(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: -)
مباحث في علوم القرآن لصبحي الصالح القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: مباحث في علوم القرآن
المؤلف: صبحي الصالح
الناشر: دار العلم للملايين
الطبعة: الطبعة الرابعة والعشرون كانون الثاني/ يناير 2000
عدد الصفحات: 382
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সুবহি আল-সালিহ রচিত মাবাহিথ ফি উলূমিল কুরআন বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলুত তাফসীর
গ্রন্থ: মাবাহিথ ফি উলূমিল কুরআন
লেখক: সুবহি আল-সালিহ
প্রকাশক: দারুল ইলম লিল-মালাঈন
সংস্করণ: চব্বিশতম সংস্করণ, জানুয়ারি ২০০০
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمات:
مقدمة المؤلف في الطبعة الجديدة:ظهر هذا الكتاب -بطبعته الأولى- عام 1985، ووجد في القراء سلسلة من المحاضرات الجامعية تعالج أدق المباحث القرآنية بأسلوب علمي بسيط يرضي أذواق الطلاب والباحثين ولا يستعصي فهمه على أوساط المتعلمين، لم يكن عجبا أن تقبلته المكتبات الإسلامية والمعاهد العلمية: الدينية والأدبية، بقبول حسن، وأن عملت على نشره بدافع ديني، أو باعث علمي، أو استجابة لكلا الأمرين على سواء.
وإني، بيني وبين نفسي، لأعرف أن الكتاب -في هاتيك الطبعة الأولى- لم يكن يزيد على دروس جامعية لممت شتاتها مما ألقيته خلال عامين على طلاب "شهادة علوم اللغة العربية" في كلية الآداب بجامعة دمشق، ولم يكن لي مطمع في هذه الدروس النظرية أوسع من أن تكون في أيدي أولئك الطلاب مفاتيح الدروس العلمية في التفسير. من أجل ذلك صرحت في تقديمي الموجز للطبعة الأولى بأني توخيت في عرض هذه "المباحث" السهولة والإيجاز، ولم أقصد إلى الاستقصاء والاستيعاب، كما صرحت بأني لم أقم بأكثر من محاولة لتبسيط العلوم الكثيرة المتعلقة بالقرآن، وتقريبها إلى أذهان الباحثين من طلاب الثقافة العربية الإسلامية.
أما هذه الطبعة فيكاد كل بحث فيها يكون جديدًا، إن لم يكن فيما
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভুমিকাসমূহ:
নতুন সংস্করণে লেখকের ভূমিকা:এই বইটি—তার প্রথম সংস্করণে—১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়। পাঠকদের কাছে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন এক ধারাবাহিক বক্তৃতা হিসেবে সমাদৃত হয় যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম কুরআনিক বিষয়বস্তুকে একটি সহজ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আলোচনা করে, যা ছাত্র ও গবেষকদের রুচি মেটায় এবং সাধারণ শিক্ষিত মহলের কাছেও যার বোধগম্যতা দুরূহ নয়। এতে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না যে, ইসলামী লাইব্রেরি এবং ধর্মীয় ও সাহিত্যিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ একে অত্যন্ত সমাদরের সাথে গ্রহণ করেছে এবং ধর্মীয় অনুপ্রেরণা, জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রেরণা অথবা উভয় কারণেই এটি প্রকাশের কাজ করেছে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি যে, বইটি—সেই প্রথম সংস্করণে—দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য অনুষদে "আরবি ভাষা বিজ্ঞান সনদ" কোর্সের ছাত্রদের সামনে দুই বছর যাবত আমার প্রদানকৃত বক্তৃতামালার সংকলনের চেয়ে বেশি কিছু ছিল না। এই তাত্ত্বিক পাঠগুলোর ক্ষেত্রে আমার লক্ষ্য এর চেয়ে বেশি ছিল না যে, এগুলো যেন সেই ছাত্রদের হাতে তাফসীরের প্রায়োগিক পাঠের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে। এই কারণেই আমি প্রথম সংস্করণের সংক্ষিপ্ত ভূমিকায় স্পষ্ট করেছিলাম যে, এই "গবেষণামূলক আলোচনাগুলো" উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমি সহজবোধ্যতা ও সংক্ষিপ্তসার অন্বেষণ করেছি এবং পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান ও বিস্তারিত আলোচনার লক্ষ্য রাখিনি। আমি আরও ব্যক্ত করেছিলাম যে, কুরআন সংশ্লিষ্ট বহুবিধ বিজ্ঞানকে সহজতর করার এবং তা আরবি-ইসলামি সংস্কৃতির শিক্ষার্থী ও গবেষকদের বোধগম্য করার একটি প্রচেষ্টার অতিরিক্ত কিছু আমি করিনি।
পক্ষান্তরে এই সংস্করণটিতে প্রায় প্রতিটি আলোচনাই নতুন রূপ পেয়েছে, যদি তা...
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ألحق به من زيادات ففي صوغ بعض عبارته بأسلوب منقح أكثر أناقة وإشراقا، فقد نهجت في تبويب هذه "المباحث" نهجا أرجو أن يجده القارئ طريفا مبتكرا، إذ جعلتها على أربعة أبواب تترادف هي وفصولها -على رسلها- ترادفا متسلسلا منطقيا، وتتدرج خلال تعاقبها كل مسألة قرآنية لا يسع جهلها أحدا من العرب والمسلمين.
أفردت الباب الأول، بفصوله الثلاثة، للقرآن والوحي، فأسهبت في تفسير ظاهرة الوحي لأنها توطئة طبيعية بين يدي هذه الدراسة القرآنية، كما أسهبت في وصف تنجيم القرآن وأسراره، وأنا حريص الحرص كله على التفرقة بين الأعماق والسطحيات في تدرج التعاليم.
وانتقلت في الباب الثاني إلى تاريخ القرآن، فوصفت -في فصوله الثلاثة- جمع القرآن وكتابته، ورددت هنا على كثير من شبهات المستشرقين و"المستعجمين". وناقشت موضوع الأحرف السبعة كما نطقت بها أصح الوثائق التاريخية، وأظنني في بحث هذه الأحرف أثرت قضايا إسلامية خطيرة جديرة بأن يطلع عليها علماء الإسلام ليبلوا خيرها وشرها، وأرجو ألا يكون فيها إلا خير. وحين عرضت، في أحد فصول هذا الباب، لما طرأ على المصاحف العثمانية من وجوه التجويد، والتحسين، أضفت بعض التحقيقات الجديدة التي انتهيت إليها في نشأة الرسم القرآني وتطوره، وربما كانت هذه الزيادات مفيدة للذين يشتغلون بتطور الخط العربي، ويعملون على إصلاح رسمه.
ولم يكن البابان السابقان -على ما ألحق بهما من إضافات في هذه الطبعة- شديدي التفصيل لدى المقارنة بالباب الثالث الذي قصرته، بفصوله الثمانية، على "علوم الكتاب"، إذ إن هذا الباب وحده استغرق أكثر من نصف الكتاب، وكان لزاما أن يجيء الأمر على هذا النحو، لأني سميت كتابي "مباحث في علوم القرآن"، فلم يكن بد من أن تدور فصوله حول العلوم القرآنية الصميمة بروح في البحث جديد.
وقد امتاز هذا الثالث بكثير من التحقيقات الطريفة، والزيادات
এতে যে পরিবর্ধনগুলো যুক্ত করা হয়েছে, তাতে কিছু বাচনভঙ্গিকে আরও পরিমার্জিত, মার্জিত ও উজ্জ্বল শৈলীতে সাজানো হয়েছে। আমি এই "মাবাহিছ" বা আলোচনাগুলোকে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে এমন একটি পথ অনুসরণ করেছি যা পাঠক অভিনব ও নব্য সৃজনশীল হিসেবে পাবেন বলে আমি আশা করি। কেননা আমি একে চারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি, যা এবং যার পরিচ্ছেদগুলো একটি যৌক্তিক ও পর্যায়ক্রমিক ধারায় একে অপরের পরিপূরক হিসেবে এসেছে। আর এর ক্রমবিন্যাসের মাধ্যমে এমন প্রতিটি কুরআনী বিষয় ধাপে ধাপে উঠে এসেছে যা কোনো আরব বা মুসলিমের পক্ষে না জানা সঙ্গত নয়।
আমি প্রথম অধ্যায়টিকে এর তিনটি পরিচ্ছেদসহ কুরআন ও ওহীর জন্য নির্দিষ্ট করেছি। এতে আমি ওহীর প্রপঞ্চ বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি, কারণ কুরআনী অধ্যয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি স্বাভাবিক ভূমিকা। একইভাবে আমি কুরআনের পর্যায়ক্রমিক অবতরণ এবং এর রহস্যগুলো সবিস্তারে বর্ণনা করেছি। আমি শিক্ষা প্রদানের ক্রমধারা নির্ধারণে গভীর তাত্ত্বিক এবং বাহ্যিক বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে অত্যন্ত সজাগ দৃষ্টি রেখেছি।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমি কুরআনের ইতিহাসের দিকে ধাবিত হয়েছি। সেখানে এর তিনটি পরিচ্ছেদে কুরআনের সংকলন ও তা লিপিবদ্ধ করার বিবরণ প্রদান করেছি। এখানে আমি প্রাচ্যবিদ এবং যারা অনারবীয় মানসিকতা পোষণ করে তাদের অনেক সংশয় খণ্ডন করেছি। আমি 'সাত হরফ' বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি যেভাবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক দলিলসমূহে তা বর্ণিত হয়েছে। আমার ধারণা, এই হরফগুলোর আলোচনায় আমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইসলামি প্রসঙ্গের অবতারণা করেছি যা ইসলামি স্কলারদের অবগত হওয়া উচিত যাতে তারা এর ভালো-মন্দ যাচাই করতে পারেন; এবং আমি আশা করি এতে কেবল কল্যাণই নিহিত রয়েছে। যখন আমি এই অধ্যায়ের একটি পরিচ্ছেদে উসমানী মাসহাফসমূহে তাজউইদ ও লিপি সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে যা কিছু নতুন যুক্ত হয়েছে তা তুলে ধরেছি, তখন আমি কুরআনী লিপির উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে আমার নিজস্ব কিছু নতুন গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত যোগ করেছি। সম্ভবত এই পরিবর্ধনগুলো তাদের জন্য উপকারী হবে যারা আরবি লিপির বিবর্তন এবং এর লিখনশৈলীর সংস্কার নিয়ে কাজ করছেন।
এই সংস্করণে আগের দুটি অধ্যায়ে যেসব পরিবর্ধন করা হয়েছে, তা সত্ত্বেও আটটি পরিচ্ছেদ সংবলিত তৃতীয় অধ্যায়ের তুলনায় সেগুলো খুব একটা বিস্তারিত নয়। এই তৃতীয় অধ্যায়টিকে আমি "কিতাবের জ্ঞান" (উলুমুল কিতাব)-এর জন্য নির্ধারিত করেছি। কেননা এই একটি অধ্যায়ই বইটির অর্ধেকের বেশি অংশ জুড়ে রয়েছে। বিষয়টি এমন হওয়া আবশ্যক ছিল, কারণ আমি আমার বইটির নাম রেখেছি "মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন", ফলে এর পরিচ্ছেদগুলো গবেষণার এক নতুন আঙ্গিকে মৌলিক কুরআনী জ্ঞানগুলোর আবর্তে থাকা অপরিহার্য ছিল।
এই তৃতীয় অধ্যায়টি অনেক অভিনব গবেষণা এবং পরিবর্ধনের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الشافية الكافية، التي سيقدرها حق قدرها كل من تيسر له أن يقرأ الكتاب في أولى طبعاته: أهمها أني ألقيت فيه الضوء قويا ساطعا على معضلة الناسخ والمنسوخ، ولم أكن تعرضت لهذه المعضلة قط حين ظهر الكتاب لأول مرة.
وإني أدعو العلماء في مختلف بقاع العالم الإسلامي إلى قراءة هذا البحث خاصة بإمعان شديد، لما أرجوه من الخير الكثير في وعيه وتفهم مراميه، أو لما أرحب به من نقد علمي مخلص لبعض ما جاء فيه.
وأدعو العلماء كذلك إلى قراءة فصلي "أسباب النزول" و"المكي والمدني"، لأستوثق من صواب متجهي أو أتعرف على مواطن خطئي وسهوي، ولا سيما حين أتحدث في أولهما عن المبالغات أو المغالطات التي وقع فيها المصنفون في أسباب النزول؛ وأميل إلى إنكار "السببية" الحقيقية فيما لبعض الآيات من سبب عام؛ وأجنح إلى الجمع بين السبب التاريخي والسياق الأدبي، بالكشف عن التناسب بين الآيات والترابط بين السور، وتعدية الآيات إلى غير أسبابها، وتخطي الزمان والمكان في رسم "النماذج" الإنسانية متجاوزة كل سبب من أسباب النزول، وحين أتقصى، في الفصل الآخر، المراحل القرآنية الست التي تشمل -في كل من مكة والمدينة- ثلاث فترات: ابتدائية ومتوسطة وختامية، متميزة فيها كل فترة عن الأخرى بما أثارت من موضوعات، وما صورت من مشاهد، وما حكت من قصص، وما سرى في ألفاظها وفواصلها من التنغيم والإيقاع.
وكان يسعني أن أسلك "التفسير" في عداد هذا الباب الثالث؛ إذ كانت مسائل هذا العلم- منذ عصر التدوين- أُمَّ المسائل القرآنية، إلا أنني آثرت إفراده بباب اعتناء به وإعظامًا لشأنه، وضممت إليه أقرب البحوث شبها به وهو "الإعجاز" فإني لا أكاد أتصور تفسيرا للقرآن جديرا أن يؤخذ به إلا أن يكون الجانب البياني بارزا فيه لاستجلاء مواطن السحر المعجز في كتاب الله. وأوشك أن أنادي بوجوب الاشتغال بالتفسير البياني في جميع الكليات الشرعية، العالية والثانوية، في العالم الإسلامي كله، وأخص بالذكر كليات
প্রশান্তিদায়ক ও পর্যাপ্ত, যা এই কিতাবটির প্রথম সংস্করণগুলো পড়ার সুযোগ পেয়েছেন এমন প্রত্যেকেই যথার্থ মূল্যায়ন করবেন: এর মধ্যে অন্যতম হলো আমি এতে নাসেখ ও মানসুখের (রহিতকারী ও রহিত) জটিল বিষয়ের ওপর শক্তিশালী ও উজ্জ্বল আলোকপাত করেছি, অথচ যখন কিতাবটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল তখন আমি এই জটিল বিষয়টি নিয়ে মোটেও আলোচনা করিনি।
আমি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আলেমদের বিশেষভাবে এই গবেষণাটি অত্যন্ত গভীর মনোযোগের সাথে পড়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি, কারণ আমি এর অনুধাবন ও উদ্দেশ্য উপলব্ধির মাঝে প্রভূত কল্যাণের আশা রাখি, অথবা এতে উপস্থাপিত কিছু বিষয়ের ওপর যে কোনো নিষ্ঠাবান বৈজ্ঞানিক সমালোচনাকে আমি স্বাগত জানাই।
আমি আলেম সমাজকে একইভাবে "আসবাবুন নুযূল" (নাযিলের প্রেক্ষাপট) এবং "মাক্কী ও মাদানী" অধ্যায় দুটি পড়ারও আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে আমি আমার দৃষ্টিভঙ্গির সঠিকতা নিশ্চিত করতে পারি অথবা আমার ভুল ও বিচ্যুতিগুলো চিহ্নিত করতে পারি। বিশেষ করে যখন আমি প্রথম অধ্যায়টিতে আসবাবুন নুযূলের সংকলকদের পতিত হওয়া অতিরঞ্জন বা ভ্রান্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করি; এবং কিছু আয়াতের সাধারণ কারণের ক্ষেত্রে প্রকৃত "কারণতত্ত্ব" (সাবাবিয়্যাহ) অস্বীকার করার প্রতি ঝোঁক রাখি; আর ঐতিহাসিক কারণ ও সাহিত্যিক প্রসঙ্গের মধ্যে সমন্বয় সাধনের প্রয়াস পাই, যেখানে আয়াতগুলোর মধ্যকার সামঞ্জস্য ও সূরাগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক যোগসূত্র উন্মোচন করি, আয়াতগুলোকে তাদের নির্দিষ্ট কারণের বাইরেও বিস্তৃত করি, এবং নাযিলের প্রতিটি কারণকে অতিক্রম করে মানবীয় "আদর্শ" চিত্রায়নে কাল ও পাত্রের সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে যাই। আর যখন আমি অন্য অধ্যায়টিতে কুরআনের ছয়টি পর্যায় নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করি, যা মক্কা ও মদীনা উভয়ের ক্ষেত্রে তিনটি সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করে: প্রাথমিক, মধ্যবর্তী ও চূড়ান্ত; যেখানে প্রতিটি সময়কাল আলোচিত বিষয়বস্তু, চিত্রিত দৃশ্যপট, বর্ণিত কাহিনী এবং শব্দ ও অন্ত্যমিলে বহমান সুর ও ছন্দের দিক থেকে একে অপরের চেয়ে স্বতন্ত্র।
আমি এই তৃতীয় পরিচ্ছেদে "তাফসীর" বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারতাম; কেননা সংকলন যুগের সূচনালগ্ন থেকেই এই ইলমের মাসআলাসমূহ ছিল কুরআন সংক্রান্ত বিষয়াবলীর মূলভিত্তি। তবে আমি এর গুরুত্ব ও মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রেখে একে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করাকে প্রাধান্য দিয়েছি এবং এর সাথে এর সবচেয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ গবেষণা "ই'জায" (অলৌকিকত্ব)-কে যুক্ত করেছি। কেননা আমি কুরআনের এমন কোনো তাফসীর কল্পনাও করতে পারি না যা গ্রহণীয় হওয়ার যোগ্য, যদি না আল্লাহর কিতাবের অলৌকিক মোহনীয় সৌন্দর্য উন্মোচনের জন্য তাতে আলংকারিক ও ভাষাগত দিকটি প্রোজ্জ্বল হয়। আমি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের উচ্চতর ও মাধ্যমিক স্তরের সকল শরীয়াহ অনুষদে আলংকারিক তাফসীর চর্চা বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানানোর উপক্রম হয়েছি, বিশেষত সেই সকল অনুষদ...
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الأزهر الشريف ومعاهده في مصر، وكليتي الشريعة بجامعتي دمشق وبغداد، لأن الجانب الفقهي الذي تعنى به تلك الصروح العلمية، صانها الله من عبث الأيام، لا ينبغي أن يعدو على الجانب الأدبي، فما عرف التأدب بأدب القرآن إلا متمما للتفقه بأحكامه في جميع العصور الإسلامية، ولا معدل عن أن يظل كل منهما يكمل الآخر في عصرنا الأدبي الحديث!.
ولعل هذا هو الذي حملني على أن أقصر الباب الرابع الأخير- في هذه الطبعة- على التفسير والإعجاز، فتتبعت نشأة التفسير وتطوره، وأوضحت كيف يتيسر تفسير القرآن بالقرآن، وربط هذا كله بمفهومنا الفني الحديث للإعجاز محاولا بث الحياة في مصطلحات البلاغة القديمة لدى تصور التشبيه والاستعارة والكناية وأنواع المجاز، ورددت سحر القرآن -بالمقام الأول- إلى إيقاعه الداخلي، وخصصت هذا الإيقاع بفصل جديد ربما وجده القارئ موجزًا وتمنى أن لو كان أكثر إسهابا، ولكنه في نظري كاف لتكوين فكرة صالحة عن استجماع القرآن كل مزايا النثر والشعر بأسلوب فذ عجاب!.
والله أسأل أن يجعل كل حرف كتبته، وكل سطر سطرته، وكل فكرة دعوت إليها في هذه "المباحث" خالصة لوجهه الكريم.
