(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: -)
لحظ الألحاظ بذيل طبقات الحفاظ القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: لحظ الألحاظ بذيل طبقات الحفاظ
المؤلف: تقي الدين أبو الفضل، محمد بن محمد بن محمد ابن فهد الهاشمي المكيّ (ت 871 هـ)
وضع حواشيه: زكريا عميرات
مطبوع بآخر: "تذكرة الحفاظ" للذهبي
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت-لبنان
الطبعة: الأولى، 1419 هـ- 1998 م
عدد الأجزاء: 5 (1 - 4: تذكرة الذهبي و 5: ذيوله للحسيني وابن فهد والسيوطي)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
লাহজুল আলহাজ বি-যাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: লাহজুল আলহাজ বি-যাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
লেখক: তাকীউদ্দীন আবুল ফজল, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ ইবনে ফাহাদ আল-হাশেমী আল-মাক্কী (মৃত্যু ৮৭১ হিজরি)
টীকা সংযোজন: জাকারিয়া উমাইরাত
যার শেষে মুদ্রিত: আয-যাহাবীর "তাযকিরাতুল হুফফাজ"
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত-লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি- ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৫ (১ - ৪: যাহাবীর তাযকিরা এবং ৫: হুসাইনী, ইবনে ফাহাদ ও সুয়ূতীর পরিশিষ্টাংশসমূহ)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
ترجمة الحافظ أبي الفضل تقي الدين بن فهد المكي:
"ابن فهد" بيت كبير بمكة من رواة الحديث. منهم: والد المترجم "النجم محمد" بن أبي الخير محمد بن عبد الله، وابناه التقي محمد -صاحب الترجمة- وعطية، وابنا أولهما أبو بكر وعمر، وبنو ثانيهما حسن وحسين؛ فأبو بكر له عبد الرحمن وأبو القاسم، ولأبي القاسم عبد الرحمن، وعمر له يحيى وعبد العزيز، ثم لعبد العزيز جار الله -ناسخ الأصول المترجم في آخر الذيول- ويحيى بن عبد الرحمن بن أبي الخير، وابنه عبد القادر، كلهم يعرف بـ"ابن فهد".
أما صاحب الترجمة منهم فهو محمد بن محمد بن محمد بن محمد بن عبد الله بن محمد بن عبد الله بن فهد تقي الدين أبو الفضل بن نجم الدين أبي النصر بن جمال الدين أبي الخير ابن العلامة أقضى القضاة جمال الدين أبي عبد الله محمد بن عبد الله الأصفوني، ثم المكي الشافعي العلوي المنتهي نسبه إلى محمد ابن الحنفية نجل سيدنا علي بن أبي طالب رضي الله عنه.
ولد عشية الثلاثاء خامس ربيع الثاني سنة سبع وثمانين وسبعمائة بأصفون من صعيد مصر الأعلى بالقرب من إسنا، وكان والده سافر إليها لاستخلاص جهات موقوفه على أمه خديجة ابنة العلامة نجم الدين بن عبد الرحمن بن يوسف الأصفوني الفقيه الشافعي فتزوج هناك بابنة عم جده لأمة العلامة المذكور وهي فاطمة بنت أحمد بن محمد بن إسماعيل بن إبراهيم القرشية المخزومية فوُلد له منها صاحب الترجمة هناك. ثم انتقل به أبوه في سنة خمس وتسعين إلى بلده مكة فحفظ بها القرآن والعمدة والقنية وألفية النحو والحديث وعرض على جماعة، وسمع الأبناسي والجمال ابن ظهيرة، وحبب إليه هذا الشأن، وأول طلبه سنة أربع وثمانمائة فسمع الكثير من شيوخ بلده والقادمين إليها وكتب عمن دب ودرج فكان ممن سمع عليه ابن صديق والزين المراغي وأبو اليمن الطبري وقريبه الزين الشمس الغراقي والشريف عبد الر حمن الفاسي وأبو الطيب السحولي والجمال عبد الله الفرياني ورقيه بنت يحيى بن مزروع، ولقي باليمن المجد اللغوي صاحب القاموس والموفق علي بن أبي بكر الأزرق وآخرين فسمع منهم وكان دخوله بها مرتين الأولى في سنة 805 والثانية في سنة 816، وأجاز له خلق كثير منهم العراقي والهيثمي وعائشة بنت عبد الهادي. وانتفع في
ভূমিকা…পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
হাফেজ আবু আল-ফজল তাকিউদ্দীন ইবনে ফাহাদ আল-মাক্কির জীবনী:
"ইবনে ফাহাদ" মক্কার একটি প্রখ্যাত পরিবার, যারা হাদিস বর্ণনাকারী হিসেবে সুপরিচিত। তাদের মধ্যে রয়েছেন: এই জীবনীকারের পিতা "নাজম মুহাম্মদ" বিন আবু আল-খায়ের মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ এবং তাঁর দুই পুত্র তাকি মুহাম্মদ—যিনি এই জীবনীর মূল ব্যক্তি—এবং আতিয়াহ; তাঁদের প্রথমজনের দুই পুত্র আবু বকর ও ওমর এবং দ্বিতীয়জনের দুই পুত্র হাসান ও হুসাইন। আবু বকরের দুই পুত্র হলেন আব্দুর রহমান ও আবু আল-কাসিম; এবং আবু আল-কাসিমের পুত্র আব্দুর রহমান। ওমরের পুত্রদ্বয় হলেন ইয়াহইয়া ও আব্দুল আজিজ। অতঃপর আব্দুল আজিজের পুত্র জারুল্লাহ—যিনি পাণ্ডুলিপির মূল কপির লেখক এবং যার জীবনী পরিশিষ্টের শেষে উল্লেখ করা হয়েছে—এবং ইয়াহইয়া বিন আব্দুর রহমান বিন আবু আল-খায়ের ও তাঁর পুত্র আব্দুল কাদির; তাঁরা সকলেই "ইবনে ফাহাদ" নামে সমধিক পরিচিত।
আর এই বংশের আলোচ্য জীবনীকার হলেন: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ফাহাদ তাকিউদ্দীন আবু আল-ফজল বিন নাজমউদ্দীন আবু আন-নাসর বিন জামালউদ্দীন আবু আল-খায়ের বিন আল্লামা বিচারক শিরোমণি জামালউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসফুনী, অতঃপর আল-মাক্কী আশ-শাফেঈ আল-আলাওয়ী। তাঁর বংশলতিকা আমাদের নেতা আলী ইবনে আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পুত্র মুহাম্মদ ইবনে আল-হানাফিয়্যাহ পর্যন্ত বিস্তৃত।
তিনি সাতশ সাতাশি হিজরি সালের রবিউস সানি মাসের পাঁচ তারিখ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উচ্চ মিশরের ইসনার নিকটবর্তী আসফুন নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সেখানে গিয়েছিলেন তাঁর মাতা খাদিজার (যিনি আল্লামা নাজমউদ্দীন বিন আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ আল-আসফুনী আশ-শাফেঈ ফকিহ-এর কন্যা ছিলেন) ওয়াকফকৃত ভূ-সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য। সেখানে তিনি তাঁর মাতামহের চাচাতো ভাইয়ের কন্যা ফাতেমা বিনতে আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম আল-কুরাশি আল-মাখজুমিয়াকে বিবাহ করেন এবং সেখানেই তাঁর এই পুত্র (জীবনীকার) জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর তাঁর পিতা সাতশ পঁচানব্বই হিজরি সালে তাঁকে নিয়ে নিজ শহর মক্কায় প্রত্যাবর্তন করেন। সেখানে তিনি কুরআন মাজিদ হিফজ করেন এবং 'আল-উমদাহ', 'আল-কুনইয়াহ', নাহু (ব্যাকরণ) ও হাদিসের 'আলফিয়াহ' মুখস্থ করেন এবং উলামায়ে কেরামের নিকট তা পেশ করেন। তিনি আল-আবনাদী ও আল-জামাল ইবনে জুহাইরাহ-এর নিকট হাদিস শ্রবণ করেন এবং এই বিষয়ের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ জন্মে। তিনি আটশ চার হিজরি সাল থেকে জ্ঞান অর্জন শুরু করেন এবং তাঁর শহরের ও সেখানে আগত বহু শায়খের নিকট থেকে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি তাঁর সমসাময়িক সকলের নিকট থেকেই লিপিবদ্ধ করতেন। যাদের নিকট তিনি শ্রবণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে সিদ্দিক, যয়ন আল-মারাগী, আবু আল-ইয়ামন আত-তাবারী এবং তাঁর আত্মীয় যয়ন আশ-শামস আল-গারাকি, শরীফ আব্দুর রহমান আল-ফাসী, আবু আত-তৈয়িব আস-সাহুলী, জামাল আব্দুল্লাহ আল-ফিরইয়ানি এবং রুকাইয়াহ বিনতে ইয়াহইয়া বিন মাজরু'। তিনি ইয়েমেনে 'আল-কামুস' প্রণেতা মাজদ আল-লুগাভী এবং মুওয়াফ্ফাক আলী বিন আবু বকর আল-আজরাকসহ আরও অনেকের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। ইয়েমেনে তিনি দুইবার গমন করেন; প্রথমবার ৮০৫ হিজরিতে এবং দ্বিতীয়বার ৮১৬ হিজরিতে। তাঁকে হাফেজ আল-ইরাকি, আল-হাইতামি এবং আয়েশা বিনতে আব্দুল হাদি-সহ অসংখ্য আলেম অনুমতি (ইজাজাহ) প্রদান করেন। তিনি উপকৃত হয়েছিলেন...
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
هذا الشأن بالجمال بن ظهيرة والصلاح خليل الأقفهسي وغيرهما واشتغل بالفقه على ابن ظهيرة والشمي الغراقي وابن سلامة، وأذنا له وكذا الشمس بن الجزري المقرئ في التدريس والإفتاء وسمع من ابن حجر أيضًا لما لقيه بمكة وتميز في هذا الشأن، وعرف العالي والنازل وشارك في فنون الأثر وكتب بخطه الكثير وجمع المجاميع وانتقى وخرج لنفسه ولشيوخه فمن بعدهم، وصار المعول في هذا الشأن ببلاد الحجاز قاطبة عليه وعلى ولده النجم عمر بدون منازع. واجتمع له من الكتب ما لم يكن في وقته عند غيره من أهل بلده، وكثر انتفاع المقيمين والغرباء بها فكان ذلك أعظم قربة لا سيما وقد حبسها لله بعد موته، قال السخاوي: أكثر من المسموع والشيوخ وجدَّ في ذلك وجمع له ولده معجمًا وفهرستًا استفدت منهما كثيرًا ا. هـ.
وله مؤلفات عديدة منها "نهاية التقريب وتكميل التهذيب بالتذهيب" جمع فيه بين تهذيب الكمال ومختصرَيْه للذهبي وابن حجر وغيرهما. قال السخاوي: وهو كتاب حافل لو ضم إليه ما عند مغلطاي من الزوائد في مشايخ الراوي والآخذين عنه لم يصل إلى مكة إذ ذاك ا. هـ.
ومنها "النور الباهر الساطع من سيرة ذي البرهان القاطع" في السيرة النبوية و"الجُنة بأذكار الكتاب والسنة" و"المطالب السنية العوالي بما لقريش من المفاخر والمعالي" و"بهجة الدماثة بما ورد في فضل المساجد الثلاثة" و"بشرى الورى مما ورد في حرا" و"اقتطاف النور مما ورد في نور" و "الإبانة مما ورد في جعرانة" و"طرق الإصابة بما جاء في الصحابه" و"نخبة العلماء الأتقياء بما جاء في قصص الأنبياء "و"وسيلة الناسك في المناسك" و"الزوائد على حياة الحيوان للدميري" و"تقريب البعيد فيما ورد في يومي العيد" و"غاية القصد والمراد من الأربيعن العالية الإسناد" و"عمدة المنتحل وبلغة المرتحل" تحتوي على أربعين حديثًا من أربعين كتابًا لأربعين إمامًا عن أربعين شيخًا متصلين بأربعين صحابيًّا منهم العشرة والعبادلة على الاختلاف فيهم ورتبهم على حروف الهجاء مع إخراج حديث كل من أصحاب المذاهب الأربعة والكتب السنة مردفة بأحاديث عالية وحكايات وأشعار.
ومنها "لحظ الألحاظ بذيل طبقات الحفاظ" وهو الذي نشر ضمن هذا المجموع، وقد أجاد فيه حيث استوفى الكلام في حق المترجمين إلى حد أن تكون مراتبهم في العلم مائلة أمام عين المطالع، وتوسع في ذكر الوفيات ممن وافقوا المترجمين في سنة الوفاة مع العناية بذكر أحوالهم على الاختصار إغناءً عن تطلبها في غير كتابه بل قد لا توجد في غيره، وضبط في كتابه بعض الأسماء والأنساب مما رآه موضع ارتياب، وتفنن في ذكر أسانيد الأحاديث المروية بطريق المترجمين موافقة وبدلًا وعلوًّا مما يهم المشتغلين بالأسانيد وأهل العلم بالحديث، وجلة القول أن ذيل ابن فهد جليل الفوائد غزير الأبحاث غير قاصر نفعه على طائفة دون طائفة. وله غير ذلك.
এই বিষয়টি জামাল বিন জহিরা, সালাহ খলিল আল-আকফাহাসি এবং অন্যান্যদের মাধ্যমে গুরুত্ব লাভ করেছে। তিনি ইবন জহিরা, শামসি আল-গারাতি এবং ইবন সালামার নিকট ফিকহ অধ্যয়ন করেন। তারা তাকে এবং শামসুদ্দিন ইবন আল-জাজরি আল-মুকারি তাকে পাঠদান ও ফতোয়া প্রদানের অনুমতি প্রদান করেন। তিনি ইবন হাজার থেকেও শ্রবণ করেছেন যখন মক্কায় তার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল এবং এই শাস্ত্রে তিনি বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি উচ্চতর ও নিম্নতর সূত্রাবলি সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং হাদীস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি নিজ হাতে অনেক কিছু লিখেছেন, বিভিন্ন সংগ্রহ সংকলন করেছেন এবং নিজের জন্য, তার শিক্ষকদের জন্য এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য হাদীস চয়ন ও তাখরিজ করেছেন। সমগ্র হেজাজ ভূখণ্ডে এই বিষয়ে তিনি এবং তার পুত্র নাজম উমর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তার কাছে এমন এক বিশাল কিতাব সংগ্রহ গড়ে উঠেছিল যা সেই সময় তার শহরের অন্য কারও কাছে ছিল না। সেখানে বসবাসকারী এবং বহিরাগতরা এর দ্বারা ব্যাপকভাবে উপকৃত হতেন, যা ছিল একটি মহান নেক আমল, বিশেষ করে যখন তিনি তার মৃত্যুর পর তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ওয়াকফ করে দেন। সাখাভি বলেছেন: তিনি প্রচুর সংখ্যক শ্রবণ ও শিক্ষক লাভ করেছেন এবং এই বিষয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তার পুত্র তার জন্য একটি 'মুজাম' এবং একটি 'ফেহরিস্ত' সংকলন করেছেন যা থেকে আমি অনেক উপকৃত হয়েছি।
তার অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে 'নিহায়াতুত তাকরিব ওয়া তাকমিলুত তাহজিব বিত তাজহিব' অন্যতম। এতে তিনি 'তাহজিবুল কামাল' এবং এর দুটি সংক্ষেপিত রূপ যা যাহাবি ও ইবন হাজার কর্তৃক রচিত, সেগুলোকে একত্রিত করেছেন। সাখাভি বলেছেন: এটি একটি সমৃদ্ধ কিতাব, যদি এর সাথে মুগলতায়-এর নিকট থাকা রাবির শিক্ষক ও ছাত্রদের অতিরিক্ত তথ্যগুলো যোগ করা হতো, তবে সেই সময় মক্কায় এর সমকক্ষ কিছু পৌঁছাত না।
অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'আন-নূরুল বাহীরুস সাতি মিন সিরাতি যিল বুরহানিল কাতি' যা সীরাতে নববী বিষয়ক; 'আল-জুন্নাহ বি-আযকারিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ'; 'আল-মাতালিবুস সানিয়্যা আল-আওয়ালি বিমা লি-কুরাইশিন মিনাল মাফাখিরি ওয়াল মাআলি'; 'বাহজাতুদ দামাসা বিমা ওয়ারাযা ফি ফাদলিল মাসাজিদিস সালাসা'; 'বুশরাল ওয়ারা মিম্মা ওয়ারাযা ফি হিরা'; 'ইকতিতাফুন নূর মিম্মা ওয়ারাযা ফি নূর'; 'আল-ইবানা মিম্মা ওয়ারাযা ফি জিরানা'; 'তুরুকুল ইসাবাহ বিমা জাআ ফিস সাহাবাহ'; 'নুখবাতুল উলামাইল আতকিয়া বিমা জাআ ফি কাসাসিল আম্বিয়া'; 'ওয়াসিলাতুন নাসিক ফিল মানাসিক'; 'আয-যাওয়ায়িদ আলা হায়াতিল হাইওয়ান লিদ দামিরি'; 'তাকরিবুল বাইদ ফিমা ওয়ারাযা ফি ইয়াওমাইল ঈদ'; 'গায়াতুল কাসডি ওয়াল মুরাদ মিনাল আরবায়িনাল আলিয়াতিল ইসনাদ'; এবং 'উমদাতুল মুন্তাহিল ওয়া বুলগাতুল মুরতাহিল'। শেষোক্ত গ্রন্থটিতে চল্লিশটি হাদীস রয়েছে যা চল্লিশজন ইমামের চল্লিশটি কিতাব থেকে এবং চল্লিশজন শিক্ষকের মাধ্যমে সংকলিত, যারা ধারাবাহিক সূত্রে চল্লিশজন সাহাবীর সাথে সম্পৃক্ত। তাদের মধ্যে আশারা মুবাশশারা এবং আবদুল্লাহ উপাধিধারী সাহাবীগণও রয়েছেন (যাদের পরিচয় নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে)। তিনি কিতাবটি বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছেন এবং চার মাযহাবের ইমাম ও ছয়টি কিতাবের সংকলকদের প্রত্যেকের একটি করে হাদীস উল্লেখ করেছেন, যার সাথে উচ্চতর সূত্রযুক্ত হাদীস, কাহিনী ও কবিতা যুক্ত করেছেন।
এর মধ্যে আরও রয়েছে 'লাহযুল আলহায বি-যাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ', যা এই সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এতে অত্যন্ত মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন যেখানে তিনি যাদের জীবনী আলোচনা করেছেন তাদের বিষয়ে এমন পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করেছেন যে, পাঠকের চোখের সামনে তাদের ইলমী মর্যাদা মূর্ত হয়ে ওঠে। তিনি জীবনীকারদের মৃত্যুর বছরের সাথে মিল রেখে সমসাময়িকদের মৃত্যুর বর্ণনায় ব্যাপকতা এনেছেন এবং সংক্ষেপে তাদের অবস্থা তুলে ধরেছেন। ফলে এই কিতাবটি অন্য কিতাবের মুখাপেক্ষিতা দূর করে দেয়, বরং অনেক তথ্য অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তিনি তার কিতাবে এমন কিছু নাম ও বংশপরিচয় নির্ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন যা সন্দেহের উদ্রেক করতে পারত। তিনি জীবনীকারদের বর্ণিত হাদীসের সনদসমূহ উল্লেখ করার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য এনেছেন—কখনও তা মূল সনদের সাথে মিল রেখে, কখনও বিকল্প সূত্রে আবার কখনও উচ্চতর সূত্রে, যা হাদীসের সনদ ও ইলমে হাদীস নিয়ে চর্চাকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংক্ষেপে বলা যায়, ইবন ফাহদ-এর এই পরিশিষ্টটি অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ ও গবেষণাসমৃদ্ধ, যার উপকারিতা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এ ছাড়াও তার আরও অনেক রচনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
قال السخاوي: "ولم ينفك عن المطالعة والكتابة والقيام بما يهمه من أمر عاليه واهتمامه بكثرة الطواف والصوم والاستمرار على الشرب من ماء زمزم بحيث يحمله معه إذا خرج من مكة غالبًا، وبرّه بأولاده وأقاربه وذوي رحمه مع سلامة صدره وسرعة بادرته، ورجوعه وكثرة تواضعه وبذل همته مع من يقصده وامتهانه لنفسه وغير ذلك، وتصدى للإسماع فأخذ عنه الناس من سائر الآفاق الكثير وكنت لقيته فحملت عنه بالمجاورة الأولى الكثير وطالع في مجاورتي الثانية كثيرًا من تصانيفي حتى في مرض موته. مات وأنا هناك في صبيحة يوم السبت سابع ربيع الأول سنة إحدى وسبعين وثمانمائة، وصلّى عليه بعد صلاة العصر عند باب الكعبة ثم دفن بالمعلاة عند مصلب ابن الزبير رضي الله عنهما وكنت ممن شهد الصلاة عليه ودفنه والتردد إلى قبره. وقال المقريزي في عقوده في صاحب الترجمة: إنه قرأ عليَّ "الإمتاع" -من أكبر ما ألف في السير للمقريزي- وحصل منه نسخة بخط ولده الفاضل عمر وهما محدثا الحجاز وأرجو أن يبلغ ابنه عمر في هذا العلم مبلغًا عظيمًا لذكائه واعتنائه بالجمع والسماع والقراءة -بارك الله له فيما آتاه" انتهى ما نقله السخاوي عنه، وهو ممن ترجمه الشمس بن طولون بين مشايخ مشايخه الأربعين في كتابه أربعين الأربعين -رحمه الله تعالى رحمة واسعة.
