(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: -)
اللمحة في شرح الملحة القسم: النحو والصرف
الكتاب: اللمحة في شرح الملحة
المؤلف: محمد بن حسن بن سِباع بن أبي بكر الجذامي، أبو عبد الله، شمس الدين، المعروف بابن الصائغ (ت 720هـ)
المحقق: إبراهيم بن سالم الصاعدي
الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1424هـ/2004م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-লুমহাহ ফি শারহিল মুলহাহ বিভাগ: নাহু ও সরফ
বই: আল-লুমহাহ ফি শারহিল মুলহাহ
লেখক: মুহাম্মদ বিন হাসান বিন সিবা বিন আবু বকর আল-জুজামি, আবু আব্দুল্লাহ, শামসুদ্দিন, ইবনে আস-সাইগ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৭২০ হিজরি)
মুহাক্কিক: ইব্রাহিম বিন সালিম আস-সায়েদি
প্রকাশক: ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিভাগ, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি/২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণকপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
المجلد الأول
مقدمة…كتاب اللمحة في شرح الملحة
تأليف: محمد بن الحسن الصايغ (645 - 720هـ)
تحقيق: إبراهيم بن سالم الصاعدي
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المحقق
أَحْمَدُ الله - تَعَالَى - حَمْدًا يَليْقُ بِجَلَالِهِ، عَلَى مَا أَسْدَاهُ مِنْ دَقَائِقِ نَعْمَائِهِ، وجَلَائِلِ آلَائِهِ، وصَلَاةً وسَلَامًا عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ.
وَبَعْدُ؛ فَإِنَّ فِي مَكْتَبَتِنَا الْعَرَبِيَّةِ تُرَاثًا غَزِيرًا، حَفَلَتْ بِهِ مُنْذُ أَنْ مَكَّنَ اللَّهُ لِهَذهِ الأُمَّةِ فِي الأَرْضِ بِمَا مَنَّ بِهِ عَلَيْهَا مِنْ إِقَامَةِ دِيْنِهِ، وَتَحْكِيْمِهِ فِي كُلِّ صُقْعٍ حَلَّتْ فِيهِ.
وَكَانَ لِعُلُومِ الْعَرَبِيَّةِ وَآدَابِهَا نَصِيْبٌ مَوْفُورٌ فِي خَزَائِنِ الكُتُبِ شَرْقًا وَغَرْبًا؛ وَكَانَت تِلْكَ الْخَزَائِنُ مَرْجِعًا لِطُلاّبِ العِلمِ على مُخْتَلَفِ العصور؛ حتّى عَصْرنَا هذَا الّذي تَيَسّرتْ فِيهِ أَسْبَابُ الإِفَادَة مِنْ ذَلِكَ الرَّصِيدِ الضَّخْمِ، حَيْثُ فَتَحَتِ الْجَامِعَاتُ أَبْوَابَهَا، وَمَدَّتْ يَدَ الْعَوْنِ وَالْمُسَاعَدَةِ لِطُلَاّبِ الْعِلْمِ وَالْمَعْنِيِّينَ بِتَحْقِيقِ التُّرَاثِ؛ ليَعُمَّ الانْتِفَاعُ بِهِ.
وَلَقَدْ وَدِدْتُ أَنْ أُشَارِكَ بِسَهْمٍ فِي هَذَا الْمَجَالِ الرَّحْبِ؛ فَأَخَذْتُ أَبْحَثُ تَارَةً وَأَسْأَلُ أَهْلَ الشَّأْن تَارَةً، حَتَّى اهْتَدَيْتُ - بِفَضْلِ اللَّهِ - إِلَى شَرْحٍ نَفِيْسٍ مِنْ شُرُوحِ (مُلْحَةِ الإِعْرَاب) ، وَهُوَ المُسمّى (اللَّمْحَةَ فِي شَرْحِ المُلْحَةِ) لمحمَّد بنِ الحسن الصَّايِغ، فَاسْتَشَرْتُ
প্রথম খণ্ডভূমিকা…কিতাবুল লামহা ফি শারহিল মুলহা
রচনা: মুহাম্মাদ বিন হাসান আস-সায়েগ (৬৪৫ - ৭২০ হিজরি)
সম্পাদনা: ইবরাহীম বিন সালিম আস-সায়েদী
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকা
আমি মহান আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করছি তাঁর মহিমার উপযুক্ত প্রশংসা দ্বারা, সেই নিগূঢ় নেয়ামত ও সুমহান অনুগ্রহের জন্য যা তিনি দান করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর; নিশ্চয়ই আমাদের আরবি পাঠাগারে রয়েছে এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, যা পরিপূর্ণ হয়েছে সেই সময় থেকে যখন আল্লাহ এই উম্মতকে তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিটি জনপদে যেখানে তারা পৌঁছেছে সেখানে তাঁর বিধান কার্যকর করার মাধ্যমে যমীনে কর্তৃত্ব দান করেছেন।
আর কিতাবসমূহের প্রাচুর্যে ভরা ভাণ্ডারগুলোতে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে আরবি ভাষার জ্ঞান ও সাহিত্যের এক বিশাল অংশ বিদ্যমান রয়েছে; এবং এই ভাণ্ডারগুলো যুগ যুগ ধরে জ্ঞানান্বেষীদের জন্য রেফারেন্স হিসেবে ছিল; এমনকি আমাদের এই যুগ পর্যন্ত যাতে সেই বিশাল সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়ার উপায়সমূহ সহজতর হয়েছে, যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের দ্বার উন্মুক্ত করেছে এবং জ্ঞানান্বেষী ও ঐতিহ্য সম্পাদনায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছে; যাতে এর দ্বারা ব্যাপক উপকার সাধিত হয়।
আর আমিও এই বিস্তৃত ক্ষেত্রে একটি অংশ গ্রহণ করতে আগ্রহী ছিলাম; ফলে আমি কখনো অনুসন্ধান করতে শুরু করলাম এবং কখনো বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলাম, পরিশেষে আল্লাহর অনুগ্রহে আমি 'মুলহাতুল ইরাব'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্য থেকে একটি মূল্যবান ব্যাখ্যাগ্রন্থের দিশা পেলাম, যার নাম মুহাম্মাদ বিন হাসান আস-সায়েগ রচিত 'আল-লামহা ফি শারহিল মুলহা', অতঃপর আমি পরামর্শ করলাম...
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
شكر وتقدير:
أَحْمَدُ اللهَ العَليّ العظيمَ الَّذِي سلَكَ بِي سَبِيلَ العِلْمِ، وَوَفَّقَنِي لإتمام هذا الكِتَاب.
ثُمَّ أَشْكُرُ لِوالِديّ اللّذين كَانَ لَهُمَا الفَضْلُ بَعْد اللهِ تَعَالى فِي مُوَاصَلَة دِرَاسَتِي العُلْيَا؛ حَيْثُ هَيَّا لِي كُلَّ السُّبل، وحَثَّانِي عَلَى إِنْجَازِ هَذَا العَمَل، فَأََسْأل اللهَ أَنْ يَجْزِيَهُمَا عَنِّي خَيْراً، وَيُبَارِكَ فِي عُمْرِهِمَا.
كَمَا أَشْكُرُ الْقَائِمِينَ عَلَى هَذَا الصَّرْحِ الْعِلْمِيِّ الشَّامِخِ؛ أَعْنِي الْجَامِعَةَ الإِسْلَامِيَّةَ فِي الْمَدِيْنَةِ النَّبَوِيَّةِ؛ الَّذِيْنَ مَا فَتِئُوا يُولُونَ أَبْنَاءَ الأُمَّةِ الإِسْلَامِيَّةِ جُهُودَهُمْ المُبَارَكَة، وَيُعِدُّونَهُمْ لِتَحَمُّلِ أَعْبَاءِ الدَّعْوَةِ إِلَى اللهِ عَلَى هَدْيٍ مِنَ كِتَابِهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم.
كَمَا أُزْجِي الشُّكْرَ لِفَضِيْلَةِ شَيْخِي وَمُشْرِفِي الدُّكْتُور مُحَمَّدُ بْنُ عَوَضٍ السِّهْلِيّ؛ الَّذِي تَكَرَّمَ بِالإِشْرَافِ عَلَى هَذِهِ الرِّسَالَة، وَأَعْطَانِي مِنْ وَقْتِهِ الثَّمِين مَا أَعْطَانِي، وَوَاكَبَ خُطُوَاتِ البَحْثَ، وَشَارَكَنِي هُمُومَهُ؛ فَلَقَدْ وَجَدْتُ فِيْهُ خُلُقَ الْعُلَمَاءِ، وَكَرَمَ الْفُضَلاءِ؛ فَجَزُاهُ اللَّهُ عَنِّي خَيْرَ الْجَزَاءِ، وَبَارَكَ فِيْهِ وَفِي عَقِبِهِ، وَجَعَلَ مَا قَدَّمَهُ لِي فِي مِيْزَانِ حَسَنَاتِهِ.
