(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: -)
مباحث في التفسير الموضوعي   (مصطفى مسلم)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: مباحث في التفسير الموضوعي

المؤلف: مصطفى مسلم

الناشر: دار القلم

الطبعة: الرابعة 1426 هـ - 2005 م

عدد الصفحات: 373

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বিষয়ভিত্তিক তাফসির বিষয়ক গবেষণাসমূহ   (মুস্তফা মুসলিম)

বিভাগ: কুরআনুল কারীমের জ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি


গ্রন্থ: বিষয়ভিত্তিক তাফসির বিষয়ক গবেষণাসমূহ

লেখক: মুস্তফা মুসলিম

প্রকাশক: দারুল কালাম

সংস্করণ: চতুর্থ, ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

ال‌‌مقدمة:

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه ونسترشده، ونعود بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فهو المهتد، ومن يضلل فلن تجد له وليًا مرشدًا.

والصلاة والسلام على الهادي البشير النذير، وعلى آله وصحبه التابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين، وبعد:

فقد جعل الله سبحانه وتعالى كتابه معجزة رسوله العظمى، والحجة الدائمة على الخلق، ونبراسًا للدعاة إلى يوم الدين، يستمدون من نبعه الثر الهدايات، ويقتبسون من نوره مشاعل الحضارة، ويجدون في ثناياه البراهين السواطع كلما تراكمت ظلال الشبهات، وفي إرشاداته برد اليقين كلما حاكت الوساوس في الصدور.

ومما يلمسه كل متدبر لآيات القرآن الكريم، وفاؤه لحاجات البشر في مختلف عصورهم، وتلوين الفهوم لآياته وتنويع الاستنباطات من دلالاته، وبخاصة في الآيات التي تتحدث عن الكون والحياة والإنسان.

لذا كان علماؤنا الأجلاء من السلف الصالح يتركون المجال للقول الجديد ولا يحصرون دلالات الآيات في حدود فهمهم، بل يسوقون أحيانًا الأقوال العديدة في تفسير الكلمة الواحدة بله الآية الواحدة، وقد يرجحون قولًا وقد يتركون بدون ترجيح، لأن الآية تحتمل كل الأقوال من قبيل تفسير الترادف.

ومن يتصفح تفسير إمام المفسرين ابن جرير الطبري أو تفسير ابن الجوزي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে সঠিক পথের দিশা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন সে-ই সঠিক পথপ্রাপ্ত, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য আপনি কোনো সাহায্যকারী পথপ্রদর্শক পাবেন না।

আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই পথপ্রদর্শক, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীর ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবায়ে কেরাম এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর। অতঃপর:

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর কিতাবকে তাঁর রাসূলের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা, সৃষ্টির ওপর এক চিরস্থায়ী প্রমাণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত দাওয়াত দানকারীদের জন্য এক আলোকবর্তিকা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তারা এর অফুরন্ত ঝরনাধারা থেকে হেদায়েত গ্রহণ করে, এর নূর থেকে সভ্যতার মশাল প্রজ্বলিত করে এবং যখনই সংশয়ের অন্ধকার ঘনীভূত হয়, তখনই তারা এর ভাঁজে ভাঁজে উজ্জ্বল প্রমাণাদি খুঁজে পায়। আর যখনই অন্তরে কুমন্ত্রণা সৃষ্টি হয়, তখনই এর নির্দেশনাবলির মাঝে তারা নিশ্চিত বিশ্বাসের শীতলতা খুঁজে পায়।

পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে প্রত্যেকেই যা অনুভব করতে পারেন তা হলো, বিভিন্ন যুগে মানুষের প্রয়োজন পূরণে এর সক্ষমতা এবং এর আয়াতসমূহের বিচিত্র উপলব্ধি ও অর্থসমূহ থেকে নানা প্রকার তত্ত্ব আহরণের সুযোগ; বিশেষ করে মহাবিশ্ব, জীবন ও মানুষ সম্পর্কিত আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে।

এ কারণে আমাদের পূর্বসূরি (সালাফে সালেহীন) সম্মানিত আলিমগণ নতুন কোনো বক্তব্যের সুযোগ রাখতেন এবং আয়াতসমূহের অর্থকে কেবল তাঁদের নিজ নিজ উপলব্ধির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখতেন না। বরং তাঁরা কখনো কখনো একটি আয়াত তো বটেই, এমনকি একটি শব্দের তাফসীরেও বহুবিধ মতামত পেশ করতেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁরা একটি মতকে প্রাধান্য দিতেন, আবার কখনো কোনো প্রাধান্য নির্ধারণ ছাড়াই তা রেখে দিতেন; কারণ আয়াতটি সমার্থক তাফসীরের পর্যায়ভুক্ত হয়ে সবকটি মতকেই গ্রহণ করার অবকাশ রাখে।

আর যে ব্যক্তি ইমামুল মুফাসসিরীন ইবনে জারীর তাবারী অথবা ইবনুল জাওযীর তাফসীর পর্যালোচনা করবে...
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ২)
أو تفسير الماوردي أو تفسير السيوطي، يجد الأمثلة التي لا تحصى على تعدد الأقوال في الآية الواحدة.

وقد أشكل على بعض من لاحظ له في القرآن، كيفية وفاء النصوص من الكتاب والسنة بحاجات البشر المتجددة، وقالوا: إن النصوص محصورة ودولاب الحياة لا يتوقف والأحداث تتجدد، والأفكار والمبادئ تطرح على الساحة في كل جيل مما لا عهد للأجيال السابقة بها، وهناك نظريات اجتماعية وثقافية واقتصادية ومشكلات لم يكن لها وجود في عصر التنزيل، فكيف يستنبط من النصوص أحكامها، وتعرف الهدايات الربانية بشأنها؟!

من هنا كانت أهمية التفسير الموضوعي، الذي يهتم بالهدايات القرآنية ويحاول الكشف عنها من خلال السياق والسباق للآيات الكريمة، ومن خلال تتبع الكلمة واستعمالاتها، ومن خلال التعرف على المناسبات والروابط بين السور والآيات، وبين بدايات الآيات وفواصلها وافتتاحيات السور وخواتيمها.

ولعل لثقافة المفسر الخاصة والعامة، واهتماماته الشخصية، وصفاء قريحته، وشفافية نفسه، وسلامة ذوقه اللغوي دخلًا في دقة الاستنباط والتعرف على ما تشير إليه الآيات تصريحًا أو تلميحًا.

وعلى ضوء ما تقدم نقول إن أساليب البحث في التفسير قد تتنوع حسب معطيات العصر، ومسار البحث قد يختلف عن السابق حسب الزاوية التي يحددها المفسر ويدخل منها إلى ظلال النصوص الوارفة، وبالتالي قد يظفر ببعض الثمار التي لم يسبق إليها.

فقد يتعرف في الروابط بين الآيات الكريمة على دقائق في المعرفة، وقد يطلع عند تتبع بعض العبارات وعلى وشائج تكون مادة لإقامة صرح عتيد من سنن الله في المخلوقات، وقد يتنسم من خلال الأجواء العبقة لهدايات أي الذكر الحكيم روائح نظام متكامل تقوم عليه علائق المجتمع الآمن المطمئن الرغيد.
অথবা মাওয়ার্দীর তাফসীর কিংবা সুয়ূতী-র তাফসীর, সে একটি আয়াতের ক্ষেত্রে অগণিত মতামতের উদাহরণ খুঁজে পাবে।

যাদের কুরআনের প্রতি কোনো মনোযোগ নেই, তাদের কারও কারও কাছে এই বিষয়টি অস্পষ্ট মনে হয়েছে যে, কিতাব ও সুন্নাহর নসসমূহ (মূল পাঠ্য) কীভাবে মানুষের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল প্রয়োজনগুলো মেটাতে সক্ষম। তারা বলে: নসসমূহ সীমাবদ্ধ, অথচ জীবনের চাকা কখনো থামে না এবং ঘটনাবলী প্রতিনিয়ত নবায়িত হচ্ছে। প্রতিটি প্রজন্মে এমন সব চিন্তা ও মূলনীতি সামনে আসে যা পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছে পরিচিত ছিল না। সেখানে এমন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক তত্ত্ব এবং সমস্যা রয়েছে যার অস্তিত্ব ওহী নাযিলের যুগে ছিল না। তাহলে কীভাবে এই নসসমূহ থেকে সেগুলোর বিধান আহরণ করা হবে এবং সে বিষয়ে ঐশী নির্দেশনাগুলো কীভাবে জানা যাবে?!

এখান থেকেই বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের গুরুত্ব পরিলক্ষিত হয়, যা কুরআনের হেদায়েতসমূহের প্রতি গুরুত্বারোপ করে এবং আয়াতের পূর্বাপর প্রসঙ্গের মাধ্যমে, শব্দের প্রয়োগ ও ব্যবহারের অনুসন্ধানের মাধ্যমে এবং সূরা ও আয়াতগুলোর মধ্যবর্তী যোগসূত্র ও সম্পর্কের পরিচয়ের মাধ্যমে, সেইসাথে আয়াতের সূচনা ও সমাপ্তি এবং সূরার প্রারম্ভিক ও সমাপনী অংশের মধ্যকার মিল খুঁজে বের করার মাধ্যমে তা উন্মোচন করার চেষ্টা করে।

সম্ভবত মুফাসসিরের বিশেষ ও সাধারণ জ্ঞান, তাঁর ব্যক্তিগত আগ্রহ, মেধার স্বচ্ছতা, অন্তরের নির্মলতা এবং তাঁর ভাষাগত রুচির শুদ্ধতার একটি ভূমিকা রয়েছে সূক্ষ্মভাবে বিধান আহরণে এবং আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বা ইঙ্গিতে যা নির্দেশ করছে তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে।

উপরোক্ত আলোচনার আলোকে আমরা বলতে পারি যে, তাফসীর গবেষণার পদ্ধতিসমূহ যুগের চাহিদার প্রেক্ষিতে বৈচিত্র্যময় হতে পারে। গবেষণার গতিপথ পূর্বের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে সেই দৃষ্টিভঙ্গির কারণে যা মুফাসসির নির্ধারণ করেন এবং যার মাধ্যমে তিনি নসসমূহের সুশীতল ছায়াতলে প্রবেশ করেন। এর ফলে তিনি হয়তো এমন কিছু ফল লাভ করতে পারেন যা ইতিপূর্বে কেউ অর্জন করেনি।

তিনি হয়তো আয়াতসমূহের মধ্যকার সম্পর্কের মাঝে জ্ঞানের সূক্ষ্ম রহস্যগুলো জানতে পারবেন। কিছু শব্দবন্ধ অনুসন্ধানের সময় তিনি এমন কিছু যোগসূত্রের সন্ধান পেতে পারেন যা সৃষ্টিজগতে আল্লাহর সুন্নাহর (নিয়মাবলীর) এক সুদৃঢ় প্রসাদ নির্মাণের উপকরণ হবে। তিনি হয়তো কুরআনের হেদায়েতের সুগন্ধিযুক্ত পরিবেশ থেকে এমন এক পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার ঘ্রাণ পাবেন যার ওপর একটি নিরাপদ, প্রশান্ত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় সমাজের পারস্পরিক সম্পর্কসমূহ প্রতিষ্ঠিত থাকে।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ৩)
وقد كثرت الكتابات في الآونة الأخيرة حول التفسير الموضوعي للقرآن، ولكن القليل منها تناول الجانب المنهجي في هذا اللون من التفسير، بل اكتفت أغلبها بالدراسات التطبيقية، سواء منها ما تناول تفسير موضوعات من خلال القرآن الكريم، أو تفسير سورة تفسيرًا موضوعيًّا.

ولقد تناولت في هذا الكتاب الجانب المنهجي لهذا اللون من التفسير، وحاولت التعرف على نواته الأولى، ثم تطوره، وأنواعه وسقت نموذجًا تطبيقيًّا لكل نوع من نوعية الشهيرين.

وبذلت جهدي أن ألتزم دلالات ظاهر النص، وأن أستدل بما صح من السنة النبوية، وأن أوثق الأقوال، وأسير على المنهج العلمي في الاستنباط والمناقشة.

فما كان من صواب فمن الله جل جلاله وبتوفيقه، وما كان غير ذلك فمن نفسي ومن الشيطان، وأستغفر الله منه.

وأقدم وافر الشكر والتقدير سلفا لمن ينبهني عليه ويرشدني إلى الصواب فيه.

والله أسأل أن يجعل عملنا خالصًا لوجهه الكريم، وأن يجعل هذا الجهد في صفحة أعمالي يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم.

كما أرجو من إخواني طلاب العلم أن لا يحرموني من دعوة صالحة في ظهر الغيب إن وجدوا فائدة عند قراءتهم للكتاب.

وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

الرياض في: 10/ 1/ 1410

11/ 8/ 1989

مصطفى مسلم
সাম্প্রতিক সময়ে কুরআনের বিষয়ভিত্তিক তাফসির সম্পর্কে প্রচুর লেখালেখি হয়েছে, তবে এই পদ্ধতির তাফসিরের পদ্ধতিগত দিক নিয়ে খুব অল্প সংখ্যক লেখাই আলোচনা করেছে। বরং এগুলোর অধিকাংশই কেবল প্রায়োগিক গবেষণার মাঝেই সীমাবদ্ধ থেকেছে, চাই তা কুরআনের আলোকে বিভিন্ন বিষয়ের তাফসির হোক কিংবা কোনো সূরার বিষয়ভিত্তিক তাফসির হোক।

আমি এই গ্রন্থে এই প্রকারের তাফসিরের পদ্ধতিগত দিকটি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এর প্রাথমিক উৎস, অতঃপর এর ক্রমবিকাশ ও প্রকারভেদগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি। সেই সাথে এর প্রসিদ্ধ দুটি প্রকারের প্রতিটির জন্য একটি করে প্রায়োগিক নমুনা পেশ করেছি।

আমি আমার সাধ্যমতো মূল পাঠের বাহ্যিক অর্থের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার চেষ্টা করেছি এবং সুন্নাহর বিশুদ্ধ বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করেছি। আমি উক্তিগুলোর উৎস যাচাই করেছি এবং আহরণ ও আলোচনার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি।

এতে যা কিছু সঠিক হয়েছে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তাঁরই তৌফিকের মাধ্যমে। আর যা কিছু এর ব্যতিক্রম হয়েছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আমি এর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

যারা আমাকে এর ভুল সম্পর্কে সচেতন করবেন এবং সঠিক বিষয়ের দিকে পথনির্দেশ করবেন, তাদেরকে আমি অগ্রিম আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই আমলকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এই প্রচেষ্টাকে আমার আমলনামায় সেই দিনের পাথেয় করেন, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না; কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট সুস্থ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।

সেই সাথে আমার ইলম অন্বেষণকারী ভাইদের নিকট আশা রাখি, তারা যদি এই কিতাব পাঠ করে কোনো উপকার লাভ করেন, তবে যেন আমাকে তাঁদের অগোচরের নেক দোয়া থেকে বঞ্চিত না করেন।

আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।

রিয়াদ: ১০/ ১/ ১৪১০

১১/ ৮/ ১৯৮৯

মুস্তফা মুসলিম
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌التفسير الموضوعي: "تعريفه- نشأته- تطوره- ألوانه- أهميته"

‌‌تمهيد:

الحمد لله الذي أنزل القرآن على عبده ليكون للعالمين بشيرًا ونذيرًا، والصلاة والسلام على من أرسله ربه داعيًا إلى الله بإذنه وسراجًا منيرًا، ورضي الله عن الآل والأصحاب والأتباع حملة لواء الحق بين العالمين إلى يوم البعث والنشور.

أما بعد:

فلم يشهد التاريخ البشري كتابًا أهَّل أمة لقيادة البشرية، كما أهَّل القرآن الكريم أمة محمد صلى الله عليه وسلم، ولم ينقل أحد أن جيلًا ربانيًا تولى السيطرة على مقادير الأمم والشعوب فعدل فيها بالقسطاس المستقيم كجيل صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم، كل ذلك كان في فترة زمنية لا تتجاوز ثلث قرن من الزمان، وهي مدة قصيرة جدًا في عمر الأمم والشعوب.

لقد تخرج من مدرسة النبوة جيل فريد في صفاته وتطلعاته وعزيمته وبذله وتضحياته، وقد فجر الإسلام هذه الطاقات الكامنة في تلك النفوس وأزاح عنها الغبش والغشاوة وفتح أمامها مجالات العطاء والإنتاج فكان بعضهم قادة الجيوش، وساسة الأمم، وعباقرة العلماء، ونوابغ القضاة، وأفذاذ الزهاد والعباد.

وما ذاك إلا لتوافر أسباب النبوغ والعطاء.

فالمعادن الأصلية التي كانت في ذات القوم -والناس كالمعادن- فكانت معادنهم كالتبر والجوهر.

ووجد المربي الرباني الذي علمهم فأحسن تعليمهم وهذبهم أحسن تهذيب ووجد الغذاء الروحي الذي تحيا به القلوب …
বিষয়ভিত্তিক তাফসির: "এর সংজ্ঞা- এর উদ্ভব- এর ক্রমবিকাশ- এর প্রকারভেদ- এর গুরুত্ব"

ভূমিকা:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার ওপর কুরআন অবতীর্ণ করেছেন যাতে তা বিশ্ববাসীর জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হতে পারে। এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাকে তাঁর রব তাঁর অনুমতিক্রমে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এবং একটি প্রদীপ্ত চেরাগ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আর আল্লাহ সন্তুষ্ট হন তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং অনুসারীদের ওপর, যারা পুনরুত্থান ও হাশরের দিন পর্যন্ত বিশ্ববাসীর মাঝে হকের ঝাণ্ডা বহনকারী।

অতঃপর:

মানব ইতিহাস এমন কোনো গ্রন্থ দেখেনি যা কোনো জাতিকে মানবজাতির নেতৃত্বের যোগ্য করে তুলেছে, যেমনটি আল-কুরআনুল কারীম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতকে যোগ্য করে তুলেছে। এবং কেউ এমনটি বর্ণনা করেনি যে, কোনো এক রব্বানী প্রজন্ম জাতি ও গোষ্ঠীসমূহের ভাগ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে এবং তাদের মধ্যে ইনসাফের সাথে সঠিক মানদণ্ডে বিচার করেছে, যেমনটি ছিল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের প্রজন্ম। এই সবকিছু এমন এক সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছিল যা এক শতাব্দীর এক-তৃতীয়াংশের বেশি নয়, যা জাতি ও গোষ্ঠীসমূহের জীবনে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়।

নবুওয়াতের মাদ্রাসা থেকে এমন এক অনন্য প্রজন্ম তৈরি হয়েছিল যারা তাদের গুণাবলি, আকাঙ্ক্ষা, দৃঢ় সংকল্প, ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গে ছিল অতুলনীয়। ইসলাম এই সব আত্মার মধ্যে সুপ্ত থাকা শক্তিগুলোকে প্রস্ফুটিত করেছিল এবং তাদের থেকে ধোঁয়াশা ও আবরণ সরিয়ে দিয়েছিল এবং তাদের সামনে দান ও সৃজনশীলতার ক্ষেত্রগুলো উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। ফলে তাদের কেউ ছিলেন সেনাপতি, কেউ জাতির রাষ্ট্রনায়ক, কেউ প্রতিভাবান আলেম, কেউ প্রখর ধীসম্পন্ন বিচারক, আবার কেউ ছিলেন অনন্য সংসারবিরাগী এবং ইবাদতকারী।

আর এটি কেবল মেধা ও যোগ্যতার উপকরণসমূহের প্রাচুর্যের কারণেই সম্ভব হয়েছিল।

সেই জাতির সত্তায় যে মৌলিক উপাদান বিদ্যমান ছিল—আর মানুষ তো খনির ধাতুর মতো—তাই তাদের উপাদানগুলো ছিল স্বর্ণরেণু এবং মণিরত্নের মতো।

এবং তারা পেয়েছিলেন একজন রব্বানী শিক্ষক, যিনি তাদের শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং সর্বোত্তম শিক্ষা দিয়েছিলেন, আর তাদের সুসংস্কৃত করেছিলেন সর্বোত্তম পন্থায়; এবং তারা পেয়েছিলেন সেই আত্মিক খোরাক যা দ্বারা অন্তরসমূহ জীবন্ত হয় …
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ৮)
فلم يكن بمستغرب عند من يدرك سنن الله في خلقه، في رقي المجتمعات وتقدمها عندما يدرك الأسباب التي أوجدها الله سبحانه وتعالى لتكوين هذه الأمة وتقدمها وتفوقها.

