(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: -)
مختصر العلو للعلي العظيم القسم: العقيدة
الكتاب: مختصر العلو للعلي العظيم للذهبي
المؤلف: شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قَايْماز الذهبي (ت 748هـ)
حققه واختصره: محمد ناصر الدين الألباني
الناشر: المكتب الإسلامي
الطبعة: الطبعة الثانية 1412هـ-1991م.
عدد الصفحات: 304
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মহামহিম ও সুউচ্চ সত্তার উচ্চমর্যাদা বিষয়ের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ বিভাগ: আকিদা
গ্রন্থ: আয-যাহাবি রচিত মহামহিম ও সুউচ্চ সত্তার উচ্চমর্যাদা বিষয়ের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ
লেখক: শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উসমান ইবনে কায়মায আয-যাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হি.)
তাহকিক ও সংক্ষিপ্তকরণ: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি
প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামি
সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪১২ হি.-১৯৯১ খ্রি..
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقدماتبسم الله الرحمن الرحيم
تقديم بقلم: زهير الشاويشالحمد لله على أفضاله، والصلاة والسلام على معلم الخير سيدنا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ، ورضي الله عن صحابته وأتباعهم من العلماء المتقين الذين نقولا لنا هذا الدين القويم، سليما من كل زيف وتحريف، وعرفونا بصفات ربنا بما يليق بجلاله وجماله وكماله، وأوضحوا لنا سبل المعتقد، وطريق العبادة، وإقامة العدل، والتحلي بالأخلاق الكريمة، والألفاظ المهذبة. جعلنا الله من القائمين على كل ذلك في جميع أحوالنا وأقوالنا، حتى نلقى الله وهو راض عنا.
أما بعد:
فقد سبق أن طلبت من فضيلة المحدث الشيخ محمد ناصر الدين الألباني -حفظه الله- أيام عمله في المكتب الإسلامي سنة 1391هـ القيام على تخريج أحاديث كتاب "العلو" للحافظ الذهبي من ضمن مجموعة من كتب العقيدة. فوافق على ذلك مقترحا أن يختصر منه بعض الأحاديث المكررة والضعيفة والغريبة فوافق على ذلك مقترحا أن يختصر منه بعض الأحاديث المكررة والضعيفة والغربية لأسباب بينها واقتنعت بها. وهكذا كان -مما تجده في مقدمته الصفحة "5-6".
وقام الإخوة في قسم التصحيح بدمشق بنسخ المخطوطة والأصل المطبوع، وعمل الشيخ وتعليقاته، ومساعدته بالمقابلة والتصحيح.
وأرسل الكتاب إلي في بيروت، بعد أن تعذر طبعه في دمشق، فعملت على إعداده للطبع بإعادة نسخه. وجعلت المتن بحرف كبير، والتخريج بحرف أصغر، مما يسهل على القارئ الكريم معرفة درجة الحديث، والقول المناسب له في التخريج.
ভূমিকাসমূহপরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিবেদন: যুহাইর আল-শাভিশআল্লাহর সমস্ত প্রশংসা তাঁর অনুগ্রহের জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক কল্যাণের শিক্ষক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর। আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন তাঁর সাহাবীগণ এবং তাঁদের অনুসারী মুত্তাকী আলেমগণের ওপর, যাঁরা আমাদের কাছে এই সুদৃঢ় দ্বীনকে পৌঁছে দিয়েছেন সব ধরনের মিথ্যা ও বিকৃতি থেকে মুক্ত রেখে। তাঁরা আমাদের রবের গুণাবলি সম্পর্কে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন যেভাবে তাঁর মহিমা, সৌন্দর্য ও পূর্ণতার সাথে সংগতিপূর্ণ। তাঁরা আমাদের নিকট আকিদার পথ, ইবাদতের পন্থা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মহান চরিত্র ও মার্জিত ভাষা অবলম্বনের পথ স্পষ্ট করেছেন। আল্লাহ আমাদের সকল অবস্থায় ও কথায় এই সবের ওপর অটল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হই যখন তিনি আমাদের ওপর সন্তুষ্ট।
অতঃপর:
আমি ইতিপূর্বে বিশিষ্ট মুহদ্দিস শেখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি (হাফিজাহুল্লাহ)-এর নিকট অনুরোধ করেছিলাম—১৩৯১ হিজরিতে আল-মাকতাব আল-ইসলামিতে তাঁর কাজের দিনগুলোতে—যাতে তিনি হাফেজ যাহাবীর ‘আল-উলুউ’ গ্রন্থের হাদিসগুলোর তাখরিজ সম্পন্ন করেন, যা আকিদাহ বিষয়ক একগুচ্ছ কিতাবের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি তাতে সম্মত হন এবং প্রস্তাব করেন যে, সেখান থেকে কিছু পুনরাবৃত্ত, দুর্বল ও অদ্ভুত হাদিস সংক্ষেপ করবেন; তিনি এর সপক্ষে যেসব কারণ দর্শিয়েছেন তাতে আমি আশ্বস্ত হয়েছি। আর এভাবেই তা সম্পন্ন হয়েছে—যা আপনি তাঁর ভূমিকার ৫-৬ পৃষ্ঠায় পাবেন।
দামেস্কের সংশোধন বিভাগের ভাইয়েরা পাণ্ডুলিপি ও মূল মুদ্রিত কপিটি প্রতিলিপি করার কাজ করেছেন, সেই সাথে শেখের কাজ ও তাঁর টীকাগুলোও প্রস্তুত করেছেন এবং মোকাবিলা ও সংশোধনের মাধ্যমে তাঁকে সহায়তা করেছেন।
দামেস্কে মুদ্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় বইটি বৈরুতে আমার কাছে পাঠানো হয়। ফলে আমি পুনরায় প্রতিলিপি করার মাধ্যমে এটি মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করার কাজ করি। আমি মূল পাঠকে বড় অক্ষরে এবং তাখরিজকে ছোট অক্ষরে রেখেছি, যাতে সম্মানিত পাঠকের পক্ষে হাদিসের মান এবং তাখরিজের সংশ্লিষ্ট বক্তব্য অনুধাবন করা সহজ হয়।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسرعة. ووضعت التعليقات في هوامش الصفحات تحت الجدول.
كما أضفت بعض التعليقات، واقترحت تعديل أشياء لمصلحة رأيتها، واقتنع بها الشيخ ناصر -كما هي العادة في جميع مطبوعاتنا-.
وجرى تنضيد الكتاب في بيروت وأرسلنا التجارب إلى دمشق حيث عمل الشيخ مع الإخوة الأكارم موظفي قسم التصحيح بالمقابلة وزاد فضيلته في مقدمته أشياء وجدها مفيدة، حتى زادت المقدمة على الثمانين صفحة. وتأخر إرجاع الكتاب إلينا زمنا طويلا لظروف قاهرة، إلى أن يسر لنا الله طبعه سنة 1401=1981.
واليوم نقدم للإخوة الأحبة من المؤمنين الطبعة الثانية، مصورة عن الطبعة الأولى بطريقة "الأوفست" في أكثرها. بعد إصلاح ما ند الشيخ والإخوة من أخطاء مطبعية -مما لا يخلو منه كتاب- باذلين الجهد المستطاع، مع إعادة تنضيد بعض الصفحات والأسطر.
وقد تحمل العبء الكبير -في إعداد هذه الطبعة- الإخوة أعضاء مكتب التصحيح في بيروت -جزاهم الله الخير-.
وكنا نتمنى أن نضيف ما قد يكون عند فضيلة الشيخ ناصر من زيادات أو تصويبات
… ولكن تعذر ذلك عليه، نرجو الله أن يكون لنا وله عونا على الخير والسداد، وأن يختم لنا وله بالحسنى.
وإنني أرجو الله -سبحانه- أن يكتب لنا ولمن سبقنا من علمائنا، وكل من ساعدنا، فيما نقدم للناس، مما نحسبه خيرا لنا ولهم في دنيانا وآخرتنا. والحمد لله رب العالمين.
بيروت العاشر من صفر 1412.
20/ 8/ 1991.
দ্রুততার সাথে। এবং আমি টীকাগুলো ছকের নিচে পৃষ্ঠার মার্জিনে যুক্ত করেছি।
আমি কিছু টীকাও যোগ করেছি এবং এমন কিছু বিষয় সংশোধনের প্রস্তাব করেছি যা আমি কল্যাণকর মনে করেছি, আর শেখ নাসির তাতে সম্মত হয়েছেন -যেমনটা আমাদের সকল প্রকাশনার ক্ষেত্রে নিয়ম-।
বইটির কম্পোজ বৈরুতে সম্পন্ন হয় এবং আমরা প্রুফ কপি দামেস্কে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে শেখ সংশোধন বিভাগের সম্মানিত ভাইদের সাথে মিলে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখার কাজ সম্পন্ন করেন এবং তাঁর ভূমিকায় এমন কিছু বিষয় যোগ করেন যা তিনি দরকারী মনে করেছেন, ফলে ভূমিকাটি আশি পৃষ্ঠারও বেশি হয়ে যায়। কিছু অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে বইটি আমাদের কাছে ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়, অবশেষে আল্লাহ আমাদের জন্য ১৪০১ হিজরি মুতাবিক ১৯৮১ সালে এটি মুদ্রণ করা সহজ করে দেন।
আর আজ আমরা প্রিয় মুমিন ভাইদের সামনে দ্বিতীয় সংস্করণ পেশ করছি, যার অধিকাংশ অংশ প্রথম সংস্করণ থেকে "অফসেট" পদ্ধতিতে প্রতিলিপি করা হয়েছে। শেখ এবং ভাইদের চোখ এড়িয়ে যাওয়া মুদ্রণজনিত ভুলগুলো সংশোধন করার পর -যা কোনো বইয়ের পক্ষেই পুরোপুরি মুক্ত থাকা সম্ভব নয়- আমরা যথাসাধ্য প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এবং কিছু পৃষ্ঠা ও লাইন পুনরায় কম্পোজ করা হয়েছে।
এই সংস্করণটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে বৈরুতের সংশোধন দপ্তরের সদস্য ভাইগণ বড় দায়িত্ব পালন করেছেন -আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন-।
আমাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল শেখ নাসিরের কাছে থাকা কোনো সংযোজন বা সংশোধন এতে যুক্ত করার
... কিন্তু তাঁর পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এবং তাঁর জন্য কল্যাণ ও সঠিক পথের ওপর সহায় হন এবং আমাদের ও তাঁর জীবনের পরিসমাপ্তি যেন উত্তমভাবে দান করেন।
আর আমি মহান আল্লাহর কাছে আশা করি যে, আমরা মানুষের সামনে যা পেশ করছি তা যেন তিনি আমাদের জন্য, আমাদের পূর্বসূরি ওলামায়ে কেরামের জন্য এবং আমাদের সহায়তাকারী সকলের জন্য এমন কিছু হিসেবে কবুল করেন যা আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণের কারণ হবে। আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
বৈরুত, ১০ সফর ১৪১২।
২০/ ৮/ ১৯৯১।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة: الإمام الألباني بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
وصلاة الله وسلامه عليه وعلى آله وصحبه وإخوانه أجمعين إلى يوم الدين
أما بعد فبين يدي القارئ الكريم مختصري للكتاب الجليل: "العلو للعلي العظيم وإيضاح صحيح الأخبار من سقيمها" للحافظ أبي عبد الله شمس الدين محمد بن أحمد بن عثمان بن قيماز الدمشقي الأثري المعروف ب "الذهبي" وهو "كتاب العرش" الذي ذكره ابن العماد في ترجمة الحافظ من "الشذرات" "8/ 156" وكذا السفاراني في كتابه "لوامع الأسرار" ونقل عنه مرارا كما رأيته في "مختصره" 1 للشيخ العلامة محمد بن علي بن سلوم.
ويعود الفضل في إقدامي على اختصار هذا الكتاب الجليل فضلا عن نشره إلى أخي في الله تعالى الأستاذ زهير الشاويش فقد كنت في حديث علمي معه والكتب المؤلفة في العقيدة حين جاء ذكر هذا الكتاب2 فاقترح علي أن أتولى
--------------------------------------------
ভূমিকা: ইমাম আলবানী পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ ও কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর সকল ভাইদের ওপর।
অতঃপর, সম্মানীয় পাঠকের সামনে রয়েছে হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান বিন কাইমাজ আদ-দিমাশকী আল-আসারি, যিনি "আয-যাহাবী" নামে পরিচিত, তাঁর রচিত মহান গ্রন্থ: "আল-উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম ওয়া ইজাহু সহিহিল আখবার মিন সাকিমিহা" এর আমার কৃত সংক্ষিপ্তসার। এটিই সেই "কিতাবুল আরশ" যার কথা ইবনুল ইমাদ তাঁর "আশ-শাযারাত" (৮/১৫৬) গ্রন্থে হাফেজের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। একইভাবে আস-সাফারিনি তাঁর "লাওয়ামিউল আসরার" গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বারবার সেখান থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেমনটি আমি আল্লামা মুহাম্মদ বিন আলী বিন সাল্লুম-এর "সংক্ষিপ্তসার" ১-এ দেখেছি।
এই মহান গ্রন্থটি সংক্ষেপ করার পাশাপাশি তা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার কৃতিত্ব আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমার ভাই উস্তাদ যুহাইর আশ-শাউয়িশের। আকীদাহ বিষয়ক রচিত গ্রন্থসমূহ নিয়ে তাঁর সাথে এক ইলমী আলোচনার সময় যখন এই কিতাবটির২ প্রসঙ্গ আসলো, তখন তিনি আমাকে প্রস্তাব দিলেন যেন আমি এর দায়িত্ব গ্রহণ করি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ৬)
تحقيقه وتخريجه فزدت عليه قائلا: واختصاره، وحذف الأخبار السقيمة منه، وبينت له ضرورة ذلك وأهميته.
وبعد التداول في ذلك، وإمعان النظر فيه اتفقنا على ذلك، وكان مما شجعني على المضي فيه أنني أعلم وجود نسخة خطية جيدة منه في المكتبة الظاهرية في دمشق يمكننا الاعتماد عليها في التحقيق.
وابتدأت العمل في اختصاره من نسخة سقيمة الطبع والتحقيق، لم يتيسر لنا يومئذ غيرها إذ كنا على سفر. حتى إذا رجعت إلى دمشق انكببت عليه تحقيقا وتخريجا وتعليقا حتى يسر الله تعالى إتمامه بمنه وفضله وكرمه.
ولما بدأت بالتحقيق كان من أول ما شرعت فيه أن قابلت المطبوعة المشار إليها بمخطوطة المكتبة واستعنت على ذلك ما توفر لدي من نسخ أخرى مطبوعة أهمها الطبعة الأولى منها وهي المطبوعة في الهند على الحجر سنة "1306"، عن نسخة خطية كتبت من نسخة كتبت من خط المؤلف رحمه الله تعالى كتبها أحمد بن زيد المقدسي كما جاء في آخر النسخة الهندية.
وأما النسخ الأخرى فهي على وفق النسخ الهندية ومأخوذة عنها وهي ثلاث:
الأولى: طبعة المنار للسيد رشيد رضا رحمه الله تعالى قام بطبعها سنة "1332" وأصله فيها الطبعة الهندية، كما صرح بذلك على الوجه الأول من طبعته
الثانية: طبعة أنصار السنة المحمدية في القاهرة طبعت سنة "1357" بتعليق الأخ الفاضل الشيخ عبد الرزاق عفيفي وتصحيح الأستاذ زكريا علي يوسف.
الثالثة: نشر المكتبة السلفية المدينة المنورة. 1388" بتقديم وتصحيح الأستاذ عبد الرحمن محمد عثمان.
এর তাহকীক (সম্পাদনা) এবং তাখরীজ (উৎস নির্ণয়), আর আমি এর সাথে যোগ করে বললাম: এবং এর সংক্ষিপ্তকরণ, এবং এতে থাকা দুর্বল বর্ণনাগুলো বাদ দেওয়া। আর আমি তাঁর কাছে এর প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব স্পষ্ট করলাম।
এ বিষয়ে আলোচনার পর এবং গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করে আমরা তাতে একমত হলাম। এই কাজে এগিয়ে যেতে আমাকে যা উৎসাহিত করেছিল তা হলো, আমি জানতাম যে দামেস্কের যাহিরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে এর একটি উত্তম পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান রয়েছে, যার ওপর আমরা তাহকীকের ক্ষেত্রে নির্ভর করতে পারি।
আমি এর সংক্ষিপ্তকরণের কাজ শুরু করি এমন একটি কপি থেকে যার মুদ্রণ এবং সম্পাদনা ছিল ত্রুটিপূর্ণ। সে সময় আমাদের কাছে অন্য কোনো কপি সহজলভ্য ছিল না কারণ আমরা সফরে ছিলাম। অতঃপর আমি যখন দামেস্কে ফিরে এলাম, তখন আমি এর তাহকীক, তাখরীজ এবং টীকা প্রদানের কাজে নিবিষ্ট হলাম, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তাঁর করুণা, অনুগ্রহ ও দানে এটি সমাপ্ত করা সহজ করে দিলেন।
যখন আমি তাহকীক শুরু করলাম, তখন আমার প্রথম কাজ ছিল উল্লিখিত মুদ্রিত কপিটিকে লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা। আর এক্ষেত্রে আমি আমার কাছে বিদ্যমান অন্যান্য মুদ্রিত কপিগুলোর সাহায্য নিয়েছি, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এর প্রথম সংস্করণ। এটি ১৩০৬ হিজরীতে ভারতে লিথোগ্রাফে মুদ্রিত হয়েছিল। এটি এমন একটি পাণ্ডুলিপি থেকে অনূদিত হয়েছে যা মূল লেখকের (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) নিজ হাতের লেখা পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছিল। এটি লিখেছিলেন আহমদ বিন যাইদ আল-মাকদিসী, যেমনটি ভারতীয় কপির শেষে উল্লেখ রয়েছে।
আর অন্যান্য কপিগুলো ভারতীয় কপির অনুরূপ এবং তা থেকেই সংগৃহীত, যা সংখ্যায় তিনটি:
প্রথমটি: সায়্যিদ রশিদ রিদা (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) কর্তৃক আল-মানার সংস্করণ, যা তিনি ১৩৩২ হিজরীতে মুদ্রণ করেছেন। এর মূল ভিত্তি ছিল ভারতীয় সংস্করণ, যেমনটি তিনি তাঁর মুদ্রণের প্রথম পৃষ্ঠায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয়টি: কায়রোর আনসারুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ সংস্করণ, যা ১৩৫৭ হিজরীতে মুহতারাম ভাই শায়খ আব্দুর রাজ্জাক আফীফী-এর টীকা এবং উস্তাদ যাকারিয়া আলী ইউসুফ-এর সংশোধনে মুদ্রিত হয়েছে।
তৃতীয়টি: মদিনা মুনাওয়ারার মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ-এর প্রকাশনা, ১৩৮৮ হিজরী। এটি উস্তাদ আব্দুর রহমান মুহাম্মদ উসমান-এর ভূমিকা ও সংশোধনে প্রকাশিত।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ৭)
وهاتان الطبعتان الأخيرتان أصلهما طبعة السيد رشيد رضا وإن لم يقع التصريح بذلك منهما فإن ذلك بين جلي عند من يقابلهما بهما فإن أي نقص أو خطأ أو تحريف وقع فيها فلا بد أنك واجدها فيهما، والأمثلة على ذلك كثيرة، وإنما أكتفي هنا بمثال واحد منها وهو غريب جدا، يدلك على أهمية التحقيق أو التصحيح الذي يتبجح به بعضهم! وذلك ما نبهت عليه في آخر الكتاب تحت الترجمة "167 - الشيخ أبو البيان" فقد جاء فيها في طبعة المنار "ص342" ما نصه:
"
… الحنابلة إذا قيل لهم ما الدليل على أن القرآن "ليس" بحرف وصوت؟ "
كذا فيها زيادة "ليس" بين هلالين، وبحرف أصغر من حرف الكتاب، يشير بذلك مصحح الطبعة -ولعله غير السيد رشيد- إلى أنها زيادة باجتهاد من عنده زادها على أصله الذي هو الطبعة الهندية كما سبق وهذه في الواقع خلو منها طبقا للمخطوطة كما بينته هناك.
ثم وقع اجتهاد جديد من مصحح طبعة "الأنصار" فحذف الهلالين المحيطين بلفظ "ليس" ودخل هذا بسبب ذلك في صلب الأصل فتضاعف الخطأ لأنه مع كونه غير ثابت في الأصل كما أشار إليه السيد رشيد فهو مفسد للمعنى أيضا لأن الحنابلة يعتقدون أن القرآن بحرف وصوت كما بينته هناك، وهو الحق خلافا للأشاعرة وغيرهم.
وكما وقعت هذه الزيادة المفسدة للمعنى في الطبعة المذكورة، كذلك وقعت تماما في طبعة السلفية بالمدينة! وهذا مما ينبه اللبيب إلى مبلغ صحة قول مصحح هذه الطبعة تحت اسم الكتاب:
" قدم له وراجع أصوله " " عبد الرحمن...."
