(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: -)
ذيل طبقات الحفاظ للسيوطي   (الجلال السيوطي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: ذيل طبقات الحفاظ للذهبي

المؤلف: جلال الدين، أبو الفضل، عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي (ت 911 هـ)

عدد الصفحات: 29

مطبوع بذيل: «تذكرة الحفاظ» للذهبي

وضع حواشيه: زكريا عميرات

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت-لبنان

الطبعة: الأولى، 1419 هـ- 1998 م

عدد الأجزاء: 5 (ذيل السيوطي بآخر الجزء الخامس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুয়ূতী রচিত 'যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ'   (আল-জালাল আস-সুয়ূতী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: যাহাবীর 'তাবাকাতুল হুফফাজ'-এর পরিশিষ্ট (যাইল)

লেখক: জালালুদ্দীন، আবুল ফজল، আব্দুর রহমান বিন আবী বকর আস-সুয়ূতী (ওফাত ৯১১ হিজরি)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯

পরিশিষ্ট হিসেবে মুদ্রিত: যাহাবীর «তাযকিরাতুল হুফফাজ»-এর সাথে

টীকা সংযোজন: যাকারিয়া উমাইরাত

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ، বৈরুত-লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৯ হিজরি- ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৫ (সুয়ূতীর পরিশিষ্ট পঞ্চম খণ্ডের শেষে)

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২২৩)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

ترجمة الإمام السيوطي:

هو الحافظ أبو الفضل جلال الدين عبد الرحمن بن كمال الدين أبي بكر بن محمد السيوطي المعروف بابن الأسيوطي.

ولد بالقاهرة ليلة الأحد مستهل رجب سنة تسع وأربعين وثمانمائة وكانت أمه أَمة تركية وأصل أبيه من العجم ومات أبوه وهو ابن ست سنين فكفله وصيه الشهاب بن الطباخ ورباه عند الأمير برسباي الجركسي أستاذ دار الصحبة واتصل بالأمير إينال الأشقر رأس نوبة النوب وكان لبيته اتصال بالأمراء من عهد الأمير شيخو، وكان في جملة أوصيائه الإمام كمال الدين بن الهمام وله أياد بيضاء عليه.

أخذ العلم عن العلم البلقيني والشرف المناوي والشمس بن الفالاتي والجلال المحلي والزين العقبي والبرهان البقاعي والشمس السخاوي الشافعيين، وعن محقق الديار المصرية سيف الدين البكتمري والعلامة محيي الدين الكافيجي البرغمي والحافظ قاسم بن قطلوبغا السودوني والإمام تقي الدين الشمني الحنفيين وغيرهم من المالكية والحنابلة، وعدة شيوخه إجازة وقراءة وسماعًا نحو مائة وخمسين شيخًا وقد جمعهم في معجمه، ولم يكثر من سماع الرواية لاشتغاله بما هو أهم وهو الدراية كما يحكي هو عن نفسه، وممن أجاز له من حلب ابن مقبل وآخر من أجاز له الصلاح بن أبي عمر.

وانصرف إلى الجمع والتأليف وهو صغير فبلغت عدة مؤلفاته نحو ستمائة ما بين رسائل في ورقة أو ورقتين وكتب في عدة مجلدات، والغالب في مصنفاته تلخيص كتب الآخرين فقيمتها العلمية توزن بقدر ما لصاحب الأصل من التحقيق، والتضارب الواقع بين أقواله في كتبه إنما يأتي من اختلاف آراء أصحاب الكتب التي يقوم هو باختصارها حيث لا يتسع له الوقت لتمحيصها وترجيح الراجح منها، قال تلميذه الشمس الداودي المالكي مؤلف طبقات المفسرين الكبرى: عاينت الشيخ وقد كتب في يوم واحد ثلاثة كراريس تأليفًا وتحريرًا وكان مع ذلك يملي الحديث ويجيب عن المتعارض منه بأجوبة حسنة. اهـ. ومن يكون بهذا الإسراع طول عمره لا يتسنى له تحقيق ما يدونه بل كثيرًا ما تفوته مواضع الفائدة من الأصول التي يلخصها. وقد يتابع أوهام الأصل التي لا يخلو منها تصنيف فتسوء سمعته بتآليفه. قال السخاوي: إن له مؤلفات كثيرة مع كثرة ما يقع له من التحريف والتصحيف
ভূমিকা

...

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ইমাম সুয়ূতী-এর জীবনী:

তিনি হলেন হাফেজ আবুল ফজল জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে কামালুদ্দীন আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ আস-সুয়ূতী, যিনি ইবনে আল-আসয়ূতী নামে পরিচিত।

তিনি ৮৪৯ হিজরির রজব মাসের শুরুতে রবিবার রাতে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মাতা ছিলেন একজন তুর্কি দাসী এবং তাঁর পিতার আদি নিবাস ছিল অনারব (আজম)। তাঁর পিতার মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর। অতঃপর তাঁর অভিভাবক শিহাব ইবনে আল-তাব্বাখ তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁকে 'উস্তাদ দার আল-সুহবাহ' আমির বার্সবে আল-জারকাসির নিকট লালন-পালন করেন। তিনি আমিরের প্রধান রক্ষী ইনাল আল-আশকারের সাথে যুক্ত ছিলেন। আমির শাইখুর যুগ থেকেই তাঁর পরিবারের সাথে আমিরদের সুসম্পর্ক ছিল। তাঁর অভিভাবকদের মধ্যে ইমাম কামালুদ্দীন ইবনুল হুমামও ছিলেন, যাঁর তাঁর ওপর অনেক মহান অনুগ্রহ ছিল।

তিনি শাফেয়ী আলেমদের মধ্য হতে আল-বুলকিনী, আশ-শারাফ আল-মুনাভী, আশ-শামস ইবনে আল-ফালাতী, আল-জালাল আল-মাহাল্লী, আয-যাইন আল-উকবী, আল-বুরহান আল-বিকায়ি এবং আশ-শামস আস-সাখাভীর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। এছাড়া মিশরের গবেষক সাইফুদ্দীন আল-বাক্তামারি, আল্লামা মুহিউদ্দীন আল-কাফীজী আল-বারগামি, হাফেজ কাসেম ইবনে কুতলুবুগা আস-সুদুনি এবং ইমাম তাকীউদ্দীন আশ-শামান্নী হানাফীর নিকট থেকে এবং অন্যান্য মালিকী ও হাম্বলী আলেমদের নিকট থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। ইজাজত, পাঠদান এবং শ্রবণসূত্রে তাঁর উস্তাদের সংখ্যা প্রায় একশত পঞ্চাশ জন, যাদের জীবনবৃত্তান্ত তিনি তাঁর 'মু’জাম' গ্রন্থে একত্র করেছেন। তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন যে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তথা ইলমে দিরায়াহ (তত্ত্বগত জ্ঞান) নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি বর্ণনা শ্রবণে (ইলমে রেওয়ায়াত) খুব বেশি সময় ব্যয় করতে পারেননি। হালব থেকে তাঁকে যারা ইজাজত দিয়েছেন তাদের মধ্যে ইবনে মুকবিল এবং সর্বশেষ ব্যক্তি হিসেবে আস-সালাহ ইবনে আবি উমর অন্যতম।

তিনি অল্প বয়সেই গ্রন্থ সংকলন ও রচনার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর রচনাবলীর সংখ্যা প্রায় ছয়শতে পৌঁছেছে, যার মধ্যে এক বা দুই পৃষ্ঠার পুস্তিকা থেকে শুরু করে কয়েক খণ্ডের বিশাল গ্রন্থও রয়েছে। তাঁর অধিকাংশ রচনা অন্য লেখকদের কিতাবের সারসংক্ষেপ, তাই এগুলোর বৈজ্ঞানিক মান মূল লেখকের গবেষণার গভীরতার ওপর নির্ভর করে। তাঁর গ্রন্থসমূহে বর্ণিত মতামতের মধ্যে যে বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়, তা মূলত সেইসব কিতাবের লেখকদের মতভেদ থেকে এসেছে যেগুলোকে তিনি সংক্ষিপ্ত করেছেন; কারণ সেসব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে সঠিকটি নির্বাচন করার মতো পর্যাপ্ত সময় তাঁর ছিল না। তাঁর ছাত্র 'তাবাকাত আল-মুফাসসিরীন আল-কুবরা'র লেখক শামস আদ-দাউদী আল-মালিকী বলেন: আমি শায়খকে একদিনে রচনা ও সম্পাদনা মিলিয়ে তিন 'কুররাস' (খাতা) লিখতে দেখেছি। এর পাশাপাশি তিনি হাদিস ইমলা (শ্রুতিলিপি) করতেন এবং পরস্পরবিরোধী বর্ণনার চমৎকার সমাধান দিতেন। (সমাপ্ত)। সারা জীবন এই দ্রুত গতিতে কাজ করার কারণে তাঁর পক্ষে যা লিখছেন তা পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, বরং প্রায়শই তিনি যেসব মূল কিতাবের সারসংক্ষেপ করতেন তার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো তাঁর দৃষ্টির আড়ালে থেকে যেত। কখনো কখনো তিনি মূল গ্রন্থের ভুলগুলোকেও অনুসরণ করতেন যা থেকে কোনো গ্রন্থই মুক্ত নয়, ফলে তাঁর রচনার কারণে তাঁর সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আস-সাখাভী বলেন: তাঁর অসংখ্য কিতাব রয়েছে, তবে তাতে প্রচুর পরিমাণে তাহরীফ (বিকৃতি) এবং তাসহিফ (লিপিপ্রমাদ) লক্ষ্য করা যায়।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২২৪)
فيها وما ينشأ عن عدم فهم المراد لكونه لم يزاحم الفضلاء في دروسهم ولا جلس بينهم في مسائهم وتعريسهم بل استبد بالأخذ من بطون الدفاتر والكتب، وأخذ من كتب المحمودية وغيرها كثيرًا من التصانيف القديمة التي لا عهد لكثير من العصريين بها في فنون فغير فيها شيئًا يسيرًا وقدم وأخر ونسبها لنفسه وهوّل في مقدماتها. اهـ. ولي مشيخة الحديث مشيخة البيبرسية بعد الجلال البكري إلى أن صرفه عنها السلطان الملك العادل طومانباي الأول يوم الاثنين ثاني عشر من رجب سنة ست وتسعمائة حيث تحزب عليه جمع من مشايخ المدرسة بسبب يبسه معهم ومعاندته لهم بحيث أخرج وظائف كثيرة عنهم وقرر فيها غيرهم وحصل له إهانات من ترسيم وإساءات وأمر بنفي وكانت حكايات كما يقول صاحب "البدر الطالع" فيما علقه على الضوء اللامع بخطه ثم انقطع بسكنه في الروضة وتزهد وكان يأتي إليه أعيان الأمراء للزيارة فلا يقوم لهم وعرضت عليه مشيخة البيبرسية سنة 909 فامتنع من قبولها واستمر على انقطاعه، وكان الأمراء والأغنياء يأتون إلى زيارته ويعرضون عليه الأموال النفيسة فيردها، وأهدى إليه السلطان الملك الأشرف قانصوه الغوري خصيًّا وألف دينار فرد الألف وأخذ الخصيّ فأعتقه وجعله خادمًا في الحجرة النبوية وقال لقاصد السلطان لا تعد تأتينا بهدية قط فإن الله تعالى أغنانا عن مثل ذلك وطلبه السلطان مرارًا فلم يحضر إليه على ما ذكره النجم الغزي في الكواكب السائرة وابن العماد في شذرات الذهب. ومن شعره:

فوض أحاديث الصّفا … ت ولا تشبّه أو تعطل

إن رمت إلا الخوض في … تحقيق معضلة فأول

إن المفوض سالم … مما تكلفه المؤول

ألف في تحريم المنطق وادعى الاجتهاد فصنف في ذلك عدة رسائل فقام العلماء ضده حتى انقبع في عقر داره، ويحكي الشعراني في ذيل طبقاته عن السيوطي أنه كان يقول: قد أشاع الناس عني أني ادعيت الاجتهاد المطلق كأحد الأئمة الأربعة وذلك باطل عني إنما مرادي بذلك المجتهد المنتسب.. ولما بلغت مرتبة الترجيح لم أخرج في الإفتاء عن ترجيح النووي.. ولما بلغت إلى مرتبة الاجتهاد المطلق لم أخرج في الإفتاء عن مذهب الشافعي. اهـ. وغريب جدًّا ما يرويه الداودي والشعراني عنه أنه كان يحفظ مائتي ألف حديث إن لم يكن مراده أنه يحفظها في خزانته لأن شيخ حفاظ الأمة أبا عبد الله البخاري لما سئل عن أحاديث جامعة: هل تحفظها؟ أجاب بقوله: أرجو أن لا يخفى علي منها شيء. ولم يدّع مثل هذه الدعوى.
এতে এবং যা উদ্দেশ্য বুঝতে না পারার কারণে সৃষ্টি হয়, কারণ তিনি বিদগ্ধ পণ্ডিতদের পাঠচক্রে তাদের সাথে ভিড় জমাননি এবং তাদের সান্ধ্যকালীন মজলিস ও অবস্থানে তাদের মাঝে বসেননি; বরং তিনি খাতা ও গ্রন্থাবলি থেকেই জ্ঞান অর্জনে একচেটিয়া মনোযোগী হয়েছিলেন। তিনি মাহমুদিয়া পাঠাগার ও অন্যান্য স্থান থেকে এমন অনেক প্রাচীন রচনা সংগ্রহ করেছিলেন যেগুলোর শিল্পকলা সম্পর্কে সমসাময়িক অনেকেরই কোনো ধারণা ছিল না। এরপর তিনি সেগুলোতে সামান্য পরিবর্তন সাধন করেন, আগে-পাছে করেন এবং সেগুলোকে নিজের নামে চালিয়ে দেন এবং সেগুলোর ভূমিকাসমূহকে আড়ম্বরপূর্ণ করেন। সমাপ্ত। জালাল আল-বাকরির পর তিনি বাইবারসিয়া মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস পদ লাভ করেন, যতক্ষণ না সুলতান আল-মালিক আল-আদিল তুমানবে আউয়াল ৯০৬ হিজরির ১২ই রজব সোমবার তাকে সেই পদ থেকে অপসারিত করেন। কারণ মাদ্রাসার একদল শিক্ষক তার বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়েছিলেন। এর কারণ ছিল তাদের প্রতি তার কঠোরতা এবং তাদের সাথে শত্রুভাবাপন্নতা, এমনকি তিনি তাদের অনেককে কর্মচ্যুত করেছিলেন এবং অন্যদের নিয়োগ দিয়েছিলেন। তার অবমাননা ঘটেছিল, তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছিল এবং নির্বাসনের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল এক দীর্ঘ কাহিনী, যেমনটি 'আল-বাদরুত তালি' গ্রন্থের লেখক 'আদ-দাওউল লামি'র ওপর তার হস্তলিখিত টীকাগুলোতে উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি রওদাতে নিভৃতবাস গ্রহণ করেন এবং দুনিয়াবিমুখ হয়ে পড়েন। গণ্যমান্য আমিররা তার সাক্ষাতের জন্য আসতেন কিন্তু তিনি তাদের সম্মানে উঠে দাঁড়াতেন না। ৯০৯ হিজরিতে তাকে পুনরায় বাইবারসিয়া মাদ্রাসার শায়খ হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং নিভৃতবাস অব্যাহত রাখেন। আমির ও ধনী ব্যক্তিরা তার কাছে আসতেন এবং মূল্যবান ধন-সম্পদ দিতে চাইতেন কিন্তু তিনি তা ফিরিয়ে দিতেন। সুলতান আল-মালিক আল-আশরাফ কানসুহ আল-গাউরি তাকে একজন ভৃত্য এবং এক হাজার দিনার উপহার পাঠিয়েছিলেন; তিনি দিনারগুলো ফিরিয়ে দেন এবং ভৃত্যটিকে গ্রহণ করে তাকে মুক্ত করে দেন এবং হুজরায়ে নববীতে খাদেম হিসেবে নিযুক্ত করেন। তিনি সুলতানের দূতকে বলেছিলেন: "আর কখনো আমাদের জন্য উপহার নিয়ে আসবে না, কারণ আল্লাহ তাআলা আমাদের এ ধরনের জিনিসের মুখাপেক্ষীহীন করেছেন।" সুলতান বারবার তাকে তলব করলেও তিনি উপস্থিত হননি, যা নাজম আল-গাজ্জি 'আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়িরাহ' এবং ইবনুল ইমাদ 'শাযারাতুজ যাহাব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তার রচিত কবিতা থেকে:

সিফাতের হাদিসগুলোতে সোপর্দ (তাফবিদ) করো … এবং সাদৃশ্য দিও না কিংবা অস্বীকার করো না।

যদি তুমি কোনো জটিল বিষয়ের … রহস্য উদ্ঘাটন করতে চাও, তবেই তুমি ব্যাখ্যার আশ্রয় নাও।

নিশ্চয়ই সোপর্দকারী নিরাপদ থাকে … সেই কষ্ট ও জটিলতা থেকে যা ব্যাখ্যাকারী বহন করে।

তিনি যুক্তিবিদ্যা হারাম হওয়ার বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন এবং ইজতিহাদের দাবি করেন। এ বিষয়ে তিনি কয়েকটি রিসালা বা প্রবন্ধ লিখেন। এতে আলেমরা তার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যান, এমনকি তিনি স্বীয় গৃহেই অন্তরীণ হয়ে পড়েন। আল-শারানি তার 'তাবাকাত'-এর পরিশিষ্টে সুয়ুতী সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলতেন: "লোকেরা আমার ব্যাপারে রটিয়েছে যে আমি চার ইমামের মতো মুজতাহিদে মুতলাক হওয়ার দাবি করেছি, অথচ এটি আমার ব্যাপারে মিথ্যা। আমার উদ্দেশ্য ছিল কেবল মুজতাহিদে মুনতাসিব হওয়া... আর যখন আমি তারজিহ (প্রাধান্য দেওয়ার) স্তরে পৌঁছেছি, তখন আমি ফতোয়া প্রদানে ইমাম নববীর প্রধান্য দেওয়া মতের বাইরে যাইনি... আর যখন আমি মুজতাহিদে মুতলাকের স্তরে পৌঁছেছি, তখন আমি ফতোয়া প্রদানে শাফেয়ি মাযহাবের বাইরে যাইনি।" সমাপ্ত। দাওউদি এবং শারানি তার থেকে যে বর্ণনাটি করেছেন তা অত্যন্ত বিস্ময়কর; যে তিনি নাকি দুই লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন, যদি না তার উদ্দেশ্য এটি হয়ে থাকে যে তিনি তার সংগ্রহশালায় তা সংরক্ষণ করেছেন। কেননা উম্মতের হাফেজদের প্রধান আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারিকে যখন সমন্বিত হাদিসসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "আপনি কি এগুলো মুখস্থ রাখেন?" তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: "আমি আশা করি এগুলোর কোনো কিছু আমার কাছে অজানা নেই।" তিনি এমন কোনো (সংখ্যার) দাবি করেননি।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২২৫)
وله مقامة تهجم فيها على السخاوي سماها "الكاوي في الرد على السخاوي" كما تحامل عليه أيضًا عند ترجمته في "نظم العقيان" مع أنه في عداد شيوخه وما ذنب السخاوي إليه إلا قلة صبره إزاء الدعاوى العريضة. وذكر في "النور السافر" ما كتبه السيوطي إلى السخاوي معرضًا به ومتهجمًا عليه وهو قوله:

قال السخاوي: إن تعروك مشكلة … علمى كبحر من الأمواج ملتطم

والحافظ الديمي عيث الزمان فخذ … "غرفا من اليم أو رشفا من الديم"

والديمي الفخر عثمان المحدث ممن كان بينه وبين السخاوي منافسة أيضًا. ويرى بعضهم أن كلًّا من الثلاثة كان فردًا في فنه مع المشاركة في غيره فالسخاوي تفرد بمعرفة علل الحديث، والديمي بأسماء الرجال، والسيوطي بحفظ المتون. اهـ. وانتصر للسخاوي على السيوطي الشاعر الأديب ابن العليف أحمد بن الحسين المكي في كتابين سماهما "الشهاب الهاوي على منشئ الكاوي" و"المنتقد اللوذعي على المجتهد المدعي".

واستقصى الداودي ذكر أسماء مؤلفاته فزادت على خمسمائة مؤلف منها: "الدر المنثور في التفسير بالمأثور" في ستة مجلدات لخص فيها كتب التفاسير بالرواية للمتقدمين بتجريدها عن الأسانيد ولم يتكلم عليها فبقي جامعا للغث والثمين وفيه من الأقوال المردودة ما لا يوصف، ومنها "الإتقان في علوم القرآن" وجُلّه من البرهان للبدر الزركشي وهذا كتاب جليل جدا إلا أن السيوطي أغفل مواطن الفائدة منها وتابعه في أوهامه الظاهرة كقوله في أسباب النزول: إن عثمان بن مظعون شرب الخمر في عهد عمر … إلخ مع أنه ممن حرم الخمر على نفسه في الجاهلية والإسلام ومات قبل التحريم في أول الهجرة بالمدينة وهو أول من دفن فيها من المسلمين وكل ذلك في غاية الشهرة، بل الذي شرب هو قدامة بن مظعون إلى غير ذلك، سوى ما له من الأوهام فيه وغير ما حشده فيه من الأخبار من غير تمحيص مما يتمسك به خصوم الكتاب الكريم. ومنها "الجامع الكبير" الذي أراد أن يستقصى فيه السنن على حروف الهجاء من غير تقيد بالصحيح، وقد رتبه على أبواب الفقه الشيخ علي المتقي الحنفي الهندي في عدة مؤلفات أكبرها "كنز العمال" إلا أنه يتنافى في ما يقوله السيوطي في أول الكتاب مع ما يسرده نفسه فيما ألفه في الموضوعات كما وقع له مثل ذلك في "الجامع الصغير". وله أيضًا "تاريخ الخلفاء" و"طبقات النحاة" و"حسن المحاضرة".

و"طبقات الحفاظ" لخص فيها طبقات الذهبي وذيل عليها بما في هذا الذيل لكنه لم يتعب فيه بل اختصر تراجمه من الدرر الكامنة وإنباء الغمر إلا فيما قل جدًّا ولم يذكر
এবং তাঁর একটি মাকামাহ রয়েছে যাতে তিনি সাখাওয়ীর উপর আক্রমণ করেছেন, যার নাম দিয়েছেন "আল-কাউয়ী ফীর রাদ্দি আলাস সাখাওয়ী"। এছাড়া তিনি "নাযমুল উকিয়ান"-এ সাখাওয়ীর জীবনী রচনার সময়ও তাঁর প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করেছেন, অথচ তিনি তাঁর শায়খদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বিশাল সব দাবির ব্যাপারে সাখাওয়ীর ধৈর্যহীনতা ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে সাখাওয়ীর আর কোনো অপরাধ ছিল না। "আন-নূরুস সাফির"-এ সুয়ূতী সাখাওয়ীর প্রতি বিদ্রূপ ও আক্রমণ করে যা লিখেছিলেন তা উল্লেখ করা হয়েছে, আর তা হলো তাঁর এই উক্তি:

সাখাওয়ী বলেছেন: যদি কোনো জটিলতা তোমাকে আচ্ছন্ন করে … তবে আমার জ্ঞান উত্তাল ঢেউয়ে পরিপূর্ণ সমুদ্রের ন্যায়।

আর হাফেয দাইমী হলেন যামানার সাহায্যকারী, সুতরাং গ্রহণ করো … "সমুদ্র থেকে এক অঞ্জলি অথবা বৃষ্টি থেকে এক চুমুক।"

আর দাইমী হলেন ফখর উসমান মুহাদ্দিস, যাঁর সঙ্গে সাখাওয়ীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। কেউ কেউ মনে করেন যে, এই তিনজনের প্রত্যেকেই নিজ নিজ শিল্পে অনন্য ছিলেন, যদিও অন্যদের ক্ষেত্রেও তাঁদের অংশগ্রহণ ছিল। সাখাওয়ী হাদীসের দোষ-ত্রুটি (ইল্লাত) নির্ণয়ে অনন্য ছিলেন, দাইমী রাবীদের পরিচিতি (আসমাউর রিজাল) বিষয়ে এবং সুয়ূতী হাদীসের মূল পাঠ (মতন) মুখস্থ করার ক্ষেত্রে। (সমাপ্ত)। আর সাহিত্যিক কবি ইবনুল উলায়ফ আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-মাক্কী সুয়ূতীর বিরুদ্ধে সাখাওয়ীর পক্ষাবলম্বন করে দুটি কিতাব রচনা করেছেন, যার নাম দিয়েছেন "আশ-শিহাবুল হাবী আলা মুনশিইল কাউয়ী" এবং "আল-মুনতাকিদুল লাউযায়ী আলাল মুজতাহিদিল মুদ্দাঈ"।

আদ-দাউদী তাঁর গ্রন্থসমূহের নাম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছেন এবং তা পাঁচশোরও বেশি। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: ছয় খণ্ডে সমাপ্ত "আদ-দুররুল মানসূর ফিত তাফসীরিল মাসূর", যেখানে তিনি পূর্বসূরিদের বর্ণিত তাফসীরগ্রন্থসমূহকে সনদবিহীন অবস্থায় সংক্ষেপ করেছেন এবং এগুলোর ওপর কোনো মন্তব্য করেননি; ফলে এটি অসার ও মূল্যবান উভয় বিষয়ের সংমিশ্রণে রয়ে গেছে এবং এতে এমন সব প্রত্যাখ্যাত উক্তি রয়েছে যা অবর্ণনীয়। আরও রয়েছে "আল-ইতকান ফী উলূমিল কুরআন", যার অধিকাংশ আল-বদর আয-যারকাশীর "আল-বুরহান" থেকে নেওয়া। এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি কিতাব, তবে সুয়ূতী এর উপকারী দিকগুলো উপেক্ষা করেছেন এবং তাঁর স্পষ্ট ভুলগুলোতেও তাঁকে অনুসরণ করেছেন; যেমন শানে নুযূলের ক্ষেত্রে তাঁর উক্তি: উসমান বিন মাজউন উমর (রা.)-এর যুগে মদ পান করেছিলেন … ইত্যাদি। অথচ তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাঁরা জাহেলী যুগ ও ইসলামে নিজের জন্য মদ হারাম করেছিলেন এবং তিনি হারামের বিধান আসার পূর্বেই হিজরতের শুরুতে মদীনায় ইন্তেকাল করেন। তিনিই প্রথম মুসলিম যাঁকে সেখানে দাফন করা হয় এবং এ সবই অত্যন্ত প্রসিদ্ধ বিষয়। বরং যিনি পান করেছিলেন তিনি ছিলেন কুদামা বিন মাজউন। এটি ছাড়াও তাঁর আরও অনেক ভুলভ্রান্তি রয়েছে এবং এতে তিনি যাচাই-বাছাই ছাড়াই এমন অনেক সংবাদ জমা করেছেন যা পবিত্র কুরআনের শত্রুরা আঁকড়ে ধরে থাকে। সেগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে "আল-জামি’ আল-কাবীর", যাতে তিনি বর্ণানুক্রমিকভাবে সুনানসমূহকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংকলন করতে চেয়েছিলেন সহীহ হওয়ার শর্তারোপ করা ছাড়াই। শায়খ আলী মুত্তাকী হানাফী আল-হিন্দী এটিকে ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী কয়েকটি গ্রন্থে বিন্যস্ত করেছেন, যার মধ্যে সর্ববৃহৎ হলো "কানযুল উম্মাল"। তবে সুয়ূতী এই কিতাবের শুরুতে যা বলেছেন, তার সাথে জাল হাদীস (মাউযূ’আত) বিষয়ে তাঁর নিজের রচিত গ্রন্থসমূহে যা বর্ণনা করেছেন তা সাংঘর্ষিক; যেমনটি তাঁর "আল-জামি’ আস-সাগীর"-এর ক্ষেত্রেও ঘটেছে। এছাড়াও তাঁর রয়েছে "তারীখুল খুলাফা", "তাবাকাতুন নুহাত" এবং "হুসনুল মুহাযারাহ"।

এবং "তাবাকাতুল হুফফায", যাতে তিনি আয-যাহাবীর "তাবাকাত"-কে সংক্ষেপ করেছেন এবং এই পরিশিষ্টে যা রয়েছে তা এতে সংযোজন করেছেন। তবে তিনি এতে খুব একটা পরিশ্রম করেননি, বরং অল্প কিছু বাদে অধিকাংশ জীবনীই "আদ-দুরারুল কামিনাহ" এবং "ইনবাউল গুমর" থেকে সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং তিনি উল্লেখ করেননি
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২২৬)
الوفيات أثر التراجم ولا أسند أحاديث بطرف المترجمين. وشهرة مؤلفاته تغني عن الإفاضة فيها.

وكانت وفاته في سحر ليلة الجمعة 19 من جمادى الأولى سنة 911 هـ. ودفن في حوش قوصون خارج باب القرافة بمصر كما في ذيل الشعراني والكواكب السائرة والشذرات، وحوض قوصون هذا تحت القلعة لا عند جامعه الكبير ما حققه الأستاذ العلامة أحمد تيمور باشا حفظه الله في كتابه "قبر الإمام السيوطي" أغدق الله على ضريحه سحائب رحمته وأدخله فسيح جنته.
জীবনীগুলোর পর মৃত্যুর তারিখসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে এবং আমি জীবনীভুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে হাদিসের কোনো সনদ বর্ণনা করিনি। তাঁর রচনাবলির সুখ্যাতি এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার অমুখাপেক্ষী করে তোলে।

তাঁর ইন্তেকাল হয়েছিল ৯১১ হিজরি সনের ১৯শে জুমাদাল উলা, জুমুআর রাতের শেষ প্রহরে। তাঁকে মিশরের বাবুল কারাফার বাইরে ‘হাওশ কুসুন’-এ দাফন করা হয়, যেমনটি ‘যাইলুশ শা’রানি’, ‘আল-কাওয়াকিবুস সাইয়্যিরা’ এবং ‘আশ-শাযারাত’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এই ‘হাওশ কুসুন’ কেল্লার পাদদেশে অবস্থিত, তাঁর বড় জামে মসজিদের নিকট নয়—যা বিজ্ঞ উস্তাদ আল্লামা আহমাদ তাইমুর পাশা (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) তাঁর ‘কবরুল ইমাম আস-সুয়ূতী’ গ্রন্থে সুনিশ্চিত করেছেন। আল্লাহ তাঁর সমাধিস্থলে রহমতের বারিধারা বর্ষণ করুন এবং তাঁকে তাঁর প্রশস্ত জান্নাতে দাখিল করুন।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২২৭)
اشتمل هذا الذيل على سبعة وأربعين ترجمة وهي موافقة لما في ذيل حافظ الشام الحسيني رحمه الله تعالى، وللذيل عليها للحافظ تقي الدين أبي الفضل محمد بن فهد الهاشمي تغمده الله برحمته، وزاد على الذيلين المذكورين تراجم خمس أنفس استدركها عليهما في الطبقة الثانية والعشرين وهم: الشهار الهكاوي، وابن حبيب، والسراج القزويني، وأمين الدين الواني، وابن المرابط، ومن الطبقة الرابعة والعشرين واحد وهو: عمر بن مسلم، ومن الطبقة الخامسة والعشرين اثنان هما: ابن الجزري، والشهاب البوصيري1.

