, যাতে দৈহিক শ্রমের চেয়ে রুচিবোধের প্রভাব ও বহিঃপ্রকাশ অধিক স্পষ্ট থাকে, যেমন সংগীত, সাহিত্য, চিত্রাঙ্কন ও ভাস্কর্য। এগুলোর প্রতিটিই হলো সৌন্দর্যমণ্ডিত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ভাষা, যা বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে মানুষের আবেগ ও শৈল্পিক ব্যক্তিত্বকে চমৎকারভাবে প্রকাশ করে; যেমন সংগীতের সুর, সাহিত্যের অভিব্যক্তি, চিত্রাঙ্কনের রঙ এবং ভাস্কর্যের সরঞ্জাম—যা মূলত প্রতিকৃতি বা মূর্তি তৈরির কাজ। বিজ্ঞান ও শিল্পের পার্থক্যের বিষয়ে অনেক আলোচনা রয়েছে, যা এখানে অবতারণা করার সুযোগ নেই১।

আমরা এই পরিচ্ছেদে কেবল বিজ্ঞান ও শিল্প উভয়ের সাথে অলঙ্কারশাস্ত্রের সম্পর্ক এবং এর প্রতিটি দিকের উপকারিতা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করব, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্যাপ্ত হয়।

১- আমরা পূর্বেই বলেছি যে অলঙ্কারশাস্ত্র একটি সাহিত্যিক বিজ্ঞান। সেখানে আমরা বিশেষ অর্থে সাহিত্যের সাথে এর সম্পর্কের বিষয়টি লক্ষ্য করেছি, অর্থাৎ কবিতা ও গদ্যের সেই সব উৎকৃষ্ট পাঠ্যসমূহ এবং আমরা সেগুলোকে তুলনা করেছি...

--------------------------------------------

১ লেখকের 'উসুলুন নাকদিল আদাবি' (সাহিত্য সমালোচনার মূলনীতি), পৃষ্ঠা ৬৫, দ্বিতীয় সংস্করণ দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ৩১)
بالنقد الأدبي؛ فكلاهما نافع في إرشاد الكتاب والشعراء إلى خير المثل التي تهب لآثارهم الفنية خاصتي الإفادة والتأثير، ونستطيع هنا أن ننسبها إلى الأدب بمعناه العام فتدخل دائرة العلوم التي تبحث في علاقة الإنسان بالزمان والمكان، وعلاقة أفراده وجماعاته بعضهم ببعض كالتاريخ، والجغرافيا، والقانون، والاجتماع، والأخلاق.

وليس من شك في أن البلاغة تبحث في هذه الصلات وتقيم عليها مسألتها الرئيسية وهي كيفية مطابقة الكلام لمقتضى الحال كما اتضح ذلك في الفصل الثاني من هذه المقدمات، فأصول الخطابة قائمة على العلاقة بين الخطيب والسامعين، وبينه وبين البيئة الزمانية والسياسية والاجتماعية التي نعيش فيها، وكذلك الكاتب والشاعر والراوي وكل صاحب قلم أو لسان.

ولكن ما فائدة هذه الدراسة النظرية؟ ألا يستطيع الإنسان أن يكون بليغًا دون أن يدرس قواعد البلاغة؟

مثل ذلك قيل لعلماء المنطق لما وضعوا للناس طرق التفكير الصحيح، وليس من ينكر على بعض الناس صحة التفكير وحسن التعبير دون الرجوع إلى قواعد المنطق وعلم البلاغة، وقد أجاب المناطقة بأن علمهم من الوسائل للتربية العقلية والمرانة على طرق البحث العلمي الصحيح على أن الإنسان يمكنه الاستغناء عن المنطق ما دام تفكيره صوابًا، ولكن من يستطيع أن يضمن لنفسه أو لغيره اطراد الصواب وعدم التورط في الأخطاء، ولا سيما في المسائل الملتوية العويصة؟ ومثل ذلك يقال عن النحو والعروض وعلم الصحة1.

