(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: -)
وسطية أهل السنة بين الفرق   (محمد با كريم محمد با عبد الله)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: وسطية أهل السنة بين الفرق (رسالة دكتوراة)

المؤلف: محمد با كريم محمد با عبد الله

الناشر: دار الراية للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى 1415هـ-1994م

عدد الصفحات: 526

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বিভিন্ন ফিরকার মাঝে আহলে সুন্নাহর মধ্যপন্থা   (মুহাম্মদ বা কারীম মুহাম্মদ বা আব্দুল্লাহ)

বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন


গ্রন্থ: বিভিন্ন ফিরকার মাঝে আহলে সুন্নাহর মধ্যপন্থা (পিএইচডি থিসিস)

লেখক: মুহাম্মদ বা কারীম মুহাম্মদ বা আব্দুল্লাহ

প্রকাশক: দারুর রাইয়াহ প্রকাশনা ও বিতরণ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হিজরী-১৯৯৪ ঈসায়ী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة:

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1.

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} 2.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} 3.

وبعد:

فإن من نعمة الله على هذه الأمة المحمدية، وتشريفه لها، أن جعلها أمة

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران: 102.

2 سورة النساء: 1.

3 سورة الأحزاب: آية 70- 71.
ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} ১।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয়ের থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করে থাকো এবং রক্তসম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} ২।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।} ৩।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই এই মুহাম্মাদী উম্মতের ওপর আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত এবং এর প্রতি তাঁর সম্মান প্রদর্শন হলো এই যে, তিনি একে এমন এক উম্মত করেছেন...

--------------------------------------------

১. সূরা আল-ইমরান: ১০২।

২. সূরা আন-নিসা: ১।

৩. সূরা আল-আহযাব: আয়াত ৭০-৭১।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ৬)
وسطًا خيارًا عدولًا فقال: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} 1، فهي خير الأمم التي أخرجت للناس قاطبة كما وصفها وشهد لها ربها وخالقها بذلك، فقال: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} 2.

اختار لها سبحانه من خيارها وأوسطها نسبًا ومكانة خيرة خلقه وأفضل رسله فبعثه فيها نبيًا رسولًا: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} 3.

وأنزل عليها أشرف كتبه، وجعله مهيمنًا على الكتب قبله شاملًا لخير ما جاءت به. {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ} 4.

بهذا النبي الكريم، وهذا الكتاب العظيم شرفت هذه الأمة وبمتابعتهما، والاهتداء بهديهما، كانت خير الأمم وأوسطها وأعدلها.

ثم كان أسعد هذه الأمة بهذه الخيرية، أسعدها باتباعهما، وأحرصها على هديهما قولًا وعملًا واعتقادًا وهم أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم تابعوهم، ثم التابعون لهم بإحسان من القرون الثلاثة المفضلة، التي شهد لها النبي صلى الله عليه وسلم بالخيرية في قوله: "خير أمتي قرني، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم"5، فهؤلاء هم خيار الأمة.

ثم يلحق بهم كل من كان على مثل ما كانوا عليه من الهدي والتمسك

--------------------------------------------

1 سورة البقرة: 143.

2 سورة آل عمران: 110.

3 سورة التوبة: 128.

4 سورة المائدة: 48.

5 خ كتاب فضائل أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم "7/ 3 ح 3650" "مع الفتح".
মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী, শ্রেষ্ঠ ও ন্যায়পরায়ণ হিসেবে সাব্যস্ত করে তিনি বলেছেন: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি} ১। সুতরাং এটিই হলো সমগ্র মানবজাতির জন্য আবির্ভূত উম্মতসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, যেমনটি তাদের প্রতিপালক ও স্রষ্টা তাদের বর্ণনা করেছেন এবং এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন: {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য যাদেরকে বের করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে বাধা প্রদান করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো} ২।

মহান আল্লাহ এই উম্মতের জন্য তাদের মধ্যকার বংশমর্যাদা ও অবস্থানের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম ব্যক্তিকে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত করেছেন এবং শ্রেষ্ঠ রাসূল হিসেবে তাদের নিকট নবী ও রাসূলরূপে প্রেরণ করেছেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের যে কষ্ট হয় তা তাঁর জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক; তিনি তোমাদের কল্যাণের অতি আকাঙ্ক্ষী, মুমিনদের প্রতি তিনি অতি দয়াবান ও পরম করুণাময়} ৩।

এবং তিনি তাদের ওপর তাঁর কিতাবসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং একে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যতা প্রামাণিক ও সেগুলোর রক্ষক হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। {আর আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী এবং এর ওপর রক্ষকস্বরূপ} ৪।

এই সম্মানিত নবী এবং এই মহান কিতাবের মাধ্যমেই এই উম্মত মর্যাদা লাভ করেছে। এই দুটির অনুসরণ এবং এদের প্রদর্শিত হেদায়েতের মাধ্যমেই তারা হয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ, মধ্যপন্থী এবং অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ উম্মত।

অতঃপর এই উম্মতের মধ্যে এই শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে সর্বাধিক সৌভাগ্যবান তারাই, যারা কথা, কাজ ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এই দুইয়ের অনুসরণে সবচেয়ে বেশি অগ্রগামী এবং এদের হেদায়েতের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন; আর তারা হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ, অতঃপর তাঁদের অনুসারীগণ, অতঃপর তাঁদের অনুসারীগণ—যাঁরা শ্রেষ্ঠ তিন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত। যাদের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণীতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগ, তারপর যারা তাদের পরবর্তী আসবে, তারপর যারা তাদের পরবর্তী আসবে" ৫। সুতরাং এরাই হলো এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ অংশ।

অতঃপর তাদের সাথে তারা যুক্ত হবে যারা হেদায়েত লাভ ও তা আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে তাদের আদর্শের ওপর অবিচল থাকবে।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারাহ: ১৪৩।

২ সূরা আলে ইমরান: ১১০।

৩ সূরা আত-তাওবাহ: ১২৮।

৪ সূরা আল-মায়িদাহ: ৪৮।

৫ সহীহ বুখারী, কিতাব ফাদায়িল আসহাবিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (৭/৩, হাদিস নং ৩৬৫০), ফাতহুল বারীসহ।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ৭)
بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، من أهل السنة والجماعة في كل زمان ومكان، الدين أخبر النبي صلى الله عليه وسلم في حديث الافتراق1 بأنهم الفرقة الناجية، وأنهم الجماعة.

فهؤلاء جميعًا هم خيار هذه الأمة، وأوسطها.

فإنه بعد انتقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى جوار ربه، ومضي عصر الخلافة الراشدة بدأ في آخر عهد أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه، ظهور التفرق والاختلاف، فخرجت الخوراج ببدعها وأطلت الشيعة بغلوها وفتنها، ثم توالى ظهور البدع وتكون الفرق كما سيأتي ذكر ذلك.

وكل من هذه الفرق قد خالف ما كانت عليه الأمة في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم وصدر الخلافة الراشدة، وابتدع في الدين ما لم يأذن به الله، وانحرف عن سواء الصراط؛ إما إلى تفريط، أو إلى إفراط، وشابه الأمم الأخرى في بعض بدعها؛ فانحطت منزلة هذه الفرق، وابتعدت عن الوسطية الثابتة لهذه الأمة على تفاوت بينها في قدر ذلك ومبلغه.

وأصبح أهل السنة في هذه الأمة بالنسبة لسائر الأمم، فهم وسط بين فرقها كما أنها وسط بين الأمم.

يدرك هذا المعنى كل دارس متفحص لأقوال أهل السنة وأقوال الفرق الأخرى في كثير من مسائل العقيدة وأبواب الدين.

إذ يجد أمر هذه الفرق يدور بين الغلو والإفراط، وبين التقصير والتفريط، وأهل السنة بين إفراط أولئك وتفريط هؤلاء على هدي قاصد وصراط مستقيم.

ولما كانت الحاجة تمس لتقرير وسطية أهل السنة والجماعة، وبيان اعتدالهم في أقوالهم واعتقادهم وسائر أمورهم، ولا سيما في هذا الوقت الذي

--------------------------------------------

1 سيأتي نصه وتخريجه ص 48.
আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসারী, সকল যুগের ও সকল স্থানের আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত—যাদের সম্পর্কে নবী (সা.) ‘বিভক্তি সংক্রান্ত হাদিসে’১ সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা হলো ‘পরিত্রাণপ্রাপ্ত দল’ এবং তারাই হলো মূল ‘জামাআত’।

এরা সকলেই এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ এবং ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যপন্থী অংশ।

নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাত এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগের অবসানের পর আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর খেলাফতের শেষ সময়ে অনৈক্য ও মতভেদ প্রকাশ পেতে শুরু করে। ফলে খারিজিরা তাদের নব উদ্ভাবিত পথ (বিদআত) নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে এবং শিয়ারা তাদের অতিরঞ্জন ও ফিতনা নিয়ে আবির্ভূত হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিদআতের উদ্ভব ও বিভিন্ন দলের সৃষ্টি হতে থাকে, যা সামনে বর্ণিত হবে।

এই দলগুলোর প্রত্যেকেই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের প্রারম্ভিক সময়ে উম্মাহ যে আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, তার বিরোধিতা করেছে। তারা দ্বীনের মধ্যে এমন বিষয়ের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ প্রদান করেননি এবং তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে—হয় শিথিলতার (তাফরীত) দিকে, নয়তো অতিরঞ্জনের (ইফরাত) দিকে। তারা তাদের কিছু বিদআতের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিজাতীয়দের সাদৃশ্য অবলম্বন করেছে; ফলে এই দলগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং তারা এই উম্মতের জন্য নির্ধারিত শাশ্বত মধ্যপন্থা থেকে দূরে সরে গেছে, যদিও তাদের বিচ্যুতির পরিমাণ ও মাত্রায় ভিন্নতা রয়েছে।

আর এই উম্মতের মধ্যে আহলুস সুন্নাহর অবস্থান অন্যান্য দলগুলোর মাঝে ঠিক সেরকমই মধ্যবর্তী যেমনটি অন্যান্য জাতিসমূহের মাঝে এই উম্মতের অবস্থান।

আকীদার অনেক মাসআলা এবং দ্বীনের বিভিন্ন অধ্যায়ে আহলুস সুন্নাহ ও অন্যান্য দলগুলোর বক্তব্য গভীরভাবে পর্যালোচনাকারী প্রত্যেক গবেষকই এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেন।

কারণ তিনি দেখতে পাবেন যে, এই দলগুলোর অবস্থা অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি এবং অবহেলা ও শিথিলতার মাঝে আবর্তিত। পক্ষান্তরে আহলুস সুন্নাহ তাদের অতিরঞ্জন ও শিথিলতার মাঝে এক সুষম হেদায়েত ও সরল পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

যেহেতু আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মধ্যপন্থা এবং তাদের কথা, বিশ্বাস ও অন্যান্য সকল বিষয়ে তাদের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের স্বরূপ উন্মোচন ও তা সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন...

--------------------------------------------

১ এর মূল পাঠ এবং এর সূত্রের উৎস (তাখরিজ) সামনে ৪৮ পৃষ্ঠায় আসবে।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ৮)
تحتاج فيه هذه الأمة إلى بيان الوسطية والاعتدال والتزامها، لما نراه من تعدد السبل واختلافها، وتشعب الطرق، والمناهج، وادعاء أصحابها والداعين إليها أنهم على الحق والسنة دون غيرهم.

لذلك كله كانت هذه الدراسة المقارنة التي أرجو أن تكون لبنة في بناء دراسات تالية تسلط الأضواء على الوسطية والتوازن والاعتدال التي هي سمة هذه الأمة بعامة، وأهل السنة على وجه الخصوص، وتناول جوانب أخرى لم تطرق في بحثنا هذا، تستكمل فيها جوانب ومظاهر وسطية أهل السنة وعدالتهم واعتدالهم1.

خطبة البحث:

جعلت العمل في هذا البحث في: تمهيد، وبابين، وخاتمة.

أما التمهيد فجعلته في أربعة مباحث:

المبحث الأول: في معنى الوسطية في اللغة ولسان الشارع.

المبحث الثاني: في معنى السنة في اللغة والاصطلاح.

والمبحث الثالث: بينت فيه المراد بأهل السنة؟

والمبحث الرابع: في أسماء أهل السنة وألقابهم عندهم، وعند خصومهم من أهل البدع.

والباب الأول: في وسطية هذه الأمة

--------------------------------------------

1 عند إعداد هذا البحث للنشر اطلعت على دراسات هذه حول الوسطية أبرزت جوانب أخرى مهمة من جوانب الوسطية، أولاها بعنوان: "الوسطية في الإسلام تعريف وتطبيق"، للدكتور زيد بن عبد الكريم الزيد، نشر: دار العاصمة في الرياض عام 1412 هـ، والأخرى بعنوان: "الوسطية في ضواء القرآن" الكريم للدكتور ناصر سليمان العمر، نشر: دار الوطن عام 1413 هـ، نفع الله بها.
বর্তমান যুগে এই উম্মাহর জন্য মধ্যপন্থা ও ভারসাম্যের স্বরূপ ব্যাখ্যা করা এবং তা আঁকড়ে ধরা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। কারণ আমরা নানাবিধ মতাদর্শের আধিক্য, মতভেদ এবং বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা ও চিন্তাধারার বিচ্যুতি প্রত্যক্ষ করছি। তদুপরি, এসব পথের অনুসারী ও প্রচারকরা দাবি করে যে, তারাই কেবল সত্য ও সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত, অন্যরা নয়।

এসব কারণেই এই তুলনামূলক গবেষণাটি প্রস্তুত করা হয়েছে, যা আমি আশা করি পরবর্তী গবেষণাসমূহের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করবে। সেই সব গবেষণা মধ্যপন্থা, ভারসাম্য ও পরিমিতিবোধের ওপর আলোকপাত করবে যা সাধারণভাবে এই উম্মাহর এবং বিশেষভাবে আহলুস সুন্নাহর বৈশিষ্ট্য। এছাড়া এটি এমন কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করবে যা বর্তমান গবেষণায় স্থান পায়নি, যাতে আহলুস সুন্নাহর মধ্যপন্থা, ন্যায়পরায়ণতা ও ভারসাম্যের বিভিন্ন দিক ও বৈশিষ্ট্যসমূহ পূর্ণতা পায়।১

গবেষণার রূপরেখা:

আমি এই গবেষণার কাজকে একটি প্রস্তাবনা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি।

প্রস্তাবনাটিকে আমি চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:

প্রথম পরিচ্ছেদ: অভিধানে এবং শরয়ি পরিভাষায় মধ্যপন্থার অর্থ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সুন্নাহর সংজ্ঞা প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি ‘আহলুস সুন্নাহ’ বলতে কী বোঝায়, তা স্পষ্ট করেছি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহর নিকট তাদের নিজস্ব নাম ও উপাধি এবং বিদআতি প্রতিপক্ষদের নিকট তাদের নাম ও উপাধি প্রসঙ্গে।

প্রথম অধ্যায়: এই উম্মাহর মধ্যপন্থা প্রসঙ্গে

--------------------------------------------

১. এই গবেষণাটি প্রকাশের প্রস্তুতিকালে আমি মধ্যপন্থা বিষয়ক আরও কিছু গবেষণাপত্র দেখার সুযোগ পেয়েছি, যা মধ্যপন্থার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো ফুটিয়ে তুলেছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো ড. যায়েদ বিন আব্দুল কারিম আল-যায়েদ রচিত ‘ইসলামে মধ্যপন্থা: সংজ্ঞা ও প্রয়োগ’, যা ১৪১২ হিজরিতে রিয়াদের দারুল আসিমা থেকে প্রকাশিত। দ্বিতীয়টি হলো ড. নাসের সুলাইমান আল-উমর রচিত ‘পবিত্র কুরআনের আলোকে মধ্যপন্থা’, যা ১৪১৩ হিজরিতে দারুল ওয়াতান থেকে প্রকাশিত। আল্লাহ এগুলোর মাধ্যমে উম্মাহর কল্যাণ সাধন করুন।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ৯)
بينت فيها وسطيتها من عدة أوجه في تمهيد وثلاثة فصول:

التمهيد: بينت فيها معنى الأمة، والوسطية المثبتة لها والمناسبة بين وسطية هذه الأمة ووسطية أهل السنة.

