(খণ্ড: ১) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
العرش للذهبي   (شمس الدين الذهبي)

القسم: العقيدة


الكتاب: العرش

المؤلف: شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قَايْماز الذهبي (ت 748هـ)

المحقق: محمد بن خليفة بن علي التميمي

الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الثانية، 1424هـ/2003م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আয-যাহাবীর আল-আরশ   (শামসুদ্দিন আয-যাহাবী)

বিভাগ: আকিদাহ


কিতাব: আল-আরশ

লেখক: শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন উসমান বিন কায়মায আয-যাহাবী (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ বিন খলিফা বিন আলি আত-তামীমি

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিভাগ, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব রাজত্ব

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৪ হিজরি/২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌المجلد الأول

‌‌مقدمة

…

كتاب العرش

تأليف: أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي (748هـ)

دراسة وتحقيق: د. محمد بن خليفة التميمي

الأستاذ بالجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية

بسم الله الرحمن الرحيم

المقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ} [آل عمران 102] .

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاء وَاتَّقُواْ اللهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء 1] .

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلا سَدِيدًا. يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب 70-71] .
প্রথম খণ্ড

ভূমিকা

…

কিতাবুল আরশ

রচনা: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান আদ-ধাহাবী (৭৪৮ হিজরি)

গবেষণা ও তাহকীক: ড. মুহাম্মদ বিন খলিফা আল-তামিমি

প্রফেসর, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান ১০২] ।

{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাঁদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা ১] ।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহযাব ৭০-৭১] ।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٨)
أما بعد:

فإن أصدق الحديث كلام الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة.

وبعد:

فإن عقيدة أهل السنة والجماعة هي عقيدة الطائفة المنصورة الباقية، كما أخبر بذلك الرسول صلى الله عليه وسلم حيث قال: "لا تزال طائفة من أمتي على الحق ظاهرين إلى يوم القيامة" 1.

وهي الفرقة الناجية التي قال عنها صلى الله عليه وسلم: "افترقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة، وافترقت النصارى على اثنتين وسبعين فرقة، وستفترق هذه الأمة على ثلاث وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة" قيل: من هي يا رسول الله؟ قال: "من كان على مثل ما أنا عليه اليوم وأصحابي" 2.

--------------------------------------------

1 أخرجه مسلم في صحيحه، كتاب الإمارة، باب قوله صلى الله عليه وسلم: "لا تزال طائفة من أمتي … الخ".

وانظر صحيح مسلم بشرح النووي (13/66) .

2 أخرجه أبو داود (5/4) رقم (4596، 4597) .

والترمذي (5/25-26) رقم (2640، 2641) .

وابن ماجة (2/1321) رقم (3991-3993) .

والإمام أحمد (2/332) ، (3/120، 145) ، (4/120) .

والحاكم في المستدرك (1/128) وقال: (صحيح على شرط مسلم، و (2/480) وقال: صحيح الإسناد.

والدارمي (2/158) رقم (2521) .

والطبراني في الكبير (8/321، رقم8035) ، (8/327، رقم8051) ، (8/178، رقم7659) ، (10/271-272، رقم211، 212) ، وفي الصغير (1/224) .

والآجري في الشريعة (1/304-315، رقم 21-29) .

وابن أبي عاصم في السنة (1/32-35) .

واللالكائي في شرح أصول الاعتقاد (1/100-102) .

والطبري (27/239) .

ورواه ابن بطة في الإبانة (1/367-375، رقم263-275) .

وأبو يعلى في مسنده (6/340-342، رقم3668) .

وابن حبان في صحيحه (8/48، رقم6214) .

وابن أبي شيبة في المصنف (15/308، رقم19738) .

والمروزي في السنة (ص18، 19) .

وقال عنه شيخ الإسلام ابن تيمية: (هو حديث صحيح مشهور) . انظر المسائل (2/83) ، والفتاوى (3/345) .

واعتنى به الشاطبي في الاعتصام.

وأورده ابن كثير في تفسيره (1/390) .

وأورده الشيخ الألباني في السلسة الصحيحة (3/480) .
অতঃপর:

নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম হিদায়াত হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিদায়াত। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ হলো সেই সাহায্যপ্রাপ্ত ও অবশিষ্ট দলের আকিদাহ, যেমনটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যখন তিনি বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত।" ১।

আর এটিই সেই মুক্তিপ্রাপ্ত দল যাদের সম্পর্কে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইয়াহুদিরা একাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর নাসারারা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর অচিরেই এই উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে, যার সবকটিই জাহান্নামে যাবে একটি ব্যতীত।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: "যারা আজ আমি এবং আমার সাহাবীগণ যে পথের ওপর রয়েছি তার ওপর থাকবে।" ২।

--------------------------------------------

১. মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল ইমারাহ, অনুচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা..." শেষ পর্যন্ত।

এবং দেখুন: শরহে নববী সহ সহীহ মুসলিম (১৩/৬৬)।

২. আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন (৫/৪), হাদিস নং (৪৫৯৬, ৪৫৯৭)।

এবং তিরমিযী (৫/২৫-২৬), হাদিস নং (২৬৪০, ২৬৪১)।

এবং ইবনে মাজাহ (২/১৩২১), হাদিস নং (৩৯৯১-৩৯৯৩)।

এবং ইমাম আহমাদ (২/৩৩২), (৩/১২০, ১৪৫), (৪/১২০)।

এবং হাকেম তার মুসতাদরাক গ্রন্থে (১/১২৮) এবং তিনি বলেছেন: "মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ", এবং (২/৪৮০) এবং তিনি বলেছেন: সনদ সহীহ।

এবং দারেমী (২/১৫৮), হাদিস নং (২৫২১)।

এবং তাবারানি আল-কাবীর গ্রন্থে (৮/৩২১, নং ৮০৩৫), (৮/৩২৭, নং ৮০৫১), (৮/১৭৮, নং ৭৬৫৯), (১০/২৭১-২৭২, নং ২১১, ২১২), এবং আস-সাগীর গ্রন্থে (১/২২৪)।

এবং আজুররি আশ-শরীয়াহ গ্রন্থে (১/৩০৪-৩১৫, নং ২১-২৯)।

এবং ইবনে আবি আসিম আস-সুন্নাহ গ্রন্থে (১/৩২-৩৫)।

এবং লালকায়ি শারহু উসুলিল ইতিকাদ গ্রন্থে (১/১০০-১০২)।

এবং তাবারী (২৭/২৩৯)।

এবং ইবনে বাত্তাহ আল-ইবানাহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (১/৩৬৭-৩৭৫, নং ২৬৩-২৭৫)।

এবং আবু ইয়ালা তার মুসনাদ গ্রন্থে (৬/৩৪০-৩৪২, নং ৩৬৬৮)।

এবং ইবনে হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে (৮/৪৮, নং ৬২১৪)।

এবং ইবনে আবি শাইবাহ আল-মুসান্নাফ গ্রন্থে (১৫/৩০৮, নং ১৯৭৩৮)।

এবং মারওয়াযী আস-সুন্নাহ গ্রন্থে (পৃ. ১৮, ১৯)।

এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এর সম্পর্কে বলেছেন: "এটি একটি সহীহ ও প্রসিদ্ধ হাদিস।" দেখুন আল-মাসাইল (২/৮৩), এবং আল-ফাতাওয়া (৩/৩৪৫)।

এবং শাতিবি আল-ইতিসাম গ্রন্থে এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

এবং ইবনে কাসীর তার তাফসীর গ্রন্থে (১/৩৯০) এটি উল্লেখ করেছেন।

এবং শাইখ আলবানী আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ গ্রন্থে (৩/৪৮০) এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٩)
فعلامتهم كما أخبر النبي صلى الله عليه وسلم أنهم يكونون على ما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه فتلك ميزة تميزت بها عقيدة أهل السنة والجماعة لا توجد
অতএব তাদের বৈশিষ্ট্য হলো—যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন—যে তারা সেই আদর্শের ওপর থাকবে যার ওপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ ছিলেন। সুতরাং এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে, যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١٠)
عند غيرهم، فعقيدتهم تتميز بأصولها التي تُستمدُ منها كل مسائل هذا العلم.

فالقرآن الكريم الذي هو حبل الله المتين، والذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، هو الأصل الأول من أصول أهل السنة والجماعة.

والأصل الثاني السنة النبوية الصحيحة الثابتة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلقد أوجب الله على الناس اتباع رسوله صلى الله عليه وسلم والاقتداء بسنته، قال تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا} [الحشر 7] ، وقال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} [الأحزاب 21] .

فأهل السنة والجماعة كان اعتصامهم بالكتاب والسنة "بخلاف أهل البدعة والفرقة، فإن عمدتهم في الباطن ليست على القرآن والسنة، ولكن على أصول ابتدعها شيوخهم عليها يعتمدون في التوحيد والصفات والقدر والإيمان بالرسول وغير ذلك، ثم ما ظنوا أنه يوافقها من القرآن احتجوا به، وما خالفها تأولوه؛ فلهذا تجدهم إذا احتجوا بالقرآن والحديث لم يعتنوا بتحرير دلالتهما، ولم يستقصوا ما في القرآن من ذلك المعنى؛ والآيات والأحاديث التي تخالفهم يشرعون في تأويلها شروع من قصد ردها كيف أمكن، فليس مقصودهم أن يفهموا مراد الله ومراد رسوله، بل أن يدفع منازعه عن الاحتجاج بها"1.

--------------------------------------------

1 مجموع الفتاوى (13/58-59) بتصرف.
অন্যদের তুলনায়, তাদের আকিদা তার ঐসব মূলনীতির কারণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত যেখান থেকে এই ইলমের সকল মাসয়ালা আহরণ করা হয়।

অতএব আল-কুরআনুল কারীম যা আল্লাহর মজবুত রশি, এবং যার সামনে বা পেছন কোনো দিক থেকেই কোনো মিথ্যা প্রবেশ করতে পারে না, তা হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মূলনীতিসমূহের মধ্যে প্রথম মূলনীতি।

আর দ্বিতীয় মূলনীতি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত বিশুদ্ধ সুন্নাতে নাবাবিয়া। আল্লাহ মানুষের ওপর তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ এবং তাঁর সুন্নাতের অনুকরণ আবশ্যক করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর ৭], এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ} [আল-আহযাব ২১]।

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছিল "বিদআত ও বিভেদপন্থীদের বিপরীতে, কারণ তাদের অভ্যন্তরীণ মূল ভিত্তি কুরআন ও সুন্নাহর ওপর নয়, বরং তাদের শায়খদের উদ্ভাবিত এমন কিছু মূলনীতির ওপর যার ওপর তারা তাওহিদ, গুণাবলি, তাকদির, রাসূলের প্রতি ঈমান ও অন্যান্য বিষয়ে নির্ভর করে। অতঃপর কুরআনের যা কিছু তাদের মতের অনুকূল মনে হয় তা দিয়ে তারা দলিল পেশ করে, আর যা এর পরিপন্থী হয় সেটির অপব্যাখ্যা করে; এ কারণেই আপনি তাদের দেখবেন যখন তারা কুরআন ও হাদিস থেকে দলিল দেয় তখন তারা সেগুলোর অর্থের যথাযথ বিশ্লেষণ করে না এবং কুরআনে বর্ণিত সেই অর্থের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান করে না। আর যেসব আয়াত ও হাদিস তাদের মতের বিরোধী হয়, তারা সেগুলোর এমনভাবে ব্যাখ্যা করা শুরু করে যেন তা যে কোনো উপায়ে প্রত্যাখ্যান করা যায়; কারণ তাদের উদ্দেশ্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্য বোঝা নয়, বরং তাদের বিরোধীদের দলিল পেশ করা থেকে প্রতিহত করাই তাদের লক্ষ্য।" ১।

--------------------------------------------

১ মাজমুউল ফাতাওয়া (১৩/৫৮-৫৯) কিছুটা সংক্ষেপিত।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١١)
وأما أهل السنة والجماعة فأصولهم التي اعتمدوا عليها هي الكتاب والسنة ومرادهم اتباع شرع الله الذي شرعه على لسان رسوله محمد صلى الله عليه وسلم.

قال الإمام الشافعي رحمه الله: "آمنت بما جاء عن الله، وبما جاء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم على مراد رسول الله"1.

ولذلك لم يستقلوا بفهومهم وإنما اعتمدوا في فهم تلك الأصول على ما فهمه أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، الذين عاشوا فترة نزول الوحي، وعلموا مراد الله ومراد رسوله صلى الله عليه وسلم، وهذه ميزة ثانية، فإذا كانت أصول أهل السنة واحدة وهي الكتاب والسنة فكذلك أئمة أهل السنة هم السلف الصالح من الصحابة والتابعين وتابعيهم، فعلى علمهم وفهمهم يعولون وعن قولهم يصدرون.

