(খণ্ড: ১) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: -)
صحيح البخاري - ت البغا   (البخاري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: صحيح البخاري

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي

المحقق: د. مصطفى ديب البغا

الناشر: (دار ابن كثير، دار اليمامة) - دمشق

الطبعة: الخامسة، 1414 هـ - 1993 م

عدد الأجزاء: 7 (الأخير فهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 14 ربيع الآخر 1443

সহীহ আল-বুখারী - আল-বুগা সংস্করণ   (আল-বুখারী)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: সহীহ আল-বুখারী

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারী আল-জুফী

তাহকীককারী: ড. মুস্তফা দীব আল-বুগা

প্রকাশক: (দার ইবনে কাসীর, দার আল-ইয়ামামাহ) - দামেস্ক

সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪১৪ হিজরী - ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৭ (শেষ খণ্ডটি সূচিপত্র)

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌1 - بَدْءُ الْوَحْيِ.

قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُغِيرَةِ الْبُخَارِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى آمِينَ:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌১ - ওহীর সূচনা।

শায়খ, ইমাম, হাফিজ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম বিন আল-মুগিরাহ আল-বুখারী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, আমীন) বলেছেন:
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌1 - باب: كَيْفَ كَانَ بَدْءُ الْوَحْيِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

وَقَوْلُ اللَّهِ جَلَّ ذِكْرُهُ: {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ} /النساء: 163/.

--------------------------------------------

(أوحينا) أنزلنا عليك الرسالة، من الوحي، وهو في الأصل الإعلام الخفي، ويطلق على تبليغ الله تعالى من يصطفيه من عباده الرسالة، على لسان بعض ملائكته، وهو جبريل عليه السلام، كما يطلق - أحيانا - على الشيء الموحى به، وعلى الإلهام والقذف في القلب يقظة أو مناما.
১ - পরিচ্ছেদ: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ওহী বা প্রত্যাদেশের সূচনা কীভাবে হয়েছিল।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: “নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি যেমনিভাবে আমি ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহ এবং তাঁর পরবর্তী নবীগণের প্রতি।” /আন-নিসা: ১৬৩/।

--------------------------------------------

(আমরা ওহী পাঠিয়েছি) অর্থাৎ আমরা আপনার প্রতি রিসালাত বা বার্তা অবতীর্ণ করেছি। এটি ‘ওহী’ শব্দ হতে আগত, যার মূল অর্থ হচ্ছে গোপন সংবাদ প্রদান। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে যাঁকে মনোনীত করেন তাঁর নিকট তাঁর কোনো ফেরেশতা—যিনি হলেন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম—এর মাধ্যমে বার্তা পৌঁছানোকে ওহী বলা হয়। কখনো কখনো ওহী দ্বারা প্রত্যাদিষ্ট বিষয়বস্তুকেও বোঝানো হয়, আবার জাগ্রত অবস্থায় বা নিদ্রাবস্থায় হৃদয়ে কোনো বিষয় সঞ্চার করা বা ইলহামকেও ওহী বলা হয়।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ٣)
1 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ: أَنَّهُ سَمِعَ عَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه عَلَى الْمِنْبَرِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:

(إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ).

[54، 2392، 3685، 4783، 6311، 6553].

--------------------------------------------

أخرجه مسلم في كتاب الإمارة، بقوله: قوله صلى الله عليه وسلم: إنما الأعمال بالنية، رقم: 1907.

(إنما الأعمال بالنيات) أي صحة ما يقع من المكلف من قول أو فعل، أو كماله وترتيب الثواب عليه، لا يكون إلا حسب ما ينويه. و (النيات) جمع نية، وهي القصد وعزم القلب على أمر من الأمور. (هجرته) الهجرة في اللغة: الخروج من أرض إلى أرض، ومفارقة الوطن والأهل، مشتقة من الهجر وهو ضد الوصل. وشرعا: هي مفارقة دار الكفر إلى دار الإسلام، خوف الفتنة وقصدا لإقامة شعائر الدين. والمراد بها هنا: الخروج من مكة وغيرها إلى مدينة رسول الله صلى الله عليه وسلم. (يصيبها) يحصلها. (ينكحها) يتزوجها. (فهجرته إلى ما هاجر إليه) أي جزاء عمله الغرض الدنيوي الذي قصده إن حصله، وإلا فلا شيء له.

والظاهر أن الحكمة من البدء بهذا الحديث التنبيه على الإخلاص وتصحيح النية، من كل طالب علم ومعلم أو متعلم، وأن طالب العلم عامة، والحديث خاصة، بمنزلة المهاجر إلى الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم.
১ - আল-হুমাইদি আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আলকামাহ ইবনে ওয়াক্কাস আল-লায়সিকে বলতে শুনেছেন: আমি উমর ইবনে আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:

(নিশ্চয়ই প্রতিটি কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে যা সে অর্জন করতে চায়, অথবা কোনো মহিলাকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।)

[৫৪, ২৩৯২, ৩৬৮৫, ৪৭৮৩, ৬৩১১, ৬৫৫৩]।

--------------------------------------------

মুসলিম এটি কিতাবুল ইমারাহ-তে তাঁর নিম্নোক্ত উক্তির মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: নিশ্চয়ই প্রতিটি কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল, হাদিস নম্বর: ১৯০৭।

(নিশ্চয়ই প্রতিটি কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল) অর্থাৎ শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তির কথা বা কাজ যা সংঘটিত হয় তার সঠিকতা, পূর্ণতা এবং তার উপর সওয়াব প্রদান তা নির্ভর করে কেবলমাত্র তার নিয়ত অনুযায়ী। এবং (নিয়তসমূহ) হলো নিয়ত শব্দের বহুবচন, আর তা হলো কোনো বিষয়ের প্রতি ইচ্ছা করা এবং অন্তরে সংকল্প করা। (তার হিজরত) আভিধানিক অর্থে হিজরত হলো: এক ভূমি থেকে অন্য ভূমিতে গমন করা, এবং স্বদেশ ও পরিবার ত্যাগ করা; এটি ‘হাজর’ শব্দ থেকে উৎপন্ন যা ‘মিলন’-এর বিপরীত। এবং শরয়ি পরিভাষায়: তা হলো ফিতনার ভয় এবং দ্বীনের বিধানসমূহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কুফরি ভূখণ্ড ত্যাগ করে ইসলামি ভূখণ্ডে চলে আসা। আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: মক্কা ও অন্যান্য স্থান থেকে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শহর মদিনার দিকে হিজরত করা। (যা সে অর্জন করতে চায়) যা সে লাভ করতে চায়। (বিয়ে করার উদ্দেশ্যে) বিবাহ করার জন্য। (তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে) অর্থাৎ তার কাজের প্রতিদান হবে কেবল সেই পার্থিব উদ্দেশ্য যা সে পোষণ করেছে—যদি সে তা অর্জন করতে পারে, অন্যথায় তার জন্য আর কিছুই নেই।

প্রকাশ্যত এই হাদিস দিয়ে গ্রন্থ শুরু করার হিকমত বা প্রজ্ঞা হলো ইখলাস বা একনিষ্ঠতা এবং নিয়ত শুদ্ধ করার ব্যাপারে প্রতিটি ইলম অন্বেষণকারী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে সতর্ক করা। আর সাধারণভাবে ইলম অন্বেষণকারী এবং বিশেষভাবে হাদিস অন্বেষণকারী ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে হিজরতকারীর মর্যাদাসম্পন্ন।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ٤)
2 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رضي الله عنها: أَنَّ الْحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ رضي الله عنه سَأَل رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ يَأْتِيكَ الْوَحْيُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:

(أَحْيَانًا يَأْتِينِي مِثْلَ صَلْصَلَةِ الْجَرَسِ، وَهُوَ أَشَدُّهُ عَلَيَّ، فَيُفْصَمُ عَنِّي وَقَدْ وَعَيْتُ عَنْهُ مَا قَالَ، وَأَحْيَانًا يَتَمَثَّلُ لِي الْمَلَكُ رَجُلًا، فَيُكَلِّمُنِي فَأَعِي مَا يَقُولُ).

قَالَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها: وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَنْزِلُ عَلَيْهِ الْوَحْيُ فِي الْيَوْمِ الشَّدِيدِ الْبَرْدِ، فَيَفْصِمُ عَنْهُ وَإِنَّ جَبِينَهُ لَيَتَفَصَّدُ عَرَقًا.

[3043].

--------------------------------------------

أخرجه مسلم في الفضائل، باب: طيب عرق النبي صلى الله عليه وسلم في البرد وحين يأتيه الوحي، رقم: 2333.

(صلصلة) هي صوت الحديد إذا حرك، وتطلق على كل صوت له طنين. والمشبه هنا صوت الملك بالوحي. (فيفصم) يقلع، وأصل الفصم القطع من غير إبانة. (وعيت) فهمت وحفظت. (ليتفصد) يسيل، من الفصد وهو قطع العرق لإسالة الدم، شبه الجبين بالعرق المفصود، مبالغة من كثرة عرقه.
২ - আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিশাম ইবনু উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি মুমিনদের জননী আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে: হারিস ইবনু হিশাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট ওহী কীভাবে আসে? তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন:

(কখনও তা আমার নিকট ঘণ্টার শব্দের ন্যায় আসে, আর এটিই আমার জন্য সবচেয়ে কষ্টকর হয়; এরপর তা সমাপ্ত হয় এমতাবস্থায় যে, তিনি যা বলেছেন আমি তা মুখস্থ করে ফেলেছি। আবার কখনও ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আমার নিকট আসেন এবং আমার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নিই।)

আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আমি প্রচণ্ড শীতের দিনে তাঁর ওপর ওহী নাযিল হতে দেখেছি, ওহী শেষ হওয়ার পর দেখা যেত তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরছে।

[৩০৪৩].

--------------------------------------------

মুসলিম এটি ফাযায়েল অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: শীতের সময় এবং ওহী আসার মুহূর্তে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘাম ঝরা প্রসঙ্গে, নম্বর: ২৩৩৩।

(সালসালাহ) হলো লোহা নাড়ালে যে শব্দ হয় তা, এবং এটি প্রতিধ্বনিযুক্ত প্রতিটি শব্দের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এখানে ফেরেশতার ওহী নিয়ে আসার শব্দকে এর সাথে তুলনা করা হয়েছে। (ফায়ুফসামু) অর্থ থেমে যাওয়া বা বিচ্ছিন্ন হওয়া, মূলত ফাসম অর্থ কোনো কিছুকে পুরোপুরি আলাদা না করে বিচ্ছিন্ন করা। (ওয়াইতু) অর্থ আমি বুঝেছি এবং সংরক্ষণ করেছি। (লাইতাফাসসাদু) অর্থ প্রবাহিত হওয়া, এটি ফাসদ শব্দ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ রক্ত প্রবাহিত করার জন্য রগ কাটা; ঘামের প্রাচুর্য বোঝাতে কপাল থেকে ঘাম ঝরাকে এর সাথে তুলনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ٤)
3 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا قَالَتْ: أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْوَحْيِ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ فِي النَّوْمِ، فَكَانَ لَا يَرَى رُؤْيَا إِلَّا جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ، ثُمَّ حُبِّبَ إِلَيْهِ الْخَلَاءُ، وَكَانَ يَخْلُو بِغَارِ حِرَاءٍ، فَيَتَحَنَّثُ فِيهِ - وَهُوَ التَّعَبُّدُ - اللَّيَالِيَ ذَوَاتِ الْعَدَدِ قَبْلَ أَنْ يَنْزِعَ إِلَى أَهْلِهِ، وَيَتَزَوَّدُ لِذَلِكَ، ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى خَدِيجَةَ فَيَتَزَوَّدُ لِمِثْلِهَا، حَتَّى جَاءَهُ الْحَقُّ وَهُوَ فِي غَارِ حِرَاءٍ، فَجَاءَهُ الْمَلَكُ فَقَالَ: اقْرَأْ، قَالَ: (مَا أَنَا بِقَارِئٍ). قَالَ:

(فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدَ، ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ: اقْرَأْ، قُلْتُ مَا أَنَا بِقَارِئٍ، فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّانِيَةَ حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدَ، ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ: اقْرَأْ، فَقُلْتُ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ، فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّالِثَةَ، ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ. خَلَقَ الإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ. اقْرَأْ وَرَبُّكَ الأَكْرَمُ}). فَرَجَعَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ

 

⦗ص: 5⦘

صلى الله عليه وسلم يَرْجُفُ فُؤَادُهُ، فَدَخَلَ عَلَى خَدِيجَةَ بِنْتِ خُوَيْلِدٍ رضي الله عنها فَقَالَ: (زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي). فَزَمَّلُوهُ حَتَّى ذَهَبَ عَنْهُ الرَّوْعُ، فَقَالَ لِخَدِيجَةَ وَأَخْبَرَهَا الْخَبَرَ: (لَقَدْ خَشِيتُ عَلَى نَفْسِي). فَقَالَتْ خَدِيجَةُ: كَلَّا وَاللَّهِ مَا يُخْزِيكَ اللَّهُ أَبَدًا، إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَحْمِلُ الْكَلَّ، وَتَكْسِبُ الْمَعْدُومَ، وَتَقْرِي الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ.

