(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: -)
نصب المجانيق لنسف قصة الغرانيق القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: نصب المجانيق لنسف قصة الغرانيق
المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)
الناشر: المكتب الإسلامي
الطبعة: الطبعة الثالثة: 1417هـ - 1996م
عدد الصفحات: 72
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
গারানিকের কিচ্ছা ধূলিসাৎ করার লক্ষ্যে মিনজানিক স্থাপন বিভাগ: হাদীসের উৎস নির্ণয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রসমূহ
গ্রন্থ: গারানিকের কিচ্ছা ধূলিসাৎ করার লক্ষ্যে মিনজানিক স্থাপন
লেখক: আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন ইবনুল হাজ্জ নূহ ইবনে নাজাতী ইবনে আদম আল-আশকুন্দরী আল-আলবানী (মৃত্যু ১৪২০ হিজরী)
প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামী
সংস্করণ: তৃতীয় সংস্করণ: ১৪১৭ হিজরী - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭২
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمات
المقدمة وسبب تاليف الرسالة…بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة:
الحمد لله الذي اصطفى نبينا على سائر البشر، وعصمه من الشيطان أن يوحي إليه بشرِّ، فقال تعالى مخاطبًا إبليس اللعين: {إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ إِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغَاوِينَ} [الحجر: 42] ، بل جعل تعالى له السلطة على شيطانه القرين، فكيف من كان عنه من المبعدين؟. كما أشار إلى ذلك قول رسوله الكريم: "ما منكم من أحد إلا وقد وكل به قرينه من الجن" قالوا: وإياك يا رسول الله؟ قال: "وإياي، إلا أن الله أعانني عليه فأسلم، فلا يأمرني إلا بخير"1. وصلى الله على محمد الذي مكنه الله تعالى من إبليس حتى كاد أن يخنقه، وهَمّ أن يربطه بسارية من سواري مسجد المدينة2 وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهديه إلى يوم الدين.
وبعد؛ فقد كتب إلي بتاريخ 14/ 7/ 1952م بعض الأساتذة
--------------------------------------------
ভূমিকাসমূহ
ভূমিকা এবং রিসালাহ রচনার কারণ…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের নবীকে সমস্ত মানুষের মধ্য থেকে মনোনীত করেছেন এবং শয়তান যাতে তাঁকে কোনো মন্দের কুমন্ত্রণা দিতে না পারে সেজন্য তাকে শয়তান থেকে হেফাযত করেছেন। অতঃপর মহান আল্লাহ অভিশপ্ত ইবলিসকে সম্বোধন করে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের উপর তোমার কোনো আধিপত্য নেই; কেবল তাদের ছাড়া যারা পথভ্রষ্ট হয়ে তোমার অনুসরণ করবে} [হিজর: ৪২]। বরং আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর সঙ্গী (কারিন) শয়তানের উপর কর্তৃত্ব দান করেছেন; সুতরাং যে শয়তান তাঁর থেকে দূরে অবস্থান করে তার অবস্থা তো বলাই বাহুল্য। যেমনটি তাঁর সম্মানিত রাসূলের এই বাণী দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে: "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার সাথে একজন জিন্ন সঙ্গী নিযুক্ত করে দেওয়া হয়নি।" তারা জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সাথেও কি?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আমার সাথেও; তবে আল্লাহ তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করেছেন ফলে সে আত্মসমর্পণ করেছে, তাই সে আমাকে কল্যাণ ছাড়া অন্য কিছুর আদেশ দেয় না"১। এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক মুহাম্মাদের ওপর, যাকে আল্লাহ তাআলা ইবলিসের ওপর এমন শক্তি দিয়েছিলেন যে তিনি তাকে প্রায় শ্বাসরোধ করে ফেলেছিলেন এবং তাকে মদীনার মসজিদের খুঁটিগুলোর একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখার সংকল্প করেছিলেন২ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হিদায়াত অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
অতঃপর; ১৪/৭/১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে জনৈক শিক্ষক আমার নিকট লিখেছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ৪)
من الإخوان الأعزة من الباكستان -حيث أُوفد إليها لغاية علمية- يسألني عن رأيي في حديث الغرانيق الذي اختلف فيه قول حافظين كبيرين، هما: ابن كثير الدمشقي، وابن حجر المصري، فقد أنكره الأول وقواه الآخر. وطلب مني أن لا أضن بالجواب عليه، فلبثت بعض الأشهر أترقب فرصة أستطيع فيها إجابة طلبه. ثم لقيني أحد الأحبة عقب صلاة عيد الأضحى لهذه السنة -1371هـ- فسألني أيضًا عن حديث الغرانيق، فأجبته بأنه لا يصح، بل هو باطل موضوع، فذكر لي أن أحد الشباب ممن في قلوبهم مرض احتج به على أن النبي صلى الله عليه وسلم كان -وحاشاه- يتكلم بما يرضي المشركين جذبًا لهم إليه، لأنه بزعمه الباطل لم يكن نبيًا صادقًا، وإنما كان يتظاهر بذلك تَرَؤُسًا عليهم كما يهرف بذلك بعض الملاحدة قديمًا وحديثًا، فحملني ذلك على أن أغتنم فرصة العيد المذكور، فشرعت -متوكلًا على الله الغفور- في جمع طرق تلك القصة من كتب التفسير والحديث، وبينت عللها متنًا وسندًا، ثم ذكرت قول الحافظ ابن حجر في تقويتها، وتعقبته بما يبين وَهْيَ ما ذهب إليه، ثم عقّبت على ذلك بذكر بعض البحوث والنقول عن بعض الأئمة الفحول ذوي التحقيق في الفروع والأصول، تؤيد ما ذهبنا إليه من نكارة القصة وبطلانها، ووجوب رفضها، وعدم قبولها، تصديقًا لقوله تعالى: {لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ وَتُسَبِّحُوهُ
পাকিস্তানের জনৈক প্রিয় ভাই—যেখানে আমাকে একটি তাত্ত্বিক উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল—তিনি আমাকে 'গারানিক' সংক্রান্ত হাদিস সম্পর্কে আমার অভিমত জিজ্ঞাসা করেছেন। এই বিষয়ে দুই মহান হাফিযের বক্তব্যে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়, তাঁরা হলেন: দামেশকের ইবনে কাসির এবং মিশরের ইবনে হাজার। প্রথমজন এটি অস্বীকার করেছেন এবং দ্বিতীয়জন একে শক্তিশালী বলে মত দিয়েছেন। তিনি আমার নিকট অনুরোধ করেছিলেন যেন আমি এর উত্তর দিতে কার্পণ্য না করি, তাই আমি কয়েক মাস এমন একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম যখন আমি তাঁর অনুরোধের উত্তর দিতে সমর্থ হই। অতঃপর এই বছরের—১৩৭১ হিজরি—ঈদুল আযহার নামাজের পর আমার এক প্রিয়জনের সাথে সাক্ষাৎ হলো, তিনিও আমাকে 'গারানিক' এর হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। আমি তাঁকে উত্তর দিলাম যে এটি বিশুদ্ধ নয়, বরং এটি বাতিল ও জাল। তখন তিনি আমাকে জানালেন যে, অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এমন এক যুবক একে দলিল হিসেবে পেশ করে দাবি করেছে যে—আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুশরিকদের আকৃষ্ট করার জন্য তাঁদের সন্তুষ্টি অনুযায়ী কথা বলতেন। কারণ তার বাতিল ধারণা অনুযায়ী তিনি সত্য নবী ছিলেন না, বরং তাঁদের ওপর নেতৃত্ব লাভের উদ্দেশ্যে তিনি নবুওয়াতের ভান করতেন; যেমনটি অতীত ও বর্তমানের কিছু নাস্তিক প্রলাপ বকে থাকে। এই বিষয়টি আমাকে উক্ত ঈদের সুযোগটিকে কাজে লাগাতে উদ্বুদ্ধ করল। অতঃপর আমি ক্ষমাশীল আল্লাহর ওপর ভরসা করে তাফসির ও হাদিসের কিতাবসমূহ হতে ওই কাহিনীর সূত্রগুলো সংগ্রহ করতে শুরু করলাম এবং এর মূল পাঠ ও সনদগত ত্রুটিসমূহ বর্ণনা করলাম। এরপর আমি হাফিয ইবনে হাজারের একে শক্তিশালী করার সপক্ষে প্রদত্ত বক্তব্য উল্লেখ করেছি এবং তাঁর অবলম্বিত মতের দুর্বলতা স্পষ্টকারী পর্যালোচনা পেশ করেছি। এরপর আমি এর অনুবর্তী হিসেবে ফروع ও উসুল শাস্ত্রে পারদর্শী এবং সুগভীর গবেষণার অধিকারী কতিপয় শ্রেষ্ঠ ইমামদের থেকে কিছু গবেষণা ও উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছি, যা এই কাহিনীর অসারতা ও বাতুলতা এবং এটি প্রত্যাখ্যান করা ও গ্রহণ না করার আবশ্যকতা সম্পর্কে আমাদের অভিমতকে সমর্থন করে; মহান আল্লাহর এই বাণীর সত্যতা প্রমাণস্বরূপ: {যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনো এবং তাঁকে সাহায্য করো ও তাঁকে সম্মান করো এবং তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো...}
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ৫)
بُكْرَةً وَأَصِيلًا} [الفتح: 9] ، فجاءت رسالة فريدة في بابها، قوية في موضوعها، ترفع حيرة الأخ المؤمن، وتطيح بشبهة الملحد الأرعن، وقد سميتها:
"نصب المجانيق لنسف قصة الغرانيق" أسأل الله تعالى أن يجعلها خالصة لوجهه، ويقبلها مني نصرة لنبيه، ويدّخر لي ثوابها ليوم أحْوَجُ ما نكون فيه إلى شفاعته، {يَوْمَ لا يَنْفَعُ مَالٌ وَلا بَنُونَ، إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ} [الشعراء: 88-89] إنه هو السميع العليم، والبر الرحيم.
دمشق في: 2 - 1 - 1372 هـ - 21 - 9 - 1952م
محمد ناصر الدين الألباني
{সকালে ও সন্ধ্যায়} [আল-ফাতহ: ৯], ফলশ্রুতিতে নিজ আঙ্গিকে অনন্য ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে শক্তিশালী এক পুস্তিকা তৈরি হলো, যা মুমিন ভাইয়ের দ্বিধা দূর করে এবং নির্বোধ নাস্তিকের সংশয়কে বিনাশ করে। আমি এর নামকরণ করেছি:
"গারানীক কাহিনী ধূলিসাৎ করার লক্ষ্যে মিনজানীক বা ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন" আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে তিনি যেন একে তাঁর চেহারার (সন্তুষ্টির) জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং তাঁর নবীর সাহায্যের উপকরণ হিসেবে এটি আমার পক্ষ থেকে কবুল করেন; আর এর প্রতিদান যেন সেই দিনের জন্য সঞ্চিত রাখেন যখন আমরা তাঁর সুপারিশের অত্যন্ত মুখাপেক্ষী হব, {যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সে ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে} [আশ-শুআরা: ৮৮-৮৯]। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা, পরম হিতৈষী ও দয়ালু।
দামেস্ক: ২ - ১ - ১৩৭২ হিজরি - ২১ - ৯ - ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ
মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ৭)
بين يدي الروايات وتفسير قوله تعالى {إِلَّا إِذَا تَمَنَّى أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ}…بين يدي الروايات:
وقبل أن أشرع في سَوق روايات القصة، أرى أنه لا بد من أن نذكر كلمة، تتميمًا لفائدة الرسالة، فأقول:
إن هذه القصة قد ذكرها المفسرون عند قوله تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلا نَبِيٍّ إِلَّا إِذَا تَمَنَّى أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ فَيَنْسَخُ اللَّهُ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ ثُمَّ يُحْكِمُ اللَّهُ آيَاتِهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ، لِيَجْعَلَ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ فِتْنَةً لِلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ وَالْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمْ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ، وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَيُؤْمِنُوا بِهِ فَتُخْبِتَ لَهُ قُلُوبُهُمْ وَإِنَّ اللَّهَ لَهَادِ الَّذِينَ آمَنُوا إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [الحج: 52-45] .
وقد اختلفوا في تفسير قوله تعالى: {تَمَنَّى} و {أُمْنِيَّتِهِ} ، وأحسن ما قيل في ذلك: إن {تَمَنَّى} من "الأمنية" وهي التلاوة، كما قال الشاعر في عثمان رضي الله عنه حين قتل:
تمنى كتاب الله أول ليلة
… وآخرها لاقى حِمام المقادر
وعليه جمهور المفسرين والمحققين، وحكاه ابن كثير عن أكثر
বর্ণনাগুলোর ভূমিকা এবং মহান আল্লাহর বাণীর তাফসির: {তবে যখনই তিনি তিলাওয়াত করতেন, শয়তান তার তিলাওয়াতের মাঝে কিছু নিক্ষেপ করত}…বর্ণনাগুলোর ভূমিকা:
গল্পটির বর্ণনাগুলো উপস্থাপন করার আগে, আমি মনে করি যে এই রিসালার উপযোগিতা পূর্ণ করার লক্ষ্যে একটি কথা উল্লেখ করা আবশ্যক, আমি বলছি:
নিশ্চয়ই মুফাসসিরগণ এই কাহিনীটি মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসিরের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন: {আমি তোমার পূর্বে এমন কোনো রাসুল বা নবী প্রেরণ করিনি, তবে যখনই তিনি তিলাওয়াত করতেন, শয়তান তার তিলাওয়াতের মাঝে কিছু নিক্ষেপ করত। এরপর শয়তান যা নিক্ষেপ করে আল্লাহ তা মিটিয়ে দেন, অতঃপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। যাতে তিনি শয়তানের নিক্ষিপ্ত বিষয়কে তাদের জন্য ফিতনা (পরীক্ষা) বানান যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যাদের অন্তর কঠোর, আর নিশ্চয়ই জালিমরা ঘোর বিরোধিতায় লিপ্ত। আর যাতে জ্ঞানপ্রাপ্তরা জানতে পারে যে, এটি তোমার রবের পক্ষ থেকে আসা সত্য, ফলে তারা যেন এতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর যেন তাঁর প্রতি বিনীত হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন} [আল-হজ্জ: ৫২-৫৪] ।
আর মহান আল্লাহর বাণী {তামান্না} এবং {উমনিইয়াতিহি}-এর ব্যাখ্যায় তাঁরা মতবিরোধ করেছেন। এ বিষয়ে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট কথা হলো: {তামান্না} শব্দটি ‘আল-উমনিইয়া’ থেকে আগত যার অর্থ হলো ‘তিলাওয়াত’ (পাঠ করা), যেমনটি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন নিহত হন তখন তাঁর সম্পর্কে কবি বলেছিলেন:
তিনি রাতের প্রথমাংশে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করেছিলেন
… আর রাতের শেষাংশে তকদিরে নির্ধারিত মৃত্যুর মুখোমুখি হলেন
আর অধিকাংশ মুফাসসির ও গবেষক এই মতের উপরেই রয়েছেন এবং ইবনে কাসীর একে অধিকাংশের মত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ৮)
المفسرين، بل عزاه ابن القيم إلى السلف قاطبة فقال في "إغاثة اللهفان1: 1/ 93":
"والسلف كلهم على أن المعنى إذا تلا ألقى الشيطان في تلاوته" وبيّنه القرطبي فقال في "تفسيره: 12/ 83": وقد قال سليمان بن حرب: إن {فِي} بمعنى: عند، أي ألقى الشيطان في قلوب الكفار عند تلاوة النبي صلى الله عليه وسلم كقوله عز وجل: {وَلَبِثْتَ فِينَا} [الشعراء: 18] ، أي عندنا، وهذا هو معنى ما حكاه ابن عطية عن أبيه عن علماء الشرق، وإليه أشار القاضي أبو بكر بن العربي.
