(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: -)
السيل الجرار المتدفق على حدائق الأزهار (الشوكاني)
القسم: الفقه العام
الكتاب: السيل الجرار المتدفق على حدائق الأزهار
المؤلف: محمد بن علي بن محمد بن عبد الله الشوكاني اليمني (ت 1250هـ)
الناشر: دار ابن حزم
الطبعة: الطبعة الأولى
عدد الصفحات: 992
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مخرج الأحاديث]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আস-সায়লুল জাররার আল-মুতাদাফফিক আলা হাদায়িকিল আযহার (আশ-শাওকানি)
বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: আস-সায়লুল জাররার আল-মুতাদাফফিক আলা হাদায়িকিল আযহার
লেখক: মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আশ-শাওকানি আল-ইয়ামানি (ওফাত ১২৫০ হিজরি)
প্রকাশক: দার ইবনে হাজম
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৯২
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এটি হাদিসের তাহরিজ (مخرج) কৃত]
শামেলা-য় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدماتمقدمة المؤلف…مقدمة المؤلفبسم الله الرحمن الرحيمإياك نعبد وإياك نستعينأحمدك لا أحصى ثناء عليك أنت كما أثنيت على نفسك وأشكرك شكرا يليق بنعمك التي لا تحصى بلسان ولا تحصر بقلم تجرى به البنان ويبلغ إليه البيان والصلاة والسلام على رسولك الذي بين الناس ما نزل إليهم وعلى آله الكرام الذين أمرنا بالصلاة عليه وعليهم وعلى أصحابه الهداة الأعلام صلاة وسلأما يتكرران بتكرار لحظات الأيام وبعد.فإن مختصر الأزهار لما كان مدرس طلبة هذه الديار في هذه الأعصار ومعتمدهم الذي عليه في عباداتهم ومعاملاتهم المدار وكان قد وقع في كثير من مسائله الاختلاف بين المختلفين من علماء الدين والمحققين من المجتهدين أحببت أن أكون حكما بينه وبينهم ثم بينهم أنفسهم عند اختلافهم في ذات بينهم فمن كان أهلا للترجيح ومتأهلا للتسقيم والتصحيح فهو إن شاء الله سيعرف لهذا التعليق قدره ويجعله لنفسه مرجعا ولما ينوبه ذخرا وأما من لم يكن بهذا المكان ولا بلغ مبالغ أهل هذا الشأن ولا جرى مع فرسان هذا الميدان فهو حقيق بأن يقال له مإذا بعشك يا حمامة فادرجي.لا تعذر المشتاق في أشواقه … حتى تكون حشاك في أحشائهلا يعرف الشوق إلا من يكابده … ولا الصبابة إلا من يعانيهادع عنك تعنيفي وذق طعم الهوى … فإذا هويت فعند ذلك عنففكن رجلا رجله في الثرى … وهامة همته في الثرياوسنقف يا طالب الحق بمعونة الله سبحانه في هذا المصنف على مباحث تشد إليها الرحال وتحقيقات تنشرح لها صدور فحول الرجال لما اشتمل عليه من إعطاء المسائل حقها من التحقيق والسلوك فيما لها وعليها في أوضح طريق مع كل فريق.وقد طولت الكلام في مسائل المعاملات وأبرزت مع الحجج والنكات ما لم يسبق إليه
উপক্রমণিকাসমূহলেখকের ভূমিকা…লেখকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি।আমি আপনার প্রশংসা করছি, আপনার গুণগান করে আমি শেষ করতে পারব না; আপনি তেমনই যেমনটি আপনি নিজের প্রশংসা নিজে করেছেন। আমি আপনার এমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যা আপনার সেই নিআমতসমূহের যোগ্য যা কোনো রসনা দ্বারা গণনা করা সম্ভব নয় এবং যা কোনো কলম দ্বারা সীমাবদ্ধ করা যায় না; যে কলম আঙুল দিয়ে পরিচালিত হয় এবং যার মাধ্যমে বর্ণনা পূর্ণতা পায়। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আপনার সেই রাসুলের ওপর যিনি মানুষের জন্য যা নাজিল করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁর সম্মানিত পরিবারবর্গের ওপর যাদের প্রতি সালাত পাঠ করার জন্য আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর তাঁর হিদায়াতপ্রাপ্ত ও প্রখ্যাত সাহাবীগণের ওপর; এমন সালাত ও সালাম যা দিবা-রাত্রির প্রতিটি মুহূর্তের আবর্তনের সাথে সাথে পুনরাবৃত্ত হতে থাকে। অতঃপর...যেহেতু 'মুখতাসার আল-আযহার' এই জনপদের এই যুগের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই এবং তাদের ইবাদত ও লেনদেনের ক্ষেত্রে এটিই তাদের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি; অথচ এর অনেক মাসআলায় দ্বীনের আলেমগণ এবং মুজতাহিদ গবেষকদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছিল। তাই আমি চেয়েছিলাম এই কিতাব ও তাঁদের মাঝে এবং তাঁদের নিজেদের মধ্যকার মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে একজন বিচারকের ভূমিকা পালন করতে। সুতরাং যিনি প্রাধান্য দান (ترجيح) করার যোগ্যতা রাখেন এবং দুর্বল সাব্যস্তকরণ (تسقيم) ও সহিহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح) করার উপযুক্ত, তিনি ইনশাআল্লাহ এই টীকাগ্রন্থের মর্যাদা বুঝতে পারবেন এবং একে নিজের জন্য একটি রেফারেন্স ও বিপদের সম্বল হিসেবে গ্রহণ করবেন। আর যে ব্যক্তি এই সুউচ্চ অবস্থানে নেই, এই বিষয়ের পণ্ডিতদের পর্যায়ে পৌঁছেনি এবং এই ময়দানের অশ্বারোহীদের সাথে পদচারণা করেনি, তার ক্ষেত্রে এই কথাটিই প্রযোজ্য— 'হে কপোতী! তোমার নীড়ে কী আছে, তুমি বরং প্রস্থান করো'।আকাক্সক্ষীর আকুলতার জন্য তাকে ভর্ৎসনা করো না … যতক্ষণ না তোমার প্রাণ তার প্রাণের মতো ব্যাকুল হয়।প্রেমের ব্যাকুলতা কেবল সেই বোঝে যে তাতে নিপতিত হয় … আর অনুরাগের তীব্রতা সেই অনুভব করে যে তা সহ্য করে।আমাকে তিরস্কার করা ছেড়ে দিন এবং ভালোবাসার স্বাদ গ্রহণ করুন … যখন আপনি প্রেমে পড়বেন, তখন না হয় তিরস্কার করবেন।এমন পুরুষ হও যার পা মাটিতে থাকলেও … যার হিম্মতের শীর্ষস্থান থাকবে সুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জে।হে সত্যের অন্বেষী! আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাহায্যে এই গ্রন্থে এমন কিছু গবেষণা নিয়ে আলোচনা করব যার জন্য সফরের পাথেয় প্রস্তুত করা হয়, এবং এমন কিছু সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (تحقيق) তুলে ধরব যা শ্রেষ্ঠ পুরুষদের অন্তরকে প্রশস্ত করে দেবে। কারণ এতে প্রতিটি মাসআলাকে তার সঠিক অনুসন্ধানের (تحقيق) প্রাপ্য হক প্রদান করা হয়েছে এবং প্রতিটি পক্ষের সপক্ষে ও বিপক্ষে যা আছে তা অত্যন্ত স্পষ্ট পদ্ধতিতে অনুসরণ করা হয়েছে।আমি লেনদেনের মাসআলাসমূহে আলোচনা দীর্ঘ করেছি এবং দলীল ও সূক্ষ্ম বিষয়সহ এমন কিছু প্রকাশ করেছি যা ইতিপূর্বে আর কেউ করেনি।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ৮)
سابق لخفاء بعض دلائلها على كثير من المصنفين كما ستقف عليه إن شاء الله تعالي واختصرت الكلام في مسائل العبادات لأنها صارت أدلة مباحثها نصب الأعين ولم أترك ما يتميز به الحق في كل مقام.وأرجو من الملك العلام الإعانة على التمام وأن ينفع به المصنفين من الأعلام وينفعني به في هذه الدار وفي دار السلام.وسميته "السيل الجرار المتدفق على حدائق الأزهار".
এটি পূর্ববর্তী [রচনাবলির] তুলনায় অগ্রগামী, কারণ এর কতিপয় প্রমাণের (دلائل) বিষয়বস্তু অনেক গ্রন্থকারের নিকট অস্পষ্ট ছিল, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা আপনি শীঘ্রই প্রত্যক্ষ করবেন। আমি ইবাদত সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে আলোচনা সংক্ষিপ্ত করেছি, কারণ সেগুলোর গবেষণার দলিলসমূহ (أدلة) এখন সকলের নিকট সুস্পষ্ট। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্যকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে ফুটিয়ে তোলার বিষয়টি আমি বর্জন করিনি।আমি সর্বজ্ঞ অধিপতির নিকট এটি সমাপ্ত করার জন্য সাহায্য কামনা করছি এবং প্রার্থনা করি যে, এর মাধ্যমে প্রখ্যাত আলেম ও গ্রন্থকারগণ উপকৃত হবেন এবং এটি এই নশ্বর পৃথিবীতে ও পরকালীন শান্তির আবাসে (دار السلام) আমার জন্য কল্যাণকর হবে।আমি এই কিতাবটির নামকরণ করেছি "আস-সাইলুল জাররার আল-মুতাদাফফিক আলা হাদায়িকিল আজহার"।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ৯)
[مقدمة لا يسع المقلد جهلهافصل: التقليد في المسائل الفرعية العملية الظنية والقطعية جائز لغير المجتهد لا له ولو وقف على نص أعلم منه ولا في عملي يترتب على علمي كالموالاة والمعاداة] .قوله: "مقدمة لا يسع المقلد جهلها".أقول: المقدمة بفتح الدال وكسرها كما صرح به جماعة من المحققين وليس الفتح بخلف كما قيل وهي تصدق على ما ذكره أهل الاصطلاح من جعل المقدمة منقسمة إلي قسمين مقدمة علم ومقدمة كتاب.فمقدمة العلم ما يتوقف الشروع على بصيرة عليها لأنها تكون مشتملة على الحد والموضوع والغاية والفائدة.ومقدمة الكتاب ما يوجب الشروع بها زيادة في البصيرة ولا ريب أن شروع طالب علم الفقه بهذه المقدمة يوجب له زيادة في البصيرة لأنه يعرف بمعرفتها حقيقة التقليد وما يجوز التقليد فيه وما لا يجوز ومن يجوز تقليده ومن لا يجوز ونحو ذلك.ومعلوم أن من عرف هذه الأمور يكون له زيادة في البصيرة لا يكون لمن لا يعرفها فلا يرد الاعتراض على المصنف بما قيل إن هذه المقدمة لم تشتمل على الحد والموضوع والغاية والفائدة فلا تكون مقدمة اصطلاحا لأنا نقول المقدمة تصدق على مقدمة الكتاب كما تصدق على مقدمة العلم وهذه مقدمة كتاب لما ذكرنا.وقد ذكر أئمة اللغة أن المقدمة ما يتقدم أمام المقصود ومنه مقدمة الجيش فمقدمة الكتاب مقدمة لغة واصطلاحا أما اللغة فلما ذكرنا وأما الاصطلاح فلأن أهل العلم قد ذكروا انقسام المقدمة إلي القسمين كما تقدم وكما لم يرد الاعتراض على المصنف بما تقدم لا يرد عليه الاعتراض بما قيل إن هذه المقدمة ليست مقدمة علم ولا مقدمة كتاب لما عرفناك به.إذا تقرر لك اندفاع ما اعترض به على المصنف في تسميته لما ذكره ها هنا أمام المقصود
[ভূমিকা (مقدمة) যা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা অনুসারীর (مقلد) জন্য সমীচীন নয়]পরিচ্ছেদ: আমলি ফুরুঈ মাসয়ালাসমূহে (المسائل الفرعية العملية), হোক তা ধারণাভিত্তিক (الظنية) অথবা নিশ্চিত (القطعية), অনুসারী বা গাইরে মুজতাহিদের জন্য তাকলিদ (التقليد) করা জায়েজ; কিন্তু গবেষণাকারীর (المجتهد) জন্য তা বৈধ নয়, যদিও তিনি তার চেয়েও অধিক জ্ঞানী কারো নসের (نص) ওপর অবগত হন। এবং এমন কোনো আমলি বিষয়ের ক্ষেত্রেও তাকলিদ বৈধ নয় যা ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল, যেমন: বন্ধুত্ব (الموالاة) ও শত্রুতা (المعاداة)]।তাঁর উক্তি: "ভূমিকা (مقدمة) যা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা অনুসারীর (مقلد) জন্য সমীচীন নয়।"আমি বলি: একদল গবেষক যেমনটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ভূমিকা (المقدمة) শব্দটি 'দাল' বর্ণে ফাতাহ বা কাসরা—উভয় যোগে পড়া যায়। একে ফাতাহ যোগে পড়া ভুল নয় যেমনটি কেউ কেউ দাবি করেছেন। এটি সেই বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয় যা পরিভাষা বিশেষজ্ঞগণ উল্লেখ করেছেন যে, ভূমিকা দুই ভাগে বিভক্ত: ইলমি ভূমিকা (مقدمة العلم) এবং কিতাবের ভূমিকা (مقدمة الكتاب)।ইলমি ভূমিকা (مقدمة العلم) হলো এমন বিষয়, স্বচ্ছ ধারণার সাথে কোনো শাস্ত্র শুরু করা যার ওপর নির্ভরশীল; কারণ এটি সংজ্ঞা (الحد), আলোচ্য বিষয় (الموضوع), উদ্দেশ্য (الغاية) ও উপকারিতা (الفائدة) অন্তর্ভুক্ত করে।আর কিতাবের ভূমিকা (مقدمة الكتاب) হলো এমন বিষয় যা দ্বারা পাঠ শুরু করলে প্রজ্ঞা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ফিকহ শাস্ত্রের কোনো শিক্ষার্থীর জন্য এই ভূমিকা দ্বারা পাঠ শুরু করা তার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে। কারণ এর মাধ্যমে সে তাকলিদ (التقليد)-এর প্রকৃত স্বরূপ, যেসব বিষয়ে তাকলিদ (التقليد) জায়েজ ও যেসব বিষয়ে জায়েজ নয় এবং কাদের তাকলিদ (التقليد) করা যাবে আর কাদের যাবে না—ইত্যাদি বিষয় জানতে পারবে।এটা সুবিদিত যে, যে ব্যক্তি এই বিষয়গুলো জানে তার প্রজ্ঞা ও স্বচ্ছতা সে ব্যক্তির তুলনায় অনেক বেশি হবে যে এগুলো জানে না। সুতরাং গ্রন্থকারের ওপর এমন কোনো আপত্তি উত্থাপন করা ঠিক হবে না যেখানে বলা হয়েছে যে, এই ভূমিকাটি সংজ্ঞা (الحد), আলোচ্য বিষয় (الموضوع), উদ্দেশ্য (الغاية) ও উপকারিতা (الفائدة) অন্তর্ভুক্ত করেনি, তাই এটি পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحا) কোনো ভূমিকা হতে পারে না। কেননা আমরা বলব, ভূমিকা (المقدمة) যেমন কিতাবের ভূমিকার (مقدمة الكتاب) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তেমনি ইলমি ভূমিকার (مقدمة العلم) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়। আর আমাদের উল্লিখিত কারণে এটি একটি কিতাবের ভূমিকা (مقدمة الكتاب)।ভাষাবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, ভূমিকা (المقدمة) হলো এমন বিষয় যা মূল উদ্দিষ্ট বিষয়ের অগ্রভাগে থাকে। এর থেকেই সৈন্যবাহিনীর অগ্রভাগের (مقدمة الجيش) কথাটি এসেছে। সুতরাং কিতাবের ভূমিকা শাব্দিক অর্থে (لغة) এবং পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحا) উভয় দিক থেকেই ভূমিকা (المقدمة)। শাব্দিক দিকটি আমরা যেমনটি উল্লেখ করেছি এবং পারিভাষিক দিকটি হলো, ইলম অর্জনকারীগণ ভূমিকার দুই প্রকার বিভাজন উল্লেখ করেছেন যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে। যেহেতু গ্রন্থকারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে উল্লিখিত আপত্তি ধোপে টিকে না, তেমনি এই আপত্তিরও অবকাশ নেই যে—এই ভূমিকাটি ইলমি ভূমিকা (مقدمة العلم) নয় এবং কিতাবের ভূমিকাও (مقدمة الكتاب) নয়, যা আমরা আপনাকে ব্যাখ্যা করেছি।যখন আপনার কাছে গ্রন্থকার মূল উদ্দিষ্ট বিষয়ের প্রারম্ভে যা উল্লেখ করেছেন তার নামকরণের ক্ষেত্রে উত্থাপিত আপত্তিগুলোর অসারতা প্রমাণিত হলো...
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ১০)
مقدمة فاعلم أن محل الإشكال وموضع المناقشة هو قوله: "لا يسع المقلد جهلها".ووجهه أنه قد ذكر المصنف رحمه الله فيما سيأتي بعد هذا ان التقليد يختص بالمسائل الفرعية وهي التي لم تكن من أصول الدين ولا من أصول الفقه وأكثر هذه المسائل المذكورة في هذه المقدمة ليست بفرعية لا في اصطلاح المصنف ولا في اصطلاح غيره فهي مما لا يجوز التقليد فيه عنده وعندهم فكيف يصنع المقلد الطالب لمعرفة ما اشتمل عليه هذا الكتاب؟إن قال المصنف يأخذها تقليدا فقد خالف ما رسم له من كون التقليد إنما هو في المسائل الفرعية فإنه قد ناقض نفسه قبل أن يجف قلمه ولم يتخلل بين قوله لا يسع المقلد جهلها وبين قوله التقليد في المسائل الفرعية إلا لفظة واحدة وهي قوله: " فصل ".وإن قال يأخذها اجتهادا فالمفروض أنه مقلد ليس من الاجتهاد في ورد ولا صدر ولو كلف بالاجتهاد قبل التقليد لكان بلوغه إلي مرتبة الاجتهاد موجبا لتحريم التقليد عليه لا سيما على القول الراجح من كون الاجتهاد لا يتبعض لمعرفته لما اشتملت عليه هذه المقدمة لأنه لا يعرفها اجتهادا إلا وقد صار الواجب عليه العمل بما يؤدي إليه اجتهاده فهو مستغن عن معرفة هذا الكتاب الذي جعلت هذه المقدمة مقدمة له لأنه موضوع للمقلدين لا للمجتهدين ولا واسطة بين التقليد والاجتهاد ولا بين المجتهد والمقلد اصطلاحا والمصنف وكثير من أهل الأصول قائلون بنفي الواسطة.وأما من قال إن الاجتهاد متعين وإنه لا يجوز التقليد على كل حال فهو يوجب الاجتهاد في مثل هذه المسائل المذكورة في هذه المقدمة وفي جميع مسائل هذا الكتاب ولم يكن المصنف من القائلين بتعيين الاجتهاد حتى يصح حمل كلامه هنا على ذلك على أن ثم مانعا من حمله على ذلك وهو أنه لو كان قائلا بذلك لكان تصنيفه لهذا الكتاب ضائعا ليس تحته فائدة لأنه لا ينتفع به إلا المقلدون وليس للمجتهد إليه حاجة بل يكون تصنيفه لهذا الكتاب مع قوله بتعيين الاجتهاد إيهأما للمقلدة بجواز ما لا يجوز عنده وتحليلا لما هو غير حلال في اعتقاده وحاشاه من ذلك.وما قيل من أن المراد بوضعها تعريف المقلد كراهية جهل ما ذكر فيها وبيان حسن معرفته لها بالدليل لا وجوب تعين الاجتهاد فيجاب عنه بأن هذا لا يدفع الاعتراض على المصنف لأنه لم يثبت الواسطة بين الاجتهاد والتقليد حتى يحمل كلامه على هذا.على أنه لو كان من القائلين بذلك لكان للمقصرين مندوحة عن الاحتياج إلي كتابه هذا وأمثاله لأنهم إذا قدروا على معرفة الحق في مسائل هذه المقدمة بالدليل من دون اجتهاد كانوا على معرفة الحق في المسائل المذكورة بعد هذه المقدمة أقدر لصعوبة هذه وسهولة تلك.قوله: "فصل. التقليد في المسائل الفرعية القطعية والظنية جائز لغير المجتهد لا له ولو وقف على نص أعلم منه".
উপক্রমণিকা: জেনে রাখুন যে, আপত্তির ক্ষেত্র এবং আলোচনার বিষয়বস্তু হলো তাঁর বক্তব্য: "মুকাল্লিদ (مقلد) এর জন্য এগুলো সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা সমীচীন নয়।"এর কারণ হলো, গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) সামনে উল্লেখ করবেন যে, তাকলিদ কেবল শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের (المسائل الفرعية) সাথে নির্দিষ্ট, যা দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) কিংবা ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতির (أصول الفقه) অন্তর্ভুক্ত নয়। অথচ এই উপক্রমণিকায় উল্লিখিত অধিকাংশ মাসআলা গ্রন্থকারের পরিভাষায় বা অন্যদের পরিভাষায় শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত (فرعية) নয়। ফলে তাঁর মতে এবং অন্যদের মতেও এগুলো এমন বিষয় যাতে তাকলিদ করা বৈধ নয়। এমতাবস্থায়, এই কিতাবে যা রয়েছে তা জানতে আগ্রহী একজন মুকাল্লিদ (مقلد) কী করবেন?গ্রন্থকার যদি বলেন যে, তিনি এগুলো তাকলিদ হিসেবে গ্রহণ করবেন, তবে তিনি নিজের নির্ধারিত নিয়মেরই বিরোধিতা করলেন যে, তাকলিদ কেবল শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের (المسائل الفرعية) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সেক্ষেত্রে তাঁর কলমের কালি শুকানোর আগেই তিনি স্ববিরোধী কথা বললেন। কেননা তাঁর বক্তব্য "মুকাল্লিদ (مقلد) এর জন্য এগুলো সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা সমীচীন নয়" এবং "তাকলিদ কেবল শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে (المسائل الفرعية) হয়" - এই দুই কথার মাঝে কেবল একটি শব্দই ব্যবধান হিসেবে রয়েছে, আর তা হলো: "পরিচ্ছেদ (فصل)"।আর তিনি যদি বলেন যে, তিনি এগুলো ইজতিহাদ (اجتهاد) এর মাধ্যমে গ্রহণ করবেন, তবে তো ধরে নেওয়া হয়েছে যে তিনি একজন মুকাল্লিদ (مقلد), যার ইজতিহাদ (اجتهاد) এর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। আর যদি তাকলিদের পূর্বে তাকে ইজতিহাদ (اجتهاد) এর দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে তার ইজতিহাদ (اجتهاد) এর স্তরে পৌঁছানোটা তার জন্য তাকলিদ করাকে হারাম করে দিবে। বিশেষ করে অগ্রগণ্য (راجح) মতানুসারে ইজতিহাদ (اجتهاد) বিভাজনযোগ্য নয়—এই উপক্রমণিকায় যা আছে তা জানার জন্য; কারণ তিনি ইজতিহাদ (اجتهاد) এর মাধ্যমে তা জানতে পারবেন না যতক্ষণ না তার ইজতিহাদ (اجتهاد) যা নির্দেশ করে সে অনুযায়ী আমল করা তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে তিনি এই কিতাবটি জানা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে পড়বেন যার জন্য এই উপক্রমণিকাটি লেখা হয়েছে। কেননা এই কিতাবটি মুকাল্লিদদের (مقلدين) জন্য রচিত হয়েছে, মুজতাহিদদের (مجتهدين) জন্য নয়। আর পরিভাষায় তাকলিদ ও ইজতিহাদ (اجتهاد) এর মাঝে অথবা মুজতাহিদ (مجتهد) ও মুকাল্লিদ (مقلد) এর মাঝে তৃতীয় কোনো মাধ্যম নেই। গ্রন্থকার এবং উসুল (أصول) শাস্ত্রের অনেক পণ্ডিতই এই মধ্যবর্তী মাধ্যমের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন।আর যারা বলেন যে, ইজতিহাদ (اجتهاد) নির্ধারিত এবং কোনো অবস্থাতেই তাকলিদ বৈধ নয়, তারা এই উপক্রমণিকায় উল্লিখিত মাসআলাগুলোর মতো বিষয়াদিতে এবং এই কিতাবের সকল মাসআলায় ইজতিহাদ (اجتهاد) করাকে অপরিহার্য করেন। অথচ গ্রন্থকার ইজতিহাদ (اجتهاد) নির্ধারিত হওয়ার প্রবক্তাদের অন্তর্ভুক্ত নন যে তাঁর কথাকে সেভাবে ব্যাখ্যা করা সঠিক হবে। অধিকন্তু, তাঁর কথাকে সেভাবে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে একটি বাধা রয়েছে, তা হলো—যদি তিনি এমন মত পোষণ করতেন, তবে তাঁর এই কিতাব রচনা করাটাই নিরর্থক হতো যার কোনো ফায়দা থাকতো না। কারণ মুকাল্লিদ (مقلد) ছাড়া অন্য কেউ এর দ্বারা উপকৃত হবে না, আর একজন মুজতাহিদ (مجتهد) এর এর কোনো প্রয়োজন নেই। বরং ইজতিহাদ (اجتهاد) অপরিহার্য বলার পাশাপাশি এই কিতাব রচনা করাটা মুকাল্লিদদের (مقلدين) মনে এমন বিষয়ের বৈধতার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতো যা তাঁর নিকট বৈধ নয় এবং যা তাঁর বিশ্বাসে হালাল নয় তাকে হালাল সাব্যস্ত করার শামিল হতো; আর তিনি এ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।আর এ কথা বলা হয়েছে যে, এটি রচনার উদ্দেশ্য হলো মুকাল্লিদকে (مقلد) এটা জানানো যে এখানে যা বর্ণিত হয়েছে সে বিষয়ে অজ্ঞ থাকা অপছন্দনীয় এবং দলিলের ভিত্তিতে তা জানার উত্তম দিকটি বর্ণনা করা, ইজতিহাদ (اجتهاد) অপরিহার্য করা নয়—এর উত্তর হলো: এটি গ্রন্থকারের ওপর উত্থাপিত আপত্তিকে খণ্ডন করে না। কারণ তিনি ইজতিহাদ (اجتهاد) ও তাকলিদের মাঝে কোনো মধ্যবর্তী পথ সাব্যস্ত করেননি যার ভিত্তিতে তাঁর বক্তব্যকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।এছাড়া তিনি যদি তেমন মতের অনুসারী হতেন, তবে জ্ঞান অর্জনে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য তাঁর এই কিতাব বা এর অনুরূপ কিতাবসমূহের প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্তি পাওয়ার অবকাশ থাকতো। কারণ তারা যদি ইজতিহাদ (اجتهاد) ছাড়াই দলিলের মাধ্যমে এই উপক্রমণিকার মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে সত্য উদ্ঘাটনে সক্ষম হতো, তবে এই উপক্রমণিকার পরের মাসআলাগুলোতে সত্য উদ্ঘাটনে তারা আরও বেশি সক্ষম হতো; কারণ এগুলো কঠিন এবং পরেরগুলো সহজ।তাঁর বক্তব্য: "পরিচ্ছেদ (فصل)। শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত অকাট্য (قطعي) ও ধারণাপ্রসূত (ظني) মাসআলাসমূহে তাকলিদ করা এমন ব্যক্তির জন্য বৈধ যিনি মুজতাহিদ (مجتهد) নন। তবে মুজতাহিদ (مجتهد) এর জন্য তা বৈধ নয়, যদিও তিনি তাঁর চেয়ে অধিকতর জ্ঞানীর কোনো নস বা দলিলের সন্ধান পান।"
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ১১)
أقول: الكلام على هذا من وجوه:الأول: حقيقة التقليد اعلم أنه مأخوذ عند أهل اللغة من القلادة التي يقلد الإنسان غيره بها ومنه تقليد الهدى فكأن المقلد يجعل ذلك الحكم الذي قلد فيه المجتهد كالقلادة في عنق المجتهد.وأما في الاصطلاح فهو العمل بقول الغير من غير حجة فيخرج العمل بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم والعمل بالإجماع والعمل من العامي بقول المفتي والعمل من القاضي بشهادة الشهود العدول فإنها قد قامت الحجة في جميع ذلك.أما العمل بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم وبالإجماع عند القائلين بحجبته فظاهر وأما عمل العامي بقول المفتي فلوقوع الإجماع على ذلك وأما عمل القاضي بشهادة الشهود العدول فالدليل عليه ما في الكتاب والسنة من الأمر بالشهادة وقد وقع الاجماع على ذلك ويخرج عن ذلك أيضا قبول رواية الرواة فإنه قد دل الدليل على قبولها ووجوب العمل بها وأيضا ليست قول الرأوي بل قول المروي عنه وهو رسول الله صلى الله عليه وسلم.وقال ابن الهمام في التحرير التقليد العمل بقول من ليس قوله إحدى الحجج بلا حجة وهذا الحد أحسن من الأول.وقال القفال: "هو قبول قول القائل وأنت لا تعلم من اين قاله".وقال الشيخ أبو حامد والأستاذ أبو منصور: "هو قبول رأي من لا تقوم به الحجة بلا حجة".الوجه الثاني: أورد الجلال في شرحه هنا بحثا فقال وربما يتوهم أن أحكام الشرع متعلقة بالعامي وأكثرها استدلال مظنون وليس من أهل الاستدلال فيجب عليه التقليد بدلا عن الاجتهاد كالتراب بدل الماء إذ هو الممكن وما لا يتم الواجب إلا به يجب كوجوبه.والجواب منع تعلق الظنيات بالعامي للاتفاق على أن الفهم شرط التكليف فهو شرط للوجوب وتحصيل شرط الواجب ليجب لا يجب فإذن لا يتعلق بها إلا ما فهمه وليس ذلك إلا ضروريات الشرع والعمل بالضروري ليس بتقليد لأن الضرورة أعظم الأدلة ولهذا وقع الاتفاق على أن العامي يقر ما فعله ولا ينكر عليه ما لم يخرق الإجماع انتهى.ولا يخفى عليك أن هذا الكلام ساقط فاسد فإن قوله للاتفاق على أن الفهم شرط التكليف إن أراد فهم التركيب الذي وقع الخطاب به من الشارع فهذا يفهمه كل عاقل ولا يتعذر فهمه إلا على المجنون أو صبي صغير وهذا المعنى هو الذي أراده أهل العلم بقولهم الفهم شرط التكليف.وإن أراد بالفهم فهم النفع المرتب على التكليف فهذا لم يقل به أحد قط ولو فرضنا أنه قال به قائل لكان ذلك مستلزما لعدم تكليف كل كافر وجاحد وزنديق واللازم باطل بإجماع المسلمين أجمعين فالملزوم مثله.