فَانْطَلَقَتْ بِهِ خَدِيجَةُ حَتَّى أَتَتْ بِهِ وَرَقَةَ بْنَ نَوْفَلِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى، ابْنَ عَمِّ خَدِيجَةَ، وَكَانَ امْرَأً تَنَصَّرَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَكَانَ يَكْتُبُ الْكِتَابَ الْعِبْرَانِيَّ، فَيَكْتُبُ مِنَ الْإِنْجِيلِ بِالْعِبْرَانِيَّةِ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكْتُبَ، وَكَانَ شَيْخًا كَبِيرًا قَدْ عَمِيَ، فَقَالَتْ لَهُ خَدِيجَةُ: يَا ابْنَ عَمِّ، اسْمَعْ مِنَ ابْنِ أَخِيكَ. فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ: يَا ابْنَ أَخِي مَاذَا تَرَى؟ فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَبَرَ مَا رَأَى، فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ: هَذَا النَّامُوسُ الَّذِي نَزَّلَ اللَّهُ عَلَى مُوسَى، يَا لَيْتَنِي فِيهَا جَذَعٌ، لَيْتَنِي أَكُونُ حَيًّا إِذْ يُخْرِجُكَ قَوْمُكَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: (أَوَمُخْرِجِيَّ هُمْ). قَالَ: نَعَمْ، لَمْ يَأْتِ رَجُلٌ قَطُّ بِمِثْلِ مَا جِئْتَ بِهِ إِلَّا عُودِيَ، وَإِنْ يُدْرِكْنِي يَوْمُكَ أَنْصُرْكَ نَصْرًا مُؤَزَّرًا. ثُمَّ لَمْ يَنْشَبْ وَرَقَةُ أَنْ تُوُفِّيَ، وَفَتَرَ الْوَحْيُ.

[3212، 4670، 4672 - 4674، 6581].

--------------------------------------------

أخرجه مسلم في الإيمان، باب: بَدْءُ الْوَحْيِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، رقم: 160.

(الصالحة) الصادقة، وهي التي يجري في اليقظة ما يوافقها. (فلق الصبح) ضياؤه ونوره، ويقال هذا في الشيء الواضح البين. (الخلاء) الانفراد. (بغار حراء) الغار هو النقب في الجبل، وحراء اسم لجبل معروف في مكة. (ينزع) يرجع. (ما أنا بقارئ) لا أعرف القراءة ولا أحسنها. (فغطني) ضمني وعصرني حتى حبس نفسي، ومثله غتني. (الجهد) غاية وسعي. (أرسلني) أطلقني. (علق) جمع علقة، وهي المني بعد أن يتحول إلى دم غليظ متجمد، والآيات المذكورة أول ما نزل من القرآن الكريم، وهي أوائل سورة العلق. (يرجف فؤاده) يخفق قلبه ويتحرك بشدة. (زملوني) لفوني وغطوني. (الروع) الفزع. (ما يخزيك) لا يذلك ولا يضيعك. (لتصل الرحم) تكرم القرابة وتواسيهم. (تحمل الكل) تقو بشأن من لا يستقل بأمره ليتم وغيره، وتتوسع بمن فيه ثقل وغلاظة. (تكسب المعودم) تتبرع بالمال لمن عدمه، وتعطي الناس ما لا يجدونه عند غيرك. (تقري الضيف) تهيئ له القرى، وهو ما يقدم للضيف من طعام وشراب. (نوائب الحق) النوائب جمع نائبة، وهي ما ينزل بالإنسان من المهمات، وأضيفت إلى الحق لأنها تكون في الحق والباطل. (تنصر) ترك عبادة الأوثان واعتنق النصرانية. (الناموس) هو صاحب السر، والمراد جبريل عليه السلام، سمي بذلك لاختصاصه بالوحي. (فيها) في حين ظهور نبوتك. (جذع) شاب، والجذع في الأصل الصغير من البهائم، ثم استعير للشاب من الإنسان. (يومك) يوم إخراجك، أو يوم ظهور نبوتك وانتشار دينك. (مؤزرا) قويا، من الأزر وهو القوة. (ينشب) يلبث. (فتر الوحي) تأخر عن النزول مدة من الزمن.
৩ - আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে বুকায়র হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-লাইস উকাইল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের থেকে, তিনি মুমিন জননী আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহী বা প্রত্যাদেশের সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা ভোরের আলোর ন্যায় স্পষ্ট হয়ে প্রকাশ পেত। অতঃপর তাঁর নিকট নির্জনতা প্রিয় হয়ে উঠল। তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন; সেখানে তিনি আপন পরিবারের নিকট ফিরে আসার পূর্বে কয়েক রাত একাদিক্রমে 'তাহান্নুছ' অর্থাৎ ইবাদত করতেন। এজন্য তিনি পাথেয় সাথে নিয়ে যেতেন। অতঃপর তিনি খাদিজার নিকট ফিরে আসতেন এবং পুনরায় অনুরূপ সময়ের জন্য পাথেয় নিয়ে যেতেন। এভাবে তাঁর নিকট সত্যের আগমন ঘটল যখন তিনি হেরা গুহায় ছিলেন। সেখানে ফেরেশতা এসে তাঁকে বললেন: ‘পড়ুন’। তিনি বললেন: ‘আমি তো পড়তে জানি না’। তিনি (রাসুলুল্লাহ) বলেন:

(অতঃপর তিনি আমাকে জাপটে ধরে সজোরে চাপ দিলেন, এমনকি আমি চরম কষ্ট অনুভব করলাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: ‘পড়ুন’। আমি বললাম: ‘আমি তো পড়তে জানি না’। তখন তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে জাপটে ধরে সজোরে চাপ দিলেন, এমনকি আমি চরম কষ্ট অনুভব করলাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: ‘পড়ুন’। আমি বললাম: ‘আমি তো পড়তে জানি না’। অতঃপর তিনি আমাকে তৃতীয়বার জাপটে ধরলেন এবং ছেড়ে দিয়ে বললেন: {পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পড়ুন, আর আপনার রব মহিমান্বিত।})। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিয়ে ফিরে এলেন

 

⦗পৃষ্ঠা: ৫⦘

এমতাবস্থায় তাঁর অন্তর কাঁপছিল। তিনি খুওয়াইলিদের কন্যা খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র নিকট প্রবেশ করে বললেন: (আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও, আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও)। তাঁরা তাঁকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন যতক্ষণ না তাঁর ভীতি দূর হলো। অতঃপর তিনি খাদিজাকে সব ঘটনা জানালেন এবং বললেন: (আমি আমার নিজের জীবনের ওপর আশঙ্কা বোধ করছি)। তখন খাদিজা বললেন: কখনোই না, আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অসহায়দের বোঝা বহন করেন, রিক্তহস্তদের ব্যবস্থা করে দেন, মেহমানদারি করেন এবং সত্য পথের দুর্যোগে সাহায্য করেন।

অতঃপর খাদিজা তাঁকে নিয়ে ওয়ারাTableকা ইবনে নাওফাল ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযার নিকট গেলেন, যিনি খাদিজার চাচাতো ভাই ছিলেন। তিনি জাহেলিয়াত যুগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি হিব্রু কিতাব লিখতে পারতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী ইঞ্জিল থেকে হিব্রু ভাষায় অনুলিপি করতেন। তিনি ছিলেন অতি বৃদ্ধ এবং দৃষ্টিহীন। খাদিজা তাঁকে বললেন: হে চাচাতো ভাই, আপনার ভ্রাতুষ্পুত্রের কথা শুনুন। ওয়ারাTableকা তাঁকে বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র, তুমি কী দেখ? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দেখেছিলেন তার সংবাদ দিলেন। ওয়ারাTableকা তাঁকে বললেন: ইনি সেই 'নামুস' (গোপন বার্তার বাহক) যাকে আল্লাহ মূসার নিকট পাঠিয়েছিলেন। হায়! আমি যদি সেই সময় শক্তিমান যুবক থাকতাম। হায়! আমি যদি জীবিত থাকতাম যখন তোমার জাতি তোমাকে বের করে দেবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (তারা কি আমাকে বের করে দেবে?)। তিনি বললেন: হ্যাঁ, তোমার মতো বিষয় নিয়ে যে-ই এসেছে তাঁর সাথেই শত্রুতা করা হয়েছে। যদি তোমার সেই দিনটি আমি পাই, তবে আমি তোমাকে বলিষ্ঠভাবে সাহায্য করব। এর অল্পকাল পরেই ওয়ারাTableকা ইন্তেকাল করেন এবং ওহী স্থগিত হয়ে যায়।

[৩২১২, ৪৬৭০, ৪৬৭২ - ৪৬৭৪, ৬৫৮১]।

--------------------------------------------

মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন ঈমান অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহী শুরুর সূচনা, নম্বর: ১৬০।

(আস-সালিহাহ) সত্য স্বপ্ন, যা জাগ্রত অবস্থায় তদ্রূপই ঘটে। (ফালাকুস সুবহ) সকালের আলো ও তার উজ্জ্বলতা, অত্যন্ত স্পষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে এটি বলা হয়। (আল-খালা) নির্জনতা। (গারি হিরা) গুহা হলো পাহাড়ের গর্ত, আর হেরা মক্কার একটি সুপরিচিত পাহাড়ের নাম। (ইয়ানযি') ফিরে আসা। (মা আনা বি-কারি') আমি পড়তে জানি না বা আমার পড়ার অভ্যাস নেই। (ফাগাত্তানি) আমাকে জাপটে ধরলেন এবং চাপ দিলেন যাতে শ্বাসরুদ্ধ হওয়ার উপক্রম হলো। (আল-জাহদ) চূড়ান্ত সীমা ও সামর্থ্য। (আরসালানি) আমাকে ছেড়ে দিলেন। (আলাক) জমাটবদ্ধ রক্ত। বর্ণিত আয়াতগুলো কুরআনের সর্বপ্রথম অবতীর্ণ আয়াত এবং এগুলো সূরা আলাকের প্রথমাংশ। (ইয়ারজুফু ফুয়াদূহু) তাঁর হৃৎপিণ্ড প্রবলভাবে কাঁপছিল। (যাম্মিলুনি) আমাকে চাদর বা কাপড় দিয়ে জড়িয়ে দাও। (আর-রাউ') ভীতি। (মা ইয়ুখযিকা) তিনি আপনাকে অপমানিত করবেন না বা ধ্বংস করবেন না। (লা-তাসিলুর রাহিম) আত্মীয়দের প্রতি দয়া করা ও তাদের প্রতি সৌজন্য প্রদর্শন। (তাহমিলুল কাল) অন্যের বোঝা বহন করা, যেমন এতিম বা অক্ষমদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়া। (তাকসিবুল মা'দুম) যার সম্পদ নেই তাকে দান করা, অথবা মানুষের অভাব পূরণ করা। (তাকরিয দ্বাইফ) মেহমানের জন্য খাদ্যাদি প্রস্তুত করা ও সেবা করা। (নাওয়াইবুল হাক) গুরুত্বপূর্ণ বিপদ-আপদ যা মানুষের ওপর আপতিত হয়। (তানাসসারা) মূর্তিপূজা ত্যাগ করে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করা। (আন-নামুস) গোপন রহস্য বা বার্তার বাহক, এখানে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) উদ্দেশ্য, ওহীর জন্য নির্দিষ্ট হওয়ায় তাঁকে এই নামে ডাকা হয়েছে। (ফিহা) আপনার নবুওয়াত প্রকাশের সময়ে। (জাযা') শক্তিশালী যুবক। (ইয়াওমুকা) আপনার বহিষ্কারের দিন বা নবুওয়াত প্রচারের দিন। (মুআয়যারা) শক্তিশালী। (ইয়ানশাব) দেরি করা বা অতিবাহিত হওয়া। (ফাতারা) ওহী অবতরণ কিছুকাল স্থগিত থাকা।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ٥)
4 - قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: وَأَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيَّ قَالَ، وَهُوَ يُحَدِّثُ عَنْ فَتْرَةِ الْوَحْيِ، فَقَالَ فِي حَدِيثِهِ:

(بَيْنَا أَنَا أَمْشِي إِذْ سَمِعْتُ صَوْتًا مِنَ السَّمَاءِ، فَرَفَعْتُ بَصَرِي، فَإِذَا الْمَلَكُ الَّذِي جَاءَنِي بِحِرَاءٍ جَالِسٌ عَلَى كُرْسِيٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ،

 

⦗ص: 6⦘

فَرُعِبْتُ مِنْهُ، فَرَجَعْتُ فَقُلْتُ: زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {يَأَيُّهَا المدثر. قم فأنذر} - إلى قوله - {والرجز فاهجر} فَحَمِيَ الْوَحْيُ وَتَتَابَعَ).

تَابَعَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ وَأَبُو صَالِحٍ، وَتَابَعَهُ هِلَالُ بْنُ رَدَّادٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ. وَقَالَ يُونُسُ وَمَعْمَرٌ: بَوَادِرُهُ.

[3066، 4638 - 4671، 5860].

--------------------------------------------

أخرجه مسلم في الإيمان، باب: بَدْءُ الْوَحْيِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، رقم: 161.