ولما وجه هذا السؤال إلى رجال البلاغة، قالوا: إننا نعترف بأن هناك من ذوي المواهب البيانية، والاستعداد الفطري لإنشاء الأدب الجميل، ولكن هؤلاء

--------------------------------------------

1 أصول علم النفس للأستاذ قنديل ج1 ص3.
সাহিত্য সমালোচনার মাধ্যমে; কারণ লেখক ও কবিদেরকে এমন সর্বোত্তম আদর্শের দিকে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে উভয়ই ফলপ্রসূ, যা তাদের শিল্পকর্মে উপকারিতা ও প্রভাবের বৈশিষ্ট্য দান করে। আমরা এখানে একে তার সাধারণ অর্থে সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করতে পারি, ফলে এটি এমন সব বিজ্ঞানের পরিমণ্ডলে প্রবেশ করে যা স্থান ও কালের সাথে মানুষের সম্পর্ক এবং ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে, যেমন ইতিহাস, ভূগোল, আইন, সমাজবিজ্ঞান এবং নীতিশাস্ত্র।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) এই সম্পর্কগুলো নিয়ে আলোচনা করে এবং এর ওপর ভিত্তি করেই তার প্রধান বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত করে, যা হলো পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী কথা বলার পদ্ধতি, যেমনটি এই ভূমিকার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে স্পষ্ট করা হয়েছে। সুতরাং বাগ্মিতার মূলনীতিসমূহ বক্তা ও শ্রোতার মধ্যকার সম্পর্ক এবং বক্তা ও তার বসবাসরত সমকালীন, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তেমনিভাবে এটি লেখক, কবি, বর্ণনাকারী এবং কলম বা জিহ্বার অধিকারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

কিন্তু এই তাত্ত্বিক অধ্যয়নের ফায়দা কী? কোনো ব্যক্তি কি অলঙ্কারশাস্ত্রের নিয়মকানুন অধ্যয়ন না করেই সাবলীল ও প্রাঞ্জল হতে পারে না?

যুক্তিবিদরা যখন মানুষের জন্য সঠিক চিন্তাপদ্ধতি নির্ধারণ করেছিলেন, তখন তাদের প্রতিও অনুরূপ কথা বলা হয়েছিল। যুক্তিবিদ্যা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের নিয়মাবলির আশ্রয় না নিয়েই কিছু মানুষের চিন্তার নির্ভুলতা ও প্রকাশের চমৎকারিত্বকে কেউ অস্বীকার করে না। তবে যুক্তিবিদগণ উত্তর দিয়েছেন যে, তাদের এই শাস্ত্র বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশিক্ষণ এবং সঠিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতির অনুশীলনের অন্যতম মাধ্যম; যদিও মানুষের চিন্তা যতক্ষণ সঠিক থাকে ততক্ষণ সে যুক্তিবিদ্যার মুখাপেক্ষী না হয়েও চলতে পারে। কিন্তু কে নিজের বা অন্যের জন্য সর্বদা নির্ভুল থাকার এবং ভুলত্রুটিতে নিপতিত না হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারে, বিশেষ করে জটিল ও দুরূহ বিষয়াবলির ক্ষেত্রে? ব্যাকরণ, ছন্দবিজ্ঞান এবং স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের১ ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

আর যখন অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের প্রতি এই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হলো, তখন তারা বললেন: আমরা স্বীকার করি যে, এমন কিছু লোক আছেন যাদের অলঙ্কারিক প্রতিভা এবং চমৎকার সাহিত্য রচনার সহজাত দক্ষতা রয়েছে, কিন্তু তারা...

--------------------------------------------

১ উস্তাদ কান্দিল রচিত মনোবিজ্ঞানের মূলনীতি, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ৩২)
أنفسهم معرضون للوقوع في أخطاء شتى حين يتناولون فنون الخطابة والرواية والقصة؛ إذ لا يعقل أن يستوعب الإنسان بفطرته تجارب العلماء والفنيين والنقاد.