قلت: وكلام أبي بكر سيأتي في محله إن شاء الله تعالى، وهذا الذي ذكرناه من المعنى في تفسير الآية، هو اختيار الإمام ابن جرير، حيث قال بعد ما رواه عن جماعة من السلف [17/ 121] : "وهذا القول أشبه بتأويل الكلام، بدلالة قوله تعالى: {فَيَنْسَخُ اللَّهُ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ ثُمَّ يُحْكِمُ اللَّهُ آيَاتِهِ} [الحج: 52] على ذلك، لأن الآيات التي أخبر الله جل ثناؤه أنه يحكمها لا شك أنها آيات تنزيله، فمعلوم بذلك أن الذي ألقى فيه الشيطان، هو ما أخبر تعالى ذكره أنه نَسَخ ذلك منه وأبطله ثم أحكمه بنسخه
--------------------------------------------
মুফাসসিরগণের নিকট, বরং ইবনুল কাইয়্যিম একে সকল সালাফদের অভিমত বলে উল্লেখ করেছেন, তিনি "ইগাসাতুল লাহফান ১: ১/ ৯৩"-এ বলেছেন:
"এবং সালাফগণ সকলেই এই বিষয়ের ওপর একমত যে, এর অর্থ হলো—যখন তিনি তিলাওয়াত করতেন, তখন শয়তান তাঁর তিলাওয়াতের মধ্যে (ভ্রান্তি) নিক্ষেপ করত।" এবং কুরতুবী এটি স্পষ্ট করে তাঁর "তাফসীর: ১২/ ৮৩"-এ বলেছেন: সুলাইমান বিন হারব বলেছেন: নিশ্চয়ই {ফী (মধ্যে)} শব্দটি 'নিকটে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তিলাওয়াতের সময় শয়তান কাফেরদের অন্তরে (কুপ্ররোচনা) নিক্ষেপ করত; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি আমাদের মধ্যে অবস্থান করেছেন} [আশ-শুআরা: ১৮], অর্থাৎ আমাদের নিকট। এটিই ইবনে আতিয়্যাহ তাঁর পিতার মাধ্যমে প্রাচ্যের আলেমদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন তার অর্থ, এবং কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবীও এর দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
আমি বলছি: আবু বকরের কথা ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে আসবে। এই আয়াতের তাফসীরে আমরা যে অর্থ উল্লেখ করেছি, সেটিই ইমাম ইবনে জারীরের মনোনীত মত। তিনি একদল সালাফ থেকে বর্ণনা করার পর [১৭/ ১২১] বলেছেন: "এই কথাটিই বাণীর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অধিক সদৃশ, কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর শয়তান যা নিক্ষেপ করে আল্লাহ তা বিদূরিত করেন, এরপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন} [আল-হাজ্জ: ৫২] এর প্রমাণ দেয়। কেননা মহান আল্লাহ যে আয়াতসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করার কথা জানিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে তাঁর নাযিলকৃত আয়াত। ফলে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, শয়তান যাতে (ভ্রান্তি) নিক্ষেপ করেছিল, সেটিই ছিল যা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি তা মিটিয়ে দিয়েছেন ও বাতিল করেছেন এবং পরবর্তীতে তা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ৯)
ذلك، فتأمل الكلام إذن: وما أرسلنا من قبلك من رسول ولا نبي إلا إذا تلا كتاب الله وقرأ أو حدّث وتكلم، ألقى الشيطان في كتاب الله الذي تلاه وقرأه، أو في حديثه الذي حدّث وتكلم، فينسخ الله ما يلقي الشيطان بقوله تعالى: فيُذْهِب الله ما يلقي الشيطان من ذلك، على لسان نبيه ويبطله.
هذا هو المعنى المراد من هذه الآية الكريمة، وهي كما ترى ليس فيها إلا أن الشيطان يلقي عند تلاوة النبي صلى الله عليه وسلم ما يفتتن به الذين في قلوبهم مرض، ولكن أعداء الدين الذين قعدوا له في كل طريق، وترصدوا له عند كل مرصد، لا يرضيهم إلا أن يدسوا فيه ما ليس منه، ولم يقله رسوله، فذكروا ما ستراه في الروايات الآتية، مما لا يليق بمقام النبوة والرسالة، وذلك دَيْدَنهم منذ القديم، كما فعلوا في غير ما آية وردت في غيره صلى الله عليه وسلم من الأنبياء، كداود، وسليمان، ويوسف عليهم الصلاة والسلام، فرووا في تفسيرها من الإسرائيليات ما لا يجوز نسبته إلى رجل مسلم فضلًا عن نبي مُكَرَّم. كما هو مبين في محله من كتب التفاسير والقصص.
فَحذارِ أيها المسلم أن تغتر بشيء منها فتكون من الهالكين، و "دع ما يريبك إلى ما لا يريبك" كما قال نبيك صلى الله عليه وسلم، {وَإِنَّ اللَّهَ لَهَادِ الَّذِينَ آمَنُوا إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [الحج: 54] .
অতএব, এই কথাটি গভীরভাবে অনুধাবন করুন: আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রসূল বা নবী পাঠাইনি, যারা যখনই আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করতেন ও পাঠ করতেন অথবা কোনো কথা বলতেন ও আলোচনা করতেন, শয়তান তখন সেই আল্লাহর কিতাবে যা তিনি তিলাওয়াত ও পাঠ করেছেন, অথবা তার সেই বক্তব্যে যা তিনি আলোচনা ও ব্যক্ত করেছেন, তাতে কিছু (সংশয় বা বিভ্রান্তি) নিক্ষেপ করত। অতঃপর আল্লাহ শয়তানের নিক্ষিপ্ত বিষয়কে রহিত করে দেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর নবীর যবানের মাধ্যমে শয়তানের নিক্ষিপ্ত সেই বিষয়কে দূরীভূত করেন এবং তা বাতিল করে দেন।
এই মহিমান্বিত আয়াতের উদ্দিষ্ট অর্থ এটাই। আর আপনি যেমনটি দেখছেন, এতে কেবল এটাই বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তিলাওয়াত করেন, তখন শয়তান এমন কিছু নিক্ষেপ করে যার দ্বারা ঐ সমস্ত লোক ফিতনায় পড়ে যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। কিন্তু দ্বীনের শত্রুরা, যারা প্রতিটি পথে ধর্মের বিরুদ্ধে ওঁত পেতে বসে থাকে এবং প্রতিটি মোড়ে ওৎ পেতে থাকে, তারা এতে এমন কিছু প্রবিষ্ট না করা পর্যন্ত ক্ষান্ত হয় না যা এর অন্তর্ভুক্ত নয় এবং যা তাঁর রসূল বলেননি। ফলে তারা এমন কিছু উল্লেখ করেছে যা আপনি পরবর্তী বর্ণনাগুলোতে দেখতে পাবেন, যা নবুওয়াত ও রিসালাতের মর্যাদার সাথে মোটেই সংগতিপূর্ণ নয়। আর এটা প্রাচীনকাল থেকেই তাদের চিরন্তন অভ্যাস, যেমনটি তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্যান্য নবীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ বিভিন্ন আয়াতের ক্ষেত্রেও করেছে—যেমন দাউদ, সুলাইমান এবং ইউসুফ আলাইহিমুস সালাতু ওয়াসাল্লাম। তারা এগুলোর তাফসীরে এমন সব ইসরাঈলী বর্ণনা উদ্ধৃত করেছে, যা একজন সাধারণ মুসলিম ব্যক্তির ক্ষেত্রেও আরোপ করা বৈধ নয়, একজন সম্মানিত নবীর ক্ষেত্রে তো অবান্তর। যেমনটি তাফসীর ও ইতিহাসের কিতাবসমূহের স্ব-স্ব স্থানে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
অতএব হে মুসলিম! সাবধান হোন যেন এগুলোর কোনো কিছু দ্বারা প্রতারিত না হন, অন্যথায় আপনি ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। আর "যা আপনাকে সংশয়ে ফেলে তা বর্জন করে যা আপনাকে সংশয়ে ফেলে না তার দিকে ধাবিত হোন," যেমনটি আপনার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। "আর নিশ্চয় আল্লাহ ঈমানদারদেরকে সরল সঠিক পথের দিকে হেদায়েত দান করেন।" [সূরা হজ্জ: ৫৪]
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ১০)
روايات القصة وعِلَلُها
الرواية الأولى…روايات القصة وعِلَلُها:
بعد أن فرغنا من ذكر الفائدة التي وعدنا بها، أعود إلى ذكر روايات القصة التي وقفنا عليها لكي نسردها رواية رواية، ونذكر عقب كل منها ما فيها من علة فأقول:
1- عن سعيد بن جبير قال: لما نزلت هذه الآية: {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى} [النجم: 19] ، قرأها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: "تلك الغرانيق العلى، وإن شفاعتهن لترجى" فسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال المشركون: إنه لم يذكر آلهتهم قبل اليوم بخير، فسجد المشركون معه، فأنزل الله: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ..} [الحج: 52] إلى قوله: {عَذَابُ يَوْمٍ عَقِيمٍ} [الحج: 55] .
أخرجه ابن جرير "17/ 120" من طريقين عن شعبة عن أبي بشر عنه، وهو صحيح الإسناد إلى ابن جبير، كما قال الحافظ على ما يأتي عنه، وتبعه السيوطي في "الدر المنثور: 4/ 366"، وعزاه لابن المنذر أيضًا وابن مردويه بعد ما ساقه نحوه بلفظ: "ألقى الشيطان على لسانه: تلك الغرانيق العلى" الحديث، وفيه:
কাহিনীর বর্ণনাগুলো এবং সেগুলোর ত্রুটিসমূহপ্রথম বর্ণনা...কাহিনীর বর্ণনাগুলো এবং সেগুলোর ত্রুটিসমূহ:
আমরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উপকারিতা উল্লেখ করার কাজ শেষ করার পর, এখন আমি কাহিনীটির সেই বর্ণনাগুলোর দিকে ফিরে যাচ্ছি যা আমরা অবগত হয়েছি, যাতে আমরা সেগুলো একে একে বর্ণনা করতে পারি এবং প্রত্যেকটি বর্ণনার শেষে তাতে বিদ্যমান ত্রুটি উল্লেখ করতে পারি। সুতরাং আমি বলছি:
১- সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন এই আয়াতটি নাযিল হলো: {তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উযযা সম্পর্কে?} [আন-নাজম: ১৯], তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি পাঠ করলেন এবং বললেন: "এগুলো হলো উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ‘গারানিক’, এবং নিশ্চয়ই তাদের সুপারিশ আশা করা যায়।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদাহ করলেন। এতে মুশরিকরা বলল: "আজকের আগে তিনি আমাদের উপাস্যদের সম্পর্কে কখনো ভালো কিছু বলেননি।" ফলে মুশরিকরাও তাঁর সাথে সিজদাহ করল। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: {আমি তোমার পূর্বে এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি...} [আল-হাজ্জ: ৫২] থেকে আল্লাহর বাণী: {একটি বন্ধ্যা দিবসের আযাব} [আল-হাজ্জ: ৫৫] পর্যন্ত।
ইবনে জারীর (১৭/১২০) এটি শু'বাহ থেকে, তিনি আবু বিশর থেকে, তিনি তাঁর (সাঈদ ইবনে জুবায়ের) থেকে—এই সূত্রে দুটি পথে এটি বের করেছেন। হাফিয (ইবনে হাজার) তাঁর থেকে আগত বক্তব্য অনুযায়ী যেমনটি বলেছেন, সাঈদ ইবনে জুবায়ের পর্যন্ত এর সনদটি সহীহ। সুয়ূতীও "আদ-দুররুল মানসূর: ৪/৩৬৬"-এ তাঁর অনুসরণ করেছেন। এছাড়া তিনি এটি ইবনে মুনযির এবং ইবনে মারদুওয়াইহ-এর দিকেও সম্বন্ধ করেছেন, যখন তিনি অনুরূপভাবে এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন: "শয়তান তাঁর জিহ্বায় নিক্ষেপ করল: এগুলো হলো উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন গারানিক" হাদীসটি শেষ পর্যন্ত, এবং এতে রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ১১)
ثم جاءه جبريل بعد ذلك، قال: إعرض علَّي ما جئتك به، فلما بلغ: "تلك الغرانيق العلى، وإن شفاعتهن لترجى" قال جبريل: لم آتك بهذا، هذا من الشيطان! فأنزل الله: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلا نَبِيٍّ} [الحج: 52] . وهكذا أخرجه الواحدي في "أسباب النزول" من طريق أخرى عن سعيد بن حسن، كما سيأتي.
وقد روي موصولًا عن سعيد، ولا يصح:
رواه البزار1 في "مسنده" عن يوسف بن حماد عن أمية بن خالد، عن شعبة، عن أبي بشر، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس -فيما أحسبه، الشك في الحديث- أن النبي صلى الله عليه وسلم قرأ بمكة سورة "النجم" حتى انتهى إلى قوله: {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى} [النجم: 19] ، وذكر بقيته، ثم قال البزار:
--------------------------------------------
এরপর জিবরাঈল তাঁর কাছে আসলেন এবং বললেন: "আমি আপনার কাছে যা নিয়ে এসেছি তা আমার সামনে পেশ করুন।" যখন তিনি "এগুলো সুউচ্চ শ্বেতপাখি, আর নিশ্চয়ই তাদের সুপারিশ আশা করা যায়" এ পর্যন্ত পৌঁছালেন, তখন জিবরাঈল বললেন: "আমি আপনার কাছে এটি নিয়ে আসিনি, এটি শয়তানের পক্ষ থেকে!" তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: "আমি আপনার পূর্বে এমন কোনো রাসূল বা নবী পাঠাইনি..." [আল-হাজ্জ: ৫২]। এভাবেই আল-ওয়াহিদি তাঁর "আসবাবুন নুযুল" গ্রন্থে সাঈদ ইবনে হাসান থেকে অন্য এক সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, যা সামনে আসবে।
সাঈদ থেকে এটি সংযুক্ত সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তবে তা বিশুদ্ধ নয়:
আল-বাযযার তাঁর "মুসনাদ"-এ ইউসুফ ইবনে হাম্মাদ থেকে, তিনি উমাইয়া ইবনে খালিদ থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি আবু বিশর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন— বর্ণনাকারীর ধারণা মতে, তবে হাদিসটির ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে— যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় সূরা "আন-নাজম" পাঠ করেছিলেন, এমনকি যখন তিনি "তোমরা কি আল-লাত ও আল-উযযা সম্পর্কে ভেবে দেখেছ?" [আন-নাজম: ১৯] এই আয়াত পর্যন্ত পৌঁছালেন, এরপর তিনি বাকি অংশ উল্লেখ করলেন। অতঃপর আল-বাযযার বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ১২)
"لا نعلمه يروى متصلًا إلا بهذا الإسناد، تفرد بوصله أمية بن خالد وهو ثقة مشهور، وإنما يروي هذا من طريق الكلبي عن أبي صالح، عن ابن عباس" كذا في "تفسير ابن كثير: 3/ 129".