(المدثر) المتلفف بثيابه. (والرجز فاهجر) الرجز في اللغة: ألذنب والإثن والعذاب، والمراد به هنا الأوثان، وسميت رجزا لأنها سببه، والهجر الترك، والمعنى: بالغ واستمر في تركك للأوثان. والآيات أوائل سورة المدثر. (فحمي الوحي وتتابع) كثر نزوله ومجيئه. (تابعه) أي تابع يحيى بن بكير الحديث الثالث، فكان الأنسب أن تأتي هذه المتابعة قبل حديث جابر رضي الله عنه. (بوادره) أي قال: ترجف بوادره بدل: يرجف فؤاده، جمع بادرة، وهي اللحمة التي بين المنكب والعنق، وهي تضطرب عند فزع الإنسان.
৪ - ইবনে শিহাব বলেছেন: আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান আমাকে জানিয়েছেন যে, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারী ওহী স্থগিত থাকার সময়কাল সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন:

(আমি হাঁটছিলাম, হঠাৎ আকাশ থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। তখন আমি মাথা উঁচু করে তাকালাম এবং দেখলাম সেই ফেরেশতা, যিনি হেরা গুহায় আমার কাছে এসেছিলেন, আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে একটি আসনে বসে আছেন।

 

⦗পৃষ্ঠা: ৬⦘

তাঁকে দেখে আমি ভীত হলাম। এরপর আমি ফিরে এসে বললাম: আমাকে চাদর দিয়ে জড়িয়ে দাও, আমাকে চাদর দিয়ে জড়িয়ে দাও। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {হে চাদরাবৃত! উঠুন, সতর্ক করুন} - তাঁর এই বাণী পর্যন্ত - {এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন}। এরপর ওহী দ্রুতবেগে এবং ক্রমাগত আসতে থাকল)।

আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ এবং আবু সালিহ তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং হিলাল ইবনে রাদ্দাদ যুহরী থেকে তাঁর অনুসরণ করেছেন। আর ইউনুস ও মা'মার বলেছেন: 'বাওয়াদিরুহু' (তাঁর ঘাড়ের মাংসপেশি)।

[৩০৬৬, ৪৬৩৮ - ৪৬৭১, ৫৮৬০]।

--------------------------------------------

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন ঈমান অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহী শুরুর সূচনা, হাদীস নং: ১৬১।

(আল-মুদ্দাসসির) যিনি নিজের কাপড়ে আবৃত বা জড়ানো। (ওয়ার-রুযযা ফাহজুর) আভিধানিকভাবে 'রুযয' মানে গুনাহ, পাপ ও আজাব। এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মূর্তিসমূহ; একে 'রুযয' বলা হয়েছে কারণ এটি আজাবের কারণ। 'হাজর' মানে বর্জন করা। অর্থ হলো: মূর্তিপূজা বর্জনের ক্ষেত্রে দৃঢ় থাকুন এবং তা অব্যাহত রাখুন। আয়াতগুলো সূরা আল-মুদ্দাসসিরের প্রথম দিকের। (ফাহামিয়াল ওহয়ু ওয়া তাতাবাআ) ওহী নাজিল হওয়া এবং ওহীর আগমন বৃদ্ধি পাওয়া। (তাবাহু) অর্থাৎ তৃতীয় হাদীসের বর্ণনায় ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইরকে অনুসরণ করা হয়েছে। তাই এই অনুসরণটি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের আগে আসা অধিক উপযুক্ত ছিল। (বাওয়াদিরুহু) অর্থাৎ তিনি 'তাঁর হৃদয় কাঁপছিল'-এর পরিবর্তে 'তাঁর ঘাড়ের মাংসপেশি কাঁপছিল' বলেছেন। এটি 'বাদিরাহ'-এর বহুবচন, যা ঘাড় ও কাঁধের মধ্যবর্তী মাংসপেশি; মানুষের প্রচণ্ড ভয়ের সময় এটি কাঁপতে থাকে।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ٦)
5 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَبِي عَائِشَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ}.

قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعَالِجُ مِنَ التَّنْزِيلِ شِدَّةً، وَكَانَ مِمَّا يُحَرِّكُ شَفَتَيْهِ - فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَأَنَا أُحَرِّكُهُمَا لَكُمْ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحَرِّكُهُمَا، وَقَالَ سَعِيدٌ: أَنَا أُحَرِّكُهُمَا كَمَا رَأَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يُحَرِّكُهُمَا، فَحَرَّكَ شَفَتَيْهِ - فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ. إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وقرآنه}. قَالَ: جَمْعُهُ لَهُ فِي صَدْرِكَ وَتَقْرَأَهُ: {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قرآنه}. قَالَ: فَاسْتَمِعْ لَهُ وَأَنْصِتْ: {ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ}. ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا أَنْ تَقْرَأَهُ، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ذَلِكَ إِذَا أَتَاهُ جِبْرِيلُ اسْتَمَعَ، فَإِذَا انْطَلَقَ جِبْرِيلُ قَرَأَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَمَا قَرَأَهُ.

[4643 - 4645، 4757، 7086].

--------------------------------------------

أخرجه مسلم في الصلاة، باب: الاستماع للقراءة، رقم 448.

(يعالج) من المعالجة، وهي محاولة الشيء بمشقة. (التنزيل) تنزيل القرآن عليه. (وكان مما يحرك شفتيه) أي كانت الشدة من كثرة تحريكه شفتيه، وكان صلى الله عليه وسلم يفعل ذلك خشية أن ينسى ما أوحي إليه. (به) بالقرآن. (لتعجل به) لتأخذه على عجل، مسارعة إلى حفظه، خشية أن ينفلت منه شيء. (جمعه له) حمع الله تعالى للقرآن. (وتقرأه) وأن تقرأه بعد انتهاء وحيه. (قرآنه) قراءته كما أنزل، فلا يغيب عنك منه شيء. (بيانه) استمرار حفظك له بظهوره على لسانك، وقيل: بيان مجملاته وتوضيح مشكلاته، وبيان ما فيه من حلال وحرام وغير ذلك. والآيات من سورة القيامة: 16 - 19.
৫ - মূসা ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আওয়ানাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূসা ইবনে আবি আয়িশা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে জুবায়ের ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন: {ওহী দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা সঞ্চালন করবেন না}।

তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওহী নাযিলের সময় প্রচণ্ড কষ্ট সহ্য করতেন এবং প্রায়ই তাঁর ঠোঁট দুটি নাড়তেন। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেভাবে তাঁর ঠোঁট দুটি নাড়তেন, আমি ঠিক সেভাবেই তোমাদের সামনে তা নেড়ে দেখাচ্ছি। সাঈদ বললেন: আমি ইবনে আব্বাসকে যেভাবে ঠোঁট নাড়তে দেখেছি, আমিও তোমাদের সামনে সেভাবেই নাড়ছি। অতঃপর তিনি তাঁর ঠোঁট দুটি নাড়লেন। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {ওহী দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা সঞ্চালন করবেন না। নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই}। তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন: অর্থাৎ আপনার অন্তরে তা জমা করা এবং আপনার দ্বারা তা পাঠ করানো। {সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠ অনুসরণ করুন}। তিনি বললেন: অর্থাৎ তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করুন এবং চুপ থাকুন। {অতঃপর এর বিশদ বর্ণনা করার দায়িত্ব আমাদেরই}। অর্থাৎ এরপর আপনি তা পাঠ করবেন—এটি আমাদেরই দায়িত্ব। এরপর থেকে যখনই জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসতেন, তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। যখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) চলে যেতেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিবরাঈল যেভাবে পাঠ করেছিলেন সেভাবেই তা পাঠ করতেন।

[৪৬৪৩ - ৪৬৪৫, ৪৭৫৭, ৭০৮৬]।

--------------------------------------------

মুসলিম এটি 'সালাত' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: কিরাত শ্রবণ করা, নম্বর ৪৪৮।

(ইউআলিজু) এটি 'মুআলাজাহ' শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ কোনো কাজ কষ্টে সম্পন্ন করার চেষ্টা করা। (তান্যিল) তাঁর উপর কুরআন নাযিল হওয়া। (ওয়াকানা মিম্মা ইউহাররিকু শাফাতাইহি) অর্থাৎ ঠোঁট নাড়াচাড়ার আধিক্যের কারণে সেই কষ্ট হতো; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওহী ভুলে যাওয়ার ভয়ে এমনটি করতেন। (বিহি) কুরআন দ্বারা। (লিতাজিলা বিহি) দ্রুত মুখস্থ করার জন্য তড়িঘড়ি করা, যাতে কোনো অংশ ছুটে না যায়। (জামআহু লাহু) আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরআন একত্রিত বা সংরক্ষণ করা। (ওয়াতাকরাআহু) ওহী শেষ হওয়ার পর আপনার তা পাঠ করা। (কুরআনাহু) যেভাবে নাযিল হয়েছে সেভাবেই আপনার পাঠ করা, যাতে এর কোনো কিছুই আপনার নিকট থেকে হারিয়ে না যায়। (বায়ানাহু) আপনার জিহ্বায় তা প্রকাশ পাওয়ার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে সংরক্ষিত থাকা। কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিশদ ব্যাখ্যা এবং অস্পষ্ট বিষয়গুলোর স্পষ্টীকরণ, আর এতে বিদ্যমান হালাল-হারাম ও অন্যান্য বিষয় বর্ণনা করা। আয়াতগুলো সূরা আল-কিয়ামাহ-এর ১৬-১৯ নম্বর আয়াত।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ٦)
6 - حَدَّثَنَا عَبْدَانُ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ عَنِ الزُّهْرِيِّ (ح). وحَدَّثَنَا

 

⦗ص: 7⦘

بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ وَمَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ نَحْوَهُ قَالَ: أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ:

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدَ النَّاسِ، وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ، وَكَانَ يَلْقَاهُ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ، فَلَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ.

[1803، 3048، 3361، 4711].

--------------------------------------------

أخرجه مسلم في الفضائل، باب: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدَ الناس بالخير، رقم: 2308.

(ح) هذا الحرف يسمى حاء التحويل، ويؤتى بها رمزا للتحول من إسناد إلى آخر، إذا كان للحديث إسنادان فأكثر، حتى لا يركب الإسناد الثاني مع الإسناد الأول، فيجعلا إسنادا واحد. وقيل: إنها رمز إلى قوله: الحديث، أي الحديث المذكور، ولكن بهذا الإسناد. (أجود الناس) أسخى الناس، أفعل تفضيل من الجود وهو العطاء. (فيدارسه) من المدارسة، وأصلها تعهد الشيء حتى لا ينسى، والمراد: يتناوب معه القراءة على سرعة. (المرسلة) المطلقة التي يدوم هبوبها ويعم نفعها.
৬ - আমাদের কাছে আবদান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেন (হ)। এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন

 

⦗পৃষ্ঠা: ৭⦘

বিশর ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস ও মা'মার, তাঁরা যুহরী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। আর রমজান মাসে যখন জিবরাঈল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি সবচেয়ে বেশি দানশীল হতেন। জিবরাঈল রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁরা পরস্পরকে কুরআন পাঠ করে শোনাতেন। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কল্যাণ সাধনে প্রবহমান বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল ছিলেন।

[১৮০৩, ৩০৪৮, ৩৩৬১, ৪৭১১]।

--------------------------------------------

এটি মুসলিম 'ফাদায়েল' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কল্যাণ সাধনে মানুষের মাঝে সবচেয়ে দানশীল ছিলেন, নম্বর: ২৩০৮।

(হ) এই অক্ষরটিকে 'হায়ে তাহউইল' (রূপান্তরের হা) বলা হয়। এটি এক সনদ থেকে অন্য সনদে রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয় যখন একটি হাদিসের দুই বা ততোধিক সনদ থাকে, যাতে দ্বিতীয় সনদটি প্রথম সনদের সাথে মিলে না যায় এবং সেগুলোকে একটি সনদ মনে না করা হয়। এবং বলা হয়েছে যে, এটি 'আল-হাদিস' শব্দের দিকে ইঙ্গিত, অর্থাৎ উল্লেখিত হাদিসটিই, তবে এই সনদের মাধ্যমে। (মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল) অর্থ সবচেয়ে উদার ব্যক্তি, এটি 'জুদ' বা দানশীলতা থেকে আধিক্যবোধক বিশেষণ। (তারা পরস্পর পাঠ শোনাতেন) এটি 'মুদারাসা' থেকে আগত, যার মূল অর্থ হলো কোনো বিষয় বারবার চর্চা করা যাতে তা ভুলে না যাওয়া হয়। আর এখানে উদ্দেশ্য হলো: পর্যায়ক্রমে একে অন্যের সাথে দ্রুত তিলাওয়াত করা। (প্রবহমান) অর্থ মুক্ত বায়ু যার প্রবাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকে এবং যার উপকারিতা ব্যাপক হয়।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ٧)
7 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ، أَنَّ أَبَا سُفْيَانَ بْنَ حَرْبٍ أَخْبَرَهُ: أَنَّ هِرَقْلَ أَرْسَلَ إِلَيْهِ فِي رَكْبٍ مِنْ قُرَيْشٍ، وَكَانُوا تِجَارًا بِالشَّأْمِ، فِي الْمُدَّةِ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَادَّ فِيهَا أَبَا سُفْيَانَ وَكُفَّارَ قُرَيْشٍ، فَأَتَوْهُ وَهُمْ بِإِيلِيَاءَ، فَدَعَاهُمْ فِي مَجْلِسِهِ، وَحَوْلَهُ عُظَمَاءُ الرُّومِ، ثُمَّ دَعَاهُمْ وَدَعَا بِتَرْجُمَانِهِ، فَقَالَ:

