(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: -)
ذيل تذكرة الحفاظ للحسيني   (أبو المحاسن الحسيني)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: ذيل تذكرة الحفاظ

المؤلف: شمس الدين أبو المحاسن محمد بن علي بن الحسن الحسيني الدمشقي (ت 765 هـ)

وضع حواشيه: زكريا عميرات

مطبوع بآخر: "تذكرة الحفاظ" للذهبي

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت-لبنان

الطبعة: الأولى، 1419 هـ- 1998 م

عدد الأجزاء: 5 (1 - 4: تذكرة الذهبي و 5: ذيوله للحسيني وابن فهد والسيوطي)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-হুসাইনি বিরচিত জায়লু তাযকিরাতিল হুফফাজ   (আবু আল-মাহাসিন আল-হুসাইনি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: জায়লু তাযকিরাতিল হুফফাজ

লেখক: শামসুদ্দিন আবু আল-মাহাসিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হাসান আল-হুসাইনি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭৬৫ হিজরি)

টিকা বিন্যাস: জাকারিয়া উমাইরাত

এর শেষে মুদ্রিত: আয-যাহাবি বিরচিত "তাযকিরাতুল হুফফাজ"

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত-লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি- ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৫ (১ - ৪: যাহাবির তাযকিরা এবং ৫: আল-হুসাইনি, ইবনে ফাহদ এবং আস-সুয়ুতির সংকলিত পরিশিষ্টসমূহ)

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

ترجمة أبي المحاسن الحسيني:

هو السيد الشريف الحافظ الناقد ذو التصانيف شمس الدين أبو المحاسن محمد بن علي بن الحسن بن حمزة بن محمد بن محمد بن ناصر بن علي بن الحسين بن إسماعيل بن الحسين بن أحمد بن إسماعيل بن محمد بن إسماعيل بن جعفر الصادق بن محمد الباقر بن علي زين العابدين بن الحسين بن علي بن أبي طالب الحسيني الدمشقي الشافعي. قال الحافظ ابن حجر: وهكذا ساق الذهبي نسبه في "المعجم المختص" ولكن سقط من بين علي وحمزة الحسن، وكذا يوجد بخط الحسيني نفسه، ولا أشك أنه سقط من نسبه عدة آباء في أثنائه والله أعلم ا. هـ. ولعل ذلك منه باعتبار ثلاث أنفس لكل مائة سنة. قال البرهان البقاعي: سمعت ابن حجر ينقل قاعدة عن ابن خلدون، وهي أنّا إذا شككنا في نسب حسبنا كم بين من في أوله ومن في آخره من السنين، وجعلنا لكل مائة سنة ثلاث أنفس فإنها مطردة. ويحكي عن ابن حجر أنه قال: ولقد اعتبرنا بها أنساب كثير ممن أنسابهم معروفة فصحت، وأنساب كثير ممن يتكلم في أنسابهم فانخرمت، على ما جاء في نظم العقيان للسيوطي.

ولد الحيسني بدمشق في شعبان سنة 715هـ، وسمع من جماعة من الأعيان منهم محمد بن أبي بكر بن عبد الدائم، ومحمد وزينب ولدا إسماعيل بن إبراهيم الخباز، وأبو محمد بن أبي التائب، والمسند المعمر إبراهم بن محمد الواني الخلاطي، وأبو الحجاج المزي، والذهبي، والبرزالي، والصلاح العلائي، وابن المظفر، وأبو الحسن السبكي، والعز بن جماعة، وابن أبيك، وعدة من أصحاب ابن عبد الدائم وغيره منهم أبو الفتح الميدومي، وأحمد بن على الجزري، وزينب بنت الكمال، وخلائق يجمعهم معجمه الذي خرجه لنفسه.

قال الذهبي في "المعجم المختص" عند ترجمة الحسيني: العالم الفقيه المحدث، طلب وكتب وهو في زيادة من التحصيل والتتخريج والإفادة ا. هـ. وقال العراقي لما سئل عن أربعة تعاصروا أيهم أحفظ مغلطاي وابن كثير وابن رافع والحسيني: أعرفهم بالشيوخ المعاصرين وبالتخريج الحسيني، وهو أدونهم في الحفظ ا. هـ. وقال ابن ناصر الدين: كان إمامًا حافظًا مؤرخًا، له قدر كبير، وكان حسن الخلق، رضي النفس، من الثقات الأثبات ا. هـ. وقال أبو الفضل بن فهد: كان رضي النفس، حسن الأخلاق، من الثقات الأثبات، إمامًا مؤرخًا حافظًا، له قدر كبير، طلب بنفسه فقرأ وبرع وتميز، وحفظ وأفاد، وكتب بخطه الكثير، وخرج وانتقى، وجمع ا. هـ. وقال ابن حجر: خطه معروف حلو، وكان سريع الكتابة، قرأت بخطه في آخر "العبر"
উপক্রমণিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আবু মহসিন আল-হুসাইনির জীবনী:

তিনি হলেন সাইয়্যেদ শরীফ হাফেজ সমালোচক বহু গ্রন্থের প্রণেতা শামসুদ্দিন আবু মহসিন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হাসান ইবনে হামজা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাসির ইবনে আলী ইবনে হুসাইন ইবনে ইসমাইল ইবনে হুসাইন ইবনে আহমদ ইবনে ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে জাফর আস-সাদিক ইবনে মুহাম্মদ আল-বাকির ইবনে আলী জয়নুল আবেদিন ইবনে হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব আল-হুসাইনি আদ-দিমাশকি আশ-শাফেয়ী। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: এভাবেই আল-জাহাবি তার 'আল-মু'জাম আল-মুখতাস' গ্রন্থে তার বংশধারা বর্ণনা করেছেন। তবে আলী ও হামজার মাঝখান থেকে হাসান শব্দটি বাদ পড়েছে। আল-হুসাইনির নিজের হাতের লেখাতেও এভাবেই পাওয়া যায়। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, তার এই বংশধারা বর্ণনার মাঝে বেশ কয়েকজন পূর্বপুরুষের নাম বাদ পড়েছে, আল্লাহই ভালো জানেন। সমাপ্ত। সম্ভবত এটি প্রতি একশ বছরের জন্য তিনজন ব্যক্তির হিসেব অনুযায়ী হয়েছে। বুরহান আল-বিকায়ি বলেন: আমি ইবনে হাজারকে ইবনে খালদুন থেকে একটি নীতি বর্ণনা করতে শুনেছি। তা হলো—যখন আমরা কোনো বংশধারা সম্পর্কে সন্দেহে পড়ি, তখন এর প্রথম ও শেষ ব্যক্তির মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান হিসেব করি এবং প্রতি একশ বছরের জন্য তিনজন ব্যক্তি নির্ধারণ করি, যা একটি নিয়মিত রীতি। ইবনে হাজার থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: আমরা এটি দিয়ে অনেক পরিচিত বংশধারা পরীক্ষা করেছি এবং সেগুলো সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। আবার যাদের বংশধারা নিয়ে বিতর্ক ছিল, তাদের ক্ষেত্রে এটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। যেমনটি সুয়ুতির 'নাজমুল উকইয়ান' গ্রন্থে এসেছে।

আল-হুসাইনি ৭১৫ হিজরির শাবান মাসে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একদল বিশিষ্ট আলেম থেকে হাদিস শুনেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন—মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনে আবদুল দায়িম, মুহাম্মদ ও জয়নব (ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আল-খাব্বাজের সন্তান), আবু মুহাম্মদ ইবনে আবিত তায়িব, প্রবীণ মুসনিদ ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়ানি আল-খালাতি, আবু হাজ্জাজ আল-মিজ্জি, আল-জাহাবি, আল-বিরজালি, আস-সালাহ আল-আলায়ি, ইবনুল মুজাফ্ফার, আবু হাসান আস-সুবকি, ইজ্জ ইবনে জামায়াহ, ইবনে আবিক এবং ইবনে আবদুল দায়িমের একদল সঙ্গী ও আরও অনেকে, যাদের মধ্যে রয়েছেন আবু ফাতহ আল-মাইদুমি, আহমদ ইবনে আলী আল-জাজারি, জয়নব বিনতে কামাল এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তি। তাদের সবার নাম তার স্বরচিত মুজামে সংগৃহীত আছে।

