(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: -)
الشذا الفياح من علوم ابن الصلاح   (برهان الدين الأبناسي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الشذا الفياح من علوم ابن الصلاح رحمه الله تعالى

المؤلف: إبراهيم بن موسى بن أيوب، برهان الدين أبو إسحاق الأبناسي، ثم القاهري، الشافعي (ت 802هـ)

المحقق: صلاح فتحي هلل

الناشر: مكتبة الرشد

الطبعة: الطبعة الأولى 1418هـ 1998م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আশ-শাযাল ফাইয়্যাহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ   (বুরহানুদ্দীন আল-আবনাসী)

বিভাগ: হাদীস শাস্ত্র


গ্রন্থ: আশ-শাযাল ফাইয়্যাহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ রহমাতুল্লাহি তাআলা

লেখক: ইব্রাহীম বিন মূসা বিন আইয়ুব، বুরহানুদ্দীন আবু ইসহাক আল-আবনাসী، অতঃপর আল-কাহিরাভি، আশ-শাফেয়ী (মৃত্যু ৮০২ হিজরি)

গবেষক: সালাহ ফাতহি হালাল

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ

সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪১৮ হিজরি ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
‌‌المجلد الأول

‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

اللهم صل على سيدنا محمد وآله.

الحمد لله الذي ألهمنا رشدنا وصحح مقصدنا وحسن أعمالنا ولطف بضعيفنا وحمل منقطعنا وأرسل ألطافه فاتصلت بنا ووصل نعمه فرفع بها شأننا واشتد بها بأسنا وما شد سندنا فمن وقف ببابه لا يعضل ومن تمسك بسلسلة عزه فهو العزيز الذي لا يجهل ومن تغرب في محبته اشتهر وعن التدليس انفصل ومن تعلق بعنعنة الاعتبار والشواهد مع المتابعات والاندراج تحت القواعد فقد عاذ بالله من المنكر والاضطراب والعلل ومن مقلوب الأعمال إلى الوضع والخلل فنسأله القبول في القول والعمل.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له شهادة تبلغنا الأمل.

وأشهد أن سيدنا ونبينا محمدا صلى الله عليه وسلم خير مبعوث وأجل.

صلى الله عليه وعلى آله وصحبه صلاة دائمة بدوام الأزل.

وبعد.

فإن علم الحديث من أجل العلوم وقد ذهب فلم يبق منه غير الرشق1 فأفلت شموعه ودرست دروبه وكان من حق كل لبيب وفقيه أن يصرف عمره فيه فهو علم السلف والخلف ومن فضل غيره فقد صدف وأحسن تصنيف فيه وأبدع وأكثر فائدة وأنفع علوم الحديث للشيخ العلامة الحافظ تقي الدين أبي عمرو بن الصلاح فإنه فتح مغلق كنوزه وحل مشكل رموزه وجعل ذلك في خمسة وستين نوعا النوع الأول معرفة الحديث الصحيح من الحديث والنوع الثاني: معرفة الحسن منه إلى آخره مما ستقف عليها إن شاء الله تعالى وقد ولع به العلماء من زمانه إلى هذا الزمان خصوصا أهل هذا الشأن.

--------------------------------------------

1 صوت القلم إذا كتب به. كما في "اللسان" و"المعجم الوسيط".
প্রথম খণ্ড

ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আল্লাহ, আপনি আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন, আমাদের উদ্দেশ্যকে সঠিক করেছেন, আমাদের আমলসমূহকে সুন্দর করেছেন, আমাদের দুর্বলতার প্রতি দয়া করেছেন, আমাদের ছিন্নমূলদের আশ্রয় দিয়েছেন এবং তাঁর করুণাসমূহ পাঠিয়েছেন যা আমাদের নিকট পৌঁছেছে। তিনি তাঁর নেয়ামতসমূহকে অবিচ্ছিন্ন করেছেন যার মাধ্যমে আমাদের মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন এবং আমাদের শক্তিকে প্রবল করেছেন ও আমাদের সনদকে সুদৃঢ় করেছেন। যে তাঁর দরবারে দাঁড়িয়েছে সে বিমুখ হয়নি, আর যে তাঁর সম্মানের রজ্জুকে আঁকড়ে ধরেছে সে-ই এমন সম্মানিত যাকে অবজ্ঞা করা যায় না। যে তাঁর ভালোবাসায় মগ্ন হয়েছে সে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং প্রতারণা (তাদলিস) থেকে মুক্ত হয়েছে। আর যে ব্যক্তি বিবেচনা (ই’তিবার), সাক্ষী (শাওয়াহিদ) ও সহায়ক বর্ণনার (মুতাবায়াত) এবং মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে, সে নিশ্চয়ই মুনকার (অস্বীকৃত), ইজতিরাব (অস্থিরতা) ও ইল্লাত (ত্রুটি) থেকে আল্লাহর আশ্রয় লাভ করেছে এবং আমলের বিকৃতি (মাকলুব) থেকে বানোয়াট (ওয়াদ’) ও ত্রুটির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। সুতরাং আমরা তাঁর নিকট কথা ও কাজে কবুলিয়াত প্রার্থনা করছি।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন সাক্ষ্য যা আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিতদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও মহান।

আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর, এমন রহমত যা অনাদি কাল থেকে অনন্তকাল স্থায়ী।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই হাদিস শাস্ত্র অন্যতম মহান একটি শাস্ত্র। বর্তমানে এর চর্চা সংকুচিত হয়ে কেবল কলমের খসখস আওয়াজই১ অবশিষ্ট আছে; এর প্রদীপসমূহ নিভে গিয়েছে এবং এর পথসমূহ বিলুপ্ত হয়েছে। অথচ প্রত্যেক বুদ্ধিমান ও ফকিহ ব্যক্তির কর্তব্য ছিল এতেই তার জীবন অতিবাহিত করা। কেননা এটি পূর্বসূরি (সালাফ) ও উত্তরসূরিদের (খালাফ) শাস্ত্র। যে ব্যক্তি অন্য বিষয়কে এর ওপর প্রাধান্য দিল, সে মূলত সত্য বিমুখ হলো। এ বিষয়ে সর্বাধিক সুন্দর, উদ্ভাবনী, অধিক ফায়দাপূর্ণ ও উপকারী গ্রন্থ হলো শাইখ আল্লামা হাফিজ তাকিউদ্দিন আবু আমর ইবনুস সালাহ-এর ‘উলুমুল হাদিস’। তিনি এর রুদ্ধ কোষাগারসমূহ উন্মুক্ত করেছেন এবং এর জটিল রহস্যসমূহের সমাধান করেছেন। তিনি এটিকে পঁয়ষট্টিটি প্রকারে বিন্যস্ত করেছেন। প্রথম প্রকার হলো সহিহ হাদিস চেনা, দ্বিতীয় প্রকার হলো হাসান হাদিস চেনা—এভাবে শেষ পর্যন্ত যা আপনি ইনশাআল্লাহ অবগত হবেন। তাঁর সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আলিমগণ, বিশেষ করে এই শাস্ত্রের বোদ্ধাগণ এই গ্রন্থের প্রতি বিশেষভাবে অনুরক্ত হয়েছেন।

--------------------------------------------

১. কলম দিয়ে লেখার সময় যে শব্দ হয়। যেমনটি 'লিসান' এবং 'আল-মু’জামুল ওয়াসিত'-এ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৬৪)
فمنهم من اختصره ومنهم من اعترض عليه ومنهم من نظمه وكلا بسابقة فضله يعترف ومن بحر علمه يغترف وكنت قديما قرأته على شيخنا الحافظ علاء الدين مغلطاي وأجازني به وكذا لك أجازني به الحافظ شيخنا صلاح الدين أبو سعيد خليل بن كيكلدي في رحلتي الأولى إلى الشام بالقدس الشريف وكذلك أجازني به شيخنا الحافظ أبو محمد عبد الله بن محمد بن أبي بكر بن خليل المكي القرشي بالقاهرة قالا أخبرنا بجميعه محمد بن يوسف بن المهتار الدمشقي قال: أنا به مؤلفه قراءة عليه في الخامسة من عمري والمؤلف هو الحافظ تقي الدين أبو عمرو عثمان بن عبد الرحمن بن عثمان بن موسى ابن أبي نصر النصري الشهرزوري الشرخاني بفتح الشين المثلثة والراء والخاء المعجمة وبعد الألف نون والنصري نسبة إلى جده أبي نصر بفتح النون وسكون الصاد المهملة وبعد راء مولده سنة سبع وسبعين وخمسمائة بشرخان قرية من أعمال إربل قريبة من شهرزور وتوفي صبح نهار الأربعاء وصلي عليه بعد الظهر من النهار المذكور وهو الخامس والعشرون من شهر ربيع الآخر سنة ثلاث وأربعين وستمائة ودفن بمقابر الصوفية بدمشق المحروسة رحمه الله تعالى.

ثم إني نظرت فوجدت أحسن شيء عليه كلام الحافظ زين الدين العراقي أمتعنا الله تعالى به نظمه ألفية وشرحها في مجلدة وله عليه نكت في مجلدة لطيفة1 ذكر فيها اعتراضات وأجوبة عن المصنف ورد على من اعترض عليه فلخصت من كلامه وكلام غيره لنفسي جملة جمة وأمورا مهمة2 وضممت

--------------------------------------------

1 المراد كتاب العراقي: "التقيد والإيضاح لما أطلق وأغلق من كتاب الصلاح" منه نسخة خطية بدار الكتب المصرية "36 - مصطلح حديث" ويشار إليه أيضا: "بالنكت علي ابن صلاح" للعراقي "راجع: فتح الباري 5/87، وهو مطبوع متداول باسم: التقييد والإيضاح شرح "كذا" مقدمة ابن الصلاح" والله المستعان.

2 وهذا يخالف صنيع ابن حجر في "النكت علي ابن الصلاح" فالمصنف - الأبناسي رحمه الله لخص كلام العراقي واستوعبه وضم إليه فوائد من عنده بينما ابن حجر علي العراقي وتعقبه في أشياء من كلامه راجع "النكت علي ابن الصلاح" لابن حجر "1/133 - 171" من دراسة الشيخ ربيع بن هادي حفظه الله.
তাদের মধ্যে কেউ এটাকে সংক্ষেপ করেছেন, কেউ এর ওপর আপত্তি জানিয়েছেন, আবার কেউ এটাকে কাব্যাকারে সাজিয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই তার (মূল লেখকের) পূর্ববর্তী শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দেন এবং তার জ্ঞানের সাগর থেকে জ্ঞান আহরণ করেন। আমি প্রাচীনকালে এটি আমাদের শায়খ হাফেজ আলাউদ্দীন মুগলাতাই-এর কাছে পড়েছি এবং তিনি আমাকে এর অনুমতি (ইজাযাহ) দিয়েছেন। একইভাবে হাফেজ আমাদের শায়খ সালাহুদ্দীন আবু সাঈদ খলিল ইবনে কাইকালদিও কুদসে শরীফে সিরিয়া অভিমুখে আমার প্রথম সফরে আমাকে এর অনুমতি দিয়েছেন। অনুরূপভাবে কায়রোতে আমাদের শায়খ হাফেজ আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনে খলিল আল-মাক্কি আল-কুরাশিও আমাকে এর অনুমতি দিয়েছেন। তারা উভয়েই বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আল-মুহতার আদ-দিমাশকি আমাদের এটি পূর্ণাঙ্গভাবে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন: এর রচয়িতা যখন এটি পাঠ করছিলেন তখন আমি আমার জীবনের পঞ্চম বছরে তা শুনেছিলাম। গ্রন্থকার হলেন হাফেজ তাকিউদ্দীন আবু আমর উসমান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে উসমান ইবনে মুসা ইবনে আবি নাসর আন-নাসরি আশ-শাহরাজুরি আশ-শারখানি। 'শারখানি' শব্দটি শীন (যবরযুক্ত), রা, খ (নুফতাহযুক্ত) এবং আলিফের পর নুন সহকারে। 'নাসরি' শব্দটি তার দাদা আবু নাসরের সাথে সম্পর্কিত, যা নুন (যবরযুক্ত), সাদ (সাকিনযুক্ত) এবং এরপর রা সহকারে। তার জন্ম ৫৭৭ হিজরি সনে শাহরাজুরের নিকটবর্তী ইরবিলের আওতাধীন শারখান নামক গ্রামে। তিনি ৬৪৩ হিজরির রবিউস সানি মাসের পঁচিশ তারিখ বুধবার ভোরে ইন্তেকাল করেন এবং উক্ত দিন যোহরের পর তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। তাকে সংরক্ষিত দামেস্কের সুফিদের গোরস্তানে দাফন করা হয়, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি দয়া করুন।

অতঃপর আমি লক্ষ্য করলাম এবং দেখলাম যে, এই বিষয়ের ওপর হাফেজ যাইনুদ্দীন ইরাকি-এর বক্তব্য সবচেয়ে সুন্দর—আল্লাহ তাআলা আমাদের তার মাধ্যমে উপকৃত করুন। তিনি একে 'আলফিয়াহ' আকারে পদ্যবদ্ধ করেছেন এবং এক খণ্ডে তার ব্যাখ্যা করেছেন। এছাড়া এই গ্রন্থের ওপর তার এক খণ্ডের একটি চমৎকার টিকা (নুকাত) রয়েছে, যাতে তিনি গ্রন্থকারের ওপর করা আপত্তি ও তার উত্তরসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং যারা তার ওপর আপত্তি করেছিলেন তাদের খণ্ডন করেছেন। সুতরাং আমি নিজের জন্য তার কথা এবং অন্যদের কথা থেকে প্রচুর পরিমাণ সারাংশ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী সংক্ষেপ করেছি এবং যুক্ত করেছি

--------------------------------------------

১ এখানে ইরাকি-এর কিতাব: 'আত-তাকয়িদ ওয়াল ঈদাহ লিমা উতলিকা ওয়া উগলিকা মিন কিতাবিস সালাহ' উদ্দেশ্য। এর একটি পাণ্ডুলিপি মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ সংরক্ষিত আছে (৩৬ - মুসতালাহুল হাদিস)। একে ইরাকি-এর 'আন-নুকাত আলা ইবনিস সালাহ' নামেও অভিহিত করা হয়। (দেখুন: ফাতহুল বারি ৫/৮৭)। এটি বর্তমানে 'আল-তাকয়িদ ওয়াল ঈদাহ শারহ মুকাদ্দিমাহ ইবনিস সালাহ' নামে মুদ্রিত ও প্রচলিত। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

২ এটি ইবনে হাজারের 'আন-নুকাত আলা ইবনিস সালাহ'-এর পদ্ধতির বিপরীত। কারণ গ্রন্থকার—আল-আবনাাসি (রাহিমাহুল্লাহ) ইরাকি-এর বক্তব্য সংক্ষেপ করেছেন, তা পুরোপুরি গ্রহণ করেছেন এবং নিজের পক্ষ থেকে কিছু তাত্ত্বিক ফায়দা যোগ করেছেন। পক্ষান্তরে ইবনে হাজার ইরাকি-এর ওপর কাজ করেছেন এবং তার বক্তব্যের কিছু বিষয়ে সমালোচনা ও পর্যালোচনা করেছেন। দেখুন: শেখ রবি ইবনে হাদি (হাফিজাহুল্লাহ)-এর গবেষণা সম্পাদিত ইবনে হাজারের 'আন-নুকাত আলা ইবনিস সালাহ' (১/১৩৩-১৭১)।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৬৫)
إلى ذلك فوائد حديثية ومهمات فقهية فأذكر أولا كلام المصنف بنصه من أول النوع أو المسألة إلى آخر كلامه غالبا ثم أقول في آخره انتهى ثم أردف ذلك بكلام الحافظ زين الدين1 أو كلام غيره إن وجد أو ما يسره الله تعالى من فضله وأستوفي كلام المؤلف نوعا نوعا كما رتبه ولا أغادر شيئا من أنواعه ولا من غالب كلام الحافظ زين الدين بل استوعب ما في الكتب الثلاثة2 من غير تكرار مع ما أضمه إلى ذلك من كلام غيرهما وأسأل الله العظيم أن يجعله خالصا لوجهه وسميته: "الشذى الفياح من علوم ابن الصلاح" نفع الله به كاتبه وقارئه وكل من نظر فيه والحمد لله وحده وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.

--------------------------------------------

1 يعني: العراقي رحمه الله.

2 يعني كتاب ابن الصلح، و"التقيد" و "شرح اللفية" كلاهما للعراقي.
এর সাথে হাদীস শাস্ত্রীয় উপকারিতা এবং ফিকহ শাস্ত্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ রয়েছে। তাই আমি প্রথমে গ্রন্থকারের বক্তব্য হুবহু তার মূলপাঠসহ কোনো প্রকার বা মাসআলার শুরু থেকে তার বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত সাধারণত উল্লেখ করব, এরপর তার শেষে বলব 'সমাপ্ত'। তারপর আমি তার সাথে হাফেজ যাইনুদ্দীন (১)-এর বক্তব্য অথবা অন্য কারো বক্তব্য যদি পাওয়া যায় তা যুক্ত করব, কিংবা মহান আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে যা সহজ করে দেন তা উল্লেখ করব। আর আমি লেখকের বক্তব্যসমূহ তাঁর বিন্যাস অনুযায়ী প্রতিটি প্রকার পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করব এবং তাঁর কোনো প্রকার কিংবা হাফেজ যাইনুদ্দীনের বক্তব্যের অধিকাংশ বাদ দেব না। বরং আমি তিনটি কিতাবে (২) যা আছে তা পুনরাবৃত্তি ছাড়াই অন্তর্ভুক্ত করব, পাশাপাশি অন্যদের বক্তব্য থেকেও যা আমি এর সাথে যুক্ত করব। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আমি এর নাম রেখেছি: "আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলুমি ইবনিস সালাহ"। আল্লাহ এর দ্বারা এর লেখক, পাঠক এবং যে কেউ এতে দৃষ্টিপাত করবে তাকে উপকৃত করুন। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ: আল-ইরাকী (রহিমাহুল্লাহ)।

২ অর্থাৎ: ইবনুস সালাহর কিতাব, এবং "আত-তাকয়ীদ" ও "শারহুল আলফিয়্যাহ", এই উভয়টিই আল-ইরাকীর।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৬৬)
‌‌النوع الأول: من أنواع علوم الحديث معرفة الصيحيح من الحديث

…

النوع الأول من أنواع علوم الحديث معرفة الصحيح من الحديث

أعلم علمك الله وإياي أن الحديث عند أهله ينقسم إلى صحيح وحسن وضعيف.

أما الحديث الصحيح فهو الحديث المسند الذي يتصل إسناده بنقل العدل الضابط عن العدل الضابط إلى منتهاه ولا يكون شاذا ولا معللا وفي هذه الأوصاف احتراز عن المرسل والمنقطع والمعضل والشاذ وما فيه علة قادحة وما في راويه نوع جرح.

وهذه أنواع يأتي ذكرها إن شاء الله تعالى1.

فهذا هو الحديث الذي يحكم له بالصحة بلا خلاف بين أهل الحديث وقد يختلفون في صحة بعض الأحاديث لاختلافهم في وجود هذه الأوصاف فيه أو لاختلافهم في اشتراط بعض هذه الأوصاف كما في المرسل ومتى قالوا هذا حديث صحيح فمعناه أنه اتصل سنده مع سائر الأوصاف المذكورة وليس من شرطه أن يكون مقطوعا به في نفس الأمر إذ منه ما ينفرد بروايته عدل واحد وليس من الأخبار التي "أجتمعت2" الأمة على تلقيها بالقبول وكذلك إذا قالوا في حديث إنه غير صحيح فليس ذلك قطعا بأنه كذب في نفس الأمر إذ قد يكون صدقا في نفس الأمر وإنما المراد به إنه لم يصح إسناده على الشرط المذكور انتهى.

--------------------------------------------

1 في ع: "تبارك وتعالي".

2 في ش، ع: "أجمعت".
প্রথম প্রকার: হাদিস বিজ্ঞানের প্রকারভেদসমূহের মধ্যে সহীহ হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান

...

হাদিস বিজ্ঞানের প্রকারভেদসমূহের মধ্যে প্রথম প্রকার হলো সহীহ হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান।

জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে ও আমাকে জ্ঞান দান করুন—হাদিস বিশারদদের নিকট হাদিস তিন ভাগে বিভক্ত: সহীহ, হাসান ও যঈফ।

সহীহ হাদিস হলো সেই মুসনাদ হাদিস, যার সনদ একজন ন্যায়পরায়ণ ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (দ্বাবিত) বর্ণনাকারী কর্তৃক অনুরূপ একজন ন্যায়পরায়ণ ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন বর্ণনাকারী থেকে শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং তা শায (বিচ্যুৎ) বা মুআল্লাল (ত্রুটিপূর্ণ) নয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মাধ্যমে মুরসাল, মুনকাতি, মু’দাল, শায, এবং যাতে দোষণীয় ত্রুটি রয়েছে কিংবা যার বর্ণনাকারীর মধ্যে কোনো ধরনের সমালোচনা (জারহ) রয়েছে, সেগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এগুলো এমন কিছু প্রকারভেদ যা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আলোচনা করা হবে।১

এটিই সেই হাদিস যা হাদিস বিশেষজ্ঞদের নিকট কোনো মতভেদ ছাড়াই সহীহ হিসেবে গণ্য হয়। তবে তারা কোনো কোনো হাদিসের সহীহ হওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন; কারণ সেই হাদিসে উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান আছে কি নেই—সে ব্যাপারে তাদের মতভেদ থাকতে পারে, অথবা উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্য থেকে কোনোটিকে শর্ত হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে তাদের মতপার্থক্য থাকতে পারে, যেমনটি মুরসাল হাদিসের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তারা যখন বলেন "এটি একটি সহীহ হাদিস", তখন এর অর্থ হলো এর সনদটি উল্লিখিত অন্যান্য সকল বৈশিষ্ট্যের সাথে নিরবচ্ছিন্নভাবে যুক্ত; তবে বাস্তব ক্ষেত্রে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে তেমন হতে হবে—এমনটি শর্ত নয়। কারণ এর মধ্যে এমন হাদিসও রয়েছে যা একক কোনো ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন এবং তা এমন সংবাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যা গ্রহণ করার ব্যাপারে উম্মত ঐকমত্য পোষণ করেছে।২ একইভাবে তারা যখন কোনো হাদিস সম্পর্কে বলেন যে "এটি সহীহ নয়", তখন তার অর্থ এই নয় যে এটি বাস্তব ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই মিথ্যা; কারণ এটি বাস্তবে সত্যও হতে পারে। বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে, উল্লিখিত শর্ত অনুযায়ী এর সনদটি সহীহ হিসেবে প্রমাণিত হয়নি। সমাপ্ত।

--------------------------------------------

১ 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তাবারাকা ওয়া তাআলা"।

২ 'শীন' ও 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "ঐকমত্য পোষণ করেছে"।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৬৭)
اعترض عليه بأمور

الأول: أنه قدم الدعاء لغيره على الدعاء لنفسه ففي الترمذي يرفعه إذا دعا أحدكم فليبدأ بنفسه فكان ينبغي له أن يقول علمنا الله وإياك.

وجوابه: أن الذي في الترمذي إنما هو من فعله لا من قوله خرج ذلك من حديث أبي بن كعب: "كان صلي الله عليه وسلم إذا ذكر أحدا فدعا له بدأ بنفسه" ثم قال: حسن غريب صحيح.

ولفظ أبي داود "كان صلي الله عليه وسلم إذا دعا بدأ بنفسه" وقال: رحمة الله علينا وعلى موسى وإذا لم يكن من قوله فهو مقيد بما إذا ذكر نبيا من الأنبياء فيبدأ بنفسه ففي مسلم من حديث أبي في قصة موسى مع الخضر وكان إذا ذكر أحدا من الأنبياء بدأ بنفسه رحمة الله علينا وعلى أخي كذا رحمة الله علينا الحديث وقد دعا صلي الله عليه وسلم لبعض الأنبياء ولم يذكر نفسه معه لقوله صلي الله عليه وسلم "يرحم الله لوطا لقد كان يأوي إلى ركن شديد" متفق1 عليه من حديث أبي هريرة وفي الصحيحين من حديث ابن مسعود "يرحم الله موسى لقد أوذي بأكثر من هذا فصبر" وقد دعا صلي الله عليه وسلم لغير الأنبياء ولم يذكر نفسه ففي البخاري في قصة زمزم عن ابن عباس يرحم الله أم إسماعيل لو تركت زمزم أو لم تغترف من الماء لكانت زمزم عينا معينا وفي البخاري من حديث عائشة رضي الله عنها أنه صلي الله عليه وسلم سمع عبادة بن بسر يقرأ سورة بالليل فقال "يرحمه الله" وفيه من حديث سلمة بن الأكوع "من السائق" قالوا عامر قال: "يرحمه الله".

الثاني: أنه قسم الحديث إلى صحيح وحسن وضعيف وأكثر المحدثين يسقط الحسن.