بيروت غرة جمادى الأولى 1385
صبحي الصالح
আল-আযহার আশ-শারিফ এবং মিশরে এর ইনস্টিটিউটসমূহ, এবং দামেস্ক ও বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদদ্বয়; কারণ এই ইলমী প্রতিষ্ঠানগুলো যে ফিকহী দিকটির প্রতি গুরুত্বারোপ করে—আল্লাহ এগুলোকে মহাকালের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করুন—তা সাহিত্যিক দিকের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করা বা তাকে অতিক্রম করা উচিত নয়। কেননা ইসলামের সকল যুগে কুরআনের আদব বা সাহিত্যের মাধ্যমে শিষ্টাচার অর্জনকে কুরআনের বিধানসমূহের প্রজ্ঞা অর্জনের পরিপূরক হিসেবেই গণ্য করা হয়েছে। আর আমাদের আধুনিক সাহিত্যিক যুগেও এই উভয়টি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে অব্যাহত থাকা থেকে বিমুখ হওয়ার কোনো অবকাশ নেই!
সম্ভবত এই বিষয়টিই আমাকে এই সংস্করণের চতুর্থ ও শেষ অধ্যায়টিকে তাফসির ও ইজাযের (অলৌকিকত্ব) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে উদ্বুদ্ধ করেছে। ফলে আমি তাফসিরের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ অনুসন্ধান করেছি এবং কুরআন দ্বারা কুরআনের তাফসির করা কীভাবে সহজতর হয় তা স্পষ্ট করেছি। আর এই সবগুলোকে ইজায সম্পর্কে আমাদের আধুনিক শৈল্পিক ধারণার সাথে যুক্ত করেছি, যেখানে আমি তাশবিহ (উপমা), ইস্তিয়ারা (রূপক), কিনায়া (ইঙ্গিত) এবং মাজাযের প্রকারভেদসমূহ উপলব্ধির ক্ষেত্রে প্রাচীন অলঙ্কারশাস্ত্রের পরিভাষাগুলোতে প্রাণ সঞ্চারের চেষ্টা করেছি। আমি কুরআনের মোহনীয়তাকে প্রাথমিকভাবে এর অভ্যন্তরীণ ছন্দের অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং এই ছন্দকে একটি নতুন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি, যা হয়তো পাঠক সংক্ষিপ্ত মনে করতে পারেন এবং আরও বিস্তারিত হওয়ার প্রত্যাশা করতে পারেন। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে এটি একটি অনন্য ও বিস্ময়কর শৈলীতে গদ্য ও পদ্যের সমস্ত বৈশিষ্ট্য কুরআনের মধ্যে পুঞ্জীভূত হওয়ার বিষয়ে একটি সঠিক ধারণা গঠনের জন্য যথেষ্ট!
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি আমার লেখা প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি পঙ্ক্তি এবং এই "মাবাহিছ" বা গবেষণাসমূহতে আমি যে প্রতিটি চিন্তার আহ্বান জানিয়েছি, তা যেন একান্তই তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য হয়।
বৈরুত, ১লা জুমাদাল উলা, ১৩৮৫ হিজরি
সুবহি আস-সালিহ
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمة الكتاب:حين أصدرت كتابي هذا في طبعته الأولى لم أزعم أني فصلت فيه القول في جميع العلوم التي لها بالقرآن صلة من قريب أو بعيد، فإن آفاق الدراسة القرآنية واسعة متشعبة ورحيبة، وإن ألوف المجلدات لا تفي بمعشار ما قيل وما يمكن أن يقال في هذه العلوم؛ إنما حاولت بهذا الكتاب تبسيط طائفة من أمهات المسائل القرآنية قبستها غالبا من آثار علمائنا الأبرار القدامى، غير متجاهل أطرف ما جاء به بعض الأتقياء من المعاصرين، وما أبرح في هذه الطبعة الرابعة -رغم الزيادات الكثيرة التي أضفتها- أقر بأني تناولت أمهات المسائل ولم أفصل القول في شيء منها تفصيلا.
ولقد يكون عسيرا على الباحث العصري في شئون الإسلام والقرآن أن يرجع إلى الكتب القديمة ليعثر على شيء من طلبته في تأويل آية، أو تحرير فكرة، أو تحليل أدبي لمقطع من كتاب الله، لما في جل تلك الكتب من روايات متضاربة وآراء يكثر التعارض بينها في تأويل الآية الواحدة. ويخيل إلينا أن هذا التضارب -وإن كان حتما لا مفر منه في الشروح الإنسانية- هو في كتبنا أصل الداء وشر البلاء، فلابد لنا في كل آية منوجه نختاره وتفسير نرضاه، دون أن نجزم حقا بأننا وقفنا حتما على المراد من كلام الله.
وما من شك في أن القرآن قد ملك على سلفنا الصالح مشاعرهم، واستأثر
গ্রন্থের ভূমিকা:যখন আমি আমার এই গ্রন্থটি প্রথম সংস্করণে প্রকাশ করেছিলাম, তখন আমি এই দাবি করিনি যে এতে কুরআনের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পর্কযুক্ত সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিষয়ে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। কেননা কুরআন বিষয়ক গবেষণার দিগন্ত অত্যন্ত বিস্তৃত, শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত এবং বিশাল। হাজার হাজার খণ্ডও এই সকল বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যা বলা হয়েছে বা যা বলা সম্ভব তার দশমাংশের জন্যও যথেষ্ট নয়। আমি বরং এই গ্রন্থের মাধ্যমে একগুচ্ছ মৌলিক কুরআনি বিষয়ের সহজীকরণের চেষ্টা করেছি যা আমি মূলত আমাদের প্রাচীন নেককার আলেমদের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে আহরণ করেছি। তবে সমসাময়িক কিছু ধর্মভীরু বিদ্বানদের চমৎকার সংযোজনগুলোকেও আমি উপেক্ষা করিনি। এই চতুর্থ সংস্করণে—অনেক নতুন সংযোজন যুক্ত করা সত্ত্বেও—আমি স্বীকার করছি যে আমি কেবল মূল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি এবং কোনো বিষয়েরই পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করিনি।
ইসলাম এবং কুরআন বিষয়ক আধুনিক গবেষকদের জন্য কোনো আয়াতের ব্যাখ্যা, কোনো চিন্তার বিশ্লেষণ বা আল্লাহর কিতাবের কোনো অংশের সাহিত্যিক পর্যালোচনায় নিজেদের উদ্দিষ্ট বিষয় খুঁজে পেতে প্রাচীন গ্রন্থগুলোর শরণাপন্ন হওয়া কঠিন হতে পারে। কারণ সেসব গ্রন্থের অধিকাংশতেই এমন সব পরস্পরবিরোধী বর্ণনা এবং মতামত রয়েছে যার ফলে একটি আয়াতের ব্যাখ্যাতেই প্রচুর বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়। আমাদের কাছে মনে হয় যে, এই বৈপরীত্য—যদিও মানুষের করা ব্যাখ্যায় এটি অনিবার্য—আমাদের কিতাবসমূহে এটিই মূল ব্যাধি এবং সবচাইতে বড় সমস্যা। তাই প্রতিটি আয়াতের ক্ষেত্রে আমাদের এমন একটি দিক বেছে নিতে হবে যা আমরা নির্বাচন করি এবং এমন একটি তাফসির গ্রহণ করতে হবে যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়, যদিও আমরা নিশ্চিতভাবে এই দাবি করতে পারি না যে আমরা আল্লাহর বাণীর প্রকৃত উদ্দেশ্যের ওপর অটলভাবে পৌঁছাতে পেরেছি।
নিঃসন্দেহে কুরআন আমাদের সালাফে সালেহীনের অনুভূতিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল এবং তা তাদের ওপর একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছিলোরীতায়
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
بعنايتهم التي لم يحط بمثلها كتاب من قبل ولا من بعد، وأنهم درسوا كل شيء يتعلق به حتى بددوا أوقاتههم أحيانا با نظنه لا يخدم أغراضه في شيء.
وربما كان لزاما علينا -إزاء هذه العناية التي لا نعرف لها نظيرا- أن نقنع بالنتائج التي انتهى إليها سلفنا الصالحون، ونسلم بكل ما جاء في تصانيفهم تسليما.
ولو اكتفينا بذلك لما وسعنا أن نكشف الناقب عن وجه القرآن الساحر الجذاب، فإن منهج الدراسة القديمة لا يكافئ ما ينبغي لكتاب الله من تفحص كل جانب من جوانبه التي قامت حولها المدارس والمذاهب والآراء.
وأن نعرف للقدامى فضلهم الكبير، ونقل: إننا عالة عليهم في هذ البحوث، ما نزيد على التفقه بآثارهم، والاستضاءة بأنوارهم، لا يغضض من قيمة عرفاننا هذا ما نأخذه من مآخذ شكلية على منهجهم القديم: ذلك بأن طريقتهم من الوجهة التاريخية لا تضاهى دقة وعمقا وأمانة، ولكن المنهح التاريخي غلب على أبحاثهم القرآنية، فلم يفسح المجال دائما لتصوير الجانب الأدبي الفني الذي يسد الفجوات ويملأ الثغرات حين يكتم التاريخ بعض الحقائق الكبرى.
إن في تعريفهم لعلوم القرآن لما يبرز المعنى التاريخي في منهجهم واضحا قويا: فهذه العلوم -في نظرهم- عبارة عن مجموعة من المسائل يبحث فيها عن أحوال القرآن الكريم من حيث نزوله وأداؤه، وكتابته وجمعه، وترتيبه في المصاحف، وتفسير ألفاظه، وبيان خصائصه، وأغراضه: وفي أبحاثهم التفصيلية لمفردات هذا التعريف يشتد أثر المنهج التاريخي بروزا ووضوحا، فقد وافونا في نزول القرآن بمراحله كلها ابتداء ووسطا وختامًا، وصوروا لنا طريقة نزوله تصويرا دقيقا في الليل والنهار، والحر والبرد، والسلم والحرب، وكادوا لا يغفلون جزئية من الجزئيات الصغيرة في هذا المجال، ولم يعيهم أن يتقصوا النوازل القرآنية المنجمة على حسب الوقائع الفردية والاجتماعية؛ ولم نجد نظائر لمباحثهم في تحري جمع القرآن وحفظه واستنساخه في المصاحف وتحسين رسمه، وفي الاستيثاق من متواتر أحرفه السبعة، ومتواتر قراءاته فيما
তাদের এমন যত্নের মাধ্যমে যার সমকক্ষতা আগে বা পরে কোনো কিতাব অর্জন করতে পারেনি। তারা এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় অধ্যয়ন করেছেন, এমনকি মাঝে মাঝে এমন বিষয়েও তাদের সময় ব্যয় করেছেন যা আমাদের ধারণায় এর উদ্দেশ্য সাধনে কোনো বিশেষ ভূমিকা রাখে না।
সম্ভবত এই অতুলনীয় যত্নের প্রেক্ষিতে আমাদের জন্য এটি অপরিহার্য ছিল যে, আমাদের নেককার পূর্বসূরিগণ যেসব সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকা এবং তাদের রচনাবলীতে যা এসেছে তা পূর্ণরূপে মেনে নেওয়া।
আর যদি আমরা কেবল এতেই সীমাবদ্ধ থাকতাম, তবে কুরআনের সেই জাদুকরী ও আকর্ষণীয় রূপটি উন্মোচন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হতো না। কারণ, প্রাচীন অধ্যয়নের পদ্ধতি আল্লাহর কিতাবের সেই প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত নয়, যেগুলোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পাঠশালা, মতবাদ ও মতাদর্শের উদ্ভব হয়েছে।
আমাদের উচিত প্রাচীনদের বিশাল মর্যাদাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং বলা যে: আমরা এই গবেষণায় তাদের ওপর নির্ভরশীল; তাদের রেখে যাওয়া জ্ঞানের সমঝ অর্জন এবং তাদের আলোয় আলোকিত হওয়া ছাড়া আমাদের অতিরিক্ত কিছু করার নেই। তাদের প্রাচীন পদ্ধতির ওপর আমাদের কিছু কাঠামোগত আপত্তি আমাদের এই স্বীকৃতির মূল্যকে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ করে না। কারণ, ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের পদ্ধতি নির্ভুলতা, গভীরতা ও আমানতদারিতার দিক দিয়ে অতুলনীয়। তবে তাদের কুরআন বিষয়ক গবেষণায় ঐতিহাসিক পদ্ধতিটিই প্রাধান্য পেয়েছিল, যা সর্বদা সেই সাহিত্যিক ও শৈল্পিক দিকটি ফুটিয়ে তোলার সুযোগ দেয়নি যা ইতিহাসের কিছু বড় সত্য আড়ালে থেকে গেলে সেই শূন্যস্থান ও ঘাটতিগুলো পূরণ করে দেয়।
উলূমুল কুরআনের সংজ্ঞায় তাদের পদ্ধতির ঐতিহাসিক রূপটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও শক্তিশালীভাবে ফুটে উঠেছে। তাদের দৃষ্টিতে এই বিজ্ঞানসমূহ হলো এমন কিছু মাসআলার সমষ্টি যেখানে কুরআন কারীমের নাযিল হওয়া, তিলাওয়াত, লিখন ও সংকলন, মুসহাফসমূহে বিন্যাস, শব্দাবলির তাফসীর এবং এর বৈশিষ্ট্য ও উদ্দেশ্যসমূহের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই সংজ্ঞার প্রতিটি উপাদানের বিস্তারিত আলোচনায় ঐতিহাসিক পদ্ধতির প্রভাব আরও প্রকট ও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তারা আমাদের কাছে কুরআনের অবতীর্ণ হওয়ার শুরু, মধ্য ও শেষ—সবগুলো পর্যায় তুলে ধরেছেন এবং দিন-রাত, গরম-ঠাণ্ডা, শান্তি ও যুদ্ধাবস্থায় এর নাযিল হওয়ার পদ্ধতি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে চিত্রায়িত করেছেন। তারা এই ক্ষেত্রের ক্ষুদ্রতম কোনো অংশও উপেক্ষা করেননি। ব্যক্তিগত ও সামাজিক ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে পর্যায়ক্রমে নাযিল হওয়া কুরআনি বিষয়গুলো অনুসন্ধান করতে তারা কোনো ত্রুটি করেননি। কুরআন সংকলন, সংরক্ষণ, মুসহাফে প্রতিলিপি তৈরি এবং এর লিপি বিন্যাস উন্নত করার ক্ষেত্রে তাদের গবেষণার কোনো নজির আমরা খুঁজে পাই না। তেমনিভাবে এর মুতাওয়াতির সাত হরফ এবং মুতাওয়াতির কিরাতসমূহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তাদের কাজ অতুলনীয়...
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ثبت لديهم من وجوهها القطعية اليقينية، ودلت طريقتهم التي اتبعوها في تمحيص الروايات وتحقيق النصوص في هذا كله على أنهم كانوا أقدر الباحثين على التحاكم إلى التاريخ الصحيح.
لكن انطوت مزيتهم الكبرى هذه على عيب شكلي بسيط: فإن استمساكهم بالمنهج التاريخي لم يترك لهم أحيانا الفرص الكافية لإيفاء الناحية الأدبية في القرآن ما هي خليقة به من العناية: جمعوا في "أسباب النزول" بين السبب التاريخي والسياق الأدبي في ثلة من المواطن ولكنهم لم يحسنوا دائمًا الجمع بين هذين الأمرين في سائر المواطن الأخرى، حتى بات الباحث يتساءل مرارا: لم وضعت هذه الآية إلى جنب تلك؟ ولم قفي هذا الموضوع بذاك رغم الفاصل الزمني البعيد؟ ثم لا يجد لديهم جوابا شافيا عن ذلك، على كثرة ما رووه في هذا وصنفوه.
لذلك لن نكتفي في بحث "أسباب النزول" بعرض أنماط من مقاييسهم الدقيقة التي وضعوها لترجيح الروايات المنبئة عن تلك الأسباب، بل سنضم إلى ذلك ما وشت به عبارات مبثوثة هنا وهناك -في تفاسير المحققين منهم- من رعاية لنظم القرآن وحسن السياق، فنسهب في الاستشهاد ببعض المقاطع القرآنية التي أقصى فيها المفسرون فكرة الزمان لمراعاة التناسق الفني، حتى بدا كل نص في القرآن محكم البناء، متلاحم الأجزاء، آخذا بعضه بأعناق بعض؛ فبهدا نعرف عن كل آية: أمكملة لما قبلها أم مستقلة؟ وما وجه مناسبتها لما قبلها؟ إن جاءت على سبيل الاستئناف؟
وإننا لنحمد لعلمائنا الأبرار القدامى انتباههم إلى تعدية الآيات إلى غير أسبابها، وقولهم بتعميم الصياغة ولو وقعت الآيات على سبب خاص، غير أننا نرى أن عيونهم قد أخطأت أحيانا ما رسمه القرآن من "نماذج" إنسانية تتخطى الزمان والمكان، وتتجاوز المناسبات والأسباب، فعلينا إذن -خدمة للجانب الفني في القرآن- أن نملأ ذلك الفراغ بما نرجو أن يلهمنا الله التقاطه من الصور الشاخصة والمشاهد المتكررة في عالم الأحياء.
তাদের নিকট এটি নিশ্চিত ও অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রেওয়ায়েতসমূহ যাচাই-বাছাই এবং মূল পাঠের তাহকীক করার ক্ষেত্রে তারা যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, তা প্রমাণ করে যে তারা সঠিক ইতিহাসের ভিত্তিতে বিচার-বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সক্ষম গবেষক ছিলেন।
কিন্তু তাদের এই মহৎ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি ছোট বাহ্যিক ত্রুটি নিহিত ছিল: ঐতিহাসিক পদ্ধতির প্রতি তাদের অতিরিক্ত আসক্তি কখনও কখনও তাদেরকে কুরআনের সাহিত্যিক দিকটির প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়নি। তারা অনেক ক্ষেত্রে "আসবাবুন নুযূল" বা অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটের বর্ণনায় ঐতিহাসিক কারণ এবং সাহিত্যিক প্রসঙ্গের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছেন, কিন্তু অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে তারা এই দুইয়ের মধ্যে সর্বদা যথাযথ সমন্বয় করতে পারেননি। ফলে গবেষককে বারবার প্রশ্ন করতে হয়: কেন এই আয়াতটি ঐ আয়াতের পাশে রাখা হলো? এবং কেন দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও এই বিষয়টিকে ঐ বিষয়ের অনুগামী করা হলো? এরপর তাদের বর্ণিত প্রচুর বর্ণনা এবং রচিত গ্রন্থাদি থাকা সত্ত্বেও সেখানে এর কোনো সন্তোষজনক উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় না।
তাই "আসবাবুন নুযূল" সংক্রান্ত আলোচনায় আমরা কেবল সেই কারণগুলো বর্ণনাকারী রেওয়ায়েতগুলোর প্রাবল্য নির্ধারণে তাদের নির্ধারিত সূক্ষ্ম মানদণ্ডগুলো উপস্থাপনেই ক্ষান্ত হব না; বরং এর সাথে আমরা সেই সব বিক্ষিপ্ত বর্ণনাগুলোকেও যুক্ত করব—যা তাদের মধ্যকার মুহাক্কিক মুফাসসিরগণের তাফসীরগুলোতে পাওয়া যায়—যেখানে কুরআনের বিন্যাস এবং প্রসঙ্গের সৌন্দর্যের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। আমরা কুরআনের এমন কিছু অংশের উদ্ধৃতি দিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, যেখানে মুফাসসিরগণ শৈল্পিক সুষমা বজায় রাখার স্বার্থে সময়ের ধারণাকে সরিয়ে রেখেছেন, ফলে কুরআনের প্রতিটি পাঠ অত্যন্ত সুসংহত এবং এর প্রতিটি অংশ একটি অপরটির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমেই আমরা প্রতিটি আয়াত সম্পর্কে জানতে পারব: এটি কি আগেরটির পরিপূরক নাকি স্বতন্ত্র? এবং যদি এটি নতুন করে শুরু হয়ে থাকে, তবে পূর্ববর্তী আয়াতের সাথে এর সামঞ্জস্যের ধরণ কী?