وما أن رسخت الدولة الإسلامية قواعدها في أرجاء المعمورة، وما أن هدأت اندفاعة الفتوحات الإسلامية، حتى التفت العلماء إلى مدارسة القرآن الكريم الذي يشكل أساس النجاح والفلاح في الدنيا والآخرة، لتدوين تفسيره والعلوم التي تخدم توضيح المراد من كلام رب العالمين، وتعين على فهمه وتطبيقه وكانت الأجيال السابقة إلى عهد بني العباس تعتمد بشكل أساسي على التلقي والرواية مشافهة إلا في حالات استثنائية قليلة.

وتنوعت المجالات التي توجهت الجهود إليها لخدمة آي الذكر الحكيم.

فمنهم من توجه إلى جميع ما أثر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من أمور الدين، وعن صحابته الكرام، ومنهم من توجه إلى حفظ وجوه الأداء للفظ القرآني، ومنهم من حافظ على لغته وبيان معاني غريبة، ومنهم من توجه إلى استنباط القواعد التي تكفل سلامة التحدث به وعدم اللحن فيه.

وقام صرح العلوم كلها لخدمة القرآن الكريم حفظًا وفهمًا وتطبيقًا، ولسنا بصدد تعداد العلوم المختلفة التي قامت وتاريخ تدوين هذه العلوم، وإنما نرمي إلى بيان نشوء علم التفسير بإيجاز، ومن ثم للتعرف على مولد هذا اللون من التفسير ما يطلق عليه اليوم "التفسير الموضوعي".
যারা সৃষ্টির বিষয়ে আল্লাহর সুন্নাত এবং সমাজের উন্নতি ও অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত, তাদের নিকট এটি আশ্চর্যের বিষয় ছিল না যখন তারা সেইসব কারণসমূহ উপলব্ধি করতে পারলেন যা মহান ও পবিত্র আল্লাহ এই উম্মতের গঠন, অগ্রগতি ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য সৃষ্টি করেছেন।

যখনই ইসলামি রাষ্ট্র বিশ্বের চতুর্দিকে তার ভিত্তি সুদৃঢ় করল এবং ইসলামি বিজয়াভিযানের গতি মন্থর হয়ে এল, তখনই আলিমগণ পবিত্র কুরআনের অধ্যয়নের দিকে মনোনিবেশ করলেন যা দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা ও কামিয়াবীর মূল ভিত্তি। তারা এর তাফসির এবং সেইসব জ্ঞানশাখা সংকলনে প্রবৃত্ত হলেন যা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের বাণীর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করতে এবং তা অনুধাবন ও প্রয়োগে সহায়তা করে। আব্বাসীয় যুগ পর্যন্ত পূর্ববর্তী প্রজন্মসমূহ অল্প কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যতীত প্রধানত মৌখিক গ্রহণ ও বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

প্রজ্ঞাময় যিকিরের আয়াতসমূহের খিদমতে প্রযুক্ত প্রচেষ্টাসমূহ বিভিন্ন দিকে বৈচিত্র্য লাভ করল।

তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দ্বীনি বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীদের থেকে বর্ণিত যাবতীয় বিষয়ের দিকে মনোনিবেশ করলেন। কেউ কুরআনের শব্দাবলির উচ্চারণরীতি সংরক্ষণের দিকে মনোযোগ দিলেন। কেউ এর ভাষা এবং দুর্বোধ্য শব্দাবলির অর্থ বর্ণনার কাজ করলেন। আবার কেউ এমন সব নিয়ম-নীতি উদ্ভাবনের দিকে মনোনিবেশ করলেন যা শুদ্ধভাবে কুরআন পাঠ নিশ্চিত করে এবং তাতে ভাষাগত ভুলভ্রান্তি প্রতিরোধ করে।

পবিত্র কুরআন সংরক্ষণ, অনুধাবন এবং প্রয়োগের খিদমতেই যাবতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের সৌধ নির্মিত হয়েছে। আমরা এখানে উদ্ভূত বিভিন্ন জ্ঞানশাখা এবং সেগুলো সংকলনের ইতিহাসের ফিরিস্তি দিতে বসিনি, বরং আমাদের উদ্দেশ্য হলো সংক্ষেপে তাফসির শাস্ত্রের উদ্ভব বর্ণনা করা এবং অতঃপর তাফসিরের সেই বিশেষ ধারার সূচনা সম্পর্কে অবগত হওয়া, যাকে বর্তমানে "বিষয়ভিত্তিক তাফসির" বলা হয়।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌نبذة تاريخية عن نشوء علم التفسير وتطوره ومكانة التفسير الموضوعي:

بينت الآيات القرآنية الحكمة الإلهية من خلق الإنس والجن في قوله تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْأِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56] .

كما بينت السنة الإلهية في بعثهم بعد موتهم لمحاسبتهم عن الأمانة التي حملوها: {أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لا تُرْجَعُونَ} [المؤمنون: 115] .

وبين الخلق والتكليف والإعادة بعد الموت.

لم يتركه لعقله واجتهاداته وأهوائه في التعرف على أسلوب العبادة، ومنهجه في الحياة الدنيا، بل أرسل إليه الرسل وأنزل الكتب لهدايته: {وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا} [الإسراء: 15] .

وكانت السنة الإلهية أن يكون الرسل من الأقوام المرسل إليهم وبلسانهم. وذلك أداء للرسالة على أحسن وجه، وليتحقق الغرض من إرسالهم ببيان الهدايات بأيسر الطرق إلى الأقوام {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ} [إبراهيم: 4] .

لذلك كان الرسول المكلف بالتبليغ هو أوعى الناس لمهمته وأكثرهم علمًا وإحاطة برسالته، وبالتالي أقدرهم على بيان مراد الله سبحانه وتعالى من كتابه وآياته.

وهذه السنن والحكم الإلهية تتجلى في خاتم النبيين صلى الله عليه وسلم ورسالته. وقد نزلت الآيات الكريمة تبين هذه الجوانب بيانًا كاملًا:

فتارة يتكفل له ربه سبحانه وتعالى بحفظ القرآن: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] .
তাফসির শাস্ত্রের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ এবং বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের মর্যাদা সম্পর্কে ঐতিহাসিক সংক্ষিপ্ত আলোচনা:

কুরআনের আয়াতসমূহ মানুষ ও জিন সৃষ্টির পেছনে বিদ্যমান খোদায়ী হিকমত বা প্রজ্ঞা বর্ণনা করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।" [আয-যারিয়াত: ৫৬]।

একইভাবে আল্লাহ তাআলা মৃত্যুর পর তাদের পুনরুত্থানের খোদায়ী বিধান বর্ণনা করেছেন, যাতে তারা যে আমানত বহন করেছে সে সম্পর্কে তাদের হিসাব নেওয়া যায়: "তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে বৃথা সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?" [আল-মুমিনুন: ১১৫]।

আর সৃষ্টি, দায়িত্বার্পণ এবং মৃত্যুর পর প্রত্যাবর্তনের মধ্যবর্তী সময়ে...

ইবাদতের পদ্ধতি ও পার্থিব জীবনের কর্মপন্থা অনুধাবনের ক্ষেত্রে আল্লাহ মানুষকে কেবল তার বিবেক-বুদ্ধি, ব্যক্তিগত গবেষণা কিংবা প্রবৃত্তির ওপর ছেড়ে দেননি; বরং তাকে হেদায়েত বা পথ প্রদর্শনের জন্য তিনি রাসুলগণকে পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ নাজিল করেছেন: "আমি কোনো রাসুল না পাঠানো পর্যন্ত শাস্তি প্রদান করি না।" [আল-ইসরা: ১৫]।

আর এটিই ছিল আল্লাহর চিরন্তন নিয়ম যে, রাসুলগণ সেই কওমের মধ্য থেকেই হবেন যাদের কাছে তাঁদের পাঠানো হয়েছে এবং তাঁদের ভাষাতেই দাওয়াত দেবেন। এটি এ জন্য যে, যাতে রিসালাতের দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালিত হয় এবং জাতিসমূহের নিকট সহজতম উপায়ে হেদায়েতের বাণী স্পষ্ট করে পৌঁছানোর মাধ্যমে তাঁদের প্রেরণের উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়: "আমি প্রত্যেক রাসুলকেই তাঁর নিজ জাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, যাতে তিনি তাদের কাছে (আমার বাণী) সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে পারেন।" [ইবরাহিম: ৪]।

এই কারণেই যে রাসুলের ওপর প্রচারের দায়িত্ব অর্পিত হতো, তিনি তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সচেতন ছিলেন এবং তাঁর রিসালাত সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞান ও গভীর দৃষ্টির অধিকারী ছিলেন। ফলে আল্লাহর কিতাব ও আয়াতসমূহের মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য কী, তা ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রেও তিনিই ছিলেন সর্বাধিক সক্ষম ব্যক্তি।

আল্লাহর এই সকল নিয়ম ও প্রজ্ঞা সর্বশেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর রিসালাতের মধ্যে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ এই দিকগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে:

কখনো তাঁর প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বয়ং কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন: "নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" [আল-হিজর: ৯]।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ১০)
وتارة أخرى يتعهد له ربه سبحانه وتعالى بجمع القرآن له وتوضيحه لاستيعابه: {إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ، فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ، ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} [القيامة: 17-19] .

وتارة يأمره ربه بتبليغ الآيات الكريمة للناس ومجاهدتهم بالقرآن: {فَلا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَجَاهِدْهُمْ بِهِ جِهَادًا كَبِيرًا} [الفرقان: 52] .

لذا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أعلم عباد الله بكتاب الله، إذ إن تبليغ الرسالة على الوجه الأكمل مترتب على فهمه لمحتوى الرسالة جملة وتفصيلًا، وهذا أمر تفرضه بدهيات الأمور {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل: 44] .

ويأتي بعد فهم الرسول صلى الله عليه وسلم للقرآن الكريم فهم الصحابة رضوان الله عليهم وإن كان فهمهم له جملة "لظاهره على الإجمال ولأحكامه على التفصيل".

وليس من الضروري إحاطتهم التامة بمعاني القرآن الكريم بحيث لا تغيب عنهم شاردة ولا واردة، نقول ذلك لما نقل إلينا عن الصحابة رضي الله عنهم، فعلى الرغم من رجوعهم إلى النبي صلى الله عليه وسلم المرة تلو الأخرى لبيان ما أشكل عليهم فهمه، أو لإزالة غموض اعتور فهمهم للآيات البينات، تنقل إلينا كتب التفسير والروايات الصحيحة من السنة النبوية أن بعض الصحابة كان يستفسر عن بعض الآيات والمعاني إلى مرحلة متأخرة من حياتهم بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فمثلًا تنقل لنا الروايات أن عمر بن الخطاب سأل على المنبر في إحدى خطبه عن "الأب" في قوله تعالى: {وَفَاكِهَةً وَأَبًّا} [عبس: 31] ، ثم عاد إلى القول: وما يضرك لو لم تعلم معناها1، فإن في بحث هذه الأمور التي لا ينبني عليها حكم عملي تكلفًا لا فائدة منه، لذا كان الصحابة رضوان الله عليهم يكتفون فيما يتعلق بالجوانب النظرية من فروع العقائد، أو ما يتعلق بسير الأمم، أو تخليق السماوات والأرض … فكانوا يكتفون بموطن العظة والعبرة ومجمل الاعتقاد فيها. بل جاء النهي القرآني الصريح عن الخوض في مثل هذه الأمور التي لا تدخل في إطار الأحكام العملية، يقول تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَسْأَلوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ وَإِنْ تَسْأَلوا عَنْهَا

--------------------------------------------

1 انظر: الإتقان في علوم القرآن للسيوطي: 2/ 113.
অন্য সময় তার প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার নিকট কুরআন একত্রিত করার এবং তা হৃদয়ঙ্গম করার লক্ষ্যে তা স্পষ্ট করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন: {নিশ্চয়ই এটি সংরক্ষণ করা এবং পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব। সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। এরপর তা বর্ণনা করার দায়িত্বও আমাদেরই।} [আল-কিয়ামাহ: ১৭-১৯]।

আবার কখনো তার প্রতিপালক তাকে মানুষের কাছে এই মহান আয়াতসমূহ পৌঁছে দেওয়ার এবং কুরআনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার নির্দেশ দেন: {কাজেই আপনি কাফেরদের আনুগত্য করবেন না এবং কুরআনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মহা জিহাদ চালিয়ে যান।} [আল-ফুরকান: ৫২]।

একারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। কেননা পূর্ণাঙ্গভাবে রিসালাত পৌঁছে দেওয়া নির্ভর করে রিসালাতের বিষয়বস্তু সামগ্রিক ও বিস্তারিতভাবে অনুধাবন করার ওপর, আর এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। {এবং আমি আপনার প্রতি জিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের কাছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে।} [আন-নাহল: ৪৪]।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কুরআন অনুধাবনের পরেই আসে সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের অনুধাবনের পর্যায়, যদিও তাদের এই অনুধাবন ছিল সামগ্রিকভাবে "সার্বিকভাবে এর বাহ্যিক অর্থের ক্ষেত্রে এবং বিস্তারিতভাবে এর বিধিবিধানের ক্ষেত্রে"।

পবিত্র কুরআনের অর্থের ওপর তাদের এমন পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান থাকা অপরিহার্য ছিল না যাতে কোনো ছোট বা বড় বিষয় তাদের অজানা না থাকে। সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের থেকে আমাদের কাছে যা বর্ণিত হয়েছে তার ভিত্তিতেই আমরা এটি বলছি। কারণ তারা যা বুঝতে অসুবিধা হতো তা স্পষ্ট করার জন্য অথবা কোনো আয়াতের অস্পষ্টতা দূর করার জন্য বারবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে যেতেন। তাফসীরের কিতাবসমূহ এবং সুন্নাহর বিশুদ্ধ বর্ণনাগুলো আমাদের নিকট এই সংবাদ পৌঁছে দেয় যে, কোনো কোনো সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তাদের জীবনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত কিছু আয়াত ও অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। উদাহরণস্বরূপ, বর্ণনাসমূহে পাওয়া যায় যে, উমর ইবনুল খাত্তাব তার একটি খুতবায় মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে আল্লাহর বাণী: {এবং ফলমূল ও 'আব্বা' (তৃণলতা)} [আবাসা: ৩১] -এ 'আব্বা' শব্দটির অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। এরপর তিনি পুনরায় একথায় ফিরে আসেন যে: "এর অর্থ যদি তুমি না-ই জানো তবে তাতে তোমার কী ক্ষতি হবে?" কারণ এমন সব বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করা যার ওপর কোনো আমল বা বিধান নির্ভর করে না, তা অনর্থক ও কষ্টসাধ্য কাজ। একারণেই সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমগণ আকিদার গৌণ তাত্ত্বিক দিকগুলো, অথবা বিভিন্ন জাতির ইতিহাস, কিংবা আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষয়গুলো সংক্রান্ত আলোচনায়... কেবল উপদেশ, শিক্ষা এবং সামগ্রিক বিশ্বাসের ওপর সন্তুষ্ট থাকতেন। বরং কুরআনে স্পষ্টভাবে এ জাতীয় বিষয়গুলোতে লিপ্ত হতে নিষেধ করা হয়েছে যা ব্যবহারিক বিধানের অন্তর্ভুক্ত নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে। আর যদি তোমরা সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করো...}

--------------------------------------------

১. দেখুন: আস-সুয়ূতী রচিত আল-ইতকান ফী উলূমিল কুরআন: ২/ ১১৩।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ১১)
حِينَ يُنَزَّلُ الْقُرْآنُ تُبْدَ لَكُمْ عَفَا اللَّهُ عَنْهَا وَاللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ، قَدْ سَأَلَهَا قَوْمٌ مِنْ قَبْلِكُمْ ثُمَّ أَصْبَحُوا بِهَا كَافِرِينَ} [المائدة: 101، 102] .

كما ورد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم النهي عن الاستفسارات التي لا يكون لها واقع عملي في حياة المسلمين. يقول عليه الصلاة والسلام: "إن أعظم المسلمين جرمًا من سأل عن شيء لم يحرم فحرم من أجل مسألته" 1. وفي الحديث الصحيح أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "ذروني ما تركتكم فإنما أهلك من كان قبلكم كثرة سؤالهم واختلافهم على أنبيائهم" 2.

وفي الحديث الآخر الصحيح: "إن الله تعالى فرض فرائض فلا تضيعوها وحد حدودًا فلا تعتدوها وحرم أشياء فلا تنتهكوها وسكت عن أشياء رحمة بكم غير نسيان فلا تسألوا عنها" 3.

والحكمة الإلهية في ذلك -والله أعلم- أن انصراف الأمة إلى الأمور النظرية والفرعيات التي لا ترتبط بالأحكام العملية يؤدي إلى الفرقة والنزاع وإلى الجدل العقيم والترف الثقافي، والأمة الإسلامية أمة جهاد ودعوة وعمل فلا يليق بها مثل هذه المشاغل، وبخاصة في الصدر الأول في مرحلة تأسيس الدولة الإسلامية.

بالإضافة إلى ما تقدم فإن إمكانات الصحابة رضوان الله عليهم الثقافية واللغوية لم تكن على مستوى واحد في الإدراك والفهم والاستنباط.

روى البخاري في صحيحه عن الشعبي عن عدي بن حاتم رضي الله عنه قال: أخذ عدي عقالًا أبيض وعقالًا أسود حتى كان بعض الليل نظر فلم يستبينا، فلما أصبح قال: يا رسول الله جعلت تحت وسادتي فقال: "إن وسادك إذًا لعريض أن كان الخيط الأبيض والأسود تحت وسادتك" 4.

وكان منهم من لازم الرسول صلى الله عليه وسلم ولم يفارقه في سفر ولا حضر، فاطلع على

--------------------------------------------

1 رواه البخاري في كتاب الاعتصام: 8/ 142، ومسلم في كتاب الفضائل: 7/ 92.

2 رواه مسلم في صحيحه في كتاب الفضائل: 7/ 91.

3 أخرجه ابن جرير وابن المنذر والحاكم وصححه. انظر: الدر المنثور للسيوطي: 3/ 208.