وعزا الحافظ في "تخريج الكشاف: 4/ 144" هذه الرواية "للبزار، والطبري، وابن مردويه" وعزوه للطبري سهو، فإنها ليست في تفسيره فيما علمت -إلا إنْ كان يعني غير التفسير من كتبه، وما أظن يريد ذلك، ويؤيدني أن السيوطي في "الدر" عزاها لجميع هؤلاء إلا الطبري، إلا أن السيوطي أوهم أيضًا حيث قال عطفًا على ما ذكر: والضياء في "المختارة" بسند رجاله ثقات، من طريق سعيد بن جبير، عن ابن عباس قال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ، فذكر الحديث مثل الرواية المرسلة التي نقلناها آنفًا عن الدر نفسه، ومحل الإيهام هو قوله: "بسند رجاله ثقات" بالإضافة إلى أنه أخرجه الضياء في "المختارة" فإن ذلك يوهم أنه ليس بمعلول، وهذا خلاف الواقع، فإنه معلول بتردد الراوي في وصله كما نقلناه عن "تفسير ابن كثير" وكذلك هو في "تخريج الكشاف" وغيره، وهذا ما لم يرد ذِكرُه في سياق السيوطي، ولا أدري أذلك اختصارًا منه، أم من بعض مخرجي
"আমরা এটি এই সনদ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে মুত্তাসিল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে বলে জানি না; উমাইয়াহ ইবনে খালিদ এটি মুত্তাসিল করার ক্ষেত্রে এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একজন প্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। তবে এটি কেবল কালবী-র সূত্রে আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।" ‘তাফসিরে ইবনে কাসির: ৩/১২৯’-এ এভাবেই রয়েছে।
হাফেজ (ইবনে হাজার) ‘তাখরিজুল কাশশাফ: ৪/১৪৪’-এ এই বর্ণনাটিকে ‘বাযযার, তাবারী এবং ইবনে মারদুওয়াহ’-এর দিকে নিসবত করেছেন। আর তাবারীর প্রতি তাঁর এই নিসবত করাটি একটি ভুল; কারণ আমার জানামতে এটি তাঁর তাফসিরে নেই—যদি না তিনি তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে তাফসির ব্যতীত অন্য কোনো গ্রন্থ বুঝিয়ে থাকেন, তবে তিনি সেটি বুঝিয়েছেন বলে আমি মনে করি না। আর আমার এই মতকে সমর্থন যোগায় যে, সুয়ূতী ‘আদ-দুরর’ গ্রন্থে তাবারী ব্যতীত তাঁদের সকলের দিকেই এটি নিসবত করেছেন। তবে সুয়ূতীও এখানে অস্পষ্টতা তৈরি করেছেন যখন তিনি উল্লিখিত বিষয়ের সাথে যুক্ত করে বলেছেন: যিয়া (আল-মাকদিসী) ‘আল-মুখতারা’-তে এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, যা সাঈদ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন, অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন ঠিক সেই মুরসাল বর্ণনার মতো যা আমরা ইতিপূর্বে ‘আদ-দুরর’ থেকেই উদ্ধৃত করেছি। আর অস্পষ্টতার ক্ষেত্রটি হলো তাঁর উক্তি: "এমন এক সনদে যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য", এর পাশাপাশি এটি যিয়া কর্তৃক ‘আল-মুখতারা’-তে সংকলিত হওয়া; কারণ এটি এই বিভ্রান্তি তৈরি করে যে বর্ণনাটি ত্রুটিযুক্ত (মালূল) নয়, অথচ বিষয়টি বাস্তবের পরিপন্থী। কারণ এটি বর্ণনাকারী কর্তৃক সনদটিকে মুত্তাসিল করার ক্ষেত্রে দোদুল্যমানতার কারণে ত্রুটিযুক্ত, যেমনটি আমরা ‘তাফসিরে ইবনে কাসির’ থেকে উদ্ধৃত করেছি। একইভাবে এটি ‘তাখরিজুল কাশশাফ’ এবং অন্যান্য গ্রন্থেও রয়েছে। আর এই বিষয়টি সুয়ূতীর বর্ণনার প্রেক্ষাপটে আসেনি। আমি জানি না এটি কি তাঁর পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্তকরণের কারণে হয়েছে, নাকি কোনো হাদিস সংকলনকারীর পক্ষ থেকে হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الحديث؟ 1 وأيًا ما كان، فما كان يليق بالسيوطي أن يغفل هذه العلة، لا سيما وقد صرح بما يشعر أن الإسناد صحيح، وفيه من التغرير ما لا يخفى، فإن الشك لا يوثق به، ولا حقيقة فيه، كما قال القاضي عياض في "الشفاء: 2/ 118" وأقره الحافظ في "التخريج" لكنه قال عقب ذلك:
"ورواه الطبري من طريق سعيد بن جبير مرسلًا، وأخرجه ابن مردويه من طريق أبي عاصم النبيل، عن عثمان بن الأسود، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس نحوه، ولم يشك في وصله، وهذا أصح طرق الحديث. قال البزار
… ".
قلت: وقد نقلنا كلام البزار آنفًا، ثم ذكر الحافظ المراسيل الآتية، ثم قال: "فهذه مراسيل يقوي بعضها بعضًا".
قلت: وفي عبارة الحافظ شيء من التشويش، ولا أدري أذلك منه، أم من النساخ؟ وهو أغلب الظن، وذلك لأن قوله: "وهذا أصح طرق هذا الحديث" إن حملناه على أقرب مذكور، وهو طريق ابن مردويه الموصول كما هو المتبادر، منعنا من ذلك أمور:
--------------------------------------------
হাদিসটি কি? ১ যাই হোক না কেন, সুয়ূতির পক্ষে এই ত্রুটিটি (ইল্লাত) উপেক্ষা করা সমীচীন হয়নি, বিশেষ করে যেহেতু তিনি এমনভাবে ব্যক্ত করেছেন যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে এর সনদটি সহীহ। আর এর মধ্যে যে বিভ্রান্তি রয়েছে তা অস্পষ্ট নয়; কেননা সংশয়ের ওপর নির্ভর করা যায় না এবং এতে কোনো বাস্তবতা নেই, যেমনটি কাজী ইয়াজ তাঁর 'আশ-শিফা' (২/১১৮) গ্রন্থে বলেছেন এবং আল-হাফিয 'আত-তাখরিজ' গ্রন্থে তা সমর্থন করেছেন। কিন্তু তিনি এর পরপরই বলেছেন:
"তাবারী এটি সাঈদ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে মারদুওয়াইহ এটি আবু আসিম আন-নাবীল-এর সূত্রে উসমান ইবনে আসওয়াদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর তিনি এর নিরবচ্ছিন্নতার (সনদ সংযুক্ত হওয়ার) ব্যাপারে কোনো সন্দেহ পোষণ করেননি। আর এটিই এই হাদিসের বিশুদ্ধতম সূত্র। আল-বাযযার বলেন
… "।
আমি (লেখক) বলছি: আমরা আল-বাযযারের বক্তব্য ইতিপূর্বেই উদ্ধৃত করেছি। এরপর আল-হাফিয পরবর্তী মুরসাল বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছেন এবং এরপর বলেছেন: "সুতরাং এগুলো এমন সব মুরসাল বর্ণনা যা একে অপরকে শক্তিশালী করে"।
আমি বলছি: আল-হাফিযের বক্তব্যে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে; আমি জানি না এটি তাঁর পক্ষ থেকে ঘটেছে নাকি অনুলিপিকারকদের পক্ষ থেকে? আর এটাই প্রবল ধারণা। কারণ তাঁর উক্তি: "এবং এটিই এই হাদিসের বিশুদ্ধতম সূত্র"—যদি আমরা এটিকে নিকটতম প্রসঙ্গের ওপর প্রয়োগ করি, যা ইবনে মারদুওয়াইহের বর্ণিত মুত্তাসিল (সংযুক্ত) সূত্রটি (যেমনটি আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়), তবে বেশ কিছু বিষয় আমাদের তা থেকে বিরত রাখে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الأول: قول الحافظ عقب ذلك: "فهذه مراسيل يقوي بعضها بعضًا"، فإن فيه إشارة إلى أن ليس هناك إسناد صحيح موصول يعتمد عليه، وإلا لَعرَّج عليه وجعله أصلًا ، وجعل الطريق المرسلة شاهدة ومُقَوية له، ويؤيده الأمر الآتي وهو:
الثاني: وهو أن الحافظ لما رَدّ على القاضي عياض تضعيفه للحديث من طريق إسناد البزار الموصول بسبب الشك، قال الحافظ: "أما ضعفه فلا ضعف فيه أصلًا "قلت: يعني في رواته"، فإن الجميع ثقات، وأما الشك فيه، فقد يجيء تأثيره ولو فردًا غريبًا -كذا- لكن غايته أن يصير مرسلًا، وهو حجة عند عياض وغيره ممن يقبل مرسل الثقة، وهو حجة إذا اعتضد عند من يَرُدّ المرسل، وهو إنما يعتضد بكثرة المتابعات".
فقد سلَّم الحافظ بأن الحديث مُرْسَلٌ، ولكن ذهب إلى تقويته بكثرة الطرق، وسيأتي بيان ما فيه في ردنا عليه قريبًا إن شاء الله تعالى.
فلو كان إسناد ابن مردويه الموصول صحيحًا عند الحافظ، لرد به على القاضي عياض، ولما جعل عمدته في الرد عليه هو كثرة الطرق، وهذا بين لا يخفى.
الثالث: أن الحافظ في كتابه "فتح الباري" لم يُشِرْ أدنى إشارة
প্রথমত: এর পরপরই হাফেজের বক্তব্য: "এগুলো এমন মুরসাল বর্ণনা যা একে অপরকে শক্তিশালী করে," এতে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, সেখানে নির্ভরযোগ্য কোনো সহিহ মুত্তাসিল সনদ নেই। অন্যথায় তিনি সেটির দিকেই প্রত্যাবর্তন করতেন এবং সেটিকে মূল হিসেবে গ্রহণ করতেন, আর মুরসাল পথগুলোকে তার জন্য সাক্ষী ও শক্তিশালীকারী হিসেবে নির্ধারণ করতেন। নিচের বিষয়টিও একে সমর্থন করে, যা হলো:
দ্বিতীয়ত: তা হলো, হাফেজ যখন কাজী ইয়াজের ওপর তাঁর সেই হাদিসকে জয়িফ বলার প্রতিবাদ করেছিলেন যা বাযযারের মুত্তাসিল সনদে সন্দেহের কারণে দুর্বল বলা হয়েছিল, তখন হাফেজ বলেছিলেন: "এর দুর্বলতার ব্যাপারে বলা যায়, এতে মূলত কোনো দুর্বলতা নেই 'আমি বলছি: অর্থাৎ এর বর্ণনাকারীদের মাঝে', কেননা তাঁরা সকলেই নির্ভরযোগ্য। আর এতে যে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে, তার প্রভাব পড়তে পারে যদিও সেটি একক ও গরিব বর্ণনা হয়—এভাবেই—তবে এর চূড়ান্ত অবস্থা হলো এটি মুরসাল হয়ে যাবে। আর এটি কাজী ইয়াজ ও অন্যদের নিকট দলিল যারা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির মুরসাল বর্ণনা গ্রহণ করেন। আবার যারা মুরসাল প্রত্যাখ্যান করেন, তাদের নিকটও এটি দলিল যখন এটি শক্তি লাভ করে; আর এটি মূলত বহু সংখ্যক মুতাবায়াতের (অনুসরণকারী বর্ণনা) মাধ্যমেই শক্তি অর্জন করে।"
হাফেজ এটি মেনে নিয়েছেন যে হাদিসটি মুরসাল, তবে তিনি বহু সূত্রের মাধ্যমে একে শক্তিশালী করার পক্ষে মত দিয়েছেন। এর মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা অচিরেই আমাদের জবাবে ব্যক্ত হবে ইনশাআল্লাহু তায়ালা।
ইবনে মারদুওয়াইয়ের মুত্তাসিল সনদটি যদি হাফেজের নিকট সহিহ হতো, তবে তিনি তা দিয়েই কাজী ইয়াজকে উত্তর দিতেন এবং উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে বহু সূত্রের আধিক্যকে তাঁর মূল ভিত্তি বানাতেন না। আর এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট যা গোপন নয়।
তৃতীয়ত: হাফেজ তাঁর "ফাতহুল বারী" গ্রন্থে সামান্যতম ইঙ্গিতও করেননি...
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
إلى هذه الطريق فلو كان هو أصح طرق الحديث، لذكره بصريح العبارة، ولجعله عمدته في هذا الباب كما سبق.
الرابع: أن من جاء بعده -كالسيوطي وغيره- لم يذكروا هذه الرواية.
فكل هذه الأمور تمنعنا من حمل اسم الإشارة "هذا" على أقرب مذكور، وتضطرنا إلى حمله على البعيد، وهو الطريق الذي قبل هذا، وهو طريق سعيد بن جبير المرسل. وهو الذي اعتمده الحافظ في "الفتح" وجعله أصلًا، وجعل الروايات الأخرى شاهدة له، وقد اقتدينا نحن به، فبدأنا أولًا بذكر رواية ابن جبير هذه، وإن كنا خالفناه في كون هذه الطرق يقوي بعضها بعضًا.