أَيُّكُمْ أَقْرَبُ نَسَبًا بِهَذَا الرَّجُلِ الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ؟ فَقَالَ أَبُو سُفْيَانَ: فَقُلْتُ أَنَا أَقْرَبُهُمْ نَسَبًا، فَقَالَ: أَدْنُوهُ مِنِّي، وَقَرِّبُوا أَصْحَابَهُ فَاجْعَلُوهُمْ عِنْدَ ظَهْرِهِ، ثُمَّ قَالَ لِتَرْجُمَانِهِ: قُلْ لَهُمْ إِنِّي سَائِلٌ هَذَا عَنْ هَذَا الرَّجُلِ، فَإِنْ كَذَبَنِي فَكَذِّبُوهُ، فَوَاللَّهِ لَوْلَا الْحَيَاءُ مِنْ أَنْ يَأْثِرُوا عَلَيَّ كَذِبًا لَكَذَبْتُ عَنْهُ. ثُمَّ كَانَ أَوَّلَ مَا سَأَلَنِي عَنْهُ أَنْ قَالَ: كَيْفَ نَسَبُهُ فِيكُمْ؟ قُلْتُ: هُوَ فِينَا ذُو نَسَبٍ. قَالَ: فَهَلْ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ مِنْكُمْ أَحَدٌ قَطُّ قَبْلَهُ؟ قُلْتُ: لَا. قَالَ: فَهَلْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ؟ قُلْتُ: لَا. قَالَ: فَأَشْرَافُ النَّاسِ يَتَّبِعُونَهُ أَمْ ضُعَفَاؤُهُمْ؟ فَقُلْتُ: بَلْ ضُعَفَاؤُهُمْ. قَالَ: أَيَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ؟ قُلْتُ: بَلْ يَزِيدُونَ.

 

⦗ص: 8⦘

قَالَ: فَهَلْ يَرْتَدُّ أَحَدٌ مِنْهُمْ سَخْطَةً لِدِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ؟ قُلْتُ: لَا. قَالَ: فَهَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُونَهُ بِالْكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ مَا قَالَ؟ قُلْتُ: لَا. قَالَ: فَهَلْ يَغْدِرُ؟ قُلْتُ: لَا، وَنَحْنُ مِنْهُ فِي مُدَّةٍ لَا نَدْرِي مَا هُوَ فَاعِلٌ فِيهَا. قَالَ: وَلَمْ تُمْكِنِّي كَلِمَةٌ أُدْخِلُ فِيهَا شَيْئًا غَيْرُ هَذِهِ الْكَلِمَةِ. قَالَ: فَهَلْ قَاتَلْتُمُوهُ؟ قُلْتُ: نَعَمْ. قَالَ: فَكَيْفَ كَانَ قِتَالُكُمْ إِيَّاهُ؟ قُلْتُ: الْحَرْبُ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ سِجَالٌ، يَنَالُ مِنَّا وَنَنَالُ مِنْهُ. قَالَ: مَاذَا يَأْمُرُكُمْ؟ قُلْتُ: يَقُولُ: اعْبُدُوا اللَّهَ وَحْدَهُ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَاتْرُكُوا مَا يَقُولُ آبَاؤُكُمْ، وَيَأْمُرُنَا بِالصَّلَاةِ وَالصِّدْقِ وَالْعَفَافِ وَالصِّلَةِ. فَقَالَ لِلتَّرْجُمَانِ: قُلْ لَهُ: سَأَلْتُكَ عَنْ نَسَبِهِ فَذَكَرْتَ أَنَّهُ فِيكُمْ ذُو نَسَبٍ، فَكَذَلِكَ الرُّسُلُ تُبْعَثُ فِي نَسَبِ قَوْمِهَا. وَسَأَلْتُكَ هَلْ قَالَ أَحَدٌ مِنْكُمْ هَذَا الْقَوْلَ، فَذَكَرْتَ أَنْ لَا، فَقُلْتُ لَوْ كَانَ أَحَدٌ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ قَبْلَهُ، لَقُلْتُ رَجُلٌ يَأْتَسِي بِقَوْلٍ قِيلَ قَبْلَهُ. وَسَأَلْتُكَ هَلْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ، فَذَكَرْتَ أَنْ لَا، قُلْتُ: فَلَوْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ، قُلْتُ رَجُلٌ يَطْلُبُ مُلْكَ أَبِيهِ. وَسَأَلْتُكَ هَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُونَهُ بِالْكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ مَا قَالَ، فَذَكَرْتَ أَنْ لَا، فَقَدْ أَعْرِفُ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ لِيَذَرَ الْكَذِبَ عَلَى النَّاسِ وَيَكْذِبَ عَلَى اللَّهِ. وَسَأَلْتُكَ أَشْرَافُ النَّاسِ اتَّبَعُوهُ أَمْ ضُعَفَاؤُهُمْ، فَذَكَرْتَ أَنَّ ضُعَفَاءَهُمُ اتَّبَعُوهُ، وَهُمْ أَتْبَاعُ الرُّسُلِ، وَسَأَلْتُكَ أَيَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ، فَذَكَرْتَ أَنَّهُمْ يَزِيدُونَ، وَكَذَلِكَ أَمْرُ الْإِيمَانِ حَتَّى يَتِمَّ. وَسَأَلْتُكَ أَيَرْتَدُّ أَحَدٌ سَخْطَةً لِدِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ، فَذَكَرْتَ أَنْ لَا، وَكَذَلِكَ الْإِيمَانُ حِينَ تُخَالِطُ بَشَاشَتُهُ الْقُلُوبَ. وَسَأَلْتُكَ هَلْ يَغْدِرُ، فَذَكَرْتَ أَنْ لَا، وَكَذَلِكَ الرُّسُلُ لَا تَغْدِرُ. وَسَأَلْتُكَ بِمَا يَأْمُرُكُمْ، فَذَكَرْتَ أَنَّهُ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَيَنْهَاكُمْ عَنْ عِبَادَةِ الْأَوْثَانِ، وَيَأْمُرُكُمْ بِالصَّلَاةِ وَالصِّدْقِ وَالْعَفَافِ، فَإِنْ كَانَ مَا تَقُولُ حَقًّا فَسَيَمْلِكُ مَوْضِعَ قَدَمَيَّ هَاتَيْنِ، وَقَدْ كُنْتُ أَعْلَمُ أَنَّهُ خَارِجٌ، لَمْ أَكُنْ أَظُنُّ أَنَّهُ مِنْكُمْ، فَلَوْ أَنِّي أَعْلَمُ أَنِّي أَخْلُصُ إِلَيْهِ، لَتَجَشَّمْتُ لِقَاءَهُ، وَلَوْ كُنْتُ عِنْدَهُ لَغَسَلْتُ عَنْ قَدَمِهِ. ثُمَّ دَعَا بِكِتَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي بَعَثَ بِه دِحْيَةُ إِلَى عَظِيمِ بُصْرَى، فَدَفَعَهُ إِلَى هِرَقْلَ، فَقَرَأَهُ، فَإِذَا فِيهِ: (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ،

 

⦗ص: 9⦘

مِنْ مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى هِرَقْلَ عَظِيمِ الرُّومِ: سَلَامٌ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى، أَمَّا بَعْدُ، فَإِنِّي أَدْعُوكَ بِدِعَايَةِ الْإِسْلَامِ، أَسْلِمْ تَسْلَمْ، يُؤْتِكَ اللَّهُ أَجْرَكَ مَرَّتَيْنِ، فَإِنْ تَوَلَّيْتَ فَإِنَّ عَلَيْكَ إِثْمَ الْأَرِيسِيِّينَ، وَ: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَنْ لَا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ}) قَالَ أَبُو سُفْيَانَ: فَلَمَّا قَالَ مَا قَالَ، وَفَرَغَ مِنْ قِرَاءَةِ الْكِتَابِ، كَثُرَ عِنْدَهُ الصَّخَبُ وَارْتَفَعَتِ الْأَصْوَاتُ وَأُخْرِجْنَا، فَقُلْتُ لِأَصْحَابِي حِينَ أُخْرِجْنَا: لَقَدْ أَمِرَ أَمْرُ ابْنِ أَبِي كَبْشَةَ، إِنَّهُ يَخَافُهُ مَلِكُ بَنِي الْأَصْفَرِ. فَمَا زِلْتُ مُوقِنًا أَنَّهُ سَيَظْهَرُ حَتَّى أَدْخَلَ اللَّهُ عَلَيَّ الْإِسْلَامَ.

وَكَانَ ابْنُ النَّاظُورِ، صَاحِبُ إِيلِيَاءَ وَهِرَقْلَ، أُسْقُفًّا عَلَى نَصَارَى الشَّأْمِ، يُحَدِّثُ أَنَّ هِرَقْلَ حِينَ قَدِمَ إِيلِيَاءَ، أَصْبَحَ يَوْمًا خَبِيثَ النَّفْسِ، فَقَالَ بَعْضُ بَطَارِقَتِهِ: قَدِ اسْتَنْكَرْنَا هَيْئَتَكَ، قَالَ ابْنُ النَّاظُورِ: وَكَانَ هِرَقْلُ حَزَّاءً يَنْظُرُ فِي النُّجُومِ، فَقَالَ لَهُمْ حِينَ سَأَلُوهُ: إِنِّي رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ حِينَ نَظَرْتُ فِي النُّجُومِ مَلِكَ الْخِتَانِ قَدْ ظَهَرَ، فَمَنْ يَخْتَتِنُ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ؟ قَالُوا: لَيْسَ يَخْتَتِنُ إِلَّا الْيَهُودُ، فَلَا يُهِمَّنَّكَ شَأْنُهُمْ، وَاكْتُبْ إِلَى مَدَايِنِ مُلْكِكَ، فَيَقْتُلُوا مَنْ فِيهِمْ مِنْ الْيَهُودِ، فَبَيْنَمَا هُمْ عَلَى أَمْرِهِمْ، أُتِيَ هِرَقْلُ بِرَجُلٍ أَرْسَلَ بِهِ مَلِكُ غَسَّانَ يُخْبِرُ عَنْ خَبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا اسْتَخْبَرَهُ هِرَقْلُ قَالَ: اذْهَبُوا فَانْظُرُوا أَمُخْتَتِنٌ هُوَ أَمْ لَا؟ فَنَظَرُوا إِلَيْهِ، فَحَدَّثُوهُ أَنَّهُ مُخْتَتِنٌ، وَسَأَلَهُ عَنْ الْعَرَبِ، فَقَالَ: هُمْ يَخْتَتِنُونَ، فَقَالَ هِرَقْلُ: هَذَا مَلِكُ هَذِهِ الْأُمَّةِ قَدْ ظَهَرَ. ثُمَّ كَتَبَ هِرَقْلُ إِلَى

 

⦗ص: 10⦘

صَاحِبٍ لَهُ بِرُومِيَةَ، وَكَانَ نَظِيرَهُ فِي الْعِلْمِ، وَسَارَ هِرَقْلُ إِلَى حِمْصَ، فَلَمْ يَرِمْ حِمْصَ حَتَّى أَتَاهُ كِتَابٌ مِنْ صَاحِبِهِ يُوَافِقُ رَأْيَ هِرَقْلَ عَلَى خُرُوجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَأَنَّهُ نَبِيٌّ، فَأَذِنَ هِرَقْلُ لِعُظَمَاءِ الرُّومِ فِي دَسْكَرَةٍ لَهُ بِحِمْصَ، ثُمَّ أَمَرَ بِأَبْوَابِهَا فَغُلِّقَتْ، ثُمَّ اطَّلَعَ فَقَالَ: يَا مَعْشَرَ الرُّومِ، هَلْ لَكُمْ فِي الْفَلَاحِ وَالرُّشْدِ، وَأَنْ يَثْبُتَ مُلْكُكُمْ فَتُبَايِعُوا هَذَا النَّبِيَّ؟ فَحَاصُوا حَيْصَةَ حُمُرِ الْوَحْشِ إِلَى الْأَبْوَابِ، فَوَجَدُوهَا قَدْ غُلِّقَتْ، فَلَمَّا رَأَى هِرَقْلُ نَفْرَتَهُمْ، وَأَيِسَ مِنَ الْإِيمَانِ، قَالَ: رُدُّوهُمْ عَلَيَّ، وَقَالَ: إِنِّي قُلْتُ مَقَالَتِي آنِفًا أَخْتَبِرُ بِهَا شِدَّتَكُمْ عَلَى دِينِكُمْ، فَقَدْ رَأَيْتُ، فَسَجَدُوا لَهُ وَرَضُوا عَنْهُ، فَكَانَ ذَلِكَ آخِرَ شَأْنِ هِرَقْلَ.