وجوابه: أنه ذكره بعد ذلك فقال من أهل الحديث من يجعل الحسن مندرجا في الصحيح لكونه يحتج به مع أن الخطابي قسمه إلى الثلاثة ونقله عن أهل

--------------------------------------------

1 بياض في خط وكتب الناسخ فوقه "صح" كأنه يشير إلي عدم ورود هذا اللفظة في الأصل الذي نسخ منه مع تفطنه لذالك.
তার ওপর বেশ কিছু বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে:

প্রথমত: তিনি নিজের জন্য দোয়ার আগে অন্যের জন্য দোয়া করেছেন। অথচ তিরমিজিতে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, "তোমাদের কেউ যখন দোয়া করে, সে যেন নিজের মাধ্যমেই শুরু করে।" সুতরাং তাঁর উচিত ছিল এভাবে বলা, "আল্লাহ আমাদের এবং আপনাকে ইলম দান করুন।"

এর উত্তর হলো: তিরমিজিতে যা বর্ণিত হয়েছে তা তাঁর (রাসূলুল্লাহর) আমল থেকে প্রমাণিত, তাঁর বক্তব্য থেকে নয়। এটি উবাই ইবনে কাবের হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাউকে স্মরণ করতেন এবং তার জন্য দোয়া করতেন, তখন নিজের মাধ্যমেই শুরু করতেন।" এরপর তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: হাসান গরিব সহিহ।

আবু দাউদের শব্দ হলো, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দোয়া করতেন তখন নিজের মাধ্যমে শুরু করতেন" এবং বলতেন: "আল্লাহর রহমত আমাদের ওপর এবং মূসার ওপর বর্ষিত হোক।" যদি এটি তাঁর বক্তব্য থেকে প্রমাণিত না হয়, তবে তা কোনো নবীর কথা উল্লেখ করার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট—সেক্ষেত্রে তিনি নিজের মাধ্যমে শুরু করতেন। মুসলিমে উবাই (রা.)-এর হাদিসে মূসা ও খিজিরের ঘটনায় এসেছে: "তিনি যখনই কোনো নবীর কথা উল্লেখ করতেন, নিজের মাধ্যমে শুরু করে বলতেন—আল্লাহর রহমত আমাদের ওপর এবং আমার অমুক ভাইয়ের ওপর বর্ষিত হোক, আল্লাহর রহমত আমাদের ওপর..." (পুরো হাদিস)। আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের কথা উল্লেখ না করেই কোনো কোনো নবীর জন্য দোয়া করেছেন, যেমন তিনি বলেছেন: "আল্লাহ লুত (আ.)-এর ওপর রহম করুন, তিনি এক সুদৃঢ় আশ্রয়ের আকাঙ্ক্ষা করতেন।" এটি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত মুত্তাফাকুন আলাইহি¹ হাদিস। সহিহাইনে ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত: "আল্লাহ মূসা (আ.)-এর ওপর রহম করুন, তাঁকে এর চেয়েও বেশি কষ্ট দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি সবর করেছিলেন।" আবার তিনি নবীদের বাইরে অন্য কারো জন্যও নিজের নাম উল্লেখ না করে দোয়া করেছেন। যেমন বুখারিতে যমযমের ঘটনায় ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: "আল্লাহ ইসমাইলের মায়ের ওপর রহম করুন, যদি তিনি যমযমকে ছেড়ে দিতেন অথবা পানি তুলে না নিতেন, তবে যমযম একটি প্রবহমান ঝরনা হতো।" বুখারিতে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে যে, তিনি ইবাদাহ ইবনে বুসরকে রাতে সূরা তিলাওয়াত করতে শুনে বললেন: "আল্লাহ তার ওপর রহম করুন।" আবার তাতে সালামা ইবনে আকওয়া (রা.)-এর হাদিসে আছে: "চালক কে?" তারা বলল, "আমির।" তিনি বললেন: "আল্লাহ তার ওপর রহম করুন।"

দ্বিতীয়ত: তিনি হাদিসকে সহিহ, হাসান ও জয়িফ—এই তিন ভাগে ভাগ করেছেন; অথচ অধিকাংশ মুহাদ্দিস 'হাসান' বিভাগটি বাদ দিয়ে থাকেন।

এর উত্তর হলো: তিনি পরবর্তীতে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, মুহাদ্দিসদের মধ্যে কেউ কেউ হাসানকে সহিহর অন্তর্ভুক্ত করেন যেহেতু এটি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। অথচ খাত্তাবি একে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং ইলমওয়ালাদের থেকে তা বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

১ পাণ্ডুলিপিতে একটি শূন্যস্থান ছিল এবং লিপিকার তার ওপরে "সহিহ" লিখেছেন; যেন তিনি এর মাধ্যমে মূল পাণ্ডুলিপিতে এই শব্দের অনুপস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যদিও তিনি বিষয়টি লক্ষ্য করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৬৮)
الحديث ثم إن ذكر الحسن موجود في كلام الشافعي والبخاري وغيرهما

الثالث: أن قوله في حد الصحيح هو المسند الذي يتصل إسناده إلى آخر كلامه يرد عليه المرسل فإن من يقبله لا يشترط إسناده.

وجوابه: في قوله بعد ذلك وقد يختلفون في صحة بعض الأحاديث لكذا وكذا كما في المرسل.

الرابع: ما أورده الشيخ تقي الدين بن دقيق العيد في الاقتراح أن سلامته من الشذوذ والعلة إنما شرطه المحدثون قال: وفيه نظر على مقتضى نظر الفقهاء فإن كثيرا من علل المحدثين لا تجري على أصول الفقهاء وشرط الحد أن يكون جامعا مانعا.

وجوابه أن قول المصنف عند أهل الحديث يخرج نظر الفقهاء.

الخامس: قوله بلا خلاف أي إذا وجدت فيه هذه الشروط عند المحدثين فيندفع بالمحدثين اعتراض من أورد شرط العدد كالشهادة كما حكاه الحازمي عن بعض متأخري المعتزلة وأشار إليه البيهقي في رسالته إلى الشيخ أبي محمد الجويني قال: له فيها رأيت في الفصول التي أملاها الشيخ حرسه الله تعالى حكاية عن بعض أصحاب الحديث أنه يشترط في قبول الأخبار أن يروى عدلان عن عدلين مثنى مثنى حتى يتصل برسول الله صلى الله عليه وسلم، كالمنكر لذلك.

السادس: اعترض بعضهم على قوله وقد يختلفون في صحة بعض الأحاديث إلى أخره وقال فيه نظر من حيث أن أحدا لم يذكر أن المعضل والشاذ والمنقطع صحيح.

ورد بأن كلامه إنما هو في أوصاف القبول لا في الشاذ ونحوه وأيضا فمن يحتج بالمرسل لا يتقيد بكون التابعي أرسله بل لو أرسله أتباع التابعين احتج به وهو عنده صحيح وأن كان معضلا ومن يحتج بالمرسل يحتج بالمنقطع بل المنقطع والمرسل عند المتقدمين واحد وقوله: إن أحدا لم يذكر أن الشاذ صحيح مردود بقول أبي يعلى الخليلي في الإرشاد: "إن الشاذ ينقسم إلى: صحيح ومردود"
হাদিস, এরপর 'হাসান' (হাদিস)-এর উল্লেখ শাফেয়ী, বুখারি এবং তাঁদের ব্যতীত অন্যদের বক্তব্যেও বিদ্যমান রয়েছে।

তৃতীয়: 'সহিহ' হাদিসের সংজ্ঞায় তাঁর কথা—'তা হলো এমন মুসনাদ যার সনদ শেষ পর্যন্ত সংযুক্ত থাকে'—এর ওপর 'মুরসাল' হাদিস দ্বারা আপত্তি উত্থাপিত হয়; কারণ যারা মুরসাল হাদিস গ্রহণ করেন, তারা সনদ সংযুক্ত হওয়াকে শর্ত হিসেবে গণ্য করেন না।

এর উত্তর হলো তাঁর পরবর্তী কথাটির মধ্যে, যেখানে তিনি বলেছেন—'এবং তাঁরা (মুহাদ্দিসগণ) কোনো কোনো হাদিসের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে অমুক অমুক কারণে দ্বিমত করতে পারেন, যেমনটি মুরসাল হাদিসের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে'।

চতুর্থ: শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে দাকীকুল ঈদ তাঁর 'আল-ইকতিরাহ' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন যে, হাদিস 'শুজুজ' (অসংগতি) এবং 'ইল্লাত' (ত্রুটি) থেকে মুক্ত হওয়া মূলত মুহাদ্দিসদের শর্ত। তিনি বলেন: ফকিহদের দৃষ্টিভঙ্গির বিচারে এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে, কেননা মুহাদ্দিসদের সংজ্ঞায়িত অনেক ত্রুটি ফকিহদের মূলনীতির ওপর প্রযোজ্য হয় না। অথচ সংজ্ঞার শর্ত হলো সেটি জামে' (সামগ্রিক) ও মানে' (বর্জনকারী) হতে হবে।

এর উত্তর হলো, গ্রন্থকারের উক্তি—'মুহাদ্দিসদের নিকট'—ফকিহদের দৃষ্টিভঙ্গিকে এর আওতা থেকে বের করে দিয়েছে।

পঞ্চম: তাঁর উক্তি—'মতভেদ ছাড়াই'—অর্থাৎ যখন মুহাদ্দিসদের নিকট এই শর্তগুলো পাওয়া যায়। তখন 'মুহাদ্দিসদের নিকট' কথাটির মাধ্যমে সেই ব্যক্তির আপত্তি খণ্ডন হয়ে যায় যিনি সাক্ষ্যদানের মতো হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যার শর্তারোপ করেন; যেমনটি হাজেমি কতিপয় পরবর্তীকালীন মুতাজিলাদের থেকে বর্ণনা করেছেন। বাইহাকিও শাইখ আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনির নিকট প্রেরিত তাঁর পত্রে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি সেখানে তাঁকে বলেছেন: শাইখ—আল্লাহ তাআলা তাঁকে রক্ষা করুন—কর্তৃক শ্রুতলিপি করানো পরিচ্ছেদসমূহে আমি হাদিস বিশারদদের কারও উদ্ধৃতিতে দেখেছি যে, সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে শর্ত হলো দুইজন ন্যায়নিষ্ঠ বর্ণনাকারী থেকে দুইজন ন্যায়নিষ্ঠ বর্ণনাকারী এভাবে জোড়ায় জোড়ায় বর্ণনা করবেন যতক্ষণ না তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে; তিনি এটি অস্বীকারকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ষষ্ঠ: কেউ কেউ তাঁর উক্তি—'এবং কোনো কোনো হাদিসের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে তাঁরা দ্বিমত করতে পারেন' শেষ পর্যন্ত—এর ওপর আপত্তি তুলেছেন এবং বলেছেন যে, এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে এই দিক থেকে যে, কেউ এমনটি উল্লেখ করেননি যে মুদাল, শায এবং মুনকাতি হাদিস সহিহ।

এর জবাবে বলা হয়েছে যে, তাঁর বক্তব্যটি মূলত গ্রহণযোগ্যতার গুণাবলী সম্পর্কে, শায বা অনুরূপ বিষয় সম্পর্কে নয়। তাছাড়া যারা মুরসাল হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন, তারা কেবল তাবেয়ি কর্তৃক মুরসাল হওয়ার ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন না; বরং তাবে-তাবেয়িগণও যদি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেন, তবে তিনি তা দিয়ে দলিল পেশ করেন এবং তাঁর নিকট সেটি সহিহ হিসেবে গণ্য হয়, যদিও সেটি 'মুদাল' হয়ে থাকে। আর যারা মুরসাল দ্বারা দলিল পেশ করেন, তারা মুনকাতি দ্বারাও দলিল পেশ করেন; বস্তুত প্রাচীন আলেমদের নিকট মুনকাতি এবং মুরসাল একই বিষয়। আর তাঁর উক্তি—'নিশ্চয়ই কেউ উল্লেখ করেননি যে শায হাদিস সহিহ'—এটি 'আল-ইরশাদ' গ্রন্থে আবু ইয়ালা আল-খালিলির এই উক্তি দ্বারা খণ্ডনযোগ্য: "নিশ্চয়ই শায হাদিস দুই ভাগে বিভক্ত: সহিহ এবং প্রত্যাখ্যাত।"
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৬৯)
قال:

فوائد مهمة

أحدها 1: الصحيح يتنوع إلى متفق عليه ومختلف فيه كما سبق ذكره ويتنوع إلى مشهور وغريب وبين ذلك ثم إن درجات الصحيح تتفاوت في القوة بحسب تمكن الحديث من الصفات المذكورة التي تنبني2 الصحة عليها وتنقسم باعتبار ذلك إلى أقسام يستعصى إحصاؤها على العاد الحاصر ولهذا نرى الإمساك عن الحكم لإسناد أو حديث بأنه الأصح على الإطلاق على أن جماعة من أئمة الحديث خاضوا غمرة ذلك فاضطربت أقوالهم. فروينا عن إسحاق بن راهويه أنه قال: أصح الأسانيد كلها الزهري عن سالم عن أبيه.

وروينا نحوه عن أحمد بن حنبل.

وروينا عن عمرو بن علي الفلاس أنه قال: أصح الأسانيد محمد بن سيرين عن عبيدة3 عن علي وروينا نحوه عن علي بن المديني وروي ذلك عن غيرهما ثم منهم من عين4 الراوي عن محمد وجعله أيوب السختياني ومنهم من جعله ابن عون.

وفيما نرويه عن يحيى بن معين أنه قال: أجودها الأعمش عن إبراهيم عن علقمة عن عبد الله

وروينا عن أبي بكر بن أبي شيبة أنه5 قال: أصح الأسانيد كلها الزهري عن

--------------------------------------------

1 في ش: "إحداها"

2 هكذا في خط، وش، وفي ع: "تبتني".

3 في حاشية خط: "عبيدة - بفتح العين - بن عمرو السلماني - بفتح السين وإسكان اللام وكتب عليها الناسخ "صح".

4 هكذا في خط، وع، وفي ش: "غير" براء مهملة في آخره معحمة في أوله، كذا - خطأ.

5 سقطت من ع، وهي في خط وش.
তিনি বলেছেন:

গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় ফায়দা

তন্মধ্যে প্রথমটি ১: সহীহ (বিশুদ্ধ) হাদিস মুত্তাফাকুন আলাইহি (ঐক্যমত্যপূর্ণ) এবং মুখতালাফ ফিহি (মতভেদপূর্ণ) এই দুই প্রকারে বিভক্ত, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এবং এটি মশহুর, গরীব এবং এ দুইয়ের মধ্যবর্তী পর্যায়েও বিভক্ত হয়। অতঃপর, সহীহ হাদিসের স্তরসমূহ শক্তির দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন হয়; যা নির্ভর করে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ হাদিসের মধ্যে কতটুকু সুদৃঢ়ভাবে বিদ্যমান তার ওপর, যার ভিত্তিতে সহীহ হওয়ার বিষয়টি গড়ে ওঠে২। এবং এর প্রেক্ষিতে এটি এমন অনেক ভাগে বিভক্ত হয় যা কোনো গণনাকারীর পক্ষে নিরূপণ করা দুঃসাধ্য। এই কারণেই আমরা দেখি যে, কোনো সনদ বা হাদিসকে নিঃশর্তভাবে "সর্বাপেক্ষা বিশুদ্ধ" (আল-আসাহ) হিসেবে হুকুম প্রদান করা থেকে বিরত থাকা হয়েছে; যদিও হাদিস বিশারদ ইমামগণের একটি জামাত এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, ফলে তাঁদের বক্তব্যে বিভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে। আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "সকল সনদের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ হলো যুহরী, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে।"

অনুরূপ বর্ণনা আমাদের নিকট আহমদ ইবনে হাম্বল থেকেও বর্ণিত হয়েছে।

আমাদের নিকট আমর ইবনে আলী আল-ফাল্লাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ হলো মুহাম্মদ ইবনে সিরীন, তিনি উবাইদাহ৩ থেকে, তিনি আলী থেকে।" এবং অনুরূপ বর্ণনা আমাদের নিকট আলী ইবনুল মাদীনী থেকেও বর্ণিত হয়েছে এবং এটি এই দুই জন ছাড়া অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মুহাম্মদ (ইবনে সিরীন) থেকে বর্ণনাকারীকে সুনির্দিষ্ট করেছেন৪ এবং তাকে আইয়ুব সাখতিয়ানী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, আবার কেউ কেউ তাকে ইবনে আউন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে আমাদের নিকট যা বর্ণিত হয়েছে তাতে তিনি বলেছেন: "এগুলোর মধ্যে উৎকৃষ্টতম হলো আমাশ, তিনি ইব্রাহীম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে।"

আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আবি শাইবা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে৫, তিনি বলেছেন: "সকল সনদের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ হলো যুহরী থেকে...

--------------------------------------------

১. 'শীন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "ইহদাহা" (এর একটি)।

২. 'খত্ত' এবং 'শীন' পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, আর 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তাবতানি" (গড়ে ওঠে)।

৩. 'খত্ত' পাণ্ডুলিপির টীকাতে রয়েছে: "উবাইদাহ — 'আইন' অক্ষরে ফাতহা যোগে — ইবনে আমর আস-সালমানী — 'সীন' অক্ষরে ফাতহা এবং 'লাম' অক্ষরে সুকুন যোগে। এবং অনুলিপিকারক এর ওপর 'সাহ' (সঠিক) শব্দটি লিখেছেন।"

৪. 'খত্ত' এবং 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, আর 'শীন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "গইয়ারা" যার শেষে নুকতাহীন 'রা' এবং শুরুতে নুকতাযুক্ত বর্ণ রয়েছে, যা ভুল।

৫. এটি 'আইন' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে, তবে 'খত্ত' ও 'শীন' পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৭০)
علي بن الحسين عن أبيه عن علي.

وروينا عن أبي عبد الله البخاري صاحب الصحيح أنه قال: أصح الأسانيد كلها مالك عن نافع عن ابن عمر.

وبنى الإمام أبو منصور عبد القاهر بن طاهر التميمي على ذلك أن أجل الأسانيد الشافعي عن مالك عن نافع عن ابن عمر واحتج بإجماع أصحاب الحديث على أنه لم يكن في الرواة عن مالك أجل من الشافعي رضي الله عنهم أجمعين انتهى.

ولك أن تقول: وأجل من روى عن الشافعي أحمد بن حنبل باتفاقهم فيكون أجل الأسانيد أحمد عن الشافعي عن مالك عن نافع عن بن عمر وقد وقع ذلك في حديث أصله مفرق في البخاري من حديث مالك.

حدث به عن عبد الله بن أحمد بن حنبل قال: حدثني أبي أحمد رحمه الله قال: حدثنا محمد بن إدريس قال: أنا مالك عن نافع عن ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا يبع بعضكم على بيع بعض ونهى عن النجش ونهى عن بيع حبل الحبلة ونهى عن المزابنة والمزابنة بيع التمر بالتمر كيلا وبيع الكرم بالزبيب كيلا".

واعترض على المصنف بأن الحاكم وغيره ذكروا أن هذا بالنسبة إلى الأمصار أو إلى الأشخاص فلا يبقى خلاف.

وجوابه: أن الحاكم لم يقيده بذلك بل ولو قيده بالأشخاص كان الخلاف موجودا أيضا فيقال في أصح أسانيد علي فقيل كذا وقيل كذا وعبارة الحاكم لا تقطع الحكم في أصح الأسانيد لصحابي واحد بل يقول أصح أسانيد أهل البيت جعفر بن محمد عن أبيه عن جده عن علي إذا كان الراوي عن جعفر ثقة.

وأصح أسانيد الصديق رضي الله عنه إسماعيل بن أبي خالد عن قيس بن أبي حازم عن أبي بكر.

وأصح أسانيد عمر: الزهري عن سالم عن أبيه عن جده.

وأصح أسانيد أبي هريرة: الزهري عن سيعد بن المسيب عنه.

وأصح أسانيد ابن عمر: مالك عن نافع عن ابن عمر.
আলি বিন হুসাইন তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলি থেকে।

আর আমরা সহীহ (বুখারি)-এর সংকলক আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারি থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেন: সামগ্রিকভাবে বিশুদ্ধতম সনদ হলো নাফে’ থেকে মালেক, তিনি ইবনে উমর থেকে।

ইমাম আবু মনসুর আব্দুল কাহের বিন তাহের আত-তামিমি এর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, সনদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ হলো মালেক থেকে শাফেয়ি, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে। তিনি হাদীস বিশারদদের ঐকমত্যের মাধ্যমে দলীল পেশ করেছেন যে, ইমাম মালেক থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইমাম শাফেয়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)-এর চেয়ে অধিক মর্যাদাবান আর কেউ ছিলেন না। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

আর আপনি বলতে পারেন: ইমাম শাফেয়ি থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে সর্বসম্মতভাবে আহমদ বিন হাম্বল অধিক মর্যাদাবান। ফলে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সনদ হবে শাফেয়ি থেকে আহমদ, তিনি মালেক থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে। এটি এমন একটি হাদীসে সংঘটিত হয়েছে যার মূল অংশ ইমাম মালেকের হাদীস হিসেবে বুখারিতে বিক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত হয়েছে।

এটি আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাকে আমার পিতা আহমদ (রাহিমাহুল্লাহ) হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে মালেক সংবাদ দিয়েছেন নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন অন্যের ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর ক্রয়-বিক্রয় না করে।" তিনি ‘নাজাশ’ (প্রতারণামূলক দাম বাড়ানো) করতে নিষেধ করেছেন, ‘হাবালুল হাবালা’ (গর্ভস্থ পশুর পেটের বাচ্চা) বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন এবং ‘মুযাবানা’ থেকেও নিষেধ করেছেন। আর ‘মুযাবানা’ হলো পরিমাপের ভিত্তিতে শুষ্ক খেজুরের বিনিময়ে গাছের কাঁচা খেজুর বিক্রয় করা এবং পরিমাপের ভিত্তিতে কিশমিশের বিনিময়ে গাছের আঙ্গুর বিক্রয় করা।

গ্রন্থকারের ওপর এই আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে, আল-হাকিম এবং অন্যরা উল্লেখ করেছেন যে এটি নির্দিষ্ট শহর বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের প্রেক্ষাপটে, ফলে কোনো মতভেদ অবশিষ্ট থাকে না।

এর উত্তর হলো: আল-হাকিম একে এভাবে সীমাবদ্ধ করেননি; বরং তিনি যদি একে ব্যক্তিদের সাথে সীমাবদ্ধও করতেন, তবুও মতভেদ বিদ্যমান থাকত। সুতরাং আলির বিশুদ্ধতম সনদের ব্যাপারে বলা হয় যে, কেউ এমন বলেছেন এবং কেউ তেমন বলেছেন। আল-হাকিমের বক্তব্য কোনো একজন সাহাবীর ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতম সনদের চূড়ান্ত ফয়সালা দেয় না, বরং তিনি বলেন: আহলে বাইতের বিশুদ্ধতম সনদ হলো জা’ফর বিন মুহাম্মদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি আলি থেকে—যদি জা’ফর থেকে বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য হন।

আর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিশুদ্ধতম সনদ হলো: কায়েস বিন আবি হাযেম থেকে ইসমাইল বিন আবি খালিদ, তিনি আবু বকর থেকে।

আর উমরের বিশুদ্ধতম সনদ হলো: সালেম থেকে যুহরি, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে।

আর আবু হুরায়রার বিশুদ্ধতম সনদ হলো: সাঈদ বিন মুসাইয়িব থেকে যুহরি, তিনি তাঁর থেকে।

আর ইবনে উমরের বিশুদ্ধতম সনদ হলো: নাফে’ থেকে মালেক, তিনি ইবনে উমর থেকে।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৭১)
وأصح أسانيد عائشة عبيد الله بن عمر بن حفص بن عاصم بن عمر بن الخطاب عن القاسم عنها

قال ابن معين هذه ترجمة مشبكة بالذهب.

وأصح أسانيد ابن مسعود سفيان الثوري عن منصور عن إبراهيم عن علقمة عنه.

وأصح أسانيد أنس بن مالك مالك عن الزهري عنه

وأصح أسانيد المكيين سفيان.

بن عيينة عن عمرو بن دينار عن جابر.

وأصح أسانيد اليمنيين معمر عن همام عن أبي هريرة.

وأثبت أسانيد المصريين الليث عن يزيد بن أبي حبيب عن أبي الخير عن عقبة ابن عامر.

وأثبت أسانيد الشاميين الأوزاعي عن حسان بن عطية عن الصحابة.

وأثبت أسانيد الخراسانيين الحسين بن واقد عن عبد الله بن بريدة عن أبيه.

قال الثانية إذا وجدنا فيما يروى من أجزاء الحديث وغيرها حديثا صحيح الإسناد ولم نجده في أحد الصحيحين ولا منصوصا على صحته في شيء من مصنفات أئمة الحديث المعتمدة المشهورة فإنا لا نتجاسر على جزم الحكم بصحته فقد تعذر في هذه الأعصار الاستقلال بإدارك الصحيح بمجرد اعبتار الأسانيد لأنه ما من إسناد من ذلك إلا ونجد1 في رجاله من اعتمد في روايته على ما في كتابه عريا عما يشترط في الصحيح من الحفظ والضبط والإتقان فآل الأمر إذا في معرفة الصحيح والحسن إلى الاعتماد على ما نص عليه أئمة الحديث في تصانيفهم المعتمدة المشهورة التي يؤمن فيها لشهرتها من التغيير والتحريف وصار معظم المقصود بما يتداول من الأسانيد خارجا عن ذلك إبقاء سلسلة الإسناد التي خصت بها هذه الأمة زادها الله2 شرفا آمين انتهى3.

--------------------------------------------

1 هكذا في خط، وفي ش وع: "وتجد"بمثناة فوقية.

2 هكذا في خط وش، وفي ع: "الله تعالي".