আমি বলছি: এই বিষয়ে আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে হতে পারে:প্রথমত: তাকলিদ-এর (التقليد) প্রকৃত অর্থ: জেনে রাখা উচিত যে, ভাষাবিদদের নিকট এটি 'কিলাদাহ' (হার বা মালা) শব্দ থেকে গৃহীত, যা মানুষ অন্যের গলায় পরিয়ে দেয়। কুরবানির পশুর গলায় মালা পরানোও এর অন্তর্ভুক্ত। যেন মুকাল্লিদ (তাকলিদকারী) সেই বিধানটিকে, যে বিষয়ে সে মুজতাহিদ-এর (المجتهد) তাকলিদ (التقليد) করেছে, তা মুজতাহিদ-এর (المجتهد) গলায় মালার মতো ঝুলিয়ে দেয়।আর পারিভাষিক অর্থে এটি হলো—দলিল (حجة) ব্যতীত অন্যের কথা অনুযায়ী আমল করা। ফলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা অনুযায়ী আমল করা, ইজমা (الإجماع) অনুযায়ী আমল করা, মুফতি-র (المفتي) কথা অনুযায়ী সাধারণ মানুষের (العامي) আমল করা এবং ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীদের (الشهود العدول) সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কাজি-র (القاضي) রায় প্রদান এর বহির্ভূত হবে; কেননা এই সবগুলোর ক্ষেত্রেই দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী এবং ইজমা (الإجماع)-কে দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণকারীদের নিকট সে অনুযায়ী আমল করার বিষয়টি সুস্পষ্ট। আর মুফতি-র (المفتي) কথায় সাধারণ মানুষের (العامي) আমল করার বিষয়টি ইজমা (الإجماع) দ্বারা প্রমাণিত। আর ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীদের (الشهود العدول) সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কাজি-র (القاضي) আমল করার দলিল হলো কুরআন ও সুন্নাহর সেই নির্দেশ যা সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়ে এসেছে এবং এ ব্যাপারে ইজমা (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্ণনাকারীদের (الرواة) বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করাও এর বহির্ভূত হবে; কারণ তা গ্রহণ করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার পক্ষে দলিল (حجة) বিদ্যমান। তাছাড়া এটি বর্ণনাকারীর (الراوي) নিজস্ব বক্তব্য নয়, বরং যাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে (المروي عنه) তাঁর তথা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী।ইবনুল হুমাম আত-তাহরির গ্রন্থে বলেছেন: "তাকলিদ (التقليد) হলো এমন ব্যক্তির কথা অনুযায়ী আমল করা যার কথা কোনো দলিল (حجة) নয়, এবং তা দলিল (حجة) ছাড়াই অনুসরণ করা।" এই সংজ্ঞাটি প্রথমটির চেয়ে উত্তম।ইমাম কাফফাল বলেন: "এটি হলো বক্তার কথাকে গ্রহণ করা এমতাবস্থায় যে, আপনি জানেন না তিনি কেন তা বলেছেন।"শায়খ আবু হামিদ এবং উস্তাদ আবু মানসুর বলেন: "এটি হলো এমন ব্যক্তির রায় (رأي) গ্রহণ করা যার মাধ্যমে দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না এবং তা দলিল (حجة) ছাড়াই গ্রহণ করা।"দ্বিতীয় দিক: জালালুদ্দিন (মাহাল্লি) তাঁর শারহ-এ এখানে একটি আলোচনা উত্থাপন করে বলেছেন: কখনো হয়তো এমন ধারণা হতে পারে যে, শরয়ি বিধানসমূহ সাধারণ মানুষের (العامي) সাথে সংশ্লিষ্ট, অথচ এগুলোর অধিকাংশ হলো ধারণাপ্রসূত (مظنون) দলিল ভিত্তিক গবেষণা (استدلال); আর সাধারণ মানুষ দলিল উদ্ঘাটন বা গবেষণার (استدلال) যোগ্য নয়। তাই তার জন্য ইজতিহাদ-এর (الاجتهاد) পরিবর্তে তাকলিদ (التقليد) করা ওয়াজিব (واجب), যেমন পানির পরিবর্তে মাটি (তায়াম্মুম) ব্যবহার করা হয়; কারণ এটিই তার পক্ষে সম্ভব। আর যা ব্যতীত ওয়াজিব (واجب) সম্পন্ন হয় না, তাও ওয়াজিব (وجوب)।এর উত্তর হলো—ধারণাপ্রসূত (ظني) বিষয়সমূহ সাধারণ মানুষের (العامي) সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা। কারণ এ বিষয়ে ঐক্যমত্য (اتفاق) রয়েছে যে, 'উপলব্ধি' (الفهم) হলো কোনো দায়িত্ব অর্পণ করার (التكليف) শর্ত। সুতরাং এটি ওয়াজিব হওয়ার (الوجوب) শর্ত। আর ওয়াজিব (واجب) হওয়ার জন্য কোনো শর্ত হাসিল করা ওয়াজিব (واجب) নয়। অতএব, সাধারণ মানুষ যা উপলব্ধি করে তা ব্যতীত অন্য কিছু তার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে না; আর তা কেবল শরীয়তের মৌলিক আবশ্যকীয় বিষয়সমূহ (ضروريات)। আর মৌলিক আবশ্যকীয় বিষয়ের ওপর আমল করা তাকলিদ (التقليد) নয়, কারণ আবশ্যকতা (الضرورة) হলো সর্বশ্রেষ্ঠ দলিল (حجة)। এই কারণেই ঐক্যমত্য (اتفاق) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, সাধারণ মানুষ (العامي) যা করে তা বহাল রাখা হবে এবং তার বিরোধিতা করা হবে না যতক্ষণ না সে ইজমা (الإجماع) লংঘন করে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।আপনার কাছে এটি গোপন নয় যে, এই কথাটি অসার ও ত্রুটিপূর্ণ। কেননা তাঁর উক্তি—"ঐক্যমত্য (اتفاق) রয়েছে যে উপলব্ধি (الفهم) হলো দায়িত্বারোপের (التكليف) শর্ত"—দ্বারা যদি তিনি বিধানদাতার (الشارع) পক্ষ থেকে আসা সম্বোধনের ভাষাগত গঠন বুঝতে পারা বুঝিয়ে থাকেন, তবে এটি প্রত্যেক বিবেকবান ব্যক্তিই বুঝতে পারে; পাগল বা ছোট শিশু ছাড়া এটি বুঝতে পারা কারো জন্য অসম্ভব নয়। আর আলিমগণের "উপলব্ধি (الفهم) হলো দায়িত্বারোপের (التكليف) শর্ত" উক্তিটির মাধ্যমে এই অর্থই উদ্দেশ্য।আর যদি তিনি উপলব্ধি (الفهم) দ্বারা দায়িত্বারোপের (التكليف) ওপর নির্ভরশীল উপকারিতা বুঝতে পারা উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন, তবে এ কথা কেউ কখনো বলেনি। যদি আমরা ধরেও নেই যে কেউ এমন কথা বলেছে, তবে তার অনিবার্য ফলাফল হবে এই যে কোনো কাফির, সত্যপ্রত্যাখ্যানকারী বা যিনদিকের ওপরই শরয়ি দায়িত্ব (التكليف) বর্তাবে না। অথচ এই ফলাফলটি সমস্ত মুসলিমের ইজমা (إجماع) অনুযায়ী বাতিল; সুতরাং এর কারণটিও অনুরূপ বাতিল।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ১২)
وإن أراد غير هذين المعنيين فلا ندري ما هو ولم يقل به أحد بالجملة فهذه فاقرة عظمى ومقالة عمياء صماء بكماء فليكن هذا منك على ذكر فإنه قد كرره في مواضع من كتابه.وما ذكره الجلال رحمه الله في آخر بحثه هذا جعله كالنتيجة له من كون العامي إنما كلف بالضروريات فهو من أغرب ما يقرع الأسماع لأنه خرق للإجماع وباطل لا يقع في مثله بين أهل العلم نزاع وكل من له نصيب من علم وحظ من فهم يعلم أن هذه التكاليف الثابتة في الكتاب والسنة لازمة لكل بالغ عاقل لا يخرج عن ذلك منهم أحد كائنا من كان إلا من خصه الدليل والضروريات منها هي بالنسبة إلي جميعها أقل قليل وأندر نادر والواقعون في معاصي الله المتعدون لحدوده الهاتكون لمحارمه من العامة لو علموا بهذا البحث من هذا المحقق لقرت به أعينهم واطمأنت إليه أنفسهم وأقاموا به الحجة على من أراد إقامة حدود الله عليهم وطلب منهم القيام بشرائعه فعل ما أمر به وترك ما نهى عنه فإن غالب الواجبات الشرعية والمحرمات الدينية ثابتة بالعمومات وهي ظنية الدلالة وما كان ثابتا بما هو ظني التمن أو ظن الدلالة فهو ظني لا قطعي فضلا عن أن يكون ضروريا.وإذا كانت العامة في راحة من هذه التكاليف وهم السواد الأعظم فإن الخاصة بالنسبة إليهم أقل قليل قد يوجد واحد منهم في الألف والألفين والثلاثة وقد لا يوجد فهذا هو تعطيل الشريعة.الوجه الثالث: أن قوله الفرعية يخرج الأصلية أي مسائل أصول الدين وأصول الفقه وإلي هذا ذهب الجمهور لا سيما في أصول الدين فقد حكي الأستاذ أبو إسحق في شرح الترتيب: "إن المنع من التقليد فيها هو إجماع أهل العلم من أهل الحق وغيرهم من الطوائف".قال أبو الحسين بن القطان "لا نعلم خلافا في امتناع التقليد في التوحيد".وحكاه ابن السمعاني عن جميع المتكلمين وطائفة من الفقهاء.وقال إمام الحرمين في الشامل: "لم يقل بالتقليد في الأصول إلا الحنابلة".وقال الإسفراييني: "لم يخالف فيه إلا أهل الظاهر".ولم يحك ابن الحاجب الخلاف في ذلك إلا عن العنبرى وحكاه في المحصول عن كثير من الفقهاء واستدل الجمهور على منع التقليد في ذلك بأن الأمة أجمعت على وجوب معرفة الله سبحانه وأنها لا تحصل بالتقليد لأن المقلد ليس معه إلا والأخذ بقول من يقلده ولا يدرى أهو صواب أم خطأ؟.واعلم أن ذكر الفرعية يغنى عن ذكر العملية وما قيل من أن قيد العملية لإخراج الفرعية العلمية كمسألة الشفاعة وفسق من خالف الإجماع فذلك غير جيد لأن هاتين المسألتين ليستا بفرعيتين فقد خرجتا من قيد الفرعية.ودعوى أنهما فرعيتان علميتان باطلة وإن زعم ذلك بعض شراح الأزهار والأثمار وارتضاه
আর যদি তিনি এই দু’টি অর্থ ব্যতিরেকে অন্য কিছু উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে আমরা জানি না সেটি কী এবং সাধারণভাবে কেউই তা বলেননি। মূলত এটি একটি ভয়াবহ বিপর্যয় এবং এক অন্ধ, বধির ও মূক বক্তব্য। বিষয়টি আপনি স্মরণে রাখুন, কেননা তিনি তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে এর পুনরাবৃত্তি করেছেন।আল-জালাল (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই আলোচনার শেষে যা উল্লেখ করেছেন এবং যেটিকে এর একটি ফলাফল হিসেবে পেশ করেছেন—অর্থাৎ সাধারণ মানুষ কেবল অত্যাবশ্যকীয় বিষয়াদি (ضروريات) পালনে আদিষ্ট—তা কানে আসা অদ্ভুত বিষয়গুলোর অন্যতম। কারণ এটি সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) লঙ্ঘনকারী এবং এমন একটি বাতিল কথা যাতে বিজ্ঞজনদের মধ্যে কোনো বিবাদ নেই। যারই ইলমের সামান্য অংশ এবং বুঝ-জ্ঞানের কিছু না কিছু আছে, সে জানে যে কিতাব ও সুন্নাহর মাধ্যমে প্রমাণিত এই বিধানগুলো প্রত্যেক বুদ্ধিমান প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য অপরিহার্য; তাদের মধ্যে কেউই এর বাইরে নয়, যতক্ষণ না কোনো দলিল (دليل) তাকে নির্দিষ্ট করে। আর এগুলোর মধ্যে যা অত্যাবশ্যকীয় (ضروريات), তা সবকিছুর তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য ও বিরল। সাধারণ মানুষের মধ্য হতে যারা আল্লাহর নাফরমানিতে লিপ্ত, তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘনকারী এবং তাঁর পবিত্র বিধানের অবমাননাকারী, তারা যদি এই মুহাক্কিক (গবেষক)-এর এই আলোচনা সম্পর্কে জানত, তবে তাতে তাদের চক্ষু শীতল হতো এবং তাদের অন্তর আশ্বস্ত হতো। আর যারা তাদের ওপর আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডবিধি (حدود) কার্যকর করতে চায় এবং তাদের কাছে শরীয়তের বিধান পালন অর্থাৎ নির্দেশিত কাজের সম্পাদন ও নিষিদ্ধ কাজের বর্জনের দাবি জানায়, তাদের বিরুদ্ধে তারা একেই প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করাতো। কেননা অধিকাংশ শরয়ী ওয়াজিব (واجبات) এবং ধর্মীয় হারাম (محرمات) বিষয়সমূহ সাধারণ (عام) ভাষ্যের মাধ্যমে সাব্যস্ত, যা নির্দেশনার দিক থেকে ধারণাপ্রসূত (ظني)। আর যা ধারণাপ্রসূত (ظني) প্রমাণ বা ধারণাপ্রসূত (ظني) নির্দেশনার মাধ্যমে প্রমাণিত, তা তো জন্নী (ظني), সুনিশ্চিত (قطعي) নয়; অত্যাবশ্যকীয় (ضروري) হওয়া তো দূরের কথা।আর সাধারণ মানুষ—যারা জনসংখ্যার বিশাল অংশ—যদি এই দায়বদ্ধতা থেকে শান্তিতে থাকে, তবে তাদের তুলনায় বিশিষ্টজনরা তো সংখ্যায় অতি নগণ্য; হাজারে, দুই হাজারে বা তিন হাজারে হয়তো একজন পাওয়া যেতে পারে, আবার কখনো পাওয়াও যায় না। এমতাবস্থায় এটি তো শরীয়তকেই অকেজো করে দেওয়ার নামান্তর।তৃতীয় দিক: তাঁর ‘শাখা-প্রশাখাগত’ (الفرعية) কথাটি ‘মূলগত’ (الأصلية) বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে দেয়, অর্থাৎ দ্বীনের উসুল (أصول الدين) এবং ফিকহের উসুল (أصول الفقه)-এর মাসআলাসমূহ। সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) উলামাগণ এই মতই পোষণ করেছেন, বিশেষ করে দ্বীনের উসুলের ক্ষেত্রে। উস্তাদ আবু ইসহাক ‘শারহুত তারতীব’-এ বর্ণনা করেছেন: “এসব বিষয়ে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) নিষিদ্ধ হওয়ার ওপর হকপন্থী ও অন্যান্য দলভুক্ত আহলে ইলমদের ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”আবু আল-হুসাইন বিন আল-কাত্তান বলেন: “তাওহীদের ক্ষেত্রে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে আমরা কোনো মতভেদ জানি না।”ইবনে সামআনী এটি সমস্ত মুতাকাল্লিম ও একদল ফকীহর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন।ইমামুল হারামাইন ‘আশ-শামিল’ গ্রন্থে বলেন: “উসুল (أصول)-এর ক্ষেত্রে হাম্বলীগণ ছাড়া আর কেউ অন্ধ অনুসরণের (تقليد) কথা বলেনি।”ইসফরাইনী বলেন: “আহলে জাহির (أهل الظاهر) ছাড়া আর কেউ এতে দ্বিমত করেনি।”ইবনুল হাজিব এ ব্যাপারে একমাত্র আল-আনবারীর পক্ষ থেকে মতভেদের কথা উল্লেখ করেছেন, আর ‘আল-মাহসুল’ গ্রন্থে অনেক ফকীহর পক্ষ থেকে তা বর্ণিত হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) উলামাগণ এসব বিষয়ে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে এই দলিল (دليل) পেশ করেছেন যে, উম্মাহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে জানার আবশ্যিকতার ওপর একমত হয়েছে, আর তা অন্ধ অনুসরণের (تقليد) মাধ্যমে অর্জিত হয় না। কেননা মুকাল্লিদ (مقلد)-এর কাছে কেবল যার অনুসরণ করা হচ্ছে তার কথা গ্রহণ করা ছাড়া আর কিছু থাকে না, সে জানে না যে বিষয়টি সঠিক নাকি ভুল।জেনে রাখুন যে, ‘শাখা-প্রশাখাগত’ (الفرعية) পদের উল্লেখ ‘আমলগত’ (العملية) পদের উল্লেখ থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়। আর যে কথা বলা হয়েছে যে, ‘আমলগত’ শর্তটি ‘শাখা-প্রশাখাগত তাত্ত্বিক’ (الفرعية العلمية) বিষয়গুলো—যেমন শাফাআতের মাসআলা এবং ঐকমত্য (إجماع) বিরোধীর ফাসেক হওয়ার বিষয়টি—বর্জন করার জন্য আনা হয়েছে, তা সঠিক নয়। কারণ এই দুটি মাসআলা শাখা-প্রশাখাগত বিষয়ের অন্তর্ভুক্তই নয়, তাই এগুলো শাখা-প্রশাখাগত (الفرعية) পদের কারণেই বাদ পড়ে যায়।আর এই দাবি যে এগুলো শাখা-প্রশাখাগত তাত্ত্বিক বিষয়, তা বাতিল; যদিও ‘আল-আযহার’ ও ‘আল-আসমার’-এর কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার এমনটি দাবি করেছেন এবং তা গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الأمير في حاشيته على ضوء النهار بل هما أصليتان من مسائل أصول الدين ولا خلاف في ذلك بين علماء هذين العلمين.وهذه القيود مبنية على الاصطلاح والاعتبار بما وقع عليه التواضع بين أهله.والمراد بالفرعية ما كان موضعها الفعل أو الوصف فلا يرد ما أورده الجلال على قيد العملية وكان الأولى له أن يذكر ما ذكرناه من كونه مستدركا.وهكذا قوله الظنية والقطعية فإنه قد أغنى عن ذلك قوله الفرعية لأن إطلاق الفرعية بتنأول قطعيها وظنيها.وهكذا قوله لغير المجتهد لا له ولو وقف على نص أعلم له فإن عدم تجويز التقليد للمجتهد يفيد أنه لا يجوز له بحال لا لمن هو مثله ولا لمن هو فوقه لكونه قد حصل له باجتهاده ما هو المانع من التقليد على كل حال ولكل أحد.وهكذا قوله ولا في عملي يترتب على علمي كالموالاة والمعاداة فإن هذا العملي هو من مسائل الأصول لا من مسائل الفروع فقد خرج بقيد الفرعية فلو قال المصنف هكذا:"فصل: التقليد في الفروع جائز لغير المجتهد" لكان أخصر وأظهر وأوضح معنى فإن ما زاد على هذا من القيود التي ذكرها ليس فيه إلا مجرد التكرار مع إيهام التناقض في البعض من ذلك.الوجه الرابع: في الكلام على جواز التقليد.اعلم أنه قد ذهب الجمهور إلي أنه غير جائز قال القرافي مذهب مالك وجمهور العلماء وجوب الاجتهاد وإبطال التقليد وادعى ابن حزم الإجماع على النهي عن التقليد ورواه مالك وأبو حنيفة والشافعي وروى المروزي عن الشافعي في أول مختصرة أنه لم يزل ينهى عن تقليده وتقليد غيره.وقد ذكرت نصوص الأئمة الأربعة المصرحة بالنهي عن التقليد لهم في الرسالة التي سميتها "القول المفيد في حكم التقليد".والحاصل أن المنع من التقليد إن لم يكن إجماعا فهو مذهب الجمهور ومن اقتصر في حكاية المنع من التقليد على المعتزلة فهو لم يبحث عن اقوال أهل العلم في هذه المسألة كما ينبغي.وقد حكي عن بعض الحشوية أنهم يوجبون التقليد مطلقا ويحرمون النظر وهؤلاء لم يقنعوا بما هم فيه من الجهل حتى أوجبوه على غيرهم فإن التقليد جهل وليس بعلم.وذهب جماعة إلي التفصيل فقالوا يجب على العامي ويحرم على المجتهد وبهذا قال كثير من أتباع الأربعة ولكن هؤلاء الذين قالوا بهذا القول من أتباع الأئمة يقرون على أنفسهم بأنهم مقلدون والمعتبر في الخلاف إنما هو قول المجتهدين لا قول المقلدين.والعجب من بعض المصنفين في الأصول فإنه نسب هذا القول المشتمل على التفصيل إلي
আল-আমীর তার 'দ্বাউল নাহার'-এর হাশিয়া বা টীকাগ্রন্থে বলেন যে, বরং এ দুটি দ্বীনের মৌলিক (أصول) মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এই দুই শাস্ত্রের আলেমদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।আর এই শর্তাবলি পরিভাষা এবং এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের নিকট প্রচলিত রীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।'শাখা-প্রশাখাগত' (الفرعية) বলতে বুঝানো হয়েছে যার ক্ষেত্র হলো কাজ বা গুণ। সুতরাং আল-জালাল 'ব্যবহারিক' (العملية) শর্তটির ওপর যে আপত্তি উত্থাপন করেছেন তা টিকবে না। বরং তার জন্য সমীচীন ছিল আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই উল্লেখ করা যে, এটি একটি অতিরিক্ত সংযোজন (مستدرك)।একইভাবে তার উক্তি 'ধারণাপ্রসূত' (الظنية) এবং 'সুনিশ্চিত' (القطعية)-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; কারণ তার 'শাখা-প্রশাখাগত' (الفرعية) কথাটিই এগুলো থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়। কেননা 'শাখা-প্রশাখাগত' (الفرعية) শব্দটি সাধারণভাবে এর সুনিশ্চিত (قطعي) এবং ধারণাপ্রসূত (ظني) উভয় প্রকারকেই অন্তর্ভুক্ত করে।তদ্রূপ তার উক্তি: 'গাইরে মুজতাহিদের জন্য, মুজতাহিদের জন্য নয়, যদিও সে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কারো নস বা বক্তব্যের (نص) ওপর অবগত হয়।' কারণ মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য অন্ধ অনুসরণ (التقليد) বৈধ না হওয়া একথাই বুঝায় যে, তার জন্য কোনো অবস্থাতেই এটি বৈধ নয়; না তার সমপর্যায়ের কারো ক্ষেত্রে, আর না তার চেয়ে উচ্চপর্যায়ের কারো ক্ষেত্রে। কেননা তার গবেষণা (اجتهاد)-এর মাধ্যমে এমন কিছু অর্জিত হয়েছে যা তাকে সর্বাবস্থায় এবং সবার ক্ষেত্রে অন্ধ অনুসরণ (التقليد) থেকে বিরত রাখে।একইভাবে তার উক্তি: 'আর এমন কোনো ব্যবহারিক বিষয়ে নয় যা জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল, যেমন বন্ধুত্ব ও শত্রুতা।' কারণ এই ব্যবহারিক বিষয়টি দ্বীনের মৌলিক (أصول) মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত, শাখা-প্রশাখাগত (فروع) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং তা 'শাখা-প্রশাখাগত' (الفرعية) শর্তের মাধ্যমেই বাদ পড়ে যায়। তাই গ্রন্থকার যদি এভাবে বলতেন:"পরিচ্ছেদ: শাখা-প্রশাখাগত (فروع) বিষয়ে অন্ধ অনুসরণ (التقليد) গাইরে মুজতাহিদের জন্য বৈধ" - তবে তা সংক্ষিপ্ততর, অধিক স্পষ্ট এবং অর্থগতভাবে পরিষ্কার হতো। কারণ তিনি যেসব অতিরিক্ত শর্ত উল্লেখ করেছেন তাতে কেবল পুনরাবৃত্তিই রয়েছে এবং সেগুলোর কোনো কোনোটি আবার বিরোধের সংশয় সৃষ্টি করে।চতুর্থ দিক: অন্ধ অনুসরণের (التقليد) বৈধতা প্রসঙ্গে আলোচনা।জেনে রাখুন যে, জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগুরু আলেমগণের মতে এটি বৈধ নয়। আল-কারাফি বলেছেন, ইমাম মালেকের মাযহাব এবং জমহুর আলেমগণের মত হলো গবেষণা (الاجتهاد) ওয়াজিব হওয়া এবং অন্ধ অনুসরণকে (التقليد) বাতিল গণ্য করা। ইবনে হাযম অন্ধ অনুসরণ (التقليد) নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যের (الإجماع) দাবি করেছেন। ইমাম মালেক, আবু হানিফা ও শাফেয়ি থেকেও তা বর্ণিত হয়েছে। আল-মারওয়াযি ইমাম শাফেয়ি থেকে তার মুখতাসারের শুরুতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (শাফেয়ি) সর্বদা তাকে এবং অন্য কাউকে অন্ধ অনুসরণ (التقليد) করতে নিষেধ করতেন।আর আমি চার ইমামের সেই বক্তব্যসমূহ (نصوص) উল্লেখ করেছি যাতে স্পষ্টভাবে তাদের অন্ধ অনুসরণ (التقليد) করতে নিষেধ করা হয়েছে, আমার সেই পুস্তিকায় যার নাম দিয়েছি 'আল-কাওলুল মুফিদ ফি হুকমিত তাকলিদ'।সারকথা হলো, অন্ধ অনুসরণ (التقليد) নিষিদ্ধ হওয়া যদি সর্বসম্মত (إجماع) নাও হয়, তবে এটি জমহুর বা সংখ্যাগুরু আলেমদের মাযহাব। আর যারা অন্ধ অনুসরণ (التقليد) নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি কেবল মুতাজিলাদের দিকেই নিসবত করে বা সীমাবদ্ধ রাখে, সে এই মাসআলায় আলেমদের মতামত সম্পর্কে যথাযথভাবে অনুসন্ধান করেনি।হাশবিয়াদের কারো কারো থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা অন্ধ অনুসরণকে (التقليد) নিরঙ্কুশভাবে ওয়াজিব মনে করে এবং দলিল-প্রমাণ নিয়ে চিন্তা-গবেষণাকে হারাম বলে। এরা নিজেদের অজ্ঞতাতেই সন্তুষ্ট থাকেনি, বরং তা অন্যদের ওপরও আবশ্যক করে দিয়েছে; অথচ অন্ধ অনুসরণ (التقليد) হলো অজ্ঞতা, তা কোনো জ্ঞান নয়।একটি দল বিস্তারিত ব্যাখ্যার দিকে গিয়েছেন। তারা বলেন, সাধারণ মানুষের (العامي) জন্য এটি ওয়াজিব এবং মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য হারাম। চার মাযহাবের অনেক অনুসারীই এই কথা বলেছেন। কিন্তু আইম্মায়ে কেরামের অনুসারীদের মধ্য থেকে যারা এই মতটি ব্যক্ত করেছেন, তারা নিজেদের মুকাল্লিদ বা অন্ধ অনুসারী হিসেবেই স্বীকার করেন। আর মতভেদের ক্ষেত্রে কেবল মুজতাহিদদের (مجتهدين) বক্তব্যই ধর্তব্য হয়, মুকাল্লিদদের নয়।উসুল শাস্ত্রের কোনো কোনো লেখকের প্রতি বিস্ময় জাগে যে, তিনি এই বিস্তারিত ব্যাখ্যামূলক কথাটিকে নিসবত করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الأكثر وجعل الحجة لهم الإجماع على عدم الإنكار على المقلدين.فإن أراد إجماع الصحابة فهم لم يسمعوا بالتقليد فضلا عن أن يقولوا بجوازه وكذلك التابعون لم يسمعوا بالتقليد ولا ظهر فيهم بل كان المقصر في زمان الصحابة والتابعين يسأل العالم منهم عن المسألة التي تعرض له فيروى له النص فيها من الكتاب أو السنة وهذا ليس من التقليد في شيء بل هو من باب طلب حكم الله في المسألة والسؤال عن الحجة الشرعية.وقد عرفت مما قدمنا أن المقلد إنما يعمل بالرأي لا بالرواية من غير مطالبة بحجة وإن أراد إجماع الأئمة الأربعة فقد عرفت أنهم مصرحون بالمنع من التقليد لهم ولغيرهم ولم يزل من كان في عصرهم منكرا لذلك أشد إنكار وإن أراد إجماع المقلدين للأئمة الأربعة فقد عرفت أنه لا يعتبر خلاف المقلد فكيف ينعقد بقولهم الإجماع وإن أراد غيرهم فمن هم فإنه لم يزل أهل العلم في كل عصر منكرين للتقليد وهذا معلوم لكل من يعرف أقوال أهل العلم.والحاصل أنه لم يأت من جوز التقليد فصلا عمن أوجبه بحجة ينبغي الاشتغال بجوابها قط وقد أوضحنا هذا في رسالتنا المسماة بالقول المفيد في حكم التقليد وفي كتابنا الموسوم "بأدب الطلب ونهاية الأرب".وأما ما ذكروه من استبعاد أن يفهم المقصرون نصوص الشرع وجعلوا ذلك مسوغا للتقليد فليس الأمر كما ظنوه فهاهنا واسطة بين الاجتهاد والتقليد وهي سؤال الجأهل للعالم عن الشرع فيما يعرض له لا عن رأيه البحت واجتهاده المحض وعلى هذا كان عمل المقصرين من الصحابة والتابعين وتابعيهم.ومن لم يسعه ما وسع هؤلاء الذين هم أهل القرون الثلاثة الفاضلة على ما بعدها فلا وسع الله عليه.وما أحسن ما قاله الزركشي في البحر عن المزني فإنه قال يقال لمن حكم بالتقليد هل لك من حجة فإن قال نعم أبطل التقليد لأن الحجة أوجبت ذلك عنده لا التقليد.وإن قال بغير علم قيل له فلم أرقت الدماء وأبحت الفروج والأموال وقد حرم الله ذلك إلا بحجة!!فإن قال أنا أعلم أني أصبت وإن لم أعرف الحجة لأن معلمي من كبار العلماء قيل له تقليد معلم معلمك أولى من تقليد معلمك لأنه لا يقول إلا بحجة خفيت عن معلمك كما لم يقل معلمك إلا بحجة خفيت عليك.فإن قال نعم ترك تقليد معلمه إلي تقليد معلم معلمه وكذلك حتى ينتهي إلي العالم من الصحابة.فإن أبى ذلك نقض قوله وقيل له كيف يجوز تقليد من هو أصغر واقل علما ولا يجوز تقليد من هو أكبر وأكثر علما؟.وقد روى عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه حذر من زلة العالم وعن ابن مسعود أنه قال: "لا
অধিকাংশ লোক এবং তারা যে দলিলটি পেশ করে তা হলো মুকাল্লিদদের (مقلدين) প্রতি আপত্তি না করার ওপর ঐক্যমত্য (إجماع)।যদি এর দ্বারা সাহাবীদের (صحابة) ঐক্যমত্য (إجماع) বুঝানো হয়, তবে তারা তো তাকলিদ (تقليد) সম্পর্কে শোনেনইনি, এর বৈধতার কথা বলা তো দূরের কথা। অনুরূপভাবে তাবেয়ীগণও (تابعون) তাকলিদ (تقليد) সম্পর্কে শোনেননি এবং তাদের মাঝে এর বহিঃপ্রকাশও ঘটেনি। বরং সাহাবী ও তাবেয়ীদের যুগে জ্ঞানগতভাবে অপরিপক্ক ব্যক্তিরা তাদের সামনে আসা সমস্যা নিয়ে আলেমদের কাছে জিজ্ঞেস করতেন, আর আলেমরা কিতাব বা সুন্নাহ থেকে তার সমাধান বর্ণনা করতেন। এটি কোনোভাবেই তাকলিদ (تقليد) নয়, বরং এটি হলো কোনো বিষয়ে আল্লাহর হুকুম তালাশ করা এবং শরয়ি দলিলের (حجة) ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা।আমরা ইতিপূর্বে যা আলোচনা করেছি তা থেকে আপনি জেনেছেন যে, মুকাল্লিদ (مقلد) কোনো দলিল (حجة) তলব করা ছাড়াই কেবল মতের (رأي) ওপর আমল করে, বর্ণনার (رواية) ওপর নয়। আর যদি তারা চার ইমামের ঐক্যমত্য (إجماع) উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে আপনি জেনেছেন যে, তারা স্পষ্টভাবেই তাদের নিজেদের বা অন্য কারো তাকলিদ (تقليد) করতে নিষেধ করেছেন। তাদের যুগে যারা ছিলেন তারা সবসময়ই এর তীব্র বিরোধিতা করে এসেছেন। আর যদি তারা চার ইমামের অনুসারীদের (مقلدين) ঐক্যমত্য (إجماع) বুঝাতে চান, তবে আপনি জেনেছেন যে, মুকাল্লিদের (مقلد) ভিন্নমত গ্রহণযোগ্য নয়, তবে তাদের বক্তব্যে কীভাবে ঐক্যমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হবে? আর যদি তারা অন্য কারো কথা বুঝিয়ে থাকেন, তবে তারা কারা? কেননা প্রত্যেক যুগের আলেমগণই সর্বদা তাকলিদের (تقليد) বিরোধিতা করে এসেছেন। যারা আলেমদের বক্তব্য সম্পর্কে অবগত তাদের নিকট এটি সুপরিচিত।সারকথা হলো, যারা তাকলিদকে (تقليد) জায়েজ বলেছেন, আর যারা একে ওয়াজিব (واجب) করেছেন তাদের তো কথাই নেই, তারা এমন কোনো দলিল (حجة) পেশ করতে পারেননি যার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। আমি বিষয়টি আমার রিসালা 'আল-কাউলুল মুফিদ ফি হুকমিত তাকলিদ' এবং 'আদাবুত তালাব ওয়া নিহায়াতুল আরাব' কিতাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছি।আর তারা যে সাধারণ বা জ্ঞানগতভাবে অপরিপক্ক লোকদের জন্য শরয়ি নসসমূহ (نصوص) বোঝা অসম্ভব বলে মনে করেছেন এবং একে তাকলিদের (تقليد) স্বপক্ষে যুক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন, বিষয়টি তাদের ধারণার মতো নয়। কেননা এখানে ইজতিহাদ (اجتهاد) এবং তাকলিদের (تقليد) মাঝখানে একটি মাধ্যম রয়েছে; আর তা হলো—অজ্ঞ ব্যক্তি তার সামনে আসা সমস্যার ক্ষেত্রে শরয়ি হুকুম সম্পর্কে আলেমকে জিজ্ঞাসা করবে, আলেমের একান্ত ব্যক্তিগত মতামত বা নিছক ইজতিহাদের (اجتهاد) ব্যাপারে নয়। সাহাবী, তাবেয়ী এবং তবে-তাবেয়ীদের যুগের সাধারণ মানুষের কর্মপন্থা এমনই ছিল।শ্রেষ্ঠ তিন প্রজন্মের (قرون) মানুষদের জন্য যা যথেষ্ট ছিল, তা যদি পরবর্তী কারো জন্য যথেষ্ট না হয়, তবে আল্লাহ তাকে প্রশস্ততা দান করবেন না।আল-বাহর কিতাবে যারকাশী ইমাম মুযানী থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তা কতই না চমৎকার! তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি তাকলিদের (تقليد) মাধ্যমে ফয়সালা করে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে—আপনার কাছে কি কোনো দলিল (حجة) আছে? যদি সে বলে 'হ্যাঁ', তবে সে তাকলিদকে (تقليد) বাতিল করে দিল। কারণ তার নিকট বিষয়টি দলিলের (حجة) কারণে আবশ্যক হয়েছে, তাকলিদের (تقليد) কারণে নয়।আর যদি সে বলে যে সে জ্ঞান ছাড়াই এটি করেছে, তবে তাকে বলা হবে—কেন আপনি রক্তপাত করলেন এবং যৌনাঙ্গ ও সম্পদকে বৈধ করলেন, অথচ আল্লাহ তাআলা দলিল (حجة) ছাড়া এগুলোকে হারাম করেছেন!!সে যদি বলে—আমি জানি যে আমি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যদিও আমি দলিল (حجة) জানি না, কারণ আমার শিক্ষক বড় আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। তখন তাকে বলা হবে—আপনার শিক্ষকের শিক্ষকের তাকলিদ (تقليد) করা আপনার শিক্ষকের তাকলিদের (تقليد) চেয়ে বেশি উত্তম। কারণ তিনি এমন দলিলের (حجة) ভিত্তিতেই কথা বলেছেন যা আপনার শিক্ষকের কাছে অস্পষ্ট ছিল, যেমন আপনার শিক্ষক এমন দলিলের (حجة) ভিত্তিতে বলেছেন যা আপনার কাছে অস্পষ্ট।যদি সে এতে রাজি হয়, তবে সে তার শিক্ষকের তাকলিদ (تقليد) ছেড়ে দিয়ে শিক্ষকের শিক্ষকের তাকলিদ (تقليد) গ্রহণ করল; এভাবে চলতে চলতে তা সাহাবীদের (صحابة) মধ্য থেকে কোনো একজন আলেমের নিকট গিয়ে শেষ হবে।আর যদি সে তা অস্বীকার করে, তবে তার কথাটি বাতিল হয়ে যাবে এবং তাকে বলা হবে—যে ব্যক্তি বয়সে ছোট এবং ইলমে কম তার তাকলিদ (تقليد) করা কীভাবে জায়েজ হয়, অথচ যে ব্যক্তি বয়সে বড় এবং অধিক ইলমের অধিকারী তার তাকলিদ (تقليد) করা জায়েজ হয় না?রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (روى) হয়েছে যে, তিনি আলেমের পদস্খলন সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "না...