وعلمت على المستدرك وعلى موافقة السيد الحسيني "س" وعلى موافقة الحافظ ابن فهد "ف".

--------------------------------------------

1 مجموع ما فيه هذا الذيل من التراجم "47" ترجمة منها "16" ترجمة موافقة لذيل الحسيني و"23" موافقة لذيل ابن فهد و"8" تراجم مستدركة عليهما.
এই পরিশিষ্টটি সাতচল্লিশটি জীবনী অন্তর্ভুক্ত করেছে যা শামের হাফেজ আল-হুসাইনী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর পরিশিষ্টের সাথে এবং হাফেজ তাকিউদ্দিন আবু আল-ফজল মুহাম্মদ ইবনে ফাহদ আল-হাশেমী (আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে আচ্ছাদিত করুন)-এর পরিশিষ্টের সাথে সংগতিপূর্ণ। তিনি উল্লিখিত দুই পরিশিষ্টের অতিরিক্ত বাইশতম স্তরের পাঁচজন ব্যক্তির জীবনী সংযোজন করেছেন যাদের তিনি তাঁদের ওপর সংশোধন হিসেবে এনেছেন, তাঁরা হলেন: আশ-শাহার আল-হাক্কাবী, ইবনে হাবিব, আস-সিরাজ আল-কাযভিনী, আমিনুদ্দিন আল-ওয়ানী এবং ইবনুল মুরাবিত। চব্বিশতম স্তর থেকে একজন হলেন উমর বিন মুসলিম এবং পঁচিশতম স্তর থেকে দুইজন হলেন ইবনুল জাযারি এবং আশ-শিহাব আল-বুসিরি।১

আমি এই সংশোধনীগুলোকে নির্দেশ করেছি, সাইয়্যেদ আল-হুসাইনীর সাথে মিল থাকলে "স" দ্বারা এবং হাফেজ ইবনে ফাহদের সাথে মিল থাকলে "ফ" দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

--------------------------------------------

১ এই পরিশিষ্টে মোট জীবনীর সংখ্যা ৪৭টি, যার মধ্যে ১৬টি জীবনী আল-হুসাইনীর পরিশিষ্টের সাথে সংগতিপূর্ণ, ২৩টি ইবনে ফাহদের পরিশিষ্টের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং ৮টি জীবনী তাঁদের ওপর সংশোধনী হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২২৯)
‌‌مدخل

…

بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليما.

قال شيخنا الإمام الحافظ مفتي المسلمين أوحد المجتهدين أبو الفضل عبد الرحمن جلال الدين ابن العلامة قاضي المسلمين كمال الدين أبي بكر بن محمد السيوطي ثم القاهري الشافعي رحمة الله عليه: الله أحمد على آلائه وأشكره على نعمائه وأصلي وأسلم على خاتم أنبيائه محمد وأصحابه وأحبائه. وبعد فإني لخصت طبقات الحفاظ تصنيف الإمام الحافظ الكبير أبي عبد الله محمد الذهبي رحمه الله تعالى وذيلت عليه من بعده وابتدأت بترجمته فقلت ما نصه:
ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও পূর্ণ শান্তি বর্ষিত হোক।

আমাদের শাইখ, ইমাম, হাফেজ, মুসলিমদের মুফতি, অনন্য মুজতাহিদ, আবুল ফজল আব্দুর রহমান জালালুদ্দিন ইবনে আল্লামা, মুসলিমদের বিচারক কামালুদ্দিন আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ আস-সুয়ূতী, অতঃপর আল-কাহিরী আশ-শাফিঈ (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি তাঁর অনুগ্রহসমূহের জন্য এবং তাঁর নেয়ামতরাজির জন্য তাঁর শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। আর আমি তাঁর শেষ নবী মুহাম্মদ, তাঁর সাহাবীগণ ও তাঁর প্রিয়জনদের ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করছি। অতঃপর, আমি মহান ইমাম ও হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আয-যাহাবী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) রচিত 'তাবাকাতুল হুফফাজ'-এর সংক্ষেপণ করেছি এবং তাঁর পরবর্তী সময়ের হাফেজদের জীবনী এতে পরিশিষ্ট হিসেবে যোগ করেছি। আমি তাঁর জীবনী দিয়েই গ্রন্থটি শুরু করেছি এবং যা লিখেছি তা হলো:
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৩১)
‌‌الطبقة الثانية والعشرون، وعدتها 15

…

الطبقة الثانية والعشرون، عدتها 15:

الذهبي 1 س الإمام الحافظ محدث العصر وخاتمة الحفاظ ومؤرخ الأعلام وفرد الدهر والقائم بأعباء هذه الصناعة شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قايماز التركماني ثم الدمشقي المقرئ:

ولد سنة ثلاث وسبعين وستمائة وطلب الحديث وله ثماني عشرة سنة فسمع الكثير ورحل وعين بهذا الشأن وتعب فيه وخدمه إلى أن رسخت فيه قدمه وتلا بالسبع وأذعن له الناس، حكي عن شيخ الإسلام أبي الفضل ابن حجر أنه قال: شربت ماء زمزم لأصل إلى مرتبة الذهبي في الحفظ، ولي تدريس الحديث بتربة أم الصالح وغيرها، وله من التصانيف: "تاريخ الإسلام" التاريخ الأوسط والصغير و"سير النبلاء" و"طبقات الحفاظ" التي لخصناها في هذا الكتاب وذيلنا عليها و"طبقات القراء" و"مختصر تهذيب الكمال" و"الكاشف" مختصر ذلك و"المجرد" في أسماء رجال الكتب الستة و"التجريد" في أسماء الصحابة و"الميزان" في الضعفاء و"المغني" في الضعفاء وهو مختصر نفيس وقد ذيلت عليه بذيل و"مشتبه النسبة" و"مختصر الأطراف" لشيخه المزي و"تلخيص المستدرك" مع تعقب عليه و"مختصر سنن البيهقي" و"مختصر المحلي" وغير ذلك وله معجم كبير وصغير ومختصر بالمحدثين2، والذي أقوله إن المحدثين عيال الآن في الرجال وغيرها من فنون الحديث على أربعة: المزي والذهبي والعراقي وابن حجر، توفي الذهبي ليلة الاثنين ثالث من ذي القعدة سنة ثمان وأربعين وسبعمائة بدمشق وأضر قبل موته بيسير ورثاه التاج بن السبكي بقصيدة أولها:

من للحديث وللسارين في الطلب … من بعد موت الإمام الحافظ الذهبي

من للرواية والأخبار ينشرها … بين البرية من عجم ومن عرب

من للدراية والآثار يحفظها … بالنقد من وضع أهل الغي والكذب

من للصناعة يدري حل معضلها … حتى يريك جلاء الشك والريب

ومنها:

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة 3/ 204 "3527".

2 وقد ذكر فيه غالب الطبقة من أهل ذلك العصر وقد عاش الكثير منهم بعده بكثير بالصلاح العلائي والعز أبي عمر بن جماعة والعماد بن كثير والتقي بن رافع والبهاء بن خليل والتاج السبكي والعفيف المطري والحافظ الحسيني بل منهم من عاش بعده أكثر من أربعين سنة كشمس الدين محمد بن سند السابق ذكره في ذيل ابن فهد والآتي ذكره في ذيل الجلال السيوطي فإنه توفي سنة 792 وهو آخر المذكورين في المعجم المختص وفاةً كما في إنباء الغمر والدرر الكامنة وسيأتي ذلك في ترجمته. "الطهطاوي".
দ্বাবিংশ স্তর, এর সংখ্যা ১৫

…

দ্বাবিংশ স্তর, এর সংখ্যা ১৫:

আয-যাহাবী ১ স (সিন): ইমাম, হাফেজ, সমসাময়িক যুগের মুহাদ্দিস, হাফেজদের পরম্পরার সমাপ্তি, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ইতিহাসবিদ, কালের অনন্য পুরুষ এবং এই শাস্ত্রের দায়িত্বভার বহনকারী শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান বিন কাইমাজ আত-তুর্কমানি আল-দিমাশকি আল-মুকরি:

তিনি ৬৭৩ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং আঠারো বছর বয়সে হাদিস অন্বেষণ শুরু করেন। তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন, সফর করেন এবং এই বিষয়ে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। এতে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেন এবং এর খিদমত করেন, যতক্ষণ না এতে তার অবস্থান সুদৃঢ় হয়। তিনি সাত কিরাআতে তিলাওয়াত করেছেন এবং মানুষ তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেছে। শায়খুল ইসলাম আবু ফজল ইবনে হাজার থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: আমি হাফেজ আয-যাহাবীর মুখস্থবিদ্যার স্তরে পৌঁছানোর জন্য জমজমের পানি পান করেছি। তিনি উম্মুস সালিহ মাদরাসা ও অন্যান্য স্থানে হাদিসের অধ্যাপনা করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "তারিখুল ইসলাম", "আত-তারিখুল আওসাত ওয়া আস-সগির", "সিয়ারু আ’লামিন নুবালা", "তাবাকাতুল হুফফাজ" যা আমরা এই গ্রন্থে সংক্ষেপ করেছি এবং তার পরিশিষ্ট লিখেছি, "তাবাকাতুল কুররা", "মুখতাসারু তাহযিবিল কামাল", "আল-কাশিফ" যা তাহযিবিল কামালের সংক্ষিপ্ত রূপ, "আল-মুজাররাদ" যা কুতুবে সিত্তার রাবীদের নামের বিষয়ে, "আত-তাজরিদ" যা সাহাবীদের নামের বিষয়ে, "আল-মিজান" যা দুর্বল রাবীদের বিষয়ে, "আল-মুগনি" যা দুর্বল রাবীদের বিষয়ে একটি মূল্যবান সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ যার ওপর আমি একটি পরিশিষ্ট লিখেছি, "মুশতাবিহুন নিসবাহ", তাঁর উস্তাদ আল-মিজ্জির "মুখতাসারুল আতরাফ", এর উপর সমালোচনা সহ "তালখিসুল মুসতাদরাক", "মুখতাসারু সুনানিল বায়হাকী", "মুখতাসারুল মুহাল্লা" এবং আরও অনেক। তাঁর একটি বৃহৎ মুজাম, একটি ছোট মুজাম এবং মুহাদ্দিসদের জীবনী বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত মুজাম রয়েছে। আমি যা বলছি তা হলো, বর্তমানকালের মুহাদ্দিসগণ রাবীদের পরিচয় এবং হাদিসের অন্যান্য শাস্ত্রের ক্ষেত্রে চারজনের ওপর নির্ভরশীল: আল-মিজ্জি, আয-যাহাবী, আল-ইরাকি এবং ইবনে হাজার। আয-যাহাবী ৭৪৮ হিজরি সনের ৩রা জিলকদ সোমবার দিবাগত রাতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর কিছুকাল আগে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। তাজ আল-দিন আস-সুবকি একটি কাসিদার মাধ্যমে তাঁর শোকগাঁথা রচনা করেন যার শুরু ছিল এরকম:

হাদিসের জন্য এবং ইলম তালাশে ভ্রমণকারীদের জন্য আর কে আছেন? … ইমাম হাফেজ আয-যাহাবীর মৃত্যুর পরে।

কে বর্ণনা ও সংবাদসমূহ প্রচার করবেন? … অনারব ও আরব তথা সকল সৃষ্টির মাঝে।

ইলমে দিরায়াত এবং আছারসমূহ কে সংরক্ষণ করবেন? … বিভ্রান্ত ও মিথ্যাবাদীদের জালকরণ থেকে সমালোচনার মাধ্যমে।

এই শাস্ত্রের কে আছেন যিনি এর জটিল জট খুলতে জানেন? … যাতে তিনি আপনাকে সন্দেহ ও সংশয়ের অবসান ঘটিয়ে সত্য দেখান।

এবং এর মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

১ আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/ ২০৪ "৩৫২৭"।

২ এতে তিনি তৎকালীন সময়ের অধিকাংশ স্তরের মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই তাঁর পর অনেক দিন বেঁচে ছিলেন, যেমন সালাহ আল-আলাই, ইজ্জ আবু ওমর ইবনে জামাআহ, ইমাদ ইবনে কাসির, তাকি ইবনে রাফি, বাহা ইবনে খলিল, তাজ সুবকি, আফিফ আল-মাতারী এবং হাফেজ আল-হুসাইনি। বরং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর মৃত্যুর পর চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় বেঁচে ছিলেন, যেমন শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন সানাদ যার কথা ইতিপূর্বে ইবনে ফাহাদের পরিশিষ্টে উল্লেখ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতির পরিশিষ্টে উল্লেখ করা হবে। তিনি ৭৯২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি 'মুজামুল মুখতাস' গ্রন্থে উল্লেখিত ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি, যেমনটি 'ইনবাউল গুমর' এবং 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' গ্রন্থে এসেছে। তাঁর জীবনীতে বিষয়টি সামনে আসবে। "আত-তহতাবি"।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৩২)
هو الإمام الذي روت روايته … وطبق الأرض من طلابه النجب

ثبت صدوق خبير حافظ يقظ … في النقل أصدق أنباء من الكتب

الله أكبر ما أقرأ وأحفظه … من زاهد ورع في الله مرتقب

القطب الحلبي 1 س الإمام العالم المقرئ الحافظ المحدث مفيد الديار المصرية وشيخها قطب الدين أبو علي عبد الكريم بن عبد النور بن منير بن عبد الكريم بن علي بن عبد الحق بن عبد الصمد بن عبد النور الحلبي ثم المصري أحد من جرد العناية بالرواية:

ولد في رجب سنة أربع وستين وستمائة وسمع من العز الحراني وغازي الحلاوي والفخر وآخرين وخرج لنفسه التساعيات والبلدانيات والمتباينات وبلغ شيوخه الألف وتلا بالسبع على أبي الطاهر المليجي وغيره، وكان خيرًا متواضعًا حسن السمت غزير المعرفة متقنًا اختصر الإلمام فحرره وشرح سيرة عبد الغني وشرع في شرح البخاري مطولا بيض منه النصف وجمع لمصر تاريخا حافلا لو تم بلغ عشرين مجلدًا، أعاد ودرس في الحديث بأماكن، أجاز للتاج السبكي ومات في رجب سنة خمس وثلاثين وسبعمائة.

فتح الدين بن سيد الناس 2 س الإمام العلامة المحدث الحافظ الأديب البارع أبو الفتح محمد بن محمد بن محمد بن أحمد بن عبد الله بن محمد بن يحيى بن محمد بن محمد بن أبي القاسم بن محمد بن عبد الله بن عبد العزيز بن سيد الناس بن أبي الوليد ابن منذر بن عبد الجبار بن سليمان اليعمري الأندلسي الأصل المصري:

ولد في ذي القعدة سنة إحدى وسبعين وستمائة وسمع من غازي والعز3 وخلائق نحو الألف ولازم ابن دقيق العيد وتخرج عليه وأعاد عنده عليه وكان يحبه ويثني عليه وأخذ العربية عن البهاء بن النحاس وكتب الخط المغربي والمصري فأتقنهما وكان أحد الأعلام الفاظ إماما في الحديث ناقدا في الفن خبيرا بالرجال والعلل والأسانيد عالما بالصحيح والسقيم له حظ من العربية حسن التصنيف صحيح العقيدة أديبا شاعرا بارعا متنفننا في البلاغة ناظما ناثرا مترسلا، ولي درس الحديث بالظاهرية وغيرها، وصنف السيرة الكبرى والصغرى "وشرح الترميذي" لم يكمله فأتمه الحافظ أبو الفضل العراقي4 مات في شعبان سنة أربع وثلاثين وسبعمائة ولم يخلف في مجموعة مثله.

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة 2/ 241 "2485".

2 الدرر الكامنة 4/ 133 "4556".

3 أي من غازي الحلاوي والعز الحراني كما تقدم في ذيل الحافظ الحسيني قال الحافظ الذهبي في أواخر طبقات الحفاظ: ولحق بدمشق ابن المجاور ومحمد بن مؤمن، ثم قال: لم أسمع منه شيئا وقال في المعجم المختصب: جالسته وسمعت بقراءته وأجاز لي مروياته. "الطهطاوي".

4 بل لم يتمه هو أيضًا كما تقدم فيما علقناه على ترجمته في ذيل الحسيني.
তিনি সেই ইমাম যাঁর বর্ণনা বহুজন বর্ণনা করেছেন ... এবং যাঁর মেধাবী ছাত্ররা জমিন ছেয়ে ফেলেছে।

তিনি সুদৃঢ়, পরম সত্যবাদী, অভিজ্ঞ হাফেজ ও সতর্ক ... বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি কিতাবসমূহের চেয়েও অধিক সত্য সংবাদ প্রদানকারী।

আল্লাহু আকবার! তিনি কতই না উত্তম পাঠক ও মুখস্থকারী ... তিনি আল্লাহর পথে একজন পরহেযগার, যাহিদ এবং সর্বদা আল্লাহ সচেতন ব্যক্তিত্ব।

আল-কুতুব আল-হালাবী ১: তিনি হলেন ইমাম, আলিম, ক্বারী, হাফেজ, মুহাদ্দিস, মিশরীয় ভূখণ্ডের শিক্ষা ও ফয়জ প্রদানকারী এবং সেখানকার শায়খ; কুতুবুদ্দীন আবু আলী আব্দুল কারীম বিন আব্দুল নূর বিন মুনীর বিন আব্দুল কারীম বিন আলী বিন আব্দুল হক বিন আব্দুস সামাদ বিন আব্দুল নূর আল-হালাবী, অতঃপর আল-মিশরী। তিনি ছিলেন রিওয়াত বা বর্ণনার ক্ষেত্রে ঐকান্তিক মনোনিবেশকারী ব্যক্তিদের অন্যতম।

তিনি ৬৬৪ হিজরির রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল-ইযয আল-হাররানী, গাজী আল-হাল্লাবী, আল-ফাখর এবং অন্যান্যদের থেকে ইলম শ্রবণ করেন। তিনি নিজের জন্য আত-তুসাঈয়্যাত, আল-বালদানিয়্যাত ও আল-মুতাবায়িনাত সংকলন করেন। তাঁর শায়খদের সংখ্যা হাজারে পৌঁছেছিল। তিনি আবু তাহের আল-মুলীজী ও অন্যান্যদের নিকট সাবআ (সাত) কিরাআতে তিলাওয়াত করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত নেককার, বিনয়ী, সচ্চরিত্রবান এবং অগাধ জ্ঞানের অধিকারী। তিনি ‘আল-ইলমাম’ গ্রন্থটিকে সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জন করেন। তিনি সীরাতে আব্দুল গনির ব্যাখ্যা গ্রন্থ রচনা করেন এবং বুখারীর একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা লিখতে শুরু করেন যার অর্ধেক তিনি পরিচ্ছন্নভাবে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তিনি মিশরের একটি বিশাল ইতিহাস গ্রন্থ সংকলন করেন, যা সমাপ্ত হলে বিশ খণ্ডে দাঁড়াত। তিনি বিভিন্ন স্থানে হাদীসের পাঠদান ও পুনরাবৃত্তি করাতেন। তিনি তাজ আস-সুবকীর জন্য ইজাযত প্রদান করেন এবং ৭৩৫ হিজরির রজব মাসে ইন্তেকাল করেন।

ফাতহুদ্দীন ইবনে সাইয়্যিদিন নাস ২: তিনি হলেন ইমাম, আল্লামা, মুহাদ্দিস, হাফেজ, দক্ষ সাহিত্যিক আবু আল-ফাতহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আবুল কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ বিন সাইয়্যিদিন নাস বিন আবুল ওয়ালিদ ইবনে মুনযির বিন আব্দুল জাব্বার বিন সুলাইমান আল-ইয়া’মুরী; মূলে আন্দালুসী এবং নিবাসে মিশরী।

তিনি ৬৭১ হিজরির যিলকদ মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গাজী, আল-ইযয ৩ এবং প্রায় এক হাজার মাশায়েখের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেন। তিনি ইবনে দাকীক আল-ঈদ-এর সাহচর্যে ছিলেন এবং তাঁর নিকট থেকেই শিক্ষা সমাপন করেন। তিনি তাঁর নিকট পুনরায় পাঠ করতেন। ইবনে দাকীক আল-ঈদ তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং তাঁর প্রশংসা করতেন। তিনি বাহা বিন আন-নাহহাস-এর নিকট আরবী ভাষা শিক্ষা করেন। তিনি মাগরিবী ও মিশরীয় উভয় পদ্ধতিতে লিপিবিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি অন্যতম ইমাম এবং হাদীস শাস্ত্রে একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি এই শাস্ত্রের একজন সূক্ষ্ম সমালোচক, রাবীগণের জীবনী ও হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলল) ও সনদ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি সহীহ ও যঈফ হাদীস সম্পর্কে পূর্ণ অবগত ছিলেন। আরবী ভাষায় তাঁর যথেষ্ট দখল ছিল। তিনি ছিলেন একাধারে উত্তম গ্রন্থ রচয়িতা, সহীহ আকিদার অধিকারী, সাহিত্যিক, দক্ষ কবি এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে পারদর্শী। গদ্য, পদ্য ও পত্র রচনায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাবলীল। তিনি যাহিরিয়্যাহ ও অন্যান্য মাদরাসায় হাদীসের অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ‘আস-সীরাহ আল-কুবরা’ ও ‘আস-সীরাহ আস-সুগরা’ এবং তিরমিযীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন। তবে তিরমিযীর ব্যাখ্যা তিনি পূর্ণ করতে পারেননি, যা পরবর্তীতে হাফেজ আবুল ফযল আল-ইরাকী ৪ পূর্ণ করেন। তিনি ৭৩৪ হিজরির শাবান মাসে ইন্তেকাল করেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী তাঁর মতো দ্বিতীয় কেউ তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মতো ছিল না।

--------------------------------------------

১ আদ-দুরার আল-কামিনাহ ২/ ২৪১ "২৪৮৫"।

২ আদ-দুরার আল-কামিনাহ ৪/ ১৩৩ "৪৫৫৬"।

৩ অর্থাৎ গাজী আল-হাল্লাবী ও আল-ইযয আল-হাররানী থেকে, যেমনটি হাফেজ আল-হুসাইনীর সংযোজনীতে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। হাফেজ আয-যাহাবী ‘তবকাতুল হুফফায’-এর শেষাংশে বলেন: তিনি দামেস্কে ইবনে আল-মুজাবির ও মুহাম্মদ বিন মুমিনের সাক্ষাত পেয়েছেন। এরপর তিনি বলেন: আমি তাঁর থেকে সরাসরি কিছু শুনিনি। তবে তিনি ‘আল-মু’জামুল মুখতাস’ গ্রন্থে বলেন: আমি তাঁর মজলিসে বসেছি, তাঁর তিলাওয়াত শুনেছি এবং তিনি আমাকে তাঁর বর্ণিত রিওয়াতগুলোর ইজাযত দিয়েছেন। "আত-তহতাবী"।

৪ বরং হাফেজ ইরাকীও তা সমাপ্ত করতে পারেননি, যেমনটি তাঁর জীবনীতে আল-হুসাইনীর সংযোজনীর টীকায় আমরা উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৩৩)
ابن عبد الهادي 1 س الإمام الأوحد المحدث الحافظ الحاذق الفقيه البارع المقرئ النحوي اللغوي ذو الفنون شمس الدين محمد بن أحمد بن عبد الهادي بن عبد الحميد بن عبد الهادي بن يوسف بن محمد بن قدامة المقدسي الحنبلي أحد الأذكياء:

ولد في رجب سنة خمس أو ست وسبعمائة وسمع من ابن عبد الدائم2 والطبقة وتفقه بابن مسلم3 وتردد إلى ابن تيمية ومهر في الحديث والفقه والأصول والعربية، قال الصفدي: لو عاش لكان آية كنت إذا لقيته سألته عن مسائل أدبية وفوائد عربية فينحدر كالسيل وكنت أراه يوافق4 المزي في أسماء الرجال ويرد عليه فيقبل منه، وقال ابن كثير: كان حافظا علامة ناقدا حصل من العلوم ما لا يبلغه الشيوخ ولا الأكابر وبرع في الفنون وكان جبلا في العلل والطرق والرجال حسن الفهم جدا صحيح الذهن، قال المزي: ما لقيته إلا واستفدت منه وكذا قال الذهبي أيضا، ودرس بالصدرية والغياثية وصنف شرحا على التسهيل والأحكام في الفقه والرد على السبكي في مسألة الزيارة سماه "الصارم المنكي" و"المحرر في اختصار الإلمام" و"الكلام على أحاديث مختصر ابن الحاجب" و"العلل" على ترتيب كتب الفقه و"التفسير المسند" لم يتمه واختصر التعليق لابن الجوزي وزاد عليه5 ومات في جمادى الأولى سنة أربع وأربعين وسبعمائة.

السبكي 6 س الإمام الفقيه المحدث الحافظ المفسر الأصولي المتكلم النحوي اللغوي

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة 3/ 102 "3521".

2 وليس المراد به أبا العباس أحمد بن عبد الدائم "المتوفى سنة 667" لأنه لم يدركه بل المراد به ابنه أبو بكر بن أحمد بن عبد الدائم "المتوفى سنة 718" ولو قال من أبي بكر بن عبد الدائم كما عبر الحافظ الحسيني في ذيله لكان أحسن. "الطهطاوي".

3 بتشديد اللام كما في الدرر الكامنة وهو قاضي قضاة الحنابلة بدمشق شمس الدين أبو عبد الله محمد بن مسلم بن مالك بن مزروع بن جعفر الصالحي "المتوفى بالمدينة المنورة سنة ست وعشرين وسبعمائة عن أربع وستين سنة ورأيت في طبقات الحفاظ ابن رجب والمنهج الأحمد أن الشمس بن عبد الهادي المذكور قرأ الفقه على مجد الدين الحراني وهو الإمام الفقيه مجد الدين أبو الفداء إسماعيل بن محمد بن إسماعيل بن الفراء الحراني ثم الدمشقي "المتوفى بها سنة تسع وعشرين وسبعمائة عن أربع وثمانين سنة" فلعله تفقه بهما والله أعلم. "الطهطاوي".

4 وصوابه "يواقف" بتقديم القاف على الفاء كما في عبارة الصلاح الصفدي المنقولة عنه في بغية الوعاة أي يقف معه. "الطهطاوي".

5 وسماه تنقيح التحقيق في أحاديث التعليق وهو مفيد جدًّا لمن يعني بأحاديث الأحكام محص به الأصل واختصره وأبدى ما لابن الجوزي من الأوهام في كتابه "التحقيق في أحاديث التعليق" الذي اشترط فيه على نفسه أن يخرج ما ذكره فقهاء المذاهب تعليقًا من الأحاديث ويتكلم عليها من غير تعصب لمذهب على مذهب.