4 صحيح البخاري، كتاب التفسير: 5/ 156.
"...যখন কুরআন অবতীর্ণ করা হয় তখন তোমাদের কাছে তা প্রকাশ করা হবে। আল্লাহ তা ক্ষমা করেছেন এবং আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম সহনশীল। তোমাদের আগে এক জাতি এমন অনেক বিষয়ে প্রশ্ন করেছিল, তারপর তারা সেগুলোর কারণে কাফির হয়ে গিয়েছিল।" [আল-মায়িদাহ: ১০১, ১০২]।

অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন সব অনুসন্ধান করতে নিষেধ করা হয়েছে যেগুলোর মুসলিমদের জীবনে কোনো ব্যবহারিক বাস্তবতা নেই। তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম বলেন: "নিশ্চয়ই মুসলমানদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে বড় অপরাধী, যে এমন কিছু সম্পর্কে প্রশ্ন করেছে যা হারাম ছিল না, অতঃপর তার প্রশ্নের কারণে তা হারাম করা হয়েছে" ১। আর সহীহ হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি যতক্ষণ তোমাদের কোনো বিষয়ে না বলি ততক্ষণ তোমরা আমাকে সে অবস্থায় থাকতে দাও। কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের নবীদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে" ২।

অন্য এক সহীহ হাদীসে রয়েছে: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কতগুলো ফরজ বিধান নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সুতরাং তোমরা সেগুলো অবহেলা করো না। তিনি কতগুলো সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সেগুলো লঙ্ঘন করো না। তিনি কিছু বিষয় হারাম করেছেন, সুতরাং তোমরা সেগুলো অমান্য করো না। আর তিনি কোনো বিস্মৃতি ছাড়াই তোমাদের প্রতি দয়াবশত অনেক বিষয়ে নীরব থেকেছেন, সুতরাং তোমরা সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন করো না" ৩।

আর এতে ঐশী প্রজ্ঞা হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—উম্মাহর তাত্ত্বিক বিষয়াদি এবং এমন সব শাখা-প্রশাখার দিকে ঝুঁকে পড়া যা ব্যবহারিক বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, তা অনৈক্য ও বিবাদের দিকে নিয়ে যায় এবং নিষ্ফল বিতর্ক ও তাত্ত্বিক বিলাসিতার জন্ম দেয়। অথচ মুসলিম উম্মাহ হলো জিহাদ, দাওয়াত ও কর্মতৎপরতার উম্মাহ; তাই তাদের জন্য এ ধরনের ব্যস্ততা সমীচীন নয়, বিশেষ করে প্রথম যুগে যখন ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর্যায় চলছিল।

এর সাথে পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে সে অনুযায়ী, সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর বুদ্ধিবৃত্তিক ও ভাষাগত সক্ষমতা উপলব্ধি, বোধশক্তি এবং গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একই স্তরের ছিল না।

ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে শাবী থেকে এবং তিনি আদি ইবনে হাতিম (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আদি একটি সাদা রশি এবং একটি কালো রশি নিলেন। রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি সেগুলোর দিকে তাকালেন কিন্তু সেগুলো স্পষ্ট হলো না। যখন ভোর হলো, তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি এগুলো আমার বালিশের নিচে রেখেছিলাম। তখন তিনি বললেন: "তোমার বালিশ তো তবে অত্যন্ত প্রশস্ত যে, সাদা ও কালো সুতা তোমার বালিশের নিচেই ছিল" ৪।

আর তাদের মধ্যে এমনও ছিলেন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সার্বক্ষণিক থাকতেন এবং সফরে কিংবা জনপদে থাকা অবস্থায় তাঁর সঙ্গ ছাড়তেন না, ফলে তিনি অবগত হতেন...

--------------------------------------------

১ বুখারী কর্তৃক কিতাবুল ইতিসাম: ৮/১৪২ এবং মুসলিম কর্তৃক কিতাবুল ফাযায়িল: ৭/৯২-এ বর্ণিত।

২ মুসলিম কর্তৃক তাঁর সহীহ গ্রন্থের কিতাবুল ফাযায়িল: ৭/৯১-এ বর্ণিত।

৩ ইবনে জারীর, ইবনে মুনযির এবং হাকীম এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন। দেখুন: সুয়ূতী রচিত আদ-দুররুল মানসুর: ৩/২০৮।

৪ সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাফসীর: ৫/১৫৬।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ১২)
أسباب النزول وما كان يرافق أحوال الوحي مما لم يدركه الآخرون، كل ذلك أوجد ملكة ذهنية وعلمية لم تتوافر لغيرهم.

يقول مسروق: "جالست أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم فوجدتهم كالإخاذ -الغدير- فالإخاذ يروي الرجل، والإخاذ يروي الرجلين، والإخاذ يروي العشرة، والإخاذ يروي المائة، والإخاذ لو نزل به أهل الأرض لأصدرهم"1.

{أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَسَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا} [الرعد: 17] .

وفي الرواية التي أخرجها أبو الشيخ وابن مردويه والحاكم في صحيحه عن ابن عباس ما يدل أن بعض الصحابة كان يفهم بعض الآيات على غير وجهها الصحيح فيقع في محظور. يقول ابن عباس: إن الشراب كانوا يضربون على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم بالأيدي والنعال والعصي، حين توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال أبو بكر: لو فرضنا لهم حدًا فتوفي ما كانوا يضربون في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فكان أبو بكر يجلدهم أربعين حتى توفي ثم كان عمر من بعدهم فجلدهم كذلك أربعين، حتى أُتي برجل من المهاجرين الأولين قد شرب فأمر به أن يجلد، فقال: لم تجلدني؟ بيني وبينك كتاب الله، قال: وفي أي كتاب الله تجد أن لا أجلدك؟ قال: فإن الله تعالى يقول في كتابه: {لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا} فأنا من الذين آمنوا وعملوا الصالحات ثم اتقوا وأحسنوا. شهدت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بدرًا وأحدًا والخندق والمشاهد، فقال عمر: ألا تردون عليه؟ فقال ابن عباس: هؤلاء الآيات نزلت عذرًا للماضين وحجة على الباقين، عذرًا للماضين لأنهم لقوا الله قبل أن حرم عليهم الخمر، وحجة على الباقين لأن الله يقول: {إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلامُ} حتى بلغ الآية الآخرى، فإن كان من الذين آمنوا وعملوا الصالحات ثم اتقوا وآمنوا ثم اتقوا وأحسنوا، فإن الله نهى أن يشرب الخمر، فقال عمر: فماذا ترون؟ فقال علي بن أبي طالب: نرى أنه إذا شرب سكر وإذا سكر هذي وإذا هذي افترى، وعلى المفتري ثمانون جلدة فأمر عمر فجلد ثمانين2.

--------------------------------------------

1 التفسير والمفسرون للذهبي: 1/ 30.

2 انظر الدر المنثور للسيوطي: 3/ 162.
নাযিলের প্রেক্ষাপট এবং ওহীর অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যা পরবর্তী প্রজন্ম অনুধাবন করতে পারেনি, এই সবকিছুই তাঁদের মধ্যে এমন এক মানসিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক যোগ্যতা তৈরি করেছিল যা অন্য কারো মাঝে পাওয়া যায় না।

মাসরুক বলেন: "আমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের সাথে বসেছি এবং তাঁদেরকে জলাশয়ের ন্যায় পেয়েছি। কোনো জলাশয় একজন ব্যক্তিকে তৃপ্ত করে, কোনো জলাশয় দুইজন ব্যক্তিকে তৃপ্ত করে, কোনো জলাশয় দশজন ব্যক্তিকে তৃপ্ত করে, কোনো জলাশয় একশজন ব্যক্তিকে তৃপ্ত করে, আবার কোনো জলাশয় এমন যে যদি পুরো পৃথিবীর মানুষ সেখানে সমবেত হয় তবে তাদের সবাইকেই তা তৃপ্ত করতে পারে।"১।

{তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, ফলে উপত্যকাগুলো তাদের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী প্রবাহিত হয়} [আর-রাদ: ১৭]।

আবুশ শায়খ, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং হাকেম তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে যে বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন, তাতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, কোনো কোনো সাহাবী কিছু আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা বুঝতেন এবং এর ফলে নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হতেন। ইবনে আব্বাস বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে মদ্যপায়ীদের হাত, জুতা এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করা হতো। যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করলেন, আবু বকর বললেন: যদি আমরা তাদের জন্য একটি দণ্ডবিধি নির্ধারণ করতাম! তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে তারা যেমন প্রহৃত হতো তেমনটি হতো না। ফলে আবু বকর তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাদের চল্লিশটি করে বেত্রাঘাত করতেন। এরপর ওমর তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হলে তিনিও একইভাবে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করতেন। অবশেষে প্রথম যুগের মুহাজিরদের মধ্য থেকে একজনকে মদ্যপানাবস্থায় আনা হলে তিনি তাকে বেত্রাঘাতের নির্দেশ দেন। তখন সে বলল: আপনি আমাকে কেন বেত্রাঘাত করছেন? আমার ও আপনার মাঝে আল্লাহর কিতাব বিদ্যমান। তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাবের কোথায় আপনি পেয়েছেন যে আমি আপনাকে বেত্রাঘাত করব না? সে বলল: আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বলেন: {যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা যা কিছু ভক্ষণ বা পান করেছে সে জন্য তাদের কোনো গুনাহ নেই}। আর আমি তো তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, অতঃপর তাকওয়া অবলম্বন করেছে এবং সৎকাজ করেছে। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বদর, ওহুদ, খন্দক এবং অন্যান্য রণক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলাম। তখন ওমর বললেন: তোমরা কি তার কথার উত্তর দেবে না? ইবনে আব্বাস বললেন: এই আয়াতগুলো যারা গত হয়েছেন তাদের জন্য ওজর এবং যারা অবশিষ্ট আছেন তাদের জন্য দলীল হিসেবে নাযিল হয়েছে। যারা গত হয়েছেন তাদের জন্য ওজর এই কারণে যে, মদ হারাম হওয়ার আগেই তাঁরা আল্লাহর সাথে মিলিত হয়েছেন। আর যারা অবশিষ্ট আছেন তাদের জন্য দলীল এই কারণে যে, আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ...} পরবর্তী আয়াত পর্যন্ত। সুতরাং সে যদি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং নেক আমল করে, অতঃপর তাকওয়া অবলম্বন করে এবং ঈমান আনে, তারপর তাকওয়া অবলম্বন করে ও সৎকাজ করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ মদ পান করতে নিষেধ করেছেন। তখন ওমর বললেন: তোমাদের অভিমত কী? আলী ইবনে আবু তালিব বললেন: আমরা মনে করি যে, সে যখন পান করে তখন মত্ত হয়, আর যখন মত্ত হয় তখন প্রলাপ বকে, আর যখন প্রলাপ বকে তখন অপবাদ দেয়; আর অপবাদকারীর শাস্তি হলো আশিটি বেত্রাঘাত। তখন ওমর নির্দেশ দিলেন এবং তাকে আশিটি বেত্রাঘাত করা হলো।২।

--------------------------------------------

১ আয-যাহাবীর আত-তাফসীর ওয়াল মুফাসসিরুন: ১/ ৩০।

২ আস-সুয়ূতীর আদ-দুররুল মানসুর দেখুন: ৩/ ১৬২।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ১৩)
وفي عهد التابعين اتسعت دائرة الأقوال في التفسير نظرًا لحاجة الناس إلى تفسير القرآن الكريم، وذلك:

- لبعد العهد عن عصر النزول، ولانتشار الإسلام.

- ودخول أقوام فيه ممن لم تكن لديهم خلفية عن الثقافة الإسلامية، بل كان لبعضهم خلفيات ثقافية أخرى ممن اعتنقوا ديانات قبل الإسلام.

- كما ولد في الإسلام جيل لم يكن على علم تام بأساليب العربية وما رافق نزول القرآن إلا ما تلقوه عن الصحابة رضوان الله عليهم.

وكان إلى هذا العهد يتناقل التفسير بطريق الرواية، فالصحابة يروون عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كما يروي بعضهم عن بعض، والتابعون يروون عن الصحابة كما يروي بعضهم عن بعض.

- وفي أواخر عهد بني أمية وأوائل العصر العباسي بدأ عصر التدوين، فجمع حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم. فطاف الآفاق رجال كان شغلهم الشاغل جمع ما روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان على رأس هؤلاء:

ابن شهاب الزهري، المتوفى سنة 124هـ.

وشعبة بن الحجاج، المتوفى سنة 160هـ.

ووكيع بن الجراح، المتوفى سنة 197هـ.

وسفيان بن عيينة، المتوفى سنة 198هـ.

وروح بن عبادة البصري، المتوفى سنة 205هـ.

وعبد الرزاق بن همام الصنعاني، المتوفى سنة 211هـ.

وآدم بن إياس، المتوفى سنة 220هـ.

وأحمد بن حنبل، المتوفى سنة 241هـ.

وعبد بن حميد، المتوفى سنة 249هـ.

وابن ماجه، المتوفى سنة 273هـ.

وابن جرير الطبري، المتوفى سنة 310هـ.

وغيرهم كثير …
তাবেয়ীদের যুগে মানুষের মাঝে পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় তাফসীর বিষয়ক বক্তব্যের পরিধি বিস্তৃত হয়, তার কারণ হলো:

- ওহী নাযিলের যুগ থেকে সময়ের ব্যবধান বৃদ্ধি পাওয়া এবং ইসলামের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার।

- এমন সব জনগোষ্ঠীর ইসলামে প্রবেশ যাদের ইসলামী সংস্কৃতি সম্পর্কে কোনো পূর্বজ্ঞান ছিল না, বরং তাদের অনেকেরই ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ছিল।

- এছাড়া ইসলামে এমন এক প্রজন্মের জন্ম হওয়া যাদের আরবী ভাষার শৈলী এবং কুরআন নাযিলকালীন ঘটনাবলী সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান ছিল না, কেবল সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নিকট থেকে তারা যা লাভ করেছিলেন তা ব্যতীত।

এই যুগ পর্যন্ত তাফসীর বর্ণনা বা রেওয়াতের মাধ্যমে একে অপরের নিকট স্থানান্তরিত হতো; সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতেন, আবার তারা একে অপরের থেকেও বর্ণনা করতেন। আর তাবেয়ীগণ সাহাবীগণের নিকট থেকে বর্ণনা করতেন এবং নিজেরাও একে অপরের থেকে বর্ণনা করতেন।

- উমাইয়া যুগের শেষভাগে এবং আব্বাসী যুগের শুরুর দিকে সংকলন বা তদুয়ীন-এর যুগ শুরু হয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ সংগ্রহ করা হয়। তখন এমন কিছু ব্যক্তি দেশ-দেশান্তর পরিভ্রমণ করেন যাদের প্রধান কাজই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ সংগ্রহ করা। তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন:

ইবনে শিহাব আয-যুহরী, মৃত্যু ১২৪ হিজরী।

শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ, মৃত্যু ১৬০ হিজরী।

ওয়াকী' ইবনুল জাররাহ, মৃত্যু ১৯৭ হিজরী।

সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, মৃত্যু ১৯৮ হিজরী।

রাওহ ইবনে উবাদাহ আল-বসরী, মৃত্যু ২০৫ হিজরী।

আবদুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম আস-সান'আনী, মৃত্যু ২১১ হিজরী।

আদম ইবনে ইয়াস, মৃত্যু ২২০ হিজরী।

আহমাদ ইবনে হাম্বল, মৃত্যু ২৪১ হিজরী।

আবদ ইবনে হুমাইদ, মৃত্যু ২৪৯ হিজরী।

ইবনে মাজাহ, মৃত্যু ২৭৩ হিজরী।

ইবনে জারীর আত-তাবারী, মৃত্যু ৩১০ হিজরী।

এবং আরও অনেকে …
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ১৪)
ولكن لم يصلنا شيء عن تفاسيرهم سوى تفسير مجاهد، وتفسير عبد الرزاق الصنعاني، وتفسير ابن ماجه، وتفسير ابن جرير الطبري.

وكان إلى هذا العهد يجمع التفسير على أنه باب من أبواب الحديث، يدون فيه ما روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أو كبار الصحابة مما يتعلق بتفسير آية أو آيات.

ولم يبحث عن تفسير كل آية من آيات القرآن الكريم، وإنما يذكر فيه ما ثبت بطريق السند نسبته إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم أو أحد الصحابة.

ولم نجد تفسيرًا مستقلًا للقرآن الكريم تتبع القرآن سورة سورة أو آية آية قبل بداية القرن الثالث الهجري، على الرغم من أن الروايات تذكر أن مجاهدًا المتوفى سنة 104هـ سأل ابن عباس ومعه ألواحه، فكتب تفسير القرآن كاملًا، إلا أن التفسير المطبوع لا يختلف عن التفاسير المأثورة لآيات متفرقة. كما قيل إن سعيد بن جرير المتوفى سنة 94هـ كتب تفسيرًا كاملًا للقرآن الكريم. كما يقال إن عمرو بن عبيد شيخ المعتزلة كتب تفسيرًا للقرآن عن الحسن البصري المتوفى سنة 116هـ. إلا أننا لا نستطيع أن نجزم بصحة هذه الروايات لأن هذه التفاسير لم يصلنا منها إلا القليل، ووصلت أجزاء من بعضها.

ولعل أقدم تفسير كامل لآيات القرآن الكريم، وصلنا وتحت أيدينا، وهو تفسير شيخ المفسرين ابن جرير الطبري المتوفى سنة 310هـ.

ثم توالت المؤلفات في التفسير وتشعبت ألوانها حسب اتجاهات أصحابها والفنون التي أجادوا فيها، إلا أن الذي يهمنا هنا:

هل كان بين تلك المؤلفات ما نطلق عليه اليوم اسم التفسير الموضوعي؟

وقيل البدء باستعراض تلك المؤلفات لنتعرف على المراد من مصطلح "التفسير الموضوعي".
কিন্তু মুজাহিদের তাফসীর, আবদুর রাজ্জাক আস-সানআনির তাফসীর, ইবনে মাজাহর তাফসীর এবং ইবনে জারীর আত-তাবারীর তাফসীর ব্যতীত তাদের তাফসীরসমূহ সম্পর্কে আমাদের কাছে কিছুই পৌঁছায়নি।

এবং এই যুগ পর্যন্ত তাফসীরকে হাদীসের একটি অধ্যায় হিসেবে সংকলন করা হতো, যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা প্রবীণ সাহাবীদের থেকে বর্ণিত কোনো আয়াত বা আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো লিপিবদ্ধ করা হতো।

এবং কুরআন কারীমের প্রতিটি আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে অনুসন্ধান করা হতো না, বরং তাতে কেবল তা-ই উল্লেখ করা হতো যা সনদের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা কোনো সাহাবীর দিকে সম্পৃক্ত হওয়া প্রমাণিত ছিল।

হিজরী তৃতীয় শতাব্দীর শুরুর আগে আমরা কুরআন কারীমের এমন কোনো স্বতন্ত্র তাফসীর পাইনি যা সূরা সূরা বা আয়াত আয়াত অনুসরণ করে রচিত হয়েছে। যদিও বর্ণনাগুলোতে উল্লেখ আছে যে, মুজাহিদ (মৃত্যু ১০৪ হিজরী) তাঁর লেখার ফলকগুলো নিয়ে ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং পূর্ণাঙ্গ কুরআনের তাফসীর লিখেছিলেন, তবে মুদ্রিত তাফসীরটি বিচ্ছিন্ন আয়াতসমূহের জন্য বর্ণিত প্রথাগত তাফসীরগুলোর চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়। আরও বলা হয়েছে যে, সাঈদ বিন জারীর (মৃত্যু ৯৪ হিজরী) কুরআনের একটি পূর্ণাঙ্গ তাফসীর লিখেছিলেন। আরও বলা হয় যে, মুতাজিলাদের শায়খ আমর ইবনে উবায়েদ, আল-হাসান আল-বাসরী (মৃত্যু ১১৬ হিজরী) থেকে কুরআনের একটি তাফসীর লিখেছিলেন। তবে আমরা এই বর্ণনাগুলোর সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারি না, কারণ এই তাফসীরগুলোর মধ্য থেকে খুব সামান্য অংশই আমাদের কাছে পৌঁছেছে, এবং কিছুর কিছু অংশ বিশেষ পৌঁছেছে।

সম্ভবত কুরআন কারীমের আয়াতসমূহের প্রাচীনতম পূর্ণাঙ্গ তাফসীর যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে, তা হলো মুফাসসিরদের শায়খ ইবনে জারীর আত-তাবারীর (মৃত্যু ৩১০ হিজরী) তাফসীর।

এরপর তাফসীরের ক্ষেত্রে একের পর এক গ্রন্থ রচিত হতে থাকে এবং রচয়িতাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও তাদের পারদর্শিতার ক্ষেত্র অনুযায়ী এর ধারাগুলো বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। তবে এখানে আমাদের জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো:

সেই গ্রন্থগুলোর মধ্যে কি এমন কিছু ছিল যাকে আমরা আজ 'বিষয়ভিত্তিক তাফসীর' নাম দিয়েছি?