এই শেষোক্ত দুটি মুদ্রণের মূল উৎস হলো সাইয়িদ রশিদ রিযার সংস্করণ, যদিও তাদের পক্ষ থেকে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়নি। তবে কেউ যদি এ দুটির সাথে সেটিকে মিলিয়ে দেখেন, তবে তা অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠবে। কারণ তাতে যে কোনো ধরণের অসম্পূর্ণতা, ভুল বা বিকৃতি ঘটেছে, তা আপনি অবশ্যই এই দুই সংস্করণেই খুঁজে পাবেন। এর উদাহরণ অনেক, তবে আমি এখানে কেবল একটি উদাহরণের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকছি যা অত্যন্ত আশ্চর্যজনক। এটি আপনাকে সেই তাহকিক (গবেষণা) বা সংশোধনীর গুরুত্ব বুঝিয়ে দেবে যা নিয়ে তাদের কেউ কেউ আস্ফালন করে থাকে! বিষয়টি আমি গ্রন্থের শেষে '১৬৭ - শাইখ আবু আল-বায়ান' শিরোনামের অধীনে উল্লেখ করেছি। আল-মানার সংস্করণে (পৃ. ৩৪২) এর পাঠ নিম্নরূপ এসেছে:
"
… হাম্বলিদের যখন বলা হয় যে, কুরআন হরফ ও শব্দ দ্বারা গঠিত 'নয়'—এর দলিল কী? "
এভাবেই তাতে 'নয়' শব্দটি বন্ধনীর মাঝে এবং কিতাবের মূল অক্ষরের চেয়ে ছোট হরফে যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ওই সংস্করণের সংশোধনকারী—যিনি সম্ভবত সাইয়িদ রশিদ রিযা নন—ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এটি তার নিজস্ব ইজতিহাদপ্রসূত একটি সংযোজন যা তিনি তার মূল কপি অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রণের ওপর ভিত্তি করে বৃদ্ধি করেছেন। অথচ ইতিপূর্বে আমি যেমনটি স্পষ্ট করেছি, পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী এটি মূলত ওই শব্দ হতে মুক্ত ছিল।
অতঃপর 'আল-আনসার' সংস্করণের সংশোধনকারীর পক্ষ থেকে এক নতুন ইজতিহাদ প্রকাশ পায়; তিনি 'নয়' শব্দের দুই পাশের বন্ধনীটি ফেলে দেন। ফলে এটি মূল পাঠের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়ে এবং এর মাধ্যমে ভুলটি দ্বিগুণ হয়ে যায়। কারণ একদিকে যেমন এটি মূলে বিদ্যমান ছিল না (যেটি সাইয়িদ রশিদ রিযাও ইঙ্গিত করেছেন), তদুপরি এটি অর্থকেও বিকৃত করে দেয়। কেননা হাম্বলিরা বিশ্বাস করেন যে, কুরআন হরফ ও শব্দ (অক্ষর ও আওয়াজ) বিশিষ্ট—যেমনটি আমি সেখানে বর্ণনা করেছি। আর আশআরি ও অন্যদের মতের বিপরীতে এটিই সত্য।
অর্থ বিকৃতকারী এই সংযোজনটি যেভাবে উক্ত মুদ্রণে ঘটেছে, ঠিক তেমনিভাবে মদিনার সালাফিয়্যাহ মুদ্রণেও হুবহু ঘটেছে! আর এটিই বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে এই মুদ্রণের সংশোধনকারীর কিতাবের নামের নিচে দেওয়া বক্তব্যের সত্যতার মাত্রা সম্পর্কে সচেতন করে দেয়, যেখানে লেখা হয়েছে:
" ভূমিকা প্রদান ও মূল উৎসসমূহ পর্যালোচনা করেছেন " " আব্দুর রহমান.... "
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ৮)
باب: وصف المخطوطةونسختنا المخطوطة، هي فيما يبدو أقيم وأصح من مخطوطة الطبعة الهندية، فإنها مصححة ومقابلة على نسخة المصنف التي كانت بخطه، فقد جاء على هامش الوجه الأخير منها ما نصه:
" بلغ مقابلة على نسخة المصنف بخطه التي نقلت منها فصح الكلام وله الحمد والمنة ". ونحوه على هامش الوجه الثاني من الورقة "31" وغيرها من المواضع.
وناسخها عالم فاضل متدين، معروف بطلب العلم، والنسخ لنفسه ولغيره فقد جاء في آخرها ما نصه:
" علقه فقير رحمة الله وراجيها، وشفاعة نبيه مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مساعد بن أبي الليل السخاوي عفا الله عنه وعن والديه ومشايخه وجميع المسلمين. والحمد لله وحده وصلاته وسلامه على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.
وعلى الوجه الأول من الورقة الأولى منها ما نصه:
" وقد أجازني بجميع تآليف الشيخ "يعني الحافظ الذهبي" ولده شيخنا زين الدين عبد الرحمن، وقرأت عليه بقرية كفر بطنا أجزاء عدة غير ما سمعته
… وكتبه مساعد بن ساري بن مسعود بن عبد الرحمن بن رحمة الحميري الهواري السخاوي وذلك بقرية "الشبعا" من المرج القبلي لدمشق سنة "857" "" هجرية ".
كذا وقع بخطه 857 وهو مشكل، لأن وفاته كانت قبل ذلك بسنين، فقد ذكر السخاوي في "الضوء اللامع" "9/ 155" وابن العماد في "الشذرات "
অধ্যায়: পাণ্ডুলিপির বর্ণনাআমাদের এই পাণ্ডুলিপিটি দৃশ্যত ভারতীয় সংস্করণের পাণ্ডুলিপির চেয়ে অধিক মূল্যবান ও নির্ভুল; কারণ এটি গ্রন্থকারের নিজ হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। এর শেষ পৃষ্ঠার টীকাতে নিম্নোক্ত পাঠটি এসেছে:
"গ্রন্থকারের স্বহস্তে লিখিত মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে যেখান থেকে এটি নকল করা হয়েছিল, ফলে পাঠ্যটি সঠিক হয়েছে। সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই।" অনুরূপ কথা ৩১ নং পাতার দ্বিতীয় পৃষ্ঠার টীকাতে এবং আরও অন্যান্য স্থানে রয়েছে।
এর অনুলিপিকারক একজন বিদ্বান, গুণী ও ধার্মিক ব্যক্তি, যিনি জ্ঞান অন্বেষণ এবং নিজের ও অন্যদের জন্য অনুলিপি তৈরির কাজে প্রসিদ্ধ। এর শেষে নিম্নোক্ত পাঠটি এসেছে:
"আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী ও প্রত্যাশী এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুপারিশ প্রার্থী মুসাঈদ ইবনু আবিল লাইল আস-সাখাভী এটি লিখেছেন—আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে, তাঁর উস্তাদগণকে এবং সমস্ত মুসলিমকে ক্ষমা করুন। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর।
এর প্রথম পাতার প্রথম পৃষ্ঠায় নিম্নোক্ত পাঠটি রয়েছে:
"শাইখের (অর্থাৎ হাফিজ আয-যাহাবী) সকল রচনার জন্য তাঁর পুত্র আমাদের শাইখ যাইনুদ্দীন আব্দুর রহমান আমাকে ইজাযাহ (অনুমতি) দিয়েছেন। আমি তাঁর কাছে কাফর বাতনা গ্রামে বেশ কিছু খণ্ড পাঠ করেছি সেইসব অংশ ব্যতীত যা আমি তাঁর নিকট শ্রবণ করেছি
… এবং এটি লিখেছেন মুসাঈদ ইবনু সারী ইবনু মাসউদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু রাহমাহ আল-হিমইয়ারী আল-হাওয়ারী আস-সাখাভী, ৮৫৭ হিজরি সালে দামেস্কের মারজুল কুবলির 'আশ-শাবআ' গ্রামে।"
তাঁর নিজ হাতে ৮৫৭ হিজরি এভাবেই লিখিত হয়েছে, যা অসংগতিপূর্ণ; কারণ তাঁর মৃত্যু এর বহু বছর আগে হয়েছিল। আস-সাখাভী 'আদ-দউ আল-লামি' (৯/১৫৫) গ্রন্থে এবং ইবনুল ইমাদ 'আশ-শাযারাত' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ৯)
" 7/ 143" أنه توفي سنة تسع عشرة وثمانمائة، ولعله وهم في كتبه 857 والله أعلم.
وجاء في ترجمته رحمه الله ما ملخصه:
" ولد سنة بضع وثلاثين وسبعمائة، وطلب بعد أن كبر، فقرأ على الشيخ صلاح الدين العلائي وغيره، ومهر في الفرائض والميقات وكتب بخطه الكثير لنفسه ولغيره ثم سكن دمشق وانقطع بقرية "عقربا"، وكان الرؤساء يزرونه وهو لا يدخل البلد، مع أنه لا يقصده أحد إلا أضافه وتواضع معه. وكان متدينا متقشفا سليم الباطن حسن الملبس مستحضرا الكثير من الفوائد وتراجم الشيوخ الذين لقيهم. وتوفي بقرية "عقربا" شهيدا بالطاعون ".
قلت: وهذه المخطوطة وإن كانت لا تخلو من خرم وبعض الأوهام فإنا قد استفدنا منها فوائد كثيرة جدا بالنسبة للمطبوعات، والكثير منها ظاهر في هذا المختصر أيضا ولكثرتها لم أنبه إلا على بعضها، لا سيما ما كان منها متعلقا بتصحيح بعض الألفاظ أو الجمل، وأما الزيادات فقد جعلتها بين معكوفتين [] ، وقد أنبه على أنها من المخطوطة، وليس ذلك دائما لأنني استفدت بعضها من مصادر أخرى وأهمها رسالة المؤلف نفسه المخطوطة، والمحفوظة في دار الكتب الظاهرية في المجموع "47 ق104-111" تحت عنوان "مختصر من الذهبية" أولهما بعد البسملة:
" فصل هذه جملة من أقوال التابعين وهو أول وقت سمعت مقالة من أنكر أن الله فوق العرش
… "
وهي مع كونها نسخة سيئة فيها أخطاء كثيرة كما يتبين لنا بعد نسخها، ومقابلتها بالأصل، فقد استفدنا منها بعض الفوائد والزيادات وتصحيح بعض الآثار كما تراه في تعليقنا على هذا المختصر ربما نبهت فيها على بعضها بقولي: "وفي مختصر المؤلف ".
"৭/ ১৪৩" এ উল্লেখ আছে যে তিনি আটশত উনিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন, সম্ভবত তিনি তাঁর কিতাবসমূহে ৮৫৭ লিখেছেন যা একটি ভ্রম ছিল, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
তাঁর (রহমাহুল্লাহ) জীবনীতে যা সংক্ষিপ্তভাবে এসেছে তা হলো:
"তিনি সাতশত ত্রিশের কিছু পরে জন্মগ্রহণ করেন এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর ইলম অন্বেষণ শুরু করেন। তিনি শায়খ সালাহুদ্দীন আল-আলাই এবং অন্যদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। তিনি ফরায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) এবং মীকাত (সময় গণনা শাস্ত্র) বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি নিজের জন্য এবং অন্যদের জন্য নিজ হাতে প্রচুর পাণ্ডুলিপি লিখেছেন। পরবর্তীতে তিনি দামেস্কে বসবাস করেন এবং 'আকরাবা' গ্রামে নির্জনবাস গ্রহণ করেন। নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁর সাথে দেখা করতে আসতেন, অথচ তিনি শহরে প্রবেশ করতেন না। তাঁর কাছে কেউ আসলে তিনি তাকে মেহমানদারি করতেন এবং তার প্রতি বিনয় প্রদর্শন করতেন। তিনি অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ, মিতাচারী, পরিচ্ছন্ন অন্তরের অধিকারী এবং সুন্দর পোশাক পরিহিত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়া শায়খদের জীবনী এবং অসংখ্য জ্ঞানগর্ভ মাসয়ালা স্মরণে রাখতেন। তিনি প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে 'আকরাবা' গ্রামে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন।"
আমি বলছি: এই পাণ্ডুলিপিটিতে যদিও কিছু বিচ্যুতি এবং কিছু ভুলভ্রান্তি রয়েছে, তবুও আমরা মুদ্রিত সংস্করণগুলোর তুলনায় এটি থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রচুর জ্ঞানগর্ভ তথ্য লাভ করেছি। এর অনেক কিছুই এই সংক্ষেপিত গ্রন্থেও প্রকাশ পেয়েছে। তবে এর আধিক্যের কারণে আমি কেবল কিছু বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি, বিশেষ করে শব্দ বা বাক্য সংশোধনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে। আর অতিরিক্ত অংশগুলোকে আমি তৃতীয় বন্ধনীর [] মধ্যে রেখেছি। কখনো হয়তো আমি উল্লেখ করেছি যে এটি পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া হয়েছে, তবে সর্বদা তা করিনি। কারণ আমি এর কিছু অংশ অন্যান্য উৎস থেকেও গ্রহণ করেছি, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খোদ লেখকেরই একটি পাণ্ডুলিপি পত্র, যা 'দারুল কুতুব আজ-জাহিরিয়্যাহ'-তে 'মাজমু ৪৭, পৃষ্ঠা ১০৪-১১১' এর অধীনে 'মুখতাসার মিনায যাহাবিয়্যাহ' শিরোনামে সংরক্ষিত আছে। বিসমিল্লাহর পর যার শুরুটা এভাবে হয়েছে:
"পরিচ্ছেদ: এটি তাবেয়ীগণের উক্তির একটি সংকলন; আর এটিই প্রথম সময় যখন আমি তাদের বক্তব্য শুনেছি যারা অস্বীকার করে যে আল্লাহ আরশের উপরে আছেন
…"
এটি একটি নিম্নমানের পাণ্ডুলিপি হওয়া সত্ত্বেও এবং এতে অনেক ভুল থাকা সত্ত্বেও—যা এটি প্রতিলিপি করার পর এবং মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখার পর আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে—আমরা এটি থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, সংযোজন এবং কিছু বর্ণনা সংশোধন করতে পেরেছি, যেমনটি আপনি এই সংক্ষেপিত ভাষ্যের ওপর আমাদের টীকাগুলোতে দেখতে পাবেন। অনেক সময় আমি সেগুলোর কোনো কোনো স্থানে আমার এই উক্তির মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছি: "এবং লেখকের সংক্ষেপিত সংস্করণে রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومن ذلك الجزء الأول من "كتاب الأربعين في صفات رب العالمين" للمؤلف أيضا، وهي مخطوطة منقولة من خط المؤلف أيضا محفوظة في دار الكتب أيضا تحت رقم "11 - مجموع"، فقد ذكر فيها كثيرا من أقوال الأئمة الواردة في الأصل: "العلو" واستفدنا منها بعض التصحيحات لأسانيد بعض الآثار وغير ذلك.
وجملة القول أنني أرجو الله تعالى أن يكون هذا "المختصر" بما فيه من مادة علمية منقولة أقرب ما يكون مطابقة لما كانت عليه نسخة المؤلف رحمه الله تعالى لاعتمادي على المخطوطة المشار إليها وغيرها من المصادر المذكورة.
وقد جاء عنوان الكتاب في المخطوطة مخالفا بعض الشيء له في المطبوعة، ففي المخطوطة "العلو للعلي العظيم، وإيضاح صحيح الأخبار من سقيمها" وفي المطبوعة "العلو للعلي الغفار في صحيح الأخبار وسقيمها ". فآثرت ما في المخطوطة لأمرين:
الأول: أنها أصح من المطبوعة كما سبق:
والآخر: أنه جاء في خطبة الكتاب: "الحمد لله العلي العظيم"، فكان ما في المخطوطة أنسب لهذا اللفظ مما في المطبوعة، على أنني أخشى أن يكون العنوان الآخر من المطبوعة قد تصرف به بعض المصححين أو غيره.
وقد التزمت في اختصاره الأمور التالية:
1- حذفت المكرر منه، وهو قليل.
2- والأحاديث الضعيفة الغرائب التي ليس لها شواهد معتبرة، تمكن تقويتها بها، على ما تقتضيه شروط التقوية المقررة في علم مصطلح الحديث. والمصنف نفسه لم يروها غالبا إلا لتزييفها والكشف عن حالتها كما قال عقب أحدها ص28 من الأصل. وقال في حديث آخر "ص45":
" رويته للتحذير منه ".
আর তার মধ্যে রয়েছে লেখকেরই লেখা "কিতাবুল আরবাঈন ফি সিফাত রাব্বিল আলামীন"-এর প্রথম খণ্ড। এটিও লেখকের নিজের হাতের লেখা থেকে নকল করা একটি পাণ্ডুলিপি, যা "দারুল কুতুব"-এ "১১-মাজমু" নম্বরে সংরক্ষিত আছে। এতে তিনি মূল গ্রন্থ "আল-উলুউ"-তে বর্ণিত ইমামদের অনেক বাণী উল্লেখ করেছেন এবং আমরা তা থেকে কিছু আছারের সনদের সংশোধন এবং অন্যান্য বিষয়ে উপকৃত হয়েছি।
মোদ্দা কথা এই যে, আমি মহান আল্লাহর কাছে আশা করি যে, এই "মুখতাসার" (সংক্ষিপ্তসার) তার মধ্যে থাকা উদ্ধৃত ইলমি উপাদানসহ লেখকের (রাহিমাহুল্লাহ) পাণ্ডুলিপির সাথে যতটা সম্ভব সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে; কেননা আমি উল্লিখিত পাণ্ডুলিপি এবং অন্যান্য বর্ণিত উৎসের ওপর নির্ভর করেছি।
পাণ্ডুলিপিতে বইটির শিরোনাম মুদ্রিত সংস্করণের তুলনায় কিছুটা ভিন্নভাবে এসেছে। পাণ্ডুলিপিতে শিরোনাম হলো "আল-উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম, ওয়া ইজাহু সহিহিল আখবার মিন সাকিমিহা", আর মুদ্রিত সংস্করণে রয়েছে "আল-উলুউ লিল আলিয়্যিল গাফফার ফি সহিহিল আখবার ওয়া সাকিমিহা"। আমি পাণ্ডুলিপির শিরোনামটিকে দুটি কারণে প্রধান্য দিয়েছি:
প্রথমত: এটি মুদ্রিত সংস্করণের চেয়ে বেশি নির্ভুল, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: গ্রন্থের ভূমিকায় এসেছে: "আলহামদু লিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম", তাই মুদ্রিত সংস্করণের চেয়ে পাণ্ডুলিপির শিরোনামটিই এই শব্দের সাথে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া আমি আশঙ্কা করছি যে, মুদ্রিত সংস্করণের অন্য শিরোনামটি হয়তো কোনো সংশোধক বা অন্য কারো দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে।
এটি সংক্ষিপ্ত করার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলেছি:
১- এর মধ্যে থাকা পুনরাবৃত্তিগুলো বাদ দিয়েছি, যা পরিমাণে খুবই অল্প।
২- আর সেই সকল দুর্বল ও গরিব হাদিস যেগুলোর কোনো নির্ভরযোগ্য সাক্ষী বা সমর্থক বর্ণনা নেই যা দ্বারা সেগুলোকে শক্তিশালী করা যায়—ইলমে মুসতালাহুল হাদিসে নির্ধারিত শক্তিশালী হওয়ার শর্তাবলি অনুযায়ী—সেগুলো বাদ দিয়েছি। স্বয়ং লেখক নিজেও সেগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছেন কেবল সেগুলোর অসারতা প্রমাণ করতে এবং সেগুলোর অবস্থা উন্মোচন করার জন্য; যেমনটি তিনি মূল গ্রন্থের ২৮ পৃষ্ঠায় একটি হাদিসের শেষে বলেছেন। অন্য একটি হাদিসের ক্ষেত্রে (পৃষ্ঠা ৪৫) তিনি বলেছেন:
"আমি এটি কেবল সতর্ক করার জন্যই বর্ণনা করেছি।"
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقد يورد الحديث الضعيف وهو على علم به، لأن فيه ما يشهد له في الآيات والأحاديث الأخرى كما فعل في حديث الأطيط، فقد قال عقبة "ص39":
" وهذا الحديث إنما سقناه لما فيه مما تواتر من علو الله تعالى فوق عرشه بما يوافق آيات الكتاب ".
قلت: وأما أنا فقد جريت في هذا "المختصر" على حذفه وحذف أمثاله من الأحاديث الضعيفة، لأنها وإن كانت تتضمن بعض الحق الذي ورد في النصوص الصحيحة، فإنها على الغالب لا تخلو من زيادات إن لم تكن باطلة أو منكرة فهي على الأقل غريبة لا يوجد لها من الشواهد ما يدعمها فقد يتوهم بعض القراء من ذكرها أنها ثابتة برمتها دون أن ينتبه لكون الشاهد لها، إنما هو شاهد لبعض ما فيها كما سبق. هذا إذا صلحت النية وإلا فقد يستغلها بعض أهل الأهواء والتعصب الخبيث على أهل الحديث، ويوردها محتجا بها لصرفه دلالة الروايات الصحيحة عن الحق الذي دلت عليه وحملها على معاني باطلة اعتمادا منه على مجرد ذكر المؤلف لها، وهو إنما أوردها على سبيل الاستشهاد بها في الجملة لا في التفصيل. من أمثلة ذلك ما صنعه الكوثري المشهور بحديث الجارية الصحيح الآتي برقم "2"، فإنه استغل أسوأ الاستغلال الرواية الثانية التي أوردها المصنف في الأصل عقب الحديث المذكور كشاهد لها في الجملة لا في التفصيل، فجاء الكوثري واعتمد عليها جملة وتفصيلا عازيا إياها للمصنف، موهما القارئ أنها ثابتة عنده، فضرب بها الحديث الصحيح، وأبطل بها دلالته الصريحة على مشروعية السؤال بـ"أين الله" لأنه لم يقع فيها هذا اللفظ، وإسنادها ضعيف. كما تراه مشروحا في التعليق عليه قريبا إن شاء الله تعالى.
من أجل ذلك وغيره أعرضت عن ذكر الرواية المذكورة ونحوها من الأحاديث الضعيفة، ففي ما ثبت منها خير وبركة وغنية.