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يقلدن أحدكم دينه رجلا إن آمن أمن وإن كفر كفر فإنه لا أسوة في الشر" انتهىوأقول: متمما لهذا الكلام وعند أن ينتهي إلي العالم من الصحابة يقال له هذا الصحأبي أخذ علمه عن أعلم البشر المرسل من الله إلي عباده المعصوم عن الخطأ في أقواله وأفعاله فتقليده أولى من تقليد الصحأبي الذي لم يصل إليه إلا شعبة من شعب علومه وليس له من العصمة شيء ولم يجعل الله سبحانه قوله ولا فعله ولا اجتهاده حجة على أحد من الناس.واعلم أن رأي المجتهد عند عدم الدليل إنما هو رخصة له بلا خلاف في هذا ولا يجوز لغيره العمل به بحال من الأحوال فمن ادعى جواز ذلك فليأتنا بالدليل وهو لا محالة يعجز عنه وعند عجزه عن البرهان يبطل التقليد لأنه كما عرفت العمل برأي الغير من غير حجة.الوجه الخامس: قال الجلال في شرحه "إن تجويز التقليد لغير المجتهد لا له تحكم لأن العامي كالمجتهد".ولا أدري ما أصل هذه الدعوى ولا ما هو الموجب للوقوع فيها فإن هذه التسوية بين من بلغ في العلم إلي أعلى مكان وبين من هو بجهله في أسفل سافلين كالتسوية بين النور والظلمة وبين الجماد والحيوان ولعله أراد إلزام من يجرى على لسانه ذلك من مقصري المقلدة.وأورد الجلال أيضا على قوله في الأزهار ولا في عملي يترتب على علمي بحثين.الأول قد أجاب عنه والثاني أن الفقه كله عملي يترتب على علمي وهو أصول الفقه.وأجاب عنه الأمير في حاشيته بأن المراد بالعلمي المذكور هو العلم بالمعنى الأخص وليس كل مسائل أصول الفقه كذلك بل المترتب منها على العلم بالمعنى الأعم أكثر وأنه شامل للظن هكذا قال.وأقول: إن الفقه مترتب على علمي بالمعنى الأخص وهو إثبات النبوة بالدليل العقلي والنقلي وكل واحد منهما علمى بلا خلاف فالمقلد في جميع ما قلد فيه قد قلد إمامة في عملي مترتب على علمي وهذا يبطل التقليد من أصله ويجتثه من عرقه.ثم أن الأمير رحمه الله في حاشيته ها هنا رجح التفصيل في جواز التقليد لمن كان بليد الفهم جامد الفكرة بعيد النظر دون من كان فيه أهلية للنظر وإدراك للمباحث ولا يخفاك أن هذا التفصيل عليل ودليله كليل فإن ذلك البليد إن بقي له من الفهم ما يفهم ما به من كلام من أراد تقليده فهذه البقية الثابتة له يقوى بها على فهم كلام من يروى له الدليل ويوضح له معناه فليس به إلي التقليد حاجة وليس فهم رأي عالم من العلماء بأظهر من فهم معنى ما جاد به الشرع فما الملجىء له إلي رأي الغير البحث وهو يجد من يروى له ما هو الشرع الذي شرعه الله لعباده؟.وإن قدرنا أنه قد بلغ من البلادة إلي حد لا يفهم معه رأى من يقلده فقد انسد عليه الباب من الجهتين وهو بالمجانين أشبه منه بالعقلاء وليس عليه إلا العمل بما بلغ إليه فهمه ولا يكلفه الله فوق طاقته.
"তোমাদের কেউ যেন তার দ্বীনের ব্যাপারে কোনো ব্যক্তির অন্ধ অনুসরণ (تقليد) না করে; যদি সে ঈমান আনে তবে সেও ঈমান আনবে, আর যদি সে কুফরি করে তবে সেও কুফরি করবে। কারণ মন্দের মধ্যে কোনো অনুসরণ নেই।" সমাপ্ত।আমি এই আলোচনার পরিপূরক হিসেবে বলছি: যখন কোনো আলেম সাহাবীর (صحابي) স্তরে উপনীত হন, তখন তাকে বলা হয় যে, এই সাহাবী (صحابي) তাঁর জ্ঞান অর্জন করেছেন মানবজাতির শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ব্যক্তির কাছ থেকে, যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের নিকট প্রেরিত এবং তাঁর কথা ও কাজে ভুলত্রুটি থেকে সংরক্ষিত (معصوم)। সুতরাং তাঁর অনুসরণ করা সেই ব্যক্তির অনুকরণের চেয়ে অধিকতর উত্তম যার নিকট তাঁর (রাসূলের) জ্ঞানের একটি শাখা মাত্র পৌঁছেছে এবং যার কোনো নিষ্পাপত্ব (عصمة) নেই; আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর কথা, কাজ বা ইজতিহাদকে (اجتهاد) কোনো মানুষের জন্য দলীল (حجة) হিসেবে সাব্যস্ত করেননি।জেনে রাখুন যে, দলীল (دليل) না থাকা অবস্থায় একজন মুজতাহিদের (مجتهد) ব্যক্তিগত রায় কেবল তার নিজের জন্যই একটি বৈধ ছাড় (رخصة)—এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। অন্য কারো জন্য কোনো অবস্থাতেই এর ওপর আমল করা বৈধ নয়। সুতরাং কেউ যদি তা বৈধ হওয়ার দাবি করে, তবে সে যেন আমাদের কাছে দলীল (دليل) পেশ করে; অথচ সে অবশ্যই তা পেশ করতে অক্ষম হবে। আর যখন সে প্রমাণ (برهان) উপস্থাপনে অক্ষম হবে, তখন অন্ধ অনুসরণ (تقليد) বাতিল হয়ে যাবে; কারণ আপনি জানেন যে, এটি হলো কোনো দলীল (حجة) ছাড়াই অন্যের মতের ওপর আমল করা।পঞ্চম দিক: আল-জালাল তার শরাহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন, "মুজতাহিদ (مجتهد) ব্যতীত অন্যদের জন্য অন্ধ অনুসরণ (تقليد) বৈধ করা একটি একতরফা সিদ্ধান্ত, কারণ সাধারণ মানুষ (عامي) মুজতাহিদের (مجتهد) মতোই।"আমি জানি না এই দাবির ভিত্তি কী, কিংবা কী কারণে এটি বলা হয়েছে। কেননা যিনি ইলমের সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছেছেন এবং যিনি নিজের অজ্ঞতার কারণে সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছেন—এই দুইজনের মধ্যে সমতা বিধান করা হলো আলো ও অন্ধকারের মধ্যে কিংবা জড় পদার্থ ও প্রাণীর মধ্যে সমতা বিধান করার মতো। সম্ভবত তিনি সেই ত্রুটিপূর্ণ অনুসারীদের (مقلدة) নিরুত্তর করতে চেয়েছেন যাদের মুখে এই কথাটি সর্বদা উচ্চারিত হয়।আল-জালাল 'আল-আজহার' কিতাবের এই উক্তির ওপর দুটি গবেষণামূলক আপত্তি উত্থাপন করেছেন: "আমার আমল সংক্রান্ত বিষয়ে নয় যা আমার জ্ঞানগত বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল।"প্রথমটির উত্তর তিনি দিয়েছেন; আর দ্বিতীয়টি হলো এই যে, সমগ্র ফিকহ (فقه) হলো আমল বা প্রয়োগ সংক্রান্ত যা জ্ঞানগত বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল, আর তা হলো উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)।আল-আমীর তাঁর হাশিয়া বা টীকায় এর উত্তরে বলেছেন যে, এখানে 'জ্ঞানগত' (علمي) বলতে বিশেষ অর্থের জ্ঞানকে বোঝানো হয়েছে; উসুলুল ফিকহের (أصول الفقه) সব মাসআলা এমন নয়। বরং সাধারণ অর্থের জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল মাসআলাই অধিক এবং তা প্রবল ধারণাকে (ظن) অন্তর্ভুক্ত করে—তিনি এভাবেই বলেছেন।আর আমি বলছি: ফিকহ (فقه) বিশেষ অর্থের 'ইলমী' (علمي) বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল, আর তা হলো আকলি বা যুক্তিভিত্তিক দলীল (دليل) এবং নাকলি বা শ্রুত দলীলের (دليل) মাধ্যমে নবুয়ত প্রমাণ করা। এ দুটির প্রতিটিই কোনো মতভেদ ছাড়াই ইলমী বা নিশ্চিত জ্ঞানভিত্তিক। সুতরাং একজন অনুসারী (مقلد) যা কিছুতে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করে, সে মূলত তার ইমামের এমন কর্মগত বিষয়ের অনুসরণ করেছে যা নিশ্চিত জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। এটি অন্ধ অনুসরণকে (تقليد) এর মূল থেকে বাতিল করে দেয় এবং একে সমূলে উৎপাটন করে।অতঃপর আল-আমীর (রহিমাহুল্লাহ) এখানে তাঁর টীকায় সেই ব্যক্তির জন্য অন্ধ অনুসরণের (تقليد) বৈধতার ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন যার বোধশক্তি স্থূল, চিন্তা জড়তাপূর্ণ এবং দূরদর্শিতা নেই; তবে যার মধ্যে বিচার-বিশ্লেষণ ও গবেষণার যোগ্যতা আছে তার জন্য নয়। আপনার কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, এই বিভাজনটি ত্রুটিপূর্ণ এবং এর দলীল (دليل) দুর্বল। কারণ সেই স্থূলবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তির যদি এতটুকু বোধশক্তি অবশিষ্ট থাকে যার মাধ্যমে সে যার অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করতে চায় তার কথা বুঝতে পারে, তবে তার এই অবশিষ্ট বোধশক্তি দিয়ে সে তার কাছে বর্ণিত দলীলের (دليل) কথা এবং এর অর্থ বুঝতেও সক্ষম হবে। সুতরাং তার অন্ধ অনুসরণের (تقليد) কোনো প্রয়োজন নেই। কোনো আলেমের ব্যক্তিগত রায় বোঝা শরয়ি বিধানের মর্ম উপলব্ধির চেয়ে বেশি স্পষ্ট নয়। অতএব, অন্যের ব্যক্তিগত রায়ের দিকে ধাবিত হওয়ার কী প্রয়োজন যখন সে এমন ব্যক্তি পাচ্ছে যে তাকে আল্লাহর শরিয়ত বর্ণনা করে শোনাচ্ছে যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য বিধান করেছেন?আর যদি আমরা ধরে নেই যে সে এমন চরম নির্বুদ্ধিতার স্তরে পৌঁছেছে যে তার পক্ষে যার অন্ধ অনুসরণ (مقلد) করা হয় তার রায় বোঝাও সম্ভব নয়, তবে তার জন্য উভয় দিক থেকেই পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে সে বুদ্ধিমানদের চেয়ে পাগলদের পর্যায়ভুক্ত হওয়ারই অধিক যোগ্য। আর তার বোধশক্তির সীমানায় যতটুকু পৌঁছেছে তার ওপর আমল করা ছাড়া তার আর কিছু করার নেই; আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো দায়িত্ব অর্পণ করেন না।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
[فصل وإنما يقلد مجتهد عدل تصريحا وتأويلا ويكفى المغرب انتصابه للفتيا في بلد شوكته لإمام حق لا يرى جواز تقليد فاسق التأويل]قوله: "فصل: وإنما يقلد مجتهد"أقول: الاجتهاد في اللغة مأخوذ من الجهد وهو المشقة والطاقة فيختص بما فيه مشقة ليخرج عنه ما لا مشقة فيه.قال الرازي في المحصول هو في اللغة عبارة عن استفراغ الوسع في أي فعل كان يقال استفرغ ووسعه في حمل الثقيل ولا يقال استفرغ وسعه في حمل النواة وأما في عرف الفقهاء فهو استفراغ الوسع في النظر فيما لا يلحقه فيه لوم مع استفراغ فيه.وهذا سبيل مسائل الفروع وكذلك تسمى هذه المسائل مسائل الاجتهاد والناظر فيها مجتهد وليس هكذا حال الأصول انتهى.وقد ذكرت في كتأبي الموسوم بإرشاد الفحول إلي تحقيق الحق من علم الأصول ما ذكره أهل الأصول وغيرهم في تحقيق الاجتهاد وشروط المجتهد وعقبت ذلك بما هو الراجح عندي وقد أطلت الكلام على ذلك في كتأبي الموسوم بأدب الطلب ومنتهى الأرب وذكرت فيه مراتب للمجتهدين ولما يحتاج كل واحد منهم إليه وهو تحقيق لم أسبق إليه.وقد اختلف في رسم العدالة وأحسن ما قيل في ذلك أنها ملكة للنفس تمنعها عن اقتراف الكباشر والرذائل فمن كان كذلك فهو عدل ومن لم يكن كذلك فليس بعدل لأن الإقدام على كبائر الذنوب يجعل صاحبه مظنة للتهمة فهو غير مأمون على علم الشرع وأيضا مرتكب ذلك مسلوب الأهلية فليس من المتأهلين للاقتداء به في مسائل الدين.وهكذا الإقدام على الرذائل فإنه يدل على سقوط النفس وانحطاط رتبة فاعله عن رتبة حملة العلم الذين جعلهم الله أمناء على دينه وأمر عباده بسؤالهم عند الحاجة.وقد أورد الجلال هاهنا بحثا فقال إن العدالة والاجتهاد ملكة نفسية ولا سبيل إلي الاطلاع عليها إلا بقرائن نظرية إلي أن قال فلا بد من التقليد فيهما وهما عمليان وما يترتب عليهما عملي يترتب على علمي.ويجاب عنه بأن هذا ليس من التقليد في شيء بل هو من باب قبول الرواية ممن له قدرة على معرفة هذه الملكة الاجتهادية.وأما ملكة العدالة فهي معروفة للمقصر والكامل والاعتبار إنما هو بما يدل عليها من الأفعال والأقوال ومن ترك ما ينافيها وذلك قبول رواية لا قبول رأي ثم إن مسائل الدين بأسرها مترتبة على علمي فتخصيص بعضها بإيراد الإلزام بها ليس كما ينبغي.قوله: "تصريحا وتأويلا".
[পরিচ্ছেদ: কেবল সেই গবেষণাকারী (مجتهد) ব্যক্তিকেই অনুসরণ করা যাবে যিনি স্পষ্টত এবং ব্যাখ্যামূলকভাবে ন্যায়পরায়ণ (عدل)। পশ্চিমাঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য সেই ব্যক্তির ফতোয়া (فتيا) প্রদানই যথেষ্ট যাকে একজন সত্যপন্থী ইমাম (إمام حق) শক্তিশালী কোনো জনপদে নিযুক্ত করেছেন, যিনি ব্যাখ্যামূলক পাপাচারীর (فاسق التأويل) অনুসরণ বৈধ মনে করেন না]তাঁর উক্তি: "পরিচ্ছেদ: আর কেবল গবেষণাকারী (مجتهد) ব্যক্তিকেই অনুসরণ করা হবে"আমি বলছি: আভিধানিক অর্থে গবেষণা (اجتهاد) শব্দটি 'জুহদ' (جهد) শব্দ হতে গৃহীত, যার অর্থ হলো কঠোর পরিশ্রম ও সামর্থ্য। এটি কেবল সেই কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাতে কঠোর পরিশ্রম রয়েছে, যাতে পরিশ্রমহীন কাজগুলো এর থেকে পৃথক থাকে।ইমাম রাজী তাঁর ‘আল-মাহসুল’ গ্রন্থে বলেছেন: আভিধানিক পরিভাষায় এটি যেকোনো কাজে সামর্থ্যের পূর্ণ প্রয়োগ ঘটানোকে বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়, সে ভারী বোঝা বহনে তার সামর্থ্যের পূর্ণ প্রয়োগ করেছে; কিন্তু তিলের দানা বহনের ক্ষেত্রে এ কথা বলা হয় না। আর ফকিহগণের পরিভাষায় এর অর্থ হলো, এমন বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে সামর্থ্যের পূর্ণ প্রয়োগ করা যাতে কোনো প্রকার বিচ্যুতি ঘটলে তিরস্কৃত হতে হয় না।আর শাখা-প্রশাখাগত মাসআলাগুলোর (فروع) পদ্ধতিও এমনই। একইভাবে এই মাসআলাগুলোকে গবেষণালব্ধ মাসআলা (مسائل الاجتهاد) বলা হয় এবং এতে গবেষণারত ব্যক্তিকে গবেষণাকারী (مجتهد) বলা হয়। তবে মূলনীতি (أصول) শাস্ত্রের বিষয়টি এমন নয়। সমাপ্ত।আমি আমার 'ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল' নামক গ্রন্থে ইজতিহাদের স্বরূপ এবং গবেষণাকারীর (مجتهد) শর্তাবলি সম্পর্কে উসুল শাস্ত্রবিদ ও অন্যান্যদের বর্ণনা উল্লেখ করেছি এবং সেগুলোর শেষে আমার নিকট যেটি অধিকতর সঠিক (راجح) তা ব্যক্ত করেছি। এছাড়া আমি 'আদাবুত তালাব ওয়া মুনতাহাল আরাব' নামক গ্রন্থেও এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছি এবং সেখানে গবেষণাকারীদের (مجتهدين) বিভিন্ন স্তর এবং তাদের প্রত্যেকের কী প্রয়োজন সে সম্পর্কে বর্ণনা করেছি; এটি এমন একটি সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ যা ইতিপূর্বে কেউ করেনি।ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। এ সম্পর্কে সবচেয়ে উত্তম যা বলা হয়েছে তা হলো: এটি আত্মার এমন একটি গুণ যা তাকে কবিরা গুনাহ (كبائر) এবং হীন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে বাধা দেয়। যার মধ্যে এই গুণ বিদ্যমান সে ন্যায়পরায়ণ (عدل), আর যার মধ্যে এটি নেই সে ন্যায়পরায়ণ (عدل) নয়। কারণ কবিরা গুনাহে লিপ্ত হওয়া ব্যক্তিকে সন্দেহের পাত্র করে তোলে, ফলে শরয়ি জ্ঞানের ক্ষেত্রে সে আর বিশ্বস্ত থাকে না। অধিকন্তু, এমন পাপে লিপ্ত ব্যক্তি যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে, তাই দ্বীনি বিষয়ে অনুকরণের যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে সে অন্তর্ভুক্ত থাকে না।একইভাবে হীন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া আত্মার অবক্ষয় এবং ব্যক্তির মর্যাদার পতনকে নির্দেশ করে, যা তাকে সেই জ্ঞান বহনকারীদের পর্যায় থেকে নিচে নামিয়ে দেয় যাদের আল্লাহ তাঁর দ্বীনের বিশ্বস্ত আমানতদার বানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে বান্দাদের তাদের নিকট প্রশ্ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন।আল-জালাল এখানে একটি তাত্ত্বিক আলোচনা পেশ করেছেন এবং বলেছেন যে, ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং গবেষণা করার ক্ষমতা (اجتهاد) হলো আত্মিক গুণ। তাত্ত্বিক লক্ষণাদি ব্যতীত এগুলো অবগত হওয়ার কোনো পথ নেই। তিনি আরও বলেন: তাই এই উভয় ক্ষেত্রে অনুসরণ (تقليد) করা আবশ্যক এবং এগুলো ব্যবহারিক বিষয়, আর যা ব্যবহারিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে তা জ্ঞানগত বিষয়ের ওপরও নির্ভর করে।এর উত্তরে বলা হয় যে, এটি কোনোভাবেই অন্ধ অনুসরণ (تقليد)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি সেই ব্যক্তির বর্ণনা (رواية) কবুল করার অন্তর্ভুক্ত যার এই গবেষণালব্ধ যোগ্যতা (ملكة اجتهادية) চেনার সক্ষমতা রয়েছে।আর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-এর গুণটি সাধারণ এবং অভিজ্ঞ সকলের নিকটই পরিচিত। এর গ্রহণযোগ্যতা মূলত সেই সকল কথা ও কাজ যা এর ওপর প্রমাণ পেশ করে এবং সেই বিষয়গুলো বর্জন করার ওপর নির্ভর করে যা এর পরিপন্থী। আর এটি বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করার নামান্তর, মতামত (رأي) গ্রহণ নয়। তদুপরি, দ্বীনের সকল মাসআলা যেহেতু জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল, তাই এর কিছু অংশকে নির্দিষ্ট করে আপত্তি তোলা সমীচীন নয়।তাঁর উক্তি: "স্পষ্ট এবং ব্যাখ্যামূলকভাবে"।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أقول: هذا تفصيل لمفهوم قوله عدل وهو مستعنى عنه لأن إطلاق قوله عدل يخرج من لم يكن عدلا سواء كان ملتبسا بما ينافي العدالة على جهة التصريح أو على جهة التأويل.والحق أنه لا كفر تأويل ولا فسق تأويل ولا يدل على ذلك دليل.والكلام على المقام مبسوط في غير هذا الموضع وبهذا تعرف أنه لا حاجة إلي قوله ويكفي المغرب إلي آخر الفصل عند من لا يثبت التأويل وذلك ظاهر وأيضا لا حاجة له عند من يثبته لأنه قد أغنى عنه إطلاق العدالة فإنها لا تكون عنده إلا لمن ليس من كفار التأويل ولا من فساق التأويل فلا بد من تحقيق عدم هذا المانع من ثبوت العدالة وكون الولاية لمن لا يرى جواز تقليد فاسق التأويل هو مجرد قرينة ضعيفة ولا تثبت ملكة العدالة بمثل ذلك فلو اقتصر على قوله في هذا الفصل إنما يقلد مجتهد عدل لكان أخصر وأظهر لأن التفصيل إنما أخرج فاسق التصريح وفاسق التأويل والعدالة تنتفي بمجرد ارتكاب محرم وإن لم يبلغ بصاحبه إلي الفسق بالمعنيين.وفي هذا الفصل ابحاث في ضوء النهار إذا تأملت ما ذكرناه هنا عرفت الجواب عنها.[فصل وكل مجتهد مصيب في الأصح والحي أولى من الميت والأعلم من الأورع والأئمة المشهورون من أهل البيت أولى من غيرهم لتواتر صحة اعتقادهم وتنزههم عما رواه البويطي وغيره عن غيرهم من إيجاب القدرة وتجويز الرؤية وغيرهما ولخبري السفينة وإني تارك فيكم] [مسلم "2408"] .قوله: "فصل: وكل مجتهد مصيب".أقول: اعلم أن الخلاف في هذه المسألة تختص بالمسائل الشرعية لا العقلية فلا مدخل لها في هذا وقد ذهب الجمهور ومنهم الأشعري والقاضي أبو بكر الباقلاني ومن المعتزلة أبو الهذيل وأبو علي وأبو هاشم وأتباعهم إلي أن المسائل الشرعية تنقسم إلي قسمين الأول منها قطعيا معلوما بالضرورة أنه من الدين كوجوب الصلوات الخمس وصوم رمضان وتحريم الزنا والخمر فليس كل مجتهد فيها مصيبا بل الحق فيها واحد فالموافق له مصيب والمخطىء غير معذور بل آثم.وإن كان فيها دليل قاطع وليست من الضروريات الشرعية فقيل مخطىء آثم وقيل مخطىء غير آثم.القسم الثاني المسائل الشرعية التي لا قاطع فيها فذهب كثيرون إلي أن كل مجتهد مصيب وحكاه المأوردي والروياني عن الأكثرين وذهب أبو حنيفة ومالك والشافعي وأكثر
আমি বলছি: এটি তাঁর 'ন্যায়পরায়ণ (عدل)' উক্তির মর্মার্থের একটি বিস্তারিত বর্ণনা, যা আসলে নিষ্প্রয়োজন। কারণ, সাধারণভাবে 'ন্যায়পরায়ণ (عدل)' শব্দটি ব্যবহার করলে এমন ব্যক্তি বাদ পড়ে যায় যে ন্যায়পরায়ণ (عدل) নয়; চাই সে স্পষ্টভাবে ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) পরিপন্থী বিষয়ের সাথে জড়িত থাকুক কিংবা ব্যাখ্যার (التأويل) মাধ্যমে।আর সত্য কথা হলো, ব্যাখ্যাজনিত কুফর (كفر تأويل) কিংবা ব্যাখ্যাজনিত পাপাচার (فسق تأويل) বলতে কিছু নেই এবং এর ওপর কোনো দলিলও নেই।এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অন্য স্থানে করা হয়েছে। এ থেকে আপনি জানতে পারবেন যে, যারা ব্যাখ্যার (التأويل) বিষয়টি স্বীকার করেন না, তাদের নিকট তাঁর বক্তব্য "মাগরিবই যথেষ্ট..." পরিচ্ছেদের শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজন নেই। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট। তেমনিভাবে, যারা একে স্বীকার করেন তাদের কাছেও এর প্রয়োজন নেই। কারণ ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) শব্দটির নিঃশর্ত প্রয়োগই এর অভাব পূরণ করে দেয়। কেননা তাঁর মতে, ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) কেবল তখনই সাব্যস্ত হয় যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ব্যাখ্যাজনিত কুফরি (كفر تأويل) কিংবা ব্যাখ্যাজনিত পাপাচারের (فسق تأويل) অন্তর্ভুক্ত না হয়। সুতরাং ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) সাব্যস্ত হওয়ার পথে এই অন্তরায় না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা আবশ্যক। আর যে ব্যক্তি ব্যাখ্যাজনিত পাপাচারী (فاسق تأويل) ব্যক্তির তাকলিদ বা অনুসরণ করাকে জায়েজ মনে করে না, তার জন্য অভিভাবকত্ব থাকা একটি দুর্বল আলামত মাত্র। এর দ্বারা ন্যায়পরায়ণতার গুণ (ملكة العدالة) সাব্যস্ত হয় না। তিনি যদি এই পরিচ্ছেদে কেবল এটুকু বলতেন যে, "শুধুমাত্র একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) মুজতাহিদকে (مجتهد) অনুসরণ করা হবে", তবে তা অধিক সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট হতো। কারণ এই বিস্তারিত বর্ণনা কেবল প্রকাশ্য পাপাচারী (فاسق تصريح) এবং ব্যাখ্যাজনিত পাপাচারীকে (فاسق تأويل) বাদ দিয়েছে। অথচ ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) কোনো হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমেই বিলুপ্ত হয়ে যায়, যদিও তা ওই ব্যক্তিকে উভয় অর্থে পাপাচার (فسق) পর্যন্ত না পৌঁছায়।এই পরিচ্ছেদে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট কিছু আলোচনা রয়েছে, যা আমরা এখানে উল্লেখ করেছি তা নিয়ে চিন্তা করলে আপনি সেগুলোর উত্তর জানতে পারবেন।[পরিচ্ছেদ: অধিকতর সঠিক (الأصح) মতানুসারে প্রত্যেক মুজতাহিদই (مجتهد) সঠিক (مصيب)। আর মৃত ব্যক্তির চেয়ে জীবিত ব্যক্তি উত্তম, এবং অধিক পরহেজগার ব্যক্তির চেয়ে অধিক জ্ঞানী ব্যক্তি উত্তম। আর আহলে বাইতভুক্ত প্রসিদ্ধ ইমামগণ অন্যদের তুলনায় অধিক অগ্রগণ্য। কারণ তাঁদের আকিদার বিশুদ্ধতা মুতাওয়াতির (متواتر) সূত্রে প্রমাণিত। তাঁরা ওইসব বিষয় থেকে পবিত্র যা বুয়াইতি ও অন্যান্যরা অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমন কুদরতের আবশ্যকতা এবং (আল্লাহর) দীদার জায়েজ হওয়া ইত্যাদি। তদুপরি 'সাফিনা' এবং 'ইন্নি তারিকুন ফিকুম' হাদিসদ্বয়ও এর প্রমাণ।] [মুসলিম "২৪০৮"]।তাঁর উক্তি: "পরিচ্ছেদ: প্রত্যেক মুজতাহিদই (مجتهد) সঠিক (مصيب)।"আমি বলছি: জেনে রাখুন, এই মাসআলার মতভেদ কেবল শরয়ি মাসআলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আকলি বা বুদ্ধিবৃত্তিক মাসআলার ক্ষেত্রে নয়। সুতরাং এখানে সেগুলোর কোনো প্রবেশাধিকার নেই। জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলেমদের মত হলো—যাঁদের মধ্যে রয়েছেন আশআরি, কাজি আবু বকর বাকিলানি এবং মুতাজিলাদের মধ্যে আবু হুদাইল, আবু আলি, আবু হাশিম ও তাঁদের অনুসারীরা—শরয়ি মাসআলাসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথমত: যা অকাট্য (قطعي) এবং দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত বলে আবশ্যিকভাবে জ্ঞাত, যেমন: পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ওয়াজিব হওয়া, রমজানের রোজা এবং জিনা ও মদ হারাম হওয়া। এসব বিষয়ে প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهد) সঠিক (مصيب) নন; বরং এসব ক্ষেত্রে সত্য কেবল একটিই। সুতরাং যে তার সাথে মিল রাখে সে-ই সঠিক (مصيب), আর যে ভুল করে সে ক্ষমাপ্রাপ্ত নয় বরং গুনাহগার (آثم)।আর যদি সেখানে কোনো অকাট্য (قاطع) দলিল থাকে কিন্তু তা শরয়ি আবশ্যকীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত না হয়, তবে বলা হয়েছে যে সে ভুলকারী এবং গুনাহগার (آثم); আবার বলা হয়েছে সে ভুলকারী কিন্তু গুনাহগার (آثم) নয়।দ্বিতীয় প্রকার: ওইসব শরয়ি মাসআলা যে বিষয়ে কোনো অকাট্য (قاطع) দলিল নেই। এ ক্ষেত্রে অনেকে মনে করেন যে প্রত্যেক মুজতাহিদই (مجتهد) সঠিক (مصيب)। মাওয়ার্দি এবং রুয়ানি একে অধিকাংশের মত বলে বর্ণনা করেছেন। আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ি এবং অধিকাংশ আলেম এই মত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الفقهاء إلي أن الحق في أحد الأقوال ولم يتعين لنا وهو عند الله متعين لاستحالة أن يكون الشيء الواحد في الزمان الواحد للشخص الواحد حلالا وحراما.والكلام في هذه المسألة طويل وقد ذكرنا في مؤلفنا المرسوم بإرشاد الفحول إلي تحقيق الحق من علم الأصول أقوال المختلفين في هذه المسألة وذكرنا أن كل طائفة استدلت لقولها بما لا تقوم به الحجة.وهاهنا دليل يرفع النزاع ويوضح الحق أيضاحا لا يبقى بعده تردد وهو ما أخرجه البخاري ومسلم وغيرهما من حديث عمرو بن العاص وأبي هريرة مرفوعا: "إذا حكم الحاكم فاجتهد ثم أصاب فله أجران وإذا حكم فاجتهد ثم أخطأ فله أجر". [البخاري "7352"، ومسلم "1716"، وأحمد "4/198، 204"] .فهذا الحديث قد دل دلالة بينة أن للمجتهد المصيب أجرين وللمجتهد المخطىء أجرا فسماه مخطئا وجعل له أجرا فالمخالف للحق بعد أن اجتهد مخطىء مأجور وهو يرد على من قال إنه مصيب ويرد على من قال إنه آثم ردا بينا ويدفعه دفعا ظاهرا.وقد أخرج هذا الحديث الدارقطني والحاكم من حديث عقبة بن عامر وأبي هريرة وعبد الله بن عمر وبلفظ: "إذا اجتهد الحاكم فأخطأ فله أجر وإن أصاب فله عشرة أجور"قال الحاكم صحيح الاسناد فيه فرج بن فضالة وهو ضعيف وتابعه ابن لهيعة بغير لفظه وأخرجه أحمد من حديث عمرو بن العاص بلفظ: "إن أصبت فلك عشرة أجور وإن أنت اجتهدت فأخطأت فلك حسنة"، وإسناده ضعيف.وما ذكره المصنف رحمه الله من أولوية تقليد الحي إلي آخر الفصل هو مبني على جواز التقليد وقد قدمنا أنه غير جائز.[فصل والتزام مذهب إمام معين أولى ولا يجب ولا يجمع مستفت بين قولين في حكم واحد على صورة لا يقول بها إمام منفرد كنكاح خلا عن ولي وشهود لخروجه عن تقليد كل من الإمامين] .قوله: فصل: "والتزام مذهب إمام معين أولى ولا يجب".أقول: الأولوية مغنية عن قوله ولا يجب لأن كون الشيء أولى من غيره ما يفيد أن ذلك الغير جائز مرجوح كما أن الأولى جائز راجح فلو يأت قوله ولا يجب بفائدة بل هو مستدرك.وقد أوجب جماعة تقليد إمام معين ورجح هذا القول الكيا الهراسي وقال جماعة ليس بواجب ورجح هذا القول ابن برهان والنووي.