6 الدرر الكامنة 3/ 38 "2781".
ইবনে আব্দিল হাদী ১: অনন্য ইমাম, মুহাদ্দিস, হাফিজ, সুদক্ষ, পারদর্শী ফকীহ, ক্বারী, ব্যাকরণবিদ, ভাষাবিদ ও বহুবিদ্যায় পারদর্শী শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দিল হাদী ইবনে আব্দুল হামীদ ইবনে আব্দিল হাদী ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি আল-হাম্বালী; তিনি ছিলেন অন্যতম মেধাবী ব্যক্তিত্ব।

তিনি ৭০৫ হিজরী বা ৭০৬ হিজরীর রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইবনে আব্দুল দায়িম২ ও তাঁর সমসাময়িকদের নিকট হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি ইবনে মুসলিমের৩ নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং ইবনে তাইমিয়ার নিকট যাতায়াত করতেন। তিনি হাদীস, ফিকহ, উসুল এবং আরবী ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। আস-সাফাদী বলেন: যদি তিনি বেঁচে থাকতেন তবে তিনি এক বিস্ময়কর নিদর্শনে পরিণত হতেন। আমি যখনই তাঁর সাথে দেখা করতাম, তাঁকে সাহিত্যিক মাসআলা এবং আরবী ভাষার সূক্ষ্ম বিষয়াবলী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম, তখন তিনি প্রবহমান ঝরনার মতো উত্তর দিতেন। আমি দেখতাম যে তিনি বর্ণনাকারীদের নামের বিষয়ে আল-মিযযীর সাথে পর্যালোচনা৪ করতেন এবং তাঁর ভুল সংশোধন করে দিতেন, আর আল-মিযযী তা গ্রহণ করতেন। ইবনে কাসীর বলেন: তিনি ছিলেন হাফিজ, মহাজ্ঞানী ও সমালোচক। তিনি এমন সব জ্ঞান অর্জন করেছিলেন যেখানে বড় বড় শাইখ ও বরেণ্য ব্যক্তিরাও পৌঁছাতে পারেননি। তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি হাদীসের ইল্লত (সূক্ষ্ম ত্রুটি), সূত্র ও বর্ণনাকারীদের বিষয়ে পাহাড়তুল্য ছিলেন এবং তাঁর অনুধাবন শক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর ও মেধা ছিল অত্যন্ত তীক্ষ্ণ। আল-মিযযী বলেন: আমি যখনই তাঁর সাথে দেখা করেছি, তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছি; আয-যাহাবীও অনুরূপ কথা বলেছেন। তিনি সাদরিয়্যাহ ও গিয়াসিয়্যাহ মাদরাসায় পাঠদান করেছেন। তিনি আত-তাসহীল এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ফিকহ শাস্ত্রে আল-আহকাম, কবর যিয়ারত সংক্রান্ত মাসআলায় আস-সুবকীর প্রতিবাদে "আস-সারিমুল মুনকী", আল-ইলমাম এর সংক্ষিপ্ত রূপ "আল-মুহাররার", ইবনুল হাজিবের মুখতাসার-এর হাদীসসমূহের উপর আলোচনা, ফিকহের কিতাবসমূহের বিন্যাস অনুযায়ী "আল-ইলাল" এবং "আত-তাফসীরুল মুসনাদ" (যা তিনি সমাপ্ত করতে পারেননি) রচনা করেন। এছাড়াও তিনি ইবনুল জাওযীর "আত-তালীক" সংক্ষিপ্ত করেন এবং তাতে সংযোজন৫ করেন। তিনি ৭৪৪ হিজরীর জুমাদাল উলা মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

আস-সুবকী ৬: ইমাম, ফকীহ, মুহাদ্দিস, হাফিজ, মুফাসসির, উসূলবিদ, ধর্মতত্ত্ববিদ, ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদ।

--------------------------------------------

১ আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/১০২ "৩৫২১"।

২ এখানে আবু আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল দায়িম (মৃত্যু ৬৬৭ হি.) উদ্দেশ্য নন, কারণ ইবনে আব্দিল হাদী তাঁকে পাননি; বরং এখানে তাঁর ছেলে আবু বকর ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল দায়িম (মৃত্যু ৭১৮ হি.) উদ্দেশ্য। হাফিজ আল-হুসাইনী তাঁর পরিশিষ্টে যেভাবে বর্ণনা করেছেন— "আবু বকর ইবনে আব্দিল দায়িম থেকে"— সেভাবে বললে আরও ভালো হতো। (আত-তাহতাভী)।

৩ লাম বর্ণে তাশদীদসহ, যেমনটি আদ-দুরারুল কামিনাহ-তে এসেছে। তিনি দামেস্কের হাম্বালী মাযহাবের প্রধান বিচারক শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে মালিক ইবনে মাজরূ' ইবনে জাফর আস-সালিহী (মদীনা মুনাওয়ারায় ৭২৬ হিজরীতে ৬৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন)। আমি ইবনে রাজাব-এর 'তাবাকাতুল হুফফাজ' এবং 'আল-মানহাজুল আহমাদ'-এ দেখেছি যে, উল্লিখিত শামস ইবনে আব্দিল হাদী মাজদুদ্দীন আল-হাররানীর নিকট ফিকহ পড়েছেন। তিনি হলেন ইমাম ফকীহ মাজদুদ্দীন আবু ফদা ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইবনুল ফাররা আল-হাররানী, যিনি পরবর্তীতে দামেস্কী হিসেবে পরিচিত হন (সেখানেই ৭২৯ হিজরীতে ৮৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন)। সম্ভবত তিনি উভয়ের নিকট ফিকহ শিখেছেন। আল্লাহ অধিক অবগত। (আত-তাহতাভী)।

৪ এর সঠিক রূপ হলো "ইউওয়াকিফু" (يواقف), অর্থাৎ ক্বাফ বর্ণটি ফা বর্ণের আগে আসবে, যেমনটি সালাহ আস-সাফাদীর উদ্ধৃতিতে বুগইয়াতুল উয়াত-এ বর্ণিত হয়েছে; অর্থাৎ তিনি তাঁর সাথে পর্যালোচনা করার জন্য বিরতি নিতেন। (আত-তাহতাভী)।

৫ এবং তিনি এর নাম দিয়েছেন "তানকীহুত তাহকীক ফী আহাদীসিত তালীক"। এটি আহকামুল হাদীস নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তিনি মূল কিতাবটিকে যাচাই-বাছাই করেছেন, সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং ইবনুল জাওযী তাঁর "আত-তাহকীক ফী আহাদীসিত তালীক" গ্রন্থে যেসব ভুলের শিকার হয়েছিলেন তা স্পষ্ট করেছেন। উক্ত কিতাবে ইবনুল জাওযী নিজের উপর শর্তারোপ করেছিলেন যে, ফকীহগণ তালীক হিসেবে যেসব হাদীস উল্লেখ করেছেন তিনি সেগুলো তখরীজ করবেন এবং কোনো মাযহাবের প্রতি পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই সেগুলোর উপর আলোচনা করবেন।

৬ আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/৩৮ "২৭৮১"।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৩৪)
الأديب المجتهد تقي الدين أبو الحسن علي بن عبد الكافي بن علي بن تمام بن يوسف بن موسى بن تمام بن حامد بن يحيى بن عمر بن عثمان بن علي بن مسوار بن سوار بن سليم شيخ الإسلام إمام العصر:

ولد في صفر سنة ثلاث وثمانين وستمائة، وأخذ الفقه عن ابن الرفعة والحديث عن الشرف الدمياطي والقراآت عن التقي الصائغ والأصلين والمعقول عن العلاء الباجي والخلاف والمنطق عن السيف البغدادي1 والنحو عن أبي حيان والتصوف عن التاج بن عطاء وسمع من ابن الصواف وعدة وأقبل على التصنيف والفتيا وصنف أكثر من مائة وخمسين مصنفا وتصانيفه تدل على تبحره في الحديث وغيره وسعة باعه في العلوم وتخرج به فضلاء العصر وولي قضاء الشام بوفاة الجلال القزويني وخرج له الحافظ شهاب الدين أبو العباس أحمد بن أيبك الدمياطي، ولما توفي المزي عينت مشيخة دار الحديث الأشرفية للذهبي فقيل إن شرط واقفها أن يكون الشيخ أشعري العقيدة والذهبي متكلم فيه فوليها السبكي قال ولده: والذي نراه أنه ما دخلها أعلم منه ولا أحفظ من المزي ولا أورع من النووي2 وابن الصلاح قال: وليس بعد المزي والذهبي أحفظ منه، ونقل لنا أنه نظم في دار الحديث المذكور قوله:

وفي دار الحديث لطيف معنى … أحن إلى جوانحها وآوي

لعلي أن أمسَّ بحرِّ وجهي … محلًّا مسه قدم النواوي

توفي بمصر سنة ست وخمسين وسبعمائة.

البرزالي 3 س الإمام الحافظ مفيد الآفاق مؤرخ العصر علم الدين أبو محمد القاسم ابن البهاء محمد بن يوسف ابن الحافظ زكي الدين محمد بن يوسف الدمشقي:

ولد في جمادى الأولى سنة خمس وستين وستمائة وسمع كثيرًا ورحل وأمعن في طلب الحديث مع الإتقان والفضيلة وخرج لنفسه معجمًا في سبعة مجلدات عن أكثر من ثلاث آلاف شيخ، وفيه يقول الذهبي:

إن رمت تفتيش الخزائن كلها

…

وظهور أجزاء بدت وعوالي

ونعوت أشياخ الوجود وما رووا

…

طالع أو أسمع معجم البرزالي

--------------------------------------------

1 والذي في طبقات ابنه التاج السبكي "عن الشرف البغدادي" ومثله في الدرر الكامنة. "الطهطاوي".

2 شارح مسلم نسبة إلى "نوي" بأرض الشام، وأما النووي المذكور في ص "80" فمنسوب إلى "نوى" من أعمال القليوبية ذكره ابن قاضي شهبة على ما أفاده مسندة العصر الأستاذ السيد أحمد رافع الطهطاوي حفظه الله.

3 الدرر الكامنة 3/ 143 "3242".
সাহিত্যিক মুজতাহিদ তাক্বিউদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে আবদুল কাফি ইবনে আলী ইবনে তাম্মাম ইবনে ইউসুফ ইবনে মূসা ইবনে তাম্মাম ইবনে হামিদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমর ইবনে উসমান ইবনে আলী ইবনে মিসওয়ার ইবনে সাওয়ার ইবনে সুলাইম, শায়খুল ইসলাম, যুগের ইমাম:

তিনি ৬৮৩ হিজরির সফর মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইবনুর রিফআহ-এর নিকট ফিকহ, শারাফ আদ-দুমইয়াতী-এর নিকট হাদিস, তাক্বী আস-সায়িগ-এর নিকট ক্বিরাত, আলা আল-বাজী-এর নিকট উসুল ও যৌক্তিক বিদ্যা (মাক্বুলাত), সাইফ আল-বাগদাদী১-এর নিকট বিতর্ক ও যুক্তিবিদ্যা (মানতিক) এবং আবু হাইয়্যান-এর নিকট ব্যাকরণ ও তাজ ইবনে আতা-এর নিকট তাসাউফ গ্রহণ করেন। তিনি ইবনুল সাওয়াফ এবং আরও অনেকের থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি গ্রন্থরচনা ও ফতোয়া প্রদানের প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং দেড়শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। তার রচনাগুলো হাদিস ও অন্যান্য শাস্ত্রে তার গভীর জ্ঞান এবং বিভিন্ন বিজ্ঞানে তার প্রশস্ত পদচারণার প্রমাণ দেয়। সমকালীন বহু গুণীজন তার কাছে শিক্ষা লাভ করেছেন। জালাল আল-ক্বাযভীনী-এর মৃত্যুর পর তিনি শামের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। হাফেজ শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আইবাক আদ-দুমইয়াতী তার মাশয়াখাত (শিক্ষক তালিকা) সংকলন করেছেন। যখন আল-মিযযী ইন্তেকাল করলেন, দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যাহ-এর প্রধান শায়খের পদের জন্য আয-যাহাবীকে মনোনীত করা হয়েছিল। তখন বলা হলো যে, এর প্রতিষ্ঠাতার শর্ত ছিল যে শায়খকে অবশ্যই আশআরী আকিদার হতে হবে, আর আয-যাহাবীর বিষয়ে কিছু কথা রয়েছে। ফলে আস-সুবকী এই দায়িত্ব লাভ করেন। তার পুত্র বলেন: আমাদের অভিমত এই যে, সেখানে তার চেয়ে বড় কোনো আলেম প্রবেশ করেননি, আল-মিযযী অপেক্ষা বড় কোনো হাফেজ প্রবেশ করেননি এবং আন-নাওয়াবী২ ও ইবনুস সালাহ অপেক্ষা বেশি পরহেযগার কেউ প্রবেশ করেননি। তিনি আরও বলেন: আল-মিযযী ও আয-যাহাবীর পর তার চেয়ে বড় কোনো হাফেজ আর নেই। আমাদের কাছে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি উক্ত দারুল হাদিস সম্পর্কে এই কবিতাটি রচনা করেছেন:

দারুল হাদিসের মাঝে এক সূক্ষ্ম তাৎপর্য রয়েছে … যার প্রতিটি প্রান্তের জন্য আমি ব্যাকুল হয়ে থাকি এবং আশ্রয় খুঁজি

যাতে আমি আমার তপ্ত ললাট দিয়ে সেই স্থানটি স্পর্শ করতে পারি … যেখানে আন-নাওয়াবীর পা স্পর্শ করেছিল

তিনি ৭৫৬ হিজরিতে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন।

আল-বিরযালী ৩: ইমাম, হাফেজ, দিগন্তের উপকারকারী, যুগের ঐতিহাসিক, আলম আল-দীন আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইবনুল বাহা মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনুল হাফেজ যাকিউদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আদ-দিমাশকী:

তিনি ৬৬৫ হিজরির জুমাদাল উলা মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছেন, সফর করেছেন এবং অত্যন্ত নিখুঁত ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে হাদিস অন্বেষণে নিমগ্ন ছিলেন। তিনি নিজের জন্য সাত খণ্ডে একটি 'মুজাম' সংকলন করেন যাতে তিন হাজারেরও বেশি শায়খের বর্ণনা রয়েছে। তার সম্পর্কে আয-যাহাবী বলেন:

যদি তুমি সকল জ্ঞান-ভাণ্ডার অনুসন্ধান করতে চাও

…

এবং প্রকাশিত প্রাচীন ও উচ্চমানের পাণ্ডুলিপিগুলো পেতে চাও

আর পৃথিবীর শায়খদের গুণাবলি ও তারা যা বর্ণনা করেছেন তা জানতে চাও

…

তবে আল-বিরযালীর 'মুজাম' পাঠ করো অথবা শ্রবণ করো।

--------------------------------------------

১. তার পুত্র তাজ আস-সুবকীর 'তাবাক্বাত' গ্রন্থে রয়েছে "শারাফ আল-বাগদাদী থেকে", একইভাবে 'আদ-দুরার আল-কামিনাহ' গ্রন্থেও এরূপ রয়েছে। "আত-তাহতাবী"।

২. মুসলিম শরীফের ভাষ্যকার, যিনি শামের "নাওয়া" অঞ্চলের অধিবাসী। আর পৃষ্ঠা "৮০"-তে উল্লেখিত আন-নাওয়াবী কালইয়ুবিয়্যাহর "নাওয়া" অঞ্চলের সাথে সম্পৃক্ত, যেমনটি ইবনে ক্বাযী শুহবাহ উল্লেখ করেছেন এবং যুগের মুসনিদ উস্তাদ সাইয়্যিদ আহমাদ রাফে' আত-তাহতাবী (আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন) আমাদের জানিয়েছেন।

৩. আদ-দুরার আল-কামিনাহ ৩/১৪৩ (৩২৪২)।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৩৫)
ولي تدريس الحديث بالنورية وغيرها، وله تاريخ ذيل1 به على أبي شامة وكان قوي المذاكرة عارفًا بالرجال لا سيما شيوخ زمانه وأهل عصره ولم يخلف في معناه مثله، مات بمكة في ذي الحجة سنة تسع وثلاثين وسبعمائة رحمه الله وإيانا.

ابن مظفر س الإمام المحدث المسند الحافظ 2 المحرر شهاب الدين أبو العباس أحمد ابن مظفر بن أبي محمد بن مظفر بن بدر بن حسن بن مفرح بن بكار النابلسي سبط الحافظ زين الدين خالد النابلسي:

ولد سنة خمس وسبعين وستمائة وسمع من الفخر وخلائق نحو السبعمائة، قال الذهبي في المعجم الكبير: وله معرفة وحفظ وقال في المختص: الحافظ المحرر، وقال البرزالي: محدث فاضل على ذهنه فضيلة وفوائد كثيرة تتعلق بهذا الشأن، وقال الحسيني: كان من أئمة هذا الشأن رحل وحصل وألف وخرج وله تاريخ3 مات في ربيع الأول سنة ثمان وخمسين وسبعمائة.

أحمد بن أيبك 4 س ابن عبد الله الحسامي الدمياطي الحافظ المخرج المفيد محدث مصر شهاب الدين أبو الحسين:

ولد سنة سبع وسبعمائة5 وسمع من حسن الكردي وخلائق وخرج وانتقى وأفاد وله مجاميع وذيل في الوفيات على الحسيني وشرع في تخريج أحاديث الرافعي سمع عليه أبو الخير بن العلائي ومات سنة تسع وأربعين وسبعمائة في رمضان بالطاعون رحمه الله تعالى.

ابن رُشيد 6 ف الإمام المحدث ذو الفنون محب الدين أبو عبد الله محمد بن عمر بن محمد بن عمر بن محمد بن إدريس بن سعيد بن مسعود بن حسن بن محمد بن عمر بن رشيد الفهري السبتي:

قال لسان الدين بن الخطيب في تاريخ غرناطة: كان إمامًا مضطلعًا

--------------------------------------------

1 وقد بدأ فيه من سنة ولادته التي هي سنة خمس وستين وستمائة كما وجده الحافظ ابن ناصر الدين بخطه وهي سنة وفاة الإمام أبي شامة قال الحافظ الذهبي: وهو الذي حبب إليّ طلب الحديث فإنه رأى خطي فقال خطك يشبه خط المحدثين فأثر قوله فيّ وسمعت منه وتخرجت به في أشياء. "الطهطاوي".

2 الدرر الكامنة "1/ 186 "799".

3 قال ابن ناصر الدين: له مصنف في ذكر أبي هريرة رضي الله عنه ومصنف في ترجمة الحافظ أبي القاسم بن عساكر وكتب كثيرا وعلق وألق وخرج وطبق. اهـ.

4 الدرر الكامنة "1/ 67 "299".

5 والذي تقدم في ذيل الحافظ الحسيني أنه ولد سنة سبعمائة وهو الصواب الموافق لما في الدرر الكامنة وحسن المحاضرة للمؤلف. "الطهطاوي".

6 بالياء المثناة التحتية بعد الشين المعجمة كما وقع في الدرر الكامنة بخط البرهان البقاعي والديباج المذهب لابن فرحون، وقد سبق في ذيل ابن فهد ص67 ضبط الراء بالضم. انظر الدرر الكامنة 4/ 70 "4288".
তিনি নুরিয়া ও অন্যান্য মাদরাসায় হাদীস পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার একটি ইতিহাস গ্রন্থ রয়েছে, যা তিনি আবু শামার ইতিহাসের পরিশিষ্ট হিসেবে লিখেছেন। তিনি অত্যন্ত প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ও গভীর পর্যালোচক ছিলেন; বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন, বিশেষত নিজ সময়ের মাশায়েখ ও সমসাময়িকদের ব্যাপারে। স্বীয় শাস্ত্রীয় অভিজ্ঞতায় তিনি নিজের মতো কাউকে রেখে যাননি। তিনি ৭৩৯ হিজরীর যিলহজ মাসে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ তার ও আমাদের প্রতি রহম করুন।

ইবনে মুযাফফর (স): ইমাম, মুহাদ্দিস, মুসনিদ, হাফেজ, গবেষক শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে মুযাফফর ইবনে আবু মুহাম্মাদ ইবনে মুযাফফর ইবনে বদর ইবনে হাসান ইবনে মুফাররিহ ইবনে বাক্কার আন-নাবুলুসী; তিনি হাফেজ যাইনুদ্দীন খালিদ আন-নাবুলুসীর দৌহিত্র।

তিনি ৬৭৫ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং আল-ফাখর ও প্রায় সাতশ’ মাশায়েখের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। আয-যাহাবী ‘আল-মুজামুল কাবীর’ গ্রন্থে বলেছেন: ‘তার জ্ঞান ও মুখস্থশক্তি ছিল।’ ‘আল-মুখতাস’ গ্রন্থে বলেছেন: ‘হাফেজ ও গবেষক’। আল-বিরযালী বলেছেন: ‘একজন বিদগ্ধ মুহাদ্দিস, যার স্মৃতিতে এই শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট অনেক জ্ঞান ও উপাত্ত ছিল।’ আল-হুসাইনী বলেছেন: ‘তিনি এই শাস্ত্রের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; তিনি সফর করেছেন, জ্ঞান অর্জন করেছেন, গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তাখরীজ করেছেন। তার একটি ইতিহাস গ্রন্থ রয়েছে।’ তিনি ৭৫৮ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

আহমাদ ইবনে আইবাক (স) ইবনে আবদুল্লাহ আল-হুসামি আদ-দামিয়াতি; হাফেজ, মুখাররিজ, মুফিদ এবং মিসরের মুহাদ্দিস শিহাবুদ্দীন আবুল হুসাইন।

তিনি ৭০৭ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। হাসান আল-কুর্দি ও অসংখ্য মাশায়েখের নিকট থেকে হাদীস শুনেছেন। তিনি তাখরীজ ও ইনতিকাব (নির্বাচিত সংকলন) করেছেন এবং জ্ঞান বিতরণ করেছেন। তার অনেক সংকলন রয়েছে এবং আল-হুসাইনীর ‘আল-ওয়াফায়াত’ এর উপর একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন। তিনি আর-রাফেয়ীর হাদীসসমূহের তাখরীজ শুরু করেছিলেন। আবুল খায়ের ইবনুল আলাইয়ী তার নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। তিনি ৭৪৯ হিজরীর রমজান মাসে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তায়ালা তাকে রহম করুন।

ইবনে রুশাইদ (ফ): ইমাম, মুহাদ্দিস, বহুমুখী জ্ঞানের অধিকারী মুহিব্বুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইদরীস ইবনে সাঈদ ইবনে মাসউদ ইবনে হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে রুশাইদ আল-ফিহরী আস-সাবতী।

লিসানুদ্দীন ইবনুল খাতীব ‘তারীখে গারনাতা’ গ্রন্থে বলেছেন: তিনি একজন দক্ষ ইমাম ছিলেন।

--------------------------------------------

১. তিনি এটি তার জন্ম সাল ৬৬৫ হিজরী থেকে শুরু করেছিলেন, যেমনটি হাফেজ ইবনে নাসিরুদ্দীন তার নিজ হস্তাক্ষরে পেয়েছেন; আর এটিই ইমাম আবু শামার মৃত্যু সাল। হাফেজ আয-যাহাবী বলেন: ‘তিনিই আমার মধ্যে হাদীস অন্বেষণের আগ্রহ তৈরি করেছিলেন। তিনি আমার হাতের লেখা দেখে বলেছিলেন, তোমার হাতের লেখা মুহাদ্দিসদের লেখার মতো। তার এই কথাটি আমার ওপর প্রভাব ফেলেছিল। এরপর আমি তার নিকট হাদীস শুনেছি এবং বিভিন্ন বিষয়ে তার নিকট থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করেছি।’ - আত-তহতাভী।

২. আদ-দুরাকুল কামিনাহ (১/১৮৬, ৭৯৯)।

৩. ইবনে নাসিরুদ্দীন বলেন: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর আলোচনায় তার একটি গ্রন্থ আছে, হাফেজ আবুল কাসিম ইবনে আসাকিরের জীবনীতে একটি গ্রন্থ আছে এবং তিনি প্রচুর লিখেছেন, টীকা প্রদান করেছেন, গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তাখরীজ করেছেন। সমাপ্ত।

৪. আদ-দুরাকুল কামিনাহ (১/৬৭, ২৯৯)।

৫. হাফেজ আল-হুসাইনীর পরিশিষ্টে যা উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি ৭০০ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেছেন, সেটিই সঠিক এবং লেখকের ‘আদ-দুরাকুল কামিনাহ’ ও ‘হুসনুল মুহাদারা’ গ্রন্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। - আত-তহতাভী।

৬. শীন বর্ণের পরে দুই নুকতা বিশিষ্ট ইয়া-সহ, যেমনটি বুরহান আল-বিকায়ীর হস্তাক্ষরে ‘আদ-দুরাকুল কামিনাহ’ এবং ইবনে ফারহুনের ‘আদ-দিবাজুল মুযাহহাব’ গ্রন্থে পাওয়া যায়। ইবনে ফাহাদের পরিশিষ্টের ৬৭ পৃষ্ঠায় রা-তে পেশ-সহ (রুশাইদ) ضبط বা উচ্চারণ বর্ণিত হয়েছে। দেখুন: আদ-দুরাকুল কামিনাহ (৪/৭০, ৪২৮৮)।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৩৬)
بالعربية واللغة والعروض فريد دهره عدالة وجلالة وحفظًا وأدبًا عالي الإسناد صحيح النقل تام العناية بصناعة الحديث قيمًا عليها بصيرًا بها محققًا فيها ذاكرًا للرجال فقيهًا ذاكرًا للتفسير ريان من الأدب حافظًا للأخبار والتواريخ مشاركًا في الأصلين عارفًا بالقراآت حسن الخلق كثير التواضع قرأ على ابن أبي الربيع وحازم القرطاجني ورحل فأخذ بمصر والشام والحجاز عن الدمياطي والقطب القسطلاني وخلائق ضمنهم رحلته التي سماها "ملء العيبة"1 وهي ست مجلدات قلت: وقفت عليها بمكة وعلقت منها فوائد واستفدت منها الحديث المسلسل بالنحاة، وعاد إلى غرناطة فنشر بها العلم، وقال ابن حجر طلب الحديث فمهر فيه وألف "إيضاح المذاهب فيمن يطلق عليه اسم الصاحب" و"ترجمان التراجم على أبواب البخاري" أطال فيه النفس ولم يكمل مولده سنة سبع وخمسين وستمائة بسبتة ومات بفاس في محرم سنة إحدى وعشرين وسبعمائة.

نجم الدين الدهلي 2 س أبو الخير سعيد بن عبد الله الحريري الجلالي:

قال الصلاح الصفدي في تاريخه: الحافظ الإمام العالم: نشأ ببغداد وارتحل إلى مصر وأقام بدمشق وعمل في الحديث عملا جيدا ليس اليوم في الشام مثله في الفرائض3 وأسماء الرجال وهو حافظ الشام بعد الذهبي، وله تآليف منها "تفتت الأكباد في واقعة بغداد" وقال الذهبي سمع المزي من السروجي عنه، ولد سنة اثنتي عشرة وسبعمائة ومات في خامس عشري من ذي القعدة سنة تسع وأربعين وسبعمائة وبالطاعون.

الشهاب الهكاري 4 ك أحمد بن أحمد بن أحمد بن الحسين بن موسى بن موسك الكردي الأصل الهكاري الشيخ شهاب الدين أبو سعيد بن الشهاب أبي الحسن: 5

سمع من ابن الصواف ووزيره وعني بطلب الحدث، قال الحافظ أبو الفضل بن حجر: وكان عرافًا بالرجال - جمع كتابًا في رجال الصحيحين- موصوفًا بالدين والخير متواضعًا وأعاد بالجامع الحاكمي، مات في ثامن من جمادى الآخرة سنة ثلاث وستين وسبعمائة6.

--------------------------------------------

1 وهي رحلته المشرقية الكبرى التي سماها "ملء العيبة فيما جمع بطول الصحبة في الوجهتين الكريمتين مكة وطيبة" قال ابن حجر في الدرر الكامنة: صنف كتاب "الرحلة المشرقية" في ستة مجلدات فيه من الفوائد شيء كثير وقفت عليه وانتخبت منه. اهـ.

2 الدرر الكامنة 2/ 81 "1815".

3 في النسخة التيمورية "في التراجم" وهو الأظهر.

4 الدرر الكامنة 1/ 61 "266".

5 وصوابه "أبي الحسين" كما في الدرر الكامنة في ترجمته وترجمة أبيه. "الطهطاوي".

6 وقال ابن حجر: ووهم من أرخه سنة اثنتين.
আরবি ভাষা, লুগাত এবং ইলমুল আরুযে (ছন্দতত্ত্ব) তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের অনন্য ব্যক্তিত্ব। ইনসাফ, মহত্ব, হিফজ এবং আদব-সাহিত্যে তিনি ছিলেন সুউচ্চ সনদের অধিকারী, নিখুঁত বর্ণনাকারী এবং হাদিস শাস্ত্রের গভীর অনুরাগী ও বিশেষজ্ঞ। তিনি ছিলেন এই শাস্ত্রের ধারক, বিচক্ষণ পর্যালোচক এবং বর্ণনাকারীদের (রিজাল) জীবনীর স্মরণকারী। তিনি ফিকহ ও তাফসিরের প্রাজ্ঞ পণ্ডিত এবং আদব-সাহিত্যে ঋদ্ধ ছিলেন। তিনি ঐতিহাসিক সংবাদ ও ইতিহাসের হাফেজ ছিলেন। তিনি উভয় আসলের (উসুলুল ফিকহ ও উসুলুদ দ্বীন) বিশেষজ্ঞ এবং কিরাতশাস্ত্রে অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি ছিলেন সুন্দর চরিত্রের অধিকারী ও অত্যন্ত বিনয়ী। তিনি ইবনুল আবিদ আর-রাবি ও হাযেম আল-কারতাজানির নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন। এরপর তিনি মিশর, শাম ও হিজাজ সফর করেন এবং আদ-দুমইয়াতি, কুতুব আল-কাসতালানি এবং আরও অনেক শায়খের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেন, যাদের কথা তিনি তাঁর ছয় খণ্ডের ‘মিলউল আইবা’ নামক সফরনামায় ১ উল্লেখ করেছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আমি মক্কায় এটি দেখেছি এবং তা থেকে বিভিন্ন ফায়দা লিখে রেখেছি এবং এটি থেকে নাহুবিদদের মাধ্যমে বর্ণিত মুসালসাল হাদিস দ্বারা উপকৃত হয়েছি। তিনি গ্রানাডায় ফিরে এসে ইলম প্রচার করেন। ইবনে হাজার বলেন: তিনি হাদিসের জ্ঞান অর্জন করেন এবং তাতে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তিনি ‘ঈজাহুল মাযাহিব ফীমান ইউতলাকু আলাইহিস সামুস সাহিব’ এবং বুখারির অধ্যায়গুলোর ব্যাখ্যা সম্বলিত ‘তারজুমানুত তারাজিম আলা আবওয়াবিল বুখারি’ রচনা করেন; যাতে তিনি দীর্ঘ আলোচনা করেছেন কিন্তু তা সমাপ্ত করতে পারেননি। তাঁর জন্ম ৬৬৭ হিজরিতে সেউতায় এবং মৃত্যু ৭১১ হিজরির মহররম মাসে ফেসে।

নাজমুদ্দীন আদ-দেহলবি ২ সা. আবুল খায়ের সাঈদ বিন আবদুল্লাহ আল-হারিরি আল-জালালি:

সালাহ আস-সাফাদি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে বলেন: হাফেজ, ইমাম, আলিম: তিনি বাগদাদে বড় হয়েছেন এবং মিশরে সফর করেছেন ও দামেস্কে বসবাস করেছেন। তিনি হাদিস শাস্ত্রে অত্যন্ত উত্তম কাজ করেছেন। ফারায়েজ ৩ (উত্তরাধিকার আইন) এবং বর্ণনাকারীদের নামের ক্ষেত্রে আজ শামে তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। তিনি যাহাবির পর শামের হাফেজ। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে ‘তাফাত্তুতুল আকবাদ ফী ওয়াকিআতি বাগদাদ’। যাহাবি বলেন: আস-সারুজি তাঁর সূত্রে আল-মিজ্জির নিকট থেকে শুনেছেন। তিনি ৭১২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৪৯ হিজরির যিলকদ মাসের পঁচিশ তারিখে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

আশ-শিহাব আল-হাক্কারি ৪ কা. আহমদ বিন আহমদ বিন আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন মুসা বিন মুসাক আল-কুর্দি আল-আসল আল-হাক্কারি, শায়খ শিহাবুদ্দীন আবু সাঈদ বিন আশ-শিহাব আবুল হাসান: ৫

তিনি ইবনুস সাওয়াফ ও তাঁর উজিরের নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন এবং হাদিস অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করেছেন। হাফেজ আবুল ফজল বিন হাজার বলেন: তিনি বর্ণনাকারীদের (রিজাল) বিষয়ে অভিজ্ঞ ছিলেন—তিনি সহীহাইনের (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনাকারীদের নিয়ে একটি কিতাব সংকলন করেছেন—তিনি দ্বীনদারি ও কল্যাণের গুণাবলি সম্পন্ন এবং বিনয়ী ছিলেন। তিনি আল-জামি আল-হাকিমিতে পাঠ দান করতেন। তিনি ৭৬৩ হিজরির জমাদিউল আখের মাসের আট তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। ৬

--------------------------------------------

১ এটি তাঁর বৃহৎ প্রাচ্য সফরনামা যার নাম ‘মিলউল আইবা ফীমা জুমিআ বিতুলিস সুহবাহ ফীল ওয়াজহাইতিল কারিমাতাইন মাক্কাতা ওয়া তইবাহ’। ইবনে হাজার আদ-দুরারুল কামিনাহ গ্রন্থে বলেন: তিনি ছয় খণ্ডে ‘আর-রিহলাতুল মাশরিকিয়্যাহ’ নামক গ্রন্থটি রচনা করেছেন যাতে প্রচুর ফায়দা রয়েছে। আমি এটি দেখেছি এবং তা থেকে চয়ন করেছি। সমাপ্ত।

২ আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/৮১ "১৮১৫"।

৩ তাইমুরিয়া পান্ডুলিপিতে "তরাজিম" (জীবনী) শব্দ রয়েছে, যা অধিক স্পষ্ট।

৪ আদ-দুরারুল কামিনাহ ১/৬১ "২৬৬"।

৫ সঠিক হলো "আবুল হুসাইন", যেমনটি আদ-দুরারুল কামিনাহ গ্রন্থে তাঁর এবং তাঁর পিতার জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে। "আত-তাহতাবি" ।

৬ ইবনে হাজার বলেন: যারা তাঁর মৃত্যুর তারিখ ৭৬২ হিজরি বলেছেন, তারা ভুল করেছেন।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৩৭)
ابن حبيب 1 ك المحدث الحافظ أبو القاسم عمر بن حسن بن عمر بن حبيب الدمشقي الحلبي:

ولد سنة ثلاث وستين وستمائة وسمع من الفخر وعدة وعني بالرواية وعمل لنفسه فهرسًا حافلًا وخرج له الذهبي معجما، وكان خبيرا بالحديث والأسانيد والمتون وغيره أتقن منه، درس الحديث بحلب وولي الحسبة بها ومات سنة ست وعشرين وسبعمائة.