3- وقد أحذف ما صرح المؤلف بثبوته أو نقله عن غيره لعلة قادحة ظهرت لي. كحديث أبي هريرة مرفوعا: "لَمَّا أُلْقِيَ إِبْرَاهِيمُ عليه السلام فِي النَّارِ قَالَ:
কখনও কখনও তিনি দুর্বল হাদিস উল্লেখ করেন অথচ তিনি সে সম্পর্কে অবগত থাকেন, কারণ এতে এমন কিছু থাকে যার সাক্ষ্য অন্যান্য আয়াত ও হাদিসে পাওয়া যায়, যেমনটি তিনি ‘আতিত’ হাদিসের ক্ষেত্রে করেছেন। এ প্রসঙ্গে উকবাহ ৩৯ পৃষ্ঠায় বলেছেন:
"আর আমরা এই হাদিসটি কেবল একারণেই এনেছি যে, এতে আল্লাহ তাআলার তাঁর আরশের উপরে সমুন্নত হওয়ার বিষয়টি রয়েছে যা মুতাওয়াতির সূত্রে প্রমাণিত এবং কিতাবের আয়াতসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।"
আমি বলছি: আর আমি এই "মুখতাসার" (সংক্ষিপ্তসার) গ্রন্থে এই হাদিসটি এবং এই জাতীয় অন্যান্য দুর্বল হাদিসগুলো বর্জন করার নীতি অবলম্বন করেছি। কারণ, এই হাদিসগুলো যদিও সহিহ নসসমূহে (দলিল) বর্ণিত কিছু সত্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, তবুও এগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এমন কিছু অতিরিক্ত বিষয় থেকে মুক্ত নয় যা বাতিল বা মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) না হলেও অন্ততপক্ষে গরিব (একক সূত্রীয়), যেগুলোর সমর্থনে কোনো সাক্ষ্য পাওয়া যায় না। ফলে কোনো কোনো পাঠক এগুলো উল্লেখ দেখে এমন ভ্রম করতে পারেন যে এগুলো সামগ্রিকভাবেই প্রমাণিত, অথচ তিনি খেয়াল করেন না যে এগুলো উল্লেখ করার উদ্দেশ্য ছিল কেবল তার অন্তর্ভুক্ত কোনো কোনো বিষয়ের সাক্ষ্য হিসেবে, যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি তো তখন প্রযোজ্য যখন নিয়ত ঠিক থাকে, অন্যথায় কিছু প্রবৃত্তিপূজারী এবং আহলে হাদিসদের প্রতি বিদ্বেষী গোঁড়া ব্যক্তি একে অপব্যবহার করতে পারে। তারা এই হাদিসগুলোকে দলিল হিসেবে পেশ করে সহিহ বর্ণনাগুলোর প্রকৃত অর্থ থেকে সত্য বিচ্যুত করতে পারে এবং লেখকের কেবল উল্লেখ করার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে বাতিল অর্থের দিকে ধাবিত করতে পারে। অথচ লেখক এগুলোকে স্রেফ সামগ্রিক সাক্ষ্য হিসেবে এনেছেন, বিস্তারিত বিশ্লেষণের জন্য নয়। এর একটি উদাহরণ হলো, প্রসিদ্ধ কাওসারি ‘দাসী’ সংক্রান্ত সহিহ হাদিসটির (যা সামনে ২ নম্বর ক্রমে আসছে) সাথে যা করেছেন। মূল লেখক উক্ত হাদিসের পরে সামগ্রিক সাক্ষ্য হিসেবে যে দ্বিতীয় বর্ণনাটি এনেছিলেন, কাওসারি তার নিকৃষ্টতম অপব্যবহার করেছেন। কাওসারি এসে একে সামগ্রিক ও বিস্তারিতভাবে গ্রহণ করে তা লেখকের দিকে নিসবত করেছেন, এবং পাঠকের মনে এই ধারণা দিয়েছেন যে এটি লেখকের নিকট প্রমাণিত। এর মাধ্যমে তিনি সহিহ হাদিসটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন এবং ‘আল্লাহ কোথায়’ বলে প্রশ্ন করার বৈধতার ওপর যে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে তা বাতিল করেছেন, কারণ এই বর্ণনায় উক্ত শব্দটি আসেনি এবং এর সনদও দুর্বল। ইনশাআল্লাহ অচিরেই এর টীকায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেখতে পাবেন।
এসব কারণে এবং আরও কিছু কারণে আমি উক্ত বর্ণনা এবং এই জাতীয় অন্যান্য দুর্বল হাদিসগুলো উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি। কারণ যা প্রমাণিত (সহিহ) তার মধ্যেই কল্যাণ, বরকত ও পর্যাপ্ততা রয়েছে।
৩- কখনও কখনও আমি এমন বর্ণনাও বাদ দিয়েছি যা লেখক প্রমাণিত বলে উল্লেখ করেছেন অথবা অন্য কারো থেকে বর্ণনা করেছেন, যদি আমার নিকট তাতে কোনো ক্ষতিকারক ত্রুটি প্রকাশ পায়। যেমন আবু হুরায়রা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদিস: "যখন ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে আগুনে নিক্ষেপ করা হলো, তখন তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ১২)
اللَّهُمَّ إِنَّكَ وَاحِدٌ فِي السَّمَاءِ، وَأَنَا فِي الأَرْضِ وَاحِدٌ أَعْبُدُكَ ". قال المؤلف "ص21": "حسن الإسناد ".
وأقول: كلا، فإن فيه علتين بينتهما في "الأحاديث الضعيفة" "1216 ".
وكحديث الأوعال الذي يروى عن العباس "ص49-50"، وهو مخرج في "المصدر السابق "1247 ".
إلى غير ذلك من الأحاديث الضعيفة التي سكت المصنف عنها أو بين ضعفها، أو حسن بعضها، لذاتها أو لغيرها، وهي ليست كذلك عندنا، وهو وإن كان أعرض عن بعضها كما يشعر بذلك قوله في الترجمة "152 - القاضي أبو يعلى": "وسرد كلاما طويلاً، لكنه ساق أحاديث ساقطة لا يسوغ أن يثبت بمثلها لله صفة" وإني كنت أحب له أن ينزه كتابه من الأحاديث التي يراها ضعيفة ولا سيما مما سكت عليه منها. فإن كثيرا من الأحاديث الضعيفة، لا يتنبه لأثرها السيء في الأمة إلا أفراد قليلون من أهل العلم وقد ذكرنا في "سلسلة الأحاديث الضعيفة" نماذج كثيرة منها. وبينا مبلغ ضررها وغالبها لا تعلق لها بالعقيدة وإنما هي في الأحكام والأخلاق ونحوها. ومما لا شك فيه أن ما كان منها متعلقا في العقيدة قد يكون أشد ضررا من غيرها لأنها قد تفسد عقيدة بعض من لا علم عنده بالتوحيد ولوازمه أو يتخذه بعض أهل الأهواء سلاحا لمحاربة أهل التوحيد أنفسهم المثبتين لله تعالى كل صفة ثابتة في الكتاب أو السنة دون تمثيل أو تعطيل واتهامه إياهم بالتشبيه والتجسيم مع علمه تصريح أهل التوحيد بوجوب تنزيه الله تعالى عن التشبيه والتعطيل معا.
وقد أشار إلى شيء من هذا شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله تعالى، فقد قال في كتابه "مفصل الاعتقاد" "ص9-4 مجموعة الفتاوى" "من المعلوم أن أهل الحديث يشاركون كل طائفة فيما يتحلون به من صفات الكمال ويمتازون عنهم بما ليس عندهم فإن المنازع لا بد أن يذكر فيما يخالفهم فيه طريقا أخرى مثل المعقول والقياس والرأي
… وكل هذه الطرق لأهل الحديث صفوتها
"হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি আসমানে একক, আর আমি জমিনে একাই আপনার ইবাদত করি।" লেখক বলেছেন (পৃ. ২১): "এর সনদ হাসান।"
আর আমি বলছি: না, কারণ এতে দুটি ত্রুটি রয়েছে যা আমি "সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দাইফাহ" (১২১৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছি।
যেমন 'আউয়াল' (পাহাড়ি ছাগল) সংক্রান্ত হাদিসটি, যা আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত হয়েছে (পৃ. ৪৯-৫০), এবং এটি পূর্বোক্ত উৎসেই (১২৪৭) উদ্ধৃত হয়েছে।
এছাড়াও আরও অন্যান্য দুর্বল হাদিস রয়েছে যেগুলোর ব্যাপারে গ্রন্থকার নীরব থেকেছেন অথবা সেগুলোর দুর্বলতা স্পষ্ট করেছেন, কিংবা কয়েকটিকে 'হাসান লি-যাতিহি' বা 'হাসান লি-গাইরিহি' বলেছেন, কিন্তু আমাদের নিকট সেগুলো তেমন (হাসান) নয়। যদিও তিনি এর কয়েকটিকে এড়িয়ে গিয়েছেন, যেমনটি বুঝা যায় জীবনী "১৫২ - কাজী আবু ইয়া'লা"-তে বর্ণিত তাঁর এই উক্তি থেকে: "তিনি দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন, তবে তিনি এমন কিছু বর্জিত হাদিস উল্লেখ করেছেন যেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর কোনো সিফাত (গুণ) সাব্যস্ত করা বৈধ নয়।" আর আমি পছন্দ করতাম যেন তিনি তাঁর কিতাবকে সেই হাদিসগুলো থেকে পবিত্র রাখতেন যেগুলোকে তিনি দুর্বল মনে করেন, বিশেষ করে যেগুলোর ব্যাপারে তিনি চুপ থেকেছেন। কারণ বহু দুর্বল হাদিসের ক্ষতিকর প্রভাব উম্মতের ওপর কতটুকু, তা ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে অল্প কয়েকজন ছাড়া কেউ লক্ষ্য করে না। আমরা "সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দাইফাহ"-তে এর অনেক নমুনা উল্লেখ করেছি এবং সেগুলোর ক্ষতির পরিমাণ বর্ণনা করেছি। এগুলোর অধিকাংশই আকিদার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং আহকাম (বিধান), আখলাক (চরিত্র) ও এই জাতীয় বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এগুলোর মধ্যে যেগুলো আকিদা বিষয়ক, তা অন্যগুলোর চেয়ে বেশি ক্ষতিকর হতে পারে; কারণ তা তাওহিদ ও এর দাবি সম্পর্কে জ্ঞানহীন ব্যক্তিদের আকিদাকে নষ্ট করে দিতে পারে। অথবা প্রবৃত্তি পূজারিরা একে 'আহলুত তাওহিদ'দের বিরুদ্ধেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে—যারা কিতাব ও সুন্নাহ দ্বারা সাব্যস্ত আল্লাহর প্রতিটি গুণকে কোনো প্রকার সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল) বা অস্বীকার (তা'তিল) ছাড়াই সাব্যস্ত করেন। তারা জেনেবুঝেও তাঁদেরকে সাদৃশ্য প্রদানকারী (তাশবিহ) ও দেহবাদী (তাজসিম) হওয়ার অপবাদ দেয়, অথচ তারা জানে যে আহলুত তাওহিদগণ আল্লাহ তাআলাকে তাশবিহ ও তা'তিল—উভয়টি থেকেই পবিত্র রাখার আবশ্যকতা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ের প্রতি কিছুটা ইঙ্গিত করেছেন। তিনি তাঁর "মুফাসসালুল ইতিমাদ" (মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড ৪, পৃ. ৯) গ্রন্থে বলেছেন: "এটা সুবিদিত যে, আহলুল হাদিসগণ প্রতিটি দলের সাথে তাদের গুণাবলির ভালো দিকগুলোতে অংশীদার, কিন্তু তারা অন্যদের থেকে এমন কিছু গুণের মাধ্যমে স্বাতন্ত্র্যমন্ডিত যা অন্যদের নেই। কেননা বিরোধিতাকারীরা যখন তাদের বিরোধিতা করে, তখন তারা অবশ্যই অন্য কোনো পথ উল্লেখ করে, যেমন যুক্তি (মাকুল), কিয়াস এবং রায় (মত)
… আর এই সকল পথের যা কিছু নির্যাস বা শ্রেষ্ঠ অংশ, তা আহলুল হাদিসদের নিকটই রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وخلاصتها فهم أكمل الناس عقلا، وأعدلهم قياسا، وأصوبهم رأيا، وأصحهم نظرا، وأهداهم استدلالا وأقومهم جدلا وأتمهم فراسة
… " ثم قال "ص23":
"وإذا قابلنا بين الطائفتين -أهل الحديث وأهل الكلام- فالذي يعيب بعض أهل الحديث وأهل الجماعة بحشو القول إنما يعيبهم بقلة المعرفة أو بقلة الفهم.
أما الأول فبأن يحتجوا بأحاديث ضعيفة وموضوعة، أو بآثار لا تصلح للاحتجاج.
وأما الثاني: فبأن لا يفهموا معنى الأحاديث الصحيحة، بل قد يقولون القولين المتناقضين، ولا يهتدون للخروج من ذلك. والأمر راجع إلى شيئين: إما رواية "الأصل: زيادة" أقوال غير مفيدة يظن أنها مفيدة كالأحاديث الموضوعة، وإما أقوال مفيدة لكنهم لا يفهمونها إذا كان إتباع الحديث يحتاج أولا إلى صحة الحديث وثانيا إلى فهم معناه كإتباع القرآن والجهل يدخل عليهم من ترك إحدى المقدمتين ومن عابهم من الناس فإنما يعيبهم بهذا.
ولا ريب أن هذا موجود في بعضهم، يحتجون بأحاديث موضوعة في مسائل الأصول والفروع وبآثار مفتعلة وحكايات غير صحيحة ويذكرون من القرآن والحديث ما لا يفهمون معناه وربما تأولوه على غير تأويله ووضعوه على غير موضعه.
ثم إنهم بهذا المنقول الضعيف والمعقول السخيف قد يكفرون ويضللون ويبدعون أقواما من أعيان الأمة ويجهلونهم، ففي بعضهم من التفريط في الحق والتعدي على الخلق ما قد يكون بعضه خطأ مغفورا وقد يكون منكرا من القول وزورا، وقد يكون من البدع والضلالات التي توجب غليظ العقوبات. فهذا لا يذكره إلا جاهل أوظالم وقد رأيت لهذا عجائب.
لكنهم بالنسبة إلى غيرهم في ذلك كالمسلمين بالنسبة إلى بقية الملل، ولا
আর এর সারমর্ম হলো, তারা মানুষের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ, কিয়াসের (তুলনার) ক্ষেত্রে সর্বাধিক ইনসাফপূর্ণ, রায়ের (মতামতের) ক্ষেত্রে সর্বাধিক সঠিক, পর্যবেক্ষণে সর্বাধিক নির্ভুল, দলীল প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বাধিক সুপথপ্রাপ্ত, তর্কের ক্ষেত্রে সর্বাধিক সুদৃঢ় এবং অন্তর্দৃষ্টির ক্ষেত্রে সর্বাধিক পরিপূর্ণ।
… " অতঃপর তিনি বলেন (পৃষ্ঠা ২৩):
"আর আমরা যখন এই দুই দলের মধ্যে—আহলুল হাদিস ও আহলুল কালাম—তুলনা করি, তখন যারা কিছু আহলুল হাদিস ও আহলুল জামাআতকে অসার কথা বলার মাধ্যমে দোষারোপ করে, তারা মূলত তাদের জ্ঞানের স্বল্পতা অথবা বুঝের ঘাটতির কারণেই দোষারোপ করে।
প্রথমটি (জ্ঞানের স্বল্পতা) হলো, তারা দুর্বল ও বানোয়াট হাদিস অথবা এমন সব আসার (বর্ণনা) দ্বারা দলিল পেশ করে যা দলিল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য নয়।
আর দ্বিতীয়টি (বুঝের ঘাটতি) হলো: তারা সহিহ হাদিসের অর্থ বুঝতে পারে না, এমনকি তারা অনেক সময় দুটি পরস্পরবিরোধী কথা বলে ফেলে এবং তা থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না। বিষয়টি দুটি জিনিসের দিকে ফিরে যায়: হয় এমন সব কথা বর্ণনা করা যা উপকারী নয় অথচ সেগুলোকে উপকারী মনে করা হয়—যেমন বানোয়াট হাদিসসমূহ; অথবা এমন সব কথা যা উপকারী কিন্তু তারা তা বোঝে না। কেননা, হাদিস অনুসরণ করার জন্য প্রথমত হাদিসটি সহিহ হওয়া প্রয়োজন এবং দ্বিতীয়ত তার অর্থ বোঝা প্রয়োজন—যেমনটি কুরআনের অনুসরণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এই দুই ভূমিকার (শর্তের) কোনো একটি ত্যাগ করার কারণেই তাদের মধ্যে অজ্ঞতা প্রবেশ করে। আর মানুষের মধ্য থেকে যারা তাদের দোষারোপ করে, তারা কেবল এই কারণেই করে থাকে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাদের কারো কারো মধ্যে এটি বিদ্যমান; তারা উসুল (মূলনীতি) ও ফুরু (শাখা-প্রশাখা) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে বানোয়াট হাদিস, জাল বর্ণনা ও অশুদ্ধ কিসসা-কাহিনীর মাধ্যমে দলিল পেশ করে। তারা কুরআন ও হাদিস থেকে এমন বিষয় উল্লেখ করে যার অর্থ তারা বোঝে না, এবং সম্ভবত তারা সেগুলোর অপব্যাখ্যা করে এবং সেগুলোকে ভুল স্থানে প্রয়োগ করে।
অতঃপর তারা এই দুর্বল নকল (বর্ণনা) এবং অসার যুক্তির মাধ্যমে উম্মতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাফির সাব্যস্ত করে, পথভ্রষ্ট বলে, বিদয়াতি আখ্যা দেয় এবং তাদের মূর্খ বলে গণ্য করে। তাদের কারো কারো মধ্যে হকের ক্ষেত্রে অবহেলা এবং সৃষ্টির ওপর সীমালঙ্ঘন এমন পর্যায়ে রয়েছে যে, যার কিছু অংশ হয়তো মার্জনীয় ভুল হতে পারে, আবার কিছু অংশ হতে পারে অত্যন্ত আপত্তিকর ও মিথ্যা কথা। আবার কিছু হতে পারে এমন বিদয়াত ও পথভ্রষ্টতা যা কঠোর শাস্তির উপযুক্ত। কোনো মূর্খ বা জালেম ছাড়া কেউ এমনটি উল্লেখ করে না, আর আমি এই বিষয়ে অনেক বিস্ময়কর বিষয় দেখেছি।
কিন্তু এই ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় তাদের অবস্থা হলো অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের তুলনায় মুসলিমদের মতো, আর...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ريب أن في كثير من المسلمين من الظلم والجهل والبدع والفجور ما لا يعلمه إلا من أحاط بكل شيء علما، لكن كل شر يكون في بعض المسلمين فهو في غيرهم أكثر، وكل خير يكون في غيرهم فهو فيهم أعلى وأعظم، وهكذا أهل الحديث بالنسبة إلى غيرهم ".
ثم شرع في تفصيل ذلك وبيانه بما يدل على مزية أهل الحديث على غيرهم من الفرق، فراجعه فإنك لن تراه عند غيره رحمه الله تعالى.
والمقصود من ذلك أن رواية الأحاديث الضعيفة من بعض المحدثين هو مما يعاب عليهم من قبل المخالفين لهم، وإن كان هؤلاء يفعلون ما هو أسوأ من ذلك كما أوضحه شيخ الإسلام في الكلام الذي أحلناك عليه آنفا.
ومن أشهر من أخذ ذلك عليهم في هذا العصر ويتخذه حجة في تسخيفهم وتضليلهم الشيخ الكوثري المعروف بعدائه الشديد لأهل السنة والحديث ونبزه إياهم بلقب الحشوية والمجسمة، وهو في ذلك ظالم لهم مفتر ولكن -والحق يقال- قد يجد أحيانا في ما يرويه بعضهم من الأحاديث والآثار ما يدعم به فريته مثل الحديث المروي في تفسير قَوْلِهِ تَعَالَى: {عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا} قال: يجلسني على العرش. رواه المصنف "ص74-75" عن ابن مسعود مرفوعا، وضعفه جدا بقوله: "مرسله الأحمر متروك الحديث ". ورواه "ص99" عن ابن عباس مثله موقوفاً. وقال: "إسناده ساقط وعمر بن مدرك الرازي متروك وهذا مَشْهُورٌ مِنْ قَوْلِ مُجَاهِدٍ وَيُرْوَى مرفوعا وهو باطل".
وقد خرجت الحديثين في "الضعيفة" "871 ".
وقال في ترجمة محمد بن مصعب العابد كما يأتي:
"فأما قضية قعود نبينا على العرش، فلم يثبت في ذلك نص، بل في الباب حديث واه، وما فسر به مجاهد الآية كما ذكرناه ".