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও প্রশংসা:
আমি সেই সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি আমাকে ইলমের (জ্ঞানের) পথে পরিচালিত করেছেন এবং এই কিতাবটি সম্পন্ন করার তৌফিক দান করেছেন।
অতঃপর আমি আমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, মহান আল্লাহর পরে যাঁদের অবদান রয়েছে আমার উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে; কেননা তাঁরা আমার জন্য সকল পথ সুগম করেছেন এবং এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য আমাকে উৎসাহিত করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার পক্ষ হতে তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তাঁদের জীবনে বরকত দান করেন।
তদ্রূপ আমি এই সুউচ্চ জ্ঞানপীঠের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি; অর্থাৎ মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়; যাঁরা নিরবচ্ছিন্নভাবে মুসলিম উম্মাহর সন্তানদের জন্য তাঁদের বরকতময় প্রচেষ্টা ব্যয় করছেন এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর নির্দেশনার আলোকে আল্লাহর দিকে দাওয়াতের গুরুভার বহনের জন্য তাঁদের প্রস্তুত করছেন।
একইভাবে আমি আমার শ্রদ্ধেয় শাইখ ও তত্ত্বাবধায়ক ডক্টর মুহাম্মদ বিন আওয়াদ আস-সেহলি-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা পেশ করছি; যিনি অনুগ্রহপূর্বক এই গবেষণাপত্রটি তত্ত্বাবধান করেছেন এবং আমাকে তাঁর মূল্যবান সময় দান করেছেন। তিনি গবেষণার প্রতিটি ধাপে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং এর প্রতিটি চিন্তায় শরিক হয়েছেন। আমি তাঁর মাঝে আলেমদের চরিত্র ও গুণীজনদের মহত্ত্ব প্রত্যক্ষ করেছি। আল্লাহ তাআলা আমার পক্ষ হতে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁকে ও তাঁর বংশধরদের মাঝে বরকত দান করুন এবং তিনি আমার জন্য যা কিছু করেছেন তা তাঁর নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
مَشَايِخِي الأَجِلَاّءَ فِيهِ، فَامْتَدَحُوا الْكِتَابَ، وَأَشَارُوا عَلَيَّ بِتَحْقِيقِه؛ لِذَا عَقَدْتُ الْعَزْمَ عَلَى تَحْقِيقِهِ وَدِرَاسَتِهِ - مُسْتَعِيْنًا بِاللَّهِ تَعَالَى-، لِيَكُونَ مَوْضُوعَ رِسَالَتِي العالمِيّة (المَاجستير) ؛ وَكَانَ مِنْ أَهَمِّ الأَسْبَابِ الَّتِي دَفَعَتْنِي إِلَى ذَلِكَ مَا يَلِي:
1-أَنَّ هَذَا الْكِتَابَ شَرْحٌ لِمَنْظُومَةِ (مُلْحَةِ الإِعْرَابِ) الَّتِي تُعَدُّ مِنْ أَوَائِلِ الْمَنْظُومَاتِ النَّحوِيَّةِ الَّتِي وَصَلَتْ إِلَيْنَا كَامِلَةً؛ وَلَقَدْ طَبَّقَتْ شُهْرَتُهَا الآفَاقَ، إِذْ تَنَاوَلَهَا جَمْعٌ مِنَ الْعُلَمَاءِ شَرْحًا وَاخْتِصَارًا وَإِعْرَابًا.
2-أَنَّ هَذَا الْكِتَابَ يُعَدُّ مِنْ أَوْسَعِ الْكُتُبِ الَّتِي شَرَحَتِ (الْمُلْحَة) ؛ فَقَدْ تَمَيَّزَ بِكَثْرَةِ عَرْضِهِ لِلْمَسَائِلِ النَّحوِيَّةِ، وَأَقْوَالِ الْعُلَمَاءِ، وَمُنَاقَشَتِهَا، وَكَثْرَةِ شَوَاهِدِهِ، وَتَنَوُّعِهَا.
3-أَنَّ مُؤَلِّفَ هَذَا الْكِتَاب عَاشَ فِي الْقَرْنِ الثَّامِن، وَهُوَ الْقَرْنُ الَّذِي نَشِطَتْ فِيهِ الدِّرَاسَاتُ الإِسْلَامِيَّةُ، وَكَثُرَتْ فِيهِ الْمُؤَلَّفَاتُ، وَتَمَيَّزَ فِيهِ كَوْكَبَةٌ مِنَ الْعُلَمَاءِ الأَعْلَامِ، كَأَبِي حَيَّان، وَالْمُرَادِي، وَابْنِ هِشَام، وَابْنِ عَقِيلٍ، مِمَّا كَانَ لَهُ أَبْلَغُ الأَثَرِ فِي إِيْجَادِ مُجْتَمَعٍ عِلْمِيّ مُتَمَيِّزٍ ظَهَرَتْ آثَارُهُ فِي تِلْكِ الدِّرَاسَاتِ.
4-الْكَشْفُ عَنْ مَعَالِمِ شَخْصِيَّةِ الصَّائِغِ؛ لأنّه لَمْ يُحَقَّقْ لَهُ
এই বিষয়ে আমার সম্মানিত শায়খগণ কিতাবটির প্রশংসা করেছেন এবং আমাকে এটি সম্পাদনা করার পরামর্শ দিয়েছেন; তাই আমি মহান আল্লাহর সাহায্য চেয়ে এটি সম্পাদনা ও অধ্যয়ন করার দৃঢ় সংকল্প করেছি, যাতে এটি আমার স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) থিসিসের বিষয় হতে পারে। আর আমাকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করার অন্যতম প্রধান কারণগুলো নিম্নরূপ:
1-এই কিতাবটি 'মুলহাতুল ই'রাব' নামক কাব্যগ্রন্থের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা আমাদের কাছে পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছানো নাহু (ব্যাকরণ) বিষয়ক প্রথম দিককার কাব্যগ্রন্থগুলোর অন্যতম। এর খ্যাতি দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ উলামায়ে কেরামের একটি বড় জামাত এর ব্যাখ্যা, সংক্ষিপ্তকরণ এবং শব্দবিশ্লেষণ (ই'রাব) নিয়ে কাজ করেছেন।
2-এই কিতাবটি 'মুলহা'-র ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম বিস্তৃত গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত; এটি নাহু সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ ও আলেমদের মতামত উপস্থাপন ও পর্যালোচনা এবং প্রচুর ও বৈচিত্র্যময় কাব্যিক প্রমাণের (শাওয়াহিদ) ব্যবহারের কারণে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
3-এই কিতাবের লেখক অষ্টম হিজরি শতাব্দীতে বসবাস করতেন, যা ছিল এমন এক শতাব্দী যখন ইসলামি জ্ঞানচর্চা অত্যন্ত সক্রিয় ছিল এবং গ্রন্থ রচনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই সময়ে একঝাঁক প্রথিতযশা আলেম বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, যেমন আবু হাইয়ান, আল-মুরাদী, ইবনে হিশাম এবং ইবনে আকীল; যা একটি অনন্য ইলমি সমাজ বিনির্মাণে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল এবং যার প্রতিফলন সেই সময়ের গবেষণাকর্মগুলোতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
4-আস-সাইগ-এর ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যসমূহ উন্মোচন করা; কারণ তাঁর কোনো কাজ ইতিপূর্বে সম্পাদিত হয়নি...
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
أَيُّ كِتَابٍ قَبْلَ هَذَا - على حدِّ عِلْمِي، وَلَمْ تُدْرَسْ شَخْصِيَّتُهُ.
5- أَنَّ فِي تَحْقِيقِ هَذَا الْكِتَاب مُشَارَكَةً فِي إِحْيَاءِ كُتُبِ التُّرَاثِ الَّتِي ظَلَّتْ قَابِعَةً فِي رُفُوفِ الْمَكْتَبَاتِ زَمَنًا طَوِيلاً. فَكَانَتْ هَذِهِ الأَسْبَابُ مُجْتَمِعَةً مِنْ أَهَمَّ مَا دَفَعَنِي إِلَى تَحْقِيقِ هَذَا الْكِتَابِ.
هَذَا، وَقَدْ اقْتَضَت طَبِيعَةُ الْبَحْث أَنْ أُقَسِّمَهُ قِسْمَيْنِ رَئِيسَيْنِ:
الْقِسْمُ الأَوَّلُ: الدِّرَاسَةُ، وَتَشْتَمِلُ عَلَى تَمْهِيد، وَفَصْلَيْن:
التَّمْهِيدُ: وَفِيهِ تَعْرِيفٌ مُوجَزٌ بِالْحَرِيرِيّ صَاحَبِ الْمَنْظُومَةِ الَّتِي نَحْنُ بِصَدَدِ تَحْقِيْقِ شَرْحِهَا.
الفَصْلُ الأَوَّلُ: الصَّايِغ، وَفِيهِ أَرْبَعَةُ مَبَاحِث:
المَبحَثُ الأَوَّلُ: اسْمُهُ، وَنَسَبُهُ، وَكُنْيَتُه، وَلَقَبُهُ.
المبَحَثُ الثَّانِي: مَوْلِدُهُ، وَنَشْأَتُهُ، وَوَفَاتُهُ.
المَبحَثُ الثَّالِث: شُيُوخُهُ، وَتَلَامِيذُهُ.
المَبْحَثُ الرَّابِعُ: مُصَنَّفَاتُهُ.
الفَصْلُ الثَّانِي: (اللَّمْحَةُ فِي شَرْحِ المُلْحَةِ) ، وَفِيه سِتَّةُ مَبَاحِث:
المَبحَثُ الأَوَّلُ: تَوْثِيقُ اسْمِ الْكِتَابِ، وَنِسْبَتِهِ إِلَى مُؤَلِّفِهِ.
المَبحَثُ الثَّانِي: مَنْهَجُ الْمُؤَلِّفِ فِي الْكِتَابِ.
المَبْحَثُ الثَّالِثُ: مَصَادِرُهُ.
আমার জ্ঞানত এর আগে কোনো বই (সংকলিত হয়নি), এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব নিয়ে গবেষণা করা হয়নি।
৫- এই কিতাবটির তাহকিক বা সম্পাদনা করার মাঝে ঐসব ঐতিহ্যবাহী (তুরাথ) গ্রন্থসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি প্রয়াস রয়েছে, যা দীর্ঘকাল ধরে পাঠাগারের তাকগুলোতে পড়ে ছিল। সুতরাং এই কারণগুলো সম্মিলিতভাবে আমাকে এই গ্রন্থটি তাহকিক করতে উদ্বুদ্ধ করার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।
আর এই গবেষণার প্রকৃতি অনুযায়ী আমি একে দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত করেছি:
প্রথম অংশ: পর্যালোচনা, যা একটি ভূমিকা ও দুটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:
ভূমিকা: এতে আল-হারীরীর একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি রয়েছে, যিনি ঐ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা যার ব্যাখ্যাগ্রন্থের তাহকিক আমরা করছি।
প্রথম অধ্যায়: আস-সাইয়েগ, এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম ও উপাধি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা ও মৃত্যু।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ ও ছাত্রবৃন্দ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি।
দ্বিতীয় অধ্যায়: (আল-লামহাহ ফী শারহিল মুলহাহ), এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের নামের সত্যতা যাচাই এবং লেখকের প্রতি এর নিসবত বা সম্বন্ধ নিশ্চিতকরণ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর উৎসসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المَبْحَثُ الرَّابِعُ: شَوَاهِدُهُ.
المَبْحَثُ الخَامِسُ: مُوَازَنَةٌ بَيْنَ (اللَّمْحَةِ) وَ (شَرْحِ الْحَرِيرِيِّ عَلَى المُلْحَة) .