3 بعد أن فرغ ابن الصلاح رحمه الله من بيان حد الصحيح، والشروط الواجبة فيه، ناسب أن يخص هذه الشروط بعصور الرواية....==
আয়েশা (রা.)-এর সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ হলো উবায়দুল্লাহ ইবন উমর ইবন হাফস ইবন আসিম ইবন উমর ইবনুল খাত্তাব, কাসিম থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে।

ইবন মাঈন বলেন, এটি একটি স্বর্ণখচিত সূত্রপরম্পরা।

ইবন মাসউদ (রা.)-এর সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ হলো সুফিয়ান সাওরি, মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি ইবন মাসউদ (রা.) থেকে।

আনাস বিন মালিক (রা.)-এর সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ হলো মালিক, যুহরি থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে।

মক্কাবাসীদের সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ হলো সুফিয়ান।

ইবন উইয়াইনা, আমর বিন দিনার থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে।

ইয়ামানবাসীদের সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ হলো মামার, হাম্মাম থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রা.) থেকে।

মিশরীয়দের সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য সনদ হলো লাইস, ইয়াযিদ বিন আবি হাবিব থেকে, তিনি আবুল খায়ের থেকে, তিনি উকবা ইবন আমির (রা.) থেকে।

সিরিয়াবাসীদের সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য সনদ হলো আওযায়ি, হাসসান বিন আতিয়্যা থেকে, তিনি সাহাবীদের থেকে।

খুরাসানবাসীদের সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য সনদ হলো হুসাইন বিন ওয়াকিদ, আবদুল্লাহ বিন বুরাইদা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে।

তিনি দ্বিতীয়ত বলেন: যখন আমরা হাদীসের কোনো সংকলন বা অন্য কোথাও এমন কোনো হাদীস পাই যার সনদ বিশুদ্ধ, কিন্তু সহীহ বুখারি বা মুসলিমের কোনোটিতেই তা নেই, এমনকি নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ হাদীস বিশারদ ইমামদের কোনো কিতাবেও সেটির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট বর্ণনা নেই, তবে আমরা তার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে অকাট্য সিদ্ধান্ত দেওয়ার দুঃসাহস করি না। কেননা বর্তমান যুগে কেবল সনদের বিচার করে স্বতন্ত্রভাবে সহীহ হাদীস নির্ণয় করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। কারণ এমন কোনো সনদ নেই যার বর্ণনাকারীদের মাঝে আমরা এমন কাউকে পাই না যিনি তাঁর বর্ণনায় সহীহ হাদীসের জন্য আবশ্যকীয় শর্ত তথা হিফয (মুখস্থ শক্তি), যাব্‌ত (ধারণ ক্ষমতা) ও ইতকান (নিপুণতা) ছাড়াই কেবল নিজ কিতাবের ওপর নির্ভর করেছেন। সুতরাং সহীহ ও হাসান হাদীস চেনার বিষয়টি এখন হাদীস বিশারদ ইমামদের সেই সকল নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ কিতাবের ওপর নির্ভর করার ওপর পর্যবসিত হয়েছে, যেগুলোর প্রসিদ্ধির কারণে সেগুলোতে কোনো পরিবর্তন ও বিকৃতি ঘটার অবকাশ নেই। আর বর্তমানে প্রচলিত সনদগুলোর অধিকাংশের উদ্দেশ্য হচ্ছে সেই সনদপরম্পরা বজায় রাখা যার মাধ্যমে এই উম্মতকে বিশেষায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ এই উম্মতের মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। আমিন। সমাপ্ত।

--------------------------------------------

১. হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে 'শিন' ও 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে 'তুমি পাবে' শব্দে এসেছে।

২. হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি ও 'শিন'-এ এভাবেই আছে, তবে 'আইন'-এ আছে: "আল্লাহ তাআলা"।

৩. ইমাম ইবনুস সালাহ (রহ.) সহীহ হাদীসের সংজ্ঞা এবং এতে থাকা আবশ্যকীয় শর্তাবলি বর্ণনা শেষ করার পর, এই শর্তগুলোকে বর্ণনার যুগগুলোর সাথে নির্দিষ্ট করা সমীচীন মনে করেছেন...==
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৭২)
_________

= فنبه رحمه الله أن الاعتماد بعد عصر الرواة على الكتب لا الرواة ومن ثم كان الاعتماد بعد عصر الرواية على الكتب المعتمد المشهورة التي يؤمن فيها لشهرتها من التغيير والتحريف كما نبه رحمه الله على أن المقصود بالأسانيد التي تتداول خارج هذه الكتب المعتمدة إبقاء سلسلة الإسناد التي خصت بها هذه الأمة. ومن ثم نبه على تعذر جزم الحكم بصحة ما لم نجده في الصحيحين وغيرهما من الكتب المعتمدة والاستقلال بإدراك الصحيح بمجرد اعتبار الأسانيد في هذه الأعصار التالية لعصر الرواية قال: لأنه ما من إسناد من ذلك إلا وتجد في رجاله من اعتمد في روايته على ما في كتابه عريا عما يشترط في الصحيح من الحفظ والضبط والإتقان.

فبطل الاعتماد على الرواة في هذه الأعصار وتعذرت شرائط الصحيح في هذه الأسانيد فلم يبق إلى الاعتماد على الكتب فكان لزاما الاعتماد على الكتب المعتمدة المشهورة التي يؤمن فيها لشهرتها من التغيير والتحريف.

وهذا حق لا مرية فيه فقد صارت الرواية في الحقيقة رواية للكتب وتساهل الناس في شرائط الرواية إذ صار الاعتماد على الكتب لا الرواة.

قال الشيخ أبو الأشبال أحمد شاكر رحمه الله في الباعث 1: 321 – 233 ط دار العاصمة الشروط السابقة في عدالة الراوي إنما تراعى بالدقة في المتقدمين وأما المتأخرون بعد سنة ثلاثمائة تقريبا فيكفي أن يكون الراوي مسلما بالغا عاقلا غير متظاهر بفسق أو بما يخل بمروءته وأن يكون سماعه ثابتا بخط ثقة غير متهم وبرواية من أصل صحيح موافق شيخه لأن المقصود بقاء سلسلة الإسناد وإلا فإن الروايات استقرت في الكتب المعروفة وصارت الرواية في الحقيقة رواية للكتب فقط.

قال الحافظ البيهقي: توسع من توسع في السماع من بعض محدثي زماننا الذين لا يحفظون حديثهم ولا يحسنون قراءته من كتبهم ولا يعرفون ما يقرأ عليهم بعد أن تكون القراءة عليهم من أصل سماعهم وذلك لتدوين الأحاديث في الجوامع التي جمعها أئمة الحديث1فمن جاء اليوم بحديث لا يوجد عند جميعهم لا يقبل نه ومن جاء بحديث معروف عندهم فالذي يرويه لا ينفرد بروايته والحجة قائمة بحديثه برواية غيره والقصد من روايته والسماع منه: أن يصير الحديث مسلسلا بحديثنا وأخبرنا وتبقى هذه الكرامة التي خصت بها هذه الأمة شرفا لنبينا صلى الله عليه وسلم =

--------------------------------------------

قال السخاوي في فتح المغيب 2/108 ونقله عنه في حاشية الباعث وقد سبق البيهقي إلى قوله شيخه الحاكم ونحوه عن السلفي وهو الذي استقر عليه العمل بل حصل التوسع فيه أيضا إلى ما وراء هذا....................

= তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সতর্ক করেছেন যে, বর্ণনাকারীদের যুগের পর নির্ভরতা কিতাবসমূহের ওপর হবে, বর্ণনাকারীদের ওপর নয়। ফলে বর্ণনার যুগের পর সেই সকল নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করা হয়েছে, যা তার প্রসিদ্ধির কারণে পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে নিরাপদ থাকে। যেমন তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই বিষয়েও সতর্ক করেছেন যে, এই সকল নির্ভরযোগ্য কিতাবের বাইরে যেসব সনদ বা সূত্রের প্রচলন রয়েছে, তার উদ্দেশ্য হলো এই উম্মতের জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্যমন্ডিত সনদ-পরম্পরাকে অবশিষ্ট রাখা। এরপর তিনি বর্ণনা যুগের পরবর্তী এই সকল যুগে কেবল সনদের ওপর ভিত্তি করে সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে যা পাওয়া যায় না তার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে অকাট্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের এবং কেবল সনদের ওপর নির্ভর করে বিশুদ্ধতা অনুধাবন করার অসম্ভবতার ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন: কারণ এর প্রতিটি সনদেই আপনি এমন বর্ণনাকারী পাবেন যারা বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের নিজ নিজ কিতাবের ওপর নির্ভর করেছেন, অথচ তাদের মধ্যে সহীহ হাদিসের জন্য শর্তকৃত মুখস্থ শক্তি, ধারণক্ষমতা ও নিখুঁত পারদর্শিতা বিদ্যমান ছিল না।

এ কারণে এই সকল যুগে বর্ণনাকারীদের ওপর নির্ভরতা বাতিল হয়ে গেছে এবং এই সকল সনদে সহীহ হওয়ার শর্তসমূহ পূরণ হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করা ছাড়া আর কোনো উপায় অবশিষ্ট নেই। তাই সেই সকল নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে যা তার প্রসিদ্ধির কারণে পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে নিরাপদ।

এবং এটি একটি ধ্রুব সত্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা বর্ণনা এখন প্রকৃতপক্ষে কিতাবসমূহের বর্ণনায় রূপ নিয়েছে এবং মানুষ বর্ণনার শর্তাবলীতে শিথিলতা প্রদর্শন করেছে, যেহেতু নির্ভরতা বর্ণনাকারীর পরিবর্তে কিতাবসমূহের ওপর চলে এসেছে।

শায়খ আবু আল-আশবাল আহমদ শাকির (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ‘আল-বাইস’ গ্রন্থে (১: ৩২১–২৩৩, দারুল আসিমা সংস্করণ) বলেছেন: বর্ণনাকারীর ন্যায়নিষ্ঠতা সংক্রান্ত পূর্বোক্ত শর্তাবলী কেবল পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে সূক্ষ্মভাবে বজায় রাখা হতো। কিন্তু হিজরি তিনশ সালের পরবর্তী যুগের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে এতটুকুই যথেষ্ট যে, বর্ণনাকারী মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান হবেন এবং প্রকাশ্যে কোনো পাপাচার বা তার ব্যক্তিত্বের জন্য ক্ষতিকর কোনো কাজ করবেন না; আর তার শ্রবণ যেন কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির হস্তাক্ষরে সাব্যস্ত হয় যিনি অভিযুক্ত নন এবং তার উস্তাদের মূল কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো বিশুদ্ধ মূল কপির মাধ্যমে বর্ণিত হয়। কারণ এর উদ্দেশ্য হলো সনদ-পরম্পরা টিকিয়ে রাখা, অন্যথায় বর্ণনাগুলো তো সুপরিচিত কিতাবসমূহে সংকলিত হয়ে গেছে এবং বর্ণনা এখন বাস্তবে কেবল কিতাবসমূহের বর্ণনাই হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাফিজ বায়হাকী বলেন: আমাদের যুগের সেই সকল হাদিস বিশারদদের নিকট থেকে শ্রবণের ক্ষেত্রে যারা শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন—যারা তাদের হাদিস মুখস্থ রাখেন না, তাদের কিতাব থেকে তা সুন্দরভাবে পাঠ করতে পারেন না এবং তাদের সামনে যা পাঠ করা হয় সে সম্পর্কেও জানেন না (তবে শর্ত হলো তাদের শ্রবণের মূল কপি থেকে তাদের সামনে পাঠ করা হতে হবে)—তা কেবল এই জন্য যে, হাদিসসমূহ সেই সকল সংকলন গ্রন্থগুলোতে সংকলিত হয়ে গেছে যা হাদিসের ইমামগণ সংকলন করেছেন। অতএব আজ যদি কেউ এমন কোনো হাদিস নিয়ে আসে যা তাদের সবার নিকট পাওয়া যায় না, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। আর যদি কেউ এমন হাদিস নিয়ে আসে যা তাদের নিকট পরিচিত, তবে যে ব্যক্তি তা বর্ণনা করছে সে তা বর্ণনার ক্ষেত্রে একক নয়, বরং অন্য বর্ণনার মাধ্যমে তার হাদিসের সপক্ষে প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে। তার থেকে বর্ণনা করা এবং শোনার উদ্দেশ্য হলো: হাদিসটি যেন ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন’ এবং ‘আমাদের সংবাদ দিয়েছেন’ শব্দের মাধ্যমে আমাদের হাদিসের সাথে অবিচ্ছিন্ন সূত্রে পরিণত হয় এবং এই মর্যাদা যা কেবল এই উম্মতকেই বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেওয়া হয়েছে তা যেন আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানে অবশিষ্ট থাকে। =

--------------------------------------------

সাখাভী ‘ফাতহুল মুগীস’ (২/১০৮) গ্রন্থে এটি বলেছেন এবং তা তাঁর থেকে ‘আল-বাইস’-এর টীকায় উদ্ধৃত করা হয়েছে। বায়হাকীর পূর্বে তাঁর উস্তাদ আল-হাকিম এই কথা বলেছেন এবং আস-সিলাফী থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আর এটিই এমন বিষয় যার ওপর আমল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বরং এতে শিথিলতা এর চেয়েও বহুদূর পর্যন্ত গড়িয়েছে...
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৭৩)
.......................................

--------------------------------------------

= وقال الذهبي في الميزان: ليس العمدة في زماننا على الرواة بل على المحدثين والمفيدين الذين عرفت عدالتهم وصدقهم في ضبط أسماء السامعين ثم من المعلوم أنه لا بد من الراوي وستره.

فالعبرة في رواية المتأخرين على الكتب والأصول الصحيحة التي اشتهرت بنسبتها مؤلفيها بل تواتر بعضها إليهم وهذا شيء واضح لا يحتاج إلى بيان انتهى كلام أبي الأشبال رحمه الله.

وقال الأعظمي في منهج النقد ص 7 – 1 بتصرف ينقسم تطبيق المصطلح ثلاثة أدوار رئيسية ولكل سيماه.

فالدور الأول خاص بالصحابة رضوان الله عليهم أجمعين.

ومن أهم ميزات هذا الدور هو تعديل كافة الصحابة وقبول أحاديثهم حتى المرسلة بدون نكير.

أما الدور الثاني فيبدأ بالتابعين وينتهي إلى منتصف القرن الرابع تقريبا وهذا الدور هو من أهم الأدوار بالنسبة لقوانين المصطلح وتطبيقها وكان من خصائص هذا الدور التنفير الشديد عن عدالة الرواة وضبطهم وإتقانهم. ويعتبر هذا الدور أشد الأدوار قسوة وصرامة في تطبيق قوانين المصطلح.

أما الدور الثالث فيبدأ من منتصف القرن الرابع بقريبا وبدأ فيه التساهل في تلقي العلم والتهاون في تطبيق المصطلح وحصل التغيير في شروط قبول الرواية وفي التعديل والتجريح وانتفت الصرامة والقسوة اللتين كانتا ظاهرتين في الدور الثاني.

وأهم الأسباب التي دعت إلى هذا التنازل هو جمع وتدوين وتصنيف الأحاديث النبوية في الكتب المعروفة بحيث أصبح الناس يتناقلون على وجه العموم كتبا مؤلفة بكاملها.

فم يبق للناس مجال في جمع شتات المواد من هنا وهناك وقد يكون هذا هو السبب الأساسي في تخفيف قسوة الشروط بالنسبة للرواة ومروياتهم وعلى هذا ما كان شاذا أصبح قاعدة فيما بعد ذلك.

لا شك أن البخاري رحمه الله استدل بقصة محمود بن الربيع أنه عقل مجة مجها رسول الله صلى الله عليه وسلم على أساس أنه يمكن أن يعي العلم ولد عمره خمس سنوات لكنه يصعب علينا الحصول على أمثلة من هذا النوع في الدور الثاني بل رأينا أن الطلبة كانوا يبدأون بالدراسة في حدود الخامسة عشرة من أعمارهم لكنه في الدور الثالث تطورت الأمور.

قال النووي: ونقل القاضي عياض رحمه الله إن أهل الصنعة حددوا أول زمن يصح فيه السماع بخمس سنين...............................=
.......................................

--------------------------------------------

= এবং ইমাম যাহাবী 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের যুগে নির্ভরতা বর্ণনাকারীদের ওপর নয়, বরং সেই সকল মুহাদ্দিস ও ইলম বিতরণকারীদের ওপর যাদের নির্ভরযোগ্যতা এবং শ্রোতাদের নাম সংরক্ষণে যাদের সত্যবাদিতা সুপরিচিত। এরপর এটিও জানা কথা যে, বর্ণনাকারী এবং তার গোপনীয়তা রক্ষা করা অপরিহার্য।

সুতরাং পরবর্তী যুগের বর্ণনার ক্ষেত্রে মানদণ্ড হলো সেই সকল সহীহ কিতাব ও মূল পাণ্ডুলিপি, যা তাদের লেখকদের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার বিষয়ে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, এমনকি এর কিছু অংশ তাঁদের পর্যন্ত মুতাওয়াতির সূত্রে পৌঁছেছে। এটি একটি সুস্পষ্ট বিষয় যা ব্যাখ্যার প্রয়োজন রাখে না। আবু আল-আশবাল (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য এখানেই শেষ।

এবং আল-আজমি 'মানহাজুন নাকদ' গ্রন্থের ১/৭ পৃষ্ঠায় (পরিমার্জিতভাবে) বলেছেন: পরিভাষার প্রয়োগ তিনটি প্রধান যুগে বিভক্ত এবং প্রতিটি যুগের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

প্রথম যুগটি সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)-দের জন্য নির্দিষ্ট।

এই যুগের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সকল সাহাবীকে নির্ভরযোগ্য গণ্য করা এবং কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই তাঁদের বর্ণিত হাদীসসমূহ গ্রহণ করা, এমনকি মুরসাল হাদীসগুলোও।

আর দ্বিতীয় যুগটি তাবেয়ীদের থেকে শুরু হয়ে প্রায় চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত বিস্তৃত। হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা ও এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুগ। এই যুগের বৈশিষ্ট্য ছিল বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা, মুখস্থ শক্তি ও প্রখরতা সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর যাচাই-বাছাই করা। হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে এই যুগটি সবচেয়ে সুদৃঢ় ও কঠোর হিসেবে বিবেচিত।

আর তৃতীয় যুগটি প্রায় চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হয়। এতে ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে শিথিলতা এবং পরিভাষা প্রয়োগে অবহেলা শুরু হয়। হাদীস গ্রহণের শর্তাবলীতে এবং নির্ভরযোগ্যতা ও ত্রুটি বর্ণনার (জারাহ-তাদীল) ক্ষেত্রে পরিবর্তন সূচিত হয়। দ্বিতীয় যুগে যে কঠোরতা ও দৃঢ়তা প্রকাশমান ছিল, তা বিলুপ্ত হয়ে যায়।

এই শিথিলতার প্রধান কারণ ছিল সুপরিচিত গ্রন্থসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ সংগ্রহ, সংকলন ও বিন্যস্তকরণ; যার ফলে মানুষ সাধারণত পূর্ণাঙ্গভাবে রচিত গ্রন্থগুলোই একে অপরের কাছে স্থানান্তর করতে শুরু করে।

ফলে মানুষের জন্য এদিক-সেদিক থেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা উপাদানগুলো সংগ্রহের সুযোগ আর অবশিষ্ট থাকল না। সম্ভবত এটিই ছিল বর্ণনাকারী ও তাদের বর্ণিত হাদীসের ক্ষেত্রে শর্তাবলীর কঠোরতা হ্রাসের মূল কারণ। এর ভিত্তিতেই যা আগে ব্যতিক্রমী ছিল, পরবর্তীতে তা-ই নিয়মে পরিণত হয়।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) মাহমুদ ইবনুর রাবী-এর ঘটনা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কুলি করা পানি (যা তিনি তাঁর চেহারায় ছিটিয়ে দিয়েছিলেন) মনে রাখতে পেরেছিলেন। এর ভিত্তিতে তিনি সাব্যস্ত করেছেন যে, পাঁচ বছর বয়সী শিশু ইলম ধারণ করতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয় যুগে এ ধরণের উদাহরণ পাওয়া আমাদের জন্য কঠিন। বরং আমরা দেখতে পাই যে, ছাত্ররা পনের বছর বয়সের কাছাকাছি সময়ে পড়াশোনা শুরু করত। তবে তৃতীয় যুগে পরিস্থিতির বিবর্তন ঘটে।

ইমাম নববী বলেছেন: কাজী আইয়াজ (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন যে, হাদীস বিশারদগণ হাদীস শ্রবণের বিশুদ্ধতার জন্য সর্বনিম্ন সময়কাল পাঁচ বছর নির্ধারণ করেছেন।...............................=
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৭৪)
...................................

--------------------------------------------

= وقال ابن الصلاح وعلى هذا استقر بين أهل الحديث فيكتبون لابن خمس فصاعدا "سمع" وإن لم يبلغ خمسا حضر أو أحضر.

وأين هذا من تشدد المتقدمين؟

قال نعيم سمعت ابن عيينة يقول: لقد أتى هشام بن حسان عظيما بروايته عن الحسن قيل لنعيم: لم؟ قال لأنه كان صغيرا.

وكما تساهل المحدثون في تحمل العلم وسنه تنازلوا عن الشروط التي يجب اجتماعها فيمن يوصف بأنه ثقة.

قال الخطيب البغدادي عن أبي بكر بن خلاد المتوفي سنة 356 هـ إنه ما كان يعرف شيئا من العلم غير أن سماعه صحيح.

قال الألباني: ومع ذلك فقد وثقه أبو نعيم وكذا ابن أبي الفوارس وقال: لم يكن يعرف من الحديث شيئا ثم ذكر الألباني بأن الذهبي علق عليه في سير أعلام النبلاء 10/160/ 1 -2 بقوله: فمن هذا الوقت بل وقبله صار الحفاظ يطلقون هذه اللفظة "ثقة" على الشيخ الذي سماعه صحيح بقراءة متقن وإثبات عدل.

وترخصوا في تسميته بالثقة وإنما الثقة في عرف أئمة النقد كانت تقع على العدل في نفسه المتقن لما حمله الضابط لما نقل وله فهم ومعرفة بالفن فتوسع المتأخرون.

هذه بعض الملامح العامة للأدوار الثلاثة في مجال تطبيق قواعد المصطلح وشروط الرواة والرواية انتهى كلام الأعظمي حفظه الله.

وقد شرح هذا التدرج المرحلي غير واحد والمقصود بيان ما وقع في المرحلة التي تلت مرحلة الرواية من تساهل والاعتماد في هذه المرحلة المتأخرة على الكتب بدلا من الاعتماد على الرواة في المرحلة السابقة عليها.

فلما آل الأمر إلى الاعتماد على الكتب بنه ابن الصلاح رحمه الله تعالى على ضرورة الاعتماد على المشهور من هذه الكتب على أكثر من أصل لتحصل الثقة بما اتفقت عليه هذه الأصول الصحيحة.

قال ابن الصلاح رحمه الله في الفائدة الثامنة ص 173 ط بنت الشاطئ إذا ظهر بما قدمناه انحصار طريق معرفة الصحيح والحسن الآن في مراجعة الصحيحين وغيرهما من الكتب المعتمدة فسبيل من أراد العمل أو الاحتجاج بذلك إذا كان ممن يسوغ له العمل بالحديث أو الاحتجاج به لذي مذهب..........................=
...................................

--------------------------------------------

= এবং ইবনুস সালাহ বলেছেন, হাদীস বিশারদদের মাঝে এটিই সাব্যস্ত হয়েছে। তাই তারা পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সের শিশুর ক্ষেত্রে "শুনেছে" কথাটি লিখে থাকেন, আর যদি পাঁচ বছরের কম হয় তবে "উপস্থিত ছিল" বা "উপস্থিত করা হয়েছে" লেখেন।

পূর্বসূরীদের কঠোরতার তুলনায় এটি কোথায়?

নুআইম বলেন, আমি ইবনু উইয়াইনাকে বলতে শুনেছি: হিশাম ইবনে হাসসান হাসান (বসরী) থেকে বর্ণনা করে এক বিশাল কাজ করেছেন। নুআইমকে জিজ্ঞেস করা হলো, কেন? তিনি বললেন, কারণ তিনি তখন ছোট ছিলেন।

হাদীস বিশারদগণ ইলম গ্রহণ এবং বয়সের ক্ষেত্রে যেমন শিথিলতা দেখিয়েছেন, তেমনি তারা কোনো রাবীকে "সিকাহ" (নির্ভরযোগ্য) হিসেবে অভিহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলির ক্ষেত্রেও ছাড় দিয়েছেন।

খতীব বাগদাদী ৩৫৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবূ বকর ইবনে খাল্লাদ সম্পর্কে বলেন যে, তার শ্রবণ সহীহ হওয়া ছাড়া তিনি ইলম সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।

আলবানী বলেন: তা সত্ত্বেও আবু নুআইম তাকে সিকাহ বলেছেন এবং ইবনু আবিল ফাওয়ারিসও তাই করেছেন। তিনি (ইবনু আবিল ফাওয়ারিস) বলেছেন: তিনি হাদীস সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। এরপর আলবানী উল্লেখ করেন যে, যাহাবী "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১০/১৬০/১-২) গ্রন্থে এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন: এই সময় থেকে, এমনকি এর পূর্ব থেকেই হাফেযগণ এমন শাইখের ওপর এই "সিকাহ" শব্দটির প্রয়োগ শুরু করেন যার শ্রবণ একজন নিপুণ ব্যক্তির পাঠ এবং একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির প্রমাণের মাধ্যমে সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।

তারা তাকে সিকাহ নাম দেওয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছেন। অথচ সমালোচক ইমামদের পরিভাষায় "সিকাহ" কেবল সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো যিনি নিজে ন্যায়পরায়ণ, যা ধারণ করেছেন তাতে নিপুণ, যা বর্ণনা করেছেন তাতে সুসংরক্ষিত এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যার প্রজ্ঞা ও জ্ঞান রয়েছে। তবে পরবর্তী যুগের আলেমগণ এ ক্ষেত্রে প্রশস্ততা অবলম্বন করেছেন।

মুসত্বলাহ-এর নিয়মাবলি প্রয়োগ এবং রাবী ও বর্ণনার শর্তাবলির ক্ষেত্রে এই তিনটি স্তরের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য। আযমী (হাফিযাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য এখানেই শেষ।

একাধিক আলেম এই পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন ব্যাখ্যা করেছেন। এর উদ্দেশ্য হলো বর্ণনা যুগের পরবর্তী যুগে যে শিথিলতা দেখা দিয়েছিল এবং পূর্ববর্তী যুগে রাবীদের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে এই পরবর্তী যুগে কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করার বিষয়টি স্পষ্ট করা।

যখন বিষয়টি কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করার পর্যায়ে পৌঁছাল, তখন ইবনুস সালাহ (রাহিমাহুল্লাহ) এই কিতাবগুলোর মধ্য থেকে প্রসিদ্ধ কিতাবগুলোর একাধিক পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন, যাতে এই সহীহ পাণ্ডুলিপিগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্ভরযোগ্যতা অর্জিত হয়।

ইবনুস সালাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বিন্তুশ শাতি সংস্করণের ১৭৩ পৃষ্ঠায় অষ্টম ফায়দাহ-তে বলেছেন: আমরা যা উল্লেখ করেছি তা থেকে যদি এটি স্পষ্ট হয় যে, বর্তমানে সহীহ ও হাসান হাদীস চেনার পথ কেবল বুখারী-মুসলিম ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য কিতাব অনুসন্ধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তবে যে ব্যক্তি হাদীস অনুযায়ী আমল করতে বা তা দিয়ে দলিল পেশ করতে চায়, যদি সে এমন ব্যক্তি হয় যার জন্য হাদীস অনুযায়ী আমল করা বা কোনো মাযহাবের অনুসারী হিসেবে দলিল পেশ করা বৈধ হয়..........................=
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৭৫)
..............................