فهذه الدراسة العلمية تختصر وقت الطالب وتوفر عليه كثيرًا من التجارب الواسعة وهي ضمان يقي الأديب الزيغ الذي لم ينتبه له، ويهديه إلى أقوم الطرق البيانية، ويرسم له المثل الصالحة للأداء فيفيد الأدباء من ذلك أجل الفوائد وأغزرها ويضيفون إلى عمرهم الحالي أعمار السابقين من العلماء والأدباء، أما غير الموهوبين فلم ييأسوا لأن هذه الدراسة النظرية تصقل مواهبهم الأولية فتعلمهم طرق القراءة والفهم والنقد وتظهرهم على نوح في الأدب مستورة وتجعل قراءتهم عميقة نافعة، هذا من الناحية الأولى، ومن جهة ثانية يكتسبون ذوقًا مهذبًا يجعل أحاديثهم وأحكامهم وكتاباتهم أقرب إلى المعقول، وأوفق للذوق الجميل، ومن هنا نجد مسائل البلاغة شديدة الصلة بأصول النقد الأدبي من حيث الإرشاد والإفادة حتى تسمى أحيانًا البلاغة النقدية Critical rhetoric.

ب- وإذا ذكر الفن العمل أو النافع فلا تعدم البلاغة ما يصل بينها وبينه، ويبدو ذلك في ناحيتين:

الأولى: من حيث طبيعتهما، فالبلاغة تحوي هذه الناحية التطبيقية التي تبدو واضحة الملائمة بين الكلام وبين حاجة القارئ أو السامع في هذه الأحوال المتباينة؛ فالخطابة لها مواقفها ورجالها وأساليبها، والكتابة تحسن حيث لا يحسن الشعر والحوار يجود حين لا تنفع المحاضرة بشيء، حتى حركات الخطيب والممثل كثيرًا ما تكون جزءًا من التعبير البلاغي.

الثانية: من حيث غايتهما، فإذا كانت غاية الصناعات النفع المادي وكسب المال، فذلك يمكن توافره في الفن البلاغي كما في الصحافة العادية، والتقارير الاقتصادية، والكتب العلمية التي ترمي إلى غاية نفعية مادية كالزراعة والصناعة، وناحية أخرى حين يتخذ الأدب نفسه وسيلة استجداء
তারা যখন বাগ্মিতা, বর্ণনা এবং গল্পের শিল্পকলা নিয়ে আলোচনা করে তখন তারা নিজেরাই বিভিন্ন ধরণের ভুলের সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে থাকে; কারণ একজন মানুষের পক্ষে তার সহজাত প্রবৃত্তি দিয়ে আলিম, শিল্পী এবং সমালোচকদের অভিজ্ঞতাগুলো আয়ত্ত করা সম্ভব নয়।

সুতরাং এই বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন শিক্ষার্থীর সময়কে সংক্ষেপ করে এবং তার অনেক বিস্তৃত অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা লাঘব করে। এটি এমন একটি নিশ্চয়তা যা সাহিত্যিককে সেই বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করে যার দিকে সে খেয়াল করেনি এবং তাকে অলঙ্করণ বা বর্ণনার সবচেয়ে সঠিক পথে পরিচালিত করে। এটি তার জন্য উপস্থাপনার সঠিক আদর্শ চিত্রিত করে, যার ফলে সাহিত্যিকগণ এখান থেকে সর্বোত্তম ও প্রচুর উপকার লাভ করেন এবং তারা তাদের বর্তমান জীবনের সাথে পূর্ববর্তী আলিম ও সাহিত্যিকদের জীবনকালকেও যুক্ত করতে পারেন। অন্যদিকে যারা মেধাবী নন, তারা যেন হতাশ না হন; কারণ এই তাত্ত্বিক অধ্যয়ন তাদের প্রাথমিক প্রতিভাকে শাণিত করে, তাদের পড়ার, বোঝার এবং সমালোচনা করার পদ্ধতি শেখায় এবং সাহিত্যের প্রচ্ছন্ন দিকগুলো তাদের সামনে ফুটিয়ে তোলে এবং তাদের পাঠকে গভীর ও উপকারী করে তোলে। এটি প্রথম দিক; আর দ্বিতীয় দিক হলো, তারা একটি মার্জিত রুচি অর্জন করে যা তাদের কথোপকথন, বিচার ও লেখাকে যুক্তিনির্ভর করে এবং সুন্দর রুচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে। এখান থেকেই আমরা দেখতে পাই যে, দিকনির্দেশনা ও উপযোগিতার দিক থেকে অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) বিষয়গুলো সাহিত্য সমালোচনার মূলনীতির সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত, এমনকি একে মাঝে মাঝে 'সমালোচনামূলক অলঙ্কারশাস্ত্র' (Critical rhetoric) বলা হয়।