এবং উক্ত গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা শুরু করার আগে আমাদের 'বিষয়ভিত্তিক তাফসীর' পরিভাষাটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌تعريف التفسير الموضوعي:

يتألف مصطلح "التفسير الموضوعي" من جزأين ركبا تركيبًا وصفيًا فلا بد من تعريف الجزأين أولًا ثم تعريف المصطلح المركب منها.

تعريف التفسير:

التفسير لغة: من الفسر، وهو الكشف والبيان، وفي مفردات الراغب1:

إظهار المعنى المعقول. والتفسير مبالغة من الفسر.

قال تعالى: {وَلا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا} [الفرقان: 33] أي أحسن توضيحًا وبيانًا للمطلوب.

وفي الاصطلاح: علم يكشف به عن معاني آيات القرآن وبيان مراد الله تعالى منها حسب الطاقة البشرية.

تعريف الموضوع:

الموضوع لغة: من الوضع، وهو جعل الشيء في مكان ما، سواء كان ذلك بمعنى الحط والخفض، أو بمعنى الإلقاء والتثبيت في المكان، يقال ناقة واضعة: إن رعت الحمض حول الماء ولم تبرح، وقيل: وضعت تضع وضيعة فهي واضعة، وكذلك موضوعة يتعدى ولا يتعدى. وهذا المعنى ملحوظ في التفسير الموضوعي لأن المفسر يرتبط بمعنى معين لا يتجاوزه إلى غيره حتى يفرغ من تفسير الموضوع الذي التزم به2.

--------------------------------------------

1 المفردات في غريب القرآن: 571.

2 المدخل إلى التفسير الموضوعي للدكتور عبد الستار سعيد: 20، 23.
বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের সংজ্ঞা:

"তাফসীর মাওদুয়ি" (বিষয়ভিত্তিক তাফসীর) পরিভাষাটি দুটি অংশের সমন্বয়ে একটি বর্ণনামূলক যৌগিক শব্দ হিসেবে গঠিত। তাই প্রথমে অংশ দুটির সংজ্ঞা প্রদান করা এবং এরপর তা থেকে গঠিত পরিভাষাটির সংজ্ঞা দেওয়া আবশ্যক।

তাফসীরের সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থে তাফসীর: এটি ‘ফাসর’ শব্দ থেকে গৃহীত, যার অর্থ উন্মোচন ও বর্ণনা করা। রাগেবের ‘মুফরাদাত’ গ্রন্থে বলা হয়েছে:

বোধগম্য অর্থ প্রকাশ করা। আর ‘তাফসীর’ শব্দটি ‘ফাসর’ এর একটি আধিক্যসূচক রূপ।

মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আপনার কাছে এমন কোনো উদাহরণ নিয়ে আসে না যার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আমি আপনাকে দান করি না} [আল-ফুরকান: ৩৩] অর্থাৎ উদ্দিষ্ট বিষয়ের সর্বোত্তম সুস্পষ্টকরণ ও বর্ণনা।

পরিভাষায়: এটি এমন একটি বিদ্যা যার মাধ্যমে কুরআনের আয়াতসমূহের অর্থ উন্মোচন করা হয় এবং মানবীয় সাধ্য অনুযায়ী তা থেকে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়।

বিষয়ের (মাওদু) সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থে ‘মাওদু’: এটি ‘ওয়াদ’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ কোনো কিছুকে কোনো স্থানে রাখা; চাই তা নিচে রাখা বা অবনমিত করা অর্থে হোক, অথবা কোনো স্থানে নিক্ষেপ করা ও স্থির করা অর্থে হোক। বলা হয়, ‘উষ্ট্রীটি স্থির অবস্থানকারী’: যদি সে পানির আশপাশের লবণাক্ত ঘাস খায় এবং সেখান থেকে প্রস্থান না করে। আরও বলা হয়, ‘সে রাখল, সে রাখছে, সে রাখা অবস্থায় আছে’—এটি সকর্মক ও অকর্মক উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়। এই অর্থটি বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়, কারণ মুফাসসির একটি নির্দিষ্ট অর্থের সাথে দায়বদ্ধ থাকেন এবং তিনি যে বিষয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন তার তাফসীর শেষ না করা পর্যন্ত অন্য বিষয়ের দিকে ধাবিত হন না।

--------------------------------------------

১. আল-মুফরাদাত ফি গারিবিল কুরআন: ৫৭১।

২. ড. আবদুস সাত্তার সাঈদ রচিত আল-মাদখাল ইলাত তাফসীরিল মাওদুয়ি: ২০, ২৩।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ১৬)
وفي الاصطلاح: قضية، أو أمر متعلق بجانب من جوانب الحياة في العقيدة أو السلوك الاجتماعي أو مظاهر الكون تعرضت لها آيات القرآن الكريم.

أما تعريف مصطلح "التفسير الموضوعي" بعد أن أصبح علمًا على لون من ألوان التفسير فقد تعددت تعاريف الباحثين المعاصرين له. منها:

- هو بيان ما يتعلق بموضوع من موضوعات الحياة الفكرية أو الاجتماعية أو الكونية من زاوية قرآنية للخروج بنظرية قرآنية بصدده.

- وعرفه بعضهم بقوله: هو جمع الآيات المتفرقة في سورة القرآن المتعلقة بالموضوع الواحد لفظًا أو حكمًا وتفسيرها حسب المقاصد القرآنية.

- وقيل: هو بيان موضوع ما من خلال آيات القرآن، الكريم في سورة واحدة أو سورة متعددة.

- وقيل: هو علم يبحث في قضايا القرآن الكريم، المتحدة معنى أو غاية، عن طريق جمع آياتها المتفرقة، والنظر فيها، على هيئة مخصوصة، بشروط مخصوصة لبيان معناها، واستخراج عناصرها، وربطها برباط جامع1.

- وقيل: هو علم يتناول القضايا حسب المقاصد القرآنية من خلال سورة أو أكثر.

ولعل التعريف الأخير هو الأرجح، لخلوه عن التكرار ولإشارته إلى نوعيه الرئيسيين.

والتعاريف السابقة يغلب عليها طابع الشرح والتوضيح لمنهج البحث في التفسير الموضوعي.

--------------------------------------------

1 المدخل إلى التفسير الموضوعي: 20؛ ودراسات في التفسير الموضوعي للدكتور زاهر عواض: 7.
পরিভাষায়: এটি হলো কোনো একটি বিষয় বা এমন একটি ব্যাপার যা আকিদা, সামাজিক আচরণ অথবা মহাজাগতিক নিদর্শনের মতো জীবনের কোনো একটি দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহে আলোচিত হয়েছে।

তবে "তাফসীরে মাওদুয়ি" (বিষয়ভিত্তিক তাফসীর) পরিভাষাটি যখন তাফসীরের একটি স্বতন্ত্র শাখায় পরিণত হয়েছে, তখন এর সংজ্ঞা সম্পর্কে সমকালীন গবেষকগণ বহুবিধ মত প্রদান করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে:

- এটি হলো বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক অথবা মহাজাগতিক জীবনের কোনো একটি বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ কুরআনি দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণনা করা, যাতে সে বিষয়ে একটি কুরআনি তত্ত্বে উপনীত হওয়া যায়।

- কেউ কেউ এর সংজ্ঞা এভাবে দিয়েছেন: এটি হলো কুরআনের বিভিন্ন সূরায় ছড়িয়ে থাকা কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে শব্দগত বা বিধানগতভাবে সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহকে একত্রিত করা এবং কুরআনি মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ) অনুযায়ী সেগুলোর ব্যাখ্যা করা।

- আরও বলা হয়েছে: এটি হলো কোনো একটি সূরায় অথবা একাধিক সূরায় বিদ্যমান পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের মাধ্যমে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা।

- এবং বলা হয়েছে: এটি এমন একটি বিজ্ঞান যা পবিত্র কুরআনের সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে যেগুলোর অর্থ বা লক্ষ্য অভিন্ন। এটি সম্পন্ন করা হয় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলো একত্রিত করার মাধ্যমে, অতঃপর বিশেষ পদ্ধতিতে ও বিশেষ শর্তানুসারে সেগুলোকে পর্যালোচনার মাধ্যমে সেগুলোর অর্থ স্পষ্ট করা, উপাদানসমূহ বের করা এবং সেগুলোকে একটি সমন্বিত বন্ধনে আবদ্ধ করার মাধ্যমে।১

- বলা হয়েছে: এটি এমন একটি বিজ্ঞান যা এক বা একাধিক সূরার মাধ্যমে কুরআনি মাকাসিদ অনুযায়ী বিষয়গুলো আলোচনা করে।

সম্ভবত শেষ সংজ্ঞাটিই অধিক গ্রহণযোগ্য, কারণ এটি পুনরাবৃত্তি থেকে মুক্ত এবং এর প্রধান দুটি প্রকারের প্রতি এতে ইঙ্গিত রয়েছে।

পূর্ববর্তী সংজ্ঞাগুলোর উপর বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের গবেষণা পদ্ধতির ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের প্রভাবই বেশি পরিলক্ষিত হয়।

--------------------------------------------

১ আল-মাদখাল ইলাত তাফসীরিল মাওদুয়ি: ২০; এবং দিরাসাতুন ফিত তাফসীরিল মাওদুয়ি, ড. জহির আওয়াদ: ৭।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌نشأة التفسير الموضوعي:

لم يظهر هذا المصطلح "التفسير الموضوعي" إلا في القرن الرابع عشر الهجري، عندما قررت هذه المادة ضمن مواد قسم التفسير بكلية أصول الدين بالجامع الأزهر. إلا أن لَبِنات هذا اللون من التفسير وعناصره الأولى كانت موجودة منذ عصر التنزيل في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

فإن تتبع الآيات التي تناولت قضية ما والجمع بين دلالاتها وتفسير بعضها لبعض، مما أطلق عليه العلماء فيما بعد بتفسير القرآن بالقرآن، كان معروفًا في الصدر الأول، وقد لجأ رسول الله صلى الله عليه وسلم إليه عندما سئل عن تفسير بعض الآيات الكريمة:

- روى الشيخان وغيرهما عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: لما نزلت هذه الآية: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ} [الأنعام: 82] شق ذلك على الناس، فقالوا: يا رسول الله وأينا لا يظلم نفسه؟ قال: "إنه ليس الذي تعنون، ألم تسمعوا ما قال العبد الصالح: {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيم} [لقمان: 13] ، إنما هو الشرك" 1.

- روى البخاري2 أن رسول الله صلى الله عليه وسلم فسر مفاتح الغيب في قوله تعالى: {وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ} [الأنعام: 59] فقال: "مفاتح الغيب خمس: {إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي

--------------------------------------------

1 صحيح البخاري، كتاب التفسير: 6/ 20، صحيح مسلم، كتاب الإيمان: 1/ 80.

2 صحيح البخاري، كتاب التفسير: 5/ 193.
বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের উদ্ভব:

এই "বিষয়ভিত্তিক তাফসির" পরিভাষাটি হিজরি চতুর্দশ শতাব্দীর পূর্বে আবির্ভূত হয়নি, যখন এটি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের তাফসির বিভাগের পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এই প্রকারের তাফসিরের ভিত্তি ও প্রাথমিক উপাদানসমূহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় ওহী নাযিলের সময় থেকেই বিদ্যমান ছিল।

কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের আয়াতসমূহ অনুসন্ধান করা এবং সেগুলোর অর্থের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একটির মাধ্যমে অন্যটির ব্যাখ্যা করা—পরবর্তীতে আলেমগণ যাকে "কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসির" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন—তা ইসলামের প্রথম যুগেই পরিচিত ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং এর সাহায্য নিতেন যখন তাঁকে বিভিন্ন পবিত্র আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো:

- শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) এবং অন্যান্যরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন এই আয়াতটি নাযিল হলো: {যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি} [আল-আনআম: ৮২], তখন তা মানুষের নিকট অত্যন্ত কঠিন মনে হলো। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে নিজের প্রতি জুলুম করেনি? তিনি বললেন: "বিষয়টি তোমরা যা মনে করছ তা নয়। তোমরা কি নেককার বান্দার (লুকমান আ.) উক্তি শোনোনি: {নিশ্চয়ই শিরক হলো মহা জুলুম} [লুকমান: ১৩], এখানে জুলুম বলতে মূলত শিরক বোঝানো হয়েছে।" ১।

- ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তাঁর কাছেই অদৃশ্যের চাবিকাঠি রয়েছে, তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না} [আল-আনআম: ৫৯]-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "অদৃশ্যের চাবিকাঠি পাঁচটি: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন, তিনি জরায়ুতে যা আছে তা জানেন এবং কেউ জানে না...}

--------------------------------------------

১. সহিহ বুখারি, কিতাবুত তাফসির: ৬/২০, সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান: ১/৮০।

২. সহিহ বুখারি, কিতাবুত তাফসির: ৫/১৯৩।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ১৮)
نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} [لقمان: 34] ".

- ومن هذا القبيل ما كان يلجأ إليه الصحابة رضوان الله عليهم من الجمع بين الآيات القرآنية التي يظن بها بعضهم التعارض، كما روى البخاري قال: وقال المنهال عن سعيد بن جبير قال: قال رجل لابن عباس رضي الله عنهما إني لأجد في القرآن أشياء تختلف علي، قال: {فَلا أَنْسَابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍ وَلا يَتَسَاءَلُونَ} ، {وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ} ، {وَلا يَكْتُمُونَ اللَّهَ حَدِيثًا} ، {وَاللَّهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِينَ} فقد كتموا في هذه الآية، وقال تعالى: {أَأَنْتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ السَّمَاءُ بَنَاهَا، رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّاهَا، وَأَغْطَشَ لَيْلَهَا وَأَخْرَجَ ضُحَاهَا، وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا} فذكر خلق السماء قبل الأرض، ثم قال تعالى: {قُلْ أَإِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الْأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ} إلى قوله: {طَائِعِين} فذكر في هذه خلق الأرض قبل خلق السماء. وخلق الأرض في يومين ثم خلق السماء ثم استوى إلى السماء فسواهن في يومين آخرين ثم دحى الأرض ودحيها أن أخرج منها الماء والمرعى وخلق الجبال والرمال والجماد والآكام وما بينهما في يومين آخرين فذلك قوله تعالى: {دَحَاهَا} 1.

وقد وضع العلماء بعد ذلك قاعدة في أصول التفسير بضرورة العودة إلى القرآن الكريم نفسه لمعرفة تفسير آية ما، فما أجمل في مكان فصل في مكان آخر، وما أطلق في سورة مقيد في سورة أخرى. يقول ابن تيمية: "إن أصح الطرق في ذلك -أي في تفسير القرآن- أن يفسر القرآن بالقرآن، فما أجمل في مكان فإنه قد فسر في موضع آخر، وما اختصر في مكان فقد بسط في موضع آخر"2.

ومن أبرز تلك الأمثلة قوله تعالى في سورة النحل: {وَعَلَى الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا مَا قَصَصْنَا عَلَيْكَ مِنْ قَبْلُ} [إبراهيم: 118] ، فقد أفادت الآية الكريمة أن ما حرم على اليهود قد قصه الله سبحانه وتعالى على نبيه، وبالرجوع إلى الآية التي ورد فيها ذكر

--------------------------------------------

1 صحيح البخاري، كتاب التفسير: 6/ 36.

2 مقدمة في أصول التفسير لابن تيمية بتحقيق عدنان زرزور: 93.
"...কোনো সত্তাই জানে না আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে এবং কোনো সত্তাই জানে না কোন ভূমিতে সে মৃত্যুবরণ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।" [লুকমান: ৩৪]।

- আর এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কুরআনের সেইসব আয়াতের মধ্যে সমন্বয় সাধনের যে পথ অবলম্বন করতেন, যেগুলোর মধ্যে তাঁদের কেউ কেউ বিরোধ রয়েছে বলে মনে করতেন। যেমনটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-মিনহাল সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বললেন, আমি কুরআনের কিছু বিষয় এমন পাচ্ছি যা আমার কাছে পরস্পরবিরোধী মনে হচ্ছে। তিনি (উদাহরণস্বরূপ) বললেন: "সেদিন তাদের মধ্যে কোনো বংশীয় সম্পর্ক থাকবে না এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদও করবে না" [আল-মুমিনুন: ১০১], আবার অন্য আয়াতে আছে "এবং তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে" [আস-সাফফাত: ২৭]। আবার বলা হয়েছে "তারা আল্লাহর কাছে কোনো কথা গোপন করতে পারবে না" [আন-নিসা: ৪২], অথচ অন্যত্র আছে "আমাদের রব আল্লাহর শপথ! আমরা মুশরিক ছিলাম না" [আল-আনআম: ২৩]। এই আয়াতে তো তারা গোপন করল। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "তোমাদের সৃষ্টি করা কি বেশি কঠিন নাকি আসমান? যা তিনি নির্মাণ করেছেন। তিনি এর ছাদ উচ্চ করেছেন ও তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন। তিনি এর রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং এর সূর্যালোক প্রকাশ করেছেন। আর এরপর জমিনকে বিস্তৃত করেছেন" [আন-নাযিআত: ২৭-৩০]। এখানে তিনি জমিন সৃষ্টির পূর্বে আসমান সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন। তারপর মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, তোমরা কি তাঁর সাথেই কুফরি করছ যিনি জমিন সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে..." [ফুসসিলাত: ৯] থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "অনুগত হয়ে" [ফুসসিলাত: ১১]। এখানে তিনি আসমান সৃষ্টির পূর্বে জমিন সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন। মূলত তিনি জমিন সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে, এরপর আসমান সৃষ্টি করেছেন, তারপর আসমানের দিকে উঠলেন এবং পরবর্তী দুই দিনে সেগুলোকে সুবিন্যস্ত করলেন। এরপর তিনি জমিনকে বিস্তৃত করলেন; আর জমিন বিস্তৃত করার অর্থ হলো তা থেকে পানি ও চারণভূমি নির্গত করা এবং পাহাড়, বালুচর, জড়বস্তু, টিলা এবং উভয়ের মাঝে যা কিছু আছে তা পরবর্তী দুই দিনে সৃষ্টি করা। আর এটাই মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি একে বিস্তৃত করেছেন।" ১

পরবর্তীতে আলেমগণ তাফসীরের মূলনীতিতে একটি নিয়ম স্থির করেছেন যে, কোনো আয়াতের ব্যাখ্যা জানার জন্য খোদ কুরআনুল কারীমের দিকেই ফিরে যাওয়া আবশ্যক। কেননা যা এক স্থানে সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে, অন্য স্থানে তা বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে; আর যা এক সূরায় শর্তহীনভাবে এসেছে, অন্য সূরায় তা শর্তযুক্তভাবে এসেছে। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "নিশ্চয় এক্ষেত্রে -অর্থাৎ কুরআনের তাফসীরের ক্ষেত্রে- সবচেয়ে সঠিক পদ্ধতি হলো কুরআনের তাফসীর কুরআনের মাধ্যমেই করা। কারণ যা এক স্থানে সংক্ষেপে বলা হয়েছে, অন্য স্থানে তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং যা এক স্থানে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, অন্য স্থানে তা বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।" ২

এর অন্যতম প্রধান উদাহরণ হলো সূরা আন-নাহলে মহান আল্লাহর বাণী: "আর ইহুদিদের জন্য আমি তা-ই হারাম করেছিলাম যা আমি ইতিপূর্বে আপনার কাছে বর্ণনা করেছি" [আন-নাহল: ১১৮]। এই আয়াতের মাধ্যমে জানা যায় যে, ইহুদিদের ওপর যা হারাম করা হয়েছিল তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইতিপূর্বেই তাঁর নবীর কাছে বর্ণনা করেছেন। আর সেই আয়াতের দিকে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে যেখানে এর উল্লেখ রয়েছে...