আল-জাহাবি 'আল-মু'জাম আল-মুখতাস'-এ আল-হুসাইনির জীবনীতে বলেন: তিনি আলেম, ফকিহ ও মুহাদ্দিস। তিনি জ্ঞান অন্বেষণ করেছেন ও লিখেছেন। তিনি জ্ঞান অর্জন, সংকলন ও উপকারে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছেন। সমাপ্ত। আল-ইরাকিকে যখন সমসাময়িক চারজন অর্থাৎ মুগলতাই, ইবনে কাসির, ইবনে রাফে ও আল-হুসাইনি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে তাদের মধ্যে কে বেশি মুখস্থকারী (হাফেজ)? তিনি বললেন: সমসাময়িক শায়খদের সম্পর্কে এবং হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অভিজ্ঞ হলেন আল-হুসাইনি, তবে মুখস্থ করার শক্তিতে তিনি অন্যদের চেয়ে কিছুটা কম। সমাপ্ত। ইবনে নাসিরুদ্দিন বলেন: তিনি ছিলেন ইমাম, হাফেজ ও ঐতিহাসিক। তার মর্যাদা ছিল অতি উচ্চ। তিনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী ও তৃপ্ত আত্মার মানুষ ছিলেন। তিনি নির্ভরযোগ্য ও দৃঢ় বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সমাপ্ত। আবুল ফজল ইবনে ফাহদ বলেন: তিনি ছিলেন তৃপ্ত আত্মার মানুষ, উত্তম চরিত্রের অধিকারী, নির্ভরযোগ্য ও দৃঢ় বর্ণনাকারীদের অন্যতম। তিনি একজন ইমাম, ঐতিহাসিক ও হাফেজ ছিলেন। তার সুউচ্চ মর্যাদা ছিল। তিনি নিজেই জ্ঞান অন্বেষণ করেছেন, অধ্যয়ন করেছেন, দক্ষ হয়েছেন এবং অনন্যতা অর্জন করেছেন। তিনি মুখস্থ করেছেন, উপকার করেছেন এবং নিজ হাতে প্রচুর লিখেছেন। তিনি হাদিস চয়ন করেছেন, বাছাই করেছেন এবং সংকলন করেছেন। সমাপ্ত। ইবনে হাজার বলেন: তার হাতের লেখা সুপরিচিত ও সুন্দর ছিল। তিনি দ্রুত লিখতে পারতেন। আমি তার হাতের লেখায় 'আল-ইবার' গ্রন্থের শেষে পড়েছি...
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ৪)
للذهبي أنه نسخه في خمسة أيام ا. هـ. وقال ابن كثير بعد أن ذكر مؤلفاته: ولي مشيخة دار الحديث البهائية داخل باب توما، وكان يشهد بالمواريث بدمشق ا. هـ.

وله مؤلفات حسنة ما بين مطول ومختصر، منها "التذكرة بمعرفة رجال العشرة" اختصر فيها تهذيب الكمال لشيخه المزي وحذف منه من ليس في الستة وأضاف إليهم من في الموطأ ومسند أحمد ومسند الشافعي ومسند أبي حنيفة وقال: في أولها: ذكرت فيها رجال كتب الأئمة الأربعة المقتدى بهم لأن عمدتهم في استدلالهم لمذاهبهم في الغالب على ما رووه بأسانيدهم في مسانيدهم فإن الموطأ لمالك هو مذهبه الذي يدين الله به أتباعه ومقلديه مع أنه لم يرو فيه إلا الصحيح، وكذلك مسند الشافعي موضوع لأدلته على ما صح عنده من مروياته وكذلك مسند أبي حنيفة وأما مسند أحمد فإنه أعم من ذلك كله وأشمل ا. هـ. والتقط منها ابن حجر في "تعجيل المنفعة في زوائد رجال الأئمة الأربعة" من لم يخرج له في تهذيب الكمال خاصة، وناقشه بأن اعتماد المالكية على ما يروي به ابن القاسم عن مالك وافق الموطأ أو لم يوافق، وقد جمع ابن حزم فيما خالف فيه المالكية ما ضمنه مالك الموطأ وأشهر ذلك حديث الرفع عند الركوع والاعتدال، وبأن "مسند أبي حنيفة" تخريج ابن خسرو إنما يحتوي على بعض أحاديثه وقد جمع قبله الحافظ أبو بكر بن المقري لأبي حنيفة مسندًا استوعب فيه أحاديث لكن لم يكثر طرقها وقبله الحافظ أبو محمد الحارثي مسندًا واستوعب الطرق في كل حديث مرتبًا على مشايخ أبي حنيفة وبأن "مسند الشافعي" إنما هو رواية الأصم لما سمعه من الأم وفي أحاديثه كثرة في مبسوط المزني وكتاب حرملة ا. هـ. ومنها "الامتثال بما في مسند أحمد من الرجال ممن ليس في تهذيب الكمال" وكتاب الذرية الطاهرة سماه "العرف الذكي في النسب الزكي" و "الاكتفاء في الضعفاء" و"التعليق على ميزان الاعتدال" لشيخه الذهبي بين فيه كثيرًا من الأوهام واستدرك عليه عدة أسماء و "ترتيب أطراق المزي على الألفاظ" و "معجم الشيوخ" و"ذيل العبر" للذهبي.

ومنها "ذيل طبقات الحفاظ". هذا، وقد جرى فيه على طريقة شيخه الذهبي من ذكر مشاهير شيوخ المترجم وسرد مؤلفاته وإيراد حديث بطريقه موصول السند إلى النبي صلى الله عليه وسلم إن كان له من طريقة رواية- وإثبات وفيات كبار أهل العلم ومن له شأن في التاريخ من غيرهم ممن ماتوا سنة وفاة المترجم مع إيماء يسير إلى أحوالهم. وقد ترجم عدة من الحفاظ الأحياء ممن تأخرت وفاتهم فذكرنا وفياتهم تعليقًا. وله غير ذلك من المصنفات النافعة وكان شرع في شرح النسائي.

وتوفي بدمشق في يوم الأحد سلخ شعبان المكرم أو مستهل رمضان المعظم سنة خمس وستين وسبعمائة ودفن بسفح قاسيون بصالحية دمشق -تغمده الله تعالى برحمته وغفرانه وأدخله فسيح جنانه.
আয-যাহাবী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি পাঁচ দিনে অনুলিপি করেছেন। ইবনে কাসীর তাঁর রচনাবলির কথা উল্লেখ করার পর বলেছেন: তিনি বাবু তোমার অভ্যন্তরে অবস্থিত দারুল হাদিস আল-বাহাইয়্যার প্রধানের (শায়খ) দায়িত্ব পালন করেন এবং দামেস্কে মিরাস বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত সাক্ষ্য দিতেন।

দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত মিলিয়ে তাঁর বেশ কিছু চমৎকার রচনাবলি রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো "আত-তাযকিরা বি-মারিফাতি রিজালিল আশারা", যাতে তিনি তাঁর শায়খ আল-মিযযীর 'তাহযীবুল কামাল'-কে সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং তাতে যারা 'কুতুবে সিত্তা' বা ছয়টি কিতাবের অন্তর্ভুক্ত নয় তাদের বাদ দিয়েছেন। আর এতে তিনি মুয়াত্তা, মুসনাদে আহমাদ, মুসনাদে শাফিয়ী এবং মুসনাদে আবু হানিফার বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কিতাবটির শুরুতে তিনি বলেছেন: আমি এতে চারজন অনুসরণীয় ইমামের কিতাবসমূহের বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করেছি, কারণ তাঁদের মাযহাবের দলীল প্রদানের প্রধান ভিত্তি হলো সাধারণত তাঁদের স্ব-স্ব মুসনাদে নিজস্ব সনদে বর্ণিত হাদিসসমূহ। কেননা মালিকের মুয়াত্তা হলো তাঁর সেই মাযহাব যা তাঁর অনুসারী ও মুকাল্লিদগণ আল্লাহর দ্বীন হিসেবে পালন করেন, অথচ তিনি তাতে কেবল সহিহ হাদিসই বর্ণনা করেছেন। একইভাবে মুসনাদে শাফিয়ী সংকলিত হয়েছে তাঁর কাছে সহিহ প্রমাণিত বর্ণনাসমূহের দলীলের ওপর ভিত্তি করে। মুসনাদে আবু হানিফাও তদ্রূপ। আর মুসনাদে আহমাদ তো এ সবকিছুর চেয়ে অধিক ব্যাপক ও বিস্তৃত। ইবনে হাজার তাঁর "তাজিলুল মানফায়াহ ফি যাওয়াইদি রিজালিল আইম্মাতিল আরবাআহ" কিতাবে সেখান থেকে কেবল তাদের তথ্য গ্রহণ করেছেন যাদের জীবনী বিশেষভাবে তাহযীবুল কামালে আসেনি। তবে তিনি এই বলে তাঁর সমালোচনা করেছেন যে, মালিকী মাযহাবের নির্ভরতা হলো মালিক থেকে ইবনুল কাসিম যা বর্ণনা করেছেন তার ওপর, তা মুয়াত্তার সাথে মিলুক বা না মিলুক। ইবনে হাযম মালিকী মাযহাবের মুয়াত্তার বিরোধী মাসআলাগুলো একত্রিত করেছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো রুকুতে যাওয়ার সময় ও রুকু থেকে ওঠার সময় হাত তোলার (রাফউল ইয়াদাইন) হাদিস। আর "মুসনাদে আবু হানিফা" যা ইবনু খুসরো সংকলন করেছেন তা কেবল তাঁর কিছু হাদিসকে ধারণ করে। অথচ এর আগে হাফেজ আবু বকর বিন আল-মুকরি আবু হানিফার এমন এক মুসনাদ সংকলন করেছিলেন যাতে হাদিসসমূহ সংগৃহীত ছিল কিন্তু সনদের আধিক্য ছিল না। তাঁরও আগে হাফেজ আবু মুহাম্মদ আল-হারিসী একটি মুসনাদ সংকলন করেন যাতে প্রতিটি হাদিসের সনদসমূহ আবু হানিফার শায়খদের ক্রমানুসারে সাজিয়ে সংকলিত হয়েছিল। আর "মুসনাদে শাফিয়ী" হলো কেবল আল-আম্ম থেকে আল-আসাম্মের শোনা বর্ণনা, অথচ তাঁর অনেক হাদিস মুযানি-র 'মাবসুত' এবং হারমালা-র কিতাবে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। তাঁর আরও কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে "আল-ইমতিসাল বিমা ফি মুসনাদি আহমাদ মিনার রিজাল মিম্মান লাইসা ফি তাহযীবিল কামাল", এবং পবিত্র বংশধারা বিষয়ক কিতাব যার নাম তিনি রেখেছেন "আল-আরফুয যাকি ফিন নাসাবিয যাকি", এবং "আল-ইক্তিফা ফিদ দুয়াফা", এবং তাঁর শায়খ আয-যাহাবীর "মিযানুল ইতিদাল"-এর ওপর টীকা যেখানে তিনি অনেক ভ্রম চিহ্নিত করেছেন এবং বেশ কিছু নাম নতুন করে যুক্ত করেছেন। এছাড়াও রয়েছে "তারতিবু আতরাফিল মিযযী আলাল আলফায", "মুজামুশ শুয়ুখ" এবং আয-যাহাবীর 'আল-ইবার'-এর পরিশিষ্ট "যাইলুল ইবার"।

তাঁর আরও কিতাবের মধ্যে রয়েছে "যাইলু তাবাকাতিল হুফফায"। এতে তিনি তাঁর শায়খ আয-যাহাবীর পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যেখানে তিনি জীবনী লেখকের প্রসিদ্ধ শায়খদের উল্লেখ, তাঁর রচনাবলির তালিকা প্রদান এবং তাঁর বর্ণনা পদ্ধতিতে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সনদে হাদিস উল্লেখ করেছেন—যদি তাঁর বর্ণনার কোনো সূত্র থেকে থাকে। এছাড়াও এতে বিজ্ঞ আলেমদের মৃত্যু এবং ইতিহাসের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মৃত্যু উল্লেখ করা হয়েছে যারা জীবনী লেখকের মৃত্যু বছরে ইন্তেকাল করেছেন, সাথে তাদের অবস্থা সম্পর্কে সামান্য ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তিনি বেশ কিছু জীবিত হাফেজে হাদিসের জীবনী লিখেছেন যারা পরবর্তীতে ইন্তেকাল করেছেন, তাই আমরা টীকায় তাদের মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করেছি। তাঁর আরও অনেক উপকারী কিতাব রয়েছে। তিনি সুনানে আন-নাসায়ীর ব্যাখ্যা গ্রন্থও লিখতে শুরু করেছিলেন।

তিনি সাতশত পঁয়ষট্টি হিজরি সনের মুকাররম শাবান মাসের শেষ দিন অথবা মুআযযাম রমজান মাসের প্রথম দিন রবিবার দামেস্কে ইন্তেকাল করেন এবং দামেস্কের সালিহিয়ার কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে তাঁকে দাফন করা হয়। মহান আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমত ও ক্ষমা দিয়ে আচ্ছাদিত করুন এবং তাঁকে প্রশস্ত জান্নাতে প্রবেশ করান।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة:

بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا.

يقول جار الله بن فهد: أخبرنا بكتاب ذيل طبقات الحفاظ للسيد العلامة الحافظ الحجة أبي المحاسن محمد بن علي بن الحسن الحسيني الدمشقي الشافعي -رحمه الله تعالى- جماعة من المشايخ أهل الإسناد والعلم الراسخ، منهم حفيده السيد القدوة الإمام شيخ الإسلام ومفتي دار العدل بالشام عين الفقهاء المعتبرين محمد أبو البقاء بهاء الدين وكمال الدين بن حمزة بن أحمد بن علي ابن مؤلفه الحافظ شمس الدين محمد بن علي الحسيني الدمشقي الشافعي -تغمده الله برحمته- شفاهًا عن العلامة الحافظ الرحلة شيخ السنة تقي الدين أبي الفضل محمد بن النجم محمد بن محمد بن فهد العلوي المكي الشافعي قال: أخبرني به الشيخ الإمام العالم السيد الشريف أبو هاشم علاء الدين علي بن أبي المحاسن محمد بن علي بن حمزة بن الحسن الحسيني والعلامة الحافظ قاضي القضاة ولي الدين أبو زرعة أحمد بن الحافظ زين الدين عبد الرحيم بن الحسين العراقي المصري الشافعي وأصيل الدين عبد الرحمن بن حيدر بن علي بن أبي بكر الدهقلي مشافهة قالوا: أخبرنا به مؤلفه أذنًا فقال:

الحمد لله تعالى على نعمائه، وصلى الله وسلم على سيدنا محمد خاتم أنبيائه، ورضي عن آله وصحبه خير أوليائه. وبعد، فهذه تراجم جماعة من الحفاظ وأهل الحديث الأيقاظ جعلتها ذيلًا على الطبقات الكبرى تأليف شيخنا الإمام الحافظ الكبير والعلم الشهير شمس الدين أبي عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قايماز الذهبي الدمشقي الشافعي -رحمة الله عليه- فأقول مستعينًا بالله تعالى:
ভূমিকা:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক।