قلت: ولو أن المصنف رحمه الله تعالى وقف عند هذا البيان الواضح في أنه
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অনেক মুসলমানের মধ্যে এমন জুলুম, অজ্ঞতা, বিদআত ও পাপাচার বিদ্যমান যা কেবল তিনিই জানেন যার জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। কিন্তু কোনো মন্দ যা কিছু কিছু মুসলমানের মধ্যে রয়েছে, তা অন্যদের মধ্যে আরও বেশি; আর যা কিছু কল্যাণ অন্যদের মধ্যে রয়েছে, তা তাদের (মুসলমানদের) মধ্যে আরও উচ্চতর ও মহান। আহলে হাদীসগণের অবস্থাও অন্যদের তুলনায় ঠিক তেমনই।
অতঃপর তিনি এর বিস্তারিত বিবরণ ও ব্যাখ্যা প্রদান শুরু করেছেন যা অন্যান্য ফিরকা বা দলের ওপর আহলে হাদীসদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়। সুতরাং আপনি সেটি দেখে নিন, কারণ আপনি এটি অন্য কারো কাছে পাবেন না, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
এর উদ্দেশ্য হলো, কিছু মুহাদ্দিসের দুর্বল হাদীস বর্ণনা করা এমন একটি বিষয় যার কারণে বিরোধীরা তাদের নিন্দা করে থাকে; যদিও তারা নিজেরা এর চেয়েও জঘন্য কাজ করে থাকে, যেমনটি শাইখুল ইসলাম সেই বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যার দিকে আমরা ইতিপূর্বে আপনাকে নির্দেশ করেছি।
বর্তমান যুগে যারা একে তাদের বিরুদ্ধে দলিল হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাদের উপহাস ও পথভ্রষ্ট আখ্যা দেওয়ার জন্য অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে, তাদের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ হলেন শায়খ কাওসারী। তিনি আহলে সুন্নাহ ওয়াল হাদীসের প্রতি তাঁর তীব্র শত্রুতা এবং তাদেরকে 'হাশবিয়্যাহ' ও 'মুজাসসিমাহ' উপাধিতে ভূষিত করার জন্য পরিচিত। এক্ষেত্রে তিনি তাদের ওপর অবিচারকারী ও অপবাদদানকারী। তবে সত্য কথা বলতে কি, কখনও কখনও তাদের কারো কারো বর্ণিত হাদীস ও আছারের মধ্যে তিনি এমন কিছু পেয়ে যান যা দিয়ে তিনি তাঁর অপবাদের স্বপক্ষে যুক্তি দেন। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হয়তো আপনার রব আপনাকে মাকামে মাহমুদে উত্থিত করবেন} এর তাফসীরে বর্ণিত হাদীস, যেখানে বলা হয়েছে: "তিনি আমাকে আরশের উপর বসাবেন।" এটি গ্রন্থকার (পৃষ্ঠা ৭৪-৭৫) ইবনে মাসঊদ থেকে মারফূ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে অত্যন্ত দুর্বল আখ্যা দিয়ে বলেছেন: "এর বর্ণনাকারী আল-আহমার পরিত্যক্ত হাদীস বর্ণনাকারী।" তিনি এটি (পৃষ্ঠা ৯৯) ইবনে আব্বাস থেকে অনুরূপভাবে মাওকূফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "এর সনদ অসার এবং উমর ইবনে মুদরিক আর-রাযী পরিত্যক্ত। এটি মুজাহিদের উক্তি হিসেবে প্রসিদ্ধ এবং এটি মারফূ' হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে যা বাতিল।"
আমি এই হাদীস দুটি 'আদ-দঈফাহ' (৮৭১) গ্রন্থে বিশ্লেষণ করেছি।
মুহাম্মাদ ইবনে মুসআব আল-আবিদ-এর জীবনীতে তিনি নিম্নরূপ বলেছেন:
"আর আমাদের নবীর আরশের ওপর বসার বিষয়টি সম্পর্কে কোনো বর্ণনা প্রমাণিত নয়, বরং এ বিষয়ে অত্যন্ত দুর্বল হাদীস রয়েছে এবং মুজাহিদ আয়াতটির যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন যা আমরা উল্লেখ করেছি।"
আমি বলি: গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) যদি এই স্পষ্ট ব্যাখ্যার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকতেন যে...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ليس في الباب نص ملزم للأخذ به، لكان قد أحسن، وسد بذلك الطريق على أهل الأهواء أن يتخذوا ذلك ذريعة للطعن في أهل السنة والحديث كما فعل الكوثري هنا بالذات في مقدمته لكتاب "تبين كذب المفتري فيما نسب إلى الإمام أبي الحسن الأشعري" "ص64" فقد قال فيهم بعد أن نبزهم بلقب الحشوية -أسوة بسلفه من الجهمية- وغيرهم1:
"ويقولون في الله مالا يجوزه الشرع ولا العقل من إثبات الحركة له "تعالى" والنقلة "ويعني بهما النزول" والحد والجهة "يعني العلو" والقعود والإقعاد ". فيعني هذا الذي نحن في صدد بيانه عدم ثبوته.
أقول: لو أن المؤلف رحمه الله وقف عند ما ذكرنا لأحسن، ولكنه لم يقنع بذلك، بل سود أكثر من صفحة كبيرة في نقل أقوال من أفتى بالتسليم بأثر مجاهد في تفسير قَوْلِهِ تَعَالَى: {عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا} قال: يجلسه أو يقعده على العرش. بل قال بعضهم: "أنا منكر على كل من رد هذا الحديث وهو عندي رجل سوء متهم.." بل ذكر عن الإمام أحمد أنه قال: هذا تلقته العلماء بقبول إلى غير ذلك من الأقوال التي تراها في الأصل ولا حاجة بنا إلى استيعابها في هذه المقدمة. وذكر في "مختصره" المسمى ب "الذهبية" أسماء جمع آخرين من المحدثين سلموا بهذا الأثر ولم يتعقبهم بشيء هناك. وأما هنا فموقفه مضطرب أشد الاضطراب فبينما تراه يقول في آخر ترجمة محمد بن مصعب العابد عقب قول من تلك الأقوال "ص126":
" فأبصر -حفظك الله من الهوى- كيف آل الفكر بهذا المحدث إلى وجوب الأخذ بأثر منكر
… "
فأنت إذا أمعنت النظر في قوله هذا، ظننت أنه ينكر هذا الأثر ولا يعتقده، ويلزمه ذلك ولا يتردد فيه، ولكنك ستفاجأ بقوله "ص143" بعد أن
--------------------------------------------
এই বিষয়ে গ্রহণ করার মতো কোনো অকাট্য দলিল নেই—যদি তিনি এটি বলতেন তবে উত্তম হতো, এবং এর মাধ্যমে তিনি প্রবৃত্তিপূজারীদের জন্য আহলে সুন্নাহ ওয়াল হাদিসের সমালোচনা করার পথ বন্ধ করে দিতেন, যেমনটি কাওসারি এখানে স্পষ্টভাবে তার "তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারি ফিমা নুসিবা ইলাল ইমাম আবিল হাসান আল-আশআরি" (ইমাম আবুল হাসান আশআরির প্রতি যা সম্বন্ধ করা হয়েছে তাতে মিথ্যাবাদীর মিথ্যা প্রকাশ) গ্রন্থের ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ৬৪) করেছেন। তিনি তাঁর পূর্বসূরি জাহমিয়া ও অন্যদের অনুকরণে তাঁদেরকে 'হাশুবিয়াহ' উপাধিতে গালি দেওয়ার পর তাঁদের সম্পর্কে বলেছেন:১
"এবং তারা আল্লাহর ব্যাপারে এমন কথা বলে যা শরিয়ত ও বুদ্ধি অনুমোদন করে না; যেমন মহান আল্লাহর জন্য গতি সাব্যস্ত করা এবং স্থান পরিবর্তন—যা দ্বারা তিনি অবতরণ বুঝিয়েছেন—সীমা, দিক—যা দ্বারা তিনি উচ্চতা বুঝিয়েছেন—এবং বসা ও বসানো।" এর দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য যা আমরা বর্ণনা করতে চাচ্ছি যে, এটি প্রমাণিত নয়।
আমি বলি: লেখক (রহিমাহুল্লাহ) যদি আমাদের উল্লিখিত কথার ওপর সীমাবদ্ধ থাকতেন তবে তা উত্তম হতো। কিন্তু তিনি এতে সন্তুষ্ট হননি, বরং মহান আল্লাহর বাণী: {সম্ভবত আপনার রব আপনাকে মাকামে মাহমুদে (প্রশংসিত স্থানে) পাঠাবেন} এর তাফসিরে মুজাহিদের বর্ণনা—যেখানে বলা হয়েছে: "তিনি তাঁকে আরশের ওপর বসাবেন বা বসিয়ে দিবেন"—তা মেনে নেওয়ার ফতোয়া যারা দিয়েছেন, তাদের উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি একটি বড় পৃষ্ঠার চেয়েও বেশি অংশ পূর্ণ করেছেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করে আমি তার প্রতিবাদকারী এবং সে আমার কাছে একজন সন্দেহভাজন মন্দ লোক..."। এমনকি তিনি ইমাম আহমাদ থেকেও বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "উলামায়ে কেরাম এটি কবুল করে নিয়েছেন"। এছাড়া আরও অনেক কথা যা আপনি মূল কিতাবে দেখতে পাবেন এবং এই ভূমিকায় তা বিস্তারিত উল্লেখ করার প্রয়োজন আমাদের নেই। তিনি তাঁর "আয-যাহাবিয়্যাহ" নামক সংক্ষিপ্তসারে আরও অনেক মুহাদ্দিসের নাম উল্লেখ করেছেন যারা এই বর্ণনাটিকে মেনে নিয়েছেন এবং সেখানে তিনি তাদের ওপর কোনো আপত্তি করেননি। কিন্তু এখানে তাঁর অবস্থান চরমভাবে দ্বিধাগ্রস্ত। কারণ আপনি দেখবেন যে তিনি মুহাম্মাদ ইবনে মুসআব আল-আবিদ এর জীবনী আলোচনার শেষে ওইসব উক্তির একটির পর বলছেন (পৃষ্ঠা ১২৬):
"সুতরাং দেখুন—আল্লাহ আপনাকে কুপ্রবৃত্তি থেকে রক্ষা করুন—কীভাবে এই মুহাদ্দিসের চিন্তা-ভাবনা একটি অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা গ্রহণ করার আবশ্যকতার দিকে নিয়ে গেল..."
আপনি যদি তাঁর এই কথার প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করেন, তবে মনে করবেন যে তিনি এই বর্ণনাটিকে অস্বীকার করেন এবং এটি বিশ্বাস করেন না, আর তিনি দ্বিধাহীনভাবে এটি মেনে চলতে বাধ্য। কিন্তু আপনি পৃষ্ঠা ১৪৩-এ তাঁর বক্তব্যে অবাক হয়ে যাবেন যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أشار إلى هذا الأثر عقب ترجمة حرب الكرماني:
" وغضب العلماء لإنكار هذه المنقبة العظيمة التي انفرد بها سيد البشر ويبعد أن يقول مجاهد ذلك إلا بتوقيف
… ".
ثم ذكر أشخاصا آخرين ممن سلموا بهذا الأثر غير من تقدم، فإذا أنت فرغت من قراءة هذا، قلت: لقد رجع الشيخ من إنكاره إلى التسليم به، لأنه قال: إنه لا يقال إلا بتوقيف! ولكن سرعان ما تراه يستدرك على ذلك بقوله بعد سطور:
"ولكن ثبت في "الصحاح" أن المقام المحمود هو الشفاعة العامة الخاصة بنبينا صلى الله عليه وسلم".
قلت: وهذا هو الحق في تفسير المقام المحمود دون شك ولا ريب للأحاديث التي أشار إليها المصنف رحمه الله تعالى، وهو الذي صححه الإمام ابن جرير في "تفسيره" "15/ 99" ثم القرطبي "10/ 309" وهو الذي لم يذكر الحافظ ابن كثير غيره، وساق الأحاديث المشار إليها. بل هو الثابت عند مجاهد نفسه من طريقين عنه عند ابن جرير. وذاك الأثر عنه ليس له طريق معتبر، فقد ذكر المؤلف "ص125" أنه روي عَنْ لَيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ وعطاء بن السائب وأبي يحيى القتات وجابر بن يزيد ". قلت: والأولان مختلطان والآخران ضعيفان بل الأخير متروك متهم.
ولست أدري ما الذي منع المصنف -عفا الله عنه- من الاستقرار على هذا القول، وعلى جزمه بأن هذا الأثر منكر كما تقدم عنه، فإنه يتضمن نسبة القعود على العرش لله عز وجل، وهذا يستلزم نسبة الاستقرار عليه الله تعالى، وهذا مما لم يرد، فلا يجوز اعتقاده ونسبته إلى الله عز وجل، ولذلك ترى المؤلف رحمه الله أنكر على من قال ممن جاء بعد القرون الثلاثة: إن الله استوى استواء استقرار" كما تراه في ترجمة "140 - أبو أحمد القصاب ". وصرح في ترجمة "161-
হারব আল-কিরমানীর জীবনী আলোচনার শেষে তিনি এই বর্ণনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন:
"এবং আলেমগণ এই মহান মর্যাদাকে অস্বীকার করার কারণে রাগান্বিত হয়েছেন যা কেবল মানবজাতির সরদারের (রাসূল ﷺ) অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং মুজাহিদের পক্ষে ওহীর জ্ঞান ব্যতীত এমন কথা বলা সুদূরপরাহত
… "।
অতঃপর তিনি ইতিপূর্বে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও এমন আরও কিছু লোকের নাম উল্লেখ করেছেন যারা এই বর্ণনাটিকে মেনে নিয়েছেন। আপনি যখন এটি পড়া শেষ করবেন, তখন বলবেন: শাইখ হয়তো তাঁর অস্বীকৃতি থেকে ফিরে এসে এটি মেনে নিয়েছেন, কারণ তিনি বলেছেন: এটি ওহীর জ্ঞান ছাড়া বলা সম্ভব নয়! কিন্তু শীঘ্রই আপনি তাঁকে কয়েক লাইন পরে সংশোধন করতে দেখবেন এই বলে:
"কিন্তু 'সহীহ' গ্রন্থাবলীতে এটি প্রমাণিত যে, মাকামে মাহমুদ হলো সাধারণ শাফাআত যা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নির্দিষ্ট।"
আমি বলছি: মাকামে মাহমুদের তাফসিরে এটিই কোনো সন্দেহ-সংশয় ছাড়াই সত্য, সেই হাদীসগুলোর কারণে যেগুলোর প্রতি গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) ইঙ্গিত করেছেন। আর এটিকেই ইমাম ইবনে জারীর তাঁর 'তাফসির'-এ (১৫/৯৯) এবং ইমাম কুরতুবী (১০/৩০৯) সহীহ বলেছেন। হাফেজ ইবনে কাসীরও এটি ছাড়া অন্য কিছু উল্লেখ করেননি এবং তিনি সংশ্লিষ্ট হাদীসগুলো উদ্ধৃত করেছেন। বরং মুজাহিদ থেকে বর্ণিত দুটি সূত্রের মাধ্যমে ইবনে জারীরের নিকট এটিই প্রমাণিত। আর তাঁর থেকে বর্ণিত ঐ বর্ণনাটির কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র নেই। গ্রন্থকার ১২৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, এটি লাইস ইবনে আবি সুলাইম, আতা ইবনে সাইব, আবু ইয়াহইয়া আল-কাত্তাত এবং জাবির ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত হয়েছে। আমি বলছি: প্রথমোক্ত দুজন বর্ণনাকারী স্মৃতিবিভ্রাটে আক্রান্ত এবং শেষোক্ত দুজন দুর্বল, বরং শেষের জন তো পরিত্যক্ত ও অভিযুক্ত।
আমি জানি না কিসে গ্রন্থকারকে—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন—এই মতের ওপর স্থির থাকতে এবং এই বর্ণনাটি যে অগ্রহণযোগ্য সে ব্যাপারে তাঁর দৃঢ় অবস্থানের ওপর অটল থাকতে বাধা দিল। কেননা এতে মহান আল্লাহর জন্য আরশের ওপর বসার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহর জন্য আরশের ওপর স্থির হওয়ার বিষয়টিকে অপরিহার্য করে তোলে। অথচ এটি বর্ণিত হয়নি। সুতরাং এটি বিশ্বাস করা এবং আল্লাহর দিকে সম্পর্কিত করা বৈধ নয়। এই কারণেই আপনি দেখবেন যে, গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) প্রথম তিন শতাব্দীর পরে আগত এমন ব্যক্তিদের প্রতিবাদ করেছেন যারা বলেছিল: "নিশ্চয়ই আল্লাহ স্থির হয়ে উঠেছেন", যেমনটি আপনি ১৪০ নম্বর জীবনীতে—আবু আহমাদ আল-কাসসাব—দেখতে পাবেন। এবং তিনি ১৬১ নম্বর জীবনীতে স্পষ্ট করেছেন—
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
البغوي" أنه لا يعجبه تفسير "استوى" بـ"استقر". بل إنه بالغ في إنكار لفظة "بذاته" على جمع ممن قال: "هو تعالى فوق عرشه بذاته" لعدم ورودها عن السلف، مع أنها مفسرة لقولهم باستواء الله على خلقه حقيقة استواء يليق بجلاله وكماله، واعتبرها من فضول الكلام، فانظرترجمة "136 - ابن أبي زيد" و"144 - يحيى بن عمار" و"146 - أبو عمر الطلمنكي" و"149 - أبو نصر السجزي".
وهذه اللفظة "بذاته"، وإن كانت عندي معقولة المعنى، وأنه لا بأس من ذكرها للتوضيح فهي كاللفظة الأخرى التي كثر ورودها في عقيدة السلف وهي لفظة "بائن" في قولهم "هو تعالى على عرشه بائن من خلقه ". وقد قال هذا جماعة منهم كما ستراه في هذا "المختصر" في التراجم الآتية "45 - عبد الله بن أبي جعفر الرازي" و"53 - هشام بن عبيد الله الرازي" و"56 - سنيد بن داود المصيصي الحافظ" "67 - إسحاق بن راهويه عالم خراسان" وذكره عن ابن المبارك و"77 - أبو زرعة الرازي" و"87 - أبو حاتم الرازي" وحكياه عن العلماء في جميع الأمصار. و"79 - يحيى بن معاذ الرازي" و"84 - عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ الْحَافِظُ و"103 أبو جعفر ابن أبي شيبة" وكل هؤلاء من القرون الثلاثة المشهود لهم بالخيرية ثم "108 - حماد البوشنجي الحافظ" وحكاه عن أهل الأمصار "109 - إمام الأئمة ابن خزيمة ". و"125 - أبو القاسم الطبراني" و"133 - ابن بطة" و"141 - أبو نعيم الأصبهاني" وعزاه إلى السلف. و"142 - معمر بن زياد" و"155 - الفقيه نصر المقدسي" و"158 - شيخ الإسلام الأنصاري" و"164 - ابن موهب ".
قلت: ومن هذا العرض يتبين أن هاتين اللفظتين: "بذاته" و"بائن" لم تكونا معروفين في عهد الصحابة رضي الله عنهم. ولكن لما ابتدع الجهم وأتباعه القول بأن الله في كل مكان، اقتضى ضرورة البيان أن يتلفظ هؤلاء الأئمة الأعلام، بلفظ "بائن" دون أن ينكره أحد منهم.
"বাগভী" এর নিকট "ইস্তাওয়া"-র ব্যাখ্যা "স্থির হওয়া" দ্বারা করা পছন্দনীয় ছিল না। বরং যারা বলেছিলেন: "তিনি সুউচ্চ সত্তা তাঁর আরশের উপরে সত্তাগতভাবে আছেন", তাদের একটি দলের উপর তিনি "সত্তাগতভাবে" শব্দটি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন; কারণ এটি সালাফদের থেকে বর্ণিত হয়নি। যদিও এই শব্দটি তাদের সেই কথারই ব্যাখ্যাস্বরূপ যা তারা আল্লাহর তাঁর সৃষ্টির উপরে প্রকৃতভাবে উঠার বিষয়ে বলেছিলেন, যা তাঁর মহিমা ও পূর্ণতার উপযোগী একটি উঠা, তবুও তিনি একে অতিরিক্ত কথা হিসেবে গণ্য করেছেন। দেখুন জীবনী: "১৩৬ - ইবন আবী যায়িদ", "১৪৪ - ইয়াহইয়া ইবন আম্মার", "১৪৬ - আবু উমর আত-তালামাঙ্কী" এবং "১৪৯ - আবু নাসর আস-সিজযী"৷
এই "সত্তাগতভাবে" শব্দটির অর্থ আমার নিকট বোধগম্য হলেও এবং স্পষ্টীকরণের জন্য এটি উল্লেখ করাতে কোনো দোষ না থাকলেও, এটি অন্য সেই শব্দের মতো যা সালাফদের আকীদায় প্রচুর পরিমাণে এসেছে, আর তা হলো "পৃথক" শব্দটি। যেমন তাদের উক্তি: "তিনি সুউচ্চ সত্তা তাঁর আরশের উপরে তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক হয়ে আছেন।" তাদের একটি দল এটি বলেছেন, যা আপনি এই "সংক্ষিপ্তসার"-এর পরবর্তী জীবনীগুলোতে দেখতে পাবেন: "৪৫ - আব্দুল্লাহ ইবন আবী জাফর আর-রাযী", "৫৩ - হিশাম ইবন উবাইদুল্লাহ আর-রাযী", "৫৬ - সুনাইদ ইবন দাউদ আল-মাসসীসী আল-হাফিয", "৬৭ - ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ, খুরাসানের আলিম" - তিনি এটি ইবনুল মুবারক থেকে উল্লেখ করেছেন, "৭৭ - আবু যুরআহ আর-রাযী", "٨৭ - আবু হাতিম আর-রাযী" - তাঁরা উভয়ই সকল অঞ্চলের আলিমদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, "৭৯ - ইয়াহইয়া ইবন মুআয আর-রাযী", "৮৪ - উসমান ইবন সাঈদ আদ-দারিমি আল-হাফিয", "১০৩ - আবু জাফর ইবন আবী শাইবাহ" - এরা সকলেই সেই তিন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত যাদের কল্যাণের সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এরপর "১০৮ - হাম্মাদ আল-বুশাঞ্জী আল-হাফিয" - তিনি সকল অঞ্চলের অধিবাসীদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, "১০৯ - ইমামুল আইম্মাহ ইবন খুযাইমাহ", "১২৫ - আবুল কাসিম আত-তাবারানী", "১৩৩ - ইবন বাত্তাহ", "১৪১ - আবু নুয়াইম আল-আসবাহানী" - তিনি একে সালাফদের দিকে নিসবত করেছেন, "১৪২ - মা'মার ইবন যিয়াদ", "১৫৫ - আল-ফকীহ নাসর আল-মাকদিসী", "১৫৮ - শায়খুল ইসলাম আল-আনসারী" এবং "১৬৪ - ইবন মাওহাব"৷
আমি বলি: এই উপস্থাপনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, এই দুটি শব্দ: "সত্তাগতভাবে" এবং "পৃথক" সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-দের যুগে পরিচিত ছিল না। কিন্তু যখন জাহম এবং তার অনুসারীরা এই বিদআতী মতবাদ প্রচার করল যে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান, তখন সত্য বর্ণনার প্রয়োজনে এই বরেণ্য ইমামগণ "পৃথক" শব্দটি উচ্চারণ করতে বাধ্য হলেন এবং তাঁদের কেউ একে অস্বীকার করেননি।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومثل وهذا تماما قولهم في القرآن الكريم أنه غير مخلوق، فإن هذه الكلمة لا تعرفها الصحابة أيضا، وإنما كانوا يقولون فيه: كلام الله تبارك وتعالى لا يزيدون على ذلك، وكان ينبغي الوقوف فيه عند هذا الحد، لولا قول جهم وأشياعه من المعتزلة: إنه مخلوق، ولكن إذا نطق هؤلاء بالباطل، وجب على أهل الحق أن ينطقوا بالحق ولو بتعابير وألفاظ لم تكن معروفة، من قبل وإلى هذه الحقيقة أشار الإمام أحمد رحمه الله تعالى حين سئل عن الواقفة الذين لا يقولون في القرآن إنه مخلوق أو غير مخلوق هل لهم رخصة أن يقول الرجل: "كلام الله" ثم يسكت؟ قال: ولم يسكت؟ لولا ما وقع فيه الناس كان يسعه السكوت، ولكن حيث تكلموا فيما تكلموا، لأي شيء لا يتكلمون؟! 1 سمعه أبو داود منه كما في "مسائله" "ص263-264 ".