والفصل الأول: في عدالة هذه الأمة -وفيه أربعة مباحث:

الأول: في وجوب العدل على هذه الأمة وصور من قيامها به.

الثاني: في وصف الله هذه الأمة بالعدالة وشهادته لهابها.

الثالث: في اعتراف أعداء هذه الأمة بعدالتها وشهادتهم لها بذلك.

الرابع: العدل عند أهل الكتاب.

الفصل الثاني: في خيرية هذه الأمة -وفيه مبحثان:

الأول: في إثبات خيريتها.

والثاني: في أوجه خيريتها.

الفصل الثالث: في اعتدال هذه الأمة وتوسطها بين طرفي الإفراط والتفريط، وفيه مبحثان:

الأول: في وسطيتها واعتدالها في باب توحيد الله وأسمائه وصفاته.

والثاني: وسطيتها في باب أنبياء الله ورسله عليهم الصلاة والسلام.

الباب الثاني: في بيان وسطية أهل السنة بين الفرق.

بينت فيه وسطية أهل السنة واعتدالهم، وسلامة أقوالهم واعتقادهم من الإفراط والتفريط، وجعلته في: تمهيد، وخمسة فصول:

التمهيد: بينت فيه نبذة عن ظهور الفرق في هذه الأمة وأسباب ذلك.

والفصل الأول: في بيان وسطية أهل السنة في باب أسماء الله وصفاته
এতে আমি একটি ভূমিকা ও তিনটি পরিচ্ছেদের মাধ্যমে বিভিন্ন দিক থেকে এর মধ্যপন্থা বর্ণনা করেছি:

ভূমিকা: এতে আমি উম্মাহর অর্থ, এর জন্য প্রমাণিত মধ্যপন্থা এবং এই উম্মাহর মধ্যপন্থা ও আহলুস সুন্নাহর মধ্যপন্থার মধ্যকার যোগসূত্র বর্ণনা করেছি।

প্রথম পরিচ্ছেদ: এই উম্মাহর ন্যায়পরায়ণতা প্রসঙ্গে - এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: এই উম্মাহর ওপর ন্যায়বিচারের আবশ্যকতা এবং তা প্রতিষ্ঠার বাস্তব চিত্র প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এই উম্মাহকে ন্যায়পরায়ণ হিসেবে অভিহিত করা এবং এর সপক্ষে তাঁর সাক্ষ্য প্রদান প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এই উম্মাহর শত্রুদের পক্ষ থেকে এর ন্যায়পরায়ণতার স্বীকৃতি এবং এ বিষয়ে তাদের সাক্ষ্য প্রদান প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: আহলে কিতাবদের কাছে ন্যায়বিচার।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই উম্মাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে - এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: উম্মাহর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: উম্মাহর শ্রেষ্ঠত্বের বিভিন্ন দিক প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অতিরঞ্জন ও শিথিলতার মাঝামাঝি এই উম্মাহর ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা প্রসঙ্গে, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: আল্লাহর তাওহিদ এবং তাঁর নাম ও গুণাবলি অধ্যায়ে এই উম্মাহর মধ্যপন্থা ও ভারসাম্য প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহর নবী ও রাসুলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) ক্ষেত্রে এই উম্মাহর মধ্যপন্থা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: বিভিন্ন দল-উপদলের মাঝে আহলুস সুন্নাহর মধ্যপন্থার বর্ণনা প্রসঙ্গে।

এতে আমি আহলুস সুন্নাহর মধ্যপন্থা ও ভারসাম্য এবং অতিরঞ্জন ও শিথিলতা থেকে তাদের বক্তব্য ও আকিদাহর বিশুদ্ধতা বর্ণনা করেছি; আর একে আমি একটি ভূমিকা ও পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি:

ভূমিকা: এতে আমি এই উম্মাহর মধ্যে বিভিন্ন দল-উপদলের উদ্ভব এবং এর কারণসমূহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছি।

প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি অধ্যায়ে আহলুস সুন্নাহর মধ্যপন্থার বর্ণনা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ১০)
وفيه أربعة مباحث:

الأول: في بيان قول أهل التعطيل.

الثاني: في بيان قول أهل التشبيه والتمثيل.

والثالث: في بيان قول أهل سواء السبيل.

والرابع: في بيان وسطية قول أهل السنة في هذا الباب.

والفصل الثاني: في بيان وسطية أهل السنة في باب الأسماء والأحكام والوعد والوعيد، وفيه مبثحان:

الأول: وسطيتهم في الأسماء والأحكام.

والثاني: في وسطيتهم في الوعد والوعيد.

الفصل الثالث: في وسطية أهل السنة في باب القدر، وفيه ثلاثة مباحث:

الأول: في معنى القدر.

الثاني: في نشأة الكلام في القدر ونزاع الناس فيه.

الثالث: في بيان وسطية أهل السنة فيه.

الفصل الرابع: في وسطيتهم في باب الصحابة رضوان الله عليهم، وفيه: تمهيد: بينت فيه معنى الصحابي، ومنزلة الصحابة ومكانتهم في الكتاب والسنة وجعلت المبحث:

الأول: في بيان قول الخوارج والمعتزلة.

والثاني: في ذكر قول من جمع بين الغلو والجفاء.

والثالث: في ذكر قول أهل السنة والجماعة.

الفصل الخامس: في بيان وسطية أهل السنة في باب تعظيم الرسول صلى الله عليه وسلم
এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম: গুণ-অস্বীকারকারীদের মতবাদ বর্ণনায়।

দ্বিতীয়: সাদৃশ্য ও উপমাদানকারীদের মতবাদ বর্ণনায়।

তৃতীয়: সরল পথের অনুসারীদের মতবাদ বর্ণনায়।

চতুর্থ: এই অধ্যায়ে আহলুস সুন্নাহর মধ্যপন্থা বর্ণনায়।

দ্বিতীয় অধ্যায়: নাম, বিধান, প্রতিশ্রুতি ও হুঁশিয়ারি সংক্রান্ত বিষয়ে আহলুস সুন্নাহর মধ্যপন্থা বর্ণনায়; এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম: নাম ও বিধানের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যপন্থা।

দ্বিতীয়: প্রতিশ্রুতি ও হুঁশিয়ারি সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের মধ্যপন্থা।

তৃতীয় অধ্যায়: তাকদিরের বিষয়ে আহলুস সুন্নাহর মধ্যপন্থা বর্ণনায়; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম: তাকদিরের অর্থ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয়: তাকদির সংক্রান্ত আলোচনার উদ্ভব এবং এ নিয়ে মানুষের মতবিরোধ প্রসঙ্গে।

তৃতীয়: এ বিষয়ে আহলুস সুন্নাহর মধ্যপন্থা বর্ণনায়।

চতুর্থ অধ্যায়: সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের বিষয়ে তাদের মধ্যপন্থা বর্ণনায়; এতে রয়েছে: একটি প্রারম্ভিক আলোচনা, যেখানে আমি সাহাবীর সংজ্ঞা এবং কুরআন ও সুন্নাহতে সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা ও অবস্থান স্পষ্ট করেছি। অতঃপর আমি পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছি এভাবে:

প্রথম: খারেজী ও মুতাজিলাদের মতবাদ বর্ণনায়।

দ্বিতীয়: যারা চরমপন্থা ও শিথিলতার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে তাদের মতবাদ বর্ণনায়।

তৃতীয়: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মতবাদ বর্ণনায়।

পঞ্চম অধ্যায়: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহর মধ্যপন্থা বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ১১)
والصالحين من أمته، وفيه تمهيد، ومبحثان:

المبحث الأول: في وسطيتهم في باب تعظيم النبي صلى الله عليه وسلم.

المبحث الثاني: في بيان وسطيتهم في باب تعظيم الصالحين من أمته.

ثم ذيلت البحث بخاتمة بينت فيها خلاصة ما عالجه من المسائل، وما توصلت إليه فيها من نتائج.

وصنعت بعض الفهارس التي تعين القارئ الكريم على إدراك بغيته، والوقوف على مطلبه في يسر وسهولة، فجعلت:

فهرسًا: للآيات القرآنية الكريمة.

وفهرسًا: للأحاديث الشريفة والآثار.

وفهرسًا: للفرق والطوائف والجماعات.

وفهرسًا: للمصادر والمراجع المستخدمة في البحث.

وفهرسًا: للموضوعات.

الرموز المستعملة في البحث:

استعملت بعض الرموز لبعض المصادر الحديثية، وذلك على النحو التالي:

خ: صحيح البخاري "مع فتح الباري".

م: صحيح مسلم.

ت: جامع الترمذي.

د: سنن أبي داود.

جه: سنن ابن ماجه.
এবং তাঁর উম্মতের পুণ্যবান ব্যক্তিগণ। এতে একটি ভূমিকা এবং দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যপন্থা সম্পর্কে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর উম্মতের পুণ্যবান ব্যক্তিদের সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যপন্থার বর্ণনায়।

অতঃপর আমি এই গবেষণার শেষে একটি উপসংহার যুক্ত করেছি, যাতে আলোচিত বিষয়াবলির সারসংক্ষেপ এবং গবেষণার মাধ্যমে লব্ধ ফলাফলগুলো বর্ণনা করেছি।

এবং আমি কিছু নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছি যা সম্মানিত পাঠককে তাঁর কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি সহজে ও সাবলীলভাবে খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। আমি বিন্যস্ত করেছি:

একটি নির্ঘণ্ট: পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের জন্য।

একটি নির্ঘণ্ট: হাদিসে রাসুল ও আসার (সাহাবা-তাবেয়ীদের বাণী)-এর জন্য।

একটি নির্ঘণ্ট: বিভিন্ন ফিরকা, দল ও গোষ্ঠীর জন্য।

একটি নির্ঘণ্ট: গবেষণায় ব্যবহৃত উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের জন্য।

একটি নির্ঘণ্ট: বিষয়সূচির জন্য।

গবেষণায় ব্যবহৃত সংকেতসমূহ:

হাদিসের কতিপয় উৎসের জন্য আমি কিছু সংকেত ব্যবহার করেছি, যা নিম্নরূপ:

খ: সহিহ বুখারি (ফাতহুল বারী-সহ)।

ম: সহিহ মুসলিম।

ত: জামে তিরমিজি।

দ: সুনানে আবু দাউদ।

জ: সুনানে ইবনে মাজাহ।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ১২)
حم: مسند الإمام أحمد.

وسائر المراجع والمصادر الأخرى أذكرها بأسمائها كاملة:

وختامًا، أحمد الله عز وجل وأشكره على ما من به من الإعانة على إتمام هذا البحث وأخراجه، ثم أشكر كل من كان عونًا على ذلك، وفي مقدمتهم فضيلة شيخي وأستاذي الكريم الأستاذ الدكتور علي بن محمد بن ناصر فقيهي، الذي تولى الإشراف على إعداد هذا البحث، وكان لتوجيهاته وإرشاداته القيمة الأثر الكبير في الوصول به إلى ما هو عليه فجزى الله الجميع خير الجزاء.

وبعد أخي القارئ الكريم هذا جهد المقل، أضعه بين يديك، وقد بذلته فيه جهدي، واستفرغت طاقتي ووسعي، فما كان فيه من صواب وحتى فبتوفيق الله وحده وله المنة والفضل، وما كان فيه من خطأ، أو زلل وخلل فمني ومن الشيطان، لك غنمه وعلي غرمه، على أني أطمع إذا أطلعت على زلة أو هنة أن توقفني على ذلك، مشكورًا مأجورًا إن شاء الله، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلي آله وصحبه أجمعين.

المؤلف

المدينة النبوية

18/ 4/ 1414 هـ
হাম: মুসনাদে ইমাম আহমাদ।

এবং অন্যান্য সকল তথ্যসূত্র ও মূল উৎস আমি তাদের পূর্ণ নামসহ উল্লেখ করছি:

পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি যে তিনি এই গবেষণাটি সম্পন্ন ও প্রকাশের জন্য সাহায্য করেছেন। এরপর আমি সেই সকল ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানাই যারা এতে সহায়ক ছিলেন, যাদের অগ্রভাগে রয়েছেন আমার সম্মানিত শাইখ ও শিক্ষক প্রফেসর ডক্টর আলী বিন মুহাম্মাদ বিন নাসির ফাকীহী। তিনি এই গবেষণাকর্মের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাঁর মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ এই কাজটিকে বর্তমান রূপদানে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। আল্লাহ তাআলা সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

অতঃপর আমার সম্মানিত পাঠক ভাই, এটি এক নগণ্য প্রচেষ্টা যা আমি আপনার সামনে পেশ করছি। আমি এতে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সাধ্য ব্যয় করেছি। এতে যা কিছু সঠিক তা কেবল মহান আল্লাহর তাওফীক এবং এটি তাঁরই অনুগ্রহ ও করুণা। আর এতে যা কিছু ভুল, বিচ্যুতি বা ত্রুটি রয়েছে তা আমার এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। এর সুফল আপনার জন্য এবং এর দায়ভার আমার ওপর। তবে আমি আশা রাখি, যদি আপনি কোনো স্খলন বা ত্রুটি প্রত্যক্ষ করেন, তবে আমাকে তা অবহিত করবেন; এজন্য আপনি ইনশাআল্লাহ কৃতজ্ঞতা ও সওয়াবের অধিকারী হবেন। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন।

লেখক

মদীনা নববী

১৮/ ৪/ ১৪১৪ হিজরী
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌تمهيد:

‌‌المبحث الأول: معنى الوسطية في اللغة وفي استعمال الشارع

‌‌أولًا: الوسطية في اللغة

مادة "وسط" تدل على معان متقاربة، يقول ابن فارس: الواو والسين والطاء بناء صحيح يدل على: العدل، والنصف، وأعدل الشيء أوسطه ووسطه1.

فـ "كلمة "وسط" تضبط على وجهين:

الأول: "وسط"؛ بسكون السين.

فتكون ظرفًا بمعنى "بين".

قال في "لسان العرب": وأما الوسط بسكون السين فهو ظرف لا اسم، جاء على وزان نظيره في المعنى وهو "بين"، تقول: جلست وسط القوم، أي بينهم.

ومنه قول سوار بن المضرب:

--------------------------------------------

1 أبو الحسين أحمد بن فارس، معجم مقاييس اللغة، "بتحقيق عبد السلام محمد هارون، نشر: دار الكتب العلمية - إيران"، 6/ 108.
উপক্রমণিকা:

প্রথম পরিচ্ছেদ: অভিধান ও শরয়ি ব্যবহারে ‘ওয়াসাতিয়্যাহ’ (মধ্যপন্থা)-এর অর্থ

প্রথমত: আভিধানিক অর্থে ‘ওয়াসাতিয়্যাহ’

‘ওয়াও-সীন-তা’ মূলধাতুটি পরস্পর নিকটবর্তী কিছু অর্থের প্রতি নির্দেশ করে। ইবনে ফারিস বলেন: ওয়াও, সীন এবং তা—এটি একটি সহিহ বা বিশুদ্ধ শব্দকাঠামো যা ন্যায়পরায়ণতা এবং মধ্যভাগকে নির্দেশ করে; আর কোনো বিষয়ের সবচেয়ে ন্যায়নিষ্ঠ অংশ হলো তার মধ্যবর্তী বা কেন্দ্রভাগ।১

‘ওয়াসাত’ শব্দটি দুইভাবে ব্যবহৃত হয়:

প্রথমত: ‘ওয়াসত’ (সীন বর্ণে সুকুন বা হসন্ত যোগে)।

তখন এটি ‘মধ্যে’ বা ‘মাঝখানে’ অর্থে ক্রিয়া-বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

‘লিসানুল আরব’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: সীন বর্ণের সুকুনসহ ‘ওয়াসত’ শব্দটি একটি জরফ বা ক্রিয়া-বিশেষণ, এটি ইসম বা বিশেষ্য নয়। এটি অর্থের দিক থেকে তার সমার্থক শব্দ ‘বাইন’ (মধ্যে)-এর ওজনে এসেছে। যেমন আপনি বলেন: ‘আমি লোকজনের মাঝে বসলাম’, অর্থাৎ তাদের মধ্যখানে।

সাওয়ার ইবনুল মুদাররিব-এর কবিতা এর অন্তর্ভুক্ত:

--------------------------------------------

১ আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবনে ফারিস, মু'জাম মাকায়িস আল-লুগাহ, "আবদুস সালাম মুহাম্মদ হারুন কর্তৃক সম্পাদিত, প্রকাশনী: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - ইরান", ৬/ ১০৮।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ১৬)
إني كأني أرى من لا حياء له … ولا أمانة وسط الناس عريانًا1

الثاني: "وسط"؛ بفتح السين:

وتأتي: لمعان متعددة متقاربة، فتكون:

1- " اسمًا: لما بين طرفي الشيء وهو منه. فتقول: قبضت وسط الحبل، وكسرت وسط القوس، وجلست وسط الدار. وهذا حقيقة معناه2.

