(খণ্ড: ১)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الصواعق المرسلة على الجهمية والمعطلة - ط العاصمة القسم: الفرق والردود
الكتاب: الصواعق المرسلة في الرد على الجهمية والمعطلة
المؤلف: محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد شمس الدين ابن قيم الجوزية (ت 751هـ)
المحقق: علي بن محمد الدخيل الله
الناشر: دار العاصمة، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1408هـ
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জাহমিয়া ও মুয়াত্তিলাদের ওপর প্রেরিত বজ্রধ্বনি - আসিমা সংস্করণ বিভাগ: দল-উপদল এবং খণ্ডনসমূহ
বই: জাহমিয়া ও মুয়াত্তিলাদের খণ্ডনে প্রেরিত বজ্রধ্বনি
লেখক: মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে আইয়ুব ইবনে সাদ শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়া (মৃত্যু ৭৫১ হিজরি)
সম্পাদক: আলী ইবনে মুহাম্মদ আদ-দাখিলুল্লাহ
প্রকাশক: দারুল আসিমা, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٧٩٥)
المجلد الثالث
الفصل الرابع والعشرون في ذكر الطواغيت الأربع التي هدم بها أصحاب التأويل الباطل معاقل الدين وانتهكوا بها حرمة القرآن ومحوا بها رسوم الإيمان (تابع)
الطاغوت الثاني: إذا تعارض العقل ونصوص الوحي أخذنا بالعقل ولم نلتفت إلى الوحي…فصل
فهذا الطاغوت الأول وهو قولهم إن الأدلة اللفظية لا تفيد اليقين فإن قيل فقد دل القرآن على أن فيه محكما ومتشابها ومعلوم أن المتشابه هو الذي يشبه المراد به بغيره وهو آيات الصفات فلو أفادت اليقين لم تكن متشابهة.
قيل هذا السؤال مبني على ثلاث مقدمات
أحدها: أن القرآن متضمن للمتشابه
الثانية: أن المتشابه هو آيات الصفات
الثالثة: أن المتشابه لا يمكن حصول العلم واليقين بمعناه.
وسنفرد الكلام على هذا بفصل مستقل بعد كسر الطواغيت الأربعة التي نصبوها لهدم معاقل الدين ونبين معنى المحكم بمعناه ونبين أن آيات الصفات محكمة فإنها من أبين الكتاب إحكاما وإن ما تضمنته من الإحكام أعظم مما تضمنه ما عداها بعون الله وتوفيقه.
তৃতীয় খণ্ডচব্বিশতম অধ্যায়: সেই চারটি তাগুতের আলোচনা প্রসঙ্গে, যার মাধ্যমে বাতিল ব্যাখ্যাকারীরা দ্বীনের দুর্গসমূহ ধ্বংস করেছে, কুরআনের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করেছে এবং ঈমানের চিহ্নসমূহ মুছে ফেলেছে (চলমান)দ্বিতীয় তাগুত: যখন আকল (বিবেক) এবং ওহীর ভাষ্যসমূহ পরস্পর বিরোধী হবে, তখন আমরা আকলকে গ্রহণ করব এবং ওহীর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করব না…অনুচ্ছেদ
এটি হলো প্রথম তাগুত, আর তা হলো তাদের এই দাবি যে— ভাষাগত প্রমাণাদি নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না। এখন যদি বলা হয় যে, কুরআন নিজেই প্রমাণ দিয়েছে যে তাতে মুহকাম (সুস্পষ্ট) ও মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট) আয়াত বিদ্যমান, আর এটি জানা কথা যে মুতাশাবিহ হলো তা-ই যা উদ্দেশ্যের দিক থেকে অন্য কিছুর সাথে সাদৃশ্য রাখে, আর তা হলো আল্লাহর গুণাবলী সংক্রান্ত আয়াতসমূহ; সুতরাং এগুলো যদি নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করত, তবে তা মুতাশাবিহ হতো না।
জবাবে বলা হবে যে, এই প্রশ্নটি তিনটি প্রস্তাবনার ওপর প্রতিষ্ঠিত:
এক: কুরআন মুতাশাবিহ আয়াত অন্তর্ভুক্ত করে।
দুই: মুতাশাবিহ হলো আল্লাহর গুণাবলী সংক্রান্ত আয়াতসমূহ।
তিন: মুতাশাবিহ আয়াতের অর্থ সম্পর্কে জ্ঞান ও নিশ্চিত বিশ্বাস লাভ করা সম্ভব নয়।
আমরা অচিরেই এই বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ে আলোচনা করব, দ্বীনের দুর্গসমূহ ভেঙে ফেলার জন্য তারা যে চারটি তাগুত স্থাপন করেছে তা চূর্ণ করার পর। সেখানে আমরা মুহকামের প্রকৃত অর্থ স্পষ্ট করব এবং দেখাব যে আল্লাহর গুণাবলী সংক্রান্ত আয়াতসমূহ মূলত মুহকাম। কেননা এগুলো কিতাবের অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও সুদৃঢ় আয়াতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিকে আমরা আরও দেখাব যে, এই আয়াতগুলো যে সুদৃঢ়তা ধারণ করে তা অন্য সব আয়াতের তুলনায় অধিক মহান।
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٧٩٦)
فصل
في الطاغوت الثاني: وهو قولهم إن تعارض العقل والنقل وجب تقديم العقل لأنه لا يمكن الجمع بينهما ولا إبطالهما ولا تقديم النقل لأن العقل أصل النقل فلو قدمنا عليه النقل لبطل العقل وهو أصل النقل فلزم بطلان النقل فيلزم من تقديم النقل بطلان العقل والنقل فتعين القسم الرابع وهو تقديم العقل فهذا الطاغوت آخو ذلك القانون فهو مبني على ثلاث مقدمات
الأولى: ثبوت التعارض بين العقل والنقل
الثانية: انحصار التقسيم في الأقسام الأربعة التي ذكرت فيه.
الثالثة: بطلان الأقسام الثلاثة ليتعين ثبوت الرابع.
وقد أشفى شيخ الإسلام في هذا الباب بما لا مزيد عليه وبين بطلان هذه الشبهة وكسر هذا الطاغوت في
পরিচ্ছেদ
দ্বিতীয় তাগুত প্রসঙ্গে: আর তা হলো তাদের এই বক্তব্য যে, যদি আকল (যুক্তি) এবং নকলের (ওহী) মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, তবে আকলকে অগ্রাধিকার দেওয়া অপরিহার্য। কারণ এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব নয়, আবার উভয়কে বাতিল করাও সম্ভব নয় এবং নকলকে অগ্রাধিকার দেওয়াও সম্ভব নয়; কারণ আকল হলো নকলের ভিত্তি। সুতরাং আমরা যদি আকলের ওপর নকলকে অগ্রাধিকার দিই, তবে আকল বাতিল হয়ে যাবে, অথচ তা হলো নকলের ভিত্তি। ফলে নকলও বাতিল হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়বে। সুতরাং নকলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে আকল ও নকল—উভয়ই বাতিল হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। তাই চতুর্থ প্রকারটিই নির্ধারিত হলো, আর তা হলো আকলকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এই তাগুতটি সেই নিয়মেরই ভ্রাতৃপ্রতিম; আর এটি তিনটি মুখবন্ধের (ভিত্তির) ওপর প্রতিষ্ঠিত:
প্রথম: আকল ও নকলের মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান থাকা।
দ্বিতীয়: বিভাজনটি উল্লিখিত চারটি প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হওয়া।
তৃতীয়: প্রথম তিনটি প্রকার বাতিল হওয়া, যাতে চতুর্থটি সাব্যস্ত হওয়া সুনিশ্চিত হয়।
শায়খুল ইসলাম এই অধ্যায়ে এমন এক নিরাময়মূলক আলোচনা করেছেন যার ওপর আর কোনো বৃদ্ধির অবকাশ নেই; তিনি এই সংশয়ের অসারতা স্পষ্ট করেছেন এবং এই তাগুতকে চূর্ণ করেছেন—
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٧٩٧)
كتابه الكبير ونحن نشير إلى كلمات يسيرة هي قطرة من بحره يتضمن كسره ودحضه وذلك يظهر من وجوه
الوجه الأول: إن هذا التقسيم باطل من أصله والتقسيم الصحيح أن يقال إذا تعارض دليلان سمعيان أو عقليان أو سمعي وعقلي فإما أن يكونا قطعيين وإما أن يكونا ظنيين وإما أن يكون أحدهما قطعيا والآخر ظنيا.
فأما القطعيان فلا يمكن تعارضهما في الأقسام الثلاثة لأن الدليل القطعي هو الذي يستلزم مدلوله قطعا فلو تعارضا لزم الجمع بين النقيضين وهذا لا يشك فيه أحد من العقلاء.
وإن كان أحدهما قطعيا والآخر ظنيا تعين تقديم القطعي سواء كان جمعيا ظنين صرنا إلى الترجيح ووجب تقديم الراجح منهما سمعيا كان أو عقليا.
فهذا تقسيم واضح متفق على مضمونه بين العقلاء.
তাঁর বৃহৎ গ্রন্থ; আর আমরা এখানে সংক্ষিপ্ত কিছু কথার দিকে ইঙ্গিত করছি যা তাঁর ইলমের সমুদ্রের এক বিন্দুমাত্র, যা একে খণ্ডন ও বাতিল করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে; আর তা কয়েকটি দিক থেকে পরিস্ফুট হয়:
প্রথম দিক: এই বিভাজনটি মূলগতভাবেই বাতিল। সঠিক বিভাজন হলো এভাবে বলা যে, যখন দুটি শ্রুতিনির্ভর (নকলি) দলীল অথবা দুটি যুক্তিনির্ভর (আকলি) দলীল অথবা একটি শ্রুতিনির্ভর ও একটি যুক্তিনির্ভর দলীলের মাঝে বৈপরীত্য দেখা দেয়, তখন হয় উভয়ই অকাট্য (কাতঈ) হবে, নতুবা উভয়ই ধারণাপ্রসূত (জন্নি) হবে, অথবা তাদের একটি অকাট্য ও অন্যটি ধারণাপ্রসূত হবে।
আর দুটি অকাট্য দলীলের ক্ষেত্রে উল্লিখিত তিন প্রকারের কোনোটিতেই তাদের মধ্যে বৈপরীত্য ঘটা অসম্ভব; কারণ অকাট্য দলীল তা-ই যা তার বিষয়বস্তুকে অকাট্যভাবে সাব্যস্ত করে। সুতরাং যদি তাদের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দিত, তবে তা দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের একত্রীকরণকে আবশ্যক করত, আর এই ব্যাপারে বুদ্ধিমানদের কেউ সন্দেহ পোষণ করে না।
আর যদি তাদের একটি অকাট্য এবং অন্যটি ধারণাপ্রসূত হয়, তবে অকাট্যটিকেই অগ্রাধিকার প্রদান করা নির্ধারিত হবে; আর যদি উভয়ই ধারণাপ্রসূত হয়, তবে আমরা প্রাবল্য নির্ধারণের (তরজীহ) দিকে ফিরে যাব এবং তাদের মধ্য থেকে প্রবলতরটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া ওয়াজিব হবে, তা শ্রুতিনির্ভর হোক বা যুক্তিনির্ভর।
এটি একটি সুস্পষ্ট বিভাজন, যার মূল বক্তব্যের ওপর বুদ্ধিমানগণ একমত।
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٧٩٨)
فأما إثبات التعارض بين الدليل العقلي والسمعي والجزم بتقديم العقلي مطلقا فخطأ واضح معلوم الفساد عند العقلاء. الوجه الثاني: إن قوله إذا تعارض العقل والنقل فإما أن يريد به القطعيين فلا نسلم إمكان التعارض وإما أن يريد به الظنيين فالتقديم للراجح مطلقا وإما أن يريد ما يكون أحدهما قطعيا والآخر ظنيا فالقطعي هو المقدم مطلقا فإذا قدر أن العقلي هو القطعي كان تقديمه لأنه قطعي لا لأنه عقلي فعلم أن تقديم العقلي مطلقا خطأ وأن جعل جهة الترجيح كونه عقليا خطأ وأن جعل سبب التأخير والاطراح كونه نقليا خطأ.
الوجه الثالث: إنا لا نسلم انحصار القسمة فيما ذكره من الأقسام الأربعة إذ من الممكن أن يقال تقدم العقلي تارة والسمعي تارة فأيهما كان قطعيا قدم فدعواه أنه لا بد من تقديم العقل مطلقا أو السمع مطلقا أو اعتبار الدليلين معا أو إلغائهما معا دعوى كاذبة بل ههنا قسم غير هذه الأقسام وهو الحق وهو ما ذكرناه.