قال الإمام أحمد رحمه الله: "أصول السنة عندنا التمسك بما كان عليه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، والاقتداء بهم وترك البدع، وكل بدعة فهي ضلالة، وترك الخصومات والجلوس مع أصحاب الأهواء، وترك المراء والجدال والخصومات في الدين.

والسنة عندنا آثار رسول الله صلى الله عليه وسلم، والسنة تفسر القرآن، وهي دلائل القرآن، وليس في السنة قياس، ولا تضرب لها الأمثال، ولا تدرك بالعقول والأهواء، إنما هي الاتباع وترك الهوى"2.

--------------------------------------------

1 مجموع الفتاوى (4/2) .

2 شرح أصول اعتقاد أهل السنة للالكائي (1/156) .
পক্ষান্তরে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত যেসব মূলনীতির ওপর নির্ভর করে, তা হলো কিতাব (আল্লাহর কিতাব) ও সুন্নাহ। তাদের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সেই শারীয়তের অনুসরণ করা যা তিনি তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যবানিতে বিধিবদ্ধ করেছেন।

ইমাম শাফিঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: "আল্লাহর পক্ষ থেকে যা এসেছে আমি তাতে ঈমান এনেছি আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুযায়ী এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে যা এসেছে তাতেও ঈমান এনেছি আল্লাহর রাসূলের উদ্দেশ্য অনুযায়ী।"১।

এই কারণে তারা নিজেদের নিজস্ব বুঝের ওপর নির্ভর করেননি, বরং সেই মূলনীতিগুলো বোঝার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের বুঝের ওপর নির্ভর করেছেন, যারা ওহী নাযিলের সময়কালে জীবিত ছিলেন এবং আল্লাহর উদ্দেশ্য ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন। এটি তাদের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য। সুতরাং আহলুস সুন্নাহর মূলনীতি যদি অভিন্ন হয়—আর তা হলো কিতাব ও সুন্নাহ—তবে আহলুস সুন্নাহর ইমামগণও হলেন সাহাবী, তাবিঈ এবং তাবি-তাবিঈগণের মধ্য হতে সালাফে সালেহীন। অতএব, তাঁদের ইলম ও বুঝের ওপরই তাঁরা নির্ভর করেন এবং তাঁদের বক্তব্য থেকেই তাঁরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

ইমাম আহমাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: "আমাদের নিকট সুন্নাহর মূলনীতি হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ যে বিষয়ের ওপর অটল ছিলেন তা আঁকড়ে ধরা, তাঁদের অনুসরণ করা এবং বিদআত বর্জন করা; আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা। এ ছাড়াও ঝগড়া-বিবাদ বর্জন করা, প্রবৃত্তিপূজারীদের সাথে ওঠা-বসা পরিত্যাগ করা এবং দ্বীনের বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া পরিহার করা।

আমাদের নিকট সুন্নাহ হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রেখে যাওয়া নিদর্শনসমূহ (আসার), আর সুন্নাহ কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং তা কুরআনের নির্দেশক। সুন্নাহর ক্ষেত্রে কোনো অনুমান বা কিয়াস নেই এবং এর জন্য কোনো উপমা পেশ করা যাবে না। এটি কেবল বুদ্ধি বা খেয়ালখুশি দিয়ে অনুধাবন করা যায় না; বরং এটি হলো কেবল অনুসরণ করা এবং প্রবৃত্তি বর্জন করা।"২।

--------------------------------------------

১ মাজমুউল ফাতাওয়া (৪/২)।

২ লালকাঈ প্রণীত শারহু উসুলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ (১/১৫৬)।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١٢)
فأمور هذا الدين ترجع إلى سند متصل إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فلذلك كان لأهل السنة سندهم المتصل، ولذلك يقال لأهل البدع هذه هي أصولنا وأسانيدنا ترجع إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فيا ترى أصول أهل البدع إلى أي شيء ترجع؟!

ومن هذا المنطلق كان الاعتناء بالمأثور عن سلف الأمة سمة بارزة من سمات أهل السنة والجماعة ولذلك زخرت مؤلفاتهم بالمأثور من كلام الله وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم، وأقوال السلف من الصحابة والتابعين ومن سار على نهجهم واقتدى طريقهم، وسلك سبيلهم.

ويحق لكل صاحب سنة أن يفخر بما تركه علماء السنة من تراث عظيم حوى منهج أهل الحق وتضمن أقوال علماء وأئمة شرحوا طريق الهدى ونافحوا ودافعوا عن العقيدة الصحيحة لكي تبقى نقية صافية، كما تركها لنا النبي صلى الله عليه وسلم.

ويصدق على أولئك الأئمة الأعلام وصف الإمام أحمد رحمه الله تعالى حيث قال: "الحمد لله الذي جعل في كل زمان فترة من الرسل، بقايا من أهل العلم، يدعون من ضل إلى الهدى، ويصبرون منهم على الأذى، يحيون بكتاب الله الموتى، ويبصرون بنور الله أهل العمى، فكم من قتيل لإبليس قد أحيوه، وكم من ضال تائه قد هدوه، فما أحسن أثرهم
এই দ্বীনের সকল বিষয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত একটি অবিচ্ছিন্ন সনদের দিকে ফিরে যায়। এই কারণেই আহলে সুন্নাতের রয়েছে তাদের নিজস্ব অবিচ্ছিন্ন সনদ। আর এ জন্যই বিদআতপন্থীদের উদ্দেশ্যে বলা হয় যে, এগুলো হলো আমাদের মূলনীতি এবং আমাদের সনদসমূহ যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে; তবে দেখার বিষয় হলো বিদআতপন্থীদের মূলনীতিগুলো কিসের দিকে ফিরে যায়?!

এই দৃষ্টিকোণ থেকেই উম্মতের সালাফদের থেকে বর্ণিত বিষয়াদির (মা'সুর) প্রতি যত্নবান হওয়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আর একারণেই তাঁদের গ্রন্থসমূহ আল্লাহর বাণী, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী এবং সাহাবী, তাবিঈ ও তাঁদের আদর্শ অনুসরণকারী ও তাঁদের পথে বিচরণকারী সালাফদের বাণীতে সমৃদ্ধ।

প্রত্যেক সুন্নাহ অনুসারীর জন্য সেই মহান ঐতিহ্যের কারণে গর্ব করার অধিকার রয়েছে যা সুন্নাতের উলামাগণ রেখে গেছেন। এই ঐতিহ্যের মধ্যে রয়েছে সত্যপন্থীদের মানহাজ এবং সেই সকল উলামা ও ইমামদের বাণী যারা হিদায়াতের পথ ব্যাখ্যা করেছেন এবং সঠিক আকিদাহর সুরক্ষায় লড়াই ও প্রতিরক্ষা করেছেন, যেন তা সেই রকমই স্বচ্ছ ও নির্মল থাকে যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য রেখে গিয়েছেন।

সেই সকল মহান ইমামদের ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ তাআলার সেই বর্ণনাটি যথাযথভাবে প্রযোজ্য যেখানে তিনি বলেছেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রতিটি যুগে—যখন কোনো রাসূল উপস্থিত ছিলেন না—জ্ঞানী ব্যক্তিদের একদল অবশিষ্টাংশ রেখেছেন, যারা পথভ্রষ্টদের হিদায়াতের দিকে আহ্বান করেন এবং তাদের পক্ষ থেকে আসা কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করেন। তারা আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে মৃতদের জীবিত করেন এবং আল্লাহর নূরের মাধ্যমে অন্ধদের পথ দেখান। ইবলিসের শিকার হওয়া কত মানুষকে তারা জীবিত করেছেন এবং কতই না পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত মানুষকে তারা সঠিক পথ দেখিয়েছেন! মানুষের ওপর তাদের অবদান কতই না উত্তম!"
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١٣)
على الناس، وأقبح أثر الناس عليهم، ينفون عن كتاب الله تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين، الذين عقدوا ألوية البدعة، وأطلقوا عقال الفتنة، فهم مختلفون في الكتاب مخالفون للكتاب، مجمعون على مفارقة الكتاب، يقولون على الله، وفي الله، وفي كتاب الله، يتكلمون بالمتشابه من الكلام، ويخدعون جهال الناس بما يشبهون عليهم، فنعوذ بالله من فتن المضلين"1.

فلله در أولئك الأئمة الذين حموا حياض هذا الدين ودافعوا عن صراط الله المستقيم، وتركوا لنا تراثاً عظيماً سطروا فيه بيراعهم منهج الحق القويم وأبطلوا فيه شبهات حزب الشيطان الرجيم.

فحري بذلك التراث أن يخدم وأن يخرج من خزائن المكتبات وحيز المخطوطات.

وهذا وإن من بين تراثنا السلفي الجدير بالعناية والاهتمام، كتاب ظل حبيس عالم المخطوطات ردحاً طويلاً من الزمن، ألا وهو كتاب "العرش" للإمام الذهبي، وهو كتاب نفيس في بابه، حشد فيه المؤلف العشرات من النصوص والآثار التي توضح عقيدة أهل السنة والجماعة في مسألة من كبريات مسائل توحيد الأسماء والصفات ألا وهي مسألة إثبات علو الله على خلقه واستوائه على عرشه.

--------------------------------------------

1 الرد على الزنادقة والجهمية (ص52 - ضمن عقائد السلف) .
মানুষের ওপর তাদের প্রভাব কতই না চমৎকার, আর তাদের ওপর মানুষের প্রভাব কতই না নিকৃষ্ট! তারা আল্লাহর কিতাব থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করেন; যারা বিদআতের পতাকা উড্ডীন করেছে এবং ফিতনার লাগাম ছেড়ে দিয়েছে। ফলে তারা কিতাব বিষয়ে মতভেদকারী, কিতাবের বিরুদ্ধাচরণকারী এবং কিতাব বর্জনের ব্যাপারে একমত। তারা আল্লাহ সম্পর্কে এবং আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে ভিত্তিহীন কথা বলে; তারা দ্ব্যর্থবোধক কথা বলে এবং সাধারণ মানুষকে সংশয়ে ফেলে ধোঁকা দেয়। সুতরাং আমরা পথভ্রষ্টকারীদের ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।১

কতই না মহান সেই ইমামগণ যারা এই দ্বীনের সীমানা রক্ষা করেছেন এবং আল্লাহর সরল-সঠিক পথের প্রতিরক্ষা করেছেন। তারা আমাদের জন্য এক মহান ঐতিহ্য রেখে গেছেন, যাতে তারা তাদের কলম দিয়ে সত্য ও সঠিক পথ লিপিবদ্ধ করেছেন এবং বিতাড়িত শয়তানের দলের সংশয়গুলোকে খণ্ডন করেছেন।

তাই সেই ঐতিহ্যের সেবা করা এবং সেগুলোকে গ্রন্থাগারের ভাণ্ডার ও পাণ্ডুলিপির গণ্ডি থেকে বের করে আনা একান্ত বাঞ্ছনীয়।

আমাদের সালাফি ঐতিহ্যের মধ্যে বিশেষ যত্ন ও গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য এমনই একটি বই, যা দীর্ঘকাল ধরে পাণ্ডুলিপি জগতের বন্দিশালায় ছিল, তা হলো ইমাম আয-যাহাবীর ‘আল-আরশ’ কিতাবটি। এটি নিজ বিষয়ে একটি অতি মূল্যবান গ্রন্থ, যেখানে লেখক এমন বহু দলিল ও বর্ণনা একত্র করেছেন যা তাওহিদে আসমা ওয়াস-সিফাতের অন্যতম প্রধান বিষয় সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে; আর তা হলো সৃষ্টির ঊর্ধ্বে আল্লাহর উচ্চতা এবং তাঁর আরশের উপর ওঠার বিষয়টি সাব্যস্ত করা।

--------------------------------------------

১. আর-রাদ্দু আলায যানাদিকা ওয়াল জাহমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা ৫২ - আকাইদুস সালাফ-এর অন্তর্ভুক্ত)।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١٤)
وقد دفعني لخدمة هذا الكتاب وإخراجه ما تضمنه من مادة علمية مهمة في بابها، وإضافة إلى المنهج السلفي الذي سلكه هذا الإمام في تقرير الحق وإثباته.

وقد حرصت على إخراج الكتاب على أفضل صورة وأبهى حلة، فنهجت المنهج العلمي في تحقيق نصه وضبطه، وتخريج أحاديثه وآثاره، والترجمة لأعلامه، وشرح غريبه، ووضع فهارس فنية لمحتوياته.

ونظراً لأهمية الكتاب وموضوعه فقد خدمت الكتاب بدراسة موضوعية احتوت على الأمور التالية.

القسم الأول: الدراسة الموضوعية

الباب الأول: أقوال الناس في أسماء الله وصفاته.