2- تأتي صفة بمعنى "خيار، وأفضل، وأجود"، فأوسط الشيء "أفضله، وخياره" كوسط المرعى خير من طرفيه، ومرعى وسط؛ أي: خيار ومنه:

إن لها فوارسًا وفرطًا … ونفرة الحي ومرعى وسطًا3

وواسطة القلادة: الجوهر الذي وسطها وهو أجودها4.

ورجل وسط ووسيط: حسن5.

3- وتأتي "وسط" بمعنى: "عدل" كما تقدم قول ابن فارس أنه يدل على العدل. وأن أعدل الشيء أوسطه.

وفي "لسان العرب": "ووسط الشيء وأوسطه أعدله"6.

--------------------------------------------

1 أبو الفضل جمال الدين محمد بن مكرم بن منظور، لسان العرب، "نشر: دار صادر - بيروت"، 7/ 428.

2 ابن منظور، لسان العرب، 7/ 427- 428.

3 نفس المصدر 7/ 427، 430.

4 إسماعيل بن حماد الجوهري، الصحاح، "تحقيق أحمد بن عبد الغفور عطار، ط. الثالثة، 1402 هـ"، 3/ 1167.

5 ابن منظور، لسان العرب 7/ 430.

6 7/ 430.
আমি যেন দেখতে পাচ্ছি যার মাঝে লজ্জাবোধ নেই … আর মানুষের মাঝে যার আমানতদারি বা বিশ্বস্ততা নেই, সে আসলে নগ্ন।১

দ্বিতীয়ত: ‘ওয়াসাত’ (وسط); ‘সিন’ বর্ণে ফাতহা (যবর) যোগে:

এটি একাধিক কাছাকাছি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যথা:

১- বিশেষ্য হিসেবে: কোনো বস্তুর দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী অংশ যা সেই বস্তুরই অন্তর্ভুক্ত। যেমন আপনি বলবেন: আমি দড়ির মধ্যভাগ ধরলাম, আমি ধনুকের মধ্যভাগ ভাঙলাম এবং আমি বাড়ির মাঝখানে বসলাম। এটিই এর প্রকৃত অর্থ।২

২- এটি বিশেষণ হিসেবে ‘উৎকৃষ্ট’, ‘শ্রেষ্ঠ’ এবং ‘উত্তম’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং কোনো জিনিসের মধ্যভাগ হলো তার ‘শ্রেষ্ঠ ও পছন্দসই’ অংশ; যেমন চারণভূমির মধ্যভাগ তার দুই প্রান্তের চেয়ে উত্তম। ‘মারআউন ওয়াসাত’ অর্থ উৎকৃষ্ট চারণভূমি; আর এ থেকেই এসেছে:

নিশ্চয়ই তার রয়েছে বীর অশ্বারোহী ও অগ্রগামী দল … এবং গোত্রের প্রতিরক্ষা ও এক উৎকৃষ্ট চারণভূমি।৩

হারের মধ্যমণি: যে রত্নটি হারের মাঝখানে থাকে এবং সেটিই তার মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট বা মূল্যবান।৪

‘রাজুলুন ওয়াসাত’ এবং ‘ওয়াসিত’ অর্থ: সচ্চরিত্র বা সুদর্শন ব্যক্তি।৫

৩- ‘ওয়াসাত’ শব্দটি ‘ন্যায়পরায়ণতা’ (আদল) অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেমন ইবনে ফারিস পূর্বে উল্লেখ করেছেন যে, এটি ন্যায়পরায়ণতার ওপর প্রমাণ বহন করে। আর কোনো বিষয়ের সবচেয়ে সুষম বা ন্যায়নিষ্ঠ অংশ হলো তার মধ্যভাগ।

‘লিসান আল-আরব’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: “কোনো জিনিসের ‘ওয়াসাত’ ও ‘আওসাত’ হলো তার সবচেয়ে ন্যায়নিষ্ঠ বা সুষম অংশ।”৬

--------------------------------------------

১ আবু আল-ফজল জামালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন মাকরাম বিন মানজুর, লিসান আল-আরব, "প্রকাশনী: দারু সাদির - বৈরুত", ৭/ ৪২৮।

২ ইবনে মানজুর, লিসান আল-আরব, ৭/ ৪২৭- ৪২৮।

৩ একই উৎস ৭/ ৪২৭, ৪৩০।

৪ ইসমাইল বিন হাম্মাদ আল-জাওহারি, আস-সিহাহ, "তাহকিক: আহমদ বিন আব্দুল গাফুর আত্তার, ৩য় সংস্করণ, ১৪০২ হিজরি", ৩/ ১১৬৭।

৫ ইবনে মানজুর, লিসান আল-আরব ৭/ ৪৩০।

৬ ৭/ ৪৩০।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ১৭)
وفي "القاموس": "الوسط: محركة. من كل شيء أعدله"1.

وكذا قال الجوهري في "الصحاح"2.

4 وتأتي "وسط" بمعنى الشيء بين الجيد والردئ.

قال الجوهري: ويقال أيضًا: شيء وسط: أي بين الجيد والردئ3.

وقال صاحب "المصباح المنير": الوسط بالتحريك المعتدل، يقال: شيء وسط: أي بين الجيد والرديء4.

وكيفما تصرفت هذه اللفظة، نجدها لا تخرج في معناها عن معاني العدل والفضل والخيرية والنصف والبينية والتوسط بين الطرفين. فتقول:

"وسوطًا" بمعنى: المتوسط المعتدل، ومنه قول الأعرابي: "علمني دينًا وسوطًا لا ذاهبًا فروطًا ولا ساقطًا سقوطًا. فإن الوسوط ها هنا المتوسط بين الغالي والتالي"5.

و"وسيطًا": أي حسيبًا شريفًا.

قال الجوهري: وفلان وسيط في قومه إذا كان أوسطهم نسبًا وأرفعهم محلًا، قال العرجي:

--------------------------------------------

1 مجد الدين محمد بن يعقوب الفيروزآبادي، القاموس المحيط، "نشر: دار الجيل- بيروت"، 2/ 405.

2 3/ 1167.

3 الصحاح 3/ 1167، وانظر أيضًا: القاموس 2/ 406، واللسان 7/ 430.

4 أحمد بن محمد بن علي الفيومي، المصباح المنير، "نشر: مكتبة لبنان -بيروت"، ص 252.

5 ابن منظور، اللسان 7/ 429.
এবং "আল-কামুস"-এ বর্ণিত হয়েছে: "আল-ওয়াসাত: স্বরচিহ্নযুক্ত (যবরসহ)। এর অর্থ প্রতিটি জিনিসের সবচেয়ে ন্যায়নিষ্ঠ বা পরিমিত অংশ।"১।

অনুরূপ কথা আল-জাওহারি "আস-সিহাহ" গ্রন্থেও বলেছেন২।

৪ এবং "ওয়াসাত" শব্দটি ভালো ও মন্দের মাঝামাঝি কোনো জিনিসের অর্থেও ব্যবহৃত হয়।

আল-জাওহারি বলেন: আরও বলা হয়: 'শাইউন ওয়াসাতুন' অর্থাৎ ভালো ও মন্দের মধ্যবর্তী কোনো বস্তু৩।

"আল-মিসবাহুল মুনির" গ্রন্থের লেখক বলেছেন: যবরসহ 'আল-ওয়াসাত' অর্থ হলো পরিমিত বা মধ্যম। বলা হয়: 'শাইউন ওয়াসাতুন' অর্থাৎ ভালো ও মন্দের মধ্যবর্তী কিছু৪।

এই শব্দটি যেভাবেই ব্যবহৃত হোক না কেন, আমরা দেখতে পাই যে এর অর্থ ন্যায়পরায়ণতা, শ্রেষ্ঠত্ব, কল্যাণময়তা, অর্ধাংশ, মধ্যবর্তী অবস্থা এবং দুই প্রান্তের মাঝখানে অবস্থানের অর্থের বাইরে যায় না। তাই বলা হয়:

"ওয়াসুতান" অর্থ: মধ্যম ও পরিমিত। এখান থেকেই জনৈক মরুবাসীর উক্তি: "আমাকে এমন এক মধ্যম (ওয়াসুত) দ্বীন শিক্ষা দিন যা অতিরঞ্জনকারী নয় এবং অবহেলাকারীও নয়। কেননা এখানে 'ওয়াসুত' বলতে চরমপন্থী এবং শৈথিল্য প্রদর্শনকারীর মধ্যবর্তী অবস্থানকে বোঝানো হয়েছে"৫।

এবং "ওয়াসিতান" অর্থ: সম্মানিত ও অভিজাত ব্যক্তি।

আল-জাওহারি বলেন: অমুক ব্যক্তি তার সম্প্রদায়ের মধ্যে 'ওয়াসিত' (মধ্যম), যখন সে বংশমর্যাদায় তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং উচ্চ পদের অধিকারী হয়। আল-আরজি বলেছেন:

--------------------------------------------

১ মাজদুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদি, আল-কামুস আল-মুহিত, "প্রকাশনা: দারুল জিল- বৈরুত", ২/৪০৫।

২ ৩/১১৬৭।

৩ আস-সিহাহ ৩/১১৬৭, আরও দেখুন: আল-কামুস ২/৪০৬, এবং আল-লিসান ৭/৪৩০।

৪ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-ফাইয়ুমি, আল-মিসবাহুল মুনির, "প্রকাশনা: মাকতাবাতু লুবনান - বৈরুত", পৃষ্ঠা ২৫২।

৫ ইবনে মানজুর, আল-লিসান ৭/৪২৯।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ১৮)
كأني لم أكن فيهم وسيطًا … ولم تك نسبتي في آل عمرو1

و"الوسط"؛ أي: المتوسط بين المتخاصمين2.

و"التوسط": بين الناس من الوساطة3.

و"التوسيط"؛ أي: تجعل الشيء في الوسط4.

و"التوسيط": قطع الشيء نصفين5.

و"وسوط الشمس": توسطها السماء6.

و"واسطة القلادة": الجوهر الذي هو في وسطها، وهو أجودها7.

--------------------------------------------

1 الصحاح 3/ 1167.

2 الفيروزآبادي، القاموس 2/ 406.

3 الجوهري، الصحاح 3/ 1167.

4 نفس المصدر 3/ 1167.

5 نفس المصدر 3/ 1167.

6 ابن منظور، لسان العرب 7/ 429.

7 الجوهري، الصحاح 3/ 1167.
যেন আমি তাদের মাঝে কোনো মধ্যস্থতাকারী ছিলাম না … এবং আমরের বংশে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না১

এবং "আল-ওয়াসাত"; অর্থাৎ: বিবাদমান পক্ষদ্বয়ের মধ্যস্থতাকারী২।

এবং "আত-তাওয়াসসুত": মানুষের মাঝে মধ্যস্থতা করা থেকে৩।

এবং "আত-তাওসিত"; অর্থাৎ: কোনো বস্তুকে মাঝখানে রাখা৪।

এবং "আত-তাওসিত": কোনো বস্তুকে দ্বিখণ্ডিত করা৫।

এবং "উসুতুশ শামস": সূর্যের আকাশের মাঝখানে পৌঁছানো৬।

এবং "ওয়াসিতাতুল কিলাদাহ": হারের সেই মধ্যমণি যা তার মাঝখানে থাকে এবং যা তার শ্রেষ্ঠ অংশ৭।

--------------------------------------------

১ আস-সিহাহ ৩/ ১১৬৭।

২ আল-ফিরোজাবাদি, আল-قاموس ২/ ৪০৬।

৩ আল-জাওহারি, আস-সিহাহ ৩/ ১১৬৭।

৪ একই উৎস ৩/ ১১৬৭।

৫ একই উৎস ৩/ ১১৬৭।

৬ ইবনে মানজুর, লিসানুল আরব ৭/ ৪২৯।

৭ আল-জাওহারি, আস-সিহাহ ৩/ ১১৬৭।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌ثانيا: الوسطية في استعمال الشارع

‌‌مدخل

…

ثانيًا: الوسطية في استعمال الشارع

وردت مادة وسط في القرآن الكريم والسنة المطهرة في أكثر من آية وحديث، تذور معانيها حول المعاني اللغوية لهذه المادة.

فاستعملها الشارع بمعنى:

1" العدالة والخيرية والتوسط بين الإفراط والتفريط.

ومن ذلك: قوله عز وجل: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} 1: أي عدلًا.

--------------------------------------------

1 سورة البقرة آية 143.
দ্বিতীয়ত: শরিয়ত প্রণেতার পরিভাষায় মধ্যপন্থা (ওয়াসাতিয়্যাহ)

প্রবেশিকা

…

দ্বিতীয়ত: শরিয়ত প্রণেতার পরিভাষায় মধ্যপন্থা

পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর একাধিক আয়াত ও হাদিসে 'ওয়াসাত' (মধ্য) মূলধাতুটি এসেছে, যার অর্থসমূহ এই শব্দটির ভাষাগত অর্থের চারপাশেই আবর্তিত হয়।

শরিয়ত প্রণেতা এটি নিম্নোক্ত অর্থে ব্যবহার করেছেন:

১. ন্যায়পরায়ণতা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির মধ্যবর্তী অবস্থান।

এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছি} ১: অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণ জাতি।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১৪৩।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ১৯)
كما فسرها النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: "والوسط: العدل"1.

وفسرها بعض أهل العلم بـ "الخيار والأجود"2.

وقال الزجاج: "وفي {أُمَّةً وَسَطًا} قولان:

قال بعضهم: {وَسَطًا} : عدلًا، وقال بعضهم: أخيارًا، واللفظان مختلفان والمعنى واحد، لأن العدل خير، والخير عدل"3.

وفسرها ابن جرير بمعنى التوسط بين الإفراط والتفريط4.

ومن ذلك قوله تعالى: {قَالَ أَوْسَطُهُمْ أَلَمْ أَقُلْ لَكُمْ لَوْلا تُسَبِّحُونَ} 5.

قال ابن عباس وغيره: أي: أعدلهم وخيرهم6.

ومن ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: "إن في الجنة مائة درجة أعدها الله للمجاهدين في سبيل الله، ما بين الدرجتين كما بين السماء والأرض، فإذا سألتم الله فاسألوه الفردوس، فإنه أوسط الجنة أو أعلى الجنة" 7.

قال الحافظ ابن حجر: قوله: أوسط الجنة أو أعلى الجنة. المراد

--------------------------------------------

1 خ: كتاب التفسير، باب {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} ، 8/ 172، ح 4487، من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه.

2 منهم الإمام أبو الفداء إسماعيل بن كثير، تفسير القرآن العظيم، "بتحقيق عبد العزيز غنيم ومحمد أحمد عاشور ومحمد إبراهيم البنا، ط. الشعب - القاهرة"، 1/ 275.