المَبْحَثُ السَّادِسُ: تَقْوِيمُ الْكِتَاب.
الْقِسْمُ الثَّانِي: التَّحْقِيقُ، وَيَشْتَمِلُ عَلَى مَا يَلِي:
1- وَصْفُ النُّسَخِ الْخَطِّيَّةِ الْمُعْتَمَدَةِ فِي التَّحْقِيق.
2- مَنْهَجِي فِي التَّحْقِيقِ.
3- النَّصُّ الْمُحَقَّق.
ثُمَّ ذَيَّلْتُ الكِتَابَ بِالْفَهَارِسِ الْفَنِّيَّةِ اللَاّزِمَة.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এর প্রমাণাদি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: (আল-লামহাহ) এবং (শারহুল হারিরি আলাল মুলহাহ)-এর মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের মূল্যায়ন।
দ্বিতীয় অংশ: তাহকিক (সম্পাদনা), এবং এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
১- সম্পাদনায় ব্যবহৃত নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ।
২- সম্পাদনায় আমার অনুসৃত পদ্ধতি।
৩- সম্পাদিত মূল পাঠ।
অতঃপর আমি গ্রন্থটির শেষে প্রয়োজনীয় নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্রসমূহ সংযোজন করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
كَمَا أَشْكُرُ جَمِيعَ أَسَاتِذَتِي الَّذِينَ سَاعَدُونِي فِي إِنْجَازِ هَذَا الْكِتَاب؛ وَعَلَى رَأسِهم فَضِيلَة الأُستاذ الدّكتور/ عليّ بن سُلْطَان الحكميّ؛ رئيس قسم اللّغويات بالكلّية.
كَمَا أَشْكُرُ زَوْجَتِي المُخْلِصَة؛ لِمَا بَذَلَتْه مِنْ صَبْرٍ ومُسَاعَدةٍ، كَانَ لَهُمَا الأَثَرُ الكَبِيرُ فِي مُوَاصَلةِ الدِّرَاسَةِ وَالتَّحْصِيلِ. كَمَا أَشْكُرُ إخوَاني الأوفِيَاء؛ وأَخُصُّ منْهُم بالذّكر أَخي الشّيخ عبد الله الّذي قَدَّم لِي يدَ العَوْنِ والمُسَاعَدةِ في سَبِيلِ إِنْجَازِ هذا العَمَل.
وَبَعْدُ؛ فَلَقَدْ بَذَلْتُ فِي هَذَا الْكتاب كُلَّ مَا فِي وُسْعِي، وَلَكِنَّنِي - مَعَ ذَلِكَ - لَا أَدَّعِي فِيهِ الْوُصُولَ إَلَى الْكَمَال؛ فَمَا كَانَ فِيهِ مِنْ صَوَابٍ فَهُوَ مِنَ فَضْلِ اللَّهِ - تَعَالَى - وَكَرَمِهِ وَتَوْفِيقِهِ، وَمَا كَانَ فِيهِ مِنْ خَطَأ أَوْ زَلَلٍ أَوْ تَقْصِير فَهُوَ مِنِّي، وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، وَحَسْبِي أَنِّي تَحَرَّيْتُ الصَّوَابَ جُهْدِي، وَبَحَثْتُ عَنْهُ مَا اسْتَطَعْتُ.
وَخِتَامًا أَسْأَلُ اللَّهَ - تَعَالَى - أَنْ يَجْعَلَ هَذَا الْعَمَلَ خَالِصًا لِوَجْهِهِ الْكَرِيم، وَأَنْ يُوَفِّقَنِي لِمَا يُحِبُّ وَيَرْضَى، إِنَّهُ سَمِيعٌ مُجِيبٌ، وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ للهِ رَبِّ العَالَمِينَ.
وكتب إبراهيم بن سالم الصّاعديّ 27/4/1419هـ.
সেইসাথে আমি আমার সকল শিক্ষককে ধন্যবাদ জানাই যারা এই গ্রন্থটি সম্পন্ন করতে আমাকে সহায়তা করেছেন; তাঁদের শীর্ষে রয়েছেন সম্মানিত অধ্যাপক ডক্টর আলী বিন সুলতান আল-হাকামি; কলেজের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান।
আরও ধন্যবাদ জানাই আমার একনিষ্ঠ স্ত্রীকে; তাঁর ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য, যা আমার পড়াশোনা ও জ্ঞানার্জনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। আরও কৃতজ্ঞতা জানাই আমার অনুগত ভাইদের; যাঁদের মধ্যে আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি আমার ভাই শায়খ আব্দুল্লাহর কথা, যিনি এই কাজটি সম্পন্ন করতে আমাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন।
এরপর কথা হলো; আমি এই গ্রন্থে আমার সাধ্যমতো সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি, তবে তা সত্ত্বেও আমি এতে পূর্ণতায় পৌঁছানোর দাবি করি না; সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক আছে তা মহান আল্লাহর অনুগ্রহ, দান এবং তাওফিকের মাধ্যমে, আর যা কিছু ভুল, বিচ্যুতি বা ত্রুটি আছে তা আমার পক্ষ থেকে, আর আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, আমি সাধ্যমতো সঠিকটি অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেছি এবং সাধ্যানুযায়ী তা খুঁজেছি।
পরিশেষে আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে শুধুমাত্র তাঁর সম্মানিত চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং তিনি যা ভালোবাসেন ও যাতে সন্তুষ্ট হন সেই তাওফিক আমাকে দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী। আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন ইব্রাহিম বিন সালেম আস-সায়েদী, ২৭/০৪/১৪১৯ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
القسم الأول: قسم الدراسة
التمهيد…التمهيد
تعريف موجز بالحريريّ:
الحريريّ1 هو: أبو محمّد القاسم بن عليّ بن محمّد بن عثمان الحريريّ2 الحراميّ3 البصريّ؛ وينتهي نسبُه إلى رَبِيعةَ الفَرَس4.
ولد الحريريّ في قرية (المَشَانّ) 5 من أعمال البصرة، سنة
--------------------------------------------
প্রথম অংশ: গবেষণা বিভাগউপক্রমণিকা...উপক্রমণিকা
আল-হারিরীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
হারিরী১ হলেন: আবু মুহাম্মদ আল-কাসেম বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন উসমান আল-হারিরী২ আল-হারামী৩ আল-বাসরী; এবং তাঁর বংশধারা রবীআহ আল-ফারাস৪ পর্যন্ত গিয়ে মিলেছে।
হারিরী বসরার উপকণ্ঠের (আল-মাশান)৫ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, ... সালে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ستّ وأربعين وأربعمائة من الهجرة؛ وفيها قضى طُفولته وبعض صباه، ثمّ انتقل إلى البصرة، وفيها تلقّى أنواع العلوم على كبار الشّيوخ في ذلك العَصْر.
فقد قرأ النّحو على أبي القاسم الفضْل بن محمّد القَصَبَانيّ1، ثم دخل بغداد فقرأ النّحو والأدب على عليّ بن فَضّال المجاشعيّ2، وتفقّه على ابن الصّبّاغ3، وأبي إسحاق الشّيرازيّ4، وقرأ الفرائض والحساب على أبي حكيم الخَبْرِيّ5.
وكان الحريريّ من ذَوِي الجاه واليَسَار؛ له مُلْكٌ حَسَنٌ بالمَشَانّ؛ يقال: إنّه كان له ثماني عشرة ألف نخْلة6.
وكان من ذوي الوجاهة لدى السّلطان؛ فقد كان صاحب الخبَر7 بالبصرة؛ وهو منصبٌ ظلّ به إلى أنْ مات؛ فتوارثه أولادُه من بعده8.
--------------------------------------------
৪৪৬ হিজরি সনে; এই সময়ে তিনি তাঁর শৈশব এবং কৈশোরের কিছু অংশ অতিবাহিত করেন। অতঃপর তিনি বসরায় স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে তৎকালীন যুগের বড় বড় শায়খদের নিকট বিভিন্ন ধরণের ইলম অর্জন করেন।
তিনি আবুল কাসিম আল-ফাদল ইবনে মুহাম্মদ আল-কাসাবানির নিকট নাহু (ব্যাকরণ) পাঠ করেন, অতঃপর বাগদাদে প্রবেশ করে আলি ইবনে ফাদদাল আল-মুজাশিয়ির নিকট নাহু ও আদব (সাহিত্য) পাঠ করেন। তিনি ইবনুস সাব্বাগ এবং আবু ইসহাক আশ-শিরাজির নিকট ফিকহ শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন এবং আবু হাকিম আল-খবরির নিকট ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) ও হিসাবশাস্ত্র পাঠ করেন।
হারিরি উচ্চ মর্যাদা ও সচ্ছলতার অধিকারী ছিলেন; মাশানে তাঁর চমৎকার ভূ-সম্পত্তি ছিল; বলা হয় যে, সেখানে তাঁর আঠারো হাজার খেজুর গাছ ছিল।
সুলতানের নিকট তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন; তিনি বসরায় 'সাহিবুল খবর' (তথ্য কর্মকর্তা) হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল ছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানরা এর উত্তরাধিকারী হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وكان رحمه الله أديبًا، لغويًّا، نحويًّا، ناظمًا، ناثرًا1؛ وكان غايةً في الذّكاء، والفِطْنة، والفصاحة، والبلاغة2.
توفّي رحمه الله في البصرة، في محلّة بني حرام؛ سنة ستّ عشرة وخمسمائة من الهجرة، وعمرُه سبعون سنة3.
وقد ترك من المصنّفات ما يلي:
1- دُرَّةُ الغَوَّاصّ في أوهام الخَوَاص4.
وهو كتابٌ بَيَّن فيه أغلاط الكُتّاب فيما يستعملونه من الألفاظ في غير معناه، أو في غير موضعه.
2- المقامات5.