সাখাভী বলেন: "তিনি অধ্যয়ন, লেখালেখি এবং উচ্চতর বিষয়গুলোর প্রতি তার গুরুত্বারোপ করার কাজ থেকে কখনো বিরত থাকতেননি। তওয়াফ, রোজা এবং অবিরত জমজমের পানি পান করার প্রতি তার বিশেষ গুরুত্ব ছিল, এমনকি মক্কা থেকে বের হওয়ার সময়ও তিনি প্রায়ই তা সঙ্গে বহন করতেন। সন্তানাদি, আত্মীয়স্বজন ও রক্তীয় সম্পর্কের ব্যক্তিদের প্রতি তার সদাচরণ, সেই সঙ্গে তার হৃদয়ের পরিচ্ছন্নতা, উপস্থিত বুদ্ধি, সত্যের দিকে দ্রুত প্রত্যাবর্তন, অত্যধিক বিনয়, সাহায্যপ্রার্থীদের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এবং নিজের প্রতি কঠোরতা ইত্যাদি গুণাবলী তাঁর মাঝে বিদ্যমান ছিল। তিনি (হাদিস) শোনানোর কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন, ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ তার কাছ থেকে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছেন। আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলাম এবং আমার প্রথম মক্কায় অবস্থানকালে তার কাছ থেকে অনেক কিছু গ্রহণ করেছি। এমনকি আমার দ্বিতীয় মক্কায় অবস্থানকালে তিনি মৃত্যুর অসুস্থতার সময়েও আমার অনেকগুলো কিতাব অধ্যয়ন করেছেন। তিনি ৮৭১ হিজরি সালের ৭ই রবিউল আউয়াল শনিবার সকালে মৃত্যুবরণ করেন, তখন আমি সেখানেই ছিলাম। আসরের নামাজের পর কাবার দরজার নিকট তার জানাজা পড়া হয়, এরপর তাকে জান্নাতুল মা'লায় ইবনে জুবায়ের (রাদিআল্লাহু আনহুমা)-এর শূলবিদ্ধ স্থানের নিকট সমাহিত করা হয়। আমি তাদের মধ্যে ছিলাম যারা তার জানাজা ও দাফনে উপস্থিত ছিলেন এবং বারবার তার কবরের কাছে যেতেন। মাকরিজি তার 'উকুদ' গ্রন্থে এই জীবনীকৃত ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন: তিনি আমার নিকট 'আল-ইমতা' গ্রন্থটি পাঠ করেছিলেন - যা মাকরিজি রচিত সিরাতগ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ। তিনি তার গুণী পুত্র ওমরের হস্তাক্ষরে এর একটি পাণ্ডুলিপিও সংগ্রহ করেছিলেন; তারা উভয়ই ছিলেন হিজাজের মুহাদ্দিস। আমি আশা করি তার পুত্র ওমর এই ইলমের ক্ষেত্রে সুউচ্চ মকামে পৌঁছাবেন, কারণ তিনি অত্যন্ত মেধাবী এবং (হাদিস) সংগ্রহ, শ্রবণ ও পাঠে অত্যন্ত যত্নশীল - আল্লাহ তাকে যা দান করেছেন তাতে বরকত দিন।' সাখাভী তার থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তা এখানেই শেষ। তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের জীবনী শামস বিন তুলুন তার 'আরবাউনা আরবাঈন' গ্রন্থে নিজ উস্তাদদের উস্তাদদের চল্লিশজনের মধ্যে উল্লেখ করেছেন - আল্লাহ তাআলা তার প্রতি ব্যাপক রহমত বর্ষণ করুন।"
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٥١)
طبقات لحظ الألحاظ:بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.
قال الشيخ جار الله بن فهد: أخبرنا الشيخان الحافظان الإمام القدوة شيخ السنة شمس الدين أبو الخير محمد بن عبد الرحمن السخاوي نزيل الحرمين الشريفين والعلامة الرحلة شيخ المحدثين عز الدين أبو فارس عبد العزيز بن عمر بن محمد بن فهد الهاشمي المكي الشافعيان -رحمهما الله تعالى- شفاهًا عن الإمام الحافظ الرحلة تقي الدين أبي الفضل محمد بن النجم محمد بن محمد بن فهد الهاشمي العلوي المكي الهاشمي إذنا إن لم يكن سماعًا ولو لبعضه، فقال:
أما بعد حمد الله سبحانه وتعالى الواحد القهار وشكره آناء الليل والنهار والإقرار له جل جلاله بالوحدانية في كل الأطوار، ولصفيه سيدنا محمد بالنبوة والرسالة إلى كافة الخلق بجميع الأقطار وصلى الله وسلم عليه صلاةً وسلامًا أرجح بها الفوز بالجنة والنجاة من النار ورضي الله عن آله وعترته وأزواجه وأصحابه السادة الأطهار ومن تبعهم بإحسان من الأئمة الأبرار فهذه تراجم جماعة عدة مقدمًا من مات منهم قبل الآخر بمدة مذيل بهم على ما ذيل له الحافظ أبو المحاسن محمد بن علي بن الحسن بن حمزة العلوي الحسيني الدمشقي الشافعي على طبقات الحفاظ للعلامة الإمام حافظ الأنام أبي عبد الله محمد بن أحمد الذهبي الهمام -رحمة الله تعالى ورضوانه عليهما بالغداة والعشي- وسميته "لحظ الألحاظ بذيل طبقات الحفاظ" والله سبحانه وتعالى جل وعلا أسأله التوفيق للصواب والعفو والغفران والتجاوز في الحساب.
وقد استدركت على الذهبي اثنتي عشرة ترجمة وعلى السيد الحسيني ثماني غير مبهمة فالأول منهم في الطبقة الخامسة عشرة، والستة بعد في الطبقة العشرين، والخمسة بعدهم في الحادي والعشرين، والثالث عشر في الثانية والعشرين، والخمسة بعده في الثالثة والعشرين، والاثنان بعدهم -وهم الأخيران- في الرابعة والعشرين فرأيت أن أبدأ بهم ثم أسرد ما أذيل به بعدهم والله سبحانه وتعالى أسأل المعونة والإتمام وأن يختم لي بخير في عافية بلا محنة بمنه وكرمه ويدخلني الجنة دار السلام ويعيذني من النار ويغفر لي الآثام، والصلاة والسلام على سيدنا محمد المصطفى المبعوث إلى جميع الأنام وعلى آله وذريته وأزواجه وأصحابه السادة الكرام ومن تبعهم بإحسان في سائر الليالي والأيام وحسبنا الله وكفى ربنا الملك العلام.
তাবাকাতু লাহজিল আলহাজ:পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
শায়খ জারুল্লাহ ইবনে ফাহদ বলেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন দুই হাফেজ শায়খ, আদর্শ ইমাম, সুন্নাহর শায়খ, শামসুদ্দিন আবুল খায়ের মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আস-সাখাবি, যিনি দুই পবিত্র হারামে (মক্কা ও মদিনা) বসবাস করতেন; এবং আল্লামা, দেশ ভ্রমণকারী, মুহাদ্দিসগণের শায়খ, ইজ্জুদ্দিন আবু ফারিস আব্দুল আজিজ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ফাহদ আল-হাশেমি আল-মাক্কি আশ-শাফিয়ি—আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন। তাঁরা মৌখিকভাবে বর্ণনা করেছেন ইমাম, হাফেজ, দেশ ভ্রমণকারী তাকিউদ্দিন আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে নাজম মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ফাহদ আল-হাশেমি আল-আলাভি আল-মাক্কি আল-হাশেমি থেকে। এটি ছিল অনুমতিক্রমে (ইজাজাহ), যদি শ্রবণপূর্বক (সামা') না হয়ে থাকে এমনকি আংশিকভাবে হলেও। অতঃপর তিনি বলেন:
অতঃপর, এক ও পরাক্রমশালী আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রশংসা, দিন-রাত তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন এবং সকল অবস্থায় তাঁর মহিমান্বিত সত্তার একত্ববাদের স্বীকৃতি প্রদানের পর; আর তাঁর মনোনীত আমাদের নেতা মুহাম্মদের সকল অঞ্চলের সমস্ত সৃষ্টির প্রতি নবুওয়াত ও রিসালাতের স্বীকৃতির পর। আল্লাহ তাঁর ওপর এমন দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন, যার দ্বারা আমি জান্নাত লাভে সফল হওয়া এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত পাওয়ার প্রত্যাশা করি। আর আল্লাহ তাঁর পরিবার, বংশধর, স্ত্রীগণ এবং পবিত্র নেতৃস্থানীয় সঙ্গীগণ এবং তাঁদের নিষ্ঠার সাথে অনুসরণকারী নেককার ইমামগণের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। এটি একদল ব্যক্তির জীবনচরিত, যেখানে আমি তাঁদের মধ্য থেকে যিনি আগে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে সময়ের ক্রমানুসারে আগে রেখেছি। এটি একটি পরিশিষ্ট, যা হাফেজ আবুল মাহাসিন মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে হাসান ইবনে হামজা আল-আলাভি আল-হুসাইনি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি—আল্লামা, ইমাম, জগতবিখ্যাত হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আয-যাহাবি আল-হুমামের 'তাবাকাতুল হুফফাজ'-এর ওপর যে পরিশিষ্ট লিখেছিলেন, তার বর্ধিতাংশ হিসেবে লিখেছি। আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি সকাল-সন্ধ্যায় দয়া ও সন্তুষ্টি বর্ষণ করুন। আমি এর নাম রেখেছি 'লাহজুল আলহাজ বি-জাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ'। আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জাল্লা ওয়া আলার কাছে সঠিক পথ লাভের তাওফিক, ক্ষমা, মার্জনা এবং হিসাবের সময় ছাড় প্রার্থনা করছি।
আমি ইমাম যাহাবির ওপর বারোটি জীবনচরিত এবং সাইয়্যেদ হুসাইনির ওপর আটটি সুস্পষ্ট জীবনচরিত সংযোজন করেছি। তাঁদের প্রথমজন পঞ্চদশ স্তরের, পরবর্তী ছয়জন বিংশ স্তরের, তাঁদের পরের পাঁচজন একবিংশ স্তরের, ত্রয়োদশ ব্যক্তি দ্বাবিংশ স্তরের, তাঁর পরের পাঁচজন ত্রয়োদশ স্তরের এবং তাঁদের পরের দুইজন—যারা সর্বশেষ—তারা চতুর্বিংশ স্তরের। তাই আমি তাঁদের দিয়ে শুরু করা সঙ্গত মনে করলাম, অতঃপর তাঁদের পরবর্তীতে আমি যা পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করেছি তা বর্ণনা করব। আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে সাহায্য ও পূর্ণতা কামনা করছি এবং এই প্রার্থনা করছি যেন তিনি তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সুস্থতার সাথে আমার জীবনের সমাপ্তি কল্যাণকর করেন, আমাকে শান্তির আবাস জান্নাতে প্রবেশ করান, জাহান্নাম থেকে আশ্রয় দেন এবং আমার পাপসমূহ ক্ষমা করেন। আর সকল সৃষ্টির প্রতি প্রেরিত আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল-মুস্তফার ওপর এবং তাঁর পরিবার, বংশধর, স্ত্রীগণ ও সম্মানিত নেতৃস্থানীয় সঙ্গীদের ওপর এবং যারা দিবা-রাত্রি নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করে, তাদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি আমাদের মালিক সর্বজ্ঞাত পালনকর্তা হিসেবে যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
ابن السمرقندي ذكره الحافظ أبو عبد الله الذهبي في كتاب "العبر بأخبار من غبر" فيمن توفي في سنة ست وثلاثين وخمسمائة1 فقال: وإسماعيل بن أحمد بن عمر بن أبي الأشعث أبو القاسم بن السمرقندي الحافظ ولد بدمشق سنة أربع وخمسين وسمع بها من الخطيب وعبد الدائم بن الهلالي وابن طلاب والكبار، وببغداد من الصريفيني فمن بعده وقال: أبو العلاء الهمذاني: ما أعدل به أحدًا من شيوخ العراق توفي في ذي القعدة انتهى. قلت: وممن سمع منه أبو محمد2 عبد الله بن سبعون3 بن أحمد بن محلي السلمي4 القيرواني وأبو نصر فتوح بن عبد الله الحميدي وأحمد بن محمد بن النقور البزار والقاضي أبو الفضل جعفر بن يحيى بن إبراهيم بن الحكاك المكي، روى عنه أبو حفص عمر بن محمد بن طبرزد وأبو حامد عبد الله بن مسلم بن زيد بن جوالق5 النحاس.
وفي سنة ست وثلاثين وخمسمائة مات الفقيه الواعظ شرف الإسلام عبد الوهاب بن أبي الفرح عبد الرحمن6 بن محمد الأنصاري الشيرازي ثم الدمشقي الحنبلي في صفر، والمحدث أبو عبد الله محمد بن علي بن عمر المازري مؤلف "المعلم في شرح مسلم" في شهر ربيع الأول عن ثلاث وثمانين سنة، ومازر بفتح الزاي وكسرها بليدة بجزيرة صقلية، وأمام جامع نيسابور أبو محمد الجبار بن محمد بن أحمد
--------------------------------------------
ইবনে সামারকান্দি। হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আয-যাহাবী 'আল-ইবার বি আখবার মান গাবার' গ্রন্থে পাঁচশ ছত্রিশ হিজরীতে মৃত্যুবরণকারীদের আলোচনায় তাঁর উল্লেখ করেছেন।১ তিনি বলেন: ইসমাইল বিন আহমাদ বিন উমর বিন আবিল আশআস আবু কাসেম বিন সামারকান্দি আল-হাফেজ চারশ চুয়ান্ন হিজরীতে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি আল-খতিব, আব্দুল দায়েম বিন আল-হিলালি, ইবনে তুল্লাব এবং প্রবীণদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন; আর বাগদাদে আস-সারিফিনি ও পরবর্তী উস্তাদদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। আবুল আলা আল-হামাদানি বলেছেন: ইরাকের মাশায়েখদের মধ্যে কাউকে আমি তার সমকক্ষ মনে করি না। তিনি যিলকদ মাসে ইন্তেকাল করেন। সমাপ্ত। আমি বলছি: তাঁর নিকট থেকে যারা শ্রবণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু মুহাম্মদ২ আব্দুল্লাহ বিন সাবউন৩ বিন আহমাদ বিন মাহাল্লি আস-সুলামি৪ আল-কায়রাওয়ানি, আবু নাসর ফুতুহ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদি, আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আন-নাকুর আল-বাযযার এবং বিচারক আবু ফাদল জাফর বিন ইয়াহইয়া বিন ইব্রাহিম বিন আল-হাক্কাক আল-মাক্কি। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন তাবারযাদ এবং আবু হামিদ আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন যাইদ বিন জাওয়ালিক৫ আন-নাহহাস।
পাঁচশ ছত্রিশ হিজরীর সফর মাসে ফকিহ ও ওয়ায়েজ শারাফুল ইসলাম আব্দুল ওয়াহহাব বিন আবি আল-ফারাজ আব্দুল রহমান৬ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি আশ-শিরাজি অতঃপর আদ-দামেশকি আল-হাম্বলি মৃত্যুবরণ করেন। আর রবিউল আউয়াল মাসে তিরাশি বছর বয়সে মুহাদ্দিস আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন উমর আল-মাযারি ইন্তেকাল করেন, যিনি 'আল-মুআল্লিম ফি শারহি মুসলিম' গ্রন্থের রচয়িতা। 'মাযার' অক্ষর ‘যা’-তে ফাতহা বা কাসরা যোগে সিসিলি দ্বীপের একটি ছোট শহর।৭ আর ইন্তেকাল করেন নিশাপুর জামে মসজিদের ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-জাব্বার বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
الخُواري1 الشافعي في شعبان وله إحدى وتسعون سنة، وأبو محمد يحيى بن علي بن الطراح المدير2 في شهر رمضان، وشيخ الصوفية ابن برجان أبو الحكم عبد السلام بن عبد الرحمن بن أبي الرجال اللخمي الإفريقي ثم الإشبيلي -شارح أسماء الله تعالى الحسنى- غريقًا بمراكش3 وقُبر بإزاء قبر ابن العريق، وإمام جامع دمشق أبو محمد هبة الله بن طاوس البغدادي -رحمهم الله تعالى.
أخبرنا العلامة الحافظ فقيه الحجاز قاضي القضاة أبو حامد محمد بن عبد الله المخزومي سماعًا وسيدي والدي المرحوم نجم الدين أبو النصر محمد بن محمد بن عبد الله بن فهد بن حسن الهاشمي -سقى الله ثراه وجعل الجنة مأواه شفاهًا قالا: أخبرنا الحافظ بها الدين أبو محمد عبد الله بن محمد بن أبي بكر بن خليل العثماني قال والدي في كتابه: ح وقرأت على القاضي الأصيل الفقيه جلال الدين أبو أحمد جار الله بن صالح بن أحمد الشيباني بقرية أرض خالد من بطن مرو قال والدي أيضًا: وابن ظهيرة أخبرنا أبو عبد الله محمد بن سالم بن إبراهيم الحضرمي قال: والدي كتابة قالا: أخبرنا الحافظ أبو عمرو عثمان بن محمد بن عثمان التوزري قال: أخبرنا عبد الرحيم بن يوسف بن يحيى ابن خطيب المزة ح وكتب لنا بعلو درجة المعمر أبو الربيع سليمان بن خالد4 الإسكندري منها أن علي بن أحمد المقدسي أخبره في الإذن العام قالا: أخبرنا أبو حفص عمر بن محمد بن معمر الدارقَزِي5 قال: المقدسي إجازة إن لم يكن سماع قال: أخبرنا الحافظ أبو القاسم
--------------------------------------------
আশ-শাফিয়ী আল-খুওয়ারী১ শাবান মাসে [ইন্তেকাল করেন], তাঁর বয়স হয়েছিল একানব্বই বছর। এবং আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনুত তাররাহ আল-মুদির২ রমজান মাসে। এবং সুফিদের শায়খ ইবনে বারজান আবুল হাকাম আবদুস সালাম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবির রিজাল আল-লাখমি আল-ইফ্রিকি অতপর আল-ইশবিলি—যিনি আল্লাহ তায়ালার আসমাউল হুসনার ব্যাখ্যাকারী—মাররাকেশে ডুবে৩ মারা যান এবং তাঁকে ইবনুল আরিক এর কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। এবং দামেস্কের জামে মসজিদের ইমাম আবু মুহাম্মদ হিবাতুল্লাহ ইবনে তাউস আল-বাগদাদি—আল্লাহ তায়ালা তাদের সকলের প্রতি রহম করুন।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল্লামা হাফেজ হিজাজের ফকিহ কাজিউল কুজাত আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-মাখজুমি শ্রবণের মাধ্যমে এবং আমার নেতা আমার পিতা মরহুম নাজমুদ্দিন আবু নসর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ফাহাদ ইবনে হাসান আল-হাশিমি—আল্লাহ তাঁর কবরকে সিক্ত করুন এবং জান্নাতকে তাঁর আবাসস্থল করুন—মৌখিকভাবে তারা উভয়ই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ বাহাউদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনে খলিল আল-উসমানি। আমার পিতা তাঁর কিতাবে বলেছেন: (হ) এবং আমি মার্ভের অভ্যন্তরের আরদে খালিদ গ্রামের আদি অভিজাত কাজি ফকিহ জালালুদ্দিন আবু আহমদ জারুল্লাহ ইবনে সালিহ ইবনে আহমদ আশ-শাইবানি এর নিকট পাঠ করেছি। আমার পিতা আরও বলেছেন: এবং ইবনে জুহাইরা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে সালিম ইবনে ইব্রাহিম আল-হাদরামি বলেছেন: আমার পিতা লিখিতভাবে তারা উভয়ই বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু আমর উসমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান আত-তাউজারি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহিম ইবনে ইউসুফ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে খাতিব আল-মিযযাহ। (হ) এবং উচ্চ সনদে আমাদের নিকট লিখেছেন দীর্ঘজীবী আবু রাবি সুলায়মান ইবনে খালিদ৪ আল-ইসকান্দারি, তাঁর নিকট থেকে যে আলী ইবনে আহমদ আল-মাকদিসি তাঁকে সাধারণ অনুমতির মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুয়াম্মার আদ-দারকাজি৫। আল-মাকদিসি বলেছেন, ইজাজাত হিসেবে যদি শ্রবণ না হয়ে থাকে, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবুল কাসিম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
إسماعيل بن أحمد بن عمر السمرقندي قال: حدثنا أبو محمد عبد الله بن محمد بن عبد الله الصريفيني وأحمد بن محمد بن أحمد بن النقور البزار قالا: أخبرنا أبو القاسم عبد الله بن محمد بن إسحاق بن حبان1 قال الصريفيني: تلقينًا2 زاد فقال: وأبو حفص عمر بن إبراهيم الكناني المقري كذلك قالا: حدثنا أبو القاسم عبد الله بن محمد بن عبد العزيز البغوي قال: حدثنا طالوت بن عباد قال: حدثنا فضالة بن جبير3 قال: سمعت أبا أمامة الباهلي رضي الله عنه يقول: سمعت سيدنا رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: "اكفلوا لي بست أكفل لكم بالجنة: إذا حدث أحدكم فلا يكذب، وإذا أؤتمن فلا يخن، وإذا وعد فلا يخلف، غضوا أبصاركم، وكفوا أيديكم، واحفظوا فروجكم" ويقع لنا هذا الحديث بهذا العلو متصلا بالسماع فيما سمعته على الحافظ أبي حامد القرشي قال: أخبرنا عمر بن الحسن ومحمد بن أحمد بقراءتي على كل منهما ح وأنبأنا به أعلى من هذا سليمان قالوا: أخبرنا علي قال -شيخنا عمومًا- قال: أخبرنا أبو المعالي بن أبي القاسم والخضر بن كامل وعمر بن محمد وداود بن أحمد قال عمر: أخبرنا أبو الفضل الأرموي زاد عمر فقال: وأبو بكر بن دحروج وأبو غالب بن قريش4 وأبو بكر بن الحاسب وأبو بكر بن شقير 5 ح وقال الخضر: وأبو المعالي أخبرنا أبو الدر ياقوت قالوا: أخبرنا أبو محمد عبد الله بن محمد الصريفيني قال: حدثنا أبو طاهر المُخلِّص6 املاءً ح وقل الأرموي أخبرنا أبو الحسن ياسين7 قال: أخبرنا
--------------------------------------------
ইসমাঈল বিন আহমদ বিন উমর আস-সামারকান্দি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ আস-সারিফিনি এবং আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন আন-নাকুর আল-বায্যার হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট আবুল কাসিম আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন হাব্বান১ সংবাদ দিয়েছেন। আস-সারিফিনি বলেছেন: সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে২। তিনি আরও বর্ধিত করে বলেন: এবং আবু হাফস উমর বিন ইবরাহিম আল-কিনানি আল-মুকরিও তদ্রূপ। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট আবুল কাসিম আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আযীয আল-বাগাওয়ি হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট তালূত বিন আব্বাদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ফাদ্বালা বিন জুবাইর৩ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু উমামা আল-বাহিলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "তোমরা আমার জন্য ছয়টি বিষয়ের জিম্মাদার হও, আমি তোমাদের জান্নাতের জিম্মাদার হব: যখন তোমাদের কেউ কথা বলবে তখন সে যেন মিথ্যা না বলে, যখন আমানত রাখা হবে তখন যেন খিয়ানত না করে, যখন প্রতিশ্রুতি দেবে তখন যেন তা ভঙ্গ না করে, তোমরা তোমাদের দৃষ্টি অবনত রাখো, তোমাদের হাত সংবরণ করো এবং তোমাদের লজ্জাস্থান হিফাযত করো।" এই হাদীসটি আমাদের নিকট শ্রবণের মাধ্যমে সরাসরি সংযুক্ত উচ্চ সনদে পৌঁছেছে, যা আমি হাফিয আবু হামিদ আল-কুরাশির নিকট শ্রবণ করেছি। তিনি বলেন: উমর বিন আল-হাসান এবং মুহাম্মাদ বিন আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে (হ)। এবং সুলাইমান আমাদের এর চেয়েও উচ্চ সনদে সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তিনি সাধারণভাবে আমাদের শাইখ—তিনি বলেন: আবুল মাআলি বিন আবিল কাসিম, আল-খিদর বিন কামিল, উমর বিন মুহাম্মাদ এবং দাউদ বিন আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। উমর বলেন: আবুল ফাদ্বল আল-আরমাউয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। উমর বর্ধিত করে বলেন: এবং আবু বকর বিন দাহরুজ, আবু গালিব বিন কুরাইশ৪, আবু বকর বিন আল-হাসিব এবং আবু বকর বিন শুকাইর ৫ (হ)। এবং আল-খিদর ও আবুল মাআলি বলেন: আবুল দুর ইয়াকুত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা বলেন: আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস-সারিফিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু তাহির আল-মুখাল্লিস৬ আমাদের নিকট শ্রুতলিপির মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন (হ)। এবং আল-আরমাউয়ি বলেন: আবু আল-হাসান ইয়াসিন৭ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
أبو حفص الكناني قال: والمخلص أخبرنا أبو القاسم البغوي فذكره غريب من هذا الوجه قال أبو حاتم: طالوت بن عباد صدوق وقال الذهبي في كتابه: الميزان شيخ معمر لا بأس به، قال ابن الجوزي: ضعفه علماء أهل النقل وتعقبه الذهبي بقوله: وإلى الساعة أفتش فما وقعت بأحد ضعفه وقال -أعني الذهبي فضالة بن جبير- قال ابن عدي: أحاديثه غير محفوظة وقال -أعني الذهبي-: روى عنه طالوت بن عباد ومحمد بن عرعرة وعبد الرزاق بن غياث قال: أبو حاتم لا يحل الاحتجاج به بحال يروي أحاديث لا أصل لها، والله تعالى أعلم.