--------------------------------------------

= أن يرجع إلى أصل قد قابله هو أو ثقة غيره بأصول صحيحة متعددة مروية بروايات متنوعة ليحصل له بذلك مع اشتهار هذه الكتب وبعدها عن أن تقصد بالتبديل والتحريف الثقة بصحة ما اتفقت عليه تلك الأصول.

وقال أيضا في صفة من تقبل روايته ص 307 المسألة الرابعة عشرة أعرض الناس في هذه الأعصار المتأخرة عن اعتبار مجموع ما بينا من الشروط في رواة الحديث ومشايخه3 فلم يتقيدوا بها في رواياتهم لتعذر الوفاء بذلك على نحو ما تقدم وكان عليه من تقدم ووجه ذلك ما قدمناه في أول كتابنا هذا من كون المقصود آل آخرا إلى المحافظة على خصيصة هذه الأمة في الأسانيد والمحاذرة من انقطاع سلسلتها3 فليعتبر من الشروط المذكورة ما يليق بهذا الغرض على تجرده وليكتف في أهلية الشيخ بكونه مسلما بالغا عاقلا غير متظاهر بالفسق والسخف وفي ضبطه بوجود سماعه مثبتا بخط غير متهم وبروايته من أصل موافق لأصل شيخه.

وقد سبق إلى نحو ما ذكرناه الحافظ الفقيه أبو بكر البيهقي3 رحمه الله تعالى فإنه ذكر فيما رويناه عنه توسع من توسع في السماع من بعض محدثي زمانه الذين لا يحفظون حديثهم ولا يحسنون قراءته من كتبهم ولا يعرفون ما يقرأ عليهم بعد أن تكون القراءة عليهم من أصل سماعهم ووجه ذلك بأن الأحاديث التي قد صحت أو وقفت بين الصحة والسقم قد دونت وكتبت في الجوامع التي جمعها أئمة الحديث ولا يجوز أن يذهب شيء منها على جميعهم وإن جاز أن يذهب على بعضهم لضمان صاحب الشريعة حفظها قال: فمن جاء اليوم بحديث لا يوجد عند جميعهم لم يقبل منه.

ومن جاء بحديث معروف عندهم فالذي يرويه لا ينفرد بروايته والحجة قائمة بحديثه برواية غيره

_________

= 1ومن ثم تعذر في هذه الأعصار المتأخرة الاستقلال بجزم الحكم بصحة حديث ما اعتمادا على مجرد اعتبار هذه الأسانيد المتأخرة الواردة في أجزاء الحديث وما يشبهها من الكتب التي وضعها المتأخرون بخلاف المصنفات المعتمدة المشهورة فالثقة بها حاصلة.

2وقد أفلح الاستعمار الغربي الكافر في قطع سلسلة النسب الكثير من الناس ولم يفلح في قطع هذه السلسلة فالحمد لله رب العالمين.

3فلم يكن ابن الصلاح رحمه الله إذا بدعا فيما ذهب إليه.

--------------------------------------------

= অর্থাৎ এমন একটি মূল পাণ্ডুলিপির দিকে ফিরে যাওয়া যা সে নিজে অথবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি একাধিক বিশুদ্ধ ও বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়েছেন। যাতে করে এই কিতাবগুলোর প্রসিদ্ধি এবং এগুলো পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ঐ সকল মূল পাণ্ডুলিপির ঐকমত্যের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে তার আস্থা অর্জিত হয়।

তিনি (ইবনুস সালাহ) 'যাদের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য তাদের গুণাবলি' প্রসঙ্গে ৩০৭ পৃষ্ঠার চতুর্দশ মাসআলায় আরও বলেন: বর্তমান এই পরবর্তী যুগে মানুষ হাদিস বর্ণনাকারী ও শাইখদের ক্ষেত্রে আমাদের বর্ণিত সকল শর্তাবলি বিবেচনার বিষয়টি পরিত্যাগ করেছে। তারা তাদের বর্ণনার ক্ষেত্রে সেই শর্তগুলো পালনে সীমাবদ্ধ থাকেনি, কারণ পূর্ববর্তীরা যেভাবে তা পালন করতেন তা এখন পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর কারণ আমরা আমাদের এই কিতাবের শুরুতে বর্ণনা করেছি যে, এখন উদ্দেশ্য হলো সনদের ক্ষেত্রে এই উম্মতের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রক্ষা করা এবং এর ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে সতর্ক থাকা। সুতরাং উল্লিখিত শর্তাবলির মধ্য থেকে কেবল সেটুকুই বিবেচনা করা হবে যা এই উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর শাইখের যোগ্যতার ক্ষেত্রে এটুকুতেই তুষ্ট থাকা হবে যে, তিনি একজন মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান হবেন এবং পাপাচার ও মূর্খতা প্রকাশকারী হবেন না। আর তার হিফয বা সংরক্ষণের প্রমাণের ক্ষেত্রে এটুকু দেখা হবে যে, তার শ্রবণ (সামা') কোনো নির্ভরযোগ্য হস্তাক্ষরে প্রমাণিত কি না এবং তিনি তার শাইখের পাণ্ডুলিপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ণনা করছেন কি না।

হাফেজ ফকিহ আবু বকর আল-বাইহাকী (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের উল্লিখিত কথার অনুরূপ কথা আগে বলে গেছেন। আমাদের কাছে বর্ণিত বর্ণনায় তিনি তার সমসাময়িক কিছু মুহাদ্দিসের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণের ক্ষেত্রে শিথিলতার কথা উল্লেখ করেছেন—যারা তাদের হাদিস মুখস্থ রাখতেন না, তাদের কিতাব থেকে সঠিকভাবে পড়তে পারতেন না এবং তাদের সামনে যা পড়া হতো তা বুঝতে পারতেন না, যদিও পাঠটি তাদের শ্রবণকৃত মূল পাণ্ডুলিপি থেকেই হতো। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, যে হাদিসগুলো সহিহ কিংবা সহিহ ও দুর্বলতার মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলো হাদিসের ইমামদের সংকলিত জামে গ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে। তাদের সবার নিকট থেকে কোনো কিছু হারিয়ে যাওয়া অসম্ভব, যদিও শরিয়ত প্রবর্তক কর্তৃক তা সংরক্ষণের নিশ্চয়তার কারণে কারও কারও নিকট থেকে কিছু হারিয়ে যাওয়া সম্ভব। তিনি বলেন: সুতরাং আজ যদি কেউ এমন কোনো হাদিস নিয়ে আসে যা তাদের কারও কাছেই পাওয়া যায় না, তবে তা তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না।

আর যদি কেউ এমন কোনো হাদিস নিয়ে আসে যা তাদের কাছে পরিচিত, তবে বর্ণনাকারী এটি বর্ণনায় একক নন, বরং অন্যের বর্ণনার মাধ্যমেও সেই হাদিসের প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত।

_________

= ১. এই কারণে বর্তমানের এই পরবর্তী যুগগুলোতে কেবল হাদিসের 'জুয' বা এই জাতীয় পরবর্তী যুগের কিতাবগুলোতে বর্ণিত পরবর্তী সনদগুলোর উপর ভিত্তি করে এককভাবে কোনো হাদিসের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে প্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ সেগুলোর ওপর পূর্ণ আস্থা বিদ্যমান।

২. কাফের পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ বহু মানুষের বংশীয় সিলসিলা বিচ্ছিন্ন করতে সফল হলেও এই সিলসিলা বিচ্ছিন্ন করতে সফল হয়নি। সুতরাং সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

৩. সুতরাং ইবনুস সালাহ (রাহিমাহুল্লাহ) তার এই মতামতের ক্ষেত্রে কোনো অভিনব কিছু করেননি।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৭৬)
........................................

--------------------------------------------

= والقصد من روايته والسماع منه أن يصير الحديث مسلسلا بحدثنا وأخبرنا وتبقى هذه الكرامة التي خصت بها هذه الأمة شرفا لنبينا محمد صلى الله عليه وسلم.

وقال ابن الصلاح أيضا في معرفة كيفية سماع الحديث وتحمله ص 312 – 313 قال أبو عبد الله الزبيري يستحب كتب الحديث في العشرين..........

وقال ابن الصلاح في كلامه على الوجادة ص 360: هذا كله كلام في كيفية النقل بطريق الوجادة

وأما جواز العمل اعتمادا على ما يوثق به منها فقد روينا عن بعض المالكية أن معظم المحدثين والفقهاء من المالكية وغيرهم لا يرون العمل بذلك.

وحكى عن الشافعي وطائفة من نظار أصحاب جواز العمل به.

قال المملي "أي ابن الصلاح" أبقاه الله قطع بعض المحققين من أصحابه في أصول الفقه بوجوب العمل به عند حصول الثقة به وقال: لو عرض ما ذكرناه على جملة المحدثين لأبوه وما قطع به هو الذي لا يتجه غيره في الأعصار المتأخرة فإنه لو توقف العمل فيها على الرواية لانسد باب العمل بالمنقول لتعذر شرط الرواية فيها على ما تقدم في النوع الأول انتهى.

فهذا كله صريح في بيان مراد ابن الصلاح من كلامه في النوع الأول وأنه إنما أراد تعذر الاستقلال بجزم الحكم بصحة الأسانيد في هذه الأعصار المتأخرة اعتمادا على مجرد اعتبار الأسانيد ويبعد أن تنفرد هذه الأجزاء والمشيخات بأسانيد صحيحة لم ترد في دواوين الإسلام المعتمدة كالصحيحين وغيرهما.

قال ابن عبد الهادي رحمه الله في الصارم المنكى ص 153 وليس في الأحاديث التي رويت بلفظ "زيارة قبره" حديث صحيح عند أهل المعرفة ولم يخرج أرباب الصحيح شيئا من ذلك ولا أرباب السنن المعتمدة كسنن أبي داود والنسائي والترمذي والشافعي ونحو ذلك شيء من ذلك ولا احتج إمام من أئمة المسلمين كأبي حنيفة ومالك والشافعي وأحمد وغيرهم بحديث ذكر "زيارة قبره" فكيف يكون في ذلك أحاديث صحيحة ولم يعرفها أحد من أئمة الدين ولا علماء الحديث؟..... اهـ.

وراجع إن شئت المعرفة للحاكم ص 60 النوع التاسع عشر والكفاية للخطيب ص 35 -36، 224 ط دار التراث العربي والموضوعات لابن الجوزي 1/99 وشرح العلل لابن رجب =
........................................

--------------------------------------------

= এবং এর মাধ্যমে বর্ণনা করা এবং শ্রবণ করার উদ্দেশ্য হলো হাদীসটি 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' এবং 'আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন' শব্দমালার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে শৃঙ্খলিত হওয়া এবং এই অলৌকিক বৈশিষ্ট্য যা এই উম্মতকে প্রদান করা হয়েছে, তা আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সম্মান হিসেবে অবশিষ্ট থাকা।

ইবনুস সালাহ হাদীস শ্রবণ ও গ্রহণের পদ্ধতি বিষয়ক আলোচনায় ৩১২-৩১৩ পৃষ্ঠায় আরও বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহ আয-যুবাইরী বলেছেন, বিশ বছর বয়স থেকে হাদীস লেখা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)..........

ইবনুস সালাহ 'বিজাতাহ' (প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ণনা) সংক্রান্ত আলোচনায় ৩৬০ পৃষ্ঠায় বলেছেন: এ সবই হলো 'বিজাতাহ' পদ্ধতিতে (হাদীস) স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত আলোচনা।

আর এর মধ্য থেকে যেটির উপর আস্থা রাখা যায় তার উপর ভিত্তি করে আমল করার বৈধতার প্রশ্নে, আমরা মালিকী মাযহাবের কিছু আলেম থেকে বর্ণনা করেছি যে, মালিকী ও অন্যান্য মাযহাবের অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও ফকীহ এর উপর আমল করা বৈধ মনে করেন না।

এবং ইমাম শাফেয়ী ও তাঁর অনুসারী একদল তাত্ত্বিক আলেমের পক্ষ থেকে এর উপর আমল করার বৈধতার কথা বর্ণিত হয়েছে।

বর্ণনাকারী অর্থাৎ ইবনুস সালাহ (আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন) বলেছেন: উসূলে ফিকহের পণ্ডিত তাঁর কিছু অনুসারী মুহাক্কিক নির্ভরযোগ্যতা অর্জিত হওয়ার ক্ষেত্রে এর ভিত্তিতে আমল করা ওয়াজিব (আবশ্যক) হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য মত দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন: আমরা যা উল্লেখ করেছি তা যদি একদল মুহাদ্দিসের সামনে পেশ করা হয় তবে তাঁরা তা অস্বীকার করবেন; অথচ পরবর্তী যুগসমূহে তিনি যা অকাট্যভাবে বলেছেন তা ব্যতীত গত্যন্তর নেই। কেননা, যদি আমল করা বর্ণনার (রিওয়ায়াত) উপর নির্ভরশীল হতো, তবে বর্ণিত বিষয়ের উপর আমল করার পথ রুদ্ধ হয়ে যেত। কারণ প্রথম প্রকারের আলোচনায় যেভাবে অতিবাহিত হয়েছে, সে অনুযায়ী বর্ণনার শর্ত পূরণ হওয়া এক্ষেত্রে অসম্ভব। সমাপ্ত।

সুতরাং এই সবকিছুই ইবনুস সালাহ-এর প্রথম প্রকারের আলোচনার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে। তিনি কেবল এই পরবর্তী যুগসমূহে স্রেফ সনদের বিবেচনার উপর ভিত্তি করে সনদের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে এককভাবে অক্ষম হওয়ার কথাই বুঝিয়েছেন। আর এটি অসম্ভব যে, এই ছোট ছোট হাদীস গ্রন্থ (আজযা) ও মাশাইখাত (শায়খদের তালিকা) এমন সব সহীহ সনদ নিয়ে একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবে যা ইসলামের নির্ভরযোগ্য মূল গ্রন্থসমূহে (যেমন সহীহ বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য) স্থান পায়নি।

ইবনু আব্দুল হাদী (রহিমাহুল্লাহ) 'আস-সারিমুল মুনকী' গ্রন্থের ১৫৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "তাঁর কবর যিয়ারত" শব্দে বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে হাদীস বিশারদদের মতে কোনো সহীহ হাদীস নেই। সহীহ গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ এর কিছুই বর্ণনা করেননি, আর না নির্ভরযোগ্য সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ (যেমন সুনানে আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, শাফেয়ী ও এই জাতীয় গ্রন্থসমূহ) এর কিছু বর্ণনা করেছেন। মুসলিমদের ইমামগণের মধ্যে কেউই—যেমন আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ী, আহমাদ ও অন্যান্যরা—"তাঁর কবর যিয়ারত" উল্লেখ থাকা কোনো হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেননি। সুতরাং এ বিষয়ে সহীহ হাদীস কীভাবে থাকতে পারে যা দ্বীনের কোনো ইমাম বা হাদীস শাস্ত্রের কোনো আলেমই জানতেন না?...... সমাপ্ত।

আপনি চাইলে দেখতে পারেন: হাকেম-এর 'মা'রিফাহ' ৬০ পৃষ্ঠা, উনবিংশ প্রকার; খতীব-এর 'আল-কিফায়া' ৩৫-৩৬, ২২৪ পৃষ্ঠা, দারুত তুরাসিল আরাবী সংস্করণ; ইবনুল জাওযীর 'আল-মাওযুআাত' ১/৯৯ এবং ইবনু রাজাবের 'শারহুল ইলাল'। =
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৭৭)
.........................................

--------------------------------------------

= 2/264 ط همام سعيد.

وراجع أيضا قول ابن الأخرم عند ابن الصلاح ص 162 مع قول النووي في التقريب 1/99 مع التدريب والتعليق عليهما عند ابن حجر في النكت 1/298، 319.

هذا ولم يحسن التعقب على ابن الصلاح رحمه الله والتشنيع عليه بحجة أنه يمنع من التصحيح ويدعو إلى إغلاق هذا الباب لأن ذلك لم يرد في كلامه أصلا كيف وهو يقول: إذا وجدنا..حديثا صحيح الإسناد لا نتجاسر على جزم الحكم … فلا شك أن ذلك يحتاج إلى نظر وبصر بالتصحيح.

ومثل ذلك قوله في الفائدة الأولى ص 152 ولهذا نرى الإمساك عن الحكم لإسناد أو حديث بأنه الأصح على الإطلاق.

وقوله في نوع الحسن ص 180 وهذه جملة تفاصيلها تدرك بالمباشرة والبحث.

وقوله في نوع الشاذ ص 343 إذا انفرد الراوي بشيء نظر فيه فينظر في هذا الراوي.........استحسنا حديثه ذلك ولم نحطه إلى قبيل الحديث الضعيف … رددنا ما انفرد به …

وقوله في معرفة زيادات الثقات ص 250 وذلك فن لطيف تستحسن العناية به.

وقوله في الحديث المعلل ص 259 … وإنما يضطلع بذلك أهل الحفظ والخبرة والفهم الثاقب..... ويستعان على إدراكها بتفرد الراوي بمخالفة غيره له مع قرائن تنضم إلى ذلك تنبه العارف بهذا الشأن على إرسال في الموصول.....بحيث يغلب على ظنه ذلك فيحكم به أو يتردد فيتوفق فيه.

وقوله في معرفة المضطرب ص 269 وإنما نسميه مضطربا إذا تساوت الروايات أما إذا ترجحت إحداهما.............إلخ.

وقوله في معرفة الموضوع ص 279...........ولا تحل روايته إلا مقرونا ببيان وضعه …

وقوله في معرفة المقلوب ص 287 وإنما تقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما ظهر لك صحتخ بطريقه الذي أوضحناه أولا.

فكل ذلك يدل على إعمال القواعد والبحث والتفتيش في الأسانيد والحكم عليها بما تستحق حسب القواعد وهذا خلاف ما فهمه النووي وغيره من كلام ابن الصلاح =
.........................................

--------------------------------------------

= ২/২৬৪, হাম্মাম সাঈদ সংস্করণ।

আরও দেখুন ইবনে আস-সালাহ-এর কিতাবে ইবনুল আখরামের উক্তি, পৃষ্ঠা ১৬২; এর সাথে আন-নাওয়াবীর উক্তি ‘আত-তাক্বরীব’ ১/৯৯, এবং ‘আত-তাদরীব’ ও ‘আন-নুকাত’ ১/২৯৮, ৩১৯-এ ইবনে হাজারের মন্তব্য সহ।

ইমাম ইবনে আস-সালাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সমালোচনা করা এবং এই অজুহাতে তাঁকে আক্রমণ করা সঠিক হয়নি যে, তিনি হাদীস বিশুদ্ধকরণের (তাসহীহ) পথ রুদ্ধ করেছেন এবং এই দরজা বন্ধ করার ডাক দিয়েছেন। কারণ তাঁর বক্তব্যে মূলত এ জাতীয় কিছু আসেনি। তিনি কীভাবে এটি বলতে পারেন যেখানে তিনি নিজেই বলছেন: “যখন আমরা সহীহ সনদ বিশিষ্ট কোনো হাদীস পাই, তখন আমরা চূড়ান্ত ফয়সালা দিতে দুঃসাহস দেখাই না … তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি বিশুদ্ধকরণের ক্ষেত্রে গভীর নিরীক্ষণ ও অন্তর্দৃষ্টির মুখাপেক্ষী।”

এর অনুরূপ হলো প্রথম ফায়দার মধ্যে তাঁর উক্তি (পৃষ্ঠা ১৫২): “এজন্যই আমরা কোনো সনদ বা হাদীসকে নিরঙ্কুশভাবে ‘সর্বাধিক বিশুদ্ধ’ (আসাহুল আসানীদ) হিসেবে হুকুম দেওয়া থেকে বিরত থাকা সমীচীন মনে করি।”

‘হাসান’ হাদীসের প্রকার বর্ণনায় তাঁর উক্তি (পৃষ্ঠা ১৮০): “এগুলো এমন কিছু মূল বিষয় যার বিস্তারিত বিবরণ সরাসরি চর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে অনুধাবন করা যায়।”

‘শায’ (ব্যতিক্রমী) হাদীসের প্রকার বর্ণনায় তাঁর উক্তি (পৃষ্ঠা ৩৪৩): “যখন কোনো রাবী কোনো বিষয়ে একক হয়ে যায়, তখন সেটি খতিয়ে দেখা হয়। সুতরাং সেই রাবীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয় … আমরা তার সেই হাদীসটিকে ভালো মনে করি এবং আমরা তাকে দুর্বল (যয়ীফ) হাদীসের পর্যায়ে নামিয়ে দিই না … আমরা তার একক বর্ণনাটি প্রত্যাখ্যান করি …

নির্ভরযোগ্য রাবীদের অতিরিক্ত বর্ণনা (জিয়াদাতুত থিক্বাত) সম্পর্কে তাঁর উক্তি (পৃষ্ঠা ২৫০): “এটি একটি সূক্ষ্ম শিল্প যার প্রতি যত্নবান হওয়া প্রশংসনীয়।”

ত্রুটিপূর্ণ হাদীস (মুআল্লাল) সম্পর্কে তাঁর উক্তি (পৃষ্ঠা ২৫৯): … “একথা কেবল হিফয (স্মৃতিশক্তি), অভিজ্ঞতা এবং তীক্ষ্ণ ধীসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সম্পন্ন করতে পারেন … আর তা অনুধাবন করার জন্য অন্য রাবীদের সাথে বিরোধিতার পাশাপাশি রাবীর একাকী বর্ণনার সহায়তা নেওয়া হয়, সাথে এমন কিছু পারিপার্শ্বিক প্রমাণ থাকে যা এই শাস্ত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে ‘সংযুক্ত’ (মাউসুল) বর্ণনার মধ্যে ‘বিচ্ছিন্নতা’ (ইর্সাল) সম্পর্কে সতর্ক করে দেয় … এমনভাবে যে তার মনে সেই ধারণা প্রবল হয়, তখন তিনি সে অনুযায়ী ফয়সালা দেন অথবা সংশয়ে থাকলে তা থেকে বিরত থাকেন।”

‘মুদতারিব’ (বিশৃঙ্খল) হাদীস সম্পর্কে তাঁর উক্তি (পৃষ্ঠা ২৬৯): “আমরা একে তখনই মুদতারিব বলব যখন বর্ণনাগুলো সমপর্যায়ের হবে, কিন্তু যদি একটি অগ্রগণ্য হয় … ইত্যাদি।”

‘মাওযু’ (জাল) হাদীস সম্পর্কে তাঁর উক্তি (পৃষ্ঠা ২৭৯): … “আর জাল হওয়ার বর্ণনা স্পষ্ট করা ব্যতিরেকে তা বর্ণনা করা বৈধ নয় …”

‘মাক্বলুব’ (উলট-পালট) হাদীস সম্পর্কে তাঁর উক্তি (পৃষ্ঠা ২৮৭): “বরং তুমি কেবল বলবে: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন’—সেই বর্ণনার ক্ষেত্রে যা তোমার নিকট সহীহ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে সেই পদ্ধতির মাধ্যমে যা আমরা শুরুতে স্পষ্ট করেছি।”

সুতরাং এই সবই মূলনীতির প্রয়োগ এবং সনদসমূহের বিচার-বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান এবং মূলনীতি অনুযায়ী সেগুলো যে মানের যোগ্য সেই অনুযায়ী ফয়সালা করার প্রমাণ দেয়। আর এটি ইমাম আন-নাওয়াবী ও অন্যান্যরা ইবনে আস-সালাহ-এর বক্তব্য থেকে যা বুঝেছেন তার সম্পূর্ণ বিপরীত। =
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৭৮)
..........................................

--------------------------------------------

وقد صحح ابن الصلاح وحسن في كلامه على الوسيط للغزالي3.

والغريب أن النووي والعراقي وابن حجر قد وقفوا على كلامه هذا فنقل منه العراقي في مواضع منها:

في تخريج الإحياء للغزالي3 1/201، 216، 225 ط الإيمان بالمنصور ونقل منه ابن حجر في مواضع لا تحصى من كتابه تلخيص الحبير منها 1/47، 63، 68، 69، 84، 90، 127، 143، ط ابن تيمية.