খ- আর যখন ব্যবহারিক বা উপকারী শিল্পের কথা উল্লেখ করা হয়, তখন অলঙ্কারশাস্ত্রের সাথে এর সংযোগের অভাব ঘটে না, এবং এটি দুটি দিক থেকে স্পষ্ট হয়:

প্রথমত: উভয়ের প্রকৃতির দিক থেকে; অলঙ্কারশাস্ত্র এই প্রায়োগিক দিকটিকে ধারণ করে যা বিভিন্ন অবস্থায় কথা এবং পাঠক বা শ্রোতার প্রয়োজনের মধ্যে সুস্পষ্ট সামঞ্জস্য বজায় রাখে। বাগ্মিতার রয়েছে নিজস্ব প্রেক্ষাপট, ব্যক্তিত্ব এবং শৈলী। লেখা সেখানে কার্যকর হয় যেখানে কবিতা কার্যকর হয় না, এবং কথোপকথন তখন উৎকর্ষ লাভ করে যখন বক্তৃতা কোনো কাজে আসে না। এমনকি বক্তা বা অভিনেতার অঙ্গভঙ্গিও অনেক সময় অলঙ্কারপূর্ণ অভিব্যক্তির অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

দ্বিতীয়ত: তাদের উদ্দেশ্যের দিক থেকে; শিল্পের উদ্দেশ্য যদি বস্তুগত সুবিধা এবং অর্থ উপার্জন হয়, তবে তা অলঙ্কারশাস্ত্রেও পাওয়া সম্ভব, যেমনটি সাধারণ সাংবাদিকতা, অর্থনৈতিক প্রতিবেদন এবং বৈজ্ঞানিক বইগুলোতে দেখা যায় যা কৃষি বা শিল্পের মতো বস্তুগত উপযোগিতার লক্ষ্য রাখে। আর অন্য একটি দিক হলো যখন সাহিত্য নিজেই জীবিকা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-উসলুব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وكسب، وفي ذلك زراية به، ونقل له من ميدان الفن الجميل إلى دائرة الحرف والصناعات.

ج- والبلاغة بعد ذلك أشد ما تكون صلة بالفن الجميل؛ لأنها في الحقيقة أحد هذه الفنون كالرسم، والتصوير، والموسيقى، والنقش، ونستطيع هنا أن نذكر بعض نقاط المشابهة بين البلاغة وبين سائر هذه الفنون1:

1- القدرة على التعبير الجميل هبة طبعية، كحاسة السمع للموسيقى، والبصر للألوان والتناسب بينها، وهذه القدرة متفاوتة الدرجات بين الناس وفي الأحوال المختلفة، فقد تكون مرهفة يقظى تدرك الفصاحة، ومواطن الجمال بداهة كما تحسن ارتجال القول المؤثر الجميل، وقد تكون فاترة هادئة، فهي محتاجة إلى ما يوقظها ويشحذها من قراءة عميقة أو استماع إلى نصوص جميلة، ولكنها على أية حال كافية للإنشاء العادي والكتابة العلمية الواضحة، وهذه الموهبة الطبعية هي السر الأول في النبوغ البياني والعبقرية، وقد أسبقنا أن ذوي الملكات الفنية أقدر الناس على الابتكار، وأصدقهم حكما على الآثار الكتابية، وأكثرهم انتفاعا بالدراسات النظرية.

2- طالب البلاغة كغيره من طلاب الفنون الأخرى، لا يكتفي بهذه الموهبة الطبعية بل يحاول دائمًا صقلها، وتهذيبها، وترقيتها لتقوى، ويطرد نموها لتجاوز الدرجة الوسطى إلى مستوى النبوغ والابتكار، وهنا نرى طرافة الأساليب وجدتها، وفرضها على الأدب والأدباء -فعل ذلك الجاحظ قديمًا، ويحاوله كثير من المعاصرين والمحدثين- ولولا ذلك لعاش الناس في درجة ابتدائية ووقفت حركة التجديد.