رَوَاهُ صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ وَيُونُسُ وَمَعْمَرٌ عَن الزُّهْرِيِّ.

[51، 2535، 2650، 2738، 2778، 2782، 2816، 3003، 4278، 5635، 5905، 6771]

--------------------------------------------

أخرجه مسلم في المغازي (الجهاد والسير)، باب: كتاب النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى هِرَقْلَ، رقم: 1773.

(ركب) جمع راكب، وهم العشرة فما فوق. (بالشأم) ويقال: الشام والشآم، والمعروف الآن أن بلاد الشام هي: سوريا والأردن وفلسطين ولبنان. (ماد فيها) صالحهم على ترك القتال فيها. (بإيلياء) بيت المقدس. (بترجمانه) هو الذي ينقل الكلام من لغة إلى أخرى. (يأثروا) يرووا عني وينقلوا. (أشراف الناس) الشرف علو الحسب والمجد، والمراد هنا أهل النخوة والتكبر منهم لا على كل شريف. (ضعفاؤهم) أي أكثرهم من الضعفاء، وهم الفقراء والعبيد والموالي والصغار. (سخطة) كراهية له وعدم رضا به. (مدة) عهد. (قال) أي أبو سفيان. (سجال) نوب مرة لنا ومرة علينا، وأصل سجال جمع سجل، وهو الدلو الكبير. (ما يقول آباؤكم) أي من عبادة الأوثان ومفاسد الجاهلية. (العفاف) الكف عن المحرمات وخوارم مما لا يليق. (ليذر) ليترك. (وهم أتباع الرسل) في الغالب، لا المستكبرون بغيا وحسدا. (بشاشته) نوره وحلاوته، والفرح به والإنشراح. (الأوثان) جمع وثن، وهو الصنم. (أنه خارج) أي سبيعث نبي بهذه الصفات. (أخلص) أصل. (تجشمت) تكلفت على خطر ومشقة. (لغسلت عن قدمه) مبالغة في خدمته واتباعه، والخضوع لما جاء به. (عظيم بصرى) أميرها، وبصرى بلدة من أعمل حوران في جنوب بلاد الشام. (بدعاية) بدعوة، وهي كلمة الشهادة التي يدعى إلى النطق بها أهل الملل الكافرة، وهي عنوان التوحيد وأصل الإسلام، دين الحق والاستقامة والعزة والكرامة (مرتين) مضاعفا بعدد من يقتدي به من قومه. (توليت) أعرضت عن الإسلام ورفضت الدول فيه. (إثم الأريسيين) إثم استمرارهم على الباطل والكفر اتباعا لك، والمراد بالأريسيين الأتباع من أهل مملكته، وهي في الأصل جمع أريسي وهو الحراث والفلاح. (كلمة سواء بيننا وبينكم) مستوية، لا تختلف فيها الكتب المنزلة، ولا الأنبياء المرسلون، والآية من سورة آل عمران: 64. (الصخب) اللغط واختلاط الأصوات. (أمر أمر ابن أبي كبشة) عظن شأنه، وأبو كبشة: هو أحد أجداد النبي صلى الله عليه وسلم، وكانت عادة العرب إذا انتقصت إنسانا نسبته إلى جد غامض من أجداده، وقيل هو أبوه من الرضاع. (بني الأًفر) هم الروم، وكان العرب يطلقون عليهم ذلك نسبة إلى أحد عظمائهم، وقيل غير ذلك. (ابن الناطور) وفي رواية (الناطور) وهو اسم معرب معناه حارس البستان. (صاحب إيلياء وهرقل) أمير بيت المقدس من قبل هرقل. (أسقفا) لفظ معرب، ومعناه عالم النصارى أو رئيسهم الديني. (خبيث النفس) مهموما. (بطارقته) جمع بطريق، وهم خواص دولته وأهل مشورته. (استنكرنا هيئتك) اختلف علينا حالك وسمتك. (حزاء) كاهنا يخبر عن المغيبات. (ينظر في النجوم) يتكهن من أحوالها. (ملك الختان) وفي رواية (ملك) أي ظهر سلطان الذين يختتنون، والختان قطع قلفة الذكر، وكان الروم لا يختتون. (برومية) مدينة معروفة للروم، وهي مقر خلافة النصارى ورئاسهتم. (حمص) بلدة معروفة من بلاد الشام. (يرم) يفارق، وقيل: يصل. (دسكرة) قصر حوله أو فيه منازل للخدم وأشباههم. (فحاصوا) نفروا وكروا. (حمر الوحش) جمع حمار، والوحش حيوان البر. (وأيس من الإيمان) انقطع أمله منهم. (آنفا) قريبا أو هذه الساعة، والآنف أول الشيء.
৭ - আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ামান আল-হাকাম বিন নাফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শুআইব, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাকে উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবাহ বিন মাসউদ সংবাদ দিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ বিন আব্বাস তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু সুফিয়ান বিন হারব তাকে জানিয়েছেন: হিরাক্লিয়াস (রোম সম্রাট) কুরাইশদের এক কাফেলার সাথে তাকে ডেকে পাঠালেন। তারা তখন সিরিয়ায় ব্যবসা করতে গিয়েছিলেন। এটি ছিল সেই সময়ের ঘটনা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু সুফিয়ান ও কুরাইশ কাফেরদের সাথে সন্ধি করেছিলেন। তারা হিরাক্লিয়াসের কাছে পৌঁছালেন যখন তিনি ইলিয়ায় (জেরুজালেম) অবস্থান করছিলেন। তিনি তাদেরকে নিজের মজলিসে ডাকলেন, যেখানে তার চারপাশে রোমের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি তাদেরকে এবং তাঁর দোভাষীকে ডাকলেন এবং বললেন:

তোমাদের মধ্যে বংশের দিক থেকে এই লোকটির (যিনি নিজেকে নবী বলে দাবি করছেন) সবচেয়ে নিকটবর্তী কে? আবু সুফিয়ান বলেন: আমি বললাম, বংশের দিক থেকে আমিই তাদের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে নিকটতম। তিনি বললেন: তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো এবং তার সাথীদেরকেও কাছে আনো এবং তাদেরকে তার পেছনে দাঁড় করিয়ে দাও। এরপর তিনি তাঁর দোভাষীকে বললেন: তাদেরকে বলে দাও যে, আমি একে (আবু সুফিয়ানকে) এই লোকটি (নবী) সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করব, সে যদি আমার কাছে মিথ্যা বলে তবে তোমরা তাকে মিথ্যাবাদী বলে ধরিয়ে দেবে। (আবু সুফিয়ান বলেন:) আল্লাহর কসম! আমার নামে কোনো মিথ্যা রটানোর লজ্জা যদি না থাকত, তবে আমি অবশ্যই তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা বলতাম। এরপর তিনি আমাকে প্রথম যে প্রশ্নটি করলেন তা হলো: তোমাদের মাঝে তাঁর বংশমর্যাদা কেমন? আমি বললাম: তিনি আমাদের মাঝে অত্যন্ত উচ্চ বংশীয়। তিনি বললেন: তোমাদের মাঝে এর আগে কি আর কেউ কখনো এমন কথা বলেছে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তাঁর পূর্বপুরুষদের মাঝে কি কোনো রাজা ছিল? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: প্রভাবশালী লোকেরা কি তাঁর অনুসরণ করছে নাকি দুর্বলরা? আমি বললাম: বরং দুর্বলরাই। তিনি বললেন: তারা কি সংখ্যায় বাড়ছে না কমছে? আমি বললাম: বরং বাড়ছে।

 

⦗পৃষ্ঠা: ৮⦘

তিনি বললেন: কেউ কি তাঁর দ্বীনে প্রবেশের পর তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে ধর্মত্যাগ (মুরতাদ) করে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তিনি যা বলছেন তা বলার আগে তোমরা কি কখনো তাঁকে মিথ্যার দায়ে অভিযুক্ত করতে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তিনি কি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন? আমি বললাম: না, তবে আমরা এখন তাঁর সাথে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের সন্ধিতে আছি, জানি না তিনি এই সময়ে কী করবেন। আবু সুফিয়ান বলেন: এই কথাটি ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো কথা বলার সুযোগ আমি পাইনি। তিনি বললেন: তোমরা কি তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছ? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তোমাদের সাথে তাঁর যুদ্ধ কেমন হয়েছে? আমি বললাম: আমাদের ও তাঁর মধ্যে যুদ্ধ অনেকটা বালতির মতো (পালাক্রমে), কখনো তিনি আমাদের ওপর জয়ী হন, আবার কখনো আমরা তাঁর ওপর জয়ী হই। তিনি বললেন: তিনি তোমাদের কী আদেশ দেন? আমি বললাম: তিনি বলেন— তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সাথে অন্য কিছু শরিক করো না, এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা যা বলত (মূর্তিপূজা) তা ত্যাগ করো। এছাড়া তিনি আমাদের নামাজ, সত্যবাদিতা, চারিত্রিক পবিত্রতা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার আদেশ দেন। এরপর তিনি দোভাষীকে বললেন: তাকে বলো— আমি তোমাকে তাঁর বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি, তুমি বলেছ যে তিনি তোমাদের মাঝে উচ্চ বংশীয়, আর রাসূলগণ তাঁদের কওমের উচ্চ বংশেই প্রেরিত হন। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি— তোমাদের মাঝে আর কেউ কি ইতিপূর্বে এমন কথা বলেছে? তুমি বলেছ— না। আমি ভাবলাম, যদি আগে কেউ এমন কথা বলত তবে বলা যেত যে তিনি পূর্ববর্তী কোনো কথার অনুকরণ করছেন। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি— তাঁর পূর্বপুরুষদের মাঝে কোনো রাজা ছিল কি না? তুমি বলেছ— না। আমি ভাবলাম, যদি তাঁর পূর্বপুরুষদের মাঝে কোনো রাজা থাকত তবে বলা যেত তিনি তাঁর পিতার রাজত্ব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি— তিনি এই দাবি করার আগে তোমরা কখনো তাঁকে মিথ্যার দায়ে অভিযুক্ত করেছ কি না? তুমি বলেছ— না। আমি বুঝতে পারলাম, যিনি মানুষের সাথে মিথ্যার কারবার ছেড়ে দিয়েছেন তিনি আল্লাহর নামে মিথ্যা বলতে পারেন না। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি— প্রভাবশালীরা তাঁর অনুসরণ করছে নাকি দুর্বলরা? তুমি বলেছ— দুর্বলরাই তাঁর অনুসরণ করছে, আর যুগে যুগে এরাই তো রাসূলগণের অনুসারী হয়। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি— তারা বাড়ছে না কমছে? তুমি বলেছ— বাড়ছে। ঈমানের বিষয়টি পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত এমনই হয়ে থাকে। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি— কেউ তাঁর দ্বীনে প্রবেশের পর অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যায় কি না? তুমি বলেছ— না। ঈমানের স্বাদ যখন হৃদয়ে মিশে যায় তখন এমনই হয়। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি— তিনি কি বিশ্বাসঘাতকতা করেন? তুমি বলেছ— না। রাসূলগণ এমনই হন, তাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করেন না। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি— তিনি তোমাদের কী আদেশ দেন? তুমি বলেছ— তিনি তোমাদের এক আল্লাহর ইবাদত করতে ও তাঁর সাথে শরিক না করতে আদেশ দেন, মূর্তিপূজা করতে নিষেধ করেন এবং নামাজ, সত্যবাদিতা ও চারিত্রিক পবিত্রতার আদেশ দেন। যদি তোমার কথা সত্য হয়, তবে অচিরেই তিনি আমার এই দু’পায়ের নিচের জায়গার মালিক হবেন। আমি জানতাম যে তাঁর আবির্ভাব হবে, তবে ভাবিনি যে তিনি তোমাদের মধ্য থেকে হবেন। আমি যদি জানতাম যে তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারব, তবে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য সর্বাত্মক কষ্ট সহ্য করতাম, আর যদি আমি তাঁর কাছে থাকতাম তবে অবশ্যই তাঁর পা ধুইয়ে দিতাম। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই চিঠিটি আনালেন যা দিহইয়া কালবী (রা.)-এর মাধ্যমে বুসরার শাসনকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং তিনি তা হিরাক্লিয়াসের হাতে দিয়েছিলেন। তিনি তা পড়লেন, তাতে লেখা ছিল: (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম— পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

⦗পৃষ্ঠা: ৯⦘

আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মদের পক্ষ থেকে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি: শান্তি বর্ষিত হোক তার ওপর যে হেদায়েত অনুসরণ করে। অতঃপর আমি আপনাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন। আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন। আর যদি আপনি মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে আপনার প্রজাসাধারণের পাপ আপনার ওপর বর্তাবে। এবং: {হে আহলে কিতাব! এসো এমন এক কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; তা হলো— আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত করব না, তাঁর সাথে অন্য কিছু শরিক করব না এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ছাড়া রব হিসেবে গ্রহণ করব না। এরপরও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তোমরা বলো— তোমরা সাক্ষী থাকো যে আমরা মুসলিম।}) আবু সুফিয়ান বলেন: যখন তিনি তাঁর কথা শেষ করলেন এবং চিঠিপাঠ শেষ হলো, তখন সেখানে শোরগোল শুরু হলো এবং মানুষের আওয়াজ উচ্চ হতে থাকল। এরপর আমাদের বের করে দেওয়া হলো। বের হয়ে আসার পর আমি আমার সাথীদের বললাম: ইবনে আবি কাবশাহর (মুহাম্মদের) বিষয় তো অনেক বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে, রোম সম্রাটও (বনী আসফার) তাঁকে ভয় পাচ্ছে। এরপর থেকে আমি দৃঢ়বিশ্বাসী ছিলাম যে তিনি অচিরেই বিজয়ী হবেন, এমনকি আল্লাহ তাআলা আমাকে ইসলাম গ্রহণের তাওফিক দিলেন।