وقد صحح ابن الصلاح رحمه الله وحسن في كلامه هذا وذكر ابن حجر متابعة النووي لابن الصلاح رحمهم الله على بعض أحكامه فكيف فاتهم ذلك؟ ففهموا أن ابن الصلاح يمنع من التصحيح والتحسين؟.

ولابن الصلاح رحمه الله تعالى يتكلم فيها على الأحاديث وقفت على الجزء الثالث منها3.

ومن نظر فيه رأى نفس عالم محدث يسرد الحديث وما يشهد له مع الكلام عليه.

بل لماذا ألف ابن الصلاح رحمه الله مقدمته في علوم الحديث ووصف كتابه هذا بكونه أباح بأسراره يعني علم الحديث الخفية وكشف عن مشكلاته الأبية وأحكم معاقده وقواعده وأنار معالمه وبين أحكامه وفصل أقسامه وأوضح أصوله وشرح فروعه وفصوله وجمع شتات علومه وفوائده وقنص شوارده وفرائده.

وذكر أن الله عز وجل من بهذا الكتاب حين كاد الباحث عن مشكله لا يلقي له كاشفا والسائل عن علمه لا يلقي به عارفا كما ذكر ذلك في مقدمة كتابه ص 146.

فلماذا ألفه إذا كان لا يرى جواز التصحيح في هذه الأعصار؟ جواز ذلك لما ألف للناس كتابا يعلمهم سبيل التصحيح والتحسين والحكم على الأحاديث بما تستحق.

ثم رأيت أبا الحارث علي بن حسن الحلبي حفظه الله يقول: كلام ابن الصلاح يفهم منه التعسير لا مطلق المنع كما في حاشية الباعث 1/112 ط دار العاصمة ولم يذكر دليله على ذلك.

هذا وقد استشكل قول ابن الصلاح رحمه الله فآل الأمر في معرفة الصحيح والحسن إلى الاعتماد..................................=

_________

1وهو مطبوع وعليه تعليقات ابن الصلاح رحمه الله تعالى.

1وسيأتي ما يدل على ذلك أيضا في موضع لاحق من هذا الكتاب إن شاء الله تعالى والله أعلم.

2مصور عن النسخة الخطية المحفوظة بالمكتبة الأزهرية حديث 3749 وعنها صورة بمعهد المخطوطات بالقاهرة.
..........................................

--------------------------------------------

ইবনে আস-সালাহ (রহ.) গাজালীর 'আল-ওয়াসিত'-এর ওপর তাঁর আলোচনায় (হাদিসকে) সহিহ ও হাসান বলেছেন। ৩।

আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, আন-নববী, আল-ইরাকি এবং ইবনে হাজার তাঁর এই বক্তব্যের বিষয়ে অবগত ছিলেন। আল-ইরাকি তা থেকে বিভিন্ন স্থানে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

গাজালীর 'ইহয়া'র তাখরিজে ৩ ১/২০১, ২১৬, ২২৫ (আল-ঈমান প্রকাশনী, আল-মানসুর); এবং ইবনে হাজার তাঁর 'তালখিস আল-হাবীর' কিতাবে অসংখ্য স্থানে তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেমন ১/৪৭, ৬৩, ৬৮, ৬৯, ৮৪, ৯০, ১২৭, ১৪৩ (ইবনে তাইমিয়া প্রকাশনী)।

ইবনে আস-সালাহ (রহ.) তাঁর এই বক্তব্যে (হাদিসকে) সহিহ ও হাসান বলেছেন এবং ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে, আন-নববী (রহ.) তাঁর কিছু হুকুমের ক্ষেত্রে ইবনে আস-সালাহ (রহ.)-কে অনুসরণ করেছেন। তাহলে কীভাবে এটি তাঁদের দৃষ্টি এড়িয়ে গেল? কেন তাঁরা এমনটা বুঝলেন যে ইবনে আস-সালাহ (হাদিস) সহিহ ও হাসান বলা থেকে নিষেধ করেন?

ইবনে আস-সালাহ (রহ.)-এর একটি কাজ রয়েছে যেখানে তিনি হাদিস নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার তৃতীয় খণ্ডটি আমি দেখেছি ৩।

যে কেউ এটি দেখবে, সে সেখানে একজন মুহাদ্দিস আলেমের প্রাণবন্ত উপস্থিতি দেখতে পাবে, যিনি হাদিস বর্ণনা করছেন এবং সেগুলোর সপক্ষে প্রমাণাদি পেশ করার পাশাপাশি সেগুলোর ওপর আলোচনা করছেন।

বরং ইবনে আস-সালাহ (রহ.) কেন উলুমুল হাদিসের ওপর তাঁর 'মুকাদ্দিমাহ' রচনা করলেন এবং তাঁর এই কিতাবকে এমনভাবে বর্ণনা করলেন যে এটি (হাদিস শাস্ত্রের) গোপন রহস্যসমূহকে উন্মোচন করেছে, অর্থাৎ হাদিস বিজ্ঞানের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ প্রকাশ করেছে, এর কঠিন সমস্যাবলি উন্মোচন করেছে, এর মূলনীতি ও নিয়মাবলিকে সুসংহত করেছে, এর নিদর্শনগুলোকে আলোকিত করেছে, এর বিধানসমূহ বর্ণনা করেছে, এর শ্রেণিবিভাগগুলোকে সুবিন্যস্ত করেছে, এর মূল ভিত্তিগুলোকে স্পষ্ট করেছে, এর শাখা-প্রশাখা ও পরিচ্ছেদসমূহ ব্যাখ্যা করেছে এবং এই বিজ্ঞানের বিক্ষিপ্ত জ্ঞান ও উপকারিতাগুলোকে একত্রিত করেছে এবং এর দুর্লভ ও অনন্য বিষয়গুলোকে সংকলন করেছে।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মহান আল্লাহ এই কিতাবের মাধ্যমে তখন অনুগ্রহ করেছেন যখন এর জটিল বিষয়াবলি সম্পর্কে অনুসন্ধানকারী কোনো সমাধানকারী পাচ্ছিল না এবং এই জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসু কোনো বিজ্ঞ ব্যক্তিকে খুঁজে পাচ্ছিল না, যেমনটি তিনি তাঁর কিতাবের মুকাদ্দিমাহর ১৪৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন।

তবে তিনি কেন এটি রচনা করলেন যদি তিনি বর্তমান যুগে (হাদিস) সহিহ বলার বৈধতা না দেখতেন? মূলত এর বৈধতার কারণেই তিনি মানুষের জন্য এমন একটি কিতাব রচনা করেছেন যা তাদের (হাদিস) সহিহ ও হাসান বলার পদ্ধতি এবং হাদিসের মান অনুযায়ী সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদানের পন্থা শেখায়।

অতঃপর আমি আবু আল-হারিস আলী বিন হাসান আল-হালাবি (হাফিযাহুল্লাহ)-কে বলতে দেখেছি: ইবনে আস-সালাহ-এর বক্তব্য থেকে কঠিনসাধ্যতা বোঝা যায়, ঢালাওভাবে নিষেধাজ্ঞা নয়; যেমনটি 'আল-বাইস'-এর টীকা ১/১১২ (দারুল আসিমাহ প্রকাশনী)-তে উল্লেখ আছে, যদিও তিনি এর সপক্ষে তাঁর প্রমাণ উল্লেখ করেননি।

ইবনে আস-সালাহ (রহ.)-এর বক্তব্যটি জটিলতা সৃষ্টি করেছে, ফলে সহিহ ও হাসান হাদিস চেনার বিষয়টি নির্ভরতার ওপর এসে দাঁড়িয়েছে।..................................=

_________

১. এটি মুদ্রিত এবং এর ওপর ইবনে আস-সালাহ (রহ.)-এর টীকা রয়েছে।

১. ইনশাআল্লাহ এই কিতাবের পরবর্তী কোনো স্থানে এ সংক্রান্ত প্রমাণ আসবে এবং আল্লাহই ভালো জানেন।

২. আল-আজহারিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির হাদিস নং ৩৭৪৯ থেকে অনুলিপি করা হয়েছে এবং কায়রোতে অবস্থিত পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে এর একটি কপি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৭৯)
......................................

--------------------------------------------

=على ما نص عليه أئمة الحديث في تصانيفهم المعتمدة المشهورة التي نؤمن فيها لشهرتها من التغيير والتحريف.

فقال ابن حجر في النكت 1/270 فيه نظر لأنه يشعر بالاقتصار على ما يوجد منصوصا على صحته ورد ما جمع شروط الصحة إذا لم يوجد النص على صحته من الأئمة المتقدمين............الخ.

وقال أيضا 1/271 كلامه يعني ابن الصلاح يقتضي الحكم بصحة ما نقل عن الأئمة المتقدمين فيما حكموا بصحته في كتبهم المعتمدة المشهورة والطريق التي وصل إلينا بها كلامهم على الحديث بالصحة وغيرها هي الطريق التي وصلت إلينا بها أحاديثهم فإن أفاد الإسناد صحة المقالة عنهم فليفد الصحة بأنهم حدثوا بذلك الحديث ويبقى النظر إنما هو في الرجال الذين فوقهم وأكثرهم رجال الصحيح كما سنقرره اهـ.

وحمله الدكتور الملباري حفظه الله في كتابه تصحيح الحديث ص 26 على أن معناه معرفة صحة أو حسن أحاديث الأجزاء ونحوها وليس مطلق الأحاديث.

ثم عاد فقال ص 29 على أن الأمر إذا لم يكن كما سابقا فلا يخلو قوله: فآل الأمر إذا في معرفة الصحيح والحسن إلى الاعتماد على ما نص عليه أئمة الحديث في تصانيفهم المعتمدة المشهورة التي يؤمن فيها لشهرتها من التغيير والتحريف من تناقض صريح كما بينه الحافظ ابن حجر....إلخ اهـ.

والظاهر أن مراد ابن الصلاح من قوله: فآل الأمر إذا في معرفة الصحيح والحسن … إلخ مطلق الأحاديث.

ويكون قوله: إلى الاعتماد على ما نص عليه أئمة الحديث في تصانيفهم بمعنى ما ذكره أئمة الحديث في تصانيفهم المعتمدة لا ما نصوا على صحته أو حسنه ويؤيده أنه عطف على كلامه هذا قوله وصار معظم المقصود بما يتداول من الأسانيد خارجا عن ذلك إبقاء سلسلة الإسناد.........إلخ فالمراد معظم المقصود بما يتداول من الأسانيد خارجا عن المصنفات المعتمدة ويحتمل أن يعود الضمير إلى أبعد مذكور وهو قوله: إلى الاعتماد على ما نص عليه أئمة الحديث وهذا يحتاج إلى قرينة ومع ذلك لا يستقيم عود الضمير على قوله ما نص عليه أئمة الحديث إلا بالمعنى المذكور هنا من تفسير النص هنا بمعنى ذكر الأسانيد في مصنفاتهم لا بمعنى النص على الصحة أو الحسن إذ لم يقل أحد بان ما ورد في الكتب المعتمدة كالسنن وغيرها مما لم ينص على صحته إنما يتداول من أجل إبقاء سلسلة الإسناد التي خصت بها هذا الأمة.

ويؤيد ذلك أيضا عدوله يعنى ابن الصلاح عن التعبير بالنص على الصحة واقتصاره على مجرد =
......................................

--------------------------------------------

=হাদিসের ইমামগণ তাঁদের নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহে যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যা প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণে আমরা পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে নিরাপদ মনে করি।

ইবনে হাজার 'আন-নুকাত' (১/২৭০)-এ বলেছেন: "এতে আপত্তির অবকাশ আছে; কারণ এটি কেবল সেই হাদীসগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার ইঙ্গিত দেয় যেগুলোর সহীহ হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ভাষ্য বিদ্যমান। আর পূর্ববর্তী ইমামগণের পক্ষ থেকে সহীহ হওয়ার ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট ভাষ্য না পাওয়া গেলে সেই হাদীসটি প্রত্যাখ্যান করার কথা বলে, যদিও তাতে সহীহ হওয়ার সকল শর্ত বিদ্যমান থাকে... ইত্যাদি।"

তিনি আরও বলেন (১/২৭১): "তাঁর (অর্থাৎ ইবনুস সালাহ-এর) কথা এই দাবি করে যে, পূর্ববর্তী ইমামগণ তাঁদের নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে যে হাদীসগুলোকে সহীহ বলেছেন, সেগুলোকে সহীহ হিসেবেই গণ্য করতে হবে। আর হাদীস সহীহ হওয়া বা না হওয়া সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য যে সূত্রের মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছেছে, সেই একই সূত্রের মাধ্যমে তাঁদের হাদীসগুলোও আমাদের কাছে পৌঁছেছে। সুতরাং সনদ যদি তাঁদের বক্তব্যের বিশুদ্ধতা প্রমাণ করে, তবে তা এই প্রমাণও দিবে যে তাঁরা সেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এরপর অবশিষ্ট কাজ হবে শুধুমাত্র তাঁদের পরবর্তী রাবীদের ব্যাপারে পর্যালোচনা করা, যাদের অধিকাংশই 'সহীহ' (বুখারী ও মুসলিম) এর রাবী, যেমনটি আমরা সামনে প্রতিষ্ঠা করব। সমাপ্ত।"

ডক্টর আল-মালিব্বারী (হাফিযাহুল্লাহ) তাঁর 'তাসহিহুল হাদিস' (পৃষ্ঠা ২৬) গ্রন্থে এর অর্থ ধরেছেন: 'জুয' (হাদিসের ছোট সংকলন) ও এই জাতীয় কিতাবের হাদিসগুলোর সহীহ বা হাসান হওয়া সম্পর্কে জানা, সাধারণভাবে সকল হাদিস নয়।

এরপর তিনি ২৯ পৃষ্ঠায় পুনরায় বলেন: "যদি বিষয়টি আগের মতো না হয়, তবে তাঁর (ইবনুস সালাহ) এই বক্তব্য: 'সুতরাং সহীহ ও হাসান হাদীস চেনার বিষয়টি এখন হাদিসের ইমামগণের নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করার দিকেই ফিরে যাচ্ছে—যে কিতাবগুলো প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণে পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে নিরাপদ মনে করা হয়'—তা স্পষ্ট বৈপরীত্য থেকে মুক্ত নয়, যেমনটি হাফিয ইবনে হাজার বর্ণনা করেছেন... ইত্যাদি। সমাপ্ত।"

আর আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হয় যে, ইবনুস সালাহ-এর বক্তব্য: 'সুতরাং সহীহ ও হাসান হাদীস চেনার বিষয়টি এখন ফিরে যাচ্ছে...' ইত্যাদি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাধারণভাবে সকল হাদিস।

আর তাঁর কথা: 'হাদিসের ইমামগণ তাঁদের গ্রন্থসমূহে যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তার ওপর নির্ভর করা' এর অর্থ হবে হাদিসের ইমামগণ তাঁদের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহে যা উল্লেখ করেছেন তা; যেগুলোর সহীহ বা হাসান হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন শুধু সেগুলো নয়। এর স্বপক্ষে যুক্তি হলো, তিনি তাঁর এই কথার সাথে যুক্ত করে বলেছেন: 'বর্তমানে প্রচলিত সনদগুলোর মূল উদ্দেশ্য এর বাইরে ইজাযত বা সনদের ধারা রক্ষা করা... ইত্যাদি'। সুতরাং এখানে উদ্দেশ্য হলো নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের বাইরে প্রচলিত সনদগুলোর মূল লক্ষ্য। এটিও সম্ভব যে, সর্বনামটি দূরবর্তী প্রসঙ্গের দিকে ফিরেছে, যা হলো তাঁর উক্তি: 'হাদিসের ইমামগণ যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তার ওপর নির্ভর করা'। তবে এর জন্য প্রমাণের প্রয়োজন। তা সত্ত্বেও, 'হাদিসের ইমামগণ যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন'—এর দিকে সর্বনামটি ফিরানো তখনই সঠিক হবে যদি 'নাস' (সুস্পষ্ট উল্লেখ) শব্দটিকে এখানে তাঁদের কিতাবসমূহে সনদসহ হাদিস উল্লেখ করার অর্থে নেওয়া হয়, সহীহ বা হাসান হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার অর্থে নয়। কেননা কেউ একথা বলেননি যে, সুনান ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য কিতাবে যে হাদিসগুলোর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে স্পষ্ট ঘোষণা নেই, সেগুলো কেবল সনদের ধারা রক্ষার জন্য চর্চা করা হয় যে বৈশিষ্ট্য আল্লাহ এই উম্মতকে দান করেছেন।

এর সপক্ষে আরও দলিল হলো যে, তিনি (অর্থাৎ ইবনুস সালাহ) 'সহীহ হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট উক্তি' এই অভিব্যক্তি থেকে সরে এসে কেবল নিম্নোক্ত কথার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন =
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৮০)
اعترض بعضهم بقول النووي في كتابه التقريب الأظهر عندي جواز ذلك لمن تمكن وقويت معرفته وما رجحه النووي هو الذي عليه عمل أهل الحديث فقد صحح جماعة من

--------------------------------------------

= النص على هذه الأسانيد.

ويؤيد قوله في الفائدة السابعة ص 169 وإذا انتهى الأمر في معرفة الصحيح إلى ما خرجه الأئمة في تصانيفهم الكافلة ببيان ذلك كما سبق ذكره وقوله في الفائدة الثامنة ص 173 إذا ظهر بما قدمناه انحصار طريق معرفة الصحيح والحسن الآن في مراجعة الصحيحين وغيرهما من الكتب المعتمدة.

وقوله في كلامه جواز العمل اعتمادا على ما يوثق به من الوجادة ص 36 قطع بعض المحققين من أصحابه يعنى الشافعي في أصول الفقه بوجوب العمل به عند حصول الثقة به وقال: لو عرض ما ذكرناه على جملة المحدثين لأبوه وما قطع به هو الذي لا يتجه غيره في الأعصار المتأخرة فإنه لو توقف العمل فيها على الرواية لانسد باب العمل بالمنقول لتعذر شرط الرواية فيها على ما تقدم في النوع الأول اهـ.

وعلى هذا التأويل المذكور هنا يزول التعارض الظاهري بين أجزاء كلام ابن الصلاح رحمه الله تعالى وهذا التأويل يحتاج إلى تدبر فلا تبادر بالإنكار رعاك الله.

وتبقى بعض أشياء لعلي أذكرها في موضع آخر يناسبها إن شاء الله وقدره بمنه وكرمه سبحانه وتعالى.

وراجع المخالفين لابن الصلاح رحمه الله النكت لابن حجر رحمه الله 1/266 – 273 ط دار الراية وإرشاد النقاد إلى تيسير الاجتهاد للصنعاني رحمه الله ص 45 – 49 مقدمة المحقق ص 73 – 7 ط الدار السلفية بالكويت تحقيق صلاح الدين مقبول أحمد وراجع لتوجيه رأي ابن الصلاح رحمه الله رسالة تصحيح الحديث عند الإمام ابن الصلاح دراسة نقدية للدكتور حمزة بن عبد الله المليباري حفظه الله.

وللسيوطي رحمه الله رسالة بعنوان التنقيح لمسألة التصحيح لإنزال مخطوطة يسر الله نشرها بفضله وكرمه........آمين.

وقد حاول السيوطي رحمه الله الجمع في رسالته هذه بين رأي ابن الصلاح ورأي غيره بتأويل غيريب ليس هذا محله والله أعلم وهو حسبي والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.
তাদের কেউ কেউ ইমাম নববীর তাঁর 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে আপত্তি জানিয়েছেন যে, "আমার নিকট অধিক স্পষ্ট মত হলো, যার সামর্থ্য আছে এবং যার জ্ঞান সুগভীর, তার জন্য এটি বৈধ।" আর ইমাম নববী যা প্রাধান্য দিয়েছেন, আহলে হাদিসগণের আমল সেটিরই ওপর। কেননা একদল

--------------------------------------------

= এই সনদগুলোর ওপর স্পষ্ট বক্তব্য।

এটি তাঁর সপ্তম ফায়দাহর (পৃষ্ঠা ১৬৯) বক্তব্যকে সমর্থন করে: "যদি সহীহ চেনার বিষয়টি সেই পর্যন্ত পৌঁছে যায় যা ইমামগণ তাঁদের সংকলিত গ্রন্থসমূহে ইতিপূর্বে বর্ণিত আলোচনার ন্যায় সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।" এবং অষ্টম ফায়দাহর (পৃষ্ঠা ১৭৩) বক্তব্য: "যখন আমাদের পূর্বালোচিত আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হলো যে, বর্তমানে সহীহ ও হাসান হাদিস চেনার পথ কেবল 'সহীহাইন' (বুখারী ও মুসলিম) এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের শরণাপন্ন হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।"

এবং নির্ভরযোগ্য 'উইজাদাহ' (লিখিত পাণ্ডুলিপি) এর ওপর ভিত্তি করে আমল করার বৈধতা প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য (পৃষ্ঠা ৩৬): "তাঁর (অর্থাৎ ইমাম শাফেয়ীর) অনুসারীদের মধ্য থেকে কতিপয় মুহাক্কিক উসুলে ফিকহ শাস্ত্রে এটি অকাট্যভাবে বলেছেন যে, যখন নির্ভরযোগ্যতা অর্জিত হবে তখন তার ওপর আমল করা ওয়াজিব। তিনি আরও বলেন: আমরা যা উল্লেখ করেছি তা যদি মুহাদ্দিসগণের জামাতের সামনে পেশ করা হতো, তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান করতেন। অথচ তিনি যা অকাট্যভাবে বলেছেন, পরবর্তী যুগসমূহে সেটি ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। কেননা, যদি সেই যুগগুলোতে আমল করা বর্ণনার (রিওয়ায়াত) ওপর স্থগিত রাখা হতো, তবে বর্ণিত বিষয়ের ওপর আমলের পথ রুদ্ধ হয়ে যেত; কারণ সে সময় বর্ণনার শর্ত পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল, যা প্রথম প্রকারের আলোচনায় গত হয়েছে।"

এখানে উল্লিখিত এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে ইমাম ইবনুল সালাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যের বিভিন্ন অংশের মাঝে আপাত বৈপরীত্য দূর হয়ে যায়। আর এই ব্যাখ্যার জন্য গভীর চিন্তাভাবনার প্রয়োজন, তাই আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করুন, আপনি এটি অস্বীকার করতে তাড়াহুড়ো করবেন না।

আরও কিছু বিষয় অবশিষ্ট রয়ে গেল, যা হয়তো আমি ইনশাআল্লাহ এবং সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দয়া ও অনুগ্রহে অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে উল্লেখ করব।

ইমাম ইবনুল সালাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতের বিরোধিতাকারীদের বিষয়ে দেখুন: ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর 'আন-নুকাত', ১/২৬৬-২৭৩, দারুর রাইয়াহ সংস্করণ; সানআনী (রহিমাহুল্লাহ)-এর 'ইরশাদুন নুকাাদ ইলা তায়সীরিল ইজতিহাদ', ৪৫-৪৯ পৃষ্ঠা; মুহাক্কিক সালাহউদ্দীন মকবুল আহমদের ভূমিকা, ৭৩-৭৭ পৃষ্ঠা, দারুস সালাফিয়্যাহ, কুয়েত সংস্করণ। আর ইবনুল সালাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতের ব্যাখ্যার জন্য দেখুন: ডক্টর হামজা বিন আব্দুল্লাহ আল-মালিব্বারী (হাফিযাহুল্লাহ)-এর গবেষণা গ্রন্থ 'তাসহিহুল হাদিস ইনদাল ইমাম ইবনুস সালাহ: দিরাসাতুন নাকদিয়্যাহ'।

সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ)-এর 'আত-তানকীহ লি-মাসআলাতিত তাসহিহ' শিরোনামে একটি রিসালাহ রয়েছে যা পাণ্ডুলিপি আকারে আছে। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় এটি প্রকাশের ব্যবস্থা করে দিন... আমীন।

সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই রিসালাহতে ইবনুল সালাহ এবং অন্যদের মতের মাঝে একটি অদ্ভুত ব্যাখ্যার মাধ্যমে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছেন, যার বর্ণনার স্থান এটি নয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞাত, তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর নিআমতের মাধ্যমেই সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৮১)
المتأخرين أحاديث لم نجد فيها تصحيحا لمن تقدمهم1.

فمن المعاصرين للمصنف أبو الحسن علي بن محمد بن عبد الملك بن القطان قاضي سجلماسة من الغرب2 مات بها سنة ثمان وعشرين وستمائة صحح في كتابه بيان الوهم والإيهام عدة أحاديث.

منها حديث ابن عمر أنه كان يتوضأ ونعلاه في رجليه ويمسح عليهما ويقول كذلك كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يفعل.

أخرجه أبو بكر البزار في مسنده قال: ابن القطان حديث صحيح.

ومنها حديث أنس كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ينتظرون الصلاة فيضعون جنوبهم فمنهم من ينام ثم يقوم إلى الصلاة.

رواه هكذا قاسم بن أصبغ وصححه ابن القطان.

وقال وهو كما ترى صحيح.

وممن صحح من المعاصرين له أيضا الحافظ ضياء الدين محمد بن عبد الواحد المقدسي فجمع كتابا سماه المختارة التزم فيه الصحة فصحح فيه أحاديث لم سيبق إلى تصحيحها وتوفي في السنة التي مات فيها المصنف سنة ثلاث وأربعين وستمائة.

قال الحافظ ابن كثير: "وهذا الكتاب إعني المختارة لم يتم وكان بعض الحفاظ من مشايخنا يرجحه على مستدرك الحاكم".

وصحح بعده أيضا الحافظ زكي الدين عبد العظيم بن عبد القوي المنذري حديثا في جزء له جمع فيه ما ورد فيه "غفر له ما تقدم من ذنبه وما تأخر" وتوفي الزكي سنة ست وخمسين وستمائة.