القطب بن القسطلاني 1 محمد بن أحمد بن علي بن محمد بن الحسن بن عبد الله بن أحمد بن الميمون التوزري الأصل المكي الدار القاهري المنزل والوفاة الإمام العلامة الحافظ أبو بكر عمدة السالكين وقدوة الناسكين بقية العلماء العاملين:
أحد من جمع العلم والعمل والورع والهيبة نظر في فنون من العلم فبرع فيها وعني بهذا الشأن فحصل جملة بالسماع والإجازة ولد بمكة المشرفة في سن أربع عشرة وستمائة وسمع بها من والده وعلي بن البناء الشهاب السهروردي ولبس منه خرقه التصوف وغيرهم من شيوخها والقادمين إليها، ورحل في سنة تسع وأربعين وستمائة فسمع ببغداد ومصر والشام والجزيزة جمعًا جمًّا من أصحاب ابن عساكر والسلفي وغيرهم، تفقه وأفتى وطلب إلى القاهرة من مكة وتولى بها مشيخة دار الحديث الكاملية، ذكر الحافظ أبو الفتح بن سيد الناس في أحفظ من لقيه في أجوبته عن مسائل ابن أبيك فقال: فيما كتب به إليَّ. الشيخ المعمرم أبو عبد الله محمد بن حسين2 بن علي القرشي الفَرسيسي3 المصري منها في سنة سبع وثمانمائة4 وشافهتني به المسندة الأصيلة أم محمد رقية ابنة يحيى بن مزروع المدنية بها
--------------------------------------------
আবু হাফস আল-কিনানি বলেন: এবং আল-মুখলিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ি এটি বর্ণনা করেছেন, যা এই দিক থেকে গরিব (অদ্ভুত)। আবু হাতিম বলেন: তালুত বিন আব্বাদ সদুক (সত্যবাদী)। আর আজ-জাহাবি তার 'আল-মিযান' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি একজন দীর্ঘজীবী শায়খ, তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। ইবনুল জাওযি বলেন: ইলমে রেওয়ায়াতের ইমামগণ তাকে দুর্বল বলেছেন। আজ-জাহাবি এর প্রতিবাদে বলেন: আমি বর্তমান সময় পর্যন্ত অনুসন্ধান করছি কিন্তু এমন কাউকে পাইনি যে তাকে দুর্বল বলেছে। আর তিনি (অর্থাৎ আজ-জাহাবি) ফাদালাহ বিন জুবাইর সম্পর্কে বলেন— ইবনু আদি বলেছেন: তার বর্ণিত হাদিসগুলো সংরক্ষিত নয়। আর তিনি (অর্থাৎ আজ-জাহাবি) বলেন: তার থেকে তালুত বিন আব্বাদ, মুহাম্মদ বিন আরআরাহ এবং আবদুর রাজ্জাক বিন গিয়াস বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম বলেন: কোনো অবস্থাতেই তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়, তিনি এমন সব হাদিস বর্ণনা করেন যার কোনো ভিত্তি নেই। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
আল-কুতুব ইবনুল কাসতাল্লানি ১ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন আল-মাইমুন, উৎপত্তিতে তাওজারি, বাসস্থানে মক্কি, আবস্থান ও মৃত্যুতে কায়রোবাসী। তিনি ইমাম, আল্লামা, হাফেজ, আবু বকর, সালেকিনদের অবলম্বন এবং ইবাদতকারীদের আদর্শ, আমলকারী আলেমদের অবশিষ্ট উত্তরসূরি:
তিনি তাদের একজন যারা ইলম, আমল, তাকওয়া এবং গাম্ভীর্যের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। তিনি ইলমের বিভিন্ন শাখায় দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলেন এবং তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। তিনি এই শাস্ত্রের (হাদিসের) প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন এবং শ্রবণ (সামা) ও ইজাজতের মাধ্যমে এর একটি বড় অংশ অর্জন করেছিলেন। তিনি ৬১৪ হিজরি সনে মক্কা মোকাররমায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে তার পিতা, আলি বিন আল-বান্না, শিহাব আল-সুহরাওয়ার্দি—যার কাছ থেকে তিনি তাসাউউফের খিরকা পরিধান করেছিলেন—এবং সেখানকার অন্যান্য শায়খ ও আগতদের থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি ৬৪৯ হিজরি সনে সফরে বের হন এবং বাগদাদ, মিশর, শাম ও জাজিরায় ইবনে আসাকির ও সিলাফির সাথীদের এক বিশাল জামাত ও অন্যদের থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি ফিকহ চর্চা করেন, ফতোয়া প্রদান করেন এবং মক্কা থেকে কায়রোতে তাকে তলব করা হয়, যেখানে তিনি দারুল হাদিস আল-কামিলিয়্যাহ-এর প্রধান শায়খ নিযুক্ত হন। হাফেজ আবু আল-ফাতহ ইবনে সাইয়্যিদুন নাস ইবনে আবিকের প্রশ্নের জবাবে তার দেখা শ্রেষ্ঠ হাফেজদের বর্ণনায় তাকে উল্লেখ করে বলেন: তিনি আমাকে যা লিখেছিলেন তাতে রয়েছে: দীর্ঘজীবী শায়খ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন হুসাইন ২ বিন আলি আল-কুরাশি আল-ফারসিসি ৩ আল-মিসরি, ৮০৭ হিজরি ৪ সনে সেখান থেকে এবং উচ্চ সনদধারী বংশীয় আলেম উম্মে মুহাম্মদ রুকাইয়া বিনতে ইয়াহইয়া বিন মাজরু আল-মাদানিয়া সেখানে আমাকে মৌখিকভাবে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
في شوال سنة اثنتي عشرة وثمانمائة قال: الفرسيسي -إن لم يكن سماعًا: إنه كان ممن نظر في العلوم فبرع في علائها بحرًا وطلع في سمائها بدرًا وشارك في فروع الفقه وأصوله وخاض في معقول العلم ومنقوله وعني بطلب الحديث أحسن عناية فحصل بالسماع والإجازة على كثير من الرواية، وكلف بالأدب فدرت عليه ديمته وجادت له بما شاء شيمته، ثم أخذ في طرق التصوف والتسلك والتعرف بأرج سلفه الصالح والتمسك فقاضت عليه عوارفها فاجتنى غروسها يانعة واجتلى شموسا طالعة وجمع في ذلك مجموعات وأوضح في مجلسه موضوعات، إلى أن قال: ولي دار الحديث الكاملية فقام بها أحسن قيام ولم يزل معظما عند الخاص والعام متصديًّا لإبلاغ السنن وإسباغ المنن قائما بقضاء الحاج على أحسن منهاج من إرفاد مسترقد وإنجاد مستنجد والتفريج عن مكروب والتعريج على أكرم مطلوب، تلقاه بما شئت من أريحية وسجية سخية باٍد فضلها وطريقة مثلى لم يُرَ مثلها إلى أن تم حمامه وانقطع من الحياة زمامه فقضى وغص بجنازته الفضا، ولم يشهد الناس مثل يومه مشهدًا ولا وردوا كثرة مثل نعيه موردًا، وذلك في ليلة الثامن والعشرين من المحرم سنة ست وثمانين وستمائة، ودفن -رحمة الله تعالى عليه- بسفح المقطم، حضرت جنازته والصلاة عليه انتهى.
وفي هذه السنة توفي بمصر قاضي القضاة برهان الدين أبو محمد الخضر بن الحسن بن علي السنجاري الزرزاري الشافعي في صفر، وبدمشق أحد ظرفاء العالم الأديب شرف الدين سليمان بن نتيمان بن أبي الجيش الإربلي الشاعر المشهور في عاشر صفر عن تسعين سنة1 ومسند الوقت عز الدين أبو العز عبد العزيز بن عبد المنعم بن علي بن نصر بن الصيقل الحراني في رابع عشر شهر رجب وقد جاوز التسعين، وشهاب الدين أبو الحسن علي بن محمد بن أحمد بن حمزة بن علي بن الحُبوبي2 البعلي3 الدمشقي الشاهد في شهر رجب، وبمصر الخطيب4 الحاذق الأديب عماد الدين أبو
--------------------------------------------
৮১২ হিজরির শাওয়াল মাসে আল-ফারসিসি বলেন—যদি তা সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে—যে, তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানে গভীর অভিনিবেশ সহকারে গবেষণা করেছেন এবং এর উচ্চশিখরে সমুদ্রের ন্যায় পারদর্শিতা ও গভীরতা অর্জন করেছেন এবং এর আকাশে পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উদিত হয়েছেন। তিনি ফিকহ শাস্ত্রের শাখা-প্রশাখা ও মূলনীতিতে অংশগ্রহণ করেছেন এবং ইলমের যৌক্তিক ও শ্রুতিনির্ভর উভয় বিষয়ে গভীরভাবে নিমগ্ন হয়েছেন। তিনি হাদিস অন্বেষণে সর্বোত্তম যত্ন নিয়েছেন, ফলে সরাসরি শ্রবণ এবং ইজাজতের মাধ্যমে প্রচুর বর্ণনা লাভ করেছেন। তিনি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী ছিলেন, ফলে সাহিত্যের অবিরাম ধারা তার ওপর বর্ষিত হয়েছে এবং তার স্বভাব তাকে যা চেয়েছেন তা-ই দান করেছে। অতঃপর তিনি তাসাউফ, আধ্যাত্মিক পথচলা এবং সালাফে সালেহীনের সুগন্ধিময় পথ অনুসরণের পন্থা অবলম্বন করেন। ফলে আধ্যাত্মিক জ্ঞানের প্রস্রবণ তার ওপর উছলে পড়ে এবং তিনি তাসাউফের পরিপক্ব ফল সংগ্রহ করেন এবং এর উদীয়মান সূর্যগুলোকে অবলোকন করেন। এ বিষয়ে তিনি বহু সংকলন তৈরি করেছেন এবং তার মজলিশে বিভিন্ন বিষয় স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেন: তিনি দারুল হাদিস আল-কামিলিয়ার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং সেখানে সর্বোত্তমভাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিশিষ্ট ও সাধারণ সকলের নিকট সম্মানিত ছিলেন এবং সুন্নাহর বাণী প্রচার ও মানুষের ওপর অনুগ্রহ প্রসারে সদা নিবেদিত ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সুন্দর পন্থায় মানুষের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট ছিলেন, যার মধ্যে ছিল সাহায্যপ্রার্থীকে সাহায্য করা, বিপদগ্রস্তকে উদ্ধার করা, ব্যথিতের দুঃখ দূর করা এবং মহত্তম লক্ষ্যগুলোর দিকে ধাবিত হওয়া। আপনি তাকে যে কোনো প্রফুল্লতা ও দানশীল স্বভাবের সাথে দেখা পেতেন যার শ্রেষ্ঠত্ব ছিল সুস্পষ্ট এবং এমন এক আদর্শ পথ অবলম্বনকারী যার কোনো নজির দেখা যায়নি। পরিশেষে তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসে এবং জীবনের রশি ছিঁড়ে যায়। তিনি ইন্তেকাল করেন এবং তার জানাজায় চারপাশ লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। মানুষ তার জানাজার দিনের মতো এমন কোনো বিশাল সমাবেশ দেখেনি এবং তার শোক সংবাদ শুনে যেমন লোক সমাগম হয়েছিল তেমনটি সচরাচর দেখা যায় না। এটি ছিল ৬৮৬ হিজরির ২৮শে মহররম দিবাগত রাতে। তাকে মুকাত্তাম পাহাড়ের পাদদেশে দাফন করা হয়—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। আমি তাঁর জানাজা ও জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলাম। (সমাপ্ত)।
এই বছর সফর মাসে মিশরে প্রধান বিচারপতি বুরহানউদ্দিন আবু মুহাম্মদ আল-খিজর ইবনুল হাসান ইবনে আলী আস-সিনজারি আজ-জারজারি আশ-শাফেয়ি ইন্তেকাল করেন। এবং দামেস্কে সফর মাসের দশ তারিখে নব্বই বছর বয়সে বিশ্বের অন্যতম বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক ও প্রখ্যাত কবি শরফুদ্দিন সুলায়মান ইবনে নাইতিমান ইবনে আবিল জয়শ আল-ইরবিলি ইন্তেকাল করেন১ এবং এ সময়ের মুসনিদ (হাদিস বর্ণনাকারী) ইজ্জুদ্দিন আবুল ইজ্জ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল মুনইম ইবনে আলী ইবনে নাসর ইবনুল সয়কাল আল-হাররানি রজব মাসের চৌদ্দ তারিখে ইন্তেকাল করেন, যার বয়স নব্বই বছর পার হয়েছিল। এবং রজব মাসে শিহাবুদ্দিন আবু হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে হামজাহ ইবনে আলী আল-হুবুবি২ আল-বালি৩ আদ-দিমাশকি আশ-শাহিদ ইন্তেকাল করেন। এবং মিশরে দক্ষ খতিব৪, সাহিত্যিক ইমাদুদ্দিন আবু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
عبد الله محمد بن عباس بن أحمد الريفي1 الدنيصري2 في ثامن صفر ومولده ببلبيس3 سنة ست وستمائة، وبدر الدين أبو عبد الله محمد بن محمد بن عبد الله بن عبد الله بن مالك الجياني الدمشقي في ثامن المحرم ولم يتكهل، وجمال الدين أبو صادق محمد بن يحيى بن علي القرشي العطار المصري في شهر ربيع الثاني وله بضع وستون سنة.
شافهتني المسندة أم محمد رقية بنت يحيى بن مزروع المدنية بها وكتب إلى المعمر أبو عبد الله محمد بن حسن بن علي القرشي الفَرسيسي المصري منها قالا: أنبأنا الحافظ أبو الفتح محمد بن محمد بن محمد بن أحمد بن عبد الله اليعمري قال: أخبرنا الإمام قطب الدين أبو محمد أحمد القسطلاني قال: أخبرنا المشايخ الحافظ أبو الفتوح نصر بن أبي الفرج محمد بن علي الحضري4 وابنه أبو عبد الرحمن محمد أبو المحاسن فضل الله وأبو صالح نصر ابنا ابن عبد القادر الجيلي5 وأبو السعادات عبد الله بن عمر بن أحمد بن كرم البُندَنيجي6 بقراءتي عليهم ببغداد سوى الأول والرابع فإجازة قالوا: أخبرنا أبو القاسم عبيد الله بن عبد الله بن شاقيل7 سماعًا إلا عبد الرحمن فقال -حضورًا في الثالثة- قال: أخبرنا أبو غالب محمد بن الحسن بن الباقلاني قال: أخبرنا أبو عبد الله أحمد بن عبد الله بن الحسين المحاملي قال: أخبرنا أبو بكر محمد بن محمد بن أحمد بن مالك البزار قال: أخبرنا
--------------------------------------------
আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস ইবনে আহমদ আল-রিফী (১) আদ-দানায়সারী (২), সফর মাসের আট তারিখে [ইন্তেকাল করেন]; আর তাঁর জন্ম বিলবেসে (৩), ৬০৬ হিজরী সনে। এবং বদর উদ্দিন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মালিক আল-জায়ইয়ানী আদ-দিমাশকী, মহররম মাসের আট তারিখে [ইন্তেকাল করেন] এবং তিনি প্রৌঢ়ত্বে পৌঁছাননি। এবং জামাল উদ্দিন আবু صادক মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আলী আল-কুরাশী আল-আত্তার আল-মিসরী, রবিউস সানি মাসে [ইন্তেকাল করেন], তাঁর বয়স হয়েছিল ষাটের কিছু বেশি বছর।
মুসনিদাহ উম্মু মুহাম্মদ রুকাইয়া বিনতে ইয়াহইয়া ইবনে মাজরু আল-মাদীনিয়াহ সেখানে সরাসরি আমার সাথে কথা বলেছেন এবং দীর্ঘজীবী আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে আলী আল-কুরাশী আল-ফারসীসী আল-মিসরী সেখান থেকে আমার কাছে লিখেছেন; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-ইয়ামুরী, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম কুতুবুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আহমদ আল-কাসতালানী, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খগণ: হাফেজ আবুল ফুতুহ নাসর ইবনে আবুল ফরাজ মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-হাদরী (৪) এবং তাঁর পুত্র আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ আবু আল-মাহাসিন ফজলুল্লাহ এবং আবু সালেহ নাসর—আবদুল কাদির আল-জীলীর (৫) দুই পৌত্র—এবং আবু আল-সাআদাত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনে আহমদ ইবনে কারম আল-বুনদানিজী (৬); বাগদাদে তাঁদের সামনে আমার পাঠের মাধ্যমে, তবে প্রথম ও চতুর্থ জন ব্যতীত—তাঁদের থেকে ছিল অনুমতি; তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে শাকীল (৭) শ্রবণের মাধ্যমে, তবে আবদুর রহমান ব্যতীত—তিনি বলেছেন: তৃতীয় বছরে উপস্থিতির মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু গালিব মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে আল-বাকিলানী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-হুসাইন আল-মাহামিলী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মালিক আল-বাযযার; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
أبو الأحوص محمد بن الهيثم بن حماد العكبري قال: أخبرنا محمد بن كثير عن الأوزاعي عن محمد بن عجلان عن سعيد المقبري عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال: سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا وطئ أحدكم الأذى بخفيه فطهورهما التراب" رواه أبو داود في سننه عن أحمد بن إبراهيم عن محمد بن كثير به فوقع لنا بدلًا منه ولله الحمد.
أبو اليمن ابن عساكر عبد الصمد بن عبد الوهاب بن الحسن بن محمد بن هبة الله ابن عبد الله بن الحسين بن عساكر الإمام العلامة الحافظ الزاهد أمين الدين الدمشقي ثم المكي:
مولده في سنة أربع عشرة وستمائة وكان قوي المشاركة في العلوم لطيف الشمائل بديع النظم خيرا صالحا صاحب صدق وتوجه، اعتنى من صغره بالعلم خصوصا الحديث، وأخذ عن جده والحسين الزبيدي والمرفق بن قدامة وغيره وأجاز له جمع منهم عبد الرحيم بن السماني والمؤيد الطوسي وأبو روح الهروي، وله التآليف الحسنة منها الخلق الداثر والمقيم السائر وفضائل أم المؤمنين خديجة رضي الله عنها وجزء فيه أحاديث عبد الفطر وجزء في فضل شهر رمضان وجزء في فضل حراء، انقطع بمكة المشرفة نحوًا من أربعين سنة ومات بالمدينة الشريفة -على الحالِّ بها أفضل الصلاة والسلام- في جمادى الأولى سنة ست وثمانين وستمائة -رحمه الله تعالى.