ইলিয়া ও হিরাক্লিয়াসের সঙ্গী ইবনে নাযুর, যিনি সিরিয়ার খ্রিস্টানদের ধর্মীয় নেতা (বিশপ) ছিলেন, তিনি বর্ণনা করেন যে, হিরাক্লিয়াস যখন ইলিয়ায় (জেরুজালেম) আসলেন, তখন একদিন সকালে তাঁকে বিষণ্ন মনে হলো। তাঁর পদস্থ কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বললেন: আমরা আপনার অবস্থা তো স্বাভাবিক দেখছি না। ইবনে নাযুর বলেন: হিরাক্লিয়াস জ্যোতিষশাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলেন এবং নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করতেন। যখন তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তিনি বললেন: আজ রাতে আমি নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে খতনা করা সম্প্রদায়ের রাজার আবির্ভাব হয়েছে। বর্তমানকালের উম্মতদের মধ্যে কারা খতনা করে? তারা বলল: ইহুদিরা ছাড়া আর কেউ তো খতনা করে না। তাই তাদের নিয়ে আপনি চিন্তিত হবেন না। আপনার রাজ্যের শহরগুলোতে লিখে পাঠিয়ে দিন যেন সেখানে থাকা সমস্ত ইহুদিকে হত্যা করা হয়। তারা যখন এই বিষয়ে আলোচনা করছিল, ঠিক তখনই হিরাক্লিয়াসের কাছে এক ব্যক্তিকে আনা হলো যাকে গাসসানের রাজা পাঠিয়েছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খবর দেওয়ার জন্য। হিরাক্লিয়াস তার থেকে খবর শোনার পর বললেন: গিয়ে দেখো তো সে খতনা করা কি না? তারা তাকে দেখে এসে জানাল যে সে খতনা করা। তিনি তাকে আরবদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে বলল: তারা খতনা করে। তখন হিরাক্লিয়াস বললেন: তিনিই এই উম্মতের রাজা, যাঁর আবির্ভাব হয়েছে। এরপর হিরাক্লিয়াস তাঁর

 

⦗পৃষ্ঠা: ১০⦘

রোমে অবস্থানরত এক বন্ধুর কাছে চিঠি লিখলেন, যিনি জ্ঞানে তাঁর সমকক্ষ ছিলেন। এরপর হিরাক্লিয়াস হিমস-এর দিকে যাত্রা করলেন। হিমস থেকে বের হওয়ার আগেই তাঁর বন্ধুর চিঠি আসলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আবির্ভাব ও তিনি যে সত্য নবী সে বিষয়ে হিরাক্লিয়াসের মতের সাথে একমত পোষণ করছিল। এরপর হিরাক্লিয়াস হিমসে তাঁর একটি অট্টালিকায় রোমের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ডেকে পাঠালেন এবং তার সব দরজা বন্ধ করার আদেশ দিলেন। তারপর তিনি ওপর থেকে উঁকি দিয়ে বললেন: হে রোমবাসী! তোমরা কি তোমাদের কল্যাণ, সঠিক পথ এবং রাজত্ব স্থায়ী হওয়ার প্রত্যাশা করো? তবে তোমরা এই নবীর আনুগত্যের শপথ (বায়াত) গ্রহণ করো। একথা শুনে তারা বন্য গাধার মতো দরজার দিকে দৌড়ে পালালো, কিন্তু দরজাগুলো বন্ধ পেল। হিরাক্লিয়াস যখন তাদের এই অনীহা দেখলেন এবং তাদের ঈমান আনার বিষয়ে নিরাশ হলেন, তখন বললেন: তাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো। তিনি বললেন: আমি এইমাত্র যা বলেছি তা কেবল তোমাদের দ্বীনের ওপর তোমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার জন্য বলেছি, আর তা আমি দেখে নিলাম। তখন তারা তাঁকে সেজদা করল এবং তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হলো। হিরাক্লিয়াসের শেষ অবস্থা এটাই ছিল।

এটি সালেহ বিন কায়সান, ইউনুস ও মা’মার যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন।

[৫১, ২৫৩৫, ২৬৫০, ২৭৩৮, ২৭৭৮, ২৭৮২, ২৮১৬, ৩০০৩, ৪২৭৮, ৫৬৩৫, ৫৯০৫, ৬৭৭১]

--------------------------------------------

মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মাগাযী (জিহাদ ও সিয়ার) অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: হিরাক্লিয়াসের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্র, নম্বর: ১৭৭৩।

(রাক্বব) অর্থ আরোহী দল, যা সংখ্যায় ১০ জন বা তার বেশি। (আশ-শাম) সিরিয়া, জর্ডান, ফিলিস্তিন ও লেবাননকে বর্তমানে শাম দেশ বলা হয়। (মাদ্দা ফীহা) অর্থাৎ সেখানে যুদ্ধ না করার বিষয়ে সন্ধি করেছিলেন। (ইলিয়া) বাইতুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেম। (দোভাষী) যিনি এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় কথা রূপান্তর করেন। (ইয়াসিরু) আমার থেকে বর্ণনা করবে বা পাচার করবে। (আশরাফুন্ নাস) উচ্চ বংশীয় ও সম্মানিত ব্যক্তি। এখানে যারা অহংকারী ও প্রভাবশালী তাদের বোঝানো হয়েছে। (দুআফাউহুম) অর্থাৎ তাদের অধিকাংশ হলো দুর্বল, দরিদ্র, গোলাম ও সাধারণ মানুষ। (সাখতাহ) তার প্রতি অসন্তুষ্টি বা ঘৃণা। (মুদ্দাহ) চুক্তিকাল বা নির্দিষ্ট সময়। (কালা) অর্থাৎ আবু সুফিয়ান বললেন। (সিজাল) যুদ্ধের এমন পর্যায় যেখানে পাল্লা কখনো এক পক্ষ আবার কখনো অন্য পক্ষের দিকে ঝুঁকে থাকে। (তোমাদের পিতৃপুরুষরা যা বলে) অর্থাৎ মূর্তিপূজা ও জাহেলিয়াতের মন্দ কাজ। (আফাফ) হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকা এবং যা অশোভন তা ত্যাগ করা। (লিয়াদারা) যেন বর্জন করে। (তারা রাসূলগণের অনুসারী) বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ ও অসহায় মানুষরাই আগে রাসূলদের অনুসরণ করে, অহংকারীরা হিংসাবশত দূরে থাকে। (বাশাশাতুহু) এর নূর, মিষ্টতা ও এর দ্বারা অর্জিত অন্তরের প্রশান্তি। (আল-আওসান) মূর্তিসমূহ। (তিনি আবির্ভূত হবেন) অর্থাৎ এমন গুণসম্পন্ন একজন নবী প্রেরিত হবেন। (আখলুসু) আমি পৌঁছাতে পারব। (তাজাশশামতু) কষ্ট ও ঝুঁকি নিয়ে চেষ্টা করতাম। (আমি তাঁর পা ধুয়ে দিতাম) এটি তাঁর খেদমত ও অনুসরণের ক্ষেত্রে এবং তাঁর আনীত দ্বীনের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। (বুসরার অধিপতি) এর আমির বা শাসক। বুসরা হলো সিরিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত হাওরান অঞ্চলের একটি শহর। (বি-দা’ইয়াহ) দাওয়াতের মাধ্যমে, অর্থাৎ তাওহিদের কালেমা। (দুইবার) তাঁর প্রজাদের হেদায়েতের অনুসরণের ফলে দ্বিগুণ সওয়াব। (তাওয়াল্লাইতা) বিমুখ হওয়া বা ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করা। (আরীসীনদের পাপ) তোমার অনুসরণে তারা যে ভ্রষ্টতার ওপর থাকবে তার দায়ভার। আরীসীন বলতে সাধারণত কৃষক বা প্রজাসাধারণকে বোঝানো হয়। (এমন এক কথা যা আমাদের ও তোমাদের মাঝে সমান) অর্থাৎ এমন এক কথা যা সমস্ত আসমানি কিতাব ও নবীদের মাঝে অভিন্ন। আয়াতটি সূরা আল-ইমরানের ৬৪ নম্বর। (সাখাব) শোরগোল ও বিশৃঙ্খলা। (ইবনে আবি কাবশাহর বিষয় বড় হয়ে গেছে) অর্থাৎ তাঁর মর্যাদা ও প্রভাব বেড়ে গেছে। কুরাইশরা কাউকে তুচ্ছ করতে চাইলে তাকে তার কোনো অখ্যাত পূর্বপুরুষের দিকে সম্বন্ধ করে ডাকত। ইবনে আবি কাবশাহ ছিলেন নবীজির জনৈক পূর্বপুরুষ বা দুধপিতা। (বনী আসফার) রোমানদের একটি উপাধি। (ইবনে নাযুর) জেরুজালেমের শাসক হিরাক্লিয়াসের পক্ষ থেকে নিযুক্ত শাসনকর্তা। (বিশপ) খ্রিস্টানদের ধর্মীয় নেতা বা পণ্ডিত। (খাবীসুন্ নাফসি) অত্যন্ত চিন্তিত ও বিষণ্ন। (বাতারিকাতাহু) সম্রাট হিরাক্লিয়াসের ঘনিষ্ঠ মন্ত্রণাদাতা ও উচ্চপদস্থ রাজকর্মকর্তাবৃন্দ। (আপনার অবস্থা স্বাভাবিক দেখছি না) অর্থাৎ আপনার আগের গাম্ভীর্য ও মেজাজ পরিবর্তিত মনে হচ্ছে। (হাজ্জা) গণক বা জ্যোতিষী যে অদৃশ্য বিষয়ের খবর দেয়। (নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করতেন) নক্ষত্রের অবস্থান দেখে ভবিষ্যৎ আন্দাজ করতেন। (খতনা করা সম্প্রদায়ের রাজা) অর্থাৎ খতনা করাদের কর্তৃত্ব প্রকাশিত হয়েছে। (রোমিয়াহ) রোমানদের একটি বিখ্যাত শহর, যা খ্রিস্টানদের কেন্দ্র ছিল। (হিমস) সিরিয়ার একটি পরিচিত শহর। (ইয়ারিম) ত্যাগ করা বা পৌঁছানো। (দাসকারাহ) এমন এক বিশাল অট্টালিকা যার চারপাশে সেবকদের থাকার জায়গা থাকে। (হাসু) ভীত হয়ে পলায়ন করা। (হুমুরুল ওয়াহশ) বন্য গাধা। (ঈমান থেকে নিরাশ হলেন) তাদের ইসলাম গ্রহণের আশা ত্যাগ করলেন। (আনফাম) এইমাত্র বা কিছুক্ষণ আগে।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١١)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌2 - كِتَاب الْإِيمَانِ.
২ - ঈমান অধ্যায়।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌1 - بَاب الإيمان، وقول النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: (بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ).

وَهُوَ قَوْلٌ وَفِعْلٌ، وَيَزِيدُ وَيَنْقُصُ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَعَ إِيمَانِهِمْ} /الفتح: 4/. {وَزِدْنَاهُمْ هُدًى} /الكهف: 13/. {وَيَزِيدُ اللَّهُ الَّذِينَ اهْتَدَوْا هُدًى} /مريم: 76/. {وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى وَآتَاهُمْ تَقْوَاهُمْ} /محمد: 17/. {وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا} /المدثر: 31/. وَقَوْلُهُ: {أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إِيمَانًا فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا} /التوبة: 124/. وَقَوْلُهُ جَلَّ ذِكْرُهُ: {فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا} /آل عمران: 173/. وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {وَمَا زَادَهُمْ إِلا إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا} /الأحزاب: 22/. وَالْحُبُّ فِي اللَّهِ وَالْبُغْضُ فِي اللَّهِ مِنَ الْإِيمَانِ.

وَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى عَدِيِّ بْنِ عَدِيٍّ: إِنَّ لِلْإِيمَانِ فَرَائِضَ وَشَرَائِعَ وَحُدُودًا وَسُنَنًا، فَمَنِ اسْتَكْمَلَهَا اسْتَكْمَلَ الْإِيمَانَ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَكْمِلْهَا لَمْ يَسْتَكْمِلِ الْإِيمَانَ، فَإِنْ أَعِشْ فَسَأُبَيِّنُهَا لَكُمْ حَتَّى تَعْمَلُوا بِهَا، وَإِنْ أَمُتْ فَمَا أَنَا عَلَى صُحْبَتِكُمْ بِحَرِيصٍ.

وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ عليه السلام: {وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي} /البقرة: 260/.

