(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
العلل المتناهية في الأحاديث الواهية   (ابن الجوزي)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: العلل المتناهية في الأحاديث الواهية

المؤلف: جمال الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن علي بن محمد الجوزي (ت 597هـ)

المحقق: إرشاد الحق الأثري

الناشر: إدارة العلوم الأثرية، فيصل آباد، باكستان

الطبعة: الثانية، 1401هـ/1981م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

অত্যধিক দুর্বল হাদিসসমূহের চূড়ান্ত ত্রুটিসমূহ   (ইবনুল জাওজি)

বিভাগ: হাদিসের ত্রুটি ও প্রশ্নাবলি


গ্রন্থ: অত্যধিক দুর্বল হাদিসসমূহের চূড়ান্ত ত্রুটিসমূহ

লেখক: জামালুদ্দীন আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-জাওজি (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি)

গবেষক: ইরশাদুল হক আল-আসারি

প্রকাশক: ইদারাতুল উলুম আল-আসারিয়্যাহ, ফয়সালাবাদ, পাকিস্তান

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০১ হিজরি/১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المجلد الأول

‌‌كتاب التوحيد

…

العلل المتناهية.

كِتَابُ التَّوْحِيدِ.

بَابُ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدِيمٌ.

1- أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عبد المالك بْنِ خَيْرُونَ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدِ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ الْجَوْهَرِيُّ عن أبي الحسن الدارقطني عَنْ أَبِي حَاتِمِ بْنِ حَبّانَ الحافظ قال نا محمد ابن علي الصيرفي قال نا أبو كامل الجحدري قَالَ نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ وَالِدُ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كُنَّا ثم رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ رَجُلٌ أَقْبَحُ النَّاسِ وَجْهًا وَأَقْبَحُ النَّاسِ ثِيَابًا وَأَنْتَنُ النَّاسِ رِيحًا حَافِيًا يَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ فَجَلَسَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَنْ خَلَقَكَ قَالَ اللَّهُ قَالَ فَمَنْ خَلَقَ السَّمَاءَ قَالَ اللَّهُ قَالَ فَمَنْ خَلَقَ الأَرْضَ قَالَ اللَّهُ قَالَ فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "هَذَا إِبْلِيسُ جاء يشككم فِي دِينِكُمْ".

قَالَ الْمُصَنِّفُ: هَذَا الْحَدِيثُ لا أَصْلَ لَهُ.

قَالَ ابْنُ حَبَّانَ: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ يَهِمُ فِي الأَحَادِيثِ وَيَأْتِي بِهَا مَقْلُوبَةً وَيُخْطِئُ.

قَالَ الْمُصَنِّفُ: قُلْتُ وَهَذَا إِنَّمَا هُوَ حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْتِي أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ مَنْ
প্রথম খণ্ড

তাওহীদ অধ্যায়

…

আল-ইলাল আল-মুতানাহিয়া।

তাওহীদ অধ্যায়।

অনুচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলা অনাদি।

১- মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে খাইরুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে আলী আল-জাওহারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাসান আদ-দারা কুতনী থেকে, তিনি হাফেজ আবু হাতিম ইবনে হিব্বান থেকে, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে আলী আস-সায়রাফি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু কামিল আল-জাহদারী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী ইবনে আল-মাদীনীর পিতা আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে দীনার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে ছিলাম, এমতাবস্থায় এমন একজন লোক এল যে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কুৎসিত চেহারার অধিকারী, সবচেয়ে নোংরা পোশাক পরিহিত এবং সবচেয়ে দুর্গন্ধযুক্ত ছিল। সে খালি পায়ে মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে এসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে বসল। এরপর সে জিজ্ঞাসা করল, "আপনাকে কে সৃষ্টি করেছেন?" তিনি বললেন, "আল্লাহ"। সে বলল, "তবে আকাশ কে সৃষ্টি করেছেন?" তিনি বললেন, "আল্লাহ"। সে বলল, "তবে পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন?" তিনি বললেন, "আল্লাহ"। সে বলল, "তবে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন?" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "এ হচ্ছে ইবলিস, সে তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের মনে সংশয় সৃষ্টি করতে এসেছে।"

গ্রন্থকার বলেন: এই হাদীসটির কোনো ভিত্তি নেই।

ইবনে হিব্বান বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে জাফর হাদীসের বর্ণনায় ভ্রম করেন, তিনি হাদীসগুলোকে ওলটপালট করে উপস্থাপন করেন এবং ভুল করেন।

গ্রন্থকার বলেন: আমি বলছি, এটি মূলত আবু হুরাইরা বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস: "শয়তান তোমাদের কারো নিকট আসে এবং বলে, কে..."

(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪)
خَلَقَ كَذَا مَنْ خَلَقَ كَذَا" فَقَدْ خَلَطَ وَالِدُ ابْنِ الْمَدِينِيِّ.

بَابُ ذِكْرِ الاسْتِوَاءِ عَلَى الْعَرْشِ.

2- أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بن محمد القزاز نا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ علي ابن ثَابِتٍ قَالَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عمر بن بكير المقريء قَالَ أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَليِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْفَحَّامُ قَالَ نا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّيْدَلانِيُّ قَالَ نا أَبُو بَكْرٍ الْمَرْوَزِيُّ قَالَ نا الْحُسَيْنُ بْنُ شَبِيبٍ الآجُرِّيُّ قَالَ نا أَبُو حَمْزَةَ الأَسْلَمِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي وَإِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنَ خَلِيفَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "الْكُرْسِيُّ الَّذِي يَجْلِسُ عَلَيْهِ عز وجل مَا يَفْضُلُ مِنْهُ إِلا قَدْرُ أَرْبَعَةِ أَصَابِعَ وَإِنَّ لَهُ أَطِيطًا كَأَطِيطِ الرَّحْلِ الْجَدِيدِ".

3- نا عَلِيُّ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الزَّاغُونِيُّ قَالَ نا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْبُسُرِيُّ قَالَ أَنْبَأَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ العُكْبَرِيُّ قَالَ نا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ نا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَضْرَمِيُّ قَالَ نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الحكم وعثمان قَالا نا يَحْيَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ
"অমুককে সৃষ্টি করেছেন, কে অমুককে সৃষ্টি করেছেন" - ইবনে আল-মদিনীর পিতা (এতে) গোলমাল করে ফেলেছেন।

আরশের উপর উঠার বর্ণনার অধ্যায়।

২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-কাযযায, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে বুকাইর আল-মুকরি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-ফাহহাম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সায়দালানি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-মারওয়াযি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনে শাবিব আল-আজুরি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হামযা আল-আসলামি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা এবং ইসরাঈল, তারা আবু ইসহাক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে খলিফা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কুরসি, যাতে মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ বসেন, তাতে চার আঙ্গুল পরিমাণ জায়গা ব্যতীত আর কিছুই অতিরিক্ত থাকে না এবং নিশ্চয়ই তা নতুন জিনের শব্দের মতো ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ করে।"

৩- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে উবাইদুল্লাহ আয-যাগুনি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আহমদ আল-বুসারি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-উকবারি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে সুলাইমান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাদরামি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হাকাম এবং উসমান, তারা উভয়ে বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, ইসরাঈল থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে...
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنَ خَلِيفَةَ عَنْ عُمَرَ قَالَ: "أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم امْرَأَةٌ فَقَالَتِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يُدْخِلَنِي الْجَنَّةَ فَعَظَّمَ الرَّبَّ وَقَالَ " إِنَّ كرسيه فوق السموات وَالأَرْضِ وَإِنَّهُ يَقْعُدُ عَلَيْهِ فَمَا يَفْضُلُ مِنْهُ مِقْدَارُ أَرْبَعَةِ أَصَابِعَ ثُمَّ قَالَ بِأَصَابِعِهِ فَجَمَعَهَا وَإِنَّ لَهُ أَطِيطًا كَأَطِيطِ الرَّحْلِ الْجَدِيدِ إِذَا رُكِبَ".

قَالَ الْمُؤَلِّفُ: هَذَا حَدِيثٌ لا يَصِحُّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِسْنَادُهُ مُضْطَرِبٌ جِدًّا وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ خَلِيفَةَ لَيْسَ مِنَ الصَّحَابَةِ فَيَكُونُ الْحَدِيثُ الأَوَّلُ مُرْسَلا
আবদুল্লাহ ইবনে খলিফা থেকে বর্ণিত, ওমর (রা.) বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একজন নারী এসে বললেন, 'আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যাতে তিনি আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।' তখন তিনি রবের মহিমা বর্ণনা করলেন এবং বললেন, 'নিশ্চয়ই তাঁর কুরসি আসমানসমূহ ও জমিনের উপরে, এবং নিশ্চয়ই তিনি এর ওপর বসেন, আর তা থেকে চার আঙুল পরিমাণ জায়গাও অবশিষ্ট থাকে না।' এরপর তিনি তাঁর আঙুলগুলো দিয়ে ইশারা করলেন এবং সেগুলো একত্রিত করলেন, 'আর নিশ্চয়ই এর থেকে একটি মড়মড় শব্দ আসে যেমন নতুন জিনের ওপর আরোহণ করলে মড়মড় শব্দ হয়'।"

গ্রন্থকার বলেন: এই হাদিসটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয় এবং এর বর্ণনাপরম্পরা অত্যন্ত বিশৃঙ্খল। আর আবদুল্লাহ ইবনে খলিফা সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত নন, ফলে প্রথম হাদিসটি মুরসাল হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وَابْنُ الْحَكَمِ وَعُثْمَانُ لا يَعْرِفَانِ وَتَارَةً يَرْوِيهِ ابْنُ خَلِيفَةَ عَنْ عُمَرَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَارَةً يَقِفُهُ عَلَى عُمَرَ وَتَارَةً يُوقَفُ عَلَى بن خَلِيفَةَ وَتَارَةً يَأْتِي فَمَا يَفْضُلُ مِنْهُ إِلا قَدْرُ أَرْبَعَةِ أَصَابِعَ وَتَارَةً يَأْتِي فَمَا يَفْضُلُ مِنْهُ مقدار أربعة أَصَابِعٍ وَكُلُّ هَذَا تَخْلِيطٌ مِنَ الرُّوَاةِ فَلا يُعَوَّلُ عَلَيْهِ.

بَابُ ذكر الكرسي.

نا عَلِيُّ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ وأحمد بن الحسن بن البنا وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقَزَّازُ قَالُوا نا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ الْمَأْمُونِ قَالَ نا عَلِيُّ بْنُ عُمَرِ السُّكَّرِيُّ وَأَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ الْقَزَّازُ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَالِكِيُّ قَالَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُظَفَّرِ قَالَ نا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ قَالَ نا شُجَاعُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَمَّارٍ الدُّهْنِيِّ عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ قَوْلِ اللَّهِ عز وجل:
এবং ইবনুল হাকাম ও উসমান অপরিচিত। কখনো ইবনে খলিফা এটি উমর থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন; কখনো তিনি একে উমরের ওপর স্থগিত করেন; কখনো একে ইবনে খলিফার ওপর স্থগিত করা হয়। কখনো এভাবে বর্ণিত হয় যে, ‘তাতে চার আঙুল পরিমাণ জায়গা ব্যতিরেকে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না’ এবং কখনো বর্ণিত হয় যে, ‘তাতে চার আঙুল সমপরিমাণ জায়গা অবশিষ্ট থাকে না’। এই সব কিছুই বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে সংমিশ্রণ, তাই এর ওপর নির্ভর করা যায় না।

অধ্যায়: কুরসির বর্ণনা।

আলী ইবনে উবাইদুল্লাহ, আহমদ ইবনুল হাসান ইবনুল বান্না এবং আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-কাযযায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আবদুস সামাদ ইবনুল মামুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে উমর আস-সুক্কারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এবং আবু মানসুর আল-কাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আহমদ ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মালিকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল মুজাফ্ফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে আবদিল জাব্বার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুজা ইবনে মাখলাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আসিম আমাদের নিকট সুফিয়ান থেকে, তিনি আম্মার আদ-দুহনি থেকে, তিনি মুসলিম আল-বাতিন থেকে, তিনি সাইদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল:
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৭)
{وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ} قَالَ: "كُرْسِيُّهُ مَوْضِعُ قَدَمَيْهِ وَالْعَرْشُ لا يُقَدَّرُ قَدْرَهُ".