--------------------------------------------
এবং তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন একজন সাহিত্যিক, ভাষাবিদ, ব্যাকরণবিদ, কবি ও গদ্যকার
১; এবং তিনি মেধা, বিচক্ষণতা, প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রে ছিলেন অনন্য
২।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) হিজরি ৫১৬ সনে সত্তর বছর বয়সে বসরার বনি হারাম মহল্লায় ইন্তেকাল করেন
৩।
তিনি নিম্নোক্ত গ্রন্থসমূহ রেখে গেছেন:
১- দুররাতুল গাওয়াস ফি আওহামিল খাওয়াস (বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুলভ্রান্তি বিষয়ে ডুবুরির মুক্তা)
৪।
এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে তিনি লেখকদের সেই সব ভুলভ্রান্তি বর্ণনা করেছেন, যা তারা শব্দের অর্থগত অপপ্রয়োগে কিংবা তা ভুল স্থানে ব্যবহারের মাধ্যমে করে থাকেন।
২- আল-মাকামাত
৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وهي أشهرُ كتبه على الإطلاق؛ قال ياقوت الحمويّ1: "وله صانيف تشهد بفضلِهِ، وتُقِرُّ بِنُبْلِهِ؛ وكفاه شاهدًا كتاب "المقامات" الّتي أَبَرَّ بها على الأوائل وأعجز الأواخر".
وقد بدأ تأليفَها سنة 495هـ2؛ ودام تأليفها بضع سنوات، وجعلها خمسين مقامة.
وقد اعتنى بشرحها عددٌ كبيرٌ من العلماء؛ فمنهم مَن طَوَّل، ومنهم من اختصر3.
3- ملحة الإعراب4.
وهي أُرجوزة في النّحو، تقع في 377 بيتًا؛ ومطلُعها:
أَقُولُ مِنْ بَعْدِ افْتِتَاحِ القَول
… بحمد ذي الطول شديد الحول
4- شرح ملحة الإعراب5.
--------------------------------------------
এটি তাঁর সর্বাধিক বিখ্যাত বই; ইয়াকুত আল-হামাভী১ বলেন: "তাঁর এমন কিছু রচনা রয়েছে যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দেয় এবং তাঁর আভিজাত্যকে স্বীকার করে; আর তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবে 'আল-মাকামাত' গ্রন্থটিই যথেষ্ট, যার মাধ্যমে তিনি পূর্ববর্তীদের ছাড়িয়ে গেছেন এবং পরবর্তীদের অক্ষম করে দিয়েছেন।"
তিনি এর রচনা শুরু করেছিলেন ৪৯৫ হিজরি সালে২; এর রচনা কাল কয়েক বছর স্থায়ী হয়েছিল এবং তিনি একে পঞ্চাশটি মাকামাতে বিন্যস্ত করেছেন।
বিপুল সংখ্যক আলেম এর ব্যাখ্যায় মনোনিবেশ করেছেন; তাঁদের মধ্যে কেউ দীর্ঘ ব্যাখ্যা করেছেন এবং কেউ সংক্ষিপ্ত করেছেন৩।
৩- মুলহাতুল ই'রাব৪।
এটি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের একটি উরজুযাহ (কাব্যগ্রন্থ), যা ৩৭৭টি পঙক্তি নিয়ে গঠিত; এর প্রারম্ভিক পঙক্তি হলো:
আমি বক্তব্য আরম্ভ করার পর বলছি
… অনুগ্রহের মালিক এবং প্রবল শক্তির অধিকারী আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে
৪- শারহু মুলহাতিল ই'রাব৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
5- كتاب رسائل الحريري1.
ومن هذه الرّسائل: الرّسالة السّينيّة، والرّسالة الشّينيّة2؛ كلّ كلمة في الأولى تحوي سينًا، وكلّ كلمة في الثّانية تحوي شينًا.
6- كتاب شعر الحريري3.
7- الفرْق بين الضّاد والظّاء4.
8- توشيح البيان5.
--------------------------------------------
৫- আল-হারিরির পত্রাবলি সংকলন১।
এই পত্রাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো: সিনীয়াহ পত্র এবং শিনীয়াহ পত্র২; প্রথমটির প্রতিটি শব্দে ‘সিন’ বর্ণটি রয়েছে এবং দ্বিতীয়টির প্রতিটি শব্দে ‘শিন’ বর্ণটি রয়েছে।
৬- আল-হারিরির কাব্যগ্রন্থ৩।
৭- ‘দাদ’ (ض) এবং ‘যা’ (ظ) বর্ণের মধ্যে পার্থক্য৪।
৮- তাওশিহুল বায়ান৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفصل الأول: الصايغ
المبحث الأول: اسمه، ونسبُه، وكنيته، ولقبه…المبحث الأوّل: اسمه، ونسبُه، وكنيته، ولقبه
هو الإمام، العلاّمة، النّحويّ، اللّغويّ؛ شمس الدّين1 أبو عبد الله محمّد ابن الحسن2 بن سِبَاع بن أبي بكر المصريّ الأصل، الدّمشقيّ المولد والوفاة؛ المعروف بـ (الصّايغ) 3؛ - بالياء - وهو غير ابن الصائغ المشهور -
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: আস-সায়িগ
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম এবং উপাধি…প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম এবং উপাধি
তিনি হলেন ইমাম, আল্লামা (প্রাজ্ঞ পণ্ডিত), ব্যাকরণবিদ, ভাষাবিদ; শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে সিবাহ ইবনে আবি বকর; মূলে মিশরীয়, জন্ম ও মৃত্যুর হিসেবে দামেস্কি; তিনি 'আস-সায়িগ' নামে পরিচিত — 'ইয়া' বর্ণযোগে — এবং তিনি প্রসিদ্ধ ইবনুস সায়িগ থেকে ভিন্ন ব্যক্তি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
كما نصّ على ذلك السّيوطيّ في البُغية -1.
وينتهي نَسَبُهُ إلى بني جُذام عمرو بن عديّ بن الحارث بن مرّة بن أُدَد ابن زيد بن يَشْجُب بن عريب بن زيد بن كهْلان بن سَبَأ، وهو عامر بن يَشْجُب بن يَعْرب بن قحْطان2.
وقد كُتب على صفحة العنوان من النّسخة (ب) : "شمس الدّين محمّد
--------------------------------------------
যেমনটি সুয়ূতী 'বুগইয়াহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন -১।
এবং তাঁর বংশধারা বনু জুজাম; আমর বিন আদি বিন হারিস বিন মুররাহ বিন উদাদ ইবনে যায়েদ বিন ইয়াশজুব বিন আরিব বিন যায়েদ বিন কাহলান বিন সাবা পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে, আর তিনি হলেন আমের বিন ইয়াশজুব বিন ইয়ায়রুব বিন কাহতান২।
আর পাণ্ডুলিপি (ব)-এর শিরোনাম পাতায় লেখা হয়েছে: "শামসুদ্দিন মুহাম্মদ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ابن بدر الدّين حسن … " ولم تذكر جميع المصادر (بدر الدّين) هذا؛ وكأنّ إيرادَه تصرُّفٌ من النّاسخ؛ لأنّه كتب في آخر النّسخة: "نجز ما ألّفه الشّيخ، الإمام، شمس الدّين محمّد بن حسن … "؛ ولم يذكر (بدر الدّين) .
ইবনে বদরুদ্দীন হাসান … " এবং সকল উৎস এই (বদরুদ্দীন) নামটির উল্লেখ করেনি; মনে হয় এর সংযোজন প্রতিলিপিকারীর পক্ষ থেকে একটি হস্তক্ষেপ; কারণ তিনি পাণ্ডুলিপির শেষে লিখেছেন: "শায়খ, ইমাম, শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন হাসান যা রচনা করেছেন তা সমাপ্ত হলো … "; এবং তিনি (বদরুদ্দীন) উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المبحث الثاني: مولده، ونشأته، ووفاتهأوّلاً - مولده، ونشأته:
وُلد الصّايغ في دمشق في شهر صفر، سنة خمس وأربعين وستمائة1.
وبالرّجوع إلى المصادر الّتي تناولت حياة الصّايغ لم أجد أحداً ذكر شيئاً عن نشأته في طفولته، وشبابه وحياته العلميّة، إلاّ ما ذُكِرَ من أنّه كان له حانوت بالصّاغة يقرئ الطّلبة فيه العربيّة والعروض والأدب؛ وقد أقرأ (ديوان المتنبّي) و (الحماسة) ، وغير ذلك2.
وكان يسكن بين دَرْب الحبّالين والفراش عند بُستان القطّ3.
وكان حسن الأخلاق، متواضعاً، ذا فضائل4.
وكان فيه وُدّ، لطيف المحاورة والمحاضرة5.
وكانت حياتُه حافلة بالتّنقّل؛ فقد نشأ في دمشق، ثم انتقل إلى مصر، ثم عاد مرّة أخرى إلى دمشق 6.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং মৃত্যুপ্রথম - তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:
সায়েগ ৬৪৫ হিজরি সালের সফর মাসে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন।১
সায়েগের জীবন নিয়ে আলোচনা করা উৎসসমূহের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, তাঁর শৈশব, কৈশোর এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনের শুরুর দিক সম্পর্কে কেউ তেমন কিছু উল্লেখ করেননি; কেবল এতটুকু বর্ণিত হয়েছে যে, স্বর্ণকারদের বাজারে (সাগাহ) তাঁর একটি দোকান ছিল যেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষা, ছন্দপ্রকরণ এবং সাহিত্য পড়াতেন। তিনি 'দিওয়ানে মুতানাব্বি', 'আল-হামাসাহ' এবং এ জাতীয় অন্যান্য গ্রন্থ পাঠদান করতেন।২
তিনি দামেস্কের 'দারবুল হাব্বালিন' ও 'ফারাশ'-এর মধ্যবর্তী স্থানে 'বুস্তানুল কাত্ত'-এর নিকট বসবাস করতেন।৩
তিনি সুন্দর চরিত্রের অধিকারী, বিনয়ী এবং বহু সদগুণের অধিকারী ছিলেন।৪
তিনি অত্যন্ত বন্ধুসুলভ এবং কথোপকথন ও জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনায় অত্যন্ত অমায়িক ছিলেন।৫
তাঁর জীবন ছিল দেশ ভ্রমণে ভরপুর; তিনি দামেস্কে বেড়ে ওঠেন, এরপর মিশরে গমন করেন এবং পুনরায় দামেস্কে ফিরে আসেন।৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ثانياً - وفاتُه:
توفّي الصّايغ في داره بدمشق، يوم الاثنين1 ثالث شعبان2، سنة 720هـ، ودفن بباب الصّغير3، عن خمس وسبعين4 سنة رحمه الله. وقيل: إنّه توفّي سنة 722هـ5.