তবে আকলি (বুদ্ধিবৃত্তিক) এবং সাময়ি (বর্ণনাশ্রয়ী) দলিলের মধ্যে বৈপরীত্য সাব্যস্ত করা এবং নিঃশর্তভাবে আকলি দলিলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি একটি স্পষ্ট ভুল, যার অসারতা বুদ্ধিমানদের নিকট সুবিদিত। দ্বিতীয়ত: তাঁর কথা—যখন আকল (বিবেক) এবং নাকল (বর্ণনা) এর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়—এর দ্বারা যদি তিনি উভয়টি অকাট্য (কাতয়ি) হওয়া উদ্দেশ্য করেন, তবে আমরা বিরোধের সম্ভাবনাকেই স্বীকার করি না। আর যদি তিনি উভয়টি ধারণানির্ভর (জন্নি) হওয়া উদ্দেশ্য করেন, তবে নিঃশর্তভাবে যেটি প্রবলতর (রাজাহ) সেটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আর যদি তিনি এমন ক্ষেত্র উদ্দেশ্য করেন যেখানে একটি অকাট্য এবং অন্যটি ধারণানির্ভর, তবে অকাট্যটিই নিঃশর্তভাবে অগ্রগণ্য হবে। সুতরাং যদি ধরে নেওয়া হয় যে আকলি দলিলটি অকাট্য, তবে তা অগ্রাধিকার পাবে অকাট্য হওয়ার কারণে, আকলি হওয়ার কারণে নয়। ফলে এটি স্পষ্ট হলো যে, নিঃশর্তভাবে আকলকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভুল, আকলি হওয়াকে অগ্রাধিকারের মানদণ্ড বানানো ভুল এবং নাকলি হওয়াকে পিছিয়ে দেওয়া বা বর্জন করার কারণ সাব্যস্ত করাও ভুল।
তৃতীয়ত: তিনি যে চারটি বিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন, আমরা সেই সীমাবদ্ধতা স্বীকার করি না; কেননা এমনটি বলাও সম্ভব যে, কখনো আকলি দলিল অগ্রগণ্য হবে আবার কখনো সাময়ি দলিল অগ্রগণ্য হবে—অর্থাৎ এই দুটির মধ্যে যেটি অকাট্য হবে সেটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সুতরাং তাঁর এই দাবি যে, নিঃশর্তভাবে আকলকে অগ্রাধিকার দিতে হবে অথবা নিঃশর্তভাবে সাম্’কে অগ্রাধিকার দিতে হবে অথবা উভয় দলিলকে একসাথে গ্রহণ করতে হবে অথবা উভয়কে একসাথে বর্জন করতে হবে—এটি একটি মিথ্যা দাবি। বরং এখানে এই বিভাগগুলো ছাড়াও অন্য একটি বিভাগ রয়েছে যা সত্য, আর সেটিই আমরা উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٧٩٩)
الوجه الرابع: قوله: إن قدمنا النقل لزم الطعن فحاصله ممنوع فإن قوله العقل أصل النقل إما أن يريد به أنه أصل في ثبوته في نفس الأمر أو أصل في علمنا بصحته فالأول لا يقوله عاقل فإن ما هو ثابت في نفس الأمر ليس موقوفا على علمنا به فعدم علمنا بالحقائق لا ينفي ثبوتها في نفس الأمر.
فما أخبر به الصادق المصدوق هو ثابت في نفسه سواء علمناه بعقولنا أو لم نعلمه وسواء صدقه الناس أو لم يصدقوه كما أن رسول الله حق وإن كذبه من كذبه كما أن وجود الرب تعالى وثبوت أسمائه وصفاته حق سواء علمناه بعقولنا أو لم نعلمه.
فلا يتوقف ذلك على وجودنا فضلا عن علومنا وعقولنا فالشرع المنزل من عند الله مستغن في نفسه عن علمنا وعقلنا ولكن نحن محتاجون إليه وإلى أن نعلمه بعقولنا فإذا علم العقل ذلك حصل له كمال لم يكن قبل ذلك وإذا فقده كان ناقصا جاهلا.
وأما إن أراد أن العقل أصل في معرفتنا بالسمع ودليل على صحته وهذا هو مراده.
চতুর্থ দিক: তাঁর এই উক্তি—"যদি আমরা বর্ণনাকে (নকল) প্রাধান্য দিই তবে তা অপবাদ দেয়া আবশ্যক করে"—এর সারমর্মটি অগ্রহণযোগ্য। কারণ, তাঁর এই কথা—"বিবেক হলো বর্ণনার ভিত্তি"—এর মাধ্যমে তিনি হয় এটি বুঝিয়েছেন যে, বিষয়টি স্বয়ংসিদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে এটি ভিত্তি, অথবা এর সঠিকতা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের ক্ষেত্রে এটি ভিত্তি। প্রথম অর্থটি কোনো বিবেকবান ব্যক্তি বলেন না; কেননা যা বাস্তবে সুসাব্যস্ত, তা সে সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল নয়। সুতরাং কোনো সত্য সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের অভাব বাস্তবে তার বিদ্যমান থাকাকে নাকচ করে দেয় না।
অতএব সত্যবাদী ও সত্যয়নকৃত (নবী) যা সংবাদ দিয়েছেন তা স্বয়ংসিদ্ধভাবে সাব্যস্ত, চাই আমরা আমাদের বিবেকের মাধ্যমে তা জানি বা না জানি, এবং মানুষ তাকে বিশ্বাস করুক বা না করুক। যেমন আল্লাহর রাসুল সত্য, যদিও মিথ্যা প্রতিপন্নকারীরা তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে; এবং যেমন মহান রবের অস্তিত্ব এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির সাব্যস্ত হওয়া সত্য, চাই আমরা আমাদের বিবেকের মাধ্যমে তা জানি বা না জানি।
সুতরাং তা আমাদের অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল নয়, আমাদের জ্ঞান ও বিবেকের কথা তো বলাই বাহুল্য। অতএব আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ শরীয়ত স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে আমাদের জ্ঞান ও বিবেকের মুখাপেক্ষীহীন, বরং আমরাই সেটির মুখাপেক্ষী এবং আমাদের বিবেকের মাধ্যমে তা জানার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সুতরাং যখন বিবেক তা অবগত হয়, তখন তার এমন এক পূর্ণতা অর্জিত হয় যা আগে ছিল না; আর যখন সে তা হারিয়ে ফেলে, তখন সে অপূর্ণ ও অজ্ঞ থাকে।
আর যদি তিনি এটি বুঝিয়ে থাকেন যে, বিবেক হলো শ্রবণলব্ধ জ্ঞানের (নকল) পরিচয় পাওয়ার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি এবং এর সঠিকতার দলিল—তবে এটিই তাঁর উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨٠٠)
فيقال له أتعني بالعقل هنا القوة والغريزة التي فينا أم العلوم المستفادة بتلك الغريزة؟
فالأول: لم ترده وتمتنع إرادته بأن تلك الغريزة ليست علما يمكن معارضته للنقل وإن كانت شرطا في كل علم عقلي أو سمعي وما كان شرطا في الشيء امتنع أن يكون منافيا له.
وإن أردت العلم والمعرفة الحاصل بالعقل.
قيل لك ليس كل ما يعرف بالعقل يكون أصلا للسمع ودليلا على صحته فإن المعارف العقلية أكثر من أن تحصر والعلم بصحة السمع غايته أن يتوقف على ما به يعلم صدق الرسول من العقليات وليس كل العلوم العقلية يعلم بها صدق الرسول بل ذلك يعلم بالآيات والبراهين الدالة على صدقه.
فعلم أن جميع المعقولات ليس أصلا للنقل لا بمعنى توقف العلم بالسمع عليها ولا بمعنى توقف ثبوته في نفس الأمر عليها لا سيما وأكثر متكلمي أهل الإثبات كالأشعري في أحد قوليه وأكثر أصحابه يقولون إن
তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, আপনি এখানে বিবেক বলতে কি আমাদের মধ্যে বিদ্যমান শক্তি ও সহজাত প্রবৃত্তি বুঝিয়েছেন, নাকি সেই সহজাত প্রবৃত্তির মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানসমূহ বুঝিয়েছেন?
প্রথমটি: আপনি তা উদ্দেশ্য করেননি এবং তা উদ্দেশ্য করা অসম্ভব; কেননা সেই সহজাত প্রবৃত্তি এমন কোনো জ্ঞান নয় যা শ্রুতলব্ধ বাণীর (নকল) বিরোধিতা করতে পারে, যদিও তা প্রতিটি বুদ্ধিবৃত্তিক বা শ্রবণলব্ধ জ্ঞানের শর্ত। আর যা কোনো কিছুর শর্ত হয়, তা তার পরিপন্থী হওয়া অসম্ভব।
আর যদি আপনি বিবেকের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও পরিচয় উদ্দেশ্য করে থাকেন।
তবে আপনাকে বলা হবে যে, বিবেক দ্বারা পরিজ্ঞাত প্রতিটি বিষয়ই শ্রবণলব্ধ প্রমাণের (সাম) মূলভিত্তি এবং তার সত্যতার দলিল নয়। কারণ বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানসমূহ সীমাবদ্ধ করার ঊর্ধ্বে। আর শ্রবণলব্ধ প্রমাণের বিশুদ্ধতার জ্ঞান বড়জোর সেই সকল বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল যার মাধ্যমে রাসুলের সত্যতা জানা যায়। সকল বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানের মাধ্যমে রাসুলের সত্যতা জানা যায় না; বরং তা তাঁর সত্যতার ওপর প্রমাণ বহনকারী নিদর্শনাবলি ও প্রমাণের মাধ্যমেই জানা যায়।
সুতরাং প্রতীয়মান হলো যে, সকল বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ই শ্রুতলব্ধ বাণীর (নকল) মূলভিত্তি নয়—শ্রবণলব্ধ বিষয়ের জ্ঞান তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার অর্থেও নয়, আবার বাস্তব ক্ষেত্রে তার সাব্যস্ত হওয়া এর ওপর নির্ভরশীল হওয়ার অর্থেও নয়। বিশেষ করে যখন সিফাত সাব্যস্তকারী (আহলে ইসবাত) অধিকাংশ মুতাকাল্লিম, যেমন আশআরী তাঁর দুই মতের একটিতে এবং তাঁর অধিকাংশ অনুসারীগণ বলেন যে
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨٠١)
العلم بصدق الرسول عند ظهور المعجزات الحادثة التي تجري مجرى تصديق الرسول بالقول علم ضروري فحينئذ فما يتوقف عليه العلم بصدق الرسول من العلم العقلي سهل يسير مع أن العلم بصدقه له طرق كثيرة متنوعة.
وحينئذ فإذا كان المعارض للسمع من المعقولات مالا يتوقف العلم بصحة السمع عليه لم يكن القدح فيه قدحا في أصل السمع وهذا بحمد الله بين واضح وليس القدح في بعض العقليات قدحا في جميعها كما أنه ليس القدح في بعض السمعيات قدحا في جميعها فلا يلزم من صحة المعقولات التي يبنى عليها معرفتنا بالسمع صحة غيرها من المعقولات ولا من فساد هذه فساد تلك فلا يلزم من تقديم السمع على ما يقال إنه معقول في الجملة القدح في أصله
রাসূলের সত্যতা সম্পর্কে জ্ঞান—যখন এমন সব অলৌকিক ঘটনা (মুজিজা) প্রকাশিত হয় যা কথার মাধ্যমে রাসূলের সত্যতা প্রমাণের সমতুল্য—তা একটি স্বতঃসিদ্ধ (জরুরি) জ্ঞান। এমতাবস্থায়, রাসূলের সত্যতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভের জন্য যে বুদ্ধিবৃত্তিক বা আকলি জ্ঞানের ওপর নির্ভর করতে হয়, তা অত্যন্ত সহজ ও সরল। এছাড়া তাঁর সত্যতা প্রমাণের বহুবিধ ও বৈচিত্র্যময় পথ রয়েছে।
এমতাবস্থায়, ওহী বা শ্রুত দলিলের (সাম') পরিপন্থী কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তি যদি এমন হয় যার ওপর ওহীর বিশুদ্ধতা নির্ভর করে না, তবে সেই যুক্তিতে দোষারোপ করা মানে ওহীর মূল ভিত্তিতে দোষারোপ করা নয়। আর এটি আল্লাহর প্রশংসায় সুষ্পষ্ট ও পরিষ্কার। কোনো কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের ওপর আপত্তি তোলা মানে সব বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের ওপর আপত্তি তোলা নয়, ঠিক যেমন কোনো কোনো ওহীভিত্তিক বিষয়ের ওপর আপত্তি তোলা মানে সকল ওহীভিত্তিক বিষয়ের ওপর আপত্তি তোলা নয়। অতএব, ওহী সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান যে সকল বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, সেগুলোর বিশুদ্ধতা থেকে অন্য সকল বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের বিশুদ্ধতা সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক নয়, আর না এগুলোর অসারতা থেকে সেগুলোর অসারতা সাব্যস্ত হওয়া জরুরি। সুতরাং সাধারণভাবে যাকে বুদ্ধিবৃত্তিক বলা হয়, তার ওপর ওহীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে ওহীর মূল ভিত্তিতে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি হওয়া আবশ্যক হয় না।
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨٠٢)
الوجه الخامس: أن يقال العقل إما أن يكون عالما يصدق الرسول وثبوت ما أخبر به في نفس الأمر وإما أن لا يكون عالما بذلك وإن لم يكن عالما امتنع التعارض عنه لأن المعقول إن كان معلوما له لم يتعارض معلوم ومجهول وإن لم يكن معلوما لم يتعارض مجهولان وإن كان عالما بصدق الرسول امتنع أن لا يعلم ثبوت ما أخبر به في نفس الأمر إذا علم أنه أخبر به وهو عالم بصدقه لزم ضرورة أن يكون عالما بثبوت مخبره وإن كان كذلك استحال أن يقع عنده دليل يعارض ما أخبر به ويكون ذلك المعارض واجب التقديم.