ثم صححت الطبقة التي تلي هذه أيضا فصحح الحافظ شرف الدين عبد المؤمن بن خلف الدمياطي حديث جابر مرفوعا "ماء زمزم لما شرب له" في جزء جمعه في ذلك أورده من رواية عبد الرحمن بن أبي الموالي عن محمد بن المنكدر عن

--------------------------------------------

1 ومن هؤلاء الذين صححوا وحسنوا الإمام ابن الصلاح رحمه الله، فلا اعتراض عليه إذا؛ والله أعلم.

2 هكذا في خط، وفي ع: "المغرب".
পরবর্তী যুগের আলেমগণ এমন কিছু হাদিস সহিহ বলেছেন যেগুলোর ক্ষেত্রে তাদের পূর্ববর্তীদের পক্ষ থেকে কোনো সহিহ হওয়ার রায় পাওয়া যায় না১।

গ্রন্থকারের সমসাময়িকদের মধ্যে ছিলেন সিজিলমাসার কাজী আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন আল-কাত্তান, যিনি মাগরিব বা মরক্কোর অধিবাসী ছিলেন২। তিনি ৬২৮ হিজরি সনে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তাঁর 'বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি' নামক গ্রন্থে বেশ কিছু হাদিস সহিহ বলে উল্লেখ করেছেন।

তার মধ্যে ইবনে উমরের একটি হাদিস রয়েছে যে, তিনি অজু করতেন এবং তাঁর জুতা দু'টি তাঁর পা দু'টিতে থাকত। তিনি সেগুলোর ওপর মাসেহ করতেন এবং বলতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই করতেন।

এটি আবু বকর আল-বজ্জার তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল কাত্তান বলেছেন: এটি একটি সহিহ হাদিস।

তার মধ্যে আনাসের বর্ণিত একটি হাদিসও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ নামাজের জন্য অপেক্ষা করতেন এবং তাদের পার্শ্বদেশ মাটিতে রাখতেন, ফলে তাদের কেউ কেউ ঘুমিয়ে পড়তেন, তারপর উঠে নামাজের জন্য দাঁড়াতেন।

কাসিম বিন আসবাগ এটি এভাবেই বর্ণনা করেছেন এবং ইবনুল কাত্তান একে সহিহ বলেছেন।

তিনি বলেছেন, এটি যেমন দেখছেন তেমনই সহিহ।

তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে হাফেজ জিয়াউদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসিও সহিহ হওয়ার রায় দিয়েছেন। তিনি 'আল-মুখতারা' নামক একটি গ্রন্থ সংকলন করেছেন যেখানে তিনি কেবল সহিহ হাদিস সংকলনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি এমন কিছু হাদিসকে সহিহ বলেছেন যেগুলোর ব্যাপারে তাঁর আগে কেউ সহিহ হওয়ার রায় দেননি। তিনি ৬৪৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, যে বছর গ্রন্থকারও মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

হাফেজ ইবনে কাসির বলেছেন: "এই কিতাবটি—অর্থাৎ আল-মুখতারা—পূর্ণাঙ্গ হয়নি। তবে আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে কোনো কোনো হাফেজ একে হাকেমের মুস্তাদরাক-এর ওপর অগ্রাধিকার দিতেন।"

তাঁর পরে হাফেজ জাকিউদ্দিন আব্দুল আজিম বিন আব্দুল কাবি আল-মুনজিরিও একটি হাদিস সহিহ বলেছেন তাঁর একটি পুস্তিকায়, যেখানে তিনি "তার পূর্বের ও পরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে" এই মর্মে বর্ণিত হাদিসগুলো একত্র করেছেন। জাকিউদ্দিন ৬৫৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

অতঃপর পরবর্তী স্তরের আলেমগণও সহিহ হওয়ার রায় দিয়েছেন। হাফেজ শরফউদ্দিন আব্দুল মুমিন বিন খালাফ আদ-দিমইয়াতি জাবিরের বর্ণিত মারফু হাদিস—"জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয় তা তারই জন্য"—সহিহ বলেছেন। তিনি এ বিষয়ে একটি পুস্তিকা সংকলন করেছেন এবং এটি আব্দুর রহমান বিন আবুল মাওয়ালি-এর সূত্রে মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির থেকে বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

১. যারা সহিহ ও হাসান হওয়ার রায় দিয়েছেন তাদের মধ্যে ইমাম ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ)-ও রয়েছেন, সুতরাং এক্ষেত্রে তাঁর প্রতি কোনো আপত্তি থাকে না। আল্লাহই ভালো জানেন।

২. পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, আর অন্য পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আল-মাগরিব"।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৮২)
جابر ومن هذه الطريق رواه البيهقي في شعب الإيمان وإنما المعروف رواية عبد الله بن المؤمل عن ابن المنكدر كما رواه ابن ماجه وضعفه النووي وغيره من هذا الوجه وطريق ابن عباس أصح من طريق جابر.

ثم صححت الطبقة التي تلي هذه وهم شيوخنا فصحح الشيخ تقي الدين السبكي رحمه الله حديث ابن عمر في الزيارة في تصنيفه المشهور.

ولك أن تقول وليس من تجاسر على التصحيح وصحح يكون حجة على المؤلف إذ لا يلزم أن يكون ما صححه هؤلاء المتأخرون صحيحا عند المتقدمين.

قال الثالثة: أول من صنف الصحيح البخاري أبو عبد الله محمد بن إسماعيل الجعفي مولاهم وتلاه أبو الحسين مسلم بن الحجاج النيسابوري القشيري من أنفسهم ومسلم مع أنه أخذ عن البخاري واستفاد منه يشاركه في أكثر شيوخه وكتاباهما أصح الكتب بع كتاب الله العزيز وأما ما رويناه عن الشافعي رضي الله عنه من أنه قال: ما أعلم في الأرض كتابا في العلم أكثر صوابا من كتاب مالك ومنهم من رواه بغير هذا اللفظ1 فإنما قال: ذلك قبل وجود كتابي البخاري ومسلم ثم إن كتاب البخاري أصح الكتابين صحيحا وأكثرهما فوائد.

واما ما رويناه عن أبي علي الحافظ النيسابوري أستاذ الحاكم أبي عبد الله الحافظ من أنه قال: ما تحت أديم السماء كتابا أصح من كتاب مسلم بن الحجاج فهذا وقول من فضل من شيوخ المغرب كتاب مسلم على كتاب البخاري إن كان المراد به أن كتاب مسلم يترجح بأنه لم يمازجه غير الصحيح فإنه ليس فيه بعد خطبته إلا الحديث الصحيح مسرودا غير ممزوج بمثل ما في كتاب البخاري في تراجم أبوابه من الأشياء التي لم يسندها على الوصف المشروط في الصحيح2

--------------------------------------------

1 في حاشية خط: "قد روي عنه: ما علي الأرض بعد كتاب الله أصح من كتاب مالك

2 فيه نظر، فقد روي مسلم في الشواهد عم جماعة ليسوا علي شرط الصحيح وهذا مقرر قي مقدمة صحيح مسلم رحمه الله من كلام مسلم نفسه إلا أن يقال: إن الشواهد ليست من شرط الصحيح ويجاب عنه بأن تراجم البخاري وما يقع فيها ليست من شرطه أيضا والله أعلم. وراجع: التقييد للعراقي رحمه الله.
জাবির। আর এই সূত্রেই বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ এটি বর্ণনা করেছেন। তবে সুপরিচিত হলো ইবনে মুনকাদির থেকে আব্দুল্লাহ বিন মুআম্মালের বর্ণনা, যেমনটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী এবং অন্যরা এই দিক থেকে এটিকে দুর্বল বলেছেন। ইবনে আব্বাসের সূত্রটি জাবিরের সূত্রের চেয়ে অধিক সহীহ।

এরপর পরবর্তী স্তর—যারা আমাদের শিক্ষক—তারা সহীহ হিসেবে গণ্য করেছেন। সুতরাং শাইখ তাকীউদ্দীন সুবকী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রসিদ্ধ রচনায় যিয়ারত বিষয়ক ইবনে উমরের হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

আর আপনি বলতে পারেন যে, যারা সহীহ বলার সাহস করেছেন এবং সহীহ বলেছেন, তারা লেখকের বিরুদ্ধে প্রমাণ হতে পারেন না। কারণ এটি আবশ্যক নয় যে, এই পরবর্তী আলেমগণ যাকে সহীহ বলেছেন তা পূর্ববর্তী আলেমদের নিকটও সহীহ হতে হবে।

তিনি বললেন, তৃতীয় বিষয়: সর্বপ্রথম যিনি সহীহ সংকলন করেছেন তিনি হলেন ইমাম বুখারী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আল-জু'ফী (তাদের মুক্ত দাস)। এরপর আবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন হাজ্জাজ আন-নিশাপুরী আল-কুশাইরী। ইমাম মুসলিম যদিও ইমাম বুখারীর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে উপকৃত হয়েছেন, তবে তিনি তাঁর অধিকাংশ শিক্ষকের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে শরীক রয়েছেন। আল্লাহর সুমহান কিতাবের পর তাঁদের গ্রন্থদ্বয়ই হলো সর্বাধিক সহীহ কিতাব। আর ইমাম শাফেঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আমাদের বর্ণিত এই উক্তি—যে তিনি বলেছেন: আমি যমীনে মালিকের কিতাবের চেয়ে অধিক নির্ভুল আর কোনো ইলমী কিতাব জানি না (কেউ কেউ এটি ভিন্ন শব্দে ১ বর্ণনা করেছেন)—তিনি তা মূলত বুখারী ও মুসলিমের গ্রন্থদ্বয় অস্তিত্বে আসার পূর্বে বলেছিলেন। তাছাড়া বুখারীর কিতাবটি উভয় কিতাবের মধ্যে অধিক সহীহ এবং অধিক ফায়দাপূর্ণ।

আর হাকেম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজের উস্তাদ আবু আলী আল-হাফিজ আন-নিশাপুরী থেকে আমাদের বর্ণিত এই উক্তি—যে তিনি বলেছেন: আসমানের নিচে মুসলিম বিন হাজ্জাজের কিতাবের চেয়ে অধিক সহীহ আর কোনো কিতাব নেই—এটি এবং মাগরিবের যেসব শাইখগণ বুখারীর ওপর মুসলিমের কিতাবকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন তাদের উক্তি; যদি এর উদ্দেশ্য এই হয় যে, মুসলিমের কিতাবটি এই দিক থেকে অগ্রাধিকার পায় যে তাতে সহীহ ব্যতীত অন্য কিছুর সংমিশ্রণ ঘটেনি। কারণ এর ভূমিকার পর শুধু সহীহ হাদীসগুলোই ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা ইমাম বুখারীর কিতাবের অধ্যায়গুলোর শিরোনামে উল্লেখিত সেসব বিষয়ের সাথে মিশ্রিত নয়, যেগুলো তিনি সহীহ হওয়ার জন্য নির্ধারিত শর্তানুযায়ী সনদসহ বর্ণনা করেননি। ২

--------------------------------------------

১ পাণ্ডুলিপির টীকায় রয়েছে: "তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে: আল্লাহর কিতাবের পর যমীনে ইমাম মালিকের কিতাবের চেয়ে অধিক সহীহ আর কিছু নেই।"

২ এটি পর্যালোচনার দাবি রাখে। কেননা ইমাম মুসলিম 'শাওয়াহিদ' (সমর্থক বর্ণনা) এর ক্ষেত্রে এমন একদল বর্ণনাকারীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যারা সহীহ এর শর্তানুযায়ী নন। আর এটি ইমাম মুসলিমের নিজের কথা থেকেই সহীহ মুসলিমের মুকাদ্দিমায় সাব্যস্ত হয়েছে। অবশ্য যদি বলা হয় যে, 'শাওয়াহিদ' সহীহ এর শর্তভুক্ত নয়, তবে এর উত্তর হলো ইমাম বুখারীর অধ্যায়গুলোর শিরোনাম এবং তাতে যা উল্লেখ হয়েছে সেগুলোও তাঁর শর্তভুক্ত নয়। আল্লাহই ভালো জানেন। আর দেখুন: ইরাকী (রহিমাহুল্লাহ) কৃত আত-তাকয়ীদ।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৮৩)
فهذا لا بأس به وليس يلزم منه أن كتاب مسلم أرجح فيما يرجع إلى نفس الصحيح على كتاب البخاري وإن كان المراد به أن كتاب مسلم أصح صحيحا فهذا مردود على من يقوله انتهى.

اعترض عليه من وجوه:

أحدها: أن مالكا متقدم بالتصنيف على البخاري.

وجوابه: أن مالكا وإن تقدم إلا أنه ما أفرد الصحيح والبخاري أفرده فإن في كتاب مالك المرسل والمنقطع والبلاغات حتى قال: ابن عبد البر في التمهيد عقب قول مالك بلغني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول "إذا نشأت1 بحرية يعني السحاب ثم تشاءمت فتلك عين غديقة.

ثم قال: كل بلاغات مالك في موطأه مسندة إلا أربعة أحاديث فإنها لم توجد في شيء من كتب العلماء إلا في الموطأ أو من نلقها منه كالشافعي في كتاب الاستسقاء عن إبراهيم بن أبي يحيى عن إسحاق بن عبد الله أن النبي - قال: "إذا نشأت بحرية ثم أستحالت شامية فهو أمطر لها" الحديث.

الثاني: قوله صلي الله عليه وسلم: "إني أنسى أو أنسى لأسن".

الثالث: قول معاذ آخر ما أوصاني به رسول الله صلى الله عليه وسلم حين وضعت رجلي في الغرز أن حسن خلقك للناس يا2 معاذ بن جبل.

الرابع: "أنه صلي الله عليه وسلم رأى أعمار الناس أو ما شاء الله منها فكأنه تقاصر أعمار أمته فأعطاه الله ليلة القدر".

هكذا قال: ابن عبد البر3.

--------------------------------------------

1 هكذا في خط، وفي "الموطأ" وكتابي ابن عبد البر "التمهيد" و "الإستذكار": "أنشأت" بإثبات الألف في أولها.

2 غير واضحة في خط وهي في "الموطأ" وكتابي ابن عبد البر.

3 لم أجد هذا القول في التمهيد "24/ 377 - 381" و "الإستذكار" "7/160 - 166" كلاهما لابن عبد البر رحمه الله تعالي عقب الأثر المذكور بهذا النص لكن ذكر ابن عبد البر في التمهيد الأثر الثاني الآتي هنا ثم قال "24/ 375" أما هذا الحديث بهذا اللفظ فلا أعلمه يروي عن النبي صلي الله عليه وسلم بوجه من الوجوه مسندا ولا مقطوعا من غير هذا الوجه والله أعلم وهو أحد الأحاديث الأربعة في الموطأ التي =
এতে কোনো সমস্যা নেই এবং এর থেকে এটি আবশ্যক হয় না যে, সহীহ হওয়ার বিচারে ইমাম মুসলিমের কিতাব ইমাম বুখারীর কিতাবের চেয়ে অগ্রগণ্য। আর যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যে, মুসলিমের কিতাব অধিকতর সহীহ, তবে যে এটি বলে তার এই দাবিটি প্রত্যাখ্যাত। সমাপ্ত।

এর ওপর কয়েক দিক থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে:

প্রথমত: কিতাব রচনার ক্ষেত্রে ইমাম মালিক ইমাম বুখারীর পূর্ববর্তী।

এর উত্তর হলো: ইমাম মালিক পূর্ববর্তী হলেও তিনি কেবল সহীহ হাদিসগুলোকে পৃথক করে সংকলন করেননি, কিন্তু ইমাম বুখারী তা করেছেন। কারণ ইমাম মালিকের কিতাবে মুরসাল, মুনকাতি এবং বালাগাত (সনদবিহীন উক্তি) হাদিসও রয়েছে। এমনকি ইবনুল বার 'আত-তামহীদ' গ্রন্থে ইমাম মালিকের এই উক্তির পর বলেছেন: "আমার কাছে পৌঁছেছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, 'যখন সমুদ্রের দিক থেকে মেঘ সৃষ্টি হয়—অর্থাৎ মেঘমালার উদয় ঘটে—অতঃপর তা সিরিয়ার (উত্তর) দিকে মোড় নেয়, তবে সেটি প্রচুর বৃষ্টিপাতকারী মেঘে পরিণত হয়'।"

অতঃপর তিনি বলেন: ইমাম মালিকের মুওয়াত্তায় বর্ণিত সমস্ত বালাগাত (সনদহীন বর্ণনা) অন্য সূত্রে মুসনাদ হিসেবে পাওয়া যায়, কেবল চারটি হাদিস ছাড়া। এই চারটি হাদিস উলামাদের অন্য কোনো কিতাবে পাওয়া যায়নি, কেবল মুওয়াত্তায় অথবা যারা তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন তাদের কাছে পাওয়া যায়। যেমন ইমাম শাফেয়ী তাঁর 'কিতাবুল ইসতিসকা'-য় ইব্রাহিম বিন আবু ইয়াহইয়া থেকে, তিনি ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন সমুদ্রের দিক থেকে মেঘ সৃষ্টি হয় অতঃপর তা সিরিয়ার দিকে মোড় নেয়, তবে সেটি অধিক বর্ষণকারী হয়"—হাদিসটি।

দ্বিতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী: "নিশ্চয়ই আমি ভুলে যাই অথবা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয় যাতে আমি সুন্নাহ (পদ্ধতি) প্রবর্তন করতে পারি।"

তৃতীয়ত: মুয়াযের উক্তি: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সর্বশেষ যে অসিয়তটি করেছিলেন, যখন আমি বাহনের পাদানিতে আমার পা রেখেছিলাম, তা হলো: হে মুয়ায ইবনে জাবাল! মানুষের সাথে তোমার আচরণকে সুন্দর করো।"

চতুর্থত: "নিশ্চয়ই তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের আয়ুষ্কাল প্রত্যক্ষ করলেন অথবা আল্লাহ যা চাইলেন তা দেখলেন, অতঃপর তিনি স্বীয় উম্মতের আয়ুষ্কালকে সংক্ষিপ্ত মনে করলেন, ফলে আল্লাহ তাকে লাইলাতুল কদর দান করলেন।"

ইবনুল বার এভাবেই বলেছেন।

--------------------------------------------

১ পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে 'মুওয়াত্তা' এবং ইবনুল বারের কিতাবদ্বয় 'আত-তামহীদ' ও 'আল-ইস্তিজকার'-এ শুরুতে আলিফ যুক্ত হয়ে 'আনশাআত' শব্দে এসেছে।

২ পাণ্ডুলিপিতে এটি স্পষ্ট নয়, তবে তা 'মুওয়াত্তা' এবং ইবনুল বারের কিতাবদ্বয়ে রয়েছে।

৩ আমি এই উক্তিটি 'আত-তামহীদ' (২৪/৩৭৭-৩৮১) এবং 'আল-ইস্তিজকার' (৭/১৬০-১৬৬)-এর কোথাও পাইনি, যেখানে ইবনুল বার (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) উল্লিখিত আসারটির পর এই পাঠ্যটি বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনুল বার 'আত-তামহীদ'-এ এখানে উল্লিখিত দ্বিতীয় আসারটি বর্ণনা করেছেন এবং অতঃপর বলেছেন (২৪/৩৭৫): "এই শব্দে বর্ণিত এই হাদিসটি সম্পর্কে আমার জানা নেই যে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অন্য কোনো মাধ্যমে মুসনাদ বা মাকতু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে কি না। আল্লাহই ভালো জানেন। আর এটি মুওয়াত্তার সেই চারটি হাদিসের একটি যা—"
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৮৪)
واعترض عليه الحافظ إسماعيل بن عبد المحسن الأنماطي في جزء أسندها فيه فقال أما الحديث الأول فأخرجه أبو بكر بن أبي الدنيا بإسناده إلى محمد بن يحيى بن أبي حاتم الأزدي قال: حدثنا محمد بن عمر ثنا عبد الحكم بن عبد الله بن أبي فروة قال: سمعت عوف بن الحارث يقول سمعت عائشة رضي الله عنها تقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول "إذا أنشأت السماء بحرية ثم تشاءمت فتلك عين" أو قال: عام غديقة يعني مطرا كثيرا.

ذكره ابن أبي الدنيا في كتابه المطر والرعد والبرق.

ثم اعترض الحافظ إسماعيل أيضا على ابن عبد البر حكايته عن الشافعي عن إبراهيم بن أبي يحيى مع أن الشافعي ما صرح بإبراهيم وإنما قال: حدثني من لا أتهم وكأن ابن عبد البر اعتمد في ذلك على قول الربيع بن سليمان إن

--------------------------------------------

= لا توجد في غيره مسندة ولا مرسلة والله أعلم.

وذكر الأثر الثالث هنا ثم قال "24/300" وهو مع هذا منقطع جدا ولا يوجد مسندا عن النبي صلي الله عليه وسلم من حديث معاذ ولا غيره بهذا اللفظ والله أعلم.

وذكر الأثر الرابع ثم قال "24/373" لا أعلم هذا الحديث يروي مسندا من وجه الوجوه ولا أعرفه في غير الموطأ مرسلا ولا مسندا وهذا أحد الأحاديث التي إنفرد بها مالك ولكنها رغائب وفضائل وليست أحكاما ولا بني عليها في كتاب ولا في موطئه حكما.

وقال عقب الأثر الول: "هذا حديث لا أعرفه بوجه من الوجوه في غير الموطأ إلا ما ذكره الشافعي في كتاب الإستسقاء ،

قلت: ثم وجته ذكر الأثر الرابع هنا في ليلة القدر من كتاب الإستذكار "10/341" "688" ثم قال: "لا أعلم هذا الحديث يروي مسندا ولا مرسلا من وجه الوجوه

إلا ما في الموطأ وهو أحد الأربعة الأحاديث التي لا توجد في غير الموطأ.

أحدها: "إني لأنسي أة أنسي".

والثاني: "إذا نشأت بحرية".

والثالث: "حسن خلقك للناس يا معاذ بن جبل".

والرابع هذا.

وليس منها حديث منكر ولا ما يدفعه أصل "أهـ؛ والله أعلم.
হাফেয ইসমাইল বিন আব্দুল মুহসিন আল-আনমাতি একটি জুয (সংকলন)-এ এর ওপর আপত্তি করেছেন যেখানে তিনি এর সনদ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, প্রথম হাদিসটি আবু বকর ইবনে আবিদ দুনিয়া তাঁর সনদে মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া বিন আবি হাতেম আল-আযদির সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল হাকাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি ফারওয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আওফ বিন হারিসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, "আকাশ যখন সমুদ্রের দিক থেকে মেঘ সৃষ্টি করে এবং উত্তর দিক থেকে মেঘ দেখা দেয়, তবে সেটি একটি বৃষ্টির উৎস" অথবা তিনি বলেছেন: "একটি প্রচুর বৃষ্টিপাতপূর্ণ বছর" অর্থাৎ প্রচুর বৃষ্টি।

ইবনে আবিদ দুনিয়া এটি তাঁর 'আল-মাতার ওয়ার রা'দ ওয়াল বারক' (বৃষ্টি, বজ্র ও বিদ্যুৎ) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর হাফেয ইসমাইল ইবনে আব্দুল বার-এর প্রতিও আপত্তি করেছেন যে, তিনি শাফেয়ী থেকে ইব্রাহিম বিন আবি ইয়াহইয়ার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যদিও শাফেয়ী স্পষ্টভাবে ইব্রাহিমের নাম উচ্চারণ করেননি বরং তিনি বলেছেন: "আমার নিকট এমন একজন বর্ণনা করেছেন যাকে আমি অভিযুক্ত মনে করি না"। মনে হয় ইবনে আব্দুল বার এ ক্ষেত্রে রাবি বিন সুলাইমানের কথার ওপর নির্ভর করেছেন যে

--------------------------------------------

= এটি অন্য কোথাও মুসনাদ বা মুরসাল হিসেবে পাওয়া যায় না, আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

এবং তিনি এখানে তৃতীয় আসারটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন "২৪/৩০০" এবং এটি এর সাথে অত্যন্ত মুনকাতি' (বিচ্ছিন্ন সনদ) এবং মুয়াযের হাদিস থেকে বা অন্য কারও থেকে এই শব্দে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে মুসনাদ হিসেবে এটি পাওয়া যায় না, আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

এবং তিনি চতুর্থ আসারটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন "২৪/৩৭৩", আমি জানি না যে এই হাদিসটি কোনো দিক থেকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে কি না এবং মুয়াত্তা ব্যতীত অন্য কোথাও এটি মুরসাল বা মুসনাদ হিসেবে আমি চিনি না। এটি সেই হাদিসগুলোর একটি যা ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এগুলো অনুপ্রেরণামূলক ও ফযিলত সংক্রান্ত বর্ণনা, কোনো বিধান নয় এবং তিনি তাঁর কিতাবে বা মুয়াত্তাতে এর ওপর ভিত্তি করে কোনো বিধান দেননি।

এবং প্রথম আসারটির পরে তিনি বলেছেন: "এটি এমন একটি হাদিস যা মুয়াত্তা ব্যতীত অন্য কোনোভাবে আমি চিনি না, তবে শাফেয়ী তাঁর 'কিতাবুল ইসতিসকা' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তা ভিন্ন,"

আমি বলছি: অতঃপর আমি তাকে 'কিতাবুল ইসতিযকার'-এর লাইলাতুল কদর অধ্যায়ে (১০/৩৪১, ৬৮৮) চতুর্থ আসারটি উল্লেখ করতে দেখেছি, এরপর তিনি বলেছেন: "আমি জানি না যে এই হাদিসটি কোনোভাবে মুসনাদ বা মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে কি না

মুয়াত্তাতে যা আছে তা ব্যতীত এবং এটি সেই চারটি হাদিসের একটি যা মুয়াত্তা ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।

প্রথমটি: "নিশ্চয় আমি ভুলে যাই বা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়।"

দ্বিতীয়টি: "যখন মেঘ সমুদ্রের দিক থেকে সৃষ্টি হয়।"

তৃতীয়টি: "হে মুয়ায বিন জাবাল! মানুষের জন্য তোমার চরিত্রকে সুন্দর করো।"

চতুর্থটি হলো এটি।

এবং এগুলোর মধ্যে কোনোটিই মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস নয় এবং এমন কিছুও নেই যা শরিয়তের কোনো মূলনীতিকে খণ্ডন করে।" এটিই শেষ; আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৮৫)
الشافعي إذا قال: حدثنا الثقة يريد يحيى بن حسان وإذا قال: من لا أتهم فهو إبراهيم بن أبي يحيى وإذا قال: بعض الناس يريد أهل العراق وإذا قال: بعض أصحابنا يريد أهل الحجاز فالشافعي لم ينص على أن مراده بمن لا يتهم هو إبراهيم بن أبي يحيى فلا يحل لأحد أن ينسبه إلى الشافعي إلا أن يكون الشافعي قد نص على ذلك ولهذا اختلف العلماء في مراد الشافعي بالثقة ونحوه فقال الربيع ما تقدم وقال البيهقي1 تفطن لذلك شيخنا أبو عبد الله فقال غالب الظن أنه إذا قال: أنا الثقة قد يريد إسماعيل بن علية وقد يريد أبا أسامة وقد يريد عبد العزيز بن محمد وقد يريد هشام بن يوسف الصنعاني وقد يريد أحمد بن حنبل ولا يكاد يعرف ذلك باليقين.