قلت: والمقصود أن المؤلف رحمه الله تعالى، أقر لفظة "بائن" لتتابع أولئك الأئمة عليها دون نكير من أحد منهم، وأنكر اللفظة الأخرى وهي "بذاته" لعدم تواردها في أقوالهم. إلا بعض المتأخرين منهم، فأنكر ذلك مبالغة منه في المحافظة على نهج السلف، مع أن معناها في نفسه سليم وليس فيها إثبات ما لم يرد، فكنت أحب له رحمه الله أن لا يتردد في إنكار نسبة القعود إلى الله تعالى وإقعاده مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم على عرشه ما دام أنه لم يأت به نص ملزم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، ومعناه ليس له شاهد في السنة، ومعناه ولفظه لم يتوارد على ألسنة الأئمة، وهذا هو الذي يدل عليه بعض كلماته المتقدمة حول هذا الأثر، ولكنه لما رأى كثيرا من علماء الحديث أقروه لم يجرؤ على التزام التصريح بالإنكار، وإنما تارة وتارة، والله تعالى يغفر لنا وله.
ومن العجيب حقا أن يعتمد هذا الأثر الإمام ابن القيم رحمه الله تعالى فإنه نقل كلام القاضي أبي يعلى فيه وبعض أسماء القائلين به، ثم قال ابن القيم رحمه الله:
--------------------------------------------
ঠিক এরই অনুরূপ হলো পবিত্র কুরআন সম্পর্কে তাঁদের এই বক্তব্য যে, এটি সৃষ্টি নয়। এই শব্দটির সাথে সাহাবীগণও পরিচিত ছিলেন না; বরং তাঁরা কুরআন সম্পর্কে কেবল বলতেন: ‘এটি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার কালাম’, এর অতিরিক্ত কিছু তাঁরা বলতেন না। আর জহম ও তার মুতাজিলা অনুসারীরা এটি ‘সৃষ্টি’ বলার আগ পর্যন্ত এই সীমানাতেই থেমে থাকা উচিত ছিল। কিন্তু যখন তারা বাতিলের কথা উচ্চারণ করল, তখন সত্যপন্থীদের জন্য সত্য বিষয়টি উচ্চারণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ল, যদিও তা এমন সব শব্দ ও পরিভাষার মাধ্যমে হয় যা ইতিপূর্বে পরিচিত ছিল না। ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে যখন ঐসব ‘ওয়াকিফা’ (থামিয়া যাওয়া লোক) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যারা কুরআন সৃষ্টি নাকি সৃষ্টি নয়—সে বিষয়ে কিছু বলে না, তাদের কি এমন সুযোগ আছে যে ব্যক্তি শুধু ‘আল্লাহর কালাম’ বলে চুপ থাকবে? তখন তিনি এই বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে বলেছিলেন: “সে কেন চুপ থাকবে? মানুষের মাঝে যা ঘটেছে তা যদি না হতো, তবে তার জন্য চুপ থাকা সম্ভব ছিল। কিন্তু যেহেতু তারা এ বিষয়ে কথা বলেছে যা তারা বলেছে, তবে এরা কেন কথা বলবে না?!” আবু দাউদ তাঁর ‘মাসাইল’ (পৃষ্ঠা ২৬৩-২৬৪) গ্রন্থে এটি তাঁর থেকে শুনেছেন।
আমি বলছি: উদ্দেশ্য হলো, লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) ‘বাইয়িন’ (পৃথক) শব্দটি অনুমোদন করেছেন কারণ পূর্ববর্তী ইমামগণ কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই এর ওপর একমত ছিলেন। পক্ষান্তরে তিনি অপর শব্দ ‘বি-জাতিহি’ (সত্তাগতভাবে) শব্দটি প্রত্যাখ্যান করেছেন কারণ তাঁদের বক্তব্যে এটি পাওয়া যায় না, কেবল তাঁদের পরবর্তী যুগের কিছু আলিম ব্যতীত। সালাফদের আদর্শ রক্ষায় অতি সতর্কতার কারণেই তিনি এটি অস্বীকার করেছেন, যদিও এর অর্থগত দিক সঠিক এবং এতে অনুল্লিখিত কোনো কিছু সাব্যস্ত করা হয় না। তবে আমি তাঁর (লেখক) জন্য পছন্দ করতাম যে, তিনি যেন আল্লাহ তা'আলার দিকে ‘বসা’র সম্বন্ধ করা এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর আরশের ওপর বসানোর বিষয়টি অস্বীকার করতে দ্বিধা না করতেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না এ বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো অকাট্য দলীল সাব্যস্ত হয়। সুন্নাহর মধ্যেও এর কোনো প্রমাণ নেই এবং এর অর্থ ও শব্দ কোনোটিই ইমামগণের মুখে উচ্চারিত হয়নি। এই বর্ণনাটি সম্পর্কে তাঁর পূর্বোক্ত কিছু বক্তব্য একথাই নির্দেশ করে। কিন্তু যখন তিনি দেখলেন যে অনেক হাদীস বিশারদ একে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তখন তিনি স্পষ্টভাবে এটি অস্বীকার করার সাহস পাননি, বরং কখনো করেছেন আবার কখনো করেননি। আল্লাহ তা'আলা আমাদের ও তাঁকে ক্ষমা করুন।
এটি সত্যিই বিস্ময়কর যে, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) এই বর্ণনাটির ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি এ বিষয়ে কাজী আবু ইয়া’লার বক্তব্য এবং এর প্রবক্তা কিছু ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন। এরপর ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
" قلت: وهو قول ابن جرير الطبري وإمام هؤلاء كلهم مجاهد إمام التفسير وهو قول أبي الحسن الدارقطني ومن شعره فيه".
ثم ذكره مثلما ذكره المصنف فيما يأتي في ترجمة "134 - الدراقطني" وزاد بيتا رابعا لعل المصنف تعمد حذفه:
"ولا تنكروا أنه قاعد
… ولا تنكروا أنه يقعده"!
قلت: وقد عرفت أن ذلك لم يثبت عن مجاهد، بل صح عنه ما يخالفه كما تقدم. وما عزاه للدارقطني لا يصح إسناده كما بيناه في "الأحاديث الضعيفة" "870" وأشرت إلى ذلك تحت ترجمة الدارقطني الآتية. وجعل ذلك قولا لابن جرير فيه نظر، لأن كلامه في "التفسير" يدور على إمكان وقوع ذلك كما سبق لا أنه وقع وتحقق، ولذلك قال الإمام القرطبي في "تفسيره" "10/ 311":
"وعضد الطبري جواز ذلك بشطط من القول، وهو لا يخرج إلا على تلطف في المعنى وفيه بعد، ولا ينكر مع ذلك أن يروى، والعلم يتأوله "
ثم بين وجه تأويله، بما لا حاجة بنا إلى ذكره والنظر فيه، ما دام أنه أثر غير مرفوع، ولو افترض أنه في حكم المرفوع، فهو في حكم المرسل الذي لا يحتج به في الفروع فضلا عن الأصول، كما ذكرت ذلك أو نحوه فيما يأتي من التعليق على قولة بعضهم: "ولا نتكلم في حديث فيه فضيلة للنبي صلى الله عليه وسلم بشيء"! التعليق "265".
ولعل المصنف رحمه الله تعالى يشير إلى ذلك بقوله في ترجمة "165 - القاضي العلامة أبو بكر بن العربي" وقد نقل عنه القول بهذا القعود معه على العرش: قال:
"وما علمت للقاضي مستندا في قوله هذا سوى قول مجاهد".
وخلاصة القول: إن قول مجاهد هذا -وإن صح عنه- لا يجوز أن يتخذ
আমি বলছি: এটি ইবনে জারির তাবারির মত, এবং তাদের সকলের ইমাম হলেন তাফসিরের ইমাম মুজাহিদ। আর এটি আবুল হাসান দারা কুতনিরও মত এবং এ বিষয়ে তাঁর কবিতা থেকেও পাওয়া যায়।
অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন যেভাবে গ্রন্থকার পরবর্তীতে "১৩৪ - দারা কুতনি" এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি চতুর্থ একটি পঙ্ক্তি যোগ করেছেন যা সম্ভবত গ্রন্থকার ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিয়েছেন:
"আর তোমরা অস্বীকার করো না যে তিনি বসে আছেন
… এবং তোমরা অস্বীকার করো না যে তিনি তাঁকে বসাবেন!"
আমি বলছি: আর আপনি জেনেছেন যে এটি মুজাহিদ থেকে প্রমাণিত নয়, বরং তাঁর থেকে এর বিপরীতটিই সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আর দারা কুতনির দিকে যা নিসবত করা হয়েছে তার সনদ সহিহ নয়, যেমনটি আমরা "আল-আহাদিস আদ-দায়িফাহ" (৮৭০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছি এবং আমি সামনে দারা কুতনির জীবনীর অধীনে সেদিকে ইশারা করেছি। আর একে ইবনে জারিরের মত হিসেবে গণ্য করা পর্যালোচনার দাবি রাখে, কারণ তাঁর "তাফসির"-এ তাঁর বক্তব্য এর ঘটার সম্ভাব্যতা নিয়ে আবর্তিত হয়েছে যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে, এমন নয় যে এটি ঘটেছে ও বাস্তবায়িত হয়েছে। একারণেই ইমাম কুরতুবি তাঁর "তাফসির"-এ (১০/৩১১) বলেছেন:
"আর তাবারী এর বৈধতাকে কিছু দীর্ঘ বক্তব্যের মাধ্যমে সমর্থন করেছেন, যা কেবল অর্থের সূক্ষ্ম ব্যাখ্যার মাধ্যমেই বের করা সম্ভব এবং এতে দূরবর্তিতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও এটি বর্ণিত হওয়াকে অস্বীকার করা যায় না, আর বিজ্ঞগণ এর ব্যাখ্যা করেন।"
অতঃপর তিনি তাঁর ব্যাখ্যার ধরণ বর্ণনা করেছেন, যা আমাদের উল্লেখ করার বা তাতে দৃষ্টিপাত করার কোনো প্রয়োজন নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত তা মারফু বর্ণনা নয়। আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে এটি মারফুর হুকুমে, তবুও তা মুরসাল-এর হুকুমে পড়বে যা ফুরু বা আনুষঙ্গিক বিষয়েই দলিল হিসেবে গণ্য হয় না, উসুল বা মৌলিক বিষয়ে তো দূরের কথা। যেমনটি আমি এ সম্পর্কে বা এর সদৃশ বিষয়ে সামনের এক জায়গায় কারো বক্তব্যের ওপর মন্তব্যে উল্লেখ করেছি: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফজিলত সম্বলিত কোনো হাদিসের ব্যাপারে আমরা কোনো মন্তব্য করি না!" মন্তব্য "২৬৫"।
সম্ভবত গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) "১৬৫ - কাজি আল্লামা আবু বকর ইবনুল আরাবি"-এর জীবনীতে তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেদিকেই ইশারা করেছেন, যেখানে আরশের ওপর তাঁর সাথে এই বসার কথাটি তাঁর থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি বলেন:
"আর কাজির এই বক্তব্যের স্বপক্ষে মুজাহিদের বক্তব্য ছাড়া অন্য কোনো দলিল আমার জানা নেই।"
সারকথা হলো: মুজাহিদের এই উক্তিটি—যদিও তা তাঁর থেকে সহিহ প্রমাণিত হতো—তবুও একে গ্রহণ করা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ২০)
دينا وعقيدة، ما دام أنه ليس له شاهد من الكتاب والسنة، فيا ليت المصنف إذ ذكره عنده جزم برده وعدم صلاحيته للاحتجاج به، ولم يتردد فيه، فإنه هو اللائق به، وبتورعه من إثبات كلمة "بذاته" والله المستعان.
4- وحذفت أيضا ما جزمت بأنه من الإسرائيليات، ولو كان صحيح الإسناد، إلا إذا كان معناه موافقا للكتاب والسنة.
5- وتسامحت في إيراد بعض الأثار والأقوال التي في السند إلى أصحابها ضعف أو جهالة، لأنها ليست كالأحاديث المرفوعة التي يجب الاحتجاج بها واتخاذها دينا، وإنما ذكرت للاستئناس بها والاستشهاد فقط.
6- وحذفت من إسناد الحديث والأثر ما لا فائدة فيه بالنسبة لعامة القراء لا سيما في هذا "المختصر"، وإنما أبقيت الضروري منه كاسم الصحابي، أو التابعي، أو غيرهما ممن نسب القول إليه في السند.
7- وقد رقمت أحاديث الكتاب وآثاره برقم متسلسل من أوله إلى آخره. وكذلك رقمت تراجم الأئمة الذين روى المصنف أو نقل عنهم القول بأن الله على العرش، رقمتها بأرقام متسلسلة، ووضعت بجانبها الأيسر بين معكوفتين [] سنة ولادة المترجم ووفاته، لأيسر بذلك على القراء متابعة تسلسل القول بذلك من إمام إلى إمام، ومن سنة إلى ما بعدها، حتى آخر القرن السادس.
8- وخرجت أحاديث الكتاب وآثاره، وعزوت كل قول من الأقوال المذكورة فيه إلى مصدره الذي عزاه المصنف إليه، مطبوعا كان أو مخطوطا بقدر الإمكان، وعلقت عليه بتعليقات مفيدة، أكثرها في تحقيق الكلام على أسانيد تلك الآثار والأقوال، للتثبت من ما صح منها نسبة إلى قائلها وما لم يصح، فتبين لنا أن أكثرها صحيح ثابت -والحمد لله- على طريقة أهل الحديث ونقدهم للأسانيد.
দ্বীন ও আকিদা হিসেবে, যতক্ষণ না কিতাব ও সুন্নাহ থেকে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাই হায়! লেখক যখন এটি উল্লেখ করেছিলেন, তখন যদি তিনি এটি প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে এবং একে দলিল হিসেবে ব্যবহারের অযোগ্যতার বিষয়ে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতেন এবং এতে দ্বিধা না করতেন, তবে তা-ই তাঁর জন্য এবং 'নিজ সত্তায়' শব্দটি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর সতর্কতার জন্য মানানসই হতো। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়।
৪- এছাড়া আমি সেই সব বর্ণনাও বাদ দিয়েছি যেগুলোকে আমি নিশ্চিতভাবে ইসরাঈলি বর্ণনা হিসেবে গণ্য করেছি, যদিও সেগুলোর সনদ সহিহ হয়; তবে যদি সেগুলোর অর্থ কিতাব ও সুন্নাহর অনুকূল হয় (তাহলে ভিন্ন কথা)।
৫- আর আমি এমন কিছু আসার ও বক্তব্য উল্লেখ করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছি যেগুলোর সনদে দুর্বলতা বা বর্ণনাকারী অজ্ঞাত হওয়ার বিষয় রয়েছে। কারণ এগুলো সেই সব মারফু হাদিসের মতো নয় যা দলিল হিসেবে পেশ করা এবং দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করা আবশ্যক; বরং এগুলো কেবল আলোচনার সমর্থনে এবং সাক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
৬- আর হাদিস ও আসারের সনদ থেকে আমি এমন অংশ বাদ দিয়েছি যা সাধারণ পাঠকদের জন্য খুব একটা উপকারী নয়, বিশেষ করে এই "সংক্ষিপ্তসার" গ্রন্থে। আমি কেবল প্রয়োজনীয় অংশটুকু রেখেছি, যেমন সাহাবি বা তাবেয়ির নাম, অথবা অন্য কারো নাম যার দিকে সনদে উক্তিটি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।
৭- আমি এই গ্রন্থের হাদিস ও আসারগুলোকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে নম্বর প্রদান করেছি। অনুরূপভাবে, যেসব ইমামদের জীবনী গ্রন্থকার বর্ণনা করেছেন অথবা যাদের পক্ষ থেকে তিনি এই বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যে, আল্লাহ আরশের উপর উঠেছেন, আমি সেগুলোকে ক্রমিক নম্বর দিয়েছি। এছাড়া জীবনীতে উল্লিখিত ইমামের জন্ম ও মৃত্যুসন বাম পার্শ্বে ব্র্যাকেটের [] মধ্যে উল্লেখ করেছি, যাতে পাঠকদের জন্য এক ইমাম থেকে অন্য ইমাম এবং এক বছর থেকে পরবর্তী বছরগুলোতে এই বক্তব্যের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা সহজ হয়, ষষ্ঠ হিজরি শতকের শেষ পর্যন্ত।
৮- আমি এই কিতাবের হাদিস ও আসারগুলোর উৎস অনুসন্ধান করেছি এবং এতে উল্লিখিত প্রতিটি উক্তিকে সাধ্যমতো এর মূল উৎসের দিকে নিসবত করেছি যেখানে লেখক একে সম্বন্ধযুক্ত করেছিলেন, চাই তা মুদ্রিত হোক বা পাণ্ডুলিপি। এছাড়া আমি এর উপর কিছু দরকারী টিকা সংযোজন করেছি, যার অধিকাংশই ঐসব আসার ও বক্তব্যের সনদের পর্যালোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট; যেন এর বক্তার দিকে এর সম্বন্ধ সহিহ কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়। ফলে আমাদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, আহলে হাদিসদের অনুসৃত পদ্ধতি ও সনদ পর্যালোচনার মানদণ্ড অনুযায়ী এগুলোর অধিকাংশই সহিহ ও প্রমাণিত—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ২১)
9- وقد رأيت من تمام الفائدة أن أضع تعليقات مفيدة على أخباره، أهمها تخريج أحاديثه وآثاره، مع ترقيمها بأرقام متسلسلة من أول الكتاب إلى آخره.
৯- আর আমি ফায়দাকে পূর্ণ করার লক্ষ্যে এর বর্ণনাগুলোর ওপর কিছু উপকারী টীকা প্রদান করা সমীচীন মনে করেছি, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এর হাদিস ও আছারগুলোর তাখরীজ (উৎস নির্দেশ), কিতাবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেগুলোকে ধারাবাহিক ক্রমিক নম্বর প্রদানের সাথে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ২২)
باب: موضوع الكتاب وخطورته…موضوع الكتاب وخطورته
اعلم أيها القارئ الكريم أن هذا الكتاب قد عالج مسألة هي من أخطر المسائل الاعتقادية التي تفرق المسلمون حولها منذ أن وجدت المعتزلة حتى يومنا هذا، ألا وهي مسألة علو الله عز وجل على خلقه، الثابتة بالكتاب والسنة المتواترة المدعم بشاهد الفطرة السليمة، وما كان لمسلم أن ينكر مثلها في الثبوت، لولا أن بعض الفرق المنحرفة عن السنة فتحوا على أنفسهم وعلى الناس من بعدهم باب التأويل، فلقد كاد الشيطان به لعدوه الإنسان كيدا عظيما، ومنعهم به أن يسلكوا صراطا مستقيما، كيف لا وهم قد اتفقوا على أن الأصل في الكلام أن يحمل على الحقيقة، وأنه لا يجوز الخروج عنها إلى المجاز إلا عند تعذر الحقيقة، أو لقرينة عقلية أو عرفية أو لفظية كما هو مفصل في محله، ومع ذلك فإنك تراهم يخالفون هذا الأصل الذي أصلوه، لأتفه الأسباب، وأبعد الأمور عن منطق الإنسان المؤمن بكلام الله وحديث نبيه حقا، فهل يستقيم في الدنيا فهم أو تفاهم إذا قال قائل مثلا: "جاء الأمير" فيأتي متأول من أمثال أولئك المتأولين، فيقول في تفسير هذه الجملة القصيرة: يعني جاء عبد الأمير، أو نحو ذلك من التقدير. فإذا أنكرت عليه ذلك أجابك بأن هذا مجاز فإذا قيل له: المجاز لا يصار إليه إلا عند تعذر الحقيقة وهي ممكنة هنا أو لقرينة لا قرينة هنا "1" سكت أو جادلك بالباطل.