إذ مضمون ذلك أن يقال لا تعتقد ثبوت ما علمت أنه أخبر به لأن هذا الاعتقاد ينافي ما علمت به أن المخبر صادق وحقيقة ذلك لا تصدقه في هذا الخبر لأن تصديقه يستلزم عدم تصديقه فيقول وعدم تصديقي له فيه هو عين اللازم المحذور.
فإذا قيل لي لا تصدقه لئلا يلزم عدم تصديقه كان كما لو قيل كذبه لئلا يلزم تكذيبه فهكذا حال من أمر الناس أن لا يصدقوا الرسول فيما علموا أنه أخبر به بعد علمهم أنه رسول لئلا يفضي تصديقهم إلى عدم تصديقه يوضحه
পঞ্চম দিক: এটি বলা যে, আকল (বিবেক) হয় রাসূলের সত্যবাদিতা এবং তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন প্রকৃত বাস্তবতায় তার সত্যতা সম্পর্কে অবগত থাকবে, নতুবা সে সম্পর্কে অবগত থাকবে না। যদি সে অবগত না থাকে, তবে তার পক্ষ থেকে কোনো বৈপরীত্য বা বিরোধ ঘটা অসম্ভব। কারণ, বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়টি যদি তার জানা থাকে, তবে একটি জানা বিষয় ও একটি অজানা বিষয়ের মধ্যে বিরোধ হতে পারে না। আর যদি সেটিও জানা না থাকে, তবে দুটি অজানা বিষয়ের মধ্যে বিরোধ ঘটা অসম্ভব। আর যদি সে রাসূলের সত্যবাদিতা সম্পর্কে অবগত থাকে, তবে তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন সেটি সম্পর্কে জানার পর তার বাস্তব সত্যতা সম্পর্কে অবগত না থাকা আকলের জন্য অসম্ভব। যখন সে জানে যে তিনি সংবাদ দিয়েছেন এবং সে তাঁর সত্যবাদিতা সম্পর্কেও অবগত, তখন অপরিহার্যভাবে সেই সংবাদের সত্যতা সম্পর্কেও তাকে অবগত হতে হবে। আর যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে তার নিকট এমন কোনো দলিল থাকা অসম্ভব যা রাসূলের সংবাদ দেওয়া বিষয়ের বিপরীত হবে এবং সেই বিপরীত দলিলটি অগ্রগণ্য হওয়া আবশ্যক হবে।
কেননা এর সারকথা হলো এটি বলা যে: "তুমি যা জেনেছ যে তিনি সংবাদ দিয়েছেন, তার সত্যতায় বিশ্বাস করো না; কারণ এই বিশ্বাস তোমার সেই জ্ঞানের পরিপন্থী যে সংবাদদাতা সত্যবাদী।" আর এর প্রকৃত অর্থ হলো: "এই সংবাদে তাঁকে বিশ্বাস করো না, কারণ তাঁকে বিশ্বাস করার অর্থই হলো তাঁকে অবিশ্বাস করা।" তখন সে (আকল) বলবে: "এই সংবাদে তাঁকে আমার বিশ্বাস না করাই তো সেই নিষিদ্ধ আবশ্যিক ফলাফল (অবিশ্বাস)।"
সুতরাং যদি আমাকে বলা হয়: "তাঁকে বিশ্বাস করো না যাতে তাঁকে অবিশ্বাস করা অপরিহার্য না হয়", তবে এটি তেমনই হবে যেন বলা হলো: "তাঁকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করো যাতে তাঁকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা অপরিহার্য না হয়।" যারা মানুষকে নির্দেশ দেয় যে, তারা যেন রাসূল যা সংবাদ দিয়েছেন বলে নিশ্চিতভাবে জানে সে বিষয়ে তাঁকে বিশ্বাস না করে—অথচ তারা জানে যে তিনি রাসূল—যাতে তাদের সেই বিশ্বাস তাঁকে অবিশ্বাসের দিকে ধাবিত না করে, তাদের অবস্থাও ঠিক অনুরূপ। এটি আরও স্পষ্ট করে...
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨٠٣)
الوجه السادس: وهو أن المنهي عنه من قبول هذا الخبر وتصديقه فيه هو عين المحذور فيكون واقعا في المنهي عنه سواء أطاع أو عصى ويكون تاركا للمأمور به سواء أطاع أو عصى ويكون وقوعه في المخوف المحذور على تقدير الطاعة أعجل وأسبق منه على تقدير المعصية والمنهي عنه على هذا التقدير هو التصديق والمأمور به هو التكذيب وحينئذ فلا يجوز النهي عنه سواء كان محذورا أو لم يكن فإن لم يكن محذورا لم يجز أن ينهى عنه وإن كان محذورا فلا بد منه على التقديرين فلا فائدة في النهي عنه.
الوجه السابع: إنه إذا قيل له لا تصدقه في هذا كان أمرا له بما يناقض ما علم به صدقه وكان أمرا له بما يوجب ألا يثق بشيء من خبره فإنه متى جوز كذبه أو غلطه في خبر جوز ذلك في غيره ولهذا آل الأمر بمن سلك هذه الطريق إلى أنهم لا يستفيدون من جهة الرسول شيئا من الأمور الخبرية المتعلقة بصفات الله سبحانه وأفعاله بل وباليوم الآخر عند بعضهم لاعتقادهم أن هذه الأخبار على ثلاثة أنواع:
نوع يجب رده وتكذيبه ونوع يجب تأويله وإخراجه عن حقيقته ونوع يقر.
ষষ্ঠ দিক: এই সংবাদ গ্রহণ ও তা বিশ্বাস করা হতে যে বারণ করা হয়েছে, তা-ই হলো মূল আপত্তিকর বিষয়। ফলে ব্যক্তি নিষিদ্ধ বিষয়ে নিপতিত হবে, সে আনুগত্য করুক বা অবাধ্য হোক; এবং সে আদিষ্ট বিষয় পরিত্যাগকারী হবে, সে আনুগত্য করুক বা অবাধ্য হোক। আনুগত্যের অনুমিতিতে এই আশঙ্কাজনক বিষয়ে নিপতিত হওয়া অবাধ্যতার অনুমিতির চেয়ে দ্রুততর ও ত্বরান্বিত হবে। এই অনুমিতি অনুযায়ী নিষিদ্ধ বিষয়টি হলো বিশ্বাস করা এবং আদিষ্ট বিষয়টি হলো অস্বীকার করা। এমতাবস্থায় এটি নিষিদ্ধ করা বৈধ নয়, তা আপত্তিকর হোক বা না হোক। যদি তা আপত্তিকর না হয় তবে তা নিষিদ্ধ করা বৈধ হবে না, আর যদি আপত্তিকর হয় তবে উভয় অবস্থাতেই তা অনিবার্য, ফলে এটি নিষিদ্ধ করার কোনো ফায়দা নেই।
সপ্তম দিক: তাকে যখন বলা হয় ‘এই বিষয়ে তাকে বিশ্বাস করো না’, তখন তাকে এমন বিষয়ের নির্দেশ দেওয়া হয় যা তার জানা সত্যের পরিপন্থী এবং তাকে এমন বিষয়ের নির্দেশ দেওয়া হয় যা তার কোনো সংবাদেই আস্থা না রাখাকে আবশ্যক করে তোলে। কেননা, যখনই কোনো সংবাদে তার মিথ্যা বলা বা ভুল করা সম্ভব বলে গণ্য করা হবে, তখন অন্য সংবাদেও তা সম্ভব বলে ধরা হবে। এই কারণেই যারা এই পথ অবলম্বন করেছে তাদের পরিণতি এই হয়েছে যে, তারা আল্লাহর গুণাবলি ও তাঁর কার্যাবলি সম্পর্কিত সংবাদসমূহ, এমনকি কারো কারো মতে পরকাল সংক্রান্ত বিষয়েও রাসূলের পক্ষ থেকে কোনো জ্ঞান লাভ করে না। কারণ তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী এই সংবাদসমূহ তিন প্রকার:
এক প্রকার যা প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকার করা আবশ্যক, এক প্রকার যার ব্যাখ্যা (তাউইল) করা এবং এর প্রকৃত অর্থ হতে বিচ্যুত করা আবশ্যক এবং এক প্রকার যা বহাল রাখা হয়।
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨٠٤)
وليس لهم في ذلك أصل يرجعون إليه بل هذا يقول ما أثبته عقلك فأثبته وما نفاه عقلك فانفه وهذا يقول ما أثبته كشفك فأثبته وما لا فلا.
ووجود الرسول عندهم كعدمه في المطالب الإلهية ومعرفة الربوبية بل على قولهم وأصولهم وجوده أضر من عدمه لأنهم لم يستفيدوا من جهته علما بهذا الشأن واحتاجوا إلى دفع ما جاء به إما بتكذيب وإما بتأويل وإما بإعراض وتفويض.
فإن قيل لا يمكن أن يعلم أنه أخبر بما ينافي العقل فإنه منزه عن ذلك وهو ممتنع عليه.
قيل هذا إقرار باستحالة معارضة العقل للسمع واستحالة المسألة وعلم أن جميع أخباره لا يناقض العقل فيها شيء.
فغدا النقل سالما من مناف
… واسترحنا من الصداع جميعا
فإن قيل بل المعارضة ثابتة بين العقل وبين ما يفهم بظاهر اللفظ وليست ثابتة بين العقل وبين نفس ما أخبر به الرسول فالمعارضة ثابتة بين العقل وبين ما يظهر أنه دليل
আর এক্ষেত্রে তাদের ফিরে যাওয়ার মতো কোনো মূল ভিত্তি নেই; বরং এই ব্যক্তি বলে: তোমার বুদ্ধি যা সাব্যস্ত করে তা সাব্যস্ত করো, আর তোমার বুদ্ধি যা অস্বীকার করে তা অস্বীকার করো। অন্যজন বলে: তোমার কাশফ (আধ্যাত্মিক উন্মোচন) যা সাব্যস্ত করে তা সাব্যস্ত করো, আর যা করে না তা করো না।
আর তাদের নিকট ইলাহী লক্ষ্যসমূহ এবং রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্ব বিষয়ক জ্ঞানের ক্ষেত্রে রাসূলের অস্তিত্ব তাঁর অনস্তিত্বের মতোই। বরং তাদের বক্তব্য ও মূলনীতি অনুযায়ী তাঁর অস্তিত্ব অনস্তিত্বের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর; কারণ তারা এই বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো জ্ঞান লাভ করেনি এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা প্রতিহত করার প্রয়োজন বোধ করেছে—হয় মিথ্যারোপের মাধ্যমে, নতুবা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে, অথবা বিমুখতা ও সোপর্দ করার (তাফউইজ) মাধ্যমে।
যদি বলা হয়, এটা জানা সম্ভব নয় যে তিনি বুদ্ধির পরিপন্থী কোনো সংবাদ দিয়েছেন; কারণ তিনি তা থেকে মুক্ত এবং এটি তাঁর ক্ষেত্রে অসম্ভব।
উত্তরে বলা হবে, এটি তো বুদ্ধির সাথে শ্রুত দলিলের (নকলি দলিলের) বিরোধ হওয়ার অসম্ভাব্যতা এবং এই প্রশ্নের অবাস্তবতারই স্বীকৃতি; আর এটি জানার নামান্তর যে তাঁর সকল সংবাদের মধ্যে বুদ্ধির সাথে সাংঘর্ষিক কিছুই নেই।
ফলে বর্ণনা (নকল) বিরোধমুক্ত হয়ে নিরাপদ হলো
… এবং আমরা সকলেই এই মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পেলাম।
যদি বলা হয়, বরং বিরোধটি সাব্যস্ত হয় বুদ্ধি এবং শব্দের বাহ্যিক অর্থ থেকে যা বোঝা যায় তার মধ্যে; আর এটি বুদ্ধি এবং স্বয়ং রাসূল যা সংবাদ দিয়েছেন তার মধ্যে সাব্যস্ত হয় না। সুতরাং বিরোধটি সাব্যস্ত হয় বুদ্ধি এবং যা দলিল হিসেবে প্রতীয়মান হয় তার মধ্যে।
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨٠٥)
وليس بدليل وأن يكون دليلا ظنيا لتطرق الظن إلى بعض مقدماته إسنادا أو متنا.
قيل وهذا يرفع صورة المسألة ويحيلها بالكلية وتصير صورتها هكذا إذا تعارض الدليل العقلي وما ليس بدليل صحيح وجب تقديم العقلي.
وهذا كلام لا فائدة فيه ولا حاصل له وكل عاقل يعلم أن الدليل لا يترك لما ليس بدليل ثم يقال إذا فسرتم الدليل السمعي بما ليس بدليل في نفس الأمر بل اعتقاد دلالته جهل أو بما يظن أنه دليل وليس بدليل فإن كان السمعي في نفس الأمر كذلك لكونه خبرا مكذوبا أو صحيحا وليس فيه ما يدل على معارضة القول بوجه وأثبتم التعارض والتقديم بين هذين النوعين فساعدناكم عليه وكنا بذلك منكم فإنا أشد نفيا للأحاديث المكذوبة على رسول الله صلى الله عليه وسلم وأشد إبطالا لما تحمله من المعاني الباطلة وأولى بذلك منكم.