السراج القَزويني 2 ك الحافظ الكبير محدث العراق سراج الدين عمر بن علي بن عمر:

ولد سنة ثلاث وثمانين وستمائة وعني بالحديث وسمع من الرشيد أبي سعد بن أبي القاسم ومحمد بن عبد المحسن الدواليبي وخلائق وصنف التصانيف وعمل الفهرست أجاد فيه ومات سنة خمس وسبعين3 وسبعمائة، روى عنه المجد الشيرازي صاحب القاموس.

أمين الدين الواني 4 ك محمد بن إبراهيم بن محمد بن أحمد الدمشقي الحنفي أبو عبد الله:

ولد سنة أربع وثمانين وستمائة وطلب الحديث فسمع من ابن عساكر وغيره وتعب وحصل، قال الذهبي: كان من أنبه الطلبة وأجودهم خرج وأفاد ورحل مرات وقال ابن رافع طبق الدنيا بالسماع وصار عالما حافظا وقال البرزالي: كان يعرف العوالي ويفيدها الرجال مات في ربيع الأول سنة خمس وثلاثين وسبعمائة.

ابن المرابط 5 ك الحافظ أبو عمرو محمد بن عثمان بن يحيى بن أحمد بن عبد الرحمن بن ظافر الغرناطي:

ولد في رجب سنة ثمانين وستمائة وسمع من ابن الزبير سنن النسائي الكبرى وتلا عليه بالسبع وقدم مصر فسمع من الدمياطي وغيره وسكن دمشق وسمع منه المزي والحفاظ وأثنى عليه الحسيني وخرج لشيخه ابن رشيد أربعين تساعيات فيها تخليط فكأنه ليس بالمتقن6 مات في سنة اثنتين وخمسين وسبعمائة.

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة 3/ 94 "3008".

2 الدرر الكامنة 3/ 106 "3056".

3 ويظهر أن هذه العبارة فيها تحريف وزيادة من قلم ناسخ أو غيره والأصل "سنة خمسين وسبعمائة" وهذا هو الموجود في عبارة الدرر الكامنة التي هي مأخذ عبارة المؤلف فيما يظهر والله أعلم.

كذا في الأصل: في ترجمة أمين الدين الواني "ويفيدها الرجال" وصوابه "للرحال" بالحاء المهملة جمع راحل أي للذين يرحلون إليه للأخذ عنه وعبارة العلم البرزالي الذي نقل المؤلف عنه هذه الجملة "ويفيدها للرحالة" ولعل المراد مطلق من يذهبون إليه للسماع منه. "الطهطاوي".

4 الدرر الكامنة 3/ 178 "3416".

5 الدرر الكامنة 4/ 29 "4111".

6 قال ابن حجر: رأيت جزءا له حط فيه على الذهبي وترجمه ترجمة أفرط في ذمه فيها وتعقبها البرهان بن جماعة على الهامش فالله يرحم الجميع. اهـ. وقد عاب ابن المرابط في جزئه هذا الذهبي بثلبه الناس وذكره لمساوئهم وقال إن ذلك غيبة لا تجوز وإن الجرح قد انقطعت فائدته من رأس الأربعمائة وقسم تاريخ الذهبي لأربعة أقسام قسم منها محض غيبة … إلى آخر ما يذكره.
ইবনে হাবীব ১ ক মুহাদ্দিস হাফিয আবু আল-কাসিম উমর বিন হাসান বিন উমর বিন হাবীব আদ-দিমাশকী আল-হালাবী:

তিনি ৬৬৩ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং আল-ফাখর ও আরও অনেকের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। তিনি বর্ণনা সংগ্রহের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন এবং নিজের জন্য একটি সমৃদ্ধ তালিকা (ফিহরিস্ত) তৈরি করেন। আয-যাহাবী তাঁর জন্য একটি অভিধান (মুজাম) বিন্যস্ত করে দেন। তিনি হাদীস, সনদ এবং মতন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ছিলেন, যদিও অন্যরা তাঁর চেয়ে অধিক সুনিপুণ ছিলেন। তিনি হালবে হাদীস শিক্ষা দান করেন এবং সেখানে হিসবাহ (জননিরাপত্তা ও নৈতিক তদারকি) পদের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৭২৬ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

আস-সিরাজ আল-কাযভীনি ২ ক মহান হাফিয, ইরাকের মুহাদ্দিস সিরাজুদ্দীন উমর বিন আলী বিন উমর:

তিনি ৬৮৩ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং হাদীস শাস্ত্রের প্রতি মনোনিবেশ করেন। তিনি আর-রাশীদ আবু সা'দ বিন আবিল কাসিম, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মুহসিন আদ-দাওয়ালীবি এবং আরও বহু সংখ্যক লোকের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। তিনি বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করেন এবং একটি ফিহরিস্ত তৈরি করেন যাতে তিনি বিশেষ দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। তিনি ৭৭৫৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। আল-কামুস গ্রন্থপ্রণেতা আল-মাজদ আশ-শীরাযী তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।

আমীনুদ্দীন আল-ওয়ানি ৪ ক মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আদ-দিমাশকী আল-হানাফী আবু আব্দুল্লাহ:

তিনি ৬৮৪ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং হাদীস অন্বেষণ করেন। অতঃপর তিনি ইবনে আসাকির ও অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন এবং কঠোর পরিশ্রম করে জ্ঞান অর্জন করেন। আয-যাহাবী বলেন: তিনি ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম মেধাবী ও শ্রেষ্ঠ ছিলেন; তিনি হাদীস বিন্যস্ত করেছেন, শিক্ষা দিয়েছেন এবং বহুবার সফর করেছেন। ইবনে রাফি' বলেন: তিনি শ্রবণের (হাদীস শ্রবণ) মাধ্যমে পৃথিবীকে পূর্ণ করেছেন এবং একজন হাফিয আলিমে পরিণত হয়েছেন। আল-বারযালী বলেন: তিনি উঁচু স্তরের সনদসমূহ (আওয়ালি) চিনতেন এবং মুসাফিরদের তা শিক্ষা দিতেন। তিনি ৭৩৫ হিজরীর রবীউল আউয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনে আল-মুরাবিত ৫ ক হাফিয আবু আমর মুহাম্মাদ বিন উসমান বিন ইয়াহইয়া বিন আহমাদ বিন আব্দুর রহমান বিন যাফির আল-গারনতি:

তিনি ৬৮০ হিজরীর রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইবনে আয-যুবায়েরের নিকট 'সুনান আল-নাসাঈ আল-কুবরা' শ্রবণ করেন এবং তাঁর নিকট সাত কিরাআতে কুরআন পাঠ করেন। তিনি মিসরে আগমন করে আদ-দুমইয়াতি ও অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। তিনি দামেশকে বসবাস করেন এবং তাঁর নিকট থেকে আল-মিযযী ও হাফিযগণ হাদীস শ্রবণ করেন। আল-হুসাইনী তাঁর প্রশংসা করেছেন। তিনি তাঁর উস্তাদ ইবনে রশীদের জন্য চল্লিশটি 'তুসায়িয়্যাত' (নয় জন বর্ণনাকারী সম্বলিত সনদ) বিন্যস্ত করেন যার মধ্যে কিছু বিশৃঙ্খলা ছিল, ফলে মনে হয় তিনি তেমন সুনিপুণ ছিলেন না৬। তিনি ৭৫২ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

--------------------------------------------

১ আদ-দুরার আল-কামিনাহ ৩/ ৯৪ "৩০০৮"।

২ আদ-দুরার আল-কামিনাহ ৩/ ১০৬ "৩০৫৬"।

৩ প্রতীয়মান হয় যে, এই বাক্যে কোনো লিপিকার বা অন্যের কলমের মাধ্যমে বিকৃতি ও পরিবর্ধন ঘটেছে। মূল পাঠ হলো "সাতশ পঞ্চাশ হিজরী", যা আদ-দুরার আল-কামিনাহ-এর ইবারতে পাওয়া যায় এবং দৃশ্যত এটাই লেখকের তথ্যের উৎস। আল্লাহই ভালো জানেন।

মূল পাণ্ডুলিপিতে আমীনুদ্দীন আল-ওয়ানির জীবনীতে এমনটিই রয়েছে: "এবং পুরুষদের (আর-রিজাল) তা শিক্ষা দিতেন", অথচ সঠিক পাঠ হবে "মুসাফিরদের (লির্-রুহহাল) জন্য", যা 'রাহিল' শব্দের বহুবচন; অর্থাৎ যারা তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য সফর করে আসতেন। আল্লামা আল-বারযালী, যাঁর থেকে লেখক এই বাক্যটি উদ্ধৃত করেছেন, তাঁর ইবারত হলো "এবং পর্যটক বা মুসাফিরদের (লির্-রুহহালাহ) তা শিক্ষা দিতেন"। সম্ভবত এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাধারণভাবে যারা তাঁর নিকট হাদীস শ্রবণের জন্য যেতেন। "আত-তাতাবি"।

৪ আদ-দুরার আল-কামিনাহ ৩/ ১৭৮ "৩৪১৬"।

৫ আদ-দুরার আল-কামিনাহ ৪/ ২৯ "৪১১১"।

৬ ইবনে হাজার বলেন: আমি তাঁর একটি পুস্তিকা দেখেছি যেখানে তিনি আয-যাহাবীর সমালোচনা করেছেন এবং তাঁর জীবনী লিখতে গিয়ে নিন্দায় বাড়াবাড়ি করেছেন। বুরহান বিন জামাআহ হাশিয়া বা পার্শ্বটীকায় এর প্রতিবাদ করেছেন। আল্লাহ সকলের প্রতি রহম করুন। ইবনে আল-মুরাবিত তাঁর এই পুস্তিকায় আয-যাহাবীর দোষ ধরেছেন এই বলে যে, তিনি মানুষের সমালোচনা করেন এবং তাদের মন্দ দিকগুলো উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি এমন গীবত যা বৈধ নয় এবং চতূর্থ শতাব্দীর শুরু থেকেই 'জারহ' বা সমালোচনা করার উপযোগিতা শেষ হয়ে গেছে। তিনি আয-যাহাবীর ইতিহাসকে চার ভাগে ভাগ করেছেন, যার একটি অংশ নিছক গীবত ... তাঁর আলোচনার শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৩৮)
‌‌الطبقة الثالثة والعشرون، وعدتهم 11

…

الطبقة الثالثة والعشرون، عدتهم11:

البهاء بن خليل س عبد الله بن محمد بن عبد الله بن أبي بكر بن خليل بن إبراهيم بن يحيى بن أبي عبد الله بن فارس بن أبي عبد الله بن يحيى بن إبراهيم العثماني المكي الشافعي نزيل القاهرة الإمام الفقيه المحدث الحافظ الزاهد القدوة أبو محمد: ولد سنة أربع وتسعين وستمائة وسمع من الرضي وبيبرس العديمي وخلق وقرأ الفقه والقراآت وعني بالحديث ورحل، قال الذهبي في معجمه: قرأ الكثر وكان جيد المعرفة أخذ عنه العراقي والهيثمي ومات بالقاهرة ليلة ثالث من جمادى الأولى سنة سبع وسبعين وسبعمائة.

العلائي 1 س الشيخ الإمام العلامة الحافظ الفقيه ذو الفنون صلاح الدين أبو سعيد خليل بن كيكلدي الشافعي عالم بيت المقدس:

ولد في ربيع الأول سنة أربع وتسعين وستمائة وسمع التقي سليمان وطبقته ولازم البرهان الفزاري والكمال الزملكاني وتخرج به وبرع في الفنون وكان إماما محدثا حافظا متقنا جليلا فقيها أصوليا نحويا، قال الذهبي في المختص: حافظ يستحضر الرجال والعلل وتقدم في هذا الشأن مع صحة الذهن وسرعة الفهم، وقال الحسيني كان إماما في الفقه والأصول والنحو مفننا في علوم الحديث وفنونه علامة فيه عارفا بالرجال علامة في المتون والأسانيد ولم يخلف بعده مثله، وقال الأسنوي كان حافظ زمانه إماما في الفقه وغيره ذكيا نظارا، سئل السبكي من تخلف بعدك فقال العلائي، ألف في الحديث وغيره مصنفات منها "الوشي المعلم فيمن روى عن أبيه عن جده عن النبي صلى الله عليه وسلم" و"الأربعين في أعمال المتقين" و"القواعد المشهورة" و"علوم آيات الفرائض" وأشياء كثيرة محررة متقنة نافعة، وخرج ودرس بأماكن منها الناصرية والأسدية والصلاحية بالقدس والتنكزية وغير ذلك، أخذ عنه العراقي وقال مات حافظ المشرق والمغرب صلاح الدين العلائي في ثالث من المحرم سنة إحدى وستين وسبعمائة.

ابن كثير 2 س الإمام المحدث الحافظ ذو الفضائل عماد الدين أبو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير بن ضوء بن كثير القيسي البصروي:

ولد سنة سبعمائة3 وسمع

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة 2/ 51 "1667".

2 الدرر الكامنة 1/ 218 "945".

3 كذا في الأصل: في ترجمة العماد بن كثير "ولد سنة سبعمائة" وفي التعليقات "أو بعدها بيسير كما ذكره ابن حجر" وهذا يوافقه قول الحافظ الذهبي في أواخر طبقات الحفاظ ولد بعد السبعمائة أو فيها. اهـ. وجزم التقي أبو بكر ابن قاضي شهب في طبقاته بأنه ولد سنة إحدى وسبعمائة وكذا الحافظ الحسيني في ذيله المتقدم في الصفحة "57" والشمس بن ناصر الدين في الرد الوافر ومحيي الدين عبد القادر النعيمي في تنبيه الطالب وإرشاد الدارس وجزم الحافظ ابن حجر في ذيل معجمه بما ذكره المؤلف وكذا صاحب الشذرات. "الطهطاوي".
তেইশতম স্তর, এবং তাদের সংখ্যা ১১

…

তেইশতম স্তর, তাদের সংখ্যা ১১:

আল-বাহাউ ইবনে খলিল (স) আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে খলিল ইবনে ইবরাহিম ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবু আবদুল্লাহ ইবনে ফারিস ইবনে আবু আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইবরাহিম আল-উসমানি আল-মাক্কি আশ-শাফিয়ি, কায়রোতে বসবাসকারী। তিনি ইমাম, ফকিহ, মুহাদ্দিস, হাফিজ, যাহিদ এবং অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব আবু মুহাম্মাদ: তিনি ৬৯৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আর-রাজি ও বাইবার্স আল-আদিমি এবং আরও অনেকের নিকট (হাদিস) শুনেছেন। তিনি ফিকহ ও কিরাত পাঠ করেছেন, হাদিসের প্রতি বিশেষ মনোযোগী ছিলেন এবং এ উদ্দেশ্যে সফর করেছেন। আয-যাহাবি তার ‘মুজাম’ গ্রন্থে বলেছেন: তিনি প্রচুর পাঠ করেছিলেন এবং তার জ্ঞান ছিল অত্যন্ত গভীর। আল-ইরাকি এবং আল-হাইসামি তার নিকট থেকে (জ্ঞান) গ্রহণ করেছেন। তিনি ৭৭৭ হিজরির জমাদিউল উলা মাসের ৩ তারিখ দিবাগত রাতে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন।

আল-আলাই (১ স) শায়খ, ইমাম, আল্লামা, হাফিজ, ফকিহ, বহু বিদ্যায় পারদর্শী সালাহুদ্দীন আবু সাঈদ খলিল ইবনে কাইকালদি আশ-শাফিয়ি, বাইতুল মুকাদ্দাসের আলিম:

তিনি ৬৯৪ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাকি সুলাইমান ও তার সমসাময়িকদের নিকট (হাদিস) শুনেছেন। তিনি বুরহান আল-ফাজারি ও কামাল আয-যামলাকানির সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাদের মাধ্যমেই শিক্ষা সমাপ্ত করে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তিনি ছিলেন একজন ইমাম, মুহাদ্দিস, হাফিজ, সুদক্ষ, মহান ফকিহ, উসুলি (মূলনীতিবিদ) এবং ব্যাকরণবিদ। আয-যাহাবি ‘আল-মুখতাস’ গ্রন্থে বলেছেন: তিনি এমন একজন হাফিজ যিনি রাবি (বর্ণনাকারী) এবং ইলাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) সম্পর্কে তাৎক্ষণিক জ্ঞান রাখতেন। প্রখর মেধা ও দ্রুত অনুধাবন ক্ষমতার সাথে এই শাস্ত্রে তিনি অগ্রগণ্য ছিলেন। আল-হুসাইনি বলেছেন: তিনি ফিকহ, উসুল এবং ব্যাকরণে ইমাম ছিলেন; হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা ও বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন; বর্ণনাকারীদের বিষয়ে বিজ্ঞ এবং মতন (মূল পাঠ) ও আসনাদ (সনদ) বিষয়ে অভিজ্ঞ আল্লামা ছিলেন। তার পরে তার মত আর কেউ আসেনি। আল-আসনাবি বলেছেন: তিনি ছিলেন তার সময়ের হাফিজ, ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্রে ইমাম, অত্যন্ত মেধাবী ও তুখোড় বিতার্কিক। আস-সুবকিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আপনার পরে কে (যোগ্য উত্তরসূরি) রয়েছেন? তিনি বলেছিলেন— আল-আলাই। তিনি হাদিস ও অন্যান্য বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে "আল-ওয়াশিউল মুআল্লাম ফিমান রাওয়া আন আবিহি আন জাদ্দিহি আনিন নাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম", "আল-আরবাউন ফি আমালিল মুত্তাকিন", "আল-কাওয়াইদুল মাশহুরাহ", "উলুমু আয়াতিল ফারায়িদ" এবং আরও অনেক পরিমার্জিত, নিখুঁত ও উপকারী রচনা। তিনি জেরুজালেমের আল-নাসিরিয়া, আল-আসাদিয়া, আল-সালাহিয়া এবং আল-তানকিজিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠদান ও শিক্ষকতা করেছেন। আল-ইরাকি তার নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: পূর্ব ও পশ্চিমের হাফিজ সালাহুদ্দীন আল-আলাই ৭৬১ হিজরির ৩রা মহরম মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনে কাসির (২ স) ইমাম, মুহাদ্দিস, হাফিজ, বহু গুণের অধিকারী ইমাদুদ্দীন আবু আল-ফিদা ইসমাইল ইবনে উমর ইবনে কাসির ইবনে দাউ ইবনে কাসির আল-কায়সি আল-বাসরয়ি:

তিনি ৭০০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং শুনেছেন...

--------------------------------------------

১ আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/৫১ "১৬৬৭"।

২ আদ-দুরারুল কামিনাহ ১/২১৮ "৯৪৫"।

৩ মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে: ইমাদ ইবনে কাসিরের জীবনীতে "৭০০ হিজরিতে জন্ম", এবং টীকাগুলোতে রয়েছে "বা তার কিছুকাল পরে যেমনটি ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন"। এটি হাফিজ আয-যাহাবির বক্তব্যের সাথে মিলে যায় যা তিনি 'তাবাকাতুল হুফফাজ'-এর শেষে উল্লেখ করেছেন যে, ৭০০ হিজরির পরে বা সেই বছরে জন্ম। সমাপ্ত। তাকি আবু বকর ইবনে কাদি শুহবাহ তার 'তাবাকাত'-এ নিশ্চিত করেছেন যে তিনি ৭০১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। হাফিজ আল-হুসাইনি তার পূর্বোক্ত পরিশিষ্টের ৫৭ পৃষ্ঠায়, শামস ইবনে নাসিরুদ্দীন 'আর-রাদ্দুল ওয়াফির'-এ এবং মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির আল-নুয়াইমি 'তানবিহুত তালিব'-এও তাই বলেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার তার 'মুজাম'-এর পরিশিষ্টে লেখক যা উল্লেখ করেছেন তা নিশ্চিত করেছেন এবং 'শাযারাত'-এর লেখকও তাই করেছেন। (আত-তহতাবি)।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৩৯)
الحجار والطبقة وأجاز له الواني والختني وتخرج بالمزي ولازمه وبرع، له التفسير الذي لم يؤلف على نمطه مثله والتاريخ و"أدلة التنبيه"1 و"تخريج أحاديث مختصر ابن الحاجب" وشرع في كتاب كبير في الأحكام لم يتمه ورتب مسند أحمد على الحروف وضم إليه زوائد الطبراني وأبي يعلى وله "مسند الشيخين" و"علوم الحديث" و"طبقات الشافعية" وغير ذلك، مات في شعبان سنة أربع وسبعين وسبعمائة وقال الذهبي في المختص: الإمام المفتي المحدث البارع ثقة متفنن محدث متقن وقال ابن حجر: كان كثير الاستحضار وسارت تصانيفه في البلاد في حياته وانتفع به الناس بعد وفاته ولم يكن على طريق المحدثين في تحصيل العوالي وتمييز العالي من النازل ونحو ذلك من فنونهم وإنما هو من محدثي الفقهاء. قلت العمدة في علم الحديث معرفة صحيح الحديث وسقيمه وعلله واختلاف طرقه ورجاله جرحا وتعديلا وأما العالي والنازل ونحو ذلك فهو من الفضلات لا من الأصول المهمة.

العفيف المطري 2 ف الحافظ عفيف الدين أبو جعفر وأبو محمد عبد الله بن الجمال محمد بن أحمد بن خليف 3 بن عيسى بن عساس بن يوسف بن بدر بن علي بن عثمان الخزرجي العبادي المدني:

ولد سنة ثمان وتسعين وستمائة وعني بالحديث ورحل فسمع من الرضي الطبري والواني والحجار وعدة وحصل الفوائد، قال الذهبي قدم علينا طالب حديث وله فهم وذكاء ورحلة ولقاء فأفادنا أشياء حسنة، وقال ابن رجب كان حافظ وقته، عني بالطلب والتواريخ، ألف "تاريخ المدينة" ومات فيها في ربيع الأول سنة خمس وستين وسبعمائة.

الزيلعي 4 ف الإمام الفاضل المحدث المفيد جمال الدين أبو محمد بن عبد الله بن

--------------------------------------------

1 وعبارة الحافظ ابن حجر في ذيل معجمه وأول شيء خرجه أحاديث التنبيه فيقال: إن شيخه البرهان بن الفركاح كان يحبه ويثني عليه. اهـ. أي كان يحب كتابه المذكور الذي خرج فيه أحاديث التنبيه ويثنى عليه. وعبارة التقي ابن قاضي شهبة في طبقاته وصنف في صِغره كتاب الأحكام على أبواب التنبيه ووقف عليه شيخه البرهان الفزاري فأعجبه. "الطهطاوي".

2 الدرر الكامنة 2/ 173 "2202".

3 بالياء على ما وجد بخطه؛ ذكره ابن حجر.

4 الدرر الكامنة 2/ 188 "2251".
আল-হিজ্জার এবং সেই স্তরের উলামাগণ। আল-ওয়ানি এবং আল-খুতানি তাকে ইজাজাহ প্রদান করেন। তিনি আল-মিযযির নিকট শিক্ষা সমাপ্ত করেন এবং দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে থেকে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তাঁর সেই তাফসীর গ্রন্থ রয়েছে যার আদলে অন্য কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি। এছাড়াও তাঁর রয়েছে আল-তারিখ (ইতিহাস), 'আদিল্লাতুত তানবিহ', এবং 'তাখরিজু আহাদিসি মুখতাসারি ইবনিল হাজিব'। তিনি আহকামের ওপর একটি বৃহৎ গ্রন্থ রচনা শুরু করেছিলেন যা সমাপ্ত করতে পারেননি। তিনি মুসনাদে আহমাদকে বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত করেছেন এবং তাতে তাবারানি ও আবু ইয়া'লার অতিরিক্ত হাদীসসমূহ (যাওয়ায়েদ) যুক্ত করেছেন। এছাড়াও তাঁর রয়েছে 'মুসনাদুশ শায়খাইন', 'উলূমুল হাদীস', 'তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ' এবং আরও অনেক গ্রন্থ। তিনি ৭৭৪ হিজরীর শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন। আল-যাহাবী 'আল-মুখতাস' গ্রন্থে বলেন: তিনি ইমাম, মুফতি, দক্ষ মুহাদ্দিস, নির্ভরযোগ্য, বহুমুখী প্রতিভাধর এবং অত্যন্ত সুনিপুণ মুহাদ্দিস। ইবন হাজার বলেন: তিনি প্রখর স্মৃতিশক্তি ও উপস্থিত জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তাঁর জীবনদ্দশাতেই তাঁর রচনাবলী দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর মৃত্যুর পর মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছে। তবে উচ্চ সনদ (আওয়ালি) অর্জন এবং সনদের উচ্চ ও নিম্ন মানের মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণের মতো মুহাদ্দিসদের বিশেষ শাখাগুলোতে তিনি প্রথাগত মুহাদ্দিসদের পথ অবলম্বন করেননি; বরং তিনি ছিলেন ফকীহগণের অন্তর্ভুক্ত মুহাদ্দিস। আমি (গ্রন্থকার) বলি: হাদীস শাস্ত্রের মূল ভিত্তি হলো হাদীসের বিশুদ্ধতা, দুর্বলতা, সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লাত), বিভিন্ন সূত্রের ভিন্নতা এবং বর্ণনাকারীদের জেরা-তাদীল (দোষ-গুণ) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা। আর সনদের উচ্চ বা নিম্ন হওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো অতিরিক্ত বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতির অংশ নয়।

আল-আফিফ আল-মাতারী ২ হাফেজ আফিফ উদ্দীন আবু জাফর এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আল-জামাল মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন খুলাইফ ৩ বিন ঈসা বিন আসাস বিন ইউসুফ বিন বদর বিন আলী বিন উসমান আল-খাযরাজী আল-আব্বাদী আল-মাদানী:

তিনি ৬৯৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাদীস শাস্ত্রের প্রতি গভীর মনোনিবেশ করেন এবং জ্ঞানার্জনের জন্য সফর করেন। তিনি আল-রাযী আল-তাবারী, আল-ওয়ানি, আল-হিজ্জার এবং আরও অনেকের নিকট হাদীস শ্রবণ করেন এবং বহু জ্ঞান অর্জন করেন। আল-যাহাবী বলেন: আমাদের নিকট হাদীসের একজন ছাত্র এসেছেন যার গভীর প্রজ্ঞা, তীক্ষ্ণ মেধা এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তিনি আমাদের অনেক উত্তম বিষয় শিখিয়েছেন। ইবন রাজাব বলেন: তিনি তাঁর সময়ের হাফেজ ছিলেন, তিনি ইলম অন্বেষণ এবং ইতিহাসের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তিনি 'তারিখুল মাদীনা' (মদীনার ইতিহাস) রচনা করেন এবং সেখানে ৭৬৫ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

আল-যাইলায়ী ৪ ইমাম, ফাযেল, মুহাদ্দিস, উপকারী ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দীন আবু মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন

--------------------------------------------

১ হাফেজ ইবন হাজার তাঁর 'যাইলু মু'জাম' গ্রন্থে বলেন: তিনি সর্বপ্রথম যা তাখরীজ করেছেন তা হলো আদিল্লাতুত তানবিহ। বলা হয় যে, তাঁর উস্তাদ বুরহান বিন আল-ফারকাহ তাঁকে ভালোবাসতেন এবং তাঁর প্রশংসা করতেন। অর্থাৎ, তিনি তাঁর উক্ত গ্রন্থটিকে পছন্দ করতেন যাতে তিনি তানবিহ-এর হাদীসসমূহ তাখরীজ করেছিলেন এবং তিনি এর প্রশংসা করতেন। তাকীউদ্দীন ইবন কাযী শুহবা তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে বলেন: তিনি তাঁর যুবক বয়সে 'আদিল্লাতুত তানবিহ'-এর অধ্যায় অনুযায়ী 'আল-আহকাম' গ্রন্থটি রচনা করেন, যা তাঁর উস্তাদ বুরহান আল-ফাযারী দেখেন এবং এটি তাঁর নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয় হয়। (তাহতাবী)।

২ আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/১৭৩ "২২০২"।

৩ ইবন হাজার উল্লেখ করেছেন যে, এটি তাঁর নিজ হাতের লেখায় 'ইয়া' যোগে পাওয়া গেছে।

৪ আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/১৮৮ "২২৫১"।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৪০)
يوسف بن محمد الحنفي:

اشتغل كثيرا وسمع من أصحاب النجيب وأخد عن الفخر الزيلعي شارح الكنز والقاضي علاء الدين بن التركماني وابن عقيل وغير واحد ولازم مطالعة كتب الحديث إلى أن خرج أحاديث الهداية وأحاديث الكشاف واستوعب ذلك استيعابا بالغا، قال شيخ الإسلام ابن حجر ذكر لي شيخنا العراقي أنه كان يرافقه في مطالعة الكتب الحديثية لتخريج الكتب التي كانا قد اعتنيا بتخريجها فالعراقي لتخريج أحاديث الأحياء والأحاديث التي يشير إليها الترمذي في الأبواب والزيلعي لتخريج الكتابين المذكورين فكان كل منهما يعين الآخر مات الزيلعي في محرم سنة اثنتين وسبعمائة، ومحله في الطبقة الآتية إلا أنه تقدمت وفاته فقدمته.