وقال عبد الله بن أحمد بن حنبل سمعت أبي وذكر الشافعي فقال ما استفاد منا أكثر مما استفدنا منه قال: عبد الله وكل شيء في كتب الشافعي حدثني الثقة عن هشيم وعن غيره فهو أبي.

وقال أبو الحسن محمد بن الحسين بن إبراهيم الآبري سمعت بعض أهل المعرفة بالحديث يقول إنما يعرف مراد الشافعي رضي الله عنه بالثقة بشيخه الذي يروى عنه فإذا قال: أخبرني الثقة عن ابن أبي ذئب فهو ابن أبي فديك وإذا قال: أنا الثقة عن الليث فهو يحيى بن حسان وإذا قال: الثقة عن الوليد بن كثير فهو أبو أسامة وإذا قال: الثقة عن الأوزاعي فهو عمرو بن أبي سلمة وإذا قال: الثقة عن صالح مولى التوأمة فهو إبراهيم بن أبي يحيى.

قال ابن عبد البر وإذا قال: مالك أنبا الثقة عن بكير بن عبد الله الأشج فالثقة مخرمة بن بكير وحيث قال: عن الثقة عن عمرو بن شعيب فقيل الثقة عبد الله ابن وهب وقيل الزهري.

وقد اختلف العلماء في قول الراوي حدثني الثقة أو أخبرني من لا أتهم أو نحو ذلك ولم يسمه هل يكون ذلك توثيقا له أم لا فقال أبو حنيفة يكون توثقيا له وتقبل كما في المرسل والصحيح خلافه.

--------------------------------------------

1 راجع المعرفة للبيهقي "5/200 - 201 - ط: قلعجي" باب: "أي ريح يكون بها المطر" من كتاب الإستسقاء.
শাফেঈ যখন বলেন: 'আমাদের কাছে বিশ্বস্ত বর্ণনা করেছেন', তখন তিনি ইয়াহইয়া ইবনে হাসসানকে উদ্দেশ্য করেন। যখন তিনি বলেন: 'যাকে আমি অভিযুক্ত করি না', তখন তিনি ইব্রাহিম ইবনে আবি ইয়াহইয়া। যখন তিনি বলেন: 'কিছু মানুষ', তখন তিনি ইরাকের অধিবাসীদের উদ্দেশ্য করেন। আর যখন তিনি বলেন: 'আমাদের কিছু সাথী', তখন তিনি হিজাজের অধিবাসীদের উদ্দেশ্য করেন। শাফেঈ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি যে, 'যাকে আমি অভিযুক্ত করি না' বলতে তাঁর উদ্দেশ্য ইব্রাহিম ইবনে আবি ইয়াহইয়া। সুতরাং শাফেঈ নিজে তা স্পষ্টভাবে না বলা পর্যন্ত কারো জন্য এটি শাফেঈ-এর প্রতি নিসবত করা বৈধ নয়। একারণেই আলেমগণ শাফেঈ-এর 'বিশ্বস্ত' এবং এই জাতীয় শব্দগুলোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে মতভেদ করেছেন। রাবী’ যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে তা বলেছেন। বায়হাকী (১) বলেন, আমাদের শাইখ আবু আব্দুল্লাহ বিষয়টি লক্ষ্য করে বলেছেন: প্রবল ধারণা এই যে, তিনি যখন বলেন: 'আমাকে বিশ্বস্ত সংবাদ দিয়েছেন', তখন কখনো তিনি ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যাহকে উদ্দেশ্য করেন, কখনো আবু উসামাকে, কখনো আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদকে, কখনো হিশাম ইবনে ইউসুফ সানআনিকে, আবার কখনো আহমাদ ইবনে হাম্বলকে উদ্দেশ্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানার উপায় নেই বললেই চলে।

আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন, আমি আমার পিতাকে শাফেঈ সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছি; তিনি বললেন, তিনি আমাদের থেকে যতটা উপকৃত হয়েছেন, আমরা তাঁর থেকে তার চেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছি। আব্দুল্লাহ বলেন, শাফেঈ-এর কিতাবসমূহে যা কিছু 'হুশাইম এবং অন্যদের থেকে আমাকে বিশ্বস্ত বর্ণনা করেছেন' হিসেবে রয়েছে, তিনি হলেন আমার পিতা।

আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে ইব্রাহিম আল-আুবুরি বলেন, আমি ইলমে হাদিসের অভিজ্ঞ এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি যে, শাফেঈ (রা.)-এর 'বিশ্বস্ত' বলতে কাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে তা কেবল সেই শাইখের মাধ্যমেই জানা যায় যার থেকে তিনি বর্ণনা করছেন। সুতরাং যখন তিনি বলেন: 'ইবনে আবি যিব থেকে আমাকে বিশ্বস্ত সংবাদ দিয়েছেন', তখন তিনি হলেন ইবনে আবি ফুদাইক। যখন তিনি বলেন: 'লাইস থেকে আমাকে বিশ্বস্ত সংবাদ দিয়েছেন', তখন তিনি হলেন ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান। যখন তিনি বলেন: 'ওয়ালিদ ইবনে কাসির থেকে বিশ্বস্ত', তখন তিনি হলেন আবু উসামা। যখন তিনি বলেন: 'আওযায়ি থেকে বিশ্বস্ত', তখন তিনি হলেন আমর ইবনে আবি সালামা। আর যখন তিনি বলেন: 'সালিহ মাওলা আত-তাওআমাহ থেকে বিশ্বস্ত', তখন তিনি হলেন ইব্রাহিম ইবনে আবি ইয়াহইয়া।

ইবনে আব্দুল বার বলেন, মালিক যখন বলেন: 'বুকাইর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আশাজ্জ থেকে আমাকে বিশ্বস্ত সংবাদ দিয়েছেন', তখন সেই বিশ্বস্ত ব্যক্তি হলেন মাখরামাহ ইবনে বুকাইর। আর যেখানে তিনি বলেন: 'আমর ইবনে শুআইব থেকে জনৈক বিশ্বস্তর সূত্রে', তখন বলা হয় সেই বিশ্বস্ত ব্যক্তি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, আবার কেউ বলেন যুহরি।

রাবীর এই বক্তব্য—'আমাকে বিশ্বস্ত বর্ণনা করেছেন' অথবা 'যাকে আমি অভিযুক্ত করি না তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' অথবা এই জাতীয় বাক্য ব্যবহার করে নাম উল্লেখ না করা—তাকে তাওসিক হিসেবে গণ্য করা হবে কি না, তা নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। আবু হানিফা বলেন, এটি তার জন্য তাওসিক হিসেবে গণ্য হবে এবং মুরসাল হাদিসের মতোই তা গ্রহণ করা হবে। তবে সঠিক মতটি এর বিপরীত।

--------------------------------------------

১. দেখুন: বায়হাকীর আল-মা’রিফাহ (৫/২০০ - ২০১ - সংস্করণ: কালআজি), কিতাবুল ইসতিসকা-এর "কোন বাতাস বৃষ্টি নিয়ে আসে" পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৮৬)
وقال الخطيب إذا قال: العالم كل من أروي لكم عنه وأسميه فهو عدل رضى مقبول الحديث كان ذلك تعديلا لكل من روى عنه وسماه واختار بعض المحققين أنه إن كان عالما كمالك والشافعي فإن ذلك يكون تعديلا وإلا فلا.

وأما الحديث الثاني: فإن المعترض قال: بحثت عنه فلم أظفر به غير أن بعض طلبة الحديث ذكر لي أنه وجده مسندا ولم يحضر ما يدل على قوله.

وأما الحديث الثالث: فإنه خرجه ابن أبي الدنيا أيضا في كتابه المسمى بالتقوى بسنده إلى معاذ قلت يا رسول صلي الله عليه وسلم أوصني قال: "أتق الله حيثما كنت وأتبع السيئة الحسنة تمحها وخالق الناس بخلق حسن" وأخرجه أيضا الطبراني في مسند معاذ بن جبل بسنده إلى عبد الله بن عمرو بن العاص أن معاذا أراد سفرا فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم أوصني قال: "أعبد الله ولا تشرك به شيئا قال: زدني قال: إذا أسأت فأحسن فقال زدني قال: استقم وليحسن خلقك" وذكر له طرقا غير هذه.

واما الحديث الرابع: فأخرجه أيضا ابن مندة بسنده إلى النبي صلي الله عليه وسلم.

الاعتراض الثاني: على قوله وتلاه أبو الحسين مسلم اعترض بقول أبي الفضل أحمد بن سلمة كنت مع مسلم في تأليف هذا الكتاب سنة خمس ومائتين فيكون متقدما على البخاري وقد تصحف على المعترض فأسقط ياء ونونا وإنما هي خمسون ومائتان ويعرف ذلك بالتاريخ فمولد مسلم سنة أربع ومائتين وتوفي سنة إحدى وستين ومائتين ومولد البخاري سنة أربع وتسعين ومائة وتوفي سنة ست وخمسين ومائتين.

الثالث: أنه أقر من فضل كتاب مسلم على البخاري بأنه لم يمازجه بعد الخطبة غير الصحيح وهذا ليس بجيد فقد مزجه بغيره قال: في كتاب الصلاة بسنده إلى يحيى بن أبي كثير أنه قال: "لا يستطاع العلم براحة الجسم".

وجوابه أن هذا نادر في كتاب مسلم بخلاف البخاري1.

--------------------------------------------

1 راجع التعليق السابق قريبا علي كلام ابن الصلاح رحمه الله.
আর আল-খতিব বলেন: যখন কোনো আলেম বলেন: ‘আমি তোমাদের নিকট যার থেকেই বর্ণনা করি এবং যার নাম উল্লেখ করি, সে আদল (ন্যায়পরায়ণ), সন্তোষজনক এবং তার হাদিস গ্রহণযোগ্য’, তবে এটি তার বর্ণিত ও নামোল্লিখিত প্রত্যেকের জন্য একটি তা'দিল (নির্ভরযোগ্যতার স্বীকৃতি) হিসেবে গণ্য হবে। আর কিছু গবেষক এই মত পছন্দ করেছেন যে, যদি তিনি ইমাম মালিক ও শাফিঈর মতো আলেম হন, তবেই তা তা'দিল হিসেবে গণ্য হবে, অন্যথায় নয়।

আর দ্বিতীয় হাদিসটি সম্পর্কে: আক্ষেপকারী বলেছেন, আমি এটি অনুসন্ধান করেছি কিন্তু তা পাইনি; তবে হাদিসের কিছু ছাত্র আমাকে জানিয়েছে যে তারা এটি মুসনাদ হিসেবে পেয়েছে, কিন্তু সে তার কথার সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

আর তৃতীয় হাদিসটি সম্পর্কে: ইবন আবিদ দুনিয়াও তাঁর 'আত-তাকওয়া' নামক কিতাবে মুয়াযের সূত্রে তাঁর সনদসহ এটি বর্ণনা করেছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেন: "তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো এবং মন্দের পর ভালো কাজ করো, তা মন্দকে মিটিয়ে দেবে; আর মানুষের সাথে উত্তম আচরণের মাধ্যমে মেলামেশা করো।" তাবারানিও তাঁর 'মুসনাদে মুয়ায ইবনে জাবাল'-এ আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসের সূত্রে তাঁর সনদসহ বর্ণনা করেছেন যে, মুয়ায এক সফরের ইচ্ছা করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেন: "আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না।" তিনি বললেন: আমার জন্য আরও বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেন: "যখন কোনো মন্দ কাজ করবে, তখন ভালো কাজ করো।" তিনি বললেন: আরও বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেন: "অবিচল থাকো এবং তোমার চরিত্রকে সুন্দর করো।" তিনি এ ছাড়াও এর আরও কিছু সূত্র উল্লেখ করেছেন।

আর চতুর্থ হাদিসটি সম্পর্কে: ইবন মানদাহও তাঁর সনদসহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয় আপত্তি: তাঁর এই বক্তব্যের ওপর যে "এবং এরপর আবুল হুসাইন মুসলিম এটি অনুসরণ করেছেন"। এতে আবুল ফজল আহমদ ইবনে সালামার উক্তি দিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে যে, "আমি দুই শত পাঁচ হিজরিতে মুসলিমের সাথে এই কিতাব সংকলনের সময় ছিলাম", ফলে এটি বুখারীর আগে সংকলিত হওয়ার কথা। কিন্তু আপত্তিকারীর এখানে বর্ণগত ভুল হয়েছে, তিনি 'ইয়া' এবং 'নুন' বাদ দিয়ে ফেলেছেন; মূলত এটি হবে দুই শত পঞ্চাশ হিজরি। এটি ইতিহাসের মাধ্যমেই জানা যায়, কারণ মুসলিমের জন্ম দুই শত চার হিজরিতে এবং মৃত্যু দুই শত একষট্টি হিজরিতে। আর বুখারীর জন্ম একশত চুরানব্বই হিজরিতে এবং মৃত্যু দুই শত ছাপ্পান্ন হিজরিতে।

তৃতীয় আপত্তি: তিনি যারা বুখারীর ওপর মুসলিমের কিতাবকে শ্রেষ্ঠত্ব দেন তাদের এই মতকে স্বীকৃতি দিয়েছেন যে, মুসলিম তাঁর কিতাবের ভূমিকার পর সহিহ ব্যতীত অন্য কিছু মিশ্রিত করেননি। কিন্তু এটি সঠিক নয়, কারণ তিনি এতে অন্য কিছুও মিশ্রিত করেছেন। তিনি সালাত অধ্যায়ে ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসিরের সূত্রে তাঁর সনদসহ উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: "শরীরের আরামের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়।"

এর উত্তর হলো যে, মুসলিমের কিতাবে এটি একটি বিরল ঘটনা, যা বুখারীর ক্ষেত্রে ভিন্ন।১

--------------------------------------------

১ ইমাম ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যের ওপর পূর্ববর্তী নিকটবর্তী টীকাটি দেখুন।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৮৭)
ثم اختلفوا في المراد بقولهم على شرط البخاري أو مسلم فقال محمد بن طاهر شرطهما أن يخرجا المجمع على ثقة نقلته إلى الصحابي.

ورد بأن النسائي ضعف جماعة أخرج لهم الشيخان او أحدهما1.

وقال الحازمي شرط البخاري أن يخرد ما اتصل إسناده بالثقات الملازمين لمن أخذوا عنه ملازمة طويلة ولم يشترط مسلم طول الملازمة إلا إذا لم يسلم الذي أخرج عنه من غوائل الجرح فإنه يشترط طولها كحماد بن سلمة في ثابت البناني وأيوب.

وقال النووي المراد بذلك أن يكون رجال إسناده في كتابيهما لأنه ليس لهما شرط في كتابيهما ولا في غيرهما وعلى هذا جرى ابن دقيق العيد فإنه ينقل تصحيح حديث عن الحاكم ثم يستدرك عليه بأن فيه فلانا ولم يخرج له البخاري وكذلك فعل الذهبي في مختصر المستدرك وليس بجيد منهما لأن الحاكم لم

--------------------------------------------

1 لم بنفرد النسائي رحمه الله بذلك بل شاركه غيره من النقاد وفي الصحيحين غير واحد من الضعفاء بل بعض هؤلاء ممن أقر البخاري ومسلم بضعفهم كما في ترجمة سهيل ابن أبي صالح وعباد بن راشد التميمي وعبد الله بن جعفر بن غيلان الرقي من "هدي الساري" لابن حجر مثلا بالنسبة للبخاري وأقر مسلم رحمه الله بضعف سويد بن سعيد وأحمد بن عبد الرحمن بن وهب ابن أخي عبد الله بن وهب ك1لك.

وأعلم أنه لا يحسن أن تقول في رواية هؤلاء وأشباههم "ضعيف رواه البخاري" أ "ضعيف رواه مسلم" ونحو ذلك مما جري علي ألسنة بعض الناسلأمور منها

أن وجود الضعيف في الإسناد يعني بالضرورة ضعيف المتن لإمكان وروده من وجه آخر وهذا مشهور وقد يحفظ الضعيف بعض الحاديث كما قد يصدق الكذوب ولربما حكم للضعيف علي من هة أوثق منه عند الإختلاف كما حكم لقيس بن الربيع علي شعبة في بعض الأحاديث راجع علل ابن أبي حاتم رحمه الله "2/95"

"1777".

ولذلك نظائر أخري تأتي إن شاء الله تعالي في غير هذا الموضع.

وقد ينتخبا لبعض الرواة بعض الروايات دون بعض كما هو الحال بالنسبة لإسماعيل بن أبي أويس وغيره وقد يطرأ الضعف علي الراوي بعد رواية صاحب الصحيح عنه كما وقع لمسلم مع ابن أخي عبد الله بن وهب وكذلك الحال في سعيد بن أبي عروبة وغيره ممن طرأ عليهم التغير والإختلاط في آخر أمرهم فلا يقدح ذلك فيما رواه حال سلامتهم إلي آخر ما ينبغي التفطن له عند المطالعة في الصحيحين خشية الإنزلاق والله الموفق.
এরপর 'বুখারী বা মুসলিমের শর্তানুযায়ী' কথাটির মর্ম নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। মুহাম্মাদ বিন তাহির বলেন: তাঁদের শর্ত হলো তাঁরা এমন হাদীস বর্ণনা করবেন যার বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতার ওপর সাহাবী পর্যন্ত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এর জবাবে বলা হয়েছে যে, ইমাম নাসায়ী এমন একদল বর্ণনাকারীকে দুর্বল বলেছেন যাদের থেকে শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা তাঁদের কোনো একজন হাদীস বর্ণনা করেছেন।১

আল-হাযিমী বলেন: বুখারীর শর্ত হলো তিনি এমন হাদীস গ্রহণ করবেন যার সনদ এমন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে সূত্রবদ্ধ হবে যারা তাঁদের উস্তাদের সাথে দীর্ঘকাল অতিবাহিত করেছেন। তবে ইমাম মুসলিম দীর্ঘ সাহচর্যের শর্ত করেননি, যদি না সেই বর্ণনাকারী সমালোচনার (জারহ) ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকেন; এমতাবস্থায় তিনি দীর্ঘ সাহচর্যের শর্ত করেছেন, যেমন সাবিত আল-বুনানী ও আইয়ুবের ক্ষেত্রে হাম্মাদ বিন সালামাহ্‌র উদাহরণ।

আন-নওয়াবী বলেন: এর অর্থ হলো হাদীসের সনদে থাকা বর্ণনাকারীগণ তাঁদের দুই কিতাবে বিদ্যমান থাকা। কারণ তাঁদের কিতাবে বা কিতাবের বাইরে সুনির্দিষ্ট কোনো শর্ত নেই। ইবনে দাকীক আল-ঈদও এই পথ অনুসরণ করেছেন; তিনি ইমাম হাকেম থেকে কোনো হাদীসের সহীহ হওয়ার বর্ণনা উদ্ধৃত করার পর আপত্তি তুলতেন যে, এতে অমুক বর্ণনাকারী রয়েছে যার থেকে বুখারী হাদীস বর্ণনা করেননি। ইমাম যাহাবীও 'মুখতাসার আল-মুস্তাদরাক'-এ একই কাজ করেছেন। তবে তাঁদের এই আচরণটি সঠিক নয়, কারণ হাকেম...

--------------------------------------------

১ ইমাম নাসায়ী (রহিমাহুল্লাহ) একা এই মত পোষণ করেননি, বরং অন্যান্য হাদীস সমালোচকও তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। বুখারী ও মুসলিমের দুই সহীহ গ্রন্থে একাধিক দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছেন। এমনকি তাঁদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন যাদের দুর্বলতার কথা বুখারী ও মুসলিম স্বীকার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ ইবনে হাজারের 'হাদি আস-সারী' গ্রন্থে বুখারী সম্পর্কিত আলোচনায় সুহাইল ইবনে আবি সালিহ, আব্বাদ বিন রাশিদ আত-তামিমী এবং আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন গাইলান আর-রাক্কীর জীবনীতে এটি দেখা যায়। একইভাবে ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) সুওয়াইদ বিন সাঈদ এবং আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র আহমাদ বিন আব্দুর রহমান বিন ওয়াহাবের দুর্বলতা স্বীকার করেছেন।

জেনে রাখুন যে, এই বর্ণনাকারীগণ এবং তাঁদের মতো অন্যদের বর্ণনার ক্ষেত্রে "বুখারী বর্ণিত দুর্বল হাদীস" বা "মুসলিম বর্ণিত দুর্বল হাদীস" বলা সমীচীন নয়, যা কিছু মানুষের মুখে প্রচলিত হয়েছে। এর বেশ কিছু কারণ রয়েছে:

প্রথমত, সনদে দুর্বল বর্ণনাকারী থাকা মানেই মূল পাঠ (মতন) দুর্বল হওয়া নয়, কারণ তা অন্য সূত্রেও বর্ণিত হতে পারে এবং এটি একটি সুপরিচিত বিষয়। কখনও কখনও দুর্বল বর্ণনাকারীও কিছু হাদীস মুখস্থ রাখতে পারেন, যেমন চরম মিথ্যাবাদীও মাঝে মাঝে সত্য বলতে পারে। আবার কখনও মতভেদের সময় একজন দুর্বল বর্ণনাকারীকে অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর চেয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়; যেমন কিছু হাদীসে শু'বার বিপরীতে কাইস বিন আর-রাবীর বর্ণনাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দেখুন: ইবনে আবি হাতিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর 'ইলাল' (২/৯৫), '১৭৭৭'।

এর আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে যা ইনশাআল্লাহ তাআলা অন্য স্থানে আসবে।

এছাড়াও তাঁরা কোনো কোনো বর্ণনাকারীর সকল বর্ণনা গ্রহণ না করে কিছু সুনির্দিষ্ট বর্ণনা নির্বাচন করেছেন, যেমনটি ইসমাইল বিন আবি উওয়াইস ও অন্যদের ক্ষেত্রে ঘটেছে। আবার কখনও সহীহ গ্রন্থের লেখকগণ যখন কোনো বর্ণনাকারীর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তখন তিনি সবল ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর মধ্যে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। যেমনটি ইমাম মুসলিমের ক্ষেত্রে আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্রের ব্যাপারে ঘটেছে। সাঈদ বিন আবি আরুবাহ এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য যাদের শেষ বয়সে স্মৃতিভ্রম ও মস্তিষ্ক বিকৃতি (ইখতিলাত) ঘটেছিল। এটি তাঁদের সুস্থ অবস্থায় বর্ণিত হাদীসের কোনো ক্ষতি করে না। সহীহাইন পাঠ করার সময় বিভ্রান্তি এড়াতে এই বিষয়গুলো সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখা উচিত। আল্লাহ তাওফিক দানকারী।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৮৮)
يلتزم أنه لايخرج إلا عن رجال مسلم والبخاري بل قال: في الخطبة أخرج أحاديث رواتها ثقات احتج بمثلها الشيخان أو أحدهما وعبارة ابن كثير والبخاري أرجح لأنه اشترط في إخراجه1 أن يكون الرواي قد عاصر شيخه وثبت عنده سماعه منه ولم يشترط مسلم الثاني: بل اكتفى بمجرد المعاصرة ومن هنا2 ينفصل النزاع في ترجيح البخاري3 كما قاله الجمهور.

قال الرابعة: لم يستوعبا الصحيح في صحيحيهما ولا التزما ذلك فقد روينا عن البخاري أنه قال: ما أدخلت في كتاب الجامع إلا ما صح وتركت من الصحاح لحال4 الطول وروينا عن مسلم أنه قال: ليس كل شيء عندي صحيح وضعته هاهنا يعني في كتابه الصحيح إنما وضعت هاهنا ما أجمعوا عليه.

قال المملي أبقاه الله تعالى5 أراد والله أعلم أنه لم يضع في كتابه إلا الأحاديث التي وجد عنده فيها شرائط الصحيح المجمع عليه وإن لم يظهر اجتماعها في بعضها عند بعضهم ثم إن أبا عبد الله بن الأخرم الحافظ قال: قلما يفوت البخاري ومسلما مما يثبت من الحديث يعني في كتابيهما ولقائل أن يقول ليس ذلك بالقليل فإن المستدرك على الصحيحين للحاكم أبي عبد الله كتاب كبير مشتمل6 مما فاتهما على شيء كثير وإن يكن عليه في بعضه مقال

--------------------------------------------

1 هكذا في خط وفي "إختصار علوم الحديث" لابن كثير "1/103 - مع الباعث" "في إخراجه الحديث في كتابه هذا أن"

2 هكذا في خط وعند ابن كثير "هاهنا".