قلت: هذا مع العلم أن القدر المذكور من إسناد ابن مردويه الموصول رجاله ثقات رجال الشيخين، لكن لا بد أن تكون العلة فيمن دون أبي عاصم النبيل، ويقوي ذلك، أعني كون إسناده مُعَلًا أنني رأيت هذه الرواية أخرجها الواحدي في "أسباب النزول": ص 233" من طريق سهل العسكري قال: أخبرني يحيى "قلت: هو القطان" عن عثمان بن الأسود، عن سعيد بن جبير قال: قرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم: {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى، وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى} [النجم: 19-20] ، فألقى الشيطان على لسانه: "تلك الغرانيق العلى وشفاعتهن ترتجى" ففرح بذلك المشركون، وقالوا: قد ذكر آلهتنا، فجاء جبريل عليه السلام إلى
এই সূত্রের প্রতি; যদি এটি হাদিসের সবচেয়ে বিশুদ্ধ সূত্র হতো, তবে তিনি এটি স্পষ্ট শব্দে উল্লেখ করতেন এবং ইতিপূর্বে যেমন অতিক্রান্ত হয়েছে, তেমনি একেই এই অধ্যায়ে নিজের প্রধান দলিল হিসেবে গ্রহণ করতেন।
চতুর্থত: তাঁর পরে যারা এসেছেন—যেমন সুয়ূতী এবং অন্যান্যরা—তাঁরা এই বর্ণনাটি উল্লেখ করেননি।
সুতরাং এই সমস্ত বিষয় আমাদের "এই" (হাযা) ইশারাটিকে নিকটবর্তী উল্লেখিত বিষয়ের দিকে ফেরাতে বাধা দেয় এবং আমাদের একে দূরবর্তী বিষয়ের দিকে ফেরাতে বাধ্য করে; আর তা হলো এর পূর্বের সূত্রটি, অর্থাৎ সাঈদ ইবন জুবাইরের মুরসাল সূত্রটি। আর এটিই হাফেজ (ইবন হাজার) "ফাতহুল বারী"তে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং একে মূল ভিত্তি বানিয়েছেন, আর অন্যান্য বর্ণনাগুলোকে এর সমর্থক বানিয়েছেন। আমরাও তাঁর অনুসরণ করেছি; তাই আমরা প্রথমে ইবন জুবাইরের এই বর্ণনাটি উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করেছি, যদিও আমরা এই সূত্রগুলো একে অপরকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করেছি।
আমি বলছি: এটি এই অবগতির সাথে যে, ইবন মারদুওয়াইহর মুত্তাসিল সনদের উল্লেখিত অংশটুকুর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এবং শাইখায়নের (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনাকারী। কিন্তু অবশ্যই দোষটি আবু আসিম আন-নাবীল-এর পরবর্তী স্তরের কারও মধ্যে হতে হবে। আর তা শক্তিশালী করে—অর্থাৎ তাঁর সনদটি ত্রুটিযুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে—যা আমি দেখেছি যে আল-ওয়াহিদী "আসবাবুন নুযূল" (পৃষ্ঠা: ২৩৩)-এ সাহল আল-আসকারি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাকে ইয়াহইয়া (আমি বলছি: তিনি হলেন আল-কাত্তান) সংবাদ দিয়েছেন উসমান ইবন আল-আসওয়াদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন: "তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উযযা সম্পর্কে? এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?" [আন-নাজম: ১৯-২০]। তখন শয়তান তাঁর জিহ্বায় নিক্ষেপ করল: "এগুলো অতি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন শ্বেতহংসী, আর নিশ্চয়ই তাদের সুপারিশ আশা করা হয়।" এতে মুশরিকরা আনন্দিত হলো এবং বলল: "তিনি আমাদের উপাস্যদের প্রশংসা করেছেন।" অতঃপর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর নিকট আসলেন...
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ১৬)
رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال: إعرض علّي كلام الله، فلما عرض عليه، قال: أما هذا فلم آتك به، هذا من الشيطان، فأنزل الله تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلا نَبِيٍّ} الآية [الحج: 52] .
فرجع الحديث إلى أنه -عن عثمان بن الأسود عن سعيد- مرسل، وهو الصحيح، لموافقته رواية عثمان هذه، رواية أبي بشر عن سعيد.
ثم وقفت على إسناد ابن مردويه ومتنه، بواسطة الضياء المقدسي في "المختارة:60/ 235/ 1" بسنده عنه قال: حدثني إبراهيم بن محمد، حدثني أبو بكر محمد بن علي المقري البغدادي، ثنا جعفر بن محمد الطيالسي، ثنا إبراهيم بن محمد بن عَرْعَرة، ثنا أبو عاصم النبيل، ثنا عثمان بن الأسود، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ: {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى، وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى} [النجم: 19-20] ، "تلك الغرانيق العلى، وشفاعتهن ترتجى"، ففرج المشركون بذلك، وقالوا: قد ذكر آلهتنا فجاءه جبريل، فقال: اقرأ علّي ما جئتك به، قال: فقرأ {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى، وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى} [النجم: 19-20] ، "تلك الغرانيق العلى، وشفاعتهن ترتجى"، فقال: ما أتيتك بهذا، هذا عن الشيطان، أو قال: هذا من الشيطان، لم آتك بها! فأنزل الله
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে (জিবরীল আলাইহিস সালাম) বললেন: আমার কাছে আল্লাহর বাণী পেশ করুন। যখন তিনি তাঁর কাছে তা পেশ করলেন, তখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) বললেন: এটি তো আমি আপনার কাছে নিয়ে আসিনি, এটি শয়তানের পক্ষ থেকে। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল কিংবা নবী পাঠাইনি...} আয়াতটি [আল-হজ: ৫২]।
সুতরাং হাদীসটি উসমান ইবনুল আসওয়াদ-সাঈদ-এর সূত্রে 'মুরসাল' হিসেবেই সাব্যস্ত হয়, আর এটিই সঠিক; কারণ উসমানের এই বর্ণনাটি সাঈদ থেকে বর্ণিত আবু বিশরের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এরপর আমি ইবনে মারদুওয়াই-এর সনদ ও মতন (মূল পাঠ) সম্পর্কে অবগত হই আদ-দিয়া আল-মাকদিসী-এর "আল-মুখতারা" (১/২৩৫/৬০) গ্রন্থের মাধ্যমে, তাঁর সনদে তিনি বলেন: ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-মুকরী আল-বাগদাদী আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে মুহাম্মদ আত-তায়ালিসি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আরআরা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আসিম আন-নাবীল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনুল আসওয়াদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠ করলেন: {তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উযযা সম্পর্কে? এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?} [আন-নাজম: ১৯-২০], "এরা তো উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন 'গারানীক' (সত্তা), আর তাদের সুপারিশ অবশ্যই প্রত্যাশিত।" এতে মুশরিকরা আনন্দিত হলো এবং বলল: তিনি আমাদের উপাস্যদের কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর জিবরীল তাঁর কাছে আসলেন এবং বললেন: আমি আপনার কাছে যা নিয়ে এসেছি তা আমাকে পড়ে শোনান। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি পাঠ করলেন: {তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উযযা সম্পর্কে? এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?} [আন-নাজম: ১৯-২০], "এরা তো উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন 'গারানীক', আর তাদের সুপারিশ অবশ্যই প্রত্যাশিত।" তখন তিনি (জিবরীল) বললেন: আমি আপনার কাছে এটি নিয়ে আসিনি, এটি শয়তানের পক্ষ থেকে; অথবা তিনি বললেন: এটি শয়তানের পক্ষ থেকে, আমি আপনার কাছে এটি নিয়ে আসিনি! তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন...
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ১৭)
{وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلا نَبِيٍّ إِلَّا إِذَا تَمَنَّى أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ} إلى آخر الآية".
قلت: وهذا إسناد رجاله كلهم ثقات وكلهم من رجال "التهذيب" إلا من دون ابن عرعرة، ليس فيهم من ينبغي النظر فيه غير أبي بكر محمد بن علي المقري البغدادي، وقد أورده الخطيب في "تاريخ بغداد" فقال "3/ 68–69": "محمد بن علي بن الحسن أبو بكر المقرىء، حدث عن محمود بن خداش، ومحمد بن عمرو، وابن أبي مذعور. روى عنه أحمد بن كامل القاضي، ومحمد بن أحمد بن يحي العطشي" ثم ساق له حديثًا واحدًا وقع فيه مكنًا بـ "أبي حرب"، فلا أدري أهي كنية أخرى له، أم تحرفت على الناسخ أو الطابع، ثم حكى الخطيب عن العطشي أنه قال: "توفي سنة ثلاثمائة"، ولم يذكر فيه جرحًا ولا تعديلًا، فهو مجهول الحال، وهو علة هذا الإسناد الموصول، وهو غير أبي بكر محمد بن إبراهيم بن علي بن عاصم الأصبهاني المشهور بابن المقرىء، الحافظ الثقة، فإنه متأخر عن هذا نحو قرن من الزمان، وهو من شيوخ ابن مردويه مات سنة "381" إحدى وثمانين وثلاثمائة، ووقع في "التذكرة: 3/ 172" "ومائتين" وهو خطأ.
فثبت مما تقدم صواب ما كنا جزمنا به قبل الاطلاع على إسناد ابن مردويه "أن العلة فيه فيمن دون أبي عاصم النبيل".
"আর আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল বা নবী পাঠাইনি, যারা যখনই কিছু আকাঙ্ক্ষা করেছে, শয়তান তাদের সেই আকাঙ্ক্ষায় (কিছু) নিক্ষেপ করেছে" আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
আমি বলছি: এটি এমন একটি সনদ যার বর্ণনাকারীদের সকলেই নির্ভরযোগ্য এবং তারা সকলেই ‘আত-তাহজীব’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত বর্ণনাকারী, তবে ইবনে আরআরার পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারী ব্যতীত। তাদের মধ্যে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-মুকরি আল-বাগদাদী ছাড়া এমন কেউ নেই যার ব্যাপারে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। আল-খতিব ‘তারিখে বাগদাদ’ গ্রন্থে (৩/৬৮-৬৯) তার উল্লেখ করে বলেছেন: "মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান আবু বকর আল-মুকরি; তিনি মাহমুদ ইবনে খিদাশ, মুহাম্মদ ইবনে আমর এবং ইবনে আবি মাযউর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার থেকে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে কামিল আল-কাদি এবং মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-আতাশি।" অতঃপর তিনি তার থেকে একটি মাত্র হাদিস উল্লেখ করেছেন যেখানে তাকে ‘আবু হারব’ উপনামে সম্বোধন করা হয়েছে; আমি জানি না এটি কি তার অন্য কোনো উপনাম, নাকি পাণ্ডুলিপি লেখক বা মুদ্রণকারীর কোনো ভুল। এরপর খতিব আতাশি থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "তিনি তিনশত হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেছেন"। তিনি তার সম্পর্কে কোনো সমালোচনা বা প্রশংসা উল্লেখ করেননি; সুতরাং তার অবস্থা অজ্ঞাত, এবং এটিই এই নিরবচ্ছিন্ন সনদের ত্রুটি। আর তিনি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আলী ইবনে আসিম আল-আসফাহানি নন, যিনি ইবনুল মুকরি হিসেবে প্রসিদ্ধ এবং একজন নির্ভরযোগ্য হাফেজ; কেননা তিনি আলোচ্য ব্যক্তি থেকে প্রায় এক শতাব্দী পরের মানুষ। তিনি ইবনে মারদুওয়াইহ-এর উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি ৩৮১ (তিনশত একাশি) হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। ‘আত-তাযকিরা’ গ্রন্থে (৩/১৭২) "দুইশত" উল্লেখ করা হয়েছে, যা ভুল।
সুতরাং পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে প্রমাণিত হলো যে, ইবনে মারদুওয়াইহ-এর সনদ দেখার পূর্বেই আমরা যে বিষয়ে দৃঢ়মত ব্যক্ত করেছিলাম তা-ই সঠিক, আর তা হলো: "নিশ্চয়ই এই সনদের ত্রুটি আবু আসিম আন-নাবিল-এর পরবর্তী স্তরের কোনো বর্ণনাকারীর মধ্যে রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الرواية الثانية…وازددنا تأكدًا من أن الصواب عن عثمان بن الأسود إنما هو عن سعيد بن جبير مرسلًا كما رواه الواحدي، خلافًا لرواية ابن مردويه عنه.
وبالجملة، فالحديث مرسل، ولا يصح عن سعيد بن جبير موصولًا بوجه من الوجوه.
2- عن ابن شهاب: حدثني أبو بكر بن عبد الرحمن بن الحارث "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو بمكة قرأ عليهم: {وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى} [النجم: 1] ، فلما بلغ {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى، وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى} [النجم: 19-20] ، قال: "إن شفاعتهن ترتجى" سها رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلقيه المشركون الذين في قلوبهم مرض فسلموا عليه وفرحوا بذلك، فقال لهم: "إنما ذلك من الشيطان"، فأنزل الله: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلا نَبِيٍّ} حتى بلغ {فَيَنْسَخُ اللَّهُ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ} [الحج: 52] .