العز بن جماعة 1 س الحافظ الإمام قاض القضاة عز الدين أبو عمر عبد العزيز بن قاض القضاة بدر الدين محمد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة الكناني الحموي الأصل الدمشقي المولد ثم المصري الشافعي:

ولد في تاسع عشر من المحرم سنة أربع وتسعين وستمائة فأحضر على عمر القواس وأبي الفضل ابن عساكر وسمع من الدمياطي والأبرقوهي وأجاز له ابن وريدة2 وأبو جعفر بن الزبير وأكثر السماع فبلغ شيوخه ألفا وثلاثمائة نفس وتفقه على والده وأخذ عن الجمال الوجيزي والعلاء الباجي وعني بهذا الشأن وصنف "تخريج أحاديث الرافعي" و"المناسك الكبري" على المذاهب الأربعة والصغرى على مذهب الشافعي، وولي قضاء الديار المصرية وتدريس الخشابية، أثنى عليه الأسنوي في الطبقات وكان قصير الباع في الفقه وهو في الحديث أمثل منه فيه، أخذ عنه العراقي ووصفه بالحفظ وجاور بمكة ومات فيها في جمادى الأولى سنة سبع وستين وسبعمائة ودفن بالمعلاة.

السروجي 3 س محمد بن علي بن أيبك السروجي أبو عبد الله الحافظ:

ولد سنة أربع عشرة وسبعمائة وعني بالرواية فسمع الكثير من أصحاب النجيب ومن الدبوسي وابن المصري4 ولازم ابن سيد الناس وغيره إلى أن بلغ الغاية في الحفظ ووصفه المزي بالحفظ

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة 2/ 230 "2445".

2 هكذا بالمثناة التحتية بين الراء والدال المهملة وفي الدرر الكامنة وأجاز له من بغداد "ابن ورندة" هكذا بالنون بينهما وفيها في ترجمة البياني ابن إمام الصخرة وأجاز له من بغداد "ابن وريدة" مثل ما هنا والظاهر أن في كل منهما تحريفا من النساخ وأن الصواب "ابن دويرة" بلفظ تصغير درا وكان ببغداد من بني دويرة علماء من الحنابلة ذكر جماعة منهم الحافظ ابن رجب في طبقاته قال: ورأيت منهم في صباي رجلا كان معيدا بالمستنصرية يقال له أبو حفص عمر بن دويرة. اهـ. والله أعلم. "الطهطاوي".

3 الدرر الكامنة 4/ 37 "4144ط.

4 يحيى بن يوسف المتوفى سنة 737 عن أكثر من تسعين سنة.
ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ আল-হানাফী:

তিনি প্রচুর জ্ঞানচর্চা করেছেন এবং নাজীবের শিষ্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি কানয-এর ব্যাখ্যাকার ফখর আয-যাইলায়ী, কাযী আলাউদ্দীন ইবনুত তুর্কমানী, ইবনে আকীল এবং আরও অনেকের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি হাদীসের কিতাবসমূহ অধ্যয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন, এমনকি তিনি হিদায়া ও কাশশাফ-এর হাদীসসমূহের তাখরীজ (উৎস অনুসন্ধান) করেন এবং অত্যন্ত নিপুণভাবে তা সম্পন্ন করেন। শায়খুল ইসলাম ইবনে হাজার বলেন, আমাদের শায়খ আল-ইরাকী আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি (যাইলায়ী) হাদীসের কিতাবসমূহ অধ্যয়নে তাঁর সাথী ছিলেন—যাতে তাঁরা যে কিতাবগুলোর তাখরীজ করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন তা সম্পন্ন করতে পারেন। ইরাকী ‘ইহয়াউল উলূম’-এর হাদীসসমূহ এবং তিরমিযী যে হাদীসগুলোর দিকে অনুচ্ছেদে ইঙ্গিত করেছেন সেগুলোর তাখরীজ করতেন, আর যাইলায়ী উল্লিখিত কিতাবদ্বয়ের (হিদায়া ও কাশশাফ) তাখরীজ করতেন। তাঁদের প্রত্যেকেই একে অপরকে সাহায্য করতেন। যাইলায়ী সাতশত দুই হিজরীর মুহররম মাসে ইন্তেকাল করেন। তাঁর স্থান পরবর্তী স্তরে হলেও তাঁর মৃত্যু আগে হওয়ায় আমি তাঁকে অগ্রবর্তী করেছি।

আল-ইয্য বিন জামাআহ ১ স (সীন), হাফিয, ইমাম, প্রধান বিচারক, ইয্যুদ্দীন আবু উমর আব্দুল আযীয বিন কাযিউল কুযাত বদরুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বিন সা'দুল্লাহ বিন জামাআহ আল-কিনানী আল-হামাবী (মূলত), দামেশকে জন্ম ও পরবর্তীতে মিসরে বসবাসকারী শাফেয়ী:

তিনি ছয়শত চুরানব্বই হিজরীর উনিশে মুহররম জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তাঁকে উমর আল-কাওয়াস ও আবুল ফযল ইবনে আসাকিরের মজলিসে উপস্থিত করা হয়েছিল। তিনি দিময়াতী ও আবরাকুহীর নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন। ইবনে ওয়ারীদা ২, আবু জাফর বিন আয-যুবাইর তাঁকে ইজাযত দিয়েছেন। তিনি প্রচুর হাদীস শ্রবণ করেছেন, ফলে তাঁর উস্তাদের সংখ্যা এক হাজার তিনশতে পৌঁছায়। তিনি তাঁর পিতার নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং জামাল আল-ওয়াজীযী ও আলা আল-বাজীর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি এই শাস্ত্রের প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন এবং ‘তাখরীজু আহাদীসিল রাফেয়ী’ এবং চার মাযহাবের ওপর ভিত্তি করে ‘আল-মানাসিকুল কুবরা’ এবং শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী ‘আস-সুগরা’ রচনা করেন। তিনি মিসরের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন এবং খাশশাবিয়া মাদরাসায় অধ্যাপনা করেন। আসনাভী ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে তাঁর প্রশংসা করেছেন। ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর পারঙ্গমতা কিছুটা কম হলেও হাদীস শাস্ত্রে তিনি অধিক দক্ষ ছিলেন। ইরাকী তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন এবং তাঁকে ‘হাফিয’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি মক্কায় অবস্থান করেন এবং সাতশত সাতষট্টি হিজরীর জুমাদাল উলা মাসে সেখানেই ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে আল-মুআল্লায় দাফন করা হয়।

আস-সারুজি ৩ স (সীন), মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আইবাক আস-সারুজি আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয:

তিনি সাতশত চৌদ্দ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং হাদীস বর্ণনার প্রতি বিশেষ মনোযোগী ছিলেন। তিনি নাজীবের শিষ্যদের নিকট থেকে এবং দাব্বুসী ও ইবনুল মিসরী ৪ থেকে প্রচুর হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি ইবনে সাইয়্যিদুন নাস ও অন্যান্যদের সাহচর্যে থাকেন, এমনকি হিফযের (মুখস্থ করার) ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যায়ে উন্নীত হন এবং মিযযী তাঁকে ‘হাফিয’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

--------------------------------------------

১ আদ-দুরাকুল কামিনাহ ২/২৩০ "২৪৪৫"।

২ এখানে র এবং দাল-এর মাঝে ইয়া (দুটি নুকতা বিশিষ্ট) সহকারে এভাবেই রয়েছে। আদ-দুরাকুল কামিনাহ-তে আছে, বাগদাদ থেকে তাঁকে ‘ইবনে ওয়ারান্দাহ’ ইজাযত দিয়েছেন—এভাবে নুন সহকারে। আবার সেই গ্রন্থেই বায়ানীর জীবনীতে রয়েছে, ‘ইবনে ইমাম আস-সাখরা’ এবং বাগদাদ থেকে তাঁকে ‘ইবনে ওয়ারীদা’ ইজাযত দিয়েছেন—এখানে যেমন আছে। প্রকাশ্যত প্রতিলিপিকারীদের ভুলের কারণে উভয়টিতেই বিকৃতি ঘটেছে এবং সঠিক হলো ‘ইবনে দুওয়াইরা’ (দাল-এর পেশ ও ওয়াও-এর যবর সহকারে), যা ‘দুরা’ শব্দের ক্ষুদ্রতা প্রকাশক রূপ। বাগদাদে বনু দুওয়াইরা গোত্রে হাম্বলী আলেমগণ ছিলেন। হাফিয ইবনে রাজাব তাঁর ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে তাঁদের অনেকের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আমি আমার শৈশবে তাঁদের মধ্যে একজনকে দেখেছি যিনি মুসতানসিরিয়া মাদরাসায় মুয়ীদ (শিক্ষক-সহকারী) ছিলেন, তাঁকে আবু হাফস উমর বিন দুওয়াইরা বলা হতো। সমাপ্ত। আল্লাহই ভালো জানেন। "আত-তহতাবী"।

৩ আদ-দুরাকুল কামিনাহ ৪/৩৭ "৪১৪৪"।

৪ ইয়াহইয়া বিন ইউসুফ, যিনি সাতশত সাইত্রিশ হিজরীতে নব্বই বছরেরও বেশি বয়সে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৪১)
وكذلك البرزالي والذهبي وغيرهم قال الصفدي: ما رأيت بعد أن سيد الناس مثله ما سألته عن شيء من تراجم الناس ووفياتهم وأعصارهم وتصانيفهم إلا وجدته فيه حفظه لا يغيب عن شيء، قال ابن حجر: وفي الجملة هو معدود في زمرة الحافظ ولو علت سنه لكان أعجوبة الزمان، شرع في جمع "الثقات" لو تم لكان عشرين مجلدة وخرج لنفسه مائة حديث متباينة الإسناد، مات بحلب في ربيع الأول سنة أربع وأربعين وسبعمائة.

الحسيني 1 ف الحافظ شمس الدين أبو المحاسن محمد بن علي بن الحسن بن حمزة بن محمد الدمشقي الشريف الحسيني:

ولد سنة خمس عشرة وسبعمائة وسمع من ابن عبد الدائم2 والمزي وخلائق وطلب بنفسه فأكثر ورحل وخرج لنفسه معجما وجمع رجال المسند وألف "التذكرة في رجال العشرة" الكتب الستة والموطأ والمسند ومسند الشافعي وأبي حنيفة وذيل على العبر وعلى طبقات الحفاظ الذهبي ورتب الأطراف على الألفاظ وله تعليق على الميزان وشرع في شرح سنن النسائي وغير ذلك، مات كهلا في شعبان سنة خمس وستين وسبعمائة، سئل الحافظ أبو الفضل العراقي عن أربعة تعاصروا: أيهم أحفظ مغلطاي وابن كثير وابن رافع والحسيني؟ فأجاب ومن خطه نقلت: أن أوسعهم اطلاعا وأعلمهم بالأنساب مغلطاي على أغلاط تقع منه في تصانيفه ولعله من سوء الفهم وأحفظهم للمتون والتواريخ ابن كثير وأقعدهم لطلب الحديث وأعلمهم بالمؤتلف والمختلف ابن رافع وأعرفهم بالشيوخ المعاصرين وبالتخريج الحسيني وهو أدونهم في الحفظ انتهى.

مغلطاي 3 ف مغلطاي بن قليج بن عبد الله الحنفي الإمام الحافظ علاء الدين:

ولد سنة تسع وثمانين وستمائة وسمع من الدبوسي والختني وخلائق وولي تدريس الحديث بالظاهرية بعد ابن سيد الناس وغيرهما وله مآخذ على المحدثين وأهل اللغة، قال العراقي: كان عارفًا بالأنساب معرفة جيدة وأما غيرها من متعلقات الحديث فله بها خبرة متوسطة وتصانيفه أكثر من مائة منها "شرح البخاري" و"شرح ابن ماجه" لم يكمل وقد شرعت في إتمامه و"شرح أبي داود" ولم يتم وجمع "أوهام التهذيب" و"أوهام الأطراف" وذيل على التهذيب وذيب على المؤتلف والمختلف لابن نقطة و"الزهر الباسم في سيرة أبي القاسم"

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة 4/ 38 "4151".

2 وعبارة الدرر الكامنة: وسمع من محمد بن أبي بكر بن أحمد بن عبد الدائم. اهـ. وهو المراد هنا لا أبوه ولا جده وقد توفي شمس الدين محمد بن أبي بكر هذا سنة 743 وتقدم قريبًا ذكر وفاة أبيه ووفقاة جده "الطهطاوي".

3 الدرر الكامنة 4/ 215 "4943".
অনুরূপভাবে আল-বির্জালি, আয-যাহাবি এবং অন্যান্যেরাও তাঁর প্রশংসা করেছেন। আস-সাফাদি বলেছেন: "ইবনে সাইয়্যিদুন নাসের পর আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি। মানুষের জীবনী, মৃত্যুসন, যুগ এবং রচনাবলী সম্পর্কে আমি তাঁকে যা-ই জিজ্ঞাসা করেছি, তাঁর মুখস্থ ভাণ্ডারে তা উপস্থিত পেয়েছি; কোনো কিছুই তাঁর স্মৃতির অগোচরে ছিল না।" ইবনে হাজার বলেছেন: "সারসংক্ষেপ হলো, তাঁকে হাফিজদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়। যদি তিনি দীর্ঘজীবী হতেন, তবে তিনি এই যুগের এক বিস্ময় হতেন।" তিনি 'আস-সিকাত' (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ) সংকলন শুরু করেছিলেন; এটি পূর্ণ হলে বিশ খণ্ড হতো। তিনি নিজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সনদের একশটি হাদিস চয়ন করেছিলেন। তিনি ৭৪৪ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে হালাবে মৃত্যুবরণ করেন।

আল-হুসাইনি ১ ফ হাফিজ শামসুদ্দিন আবু আল-মাহাসিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হাসান বিন হামজাহ বিন মুহাম্মদ আদ-দিমাশকি আশ-শরিফ আল-হুসাইনি:

তিনি ৭১৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইবনে আবদুদ দায়েম ২, আল-মিযযি ও বহু সংখ্যক আলিমের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি নিজে জ্ঞান অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করেন এবং প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং নিজের জন্য একটি 'মুজাম' (পণ্ডিতদের নামের তালিকা) প্রস্তুত করেন। তিনি 'মুসনাদ'-এর রাবিদের (বর্ণনাকারী) জীবনী সংগ্রহ করেন এবং 'আত-তাযকিরাতু ফি রিজালিল আশারাহ' (দশ কিতাবের বর্ণনাকারীদের স্মারক) রচনা করেন; এই দশটি কিতাব হলো: কুতুবে সিত্তা, আল-মুয়াত্তা, আল-মুসনাদ, মুসনাদে শাফেয়ী এবং মুসনাদে আবু হানিফা। তিনি আয-যাহাবির 'আল-ইবার' এবং 'তাবাকাতুল হুফফাজ'-এর ওপর পরিশিষ্ট (যাইল) লিখেন। তিনি শব্দের ক্রমানুসারে 'আতরাফ' বিন্যস্ত করেন। 'আল-মিযান'-এর ওপর তাঁর টীকা রয়েছে এবং তিনি 'সুনানে নাসাঈ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ শুরু করেছিলেন। তিনি ৭৬৫ হিজরি সনের শাবান মাসে প্রৌঢ় অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। হাফিজ আবু আল-ফদল আল-ইরাকিকে সমসাময়িক চারজন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: মুগলতাই, ইবনে কাসির, ইবনে রাফি এবং আল-হুসাইনি—এই চারজনের মধ্যে কে সবচেয়ে বড় হাফিজ? তিনি উত্তরে যা বলেছিলেন তা তাঁর নিজ হাতের লেখা থেকে নকল করা হয়েছে: "তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তথ্য জানা এবং বংশপরম্পরা (আনসাব) সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী হলেন মুগলতাই, যদিও তাঁর রচনাগুলোতে কিছু ভুলভ্রান্তি পাওয়া যায় যা সম্ভবত সঠিক অনুধাবনের অভাবজনিত। হাদিসের মূল পাঠ (মাতান) এবং ইতিহাসের বিষয়ে সবচেয়ে বড় হাফিজ হলেন ইবনে কাসির। হাদিস অন্বেষণে সবচেয়ে বেশি নিবেদিত এবং 'আল-মুয়তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' (অভিন্ন ও ভিন্ন নামের বর্ণনাকারী) বিষয়ে সবচেয়ে জ্ঞানী হলেন ইবনে রাফি। আর সমসাময়িক শায়খদের পরিচয় এবং হাদিস চয়নের (তাখরিজ) ক্ষেত্রে সবচেয়ে অভিজ্ঞ হলেন আল-হুসাইনি, তবে মুখস্থ রাখার শক্তিতে তিনি তাদের মধ্যে কিছুটা নিচে।" সমাপ্ত।

মুগলতাই ৩ ফ মুগলতাই বিন কলিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-হানাফি, ইমাম ও হাফিজ আলাউদ্দিন:

তিনি ৬৮৯ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং আদ-দাব্বুসি, আল-খুতানি ও বহু সংখ্যক আলিমের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি ইবনে সাইয়্যিদুন নাস ও অন্যদের পর আজ-জাহিরিয়া মাদ্রাসায় হাদিসের অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেন। মুহাদ্দিসগণ এবং ভাষাবিদদের ওপর তাঁর কিছু সমালোচনা রয়েছে। আল-ইরাকি বলেছেন: "তিনি বংশবিদ্যার (আনসাব) ওপর বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। আর হাদিস শাস্ত্রের অন্যান্য শাখায় তাঁর জ্ঞান ছিল মধ্যম মানের।" তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা একশ'রও বেশি, যার মধ্যে রয়েছে: 'শারহুল বুখারি' এবং 'শারহু ইবনে মাজাহ' (যা তিনি পূর্ণ করতে পারেননি, তবে আমি তা পূর্ণ করতে শুরু করেছি), 'শারহু আবি দাউদ' (যা তিনি সমাপ্ত করতে পারেননি)। এছাড়া তিনি 'আওহামুত তাহজিব', 'আওহামুল আতরাফ' সংকলন করেন। তিনি 'আত-তাহজিব'-এর ওপর পরিশিষ্ট এবং ইবনে নুকতার 'আল-মুয়তালিফ ওয়াল মুখতালিফ'-এর ওপর পরিশিষ্ট লিখেন। এছাড়াও তিনি 'আয-যাহরুল বাসিম ফি সিরাতি আবিল কাসিম' রচনা করেন।

--------------------------------------------

১ আদ-দুরার আল-কামিনাহ ৪/ ৩৮ "৪১৫১"।

২ আদ-দুরার আল-কামিনাহ-এর ইবারত (পাঠ) হলো: "তিনি মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আহমদ বিন আবদুদ দায়েম-এর নিকট থেকে শ্রবণ করেন।" সমাপ্ত। এখানে তিনিই উদ্দেশ্য, তাঁর পিতা বা পিতামহ নন। এই শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর ৭৪৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর পিতা ও পিতামহের মৃত্যুর কথা সম্প্রতি উল্লেখ করা হয়েছে। "আত-তাহতাবি"।

৩ আদ-দুরার আল-কামিনাহ ৪/ ২১৫ "৪৯৪৩"।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৪২)
ورتب المبهمات على الأبواب ورتب بيان الوهم لابن القطان وخرج زوائد ابن حبان على الصحيحن، مات في رابع عشري من شعبان سنة اثنتين وستين وسبعمائة.

ابن رافع 1 س الحافظ المحدث المشهور تقي الدين أبو المعالي محمد بن رافع بن هجرس بن محمد بن شافع بن محمد السلامي:

ولد في ذي القعدة سنة أربع وسبعمائة وسمع من التقي سليمان وغيره وأجاز له الدمياطي وغيره وحبب إليه هذا الشأن فأكثر جدًّا عن شيوخ مصر والشام وجمع معجمه في أربعة مجلدات وهو في غاية الضبط والإتقان مشحون بالفوائد وله "ذيل على تاريخ بغداد" لابن النجار، مات في ثامن عشر من جمادى الأولى سنة أربع وسبعين وسبعمائة.

أبو بكر بن المحب 2 س الحافظ شمس الدين أبو بكر محمد بن عبد لله بن أحمد بن عبد الله بن أحمد بن محمد بن إبراهيم المقدسي الحنبلي ويعرف بالصامت لطول سكوته:

ولد سنة اثنتي عشرة وسبعمائة3 وحضر على التقي سليمان وغيره وسمع القاسم ابن عساكر وخلقا وكان مكثرا شيوخا وسماعا وقرأ الكثير وأجاد وخرج وأفاد وكان عالما متقنا فقيها أفتى ودرس ومات خامس من شوال سنة تسع وثمانين وسبعمائة4 رحمه الله تعالى.

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة 3/ 267 "3809".

2 الدرر الكامنة 3/ 282 "3882".

3 وهو موافق لما تقدم في ذيل الحافظ الحسيني ولما في الرد الوافر للحافظ ابن ناصر الدين والثاني موافق لما في ذيل معجم الحافظ ابن رجب والدرر الكامنة له. وهو ابن أخت زينب بنت الكمال وقد قرأ عليها كثيرا. "الطهطاوي".

4 وهو موافق لما في الدرر الكامنة والمنهج الأحمد والرد الوافر. والذي في ذيل معجم الحافظ ابن حجر له أنه توفي في خامس من شوال من سنة خمس وثمانين وسبعمائة. ولعل الصواب الأول. وأما قول الحافظ في الإنباء توفي في خامس من ذي القعدة من سنة 789 ومثله في شذرات الذهب فهو يوافق الأول في السنة دون الشهر. "الطهطاوي".
তিনি মুবহামাতসমূহ অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন, ইবনুল কাত্তানের 'বায়ানুল ওয়াহম' বিন্যস্ত করেছেন এবং সহীহাইন-এর উপর ইবনে হিব্বানের অতিরিক্ত হাদীসগুলো (যাওয়ায়েদ) বের করেছেন। তিনি ৭৬২ হিজরীর ২৪শে শাবান মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনে রাফে ১ [স] হাফেজ, প্রখ্যাত মুহাদ্দিস তকিউদ্দীন আবুল মা'আলি মুহাম্মাদ বিন রাফে বিন হিজরাস বিন মুহাম্মাদ বিন শাফি বিন মুহাম্মাদ আস-সালামি:

তিনি ৭০৪ হিজরীর যিলকদ মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং তকি সুলায়মান ও অন্যান্যদের নিকট থেকে (হাদীস) শ্রবণ করেন। আদ-দামইয়াতি ও অন্যরা তাঁকে ইজাযত প্রদান করেন। তাঁর নিকট এই শাস্ত্রকে প্রিয় করে তোলা হয়েছিল, ফলে তিনি মিশর ও শামের শায়খদের নিকট থেকে প্রচুর পরিমাণে (হাদীস) গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর 'মু'জাম' চার খণ্ডে সংকলন করেছেন এবং এটি অত্যন্ত নির্ভুলতা ও নিপুণতার সাথে পূর্ণ ও উপকারে ভরপুর। ইবনে নাজ্জারের 'তারিখে বাগদাদ'-এর উপর তাঁর একটি 'যাইল' (পরিশিষ্ট) রয়েছে। তিনি ৭৭৪ হিজরীর ১৮ই জুমাদাল উলা-তে মৃত্যুবরণ করেন।

আবু বকর বিন আল-মুহিব ২ [স] হাফেজ শামসুদ্দীন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি, যিনি দীর্ঘ সময় নীরব থাকার কারণে 'আস-সামিত' (নীরব) নামে পরিচিত ছিলেন:

তিনি ৭১২ হিজরীতে ৩ জন্মগ্রহণ করেন এবং তকি সুলায়মান ও অন্যদের দরসে উপস্থিত হন। তিনি কাসিম ইবনে আসাকির এবং অসংখ্য আলিমের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি শায়খ ও শ্রবণের দিক থেকে সমৃদ্ধ ছিলেন, প্রচুর অধ্যয়ন করেছেন, বুৎপত্তি লাভ করেছেন, হাদীস তাখরীজ করেছেন এবং অন্যদের উপকৃত করেছেন। তিনি একজন নিপুণ আলিম ও ফকীহ ছিলেন, ফতোয়া প্রদান করেছেন এবং পাঠদান করেছেন। তিনি ৭৮৯ হিজরীর ৪ ৫ই শাওয়াল মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করুন।

--------------------------------------------

১ আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/২৬৭ "৩৮০৯"।

২ আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/২৮২ "৩৮৮২"।

৩ এটি হাফেজ আল-হুসাইনির 'যাইল'-এ যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে এবং হাফেজ ইবনে নাসিরুদ্দীনের 'আর-রদ্দুল ওয়াফির'-এ যা আছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দ্বিতীয়টি হাফেজ ইবনে রাজাবের 'যাইল মু'জাম' এবং তাঁর 'আদ-দুরারুল কামিনাহ'-তে যা আছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি ছিলেন যয়নাব বিনতে আল-কামাল-এর ভাগ্নে এবং তাঁর নিকট প্রচুর অধ্যয়ন করেছেন। "আত-তহতাবি"।

৪ এটি আদ-দুরারুল কামিনাহ, আল-মানহাজুল আহমাদ এবং আর-রদ্দুল ওয়াফির-এ যা আছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর 'যাইল মু'জাম'-এ যা উল্লেখ করেছেন তা হলো, তিনি ৭৮৫ হিজরীর ৫ই শাওয়াল মৃত্যুবরণ করেন। সম্ভবত প্রথমটিই সঠিক। আর হাফেজের উক্তি যা 'আল-ইনবা'-তে আছে যে, তিনি ৭৮৯ হিজরীর ৫ই যিলকদ মৃত্যুবরণ করেন এবং 'শাযারাতুয যাহাব'-এও অনুরূপ রয়েছে, তা বছরের ক্ষেত্রে প্রথমটির সাথে একমত হলেও মাসের ক্ষেত্রে ভিন্ন। "আত-তহতাবি"।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৪৩)
‌‌الطبقة الرابعة والعشرون، وعدتها 9:

ابن رجب 1 ف هو الإمام الحافظ المحدث الفقيه الواعظ زين الدين عبد الرحمن بن أحمد بن رجب بن الحسن بن محمد بن مسعود السلامي البغدادي ثم الدمشقي الحنبلي:

وُلد في بغداد في ربيع الأول سنة ست وسبعمائة2 وسمع من أبي الفتح الميدومي وعدة وأكثر الاشتغال حتى مهر وصنف "شرح الترمذي" و"شرح علل الترمذي" و"شرح قطعة من البخاري"3 و"طبقات الحنابلة"4 وغيرها، مات في رجب سنة خمس وتسعين وسبعمائة.

ابن مسلم 5 ك عمر بن مسلم -بتشديد اللام- بن سعيد بن عمر بن بدر6 الدمشقي الشيخ زين الدين القرشي:

كان بارعا في التفسير يحفظ المتون ويعرف أسماء الرجال وشارك في العربية كثير الإقبال على الاشتغال والمطالعة لا يني7 مشهورا بقوة الحفظ وعدم النسيان والقيام بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وكانت له سمعة وصيت، ولد في شعبان سنة أربع وعشرين وسبعمائة وتفقه وتعانى عمل المواعيد وتصدر للتدريس والإفتاء، مات في ذي الحجة سنة اثنتين وتسعين وسبعمائة رحمه الله تعالى8.

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة 2/ 195 "2277".

2 وهو تابع في ذلك لما في الدرر الكامنة ولا صحة له كيف ووالده الشهاب أبو العباس أحمد بن رجب البغدادي المقرئ قد ولد في خامس عشر من ربيع الأول من السنة المذكورة كما في المنهج الأحمد أو من سنة سبع وسبعمائة كما في الرد الوافر؟! والصواب ما في إنباء الغمر للحافظ ابن حجر من أنه ولد سنة ست وثلاثين وسبعمائة يؤيده قول صاحب المنهج الأحمد قدم مع والده من بغداد إلى دمشق وهو صغير سنة أربع وأربعين وسبعمائة وقد تقدم التنبيه على ذلك. "الطهطاوي".

3 إلى الجنائز وسماه "فتح الباري" وأخذ منه ابن حجر اسم شرحه على البخاري.

4 وهو ذيل الطبقات "ابن أبي يعلى" لا "أبي يعلى" وإن وقع في خط ابن حجر.

5 الدرر الكامنة 3/ 115 "3104".

6 كذا جاء في كلام غير واحد ووقع في النسخة التي بيدي من إنباء الغمر "عمر بن سعيد بن عمر بن بدر بن مسلم بن سعيد القرشي البلخي الأصل الدمشقي الكتاني بالمثناة المشددة ثم النون" وقد سقط من هذه العبارة اسم أبيه مسلم فقد جاء بعد ذلك في إنباء الغمر في ترجمة ابنه أحمد ما لفظه القاضي شهاب الدين أحمد بن زين الدين عمر بن مسلم بن سعيد بن عمر بن بدر بن مسلم القرشي الدمشقي … إلخ وفي ترجمة ابنه محمد ما لفظه شمس الدين محمد بن عمر بن مسلم بن سعيد القرشي الدمشقي أخو شهاب الدين ابن الشيخ زين الدين … إلخ فليعلم. "الطهطاوي".

7 وعبارة غيره "لا يمل" ولعله الأنسب. "الطهطاوي".