জারুল্লাহ ইবনে ফাহাদ বলেন: মহীয়ান আল্লামা হাফেজ হুজ্জাহ আবুল মাহাসিন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হাসান হুসাইনি দামেশকি শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর রচিত 'যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ' গ্রন্থটি সম্পর্কে আমাদের একদল মাশায়েখ সংবাদ প্রদান করেছেন যারা সনদ ও সুদৃঢ় জ্ঞানের অধিকারী; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গ্রন্থকারের পৌত্র, আদর্শ সাইয়্যেদ, ইমাম শায়খুল ইসলাম, সিরিয়ার বিচারালয়ের (দারুল আদল) মুফতি, নির্ভরযোগ্য ফকীহগণের নয়নমণি মুহাম্মদ আবু বাকা বাহাউদ্দিন ওয়া কামালুদ্দিন ইবনে হামযাহ ইবনে আহমদ ইবনে আলী—যিনি এই গ্রন্থের লেখক হাফেজ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আলী হুসাইনি দামেশকি শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন)-এর বংশধর। তিনি সরাসরি আল্লামা হাফেজ পর্যটক শায়খুস সুন্নাহ তাকিউদ্দিন আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে নাজম মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ফাহাদ আলাবি মাক্কি শাফেয়ী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে শায়খ ইমাম আলেম সাইয়্যেদ শরীফ আবু হাশিম আলাউদ্দিন আলী ইবনে আবুল মাহাসিন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হামযাহ ইবনে হাসান হুসাইনি, এবং আল্লামা হাফেজ কাযিল কুযাত ওয়ালিউদ্দিন আবু যুরআহ আহমদ ইবনে হাফেজ যাইনুদ্দিন আবদুর রহিম ইবনে হুসাইন ইরাকি মিসরি শাফেয়ী, এবং আসীলুদ্দিন আবদুর রহমান ইবনে হায়দার ইবনে আলী ইবনে আবু বকর দাহকালি মৌখিকভাবে এর সংবাদ প্রদান করেছেন; তাঁরা বলেন: এর লেখক আমাদের অনুমতি সহকারে সংবাদ প্রদান করে বলেছেন:

মহান আল্লাহর প্রশংসা তাঁর নেয়ামতসমূহের জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর যিনি নবীগণের সমাপ্তিকারী, এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর শ্রেষ্ঠ আউলিয়া (সঙ্গী)-দের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন। অতঃপর, এটি একদল হাফেজ এবং সচেতন হাদিস বিশারদগণের জীবনী, যা আমি আমাদের উস্তাদ, ইমাম, মহান হাফেজ এবং সুপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উসমান ইবনে কাইমায যাহাবি দামেশকি শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর রচিত 'তাবাকাতুল কুবরা'-এর পরিশিষ্ট (যাইল) হিসেবে সংকলন করেছি। অতএব আমি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে বলছি:
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الطبقة الثانية والعشرون وعدتهم سبعة أنفس

…

الطبقة الثانية والعشرون وعدتهم سبع أنفس:

قطب الدين الحلبي 1 عبد الكريم بن عبد النور بن منير الحلبي 2 الحافظ المتقن المقرئ المجيد أبو علي الحلبي، ثم المصري مفيد الديار المصرية:

ولد في رجب سنة أربع وستين وستمائة وقرأ بالسبع على الشيخ إسماعيل المليجي3 صاحب أبي الجود سمع من ابن العماد وإبراهيم المنقذي والعز الحراني وغازي الحلاوي وابن البخاري وهذه الطبقة فمن بعدهم حتى كتب عن تلامذته وصنف وخرج وأفاد، وعمل تاريخًا لمصر بيض بعضه4 وشرح السيرة للحاقظ عبد الغني في مجلدين5 وعمل أربعين تساعيات وأربعين متباينات وأربعين بلدانيات، وشرح أكثر صحيح البخاري في عدة مجلدات6 وحج مرات، قال شيخنا الذهبي: جمع وخرج وألف تآليف متقنة مع التواضع والدين والسكينة وملازمة العلم والمطالعة ومعرفة الرجال ونقد الحديث، سمعت منه بمصر ومكة، وتوفي في رجب سنة خمس وثلاثين وسبعمائة7.

قلت: وفيها مات شيخنا برهان الدين إبراهيم بن محمد الواني رئيس المؤذنين

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة 2/ 241 رقم 2485.

2 الحنفي، وهو الذي حث الحافظ عبد القادر القرشي على تصنيف "طبقات الحنفية" وأعانه فيه. وقد ترجمه القرشي في طبقاته، وحفيده المسند قطب الدين عبد الكريم بن تقي الدين محمد شيخ البدر العيني في معاجيم الطبراني، يوافقه اسمًا ولقبًا، وقد توفي هذا سنة تسع وثمانمائة.

3 بفتح الميم وبالجيم نسبة لمليج من المنوفية ذكره السخاوي، وأبو الطاهرإسماعيل المليجي هذا هو آخر أصحاب أبي الجود غياث بن فارس المتوفى سنة خمس وستمائة.

4 قال ابن حجر: جمع لمصر تاريخًا حافلًا. لو كمل لبلغ عشرين مجلدًا بيض من المحمدين في أربعة مجلدات ا. هـ. وزاد ابنه التقي المتوفى في سنة اثنين وسبعين وسبعمائة مجلدًا في المحمدين أيضًا.

5 سماه "المورد الهني" ويقول عنه السخاوي إنه نافع جدًّا.

6 وهو كبير أيضًا بيض منه إلى نصفه فبلغ ما بيض عشرة مجلدات، ومنه ومن شرح الحافظ مغلطاي، ويستمد من بعدهما من شراح الصحيح لا سميا ابن الملقن؛ فإنه يعتمد عليهما بل ينسخ منهما نسخًا، وللمترجم القدح المعلى في الكلام على بعض الكلام على بعض أحاديث المحلى لابن حزم وكانت أحاديثه تتطلب أن يتكلم فيها مثله إتقانًا وبراعة؛ لأن ابن حزم تحدى جماهير فقهاء الأمة بسلاطته المعروفة في كتابه هذ على أوهام منه في الجرح والتعديل والتصحيح والتعليل مع ما عنده من الشذوذ عن الجماهير في التفريغ والتأصيل، وله أيضًا "الإلمام" لابن دقيق العيد مع إصلاح ما وقع فيه من الأوهام من عزو الحديث إلى غير من خرجه ونحوه، وإن كان ابن تيمية يقول عن "الإلمام": إنه ما صنف مثله في أحاديث الأحكام ولا كتاب جده، ومما يذكر للمترجم من جميل أخلاقه سماحه بإعارة الكتب للطالبين.

7 ودفن بمصر خارج باب النصر جوار زاوية خاله المسند المقرئ الشيخ نصر المنجي الحنفي.
দ্বাবিংশ স্তর এবং তাদের সংখ্যা সাতজন

…

দ্বাবিংশ স্তর এবং তাদের সংখ্যা সাতজন:

কুতুবুদ্দিন আল-হালাবি ১ আব্দুল কারিম বিন আব্দুল নূর বিন মুনির আল-হালাবি ২ হাফিজ, নিপুণ, ক্বারি, মর্যাদাশীল আবু আলি আল-হালাবি, অতঃপর মিশরে অবস্থানকারী এবং মিশরের ইলমি জগতের পথপ্রদর্শক:

তিনি ৬৬৪ হিজরির রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আবু আল-জুদের ছাত্র শেখ ইসমাইল আল-মালিজি ৩ এর নিকট সাত ক্বিরাআতে পাঠ গ্রহণ করেন। তিনি ইবনুল ইমাদ, ইবরাহিম আল-মানকিযি, আল-ইযয আল-হাররানি, গাজি আল-হালাবি এবং ইবনুল বুখারি থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। এই স্তর এবং তাদের পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিদের থেকে এমনকি নিজের ছাত্রদের থেকেও তিনি বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি গ্রন্থ রচনা, তাখরিজ ও ইলম প্রচার করেছেন। তিনি মিশরের একটি ইতিহাস গ্রন্থ সংকলন করেন যার কিছু অংশ তিনি পাণ্ডুলিপি থেকে চূড়ান্তভাবে লিখেছিলেন ৪। তিনি হাফিজ আব্দুল গনির সিরাত গ্রন্থের দুই খণ্ডে একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন ৫। এছাড়া তিনি চল্লিশটি তুসাইয়্যাত, চল্লিশটি মুতাবায়িনাত এবং চল্লিশটি বালদানিয়াত সংকলন করেন। তিনি সহিহ বুখারির অধিকাংশের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ কয়েক খণ্ডে রচনা করেন ৬। তিনি বহুবার হজ পালন করেন। আমাদের উস্তাদ আয-যাহাবি বলেছেন: “তিনি বিনয়, দ্বীনদারি, গাম্ভীর্য, ইলমের নিরবচ্ছিন্ন সাধনা, অধ্যয়ন, আসমাউর রিজাল ও হাদিস পর্যালোচনার দক্ষতার সাথে সংকলন, তাখরিজ এবং নিপুণ গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন।” আমি মিশর ও মক্কায় তার থেকে হাদিস শুনেছি। তিনি ৭৩৫ হিজরির রজব মাসে ইন্তেকাল করেন ৭।

আমি বলছি: এই একই বছর আমাদের উস্তাদ মুয়াজ্জিনদের প্রধান বুরহানুদ্দিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-ওয়ানি ইন্তেকাল করেন।

--------------------------------------------

১ আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/ ২৪১, নং ২৪৮৫।

২ তিনি হানাফি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনিই হাফিজ আব্দুল কাদির আল-কুরাশিকে “তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ” সংকলনে উৎসাহিত করেন এবং তাতে তাকে সাহায্য করেন। আল-কুরাশি তার তাবাকাত গ্রন্থে তার জীবনী আলোচনা করেছেন। তার পৌত্র হলেন মুসনিদ কুতুবুদ্দিন আব্দুল কারিম বিন তাকিউদ্দীন মুহাম্মদ, যিনি বদর আল-আইনির উস্তাদ এবং তাবারানির মুজামসমূহের বর্ণনাকারী; নামের দিক থেকে তিনি তার পিতামহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনি ৮০৯ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

৩ মিম বর্ণে ফাতহা ও জিম বর্ণযোগে ‘মালিজি’ শব্দটি মানুফিয়ার ‘মালিজ’ গ্রামের দিকে সম্পৃক্ত, যা আস-সাখাভি উল্লেখ করেছেন। এই আবু তাহের ইসমাইল আল-মালিজি হলেন আবু আল-জুদ গিয়াস বিন ফারিসের (মৃত্যু ৬০৫ হিজরি) সর্বশেষ জীবিত শিষ্য।

৪ ইবনে হাজার বলেছেন: তিনি মিশরের একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস গ্রন্থ সংকলন করেছিলেন। যদি তা পূর্ণ হতো তবে তা বিশ খণ্ডে সমাপ্ত হতো। এর মধ্যে ‘মুহাম্মদ’ নামের ব্যক্তিদের জীবনী নিয়ে চার খণ্ড তিনি পাণ্ডুলিপি থেকে চূড়ান্তভাবে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তার পুত্র আত-তাকি, যিনি ৭৭২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, তিনি এই অংশে আরও এক খণ্ড বৃদ্ধি করেছিলেন।

৫ তিনি এর নাম রেখেছিলেন “আল-মাওরিদ আল-হানি”। আস-সাখাভি এটি সম্পর্কে বলেছেন যে, এটি অত্যন্ত উপকারী।

৬ এটি একটি বৃহৎ গ্রন্থ, যার অর্ধেক পর্যন্ত তিনি পাণ্ডুলিপি থেকে চূড়ান্তভাবে লিখেছিলেন এবং তা দশ খণ্ডে পৌঁছেছিল। পরবর্তী বুখারির ব্যাখ্যাকারগণ তার এই গ্রন্থ এবং হাফিজ মুগলতাইয়ের ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে সাহায্য নিতেন, বিশেষ করে ইবনুল মুলাক্কিন; তিনি এই দুটি গ্রন্থের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করতেন, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে হুবহু নকল করতেন। ইবনে হাজমের ‘আল-মুহাল্লা’ গ্রন্থের কিছু হাদিস পর্যালোচনায় গ্রন্থকারের অনন্য পারদর্শিতা ছিল। সেই হাদিসগুলো তার মতো নিপুণ ও দক্ষ ব্যক্তির বিশ্লেষণেরই মুখাপেক্ষী ছিল; কারণ ইবনে হাজম তার জারাহ-তাদিল ও হাদিসের ত্রুটি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কিছু ভুলত্রুটি থাকা সত্ত্বেও এবং অধিকাংশ আলেমের মতের বিপরীতে তার কিছু বিচ্ছিন্ন মাসয়ালা থাকা সত্ত্বেও, তার সুপরিচিত কঠোর ভঙ্গিতে জমহুর ফকিহদের চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। এছাড়া ইবনু দাকীক আল-ঈদের ‘আল-ইলমাম’ গ্রন্থের ওপর তার একটি সংশোধনী কাজ রয়েছে যেখানে তিনি হাদিসগুলো মূল উৎসের দিকে ভুলভাবে সম্পৃক্ত করাসহ অন্যান্য ভ্রান্তি সংশোধন করেছেন। যদিও ইবনে তাইমিয়াহ ‘আল-ইলমাম’ সম্পর্কে বলতেন: আহকামুল হাদিসের ওপর এর তুল্য কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি, এমনকি তার দাদার কিতাবও এর মতো নয়। গ্রন্থকারের প্রশংসনীয় গুণাবলীর মধ্যে একটি ছিল ছাত্রদের কিতাব ধার দেওয়ার ক্ষেত্রে তার উদারতা।

৭ তাকে মিশরের ‘বাবুন্নাসর’-এর বাইরে তার মামা মুসনিদ ক্বারি শেখ নাসর আল-মানজি আল-হানাফির খানকাহর পাশে দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ৮)
وأطيبهم صوتًا عن أكثرمن تسعين سنة حدّث عن الرضي بن البرهان وابن عبد الدائم وجماعة، ومات بعده بشهر ابنه المحدّث المفيد أمين الدين محمد عن إحدى وخمسين سنة1. حدّث عن الشرف بن عساكر وابن مؤمن وخلق، ومات في صفر مسند الشام بدر الدين عبد الله بن الحسيني بن أبي التائب الأنصاري الشاهد2 عن نحو تسعين سنة حدّث عن العراقي والبلخي3 طائفة، قلت: ومات مجود الشام بهاء الدين محمود ابن خطيب بعلبك4 محي الدين عبد الرحيم بهذه السنة، ومات بمصر الواعظ شمس الدين حسن بن أسد بن مبارك بن الأثير. سمع الحافظ المنذري والنجيب عاش أربعًا وثمانين سنة، وماتت في ذي القعدة المعمرة زينب بنت الخطيب يحيى بن الشيخ عز الدين بن عبد السلام السلمية عن سبع وثمانين سنة روت عن اليلداين6 وإبراهيم بن خليل وأجاز لها السبط7 وتفردت، ومات ملك العرب حسام الدين مهنا بن الملك عيسى بن مهنا الطائي بقرية سلمية في ذي القعدة عن نيف وثمانين سنة ولبسوا السواد لموته.

--------------------------------------------

1 يقول أحمد رافع الطهطاوي: وذلك لأن والده توفي في صفر من سنة 735 وتوفي هو في شهر ربيع الأول منها كما في معجم الحافظ الذهبي وغيره. وأمين الدين هذ هو الذي خرج للتقي بن تيمة أربعين حديثًا من عواليه عن أربعين من كبار شيوخه وهي الأربعون التي طبعت بمصر في سنة 1341. وستأتي ترجمة في ذيل الجلال السيوطي في الصفحة 237 وله ابن هو الحافظ شرف الدين عبد الله بن أمين الدين محمد الواني ستأتي ترجمته في ذيل التقي بن فهد.