الفصل الأول: معتقد أهل السنة والجماعة في أسماء الله وصفاته.

المبحث الأول: التعريف بأهل السنة والجماعة.

المبحث الثاني: معتقد أهل السنة والجماعة في أسماء الله وصفاته.

الفصل الثاني: أقوال المعطلة في أسماء الله وصفاته.

المبحث الأول: التعريف بالمعطلة.

تمهيد.

المطلب الأول: الفلاسفة.

المطلب الثاني: أهل الكلام.
এই গ্রন্থটি পরিবেশন ও প্রকাশের পেছনে আমাকে যা অনুপ্রাণিত করেছে তা হলো এর অন্তর্ভুক্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইলমি উপাদানসমূহ, এবং এর পাশাপাশি সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত ও সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এই ইমাম কর্তৃক অনুসৃত সালাফি মানহাজ।

আমি গ্রন্থটিকে সর্বোত্তম রূপ ও সুন্দরতম অবয়বে প্রকাশ করতে সচেষ্ট হয়েছি। তাই এর পাঠ তাহকিক ও বিন্যাস, হাদিস ও আসারসমূহের তাখরিজ, ব্যক্তিবর্গের জীবনী আলোচনা, কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা এবং বিষয়বস্তুর জন্য বিশেষ নির্ঘণ্ট তৈরির ক্ষেত্রে আমি গবেষণামূলক পদ্ধতি অবলম্বন করেছি।

গ্রন্থটির গুরুত্ব ও এর বিষয়বস্তুর কথা বিবেচনা করে আমি এর ওপর একটি বিষয়ভিত্তিক পর্যালোচনার মাধ্যমে খেদমত আঞ্জাম দিয়েছি, যাতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রথম অংশ: বিষয়ভিত্তিক পর্যালোচনা

প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নাম ও সিফাতসমূহ সম্পর্কে মানুষের বক্তব্যসমূহ।

প্রথম অধ্যায়: আল্লাহর নাম ও সিফাতসমূহ সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ।

প্রথম অনুচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচয়।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহর নাম ও সিফাতসমূহ সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: আল্লাহর নাম ও সিফাতসমূহ সম্পর্কে মুআত্তিলাদের বক্তব্যসমূহ।

প্রথম অনুচ্ছেদ: মুআত্তিলাদের পরিচয়।

ভূমিকা।

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: দার্শনিকগণ।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: ইলমুল কালামপন্থিগণ।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١٥)
المبحث الثاني: درجات تعطيلهم.

المطلب الأول: درجات التعطيل في باب الأسماء والصفات عموماً.

المطلب الثاني: درجات تعطيلهم في باب الأسماء الحسنى.

المطلب الثالث: درجات تعطيلهم في باب صفات الله تعالى.

الفصل الثالث: المشبهة.

المبحث الأول: التعريف بالتمثيل والتشبيه.

المبحث الثاني: التعريف بالمشبهة.

الباب الثاني: الأقوال في صفتي العلو والاستواء.

الفصل الأول: الأقوال في صفة العلو.

المبحث الأول: قول أهل السنة والجماعة ومن وافقهم.

المبحث الثاني: أقوال المخالفين.

الفصل الثاني: الأقوال في صفة الاستواء.

المبحث الأول: مذهب السلف في الاستواء.

المبحث الثاني: أقوال المخالفين.

الفريق الأول: نفاة الاستواء.

الفريق الثاني: القول بالتفويض.

الفريق الثالث: قول المشبهة.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাদের তাতিলের (অস্বীকারের) পর্যায়সমূহ।

প্রথম অনুচ্ছেদ: সাধারণভাবে নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে তাতিলের পর্যায়সমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আসমাউল হুসনার ক্ষেত্রে তাদের তাতিলের পর্যায়সমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মহান আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে তাদের তাতিলের পর্যায়সমূহ।

তৃতীয় অধ্যায়: মুসাব্বিহা।

প্রথম পরিচ্ছেদ: তামসিল ও তাসবিহ-এর পরিচয়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুসাব্বিহাদের পরিচয়।

দ্বিতীয় পর্ব: উচ্চতা ও উঠার গুণ সম্পর্কিত অভিমতসমূহ।

প্রথম অধ্যায়: উচ্চতার গুণ সম্পর্কিত অভিমতসমূহ।

প্রথম পরিচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং তাদের অনুসারীদের অভিমত।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিরোধীদের অভিমতসমূহ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: উঠার গুণ সম্পর্কিত অভিমতসমূহ।

প্রথম পরিচ্ছেদ: উঠার ক্ষেত্রে সালাফদের মাজহাব।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিরোধীদের অভিমতসমূহ।

প্রথম দল: উঠার অস্বীকারকারীগণ।

দ্বিতীয় দল: তাফওয়ীদ-এর অভিমত।

তৃতীয় দল: মুসাব্বিহাদের অভিমত।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١٦)
الفصل الثالث: مسائل متعلقة بالعلو والاستواء.

المبحث الأول: هل يخلو العرش منه حال نزوله.

المبحث الثاني: مسائل الحد والمماسة.

المطلب الأول: حكم الألفاظ المجملة.

المطلب الثاني: مسألة الحد.

المطلب الثالث: مسألة المماسة.

الباب الثالث: العرش وما يتعلق به من مسائل.

الفصل الأول: تعريف العرش.

المبحث الأول: المعنى اللغوي لكلمة العرش.

المبحث الثاني: المذاهب في تعريف العرش.

الفصل الثاني: الأدلة على إثبات العرش من الكتاب والسنة.

المبحث الأول: الأدلة القرآنية على إثبات العرش.

المبحث الثاني: الأدلة من السنة على إثبات العرش.

الفصل الثالث: صفة العرش وخصائصه.

المبحث الأول: خلق العرش وهيئته.

المبحث الثاني: مكان العرش.

المبحث الثالث: خصائص العرش.

الفصل الرابع: الكلام على حملة العرش وعلى الكرسي.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উচ্চতা এবং উঠা সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ।

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর অবতরণের সময় আরশ কি তাঁর থেকে খালি হয়ে যায়?

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সীমা এবং স্পর্শ সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ।

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: অস্পষ্ট শব্দাবলির বিধান।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: সীমার মাসয়ালা।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: স্পর্শের মাসয়ালা।

তৃতীয় অধ্যায়: আরশ এবং এ সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ।

প্রথম পরিচ্ছেদ: আরশের সংজ্ঞা।

প্রথম অনুচ্ছেদ: আরশ শব্দের আভিধানিক অর্থ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আরশের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মতবাদ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আরশ প্রমাণের দলিলসমূহ।

প্রথম অনুচ্ছেদ: আরশ প্রমাণের কুরআনিক দলিলসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আরশ প্রমাণের সুন্নাহর দলিলসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আরশের গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ।

প্রথম অনুচ্ছেদ: আরশ সৃষ্টি ও এর গঠন।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আরশের স্থান।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আরশের বৈশিষ্ট্যসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আরশ বহনকারীগণ এবং কুরসী সংক্রান্ত আলোচনা।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١٧)
المبحث الأول: الكلام على حملة العرش.

المبحث الثاني: الكلام على الكرسي.

القسم الثاني: التعريف بالمؤلف والكتاب.

الفصل الأول: التعريف بالمؤلف.

أولاً: اسمه وكنيته.

ثانياً: أصله.

ثالثاً: نسبته.

رابعاً: مولده.

خامساً: أسرته.

سادساً: نشأته في طلب العلم.

سابعاً: رحلاته.

ثامناً: شيوخه.

تاسعاً: مكانته العلمية وثناء العلماء عليه.

عاشراً: عقيدته.

الحادي عشر: مؤلفاته.

الثاني عشر: تلاميذه.

الثالث عشر: وفاته.

الفصل الثاني: التعريف بالكتاب.
প্রথম পরিচ্ছেদ: আরশ বহনকারীদের বর্ণনা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরসি প্রসঙ্গে আলোচনা।

দ্বিতীয় অংশ: লেখক ও গ্রন্থ পরিচিতি।

প্রথম অধ্যায়: লেখক পরিচিতি।

প্রথমত: তাঁর নাম ও কুনিয়াত (উপনাম)।

দ্বিতীয়ত: তাঁর আদি নিবাস।

তৃতীয়ত: তাঁর বংশীয় সম্বন্ধ।

চতুর্থত: তাঁর জন্ম।

পঞ্চমত: তাঁর পরিবার।

ষষ্ঠত: ইলম অর্জনে তাঁর বেড়ে ওঠা।

সপ্তমত: তাঁর সফরসমূহ।

অষ্টমত: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ।

নবমত: তাঁর ইলমি মর্যাদা ও তাঁর প্রতি আলেমদের প্রশংসা।

দশমত: তাঁর আকিদা।

একাদশত: তাঁর রচনাবলী।

দ্বাদশত: তাঁর ছাত্রবৃন্দ।

ত্রয়োদশত: তাঁর মৃত্যু।

দ্বিতীয় অধ্যায়: গ্রন্থ পরিচিতি।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١٨)
أولاً: اسم الكتاب.

ثانياً: توثيق نسبة الكتاب للمؤلف.

ثالثاً: الفرق بين كتاب العرش وكتاب العلو.

رابعاً: موارد كتاب العرش.

خامساً: منهج المصنف في الكتاب.

سادساً: أهمية الموضوع والكتاب.

سابعا: دراسة النسخة الخطية.

ثامناً: عملي في الكتاب.

وبعد: فهذا جهد المقل، أضعه بين يدي القارئ الكريم، وقد بذلت فيه قصارى جهدي، وغاية وسعي، فما كان فيه من صواب وحق فالحمد لله على توفيقه، وذلك من فضله ومنّه، وما كان فيه من خطل، أو زلل، أو خلل، فأستغفر الله من كل ذنب وخطيئة.

وأستسمح القارئ الكريم عذراً إذا ما وجد في عملي هذا تقصيراً، فهذا جهد البشر، فأرجو من كل من اطلع على خطأ أو قصور أن يبادرني النصيحة مشكوراً مأجوراً.

والله أسأل أن ينفع بهذا العمل ويبارك فيه، وأن يجعله عملاً صالحاً ولوجهه خالصاً وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
প্রথমত: গ্রন্থের নাম।

দ্বিতীয়ত: লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের প্রামাণ্যতা।

তৃতীয়ত: কিতাবুল আরশ ও কিতাবুল উলু-এর মধ্যকার পার্থক্য।

চতুর্থত: কিতাবুল আরশের উৎসসমূহ।

পঞ্চমত: গ্রন্থে গ্রন্থকারের অনুসৃত পদ্ধতি।

ষষ্ঠত: বিষয়বস্তু ও গ্রন্থের গুরুত্ব।

সপ্তমত: পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনা।

অষ্টমত: গ্রন্থে আমার সম্পাদিত কাজ।

অতঃপর: এটি একজন নগণ্য ব্যক্তির সামান্য প্রচেষ্টা, যা আমি সম্মানিত পাঠকের সমীপে পেশ করছি। আমি এতে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও সামর্থ্য নিয়োগ করেছি। সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক ও সত্য হয়েছে তা আল্লাহর তাওফিকের কারণেই হয়েছে, আর এটি তাঁরই অনুগ্রহ ও দান। আর যা কিছু ভুল, বিচ্যুতি বা ত্রুটি রয়েছে, তার জন্য আমি আল্লাহর নিকট সকল পাপ ও ভুলত্রুটি থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

আমি সম্মানিত পাঠকের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি যদি তিনি আমার এই কাজে কোনো ত্রুটি লক্ষ্য করেন, কারণ এটি মানুষেরই প্রচেষ্টা। অতএব আমি আশা করি, যে ব্যক্তিই কোনো ভুল বা সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত হবেন, তিনি যেন আমাকে উপদেশ প্রদান করেন, যার জন্য আমি কৃতজ্ঞ থাকব এবং তিনি পুরস্কৃত হবেন।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজের মাধ্যমে উপকার সাধন করেন এবং এতে বরকত দান করেন, আর একে যেন কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি সৎকর্ম হিসেবে কবুল করেন। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌القسم الأول: الدراسة الموضعية

‌‌الباب الأول: أقوال الناس في أسماء الله وصفاته

‌‌الفصل الأول: معتقد أهل السنة والجماعة

‌‌المبحث الأول: التعريف بأهل السنة والجماعة

…

المبحث الأول: التعريف بأهل السنة والجماعة

المقصود بأهل السنة والجماعة: الصحابة، والتابعون، وتابعوهم، ومن سلك سبيلهم، وسار على نهجهم، من أئمة الهدى، ومن اقتدى بهم من سائر الأمة أجمعين.

فيخرج بهذا المعنى كل طوائف المبتدعة وأهل الأهواء.

فالسنة هنا في مقابل البدعة، والجماعة هنا في مقابل الفُرقة.