3 أبو إسحاق إبراهيم بن السري الزجاج، معاني القرآن وإعرابه، "شرح وتحقيق د. عبد الجليل عبده شلبي، ط. الأولى 1408 هـ نشر: عالم الكتب - بيروت"، 2/ 219.

4 جامع البيان عن تأويل آي القرآن، "تحقيق وتعليق محمد محمود شاكر، دار المعارف بمصر"، 3/ 142.

5 سورة القلم آية 28.

6 ابن كثير، تفسير القرآن العظيم 8/ 223.

7 خ: كتاب الجهاد، باب درجات المجاهدين في سبيل الله، 6/ 11، ح 2790.
যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি ব্যাখ্যা করেছেন এবং বলেছেন: "আর ওয়াসাত (মধ্যপন্থা) হলো ন্যায়বিচার বা ইনসাফ"১।

কতিপয় আলিম একে "উৎকৃষ্ট ও শ্রেষ্ঠ" হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন২।

আয-যাজ্জাজ বলেন: "{উম্মাতান ওয়াসাতান} বা 'মধ্যপন্থী জাতি' সম্পর্কে দুটি মত রয়েছে:

কেউ কেউ বলেছেন: {ওয়াসাতান} অর্থ ন্যায়পরায়ণ; আবার কেউ কেউ বলেছেন: অর্থ শ্রেষ্ঠ। শব্দ দুটি ভিন্ন হলেও অর্থ একই, কারণ ন্যায়পরায়ণতা হলো কল্যাণ এবং কল্যাণই হলো ন্যায়পরায়ণতা"৩।

ইবনে জারীর একে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির মধ্যবর্তী পর্যায় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন৪।

এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের মধ্যে যিনি শ্রেষ্ঠ (বা ন্যায়পরায়ণ) তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের বলিনি যে, কেন তোমরা তাসবিহ পাঠ করছ না?} ৫।

ইবনে আব্বাস ও অন্যান্যরা বলেন: অর্থাৎ, তাদের মধ্যে অধিক ন্যায়পরায়ণ ও উত্তম ব্যক্তি৬।

এর অন্য একটি উদাহরণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে যা আল্লাহ আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের জন্য প্রস্তুত করেছেন। দুটি স্তরের মাঝখানের দূরত্ব আসমান ও জমিনের দূরত্বের সমান। সুতরাং যখন তোমরা আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন ফেরদাউস চাইবে। কেননা তা হলো জান্নাতের মধ্যস্থল ও জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান" ৭।

হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: তাঁর কথা: "জান্নাতের মধ্যস্থল বা জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান"। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো

--------------------------------------------

১ বুখারি: কিতাবুত তাফসির, অধ্যায়: {তদ্রূপ আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে গঠন করেছি}, ৮/ ১৭২, হাদিস নং ৪৪৮৭, আবু সাঈদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত।

২ তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম আবুল ফিদা ইসমাইল বিন কাসীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, "আব্দুল আজীজ গুনাইম, মুহাম্মাদ আহমাদ আশুর এবং মুহাম্মাদ ইব্রাহিম আল-বান্না কর্তৃক সম্পাদিত, আশ-শা'ব প্রকাশনী - কায়রো", ১/ ২৭৫।

৩ আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আস-সারী আয-যাজ্জাজ, মাআনিল কুরআন ওয়া ই'রাবিহি, "ব্যাখ্যা ও সম্পাদনা: ড. আব্দুল জলীল আবদুহু শালবী, ১ম সংস্করণ ১৪০৮ হিজরি, প্রকাশনায়: আলিমুল কুতুব - বৈরুত", ২/ ২১৯।

৪ জামিউল বায়ান আন তাবীলি আয়িল কুরআন, "সম্পাদনা ও টীকা: মুহাম্মাদ মাহমুদ শাকির, দারুল মাআরিফ মিশর", ৩/ ১৪২।

৫ সূরা আল-কালাম, আয়াত ২৮।

৬ ইবনে কাসীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৮/ ২২৩।

৭ বুখারি: কিতাবুল জিহাদ, অধ্যায়: আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের স্তরসমূহ, ৬/ ১১, হাদিস নং ২৭৯০।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ২০)
بالأوسط هنا الأعدل والأفضل، كقوله تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} 1.

ومن ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: "الوالد أوسط أبواب الجنة" 2، وفي رواية: "الوالدة"؛ أي: خيرها3.

ومن ذلك قول أبي بكر رضي الله عنه في حديث السقيفة4: ولن يعرف هذا الأمر إلا لهذا الحي من قريش، هم أوسط العرب نسبًا ودارًا5.

ومن ذلك ما جاء في خبر رقيقة بنت أبي صيفي بن هاشم6: ألا فانظروا رجلًا وسيطًا عظامًا جسامًأ أبيض بضًا7.

قال ابن الأثير: أي: حسيبًا في قومه8.

وقال الزمخشري: الوسيط: أفضل القوم من الوسط9.

--------------------------------------------

1 فتح الباري 6/ 13.

2 الحاكم، المستدرك 4/ 152.

3 مجد الدين أبو السعادات ابن الأثير، النهاية في غريب الحديث والأثر، "بتحقيق طاهر أحمد الزاوي وحمود محمد الطناحي، نشر: المكتبة العلمية - بيروت"، 5 / 184.

4 سقيفة بني ساعدة: هي ظلة بالمدينة كانوا يجلسون تحتها، فيها بويع أبو بكر الصديق رضي الله عنه، وبنو ساعدة الذين أضيفت إليهم السقيفة، هم حي من الأنصار منهم سعد بن عبادة، انظر: ياقوت الحموي معجم البلدان، ط. 1404، "نشر: دار صادر- بيروت"، 3/ 228- 229.

5 خ: كتاب الحدود، باب رجم الحبلى، 12/ 145، ح 6830.

6 وهي رقيقة بنت أبي صيفي بن هاشم بن عبد مناف بن قصي، كانت عند نوفل بن أهيب بن عبد مناف بن قصي بن سعد، الطبقات الكبرى، "نشر: دار صادر"، 8/ 222.

7 البيهقي: أبو بكر أحمد بن الحسين، دلائل النبوة "بتخريج وتعليق د. عبد المعطي قلعجي، نشر: دار الكتاب العلمية، بيورت- لبنان"، 2/ 18.

8 النهاية في غريب الحديث، 5/ 184.

9 جار الله محمود بن عمر الزمخشري، الفائق في غريب الحديث، "ط. الثالثة 1399، نشر: دار الفكر، بتحقيق علي محمد البجاوي، محمد أبو الفضل إبراهيم"، 3/ 160.
এখানে 'আওসাত' (অধিক মধ্যবর্তী) বলতে অধিক ন্যায়পরায়ণ ও সর্বোত্তম উদ্দেশ্য, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী (শ্রেষ্ঠ) জাতি হিসেবে গঠন করেছি} ১।

অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "পিতা জান্নাতের মধ্যবর্তী (সর্বোত্তম) দরজা" ২, এবং অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "মাতা"; অর্থাৎ: জান্নাতের সর্বোত্তম অংশ ৩।

এর মধ্যে সাকীফাহর হাদীসে ৪ আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তিটিও শামিল: "এই খিলাফতের বিষয়টি কেবল কুরাইশদের এই গোত্রের জন্যই স্বীকৃত হবে, কারণ তারা বংশমর্যাদা ও বাসস্থানের দিক থেকে আরবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ৫।"

এর মধ্যে রুকাইকাহ বিনতে আবি সাইফি বিন হাশেম ৬ এর বর্ণিত সংবাদেও এসেছে: "সাবধান! তোমরা এমন একজন ব্যক্তির সন্ধান করো যিনি মধ্যমপন্থী (মর্যাদাবান), সুঠাম ও দীর্ঘদেহী এবং উজ্জ্বল গৌরবর্ণের ৭।"

ইবনুল আসীর বলেন: অর্থাৎ: স্বীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে অত্যন্ত মর্যাদাবান ৮।

যামাখশারী বলেন: 'ওয়াসীত' হলো মধ্যম পর্যায়ভুক্ত লোকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ৯।

--------------------------------------------

১ ফাতহুল বারী ৬/১৩।

২ আল-হাকিম, আল-মুস্তাদরাক ৪/১৫২।

৩ মাজদুদ্দীন আবুস সাআদাত ইবনুল আসীর, আন-নিহায়াহ ফি গারীবিল হাদীস ওয়াল আসার, "তাহকীক: তাহের আহমদ আয-যাবী এবং মাহমুদ মুহাম্মদ আত-তানাহি, প্রকাশনী: আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত", ৫/১৮৪।

৪ সাকীফাহ বনী সাঈদা: এটি মদীনার একটি ছাউনি যার নিচে তারা বসতেন, সেখানেই আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে বাইআত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর বনী সাঈদা—যাদের নামে সাকীফাহর নামকরণ করা হয়েছে—তারা আনসারদের একটি গোত্র, যাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন সা’দ ইবনে উবাদাহ। দেখুন: ইয়াকুত আল-হামাবী, মু’জামুল বুলদান, সংস্করণ ১৪০৪, "প্রকাশনী: দারু সাদির - বৈরুত", ৩/২২৮-২২৯।

৫ বুখারী: কিতাবুল হুদুদ, গর্ভবতী নারীর রজম অনুচ্ছেদ, ১২/১৪৫, হা. ৬৮৩০।

৬ তিনি হলেন রুকাইকাহ বিনতে আবি সাইফি বিন হাশেম বিন আবদে মানাফ বিন কুসাই, তিনি নাওফাল ইবনে উহাইব বিন আবদে মানাফ বিন কুসাই বিন সা’দের স্ত্রী ছিলেন, আত-তাবাকাতুল কুবরা, "প্রকাশনী: দারু সাদির", ৮/২২২।

৭ আল-বাইহাকী: আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন, দালায়েলুন নুবুওয়াহ "তাহরীজ ও টীকা: ড. আব্দুল মুতী কালা’জী, প্রকাশনী: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত-লেবানন", ২/১৮।

৮ আন-নিহায়াহ ফি গারীবিল হাদীস, ৫/১৮৪।

৯ জারুল্লাহ মাহমুদ ইবনে উমর আল-যামাখশারী, আল-ফাইক ফি গারীবিল হাদীস, "তৃতীয় সংস্করণ ১৩৯৯, প্রকাশনী: দারুল ফিকর, তাহকীক: আলী মুহাম্মদ আল-বেজাওয়ী ও মুহাম্মদ আবুল ফজল ইব্রাহীম", ৩/১৬০।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ২১)
2- الشيء بين الجيد والرديء، أو الأرفع والأدنى.

ومن ذلك قوله تعالى: {فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ} 1، على تفسير من قال: إن المراد بالأوسط هنا: الشيء بين الجيد والرديء، كما قال ابن عباس في رواية عنه: كان الرجل يقوت أهله قوتًا دونًا، وبعضهم قوتًا فيه سعة، فقال الله: {مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ} الخبز والزيت2.

وفسر بعضهم: "أوسط" في الآية بأنه: الأعدل والأمثل، فتكون الآية على هذا التفسير مندرجة تحت المعنى الأول الذي هو "العدالة والخيار والأجود".

3- الوسطية الحسية، وهي: ما بين الطرفين وما بين طرفي الشيء وحافتيه.

ومن ذلك قوله تعالى: {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاةِ الْوُسْطَى} 3، وسميت الوسطى؛ لأن قبلها صلاتين وبعدها صلاتين، على اختلاف في تحديد اي الصلوات هي4.

ومن ذلك قوله تعالى: {فَوَسَطْنَ بِهِ جَمْعًا} 5؛ أي: دخلن به وسط العدو6.

--------------------------------------------

1 سورة المائدة آية 89.

2 ابن جرير، جامع البيان، 10/ 543.

3 سورة البقرة آية 238.

4 انظر: ابن كثير، تفسير القرآن العظيم، 1/ 291- 295، والسيوطي، الدر المنثور، 1/ 720- 729.

5 سورة العاديات آية 5.

6 انظر: "البغوي" أبو محمد الحسين بن مسعود الفراء، معالم التنزيل، "تحقيق خالد عبد الرحمن العك ومروان سوار، ط. دار المعرفة- بيروت"، 4/ 518.
২- উত্তম ও নিম্নমানের মধ্যবর্তী, অথবা উচ্চতর ও নিম্নতর বিষয়ের মাঝামাঝি কোনো বস্তু।

এর উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {এর কাফফারা হলো দশজন অভাবগ্রস্তকে খাবার দান করা, তোমাদের পরিবারকে তোমরা যে মধ্যম মানের খাবার খাইয়ে থাকো তা থেকে} ১, ঐ সকল মুফাসসিরদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী যারা বলেছেন: এখানে 'মধ্যম' (আওসাত) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উত্তম ও নিম্নমানের মধ্যবর্তী বস্তু। যেমন ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েতে তিনি বলেছেন: "কোনো ব্যক্তি তার পরিবারকে অতি সামান্য খাবার দিত, আবার কেউ সচ্ছলভাবে খাওয়াতো; তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: {তোমরা তোমাদের পরিবারকে যা খাওয়াও তার মধ্যম মানের খাবার} অর্থাৎ রুটি ও তেল" ২।

আবার কেউ কেউ এই আয়াতের 'আওসাত' শব্দের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, এর অর্থ হলো: অধিকতর ন্যায়নিষ্ঠ ও শ্রেষ্ঠ। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী আয়াতটি প্রথম অর্থের (ন্যায়পরায়ণতা, শ্রেষ্ঠত্ব ও সর্বোত্তম হওয়া) অন্তর্ভুক্ত হবে।

৩- ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বা বস্তুগত মধ্যবর্তিতা; আর তা হলো: কোনো জিনিসের দুই প্রান্ত বা দুই সীমানার মধ্যবর্তী স্থান।

এর উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা সালাতসমূহের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের প্রতি} ৩। একে 'মধ্যবর্তী' (উসতা) বলা হয়েছে কারণ এর পূর্বে দুটি সালাত এবং পরে দুটি সালাত রয়েছে; যদিও এই সালাতটি নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে ৪।

এর আরেকটি উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর তারা এর মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরে (মাঝখানে) প্রবেশ করে} ৫; অর্থাৎ তারা এর মাধ্যমে শত্রুদলের মাঝখানে ঢুকে পড়ে ৬।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৮৯।

২ ইবনে জারির, জামিউল বায়ান, ১০/ ৫৪৩।

৩ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৩৮।

৪ দ্রষ্টব্য: ইবনে কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, ১/ ২৯১-২৯৫; এবং সুয়ূতী, আদ-দুররুল মানসুর, ১/ ৭২০-৭২৯।

৫ সূরা আল-আদিয়াত, আয়াত ৫।

৬ দ্রষ্টব্য: 'আল-বাগাউয়ী' আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ আল-ফাররা, মাআলিমুত তানজিল, (তাহকিক: খালিদ আবদুর রহমান আল-আক্ক ও মারওয়ান সাওয়ার, দারুল মা'রিফাহ- বৈরুত সংস্করণ), ৪/ ৫১৮।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ২২)
قال الرازي: "صرن بعدوهن وسط جمع العدو"1.

وقال الشوكاني: {فَوَسَطْنَ بِهِ جَمْعًا} ؛ أي: توسطن بذلك الوقت، وتوسطن متلبسات بالنفع جمعًا من جموع الأعداء، أو صرن بعدوهن وسط جمع الأعداء. يقال: وسطت المكان؛ أي: صرت في وسطه2.

ومن ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: "البركة تنزل وسط الطعام؛ فكلوا من حافتيه ولا تأكلوا من وسطه" 3، فأراد بالوسط ما بين الحافتين والطرفين.