وإن كان الدليل السمعي صحيحا في نفسه ظاهر الدلالة بنفسه على المراد لم يكن ما عارضه من العقليات إلا خيالات فاسدة ومقدمات كاذبة إذا تأملها العاقل حق التأمل ومشى إلى آخرها وجدها مخالفة لصريح المعقول وهذا ثابت في كل دليل عقلي خالف دليلا سمعيا صحيح
এবং এটি কোনো দলিল নয় এবং [যদি এটি দলিলও হয় তবে] তা হবে একটি সংশয়পূর্ণ দলিল, কারণ এর সনদ বা মতন সংশ্লিষ্ট কোনো কোনো প্রাঙ্গণে সংশয় বা অনুমানের অনুপ্রবেশ ঘটেছে।
বলা হয়েছে যে, এটি বিষয়টির স্বরূপকেই পাল্টে দেয় এবং একে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে ফেলে। তখন বিষয়টির রূপ দাঁড়ায় এমন: যখন কোনো যৌক্তিক দলিল এবং এমন কিছুর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় যা সঠিক দলিল নয়, তখন যৌক্তিক দলিলকেই অগ্রাধিকার দেওয়া আবশ্যক।
এটি এমন এক কথা যার কোনো ফায়দা নেই এবং কোনো নির্যাসও নেই। প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিই জানেন যে, দলিল নয় এমন কিছুর জন্য প্রকৃত দলিলকে পরিত্যাগ করা যায় না। অতঃপর বলা হয় যে, যদি আপনারা শ্রবণলব্ধ দলিলকে এমন কিছুর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন যা প্রকৃতপক্ষে কোনো দলিলই নয়, বরং তার মাধ্যমে দলিল পেশ করাকে অজ্ঞতা মনে করা হয়, অথবা যাকে দলিল মনে করা হয় কিন্তু আসলে তা দলিল নয়—তবে শ্রবণলব্ধ বিষয়টি যদি প্রকৃতপক্ষে তেমনই হয় (যেমন সেটি কোনো মিথ্যা সংবাদ হওয়ার কারণে অথবা সেটি সহিহ হওয়া সত্ত্বেও তার মধ্যে বক্তব্যের বিরোধিতাকারী কোনো প্রমাণ না থাকার কারণে) এবং আপনারা এই দুই প্রকারের মধ্যে বৈপরীত্য ও অগ্রাধিকারের বিষয়টি সাব্যস্ত করেন, তবে আমরাও এ ব্যাপারে আপনাদের সাথে একমত। বরং আমরা এক্ষেত্রে আপনাদের চেয়েও অগ্রগামী। কেননা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে বর্ণিত মিথ্যা হাদিসসমূহকে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কঠোর এবং সেই হাদিসগুলো যে বাতিল অর্থ বহন করে তা খণ্ডন করার ব্যাপারে আপনাদের চেয়েও অধিক যোগ্য।
আর যদি শ্রবণলব্ধ দলিলটি নিজ সত্তায় সহিহ হয় এবং উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর স্পষ্টভাবে দলীল প্রদান করে, তবে তার বিপরীতে আনীত যৌক্তিক বিষয়গুলো ভ্রান্ত কল্পনা এবং মিথ্যা প্রাঙ্গণ ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি তা যথাযথভাবে অনুধাবন করবেন এবং এর শেষ পর্যন্ত পৌঁছাবেন, তখন তিনি একে সুস্পষ্ট যুক্তির পরিপন্থী হিসেবেই পাবেন। আর এটি এমন প্রতিটি যৌক্তিক দলিলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যা কোনো সহিহ শ্রবণলব্ধ দলিলের বিপরীত হয়।
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨٠٦)
الدلالة وحينئذ فإذا عارض هذا المسمى دليلا عقليا السمع وجب إطراحه لفساده وبطلانه.
ولبيان العلم ببطلانه طريقان كلي وجزئي.
أما الكلي فنقطع بأن كل دليل عقلي خالف السمعي الصريح الصحيح فهو باطل في نفسه مخالف للعقل قبل أن ينظر في مقدماته.
أما الجزئي فإنك إذا تأملت جميع ما يدعوك به معارض السمع وجدته ينتهي إلى مقدمات باطلة بصريح العقل لكن تلقاها معود عن معود فظنوها عقليات وهي في التحقيق جهل مركب وحينئذ فالواجب تقديم الدليل السمعي للعلم بصحته وما عارضه فإما معلوم البطلان وإما غير معلوم الصحة وذلك أحسن أحواله.
الوجه الثامن: إنه إذا اعتقد في الدليل السمعي أنه ليس بدليل في نفس الأمر بل اعتقاد دلالته على مخالف ما زعمتوه من العقل جهل أمكن اتباع الرسل المصدقين بما جاءوا به أن يعتقدوا في أدلتكم العقلية أنها ليست بأدلة في نفس الأمر وأن اعتقاد دلالتها جهل ويرمون أدلتكم بما رميتم به
প্রমাণ। আর সেই অবস্থায়, যদি তথাকথিত এই বুদ্ধিভিত্তিক দলিলটি শ্রুত দলিলের পরিপন্থী হয়, তবে এর অসারতা ও বাতুলতার কারণে একে বর্জন করা ওয়াজিব।
এর অসারতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভের দুটি পথ রয়েছে: সামগ্রিক এবং আংশিক।
সামগ্রিক পথটি হলো, আমরা সুনিশ্চিতভাবে জানি যে, প্রতিটি বুদ্ধিভিত্তিক দলিল যা স্পষ্ট ও বিশুদ্ধ শ্রুত দলিলের বিরোধী, তা তার ভূমিকা বা প্রাঙ্গণসমূহ পর্যালোচনার পূর্বেই স্বয়ং অসার এবং বিচারবুদ্ধি বিরোধী।
আর আংশিক পথটি হলো, শ্রুত দলিলের বিরোধিতাকারী আপনার কাছে যা কিছু উপস্থাপন করে, তা যদি আপনি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে দেখবেন যে তা সুস্পষ্ট বিবেকের বিচারে অসার কিছু প্রাঙ্গণে গিয়ে পর্যবসিত হয়। কিন্তু তা এক পরম্পরায় অন্যজন থেকে গৃহীত হয়েছে, ফলে তারা এগুলোকে বুদ্ধিভিত্তিক বিষয় বলে মনে করেছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে এগুলো হলো ‘জাহলে মুরাক্কাব’ (জটিল মূর্খতা)। এমতাবস্থায়, শ্রুত দলিলের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত হওয়ার কারণে তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ওয়াজিব। আর যা এর বিরোধিতা করে, তা হয় নিশ্চিতভাবে বাতিল, অথবা তার বিশুদ্ধতা অপ্রমাণিত—আর এটিই তার সর্বোত্তম অবস্থা।
অষ্টম দিক: যদি শ্রুত দলিলের ব্যাপারে এই ধারণা পোষণ করা হয় যে, এটি প্রকৃত প্রস্তাবে কোনো দলিল নয়, বরং আপনাদের দাবিকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের বিপরীতে এর নির্দেশনার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করাটাই মূর্খতা; তবে রাসুলগণের আনীত বিষয়ের প্রতি বিশ্বাসী অনুসারীগণের পক্ষেও এটি সম্ভব যে, তারা আপনাদের বুদ্ধিভিত্তিক দলিলগুলোর ব্যাপারে এই বিশ্বাস পোষণ করবে যে সেগুলো আসলে কোনো দলিলই নয় এবং সেগুলোর নির্দেশনার ওপর বিশ্বাস রাখা হলো মূর্খতা। আর আপনারা যেভাবে তাদের দলিলকে অভিযুক্ত করেছেন, তারাও আপনাদের দলিলগুলোকে একইভাবে অভিযুক্ত করবে।
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨٠٧)
الأدلة السمعية ثم الترجيح من جانبهم من وجوه متعددة وكانوا في هذا الرمي أحسن حالا منكم وأعذر.
فإن معهم من البراهين الدالة على صحة ما أخبر به السمع إجمالا وتفصيلا من المعقول أصح مما معكم ولا تذكرون معقولا يعارض ما ورد به الوحي إلا ومعهم معقول أصح منه يصدقه ويؤيده
الوجه التاسع: أن يقال لو قدر تعارض الشرع والعقل لوجب تقديم الشرع لأن العقل قد صدق الشرع ومن ضرورة تصديقه له قبول خبره والشرع لم يصدق العقل في كل ما أخبر به ولا العلم بصدق الشرع موقوف على كل ما يخبر به العقل ومعلوم أن هذا المسلك إذا سلك أصح من مسلكهم كما قال بعض أهل الإيمان يكفيك من العقل أن يعرفك صدق الرسول ومعاني كلامه ثم يخلي بينك وبينه.
وقال آخر العقل سلطان ولى الرسول ثم عزل نفسه ولأن العقل دل على أن الرسول يجب تصديقه فيما أخبر وطاعته فيما أمر ولأن العقل يدل على صدق الرسول دلالة عامة مطلقة ولا يدل على صدق قضايا نفسه دلالة عامة ولأن العقل يغلط كما يغلط الحس وأكثر من غلطه بكثير فإذا كان حكم الحس من أقوى الأحكام ويعرض فيه من الغلط ما يعرض فما الظن بالعقل؟
শ্রুতিনির্ভর প্রমাণসমূহ, অতঃপর তাদের পক্ষ থেকে বহুবিদ পন্থায় প্রাধান্য দান; আর এই অভিযোগ উত্থাপনে তারা আপনাদের চেয়ে উন্নত অবস্থায় ছিল এবং অধিকতর যুক্তিসঙ্গত ছিল।
কেননা ওহি সংক্ষেপে ও বিস্তারিতভাবে যা কিছু সংবাদ দিয়েছে, তার সত্যতার ওপর তাদের নিকট বিদ্যমান বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণসমূহ আপনাদের কাছে থাকা প্রমাণের চেয়ে অধিকতর নির্ভুল। আর আপনারা ওহির বক্তব্যের বিপরীতে এমন কোনো যুক্তি উত্থাপন করেন না, যার বিপরীতে তাদের কাছে অধিকতর সঠিক কোনো যুক্তি নেই যা ওহিকে সত্যায়ন ও সমর্থন করে।
নবম দিক: এটি বলা যে, যদি শরিয়ত ও বিবেকের মাঝে বিরোধ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়, তবে শরিয়তকে প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক। কারণ বিবেক শরিয়তকে সত্যায়ন করেছে, আর শরিয়তকে সত্যায়ন করার অপরিহার্য দাবি হলো তার প্রদত্ত সংবাদ গ্রহণ করা। কিন্তু শরিয়ত বিবেক যা কিছু সংবাদ দেয় তার সবকিছুর সত্যায়ন করেনি, আর শরিয়তের সত্যতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা বিবেকের প্রতিটি সংবাদের ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি সর্বজনবিদিত যে, এই পথটি যদি অনুসরণ করা হয় তবে তা তাদের অনুসৃত পথের চেয়ে অধিকতর সঠিক। যেমনটি কোনো কোনো ঈমানদার ব্যক্তি বলেছেন: বিবেকের সার্থকতা এতটুকুই যে, সে আপনাকে রাসুলের সত্যতা ও তাঁর বাণীর অর্থাবলি চিনিয়ে দেবে, অতঃপর সে আপনাকে রাসুলের নিকট সমর্পণ করে নিজে সরে দাঁড়াবে।
অন্য একজন বলেছেন: বিবেক হলো এমন একজন শাসক যে রাসুলকে নিয়োগ দিয়েছে, অতঃপর নিজেকে বরখাস্ত করেছে। কেননা বিবেক এ কথার প্রমাণ দিয়েছে যে, রাসুল যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে তাঁকে সত্যায়ন করা এবং তিনি যা আদেশ দিয়েছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব। কারণ বিবেক রাসুলের সত্যতার ওপর এক সাধারণ ও নিরঙ্কুশ প্রমাণ পেশ করে, কিন্তু নিজের প্রতিটি সিদ্ধান্তের সত্যতার ওপর তেমন সাধারণ প্রমাণ দেয় না। তদুপরি বিবেক ভুল করে যেমন ইন্দ্রিয়সমূহ ভুল করে, বরং ইন্দ্রিয়ের চেয়ে বিবেক অনেক বেশি ভুল করে থাকে। সুতরাং ইন্দ্রিয়ের সিদ্ধান্ত যদি সবচেয়ে শক্তিশালী সিদ্ধান্ত হওয়া সত্ত্বেও তাতে ভুল পরিলক্ষিত হয়, তবে বিবেকের ব্যাপারে কী ধারণা করা যায়?
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨٠٨)
الوجه العاشر: إن العقل مع الوحي كالعامي المقلد مع المفتي العالم بل ودون ذلك بمراتب كثيرة لا تحصى فإن المقلد يمكنه أن يصير عالما ولا يمكن للعالم أن يصير نبيا رسولا فإذا عرف المقلد عالما فدل عليه مقلدا آخر ثم اختلف المفتي والدال فإن المستفتي يجب عليه قبول قول المفتي دون المقلد الذي دله وعرفه بالمفتي.