رواه ابن جرير "17/ 121" وإسناده إلى أبي بكر بن عبد الرحمن صحيح، كما قال السيوطي تبعًا للحافظ، لكن علته أنه مرسل1 وعزاه السيوطي لعبد بن حميد أيضًا، وأخرجه ابن أبي حاتم من طريق محمد بن فليح، عن موسى بن عقبة، عن ابن
--------------------------------------------
দ্বিতীয় বর্ণনা…এবং আমরা আরও নিশ্চিত হয়েছি যে, উসমান ইবনে আসওয়াদ থেকে বর্ণিত সঠিক তথ্যটি হলো এটি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত, যা আল-ওয়াহিদী বর্ণনা করেছেন; এটি তার থেকে বর্ণিত ইবনে মর্দওয়াইহর বর্ণনার বিপরীত।
সংক্ষেপে, হাদিসটি মুরসাল এবং সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে কোনোভাবেই এটি মুত্তাসিল বা নিরবচ্ছিন্ন সূত্রে সহিহ নয়।
২- ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত: আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান ইবনুল হারিস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় থাকাকালীন তাদের সামনে পাঠ করলেন: {শপথ নক্ষত্রের, যখন তা অস্তমিত হয়} [আন-নাজম: ১], অতঃপর যখন তিনি {তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উযযা সম্পর্কে, এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?} [আন-নাজম: ১৯-২০] পর্যন্ত পৌঁছালেন, তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তাদের সুপারিশ আশা করা হয়"। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভুলবশত এটি করেছিলেন। অতঃপর যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এমন মুশরিকরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করল, তাঁকে সালাম দিল এবং এতে আনন্দিত হলো। তখন তিনি তাদের বললেন: "নিশ্চয়ই তা শয়তানের পক্ষ থেকে ছিল"। অতঃপর আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {আমি তোমার পূর্বে এমন কোনো রাসূল কিংবা নবী প্রেরণ করিনি...} {অতঃপর শয়তান যা নিক্ষেপ করে আল্লাহ তা মিটিয়ে দেন} পর্যন্ত [আল-হাজ্জ: ৫২]।
ইবনে জারীর এটি বর্ণনা করেছেন (১৭/১২১) এবং আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান পর্যন্ত এর সনদ সহিহ, যেমনটি আল-হাফেজের অনুসরণে সুয়ূতী বলেছেন। তবে এর ত্রুটি হলো এটি মুরসাল১। সুয়ূতী এটি আবদ ইবনে হুমাইদ-এর দিকেও সম্বন্ধযুক্ত করেছেন এবং ইবনে আবি হাতিম এটি মুহাম্মদ ইবনে ফুলাইহ-এর সূত্রে মূসা ইবনে উকবা থেকে ইবনে... এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ১৯)
شهاب قال: فذكره مطولًا، ولم يذكر في إسناده أبا بكر بن عبد الرحمن، فهو مرسل، بل معضل، ولفظه كما في "ابن كثير" و"الدر":
"لما أنزلت سورة النجم، وكان المشركون يقولون: لو كان هذا الرجل يذكر آلهتنا بخير، أقررناه وأصحابه، ولكن لا يذكر من خالف دينه من اليهود والنصارى بمثل الذي يذكر آلهتنا من الشتم والشر، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد اشتد عليه ما ناله وأصحابه من أذاهم وتكذيبهم، وأحزنته ضلالتهم، فكان يتمنى كفَّ أذاهم ، وفي "ابن كثير" هدايتهم، فلما أنزل الله سورة {وَالنَّجْمِ} قال: {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى، وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى} [النجم: 19-20] ، ألقى الشيطان عندها كلمات حين ذكر الطواغيت، فقال: "وإنهن لَهن الغرانيق العلى، وإن شفاعتهن لَهِيَ التي تُرتَجى" فكان ذلك من سجع الشيطان وفتنته، فوقعت هاتان الكلمتان في قلب كل مشرك بمكة، ودلقت بها ألسنتهم، وتباشروا بها، وقالوا: إن محمدًا قد رجع إلى دينه الأول ودين قومه، فلما بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم آخر {وَالنَّجْمِ} سجد وسجد كلُّ من حضر من مسلم ومشرك، ففشت تلك الكلمة في الناس، وأظهرها الشيطان حتى بلغت أرض الحبشة، فأنزل الله {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلا نَبِيٍّ} [الحج: 52] ، فلما بيّن الله
শীহাব বলেন: এরপর তিনি এটি দীর্ঘভাবে বর্ণনা করেছেন, তবে এর সনদে আবু বকর বিন আব্দুর রহমানের নাম উল্লেখ করেননি; ফলে এটি মুরসাল, বরং মুদাল (সূত্রবিচ্ছিন্ন)। এর শব্দাবলি যেমনটি 'ইবনে কাসীর' ও 'আদ-দুরর' নামক গ্রন্থে রয়েছে:
"যখন সূরা আন-নাজম অবতীর্ণ হলো, তখন মুশরিকরা বলছিল: 'যদি এই ব্যক্তি আমাদের উপাস্যদের সম্পর্কে ভালো কিছু বলত, তবে আমরা তাকে ও তার সঙ্গীদের শান্তিতে থাকতে দিতাম; কিন্তু সে তার দ্বীনের বিরোধিতাকারী ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সম্পর্কে তেমন গালিগালাজ ও মন্দ কথা বলে না যা আমাদের উপাস্যদের সম্পর্কে বলে।' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের ওপর মুশরিকদের পক্ষ থেকে আসা কষ্ট ও মিথ্যারোপ তাঁর কাছে অত্যন্ত কঠিন অনুভূত হচ্ছিল এবং তাদের পথভ্রষ্টতা তাঁকে ব্যথিত করত। তিনি তাদের কষ্টদান বন্ধ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করতেন, আর 'ইবনে কাসীর'-এর বর্ণনায় রয়েছে—তিনি তাদের হিদায়াতের আকাঙ্ক্ষা করতেন। অতঃপর যখন আল্লাহ সূরা আন-নাজম অবতীর্ণ করলেন, তখন তিনি পাঠ করলেন: 'তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উযযা সম্পর্কে, এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?' [আন-নাজম: ১৯-২০]। তখন শয়তান এই প্রতিমাগুলোর বর্ণনার সময় কিছু বাক্য গেঁথে দিল এবং বলল: 'নিশ্চয়ই এগুলো উচ্চমর্যাদাপূর্ণ সুশ্রী পাখি (উপাস্য), এবং অবশ্যই তাদের সুপারিশ প্রত্যাশা করা হয়।' এটি ছিল শয়তানের ছন্দোবদ্ধ বাক্য ও তার পক্ষ থেকে ফিতনা। এই কথা দুটি মক্কার প্রত্যেক মুশরিকের হৃদয়ে গেঁথে গেল, তাদের জিহ্বায় তা জারি হয়ে গেল এবং তারা এতে আনন্দিত হলো। তারা বলতে লাগল: 'মুহাম্মদ তার পূর্বের ধর্মে এবং তার সম্প্রদায়ের ধর্মে ফিরে এসেছে।' যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা আন-নাজমের শেষ প্রান্তে পৌঁছালেন, তিনি সিজদা করলেন এবং সেখানে উপস্থিত মুসলিম ও মুশরিক নির্বিশেষে সকলেই সিজদা করল। এরপর সেই কথাটি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ল এবং শয়তান তা প্রচার করল, এমনকি তা হাবাশা (আবিসিনিয়া) ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছে গেল। তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: 'আমি তোমার পূর্বে এমন কোনো রাসূল কিংবা নবী পাঠাইনি...' [আল-হজ: ৫২]। অতঃপর যখন আল্লাহ বিষয়টি স্পষ্ট করলেন..."
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ২০)
الرواية الثالثة…قضاءه، وبرّأه من سجع الشيطان، انقلب المشركون بضلالتهم وعدوانهم للمسلمين، واشتدوا عليه"1.
وأخرجه البيهقي في "دلائل النبوة" عن موسى بن عقبة ساقه من "مغازيه" بنحوه لم يذكر ابن شهاب كما في "الدر": 4/ 367" وغيره.
3- عن أبي العالية قال: قالت قريش لرسول الله صلى الله عليه وسلم إنما جلساؤك عبيد بني فلان، ومولى بني فلان، فلو ذكرت آلهتنا بشيء جالسناك، فإنه يأتيك أشرف العرب، فإذا رأوا جلساءك أشرف قومك كان أرغب لهم فيك، قال: فألقى الشيطان في أمنيته، فنزلت هذه الآية: {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى، وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى} [النجم: 19-20] ، قال: فأجرى الشيطان على لسانه: "تلك الغرانيق العلى، وشفاعتهن ترتجى، مثلهن لا ينسى" قال: فسجد النبي صلى الله عليه وسلم حين قرأها وسجد معه المسلمون والمشركون، فلما علم الذي أجري على لسانه، كبر ذلك عليه، فأنزل الله: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلا نَبِيٍّ} إلى قوله {وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} [الحج: 52] .
--------------------------------------------
তৃতীয় বর্ণনা…তাঁর ফয়সালা, এবং তাঁকে শয়তানের ছন্দোবদ্ধ বাক্য থেকে মুক্ত করলেন; মুশরিকরা তাদের বিভ্রান্তি ও শত্রুতা নিয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াল এবং তাদের ওপর কঠোরতা বৃদ্ধি করল।
আর আল-বায়হাকী এটি 'দালাইলুন নুবুওয়াহ'-তে মুসা ইবনে উকবা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি এটি তাঁর 'মাগাযী' থেকে একইভাবে উদ্ধৃত করেছেন যেখানে ইবনে শিহাবের উল্লেখ নেই, যেমনটি 'আদ-দুরর': ৪/৩৬৭ এবং অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে।
৩- আবু আল-আলিয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কুরাইশরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলল, ‘আপনার সাথীরা তো কেবল অমুক গোত্রের দাস এবং অমুক গোত্রের আযাদকৃত দাস। আপনি যদি আমাদের উপাস্যদের সম্পর্কে ভালো কিছু বলতেন, তবে আমরা আপনার সাথে বসতাম; কারণ আপনার কাছে আরবের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা আসে, আর যখন তারা দেখবে যে আপনার সাথীরা আপনার গোত্রের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি, তখন তারা আপনার প্রতি অধিক আগ্রহী হবে।’ তিনি বলেন: এরপর শয়তান তাঁর আকাঙ্ক্ষায় (বা পাঠে) কিছু প্রক্ষেপ করল, ফলে এই আয়াত নাযিল হলো: {তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল-লাত ও আল-উযযা সম্পর্কে, এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?} [আন-নাজম: ১৯-২০]। তিনি বলেন: তখন শয়তান তাঁর জিহ্বায় জারি করে দিল: "এগুলো উচ্চমর্যাদার ঘারানীক (উচ্চপদস্থ দেবী), এবং তাদের সুপারিশ অবশ্যই প্রত্যাশিত, তাদের মতো কাউকে বিস্মৃত হওয়া যায় না।" তিনি বলেন: আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন এটি পাঠ করলেন তখন সেজদা করলেন এবং তাঁর সাথে মুসলিম ও মুশরিকরা সেজদা করল। যখন তিনি তাঁর জিহ্বায় যা জারি করা হয়েছিল তা জানতে পারলেন, তখন তা তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুভার মনে হলো। অতঃপর আল্লাহ নাযিল করলেন: {আমি তোমার পূর্বে এমন কোনো রাসূল বা নবী পাঠাইনি...} তাঁর বাণী {আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়} [আল-হাজ্জ: ৫২] পর্যন্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ২১)
الرواية الرابعة…أخرجه الطبري "17/ 120" من طريقين عن داود بن أبي هند عنه، وإسناده صحيح إلى أبي العالية، لكن علته الإرسال، وكذلك رواه ابن المنذر، وابن أبي حاتم.
4- عن محمد بن كعب القرظي، ومحمد بن قيس قالا: "جلس رسول الله صلى الله عليه وسلم في ناد من أندية قريش كثير أهله، فتمنى يومئذ أن لا يأتيه من الله شيء فينفروا عنه، فأنزل الله عليه: {وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى، مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى} [النجم: 1-2] فقرأها رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى إذا بلغ: {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى، وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى} [النجم: 19-20] ، ألقى عليه الشيطان كلمتين: "تلك الغرانيق العلى، وإن شفاعتهن لترتجى" فتكلم بها ثم مضى، فقرأ السورة كلها، فسجد في آخر السورة، وسجد القوم جميعًا معه، ورفع الوليد بن المغيرة ترابًا إلى جبهته فسجد عليه، وكان شيخًا كبيرًا لا يقدر على السجود، فرضوا بما تكلم به، وقالوا: قد عرفنا أن الله يحيي ويميت، وهو الذي يخلق ويرزق، ولكن آلهتنا هذه تشفع لنا عنده، إذا جعلتَ لها نصيبًا فنحن معك، قالا: فلما أمسى أتاه جبريل عليه السلام فعرض عليه السورة، فلما بلغ الكلمتين اللتين ألقى الشيطان عليه قال: ما جئتك بهاتين! فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "افتريت على الله، وقلت ما لم يقل"، فأوحى الله إليه: {وَإِنْ كَادُوا لَيَفْتِنُونَكَ عَنِ الَّذِي
চতুর্থ বর্ণনা…তাবারী (১৭/১২০) দাউদ বিন আবি হিন্দ থেকে দুটি সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আবুল আলিয়া পর্যন্ত এর সনদ সহীহ, তবে এর ত্রুটি হলো এটি মুরসাল (বিচ্ছিন্ন)। একইভাবে ইবনে মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিমও এটি বর্ণনা করেছেন।
৪- মুহাম্মাদ বিন কাব আল-কুরাজি এবং মুহাম্মাদ বিন কায়স থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের একটি জনবহুল মজলিসে বসা ছিলেন। সেদিন তিনি আকাঙ্ক্ষা করলেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কিছু যেন না আসে যা তাদের বিমুখ করে দেবে। তখন আল্লাহ তাঁর ওপর নাযিল করলেন: {শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়। তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত হননি এবং বিপথগামীও হননি} [আন-নাজম: ১-২]। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি পাঠ করলেন। যখন তিনি এই আয়াতে পৌঁছালেন: {তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উযযা সম্পর্কে? এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?} [আন-নাজম: ১৯-২০], তখন শয়তান তাঁর ওপর দুটি বাক্য নিক্ষেপ করল: "এগুলো তো উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন শ্বেত সারস (উপাস্য), আর নিশ্চয়ই তাদের সুপারিশ আশা করা যায়"। তিনি তা উচ্চারণ করলেন এবং তিলাওয়াত চালিয়ে গেলেন। এরপর তিনি পুরো সূরাটি পাঠ করলেন এবং সূরার শেষে সিজদাহ করলেন। তাঁর সাথে উপস্থিত সবাই সিজদাহ করল। ওয়ালিদ বিন মুগীরা এক মুষ্টি মাটি তুলে কপালে ধরল এবং তার ওপর সিজদাহ করল, কারণ সে ছিল অতি বৃদ্ধ এবং সিজদাহ করতে সক্ষম ছিল না। তিনি যা উচ্চারণ করেছিলেন তাতে তারা সন্তুষ্ট হলো এবং বলল: 'আমরা জানি যে আল্লাহই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন, তিনিই সৃষ্টি করেন এবং রিযিক দেন। কিন্তু আমাদের এই উপাস্যগুলো আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে। যদি আপনি এদের জন্য একটি অংশ রাখেন, তবে আমরা আপনার সাথে আছি'। তাঁরা উভয়ে বলেন: যখন সন্ধ্যা হলো, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর কাছে আসলেন এবং সূরাটি তাঁর সামনে পেশ করলেন। যখন তিনি শয়তানের নিক্ষেপ করা সেই বাক্য দুটির কাছে পৌঁছালেন, জিবরাঈল বললেন: 'আমি তো আপনার কাছে এই দুটি নিয়ে আসিনি!' তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি আল্লাহর নামে মিথ্যা আরোপ করেছি এবং এমন কথা বলেছি যা তিনি বলেননি"। তখন আল্লাহ তাঁর ওপর ওহী নাযিল করলেন: {আর তারা আপনাকে ফিতনায় ফেলার জন্য প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল সেই বিষয় থেকে যা...}
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ২২)
أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ لِتَفْتَرِيَ عَلَيْنَا غَيْرَهُ} 1 [الإسراء: 73] إلى قوله: {ثُمَّ لا تَجِدُ لَكَ عَلَيْنَا نَصِيرًا} [الإسراء: 75] ، فما زال مغمومًا مهمومًا حتى نزلت عليه: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلا نَبِيٍّ إِلَّا إِذَا تَمَنَّى
… } [الحج: 52] ، قال: فسمع كل من المهاجرين بأرض الحبشة أن أهل مكة قد أسلموا كلهم، فرجعوا إلى عشائرهم وقالوا: هو أحب إلينا، فوجدوا القوم قد ارتكسوا حين نسخ الله ما ألقى الشيطان".
أخرجه ابن جرير "17/ 119" عن طريق أبي معشر عنهما، وأبو معشر ضعيف، كما قال الحافظ في "التقريب" واسمه نجيح بن عبد الرحمن السندي.
ثم أخرجه ابن جرير من طريق ابن إسحاق، عن يزيد بن زياد المدني، عن محمد بن كعب القرظي وحده به أتمّ منه، وفيه: "فلما سمعت قريش ذلك فرحوا، وسرهم وأعجبهم ما ذكر به آلهتهم، فأصاخوا له، والمؤمنون مصدقون نبيهم فيما جاء به عن ربهم، ولا يتهمونه على خطأ ولا وهم ولا زلل، الحديث".