قَالَ الْمُؤَلِّفُ: هَذَا الْحَدِيثُ وَهِمَ شُجَاعُ بْنُ مَخْلَدٍ فِي رَفْعِهِ فَقَدْ رَوَاهُ أَبُو مُسْلِمٍ الْكَجِّيُّ وَأَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الرَّمَادِيُّ كلاهما عَنْ أَبِي عاصم فلم يرفعاه ورواه عبد الرحمن بن مهدي ووكيع كلاهما عَنْ سُفْيَانَ فَلَمْ يَرْفَعَاهُ بَلْ وَقَفَاهُ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ وَهُوَ الصَّحِيحُ وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يُفَسِّرُ مَعْنَى الْكُرْسِيِّ وَأَنَّهُ مَوْضِعُ قَدَمَيِ الْجَالِسِ لِيُخْرِجَهُ عَنْ قَوْلِ مَنْ يَقُولُ إِنَّ الْكُرْسِيَّ بِمَعْنَى الْعِلْمِ قَالَ الضَّحَّاكُ الْكُرْسِيُّ الَّذِي يُوضَعُ تَحْتَ الْعَرْشِ يَضَعُ عَلَيْهِ الْمُلُوكُ أَقْدَامَهُمْ.
{তাঁর কুরসি আসমানসমূহ ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছে} তিনি বলেছেন: "তাঁর কুরসি হলো তাঁর দুই পা রাখার স্থান এবং আরশের মাহাত্ম্য পরিমাপ করা সম্ভব নয়।"

গ্রন্থকার বলেছেন: এই হাদিসটিকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করতে শুজা বিন মাখলাদ ভুল করেছেন। আবু মুসলিম আল-কাজ্জি এবং আহমাদ বিন মানসুর আর-রাবাদি উভয়েই আবু আসিম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তারা এটিকে মারফু করেননি। আবদুর রহমান বিন মাহদি এবং ওয়াকি উভয়েই সুফিয়ান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তারা এটিকে মারফু করেননি, বরং ইবনে আব্বাসের ওপর স্থগিত (মাওকুফ) রেখেছেন এবং এটিই সঠিক। ইবনে আব্বাস কুরসির অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলতেন যে এটি উপবেশনকারীর দুই পা রাখার স্থান, যাতে যারা বলে যে কুরসি অর্থ জ্ঞান, তাদের মতবাদকে তিনি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। দাহহাক বলেছেন: কুরসি হলো সেটি যা আরশের নিচে রাখা হয়, রাজারা যার ওপর তাদের পা রাখেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৮)
بَابُ ذِكْرِ الْجِهَةِ.

5- أَخْبَرَنَا ابْنُ الْحُصَيْنِ قَالَ نا ابْنُ الْمُذْهِبِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ نا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ الْعَلَاءِ عَنْ عَمِّهِ شُعَيْبِ بْنِ خَالِدٍ قَالَ حَدَّثَنِي سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَيْرَةَ عَنْ عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قَالَ كُنَّا جُلُوسًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْبَطْحَاءِ فَمَرَّتْ سَحَابَةٌ فَقَالَ: "أَتَدْرُونَ مَا هَذَا قُلْنَا السَّحَابُ قَالَ وَالْمُزْنُ فَقُلْنَا وَالْمُزْنُ قَالَ وَالْعَنَانُ قَالَ فَسَكَتْنَا فَقَالَ أَتَدْرُونَ كَمْ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قال بينهما مسيرة خمس مائة سَنَةٍ وَبَيْنَ كُلِّ سَمَاءٍ إِلَى سماء مسيرة خمس مائة سنة وكشف كل سماء خمس مائة سَنَةٍ وَفَوْقَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ بَحْرٌ بَيْنَ أَسْفَلِهِ وَأَعْلاهُ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ ثُمَّ فَوْقَ ذَلِكَ ثَمَانِيَةُ أَوْعَالٍ بَيْنَ رُكَبِهِنَّ وَأَظْلافِهِنَّ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ ثُمَّ فَوْقَ ذَلِكَ الْعَرْشُ بَيْنَ أَسْفَلِهِ وَأَعْلاهُ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ وَاللَّهُ تبارك وتعالى فَوْقَ ذَلِكَ وَلَيْسَ يَخْفَى عَلَيْهِ مِنْ أَعْمَالِ بَنِي آدَمَ شَيْءٌ".
দিকের আলোচনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।

৫- ইবনুল হুসাইন আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, ইবনুল মুযহিব আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে জাফর আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনুল আলা আমাকে অবহিত করেছেন তাঁর চাচা শুআইব ইবনে খালিদ থেকে, তিনি বলেন, সিমাক ইবনে হারব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে উমাইরা থেকে, তিনি আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা বাতহা নামক স্থানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উপবিষ্ট ছিলাম, তখন একটি মেঘখণ্ড অতিক্রম করল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমরা কি জানো এটা কী?" আমরা বললাম: "মেঘ।" তিনি বললেন: "এবং মুযন।" আমরা বললাম: "এবং মুযন।" তিনি বললেন: "এবং আনান।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আমরা চুপ থাকলাম। তখন তিনি বললেন: "তোমরা কি জানো আসমান ও যমীনের মাঝখানের দূরত্ব কতটুকু?" আমরা বললাম: "আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলই অধিক ভালো জানেন।" তিনি বললেন: "এই দুইয়ের মাঝে পাঁচশত বছরের পথ। আর প্রত্যেক আসমান থেকে তার পরবর্তী আসমানের দূরত্ব পাঁচশত বছরের পথ। প্রতিটি আসমানের পুরুত্ব পাঁচশত বছর। আর সপ্তম আসমানের উপরে একটি সমুদ্র আছে, যার তলদেশ ও উপরিভাগের মধ্যবর্তী দূরত্ব আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। তারপর তার উপরে আটটি পাহাড়ী ছাগলের আকৃতিধারী ফেরেশতা রয়েছে, যাদের হাঁটু ও খুরের মাঝখানের দূরত্ব আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। অতঃপর তার উপরে আরশ রয়েছে, যার তলদেশ ও উপরিভাগের দূরত্ব আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তার উপরে। আদম সন্তানের কোনো আমলই তাঁর কাছে গোপন নয়।"
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৯)
قَالَ الْمُؤَلِّفُ: هَذَا حَدِيثٌ لا يَصِحُّ قَالَ بَعْضُ الْحُفَّاظِ تَفَرَّدَ بِهِ يَحْيَى بْنُ الْعَلَاءِ.

قَالَ أَحْمَدُ: هُوَ كَذَّابٌ يَضَعُ الْحَدِيثَ وَقَالَ يَحْيَى لَيْسَ بِثِقَةٍ وَقَالَ الْفَلاسُ مَتْرُوكُ الْحَدِيثِ وَقَالَ ابْنُ عَدِيٍّ: أَحَادِيثُهُ مَوْضُوعَاتٍ وَقَالَ ابْنُ حَبَّانَ: لا يَجُوزُ الاحْتِجَاجُ بِهِ. وَقَدْ رَوَاهُ عَبَّادُ بْنُ يَعْقُوبَ فَزَادَ فِي إِسْنَادِهِ الأَحْنَفَ بْنَ قَيْسٍ عَنِ الْعَبَّاسِ.

قَالَ ابْنُ حَبَّانَ: عَبَّادُ يَرْوِي الْمَنَاكِيرَ عَنِ الْمَشَاهِيرِ فَاسْتَحَقَّ التَّرْكَ.

قَالَ الْمُؤَلِّفُ: وَقَدْ رُوِيَ لَنَا مِنْ طَرِيقٍ آخَرَ عَلَى أَلْفَاظٍ أُخَرٍ.

6- أَخْبَرَنَا ابْنُ الْحُصَيْنِ قَالَ نا أَبُو طالب ابن غَيْلَانَ قَالَ نا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدُ اللَّهِ الشَّافِعِيُّ قال نا موسى ابن إبراهيم وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَاجِيَةَ قَالا نا لُوَيْنٌ قَالَ نا الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي ثَوْرٍ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَيْرَةَ عَنِ الأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ عَنِ الْعَبَّاسِ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا بِالْبَطْحَاءِ فِي عِصَابَةٍ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهَا
লেখক বলেন: এটি এমন একটি হাদীস যা সহীহ নয়। জনৈক হাফেজ বলেন যে, ইয়াহইয়া ইবনুল আলা এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আহমাদ বলেন: সে একজন চরম মিথ্যুক, সে হাদীস জাল করে। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: সে নির্ভরযোগ্য নয়। ফাল্লাস বলেন: সে পরিত্যক্ত হাদীস বর্ণনাকারী। ইবনে আদি বলেন: তার বর্ণিত হাদীসগুলো বানোয়াট। ইবনে হিব্বান বলেন: তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়। আর আব্বাদ বিন ইয়াকুব এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এর সনদে আল-আহনাফ বিন কাইসের মাধ্যমে আব্বাস থেকে (অতিরিক্ত অংশ) বৃদ্ধি করেছেন।

ইবনে হিব্বান বলেন: আব্বাদ বিখ্যাত রাবীদের সূত্রে মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) হাদীস বর্ণনা করে, তাই সে পরিত্যাগের যোগ্য।

লেখক বলেন: এটি আমাদের কাছে ভিন্ন শব্দে অন্য একটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

৬- ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু তালিব ইবনে গাইলান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ আশ-শাফিঈ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, মুসা ইবনে ইব্রাহিম এবং আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন নাজিয়াহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন, লুওয়াইন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, ওয়ালিদ বিন আবি সাওর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সিমাক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন উমাইরাহ থেকে, তিনি আল-আহনাফ বিন কাইস থেকে, তিনি আল-আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি একদল লোকের সাথে বাতহাতে উপবিষ্ট ছিলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وَمَرَّتْ عَلَيْهِمْ سَحَابَةٌ فَنَظَرَ إِلَيْهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم:" تَدْرُونَ مَا اسْمُ هَذِهِ قَالُوا نَعَمْ هَذِهِ السَّحَابُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: وَالْمُزْنُ وَالْعَنَانَةُ ثُمَّ قَالَ أَتَدْرُونَ مَا بُعْدَ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ قَالُوا يَعْنِي لا قَالَ إِنَّ بُعْدَ مَا بَيْنَهُمَا إِمَّا وَاحِدَةٌ وَإِمَّا اثْنَتَانِ وَإِمَّا ثَلاثٌ وَسَبْعُونَ سَنَةً وَالسَّمَاءُ فَوْقَهَا كَذَلِكَ حَتَّى عَدَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ ثُمَّ قَالَ فَوْقَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ بَحْرٌ مَا بَيْنَ أَسْفَلِهِ وَأَعْلاهُ مِثْلُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ إِلَى السَّمَاءِ ثُمَّ فَوْقَ ظُهُورِهِنَّ الْعَرْشُ بَيْنَ أَسْفَلِهِ وَأَعْلاهُ مِثْلُ مَا بَيْنَ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ ثُمَّ اللَّهُ عز وجل فَوْقَ ذَلِكَ".

قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ وَيَحْيَى بْنُ مَعِينٍ الْوَلِيدُ لَيْسَ بِشَيْءٍ وَقَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ فِي رِوَايَةٍ هُوَ كَذَّابٌ وَقَالَ أَحْمَدُ: وَالنَّسَائِيُّ ضَعِيفٌ.
তাদের উপর দিয়ে একটি মেঘখণ্ড অতিক্রম করল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেটির দিকে তাকিয়ে বললেন: “তোমরা কি জানো এটির নাম কী?” তারা বললেন, “হ্যাঁ, এটি আস-সাহাব (মেঘ)।” আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “এবং আল-মুজন ও আল-আনানাহ।” তারপর তিনি বললেন, “তোমরা কি জানো আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী দূরত্ব কতটুকু?” তারা বললেন যে, তারা জানেন না। তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই এ দুইয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব হচ্ছে একাত্তর, বাহাত্তর অথবা তিয়াত্তর বছরের পথ। আর তার উপরের আসমানও অনুরূপ, এভাবে তিনি সাতটি আসমান পর্যন্ত গণনা করলেন। তারপর তিনি বললেন: সপ্তম আসমানের উপরে একটি সমুদ্র রয়েছে, যার তলদেশ ও উপরিভাগের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো এক আসমান থেকে অন্য আসমানের দূরত্বের সমান। তারপর সেগুলোর পিঠের উপরে আরশ রয়েছে, যার তলদেশ ও উপরিভাগের মধ্যবর্তী দূরত্ব এক আসমান থেকে অন্য আসমানের দূরত্বের সমান। তারপর আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তার উপরে রয়েছেন।”

ইবনে নুমায়র এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন, “ওয়ালিদ নির্ভরযোগ্য কিছু নন।” ইবনে নুমায়র অন্য বর্ণনায় বলেছেন, “সে চরম মিথ্যাবাদী।” এবং আহমাদ ও নাসায়ী বলেছেন, “সে দুর্বল।”
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১১)
بَابُ ذِكْرِ نَفْيِ الْجِهَةِ.