فعن ابن عباس رضي الله عنهما في تفسير قوله تعالى: {يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ} [آل عمران 106] قال: "تبيض وجوه أهل السنة، وتسود وجوه أهل البدعة والفُرقة"1.

والجدير بالذكر هنا أن نعرف أن العلماء يستعملون هذه العبارة لمعنيين، قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "فلفظ أهل السنة يراد به:

1ـ من أثبت خلافة الخلفاء الثلاثة، فيدخل في ذلك جميع الطوائف إلا الرافضة2.

--------------------------------------------

1 تفسير ابن كثير (1/390) .

2 قال شيخ الإسلام: (ولا ريب أنهم (أي الرافضة) أبعد طوائف المبتدعة عن الكتاب والسنة، ولهذا كانوا هم المشهورين عند العامة بالمخالفة للسنة، فجمهور العامة لا تعرف ضد السني إلا الرافضي، فإذا قال أحدهم أنا سني فإنما معناه لست رافضياً) . مجموع الفتاوى (3/356) .
প্রথম বিভাগ: বিষয়ভিত্তিক অধ্যয়ন

প্রথম অধ্যায়: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে মানুষের বক্তব্যসমূহ

প্রথম পরিচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা

প্রথম অনুচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচয়

...

প্রথম অনুচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচয়

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বলতে উদ্দেশ্য হলো: সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ, তাবে-তাবেয়ীগণ এবং হিদায়াতের ইমামগণের মধ্যে যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন এবং তাঁদের মানহাজ অনুযায়ী চলেছেন, আর উম্মতের অবশিষ্ট যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন তারা সকলে।

এই অর্থের মাধ্যমে বিদআতি এবং প্রবৃত্তি পূজারি সকল দল বহির্ভূত হয়ে যাবে।

সুতরাং এখানে 'সুন্নাহ' শব্দটি 'বিদআত'-এর বিপরীতে এবং 'জামাআত' শব্দটি 'বিভক্তি'-র বিপরীতে ব্যবহৃত হয়েছে।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {সেদিন কিছু মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে এবং কিছু মুখমণ্ডল কালো হবে} [আল-ইমরান: ১০৬] এর তাফসীরে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আহলুস সুন্নাহর অনুসারীদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে এবং বিদআতি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মুখমণ্ডল কালো হবে।"১

এখানে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আলেমগণ এই পরিভাষাটি দুটি অর্থে ব্যবহার করেন। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "আহলুস সুন্নাহ শব্দটির দ্বারা উদ্দেশ্য হলো:

১- যারা প্রথম তিন খলিফার খিলাফতকে স্বীকার করেন; ফলে রাফেযী২ ব্যতীত সকল দল এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

--------------------------------------------

১ তাফসীরে ইবনে কাসীর (১/৩৯০)।

২ শায়খুল ইসলাম বলেন: (আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তারা (অর্থাৎ রাফেযীরা) বিদআতি দলগুলোর মধ্যে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে সবচেয়ে দূরে। এই কারণেই তারা সাধারণ মানুষের কাছে সুন্নাহর বিরোধিতায় প্রসিদ্ধ। সাধারণ মানুষের অধিকাংশ সুন্নীর বিপরীত বলতে কেবল রাফেযীকেই বোঝে। সুতরাং যখন তাদের কেউ বলে 'আমি সুন্নী', তখন তার অর্থ হয় 'আমি রাফেযী নই')। মাজমুউল ফাতাওয়া (৩/৩৫৬)।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
2ـ وقد يراد به أهل الحديث والسنة المحضة، فلا يدخل فيه إلا من يثبت الصفات لله تعالى ويقول: "إن القرآن غير مخلوق، وإن الله يُرَى في الآخرة، ويثبت القدر، وغير ذلك من الأصول المعروفة عند أهل الحديث والسنة"1.

ومقصودنا بعبارة أهل السنة هو المعنى الثاني الذي ذكره شيخ الإسلام ابن تيمية، ذلك أن لأهل السنة أصولهم التي اتفقوا عليها ونصوا عليها في كتب الاعتقاد المعروفة.

ولأهل السنة عدة مسميات منها: أهل الحديث، الفرقة الناجية، الجماعة، وغير ذلك.

ويمكن حصر قواعد منهج أهل السنة في النقاط التالية:

أولاً: ضبط نصوص الكتاب والسنة وفهم معانيها.

ثانياً: التقيد في ذلك بالمأثور عن الصحابة والتابعين وتابعيهم في معاني القرآن والحديث. وذلك يتم بـ:

أ- الاجتهاد في تمييز صحيحيه من سقيمه.

--------------------------------------------

1 منهاج السنة (2/221) ط: جامعة الإمام محمد بن سعود.
2- কখনো এর দ্বারা খাঁটি আহলে হাদিস এবং সুন্নাহর অনুসারীদের বোঝানো হয়। এতে কেবল তারাই অন্তর্ভুক্ত হবে যারা মহান আল্লাহর গুণাবলী সাব্যস্ত করেন এবং বলেন: "নিশ্চয়ই কুরআন সৃষ্টি নয়, পরকালে আল্লাহকে দেখা যাবে, তাকদিরে বিশ্বাস রাখা এবং আহলে হাদিস ও সুন্নাহর নিকট পরিচিত অন্যান্য মূলনীতিসমূহ।"১।

আহলে সুন্নাহ পরিভাষা দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ উল্লিখিত দ্বিতীয় অর্থটি। কারণ আহলে সুন্নাহর সুনির্দিষ্ট কিছু মূলনীতি রয়েছে যেগুলোর ওপর তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন এবং প্রসিদ্ধ আকিদার কিতাবসমূহে সেগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।

আহলে সুন্নাহর বেশ কিছু নাম রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: আহলে হাদিস, নাজাতপ্রাপ্ত দল, আল-জামাআত এবং আরও অন্যান্য।

আহলে সুন্নাহর মানহাজ বা পদ্ধতির নিয়মাবলী নিচের পয়েন্টগুলোতে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব:

প্রথমত: কুরআন ও সুন্নাহর নস (পাঠ্য) সঠিকভাবে আয়ত্ত করা এবং সেগুলোর অর্থ অনুধাবন করা।

দ্বিতীয়ত: কুরআন ও হাদিসের অর্থের ক্ষেত্রে সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে-তাবেয়ীদের থেকে বর্ণিত আছারের অনুসরণ করা। আর তা সম্পন্ন হয় নিম্নোক্ত বিষয়ের মাধ্যমে:

ক- সহিহ বা সঠিক বর্ণনাকে সাকিম বা ত্রুটিপূর্ণ বর্ণনা থেকে পৃথক করার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা ব্যয় করা।

--------------------------------------------

১ মিনহাজুস সুন্নাহ (২/২২১) প্রকাশনা: জামিআতুল ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
ب- الاجتهاد في الوقوف على معانيه وتفهمه1.

ثالثاً: العمل بذلك والاستقامة عليه اعتقاداً، وتفكيراً، وسلوكاً، وقولاً، والبعد عن كل ما يخالفه ويناقضه.

رابعاً: الدعوة إلى ذلك باللسان والبنان.

فمن التزم هذه القواعد في الاعتقاد، والعمل، فهو على نهج أهل السنة بإذن الله.

--------------------------------------------

1 بيان فضل علم السلف على الخلف لابن رجب (ص150-152) ، وأصول اعتقاد أهل السنة للالكائي (1/9-10) .
খ- এর অর্থাবলি উপলব্ধি এবং তা বোঝার জন্য প্রচেষ্টা চালানো ১।

তৃতীয়ত: সে অনুযায়ী আমল করা এবং বিশ্বাস, চিন্তা, আচরণ ও কথার ক্ষেত্রে তার ওপর অবিচল থাকা; এবং এর পরিপন্থী ও বিপরীত সব কিছু থেকে দূরে থাকা।

চতুর্থত: জিহ্বা ও লেখনীর মাধ্যমে এর দিকে দাওয়াত দেওয়া।

সুতরাং যে ব্যক্তি বিশ্বাস ও কর্মের ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলো মেনে চলবে, আল্লাহর ইচ্ছায় সে আহলে সুন্নাতের মানহাজের ওপর থাকবে।

--------------------------------------------

১. ইবনে রজব কৃত 'বায়ানু ফাদলি ইলমিস সালাফ আলাল খালাফ' (পৃ. ১৫০-১৫২) এবং লালকাঈ কৃত 'উসুলু ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ' (১/৯-১০)।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌المبحث الثاني: معتقد أهل السنة والجماعة في أسماء الله وصفاته

معتقد أهل السنة في أسماء الله وصفاته، يقوم على أساس الإيمان بكل ما وردت به نصوص القرآن والسنة الصحيحة إثباتاً ونفياً، فهم بذلك:

1ـ يسمون الله بما سمى به نفسه في كتابه، أو على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم، لا يزيدون على ذلك ولا ينقصون منه.

2ـ ويثبتون لله عز وجل الصفات ويصفونه بما وصف به نفسه في كتابه، أو على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم من غير تحريف1، ولا تعطيل2، ومن غير تكييف3، ولا تمثيل4.

--------------------------------------------

1 التحريف لغة: التغير والتبديل. والتحريف في باب الأسماء والصفات هو: تغيير ألفاظ نصوص الأسماء والصفات أو معانيها عن مراد الله بها.

2 التعطيل لغة: مأخوذ من العطل الذي هو الخلو والفراغ والترك، والتعطيل في باب الأسماء والصفات هو: نفي أسماء الله وصفاته أو بعضها.

3 التكييف لغة: جعل الشيء على هيئة معينة معلومة، والتكييف في صفات الله هو: الخوض في كنه وهيئة الصفات التي أثبتها الله لنفسه.

4 التمثيل لغة: من المثيل وهو الند والنظير، والتمثيل في باب الأسماء والصفات هو: الاعتقاد في صفات الخالق أنها مثل صفات المخلوق.

راجع في معاني هذه الألفاظ ما ذكرناه في كتابنا ((معتقد أهل السنة والجماعة في توحيد الأسماء والصفات)) (ص70-81) .
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা

আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে আহলে সুন্নাহর আকিদা কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর নসসমূহে (দলিল) সাব্যস্তকরণ ও নেফী (অস্বীকৃতি) হিসেবে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তার প্রতি ঈমান আনার মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অতএব তারা:

১. আল্লাহকে সেই সব নামেই অভিহিত করেন, যে নাম তিনি নিজের জন্য তাঁর কিতাবে রেখেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানীতে ব্যক্ত করেছেন। তারা এতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করেন না এবং কোনো কিছু হ্রাস করেন না।

২. আর তারা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্য গুণাবলি সাব্যস্ত করেন এবং তাঁকে সেই সব গুণেই গুণান্বিত করেন যা তিনি তাঁর কিতাবে নিজের জন্য বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জবানীতে ব্যক্ত হয়েছে; কোনো ধরনের তাহরীফ১, তাতীল২, তাকয়ীফ৩ বা তামসীল৪ ব্যতিরেকে।

--------------------------------------------

১. তাহরীফ (বিকৃতি) শাব্দিক অর্থ: পরিবর্তন ও রদবদল। আর নাম ও গুণাবলি অধ্যায়ে তাহরীফ হলো: নাম ও গুণাবলি সংক্রান্ত নসসমূহের শব্দাবলি বা অর্থকে আল্লাহ যে উদ্দেশ্যে প্রদান করেছেন তা থেকে পরিবর্তন করে ফেলা।

২. তাতীল (অকার্যকরকরণ) শাব্দিক অর্থ: এটি 'উতল' শব্দ থেকে গৃহীত, যার অর্থ শূন্যতা, রিক্ততা ও পরিত্যাগ করা। আর নাম ও গুণাবলি অধ্যায়ে তাতীল হলো: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি বা এর অংশবিশেষকে অস্বীকার করা।

৩. তাকয়ীফ (ধরন নির্ধারণ) শাব্দিক অর্থ: কোনো বস্তুকে একটি নির্দিষ্ট ও জানা অবয়ব দান করা। আর আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে তাকয়ীফ হলো: আল্লাহ নিজের জন্য যে গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন তার প্রকৃত প্রকৃতি ও ধরন নিয়ে চর্চা করা।

৪. তামসীল (সাদৃশ্য প্রদান) শাব্দিক অর্থ: এটি 'মাছীল' শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ সমকক্ষ ও সদৃশ। আর নাম ও গুণাবলি অধ্যায়ে তামসীল হলো: স্রষ্টার গুণাবলি সৃষ্টির গুণাবলির মতো—এই বিশ্বাস পোষণ করা।

এই শব্দগুলোর অর্থের বিষয়ে আমাদের রচিত 'মু'তাকাদু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফী তাওহীদিল আসমা ওয়াস সিফাত' (পৃষ্ঠা ৭০-৮১) বইটি দেখুন।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٣١)
3ـ وينفون عن الله ما نفاه عن نفسه في كتابه، أو على لسان رسوله محمد صلى الله عليه وسلم، مع اعتقاد أن الله موصوف بكمال ضد ذلك الأمر المنفي.