ويزيد هذا ثقة، لكن الراوي عنه ابن إسحاق مدلس، وقد عنعنه.
--------------------------------------------
...আমি তোমার প্রতি যা ওহী করেছি, যাতে তুমি আমার সম্পর্কে অন্য কিছু মিথ্যা রচনা করো...} ১ [আল-ইসরা: ৭৩] তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {অতঃপর তুমি আমার বিরুদ্ধে তোমার কোনো সাহায্যকারী পাবে না} [আল-ইসরা: ৭৫]। ফলে তিনি ক্রমাগত মর্মাহত ও চিন্তিত ছিলেন যতক্ষণ না তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হলো: {তোমার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল কিংবা নবী প্রেরণ করিনি, তবে সে যখনই কোনো আকাঙ্ক্ষা করেছে...} [আল-হজ্জ: ৫২]। তিনি বলেন: আবিসিনিয়া (হাবাশা) ভূমিতে অবস্থানরত মুহাজিরদের প্রত্যেকেই শুনতে পেলেন যে মক্কাবাসী সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেছে, ফলে তাঁরা তাঁদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে ফিরে এলেন এবং বললেন: তাঁরা আমাদের কাছে অধিক প্রিয়। অতঃপর তাঁরা দেখতে পেলেন যে, যখন আল্লাহ শয়তানের প্রক্ষিপ্ত বিষয়টিকে রহিত করে দিলেন, তখন কওমটি পুনরায় পূর্বাবস্থায় ফিরে গেছে।"
ইবনে জারীর (১৭/১১৯) আবু মা'শারের সূত্রে তাঁদের উভয়ের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু মা'শার দুর্বল (যঈফ), যেমনটি হাফিয (ইবনে হাজার) 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন; তাঁর নাম নাজীহ ইবনে আবদুর রহমান আস-সিন্দী।
অতঃপর ইবনে জারীর ইবনে ইসহাকের সূত্রে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে যিয়াদ আল-মাদানী থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে কা'ব আল-কুরাযী থেকে একাকী এটি আরও পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছে: "যখন কুরাইশরা তা শুনতে পেল তখন তারা আনন্দিত হলো এবং তাদের উপাস্যদের সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে তাতে তারা খুশি ও মুগ্ধ হলো। তারা এর প্রতি কান পেতে মনোযোগ দিল। মুমিনগণ তাঁদের নবীর কাছে তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা এসেছে তা সত্য বলে বিশ্বাস করছিলেন, তাঁরা তাঁকে কোনো ভুল, সংশয় বা বিচ্যুতির অভিযোগে অভিযুক্ত করছিলেন না, (পুরো) হাদীস।"
এই ইয়াযীদ নির্ভরযোগ্য (সিক্বাহ), কিন্তু তাঁর থেকে বর্ণনাকারী ইবনে ইসহাক মুদাল্লিস এবং তিনি এখানে 'আন-আনা' (সূত্রের অস্পষ্টতা) করে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الرواية الخامسة…5- عن قتادة أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يتمنى أن لا يعيب الله آلهة المشركين، فألقى الشيطان في أمنيته فقال: "إن الآلهة التي تدعى، إن شفاعتهن لترتجى، وإنها لَلْغرانيق العلى" فنسخ الله ذلك، وأحكم الله آياته: {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى} [النجم: 19] 1حتى بلغ {مِن سُلْطَان} [النجم: 23] ، قال قتادة: لما ألقى الشيطان ما ألقى، قال المشركون: قد ذكر الله آلهتهم بخير، ففرحوا بذلك، فذكر قوله: {لِيَجْعَلَ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ فِتْنَةً لِلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ} [الحج: 53] .
أخرجه ابن جرير "17/ 122" من طريقين عن معمر عنه، وهو صحيح إلى قتادة، ولكنه مرسل أو معضل. وقد رواه ابن أبي حاتم كما في "الدر" بلفظ أتم منه وهو: "قال: بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي عند المقام، نعس، فألقى الشيطان على لسانة كلمة فتكلم بها، وتعلق بها المشركون عليه، فقال: {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى، وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى} [النجم: 19-20] فألقى الشيطان على لسانه ولغى: "وإن شفاعتهن لترتجى وإنها لمع الغرانيق العلى" فحفظها المشركون، وأخبرهم الشيطان أن نبي الله صلى الله عليه وسلم قد قرأها، فذلت بها ألسنتهم، فأنزل الله: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ
--------------------------------------------
পঞ্চম বর্ণনা…৫- কাতাদাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন যে আল্লাহ যেন মুশরিকদের উপাস্যদের কোনো দোষ বর্ণনা (নিন্দা) না করেন। তখন শয়তান তাঁর সেই আকাঙ্ক্ষায় (কিছু কথা) নিক্ষেপ করল এবং বলল: "নিশ্চয়ই ঐ সমস্ত উপাস্য যাদের ডাকা হয়, তাদের সুপারিশ অবশ্যই প্রত্যাশা করা হয় এবং তারা তো অতি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন শ্বেতহংসী (ঘারানীক)।" অতঃপর আল্লাহ তা রহিত করে দিলেন এবং আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন: {তোমরা কি লাত ও উযযা সম্পর্কে ভেবে দেখেছ?} [আন-নাজম: ১৯] ১- এমনকি {কোনো প্রমাণ} [আন-নাজম: ২৩] পর্যন্ত। কাতাদাহ বলেন: শয়তান যা নিক্ষেপ করার ছিল তা যখন নিক্ষেপ করল, তখন মুশরিকরা বলল: আল্লাহ তাদের উপাস্যদের সম্পর্কে উত্তম আলোচনা করেছেন। এতে তারা আনন্দিত হলো। তখন আল্লাহর এই বাণী উল্লেখ করা হলো: {শয়তান যা নিক্ষেপ করে তাকে যেন তিনি তাদের জন্য পরীক্ষা বানান যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে} [আল-হাজ্জ: ৫৩]।
ইবনে জারীর (১৭/১২২) মা'মার থেকে তাঁর সূত্রে দু’টি পথে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি কাতাদাহ পর্যন্ত সহীহ (বিশুদ্ধ), তবে এটি মুরসাল বা মু’দাল। ইবনে আবি হাতিম 'আদ-দুর' গ্রন্থে এর চেয়েও পূর্ণাঙ্গ শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন, যা হলো: "তিনি বলেন: একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাকামে ইবরাহীমের কাছে সালাত আদায় করছিলেন, তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হলেন। তখন শয়তান তাঁর জিহ্বায় একটি বাক্য নিক্ষেপ করল এবং তিনি তা উচ্চারণ করলেন। মুশরিকরা এটি তাঁর বিরুদ্ধে আঁকড়ে ধরল। তিনি পাঠ করলেন: {তোমরা কি লাত ও উযযা এবং তৃতীয় অপরটি মানাত সম্পর্কে ভেবে দেখেছ?} [আন-নাজম: ১৯-২০]। তখন শয়তান তাঁর জিহ্বায় অর্থহীন কথা নিক্ষেপ করল: 'এবং নিশ্চয়ই তাদের সুপারিশ প্রত্যাশা করা হয় এবং নিশ্চয়ই তারা তো উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন শ্বেতহংসীদের অন্তর্ভুক্ত।' মুশরিকরা তা মুখস্থ করে নিল এবং শয়তান তাদের খবর দিল যে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি পাঠ করেছেন, ফলে তাদের জিহ্বা এটি নিয়ে সচল হলো। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: {এবং আমি তোমার পূর্বে কোনো...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الرواية السادسة…مِنْ رَسُولٍ وَلا نَبِيٍّ} الآية [الحج: 52] ، فدحر الله الشيطان ولقن نبيه حجته".
6- عن عروة -يعني ابن الزبير- في تسمية الذين خرجوا إلى أرض الحبشة المرة الأولى "قلت وفيه:" "فقال المشركون: لو كان هذا الرجل يذكر آلهتنا بخير، أقررناه وأصحابه، فإنه لا يذكر أحدًا ممن خالف دينه من اليهود والنصارى بمثل الذي يذكر به آلهتنا من الشتم والشر، فلما أنزل الله عز وجل السورة التي يذكر فيها: {وَالنَّجْمِ} وقرأ: {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى، وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى} [النجم: 19-20] ، ألقى الشيطان فيها عند ذلك ذكر مالطواغيت فقال: "وإنهن لَمِنَ الغرانيق العُلى، وإن شفاعتهم لتُرتجى" وذلك من سجع الشيطان وفتنته، فوقعت هاتان الكلماتان في قلب كل مشرك وذلت بها ألسنتهم، واستبشروا بها، وقالوا: إن محمدًا قد رجع إلى دينه الأول ودين قومه، فلما بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم آخر السورة التي فيه {َالنَّجْمُ} سجد وسجد معه كل من حضره من مسلم ومشرك، غير أن الوليد بن المغيرة -كان رجلًا كبيرًا-، فرفع مِلْءَ كفه ترابًا فسجد عليه، فعجب الفريقان كلاهما من جماعتهم في السجود لسجود رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأما المسلمون فعجبوا من سجود المشركين من غير إيمان ولا يقين، ولم يكن المسلمون سمعوا الذي ألقى الشيطان على ألسنة المشركين، وأما المشركون فاطمأنت أنفسهم إلى النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه لما سمعوا الذي ألقى الشيطان في أمنية
ষষ্ঠ বর্ণনা…"কোন রাসূল কিংবা কোন নবী..." আয়াত [আল-হাজ্জ: ৫২], অতঃপর আল্লাহ শয়তানকে বিতাড়িত করলেন এবং তাঁর নবীকে তাঁর প্রমাণ শিখিয়ে দিলেন।
৬- উরওয়াহ —অর্থাৎ ইবনুল যুবাইর— থেকে বর্ণিত, যারা প্রথমবার আবিসিনিয়ার ভূমিতে হিজরত করেছিলেন তাদের নাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি বলেছি এবং তাতে রয়েছে:" "মুশরিকরা বলেছিল: যদি এই ব্যক্তি আমাদের উপাস্যদের সম্পর্কে ভালো কিছু বলতেন, তবে আমরা তাকে ও তার সঙ্গীদের নিরাপত্তা দিতাম। কারণ, তিনি তার ধর্মের বিরুদ্ধাচরণকারী ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাউকেই আমাদের উপাস্যদের মতো গালিগালাজ ও মন্দ কথার মাধ্যমে উল্লেখ করেন না। অতঃপর যখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা সেই সূরাটি নাযিল করলেন যাতে 'আন-নাজম' (নক্ষত্র) এর উল্লেখ রয়েছে এবং তিনি পাঠ করলেন: {তোমরা কি ভেবে দেখেছো লাত ও উযযা সম্পর্কে? এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?} [আন-নাজম: ১৯-২০], তখন শয়তান সেখানে মূর্তিদের আলোচনার সময় কিছু বাক্য নিক্ষেপ করল এবং বলল: 'এগুলো তো উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন রাজহংসী, আর নিশ্চয়ই তাদের সুপারিশ আশা করা যায়।' এটি ছিল শয়তানের ছন্দোবদ্ধ বাক্য ও তার ফিতনা। এই দুটি বাক্য প্রত্যেক মুশরিকের হৃদয়ে গেঁথে গেল এবং তাদের জিহ্বা এতে সচল হলো। তারা এতে আনন্দিত হলো এবং বলল: 'মুহাম্মদ তার পূর্বের ধর্মে এবং তার কওমের ধর্মে ফিরে এসেছেন।' যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সূরার শেষে পৌঁছালেন যাতে 'আন-নাজম' রয়েছে, তিনি সিজদা করলেন এবং তার উপস্থিত সকল মুসলিম ও মুশরিক তার সাথে সিজদা করল। তবে ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরাহ —যিনি একজন বৃদ্ধ লোক ছিলেন— তিনি তার হাতের তালু ভরে মাটি তুললেন এবং তার উপরেই সিজদা করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিজদার কারণে উভয় দলই তাদের এই সম্মিলিত সিজদা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করল। মুসলিমরা মুশরিকদের ঈমান ও দৃঢ় বিশ্বাসহীন এই সিজদা দেখে বিস্মিত হলো, কারণ মুসলিমরা সেই কথাগুলো শোনেনি যা শয়তান মুশরিকদের কানে পৌঁছে দিয়েছিল। আর মুশরিকদের মন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের প্রতি আশ্বস্ত হলো যখন তারা শুনল শয়তান তাঁর পাঠের মধ্যে যা নিক্ষেপ করেছিল।"
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ২৫)
النبي صلى الله عليه وسلم وحدثهم الشيطان أن النبي صلى الله عليه وسلم قد قرأها في "السجدة"، فسجدوا لتعظيم آلهتهم، ففشت تلك الكلمة في الناس وأظهرها الشيطان حتى بلغت الحبشة.. فكَبُرَ ذلك على رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما أمسى أتاه جبريل عليه السلام، فشكا إليه، فأمره فقرأ عليه، فلما بلغها تبرأ منها جبريل عليه السلام، وقال: معاذ الله من هاتين، ما أنزلهما ربي، ولا أمرني بهما ربك!! فلما رأى ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم شق عليه، وقال: "أطعتُ الشيطان، وتكلمتُ بكلامه وشركني في أمر الله"، فنسخ الله عز وجل ما ألقى الشيطان، وأنزل عليه: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلا نَبِيٍّ} إلى قوله: {لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ} [الحج: 53] . فلما برأه الله عز وجل من سجع الشيطان وفتنته انقلب المشركون بضلالهم وعداوتهم". رواه الطبراني هكذًا مرسلًا، كما في "المجمع: 6/ 32 - 34 و 7/ 70 – 72"1 وقال: "وفيه ابن لهيعة، ولا يحتمل هذا من ابن لهيعة".