ومن ذلك ما جاء في حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه النبي صلى الله عليه وسلم خط خطًا مربعًا، وخطًا وسط الخط المربع وخطوطًا إلى جانب الخط الذي وسط الخط المربع، وخطًا خارجًا من الخط المربع، فقال: "أتدرون ما هذا؟ " قالوا: الله ورسوله أعلم. قال: "هذا الإنسان الخط الوسط، وهذه الخطوط إلى جانبه الأعراض تنهشه" 4.

ومن ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: "وسطوا الإمام وسدوا الخلل" 5.

4- بمعنى "بين" ظرفًا.

من ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: "لعن الله من جلس وسط الحلقة" 6.

ومن خلال هذه الأمثلة لورود "الوسطية" في استعمال الشرع نرى أنه لم يخرج بها عن أحد المعاني اللغوية التي دلت عليها مادة "وسط".

--------------------------------------------

1 الرازي، التفسير الكبير، "ط. الثالثة، نشر: دار إحاء التراث العربي- بيروت"، 32/ 66.

2 محمد بن علي الشوكاني، فتح القدير، "ط. الثانية 1383، الحلبي"، 5 / 483.

3 ت: كتاب الأطعمة، باب ما جاء في كراهية الأكل من وسط الطعام، 4/ 260، ح 1805.

4 جه: كتاب الزهد، باب الأمل والأجل، 2/ 1414، ح 4231.

5 د: كتاب الصلاة، باب مقام الإمام من الصف، 1/ 439، ح 681.

6 د: كتاب الأدب، باب في الجلوس وسط الحلقة، 5/ 164، ح 4826 واللفظ له.

ت: كتاب الأدب، باب في كراهية الجلوس وسط الحلقة، 5/ 90، ح 2753، وقال أبو =
ইমাম রাযী বলেন: "তারা তাদের দৌড়ের মাধ্যমে শত্রুবাহিনীর সমাবেশের মাঝখানে পৌঁছে গিয়েছিল"১।

শাওকানী বলেন: {অতঃপর তারা এর মাধ্যমে (শত্রু) দলের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে}; অর্থাৎ: তারা সেই সময়ে মাঝখানে প্রবেশ করেছিল, এবং ধূলিধূসরিত অবস্থায় শত্রুবাহিনীর কোনো একটি দলের মাঝখানে ঢুকে পড়েছিল, অথবা তাদের দৌড়ের মাধ্যমে শত্রুবাহিনীর সমাবেশের মধ্যস্থলে পৌঁছে গিয়েছিল। বলা হয়: 'আমি স্থানটির মাঝখানে অবস্থান করলাম'; অর্থাৎ: আমি এর মধ্যস্থলে উপস্থিত হলাম২।

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "খাবারের মাঝখানে বরকত নাযিল হয়; সুতরাং তোমরা এর চারপাশ থেকে খাও এবং এর মাঝখান থেকে খেয়ো না" ৩। এখানে 'মাঝখান' বা 'মধ্যভাগ' বলতে দুই প্রান্ত ও দুই পার্শ্বের মধ্যবর্তী স্থানকে বোঝানো হয়েছে।

এরই উদাহরণ হলো আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বর্গাকার রেখা টানলেন, এবং সেই বর্গাকার রেখার মাঝখানে একটি রেখা টানলেন, আর বর্গক্ষেত্রের মাঝখানের রেখাটির পাশে আরও কিছু রেখা টানলেন, এবং বর্গক্ষেত্রের বাইরে একটি রেখা টানলেন। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমরা কি জানো এটা কী?" তারা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: "এই মাঝখানের রেখাটি হলো মানুষ, আর এর পার্শ্ববর্তী এই রেখাগুলো হলো নানা বিপদ-আপদ যা তাকে দংশন করে" ৪।

এরই উদাহরণ হলো তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা ইমামকে মাঝখানে রাখো এবং (কাতারের) ফাঁকা জায়গা পূরণ করো" ৫।

৪- স্থানবাচক অব্যয় হিসেবে "মাঝখানে" বা "মধ্যে" অর্থে।

এর উদাহরণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি মজলিসের বৃত্তের মাঝখানে বসে, আল্লাহ তাকে লানত করেছেন" ৬।

শরীয়তের পরিভাষায় "ওয়াসাতিয়্যাহ" (মধ্যপন্থা) ব্যবহারের এই উদাহরণগুলোর মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, এটি 'ওয়া-সা-তা' (وسط) মূলধাতু থেকে উৎসারিত শাব্দিক অর্থগুলোর কোনোটি থেকেই বিচ্যুত হয়নি।

--------------------------------------------

১ রাযী, আত-তাফসীর আল-কাবীর, "৩য় সংস্করণ, প্রকাশনা: দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবী- বৈরুত", ৩২/ ৬৬।

২ মুহাম্মাদ ইবনে আলী আশ-শাওকানী, ফাতহুল কাদীর, "২য় সংস্করণ ১৩৮৩, আল-হালাবী", ৫/ ৪৮৩।

৩ তিরমিযী: কিতাবুল আত'ইমাহ (খাদ্যদ্রব্য অধ্যায়), খাবারের মাঝখান থেকে খাওয়া অপছন্দনীয় হওয়া সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ৪/ ২৬০, হা: ১৮০৫।

৪ ইবনে মাজাহ: কিতাবুর যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা অধ্যায়), আশা ও আয়ু সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ২/ ১৪১৪, হা: ৪২৩১।

৫ আবু দাউদ: কিতাবুস সালাত (নামাজ অধ্যায়), কাতারে ইমামের দাঁড়ানোর স্থান সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১/ ৪৩৯, হা: ৬৮১।

৬ আবু দাউদ: কিতাবুল আদাব (শিষ্টাচার অধ্যায়), মজলিসের বৃত্তের মাঝখানে বসা সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ৫/ ১৬৪, হা: ৪৮২৬ এবং শব্দসমূহ তাঁরই।

তিরমিযী: কিতাবুল আদাব (শিষ্টাচার অধ্যায়), মজলিসের বৃত্তের মাঝখানে বসা অপছন্দনীয় হওয়া সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ৫/ ৯০, হা: ২৭৫৩, এবং আবু...
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌شرح بعض الألفاظ المقابلة للوسط:

يعبر عن المعاني المضادرة للوسط بعدة ألفاظ يحسن أن نقف على معانيها لتعلقها بالوسطية، وهي مما سيتكرر ذكره كثيرًا أثناء الرسالة؛ فمنها:

1- الغلو: وهو في اللغة: مجاوزة الحد.

قال ابن فارس: "الغين واللام والحرف المعتل "غلو" أصل صحيح.

يدل على ارتفاع ومجاوزة قدر. يقال: غلا السعر يغلو غلاء؛ وذلك ارتفاعه وغلا الرجل في الأمر غلوًا، إذ جاوز حده، وغلا بسهمه غلوًا، إذا رمى به سهمًا أقصى غايته1.

وقال الجوهري: وغلا في الأمر يغلو غلوًا، أي: جاوز فيه الحد2.

وقال ابن منظور: وغلا في الدين والأمر يغلو غلوًا، جاوز حده، وفي التنزيل {لا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ} 3.

--------------------------------------------

= عيسى: هذا حديث صحيح.

الحاكم: المستدرك، "4/ 281"، وقال: هذا حديث صيحح على شرط الشيخين ولم يخرجاه، ووافقه الذهبي.

قال الخطابي في بيان علة اللعن في الحديث: هذا يتأول فمن يأتي حلقة قوم، فيتخطى رقابهم، ويقعد وسطها ولا يقعد حيث انتهى به المجلس فلعن للأذى.

وقد يكون في ذلك: أنه إذا قعد وسط الحلقة حال بين الوجوه وحجب بعضهم عن بعض، فيتضررون بمكانة وبمقعهده هناك. اهـ، معالم السنن، 7/ 183.

1 معجم مقاييس اللغة، 4/ 387- 388.

2 الصحاح، "6/ 2448".

3 لسان العرب، "15/ 132".
‌‘ওয়াসাত’ (মধ্যপন্থা)-এর বিপরীতার্থক কিছু শব্দের ব্যাখ্যা:

মধ্যপন্থার বিপরীত অর্থগুলোকে এমন কিছু শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, যেগুলোর অর্থ জেনে নেওয়া সমীচীন; কারণ মধ্যপন্থার সাথে এগুলোর গভীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং এই গবেষণাপত্রে তা বারবার উল্লিখিত হবে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:

১- গুলু (অতিরঞ্জন): আভিধানিক অর্থে এর অর্থ হলো—সীমা লঙ্ঘন করা।

ইবন ফারিস বলেন: “গাইন, লাম এবং দুর্বল বর্ণ (ওয়াও) দ্বারা গঠিত ‘গুলু’ শব্দটি একটি সহীহ মূল। এটি উচ্চতা এবং মাত্রা অতিক্রম করার অর্থ প্রদান করে। যেমন বলা হয়: দ্রবমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে (গালাস সি’রু), যার অর্থ হলো এর দাম বেড়ে যাওয়া। কোনো ব্যক্তি কোনো বিষয়ে বাড়াবাড়ি করেছে (গালা), অর্থাৎ সে তার সীমা অতিক্রম করেছে। তদ্রূপ সে তার তীর দিয়ে ‘গুলু’ করেছে, যখন সে তার তীরের শেষ সীমা পর্যন্ত সেটি নিক্ষেপ করেছে।”১

আল-জাওহারী বলেন: কোনো বিষয়ে ‘গুলু’ করার অর্থ হলো তাতে সীমা অতিক্রম করা।২

ইবন মানযূর বলেন: দ্বীন বা কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে ‘গুলু’ করার অর্থ হলো তার সীমা লঙ্ঘন করা। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে এসেছে— {তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করো না} ৩।

--------------------------------------------

= ঈসা: এটি একটি সহীহ হাদীস।

আল-হাকিম: আল-মুস্তাদরাক, "৪/ ২৮১", তিনি বলেন: এই হাদীসটি শাইখাইনের (বুখারী ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহীহ, তবে তাঁরা এটি সংকলন করেননি; ইমাম আয-যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

আল-খাত্তাবী হাদীসে বর্ণিত অভিশাপের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: এর ব্যাখ্যা হলো—যে ব্যক্তি কোনো মজলিসে এসে মানুষের ঘাড় টপকে সামনে যায় এবং মজলিসের যেখানে শেষ হয়েছে সেখানে না বসে মাঝখানে গিয়ে বসে পড়ে, তাকে অন্যকে কষ্ট দেওয়ার কারণে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে।

এর কারণ এমনও হতে পারে যে: যখন সে মজলিসের মাঝখানে বসে, তখন সে অন্যদের চেহারার মাঝে আড়াল হয়ে দাঁড়ায় এবং একে অপরকে দেখতে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে তার অবস্থানের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। (মাআলিমুস সুনান, ৭/ ১৮৩)।

১. মু’জামু মাকায়িসিল লুগাহ, ৪/ ৩৮৭- ৩৮৮।

২. আস-সিহাহ, "৬/ ২৪৪৮"।

৩. লিসানুল আরব, "১৫/ ১৩২"।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ২৪)
الغلو في استعمال الشرع:

ورد لفظ الغلو في موضعين من القرآن الكريم، وكلاهما بمعنى: مجاوزة الحد، وهو المعنى اللغوي للكلمة.

فالأول في سورة النساء في قوله عز وجل: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ} 1.

والثاني في سورة المائدة في قوله تبارك وتعالى: {قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ} 2.

أي: لا تجاوزوا الحد في إتباع الحق ولا تطروا من أمرتم بتعظيمه فتبالغوا فيه حتى تخرجوه عن حيز النبوة إلى مقام الألوهية، كما صنعتم في المسيح وهو نبي من الأنبياء فجعلتموه إلهًا من دون الله3.

وفي السنة: ورد لفظ "الغلو" فيعدد من الأحاديث:

منها: حديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم غداة الغقبة وهو على ناقته "القط لي حصى"، فلقطت له سبع حصيات هن حصى الحذف فجعل ينفضهن في كفه ويقول: "أمثال هؤلاء فارموا"، ثم قال: "يا أيها الناس إياكم والغلو في الدين فإنه أهلك من كان قبلكم الغلو في الدين" 4.

ومنها قوله صلى الله عليه وسلم: "اقرءوا القرآن ولا تأكلوا به ولا تستكثروا به، ولا تجفوا عنه ولا تغلوا فيه" 5.

--------------------------------------------

1 آية 171.

2 آية 77.

3 الحافظ ابن كثير، تفسير القرآن العظيم 2/ 151.

4 جه: كتاب المناسك، باب قدر حصى الرمي، 2/ 1008، ح 3029.

وقال الشيخ الألباني: صحيح. انظر: صحيح ابن ماجه، له 2/ 177، ج 4255.

5 حم: 3/ 428، 44.
শরীয়ত পালনে চরমপন্থা বা বাড়াবাড়ি:

পবিত্র কুরআনের দুটি স্থানে 'আল-গুলু' (চরমপন্থা/সীমালঙ্ঘন) শব্দটি এসেছে, এবং উভয় স্থানেই এটি 'সীমা অতিক্রম করা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা শব্দটির আভিধানিক অর্থ।

প্রথমটি সূরা আন-নিসায় মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর শানে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না} ১।

দ্বিতীয়টি সূরা আল-মায়িদায় মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর এই বাণীতে: {বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের মধ্যে অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করো না} ২।

অর্থাৎ: সত্য অনুসরণের ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করো না এবং যাদের সম্মান করার নির্দেশ তোমাদের দেওয়া হয়েছে তাদের প্রশংসায় এমন অতিশয়োক্তি করো না যে, তাদেরকে নবুওয়াতের গণ্ডি থেকে বের করে উলুহিয়্যাত বা উপাস্যের মর্যাদায় আসীন করো। যেমনটি তোমরা মাসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর ক্ষেত্রে করেছ; তিনি একজন নবী হওয়া সত্ত্বেও তোমরা তাঁকে আল্লাহর পরিবর্তে ইলাহ বা উপাস্য বানিয়ে নিয়েছ ৩।

সুন্নাহর ক্ষেত্রে: বেশ কিছু হাদীসে 'আল-গুলু' শব্দটি এসেছে:

তার মধ্যে অন্যতম হলো: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জামরাতুল আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপের দিন সকালে তাঁর উটনীর পিঠে আরোহী অবস্থায় আমাকে বললেন: "আমার জন্য কঙ্কর কুড়িয়ে আনো"। তখন আমি তাঁর জন্য খুঁটিনাটি (ছোট পাথরের টুকরা) সদৃশ সাতটি কঙ্কর কুড়িয়ে আনলাম। তিনি সেগুলো তাঁর হাতের তালুতে নিয়ে ঝাড়তে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন: "এগুলোর মতোই নিক্ষেপ করো"। এরপর তিনি বললেন: "হে লোক সকল! তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি (চরমপন্থা) থেকে সাবধান থাকো, কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ির কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে" ৪।

অন্য একটি হাদীসে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "তোমরা কুরআন পাঠ করো এবং এর দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করো না, এর দ্বারা সম্পদ বৃদ্ধির চেষ্টা করো না, এ থেকে বিমুখ হয়ো না এবং এতে বাড়াবাড়ি করো না" ৫।

--------------------------------------------

১. আয়াত ১৭১।

২. আয়াত ৭৭।

৩. আল-হাফিয ইবনে কাসীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ২/১৫১।

৪. সুনানে ইবনে মাজাহ: কিতাবুল মানাসিক, কঙ্কর নিক্ষেপের পরিমাপ পরিচ্ছেদ, ২/১০০৮, হা. ৩০২৯।

শায়খ আলবানী বলেছেন: হাদীসটি সহীহ। দেখুন: সহীহ ইবনে মাজাহ, ২/১৭৭, হা. ৪২৫৫।

৫. মুসনাদে আহমাদ: ৩/৪২৮, ৪৪।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ২৫)
ومنها: قوله صلى الله عليه وسلم: "ويحمل هذا العلم من كل خلف عدوله، ينفون عنه تحريف الغالين وانتحالا لمبطلين وتأويل الجاهلين" 1.