2 قال الذهبي في المشتبه: شيخ معمر في وقتنا شاهد يروي الكثير. وقال ابن حجر: تفرد بأشياء ويقال: إنه ألحق بخطه في بعض الأجزاء فلم يوافقه أحد على ذلك ولا سمعوا عليه منه شيئًا ا. هـ.

3 هما رشيد الدين أبو الفضل إسماعيل بن أحمد بن الحسن العراقي وأبو بكر عبد الله بن محمد بن أبي بكر أحمد بن خلف البلخي كلاهما من أصحاب السلفي وحدثا عنه بدمشق.

4 يقول أحمد رافع الطهطاوي: وقد سقط من العبارة اسم أبيه ففي "الدرر الكامنة" محمود بن محمد بن عبد الرحيم بن عبد الوهاب السلمي المعروف بابن خطيب بعلبك بهاء الدين المجود. عني بالخط فجوده على الغاية. ونسخ نسخة من صحيح البخاري في ثلاثة مجلدات باسم الأمير سيف الدين تنكز نائب الشام وقابلها الجمال المزي بقراءة العماد بن كثير، وهي أعجوبة في الحسن والصحة ا. هـ. وفي شذرات الذهب مجود دمشق بها الدين محمود بن خطيب بعلبك محيي الدين محمد بن عبد الرحيم السلمي.

5 يقول الطهطاوي: والذي في حسن المحاضرة وشذرات الذهب "شمس الدين حسين".

6 هو تقي الدين أبو محمد عبد الرحمن بن أبي الفهم عبد المنعم بن عبد الرحمن القرشي الدمشقي اليلداني المتوفى سنة 655، وفي الشذرت: اليلداني نسبة إلى يلدا من قرى دمشق. قال السخاوي: بفتح المثناة التحتانية وفتح اللام ورأيت بخط البدر العيني في رجال معاني الآثار ضبط اللام بالسكون عند ذكر سبط بن أبي الفهم عبد الرحمن بن عبد الولي اليلداني المتوفى سنة 725 راوي معاني الآثار عن الضياء المقدسي، وهو الأظهر.

7 سبط السلفي الجمال أبو القاسم عبد الرحمن بن مكي الاسكندراني المتوفى في سنة إحدى وخمسين وستمائة.
নব্বই বছরেরও বেশি বয়সে সবচেয়ে মিষ্ট কণ্ঠের অধিকারী ব্যক্তিটি (মৃত্যুবরণ করেন), যিনি রদি বিন বুরহান, ইবনুল আবদুদ দায়িম এবং একদল উস্তাদ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার এক মাস পরে তার ছেলে মুহদ্দিস ও উপকারী আলেম আমিনুদ্দিন মুহাম্মদ একান্ন বছর বয়সে মারা যান। তিনি শরাফ বিন আসাকির, ইবনে মুমিন এবং অসংখ্য মানুষের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। আর সফর মাসে সিরিয়ার মুসনিদ বদরুদ্দিন আবদুল্লাহ ইবনুল হুসাইনি বিন আবিত তায়েব আনসারি আশ-শাহিদ আনুমানিক নব্বই বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি ইরাকি এবং বালখি এক দল আলেম থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: সিরিয়ার চারুলিপি বিশারদ বাহাউদ্দিন মাহমুদ ইবনে খাতিবে বালবাক মুহিউদ্দিন আবদুর রহিম এই বছর ইন্তেকাল করেন। মিশরে ওয়ায়েজ শামসুদ্দিন হাসান বিন আসাদ বিন মুবারক ইবনুল আসির ইন্তেকাল করেন। তিনি হাফেজ মুনজিরি এবং নাজিবের নিকট হাদিস শুনেছেন এবং চুরাশি বছর বেঁচে ছিলেন। জিলকদ মাসে দীর্ঘজীবী জয়নব বিনতে খতিব ইয়াহিয়া বিন শায়খ ইজুদ্দিন বিন আবদুস সালাম আস-সুলামিয়াহ সাতাশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি ইয়ালদানি এবং ইবরাহিম বিন খলিল থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সিবত তাকে ইজাজাহ (অনুমতি) দিয়েছিলেন; তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে অনন্য ছিলেন। আর আরবদের অধিপতি হুসামুদ্দিন মুহান্না বিন মালিক ঈসা বিন মুহান্না আত-তাই জিলকদ মাসে সালামিয়া গ্রামে আশি বছরের কিছু বেশি বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং তার মৃত্যুতে মানুষ শোকের কালো পোশাক পরিধান করেছিল।

--------------------------------------------

১ আহমদ রাফে আত-তাহতাবি বলেন: এটি এজন্য যে তার পিতা ৭৩৫ হিজরির সফর মাসে মারা যান এবং তিনি সেই বছরেরই রবিউল আউয়াল মাসে মারা যান, যেমনটি হাফেজ জাহাবির মুজাম এবং অন্যান্য কিতাবে রয়েছে। আর এই আমিনুদ্দিন-ই হলেন তিনি, যিনি তকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়্যাহর জন্য তার উচ্চ সনদের চল্লিশটি হাদিস তার চল্লিশজন বড় শায়খের নিকট থেকে চয়ন করে দিয়েছিলেন, যা ১৩৪১ হিজরিতে মিশরে মুদ্রিত হয়েছে। তার জীবনী জালালুদ্দিন সুয়ুতির জাইল (পরিশিষ্ট)-এর ২৩৭ পৃষ্ঠায় আসবে। তার একজন পুত্র হলেন হাফেজ শরাফুদ্দিন আবদুল্লাহ বিন আমিনুদ্দিন মুহাম্মদ আল-ওয়ানি, যার জীবনী তকিউদ্দিন বিন ফাহাদের জাইলে আসবে।

২ জাহাবি 'আল-মুশতাবিহ' গ্রন্থে বলেন: আমাদের সময়ের একজন দীর্ঘজীবী শায়খ এবং সাক্ষী (শাহিদ), যিনি প্রচুর বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজার বলেন: তিনি কিছু বিষয়ে একক ছিলেন এবং বলা হয় যে: তিনি কিছু পাণ্ডুলিপিতে নিজের হস্তলিপিতে কিছু সংযোজন করেছিলেন, যা কেউ সমর্থন করেনি এবং কেউ তার নিকট থেকে সেগুলো শোনেনি। সমাপ্ত।

৩ তারা হলেন রশিদুদ্দিন আবুল ফজল ইসমাইল বিন আহমদ বিন হাসান আল-ইরাকি এবং আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর আহমদ বিন খালাফ আল-বালখি। তারা উভয়েই সালাফির শাগরেদ এবং দামেশকে তার নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

৪ আহমদ রাফে আত-তাহতাবি বলেন: মূল পাঠ্য থেকে তার পিতার নাম বাদ পড়েছে। 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' গ্রন্থে রয়েছে— মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহিম বিন আবদুল ওয়াহহাব আস-সুলামি, যিনি ইবনে খাতিবে বালবাক বাহাউদ্দিন আল-মুজাওয়িদ নামে পরিচিত। তিনি হস্তলিপির প্রতি মনোযোগী ছিলেন এবং তা চূড়ান্ত উৎকর্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি দামেশকের নায়েব আমির সাইফুদ্দিন তানকায-এর নামে সহিহ বুখারির একটি পাণ্ডুলিপি তিন খণ্ডে নকল করেছিলেন এবং জামালুদ্দিন আল-মিযযি তা ইমাদ বিন কাসিরের পাঠের সাথে মিলিয়ে সংশোধন করেছিলেন। এটি সৌন্দর্য এবং শুদ্ধতার ক্ষেত্রে এক বিস্ময়। সমাপ্ত। আর 'শাজারাতুজ জাহাব' গ্রন্থে রয়েছে: দামেশকের চারুলিপি বিশারদ বাহাউদ্দিন মাহমুদ বিন খাতিবে বালবাক মুহিউদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহিম আস-সুলামি।

৫ তাহতাবি বলেন: 'হুসনুল মুহাদারা' এবং 'শাজারাতুজ জাহাব' গ্রন্থে যা আছে তা হলো "শামসুদ্দিন হুসাইন"।