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং শয়তান তাদের নিকট এই কথা প্রচার করল যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 'আস-সাজদাহ' সূরায় তা তিলাওয়াত করেছেন। ফলে তারা তাদের উপাস্যদের সম্মানে সিজদাহ করল। এরপর এই কথাটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল এবং শয়তান একে এমনভাবে প্রকাশ করল যে, তা আবিসিনিয়া পর্যন্ত পৌঁছে গেল... রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টদায়ক মনে হলো। যখন সন্ধ্যা হলো, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকট আসলেন এবং তিনি তাঁর কাছে অভিযোগ করলেন। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁকে নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি তাঁর নিকট তিলাওয়াত করলেন। যখন তিনি সেখানে পৌঁছালেন, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তা থেকে দায়মুক্তি ঘোষণা করলেন এবং বললেন: "এই কথা দুটি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই; আমার রব এগুলো অবতীর্ণ করেননি এবং তোমার রবও আমাকে এগুলোর নির্দেশ দেননি!!" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তা দেখলেন, তখন এটি তাঁর নিকট অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াল এবং তিনি বললেন: "আমি শয়তানের আনুগত্য করেছি এবং তার ভাষায় কথা বলেছি, সে আল্লাহর বিষয়ে আমার সাথে অংশীদার হয়ে গেছে।" তখন আল্লাহ পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত শয়তান যা নিক্ষেপ করেছিল তা বাতিল করে দিলেন এবং তাঁর উপর অবতীর্ণ করলেন: {আমি আপনার পূর্বে এমন কোনো রাসূল কিংবা নবী পাঠাইনি...} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {নিশ্চয় তারা চরম বিরোধিতায় লিপ্ত।} [হজ: ৫৩]। যখন আল্লাহ পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত তাঁকে শয়তানের ছন্দোবদ্ধ বাক্য ও তার ফিতনা থেকে মুক্ত করলেন, তখন মুশরিকরা তাদের পথভ্রষ্টতা ও শত্রুতার দিকে ফিরে গেল।" তাবারানি এটি এভাবেই মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি 'আল-মাজমা: ৬/৩২-৩৪ এবং ৭/৭০-৭২' এ রয়েছে। তিনি বলেন: "এর বর্ণনাসূত্রে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন, আর ইবনে লাহিয়ার পক্ষ থেকে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الرواية السابعة…7- عن صالح قال: "قام رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال المشركون: إن ذكر آلهتنا بخير ذكرنا إلهه بخير، فألقى في أمنيته: {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى، وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى} [النجم: 19-20] ، "إنهن لفي الغرانيق العلى وإن شفاعتهن لترتجى" قال: فأنزل الله {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلا نَبِيٍّ
… } الآية [الحج:52] .
أخرجه عبد حُميد كما في "الدر: 4/366" من طريق السدي عنه، وأخرجه ابن أبي حاتم عن السدي لم يتجاوزه بلفظ: "قال: خرج النبي صلى الله عليه وسلم إلى المسجد ليصلي فبينما هو يقرأ، إذ قال: {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى، وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى} [النجم: 19-20] ، فألقى الشيطان على لسانه فقال: "تلك الغرانيق العلى، وإن شفاعتهن لترتجى" حتى إذا بلغ آخر السورة سجد وسجد أصحابه، وسجد المشركون لذكر آلهتهم فلما رفع رأسه حملوه فاشتدوا به قطري مكة يقولون: نبي بني عبد مناف، حتى إذا جاء جبريل عرض عليه فقرأ ذينك الحرفين، فقال جبريل: معاذ الله أن أكون أقرأتك هذا! فاشتد عليه، فأنزل الله يطيب نفسه: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ
… } الآية [الحج:52] .
সপ্তম বর্ণনা…৭- সালিহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়ালেন, তখন মুশরিকরা বলল: ‘যদি তিনি আমাদের উপাস্যদের সম্পর্কে উত্তম আলোচনা করেন, তবে আমরাও তাঁর ইলাহ সম্পর্কে উত্তম আলোচনা করব।’ তখন তাঁর তিলাওয়াতে [শয়তান কর্তৃক] নিক্ষেপ করা হলো: {তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উযযা সম্পর্কে, এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?} [আন-নাজম: ১৯-২০], ‘নিশ্চয়ই তারা সুউচ্চ শ্বেতপক্ষী সদৃশ এবং নিশ্চয়ই তাদের সুপারিশ প্রত্যাশা করা হয়।’ তিনি বলেন: তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন {আর আমি তোমার পূর্বে এমন কোনো রাসূল কিংবা নবী প্রেরণ করিনি…} আয়াতটি [আল-হাজ্জ: ৫২]।”
এটি আবদ হুমাইদ বর্ণনা করেছেন যেমনটি ‘আদ-দুর: ৪/৩৬৬’ গ্রন্থে আস-সুদ্দী থেকে তাঁর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আর ইবনে আবি হাতিম আস-সুদ্দী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বাইরে আর কিছু উল্লেখ করেননি এই শব্দে: “তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে বের হলেন। এমতাবস্থায় যখন তিনি তিলাওয়াত করছিলেন, তখন বললেন: {তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উযযা সম্পর্কে, এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?} [আন-নাজম: ১৯-২০], তখন শয়তান তাঁর মুখে [তিলাওয়াতে] কিছু কথা নিক্ষেপ করল এবং তিনি বললেন: ‘ওগুলো তো সুউচ্চ শ্বেতপক্ষী সদৃশ এবং নিশ্চয়ই তাদের সুপারিশ প্রত্যাশা করা হয়।’ এমনকি যখন তিনি সূরার শেষে পৌঁছালেন, তখন তিনি সাজদাহ করলেন এবং তাঁর সাহাবীগণও সাজদাহ করলেন। আর মুশরিকরাও তাদের উপাস্যদের আলোচনার কারণে সাজদাহ করল। যখন তিনি তাঁর মাথা উঠালেন, তারা তাঁকে বহন করে মক্কার দুই প্রান্তে দ্রুতগতিতে ছুটতে লাগল এবং বলতে লাগল: ‘বনু আবদ মানাফের নবী!’ অবশেষে যখন জিবরাঈল আসলেন, তিনি তাঁর কাছে তা পেশ করলেন এবং ওই শব্দ দুটি পাঠ করলেন। তখন জিবরাঈল বললেন: ‘আল্লাহর পানাহ! আমি আপনাকে এটি পাঠ করাইনি!’ এতে বিষয়টি তাঁর কাছে অত্যন্ত কঠিন ও বেদনাদায়ক হয়ে উঠল। তখন আল্লাহ তাঁর চিত্ত প্রশান্ত করার জন্য অবতীর্ণ করলেন: {আর আমি তোমার পূর্বে…} আয়াতটি [আল-হাজ্জ: ৫২]।”
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قلت: وقد رُوي موصولًا عن ابن عباس أخرجه ابن مرديه من طريق الكلبي، عن أبي صالح، عن ابن عباس. وهذا إسناد ضعيف جدًا، بل موضوع، فقد قال سفيان: "قال لي الكلبي: كل ما حدثتك عن أبي صالح فهو كذب"، والكلبي هذا اسمه محمد بن السائب، وقد كان مفسرًا نسّابة أخباريًا. وقال ابن حبان: كان الكلبي سبائيًا من أؤلئك الذين يقولون: إن عليًا لم يمت وأنه راجع إلى الدنيا، ويملؤها عدلًا كما ملئت جورًا، وإن رأوا سحابة قالوا: أمير المؤمنين فيها". قال: ومذهبه في الدين، ووضوح الكذب فيه أظهر من أن يحتاج إلى الإغراق في وصفه، ويروي عن أبي صالح عن ابن عباس التفسير، وأبو صالح لم ير ابن عباس ولا سمع الكلبي من أبي صالح إلا الحرف بعد الحرف، لا يحل ذكره في الكتب، فكيف الاحتجاج به؟! 1.
وروي من وجوه أخرى عن ابن عباس سيأتي ذكرها، لا يصح شيء منها.
8- عن الضحاك قال: في قوله {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلا نَبِيٍّ
… } الآية [الحج: 52] ، فإن نبي الله صلى الله عليه وسلم وهو بمكه أنزل الله عليه في آلهة العرب، فجعل يتلو اللات والعُزّى
--------------------------------------------
আমি বলছি: এটি ইবনে আব্বাস থেকে মুত্তাসিল (সংযুক্ত) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যা ইবনে মারদুওয়াহ কালবীর পথে আবু সালিহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি অত্যন্ত দুর্বল একটি সনদ, বরং এটি একটি জাল বর্ণনা। সুফিয়ান বলেন: "কালবী আমাকে বলেছিলেন: আবু সালিহ-এর বরাতে আমি তোমাকে যা কিছু বর্ণনা করেছি তার সবই মিথ্যা।" এই কালবীর নাম হলো মুহাম্মদ বিন আস-সাইব, তিনি একজন মুফাসসির, বংশবিদ ও ইতিহাসবিদ ছিলেন। ইবনে হিব্বান বলেন: কালবী ছিলেন একজন সাবায়ী; যারা বলত যে আলী মৃত্যুবরণ করেননি এবং তিনি পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসবেন এবং পৃথিবীকে ইনসাফ দ্বারা পূর্ণ করে দেবেন ঠিক যেমনিভাবে তা জুলুম দ্বারা পূর্ণ হয়েছিল। তারা আকাশে মেঘ দেখলে বলত: "আমীরুল মুমিনীন তার মধ্যেই আছেন।" তিনি বলেন: দ্বীনের ব্যাপারে তার মতাদর্শ এবং তার মিথ্যাচারের বিষয়টি এতোটাই স্পষ্ট যে তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই। সে আবু সালিহ-এর বরাতে ইবনে আব্বাস থেকে তাফসীর বর্ণনা করে, অথচ আবু সালিহ ইবনে আব্বাসকে দেখেননি এবং কালবীও আবু সালিহ থেকে বিক্ষিপ্ত দু-একটি শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনেননি। কিতাবসমূহে তার উল্লেখ করাও বৈধ নয়, তবে তার বর্ণনা দিয়ে কীভাবে দলিল পেশ করা সম্ভব?! ১।
ইবনে আব্বাস থেকে অন্যান্য সূত্রেও বর্ণনা পাওয়া যায় যা সামনে আসবে, তবে সেগুলোর কোনোটিই সহীহ নয়।
৮- দাহহাক থেকে বর্ণিত, তিনি মহান আল্লাহর বাণী {আর আমি তোমার পূর্বে এমন কোনো রাসূল কিংবা নবী প্রেরণ করিনি…} আয়াত [হজ্জ: ৫২] প্রসঙ্গে বলেন যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় ছিলেন তখন আল্লাহ তাঁর ওপর আরবদের উপাস্যদের সম্পর্কে অবতীর্ণ করেন, ফলে তিনি লাত ও উজ্জা সম্পর্কে তিলাওয়াত করতে লাগলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الرواية الثامنة…ويُكثر من ترديدها، فسمع أهل مكه النبي صلى الله عليه وسلم يذكر آلهتهم، ففرحوا بذلك، ودنوا يستمعون، فألقى الشيطان في تلاوة النبي صلى الله عليه وسلم: "تلك الغرانيق العلى، ومنها الشفاعة ترتجى" فقرأها النبي صلى الله عليه وسلم كذلك، فأنزل الله عليه: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ وَلا نَبِيٍّ} [الحج:52] . إلى قوله: {وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} [الحج: 52] .
أخرجه ابن جرير "17/ 121" قال: حدثت عن الحسين يقول: سمعت معاذًا يقول: أخبرنا عبيد قال: سمعت معاذًا يقول: أخبرنا عبيد قال: سمعت الضحاك يقول:
قلت: وهذا إسناد ضعيف منقطع مرسل، الضحاك هذا الظاهر أنه ابن مزاحم الهلالي الخراساني، هو كثير الإرسال، كما قال الحافظ، حتى قيل: إنه لم يثبت له سماع من أحد من الصحابة، والراوي عنه عبيد لم أعرفه1، وأبو معاذ الظاهر أنه سليمان بن أرقم البصري، وهو ضعيف، كما في "التقريب"، والراوي عنه الحسين هو ابن الفرج أبو علي وقيل: أبو صالح، ويعرف بابن الخياط والبغدادي، وهو ضعيف متروك، وله
--------------------------------------------
অষ্টম বর্ণনা...এবং তিনি এটি বারবার আবৃত্তি করছিলেন। ফলে মক্কাবাসী শুনতে পেল যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের উপাস্যদের কথা উল্লেখ করছেন। তারা এতে আনন্দিত হলো এবং শোনার জন্য কাছে এগিয়ে এলো। তখন শয়তান নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তিলাওয়াতের মধ্যে গেঁথে দিল: "এগুলো উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ‘গারানিক’ (দেবী), এবং নিশ্চয়ই তাদের সুপারিশ আশা করা যায়।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেভাবেই তা পাঠ করলেন। তখন আল্লাহ তাঁর নিকট অবতীর্ণ করলেন: {আর তোমার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল কিংবা নবী প্রেরণ করিনি...} [হাজ্জ: ৫২]। তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {...আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।} [হাজ্জ: ৫২]।
এটি ইবনে জারীর বর্ণনা করেছেন (১৭/ ১২১); তিনি বলেন: আল-হুসাইন থেকে আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি বলেন: আমি মুয়াজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: উবাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি যাহহাককে বলতে শুনেছি:
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এটি একটি দুর্বল, বিচ্ছিন্ন এবং মুরসাল সনদ। এই যাহহাক দৃশ্যত ইবনে মুজাহিম আল-হিলালী আল-খুরাসানী। হাফেজ (ইবনে হাজার) যেমনটি বলেছেন, তিনি প্রচুর পরিমাণে মুরসাল বর্ণনা করেন; এমনকি এ কথাও বলা হয়েছে যে, কোনো সাহাবীর কাছ থেকে তাঁর সরাসরি শোনার বিষয়টি প্রমাণিত নয়। আর তাঁর থেকে বর্ণনাকারী উবাইদকে আমি চিনতে পারিনি১, আর আবু মুয়াজ দৃশ্যত সুলাইমান ইবনে আরকাম আল-বাসরী, আর তিনি দুর্বল, যেমনটি 'আত-তাক্বরীব' গ্রন্থে রয়েছে। আর তাঁর থেকে বর্ণনাকারী হুসাইন হলেন ইবনুল ফারাজ আবু আলী, মতান্তরে আবু সালেহ; তিনি ইবনুল খাইয়াত ও আল-বাগদাদী নামে পরিচিত। তিনি দুর্বল ও পরিত্যাজ্য। এবং তাঁর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الرواية التاسعة…ترجمة في "تاريخ بغداد" و"الميزان" و"اللسان" ثم شيخ ابن جرير فيه مجهول لم يُسَمَّ.