ফকিহগণ মনে করেন যে, সত্য কোনো একটি মতের মধ্যেই নিহিত থাকে, তবে তা আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট নয়। কিন্তু আল্লাহর নিকট তা সুনির্দিষ্ট, কারণ একই সময়ে একই ব্যক্তির জন্য একই বিষয় একই সাথে হালাল ও হারাম হওয়া অসম্ভব।এই বিষয়ে আলোচনা দীর্ঘ। আমরা উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের সত্য উদ্ঘাটন বিষয়ক আমাদের গ্রন্থ ‘ইরশাদুল ফুহুল’-এ এই মাসআলায় ইখতিলাফকারীদের বক্তব্যসমূহ উল্লেখ করেছি এবং বর্ণনা করেছি যে, প্রত্যেক দলই তাদের মতের সপক্ষে এমন সব দলিল পেশ করেছে যা প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য নয়।এখানে এমন একটি দলিল রয়েছে যা বিরোধ নিরসন করে এবং সত্যকে এমনভাবে স্পষ্ট করে যার পর আর কোনো দ্বিধা অবশিষ্ট থাকে না। আর তা হলো বুখারি, মুসলিম ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ আমর ইবনুল আস ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "যখন কোনো বিচারক বিচার করেন এবং ইজতিহাদ করেন, অতঃপর তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তবে তার জন্য রয়েছে দুটি সওয়াব। আর যখন তিনি বিচার করেন এবং ইজতিহাদ করেন, অতঃপর ভুল করেন, তবে তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব।" [বুখারি ৭৩৫২, মুসলিম ১৭১৬, আহমদ ৪/১৯৮, ২০৪]।এই হাদিসটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত মুজতাহিদের জন্য দুটি সওয়াব এবং ভুলকারী মুজতাহিদের জন্য একটি সওয়াব রয়েছে। এখানে তাকে ভুলকারী বলা হয়েছে আবার তার জন্য সওয়াবও নির্ধারণ করা হয়েছে। সুতরাং ইজতিহাদের পর যে ব্যক্তি সত্যের পরিপন্থী অবস্থানে থাকে, সে সওয়াবপ্রাপ্ত ভুলকারী। এই হাদিসটি তাদের জোরালোভাবে খণ্ডন করে যারা তাকে ‘সঠিক’ বলে দাবি করে, আর যারা তাকে ‘গুনাহগার’ বলে গণ্য করে, তাদেরও এটি সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান ও প্রতিহত করে।দারাকুতনি ও হাকেম এই হাদিসটি উকবাহ বিন আমির, আবু হুরায়রা এবং আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা.) থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যখন বিচারক ইজতিহাদ করেন এবং ভুল করেন, তবে তার জন্য একটি সওয়াব, আর যদি সঠিক করেন তবে তার জন্য দশটি সওয়াব রয়েছে।"হাকেম বলেছেন এটি সহিহ সনদ (صحيح الإسناد), তবে এর সনদে ফারাজ বিন ফাদালাহ রয়েছেন, যিনি দুর্বল (ضعيف)। ইবনে লাহিয়া ভিন্ন শব্দে তাঁর অনুসরণ করেছেন। ইমাম আহমদ আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যার শব্দ হলো: "যদি তুমি সঠিক করো তবে তোমার জন্য দশটি সওয়াব, আর যদি তুমি ইজতিহাদ করো অতঃপর ভুল করো তবে তোমার জন্য একটি নেকি রয়েছে।" এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف)।লেখক (রহিমাহুল্লাহ) অনুচ্ছেদের শেষ পর্যন্ত জীবিত ব্যক্তির তাকলিদ করার অগ্রাধিকার সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, তা মূলত তাকলিদ জায়েজ হওয়ার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অথচ আমরা ইতিপূর্বেই বর্ণনা করেছি যে, তা জায়েজ নয়।[পরিচ্ছেদ: নির্দিষ্ট কোনো ইমামের মাযহাব আঁকড়ে থাকা উত্তম (أولى) তবে তা ওয়াজিব নয়। কোনো ফতোয়া প্রার্থী একটি হুকুমের ক্ষেত্রে দুটি মতকে এমনভাবে একত্রিত করবে না যা কোনো একজন ইমামও এককভাবে বলেননি। যেমন— ওলি ও সাক্ষীবিহীন বিবাহ; কারণ এটি উভয় ইমামের তাকলিদ থেকেই বের হয়ে যায়।]তাঁর বক্তব্য: পরিচ্ছেদ: "নির্দিষ্ট কোনো ইমামের মাযহাব আঁকড়ে থাকা উত্তম (أولى) তবে তা ওয়াজিব নয়।"আমি বলি: 'উত্তম' (أولى) শব্দটি 'ওয়াজিব নয়' কথাটি থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়। কারণ কোনো বিষয় অন্যটির চেয়ে উত্তম হওয়া একথাই বুঝায় যে, অন্যটি জায়েজ তবে অনুত্তম (مرجوح), ঠিক যেমন উত্তম বিষয়টি জায়েজ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (راجح)। সুতরাং 'ওয়াজিব নয়' কথাটি নতুন কোনো ফায়দা দেয় না, বরং তা অতিরিক্ত।একদল আলিম নির্দিষ্ট কোনো ইমামের তাকলিদ করা ওয়াজিব করেছেন এবং আল-কিয়া আল-হাররাসি এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। অন্য একদল বলেছেন এটি ওয়াজিব নয়, আর ইবনে বুরহান ও ইমাম নববী এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ويالله العجب من عالم ينسب إلي العلم يحكم بأولوية التقليد لمعين جزافا فلا برهان من عقل ولا شرع.وأعجب من هذا من يوجب ذلك فإنه من التقول على الله بما لم يقل ومن إيجاب البدع التي لم تكن في عصر الصحابة ولا عصر التابعين ولا تابعيهم.وأعجب من هذا كله قول ابن المنير إن الدليل يقتضي التزام مذهب معين بعد الأربعة لا قبلهم فليت شعري ما هو هذا الدليل وقد صان الله أدلة الشرع أن تدل على هذا بل وصان علماء الدين من المجتهدين أن يقولوا بمثل هذا التفصيل العليل.ولعله قول لبعض المقلدة فظنه هذا القائل دليلا.[فصل ويصير ملتزما بالنية في الأصح وبعد الالتزام يحرم الانتقال إلا إلي ترجيح نفسه بعد استيفاء طرق الحكم فالاجتهاد يتبعض في الأصح أو لإنكشاف نقصان الأول فأما إلي أعلم أو أفضل ففيه تردد وإن فسق رفضه فيما تعقب الفسق فقط وإن رجع فلا حكم له فيما قد نفد ولا ثمرة له كالحج وأما ما لم يفعله ووقته باق أو فعل ولما يفعل المقصود به فبالثاني.فأما ما لم يفعله وعليه قضاؤه أو فعله وله ثمرة مستدامة كالطلاق فخلاف] .قوله: فصل: "ويصير ملتزما بالنية في الأصح".أقول: لو كان هذا التقليد المشئوم قربة من القرب الشرعية وطاعة من طاعات الله لم يكن مجرد النية قبل العمل موجبا للزومه للنأوي ومقتضيا لتحريم انتقاله عنه.والحاصل أن هذه المسائل هي بأسرها من التخبط فب البدع والتجرؤ على الشريعة المطهرة بنسبة ما لم يكن منها إليها بل بنسبة ما هو معاند لها ومضاد لما فيها إليها.وقد ذهب جماعة إلي التفصيل فقالوا إن كان قد عمل بالمسألة لم يجز له الانتقال وإلا جاز واختار هذا إمام الحرمين الجويني.وقيل إن غلب على ظنه أن مذهب غير إمامه في تلك المسألة أقوى من مذهبه جاز له وإلا لم يجز وبه قال القدوري الحنفي.وقيل إن كان الذي انتقل إليه ما ينقض الحكم لم يجز له الانتقال وإلا جاز واختاره ابن عبد السلام.
আল্লাহর শপথ, বড়ই বিস্ময়কর সেই আলেম সম্পর্কে, যিনি নিজেকে ইলমের সাথে সম্পৃক্ত করেন অথচ কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই নির্বিচারে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির অন্ধ অনুসরণকে (تقليد) অগ্রাধিকার দেওয়ার ফয়সালা করেন, যার সপক্ষে বুদ্ধিভিত্তিক বা শরয়ি কোনো প্রমাণ নেই।এর চেয়েও অধিক বিস্ময়কর সেই ব্যক্তি, যে একে অপরিহার্য সাব্যস্ত করে। কেননা এটি আল্লাহ সম্পর্কে এমন উক্তি করার শামিল যা তিনি বলেননি এবং এমন বিদআতকে (بدعة) ওয়াজিব করার অন্তর্ভুক্ত, যা সাহাবীগণের যুগ, তাবেয়ীগণের (تابعين) যুগ কিংবা তাদের পরবর্তী অনুসারীদের (تابعيهم) যুগেও ছিল না।আর এই সবকিছুর চেয়েও আশ্চর্যজনক হলো ইবনুল মুনিরের উক্তি যে—দলিল (دليل) দাবি করে চার ইমামের পরের যুগে কোনো নির্দিষ্ট মাযহাব আঁকড়ে ধরা আবশ্যক, তাদের আগে নয়। হায়, আমি যদি জানতাম সেই দলিলটি কী! অথচ আল্লাহ তাআলা শরিয়তের দলিলসমূহকে (أدلة) এ ধরনের পথনির্দেশ করা থেকে রক্ষা করেছেন, এমনকি তিনি দ্বীনের মুজতাহিদ (مجتهدين) আলেমদেরকেও এই জাতীয় ত্রুটিপূর্ণ বিশ্লেষণ প্রদান করা থেকে হেফাযত করেছেন।সম্ভবত এটি কতিপয় মুকাল্লিদ (مقلدة) বা অন্ধ অনুসারীর উক্তি, যা এই বক্তা দলিল হিসেবে মনে করেছেন।[পরিচ্ছেদ: অধিকতর সঠিক (الأصح) মত অনুযায়ী, কেবল নিয়তের মাধ্যমেই কোনো মাযহাবের অনুসরণ অবধারিত হয়ে যায়। আর একবার তা অবধারিত করে নেওয়ার পর সেখান থেকে সরে যাওয়া হারাম (حرام), যতক্ষণ না ফয়সালার পদ্ধতিসমূহ পর্যালোচনার পর নিজের কাছে প্রাধান্য পাওয়ার (ترجيح) বিষয়টি প্রমাণিত হয়। কেননা অধিকতর সঠিক (الأصح) মত অনুযায়ী ইজতিহাদ (الاجتهاد) আংশিক বা খণ্ডিত হতে পারে। অথবা প্রথমটির ত্রুটি প্রকাশ পাওয়ার কারণেও পরিবর্তন হতে পারে। তবে অপেক্ষাকৃত অধিক জ্ঞানী বা শ্রেষ্ঠতর কারো মাযহাবের দিকে স্থানান্তরের বিষয়ে সংশয় (تردد) রয়েছে। আর যদি সে ফাসেক (فسق) হয়ে যায়, তবে তার ফাসেক হওয়ার পরবর্তী বিষয়গুলোই কেবল প্রত্যাখ্যান করা হবে। আর যদি সে ফিরে আসে, তবে যা ইতিপূর্বে সম্পাদিত হয়ে গেছে তার ওপর কোনো হুকুম নেই এবং হজের মতো যে আমলগুলোর কোনো অবশিষ্ট ফল নেই তাতেও কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে যা সে এখনও সম্পাদন করেনি অথচ সময় বাকি আছে, অথবা যা সে সম্পাদন করেছে কিন্তু তার মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হয়নি, সেক্ষেত্রে দ্বিতীয়টিই কার্যকর হবে।আর যা সে এখনও করেনি অথচ তার কাযা করা জরুরি, অথবা যা সে করেছে এবং যার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী—যেমন তালাক—সে বিষয়ে মতভেদ (خلاف) রয়েছে।]।লেখকের উক্তি: পরিচ্ছেদ: "অধিকতর সঠিক (الأصح) মত অনুযায়ী নিয়তের মাধ্যমে মাযহাবের অনুসরণ অবধারিত হয়।"আমি বলি: এই অশুভ অন্ধ অনুসরণ (تقليد) যদি শরয়ী নৈকট্য (قربة) লাভের কোনো মাধ্যম বা আল্লাহর আনুগত্যের কোনো কাজ হতো, তবে আমল করার পূর্বে কেবল নিয়ত করাই তার ওপর এটি পালন করাকে অবধারিত করত না এবং তা থেকে ফিরে আসাকে নিষিদ্ধ (تحريم) সাব্যস্ত করত না।সারকথা হলো, এই মাসয়ালাগুলো সামগ্রিকভাবে বিদআতের (بدع) গোলকধাঁধা এবং পবিত্র শরিয়তের ওপর এক দুঃসাহসিক ধৃষ্টতা। কেননা এর মাধ্যমে এমন বিষয়কে শরিয়তের দিকে সম্বন্ধ করা হচ্ছে যা আদতে শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং যা শরিয়তের বিরোধী এবং এর মূল শিক্ষার পরিপন্থী।একদল আলেম এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যার পথ অনুসরণ করেছেন। তারা বলেছেন: যদি সে মাসয়ালা অনুযায়ী আমল করে থাকে, তবে তার জন্য মাযহাব পরিবর্তন বৈধ (يجز) নয়, নতুবা বৈধ। ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনি এই মতটি গ্রহণ করেছেন।আবার বলা হয়েছে: যদি কারো প্রবল ধারণা (غلبة الظن) হয় যে উক্ত মাসয়ালায় তার ইমামের মাযহাবের চেয়ে অন্য কোনো মাযহাব অধিক শক্তিশালী, তবে তার জন্য তা গ্রহণ করা বৈধ (جاز), অন্যথায় নয়। কুদুরী হানাফী এই মতটি ব্যক্ত করেছেন।আরও বলা হয়েছে: যদি স্থানান্তরের ফলে পূর্বের হুকুম বা ফয়সালা বাতিল হয়ে যায়, তবে পরিবর্তন করা বৈধ (يجز) নয়, অন্যথায় বৈধ। ইবনু আবদিস সালাম এই মতটি পছন্দ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقيل يجوز بشرط أن ينشرح له صدره وألا يكون قاصدا للتلاعب وألا يكون ناقضا لما قد حكم به عليه واختاره ابن دقيق العيد.وقد ادعى الآمدي وابن الحاجب أنه يجوز قبل العمل لا بعده بالاتفاق.وكل هذه الأقوال على فرض جواز التقليد لا دليل عليها لكنها أقل مفسدة ومخالفة للحق من إيجاب التقليد وتحريم الانتقال بمجرد النية.وفي الشر خيار.قوله: "ولاجتهاد يتبعض في الأصح"أقول: اختلف أهل العلم في ذلك فذهب جماعة إلي أنه يتجزأ وعزاه الصفي الهندي إلي الأكثرين قال ابن دقيق العيد وهو المختار لأنها قد يمكن العناية بباب من الأبواب الفقهية حتى تحصل المعرفة بمآخذ أحكامه وإذا حصلت المعرفة بالمآخذ أمكن الاجتهاد.وذهب آخرون إلي المنع واحتج الأولون بأنه لو لم يجز تجزؤ الاجتهاد للزم أن يكون المجتهد عالما بجميع المسائل واللازم منتف فإن كثيرا من المجتهدين قد سئل فلم يجب وكثيرا منهم سئل عن مسائل فأجاب في البعض وهم مجتهدون بلا خلاف.واحتج آخرون بأن كل ما يقدر جهله به يجوز تعلقه بالحكم المفروض فلا يحصل له ظن عدم المانع.وأجيب بأن المفروض حصول جميع ما يتعلق بتلك المسألة ويرد هذا الجواب بمنع حصول ما يحتاج إليه المجتهد في مسألة دون غيرها فإن من لا يقتدر على الاجتهاد في بعض المسائل لا يقتدر عليه في البعض الآخر وأكر علوم الاجتهاد يتعلق بعضها ببعض ويأخذ بعضها بحجزة بعض ولا سيما ما كان من علومه مرجعه إلي ثبوت الملكة فإنها إذا تمت حصلت القدرة على الاجتهاد في جميع المسائل وإن نقصت لم يقتدر على الاجتهاد في شيء ولا يثق في نفسه لتقصيره ولا يثق به الغير لذلك.فإن ادعى بعض المقصرين بأنه قد اجتهد في مسألة دون مسألة فتلك الدعوى يتبين بطلانها بأن يبحث معه من هو مجتهد اجتهادا مطلقا فإنه يورد عليه من المسالك والمآخذ ما لا يتعقله.قوله: "أو لانكشاف نقصان الأول".أقول: المقلد لا يعرف الكامل من المجتهدين ولا الناقص منهم وإنما يستروى ذلك ممن له إدراك يعرف به الكمال والنقص فهذا المقلد إن انكشف له نقص من قلده بإخبار من أخبره باجتهاده وكماله فقد أقر على نفسه أن خبره الأول المتضمن لكماله غير صحيح وإن كان انكشاف النقص بخبر غير من أخبره بالكمال فقد وقع هذا المقلد المسكين في حيرة لأنه غير متأهل للترجيح في الأخبار المتعارضة عن مثل هذا الأمر الذي لا يعرفه إلا المتأهلون.والمنهج الواضح والمهيع الآمن أن يقطع عن عنقه علائق التقليد وقد جعل الله له في الأمر
বলা হয়েছে যে, এটি জায়েজ (يجوز) এই শর্তে যে, এর ফলে তার বক্ষ প্রশস্ত হয়, সে যেন খামখেয়ালিপনার কোনো উদ্দেশ্য না রাখে এবং তার ওপর আগে থেকে যে ফয়সালা কার্যকর করা হয়েছে তার পরিপন্থী না হয়। ইবনে দাকীক আল-ঈদ এটিই পছন্দ করেছেন (واختاره)।আল-আমিদি এবং ইবনে আল-হাজিব দাবি করেছেন যে, আমল করার আগে এটি সর্বসম্মতিক্রমে জায়েজ (يجوز), কিন্তু আমল করার পর নয়।তাকলিদ (التقليد) জায়েজ—এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া এসব মতামতের কোনো দলিল নেই; তবে কেবল নিয়তের মাধ্যমে এক মাযহাব থেকে অন্য মাযহাবে যাওয়াকে হারাম (تحريم) করা এবং তাকলিদকে ওয়াজিব (إيجاب) করার তুলনায় এগুলো কম ক্ষতিকর ও সত্যের কম পরিপন্থী।আর মন্দের মধ্যেও মন্দের ভালো বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে।তাঁর উক্তি: "এবং সবচেয়ে বিশুদ্ধ (الأصح) মত অনুযায়ী ইজতিহাদ (الاجتهاد) বিভাজ্য।"আমি বলছি: এ বিষয়ে আলেমগণ ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। একদল মনে করেন এটি খণ্ডিত বা বিভাজ্য হতে পারে এবং আস-সাফি আল-হিন্দি একে অধিকাংশের (الأكثرين) মত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইবনে দাকীক আল-ঈদ বলেন, এটিই গ্রহণযোগ্য (المختار) মত; কারণ ফিকহ শাস্ত্রের কোনো একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ের প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব, যতক্ষণ না এর বিধানাবলির উৎসসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জিত হয়। আর যখন উৎসসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জিত হবে, তখন ইজতিহাদ (الاجتهاد) করাও সম্ভব হবে।অন্যান্যরা একে নিষিদ্ধ বা অসম্ভব মনে করেন। প্রথম পক্ষ যুক্তি দিয়েছেন যে, যদি ইজতিহাদ (الاجتهاد) বিভাজ্য না হতো, তবে মুজতাহিদ (المجتهد) হতে হলে সমস্ত মাসআলা সম্পর্কে অবগত হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ত, অথচ বাস্তবে তা ঘটে না। কারণ অনেক মুজতাহিদকে (المجتهدين) প্রশ্ন করা হয়েছে কিন্তু তারা উত্তর দেননি, আবার তাদের অনেককে একাধিক মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা কয়েকটির উত্তর দিয়েছেন; অথচ কোনো মতভেদ ছাড়াই তারা মুজতাহিদ (مجتهدون)।অপর পক্ষ যুক্তি দিয়েছেন যে, যে বিষয়েই তাকে অজ্ঞ ধরা হবে, হতে পারে সেই বিষয়টিই ওই নির্ধারিত হুকুমের সাথে সংশ্লিষ্ট, ফলে কোনো বাধা না থাকার বিষয়ে তার প্রবল ধারণা (ظن) তৈরি হবে না।এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, আলোচ্য মাসআলার সাথে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় জ্ঞান অর্জিত হওয়াই শর্ত। তবে এই উত্তরের পাল্টা জওয়াবে বলা হয় যে, অন্যান্য মাসআলা ব্যতিরেকে কেবল একটি নির্দিষ্ট মাসআলায় মুজতাহিদের (المجتهد) জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। কারণ যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে ইজতিহাদ (الاجتهاد) করতে সক্ষম নয়, সে অন্য কোনো বিষয়েও সক্ষম হবে না। ইজতিহাদের অধিকাংশ ইলম একটি অন্যটির সাথে সংশ্লিষ্ট এবং একে অপরের পরিপূরক; বিশেষ করে সেই সব ইলম যা পারদর্শিতা বা মেধা (الملكة) অর্জনের ওপর নির্ভরশীল। যদি এই মেধা পূর্ণতা পায় তবে সমস্ত মাসআলায় ইজতিহাদ করার সক্ষমতা তৈরি হয়, আর যদি তাতে ঘাটতি থাকে তবে কোনো কিছুতেই ইজতিহাদ করা সম্ভব হয় না। নিজের অক্ষমতার কারণে সে যেমন নিজের ওপর আস্থা পায় না, তেমনি অন্যরাও তার ওপর আস্থা রাখে না।সুতরাং কোনো অপূর্ণ ব্যক্তি যদি দাবি করে যে সে বিশেষ একটি মাসআলায় ইজতিহাদ করেছে (اجتهد) কিন্তু অন্যগুলোতে করেনি, তবে তার এই দাবির অসারতা তখনই স্পষ্ট হয়ে যাবে যখন কোনো মুজতাহিদ মুতলাক (مجتهد اجتهادا مطلقا) তার সাথে আলোচনা করবেন; তখন তিনি এমন সব পথ ও উৎসের অবতারণা করবেন যা ঐ ব্যক্তির বোধগম্য হবে না।তাঁর উক্তি: "অথবা প্রথম জনের অপূর্ণতা ধরা পড়ার কারণে।"আমি বলছি: মুকাল্লিদ (المقلد) তথা অনুসারী ব্যক্তি মুজতাহিদদের (المجتهدين) মধ্যে কে পূর্ণ আর কে অপূর্ণ তা জানে না। বরং সে কেবল তাদের মাধ্যমেই তা জানতে পারে যাদের এই পূর্ণতা ও অপূর্ণতা বোঝার ক্ষমতা আছে। সুতরাং যে ব্যক্তি তাকে প্রথম মুজতাহিদের ইজতিহাদ ও পূর্ণতার খবর দিয়েছিল, সেই ব্যক্তিই যদি এখন তার অপূর্ণতার কথা জানায়, তবে মুকাল্লিদ যেন স্বীকার করে নিল যে তার পূর্ণতার ব্যাপারে প্রাপ্ত পূর্ববর্তী সংবাদটি সঠিক ছিল না। আর যদি এই অপূর্ণতার বিষয়টি এমন কারো খবরের মাধ্যমে জানা যায় যে প্রথমবার পূর্ণতার সংবাদ দেয়নি, তবে এই বেচারা মুকাল্লিদ দ্বিধায় পড়ে যাবে। কারণ পরস্পরবিরোধী সংবাদের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া (الترجيح)-র যোগ্যতা তার নেই, আর এটি এমন একটি বিষয় যা কেবল যোগ্য ব্যক্তিরাই বুঝতে পারেন।সুস্পষ্ট পথ ও নিরাপদ পন্থা হলো নিজের ঘাড় থেকে তাকলিদের (التقليد) শৃঙ্খল ছিঁড়ে ফেলা, আর আল্লাহ তার জন্য এই বিষয়ে পথ করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ২১)
سعة بسؤال أهل العلم عن حكم الله سبحانه فيما يفرض له وتدعو حاجته إليه من عبادة أو معاملة.قوله: "فأما إلي أعلم أو أفضل ففيه تردد".أقول: لا تردد بل ينبغي أن يعمل بمزية الأعلمية والأفضلية ولا شك أنه يوجد في معاصري إمامه وفيمن قبله من هو أعلم منه وأفضل منه ثم كذلك حتى ينتهي الأمر إلي الإمام الأول الذي بعثه الله سبحانه برسالته وأنزل عليه كتابه وأمره بأن يبين للناس ما نزل إليهم فإنه منتهى الكمالات ومنشأ الفضائل ومعدن الفواضل فيأخذ دينه عنه من الكتاب الذي أنزل عليه أو السنة المطهرة التي جاء بها.قوله: "فإن فسق رفضه" إلي آخر الفصل.أقول: إن كان قد عمل عملا وهو عند نفسه مقلد لعالم من العلماء فليس انتسابه إلي ذلك العالم مسوغا به ما لم يسوغه له الشرع فإن كان موافقا للدليل فقد أجزأه وتقبله الله منه وإن كان مخالفا للدليل فلا اعتبار به ولا حكم له سواء فسق المجتهد أم لم يفسق رجع أم لم يرجع وسواء كان للفعل ثمرة مستدامة أم لا.فإن قيل قد يلحق المقلد في ذلك مشقة قلنا هو أدخل نفسه فيما لا يجوز له الدخول فيه فعلى نفسها براقش تجني.[فصل ويقبل الرواية عن الميت والغائب إن كملت شروط صحتها ولا يلزمه بعد وجود النص الصريح والعموم الشامل طلب الناسخ والمخصص من نصوصه وإن لزم المجتهد ويعمل بآخر القولين وأقوى الاحتمالين فإن التبس فالمختار رفضهما والرجوع إلي غيره كما لو لم يجد له نصا ولا احتمالا ظاهرا.ولا يقبل تخريجا إلا من عارف دلالة الخطاب والساقط منها والمأخوذ به ولا قياسا لمسألة على أخرى إلا من عارف بكيفية رد الفرع إلي الأصل وطرف العلة وكيفية العمل عند تعارضها ووجوه ترجيحها لا خواصها وشروطها كون إمامه ممن يرى تخصيصها أو يمنعه.وفي جواز تقليد إمامين فيصير حيث يختلفان مخيرا بين قوليهما فقط خلاف.وبتمام هذه الجملة تمت المقدمة] .