أخبرنا سيد والدي المرحوم أبو النصر محمد بن أبي الخير محمد بن فهد الهاشمي -رحم الله تعالى مثواه وبلغه من ثواب أعماله الصالحة مأواه: وجمع مشافهة وكتابة عن الإمام أبي العباس أحمد بن علي بن يوسف الحنفي أن الحافظ أبا اليمن عبد الصمد بن عبد الوهاب أنبأه قال: قال قرأت على الشيخ أبي محمد عبد العزيز بن عبد السلام بن أبي القاسم السلمي وآخرين بالقاهرة المعزية وأبي العباس أحمد بن عبد الله المقدسي عرف بصاحب البدوي بيت المقدس، وقرأت بعلو درجة على الخطيب أبي بكر بن الحسن الأرموي1، قلت له: أخبرك الخطيب أبو الفتح محمد بن إبراهيم البكري؟ قال: أخبرنا أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن عبد الوهاب الحسيني وأبو الفضل عبد الرحيم بن يوسف بن يحيى الموصلي قالوا: أخبرنا أبو حفص عمر بن محمد بن معمر الدارقَزّي قال الموصلي -وأنا حاضر- قال: أخبرنا أبو القاسم هبة الله بن محمد بن عبد الواحد الشيباني قال: أخبرنا أبو طلب محمد بن إبراهيم بن غيلان البزار قال: أخبرنا أبو بكر محمد بن عبد الله بن إبراهيم الشافعي قال: أخبرنا محمد بن عبيد الله هو ابن إدريس قال: حدثنا يزيد
--------------------------------------------
আবু আল-আহওয়াস মুহাম্মদ ইবনুল হাইসাম ইবনে হাম্মাদ আল-উকবারী বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে কাসীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আওযাঈ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন তার চামড়ার মোজা দিয়ে নাপাকি মাড়ায়, তখন মাটিই তার পবিত্রতা।" এটি আবু দাউদ তাঁর সুনানে আহমাদ ইবনে ইবরাহীম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে কাসীর থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের জন্য তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অর্জিত হয়েছে এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।
আবুল ইয়ামান ইবনে আসাকির আবদুস সামাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনুল হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল হুসাইন ইবনে আসাকির, তিনি ইমাম, আল্লামা, হাফেজ, যাহেদ, আমীনুদ্দীন আদ-দামিশকী অতঃপর আল-মাক্কী:
তাঁর জন্ম ৬১৪ হিজরীতে। বিভিন্ন জ্ঞানে তাঁর গভীর পদচারণা ছিল, তিনি ছিলেন কোমল চরিত্রের অধিকারী, চমৎকার রচনাশৈলীর অধিকারী, কল্যাণকামী, নেককার, সত্যবাদী ও একনিষ্ঠ। শৈশব থেকেই তিনি ইলম অর্জন, বিশেষ করে হাদিস শাস্ত্রের প্রতি মনোনিবেশ করেন। তিনি তাঁর দাদা, হুসাইন আয-যুবাইদী, মুওয়াফফাক বিন কুদামা এবং অন্যদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। একদল আলেম তাঁকে ইজাযত দিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুর রহীম ইবনে আস-সামআনী, আল-মুয়াইয়াদ আত-তূসী এবং আবু রূহ আল-হারাউয়ী। তাঁর বেশ কিছু চমৎকার রচনা রয়েছে, যার মধ্যে ‘আল-খালকুল দাসির’, ‘আল-মুকীমুস সাইর’, ‘উম্মুল মুমিনীন খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ফজিলত’, ‘আবদুল ফিতরের হাদিসসমূহ সম্বলিত একটি জুয’, ‘রমজান মাসের ফজিলত বিষয়ক একটি জুয’ এবং ‘হেরা পর্বতের ফজিলত বিষয়ক একটি জুয’ উল্লেখযোগ্য। তিনি মক্কা মুকাররমায় প্রায় চল্লিশ বছর নির্জনে অতিবাহিত করেন এবং মদিনা শরীফে—যার অধিবাসীর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—৬৮৬ হিজরীর জমাদিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।
আমার মরহুম পিতার সাইয়্যেদ আবু আন-নসর মুহাম্মদ ইবনে আবিল খায়ের মুহাম্মদ ইবনে ফাহাদ আল-হাশিমী—আল্লাহ তাআলা তাঁর কবরকে শান্তিময় করুন এবং তাঁর নেক আমলের সওয়াবের মাধ্যমে তাঁর ঠিকানায় পৌঁছে দিন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মৌখিকভাবে এবং লিখিতভাবে ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ আল-হানাফী থেকে যে, হাফেজ আবুল ইয়ামান আবদুস সামাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমি শায়খ আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে আবিল কাসিম আস-সুলামী এবং অন্যদের কাছে কায়রোতে পড়েছি, এবং আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মাকদিসী—যিনি বাইতুল মাকদিসের সাহেবুল বাদওয়ী নামে পরিচিত—তাঁর কাছেও পড়েছি। আর আমি উচ্চ সনদে খতিব আবু বকর ইবনুল হাসান আল-আরমাভী১-এর কাছে পড়েছি। আমি তাঁকে বললাম: খতিব আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম আল-বাকরী কি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন? তিনি বললেন: আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-হুসাইনী এবং আবুল ফজল আব্দুর রহীম ইবনে ইউসুফ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাওসিলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা বলেন: আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মামার আদ-দারকায়যী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আল-মাওসিলী বলেন—এমতাবস্থায় যে আমি উপস্থিত ছিলাম—: আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আশ-শাইবানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু তলাব মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে গায়লান আল-বাযযার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইবরাহীম আশ-শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ—যিনি ইবনে ইদরীস—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: ইয়াযীদ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
قال: أخبرنا محمد بن عمرو عن أبي سلمة عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي -صلي الله عليه وسلم- قال: "ل اتشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد مسجدي والمسجد الحرام والمسجد الأقصى" 1 حديث صحيح اتفق الشيخان على إخراجه في صحيحيهما ووقع لنا عاليًا ولله الحمد.
ابن قريش إسماعيل بن إبراهيم بن عبد الرحمن المخرومي المصري تاج الدين أبو الطاهر الإمام العالم الجليل:
كان ذا معرفة وفهم روى عن ابن المُقير2 وجعفر الهمداني وطبقتهما، وصفه الحافظ ابن سيد الناس في أجوبته لابن أيبك لما سأله عن أحفظ من لقي فقال: وممن روينا عنه من أهل هذا الشأن ممن سمع وكتب وجدّ في الطلب، ثم قال: كان ممن حصل الرواية والدراية والإسناد واجتهد في ذلك أي اجتهاد! كتب الكثير بخطة ولا بأس بمقابلته وضبطه وله معرفة بهذا الشأن وتقدم فيه على بعض الأقران، إلى أن قال: كان هذا الشيخ ممن قنع بالكفاف وأنف عن تناول الصدقات والأوقاف له بغلة ملكه غني عن التقلب في طلب الرزق والعنا، لم يزل حلف بيته يفيد السنة والأثر إلى أن مضي لسبيله مشكور السعي محمود الأثر، انتهى -وذلك فجأة- في السابع والعشرين من شهر رجب سنة 694 ودفن بالقرافة -رحمه الله تعالى.
ومات في هذه السنة غير من تقدم في ترجمة المحب الطبري الفقيه المحقق الجمال أبو العباس أحمد بن عبد الله الدمشقي في شهر رمضان وله قريب من ستين سنة وكان فقيهًا ذكيًّا مناظرًا بصيرًا بالطب، وأبو القاسم عبد الصمد ابن الخطيب عماد الدين عبد الكريم ابن القاضي جمال الدين بن الحرستاني3 في شهر ربيع الآخر عن خمس وسبعين سنة، وشيخ الأطباء خطيب النيرب مجد الدين أبو محمد عبد الوهاب بن أحمد بن سحنون الحنفي في ذي القعدة، وبمصر أبو الحسن علي بن عثمان بن يحيى الصنهاجي اللمتوني4 الشواء أمين السجن في ذي القعدة وقد جاوز التسعين، وأبو الخطاب محفوظ بن عمر بن أبي بكر بن خليفة بن الحامض5 البغدادي التاجر في يوم الأضحى، وبمكة قاضيها جمال الدين محمد
--------------------------------------------
তিনি বললেন: মুহাম্মদ বিন আমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) সফর করা যাবে না: আমার এই মসজিদ (মসজিদে নববী), মসজিদুল হারাম এবং মসজিদুল আকসা।" ১ এটি একটি সহীহ হাদীস, শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) তাদের সহীহদ্বয়ে এটি বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং এটি আমাদের নিকট উচ্চতর সনদে পৌঁছেছে, আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা।
ইবনে কুরাইশ ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন আবদুর রহমান আল-মাখজুমী আল-মিসরী তাজউদ্দিন আবু তাহের, মহান আলিম ও ইমাম:
তিনি গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী ছিলেন। তিনি ইবনুল মুকাইর ২ এবং জাফর আল-হামদানী ও তাদের সমসাময়িকদের থেকে বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনু সাইয়্যিদিন নাস ইবনু আইবাকের প্রশ্নের জবাবে তাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তিনি যতজনের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন তাদের মধ্যে সর্বাধিক মুখস্থ শক্তির অধিকারী কে? তখন তিনি তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন: যাদের থেকে আমরা বর্ণনা করেছি এবং যারা এই শাস্ত্রের (হাদীসের) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা শুনেছেন, লিখেছেন এবং জ্ঞান অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম করেছেন তিনি তাদের অন্যতম। এরপর তিনি বলেন: তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা বর্ণনা, শাস্ত্রীয় জ্ঞান এবং ইসনাদ হাসিল করেছেন এবং এই পথে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি নিজ হাতে প্রচুর লিখেছেন এবং তাঁর লিপির মুকাবিলা (মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখা) ও নির্ভুলতা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। এই শাস্ত্রে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল এবং তিনি সমসাময়িক অনেকের চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন। এরপর তিনি বলেন: এই শায়খ অল্পে তুষ্ট ছিলেন এবং দান-খয়রাত ও ওয়াকফের সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বিমুখ ছিলেন। তাঁর নিজস্ব একটি খচ্চর ছিল যা তাঁর জীবিকা ও কষ্টের জন্য ছোটাছুটি থেকে তাঁকে অমুখাপেক্ষী করে রেখেছিল। তিনি সর্বদা তাঁর ঘরে সুন্নাহ ও আছারের শিক্ষা দিয়ে যেতেন, যতক্ষণ না তিনি প্রশংসিত ও স্মরণীয় অবস্থায় ইহলোক ত্যাগ করেন। এটি হঠাৎ করেই ঘটেছিল—৬৯৪ হিজরির ২৭শে রজব মাসে। তাঁকে কারাফায় দাফন করা হয়—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।
এই বছর মুহিব আত-তাবারীর জীবনীতে যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তারা ছাড়াও যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তারা হলেন: মুহাক্কিক ফকিহ জামাল আবুল আব্বাস আহমদ বিন আবদুল্লাহ আদ-দিমাশকি রমজান মাসে, তাঁর বয়স ছিল ষাট বছরের কাছাকাছি। তিনি একজন বুদ্ধিমান ফকিহ, তার্কিক এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন। আরও মৃত্যুবরণ করেছেন আবু কাসেম আবদুল সামাদ ইবনুল খতিব ইমাদুদ্দীন আবদুল কারীম ইবনুল কাজী জামালুদ্দীন বিন আল-হারাসতানী ৩ রবিউল আখের মাসে পঁচাত্তর বছর বয়সে। চিকিৎসকদের শায়খ নাইরাবের খতিব মাজদুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব বিন আহমদ বিন সাহনুন আল-হানাফি জিলকদ মাসে। মিসরে মৃত্যুবরণ করেছেন আবুল হাসান আলী বিন উসমান বিন ইয়াহইয়া আস-সানহাজী আল-লামতুনি ৪ আশ-শাওয়া, যিনি কারাগারের আমীন ছিলেন, জিলকদ মাসে এবং তাঁর বয়স নব্বই পার হয়েছিল। আবু الخطাব (আল-খাত্তাব) মাহফুজ বিন উমর বিন আবি বকর বিন খলিফা বিন আল-হামিজ ৫ আল-বাগদাদী নামক বণিক ঈদুল আজহার দিন। আর মক্কায় মৃত্যুবরণ করেছেন সেখানকার কাজী জামালুদ্দীন মুহাম্মদ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
ابن الحافظ محب الدين أحمد بن عبد الله بن محمد بن أبي بكر بن محمد بن إبراهيم الطبري الشافعي، وبنابلس قاضيها جمال الدين محمد بن سالم بن يوسف بن صاعد القرشي المقدسي الشافعي في شهر ربيع الآخر وله أربع وسبعون سنة، وبحماة الصاحب جمال الدين أبو غانم محمد بن الصاحب كمال الدين عمر بن أحمد بن العقيلي الكاتب الحلبي في أول أيام التشريق عن ستين سنة1، وباليمن ملكها المظفر يوسف بن المنصور إلياس بن محمد بن سعيد الرسعني الحنبلي -رحمه الله تعالى.
الفاروثي أحمد بن إبراهيم بن عمر بن الفرج الواسطي الشافعي المقري الصوفي الإمام العلامة شيخ العراق عز الدين أبو العباس:
ولد بفاروث2 في سادس عشر ذي القعدة سنة أربع عشرة وسبعمائة وكان إماما عالما متقنا متضلعا من العلوم والآداب حسن التربية للمريدين، قرأ القرآن على أصحاب ابن الباقلاني وروى عن عمر بن كرم وأبي حفص عمر بن محمد البكري السهروردي ولبس منه الخرقة ومن أبيه وطبقتهما وعن عدة من أصحاب أبي الفتح بن البطي وأبي الوقت وأمثالهما كالإمام أبي طالب عبد الرحمن بن محمد بن عبد السميع الهاشمي وأبي القاسم علي بن أبي الفرج بن الجوزي وأبي الحسن علي بن أبي الفرج بن معالي بن كُبَّة3 البصري وأبي محمد الأنجب ابن أبي السعادات الحمامي وأبي طالب عبد اللطيف بن محمد بن علي بن القبيطي وأبي الخير كاتب يحيى بن سليمان بن أبي البركات الصواف وزهرة بنت محمد بن أحمد بن حاضر، جاور بمكة مدة ثم انتقل منها في سنة إحدى وتسعين إلى دمشق فروى بها الكثير وأقرأ القراآت وولي بها الخطابة بالجامع الأموي مدة ثم صرف عنها فسافر مع الحاج ودخل العراق وأجاز له جمع منهم الشريف أبو طالب عبد الرحمن بن محمد بن عبد السميع الهاشمي وأبو الفضل محمد بن الحسن بن السباك4 وأبو محمد الحسين بن علي بن رئيس الرؤساء وأبو منصور سعيد بن محمد بن تاشين، ذكره الحافظ أبو الفتح محمد بن سيد الناس في من لقيه من الحفاظ فيما أجاب به ابن أبيك قال: ثم دخلت دمشق في حدود سنة تسعين وستمائة فألفيت بها الشيخ الإمام شيخ المشايخ ومن له في كل فضل اليد الطولى والقدم الراسخ، إلى أن قال: كان ممن قرأ القرآن بالحروف وازدحم الناس على القراءة عليه والفوز بما لديه وطلب الحديث قديما ولم يزل لذلك مديما وللسنة النبوية
--------------------------------------------
হাফেজ মুহিব্বুদ্দীন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম তাবারী শাফেয়ীর পুত্র; এবং নাবলুসে তাঁর কাজী জামালুদ্দীন মুহাম্মদ বিন সালিম বিন ইউসুফ বিন সায়িদ কুরাশি মাকদিসি শাফেয়ী রবিউস সানি মাসে চুয়াত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন; এবং হামাতে আস-সাহিব জামালুদ্দীন আবু গানিম মুহাম্মদ বিন আস-সাহিব কামালুদ্দীন উমর বিন আহমদ বিন আল-আকিলি আল-কাতিব আল-হালাবি তাশরিকের প্রথম দিনগুলোতে ষাট বছর বয়সে ১; এবং ইয়ামেনে তাঁর বাদশাহ আল-মুজাফফর ইউসুফ বিন আল-মানসুর ইলিয়াস বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ আর-রাসাআনি আল-হাম্বলি - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
আল-ফারুসি আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন উমর বিন আল-ফারজ আল-ওয়াসিতি আল-শাফেয়ী আল-মুকারি আস-সুফি ইমাম আল্লামা ইরাকের শায়খ ইজ্জুদ্দীন আবুল আব্বাস:
তিনি ৭১৪ হিজরির ১৬ই জিলকদ তারিখে ফারুসে ২ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, নিখুঁত জ্ঞানসম্পন্ন, বিভিন্ন বিজ্ঞান ও সাহিত্যে পারদর্শী এবং মুরিদদের উত্তম লালন-পালনকারী। তিনি ইবনুল বাকিল্লানির অনুসারীদের নিকট কুরআন পাঠ করেন এবং উমর বিন কারাম ও আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ আল-বাকরি আস-সুহরাওয়ার্দীর নিকট থেকে বর্ণনা করেন এবং তাঁর থেকে ও তাঁর পিতা এবং তাঁদের সমসাময়িকদের থেকে খিরকা পরিধান করেন। তিনি আবুল ফাতহ বিন আল-বাত্তি, আবুল ওয়াকত এবং তাঁদের মতো আরও অনেকের শিষ্যদের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমন ইমাম আবু তালিব আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুস সামি আল-হাশিমি, আবু আল-কাসিম আলী বিন আবি আল-ফারজ বিন আল-জাওযি, আবু আল-হাসান আলী বিন আবি আল-ফারজ বিন মাআলি বিন কুবা ৩ আল-বাসরি, আবু মুহাম্মদ আল-আনজাব বিন আবি আস-সাআদাত আল-হাম্মামি, আবু তালিব আব্দুল লতিফ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-কুবেতি, আবু আল-খায়ের—যিনি ইয়াহইয়া বিন সুলাইমান বিন আবি আল-বারাকাত আস-সওয়াফ এর লেখক ছিলেন—এবং জাহরা বিনতে মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাদির। তিনি কিছুকাল মক্কায় অবস্থান করেন, অতঃপর ৬৯১ হিজরিতে সেখান থেকে দামেস্কে চলে আসেন। সেখানে তিনি প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেন এবং কিরাত শিক্ষা দেন। তিনি এক সময় উমাইয়া জামে মসজিদে খতিবের দায়িত্ব পালন করেন, অতঃপর সেখান থেকে অব্যাহতি নিয়ে হজের কাফেলার সাথে সফর করেন এবং ইরাকে প্রবেশ করেন। একদল আলেম তাঁকে ইজাজত প্রদান করেন, যাদের মধ্যে শরিফ আবু তালিব আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুস সামি আল-হাশিমি, আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আস-সাব্বাক ৪, আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন বিন আলী বিন রাইসুল রুয়াসা এবং আবু মনসুর সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন তাশিন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। হাফেজ আবু আল-ফাতহ মুহাম্মদ বিন সাইয়্যিদুন নাস তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করা হাফেজদের বর্ণনায় ইবনে আবিকের প্রশ্নের উত্তরে তাঁকে উল্লেখ করে বলেন: "অতঃপর আমি ৬৯০ হিজরির দিকে দামেস্কে প্রবেশ করি এবং সেখানে শায়খ, ইমাম, শায়খুল মাশায়েখকে দেখতে পাই, যাঁর প্রতিটি ফজিলতের ক্ষেত্রে সুদীর্ঘ হাত এবং সুদৃঢ় পা রয়েছে।" তিনি আরও বলেন: "তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা বিশুদ্ধ উচ্চারণে কুরআন পাঠ করতেন এবং তাঁর নিকট কিরাত শিখতে ও তাঁর জ্ঞান থেকে ধন্য হতে মানুষের ভিড় লেগে থাকতো। তিনি প্রাচীনকাল থেকেই হাদিস অন্বেষণ করতেন এবং সর্বদা এর ওপর ও সুন্নাহর ওপর অবিচল ছিলেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٦١)
خديمًا حتى لقد سمعت بقراءته بدمشق على ابن مؤمن وابن الواسطي قطعة كبيرة من المعجم الكبير لأبي القاسم الطبراني وربما قرأت عليه وعلى ابن الواسطي شيئا مما اشتركا فيه من الروايات العراقيات عن عمر بن كرم والسهروردي وأمثالهما ثم قال: ولم يرزق في سماعه القديم حصولًا على الغرض ولا وصولًا إلى العالي بطريق العرض ومع ذلك فكانت عنده فوائد غريبة ومرويات من العوالي كثيرة، إلى أن قال: وكان في التذكير مقدما وبالمواعظ الحسنة مُعلِّمًا تنسلي1 إليه معاني الأدب في مواعظة وغيرها من كل حدب، سجية عراقية تمازج النسيم وتعطر أسحارها من أشجارها على كل شميم يرتجلها كيف يشاء ولا يؤجل الأشياء، ناولته يومًا استدعاء إجازة ليكتب عليه فكتب مرتجلًا:
أجزت لهم رواية كل شيء
… سماعا كان لي أو مستجازا
وما نُوْوِلْته أيضًا إذا ما
… توخوا في روايته احترازا
وما قد قلته نظما ونثرًا
… فقد أضحى الجميع لهم مجازا
وكان -رحمه الله تعالى- كبير الإيثار لا يبقى معه درهم ولا دينار، بلغني أن تاجرًا يعرف بابن السويقي كان يبعث إليه كل عام ألف دينار فيفرقها في أيسر زمان ينفقها قبل أن تستقر في الفقراء والإخوان، إلى أن قال: ولم يزل على منهاج ليس له من هاج حتى مضى لسبيله وقضى -ولم يترك مثله في جيله- وذلك في مستهل ذي الحجة سنة أربع وتسعين وستمائة بواسط القصب من أرض العراق -رحمه الله تعالى.