আমরা আমাদের পূর্বসূরি পুণ্যবান আলেমদের প্রশংসা করি যে, তারা আয়াতগুলোকে কেবল তাদের অবতীর্ণ হওয়ার নির্দিষ্ট কারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সেগুলোকে অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত করার প্রতি মনোনিবেশ করেছেন এবং তারা শব্দমালার ব্যাপকতার কথা বলেছেন যদিও আয়াতটি কোনো বিশেষ কারণে নাযিল হয়ে থাকে। তবে আমরা মনে করি যে, কুরআন যে সব মানবিক "মডেল" চিত্রিত করেছে—যা সময় ও স্থানকে অতিক্রম করে যায় এবং বিশেষ প্রেক্ষাপট ও কারণের ঊর্ধ্বে উঠে যায়—কখনও কখনও তাদের দৃষ্টি তা এড়িয়ে গেছে। অতএব, কুরআনের শৈল্পিক দিকের সেবা করার লক্ষ্যে আমাদের উচিত সেই শূন্যস্থানটি পূরণ করা, যেখানে আমরা আশা করি যে আল্লাহ আমাদের জীবন্ত জগতের সেই মূর্ত ছবি এবং পৌনঃপুনিক দৃশ্যপটগুলো থেকে জ্ঞান আহরণের তাওফীক দান করবেন।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وما نحسب باحثا يرتاب في أن علماءنا القدامى قد محصوا ما يتعلق بالمكي والمدني كل التمحيص، وأن بعض المحققين منهم -في طائفة من أبحاثهم- مهدوا بين أيدينا القول بتقسيم النوازل المكية ثم المدنية إلى مراحل ثلاث:
ابتدائية ومتوسطة وختامية، إلا أنهم شغلوا بمتابعة جزئيات تلك المراحل أكثر مما احتفلوا بإبراز ما انطوت عليه كل مرحلة من عقائد وأحكام، وما سرى في ألفاظها وفواصلها من إيقاع وما غلب على صورها ومشاهدها من أساليب، فسنحاول بدراستنا هذه أن نتقرى في القرآن نفسه كل هاتيك الملامح فيما سوف يجده القارئ بنفسه في فصل "المكي والمدني" ولا يفوتنا أن نشير إلى أن الطالب الذي يود لو يطلع على "نماذج" من التحليل البياني لبعض السور القرآنية سوف يجد في هذا المبحث ذاته طلبته في عشرين سورة مفسرة موضوعاتها وأساليبها على حسب تعاقبها في النزول، واقعة موقعها التاريخي من مراحل التنزيل.
وما نحسب أن التوفيق حالف طائفة من القدامى غلت أعجب الغلو في بحث "الناسخ والمنسوخ" فإنهم فيه أكثروا من الخلط بين المفهومات، والتبس على كثير منهم ما ينسبه الله إلى نفسه بما عسى أن ينسبه البشر إليه أو إلى أنفسهم فلم يفرقوا بين النسخ والتخصيص، وبين النسخ والبداء، وبين النسخ والإنساء، وبين نسخ الأحكام ونسخ الأخبار، ولسوف يحملنا غلوهم وخلطهم على أن نتعالى بكلام الله المتواتر المعجز عن أقاويلهم الغريبة التي تعارض منطق الأشياء.
وإن إعجابنا الشديد بكثير مما تناول به سلفنا قضية الإعجاز لن يمنعنا من أن نجري في مفهوم هذه القضية شيئًا من التعديل، لنسمو بدرس الأسلوب القرآني من أفق المصطلحات البلاغية الضيق إلى أفق الفن الأدبي الرفيع: ففي بحث الإعجاز سنفهم الصور البيانية فهما موحيا فيه نداوة الفن وظل الأدب الظليل، وسنتلقى بمشاعرنا كلها موسيقى القرآن الداخلية التي فيها من النثر تعبيره الدقيق، وفيها من الشعر إيقاعه الرخي المنساب!
وما نحسب باحثا يرتاب في أن علماءنا القدامى قد محصوا ما يتعلق بالمكي والمدني كل التمحيص، وأن بعض المحققين منهم -في طائفة من أبحاثهم- مهدوا بين أيدينا القول بتقسيم النوازل المكية ثم المدنية إلى مراحل ثلاث:
আমরা মনে করি না যে কোনো গবেষক এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করবেন যে, আমাদের পূর্বসূরি আলিমগণ মাক্কী ও মাদানী বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করেছেন। তাঁদের মধ্য থেকে কিছু গবেষক তাঁদের একগুচ্ছ গবেষণায় আমাদের সামনে মাক্কী ও মাদানী নাযিলকৃত বিষয়গুলোকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করার প্রস্তাবনা পেশ করেছেন: প্রাথমিক, মধ্যবর্তী ও চূড়ান্ত। তবে তাঁরা প্রতিটি পর্যায়ের আকিদা ও আহকাম (বিধান) ফুটিয়ে তোলার এবং সেগুলোর শব্দাবলি ও আয়াতের শেষাংশে যে ছন্দধারা প্রবাহিত এবং সেগুলোর চিত্রায়ন ও দৃশ্যপটে যে শৈলী প্রাধান্য পেয়েছে তা প্রকাশ করার চেয়ে, ওই পর্যায়গুলোর খুঁটিনাটি বিষয়গুলো অনুসরণে বেশি নিবিষ্ট ছিলেন। ফলে আমরা আমাদের এই গবেষণার মাধ্যমে খোদ কুরআনের মধ্যেই সেই সমস্ত বৈশিষ্ট্য অনুসন্ধানের চেষ্টা করব, যা পাঠক নিজে "মাক্কী ও মাদানী" অধ্যায়ে দেখতে পাবেন। আমাদের এ কথা উল্লেখ করাও প্রয়োজন যে, যে শিক্ষার্থী কুরআনের কিছু সূরার আলংকারিক বিশ্লেষণের "নমুনা" দেখতে আগ্রহী, সে এই পরিচ্ছেদেই তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পাবে; এখানে বিশটি সূরার বিষয়বস্তু ও শৈলী তাদের নাযিল হওয়ার ধারাবাহিকতা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা ওহী নাযিলের পর্যায়ক্রমিক ধারায় তাদের ঐতিহাসিক অবস্থানে বিন্যস্ত।
আমরা মনে করি না যে সাফল্য সেই প্রাচীন একদল লোকের অনুকূলে ছিল যারা "নাসেখ ও মানসুখ" (রহিতকারী ও রহিত) গবেষণায় চরম বাড়াবাড়ি করেছেন। কেননা তারা এতে বিভিন্ন ধারণার মধ্যে প্রচুর সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন এবং তাদের অনেকের কাছেই আল্লাহ নিজের দিকে যা নিসবত করেছেন, তার সাথে মানুষ আল্লাহর দিকে বা নিজেদের দিকে যা নিসবত করতে পারে তার সংশয় তৈরি হয়েছে। ফলে তারা নাসখ (রহিতকরণ) ও তাখসিস (নির্দিষ্টকরণ), নাসখ ও বাদা (মত পরিবর্তন), নাসখ ও ইনসা (ভুলিয়ে দেওয়া) এবং বিধানের রহিতকরণ ও সংবাদের রহিতকরণের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেননি। তাদের এই বাড়াবাড়ি ও সংমিশ্রণ আমাদের বাধ্য করবে আল্লাহর মুতাওয়াতির ও মুজিযাপূর্ণ কালামকে তাদের সেই সব অদ্ভুত কথাবার্তা থেকে ঊর্ধ্বে রাখতে যা বস্তুর যৌক্তিকতার পরিপন্থী।
ইজায (অলৌকিকত্ব) বিষয়ে আমাদের পূর্বসূরিরা যা আলোচনা করেছেন তার অনেক কিছুর প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও, এই বিষয়ের ধারণায় কিছুটা পরিমার্জন করা থেকে তা আমাদের বিরত রাখবে না; যাতে আমরা কুরআনিক শৈলীর পাঠকে সংকীর্ণ অলঙ্কারশাস্ত্রীয় পরিভাষার দিগন্ত থেকে উচ্চতর সাহিত্যিক শিল্পের দিগন্তে উন্নীত করতে পারি। সুতরাং ইজায-সংক্রান্ত গবেষণায় আমরা আলংকারিক চিত্রকল্পগুলোকে এমন এক অনুপ্রেরণামূলক উপলব্ধিতে বুঝব যেখানে শিল্পের সজীবতা এবং সাহিত্যের সুনিবিড় ছায়া বিদ্যমান। আর আমরা আমাদের সমস্ত অনুভূতি দিয়ে কুরআনের অভ্যন্তরীণ সুরমূর্ছনা গ্রহণ করব, যার মধ্যে গদ্যের সুনিপুণ অভিব্যক্তি রয়েছে এবং কবিতার স্বচ্ছন্দ ও সাবলীল ছন্দ বিদ্যমান!
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وبعد، فتلك مباحث في علوم القرآن لا ننمي إليها السعة والشمول، ولا ندعي لها التفصيل والاستيعاب، إنما هي طائفة من المسائل المهمة التي نرجو ألا يجهلها أو يتجاهلها عربي ينطق بالضاد أو مسلم يهتف بهذا الدين الحنيف، وها نحن أولاء نتركها بين أيدي القراء سائلين الله أن يشوقهم بها إلى تلاوة كتابه، فتدبر أحكامه، فالعمل بتعاليمه، لعل التاريخ يعيد نفسه، ولعلنا نرجع بهذا الكتاب كما كنا خير أمة أخرجت للناس.
অতঃপর, এগুলি উলূমুল কুরআনের এমন কিছু আলোচনা যার ব্যাপকতা ও সর্বব্যাপ্তির দাবি আমরা করি না, আর না আমরা এর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ ও পূর্ণাঙ্গতার দাবি করছি; বরং এগুলি কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমষ্টি মাত্র, যেগুলি সম্পর্কে কোনো আরবিভাষী ব্যক্তি অজ্ঞ থাকবে না বা তা উপেক্ষা করবে না বলে আমরা আশা করি, অথবা এই একনিষ্ঠ দ্বীনের অনুসারী কোনো মুসলিমও নয়। আর আমরা এগুলি পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করছি আল্লাহর নিকট এই প্রার্থনা জানিয়ে যে, তিনি যেন এগুলোর মাধ্যমে তাঁদেরকে তাঁর কিতাব তিলাওয়াতের প্রতি অনুরাগী করেন, অতঃপর এর বিধানাবলি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার এবং এর শিক্ষা অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করেন; যেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং আমরা এই কিতাবের বরকতে আবারও তেমন হতে পারি, যেমন আমরা ছিলাম মানবজাতির কল্যাণে প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত।
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الباب الأول: القرآن والوحي
الفصل الأول: أسماء القرآن وموارد اشتقاقها…الباب الأول: القرآن الوحي
الفصل الأول: أسماء القرآن وموارد اشتقاقها
لقد اختار الله لوحيه أسماء جديدة مخالفة لما سمى العرب به كلامهم جملة وتفصيلا1. وروعيت في تلك الألقاب أسرار التسمية وموارد الاشتقاق.
واشتهر منها لقبان: الكتاب والقرآن.
وفي تسميته بالكتاب إشارة إلى جمعه في السطور، لأن الكتابة جمع للحروف ورسم للألفاظ؛ كما أن في تسميته بالقرآن إيماءة إلى حفظه في الصدور، لأن القرآن مصدر القراءة، وفي القراءة استذكار، فهذا الوحي العربي المبين قد كتب له من العناية به ما كفل صيانته في حرز حريز، وما جعله بنجوة من خوض العابثين وتلاعب المحرفين: إذ لم ينقل كجميع الكتب بالكتابة وحدها ولا بالحفظ وحده، بل وافقت كتابته تواتر إسناده، ووافق إسناده المتواتر نقل الأمين الدقيق.
ومع أن كلتا التسميتين ترتد إلى أصل آرامي، إذ وردت الكتابة في الآرامية بمعنى رسم الحروف، وجاءت القراءة فيها بمعنى التلاوة، بدت تسمية هذ الوحي بالكتاب وبالقرآن طبيعية جدًا، لامتياز الوحي المحمدي في مراحله كلها بهذه العناية المزدوجة في صيانة نصوصه وحفظ تعاليمه ومنقوشة في السطور، مجموعة من الصدور.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: কুরআন ও ওহিপ্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনের নামসমূহ এবং সেগুলোর ব্যুৎপত্তিগত উৎস...প্রথম অধ্যায়: কুরআন ও ওহি
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনের নামসমূহ এবং সেগুলোর ব্যুৎপত্তিগত উৎস
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর ওহির জন্য এমন কিছু নতুন নাম পছন্দ করেছেন যা আরবরা তাদের বাণীর নামকরণে সামগ্রিক বা বিস্তারিতভাবে যা ব্যবহার করত, তা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ১। এই উপাধিগুলোর ক্ষেত্রে নামকরণের রহস্য এবং ব্যুৎপত্তিগত উৎসের প্রতি লক্ষ রাখা হয়েছে।
সেগুলোর মধ্যে দুটি উপাধি সমধিক প্রসিদ্ধ: আল-কিতাব এবং আল-কুরআন।
একে 'কিতাব' নামকরণ করার মধ্যে এটি পঙ্ক্তিমালায় সংকলিত হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে, কেননা লিখন হলো বর্ণমালার সমষ্টি এবং শব্দাবলির রূপায়ন; তেমনিভাবে একে 'কুরআন' নামকরণের মধ্যে এটি অন্তরে সংরক্ষিত রাখার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে, কেননা কুরআন শব্দটি পাঠ করার (কিরআত) ক্রিয়ামূল, আর পাঠের মধ্যে থাকে স্মৃতিচারণ। সুতরাং এই সুস্পষ্ট আরবি ওহির জন্য এমন বিশেষ যত্নের ব্যবস্থা করা হয়েছে যা একে একটি সুদৃঢ় দুর্গে সংরক্ষণের নিশ্চয়তা প্রদান করে এবং একে অনর্থক চর্চাকারীদের হস্তক্ষেপ ও বিকৃতিকারীদের অপকৌশল থেকে নিরাপদ রাখে। কেননা এটি অন্যান্য সকল গ্রন্থের ন্যায় কেবল লিখনের মাধ্যমে কিংবা কেবল মুখস্থ রাখার মাধ্যমে হস্তান্তরিত হয়নি, বরং এর লিখন এর নিরবচ্ছিন্ন সনদের (তাওয়াতুর) অনুগামী ছিল এবং এর নিরবচ্ছিন্ন সনদ সূক্ষ্ম ও আমানতদারিপূর্ণ বর্ণনার অনুগামী ছিল।
যদিও উভয় নামই আরামাইক মূলের দিকে ফিরে যায়, যেহেতু আরামাইক ভাষায় লিখন বর্ণের অঙ্কন অর্থে এবং পাঠ তিলাওয়াত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, তবুও এই ওহিকে 'কিতাব' ও 'কুরআন' নামকরণ করা অত্যন্ত স্বাভাবিক ও যুক্তিযুক্ত বলেই প্রতীয়মান হয়। কারণ মুহাম্মাদী ওহি তার সকল পর্যায়ে এর মূল পাঠের সুরক্ষা এবং এর শিক্ষার সংরক্ষণে এই দ্বিমুখী যত্নের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল—যা পঙ্ক্তিমালায় অঙ্কিত এবং অন্তরে সংগৃহীত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
على أن الذي غلب استعماله من بين هاتين التسميتين هو لفظ القرآن بالمدلول المصدري، حتى بات علما شخصيا لهذا الكتاب الكريم. فكان جديرًا بنا -قبل أن نخوض في ظاهرة الوحي وتقصي هذه المباحث القرآنية- أن نبادر إلى معرفة الأصل الاشتقاقي للفظ القرآن الذي يحكي ألفاظا أخر تماثله في اللغات السامية، وإلى الوقوف على المدلولات اللغوية لأهم الأسماء الأخرى التي اختيرت للقرآن وأطلقت عليه، سواء أتشابهت أم لم تتشابه بين الساميات والعربية.
لقد ذهب العلماء في لفظ "القرآن" مذاهب، فهو عند بعضهم مهموز وعند بعضهم الآخر غير مهموز. فممن رأى أنه بغير همز الشافعي والفراء1. والأشعري2.
أ- يقول الشافعي: إن لفظ القرآن المعرف بأن ليس مشتقا ولا مهموزًا، بل ارتجل ووضع علما على الكلام المنزل على النبي صلى الله عليه وسلم. فالقرآن عند الشافعي: "لم يؤخذ من قرأت، ولو أخذت من قرأت لكان كل ما قرئ قرانًا، ولكنه اسم للقرآن، مثل التوراة والإنجيل"3.
ب- ويقول الفراء: إنه مشتق من القرائن، جمع قرينة، لأن آياته يشبه بعضها بعضا فكأن بعضها قرينة على بعض، وواضح أن النون في "قرائن" أصلية4.
جـ- يقول الأشعري وأقوام يتابعونه على رأيه: إنه مشتق من "قرن الشيء بالشيء" إذا ضمه إليه، لأن السور والآيات تقرن فيه ويضم بعضها
--------------------------------------------
এই দুটি নামকরণের মধ্যে যেটি অধিক ব্যবহৃত হয়েছে তা হলো মূল ধাতুর অর্থবহ ‘কুরআন’ শব্দটি, এমনকি এটি এই মহিমান্বিত কিতাবের সুনির্দিষ্ট নাম হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। ওহীর প্রপঞ্চ এবং এই কুরআন সংশ্লিষ্ট আলোচনার গভীরে যাওয়ার আগে আমাদের জন্য এটি সমীচীন হবে যে, আমরা ‘কুরআন’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত মূল সম্পর্কে অবগত হই, যা সামীয় ভাষাগুলোর অন্যান্য সমজাতীয় শব্দকেও নির্দেশ করে। সেই সাথে কুরআনের জন্য নির্বাচিত ও ব্যবহৃত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নামগুলোর ভাষাতাত্ত্বিক অর্থ সম্পর্কেও অবগত হওয়া প্রয়োজন, সামীয় ও আরবি ভাষার মাঝে তাদের সাদৃশ্য থাকুক বা না থাকুক।
‘কুরআন’ শব্দের বিষয়ে আলেমগণ বিভিন্ন মত পোষণ করেছেন। কারো কারো মতে এটি ‘হামজা’ যুক্ত, আবার কারো মতে এটি ‘হামজা’ বিহীন। যারা এটিকে ‘হামজা’ বিহীন মনে করেন তাদের মধ্যে ইমাম শাফিঈ, আল-ফাররা এবং আল-আশআরী অন্যতম।
ক- ইমাম শাফিঈ বলেন: ‘আলিফ-লাম’ যুক্ত ‘আল-কুরআন’ শব্দটি কোনো শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন নয় এবং এটি হামজা যুক্তও নয়; বরং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ বাণীর জন্য নির্ধারিত একটি মৌলিক বিশেষ নাম। ইমাম শাফিঈর মতে: "কুরআন শব্দটি ‘কারাআতু’ (আমি পড়েছি) থেকে গৃহীত হয়নি। যদি এটি ‘কারাআতু’ থেকে নেওয়া হতো, তবে যা কিছুই পড়া হতো তাকেই কুরআন বলা হতো। বরং এটি কুরআনের জন্য একটি নাম, যেমনটি তাওরাত ও ইঞ্জিল (বিশেষ নাম হিসেবে ব্যবহৃত)।"
খ- আল-ফাররা বলেন: এটি ‘কারাইন’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যা ‘কারীনা’ শব্দের বহুবচন। কারণ এর আয়াতগুলো একে অপরের সদৃশ, ফলে একটি আয়াত অন্যটির জন্য সহযোগী প্রমাণের মতো। আর এটি স্পষ্ট যে ‘কারাইন’ শব্দের ‘নূন’ বর্ণটি এর মূল ধাতুভুক্ত।
গ- আল-আশআরী এবং তাঁর মতের অনুসারীরা বলেন: এটি ‘কারানাশ শাইয়া বিশ-শাই’ (এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে যুক্ত করা) থেকে উদ্ভূত, যখন একটিকে অন্যটির সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়। কারণ এতে সূরা ও আয়াতসমূহ পরস্পর যুক্ত এবং একটি অপরটির সাথে মিলিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إلى بعض1.