৬ তিনি হলেন তকিউদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন আবিল ফাহাম আবদুল মুনইম বিন আবদুর রহমান আল-কুরাশি আদ-দিমাশকি আল-ইয়ালদানি (মৃত্যু ৬৫৫ হিজরি)। 'শাজারাত' গ্রন্থে আছে: ইয়ালদানি শব্দটি দামেশকের অন্যতম গ্রাম 'ইয়ালদা'র দিকে নিসবত বা সম্পৃক্ত। সাখাভি বলেন: ইয়াই-তে ফাতহা এবং লাম-এ ফাতহা যোগে। আর আমি বদরুদ্দিন আইনির হস্তলিপিতে 'রিজালু মাআনিল আসার'-এ ৭২৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী সিবত বিন আবিল ফাহাম আবদুর রহমান বিন আবদুল ওলি আল-ইয়ালদানির বর্ণনায় লাম-এ সুকুন দেখেছি, যিনি জিয়া আল-মাকদিসি থেকে 'মাআনিল আসার'-এর বর্ণনাকারী; আর এটাই অধিক স্পষ্ট।

৭ আস-সালাফির দৌহিত্র (সিবত) জামাল আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন মক্কি আল-ইসকান্দারানি, যিনি ৬৫১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ৯)
ابن سيد الناس 1 الإمام العلامة الحافظ المفيد الأديب البارع المتقن فتح الدين أبو الفتح محمد بن الإمام الحجة أبي عمرو محمد بن حافظ المغرب أبي بكر محمد بن أحمد بن عبد الله ابن سيد الناس الأندلسي اليعمري المصري الشافعي:

ولد سنة إحدى وسبعين وستمائة، وأجاز له النجيب عبد اللطيف وجماعة، وسمع من العز الحراني وغازي الحلاوي وابن الأنماطي وخلق، وقدم دمشق ليالي وفاة2 ابن البخاري3 فلم يدركه، وسمع من ابن المجاور ومحمد بن مؤمن والتقي الواسطي وخلق، قال الذهبي: هو أحد أئمة هذا الشأن كتبه بخطه المليح كثيرًا وخرج وصنف وعلل4 وفرع وأصل، وقال الشعر البديع، وكان حلو النادرة كيس المحاضرة جالسته وسمعت بقراءته وأجاز لي مرويته، ومات فجأة في حادي عشر شعبان سنة أربع وثلاثين وسبعمائة، ودفن بالقرافة، وكان أثريًّا في المعتقد يحب الله تعالى ورسوله5.

قلت ومات عام وفاته بمصر المعمر قاضي القضاة جمال الدين سليمان بن عمر الأذرعي الشافعي المعروف بالزرعي6 عن تسع وثمانين سنة، حدث عن ابن عبد الدائم وجماعة، وولي قضاء مصر سنة ثم قضاء دمشق بعد ابن صصري، ومات بحماة الفقيه القدوة نجم الدين عبد الرحمن بن الحسن7 اللخمي القبابي8 الحنبلي الزاهد عن ست

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة لابن حجرر العسقلاني 4/ 33 رقم 4554.

2 يقول الطهطاوي: هذه عبارة المعجم المختص للحافظ الذهبي، وفي الدرر الكامنة، ورحل إلى دمشق فاتفق وصوله عند موت الفخر بن البخاري فتألم لذلك ا. هـ. وفي طبقات الحافظ ابن رجب في ترجمة الفخر بن البخاري: ورحل إليه أبو الفتح ابن سيد الناس فوجده مات قبل وصوله بيومين فتألم لذلك ا. هـ. ومثله في في المنهج الأحمد في تراجم أصحاب الأمام أحمد للقاضي مجير الدين أبي اليمن العليمي. وقد جاء في التعليق أن الفخر بن البخاري -هذا- ولد سنة ست وتسعين وخمسمائة. والذي في طبقات الحفاظ ابن رجب والمنهج الأحمد أنه ولد في آخر سنة خمس أو أول سنة ست وتسعين والأمر سهل.

3 هو فخر الدين أبو الحسن علي بن أحمد بن عبد الواحد بن قدامه المقدسي المولود سنة ست وتسعين وخمسمائة والمتوفى سنة تسعين وستمائة عرف بابن البخاري؛ لأن أباه أقام ببخاري مدة يشتغل بالخلاف على الرضي النيسابوري كما ذكره ابن رجب في ترجمة والده.

4 يقول الطهطاوي: وعبارة المعجم المختص "وصنف وصحيح وعلل … إلخ" وهو المناسب.

5 ومن مؤلفاته "عيون الأثر في المغازي والسير" و "الفوح الشذي في شرح الترمذي" إلا أنه لم يكمل. قال ابن حجر: ولو اقتصر على فن الحديق من الكلام على الأسانيد لكمل لكن قصده أن يتبع شيخه ابن دقيق العيد فوقف دون ما يريد ا. هـ.

6 ولد بأذرعات وولي قضاء زرع بالضم وكلاهما من أعمال الشام والنسبة إلى الأولى أذرعي وإلى الثانية زرعي فشهر بالنسبة إلى الثانية.

7 يقول الطهطاوي: والذي في معجم الحفاظ الذهبي وطبقات الحفاظ ابن رجب وشذرات الذهب "عبد الرحمن بن الحسين".

8 بالكسر نسبة لقباب حماة قاله السخاوي.
ইবনে সাইয়্যিদুন নাস ১ ইমাম, আল্লামা, হাফেজ, মুফিদ (উপকারী), দক্ষ সাহিত্যিক, নিপুণ ফাতহুদ দ্বীন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে ইমামুল হুজ্জাহ আবু আমর মুহাম্মদ ইবনে হাফেজে মাগরিব আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাইয়্যিদুন নাস আল-আন্দালুসি আল-ইয়া’মুরি আল-মিসরি আশ-শাফিয়ি:

তিনি ছয়শ একাত্তর হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। নাজিব আবদুল লতিফ এবং একদল আলেম তাকে ইজাজত প্রদান করেন। তিনি ইজ্জ হাররানি, গাজি আল-হালাওয়ি, ইবনুল আনমাতি এবং অসংখ্য লোকের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি ইবনুল বুখারি ৩-এর মৃত্যুর ২ সময়কালে দামেশকে আসেন, কিন্তু তার সাক্ষাৎ পাননি। তিনি ইবনুল মুজাউয়ির, মুহাম্মদ ইবনে মুমিন, তাকি আল-ওয়াসিতি এবং আরও অনেক লোকের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। যাহাবি বলেন: তিনি এই শাস্ত্রের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি নিজ সুন্দর হস্তাক্ষরে প্রচুর লিখেছেন, হাদিস তাখরিজ করেছেন, গ্রন্থ রচনা করেছেন, হাদিসের ত্রুটি (ইল্লাত) ৪ চিহ্নিত করেছেন এবং শাখা-প্রশাখা ও মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন। তিনি চমৎকার কবিতা রচনা করতেন। তিনি ছিলেন মিষ্টভাষী ও সভার আদব রক্ষাকারী। আমি তার সাথে বসেছি, তার পাঠ শুনেছি এবং তিনি আমাকে তার বর্ণিত হাদিসসমূহের ইজাজত দিয়েছেন। তিনি সাতশ চৌত্রিশ হিজরি সনের এগারো শাবান হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন এবং কারাফায় সমাহিত হন। তিনি আকিদায় ‘আসারি’ (সালাফদের অনুসারী) ছিলেন এবং মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ৫ ভালোবাসতেন।

আমি বলছি, তার মৃত্যুর বছরেই মিসরে দীর্ঘজীবী প্রধান বিচারপতি জামালুদ্দিন সুলাইমান ইবনে উমর আল-আজরুয়ি আশ-শাফিয়ি, যিনি আজ-জুরয়ি ৬ নামে পরিচিত ছিলেন, উননব্বই বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইবনে আবদুল দায়িম এবং একদল আলেমের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি এক বছর মিসরের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন, অতঃপর ইবনে সসরির পরে দামেশকের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। এবং হামায় আদর্শ ফকিহ নাজমুদ্দিন আবদুর রহমান ইবনে হাসান ৭ আল-লাখমি আল-কাবাবি ৮ আল-হাম্বলি জাহেদ (বিরাগী) ব্যক্তি ছিয়াশি...