ومعنى الغلو فيها: التشدد ومجاوزة الحد، كما ذكر ابن الأثير2.

2- الإفراط: وهو في اللغة:

التقدم ومجاوزة الحد في الأمر.

قال ابن فارس: ألفًا والراء والطاء: أصل صحيح يدل على إزالة شيء عن مكانه وتنحيته عنه، يقال: فرطت عنه ما كرهه؛ أي: نحيته.

ثم يقال: أفرط: إذا تجاوز الحد في الأمر. يقولون: إياك والفرط؛ أي: لا تجاوز القدر، وهذا هو القياس؛ لأنه إذا جاوز القدر قد أزال الشيء عن وجهته3.

وقال الجوهري: وأفرط في الأمر، أي: جاوز فيه الحد4.

وقال صاحب "لسان العرب": والإفراط: الإعجال والتقدم، وأفرط في الأمر: أسرف. والإفراط: الزيادة على ما أمرت5.

3- التفريط: وهو في اللغة:

التقصير وإزالة الشيء عن مكانه.

قال ابن فارس: وكذلك التفريط، وهو التقصير؛ لأنه إذا قصر فيه فقد

--------------------------------------------

1 البغدادي، شرف أصحاب الحديث، ص 28 ح 52، "بتحقيق د. محمد سعيد خطيب أوغلي".

ابن وضاح، البدع والنهي عنها ص2، "بتحقيق محمد أحمد دهمان، دار البصائر"، قال القاسمي: وتعدد طرقه يقضي بحسنه كما جزم به العلائي، قواعد التحديث ص 49.

2 انظر: النهاية في غريب الحديث 3/ 382.

3 انظر: معجم مقاييس اللغة 4/ 490.

4 الصحاح 3/ 1148.

5 لسان العرب 7/ 369.
এর মধ্যে একটি হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "প্রত্যেক প্রজন্মের ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিগণ এই ইলম (জ্ঞান) বহন করবেন। তাঁরা এতে চরমপন্থীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করবেন" ১।

এখানে গুলু (চরমপন্থা) এর অর্থ হলো: কঠোরতা অবলম্বন এবং সীমা লঙ্ঘন করা, যেমনটি ইবনুল আসীর উল্লেখ করেছেন ২।

২- ইফরাত (অতিরিক্ততা): এটি ভাষাগতভাবে:

কোনো কাজে অগ্রবর্তী হওয়া এবং সীমা অতিক্রম করা।

ইবনে ফারিস বলেন: আলিফ, রা এবং ত্বা—এটি একটি সঠিক মূল শব্দ যা কোনো বস্তুকে তার স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং তা থেকে দূরে সরিয়ে রাখার অর্থ প্রকাশ করে। বলা হয়ে থাকে: 'ফরাত্তু আনহু মা কারিহাহু'; অর্থাৎ, যা সে অপছন্দ করত আমি তা তার থেকে সরিয়ে দিয়েছি।

এরপর বলা হয়: 'আফরাতা'—যখন কেউ কোনো বিষয়ে সীমা লঙ্ঘন করে। তারা বলে: 'তুমি অতিরিক্ততা থেকে বেঁচে থাকো'; অর্থাৎ সীমা ছাড়িয়ে যেয়ো না। আর এটাই হলো নিয়ম; কারণ যখন কেউ সীমা লঙ্ঘন করে, তখন সে বস্তুটিকে তার সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে দেয় ৩।

আল-জাওহারী বলেন: সে কাজে 'আফরাতা' করেছে, অর্থাৎ সে তাতে সীমা লঙ্ঘন করেছে ৪।

'লিসানুল আরব' প্রণেতা বলেন: ইফরাত অর্থ হলো দ্রুততা এবং অগ্রবর্তী হওয়া। আর কাজে 'আফরাতা' করার অর্থ হলো বাড়াবাড়ি করা। ইফরাত মানে হলো যা আদেশ করা হয়েছে তার চেয়ে বেশি করা ৫।

৩- তাফরিত (শিথিলতা): এটি ভাষাগতভাবে:

অবহেলা করা এবং কোনো বস্তুকে তার স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া।

ইবনে ফারিস বলেন: একইভাবে 'তাফরিত' মানে হলো অবহেলা করা; কারণ যখন কেউ তাতে অবহেলা করে, তখন সে...

--------------------------------------------

১ আল-বাগদাদী, শারাফু আসহাবিল হাদিস, পৃষ্ঠা ২৮, হাদিস ৫২, "ড. মুহাম্মদ সাঈদ খাতিব ওগলু-এর সম্পাদনায়"।

ইবনে ওয়াদদাহ, আল-বিদউ ওয়ান নাহইউ আনহা, পৃষ্ঠা ২, "মুহাম্মদ আহমদ দাহমান-এর সম্পাদনায়, দারুল বাসায়ির"। কাসিমী বলেন: এর বিভিন্ন সূত্র এর নির্ভরযোগ্যতাকে 'হাসান' (উত্তম) পর্যায়ে উন্নীত করে, যেমনটি আলাইয়ী নিশ্চিত করেছেন, কাওয়ায়িদুল তাহদিস, পৃষ্ঠা ৪৯।

২ দেখুন: আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ৩/৩৮২।

৩ দেখুন: মু'জামু মাকায়িসিল লুগাহ ৪/৪৯০।

৪ আস-সিহাহ ৩/১১৪৮।

৫ লিসানুল আরব ৭/৩৬৯।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ২৬)
قعد به عن رتبته التي هي له1.

وقال الجوهري: فرط في االأمر فرطًا؛ أي: قصر فيه، وضيعه حتى فات، وكذلك التفريط2.

وقال ابن منظور: وفرط في الشيء وفرطه: ضيعه وقدم العجز فيه3.

الإفراط والتفريط في استعمال الشرع:

وقد وردت مادة "فرط" في القرآن الكريم في ثمانية مواضع4. وكلها بمعنى: التقصير والضياع والتقدم في الشيء.

قال الزجاج: وقد أفرط في الشيء إذ سقط فيه، وقد فرط في الشيء أي قصر، ومعناه كله التقدم في الشيء؛ لأن الفرط في اللغة المتقدم5.

كما وردت مادة "فرط" في السنة في عدد من الأحاديث يضيق المقام عن حصرها نذكر منها على سبيل التمثيل:

قوله صلى الله عليه وسلم: "أما إنه ليس في النوم تفريط؛ إنما التفريط على من لم يصل الصلاة حتى يجيء وقت الصلاة الأخرى" 6 والتفريط هنا بمعنى: التقصير.

--------------------------------------------

1 معجم مقاييس اللغة 4/ 490.

2 الصحاح 3/ 1148.

3 لسان العرب 7/ 370.

4 في الآيات 31، 38، 61، من سورة الأنعام، والآية 80 من سورة يوسف، و 62 من النحل، 28 من الكهف، و 59 من الزمر، طه 45.

5 انظر: معاني القرآن وإعرابه. له 3/ 358.

6 م: كتاب المساجد، باب قضاء الصلاة الفائتة 1/ 473 ح 311.
এটি তাকে তার প্রাপ্য মর্যাদা থেকে বিচ্যুত করেছে১।

জাওহারী বলেন: কোনো বিষয়ে 'ফারাতা' (ত্রুটি) করা; অর্থাৎ তাতে গাফিলতি করা এবং তা হাতছাড়া হওয়া পর্যন্ত নষ্ট করা, 'তাফরিত' শব্দটিও একই অর্থবোধক২।

ইবনে মানজুর বলেন: কোনো বিষয়ে 'ফারাতা' বা 'ফাররাতাতু' অর্থ হলো—তা বিনষ্ট করা এবং তাতে অক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া৩।

শরঈ ব্যবহারে ইফরাত (অতিরিক্ততা) এবং তাফরিত (গাফিলতি):

পবিত্র কুরআনের আটটি স্থানে 'ফা-রা-তা' মূলধাতুর শব্দসমূহ এসেছে৪। এর সবকটিই ত্রুটি, বিনাশ এবং কোনো বিষয়ে অগ্রগামী হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

যাজ্জাজ বলেন: 'আফরাতা' বলা হয় যখন কেউ কোনো বিষয়ে সীমা লঙ্ঘন করে তাতে পতিত হয়, আর 'ফাররাতা' অর্থ হলো ত্রুটি করা; এর সবকটির মূল অর্থ হলো কোনো বিষয়ে অগ্রগামী হওয়া, কারণ ভাষাগতভাবে 'ফাতর' মানে হলো অগ্রগামী৫।

অনুরূপভাবে সুন্নাহর অসংখ্য হাদিসেও 'ফা-রা-তা' মূলধাতুটি এসেছে যা এখানে সীমাবদ্ধ করা কঠিন, উদাহরণস্বরূপ আমরা উল্লেখ করছি:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "জেনে রেখো, ঘুমের মধ্যে কোনো 'তাফরিত' (গাফিলতি) নেই; 'তাফরিত' তো কেবল সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে হয়, যে সালাত আদায় করে না যতক্ষণ না পরবর্তী সালাতের ওয়াক্ত চলে আসে"৬। এখানে 'তাফরিত' অর্থ হলো: ত্রুটি বা গাফিলতি।

--------------------------------------------

১ মু'জামু মাকায়িসিল লুগাহ ৪/ ৪৯০।

২ আস-সিহাহ ৩/ ১১৪৮।

৩ লিসানুল আরব ৭/ ৩৭০।

৪ সুরা আল-আন'আমের ৩১, ৩৮ ও ৬১ নম্বর আয়াতে; সুরা ইউসুফের ৮০ নম্বর আয়াতে; আন-নাহলের ৬২; আল-কাহফের ২৮; আয-যুমারের ৫৯ এবং সুরা ত্বাহার ৪৫ নম্বর আয়াতে।

৫ দেখুন: মা'আনিল কুরআন ওয়া ইরাবুহু ৩/ ৩৫৮।

৬ মুসলিম: কিতাবুল মাসাজিদ, অধ্যায়: কাজা নামাজ আদায় করা ১/ ৪৭৩, হাদিস নং ৩১১।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ২৭)
ومنها: قوله صلى الله عليه وسلم: "إني فرطكم" 1 ومعنى فرطكم؛ أي: السابق2 والمتقدم.

4- الجفاء، والجفو: في اللغة:

"الجيم والفاء والحرف في المعتل "جفو": يدل على أصل واحد، نبو الشيء عن الشيء. من ذلك جفوت الرجل أجفوه. وجفا السرج عن ظهر الفرس، وأجفيته أنا وكذلك كل شيء إذا لم يلزم شيئًا يقال: جفا عنه يجفو. والجفاء: خلاف البر، والجفاء: ما نفاه السيل، ومنه اشتقاق الجفاء. قاله ابن فارس3.

الجفاء في استعمال الشرع:

وقد وردت هذه المادة في القرآن الكريم في موضع واحد في قوله عز وجل: {كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْحَقَّ وَالْبَاطِلَ فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاءً} 4.

قال الزجاج في "معاني القرآن": "والجفاء ما جافا الوادي؛ أي: رمى به"5.

وفي السنة: وردت هذه المادة في عدد من الأحاديث:

منها قوله صلى الله عليه وسلم في الحديث الذي ذكر فيه الخصال التي إذا فعلتها الأمة حل بها البلاء: "وأطاع الرجل زوجته، وعق أمه، وبر صديقه، وجفا أباه" 6 فالجفاء هنا خلاف البر كما هو واضح.

--------------------------------------------

1 خ: مناقب، باب ما يحذر من زهرة الدنيا 11/ 244 ح 6426.

2 فتح الباري 11/ 245.

3 معجم مقاييس اللغة 1/ 465- 466.

4 سورة الرعد آية 17.

5 3/ 145.

6 ت: الفتن، باب ما جاء في علامة حلول المسخ والخسف، 4/ 494 ح 2210.
এর মধ্যে একটি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আমি তোমাদের অগ্রগামী পথপ্রদর্শক" ১ আর অগ্রগামী পথপ্রদর্শক বলতে উদ্দেশ্য হলো: অগ্রবর্তী ২ এবং সম্মুখবর্তী।

৪- আল-জাফা (রূঢ়তা), এবং আল-জাফু: আভিধানিক অর্থে:

"জীম, ফা এবং দুর্বল বর্ণ যোগে গঠিত 'জা-ফা-ওয়া' মূলধাতুটি একটি মূল অর্থের দিকে নির্দেশ করে, যা হলো কোনো বস্তু থেকে কোনো বস্তুর বিমুখ হওয়া বা পৃথক হয়ে যাওয়া। এ থেকেই বলা হয়: 'আমি লোকটির সাথে বিমুখতা বা রূঢ় আচরণ করেছি'। ঘোড়ার পিঠ থেকে জিন পৃথক হয়ে গেলে বলা হয়: 'জিনটি ঘোড়ার পিঠ থেকে পৃথক হয়ে গেছে', আর আমি তা পৃথক করলে বলা হয় 'আমি তা পৃথক করেছি'। অনুরূপভাবে প্রতিটি বস্তু যখন অন্য কোনো বস্তুর সাথে লেগে না থাকে, তখন বলা হয়: 'তা থেকে পৃথক হয়ে গেছে'। আর জাফা হলো সদ্ব্যবহারের বিপরীত (রূঢ়তা)। এছাড়া প্লাবন যা কিছু ভাসিয়ে নিয়ে তটে নিক্ষেপ করে তাকেও জাফা বলা হয়, আর তা থেকেই 'জুফা' শব্দটি গৃহীত। এটি ইবনে ফারিস বলেছেন ৩।

শরয়ী পরিভাষায় জাফা (রূঢ়তা):

পবিত্র কুরআনের একটি স্থানে এই মূল শব্দটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {এভাবেই আল্লাহ সত্য ও মিথ্যার উদাহরণ পেশ করেন। সুতরাং যা ফেনা, তা তো নিঃশেষ হয়ে (আবর্জনা হিসেবে নিক্ষিপ্ত হয়ে) যায়} ৪।

আয-যাজ্জাজ 'মা'আনিল কুরআন' গ্রন্থে বলেছেন: "আর জুফা হলো উপত্যকা যা কিছু বাইরে নিক্ষেপ বা বিসর্জন দেয়; অর্থাৎ যা সে ছুড়ে ফেলে দেয়" ৫।

সুন্নাহর মধ্যে: এই মূল শব্দটি বেশ কিছু হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:

তার মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঐ হাদীসের বাণীটি অন্যতম যাতে তিনি এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন যা উম্মতের মধ্যে দেখা দিলে বিপদ নেমে আসে: "আর পুরুষ তার স্ত্রীর আনুগত্য করবে, মায়ের অবাধ্য হবে, বন্ধুর সাথে সদাচরণ করবে এবং পিতার সাথে রূঢ় আচরণ (জাফা) করবে" ৬। এখানে জাফা বলতে যে সদ্ব্যবহারের বিপরীত অর্থ বোঝানো হয়েছে তা সুস্পষ্ট।

--------------------------------------------

১ বুখারী: মানাকিব, অধ্যায়: দুনিয়ার চাকচিক্য থেকে যা সতর্ক করা হয়েছে ১১/২৪৪, হাদীস নং ৬৪২৬।

২ ফাতহুল বারী ১১/২৪৫।

৩ মু'জামু মাকায়িসিল লুগাহ ১/৪৬৫-৪৬৬।

৪ সূরা আর-রা'দ, আয়াত ১৭।

৫ ৩/১৪৫।

৬ তিরমিযী: আল-ফিতান, অধ্যায়: বিকৃতি ও ভূমিধস ঘটার আলামত বিষয়ক ৪/৪৯৪, হাদীস নং ২২১০।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ২৮)
ومنها قوله صلى الله عليه وسلم: "اقرءوا القرآن ولا تأكلوا به، ولا تستكثروا به، ولا تجفوا عنه، ولا تغلوا فيه" 1.

قال أبو عبيد في معنى الجفاء في الحديث: "والجافي عنه التارك له وللعمل به"2.

--------------------------------------------

1 تقدم تخريجه. انظر: ص 24.