والقول بعدم الهمز في هذ الآراء الثلاثة كاف للحكم ببعدها عن قواعد الاشتقاق وموارد اللغة.
وممن رأى أن لفظ "القرآن" مهموز: الزجاج2 واللحياني3 وجماعة.
أ- يقول الزجاج: إن لفظ "القرآن" مهموز على وزن فعلان، مشتق من القرء بمعنى الجمع، ومنه قرأ الماء في الحوض إذا جمعه؛ لأنه جمع ثمرات الكتب السابقة4.
ب- ويقول اللحياني: إنه مصدر مهموز بوزن الغفران، مشتق من قرأ بمعنى تلا، سمي به المقروء تسمية للمفعول بالمصدر5.
والأخير أقوى الآراء وأرجحها، فالقرآن في اللغة مصدر مرادف للقراءة، ومنه قوله تعالى: {إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ، فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} 6.
والعرب في الجاهلية حين عرفوا لفظ "قرأ" استخدمواه بمعنى غير معنى التلاوة، فكانوا يقولون: هذه الناقة لم تقرأ سلى قط، يقصدون أنها لم تحمل ملقوحا ولم تلد ولدًا، ومنه قول عمرو بن كلثوم:
هجان اللون لم تقرأ جنينا7
أما قرأ بمعنى "تلا" فقد أخذها العرب من أصل آرامي وتداولوها،
--------------------------------------------
কিছু মতের প্রতি ১।
এই তিনটি মতের ক্ষেত্রে হামযা না থাকার বিষয়টি শব্দতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি এবং ভাষার উৎসের নিয়মাবলি থেকে সেগুলোর দূরত্ব নির্দেশ করার জন্য যথেষ্ট।
আর যারা 'কুরআন' শব্দটি হামযা-যুক্ত বলে মনে করেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: আয-যাজ্জাজ ২, আল-লিহয়ানি ৩ এবং একটি দল।
ক- যাজ্জাজ বলেন: 'কুরআন' শব্দটি 'ফালান' ওজনে হামযা-যুক্ত শব্দ, যা 'আল-কুর' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো একত্র করা। এর থেকেই বলা হয়, 'সে হাউজে পানি জমা করেছে', যখন সে তা একত্র করে; কারণ এটি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের নির্যাসকে একত্র করেছে ৪।
খ- আল-লিহয়ানি বলেন: এটি 'আল-গুফরান' এর ওজনে একটি হামযা-যুক্ত মূলশব্দ, যা 'ক্বারাআ' থেকে উদ্ভূত যার অর্থ 'পাঠ করা'। এখানে মূলশব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে পঠিত বিষয়কে (মাফউল) নামকরণ করা হয়েছে ৫।
শেষোক্ত মতটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ও অগ্রগণ্য। ভাষাগতভাবে 'কুরআন' শব্দটি পাঠ করার সমার্থক একটি মূলশব্দ। মহান আল্লাহর বাণী এ কথারই প্রমাণ: {নিশ্চয়ই তা সংরক্ষণ করা এবং পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব। সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন} ৬।
জাহেলিয়াত যুগে আরবরা যখন 'ক্বারাআ' শব্দটির সাথে পরিচিত ছিল, তখন তারা পাঠ করার অর্থ ব্যতীত ভিন্ন অর্থে এটি ব্যবহার করত। তারা বলত: 'এই উটনীটি কখনোই গর্ভধারণ করেনি', তারা এর দ্বারা বোঝাত যে এটি গর্ভবতী হয়নি এবং কোনো সন্তান জন্ম দেয়নি। আমর বিন কুলসুমের কবিতায় এর প্রয়োগ পাওয়া যায়:
শুভ্র বর্ণের, যে কখনো ভ্রুণ ধারণ করেনি ৭
আর 'পাঠ করা' অর্থে 'ক্বারাআ' শব্দটি আরবরা আরামাইক মূল থেকে গ্রহণ করেছে এবং তা প্রচলিত হয়েছে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
فمن المعروف كما يقول برجشتراسر G.Bergstraesser أن اللغات الآرامية والحبشية والفارسية تركت في العربية آثارا لا تنكر، لأنها كانت لغات الأقوام المتمدينة والمجاورة للعرب في القرون السابقة للهجرة.
وما لنا نستغرب هذا ولا نصدقه ونحن نعلم أن لهجات الآرمية المختلفة كانت تسود كل بلاد فلسطين وسورية وبين النهرين وبعض العراق؟ ونعلم أيضا أن جوار العرب لليهود الذين كانت لغتهم الدينية الآرمية عجل في انتشار كثير من الألفاظ الدينية الآرامية؟ وقد أشار إلى هذا المستشرق كرنكو Krenkow في بحثه عن لفظ "كتاب" في "دائرة المعارف الإسلامية"1، كما نقل المستشرق بلاشير Blachere طائفة من الكلمات الدينية الآرامية والسريانية والعبرية مؤكدا استعمال العرب لها من أثر الجوار مع اليهود وسواهم من أصحاب الملل2. ونذكر من تلك الألفاظ "قرأ، كتب، كتاب، تفسير، تلميذ، فرقان، قيوم، زنديق".
ومهما يكن من شيء، فإن تداول العرب قبل الإسلام للفظ "قرأ" الآرامي الأصل بمعنى "تلا" كان كافيا لتعريبه واستعمال الإسلام له في تسمية كتابه الكريم.
ومن أسماء القرآن "الفرقان". قال تعالى: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} 3. ولفظ الفرقان في الأصل آرامي، تفيد مادته معنى التفرقة، كأن في التسمية إشعارا بتفرقة هذا الكتاب بين الحق والباطل.
ومنها الذكر {وَهَذَا ذِكْرٌ مُبَارَكٌ أَنْزَلْنَاهُ} 4 "وهو عربي خالص،
--------------------------------------------
জি. বার্গস্ট্রাসার (G. Bergstraesser) যেমন বলেছেন, এটি সুপরিচিত যে আরামাইক, হাবশি এবং ফার্সি ভাষা আরবি ভাষায় অনস্বীকার্য প্রভাব রেখে গেছে; কারণ হিজরতের পূর্ববর্তী শতাব্দীগুলোতে এগুলো ছিল আরবদের প্রতিবেশী ও সভ্য জাতিগোষ্ঠীগুলোর ভাষা।
এতে বিস্মিত হওয়ার বা এটি অবিশ্বাস করার কী আছে, যখন আমরা জানি যে ফিলিস্তিন, সিরিয়া, মেসোপটেমিয়া এবং ইরাকের কিছু অংশে আরামাইক ভাষার বিভিন্ন উপভাষা প্রচলিত ছিল? আমরা আরও জানি যে, ইহুদিদের সাথে আরবদের নৈকট্য—যাদের ধর্মীয় ভাষা ছিল আরামাইক—অনেক আরামাইক ধর্মীয় শব্দের প্রসারে গতি দান করেছিল। প্রাচ্যবিদ ক্রেনকো (Krenkow) "ইসলামি বিশ্বকোষ"-এ 'কিতাব' শব্দের ওপর তার গবেষণায় এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। একইভাবে প্রাচ্যবিদ ব্লাশিয়ার (Blachere) একগুচ্ছ আরামাইক, সিরিয়াক এবং হিব্রু ধর্মীয় শব্দ উদ্ধৃত করেছেন এবং নিশ্চিত করেছেন যে, ইহুদি ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সান্নিধ্যের প্রভাবে আরবরা এগুলো ব্যবহার করত। সেই শব্দগুলোর মধ্য থেকে আমরা 'ক্বারাআ (পাঠ করা)', 'কাতাবা (লেখা)', 'কিতাব', 'তাফসির', 'তিলমিয (ছাত্র)', 'ফুরকান', 'কাইয়ুম' ও 'যান্দিক' উল্লেখ করতে পারি।
যাই হোক না কেন, ইসলাম-পূর্ব যুগে 'তেলাওয়াত করা' অর্থে আরামাইক মূলের 'ক্বারাআ' শব্দের আরবে প্রচলন একে আরবীকরণের জন্য এবং ইসলামের পবিত্র গ্রন্থের নামকরণে এর ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট ছিল।
কুরআনের অন্যতম নাম হলো "আল-ফুরকান"। মহান আল্লাহ বলেন: "পরম কল্যাণময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন।" আর ফুরকান শব্দটি মূলে আরামাইক, এর মূলধাতু পৃথকীকরণের অর্থ প্রকাশ করে। যেন এই নামকরণের মাধ্যমে এই কিতাব সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে অন্যতম হলো আয-যিকর: "এবং এটি একটি বরকতময় যিকর, যা আমি অবতীর্ণ করেছি।" এটি একটি বিশুদ্ধ আরবি শব্দ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ومعناه الشرف، ومنه قوله تعالى: {لَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ كِتَابًا فِيهِ ذِكْرُكُمْ} 1.
ومنها التنزيل {وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ} 2، وهو عربي خالص كذلك يشعر بأنه وحي يوحى، ويتنزل على قلب الرسول الكريم.
وهذه الأسماء هي الشائعة المشهورة، غير أن بعضهم بالغ في تعداد ألقاب القرآن، حتى ذكر منها الذركشي خمسة وخمسين نقلا عن القاضي شيذلة3، ولا ريب أنه خلط فيها بين التسمية والوصف، فمن أسماء القرآن مثلا "العلي" لقوله تعالى: {وَإِنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَدَيْنَا لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ} 4، ومنها "المجيد" لقوله تعالى: {ربَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ} 5، ومنها "العزيز" لقوله: {وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيز} 6، ومنها العربي، لقوله: {قُرْآنًا عَرَبِيًّا} 7، وقد بلغ بعض العلماء8 بأسماء القرآن نيفا وتسعين.
والقرآن -بأي اسم سميته- هو الكلام المعجز المنزل على النبي صلى الله عليه وسلم المكتوب في المصاحف، المنقول عنه بالتواتر، المتعبد بتلاوته، وتعريف القرآن على هذا الوجه متفق عليه بين الأصوليين والفقهاء وعلماء العربية.
--------------------------------------------
আর এর অর্থ হলো মর্যাদা, এর মধ্য থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমাদের জন্য মর্যাদা রয়েছে।" ১।
আর এর অন্য নাম হলো 'তানজিল' (অবতরণকৃত), "আর নিশ্চয় এটি বিশ্বজাহানের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" ২; আর এটিও বিশুদ্ধ আরবি যা এই অনুভূতি জাগায় যে এটি একটি প্রত্যাদেশ যা ওহী হিসেবে প্রেরিত হয় এবং তা সম্মানিত রাসূলের অন্তরে অবতীর্ণ হয়।
আর এই নামগুলোই বহুল প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ, তবে কেউ কেউ কুরআনের উপাধি গণনায় অতিরঞ্জন করেছেন, এমনকি আল-যারকাশী কাজী শায়যালাহ ৩-এর উদ্ধৃতি দিয়ে এর পঞ্চান্নটি নাম উল্লেখ করেছেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি নাম এবং গুণাবলীর মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন। যেমন কুরআনের নামসমূহের মধ্যে একটি হলো 'আল-আলি' (উচ্চমর্যাদাশীল), মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "আর নিশ্চয় তা আমাদের নিকট মূল কিতাবে (লওহে মাহফুজে) উচ্চমর্যাদাশীল ও প্রজ্ঞাপূর্ণ।" ৪; আর তার মধ্যে অন্যতম হলো 'আল-মাজিদ' (মহিমান্বিত), মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "বরং এটি এক মহিমান্বিত কুরআন।" ৫; আর তার মধ্যে অন্যতম হলো 'আল-আজিজ' (পরাক্রান্ত), তাঁর বাণীর কারণে: "আর নিশ্চয় এটি এক পরাক্রান্ত কিতাব।" ৬; আর তার মধ্যে অন্যতম হলো 'আরবি', তাঁর বাণীর কারণে: "আরবি ভাষায় কুরআন।" ৭; এবং কোনো কোনো আলেম ৮ কুরআনের নাম নব্বইয়ের অধিক পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন।
আর কুরআন—আপনি একে যে নামেই ডাকুন না কেন—তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ সেই মুজিজাসম্পন্ন (অলৌকিক) কালাম যা মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ, যা তাঁর থেকে তাওয়াতুর (অবিচ্ছিন্ন জনশ্রুতি) সহযোগে বর্ণিত এবং যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য। কুরআনের এই সংজ্ঞাটি উসুলবিদ, ফকিহ এবং আরবি ভাষাবিদদের নিকট সর্বসম্মত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الفصل الثاني: ظاهرة الوحيلم يكن محمد بدعا من المرسلين ولا كان أول نبي خاطب الناس باسم الوحي، وحدثهم بحديث السماء، فمن لدن نوح تتابع أفراد مصطفون أخيار ينطقون عن الله ولا ينطقون عن الهوى، ولم يكن الوحي الذي أيدهم به الله مخالفا الوحي الذي أيد به محمدًا، بل كانت ظاهرة الوحي متماثلة عند الجميع، لأن مصدرها واحد، وغايتها واحدة1، كما قال الله: {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَوْحَيْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَعِيسَى وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهَارُونَ وَسُلَيْمَانَ وَآتَيْنَا دَاوُدَ زَبُورًا، وَرُسُلًا قَدْ قَصَصْنَاهُمْ عَلَيْكَ مِنْ قَبْلُ وَرُسُلًا لَمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا} 2. وواضح أن الأنبياء الذين صرحت الآية بأسمائهم إنما خصوا لأنهم كانوا أشهر أنبياء بني إسرائيل، وكانت أخبارهم مشهورة بين أهل الكتاب المجاورين لرسول الله عليه الصلاة والسلام في الحجاز وما حوله3.
لذلك حرص القرآن على تسمية ما نزل على قلب محمد وحيا، ليشابه مدلول الوحي بين جميع النبيين تشابه اللفظ الدال عليه، فقال:
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ওহীর স্বরূপমুহাম্মদ রাসূলদের মধ্যে কোনো নতুন বা অভূতপূর্ব কেউ ছিলেন না এবং তিনি এমন প্রথম কোনো নবী ছিলেন না যিনি ওহীর নামে মানুষের সাথে কথা বলেছেন এবং তাদের নিকট আসমানি বার্তা ব্যক্ত করেছেন। বরং নূহ (আ.)-এর সময় থেকেই মনোনীত নেককার ব্যক্তিদের ধারা পর্যায়ক্রমে চলে আসছিল, যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে কথা বলতেন এবং নিজেদের প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলতেন না। আল্লাহ তাঁদেরকে যে ওহী দিয়ে শক্তিশালী করেছিলেন, তা মুহাম্মদ (সা.)-কে দেওয়া ওহীর বিপরীত ছিল না। বরং ওহীর স্বরূপ সবার ক্ষেত্রে অভিন্ন ছিল; কারণ এর উৎস এক এবং এর লক্ষ্যও এক১, যেমন আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে ওহী পাঠিয়েছি যেমন ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহ ও তার পরবর্তী নবীদের কাছে। আর আমি ওহী পাঠিয়েছিলাম ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের কাছে এবং ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারুন ও সুলাইমানের কাছে; আর আমি দাউদকে যাবুর দিয়েছি। এবং এমন অনেক রাসূল পাঠিয়েছি যাদের কথা আমি ইতিপূর্বে আপনার কাছে বর্ণনা করেছি এবং এমন অনেক রাসূল পাঠিয়েছি যাদের কথা আমি আপনার কাছে বর্ণনা করিনি। আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন} ২। এটি স্পষ্ট যে, আয়াতে যেসব নবীর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদেরকে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করার কারণ হলো তাঁরা বনী ইসরাঈলের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ নবী ছিলেন এবং হিজাজ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিবেশী আহলে কিতাবদের কাছে তাঁদের সংবাদসমূহ অত্যন্ত পরিচিত ছিল৩।
এ কারণেই কুরআন মুহাম্মদ (সা.)-এর হৃদয়ে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাকে 'ওহী' নামে নামকরণ করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছে, যাতে সমস্ত নবীর ক্ষেত্রে 'ওহী' শব্দের অর্থগত তাৎপর্য ওহী নির্দেশক শব্দের ব্যবহারের মতোই সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। অতঃপর তিনি বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
{وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى، مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى، وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} 1 وقال: {قُلْ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أُبَدِّلَهُ مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِي إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ} 2، وقال: {وَإِذَا لَمْ تَأْتِهِمْ بِآيَةٍ قَالُوا لَوْلا اجْتَبَيْتَهَا قُلْ إِنَّمَا أَتَّبِعُ مَا يُوحَى إِلَيَّ مِنْ رَبِّي} 3؛ ثم أنكر على العقلاء توهمهم، أن في الوحي عجبا عجابا فقال: {أَكَانَ لِلنَّاسِ عَجَبًا أَنْ أَوْحَيْنَا إِلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ أَنْ أَنْذِرِ النَّاسَ وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ عِنْدَ رَبِّهِمْ قَالَ الْكَافِرُونَ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ مُبِينٌ} 4.هل كان للمنطق أن يقضي بأن اشتراك الناس في البشرية يمنع اختصاص الله واحدا منهم بما شاء من العلم والحكمة والإيمان؟ وهل كان للمنطق أن يعد هذا الاختصاص أعجوبة حتى تفكه الناس باستغراب ما فيه من نكر، ورأى فيه أهل الكفر ما يشبه عمل السحر؟
إن الوحي الذي لا ينبيغ أن يتعجب منه لا بد أن يكون إدراكه سهلا ميسرا خاليا من التعقيد، فما حقيقة هذا الوحي في نظر الدين؟ وما مدى التشابه بين ظاهرته عند محمد وعند سائر النبيين؟
حين سمى الدين هذا الضرب من الإعلام الخفي السريع "وحيا" لم يبتعد عن المعنى اللغوي الأصلي لمادة الوحي والإيحاء: فمنه الإلهام الفطري للإنسان، كقوله تعالى: {وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى أَنْ أَرْضِعِيهِ} 5 وقوله: {وَإِذْ أَوْحَيْتُ إِلَى الْحَوَارِيِّينَ أَنْ آمِنُوا بِي وَبِرَسُولِي قَالُوا آمَنَّا وَاشْهَدْ بِأَنَّنَا مُسْلِمُونَ} 6 ومنه الإلهام الغريزي للحيوان كالذي في قوله: {وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ} 7،
--------------------------------------------
"শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়। তোমাদের সঙ্গী (মুহাম্মাদ) পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি। আর তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়" ১ এবং তিনি বলেছেন: "বলুন, আমার নিজের পক্ষ থেকে এটি পরিবর্তন করার কোনো অধিকার আমার নেই। আমার প্রতি যা ওহী করা হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি" ২, এবং তিনি বলেছেন: "আর যখন আপনি তাদের কাছে কোনো আয়াত নিয়ে আসেন না, তখন তারা বলে, আপনি কেন এটি বেছে নিলেন না? বলুন, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি যা আমার রবের পক্ষ থেকে আমার প্রতি ওহী করা হয়" ৩; অতঃপর তিনি জ্ঞানবানদের সেই ভ্রান্ত ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, ওহীর মধ্যে আশ্চর্যজনক কিছু রয়েছে। তিনি বলেছেন: "মানুষের জন্য কি এটি বিস্ময়কর যে, আমি তাদেরই মধ্য থেকে একজনের কাছে ওহী পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, আপনি মানুষকে সতর্ক করুন এবং মুমিনদের সুসংবাদ দিন যে, তাদের রবের কাছে তাদের জন্য রয়েছে সত্যের পা (উচ্চ মর্যাদা)। কাফিররা বলে, নিশ্চয়ই এ এক প্রকাশ্য জাদুকর" ৪। যুক্তি কি এমন ফয়সালা দিতে পারে যে, মানুষের মানবীয় গুণাবলিতে সমান হওয়া আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের একজনকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ঈমানের মাধ্যমে বিশেষিত করার ক্ষেত্রে অন্তরায় হবে? আর যুক্তি কি এই বিশেষত্বকে এমন এক বিস্ময়কর বিষয় মনে করবে যে সম্পর্কে মানুষ অবাক হয়ে আলোচনা করবে এবং কাফিররা তাতে জাদুর সাদৃশ্য দেখতে পাবে?