7- أَنْبَأَنَا زاهر ابن طَاهِرٍ النَّيْسَابُورِيُّ قَالَ أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بن الحسين الْبَيِهَقِيُّ قَالَ نا أَبُو عَبْدِ الله الحافظ وأبو سَعِيدِ بْنُ أَبِي عَمْرٍو قَالا ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ قَالَ نا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ قَالَ نا أَبُو مُعَاوِيَةُ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي نَصْرٍ عَنْ
দিক অস্বীকার করার বর্ণনার অধ্যায়।

৭- জাহের ইবনে তাহের আন-নাইসাবুরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনুল হুসাইন আল-বায়হাকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয এবং আবু সাঈদ বিন আবি আমর আমাদের জানিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন, আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আহমাদ বিন আব্দুল জাব্বার আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু নাসর থেকে, তিনি...
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১২)
أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:"مَا بَيْنَ الأَرْضِ وَالسَّمَاءِ مَسِيرَةُ خمس مائة عَامٍ وَغِلَظُ السَّمَاءِ الدُّنْيَا خَمْسُ مِائَةِ عَامٍ وَمَا بَيْنَ كُلِّ سَمَاءٍ إِلَى السَّمَاءِ الَّتِي تَلِيهَا مَسِيرَةُ خَمْسِ مِائَةِ عَامٍ وَالأَرَضِينُ مِثْلُ ذَلِكَ وَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ إِلَى الْعَرْشِ مِثْلُ جَمِيعِ ذَلِكَ وَلَوْ حَفَرْتُمْ لِصَاحِبِكُمْ ثُمَّ دَلَّيْتُمُوهُ لَوَجَدَ اللَّهَ ثَمَّةَ".

قَالَ الْمُؤَلِّفُ: هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ رَوَاهُ عَنِ الأَعْمَشِ مُحَاضِرٌ فَخَالَفَ فِيهِ أَبَا مُعَاوِيَةَ فَقَالَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنِ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي نَصْرٍ وَكَانَ الأَعْمَشُ يَرْوِي عَنِ الضُّعَفَاءِ وَيُدَلِّسُ.

8- حَدِيثٌ آخَرُ أَخْبَرَنَا ابْنُ الْحُصَيْنِ قَالَ نا ابْنُ الْمُذْهِبِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ نا سُرَيْجٌ قَالَ نا الْحَكَمُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ مَرَّتْ سَحَابَةٌ فَقَالَ:" أَتَدْرُونَ مَا هَذِهِ قَالَ قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ هَذِهِ الْعَنَانُ هَذِهِ رَوَايَا الأَرْضِ يَسُوقُهَا اللَّهُ إِلَى قَوْمٍ لا يَشْكُرُونَهُ وَلا يَدْعُونَهُ
আবু যার বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পৃথিবী এবং আসমানের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশত বছরের পথ। দুনিয়ার আসমানের পুরুত্ব পাঁচশত বছরের পথ। প্রত্যেক আসমান থেকে তার পরবর্তী আসমানের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশত বছরের পথ। পৃথিবীসমূহও তদ্রূপ। সপ্তম আসমান থেকে আরশ পর্যন্ত দূরত্ব এই সবকিছুর সমষ্টির সমপরিমাণ। তোমরা যদি তোমাদের সাথীর জন্য গর্ত খুঁড়তে এবং তাকে নিচে নামিয়ে দিতে, তবে সে সেখানে আল্লাহকে পেত।"

গ্রন্থকার বলেন: এটি একটি মুনকার হাদিস। এটি আমাশের সূত্রে মুহাদির বর্ণনা করেছেন, তিনি এতে আবু মুয়াবিয়ার বিরোধিতা করেছেন। তিনি আমাশ থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে এবং তিনি আবু নাসর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আমাশ দুর্বলদের থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন এবং তাদলীস করতেন।

৮- অন্য একটি হাদিস। ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইবনুল মুযহিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার পিতা আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন সুরাইজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল-হাকাম ইবনে আব্দুল মালিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদা থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদা আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ছিলাম, এমন সময় একটি মেঘখণ্ড অতিক্রম করল। তখন তিনি বললেন: "তোমরা কি জানো এটি কী?" আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: "এটি হলো মেঘমালা, এটি জমিনের জলবাহী মেঘ, আল্লাহ একে এমন এক জাতির দিকে পরিচালিত করেন যারা তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না এবং তাঁকে আহ্বানও করে না।"
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ثُمَّ قَالَ هَلْ تَدْرُونَ مَا فَوْقَكُمْ قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ فَإِنَّهَا رُفَيْعُ مَوْجٍ مَكْفُوفٍ وَسَقْفٍ مَحْفُوظٍ ثُمَّ قَالَ أَتَدْرُونَ كَمْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهَا قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ مَسِيرَةُ خَمْسِمِائَةِ عَامٍ ثُمَّ قَالَ أَتَدْرُونَ مَا الَّذِي فَوْقَهَا قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ سَمَاءٌ أُخْرَى أَتَدْرُونَ كَمْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهَا قُلْنَا اللَّهُ ورسوله أعلم قال مَسِيرَةُ خَمْسِ مِائَةِ عَامٍ حَتَّى عَدَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ ثُمَّ قَالَ هَلْ تَدْرُونَ مَا فَوْقَ ذَلِكَ قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ الْعَرْشُ وَبَيْنَهُ وَبَيْنَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ مسيرة خمس مائة عَامٍ ثُمَّ قَالَ هَلْ تَدْرُونَ مَا هَذِهِ الَّتِي تَحْتَكُمْ قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ فَإِنَّهَا الأَرْضُ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الأَرْضِ الَّتِي تَحْتَهَا مَسِيرَةُ خَمْسِ مِائَةِ عَامٍ حَتَّى عَدَّ سَبْعَ أَرَضِينَ ثُمَّ قَالَ وَايْمُ اللَّهِ لَوْ دَلَّيْتُمْ أَحَدَكُمْ بِحَبْلٍ إِلَى الأَرْضِ السُّفْلَى السَّابِعَةِ لَهَبِطَ عَلَى اللَّهِ عز وجل ثُمَّ قَرَأَ {هُوَ الأَوَّلُ وَالآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} ".

قَالَ الْمُؤَلِّفُ: هَذَا حَدِيثٌ لا يَصِحُّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْحَسَنُ
এরপর তিনি বললেন, "তোমরা কি জানো তোমাদের উপরে কী আছে?" আমরা বললাম, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই তা হলো উঁচুতে স্তব্ধ তরঙ্গমালা এবং একটি সংরক্ষিত ছাদ।" এরপর তিনি বললেন, "তোমরা কি জানো তোমাদের এবং এর মাঝে দূরত্ব কতটুকু?" আমরা বললাম, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বললেন, "পাঁচশ বছরের পথ।" এরপর তিনি বললেন, "তোমরা কি জানো তার উপরে কী আছে?" আমরা বললাম, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বললেন, "অন্য একটি আসমান। তোমরা কি জানো তোমাদের এবং এর মাঝে কতটুকু দূরত্ব?" আমরা বললাম, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বললেন, "পাঁচশ বছরের পথ।" এভাবে তিনি সাতটি আসমান গণনা করলেন। এরপর তিনি বললেন, "তোমরা কি জানো তার উপরে কী আছে?" আমরা বললাম, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বললেন, "আরশ। আর আরশ ও সপ্তম আসমানের মাঝে রয়েছে পাঁচশ বছরের পথ।" এরপর তিনি বললেন, "তোমরা কি জানো তোমাদের নিচের এই বস্তুগুলো কী?" তারা বলল, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বললেন, "তা হলো জমিন। এই জমিন এবং এর নিচের জমিনের মাঝে দূরত্ব হলো পাঁচশ বছরের পথ।" এভাবে তিনি সাতটি জমিন গণনা করলেন। এরপর তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম, যদি তোমরা তোমাদের কাউকে দড়ি দিয়ে সপ্তম সর্বনিম্নে অবস্থিত জমিন পর্যন্ত নামিয়ে দাও, তবে সে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ওপরই গিয়ে পড়বে।" এরপর তিনি পাঠ করলেন, {তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই প্রকাশ্য এবং তিনিই অপ্রকাশ্য। আর তিনি প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।}"।

লেখক বলেন: এই হাদিসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হওয়া সহিহ নয় এবং হাসান (বসরী)...
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَقِيلَ لَهُ مِنْ أَيْنَ تُحَدِّثُ هَذِهِ الأَحَادِيثَ فَقَالَ مِنْ كِتَابٍ عِنْدَنَا سَمِعْتُهُ مِنْ رَجُلٍ وَكَانَ الْحَسَنُ يَرْوِي عَنِ الضُّعَفَاءِ وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ.

قَالَ أَحْمَدُ: بْنُ حَنْبَلٍ أَبُو جَعْفَرٍ مُضْطَرِبُ الْحَدِيثِ يَرْوِي أَبُو جَعْفَرٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ عن الأحنف ابن قَيْسٍ عَنِ الْعَبَّاسِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:"وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ دَلَّيْتُمْ أَحَدَكُمْ بِحَبْلٍ إِلَى الأَرْضِ السَّابِعَةِ لَقَدِمَ عَلَى رَبِّهِ عز وجل ثم تلى {هُوَ الأَوَّلُ وَالآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ} ".

بَابٌ فِي ذِكْرِ الصُّورَةِ.

9- أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقَزَّازُ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بن علي ابن ثابت قال أخبرنا الحسن ابن أبي بكر وعثمان بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْعَلافُ
তিনি আবু হুরায়রা থেকে (সরাসরি) শোনেননি। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "আপনি এই হাদিসগুলো কোথা থেকে বর্ণনা করছেন?" তিনি বললেন, "আমাদের নিকট থাকা একটি কিতাব থেকে, যা আমি এক ব্যক্তির থেকে শুনেছি।" হাসান (আল-বাসরি) দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করতেন। এই হাদিসটি আবু জাফর আর-রাজি কাতাদা থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন।

আহমদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: আবু জাফর হাদিস বর্ণনায় মুজতারিব (অস্থির)। আবু জাফর কাতাদা থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আহনাফ ইবনে কাইস থেকে, তিনি আব্বাস থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা যদি তোমাদের কাউকে রশি দিয়ে সপ্তম জমিনের দিকে নিচে নামিয়ে দাও, তবে সে তার মহান ও পরাক্রমশালী রবের নিকটই গিয়ে পৌঁছাবে।" এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, "তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই প্রকাশ্য এবং তিনিই অপ্রকাশ্য।"

আকৃতি বর্ণনার অধ্যায়।

৯- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-কাযযায, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে আলি ইবনে সাবিত, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে আবি বকর এবং উসমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-আল্লাফ।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
قالا نا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ قَالَ نا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ هُوَ التِّرْمِذِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ قَالَ نا ابْنُ وَهْبٍ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلالٍ عَنْ مَرْوَانَ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ عُمَارَةَ بن عامرعن أُمِّ الطُّفَيْلِ امْرَأَةِ أَبِي أَنَّهَا سَمِعْتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ:"أَنَّهُ رَأَى رَبَّهُ تَعَالَى فِي الْمَنَامِ فِي أَحْسَنِ صورة شابا موقر رِجْلاهُ فِي خُفٍّ عَلَيْهِ نَعْلانِ مِنْ ذَهَبٍ عَلَى وَجْهِهِ فِرَاشٌ مِنْ ذَهَبٍ"