أخبرنا الشيخ المسند بدر الدين أبو عبد الله محمد بن حسن بن علي القرشي وشافهتني المسندة أم الخير رقية بنت يحيى بن عبد السلام بطابة2 أن الحافظ أبا القاسم محمد بن محمد بن محمد أباح لهما قال: أخبرنا الإمام أبو العباس أحمد بن إبراهيم بن عمر الواسطي بقراءتي عليه قال: أخبرنا الإمام أبو حفص عمر بن محمد السهروردي وجماعة سماعا وأبو الفضل محمد بن محمد بن الحسن السباك وغيره إجازة ح وشافهنا عاليًا بدرجة المعمر مسند الآفاق إبراهيم بن محمد أبو إسحاق عن أحمد بن أبي طالب3 سماعًا قال:
--------------------------------------------
একজন খাদেম হিসেবে, এমনকি আমি দামেস্কে ইবনে মুমিন এবং ইবনে ওয়াসিতির নিকট তাঁর পাঠে আবুল কাসিম আত-তাবারানির 'আল-মু'জাম আল-কবীর'-এর একটি বড় অংশ শুনেছি। মাঝে মাঝে আমি তাঁর নিকট এবং ইবনে ওয়াসিতির নিকট এমন কিছু পড়েছি যা তাঁরা উভয়ে ওমর ইবনে কারাম, আস-সুহরাওয়ার্দী এবং তাঁদের মতো অন্যদের থেকে ইরাকি বর্ণনাসমূহ বর্ণনায় অংশীদার ছিলেন। অতঃপর তিনি বলেন: তাঁর প্রাচীন শ্রবণে (সামা') তিনি উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেননি এবং আরয (পেশ করার) পদ্ধতিতে উচ্চতর সনদে পৌঁছাতে পারেননি। তা সত্ত্বেও তাঁর কাছে অদ্ভুত অনেক ফায়দা (জ্ঞানগর্ভ বিষয়) এবং প্রচুর পরিমাণে উচ্চ সনদের বর্ণনা ছিল। এরপর তিনি বলেন: তিনি নসিহত করার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য ছিলেন এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে শিক্ষা দানকারী ছিলেন। তাঁর উপদেশ ও অন্যান্য বিষয়ে আদবের অর্থসমূহ প্রতিটি উচ্চভূমি থেকে তাঁর দিকে দ্রুত ধাবিত হতো (১)। এটি ছিল ইরাকি স্বভাব যা স্নিগ্ধ বাতাসের সাথে মিশে যেত এবং তাঁর সুগন্ধ তাঁর গাছপালা থেকে প্রতিটি ঘ্রাণে শেষ রাতকে সুবাসিত করত। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো উপস্থাপন করতেন এবং কোনো কিছু বিলম্বিত করতেন না। একদিন আমি তাঁকে একটি ইজাজতের আবেদনপত্র প্রদান করলাম যাতে তিনি তাতে কিছু লেখেন, তখন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে লিখলেন:
আমি তাদের জন্য প্রতিটি বিষয় বর্ণনা করার অনুমতি প্রদান করলাম … যা আমি শ্রবণ করেছি অথবা যার ইজাজত আমি প্রাপ্ত হয়েছি।
এবং যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে তাও, যদি তারা … তা বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করে।
এবং আমি কবিতা বা গদ্যে যা কিছু বলেছি … তার সবকিছুই এখন তাদের জন্য অনুমোদিত (ইজাজতপ্রাপ্ত) হয়ে গেছে।
তিনি —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর দয়া করুন— অত্যন্ত ত্যাগী ছিলেন, তাঁর কাছে কোনো দিরহাম বা দিনার অবশিষ্ট থাকত না। আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, ইবনে আস-সুয়াইকি নামে পরিচিত একজন ব্যবসায়ী প্রতি বছর তাঁর কাছে এক হাজার দিনার পাঠাতেন, যা তিনি অতি অল্প সময়ে বিলিয়ে দিতেন; দরিদ্র ও ভাইদের কাছে থিতু হওয়ার আগেই তিনি তা খরচ করে ফেলতেন। এরপর তিনি বলেন: তিনি একটি সুনির্দিষ্ট পথে অবিচল ছিলেন যাতে কোনো বিচ্যুতি ছিল না, যতক্ষণ না তিনি তাঁর পথে চলে গেলেন এবং ইন্তেকাল করলেন —আর তিনি তাঁর প্রজন্মে নিজের মতো কাউকে রেখে যাননি— এবং তা ছিল ইরাকের ওয়াসিতুল কাসাব অঞ্চলে ৬৯৪ হিজরি সনের জিলহজ মাসের শুরুতে —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর দয়া করুন।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খুল মুসনিদ বদর উদ্দিন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে আলি আল-কুরাশি এবং মুসনিদা উম্মুল খায়ের রুকাইয়া বিনতে ইয়াহইয়া ইবনে আবদুস সালাম তাবাহ-তে (২) আমাকে সরাসরি সংবাদ দিয়েছেন যে, হাফেজ আবুল কাসিম মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ তাঁদের উভয়কে অনুমতি দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে ওমর আল-ওয়াসিতি তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু حفص ওমর ইবনে মুহাম্মদ আস-সুহরাওয়ার্দি এবং একটি জামাত শ্রবণের মাধ্যমে, এবং আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আস-সাব্বাক ও অন্যরা ইজাজতের মাধ্যমে। (হা) এবং আমাদের উচ্চ সনদে সরাসরি সংবাদ দিয়েছেন দীর্ঘজীবী দিগন্তবিখ্যাত মুসনিদ ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ আবু ইসহাক, তিনি আহমদ ইবনে আবি তালিব (৩) থেকে শ্রবণের মাধ্যমে, তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٦٢)
أخبرنا ناصر بن مسعود بن قطلو وعدة أذنا أخبرنا أبو الفتح محمد بن عبد الباقي بن البطي قال: أخبرنا أبو عبد الله مالك بن أحمد بن علي البانياسي قال: أخبرنا أبو الحسن أحمد بن محمد بن موسى بن الصلت المحبر1 قال: أخبرنا أبو إسحاق إبراهيم بن عبد الصمد بن موسى بن محمد بن إبراهيم بن محمد بن علي بن عبد الله بن العباس الهاشمي قال: حدثنا أبو سعيد الأشج قال: حدثنا أبو خالد عن يزيد بن سنان عن أبي المنذر عن عطاء بن أبي رباح عن أبي سعيد رضي الله عنه قال: أحبوا المساكين؛ فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في دعائه: "اللهم أحيني مسكينًا وأمتني مسكينًا واحشرني في زمرة المساكين" أخرجه ابن ماجه في الزهد من سننه عن أبي سعيد الأشج وأبي بكر كليهما عن أبي خالد كما سقنا فوقع لنا موافقة له وبدلًا عاليًا ولله تعالى الحمد والمنة.
عز الدين الحسيني نقيب الأشراف أحمد بن محمد بن عبد الرحمن الحسيني الحلبي ثم المصري عز الدين أبو القاسم الإمام الحافظ النسابة المفيد:
ولد في آخر ليلة العشرين من شوال سنة ست وثلاثين وستمائة وكان ذا فضل وأدب مؤرخًا حافظًا عني بهذا الشأن وبالغ فلقي عدة من أصحاب البوصيري وأكثر عنهم وروى عن فخر القضاة أحمد بن الجباب2، ذكره الذهبي في العبر فقال: الحافظ المؤرخ وقال ابن سيد الناس في أجوبته لمسائل ابن أبيك: السيد الإمام الحافظ النسابة ثم قال: ممن جمع بين التالد والطارف وتفرد من فنون هذا الشأن بمعارف وردت بحره وحاضرته في عنفوان الشبيبة غير مرة، سمع من فخر القضاة ابن الجباب2، إلى أن قال: وحدّث أيضًا عن أبيه وكان ذا قدر نبيه. سمع منه ابن الظاهري وغيره يعرف بتاج الشرعية ثم نال في صناعة الحديث من ذوي الطول حسن الحظ صادق القول ذيل على وفيات شيخه المنذري3 فأجاد وسبق إلى أمد الإحسان سبق الجواد.
--------------------------------------------
নাসির বিন মাসউদ বিন কাতলু এবং আরও অনেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যারা অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে আমাদের জানিয়েছেন যে, আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি বিন আল-বাত্তি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মালিক বিন আহমদ বিন আলী আল-বানিয়াসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবুল হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুসা বিন আস-সালত আল-মুহাব্বার (১) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন আব্দুস সামাদ বিন মুসা বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-আব্বাস আল-হাশেমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু সাঈদ আল-আশাজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু খালিদ ইয়াজিদ বিন সিনান থেকে, তিনি আবুল মুনজির থেকে, তিনি আতা বিন আবি রাবাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তোমরা মিসকিনদের ভালোবাসো; কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর দোয়ায় বলতে শুনেছি: "হে আল্লাহ! আমাকে মিসকিন অবস্থায় জীবিত রাখুন, মিসকিন অবস্থায় মৃত্যু দান করুন এবং মিসকিনদের দলের সাথে আমাকে হাশরে সমবেত করুন।" এটি ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানের যুহদ অধ্যায়ে আবু সাঈদ আল-আশাজ এবং আবু বকর—উভয়ের সূত্রে আবু খালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, যেভাবে আমরা উপরে উল্লেখ করেছি। ফলে এটি আমাদের জন্য তাঁর বর্ণনার সাথে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ (মুয়াফাকাত) এবং উচ্চ পর্যায়ের বিকল্প (বাদালুন আলিন) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ মহান আল্লাহরই।
ইজ্জুদ্দিন আল-হুসাইনি, নাকীবুল আশরাফ, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-হুসাইনি আল-হালাবি, অতঃপর আল-মিসরি; ইজ্জুদ্দিন আবুল কাসিম, ইমাম, হাফেজ, বংশলতিকা বিশেষজ্ঞ এবং উপকারী ব্যক্তিত্ব:
তিনি ৬৬৩ হিজরীর শাওয়াল মাসের বিশ তারিখের শেষ রাতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ফযিলত ও আদব সম্পন্ন একজন ইতিহাসবিদ এবং হাফেজ; তিনি এই শাস্ত্রের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন এবং এতে চরম উৎকর্ষ লাভ করেন। তিনি আল-বুসিরির বেশ কয়েকজন সঙ্গীর সাক্ষাত পান এবং তাঁদের থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেন। তিনি ফাখরুল কুদাত আহমদ বিন আল-জাব্বাব (২) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আয-যাহাবি 'আল-ইবার' গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি হাফেজ ও ইতিহাসবিদ। ইবনে সাইয়্যিদুন নাস, ইবনে আবিক-এর প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন: তিনি সাইয়্যিদ, ইমাম, হাফেজ ও বংশলতিকা বিশেষজ্ঞ। অতঃপর তিনি বলেন: তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা প্রাচীন ও আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটিয়েছেন এবং এই শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় এমন সব জ্ঞানের অধিকারী হয়ে অনন্যতা অর্জন করেছেন, যার সমুদ্রে আমি অবগাহন করেছি এবং যৌবনের শুরুতে কয়েকবার তাঁর সান্নিধ্যে উপস্থিত হয়েছি। তিনি ফাখরুল কুদাত ইবনুল জাব্বাব (২) থেকে শ্রবণ করেছেন—পরবর্তীতে তিনি আরও বলেন: তিনি তাঁর পিতা থেকেও হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ছিলেন উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। ইবনুয যাহেরি এবং অন্যান্যরা তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি 'তাজুশ শারিয়াহ' উপাধিতে পরিচিত ছিলেন। হাদিস শাস্ত্রে পারদর্শীদের নিকট তিনি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান এবং সত্যবাদী হিসেবে গণ্য ছিলেন। তিনি তাঁর উস্তাদ আল-মুনজিরি (৩)-এর ওফাত বিষয়ক গ্রন্থের ওপর একটি পরিশিষ্ট (যাইল) রচনা করেন, যা অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে এবং এই মহান কার্যে তিনি অগ্রগামীর ভূমিকা পালন করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
ولم يزل للمذاكرة بالعلم متصديًا وللثقة والأمانة متحريًا ولي نقابة السادة الأشراف والنظر على مالهم من الأوقاف، وكان محمود الأثر مشكور الورد والصدر وكان بأنسابهم عالما وبضبط أحوالهم قائما، أخبرني والدي -رحمه الله تعالى- أنه كان جالسًا معهم حين ورد عليه المرسوم بهذه التولية فأنشده ارتجالًا على سبيل التهنئة:
أنصف الدهر غاية الإنصاف
… فهنيئا للسادة الأشراف
بإمام حوى فنون المعالي
… من بني هاشم بن عبد مناف
وذكر لي أبياتًا لم يبقَ على ذهني منها إلا ما أثبته. انتهى. مات في ليلة الثلاثاء السادس من المحرم سنة خمس وتسعين وستمائة وكان الجميع في الصلاة عليه متوافرين ودفن بقرافة سارية رحمه الله تعالى.
وفي هذه السنة توفي بالقاهرة في صفر شيخ الفقهاء الحنابلة العلامة الكبير نجم الدين أبو عبد الله أحمد بن حمدان بن شبيب بن حمدان الحراني الحنبلي عن اثنتين وتسعين سنة، والمقري أبو الفضائل أحمد بن عبد الرحمن بن محمد الحسيني الدمشقي خادم المصحف بمشهد علي بن الحسين في ذي الحجة، والشيخ أبو العباس أحمد بن عبد الهادي1 الصعيدي في أوائل السنة وله ثلاث وثلاثون سنة2، وتاج الدين الحسن بن أحمد بن بندار الهمذاني الصوفي مع الشريف عز الدين في الليلة التي توفي فيها وصلى عليه من الغد، وقاضي الحنابلة الإمام شرف الدين الحسن بن عبد الله ابن الشيخ أبي عمر بن قدامة المقدسي في شوال عن سبع وخمسين سنة، والزاهدة أم محمد زينب بنت علي بن أحمد بن فضل الواسطي في المحرم وقد ناطحت التسعين، والتقي شبيب بن حمدان3 بن شبيب بن حمدان الحراني الكحال الطبيب الشاعر، وسحنون العلامة أبو القاسم عبد
--------------------------------------------
তিনি ইলমি মুজাকারা বা জ্ঞানচর্চায় সর্বদা নিয়োজিত ছিলেন এবং বিশ্বস্ততা ও আমানতদারিতার বিষয়ে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। তিনি সম্রান্ত সাদাত তথা আশরাফদের নেতৃত্বের দায়িত্ব (নিকাবত) লাভ করেন এবং তাঁদের ওয়াকফকৃত সম্পদ তত্ত্বাবধান করেন। তাঁর কর্মধারা ছিল প্রশংসিত এবং তাঁর আগমন ও অবস্থান ছিল সমাদৃত। তিনি তাঁদের বংশলতিকা সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন এবং তাঁদের অবস্থা নিয়ন্ত্রণে পারদর্শী ছিলেন। আমার পিতা—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—আমাকে অবহিত করেছেন যে, যখন এই নিয়োগের ফরমান তাঁর কাছে পৌঁছল, তখন তিনি তাঁদের সাথেই বসা ছিলেন। তখন তিনি তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এই কবিতাটি পাঠ করেন:
যুগ চরম ইনসাফ প্রদর্শন করেছে
… অতএব সম্রান্ত সাদাতদের জন্য মোবারকবাদ
এমন একজন ইমামের মাধ্যমে যিনি শ্রেষ্ঠত্বের সকল শাখা ধারণ করেছেন
… যিনি বনু হাশিম বিন আব্দ মানাফের বংশধর
তিনি আমার কাছে আরও কিছু পঙক্তি উল্লেখ করেছিলেন, তবে আমার স্মৃতিতে কেবল সেটুকুই অবশিষ্ট আছে যা আমি এখানে লিপিবদ্ধ করেছি। সমাপ্ত। তিনি ৬৯৫ হিজরির ৬ই মহররম মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জানাজার নামাজে সর্বস্তরের মানুষ সমবেত হয়েছিলেন এবং তাঁকে সারিয়্যাহ কবরস্থানে দাফন করা হয়, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।
এই বছরেই সফর মাসে কায়রোতে হাম্বলি ফকিহদের শায়খ, প্রখ্যাত আল্লামা নাজমুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন হামদান বিন শাবিব বিন হামদান আল-হাররানি আল-হাম্বলি ৯২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। আরও ইন্তেকাল করেন ক্বারি আবুল ফাযায়েল আহমদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-হুসাইনি আদ-দিমাশকি, যিনি জিলহজ মাসে আলী বিন আল-হুসাইনের মাশহাদে (মাজারে) কুরআনের খাদেম ছিলেন। আরও ইন্তেকাল করেন শায়খ আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল হাদি আস-সাঈদী বছরের শুরুর দিকে, তাঁর বয়স হয়েছিল তেত্রিশ বছর। এবং তাজ উদ্দিন আল-হাসান বিন আহমদ বিন বুন্দার আল-হামাদানি আস-সুফি, শরীফ ইজ্জুদ্দিনের সাথে একই রাতে ইন্তেকাল করেন এবং পরের দিন তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয়। আরও ইন্তেকাল করেন হাম্বলিদের কাজি ইমাম শরাফুদ্দিন হাসান বিন আব্দুল্লাহ বিন শায়খ আবু ওমর বিন কুদামা আল-মাকদিসি শাওয়াল মাসে সাতান্ন বছর বয়সে। আরও ইন্তেকাল করেন পরহেজগার নারী উম্মে মুহাম্মদ জয়নব বিনতে আলী বিন আহমদ বিন ফযল আল-ওয়াসিতি মহররম মাসে, যাঁর বয়স নব্বইয়ের কোঠায় ছিল। এবং আত-তাকি শাবিব বিন হামদান বিন শাবিব বিন হামদান আল-হাররানি আল-কাহহাল, যিনি একাধারে চিকিৎসক ও কবি ছিলেন। এবং আল্লামা সাহনুন আবুল কাসিম আব্দুল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
الرحمن بن عبد الحليم بن عمران الأوسي الدكَّالي1 في رابع شوال وقد ناطح الثمانين، وقاضي القضاة تقي الدين عبد الرحمن بن علي بن أحمد بن القاضي الفاضل في شهر رجب مقارنًا للسبعين2، ومحيي الدين عبد الرحيم بن عبد المنعم بن الدميري المصري في المحرم عن تسعين سنة؛ وهو آخر أصحاب الحافظ علي بن المفضل وأبي طالب بن حديد بالسماع، والإمام رضي الدين عبد الله بن محمد بن نصر بن رزين3 في شهر رجب، والكمال أبو محمد عبد الله بن محمد بن نصر بن قوام بن وهب الرصافي ثم الدمشقي فجأة في ذي القعدة عن ثمانين سنة، والقاضي الجلال عبد المنعم بن أبي بكر بن أحمد الأنصاري الشافعي في شهر ربيع الآخر، والفقيه أبو عبد الله محمد بن عبد الرحمن بن سلطان التميمي الحنفي الإمام بمسجد البياطرة في شهر ربيع الأول عن ثلاث وثمانين سنة، والإمام تاج الدين محمد بن عبد السلام بن المطهر بن عبد الله بن أبي سعد بن أبي عصرون التميمي الشافعي وله خمس وثمانون سنة في شهر ربيع الأول، والشيخ شرف الدين محمد بن عبد الملك بن عمر اليونيني، والصاحب العلامة محيي الدين أبو عبد الله محمد بن يعقوب بن إبراهيم بن أسد بن النحاس الحلبي عن إحدى وثمانين سنة وشهرين في آخر السنة، وشيخ القراء والصوفية الموفق أبو عبد الله محمد بن أبي العلاء بن علي بن مبارك الأنصاري النصيبي الشافعي في ذي الحجة مقاربًا للتسعين، والشيخ شرف الدين محمود بن أحمد بن محمد المقري، والعلامة زين الدين أبو البركات المنجا بن عثمان بن أسعد بن المنجا التنوخي الدمشقي الحنبلي في شعبان وله أربع وستون سنة، والمحدث الوجيه موسى بن محمد المقري4 في جمادى الثانية، وأبو الفتوح نصر الله بن محمد بن
--------------------------------------------
আবদুর রহমান বিন আব্দুল হালিম বিন ইমরান আল-আওসি আদ-দুক্কালি ১, শাওয়ালের চার তারিখে, যখন তাঁর বয়স আশি ছুঁইছুঁই ছিল। এবং প্রধান বিচারপতি তাকিউদ্দীন আবদুর রহমান বিন আলী বিন আহমাদ বিন আল-কাদি আল-ফাদিল, রজব মাসে তাঁর বয়স সত্তরের কাছাকাছি ছিল ২। এবং মহিউদ্দিন আবদুর রহিম বিন আব্দুল মুনইম বিন আদ-দামিরি আল-মিসরি, মহররম মাসে নব্বই বছর বয়সে; তিনি শ্রবণের মাধ্যমে হাফেজ আলী বিন আল-মুফাদদাল এবং আবু তালিব বিন হাদিদ এর শেষ পর্যায়ের ছাত্র ছিলেন। এবং ইমাম রাজি উদ্দিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন নাসর বিন রাজিন ৩, রজব মাসে। এবং আল-কামাল আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন নাসর বিন কাওয়াম বিন ওয়াহাব আল-রুসাফি অতঃপর আদ-দিমাশকি, জিলকদ মাসে আশি বছর বয়সে আকস্মিকভাবে ইন্তেকাল করেন। এবং বিচারপতি জালাল আব্দুল মুনইম বিন আবু বকর বিন আহমাদ আল-আনসারি আশ-শাফিয়ি, রবিউস সানি মাসে। এবং ফকিহ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন সুলতান আল-তামিমি আল-হানাফি, বাইয়াতেরা মসজিদের ইমাম, রবিউল আউয়াল মাসে তিরাশি বছর বয়সে। এবং ইমাম তাজউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুস সালাম বিন আল-মুতাহার বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু সাদ বিন আবু আসরুন আল-তামিমি আশ-শাফিয়ি, ৮৫ বছর বয়সে রবিউল আউয়াল মাসে। এবং শাইখ শরফুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন উমর আল-ইউনিনি। এবং মান্যবর আল্লামা মহিউদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন ইবরাহিম বিন আসাদ বিন আন-নাহহাস আল-হালাবি, বছরের শেষ দিকে একাশি বছর দুই মাস বয়সে। এবং ক্বারিদের শাইখ ও সুফি আল-মুওয়াফফাক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবুল আলা বিন আলী বিন মুবারক আল-আনসারি আন-নাসিবি আশ-শাফিয়ি, জিলহজ মাসে তাঁর বয়স নব্বইয়ের কাছাকাছি ছিল। এবং শাইখ শরফুদ্দীন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-মুকরি। এবং আল্লামা জয়নুদ্দিন আবুল বারাকাত আল-মানজা বিন উসমান বিন আসআদ বিন আল-মানজা আত-তানুখি আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি, শাবান মাসে ৬৪ বছর বয়সে। এবং মুহাদ্দিস আল-ওয়াজিহ মুসা বিন মুহাম্মদ আল-মুকরি ৪, জামাদিউস সানি মাসে। এবং আবু ফুতুহ নাসরুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٦٥)
عباس1 بن حامد الصالحي السكاكيني في سلخ شوال عن تسع وسبعين سنة، والعلامة رضي الدين أبو بكر بن عمر بن علي بن سالم القسطنطيني 2 الشافعي في رابع عشر ذي الحجة وله ثمان وثمانون سنة، وأبو الغنائم بن محاسن بن أحمد بن مكارم الحراني عن إحدى وثمانين سنة في ذي الحجة.