وذكر ابن القاضي6 أنّه توفّي سنة 721?؛ ولم أجد مَن تابعه على ذلك.
وذكر السيوطيّ7 أنّه توفّي سنة 725، ووافقه صاحب (كشف الظنون) 8؛ لكنّه ذكر في مواضع أخرى التأريخين الأولين9.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত - তাঁর মৃত্যু:
আস-সায়েগ দামেস্কে তাঁর নিজগৃহে সোমবার, ৩রা শাবান, ৭২০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে বাব আস-সগীরে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল পঁচাত্তর বছর, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন। এবং বলা হয়েছে: তিনি ৭২২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেছেন।
ইবনে আল-কাদী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৭২১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেছেন; কিন্তু এই বিষয়ে তাঁর অনুগামী হয়েছে এমন কাউকে আমি পাইনি।
আস-সুয়ূতী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৭২৫ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেছেন এবং 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক তাঁর সাথে একমত হয়েছেন; কিন্তু তিনি অন্যান্য স্থানে পূর্বোক্ত দুটি তারিখও উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
المبحث الثالث: شيوخه، وتلاميذهأوّلاً- شيوخه:
لم تذكر لنا المصادر من شيوخه إلاّ ابن أبي اليسر1؛ وهو: أبو محمّد إسماعيل بن إبراهيم بن أبي اليسر شاكر بن عبد الله بن أبي المجد، مسند الشّام، تقيّ الدّين، شرف الفضلاء، التّنوخيّ، المعريّ الأصل، الدّمشقيّ. وُلد سنة 589هـ، وتوفّي سنة 672هـ.
ومن شيوخ ابن أبي اليسر: الخشوعيّ، وعبد اللّطيف بن شيخ الشّيوخ، والقاسم بن عساكر؛ وأجاز له جماعة، وروى الكثير، واشتهر ذكره.
تفرّد بأشياء كثيرة، وكان متميّزًا في كتابة الإنشاء، جيّد النّظم، حسن القول، ديِّنًا متصوّنًا، صحيح السّماع؛ من بيت كتابة وجلالة؛ وله شعرٌ جيِّد وبلاغة؛ وفيه خير وعدالة2.
وهناك شيخٌ آخر للصّايغ أشار إليه في هذا الشّرح؛ لكنّه لم يصرّح باسمه، وإنّما اكتفى بقوله: "قال شيخُنا رحمه الله"، أو"كقول شيخنا - رحمه الله تعالى -"3، ثم أورد نصّين نقلهما عن هذا الشّيخ؛ وقد تبيّن لي
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর উস্তাদগণ এবং ছাত্রবৃন্দপ্রথমত- তাঁর উস্তাদগণ:
উৎসগ্রন্থগুলো ইবন আবুল ইয়াসার১ ব্যতীত আমাদের কাছে তাঁর অন্য কোনো উস্তাদের নাম উল্লেখ করেনি; তিনি হলেন: আবু মুহাম্মদ ইসমাঈল বিন ইব্রাহিম বিন আবুল ইয়াসার শাকির বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুল মাজদ, সিরিয়ার (শাম) মুসনিদ, তাকিউদ্দীন, শরফুল ফুদলা, আত-তানুখি, বংশগতভাবে মাআররি এবং দামেস্কি। তিনি ৫৮৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৭২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
ইবন আবুল ইয়াসারের উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: আল-খাশুয়ি, আব্দুল লতিফ বিন শায়খুশ শুয়ুখ এবং আল-কাসিম বিন আসাকির; একদল আলেম তাঁকে ইজাযত প্রদান করেছেন, তিনি প্রচুর বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল।
তিনি অনেক বিষয়ে অনন্য ছিলেন এবং রচনা শৈলীতে ছিলেন বিশিষ্ট। তিনি সুন্দর কাব্য গাঁথুনি, উত্তম বাচনভঙ্গি, দ্বীনদার, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং নির্ভুল শ্রুতির (সামা) অধিকারী ছিলেন। তিনি এক লেখক ও মর্যাদাবান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন; তাঁর চমৎকার কবিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের দক্ষতা ছিল এবং তাঁর মধ্যে কল্যাণ ও ন্যায়পরায়ণতা বিদ্যমান ছিল২।
আস-সাইয়েগের আরও একজন উস্তাদ রয়েছেন যাঁর প্রতি তিনি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে (শরহ) ইঙ্গিত করেছেন; কিন্তু তিনি স্পষ্টভাবে তাঁর নাম উল্লেখ করেননি, বরং কেবল এটুকু বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন: "আমাদের শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন" অথবা "যেমন আমাদের শায়খ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)-এর উক্তি"৩। এরপর তিনি এই শায়খ থেকে উদ্ধৃত দুটি পাঠ উল্লেখ করেছেন; আর এটি আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
من خلال مراجعة هذين النّصّين أنّ المقصود بهذا الشّيخ ابن النّاظم؛ والنّصّان موجودان في شرحه على الألفيّة1.
وقد راجعتُ ترجمة ابن النّاظم بُغية أن أجد من ينصّ على أنّ من تلاميذه الصّايغ؛ لكنّني لم أظفر بشيءٍ من ذلك؛ ولا غرابة في ذلك إذْ إنّ كلّ شيخ له تلاميذ كُثُر، وأصحاب التّراجم لا ينصّون إلاّ على بعض التّلاميذ.
وممّا يؤيد ذلك كثرة نقوله عنه - في شرحه على الألفيّة - دون أن يصرّح بالنّقل عنه2؛ ففي هذا دلالة على أنّه من شيوخه.
وابن النّاظم هو: أبو عبد الله محمّد بن محمّد بن عبد الله بن عبد الله ابن مالك بدر الدّين الشّافعيّ الطّائيّ الجيّانيّ الدّمشقيّ النّحويّ.
شيخ العربيّة، وقدوة أرباب المعاني والبيان، وأحدُ العلماء الفضلاء؛ قرأ على أبيه، وأخذ عنه النّحو واللّغة؛ وكان ذكيًّا فهمًا، عارفًا بالمنطق، والأصول، والنّظر؛ أخذ عنه جماعة منهم: كمال الدّين ابن الزّملكانيّ، وبدر الدّين ابن جماعة، وغيرهما.
ومن مصنّفاته: شرح ألفيّة والده، والمصباح في المعاني والبيان، ومقدّمة في المنطق، ومقدّمة في العروض؛ وشرح ملحة الإعراب وغير ذلك.
توفّي بدمشق يوم الأحد ثامن المحرّم سنة 686هـ، ودُفن بمقبرة باب الصّغير، وتأسّف النّاس عليه3.
--------------------------------------------
এই দুটি পাঠ্য পর্যালোচনা করে স্পষ্ট হয় যে, এখানে 'শাইখ' বলতে ইবনুন নাজিমকে বোঝানো হয়েছে; আর এই পাঠ্য দুটি আলফিয়্যাহর ওপর তাঁর রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থে বিদ্যমান ১।
আমি আস-সায়িগ তাঁর ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—এমন কোনো বক্তব্য খুঁজে পাওয়ার আশায় ইবনুন নাজিমের জীবনী পর্যালোচনা করেছি; কিন্তু আমি এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য লাভে সফল হইনি। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কেননা প্রত্যেক শাইখেরই বহু ছাত্র থাকে এবং জীবনীকারগণ সাধারণত কেবল উল্লেখযোগ্য কিছু ছাত্রের নামই উল্লেখ করেন।
আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থে স্পষ্টভাবে উদ্ধৃতির কথা উল্লেখ না করেই তাঁর থেকে প্রচুর পরিমাণে তথ্য গ্রহণ করার বিষয়টি এই মতকে সমর্থন করে ২; যা থেকে প্রমাণিত হয় যে, তিনি তাঁর শিক্ষকদের অন্যতম ছিলেন।
ইবনুন নাজিম হলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক বদরুদ্দীন আশ-শাফিঈ আত-তাইয়ি আল-জাইয়ানি আদ-দিমাশকি আন-নাহবি (ব্যাকরণবিদ)।
তিনি ছিলেন আরবি ভাষার শাইখ, অলঙ্কারশাস্ত্রের (মাআনি ও বায়ান) পণ্ডিতদের আদর্শ এবং অন্যতম একজন বিদগ্ধ আলিম। তিনি তাঁর পিতার নিকট পড়াশোনা করেছেন এবং তাঁর কাছ থেকেই নাহব (ব্যাকরণ) ও লুগাত (ভাষা) শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও বিচক্ষণ ছিলেন। তিনি মানতিক (তর্কশাস্ত্র), উসুল (মূলনীতি) ও তত্ত্বীয় বিদ্যায় (নাজার) পারদর্শী ছিলেন। একদল আলিম তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: কামালুদ্দীন ইবনুয যামলাকানি, বদরুদ্দীন ইবনু জামাআহ এবং আরও অনেকে।
তাঁর রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে: তাঁর পিতার রচিত আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আল-মিসবাহ ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান, মানতিক বিষয়ক একটি ভূমিকা (মুকাদ্দিমাহ), আরুজ (ছন্দশাস্ত্র) বিষয়ক ভূমিকা, মুলহাতুল ই’রাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইত্যাদি।
তিনি ৬৮৬ হিজরির ৮ই মহররম রবিবার দিমাশকে (দামেস্ক) ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে বাবুস সাগির কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে মানুষ অত্যন্ত শোকাহত হয়েছিল ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ثانيًا- تلاميذه:
إنّ كتب التّراجم الّتي تترجم للعلماء ربّما تكون مختصرة لا تستوعب أكبر قدر ممكن من ذكر العلماء وأخبارهم؛ ولم نجد من يذكر تلاميذ الصّايغ بأسمائهم، مع شهرته ومكانته، حيث لم تزد المصادر الّتي بين أيدينا على قولها: "تخرّج به فضلاء" 1.