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার ওপর যা ফরজ করেছেন এবং ইবাদত বা লেনদেনের ক্ষেত্রে তার যা প্রয়োজন হয়, সে সম্পর্কে আহলে ইলমদের (জ্ঞানী ব্যক্তিদের) কাছে আল্লাহর বিধান জিজ্ঞাসা করার অবকাশ রয়েছে।তাঁর উক্তি: "আর যদি অধিকতর জ্ঞানী বা শ্রেষ্ঠতর ব্যক্তির অভিমতের দিকে হয়, তবে সে ক্ষেত্রে দ্বিধা রয়েছে।"আমি বলছি: কোনো দ্বিধা নেই, বরং অধিকতর জ্ঞানী ও শ্রেষ্ঠ হওয়ার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আমল করা উচিত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর (মুকাল্লিদের) ইমামের সমসাময়িকদের মধ্যে এবং তাঁর পূর্ববর্তীদের মধ্যে এমন ব্যক্তি বিদ্যমান যিনি তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী ও শ্রেষ্ঠ। এভাবে বিষয়টি প্রথম ইমাম পর্যন্ত পৌঁছে যাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর রিসালাত দিয়ে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর ওপর তাঁর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাঁকে আদেশ দিয়েছেন যে, তিনি যেন মানুষের নিকট যা নাযিল করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন। নিশ্চয়ই তিনি সমস্ত পূর্ণতার শেষ সীমা, শ্রেষ্ঠত্বের উৎস এবং উত্তম গুণের আধার। সুতরাং মানুষ তাঁর কাছ থেকেই তাঁর দ্বীন গ্রহণ করবে, সেই কিতাব থেকে যা তাঁর প্রতি নাযিল করা হয়েছে অথবা পবিত্র সুন্নাহ (السنة) থেকে যা তিনি নিয়ে এসেছেন।তাঁর উক্তি: "যদি সে পাপাচারী হয় তবে তা বর্জন করা হবে" অনুচ্ছেদের শেষ পর্যন্ত।আমি বলছি: যদি সে কোনো আমল করে থাকে এবং সে নিজেকে কোনো একজন আলিমের মুকাল্লিদ (অনুসারী) মনে করে, তবে সেই আলিমের সাথে তার এই সম্পৃক্ততা তার আমলকে ততক্ষণ বৈধ করবে না যতক্ষণ না শরীয়ত তাকে বৈধতা দেয়। যদি তা দলিলের অনুকূলে হয় তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে এবং আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা কবুল করবেন। আর যদি তা দলিলের পরিপন্থী হয় তবে তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই এবং তার কোনো বিধানও নেই; চাই সেই মুজতাহিদ (مجتهد) পাপাচারী হোক বা না হোক, তিনি স্বীয় মত থেকে ফিরে আসুন বা না আসুন এবং সেই কাজের কোনো স্থায়ী ফলাফল থাকুক বা না থাকুক।যদি বলা হয় যে, এতে মুকাল্লিদের জন্য কষ্ট হতে পারে, তবে আমরা বলব যে, সে নিজেই নিজেকে এমন বিষয়ে জড়িয়েছে যা তার জন্য বৈধ ছিল না। সুতরাং সে নিজেই নিজের বিপদ ডেকে এনেছে।[অনুচ্ছেদ: মৃত এবং অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছ থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية) কবুল করা হবে যদি তার সহিহ (صحة) হওয়ার শর্তসমূহ পূর্ণ হয়। স্পষ্ট নস (نص) এবং ব্যাপক অর্থবোধক উমুম (عموم) পাওয়ার পর তার জন্য নসসমূহ থেকে রহিতকারী (ناسخ) এবং বিশেষত্ব দানকারী (مخصص) তালাশ করা আবশ্যক নয়, যদিও মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য তা আবশ্যক। আর সে দুই উক্তির মধ্যে পরবর্তীটি এবং দুই সম্ভাবনার মধ্যে প্রবলতরটি অনুযায়ী আমল করবে। যদি বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে যায়, তবে পছন্দনীয় মত হলো উভয়টি বর্জন করা এবং অন্যটির দিকে ফিরে যাওয়া, যেমনটি সে করত যদি কোনো নস (نص) বা স্পষ্ট সম্ভাবনা খুঁজে না পেত।আর কোনো তাখরিজ (تخريج) কবুল করা হবে না কেবল সেই ব্যক্তির পক্ষ থেকে ব্যতিরেকে যে সম্বোধনের মর্মার্থ, তার রহিত অংশ এবং গ্রহণযোগ্য অংশ সম্পর্কে সম্যক অবগত। আর একটি মাসআলাকে অন্যটির ওপর কিয়াস (قياس) করাও কবুল করা হবে না কেবল সেই ব্যক্তির পক্ষ থেকে ব্যতিরেকে যে শাখাকে মূলের দিকে ফিরিয়ে নেয়ার পদ্ধতি, ইল্লতের (علة) দিকসমূহ এবং দালিলিক বিরোধের (تعارض) সময় আমলের পদ্ধতি ও তার তারজিহ (ترجيح) প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত; তার বৈশিষ্ট্য ও শর্তাবলি সম্পর্কে নয়, যেক্ষেত্রে তার ইমাম এমন ব্যক্তি যিনি একে নির্দিষ্ট করা বৈধ মনে করেন বা নিষেধ করেন।আর দুইজন ইমামের তাকলিদ করার বৈধতার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, যাতে তাদের মতপার্থক্যের সময় কেবল তাদের দুই উক্তির মধ্যে যে কোনোটি বেছে নেয়ার সুযোগ থাকে।এই বাক্যটির মাধ্যমেই ভূমিকা সমাপ্ত হলো।]
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ২২)
قوله: فصل: "وتقبل الرواية عن الميت والغائب إن كملت شروط صحتها".أقول: قبول الرواية ثابت في كل شيء مع كمال ما يعتبر فيها وهي أمور قد استوفيناها في إرشاد الفحول.وسواء كانت عن حي أو ميت وعن مجتهد أو مقلد في رواية أو رأي ولم يقل أحد من أهل العلم إن المقلد لا يقبل الرواية عن الميت والغائب حتى يحتاج إلي ذكر ذلك.قوله: "ولا يلزمه بعد وجود النص الصريح والعموم الشامل" الخ.أقول: إذا كان هذا غير لازم له فليعدل إلي النص الصريح والعموم الشامل من كتاب الله وسنة رسوله ويعمل بهما ولا يلزم معه طلب الناسخ والمخصص كما لم يلزمه ذلك في رأي من قلده من المجتهدين وليس في محض الرأي الذي يأخذ به المقلد زيادة سهولة أو ظهور على ما في نصوص الرواية حتى يستبدل الذي هو أدنى بالذي هو خير.قوله: "ويعمل بآخر القولين وأقوى الاحتمالين".أقول: أما آخر القولين فيمكن المقلد أن يعرفه بأن يكون في كتاب لإمامه متأخرا عن الكتاب المشتمل على القول الأول أو بالتصريح من إمامه بأن أحد القولين متأخر والآخر متقدم.وأما أقوى الاحتمالين فلا سبيل للمقلد إلي معرفة الأقوى منهما لأن القوة للقول أو الاحتمال يحتاج إلي علم لا يكون عند المقلد.نعم إذا صرح إمامه بأن أحد الاحتمالين اقوى وأرجح من الآخر أو أخبر المقلد من له قدرة على معرفة الأقوى استقام ما ذكره هنا.ولا وجه لما ذكره الأمير رحمه الله في حاشيته من أن المقلد قد يتمكن من ذلك بأسباب يعرفها لمعرفته لقوة بعض المفاهيم على بعض لأنا نقول لو عرف ذلك كما ينبغي لم يكن مقلدا في هذا الحكم الذي توصل إلي تقويته بذلك السبب.قوله: "ولا يقبل تخريجا" الخ.أقول: إن كان التخريج هو ما ذكره من كون المقلد يعرف أنه لا فرق بين مسألتين نص المجتهد على إحداهما دون الأخرى فيجعل المقلد حكم تلك المسألة الأخرى حكم هذه التي نص عليها المجتهد فيقال أولا من أين لهذا المقلد المسكين معرفة عدم الفرق بين هاتين المسألتين فإن ذلك يرجع إلي علم ليس هو من علمه.وعلى تقدير أنه عارف بدلالة الخطاب والساقط منها والمأخوذ به وأنه بهذه المعرفة ألحق مسألة أخرى فهذا القياس بعينه وإن زعم زاعم أنه غير القياس فما هو والحاصل أن جعل التخريج نوعا مستقلا مغايرا للقياس هو مجرد دعوى لا برهان عليها أصلا ثم قد عرفت عدم جواز التقليد فيما هو مسائل صريحة واضحة فعدم جوازه في مثل هذه المسائل التي هي كما قيل ليست من قول المخرج ولا من قول المخرج له أولى.
তাঁর উক্তি: পরিচ্ছেদ: "মৃত এবং অনুপস্থিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বর্ণনা (رواية) কবুল করা হবে যদি তার সহীহ হওয়ার (صحة) শর্তসমূহ পূর্ণ হয়।"আমি বলি: বর্ণনার (رواية) গ্রহণযোগ্যতা প্রতিটি বিষয়ে সাব্যস্ত হবে যখন তাতে বিবেচ্য বিষয়সমূহ পূর্ণতা পায়। আর এগুলো এমন বিষয় যা আমরা ইরশাদুল ফুহুল গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।চাই তা কোনো জীবিত বা মৃত ব্যক্তি থেকে হোক, কিংবা কোনো মুজতাহিদ (مجتهد) বা মুকাল্লিদ (مقلد) থেকে হোক, কোনো বর্ণনা (رواية) বা মতামতের (رأي) ক্ষেত্রে। আহলে ইলমদের মধ্যে কেউ এমনটি বলেননি যে, মুকাল্লিদ (مقلদ) মৃত ও অনুপস্থিত ব্যক্তির থেকে বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করবে না, যার ফলে এটি উল্লেখ করার প্রয়োজন হবে।তাঁর উক্তি: "সুস্পষ্ট নস (نص صريح) এবং ব্যাপক অর্থবোধক আম (عموم شامل) থাকার পর তার জন্য আবশ্যক নয়" ইত্যাদি।আমি বলি: যদি এটি তার জন্য আবশ্যক না হয়, তবে সে যেন আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ থেকে সুস্পষ্ট নস (نص صريح) এবং ব্যাপক অর্থবোধক আম (عموم شامل)-এর দিকে ফিরে আসে এবং সে অনুযায়ী আমল করে। এর সাথে নাসিখ (ناسخ) এবং মুখাসসিস (مخصص) খোঁজা তার জন্য আবশ্যক নয়, যেমনটি তার তাকলীদকৃত মুজতাহিদদের (مجتهدين) মতামতের ক্ষেত্রেও আবশ্যক ছিল না। মুকাল্লিদ (مقلদ) যে নিছক মতামত গ্রহণ করে, তাতে বর্ণনার (رواية) নসসমূহের (نصوص) তুলনায় এমন কোনো অতিরিক্ত সহজতা বা স্পষ্টতা নেই যে, সে উত্তম বস্তুর পরিবর্তে নিম্নমানের বস্তু গ্রহণ করবে।তাঁর উক্তি: "এবং দুই মতের মধ্যে পরবর্তীটি এবং দুই সম্ভাবনার মধ্যে শক্তিশালীটি অনুযায়ী আমল করা হবে।"আমি বলি: দুই মতের শেষটির ক্ষেত্রে মুকাল্লিদের (مقلد) পক্ষে তা জানা সম্ভব এভাবে যে, তার ইমামের কোনো কিতাবে সেটি প্রথম মতটি সম্বলিত কিতাবের চেয়ে পরবর্তী সময়ের হবে, অথবা তার ইমামের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য থাকবে যে, এক মতটি পরবর্তী সময়ের এবং অন্যটি পূর্ববর্তী সময়ের।আর দুই সম্ভাবনার (احتمالين) মধ্যে শক্তিশালীটির ব্যাপারে মুকাল্লিদের (مقلদ) তা জানার কোনো পথ নেই। কারণ, কোনো বক্তব্য বা সম্ভাবনার (احتمال) শক্তি যাচাইয়ের জন্য এমন ইলমের প্রয়োজন যা মুকাল্লিদের (مقلদ) কাছে থাকে না।হ্যাঁ, যদি তার ইমাম স্পষ্টভাবে বলে দেন যে, দুই সম্ভাবনার (احتمالين) মধ্যে একটি অপরটির চেয়ে শক্তিশালী এবং অগ্রগণ্য (أرجح), অথবা শক্তিশালীটি চিহ্নিত করার যোগ্যতাসম্পন্ন কেউ মুকাল্লিদকে (مقلদ) অবহিত করেন, তবে এখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সঠিক হতে পারে।আল-আমীর (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর হাশিয়ায় যা উল্লেখ করেছেন তার কোনো ভিত্তি নেই যে, মুকাল্লিদ (مقلদ) কিছু কারণের মাধ্যমে তা সক্ষম হতে পারে, যা সে এক মাফহুমের (مفهوم) ওপর অন্য মাফহুমের (مفهوم) শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবনের মাধ্যমে জানতে পারে। কেননা আমরা বলি: যদি সে যথাযথভাবে তা জানত, তবে সেই হুকুমের (حكم) ক্ষেত্রে সে মুকাল্লিদ (مقلদ) থাকত না, যেটিকে সে ওই কারণের ভিত্তিতে শক্তিশালী হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।তাঁর উক্তি: "এবং তা তাখরীজ (تخريج) হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না" ইত্যাদি।আমি বলি: যদি তাখরীজ (تخريج) বলতে সেটিই হয় যা তিনি উল্লেখ করেছেন—অর্থাৎ মুকাল্লিদ (مقلদ) জানতে পারে যে এমন দুটি মাসআলার (مسألتين) মাঝে কোনো পার্থক্য নেই যার একটির ব্যাপারে মুজতাহিদ (مجتهد) নস (نص) প্রদান করেছেন অন্যটির ব্যাপারে করেননি, অতঃপর মুকাল্লিদ (مقلদ) দ্বিতীয় মাসআলার বিধানকে (حكم) সেই মাসআলার বিধানের (حكم) ন্যায় নির্ধারণ করে যার ব্যাপারে মুজতাহিদ (مجتهد) নস (نص) দিয়েছেন—তবে প্রথমেই বলা হবে: এই বেচারা মুকাল্লিদের (مقلد) পক্ষে কোথায় সম্ভব এই দুই মাসআলার (مسألتين) মাঝে পার্থক্যের অনুপস্থিতি জানা? কেননা এটি এমন ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট যা তার ইলমের আওতাভুক্ত নয়।আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে, সে দালালতুল খিতাব (دلالة الخطاب), তার পরিত্যক্ত অংশ এবং গ্রহণযোগ্য অংশ সম্পর্কে অবগত, এবং এই জ্ঞানের মাধ্যমে সে অন্য একটি মাসআলাকেও তার সাথে যুক্ত করেছে, তবে এটি তো মূলত কিয়াস (قياس)। যদি কেউ দাবি করে যে এটি কিয়াস (قياس) নয়, তবে এটি আসলে কী? সারকথা হলো, তাখরীজকে (تخريج) কিয়াসের (قياس) চেয়ে ভিন্ন একটি স্বতন্ত্র প্রকার হিসেবে গণ্য করা নিছক একটি দাবি মাত্র, যার মূলে কোনো প্রমাণ নেই। তাছাড়া, আপনি তো জেনেছেন যে সুস্পষ্ট ও স্পষ্ট মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে তাকলীদ (تقليد) জায়েজ নয়; সুতরাং এমন মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে তাকলীদ না জায়েজ হওয়া আরও বেশি যুক্তিসঙ্গত, যেগুলোর ব্যাপারে বলা হয়েছে যে সেগুলো মুখাররিজ (مخرج) বা মুখাররাজ লাহু (مخرج له)-এর উক্তি নয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وعلى تقدير احتمال أن يكون من قول أحدهما لا على التعيين فقد علمت أن أحدهما مقلد وتقليد المقلد لا يجوز بالإجماع.وبالجملة فهذه ظلمات بعضها فوق بعض وتوسيع لدائرة التقليد المنهي عنه بالكتاب والسنة.قوله: "ولا قياسا لمسألة" الخ.أقول: إنما يعرف الأصل والفرع والعلة والحكم كما ينبغي المجتهد المطلق وأما من كان مقلدا فمعرفته لذلك مجرد دعوى لأن أصالة الأصل وفرعية الفرع وعلية العلة تستمرى من علوم لا يدري المقلد ما هي فضلا عن أن يفهمها بوجه من الوجوه.من أين له الوقوف على محل التعارض حتى يصير إلي الجمع عند إمكانه أو الترجيح عند عدمه فإنه إنما يقتدر على هذا على وجه الصحة من يقتدر على الجمع أو الترجيح عند تعارض الأدلة.وعلى تقدير أنه قد بلغ إلي هذه الرتبة ووصل إلي هذه المنزلة فهو مجتهد لا مقلد فما له وللاشتغال بكلام مجتهد مثله؟!قوله: "وفي جواز تقليد إمامين" الخ.أقول: هذا قد أغنى عنه قوله فيما تقدم والتزام مذهب إمام معين أولى ولا يجب فإن هذا يفيد جواز تقليد إمامين وأكثر ومن لازم الجواز أن يكون مخيرا بين أقوالهم مع الاختلاف فتصريحه هنا بأن في الجواز خلاف مخالف لقوله فيما تقدم ولا يجب لأن نفي الوجوب يوجب الجواز وهذا ظاهر لا يخفى.
এই সম্ভাবনার ভিত্তিতে যে এটি নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা ছাড়া তাদের কোনো একজনের উক্তি হতে পারে, আপনি ইতিপূর্বেই জেনেছেন যে তাদের একজন হলেন অনুসারী (مقلد) এবং অনুসারীর অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) অনুযায়ী বৈধ নয়।মোদ্দাকথা, এগুলো হলো একের পর এক অন্ধকার এবং কিতাব (الكتاب) ও সুন্নাহ (السنة) কর্তৃক নিষিদ্ধ অন্ধ অনুসরণের (تقليد) পরিধিকে আরও বিস্তৃত করা।তাঁর উক্তি: "এবং কোনো মাসআলার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বিশ্লেষণ (قياس) নয়" ইত্যাদি।আমি বলব: মূলনীতি (الأصل), শাখা (الفرع), কার্যকারণ (العلة) এবং বিধান (الحكم) সম্পর্কে যথাযথভাবে কেবলমাত্র একজন স্বাধীন গবেষণাকারী (المجتهد المطلق)-ই সম্যক অবগত হতে পারেন। আর যে ব্যক্তি অনুসারী (مقلد), তার এ সংক্রান্ত জ্ঞান নিছক একটি দাবি মাত্র। কারণ মূলের মৌলিকত্ব, শাখার উপজাত হওয়া এবং কার্যকারণের ভিত্তি এমন সব জ্ঞান থেকে উদ্ভূত যা একজন অনুসারী (مقلد) কী তা-ই জানে না, কোনোভাবে তা বোঝা তো দূরের কথা।বৈপরীত্যের (التعارض) স্থানটি অনুধাবন করার সামর্থ্য তার কোথায়, যাতে সম্ভব হলে সে সমন্বয় (الجمع) কিংবা সম্ভব না হলে অগ্রগণ্যতা (الترجيح) প্রদান করতে পারে? কেননা দলিলের বৈপরীত্যের (تعارض الأدلة) ক্ষেত্রে সঠিক উপায়ে সমন্বয় (الجمع) বা অগ্রগণ্যতা (الترجيح) প্রদানে কেবলমাত্র সেই সক্ষম যে এর যোগ্যতা রাখে।আর এই সম্ভাবনার ভিত্তিতে যে সে এই স্তরে উন্নীত হয়েছে এবং এই মর্যাদায় পৌঁছেছে, তবে সে তো একজন গবেষণাকারী (مجتهد), কোনো অনুসারী (مقلد) নয়। তাহলে তার জন্য নিজের মতো অন্য একজন গবেষণাকারীর (مجتهد) কথা নিয়ে পড়ে থাকার কী প্রয়োজন?!তাঁর উক্তি: "এবং দুইজন ইমামের অন্ধ অনুসরণের (تقليد) বৈধতা (جواز) প্রসঙ্গে" ইত্যাদি।আমি বলব: এটি তাঁর পূর্ববর্তী বক্তব্যের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে গেছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন "নির্দিষ্ট কোনো ইমামের মাযহাব আঁকড়ে ধরা উত্তম কিন্তু আবশ্যক নয় (لا يجب)"। কারণ এটি দুইজন বা তার বেশি ইমামের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করার বৈধতা (جواز) প্রদান করে। আর বৈধতার (جواز) দাবি হলো মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে তাদের উক্তিগুলোর মধ্য থেকে যে কোনোটি বেছে নেওয়ার ইখতিয়ার থাকা। সুতরাং এখানে বৈধতার (جواز) ক্ষেত্রে মতভেদ আছে বলে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্যটি তাঁর পূর্ববর্তী উক্তি "আবশ্যক নয় (لا يجب)" এর পরিপন্থী। কেননা আবশ্যকতা (وجوب) অস্বীকার করা বৈধতাকে (جواز) সাব্যস্ত করে, আর এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যা গোপন থাকার নয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
كتاب الطهارةباب النجاسات…[باب النجاساتهي عشر: ما خرج من سبيلي ذي دم لا يؤكل أو جلال قبل الاستحالة والمسكر وإن طبخ إلا الحشيشة والبنج ونحوهما والكلب والخنزير والكافر وبائن حي ذي دم حلته حياة غالبا والميتة إلا السمك وما لا دم له وما لا تحله الحياة من غير نجس الذات وهذه مغلظة.وقيء من المعدة ملأ الفم دفعة ولبن غير المأكول إلا من مسلمة حية والدم وأخواه إلا من السمك والبق والبرغوث وما صلب على الجرح وما بقي في العروق بعد الذبح وهذه مخففة إلا من نجس الذات وسبيلي ما لا يؤكل.وفي ماء المكوة والجرح الطري خلاف وما كره أكله كره بوله كالأرنب] .
পবিত্রতা অধ্যায়নাপাকি বা অপবিত্রতা পরিচ্ছেদ…[নাপাকি বা অপবিত্রতা (نجاسات) পরিচ্ছেদ:
এগুলো দশ প্রকার: রক্তবিশিষ্ট এমন প্রাণীর মলদ্বার বা মূত্রদ্বার দিয়ে যা নির্গত হয় যার মাংস খাওয়া বৈধ নয় অথবা জালালাহ (جلالة) (বিষ্ঠাভোজী প্রাণী)—তার পবিত্র অবস্থায় রূপান্তরের (استحالة) পূর্বে; এবং মাদকদ্রব্য (مسكر) যদিও তা সিদ্ধ করা হয়, তবে হাশিশ (গাঁজা), ভাঙ ও এই জাতীয় বস্তু ব্যতীত; এবং কুকুর, শুকর ও কাফির; এবং রক্তবিশিষ্ট জীবিত প্রাণীর শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এমন অঙ্গ যাতে সাধারণত প্রাণ বিদ্যমান থাকে; এবং মৃত জীব (ميتة) তবে মাছ ও রক্তহীন প্রাণী ব্যতীত এবং যা স্বকীয়ভাবে নাপাক (نجس الذات) নয় এমন বস্তু থেকে বিযুক্ত হওয়া অংশ যাতে জীবন সঞ্চারিত হয় না—এগুলো হলো কঠোর অপবিত্রতা (مغلظة)।
পাকস্থলী থেকে নির্গত বমি যা একযোগে মুখ ভরে ফেলে; এবং অখাদ্য প্রাণীর দুধ, তবে জীবিত মুসলিম নারীর দুধ ব্যতীত; এবং রক্ত ও তার সহযোগী দুটি (অর্থাৎ পুঁজ ও পিত্ত), তবে মাছ, ছারপোকা ও উঁকুন এবং জখমের ওপর যা শক্ত হয়ে জমাট বাঁধে এবং জবেহ করার পর শিরাসমূহে যা অবশিষ্ট থাকে তা ব্যতীত—এগুলো হলো লঘু অপবিত্রতা (مخففة); তবে স্বকীয়ভাবে নাপাক (نجس الذات) প্রাণী এবং অখাদ্য প্রাণীর মল-মূত্র ত্যাগের পথ থেকে যা নির্গত হয় তা এর ব্যতিক্রম (অর্থাৎ সেগুলো কঠোর অপবিত্রতা)।
ফোস্কা ও সতেজ ক্ষতের পানির ব্যাপারে মতপার্থক্য (خلاف) বিদ্যমান; আর যে প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করা মাকরূহ (كره), তার প্রস্রাবও মাকরূহ, যেমন—খরগোশ।]
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قوله: "ما خرج من سبيلي ذي دم لا يؤكل"أقول: حق استصحاب البراءة الأصلية وأصالة الطهارة أن يطالب من زعم بنجاسة عين من الأعيان بالدليل فإن نهض به كما في نجاسة بول الآدمي وغائطه والروثة فذاك وإن عجز عنه أو جاء بما لا تقوم به الحجة فالواجب علينا الوقوف على ما يقتضيه الأصل والبراءة.وبهذا تعرف أن الاستدلال بمفهوم حديث جابر والبراء بلفظ: "لا بأس ببول ما أكل لحمه" على نجاسة بول ما لا يؤكل لحمه لا تقوم به الحجة فإن في إسناد حديث جابر عمرو بن الحصين العقبلي قال أبو حاتم ذاهب الحديث ليس بشيء وقال أبو زرعة واهي الحديث وقال الأزدي ضعيف جدا يتكلمون فيه وقال الدارقطني متروك.وفي إسناده أيضا يحيى بن العلاء أبو عمرو البجلي الرازي قال أحمد كذاب يضع الحديث وقال يحيى ليس بثقة وقال ابن عدي أحاديثه موضوعات.وأما حديث البراء ففي إسناده سوار بن مصعب وهو متروك الحديث عند جميع أهل النقل وقال ابن حزم في المحلي خبر باطل موضوع.على أنه قد اختلف على سوار فيه فرواه الدارقطني عنه عن مطرف عن أبي الجهم عن البراء مرفوعا بلفظ: "ما أكل لحمه فلا بأس بسؤره".فهو بهذا اللفظ لا يدل على محل النزاع وتعرف أيضا انتهاض ما استدل به القائلون بنجاسة الأبوال والأزبال على العموم لأن غاية ما عولوا عليه حديث: "إنه كان لا يستنزه من بوله" [البخاري "216‘ 218، 1361، 1378، 6052"، مسلم "111/292"، أبو دأود "20"، النسائي "31"، الترمذي "70"، ابن ماجة "347"، أحمد "1/225"] ، وحديث "اسنتزهوا من البول".والأول في الصحيح والثاني صححه ابن خزيمة.وما أخرجه الطبراني من حديث أبي أمامة مرفوعا بلفظ: "اتقوا البول فإنه أول ما يحاسب به العبد في القبر" قال في مجمع الزوائد رجاله موثقون.قالوا والبول في هذه الأحاديث عام ويجاب عنه بأنه مخصص على تقدير العموم ومقيد على تقدير الإطلاق بما ثبت في الصحيح بلفظ "من بوله".ثم هذا الدليل هو أخص من الدعوى فإنه في البول لا في الزبل.وبالجملة فكل ما استدل به القائلون بطهارة ما خرج من سبيلي ما يؤكل لحمه يدل على الأصل الذي ذكرناه ولا ينفي طهارة ما خرج من سبيلي غير المأكول.وتعرف أيضا عدم انتهاض ما استدل به القائلون بنجاسة مني الآدمي فإن حديث "إنما تغسل ثوبك من البول والغائط والقيء والدم والمني" لا تقوم به الحجة أصلا لبلوغه في الضعف إلي حد لا يصلح معه للاحتجاج به وكذا حديث أنه صلى الله عليه وسلم "كان يغسل ثوبه من المني" [البخاري "229"، مسلم "108/286"] . ليس فيه أن ذلك لأجل كونه نجسا فإن مجرد الاستقذار بل مجرد درن الثوب مما يكون سببا لغسله وقد ثبت من حديث عائشة عند مسلم وغيره أنها كانت تفرك
তাঁর বক্তব্য: "রক্ত আছে এমন অখাদ্য প্রাণীর দুই পথ থেকে যা বের হয়।"আমি বলি: মূলগত দায়মুক্তির নীতি (استصحاب البراءة الأصلية) এবং মূলগত পবিত্রতার (أصالة الطهارة) দাবি হলো—যে ব্যক্তি কোনো সত্তাকে অপবিত্র (نجاسة) বলে দাবি করবে, তাকেই প্রমাণ পেশ করতে হবে। যদি প্রমাণ সুদৃঢ় হয়, যেমনটি মানুষের প্রস্রাব, পায়খানা এবং গোবরের অপবিত্রতার ক্ষেত্রে হয়েছে, তবে তো ভালো। কিন্তু যদি সে প্রমাণ দিতে অক্ষম হয় অথবা এমন কিছু পেশ করে যা দলিল (الحجة) হিসেবে গণ্য হয় না, তবে আমাদের জন্য মূলগত অবস্থা এবং দায়মুক্তির ওপর অটল থাকা আবশ্যক।এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন যে, জাবির এবং বারা-এর হাদিসের মফহুম (مفهوم) বা মর্মার্থ দ্বারা যে দলিল পেশ করা হয়—যাতে বলা হয়েছে: "যে প্রাণীর মাংস খাওয়া হয় তার প্রস্রাবে কোনো সমস্যা নেই"—তা দ্বারা অখাদ্য প্রাণীর প্রস্রাব অপবিত্র হওয়ার বিষয়ে দলিল সাব্যস্ত হয় না (لا تقوم به الحجة)। কারণ জাবিরের হাদিসের সনদে (إسناد) আমর ইবনুল হুসাইন আল-উকায়লি রয়েছেন। আবু হাতিম তার সম্পর্কে বলেছেন: তিনি হাদিস বিলুপ্তকারী (ذاهب الحديث), তিনি গুরুত্বহীন (ليس بشيء)। আবু যুরআহ তাকে হাদিস বর্ণনায় অত্যন্ত দুর্বল (واهي الحديث) বলেছেন। আল-আযদি তাকে অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا) বলেছেন এবং মুহাদ্দিসগণ তার সমালোচনা করেছেন। আর দারাকুতনি তাকে পরিত্যক্ত (متروك) বলেছেন।সেই সনদে ইয়াহইয়া ইবনুল আলা আবু আমর আল-বাজালি আর-রাজিও রয়েছেন। ইমাম আহমদ তাকে চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) বলেছেন এবং তিনি হাদিস জাল (يضع الحديث) করতেন। ইয়াহইয়া ইবনে মাইন তাকে নির্ভরযোগ্য নয় (ليس بثقة) বলেছেন। ইবনে আদি বলেছেন তার বর্ণিত হাদিসগুলো জাল (موضوعات)।আর বারা-এর হাদিসের সনদে সাওয়ার ইবনে মুসআব রয়েছে, যিনি সকল হাদিস বিশারদের নিকট হাদিস বর্ণনায় পরিত্যক্ত (متروك الحديث)। ইবনে হাজম আল-মুহাল্লা গ্রন্থে একে বাতিল (باطل) ও জাল (موضوع) সংবাদ বলেছেন।তা ছাড়া, সাওয়ারের বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে। দারাকুতনি এটি তার মাধ্যমে মুতাররিফ হতে, তিনি আবুল জাহম হতে, তিনি বারা হতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন (مرفوعا): "যার মাংস খাওয়া হয় তার উচ্ছিষ্টে কোনো সমস্যা নেই।"সুতরাং এই শব্দের হাদিসটি বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ওপর প্রমাণ হিসেবে দাঁড়ায় না। আপনি আরও জানতে পারবেন যে, যারা ঢালাওভাবে সকল প্রস্রাব ও বিষ্ঠা অপবিত্র হওয়ার স্বপক্ষে দলিল পেশ করেন তাদের প্রমাণাদিও সুদৃঢ় নয়। কারণ তারা সর্বোচ্চ যে হাদিসের ওপর নির্ভর করেছেন তা হলো: "নিশ্চয়ই তিনি নিজ প্রস্রাব থেকে সতর্ক থাকতেন না" [সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ি, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ] এবং "তোমরা প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করো" শীর্ষক হাদিস।প্রথম হাদিসটি সহিহ (صحيح) গ্রন্থে রয়েছে এবং দ্বিতীয়টিকে ইবনে খুজাইমা সহিহ বলেছেন (صححه)।আর তাবারানি আবু উমামা থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী হিসেবে যা বর্ণনা (مرفوعا) করেছেন: "তোমরা প্রস্রাব থেকে বেঁচে থাকো, কারণ কবরে বান্দার সর্বপ্রথম এই বিষয়ে হিসাব নেওয়া হবে।" মাজমাউয যাওয়ায়েদ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য হিসেবে অভিহিত (موثقون)।তারা বলেন, এই হাদিসগুলোতে 'প্রস্রাব' শব্দটি সাধারণ (عام) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এর জবাবে বলা যায় যে, যদি একে সাধারণ (عام) ধরা হয় তবে এটি নির্দিষ্ট (مخصص) করা হয়েছে, আর যদি নিঃশর্ত ধরা হয় তবে সহিহ (صحيح) গ্রন্থে সাব্যস্ত হওয়া "তার প্রস্রাব থেকে" শব্দটির দ্বারা একে সীমাবদ্ধ (مقيد) করা হয়েছে।অধিকন্তু, এই দলিলটি দাবির চেয়ে অধিকতর সুনির্দিষ্ট; কারণ এটি প্রস্রাব সম্পর্কে, বিষ্ঠা সম্পর্কে নয়।মোটকথা, হালাল প্রাণীর দুই পথ দিয়ে যা বের হয় তার পবিত্রতার স্বপক্ষে যারা দলিল দেন, তা আমাদের উল্লিখিত মূলনীতির (আসল) দিকেই নির্দেশ করে এবং তা অখাদ্য প্রাণীর দুই পথ দিয়ে নির্গত বস্তুর পবিত্রতাকে অস্বীকার করে না।আপনি আরও জানতে পারবেন যে, মানুষের বীর্য অপবিত্র হওয়ার স্বপক্ষে যারা দলিল দেন, তাদের প্রমাণাদিও সুদৃঢ় নয়। কারণ "তুমি তোমার কাপড় থেকে প্রস্রাব, পায়খানা, বমি, রক্ত ও বীর্য ধুয়ে ফেলবে"—এই হাদিসটি মোটেই দলিল (الحجة) হওয়ার যোগ্য নয়। কারণ এটি দুর্বলতার (الضعف) এমন স্তরে পৌঁছেছে যে, একে দলিল হিসেবে পেশ (الاحتجاج) করা চলে না। ঠিক তেমনি রাসূলুল্লাহ (সা.) "নিজের কাপড় থেকে বীর্য ধুয়ে ফেলতেন" [সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম] শীর্ষক হাদিসটিও অকাট্য নয়। এতে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, তা অপবিত্র হওয়ার কারণেই ধোয়া হতো। কারণ কেবল ঘৃণা বা নোংরা মনে হওয়া, এমনকি কাপড়ের সাধারণ ময়লা দূর করাও ধোয়ার কারণ হতে পারে। আর সহিহ মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি তা রগড়ে বা খুঁটে ফেলতেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المني من ثوب رسول الله صلى الله عليه وآله ولم وهو يصلي ولو كان نجسا لنزل عليه الوحي بذلك كما نزل عليه الوحي بنجاسة النعال الذي صلى فيه.وأما المذى والودى فقد قام الدليل الصحيح على غسلهما فأفاد ذلك بنجاستهما ولكنه أخرج أبو دأوود والترمذي وابن ماجه وابن خزيمة وقال الترمذي حسن صحيح عن سهل ابن حنيف قال كنت ألقي من المذى شدة وكنت أكثر الاغتسال منه فسألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك فقال: "إنما يجزيك من ذلك الوضوء" قلت يا رسول الله فكيف بما يصيب ثوبي منه قال: "يكفيك بأن تأخذ كفا من ماء فتنضخ بها ثوبك حيث ترى أنه أصابه".فدل هذا الحديث على أن مجرد النضخ يكفي في رفع نجاسة المذى ولا يصح أن يقال هنا ما قيل في المني إن سبب غسله كونه مستقذرا لأن مجرد النضخ لا يزيل عين المذى كما يزيله الغسل فظهر بهذا أن نضخه واجب وأنه نجس خفف تطهيره.قوله: "أو جلال قبل الاستحالة".أقول: لم يرد دليل يدل على نجاسة بول الجلالة ورجيعها بل الذي ورد عنه صلى الله عليه وسلم هو النهي عن أكل الجلالة وشرب لبنها حتى تحبس كما أخرجه أصحاب السنن وغيرهم من حديث ابن عباس وهو حديث صحيح.والنهي عن أكل لحمها وشرب لبنها لا يستلزم نجاسة رجيعها وبولها ولا يصح إلحاق ذلك بالقياس على الأكل والشرب لأن الحكم في الأصل تحريم الأكل والشرب وفي الفرع النجاسة وهما مختلفان وليس القياس إلا إثبات مثل حكم الأصل في الفرع.نعم إن خرج ما جلته بعينه فله حكمه الأصلي لبقاء العين وإن خرج بعد استحالة تلك العين إلي صفة أخرى حتى لم يبق لون ولا ريح ولا طعم فلا وجه للحكم بالنجاسة لا من نص ولا من قياس ولا من رأي صحيح.قوله: "والمسكر وإن طبخ إلا الحشيشة والبنج ونحوهما".أقول: ليس في نجاسة المسكر دليل يصلح للتمسك به أما الآية وهو قوله: {إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ} [المائدة: 90" فليس المراد بالرجس هنا النجس بل الحرام كما يفيده السياق وهكذا في قوله تعالي: {قُلْ لا أجد فِي مَا أوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّماً عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أو دَماً مَسْفُوحاً أو لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ} [الأنعام: 145] ، أي حرام.وقد أنكر بعض أهل العلم ورود لفظ الرجس بمعنى النجس وجعل ما ورد منه مثل قوله صلى الله عليه وسلم في الروثة: "إنها ركس" [البخاري"156"] . والركس الرجس مجازا على أن في الآية الأولى ما يمنع من حملها على أن المراد بالرجس النجس وذلك اقتران الخمر بالميسر والأنصاب والأزلام فإنها طاهرة بالإجماع.وأما الاستدلال على نجاسة الخمر بحديث أبي ثعلبة الخشنى عند أبي دأود والترمذي