أخبرنا الشيخ المعمر بدر الدين محمد بن حسن ب علي القرشي ويعرف بالفرسيسي وغيره كتابة عن الإمام الحافظ أبي الفتح محمد بن محمد اليعمري المصري قال: أخبرنا الإمامان الحافظان أبو القاسم أحمد بن محمد بن عبد الرحمن الحسيني وأبو العباس أحمد بن محمد الظاهري وغيرهما بقراءتي على كل منهم قالوا: أخبرنا فخر القضاة أبو الفضل أحمد بن محمد بن عبد العزيز بن الجباب ح وشافهنا عاليًا بدرجة إبراهيم بن محمد بن إسحاق الصوفي عن أحمد بن أبي طالب الحجار أن جعفر بن علي المقري أنبأه قالوا: أخبرنا الحافظ أبو طاهر أحمد بن محمد بن أحمد السلفي قال: جعفر أذنا إن لم يكن سماعًا قال: أخبرنا أبو مطيع محمد بن عبد الواحد بن عبد العزيز المصري بأصبهان قال: أخبرنا أبو سعيد الحسن بن علي بن سهيل الغزنوي قال: أخبرنا عبد الله بن محمد بن جعفر الهمداني قال: حدثنا محمد بن يحيى قال: حدثنا أبو سعيد الأشج قال: حدثنا أبو خالد الأحمر عن سعيد3 بن طارق عن ربعي عن حذيفة رضي الله عنه قال: "أتى الله عز وجل بعبد من عباد الله جل وعلا أتاه الله عز وجل مالًا فقال له: ماذا عملت في الدينا؟ قال: ولا يكتمون الله حديثًا. قال: يارب آتيتني مالًا فكنت أبايع الناس، وكان من خلقي الخوار 4 فكنت أيسر على الموسر وأنظر المعسر فقال الله عز وجل: أنا أحق به منك تجاوزوا عن عبدي" 5 فقال عقبة بن عمرو رضي الله عنه هكذا سمعناه من في رسول الله صلى الله عليه وسلم أخرجاه في الصحيح ولله الحمد.
--------------------------------------------
আব্বাস ইবনে হামিদ আস-সালিহি আস-সাকাকিনি শাওয়াল মাসের শেষে উনআশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। এবং আল্লামা রাদিউদ্দীন আবু বকর ইবনে উমর ইবনে আলি ইবনে সালিম আল-কুসান্তিনি আশ-শাফেয়ি যিলহজ মাসের চৌদ্দ তারিখে অষ্টাশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। এবং আবুল গানায়েম ইবনে মাহাসিন ইবনে আহমাদ ইবনে মাকারিম আল-হাররানি একাশি বছর বয়সে যিলহজ মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
প্রবীণ শায়খ বদরুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে আলি আল-কুরাশি, যিনি আল-ফারসিসি নামে পরিচিত, এবং অন্যান্যরা আমাদের লিখিতভাবে ইমাম হাফিজ আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ইয়ামুরি আল-মিসরি থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই ইমাম ও হাফিজ আবুল কাসিম আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-হুসাইনি এবং আবু আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আজ-জাহিরি এবং অন্যান্যরা তাদের প্রত্যেকের নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, তারা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফাখরুল কুদাত আবুল ফজল আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনুল জাব্বাব। (হাদিসের অন্য সূত্র): এবং আমরা সরাসরি উচ্চ সনদে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সুফি থেকে আহমাদ ইবনে আবি তালিব আল-হাজ্জার সূত্রে সংবাদ পেয়েছি যে, জাফর ইবনে আলি আল-মুকরি তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তারা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু তাহির আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আস-সিলাফি। জাফর বলেন: অনুমতি সাপেক্ষে যদি সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুতি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-মিসরি আসবাহানে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আল-হাসান ইবনে আলি ইবনে সুহাইল আল-গজনবি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-হামদানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আল-আশাজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু খালিদ আল-আহমার, সা'দ ইবনে তারিক থেকে, তিনি রিবয়ি থেকে, তিনি হুজাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে এক বান্দাকে উপস্থিত করা হলো যাকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ সম্পদ দান করেছিলেন। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি দুনিয়াতে কী আমল করেছ? সে বলল: তারা আল্লাহর নিকট কোনো কথা গোপন করতে পারবে না। সে বলল: হে আমার রব! আপনি আমাকে সম্পদ দিয়েছিলেন এবং আমি মানুষের সাথে কেনাবেচা করতাম। আমার স্বভাব ছিল সহজ করা, ফলে আমি বিত্তবানদের জন্য সহজ করতাম এবং অভাবগ্রস্তদের অবকাশ দিতাম। তখন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বললেন: তোমার চেয়ে আমিই এর (ক্ষমার) অধিক হকদার, তোমরা আমার এই বান্দাকে ক্ষমা করে দাও।" এরপর উকবা ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমরা এভাবেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুখ থেকে এটি শুনেছি। ইমাম বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
الغرّافي علي بن أحمد بن عبد المحسن بن أبي العباس الحسيني الإسكندري السيد الشريف الإمام العلامة تاج الدين أبو الحسن:
كان فقيهًا إمامًا عالمًا ثقة مولده بعد العشرين وستمائة1 روى عن جماعة منهم أبو الحسن القطيعي وابن عمار وابن مهروز، تفرد ورحل إليه، قال الحافظ أبو الفتح بن سيد الناس في أجوبته لمسائل ابن أيبك عن أحفظ من لقي في وصفه: ثم دخلت الإسكندرية وكتبت بها في رحلتي الأولى وما بعدها عن زهاء مائة شيخ لم يكن منهم من يشار بالعلم إليه ويعول في المعرفة عليه إلا السيد الشريف الإمام العالم المحدث المفيد تاج الدين، إلى أن قال: فإنه كان ذا معرفة وإتقان وتقدم بين الأقران له أسانيد عليه ونظر في الفقه وأهلية، كان أبوه تاجرًا فرحل به صغيرًا وأسمعه كثيرًا وحصل له علما غزيرا بنقله من بلد إلى بلد ويسمعه خيار ما وجد عن أعيان ذوي السن والسند لعمري كان أبوه من أهل الاتفاق في الانتقاء والمعرفة بتلك التي ترقيه أعلى مرتقى أسمعه ببغداد وحلب ودمشق ومصر والقاهرة والإسكندرية وغير ذلك من البلاد ولم يفته عوالي الإسناد وأفاد من كل ذلك خيار ما ألفاه هنالك، ثم روى هو بعد ذلك وكتب ولم يخلُ من بعض الطلب وإنما انتفع بإسناده الأول ولم يكن له على غيره معول، كان شيخًا بدار الحديث البهية2 على طريقة من الثقة والعدالة المرضية كتب عنه شيخنا أبو الفتح محمد بن علي القشيري وجماعة من الأكابر. انتهى. وكانت وفاته بالإسكندرية في السابع من ذي الحجة الحرام سنة أربع وسبعمائة وله ست وسبعون سنة.
وفيها مات بدمشق المعمر ركن الدين أحمد بن عبد المنعم بن أبي الغنائم الطاووسي كبير الصوفية في جماد الأولى وله مائة وسنتان وأشهر تسعة، وبالمدينة الشريفة -على الحالِّ بها أفضل الصلاة والسلام- سلطانها عز الدين بن جماز بن شيحة العلوي الحسيني وقد أضر وشاخ وبمصر عالمها العلم العراقي عبد الكريم بن علي الأنصاري المصري الشافعي المفسر وله نيف وثمانون سنة، وشيخ المغار3 الضيا عيسى بن أبي محمد عبد الرزاق المغاري في شهر ربيع
--------------------------------------------
আল-গুরাফি আলি বিন আহমাদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আবুল আব্বাস আল-হুসাইনি আল-ইসকান্দারি আস-সাইয়িদ আশ-শারিফ আল-ইমাম আল-আল্লামা তাজউদ্দীন আবুল হাসান:
তিনি ছিলেন একজন ফকিহ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। তাঁর জন্ম ছয়শত বিশ হিজরির পর। তিনি একদল আলেম থেকে বর্ণনা করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবুল হাসান আল-কাতিয়ি, ইবনু আম্মার এবং ইবনু মাহরুজ। তিনি একচ্ছত্র জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন এবং (ইলম অর্জনের জন্য) মানুষ তাঁর কাছে সফর করে আসতেন। হাফেজ আবুল ফাতহ ইবনু সাইয়িদিন নাস তাঁর বর্ণনায় ইবনে আইবাকের প্রশ্নের উত্তরে সবচেয়ে বড় হাফেজ সম্পর্কে বলেন: "এরপর আমি ইসকান্দারিয়াতে প্রবেশ করি এবং আমার প্রথম সফরে ও পরবর্তী সফরগুলোতে সেখানে প্রায় একশত শাইখের কাছে হাদিস লিখেছি। তাঁদের মধ্যে তাজউদ্দীন সাইয়িদ শারিফ ইমাম আলেম মুহাদ্দিস মুফিদ ব্যতীত এমন কেউ ছিলেন না যাঁকে ইলমের দিকে ইশারা করা যায় বা যাঁর জ্ঞানের ওপর নির্ভর করা যায়।" তিনি আরও বলেন: "তিনি ছিলেন গভীর জ্ঞান ও নিখুঁত দক্ষতার অধিকারী এবং সমসাময়িকদের মধ্যে অগ্রগণ্য। তাঁর উঁচু মানের সনদ ছিল এবং ফিকহশাস্ত্রে তাঁর গভীর দৃষ্টি ও যোগ্যতা ছিল। তাঁর পিতা ছিলেন একজন ব্যবসায়ী, যিনি তাঁকে ছোটবেলায় বিভিন্ন স্থানে নিয়ে সফর করিয়েছেন এবং প্রচুর হাদিস শুনিয়েছেন। এক শহর থেকে অন্য শহরে স্থানান্তরের মাধ্যমে তিনি তাঁকে অগাধ জ্ঞান অর্জন করিয়েছেন এবং বয়োজ্যেষ্ঠ ও উচ্চ সনদের অধিকারীদের কাছ থেকে যা পেয়েছেন তা তাঁকে শুনিয়েছেন। আমার জীবনের শপথ! তাঁর পিতা ছিলেন পছন্দের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিচক্ষণ এবং সেই বিষয়ের জ্ঞানের অধিকারী যা তাঁকে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। তিনি তাঁকে বাগদাদ, হালাব, দামেস্ক, মিসর, কায়রো, ইসকান্দারিয়া এবং অন্যান্য শহরে হাদিস শুনিয়েছেন। তিনি উঁচু স্তরের সনদ অর্জন থেকে বঞ্চিত হননি এবং প্রতিটি স্থান থেকে সেরা জ্ঞান আহরণ করেছেন। এরপর তিনি নিজে বর্ণনা করেছেন ও হাদিস লিখেছেন এবং জ্ঞান অর্জন থেকে বিরত থাকেননি। মূলত তিনি তাঁর পূর্ববর্তী সনদ দ্বারা উপকৃত হয়েছিলেন এবং অন্য কারও ওপর তাঁর নির্ভরতা ছিল না।" তিনি দারুল হাদিস আল-বাহিয়্যাহ-তে নির্ভরযোগ্যতা ও সন্তোষজনক ন্যায়পরায়ণতার সাথে শাইখ হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আমাদের শাইখ আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ বিন আলি আল-কুশাইরি এবং একদল বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে হাদিস লিখে নিয়েছেন। সমাপ্ত। তিনি ইসকান্দারিয়াতে সাতশত চার হিজরি সনের সাতই জিলহজ ইন্তেকাল করেন। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ছিয়াত্তর বছর।
এই বছরেই দামেস্কে দীর্ঘজীবী রুকনুদ্দীন আহমাদ বিন আব্দুল মুনইম বিন আবুল গানায়িম আত-তাউসি জুমাদাল উলা মাসে ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স ছিল একশত দুই বছর নয় মাস। এবং মদিনা শরিফে—যাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—তার সুলতান ইজ্জুদ্দীন বিন জাম্মাজ বিন শিহা আল-আলাওয়ি আল-হুসাইনি ইন্তেকাল করেন; তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন এবং বৃদ্ধ হয়েছিলেন। এবং মিসরে সেখানকার প্রখ্যাত আলেম ইরাকি বংশোদ্ভূত আব্দুল কারিম বিন আলি আল-আনসারি আল-মিসরি আশ-শাফিয়ি ইন্তেকাল করেন, যিনি মুফাসসির ছিলেন এবং তাঁর বয়স ছিল আশির কিছু বেশি। এবং মাগারের শাইখ জিয়া ঈসা বিন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল রাজ্জাক আল-মাগারি রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٦٧)
الثاني وله ثمانون سنة، وبقاسيون الحاج محمد بن أحمد بن علي بن أحمد بن فضل الواسطي وله ثمانون سنة، وبدمشق كبير الذهبيين التقي أبو عبد الله وأبو الفضل محمد بن يوسف بن يعقوب الإربلي ثم الدمشقي سقط من السلم فمات في غزة رمضان، ومحمد بن الباجربقي ضربت عنقه بكفريات شهد عليه جماعة بها عند المالكي فحكم بقتله وإن تاب1 وبقرية أم عبيدة المعمر شيخ البطايحية تاج الدين بن الرفاعي وله شهرة كبرة وسن عالية.
ابن رُشيْد بضم الراء 2 محمد بن عمر بن محمد بن عمر بن أويس 3 الفهري السبتي الإمام العلامة الحافظ عبد الله عالم الغرب:
سمع ببلده ثم ارتحل فسمع في رحلته بالإسكندرية من الشرف محمد بن عبد الخالق بن طرخان جامع الترمذي وبمصر من العز عبد العزيز بن عبد المنعم الحرّاني غالب البخاري بقراءته وباقيه سماعًا بقراءة غيره وغير ذلك عليه وعلى غيره، وبالشام من الفخر بن البخاري وعدة، وبالحجاز مكة والمدينة من جامعة، ذكره الذهبي في العبر فقال: عالم الغرب الحافظ العلامة. انتهى. توفي في المحرم سنة إحدى وعشرين وسبعمائة وله أربع وستون سنة.
وفي هذه السنة مات بدمشق المسن بهاء الدين إبراهيم بن محمد بن عبد الرحمن بن نوح المقدسي الدمشقي في جمادى الثانية عن اثنتين وثمانين سنة، وبمصر الرئيس تاج الدين أحمد بن علي بن شجاع العباسي4 في جمادى الأولى عن تسع وسبعين سنة، وبالفيوم الخطيب الرئيس مجد الدين أحمد بن أبي بكر الهمداني المالكي صهر الوزير تاج
--------------------------------------------
দ্বিতীয় ব্যক্তি, তার বয়স হয়েছিল আশি বছর। আর কাসিয়ুনে হাজি মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলী বিন আহমদ বিন ফজল আল-ওয়াসিতি, তার বয়স হয়েছিল আশি বছর। আর দামেশকে স্বর্ণকারদের প্রধান তাকী আবু আব্দুল্লাহ এবং আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-ইরবিলি অতঃপর আদ-দামেশকি; তিনি মই থেকে পড়ে গিয়ে রমজান মাসে ইন্তেকাল করেন। আর মুহাম্মদ বিন আল-বাজুরবিকি; তার গর্দান উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল এমন কিছু কুফরি কথার কারণে যা একদল লোক মালিকি বিচারকের নিকট তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিল। ফলে তার তাওবার সুযোগ না দিয়ে হত্যার ফয়সালা দেয়া হয়েছিল। আর উম্মে উবাইদাহ গ্রামে দীর্ঘজীবী বাতাইহিয়্যাহর শায়খ তাজউদ্দীন বিন আর-রিফায়ি; তার ব্যাপক খ্যাতি এবং অনেক বয়স ছিল।
ইবনে রুশায়দ (রা অক্ষরে পেশসহ): মুহাম্মদ বিন উমর বিন মুহাম্মদ বিন উমর বিন উওয়াইস আল-ফিহরি আস-সাবতি। ইমাম, আল্লামা, হাফেজ, আব্দুল্লাহ, পশ্চিমের (মাগরিবের) আলেম:
তিনি নিজ শহরে জ্ঞানার্জন করেন, অতঃপর সফর করেন। তিনি তার সফরে আলেকজান্দ্রিয়াতে শরফ মুহাম্মদ বিন আব্দুল খালিক বিন তারখান থেকে জামে তিরমিজি শ্রবণ করেন। মিশরে ইজ্জ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল মুনইম আল-হাররানি থেকে তার নিজ পাঠে বুখারির অধিকাংশ এবং অন্যদের পাঠে বাকি অংশ শ্রবণ করেন; তার নিকট এবং অন্যদের নিকটও অনুরূপ শ্রবণ করেন। সিরিয়ায় আল-ফখর বিন আল-বুখারি এবং আরও অনেকের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেন। হিজাজে মক্কা ও মদিনার বহু আলেমের থেকে শিক্ষা নেন। আয-যাহাবি ‘আল-ইবার’ গ্রন্থে তার কথা উল্লেখ করে বলেছেন: মাগরিবের আলেম, হাফেজ, আল্লামা। সমাপ্ত। তিনি সাতশ একুশ হিজরি সনের মহররম মাসে চৌষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
আর এই বছর দামেশকে বয়োবৃদ্ধ বাহাউদ্দীন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন নূহ আল-মাকদিসি আদ-দামেশকি জুমাদাল আখিরা মাসে বিরাশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। মিশরে প্রধান তাজউদ্দীন আহমদ বিন আলী বিন শুজা আল-আব্বাসি জুমাদাল উলা মাসে উনআশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ফাইয়ুমে খতিব ও প্রধান মাজদুদ্দীন আহমদ বিন আবু বকর আল-হামদানি আল-মালিকি, যিনি উজির তাজ এর জামাতা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٦٨)
الدين بن حنا، وبجَوْبر الشيخ مجد الدين إسماعيل بن الحسين بن أبي التائب الأنصاري الكاتب، وبتعز ملك اليمن المؤيد داود بن المظفر يوسف بن عمر التركماني في ذي الحجة، وبمكة الشيخ نجم الدين عبد الله بن محمد بن محمد الأصبهاني تلميذ الشيخ أبي العباس المرسي في جمادى الثانية وله ثمان وسبعون سنة، ومرو المعمر1 عبد الله بن أبي الطاهر بن محمد خاتمة من سمع من الحافظ الضياء، وبدمشق المسند علاء الدين علي بن يحيى بن علي بن الشاطبي الشروطي الدمشقي في رمضان وله خمس وثمانون سنة، وكبير الحجاب زين الدين كتبغا رأس النوبة، وبمصر المحدث تقي الدين محمد بن عبد الحميد بن محمد الهمداني المهلبي ثم المصري عن نيف وتسعين سنة، وبدمشق الشيخ شمس الدين محمد بن عثمان بن المشرق2 بن رزين الدمشقي الكتاني ثم الخشاب المعمار في ذي الحجة وله اثنتان وتسعون سنة، وشيخ الشعية وقاضيهم3 محمد بن أبي بكر بن أبي القاسم السكاكيني الهمداني ثم الدمشقي في صفر عن ست وثمانين سنة، وكان لديه فضائل ولم يكن يسب ولا يغلو وله نظم، وبالصالحية مسند الوقت سعد الدين يحيى4 بن محمد بن المقدسي في ذي الحجة عن تسعين سنة وأشهر، وتفرد بإجازة ابن الصلاح.
الرضي الطبري 5 إبراهيم بن محمد بن إبراهيم بن أبي بكر بن محمد بن إبراهيم
--------------------------------------------
ইবনে হান্না, এবং জওবারে শেখ মাজদ উদ্দীন ইসমাইল ইবনুল হুসাইন ইবনুল আবি আল-তাইব আল-আনসারী আল-কাতিব, এবং ইয়েমেনের তা'ইজ শহরে মালিক আল-মুআইয়াদ দাউদ ইবনুল মুজাফফর ইউসুফ ইবনে উমর আল-তুর্কমানী জিলহজ মাসে, এবং মক্কায় শেখ নাজম উদ্দীন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আসবাহানী, যিনি শেখ আবু আল-আব্বাস আল-মুরসীর ছাত্র, জমাদিউল আখিরাহ মাসে ৭৮ বছর বয়সে, এবং দীর্ঘজীবী আবদুল্লাহ ইবনে আবু আল-তহির ইবনে মুহাম্মদ যিনি হাফেজ আল-জিয়ার নিকট হতে শ্রবণকারীদের শেষ ব্যক্তি, এবং দামেস্কে মুসনাদ আলাউদ্দীন আলী ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনে আল-শাতিবি আল-শুরুতি আল-দিমাশকি রমজান মাসে ৮৫ বছর বয়সে, এবং প্রধান হাজিব জয়নুদ্দীন কিতবুগা রাস আন-নওবা, এবং মিশরে মুহাদ্দিস তকিউদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল হামিদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হামাদানী আল-মুহাল্লাবী পরবর্তীতে আল-মিসরী নব্বই বছরের কিছু বেশি বয়সে, এবং দামেস্কে শেখ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আল-মাশরিক ইবনে রাজীন আল-দিমাশকি আল-কাত্তানী পরবর্তীতে আল-খাশ্শাব আল-মি'মার জিলহজ মাসে ৯২ বছর বয়সে, এবং শিয়াদের শেখ ও তাদের বিচারক মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে আবু আল-কাসিম আল-সাকাকিনী আল-হামাদানী পরবর্তীতে আল-দিমাশকি সফর মাসে ৮৬ বছর বয়সে, তার কিছু পাণ্ডিত্য ছিল এবং তিনি গালি দিতেন না বা বাড়াবাড়ি করতেন না এবং তার কাব্য ছিল, এবং সালিহিয়ায় যুগের মুসনাদ সা'দ উদ্দীন ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মাকদিসী জিলহজ মাসে ৯০ বছর কয়েক মাস বয়সে, তিনি একাই ইবনে আল-সালাহ-এর ইজাজতপ্রাপ্ত ছিলেন।
আল-রাজি আল-তাবারী ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٦٩)
المكي الشافعي شيخ الإسلام رضي الدين أبو إسحاق وأبو أحمد مسند الحجاز وإمام الشافعية بالمسجد الحرام بمقام الخليل عليه الصلاة والسلام:
ولد في جمادى الثاينة أو في شهر رجب سنة ست وثلاثين وستمائة، وكان صاحب إخلاص وتأله وذا عناية بالحديث والفقه اختصر شرح السنة للبغوي وخرج لنفسه تساعيات حدث بها وبغالب مسموعاته وتفرد بأشياء سمع ابن الجميزي وشعيبًا الزعفراني وعبد الرحمن بن أبي حرمي والشرف المرسي وجماعة، وأجاز له عدة بمكة والغرباء والواردون إليها وغيرهم، منهم السخاوي وابن المقير وشيخ الحرم بشير التبريزي، روى عنه الحافظ صلاح الدين العلائي وفضّله على كل شيوخه فقال: لم أروِ عن أجل في عيني منه. انتهى. مات بمكة المشرفة بعد صلاة الظهر من نهار السبت الثامن من المحرم أو من شهر ربيع الأول سنة اثنتين وعشرين وسبعمائة ودفن في صبيحة الغد يوم الأحد بالمعلاة بعد أن صُلِّيَ عليه بعد صلاة الغداة بالمسجد الحرام -رحمه الله تعالى وإيانا.