2 غريب الحديث 1/ 483، طبعة مصورة عن طبعة دائرة المعارف العثمانية بحيدرى باد 1396 هـ.
আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "তোমরা কুরআন পাঠ করো, কিন্তু এর বিনিময়ে পার্থিব স্বার্থ ভোগ করো না, এর মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা করো না, এর থেকে বিমুখ হয়ো না এবং এতে অতিরঞ্জন বা সীমালঙ্ঘন করো না" ১।

হাদীসে বর্ণিত ‘বিমুখতা’ (জাফা) শব্দের অর্থ সম্পর্কে আবু উবাইদ বলেন: "এর প্রতি বিমুখ ব্যক্তি হলো সে, যে একে (কুরআন পাঠ) এবং এর অনুযায়ী আমল করা বর্জন করেছে" ২।

--------------------------------------------

১. এর তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। দেখুন: পৃষ্ঠা ২৪।

২. গারিবুল হাদীস ১/৪৮৩, হায়দ্রাবাদের দায়িরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়া সংস্করণের ছায়ালিপি সংস্করণ, ১৩৯৬ হিজরি।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌المبحث الثاني: في بيان معنى السنة في اللغة والاصطلاح

‌‌أولًا: السنة في اللغة

هي الطريقة، والسيرة، حسنة أو قبيحة، محمودة أو مذمومة.

قال ابن فارس: والسنة: السيرة، وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم سيرته، قال الهذلي:

فلا تجزعن من سنة أنت سرتها … فأول راض سنة من يسيرها1

وفي "لسان العرب": والسنة: السيرة، حسنة كانت أو قبيحة، وذكر البيت قال: وقد تكرر في الحديث ذكر السنة وما تصرف منها، والأصل فيه الطريقة2.

ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: "من سن في الإسلام سنة حسنة، فعمل بها بعده، كتب له مثل أجر من عمل بها، ولا ينقص من أجورهم شيء، ومن سن في الإسلام سنة سيئة فعمل بها بعده، كتب عليه مثل وزر من عمل بها ولا ينقص من أوزارهم شيء" 3.

--------------------------------------------

1 ابن فارس، مجمل اللغة، "بتحقيق زهير عبد المحسن سلطان، ط. الأولى 1404، نشر: مؤسسة الرسالة - بيروت"، 2/ 455.

2 انظر: مادة "سنن" 13/ 225.

3 م: كتاب العلم، باب من سن سنة حسنة وسيئة، 4/ 2059 ح 1017.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সুন্নাহর পরিচয়

প্রথমত: আভিধানিক অর্থে সুন্নাহ

সুন্নাহ হলো কোনো পন্থা বা জীবনপদ্ধতি; চাই তা ভালো হোক কিংবা মন্দ, প্রশংসনীয় হোক কিংবা নিন্দনীয়।

ইবনে ফারিস বলেন: সুন্নাহ হলো সীরাত বা জীবনপদ্ধতি; আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ হলো তাঁর জীবনপদ্ধতি বা জীবনাচার। হুযালী কবি বলেন:

তুমি যে পথ প্রবর্তন করেছ সে বিষয়ে অস্থির হয়ো না … কেননা কোনো পদ্ধতির ব্যাপারে প্রথম সন্তুষ্ট ব্যক্তি সেই হয় যে তাতে পথ চলে।১

"লিসানুল আরব" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: সুন্নাহ হলো সীরাত বা পথ, চাই তা ভালো হোক কিংবা মন্দ। তিনি উপরোক্ত কবিতাটি উল্লেখ করে বলেন: হাদীসসমূহে 'সুন্নাহ' এবং এর বিভিন্ন রূপান্তরের উল্লেখ বারবার এসেছে; আর এর মূল অর্থ হলো পন্থা বা পদ্ধতি।২

এ অর্থ থেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটি এসেছে: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো ভালো পদ্ধতির সূচনা করল এবং পরবর্তী সময়ে সে অনুযায়ী আমল করা হলো, তবে তার জন্য আমলকারীর সমপরিমাণ সওয়াব লেখা হবে, অথচ তাদের সওয়াব থেকে কিছুই হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ পদ্ধতির সূচনা করল এবং পরবর্তীতে সে অনুযায়ী আমল করা হলো, তবে আমলকারীর সমপরিমাণ পাপ তার আমলনামায় লেখা হবে, অথচ তাদের পাপ থেকেও সামান্য কম করা হবে না।" ৩।

--------------------------------------------

১. ইবনে ফারিস, মুজমালুল লুগাহ, যুহাইর আব্দুল মুহসিন সুলতান সম্পাদিত, ১ম সংস্করণ ১৪০৪ হি., প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত, ২/৪৫৫।

২. দেখুন: 'সুনান' শব্দমূল ১৩/২২৫।

৩. সহীহ মুসলিম: কিতাবুল ইলম, ভালো ও মন্দ সুন্নাহ প্রবর্তন সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, ৪/২০৫৯, হাদীস নং ১০১৭।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌ثانيا: السنة في الإصطلاح

‌‌مدخل

…

ثانيًا: السنة في الاصطلاح

يختلف معنى السنة في الاصطلاح عند كل من المحدثين، والأصوليين والفقهاء وعلماء الوعظ وأصول الدين، وإن كان الجميع يتفق على أنها سنة النبي صلى الله عليه وسلم؛ وإنما وقع الاختلاف عند التفصيل والتحديد؛ ومرد هذا الاختلاف في المعنى الاصطلاحي للسنة إلى اختلافهم في الأغراض التي يعني بها كل فئة من أهل العلم1.

السنة عند المحدثين:

فعلماء الحديث، عندما عنوا بنقل كل ما ينسب إلى النبي صلى الله عليه وسلم قالوا: السنة هي ما أثر عن النبي صلى الله عليه وسلم: من قول، أو فعل، أو تقرير، أو صفة خلقية، أو خلقية، أو سيرة، سواء كان قبل البعثة2، أو بعدها3.

السنة عند الأصوليين:

وعلماء الأصول إنما عنوا بالبحث عن الأدلة الشرعية، فعنوا بأقواله وأفعاله وتقريراته التي تثبت الأحكام وتقررها4 فقالوا: السنة هي: ما نقل عنه صلى الله عليه وسلم، من قول، أو فعل، أو تقرير.

--------------------------------------------

1 د. مصطفى السباعي. السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي، "ط. الثانية 1396، نشر: المكتب الإسلامي"، ص 48.

2 مثل تحثه في غار حراء، ومثل حسن سيرته؛ لأن الحال يستفاد منها ما كان عليه صلى الله عليه وسلم من كريم الأخلاق ومحاسن الأفعال كقول خديجة: كلا والله لا يخزيك الله أبدًا إنك لتصل الرحم وتحمل الكل وتقري الضيف وتكسب المعدوم وتعين على نوائب الحق.

انظر: محمد محمد أبو زهو، الحديث والمحدثون، "ط. 1404 هـ، نشر: دار الكتاب العربي"، ص 10.

3 محمد جمال الدين القاسمي، قواعد التحديث، "ص 64".

4 أبو زهو، الحديث والمحدثون، ص 48، والسباعي، السنة ومكانتها، ص 49.
‌‌দ্বিতীয়ত: পরিভাষায় সুন্নাহ

‌‌উপক্রমণিকা

…

দ্বিতীয়ত: পরিভাষায় সুন্নাহ

মুহাদ্দিস, উসুলবিদ, ফকিহ এবং ওয়াজ ও আকাইদ শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট পরিভাষায় ‘সুন্নাহ’-এর সংজ্ঞায় ভিন্নতা রয়েছে। যদিও সকলেই এই বিষয়ে একমত যে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ; তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। পরিভাষাগত অর্থের এই পার্থক্যের মূল কারণ হলো ইলমের প্রতিটি শাখার বিশেষজ্ঞগণের গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ভিন্নতা।১

মুহাদ্দিসগণের নিকট সুন্নাহ:

হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি বিষয় বর্ণনা করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, তাই তাদের মতে: সুন্নাহ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁর কথা, কাজ, মৌনসম্মতি, শারীরিক গঠন বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর জীবনচরিত; চাই তা নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বের২ হোক কিংবা পরের৩।

উসুলবিদগণের নিকট সুন্নাহ:

উসুলবিদ বা মূলনীতি শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ যেহেতু প্রধানত শরয়ি দলিলসমূহ নিয়ে গবেষণা করেন, তাই তাঁরা নবীজির সেইসব কথা, কাজ এবং মৌনসম্মতি নিয়ে আলোচনা করেছেন যার মাধ্যমে শরয়ি বিধান প্রমাণিত বা প্রতিষ্ঠিত হয়।৪ তাই তাঁরা বলেন: সুন্নাহ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁর কথা, কাজ কিংবা মৌনসম্মতি।

--------------------------------------------

১. ড. মুস্তফা আস-সিবায়ি, আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত-তাশরি আল-ইসলামি, "দ্বিতীয় সংস্করণ ১৩৯৬ হিজরি, প্রকাশনা: আল-মাকতাব আল-ইসলামি", পৃষ্ঠা ৪৮।

২. যেমন হেরা গুহায় তাঁর ইবাদত এবং তাঁর সুন্দর জীবনচরিত; কেননা তাঁর মহান চরিত্র ও উত্তম কার্যাবলি তা থেকে স্পষ্ট হয়। যেমন খাদিজা (রা.)-এর উক্তি: "কখনোই না, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না; কেননা আপনি আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখেন, অক্ষমদের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, মেহমানদারি করেন এবং হকের পথে আপতিত বিপদে সাহায্য করেন।"

দেখুন: মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু জাহু, আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন, "১৪০৪ হিজরি সংস্করণ, প্রকাশনা: দারুল কিতাব আল-আরাবি", পৃষ্ঠা ১০।

৩. মুহাম্মদ জামালুদ্দিন আল-কাসিমি, কাওয়াইদুত তাহদিস, পৃষ্ঠা ৬৪।

৪. আবু জাহু, আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন, পৃষ্ঠা ৪৮; এবং আস-সিবায়ি, আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা, পৃষ্ঠা ৪৯।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ৩১)
قال الآمدي: وقد تطلق -أي: السنة- على ما صدر عن الرسول صلى الله عليه وسلم من الأدلة الشرعية مما ليس بمتلو، ولا هو معجز، ولا داخل في المعجز، وهذا النوع هو المقصود بالبيان ههنا، ويدخل في ذلك: أقوال النبي صلى الله عليه وسلم، وأفعاله، وتقاريره1.

وقال الشيخ محمد الأمين الشنقيطي رحمه الله في تعريف السنة: وفي اصطلاح الشرع هي: ما قاله رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو فعله، أو قرر عليه2.

السنة عند الفقهاء:

أما علماء الفقه؛ فإنهم لما عنوا بالبحث عن حكم الشرع على أفعال العباد وجوبًا أو حرمة أو إباحة أو غير ذلك3.

قالوا: السنة هي: الطريقة المسلوكة في الدين من غير افتراض ولا وجوب4.

وقال بعضهم: السنة: ما في فعله ثواب وفي تركه ملامة وعاب لا عقاب5.

وهي على هذا تقابل الواجب عندهم.

قال الخطيب البغدادي: وقد غلب على ألسنة الفقهاء، أنهم يطلقون

--------------------------------------------

1 الإحكام في أصول الأحكام، "ط. الثانية 1402 هـ، ط. المكتب الإسلامي"، 1/ 169.

2 مذكرة في أصول الفقه، ص 95.

3 السباعي، السنة ومكانتها، ص 49.

4 أبو زهو، الحديث والمحدثون، ص 10.

5 قاسم القونوي، أنيس الفقهاء، "بتحقيق د. أحمد بن عبد الرزاق الكبيسي، ط. الأولى 1406، نشر: دار الوفاء -جده" ص 106.
আল-আমেদী বলেছেন: সুন্নাহ শব্দটি কখনো কখনো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এমন সব শরয়ি দলিলের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা তিলাওয়াতকৃত (কুরআন) নয়, যা মুজিজা নয় এবং যা মুজিজার অন্তর্ভুক্তও নয়। এখানে এই প্রকারটিই আলোচনার উদ্দেশ্য। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কর্ম এবং মৌনসম্মতি১।

শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকীতি রহিমাহুল্লাহ সুন্নাহর সংজ্ঞায় বলেছেন: শরয়ি পরিভাষায় সুন্নাহ হলো: যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অথবা করেছেন, কিংবা যার ওপর মৌনসম্মতি প্রদান করেছেন২।

ফকিহগণের নিকট সুন্নাহ:

পক্ষান্তরে ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ যেহেতু বান্দার কার্যাবলির ওপর অর্পিত শরয়ি বিধান—যেমন আবশ্যিকতা, নিষিদ্ধতা, বৈধতা বা অন্য কিছু নিয়ে অনুসন্ধানে ব্যাপৃত ছিলেন৩।

তাঁরা বলেছেন: সুন্নাহ হলো দ্বীনের ক্ষেত্রে অনুসৃত এমন পথ যা ফরজ বা ওয়াজিব নয়৪।

তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: সুন্নাহ হলো যা করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং বর্জন করলে নিন্দা ও তিরস্কার পোহাতে হয়, তবে কোনো শাস্তি পেতে হয় না৫।

আর এ দৃষ্টিকোণ থেকে সুন্নাহ তাঁদের নিকট ওয়াজিবের বিপরীত।

খতিব আল-বাগদাদী বলেছেন: ফকিহগণের মাঝে এটিই বহুল প্রচলিত যে, তাঁরা প্রয়োগ করেন...

--------------------------------------------

১ আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম, "দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪০২ হিজরি, আল-মাকতাবুল ইসলামি", ১/ ১৬৯।

২ মুজাক্কিরাহ ফি উসুলিল ফিকহ, পৃষ্ঠা ৯৫।

৩ আস-সিবাঈ, আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা, পৃষ্ঠা ৪৯।

৪ আবু জাহু, আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন, পৃষ্ঠা ১০।

৫ কাসিম আল-কুনাভি, আনিসুল ফুকাহা, "ড. আহমদ বিন আব্দুল রাজ্জাক আল-কুবেসির সম্পাদনায়, প্রথম সংস্করণ ১৪০৬, প্রকাশনা: দারুল ওয়াফা - জেদ্দা" পৃষ্ঠা ১০৬।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ৩২)
السنة فيما ليس بواجب؛ فينبغي أن يقال في حد السنة: أنها ما رسم ليحتذى استحبابًا1.

قال الحافظ ابن حجر في تعريف السنة عند الفقهاء: وفي اصطلاح بعض الفقهاء: ما يرادف المستحب2.

وإذا نظرنا في كلام كثير من السلف، نجدهم يعنون بالسنة معنى أوسع من معناها عند المحدثين، أو الأوصليين، أو الفقهاء.

إذ يعنون بالسنة: موافقة الكتاب وسنة الرسول صلى الله الله عليه وسلم وأصحابه، سواء في أمور الاعتقادات، أو العبادات.

ويقابلها: البدعة3، فيقال فلان على السنة: إذا كانت أعماله على وفق الكتاب وسنة النبي صلى الله عليه وسلم، ويقال فلان على البدعة؛ إذ كان عمله مخالفًا للكتاب والسنة أو أحدهما.

قال الشاطبي: ويطلق -أي: لفظ السنة أيضًا- في مقابلة البدعة فيقال: فلان على سنة؛ إذ عمل على وفق ما عمل عليه النبي صلى الله عليه وسلم، كان ذلك مما نص

--------------------------------------------

1 كتاب الفقيه والمتفقه، "بتصحيح الشيخ إسماعيل الأنصاري، نشر: مكتبة أنس 1400 هـ"، ص 86.

2 الفتح، 13/ 245.

3 البدعة: في اللغة من "بدع"، يقال: أبدعت الشيء: اخترعته لا على مثال: والله بديع السماوات والأرض، والبديع المبتدع.