وَقَالَ مُعَاذُ: اجْلِسْ بِنَا نُؤْمِنْ سَاعَةً. وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: الْيَقِينُ الْإِيمَانُ كُلُّهُ.

وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: لَا يَبْلُغُ الْعَبْدُ حَقِيقَةَ التَّقْوَى حَتَّى يَدَعَ مَا حَاكَ فِي الصَّدْرِ.

وَقَالَ مُجَاهِدٌ: {شَرَعَ لَكُمْ} /الشورى: 13/: أَوْصَيْنَاكَ يَا مُحَمَّدُ وَإِيَّاهُ دِينًا وَاحِدًا.

وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: {شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} /المائدة: 48/: سَبِيلًا وَسُنَّةً. {دُعَاؤُكُمْ} إِيمَانُكُمْ، لِقَوْلِهِ عز وجل: {قُلْ مَا يَعْبَأُ بِكُمْ رَبِّي لَوْلا دُعَاؤُكُمْ} /الفرقان: 77/. وَمَعْنَى الدُّعَاءِ فِي اللُّغَةِ الْإِيمَانُ.

--------------------------------------------

(وهو) أي الإيمان. (فرائض) أعمال مروضة. (شرائع) عقائد دينية. (حدودا) منهيات ممنوعة. (سننا) مندوبات. (استكملها) أتى بها جميعها. (فسأبينها) أوضحها لكم إيضاحا يفهمه كل واحد. (ليطمئن قلبي) يزداد يقيني. (نؤمن ساعة) نذكر الله زمنا، ونتذاكر الخير وأمور الآخرة وأحكام الدين، مما يزيدنا إيمانا ويقينا. والذي قيل له ذلك: هو الأسود بن هلال المحاربي. (اليقين) العلم وزوال الشك. (التقوى) الخشية، وحقيقتها أن يحفظ نفسه من تعاطي ما تستحق به العقوبة، من ترك الطاعة أو فعل المعصية. (حاك) وقع في القلب ولم ينشرح له الصدر وخاف فيه الإثم. (وإياه) أي نوحا عليه السلام. (شرعة ومنهاجا) الشرعة والشريعة بمعنى واحد، وهي ما شرعه الله لعباده من أحكام الدين، والمنهاج الطريق. (إيمانكم) فسر ابن عباس رضي الله عنهما الدعاء بالإيمان، محتجا بالآية المذكورة. (يعبأ) يبالي ويكترث، ولم يعبأ به: لم يجد له وزنا ولا قدرا.
১ - ঈমান অধ্যায় এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত।"

আর ঈমান হলো কথা ও কাজ, তা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যাতে তারা তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি করে নেয়" (আল-ফাতহ: ৪)। "আর আমি তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করে দিয়েছিলাম" (আল-কাহফ: ১৩)। "যারা সৎপথে চলে, আল্লাহ তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করেন" (মারইয়াম: ৭৬)। "আর যারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে, আল্লাহ তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দেন এবং তাদের তাকওয়া দান করেন" (মুহাম্মদ: ১৭)। "আর যাতে মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায়" (আল-মুদ্দাসসির: ৩১)। এবং তাঁর বাণী: "তোমাদের মধ্যে কার ঈমান এর দ্বারা বৃদ্ধি পেল? তবে যারা মুমিন, তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে" (আত-তাওবা: ১২৪)। এবং মহিমান্বিত আল্লাহর বাণী: "সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো, তখন তা তাদের ঈমানকে বৃদ্ধি করে দিয়েছিল" (আল-ইমরান: ১৭৩)। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর তা কেবল তাদের ঈমান ও আত্মসমর্পণকেই বৃদ্ধি করেছিল" (আল-আহজাব: ২২)। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ঘৃণা করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।

উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) আদি ইবনে আদি (রহ.)-এর কাছে লিখেছিলেন: নিশ্চয়ই ঈমানের কিছু ফরজ দায়িত্ব, বিধিবিধান, সীমা এবং সুন্নাত রয়েছে। যে ব্যক্তি এগুলো পূর্ণ করল, সে তার ঈমান পূর্ণ করল; আর যে ব্যক্তি এগুলো পূর্ণ করল না, সে তার ঈমানও পূর্ণ করল না। আমি যদি বেঁচে থাকি, তবে অবশ্যই তোমাদের কাছে তা ব্যাখ্যা করে দেব যাতে তোমরা সে অনুযায়ী আমল করতে পারো। আর যদি আমি মারা যাই, তবে তোমাদের সান্নিধ্য লাভের জন্য আমি খুব একটা আগ্রহী নই।

ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন: "তবে আমার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য" (আল-বাকারা: ২৬০)।

মুআয (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন: আমাদের সাথে বসুন, আমরা কিছুক্ষণ ঈমান চর্চা করি। ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন: ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) হলো পূর্ণ ঈমান।

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছিলেন: কোনো বান্দা তাকওয়ার প্রকৃত স্তরে পৌঁছাতে পারে না যতক্ষণ না সে অন্তরে খটকা সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো পরিত্যাগ করে।

মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন: "তিনি তোমাদের জন্য প্রবর্তন করেছেন" (আশ-শুরা: ১৩)-এর অর্থ হলো: হে মুহাম্মদ! আমি আপনাকে এবং তাকে (নূহকে) একই দ্বীনের অসিয়ত করেছি।

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: "শরীয়ত ও পথ" (আল-মায়িদা: ৪৮)-এর অর্থ হলো পথ ও সুন্নাত। "তোমাদের দোয়া" অর্থ তোমাদের ঈমান, মহান আল্লাহর বাণী অনুযায়ী: "বলুন, আমার রব তোমাদের কোনো পরোয়াই করবেন না যদি না তোমাদের দোয়া (ঈমান) থাকে" (আল-ফুরকান: ৭৭)। ভাষাতাত্ত্বিকভাবে দোয়ার অর্থ হলো ঈমান।

--------------------------------------------

(এটি) অর্থাৎ ঈমান। (ফরজসমূহ) অর্থ নির্ধারিত আমলসমূহ। (বিধিবিধান) অর্থ ধর্মীয় আকিদাহ। (সীমাসমূহ) অর্থ নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ। (সুন্নাতসমূহ) অর্থ মুস্তাহাব বিষয়সমূহ। (পূর্ণ করল) অর্থাৎ সে সবগুলি যথাযথভাবে আদায় করল। (আমি তা ব্যাখ্যা করব) অর্থাৎ আমি তোমাদের কাছে এমনভাবে পরিষ্কার করে বর্ণনা করব যা প্রত্যেকে বুঝতে পারে। (যাতে আমার হৃদয় প্রশান্ত হয়) অর্থাৎ যাতে আমার ইয়াকীন বৃদ্ধি পায়। (আমরা কিছুক্ষণ ঈমান আনি) অর্থাৎ আমরা কিছুক্ষণ আল্লাহর জিকির করি এবং কল্যাণকর বিষয়, পরকালীন বিষয় ও দ্বীনের বিধানাবলি নিয়ে আলোচনা করি, যা আমাদের ঈমান ও ইয়াকীন বৃদ্ধি করবে। যাকে এ কথা বলা হয়েছিল তিনি হলেন আসওয়াদ ইবনে হিলাল আল-মুহারিবি। (ইয়াকীন) অর্থ জ্ঞান এবং সন্দেহের দূরীকরণ। (তাকওয়া) অর্থ ভীতি; এর হাকীকত বা বাস্তবতা হলো নিজেকে এমন কাজ থেকে রক্ষা করা যার কারণে সে শাস্তির যোগ্য হয়, যেমন ইবাদত ত্যাগ করা বা গুনাহের কাজ করা। (খটকা সৃষ্টি হওয়া) অর্থ যা অন্তরে উদিত হয় কিন্তু মন তাতে প্রশান্ত হয় না এবং যাতে গুনাহের ভয় থাকে। (এবং তাকে) অর্থাৎ নূহ (আলাইহিস সালাম)-কে। (শরীয়ত ও পথ) 'শিরআ' ও 'শরীয়ত' একই অর্থবোধক, আর তা হলো আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য দ্বীনের যেসব বিধান প্রবর্তন করেছেন; আর 'মিনহাজ' অর্থ পথ। (তোমাদের ঈমান) ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) উল্লেখিত আয়াতের মাধ্যমে 'দোয়া' শব্দের ব্যাখ্যা 'ঈমান' দ্বারা করেছেন। (পরোয়া করা) অর্থ গুরুত্ব দেওয়া বা গ্রাহ্য করা; 'সে তার পরোয়া করেনি' অর্থ সে তাকে কোনো ওজন বা মূল্য দেয়নি।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١٢)
8 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى قَالَ: أَخْبَرَنَا حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ: عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ:

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: (بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالْحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ).

[ر: 4243].

--------------------------------------------

أخرجه مسلم في الإيمان، باب: أركان الإسلام ودعائمه العظام، رقم: 16.

(بني الإسلام على خمس) أعمال الإسلام خمس، هي له كالدعائم بالنسبة للبناء، لا وجود له إلا بها.
৮ - উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হানযালা ইবনে আবু সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: ইকরিমাহ ইবনে খালিদ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর রাখা হয়েছে: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, হজ করা এবং রমযানের রোযা রাখা)।

[হাদীস নং: ৪২৪৩]।

--------------------------------------------

মুসলিম এটি ‘ঈমান’ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: ইসলামের রুকনসমূহ এবং এর সুমহান স্তম্ভসমূহ, নম্বর: ১৬।

(ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি) ইসলামের আমলসমূহ পাঁচটি, যা ইমারতের খুঁটি বা স্তম্ভের ন্যায়, যা ব্যতীত এর কোনো অস্তিত্ব নেই।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌2 - بَاب: أُمُورِ الْإِيمَانِ

وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَالْمَلائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ} /البقرة: 177/.

{قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ} /المؤمنون: 1/ الآية.

--------------------------------------------

(البر) اسم جامع لكل خير. (تولوا وجوهكم) تتجهوا في صلاتكم. (الكتاب) الكتب المنزلة من الله تعالى. (آتى المال على حبه) أعطى المال وأنفقه، مع حبه له وتعلقه به. (ابن السبيل) المسافر المنقطع في غير بلده. (وفي الرقاب) إعتاق العبيد وفك الأسرى. (الباسأء) الفقر والشدة. (الضراء) المرض وما شابهه. (حين البأس) وقت شدة القتال في سبيل الله تعالى. ومناسبة الآية هنا: أنها جمعه وجوه الخير من العقيدة ومكارم الأخلاق والجهاد في سبيل الله تعالى، ونصت على أن من جمع هذه الصفات هو التقي الفائز عند الله عز وجل، وهذا يعني: أن الإيمان الذي فيه الفلاح والنجاة، هو ما اشتمل على هذه الخصال. (أفلح) دخل في الفلاح، وهو الظفر بالمراد من الخير. (الآية) أي الآيات بعدها، وفيها تفصيل خصال المؤمنين.
২ - পরিচ্ছেদ: ঈমানের বিষয়সমূহ

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {পুণ্য কেবল পূর্ব বা পশ্চিম দিকে মুখ ফেরানোর মধ্যে নেই; কিন্তু পুণ্য তার, যে আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ এবং নবীগণের প্রতি ঈমান এনেছে; আর সম্পদের প্রতি মহব্বত থাকা সত্ত্বেও আত্মীয়স্বজন, এতিম, মিসকিন, মুসাফির, যাঞ্চাকারী এবং দাসমুক্তির জন্য ধন-সম্পদ ব্যয় করেছে; এবং সালাত কায়েম করেছে ও জাকাত প্রদান করেছে; আর যারা অঙ্গীকার করার পর নিজেদের অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং অর্থসংকটে, দুঃখ-কষ্টে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য ধারণ করে। তারাই সত্যাশ্রয়ী এবং তারাই মুত্তাকি।} /আল-বাকারা: ১৭৭/।

{মুমিনগণ অবশ্যই সফলকাম হয়েছে} /আল-মুমিনুন: ১/ পরবর্তী আয়াতসমূহ।

--------------------------------------------

(আল-বির বা পুণ্য) এটি একটি ব্যাপক শব্দ যা সকল প্রকার কল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত করে। (তোমাদের মুখ ফেরাবে) অর্থাৎ তোমাদের সালাতে যেদিকে মুখ করো। (কিতাব) মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কিতাবসমূহ। (সম্পদের প্রতি মহব্বত থাকা সত্ত্বেও সম্পদ দান করা) সম্পদের প্রতি ভালোবাসা ও আসক্তি থাকা সত্ত্বেও তা প্রদান করা ও ব্যয় করা। (ইবনুস সাবিল) নিজ দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন মুসাফির। (এবং দাসমুক্তির ক্ষেত্রে) ক্রীতদাসদের মুক্তি দেওয়া এবং যুদ্ধবন্দীদের মুক্ত করা। (আল-বাসাউ) দারিদ্র্য ও কঠিন অবস্থা। (আদ-দাররাউ) রোগ-ব্যাধি ও অনুরূপ কষ্ট। (হিনাল বা’স) আল্লাহর পথে যুদ্ধের তীব্রতার সময়। এই আয়াতের এখানে প্রাসঙ্গিকতা হলো: এটি আকিদা, উন্নত চারিত্রিক গুণাবলি এবং আল্লাহর পথে জিহাদ সংক্রান্ত কল্যাণের সকল দিককে একত্রিত করেছে এবং স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে যে, যে ব্যক্তি এই গুণাবলি ধারণ করে সেই মহান আল্লাহর নিকট মুত্তাকি ও সফলকাম। এর অর্থ হলো: যে ঈমানে সফলতা ও মুক্তি রয়েছে, তা এই বৈশিষ্ট্যসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। (আফলাহা) সফলতার অন্তর্ভুক্ত হওয়া, আর তা হলো কল্যাণের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো। (আয়াত) অর্থাৎ এর পরবর্তী আয়াতসমূহ, যাতে মুমিনদের গুণাবলির বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١٢)
9 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

 

⦗ص: 13⦘

قَالَ:

(الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ).