أَخْبَرَنَا الْقَزَّازُ قَالَ نا الْخَطِيبُ قَالَ حَدَّثَنِي الصُّورِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الْغَنِيِّ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرُّعَيْنِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ أَحْمَدَ الْحَدَّادَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ النِّسْوِيَّ يَقُولُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَمَنْ مَرْوَانُ بْنُ عُثْمَانَ حَتَّى يُصَدِّقَ عَلَى اللَّهِ وَذَكَرَ أَبُو بَكْرٍ الْخَلَّالُ فِي كِتَابِ الْعِلَلِ قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنِي مُهَنَّى قَالَ سَأَلْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَحَّوَلَ وَجْهَهُ عَنِّي قَالَ هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ وَقَالَ لا يَعْرِفُ
তাঁরা উভয়ই আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আশ-শাফেয়ী আমাদের বলেছেন, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল (যিনি তিরমিযী) আমাদের বলেছেন, নুয়াইম বিন হাম্মাদ আমাদের বলেছেন, ইবনুল ওয়াহাব আমাদের বলেছেন, আমর বিন আল-হারিস আমাদের বলেছেন সাঈদ বিন আবু হিলাল থেকে, তিনি মারওয়ান বিন উসমান থেকে, তিনি উমারা বিন আমির থেকে, তিনি উম্মুত তুফাইল (উবাই বিন কা’বের স্ত্রী) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উল্লেখ করতে শুনেছেন: "তিনি তাঁর মহান প্রতিপালককে স্বপ্নে অতি সুন্দর আকৃতিতে একজন মহিমান্বিত যুবক হিসেবে দেখেছেন, তাঁর পা দুটি ছিল মোজার ভেতরে, তাঁর উপর স্বর্ণের দুটি জুতো ছিল এবং তাঁর চেহারায় স্বর্ণের আবরণ ছিল।"

আল-কাজ্জায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আল-খতীব আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন আস-সুরী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আব্দুল গনি বিন সাঈদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আর-রুয়াইনী আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন আমি আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-হাদ্দাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ীকে এই হাদিস সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে, "মারওয়ান বিন উসমান কে যে তার কথা আল্লাহর ব্যাপারে সত্য বলে গ্রহণ করা হবে?" আবু বকর আল-খলাল তাঁর 'কিতাবুল ইলাল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন আলী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহান্না আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন হাম্বলকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন, "এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস" এবং তিনি আরও বললেন, "এটি পরিচিত নয়।"
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
هَذَا رَجُلٌ مَجْهُولٌ يَعْنِي مَرْوَانَ بْنَ عُثْمَانَ قَالَ وَلَا يَعْرِفُ أَيْضًا عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عَامِرٍ.

-10 حَدِيثٌ آخَرُ أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ الْقَزَّازُ قَالَ نا أَبُو بَكْرِ بْنُ ثَابِتٍ قَالَ نا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَاعِظُ قَالَ نا عَبْدُ الْبَاقِي بْنُ قَانِعٍ قَالَ نا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ قَالَ نا أَبُو داؤد سُلَيْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُبَارَكِيِّ قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ دَلِيلٍ قَالَ نا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ قَالَ يَعْنِي حَمَّادَ بْنَ دَلِيلٍ وَنا الْحَسَنُ بْنُ عُمَارَةَ عَنِ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:" رَأَيْتُ رَبِّي تَعَالَى فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى قُلْتُ لا أَدْرِي فَوَضَعَ يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَيَّ حتى وجدت برد نامله ثُمَّ قَالَ فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى قُلْتُ فِي الْكَفَّارَاتِ وَالدَّرَجَاتِ قَالَ وَمَا الْكَفَّارَاتُ قُلْتُ إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ فِي السَّبَرَاتِ وَنَقْلُ الأَقْدَامِ إِلَى الْجُمُعَاتِ وَانْتِظَارُ الصَّلاةِ بَعْدَ الصَّلاةِ قَالَ فَمَا الدَّرَجَاتُ قُلْتُ إِطْعَامُ الطَّعَامِ وَإِفْشَاءُ السَّلامِ وَصَلاةُ اللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ".
এই ব্যক্তিটি অপরিচিত (মাজহুল), অর্থাৎ মারওয়ান ইবনে উসমান। তিনি বলেছেন, উমারা ইবনে আমির থেকেও কোনো বর্ণনা জানা যায় না।

-১০ অন্য একটি হাদিস। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মানসুর আল-কাযযায, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে সাবিত, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়ায়িজ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল বাকি ইবনে কানি‘, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আল-মাদিনী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মুবারকী, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাম্মাদ ইবনে দালীল, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান আস-সাওরি, তিনি কায়েস ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন—তিনি বলেন অর্থাৎ হাম্মাদ ইবনে দালীল—এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে উমারা, তিনি আমর ইবনে মুররা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে সাবিত থেকে, তিনি আবু সা’লাবা আল-খুশানী থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "আমি আমার সুমহান রবকে সর্বোত্তম আকৃতিতে দেখেছি। অতঃপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! ঊর্ধ্বজগতের ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম, আমি জানি না। অতঃপর তিনি তাঁর হাত আমার দুই কাঁধের মাঝখানে রাখলেন, এমনকি আমি তাঁর আঙুলের অগ্রভাগের শীতলতা অনুভব করলাম। এরপর তিনি বললেন, ঊর্ধ্বজগতের ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম, গুনাহ মোচনকারী আমল ও মর্যাদা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে। তিনি বললেন, গুনাহ মোচনকারী আমলগুলো কী? আমি বললাম, তীব্র শীতেও পূর্ণাঙ্গভাবে অজু সম্পন্ন করা, জুমার নামাজের উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে যাওয়া এবং এক নামাজের পর অন্য নামাজের জন্য অপেক্ষা করা। তিনি বললেন, মর্যাদা বৃদ্ধিকারী আমলগুলো কী? আমি বললাম, অন্নদান করা, সালামের প্রসার ঘটানো এবং রাতের বেলা নামাজ পড়া যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে।"
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وَقَالَ الْمُؤَلِّفُ: وَقَدْ رَوَاهُ يُوسُفُ بْنُ عَطِيَّةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:" أَتَانِي رَبِّي الْبَارِحَةَ فِي مَنَامِي فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ حَتَّى وَضَعَ يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَيَّ فَوَجَدْتُ بَرْدَهَا بَيْنَ ثديي فَعَلِمْتُ كُلَّ شَيْءٍ فَقَالَ أَتَدْرِي فيما يَخْتَصِمُ الْمَلَأُ الأَعْلَى". فَذَكَرَ نَحْوَهُ.

11- أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ نا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنَ الْبُسُرِيُّ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ بَطَّةَ قَالَ نا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْوَرَّاقُ قَالَ نا مُحَمَّدُ بْنُ حَسَّانَ الأَزْرَقُ قَالَ نا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدُ بْنِ جَابِرٍ قَالَ حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ اللَّجْلاجِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَائِشٍ الْحَضْرَمِيِّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:" رَأَيْتُ رَبِّي تبارك وتعالى فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ قَالَ فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى قَالَ قُلْتُ لا أَعْلَمُ أَيْ رَبِّ قَالَ فَوَضَعَ كَفَّهُ بَيْنَ كَتِفَيَّ فَوَجَدْتُ بَرْدَهَا بَيْنَ ثَدْيَيَّ فَعَلِمْتُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ ثُمَّ قَالَ فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى يَا مُحَمَّدُ قُلْتُ فِي الْكَفَّارَاتِ قَالَ وَمَا هَذِهِ قُلْتُ الْمَشْيُ إِلَى الْجَمَاعَاتِ وَالْجُلُوسُ فِي الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلاةِ وَإِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ قَالَ فمن يفعل ذلك يعيش بخير ويميت بخير ويكون مِنْ خَطِيئَتِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ".
লেখক বলেন: আর এটি ইউসুফ ইবনে আতিয়্যাহ কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "গত রাতে আমার প্রতিপালক আমার কাছে স্বপ্নে অত্যন্ত সুন্দর আকৃতিতে আসলেন। এমনকি তিনি তাঁর হাত আমার দুই কাঁধের মাঝে রাখলেন, ফলে আমি তাঁর শীতলতা আমার বুকের মাঝে অনুভব করলাম। তখন আমি সবকিছু জেনে গেলাম। এরপর তিনি বললেন, তুমি কি জানো ঊর্ধ্বজগত বা ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে?" এরপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেন।

১১- আলী ইবনে উবাইদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আলী ইবনে আহমাদ আল-বুসরি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আব্দুল্লাহ ইবনে বাত্তাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আলী ইসমাঈল ইবনুল আব্বাস আল-ওয়াররাক আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে হাসসান আল-আজরাক আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে জাইদ ইবনে জাবির থেকে, তিনি বলেন, খালিদ ইবনুল লাজলাজ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে আইশ আল-হাদরামি থেকে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "আমি আমার বরকতময় ও সুউচ্চ প্রতিপালককে অত্যন্ত সুন্দর আকৃতিতে দেখেছি। তিনি বললেন, ঊর্ধ্বজগত বা ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম, হে প্রতিপালক, আমি জানি না। তখন তিনি তাঁর হাতের তালু আমার দুই কাঁধের মাঝে রাখলেন, ফলে আমি তাঁর শীতলতা আমার বুকের মাঝে অনুভব করলাম। তখন আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব আমি জেনে গেলাম। এরপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ, ঊর্ধ্বজগত বা ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম, কাফফারা (গুনাহ মোচনকারী কাজ) নিয়ে। তিনি বললেন, সেগুলো কী? আমি বললাম, জামায়াতের উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে যাওয়া, মসজিদে বসে থাকা, নামাজের অপেক্ষা করা এবং কষ্টকর অবস্থায়ও পূর্ণাঙ্গভাবে ওজু করা। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি তা করবে সে কল্যাণের সাথে জীবন অতিবাহিত করবে এবং কল্যাণের সাথে মৃত্যুবরণ করবে। আর সে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে পবিত্র হয়ে যাবে যেমন তার মা তাকে জন্ম দেওয়ার দিন সে ছিল।"
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
12- أَخْبَرَنَا ابْنُ الْحُصَيْنِ قَالَ أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُذْهِبِ قَالَ نا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ حَدَّثَنِي أبي قال نا أبو عامرقال حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ يَزِيدَ عَنْ خَالِدُ بْنُ اللَّجْلاجِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَائِشٍ عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ عَلَيْهِمْ ذَاتَ غَدَاةٍ وَهُوَ طَيِّبُ النَّفْسِ مُسْفِرُ الْوَجْهِ أَوْ مُشْرِقُ الْوَجْهِ فقلنا يا رسول الله نا نَرَاكَ طَيِّبَ النَّفْسِ مُسْفِرَ الْوَجْهِ أَوْ مُشْرِقَ الْوَجْهِ فَقَالَ:" وَمَا يَمْنَعُنِي وَأَتَانِي رَبِّي اللَّيْلَةَ فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ قُلْتُ لَبَّيْكَ رَبِّي وَسَعْدَيْكَ فَقَالَ فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى قُلْتُ لا أَدْرِي أَيْ رَبِّ قَالَ ذَلِكَ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاثًا قَالَ فَوَضَعَ كَفَّهُ بَيْنَ كَتِفَيَّ فَوَجَدْتُ بَرْدَهَا بَيْنَ ثَدْيَيَّ حَتَّى تَجَلَّى لِي مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ ثُمَّ تَلا الآيَةَ {وَكَذَلِكَ نُرِي إِبْرَاهِيمَ مَلَكُوتَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ} الآيَةَ قَالَ يَا مُحَمَّدُ فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى قَالَ قُلْتُ فِي الْكَفَّارَاتِ وَالدَّرَجَاتِ قَالَ وَمَا الْكَفَّارَاتُ قُلْتُ الْمَشْيُ عَلَى الأَقْدَامِ إِلَى الْجَمَاعَاتِ وَالْجُلُوسُ فِي الْمَسْجِدِ خِلافَ الصَّلاةِ وَإِبْلاغُ الْوُضُوءِ فِي الْمَكَارِهِ قَالَ مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ عَاشَ بِخَيْرٍ وَمَاتَ بِخَيْرٍ وَكَانَ مِنْ خَطِيئَتِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ وَمِنَ الدَّرَجَاتِ طَيِّبُ الْكَلامِ وَبَذْلُ السَّلامِ وَإِطْعَامُ الطَّعَامِ وَصَلاةُ اللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِذَا صَلَّيْتَ
১২- ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, ইবনুল মুযহিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আহমাদ বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, যুহাইর আমাদের নিকট ইয়াজীদ থেকে, তিনি খালিদ বিন আল-লাজলাজ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আইশ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট বের হয়ে এলেন, তখন তিনি অত্যন্ত প্রফুল্ল চিত্তে এবং উজ্জ্বল বা দীপ্তিময় চেহারায় ছিলেন। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনাকে অত্যন্ত প্রফুল্ল চিত্তে এবং উজ্জ্বল বা দীপ্তিময় চেহারায় দেখছি। তিনি বললেন: "কেনই বা নয়? আজ রাতে আমার রব আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর আকৃতিতে এসেছেন এবং বললেন, হে মুহাম্মদ! আমি বললাম, হে আমার রব! আমি আপনার দরবারে উপস্থিত ও সদাপ্রস্তুত। তিনি বললেন, উর্ধ্বজগতের ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম, হে আমার রব! আমি জানি না। তিনি এটি দুইবার বা তিনবার বললেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এরপর তিনি (আল্লাহ) তাঁর হাতের তালু আমার দুই কাঁধের মাঝখানে রাখলেন, ফলে আমি আমার বক্ষস্থলে সেই হাতের শীতলতা অনুভব করলাম। এমনকি আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছুই আমার কাছে প্রকাশিত হয়ে গেল। এরপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: {আর এভাবেই আমি ইবরাহিমকে আসমান ও জমিনের রাজত্ব দেখাই...}। তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! উর্ধ্বজগতের ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম, কাফফারা (পাপমোচনকারী আমল) এবং মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে। তিনি বললেন, কাফফারা কী? আমি বললাম, জামাতের উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে যাওয়া, সালাত পরবর্তী সময়ে মসজিদে বসে অপেক্ষা করা এবং কষ্টকর অবস্থায়ও পূর্ণাঙ্গরূপে ওজু করা। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি এরূপ করবে সে কল্যাণের সাথে বেঁচে থাকবে এবং কল্যাণের সাথে মৃত্যুবরণ করবে; আর সে তার পাপ থেকে ঐ দিনের ন্যায় মুক্ত হয়ে যাবে যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল। আর উচ্চ মর্যাদা লাভের আমলগুলো হলো: উত্তম কথা বলা, সালামের প্রসার ঘটানো, অন্নদান করা এবং রাতে যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত আদায় করা। অতঃপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! যখন তুমি সালাত পড়বে..."
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
فَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الطَّيِّبَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ وَأَنْ تَتُوبَ عَلَيَّ وَإِذَا أَرَدْتَ فِتْنَةً في الناس مَفْتُونٍ".