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের বিষয়বস্তু এবং এর গুরুত্ব…গ্রন্থের বিষয়বস্তু এবং এর গুরুত্ব
হে সম্মানিত পাঠক, জেনে রাখুন যে, এই গ্রন্থটি এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে যা অত্যন্ত গুরুতর আকিদাগত বিষয়গুলোর অন্যতম, যে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মুতাজিলাদের উদ্ভব থেকে আজ পর্যন্ত মুসলিমরা বিভক্ত হয়েছে। আর তা হলো তাঁর সৃষ্টিজগতের ওপর মহান আল্লাহর উচ্চতার বিষয়টি, যা কুরআন ও মুতাওয়াতির সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত এবং যা সুস্থ স্বভাবজাত বোধের সাক্ষ্য দ্বারা সমর্থিত। এমন সুপ্রতিষ্ঠিত একটি বিষয় কোনো মুসলিমের পক্ষে অস্বীকার করা সম্ভব ছিল না, যদি না সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত কিছু দল নিজেদের ওপর এবং পরবর্তী প্রজন্মের মানুষের ওপর রূপক ব্যাখ্যার দরজা খুলে দিত। শয়তান এর মাধ্যমে তার শত্রু মানুষের বিরুদ্ধে এক বিশাল ষড়যন্ত্র করেছে এবং এর দ্বারা তাদেরকে সরল পথে চলতে বাধা দিয়েছে। এটি হওয়াই স্বাভাবিক, কারণ তারা একমত হয়েছিল যে, কথাবার্তার ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো শব্দকে তার প্রকৃত অর্থে গ্রহণ করা এবং কোনো উপযুক্ত কারণ ছাড়া প্রকৃত অর্থ বর্জন করে রূপক অর্থের দিকে যাওয়া বৈধ নয়; যতক্ষণ না প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করা অসম্ভব হয় অথবা কোনো বুদ্ধিদীপ্ত, প্রথাগত বা ভাষাগত প্রমাণ থাকে—যেমনটি সংশ্লিষ্ট স্থানে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও আপনি দেখবেন যে, তারা তাদেরই প্রতিষ্ঠিত এই মূলনীতিটি লঙ্ঘন করছে অতি তুচ্ছ কারণে এবং আল্লাহর বাণী ও তাঁর নবীর হাদিসের প্রতি প্রকৃত বিশ্বাসী মানুষের যুক্তিবোধ থেকে অনেক দূরের কিছু অজুহাতে। দুনিয়াতে কোনো বোধ বা পারস্পরিক সমঝোতা কি টিকে থাকতে পারে যদি কেউ বলে, যেমন: "আমির এসেছেন", আর রূপক ব্যাখ্যা প্রদানকারীদের মধ্য থেকে কেউ এসে এই সংক্ষিপ্ত বাক্যটির ব্যাখ্যায় বলে: এর অর্থ হলো আমিরের দাস এসেছে, অথবা এই জাতীয় কোনো অনুমান? আপনি যদি এর প্রতিবাদ করেন, তবে সে উত্তর দেবে যে এটি রূপক। আবার যখন তাকে বলা হবে: প্রকৃত অর্থ অসম্ভব হওয়া ছাড়া রূপক অর্থের দিকে যাওয়া যায় না, অথচ এখানে প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করা সম্ভব, অথবা কোনো প্রমাণ ছাড়া রূপক গ্রহণ করা যায় না, কিন্তু এখানে কোনো প্রমাণ নেই "১", তখন সে চুপ হয়ে যাবে অথবা অনর্থক বিতণ্ডায় লিপ্ত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد يقول قائل: وهل يفعل ذلك عاقل؟ قلت: ذلك ما صنعه كل الفرق المتأولة، الذين ينكرون حقائق الأسماء والصفات الإلهية من المعتزلة وغيرهم ممن تأثر بهم من الخلف، ولا نبعد بك كثيرا بضرب الأمثال وإنما نقتصد مثلين من القرآن الكريم، أحدهما يشبه المثال السابق تماما، والآخر له صلة بصلب موضوع الكتاب.
الأول: قوله تعالى: {وَجَاءَ رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفًّا صَفًّا} فقيل في تأويلها: "وجاء ربك"! وقيل غير ذلك من التأويل. ونحو كذلك أولوا قوله تعالى: {هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا أَنْ يَأْتِيَهُمُ اللَّهُ فِي ظُلَلٍ مِنَ الْغَمَامِ وَالْمَلائِكَةُ وَقُضِيَ الْأَمْرُ} . فقال بعضهم: يأتيهم الله بظلل. فنفى بذلك حقيقة الإتيان اللائق بالله تعالى بل غلا بعض ذوي الأهواء فقال: "قوله تعالى: {هَلْ يَنْظُرُونَ} حكاية عن اليهود، والمعنى أنهم لا يقبلون دينك إِلا أَنْ يَأْتِيَهُمُ اللَّهُ فِي ظلل من الغمام ليروه جهرة، لأن اليهود كانوا مشبهة يجوزون على الله المجيء والذهاب"! نقله الكوثري في تعليقه على "الأسماء والصفات" "ص447-448" عن الفخر الرازي وأقره!!
فتأمل -هداني الله وإياك- كيف أنكر مجيء الله الصريح في الآيتين المذكورتين. وهو إنما يكون يوم القيامة كما جاء في تفسير ابن جرير لقوله تعالى: {هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا أَنْ تَأْتِيَهُمُ الْمَلائِكَةُ أَوْ يَأْتِيَ أَمْرُ رَبِّكَ} فذكر "12/ 245-246" في قوله: {أَوْ يَأْتِيَ أَمْرُ رَبِّكَ} عن قتادة وابن جريج: يوم القيامة، ونحوه عن ابن مسعود وغيره. في "الدرر المنثور" "1/ 241" وانظر كلمة الإمام ابن راهويه في إثبات المجيء في الفقرة الآتية من الكتاب "213".
فنفى هذا المتأول ببركة التأويل إتيان الله ومجيئه يوم القيامة الثابت في هذه الآيات الكريمة، والأحاديث في ذلك أكثر وأطيب، ولم يكتف بهذا بل نسب القول بتجويز المجيء على الله إلى اليهود، وأن الآية نزلت في حقهم! ضلال وكذب، أما الضلال فواضح من تحريف الآيات المستلزم الطعن في الأئمة الذين
কেউ হয়তো বলতে পারেন: কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি কি এমন কাজ করে? আমি বলব: এটিই সেই কাজ যা সকল ব্যাখ্যাকারী দলগুলো করেছে, যারা আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলির বাস্তবতা অস্বীকার করে। এদের মধ্যে রয়েছে মুতাজিলা এবং পরবর্তী যুগের অন্যান্যরা যারা তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। আমি উদাহরণ দেওয়ার জন্য আপনাকে খুব বেশি দূরে নিয়ে যাব না, বরং পবিত্র কুরআন থেকে মাত্র দুটি উদাহরণ দিচ্ছি; যার একটি পূর্ববর্তী উদাহরণের সাথে হুবহু মিলে যায় এবং অন্যটি এই কিতাবের মূল বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত।
প্রথমটি: আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর আপনার রব আসবেন এবং ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবে।" এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: "আপনার রবের আদেশ আসবে!" এবং এর বাইরে আরও অন্যান্য ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে তারা মহান আল্লাহর এই বাণীরও ব্যাখ্যা করেছে: "তারা কি কেবল এরই অপেক্ষা করছে যে, মেঘের ছায়ার মধ্যে আল্লাহ ও ফেরেশতাগণ তাদের কাছে আসবে এবং সবকিছুর ফয়সালা হয়ে যাবে?" তাদের কেউ কেউ বলেছে: আল্লাহ তাদের কাছে মেঘের ছায়া নিয়ে আসবেন। এর মাধ্যমে তারা আল্লাহ তাআলার শানে মানানসই আগমনের বাস্তবতাকে অস্বীকার করেছে। বরং প্রবৃত্তিপূজারীদের কেউ কেউ তো সীমালঙ্ঘন করে বলেছে: "আল্লাহ তাআলার বাণী: 'তারা কি অপেক্ষা করছে'—এটি মূলত ইহুদিদের সম্পর্কে একটি বর্ণনা। এর অর্থ হলো, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার দ্বীন গ্রহণ করবে না যতক্ষণ না আল্লাহ মেঘের ছায়ায় তাদের সামনে উপস্থিত হন যাতে তারা তাঁকে সরাসরি দেখতে পায়। কারণ ইহুদিরা ছিল সাদৃশ্যবাদী, তারা আল্লাহর জন্য আসা এবং যাওয়া সম্ভব মনে করত!" কাওসারী 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত'-এর টীকায় (পৃ. ৪৪৭-৪৪৮) ফখর রাযী থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন এবং তা সমর্থন করেছেন!!
সুতরাং চিন্তা করুন—আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে হিদায়াত দান করুন—উল্লিখিত দুটি আয়াতে আল্লাহর সুস্পষ্টভাবে আসাকে কীভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। অথচ এটি কেবল কিয়ামত দিবসেই হবে, যেমনটি ইবনে জারীরের তাফসিরে মহান আল্লাহর বাণী: "তারা কি কেবল এরই অপেক্ষা করছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতারা আসবে অথবা আপনার রবের আদেশ আসবে?"—এর ব্যাখ্যায় এসেছে। তিনি (১২/২৪৫-২৪৬) "অথবা আপনার রবের আদেশ আসবে" অংশের ব্যাখ্যায় কাতাদাহ ও ইবনে জুরাইজ থেকে উল্লেখ করেছেন: এর অর্থ কিয়ামত দিবস। অনুরূপ কথা ইবনে মাসউদ এবং অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে 'আদ-দুররুল মানসুর' (১/২৪১)-এ। আর এই কিতাবের পরবর্তী অনুচ্ছেদে (২১৩ নং পৃষ্ঠায়) আল্লাহর আগমন সাব্যস্ত করার ব্যাপারে ইমাম ইবনে রাহওয়াইহর বক্তব্য দেখুন।
সুতরাং এই ব্যাখ্যাকারী ব্যক্তি ব্যাখ্যার বদৌলতে এই সম্মানিত আয়াতসমূহে প্রমাণিত কিয়ামত দিবসে আল্লাহর আগমন ও আসাকে অস্বীকার করেছেন। অথচ এ বিষয়ে হাদিসসমূহ আরও বেশি এবং অত্যন্ত চমৎকার। তিনি কেবল এখানেই থেমে থাকেননি, বরং আল্লাহর জন্য আসাকে সম্ভব মনে করার বিষয়টি ইহুদিদের প্রতি সম্পৃক্ত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে আয়াতটি তাদের ব্যাপারেই নাজিল হয়েছে! এটি পথভ্রষ্টতা এবং মিথ্যাচার। পথভ্রষ্টতার বিষয়টি তো আয়াতসমূহের বিকৃতি থেকে স্পষ্ট, যার ফলে ওইসব ইমামদের ওপর অপবাদ দেওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে যারা...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يؤمنون بمجيء الله تعالى يوم القيامة. وأما الكذب فإن أحدا من العلماء لم يذكر أن الآية نزلت في اليهود، بل السياق يدفع ذلك، قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ، فَإِنْ زَلَلْتُمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْكُمُ الْبَيِّنَاتُ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ، هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا أَنْ يَأْتِيَهُمُ اللَّهُ فِي ظُلَلٍ مِنَ الْغَمَامِ
… } . [سورة البقرة: 208-211]
قلت: فأنت ترى أن الخطاب موجه للمؤمنين، ولذلك قال ابن جرير في تفسيره "4/ 259" لقوله تعالى: {فَإِنْ زَلَلْتُم..} :
" يعني بذلك جل ثناؤه، فإن أخطأتم الحق فضللتم عنه وخالفتم الإسلام وشرائعه من بعد ما جاءتكم حججي، وبينات هداي، واتضحت لكم صحة أمر الإسلام بالأدلة التي قطعت عذركم أيها المؤمنون - فاعلموا أن الله ذو عزة
… ".
نعم قد روى ابن جرير "4/ 255" عن عكرمة قوله {ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً} قال: نزلت في ثعلبة وعبد الله بن سلام وو
… كلهم من يهود، قالوا: يا رسول الله يوم السبت كنا نعظمه فدعنا فلنسبت فيه
… فنزلت ".
قلت: وهذا مع أنه في مؤمني اليهود لا يصح إسناده لإرساله، ولو صح لم يجز القول بأنها "نزلت في حق اليهود" لأنها تعني عند الإطلاق كفارهم، والواقع خلافه! فتأمل هذا رحمنا الله وإياك، هل تجد في هذه الآيات المصرحة بإتيان الله ومجيئه قرينة من تلك القرائن الثلاث تضطر السامع إلى فهم ذلك على المجاز لا الحقيقة؟ كلا، ثم كلا، ولكنهم لما فهموا مجئ الله تعالى مجيئا على نحو مجيء المخلوق، وهذا تشبيه حقا اضطرهم هذا الفهم الخاطئ إلى إنكاره ونسبته إلى اليهود! وصاروا إلى التأويل. وكان بوسعهم أن يثبتوا لله تعالى هذه الصفة كما أثبتها السلف دون تشبيه كما قال تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} ، وإلا فهم على ذلك سيتأولون السمع والبصر أيضا، لأن الله تعالى قد أثبت للمخلوق سمعا وبصرا، في القرآن والسنة، فقد يقولون إننا إذا
তারা কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর আসাতে বিশ্বাস করে। আর মিথ্যার ব্যাপারটি হলো এই যে, আলেমদের মধ্যে কেউ উল্লেখ করেননি যে এই আয়াতটি ইহুদিদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে; বরং আয়াতের পূর্বাপর প্রসঙ্গ তা প্রত্যাখ্যান করে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না; নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। অতঃপর তোমাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পর যদি তোমরা বিচ্যুত হও, তবে জেনে রেখো যে, আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। তারা কি শুধু এজন্য অপেক্ষা করছে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ার মধ্যে তাদের নিকট আসবেন
… }। [সূরা আল-বাকারা: ২০৮-২১১]
আমি বলি: আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে এই সম্বোধন মুমিনদের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। একারণেই ইবনে জারীর তার তাফসীরে (৪/২৫৯) মহান আল্লাহর বাণী {অতঃপর যদি তোমরা বিচ্যুত হও...} সম্পর্কে বলেছেন:
"এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ—যার প্রশংসা সুউচ্চ—উদ্দেশ্য করেছেন যে, যদি তোমরা সত্য থেকে বিচ্যুত হও এবং তা থেকে পথভ্রষ্ট হয়ে যাও এবং ইসলাম ও এর বিধি-বিধানের বিরোধিতা করো—তোমাদের নিকট আমার প্রমাণাদি ও হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী আসার পর এবং সেই সকল দলিলের মাধ্যমে ইসলামের সত্যতা তোমাদের নিকট স্পষ্ট হওয়ার পর যা তোমাদের ওজর-আপত্তি ছিন্ন করে দিয়েছে হে মুমিনগণ—তবে জেনে রেখো যে, আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী
… "।
হ্যাঁ, ইবনে জারীর (৪/২৫৫) ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, {তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো} আয়াতটি সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "এটি সা’লাবা, আবদুল্লাহ ইবনে সালাম এবং
… তাদের সবার সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে যারা ইহুদি ছিল। তারা বলেছিল: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা শনিবারকে সম্মান করতাম, তাই আমাদের ছেড়ে দিন যাতে আমরা ওই দিনটি পালন করতে পারি
… তখন এই আয়াতটি নাযিল হয়।"
আমি বলি: এটি যদিও ইহুদিদের মধ্যে যারা মুমিন ছিলেন তাদের ব্যাপারে, তবুও এর সনদ সহীহ নয় কারণ এটি মুরসাল। আর যদি সহীহ হতোও, তবুও এটি বলা বৈধ হতো না যে আয়াতটি "ইহুদিদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে"; কারণ সাধারণভাবে বললে তাদের মধ্যকার কাফিরদের বোঝায়, অথচ বাস্তবতা তার বিপরীত! অতএব বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন—আল্লাহ আমাদের এবং আপনাকে দয়া করুন—আল্লাহর আসা এবং আগমনের বিষয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখকারী এই আয়াতগুলোতে আপনি কি এমন কোনো লক্ষণ পাচ্ছেন যা শ্রোতাকে এটি প্রকৃত অর্থের পরিবর্তে রূপক অর্থে বুঝতে বাধ্য করে? কখনোই নয়, কক্ষনোই নয়; বরং তারা যখন মহান আল্লাহর আসাকে সৃষ্টির আসার মতো মনে করেছে—যা প্রকৃতপক্ষে সাদৃশ্য প্রদান—তখন এই ভুল উপলব্ধিই তাদেরকে এটি অস্বীকার করতে এবং একে ইহুদিদের সাথে সম্বন্ধ করতে বাধ্য করেছে! এবং তারা অপব্যাখ্যার দিকে ধাবিত হয়েছে। অথচ তারা পারতেন মহান আল্লাহর জন্য এই গুণটি সেভাবেই সাব্যস্ত করতে যেভাবে সালাফগণ কোনো সাদৃশ্য প্রদান ছাড়াই সাব্যস্ত করেছেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা}। নতুবা, এই নীতি অনুযায়ী তারা শ্রবণ ও দৃষ্টিরও অপব্যাখ্যা করবে; কারণ মহান আল্লাহ কুরআন ও সুন্নাহতে সৃষ্টির জন্যও শ্রবণ ও দৃষ্টি সাব্যস্ত করেছেন। তখন তারা হয়তো বলবে যে, আমরা যদি...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أثبتنا السمع والبصر لله شبهناه بمخلوقاته! وهذا ما فعلته المعتزلة تماما، فإنهم تأولوهما بالعلم تنزيها له تعالى عن المشابهة، زعموا، وبذلك آمنوا بالطرف الأول من الآية {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} ولم يؤمنوا بالطرف الآخر منها {وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} وأما الأشاعرة وغيرهم من الخلف، فقد آمنوا بكل ذلك هنا فجمعوا بين التنزيه والإثبات قائلين سمعه ليس كسمعنا، وبصره ليس كبصرنا. فهذا هو الحق وكان عليهم طرد ذلك في كل ما وصف الله به نفسه، فيقال: مجيئه تعالى حق ولكنه ليس كمجيئنا، ونزوله إلى السماء الدنيا حق لتواتر الأحاديث بذلك كما يأتي في الكتاب ولكن ليس كنزولنا، وهكذا في كل الصفات، ولكنهم لم يفعلوا ذلك مع الأسف في كثير من الصفات، منها ما نحن فيه فتأولوه بما سبق، أو بغيره 1 ومنها الاستواء الآتي ذكره قريبا.
هذا هو المثال الأول:
وأما المثال الآخر فقوله تعالى: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} وقوله فتأولوه "الله الذي رفع السماوات بغير عمد ترونها ثم استوى على العرش ". فقد تأول الخلف الاستواء المذكور في هاتين الآيتين ونحوهما بالاستيلاء وشاع عندهم في تبرير ذلك إيرادهم قول الشاعر:
قد استوى بشر على العراق
بغير سيف ودم مهراق!
متجاهلين اتفاق كلمات أئمة التفسير والحديث واللغة على إبطاله، وعلى أن المراد بالاستواء على العرش إنما هو الاستعلاء والارتفاع عليه، كما سترى أقوالهم مروية في الكتاب عنهم بالأسانيد الثابتة قرنا بعد قرن، وفيهم من نقل اتفاق العلماء عليه. مثل الإمام إسحاق بن راهويه "الترجمة 67"، والحافظ ابن عبد البر "الترجمة 151" وكفى بهما حجة في هذا الباب.