ولكن من خلال مطالعاتي في تراجم رجال القَرْن الثّامن وقفت على ترجمة ابن فضل الله العمريّ، ووجدتّ المترجمين ينصّون على أنّ من شيوخه الّذين تلقّى عنهم الأدب والعروض شمس الدّين ابن الصّائغ؛ وقد تبيّن لي - من خلال المراجَعة والتّدقيق - أنّ شمس الدّين بن الصّائغ هو: محمّد بن الحسن بن سباع شارح "الملحة" لا محمّد بن عبد الرّحمن بن عليّ المشهور بابن الصّائغ؛ لأسباب عدّة:
أوّلاً - أنّ محمّد بن الحسن اشتهر بفنّ الأدب والعروض؛ وقد وجدنا المترجِمين يلقّبونه بـ (الأديب العروضيّ) 2.
ثانيًا- أنّه من أهل دمشق، وابن الصّائغ المشهور من أهل مصر - وإنْ كانت له رحلات إلى دمشق، لكنّ معظم حياته قضاها في مصر- وابن فضل الله العمريّ تلقّى معظم علومه في دمشق.
ثالثًا- أنّ مُدَّة التّحصيل والطّلب هي الفترة الّتي عاشها
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত- তাঁর ছাত্রবৃন্দ:
আলিমদের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থসমূহ সম্ভবত সংক্ষিপ্ত হয়ে থাকে, যা আলিমদের বর্ণনা ও তাঁদের সংবাদসমূহকে সর্বোচ্চ মাত্রায় ধারণ করতে সক্ষম হয় না; ইবনুল সায়েগের প্রসিদ্ধি ও মর্যাদা সত্ত্বেও আমরা এমন কাউকে পাইনি যিনি তাঁর ছাত্রদের নাম নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেছেন, যেহেতু আমাদের হাতে থাকা উৎসগুলো কেবল এটুকু বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল যে: "তাঁর নিকট অনেক গুণীজন শিক্ষালাভ করেছেন।" ১।
তবে অষ্টম শতাব্দীর ব্যক্তিবর্গের জীবনী পর্যালোচনাকালে আমি ইবনে ফজলুল্লাহ আল-উমরীর জীবনীর দেখা পাই এবং দেখতে পাই যে জীবনীকারগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম—যাঁদের নিকট থেকে তিনি সাহিত্য ও ছন্দশাস্ত্র গ্রহণ করেছেন—তিনি হলেন শামসুদ্দীন ইবনুল সায়েগ; আর পর্যালোচনা ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমার নিকট এটি প্রতিভাত হয়েছে যে, এই শামসুদ্দীন ইবনুল সায়েগ হলেন: 'আল-মুলহা' গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার মুহাম্মদ বিন হাসান বিন সিবা', ইবনুল সায়েগ হিসেবে প্রসিদ্ধ মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন আলী নন; এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে:
প্রথমত- মুহাম্মদ বিন হাসান সাহিত্য ও ছন্দশাস্ত্রে প্রসিদ্ধ ছিলেন; এবং আমরা জীবনীকারদের তাঁকে 'আল-আদিব আল-আরুদি' (সাহিত্যিক ও ছন্দবিদ) উপাধিতে ভূষিত করতে দেখেছি। ২।
দ্বিতীয়ত- তিনি ছিলেন দামেস্কের অধিবাসী, আর প্রসিদ্ধ ইবনুল সায়েগ ছিলেন মিসরের অধিবাসী—যদিও দামেস্কে তাঁর বিভিন্ন সফর ছিল, তবে তিনি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় মিসরেই অতিবাহিত করেছেন—আর ইবনে ফজলুল্লাহ আল-উমরী তাঁর অধিকাংশ জ্ঞান দামেস্কেই অর্জন করেছেন।
তৃতীয়ত- জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষালাভের সময়কাল ছিল তাঁর জীবদ্দশার সেই সময়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
ابن فضل الله العمريّ في دمشق - وكان محمّد بن الحسن من أبرز علماء دمشق في هذه الفترة - لأنّه وُلد سنة 697هـ أو 700هـ، ومحمّد بن الحسن توفّي سنة 720هـ أو 722هـ؛ وهذه المدّة تتسع لتلقيه العلم من الصّايغ صاحبنا.
وابن فضل الله العمريّ هو1: شهاب الدّين أبو العبّاس أحمد بن يحيى بن فضل الله ابن يحيى القرشيّ العدويّ العمريّ الدّمشقيّ.
وُلد في دمشق في ثالث شوّال سنة 697هـ، وقيل 700هـ؛ وكان إمامًا بارعًا، وكاتبًا فقيهًا، نظم كثيرًا من القصائد، والأراجيز، والمقطّعات، والدّوبيت؛ وأنشأ كثيرًا من التّقاليد والمناشير والتّواقيع.
قرأ العربيّة على كمال الدّين بن قاضي شُهْبة، والفقه على ابن الفركاح، وشهاب الدّين ابن المجد، وقرأ العروض والأدب على الشّيخ شمس الدّين ابن الصّائغ، وعلاء الدّين الوداعيّ، وقرأ جملة من المعاني والبيان على العلاّمة شهاب الدّين محمود، وقرأ عليه جملة من الدّواوين، وكتب الأدب.
ومن مصنّفاته: مسالك الأبصار في ممالك الأمصار، وفواصل السّمر في فضائل آل عمر، وصبابة المشتاق، ودمعة الباكي، وغيرها. توفّي في دمشق يوم السّبت تاسع ذي الحجّة سنة 749هـ.
--------------------------------------------
দামেস্কে ইবনে ফাদলুল্লাহ আল-উমারি—এবং মুহাম্মদ বিন হাসান এই সময়ে দামেস্কের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন—কেননা তিনি ৬৯৭ হিজরি বা ৭০০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং মুহাম্মদ বিন হাসান ৭২০ হিজরি বা ৭২২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন; আর এই সময়কালটি আমাদের পরিচিত ব্যক্তি আস-সায়েগের নিকট থেকে তার জ্ঞান অর্জনের জন্য যথেষ্ট।
আর ইবনে ফাদলুল্লাহ আল-উমারি হলেন১: শিহাব উদ্দিন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন ইয়াহইয়া বিন ফাদলুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া আল-কুরাশি আল-আদাউয়ি আল-উমারি আদ-দামেশকি।
তিনি ৬৯৭ হিজরি সনের ৩রা শাওয়াল দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন, কারো মতে ৭০০ হিজরি; তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞ ইমাম এবং ফকিহ লেখক। তিনি অনেক কাসিদা (কবিতা), আরজিজ (ছন্দোবদ্ধ কবিতা), মুকাত্তা’আত এবং দুবাইতি রচনা করেছেন; এবং তিনি অনেক তাকলিদ (নিয়োগপত্র), মানাশির (রাজকীয় ফরমান) ও তাওয়াকি (প্রশাসনিক আদেশ) রচনা করেছেন।
তিনি কামাল উদ্দিন বিন কাজি শুহবাহর কাছে আরবি ভাষা, ইবনুল ফিরকাহ ও শিহাব উদ্দিন ইবনুল মাজদের কাছে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি শায়খ শামস উদ্দিন ইবনুস সায়েগ ও আলা উদ্দিন আল-ওয়াদায়ির কাছে আরুজ (ছন্দতত্ত্ব) ও আদব (সাহিত্য) পাঠ করেন। এছাড়া তিনি আল্লামা শিহাব উদ্দিন মাহমুদের কাছে ইলমে মাআনি ও বায়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) এবং অনেক দিওয়ান (কাব্যসমগ্র) ও সাহিত্যের কিতাব অধ্যয়ন করেন।
তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: মাসালিকুল আবসার ফি মামালিকিল আমসার, ফাওয়াসিলুস সামার ফি ফাদায়িলি আলি উমার, সাবাবাতুল মুশতাক, দাম’আতুল বাকি ইত্যাদি। তিনি ৭৪৯ হিজরি সনের ৯ই জিলহজ রোজ শনিবার দামেস্কে ইন্তেকাল করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
المبحث الرابع: مصنّفاتهترك الصّايغ مصنّفات كثيرة؛ منها:
1- ديوان شعر. في مجلّدين كبيرين1.
2- شرح قصيدة ابن الحاجب في العروض2.
3- شرح مقصورة ابن دُريد. في مجلّدين كبيرين3.
4- كتاب العراقيّين في الفروع4.
وأغلب الظّنّ أنّه ليس له؛ لأنّ حاجّي خليفة عندما ذكر هذا الكتاب نسبه لمحمّد بن الحسن الصّائغ الحلال الشّافعيّ؛ ولم ينصّ أحدٌ من الّذين ترجموا للصّايغ صاحبنا على هذا اللّقب (الحلال) ؛ والصّايغ من فقهاء الحنفيّة
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলিসায়েগ বহু গ্রন্থ রেখে গেছেন; তন্মধ্যে রয়েছে:
১- কবিতার দিওয়ান। দুই বিশাল খণ্ডে।১
২- ইলমে আরুয (ছন্দপ্রকরণ) বিষয়ে ইবনুল হাজিবের কবিতার ব্যাখ্যাগ্রন্থ।২
৩- ইবনে দুরাইদের ‘মাকসুরা’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। দুই বিশাল খণ্ডে।৩
৪- ফুরূ‘ (ফিকহের শাখা) বিষয়ক গ্রন্থ ‘কিতাবুল ইরাকিয়্যিন’।৪
প্রবল ধারণা হলো যে, এটি তাঁর নয়; কারণ হাজ্জি খলিফা যখন এই গ্রন্থটির উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি এটিকে মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আস-সায়েগ আল-হালাল আশ-শাফেয়ীর নিসবতে উল্লেখ করেছেন। আর আমাদের আলোচ্য সায়েগের জীবনীকারদের কেউ তাঁকে এই ‘আল-হালাল’ উপাধিতে ভূষিত করেননি; তদুপরি সায়েগ ছিলেন হানাফি ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وليس من الشّافعيّة؛ ولذلك ترجم له قطلوبغا في (تاج التّراجم) ، وهوكتاب في طبقات الحنفيّة.
5- القصيدة التّائيّة في نحو ألفي بيت؛ ذكر فيها العلوم والصّنائع1.
6- اللَّمْحَةُ فِي شَرْحِ المُلْحَةِ.
وهو موضوع هذه الدّراسة والتّحقيق.
7- مختصر صحاح الجوهريّ2.
اختصر فيه (الصِّحاح) بتجريده من الشّواهد، والإيجاز في الشّروح.