নিশ্চয়ই যে ওহী সম্পর্কে আশ্চর্যান্বিত হওয়া অনুচিত, তার উপলব্ধি অবশ্যই সহজ, সুগম এবং জটিলতামুক্ত হতে হবে। সুতরাং ধর্মের দৃষ্টিতে এই ওহীর প্রকৃত স্বরূপ কী? আর মুহাম্মাদ এবং অন্যান্য সকল নবীর ক্ষেত্রে এই ওহীর বহিঃপ্রকাশের সাদৃশ্যের মাত্রা কতটুকু?
দ্বীন যখন এই ধরণের গোপন ও দ্রুত সংবাদ প্রদানকে "ওহী" হিসেবে অভিহিত করেছে, তখন তা ওহী ও ঈহা-র মূল ভাষাগত অর্থ থেকে বিচ্যুত হয়নি। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মানুষের প্রতি সৃষ্টিগত ইলহাম (অনুপ্রেরণা), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর আমি মূসার জননীকে ওহী করলাম যে, তাকে স্তন্যদান করো" ৫ এবং তাঁর বাণী: "আর যখন আমি হাওয়ারীগণের প্রতি ওহী করলাম যে, তোমরা আমার প্রতি ও আমার রাসূলের প্রতি ঈমান আনো; তারা বলল, আমরা ঈমান আনলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে আমরা আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)" ৬। আবার এর অন্তর্ভুক্ত হলো প্রাণীদের প্রতি স্বভাবজাত প্রবৃত্তিগত ইলহাম, যেমন তাঁর এই বাণীতে রয়েছে: "আর আপনার রব মৌমাছিকে ওহী (নির্দেশ) করলেন যে, তুমি পাহাড়, গাছ এবং তারা যে মাচা তৈরি করে তাতে ঘর নির্মাণ করো" ৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
سومنه الإشارة السريعة على سبيل الرمز والإيماء، كما في قوله عن زكرياء: {فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ مِنَ الْمِحْرَابِ فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ أَنْ سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيًّا} 1، والمعروف في تفسيرها أن زكريا أشار إليهم إشارة وحية سريعة ولم يتكلم.
ومنه الإيماء بالجوارح، وعليه قال الشاعر:
نظرت إليها نظرة فتحيرت
… دقائق فكري في بديع صفاتها
فأوحى إليها الطرف أني أحبها
… فأثر ذاك الوحي في وجناتها2
وعبر القرآن بالوحي عن وسواس الشيطان وتزيينه خواطر الشر للإنسان، فقال: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا} 3، وقال: {وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ} 4، مثلما عبر بالوحي أيضا عما يلقيه الله إلى الملائكة من أمره ليفعلوه من فورهم، كقوله: {إِذْ يُوحِي رَبُّكَ إِلَى الْمَلائِكَةِ أَنِّي مَعَكُمْ فَثَبِّتُوا الَّذِينَ آمَنُوا} 5.
أما تعبيره بالوحي عما يكلف الله الملك حمله إلى النبي من آيات كتبه المنزلة فهو شديد الصلة بتعبيره بالوحي إلى النبي نفسه، وما بين مدلولي التعبير من اختلاف لا يعدو الوظيفة التي يتحملها ملك الوحي بالنقل الأمين، ويتحملها النبي بالوعي والحفظ والتبليغ. من ذلك قوله تعالى: {فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى} 6: إذ المراد أن الله أوحى إلى عبده جبريل ملك الوحي الأمين، ما أوحاه جبريل إلى محمد خاتم النبيين، ومدلول الوحي إذن في هذه الآية كمدلول التنزيل الصريح في الآية الأخرى في قوله: {وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ، نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ، عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ} 7.
--------------------------------------------
এর মধ্যে রয়েছে রূপক ও ইশারার মাধ্যমে দ্রুত সংকেত প্রদান করা, যেমনটি যাকারিয়া (আ.) সম্পর্কে তাঁর বাণীতে রয়েছে: {অতঃপর তিনি মেহরাব থেকে তাঁর সম্প্রদায়ের সামনে বের হয়ে আসলেন এবং তাদের ইশারায় বললেন যে, তোমরা সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো} ১। এর তাফসিরে সুপরিচিত বিষয় হলো যে, যাকারিয়া (আ.) তাদের প্রতি একটি দ্রুত ইশারা করেছিলেন এবং কথা বলেননি।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে ইঙ্গিত করা, আর এ বিষয়ে কবি বলেছেন:
আমি তাঁর দিকে তাকালাম, ফলে তাঁর অপূর্ব গুণাবলির সূক্ষ্মতা দেখে আমার চিন্তা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ল
… অতঃপর চোখের পলক তাঁর প্রতি ইশারা করল যে আমি তাঁকে ভালোবাসি
… আর সেই ইশারা তাঁর গণ্ডদেশে প্রভাব ফেলল ২
কুরআন শয়তানের প্ররোচনা এবং মানুষের জন্য মন্দের সুশোভিত কল্পনাকে ‘ওহি’ শব্দে ব্যক্ত করেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের শত্রু বানিয়েছি, তারা প্রতারণার ছলে একে অপরকে চমকপ্রদ কথার কুমন্ত্রণা দেয়} ৩। তিনি আরও বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই শয়তানরা তাদের বন্ধুদের প্রতি কুমন্ত্রণা পাঠায় যাতে তারা তোমাদের সাথে বিতর্ক করে} ৪। ঠিক একইভাবে আল্লাহ ফেরেশতাদের প্রতি তাঁর যে নির্দেশ প্রদান করেন যা তারা তাৎক্ষণিকভাবে পালন করে, তাকেও ওহি শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। যেমন তাঁর বাণী: {যখন আপনার রব ফেরেশতাদের প্রতি ওহি করলেন যে, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সাথে আছি, সুতরাং তোমরা মুমিনদের অবিচল রাখো} ৫।
আর নাযিলকৃত কিতাবসমূহের আয়াত থেকে যা কিছু ফেরেশতার মাধ্যমে নবীর কাছে পৌঁছানোর দায়িত্ব আল্লাহ প্রদান করেন, তাকে ‘ওহি’ হিসেবে ব্যক্ত করা নবীর নিজের প্রতি ওহির সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এই দুই অভিব্যক্তির অর্থের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা কেবল ওহির বাহক ফেরেশতার আমানতদারির সাথে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব এবং নবীর তা অনুধাবন, সংরক্ষণ ও প্রচারের দায়িত্বের পার্থক্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এর একটি উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তিনি তাঁর দাসের প্রতি ওহি করলেন যা তিনি ওহি করার ছিল} ৬। কারণ এখানে উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাঁর দাস ওহিবাহক বিশ্বস্ত ফেরেশতা জিবরাইলের প্রতি ওহি করলেন, যা জিবরাইল শেষ নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর কাছে ওহি হিসেবে পৌঁছে দিয়েছেন। সুতরাং এই আয়াতে ওহির অর্থ অন্য আয়াতের সেই সুস্পষ্ট ‘তানজিল’ বা অবতীর্ণ করার অর্থের মতোই, যেখানে বলা হয়েছে: {আর নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আপনার অন্তরে বিশ্বস্ত আত্মা তা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন} ৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بيد أن القرآن -لدى مراعاته المعنى اللغوي الأصلي لمادة الإيحاء حين سمى وسيلته في الإعلام الخفي السريع "وحيا"- لم يقصر ظاهرة هذا الاتصال الغيبي الحفي بين الله وأصفايئه على تنزيل الكتب السماوية بواسطة ملك الوحين بل أشار في آية واحدة إلى صورة ثلاث من صور الوحي:
إحداها إلقاء المعنى في قلب النبي أو نفثه في روعه، والثانية تكليم النبي من وراء حجاب كما نادى الله موسى من وراء الشجرة وسمع نداءه؛ والثالثة هي التي متى أطلقت انصرفت إلى ما يفهمه المتدين عادة من لفظة "الإيحاء" حين يلقي ملك الوحي المرسل من الله إلى نبي من الأنبياء ما كلف إلقاءه إليه سواء أنزل عليه في صورة رجل أم في صورته الملكية؛ فبهذا نطقت الآية الكريمة: {وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْيًا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاءُ إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ} 1.
كانت إذن لهذا الإعلام الخفي السريع المسمى "بالوحي" صورة خاصة تختلف في نظر القرآن عما قد يشبهها من مظاهر الخفاء والسرعة في ألفاظ الإعلام المستعملة قديما وحديثا. وقد يكون مؤسفا لنا -بعد أن استهوتنا الفكرة القرآنية التي تؤكد اتحاد مفهوم الوحي عند الأنبياء جميعا- أن نقع في قاموس الكتاب المقدس2 على تفسير للوحي يختلف اختلافا جوهريا عن تفسيره الجامع الموحد، إذ الوحي في هذا القاموس "هو حلول روح الله في روح الكتاب الملهمين لإطلاعهم على الحقائق الروحية والأخبار الغيبية، من غير أن يفقد هؤلاء الكتاب الوحي شيئا من شخصياتهم، فلكل منهم نمطه في التأليف وأسلوبه في التعبير" وإنما أسفنا لاختلاف وجهتي النظر ههنا، لأن الوحي -بتعريفه القاموسي هذا- أضحى أبعد ما يكون عن الصعيد الديني المتصل بالله، الآخذ عن الله، وأقرب ما يكون إلى مدلول الكشف الذي
--------------------------------------------
তবে কুরআন - 'অহি' শব্দের মূল ভাষাগত অর্থ বিবেচনা করে যখন এটি তার গোপন ও দ্রুত সংবাদ প্রদানের মাধ্যমকে 'অহি' হিসেবে নামকরণ করেছে - তখন আল্লাহ এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের মধ্যে এই অদৃশ্য ও গোপন যোগাযোগের ঘটনাকে শুধুমাত্র ওহির ফেরেশতার মাধ্যমে আসমানী কিতাব অবতীর্ণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। বরং একটি আয়াতেই ওহির তিনটি রূপের প্রতি ইঙ্গিত করেছে:
যার একটি হলো নবীর হৃদয়ে কোনো অর্থ প্রক্ষেপ করা বা তাঁর অন্তঃকরণে ফুঁকে দেওয়া; দ্বিতীয়টি হলো পর্দার আড়াল থেকে নবীর সাথে কথা বলা, যেমন আল্লাহ গাছের আড়াল থেকে মুসাকে ডেকেছিলেন এবং তিনি তাঁর ডাক শুনেছিলেন; আর তৃতীয়টি হলো সেটি, যা সাধারণত 'অহি' শব্দটির দ্বারা একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি বুঝে থাকেন—যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহির ফেরেশতা কোনো নবীর কাছে তা পৌঁছে দেন যা তাঁকে অর্পণ করা হয়েছে, চাই তিনি তাঁর কাছে কোনো মানুষের বেশে অবতীর্ণ হন বা তাঁর নিজস্ব ফেরেশতা আকৃতিতে। আর এই বিষয়টিই মহান আয়াতে বর্ণিত হয়েছে: "কোনো মানুষের জন্যই এমন নয় যে আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন অহি ব্যতিরেকে, অথবা পর্দার আড়াল ব্যতিরেকে, অথবা তিনি কোনো রাসূল (ফেরেশতা) প্রেরণ করবেন, অতঃপর তিনি তাঁর অনুমতিতে যা ইচ্ছা অহি করবেন; নিশ্চয়ই তিনি সমুন্নত, প্রজ্ঞাময়।" ১।
সুতরাং 'অহি' নামে পরিচিত এই গোপন ও দ্রুত সংবাদ প্রদানের একটি বিশেষ রূপ রয়েছে যা কুরআনের দৃষ্টিতে প্রাচীন ও আধুনিক কালে ব্যবহৃত সংবাদ প্রদানের অন্যান্য গোপনীয় ও দ্রুত রূপ থেকে ভিন্ন। আর আমাদের জন্য এটি পরিতাপের বিষয় হতে পারে—কুরআনের সেই ধারণায় মুগ্ধ হওয়ার পর যা সমস্ত নবীর ক্ষেত্রে ওহির অভিন্ন ধারণাকে নিশ্চিত করে—যে আমরা বাইবেল অভিধানে ২ ওহির এমন এক ব্যাখ্যা পাই যা কুরআনের সেই সামগ্রিক ও ঐক্যবদ্ধ ব্যাখ্যা থেকে মৌলিকভাবে ভিন্ন। কেননা এই অভিধানে ওহির সংজ্ঞা হলো: "এটি হলো ঐশী অনুপ্রেরণাপ্রাপ্ত লেখকদের আত্মার মধ্যে আল্লাহর আত্মার আবাহন বা প্রবেশ, যাতে তাঁদেরকে আধ্যাত্মিক সত্য ও অদৃশ্যের সংবাদ সম্পর্কে অবগত করা যায়, অথচ এই লেখকরা তাঁদের ব্যক্তিত্বের কিছুই হারাবেন না; ফলে তাঁদের প্রত্যেকেরই রচনার নিজস্ব ঢং এবং প্রকাশের নিজস্ব শৈলী থাকবে।" এখানে এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কারণে আমাদের দুঃখের কারণ হলো, ওহি—এই অভিধানিক সংজ্ঞায়—আল্লাহর সাথে সংযুক্ত এবং আল্লাহর কাছ থেকে প্রাপ্ত ধর্মীয় ক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে সরে গেছে এবং তা 'কাশফ' বা অতিন্দ্রীয় উন্মোচনের অর্থের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
عرفت البشرية ألوانا صافية منه لدى الشعراء الملهمين والمتصوفين العارفين: وألوانا عكرة كدرة لدى الكهان والعرافين، وأكثرهم من الدجاجلة الكذابين1.
نرى لزاما علينا -خشية أن نقع في اللبس من أثر استعمال الكلمات في غير مواضعها- أن نقصي عن ظاهرة الوحي لفظ الكشف الذي كنا فيه، وما يشبهه من ألفاظ الإلهام والحدس الباطني والشعور الداخلي أو "اللاشعور" التي يتغنى بها شبابنا المثقفون محاكاة للأعاجم والمستعجمين، ويحاولون بها أو ببعضها أن يفسروا بسذاجة عجيبة ظاهرة الوحي عند النبيين وعند محمد خاتم النبيين.
ما أيسر أن نثبت مدلول الكشف لكل من يدعيه، ثم ننكر عليه مدلول الوحي ولو ظل يدعيه.
إنه يخلو من الدلالة النفسية الواضحة المحددة؛ لأنه غالبا ما يكون ثمرة من ثمار الكد والجهد أو أثرا من آثار الرياضة الروحية أو نتيجة للتفكير الطويل، فلا ينشئ في النفس يقينا كاملا ولا شبه كامل، بل يظل أمرا شخصيا ذاتيا لا يتلقى الحقيقة من مصدر أعلى وأسمى.
إن كشف العارفين كإلهام الواصلين وجدان تعرفه النفس معرفة دون اليقين1، وتنساق إليه من غير شعور بمصدره الحقيقي، فيدخل فيه ذوق المتذوقين ووجد المتواجدين، بل تدخل فيه أيضا أسطورة آلهة الشعر عند اليونان وأسطورة شياطين الشعر عند العرب الجاهليين!.
ولا غرو، فإن الكشف كالإلهام من ألفاظ علم النفس المحدثة التي ما تبرح حتى عند القائلين بها موغلة في الإبهام، لاحتلالها "حاشية اللاشعور"2، وهي حاشية -كما يوحي اسمها- أبعد ما تكون عن حالات الحس والشعور:
--------------------------------------------
মানবজাতি অনুপ্রাণিত কবি এবং তত্ত্বজ্ঞানী সুফিদের মাঝে এর কিছু স্বচ্ছ রূপ দেখেছে; আর গণক ও ভাগ্যগণনাকারীদের মাঝে দেখেছে এর কিছু ঘোলাটে ও কলুষিত রূপ, যাদের অধিকাংশই হলো চরম মিথ্যুক প্রতারক ১।
শব্দসমূহকে তাদের সঠিক স্থান ব্যতীত অন্য স্থানে ব্যবহারের ফলে বিভ্রান্তিতে পড়ার আশঙ্কায় আমরা এটি আবশ্যক মনে করি যে, ওহীর বিষয়বস্তু থেকে 'কাশফ' (উন্মোচন) শব্দটিকে সরিয়ে রাখা, যেটির আলোচনায় আমরা ছিলাম। একইভাবে 'ইলহাম' (অনুপ্রেরণা), 'বাতিনি হুদুস' (অন্তর্নিহিত অনুমান), 'অভ্যন্তরীণ অনুভূতি' কিংবা 'অবচেতন' এর মতো শব্দগুলোকেও সরিয়ে রাখা উচিত, যা আমাদের শিক্ষিত যুবকেরা অনারব ও বিজাতীয়দের অনুকরণে আওড়িয়ে থাকে। তারা এগুলোর মাধ্যমে বা এগুলোর কোনো কোনোটির মাধ্যমে নবীগণের এবং সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ওহী আগমনের বিষয়টিকে এক অদ্ভুত সরলতায় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে।
যে ব্যক্তিই কাশফের দাবি করে, তার ক্ষেত্রে কাশফ-এর অর্থ সাব্যস্ত করা কতই না সহজ; অতঃপর তার জন্য ওহীর অর্থকে অস্বীকার করা (ততটাই সহজ), যদিও সে ওহীর দাবি করে থাকে।
এটি কোনো স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক তাৎপর্য বর্জিত; কারণ এটি সাধারণত পরিশ্রম ও সাধনার কোনো একটি ফল, অথবা আধ্যাত্মিক রিয়াজতের কোনো প্রভাব, কিংবা দীর্ঘ চিন্তার ফলাফল হয়ে থাকে। ফলে এটি মনে কোনো পূর্ণাঙ্গ বা পূর্ণাঙ্গের কাছাকাছি দৃঢ় বিশ্বাস (ইয়াকিন) তৈরি করে না; বরং এটি একটি ব্যক্তিগত ও আত্মকেন্দ্রিক বিষয় হিসেবেই থেকে যায়, যা কোনো উচ্চতর ও মহান উৎস থেকে সত্য লাভ করে না।
তত্ত্বজ্ঞানীদের কাশফ এবং আল্লাহ-প্রাপ্তদের ইলহাম হলো এমন এক অনুভূতি যা মন ইয়াকিন বা দৃঢ় বিশ্বাসের নিচে অবস্থানকারী জ্ঞান হিসেবে চেনে ১, এবং এর প্রকৃত উৎস সম্পর্কে কোনো অনুভূতি ছাড়াই সেদিকে ধাবিত হয়। ফলে এর মধ্যে স্বাদ গ্রহণকারীদের স্বাদ এবং ভাবাবেগকারীদের ভাবাবেগ প্রবেশ করে; এমনকি গ্রিকদের কবিতার দেবীর উপকথা এবং জাহেলি আরবের কবিতার শয়তানদের উপকথাও এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়!
আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ ইলহামের মতো কাশফও আধুনিক মনোবিজ্ঞানের এমন সব পরিভাষা, যা এর প্রবক্তাদের কাছেও অস্পষ্টতায় নিমজ্জিত। কেননা এগুলো 'অবচেতনের প্রান্তসীমা' ২ দখল করে আছে; আর এটি এমন এক প্রান্তসীমা যা—এর নাম থেকেই বোঝা যায়—সংবেদন ও অনুভূতির অবস্থা থেকে বহুদূরে অবস্থিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فإذا قيل في إنسان: إنه من أولي الكشف والإلهام لم يسم به ذلك إلى درجة النبوة والوحي، لأن في كل وحي وعيا1، وفي كل نبوة شعورا بمعناها وإدراكا لمغزاها، وإنما يرمى "باللاوعي" من فقد الوعي، ويوصم "باللاشعور" من حرم الشعور!
وطبيعة الحقائق الدينية والأخبار الغيبية في ظاهرة الوحي تأبى الخضوع لهذه الأساليب "اللاشعورية" التي تستشف حجاب المجهول بالفراسة الذكية الخفية والحدس الباطني السريع. مثلما تأبى الخضوع لمقاييس الحس الظاهرة التي تخترق حرمات المجهول بالأدلة المنطقية والاستنباط المتروي البطيء2، وإنما تخضع لتصور حوار علوي بين ذاتين: ذات متكلمة آمرة معطية، وذات مخاطبة مأمورة متلقية.