ومع ذلك فإننا لا نزال نرى علماء الخلف -إلا قليلا منهم- سادرين في
--------------------------------------------
আমরা যদি আল্লাহর জন্য শ্রবণ এবং দর্শন সাব্যস্ত করি, তবে আমরা তাকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করলাম! মুতাযিলারা ঠিক এটিই করেছিল; তারা মহান আল্লাহকে সৃষ্টির সাদৃশ্য থেকে পবিত্র করার অজুহাতে এই দুটি গুণকে জ্ঞানের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছিল। এর মাধ্যমে তারা আয়াতের প্রথম অংশ {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই} এর ওপর ঈমান এনেছে, কিন্তু আয়াতের অন্য অংশ {এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} এর ওপর ঈমান আনেনি। পক্ষান্তরে আশআরিগণ এবং পরবর্তী যুগের অন্যান্য আলেমগণ এখানে এই সবকিছুর ওপর ঈমান এনেছেন। ফলে তারা পবিত্রতা বর্ণনা এবং গুণ সাব্যস্তকরণের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছেন এই বলে যে, আল্লাহর শ্রবণ আমাদের শ্রবণের মতো নয় এবং তাঁর দর্শন আমাদের দর্শনের মতো নয়। এটিই হলো সত্য। তাদের উচিত ছিল আল্লাহর গুণাবলির সব ক্ষেত্রেই এই নীতি অনুসরণ করা। তখন বলা হতো: মহান আল্লাহর আসা সত্য, কিন্তু তা আমাদের আসার মতো নয়; তাঁর দুনিয়ার আকাশে নেমে আসা সত্য—যেহেতু এ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছেছে যা কিতাবে সামনে আসবে—কিন্তু তাঁর নামা আমাদের নামার মতো নয়। একইভাবে সকল গুণের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা অনেক গুণের ক্ষেত্রে এমনটি করেনি, যার মধ্যে বর্তমান বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। তারা এটিকে পূর্বোক্ত বা অন্য কোনো ব্যাখ্যা দ্বারা রূপান্তর করেছে ১ এবং এর মধ্যে অচিরেই উল্লিখিত হতে যাওয়া আরশের ওপর ওঠাও অন্তর্ভুক্ত।
এটি হলো প্রথম উদাহরণ:
আর দ্বিতীয় উদাহরণটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমান ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আরশের ওপর উঠেছেন} এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহকে খুঁটি ব্যতীত উঁচুতে স্থাপন করেছেন যা তোমরা দেখতে পাচ্ছ, তারপর তিনি আরশের ওপর উঠেছেন}। পরবর্তী যুগের আলেমগণ এই দুই আয়াত এবং এ জাতীয় আয়াতগুলোতে উল্লিখিত আরশের ওপর ওঠাকে 'কর্তৃত্ব গ্রহণ' দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। এ বিষয়ে তারা কবির একটি পংক্তি উল্লেখ করাকে যুক্তি হিসেবে প্রচার করেছেন:
বিশর ইরাকের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করেছে
কোনো তলোয়ার বা রক্তপাত ছাড়াই!
অথচ তারা তাফসীর, হাদীস এবং ভাষাবিদ ইমামগণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করেছেন যা এই ব্যাখ্যাকে বাতিল সাব্যস্ত করে। আর আরশের ওপর ওঠার অর্থ হলো তাঁর ওপর উঁচ হওয়া এবং উঠা, যেমনটি আপনি এই কিতাবে তাদের থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে যুগে যুগে বর্ণিত হতে দেখবেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর ওপর ওলামাদের ঐক্যমত্যও বর্ণনা করেছেন। যেমন ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ (জীবনী নং ৬৭) এবং হাফেয ইবনে আব্দুল বার (জীবনী নং ১৫১); এই বিষয়ে এই দুজনই দলিল হিসেবে যথেষ্ট।
তা সত্ত্বেও আমরা দেখছি যে, পরবর্তী যুগের আলেমগণ—তাদের মধ্যে অল্প সংখ্যক বাদে—অবিবেচকের মতো লিপ্ত রয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مخالفتهم للسلف في تفسيرهم لآية الاستواء وغيرها من آيات الصفات وأحاديثها.
وقد يتساءل بعض القراء عن سبب ذلك فأقول:
ليس هو إلا إعراضهم عن اتباع السلف، ثم فهمهم -خطأ- الاستعلاء المذكور في الآيات الكريمة، أنه الاستعلاء اللائق بالمخلوق، ولما كان هذا منافيا للتنزيه الواجب لله اتفاقا فروا من هذا الفهم، إلى تأويلهم السابق، ظنا منهم أنهم بذلك نجوا من القول على الله تعالى بما لا يليق به سبحانه.
ولقد كان من كبار هؤلاء العلماء القائلين بالتأويل المذكور برهة من الزمن جماعة من أهل العلم. منهم الإمام أبو الحسن الأشعري كما سيأتي بيانه في ترجمته من الكتاب "120 ". ومنهم العلامة الجليل أبو محمد الجويني الشافعي والد إمام الحرمين المتوفى سنة "438" ثم هداه الله تعالى إلى اتباع السلف في فهم الاستواء وسائر الصفات، ثم ألف في ذلك رسالة نافعة1 قدمها نصيحة لإخوانه في الله كما صرح بذلك في مقدمتها. وقد وصف فيها وصفا دقيقا تحيره وتردده في مرحلة من مراحل حياته العلمية بين اتباع السلف، وبين اتباع علماء الكلام في عصره الذين يؤولون الاستواء بالاستيلاء، فقال رحمه الله تعالى "ص176-177":
"اعلم أنني كنت برهة من الدهر متحيرا في ثلاث مسائل:
1- مسألة الصفات.
2- مسألة الفوقية.
3- ومسالة الحرف والصوت في القرآن المجيد.
وكنت متحيزا في الأقوال المختلفة الموجودة في كتب أهل العصر في جميع
--------------------------------------------
উপরে উঠা (ইস্তিওয়া) সংক্রান্ত আয়াত এবং সিফাত বিষয়ক অন্যান্য আয়াত ও হাদিসের ব্যাখ্যায় সালাফদের সাথে তাদের বিরোধিতা।
কোনো কোনো পাঠক হয়তো এর কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারেন, তাই আমি বলছি:
এর কারণ সালাফদের অনুসরণের প্রতি তাদের বিমুখতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এরপর তারা সম্মানিত আয়াতসমূহে উল্লেখিত উচ্চতাকে (ভুলবশত) সৃষ্টির জন্য প্রযোজ্য উচ্চতা হিসেবে বুঝে নিয়েছে। যেহেতু এটি সর্বসম্মতিক্রমে আল্লাহর জন্য আবশ্যকীয় পবিত্রতার পরিপন্থী, তাই তারা এই ধারণা থেকে বাঁচতে তাদের পূর্বোক্ত ব্যাখ্যার (তাউইল) দিকে ধাবিত হয়েছে; তারা মনে করেছে যে এর মাধ্যমে তারা মহান আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলা থেকে বেঁচে গেছে যা তাঁর মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
উক্ত ব্যাখ্যার প্রবক্তাদের মধ্যে দীর্ঘ সময় একদল বড় আলেম অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরী অন্যতম, যা সামনে তাঁর জীবনীতে (১২০ নং পৃষ্ঠায়) বর্ণিত হবে। তাদের মধ্যে আরও ছিলেন প্রখ্যাত আলেম আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি আল-শাফিঈ, যিনি ইমামুল হারাইমাইন-এর পিতা এবং ৪৩৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা তাকে আরশের উপর উঠা (ইস্তিওয়া) ও অন্যান্য সিফাত বোঝার ক্ষেত্রে সালাফদের অনুসরণের হেদায়েত দান করেন। এরপর তিনি এ বিষয়ে একটি উপকারী পুস্তিকা রচনা করেন যা তিনি তাঁর দ্বীনি ভাইদের নসিহত হিসেবে পেশ করেছেন, যেমনটি তিনি এর ভূমিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি সেখানে তাঁর ইলমি জীবনের এক পর্যায়ে সালাফদের অনুসরণ এবং তাঁর সমসাময়িক কালাম শাস্ত্রের আলেমদের (যারা উপরে উঠাকে 'আধিপত্য' দ্বারা ব্যাখ্যা করতেন) অনুসরণের মধ্যে যে সংশয় ও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন, তার একটি সূক্ষ্ম বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (পৃষ্ঠা ১৭৬-১৭৭):
"জেনে রাখুন, আমি জীবনের দীর্ঘ সময় তিনটি মাসআলায় সংশয়ে ছিলাম:
১- সিফাত (গুণাবলি) সংক্রান্ত মাসআলা।
২- ফাওকিয়াত (উপরে থাকা) সংক্রান্ত মাসআলা।
৩- এবং পবিত্র কুরআনের হরফ ও শব্দ সংক্রান্ত মাসআলা।
আর আমি সমসাময়িকদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান বিভিন্ন মতামতের কারণে এসকল বিষয়ে সংশয়ে ছিলাম..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ذلك، من تأويل الصفات وتحريفها، أو إمرارها والوقوف فيها، أو إثباتها بلا تأويل ولا تعطيل، ولا تشبيه ولا تمثيل. فأجد النصوص في كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم ناطقة منبئة بحقائق هذه الصفات وكذلك في إثبات العلو والفوقية، وكذلك في الحرف والصوت.
ثم أجد المتأخرين من المتكلمين في كتبهم منهم من يؤول الاستواء بالقهر والاستيلاء ويؤول النزول بنزول الأمر، ويؤول اليدين بالقدرتين أو النعمتين، ويؤول القدم بقدم صدق عند ربهم، وأمثال ذلك، ثم أجدهم مع ذلك يجعلون كلام الله تعالى معنى قائما بالذات بالأحرف بلا صوت، ويجعلون هذه الحروف عبارة عن ذلك المعنى القائم!
وممن ذهب إلى هذه الأقوال أو بعضها، قوم لهم في صدري منزلة مثل طائفة من فقهاء الأشعرية الشافعيين، لأني على مذهب الشافعي رضي الله عنه عرفت فرائض ديني وأحكامه، فأجد مثل هؤلاء الشيوخ الأجلة يذهبون إلى مثل هذه الأقوال وهم شيوخي، ولي فيهم الاعتقاد التام، لفضلهم وعلمهم. ثم إني مع ذلك أجد في قبلي من هذه التأويلات حزازات لا يطمئن قلبي إليها، وأجد الكدر والظلمة منها، وأجد ضيق الصدر وعدم انشراحه مقرونا بها، فكنت كالمتحير المضطرب في تحيره. المتململ من قلبه في تقلبه وتغيره.
وكنت أخاف من إطلاق القول بإثبات العلو والاستواء والنزول، مخافة الحصر والتشبيه ومع ذلك فإذا طالعت النصوص الواردة في كتاب الله، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم أجدها نصوصا تشير إلى حقائق هذه المعاني، وأجد الرسول الله صلى الله عليه وسلم قد صرح بها مخبرا عن ربه، واصفا له بها. وأعلم بالاضطرار أنه صلى الله عليه وسلم كَانَ يحضر مجلسه الشريف العالم والجاهل، والذكي والبليد، والأعرابي والجافي، ثم لا أجد شيئا يعقب تلك النصوص التي كان يصف ربه بها، لا نصا ولا ظاهرا مما يصرفها عن حقائقها ويؤولها، كما تأولها هؤلاء مشايخي الفقهاء المتكلمين، مثل تأويلهم الاستيلاء للاستواء، ونزول الأمر للنزول، وغير ذلك. ولم
সেই বিষয়টি গুণাবলির অপব্যাখ্যা ও বিকৃতি সাধন, অথবা কোনো অর্থ না করে তা অতিবাহিত করা এবং তাতে থেমে যাওয়া, অথবা কোনো অপব্যাখ্যা ও অস্বীকার এবং কোনো তুলনা বা সদৃশ করা ছাড়াই তা সাব্যস্ত করার অন্তর্ভুক্ত। আমি মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর বর্ণনাগুলোকে এই গুণাবলির হাকিকত বা প্রকৃত সত্যের ঘোষক ও সংবাদদাতা হিসেবে পাই; তদ্রূপ উচ্চতা ও উপরস্থ হওয়া এবং বর্ণ ও শব্দের বর্ণনায়ও একই সত্য খুঁজে পাই।
অতঃপর আমি পরবর্তী যুগের কালাম শাস্ত্রবিদদের কিতাবসমূহে দেখতে পাই যে, তাদের কেউ আল্লাহর 'উঠা'-কে পরাক্রম ও আধিপত্য দ্বারা ব্যাখ্যা করেন, 'নামা'-কে নির্দেশ নামার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন, আল্লাহর 'দুই হাত'-কে দুই শক্তি বা দুই নেয়ামত দ্বারা ব্যাখ্যা করেন এবং আল্লাহর 'পা'-কে রবের নিকট সত্যের মর্যাদা দ্বারা ব্যাখ্যা করেন, আর এই জাতীয় আরও অনেক কিছু। তদ্রূপ আমি তাদের দেখি যে, তারা মহান আল্লাহর কালামকে বর্ণ ও শব্দহীন সত্তাগত এক অর্থ হিসেবে গণ্য করেন এবং এই বর্ণগুলোকে সেই সত্তাগত অর্থের নিছক অভিব্যক্তি হিসেবে সাব্যস্ত করেন!
যাঁরা এই মতবাদ বা এর কিছু অংশের দিকে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এমন একদল লোক রয়েছেন যাঁদের প্রতি আমার অন্তরে বিশেষ মর্যাদা রয়েছে, যেমন শাফিয়ি মাযহাবের আশআরি ফকিহদের একটি দল; কারণ আমি ইমাম শাফিয়ি রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাযহাবের মাধ্যমেই আমার দ্বীনের ফরজ ও বিধানসমূহ জেনেছি। ফলে আমি এই মহান শায়খদের এমন সব মত পোষণ করতে দেখি অথচ তাঁরা আমার শিক্ষক এবং তাঁদের মর্যাদা ও ইলমের কারণে তাঁদের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। তা সত্ত্বেও আমি আমার অন্তরে এই ব্যাখ্যাগুলো সম্পর্কে এমন কিছু সংকোচ ও খটকা অনুভব করি যার ফলে আমার অন্তর তাতে প্রশান্ত হয় না; বরং আমি এর কারণে এক প্রকার কলুষতা ও অন্ধকার অনুভব করি এবং এর সাথে বক্ষসংকীর্ণতা ও প্রসন্নতার অভাব বোধ করি। ফলে আমি এক দিশেহারা ও বিচলিত ব্যক্তির ন্যায় হয়ে পড়েছিলাম, যে তার অন্তরের অস্থিরতা ও পরিবর্তনের কারণে ছটফট করছিল।
আমি উচ্চতা, উঠা এবং নামার কথা স্পষ্টভাবে সাব্যস্ত করতে ভয় পেতাম, পাছে সীমাবদ্ধতা ও সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য হয়ে যায়। তবে তা সত্ত্বেও আমি যখন আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহয় বর্ণিত দলিলগুলো পাঠ করি, তখন সেগুলোকে এই অর্থগুলোর হাকিকতের দিকে নির্দেশ করতে দেখি। আর আমি দেখতে পাই যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রব সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে এবং তাঁকে এসব গুণে গুণান্বিত করতে গিয়ে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তা বর্ণনা করেছেন। আমি অকাট্যভাবে জানি যে, তাঁর মর্যাদাপূর্ণ মজলিসে আলেম ও জাহেল, বুদ্ধিমান ও স্থূলবুদ্ধি সম্পন্ন এবং গ্রাম্য ও রুক্ষ স্বভাবের মানুষ উপস্থিত থাকত। তা সত্ত্বেও আমি এমন কোনো বর্ণনা বা দলিল পাই না যা এই দলিলগুলোর পরে এসে সেগুলোকে তাদের প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত করে বা সেগুলোর অপব্যাখ্যা করে, যেমনটি আমার এই ফকিহ ও কালাম শাস্ত্রবিদ শায়খরা করেছেন; যেমন তারা আল্লাহর 'উঠা'-র পরিবর্তে আধিপত্য এবং 'নামা'-র পরিবর্তে নির্দেশ নামার অপব্যাখ্যা করেছেন ইত্যাদি। এবং তা...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أجد عنه صلى الله عليه وسلم أنه كان يحذر الناس من الإيمان بما يظهر من كلامه في صفته لربه من الفوقية واليدين وغيرها، ولم ينقل عنه مقالة تدل على أن لهذه الصفات معاني آخر باطنة، غير ما يظهر من مدلولها، وأجد الله عز وجل يقول
… ".
ثم ذكر بعض الآيات في الاستواء والفوقية والأحاديث في ذلك، مما هو جزء يسير مما سيأتي في الكتاب ثم قال "ص181"1:
"إذا علمنا ذلك واعتقدناه تخلصنا من شبهة التأويل، وعماوة التعطيل، وحماقة التشبيه والتمثيل، وأثبتنا علو ربنا سبحانه وفوقيته واستواءه على عرشه كما يليق بجلاله وعظمته، والحق واضح في ذلك، والصدور تنشرح له، فإن التحريف تأباه العقول الصحيحة، مثل تحريف الاستواء بالاستيلاء وغيره، والوقوف في ذلك جهل وعي، مع كون أن الرب تعالى وصف لنا نفسه بهذه الصفات لنعرفه بها، فوقوفنا عن إثباتها ونفيها عدول عن المقصود منه في تعريفنا إياها، فما وصف لنا نفسه بها إلا لنثبت ما وصف به نفسه لنا، ولا نقف في ذلك. وكذلك التشبيه والتمثيل حماقة وجهالة. فمن وفقه الله تعالى للإثبات بلا تحريف، ولا تكييف، ولا وقوف، فقد وقف على الأمر المطلوب منه إن شاء الله تعالى".
ثم شرع يبين السبب الذي حمل علماء الكلام على تأويل "الاستواء" بالاستيلاء فقال "ص181-183":
"والذي شرح الله صدري في حال هؤلاء الشيوخ الذين أولوا الاستواء بالاستيلاء و
… هو علمي بأنهم ما فهموا في صفات الرب تعالى إلا ما يليق بالمخلوقين، فما فهموا عن الله استواء يليق به ولا
… فلذلك حرفوا الكلام عن مواضعه، وعطلوا ما وصف الله تعالى نفسه به. ونذكر بيان ذلك إن شاء الله تعالى.
لا ريب أنا نحن وإياهم متفقون على إثبات صفات الحياة والسمع،
--------------------------------------------
আমি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে এমন কিছু পাইনি যে তিনি মানুষকে তাঁর প্রতিপালকের গুণাবলি যেমন আল্লাহর উচ্চতা, আল্লাহর দুই হাত এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে তাঁর বাণীর প্রকাশ্য অর্থের ওপর ঈমান আনতে সতর্ক করেছেন। তাঁর থেকে এমন কোনো কথা বর্ণিত হয়নি যা নির্দেশ করে যে এই গুণাবলিগুলোর প্রকাশ্য অর্থের পরিবর্তে অন্য কোনো অভ্যন্তরীণ অর্থ রয়েছে। আর আমি মহান আল্লাহকে বলতে দেখি
…।
অতঃপর তিনি আরশের ওপর উঠা এবং উচ্চতা সম্পর্কিত কিছু আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করেছেন, যা এই কিতাবে সামনে যা আসবে তার সামান্য অংশ মাত্র। এরপর তিনি বলেন (পৃষ্ঠা ১৮১)১:
"যখন আমরা এটি জানব এবং বিশ্বাস করব, তখন আমরা অপব্যাখ্যার সংশয়, অকেজো করার অন্ধত্ব এবং সাদৃশ্য ও উপমা দেওয়ার মূর্খতা থেকে মুক্তি পাব। আমরা আমাদের মহান প্রতিপালকের সুউচ্চ হওয়া, তাঁর উপরে থাকা এবং তাঁর আরশের ওপর উঠাকে সাব্যস্ত করব যেভাবে তাঁর মহিমা ও গাম্ভীর্যের সাথে মানানসই হয়। এ বিষয়ে সত্য স্পষ্ট এবং অন্তর এতে প্রশান্ত হয়। কেননা সুস্থ বিবেক বিকৃতিকে প্রত্যাখ্যান করে, যেমন আরশের ওপর উঠাকে কর্তৃত্ব গ্রহণ বা বিজয় লাভ দ্বারা বিকৃত করা। এ বিষয়ে থেমে থাকা হলো অজ্ঞতা ও অক্ষমতা, অথচ মহান প্রতিপালক নিজের পরিচয় দেওয়ার জন্য এই গুণাবলি দ্বারা নিজের বর্ণনা দিয়েছেন। সুতরাং এগুলো সাব্যস্ত করা বা অস্বীকার করা থেকে বিরত থাকা তাঁকে চেনার উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া। তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেনই কেবল আমরা যেন তাঁর দেওয়া গুণাবলি সাব্যস্ত করি এবং সে বিষয়ে থেমে না থাকি। অনুরূপভাবে সাদৃশ্য ও উপমা প্রদান করাও মূর্খতা ও অজ্ঞতা। অতএব, আল্লাহ তাআলা যাকে কোনো বিকৃতি, ধরণ নির্ধারণ এবং থেমে যাওয়া ছাড়াই এগুলো সাব্যস্ত করার তাওফিক দিয়েছেন, সে কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের ওপর পৌঁছেছে ইনশাআল্লাহ।"
অতঃপর তিনি ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের 'আরশের ওপর উঠা'-কে 'কর্তৃত্ব গ্রহণ' দ্বারা ব্যাখ্যা করার কারণ বর্ণনা করতে শুরু করেন এবং বলেন (পৃষ্ঠা ১৮১-১৮৩):
"ঐ সকল শাইখদের অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ আমার অন্তরকে যা বুঝিয়েছেন, যারা আরশের ওপর উঠাকে কর্তৃত্ব গ্রহণ দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন এবং
… তা হলো আমার এই জ্ঞান যে, তারা মহান প্রতিপালকের গুণাবলি সম্পর্কে কেবল সৃষ্টিজীবের সাথে মানানসই অর্থই বুঝেছেন। তারা আল্লাহর জন্য তাঁর শান অনুযায়ী উঠা বুঝতে পারেননি এবং
… এ কারণেই তারা শব্দগুলোকে তার যথাযথ স্থান থেকে বিকৃত করেছেন এবং আল্লাহ নিজের যে গুণ বর্ণনা করেছেন তাকে অকেজো করে দিয়েছেন। আমরা ইনশাআল্লাহ এর বিবরণ উল্লেখ করব।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা এবং তারা জীবন ও শ্রবণ গুণাবলি সাব্যস্ত করার ব্যাপারে একমত,"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والبصر، والعلم، والقدرة، والإرادة، والكلام لله. ونحن قطعا لا نعقل من الحياة إلا هذا العرض الذي يقوم بأجسامنا. وكذلك لا نعقل من السمع والبصر إلا أعراضا تقوم بجوارحنا، فكما أنهم يقولون: حياته ليست بعرض، وعلمه كذلك، وبصره كذلك هي صفات كما تليق به، لا كما تليق بنا، فكذلك نقول نحن: حياته معلومة، وليست مكيفة، وعلمه معلوم وليس مكيفا، وكذلك سمعه وبصره معلومان، ليس جميع ذلك أعراضا بل هو كما يليق به.