فأهل السنة سلكوا في هذا الباب منهج القرآن والسنة الصحيحة، فكل اسم أو صفة لله سبحانه وتعالى وردت في الكتاب والسنة الصحيحة فهي من قبيل الإثبات فيجب بذلك إثباتها.

وأما النفي فهو أن ينفى عن الله عز وجل كل ما يضاد كماله من أنواع العيوب والنقائص مع وجوب اعتقاد ثبوت كمال ضد ذلك المنفي.

قال الإمام أحمد: "لا يوصف الله إلا بما وصف به نفسه أو وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم لا نتجاوز القرآن والسنة".

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: "وطريقة سلف الأمة وأئمتها أنهم يصفون الله بما وصف به نفسه، وبما وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم، من غير تحريف، ولا تعطيل، ولا تكييف، ولا تمثيل، إثبات بلا تمثيل، وتنزيه بلا تعطيل، إثبات الصفات ونفي ممثالة المخلوقات قال تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} 1 فهذا رد على الممثلة {وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} 2 رد على المعطلة.

--------------------------------------------

1 الآية 11 من سورة الشورى.

2 الآية 11 من سورة الشورى.
৩. এবং তারা আল্লাহর সত্তা থেকে তা-ই অস্বীকার করেন যা তিনি নিজের কিতাবে নিজের জন্য অস্বীকার করেছেন অথবা তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যবানে অস্বীকার করেছেন। সাথে সাথে তারা এই বিশ্বাস পোষণ করেন যে, আল্লাহ সেই প্রত্যাখ্যাত বিষয়ের বিপরীত পূর্ণ গুণে গুণান্বিত।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এই অধ্যায়ে কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহর মানহাজ অনুসরণ করেছেন। সুতরাং কিতাব ও সহীহ সুন্নাহয় মহান আল্লাহর যে সকল নাম বা গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে তা সাব্যস্তকরণের অন্তর্ভুক্ত, ফলে তা সাব্যস্ত করা ওয়াজিব।

আর নফি বা অস্বীকারের অর্থ হলো, আল্লাহ তাআলার সত্তা থেকে এমন সব বিষয় অস্বীকার করা যা তাঁর পূর্ণতার পরিপন্থী, যেমন বিভিন্ন প্রকার দোষ ও ত্রুটি। এর সাথে সেই প্রত্যাখ্যাত বিষয়ের বিপরীত পূর্ণতা সাব্যস্ত হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস রাখা আবশ্যক।

ইমাম আহমাদ বলেন: "আল্লাহকে কেবল সেই গুণেই গুণান্বিত করা যাবে যা দ্বারা তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে গুণান্বিত করেছেন। আমরা কুরআন ও সুন্নাহর সীমানা অতিক্রম করব না।"

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "উম্মাহর সালাফ এবং তাদের ইমামগণের পদ্ধতি হলো, তাঁরা আল্লাহকে সেই সব গুণেই গুণান্বিত করেন যা দ্বারা তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন এবং যা দ্বারা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে গুণান্বিত করেছেন; কোনো প্রকার তাহরিফ (বিকৃতি), তা'তীল (নিষ্ক্রিয়করণ), তাকয়ীফ (ধরণ নির্ধারণ) এবং তামসীল (সাদৃশ্য প্রদান) ব্যতিরেকে। এটি হলো সাদৃশ্য প্রদানহীন সাব্যস্তকরণ এবং গুণহীন করা ব্যতিরেকে পবিত্রতা ঘোষণা। গুণাবলী সাব্যস্ত করা এবং সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য অস্বীকার করা। মহান আল্লাহ বলেন: {তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই} ১ এটি সাদৃশ্য প্রদানকারীদের প্রতিবাদ; {এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} ২ এটি গুণাবলী অস্বীকারকারীদের প্রতিবাদ।

--------------------------------------------

১ সূরা আশ-শূরার ১১ নং আয়াত।

২ সূরা আশ-শূরার ১১ নং আয়াত।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
وقولهم في الصفات مبني على أصلين:

أحدهما: أن الله سبحانه وتعالى منزهٌ عن صفات النقص مطلقاً كالسِّنَةِ، والنوم، والعجز، والجهل، وغير ذلك.

والثاني: أنه متصف بصفات الكمال التي لا نقص فيها، على وجه الاختصاص بما له من الصفات، فلا يماثله شيء من المخلوقات في شيء من الصفات"1.

ويمكن إجمال معتقد أهل السنة في أسماء الله في النقاط التالية:

1ـ الإيمان بثبوت الأسماء الحسنى الواردة في القرآن والسنة، من غير زيادة ولا نقصان.

2ـ الإيمان بأن الله هو الذي يسمي نفسه، ولا يسميه أحد من خلقه، فالله عز وجل هو الذي تكلم بهذه الأسماء، وأسماؤه منه، وليست محدثة مخلوقة كما يزعم الجهمية، والمعتزلة، والكلابية، والأشاعرة، والماتريدية.

3ـ الإيمان بأن هذه الأسماء دالة على معانٍ في غاية الكمال، فهي أعلام وأوصاف، وليست كالأعلام الجامدة التي لم توضع باعتبار معانيها، كما يزعم المعتزلة.

--------------------------------------------

1 منهاج السنة (2/523) .
গুণাবলি সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য দুটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত:

প্রথমটি: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তন্দ্রা, নিদ্রা, অক্ষমতা, অজ্ঞতা এবং এই জাতীয় যাবতীয় ত্রুটিপূর্ণ গুণাবলি থেকে পুরোপুরি পবিত্র।

দ্বিতীয়টি: তিনি এমন সব পরিপূর্ণ গুণাবলির অধিকারী যাতে কোনো ত্রুটি নেই, যা বিশেষভাবে তাঁরই গুণের অন্তর্ভুক্ত। সৃষ্টির কোনো কিছুই কোনো গুণের ক্ষেত্রে তাঁর সদৃশ নয়"১।

আল্লাহর নামসমূহের ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহর আকিদাহ নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরা যায়:

১- কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত আসমাউল হুসনা (উত্তম নামসমূহ) কোনো প্রকার সংযোজন বা বিয়োজন ছাড়াই সাব্যস্ত হওয়ার ওপর ঈমান আনা।

২- এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ নিজেই নিজের নামকরণ করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির কেউই তাঁর নাম দেয়নি। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা নিজেই এই নামসমূহ উচ্চারণ করেছেন এবং তাঁর নামসমূহ তাঁর সত্তা থেকেই আগত; এগুলো জহমিয়া, মুতাজিলা, কুল্লাবিয়া, আশআরিয়া এবং মাতুরিদিয়াদের দাবি অনুযায়ী কোনো নবসৃষ্ট মাখলুক নয়।

৩- এই ঈমান রাখা যে, এই নামগুলো অত্যন্ত নিখুঁত ও পরিপূর্ণ অর্থের ওপর প্রমাণ বহন করে। এগুলো নাম এবং একই সাথে গুণবাচক বৈশিষ্ট্য। এগুলো মুতাজিলাদের দাবি অনুযায়ী এমন কোনো প্রাণহীন বা অর্থহীন নাম নয়, যা তার অর্থের বিবেচনায় নির্ধারিত হয়নি।

--------------------------------------------

১ মিনহাজুস সুন্নাহ (২/৫২৩)।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
4ـ احترام معاني تلك الأسماء، وحفظ ما لها من حرمة في هذا الجانب، وعدم التعرض لتلك المعاني بالتحريف والتعطيل كما هو شأن أهل الكلام.

5ـ الإيمان بما تقتضيه تلك الأسماء من الآثار وما ترتب عليها من الأحكام1.

ويمكن إجمال معتقد أهل السنة في "صفات الله" في النقاط التالية:

1ـ إثبات تلك الصفات لله عز وجل حقيقةً على الوجه اللائق به، وأن لا تعامل بالنفي والإنكار.

2ـ أن لا يتعدى بها اسمها الخاص الذي سماها الله به، بل يحترم الاسم كما يحترم الصفة، فلا يعطل الصفة، ولا يغير اسمها ويعيرها اسماً آخر.

كما تسمي الجهمية المعطلة سمعه، وبصره، وقدرته، وحياته، وكلامه أعراضاً.

ويسمون وجهه ويديه وقدمه -سبحانه- جوارح وأبعاضاً، ويسمون حكمته وغاية فعله المطلوبة: عللاً وأعراضاً.

ويسمون أفعاله القائمة به: حوادث.

--------------------------------------------

1 انظر تفاصيل هذه المسألة في كتابنا ((معتقد أهل السنة والجماعة في أسماء الله الحسنى)) .
৪ـ সেই নামগুলোর অর্থের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা, এই ক্ষেত্রে তাদের যে মর্যাদা রয়েছে তা রক্ষা করা এবং কালামপন্থীদের রীতির ন্যায় সেই অর্থগুলোতে বিকৃতি ও অকেজো করার অপচেষ্টা না করা।

৫ـ সেই নামসমূহ যেসব প্রভাব দাবি করে এবং তার ফলে যে সকল বিধান সাব্যস্ত হয় তার প্রতি ঈমান আনা।১

আল্লাহর "গুণাবলি" সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহর আকিদাকে নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরা যেতে পারে:

১ـ আল্লাহর জন্য সেই গুণাবলিকে তাঁর শান অনুযায়ী প্রকৃত অর্থেই সাব্যস্ত করা এবং সেগুলোকে অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান না করা।

২ـ আল্লাহ তাঁর গুণাবলিকে যে বিশেষ নামে নামাঙ্কিত করেছেন তা অতিক্রম না করা; বরং গুণের ন্যায় নামের প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করা। সুতরাং গুণকে অকেজো করা যাবে না এবং এর নাম পরিবর্তন করে অন্য নাম দেওয়া যাবে না।

যেমন অকেজোকারী জাহমিয়্যাহরা আল্লাহর শ্রবণ, দর্শন, ক্ষমতা, জীবন এবং কথাকে আপতিক বৈশিষ্ট্য (আরাজ) বলে অভিহিত করে।

তারা সুবহানাহু ওয়া তাআলার চেহারা, তাঁর হাত এবং তাঁর পা-কে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অংশবিশেষ বলে অভিহিত করে এবং তাঁর প্রজ্ঞা ও কর্মের উদ্দিষ্ট লক্ষ্যকে হেতু (ইল্লাত) ও আপতিক বৈশিষ্ট্য বলে নাম দেয়।

তারা তাঁর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট কার্যাবলিকে নব্য-সৃষ্ট বিষয় (হাওয়াদিস) বলে অভিহিত করে।

--------------------------------------------

১ এই মাসআলার বিস্তারিত বিবরণের জন্য আমাদের "আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদায় আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ" গ্রন্থটি দেখুন।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
ويسمون علوه على خلقه واستواءه على عرشه: تحيزاً. ويتواصون بهذا المكر الكُبَّار إلى نفي ما دل عليه الوحي والعقل والفطرة، وآثار الصنعة من صفاته.

فيسعون بهذه الأسماء التي سموها هم وأباؤهم على نفي صفاته وحقائق أسمائه.

3ـ عدم تشبيهها بما للمخلوق. فإن الله سبحانه ليس كمثله شيء لا في ذاته ولا في صفاته ولا في أفعاله.

4ـ اليأس من إدراك كنهها وكيفيتها. فالعقل قد يئس من تعرف كنه الصفة وكيفيتها. فإنه لا يعلم كيف الله إلا الله، وهذا معنى قول السلف بلا كيف أي بلا كيف يعقله البشر فإن من لا تعلم حقيقة ذاته وماهيته، كيف تعرف كيفية نعوته وصفاته؟. ولا يقدح ذلك في الإيمان بها، ومعروفة معانيها، فالكيفية وراء ذلك"1.

5ـ الإيمان بما تقتضيه تلك الصفات من الآثار وما يترتب عليها من الأحكام.

وقد بسطت معتقد أهل السنة والجماعة في أسماء الله وصفاته في الدراسة الأولى من سلسلة "دراسات في مباحث توحيد الأسماء والصفات"، فمن أراد الاستزادة والتوسع فليرجع إلى تلك الدراسة.