8 ونقموا عليه أنه كان ممن بالغ في القيام على تاج الدين السبكي لما امتحن مع أنه هو الذي أدخله في الفقهاء. الدرر الكامنة.
চব্বিশতম স্তর, আর এর সংখ্যা ৯:

ইবনে রজব ১ ফ তিনি হলেন ইমাম, হাফেজ, মুহাদ্দিস, ফকিহ, ওয়ায়েজ জয়নুদ্দীন আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব বিন হাসান বিন মুহাম্মদ বিন মাসউদ আস-সালামি আল-বাগদাদি, অতঃপর আদ-দিমাশকি আল-হানবালি:

তিনি ৭০৬ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন ২ এবং আবুল ফাতহ আল-মায়দুমি ও আরও অনেকের থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং পারদর্শিতা অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত অধিক পরিমাণে জ্ঞানচর্চায় নিমগ্ন ছিলেন। তিনি "শরহু তিরমিজি", "শরহু ইলালিত তিরমিজি", "শরহু কিতআতিন মিনাল বুখারি" ৩, "তাবাকাতুল হানাবিলা" ৪ এবং অন্যান্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি ৭৯৫ হিজরি সনের রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনে মুসলিম ৫ ক উমর বিন মুসলিম—লাম হরফে তাশদিদ সহ—বিন সাঈদ বিন উমর বিন বদর ৬ আদ-দিমাশকি আশ-শাইখ জয়নুদ্দীন আল-কুরাশি:

তিনি তাফসির শাস্ত্রে দক্ষ ছিলেন, মূল পাঠগুলো (মুতুন) মুখস্থ রাখতেন এবং বর্ণনাকারীদের নাম চিনতেন। তিনি আরবি ভাষাতত্ত্বে অংশগ্রহণ রাখতেন, জ্ঞানার্জন ও পড়াশোনায় অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং অলসতা করতেন না ৭। তিনি মুখস্থশক্তির প্রখরতা, বিস্মৃতিহীনতা এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং তার সুখ্যাতি ও পরিচিতি ছিল। তিনি ৭২৪ হিজরি সনের শাবান মাসে জন্মগ্রহণ করেন, ফিকহ অর্জন করেন, ওয়ায-নসিহতের কাজে পরিশ্রম করেন এবং অধ্যাপনা ও ফতোয়া প্রদানের আসনে আসীন হন। তিনি ৭৯২ হিজরি সনের জিলহজ মাসে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি রহম করুন ৮।

--------------------------------------------

১ আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/ ১৯৫ "২২৭৭"।

২ তিনি এক্ষেত্রে আদ-দুরারুল কামিনাহ-তে যা আছে তা অনুসরণ করেছেন, অথচ এর কোনো সত্যতা নেই। কীভাবে তা সম্ভব যখন তার পিতা শিহাব আবুল আব্বাস আহমদ বিন রজব আল-বাগদাদি আল-মুকরি উক্ত বছরের ১৫ই রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন যেমনটি আল-মানহাজুল আহমাদ-এ আছে অথবা ৭০৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন যেমনটি আর-রাদ্দুল ওয়াফির-এ আছে?! সঠিক হলো তা-ই যা হাফেজ ইবনে হাজার প্রণীত ইনবাউল গুমর-এ রয়েছে যে, তিনি ৭৩৬ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন; এটি আল-মানহাজুল আহমাদ-এর লেখকের এই উক্তির দ্বারা সমর্থিত হয় যে, তিনি তার পিতার সাথে ৭৪৪ হিজরি সনে শৈশব অবস্থায় বাগদাদ থেকে দামেস্কে আসেন, আর ইতিপূর্বে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। "আত-তাহতাবি"।

৩ জানাজা অধ্যায় পর্যন্ত এবং তিনি এর নাম দিয়েছিলেন "ফাতহুল বারি", আর ইবনে হাজার বুখারির ওপর তার নিজের শরহের নামটি এটি থেকেই গ্রহণ করেছেন।

৪ আর এটি "ইবনে আবি ইয়ালা"-এর তাবাকাত-এর পরিশিষ্ট, "আবু ইয়ালা"-এর নয়, যদিও ইবনে হাজারের লেখায় এটি ঘটেছে।

৫ আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/ ১১৫ "৩১০৪"।

৬ এভাবেই একাধিক ব্যক্তির বক্তব্যে এসেছে এবং আমার হাতে থাকা ইনবাউল গুমর-এর কপিতে এসেছে "উমর বিন সাঈদ বিন উমর বিন বদর বিন মুসলিম বিন সাঈদ আল-কুরাশি আল-বালখি আল-আসল আদ-দিমাশকি আল-কাত্তানি—তাশদিদযুক্ত 'তা' এরপর 'নুন' সহযোগে" এবং এই বাক্য থেকে তার পিতা মুসলিমের নাম পড়ে গেছে, কেননা পরবর্তীতে ইনবাউল গুমর-এ তার পুত্র আহমদের জীবনীতে এভাবে এসেছে: কাজি শিহাবুদ্দীন আহমদ বিন জয়নুদ্দীন উমর বিন মুসলিম বিন সাঈদ বিন উমর বিন বদর বিন মুসলিম আল-কুরাশি আদ-দিমাশকি ... ইত্যাদি এবং তার পুত্র মুহাম্মদের জীবনীতে এসেছে: শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন উমর বিন মুসলিম বিন সাঈদ আল-কুরাশি আদ-দিমাশকি, শিহাবুদ্দীনের ভাই, শাইখ জয়নুদ্দীনের পুত্র ... ইত্যাদি। সুতরাং এটি জানা থাকা উচিত। "আত-তাহতাবি"।

৭ অন্যদের বক্তব্যে এসেছে "ক্লান্ত হতেন না" এবং সম্ভবত এটিই অধিক উপযুক্ত। "আত-তাহতাবি"।

৮ লোকেরা তার সমালোচনা করেছে এই কারণে যে, তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা তাজউদ্দীন সুবকির পরীক্ষার সময় তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করেছিলেন, অথচ তিনিই তাকে ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। আদ-দুরারুল কামিনাহ।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৪৪)
ابن سند 1 ف الحافظ شمس الدين أبو العباس محمد بن موسى بن محمد بن سند بن تميم اللخمي المصري الأصل الشامي:

ولد في ربيع الآخر سنة تسع وعشرين وسبعمائة وتفقه قليلا وأخذ عن الأسنوي والتاج السبكي ولازمه وولاه عدة وطائفة2 والتاج المراكشي وأجازه بالعربية، وأجازه بالإفتاء العلائي وابن كثير وطلب الحديث بعد أربعين سنة3 فسمع من جماعة ورافق العراقي في السماع وولي مشيخة الحديث بأماكن وذكره الذهبي في المعجم المختص وهو آخر المذكورين فيه وفاة وذيل على العبر بعد ذيل الحسيني وخرج الأربعين المتابينة وغير ذلك، مات في صفر سنة اثنتين وتسعين وسبعمائة.

ابن الملقن ف الإمام الفقيه الحافظ ذو التصانيف الكثيرة سراج الدين أبو حفص عمر ابن الإمام النحوي نور الدين أبي الحين علي بن أحمد بن محمد الأنصاري الشافعي أحد شيوخ الشافعية وأئمة الحديث:

ولد سنة ثلاث وعشرين وسبعمائة وسمع من الميدومي وعدة وتخرج في الحديث بالزين الرحبي ومغلطاي وبرع في الفقه والحديث وصنف فيهما الكثير "كشرح البخاري" و"شرح العمدة" وألف في المصطلح "المقنع"4 حدثنا عنه غير واحد، مات في ليلة الجمعة سادس عشر من ربيع الأول سنة أربع وثمانمائة.

البلقيني ف هو الإمام العلامة شيخ الإسلام الحافظ الفقيه البارع ذو الفنون المجتهد سراج الدين أبو حفص عمر بن رسلان بن نصير بن صالح بن شهاب بن عبد الخالق بن محمد بن مسافر الكناني الشافعي:

ولد في ثانٍ من شعبان سنة أربع وعشرين وسبعمائة وسمع من ابن القماح وابن عبد الهادي وابن شاهد الجيش وآخرين وأجاز له المزي والذهبي وخلق لا يحصون وأخذ الفقه عن ابن عدلان والتقي السبكي والنحو عن أبي حيان وانتهت إليه

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة 4/ 167 "4727".

2 ولعله "عدة من وظائفه" أي أنابه عنه فيها ففي إنباء الغمر وناب عن بعض القضاة الشافعية كالتاج السبكي وكان شديد اللزوم له وقارئا لتصانيف في دروسه وناب عنه في مشيخة دار الحديث الأشرفية وغيرها. "الطهطاوي".

3 أي بعد سنة أربعين وسبعمائة كما تفيده عبارة إنباء الغمر. "الطهطاوي".

4 والذي في معجم الحافظ ابن حجر في ترجمته وصنف في علوم الحديث مختصرا سماه الكافي. اهـ. هكذا رأيت في النسخة التي بيدي منه وتقدم في كلام الحافظ تقي الدين بن فهد في ترجمته أنهما كتابان له في علوم الحديث ولعل الكافي مقتضب من المقنع والله أعلم وقد قال هو في إجازة كتبها بخطه وهو بمكة تجاه الكعبة في ذي الحجة من سنة 761: ووقع لي عدة أحاديث تساعيات ذكرت ثلاثة منها في آخر كتابي المقنع في علوم الحديث. اهـ. ثم رأيت صاحب الضوء اللامع نقل في ترجمته عن الحافظ ابن حجر أن له في علوم الحديث المقنع وقال: قلت: وقفت عليه وهو في مجلد وله فيها التذكرة في كراسة رأيتها أيضًا. اهـ. ورأيت في كشف الظنون أنه اقتضب من المقنع مختصرا سماه التذكرة وشرحه شرحا صغيرا ولم يذكر كل منهما الكافي ولعله هو التذكرة والله أعلم. "الطهطاوي".
ইবনে সানাদ ১ হাফেজ শামসুদ্দিন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সানাদ ইবনে তামিম আল-লাখমি, মূলত মিশরীয় এবং আবাসস্থলে সিরীয়:

তিনি সাতশ উনত্রিশ হিজরির রবিউস সানি মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সামান্য ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং আল-আসনাবি ও আল-তাজ আল-সুবকির নিকট শিক্ষালাভ করেন। তিনি আল-সুবকির সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তিনি তাকে বেশ কিছু দায়িত্ব ও পদে২ নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি আল-তাজ আল-মাররাকুশির নিকট আরবি ভাষা শিক্ষা করেন এবং তিনি তাকে ইজাজত প্রদান করেন। আল-আলাই ও ইবনে কাসির তাকে ফতোয়া প্রদানের ইজাজত দেন। তিনি সত্তর বছর বয়সের পর৩ হাদিস শাস্ত্র অন্বেষণ শুরু করেন এবং একদল উস্তাদের নিকট শ্রবণ করেন। হাদিস শ্রবণে তিনি আল-ইরাকির সঙ্গী ছিলেন। তিনি বিভিন্ন স্থানে হাদিসের প্রধান শিক্ষকের (মাশাইখ) দায়িত্ব পালন করেন। ইমাম আল-জাহাবি তার 'আল-মুজাম আল-মুখতাস' গ্রন্থে তার কথা উল্লেখ করেছেন; উক্ত গ্রন্থে যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে তিনিই সবার শেষে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আল-হুসাইনির পরিশিষ্টের পর 'আল-ইবার' গ্রন্থের পরিশিষ্ট রচনা করেন এবং 'আল-আরবাউন আল-মুতাবায়িনাহ' সহ অন্যান্য গ্রন্থ সংকলন করেন। তিনি সাতশ বিরানব্বই হিজরির সফর মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনুল মুলাক্কিন ইমাম, ফকিহ, হাফেজ ও বহু গ্রন্থের প্রণেতা সিরাজুদ্দিন আবু হাফস উমর ইবনে ইমাম নাহবি নুরুদ্দিন আবুল হুসাইন আলি ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারি আল-শাফিঈ; যিনি শাফিঈ মাযহাবের অন্যতম শায়খ এবং হাদিসের ইমামগণের একজন:

তিনি সাতশ তেইশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল-মাইদুমি ও আরও অনেকের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। জায়ন আল-রাহবি ও মুগলতাইয়ের নিকট হাদিস শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রে তিনি পারদর্শী ছিলেন এবং এই দুই বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন- 'শারহুল বুখারি' এবং 'শারহুল উমদাহ'। হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রে তিনি 'আল-মুকনি'৪ রচনা করেন। আমাদের নিকট তার থেকে একাধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন। তিনি আটশ চার হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের ষোলো তারিখ শুক্রবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন।

আল-বুলকিনি তিনি হলেন ইমাম, আল্লামা, শায়খুল ইসলাম, হাফেজ, বিজ্ঞ ফকিহ, বহু বিদ্যায় পারদর্শী ও মুজতাহিদ সিরাজুদ্দিন আবু হাফস উমর ইবনে রাসলান ইবনে নাসির ইবনে সালিহ ইবনে শিহাব ইবনে আব্দুল খালিক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসাফির আল-কিনানি আল-শাফিঈ:

তিনি সাতশ চব্বিশ হিজরির শাবান মাসের দুই তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইবনুল কাম্মাহ, ইবনে আব্দুল হাদি, ইবনে শাহিদ আল-জাইশ এবং আরও অনেকের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। আল-মিজ্জি, আল-জাহাবি এবং অসংখ্য আলিম তাকে ইজাজত প্রদান করেছেন। তিনি ইবনে আদলান ও আল-তাকি আল-সুবকির নিকট ফিকহ এবং আবু হাইয়ানের নিকট নাহু (ব্যাকরণ) শিক্ষা করেন এবং তার মাধ্যমেই এর সমাপ্তি ঘটে।

--------------------------------------------

১ আদ-দুরাকুল কামিনাহ ৪/১৬৭ "৪৭২৭"।

২ সম্ভবত এর অর্থ "তার বেশ কিছু দায়িত্ব", অর্থাৎ তিনি তাকে সেসব দায়িত্বে নিজের স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন। 'ইনবাউল গুমর' গ্রন্থে আছে যে, তিনি আল-তাজ আল-সুবকির মতো কিছু শাফিঈ বিচারকের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাজ করতেন। তিনি তার একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন এবং তার পাঠদানে তার কিতাবসমূহ পাঠ করতেন। তিনি 'দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যাহ' এবং অন্যান্য স্থানে তার স্থলাভিষিক্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন। "আত-তাহতাবি"।

৩ অর্থাৎ সাতশ চল্লিশ হিজরির পর, যা 'ইনবাউল গুমর'-এর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়। "আত-তাহতাবি"।

৪ হাফেজ ইবনে হাজারের মুজামে তার জীবনীতে আছে যে, তিনি উলুমুল হাদিসে 'আল-কাফি' নামে একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করেছেন। আমার নিকট রক্ষিত কপিতে আমি এমনই দেখেছি। পূর্বে হাফেজ তাকিউদ্দিন ইবনে ফাহদ-এর আলোচনায় তার জীবনীতে এসেছে যে, উলুমুল হাদিসে তার দুটি গ্রন্থ রয়েছে; সম্ভবত 'আল-কাফি' গ্রন্থটি 'আল-মুকনি' থেকে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, আল্লাহই ভালো জানেন। তিনি নিজে ৭৬১ হিজরির জিলহজ মাসে মক্কায় কাবার সামনে বসে স্বহস্তে লিখিত এক ইজাজতে বলেছেন: আমি বেশ কিছু 'তুসাইয়াত' (নয় জন বর্ণনাকারীর সূত্রে বর্ণিত) হাদিস পেয়েছি, যার মধ্যে তিনটি আমি উলুমুল হাদিস বিষয়ক আমার 'আল-মুকনি' গ্রন্থের শেষে উল্লেখ করেছি। এরপর আমি দেখেছি যে, 'আদ-দাও আল-লামি' গ্রন্থের লেখক তার জীবনীতে হাফেজ ইবনে হাজার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উলুমুল হাদিসে তার 'আল-মুকনি' গ্রন্থটি রয়েছে। তিনি বলেন: আমি সেটি দেখেছি, তা এক খণ্ডে সমাপ্ত। উলুমুল হাদিসে তার 'আত-তাজকিরাহ' নামক একটি পুস্তিকাও রয়েছে যা আমি দেখেছি। 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে দেখেছি যে, তিনি 'আল-মুকনি' থেকে একটি সংক্ষিপ্তসার তৈরি করেছেন যার নাম 'আত-তাজকিরাহ' এবং সেটির একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাও লিখেছেন। তবে তাদের কেউই 'আল-কাফি'র কথা উল্লেখ করেননি, সম্ভবত সেটিই 'আত-তাজকিরাহ', আল্লাহই ভালো জানেন। "আত-তাহতাবি"।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৪৫)
رياسة المذهب والإفتا وولي قضاء الشام سنة تسع وستين عوضا عن تاج الدين السبكي فباشره دون السنة وولي تدريس الخشابية والتفسير بجامع ابن طولون والظاهرية وغير ذلك وألف في علم الحديث "محاسن الاصطلاح وتضمين ابن الصلاح"1 وله "شرح على البخاري"2 والترمذي وأشياء أخر، مات في عاشرمن ذي القعدة سنة خمس وثمانمائة.

العراقي ف الحافظ الإمام الكبير الشهير أبو الفضل زين الدين عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن بن أبي بكر بن إبراهيم العراقي حافظ العصر:

ولد في جمادى الأولى سنة خمس وعشرين وسبعمائة بمنشأة المهزاني بين مصر والقاهرة وكان أصل أبيه من بلدة يقال لها رازيان من عمل أربل وقدم القاهرة وهو صغير فنشأ في خدمة الصالحين ومن جملتهم الشيخ تقي الدين القنائي ويقال إنه بشره بالشيخ وقال: سمه عبد الرحيم، يعني باسم جده الأعلى الشيخ عبد الرحيم القنائي أحد المعتقدين بصعيد مصر فكان كذلك، وأول ما أسمع الحديث على سنجر الجاولي والتقي الأخنائي ثم أسمع على ابن شاهد الجيش وابن عبد الهادي والتقي السبكي واشتغل بالعلوم وأحب الحديث فأكثر من السماع وتقدم في فن الحديث بحث كان شيوخ عصره يبالغون في الثناء عليه بالمعرفة كالسبكي والعلائي والعز بن جماعة والعماد بن كثير وغيره، ونقل عنه الشيخ جمال الدين الأسنوي في المهمات ووصفه بحافظ العصر وكذلك وصفه في الطبقات في ترجمة ابن سيد الناس فقال: وشرح -يعني ابن سيد الناس- قطعة من الترمذي نحو مجلدين وشرع في إكماله حافظ الوقت زين الدين العراقي إكمالا مناسبا لأصله انتهى، وله من المؤلفات في الفن "الألفية" التي اشتهرت في الآفاق وشرحها و"نكت ابن الصلاح" و"المراسيل" و"نظم الاقتراح" و"تخريج أحاديث الأحياء" في خمس مجلدات ومختصره سماه "المغني" في مجلدة وبيض من "تكملة شرح الترمذي" كثيرًا وكان أكمله في المسودة أو كاد و"نظم منهاج البيضاوي" في الأصول و"نظم غريب القرآن" و"نظم السيرة النبوية" في ألف بيت، وولي قضاء المدينة الشريفة.

قال الحافظ ابن حجر: وشرع في إملاء الحديث من سنة ست وتسعين3 فأحيا الله

--------------------------------------------

1 والذي ذكره الحافظ ابن حجر في معجمه في ترجمته أن اسم كتابه هذا "محاسن الاصطلاح وتضمين علوم الحديث لابن الصلاح" قال: اختصر فيه كتاب ابن الصلاح وزاد فيه أشياء من إصلاح ابن الصلاح لمغلطاي فنبه على بعض أوهام مغلطاي وقلده في بعضها وزاد فيه بعض مباحث أصولية وليس هو على قدر رتبته في العلم. "الطهطاوي".

2 على عشرين حديثا منه فقط.

3 والذي في معجم الحافظ ابن حجر "من سنة خمس وتسعين" وتقدم في ذيل التقي بن فهد ما يوافقه. "الطهطاوي".
মাযহাবের নেতৃত্ব, ইফতা এবং উনসত্তর (৭৬৯) হিজরি সনে তাজউদ্দীন আস-সুবকীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে শামের বিচারপতির দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি এক বছরেরও কম সময় এই দায়িত্বে ছিলেন। তিনি আল-খাশাবিয়্যাহ-তে পাঠদান এবং ইবনে তুলুন জামে মসজিদে তাফসিরের দরস প্রদান করেছেন। এছাড়া জাহিরিয়্যাহ ও অন্যান্য স্থানেও পাঠদান করেছেন। হাদিস শাস্ত্রে তিনি 'মাহাসিনুল ইসতিলাহ ওয়া তাদমীনু ইবনুস সালাহ' রচনা করেন। তার 'শারহুল বুখারী' ও 'তিরমিযী' এবং অন্যান্য রচনাও রয়েছে। তিনি ৮০৫ হিজরির ১০ই যিলকদ মৃত্যুবরণ করেন।

আল-ইরাকী: তিনি হলেন হাফিয, ইমাম, মহান ও সুপ্রসিদ্ধ আলিম, আবুল ফযল যয়নুদ্দীন আবদুর রহীম বিন আল-হুসাইন বিন আবদুর রহমান বিন আবী বকর বিন ইবরাহীম আল-ইরাকী; সমকালীন শ্রেষ্ঠ হাফিয:

তিনি ৭২৫ হিজরির জুমাদাল উলা মাসে মিসর ও কায়রোর মধ্যবর্তী মানশাতুল মাহযানী নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার আদি নিবাস ছিল ইরবিলের অন্তর্গত রাযিয়ান নামক এক জনপদে। তিনি শৈশবে কায়রোতে আসেন এবং পুণ্যবানদের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শেখ তাকীউদ্দীন আল-কুনাঈ। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি তাকে শায়খ হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: তার নাম আবদুর রহীম রাখো। অর্থাৎ, তার ঊর্ধ্বতন পিতামহ শেখ আবদুর রহীম আল-কুনাঈর নামে, যিনি উচ্চ-মিসরের অন্যতম বরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বাস্তবেও তাই হয়েছিল। তিনি সর্বপ্রথম সানজার আল-জাওলী এবং তাকী আল-আখনাঈর নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। এরপর ইবনে শাহিদ আল-জাইশ, ইবনে আব্দুল হাদী এবং তাকী আস-সুবকীর নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী হন এবং হাদিস শাস্ত্রের প্রতি অনুরাগী হন, ফলে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন। হাদিস শাস্ত্রে তিনি এতটাই পারদর্শিতা অর্জন করেন যে, তার যুগের মহান শায়খরা যেমন সুবকী, আল-আলাই, ইযযুদ্দীন বিন জামাআহ, ইমাদুদ্দীন বিন কাসীর ও অন্যান্যরা তার জ্ঞানের ভূয়সী প্রশংসা করতেন। শেখ জামালুদ্দীন আল-আসনাবী 'আল-মুহিম্মাত' গ্রন্থে তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাকে 'হাফিযুল আসর' (যুগের হাফিয) হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইভাবে তিনি 'তবকাত' গ্রন্থে ইবনে সাইয়্যিদুন নাস-এর জীবনীতে তাকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: তিনি—অর্থাৎ ইবনে সাইয়্যিদুন নাস—তিরমিযীর একটি অংশের ব্যাখ্যা লিখেছিলেন যা প্রায় দুই খণ্ডের মতো ছিল; পরবর্তীতে সমসাময়িক হাফিয যয়নুদ্দীন আল-ইরাকী তার মূল রচনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তা পূর্ণ করতে শুরু করেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। ইলমে হাদিসে তার রচনার মধ্যে রয়েছে 'আল-আলফিয়্যাহ' যা দিগদিগন্তে খ্যাতি লাভ করেছে এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ; এছাড়া 'নুকাতে ইবনুস সালাহ', 'আল-মরাসীল', 'নাযমুল ইগতিরাহ' এবং 'তাখরীজু আহাদীসিল ইহয়া' যা পাঁচ খণ্ডে সমাপ্ত। এর সংক্ষিপ্ত রূপের নাম দিয়েছেন 'আল-মুগনী' যা এক খণ্ডে। তিনি 'তাকমিলাতু শারহিত তিরমিযী'-এর অনেক অংশ পরিপাটি করেছেন এবং এটি খসড়া অবস্থায় তিনি সম্পন্ন করেছেন অথবা প্রায় শেষ করে এনেছিলেন। উসূলে ফিকহে 'নাযমু মিনহাজিল বায়যাবী', 'নাযমু গারীবিল কুরআন' এবং এক হাজার পঙক্তিতে 'নাযমুস সীরাতিন নববিয়্যাহ' তার উল্লেখযোগ্য কাজ। তিনি মদীনা মুনাওয়ারার বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

হাফিয ইবনে হাজার বলেন: তিনি ৭৯৬ হিজরি থেকে হাদিস শ্রুতিলিপি প্রদান শুরু করেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ পুনরুজ্জীবিত করেন...

--------------------------------------------

১. হাফিয ইবনে হাজার তার মু'জাম গ্রন্থে তার জীবনীতে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো, তার এই কিতাবটির নাম 'মাহাসিনুল ইসতিলাহ ওয়া তাদমীনু উলূমিল হাদিস লি ইবনিস সালাহ'। তিনি বলেন: এতে তিনি ইবনুস সালাহ-এর কিতাবকে সংক্ষেপ করেছেন এবং মুগলত্বাঈ কর্তৃক ইবনুস সালাহ-এর সংশোধিত কিছু বিষয় এতে যোগ করেছেন। ফলে তিনি মুগলত্বাঈর কিছু ভুলের দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করেছেন এবং কিছু উসূলে ফিকহের আলোচনাও যোগ করেছেন। তবে এটি তার ইলমী উচ্চমার্গের পর্যায়ের নয়। "আত-তহতাবী"।

২. এর মধ্য থেকে মাত্র বিশটি হাদিসের ওপর।

৩. হাফিয ইবনে হাজারের মু'জাম-এ রয়েছে "৭৯৫ হিজরি থেকে" এবং তাকী বিন ফাহাদের সংযোজনীতেও এর সাথে মিল পাওয়া যায়। "আত-তহতাবী"।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৪৬)
به سنة الإملاء بعد أن كانت دائرة فأملى أكثر من أربعمائة مجلس، قال الحافظ: وكانت أماليه يمليها من حفظه متقنة مهذبة محررة كثيرة الفوائد الحديثية، قال: وكان الشيخ منور الشيبة جميل الصورة كثير الوقار نزر الكلم طارحا للتكلف لطيف المزاح سليم الصدر كثير الحياء قل أن يواجه أحدا بما يكرهه ولو آذاه، متواضعا حسن النادرة والفكاهة وكان لا يترك قيام الليل بل صار له كالمألوف وكان كثير التلاوة إذا ركب وكان عيشه ضيقا، قال رفيقه الشيخ نور الدين الهيثمي: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في النوم وعيسى عليه السلام عن يمينه والشيخ زين الدين العراقي عن يساره، مات ثامن من شعبان سنة ست وثمانمائة رحمه الله تعالى.

الهيثمي ف الحافظ نور الدين أبو الحسن علي بن أبي بكر بن سليمان بن عمر بن صالح رفيق الحافظ أبي الفضل العراقي:

ولد سنة خمس وثلاثين وسبعمائة ورافق العراقي في السماع فسمع جميع ما سمعه وكان ملازما له مبالغا في خدمته وكان يحفظ كثيرا من متون الأحاديث فكان إذا سُئل العراقي عن حديث بادر إلى إيراده فيظن من لا خبرة له أنه أحفظ منه وليس كذلك وإنما الحفظ المعرفة وكان العراقي يحبه كثيرا ويرشده إلى التصنيف ويؤلف له الخطب للكتب، جمع زوائد مسند أحمد على الكتب الستة ثم مسند البزار ثم أبي يعلى ثم معجم الطبراني الكبير ثم الأوسط والصغير ثم جمع هذه الستة في كتاب محذوفة الأسانيد وتكلم على كل حديث عقبه1 وله "زوائد الحلية" و"زوائد صحيح ابن حبان على الصحيحين" وغير ذلك، قال الحافظ ابن حجر: كان خيرا ساكنا صينا سليم الفطرة شديد الإنكار للمنكر لا يترك قيام الليل، مات في تاسع عشري رمضان سنة سبع وثمانمائة.

ابن عشائر ف الحافظ ناصر الدين أبو المعالي محمد بن علي بن محمد بن محمد بن هاشم بن عبد الواحد بن أبي حامد بن أبي المكارم عبد المنعم بن عشائر السلمي الحلبي الخطيب:

ولد سنة اثنتين وأربعين وسبعمائة في ربيع الأول وأخذ عن التاج السبكي وابن قاضي الجبل والأعمى والبصير وسمع من الصلاح الصفدي وابن المهندس وأصحاب الفخر واعتنى بالحديث وأخذ العلم عن جمع وكان فاضلا عالما مشاركا في العلوم سريع الحفظ جدا، له تعاليق ومجاميع مفيدة، مات بمصر في ربيع الثاني2 سنة تسع وثمانين وسبعمائة.

--------------------------------------------

1 وسماه "مجمع الزوائد ومنبع الفوائد" وهو من أهم كتب السنن بعد الأصول الستة، ومن يطلع عليه يخضع لجلالة قدر مؤلفه في الحديث.