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়রত অবস্থায় তাঁর কাপড় থেকে বীর্য অপসারিত করা হয়েছিল। যদি তা অপবিত্র (نجس) হতো, তবে অবশ্যই সে সম্পর্কে ওহি নাযিল হতো, যেমনটি সালাত আদায়ের সময় তাঁর জুতার নাপাকি (نجاسة) সম্পর্কে ওহি নাযিল হয়েছিল।আর মযী ও ওয়াদী সম্পর্কে সঠিক (صحيح) দলিল সাব্যস্ত হয়েছে যে, তা ধৌত করতে হবে; যা এদের অপবিত্রতা (نجاسة) নির্দেশ করে। তবে আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ এবং ইবনে খুযাইমা বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে হাসান সহিহ (حسن صحيح) বলেছেন, যা সাহল ইবনে হুনাইফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মযী নির্গত হওয়ার কারণে কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতাম এবং এজন্য বারবার গোসল করতাম। আমি এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "তোমার জন্য কেবল ওজু করাই যথেষ্ট হবে।" আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাপড়ে যা লাগে সেটির কী হবে? তিনি বললেন: "তোমার জন্য এক অঞ্জলি পানি নিয়ে কাপড়ের যেখানে লেগেছে বলে মনে করো সেখানে ছিটিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট।"এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, মযীর নাপাকি (نجاسة) দূর করার জন্য কেবল পানি ছিটিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট। বীর্যের ক্ষেত্রে যা বলা হয় যে, তা ধৌত করার কারণ হলো সেটি নোংরা মনে হওয়া—তা এখানে বলা সঠিক হবে না। কারণ কেবল পানি ছিটানো মযীর মূল অস্তিত্বকে সেভাবে দূর করে না যেভাবে ধৌত করলে দূর হয়। সুতরাং এর দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, এর উপর পানি ছিটানো ওয়াজিব এবং এটি এমন এক নাপাক (نجس) যার পবিত্রকরণ পদ্ধতি সহজ করা হয়েছে।তাঁর বক্তব্য: "অথবা জিল্লালাহ (মলভোজী প্রাণী), রূপান্তরের পূর্বে।"আমি বলছি: জিল্লালাহ প্রাণীর প্রস্রাব ও বিষ্ঠা নাপাক (نجاسة) হওয়ার ব্যাপারে এমন কোনো দলিল বর্ণিত হয়নি যা দ্বারা প্রমাণ পেশ করা যায়। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো জিল্লালাহ প্রাণীর গোশত খাওয়া এবং এর দুধ পান করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে যতক্ষণ না একে আবদ্ধ রেখে পবিত্র খাবার খাওয়ানো হয়; যেমনটি সুনান গ্রন্থকারগণ ও অন্যান্যরা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস।আর এর গোশত খাওয়া ও দুধ পান করা নিষিদ্ধ হওয়া মানেই এর বিষ্ঠা ও প্রস্রাব নাপাক (نجاسة) হওয়া আবশ্যক করে না। খাওয়া ও পানের ওপর কিয়াস করে একে নাপাক বলাও সঠিক নয়। কারণ মূল বিষয়ের বিধান হলো খাওয়া ও পান করা হারাম হওয়া, আর শাখা বিষয়ের দাবি হলো নাপাক হওয়া, অথচ এই দুটি ভিন্ন বিষয়। কিয়াস হলো মূল বিষয়ের বিধানের অনুরূপ বিধান শাখা বিষয়ে সাব্যস্ত করা ছাড়া আর কিছু নয়।হ্যাঁ, যদি প্রাণীটি যা খেয়েছে তা অবিকল নির্গত হয় তবে সেই বস্তুর মূল বিধান কার্যকর হবে। কিন্তু যদি সেই বস্তুর রূপান্তর ঘটে অন্য কোনো অবস্থায় পরিবর্তিত হয়, এমনকি এর রঙ, গন্ধ বা স্বাদ অবশিষ্ট না থাকে, তবে একে নাপাক (نجاسة) বলার কোনো কারণ নেই—না কোনো নস থেকে, না কিয়াস থেকে, আর না কোনো সঠিক (صحيح) মতামত থেকে।তাঁর বক্তব্য: "এবং মাদকদ্রব্য, যদিও তা রান্না করা হয়; তবে হাশিশ (গাঁজা), ভাঙ ইত্যাদি ব্যতীত।"আমি বলছি: মাদকদ্রব্য নাপাক হওয়ার বিষয়ে এমন কোনো দলিল নেই যা প্রমাণের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে। আয়াতের কথা যদি বলা হয়, যা হলো: {নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ অপবিত্র (رجس), শয়তানের কাজ} [আল-মায়েদাহ: ৯০]; এখানে 'রিজস' বলতে নাপাক (نجس) উদ্দেশ্য নয়, বরং হারাম উদ্দেশ্য, যা প্রসঙ্গের দ্বারা বোঝা যায়। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণীতে: {বলুন: আমার কাছে যে ওহি পাঠানো হয়েছে তাতে কোনো আহারকারীর জন্য আহার করা হারাম বলে আমি পাই না, তবে যদি তা মৃত জানোয়ার, প্রবাহিত রক্ত অথবা শূকরের গোশত হয়; কারণ তা অপবিত্র (رجس)} [আল-আন'আম: ১৪৫], অর্থাৎ হারাম।কোনো কোনো আলেম 'রিজস' শব্দটিকে নাপাক (نجس) অর্থে ব্যবহার করাকে অস্বীকার করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে যা বর্ণিত হয়েছে, যেমন বিষ্ঠা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "এটি অপবিত্র (ركس)" [সহিহ বুখারি]। আর 'রিকস' হলো রূপক অর্থে 'রিজস'। তা ছাড়া প্রথম আয়াতে এমন কিছু রয়েছে যা একে নাপাক (نجس) অর্থে গ্রহণ করতে বাধা দেয়, আর তা হলো মদের সাথে জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্য নির্ধারক শরের উল্লেখ থাকা, অথচ এগুলো ইজমা (الإجماع) অনুযায়ী পবিত্র (طاهرة)।আর মদের নাপাকি বিষয়ে আবু দাউদ ও তিরমিজিতে বর্ণিত আবু সা'লাবা আল-খুশানির হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা...
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
والحاكم أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر برحض آنية أهل الكتاب لما قال له إنهم يشربون فيها الخمر ويطبخون فيها لحم الخنزير فإن المراد بأمره صلى الله عليه وسلم بالغسل أن يزيلوا منها أثر ما يحرم أكله وشربه ولا ملازمة بين التحريم والنجاسة كما عرفت.ولفظ الحديث "إن وجدتم غيرها فكلوا فيها واشربوا وإن لم تجدوا غيرها فارحضوها بالماء وكلوا واشربوا"وفي لفظ الترمذي "أنقوها غسلا وأطبخوا فيها" [الترمذي "1857"] .فهذا يدلك على أن الكلام في الأكل والشرب فيها والطبخ لما يطبخونه فيها تحذير من اختلاط مأكولهم ومشروبهم بمأكول أهل الكتاب ومشروبهم للقطع بتحريم الخمر والخنزير ومما يؤيد ما ذكرناه ما أخرجه أحمد وأبو دأود عن جابر قال كنا نغزو مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فنصيب من آنية المشركين واسقيتهم فنستمتع بها فلا يعيب ذلك عليهم.وأخرج أحمد عن أنس أن يهوديا دعا النبي صلى الله عليه وسلم إلي خبز شعير وإهالة سنخة فأجابه. [أحمد "3/210 – 211"] .قوله: "والكلب"أقول: استدلوا على ذلك بحديث "إذا ولغ الكلب في إناء أحدكم" [مسلم "280"، أحمد "4/86"، أبو دأود "74"، النسائي "1/177"، ابن ماجة "365"] الحديث. وهذا حكم مختص بولوغه فقط وليس فيه ما يدل على نجاسة ذاته كلها لحما وعظما ودما وشعرا وعرقا وإلحاق هذه بالقياس على الولوغ بعيد جدا ولا سيما مع حديث ابن عمر عند أبي دأود والإسماعيلي وأبي نعيم والبيهقي بلفظ كانت الكلاب تبول في المسجد وتقبل وتدبر زمان رسول الله فلم يكونوا يرشون شيئا وأخرجه البخاري بدون لفظ تبول ولكن ذكره الأصيلي في رواية إبراهيم بن معقل عن البخاري بزيادة لفظ تبول وهذا مما يقوي الاقتصار على إفادة حديث الولوغ وذلك لحكمة للشارع لا نعقلها والواجب علينا العمل بما دلت عليه النصوص وإن لم نعقل الحكمة التي وردت لها.ومما يدل على ما ذكرناه إيجاب التسبيع والتتريب فإنه مخالف لما ورد في غسل سائر النجاسات ومما يؤيد ما ذكرناه من الاختصاص لحكمة لا نعقلها.قوله: "والخنزير".أقول: استدلوا على ذلك بقوله تعالي: {أو لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ} ويجاب عنه بما قدمنا من أن المراد بالرجس هنا الحرام كما يفيده سياق الآية والمقصود منها فإنها وردت فيما يحرم أكله لا فيما هو نجس فإن الله سبحانه قال: {قُلْ لا أجد فِي مَا أوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّماً عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أو دَماً مَسْفُوحاً أو لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ} [الأنعام: 145] . أي حرام. ولا تلازم بين التحريم والنجاسة فقد يكون الشيء حرأما وهو طاهر كما في قوله: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ} [النسائ: 23] ، ونحو ذلك واستدلوا أيضا بحديث أبي ثعلبة الخشني
আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আহলে কিতাবের পাত্রসমূহ ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছেন যখন তাঁকে বলা হয়েছিল যে তারা তাতে মদ পান করে এবং শূকরের মাংস রান্না করে। তাঁর ধৌত করার নির্দেশের উদ্দেশ্য হলো, যা ভক্ষণ ও পান করা হারাম (تحريم) তার প্রভাব যেন তারা পাত্র থেকে দূর করে দেয়। আর হারামের (تحريم) সাথে নাপাকির (نجاسة) কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই, যেমনটি আপনি অবগত হয়েছেন।হাদিসের পাঠ হলো: "যদি তোমরা অন্য পাত্র পাও তবে সেগুলোতে খাও ও পান করো, আর যদি অন্য পাত্র না পাও তবে সেগুলো পানি দিয়ে ধুয়ে নাও এবং খাও ও পান করো।"তিরমিজির শব্দে এসেছে: "সেগুলো ধুয়ে পরিষ্কার করো এবং তাতে রান্না করো।" [তিরমিজি "১৮৫৭"]।এটি আপনাকে নির্দেশ করে যে, এসব পাত্রে খাওয়া, পান করা এবং যা তারা রান্না করে তাতে রান্না করার বিষয়ে যে আলোচনা তা হলো আহলে কিতাবের খাদ্য ও পানীয়র সাথে নিজেদের খাদ্য ও পানীয়র মিশ্রণ থেকে সতর্ক করা; কারণ মদ ও শূকর হারাম (تحريم) হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত। আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সমর্থনে আহমদ ও আবু দাউদ জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে যুদ্ধ করতাম এবং মুশরিকদের পাত্র ও মশক হস্তগত করতাম, অতঃপর সেগুলো ব্যবহার করতাম এবং তিনি তা তাদের জন্য দোষণীয় মনে করতেন না।"আহমদ আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একজন ইহুদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যবের রুটি এবং গন্ধযুক্ত চর্বির দাওয়াত দিয়েছিলেন এবং তিনি তাতে সাড়া দিয়েছিলেন। [আহমদ "৩/২১০-২১১"]।তাঁর বক্তব্য: "এবং কুকুর"আমি বলব: তারা এর স্বপক্ষে এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, "যখন তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দেয় (ولغ)" [মুসলিম "২৮০", আহমদ "৪/৮৬", আবু দাউদ "৭৪", নাসায়ি "১/১৭৭", ইবনে মাজাহ "৩৬৫"]। এটি কেবল কুকুরের মুখ দেওয়ার (ولوغ) সাথে সংশ্লিষ্ট একটি হুকুম (حكم)। এতে এমন কোনো প্রমাণ নেই যা মাংস, হাড়, রক্ত, পশম ও ঘামসহ কুকুরের সম্পূর্ণ সত্তা নাপাক (نجاسة) হওয়ার ওপর দালালত (دلالة) করে। মুখ দেওয়ার সাথে কিয়াস (قياس) করে এই সবগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত দূরহ বিষয়। বিশেষ করে আবু দাউদ, ইসমাইলি, আবু নুয়াইম ও বায়হাকির সংকলনে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের উপস্থিতিতে, যার পাঠ হলো: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে কুকুর মসজিদে প্রস্রাব করত এবং আসা-যাওয়া করত, কিন্তু তারা কোনো কিছু ছিটাতেন না।" বুখারি 'প্রস্রাব' শব্দটি ছাড়াই এটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আল-আসিলি ইব্রাহিম ইবনে মাকাল-এর বর্ণনায় বুখারি থেকে 'প্রস্রাব' শব্দসহ অতিরিক্ত পাঠ উল্লেখ করেছেন। এটি কেবল মুখ দেওয়ার হাদিসের অর্থের ওপর সীমাবদ্ধ থাকাকেই শক্তিশালী করে, যা শারিয়াত প্রণেতার এমন এক হিকমতের (حكمة) কারণে যা আমাদের বুদ্ধি দিয়ে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। আর আমাদের ওপর ওয়াজিব (واجب) হলো নস (نصوص) যা নির্দেশ করে সে অনুযায়ী আমল করা, যদিও এর জন্য বর্ণিত হিকমত (حكمة) আমরা বুঝতে না পারি।আমরা যা উল্লেখ করেছি তার ওপর সাতবার ধৌত করা এবং মাটি ব্যবহারের আবশ্যকতাও প্রমাণ বহন করে। কেননা এটি অন্যান্য নাপাকি (نجاسات) ধৌত করার ক্ষেত্রে যা বর্ণিত হয়েছে তার পরিপন্থী এবং এটি আমাদের বর্ণিত বিষয়কে সমর্থন করে যে, বিষয়টি এমন এক বিশেষ হিকমতের (حكمة) জন্য যা আমাদের বোধগম্য নয়।তাঁর বক্তব্য: "এবং শূকর"আমি বলব: তারা এর স্বপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা শূকরের মাংস, কারণ তা অপবিত্র (رجس)} দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। এর উত্তর আমরা আগে যা দিয়েছি তা দিয়েই দেওয়া হবে যে, এখানে 'রিজস' (رجس) বলতে হারাম (حرام) উদ্দেশ্য, যা আয়াতের পূর্বাপর সম্বন্ধ (سياق) এবং এর উদ্দেশ্য থেকে স্পষ্ট হয়। কেননা আয়াতটি যা খাওয়া হারাম (تحريم) সে বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, যা নাপাক (نجس) সে বিষয়ে নয়। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, আমার কাছে যে ওহী পাঠানো হয়েছে তাতে কোনো আহারকারীর জন্য কোনো কিছু খাওয়া হারাম (محرم) পাই না, কেবল যদি তা মৃত (ميتة), অথবা প্রবাহিত রক্ত (دما مسفوحا), অথবা শূকরের মাংস হয়—তবে নিশ্চয়ই তা অপবিত্র (رجس)} [আল-আনআম: ১৪৫]। অর্থাৎ হারাম (حرام)। আর হারাম (تحريم) ও নাপাক (نجاسة) হওয়ার মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই। কেননা কোনো বস্তু হারাম হতে পারে কিন্তু তা পবিত্র (طاهر), যেমনটি আল্লাহর বাণীতে বলা হয়েছে: {তোমাদের জন্য তোমাদের মায়েদের হারাম (حرمت) করা হয়েছে} [আন-নিসা: ২৩] এবং অনুরূপ আয়াতসমূহ। তারা আবু সা'লাবা আল-খুশানির হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المتقدم وفيه الآمر بغسل آنية أهل الكتاب معللا ذلك بأنهم يطبخون فيها لحم الخنزير ويشربون فيها الخمر وقد قدمنا أن إيجاب الغسل لإزالة ما يحرم أكله وشربه لا لكونه نجسا فإن ذلك حكم آخر غير مقصود للشارع وعلى تقدير الاحتمال تنزلا فلا ينتهض المحتمل للاحتجاج به على محل النزاع.قوله: "والكافر"أقول: استدلوا بقوله تعالي: {إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ} [التوبة: 28] وهذا الدليل فيه التصريح بأنهم نجس ولكنه ورد ما يدل على أن هذه النجاسة ليست النجاسة الحسية بل النجاسة الحكمية ومن ذلك أنه صلى الله عليه وسلم لما أنزل ثقيف المسجد قيل يا رسول الله أتنزلهم المسجد وهم أنجاس فقال صلى الله عليه وسلم: "ليس على الأرض من أنجاس القوم شيء إنما أنجاس القوم على أنفسهم". ومن ذلك ما ثبت في الصحيح من أمره صلى الله عليه وسلم لأصحابه أن يشربوا وتوضؤا من مزادة المشركة.ومن ذلك أكله صلى الله عليه وسلم لطعام المشركين وتسويغه لوطء المشركات المسبيات قبل إسلامهن وغير ذلك.وورد في أهل الكتاب خاصة {وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حِلٌّ لَكُمْ} ونزل القرآن بحل نكاح نسائهم.وأما الاستدلال بحديث أبي ثعلبة من أمره صلى الله عليه وسلم بغسل آنيتهم فقد تقدم أن ذلك لأجل أنهم يشربون فيها الخمر ويطبخون فيها الخنازير وقد أوضحنا ذلك فيما تقدم وقد أخرج أحمد وابو دأود من حديث جابر قال كنا نغزو مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فنصيب من آنية المشركين واسقيتهم فنستمتع بها ولا يعيب ذلك عليهم.قوله: "وبائن من حي ذي دم حلته حياة غالبا".أقول: استدلوا بقوله صلى الله عليه وسلم: "ما قطع من البهيمة وهي حية فهو ميتة". أخرجه أحمد وأبوا دأود والترمذي [أحمد "5/218"، أبودأود "2858"، الترمذي "1480"] ، والدارمي والحاكم من حديث أبي واقد مرفوعا وأخرجه ابن ماجه والبزار والحاكم وغيرهم من حديث ابن عمر وأخرجه الطبراني من طرق أخرى عن ابن عمر وفيها عاصم بن عمر وهو ضعيف وأخرجه ابن ماجه والطبراني وابن عدي من حديث تميم الداري وإسناده ضعيف وأخرجه الحاكم عن أبي سعيد قال في البدر المنير هذا الحديث قاعدة عظيمة من قواعد الأحكام وهو مروي من طرق أربع انتهى.أقول: وبمجموعها ينتهض الحديث للاحتجاج ولكن غاية ما فيه أن ذلك البائن من الحي هو ميتة أي محرم أكله وأما أنه نجس فليس في الحديث ما يدل على ذلك وسيأتي الحديث على نجاسة الميتة.واحترز بقوله: "غالبا" عما أبين من السمك والجراد لحديث "أحل لكم ميتتان السمك والجراد" [أحمد "2/97"، ابن ماجة "3314"] ، وإذا حلت ميتتهما بجميع أجزائها حل ميتة بعضهما.
পূর্বোল্লেখিত আলোচনায় আহলে কিতাবের পাত্র ধৌত করার নির্দেশ এসেছে, যার কারণ হিসেবে দর্শানো হয়েছে যে, তারা তাতে শুকরের মাংস রান্না করে এবং মদ্যপান করে। আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, ধৌত করার এই আবশ্যকতা মূলত যা পানাহার করা হারাম তা দূর করার জন্য, তা অপবিত্র (نجس) হওয়ার কারণে নয়। কারণ সেটি একটি ভিন্ন বিধান যা শরিয়ত প্রণেতার মূল উদ্দেশ্য নয়। আর যদি বিতর্কের খাতিরে একে একটি সম্ভাবনা হিসেবে ধরেও নেওয়া হয়, তবুও কোনো সম্ভাব্য বিষয় বিরোধপূর্ণ বিষয়ে দলিল হিসেবে পেশ করার (للاحتجاج) মতো শক্তিশালী হয় না।তাঁর বক্তব্য: "এবং কাফের"আমি বলি: তাঁরা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র (نجس)" [আত-তাওবাহ: ২৮]। এই দলিলে স্পষ্টভাবে তাদের অপবিত্র (نجس) বলা হয়েছে। তবে এমন কিছু বর্ণনাও এসেছে যা নির্দেশ করে যে, এই অপবিত্রতা কোনো দৃশ্যমান অপবিত্রতা (نجاسة حسية) নয়, বরং এটি বিধানগত অপবিত্রতা (نجاسة حكمية)। এর একটি প্রমাণ হলো, নবী (সা.) যখন সাকিফ গোত্রকে মসজিদে থাকার অনুমতি দিলেন, তখন বলা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি তাদের মসজিদে থাকতে দিচ্ছেন অথচ তারা অপবিত্র? তখন নবী (সা.) বললেন: "জমিনে এই কওমের কোনো অপবিত্রতা নেই, তাদের অপবিত্রতা তাদের নিজেদের মধ্যেই।" আরও একটি প্রমাণ হলো যা সহিহ গ্রন্থে সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী (সা.) তাঁর সাহাবীদের এক মুশরিক মহিলার চামড়ার পাত্র থেকে পানি পান করার এবং অজু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।এর মধ্যে আরও রয়েছে নবী (সা.)-এর মুশরিকদের খাবার গ্রহণ এবং ইসলাম গ্রহণের পূর্বে যুদ্ধবন্দিনী মুশরিক নারীদের সাথে সহবাসের অনুমতি প্রদান এবং অন্যান্য বিষয়। বিশেষ করে আহলে কিতাবের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে: "যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের খাবার তোমাদের জন্য হালাল।" আর কুরআন তাদের নারীদের সাথে বিবাহ হালাল হওয়ার বিধান নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।আবু সা'লাবার হাদিস থেকে তাদের পাত্র ধৌত করার যে নির্দেশ এসেছে, সেই দলিল প্রসঙ্গে পূর্বেই বলা হয়েছে যে, তা ছিল মূলত তাদের সেই পাত্রে মদ পান এবং শুকর রান্নার কারণে। আমরা বিষয়টি আগে ব্যাখ্যা করেছি। ইমাম আহমদ এবং আবু দাউদ জাবের (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম এবং মুশরিকদের পাত্র ও মশক ব্যবহার করতাম, কিন্তু তিনি এর জন্য আমাদের প্রতি কোনো বিরূপ মন্তব্য করতেন না।তাঁর বক্তব্য: "এবং জীবন ও রক্ত সম্পন্ন জীবন্ত প্রাণী থেকে বিচ্ছিন্ন অংশ সাধারণত মৃত বলে গণ্য।"আমি বলি: তাঁরা নবী (সা.)-এর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "জীবন্ত চতুষ্পদ জন্তুর দেহ থেকে যা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, তা মৃত (ميتة) হিসেবে গণ্য।" এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ, আবু দাউদ এবং তিরমিজি [আহমদ ৫/২১৮, আবু দাউদ ২৮৫৮, তিরমিজি ১৪৮০], এবং দারেমি ও হাকেম এটি আবু ওয়াকিদ থেকে মারফু (مرفوعا) হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ, বাজ্জার, হাকেম এবং অন্যান্যরা এটি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাবারানি অন্যান্য সূত্রে ইবনে উমর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীদের মধ্যে আসেম বিন উমর রয়েছেন এবং তিনি দুর্বল (ضعيف)। ইবনে মাজাহ, তাবারানি এবং ইবনে আদি এটি তামিমে দারি থেকে বর্ণনা করেছেন যার সনদ দুর্বল (إسناده ضعيف)। হাকেম এটি আবু সাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন। বদরুল মুনীর গ্রন্থে বলা হয়েছে, এই হাদিসটি বিধানের মূলনীতিসমূহের মধ্যে একটি মহান মূলনীতি এবং এটি চারটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। সমাপ্ত।আমি বলি: সকল সূত্রের সমন্বয়ে হাদিসটি দলিল হিসেবে ব্যবহারের (للاحتجاج) যোগ্য হয়ে ওঠে। তবে এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ এটুকুই প্রমাণিত হয় যে, জীবন্ত প্রাণী থেকে বিচ্ছিন্ন অংশটি মৃত (ميتة), অর্থাৎ তা ভক্ষণ করা হারাম। কিন্তু সেটি যে অপবিত্র (نجس), সে ব্যাপারে হাদিসটিতে কোনো প্রমাণ নেই। মৃতের অপবিত্রতা সম্পর্কে সামনে আলোচনা আসবে।তিনি "সাধারণত" শব্দটির মাধ্যমে মাছ ও পঙ্গপাল থেকে বিচ্ছিন্ন অংশকে বাদ দিয়েছেন। কারণ হাদিসে এসেছে: "তোমাদের জন্য দুই প্রকার মৃত প্রাণী হালাল করা হয়েছে—মাছ ও পঙ্গপাল" [আহমদ ২/৯৭, ইবনে মাজাহ ৩৩১৪]। আর যখন এই দুই প্রাণীর সম্পূর্ণ মৃত দেহই হালাল, তখন তাদের দেহের কোনো অংশ বিচ্ছিন্ন হলেও তা হালাল হবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قوله: "والميتة"أقول: استدلوا على ذلك بقوله تعالي: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ} [المائدة:3] ويجاب عنه بأن التحريم لا يستلزم النجاسة كما تقدم واستدلوا أيضا بقوله: {قُلْ لا أجد فِي مَا أوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّماً عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أو دَماً مَسْفُوحاً أو لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ} [الأنعام: 45] وقد قدمنا أن سياق الآية والمقصود منها هو تحريم الأكل وأن الرجس هنا ليس المراد به النجس بل الخبيث الذي لا يحل أكله واستدلوا أيضا بحديث عبد الله بن عكيم عند أحمد وأهل السنن والبخاري في التاريخ والدارقطني والبيهقي وابن حبان مرفوعا: "لا تنتفعوا من الميتة بإهاب ولا عصب" [أحمد "4/310، 311"، أبو دأود "4127‘ 4128"، الترمذي "1729"، النسائي "7/174"، ابن ماجة "3623"] ، وهو حديث حسن ولم يعل بما يوجب سقوط الاحتجاج به وله شاهد من حديث جابر قال الشيخ الموفق إسناده حسن وشاهد آخر من حديث ابن عمر وفي إسناده عدي بن الفضل وهو ضعيف.والمنع من الانتفاع بشيء من إهاب الميتة وعصبها يدل على نجاستها ولا ينافي ذلك تخصيص أحاديث طهارة الإهاب بالدبغ فإنه يبني العام على الخاص وهي أحاديث صحيحة وهي تقوي نجاسة مطلق الميتة لأن قوله صلى الله عليه وسلم: "أيما إهاب دبغ فقد طهر" أبو دأود "2143"، الترمذي "1728"، النسائي "7/173"، ابن ماجة "3609"] ، يفيد أنه كان نجسا.وأما المناقشة من الجلال وغيره بأن نجس العين لا يطهر بالغسل ولا بالدباغ وإنما يطهر بذلك المتنجس والمدعي أن الميتة نجس عين لا متنجسة فهي مناقشة فروعية لم تستند إلا إلي ما قد تقرر في أذهاب بعض المتفقهة من ذلك.وأي مانع من ذهاب النجاسة العينية بالغسل والدبغ وقد قال صلى الله عليه وسلم في شاة ميمونة: "هلا انتفعتم بإهابها" فقالوا: يا رسول الله إنها ميتة فقال: "أليس في القرظ ما يطهرها" أو قال: "يطهرها الماء والقرظ" [أبو دأود "4126"، النسائي "7/174 – 175"، أحمد "6/334"] ، الحديث.ومما يؤيد نجاسة الميتة قوله صلى الله عليه وسلم: "المسلم لا ينجس حيا ولا ميتا" [البخاري "3/125"] ، هو حديث صحيح فإنه يفيد أن ميتة غير المسلم تنجس.قوله: "إلا السمك وما لا دم له".أقول: أما السمك فلحديث "هو الطهور ماؤه والحل ميتته" [أبو دأود "83"، أحمد "2/237، 361"، الترمذي "69"، النسائي "1/50"، ابن ماجة 386، 3246"] ، وهو حديث صالح للاحتجاج به وله طرق كثيرة قد صحح الحفاظ بعضها وقد استوفينا الكلام عليه في شرحنا للمنتقي.ولو كانت ميتة السمك نجسة لكانت حرأما لا حلالا.ومثل هذا الحديث حديث: "أحل لكم ميتتان ودمان السمك والجراد والكبد والطحال" وله طرق في أسانيدها مقال وقد روى موقوفا على ابن عمر بإسناد صحيح.وبالجملة فلا خلاف في أن ميتة السمك حلال طاهرة.