--------------------------------------------

1 انظر مدارج السالكين (3/358-359) .
আর তারা সৃষ্টির উপর তাঁর উচ্চতা এবং তাঁর আরশের উপর উঠাকে ‘স্থানিক সীমাবদ্ধতা’ বলে অভিহিত করে। তারা এই মহা চক্রান্তের মাধ্যমে ওহী, বিবেক, ফিতরাত এবং সৃষ্টিশৈলীর নিদর্শনসমূহ আল্লাহর যে সকল গুণের প্রমাণ প্রদান করে, তা অস্বীকার করার জন্য একে অপরকে নসীহত করে।

ফলে তারা এই সকল নামের মাধ্যমে—যা তারা এবং তাদের পিতৃপুরুষরা নামকরণ করেছে—আল্লাহর গুণাবলি এবং তাঁর নামসমূহের বাস্তবতা অস্বীকার করার চেষ্টা করে।

৩— সৃষ্টির গুণের সাথে সেগুলোর সাদৃশ্য না করা। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সদৃশ কোনো কিছুই নেই—না তাঁর সত্তায়, না তাঁর গুণাবলিতে, আর না তাঁর কার্যাবলিতে।

৪— সেগুলোর প্রকৃত স্বরূপ এবং ধরণ (কাইফিয়াত) অনুধাবনে নিরাশ হওয়া। কারণ বিবেক গুণের প্রকৃত স্বরূপ এবং ধরণ অবগত হওয়া থেকে নিরাশ হয়েছে। কেননা আল্লাহ কেমন, তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। সালাফগণের উক্তি ‘বিলা কাইফ’ (ধরণহীনভাবে)-এর অর্থ এটাই; অর্থাৎ এমন কোনো ধরণ ব্যতীত যা মানুষ অনুধাবন করতে পারে। কারণ যাঁর সত্তার প্রকৃত স্বরূপ এবং হাকিকত জানা নেই, তাঁর গুণ ও বৈশিষ্ট্যের ধরণ কীভাবে জানা সম্ভব? আর এটি সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা এবং সেগুলোর অর্থ জানার ক্ষেত্রে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি করে না; কেননা ধরণ বা কাইফিয়াত এর ঊর্ধ্বে।১

৫— সেই গুণাবলি যে সকল প্রভাবের দাবি রাখে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের প্রতি ঈমান আনা।

আমি ‘তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত বিষয়ক গবেষণা’ সিরিজের প্রথম গবেষণাপত্রে আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি। সুতরাং যারা এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চান, তারা যেন সেই গবেষণাপত্রটি দেখে নেন।

--------------------------------------------

১ দেখুন: মাদারিজুস সালিকীন (৩/৩৫৮-৩৫৯)।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٤١)
‌‌الفصل الثاني: أقوال المعطلة في أسماء الله وصفاته

‌‌المبحث الأول: التعريف بالمعطلة.

…

المبحث الأول: الفلاسفة

"الفلاسفة، اسم جنس لمن يُحِبُ الحكمة ويُؤثِرُها.

وقد صار هذا الاسم في عرف كثير من الناس مختصاً بمن خرج عن ديانات الأنبياء، ولم يذهب إلا إلى ما يقتضيه العقل في زعمه.

وأخص من ذلك أنه في عرف المتأخرين اسم لأتباع أرسطو، وهم المَشَّاؤُون خاصة وهم الذين هذب ابن سينا طريقتهم وبسطها وقررها. وهي التي يعرفها، بل لا يعرفُ سواها، المتأخرون من المتكلمين"1.

أما الفلاسفة فإن إيمانهم بالله تبارك وتعالى لا يكاد يتعدى الإيمان بوجوده المطلق، -أي بوجوده في الذهن والخيال دون الحقيقة-، وأما ما عدا ذلك فلا يكادون يتفقون على شيء، فالمباحث العقدية عندهم من أسخف وأفسد ما قالوا به.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "أما الإلهيات فكلياتهم فيها أفسد من كليات الطبيعة، وغالب كلامهم فيها ظنون كاذبة فضلاً عن أن تكون قضايا صادقة"2.

--------------------------------------------

1 إغاثة اللهفان 2/257) .

2 الرد على المنطقيين (ص114) .
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে মুয়াত্তিলাদের (গুণাবলি অস্বীকারকারীদের) বক্তব্য

প্রথম অনুচ্ছেদ: মুয়াত্তিলাদের পরিচয়.

…

প্রথম পরিচ্ছেদ: দার্শনিকগণ

"দার্শনিক (ফালাসিফা) হলো এমন এক সাধারণ নাম যা সেই ব্যক্তিকে বোঝায় যে প্রজ্ঞাকে (হিকমত) ভালোবাসে এবং তাকে অগ্রাধিকার দেয়।

অনেক মানুষের পরিভাষায় এই নামটি তাদের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছে যারা নবীদের ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং নিজের ধারণা মতে কেবল বিবেকের দাবি অনুযায়ী চলে।

এর চেয়েও সুনির্দিষ্টভাবে পরবর্তীকালের লোকদের পরিভাষায় এটি এরিস্টটলের অনুসারীদের নাম, যারা মূলত 'মাশশাউন' (সঞ্চরণশীল দার্শনিক)। ইবনে সিনা তাদের পথকে পরিমার্জিত, বিস্তৃত ও প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পরবর্তীকালের কালামতাত্ত্বিকরা মূলত এই পথটিই চেনেন, বরং এটি ছাড়া অন্য কিছু তারা চেনেনও না।"১।

দার্শনিকদের ক্ষেত্রে কথা হলো, মহান আল্লাহর প্রতি তাদের ঈমান তাঁর কেবল এক নিরঙ্কুশ অস্তিত্বের বিশ্বাসের গণ্ডি অতিক্রম করে না—অর্থাৎ বাস্তবতা বাদ দিয়ে কেবল মস্তিষ্ক ও কল্পনার অস্তিত্বের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ—আর এটি বাদে অন্য কোনো বিষয়ে তারা একমত হতে পারে না। তাদের আকিদা সংক্রান্ত আলোচনাগুলো তাদের মতবাদের মধ্যে সবচেয়ে অসার ও ভ্রান্তিকর।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: "ইলাহিয়্যাত বা ধর্মতত্ত্বের ক্ষেত্রে তাদের সামগ্রিক মূলনীতিগুলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মূলনীতিগুলোর চেয়েও অধিক ভ্রান্ত। সেখানে তাদের অধিকাংশ কথাই মিথ্যা ধারণা মাত্র, সত্য সিদ্ধান্ত হওয়া তো অনেক দূরের কথা"২।

--------------------------------------------

১. ইগাসাতুল লাহফান ২/২৫৭)।

২. আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যিন (পৃ. ১১৪)।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٤٢)
ويتجلى فساد معتقد الفلاسفة في الله أكثر عندما نعرض لك بعض أقوالهم في ذات الله وصفاته.

فالفلاسفة يطلقون على الله مسمى (واجب الوجود) ، وتوحيد واجب الوجود عندهم يكفي مجرد تصوره للعلم الضروري بفساده.

فالتوحيد عندهم يقتضي تجريده من كل صفات الكمال اللازمة له، فهو ليس له حياة ولا علم ولا قدرة ولا كلام، ولا غير ذلك من الصفات، ويقولون بدلاً من ذلك: (إنه عاقل ومعقول وعقل، ولذيذ وملتذ ولذة، وعالم ومعلوم وعلم) ، وجعلوا كل ذلك أموراً عدمية.

ودفعهم إلى ذلك زعمهم أن تعدد الصفات موجب للتركيب في حق الله، وفساد هذا القول جلي واضح.

فالله وصف نفسه بالصفات، ووصفه بها رسوله صلى الله عليه وسلم وثبت ذلك في الكتاب والسنة نقلاً.

كما أن العقل يشهد بفساد قولهم، فإن تعدد الصفات لم تقل لغة ولا شرع ولا عقل سليم إنه يوجب تركيب الموصوف إلا عند الفلاسفة1.

ومن شنيع كلامهم كذلك زعمهم أن الله لا يعلم الجزئيات، فهو عندهم لا يعرف عين موسى، ولا عيسى، ولا محمداً عليهم الصلاة

--------------------------------------------

1 انظر الرد على المنطقيين ص314.
আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি সম্পর্কে দার্শনিকদের কিছু উক্তি আপনার সামনে তুলে ধরলে তাদের আকিদাহ বা বিশ্বাসের অসারতা আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাবে।

দার্শনিকরা আল্লাহর ক্ষেত্রে ‘ওয়াজিবুল উজুদ’ (অস্তিত্ব অনিবার্য) পরিভাষাটি ব্যবহার করে। তাদের নিকট ‘ওয়াজিবুল উজুদ’-এর তাওহিদের ধারণাটি এতটাই বিভ্রান্তিকর যে, এর অসারতা নিশ্চিতভাবে জানার জন্য কেবল এর কল্পনাটুকুই যথেষ্ট।

তাদের মতে তাওহিদের দাবি হলো আল্লাহকে তাঁর সকল আবশ্যকীয় পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি থেকে বিমুক্ত করা। ফলে (তাদের দাবি অনুযায়ী) আল্লাহর কোনো জীবন, জ্ঞান, ক্ষমতা, কথা বা অন্য কোনো গুণ নেই। এর পরিবর্তে তারা বলে: "তিনি বুদ্ধিমান, বুদ্ধিবৃত্তি ও বুদ্ধি; তিনি স্বাদ গ্রহণকারী, আস্বাদিত বস্তু ও স্বাদ; তিনি জ্ঞাতা, জ্ঞাত বিষয় ও জ্ঞান।" তারা এই সব বিষয়কেই নেতিবাচক বা অস্তিত্বহীন বিষয়ে পরিণত করেছে।

তাদের এই পথে পরিচালিত করেছে তাদের এই ধারণা যে, গুণাবলির আধিক্য আল্লাহর সত্তায় বহুত্ব বা সংমিশ্রণ (তারকিব) সৃষ্টি করে। অথচ এই বক্তব্যের অসারতা অত্যন্ত স্পষ্ট।

বস্তুত আল্লাহ নিজেই নিজেকে বিভিন্ন গুণে গুণান্বিত করেছেন এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তাঁকে বিভিন্ন গুণে গুণান্বিত করেছেন, যা কুরআন ও সুন্নাহর বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত।

তদুপরি বিবেক-বুদ্ধিও তাদের উক্তির অসারতার সাক্ষ্য দেয়। কেননা ভাষাগতভাবে, শরয়ি মানদণ্ডে কিংবা সুস্থ বিবেকের দৃষ্টিতে গুণাবলির আধিক্য গুণান্বিত সত্তার মধ্যে বহুত্ব বা সংমিশ্রণ (তারকিব) আবশ্যক করে—এমন কথা দার্শনিকরা ছাড়া আর কেউ বলেনি।১

তাদের জঘন্য উক্তিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে তাদের এই দাবি যে, আল্লাহ কোনো খুঁটিনাটি বা আংশিক বিষয় (জুজিয়াত) সম্পর্কে জানেন না। ফলে তাদের নিকট তিনি মুসা, ঈসা কিংবা মুহাম্মাদ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর মতো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিগণকে চেনেন না—

--------------------------------------------

১. দেখুন: আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যিন, পৃষ্ঠা ৩১৪।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٤٣)
والسلام، فضلاً عن الوقائع التي قصها القرآن وغيرها من أمور المخلوقات. وفساد هذا القول واضح جلي في النقل والعقل.

أما النقل فالله يقول: {وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلَاّ يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَاّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ} [الأنعام 59] . وكذا العقل أيضاً شاهد بفساد هذا المعتقد، فكيف يجهل الله أموراً سيرها بأمره وأجراها بقدره وأخبر عنها في كتابه1.

ومن شنيع قولهم ما قالوه في قدرة الله من أنه فاعل بالطبع لا بالاختيار لأن الفاعل بالطبع يتحد فعله، والفاعل بالاختيار يتنوع فعله، وما دروا أنهم بهذا جعلوا الإنسان الفاعل بالاختيار أكمل من الله الفاعل بالطبع على حد زعمهم. وهذا القول مردود بقول الله {وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاء وَيَخْتَار} [القصص 68] . ومردود بالعقل لأن الله هو أكمل الفاعلين فكيف يُشبَّه فعله بفعل الجماد.

والفلاسفة يدأبون حتى يثبتوا واجب الوجود، ومع إثباتهم له فهو عندهم وجود مطلق، لا صفة له ولا نَعْتَ، ولا فعل يقوم به، لم يخلق السموات والأرض بعد عدمها، ولا له قدرة على فعل، ولا يعلم شيئاً.