--------------------------------------------

১ সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাফসীর: ৬/ ৩৬।

২ আদনান যারযুর সম্পাদিত ইবনে তাইমিয়্যাহর মুকাদ্দিমাহ ফী উসুলিত তাফসীর: ৯৩।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ১৯)
المحرمات عليهم، نجد أن آية الأنعام قد فصلت هذا الإجمال وأزالت ذاك الإبهام في قوله تعالى: {وَعَلَى الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا كُلَّ ذِي ظُفُرٍ وَمِنَ الْبَقَرِ وَالْغَنَمِ حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ شُحُومَهُمَا إِلَّا مَا حَمَلَتْ ظُهُورُهُمَا أَوِ الْحَوَايَا أَوْ مَا اخْتَلَطَ بِعَظْمٍ ذَلِكَ جَزَيْنَاهُمْ بِبَغْيِهِمْ وَإِنَّا لَصَادِقُونَ} [الأنعام: 146] .

وكذلك ما يتعلق بالمحرمات من بهيمة الأنعام على هذه الأمة نجد في ذلك عدة آيات:

كقوله تعالى: {أُحِلَّتْ لَكُمْ بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ إِلَّا مَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ} [المائدة: 1] .

وقد جاء تفصيل هذه المحرمات في عدة آيات كقوله تعالى:

{قُلْ لا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ} [الأنعام: 145] .

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُوا لِلَّهِ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ، إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ} [البقرة: 172، 173] .

وقوله تعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَنْ تَسْتَقْسِمُوا بِالْأَزْلامِ ذَلِكُمْ فِسْقٌ} [المائدة: 3] .

وقد جمع الفقهاء هذه الآيات ذات الصلة بموضوع واحد في كتبهم الفقهية فجمعوا ما يتعلق بالوضوء والتيمم تحت كتاب الطهارة واستنبطوا منها الأحكام الخاصة بها، كما جمعوا ما ورد في الصلاة وقيامها وركوعها والقراءة فيها تحت كتاب الصلاة، وما يتعلق بالصدقات وجوبًا ومصارف وأنواع المال التي تخرج الصدقة منها تحت كتاب الزكاة، وهكذا في سائر أبواب الفقه من العبادات والمعاملات والفرائض والسير.

وكل ذلك لون من ألوان التفسير الموضوعي في خطواته الأولى.
তাদের ওপর যা হারাম করা হয়েছে, সে সম্পর্কে আমরা দেখি যে, সূরা আল-আনআমের আয়াতটি এই সংক্ষিপ্ততাকে বিস্তারিত করেছে এবং সেই অস্পষ্টতা দূর করেছে মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {আর যারা ইহুদি হয়েছে, আমরা তাদের ওপর প্রত্যেক নখবিশিষ্ট প্রাণী হারাম করেছিলাম এবং গরু ও ছাগল থেকে তাদের জন্য উভয়ের চর্বি হারাম করেছিলাম, তবে যা তাদের পিঠ অথবা নাড়িভুঁড়ি বহন করে অথবা যা হাড়ের সাথে মিশে থাকে তা ছাড়া; তাদের অবাধ্যতার কারণে আমরা তাদের এই প্রতিদান দিয়েছিলাম। আর আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।} [আল-আনআম: ১৪৬]।

অনুরূপভাবে এই উম্মতের ওপর চতুস্পদ জন্তুর মধ্যে যা হারাম করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা বেশ কিছু আয়াত পাই:

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের জন্য চতুস্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে, তবে সেগুলো ছাড়া যা তোমাদের কাছে পাঠ করা হয়।} [আল-মায়িদাহ: ১]।

আর এই হারামের বিস্তারিত বিবরণ বেশ কিছু আয়াতে এসেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী:

{আপনি বলুন: আমার কাছে যা ওহি পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে কোনো আহারকারীর জন্য এমন কিছু হারাম পাই না যা সে আহার করে, যদি না তা মৃত পশু অথবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শূকরের মাংস হয়; কারণ নিশ্চয়ই তা অপবিত্র কিংবা অবাধ্যতা যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে।} [আল-আনআম: ১৪৫]।

{হে মুমিনগণ! আমরা তোমাদের যে রিযিক দান করেছি, তা থেকে পবিত্র বস্তুগুলো আহার করো এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করে থাকো। তিনি তো কেবল তোমাদের ওপর মৃত জানোয়ার, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে তা হারাম করেছেন।} [আল-বাকারা: ১৭২, ১৭৩]।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে মৃত জানোয়ার, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে, আর গলা টিপে মারা যাওয়া জন্তু, আঘাত লেগে মরা জন্তু, উপর থেকে পড়ে মরা জন্তু, শিংয়ের গুঁতোয় মরা জন্তু এবং যাকে হিংস্র পশু ভক্ষণ করেছে—তবে যা তোমরা যবেহ করতে পেরেছ তা ছাড়া—আর যা মূর্তিপূজার বেদিতে যবেহ করা হয়েছে এবং লটারি বা ভাগ্য নির্ধারক তীরের মাধ্যমে বণ্টন করা; এগুলো গোনাহের কাজ।} [আল-মায়িদাহ: ৩]।

ফকিহগণ একটি বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত এই আয়াতগুলোকে তাদের ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে একত্রিত করেছেন। সুতরাং তারা অজু ও তায়াম্মুম সংক্রান্ত বিষয়গুলো পবিত্রতা অধ্যায়ের অধীনে সংকলন করেছেন এবং তা থেকে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ উদ্ভাবন করেছেন। একইভাবে তারা নামাজ এবং এতে দাঁড়ানো, রুকু করা ও কিরাত পড়া সংক্রান্ত বিষয়গুলো নামাজ অধ্যায়ের অধীনে একত্রিত করেছেন। আর সদকা বা দান-খয়রাতের আবশ্যকতা, ব্যয়ের খাত এবং যে সব সম্পদ থেকে সদকা দিতে হয় সেই সংক্রান্ত বিষয়গুলো যাকাত অধ্যায়ের অধীনে একত্রিত করেছেন। এভাবে ফিকহ শাস্ত্রের অন্যান্য অধ্যায় যেমন—ইবাদত, লেনদেন, মিরাস এবং যুদ্ধাভিযান সংক্রান্ত বিষয়গুলোতেও তারা অনুরূপ করেছেন।

আর এই সবকিছুই হলো এর প্রাথমিক ধাপে বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের অন্যতম একটি রূপ।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ২০)
وقد أخذت هذه الدراسات الموضوعية اتجاهًا آخر في نفس الوقت وهو الاتجاه اللغوي وذلك بتتبع اللفظة القرآنية ومحاولة معرفة دلالاتها المختلفة.

فقد ألف مقاتل بن سليمان البلخي المتوفى سنة 150هـ كتابًا سماه "الأشباه والنظائر في القرآن الكريم"، وذكر فيه الكلمات التي اتحدت في اللفظ واختلفت دلالالتها حسب السياق في الآيات الكريمة.

وألف يحيى بن سلام المتوفى سنة 200هـ كتابه "التصاريف"1، تفسير القرآن مما اشتبهت أسماؤه وتصرفت معانيه على طريقة كتاب الأشباه والنظائر.

وألف الراغب الأصفهاني المتوفى سنة 502هـ كتابه "المفردات في القرآن" حيث تتبع مادة الكلمة القرآنية وبين دلالاتها في مختلف الآيات.

ثم ألف ابن الجوزي المتوفى سنة 597هـ كتابه "نزهة الأعين النواضر في علم الوجوه والنظائر".

وعلى هذه الشاكلة كتاب الدامغاني المتوفى سنة 478هـ بعنوان "إصلاح الوجوه والنظائر في القرآن الكريم".

وكتاب الفيروزآبادي المتوفى سنة 817هـ بعنوان "بصائر ذوي التمييز في لطائف الكتاب العزيز".

وكتاب ابن العماد المتوفى سنة 887هـ بعنوان "كشف السرائر في معنى الوجوه والأشباه والنظائر".

وكان الغالب على هذه المؤلفات الجانب للكلمات الغريبة التي تتعدد دلالاتها حسب الاستعمال.

وإلى جانب هذا اللون من التفسير فقد برزت دراسات تفسيرية لم تقتصر على الجوانب اللغوية بل جمعت بين الآيات التي يربطها رابط واحد أو يمكن أن تدخل تحت عنوان معين:

--------------------------------------------

1 حققت الكتاب هند شلبي، وطبعته الشركة التونسية للتوزيع.
একই সময়ে এই বিষয়ভিত্তিক গবেষণাগুলো অন্য একটি দিক গ্রহণ করেছিল, যা হলো ভাষাতাত্ত্বিক দিক; আর তা ছিল কুরআনের শব্দাবলি অনুসন্ধান এবং সেগুলোর বিভিন্ন অর্থ জানার চেষ্টার মাধ্যমে।

১৫০ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী মুকাতিল বিন সুলাইমান আল-বালখি 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির ফিল কুরআনিল কারিম' নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এতে তিনি এমন সব শব্দ উল্লেখ করেছেন যা উচ্চারণে এক কিন্তু পবিত্র আয়াতের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সেগুলোর অর্থ ভিন্ন ভিন্ন।

২০০ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী ইয়াহইয়া বিন সালাম তাঁর 'আত-তাসারিফ'১ গ্রন্থটি রচনা করেন, যা ছিল 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির' গ্রন্থের পদ্ধতিতে কুরআনের এমন সব বিষয়ের ব্যাখ্যা যেখানে শব্দগুলো সাদৃশ্যপূর্ণ কিন্তু অর্থের বিবর্তন ঘটেছে।

৫০২ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী রাঘিব আল-ইসফাহানি তাঁর 'আল-মুফরাদাত ফিল কুরআন' গ্রন্থটি রচনা করেন, যেখানে তিনি কুরআনের শব্দের মূল ধাতু অনুসন্ধান করেছেন এবং বিভিন্ন আয়াতে সেগুলোর অর্থ স্পষ্ট করেছেন।

এরপর ৫৯৭ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী ইবনুল জাওজি তাঁর 'নুযহাতুল আ'ইউন আন-নাওয়াযির ফি ইলমিল উজুহি ওয়ান নাযায়ির' গ্রন্থটি রচনা করেন।

এবং এই একই ধারায় ৪৭৮ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী আদ-দামেগানি 'ইসলাহুল উজুহি ওয়ান নাযায়ির ফিল কুরআনিল কারিম' শিরোনামে গ্রন্থ রচনা করেন।

এবং ৮১৭ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী আল-ফিরোজাবাদি 'বাসায়িরু যাউইত তাময়িয ফি লাতায়িফিল কিতাবিল আযিয' শিরোনামে গ্রন্থ রচনা করেন।

এবং ৮৮৭ হিজরি সনে ইন্তেকালকারী ইবনুল ইমাদ 'কাশফুস সারায়ির ফি মা'নাল উজুহি ওয়াল আশবাহি ওয়ান নাযায়ির' শিরোনামে গ্রন্থ রচনা করেন।

এই গ্রন্থগুলোর অধিকাংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল সেই সব বিরল শব্দাবলি নিয়ে আলোচনা করা, ব্যবহারের পরিপ্রেক্ষিতে যেগুলোর অর্থ বহুমুখী হয়ে থাকে।

তাফসিরের এই ধারার পাশাপাশি এমন কিছু তাফসিরমূলক গবেষণা আত্মপ্রকাশ করেছে যা কেবল ভাষাতাত্ত্বিক দিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এমন সব আয়াতকে একত্রিত করেছে যেগুলোর মধ্যে কোনো অভিন্ন যোগসূত্র রয়েছে অথবা যেগুলোকে কোনো নির্দিষ্ট শিরোনামের অধীনে আনা সম্ভব:

--------------------------------------------

১ বইটি সম্পাদনা করেছেন হিন্দ শালাবি এবং এটি তিউনিসিয়া ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি কর্তৃক মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ২১)
فقد ألف الإمام أبو عبيد القاسم بن سلام، المتوفى سنة 224هـ كتابه في الناسخ والمنسوخ.

وألف الإمام علي بن المديني "شيخ البخاري" والمتوفى سنة 234هـ كتابه في أسباب النزول.

وألف الإمام ابن قتيبة المتوفى سنة 276هـ كتابه "تأويل مشكل القرآن".

وألف أبو بكر الجصاص الحنفي المتوفى سنة 370هـ كتابه "أحكام القرآن".

وألف ابن العربي المالكي المتوفى سنة 543هـ كتابه "أحكام القرآن" أيضًا.

وألف إلكيا الهراسي الشافعي المتوفي سنة 504 هـ كتابه "أحكام القرآن" أيضًا.

وظهرت مؤلفات أخرى جميع أصحابها ما يشمله عنوان الكتاب:

مثل "أمثال القرآن" للماوردي المتوفى سنة 450هـ.

وكتاب "مجاز القرآن" للعز بن عبد السلام المتوفى سنة 660هـ.

وكتاب "أقسام القرآن" و"أمثال القرآن" لابن القيم المتوفى سنة 751هـ.

ولا زال هذا الخط من التأليف في التفسير الموضوعي مستمرًا إلى يومنا هذا، وقد توجهت أنظار الباحثين إلى هدايات القرآن الكريم حول معطيات الحضارات المعاصرة وظهور المذاهب والاتجاهات الاقتصادية والاجتماعية، والعلوم الكونية والطبيعية.

فنجد مؤلفات كثيرة تحت عناوين شتى مثل:

- الإنسان في القرآن.

- المرأة في القرآن.

- الأخلاق في القرآن.

- اليهود في القرآن.

- سيرة الرسول صور مقتبسة من القرآن.

- الصبر في القرآن.

- الرحمة في القرآن.
ইমাম আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সালাম (মৃত্যু ২২৪ হি.) নাসেখ ও মানসুখ (রহিতকারী ও রহিতকৃত) বিষয়ে তাঁর কিতাব রচনা করেছেন।

এবং ইমাম আলী বিন আল-মাদিনি (যিনি 'ইমাম বুখারীর উস্তাদ' হিসেবে পরিচিত এবং মৃত্যু ২৩৪ হি.) আসবাবুন নুযুল (কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট) বিষয়ে তাঁর কিতাব রচনা করেছেন।

এবং ইমাম ইবনে কুতায়বা (মৃত্যু ২৭৬ হি.) তাঁর কিতাব 'তাউয়িলু মুশকিলিল কুরআন' (কুরআনের জটিল বিষয়সমূহের ব্যাখ্যা) রচনা করেছেন।

এবং আবু বকর আল-জাসসাস আল-হানাফী (মৃত্যু ৩৭০ হি.) তাঁর কিতাব 'আহকামুল কুরআন' (কুরআনের বিধিবিধান) রচনা করেছেন।

এবং ইবনুল আরাবী আল-মালিকী (মৃত্যু ৫৪৩ হি.)-ও তাঁর কিতাব 'আহকামুল কুরআন' রচনা করেছেন।

এবং ইলকিয়া আল-হাররাসী আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৫০৪ হি.)-ও তাঁর কিতাব 'আহকামুল কুরআন' রচনা করেছেন।

আরও অন্যান্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে যেগুলোর রচয়িতাগণ কিতাবের শিরোনামের অন্তর্ভুক্ত বিষয়বস্তুগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন:<

যেমন ৪৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আল-মাওয়ার্দীর 'আমছালুল কুরআন' (কুরআনের দৃষ্টান্তসমূহ)।

এবং ৬৬০ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইজ্জ বিন আবদুস সালামের কিতাব 'মাজাযুল কুরআন' (কুরআনের রূপকসমূহ)।

এবং ৭৫১ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইবনুল কায়্যিমের কিতাব 'আকসামুল কুরআন' (কুরআনের শপথসমূহ) এবং 'আমছালুল কুরআন'।

বিষয়ভিত্তিক তাফসীর রচনার এই ধারা আজও চলমান রয়েছে। গবেষকদের দৃষ্টি এখন সমকালীন সভ্যতার বিবিধ উপাদান, বিভিন্ন মতবাদ ও অর্থনৈতিক-সামাজিক চিন্তাধারা এবং মহাজাগতিক ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কুরআনুল কারীমের নির্দেশনার দিকে নিবদ্ধ হয়েছে।

ফলে আমরা বিভিন্ন শিরোনামে অনেক গ্রন্থ দেখতে পাই, যেমন:

- কুরআনে মানুষ।

- কুরআনে নারী।

- কুরআনে নৈতিকতা।

- কুরআনে ইহুদি জাতি।

- রাসূলের সীরাত: কুরআন থেকে সংগৃহীত চিত্রাবলী।

- কুরআনে ধৈর্য।

- কুরআনে দয়া।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ২২)
ومثل هذه الموضوعات لا تكاد تتناهى، فكلما جد جديد في العلوم المعاصرة، التفت علماء المسلمين إلى القرآن الكريم ليسترشدوا بهداياته وينظروا في توجيهات الآيات الكريمة في مثل هذه المجالات الجديدة.

ومن الجدير بالذكر في هذا المجال أن أحد المستشرقين الإفرنسيين هو "جول لابوم" وضع كتابًا بعنوان "تفصيل آيات القرآن الكريم" وضع لكتابه ثمانية عشر بابًا، ثم حاول توزيع آيات القرآن الكريم على هذه الأبواب، وجعل تحت كل باب فروعًا وقد بلغت عدة هذه الفروع حوالي/ 350 فرعًا، وجمع تحت كل فرع الآيات التي تتعلق به.

أما الأبواب الرئيسية فهي:

1- التاريخ.

2- محمد صلى الله عليه وسلم.

3- التبليغ.

4- بنو إسرائيل.

5- التوراة.

6- النصارى.

7- ما بعد الطبيعة.

8- التوحيد.

9- القرآن.

10- الدين.

11- العقائد.

12- العبادات.

13- الشريعة.

14- النظام الاجتماعي.

15- العلوم والفنون.

16- التجارة.

17- علم تهذيب الأخلاق.

18- النجاح.