তাঁর বক্তব্য: "এবং মৃত প্রাণী"আমি বলি: তারা এর স্বপক্ষে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: {তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত প্রাণী} [আল-মায়িদা: ৩]। এর উত্তরে বলা যায় যে, কোনো কিছু হারাম হওয়া মানেই তা অপবিত্র হওয়া অবধারিত নয়, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। তারা আরও দলিল পেশ করেছেন আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {বলুন, আমার কাছে যে ওহি পাঠানো হয়েছে তাতে আহারকারীর জন্য কোনো হারাম কিছু আমি পাই না, যদি না তা মৃত প্রাণী বা প্রবহমান রক্ত কিংবা শূকরের মাংস হয়; কারণ তা অপবিত্র (رجس)} [আল-আন’আম: ১৪৫]। আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, আয়াতের প্রেক্ষাপট ও মূল উদ্দেশ্য হলো আহার করা হারাম সাব্যস্ত করা; আর এখানে 'রিজস' বলতে সত্তাগত নাপাকি বোঝানো হয়নি, বরং এমন অশুভ বা নিকৃষ্ট বস্তু বোঝানো হয়েছে যা আহার করা বৈধ নয়। তারা আরও দলিল পেশ করেছেন আহমাদ, আহলুস সুনান, আল-বুখারির তারিখ, আদ-দারা কুতনি, আল-বাইহাকি এবং ইবনে হিব্বানে বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবনে উকাইম থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হাদিসের মাধ্যমে: "তোমরা মৃত প্রাণীর চামড়া ও স্নায়ু থেকে কোনো প্রকার উপকার গ্রহণ করো না"। এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস এবং এতে এমন কোনো ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়নি যা একে দলিল হিসেবে গ্রহণের অযোগ্য করে তোলে। জাবির থেকে বর্ণিত একটি হাদিস এর সমর্থক বর্ণনা (شاهد) হিসেবে রয়েছে; শেখ মুয়াফ্ফাক বলেছেন যে, এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)। ইবনে উমর থেকে বর্ণিত আরেকটি সমর্থক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে, তবে এর সনদে (إسناد) আদি ইবনে আল-ফাদল রয়েছেন, যিনি একজন দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী।মৃত প্রাণীর চামড়া ও স্নায়ু ব্যবহারের এই নিষেধাজ্ঞা মূলত এর অপবিত্রতারই প্রমাণ দেয়। এটি চামড়া পাকা করার মাধ্যমে পবিত্র হওয়ার হাদিসগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক নয়, কারণ এখানে সাধারণ (عام) বিধানকে বিশেষ (خاص) বিধানের আলোকে বিন্যস্ত করা হয়। সেগুলো সহিহ (صحيح) হাদিস এবং সেগুলো মূলত সাধারণ মৃত প্রাণীর অপবিত্র হওয়ার বিষয়টিকে আরও জোরালো করে। কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "যেকোনো চামড়াকে যখন পাকা করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়," এই কথাটিই প্রমাণ দেয় যে এটি আগে অপবিত্র ছিল।পক্ষান্তরে আল-জালাল এবং অন্যদের পক্ষ থেকে যে আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে যে, সত্তাগতভাবে অপবিত্র (نجس العين) বস্তু ধৌত করলে বা পাকা করলে পবিত্র হয় না, বরং কেবল অপবিত্রতা স্পর্শ করেছে এমন বস্তুই এর মাধ্যমে পবিত্র হয়—এবং তাদের দাবি যে মৃত প্রাণী সত্তাগতভাবে অপবিত্র (نجس العين), বাহ্যিক কোনো নাপাকি দ্বারা অপবিত্র হওয়া বস্তু নয়—এই আপত্তিটি মূলত তাত্ত্বিক শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত যা কেবল কিছু ফকিহদের মনে প্রতিষ্ঠিত ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।সত্তাগত নাপাকি ধৌত করা বা পাকা করার মাধ্যমে দূর হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা কোথায়? অথচ মায়মুনা (রা.)-এর ছাগল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন: "তোমরা কেন এর চামড়াটি ব্যবহার করলে না?" তারা উত্তরে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এটি তো মৃত। তিনি বললেন: "বাবলা জাতীয় গাছের পাতা (কারায) কি একে পবিত্র করে না?" অথবা তিনি বলেছিলেন: "পানি ও বাবলা জাতীয় গাছের পাতা একে পবিত্র করে।"মৃত প্রাণীর অপবিত্রতাকে যা আরও সমর্থন করে তা হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "মুসলিম জীবিত কিংবা মৃত অবস্থায় অপবিত্র হয় না"। এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস, যা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে অমুসলিমের মৃতদেহ অপবিত্র হয়।তাঁর বক্তব্য: "মাছ এবং যার রক্ত নেই এমন প্রাণী ব্যতীত"।আমি বলি: মাছের ক্ষেত্রে দলিল হলো এই হাদিস: "এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল"। এটি দলিল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য (صالح للاحتجاج به) একটি হাদিস এবং এর অনেকগুলো সূত্র (طرق) রয়েছে। মুহাদ্দিসগণ (الحفاظ) এর কোনো কোনোটি সম্পর্কে সহিহ (صحح) হওয়ার রায় দিয়েছেন। মুনতাকা-এর শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ)-এ আমরা এ বিষয়ে সবিস্তার আলোচনা করেছি।মৃত মাছ যদি অপবিত্র হতো, তবে তা হালাল না হয়ে অবশ্যই হারাম হতো।এই হাদিসের অনুরূপ আরেকটি বর্ণনা হলো: "তোমাদের জন্য দুই প্রকার মৃত প্রাণী ও দুই প্রকার রক্ত হালাল করা হয়েছে: মাছ ও পঙ্গপাল এবং কলিজা ও প্লীহা।" এর সনদগুলোর (أسانيد) ব্যাপারে আলোচনা বা সমালোচনা থাকলেও এটি ইবনে উমর থেকে মাওকুফ (موقوف) হিসেবে সহিহ (صحيح) সনদে (إسناد) বর্ণিত হয়েছে।মোদ্দাকথা হলো, মৃত মাছ হালাল এবং পবিত্র হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وأما ما لا دم له فقد استدلوا على ذلك بحديث "إذا وقع الذباب في إناء أحدكم فليغمسه كله ثم ليطرحه فإن في أحد جناحيه داء وفي الآخر شفاء" [البخاري "3142، 5335"، أبو دأود "3844"، ابن ماجة "3505"، أحمد "2/229 – 230"] ، وهو في اصحيح البخاري وغيره من حديث أبي هريرة وأخرجه أحمد والنسائي وابن ماجه وابن حبان والبيهقي من حديث أبي سعيد وأخرجه الدرامي من حديث أنس وأخرجه أيضا البزاز والطبراني في الأوسط من حديثه.ولكن لا يخفاك أنه لا ملازمة بين جواز شرب ما وقع فيه الذباب وبين طهارته فقد يكون ذلك لعدم الاستقذار وقد يكون لتعذر الاحتراز من وقوعه في الأشربة لكثرة وجوده فالظاهر أن له حكم سائر الحيوانات في ميتته ولا ينافي ذلك تخصيصه بالتخفيف في شرب ما وقع فيه فإن ذلك تخصيص لما ورد في عموم الميتة على تقدير ورود أنه لا يحل شرب ما وقعت فيه الميتة على العموم ولكنه لم يرد ذلك إلا خصوصا لا عموما.قوله: "وما لا تحله الحياة"أقول: إذا تقرر بالدليل نجاسة مجموع الميتة فتخصيص بعض ما هو منها والحكم عليه بالطهارة محتاج إلي دليل ومجرد كونها لا تحله الحياة لا يصلح لذلك لأن الحكم بنجاسة الميتة يشمله وقد استدل في ضوء النهار على طهارته بالاتفاق فإن صح ذلك كان دليلا مخصصا عند من يرى حجية الإجماع ولكن الخلاف في المسألة معروف.وممن قال بنجاسة ما لا تحله الحياة المرتضى وأبو العباس.قوله: "وهذه مغلظة"أقول: الوصف لبعض النجاسات بالتغليظ ولبعضها بالتخفيف هو مجرد اصطلاح لا يرجع إلي دليل والواجب اتباع الدليل في إزالة عين النجاسة فما ورد فيه الغسل حتى لا يبقى منه لون ولا ريح ولا طعم كان ذلك هو تطهيره وما ورد فيه الصب أو الرش أو الحت أو المسح على الأرض أو مجرد المشي في أرض طاهرة كان ذلك هو تطهيره.وقد ثبت في السنة أن النعل الذي يصيبه القذر يطهر بالمسح وهو من المغلظة اصطلاحا وكذلك ورد في الثوب إذا أصابه القذر عند المشي على أرض قذرة أنه يطهره المرور على أرض طاهرة.والحاصل أن الشارع الذي عرفنا كيفية تطهير النجاسات هو الذي عرفنا كون هذه العين نجسة أو متنجسة والواجب علينا اتباع قوله: وامتثال أمره وطرح الشكوك الشيطانية والتوهمات الفاسدة فإن ذلك مع كونه مخالفة للشريعة السمحة السهلة هو أيضا غلو في الدين وقد ورد النهي عنه وهو أيضا إفراط ودين الله إنما يؤخذ عن الله وعن رسوله.فليكن هذا منك على ذكر فإنه يخلصك من أمور شديدة وقعت في كتب الفروع.قوله: "وقيء من المعدة ملأ الفم دفعة".أقول: قد عرفناك في أول كتاب الطهارة أن الأصل في جميع الأشياء هو الطهارة وأنه لا
আর যেসব প্রাণীর প্রবাহিত রক্ত নেই, তারা এ বিষয়ে এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে: "যখন তোমাদের কারো পাত্রে মাছি পড়বে, তখন সে যেন তাকে সম্পূর্ণ ডুবিয়ে দেয় এবং এরপর তাকে ফেলে দেয়। কারণ তার এক ডানায় রোগ আছে এবং অন্য ডানায় রয়েছে আরোগ্য।" [বুখারি ৩১৪২, ৫৩৩৫; আবু দাউদ ৩৮৪৪; ইবনে মাজাহ ৩৫০৫; আহমদ ২/২২৯-২৩০]। এটি সহিহ বুখারি এবং অন্যান্য গ্রন্থে আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত হাদিস হিসেবে রয়েছে। আহমদ, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান এবং বায়হাকি এটি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন। দারেমি এটি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বাজজার ও তাবারানি আল-আউসাত গ্রন্থেও তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।তবে আপনার কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, মাছি পড়েছে এমন পানীয় পান করার বৈধতা এবং তার পবিত্র হওয়ার মধ্যে কোনো আবশ্যিক সম্পর্ক নেই। কারণ এটি ঘৃণা উদ্রেক না করার কারণেও হতে পারে, আবার এর প্রাচুর্যের কারণে পানীয়তে পড়া থেকে রক্ষা পাওয়া দুষ্কর হওয়ার কারণেও হতে পারে। সুতরাং আপাতদৃষ্টিতে এটি প্রতীয়মান হয় যে, মৃত অবস্থায় এর বিধান অন্যান্য প্রাণীর মতোই। আর যাতে মাছি পড়েছে তা পান করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদানের বিষয়টি এর সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কারণ মৃত প্রাণী যেখানে পড়েছে তা পান করা সাধারণভাবে নিষিদ্ধ—এমন কোনো বিধান যদি ব্যাপকতা (عموم) হিসেবে প্রমাণিত থাকতো, তবে এটি সেই বিধানের একটি বিশেষায়ন (تخصيص) হিসেবে গণ্য হতো। কিন্তু এই বিধানটি ব্যাপকতা (عموم) হিসেবে আসেনি বরং সুনির্দিষ্টভাবে এসেছে।তাঁর উক্তি: "এবং যে অংশে জীবন সঞ্চারিত হয় না"আমি বলি: যদি দলিলের ভিত্তিতে পূর্ণ মৃতদেহের অপবিত্রতা সাব্যস্ত হয়, তবে তার মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কোনো অংশকে পবিত্র বলে হুকুম দেওয়ার জন্য দলিলের প্রয়োজন। কেবল জীবন সঞ্চারিত না হওয়াই এর জন্য যথেষ্ট নয়, কারণ মৃতদেহের অপবিত্রতার বিধান তাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। 'দ্বাউর নাহারি' কিতাবে ঐকমত্য বা ইজমা (إجماع) এর ভিত্তিতে একে পবিত্র বলে দলিল পেশ করা হয়েছে। যদি তা সঠিক হয়, তবে যারা ইজমা (إجماع) এর প্রামাণিকতায় বিশ্বাসী তাদের নিকট এটি একটি বিশেষায়িত দলিল (دليل مخصص) হিসেবে গণ্য হবে। তবে এ বিষয়ে মতভেদ সর্বজনবিদিত।আর যাদের জীবন সঞ্চারিত হয় না এমন অংশকে অপবিত্র বলেছেন, তাদের মধ্যে আল-মুরতাজা ও আবুল আব্বাস অন্যতম।তাঁর উক্তি: "এবং এটি হলো কঠোর"আমি বলি: কোনো কোনো নাপাককে কঠোর এবং কোনো কোনোটিকে হালকা হিসেবে বর্ণনা করা নিছক একটি পরিভাষা (اصطلاح) মাত্র, যা কোনো দলিলের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং নাপাকির মূল বস্তু দূর করার ক্ষেত্রে দলিলের অনুসরণ করাই ওয়াজিব। সুতরাং যার ধোয়ার ব্যাপারে এমন বর্ণনা এসেছে যে, তার রঙ, ঘ্রাণ ও স্বাদ অবশিষ্ট থাকবে না, সেটিই হবে তার পবিত্র করার পদ্ধতি। আর যার ব্যাপারে পানি ঢালা, ছিটানো, ঘষা, মাটিতে রগড়ানো কিংবা পবিত্র জমিনের ওপর দিয়ে হাঁটার বর্ণনা এসেছে, সেটিই হবে তার পবিত্রতার পদ্ধতি।সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, যে জুতায় নাপাকি লাগে তা রগড়ানোর মাধ্যমেই পবিত্র হয়, অথচ পরিভাষাগতভাবে (اصطلاحاً) এটি কঠোর নাপাকির অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে কাপড়ে নাপাক জমিনের ওপর দিয়ে হাঁটার সময় ময়লা লাগলে পবিত্র জমিনের ওপর দিয়ে অতিবাহিত হওয়াই তাকে পবিত্র করে দেয়।সারকথা হলো, যে শারি' আমাদের নাপাকি পবিত্র করার পদ্ধতি শিখিয়েছেন, তিনিই আমাদের জানিয়েছেন যে অমুক বস্তু অপবিত্র বা নাপাকযুক্ত। আমাদের ওপর ওয়াজিব হলো তাঁর উক্তির অনুসরণ করা, তাঁর নির্দেশ পালন করা এবং শয়তানি সন্দেহ ও ভ্রান্ত ধারণা বর্জন করা। কারণ এটি একদিকে যেমন সহজ-সরল শরিয়তের পরিপন্থী, তেমনি এটি দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি, যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। এটি একটি অতিরঞ্জন মাত্র, অথচ আল্লাহর দ্বীন কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকেই গ্রহণ করতে হবে।এটি আপনার স্মরণে রাখা উচিত, কারণ এটি আপনাকে ফিকহী শাখা-প্রশাখার কিতাবসমূহে বিদ্যমান অনেক জটিল বিষয় থেকে মুক্তি দেবে।তাঁর উক্তি: "এবং পাকস্থলী থেকে নির্গত বমি যা একবারে মুখ ভরে বেরিয়ে আসে।"আমি বলি: পবিত্রতা অধ্যায়ের শুরুতে আমি আপনাকে অবগত করেছি যে, সকল বস্তুর ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো পবিত্রতা এবং এটি যে নয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ينقل عن ذلك إلا ناقل صحيح صالح للاحتجاج به 1 غير معارض بما يرجح عليه أو يسأويه فإن وجدنا ذلك فبها ونعمت وإن لم نجد ذلك كذلك وجب علينا الوقوف في موقف المنع ونقول لمدعي النجاسة هذه الدعوى تتضمن أن الله سبحانه أوجب على عباده واجبا هو غسل هذه العين التي تزعم أنها نجسة وأنه يمنع وجودها صحة الصلاة بها فهات الدليل على ذلك.فإن قال حديث عمار: "إنما تغسل ثوبك من البول والغائط والقيء والدم والمني".قلنا هذا لم يثبت من وجه صحيح ولا حسن ولا بلغ إلي أدنى درجة من الدرجات الموجبة للاحتجاج به والعمل عليه فكيف يثبت به هذا الحكم الذي تعم به البلوى وهو لا يصلح لإثبات أخف حكم على فرد من أفراد العباد؟.فإن قال: قد ورد أنه ينقض الوضوء كما سيأتي.قلنا: فهل ورد أنه لا ينقض الوضوء إلا ما هو نجس؟.فإن قلت: نعم فأنت لا تجد إليه سبيلا وإن قلت قد قال بعض أهل الفروع إن النقض فرع التنجيس.قلنا فهل هذا القول من هذا البعض حجة على أحد من عباد الله؟.فإن قلت نعم فقد جئت بما لم يقل به أحد من أهل الإسلام وإن قلت لا قلنا فما لك والاحتجاج بما لم يحتج به أحد على أحد؟.قوله: "ولبن غير المأكول إلا من مسلمة حية"أقول: الكلام على هذا كالكلام على الذي قبله وليس في الحكم بنجاسة اللبن على العموم ولا على الخصوص أثارة من علم ولا هو مما تستقذره الطباع لا من المأكول ولا من غيره ولا قام إجماع على نجاسته.وبالجملة فالتسرع إلي تشريع الأحكام وإلزام عباد الله بها هو من التقول على الله بما لم يقل وقد ورد أنه من أشد الناس عذابا.وقد قدمنا الكلام على تلك الأشياء التي زعموا أنها نجس ذات فارجع إليه.قوله: "والدم وأخواه إلا من السمك والبق والبرغوث وما صلب على الجرح وما بقي في العروق بعد الذبح" إلي آخر الفصل:أقول: لم يصح في كون كل الدم نجسا شيء من السنة وأما الاستدلال بما في الكتاب العزيز من قوله سبحانه: {قُلْ لا أجد فِي مَا أوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّماً عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أو دَماً مَسْفُوحاً أو لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ} [الأنعام: 145] ، فقد قدمنا أن الآية مسوقة للتحريم كما هو مصرح به فيها والحكم بالرجسية هو باعتبار التحريم والحرام رجس ولا يكون بمعنى النجس إلا بدليل كما في قوله صلى الله عليه وسلم في الروثة: "إنها ركس" فإن الركس والرجس معناهما واحد.ومن زعم بأن الرجس بمعنى النجس لغة متمسكا بما في الصحاح وغيرها من كتب اللغة
এই বিষয়ে কেবল এমন কোনো বিশুদ্ধ বর্ণনাকারী (ناقل صحيح) ছাড়া অন্য কেউ উদ্ধৃতি পেশ করেননি যিনি দলিল হিসেবে গ্রহণের উপযুক্ত (صالح للاحتجاج به), এবং যা তার চেয়ে অগ্রগণ্য বা সমপর্যায়ের কোনো দলিলের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। যদি আমরা তা পাই, তবে তাই উত্তম; আর যদি তা না পাই, তবে আমাদের বিরত থাকার অবস্থানে অটল থাকা ওয়াজিব (আবশ্যক)। আমরা নাপাকির দাবিকারীকে বলব: আপনার এই দাবির অন্তর্ভুক্ত বিষয় হলো—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর বান্দাদের ওপর একটি দায়িত্ব আবশ্যক করেছেন, আর তা হলো আপনি যে বস্তুকে নাপাক (نجس) বলে দাবি করছেন তা ধৌত করা এবং আপনি দাবি করছেন যে এটি উপস্থিত থাকলে সালাত শুদ্ধ হবে না; সুতরাং এর পক্ষে দলিল পেশ করুন।যদি তিনি আম্মার (রা.)-এর হাদিস উল্লেখ করে বলেন: "তুমি তোমার কাপড় কেবল প্রস্রাব, পায়খানা, বমি, রক্ত এবং বীর্য থেকে ধৌত করবে।"আমরা বলব, এটি বিশুদ্ধ (صحيح) কিংবা গ্রহণযোগ্য (حسن) কোনো পন্থায় প্রমাণিত হয়নি এবং তা দলিল হিসেবে গ্রহণের (احتجاج) এবং তদানুযায়ী আমল করার নূন্যতম স্তরেও পৌঁছায়নি। সুতরাং, যার মাধ্যমে কোনো বান্দার ওপর অতি সামান্য কোনো হুকুমও সাব্যস্ত করা যায় না, তার দ্বারা এমন একটি বিধান কীভাবে সাব্যস্ত হতে পারে যা ব্যাপক সমস্যার (আম্মে বালওয়া) বিষয়, অথচ তা কোনো একক ব্যক্তির ওপর অতি নগণ্য কোনো হুকুম সাব্যস্ত করার জন্যও উপযুক্ত নয়?যদি তিনি বলেন: বর্ণিত হয়েছে যে এটি অজু ভঙ্গ করে, যেমনটি সামনে আসবে।আমরা বলব: তবে কি এমন কোনো বর্ণনা এসেছে যে, নাপাক (نجس) বস্তু ছাড়া অন্য কিছু অজু ভঙ্গ করে না?যদি আপনি বলেন: ‘হ্যাঁ’, তবে আপনি এর স্বপক্ষে কোনো পথ খুঁজে পাবেন না। আর যদি বলেন যে, ফিকহ শাস্ত্রের কোনো কোনো পণ্ডিত বলেছেন যে অজু ভঙ্গ হওয়া হলো বস্তুটি নাপাক (تنجيس) হওয়ার অনুগামী বিষয়।আমরা বলব: তবে এই কিছু সংখ্যক লোকের বক্তব্য কি আল্লাহর বান্দাদের কারো ওপর অকাট্য দলিল (حجة) হতে পারে?আপনি যদি বলেন: ‘হ্যাঁ’, তবে আপনি এমন কথা নিয়ে আসলেন যা ইসলামের অনুসারীদের কেউ বলেননি। আর যদি বলেন: ‘না’, তবে আমরা বলব—তবে আপনার কী হলো যে আপনি এমন কিছু দিয়ে দলিল পেশ (احتجاج) করছেন যার মাধ্যমে কেউ কারো বিরুদ্ধে দলিল পেশ করেনি?তাঁর উক্তি: "এবং যে প্রাণীর গোশত খাওয়া হয় না তার দুধ নাপাক, তবে জীবিত মুসলিম নারীর দুধ ব্যতীত।"আমি বলছি: এর ওপর আলোচনা পূর্বের আলোচনার মতোই। দুধকে সাধারণভাবে বা বিশেষভাবে নাপাক (نجاسة) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে জ্ঞানের কোনো লেশমাত্র নেই; আর এটি এমন কোনো বস্তুও নয় যা স্বভাবজাতভাবে মানুষ ঘৃণা করে—চাই তা ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর হোক বা অন্য কিছুর। আর এর নাপাকির ওপর কোনো সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়নি।সারকথা হলো, শরয়ি বিধান প্রণয়নে তাড়াহুড়ো করা এবং আল্লাহর বান্দাদের ওপর তা আবশ্যিক করা হলো আল্লাহর নামে এমন কিছু বলা যা তিনি বলেননি। আর বর্ণিত আছে যে, এমন ব্যক্তি মানুষের মধ্যে কঠিনতম শাস্তির সম্মুখীন হবে।আমরা ইতিপূর্বে সেই বস্তুগুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছি যেগুলোকে তারা সত্তাগতভাবে নাপাক (نجس ذات) বলে দাবি করেছেন, সুতরাং আপনি সেদিকে ফিরে দেখুন।তাঁর উক্তি: "এবং রক্ত ও তার সমজাতীয় দুটি বিষয়, তবে মাছ, মশা, মাছি এবং ক্ষতের ওপর যা জমাট বাঁধে এবং জবেহ করার পর রগে যা অবশিষ্ট থাকে তা ব্যতীত..."—পরিচ্ছেদের শেষ পর্যন্ত:আমি বলছি: সমস্ত রক্ত নাপাক (نجس) হওয়া সম্পর্কে সুন্নাহর কোনো কিছুই বিশুদ্ধ (صح) সাব্যস্ত হয়নি। আর কিতাবুল্লাহর সেই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করার ব্যাপারে যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: {বলুন, আমার কাছে যে ওহি পাঠানো হয়েছে তাতে কোনো ভক্ষণকারীর জন্য কোনো ভক্ষণযোগ্য বস্তু হারাম পাচ্ছি না, তবে যদি তা মৃত জানোয়ার হয় অথবা প্রবাহিত রক্ত (دم مسفوح) কিংবা শুকরের গোশত হয়; নিশ্চয়ই তা অপবিত্র (رجس)} [আল-আনআম: ১৪৫]। আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, এই আয়াতটি হারাম সাব্যস্ত করার প্রেক্ষাপটে এসেছে, যেমনটি তাতে স্পষ্টভাবে বিবৃত হয়েছে। আর ‘অপবিত্রতা’ (رجسية) এর হুকুমটি হারামের বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে, কেননা প্রতিটি হারাম বস্তুই অপবিত্র (رجس); কিন্তু এটি ততক্ষণ পর্যন্ত নাপাক (نجس) অর্থে সাব্যস্ত হবে না যতক্ষণ না কোনো দলিল পাওয়া যায়। যেমন—গোবর সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীতে এসেছে: "নিশ্চয়ই তা অপবিত্র (ركس)"। কারণ 'রিক্স' (ركس) এবং 'রিজস' (رجس) উভয়ের অর্থ অভিন্ন।আর যারা ভাষাগতভাবে ‘রিজস’ (رجس) অর্থ ‘নাজাস’ বা নাপাক (نجس) বলে দাবি করেন—সিহাহ ও অন্যান্য অভিধান গ্রন্থের ওপর নির্ভর করে...
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أن الرجس القذر فقد استدل بما هو أعم من المتنازع فيه فإن القذر يشمل كل ما يستقذر والحرام مستقذر شرعا والأعيان الطاهرة إذا كانت منتنة أو متغيرة مستقذرة طبعا.وعلى كل حال فالآية لم تسق لبيان الطهارة والنجاسة بل لبيان ما يحل ويحرم {قُلْ لا أجد فِي مَا أوحِيَ إِلَيَّ} [الأنعام: 145] .وإذا تقرر لك هذا وعلمت به أن الأصل طهارة الدم لعدم وجود دليل ناهض يدل على نجاسته فاعلم أنه قد انتهض الدليل على نجاسة دم الحيض لا لقوله سبحانه: {وَيَسْأَلونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذىً} [البقرة: 222] ، فإن ذلك ليس بلازم للنجاسة فليس كل أذى نجس بل بما صح عنه صلى الله عليه وسلم من الأمر بغسله وبقرصه وبحته وبحكه وتشديده في ذلك بما يفيد أن يكون إزالته على وجه لا يبقى له اثر فأفاد ذلك أنه نجس فيكون هذا النوع من أنواع الدم نجسا ولا يصح قياس غيره عليه لأنه من قياس المخفف على المغلظ.وبهذا تعرف أنه لا حاجة إلي الكلام عن استثناء ما استثناه المصنف رحمه الله من تلك الدماء.[فصل: والمتنجس أما متعذر الغسل فرجس وأما ممكنه فتطهير الخفية بالماء ثلاثا ولو صقيلا والمرئية حتى تزول واثنتين بعدها أو بعد استعمال الحاد المعتاد.وأما شاقة فالبهائم ونحوها والأطفال بالجفاف ما لم تبق عين.والأفواه بالريق ليلة والأجواف بالإستحالة والآبار بالنضوب وبنزح الكثير حتى يزول تغيره إن كان وإلا فطاهر في الأصح والقليل إلي القرار والملتبس إليه أو إلي أن يغلب الماء النازح مع زوال التغير فيهما فتطهر الجوانب المداخلة وما صاده الماء من الأرشية والأرض الرخوة كالبئر] .قوله: "فصل والمتنجس أما متعذر الغسل فرجس".أقول: كان الأولى أن يقال فنجس لأن الرجس يطلق على معاني الحرام والقذر والعذاب والنجس وليس مقصود المصنف هنا إلا النجس والمراد من الكلام أن ما تعذر تطهيره فحكمه حكم نجس العين في تحريمه وعدم جواز الانتفاع به لقوله صلى الله عليه وسلم في حديث الفأرة: "وإن كان مائعا فلا تقربوه" [البخاري "5538"، أحمد "6/329"، أبو دأود "3841"، الترمذي 1798"، النسائي "7/178"] ، فإن النهي عن قربانه يدل على عدم جواز الانتفاع به بوجه من وجوه الانتفاع.وغير الفأرة مما هو في حكمها من الحيوانات مثلها وغير السمن من المائعات مما لا
যে ব্যক্তি ‘রিজস’ (رجس)-কে নাপাক বস্তু (القذر) হিসেবে সাব্যস্ত করার মাধ্যমে দলিল (دليل) পেশ করেন, তিনি বিবাদমান বিষয়ের চেয়েও অধিক ব্যাপক বিষয় দিয়ে দলিল পেশ করেছেন। কেননা নাপাক বস্তু (القذر) এমন প্রতিটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যা ঘৃণ্য বিবেচিত হয়। আর হারাম (الحرام) বস্তু শরয়িভাবে ঘৃণ্য, আবার পবিত্র বস্তুসমূহ (الأعيان الطاهرة) যদি দুর্গন্ধযুক্ত বা পরিবর্তিত হয়ে যায় তবে তা স্বভাবগতভাবেই ঘৃণ্য বিবেচিত হয়।যাই হোক, আয়াতটি পবিত্রতা (طهارة) ও অপবিত্রতা (نجاسة) বর্ণনার উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ হয়নি, বরং কী হালাল ও কী হারাম তা বর্ণনার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে: {বলুন, আমার প্রতি যে ওহি অবতীর্ণ হয়েছে তাতে আমি কিছুই পাই না...} [আনআম: ১৪৫]।যখন আপনার কাছে বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত হলো এবং এর মাধ্যমে জানতে পারলেন যে, রক্তের মূল অবস্থা হলো পবিত্রতা (طهارة), যেহেতু এর অপবিত্রতার (نجاسة) ওপর কোনো শক্তিশালী দলিল (دليل ناهض) বিদ্যমান নেই। তবে জেনে রাখুন যে, হায়যের রক্তের অপবিত্রতার (نجاسة) ওপর দলিল (دليل) সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে নয় যে: {এবং তারা আপনাকে মাসিক ঋতু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, বলুন: তা হলো কষ্টদায়ক (أذى)} [বাকারা: ২২২]। কারণ কোনো কিছু কষ্টদায়ক (أذى) হওয়া মানেই তা অপবিত্র (نجس) হওয়া আবশ্যক নয়; কেননা প্রতিটি কষ্টদায়ক বস্তুই অপবিত্র (نجس) নয়। বরং এটি সাব্যস্ত হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ (صح) সূত্রে বর্ণিত নির্দেশনার মাধ্যমে, যেখানে তিনি তা ধৌত করার, ঘষার এবং খুঁটিয়ে পরিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে এমন কঠোরতা আরোপ করেছেন যা প্রকাশ করে যে, একে এমনভাবে দূর করতে হবে যেন এর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট না থাকে। সুতরাং এটি প্রতীয়মান হয় যে তা অপবিত্র (نجس)। অতএব রক্তের এই প্রকারটি অপবিত্র (نجس) সাব্যস্ত হবে এবং অন্য কোনো রক্তকে এর ওপর কিয়াস বা অনুমান (قياس) করা সঠিক হবে না। কারণ এটি হবে লঘু বস্তুকে গুরুতর বস্তুর ওপর কিয়াস (قيাস) করার নামান্তর।এর মাধ্যমেই আপনি বুঝতে পারলেন যে, লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) যেসব রক্তকে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই।[পরিচ্ছেদ: অপবিত্র হওয়া বস্তু (متنجس) যদি ধৌত করা অসম্ভব হয় তবে তা অপবিত্র (رجس)। আর যদি ধৌত করা সম্ভব হয়, তবে অদৃশ্য নাপাকির ক্ষেত্রে তিনবার পানি দিয়ে ধৌত করলে পবিত্র হবে, যদিও তা মসৃণ হয়। আর দৃশ্যমান নাপাকি দূর হওয়া পর্যন্ত ধৌত করতে হবে এবং এরপর আরও দুইবার ধৌত করতে হবে অথবা কোনো তীব্র পরিষ্কারক ব্যবহারের পর দুইবার ধৌত করতে হবে।আর কষ্টসাধ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে যেমন চতুষ্পদ জন্তু ও অনুরূপ প্রাণী এবং শিশুদের ক্ষেত্রে, নাপাকির মূল বস্তু বিদ্যমান না থাকলে কেবল শুকিয়ে যাওয়াই যথেষ্ট।আর মুখের নাপাকি এক রাতের লালার মাধ্যমে, পেটের অভ্যন্তরের নাপাকি রূপান্তরের (استحالة) মাধ্যমে এবং কূপের নাপাকি শুকিয়ে যাওয়া বা প্রচুর পানি সেচে ফেলার মাধ্যমে পবিত্র হয় যতক্ষণ না তার পরিবর্তন দূর হয়—যদি কোনো পরিবর্তন থাকে। অন্যথায় বিশুদ্ধতম (الأصح) মতানুযায়ী তা পবিত্র। আর সামান্য পানির ক্ষেত্রে তলা পর্যন্ত সেচে ফেলা এবং সংশয়যুক্ত ক্ষেত্রে তলা পর্যন্ত বা সেচে ফেলা পানি প্রবল হওয়া পর্যন্ত সেচতে হবে যেন উভয়ের ক্ষেত্রে পরিবর্তন দূর হয়ে যায়। ফলে কূপের ভেতরের দেয়াল এবং যে রশি ও নরম মাটি পানির সংস্পর্শে এসেছে তা পবিত্র হয়ে যাবে।]লেখকের উক্তি: "পরিচ্ছেদ: অপবিত্র হওয়া বস্তু (متنجস) যদি ধৌত করা অসম্ভব হয় তবে তা অপবিত্র (رجس)"।আমি বলি: এখানে ‘নাজিস’ (نجس) বলাটাই অধিক উত্তম ছিল। কারণ ‘রিজস’ (رجس) শব্দটি হারাম, নাপাক বস্তু, আজাব এবং অপবিত্র (نجس) অর্থে ব্যবহৃত হয়। অথচ এখানে লেখকের উদ্দেশ্য কেবল অপবিত্র (نجস) বোঝানো। বক্তব্যের উদ্দেশ্য হলো, যা পবিত্র করা অসম্ভব তার বিধান হলো সত্তাগতভাবে অপবিত্র (نجس العين) বস্তুর মতো, যা হারাম হওয়া এবং তা থেকে উপকৃত হওয়া বৈধ না হওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঁদুর সংক্রান্ত হাদিসে বলেছেন: "আর যদি তা তরল হয় তবে তার নিকটেও যেও না" [বুখারি ৫৫৩৮, আহমদ ৬/৩২৯, আবু দাউদ ৩৮৪১, তিরমিজি ১৭৯৮, নাসায়ি ৭/১৭৮]। তার নিকটবর্তী হতে নিষেধ করা এটিই প্রমাণ করে যে, কোনোভাবেই তা থেকে উপকৃত হওয়া জায়েজ নয়।আর ইঁদুর ব্যতীত অন্য যেসব প্রাণী এর হুকুমে পড়ে সেগুলোও একই রকম এবং ঘি বাদে অন্যান্য যেসব তরল পদার্থ অনুরূপ...