13- قَالَ أَحْمَدُ: وَنا أَبُو سَعِيدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ قَالَ نا جَهْضَمٌ يَعْنِي الْيَمَامِيَّ قَالَ نا يَحْيَى يَعْنِي ابْنَ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ نا زَيْدٌ يَعْنِي ابْنَ أَبِي سَلامٍ عَنْ أَبِي سَلامٍ وَهُوَ زَيْدُ بْنُ سَلامِ بْنِ أَبِي سَلامٍ نَسَبَهُ إِلَى جَدِّهِ أَنَّهُ حَدَّثَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَائِشٍ الْحَضْرَمِيُّ عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ قَالَ احْتَبَسَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ غَدَاةٍ عَنْ صَلاةِ الصُّبْحِ حَتَّى كِدْنَا نَرَى قَرْنَ الشَّمْسِ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَرِيعًا فَثَوَّبَ بِالصَّلاةِ وَصَلَّى وَتَجَوَّزَ فِي صَلاتِهِ فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ:" كَمَا أَنْتُمْ عَلَى مَصَافِّكُمْ ثُمَّ أَقْبَلَ إِلَيْنَا فَقَالَ إِنِّي سَأُحَدِّثُكُمْ مَا حَبَسَنِي عَنْكُمُ الْغَدَاةَ إِنِّي قُمْتُ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّيْتُ مَا قُدِّرَ لِي فَنَعَسْتُ فِي صَلاتِي حَتَّى اسْتَيْقَظْتُ فَإِذَا أَنَا بِرَبِّي عز وجل فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ أَتَدْرِي فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلَأُ الأَعْلَى قُلْتُ:
অতঃপর আপনি বলুন, হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে উত্তম কার্যাবলি সম্পাদন, মন্দ কাজসমূহ বর্জন এবং মিসকীনদের ভালোবাসা প্রার্থনা করছি এবং আপনি যেন আমার তাওবা কবুল করেন। আর যখন আপনি মানুষের মধ্যে কোনো ফিতনার ইচ্ছা করেন, তখন আমাকে ফিতনায় পতিত হওয়া ছাড়াই তুলে নিন।"

১৩- আহমাদ বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ, যিনি বনু হাশিমের আযাদকৃত দাস, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জাহযাম অর্থাৎ আল-ইয়ামামী, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া অর্থাৎ ইবনে আবি কাসীর, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যায়েদ অর্থাৎ ইবনে আবি সালাম, তিনি আবু সালাম থেকে বর্ণনা করেছেন—আর তিনি হলেন যায়েদ ইবনে সালাম ইবনে আবি সালাম, তাকে তার দাদার নামে পরিচিত করা হয়েছে—যে, আবদুর রহমান ইবনে আইশ আল-হাদরামি মালিক ইবনে ইউখামির থেকে তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, মুয়াজ ইবনে জাবাল বলেছেন: একদা সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতে আমাদের কাছে আসতে বিলম্ব করলেন, এমনকি আমরা প্রায় সূর্যের কিনারা দেখার উপক্রম হলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুত বের হলেন এবং সালাতের ইকামত দেওয়া হলো। তিনি সালাত আদায় করলেন এবং সালাত সংক্ষেপ করলেন। যখন তিনি সালাম ফিরালেন, তখন বললেন: "তোমরা তোমাদের কাতারগুলোতে যে অবস্থায় আছ সেভাবেই থাকো।" এরপর তিনি আমাদের দিকে ফিরে বললেন: "আজ সকালে তোমাদের কাছে আসতে কিসে আমাকে আটকে রেখেছিল, তা আমি তোমাদের বলছি। আমি রাতে জেগেছিলাম এবং আমার ভাগ্যে যতটুকু নির্ধারিত ছিল ততটুকু সালাত আদায় করলাম। এরপর আমি আমার সালাতেই তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম, এমনকি যখন আমি জাগ্রত হলাম, তখন হঠাৎ আমি আমার মহান রবকে অত্যন্ত সুন্দর আকৃতিতে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন: 'হে মুহাম্মদ! আপনি কি জানেন উচ্চমর্যাদাবান ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে?' আমি বললাম:"
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২০)
لا أَدْرِي يَا رَبِّ فَرَأَيْتُهُ وَضَعَ كَفَّهُ بَيْنَ كَتِفَيَّ حَتَّى وجدت برد نامله بَيْنَ صَدْرِي فَتَجَلَّى لِي كُلُّ شَيْءٍ وَعَرَفْتُ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى قُلْتُ في الكفارات". فذكر نَحْوَ مَا تَقَدَّمَ.

قَالَ الْمُؤَلِّفُ: أَصْلُ هَذَا الْحَدِيثِ وَطُرُقُهُ مُضْطَرِبَةٌ.

قال الدارقطني: كُلُّ أَسَانِيدِهِ مُضْطَرِبَةٌ لَيْسَ فِيهَا صَحِيحٌ قَالَ وَقَدْ رَوَاهُ عَنْ أَنَسٍ وَرَوَى عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي قِلابَةَ عَنْ خَالِدِ بْنِ اللَّجْلاجِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَهُوَ غَلَطٌ وَالْمَحْفُوظُ أَنَّ خَالِدَ بْنَ اللَّجْلاجِ رَوَاهُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَائِشٍ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ لَمْ يَسْمَعْهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا رَوَاهُ عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ عَنْ مُعَاذٍ قَالَ أَبُو بَكْرٍ الْبَيْهَقِيُّ قَدْ رُوِيَ مِنْ أَوْجُهٍ كُلُّهَا ضِعَافٌ.

وَقَدْ رُوِيَ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:"أَتَانِي رَبِّي فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ فَقَالَ فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى قُلْتُ لا أَدْرِي فَوَضَعَ كَفَّهُ بَيْنَ كَتِفَيَّ فَوَجَدْتُ بَرْدَهَا".

قَالَ الْمُؤَلِّفُ: قُلْتُ وَحَدِيثُ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ رَوَاهُ يُوسُفُ بْنُ عَطِيَّةَ السَّعْدِيُّ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:" أَتَانِي رَبِّي الْبَارِحَةَ فِي مَنَامِي فِي أَحْسَنِ
"আমি জানি না, হে রব। তখন আমি তাঁকে দেখলাম যে তিনি তাঁর হাতের তালু আমার দুই কাঁধের মাঝে রাখলেন, এমনকি আমি আমার বুকের মাঝে তাঁর আঙুলের অগ্রভাগের শীতলতা অনুভব করলাম। এরপর আমার কাছে সবকিছু উদ্ভাসিত হলো এবং আমি জানতে পারলাম। তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ, ঊর্ধ্বলোকের ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম, কাফফারা সম্পর্কে।" এরপর তিনি পূর্ববর্তী বর্ণনার অনুরূপ উল্লেখ করলেন।

গ্রন্থকার বলেন: এই হাদিসের মূল উৎস এবং এর সূত্রগুলো মুদতারিব (সূত্রগতভাবে অস্থিতিশীল)।

আদ-দারা কুতনী বলেন: এর সকল সনদ মুদতারিব, সেগুলোর মধ্যে কোনটিই সহীহ নয়। তিনি বলেন, এটি আনাস থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি খালিদ ইবনুল লাজলাজ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন; আর এটি ভুল। সঠিক ও সংরক্ষিত বর্ণনা হলো এই যে, খালিদ ইবনুল লাজলাজ এটি আবদুর রহমান ইবনে আইশ থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ আবদুর রহমান এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি শোনেননি। বরং তিনি এটি মালিক ইবনে ইউখামির থেকে এবং তিনি মুয়াজ থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, এটি অনেকগুলো দিক থেকে বর্ণিত হয়েছে কিন্তু তার সবই যঈফ (দুর্বল)।

এবং আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার রব আমার কাছে অত্যন্ত সুন্দর আকৃতিতে আসলেন এবং বললেন, ঊর্ধ্বলোকের ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম, আমি জানি না। তখন তিনি তাঁর হাতের তালু আমার দুই কাঁধের মাঝে রাখলেন এবং আমি তার শীতলতা অনুভব করলাম।"

গ্রন্থকার বলেন: আমি বলছি, কাতাদাহ কর্তৃক আনাস থেকে বর্ণিত হাদিসটি ইউসুফ ইবনে আতিয়্যাহ আস-সাদী বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "গত রাতে স্বপ্নে আমার রব আমার কাছে অত্যন্ত সুন্দর..."
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২১)
صُورَةٍ حَتَّى وَضَعَ يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَيَّ" قَالَ النَّسَائِيُّ يُوسُفُ مَتْرُوكٌ وَثَمَّ آخَرُ اسْمُهُ يُوسُفُ بْنُ عطية كاذب.

قَالَ الْمُؤَلِّفُ: قُلْتُ قَدْ رَوَاهُ أَحْمَدُ فِي مُسْنَدِهِ بِإِسْنَادٍ حَسَنٍ.