ومثل ذلك بعينه فوقيته واستواؤه ونزوله، ففوقيته معلومة، أعني ثابتة كثبوت حقيقة السمع وحقيقة البصر، فإنهما معلومان ولا يكيفان. كذلك فوقيته معلومة ثابتة غير مكيفة كما يليق به، واستواؤه على عرشه معلوم غير مكيف بحركة أو انتقال يليق بالمخلوق، بل كما يليق بعظمته، وجلال صفاته معلومة من حيث الجملة والثبوت، غير معلومة من حيث التكييف والتحديد، فيكون المؤمن بها مبصرا بها من وجه، أعمى من وجه مبصرا من حيث الإثبات والوجود، أعمى من حيث التكيف والتحديد. وبهذا يحصل الجمع بين الإثبات لما وصف الله تعالى نفسه به، وبين نفي التحريف والتشبيه والوقوف، وذلك هو مراد الرب تعالى منا في إبراز صفاته لنا، لنعرفه به، ونؤمن بحقائقها، وننفي عنها التشبيه، ولا نعطلها بالتحريف والتأويل، ولا فرق بين الاستواء والسمع، ولا بين النزول والبصر، الكل ورد به النص.
فإن قالوا لنا في الاستواء: شبهتم نقول لهم في السمع: شبهتم، ووصفتم ربكم بالعرض! فإن قالوا: لا عرض بل كما يليق به. قلنا في الاستواء والفوقية: لا حصر، بل كما يليق به. فجميع ما يلزمونا به في الاستواء والنزول واليد والوجه والقدم والضحك والتعجب من التشبيه نلزمهم به في الحياة والسمع والبصر والعلم. فكما لا يجعلونها هم أعراضا. كذلك نحن لا نجعلها جوارح، ولا ما يوصف به المخلوق، وليس من الإنصاف أن يفهموا في الاستواء والنزول والوجه واليد صفات المخلوقين فيحتاجوا إلى التأويل والتحريف.
দেখা, জ্ঞান, ক্ষমতা, ইচ্ছা এবং কথা বলা আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত। আমরা জীবন বলতে নিশ্চিতভাবেই আমাদের দেহে বিদ্যমান সেই ক্ষণস্থায়ী অবস্থা ছাড়া আর কিছুই বুঝি না। একইভাবে আমরা শোনা এবং দেখা বলতেও আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাঝে বিদ্যমান কিছু অবস্থা ছাড়া আর কিছুই বুঝি না। তারা যেমন বলে: তাঁর জীবন কোনো ক্ষণস্থায়ী অবস্থা নয়, তাঁর জ্ঞানও তেমন এবং তাঁর দেখাও তেমন; বরং এগুলো এমন গুণাবলী যা তাঁর শানের সাথে মানানসই, আমাদের সাথে মানানসই নয়—তেমনি আমরাও বলি: তাঁর জীবন পরিজ্ঞাত কিন্তু এর ধরন জানা নেই; তাঁর জ্ঞান পরিজ্ঞাত এবং এর ধরন জানা নেই; তেমনি তাঁর শোনা ও দেখাও পরিজ্ঞাত। এসবের কোনোটিই ক্ষণস্থায়ী অবস্থা নয়, বরং তা তাঁর শানের সাথে মানানসই।
ঠিক একইভাবে তাঁর উপরে থাকা, তাঁর উঠা এবং তাঁর নিচে নামা। সুতরাং তাঁর উপরে থাকা পরিজ্ঞাত, অর্থাৎ শ্রবণ ও দর্শনের হাকিকত যেভাবে সাব্যস্ত হয় এটিও সেভাবেই সাব্যস্ত। কারণ ওই দুটি যেমন পরিজ্ঞাত এবং এদের ধরন জানা নেই, তেমনি তাঁর উপরে থাকাও পরিজ্ঞাত ও সাব্যস্ত, যার ধরন জানা নেই বরং তা তাঁর শানের সাথে মানানসই। আর আরশের ওপর তাঁর উঠা পরিজ্ঞাত, যা মাখলুকের মতো নড়াচড়া বা স্থানান্তরের মাধ্যমে সাব্যস্ত নয়, বরং তা তাঁর মহানুভবতার সাথে মানানসই। তাঁর মহান গুণাবলীগুলো সামগ্রিকভাবে এবং সাব্যস্তকরণের বিচারে পরিজ্ঞাত হলেও ধরন এবং সীমার বিচারে অজ্ঞাত। সুতরাং এগুলোর ওপর বিশ্বাস স্থাপনকারী ব্যক্তি একদিক থেকে চক্ষুষ্মান এবং অন্যদিক থেকে অন্ধ; সাব্যস্তকরণ ও অস্তিত্বের বিচারে সে চক্ষুষ্মান, আর ধরন ও সীমার বিচারে সে অন্ধ। এর মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য যে গুণাবলী বর্ণনা করেছেন তা সাব্যস্ত করা এবং সাথে সাথে বিকৃতি, সাদৃশ্য প্রদান ও অস্বীকার করার বিষয়টিকে নাকচ করার মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয়। আমাদের সামনে তাঁর গুণাবলী প্রকাশ করার ক্ষেত্রে মহান রবের উদ্দেশ্য এটিই, যাতে আমরা এর মাধ্যমে তাঁকে চিনতে পারি এবং এগুলোর হাকিকতের ওপর ঈমান আনতে পারি। আমরা এগুলো থেকে সাদৃশ্য প্রদানকে নাকচ করব এবং বিকৃতি ও অপব্যাখ্যার মাধ্যমে এগুলোকে নিষ্ক্রিয় করব না। আর আরশে উঠা এবং শোনার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, তেমনি নিচে নামা এবং দেখার মধ্যেও কোনো পার্থক্য নেই; কারণ সবগুলোর ব্যাপারেই দলিল বর্ণিত হয়েছে।
তারা যদি আরশে উঠার ব্যাপারে আমাদের বলে: "তোমরা সাদৃশ্য দিয়েছ", তবে আমরা শোনার ব্যাপারে তাদের বলব: "তোমরা সাদৃশ্য দিয়েছ এবং তোমাদের রবকে ক্ষণস্থায়ী অবস্থার মাধ্যমে গুণান্বিত করেছ!" তারা যদি বলে: "কোনো ক্ষণস্থায়ী অবস্থা নয়, বরং তা তাঁর শানের উপযোগী", তবে আমরা আরশে উঠা এবং উপরে থাকার ব্যাপারে বলব: "কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং তা তাঁর শানের সাথে মানানসই"। সুতরাং আরশে উঠা, নিচে নামা, আল্লাহর হাত, আল্লাহর চেহারা, আল্লাহর পা, হাসা এবং আশ্চর্যান্বিত হওয়ার ক্ষেত্রে তারা আমাদের ওপর সাদৃশ্য প্রদানের যে অভিযোগগুলো আরোপ করে, আমরা সেই একই অভিযোগ তাদের ওপর জীবন, শোনা, দেখা এবং জ্ঞানের ক্ষেত্রে আরোপ করব। তারা যেমন সেগুলোকে ক্ষণস্থায়ী অবস্থা হিসেবে গণ্য করে না, তেমনি আমরাও সেগুলোকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কিংবা সৃষ্টির কোনো বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করি না। এটি মোটেও ইনসাফ নয় যে, তারা আরশে উঠা, নিচে নামা, আল্লাহর চেহারা এবং আল্লাহর হাতের ক্ষেত্রে সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য বুঝবে এবং অতঃপর অপব্যাখ্যা ও বিকৃতির মুখাপেক্ষী হবে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ومن أنصف عرف ما قلنا واعتقده، وقبل نصيحتنا، ودان لله بإثبات جميع صفاته هذه وتلك، ونفى عن جميعها التشبيه والتعطيل والتأويل والوقوف. وهذا مراد الله منا في ذلك؛ لأن هذه الصفات وتلك جاءت في موضع واحد وهو الكتاب والسنة، فإذا أثبتنا تلك بلا تأويل وحرفنا هذه وأولناها، كنا كمن آمن ببعض الكتاب وكفر ببعض، وفي هذا بلاغ وكفاية إن شاء الله تعالى".
قلت: لقد وضح من كلام الإمام كالجويني رحمه الله تعالى السبب الذي حمل الخلف -إلا من شاء الله- على مخالفة السلف في تفسير آية "الاستواء"، وهو أنهم فهموا منه -خطأ كما قلنا- استواء لا يليق إلا بالمخلوق وهذا تشبيه فنفوه بتأويلهم إياه بالاستيلاء!
ومن الغريب حقا أن الذي فروا منه بالتأويل، قد وقعوا به فيما هو أشر منه بكثير، ويمكن حصر ذلك بالأمور الآتية:
الأول: التعطيل، وهو إنكار صفة علو الله على خلقه علوا حقيقيا يليق به تعالى. وهو بين في كلام الإمام الجويني.
الثاني: نسبة الشريك لله في خلقه يضاده في أمره، فإن الاستيلاء لغة لا يكون إلا بعد المغالبة كما ستراه في ترجمة الإمام اللغوي ابن الأعرابي، فقد جاء فيها:
أن رجلا قال أمامه مفسرا الاستواء معناه: استولى. فقال لهم الإمام: اسكت، العرب لا تقول للرجل: "استولى على الشيء حتى يكون له فيه مضاد، فأيهما غلب قيل: استولى. والله تعالى لا مضاد له". وسنده عنه صحيح كما بينته هناك في التعليق "210" واحتج به العلامة نفطويه النحوي في "الرد على الجهمية" كما ستراه في ترجمته "119".
فنسأل المتأولة: من هو المضاد لله تعالى حتى تمكن"! " الله تعالى من التغلب عليه والاستيلاء على ملكه عنه؟!
যে ব্যক্তি ইনসাফ করবে সে আমাদের কথা বুঝবে এবং তা বিশ্বাস করবে, আমাদের উপদেশ গ্রহণ করবে এবং আল্লাহর এই সকল ও ওই সকল গুণাবলি সাব্যস্ত করার মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য করবে। সে এগুলোর ক্ষেত্রে সাদৃশ্য স্থাপন, অস্বীকার করা, অপব্যাখ্যা করা ও ব্যাখ্যা স্থগিত রাখা বর্জন করবে। এটাই আমাদের কাছ থেকে আল্লাহর উদ্দেশ্য; কারণ এই গুণগুলো এবং ওগুলো একই উৎস থেকে এসেছে যা হলো কিতাব ও সুন্নাহ। অতএব আমরা যদি ওগুলো কোনো অপব্যাখ্যা ছাড়া সাব্যস্ত করি আর এগুলোকে বিকৃত করি ও অপব্যাখ্যা করি, তবে আমরা সেই ব্যক্তির মতো হব যে কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করে এবং কিছু অংশকে অস্বীকার করে। এতেই সুস্পষ্ট বার্তা ও পর্যাপ্ততা রয়েছে, ইনশাআল্লাহ তাআলা।
আমি বলছি: ইমাম জুওয়াইনি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য থেকে সেই কারণটি স্পষ্ট হয়েছে যা পরবর্তী প্রজন্মের আলেমদের -আল্লাহ যাদের চেয়েছেন তারা ব্যতীত- 'উঠা' সংক্রান্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় পূর্বসূরিদের বিরোধিতা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আর তা হলো, তারা এর থেকে -ভুলভাবে যেমনটি আমরা বলেছি- এমন 'উঠা' বুঝেছে যা কেবল সৃষ্টির জন্যই প্রযোজ্য, আর এটিই হলো সাদৃশ্য স্থাপন। ফলে তারা 'উঠা'-কে 'কর্তৃত্ব গ্রহণ' দ্বারা অপব্যাখ্যা করে তা অস্বীকার করেছে!
এটা সত্যিই বিস্ময়কর যে, তারা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে যা থেকে পালিয়ে বাঁচতে চেয়েছিল, তারা এমন কিছুর মধ্যে নিপতিত হয়েছে যা তার চেয়েও অনেক বেশি মন্দ। আর তা নিচের বিষয়গুলোর মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে:
প্রথমত: অস্বীকার করা (তা’তিল), যা হলো সৃষ্টির উপরে আল্লাহর প্রকৃতভাবে সুউচ্চ হওয়ার গুণকে অস্বীকার করা যা মহান আল্লাহর শানের জন্য উপযুক্ত। এটি ইমাম জুওয়াইনির বক্তব্যে স্পষ্ট।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহর সৃষ্টিতে তাঁর সাথে এমন অংশীদার সাব্যস্ত করা যে তাঁর নির্দেশের বিরোধিতা করে। কারণ ভাষাগত দিক থেকে 'কর্তৃত্ব গ্রহণ' কেবল লড়াইয়ে জয়লাভের পরেই সম্ভব হয়, যেমনটি আপনি ভাষাবিদ ইমাম ইবনুল আরাবির জীবনীতে দেখতে পাবেন। সেখানে এসেছে:
এক ব্যক্তি তাঁর সামনে 'উঠা'-র ব্যাখ্যায় বলেছিল যে এর অর্থ হলো: কর্তৃত্ব গ্রহণ করেছেন। তখন ইমাম তাকে বললেন: "চুপ করো, আরবরা কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ততক্ষণ পর্যন্ত 'অমুক জিনিসের ওপর কর্তৃত্ব গ্রহণ করেছে' বলে না, যতক্ষণ না সেখানে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে। অতঃপর তাদের দুজনের মধ্যে যে জয়ী হয়, তার সম্পর্কে বলা হয়: কর্তৃত্ব গ্রহণ করেছে। অথচ আল্লাহ তাআলার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।" তাঁর কাছ থেকে বর্ণিত এই সনদের সূত্রটি সহিহ, যেমনটি আমি সেখানে ২১০ নম্বর টিকায় ব্যাখ্যা করেছি। ব্যাকরণবিদ আল্লামা নাফতাওয়াই এটি 'জাহমিয়াদের খণ্ডন' গ্রন্থে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যা আপনি তাঁর ১১৯ নম্বর জীবনীতে দেখতে পাবেন।
অতএব আমরা অপব্যাখ্যাকারীদের প্রশ্ন করি: আল্লাহ তাআলার সেই প্রতিদ্বন্দ্বী কে, যার ওপর জয়লাভ করে আল্লাহ তাআলা তার কাছ থেকে তাঁর রাজত্বের কর্তৃত্ব গ্রহণ করতে সক্ষম হলেন?!
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুল উলুউ লিল আলিয়্যিল আজিম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وهذا إلزام لا مخلص لهم منه إلا برفضهم لتأويلهم، ورجوعهم إلى تفسير السلف، ولما تنبه لهذا بعض متكلميهم جاء بباقعة أخرى! وذلك أنه تأول "الاستيلاء" الذي هو عندهم المراد من "الاستواء" بأنه استيلاء مجرد عن معنى المغالبة! 1.
قلت: وهذا مع كونه مخالفا لغة كما سبق عن ابن الأعرابي فإن أحسن ما يمكن أن يقال فيه: إنه تأويل للتأويل!! وليت شعري ما الذي دخل بهم إلى هذه المآزق، أليس كان الأولى بهم أن يقولوا: استعلى استعلاء مجردا عن المشابهة. هذا لو كان الاستعلاء لغة يستلزم المشابهة. فكيف وهي غير لازمة؟ لأن الاستواء في القرآن فضلا عن اللغة قد جاء منسوبا إلى الله تعالى كما في آيات الاستواء على العرش، وقد مضى بعضها، كما جاء منسوبا إلى غيره سبحانه كما قال في سفينة نوح "استوت على الجودي" وفي النبات "استوى على سوقه"، فاستواء السفينة غير استواء النبات. وكذلك استواء الإنسان على ظهر الدابة، واستواء الطير على رأس الإنسان واستواؤه على السطح، فكل هذا استواء ولكن استواء كل شيء بحسبه، تشترك في اللفظ، وتختلف في الحقيقة، فاستواء الله تعالى هو استواء واستعلاء يليق به تعالى ليس كمثله شيء.
وأما الاستيلاء فلم يأت إطلاقه على الله تعالى مطلقا إلا على ألسنة المتكلمين! فتأمل ما صنع الكلام بأهله، لقد زين لهم أن يصفوا الله بشيء هو من طبيعة المخلوق واختصاصه، ولم يرضوا أن يصفوه بالاستعلاء الذي لا يماثله شيء وقد قال به السلف، فلا عجب بعد ذلك أن اجتمعوا على ذم الكلام وأهله، وتأتيك بعض النقول عنهم في الكتاب ووافقهم على ذلك بعض الخلف، فقال السبكي في مقدمة رسالة "السيف الصقيل" "ص12":
" وليس على العقائد أضر من شيئين: علم الكلام والحكمة اليونانية
…--------------------------------------------
এটি এমন এক বাধ্যবাধকতা যা থেকে তাদের কোনো নিস্তার নেই যদি না তারা তাদের অপব্যাখ্যা বর্জন করে এবং সালাফদের তাফসিরের দিকে ফিরে আসে। যখন তাদের কিছু কালাম শাস্ত্রবিদ এই বিষয়ে সতর্ক হলেন, তখন তিনি অন্য এক আপদ নিয়ে হাজির হলেন! তা হলো এই যে, তিনি 'ইসতিলা' (কর্তৃত্ব) শব্দটিকে—যা তাদের নিকট 'ইসতিওয়া' (উপরে উঠা) এর উদ্দেশ্য—এমন এক কর্তৃত্ব হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন যা কোনো জয় বা সংগ্রামের অর্থ থেকে মুক্ত! 1.
আমি বলি: ইবনুল আরাবি থেকে বর্ণিত ভাষাগত প্রমাণের বিরোধী হওয়ার পাশাপাশি এর সম্পর্কে সর্বোচ্চ যা বলা যায় তা হলো: এটি হলো ব্যাখ্যার ওপর ব্যাখ্যা!! হায়, কী তাদের এই সংকটে নিপতিত করল? তাদের জন্য কি এটিই উত্তম ছিল না যে তারা বলবে: তিনি উপরে উঠেছেন এমনভাবে যা সদৃশ হওয়া থেকে মুক্ত? যদি ভাষাগতভাবে উপরে উঠা শব্দটি সদৃশ হওয়াকে আবশ্যক করত (তবে অন্য কথা ছিল)। কিন্তু কীভাবে এটি আবশ্যক হতে পারে? কারণ কুরআনে এবং ভাষাগতভাবে 'ইসতিওয়া' শব্দটি মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে যেমনটি আরশের ওপর উঠার আয়াতসমূহে এসেছে, যার কিছু অংশ ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে; তেমনি এটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর প্রতিও সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে, যেমন নূহের নৌকা সম্পর্কে বলা হয়েছে "এটি জুদি পাহাড়ের ওপর স্থির হলো" এবং উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে "এটি তার কান্ডের ওপর সোজা হয়ে দাঁড়ালো"। সুতরাং নৌকার স্থির হওয়া আর উদ্ভিদের সোজা হয়ে দাঁড়ানো এক নয়। তেমনিভাবে পশুর পিঠে মানুষের স্থির হওয়া, মানুষের মাথায় পাখির বসা এবং ছাদের ওপর কোনো কিছুর অবস্থান—এ সবই 'ইসতিওয়া'। কিন্তু প্রতিটি জিনিসের 'ইসতিওয়া' বা উপরে উঠা তার নিজস্ব অবস্থা অনুযায়ী হয়ে থাকে; এগুলো শব্দগতভাবে এক হলেও হাকিকত বা প্রকৃত অবস্থার দিক থেকে ভিন্ন। সুতরাং মহান আল্লাহর 'ইসতিওয়া' হলো এমন এক 'ইসতিওয়া' বা উপরে উঠা যা তাঁর জন্য শোভনীয় এবং তাঁর সদৃশ কিছুই নেই।
আর 'ইসতিলা' শব্দটি আল্লাহর ক্ষেত্রে কালাম শাস্ত্রবিদদের কথা ছাড়া আর কোথাও আসেনি! সুতরাং লক্ষ্য করুন ইলমে কালাম তার অনুসারীদের সাথে কী করেছে; এটি তাদের কাছে সুশোভিত করেছে যে তারা আল্লাহর গুণ এমন বিষয় দ্বারা বর্ণনা করবে যা সৃষ্টির প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য, অথচ তারা তাঁকে সেই উচ্চতা বা উপরে উঠার গুণে গুণান্বিত করতে সম্মত হলো না যার কোনো সাদৃশ্য নেই এবং যা সালাফগণ বলেছেন। সুতরাং এরপর আশ্চর্যের কিছু নেই যে তারা ইলমে কালাম ও এর অনুসারীদের নিন্দায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এই কিতাবে তাদের থেকে কিছু উদ্ধৃতি আপনার কাছে আসবে এবং পরবর্তী যুগের কেউ কেউ তাদের সাথে একমত হয়েছেন। যেমন সুবকী তার 'আস-সাইফুল সাকিল' রিসালার ভূমিকার ১২ পৃষ্ঠায় বলেছেন:
"আকিদাহর জন্য দুটি বিষয়ের চেয়ে ক্ষতিকর আর কিছু নেই: ইলমে কালাম এবং গ্রীক দর্শন
…--------------------------------------------