وعلى هذا النمط رسم النبي الكريم فيما صح من حديثه طريقة نزول الوحي على قلبه، فقال: "أحيانا يأتيني مثل صلصلة الجرس وهو أشده علي، فيفصم عني 3 وقد وعيت ما قال، وأحيانا يتمثل لي الملك رجلا فيكلمني فأعي ما يقول" 4، فكشف النقاب صراحة عن صورتين من الوحي: إحداهما عن طريق إلقاء القول الثقيل على قلبه، ولديه يسمع صوتا متعاقبا متداركا كصوت الجرس المصلصل المجلجل5؛ والثانية عن طريق تمثل جبريل له بصورة إنسان يشاكله في المظهر ولا ينافره، ويطمئنه بالقول ولا يرعبه، وما من شك في أن الصورة الأولى أشد وطأ وأثقل قولا، كما قال الله: {إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا} 6 حتى كان يصحب الوحي فيها رشح الجبين عرقا، كما قالت السيدة عائشة أم المؤمنين: "ولقد رأيته
--------------------------------------------
সুতরাং যখন কোনো মানুষ সম্পর্কে বলা হয় যে, তিনি কাশফ ও ইলহামের অধিকারী, তখন এটি তাকে নবুওয়াত ও ওহীর স্তরে উন্নীত করে না। কারণ প্রতিটি ওহীর মধ্যেই সচেতনতা ১ বিদ্যমান থাকে এবং প্রতিটি নবুওয়াতের মধ্যে থাকে তার অর্থের চেতনা ও মর্মার্থের উপলব্ধি। বস্তুত ‘অচেতন’ কেবল তাকেই বলা হয় যে চেতনা হারিয়েছে এবং ‘অনুভূতিহীন’ তাকেই আখ্যা দেওয়া হয় যে অনুভূতি থেকে বঞ্চিত!
আর ওহীর প্রপঞ্চে ধর্মীয় সত্যসমূহ এবং গায়েবি সংবাদের প্রকৃতি এই ‘অবচেতন’ পদ্ধতিগুলোর বশবর্তী হতে অস্বীকার করে, যা সূক্ষ্ম বুদ্ধিদীপ্ত দূরদর্শিতা ও ক্ষিপ্র অভ্যন্তরীণ অনুমানের মাধ্যমে অদৃশ্যের পর্দা উন্মোচনে প্রয়াসী হয়। যেমন তা প্রকাশ্য ইন্দ্রিয়জাত মানদণ্ডের বশবর্তী হতেও অস্বীকার করে, যা যৌক্তিক প্রমাণ ও সুচিন্তিত ধীরস্থির পর্যালোচনার ২ মাধ্যমে অদৃশ্যের অলঙ্ঘনীয়তাকে ভেদ করতে চায়। বরং তা কেবল দুটি সত্তার মধ্যকার এক উচ্চতর কথোপকথনের ধারণার বশবর্তী হয়: এক সত্তা যিনি কথা বলেন, আদেশ করেন ও দান করেন; আর অপর সত্তা যিনি সম্বোধিত হন, আদিষ্ট হন ও গ্রহণ করেন।
এই রূপরেখাতেই নবী কারীম তাঁর নির্ভরযোগ্য হাদীসে তাঁর অন্তরে ওহী অবতরণের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: "কখনো তা আমার কাছে ঘণ্টার ঝনঝনানির মতো আসে এবং তা-ই আমার ওপর সবচেয়ে কঠিন হয়; অতঃপর আমার থেকে তা বিচ্ছিন্ন হয় ৩ এমতাবস্থায় যে, তিনি যা বলেছেন আমি তা আয়ত্ত করে ফেলেছি। আবার কখনো ফেরেশতা আমার নিকট মানুষের রূপ ধারণ করে উপস্থিত হন এবং আমার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি যা বলেন আমি তা আয়ত্ত করে নেই।" ৪ এভাবে তিনি স্পষ্টভাবে ওহীর দুটি রূপ উন্মোচন করেছেন: একটি হলো তাঁর অন্তরে ‘ভারী বাণী’ অর্পণের মাধ্যমে, যে সময় তিনি ঘণ্টার ঝনঝন শব্দের মতো একাধারে নির্গত ধ্বনি শুনতে পান ৫; আর দ্বিতীয়টি হলো জিবরাঈল তাঁর নিকট মানুষের আকৃতি ধারণ করে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে, যা বাহ্যিক অবয়বে তাঁর অনুরূপ হয় এবং ভীতি সঞ্চার করে না, বরং তাঁর মনে কথা দ্বারা প্রশান্তি জোগায় এবং আতঙ্কিত করে না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে প্রথম রূপটি ছিল অধিক কষ্টসাধ্য ও অধিক গুরুভার বাণী, যেমন আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার ওপর এক গুরুভার বাণী অর্পণ করব} ৬। এমনকি সেই অবস্থায় ওহী নাযিলের সময় কপাল থেকে ঘাম ঝরত, যেমনটি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি তাঁকে দেখেছি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ينزل عليه الوحي في اليوم الشديد البرد فيفصم عنه وإن جبينه ليتفصد عرقا"1، بل كان وطأة الوحي في هذ الصورة تبلغ أحيانا من الشدة والثقل حدا يجعل "راحلته تبرك به إلى الأرض إذا كان راكبها، ولقد جاءه مرة كذلك وفخذه على فخذ زيد بن ثابت، فثقلت عليه حتى كادت ترضها"2.
أما الصورة الثانية فهي أخف وطأ وألطف وقعا، فلا أصوات تجلجل، ولا جبين يرشح، بل تشابه شكلي بين الملقي والمتلقي، ييسر الأمر في الوقت نفسه على ناقل الوحي الأميل وعلى النبي المصطفى الكريم.
وفي كلتا الصورتين يحرص النبي صلوات الله عليه على وعي ما أوحي إليه، إذ قال في الأولى: "فيفصم عني وقد وعيت ما قال"، وفي الثانية "فيكلمني فأعي ما يقول"، فأثبت لنفسه الوعي الكامل لحالته قبل الوحي، وحالته بعد الوحي، وحالته أثناء الوحي، سواء أخفت أم اشتدت وطأة النازل القرآني عليه.
وبهذا الوعي الكامل لم يخلط عليه السلام مرة واحدة -طلية العصر القرآني الذي يضم كل مراحل التنزيل -بين شخصيته الإنسانية المأمورة المتلقية وشخصية الوحي الآمرة المتعالية، فهو واع أنه إنسان ضعيف بين يدي الله، يخشى أن يحول الله بينه وبين قلبه، ويبتهل إلى ربه في دعائه المأثور: "اللهم يا مصرف القلوب صرف قلبي على طاعتك، اللهم يا مقلب القلوب ثبت قلبي على دينك"؛ بل كان أول عهده بنزول الوحي -مخافة ضياع بعض الآيات من صدره- يعجل بالقرآن من قبل أن يقضى إليه وحيه، ويحرك به لسانه وشفتيه ليستذكره ولا ينساه، ويحرص على متابعة جبريل في كل حرف يدارسه إياه3، حتى يسر الله عليه حفظه بتفريقه وتنجيمه4، وأمره بالاطمئنان إلى وعده فقال: {لا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ، إِنَّ عَلَيْنَا
--------------------------------------------
"প্রচণ্ড শীতের দিনে তাঁর ওপর ওহি নাজিল হতো এবং ওহি শেষ হওয়ার সময় তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরে পড়ত।"১ এমনকি এই অবস্থায় ওহির চাপ মাঝে মাঝে এতটা তীব্র ও ভারী হতো যে, তিনি সওয়ারি অবস্থায় থাকলে তাঁর "উটন বাহন তাঁকে নিয়ে মাটিতে বসে পড়ত। একবার ওহি এমন অবস্থায় এল যখন তাঁর উরু জায়েদ ইবনে সাবিতের উরুর ওপর ছিল; ফলে ওহির চাপে তা জায়েদ (রা.)-এর কাছে এত ভারী মনে হলো যে মনে হচ্ছিল তা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে।"২.
দ্বিতীয় রূপটি ছিল অপেক্ষাকৃত হালকা এবং সহজতর। এখানে কোনো ঝনঝন শব্দ হতো না এবং কপাল থেকেও ঘাম ঝরত না। বরং এতে ওহি প্রদানকারী ও ওহি গ্রহণকারীর মধ্যে এক ধরনের রূপগত সাদৃশ্য তৈরি হতো, যা একই সময়ে ওহিবাহক বিশ্বস্ত ফেরেশতা এবং মনোনীত সম্মানিত নবী উভয়ের জন্য বিষয়টি সহজ করে দিত।
উভয় পদ্ধতিতেই নবী (সা.) তাঁর প্রতি যা ওহি করা হতো তা আয়ত্ত করার বিষয়ে সজাগ থাকতেন। প্রথম পদ্ধতির ক্ষেত্রে তিনি বলতেন: "ওহি শেষ হওয়ার পর তিনি যা বলেছেন তা আমি মুখস্থ করে নিতাম", আর দ্বিতীয় পদ্ধতির ক্ষেত্রে বলতেন: "তিনি আমার সাথে কথা বলেন এবং তিনি যা বলেন আমি তা আয়ত্ত করে নেই"। এর মাধ্যমে ওহি নাজিলের আগে, ওহি নাজিলের পরে এবং ওহি নাজিল চলাকালীন নিজের পূর্ণ সচেতনতার বিষয়টি তিনি নিজেই সাব্যস্ত করেছেন; চাই কুরআন নাজিলের সেই চাপ হালকা হোক বা তীব্র।
এই পূর্ণ সচেতনতার কারণে ওহি অবতরণের সকল পর্যায় সম্বলিত পুরো কুরআন নাজিলের যুগে তিনি (সা.) একবারের জন্যও নিজের আদিষ্ট ও ওহি গ্রহণকারী মানবসত্তা এবং উচ্চতর ও আদেশকারী ওহিসত্তার মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি বা মিশ্রণ ঘটাননি। তিনি সচেতন ছিলেন যে তিনি আল্লাহর সামনে একজন দুর্বল মানুষ, তিনি ভয় পেতেন যে আল্লাহ যেন তাঁর ও তাঁর হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ান। তাই তিনি তাঁর বর্ণিত দোয়ায় রবের কাছে প্রার্থনা করতেন: "হে আল্লাহ, হে অন্তরসমূহের বিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে দিন। হে আল্লাহ, হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন"। এমনকি ওহি নাজিলের শুরুর দিকে—বক্ষ থেকে কোনো আয়াত হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে—ওহি শেষ হওয়ার আগেই তিনি কুরআন নিয়ে তাড়াহুড়ো করতেন এবং তা মুখস্থ রাখার ও ভুলে না যাওয়ার জন্য নিজের জিহ্বা ও ঠোঁট নাড়াতেন। জিবরাইল তাঁকে যে বর্ণই পাঠ করাতেন, তিনি তা অনুসরণ করতে সচেষ্ট থাকতেন৩, অবশেষে আল্লাহ তাআলা পর্যায়ক্রমে ও খণ্ড খণ্ডভাবে ওহি নাজিলের মাধ্যমে তাঁর জন্য তা মুখস্থ করা সহজ করে দেন৪ এবং তাঁকে তাঁর ওয়াদার ওপর আশ্বস্ত হতে আদেশ দিয়ে বলেন: {তাড়াহুড়ো করে ওহি আয়ত্ত করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা নাড়বেন না; নিশ্চয়ই এর দায়িত্ব আমাদের ওপর...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ، فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ، ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} 1، ونهاه عن هذه العجلة التي لا مسوغ لها فقال: {وَلا تَعْجَلْ بِالْقُرْآنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُقْضَى إِلَيْكَ وَحْيُهُ وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا} 2.
ومن يتل الآيات القرآنية التي تصور رسول الله إنسانا ضعيفا بين يدي الله، يستمد منه العون، ويستهديه ويستغفره، ويصدع بما يأمره به وأحيانا يتلقى العتاب الشديد، يجد في أعماق قلبه من الفيض الوجداني ما يحمله على الاقتناع بالفرق الذي لا يتناهى بين صفة الخالق وصفة المخلوق، وبين ذات الخالق وذات المخلوق، وبين أسلوب الخالق وأسلوب المخلوق.
إن صورة محمد صلى الله عليه وسلم، في القرآن هي صورة العبد المطيع، الذي يخاف عذاب ربه إن عصاه، فيلتزم حدوده، ويرجو رحمته، ويعترف بعجزه المطلق عن تبديل حرف من كتاب الله: {وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالَ الَّذِينَ لا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا ائْتِ بِقُرْآنٍ غَيْرِ هَذَا أَوْ بَدِّلْهُ قُلْ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أُبَدِّلَهُ مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِي إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ، قُلْ لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا تَلَوْتُهُ عَلَيْكُمْ وَلا أَدْرَاكُمْ بِهِ فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُرًا مِنْ قَبْلِهِ أَفَلا تَعْقِلُونَ} 3.
وفي معنى هذه الآيات المفرقة بين صفة الخالق وصفة المخلوق، ما يتكرر في القرآن كثيرا من التصريح بأن النبي صلى الله عليه وسلم، بشر مثل سائر البشر، ليس عليه إلا البلاغ، ولا يملك خزائن الله ولا يعلم الغيب، ولا يزعم لنفسه صفة ملكية تغاير صفة الإنسان وخلقه: {قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ} 4، {قُلْ لا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ} 5،
--------------------------------------------
{এর সংগ্রহ ও পাঠ আমাদেরই দায়িত্ব। সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠ অনুসরণ করুন। অতঃপর এর ব্যাখ্যা করাও আমাদেরই দায়িত্ব} ১, এবং তাকে এই অযথা তাড়াহুড়া থেকে নিষেধ করে বললেন: {আপনার প্রতি আল্লাহর ওহী সম্পূর্ণ হওয়ার আগে আপনি কুরআন পাঠে তাড়াহুড়া করবেন না এবং বলুন: হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন} ২।
যে ব্যক্তি কুরআনের সেই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করবে যা আল্লাহর সামনে রাসূলুল্লাহকে একজন দুর্বল মানুষ হিসেবে চিত্রিত করে—যিনি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন, তাঁর কাছে হিদায়াত ও ক্ষমা চান, আল্লাহ তাঁকে যা নির্দেশ দেন তা তিনি প্রকাশ্যে পালন করেন এবং কখনও কখনও কঠোর তিরস্কার লাভ করেন—সে তার হৃদয়ের গভীরে এমন এক আধ্যাত্মিক অনুভূতির প্রাচুর্য পাবে যা তাকে স্রষ্টার বৈশিষ্ট্য ও সৃষ্টির বৈশিষ্ট্যের মধ্যে, স্রষ্টার সত্তা ও সৃষ্টির সত্তার মধ্যে এবং স্রষ্টার শৈলী ও সৃষ্টির শৈলীর মধ্যে বিদ্যমান অসীম পার্থক্যের ব্যাপারে নিশ্চিত করবে।
কুরআনে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চিত্র হলো একজন অনুগত দাসের চিত্র, যিনি তাঁর রবের অবাধ্য হলে তাঁর শাস্তিকে ভয় করেন, তাই তিনি তাঁর নির্ধারিত সীমারেখা মেনে চলেন, তাঁর রহমতের আশা করেন এবং আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষরও পরিবর্তনের ব্যাপারে নিজের নিরঙ্কুশ অক্ষমতা স্বীকার করেন: {আর যখন তাদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন যারা আমাদের সাথে সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না, তারা বলে: "এটি ছাড়া অন্য কোনো কুরআন নিয়ে এসো অথবা এটিকে পরিবর্তন করো।" আপনি বলুন: "আমার নিজের পক্ষ থেকে এটি পরিবর্তন করার কোনো অধিকার আমার নেই। আমার প্রতি যা ওহী পাঠানো হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি। আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে আমি এক মহান দিবসের শাস্তির ভয় করি।" আপনি বলুন: "আল্লাহ চাইলে আমি তোমাদের কাছে এটি পাঠ করতাম না এবং তিনি তোমাদের এটি জানাতেন না। আমি তো এর আগে তোমাদের মাঝে জীবনের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছি; তবে কি তোমরা বুঝতে পারো না?"} ৩।
স্রষ্টার বৈশিষ্ট্য ও সৃষ্টির বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পার্থক্যকারী এই আয়াতগুলোর অর্থের মধ্যে কুরআনে এমন অনেক স্পষ্ট ঘোষণা বারবার এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অন্যান্য মানুষের মতোই একজন মানুষ, তাঁর দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া। তিনি আল্লাহর ধনভাণ্ডারের মালিক নন, গায়েবও জানেন না এবং নিজের জন্য এমন কোনো ফেরেশতাসুলভ গুণের দাবি করেন না যা মানুষের বৈশিষ্ট্য ও সৃষ্টিপ্রকৃতির পরিপন্থী: {বলুন: "আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার কাছে ওহী পাঠানো হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ"} ৪, {বলুন: "আল্লাহ যা চান তা ছাড়া আমার নিজের কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা আমার নেই। আর আমি যদি গায়েব জানতাম, তবে আমি অনেক কল্যাণ অর্জন করতাম এবং কোনো অনিষ্ট আমাকে স্পর্শ করত না"} ৫,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
{قُلْ لا أَقُولُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكٌ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ} 1.
ولتصدير الآيات السابقة بعبارة "قل" مغزى لطيف يفهمه العربي بالسليقة، وهو توجيه الخطاب للرسول صلى الله عليه وسلم، وتعليمه ما ينبغي أن يقول، فهو لا ينطق عن هواه، بل يتبع ما يوحى إليه. ولذلك تكررت عبارة "قل" أكثر من ثلاثمائة مرة في القرآن، ليكون القارئ على ذكر من أن محمدًا صلى الله عليه وسلم، لا دخل له في الوحي، فلا يصوغه بلفظه، ولا يلقيه بكلامه، وإنما يلقى إليه الخطاب إلقاء، فهو مخاطب لا متكلم، حاك ما يسمعه، لا معبر عن شي يجول في نفسه.