وهي في الاصطلاح: عبارة عن "طريقة في الدين مخترعة تضاهي الشريعة يقصد بالسلوك عليها المبالغة في التعبد لله"، كما قال الشاطبي في الاعتصام، 1/ 37، "بتعريف محمد رشيد رضا، نشر: دار المعرفة"، وقال الحافظ ابن رجب: هي ما أحدث مما لا أصل في الشريعة. جامع العلوم والحكم 252، "نشر: دار المعرفة- بيروت". وقال الحافظ ابن حجر: وتطلق في الشرع في مقابل السنة فتكون مذمومة.

انظر: فتح الباري 4/ 253.
সুন্নাহ্ হলো এমন বিষয় যা ওয়াজিব নয়; সুতরাং সুন্নাহর সংজ্ঞায় বলা উচিত যে: এটি এমন এক পথ যা মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় হিসেবে অনুসরণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।১

ফকিহগণের নিকট সুন্নাহর সংজ্ঞায় হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "কিছু ফকিহগণের পরিভাষায় এটি মুস্তাহাব-এর সমার্থক।"২

আমরা যদি অনেক সালাফের (পূর্বসূরিদের) বক্তব্যের দিকে তাকাই, তবে দেখব যে তারা সুন্নাহ বলতে মুহাদ্দিস, উসুলবিদ কিংবা ফকিহদের সংজ্ঞার চেয়েও ব্যাপকতর অর্থ বুঝিয়েছেন।

কেননা তারা সুন্নাহ বলতে কুরআন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের সুন্নাহর অনুকূল হওয়াকে বুঝিয়েছেন, তা আকিদাহ বা বিশ্বাসের বিষয় হোক কিংবা ইবাদতের।

এর বিপরীত হলো বিদআত৩। সুতরাং বলা হয়, অমুক ব্যক্তি সুন্নাহর ওপর আছেন—যখন তার কর্মসমূহ কুরআন ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী হয়; আর বলা হয়, অমুক ব্যক্তি বিদআতের ওপর আছেন—যখন তার কর্ম কুরআন ও সুন্নাহ কিংবা এর যেকোনো একটির পরিপন্থী হয়।

ইমাম শাতিবি বলেন: "সুন্নাহ শব্দটি বিদআতের বিপরীতেও ব্যবহৃত হয়। সুতরাং বলা হয়, অমুক ব্যক্তি সুন্নাহর ওপর আছেন—যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মের অনুকূলে আমল করেন, চাই তা এমন কোনো বিষয় হোক যা নস বা উদ্ধৃতি দ্বারা প্রমাণিত..."

--------------------------------------------

১ কিতাব আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ, "শায়খ ইসমাইল আল-আনসারির সম্পাদনায়, প্রকাশনা: মাকতাবাতু আনাস ১৪০০ হিজরি", পৃ. ৮৬।

২ আল-ফাতহ্, ১৩/২৪৫।

৩ বিদআত: আভিধানিক অর্থে এটি "বিদা" ধাতু থেকে আগত। বলা হয়, আমি কোনো বিষয় উদ্ভাবন করেছি, অর্থাৎ পূর্ব কোনো নমুনা ছাড়াই তা সৃষ্টি করেছি। মহান আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর উদ্ভাবক (বাদিউ)। আর 'বাদিউ' মানে হলো নতুনভাবে সৃষ্টিকর্তা।

পরিভাষায় বিদআত হলো: "দীনের মধ্যে উদ্ভাবিত এমন এক পথ যা শরিয়তের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যার অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদতে অতিরঞ্জন বা আধিক্য উদ্দেশ্য হয়ে থাকে," যেমনটি শাতিবি 'আল-ইতিসাম' (১/৩৭) গ্রন্থে বলেছেন, "মুহাম্মদ রশিদ রিদার সংজ্ঞায়ন বা পরিচিতি সহকারে, প্রকাশনা: দারুল মা'রিফাহ"। হাফেজ ইবনে রজব বলেন: শরিয়তে যার কোনো ভিত্তি নেই এমন নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত। জামি উল-উলূম ওয়াল হিকাম, ২৫২, "প্রকাশনা: দারুল মা'রিফাহ-বৈরুত"। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: শরিয়তে এটি সুন্নাহর বিপরীতে ব্যবহৃত হয়, ফলে তা নিন্দনীয়।

দেখুন: ফাতহুল বারি ৪/২৫৩।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ৩৩)
عليه الكتاب أو لا، ويقال: "فلان على بدعة"، إذا عمل على خلاف ذلك، وكأن هذا الإطلاق إنما اعتبر فيه عمل صاحب الشريعة، فأطلق لفظ السنة من تلك الجهة، وإن كان العمل بمقتضى الكتاب.

ويطلق أيضًا لفظ السنة على ما عمل عليه الصحابة، وجد ذلك في الكتاب والسنة أو لم يوجد1 لكونه اتباعًا لسنة ثبتت عندهم لم تنقل إلينا، أو اجتهادًا مجتمعًا عليه منهم أو من خلفائهم2.

ويقول الحافظ ابن رجب: والسنة هي: الطريق المسلوك، فيشمل ذلك التمسك بما كان عليه هو وخلفاؤه الراشدون، من الاعتقادات، والأعمال والأقوال، وهذه هي السنة الكاملة؛ ولهذا كان السلف قديمًا لا يطلقون اسم السنة إلا على ما يشمل ذلك3.

والذي كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وخلفاؤه الراشدون هو الكتاب والسنة، فيكون لفظ السنة شاملًا لذلك كله في مقابلة البدعة.

ولأهمية وخطورة مسائل الاعتقاد، التي هي أصل الدين وعليها يبنى غيرها من أعمال الإسلام، أطلق السلف لفظ "السنة" على موافقة الكتاب والسنة فيقضايا الاعتقاد.

يقول شيخ الإسلام ابن تيمية: ولفظ السنة في كلام السلف، يتناول السنة في العبادات، وفي الاعتقادات، وإن كان كثير ممن صنف في السنة يقصدون الكلام في الاعتقادات.

--------------------------------------------

1 قال شارحه الشيخ عبد الله دراز: أي: عثرنا عليه في السنة أو لم نعثر عليه فيها ليصح قوله بعد "لكونه ابتاعًا لسنة ثبتت عندهم ولم تنقل إلينا"، الموافقات ج 4/ 4 حاشية رقم "1".

2 أبو إسحاق إبراهيم بن موسى اللخمي الشاطبي، الموافقات في أصول الشريعة "بشرح الشيخ عبد الله دراز، نشر: دار المعرفة -بيروت"، 4/ 3- 6.

3 انظر: جامع العلوم والحكم، ص 249.
তার ওপর কিতাব (কুরআন) প্রযোজ্য হোক বা না হোক। বলা হয়: "অমুক ব্যক্তি বিদআতের ওপর আছে", যখন সে এর পরিপন্থী কোনো কাজ করে। যেন এই পরিভাষাটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরয়ি বিধানদাতার আমলকেই মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, তাই সেই দিক থেকে 'সুন্নাহ' শব্দটি প্রয়োগ করা হয়েছে, যদিও আমলটি কিতাবের নির্দেশ অনুযায়ী হয়ে থাকে।

সাহাবীগণ যে বিষয়ের ওপর আমল করেছেন তাকেও 'সুন্নাহ' শব্দ দ্বারা অভিহিত করা হয়, চাই তা কিতাব ও সুন্নাহতে সুনির্দিষ্টভাবে পাওয়া যাক বা না পাওয়া যাক; কারণ তা হতে পারে এমন কোনো সুন্নাহর অনুসরণ যা তাঁদের নিকট প্রমাণিত ছিল কিন্তু আমাদের পর্যন্ত পৌঁছায়নি, অথবা এটি তাঁদের কিংবা তাঁদের খলিফাদের সর্বসম্মত ইজতিহাদ।

হাফেজ ইবনে রজব বলেন: সুন্নাহ হলো অনুসৃত পথ, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর খুলাফায়ে রাশেদীনের বিশ্বাস, আমল ও বাণীর ওপর অবিচল থাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এটিই হলো পূর্ণাঙ্গ সুন্নাহ; এজন্যই প্রাচীনকালের সালাফগণ 'সুন্নাহ' শব্দটি কেবল সেই বিষয়ের ওপরই প্রয়োগ করতেন যা এই সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করত।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর খুলাফায়ে রাশেদীন যে বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন তা-ই হলো কিতাব ও সুন্নাহ, ফলে বিদআতের বিপরীতে 'সুন্নাহ' শব্দটি এই সবকিছুর জন্য ব্যাপক অর্থবোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আকিদাহ বা বিশ্বাসগত বিষয়গুলোর গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতার কারণে—যা দ্বীনের মূল এবং যার ওপর ইসলামের অন্যান্য আমল প্রতিষ্ঠিত—সালাফগণ আকিদাহর বিষয়গুলোতে কিতাব ও সুন্নাহর অনুগত্যকে 'সুন্নাহ' নামে অভিহিত করেছেন।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: সালাফদের পরিভাষায় 'সুন্নাহ' শব্দটি ইবাদত ও আকিদাহ উভয় ক্ষেত্রের সুন্নাহকেই শামিল করে, যদিও সুন্নাহ বিষয়ে গ্রন্থ রচয়িতাদের মধ্যে অনেকেই আকিদাহ সংক্রান্ত আলোচনার উদ্দেশ্যেই এটি ব্যবহার করেছেন।

--------------------------------------------

১ এর ব্যাখ্যাকার শায়খ আবদুল্লাহ দরাজ বলেন: অর্থাৎ: আমরা সুন্নাহর মধ্যে তা খুঁজে পেয়েছি অথবা পাইনি, যাতে তাঁর পরবর্তী এই কথাটি সঠিক হয় যে, "কারণ তা এমন কোনো সুন্নাহর অনুসরণ যা তাঁদের কাছে প্রমাণিত ছিল কিন্তু আমাদের নিকট বর্ণিত হয়নি", আল-মুওয়াফাকাত, খণ্ড ৪/ ৪, টীকা নং "১"।

২ আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুসা আল-লাখমি আশ-শাতিবি, আল-মুওয়াফাকাত ফি উসুলিশ শারীয়াহ (শায়খ আবদুল্লাহ দরাজের ব্যাখ্যাসহ, প্রকাশনী: দারুল মা’রিফাহ - বৈরুত), ৪/ ৩- ৬।

৩ দেখুন: জামেউল উলুম ওয়াল হিকাম, পৃষ্ঠা ২৪৯।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতীয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وهذا كقول: ابن مسعود، وأبي بن كعب، وأبي الدرداء رضي الله عنهم: "اقتصاد في سنة من اجتهاد في بدعة"1، 2.

وقال ابن رجب: "وكثير من العلماء المتأخرين يخص السنة بما يتعلق بالاعتقاد؛ لأنها أصل الدين، والمخالف فيها على خطر عظيم"3.

بل وكثير من علماء السلف المتقدمين أيضًا، خصوا السنة بذلك، وأطلقوها على ما يتعلق بأمور الاعتقاد، فمن وافق فيها السنة فهو من أهل السنة.

وفيما يلي ذكر بعض أئمة السلف الذين أطلقوا ذلك ونماذج من أقوالهم:

1- سفيان بن عيينة "ت 198 هـ"4:

أخرج اللالكائي عنه من طريق بكر بن الفرج أبي العلا، قال: سمعت سفيان بن عيينة يقول: السنة عشرة، فمن كن فيه فقد استكمل السنة، ومن ترك منها شيئًا فدق ترك السنة.

إثبات القدر، وتقديم أبي بكر وعمر، والحوض، والشفاعة، والميزان، والصراط، والإيمان في قول وعمل، والقرآن كلام الله، وعذاب القبر، والبعث يوم

--------------------------------------------

1 الأثر أخرجه الدارمي عن ابن مسعود بلفظ: "القصد في السنة خير من الاجتهاد في البدعة" 1/ 72، والبيهقي، انظر: السنن الكبرى 3/ 19.

قال الألباني: وهذا الأثر صحيح. انظر: صلاة التراويح ص6.

2 الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر ص77، "بتحقيق د. صلاح الدين المنجد، ط. الأولى 1396، نشر: دار الكتاب الجديد- بيروت".

3 جامع العلوم والحكم 249.

4 وهو إمام وعلم وشيخ من شيوخ الإسلام قال عنه الإمام أحمد: "ما رأيت أعلم بالسنن منه".

انظر: تذكرة الحفاظ للذهبي، 1/ 262، وانظر: ترجمته أيضًا في: "تهذيب التهذيب 4/ 117، وميزان الاعتدال 2/ 170، وفيات الأعيان 2/ 393.
এটি ইবনে মাসউদ, উবাই বিন কাব এবং আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর উক্তির মতো: "সুন্নাহর ওপর পরিমিত আমল বিদআতের ওপর কঠোর পরিশ্রম অপেক্ষা উত্তম"১, ২।

ইবনে রজব বলেন: "পরবর্তী যুগের অনেক আলিম 'সুন্নাহ' শব্দটিকে আকীদা বা বিশ্বাস সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট করেছেন; কারণ এটিই দ্বীনের ভিত্তি এবং এ বিষয়ে বিরোধকারী মহা বিপদের সম্মুখীন"৩।

এমনকি পূর্ববর্তী সালাফদের অনেক আলিমও সুন্নাহ শব্দটিকে একইভাবে নির্দিষ্ট করেছেন এবং বিশ্বাস সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর এর প্রয়োগ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এক্ষেত্রে সুন্নাহর অনুসারী হয়, সে-ই আহলে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।

নিচে সালাফদের সেই সব ইমামদের মধ্য থেকে কয়েকজনের উল্লেখ এবং তাঁদের উক্তির নমুনা দেওয়া হলো যাঁরা এই পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন:

১- সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ "মৃত্যু ১৯৮ হিজরী"৪:

আল-লালাকায়ী বকর ইবনুল ফারজ আবুল আলা-এর সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহকে বলতে শুনেছি: সুন্নাহ হলো দশটি বিষয়; যার মধ্যে এগুলোর সমাবেশ ঘটবে সে সুন্নাহকে পূর্ণ করল, আর যে এর কোনো একটি ত্যাগ করল সে সুন্নাহকেই ত্যাগ করল।

তাকদীরে বিশ্বাস স্থাপন, আবু বকর ও উমরকে (মর্যাদায়) অগ্রগণ্য জ্ঞান করা, হাউজ, শাফায়াত, মিজান, সিরাত, ঈমান হলো কথা ও কাজের নাম, কুরআন আল্লাহর কালাম, কবরের আযাব এবং পুনরুত্থান দিবসে

--------------------------------------------

১ এই বর্ণনাটি দারেমী ইবনে মাসউদ থেকে এই শব্দে সংকলন করেছেন: "সুন্নাহর ওপর পরিমিত আমল বিদআতের ওপর পরিশ্রমের চেয়ে উত্তম" ১/৭২; এবং বায়হাকী, দেখুন: আস-সুনানুল কুবরা ৩/১৯।

আলবানী বলেন: এই বর্ণনাটি সহীহ। দেখুন: সালাতুত তারাবীহ পৃ. ৬।

২ আল-আমর বিল মা’রুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার, পৃ. ৭৭, "ড. সালাহউদ্দীন আল-মুনজিদ সম্পাদিত, ১ম প্রকাশ ১৩৯৬ হিজরী, প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-জাদীদ, বৈরুত।"

৩ জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম ২৪৯।

৪ তিনি একজন ইমাম, প্রখ্যাত মনীষী এবং শায়খুল ইসলামদের অন্যতম। ইমাম আহমাদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "আমি তাঁর চেয়ে অধিক সুন্নাহ বিশেষজ্ঞ আর কাউকে দেখিনি।"

দেখুন: যাহাবীর তাযকিরাতুল হুফফাজ ১/২৬২; আরও দেখুন তাঁর জীবনী: তাহযীবুত তাহযীব ৪/১১৭, মীযানুল ইতিদাল ২/১৭০ এবং ওফায়াতুল আইয়ান ২/৩৯৩।