فلوا قال له الدال الصواب معي دون المفتي لأني أنا الأصل في علمك بأنه مفت فإذا قدمت قوله على قولي قدحت في الأصل الذي به عرفت أنه مفت فلزم القدح في فرعه فيقول له المستفتي أنت لما شهدت بأنه مفت ودللت على ذلك شهدت بوجوب تقليده دون تقليدك كما شهد به دليلك وموافقتي لك في هذا العلم المعين لا تستلزم موافقتك في كل مسألة وخطؤك فيما خالفت فيه المفتي الذي هو أعلم منك لا يستلزم خطأك في علمك بأنه مفت وأنت إذا علمت أنه مفت باجتهاد واستدلال ثم خالفته باجتهاد واستدلال كنت مخطئا الاجتهاد
দশম দিক: ওহির সাথে আকলের (বিবেকের) অবস্থান হলো একজন অভিজ্ঞ মুফতির সাথে একজন সাধারণ মুকাল্লিদ বা অনুসারীর অবস্থানের ন্যায়। বরং তাদের মধ্যকার পার্থক্য তার চেয়েও বহুগুণ বেশি যা গণনা করা সম্ভব নয়। কেননা একজন মুকাল্লিদ আলিম হতে পারে, কিন্তু একজন আলিমের পক্ষে নবী বা রাসুল হওয়া সম্ভব নয়। যখন একজন মুকাল্লিদ কোনো আলিমকে চিনে অন্য কোনো মুকাল্লিদকে তার সন্ধান দেয়, অতঃপর যদি মুফতি এবং পথপ্রদর্শনকারীর মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়, তবে ফতোয়া প্রার্থীর জন্য মুফতির কথা গ্রহণ করা আবশ্যক; সেই মুকাল্লিদের কথা নয় যে তাকে পথ দেখিয়েছিল এবং মুফতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল।
যদি সেই পথপ্রদর্শক তাকে বলে, "সঠিক কথা মুফতির কাছে নয় বরং আমার কাছে আছে, কারণ তোমার কাছে তিনি যে একজন মুফতি—সেই জ্ঞানের মূল ভিত্তি হলাম আমি। সুতরাং তুমি যদি আমার কথার ওপর তার কথাকে প্রাধান্য দাও, তবে তুমি সেই মূল ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করলে যার মাধ্যমে তুমি তাকে মুফতি হিসেবে চিনেছিলে। আর মূল ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হলে তার শাখা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়াও অনিবার্য।" উত্তরে ফতোয়া প্রার্থী তাকে বলবে, "তুমি যখন সাক্ষ্য দিয়েছ যে তিনি একজন মুফতি এবং সেদিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছ, তখন তুমি আসলে নিজের অনুকরণের পরিবর্তে তার অনুকরণের আবশ্যকতাকেই সাক্ষ্য দিয়েছ, যেমনটি তোমার দলিল সাক্ষ্য দেয়। আর এই নির্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে তোমার সাথে আমার একমত হওয়া মানে এই নয় যে, প্রতিটি বিষয়েই তোমার সাথে একমত হতে হবে। তোমার চেয়ে যিনি অধিক জ্ঞানী সেই মুফতির সাথে তোমার বিরোধপূর্ণ ক্ষেত্রে তোমার ভুল হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তিনি একজন মুফতি—এ সংক্রান্ত তোমার প্রাথমিক জ্ঞানটিও ভুল ছিল। আর তুমি যখন ইজতিহাদ ও দলিলের মাধ্যমে তাকে মুফতি হিসেবে জেনেছিলে, অতঃপর পুনরায় ইজতিহাদ ও দলিলের মাধ্যমে তার বিরোধিতা করলে, তখন তোমার সেই ইজতিহাদই ছিল ভুল।"
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨٠٩)
والاستدلال الذي خالفت به من يجب عليك تقليده واتباع قوله وإن أصبت في الاجتهاد والاستدلال الذي به علمت أنه مفت مجتهد يجب عليك تقليده هذا مع علمه بأن المفتي يجوز عليه الخطأ والعقل يعلم أن الرسول معصوم في خبره عن الله ولا يجوز عليه الخطأ.
الوجه الحادي عشر: إن الدليل الدال على صحة الشيء أو ثبوته أو عدالته أو قبول قوله لا يجب أن يكون أصلا له بحيث إذا قدم قول المشهود له والمدلول عليه على قوله يلزم إبطاله وهذا لا يقوله من يدري ما يقول غاية ما يقال إن العلم بالدليل أصل للعلم بالمدلول فإذا حصل العلم بالمدلول لم يلزم من ذلك تقديم الدليل عليه في كل شيء فإذا شهد الناس لرجل بأنه خبير بالطب أو التقويم أو العيافة دونهم ثم تنازع الشهود والمشهود له في ذلك وجب تقديم قول المشهود له فلو قال نحن شهدنا لكم وزكيناكم وبشهادتنا ثبتت أهليتكم فتقديم قولكم علينا والرجوع إليكم دوننا يقدح في الأصل الذي ثبت به قولكم.
قالوا لهم أنتم شهدتم بما علمتم أنا أهل لذلك دونكم وأن أقوالنا فيه مقبولة دون أقوالكم فلو قدمنا
এবং সেই ইস্তিদলাল যার মাধ্যমে আপনি এমন ব্যক্তির বিরোধিতা করেছেন যার তাকলীদ করা এবং যার কথা অনুসরণ করা আপনার জন্য আবশ্যক, যদিও আপনি সেই ইজতিহাদ ও ইস্তিদলালে সঠিক হয়ে থাকেন যার মাধ্যমে আপনি অবগত হয়েছেন যে তিনি একজন মুজতাহিদ মুফতি এবং তাঁর তাকলীদ করা আপনার জন্য আবশ্যক—এটি এই জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও যে, মুফতির ক্ষেত্রে ভুল হওয়া সম্ভব, অথচ বিবেক অবগত যে রাসূল আল্লাহর পক্ষ থেকে সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে মাসুম এবং তাঁর ক্ষেত্রে ভুল সংঘটিত হওয়া অসম্ভব।
একাদশ দিক: কোন বিষয়ের সঠিকতা, সাব্যস্ত হওয়া, ন্যায়পরায়ণতা অথবা কারো কথা গ্রহণযোগ্য হওয়ার ওপর নির্দেশকারী দলিলটি সেই বিষয়ের জন্য এমনভাবে মূল হওয়া আবশ্যক নয় যে, যদি প্রত্যায়িত ব্যক্তি এবং যার দিকে দলিলটি নির্দেশ করছে তার কথাকে দলিলের কথার ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়, তবে তা দলিলটিকে বাতিল করে দেবে। যারা কী বলছে সে সম্পর্কে অবগত, তারা এমন কথা বলে না। বড়জোর যা বলা যেতে পারে তা হলো, দলিল সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা হলো মাদলুল (নির্দেশিত বিষয়) সম্পর্কে জ্ঞান লাভের মূল বা মাধ্যম। সুতরাং যখন মাদলুল সম্পর্কে জ্ঞান অর্জিত হয়ে যায়, তখন সব ক্ষেত্রে তার ওপর দলিলকে প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক হয় না। উদাহরণস্বরূপ, যদি মানুষ কোন এক ব্যক্তির পক্ষে এই সাক্ষ্য দেয় যে, সে তাদের তুলনায় চিকিৎসা বিজ্ঞান, পঞ্জিকা গণনা অথবা পদচিহ্ন বিশারদ হিসেবে অধিক দক্ষ, অতঃপর যদি সেই সাক্ষীগণ এবং যার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে সে বিষয়ে কোনো মতভেদ তৈরি হয়, তবে যার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে তার কথাকেই প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক। এমতাবস্থায় সাক্ষীরা যদি বলে: "আমরাই তোমাদের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছি এবং তোমাদের সততার স্বীকৃতি দিয়েছি আর আমাদের সাক্ষ্যের মাধ্যমেই তোমাদের যোগ্যতা সাব্যস্ত হয়েছে; অতএব আমাদের ওপর তোমাদের কথাকে প্রাধান্য দেওয়া এবং আমাদের বাদ দিয়ে তোমাদের দিকে ফিরে আসা সেই মূল বা ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে যার মাধ্যমে তোমাদের কথা সাব্যস্ত হয়েছিল।"
তারা তাদের বলবে: "তোমরা তো তা-ই সাক্ষ্য দিয়েছিলে যা তোমরা জানতে যে, আমরাই তোমাদের তুলনায় সে বিষয়ে অধিক যোগ্য এবং সে বিষয়ে আমাদের কথাই গ্রহণযোগ্য, তোমাদের কথা নয়। সুতরাং আমরা যদি প্রাধান্য দিতাম..."
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨١٠)
قولكم على أقوالنا فيما اختلفنا فيه لكان ذلك قدحا في شهادتكم وعلمكم بأنا أعلم منكم وحينئذ فهذا
وجه ثاني عشر: مستقل بكسر هذا الطاغوت وهو أن تقديم العقل على الشرع يتضمن القدح في العقل والشرع لأن العقل قد شهد للوحي بأنه أعلم منه وأنه لا نسبة له إليه وأن نسبة علومه ومعارفه إلى الوحي أقل من خردلة بالإضافة إلى جبل أو تلك التي تعلق بالأصبع بالنسبة إلى البحر فلو قدم حكم العقل عليه لكان ذلك قدحا في شهادته وإذا بطلت شهادته بطل قبول قوله فتقديم العقل على الوحي يتضمن القدح فيه وفي الشرع وهذا ظاهر لا خفاء به يوضحه
الوجه الثالث عشر: وهو أن الشرع مأخوذ عن الله بواسطة الرسولين الملكي والبشري بينه وبين عباده مؤيدا بشهادة الآيات وظهور البراهين على ما يوجبه العقل ويقتضيه تارة ويستحسنه تارة ويجوزه تارة ويكع عن دركه تارة ولا سبيل له إلى
আমাদের বক্তব্যের ওপর আপনাদের বক্তব্যকে প্রাধান্য দেওয়া, যে বিষয়ে আমরা মতভেদ করেছি, তা আপনাদের সেই সাক্ষ্য এবং জ্ঞানের পরিপন্থী হবে যে আমরা আপনাদের চেয়ে অধিক জ্ঞানী। আর সেক্ষেত্রে এটি হবে—
দ্বাদশ দিক: এই তাগুতকে চূর্ণ করার ক্ষেত্রে এটি একটি স্বতন্ত্র প্রমাণ। আর তা হলো, শরয়ি দলিলের ওপর আকল বা বিবেকের প্রাধান্য দেওয়া বিবেক এবং শরয়ি দলিল উভয়ের মধ্যেই ত্রুটি সাব্যস্ত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ বিবেক নিজেই ওহির সপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে যে, ওহি তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী এবং ওহির সাথে তার কোনো তুলনাই চলে না। ওহির তুলনায় বিবেকের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অনুপাত হলো বিশাল পাহাড়ের তুলনায় একটি সরিষার দানার চেয়েও নগণ্য, অথবা সমুদ্রের তুলনায় আঙুলে লেগে থাকা পানির বিন্দুর মতো। সুতরাং ওহির ওপর যদি বিবেকের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তবে তা খোদ বিবেকের সাক্ষ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। আর যখন বিবেকের সাক্ষ্যই বাতিল হয়ে গেল, তখন তার বক্তব্য গ্রহণ করাও বাতিল হয়ে গেল। অতএব ওহির ওপর বিবেকের প্রাধান্য দেওয়া মানে হলো বিবেক এবং শরয়ি দলিল উভয়েরই নিন্দা করা। বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। একে আরও স্পষ্ট করে—
ত্রয়োদশ দিক: আর তা হলো, শরয়ি বিধান সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে ফিরিশতা এবং মানবীয় রাসুলের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের নিকট গৃহীত হয়েছে, যা বিভিন্ন নিদর্শনের সাক্ষ্য এবং অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে সুসংহত। বিবেক যা কখনো আবশ্যক ও দাবি করে, কখনো উত্তম মনে করে, কখনো সম্ভব মনে করে, আবার কখনো যা উপলব্ধি করতে বিবেক থমকে দাঁড়ায়; শরয়ি দলিল সেসব বিষয়কেও নিয়ে আসে যার নাগাল পাওয়ার কোনো পথ বিবেকের নেই।
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨١١)
الإحاطة به ولا بد له من التسليم والانقياد لحكمه والإذعان والقبول وهناك يسقط لم ويبطل كيف ويزول هلا ويذهب لو وليت في الريح لأن هذه المواد عن الوحي محبوسة واعتراض المعترض عليه مردود واقتراح المقترح ما يظن أنه أولى منه سفه وجهل فالشريعة مشتملة على أعلى أنواع الحكمة علما وعملا التي لو جمعت حكم جميع الأمم ونسبت إليها لم يكنى لها إليها نسبة وهي متضمنة لأعلى المطالب بأقرب الطرق وأتم البيان فهي متكفلة بتعريف الخليقة ربها وفاطرها المحسن إليها بأنواع الإحسان بأسمائه وصفاته وأفعاله وتعريف الطريق الموصل إلى رضاه وكرامته والداعي لديه وتعريف حال السالكين بعد الوصول إليه ويقابل هذه الثلاثة تعريفهم حال الداعي إلى الباطل والطرق الموصلة إليه وحال السالكين تلك الطرق وإلى أين تنتهي بهم ولهذا تقبلها العقول الكاملة أحسن تقبل وقابلتها بالتسليم والإذعان واستدارت حولها بحماية حوزتها والذب عن سلطانها.