قام بترجمة الكتاب إلى العربية محمد فؤاد عبد الباقي وترجم مستدركه لإدوار مونتيه، إلا أن المؤلف تعسف كثيرًا في حشر بعض الآيات وليس الغرض الأساسي من الآية متفقًا مع الآية الأخرى، كما فاته كثير من الآيات لم تدخل تحت الجمع، إلا أن الكتاب خطوة مفيدة للباحث في لم شتات موضوع من الموضوعات القرآنية.
এই ধরণের বিষয়গুলোর কোনো শেষ নেই। আধুনিক বিজ্ঞানে যখনই নতুন কোনো কিছু উদ্ভাবিত হয়, মুসলিম পণ্ডিতগণ আল-কুরআনের দিকে মনোনিবেশ করেন যাতে এর হিদায়াত থেকে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করতে পারেন এবং এই ধরনের নতুন ক্ষেত্রগুলোতে পবিত্র আয়াতসমূহের নির্দেশনাগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, একজন ফরাসি প্রাচ্যবিদ ‘জুল ল্যাবুম’ ‘তাফসিলু আয়াতিল কুরআনিল কারিম’ (আল-কুরআনের আয়াতসমূহের বিস্তারিত বিবরণ) শিরোনামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি তাঁর গ্রন্থে আঠারোটি অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন, এরপর আল-কুরআনের আয়াতগুলোকে এই অধ্যায়গুলোতে বিন্যস্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি প্রতিটি অধ্যায়ের অধীনে কয়েকটি শাখা তৈরি করেছেন এবং এই শাখাগুলোর সংখ্যা প্রায় ৩৫০টিতে পৌঁছেছে। প্রতিটি শাখার অধীনে তিনি সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলো সংগ্রহ করেছেন।

মূল অধ্যায়গুলো হলো:

১- ইতিহাস।

২- মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

৩- প্রচার।

৪- বনী ইসরাঈল।

৫- তাওরাত।

৬- খ্রিস্টানগণ।

৭- অধিবিদ্যা।

৮- তাওহীদ।

৯- কুরআন।

১০- দ্বীন।

১১- আকিদাহ।

১২- ইবাদতসমূহ।

১৩- শরীয়াহ।

১৪- সামাজিক ব্যবস্থা।

১৫- বিজ্ঞান ও শিল্পকলা।

১৬- বাণিজ্য।

১৭- চরিত্র সংশোধন বিদ্যা।

১৮- সাফল্য।

মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি এই গ্রন্থটি আরবিতে অনুবাদ করেছেন এবং এডওয়ার্ড মন্টেট-এর লেখা এর পরিশিষ্টটিও অনুবাদ করেছেন। তবে লেখক কিছু আয়াত অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে বেশ জবরদস্তি করেছেন, যেখানে একটি আয়াতের মূল উদ্দেশ্য অন্য আয়াতের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। একইভাবে অনেক আয়াত সংগ্রহে অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বাদ পড়ে গেছে। তা সত্ত্বেও, কুরআনের কোনো একটি বিষয়ের বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্রিত করার ক্ষেত্রে গবেষকদের জন্য এই গ্রন্থটি একটি দরকারী পদক্ষেপ।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌ألوان التفسير الموضوعي:

من خلال الاستعراض التاريخي لنشوء علم التفسير والمؤلفات فيه نستطيع أن نلحظ ثلاثة أنواع من ألوان التفسير الموضوعي.

‌‌اللون الأول:

أن يتتبع الباحث لفظة من كلمات القرآن الكريم ثم يجمع الآيات التي ترد فيها اللفظة أو مشتقاتها من مادتها اللغوية، وبعد جمع الآيات والإحاطة بتفسيرها يحاول استنباط دلالات الكلمة من خلال استعمال القرآن الكريم لها. وكثير من الكلمات القرآنية المتكررة أصبحت مصطلحات قرآنية.

فكلمات: الأمة، الصدقة، الجهاد، الكتاب، الذين في قلوبهم مرض، المنافقون، الزكاة، أهل الكتاب، الربا، نجدها تأخذ وجوهًا في الاستعمال والدلالة.

فالمتتبع لمثل هذا يخرج بلون من التفسير لأساليب القرآن الكريم في استخدام مادة الكلمة ودلالاتها.

وقد سبقت الإشارة إلى أن كتب غريب القرآن، وكتب الأشباه والنظائر قد تضمنت هذا اللون من التفسير، وهي العمدة في مثل هذه الأبحاث.

إلا أن المؤلفات القديمة من هذا اللون بقيت في دائرة دلالة الكلمة في موضعها. ولم يحاول مؤلفوها أن يربطوا بينها في مختلف السور، فبقي تفسيرهم للكلمة في دائرة الدلالة اللفظية.

أما المعاصرون الذين كتبوا في هذا اللون فقد تتبعوا الكلمة وحاولوا الربط
বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের প্রকারভেদ:

তাফসির বিজ্ঞানের উৎপত্তি এবং এ সংক্রান্ত রচনারাজির ঐতিহাসিক পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের তিনটি ধরন বা প্রকার লক্ষ করতে পারি।

প্রথম প্রকার:

গবেষক পবিত্র কুরআনের শব্দাবলির মধ্য থেকে কোনো একটি শব্দ অনুসরণ করেন, অতঃপর সেই শব্দ অথবা তার ভাষাতাত্ত্বিক মূল ধাতু থেকে উৎপন্ন শব্দসমূহ যেসব আয়াতে বর্ণিত হয়েছে তা একত্রিত করেন। আয়াতগুলো সংগ্রহ করার পর এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুধাবন করার পর তিনি পবিত্র কুরআনে শব্দটির ব্যবহারের মাধ্যমে তার বিভিন্ন অর্থ ও নিহিতার্থ উদ্ভাবন করার চেষ্টা করেন। কুরআনের অনেক পুনরাবৃত্ত শব্দই বর্তমানে কুরআনিক পরিভাষায় পরিণত হয়েছে।

যেমন: উম্মত, সদকা, জিহাদ, কিতাব, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, মুনাফিক, জাকাত, আহলে কিতাব, রিবা (সুদ)—এই শব্দগুলো ব্যবহার ও অর্থের দিক থেকে বিভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করতে দেখা যায়।

সুতরাং এই পদ্ধতির অনুসরণকারী ব্যক্তি শব্দমূলের ব্যবহার এবং এর অর্থগত দিক সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের আলঙ্কারিক শৈলীর এক প্রকার তাফসির তুলে ধরেন।

ইতিপূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'গরিবুল কুরআন' এবং 'আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর' বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এই প্রকারের তাফসিরকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এ জাতীয় গবেষণার ক্ষেত্রে এই গ্রন্থগুলোই প্রধান অবলম্বন।

তবে এই প্রকারের প্রাচীন গ্রন্থসমূহ সংশ্লিষ্ট স্থানে শব্দের অর্থের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। সেগুলোর রচয়িতাগণ বিভিন্ন সূরায় ব্যবহিত সেই শব্দগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেননি; ফলে শব্দ সম্পর্কে তাঁদের ব্যাখ্যা আভিধানিক বা শাব্দিক অর্থের গণ্ডিতেই রয়ে গেছে।

পক্ষান্তরে বর্তমানকালের যারা এই ধারায় লিখেছেন, তাঁরা শব্দটিকে অনুসরণ করেছেন এবং সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেছেন—
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ২৪)
بين دلالاتها في مختلف المواضع فكان أشبه ما يكون باللون الثاني من التفسير الموضوعي.

وفيما يلي ننقل نموذجًا على هذا اللون من التفسير الموضوعي من كتاب الدامغاني:

نموذج من كتاب: "إصلاح الوجوه والنظائر"، للدامغاني:

قال الدامغاني تحت مادة "خ ي ر"1:

"خ ي ر" على ثمانية أوجه:

المال، الإيمان، الإسلام، أفضل، العافية، الأجر، الطعام، الظفر والغنيمة.

فوجه منها1 الخير بمعنى المال، قوله سبحانه في سورة البقرة: {إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْرًا} يعني مالًا. كقوله تعالى فيها: {قُلْ مَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ خَيْرٍ فَلِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ} وكقوله تعالى في سورة البقرة: {وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَلِأَنْفُسِكُمْ} أي لا تنفقوا مالًا وقوله تعالى فيها: {وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ} يعني من مال، وقوله تعالى في سورة "ص": {إِنِّي أَحْبَبْتُ حُبَّ الْخَيْرِ} يعني حب المال، وكقوله تعالى في سورة النور: {إِنْ عَلِمْتُمْ فِيهِمْ خَيْرًا} يعني مالًا.

الثاني: الخير يعني الإيمان. قوله تعالى في سورة الأنفال: {وَلَوْ عَلِمَ اللَّهُ فِيهِمْ خَيْرًا لَأسْمَعَهُمْ} يعني لو علم الله فيهم إيمانًا، كقوله تعالى فيها: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِمَنْ فِي أَيْدِيكُمْ مِنَ الْأَسْرَى إِنْ يَعْلَمِ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمْ خَيْرًا} يعني إيمانًا، كقوله تعالى في سورة هود: {وَلا أَقُولُ لِلَّذِينَ تَزْدَرِي أَعْيُنُكُمْ لَنْ يُؤْتِيَهُمُ اللَّهُ خَيْرًا} يعني إيمانًا.

الثالث: الخير يعني الإسلام. قوله تعالى في سورة البقرة: {مَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَلا الْمُشْرِكِينَ أَنْ يُنَزَّلَ عَلَيْكُمْ مِنْ خَيْرٍ مِنْ رَبِّكُمْ} يعني الإسلام، نظيرها في سورة "ق": {مَنَّاعٍ لِلْخَيْر} يعني الإسلام نزلت في الوليد بن المغيرة منع ابن أخيه أن يسلم، نظيرها في سورة "ن".

--------------------------------------------

1 إصلاح الوجوه والنظائر للدامغاني: 167-169، ط. دار العلم للملايين.
বিভিন্ন স্থানে এর অর্থগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে, ফলে এটি বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের দ্বিতীয় প্রকারের অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিচে আদ-দামিগানি-এর কিতাব থেকে বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের এই প্রকারের একটি নমুনা তুলে ধরা হলো:

আদ-দামিগানি রচিত "ইসলাহুল উজুহ ওয়ান নাজাইর" কিতাব থেকে নমুনা:

আদ-দামিগানি "খ ই র" মূলশব্দের অধীনে বলেছেন:

"খাইর" শব্দটি আটটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে:

সম্পদ, ঈমান, ইসলাম, শ্রেষ্ঠতর, সুস্থতা বা কল্যাণ, প্রতিদান, খাদ্য, এবং বিজয় ও গনিমত।

এর একটি অর্থ হলো "খাইর" যখন সম্পদের অর্থে ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহর বাণী সূরা বাকারায়: {যখন তোমাদের কারো নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়, যদি সে খাইর রেখে যায়} অর্থাৎ সম্পদ। যেমন মহান আল্লাহ সেই একই সূরায় বলেছেন: {বলুন, তোমরা যে খাইর ব্যয় করবে তা পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য} এবং সূরা বাকারায় মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা যে খাইর ব্যয় করো তা তোমাদের নিজেদের জন্যই} অর্থাৎ যখন তোমরা সম্পদ ব্যয় করো এবং সেখানে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা যে খাইর ব্যয় করো তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেওয়া হবে} অর্থাৎ সম্পদ থেকে। আর সূরা সোয়াদ-এ মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আমি খাইর-এর ভালোবাসাকে (ঘোড়া) ভালোবেসে ফেলেছি} অর্থাৎ সম্পদের প্রতি ভালোবাসা। আর যেমন সূরা নূরে মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তোমরা তাদের মধ্যে খাইর আছে বলে জানো} অর্থাৎ সম্পদ।

দ্বিতীয়ত: খাইর যখন ঈমানের অর্থে ব্যবহৃত হয়। সূরা আনফালে মহান আল্লাহর বাণী: {যদি আল্লাহ তাদের মধ্যে কোনো খাইর জানতেন তবে অবশ্যই তাদেরকে শোনাতেন} অর্থাৎ যদি আল্লাহ তাদের মধ্যে ঈমান জানতেন। যেমন মহান আল্লাহ সেখানে আরও বলেছেন: {হে নবী, আপনার নিকট যে যুদ্ধবন্দীরা আছে তাদেরকে বলুন, যদি আল্লাহ তোমাদের অন্তরে কোনো খাইর আছে বলে জানেন} অর্থাৎ ঈমান। যেমন সূরা হূদে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমাদের চোখ যাদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করে তাদের সম্পর্কে আমি বলি না যে, আল্লাহ তাদেরকে কখনও খাইর দান করবেন না} অর্থাৎ ঈমান।

তৃতীয়ত: খাইর যখন ইসলামের অর্থে ব্যবহৃত হয়। সূরা বাকারায় মহান আল্লাহর বাণী: {আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তারা এটা পছন্দ করে না যে, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর কোনো খাইর নাযিল হোক} অর্থাৎ ইসলাম। এর সদৃশ আয়াত সূরা ক্বাফ-এ রয়েছে: {যে খাইর-এর পথে অত্যন্ত বাধা দানকারী} অর্থাৎ ইসলাম; এটি ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরা সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল, যে তার ভ্রাতুষ্পুত্রকে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধা দিয়েছিল। এর সদৃশ আয়াত সূরা নূন-এও (আল-ক্বলম) রয়েছে।

--------------------------------------------

১. আদ-দামিগানি রচিত ইসলাহুল উজুহ ওয়ান নাজাইর: ১৬৭-১৬৯, দারুল ইলম লিল-মালাঈন সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ২৫)
الرابع: خير يعني أفضل. قوله تعالى في سورة المؤمنون: {وَقُلْ رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ} يعني أفضل الراحمين، كقوله تعالى في سورة يونس: {وَهُوَ خَيْرُ الْحَاكِمِين} أى أفضل الحاكمين، ونحوه قوله تعالى في سورة الزخرف: {أَمْ أَنَا خَيْرٌ مِنْ هَذَا الَّذِي هُوَ مَهِينٌ} يقول أفضل من هذا.

الخامس: الخير يعني العافية. قوله تعالى في سورة الأنعام: {وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِنْ يَمْسَسْكَ بِخَيْرٍ فَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} يعني بعافية.

السادس: الخير يعني الطعام. قوله تعالى في سورة القصص: {قَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ} يعني الطعام.

الثامن: الخير يعني به الظفر والغنيمة والطعن في القتال قوله تعالى في سورة الأحزاب: {وَرَدَّ اللَّهُ الَّذِينَ كَفَرُوا بِغَيْظِهِمْ لَمْ يَنَالُوا خَيْرًا} يعني ظفرًا وغنيمة".

ونلاحظ أن المؤلف لم يربط بين أصل الكلمة واستعمالاتها وسياق الآيات التي وردت فيها الكلمة: ليبني عليها هداية قرآنية أو ليستنبط من دلالات اللفظة وسياق استعمالاتها توجيهًا قرآنيًا معينًا. وإنما بقيت الكلمة حيث وردت في نطاق الدلالة اللفظية المفردة.

نموذج من كتاب "المفردات في غريب القرآن"، للراغب الأصفهاني، المتوفى سنة 502هـ في كلمة "أمة":

والأمة: كل جماعة يجمعهم أمر ما: إما دين واحد، أو زمان واحد، أو مكان واحد، سواء كان ذلك الأمر الجامع تسخيرًا أو اختيارًا. وجمعها أمم.

وقوله تعالى: {وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ} أي كل نوع منها على طريقة قد سخرها الله عليها بالطبع. فهي بين
চতুর্থ: খায়র অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ। সূরা আল-মুমিনুনে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং বলুন: হে আমার রব, ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, আর আপনিই দয়াকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ} অর্থাৎ দয়াকারীদের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ। যেমনটি সূরা ইউনূসে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ} অর্থাৎ বিচারকদের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ। এরই অনুরূপ সূরা আয-যুখরুফে মহান আল্লাহর বাণী: {নাকি আমি এই ব্যক্তি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ যে অত্যন্ত হীন?} এখানে শ্রেষ্ঠ বলতে এর চেয়ে উত্তম বোঝানো হয়েছে।

পঞ্চম: খায়র অর্থাৎ কল্যাণ বা সুস্থতা। সূরা আল-আন'আম-এ মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো কষ্ট দেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূরকারী আর কেউ নেই। আর যদি তিনি তোমাকে কোনো কল্যাণ দান করেন, তবে তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান} অর্থাৎ সুস্থতা বা কল্যাণ দ্বারা।

ষষ্ঠ: খায়র অর্থাৎ খাবার। সূরা আল-কাসাস-এ মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি বললেন: হে আমার রব, আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাযিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী} অর্থাৎ খাবার।

অষ্টম: খায়র বলতে বিজয়, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (গনীমত) এবং যুদ্ধে শত্রুকে আঘাত করা বোঝানো হয়েছে। সূরা আল-আহযাবে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ কাফিরদেরকে তাদের আক্রোশসহ ফিরিয়ে দিলেন, তারা কোনো কল্যাণ লাভ করতে পারেনি} অর্থাৎ কোনো বিজয় বা গনীমত লাভ করতে পারেনি।

আমরা লক্ষ্য করি যে, লেখক শব্দের মূল এবং এর ব্যবহার ও আয়াতের প্রসঙ্গের মধ্যে কোনো যোগসূত্র স্থাপন করেননি, যার ওপর ভিত্তি করে কোনো কুরআনী হিদায়াত তৈরি করা যায় অথবা শব্দের অর্থ ও ব্যবহারের অনুষঙ্গ থেকে কোনো নির্দিষ্ট কুরআনী নির্দেশনা বের করা যায়। বরং শব্দটি যেখানে যেভাবে এসেছে, সেখানে কেবল একক শাব্দিক অর্থের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।

৫০২ হিজরিতে ইন্তেকালকারী রাগেব আল-ইসফাহানী রহ.-এর "আল-মুফরাদাত ফি গারীবিল কুরআন" গ্রন্থ থেকে "উম্মাহ" শব্দ সম্পর্কে একটি নমুনা:

উম্মাহ: এমন প্রতিটি দল যাদেরকে কোনো একটি বিষয় একত্রিত করে: হয় এক ধর্ম, অথবা এক সময়, নতুবা এক স্থান; চাই সেই একত্রকারী বিষয়টি প্রাকৃতিক বাধ্যবাধকতা হোক কিংবা ঐচ্ছিক। এর বহুবচন হলো 'উমাম'।

আর মহান আল্লাহর বাণী: {আর পৃথিবীতে বিচরণশীল যত প্রাণী আছে এবং ডানা দিয়ে ওড়ে এমন যত পাখি আছে, তারা সবাই তোমাদের মতোই এক একটি উম্মত} অর্থাৎ তাদের প্রতিটি প্রজাতি এমন একটি পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত যার ওপর আল্লাহ তাদের প্রকৃতিগতভাবে নিয়োজিত করেছেন। সুতরাং তারা...
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ২৬)
ناسخة كالعنكبوت، وبانية كالسرقة1، ومدخرة كالنمل، ومعتمدة على قوت وقته كالعصفور والحمام إلى غير ذلك من الطبائع التي تخصص بها كل نوع.

وقوله تعالى: {كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَة} أي صنفًا واحدًا وعلى طريقة واحدة في الضلال والكفر.

وقوله تعالى: {وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً} أي في الإيمان.

وقوله تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ} أي جماعة يتخيرون العلم والعمل الصالح يكونون أسوة لغيرهم.

وقوله تعالى: {إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ} أي على دين مجتمع.

قال الشاعر: وهل يأثمن ذو أمة وهو طائع.

وقوله تعالى: {وَادَّكَرَ بَعْدَ أُمَّةٍ} أي حين. وقرئ بعد أمه2: أي نسيان. وحقيقة ذلك بعد انقضاء أهل عصر أو أهل دين.

وقوله تعالى: {إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتًا لِلَّهِ} أي قائمًا مقام جماعة في عبادة الله، نحو قولهم: فلان في نفسه قبيلة.

وروي أنه يُحشر زيد بن عمرو بن نفيل أمة وحدة3.

وقوله تعالى: {لَيْسُوا سَوَاءً مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ أُمَّةٌ قَائِمَةٌ} أي جماعة.

وجعلها الزجاج ههنا للاستقامة، وقال تقديره ذو طريقة واحدة، فترك الإضمار4.

ثم انتقل إلى لفظة "أمي" ودلالات الكلمة، ثم إلى كلمة "الإمام" ودلالاتها، ثم إلى كلمة "الأم" بمعنى القصد، وختم المادة بالحديث عن حرف "أما".

وفي كل ذلك لم يتعرض لسياق الآيات التي استخدمت فيها كلمة "أمة" وإنما تعرض لها في مواطنها ولم يفصل القول في عناصر تكوين دلالات هذه اللفظة ولا مقومات استمرارها ودورها.

وقارن ذلك بما كتبه الدكتور أحمد حسن فرحات حول مصطلح الأمة ودلالتها اللغوية والفكرية والشرعية.