14- نا ابْنُ الْحُصَيْنِ قَالَ أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُذْهِبِ قَالَ نا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ نا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ نا مَعْمَرٌ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلابَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:" أَتَانِي رَبِّي اللَّيْلَةَ فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ أَحْسَبُهُ يَعْنِي فِي النَّوْمِ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ هَلْ تَدْرِي فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى قَالَ قُلْتُ لا أَدْرِي قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَوَضَعَ يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَيَّ حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَهَا بَيْنَ ثَدْيَيَّ أَوْ قَالَ نَحْرِي فَعَلِمْتُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ قَالَ يَا مُحَمَّدُ هَلْ تَدْرِي فِيمَ يَخْتَصِمُ الْمَلأُ الأَعْلَى قَالَ قُلْتُ نَعَمْ يَخْتَصِمُونَ فِي الْكَفَّارَاتِ وَالدَّرَجَاتِ قَالَ وَمَا الْكَفَّارَاتُ وَالدَّرَجَاتُ قَالَ الْمُكْثُ فِي الْمَسَاجِدِ بَعْدَ الصَّلاةِ وَالْمَشْيُ عَلَى الأَقْدَامِ إِلَى الْجَمَاعَاتِ وَإِبْلاغُ الْوُضُوءِ فِي الْمَكَارِهِ وَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ عَاشَ بِخَيْرٍ وَمَاتَ بِخَيْرٍ وَكَانَ مِنْ خَطِيئَتِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ وَقَالَ قُلْ يَا مُحَمَّدُ إِذَا صَلَّيْتَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِفِعْلِ الْخَيْرَاتِ وَحُبِّ الْمَسَاكِينِ وَإِذَا أَرَدْتَ بِعِبَادِكَ فِتْنَةً أَنْ تَقْبِضَنِي مَفْتُونٍ قَالَ وَمَا الدَّرَجَاتُ قَالَ بَذْلُ الطَّعَامِ وَإِفْشَاءُ السَّلامِ وَالصَّلاةُ بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ".
আকৃতিতে, এমনকি তিনি তাঁর হাত আমার দুই কাঁধের মাঝখানে রাখলেন।" নাসায়ী বলেছেন, ইউসুফ পরিত্যক্ত এবং সেখানে অপর একজন আছে যার নাম ইউসুফ ইবনে আতিয়্যাহ, সে একজন মিথ্যাবাদী।

লেখক বলেছেন: আমি বলছি, আহমদ এটি তাঁর মুসনাদে একটি হাসান সনদের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

১৪- ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইবনুল মুযহিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আহমাদ বিন জাফর আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবদুর রাজ্জাক আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মা'মার আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আজ রাতে আমার প্রতিপালক আমার নিকট অত্যন্ত সুন্দর আকৃতিতে আসলেন—আমি মনে করি তিনি ঘুমের মধ্যে বুঝিয়েছেন—অতঃপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! উচ্চ জগতের ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে তুমি কি জানো? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: আমি বললাম, আমি জানি না। তখন তিনি তাঁর হাত আমার দুই কাঁধের মাঝখানে রাখলেন, এমনকি আমি তাঁর হাতের শীতলতা আমার দুই বক্ষস্থলের মাঝে—অথবা তিনি বলেছিলেন আমার কণ্ঠনালীর নিচে—অনুভব করলাম। ফলে আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব আমি জেনে নিলাম। তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! তুমি কি জানো উচ্চ জগতের ফেরেশতারা কী নিয়ে বিতর্ক করছে? আমি বললাম, হ্যাঁ, তারা কাফফারা (পাপমোচনকারী আমল) এবং মর্যাদা বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক করছে। তিনি বললেন, কাফফারা ও মর্যাদা কী কী? তিনি বললেন, সালাতের পর মসজিদে অবস্থান করা, পায়ে হেঁটে জামাতে গমন করা এবং কষ্টের সময়েও পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করা। যে ব্যক্তি এমনটি করবে সে কল্যাণের সাথে জীবন অতিবাহিত করবে, কল্যাণের সাথে মৃত্যুবরণ করবে এবং সে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে পবিত্র হবে যেন আজই তার মা তাকে প্রসব করেছে। এবং তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! যখন তুমি সালাত আদায় করবে তখন বলবে: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট সৎকাজ করার তৌফিক ও মিসকিনদের ভালোবাসা প্রার্থনা করছি এবং যখন আপনি আপনার বান্দাদের ফিতনায় ফেলার ইচ্ছা করেন তখন আমাকে ফিতনাগ্রস্ত না করে আপনার নিকট তুলে নিন। তিনি বললেন, আর মর্যাদা কী কী? তিনি বললেন, খাদ্য দান করা, সালামের প্রসার ঘটানো এবং রাতে সালাত আদায় করা যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে।"
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২২)
15 - حديث آخر قال نَا الْقَزَّازُ قَالَ نَا أَبُو بكر الخطيب قال نا الْحُسَيْنُ بْنُ شُجَاعٍ الصُّوفِيُّ قَالَ نا عُمَرُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَلْمٍ قَالَ نا أَبُو حَفْصَ عُمَرُ بْنُ فَيْرُوزٍ قَالَ نا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ كَيْسَانَ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:" رَأَيْتُ رَبِّي تَعَالَى فِي صُورَةِ شَابٍّ أَمْرَدٍ عَلَيْهِ حُلَّةٌ حَمْرَاءُ".

16- طريقٌ آخَرُ أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ نا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعدَةَ قَالَ أَخْبَرَنَا حَمْزَةُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ نا أَبُو أَحْمَدَ بْنُ عَدِيٍّ قال نا أبو العباس قَالَ نا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ بْنُ عَاصِم قَالَ نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي سُوَيْدٍ قَالَ نا حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:"رَأَيْتُ رَبِّي جَعْدًا أَمْرَدَ عَلَيْهِ حُلَّةٌ خَضْرَاءُ".

17- قَالَ ابْنُ عَدِيٍّ: وَنا عَبْدُ الله بن عبد الحميد الو اسطي قَالَ نا النْضَرُ بْنُ سَلَمَةَ شَاذَانُ قَالَ نا أَسْوَدُ بْنُ عامرعن حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ "أن محمد رَأَى رَبَّهُ تَعَالَى فِي صُورَةِ شَابٍّ أَمْرَدٍ مِنْ دُونِهِ سِتْرٌ من لؤلؤ قدميه أو قال رجليه فِي خُضْرَةٍ".

18- قَالَ ابْنُ عَدِيٍّ: ثَنَا ابْنُ أَبِي سُفْيَانَ الْمَوْصِلِيُّ وابن شَهْرِيَارَ قَالا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رِزْقِ اللَّهِ قَالَ نا الأَسْوَدُ بن عامرقال نا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ قَتَادَةَ
১৫ - অন্য একটি হাদিস। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাযযায, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-খাতিব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন বিন শুজাউস সুফি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওমর বিন জাফর বিন মুহাম্মদ বিন সালাম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাফস ওমর বিন ফায়রুজ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুস সামাদ বিন কায়সান, হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি আমার মহান রবকে একজন দাড়িহীন যুবকের সূরতে দেখেছি, তাঁর পরনে ছিল লাল পোশাক।"

১৬- অন্য একটি সূত্র। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন আহমাদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন মাসআদাহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হামজা বিন ইউসুফ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ বিন আদি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাসান বিন আলি বিন আসিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন আবু সুওয়াইদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, কাতাদাহ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি আমার রবকে কোঁকড়া চুলবিশিষ্ট দাড়িহীন যুবক হিসেবে দেখেছি, তাঁর পরনে ছিল সবুজ পোশাক।"

১৭- ইবনে আদি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হামিদ আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আন-নাদর বিন সালামাহ শাজান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসওয়াদ বিন আমির, হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, "মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মহান রবকে একজন দাড়িহীন যুবকের সূরতে দেখেছেন, যাঁর সামনে ছিল মুক্তার পর্দা, তাঁর দুই পা অথবা তিনি বলেছেন তাঁর দুই পা ছিল সবুজের মধ্যে।"

১৮- ইবনে আদি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আবু সুফিয়ান আল-মাওসিলি এবং ইবনে শাহরিয়ার, তাঁরা বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন রিজকুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আসওয়াদ বিন আমির, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, কাতাদাহ থেকে...
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:"رَأَيْتُ رَبِّي فِي أَحْسَنِ صُورَةِ شَابٍّ أَمْرَدٍ جَعْدٍ عَلَيْهِ حُلَّةٌ خَضْرَاءُ".

قَالَ الْمُؤَلِّفُ: هَذَا الْحَدِيثُ لا يَثْبُتُ وَطُرُقُهُ كُلُّهَا عَلَى حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ.

قَالَ ابْنُ عَدِيٍّ: قَدْ قِيلَ أَنَّ ابْنَ أَبِي الْعَوْجَاءِ كَانَ رَبِيبَ حَمَّادٍ فَكَانَ يَدُسُّ فِي كُتُبِهِ هَذِهِ الأَحَادِيثَ.

19- حَدِيثٌ آخر نا أَبُو مَنْصُورِ بْنُ خَيْرُونَ وَالْقَزَّازُ قَالا نا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ المأمون قال نا الدارقطني قَالَ نا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى بْنِ عَلِيٍّ الْخَوَّاصُ قَالَ نا سُفْيَانُ بْنُ زِيَادِ بْنِ آدَمَ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو رَبِيعَةَ فَهْدُ بْنُ عَوْفٍ قَالَ نا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:"رَأَيْتُ رَبِّي فِي أَحْسَنِ صورة".

قال الدارقطني: تفرد به فهد ولم سُفْيَانَ وَقَدْ تَكَلَّمْنَا فِيمَا يَرْوِي حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ وَأَمَّا فَهْدُ بْنُ عَوْفٍ فَقَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ هُوَ كَذَّابٌ.

حَدِيثٌ فِي الرؤية.

20- نا عَلِيُّ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الزَّاغُونِيُّ قَالَ نا أَحْمَدُ بْنُ الْبُسُرِيِّ قَالَ نَا أَبُو عَبْدِ الله
ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি আমার রবকে দাড়িবিহীন কোঁকড়ানো চুলওয়ালা এক যুবকের অতি সুন্দর আকৃতিতে দেখেছি, যাঁর পরনে ছিল একটি সবুজ পোশাক।"

গ্রন্থকার বলেন: এই হাদিসটি প্রমাণিত নয় এবং এর সকল সূত্র হাম্মাদ ইবনে সালামাহ-এর ওপর আবর্তিত।

ইবনে আদি বলেন: বলা হয়েছে যে, ইবনে আবিল আওজা ছিলেন হাম্মাদের পালক পুত্র, তাই তিনি হাম্মাদের কিতাবসমূহে এই হাদিসগুলো প্রবিষ্ট করে দিতেন।

১৯- অপর একটি হাদিস। আমাদের নিকট আবু মানসুর ইবনে খাইরুন ও আল-কাযযায বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন আমাদের নিকট আবদুস সামাদ ইবনে আল-মামুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আদ-দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু বকর আহমাদ ইবনে ঈসা ইবনে আলী আল-খাওওয়াস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুফিয়ান ইবনে যিয়াদ ইবনে আদম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু রাবিআ ফাহদ ইবনে আওফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে সালামাহ সাবেত থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি আমার রবকে অতি সুন্দর আকৃতিতে দেখেছি।"

আদ-দারা কুতনি বলেন: ফাহদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং সুফিয়ান তা করেননি। হাম্মাদ ইবনে সালামাহ যা বর্ণনা করেন সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আর ফাহদ ইবনে আওফ সম্পর্কে আলী ইবনুল মাদিনি বলেছেন যে, সে একজন চরম মিথ্যাবাদী।

(আল্লাহকে) দেখা সংক্রান্ত একটি হাদিস।

২০- আমাদের নিকট আলী ইবনে উবাইদুল্লাহ আয-যাগুনি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আহমাদ ইবনুল বুসুরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ...
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ابن مُحَمَّدِ العُكْبَرِيُّ قَالَ نا أَبُو ذَرٍّ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ البَاغَنْدِيُّ قَالَ نا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْعُطَارِدِيُّ قَالَ نا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ بَعَثَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ هَلْ رَأَى مُحَمَّدٌ رَبَّهُ فَبَعَثَ إِلَيْهِ أَنْ نَعَمْ قَدْ رَآهُ فَرَدَّ رَسُولُهُ إِلَيْهِ فَقَالَ كَيْفَ رَآهُ فَقَالَ:" رَآهُ عَلَى كُرْسِيٍّ مِنْ ذَهَبٍ يَحْمِلُهُ أَرْبَعَةٌ مِنَ الْمَلَائِكَةِ فِي صُورَةٍ رَجُلٍ وَمَلَكٌ فِي صُورَةِ أَسَدٍ وَمَلَكٌ فِي صُورَةِ ثَوْرٍ وَمَلَكٌ فِي صُورَةِ نسر وفي رَوْضَةٍ خَضْرَاءَ دُونَهُ فِرَاشٌ مِنْ ذَهَبٍ".

قَالَ الْمُصَنِّفُ: هَذَا حَدِيثٌ لا يَصِحُّ تَفَرَّدَ بِهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ وَقَدْ كَذَّبَهُ مَالِكٌ وَهِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ.
ইবনে মুহাম্মাদ আল-উকবারী বলেন, আমাদের নিকট আবু যার আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-বাগান্দী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আহমাদ বিন আব্দুল জাব্বার আল-উতারিদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইউনুস বিন বুকাইর বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আল-হারিস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আবু সালামাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাসের নিকট এ কথা জিজ্ঞাসা করার জন্য লোক পাঠালেন যে, মুহাম্মাদ কি তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন? তিনি উত্তর পাঠালেন যে, হ্যাঁ, অবশ্যই তিনি তাঁকে দেখেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর দূতকে পুনরায় পাঠালেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি তাঁকে কীভাবে দেখেছেন? তিনি বললেন: "তিনি তাঁকে স্বর্ণের একটি কুরসীর উপর দেখেছেন, যা চারজন ফেরেশতা বহন করছিলেন; একজন মানুষের আকৃতিতে, একজন সিংহের আকৃতিতে, একজন ষাঁড়ের আকৃতিতে এবং একজন ঈগলের আকৃতিতে। তিনি একটি সবুজ উদ্যানে ছিলেন এবং তাঁর নিচে ছিল স্বর্ণের বিছানা।"

গ্রন্থকার বলেন: এই হাদীসটি সঠিক নয়; মুহাম্মাদ বিন ইসহাক এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, অথচ ইমাম মালিক ও হিশাম বিন উরওয়াহ তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
بَابٌ فِي النُّزُولِ.

21- أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْمُبَارَكِ قَالَ نا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُظَفَّرِ قَالَ نا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعُتَيْقِيُّ قَالَ أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ الدَّخِيلِ قَالَ نا أَبُو جَعْفَرٍ الْعَقِيلِيُّ قَالَ نا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ بْنِ صَالِحٍ قَالَ نا أَبُو صَالِحٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِي زِيَادَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَنْصَارِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ عَنْ فُضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:"يَنْزِلُ اللَّهُ تبارك وتعالى فِي آخِرِ سَاعَاتٍ بَقِينَ مِنَ اللَّيْلِ فَيَنْظُرُ اللَّهُ فِي السَّاعَةِ الأُولَى مِنْهُنَّ فِي الْكِتَابِ الَّذِي لا يَنْظُرُ فِيهِ أَحَدٌ غَيْرُهُ فَيَمْحُو مَا يَشَاءُ وَيُثْبِتُ وَيَنْظُرُ فِي السَّاعَةِ الثَّانِيَةِ فِي عَدْنٍ وَهِيَ مَسْكَنُهُ الَّتِي يَسْكُنُ فِيهَا لا يَكُونُ مَعَهُ فيها إلا الأنبياء والشهداء والصد يقون وَفِيهَا مَا لَمْ يَرَ أَحَدٌ وَلا يَخْطُرُ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ ثُمَّ يَهْبِطُ فِي آخِرِ سَاعَةٍ مِنَ اللَّيْلِ فَيَقُولُ أَلا مِنْ مُسْتَغْفِرٍ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ أَلا سَائِلٌ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ أَلا دَاعٍ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ".

قَالَ الْمُؤَلِّفُ: هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ عَمَلِ زِيَادَةَ بْنِ مُحَمَّدٍ لَمْ يُتَابِعْهُ عَلَيْهِ
অবতরণ সংক্রান্ত অধ্যায়।

২১- আব্দুল ওয়াহহাব বিন আল-মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ বিন আল-মুজাফ্ফার আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আতিকি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইউসুফ বিন আদ-দাখিল আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, আবু জাফর আল-উকাইলি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া বিন উসমান বিন সালিহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু সালিহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, লাইস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জিয়াদাহ বিন মুহাম্মাদ আল-আনসারি মুহাম্মাদ বিন কাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ফাদালাহ বিন উবাইদ থেকে, তিনি আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা রাতের শেষ প্রহরগুলোতে অবতরণ করেন। তখন তিনি প্রথম প্রহরে সেই কিতাবের দিকে দৃষ্টিপাত করেন যা তিনি ব্যতীত অন্য কেউ দেখে না; অতঃপর তিনি যা ইচ্ছা মুছে দেন এবং যা ইচ্ছা বহাল রাখেন। দ্বিতীয় প্রহরে তিনি আদন জান্নাতের দিকে দৃষ্টি দেন, যা তাঁর বাসস্থান যেখানে তিনি থাকেন; সেখানে নবীগণ, শহীদগণ ও সত্যবাদীরা ব্যতীত আর কেউ তাঁর সাথে থাকে না। সেখানে এমন কিছু আছে যা কোনো চোখ দেখেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরে তা উদিত হয়নি। অতঃপর তিনি রাতের শেষ প্রহরে অবতরণ করেন এবং বলেন: 'কেউ কি আছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব? কেউ কি আছে যাঞ্চাকারী যে আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তাকে দান করব? কেউ কি আছে আহ্বানকারী যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব?' - এভাবে ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে।"

লেখক বলেন: এই হাদিসটি জিয়াদাহ বিন মুহাম্মাদের বর্ণনা, এ বিষয়ে অন্য কেউ তাকে অনুসরণ করেনি।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
أَحَدٌ قَالَ الْبُخَارِيُّ هُوَ مُنْكَرُ الحديث وقال بن حَبَّانَ هُوَ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ جِدًّا يَرْوِي الْمَنَاكِيرَ عَنِ الْمَشَاهِيرِ فَاسْتَحَقَّ التَّرْكَ.

بَابُ اسْتِحَالَةِ النَّوْمِ عَلَى الله عز وجل.

22- نا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الأُرْمَوِيُّ قَالَ نا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ المأمون قال أخبرنا الدارقطني قَالَ نا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى بْنِ أَبِي حَيَّةَ قَالَ نا اسحق بْنُ أَبِي إِسْرَائِيلَ قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ أُمَيَّةَ بْنِ شِبْلٍ عَنِ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَحْكِي عَنْ مُوسَى عَلَى الْمِنْبَرِ قَالَ:" وَقَعَ فِي نَفْسِ مُوسَى عليه السلام هَلْ يَنَامُ اللَّهُ عز وجل قَالَ فَأَرْسَلَ اللَّهُ عز وجل إِلَيْهِ مَلَكًا فَأَرَّقَهُ ثَلاثًا ثُمَّ أَعْطَاهُ فِي كُلِّ يَدٍ قَارُورَةً وَأَمَرَهُ أَنْ يَحْفَظَ قَالَ فَجَعَلَ يَنَامُ وَتَكَادُ يَدَاهُ تَلْتَقِيَانِ فَحَبَسَ إِحْدَاهُمَا عَنِ الأُخْرَى حَتَّى نَامَ نَوْمَةً فَاصْطَفَقَتْ يَدَاهُ فَانْكَسَرَتِ الْقَارُورَتَانِ قَالَ ضَرَبَ اللَّهُ لَهُ مَثَلا أَنَّ اللَّهَ عز وجل لَوْ كَانَ يَنَامُ لَمْ تَسْتَمْسِكِ السَّمَاءُ والأرض".

23-نا أَبُو مَنْصُورٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ نا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَطِيبُ قَالَ أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَخْلَدٍ قَالَ نا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحُكَيْمِيُّ قال نا محمد بن اسحق الصَّاغَانِيُّ قَالَ أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ معين قال نا هشام
ইমাম বুখারী বলেছেন, তিনি মুনকারুল হাদিস (অগ্রহণযোগ্য হাদিস বর্ণনাকারী)। ইবনে হিব্বান বলেছেন, তিনি অত্যন্ত মুনকারুল হাদিস; তিনি বিখ্যাত বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে অগ্রহণযোগ্য হাদিস বর্ণনা করেন, তাই তিনি বর্জনের যোগ্য।

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্য নিদ্রা অসম্ভব হওয়ার পরিচ্ছেদ।

২২- মুহাম্মদ বিন উমর আল-উরমাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুস সামাদ বিন আল-মামুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আদ-দারাকুতনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আব্দুল ওয়াহহাব বিন ঈসা বিন আবি হাইয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইসহাক বিন আবি ইসরাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হিশাম বিন ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমাইয়্যাহ বিন শিবল থেকে, তিনি আল-হাকাম বিন আবান থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে মূসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "মূসা আলাইহিস সালামের মনে উদয় হলো যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা কি ঘুমান? তিনি বলেন, তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর কাছে একজন ফেরেশতা পাঠালেন, যিনি তাঁকে তিন দিন নির্ঘুম রাখলেন। অতঃপর তাঁর প্রতিটি হাতে একটি করে কাঁচের পাত্র দিলেন এবং সেগুলোকে রক্ষা করার আদেশ দিলেন। তিনি বলেন, এরপর তিনি ঘুমাতে লাগলেন এবং তাঁর হাত দুটি প্রায় পরস্পরের সাথে লেগে যাচ্ছিল। তিনি একটি হাতকে অন্যটি থেকে দূরে সরিয়ে রাখছিলেন, শেষ পর্যন্ত তিনি একদফা ঘুমিয়ে পড়লেন এবং তাঁর হাত দুটি পরস্পর সজোরে আঘাত খেল, ফলে কাঁচের পাত্র দুটি ভেঙে গেল। তিনি বলেন, আল্লাহ তাঁর জন্য একটি উদাহরণ পেশ করেছেন যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যদি ঘুমাতেন তবে আসমান ও জমিন স্থির থাকত না।"

২৩- আবু মানসুর আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু বকর আহমদ বিন আলী আল-খতিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইব্রাহিম বিন মাখলাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইব্রাহিম আল-হুকাইমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন ইসহাক আস-সাগানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া বিন মাঈন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ابن يُوسُفَ عَنْ أُمَيَّةَ بْنِ شِبْلٍ قَالَ أَخْبَرَنِي الْحَكَمُ بْنُ أَبَانَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحْكِي عَنْ مُوسَى عليه السلام عَلَى الْمِنْبَرِ قَالَ:" وَقَعَ فِي نَفْسِ مُوسَى عليه السلام هَلْ يَنَامُ اللَّهُ عز وجل فَبَعَثَ اللَّهُ إِلَيْهِ مَلَكًا فَأَرَّقَهُ ثَلاثًا ثُمَّ أَعْطَاهُ قَارُورَتَيْنِ وَأَمَرَهُ أَنْ يَحْتَفِظَ بِهِمَا قَالَ فَجَعَلَ يَنَامُ تَكَادُ يَدَاهُ تَلْتَقِيَانِ ثُمَّ يَسْتَيْقِظُ فَيُنَحِّي أَحَدَهُمَا عَنِ الأُخْرَى حَتَّى نَامَ نَوْمَةً فَاصْطَفَقَتْ يَدَاهُ فَانْكَسَرَتِ الْقَارُورَتَانِ قَالَ ضَرَبَ اللَّهُ لَهُ مَثَلا أَنَّ اللَّهَ لَوْ كَانَ يَنَامُ لَمْ تَسْتَمْسِكِ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ".

قَالَ الْخَطِيبُ: هَكَذَا رَوَاهُ أُمَيَّةُ بْنُ شِبْلٍ عَنِ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانَ مَوْصُولا مَرْفُوعًا وَخَالَفَهُ مَعْمَرُ بْنُ رَاشِدٍ فَرَوَاهُ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ عِكْرِمَةَ قَوْلُهُ لَمْ يَذْكُرْ فِيهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ولا أبا هريرة.

قال الدارقطني: يَقُولُ بِهِ الْحَكَمُ بْنُ أَبَانَ عَنْ عِكْرِمَةَ وَتَفَرَدَّ بِهِ أُمَيَّةُ عَنِ الْحَكَمِ وَتَفَرَّدَ هِشَامٌ عَنْ أُمَيَّةَ.

قَالَ الْمُصَنِّفُ: قُلْتُ وَلا يَثْبُتُ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ رَسِولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَغَلَطَ مَنْ
ইবন ইউসুফ উমাইয়া ইবন শিবল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাকাম ইবন আবান আমাকে ইকরিমা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে মিম্বারের উপর মূসা (আ.) সম্পর্কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "মূসা (আ.)-এর মনে এই প্রশ্ন জাগল যে, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ কি ঘুমান? তখন আল্লাহ তাঁর নিকট একজন ফেরেশতা পাঠালেন, যিনি তাঁকে তিন রাত সজাগ রাখলেন। এরপর তাঁকে দুটি কাঁচের বোতল দিলেন এবং সে দুটি সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিলেন। তিনি ঘুমানোর উপক্রম হলেন, এমনকি তাঁর দুই হাত প্রায় পরস্পর মিলিত হয়ে যাচ্ছিল। এরপর তিনি সজাগ হয়ে যেতেন এবং একটিকে অপরটি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেন। অবশেষে তিনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন, ফলে তাঁর দুই হাত একসাথে বাড়ি খেল এবং বোতল দুটি ভেঙে গেল। তিনি (রাসূল সা.) বললেন: আল্লাহ তাঁর জন্য একটি উদাহরণ পেশ করেছেন যে, আল্লাহ যদি ঘুমাতেন তবে আসমান ও জমিন স্থির থাকত না।"

খতীব বলেন: উমাইয়া ইবন শিবল এভাবেই হাকাম ইবন আবান থেকে সূত্রবদ্ধ ও মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে মা'মার ইবন রাশিদ তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি এটি হাকাম থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে তাঁর নিজস্ব উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন; তিনি এতে নবী (সা.) অথবা আবু হুরায়রার উল্লেখ করেননি।

দারাকুতনী বলেন: হাকাম ইবন আবান এটি ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেন। হাকাম থেকে উমাইয়া এবং উমাইয়া থেকে হিশাম এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন।

গ্রন্থকার বলেন: আমি বলছি যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) থেকে এই হাদীসটি প্রমাণিত নয় এবং যে ব্যক্তি ভুল করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
رَفَعَهُ وَالظَّاهِرُ أَنَّ عِكْرِمَةَ رَأَى هَذَا فِي كُتُبِ الْيَهُودِ فَرَوَاهُ فَمَا يَزَالُ عِكْرِمَةُ يَذْكُرُ عَنْهُمْ أَشْيَاءَ لا يَجُوزُ أَنْ يَخْفَى هَذَا عَلَى نَبِيِّ اللَّهِ عز وجل وَقَدْ رَوَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ فِي كِتَابِ السُّنَّةِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ إِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ قَالُوا لِمُوسَى عليه السلام هَلْ يَنَامُ رَبُّنَا وَهَذَا هُوَ الصَّحِيحُ فَإِنَّ الْقَوْمَ كَانُوا جُهَّالا بِاللَّهِ عز وجل.