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ৩২)
يمكن تطهيره مثله ولكنه أخرج الطبراني في الأوسط من حديث ابن عمر مرفوعا اطرحوها وما حولها وكلوه إن كان جامدا قالوا يا رسول الله فإن كان مائعا قال انتفعوا به.وفي إسناده عبد الجبار بن عمر قال ابن سعد ثقة وضعفه جماعة وهو لا يصلح لمعارضة حديث وإن كان مائعا فلا تقربوه فإنه أرجح من هذا الحديث وجانب الحظر مقدم على جانب الإباحة.قوله: "وأما ممكنة فتطهير الخفية بالماء ثلاثا".أقول: أعلم أن التعبد ورد بإزالة النجاسة ورفع أثرها ومحو عينها أما على جهة الاستقصاء وعدم بقاء شيء من العين أو اللون كما ورد في دم الحيض من حديث ام قيس بنت محصن الثابت عند أحمد وأبي دأود والنسائي وابن ماجه وابن خزيمة وابن حبان بلفظ: "حكيه واغسليه بماء وسدر" وهو حديث صحيح وكما في حديث التسبيع والتتريب من ولوغ الكلب فإنه قد يولغ في محو أثر اللعاب هذه المبالغة ودع عنك الاختلاف في العلة التي وقع ذلك لأجلها فإنه أمر وراء ما تعبدنا به وقد تعبدنا بأن نصنع هذا الصنع في دم الحيض ولعاب الكلب سواء عقلنا العلة وفهمناها أم لا فإن هذا هو الواجب علينا بل يجب علينا اتباع ما أمر به الشارع وإن كان مبنيا على الشك والاحتياط كما في حديث: "إذا استيقظ أحدكم من نومه فلا يدخل يده في الإناء حتى يغسلها ثلاثا فإنه لا يدري أين باتت يده". [مسلم "87/278"، الترمذي "24"، النسائي "1، 161" أحمد "2/241، 382، 265، 284، 455"، ابن ماجة "393"] .فإذا قال المتفقه الذي لم يتعقل الحجة كما ينبغي إن الأصل الطهارة وعدم وقوع النجاسة في اليد بمجرد النوم قلنا هذا حكم شرعه لنا من شرع لنا الصلاة والزكاة والصيام والحج فدع عنك الرجوع إلي الأصل فإن ذلك مع ورود الدليل لا يغني من الحق شيئا. نعم لو لم يرد الدليل لكان الرجوع إلي الأصل هو الحكم الذي توجبه البراءة الأصلية حتى ينقل عنها ناقل صحيح.وأما لا على جهة الاستقصاء وذلك كحديث صب الذنوب من الماء على بول من بال في المسجد وحديث الرش من بول الغلام وهو في الصحيحين وغيرهما وكما في حديث النعل إذا رأى به قذرا ثم الأمر بالصلاة فيه وهو حديث صحيح وأحاديث إن الأرض التي فيها القذر يطهرها المروربأرض لا قذر فيها وحديث رش المذي بكف من ماء وحديث ابن عمر عند أبي دأود مرفوعا في غسل الثوب من البول مرة واحدة وفي إسناده عبد الله ابن عصيم والرأوي عنه ايوب ابن جابر أبو سليمان اليماني وقد تكلم في كل واحد منهما.ونحو ذلك مما ورد في الحت أو الحك أو المسح أو القرص أو الإماطة وكل ذلك شريعة واردة عن الصادق المصدوق لا تحل المخالفة لشيء مما ورد عنه بل الواجب علينا الاقتداء بقوله صلى الله عليه وسلم في كون هذا الشيء طاهرا وهذا الشيء نجسا والاقتداء بما ورد عنه في كيفية رفع
অনুরূপভাবে একে পবিত্র করা সম্ভব, তবে তাবারানি তাঁর 'আল-আওসাত' গ্রন্থে ইবনে ওমরের হাদিস থেকে মারফু (مرفوعا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে: "এটি (ইঁদুর) এবং এর চারপাশ ফেলে দাও এবং এটি যদি জমাটবদ্ধ হয় তবে তা খাও।" তারা জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর রাসুল, যদি এটি তরল হয়?" তিনি বললেন, "তা থেকে উপকৃত হও।"এই হাদিসের সনদ (إسناد)-এ আবদুল জব্বার বিন ওমর রয়েছেন। ইবনে সাদ তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন, তবে একদল আলিম তাকে দুর্বল (ضعفه) আখ্যা দিয়েছেন। এই হাদিসটি অন্য সেই হাদিসের বিরোধিতার জন্য উপযুক্ত নয় যাতে বলা হয়েছে: "যদি তা তরল হয় তবে তার নিকটে যেও না"। কারণ উক্ত হাদিসটি বর্তমান হাদিসের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য (أرجح), আর নিষিদ্ধতার দিকটি বৈধতার দিকের ওপর প্রাধান্য পেয়ে থাকে।তাঁর বক্তব্য: "আর যা সম্ভবপর, তা হলো অদৃশ্য নাপাকি তিনবার পানি দিয়ে ধৌত করে পবিত্র করা।"আমি বলব: জেনে রাখুন যে, ইবাদতগত নির্দেশ এসেছে নাপাকি দূর করার, তার চিহ্ন মিটিয়ে দেওয়ার এবং মূল বস্তুকে সমূলে বিনষ্ট করার ব্যাপারে। এটি হতে পারে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দূর করার মাধ্যমে যেন মূল বস্তু বা রঙের কোনো অংশই অবশিষ্ট না থাকে, যেমনটি ঋতুস্রাবের রক্তের ক্ষেত্রে উম্মে কায়েস বিনতে মিহসানের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যা আহমদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে খুযাইমা ও ইবনে হিব্বানের নিকট এই শব্দে সাব্যস্ত হয়েছে: "এটি ঘষে ফেলো এবং পানি ও বরই পাতা দিয়ে ধৌত করো"। এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস। একইভাবে কুকুরের চাটা পাত্রের ক্ষেত্রে সাতবার ধৌত করা এবং মাটি ব্যবহারের হাদিস; যেখানে লালার চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই আদেশের পেছনের কারণ (علة) নিয়ে যে মতভেদ রয়েছে তা পরিহার করুন, কারণ এটি আমাদের ইবাদতগত নির্দেশের বাইরের বিষয়। ঋতুস্রাবের রক্ত এবং কুকুরের লালার ক্ষেত্রে এমনটি করার জন্যই আমাদের ইবাদতগত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমরা এর কারণ (علة) বুঝি আর না বুঝি। এটিই আমাদের ওপর ওয়াজিব। বরং শারয়ি বিধানদাতার আদেশ অনুসরণ করা আমাদের জন্য অপরিহার্য, এমনকি যদি তা সন্দেহ বা সতর্কতার (احتياط) ওপর ভিত্তি করেও হয়। যেমন এই হাদিসটি: "তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে, সে যেন তার হাত পাত্রে না ঢোকায় যতক্ষণ না তা তিনবার ধুয়ে নেয়; কেননা সে জানে না তার হাতটি কোথায় রাত অতিবাহিত করেছে।" [মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, আহমদ, ইবনে মাজাহ]।এখন যদি কোনো ফকিহ বা ফিকহ চর্চাকারী—যিনি দলিলের ভিত্তি যথাযথভাবে উপলব্ধি করেননি—বলেন যে, মূল নীতি (أصل) হলো পবিত্রতা এবং কেবল ঘুমের মাধ্যমে হাতে নাপাকি লেগে যাওয়া সাব্যস্ত হয় না; তবে আমরা বলব যে, যিনি আমাদের জন্য নামাজ, জাকাত, রোজা ও হজ বিধিবদ্ধ করেছেন, তিনিই আমাদের জন্য এই বিধান দিয়েছেন। সুতরাং মূল নীতির (أصل) দিকে ফিরে যাওয়ার দাবি ত্যাগ করুন, কারণ দলিলের উপস্থিতিতে তা সত্যের মোকাবিলায় কোনো কাজে আসে না। হ্যাঁ, যদি কোনো দলিল বর্ণিত না হতো, তবে মূল নীতির (أصل) দিকে প্রত্যাবর্তনই হতো সেই বিধান যা মূল দায়মুক্তি (براءة أصلية) দাবি করে, যতক্ষণ না কোনো সহিহ (صحيح) বর্ণনাকারী তা থেকে সরিয়ে নেয়।আর যা পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের মাধ্যমে নয়, যেমন মসজিদে প্রস্রাবকারীর প্রস্রাবের ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দেওয়ার হাদিস এবং শিশুর প্রস্রাবের ওপর পানি ছিটিয়ে দেওয়ার হাদিস যা সহিহাইন এবং অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে। অনুরূপভাবে জুতার হাদিস, যখন তাতে ময়লা দেখা যায় এবং পরে তাতে নামাজ পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস। এবং এমন হাদিসসমূহ যে নাপাকিযুক্ত ভূমি তার পরবর্তী পবিত্র ভূমির ওপর দিয়ে হাঁটার মাধ্যমে পবিত্র হয়ে যায়। আবার এক আজল পানি দিয়ে মজি ছিটিয়ে দেওয়ার হাদিস। এবং আবু দাউদের নিকট ইবনে ওমরের মারফু (مرفوعا) হাদিস যেখানে প্রস্রাব থেকে কাপড় একবার ধৌত করার কথা এসেছে; তবে এর সনদ (إسناد)-এ আবদুল্লাহ ইবনে অসিম এবং তার থেকে বর্ণনাকারী আইয়ুব ইবনে জাবির আবু সুলাইমান আল-ইয়ামানি রয়েছেন, যাদের উভয়ের ব্যাপারে সমালোচনা (تكلم) করা হয়েছে।এই জাতীয় বিষয় যেমন ঘষে ফেলা, খুঁটে ফেলা, মুছে ফেলা, আঙুলের ডগা দিয়ে ডলা বা সরিয়ে দেওয়া—এসবই সত্যবাদী ও প্রত্যাদেশপ্রাপ্ত রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে আসা শরয়ি বিধান। তাঁর থেকে বর্ণিত কোনো কিছুর বিরোধিতা করা বৈধ নয়। বরং আমাদের ওপর ওয়াজিব হলো কোনো বস্তু পবিত্র হওয়া বা নাপাক হওয়ার বিষয়ে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণীর অনুসরণ করা এবং নাপাকি দূর করার পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁর থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা অনুসরণ করা।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
يمكن تطهيره مثله ولكنه أخرج الطبراني في الأوسط من حديث ابن عمر مرفوعا اطرحوها وما حولها وكلوه إن كان جامدا قالوا يا رسول الله فإن كان مائعا قال انتفعوا به.وفي إسناده عبد الجبار بن عمر قال ابن سعد ثقة وضعفه جماعة وهو لا يصلح لمعارضة حديث وإن كان مائعا فلا تقربوه فإنه أرجح من هذا الحديث وجانب الحظر مقدم على جانب الإباحة.قوله: "وأما ممكنة فتطهير الخفية بالماء ثلاثا".أقول: أعلم أن التعبد ورد بإزالة النجاسة ورفع أثرها ومحو عينها أما على جهة الاستقصاء وعدم بقاء شيء من العين أو اللون كما ورد في دم الحيض من حديث ام قيس بنت محصن الثابت عند أحمد وأبي دأود والنسائي وابن ماجه وابن خزيمة وابن حبان بلفظ: "حكيه واغسليه بماء وسدر" وهو حديث صحيح وكما في حديث التسبيع والتتريب من ولوغ الكلب فإنه قد يولغ في محو أثر اللعاب هذه المبالغة ودع عنك الاختلاف في العلة التي وقع ذلك لأجلها فإنه أمر وراء ما تعبدنا به وقد تعبدنا بأن نصنع هذا الصنع في دم الحيض ولعاب الكلب سواء عقلنا العلة وفهمناها أم لا فإن هذا هو الواجب علينا بل يجب علينا اتباع ما أمر به الشارع وإن كان مبنيا على الشك والاحتياط كما في حديث: "إذا استيقظ أحدكم من نومه فلا يدخل يده في الإناء حتى يغسلها ثلاثا فإنه لا يدري أين باتت يده". [مسلم "87/278"، الترمذي "24"، النسائي "1، 161" أحمد "2/241، 382، 265، 284، 455"، ابن ماجة "393"] .فإذا قال المتفقه الذي لم يتعقل الحجة كما ينبغي إن الأصل الطهارة وعدم وقوع النجاسة في اليد بمجرد النوم قلنا هذا حكم شرعه لنا من شرع لنا الصلاة والزكاة والصيام والحج فدع عنك الرجوع إلي الأصل فإن ذلك مع ورود الدليل لا يغني من الحق شيئا. نعم لو لم يرد الدليل لكان الرجوع إلي الأصل هو الحكم الذي توجبه البراءة الأصلية حتى ينقل عنها ناقل صحيح.وأما لا على جهة الاستقصاء وذلك كحديث صب الذنوب من الماء على بول من بال في المسجد وحديث الرش من بول الغلام وهو في الصحيحين وغيرهما وكما في حديث النعل إذا رأى به قذرا ثم الأمر بالصلاة فيه وهو حديث صحيح وأحاديث إن الأرض التي فيها القذر يطهرها المروربأرض لا قذر فيها وحديث رش المذي بكف من ماء وحديث ابن عمر عند أبي دأود مرفوعا في غسل الثوب من البول مرة واحدة وفي إسناده عبد الله ابن عصيم والرأوي عنه ايوب ابن جابر أبو سليمان اليماني وقد تكلم في كل واحد منهما.ونحو ذلك مما ورد في الحت أو الحك أو المسح أو القرص أو الإماطة وكل ذلك شريعة واردة عن الصادق المصدوق لا تحل المخالفة لشيء مما ورد عنه بل الواجب علينا الاقتداء بقوله صلى الله عليه وسلم في كون هذا الشيء طاهرا وهذا الشيء نجسا والاقتداء بما ورد عنه في كيفية رفع
এটিও সেটির মতোই পবিত্র করা সম্ভব, তবে আত-তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে ইবনে উমর থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: "সেটি (ইঁদুর) এবং তার আশপাশের অংশ ফেলে দাও এবং যদি তা জমাটবদ্ধ থাকে তবে তা খাও।" তারা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! যদি তা তরল হয়? তিনি বললেন: "তা থেকে উপকৃত হও।"এর সনদে (إسناد) আব্দুল জব্বার ইবনে উমর রয়েছেন; ইবনে সাদ তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন, তবে একদল আলিম তাকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন। আর এই বর্ণনাটি "যদি তা তরল হয় তবে তার কাছে যেও না" হাদিসটির বিরোধিতার যোগ্য নয়; কারণ ওই হাদিসটি এর চেয়ে বেশি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (أرجح), আর নিষিদ্ধতার দিকটি বৈধতার দিকের ওপর প্রাধান্য পায়।তার বক্তব্য: "আর যা সম্ভব, তা হলো অদৃশ্য নাপাকি তিনবার পানি দিয়ে ধৌত করার মাধ্যমে পবিত্র করা।"আমি বলি: জেনে রাখুন যে, নাপাকি দূর করা, এর চিহ্ন মিটিয়ে দেওয়া এবং এর অস্তিত্ব নির্মূল করার মাধ্যমে ইবাদত সাব্যস্ত হয়েছে। এটি হতে পারে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এবং মূল বস্তু বা রঙের সামান্য অংশও অবশিষ্ট না রাখার মাধ্যমে, যেমনটি উম্মে কায়স বিনতে মিহসান বর্ণিত ঋতুস্রাবের রক্ত সম্পর্কিত হাদিসে এসেছে যা আহমাদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে খুজাইমা এবং ইবনে হিব্বান-এ সাব্যস্ত হয়েছে। এর শব্দগুলো হলো: "এটি ঘষে ফেলো এবং পানি ও বরই পাতা দিয়ে ধুয়ে ফেলো।" এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস। একইভাবে কুকুরের মুখ দেওয়া পাত্র সাতবার ধোয়া এবং মাটি ব্যবহারের হাদিসটির মতো, যেখানে লালার চিহ্ন দূর করতে এই কঠোরতা অবলম্বন করা হয়েছে। এর কারণ (علة) নিয়ে যে মতভেদ রয়েছে তা ছেড়ে দিন, কারণ এটি আমাদের ইবাদত-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ঊর্ধ্বে। ঋতুস্রাবের রক্ত এবং কুকুরের লালার ক্ষেত্রে আমাদের এভাবেই কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমরা এর কারণ বুঝতে পারি বা না পারি; এটিই আমাদের ওপর ওয়াজিব। বরং শরিয়ত প্রণেতা যা নির্দেশ দিয়েছেন তা অনুসরণ করা আমাদের জন্য আবশ্যক, এমনকি তা যদি সন্দেহ বা সতর্কতার (احتياط) ওপর ভিত্তি করেও হয়। যেমন হাদিসে এসেছে: "তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে, সে যেন তার হাত পাত্রে না ডোবায় যতক্ষণ না তা তিনবার ধুয়ে নেয়; কারণ সে জানে না রাতে তার হাত কোথায় ছিল।" [মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, আহমাদ, ইবনে মাজাহ]।যদি এমন কোনো ফকিহ—যিনি দলিলের গূঢ় রহস্য যথাযথভাবে অনুধাবন করেননি—বলেন যে, "মূল হলো পবিত্রতা এবং কেবল ঘুমের কারণে হাতে নাপাকি লেগে যাওয়ার কথা নয়", তবে আমরা বলব যে, যিনি আমাদের জন্য নামাজ, জাকাত, রোজা ও হজ নির্ধারণ করেছেন, তিনিই আমাদের জন্য এই বিধান দিয়েছেন। সুতরাং মূল অবস্থার (আসল) দিকে ফিরে যাওয়ার যুক্তি ছেড়ে দিন; কারণ দলিল উপস্থিত থাকা অবস্থায় তা সত্যের বিপরীতে কোনো কাজে আসে না। হ্যাঁ, যদি দলিল না থাকত, তবে মূল অবস্থার দিকে ফিরে যাওয়াই হতো সেই বিধান যা মৌলিক দায়মুক্তি (البراءة الأصلية) দাবি করে, যতক্ষণ না কোনো সহিহ (صحيح) বর্ণনাকারী তা থেকে সরিয়ে নেয়।আর যা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে (নিশ্চিহ্ন করা) নয়, তা হলো মসজিদে প্রস্রাবকারীর প্রস্রাবের ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দেওয়ার হাদিস এবং শিশুর প্রস্রাবের ওপর পানি ছিটানোর হাদিস—যা সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম এবং অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে। এছাড়া জুতার হাদিসটিও অনুরূপ, যেখানে তাতে ময়লা দেখলে (মুছে ফেলার পর) তাতে সালাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস। আরও রয়েছে সেইসব হাদিস যাতে বলা হয়েছে যে, ময়লাযুক্ত জমিন তার পরবর্তী পরিষ্কার জমিন দিয়ে হাঁটার মাধ্যমে পবিত্র হয়ে যায়। এছাড়া এক আজলা পানি দিয়ে মজি (মজ্জি) এর ওপর ছিটানোর হাদিস এবং আবু দাউদ-এ বর্ণিত ইবনে উমর থেকে মারফু (مرفوع) হাদিস যাতে কাপড় থেকে প্রস্রাব একবার ধোয়ার কথা বলা হয়েছে। এর সনদে (إسناد) আব্দুল্লাহ ইবনে আসিম এবং তার থেকে বর্ণনাকারী আইয়ুব ইবনে জাবির আবু সুলাইমান আল-ইয়ামানি রয়েছেন; তাদের প্রত্যেকের সম্পর্কেই সমালোচনা করা হয়েছে।এই জাতীয় আরও যা কিছু ঘষে তোলা, চেঁছে ফেলা, মুছে ফেলা, আঙুল দিয়ে ঘষা বা দূর করা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে—তার সবই সত্যবাদী ও সত্যের সত্যায়নকারী (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আগত শরিয়ত। তাঁর থেকে বর্ণিত কোনো কিছুর বিরোধিতা করা বৈধ নয়; বরং কোনো বস্তু পবিত্র হওয়া বা অপবিত্র হওয়া সম্পর্কে এবং তা দূর করার পদ্ধতির ব্যাপারে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণীর অনুসরণ করাই আমাদের জন্য আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
আস-সাইলুল জাররারুল মুতাদাদ্দিক আলা হাদায়িকিল আযহার
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الصحابة في عصر النبوة وبعده أنهم تعرضوا لتطهير ذلك مما يقع فيه من النجاسة أو تحرزوا من المباشرة لذلك.وقد كان الصبيان يتصلون بهم وهم في صلاتهم كما روي أنه صلى الله عليه وسلم كان يحمل الصبية على ظهره وهو يصلي فإذا سجد وضعها وكذلك كان يحمل الحسن والحسين حال الصلاة وهما في سن الصغر.وبالجملة فالشريعة سمحة سهلة وليس لنا أن نفتح على أنفسنا ابوابا قد سكت عنها الشارع فإن ذلك عفو كما ثبت ذلك بالشرع.ومن هذا التعرض لطهارة الأفواه والأجواف فإن ذلك من التنطع والغلو في دين الله والتقول على الشرع بما ليس فيه.نعم إن أراد بطهارة الأجواف طهارة الجلالة فقد ثبت ذلك في الشريعة أخرج أحمد وأهل السنن والحاكم وابن حيان من حديث ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن أكل الجلالة وشرب لبنها حتى تحبس.قوله: "والآبار بالنضوب وبنزع الكثير" الخ.أقول: أرض الابار لها حكم سائر الأرض في طهارتها ونجاستها فلا وجه للتنصيص عليها فمن قال إنها تطهر بالنضوب قال به في أرض البئر ومن قال لا بد من صب الماء عليها قال به في أرض البئر ومن فرق بين الأرض الرخوة والصلبة كما سيأتي قال به في أرض البئر.وإن كان التنصيص على أرض البئر لكونه يتعذر تطهيرها ويشق فإن كان ذلك لأجل ما فيها من الماء فطهارة الماء بكونه مستبحرا أو غير متغير اللون والريح والطعم يوجب طهارة أرض البئر وإن كان التعذر لغير ذلك فقد تقدم حكم متعذر الغسل.وأما قوله: "وبنزح الكثير حتى يزول تغيره" فإن كان كلأما مستأنفا في طهارة ما ينجس من ماء الآبار فكان الأولى أن يأتي بعباة مشعرة بذلك فإنه لا يفهم من عبارته إلا العطف على النضوب.ثم اعلم أنه لا وجه لقوله بنزح الكثير وكان حذف لفظ الكثير أولى لأن الماء لا ينجس إلا إذا وقع فيه ما يغير ريحه أو لونه أو طعمه كما في الحديث الوارد من طرق بلفظ: "خلق الماء طهورا لا ينجسه شيء" أخرجه أحمد وأهل السنن وغيرهم من حديث أبي سعيد وأخرجه غيرهم من حديث غيره وقد صححه جماعة من الأئمة ومجموع ما ورد في ذلك صالح للاحتجاج به ولا شك ولا شبهة ولا يقدح في مجموع الطرق ما قيل في بعضها من الكلام الذي لا يوجب سقوط الاحتجاج.وقد أوضحنا ذلك في شرحنا للمنتقى وتكلمنا على كل طريق على انفرادها وذكرنا ما قاله الحفاظ في ذلك.
নবুওয়াতের যুগে এবং তার পরবর্তী সময়ে সাহাবীগণ নাপাকি (نجاسة) থেকে পবিত্র হওয়ার চেষ্টা করতেন অথবা নাপাকির সরাসরি সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতেন।শিশুরা তাঁদের সাথে মেলামেশা করত যখন তাঁরা সালাতে থাকতেন, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায়কালে কোনো কোনো শিশু কন্যাকে তাঁর পিঠে বহন করতেন, যখন সিজদায় যেতেন তখন তাকে নামিয়ে রাখতেন। একইভাবে তিনি হাসান এবং হুসাইনকে শৈশবকালে সালাত অবস্থায় বহন করতেন।সংক্ষেপে, শরীয়ত অত্যন্ত উদার ও সহজ। শরীয়ত প্রণেতা যেসব বিষয়ে নীরবতা পালন করেছেন, সেগুলোর ব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে কঠোরতার কোনো পথ উন্মোচন করা উচিত নয়; বরং সেগুলো ক্ষমা (عفو) হিসেবে গণ্য, যা শরীয়তের মাধ্যমে প্রমাণিত।আর মুখগহ্বর ও পেটের অভ্যন্তরের পবিত্রতা নিয়ে অহেতুক ঘাঁটাঘাঁটি করা দ্বীনের মধ্যে চরমপন্থা ও অতিরঞ্জন এবং শরীয়তের ওপর এমন কথা চাপিয়ে দেওয়ার শামিল যা তাতে নেই।হ্যাঁ, যদি পেটের অভ্যন্তরের পবিত্রতা দ্বারা 'জালালা' (যে পশু নাপাকি ভক্ষণ করে) এর পবিত্রতা উদ্দেশ্য হয়, তবে তা শরীয়তের বিধানে প্রমাণিত। ইমাম আহমাদ, সুনান গ্রন্থকারগণ, হাকিম এবং ইবনে হিব্বান ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'জালালা' পশুর গোশত খাওয়া এবং এর দুধ পান করা থেকে নিষেধ করেছেন যতক্ষণ না সেটিকে (পবিত্র খাবারের ওপর) আবদ্ধ রাখা হয়।তাঁর উক্তি: "এবং কূপসমূহ (পবিত্র হয়) পানি শুকিয়ে যাওয়ার (نضوب) মাধ্যমে অথবা অধিক পরিমাণ পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে" ইত্যাদি।আমি বলি: কূপের মাটির হুকুম পবিত্রতা বা নাপাকির (نجاسة) ক্ষেত্রে সাধারণ মাটির হুকুমের মতোই। তাই এর জন্য আলাদাভাবে উল্লেখ করার কোনো আবশ্যকতা নেই। যারা মনে করেন মাটি শুকিয়ে গেলেই পবিত্র হয়, তারা কূপের মাটির ক্ষেত্রেও তাই বলেন। আর যারা বলেন যে তার ওপর পানি ঢালা আবশ্যক, তারা কূপের মাটির ক্ষেত্রেও তাই বলেন। আবার যারা নরম এবং শক্ত মাটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন, যা পরবর্তীতে আসবে, তারা কূপের মাটির ক্ষেত্রেও একই মত পোষণ করেন।যদি কূপের মাটির কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করার কারণ হয় যে এটি পবিত্র করা অসম্ভব বা কষ্টসাধ্য, তবে যদি তা কূপের পানির কারণে হয়, তবে পানির পবিত্রতা—পানির পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে অথবা রঙ, ঘ্রাণ ও স্বাদ পরিবর্তিত না হওয়ার কারণে—কূপের মাটির পবিত্রতাকেও আবশ্যক করে। আর যদি অন্য কোনো কারণে তা অসম্ভব হয়, তবে ধৌত করা অসম্ভব হওয়ার বিধান পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে।আর তাঁর উক্তি: "অধিক পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে যতক্ষণ না তার পরিবর্তন দূরীভূত হয়"—এটি যদি কূপের নাপাক (نجس) পানি পবিত্র করার বিষয়ে নতুন কোনো আলোচনা হয়ে থাকে, তবে এমন কোনো বাক্য ব্যবহার করা উত্তম ছিল যা তা নির্দেশ করে। কারণ তাঁর এই বাক্য থেকে পানি শুকিয়ে যাওয়ার (نضوب) ওপর সংযুক্তি ছাড়া অন্য কিছু বোঝা যায় না।এরপর জেনে রাখুন যে, 'অধিক নিষ্কাশন' বলার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই এবং 'অধিক' শব্দটি বাদ দেওয়াই ছিল শ্রেয়। কারণ পানি ততক্ষণ অপবিত্র (نجس) হয় না যতক্ষণ না তাতে এমন কিছু পতিত হয় যা তার ঘ্রাণ, রঙ বা স্বাদ পরিবর্তন করে দেয়। যেমনটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: "পাণিকে স্বভাবজাতভাবে পবিত্র (طهور) হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে, কোনো কিছুই তাকে অপবিত্র করতে পারে না।" এটি ইমাম আহমাদ, সুনান গ্রন্থকারগণ এবং অন্যরা আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং অন্যরা অন্যান্য সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমামদের একটি জামাত একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং এই বিষয়ে বর্ণিত সকল বর্ণনা সমষ্টিগতভাবে দলিল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য (صالح للاحتجاج)। এতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই। বর্ণনাসূত্রগুলোর কোনো কোনোটির ব্যাপারে এমন কিছু সমালোচনা থাকলেও যা দলিলযোগ্যতা বাতিল করার জন্য যথেষ্ট নয়, তা সামগ্রিক সূত্রের গ্রহণযোগ্যতায় কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না।আমরা আমাদের মুনতাকার ব্যাখ্যাগ্রন্থে এটি বিস্তারিতভাবে স্পষ্ট করেছি এবং প্রতিটি বর্ণনাসূত্র নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করেছি এবং এই বিষয়ে হাফেজগণের (حفاظ) বক্তব্য উল্লেখ করেছি।