--------------------------------------------
তিনি শাফিয়ি মাযহাবভুক্ত নন; আর এ কারণেই কুতলুবুগা 'তাজুত তারাজিম' গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন, যা হানাফি মাযহাবের ফকিহদের জীবনী বিষয়ক একটি গ্রন্থ।
৫- আল-কাসিদাতুত তায়িয়্যাহ, যা প্রায় দুই হাজার পঙক্তি বিশিষ্ট; এতে তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞান ও শিল্পকলা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।১
৬- আল-লামহাতু ফি শারহিল মুলহা।
আর এটিই বর্তমান অধ্যয়ন ও তাহকিকের (গবেষণার) বিষয়বস্তু।
৭- মুখতাসারু সিহাহিল জাওহারি।২
এতে তিনি কাব্যিক প্রমাণসমূহ বর্জন এবং ব্যাখ্যায় সংক্ষিপ্ততা অবলম্বনের মাধ্যমে 'আস-সিহাহ' গ্রন্থটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
8- المقامة الشّهابيّة، وشرحها1.
--------------------------------------------
৮- আল-মাকামাতুশ শাহাবিয়্যাহ এবং এর ব্যাখ্যা ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
الفصل الثاني: اللمحة في شرح الملحة
المبحث الأول: توثيق اسم الكتاب، ونسبته إلى مؤلفه…المبحث الأوّل: توثيق اسم الكتاب، ونسبته إلى مؤلّفه
أ- توثيق اسم الكتاب:
في سبيل توثيق اسم الكتاب رجعتُ إلى كتب التّراجم الّتي ترجمت للصّايغ، فوجدتّها تذكُر له شرحًا على (ملحة الإعراب) 1 دون أن تنصّ على اسمٍ له؛ لكنّ كتاب (كشف الظّنون) 2 نصَّ على أنّ من شروح (ملحة الإعراب) شرحًا للصّايغ سمّاه: (اللَّمْحة في شرح الملحة) .
وكذلك نصّ على هذه التّسمية صاحب (إيضاح المكنون) 3، و (هديّة العارفين) 4.
وهذا العنوان هو الموجود على غلاف النّسخة (ب) ولم يكن واضحًا في النّسخة (أ) .
والصّايغ رحمه الله لم يصرّح باسم كتابه هذا؛ لأنّه لم يصدّره بمقدّمة يحتمل أن ينصّ فيها على اسمٍ لشرحه هذا، وكذلك لم يصرّح به في خاتمة الكتاب.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-লামহাহ ফি শারহিল মুলহাহপ্রথম আলোচনা: গ্রন্থের নামের প্রামাণিকতা এবং লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধযুক্তকরণ...প্রথম আলোচনা: গ্রন্থের নামের প্রামাণিকতা এবং লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধযুক্তকরণ
ক- গ্রন্থের নামের প্রামাণিকতা:
গ্রন্থের নাম প্রমাণের উদ্দেশ্যে আমি আস-সায়েগ-এর জীবনী সম্বলিত গ্রন্থসমূহের (তাবাকাত ও তারাজিম) শরণাপন্ন হয়েছি। আমি সেখানে তাঁর রচিত (মুলহাতুল ইরাব)-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের (শারহ) উল্লেখ পেয়েছি, তবে তাতে কোনো নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু (কাশফুয যুনুন) গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, (মুলহাতুল ইরাব)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে আস-সায়েগ রচিত একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যার নাম তিনি রেখেছেন: (আল-লামহাহ ফি শারহিল মুলহাহ)।
অনুরূপভাবে, (ঈযাউল মাকনুন) এবং (হাদিয়্যাতুল আরিফিন)-এর লেখকগণও এই নামকরণের কথা উল্লেখ করেছেন।
আর এই শিরোনামটিই পাণ্ডুলিপি (খ)-এর প্রচ্ছদে বিদ্যমান রয়েছে, তবে পাণ্ডুলিপি (ক)-তে তা স্পষ্ট ছিল না।
আস-সায়েগ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই গ্রন্থের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি; কারণ তিনি গ্রন্থটি এমন কোনো ভূমিকা দিয়ে শুরু করেননি যেখানে সম্ভবত তিনি তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের নাম উল্লেখ করতে পারতেন। অনুরূপভাবে তিনি গ্রন্থের উপসংহারেও তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
ب - توثيق نسبة الكتاب إلى مؤلّفه:
مؤلّف هذا الكتاب هو: محمّد بن الحسن بن سباع الصّايغ، وليس هناك شكٌّ في نسبة هذا الكتاب إليه؛ وذلك للأسباب التّالية:
1- أنّ المؤرّخين الّذين ترجموا للصّايغ ذكروا أنّه شَرَحَ (ملحة الإعراب) 1.
2- أنّ بعض العلماء نقل من هذا الكتاب مع نسبته للصّايغ؛ كـ (ياسين) في حاشيته على (التّصريح) 2.
3- أنّ المؤلّف نفسه صرّح باسمه في افتتاحيّته للكتاب بقوله: "قال العبد الفقير إلى الله تعالى محمّد بن الحسن بن سباع الصّايغ عفا الله عنه".
4- أنّ اسم المؤلِّف ذُكِرَ في خاتمة النّسخة (ب) حيث جاء فيها: "نجز ما ألّفه الشّيخ الإمام شمس الدّين محمّد بن حسن بن سباع الصّايغ رحمه الله تعالى".
5- أنّ اسمه مكتوبٌ على غلاف النّسختين، وإن لم يكن واضحًا في (أ) .
--------------------------------------------
খ - লেখকের প্রতি বইটির সম্বন্ধের প্রামাণ্যতা:
এই বইটির লেখক হলেন: মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন সিবা আল-সায়িগ। বইটির সম্বন্ধ তাঁর প্রতি হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই; আর তা নিম্নোক্ত কারণসমূহের ভিত্তিতে:
১- যে সকল ইতিহাসবিদ আল-সায়িগের জীবনী রচনা করেছেন, তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে তিনি (মুলহাতুল ই'রাব)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন। ১
২- কিছু আলেম আল-সায়িগের প্রতি সম্বন্ধ করেই এই বইটি থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন; যেমন (আত-তাসরিহ)-এর হাশিয়ায় (ইয়াসিন) করেছেন। ২
৩- স্বয়ং লেখক বইটির ভূমিকায় নিজের নাম সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এই বলে: "আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী বান্দা মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন সিবা আল-সায়িগ বলেন—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।"
৪- পাণ্ডুলিপি (খ)-এর সমাপ্তিতে লেখকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে: "শায়খ ইমাম শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন সিবা আল-সায়িগ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) যা রচনা করেছেন তা সমাপ্ত হলো।"
৫- উভয় পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে তাঁর নাম লেখা রয়েছে, যদিও (ক) পাণ্ডুলিপিতে তা স্পষ্ট নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
المبحث الثاني: منهج المؤلّف في الكتابإنّ أيّ مؤلِّفٍ - في الغالب - لا بدّ أنْ يصدِّر مؤلَّفه بمقدّمة يبيّن فيها سمات منهجه الّذي سار عليه في كتابه.
أمّا الصّايغ رحمه الله فلم يفعل شيئًا من ذلك؛ ولذا لا بدّ أن نستقري الكتاب، ومن خلال هذا الاستقراء نستطيع أن نوضّح المنهج العام الّذي اتّبعه في هذا الكتاب.
ويمكننا أن نلخّص منهج الصّايغ في شرحه للملحة في النّقاط التّالية:
1- دأب الشّارح على ذكر اسم الباب، ثمّ يذكر الأبيات المتعلّقة به من (ملحة الإعراب) ، ثمّ يتبعها بالشّرح.
2- اختلفت طريقته في تناوله لأبيات (الملحة) ؛ فيذكُر بيتًا1، أو بيتين2، أو أكثر3، حسب ترابُط تلك الأبيات.
3- يُلحظ عليه عدم العناية بأبيات (ملحة الإعراب) ، ويتجلّى ذلك في إهماله لتفسير معاني الألفاظ الغريبة؛ ومن أمثلة ذلك عدم تفسيره كلمة (راتكه) 4 الواردة في قول الحريريّ في باب الفاعل:
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতিসাধারণত যেকোনো লেখককে অবশ্যই তাঁর রচনার শুরুতে একটি ভূমিকা প্রদান করতে হয়, যেখানে তিনি তাঁর গ্রন্থে অনুসৃত পদ্ধতির বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট করেন।
কিন্তু আস-সায়েগ (রাহিমাহুল্লাহ) এর কোনটিই করেননি; তাই আমাদের অবশ্যই গ্রন্থটি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করতে হবে এবং এই পর্যালোচনার মাধ্যমেই আমরা এই গ্রন্থে তাঁর অনুসৃত সাধারণ পদ্ধতিটি স্পষ্ট করতে সক্ষম হব।
আমরা 'মুলহা'র শারহ বা ব্যাখ্যায় আস-সায়েগের পদ্ধতিকে নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সারসংক্ষেপ করতে পারি:
১- ব্যাখ্যাদাতা সর্বদা অধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেছেন, অতঃপর সেই অধ্যায় সংশ্লিষ্ট 'মুলহাতুল ইরাব' থেকে পঙক্তিমালা উল্লেখ করেছেন এবং এরপর সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
২- 'মুলহা'র পঙক্তিমালা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতিতে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়; পঙক্তিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি কখনো একটি পঙক্তি১, কখনো দুটি পঙক্তি২, আবার কখনো তারও বেশি৩ পঙক্তি উল্লেখ করেছেন।
৩- তাঁর মধ্যে 'মুলহাতুল ইরাব'-এর পঙক্তিগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগের অভাব লক্ষ্য করা যায়। এটি দুর্লভ বা অপরিচিত শব্দাবলির অর্থ ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে তাঁর উদাসীনতার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর একটি উদাহরণ হলো 'ফায়িল' (কর্তৃকারক) অধ্যায়ে হারিরীর উক্তিতে আসা 'রাতিকাহ'৪ শব্দটির ব্যাখ্যা না করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
كَقَوْلِهِمْ: جَاءَتْ سُعَادُ ضَاحِكَهْ
… وَانْطَلَقَتْ نَاقَةُ هِنْدٍ رَاتِكَهْ1
وكذلك عدم تفسيره كلمة (الجبابا) 2 الواردة في قول الحريريّ في باب المفعول معه:
تَقُولُ: جَاءَ الْبَرْدُ وَالْجِبَابَا
… وَاسْتَوَتْ الْمِيَاهُ وَالأَخْشَابَا3
وكذلك عدم تعريفه بالمواضع الواردة في قول الحريريّ في باب ما لا ينصرف4:
مِثْلُ: حُنَيْنٍ ومِنًى وَبَدْرِ
… وَوَاسِطٍ وَدَابِقٍ وَحَجْرِ5
4- يُكثر من التّعليلات النّحويّة؛ كقوله: "والحرف سمّي حرفًا لاستغناء الاسم والفعل عنه في انعقاد الجمل؛ فصار بمنزلة الأخير، وآخر كلّ شيءٍ حرفه"6.