حَدِيثٌ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ} .

24- أَنْبَأَنَا ابْنُ نَاصِرٍ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو غَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْبَاقِلَّانِيُّ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ البرقاني قال نا الدارقطني قَالَ رَوَى عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَحْيَى بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْمَخْزُومِيِّ عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ} قَالَ:" مِنْ شَأْنِهِ أَنْ يَغْفِرَ ذَنْبًا وَيُفَرِّجَ كَرْبًا وَيَرْفَعَ قَوْمًا وَيَضَعُ آخَرِينَ."

قَالَ الْمُؤَلِّفُ: هَذَا حَدِيثٌ لا يَصِحُّ. قَالَ ابْنُ عَدِيٍّ: عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَحْيَى
তিনি এটি (মরফূ হিসেবে) বর্ণনা করেছেন এবং প্রকাশ্য বিষয় হলো ইকরিমা এটি ইহুদিদের কিতাবসমূহে দেখেছেন এবং তা বর্ণনা করেছেন। কেননা ইকরিমা ক্রমাগত তাদের থেকে এমন সব বিষয় বর্ণনা করতেন যা আল্লাহর নবীর (যিনি মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী) নিকট গোপন থাকা সমীচীন নয়। আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল 'কিতাবুস সুন্নাহ' গ্রন্থে সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: বনী ইসরাঈল মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিল, "আমাদের রব কি ঘুমান?" এবং এটিই সঠিক বিবরণ, কারণ সেই সম্প্রদায় মহান আল্লাহ (মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী) সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল।

মহান আল্লাহর বাণী: {প্রত্যেক দিন তিনি কাজে রত} প্রসঙ্গে হাদিস।

২৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে নাসির, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু গালিব মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-বাকিলানি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-বারকানি, তিনি বলেন দারাকুতনি আমাদের বলেছেন যে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইসমাঈল আল-মাখজুমি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইসমাঈল ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি উম্মুদ দারদা থেকে, তিনি আবু দারদা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মহান আল্লাহর বাণী— {প্রত্যেক দিন তিনি কাজে রত} সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তাঁর কাজের অন্তর্ভুক্ত হলো— গুনাহ ক্ষমা করা, দুঃখ-কষ্ট লাঘব করা, কোনো জাতিকে উন্নত করা এবং অন্যকে অবনমিত করা।"

গ্রন্থকার বলেন: এই হাদিসটি সহিহ বা সঠিক নয়। ইবনে আদি বলেছেন: আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া...
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
يحدث بالمناكير. قال الدارقطني: وَقَدْ رُوِيَ مَوْقُوفًا وَهُوَ الصَّوَابُ.
তিনি মুনকার বর্ণনা প্রদান করেন। আদ-দারাকুতনী বলেছেন: এটি মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং এটিই সঠিক।
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌كِتَابُ الْإِيمَانِ.

بَابُ دَفْعِ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ عَنْ قَائِلِهَا.

25- نا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْمُبَارَكِ قَالَ نا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُظَفَّرِ قَالَ نا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعُتَيْقِيُّ قَالَ نا يُوسُفُ بْنُ أَحْمَدَ بْنُ الدَّخِيلِ قَالَ نا أَبُو جَعْفَرٍ الْعُقَيْلِيُّ قَالَ نا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الْحُلْوَانِيُّ قَالَ نا إبراهيم ابن حَمْزَةَ الزُّبَيْدِيُّ قَالَ نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:"لا تَزَالُ لا إِلَهَ إلا اللَّهُ تَدْفَعُ عَنْ أَهْلِ لا إِلَهَ إلا اللَّهُ مَا نَالُوا مَا دَخَلَ عَلَيْهِمْ فِي دِينِهِمْ فَإِذَا لَمْ يَنَالُوا مَا دَخَلَ عَلَيْهِمْ فِي دِينِهِمْ إِلا أَنْ يَنْتَقِصَ مِنْ دُنْيَاهُمْ فَنَالُوا النَّقْصَ دُنْيَاهُمْ ثُمَّ قَالُوا لا إِلَهَ إلا اللَّهُ قَالَ اللَّهُ كَذَبْتُمْ".

قَالَ الْمُصَنِّفُ: هَذَا حَدِيثٌ لا يَصِحُّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ وَلَمْ يُتَابَعْ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ وَقَالَ أَبُو حَاتِمِ: بْنُ حَبَّانَ لا يَحِلُّ كَتْبُ حَدِيثِهِ إلا على جهة التعجب و.

قال الْمُصَنِّفُ: قُلْتُ وَإِنَّمَا يُرْوَى نَحْوُ هَذَا عَنِ الْحَسَنِ أَنَّهُ قَالَ لا تَزَالُ
ঈমান অধ্যায়.

অনুচ্ছেদ: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর পাঠকারীর পক্ষ থেকে বিপদ প্রতিহত করা প্রসঙ্গে।

২৫- আব্দুল ওয়াহহাব বিন আল-মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন আল-মুজাফফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-উতয়কি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইউসুফ বিন আহমদ বিন আদ-দাখিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আবু জাফর আল-উকায়লি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-হুলওয়ানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইবরাহিম ইবনে হামযাহ আয-যুবাইদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আজলান তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কালিমাটি সর্বদা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পন্থীদের থেকে (বিপদ-আপদ) প্রতিহত করতে থাকে যতক্ষণ না তাদের দ্বীনের ওপর কোনো আঘাত আসে। অতঃপর যখন তারা তাদের দ্বীনের ক্ষতির পরোয়া করে না বরং কেবল তাদের দুনিয়াবি স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয় এবং তারা দুনিয়াবি ক্ষতির সম্মুখীন হয়, আর এমতাবস্থায় তারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে, তখন আল্লাহ বলেন: তোমরা মিথ্যা বলেছ।"

গ্রন্থকার বলেন: এই হাদিসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয়। আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আজলান ‘মুনকারুল হাদিস’ (পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী) এবং এই হাদিসের সমর্থনে অন্য কোনো বর্ণনা নেই। আবু হাতিম ইবনে হিব্বান বলেছেন: বিস্ময় প্রকাশ করা ছাড়া তার হাদিস লেখা বৈধ নয়।

গ্রন্থকার বলেন: আমি বলছি, মূলত এই জাতীয় কথা হাসান বসরী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "সর্বদা..."
(খণ্ড: ১) আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদীসিল ওয়াহিয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ تَرُدُّ غَضَبَ اللَّهِ عَنِ الْعِبَادِ مَا لَمْ ينالوا من نقص في دِينِهِمْ إِذَا سَلَمَتْ لَهُمْ دُنْيَاهُمْ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ وَقَالُوا لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ قِيلَ كَذَبْتُمْ.

بَابُ تَدْبِيرِ الْخَلْقِ بِمَا يُصْلِحُ الْإِيمَانَ.

26- نا أَبُو مَنْصُورٍ الْقَزَّازُ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ ثَابِتٍ قَالَ قَرَأْتُ بِخَطِّ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُكَيْرٍ قَالَ نا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ الْقِرْمِيسِينِيُّ وَمَا كَتَبْنَاهُ إِلا عَنْهُ حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَبِيبٍ قَالَ نا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ قَالَ نا ابْنُ عِيسَى الرَّمْلِيُّ يَعْنِي يَحْيَى قَالَ نا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ قَالَ نا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلابَةَ عَنْ كَثِيرِ بْنِ أَفْلَحَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:"أَتَانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ رَبُّكَ يَقْرَأُ عَلَيْكَ السَّلَامَ وَيَقُولُ إِنَّ مِنْ عِبَادِي مَنْ لا يَصْلُحُ إِيمَانُهُ إِلا بِالْغِنَى وَلَوْ أَفْقَرْتُهُ لَكَفَرَ وَإِنَّ مِنْ عِبَادِي مَنْ لا يَصْلُحُ إِيمَانُهُ إِلا بِالْقِلَّةِ وَلَوْ أَغْنَيْتُهُ لَكَفَرَ وَإِنَّ مِنْ عِبَادِي مَنْ لا يَصْلُحُ إِيمَانُهُ إلا بالسقم ولو أصحته لَكَفَرَ وَإِنَّ مِنْ عِبَادِي مَنْ لا يصح إِيمَانُهُ إِلا بِالصِّحَّةِ وَلَوْ أَسْقَمْتُهُ لكفر".

27- طريق آخر نا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي طَاهِرٍ الْبَزَّازُ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيُّ قَالَ نا أَبُو حَفْصَ عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ النَّاقِدُ قَالَ نا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ قَالَ نا الْحَكَمُ بْنُ موسى قال نا عَبْدِ الْمَلِكِ الْخُشَنِيُّ بْنُ يَحْيَى عَنْ صَدَقَةَ عَنْ هِشَامٍ الْكِنَانِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ جِبْرِيلَ عليه السلام عَنْ رَبِّهِ
আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই—এই বাণী ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দাদের থেকে আল্লাহর ক্রোধকে প্রতিহত করে, যতক্ষণ না তাদের দুনিয়া নিরাপদ থাকাবস্থায় তাদের দ্বীনের মধ্যে কোনো ঘাটতি প্রবেশ করে। অতঃপর যখন তারা এমনটি করে (অর্থাৎ দুনিয়া বাঁচাতে দ্বীনের ক্ষতি করে) এবং বলে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই’, তখন বলা হয়: তোমরা মিথ্যা বলেছ।

ঈমান সংশোধনের উপযোগী পন্থায় সৃষ্টির ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।

২৬- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মনসুর আল-কাযযায, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন সাবিত, তিনি বলেন আমি আবু আব্দুল্লাহ বিন বুকাইরের হস্তলিপিতে পাঠ করেছি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন আহমাদ আল-কিরমিসিনি—আর আমরা এটি কেবল তাঁর নিকট থেকেই লিখেছি—তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন হাবিব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আবি মুহাম্মদ আল-মারওয়াযি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে ঈসা আর-রামলি অর্থাৎ ইয়াহইয়া, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরি, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন যায়েদ, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি কাসির বিন আফলাহ থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: "আমার নিকট জিবরাঈল আগমন করলেন এবং বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনার প্রতিপালক আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং বলছেন যে, আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান সচ্ছলতা ব্যতীত সংশোধিত হয় না, আর আমি যদি তাকে দরিদ্র করে দিতাম তবে সে অবশ্যই কুফরি করত। আবার আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান অভাব-অনটন ব্যতীত সংশোধিত হয় না, আর আমি যদি তাকে সচ্ছল করে দিতাম তবে সে অবশ্যই কুফরি করত। আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান অসুস্থতা ব্যতীত সংশোধিত হয় না, আর আমি যদি তাকে সুস্থ করে দিতাম তবে সে অবশ্যই কুফরি করত। এবং আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান সুস্থতা ব্যতীত সংশোধিত হয় না, আর আমি যদি তাকে অসুস্থ করে দিতাম তবে সে অবশ্যই কুফরি করত।"

২৭- অন্য সূত্র: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আবি তাহির আল-বাযযায, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-জাওহারি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাফস উমর বিন আলি আন-নাক্বিদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন হাসান বিন আব্দুল জাব্বার, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাকাম বিন মুসা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক আল-খুশানি বিন ইয়াহইয়া, তিনি সদাক্বাহ থেকে, তিনি হিশাম আল-কিনানি থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে, তিনি নবী (সা.) থেকে, তিনি জিবরাঈল (আ.) থেকে, তিনি তাঁর প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করেছেন।