فبين ناصر باللغة السائغة وحام بالعقل الصريح
তাকে পরিবেষ্টন করা অসম্ভব এবং তাঁর বিধানের সামনে আত্মসমর্পণ, আনুগত্য, বশ্যতা ও গ্রহণ করা অপরিহার্য। সেখানে 'কেন' বিলুপ্ত হয়, 'কীভাবে' বাতিল হয়, 'কেন নয়' দূরীভূত হয় এবং 'যদি' ও 'আক্ষেপ' বাতাসে বিলীন হয়ে যায়। কারণ এই বিষয়গুলো ওহি থেকে রুদ্ধ। তাঁর ওপর কোনো আপত্তিকারীর আপত্তি প্রত্যাখ্যাত এবং কোনো প্রস্তাবকারীর প্রস্তাব—যা সে তাঁর বিধানের চেয়ে উত্তম মনে করে—তা স্রেফ নির্বুদ্ধিতা ও অজ্ঞতা। সুতরাং শরিয়ত জ্ঞান ও কর্মের এমন সর্বোচ্চ স্তরের হিকমত সম্বলিত যে, যদি সমস্ত জাতির প্রজ্ঞা একত্রিত করা হয় এবং এর সাথে তুলনা করা হয়, তবে তার সাথে এর কোনো তুলনাই হতে পারে না। এটি নিকটতম উপায়ে এবং পূর্ণাঙ্গ বর্ণনায় সর্বোচ্চ লক্ষ্যসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে। এটি সৃষ্টিজগতকে তাদের প্রতিপালক ও স্রষ্টা—যিনি তাদের প্রতি নানাভাবে অনুগ্রহ করেছেন—তাঁর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলী এবং তাঁর কার্যাবলীর মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে; সেইসাথে তাঁর সন্তুষ্টি ও সম্মানের দিকে পৌঁছে দেওয়ার পথ এবং তাঁর দিকে আহ্বানকারীর পরিচয় এবং তাঁর কাছে পৌঁছানোর পর পথচারীদের অবস্থার পরিচয় দিতে দায়বদ্ধ। আর এই তিনটির বিপরীতে রয়েছে বাতিলের দিকে আহ্বানকারীর অবস্থা, সেদিকে পৌঁছে দেওয়ার পথসমূহ এবং সেই পথে বিচরণকারীদের অবস্থা এবং তাদের গন্তব্য কোথায় হবে তার পরিচয় প্রদান। এ কারণেই পূর্ণাঙ্গ বুদ্ধিবৃত্তি একে সর্বোত্তমভাবে গ্রহণ করেছে এবং পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও বশ্যতার সাথে তা স্বীকার করেছে এবং এর হেফাজত ও এর কর্তৃত্ব রক্ষার জন্য একে বেষ্টন করে রেখেছে।
কেউ সাবলীল ভাষায় এর সাহায্যকারী আর কেউ সুস্পষ্ট বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমে এর রক্ষাকারী।
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨١٢)
وذاب عنه بالبراهين ومجاهد بالسيف والرمح والسنان ومتفقه في الحلال والحرام ومعني بتفسير القرآن وحافظ لمتون السنة وأسانيدها ومفتش عن أحوال رواتها وناقد لصحتها من سقيمها ومعلولها من سليمها فهي الشريعة ابتداؤها من الله وانتهاؤها إليه فمنه بدأت وإليه تعود ليس فيها حديث المنجم في تأثيرات الكواكب وحركات الأفلاك وهيآتها ومقادير الأجرام ولا حديث التربيع والتثليث والتسديس والمقارنة ولا حديث صاحب الطبيعة الناظر في آثارها واشتباك الاستقصات وامتزاجها وقواها وما يتعلق بالحرارة والبرودة والرطوبة واليبوسة
এবং তিনি দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে তা প্রতিরক্ষা করেছেন এবং তলোয়ার, নেজা ও বর্শা দ্বারা জিহাদকারী; তিনি হালাল ও হারাম বিষয়ে প্রাজ্ঞ ফকীহ, কুরআনের তাফসীরে নিবিষ্ট, সুন্নাহর মূলপাঠ ও সনদসমূহের হাফেয, বর্ণনাকারীদের অবস্থা অনুসন্ধানকারী এবং রুগ্ন থেকে সুস্থ ও ত্রুটিপূর্ণ থেকে সহীহ বর্ণনার পার্থক্যকারী সমালোচক। আর এটিই হলো শরীয়াহ, যার সূচনা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং সমাপ্তি তাঁরই সমীপে; তাঁর থেকেই এর শুরু এবং তাঁর দিকেই এর প্রত্যাবর্তন। এতে গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব, আসমানী কক্ষপথসমূহের গতিবিধি, তাদের প্রকৃতি এবং জ্যোতিষ্কদের পরিমাণ সম্পর্কে জ্যোতিষীদের কোনো বক্তব্য নেই। আর নেই চতুর্ভুজায়ন, ত্রিকৌণিকতা, ষষ্ঠাংশায়ন ও গ্রহ-সংযোগ সংক্রান্ত কোনো আলোচনা। আর নেই সেই প্রকৃতিবাদীর কথা যে প্রকৃতির প্রভাব, মৌলিক উপাদানসমূহের পরস্পর সম্পৃক্তি, তাদের মিশ্রণ ও শক্তিসমূহ এবং তাপ, শৈত্য, আর্দ্রতা ও শুষ্কতা সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি পর্যবেক্ষণ করে।
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨١٣)
وما الفاعل منها وما المنفعل وكم درجاتها وإلى أين تسري قواها ولا فيها حديث المهندس الباحث عن مقادير الأشياء ونقطها وخطوطها وسطوحها وأجسامها وأضلاعها وزواياها ومعاطفها وما الكرة وما الدائرة وما الخط المستقيم والمنحني ولا فيها هذيان المنطقيين وتحذلقهم في النوع والجنس والفصل والخاصة والعرض العام
আর এদের মধ্যে কোনটি সক্রিয় এবং কোনটি নিষ্ক্রিয়, এদের স্তরসমূহ কতটি এবং এদের শক্তিসমূহ কতদূর পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত—সেসবের কোনো উল্লেখ সেখানে নেই। আর সেখানে নেই সেই জ্যামিতিবিদের আলোচনা, যে বস্তুর পরিমাপ এবং সেগুলোর বিন্দু, রেখা, তল, ঘনবস্তু, বাহু, কোণ ও বক্রতা নিয়ে গবেষণা করে। আর এতে নেই গোলক, বৃত্ত, সরলরেখা ও বক্ররেখা সংক্রান্ত কোনো বিবরণ। এমনকি সেখানে নেই যুক্তিবিদদের প্রলাপ এবং প্রকার, বর্গ, বিভেদক লক্ষণ, বৈশিষ্ট্য ও সাধারণ লক্ষণ নিয়ে তাদের অনর্থক পাণ্ডিত্য প্রদর্শন।
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨١٤)
والمقولات العشر
এবং দশটি বর্গ
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨١٥)
والمختلطات والموجهات الصادرة عن رجل مشرك من يونان كان يعبد الأوثان ولا يعرف الرحمن ولا يصدق بمعاد الأبدان ولا أن الله يرسل رسولا بكلامه إلى نوع الإنسان فجعل هؤلاء المعارضين بين العقل والنقل عقل هذا الرجل عيارا على كتب الله المنزلة وما أرسل به رسله فما زكاه منطقه وآلته وقانونه الذي وضعه بعقله قبلوه وما لم يزكه تركوه ولو كانت هذه الأدلة التي أفسدت عقول هؤلاء وأتباعهم صحيحة لكان صاحب
গ্রিসের এক মুশরিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে আসা এই মিশ্রিত বিষয় এবং যৌক্তিক অভিমুখীকরণসমূহ, যে মূর্তিপূজা করত, রহমানকে চিনত না, মৃতদেহের পুনরুত্থানে বিশ্বাস করত না এবং আল্লাহ যে মানবজাতির কাছে তাঁর বাণীসহ কোনো রাসূল পাঠান, তাও বিশ্বাস করত না। ফলে বুদ্ধি এবং শ্রুত প্রমাণের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টিকারী এই ব্যক্তিবর্গ আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের আনীত বার্তার বিপরীতে এই ব্যক্তির বুদ্ধিকে মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করেছে। সুতরাং তার যুক্তিবিদ্যা, তার প্রবর্তিত সরঞ্জাম এবং তার বুদ্ধিজাত নিয়মাবলী যা কিছুকে শুদ্ধ বলে সাব্যস্ত করেছে তারা তা গ্রহণ করেছে, আর যা কিছুকে তা শুদ্ধ বলেনি তারা তা বর্জন করেছে। যদি এই প্রমাণগুলো—যা এই সকল মানুষ এবং তাদের অনুসারীদের বুদ্ধিকে কলুষিত করেছে—সঠিক হতো, তবে এর অধিকারী ব্যক্তি...
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨١٦)
الشريعة يقوم شريعته بها ويكملها باستعمالها وكان الله سبحانه يثيبه عليها ويحض على التمسك بها ويتقدم إلى عباده بالتمسك بها وبعلمها وتعليمها ويفرض عليهم القيام بها.
فيا للعقول التي لم يخسف بها أين الدين من الفلسفة? وأين كلام رب العالمين إلى آراء اليونان والمجوس وعباد الأصنام والصابئين وأين المعقولات المؤيدة بنور النبوة إلى المعقولات المتلقاة عن أرسطو وأفلاطون والفارابي وابن سينا وأتباع هؤلاء ممن لا يؤمن بالله ولا صفاته ولا أفعاله ولا ملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر? وأين العلم المأخوذ عن الوحي النازل من عند رب العالمين من الشبه المأخوذة عن آراء المتهوكين والمتحيرين? فإن أدلوا بالعقل فلا عقل أكمل من عقول ورثة الأنبياء وإن أدلوا برؤسائهم وأئمتهم كفرعون ونمرود
শরিয়ত; তিনি এর মাধ্যমে তাঁর শরিয়তকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং এর ব্যবহারের মাধ্যমে তা পূর্ণতা দান করেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাকে এর ওপর সওয়াব দান করতেন, এটি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার প্রতি উৎসাহ দিতেন, তাঁর বান্দাদের এটি আঁকড়ে ধরা এবং তা শেখা ও শেখানোর নির্দেশ দিতেন এবং এটি পালন করাকে তাদের ওপর আবশ্যিক করে দিয়েছিলেন।
হায় সেই সব বিবেক যা এখনো বিলুপ্ত হয়ে যায়নি! দর্শনের তুলনায় দ্বীন কোথায়? আর গ্রিক, অগ্নিপূজক, মূর্তিপূজক ও সাবিয়িগণের মতামতের তুলনায় রাব্বুল আলামীনের বাণীর মর্যাদা কোথায়? আর অ্যারিস্টটল, প্লেটো, আল-ফারাবি, ইবনে সিনা এবং তাদের অনুসারীদের মতো যারা আল্লাহ, তাঁর গুণাবলি, তাঁর কর্মসমূহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ এবং পরকালের ওপর ঈমান রাখে না—তাদের থেকে গৃহীত তথাকথিত যুক্তির তুলনায় নবুওয়তের আলোয় আলোকিত যৌক্তিক বিষয়সমূহ কোথায়? রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহীজাত জ্ঞানের তুলনায় লক্ষ্যভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত ব্যক্তিদের মতামত প্রসূত সংশয়গুলো কোথায়? তারা যদি যুক্তির কথা বলে, তবে নবীদের উত্তরাধিকারীদের বিবেকের চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ আর কোনো বিবেক নেই। আর তারা যদি তাদের নেতা ও ইমাম হিসেবে ফেরাউন ও নমরুদের ন্যায় ব্যক্তিদের উপস্থাপন করে...