--------------------------------------------

أخرجه مسلم في الإيمان، باب: بيان عدد شعب الإيمان وأفضلها وأدناها، رقم: 35.

(بضع) ما بين اثنين إلى عشرة. (ستون) عند مسلم (سبعون) ولا تعارض بين الروايتين، قال النووي: فإن العرب قد تذكر للشيء عددا ولا تريد في نفي ما سواه. (شعبة) خصلة، والشعبة واحدة الشعب، وهي أغصان الشجرة، وهو تشبيه للإيمان وخصاله بشجرة ذات أغصان، لا تتكامل ثمرتها إلا بتوفر كامل أغصانها. (الحياء) صفة في النفس، تحمل على فعل ما يحمد، وترك ما يذم عليه ويعاب.
৯ - আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আমির আল-আকাদী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনে বিলাল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন।

 

⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘

তিনি বলেন:

(ঈমানের ষাটের অধিক শাখা রয়েছে, আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি শাখা।)

--------------------------------------------

মুসলিম এটি ঈমান অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: ঈমানের শাখার সংখ্যা এবং এর শ্রেষ্ঠ ও নিম্নতম শাখার বর্ণনা, হাদীস নং: ৩৫।

(বিদ্'উন) যা তিন থেকে দশের মধ্যবর্তী সংখ্যা। (ষাট) মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে (সত্তর), তবে এই দুই বর্ণনার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। ইমাম নববী বলেন: আরবরা অনেক সময় কোনো জিনিসের সংখ্যা উল্লেখ করে, কিন্তু এর অতিরিক্ত সংখ্যাকে নাকচ করা তাদের উদ্দেশ্য থাকে না। (শু'বাহ) অর্থ বৈশিষ্ট্য বা গুণ; আর 'শু'বাহ' হলো 'শুআব'-এর একবচন, যার অর্থ গাছের ডালপালা। এটি ঈমান ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহকে ডালপালা বিশিষ্ট একটি বৃক্ষের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যার ফল ততক্ষণ পূর্ণতা পায় না যতক্ষণ না এর সকল ডালপালা পরিপূর্ণ হয়। (লজ্জা) আত্মার এমন একটি গুণ, যা প্রশংসনীয় কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং যা নিন্দনীয় ও ত্রুটিপূর্ণ তা বর্জন করতে পরিচালিত করে।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌3 - بَاب: الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ.
৩ - অনুচ্ছেদ: মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١٣)
10 - حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي السَّفَرِ وَإِسْمَاعِيلَ، عَنْ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:

(الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ).

قَالَ أَبُو عَبْد اللَّهِ: وَقَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ: حَدَّثَنَا دَاوُد، عَنْ عَامِرٍ قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. وَقَالَ عَبْدُ الْأَعْلَى: عَنْ دَاوُدَ عَنْ عَامِرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

[6119].

--------------------------------------------

أخرج مسلم بعضه في الإيمان، باب: بيان تفاضل الإسلام وأي أموره أفضل، رقم: 40.

(المسلم) أي الكامل الإسلام. (المهاجر) أي الحقيقي، اسم فاعل من الهجرة، وهي في الأصل: مفارقة الأهل والوطن في سبيل الله تعالى، وأريد بها هنا ترك المعاصي.
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আদম ইবন আবু ইয়াস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু’বা, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আবুস সাফার ও ইসমাঈল থেকে, তাঁরা শা’বি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:

(প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে; আর প্রকৃত মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর নিষেধ করা বিষয়গুলো ত্যাগ করে।)

আবু আবদুল্লাহ বলেন: এবং আবু মুয়াবিয়া বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ, আমের থেকে, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শ্রবণ করেছি। এবং আবদুল আলা দাউদ থেকে, তিনি আমের থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।

[৬১১৯].

--------------------------------------------

মুসলিম এর কিছু অংশ ঈমান অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর কোন বিষয়গুলো সর্বোত্তম তার বর্ণনা, নম্বর: ৪০।

(মুসলিম) অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ মুসলিম। (মুহাজির) অর্থাৎ প্রকৃত মুহাজির, যা হিজরত শব্দ থেকে এসেছে, আর হিজরত মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরিবার-পরিজন ও স্বদেশ ত্যাগ করা; তবে এখানে তা দ্বারা পাপাচার ত্যাগ করা উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌4 - بَاب: أَيُّ الْإِسْلَامِ أَفْضَلُ.
৪ - পরিচ্ছেদ: ইসলামের কোন বিষয়টি সর্বোত্তম।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١٣)
11 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقُرَشِيِّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بُرْدَةَ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى رضي الله عنه قَالَ: قَالُوا:

(يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ الْإِسْلَامِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: (مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ).

--------------------------------------------

أخرجه مسلم في الإيمان، باب: بيان تفاضل الإسلام وأي أموره أفضل، رقم 42.

(قالوا) قيل: السائل هو أبو موسى الأشعري رضي الله عنه نفسه، وقيل هو وغيره. (أي الإسلام أفضل) أي الأعمال في الإسلام أعظم أجرا وأعلى مرتبة.
১১ - সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কুরাশী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বুরদাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবু বুরদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাহাবীগণ বললেন:

(হে আল্লাহর রাসূল, ইসলামের কোন কাজ শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: (যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমানগণ নিরাপদ থাকে)।

--------------------------------------------

মুসলিম এটি ঈমান অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের বিবরণ এবং এর কোন বিষয়গুলো উত্তম, হাদিস নং ৪২।

(তারা বললেন) বলা হয়েছে: প্রশ্নকারী ছিলেন স্বয়ং আবু মুসা আল-আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু), আবার বলা হয়েছে তিনি এবং অন্যান্যরা। (ইসলামের কোনটি শ্রেষ্ঠ) অর্থাৎ ইসলামের কোন আমলগুলো সওয়াবের দিক থেকে অধিক মহান এবং মর্যাদায় সর্বোচ্চ।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌5 - بَاب: إِطْعَامُ الطَّعَامِ مِنَ الْإِسْلَامِ.
৫ - পরিচ্ছেদ: আহার করানো ইসলামের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١٣)
12 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما: أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: أَيُّ الْإِسْلَامِ خَيْرٌ؟ قَالَ:

(تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتَقْرَأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ).

[28، 5882].

--------------------------------------------

أخرجه مسلم في الإيمان، باب: بيان تفاضل الإسلام وأي أموره أفضل، رقم: 39.

(رجلا) هو أبي ذر رضي الله عنه. (أي الإسلام خير) أي أعمال الإسلام أكثر نفعا. (تقرأ السلام) تسلم.
১২ - আমাদের নিকট আমর ইবন খালেদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট লাইস বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ থেকে, তিনি আবু খাইর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন যে: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: ইসলামের কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন:

(তুমি অন্ন দান করবে এবং পরিচিত ও অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে সালাম দেবে)।

[২৮, ৫৮৮২]।

--------------------------------------------

এটি মুসলিম ঈমান অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা এবং এর কোন বিষয়গুলো সর্বাধিক উত্তম, নম্বর: ৩৯।

(এক ব্যক্তি) তিনি হলেন আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু। (ইসলামের কোন আমলটি সর্বোত্তম) অর্থাৎ ইসলামের কোন কাজগুলো অধিক উপকারী। (সালাম দেবে) অর্থাৎ সালাম প্রদান করা।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌6 - بَاب: مِنَ الْإِيمَانِ أَنْ يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ.
৬ - পরিচ্ছেদ: নিজের জন্য যা পছন্দ করে, নিজের ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١٤)
13 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَعَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:

(لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ).

--------------------------------------------

أخرجه مسلم في الإيمان، باب: الدليل على أن من خصال الإيمان أن يحب لإخيه … ، رقم: 45.

(لا يؤمن أحدكم) الإيمان الكامل. (ما يحب لنفسه) من فعال الخير.
১৩ - মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং হুসাইন আল-মু'আল্লিম থেকেও বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: কাতাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

(তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে)।

--------------------------------------------

এটি মুসলিম ঈমান অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: ঈমানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তার ভাইয়ের জন্য তা-ই ভালোবাসা … , নম্বর: ৪৫।

(তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না) অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ ঈমান। (যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে) অর্থাৎ কল্যাণকর কাজসমূহ থেকে।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١٤)
7 - بَاب: حُبُّ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْإِيمَانِ.
৭ - অনুচ্ছেদ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١٤)
14 - حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَن رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:

(فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ).

--------------------------------------------

(فوالذي نفسي بيده) أقسم بالله تعالى، الذي حياتي بيده. (أحب إليه) مقدما لديه، وعنوان ذلك الطاعة والاقتداء وترك المخالفة.
১৪ - আবুল ইয়ামান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুয যিনাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন:

(সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা ও সন্তানের চেয়ে অধিক প্রিয় হই)।

--------------------------------------------

(সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে) তিনি মহান আল্লাহর নামে শপথ করেছেন, যাঁর হাতে তাঁর জীবন। (তার নিকট অধিক প্রিয়) তাঁর নিকট অগ্রগণ্য হওয়া, আর এর নিদর্শন হলো আনুগত্য, অনুসরণ এবং বিরুদ্ধাচরণ বর্জন করা।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١٤)
15 - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم (ح). وحَدَّثَنَا آدَمُ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم:

(لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ).

--------------------------------------------

أخرجه مسلم في الإيمان، باب: وجوب محبة رسول الله صلى الله عليه وسلم أكثر من الأهل والولد والوالد، رقم: 44.
১৫ - ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে উলাইয়্যা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আব্দুল আজিজ ইবনে সুহাইব থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন (হ)। এবং আদম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: শু'বা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

(তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।)

--------------------------------------------

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন ঈমান অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: পরিবার, সন্তান ও পিতার চেয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে অধিক ভালোবাসা ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে, নম্বর: ৪৪।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌8 - بَاب: حَلَاوَةِ الْإِيمَانِ.
৮ - পরিচ্ছেদ: ঈমানের মিষ্টতা।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١٤)
16 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: (ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ: أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا، وَأَنْ يُحِبَّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ، وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ).

[12، 5694، 6542].

--------------------------------------------

أخرجه مسلم في الإيمان، باب: بيان خصال من اتصف بهن وجد حلاوة الإيمان، رقم: 43.

(وجد حلاوة الإيمان) انشرح صدره للإيمان، وتلذذ بالطاعة وتحمل المشاق في الدين، والحلاوة في اللغة مصدر حلو يحلو، وهي نقيض المرارة. (لا يحبه إلا لله) لا يقصد من حبه غرضا دنيويا. (يقذف) يرمى.
১৬ - মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: (তিনটি গুণ এমন রয়েছে, যার মধ্যে সেগুলো থাকবে সে ঈমানের মিষ্টতা লাভ করবে: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যেন তার নিকট অন্য সব কিছু থেকে অধিক প্রিয় হন, সে যেন কোনো ব্যক্তিকে কেবল আল্লাহর জন্যই ভালোবাসে এবং কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে সে যেন তদ্রূপ অপছন্দ করে যেমন সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে)।

[১২, ৫৬৯৪, ৬৫৪২]।

--------------------------------------------

মুসলিম এটি ঈমান অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: যে সকল গুণের অধিকারী হলে ঈমানের মিষ্টতা লাভ করা যায় তার বর্ণনা, নম্বর: ৪৩।

(ঈমানের মিষ্টতা লাভ করবে) ঈমানের জন্য তার বক্ষ প্রশস্ত হবে, আনুগত্যে স্বাদ লাভ করবে এবং দ্বীনের পথে কষ্ট সহ্য করবে। মিষ্টতা (হালাওয়াহ) আভিধানিক শব্দমূল অনুযায়ী তিক্ততার বিপরীত। (কেবল আল্লাহর জন্যই তাকে ভালোবাসবে) তার এই ভালোবাসার মাধ্যমে পার্থিব কোনো উদ্দেশ্য থাকবে না। (নিক্ষিপ্ত হওয়া) ফেলে দেওয়া বা নিক্ষেপ করা।
(খণ্ড: ١) সহীহুল বুখারী - ত আল-বুগা (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌9 - بَاب: عَلَامَةُ الْإِيمَانِ حُبُّ الْأَنْصَارِ.
৯ - পরিচ্ছেদ: আনসারদের প্রতি ভালোবাসা ঈমানের নিদর্শন।