2 قال ابن حجر: مات في شهر ربيع الأول، وبخط القاضي علاء الدين في 26 ربيع الآخر. اهـ.
তার মাধ্যমেই শ্রুতিলিপি প্রদানের সুন্নাহ পুনরায় জীবিত হয়, যা ইতিপূর্বে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। তিনি চারশ’রও বেশি মজলিসে শ্রুতিলিপি প্রদান করেছেন। হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: তার শ্রুতিলিপিগুলো তিনি অত্যন্ত নিখুঁত, পরিশীলিত, সুসংবদ্ধ এবং হাদীসতত্ত্বের বহুবিধ উপকারে সমৃদ্ধ অবস্থায় মুখস্থ থেকে প্রদান করতেন। তিনি আরও বলেন: শাইখ ছিলেন উজ্জ্বল শুভ্র কেশধারী, সুশ্রী চেহারার অধিকারী এবং অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ। তিনি পরিমিত কথা বলতেন, কৃত্রিমতা বর্জন করতেন, তার হাস্যরসে মার্জিতবোধ ছিল, তিনি ছিলেন স্বচ্ছ হৃদয়ের অধিকারী ও অত্যন্ত লজ্জাশীল। কাউকে অপ্রিয় কথা খুব কমই বলতেন, এমনকি কেউ তাকে কষ্ট দিলেও। তিনি বিনয়ী ছিলেন এবং তার উপস্থিত বুদ্ধি ও রসবোধ ছিল চমৎকার। তিনি রাতের সালাত (কিয়ামুল লাইল) কখনো ত্যাগ করতেন না, বরং এটি তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। সওয়ারিতে আরোহণ অবস্থায় তিনি প্রচুর তিলাওয়াত করতেন এবং তার জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত জীর্ণ ও সংকুচিত। তার সহকর্মী শাইখ নূরুদ্দীন আল-হাইসামি বলেন: আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, যার ডান পাশে ঈসা আলাইহিস সালাম এবং বাম পাশে শাইখ যাইনুদ্দীন আল-ইরাকি ছিলেন। তিনি ৮০৬ হিজরির আটই শাবান ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

আল-হাইসামি: তিনি হলেন হাফেজ নূরুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন আবু বকর বিন সুলাইমান বিন উমর বিন সালিহ, হাফেজ আবু আল-ফজল আল-ইরাকির সহকর্মী:

তিনি ৭৩৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাদীস শ্রবণে ইরাকির সঙ্গী ছিলেন এবং ইরাকি যা কিছু শুনেছেন তার সবই তিনি শ্রবণ করেছেন। তিনি সর্বদা ইরাকির সাথে থাকতেন এবং তার খেদমতে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন। তিনি হাদীসের অসংখ্য মতন (মূল পাঠ) মুখস্থ রাখতেন। যখন ইরাকিকে কোনো হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি তৎক্ষণাৎ তা উপস্থাপন করতেন; ফলে যাদের এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা ছিল না তারা মনে করত যে তিনি ইরাকির চেয়েও বড় হাফেজ, অথচ বিষয়টি তেমন ছিল না; বরং প্রকৃত সংরক্ষণ (হিফজ) হলো গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। ইরাকি তাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন, তাকে গ্রন্থ রচনায় দিকনির্দেশনা দিতেন এবং তার বইগুলোর ভূমিকা লিখে দিতেন। তিনি ছয়টি কিতাবের (কুতুবুস সিত্তা) অতিরিক্ত হিসেবে মুসনাদে আহমাদ-এর অতিরিক্ত হাদীসগুলো সংগ্রহ করেন, এরপর মুসনাদে বাজ্জার, এরপর আবু ইয়ালা, এরপর তাবারানির আল-মুজামুল কাবীর, এরপর আল-আওসাত ও আস-সাগীর সংগ্রহ করেন। অতঃপর তিনি এই ছয়টি গ্রন্থকে সনদসমূহ বাদ দিয়ে এক কিতাবে একত্রিত করেন এবং প্রত্যেক হাদীসের পরে সে সম্পর্কে মন্তব্য করেন। এছাড়া তার 'জাওয়াইদুল হিলয়াহ' এবং 'জাওয়াইদু সহীহ ইবনে হিব্বান আলাস সহীহাইন' সহ আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: তিনি ছিলেন নেককার, শান্ত, পবিত্র স্বভাবের অধিকারী এবং অন্যায়ের কঠোর প্রতিবাদকারী। তিনি রাতের সালাত (কিয়ামুল লাইল) কখনো ছাড়তেন না। তিনি ৮০৭ হিজরির ২৯শে রমজান ইন্তেকাল করেন।

ইবনে আশাইর: হাফেজ নাসিরুদ্দীন আবু আল-মাআলি মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন হাশিম বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আবু হামিদ বিন আবুল মাকারিম আব্দুল মুনইম বিন আশাইর আস-সুলামি আল-হালাবি আল-খতিব:

তিনি ৭৪২ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাজ আল-সুবকি, ইবনে কাদি আল-জাবাল, আল-আ’মা এবং আল-বাসির থেকে ইলম হাসিল করেন এবং সালাহ আস-সাফাদি, ইবনে আল-মুহান্দিস ও ফখর-এর অনুসারীদের থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি হাদীসের প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন এবং বহু উলামার নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ আলিম, বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী এবং অত্যন্ত প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী। তার বেশ কিছু উপকারী টীকা ও সংকলন রয়েছে। তিনি ৭৮৯ হিজরির রবিউস সানি মাসে মিশরে ইন্তেকাল করেন।

--------------------------------------------

১ তিনি এর নাম রেখেছিলেন "মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ", যা উসূলুস সিত্তা (ছয়টি মূল গ্রন্থ)-এর পরে হাদীস শাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। যে কেউ এটি অধ্যয়ন করবে, সে হাদীস শাস্ত্রে এর লেখকের সুউচ্চ মর্যাদা ও মহত্ত্বের নিকট মস্তক অবনত করতে বাধ্য হবে।

২ ইবনে হাজার বলেন: তিনি রবিউল আউয়াল মাসে মারা গেছেন, তবে কাজী আলাউদ্দীনের হস্তলিপিতে ২৬শে রবিউস সানি উল্লেখ আছে। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৪৭)
الحسباني ف الحافظ شهاب الدين أحمد بن العماد إسماعيل بن خليفة الدمشقي:

ولد سنة تسع وأربعين وسبعمائة واشتغل وعني بالفن ومهر فيه واعتنى بضبط الأسماء وتحرير المشتبه وسمع الكثير وبرع في الفقه والفرائض والعربية والأصول وولي دار الحديث الأشرفية وغيرها ثم قضاء الشام قال ابن حجر: وكان الشيخ سراج الدين البلقيني يعظمه ويشهد له أنه أحفظ أهل دمشق للحديث، مات سنة خمس عشرة وثمانمائة1.

--------------------------------------------

1 يقول السخاوي: مات في يوم الأربعاء عاشر من ربيع الآخر سنة خمس وثمانمائة بمنزله بالصالحية. اهـ.
আল-হিসবানি; তিনি হলেন হাফেজ শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন আল-ইমাদ ইসমাইল বিন খলিফা আদ-দিমাশকি:

তিনি সাতশত ঊনপঞ্চাশ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং জ্ঞানচর্চায় ব্যাপৃত হয়ে এই শাস্ত্রের প্রতি মনোনিবেশ করেন ও তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি রাবিদের নামসমূহের নির্ভুল লিখন এবং অস্পষ্ট নামসমূহ পর্যালোচনায় বিশেষ যত্ন নেন। তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন এবং ফিকহ, ফারায়েজ, আরবি ভাষা ও উসুল শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। তিনি দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়া ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে শামের বিচারপতির পদে অধিষ্ঠিত হন। ইবনে হাজার বলেন: শায়খ সিরাজুদ্দিন আল-বুলকিনি তাকে সম্মান করতেন এবং তার সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতেন যে, তিনি দামেস্কবাসীদের মধ্যে হাদিসশাস্ত্রে শ্রেষ্ঠ হাফেজ ছিলেন। তিনি আটশত পনেরো হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন১।

--------------------------------------------

১ সাখাবি বলেন: তিনি আটশত পাঁচ হিজরি সালের দশই রবিউস সানি বুধবার সালিহিয়্যাহতে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৪৮)
‌‌الطبقة الخامسة والعشرون، وعدتها 11

…

الطبقة الخامسة والعشرون، عدتها11:

الشرايحي ف الحافظ جمال الدين عبد الله بن إبراهيم بن خليل بن عبد الله البعلي:

ولد سنة ثمان وأربعين وسبعمائة وسمع من إسماعيل بن السيف وابن أميلة وابن أبي عمر وجماعة وولي درس الحديث بالمدرسة الأشرفية بدمشق ومات سنة إحدى وعشرين وثمانمائة1.

الأقفهسي ف صلاح الدين أبو الصفاء خليل بن محمد بن محمد بن عبد الرحمن 2 المصري ثم المكي:

ولد سنة ثلاث وستين وسبعمائة وعني بالفن وسمع الكثير وخرج وصنف ومات سنة إحدى وعشرين وثمانمائة3.

ابن ظهيرة ف أبو حامد بن ظهيرة الجمال محمد بن عبد الله بن ظهيرةبن أحمد بن عبد الله بن عطية 4 بن ظهيرة بن مرزوق القرشي المخزومي المكي الشافعي:

ولد سنة إحدى وخمسين وسبعمائة وعني بالفن ورحل ولازم العراقي في الحديث والبلقيني في الفقه والأصول وأخذ أيضا عن البهاء السبكي والشهاب الأذرعي وصنف في الفنون، مات سنة سبع عشرة وثمانمائة.

--------------------------------------------

1 والذي في معجم الحافظ ابن حجر أنه توفي بدمشق في آخر سنة تسع عشرة وثمانمائة قال: ثم تحرر لي أنه مات في ثالث من المحرم من سنة عشرين وثمانمائة. اهـ. وجرى على هذا صاحب الضوء اللامع وصاحب الشذرات وسبق التنبيه على ذلك في ذيل التقي بن فهد فكلمة إحدى في عبارة المؤلف زائدة والصواب سنة عشرين وثمانمائة. "الطهطاوي".

2 ومثله في الشذرات والذي في معجم الحافظ ابن حجر "ابن عبد الرحيم" وفي الضوء اللامع "ابن عبد الرحيم بن عبد الرحمن" وسبق مثله في ذيل التقي بن فهد. "الطهطاوي".

3 وذكر مثله في حسنالمحاضرة وهو تابع فيه لغيره وقد تقدم في ذيل التقي بن فهد في الصفحة "272" أنه توفي في أواخر سنة عشرين وثمانمائة وكذا ذكر الحافظ ابن حجر في معجمه فقد قال فيه: ومات بمدينة يزد غريبًا خرج من الحمام فمات فجأة في آخر سنة عشرين ووصل الخبر بوفاته في سنة إحدى وعشرين فأرخه بعضهم فيها. اهـ. ومثله في الضوء اللامع نقلا عن التقي الفاسي. "الطهطاوي".

4 والذي تقدم في ذيل التقي بن فهد "ابن أحمد بن عطية" بدون ذكر عبد الله بينهما ومثله في الضوء اللامع في ترجمته والدرر الكامنة في ترجمة أبيه العفيف عبد الله بن ظهيرة وترجمة عمه قاضي مكة وخطيبها الشهاب أبي العباس أحمد بن ظهيرة وفي معجم الحافظ ابن حجر في ترجمة ابن عمه الخطيب كمال الدين أبي الفضل محمد بن أحمد بن ظهيرة وفي معجم الحافظ ابن حجر في ترجمة ابن عمه الخطيب كمال الدين أبي الفضل محمد بن أحمد بن ظهيرة وفي شذرات الذهب في ترجمته أبيه وعمه المذكورين وإن كان فيها في ترجمة الجمال أبي حامد مثل ما هنا والله أعلم. "الطهطاوي".
পঁচিশতম স্তর, এর সংখ্যা ১১

…

পঁচিশতম স্তর, এর সংখ্যা ১১:

আশ-শারাইহি: হাফেজ জামাল উদ্দিন আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহিম বিন খলিল বিন আব্দুল্লাহ আল-বালি:

সাতশত আটচল্লিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইসমাইল বিন আস-সাইফ, ইবনে উমায়লাহ, ইবনে আবি উমর ও এক জামাত আলেম থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি দামেস্কের আশরাফিয়া মাদরাসায় হাদিসের দরসের দায়িত্ব পালন করেন এবং আটশত একুশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।১

আল-আকফাহাসি: সালাহ উদ্দিন আবুস সাফা খলিল বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান ২ আল-মিসরি অতঃপর আল-মাক্কি:

সাতশত তেষট্টি হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এই শিল্পের (হাদিসশাস্ত্রের) প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন, প্রচুর শ্রবণ করেছেন, তাখরিজ করেছেন ও গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং আটশত একুশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।৩

ইবনে জুহাইরাহ: আবু হামিদ বিন জুহাইরাহ জামাল মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জুহাইরাহ বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আতিয়্যাহ ৪ বিন জুহাইরাহ বিন মারজুক আল-কুরাশি আল-মাখজুমি আল-মাক্কি আশ-শাফিঈ:

সাতশত একান্ন হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এই শিল্পের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং সফর করেন। হাদিসশাস্ত্রে তিনি আল-ইরাকির সাহচর্য এবং ফিকহ ও উসুলে আল-বুলকিনির সাহচর্য অবলম্বন করেন। এছাড়াও তিনি বাহা আস-সুবকি ও শিহাব আল-আজরয়ি থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। আটশত সতের হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

--------------------------------------------

১ হাফেজ ইবনে হাজারের মু'জামে যা রয়েছে তা হলো, তিনি আটশত উনিশ হিজরির শেষে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন। তিনি বলেন: অতঃপর আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি আটশত বিশ হিজরির মহরম মাসের তিন তারিখে ইন্তেকাল করেন। সমাপ্ত। আদ-দাও আল-লামি' ও আশ-শাজারাত গ্রন্থের লেখকগণও এরই অনুসরণ করেছেন এবং তাকী বিন ফাহদের জাইল (পরিশিষ্ট) গ্রন্থে ইতিপূর্বে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। সুতরাং লেখকের বক্তব্যে 'একুশ' শব্দের 'এক' অংশটি অতিরিক্ত এবং সঠিক হলো আটশত বিশ হিজরি। "আত-তহতাবি"।

২ আশ-শাজারাত গ্রন্থেও অনুরূপ রয়েছে। তবে হাফেজ ইবনে হাজারের মু'জামে রয়েছে "ইবনে আব্দুর রহিম" এবং আদ-দাও আল-লামি'তে রয়েছে "ইবনে আব্দুর রহিম বিন আব্দুর রহমান"। তাকী বিন ফাহদের জাইল গ্রন্থেও ইতিপূর্বে অনুরূপ অতিবাহিত হয়েছে। "আত-তহতাবি"।

৩ হুসনুল মুহাদারাহ গ্রন্থেও অনুরূপ উল্লেখ করা হয়েছে এবং তিনি সেখানে অন্যদের অনুকরণ করেছেন। ইতিপূর্বে তাকী বিন ফাহদের জাইল-এর ২৭২ পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে যে তিনি আটশত বিশ হিজরির শেষাংশে ইন্তেকাল করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজারও তার মু'জামে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন, তিনি সেখানে বলেন: তিনি ইয়াজদ শহরে প্রবাসী অবস্থায় ইন্তেকাল করেন; তিনি গোসলখানা থেকে বের হয়ে আটশত বিশ হিজরির শেষে হঠাৎ মারা যান এবং তার মৃত্যুর সংবাদ আটশত একুশ হিজরিতে পৌঁছায়, ফলে কেউ কেউ তাকে এই বছরেই তারিখবদ্ধ করেছেন। সমাপ্ত। তাকী আল-ফাসি থেকে উদ্ধৃত করে আদ-দাও আল-লামি'তেও অনুরূপ রয়েছে। "আত-তহতাবি"।

৪ তাকী বিন ফাহদের জাইল গ্রন্থে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা হলো "ইবনে আহমদ বিন আতিয়্যাহ", তাদের মাঝে আব্দুল্লাহর উল্লেখ ছাড়াই। আদ-দাও আল-লামি'তে তার জীবনীতে, আদ-দুরারুল কামিনাহ গ্রন্থে তার পিতা আফিফ আব্দুল্লাহ বিন জুহাইরাহ এবং তার চাচা মক্কার বিচারক ও খতিব শিহাব আবু আব্বাস আহমদ বিন জুহাইরার জীবনীতে, হাফেজ ইবনে হাজারের মু'জামে তার চাচাতো ভাই খতিব কামাল উদ্দিন আবু ফজল মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন জুহাইরার জীবনীতে এবং শাজারাতুজ জাহাব গ্রন্থে তার পিতা ও উল্লিখিত চাচার জীবনীতেও অনুরূপ রয়েছে; যদিও তাতে জামাল আবু হামিদের জীবনীতে বর্তমান পাঠ্যের মতোই রয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন। "আত-তহতাবি"।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৪৯)
ولي الدين العراقي ف هو الحافظ الإمام الفقيه الأصولي المفنن أبو زرعة أحمد ابن الحافظ الكبير أبي الفضل عبد الرحمن بن الحسين:

ولد في ذي الحجة سنة اثنتين وستين وسبعمائة واعتنى به والده فأسمعه الكثير من أصحاب الفخر وغيرهم واستملى على أبيه ولازم البلقيني في الفقه وغيره وتخرج به وأخذ عن البرهان الأبناسي وابن الملقن والضياء القزويني وغيرهم وبرع في الفنون وكان إماما محدثا حافظا فقيها محققا أصوليا صالحا صنف التصانيف الكثيرة الشهيرة النافعة كشرح سنن أبي داود ولم يتم و"شرح البهجة" في الفقه و"مختصر المهذب" والنكت على الحاوي والتنبيه والمنهاج" و"شرح جمع الجوامع" في الأصول و"شرح نظم البيضاوي لوالده" و"شرح نظم الاقتراح" لأبيه و"النكت على منهاج البيضاوي" و"شرح تقريب الأسانيد" لوالده و"حاشية على الكشاف" و"نكت الأطراف" و"المهمات" وأشياء في الحديث وأملى أكثر من ستمائة مجلس، وولي قضاء الديار المصرية بعد الجلال البلقيني، مات في سابع عشري شعبان سنة ست وعشرين وثمانمائة1.

ابن الجزري ك الحافظ المقرئ شيخ الإقراء في زمانه شمس الدين أبو الخير محمد بن محمد بن محمد بن علي بن يوسف الدمشقي الشافعي:

ولد سنة إحدى وخمسين وسبعمائة وسمع من أصحاب الفخر بن البخاري وبرع في القراآت ودخل الروم فاتصل بملكها أبي يزيد بن عثمان فأكرمه وانتفع به أهل الروم فلما دخل تيمورلنك إلى الروم وقتل ملكها اتصل ابن الجزري بتميور ودخل معه بلاد العجم وولي قضاء شيراز وانتفع به أهلها في القراآت والحديث، وكان إماما في القراآت لا نظير له في عصره في الدنيا حافظا للحديث وغيره أتقن منه ولم يكن له في الفقه معرفة ألف "النشر في القراآت العشر" لم يصنف مثله وله أشياء أُخر2 وتخاريخ في الحديث وعمل جيد، وصفه ابن حجر بالحفظ في مواضع عديدة من الدرر الكامنة، مات سنة ثلاث وثلاثين وثمانمائة.

الفاسي ف الحافظ تقي الدين محمد بن أحمد بن علي بن محمد بن محمد بن عبد الرحمن المكي الحسيني المالكي الشريف أبو الطيب:

ولد سنة خمس وسبعين وسبعمائة وأجاز له أبو بكر بن المحب وإبراهيم بن السلار ورحل وبرع وخرج وأذن له الحافظ زين الدين العراقي بإقراء الحديث ودرس وأفتى وصنف كتبا منها تواريخ مكة عدة "كالعقد

--------------------------------------------

1 آخر يوم الخميس 27 شعبان ودفن إلى جانب والده بتربة طشتمر. الضوء.

2 ككتابه "منجد المقرئين" وفيه يرد كثيرا على "المرشد الوجيز في علوم القرآن العزيز" للحافظ أبي شامة وفي باب منه يسرد رواه الشعر -إثباتا لتواترها- طبقة بعد طبقة إلى عصره بحيث يتبين للناظر تواترها بجلاء من كثرة القائمين بروايتها في جميع الطبقات، وقد تمسك الشوكاني ثم القنوجي بقول ينقل عن ابن الجزري نقلا مبتورا من غير اطلاع منهما على كتابه فأخذا يسعيان في توهين السبع فضلا عن العشر.
ওয়ালীউদ্দীন আল-ইরাকী: তিনি হলেন হাফিজ, ইমাম, ফকিহ, উসূলবিদ এবং বহুবিদ্যায় পারদর্শী আবু যুরআ আহমাদ ইবনুল হাফিজিল কাবীর আবি আল-ফজল আবদুর রহমান ইবনুল হুসাইন:

তিনি সাতশত বাষট্টি হিজরীর জিলহজ মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা তাঁর প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন এবং তাঁকে ফখর ও অন্যদের শাইখদের নিকট থেকে অনেক হাদিস শ্রবণ করিয়েছেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে হাদিস শ্রুতিলিপি (ইমলা) গ্রহণ করেছেন। তিনি ফقه (ফিকহ) ও অন্যান্য শাস্ত্রে আল-বুলকিনীর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর নিকট থেকে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি আল-বুরহান আল-আবনাসী, ইবনুল মুলাক্কিন, আদ-দিয়া আল-কাযওয়িনী ও অন্যদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শিতা লাভ করেন। তিনি ছিলেন একজন ইমাম, মুহাদ্দিস, হাফিজ, ফকিহ, গবেষক, উসূলবিদ এবং পুণ্যবান ব্যক্তি। তিনি অনেক প্রসিদ্ধ ও উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন: সুনানে আবু দাউদের শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ)—যা তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি, ফিকহ শাস্ত্রের "শারহুল বাহজাহ", "মুখতাসারুল মুহাজ্জাব", আল-হাভী, আত-তানবীহ ও আল-মিনহাজের উপর টীকাগ্রন্থ (নুকাত), উসূল শাস্ত্রের "শারহু জামউল জাওয়ামি", তাঁর পিতার রচিত "শারহু নাযমিল বায়দাবী", তাঁর পিতার "শারহু নাযমিল ইবতিরাহ", "মিনহাজুল বায়দাবীর" উপর টীকাগ্রন্থ, তাঁর পিতার "শারহু তাকরীবিল আসানিদ", "আল-কাশশাফের" উপর হাশিয়া, "নুকাতুল আতরাফ", "আল-মুহিম্মাত" এবং হাদিস শাস্ত্রের অন্যান্য বহু কিতাব। তিনি ছয়শত-এরও বেশি মজলিসে হাদিস পাঠ করিয়েছেন। জালাল আল-বুলকিনীর পর তিনি মিশরের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আটশত ছাব্বিশ হিজরীর সাতাশে শাবান মৃত্যুবরণ করেন১।

ইবনুল জাযারী: হাফিজ, ক্বারী, তাঁর সময়ের কিরাত শাস্ত্রের প্রধান শাইখ শামসুদ্দীন আবুল খায়ের মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ আদ-দিমাশকী আশ-শাফেয়ী:

তিনি সাতশত একান্ন হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ফখর ইবনুল বুখারীর শিষ্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি কিরাত শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং রোম (আনাতোলিয়া) সফর করে সেখানকার সুলতান আবু ইয়াযীদ ইবনে উসমানের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেন। সুলতান তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করেন এবং রোমের অধিবাসীগণ তাঁর দ্বারা উপকৃত হন। যখন তৈমুর লঙ রোমে প্রবেশ করে সেখানকার রাজাকে হত্যা করেন, তখন ইবনুল জাযারী তৈমুরের সাথে যুক্ত হন এবং তাঁর সাথে আজম (পারস্য) দেশে গমন করেন। সেখানে তিনি শিরাজের বিচারপতির দায়িত্ব লাভ করেন এবং সেখানকার অধিবাসীগণ কিরাত ও হাদিস শাস্ত্রে তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হন। তিনি কিরাত শাস্ত্রে এমন ইমাম ছিলেন যার সমসাময়িককালে পুরো পৃথিবীতে কোনো নজির ছিল না। তিনি হাদিস ও অন্যান্য শাস্ত্রের হাফিজ ছিলেন এবং এগুলোতে অধিক দক্ষ ছিলেন, তবে ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর তেমন জ্ঞান ছিল না। তিনি "আন-নাশর ফিল কিরাতিল আশর" গ্রন্থটি রচনা করেন, যার সমতুল্য কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য রচনা২ এবং হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন সংকলন ও চমৎকার কাজ রয়েছে। ইবনে হাজার 'আদ-দুরার আল-কামিনাহ' গ্রন্থের অনেক স্থানে তাঁকে 'হাফিজ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আটশত তেত্রিশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

আল-ফাসী: হাফিজ তাকিউদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আল-মাক্কী আল-হুসাইনী আল-মালিকী আশ-শরীফ আবু আল-তাইয়িব:

তিনি সাতশত পঁচাত্তর হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। আবু বকর ইবনুল মুহিব এবং ইব্রাহিম ইবনুল সাল্লার তাঁকে (হাদিস বর্ণনার) অনুমতি প্রদান করেন। তিনি জ্ঞানার্জনের জন্য সফর করেন, পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং হাদিস সংগ্রহ করেন। হাফিজ যয়নুদ্দীন আল-ইরাকী তাঁকে হাদিস পড়ানোর অনুমতি প্রদান করেন। তিনি শিক্ষকতা করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন এবং অনেক কিতাব রচনা করেছেন, যার মধ্যে মক্কার ইতিহাসের উপর বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছে যেমন "আল-ইকদ...

--------------------------------------------

১. বৃহস্পতিবার, ২৭শে শাবান দিনের শেষভাগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর পিতার পাশে তাশতামুর কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়। আল-দাও।

২. যেমন তাঁর কিতাব "মুনজিদুল মুকরিঈন", এতে তিনি হাফিজ আবু শামার "আল-মুরশিদ আল-ওয়াজিজ ফি উলুমিল কুরআনিল আজিজ" এর অনেক প্রতিবাদ করেছেন। এই কিতাবের একটি অধ্যায়ে তিনি কিরাতসমূহের বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতা তাঁর যুগ পর্যন্ত স্তর পরম্পরায় বর্ণনা করেছেন—যাতে সেগুলোর তাওয়াতুর (অবিচ্ছিন্নতা) প্রমাণিত হয়—যাতে পাঠক প্রতিটি স্তরে বর্ণনাকারীদের আধিক্য দেখে স্পষ্টভাবে কিরাতসমূহের তাওয়াতুর বুঝতে পারেন। শাওকানী এবং পরবর্তীতে কান্নওজী ইবনুল জাযারীর একটি বিচ্ছিন্ন উদ্ধৃতির ওপর নির্ভর করেছিলেন, যা তাঁরা ইবনুল জাযারীর মূল কিতাব না দেখেই গ্রহণ করেছিলেন। ফলে তাঁরা সাত কিরাত এমনকি দশ কিরাতকেও দুর্বল প্রমাণের চেষ্টা করেছেন।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৫০)
الثمين" و"شفاء الغرام" ومختصرات لهما1 نحو السبعة وغيرها، وكان أول قضاة المالكية بها وليها في سنة سبع وثمانمائة من الناصر فرج بن برقوق وعزل منها مرارا ومات في ثانٍ من شوال سنة اثنتين وثلاثين وثمانمائة، قال ابن حجر: ولم يخلف بالحجاز بعده مثله.

ابن ناصرالدين ف الحافظ شمس الدين محمد بن أبي بكر بن عبد الله بن 2 محمد الدمشقي:

ولد سنة سبع وسبعين وسبعمائة وطلب الحديث وجود الخط على طريقة الذهبي بحيث صار يحاكي خطه غالبا وصنف تصانيف حسنة وتخرج به صاحبنا نجم الدين عمر بن فهد المكي وصار محدث البلاد الدمشقية مات في ربيع الآخر سنة اثنتين وأربعين وثمانمائة.

ابن الغرابيلي ف الحافظ تاج الدين محمد بن ناصر الدين محمد بن محمد الكركي:

ولد سنة ست وتسعين وسبعمائة بالقاهرة واشتغل ومهر في الفنون إلا الشعر ثم أقبل على لاحديث بكليته وعرف العالي والنازل وقيد الوفيات وغيرها من الفنون وشرع في شرح على الإلمام، مات سنة خمس وثلاثين وثمانمائة.

البرهان الحلبي ف الحافظ أبو الوفاء إبراهيم بن محمد بن خليل الطرابلسي الأصل الشافعي سبط ابن العجمي ويعرف بابن القوف 3:

ولد سنة ثلاث وخمسين وثمانمائة وسمع جماعة من أصحاب الفخر وغيرهم وتخرج في الفن بالحافظ أبي الفضل العراقي وصار شيخ البلاد الحلبية بلا مدافع وخرج له صاحبنا الحافظ أبو القاسم عمر بن فهد المكي معجما، وله تصانيف منها "شرح البخاري" و"شرح الشفاء" لعياض، مات سنة إحدى وأربعين وثمانمائة رحمه الله تعالى.

الشهاب البوصيري ك أحمد بن أبي بكر بن إسماعيل بن سليم -مكبر- بن قايماز بن عثمان بن عمر الكناني المحدث شهاب الدين:

ولد في المحرم سنة اثنتين وستين وسبعمائة وسمع الكثير من البرهان التنوخي والبلقيني والعراقي والهيثمي والطبقة وحدث وخرج، وألف تصانيف حسنة منها "زوائد سنن ابن ماجه على الكتب الخمسة و"زوائد سنن البيهقي الكبرى على الكتب الستة" و"زوائد المسانيد العشرة على الكتب الستة" وهي مسند الطيالسي ومسدد والحميدي والعدني وابن راهويه وابن جميع وابن أبي شيبة وعبد بن حميد

--------------------------------------------

1 ولعل الصواب "ومختصراتهما" كما يعلم بالتأمل. "الطهطاوي".

2 وهو تابع في ذلك للحافظ ابن حجر وقد تقدم أن أبا بكر كنية عبد الله لا ابنه فالصواب إسقاط كلمة "ابن" التي بينهما. "الطهطاوي".