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨١٧)
وبطليموس وأرسطاطاليس ومقلدتهم وأتباعهم فلم يزل أعداء الرسل يعارضونهم فهؤلاء وأمثالهم يقدمون عقولهم على ما جاءوا به ويالله العجب كيف يعرض قول الرسول بقول الفيلسوف وعلى الفيلسوف أن يتبع الرسل وليس على الرسل أن تتبع الفيلسوف فالرسول مبعوث والفيلسوف مبعوث إليه والوحي حاكم والعقل محكوم عليه ولو كان العقل يكتفي به لم يكن للوحي فائدة ولا غنى على أن منازل الخلق متفاوتة في العقل أعظم تفاوت وأبصارهم مختلفة وليس العقل بأسره في واحد من الناس أو طائفة معينة حتى يكون تقديم عقولهم على ما جاءت به الرسل بل لكل طائفة معقول مخالف معقول الأخرى فمن أظلم وأشد عداوة للرسل ممن جوز لكل طائفة من طوائف العقلاء أن يقدم عقولها على ما جاءت به الرسل فإن قالوا
টলেমি, অ্যারিস্টটল এবং তাদের অনুকরণকারী ও অনুসারীগণ—রাসূলদের শত্রুরা সর্বদা তাদের বিরোধিতা করে এসেছে। এরা এবং এদের মতো ব্যক্তিরা তাদের বিবেক-বুদ্ধিকে রাসূলদের আনীত বিধানের ওপর প্রাধান্য দেয়। কী আশ্চর্যের বিষয়! রাসূলের বাণীর বিপরীতে দার্শনিকদের বক্তব্যকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়? অথচ দার্শনিকের কর্তব্য হলো রাসূলদের অনুসরণ করা, রাসূলদের ওপর দার্শনিকদের অনুসরণ করা আবশ্যক নয়। কারণ রাসূল প্রেরিত হয়েছেন, আর দার্শনিক হলেন তাঁর নিকট প্রেরিত লক্ষ্যবস্তু। ওহী হলো বিচারক আর বিবেক-বুদ্ধি হলো বিচার্য। যদি বিবেক-বুদ্ধিই যথেষ্ট হতো, তবে ওহীর কোনো প্রয়োজন বা উপকারিতা থাকত না। তাছাড়া সৃষ্টির মাঝে বিবেক-বুদ্ধির স্তরে রয়েছে বিশাল ব্যবধান এবং তাদের অন্তর্দৃষ্টিও ভিন্ন ভিন্ন। সমগ্র বিবেক-বুদ্ধি কোনো একজন মানুষ বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাঝে সীমাবদ্ধ নয় যে, রাসূলদের আনীত বাণীর ওপর তাদের বুদ্ধিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। বরং প্রতিটি দলের বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্ত অন্য দলের সিদ্ধান্তের বিপরীত। সুতরাং সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম এবং রাসূলদের ঘোরতর শত্রু আর কে হতে পারে, যে বিবেকবানদের প্রতিটি দলকে রাসূলদের আনীত বাণীর ওপর তাদের নিজস্ব বুদ্ধিকে প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ করে দেয়? যদি তারা বলে—
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨١٨)
إنما نقدم العقل الصريح الذي لم يختلف فيه اثنان على نصوص الأنبياء فقد رموا الأنبياء بما هم أبعد الخلق منه وهو أنهم جاءوا بما يخالف العقل الصريح الذي لا يختلف فيه اثنان وهذا وقد شهد الله وكفى به شهيدا وشهد بشهادته الملائكة وأولو العلم أن طريقة الرسل هي الطريقة البرهانية المتضمنة للحكمة كما قال تعالى {يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمْ بُرْهَانٌ مِنْ رَبِّكُمْ} [النساء174] وقال {وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ} [113] قالطريقة البرهانية هي الواردة بالوحي الناطقة بالرشد الداعية إلى الخير الواعدة بحسن المآب المبينة لحقائق الأنبياء المعرفة بصفات رب الأرض والسماء وأن التقليدية التخمينية الخرصية هي المأخوذة من المقدمتين والنتيجة والدعوى التي ليس مع أصحابها إلا الرجوع إلى رجل من يونان كان يعبد الأوثان ويجحد الرحمن
যারা নবীদের বাণীর ওপর কেবল সেই সুস্পষ্ট আকলকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি করে যাতে কোনো দুইজন দ্বিমত পোষণ করে না, তারা নবীদের প্রতি এমন বিষয়ের অপবাদ আরোপ করেছে যা থেকে তাঁরা সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে দূরে ছিলেন। আর তা হলো এই অপবাদ যে, তাঁরা এমন বিষয় নিয়ে এসেছেন যা সেই সুস্পষ্ট আকলের বিরোধী যাতে কোনো দুইজন দ্বিমত পোষণ করে না। অথচ আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং সাক্ষী হিসেবে তিনিই যথেষ্ট, এবং তাঁর সাক্ষ্যের সাথে ফেরেশতাগণ ও ইলমওয়ালারাও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, রাসূলগণের পথই হলো হিকমত বা প্রজ্ঞা সম্বলিত অকাট্য প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতি। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মানবজাতি, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে অকাট্য প্রমাণ এসেছে} [নিসা: ১৭৪] এবং তিনি বলেছেন: {এবং আল্লাহ আপনার ওপর কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন} [নিসা: ১১৩]। সুতরাং অকাট্য প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতি হলো তাই যা ওহীর মাধ্যমে প্রাপ্ত, যা সত্য ও সঠিক পথের দিশারি, যা কল্যাণের দিকে আহ্বানকারী, যা উত্তম পরিণতির প্রতিশ্রুতি প্রদানকারী, যা নবীদের হাকীকতসমূহ বর্ণনাকারী এবং যা আসমান ও যমীনের রবের গুণাবলীর পরিচয় প্রদানকারী। আর সেই অনুকরণসর্বস্ব, অনুমাননির্ভর ও কল্পনাপ্রসূত পথটি হলো তা যা এমন কিছু ভূমিকা, ফলাফল ও দাবি থেকে গৃহীত হয়েছে যার প্রবক্তাদের কাছে গ্রীসের সেই এক ব্যক্তির দিকে প্রত্যাবর্তন করা ছাড়া আর কোনো ভিত্তি নেই, যে মূর্তিপূজা করত এবং রহমানকে অস্বীকার করত।
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨١٩)
فوضع بعقله قانونا يصحح به بزعمه علوم الخلائق وعقولهم فلم يستفد به عاقل تصحيح مسألة واحدة في شيء من علوم بني آدم بل ما وزن به علم إلا أفسده وما برع فيه أحد إلا انسلخ من حقائق الإيمان كانسلاخ القميص عن الإنسان فما استفيد بهذا العقل العائل إلا تعطيل الصانع عن صفات كماله ونعوت جلاله وعن أفعاله والكفر بملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر ومن العجب أن هؤلاء الأوقاح جعلوا نصوص الأنبياء من باب الظنون وهي من الوحي وجعلوا كلمات المنطقيين وقواعد الفلاسفة والجهمية من باب اليقين ثم عارضوا بينهما وقدموا هذا على نصوص الأنبياء فالشريعة ظهرت من الله على لسان أكمل الخلق عقلا وأعظمهم معرفة وأتمهم يقينا وعقلياتكم ظهرت من جهة رجال فكروا وقدروا وظنوا وخرصوا وتعبوا وما أغنوا ونصبوا وما أخذوا وحاموا وما وردوا ونسجوا فهلهلوا ومشطوا ففلفلوا.
سافروا في درك المطالب العالية على غير الطريق فما
ফলে তিনি তাঁর বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমে এমন একটি নিয়ম নির্ধারণ করেছেন যার দ্বারা তিনি তাঁর ধারণা অনুযায়ী সৃষ্টিজগতের জ্ঞান ও তাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে সংশোধন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এর মাধ্যমে বনী আদমের জ্ঞানসমূহের কোনো একটি মাসআলাও সংশোধন করে উপকৃত হতে পারেননি। বরং এই মানদণ্ড দিয়ে যে জ্ঞানই পরিমাপ করা হয়েছে, এটি তাকে নষ্টই করে দিয়েছে। আর এতে যে ব্যক্তিই পারদর্শী হয়েছে, সে ঈমানের হাকিকত থেকে এমনভাবে বিচ্যুত হয়েছে যেমনভাবে মানুষের শরীর থেকে জামা খুলে যায়। এই নিঃস্ব বুদ্ধিবৃত্তি থেকে স্রষ্টাকে তাঁর পূর্ণাঙ্গ গুণাবলী, মহিমাময় বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর কার্যাবলী থেকে রদ করা এবং তাঁর ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ ও পরকালের প্রতি কুফরি করা ছাড়া আর কিছুই অর্জিত হয়নি। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, এই নির্লজ্জরা নবীদের স্পষ্ট বাণীসমূহকে ধারণাপ্রসূত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করেছে, অথচ সেগুলো ওহীভুক্ত; আর তারা নৈয়ায়িকদের কথা এবং দার্শনিক ও জাহমিদের মূলনীতিসমূহকে ধ্রুব সত্যের অন্তর্ভুক্ত করেছে। অতঃপর তারা এই দুইয়ের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি করেছে এবং নবীদের বাণীর ওপর এগুলোকে প্রাধান্য দিয়েছে। অথচ শরীয়ত আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক সত্তার জবানিতে প্রকাশিত হয়েছে যিনি বুদ্ধিবৃত্তিতে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ, জ্ঞানে সবচেয়ে মহান এবং ইয়াকিনে সবচেয়ে পরিপূর্ণ। আর তোমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দর্শনগুলো এমন ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এসেছে যারা চিন্তা করেছে ও পরিমাপ করেছে, ধারণা ও অনুমান করেছে, তারা পরিশ্রম করেছে কিন্তু তা কোনো কাজে আসেনি, তারা কষ্ট করেছে কিন্তু কিছুই পায়নি, তারা পানির সন্ধানে ঘুরেছে কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে পারেনি, তারা বুনন করেছে কিন্তু তা ছিল জীর্ণ এবং তারা বিন্যাস করেছে কিন্তু তা ছিল এলোমেলো।
তারা উচ্চতর লক্ষ্যসমূহ অন্বেষণে সঠিক পথ ছাড়া অন্য পথে সফর করেছে, ফলে তারা...
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨٢٠)
ربحوا إلا أذى السفر وبعثوا في البلاد بغير دليل فلم يقفوا للمطلوب على عين ولا أثر.
رضوا بالدعاوى وابتلوا بخيالهم
… وخاضوا بحار الفكر والقوم ما ابتلوا
فهم في السرى لم يبرحوا من مكانهم
… وما ظعنوا في السير عنه وقد كلوا
لهم كل وقت حيرة بعد حيرة
… وجهل على جهل فلا بورك الجهل
الوجه الرابع عشر: إن الأمة اختلفت ضروبا من الاختلاف في الأصول والفروع وتنازعوا فنونا من التنازع في المشكل من الأحكام والحلال والحرام والتفسير والتأويل والأخبار وتفرقت في آرائها ومذاهبها ومقالاتها فصارت أصنافا وفرقا كالخوارج والشيعة والمرجئة والمعتزلة فما فزعت طائفة من طوائف الأمة في اختلافها إلى منطق ولا فيلسوف ولا إلى عقل يخالف صريح النقل ولا قالت طائفة من هذه الطوائف عقولنا مقدمة على ما جاء به الرسول وإن أشقوا مذاهبهم بالتأويل بما جاء به فلم تقدم طائفة منهم على ما أقدمت عليه هذه الفرقة وقالوا العقل أولى بالاتباع مما جاء به
তারা ভ্রমণের কষ্ট ছাড়া আর কিছুই অর্জন করেনি এবং তারা কোনো পথপ্রদর্শক ছাড়াই দেশ-দেশান্তরে ঘুরেছে, ফলে তারা যা খুঁজছিল তার কোনো হদিস বা চিহ্ন পায়নি।
তারা নিছক মৌখিক দাবিতেই সন্তুষ্ট ছিল এবং নিজেদের অলীক কল্পনার শিকলে বন্দি হয়েছে
… তারা চিন্তার সমুদ্রে অবগাহন করেছে অথচ সেই পুণ্যবান কাফেলা তাতে সিক্তও হয়নি।
রাতের ভ্রমণে তারা নিজ স্থান থেকে নড়তেই পারেনি
… তারা ক্লান্ত হয়ে পড়লেও সেখান থেকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে প্রস্থান করতে পারেনি।
প্রতিটি মুহূর্তে তারা বিভ্রান্তির পর বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল
… অজ্ঞতার ওপর জেঁকে বসেছিল আরও অজ্ঞতা, তাই এমন অজ্ঞতা কখনোই কল্যাণকর নয়।
চৌদ্দতম দিক: নিশ্চয় উম্মাহ উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরু (শাখা-প্রশাখা) সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্নভাবে মতবিরোধ করেছে। তারা জটিল আহকাম, হালাল-হারাম, তাফসির, তাবিল এবং সংবাদের বিষয়ে নানা তর্কে লিপ্ত হয়েছে। তাদের মতামত, মাজহাব এবং বক্তব্যগুলো বিভিন্ন ধারায় বিভক্ত হয়ে খারেজি, শিয়া, মুরজিয়া ও মুতাজিলার মতো দল ও উপদলে পরিণত হয়েছে। কিন্তু উম্মাহর এই উপদলগুলোর কেউই তাদের বিরোধপূর্ণ বিষয়ে কোনো যুক্তিবিদ্যা, দার্শনিক অথবা ওহির স্পষ্ট বর্ণনার পরিপন্থী বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির দিকে ধাবিত হয়নি। এই দলগুলোর কোনোটিই এ কথা বলেনি যে, রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর আমাদের বুদ্ধি অগ্রাধিকারযোগ্য। যদিও তারা ওহির বাণীর অপব্যাখ্যার মাধ্যমে নিজেদের মাজহাবগুলোকে বিভ্রান্তিকর করে তুলেছিল, তবুও তাদের কোনো দলই এই (বর্তমান) দলটির মতো দুঃসাহস দেখায়নি, যারা দাবি করেছে যে ওহি যা নিয়ে এসেছে তার চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তিই অনুসরণের জন্য অধিক উপযুক্ত।
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨٢١)
الرسول ولا قالت فرقة من هذه الفرق لأصحاب هذه المعقولات أعينونا بما عندكم وأشهدوا لنا وعلينا بما قبلكم ولا حققت مقالتها بشهادتهم ولا استعانت بطريقتهم ولا وجدت عندها علما ومعرفة لم تجده في كتاب ربها وسنة نبيها وكما لم تجد أحدا من فرق هذه الأمة يفزع إلى أرباب هذه العقول في شيء من دينها فلذلك كانت أمة موسى وعيسى لم تعول على هؤلاء في شيء من أمر دينها بل ما زال أهل الملل يحذرون من هؤلاء أشد التحذير وينفرون منهم أشد التنفير علما بأنهم سوس الملل وأعداء الرسل وأنت إذا تأملت أصول الفرق الإسلامية كلها وجدتها متفقة على تقديم الوحي على العقل ولم يؤسسوا مقالاتهم على ما أسسها عليه هؤلاء من تقديم آرائهم وعقولهم على نصوص الوحي فإن هذا أساس طريقة أعداء الرسل فهم متفقون على هذا الأصل ومنهم أخذ وعنهم تلقي كما حكى الله سبحانه عنهم في كتابه أنهم عارضوا شرعه ودينه بآرائهم وعقولهم ولكن الفرق بينهم وبين هؤلاء أن أولئك جاهروا بتكذيب الرسل ومعاداتهم وهؤلاء أقروا برسالاتهم وانتسبوا في الظاهر إليهم ثم نقضوا ما أقروا به وقالوا يجب تقديم عقولنا وآرائنا على ما جاءوا به فهم أعظم ضررا على الإسلام وأهله من أولئك لأنهم انتسبوا إليه وأخذوا في هدم قواعده وقلع أساسه وهم يتوهمون ويوهمون أنهم ينصرونه.