9- عن محمد بن فضالة الظفري، والمطلب بن عبد الله بن حنطب قالا: "رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم من قومه كفًّا عنه، فجلس خاليًا، فتمنى فقال: ليته لا ينزل عليّ شيء ينفّرهم عني، وقارب رسول الله صلى الله عليه وسلم قومه، ودنا منهم، ودنوا منه، فجلس يومًا مجلسًا في ناد من تلك الأندية حول الكعبة، فقرأ عليهم {وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى} [النجم: 1] ، حتى إذا بلغ: {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى، وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى} [النجم: 19-20] ، ألقى الشيطان كلمتين على لسانه: "تلك الغرانيق العلى، وإن شفاعتهن لترتجى"، فتكلم رسول الله صلى الله عليه وسلم بهما ثم مضى، فقرأ السورة كلها، وسجد وسجد القوم جميعًا، ورفع الوليد بن المغيرة ترابًا إلى جبهته فسجد عليه، وكان شيخًا كبيرًا لا يقدر على السجود، ويقال: إن أبا أحيحة سعيد بن العاص أخذ ترابًا فسجد عليه رفعه الى جبهته، وكان شيخًا كبيرًا، فبعض الناس يقول: إنما الذي رفع التراب الوليد، وبعضهم يقول: أبو أحيحة، وبعضهم يقول: كلاهما جميعًا فعل ذلك. فرضوا بما تكلم به رسول الله صلى الله عليه وسلم وقالوا قد عرفنا أن الله يحيي ويميت، ويخلق ويرزق، ولكن آلهتنا هذه تشفع لنا عنده، وأما إذ جعلت لها نصيبًا فنحن معك، فكبُر ذلك على رسول الله صلى الله عليه وسلم من قولهم
নবম বর্ণনা...তার জীবনী ‘তারীখ বাগদাদ’, ‘আল-মিযান’ এবং ‘আল-লিসান’ গ্রন্থে রয়েছে, আর ইবনে জারীরের শায়খ এতে অজ্ঞাত, যার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
৯- মুহাম্মদ বিন ফাযালাহ আয-জাফারি এবং মুত্তালিব বিন আব্দুল্লাহ বিন হানতাব থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কওমের পক্ষ থেকে বিমুখতা দেখতে পেলেন, তখন তিনি নির্জনে বসলেন এবং আকাঙ্ক্ষা করে বললেন: হায়! যদি আমার উপর এমন কিছু অবতীর্ণ না হতো যা তাদেরকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কওমের কাছাকাছি হলেন এবং তিনি তাদের নিকটবর্তী হলেন আর তারাও তাঁর নিকটবর্তী হলো। অতঃপর একদিন তিনি কাবার চারপাশের মজলিসগুলোর কোনো একটিতে বসলেন এবং তাদের সামনে পাঠ করলেন: {শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়} [নাজম: ১], শেষ পর্যন্ত যখন তিনি পৌঁছালেন: {তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল-লাত ও আল-উযযা সম্পর্কে, এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?} [নাজম: ১৯-২০], তখন শয়তান তাঁর মুখে দুটি বাক্য নিক্ষেপ করল: "এগুলো হলো উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ‘গারানিক’, আর নিশ্চয়ই তাদের সুপারিশ প্রত্যাশা করা যায়।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাক্য দুটি উচ্চারণ করলেন এবং পাঠ চালিয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি পুরো সূরাটি পাঠ করলেন এবং সিজদাহ করলেন, আর উপস্থিত কওমের সবাই সিজদাহ করল। তখন ওয়ালিদ বিন মুগীরা কিছু মাটি তুলে নিজ কপালে ধরল এবং তার উপর সিজদাহ করল, সে ছিল অতি বৃদ্ধ এবং সিজদাহ করতে সক্ষম ছিল না। আরও বলা হয়ে থাকে যে: আবু উহাইহা সাঈদ বিন আস মাটি নিয়ে তার কপালে ঠেকিয়ে তার উপর সিজদাহ করেছিল, সে-ও ছিল অতি বৃদ্ধ। তাই কিছু লোক বলে: যে মাটি উঠিয়েছিল সে ছিল ওয়ালিদ, আবার কেউ কেউ বলে: আবু উহাইহা, আবার কেউ কেউ বলে: তারা উভয়ই এটি করেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বললেন তাতে তারা সন্তুষ্ট হলো এবং তারা বলল: আমরা জেনেছি যে আল্লাহই জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন এবং তিনি সৃষ্টি করেন ও রিযিক দান করেন, কিন্তু আমাদের এই উপাস্যরা আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করবে। এখন যেহেতু আপনি তাদের জন্য একটি অংশ রেখেছেন, তাই আমরা আপনার সাথে আছি। তাদের এই কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অত্যন্ত কষ্টদায়ক মনে হলো।
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ৩০)
حتى جلس في البيت، فلما أمسى أتاه جبريل عليه السلام، فعَرَض عليه السورة فقال جبريل: جئتك1 بهاتين الكلمتين؟!! فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قُلتُ على الله ما لم يقل، فأوحى الله إليه: {وَإِنْ كَادُوا لَيَفْتِنُونَكَ عَنِ الَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ لِتَفْتَرِيَ عَلَيْنَا غَيْرَهُ وَإِذًا لَاتَّخَذُوكَ خَلِيلًا، وَلَوْلا أَنْ ثَبَّتْنَاكَ لَقَدْ كِدْتَ تَرْكَنُ إِلَيْهِمْ شَيْئًا قَلِيلًا، إِذًا لَأَذَقْنَاكَ ضِعْفَ الْحَيَاةِ وَضِعْفَ الْمَمَاتِ ثُمَّ لا تَجِدُ لَكَ عَلَيْنَا نَصِيرًا} [الإسراء: 73-75] .
أخرجه ابن سعد في "الطبقات: ج1 ق1 ص 137"2: أخبرنا محمد بن عمر قال: حدثني يونس بن محمد بن فضالة الظفري عن أبيه، قال: وحدثني كثير بن زيد عن المطلب بن عبد الله بن حنطب قالا:
قلت: وهذا إسناد ضعيف جدًا، لأن محمد بن عمر، هو الواقدي، قال الحافظ في "التقريب": "متروك مع سعة علمه". وشيخه في الإسناد الأول يونس بن محمد، ووالده محمد بن فضالة، لم أجد لهما ترجمة، ثم رأيت ابن أبي حاتم أوردهما "4/1/55 و 4/2/246" ولم يذكر فيهما جرحًا ولا تعديلًا.
وفي
--------------------------------------------
অবশেষে তিনি ঘরে বসলেন, তারপর যখন সন্ধ্যা হলো, জিবরীল আলাইহিস সালাম তাঁর নিকট আসলেন এবং তাঁর সামনে সূরাটি পেশ করলেন। জিবরীল বললেন: আমি কি আপনার নিকট এই দুটি শব্দ নিয়ে এসেছি?! অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “আমি আল্লাহর ওপর এমন কথা আরোপ করেছি যা তিনি বলেননি।” তখন আল্লাহ তাঁর নিকট ওহী পাঠালেন: {আর তারা আপনাকে ঐ বিষয় থেকে বিচ্যুত করার প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল যা আমি আপনার নিকট ওহী পাঠিয়েছি, যেন আপনি আমার নামে অন্য কিছু মিথ্যা উদ্ভাবন করেন; আর তবে তারা অবশ্যই আপনাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত। আর আমি যদি আপনাকে অবিচল না রাখতাম, তবে আপনি তাদের দিকে সামান্য পরিমাণ ঝুঁকে পড়ার উপক্রম করতেন। সেক্ষেত্রে আমি আপনাকে ইহজীবনে দ্বিগুণ এবং পরজীবনে দ্বিগুণ আজাব আস্বাদন করাতাম, অতঃপর আপনি নিজের জন্য আমার বিপক্ষে কোনো সাহায্যকারী পেতেন না।} [আল-ইসরা: ৭৩-৭৫]।
ইবনে সাদ এটি ‘আত-তবাকাত’ (১ম খণ্ড, ১ম ভাগ, ১৩৭ পৃষ্ঠা)-এ উদ্ধৃত করেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন উমর, তিনি বলেন: আমাকে ইউনুস বিন মুহাম্মদ বিন ফাদালাহ আল-জাফারি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এবং কাসীর বিন যায়িদ আমাকে আল-মুত্তালিব বিন আব্দুল্লাহ বিন হানতাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই বলেন:
আমি বলি: এই সনদটি অত্যন্ত দুর্বল, কারণ মুহাম্মদ বিন উমর হলেন ওয়াকিদী। হাফেজ (ইবনে হাজার) ‘আত-তাকরীব’ গ্রন্থে বলেছেন: “বিশাল জ্ঞানের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি পরিত্যক্ত।” আর প্রথম সনদে তাঁর উস্তাদ ইউনুস বিন মুহাম্মদ এবং তাঁর পিতা মুহাম্মদ বিন ফাদালাহ—আমি তাঁদের কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি। পরবর্তীতে আমি দেখেছি যে ইবনে আবি হাতিম তাঁদের উল্লেখ করেছেন (৪/১/৫৫ এবং ৪/২/২৪৬), কিন্তু তাঁদের সম্পর্কে কোনো সমালোচনা বা প্রশংসা উল্লেখ করেননি।
এবং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الرواية العاشرة…إسناده الثاني كثير بن زيد وهو الأسلمي المدني مُختَلف فيه، قال الحافظ: "صدوق يخطيء".
ثم هو مرسل فإن المطلب بن عبد الله بن حنطب كثير التدليس والإرسال، كما في "التقريب". ولذلك قال القرطبي بعد أن ساق الرواية الثانية، وحُكي عن النحاس تضعيفها كما سبق نقله عنه هناك قال: قلت: فذكره مختصرًا ثم قال: "قال النحّاس: هذا حديث مُنكَر منقطع، ولا سيما من حديث الواقدي".
10- عن ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ سورة "النجم" وهو بمكة، فأتى على هذه الآية {أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى، وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى} [النجم: 19-20] ، فألقى الشيطان على لسانه "أنهن الغرانيق العلى" فأنزل الله: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ
… } الآية [الحج:52] . وكذا أورده السيوطي في "الدرر المنثور: 4/ 267" وقال:
"أخرجه ابن مردويه من طريق الكلبي عن أبي صالح عن ابن عباس، ومن طريق أبي بكر الهذلي وأيوب عن عكرمة عن ابن عباس، ومن طريق سليمان التيمي عمن حدثه عن ابن عباس".
দশম বর্ণনা…এর দ্বিতীয় সনদ হলো কাসির ইবনে যায়েদ, তিনি আল-আসলামি আল-মাদানি, তাঁর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। হাফিজ বলেছেন: "তিনি সত্যবাদী তবে ভুল করেন।"
অতঃপর এটি মুরসাল (বিচ্ছিন্ন), কারণ মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হানতাব অত্যধিক তাদলীস ও ইরসাল (সূত্র গোপন বা বাদ দিয়ে বর্ণনা) করতেন, যেমনটি 'তাকরিব' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর এই কারণেই কুরতুবি দ্বিতীয় বর্ণনাটি উল্লেখ করার পর এবং নাহহাস থেকে এর দুর্বলতা বর্ণনা করার পর—যেমনটি এর আগে তাঁর থেকে সেখানে উদ্ধৃত করা হয়েছে—বলেছেন: আমি বলছি: অতঃপর তিনি তা সংক্ষেপে উল্লেখ করে বললেন: "নাহহাস বলেছেন: এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) ও মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন) হাদিস, বিশেষ করে ওয়াকিদির বর্ণনা থেকে হলে তো কথাই নেই।"
১০- ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় সূরা "আন-নাজম" পাঠ করছিলেন। যখন তিনি এই আয়াতে পৌঁছালেন— {তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উযযা সম্পর্কে? এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?} [আন-নাজম: ১৯-২০], তখন শয়তান তাঁর মুখে (জিহ্বায়) এনে দিল যে, "নিশ্চয়ই এগুলো উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন শ্বেত হংসী (উপাস্য)।" তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {আর আমি আপনার পূর্বে এমন কোনো রাসূল কিংবা নবী পাঠাইনি… } আয়াত [আল-হাজ্জ: ৫২]। এভাবেই সুয়ূতী এটি "আদ-দুররুল মানসুর: ৪/২৬৭" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন:
"এটি ইবনে মারদুওয়াইহ কালবীর সূত্রে আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং আবু বকর আল-হুযালি ও আইয়ুবের সূত্রে ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং সুলাইমান আত-তাইমির সূত্রে সেই ব্যক্তির থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি তাঁকে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
নাসবুল মাজানিক লিনাসফি কিসসাতিল গারানিক
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قلت: فهذه طرق ثلاث عن ابن عباس وكلها ضعيفه.
أما الطريق الأولى: ففيها الكلبي وهو كذّاب كما تقدم بيانه قريبًا.
وأما الطريق الثانية: ففيها من لم يسمّ.
وأما الطريق الثالثة: ففيها أبو بكر الهذلي. قال الحافظ في "التقريب": "أخباري متروك الحديث" لكن قد قرن فيها أيوب، والظاهر أنه السختياني، فلا بد أن يكون في الطريق إليه من لا يُحتَج به لأن الحافظ قال في "الفتح: 8/ 355" بعد أن ساقه من الطرق الثلاث: "وكلها ضعيف أو منقطع".
وقد ذكر ما يفيد أن ابن مردويه أخرجها من طريق عباد بن صهيب، وهو أحد المتروكين، كما قال الحافظ الذهبي في ترجمته من "الميزان".
وله طريق رابع، أخرجه ابن جرير "17/ 120"، حدثني محمد بن سعد قال: ثني أبي قال: ثني عمي. ثني أبي عن أبيه عن ابن عباس، "أن نبي الله صلى الله عليه وسلم بينما هو يُصلّي إذ نزلت عليه قصة آلهة العرب، فجعل يتلوها، فسمعه المشركون، فقالوا: إنا
আমি বলছি: ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত এই তিনটি সূত্র, যার সবকটিই দুর্বল।
প্রথম সূত্র সম্পর্কে কথা হলো: এতে আল-কালবী রয়েছে এবং সে একজন চরম মিথ্যাবাদী, যেমনটি ইতিপূর্বে অচিরেই বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় সূত্র সম্পর্কে কথা হলো: এতে এমন বর্ণনাকারী রয়েছে যার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
তৃতীয় সূত্র সম্পর্কে কথা হলো: এতে আবু বকর আল-হুযালী রয়েছে। হাফিজ (ইবনে হাজার) 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন: "সে একজন ইতিহাসবেত্তা যার বর্ণিত হাদিস পরিত্যাজ্য", তবে এতে আইয়ুবকেও যুক্ত করা হয়েছে, আর প্রকাশ্যত তিনি হলেন আস-সাখতিয়ানী। সুতরাং অবশ্যই তার পর্যন্ত পৌঁছানোর সূত্রে এমন কেউ আছে যাকে দলিল হিসেবে পেশ করা যায় না, কারণ হাফিজ 'আল-ফাতহ' (৮/৩৫৫) গ্রন্থে তিনটি সূত্র উল্লেখ করার পর বলেছেন: "এগুলোর সবকটিই দুর্বল অথবা বিচ্ছিন্ন"।
আরও এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে যা নির্দেশ করে যে, ইবনে মারদুওয়াইহ এটি আব্বাদ বিন সুহাইব-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আর সে হলো হাদিস বর্জনীয় ব্যক্তিদের একজন, যেমনটি হাফিজ আয-যাহাবী 'আল-মিযান' গ্রন্থে তার জীবনীতে উল্লেখ করেছেন।
এর একটি চতুর্থ সূত্র রয়েছে, যা ইবনে জারীর (১৭/১২০) বর্ণনা করেছেন; মুহাম্মাদ ইবনে সা'দ আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার চাচা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। আমার পিতা তাঁর পিতার নিকট থেকে, তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, "আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সালাত আদায় করছিলেন, তখন তাঁর ওপর আরবের উপাস্যদের কাহিনী নাযিল হলো। অতঃপর তিনি তা তিলাওয়াত করতে লাগলেন, তখন মুশরিকরা তা শুনতে পেল এবং বলল: আমরা..."