وفي هذه السنة توفي الزاهد جلال الدين إبراهيم بن محمد بن أحمد بن القلانسي الدمشقي في ذي القعدة وله ثمانون سنة، والمعمرة أم محمد زينب بنت أحمد بن عمر بن سكر1 القدسية في ذي الحجة ولها أربع وتسعون سنة تفردت بأشياء من مسموعاتها كمسند عبد والدارمي والثقفيات، والرئيس زين الدين2 عبد الرحمن بن صالح بن رواحة بن علي بن الحسين بن مظفر بن نصر بن رواحة الأنصاري الحموي الشافعي عن أربعة وتسعين سنة وأشهر، وشمس الدين هبة الرحمن بن محمد بن عبد الرحمن بن نوح المقدسي في ذي القعدة عن بضع وخمسين سنة، والمحدث محيي الدين أبو القاسم عبد الرحمن بن مخلوف بن جماعة بن رجاء الربيعي المالكي في يوم التروية عن ثلاث وتسعين سنة، والصدر الكبير نصير الدين عبد الله ابن الوجيه محمد بن علي بن سويد التكريتي ثم الدمشقي وله نحو السبعين سنة 3، والزاهد المحدث عتيق بن عبد الرحمن بن أبي الفتح اليعميري4 في ذي القعدة، والشيخ الصالح أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عبد
--------------------------------------------
মক্কী শাফিঈ, শায়খুল ইসলাম রাযিউদ্দীন আবু ইসহাক ও আবু আহমাদ, হিজাযের মুসনিদ এবং মাকামে খলীলে (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) অবস্থিত মসজিদে হারামের শাফিঈ ইমাম:
তিনি ৬৩৬ হিজরীর জুমাদাল আখিরাহ অথবা রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একনিষ্ঠতা ও ইবাদতগুজারির অধিকারী এবং হাদীস ও ফিকহের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল। তিনি বাগাওয়ীর 'শারহুস সুন্নাহ' সংক্ষেপ করেছেন এবং নিজের জন্য 'তুসাঈয়্যাত' (নয় স্তর বিশিষ্ট উচ্চ সনদ) সংকলন করেছেন, যা তিনি এবং তাঁর অধিকাংশ শ্রবণকৃত হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি এমন কিছু বিষয়ে অনন্য ছিলেন যা তিনি ইবনুল জুমায়যী, শুআইব আয-যা'ফরানী, আবদুর রহমান বিন আবী হারামী, আশ-শারাফ আল-মুরসী এবং এক জামাত উলামার কাছ থেকে শ্রবণ করেছেন। মক্কায় এবং সেখানে আগন্তুক ও অন্যদের মধ্যে একদল তাকে ইজাযত প্রদান করেছেন, যাদের মধ্যে আস-সাখাভী, ইবনুল মুকায়্যার এবং হারামের শায়খ বশীর আত-তাবরীযী রয়েছেন। হাফেজ সালাহুদ্দীন আল-আলাঈ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁকে তাঁর সমস্ত শিক্ষকের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "আমার দৃষ্টিতে তাঁর চেয়ে মহিমান্বিত আর কারো থেকে আমি বর্ণনা করিনি।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। তিনি ৭২২ হিজরীর ৮ই মুহাররম অথবা রবিউল আউয়াল মাসের শনিবার জোহরের সালাতের পর মক্কা মুশাররাফায় ইন্তেকাল করেন এবং পরের দিন রবিবার সকালে মসজিদে হারামে ফজরের সালাতের পর জানাযা শেষে জান্নাতুল মুয়াল্লায় দাফন করা হয়—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর এবং আমাদের ওপর রহম করুন।
এবং এই বছর (৭২২ হি.) যুল-কাদাহ মাসে যাহিদ জালালুদ্দীন ইব্রাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আল-কালানিসী আদ-দিমাশকী ইন্তেকাল করেন, তাঁর বয়স হয়েছিল আশি বছর। যুল-হিজ্জাহ মাসে দীর্ঘায়ু প্রাপ্তা উম্মু মুহাম্মাদ যায়নাব বিনতে আহমাদ বিন উমর বিন সুকর১ আল-কুদসিয়্যাহ ইন্তেকাল করেন, তাঁর বয়স হয়েছিল চুরানব্বই বছর। তিনি তাঁর শ্রবণকৃত কিছু বিষয়ে অনন্য ছিলেন, যেমন মুসনাদে আবদ, দারেমী এবং সাকাফিয়্যাত। এবং রইস যয়নুদ্দীন২ আবদুর রহমান বিন সালেহ বিন রাওয়াহা বিন আলী বিন আল-হুসাইন বিন মুযাফফর বিন নাসর বিন রাওয়াহা আল-আনসারী আল-হামাবী আল-শাফিঈ চুরানব্বই বছর কয়েক মাস বয়সে। যুল-কাদাহ মাসে শামসুদ্দীন হিবাতুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান বিন নূহ আল-মাকদিসী পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সে। ইয়াওমুত তারবিয়াতে (৮ই যিলহজ) মুহাদ্দিস মুহিউদ্দীন আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন মাখলূফ বিন জামাআ বিন রাজা আর-রাবীঈ আল-মালিকী তিরানব্বই বছর বয়সে। আস-সাদরুল কাবীর নাসিরুদ্দীন আব্দুল্লাহ ইবনুল ওয়াজیه মুহাম্মাদ বিন আলী বিন সুয়াইদ আত-তিকরিতী অতঃপর আদ-দিমাশকী, তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় সত্তর বছর৩। যুল-কাদাহ মাসে যাহিদ মুহাদ্দিস আতীক বিন আবদুর রহমান বিন আবিল ফাতহ আল-ইয়া'মিরী৪। এবং শায়খ সালেহ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আবদ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٧٠)
الرحمن بن علي البجدي1 في صفر وله بضع وثمانون سنة، والسيد الإمام محيي الدين محمد بن عدنان بن حسن الحسيني الدمشقي وله ثلاث وتسعون سنة، والمسند أبو عبد الله محمد بن المحب علي2 بن أبي الفتح بن السنجاري الدمشقي الموقت في رمضان عن إحدى وثمانين سنة، والعلامة أبوعبد الله محمد بن محمد بن علي بن حريث العبدري البلنسي بمكة في جمادى الثانية وله إحدى وثمانون سنة، والمحدث مجد الدين محمد بن محمد بن علي الصيرفي سبط بن الحُبوبي3 في رمضان عن إحدى وستين سنة.
قرأت على الشيخين جمال الدين أبي عبد الله بن أبي بكر بن علي وشهاب الدين أحمد بن إبراهيم بن أحمد بن أبي نصر4 -شُهر كل منهما بالمرشدي- مجتمعَيْن بالمسجد الحرام والأختين الأصيلتين أم الحسن فاطمة وأم محمد علماء ابنتي الإمام أبي اليمن محمد بن أحمد بن إبراهيم الطبري مجتمعتين بمنزلهما بالسويقة بمكة قالوا: أخبرتنا الأختان الفاطمتان أم الحسن وأم الحسين ابنتا الإمام أحمد بن إبراهيم بن محمد بن إبراهيم الطبري مجتمعتين بمنزلهما بالسويقة بمكة قالوا: أخبرنا الطبري ح وشافهني سيدي والدي المرحوم أبو النصر محمد بن إبراهيم بن محمد بن إبراهيم ابن الهاشمي والحافظ أبو حامد محمد بن عبد الله بن ظهيرة المخزومي وغير واحد عن المعمر الفقيه أبي عبد الله محمد بن أحمد بن عبد الله بن محمد المعطي الأنصاري -قال ابن ظهيرة: سماعًا عليه بقراءتي وقال الآخرون: إجازة إن لم يكن سماعًا- والحافظ أبي محمد عبد الله بن محمد بن أبي بكر بن خليل العثماني والحاكم أبي العباس أحمد بن الرضي إبراهيم بن محمد بن إبراهيم الطبري والفقيه أبي عبد الله محمد بن سالم بن إبراهيم بن علي الحضرمي ثم المكي والقاضي تقي الدين أبي اليمن محمد بن أحمد بن قاسم بن عبد الرحمن الحرازي5 والضياء أبي الغنايم محمد بن عبد الله بن
--------------------------------------------
আবদুর রহমান ইবনে আলী আল-বাজদী ১ সফর মাসে [ইন্তেকাল করেন], তাঁর বয়স ছিল আশির সামান্য বেশি। এবং সাইয়িদ ইমাম মুহিউদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আদনান ইবনে হাসান আল-হুসাইনি আদ-দিমাশকি, তাঁর বয়স ছিল তিরানব্বই বছর। এবং আল-মুসনিদ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আল-মুহিব আলী ২ ইবনে আবিল ফাতহ ইবনে আস-সিনজারি আদ-দিমাশকি আল-মুওয়াক্কিত রমজান মাসে [ইন্তেকাল করেন], তাঁর বয়স ছিল একাশী বছর। এবং আল্লামা আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুরাইছ আল-আবদারি আল-বালানসি মক্কায় জমাদিউস সানি মাসে [ইন্তেকাল করেন], তাঁর বয়স ছিল একাশী বছর। এবং মুহাদ্দিস মাজদুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আস-সাইরাফি, সিবত ইবনুল হুবুবী ৩ রমজান মাসে [ইন্তেকাল করেন], তাঁর বয়স ছিল একষট্টি বছর।
আমি দুই শায়খ—জামালুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে আলী এবং শিহাবুদ্দীন আহমাদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আহমাদ ইবনে আবু নাসর ৪ (তাঁদের প্রত্যেকেই আল-মুরশিদি নামে প্রসিদ্ধ)—এর কাছে মাসজিদুল হারামে একত্রে পাঠ করেছি। এবং উচ্চবংশীয় দুই বোন উম্মুল হাসান ফাতিমা এবং উম্মু মুহাম্মদ উলামা—যাঁরা ইমাম আবু ইয়েমেন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাবারির দুই কন্যা—তাঁদের মক্কার সুওয়াইকাহতে অবস্থিত নিজ বাসভবনে একত্রে থাকাবস্থায় পাঠ করেছি। তাঁরা বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফাতিমা নামধারী দুই বোন উম্মুল হাসান ও উম্মুল হুসাইন—ইমাম আহমাদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাবারির দুই কন্যা—তাঁদের মক্কার সুওয়াইকাহর বাসভবনে একত্রে থাকাবস্থায়। তাঁরা বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আত-তাবারী (হ)। এবং আমাকে সরাসরি বর্ণনা করেছেন আমার সাইয়্যিদ পরম শ্রদ্ধেয় পিতা মরহুম আবু আন-নাসর মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল হাশেমি, এবং হাফেজ আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জুহাইরাহ আল-মাখযুমি এবং আরও অনেকে, দীর্ঘজীবী ফকিহ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-মু'তি আল-আনসারির পক্ষ থেকে। —ইবনে জুহাইরাহ বলেছেন: তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে সরাসরি শ্রবণ করেছি; আর অন্যরা বলেছেন: সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকলে ইজাজাত (অনুমতি) সূত্রে।— এবং হাফেজ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে খলিল আল-উসমানি, এবং আল-হাকিম আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আর-রাজি ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাবারী, এবং ফকিহ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে সালিম ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আলী আল-হাদরামি অতঃপর আল-মাক্কি, এবং কাজি তাকিউদ্দীন আবু ইয়েমেন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে কাসিম ইবনে আবদুর রহমান আল-হাররাযি ৫ এবং আদ-জিয়া আবুল গানায়িম মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٧١)
محمد بن أبي المكارم الحموي ثم المكي والعلامة ولي الله عفيف الدين أبي محمد عبد الله بن أسعد بن علي بن سليمان بن ملاح1 اليمني ثم المكي قالوا: أخبرنا الإمام الحافظ أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن إبراهيم الطبري قال: أخبرنا الشيخ صائن الدين أبو الحسن محمد بن الأنجب البغدادي -قراءة عليه وأنا أسمع- قال: أخبرنا الشيخ المعالي عبد المنعمم بن عبد الله بن محمد بن الفضل الصاعدي الفراوي2 إجازة قال: أخبرنا أبو بكر الشِيرُوي3 قال: أخبرنا أبو سعيد الصيرفي قال: حدثنا أبو العباس الأصم قال: حدثنا محمد بن هشام بن ملاس قال: حدثنا مروان بن معوية الفزاري قال: حدثنا حميد قال: قال أنس رضي الله عنه: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "انصر أخاك ظالمًا أو مظلومًا"، قيل: يا رسول الله كيف أنصره ظالمًا؟ قال: "تمنعه من الظلم فذلك نصرك إياه" 4.
وأخبرنا عاليًا عن هذا بدرجتين عشاري الإسناد المسند العالم أبو العباس أحمد بن أحمد بن محمد بن ناصر العقبي ثم المحلي5 بقراءتي عليه بها والخطيب أبو الفضل محمد بن أحمد بن ظهيرة المخزومي سماعًا عليه بمنزله بمكة المشرفة أن أبا علي حسن بن أحمد بن هلال الدقاق وأبا حفص عمر بن حسن بن مزيد المزي وأبا عبد الله محمد بن أحمد بن إبراهيم المقدسي فيما كتبوا لهما -زاد الثاني فقال: وجمعًا غيرهم- ح وأذن لي بعلو درجة تساعي الإسناد أبو الربيع سليمان بن خالد الإسكندري فيها قالوا: أنبأنا أبو الحسن علي بن أحمد بن عبد الواحد المقدسي قال شيخنا عمومًا: ح وكتب لنا الحافظ أبو الفضل عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن العراقي والمسند محمد بن محمد بن محمد الحنفي قالا: وشيخنا أبو الفضل بن ظهيرة أخبرنا أبو الحرم محمد بن محمد بن محمد القلانسي وأبو عبد الله محمد بن أبي القاسم بن إسماعيل الفارقي قال ابن ظهيرة في كتابهما:
--------------------------------------------
মুহাম্মদ বিন আবিল মাকারিম আল-হামাউয়ি অতঃপর আল-মাক্কি এবং আল্লামা ওয়ালিউল্লাহ আফিফুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আস'আদ বিন আলী বিন সুলায়মান বিন মাল্লাহ১ আল-ইয়ামানি অতঃপর আল-মাক্কি তারা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম হাফেজ আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আত-তাবারী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ সাঈনুদ্দীন আবু হাসান মুহাম্মদ বিন আল-আনজাব আল-বাগদাদী—তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে আর আমি শুনছিলাম—তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আল-মুয়ালি আব্দুল মুনঈম বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফাদল আস-সাঈদী আল-ফারাওয়ি২ ইজাজতসূত্রে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আশ-শিরুয়ি৩ বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আস-সাইরাফি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্বাস আল-আসাম্ম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন হিশাম বিন মলাস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মারওয়ান বিন মুয়াবিয়া আল-ফাজারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদ, তিনি বলেন: আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমার ভাইকে সাহায্য করো, সে অত্যাচারী হোক বা অত্যাচারিত।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! সে অত্যাচারী হলে আমি কীভাবে তাকে সাহায্য করব? তিনি বললেন: "তুমি তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখবে, আর এটাই হলো তাকে তোমার সাহায্য করা।" ৪।
এবং এর চেয়ে দুই স্তর উচ্চ সনদে দশ স্তরীয় ইসনাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসনিদ আলেম আবু আব্বাস আহমাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন নাসির আল-উকবি অতঃপর আল-মাহাল্লি৫ সেখানে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, এবং খতিব আবু ফাদল মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন জাহীরা আল-মাখজুমি তাঁর নিকট মক্কা মুশাররাফায় তাঁর বাসভবনে শ্রবণের মাধ্যমে যে, আবু আলী হাসান বিন আহমাদ বিন হিলাল আদ-দাক্কাক এবং আবু হাফস উমর বিন হাসান বিন মাজিদ আল-মিযযি এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন ইব্রাহিম আল-মাকদিসি তাদের দুইজনকে যা লিখেছিলেন তাতে—দ্বিতীয়জন বর্ধিত করে বলেছেন: এবং তাদের ছাড়া একদলকেও— (হা) এবং আমাকে নয় স্তরীয় উচ্চ সনদের অনুমতি দিয়েছেন আবু রাবি সুলায়মান বিন খালিদ আল-ইসকান্দারি, তারা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাসান আলী বিন আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি আমাদের শাইখ ব্যাপক অর্থে; (হা) এবং আমাদের নিকট লিখেছেন হাফেজ আবু ফাদল আব্দুর রহিম বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুর রহমান আল-ইরাকি এবং মুসনিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-হানাফি, তারা বলেন: এবং আমাদের শাইখ আবু ফাদল বিন জাহীরা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হারাম মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-কালানিসি এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবিল কাসিম বিন ইসমাইল আল-ফারিকি, ইবনে জাহীরা তাদের কিতাবে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٧٢)
قالا: أخبرتنا دار إقبال1 مونسة خاتون بنت أبي بكر بن أيوب قالت: وأبو الحسن المقدسي أنبأتنا أم هانئ عفيفة بنت أحمد بن عبد الله الفارقانية وأم حبيبة عائشة، زاد المقدسي فقال: وأخوها أبو عبد الله محمد أنبأ الحافظ معمر2 بن عبد الواحد بن الفاخر القرشي وأسعد بن محمد بن خلف العجلي وأبو القاسم عبد الواحد بن القاسم بن الفضل الصيدلاني، وزادت مونسة فقالت: وأسعد بن سعيد بن روح الفاخر وأحمد بن محمد بن أبي نصر قالوا: أخبرتنا أم الفضل فاطمة بنت عبد الله بن أحمد الجوزدانية قالت: أخبرنا أبو بكر محمد بن عبد الله بن ريذة قال: أخبرنا أبو القاسم سليمان بن أحمد بن أيوب الحافظ قال: حدثنا أبو مسلم الأنصاري3 عن حميد عن أنس رضي الله عنه قال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "انصر أخاك ظالمًا أو مظلومًا" فقلت: يا رسول الله أنصره مظلومًا فكيف أنصره ظالما؟! قال عليه الصلاة والسلام: "ترده عن الظلم؛ فإن ذلك نصرة منك له".
الدُّقوقي 4 محمود بن علي بن محمود بن مقبل بن سليمان بن داود البغدادي محدثها وحافظها وشيخ المستنصرية بها الإمام تقي الدين أبو الثناء:
ولد في بكرة يوم الاثنين السادس والعشرين من جمادى الأولى سنة ثلاث وستين وستمائة، سمع الكثير بإفادة والده ثم بنفسه غيرهم، روى عن عبد الصمد5 وابن أبي الدم وابن الساعي وغيرهم وكان مقدمًا على أقرانه فردًا في زمانه له المؤلفات الحسنة والتخاريج المفيدة واليد الطولى في الوعظ
--------------------------------------------
তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দার ইকবাল ১ মুনিসাহ খাতুন বিনতে আবু বকর বিন আইয়ুব এবং আবুল হাসান আল-মাকদিসি। তারা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উম্মে হানি আফিফাহ বিনতে আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ফারকানিয়্যাহ এবং উম্মে হাবিবা আয়িশা। আল-মাকদিসি অতিরিক্ত বর্ণনা করে বলেছেন: এবং তার ভাই আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ; তারা সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ মা’মার ২ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-ফাখির আল-কুরাশি, আসআদ বিন মুহাম্মাদ বিন খালাফ আল-ইজলি এবং আবুল কাসিম আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-কাসিম বিন আল-ফজল আস-সাইদালানিকে। মুনিসাহ আরও বাড়িয়ে বলেছেন: এবং আসআদ বিন সাঈদ বিন রুহ আল-ফাখির ও আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি নাসর। তারা সকলে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উম্মুল ফজল ফাতিমাহ বিনতে আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আল-জাওযদানিয়্যাহ। তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন রীযাহ। তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবুল কাসিম সুলাইমান বিন আহমাদ বিন আইয়ুব। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম আল-আনসারি ৩, হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমার ভাইকে সাহায্য করো, সে জালেম হোক কিংবা মজলুম।" আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! মজলুম হলে তো তাকে সাহায্য করব, কিন্তু জালেম হলে তাকে কীভাবে সাহায্য করব?!" তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বললেন: "তুমি তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখবে; আর এটাই হলো তোমার পক্ষ থেকে তাকে সাহায্য করা।"
আদ-দুকুকি ৪ মাহমুদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন মুকবিল বিন সুলাইমান বিন দাউদ আল-বাগদাদি; তিনি ছিলেন বাগদাদের মুহাদ্দিস, হাফেজ এবং সেখানকার মুসতানসিরিয়্যাহর শাইখ, ইমাম তাকিউদ্দিন আবুস সানা:
তিনি ৬৬৩ হিজরি সালের জুমাদাল উলা মাসের ২৬ তারিখ সোমবার ভোরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার পিতার দিকনির্দেশনায় এবং পরবর্তীতে স্বীয় প্রচেষ্টায় অন্যদের থেকে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি আব্দুস সামাদ ৫, ইবনুল আবিদ দাম, ইবনুস সায়ী এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তার সমসাময়িকদের মধ্যে অগ্রগণ্য ও নিজ যুগে অনন্য ছিলেন। তার চমৎকার গ্রন্থাবলি, উপকারী তাখরিজ (হাদিসের উৎস নির্ণয়) এবং ওয়াজ-নসিহতে বিশেষ পাণ্ডিত্য (দীর্ঘ হাত) ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٧٣)
والأدب والنظم الرائق والنثر الفائق وكان يجتمع عليه إذا قرأ الحديث خلق لا يحصون يبلغون ألوفًا وكان له جلاله عجيبة وإفادة للغاية. مات -رحمه الله تعالى- في يوم الاثنين العشرين من المحرم سنة ثلاث وثلاثين وسبعمائة ببغداد وكانت جنازته مشهودة حضرها الجم الغفير وحملت على الرؤوس إلى برية الإمام أحمد1 بن حنبل رضي الله عنه فدفن بها ولم يخلف شيئًا رحمه الله وإيانا.