--------------------------------------------

1 السُرْفَة: بضم السين وسكون الراء وفتح الفاء، دودة القز.

2 هي قراءة الحسن، انظر: القراءات الشاذة لعبد الفتاح القاضي: 57.

3 أسد الغابة في معرفة الصحابة: 2/ 143.

4 انظر: المفردات للراغب: 27-28.
মাকড়সার মতো বুননকারী, রেশমকীটের মতো নির্মাণকারী, পিঁপড়ার মতো সঞ্চয়কারী এবং চড়ুই ও কবুতরের মতো উপস্থিত খাবারের ওপর নির্ভরশীল—এরূপ আরও বহু স্বভাব রয়েছে যা প্রতিটি প্রজাতির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

মহান আল্লাহর বাণী: "মানুষ ছিল এক উম্মাহ" অর্থাৎ পথভ্রষ্টতা ও কুফরির ক্ষেত্রে তারা ছিল এক অভিন্ন শ্রেণি এবং এক অভিন্ন পথের ওপর।

মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমার প্রতিপালক যদি চাইতেন, তবে তিনি সকল মানুষকে এক উম্মাহ বানিয়ে দিতেন" অর্থাৎ ঈমানের ক্ষেত্রে।

মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি উম্মাহ থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান জানাবে" অর্থাৎ এমন একটি দল যারা জ্ঞান ও নেক আমলকে বেছে নেবে এবং অন্যদের জন্য আদর্শ হবে।

মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক উম্মাহর ওপর পেয়েছি" অর্থাৎ একটি সম্মিলিত দ্বীনের ওপর।

জনৈক কবি বলেছেন: "দ্বীনের অনুসারী কোনো ব্যক্তি কি গুনাহগার হতে পারে, যেখানে সে অনুগত?"

মহান আল্লাহর বাণী: "এবং দীর্ঘকাল পর তার স্মরণ হলো" অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সময় পর। আর একে 'বিস্মৃতি' হিসেবেও পাঠ করা হয়েছে। এর প্রকৃত অর্থ হলো কোনো এক যুগের অধিবাসী বা কোনো এক ধর্মের অনুসারীদের অতিবাহিত হওয়ার পর।

মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই ইবরাহিম ছিলেন এক উম্মাহ, আল্লাহর অনুগত" অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদতের ক্ষেত্রে তিনি একাই একটি দলের স্থলাভিষিক্ত ছিলেন, যেমনটি বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি নিজেই একটি গোত্র।

বর্ণিত আছে যে, যায়িদ বিন আমর বিন নুফাইল কিয়ামতের দিন একাই এক উম্মাহ হিসেবে পুনরুত্থিত হবেন।

মহান আল্লাহর বাণী: "তারা সকলে সমান নয়; আহলে কিতাবদের মধ্যে এক উম্মাহ রয়েছে যারা দণ্ডায়মান" অর্থাৎ একটি দল।

ইমাম জুজাজ এখানে শব্দটিকে 'অবিচলতা' অর্থে গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন এর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো 'এক পথের অনুসারী', তাই তিনি উহ্য অংশটি উল্লেখ করেননি।

এরপর তিনি 'উম্মি' শব্দ ও এর অর্থসমূহ, তারপর 'ইমাম' শব্দ ও এর অর্থসমূহ এবং এরপর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্থে 'আম' শব্দটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। পরিশেষে 'আম্মা' অব্যয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে এই অনুচ্ছেদটি সমাপ্ত করেছেন।

এই সবকিছুর মধ্যে তিনি সেই আয়াতগুলোর প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেননি যেখানে 'উম্মাহ' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, বরং তিনি কেবল নির্দিষ্ট স্থানগুলোতেই এর উল্লেখ করেছেন। তিনি এই শব্দের অর্থগত গঠনের উপাদানসমূহ এবং এর স্থায়িত্ব ও ভূমিকার ভিত্তি নিয়ে বিস্তারিত কোনো আলোচনা করেননি।

উম্মাহ পরিভাষা এবং এর শাব্দিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও শরয়ি অর্থ সম্পর্কে ড. আহমদ হাসান ফারহাত যা লিখেছেন তার সাথে এটি তুলনা করুন।

--------------------------------------------

১ 'সুরফাহ' (সিন বর্ণে পেশ, রা বর্ণে সাকিন এবং ফা বর্ণে জবর): রেশমকীট।

২ এটি হাসান (বসরী)-র কিরাত। দেখুন: আবদুল ফাত্তাহ আল-কাদীর 'আল-কিরাআত আশ-শাযযাহ', পৃষ্ঠা: ৫৭।

৩ 'উসদুল গাবাহ ফি মা'রিফাতিস সাহাবাহ': খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৪৩।

৪ দেখুন: রাগিব ইসফাহানীর 'আল-মুফরাদাত', পৃষ্ঠা ২৭-২৮।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌اللون الثاني:

تحديد موضوع ما يلحظ الباحث تعرض القرآن الكريم له بأساليب متنوعة في العرض والتحليل والمناقشة والتعليق.

فيتتبع الموضوع من خلال سور القرآن الكريم، ويستخرج الآيات التي تناولت الموضوع، وبعد جمعها والإحاطة بتفسيرها يحاول الباحث استنباط عناصر الموضوع من خلال الآيات الكريمة، فينسق بين عناصره، ويقدم له بمقدمة حول أسلوب القرآن الكريم في عرض أفكار الموضوع، ويحاول أن يقسمه إلى أبواب وفصول ومباحث، ويستدل بالآيات القرآنية على كل ما يذهب إليه ويتحدث عنه مع ربط ذلك كله بواقع الناس ومشاكلهم ومحاولة حلها وإلقاء أضواء قرآنية عليها.

ويتجنب خلال بحثه التعرض للأموال الجزئية في تفسير الآيات فلا يذكر القراءات، ووجوه الإعراب والنكات البلاغية إلا بمقدار ما تُلقي أضواء على أفكار الموضوع الأساسية، ويعرض ما يتحدث عنه بأسلوب جذاب لتوضيح مرامي الآيات ومقاصدها والحكمة الإلهية في عرض أفكار الموضوع بأساليب معينة واختيار ألفاظ محددة لها.

وهذا اللون من التفسير الموضوعي هو المشهور في عرف أهل الاختصاص، وإذا أطلق اسم "التفسير الموضوعي" فلا يكاد ينصرف الذهن إلا إليه.

ولقد كثرت المؤلفات قديمًا وحديثًا في هذا اللون من التفسير الموضوعي فما كتب: إعجاز القرآن.

والناسخ والمنسوخ في القرآن.
দ্বিতীয় প্রকার:

এমন একটি বিষয় নির্ধারণ করা যা সম্পর্কে গবেষক লক্ষ্য করেন যে, পবিত্র কুরআন তা উপস্থাপন, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও পর্যালোচনার বৈচিত্র্যময় পদ্ধতিতে আলোচনা করেছে।

গবেষক কুরআনের বিভিন্ন সূরার মাধ্যমে বিষয়টি অনুসন্ধান করেন এবং বিষয় সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলো সংগ্রহ করেন। সেগুলো সংগ্রহ করার পর এবং তাদের ব্যাখ্যা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভের পর গবেষক পবিত্র আয়াতগুলো থেকে বিষয়বস্তুর উপাদানগুলো উদ্ভাবন করার চেষ্টা করেন। এরপর তিনি উপাদানগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন এবং বিষয়বস্তুর ধারণাগুলো উপস্থাপনে পবিত্র কুরআনের শৈলী সম্পর্কে একটি ভূমিকা পেশ করেন। তিনি একে বিভিন্ন পরিচ্ছেদ, অধ্যায় ও অনুচ্ছেদে বিভক্ত করার চেষ্টা করেন এবং তার প্রতিটি বক্তব্য ও মতামতের সপক্ষে কুরআনের আয়াত থেকে দলিল পেশ করেন। পাশাপাশি তিনি এই সব কিছুকে মানুষের বাস্তব জীবন ও তাদের সমস্যার সাথে সম্পৃক্ত করেন এবং সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করেন ও সেগুলোর ওপর কুরআনি আলোকপাত করেন।

তিনি তার গবেষণার সময় আয়াতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে খুটিনাটি বিষয়গুলো পরিহার করেন; তাই তিনি কিরাতসমূহ, ব্যাকরণগত দিক এবং অলঙ্কারশাস্ত্রীয় সূক্ষ্ম বিষয়গুলো উল্লেখ করেন না, কেবল সেই পরিমাণ ব্যতীত যা বিষয়বস্তুর মূল ধারণার ওপর আলোকপাত করে। তিনি তার আলোচিত বিষয়গুলো একটি আকর্ষণীয় শৈলীতে উপস্থাপন করেন যাতে আয়াতের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও নির্দিষ্ট শব্দ চয়নের মাধ্যমে বিষয়ের ধারণাগুলো উপস্থাপনের পেছনে যে ঐশী প্রজ্ঞা রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়।

বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের এই প্রকারটিই বিশেষজ্ঞদের নিকট প্রসিদ্ধ এবং যখন "বিষয়ভিত্তিক তাফসির" পরিভাষাটি ব্যবহার করা হয়, তখন সাধারণত এই প্রকারটির কথাই মাথায় আসে।

অতীত ও বর্তমান সময়ে বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের এই ধারায় প্রচুর গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যেমন: কুরআনের অলৌকিকত্ব।

এবং কুরআনের রহিতকারী ও রহিতকৃত আয়াতসমূহ।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ২৮)
وأحكام القرآن.

وأمثال القرآن.

ومجاز القرآن … قديمًا إلا أمثلة ناطقة على أهمية هذا اللون من التفسير عند السلف الصالح من علماء هذه الأمة.

وكذلك الموضوعات المختلفة المعاصرة: المتعلقة بمجالات المعرفة المختلفة حيث ربطها الباحثون بالقرآن الكريم ونظروا بمنظاره إلى هذه المجالات وكيفية البحث عنها، سواء كانت هذه المجالات مما يتعلق بالكون المحيط بالإنسان من أرض وسماوات وكواكب ونجوم وبحار ومحيطات وجبال وأنهار ونبات وحيوان، أو كانت مما يتعلق بالإنسان خلقه وتكوينه وعواطفه وغرائزه ومشاعره ونفسه وعقله، وأخلاقه وسموه وتسقله، أو بالحياة الاجتماعية التي يحياها الإنسان في مجتمعه بدءًا بالعلاقات الأسرية والاجتماعية في القوم والعشيرة، والعلاقات الدولية والأمور الاقتصادية والسياسية، وأنظمة السلم والحرب والدعوة إلى الله، وأخذ العبر والعظات من سير الأقوام والأمم الماضية.

وما يتعلق كذلك بأمور الغيب من البعث بعد الموت والحشر والحساب والجنة والنار، وصنوف النعيم في دار السعادة للمتقين، وصنوف الشفاء للتعساء في دار الجحيم.

ولا تكاد تنتهي مثل هذه الموضوعات، بل كلما جدت علوم وصنوف من المعرفة لدى الإنسان يجد الباحث في القرآن الكريم ما يشبع فكرة اقتناعًا، وقلبه طمأنينة من عرض القرآن الكريم لأساسيات هذا اللون من المعرفة بوضع الأسس العامة والتوجيهات الأساسية في هذا الشأن.
কুরআনের বিধিবিধান।

কুরআনের দৃষ্টান্তসমূহ।

এবং কুরআনের রূপক বর্ণনা … প্রাচীনকাল থেকেই এই উম্মতের আলেমদের মধ্য থেকে সালাফে সালেহীনের নিকট এই ধরণের তাফসীরের গুরুত্বের সুস্পষ্ট উদাহরণ হয়ে আছে।

অনুরূপভাবে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়াবলী: যা জ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেখানে গবেষকগণ সেগুলোকে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন এবং এই ক্ষেত্রগুলো ও এ সংক্রান্ত গবেষণার পদ্ধতির দিকে কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গিতে দৃষ্টিপাত করেছেন। চাই এই ক্ষেত্রগুলো মানুষকে পরিবেষ্টিত মহাবিশ্ব সংক্রান্ত হোক—যেমন পৃথিবী, আকাশমন্ডলী, গ্রহ, নক্ষত্র, সাগর, মহাসাগর, পাহাড়, নদী, উদ্ভিদ ও প্রাণী; অথবা মানুষের সৃষ্টি, গঠন, আবেগ, প্রবৃত্তি, অনুভূতি, নফস ও বুদ্ধি এবং তার চরিত্র, মহত্ত্ব ও পরিশীলন সংক্রান্ত হোক; কিংবা মানুষের সামাজিক জীবন যা সে সমাজে অতিবাহিত করে—পারিবারিক সম্পর্ক থেকে শুরু করে কওম ও গোত্রের সামাজিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়াদি, শান্তি ও যুদ্ধের নিয়মাবলী, আল্লাহর প্রতি আহ্বান এবং বিগত জাতি ও উম্মতসমূহের জীবন ইতিহাস থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ সংক্রান্ত হোক।

অনুরূপভাবে গায়েবী বিষয়াদি যেমন—মৃত্যুর পর পুনرুত্থান, হাশর, হিসাব-নিকাশ, জান্নাত ও জাহান্নাম, মুত্তাকীদের জন্য সুখের আবাসে বিভিন্ন প্রকার নেয়ামত এবং হতভাগাদের জন্য জাহান্নামের আবাসে বিভিন্ন প্রকার দুঃখ-দুর্দশার বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত।

আর এ জাতীয় বিষয়াবলীর কোনো শেষ নেই, বরং মানুষের নিকট যখনই নতুন কোনো জ্ঞান বা বিজ্ঞানের শাখার উদ্ভব ঘটে, তখনই গবেষক মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের মধ্যে এমন কিছু খুঁজে পান যা তার চিন্তাধারাকে যৌক্তিক নিশ্চয়তা প্রদান করে এবং তার অন্তরকে প্রশান্তি দান করে; কেননা আল-কুরআন এই জাতীয় জ্ঞানের মৌলিক বিষয়সমূহ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সাধারণ মূলনীতি ও মৌলিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌اللون الثالث من التفسير الموضوعي:

وهذا اللون شبيه باللون الثاني إلا أن دائرة هذا اللون أضيق من دائرة سابقه.

حيث يبحث في هذا اللون عن الهدف الأساسي في السورة الواحدة، ويكون هنا الهدف هو محور التفسير الموضوعي في السورة.

وطريقة البحث في هذا اللون هو: أن يستوعب الباحث هدف السورة الأساسي، أو أهدافها الرئيسية، ثم يبحث عن سبب النزول للسورة أو الآيات التي عرضت الموضوع الأساسي للسورة، ثم ينظر إلى ترتيب نزول السورة من بين السور المكية أو المدينة، ثم يدرس الأساليب القرآنية في عرض الموضوع والمناسبات بين مقاطع الآيات في السورة. وسيجد الباحث أن لكل سورة شخصيتها المستقلة وأهدافها الأساسية. فمن المعلوم أن السور المكية قد عرضت أسس العقيدة الإسلامية الثلاثة بشكل مفصل: الألوهية، الرسالة، البعث بعد الموت، لذا يمكن أن يتناول الباحث في كل سورة مكية أحد الجوانب الثلاثة من العقيدة، كما اشتمل كثير منها على الحث على أمهات الأخلاق والتنفير من مرذولها.

ولم يظفر هذا اللون من التفسير الموضوعي بعناية المفسرين القدماء بل جاء في ثنايا تفاسيرهم الإشارة إلى بعض أهداف السور وخاصة القصيرة منها، وكذلك التوخي لوجه المناسبة بين مقاطع بعض السور، كما فعل الفخر الرازي في تفسيره الكبير، وكذا فعل البقاعي في نظم الدرر، وعبد الحميد الفارهي في كتابه نظام القرآن.

أما في العصر الحديث فقد كان سيد قطب مولعًا بعرض أهداف وأساسيات كل سورة، قبل البدء في تفسيرها، وبيان شخصية كل سورة وملامحها المتميزة عن بقية السور. والأساليب المتبعة في عرض أفكارها. فيعتبر كتابه "في ظلال القرآن" نموذجًا جيدًا وبخاصة مقدمة تفسيره لكل سورة.

كما كتب غيره ممن جاء بعده مستفيدًا من منهجه، كما فعل إبراهيم زيد الكيلاني في كتابه "تصور الألوهية كما تعرضه سورة الأنعام"، وكتابه "معركة النبوة مع المشركين" أو: قضية الرسالة كما تعرضها سورة الأنعام وبينها القرآن الكريم.

أما ما كتبه د. محمد البهي في رسائله المسماة بالتفسير الموضوعي لسور القرآن الكريم فلا أعتبره من التفسير الموضوعي وإنما هو تفسير إجمالي للآيات في السورة كما لم يحدد موضوع كل سورة فسرها، وإنما جاء بكلام إنشائي للمعنى الإجمالي للآيات.
‌বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের তৃতীয় ধারা:

এই ধারাটি দ্বিতীয় ধারার সদৃশ, তবে এর পরিধি পূর্ববর্তী ধারার চেয়ে তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ।

যেখানে এই ধারায় একটি মাত্র সূরার মূল লক্ষ্য সম্পর্কে অনুসন্ধান করা হয় এবং এখানে সেই লক্ষ্যটিই হয় সূরার বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

এই ধারার গবেষণার পদ্ধতি হলো: গবেষক সূরার মৌলিক লক্ষ্য বা প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ আত্মস্থ করবেন। অতঃপর তিনি সূরার শানে নুযূল বা ওই সব আয়াতের অবতরণ প্রেক্ষাপট অনুসন্ধান করবেন যা সূরার মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেছে। এরপর তিনি মক্কী বা মাদানী সূরার ক্রমবিন্যাসে এই সূরার অবস্থান লক্ষ্য করবেন। অতঃপর তিনি বিষয়টি উপস্থাপনে কুরআনিক শৈলী এবং সূরার আয়াতসমূহের বিভিন্ন অংশের মধ্যকার পারস্পরিক যোগসূত্র নিয়ে অধ্যয়ন করবেন। গবেষক দেখতে পাবেন যে, প্রতিটি সূরারই নিজস্ব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং মৌলিক লক্ষ্য রয়েছে। এটি সুবিদিত যে, মক্কী সূরাসমূহ বিস্তারিতভাবে ইসলামী আকীদার তিনটি মূল ভিত্তি উপস্থাপন করেছে: উলুহিয়্যাহ (আল্লাহর একত্ববাদ), রিসালাত এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থান। তাই গবেষক প্রতিটি মক্কী সূরায় আকীদার এই তিনটি দিকের কোনো একটিকে গ্রহণ করতে পারেন। পাশাপাশি এগুলোর অনেকগুলোতেই মৌলিক চারিত্রিক গুণাবলির প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং মন্দ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থেকে দূরে থাকার নির্দেশ বিদ্যমান।

বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের এই ধারাটি প্রাচীন মুফাসসিরগণের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেনি; বরং তাঁদের তাফসিরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে ছোট সূরাগুলোর কিছু লক্ষ্যের প্রতি ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তদ্রূপ কিছু সূরার বিভিন্ন অংশের মধ্যকার সামঞ্জস্য অনুসন্ধানের প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়, যেমনটি ফখরুদ্দীন রাযী তাঁর তাফসিরে কাবীরে করেছেন, ইমাম বিকায়ী তাঁর নাযমুদ দুরারে এবং আব্দুল হামীদ ফারাহী তাঁর নিযামুল কুরআন গ্রন্থে করেছেন।

আধুনিক যুগে সাইয়্যেদ কুতুব প্রতিটি সূরার তাফসির শুরু করার পূর্বে তার লক্ষ্য ও মূল ভিত্তিগুলো উপস্থাপনে এবং প্রতিটি সূরার বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য সূরা থেকে এর স্বতন্ত্র রূপরেখা এবং তার চিন্তা উপস্থাপনের পদ্ধতিগুলো বর্ণনা করতে অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। সে হিসেবে তাঁর "ফী যিলালিল কুরআন" গ্রন্থটি একটি উত্তম নমুনা হিসেবে গণ্য হয়, বিশেষত প্রতিটি সূরার শুরুতে তাঁর রচিত ভূমিকাগুলো।

অনুরূপভাবে তাঁর পরবর্তী অন্যান্য লেখকগণও তাঁর পদ্ধতি থেকে উপকৃত হয়ে লিখেছেন, যেমনটি ইব্রাহিম যায়েদ আল-কিলানি তাঁর "তাসাউরুল উলুহিয়্যাহ কামা তা'রিদুহু সূরাতুল আনআম" এবং তাঁর গ্রন্থ "মা'রাকাতুন নুবুওয়াহ মা'আল মুশরিকীন" অথবা: "কাদিয়্যাতুর রিসালাহ কামা তা'রিদুহা সূরাতুল আনআম ওয়া বাইয়ানাহাল কুরআনুল কারীম"-এ করেছেন।

আর ডক্টর মুহাম্মদ আল-বাহী তাঁর কুরআনের সূরাসমূহের বিষয়ভিত্তিক তাফসির নামক পুস্তিকাগুলোতে যা লিখেছেন, সেটিকে আমি বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের অন্তর্ভুক্ত মনে করি না। বরং এটি হলো সূরার আয়াতসমূহের একটি সামগ্রিক তাফসির। কারণ তিনি তাঁর ব্যাখ্যা করা প্রতিটি সূরার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয় নির্ধারণ করেননি, বরং আয়াতের সামগ্রিক অর্থের নিছক বর্ণনামূলক আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌أهمية التفسير الموضوعي:

أولًا: إن تجدد حاجات المجتمعات وبروز أفكار جديدة على الساحة الإنسانية وانفتاح ميادين للنظريات العلمية الحديثة لا يمكن تغطيتها ورؤية الحلول الصحيحة لها إلا باللجوء إلى التفسير الموضوعي للقرآن الكريم.