রাসূল বলেননি এবং এই দলগুলোর কোনোটিই এই যুক্তিবাদীদের বলেনি যে, "তোমাদের কাছে যা আছে তা দিয়ে আমাদের সাহায্য করো এবং তোমাদের কাছে যা পৌঁছেছে সে ব্যাপারে আমাদের পক্ষে বা বিপক্ষে সাক্ষী থাকো।" তারা না তাদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য প্রমাণ করেছে, না তাদের পদ্ধতির সাহায্য নিয়েছে, আর না তাদের কাছে এমন কোনো জ্ঞান ও মারেফাত লাভ করেছে যা তারা তাদের রবের কিতাব ও তাদের নবীর সুন্নাহর মধ্যে খুঁজে পায়নি। আর যেভাবে আপনি এই উম্মতের কোনো উপদলকেই তাদের দ্বীনের কোনো বিষয়ে এই আকল বা যুক্তির অধিকারীদের কাছে আশ্রয় নিতে দেখেননি, তেমনিভাবে মূসা ও ঈসা (আ.)-এর উম্মতও তাদের দ্বীনি কোনো বিষয়ে এদের ওপর নির্ভর করেনি। বরং ঐশী দ্বীনসমূহের অনুসারীরা সর্বদা এদের থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন এবং অত্যন্ত তীব্রতার সাথে এদের থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন, এই জ্ঞানে যে তারা হলো দ্বীনসমূহের ঘুণপোকা এবং রাসূলগণের শত্রু। আর আপনি যদি সমস্ত ইসলামী দলগুলোর মূলনীতিগুলো নিয়ে চিন্তা করেন, তবে দেখবেন যে তারা আকলের ওপর ওহীকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে একমত। তারা তাদের বক্তব্যকে সেই ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়নি যার ওপর এরা দাঁড় করিয়েছে—অর্থাৎ ওহীর নصوص বা অকাট্য বর্ণনার ওপর নিজেদের মতামত ও আকলকে প্রাধান্য দেওয়া। কারণ এটিই হলো রাসূলগণের শত্রুদের পদ্ধতির মূল ভিত্তি। তারা এই মূলনীতির ওপর একমত ছিল এবং এদের থেকেই তা গ্রহণ করা হয়েছে ও তাদের নিকট থেকেই তা সঞ্চারিত হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তারা নিজেদের মতামত ও আকল দিয়ে তাঁর শরীয়ত ও দ্বীনের বিরোধিতা করেছিল। তবে তাদের এবং এদের মধ্যে পার্থক্য হলো এই যে, পূর্ববর্তীরা রাসূলদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং তাঁদের সাথে শত্রুতার বিষয়টি প্রকাশ্যেই করত, আর এরা রাসূলদের রিসালাতের স্বীকৃতি দেয় এবং বাহ্যিকভাবে নিজেদের তাঁদের অনুসারী হিসেবে দাবি করে; এরপর তারা যা স্বীকার করেছিল তা ভঙ্গ করে এবং বলে যে, রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর আমাদের আকল ও মতামতের প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক। তাই তারা ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য তাদের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর; কারণ তারা ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে এর মূলনীতিসমূহ ধ্বংস করতে এবং এর ভিত্তি উপড়ে ফেলতে শুরু করেছে, অথচ তারা নিজেরা ধারণা করছে এবং অন্যদেরও এই ধারণা দিচ্ছে যে তারা ইসলামকে সাহায্য করছে।
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨٢٢)
الوجه الخامس عشر: إن التفاوت الذي بين الرسل وبين أرباب هذه المعقولات أعظم بكثير من التفاوت الذي بين هؤلاء وبين أجهل الناس على إلإطلاق فإن هذا الجاهل يمكنه مع الطلب والتعليم أن يصير عالما بما عند هؤلاء ولا يمكن أشد هؤلاء حرصا وذكاء وقوة وفراغا أن يصير نبيا فإن النبوة خاصة من الله يختص بها من يشاء من عباده لا تنال بكسب ولا باجتهاد فإذا علم الإنسان بعقله أن هذا الرسول وعلم أنه أخبر بشيء ووجد في عقله ما ينافي خبره كان الواجب عليه أن يسلم لما أخبر به الصادق الذي هو أعلم منه وينقاد له ويتهم عقله ويعلم أن عقله بالنسبة إليه أقل من عقل أجهل الخلق بالنسبة إليه هو وأن التفاوت الذي بينهما في العلم والمعرفة بالله وأسمائه وصفاته وأفعاله ودينه أعظم بكثير كثير من التفاوت الذي بين من لا خبرة له بصناعة الطب ومن هو أعلم أهل زمانه بها فيا لله العجب إذا كان عقله يوجب عليه أن ينقاد لطبيب يهودي فيما يخبر به من قوى الأدوية والأغذية والأشربة والأضمدة والمسهلات وصفاتها وكمياتها ودرجاتها مع ما عليه في ذلك من الكلفة والألم ومقاساة المكروهات لظنه أن هذا اليهودي أعلم بهذا الشأن منه وأنه إذا صدقه كان في تصديقه حصول الشفاء والعافية
পঞ্চদশ দিক: রাসূলগণ এবং এই বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের প্রবক্তাদের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান, উক্ত প্রবক্তা ও চরম মূর্খ ব্যক্তির মধ্যকার ব্যবধানের চেয়ে বহু গুণে অধিক। কারণ, একজন অজ্ঞ ব্যক্তি জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার মাধ্যমে তাদের সমপর্যায়ের জ্ঞানী হতে পারে; কিন্তু এই প্রবক্তাদের মধ্যে যিনি সর্বাধিক আগ্রহী, বুদ্ধিমান, শক্তিমান ও সুযোগপ্রাপ্ত, তাঁর পক্ষেও নবী হওয়া সম্ভব নয়। কেননা নবুওয়াত হলো আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, যা তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দান করেন; এটি প্রচেষ্টা বা সাধনার মাধ্যমে অর্জিত হয় না। সুতরাং মানুষ যখন স্বীয় বিচারবুদ্ধি দ্বারা জানতে পারে যে ইনি আল্লাহর রাসূল এবং এ-ও জানতে পারে যে তিনি কোনো সংবাদ দিয়েছেন, অথচ নিজের বুদ্ধিতে সে উক্ত সংবাদের বিপরীত কিছু খুঁজে পায়, তখন তার ওপর অপরিহার্য কর্তব্য হলো সেই সত্যবাদীর সংবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করা যিনি তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী, এবং তাঁর অনুগত হওয়া ও নিজের বুদ্ধিকে অভিযুক্ত করা। তার এ কথা উপলব্ধি করা উচিত যে, রাসূলের তুলনায় তার বুদ্ধি ঠিক ততটাই নগণ্য, যতটা তার নিজের তুলনায় সৃষ্টির সর্বাপেক্ষা মূর্খ ব্যক্তির বুদ্ধি। আর আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি, কার্যাবলি ও তাঁর দ্বীন সংক্রান্ত জ্ঞান ও মারিফাতের ক্ষেত্রে তাঁদের উভয়ের মধ্যকার ব্যবধান চিকিৎসাশাস্ত্রে অনভিজ্ঞ ব্যক্তি ও সমকালীন শ্রেষ্ঠ চিকিৎসকের মধ্যকার ব্যবধানের চেয়েও অনেক অনেক বেশি। আল্লাহর কসম, এটা পরম বিস্ময়ের ব্যাপার যে, মানুষের বুদ্ধি তাকে একজন ইহুদি চিকিৎসকের অনুগত হতে বাধ্য করে যখন সে বিভিন্ন ওষুধের গুণাগুণ, খাদ্য, পানীয়, প্রলেপ ও বিরেচকের বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ ও মাত্রা সম্পর্কে তথ্য দেয়; যদিও এতে অনেক কষ্ট, যন্ত্রণা ও অপ্রীতিকর বিষয় সহ্য করতে হয়। সে এটি করে কেবল এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে যে, এই ইহুদি ব্যক্তিটি এ বিষয়ে তার চেয়ে অধিক অভিজ্ঞ এবং তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করলে রোগমুক্তি ও সুস্বাস্থ্য লাভ করা সম্ভব।
(খণ্ড: ٣)
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমীয়াহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ - ত তিল আসিমাহ
(পৃষ্ঠা: ٨٢٣)
مع علمه بأنه يخطىء كثيرا وأن كثيرا من الناس لا يشفى بما يصفه الطبيب بل يكون استعماله لما يصفه سببا من أسباب هلاكه وأن أسباب الموت أغلاط الأطباء فكم لهم من قتيل أسكنوه المقابر بغلطهم وخطئهم وإن كان خطأ الطبيب إصابة المقادير وكيف لا يسلك هذا المسلك مع الرسل صلوات الله وسلامه عليهم وهم الصادقون المصدقون ولا يجوز أن يكون خبرهم على خلاف ما أخبروا به والذين عارضوا أقوالهم بعقولهم عندهم من الجهل والضلال المركب والبسيط ما لا يحصيه إلإ من هو بكل شيء محيط.
الوجه السادس عشر: أن يقال تقديم العقول على الأدلة الشرعية ممتنع متناقض وأما تقديم الأدلة الشرعية فهو ممكن مؤتلف فوجب الثاني وامتنع الأول بيانه أن يكون الشيء معلوما بالعقل أو غير معلوم بالعقل ليس هو صفة لازمة لشيء من الأشياء بل هو من الأمور النسبية الإضافية فإن زيدا قد يعلم بعقله مالا يعلمه بكر بعقله وقد يعلم الأنسان في حال تعقله ما يجهله في وقت آخر والمسائل التي يقال قد تعارض فيها العقل والشرع جميعا قد اضطرب فيها أرباب العقل ولم يتفقوا فيها على أمر واحد بل كل منهم يقول إن العقل أثبت أو أوجب أو سوغ ما يقول الآخر أن العقل نفاه
এ কথা জানা থাকা সত্ত্বেও যে, তিনি (চিকিৎসক) অনেক ভুল করেন এবং অনেক মানুষ চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র দ্বারা আরোগ্য লাভ করে না, বরং তাঁর দেওয়া ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করাই কখনো কখনো ধ্বংসের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো চিকিৎসকদের ভুলভ্রান্তি। কত শত নিহত ব্যক্তিকে তাঁরা নিজেদের ভুল ও ত্রুটির মাধ্যমে কবরে পাঠিয়েছেন! যদিও চিকিৎসকের ভুল মূলত তকদিরের লিখন বাস্তবায়ন মাত্র। তবে কেন রাসূলগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) ক্ষেত্রে এই পথ অনুসরণ করা হবে না? অথচ তাঁরা সত্যবাদী ও সত্যায়িত। তাঁদের প্রদত্ত সংবাদ তাঁরা যা জানিয়েছেন তার বিপরীত হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আর যারা নিজেদের যুক্তি বা বিবেক দ্বারা রাসূলগণের বাণীর বিরোধিতা করে, তাদের মাঝে এমন অজ্ঞতা এবং জটিল ও সরল পথভ্রষ্টতা বিদ্যমান যা সবকিছুর পরিবেষ্টনকারী আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ গণনা করতে পারবে না।
ষোড়শ দিক: এটি বলা যে, শরয়ি দলিলের ওপর যুক্তি বা বিবেককে প্রাধান্য দেওয়া অসম্ভব ও স্ববিরোধী। পক্ষান্তরে শরয়ি দলিলকে প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব ও সুসংগত। সুতরাং দ্বিতীয়টি আবশ্যক এবং প্রথমটি অসম্ভব। এর ব্যাখ্যা হলো: কোনো বিষয় বিবেক দ্বারা বোধগম্য হওয়া বা না হওয়া কোনো জিনিসের আবশ্যিক গুণ নয়; বরং এটি একটি আপেক্ষিক বিষয়। কেননা যা জায়েদ তার বুদ্ধি দিয়ে বুঝতে পারে, বকর হয়তো তা বুঝতে পারে না। আবার মানুষ তার চিন্তাশীল অবস্থায় যা জানতে পারে, অন্য সময়ে হয়তো সে বিষয়ে অজ্ঞ থাকে। যেসব মাসআলায় যুক্তি ও শরয়ি বিধানের মধ্যে বিরোধ আছে বলে দাবি করা হয়, সেসব বিষয়ে যুক্তিবাদীরা নিজেরাই দ্বিধাগ্রস্ত এবং তারা কোনো একটি বিষয়ে একমত হতে পারেনি। বরং তাদের প্রত্যেকেই দাবি করে যে, বিবেক এমন বিষয়কে সাব্যস্ত, আবশ্যক বা বৈধ করে, যা অন্যজন দাবি করে যে বিবেক তা প্রত্যাখ্যান করেছে।