وفي هذه السنة توفي الرئيس تاج الدين أحمد بن إدريس بن محمد بن مُزَيْر2 الحموي بحماة في رمضان عن تسعين سنة وشهرين، ومفتي المسلمين الشهاب أحمد بن يحيى بن جميل3 الشافعي بدمشق في جمادى الثانية وله ثلاث وستون سنة، والمعمرة أم محمد أسماء بنت محمد بن سالم بن صصري بدمشق في ذي الحجة عن خمس وتسعين سنة، والإمام الولي القدوة الشيخ علي بن أبي الحسين الواسطي4 الشافعي محرما وله ثمانون سنة، والمحدث شمس الدين محمد بن إبراهيم بن غنائم بن المهندس الصالحي الحنفي5 في شوال عن ثمان وستين سنة.
البدر بن جماعة 6 محمد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة بن حازم بن صخر الكناني الحموي ثم المصري الشافعي بدر الدين أبو عبد الله شيخ الإسلام وقاضي القضاة
--------------------------------------------
সাহিত্য, সুন্দর কবিতা এবং চমৎকার গদ্যে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ছিল। তিনি যখন হাদীস পাঠ করতেন, তখন তাঁর নিকট অগণিত মানুষের সমাবেশ হতো, যাদের সংখ্যা হাজারে পৌঁছাত। তাঁর মধ্যে এক বিস্ময়কর গাম্ভীর্য বিদ্যমান ছিল এবং তিনি অত্যন্ত হিতৈষী ছিলেন। তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—সাতশত তেত্রিশ হিজরি সনের বিশে মুহররম সোমবার বাগদাদে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জানাজায় মানুষের এক বিশাল ও স্মরণীয় সমাবেশ ঘটেছিল এবং তাঁর মরদেহ মানুষের মাথার ওপর বহন করে ইমাম আহমাদ ১ বিন হাম্বল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রান্তরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। তিনি (সম্পদ হিসেবে) কিছুই রেখে যাননি। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং আমাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
এই বছরেই হামাতে রমজান মাসে নব্বই বছর দুই মাস বয়সে রিয়াস (নেতা) তাজউদ্দীন আহমাদ বিন ইদ্রিস বিন মুহাম্মদ বিন মুযাইর ২ আল-হামাভী ইন্তেকাল করেন; এবং দামেস্কে জুমাদাল উখরা মাসে তেষট্টি বছর বয়সে মুসলমানদের মুফতি শিহাব আহমাদ বিন ইয়াহইয়া বিন জামিল ৩ আশ-শাফেয়ি ইন্তেকাল করেন; এবং দামেস্কে জিলহজ মাসে পঁচানব্বই বছর বয়সে দীর্ঘায়ু প্রাপ্তা উম্মু মুহাম্মদ আসমা বিনতে মুহাম্মদ বিন সালিম বিন সাসারি ইন্তেকাল করেন; এবং ইমাম, ওলী ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব শায়খ আলী বিন আবিল হুসাইন আল-ওয়াসিতি ৪ আশ-শাফেয়ি এহরাম অবস্থায় আশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন; এবং শাওয়াল মাসে আটষট্টি বছর বয়সে মুহাদ্দিস শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন গানাইম বিন আল-মুহান্দিস আস-সালিহি আল-হানাফি ৫ ইন্তেকাল করেন।
আল-বদর বিন জামাআহ ৬ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন সা’দুল্লাহ বিন জামাআহ বিন হাযিম বিন সাখর আল-কিনানি আল-হামাভী অতঃপর মিসরি আশ-শাফেয়ি, বদরুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ, শায়খুল ইসলাম ও প্রধান বিচারপতি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٧٤)
بمصر والشام:
ولد في عشية الجمعة الرابع من شهر ربيع الثاني سنة تسع وثلاثين وستمائة بحماة، اشتغل وحصل وشارك في فنون من العلم فتبحر فيها وتميز في التفسير والفقه وعني بالرواية فجمع وصنف واشتهر وبعد صيته، ولي قضاء الإقليمين فحمدت سيرته، روي عن شيخ الشيوخ حضورًا والرشيد العطار وابن عزون وابن أبي اليسر والرضي بن البرهان وابن البخاري وابن مضر1 والنجيب الحراني وخلق سماعًا وأجاز له جماعة منهم ابن سلمة وابن البرادعي ومكي بن غيلان2، وكان ذا دين وتعبد ونزاهة أُضِرّ بآخره فانقطع للعبادة حتى مات في ليلة الاثنين العشرين أو الحادي والعشرين من جمادى الأولى سنة ثلاث وثلاثين وسبعمائة بمصر ودفن بالقرافة عن أربع وتسعين سنة وشهر -رحمه الله تعالى.
شافهني سيدي والدي أبو النصر محمد بن محمد بن محمد بن فهد الهاشمي -تغمده الله برحمته وأسكنه فسيح جناته- وقرأت على الحافظ أبي حامد عبد الله بن ظهيرة المخزومي وسمعت على ابن عمه الخطيب أبي الفضل محمد بن أحمد قالوا: أخبرنا الحافظ أبو عمر عبد العزيز بن محمد بن إبراهيم الشافعي ح وأنبأنا عاليًا بدرجة أبو إسحاق إبراهيم بن محمد الدمشقي قالا: أخبرنا الحافظ أبو عبد الله محمدح بن إبراهيم بن سعد الله الحموي قال الدمشقي كتابة قال: أخبرنا أبو الطاهر إسماعيل بن عبد القوي بن عزون وأخبرنا أبوعبد الله أخبرتنا فاطمة بنت عبد الله الجوزدانية حضورًا ح قال الحافظ أبو عمر: وأخبرنا أبو عبد الله محمد بن علي بن عبد الرحيم المقدسي ح وأباح لنا ابن الرسام3 عن إسحاق بن يحيى الآمدي قالوا: أخبرنا الحافظ أبو الحجاج يوسف بن خليل بن عبد الله الدمشقي قالا سوى
--------------------------------------------
মিসর ও শামে:
তিনি ৬৩৯ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের চার তারিখ শুক্রবার সন্ধ্যায় হামাহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইলম অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করেন এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করে তাতে গভীরতা লাভ করেন। বিশেষ করে তাফসির ও ফিকহ শাস্ত্রে তিনি অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন। তিনি হাদিস বর্ণনার প্রতি গভীর মনোযোগী ছিলেন; হাদিস সংগ্রহ ও গ্রন্থ সংকলন করেন এবং তাঁর সুখ্যাতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। তিনি দুই অঞ্চলের (মিসর ও শাম) প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর কর্মকাল অত্যন্ত প্রশংসিত হয়। তিনি ‘শায়খুশ শুয়ূখ’ থেকে উপস্থিতির মাধ্যমে (হুজুরান) এবং রশিদ আল-আত্তার, ইবনে আযউন, ইবনে আবিল ইয়াসর, রাদি বিন আল-বুরহান, ইবনে বুখারি, ইবনে মুদার ১, এবং নাজিব আল-হাররানি প্রমুখের নিকট থেকে শ্রবণ করে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া একদল আলেম তাকে ইজাজত প্রদান করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে সালামাহ, ইবনে বারাদাউয়ি এবং মক্কি বিন গাইলান ২। তিনি অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ, ইবাদতগুজার ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। জীবনের শেষভাগে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান এবং ইবাদতে আত্মনিয়োগ করেন। অবশেষে ৭৩৩ হিজরি সনের জমাদিউল উলা মাসের ২০ বা ২১ তারিখ সোমবার দিবাগত রাতে মিসরে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে কারাফায় দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর ১ মাস। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
আমার পিতা ও সাইয়্যেদ আবু নসর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ফাহদ আল-হাশেমি—আল্লাহ তাঁকে স্বীয় রহমতে সিক্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদাউসে স্থান দিন—আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আমি হাফেজ আবু হামিদ আবদুল্লাহ বিন জহিরা আল-মাখজুমির নিকট পাঠ করেছি এবং তাঁর চাচাতো ভাই খতিব আবু ফজল মুহাম্মদ বিন আহমদের নিকট শ্রবণ করেছি। তাঁরা সকলে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু উমর আবদুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আশ-শাফেয়ি (হ)। এবং উচ্চ সনদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আদ-দিমাশকি। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ (হ) বিন ইব্রাহিম বিন সাদুল্লাহ আল-হামাভি। আদ-দিমাশকি লিখিতভাবে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের ইসমাইল বিন আবদুল কাবি বিন আযউন। এবং আবু আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফাতিমা বিনতে আবদুল্লাহ আল-জুযদানিয়্যাহ (হুজুরান) (হ)। হাফেজ আবু উমর বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবদুর রহিম আল-মাকদিসি (হ)। এবং ইবনে রসসাম ৩ ইসহাক বিন ইয়াহইয়া আল-আমিদি থেকে আমাদের জন্য বর্ণনা করা বৈধ করেছেন। তাঁরা সকলে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু হাজ্জাজ ইউসুফ বিন খলিল বিন আবদুল্লাহ আদ-দিমাশকি। তাঁরা উভয়ে বলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٧٥)
ابن ساعد إجازة قال الآمدي: إن لم يكن سماعا قال: أخبرنا أبو عبد الله محمد بن أبي زيد بن أحمد1 الكرّاني وأبو جعفر محمد بن إسماعيل بن محمد الطرسوسي قالا: أخبرنا أبو منصور محمود بن إسماعيل بن محمد الصيرفي زاد الطرسوسي فقال: وأبو نهشل عبد الصمد بن أحمد بن الفضل العنبري قال: والجوزدانية، أخبرنا أبو بكر محمد بن عبد الله بن ريذة الضبي ح وقال الصيرفي: أخبرنا أبو الحسن أحمد بن محمد بن الحسن بن فادشاه قالا: أخبرنا سليمان بن أحمد بن أيوب الحافظ أبو القاسم اللخمي قال: حدثنا محمد بن محمد التمار قال: حدثنا أبو الوليد الطيالسي قال: حدثنا عكرمة بن همام2 قال: حدثني الهرماس بن زياد رضي الله عنه قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا رديف أبي وهو عليه الصلاة والسلام على ناقته العضباء يوم الأضحي وأناس حوله فقلت لأبي: ما يقول رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: يقول عليه الصلاة والسلام: "ارموا الجمار بمثل حصي الخذف".
الجمال المطري 3 محمد بن أحمد بن محمد بن خلف4 بن عيسى بن عساس بن بدر بن يوسف بن علي بن عثمان الأنصاري السعدي العبادي المدني العلامة أقضى القضاة جمال الدين أبو عبد الله:
مولده في سنة إحدى أو ثلاث وسبعين وستمائة وكان إماما له مشاركة وتبحر في فنون من العلم منها الحديث والفقه والتاريخ ولي نيابة القضاء والإمامة والخطابة بالمدينة النبوية -على الحالِّ بها أفضل الصلاة والسلام- وألف لها تاريخا سماه "التعريف بما أنست الهجرة من معالم دار الهجرة" وكان ذا خلق حسن جامعا للفضائل والمحاسن صدرا من الصدور، وكان رئيس المؤذنين بالحرم الشريف النبوي، روي عن أبي اليمن عبد الصمد بن عبد الوهاب بن عساكر والحافظ شرف الدين الدمياطي والتاج علي بن أحمد الغرافي والأمين محمد بن القطب القسطلاني والإمام عفيف الدين عبد السلام بن محمد بن مزروع والشيخ أبي محمد عبد الله بن عمران السكري وأبي المعالي أحمد بن إسحاق بن المؤيد الأبرقوهي وتقي الدين الحسين بن علي بن ظافر بن أبي المنصور المالكي والعز الفارقي، وحدث بالحرمين الشريفين، مات -رحمه الله تعالى- بالمدينة
--------------------------------------------
ইবনে সায়েদ ইজাযাহ সূত্রে, আল-আমিদি বলেছেন: যদি সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে তবে তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি যায়েদ বিন আহমদ১ আল-কাররানি এবং আবু জাফর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আত-তারসুসি। তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর মাহমুদ বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আস-সায়রাফি। আত-তারসুসি আরও বৃদ্ধি করে বলেছেন: এবং আবু নাহশাল আব্দুস সামাদ বিন আহমদ বিন আল-ফাযল আল-আম্বারি বলেছেন: এবং আল-জাওযদানিয়্যাহ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন রিযাহ আদ-দব্বি (হ)। আস-সায়রাফি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন ফাদশাহ। তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলায়মান বিন আহমদ বিন আইয়ুব আল-হাফিয আবু আল-কাসিম আল-লাখমি। তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আত-তাম্মার। তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আল-ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি। তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইকরামা বিন হাম্মাম২। তিনি বলেছেন: আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন হিরমাস বিন যিয়াদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দেখেছি যখন আমি আমার পিতার পেছনে সওয়ার ছিলাম। তিনি (সা.) ঈদুল আযহার দিন তাঁর ‘আল-আযবা’ নামক উটের পিঠে ছিলেন এবং তাঁর চারপাশে মানুষ ছিল। আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কী বলছেন? তিনি বললেন: তিনি (সা.) বলছেন: “তোমরা খাযাফের কঙ্করের (ছোট পাথর) মতো পাথর দিয়ে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করো।”
আল-জামাল আল-মাতারি৩ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন খালাফ৪ বিন ঈসা বিন আসসাস বিন বদর বিন ইউসুফ বিন আলী বিন উসমান আল-আনসারি আস-সা’দি আল-আবাদি আল-মাদানি। আল্লামা, প্রধান বিচারপতি, জামালুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ:
তাঁর জন্ম ৬৭১ বা ৬৭৩ হিজরী সালে। তিনি একজন ইমাম ছিলেন যার হাদীস, ফিকহ ও ইতিহাসসহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পদচারণা ও গভীর জ্ঞান ছিল। তিনি মদীনা মুনাওয়ারাতে—তার বাসিন্দার ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—বিচারপতির প্রতিনিধিত্ব, ইমামত ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মদীনার জন্য একটি ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন “আত-তা’রীফ বিমা আনাসাত আল-হিজরাহ মিন মা’আলিম দার আল-হিজরাহ”। তিনি সুন্দর চরিত্রের অধিকারী ছিলেন, সকল শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণের আধার এবং শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিনদের প্রধান ছিলেন। তিনি আবু আল-ইয়ামান আব্দুস সামাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আসাকির, হাফিয শারফুদ্দীন আদ-দিময়াতি, তাজ আলী বিন আহমদ আল-গারাফি, আমীন মুহাম্মদ বিন আল-কুতুব আল-কাসতালানি, ইমাম আফীফুদ্দীন আব্দুস সালাম বিন মুহাম্মদ বিন মাযরু’, শায়খ আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন ইমরান আস-সুক্কারি, আবু আল-মা’আলি আহমদ বিন ইসহাক বিন আল-মুয়াইয়াদ আল-আবরাকুহি, তাকীউদ্দীন আল-হুসাইন বিন আলী বিন যাফির বিন আবি আল-মানসুর আল-মালিকি এবং ইয আল-ফারিকি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি হারামাাইন শারীফাইনে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি—আল্লাহ তা’আলা তাঁর ওপর রহম করুন—মদীনায় ইন্তেকাল করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
লাহজুল আলহাজ বিজাইলি তাবাকাতিল হুফফাজ
(পৃষ্ঠা: ٧٦)
الشريفة -على الحالِّ بها أفضل الصلاة والسلام- في سنة إحدى وأربعين وسبعمائة ودفن بالبقيع.
وفيها مات الإمام برهان الدين أبو إسحاق إبراهيم بن أحمد بن هلال الزرعي ثم الدمشقي الحنبلي في سادس عشر من رجب وله بضع وخمسون سنة، وأبو إسحاق إبراهيم بن علي بن يوسف بن سنان الزرزاري القطبي في سادس من ذي القعدة، وأبو العباس أحمد بن محمد بن أزدمر بن عبد الله بن صاحب الصهيون العزيزي الجريري1 في صفر عن بضع وسبعين سنة والشيخ الزاهد خالد المجاور لدرا الطعم2 كان صاحب كلمة نافذة وحال وكشف، والمعمرة الخيرة أم محمد صفية بنت أحمد بن أحمد بن عبد الله3 المقدسية عن سن عالية، ومحيي الدين عبد القادر بن محمد بن الفخر البعلبكي وله اثنتان وخمسون سنة في شهر رجب، والمعمر بهاء الدين علي بن عيسى بن المظفر بن إلياس بن الشيرجي الدمشقي في ذي القعدة وله ثمان وثمانون سنة، والمعمر بهاء الدين عيسى بن عبد الكريم بن عساكر بن سعد بن أحمد بن مكتوم القيسي بدمشق في ليلة الثلاثاء الحادي عشر من ذي القعدة عن ثلاث وثمانين سنة، والعلامة شمس الدين محمد بن أحمد بن إبراهيم بن حيدرة بن القماح الشافعي في شهر ربيع الثاني وله بضع وثمانون سنة، والشيخ الزاهد أبو عبد الله محمد بن أحمد بن تمام بن حسان المتوفى بصالحية دمشق في ثالث عشر من شهر ربيع الأول وله إحدي وتسعون سنة، والبدر محمد بن أحمد بن خالد بن محمد بن أبي بكر القارقي في العاشر من ذي القعدة، ومحمد بن الزكي عبد الرحمن بن يوسف أخو الحافظ جمال الدين المزي في شهر رمضان عن بضع وسبعين سنة، والإمام المحدث بدر الدين محمد بن علي بن محمد بن غانم4 الشافعي بدمشق، والمعمر أبو عبد الله
--------------------------------------------
শরীফায়—সেখানে অবস্থানকারীর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—সাতশত একচল্লিশ হিজরি সনে এবং তাকে বাকিতে দাফন করা হয়।
এই বছরেই ইমাম বুরহানউদ্দীন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আহমাদ ইবনে হিলাল আল-জুরয়ি অতঃপর আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি রজব মাসের ষোল তারিখে ইন্তেকাল করেন, তাঁর বয়স হয়েছিল পঞ্চাশের কিছু বেশি বছর। এবং আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আলি ইবনে ইউসুফ ইবনে সিনান আজ-জারজারি আল-কুতবি জিলকদ মাসের ছয় তারিখে; এবং আবু আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আজদামুর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সাহিবুস সহিউন আল-আজিজি আল-জারিরি১ সফর মাসে সত্তর বছরের কিছু বেশি বয়সে; এবং দুরুত ত’মের২ পার্শ্ববর্তী বসবাসকারী প্রখ্যাত যাহিদ শায়খ খালিদ, তিনি প্রভাবশালী বক্তব্য এবং আধ্যাত্মিক অবস্থা ও কাশফের অধিকারী ছিলেন; এবং পুণ্যবতী দীর্ঘায়ুপ্রাপ্তা উম্মে মুহাম্মাদ সাফিয়্যা বিনতে আহমাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ৩ আল-মাকদিসিয়া অতি বার্ধক্যে; এবং মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আল-ফাখর আল-বালবাক্কি রজব মাসে বায়ান্ন বছর বয়সে; এবং দীর্ঘায়ুপ্রাপ্ত বাহাউদ্দীন আলি ইবনে ঈসা ইবনে আল-মুজাফফর ইবনে ইলিয়াস ইবনে আশ-শিরজি আদ-দিমাশকি জিলকদ মাসে আটাশি বছর বয়সে; এবং দীর্ঘায়ুপ্রাপ্ত বাহাউদ্দীন ঈসা ইবনে আব্দুল কারিম ইবনে আসাকির ইবনে সা’দ ইবনে আহমাদ ইবনে মাকতুুম আল-কায়সি দামেস্কে জিলকদ মাসের এগারো তারিখ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তিরাশি বছর বয়সে; এবং আল্লামা শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে হায়দারা ইবনে আল-কাম্মাহ আশ-শাফিঈ রবিউস সানি মাসে আশি বছরের কিছু বেশি বয়সে; এবং যাহিদ শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে তাম্মাম ইবনে হাসসান, যিনি দামেস্কের সালিহিয়াতে রবিউল আউয়াল মাসের তেরো তারিখে একানব্বই বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন; এবং বদর মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে খালিদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর আল-কারিকি জিলকদ মাসের দশ তারিখে; এবং হাফেজ জামালুদ্দীন আল-মিজ্জির ভাই মুহাম্মাদ ইবনে আয-জাকি আব্দুর রহমান ইবনে ইউসুফ রমজান মাসে সত্তর বছরের কিছু বেশি বয়সে; এবং ইমাম মুহাদ্দিস বদরুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে গানিম৪ আশ-শাফিঈ দামেস্কে; এবং দীর্ঘায়ুপ্রাপ্ত আবু আব্দুল্লাহ
--------------------------------------------