--------------------------------------------

1 راجع صحيفة دار العلوم عدد 2 من السنة الثالثة للمؤلف.
এবং অর্জন, আর এতে তার প্রতি তুচ্ছজ্ঞান প্রকাশ পায় এবং তাকে ললিতকলার ময়দান থেকে পেশা ও শিল্পের পরিমণ্ডলে স্থানান্তরিত করা হয়।

গ- এরপর অলঙ্কারশাস্ত্র ললিতকলার সাথে সর্বাধিক নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত; কারণ এটি প্রকৃতপক্ষে চিত্রাঙ্কন, রূপায়ণ, সংগীত ও খোদাইশিল্পের মতো শিল্পকলাগুলোরই একটি। আমরা এখানে অলঙ্কারশাস্ত্র ও অন্যান্য এসব শিল্পের মাঝে সাদৃশ্যের কিছু দিক উল্লেখ করতে পারি ১:

১- সুন্দরভাবে ভাব প্রকাশের ক্ষমতা একটি সহজাত দান, যেমন সংগীতের জন্য শ্রবণেন্দ্রিয় এবং রঙের বৈচিত্র্য ও তাদের মধ্যকার সামঞ্জস্য অনুধাবনের জন্য দর্শনেন্দ্রিয়। এই ক্ষমতার স্তর মানুষের মাঝে এবং বিভিন্ন অবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। কখনো এটি অত্যন্ত প্রখর ও সজাগ হতে পারে যা সহজাতভাবেই প্রাঞ্জলতা ও সৌন্দর্যের স্থানগুলো উপলব্ধি করে, যেমনটি তা তাৎক্ষণিক প্রভাববিস্তারকারী সুন্দর বক্তব্য দিতে সক্ষম। আবার এটি কখনো মন্থর ও শান্ত হতে পারে, ফলে এটি গভীর পাঠ অথবা সুন্দর কোনো পাঠ শোনার মাধ্যমে জাগ্রত ও শাণিত হওয়ার প্রয়োজন বোধ করে। তবে যাই হোক না কেন, সাধারণ রচনা ও স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক লেখালেখির জন্য এটি যথেষ্ট। এই জন্মগত প্রতিভাই হলো ভাষাগত উৎকর্ষ ও মণীষার প্রধান রহস্য। আমরা আগেই বলেছি যে, শিল্পগুণের অধিকারীরাই উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক সক্ষম, লিখিত রচনার বিচারে সর্বাধিক সত্যনিষ্ঠ এবং তাত্ত্বিক অধ্যয়ন থেকে সর্বাধিক উপকৃত হতে পারেন।

২- অলঙ্কারশাস্ত্রের শিক্ষার্থী অন্যান্য শিল্পের শিক্ষার্থীদের মতোই কেবল এই জন্মগত প্রতিভার ওপর সন্তুষ্ট থাকে না, বরং সে সর্বদা এটিকে শাণিত, পরিমার্জিত ও উন্নত করতে চেষ্টা করে যাতে তা শক্তিশালী হয় এবং তার বিকাশ অব্যাহত থাকে, যেন তা মধ্যম স্তর অতিক্রম করে প্রতিভা ও উদ্ভাবনের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এখানেই আমরা শৈলীর বৈচিত্র্য ও নতুনত্ব দেখতে পাই এবং সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের ওপর তা প্রভাব বিস্তার করে—প্রাচীনকালে জাহিজ এমনটি করেছিলেন এবং বর্তমান ও আধুনিকদের অনেকে এর চেষ্টা করছেন—তা না হলে মানুষ প্রাথমিক স্তরেই পড়ে থাকত এবং নবায়নের ধারা থমকে যেত।

--------------------------------------------

১ লেখকের রচিত দারুল উলুম সাময়িকীর ৩য় বর্ষের ২য় সংখ্যা দ্রষ্টব্য।