--------------------------------------------

1 انظر الرد على المنطقيين ص461.
...এবং সালাম, এছাড়া কুরআন যেসব ঘটনা বর্ণনা করেছে এবং মাখলুকাতের অন্যান্য বিষয়াবলী তো রয়েছেই। এই বক্তব্যের অসারতা দলিল এবং বিবেক উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রকাশ্য।

দলিলের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ বলেন: "আর স্থলে ও জলে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। তাঁর অগোচরে একটি পাতাও ঝরে না এবং জমিনের অন্ধকারে কোনো শস্যকণা কিংবা কোনো আর্দ্র বা শুষ্ক বস্তু এমন নেই যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই।" [আল-আন'আম ৫৯]। অনুরূপভাবে, বিবেকও এই বিশ্বাসের অসারতার সাক্ষ্য দেয়; কারণ আল্লাহ কীভাবে এমন সব বিষয় সম্পর্কে অবগত না হয়ে থাকতে পারেন যা তিনি স্বয়ং তাঁর নির্দেশে পরিচালিত করেছেন, তাঁর নির্ধারিত তকদীর অনুযায়ী জারি করেছেন এবং তাঁর কিতাবে সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন।১

তাদের জঘন্য উক্তিগুলোর একটি হলো আল্লাহর ক্ষমতা সম্পর্কে তাদের এই দাবি যে, তিনি স্বভাবজাতভাবে কর্তা, ইচ্ছাধীন কর্তা নন। কারণ স্বভাবজাত কর্তার কাজ সর্বদা অভিন্ন হয়, পক্ষান্তরে ইচ্ছাধীন কর্তার কাজ বৈচিত্র্যময় হয়। তারা বুঝতে পারেনি যে, এর মাধ্যমে তারা তাদের দাবি অনুযায়ী ইচ্ছাধীন কর্তা হিসেবে মানুষকে স্বভাবজাত কর্তা আল্লাহর চেয়েও অধিক পূর্ণাঙ্গ হিসেবে গণ্য করেছে। তাদের এই বক্তব্য আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত: "এবং তোমার রব যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যা ইচ্ছা পছন্দ করেন" [আল-কাসাস ৬৮]। এটি যুক্তির মাধ্যমেও খণ্ডিত, কারণ আল্লাহ হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ কর্তা, সুতরাং তাঁর কাজকে কীভাবে জড়পদার্থের কাজের সাথে তুলনা করা যেতে পারে?

দার্শনিকরা 'ওয়াজিবুল উজুদ' (অপরিহার্য সত্তা) প্রমাণ করতে অনেক শ্রম ব্যয় করে, কিন্তু সেটি সাব্যস্ত করা সত্ত্বেও তাদের নিকট তিনি এক পরম সত্তা মাত্র, যাঁর কোনো গুণ বা বৈশিষ্ট্য নেই এবং যাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো কাজ নেই। তিনি আসমান ও জমিনকে শূন্য থেকে সৃষ্টি করেননি, কোনো কাজ করার ক্ষমতা তাঁর নেই এবং তিনি কিছুই জানেন না।

--------------------------------------------

১ দেখুন আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যিন, পৃষ্ঠা ৪৬১।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٤٤)
ولا شك أن الذي كان عند مشركي العرب من كفار قريش وغيرهم أهون من هذا، فعباد الأصنام كانوا يثبتون رباً خالقاً عالماً قادراً حياً، وإن كانوا يشركون معه في العبادة.

ففساد أقوال الفلاسفة في الله لا يضاهيه فساد، وسنعرض لأقوالهم في أسماء الله وصفاته فيما بعد إن شاء الله تعالى.

فهذا ما عند هؤلاء من خبر الإيمان بالله عز وجل.

"وأما الإيمان بالملائكة فهم لا يعرفون الملائكة، ولا يؤمنون بهم. وإنما الملائكة عندهم ما يتصوره النبيُّ بزعمهم في نفسه من أشكال نُورانِية، هي العقول عندهم، وهي مجرَّدات ليست داخل العالم، ولا خارجه، ولا فوق السموات ولا تحتها، ولا هي أشخاص تتحرك، ولا تصعد، ولا تنزل، ولا تدبِّر شيئاً، ولا تتكلم، ولا تكتب أعمال العبد، ولا لها إحساس ولا حركة البتة، ولا تنتقل من مكان إلى مكان، ولا تُصَفُّ عند ربها، ولا تصلي، ولا لها تصرف في أمر العالم البتة، فلا تقبض نفس العبد، ولا تكتب رزقه وأجله وعمله، ولا عن اليمين وعن الشمال قعيد، كل هذا لا حقيقة له عندهم البتة.

وربما تقرب بعضهم إلى الإسلام، فقال: الملائكة هي القوى الخَيِّرة الفاضلة التي في العبد، والشياطين هي القوى الشريرة الرَّديئة، هذا إذا تقربوا إلى الإسلام وإلى الرسل.
নিঃসন্দেহে কুরাইশ কাফির এবং অন্যদের অন্তর্ভুক্ত আরব মুশরিকদের আকিদা এর চেয়ে লঘু ছিল। কারণ মূর্তিপূজারীরা একজন স্রষ্টা, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান এবং চিরঞ্জীব রবকে স্বীকার করত, যদিও তারা ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে শরিক করত।

সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কে দার্শনিকদের মতবাদের ভ্রষ্টতার কোনো তুলনা নেই। আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে তাদের মতামত আমরা পরবর্তীতে উপস্থাপন করব, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার বিষয়ে তাদের নিকট এটিই ছিল সংবাদ।

আর ফেরেশতাদের প্রতি ঈমানের বিষয়ে তারা ফেরেশতাদের চেনে না এবং তাদের বিশ্বাসও করে না। তাদের দাবি অনুযায়ী, ফেরেশতা হচ্ছে নবী তাঁর অন্তরে যে নূরানি বা জ্যোতির্ময় অবয়ব কল্পনা করেন। এগুলো তাদের নিকট ‘আকল’ বা বুদ্ধি। এগুলো এমন বিমূর্ত বিষয় যা জগতের ভেতরেও নয়, বাইরেও নয়, আসমানসমূহের উপরেও নয়, নিচেও নয়। তারা নড়াচড়া করে এমন কোনো সত্তা নয়, তারা উপরেও ওঠে না, নিচেও নামে না, কোনো কিছু পরিচালনাও করে না, কথা বলে না, বান্দার আমলও লেখে না। তাদের কোনো অনুভূতি বা নড়াচড়া বলতে কিছুই নেই। তারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না, তাদের রবের নিকট সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায় না, সালাত আদায় করে না এবং জগত পরিচালনার বিষয়ে তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা বান্দার রূহ কবজ করে না, তার রিজিক, আয়ু ও আমল লেখে না, আর ডানে ও বামে কোনো প্রহরীও নেই। এই সবকিছুরই তাদের নিকট কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

তাদের কেউ কেউ যখন ইসলামের নিকটবর্তী হতে চায়, তখন বলে: ফেরেশতা হলো বান্দার মধ্যকার কল্যাণকর ও উত্তম শক্তিসমূহ, আর শয়তান হলো মন্দ ও নিকৃষ্ট শক্তিসমূহ। তারা যখন ইসলাম ও রাসূলদের নিকটবর্তী হতে চায়, তখন এরূপ বলে থাকে।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٤٥)
وأما الكتب فليس لله عندهم كلام أنزله إلى الأرض بواسطة الملك، فإنه ما قال شيئاً، ولا يقول، ولا يجوز عليه الكلام. ومن تقرب إليهم ممن ينتسب للمسلمين يقول: الكتب المنزلة فَيْضٌ فاضَ من العقل الفَعَّال على النفس المستعدة الفاضلة الزكية، فتصورت تلك المعاني، وتشكلت في نفسه بحيث توهم أصواتاً تخاطبه، وربما قَوِيَ الوهم حتى يراها أشكالا نورانية تخاطبه، وربما قوي ذلك حتى يُخَيِّلها لبعض الحاضرين، فيرونها ويسمعون خطابها، ولا حقيقة لشيء من ذلك في الخارج.

وأما الرسل والأنبياء فللنبوة عندهم ثلاث خصائص، من استكملها فهو نبيُّ:

أحدها: قوة الحدس، بحيث يدرك الحد الأوسط بسرعة.

الثانية: قوة التخيل والتخييل، بحيث يتخيل في نفسه أشكالاً نورانية تخاطبه، ويسمع الخطاب منها، ويخيلها إلى غيره.

الثالثة: قوة التأثير بالتصرف في هيولى العالم. وهذا يكون عنده بتجرد النفس عن العلائق، واتصالها بالمفارقات، من العقول والنفوس المجردة.

وهذه الخصائص تحصل بالاكتساب. ولهذا طلبَ النبوة من تصوف على مذهب هؤلاء كابن سبعين، وابن هود، وأضرابهم. والنبوة عند هؤلاء صنعةٌ من الصنائع، بل من أشرف الصنائع، كالسياسة، بل هي
আর আসমানি কিতাবসমূহের ব্যাপারে তাদের মত হলো, আল্লাহর এমন কোনো কথা নেই যা তিনি ফেরেশতার মাধ্যমে জমিনে নাজিল করেছেন। কেননা তিনি কোনো কথা বলেননি, বলেন না এবং তাঁর কথা বলা অসম্ভব। আর মুসলমানদের মধ্য থেকে যারা তাদের দর্শনের অনুসারী হয়েছে তারা বলে: অবতীর্ণ কিতাবসমূহ হলো 'সক্রিয় বুদ্ধি' থেকে প্রস্তুতকৃত, মহৎ ও পবিত্র আত্মার ওপর বিচ্ছুরিত একটি প্রবাহ মাত্র। ফলে সেই আত্মা ওই অর্থগুলো কল্পনা করে নেয় এবং তার অন্তরে এমনভাবে রূপ পায় যে সে তাকে সম্বোধনকারী আওয়াজ হিসেবে ভ্রম করে। অনেক সময় এই ভ্রম এতটাই প্রবল হয় যে সে তাকে নূরানি আকৃতিতে তাকে সম্বোধন করতে দেখে। এমনকি কখনো কখনো তা এতটাই শক্তিশালী হয় যে উপস্থিত অন্যদের কাছেও তা দৃশ্যমান মনে হয়, ফলে তারাও তা দেখে এবং তার বক্তব্য শুনতে পায়। অথচ বাস্তব জগতে এর কোনো অস্তিত্ব নেই।

আর রাসুল ও নবিগণের বিষয়ে তাদের মতে নবুওয়াতের তিনটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে; যে ব্যক্তি এগুলো পূর্ণ করতে পারবে সেই নবি:

প্রথমত: প্রখর অনুমান ক্ষমতা, যার মাধ্যমে সে অত্যন্ত দ্রুত যৌক্তিক সিদ্ধান্ত অনুধাবন করতে পারে।

দ্বিতীয়ত: কল্পনা ও কল্পনায় প্রভাবিত করার ক্ষমতা, যার মাধ্যমে সে নিজের অন্তরে এমন কিছু নূরানি আকৃতি কল্পনা করে যারা তাকে সম্বোধন করে এবং সে তাদের কথা শুনতে পায়, আর অন্যদের কাছেও তা দৃশ্যমান করে তোলে।

তৃতীয়ত: জগতের আদি উপাদানে প্রভাব বিস্তার ও তা পরিচালনার ক্ষমতা। এটি তাদের নিকট অর্জিত হয় জাগতিক সম্পর্ক থেকে আত্মাকে বিযুক্ত করা এবং বিমূর্ত বুদ্ধি ও আত্মা সমূহের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে।

আর এই বৈশিষ্ট্যগুলো সাধনার মাধ্যমে অর্জিত হয়। এই কারণেই যারা ইবনে সাবঈন, ইবনে হুদ এবং তাদের ন্যায় ব্যক্তিদের মতাদর্শে সুফিবাদের চর্চা করেছে, তারা নবুওয়াত লাভের আকাঙ্ক্ষা করেছে। তাদের নিকট নবুওয়াত হলো বিভিন্ন পেশার মতো একটি পেশা, বরং এটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মতো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি পেশা; বরং এটি...
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٤٦)
سياسة العامة، وكثير منهم لا يرضى بها، ويقول: الفلسفة نبوة الخاصة. والنبوة: فلسفة العامة.

وأما الإيمان باليوم الآخر فهم لا يقرون بانفطار السموات، وانتثار الكواكب، وقيامة الأبدان، ولا يقرون بأن الله خلق السموات والأرض في ستة أيام، وأوجد هذا العالم بعد عدمه.

فلا مبدأ عندهم، ولا معاد، ولا صانع، ولا نبوة، ولا كتب نزلت من السماء، تكلم الله بها، ولا ملائكة تنزلت بالوحي من الله تعالى.

فدين اليهود والنصارى بعد النسخ والتبديل خير من دين هؤلاء.

وحَسبُكَ جهلاً بالله تعالى، وأسمائه، وصفاته، وأفعاله، من يقول: إنه سبحانه لو علم الموجودات لحقه الكلال والتعب، واستكمل بغيره. وحسبك خذلاناً، وضلالاً وعمى: السير خلف هؤلاء، وإحسان الظن بهم، وأنهم أولو العقول"1.

والذي ينبغي معرفته أن الفلاسفة لا يؤمنون بوجود الله حقيقة، ولا يؤمنون بوحي ولا نبوة ولا رسالة، وينكرون كل غيب، فالمبادىء الفلسفية جميعها تقوم على أصلين هما:

الأصل الأول: أن الأصل في العلوم هو عقل الإنسان، فهو عندهم مصدر العلم.