3 هكذا في خط وعند ابن كثير "ترجيح تصحيح البخاري علي مسلم كما هو قول الجمهور".

4 هكذا في خط وش، وفي ع: "الملال".

5 في ع: "قلت" وفي ش: "قال الشيخ رضي الله عنه".

6 هكذا في خط وفي ش وع: "يشتمل" بمثناة تحتانية في أوله.
তিনি অঙ্গীকার করেছেন যে, তিনি মুসলিম ও বুখারীর বর্ণনাকারী ব্যতীত অন্য কারো থেকে হাদিস বর্ণনা করবেন না। বরং তিনি (গ্রন্থের) ভূমিকায় বলেছেন: "আমি এমন সব হাদিস বর্ণনা করছি যার বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য এবং যাদের মাধ্যমে দুই শেখ (বুখারী ও মুসলিম) অথবা তাদের অন্তত একজন দলিল গ্রহণ করেছেন।" ইবনে কাসীরের বক্তব্য অনুযায়ী বুখারীর উক্তিটিই অধিক অগ্রগণ্য, কারণ তিনি তার কিতাবে হাদিস চয়নের ক্ষেত্রে শর্ত দিয়েছেন ১ যে, বর্ণনাকারী তার উস্তাদের সমসাময়িক হতে হবে এবং উস্তাদ থেকে তার সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি তার নিকট প্রমাণিত হতে হবে। তবে মুসলিম দ্বিতীয় শর্তটি প্রদান করেননি; বরং তিনি কেবল সমসাময়িক হওয়াকেই যথেষ্ট মনে করেছেন। আর এখান থেকেই ২ বুখারীর শ্রেষ্ঠত্ব ৩ বিষয়ক বিতর্কের মীমাংসা হয়ে যায়, যেমনটি জমহুর (অধিকাংশ উলামা) বলেছেন।

চতুর্থত: তারা তাদের 'সহীহ' গ্রন্থদ্বয়ে সমস্ত সহীহ হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেননি এবং তারা সে রূপ অঙ্গীকারও করেননি। আমাদের নিকট বুখারী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আমি আমার 'জামে' গ্রন্থে কেবল তা-ই অন্তর্ভুক্ত করেছি যা সহীহ, আর দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার ভয়ে ৪ অনেক সহীহ হাদিস আমি বাদ দিয়েছি।" এবং মুসলিম থেকেও আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আমার নিকট সহীহ হিসেবে গণ্য এমন সবকিছু আমি এখানে (অর্থাৎ তার সহীহ গ্রন্থে) স্থান দিইনি; বরং আমি এখানে কেবল তা-ই বর্ণনা করেছি যার ওপর তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন।"

শ্রুতলিপিকার (আল্লাহ তাকে দীর্ঘজীবী করুন) ৫ বলেছেন: আল্লাহ ভালো জানেন, তিনি সম্ভবত বোঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি তার গ্রন্থে কেবল সেই হাদিসগুলোই রেখেছেন যাতে তার নিকট সর্বসম্মত সহীহ হওয়ার শর্তাবলি বিদ্যমান ছিল, যদিও তাদের কারোর নিকট সেগুলোর কোনো কোনোটিতে ঐকমত্যের বিষয়টি প্রকাশ পায়নি। অতঃপর হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আল-আখরাম বলেছেন: "খুব অল্পসংখ্যক সহীহ হাদিসই বুখারী ও মুসলিমের (অর্থাৎ তাদের কিতাবদ্বয়ের) বাইরে রয়েছে।" তবে কেউ চাইলে বলতে পারেন যে, সেই সংখ্যাটি অল্প নয়; কেননা হাকেম আবু আব্দুল্লাহর 'আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন' একটি বিশাল গ্রন্থ, যা তাদের উভয়ের থেকে বাদ পড়া অনেক হাদিস অন্তর্ভুক্ত ৬ করেছে, যদিও এর কিছু অংশের ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে।

--------------------------------------------

১ পাণ্ডুলিপিতে এমনটিই রয়েছে এবং ইবনে কাসীরের 'ইখতিসার উলুমিল হাদিস' (১/১০৩ - আল-বাইস সহ) গ্রন্থে আছে "তার এই কিতাবে হাদিস চয়নের ক্ষেত্রে যে..."

২ পাণ্ডুলিপিতে এমনটিই রয়েছে এবং ইবনে কাসীরের নিকট "এখানে" শব্দটি রয়েছে।

৩ পাণ্ডুলিপিতে এমনটিই রয়েছে এবং ইবনে কাসীরের নিকট "মুসলিমের ওপর বুখারীর সহীহকরণের শ্রেষ্ঠত্ব যেমনটি জমহুরের মত" কথাটি রয়েছে।

৪ পাণ্ডুলিপি 'খ' এবং 'শ'-তে এমন আছে, আর 'আইন'-এ রয়েছে: "বিরক্তি বা ক্লান্তির কারণে"।

৫ 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে আছে "আমি বলেছি" এবং 'শ' পাণ্ডুলিপিতে আছে "শায়খ (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন"।

৬ পাণ্ডুলিপি 'খ'-তে এমন আছে এবং 'শ' ও 'আইন'-এ এটি বর্তমান কালের ক্রিয়াপদ হিসেবে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৮৯)
فإنه يصفو له منه صحيح كثير وقد قال: البخاري أحفظ مائة ألف حديث صحيح ومائتي ألف حديث غير صحيح وجملة ما في كتابه الصحيح سبعة آلاف ومائتان وخمسة وسبعون حديثا بالأحاديث المكررة وقد قيل إنها بإسقاط المكررة أربعة آلاف حديث1 إلا أن هذه العبارة قد يندرج تحتها عندهم آثار الصحابة والتابعين وربما عد الحديث الواحد المروي بإسنادين حديثين ثم إن الزيادة في الصحيح على ما في الكتابين يتلقاها طالبها مما اشتمل عليه أحد المصنفات المعتمدة المشهورة2 لأئمة الحديث كأبي داود السجستاني وأبي عيسى الترمذي وأبي عبد الرحمن النسائي وأبي بكر بن خزيمة وأبي الحسن الدارقطني وغيرهم منصوصا على صحته فيها ولا يكفي في ذلك مجرد كونه موجودا في كتاب أبي داود وكتاب الترمذي وكتاب النسائي وسائر من جمع في كتابه بين الصحيح وغيره ويكفي مجرد كونه موجودا في كتب من اشترط منهم الصحيح فيما جمعه ككتاب ابن خزيمة وكذلك ما يوجد في الكتب المخرجة على كتاب البخاري وكتاب مسلم ككتاب أبي عوانة الإسفراييني وكتاب أبي بكر الإسماعيلي وكتاب أبي بكر البرقاني وغيرها من تتمة لمحذوف أو زايدة شرح في كثير من أحاديث الصحيحين وكثير من هذا موجود في الجمع بين الصحيحين لأبي عبد الله الحميدي واعتنى الحاكم أبو عبد الله الحافظ بالزيادة في عدد الحديث الصحيح على ما في الصحيحين وجمع ذلك في كتاب سماه المستدرك أودعه ما ليس في واحد من الصحيحين مما رآه على شرط الشيخين قد أخرجا عن رواته في كتابيهما

--------------------------------------------

1 في حاشية خط: "قال الشيخ "وهكذا صحيح مسلم نحو أربع آلاف حديث بإسسقاط المكرر فيه روينا عن أبي موسي "هكذا في ش وفي خط: أبي قريش خطأ"

الحافظ قال: كنت عند أبي زرعة الرازي فجاء مسلم بن الحجاج فسلم عليه فلما أن قام قلت له ولم ترد في ش هذا جمع أربعة حديث من في ش في الصحيح فقال: فلمن "في ش: لمن" ترك الباقي" "زاد في ش: والله أعلم".

وهذه حاشية المؤلف ابن الصلاح رحمه الله وقد وردت علي إحدي نسخ المقدمة.

2 هكذا في خط وع وفي ش: "المشتهرة".
কেননা তাঁর কাছে এর মধ্য থেকে অনেক বিশুদ্ধ হাদিস স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়। ইমাম বুখারী বলেছেন: "আমি এক লক্ষ সহীহ হাদিস এবং দুই লক্ষ অ-সহীহ হাদিস মুখস্থ করেছি।" তাঁর সহীহ গ্রন্থে পুনরাবৃত্তিসহ মোট হাদিসের সংখ্যা সাত হাজার দুইশত পঁচাত্তরটি। বলা হয়ে থাকে যে, পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে এর সংখ্যা চার হাজার।১ তবে তাদের পরিভাষায় এই উক্তির অধীনে সাহাবী ও তাবিঈদের আসারও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আবার অনেক সময় একই হাদিস দুটি ভিন্ন সনদে বর্ণিত হলে সেটিকে দুটি হাদিস হিসেবে গণ্য করা হয়। অতঃপর, দুই কিতাবের (বুখারী ও মুসলিম) অতিরিক্ত সহীহ হাদিসসমূহ ইলম অন্বেষণকারী ব্যক্তি সেই সকল নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ সংকলনসমূহ২ থেকে লাভ করতে পারেন, যা হাদিসের ইমামগণ রচনা করেছেন। যেমন আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, আবু ঈসা আত-তিরমিজি, আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ী, আবু বকর ইবনে খুজাইমা, আবু হাসান আদ-দারা কুতনি প্রমুখ। শর্ত হলো সেই কিতাবগুলোতে সেগুলোর সহীহ হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ভাষ্য থাকতে হবে। এক্ষেত্রে কেবল আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ী এবং অন্যান্য যারা তাদের কিতাবে সহীহ ও অ-সহীহ উভয় প্রকার হাদিস একত্র করেছেন, তাদের কিতাবে হাদিসটি বিদ্যমান থাকাই যথেষ্ট নয়। তবে যারা তাদের সংকলনে কেবল সহীহ হাদিস সংগ্রহের শর্ত করেছেন, তাদের কিতাবে বিদ্যমান থাকাই যথেষ্ট, যেমন ইবনে খুজাইমার কিতাব। অনুরূপভাবে বুখারী ও মুসলিমের ওপর ভিত্তি করে রচিত কিতাবগুলোতে যা পাওয়া যায়, যেমন আবু আওয়ানা আল-ইসফরাইনি, আবু বকর আল-ইসমাঈলী এবং আবু বকর আল-বারকানির কিতাবসমূহ এবং অন্যান্য গ্রন্থ। এগুলোতে সহীহাইনের অনেক হাদিসের বর্জিত অংশের পরিশিষ্ট বা ব্যাখ্যামূলক অতিরিক্ত অংশ রয়েছে। এর অনেকটা আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদির ‘আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন’ গ্রন্থেও পাওয়া যায়। হাকেম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ সহীহাইন-এর অতিরিক্ত সহীহ হাদিসের সংখ্যার ব্যাপারে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করেছেন এবং তা ‘আল-মুস্তাদরাক’ নামক একটি কিতাবে সংকলন করেছেন। এতে তিনি এমন সব হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা সহীহাইনের কোনোটিতেই নেই, অথচ তাঁর দৃষ্টিতে সেগুলো শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহীহ এবং তাঁরা তাঁদের কিতাবে ঐসব রাবীদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ পাণ্ডুলিপির টীকায় রয়েছে: "শাইখ বলেছেন, 'অনুরূপভাবে সহীহ মুসলিমের হাদিস সংখ্যা পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে প্রায় চার হাজার। আমরা আবু মুসা (এক পাণ্ডুলিপিতে 'আবু কুরাইশ' আছে যা ভুল) আল-হাফিজ থেকে বর্ণনা পেয়েছি যে, তিনি বলেছেন: আমি আবু যুরআ আর-রাজির নিকট ছিলাম, তখন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আসলেন এবং তাঁকে সালাম দিলেন। যখন তিনি চলে গেলেন, তখন আমি তাকে বললাম: তিনি সহীহ গ্রন্থের মধ্যে চার হাজার হাদিস একত্র করেছেন। তিনি বললেন: তবে বাকিগুলো তিনি কার জন্য ছেড়ে দিলেন?' পাণ্ডুলিপিতে 'আল্লাহই ভালো জানেন' বাক্যটি অতিরিক্ত আছে।

এটি লেখক ইবনে সালাহ (রহ.)-এর টীকা, যা মুকাদ্দিমার একটি পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া গেছে।

২ পাণ্ডুলিপি 'খ' ও 'আইন'-এ এভাবেই আছে, তবে পাণ্ডুলিপি 'শীন'-এ রয়েছে ‘আল-মুশতাহিরাহ’ (প্রসিদ্ধ)।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৯০)
أو على شرط البخاري وحده أو على شرط مسلم وحده وما أدى اجتهاده إلى تصحيحه وإن لم يكن على شرط واحد منهما وهو واسع الخطو في شرط الصحيح متساهل في القضاء به.

فالأولى أن نتوسط في أمره فنقول ما حكم بصحته ولم نجد ذلك فيه لغيره من الأئمة إن لم يكن من قبيل الصحيح فهو من قبيل الحسن يحتج به ويعمل به إلا أن تظهر فيه علة توجب ضعفه ويقاربه في حكمه صحيح أبي حاتم بن حبان البستي رحمهم الله انتهى.

ابن الأخرم هو أبو عبد الله محمد بن يعقوب بن الأخرم شيخ الحاكم.

قال النووي في التقريب والصواب أنه لم يفت الخسمة إلا اليسير يعني البخاري ومسلما وأبا داود والترمذي والنسائي.

وخالفه ابن كثير فقال يوجد ذلك كثيرا في المسانيد والمعاجم كمسند أحمد وأبي يعلى ومعجم الطبراني وكذا في الأجزاء وغير ذلك لمن أمعن النظر في سنده ومتنه وكان أهلا للتصحيح وفاقا للنوري وخلافا للمصنف

وقوله: في أحاديث البخاري: قيل أربعة آلاف وبالمكرر كذا هذه رواية الفربري وأما رواية حماد بن شاكر فهو دونها بمائتي حديث ودون هذه بمائة حديث أي إبراهيم بن معقل ولم يذكر عدة أحاديث مسلم1 قال: النووي هي نحو أربعة آلاف بإسقاط المكرر أي وبالمكرر اثنا عشر ألفا قاله أبو الفضل أحمد بن سلمة وهو يزيد على عدة كتاب البخاري لكثرة طرقه.

وقوله: إلا أن ينص ذلك المصنف على صحته هذا بناء على مذهبه في امتناع التصحيح في هذا العصر بل لو نص أحد ممن له ذلك على صحة إسناد كما في سؤالات يحيى بن معين وسؤالات الإمام أحمد وغير ذلك كفى في صحته.

--------------------------------------------

1 هكذا ذكر العراقي في التقييد وتابعه الأبناسي رحمهما الله مع أن ابن الصلاح ذكر عدة صحيح مسلم في حاشية كتابه كما سبق.
...অথবা কেবল বুখারীর শর্ত অনুযায়ী, অথবা কেবল মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী, এবং যেসকল হাদিসকে তাঁর ইজতিহাদ সহিহ হওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে যদিও তা তাঁদের কোনো একজনের শর্ত অনুযায়ী না হয়। তিনি সহিহ হাদিসের শর্তের ক্ষেত্রে প্রশস্ত দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন এবং এর মাধ্যমে ফয়সালা দেওয়ার ক্ষেত্রে শিথিল ছিলেন।

তাই তাঁর ব্যাপারে মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই উত্তম; আমরা বলব যে, তিনি যে হাদিসকে সহিহ বলে হুকুম দিয়েছেন এবং অন্য কোনো ইমামের নিকট তা পাওয়া যায়নি, সেটি যদি 'সহিহ' পর্যায়ের নাও হয়, তবে তা 'হাসান' পর্যায়ের হবে, যা দলিল হিসেবে পেশ করা যায় এবং যার ওপর আমল করা যায়—যতক্ষণ না তাতে এমন কোনো দোষ (ইল্লত) প্রকাশ পায় যা তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করে। আর হুকুমের দিক থেকে আবু হাতিম বিন হিব্বান আল-বুস্তি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর সহিহ (ইবনে হিব্বান) এর কাছাকাছি। সমাপ্ত।

ইবনুল আখরাম হলেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব বিন আল-আখরাম, যিনি আল-হাকিমের শিক্ষক।

আন-নববী 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন, সঠিক কথা হলো এই পাঁচজনের (অর্থাৎ বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ) নিকট থেকে খুব সামান্যই ছুটে গিয়েছে।

ইবনে কাসীর তাঁর বিরোধিতা করে বলেছেন, যে ব্যক্তি হাদিসের সনদ ও মতনের প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করবে এবং সহিহ সাব্যস্ত করার যোগ্যতা রাখবে, তার নিকট মুসনাদ ও মুজাম গ্রন্থসমূহে যেমন—মুসনাদে আহমাদ, আবু ইয়ালা, মুজামে তাবারানি এবং একইভাবে 'আজযা' ও অন্যান্য কিতাবে এমন অনেক হাদিস পাওয়া যাবে। এটি নববীর মতের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং গ্রন্থকারের মতের পরিপন্থী।

আর তাঁর উক্তি: "বুখারীর হাদিসসমূহের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, তা চার হাজার এবং পুনরাবৃত্তিসহ এত এত।" এটি ফিরব্বরীর বর্ণনা। আর হাম্মাদ বিন শাকিরের বর্ণনা এর চেয়ে দুইশ হাদিস কম। এবং ইব্রাহিম বিন মাকিলের বর্ণনা এর চেয়ে একশ হাদিস কম। তিনি মুসলিমের হাদিস সংখ্যা উল্লেখ করেননি। নববী বলেছেন, পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে তা প্রায় চার হাজার, আর পুনরাবৃত্তিসহ বারো হাজার। এটি আবু আল-ফজল আহমদ বিন সালামা বলেছেন; আর তা এর সূত্রের আধিক্যের কারণে বুখারীর হাদিস সংখ্যার চেয়ে বেশি।

আর তাঁর উক্তি: "যদি না কোনো গ্রন্থকার তার সহিহ হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট উক্তি করেন।" এটি বর্তমান যুগে হাদিস সহিহ সাব্যস্ত করার পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তাঁর মাযহাবের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে। বরং এর যোগ্যতা রাখেন এমন কেউ যদি কোনো সনদের সহিহ হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট উক্তি করেন, যেমনটি ইয়াহইয়া বিন মাইন এর প্রশ্নোত্তর, ইমাম আহমাদের প্রশ্নোত্তর এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে পাওয়া যায়, তবে তা সহিহ হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

--------------------------------------------

১. ইরাকী 'আত-তাকয়ীদ' গ্রন্থে এভাবেই উল্লেখ করেছেন এবং আল-আবনাসী তাঁকে অনুসরণ করেছেন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন), যদিও ইবনুস সালাহ ইতিপূর্বে তাঁর কিতাবের টীকায় সহিহ মুসলিমের হাদিস সংখ্যা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলূমি ইবনিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৯১)
وقوله: وكثير من هذا موجود في الجمع بين الصحيحين للحميدي يقتضي ان ما وجد من زيادات الحميدي على الصحيحين يحكم بصحته وليس كذلك فإن المستخرجات المذكورة قد رووها بأسانيدهم الصحيحة فكانت الزيادات التي تقع فيها صحيحة لوجودها بإسناد صحيح في كتاب مشهور وأما الذي زاده الحميدي فإنه لم يروه بإسناده حتى ننظر فيه1 ولا أظهر لنا اصطلاحا أنه يزيد فيه رواية التزم فيها الصحة فنقلده2 فيها وليست الزوائد في واحد من الكتابين فهي غير مقبولة حتى توجد في غيره بإسناد صحيح وقد نص المصنف بعد هذا على أن من نقل شيئا من زيادات الحميدي على الصحيحين أو أحدهما فهو مخطئ.

واعترض بعضهم على قول المصنف: إن الحاكم اودع في المستدرك أحاديث لم تكن في واحد من الصحيحين مع أن فيه أحاديث كثيرة موجودة فيهما كما بينه الذهبي في مختصر المستدرك.

من ذلك حديث أبي سعيد الخدري مرفوعا لا تكتبوا عني شيئا سوى القرآن خرجه الحاكم وهو في صحيح مسلم قال: ابن كثير وفي المستدرك أنواع من الحديث كثيرة فيه الصحيح المستدرك وهو قليل وفيه صحيح خرجاه أو أحدهما لم يعلم به الحاكم وفيه الحسن والضعيف والموضوع وقد بين ذلك الذهبي وجمع ما فيه من الموضوع فبلغ قريبا من مائة حديث.

وفهم بعضهم من قوله: ويقاربه في حكمه صحيح ابن حبان ترجيح كتاب الحاكم على كتاب ابن حبان وليس ذلك بمراد له بل أراد أنه يقاربه في التساهل فالحاكم أشد تساهلا منه.

وقال الحازمي ابن حبان أمكن في الحديث من الحاكم.

قال ابن كثير إن ابن خزيمة وابن حبان التزما الصحة وهما خير من المستدرك بكثير وأنظف أسانيد ومتونا.

--------------------------------------------

1 هكذا في خط وفي ع: "ينظر فيه".

2 في ع: "فيقلد فيها".
এবং তাঁর কথা: "এর অনেক কিছুই হুমায়দীর 'আল-জাম' বাইনাস সাহীহাঈন'-এ বিদ্যমান," এটি দাবি করে যে হুমায়দী কর্তৃক সাহীহাঈন-এর ওপর অতিরিক্ত যা কিছু পাওয়া যায় তা সহীহ হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; কারণ উল্লিখিত মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ সেগুলো তাঁদের নিজস্ব সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন, ফলে তাতে বিদ্যমান অতিরিক্ত অংশগুলো একটি প্রসিদ্ধ কিতাবে সহীহ সনদে থাকার কারণে সহীহ হয়েছে। আর হুমায়দী যা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, তা তিনি নিজের সনদে বর্ণনা করেননি যাতে আমরা তা যাচাই করতে পারি, আর তিনি আমাদের নিকট এমন কোনো পরিভাষাও প্রকাশ করেননি যে তিনি এতে কেবল সহীহ বর্ণনাই যোগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যাতে আমরা এ বিষয়ে তাঁকে অনুসরণ করতে পারি। আর এই অতিরিক্তগুলো মূল দুই কিতাবের (বুখারী ও মুসলিম) কোনোটিতেই নেই, তাই এগুলো অন্য কোথাও সহীহ সনদে না পাওয়া পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য নয়। এরপরে লেখক নিজেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি হুমায়দী কর্তৃক সাহীহাঈন বা এর কোনো একটির ওপর করা অতিরিক্ত সংযোজন থেকে কোনো কিছু উদ্ধৃত করবে, সে ভুল করবে।

কেউ কেউ লেখকের এই উক্তির প্রতিবাদ করেছেন যে: হাকেম 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে এমন সব হাদীস সংকলন করেছেন যা সাহীহাঈন-এর কোনোটিতেই নেই, অথচ এতে এমন অনেক হাদীস রয়েছে যা ওই দুই কিতাবেই বিদ্যমান, যেমনটি যাহাবী 'মুখতাসারুল মুস্তাদরাক'-এ স্পষ্ট করেছেন।

এর একটি উদাহরণ হলো আবু সাঈদ খুদরী বর্ণিত মারফু হাদীস: "তোমরা কুরআন ছাড়া আমার থেকে অন্য কিছু লিখো না।" হাকেম এটি সংকলন করেছেন, অথচ এটি সহীহ মুসলিমে রয়েছে। ইবনে কাসীর বলেন: মুস্তাদরাক গ্রন্থে অনেক প্রকারের হাদীস রয়েছে; এতে এমন কিছু সহীহ হাদীস আছে যা শর্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত (মুস্তাদরাক), তবে এর পরিমাণ কম। আবার এতে এমন কিছু সহীহ হাদীস আছে যা বুখারী-মুসলিম উভয়ই বা তাঁদের একজন বর্ণনা করেছেন কিন্তু হাকেম তা জানতেন না। এছাড়া এতে হাসান, যঈফ এবং মাওজু (জাল) হাদীসও রয়েছে। যাহাবী এগুলো স্পষ্ট করেছেন এবং এতে থাকা জাল হাদীসগুলো একত্রিত করেছেন, যার সংখ্যা প্রায় একশ হাদীস পর্যন্ত পৌঁছেছে।

কেউ কেউ তাঁর (লেখকের) উক্তি "বিচারের দিক থেকে সহীহ ইবনে হিব্বান এর কাছাকাছি" থেকে বুঝেছেন যে তিনি ইবনে হিব্বানের কিতাবের চেয়ে হাকেমের কিতাবকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন; কিন্তু এটি তাঁর উদ্দেশ্য নয়। বরং তিনি বুঝিয়েছেন যে শিথিলতার (তাসাহুল) ক্ষেত্রে এটি এর কাছাকাছি, আর হাকেম তাঁর চেয়েও বেশি শিথিল।

হাযেমী বলেছেন: হাদীস শাস্ত্রে ইবনে হিব্বান হাকেমের চেয়ে বেশি দক্ষ।

ইবনে কাসীর বলেন: নিশ্চয়ই ইবনে খুজাইমা এবং ইবনে হিব্বান সহীহ হওয়ার শর্ত মেনে চলেছেন এবং এই গ্রন্থ দুটি মুস্তাদরাকের চেয়ে অনেক গুণ শ্রেষ্ঠ এবং এগুলোর সনদ ও মতন অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন।

--------------------------------------------

১ পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, আর 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তাতে দেখা হবে"।

২ 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তাতে তাঁকে অনুসরণ করা হবে"।