وذلك أن الباحث المسلم عندما يجابه مشكلة في الحياة، أو تقدم له نظرية مستحدثة في علم النفس، أو علم الاجتماع، أو في علوم الحضارة الإنسانية، أو العلوم الفلكية، أو العلوم الطبيعية أو نظرية في الاقتصاد. فإنه لا يستطيع أن يجد لكل هذه النظريات المستجدة نصوصًا من آيات الذكر الحكيم تناقش مثل هذه القضية المطروحة وتبين حكم الله تعالى فيها، بل يلجأ الباحث عندئذ إلى معرفة الهدايات القرآنية وإرشادات السنة النبوية في هذا الاتجاه ويجمع الأفكار الرئيسية في هذا المجال، بحيث تتكون لديه ملكة لإدراك مقاصد القرآن الكريم في هذا الصدد، وبمنظار القرآن الكريم ينظر إلى حل هذه المشكلة أو يقوم هذه النظرية.

إن نصوص القرآن الكريم محددة والقضايا التي تناولها بالتوضيح والبيان والتفصيل محددة أيضًا: أما المشاكل الإنسانية وآفاق المعرفة فغير محددة ما دامت الحياة مستمرة على هذه الكرة الأرضية، ولا يمكن أن نجابه هذه المشكلات بظواهر النصوص المحددة. بل نجد المرونة والسعة في الخطوط الأساسية التي تعرض لها آيات التنزيل الحكيم.

ومن خلال علل النصوص وهداياتها العامة ودلالاتها وظلالها نستطيع أن
বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের গুরুত্ব:

প্রথমত: সমাজের চাহিদার নবায়ন, মানবিক অঙ্গনে নতুন চিন্তাধারার উদ্ভব এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক তত্ত্বসমূহের জন্য উন্মুক্ত ক্ষেত্রসমূহের প্রয়োজনীয়তা কেবল পবিত্র কুরআনের বিষয়ভিত্তিক তাফসীরের (তাফসীর আল-মাওদুয়ী) আশ্রয় গ্রহণ করার মাধ্যমেই পূরণ করা এবং সেগুলোর সঠিক সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

এর কারণ হলো, একজন মুসলিম গবেষক যখন জীবনের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, অথবা তার সামনে মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, মানবসভ্যতা বিষয়ক বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান কিংবা অর্থনীতির কোনো নতুন তত্ত্ব উপস্থাপন করা হয়, তখন তিনি এই সকল নবউদ্ভূত তত্ত্বের প্রত্যেকটির জন্য জিকরুল হাকিমের (পবিত্র কুরআন) এমন কোনো সুনির্দিষ্ট পাঠ খুঁজে পান না যা সরাসরি উত্থাপিত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে এবং সে বিষয়ে মহান আল্লাহর বিধান সুস্পষ্ট করে দেয়। বরং এমতাবস্থায় গবেষক উক্ত বিষয়ে কুরআনের হিদায়াত ও সুন্নাহর নির্দেশনাসমূহ জানার প্রয়াস পান এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মূল ভাবধারাগুলো একত্রিত করেন, যাতে করে উক্ত বিষয়ে পবিত্র কুরআনের উদ্দেশ্যসমূহ উপলব্ধির একটি বিশেষ যোগ্যতা তার মধ্যে সৃষ্টি হয়; আর কুরআনের সেই দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই তিনি উক্ত সমস্যার সমাধান খোঁজেন অথবা সেই তত্ত্বটিকে মূল্যায়ন করেন।

পবিত্র কুরআনের ভাষ্যসমূহ সুনির্ধারিত এবং যে বিষয়গুলোকে এটি ব্যাখ্যা, বর্ণনা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তুলে ধরেছে তাও সুনির্ধারিত। অন্যদিকে, এই পৃথিবীতে জীবন যতকাল বিদ্যমান থাকবে, মানুষের সমস্যা ও জ্ঞানের দিগন্ত ততকাল অসীম ও নিরবচ্ছিন্ন থাকবে। আমরা এই সমস্যাগুলোকে কেবল সুনির্ধারিত ভাষ্যের বাহ্যিক রূপ দিয়ে মোকাবিলা করতে পারি না। বরং আমরা পবিত্র ওহীর আয়াতসমূহের উপস্থাপিত মূলনীতিগুলোর মধ্যে নমনীয়তা ও ব্যাপকতা খুঁজে পাই।

আর ভাষ্যের নিহিত কারণ (ইল্লাত), সাধারণ হিদায়াত, এর নির্দেশনা ও অন্তর্নিহিত দ্যোতনার মধ্য দিয়ে আমরা সক্ষম হই যে—
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ৩১)
نصل إلى أنوار كاشفة ترسم لنا الطريق وتحدد لنا المعالم لتقويم كل مستحدث جديد.

لذا لا يمكن أن نجابه مشاكل العصر ومعطيات الحضارة إلا بأسلوب الدراسات الموضوعية للقرآن الكريم أو بأسلوب "التفسير الموضوعي".

إن جمع أطراف موضوع ما من خلال نصوص القرآن الكريم والسنة النبوية المطهرة والإحاطة بدلالاتها يمكن الباحث من القيام بدور اجتهادي للتوصل إلى أفكار وقواعد عامة جديدة، وعلى ضوء هذه القواعد والهدايات المستمدة من مقاصد النصوص الشريفة يستطيع الباحث أن يدرك معالجة الإسلام لهذه المعضلات والمشكلات.

ثانيًا: إن تخصيص موضوع بالبحث والدراسة وجمع أطرافه والاطلاع على أسباب النزول للآيات المتعلقة به، وتحديد المرحلة التي نزلت الآيات الكريمة تعالج بعض جوانبه، وتوجيه ما ظاهره التعارض، كل ذلك يهيئ للموضوع جوًا علميًا لدراسة هذا الموضوع بعمق وشمولية تثري المعلومات حوله وتبلور قضاياه وتبرز معالمه.

ومثل هذا العمق ومثل هذا التوسع لإبراز معالم الموضوع لا يتيسر للباحث في أي نوع من أنواع التفاسير سواء التحليلي، أو الإجمالي، أو المقارن، بل التفسير الموضوعي هو الأسلوب الأمثل في بحث مثل هذه الأمور.

ثالثًا: عن طريق التفسير الموضوعي يستطيع الباحث أن يبرز جوانب جديدة من وجوه إعجاز القرآن الكريم الذي لا تنقضي عجائبه.

فكلما جدت على الساحة معطيات جديدة لتطور الفكر البشري، يعايشها المفسر، ويحط بدقائقها وحقائقها ثم يلجأ إلى القرآن الكريم وإلى السنة النبوية الشريفة ليستنطق النصوص الشريفة ويميط اللثام عن وجوه جديدة من الهدايات القرآنية.

ويجد أهل الاختصاص في كل فن أن المعجزة الخالدة الباقية تقيم الحجة على الأجيال وأن في القرآن من الكفاية والغناء عن كل شيء: {وَقَالُوا لَوْلا أُنْزِلَ
আমরা এমন এক উন্মোচনকারী আলোর নিকট পৌঁছাই যা আমাদের সামনে পথ এঁকে দেয় এবং প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয় মূল্যায়নের জন্য আমাদের সামনে নিদর্শনাদি সুনির্দিষ্ট করে দেয়।

তাই বর্তমান যুগের সমস্যাবলি ও সভ্যতার উপাদানসমূহের মোকাবিলা করা পবিত্র কুরআনের বিষয়ভিত্তিক অধ্যয়ন বা "বিষয়ভিত্তিক তাফসির" পদ্ধতি ব্যতীত সম্ভব নয়।

পবিত্র কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহর নসুসসমূহের মাধ্যমে কোনো বিষয়ের সকল দিক একত্র করা এবং সেগুলোর নির্দেশনার পূর্ণ জ্ঞান রাখা একজন গবেষককে নতুন সাধারণ ধারণা ও মূলনীতিতে পৌঁছানোর জন্য ইজতিহাদি ভূমিকা পালনে সক্ষম করে তোলে। আর এই সম্মানিত নসুসসমূহের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থেকে উদ্ভূত এসব মূলনীতি ও হিদায়াতের আলোকে গবেষক ইসলামের এই জটিলতা ও সমস্যাবলির সমাধানের দিকটি উপলব্ধি করতে পারেন।

দ্বিতীয়ত: গবেষণার জন্য একটি নির্দিষ্ট বিষয় নির্ধারণ করা, এর সকল দিক একত্র করা, সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহের নাযিলের প্রেক্ষাপট (শানে নুযূল) সম্পর্কে অবগত হওয়া, আয়াতগুলো যে পর্যায়ে অবতীর্ণ হয়ে এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছে তা নির্দিষ্ট করা এবং বাহ্যিক বৈপরীত্যের নিরসন করা—এসব কিছুই বিষয়টির গভীর ও সামগ্রিক অধ্যয়নের জন্য একটি বৈজ্ঞানিক পরিবেশ তৈরি করে দেয়, যা বিষয়টি সম্পর্কে তথ্যকে সমৃদ্ধ করে, এর সমস্যাবলিকে সুস্পষ্ট করে এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহকে ফুটিয়ে তোলে।

বিষয়ের বৈশিষ্ট্যসমূহ ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এই গভীরতা ও প্রসারতা কোনো গবেষকের পক্ষে অন্য কোনো প্রকার তাফসিরের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়, চাই তা বিশ্লেষণাত্মক, সারসংক্ষেপ কিংবা তুলনামূলক তাফসিরই হোক না কেন; বরং এই ধরণের বিষয়সমূহ গবেষণার ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক তাফসিরই হলো সর্বোত্তম পদ্ধতি।

তৃতীয়ত: বিষয়ভিত্তিক তাফসিরের মাধ্যমে গবেষক পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের নতুন নতুন দিক ফুটিয়ে তুলতে পারেন, যার বিস্ময়কর নিদর্শনাদি কখনও শেষ হওয়ার নয়।

তাই যখনই মানব চিন্তার বিকাশের ধারায় নতুন নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে, মুফাসসির তখন সেগুলো অনুধাবন করেন এবং এর সূক্ষ্ম বিষয় ও প্রকৃত রূপ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন। অতঃপর তিনি পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর শরণাপন্ন হন যেন তিনি এই পবিত্র নসুসসমূহ থেকে এর নিহিত অর্থ বের করে আনতে পারেন এবং কুরআনি হিদায়াতের নতুন নতুন দিক উন্মোচন করতে পারেন।

আর প্রত্যেক বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা দেখতে পান যে, এই চিরন্তন অলৌকিকত্ব প্রতিটি প্রজন্মের জন্য প্রমাণ হিসেবে বিদ্যমান এবং পবিত্র কুরআনে সবকিছু থেকে বিমুখ হওয়ার মতো যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত বিষয় রয়েছে: {আর তারা বলল, কেন অবতীর্ণ করা হলো না...
(খণ্ড: ১) মাবাহিছ ফিত-তাফসিরিল মাওদুয়ি (পৃষ্ঠা: ৩২)
عَلَيْهِ آيَاتٌ مِنْ رَبِّهِ قُلْ إِنَّمَا الْآياتُ عِنْدَ اللَّهِ وَإِنَّمَا أَنَا نَذِيرٌ مُبِينٌ، أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ يُتْلَى عَلَيْهِمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَرَحْمَةً وَذِكْرَى لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} [العنكبوت: 50، 51] .

رابعًا: تأهيل الدراسات القرآنية وتصحيح مسارها: لقد نالت بعض العلوم القرآنية حظًا وافرًا من جهود العلماء وصنفت فيها المصنفات الكثيرة مثل العلوم المتعلقة بالجوانب اللغوية، والدراسات الفقهية لآيات الأحكام، إلا أن علومًا جديدة برزت تحتاج إلى تأهيل قواعدها على ضوء القرآن الكريم مثل "الإعجاز العلمي"، فقد برز هذا العلم وكثرت الكتابات فيه إلا أنه يحتاج إلى ضبطه بقواعد علمية مستمدة من هدايات القرآن الكريم لتجنب الإفراط والتفريط في إدخال الآيات مجال البحث والمتعلقة بالعلوم التجريبية من علوم الفلك والطبيعة والإنسان.

وكذلك علم "أصول التربية القرآنية" فبعد بروز المدارس الاجتماعية ومدارس علم النفس في الغرب، وغزوها للأمم والشعوب، ومحاولة إقامة صرح التعليم والتربية حسب مناهجها، رأى المفكرون المسلمون أن من الضرورة بمكان استخلاص مبادئ هذا العلم من هدايات القرآن الكريم ولا زالت الكنايات في هذا الجانب قليلة جدًا، إذ تحتاج مثل هذه العلوم إلى علماء راسخين في علوم الشريعة، إلى جانب استيعابهم لثقافة العصر ومناهج المدارس الحديثة في الغرب والشرق، إلى جانب ملكة قوية في الإبداع والاستنباط، ليقوم هذا العلم على أسس راسخة.

ومثل هذا "أصول علم الاقتصاد الإسلامي" و"أصول الإعلام الإسلامي".

إن كثيرًا من العلوم تلعب دورًا هامًا في حياتنا المعاصرة، ولا زالت معالم هذه العلوم غير واضحة الصلة بهدايات القرآن، ولا يمكن أن نجد نصوصًا محددة من القرآن الكريم أو السنة النبوية تناولتها، وإنما نستشف أصولها من خلال روح النصوص الكريمة وهدايات القرآن الكريم والسوابق القضائية والفقهية لسلف هذه الأمة، ولا وسيلة لوضع أسس هذه العلوم وبيان ضوابطها إلا من خلال التعامل مع الآيات الكريمة وفق منهج التفسير الموضوعي.
"কেন তার রবের পক্ষ থেকে তার কাছে নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করা হলো না?" বলুন, "নিদর্শনসমূহ তো আল্লাহরই নিকট এবং আমি তো কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।" তাদের জন্য কি এটা যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার নিকট কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা তাদের নিকট পাঠ করা হয়? এতে অবশ্যই রহমত এবং উপদেশ রয়েছে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য। [আল-আনকাবুত: ৫০, ৫১]।

চতুর্থত: কুরআনিক গবেষণার উন্নয়ন ও এর গতিপথ সংশোধন: কুরআনের কিছু জ্ঞান শাখা ওলামাদের প্রচেষ্টায় যথেষ্ট গুরুত্ব লাভ করেছে এবং সে বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যেমন ভাষাগত দিক সম্পর্কিত জ্ঞান এবং বিধান সংবলিত আয়াতসমূহের ফিকহী গবেষণা। তবে কিছু নতুন জ্ঞান শাখা আত্মप्रकाश করেছে যেগুলোর মূলনীতি পবিত্র কুরআনের আলোকে সুবিন্যস্ত করা প্রয়োজন, যেমন "বৈজ্ঞানিক মুজিজা"। এই জ্ঞান শাখাটি প্রকাশ পেয়েছে এবং এতে অনেক লেখালেখি হয়েছে, তবে জ্যোতির্বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান এবং মানববিদ্যা সংক্রান্ত পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্রে আয়াতগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার সময় বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি বর্জন করার জন্য পবিত্র কুরআনের হিদায়াত থেকে গৃহীত বৈজ্ঞানিক নিয়মের মাধ্যমে একে সুসংহত করা প্রয়োজন।

একইভাবে "কুরআনিক শিক্ষা-দীক্ষার মূলনীতি"। পশ্চিমে সামাজিক ও মনোবৈজ্ঞানিক মতাদর্শগুলোর উত্থান এবং বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর ওপর সেগুলোর আধিপত্য বিস্তারের পর, এবং তাদের পদ্ধতি অনুযায়ী শিক্ষা ও দীক্ষার কাঠামো নির্মাণের প্রচেষ্টার প্রেক্ষিতে মুসলিম চিন্তাবিদগণ মনে করেছেন যে, পবিত্র কুরআনের হিদায়াত থেকে এই বিজ্ঞানের মূলনীতিসমূহ আহরণ করা অত্যন্ত জরুরি। এই ক্ষেত্রে লেখনী এখনও খুবই নগণ্য। কারণ এই ধরনের জ্ঞান শাখার জন্য এমন প্রাজ্ঞ আলেম প্রয়োজন যারা শরীয়াহর জ্ঞানে সুগভীর হওয়ার পাশাপাশি সমসাময়িক সংস্কৃতি এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং যাদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও ইস্তিম্বাত বা নির্যাস বের করার শক্তিশালী দক্ষতা রয়েছে, যাতে এই বিজ্ঞানটি একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

অনুরূপভাবে "ইসলামী অর্থনীতির মূলনীতি" এবং "ইসলামী গণমাধ্যমের মূলনীতি"।

অনেক জ্ঞান শাখা আমাদের সমসাময়িক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, কিন্তু পবিত্র কুরআনের হিদায়াতের সাথে এগুলোর সম্পর্কের রূপরেখা এখনও অস্পষ্ট। এই বিষয়গুলো নিয়ে পবিত্র কুরআন বা সুন্নাহর নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য হয়তো পাওয়া যাবে না, বরং আমাদের এই উম্মাহর পূর্বসূরীদের বিচারবিভাগীয় ও ফিকহী নজির, পবিত্র কুরআনের হিদায়াত এবং পবিত্র গ্রন্থসমূহের মূল সুর থেকে এগুলোর মূলনীতি অনুধাবন করতে হবে। বিষয়ভিত্তিক তাফসীর পদ্ধতির আলোকে পবিত্র আয়াতগুলোর পর্যালোচনা করা ছাড়া এই জ্ঞান শাখাগুলোর ভিত্তি স্থাপন এবং এগুলোর নিয়মাবলী ব্যাখ্যা করার আর কোনো উপায় নেই।