ويزداد الفرق وضوحا بين صفة الله المتكلم منزل الوحي وبين صفة رسوله المخاطب متلقي الوحي، في الآيات التي يعتب الله فيها على نبيه عتابا خفيفا أو شديدا، أو يعلمه فيها بعفوه عنه وغفرانه ما تقدم من ذنبه وما تأخر: فمن العتاب الخفيف الذي يشوبه عفو الله عن رسوله خطابه له في شأن من أذن لهم بالقعود عن القتال في غزوة تبوك: {عَفَا اللَّهُ عَنْكَ لِمَ أَذِنْتَ لَهُمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَتَعْلَمَ الْكَاذِبِينَ} 2. ومن المعلوم أن العفو لا يكون إلا عن ذنب، كما أن المغفرة لا تكون إلا بعد ذنب، وقد صرحت الآية بهذا في سورة الفتح: {إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا، لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ} 3. فمن العجيب -بعد هذا القول القرآني الصريح- أن يحاول بعض المفسرين -كالرازي- أن يثبتوا أن لفظ العفو لا يوحي بالذنب، وأن الذي عاتب الله به نبيه إنما كان ارتكابه خلاف الأولى، "وهو -كما يقول السيد رشيد رضا- جمود مع الاصطلاحات المحدثة والعرف الخاص في معنى الذنب وهو المعصية، وما كان ينبغي لهم أن يهربوا من إثبات ما أثبته
--------------------------------------------
{বলুন, আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভাণ্ডারসমূহ রয়েছে এবং আমি অদৃশ্য বিষয়ও জানি না; আর আমি তোমাদেরকে এ কথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা। আমার কাছে যে ওহী পাঠানো হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি।} ১।
পূর্ববর্তী আয়াতসমূহকে "বলুন" শব্দ দ্বারা শুরু করার পেছনে এক সূক্ষ্ম তাৎপর্য নিহিত রয়েছে যা একজন আরবিভাষী তার সহজাত প্রবৃত্তি দিয়েই বুঝতে পারেন। আর তা হলো, সরাসরি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সম্বোধন পরিচালনা করা এবং তিনি যা বলবেন তা তাঁকে শিখিয়ে দেওয়া। সুতরাং তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না, বরং তাঁর প্রতি যা ওহী করা হয় তিনি কেবল তারই অনুসরণ করেন। একারণেই কুরআনে "বলুন" শব্দটি তিন শতাধিক বার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, যাতে পাঠক স্মরণে রাখতে পারেন যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওহীর ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ নেই। তিনি একে নিজের ভাষায় রূপ দেন না এবং নিজের কথায় উপস্থাপন করেন না। বরং তাঁর কাছে এই বাণী কেবল অর্পণ করা হয়। তিনি সম্বোধিত ব্যক্তি, বক্তা নন; যা শুনেন তা কেবল বর্ণনা করেন, নিজের মনের কোনো চিন্তা প্রকাশ করেন না।
ওহী অবতীর্ণকারী বক্তা হিসেবে আল্লাহর গুণ এবং ওহী গ্রহণকারী সম্বোধিত ব্যক্তি হিসেবে তাঁর রাসুলের গুণের মধ্যে পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে সেই আয়াতগুলোতে, যেখানে আল্লাহ তাঁর নবীকে মৃদু বা কঠোরভাবে অনুযোগ করেছেন, অথবা তাঁকে তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা করে দেওয়া এবং তাঁর পূর্বাপর ত্রুটিসমূহ মার্জনা করার বিষয়ে অবহিত করেছেন। মৃদু অনুযোগের একটি উদাহরণ—যাতে রাসুলের প্রতি আল্লাহর ক্ষমাও মিশে আছে—তা হলো তাবুক যুদ্ধে যারা অংশ না নিয়ে পিছিয়ে থাকার অনুমতি চেয়েছিল তাদের বিষয়ে আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন; কেন আপনি তাদেরকে অনুমতি দিলেন, যে পর্যন্ত না আপনার কাছে সত্যবাদীরা স্পষ্ট হয়ে যেত এবং আপনি মিথ্যাবাদীদের চিনে নিতেন?} ২। এটি সুবিদিত যে, ক্ষমা কেবল ত্রুটি বা গুনাহের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে, যেমনটি মার্জনাও কেবল ত্রুটির পরেই হয়ে থাকে। সূরা আল-ফাতহে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে: {নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি, যাতে আল্লাহ আপনার পূর্বের ও পরের ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দেন।} ৩। কুরআনের এই স্পষ্ট বাণীর পরেও আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, কিছু মুফাসসির—যেমন ইমাম রাযী—প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, "ক্ষমা" শব্দটি কোনো ত্রুটির ইঙ্গিত দেয় না এবং আল্লাহ তাঁর নবীকে যে বিষয়ে অনুযোগ করেছেন তা ছিল কেবল উত্তম পন্থার বিপরীত কাজ করা। সাঈয়িদ রশীদ রিযা যেমনটি বলেছেন, "এটি মূলত পরবর্তীকালের উদ্ভাবিত পরিভাষা এবং গুনাহ বলতে কেবল অবাধ্যতা বুঝানোর যে বিশেষ প্রথাগত অর্থ রয়েছে, তার প্রতি একপ্রকার স্থবিরতা। যা আল্লাহ সাব্যস্ত করেছেন তা সাব্যস্ত করা থেকে এড়িয়ে চলা তাদের জন্য সমীচীন ছিল না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الله تعالى في كتابه تمسكا باصطلاحاتهم وعرفهم المخالف له ولمدلول اللغة أيضا"1.
وأما العتاب الشديد فقد نطقت به آيات الفداء في سورة الأنفال، ووجهته عنيفا صادعا، منذرا متوعدا، إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وجمهور صحابته الذين أشاروا عليه بأخذ الفداء من أسرى بدر، ومؤثرين عرض الحياة الفاني على نصرة الدين، في أول معركة في الإسلام لم يثخنوا قبلها في الأرض، ولم يعظم بعد شأنهم فيها. ولذلك صيغ العتاب صياغة عامة تشعر بتقرير مبدأ في صفات الأنبياء والرسل، فلم يوجه الله خطابه إلى رسوله رأسا، بل استهل الآية بكون منفي تلته عبارة تستعظم هذا الفداء يصدر عن نبي من الأنبياء: {مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللَّهُ يُرِيدُ الْآخِرَةَ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ، لَوْلا كِتَابٌ مِنَ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ} 2.
ويقرب من هذا العتاب الذي لم يوجهه الله -على شدته- رأسا إلى نبيه، وإنما افتتحه بضمير الغيبة يحكي به المشهد ويصور به الواقع، ما أدب الله به محمدا في قصة الأعمى عبد الله ابن أم مكتوم رضي الله عنه "عندما جاءه وهو يدعو أكابر رجال قريش إلى الإسلام وقد لاح له بارقة رجاء في إيمانهم يتحدثون معه، فإنه صلى الله عليه وسلم علم أن إقباله عليهم ينفرهم ويقطع عليه طريق دعوتهم، وكان يرجو بإيمانهم انتشار الإسلام في جميع العرب، فتولى عنه وتلهى بهذ الفكرة، ولم يكن يعلم قبل إعلام الله تعالى أن سنته في البشر أن يكون أول من يتبع الأنبياء والمصلحين فقراء الأمم وأوساطها، دون أكابر مجرميها المترفين ورؤسائها"3. ففي هذا أنزل الله هذه الآيات من سورة الأعمى: {عَبَسَ وَتَوَلَّى، أَنْ جَاءَهُ الْأَعْمَى، وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَّكَّى
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাদের পরিভাষা এবং প্রথার অনুসরণ করেছেন যা তাঁর (আল্লাহর) এবং ভাষার আভিধানিক অর্থের পরিপন্থী"১।
আর কঠোর ভর্ৎসনার কথা সূরা আল-আনফালের ফিদইয়া (মুক্তিপণ) সংক্রান্ত আয়াতসমূহে ব্যক্ত হয়েছে। এটি অত্যন্ত প্রবল, দ্ব্যর্থহীন, সতর্ককারী ও ভীতি প্রদর্শনকারী হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সেই সকল সাহাবীগণের প্রতি পরিচালিত হয়েছে, যারা বদরের যুদ্ধবন্দীদের কাছ থেকে মুক্তিপণ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং দ্বীনের সাহায্যের পরিবর্তে নশ্বর পৃথিবীর ভোগবিলাসকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন; এটি ইসলামের প্রথম যুদ্ধ ছিল, যার পূর্বে তারা জমিনে শত্রু নিধনে সক্ষম হননি এবং সেখানে তখনও তাদের প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এই কারণেই ভর্ৎসনাটি এমন একটি সাধারণ আঙ্গিকে করা হয়েছে যা নবী ও রাসূলগণের গুণাবলির ক্ষেত্রে একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে। আল্লাহ সরাসরি তাঁর রাসূলকে সম্বোধন করেননি, বরং আয়াতটি শুরু করেছেন একটি নেতিবাচক বর্ণনা দিয়ে, যার পর এমন একটি বাক্য এসেছে যা নবীদের কারো পক্ষ থেকে এই মুক্তিপণ গ্রহণকে গুরুতর বিষয় হিসেবে সাব্যস্ত করে: "কোনো নবীর জন্য সঙ্গত নয় যে তার নিকট যুদ্ধবন্দী থাকবে, যতক্ষণ না সে জমিনে শত্রু নিধন (ও প্রতিপত্তি স্থাপন) করবে। তোমরা দুনিয়ার নশ্বর সম্পদ কামনা করছ, আর আল্লাহ আখেরাত কামনা করেন; এবং আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্ব নির্ধারিত বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ তজ্জন্য তোমাদের ওপর মহাশাস্তি আপতিত হতো"২।
আল্লাহর পক্ষ থেকে এই ভর্ৎসনার অনুরূপ—যা তীব্র হওয়া সত্ত্বেও তিনি সরাসরি তাঁর নবীকে উদ্দেশ্য করে বলেননি, বরং নামপুরুষের সর্বনাম দিয়ে শুরু করেছেন যার মাধ্যমে তিনি দৃশ্যটি বর্ণনা করেছেন এবং বাস্তবচিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন—তা হলো যার মাধ্যমে আল্লাহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অন্ধ আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঘটনায় শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন। যখন তিনি তাঁর কাছে এসেছিলেন এমতাবস্থায় যে, তিনি কুরাইশ বংশের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দিচ্ছিলেন এবং তাদের ঈমান আনার ব্যাপারে আশার এক ঝলক দেখা দিয়েছিল ও তারা তাঁর সাথে কথা বলছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানতেন যে, তাদের প্রতি মনোনিবেশ করা থেকে বিরত হলে তারা বিরক্ত হবে এবং তাতে তাঁর দাওয়াতের পথ রুদ্ধ হবে। তাদের ঈমান আনার মাধ্যমে তিনি সমগ্র আরবে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ার আশা করছিলেন। ফলে তিনি তার থেকে বিমুখ হলেন এবং সেই ভাবনায় নিমগ্ন হলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে অবগত হওয়ার পূর্বে তিনি জানতেন না যে, মানুষের ক্ষেত্রে তাঁর নিয়ম হলো এই যে, নবী ও সংস্কারকদের প্রথম অনুসারী হবে জাতির দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ, তাদের অপরাধী ধনাঢ্য ব্যক্তি ও নেতারা নয়"৩। এই প্রেক্ষাপটে আল্লাহ তাআলা অন্ধ ব্যক্তির নামে নামকৃত সূরার এই আয়াতসমূহ নাযিল করেন: "সে ভ্রুকুটি করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। কারণ তার কাছে অন্ধ লোকটি এল। আপনি কী করে জানবেন, হয়তো সে পরিশুদ্ধ হতো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنْفَعَهُ الذِّكْرَى، أَمَّا مَنِ اسْتَغْنَى، فَأَنْتَ لَهُ تَصَدَّى، وَمَا عَلَيْكَ أَلَّا يَزَّكَّى، وَأَمَّا مَنْ جَاءَكَ يَسْعَى، وَهُوَ يَخْشَى، فَأَنْتَ عَنْهُ تَلَهَّى، كَلَّا إِنَّهَا تَذْكِرَةٌ} 1.
وأشد من هذا كله ما يوجه إلى الرسول صلى الله عليه وسلم، من الإنذار والتهديد، في مثل قوله تعالى: {وَلَوْلا أَنْ ثَبَّتْنَاكَ لَقَدْ كِدْتَ تَرْكَنُ إِلَيْهِمْ شَيْئًا قَلِيلًا، إِذًا لَأَذَقْنَاكَ ضِعْفَ الْحَيَاةِ وَضِعْفَ الْمَمَاتِ ثُمَّ لا تَجِدُ لَكَ عَلَيْنَا نَصِيرًا} 2.
وهذا الإنذار يبلغ القمة، فيستصغر بعده كل تهديد وكل وعيد، حين يقول الله: {لَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيلِ، لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ، ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِينَ 3، فَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِينَ} 4. وفي تفسير هذه الآيات يقول الزمخشري: "والمعنى: لو ادعى علينا شيئا لم نقله لقتلناه صبرا، كما يفعل الملوك بمن يتكذب عليهم معالجة بالسخط والانتقام. فصور قتل الصبر بصورته ليكون أهول. وهو أن يؤخذ بيده وتضرب عنقه"5.
من خلال هذه الآيات المتوعدة المنذرة، وتلك العاتبة المؤدبة، يبدو لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم مخلوقا ضعيفا، بين يدي ربه ذي القدرة القاهرة، والقوة الكبرى، والإرادة التي لا معقب لها، ويبدو لنا أيضا كامل الوعي للفرق بين ذاته المأمورة وذات الله الآمرة؛ وبوعيه الكامل هذا كان عليه السلام يفرق بوضوح بين الوحي الذي ينزل عليه وبين أحاديثه الخاصة التي كانت يعبر عنها بإلهام من الله: فما يجول في نفسه من خواطر وأفكار كان ذا صفة إنسانية محضة لا يمكن أن تختلط بالكلام الرباني.
لذلك نهى عليه السلام أول العهد
--------------------------------------------
{অথবা সে উপদেশ গ্রহণ করবে ফলে উপদেশ তার উপকারে আসবে। পক্ষান্তরে যে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে, আপনি তার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছেন। অথচ সে যদি পরিশুদ্ধ না হয়, তবে আপনার কোনো দায় নেই। আর যে আপনার কাছে ছুটে এল এবং সে ভয় করে, আপনি তাকে অবজ্ঞা করছেন। কখনই না, এটি তো একটি উপদেশবাণী।} ১।
আর এই সবের চেয়েও কঠোর হলো সেই সতর্কবাণী ও হুঁশিয়ারি যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি নিবেদিত হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি যদি আপনাকে দৃঢ়পদ না রাখতাম, তবে আপনি তাদের দিকে কিছুটা ঝুঁকেই পড়তেন। তবে আমি অবশ্যই আপনাকে ইহজীবনে দ্বিগুণ এবং পরজীবনে দ্বিগুণ আজাব আস্বাদন করাতাম; তখন আপনি আমাদের বিরুদ্ধে নিজের জন্য কোনো সাহায্যকারী পেতেন না।} ২।
এই সতর্কবাণী চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছে, যার পর অন্য সব হুমকি ও হুঁশিয়ারি তুচ্ছ মনে হয়, যখন আল্লাহ বলেন: {যদি সে আমাদের নামে কোনো কথা বানিয়ে বলত, তবে আমি অবশ্যই তাকে ডান হাত দিয়ে পাকড়াও করতাম, অতঃপর আমি অবশ্যই তার জীবনধমনী কেটে দিতাম ৩। তখন তোমাদের মধ্যে এমন কেউ থাকত না, যে তাকে রক্ষা করতে পারত।} ৪। এই আয়াতগুলোর তাফসিরে যামাখশারী বলেন: "এর অর্থ হলো: যদি সে আমাদের নামে এমন কিছু দাবি করত যা আমরা বলিনি, তবে আমি তাকে বন্দি অবস্থায় হত্যা করতাম, যেমন রাজন্যবর্গ তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারীদের সাথে ক্রোধ ও প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে করে থাকেন। সুতরাং বন্দি অবস্থায় হত্যার বিষয়টি সেভাবেই চিত্রিত করা হয়েছে যাতে তা আরও ভয়াবহ মনে হয়। আর তা হলো তাকে হাত ধরে পাকড়াও করা হবে এবং তার ঘাড় উড়িয়ে দেওয়া হবে।" ৫।
এই হুঁশিয়ারি ও সতর্কতামূলক আয়াতসমূহ এবং সেই অনুযোগ ও শিষ্টাচারমূলক আয়াতগুলোর মাধ্যমে আমাদের সামনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন দুর্বল সৃষ্টি হিসেবে প্রতীয়মান হন তাঁর সেই রবের সামনে, যিনি অদম্য ক্ষমতার অধিকারী, সুমহান শক্তির আধার এবং এমন এক ইচ্ছার মালিক যার কোনো রদবদলকারী নেই। আমাদের কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁর আদিষ্ট সত্তা এবং আল্লাহর আদেশকারী সত্তার মধ্যকার পার্থক্যের ব্যাপারে তাঁর পূর্ণ সচেতনতা। এই পূর্ণ সচেতনতার কারণেই তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁর ওপর অবতীর্ণ ওহী এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত অনুপ্রেরণার মাধ্যমে ব্যক্ত তাঁর নিজস্ব কথাগুলোর মধ্যে স্পষ্টভাবে পার্থক্য করতেন। সুতরাং তাঁর মনে যেসব চিন্তা ও ভাবনার উদয় হতো, তা ছিল নিছক মানবিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, যা কোনোভাবেই রব্বানী বা ঐশী বাণীর সাথে সংমিশ্রিত হওয়া সম্ভব ছিল না।
একারণে তিনি (আলাইহিস সালাম) নবুওয়াতের শুরুর দিকে নিষেধ করেছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
بنزول الوحي عن تدوين شيء سوى القرآن1 لكي يحفظ للقرآن صفته الربانية، ويحول دون اختلاطه بشيء ليست له هذه الصفة القدسية، بينما كان عند نزول الوحي -ولو آية أو بعض آية- يدعو أحد الكتبة فورًا ليدون ما نزل من القرآن2.
ولعل هذا كله لا يبدو في نظر بعض الباحثين شيئا مذكورًا تلقاء ما عرفناه من النهي الصريح عن محاولة النبي تدريب ذاكرته، وأمام ذاك التجاهل القاهر لاختياره وإرادته، إذ لا يسعنا إزاء هذه الحقائق إلا أن نعترف باستقلال ظاهرة الوحي عن ذات النبي استقلالا مطقا، وتفردها عن العوامل النفسية تفردا كاملا، فالنبي لا يملك حتى حق استخدام ذاكرته في حفظ القرآن بل الله يتكفل بتحفيظه إياه، وقانون التذكر نفسه بطل الآن سحره وعفا أثره تجاه إرادة الله3. فكيف لا يعي النبي -بعد هذا كله- الفرق العظيم بين ذاته المأمورة وذات الله الآمرة وهو يرى بنفسه أنه لا يملك من أمر نفسه شيئا؟
ومع أن أقوال النبي أحاديث "توقيفية" تلقى من الوحي مضمونها، جرد الكتبة بأمره كتاب الله منها مهما تبد شديدة الصلة بالآيات التي تفسرها، لأن النبي صاغها بأسلوبه، وبينها بلفظه، وما كان لأسلوبه ولا لأسلوب أحد أن يختلط بأسلوب القرآن المعجز المبين.
حتى الأحاديث القدسية -رغم اعتراف العلماء بأن معناها لله أو بأنه، كما يقول أكثرهم، منزل من عند الله- نحيت وفصلت عن القرآن، لما لوحظ من حرص النبي على عدم خلطها بكتاب الله بما كان يستهل به مطالعها من عبارات نبوية يشعر بها سامعيه أنه يصوغ بأسلوبه البشري معنى
--------------------------------------------
ওহী নাযিলের সাথে সাথে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিপিবদ্ধ করা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল১ যাতে কুরআনের রব্বানী বৈশিষ্ট্য সংরক্ষিত থাকে এবং এই পবিত্র বৈশিষ্ট্য নেই এমন কোনো কিছুর সাথে এর সংমিশ্রণ রোধ করা যায়। অপরদিকে, ওহী নাযিলের সময়—চাই তা একটি আয়াত বা আয়াতের অংশই হোক না কেন—তিনি তৎক্ষণাৎ একজন লেখককে ডেকে পাঠাতেন যাতে কুরআনের যা নাযিল হয়েছে তা লিপিবদ্ধ করা হয়২।
সম্ভবত এই সবকিছুই কিছু গবেষকের দৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য কিছু মনে হবে না সেই স্পষ্ট নিষেধাঙ্গার তুলনায় যা আমরা নবীর নিজের স্মৃতিশক্তিকে প্রশিক্ষিত করার চেষ্টার ব্যাপারে জেনেছি, এবং তাঁর পছন্দ ও ইচ্ছার সেই প্রবল উপেক্ষার সামনে। কেননা এই সত্যগুলোর সামনে আমাদের ওহীর বিষয়টিকে নবীর সত্তা থেকে এক নিরঙ্কুশ স্বাতন্ত্র্য এবং মানসিক উপাদানসমূহ থেকে একে পূর্ণাঙ্গভাবে পৃথক বলে স্বীকার করে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। নবী এমনকি কুরআন হিফয করার ক্ষেত্রে তাঁর স্মৃতিশক্তি ব্যবহারের অধিকারও রাখেন না, বরং আল্লাহ নিজেই তাঁকে তা মুখস্থ করানোর জিম্মাদারি নিয়েছেন। আল্লাহর ইচ্ছার সামনে স্মৃতির নিয়ম নিজেই এখন তার প্রভাব হারিয়েছে এবং তার চিহ্ন মুছে গেছে৩। সুতরাং এই সবকিছুর পর নবী কীভাবে তাঁর আদিষ্ট সত্তা এবং আল্লাহর আদেশকারী সত্তার মধ্যকার বিশাল পার্থক্য অনুভব করবেন না, যখন তিনি নিজেই দেখছেন যে তাঁর নিজের বিষয়ের ওপর তাঁর কোনো কর্তৃত্ব নেই?