--------------------------------------------

1 إغاثة اللهفان (2/261-262) .
সাধারণ মানুষের রাজনীতি বা নিয়ম, এবং তাদের অনেকেই এতে সন্তুষ্ট নয়। তারা বলে: দর্শন হলো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নবুওয়াত, আর নবুওয়াত হলো সাধারণ মানুষের দর্শন।

আর পরকালের প্রতি ঈমানের ব্যাপারে তারা আসমানসমূহ বিদীর্ণ হওয়া, নক্ষত্রসমূহ ঝরে পড়া এবং শরীরের পুনরুত্থানকে স্বীকার করে না। তারা এটিও স্বীকার করে না যে, আল্লাহ আসমান ও জমিনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন এবং এই জগতকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছেন।

সুতরাং তাদের কাছে কোনো সূচনা নেই, কোনো প্রত্যাবর্তন নেই, কোনো স্রষ্টা নেই, কোনো নবুওয়াত নেই, আকাশ থেকে অবতীর্ণ এমন কোনো কিতাব নেই যার মাধ্যমে আল্লাহ কথা বলেছেন, এবং এমন কোনো ফেরেশতাও নেই যারা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি নিয়ে অবতীর্ণ হন।

ফলে ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের ধর্ম রহিত ও বিকৃত হওয়ার পরেও এদের ধর্মের চেয়ে উত্তম।

আল্লাহ তাআলা, তাঁর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলি এবং তাঁর কার্যাবলি সম্পর্কে অজ্ঞতা হিসেবে তোমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে কেউ বলে: তিনি (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) যদি বিদ্যমান বস্তুসমূহ সম্পর্কে জানতেন তবে তিনি ক্লান্তি ও অবসাদগ্রস্ত হতেন এবং অন্যের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করতেন। আর তোমার জন্য লাঞ্ছনা, পথভ্রষ্টতা ও অন্ধত্ব হিসেবে এতটুকুই যথেষ্ট যে, এদের পেছনে চলা এবং এদের প্রতি সুধারণা পোষণ করা এবং মনে করা যে তারা বুদ্ধিমান।

আর যা জানা আবশ্যক তা হলো, দার্শনিকরা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না, এবং তারা ওহি, নবুওয়াত ও রিসালাতে বিশ্বাস করে না, আর তারা সকল অদৃশ্যে অস্বীকার করে। সুতরাং সকল দার্শনিক মূলনীতি দুটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেগুলো হলো:

প্রথম মূলনীতি: জ্ঞানের ভিত্তি হলো মানুষের বুদ্ধি, আর এটিই তাদের কাছে জ্ঞানের উৎস।

--------------------------------------------

১. ইগাসাতুল লাহফান (২/২৬১-২৬২)।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٤٧)
الأصل الثاني: أن العلوم محصورة في الأمور المحسوسة المشاهدة فقط.

فتحت الأصل الأول أبطلوا الوحي، وتحت الأصل الثاني أبطلوا الأمور الغيبية بما فيها الإيمان بالله واليوم الآخر.

وقد تسلط الفلاسفة على المسائل الاعتقادية وزعموا أنها مجرد أوهام وخيالات لا حقيقة لها ولا وجود لها في الخارج، فلا الله موجود حقيقة، ولا نبوة ولا نبي على التحقيق، ولا ملائكة، ولا جنة ولا نار، ولا بعث ولا نشور.
দ্বিতীয় মূলনীতি: জ্ঞান কেবল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও প্রত্যক্ষ বিষয়সমূহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

প্রথম মূলনীতির অধীনে তারা ওহীকে বাতিল করে দিয়েছে এবং দ্বিতীয় মূলনীতির অধীনে তারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমানসহ যাবতীয় অতীন্দ্রিয় বিষয়কে বাতিল সাব্যস্ত করেছে।

দার্শনিকগণ আকিদাগত বিষয়াবলির ওপর চড়াও হয়েছে এবং দাবি করেছে যে, এগুলো নিছক বিভ্রম ও কল্পনা মাত্র, বাস্তব জগতে এগুলোর কোনো হাকিকত বা অস্তিত্ব নেই। ফলে (তাদের দাবি অনুযায়ী) আল্লাহ প্রকৃতপক্ষে বিদ্যমান নন, নবুয়ত ও নবীর কোনো প্রকৃত বাস্তবতা নেই, কোনো ফেরেশতা নেই, জান্নাত ও জাহান্নাম নেই এবং হাশর ও পুনরুত্থান বলতেও কিছু নেই।
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٤٨)
المطلب الثاني: أهل الكلام

وأما أهل الكلام فقد شاركوا الفلاسفة في بعض أصولهم، وأخذوا عنهم القواعد المنطقية والمناهج الكلامية، وتأثروا بها إلى درجة كبيرة.

وسلكوا في تقرير مسائل الاعتقاد المسلك العقلاني على حد زعمهم، وهم وإن كانوا يخالفون الفلاسفة في قولهم إن هذه الحقائق مجرد وهم وخيال، إلا أنهم شاركوهم في تشويه كثير من الحقائق الغيبية، فلا تجد في كتب أهل الكلام على اختلاف طوائفهم تقريراً لمسائل الاعتقاد كما جاءت بها النصوص الصحيحة، فبدل أن تسمع أو تقرأ "قال الله" أو "قال رسوله صلى الله عليه وسلم" أو "قال الصحابة"، فإنك لا تجد في كتبهم إلا "قال الفضلاء"، "قال العقلاء"، "قال الحكماء"، ويعنون بهم فلاسفة اليونان من الوثنيين، فكيف جاز لهم ترك كلام الله وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم والأخذ بكلام من لا يعرف الله ولا يؤمن برسوله؟!

والمطَّلِع على كتب أهل الكلام يدرك عِظَم الضرر الذي جَنَتْهُ على الأمة المسلمة، إذ تسببت تلك الكتب في حجب الناس عن المعرفة الصحيحة لله ورسوله ولدينه، وجُعِلَ بدل ذلك مقالات التعطيل والتجهيل والتخييل.

وأهل الكلام ليسوا صنفاً واحداً بل هم عدة أصناف، وهم:
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইলমুল কালামের অনুসারীগণ

আর ইলমুল কালামের অনুসারীদের (আহলুল কালাম) ক্ষেত্রে বলা যায় যে, তারা তাদের কিছু মূলনীতিতে দার্শনিকদের অংশীদার হয়েছে এবং তাদের থেকে যৌক্তিক নিয়মাবলী ও কালামশাস্ত্রীয় পদ্ধতিসমূহ গ্রহণ করেছে এবং এর দ্বারা তারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।

তারা আকিদার বিষয়সমূহ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাদের দাবি অনুযায়ী যুক্তিনির্ভর পথ অবলম্বন করেছে। যদিও তারা দার্শনিকদের এই কথার বিরোধিতা করে যে—এই বাস্তবতাগুলো নিছক বিভ্রম ও কল্পনা মাত্র; তবুও তারা অদৃশ্যের অনেক বাস্তবতা বিকৃত করার ক্ষেত্রে তাদের সাথে অংশীদার হয়েছে। তাই ইলমুল কালামের অনুসারীদের বিভিন্ন উপদলের কিতাবসমূহে আপনি আকিদার বিষয়গুলোর এমন কোনো বর্ণনা পাবেন না যা সহীহ দলীলসমূহে এসেছে। ফলে "আল্লাহ বলেছেন" বা "তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন" অথবা "সাহাবীগণ বলেছেন" শোনার বা পড়ার পরিবর্তে আপনি তাদের কিতাবসমূহে কেবল "গুণীজনরা বলেছেন", "বিবেকিরা বলেছেন", "প্রাজ্ঞরা বলেছেন" ইত্যাদি পাবেন; আর তারা এর দ্বারা মূর্তিপূজক গ্রীক দার্শনিকদের উদ্দেশ্য করে থাকে। সুতরাং তাদের জন্য কীভাবে আল্লাহর বাণী ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী বর্জন করে এমন ব্যক্তিদের কথা গ্রহণ করা বৈধ হলো, যারা আল্লাহকে চেনে না এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমানও রাখে না?!

আর যারা ইলমুল কালামের কিতাবসমূহ পর্যবেক্ষণ করেছেন, তারা মুসলিম উম্মাহর ওপর এর যে ভয়াবহ ক্ষতির দিক রয়েছে তা উপলব্ধি করতে পারেন। কারণ এই কিতাবসমূহ মানুষকে আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাঁর দ্বীন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন থেকে আড়াল করার কারণ হয়েছে। আর তার পরিবর্তে আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার (তা’তিল), অজ্ঞতা সাব্যস্ত করা (তাজহিল) এবং কাল্পনিকতার (তাখয়িল) মতবাদসমূহকে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে।

আর ইলমুল কালামের অনুসারীরা কেবল এক শ্রেণির নয়, বরং তারা কয়েক প্রকারের, তারা হলো:
(খণ্ড: ١) আল-আরশ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٤٩)
1ـ الجهمية، 2ـ المعتزلة، 3ـ الكلابية، 4ـ الأشاعرة، 5ـ الماتريدية.

وهذه الأصناف الخمسة كل له قوله ورأيه بحسب الشبه العقلية التي استند إليها.

أولاً: فأما الجهمية فهم أتباع جهم بن صفوان الذي أخذ عن الجعد ابن درهم مقالة التعطيل عندما التقى به بالكوفة1، وقد نشر الجهم مقالة التعطيل وامتاز عن شيخه الجعد بمزية المغالاة في النفي وكثرة إظهار ذلك والدعوة إليه نظراً لما كان عليه من سلاطة اللسان وكثرة الجدال والمراء.

من أشهر معتقداتهم:

1ـ إنكارهم لجميع الأسماء والصفات كما سيأتي تفصيله.

2ـ أنهم في باب الإيمان مرجئة، يقولون: إن الإيمان يكفي فيه مجرد المعرفة القلبية، وهذا شر أقوال المرجئة.

3ـ أنهم في باب القدر جبرية، ينكرون قدرة العبد واختياره في فعله.

4ـ ينكرون رؤية الخلق لله يوم القيامة.

5ـ يقولون أن القرآن مخلوق.

6ـ يقولون بفناء الجنة والنار.

--------------------------------------------

1 مختصر تاريخ دمشق (6/50) ، والبداية (9/350) .
১. জাহমিয়া, ২. মুতাযিলা, ৩. কুল্লাবিয়া, ৪. আশআরিয়া, ৫. মাতুরিদিয়া।

আর এই পাঁচটি শ্রেণির প্রত্যেকেরই নিজস্ব মত ও অভিমত রয়েছে, যা তারা তাদের নির্ভরকৃত বুদ্ধিভিত্তিক সংশয়সমূহের ভিত্তিতে গ্রহণ করেছে।

প্রথমত: জাহমিয়া হলো জাহম বিন সাফওয়ানের অনুসারী, যে কুফায় জাদ ইবনে দিরহামের সাথে সাক্ষাৎ করে তার থেকে তআতিল বা আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকারের মতবাদ গ্রহণ করেছিল। জাহম এই তআতিল মতবাদ প্রচার করেছিল এবং সে তার শিক্ষক জাদের চেয়েও গুণাবলী অস্বীকার করার ক্ষেত্রে চরমপন্থা অবলম্বন, এটি অধিক প্রকাশ করা এবং এর দিকে দাওয়াত দেওয়ার মাধ্যমে স্বতন্ত্র হয়ে উঠেছিল। এর কারণ ছিল তার বাকপটুতা এবং অধিক মাত্রায় বিতর্ক ও ঝগড়া করার প্রবণতা।

তাদের প্রসিদ্ধ বিশ্বাসসমূহের মধ্যে রয়েছে:

১. তারা সকল নাম ও গুণাবলী অস্বীকার করে, যার বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।

২. ঈমানের বিষয়ে তারা মুরজিয়া; তারা বলে: ঈমানের জন্য কেবল অন্তরের পরিচয় বা জ্ঞানই যথেষ্ট। এটি মুরজিয়াদের উক্তিগুলোর মধ্যে নিকৃষ্টতম।

৩. তকদির বা ভাগ্যের বিষয়ে তারা জাবরিয়া; তারা বান্দার ক্ষমতা এবং তার কর্মে তার ইচ্ছাকে অস্বীকার করে।

৪. তারা কিয়ামতের দিন সৃষ্টির পক্ষ থেকে আল্লাহকে দেখাকে অস্বীকার করে।

৫. তারা বলে যে কুরআন সৃষ্টি।

৬. তারা জান্নাত ও জাহান্নাম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা বলে।

--------------------------------------------

১ মুখতাসার তারিখু দামিশক (৬/৫০), এবং আল-বিদায়া (৯/৩৫০)।