وكقوله: "أصل الاسم الإعراب؛ وذلك لدلالته بصيغة واحدة على معانٍ مختلفة، فاحتيج إلى إعرابه؛ لتبيين تلك المعاني، والبناء فيه فرع.
والفعل أصله البناء؛ لدلالته بالصّيغ المختلفة على المعاني المختلفة،
--------------------------------------------
যেমন তাদের উক্তি: সুয়াদ হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় এল
… আর হিন্দের উটটি দ্রুত পদবিক্ষেপে চলে গেল।১
তদ্রূপ 'মাফউলু মাহু' অধ্যায়ে হারীরীর উক্তিতে বর্ণিত 'আল-জিবাবা' ২ শব্দটির ব্যাখ্যা না করা:
তুমি বলবে: শীত এল জুব্বাসহ
… এবং পানি ও কাঠ সমান স্তরে উঠল।৩
তদ্রূপ 'মা লা ইয়ানসারিফ' অধ্যায়ে হারীরীর উক্তিতে উল্লিখিত স্থানগুলোর পরিচয় প্রদান না করা:৪
যেমন: হুনাইন, মিনা ও বদর
… এবং ওয়াসিত, দাবিক ও হাজর।৫
৪- তিনি প্রচুর পরিমাণে ব্যাকরণিক কারণ দর্শিয়েছেন; যেমন তাঁর উক্তি: "হরফকে (অব্যয়) 'হরফ' নামকরণ করা হয়েছে কারণ বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে ইসম (বিশেষ্য) ও ফেইল (ক্রিয়া) এটি থেকে অমুখাপেক্ষী থাকে; ফলে এটি শেষের স্তরে চলে গেছে, আর প্রতিটি জিনিসের শেষ প্রান্তকেই তার 'হরফ' (প্রান্ত) বলা হয়।"৬
এবং তাঁর উক্তি: "ইসমের মূল হলো ইরাব (বিভক্তি গ্রহণ করা); কারণ তা একটি মাত্র রূপের মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থের ওপর নির্দেশ করে, তাই সেই অর্থগুলোকে স্পষ্ট করার জন্য তার ইরাবের প্রয়োজন পড়ে। আর ইসমের ক্ষেত্রে মাবনী (অপরিবর্তনীয়) হওয়া হলো একটি শাখা বা গৌণ বিষয়।
আর ফেইলের মূল হলো মাবনী হওয়া; কারণ তা বিভিন্ন রূপের মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থের ওপর নির্দেশ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
فأغنى اختلاف صيغه عن إعرابه، والإعراب فيه فرع"1.
وكقوله: "وقيل: اختير للفاعل الرّفع، وللمفعول النّصب، لثقل الضّمّة وخفّة الفتحة"2.
5 - يعرض أقوال النّحاة وخلافاتهم كثيرًا3، ويختار أحد الأقوال أحيانًا4، ويدلّل لبعض الآراء الّتي يختارُها5.
6- قد يشرح بعض الكلمات الغريبة في الشّواهد الشّعريّة؛ كقوله بعدذكره لقول الشّاعر:
وَلَا تَرَى بَعْلاً وَلَا حَلائِلَا
… كَهُ وَلَا كَهُنَّ إِلاّ عَاضِلَا
(أي: غيورًا) 6.
وكذلك قوله بعد ذكره لقول الشّاعر:
لَوَاحِقُ الأقْرَابِ فِيهَا كَالْمَقَقْ
(أي: فيها مقق، وهو: الطّول) 7.
--------------------------------------------
সুতরাং তার রূপের ভিন্নতা তাকে ইরাব (বিভক্তি) থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছে, আর এতে ইরাব হলো একটি গৌণ বিষয় ১।
এবং যেমন তাঁর কথা: "বলা হয়েছে: কর্তার (ফায়েল) জন্য রফ’ (পেশ) এবং কর্মের (মাফউল) জন্য নসব (জবর) নির্বাচন করা হয়েছে, দ্বাম্মাহর ভারী হওয়া এবং ফাতহাহর হালকা হওয়ার কারণে" ২।
৫ - তিনি ব্যাকরণবিদদের মতামত ও তাঁদের মধ্যকার মতভেদগুলো প্রচুর পরিমাণে উপস্থাপন করেন ৩, মাঝে মাঝে কোনো একটি মতকে বেছে নেন ৪ এবং তাঁর মনোনীত কিছু মতের স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করেন ৫।
৬- তিনি কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহের কিছু দুর্লভ শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করেন; যেমন কবির উক্তি উল্লেখ করার পর তাঁর বক্তব্য:
এবং তুমি কোনো স্বামী বা কোনো স্ত্রীদের দেখবে না... তার মতো বা তাদের মতো, সংকীর্ণমনা (হিংসুটে) ছাড়া
…(অর্থাৎ: ঈর্ষাকাতর) ৬।
তদ্রূপ কবির উক্তি উল্লেখ করার পর তাঁর বক্তব্য:
পার্শ্বদেশগুলো লেগে আছে যাতে দীর্ঘতা বিদ্যমান
(অর্থাৎ: এতে মাকাক রয়েছে, আর তা হলো: দীর্ঘতা) ৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-লামহাতু ফী শারহিল মুলহাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
كما يشرح أحيانًا بعض الكلمات الغريبة في الأمثلة الّتي يذكُرها؛ فمن ذلك قولُه: "ولم يصرف أدهم" - للقيد - نظرًا إلى كونه صفةً في الأصل، و (أجدل) للصّقر، و (أخيل) للطّائر ذي خيلان، و (أفعى) لضربٍ من الحيّات) 1.
وكقوله: "والمراد بالوزن الخاصّ بالفعل ما لا يوجد دون ندور في غير فعلٍ، أو علم، أو أعجميّ؛ فالنّادر نحو: (دئل) لدويبة، و (ينجلب) لخرزة، و (تبشّر) لطائر"2.
وكقوله: "يمنع من الصّرف اجتماع التّعريف والعدل، وهذا اسم عدل به عن صيغة (فاعل) إلى (فُعَل) ، نحو: (مضر) المعدول به عن (ماضر) ، وهو مازج اللّبن بالماء، و (جشم) المعدول به عن (جاشم) وهوالّذي يفعل الشّيء علىاستثقال، و (دلف) المعدول به عن (دالف) وهو المتأخّر الخطو، و (زحل) وهو النّجم المعروف بالطّارق، عدل به عن (زاحل) لأنّه أبعد الكواكب السّيّارة"3.
7- يورد الشّاهد الشّعريّ، أو شطره، أو قطعة منه، ويذكر قائله أحيانًا.
8- يعرّف في الغالب بالباب الّذي سيشرحُه تعريفًا لغويًّا
--------------------------------------------
তেমনিভাবে তিনি কখনো কখনো তাঁর দেওয়া উদাহরণগুলোর অপরিচিত শব্দগুলো ব্যাখ্যা করেন; যেমন তাঁর উক্তি: "এবং 'আদহাম' শব্দটিকে রূপান্তরহীন (গাইরে মুনসারিফ) রাখা হয়েছে" - শিকল (ক্বাইদ) অর্থে - শব্দটির মূলে বিশেষণ হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে। আর 'আজদাল' শব্দটি বাজপাখির জন্য, 'আখয়াল' শব্দটি চিত্রল পাখির জন্য এবং 'আফআ' শব্দটি এক প্রকার সাপের জন্য ব্যবহৃত হয়) ১।
এবং যেমন তাঁর উক্তি: "ক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট ওজনের উদ্দেশ্য হলো এমন ওজন যা ক্রিয়া, নামবাচক বিশেষ্য (আলাম) কিংবা অনারব শব্দ (আজামি) ব্যতীত বিরল ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। সেই বিরল উদাহরণগুলো হলো: একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর নাম 'দুয়িল', একটি পুঁতির নাম 'ইয়ানজালিব' এবং একটি পাখির নাম 'তুবাসসির'" ২।
এবং যেমন তাঁর উক্তি: "নির্দিষ্টতা (তারীফ) এবং রূপান্তর (আদল) এর একত্র হওয়া শব্দকে বিভক্তি গ্রহণে (সারফ) বাধা প্রদান করে। এটি এমন এক বিশেষ্য যা 'ফায়িল' ছাঁচ থেকে 'ফুয়াল' ছাঁচে রূপান্তরিত হয়েছে। যেমন: 'মুদার' যা 'মাদির' থেকে রূপান্তরিত, আর সে হলো এমন ব্যক্তি যে দুধের সাথে পানি মিশ্রিত করে। 'জুশাম' যা 'জাশিম' থেকে রূপান্তরিত, আর সে হলো এমন ব্যক্তি যে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোনো কাজ সম্পন্ন করে। 'দুলাফ' যা 'দালিফ' থেকে রূপান্তরিত, আর সে হলো মন্থর গতির পদচারী। এবং 'জুহাল' যা তারিক নামে পরিচিত একটি বিখ্যাত নক্ষত্র; এটি 'যাহিল' থেকে রূপান্তরিত হয়েছে কারণ এটি পরিভ্রমণকারী গ্রহসমূহের মধ্যে সর্বাধিক দূরবর্তী" ৩।
৭- তিনি কাব্যিক উদাহরণ, বা তার অর্ধেক চরণ, অথবা তার একটি অংশ উদ্ধৃত করেন এবং মাঝেমধ্যে এর রচয়িতার নাম উল্লেখ করেন।
৮- তিনি সাধারণত যে অধ্যায়টি ব্যাখ্যা করবেন সেটির শাব্দিক সংজ্ঞা প্রদান করেন।
--------------------------------------------