যদিও নবীর বাণীসমূহ হচ্ছে "তাওকিফী" (প্রত্যাদিষ্ট) হাদীস যেগুলোর বিষয়বস্তু ওহী থেকে প্রাপ্ত, তবুও লিপিকারগণ তাঁর নির্দেশে আল্লাহর কিতাবকে সেসব থেকে মুক্ত রেখেছেন, চাই সেগুলো ব্যাখ্যাধীন আয়াতগুলোর সাথে যতই নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত হোক না কেন। কারণ নবী তা তাঁর নিজস্ব শৈলীতে বর্ণনা করেছেন এবং নিজ শব্দে ব্যক্ত করেছেন। আর তাঁর বা অন্য কারোর শৈলী মুজিযাস্বরূপ স্পষ্ট কুরআনের শৈলীর সাথে মিশে যাওয়ার অবকাশ ছিল না।
এমনকি হাদীসে কুদসীও—আলেমদের এই স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও যে এর অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে অথবা অধিকাংশের মতে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ—কুরআন থেকে দূরে ও পৃথক রাখা হয়েছে। কারণ নবীর মধ্যে আল্লাহর কিতাবের সাথে এগুলো মিশ্রিত না করার ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে। তিনি এগুলোর শুরুতে এমন কিছু নববী শব্দ ব্যবহার করতেন যা দ্বারা শ্রোতারা বুঝতে পারতেন যে তিনি তাঁর মানবীয় শৈলীতে একটি অর্থ প্রকাশ করছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
أنزله الله، وشتان بين أسلوب محمد ولو كان أفصح البشر وأسلوب منزل القرآن صاحب القوى والقدر! فكان لزاما على العلماء أن يبالغوا في الحيطة والحذر، ويوجبوا على كل مستشهد بحديث قدسي أن يستهل العبارة بقوله مثلا: "قال رسول الله فيما يرويه عن ربه، أو قال الله تعالى فيما رواه عنه رسوله، أو قال تعالى في "الحديث القدسي"، بهذا التقييد والتحديد.
ولسنا الآن بسبيل الحديث عن إعجاز القرآن، فقد عقدنا له فصلا في أواخر هذا الكتاب، وإنما يعنينا التنبيه على وعي النبي نفسه الفرق الذي لا يتناهى بين حديثه وكلام الله. ولئن كانت هذه التفرقة ملحوظة حتى في الأحاديث التوقيفية، والقدسية ليكونن إداركها في آراء الرسول الدنيوية أولى وأجدر، وأوضح وأيسر.
ولن نذهب في المقارنة بعيدًا، فإن حادثة "تأبير النخل" أو تلقيحه قريب منا، مشهورة لدينا: مر عليه الصلاة والسلام بقوم على رءوس النخل: فقال: "ما يصنع هؤلاء؟ " ، فقالوا: يلقحونه، يجعلون الذكر في الأثنى فتلقح، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما أظن يغني ذلك شيئا". فلما أخبرا بقول الرسول تركوا تلقيح النخل، فقال النبي: "إن كان ينفعهم ذلك فليصنعوه، فإني إنما ظننت ظنا فلا تؤاخذوني بالظن، ولكن إذا حدثتكم عن الله شيئا فخذوا به فإني لن أكذب على الله عز وجل". ويلاحظ أن النووي سلك هذا الحديث في صحيح مسلم في باب "وجوب امتثال ما قاله عليه الصلاة والسلام شرعا دون ما ذكره من معايش الدنيا على سبيل الرأي"1. ومعه رواية أخرى تنتهي بقوله عليه الصلاة والسلام: "أنتم أعلم بأمر دنياكم" 2. فميز النبي تمييزا قاطعا بين تجربته الإنسانية الدنيوية الظنية التي يحتملها احتمالا ويرجو ألا يؤاخذه صحابته بها، وبين تجربته النبوية الدينية القطعية التي يأمرهم بالأخذ بها كلما
--------------------------------------------
আল্লাহ এটি নাযিল করেছেন। মুহাম্মাদের শৈলী—তিনি যদিও মানবজাতির মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধভাষী ছিলেন—এবং শক্তি ও ক্ষমতার অধিকারী কুরআনের অবতীর্ণকারীর শৈলীর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে! ফলে আলেমদের জন্য অতিমাত্রায় সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করা এবং কুদসি হাদীসের উদ্ধৃতি প্রদানকারী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য এই বাধ্যবাধকতা আরোপ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে যে, সে যেন তার বক্তব্য এভাবে শুরু করে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রব থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে বলেছেন," অথবা "আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের বর্ণিত হাদীসে বলেছেন," অথবা এই সীমাবদ্ধতা ও নির্দিষ্টকরণ সহকারে "আল্লাহ তাআলা কুদসি হাদীসে বলেছেন"।
আমরা এখন কুরআনের অলৌকিকতা (ইজায) নিয়ে আলোচনার পর্যায়ে নেই, কারণ আমরা এই কিতাবের শেষ দিকে এ বিষয়ে একটি অধ্যায় বরাদ্দ করেছি। বরং আমাদের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কালাম এবং নবীর নিজের কথার মাঝে যে অসীম পার্থক্য রয়েছে, সে সম্পর্কে নবীর নিজস্ব সচেতনতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা। আর যদি এই পার্থক্য তাওকিফি (নির্ধারিত) ও কুদসি হাদীসগুলোর ক্ষেত্রেও লক্ষ্যণীয় হয়, তবে রাসূলের পার্থিব মতামতের ক্ষেত্রে তা উপলব্ধি করা আরও বেশি যুক্তিসঙ্গত, উপযুক্ত, স্পষ্ট এবং সহজতর হবে।
আমরা তুলনার জন্য দূরে যাব না, কারণ "খেজুর গাছ পরাগায়ন" বা এর নিষেকের ঘটনাটি আমাদের কাছে অতি পরিচিত এবং প্রসিদ্ধ। তিনি (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) খেজুর গাছের মাথায় অবস্থানরত এক সম্প্রদায়ের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "এরা কী করছে?" তারা বলল: তারা একে নিষিক্ত করছে, তারা পুরুষ খেজুরের অংশ স্ত্রী খেজুরের অংশে স্থাপন করছে ফলে তা নিষিক্ত হচ্ছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমার মনে হয় না এটি কোনো উপকারে আসবে।" যখন তাদেরকে রাসূলের এই কথা জানানো হলো, তখন তারা খেজুর গাছের পরাগায়ন ছেড়ে দিল। তখন নবী বললেন: "যদি এটি তাদের উপকারে আসে তবে তারা যেন তা করে। আমি তো কেবল একটি ধারণা করেছিলাম, তাই আমার ধারণার জন্য আমাকে পাকড়াও করো না। কিন্তু আমি যখন তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করব, তখন তোমরা তা গ্রহণ করো। কারণ আমি আল্লাহর (যিনি মহাপরাক্রমশালী ও মহান) ওপর কখনো মিথ্যা আরোপ করব না।" লক্ষ্যণীয় যে, ইমাম নববী সহীহ মুসলিমের একটি অধ্যায়ে এই হাদীসটি এনেছেন যার শিরোনাম হলো: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শরীয়ত হিসেবে যা বলেছেন তা মেনে চলার আবশ্যকতা এবং পার্থিব জীবন সম্পর্কে তিনি ব্যক্তিগত মত হিসেবে যা বলেছেন তা এর অন্তর্ভুক্ত না হওয়া" সংক্রান্ত অধ্যায়১। এর সাথে অন্য একটি বর্ণনাও রয়েছে যা রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের এই বাণীর মাধ্যমে শেষ হয়েছে: "তোমরা তোমাদের দুনিয়াবী বিষয়ে অধিক জ্ঞাত"২। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পার্থিব ও ধারণাপ্রসূত মানবিক অভিজ্ঞতার—যাকে তিনি সম্ভাব্য মনে করতেন এবং যার জন্য সাহাবীরা তাঁকে পাকড়াও না করবেন বলে তিনি আশা করতেন—এবং তাঁর দ্বীনি ও অকাট্য নবুওয়াতী অভিজ্ঞতার মাঝে একটি চূড়ান্ত পার্থক্য বজায় রেখেছেন, যা তিনি তাদের গ্রহণ করার আদেশ দিতেন যখনই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
حدثهم عن الله، فهو لا يفتري مثل هذا الحديث من تلقاء نفسه لأنه لا يكذب على الله. وقد أوضح النبي هذه الحقيقة في طائفة من أقواله وأعماله، ففي حديث له يقول: "إنما أنا بشر مثلكم، وإن الظن يخطئ ويصيب. ولكن ما قلت لكم "قال الله" فلن أكذب على الله" 1، وأكد في حديث آخر أنه لا يطلع على أفئدة المتخاصمين، ولا يعرف ما يجول في نفس من يحتكم إليه ولو كان يعاصره ويساكنه في بلده أو كان أقرب الناس إليه فقال: "إنا أنا بشر، وإنكم تختصمون إلي، ولعل بعضكم أن يكون ألحن بحجته من بعض فأقضي له على نحو ما أسمع، فمن قطعت له من حق أخيه شيئا فلا يأخذه، فإنما أقطع له به قطعة من النار" 2، ومن المعروف أن بني أبيرق عمدوا إلى التضليل في قضية من قضايا السرقة على عهد الرسول عليه الصلاة والسلام، فدافعوا عن السارق حتى اقتنع الرسول ببراءته ولام قتادة بن النعمان على اتهامه الأبرياء فقال: "يا قتادة، عمدت إلى أهل بيت ذكر منهم إسلام وصلاح ترميهم بالسرقة على غير تثبت وبينة"! ثم لم يلبث أن نزل قوله تعالى: {وَلا تَكُنْ لِلْخَائِنِينَ خَصِيمًا، وَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا} 3، فعلم النبي أن بني أبيرق خانوه ولجئوا إلى التضليل، فاستغفر الله مما وجهه إلى قتادة من العتاب والتوبيخ4.
وإذا عددنا رسول الله شاهدنا الوحيد على وعيه ظاهرة الوحي إليه، وعددنا اقتناعه الشخصي وسيلتنا الوحيدة لفصل ذاته عن ظاهرة الوحي، فها هو ذا النبي عليه الصلاة والسلام مقتنعا -من خلال ما سبق- بأن التنزيل القرآني مصحوب بانمحاء إرادته الشخصية، وانسلاخه من الطبيعة البشرية، حتى ما بقي له عليه الصلاة والسلام اختيار فيما ينزل إليه أو ينقطع عنه، فقد يتتابع الوحي
--------------------------------------------
তিনি তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি নিজের পক্ষ থেকে এ জাতীয় কোনো কথা উদ্ভাবন করেন না, কারণ তিনি আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করেন না। নবী তাঁর বিভিন্ন কথা ও কাজের মাধ্যমে এই সত্যটি স্পষ্ট করেছেন। একটি হাদীসে তিনি বলেন: "আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ মাত্র; ধারণা কখনও ভুল হয়, আবার কখনও সঠিক হয়। তবে আমি যখন তোমাদের বলি যে 'আল্লাহ বলেছেন', তখন আমি আল্লাহর ওপর কখনও মিথ্যা বলব না" ১। অন্য একটি হাদীসে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, তিনি বিবাদমান ব্যক্তিদের অন্তরের খবর জানেন না এবং তাঁর কাছে বিচারপ্রার্থী ব্যক্তির মনে কী চলছে তাও তিনি জানেন না—এমনকি সে যদি তাঁর সমসাময়িক হয়, তাঁর শহরে বসবাসকারী হয় কিংবা তাঁর নিকটতম কোনো মানুষও হয়। তিনি বলেছেন: "আমি কেবল একজন মানুষ; তোমরা আমার কাছে বিবাদ নিয়ে আসো। সম্ভবত তোমাদের মধ্যে কেউ অন্যের তুলনায় অধিক বাকপটু হতে পারে, ফলে আমি যা শুনি তার ভিত্তিতে তার পক্ষে ফয়সালা দিয়ে দেই। এমতাবস্থায় আমি যদি তার ভাইয়ের প্রাপ্য কোনো হক থেকে তাকে কিছু দিয়ে দেই, তবে সে যেন তা গ্রহণ না করে; কেননা আমি তাকে আগুনের একটি টুকরোই দিচ্ছি" ২। এটা সুবিদিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে বনূ উবাইরিক একটি চুরির ঘটনায় বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তারা চোরের পক্ষাবলম্বন করে ওকালতি করেছিল, যার ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নির্দোষিতার ব্যাপারে আশ্বস্ত হয়েছিলেন এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করার কারণে কাতাদা ইবনুন নুমানকে তিরস্কার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: "হে কাতাদা! তুমি এমন একটি পরিবারের বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ দিচ্ছ যাদের মধ্যে ইসলাম ও নেক আমল বিদ্যমান, অথচ তোমার কাছে কোনো প্রমাণ বা স্পষ্ট দলিল নেই!" এরপর অতি শীঘ্রই মহান আল্লাহর বাণী অবতীর্ণ হয়: {আর তুমি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষে বিতর্ককারী হয়ো না। আর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} ৩। ফলে নবী জানতে পারলেন যে, বনূ উবাইরিক তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং বিভ্রান্তির আশ্রয় নিয়েছে। এরপর তিনি কাতাদাকে যে তিরস্কার ও অনুযোগ করেছিলেন তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ৪।
যদি আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ওপর অহী অবতীর্ণ হওয়ার অনুভূতির একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে গণ্য করি এবং তাঁর ব্যক্তিগত দৃঢ় বিশ্বাসকেই তাঁর নিজের সত্তাকে অহীর অলৌকিক ঘটনা থেকে পৃথক করার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ধরি, তবে আমরা দেখতে পাই যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে—এই বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন যে, কুরআনের অবতরণ তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছার বিলুপ্তি এবং মানবীয় স্বভাব থেকে বিযুক্তির সাথেই সংঘটিত হতো। এমনকি তাঁর কাছে কী অবতীর্ণ হবে বা কখন তা বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে তাঁর কোনো ইখতিয়ার বা পছন্দ অবশিষ্ট থাকত না। কখনও অহী বিরতিহীনভাবে আসত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাবাহিছ ফি উলুমিল কুরআন লি সুব্হিস সালিহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
ويحمى حتى يكثر عليه، وقد يفتر عنه أحوج ما يكون إليه!
إن الوحي ينزل على قلبه صلوات الله عليه في كل لحظة: إنه ليأوي إلى فراشه فما يكاد يغفو إغفاءة حتى ينهض ويرفع رأسه مبتسما فقد أوحيت إليه سورة الكوثر الخير الكثير1. وإنه ليكون وادعا في بيته وقد بقي من الليل ثلثه، فتنزل عليه آية التوبة في الثلاثة الذين خلفوا {حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنْفُسُهُمْ وَظَنُّوا أَنْ لا مَلْجَأَ مِنَ اللَّهِ إِلَّا إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} 2.
إذا الوحي ينزل على قلب النبي في الليل الدامس والنهار الأضحيان، وفي البرد القارس أو لظى الهجير، وفي استجمام الحضر أو أثناء السفر، وفي هدأة السوق أو وطيس الحرب، وحتى في الإسراء إلى المسجد الأقصى، والعروج إلى السموات العلى3.
ثم ها هو ذا الوحي ينقطع عن النبي وهو أشد ما يكون إليه شوقا، وله طلبا: فبعد أن نزل عليه جبريل بأوائل سورة العلق {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} فتر الوحي ثلاث سنين، فحزن النبي -كما قالت السيدة عائشة- حزنا غدا منه مرارا كي يتردى من رءوس شواهق الجبال، فكلما أوفى بذروة جبل لكي يلقي نفسه منه تبدى له جبريل فقال: "يا محمد أنت رسول الله حقا"، فيسكن لذلك جأشه وتقر نفسه4. وبينا هو ماش ذات يوم إذ سمع صوتا من السماء فرفع بصره، فإذا الملك الذي جاءه بحراء، فرعب منه فرجع إلى زوجته الوفية خديجة يقول: "زملوني"، فأنزل الله {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ، قُمْ فَأَنْذِرْ، وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ، وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ، وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ} ،
--------------------------------------------
এবং এটি তীব্র হতো এমনকি তাঁর ওপর অধিক পরিমাণে নাযিল হতো, আবার কখনও কখনও এমন সময় বন্ধ থাকত যখন তিনি এর সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী হতেন!
নিশ্চয়ই তাঁর হৃদয়ে—আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—প্রতি মুহূর্তে অহি নাযিল হতো: তিনি তাঁর বিছানায় বিশ্রাম নিতে যেতেন এবং সবেমাত্র সামান্য তন্দ্রাচ্ছন্ন হতেন, অমনি তিনি জেগে উঠতেন এবং মুচকি হেসে মাথা তুলতেন; কারণ তখন তাঁর প্রতি সূরা আল-কাউসার অর্থাৎ প্রভূত কল্যাণ নাযিল হয়েছে১। আবার তিনি হয়তো নিজ ঘরে শান্তভাবে অবস্থান করছেন এবং রাতের এক-তৃতীয়াংশ বাকি আছে, এমন সময় তাঁর ওপর পেছনে রয়ে যাওয়া সেই তিন ব্যক্তির ব্যাপারে তওবার আয়াত নাযিল হতো: {যতক্ষণ না পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের জীবন তাদের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল, আর তারা উপলব্ধি করেছিল যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই, অতঃপর তিনি তাদের প্রতি দয়াশীল হলেন যেন তারা তওবা করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু} ২।
এভাবেই অহির আগমন নবীর হৃদয়ে গভীর অন্ধকারে এবং উজ্জ্বল দিবসে হতো; হাড়কাঁপানো শীতে কিংবা দুপুরের প্রচণ্ড দাবদাহে হতো; লোকালয়ে বিশ্রামের সময় অথবা সফরের মাঝে হতো; বাজারের নীরবতায় কিংবা যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যে হতো; এমনকি মসজিদুল আকসায় নৈশভ্রমণ এবং সুউচ্চ আসমানসমূহে আরোহণের সময়ও নাযিল হতো৩।
অতঃপর এমনও হয়েছে যে, নবীর নিকট থেকে অহি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল যখন তিনি এর প্রতি অত্যন্ত ব্যাকুল এবং এর অনুসন্ধানে নিমগ্ন ছিলেন: সূরা আল-আলাকের প্রারম্ভিক আয়াত {পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন} জিবরাঈল নিয়ে আসার পর তিন বছর অহি বন্ধ ছিল। ফলে নবী—যেমনটি সায়্যিদা আয়েশা বর্ণনা করেছেন—এতই ব্যথিত হলেন যে, তিনি বারবার সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়া থেকে নিজেকে নিচে ফেলে দিতে চাইলেন। যখনই তিনি নিজেকে ফেলে দেওয়ার জন্য কোনো পাহাড়ের শীর্ষে পৌঁছাতেন, তখনই জিবরাঈল তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে বলতেন: "হে মুহাম্মদ, আপনি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর রাসূল।" এতে তাঁর অস্থিরতা প্রশমিত হতো এবং তিনি শান্ত হতেন৪। একদিন তিনি যখন পথ চলছিলেন, হঠাৎ আকাশ থেকে একটি শব্দ শুনতে পেয়ে দৃষ্টি তুললেন। তিনি দেখলেন সেই ফেরেশতাকে, যিনি হেরা গুহায় তাঁর নিকট এসেছিলেন। এতে তিনি ভীত হয়ে তাঁর অনুগত স্ত্রী খাদিজার নিকট ফিরে গিয়ে বললেন: "আমাকে চাদরাবৃত করো।" তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: {হে চাদরাবৃত! উঠুন এবং সতর্ক করুন। আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন। আর অপবিত্রতা বর্জন করুন} ,
--------------------------------------------