3 ضم القاف وسكون الواو بعدها فاء وكان يغضب منها كذا في عنوان العنوان وعبارة الضوء اللامع ويعرف بالقوف لقبه به بعض أعدائه. "الطهطاوي".
"আল-সামীন" ও "শিফাউল ঘারাম" এবং এগুলোর প্রায় সাতটি সংক্ষেপিত রূপসহ আরও অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি সেখানে মালিকি মাযহাবের প্রথম বিচারক ছিলেন এবং ৮০৭ হিজরি সনে নাসির ফারাজ ইবনে বারকুকের পক্ষ থেকে এই পদে নিযুক্ত হন। কয়েকবার পদচ্যুত হওয়ার পর ৮৩২ হিজরি সনের ২রা শাওয়াল মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে হাজার বলেছেন: তাঁর পরে হিজাজে তাঁর মতো আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না।

ইবনে নাসিরুদ্দিন: হাফিজ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আদ-দিমাশকি:

তিনি ৭৭৭ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং হাদিস অন্বেষণ করেন। তিনি আয-যাহাবীর পদ্ধতিতে হস্তলিপিবিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেন, এমনকি অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁর লিপি যাহাবীর লিপির অনুরূপ হতো। তিনি অনেক চমৎকার গ্রন্থ রচনা করেছেন। আমাদের সঙ্গী নাজমুদ্দিন উমর ইবনে ফাহদ আল-মাক্কি তাঁর কাছে শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি দামেস্কের মুহাদ্দিস হিসেবে পরিচিতি পান। ৮৪২ হিজরি সনের রবিউল আখির মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন।

ইবনুল ঘারাবিলি: হাফিজ তাজউদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-কারাকি:

তিনি ৭৯৬ হিজরি সনে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ব্যাপৃত হন এবং কবিতা ব্যতীত সব বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন। এরপর তিনি পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে হাদিস চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি রাবিদের উচ্চ ও নিম্ন সনদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন এবং ওফাতনামা ও অন্যান্য বিষয়ে তথ্য লিপিবদ্ধ করেন। তিনি 'আল-ইলমাম'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা শুরু করেছিলেন। ৮৩৫ হিজরি সনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

আল-বুরহান আল-হালাবি: হাফিজ আবু আল-ওয়াফা ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খলিল, মূলে ত্রিপোলি নিবাসী, শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারী, ইবনে আল-আজমির দৌহিত্র এবং ইবনে আল-কাওফ নামে পরিচিত:

তিনি ৭৫৩ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল-ফখর ও অন্যদের একদল সঙ্গীর কাছে হাদিস শ্রবণ করেন এবং হাফিজ আবুল ফজল আল-ইরাকির সান্নিধ্যে ইলমে হাদিসে বুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই আলেপ্পো অঞ্চলের প্রধান শাইখ হিসেবে গণ্য হতেন। আমাদের সঙ্গী হাফিজ আবুল কাসিম উমর ইবনে ফাহদ আল-মাক্কি তাঁর একটি 'মুজাম' সংকলন করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে "শারহু বুখারি" এবং ইয়াযের গ্রন্থের ব্যাখ্যা "শারহুশ শিফা"। তিনি ৮৪১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।

আশ-শিহাব আল-বুসিরি: আহমদ ইবনে আবি বকর ইবনে ইসমাইল ইবনে সুলাইম (তাসগির বা সংক্ষেপিত উচ্চারণ নয়) ইবনে কাইমাজ ইবনে উসমান ইবনে উমর আল-কিনানি আল-মুহাদ্দিস শিহাবুদ্দিন:

তিনি ৭৬২ হিজরি সনের মহররম মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বুরহান আত-তানুখি, আল-বুলকিনি, আল-ইরাকি, আল-হাইসামি এবং তাঁদের সমসাময়িকদের নিকট থেকে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি হাদিস বর্ণনা ও সংকলন করেন। তিনি অনেক চমৎকার গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: "যাওয়ায়েদু সুনানে ইবনে মাজাহ আলা আল-কুতুবিল খামসাহ", "যাওয়ায়েদু সুনানে বায়হাকি আল-কুবরা আলা আল-কুতুবিল সিত্তাহ" এবং "যাওয়ায়েদুল মাসানিদ আল-আশারাহ আলা আল-কুতুবিল সিত্তাহ"। এই মুসনাদগুলো হলো: মুসনাদে তায়ালিসি, মুসাদ্দাদ, আল-হুমাইদি, আল-আদানি, ইবনে রাহওয়াইহি, ইবনে জামি', ইবনে আবি শায়বাহ এবং আবদ ইবনে হুমাইদ।

--------------------------------------------

১. সম্ভবত সঠিক হবে "তাদের উভয়ের সংক্ষেপিত রূপসমূহ", যা গভীর চিন্তা করলে বোঝা যায়। "তাহতাবি"।

২. তিনি এক্ষেত্রে হাফিজ ইবনে হাজরের অনুকরণ করেছেন। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'আবু বকর' হলো আব্দুল্লাহর কুনিয়াত (উপনাম), তাঁর ছেলের নাম নয়। অতএব সঠিক হলো তাদের মধ্যবর্তী 'ইবনে' শব্দটি বাদ দেওয়া। "তাহতাবি"।

৩. কাফ বর্ণে পেশ এবং ওয়াও বর্ণে সাকিন, এরপর ফা। তিনি এই নামে ডাকলে রাগান্বিত হতেন, যেমনটি 'উনওয়ানুল উনওয়ান' গ্রন্থে আছে। আর 'আদ-দাওউল লামি' গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী, তাকে 'কাওফ' নামে চেনা হতো, যা তাঁর কিছু শত্রু তাঁর উপাধি হিসেবে দিয়েছিল। "তাহতাবি"।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৫১)
وابن أبي أسامة وأبي يعلى، ولم يزل مكبًّا على كتب الحديث وتخريجه إلى أن مات في المحرم سنة أربعين وثمانمائة رحمه الله تعالى.

ابن الخياط ف جمال الدين محمد ابن الإمام أبي بكر رضي الدين بن محمد الحافظ الجليل المفتي حافظ البلاد اليمنية:

أخذ عن النفيس العلوي والمجد صاحب القاموس وانتهت إليه رياسة العلم بالحديث هناك، مات بالطاعون في سنة تسع وثلاثين وثمانمائة رحمه الله تعالى.

ابن حجر ف شيخ الإسلام وإمام الحفاظ في زمانه وحافظ الديار المصرية بل حافظ الدنيا مطلقا قاضي القضاة شهاب الدين أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن محمد بن علي بن محمود بن أحمد بن أحمد بن الكناني العسقلاني ثم المصري الشافعي:

ولد سنة ثلاث وسبعين وسبعمائة1 وعانى أولا الأدب ونظم الشعر فبلغ فيه الغاية ثم طلب الحديث من سنة أربع وتسعين وسبعمائة1 فسمع الكثير، ورحل ولازم شيخه الحافظ أبا الفضل العراقي وبرع في الحديث وتقدم في جميع فنونه، حكي أنه شرب ماء زمزم ليصل إلى مرتبة الذهبي في الحفظ فبلغها وزاد عليها، ولما حضرت العراقي الوفاة قيل له: من تخلف بعدك؟ قال ابن حجر ثم ابني أبو زرعة ثم الهيثمي، وصنف التصانيف التي عم النفع بها كشرح البخاري الذي لم يصنف أحد في الأولين ولا في الآخرين مثله و"تعليق التعليق" و"التشويق إلى وصل التعليق" و"التوفيق" فيه أيضا و"تهذيب التهذيب" و"تقريب التهذيب" و"لسان الميزان" و"الإصابة في الصحابة" و"نكت ابن الصلاح" و"أسباب النزول" و"تعجيل المنفعة برحاب الأربعة" و"المدرج" و"المقترب في المضطرب" وأشياء كثيرة جدا تزيد على المائة وأملى أكثر من ألفي مجلس، وولي القضاء بالديار المصرية والتدريس بعدة أماكن وخرج أحاديث الرافعي والهداية والكشاف والفردوسي وعمل "أطراف الكتب العشرة" و"المسند الحنبلي" و"زوائد المسانيد الثمانية" وله تعاليق وتخاريج ما الحفاظ والمحدثون لها إلا محاويج، توفي في ذي الحجة سنة اثنتين وخمسين وثمانمائة، ولي منه إجازة عامة2 ولا أستبعد أن

--------------------------------------------

1 بل قبل ذلك؛ فقد قرأ عمدة الأحكام على الجمال أبي حامد بن ظهيرة المكي بمكة في سنة خمس وثمانين وسمع صحيح البخاري على العفيف النشاوري المكي بالمسجد الحرام بمكة في السنة المذكورة. وسمعه على نجم الدين عبد الرحيم بن رزين بالقاهرة في سنة ست وثمانين بقراءة الجمال بن ظهيرة المذكور. وسمعه على صلاح الدين محمد بن محمد بن علي الزفتاوي وقرأ عليه كثيرا منه بالقاهرة في سنة ثلاث وتسعين. وأظن أن من تبع تراجم شيوخه التي ذكرها في معجمه وطالع بدقة ثبت مروياته يتبين له غير ذلك والله أعلم. "الطهطاوي".

2 وكان السيوطي ابن ثلاث سنين عند وفاة ابن حجر وابن ست عند وفاة البدر العني وتراه يروي عنهما في كتبه تعويلا على الإجازة العامة منهما لأهل عصرهما وما أوهن التعويل على هذه الإجازة المفروضة وقد بينا في أواخر ثبتنا "إرشاد المستفيد" أن الجلال السيوطي رحمه الله كان لا يعول على الإجازة العامة وثبته =
এবং ইবনে আবি উসামা ও আবু ইয়ালা; তিনি হাদিসের কিতাবসমূহ এবং সেগুলোর তাখরিজের (তদস্ত ও বিশ্লেষণ) কাজে অবিরাম নিমগ্ন ছিলেন যতক্ষণ না তিনি ৮৪০ হিজরি সনের মহররম মাসে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

ইবনুল খাইয়্যাত: তিনি জামালুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে ইমাম আবু বকর রাদিউদ্দিন বিন মুহাম্মদ, মহান হাফেজ, মুফতি এবং ইয়েমেন ভূখণ্ডের হাফেজ।

তিনি নাফিস আল-আলাভি এবং 'আল-কামুস' প্রণেতা আল-মাজদ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং সেখানে হাদিস শাস্ত্রের নেতৃত্ব তাঁর ওপর এসে শেষ হয়েছিল। তিনি ৮৩৯ হিজরি সনে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

ইবনে হাজার: তিনি শায়খুল ইসলাম, সমকালীন হাফেজদের ইমাম, মিসর ভূখণ্ডের হাফেজ বরং নিরঙ্কুশভাবে গোটা বিশ্বের হাফেজ, প্রধান বিচারপতি (কাযিউল কুজাত) শিহাবুদ্দিন আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে মাহমুদ ইবনে আহমদ ইবনে আহমদ আল-কিনানি আল-আসকালানি, অতঃপর আল-মিসরি আশ-শাফিয়ি।

তিনি ৭৭৩ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন১ এবং শুরুতে সাহিত্য ও কবিতা রচনায় আত্মনিয়োগ করেন এবং তাতে চরম শিখরে পৌঁছান। অতঃপর ৭৯৪ হিজরি সন থেকে হাদিস অন্বেষণ শুরু করেন এবং প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি দেশ ভ্রমণ করেন এবং তাঁর শিক্ষক হাফেজ আবুল ফজল আল-ইরাকির সান্নিধ্যে থাকেন। তিনি হাদিস শাস্ত্রে পারদর্শী হন এবং এর সকল শাখায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি হাফেজ জাহাবির মুখস্থশক্তির স্তরে পৌঁছানোর জন্য জমজমের পানি পান করেছিলেন, অতঃপর তিনি সেই স্তরে পৌঁছান এবং তা অতিক্রম করেন। যখন আল-ইরাকির মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার পরে কে স্থলাভিষিক্ত হবেন? তিনি বললেন: ইবনে হাজার, অতঃপর আমার পুত্র আবু জুরআ, অতঃপর আল-হাইসামি। তিনি এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যার উপকারিতা সর্বজনীন হয়েছে, যেমন বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরাহ), যার মতো কোনো গ্রন্থ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কেউ রচনা করতে পারেনি। আরও রয়েছে 'তা’লিকুত তালি’ক', 'আত-তাশউইক ইলা ওয়াসলিত তালি’ক', 'আত-তাওফিক' (একই বিষয়ে), 'তেহজিবুত তেহজিব', 'তাকরিবুত তেহজিব', 'লিসানুল মিজান', 'আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবাহ', 'নুকাতে ইবনুস সালাহ', 'আসবাবুন নুযুল', 'তাজিলুল মানফাআ বিরিজাবিল আরবাআ', 'আল-মুদরাজ', 'আল-মুকতারিব ফিল মুদতারিব' এবং আরও অনেক গ্রন্থ যা একশরও বেশি। তিনি দুই হাজারেরও অধিক মজলিসে হাদিস শ্রুতিলিপি (ইমলা) করিয়েছেন। তিনি মিসর ভূখণ্ডের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন স্থানে অধ্যাপনা করেন। তিনি রাফেয়ি, হেদায়া, কাশশাফ এবং ফিরদাউসির হাদিসগুলোর তাখরিজ করেছেন। তিনি 'আতরাফুল কুতুবিল আশারাহ', 'আল-মুসনাদুল হানবালি' এবং 'জাওয়াইদুল মাসানিদিস সামানিয়াহ' প্রস্তুত করেন। তাঁর এমন কিছু টীকা ও তাখরিজ রয়েছে যার মুখাপেক্ষী হওয়া ছাড়া হাফেজ ও মুহাদ্দিসদের কোনো উপায় নেই। তিনি ৮৫২ হিজরি সনের জিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেন। তাঁর থেকে আমার সাধারণ অনুমতি (ইজাজত) রয়েছে২ এবং আমি একে অসম্ভব মনে করি না যে

--------------------------------------------

১ বরং তারও আগে; তিনি ৭৮৫ হিজরি সনে মক্কায় জামাল আবু হামিদ বিন জুহাইরা আল-মাক্কির কাছে 'উমদাতুল আহকাম' পাঠ করেন এবং উল্লিখিত বছরেই মক্কার মাসজিদুল হারামে আফিফ আন-নাশাভুরি আল-মাক্কির নিকট সহিহ বুখারি শ্রবণ করেন। এবং ৭৮৬ হিজরি সনে কায়রোতে উল্লিখিত জামাল বিন জুহাইরার পাঠের মাধ্যমে নাজমুদ্দিন আবদুর রহিম বিন রাজিনের নিকট তা শ্রবণ করেন। ৭৯৩ হিজরি সনে কায়রোতে সালাহুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি আজ-জাফতাভির নিকট তা শ্রবণ করেন এবং তাঁর কাছে এর অনেক অংশ পাঠ করেন। আমার ধারণা, যে ব্যক্তি তাঁর মু'জামে বর্ণিত তাঁর শিক্ষকদের জীবনী অনুসরণ করবেন এবং তাঁর বর্ণিত বর্ণনাসমূহের তালিকা (সাবাত) সূক্ষ্মভাবে অধ্যয়ন করবেন, তাঁর কাছে এর ব্যতিক্রমও স্পষ্ট হতে পারে, আর আল্লাহই ভালো জানেন। — "আত-তাহতাউয়ি"।

২ ইবনে হাজারের ইন্তেকালের সময় সুয়ুতির বয়স ছিল তিন বছর এবং বদর আল-আইনির ইন্তেকালের সময় ছিল ছয় বছর। আপনি তাঁকে তাঁর গ্রন্থসমূহে তাঁদের দুজনের থেকে বর্ণনা করতে দেখবেন, যা তাঁদের যুগের মানুষের জন্য তাঁদের দেওয়া সাধারণ ইজাজতের ওপর নির্ভরশীল। আর এই অনুমিত ইজাজতের ওপর নির্ভরতা কতই না দুর্বল! আমরা আমাদের তালিকার (সাবাত) শেষে 'ইরশাদুল মুস্তাফিদ'-এ বর্ণনা করেছি যে, জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) সাধারণ ইজাজতের ওপর নির্ভর করতেন না এবং তাঁর তালিকা =
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৫২)
يكون لي منه إجازة خاصة فإن والدي كان يتردد إليه وينوب في الحكم عنه وإن يكن فاتني حضور مجالسه والفوز بسماع كلامه والأخذ عنه فقد انتفعت في الفن بتصانيفه واستفدت منها الكثير وقد غلق بعده الباب وختم به هذا الشأن، وأخبرني الشهاب المنصوري أنه شهد جنازته فلما وصل إلى المصلى وأمطرت السماء على نعشه فأنشد في ذلك الوقت:

قد بكت السحب على … قاضي القضاة بالمطر

وانهدم الركن الذي … كان مشيدا من حجر

هذا آخر ما وجد من ذيل طبقات الحفاظ للذهبي لشيخنا خاتمة الحفاظ الجلال السيوطي -رحمة الله تعالى عليه- وعلى مؤلف أصلها، وقد اقتصر شيخنا تراجم أهلها وترك جماعة ممن انتظم فيها وبين ذلك شيخه جد والدي الحافظ الرحلة تقي الدين محمد بن فهد الهاشمي المكي في ذيله على طبقات السيد شمس الدين محمد بن علي الحسيني المسماة "لحظ الألحاظ بذيل طبقات الحفاظ" وقد ذيلت عليه بحمد الله تعالى بمؤلف سميته "تحفة الأيقاظ بتتمة ذيل طبقات الحفاظ" وانتهت كتابة هذا الذيل في مجلسين آخرهما في يوم الثلاثاء ثاني عشر من ربيع الثاني عام أربع وأربعين وتسعمائة بتربة المعلاة علو مكة المشرفة على يد كاتبه وراقم حروفه الفقير إلى لطف الله تعالى محمد المدعو جار الله بن عبد العزيز بن عمر بن تقي الدين محمد بن فهد الهاشمي العلوي المكي الشافعي خادم الحديث الشريف بحرم الله المطهر المنيف لطف الله به والمسلمين أجمعين والحمد لله رب العالمين وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليما.

--------------------------------------------

= المسمى "زاد المسير" بين أيدينا وهو مشحون بأسانيده وليس فيه رواية لشيء من الكتب الحديثية ولا غيرها عن البدر العيني ولا عن الحافظ ابن حجر إلا كتاب مغني اللبيب في النحو لابن هشام فقد قال في ثبته المذكور: أخبرني به الحافظ ابن حجر إجازة عامة إن لم تكن خاصة. اهـ. ولم يروها عنه من الأحاديث إلا حديثا واحدا هو المسلسل بالحفاظ وقال لم أرو بها غير هذا الحديث وقد صرح بذلك في أواخر كتابه تدريب الراوي. وقد بينا في ثبتنا المذكور عدم صحة ما جاء في كثير من إثبات المتأخرين من أنه روي عن الحافظ بعض الكتب الحديثية بدون واسطة والله أعلم بحقيقة الحال وإليه المرجع في الحال والمآل والحمد لله على جزيل نعمائه. والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه وأوليائه. "الطهطاوي".

قال المؤلف، وهو الفقير إلى رحمة مولاه الراجي منه سبحانه أن يديم عليه من نعمه الجزيلة ومننه الوافرة ما أولاه أحمد رافع الحسيني القاسمي المصري الطهطاوي الحنفي ابن العلامة السيد محمد رافع ابن المرحوم السيد عبد العزيز رافع الذي يتصل نسبه بولي الله تعالى جلال الدين أبي القاسم بن عبد العزيز ين يوسف بن رافع الحسيني التلمساني الأصل الطهطاوي: كتبت هذه التعليقات وحررتها على قدر الاستطاعة في أواخر سنة سبع وأربعين وثلاثمائة وألف من هجرة صاحب الشفاعة. حامدًا لله تعالى على أفضاله. ومصليًا ومسلما على نبيه وآله.
তাঁর কাছ থেকে আমার একটি বিশেষ ইজাযত (অনুমতি) রয়েছে, কারণ আমার পিতা তাঁর নিকট যাতায়াত করতেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে বিচারকার্যে প্রতিনিধিত্ব করতেন। যদিও তাঁর মজলিসে উপস্থিত হওয়া, তাঁর কথা শোনার সৌভাগ্য অর্জন করা এবং তাঁর থেকে সরাসরি গ্রহণ করার সুযোগ আমার হয়নি, তবুও আমি এই শিল্পে (বিদ্যায়) তাঁর গ্রন্থসমূহ দ্বারা উপকৃত হয়েছি এবং সেগুলি থেকে অনেক কিছু অর্জন করেছি। তাঁর পর এই দরজা বন্ধ হয়ে গেছে এবং এই বিষয়টি তাঁর মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়েছে। শিহাব আল-মানসুরি আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি তাঁর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। যখন জানাজা পাঠের স্থানে পৌঁছানো হলো এবং তাঁর খাটিয়ার ওপর আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হলো, তখন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এই পঙক্তিটি আবৃত্তি করলেন:

মেঘমালা প্রধান বিচারপতির শোকে অশ্রু … (বৃষ্টি) ঝরিয়েছে।

এবং সেই স্তম্ভটি ধসে পড়েছে যা … পাথর দ্বারা সুদৃঢ়ভাবে নির্মিত ছিল।

এটিই আমাদের শাইখ, হাফেজদের সমাপ্তিদানকারী জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী—তাঁর ওপর মহান আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—এবং মূল কিতাবের লেখকের ওপরও, আয-যাহাবীর ‘তবকাতুল হুফফাজ’-এর পরিশিষ্টে যা পাওয়া গেছে তার শেষাংশ। আমাদের শাইখ এই কিতাবের ব্যক্তিদের জীবনী সংক্ষেপ করেছেন এবং এমন এক দলকে ছেড়ে দিয়েছেন যারা এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য ছিলেন। বিষয়টি তাঁর শাইখ, আমার দাদার পিতা, প্রখ্যাত পর্যটক হাফেজ তকিউদ্দীন মুহাম্মদ ইবন ফাহদ আল-হাশেমি আল-মাক্কি সাইয়্যেদ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবন আলী আল-হুসাইনির ‘লাহযুল আলহা্য বি যাইলি তবকাতিল হুফফাজ’ নামক পরিশিষ্টের ওপর তাঁর নিজস্ব পরিশিষ্টে বর্ণনা করেছেন। আমি মহান আল্লাহর প্রশংসার সাথে তাঁর ওপর একটি গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে পরিশিষ্ট লিখেছি যার নাম দিয়েছি ‘তুহফাতুল আইকায বি ততিম্মাতি যাইলি তবকাতিল হুফফাজ’। এই পরিশিষ্টটি রচনার কাজ সমাপ্ত হয়েছে ৯৪৪ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের ১২ তারিখ মঙ্গলবার, মক্কা মুশাররাফার উচ্চভূমি মাল্লা কবরস্থানে; এর লেখক ও বর্ণমালার রূপকার, মহান আল্লাহর অনুগ্রহের ভিখারি মুহাম্মদ—যাঁকে ডাকা হয় জারুল্লাহ ইবন আবদুল আজিজ ইবন উমর ইবন তকিউদ্দীন মুহাম্মদ ইবন ফাহদ আল-হাশেমি আল-আলাভি আল-মাক্কি আশ-শাফেয়ি হিসেবে, যিনি আল্লাহর পবিত্র ও সুউচ্চ হারামে হাদিসে শরীফের খাদেম; আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং সকল মুসলমানের প্রতি অনুগ্রহ করুন। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও প্রচুর সালাম বর্ষিত হোক।

--------------------------------------------

= ‘যাদুল মাসীর’ নামক গ্রন্থটি আমাদের হাতে রয়েছে এবং এটি এর সনদসমূহে পরিপূর্ণ। এতে বাদরুল আইনি কিংবা হাফেজ ইবন হাজার থেকে হাদিস শাস্ত্রের কোনো কিতাব বা অন্য কিছুর বর্ণনা নেই, কেবল ইবন হিশামের নাহু শাস্ত্রের গ্রন্থ ‘মুগনীল লাবীব’ ব্যতীত। কারণ তিনি তাঁর উল্লিখিত ‘সাবাত’ (সনদগ্রন্থ)-এ বলেছেন: হাফেজ ইবন হাজার আমাকে এটি আম ইজাযতের মাধ্যমে অবহিত করেছেন যদি তা খাস না হয়ে থাকে। সমাপ্ত। আর তিনি তাঁর থেকে হাদিসসমূহের মধ্য থেকে কেবল একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা হলো ‘মুসালসাল বিল হুফফাজ’ এবং তিনি বলেছেন যে, এই হাদিসটি ছাড়া আমি তাঁর থেকে আর কিছুই বর্ণনা করিনি। তিনি তাঁর ‘তাদরীবুর রাবী’ কিতাবের শেষে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আমরা আমাদের উক্ত ‘সাবাত’-এ বর্ণনা করেছি যে, পরবর্তী যুগের অনেক সনদগ্রন্থে হাফেজ (ইবন হাজার) থেকে কোনো মাধ্যম ছাড়াই হাদিসের কিছু কিতাব বর্ণিত হওয়ার যে দাবি করা হয়েছে তা সঠিক নয়। আল্লাহই প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে। তাঁর অজস্র নিআমতের জন্য আল্লাহর প্রশংসা। আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবী এবং আল্লাহর বন্ধুদের ওপর দরুদ ও সালাম। ‘আত-তহতাবি’।

লেখক বলেছেন—যিনি তাঁর মওলার রহমতের মুখাপেক্ষী এবং তাঁর নিকট আশাবাদী যেন তিনি তাঁর ওপর তাঁর প্রদানকৃত অজস্র নিআমত ও ব্যাপক অনুগ্রহ অব্যাহত রাখেন—আহমাদ রাফে আল-হুসাইনি আল-কাসেমি আল-মিসরি আত-তহতাবি আল-হানাফি ইবন আল্লামা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ রাফে ইবন মরহুম সাইয়্যেদ আবদুল আজিজ রাফে, যাঁর বংশধারা আল্লাহর অলি জালালুদ্দীন আবুল কাসেম ইবন আবদুল আজিজ ইবন ইউসুফ ইবন রাফে আল-হুসাইনি আত-তিলিমসানি আল-আসলি আত-তহতাবির সাথে মিলিত হয়: আমি এই টীকাগুলো লিখেছি এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তা প্রস্তুত করেছি শাফায়াতের অধিকারী (রাসূল ﷺ)-এর হিজরতের তেরোশত সাতচল্লিশ সনের শেষের দিকে। মহান আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর নবী ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করছি।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি (পৃষ্ঠা: ২৫৫)
‌‌فهرس تراجم أعلام تذكرة الحفاظ، وذيول تذكرة الحفاظ

…

فهرس تراجم الأعلام:

باب الألف:

الآبري "أبو الحسن محمد بن الحسين بن عاصم الآبري السجستاني" "3" 110

الآبندوني "أبو القاسم عبد الله بن إبراهيم بن يوسف الجرجاني" "3" 103

الآجري "أبو بكر محمد بن الحسين بن عبد الله البغدادي" "3" 99

آدم بن أبي إياس "أبو الحسن الخراساني المروزي" "1" 299

أبان بن يزيد "أبو يزيد الأنصاري العطار" "1" 150

الأبَّار "أبو العباس أحمد بن علي بن مسلم" "2" 157

الأبار "أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن أبي بكر القضاعي البلنسي" "4" 163

إبراهيم بن رومة "أبو إسحاق الأصبهاني" "2" 151

إبراهيم بن إسحاق البغدادي = الحربي

إبراهيم بن إسماعيل "الطوسي = العنبري"

إبراهيم التيمي "إبراهيم بن يزيد التيمي" "1" 58

إبراهيم بن سعد بن إبراهيم "أبو إسحاق الزهري" "1" 185

إبراهيم بن سعيد الجوهري "أبو إسحاق الطبري" "2" 76

إبراهيم بن أبي طالب محمد بن نوح "ابو إسحاق النيسابوري" "2" 156

إبراهيم بن طهمان "أبو سعيد الهروي" "1" 157

إبراهيم بن عبد الله "أبو إسحاق الهروي" "2" 53

إبراهيم بن محمد بن الحارث - أبو إسحاق الفزاري

إبراهيم بن محمد بن حسين بن شنظير الأموي "أبو إسحاق" "3" 194

إبراهيم بن محمد بن حمزة = أبو إسحاق بن حمزة

إبراهيم بن محمد بن عبيد الدمشقي "أبو مسعود" "3" 180

إبراهيم بن محمد بن عرعرة "أبو إسحاق السامي البصري" "2" 18

إبراهيم بن محمد بن أبي يحيى "أبو إسحاق الأسلمي" "1" 181

إبراهيم بن معقل بن الحجاج "أبو إسحاق النسفي" "2" 186

إبراهيم بن المنذر "أبو إسحاق الحزامي الأسدي المدني" "2" 44

إبراهيم بن موسى "أبو إسحاق الرازي الفراء" "2" 21

إبراهيم النخعي "1" 59

إبراهيم بن يوسف "أبو إسحاق البلخي" "1" 31
তাজকিরাতুল হুফফাজ এবং তাজকিরাতুল হুফফাজের পরিশিষ্টসমূহের বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনীসূচি

…

বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনীসূচি:

আলিফ অধ্যায়:

আল-আবরী "আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আসিম আল-আবরী আস-সিজিস্তানি" "৩" ১১০

আল-আবুনদুনী "আবুল কাসিম আবদুল্লাহ বিন ইবরাহিম বিন ইউসুফ আল-জোরজানি" "৩" ১০৩

আল-আজুরি "আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আবদুল্লাহ আল-বাগদাদি" "৩" ৯৯

আদম বিন আবি ইয়াস "আবুল হাসান আল-খুরাসানি আল-মারওয়াযি" "১" ২৯৯

আবান বিন ইয়াযিদ "আবু ইয়াযিদ আল-আনসারি আল-আত্তার" "১" ১৫০

আল-আব্বার "আবুল আব্বাস আহমদ বিন আলী বিন মুসলিম" "২" ১৫৭

আল-আব্বার "আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবি বকর আল-কুদায়ি আল-বালানসি" "৪" ১৬৩

ইবরাহিম বিন রুমা "আবু ইসহাক আল-আসবাহানি" "২" ১৫১

ইবরাহিম বিন ইসহাক আল-বাগদাদি = আল-হারবি

ইবরাহিম বিন ইসমাইল "আত-তুসি = আল-আনবারি"

ইবরাহিম আত-তাইমি "ইবরাহিম বিন ইয়াযিদ আত-তাইমি" "১" ৫৮

ইবরাহিম বিন সাদ বিন ইবরাহিম "আবু ইসহাক আয-যুহরি" "১" ১৮৫

ইবরাহিম বিন সাঈদ আল-জাওহারি "আবু ইসহাক আত-তাবারী" "২" ৭৬

ইবরাহিম বিন আবি তালিব মুহাম্মদ বিন নুহ "আবু ইসহাক আন-নিশাপুরি" "২" ১৫৬

ইবরাহিম বিন তাহমান "আবু সাঈদ আল-হারাউয়ি" "১" ১৫৭

ইবরাহিম বিন আবদুল্লাহ "আবু ইসহাক আল-হারাউয়ি" "২" ৫৩

ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আল-হারিস - আবু ইসহাক আল-ফাযারি

ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন হুসাইন বিন শানযীর আল-উমায়ি "আবু ইসহাক" "৩" ১৯৪

ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন হামজা = আবু ইসহাক বিন হামজা

ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ আদ-দিমাশকি "আবু মাসউদ" "৩" ১৮০

ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আরআরা "আবু ইসহাক আস-সামি আল-বাসরি" "২" ১৮

ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আবি ইয়াহইয়া "আবু ইসহাক আল-আসলামি" "১" ১৮১

ইবরাহিম বিন মাকিল বিন আল-হাজ্জাজ "আবু ইসহাক আন-নাসাফি" "২" ১৮৬

ইবরাহিম বিন আল-মুনযির "আবু ইসহাক আল-হিযামি আল-আসাদি আল-মাদানি" "২" ৪৪

ইবরাহিম বিন মুসা "আবু ইসহাক আর-রাজি আল-ফাররা" "২" ২১

ইবরাহিম আন-নাখায়ি "১" ৫৯

ইবরাহিম বিন ইউসুফ "আবু ইসহাক আল-বালখি" "১" ৩১