--------------------------------------------

১ ইবনে হাজার আসকালানির আদ-দুরারুল কামিনাহ ৪/৩৩, নম্বর ৪৫৫৪।

২ তহতাউয়ি বলেন: এটি হাফেজ যাহাবির আল-মুজামুল মুখতাস-এর বক্তব্য। আদ-দুরারুল কামিনাহ-তে আছে, তিনি দামেশকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং ফখর ইবনুল বুখারির মৃত্যুর সময় সেখানে পৌঁছান, এতে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হন। হাফেজ ইবনে রজবের তাবাকাতে ফখর ইবনুল বুখারির জীবনীতে রয়েছে: আবুল ফাতহ ইবনে সাইয়্যিদুন নাস তার নিকট যাত্রা করেন কিন্তু পৌঁছার দুদিন পূর্বেই তাকে মৃত পান এবং এতে তিনি ব্যথিত হন। ইমাম আহমদের অনুসারীদের জীবনী গ্রন্থ আল-মানহাজুল আহমাদ-এ কাজি মুজিরুদ্দিন আবুল ইয়ামান আল-উলাইমিও অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। টীকায় এসেছে যে, এই ফখর ইবনুল বুখারি —ইনি— পাঁচশ ছিয়ানব্বই হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। হাফেজ ইবনে রজবের তাবাকাত এবং আল-মানহাজুল আহমাদ-এ আছে যে, তিনি পাঁচশ পঁচানব্বইয়ের শেষে অথবা ছিয়ানব্বইয়ের শুরুতে জন্মগ্রহণ করেন, আর বিষয়টি গৌণ।

৩ তিনি হলেন ফখরুদ্দিন আবুল হাসান আলি ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি, যিনি পাঁচশ ছিয়ানব্বই হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ছয়শ নব্বই হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইবনুল বুখারি নামে পরিচিত ছিলেন; কারণ তার পিতা এক সময় বুখারায় অবস্থান করেছিলেন এবং রাযি আন-নিসাবুরির নিকট খিলাফ শাস্ত্র নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, যেমনটি ইবনে রজব তার পিতার জীবনীতে উল্লেখ করেছেন।

৪ তহতাউয়ি বলেন: আল-মুজামুল মুখতাস-এর বক্তব্য হলো "তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন, সহিহ করেছেন এবং ইল্লাত বের করেছেন... ইত্যাদি" এবং এটিই উপযুক্ত।

৫ তার রচনাবলির মধ্যে রয়েছে "উয়ুনুল আসার ফি মাগাযি ওয়াস সিয়ার" এবং "আল-ফাউহুশ শাযি ফি শারহিত তিরমিজি", তবে এটি তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি। ইবনে হাজার বলেন: যদি তিনি কেবল সনদের আলোচনার মতো হাদিস শাস্ত্রীয় বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকতেন তবে এটি সম্পন্ন হতো, কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল তার উস্তাদ ইবনে দাকিকুল ঈদকে অনুসরণ করা, ফলে তিনি যা চেয়েছিলেন তার আগেই থেমে যেতে হয়েছে।

৬ তিনি আজরুয়াতে জন্মগ্রহণ করেন এবং 'যুর' (পেশযোগে)-এর বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন, উভয়টিই সিরিয়ার অন্তর্ভুক্ত। প্রথমটির নিসবত হলো আজরুয়ি এবং দ্বিতীয়টির নিসবত হলো যুরয়ি, তবে তিনি দ্বিতীয়টির নিসবতেই পরিচিতি লাভ করেন।

৭ তহতাউয়ি বলেন: যাহাবির মুজামুল হাফাজ, ইবনে রজবের তাবাকাতুল হাফাজ এবং শাযারাতুয যাহাবে "আবদুর রহমান ইবনুল হুসাইন" রয়েছে।

৮ কাসরা (জের) সহকারে, এটি হামার কাবাব এলাকার নিসবত, সাখাবি এমনটিই বলেছেন।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ১০)
وستين سنة، ومات بمصر وكيل بيت المال المعمر المفتي مجد الدين حرمي بن قاسم1 الفاقوسي2 مدرس قبة الشافعي. مات في عشر التسعين، ومات الصاحب شمس الدين عدنان السلماني بمصر في عشر الثمانين، يقال: أدى في المصادر ألفى ألف درهم.

البرزالي 3 الشيخ الإمام الحافظ العمدة محدث الشام ومؤرخه ومفيده علم الدين أبو محمد القاسم بن محمد بن يوسف بن محمد البرزالي الإشبيلي الأصل الدمشقي الشافعي:

ولد في جماد الآخر سنة خمس وستين وستمائة، وسمع في سنة ثلاث وسبعين وستمائة، وهلم جرّا حتى مات في رابع ذي الحجة سنة تسع وثلاثين وسبعمائة محرمًا بخليص4 وسمع أباه وأحمد بن أبي الخير والشيخ شمس الدين5 وابن البخاري وابن علان والقاسم الأربلي والعز الحراني6 وابن الدَرَجي7، وأكثر عنهم وعن خلق من أصحاب ابن طبرزد والكندي8 وحنبل وابن الحرستاني، ثم عن خلق من أصحاب ابن ملاعب وابن البن وابن أبي لقمة9 وغيرهم ثم عن خلق من أصحاب ابن الصباح وابن الزبيدي وابن اللتي وابن باقا، ثم عن خلائق من أصحاب أصحاب السلفي وابن عساكر، ثم من العدد الكبير من أصحاب أصحاب البوصيري وابن كليب والخشوعي وأقرانه وفضلاء زمانه بالحرمين ومصر

--------------------------------------------

1 والذي في الدر الكامنة "حرمي بن هاشم" وله فيها ترجمة. الطهطاوي.

2 نسبة لفاقوس من الشرقية على ما ذكره السخاوي.

3 الدرر الكامنة 3/ 143 رقم (3242) . والبرزالي نسبة إلى برزالة-بالكسر- بطن من البربر كما جاء في شرح القاموس للزبيدي.

4 خليص بصيغة التصغير حصن بين مكة والمدينة -معجم البلدان.

5 ابن أبي عمر المقدسي.

6 عبد العزيز بن عبد المنعم بن الصيقل المتوفى في سنة 686.

7 بفتح الدال والراء كما ضبطه الدمياطي في مشيخته وهو إبراهيم بن إسمعيل بن إبراهيم بن يحيى الدمشقي المترجم هو وأبو في طبقات القرشي. أخذ عنه وعن أبيه الحافظ الدمياطي ولم يدرك البرزالي أباه وخرج لابنه مشيخة.

8 هو المسند المعمر المحدث المقرئ راوية كتب الأدب العلامة تاج الدين أبو اليمن زيد بن الحسن الكندي الحنفي المتوفى سنة ثلاث عشرة وستمائة وهو ابن ثلاث وتسعين، جمع بين الرواية والدراية وملأ الدنيا بأسانيد رواياته العالية، قال الحافظ أبو شامة: كان سكنة بدمشق بجيرون بدرب العجمي، فكم ازدحم في ذلك الدرب من شيوخ العلم وطلبه أولاد الملوك وخدمته! ومتي ما أريد اعتبار ذلك فلينظر في الكتب التي عليها طبقات السماع عليه ليعلم جلالة من كان يتردد إليه، وكان واسع الرواية وافر الدراية ا. هـ. وأطراه في ترجمته في ذيل الروضتين كذا الشمس ابن الجزري المقري في طبقات القراء.

9 هو المسند المعمر أبو المحاسن محمد بن السيد بن فارس الأنصاري الدمشقي الصفار المعروف بابن أبي لقمة المتوفى سنة 632 من أربع وتسعين سنة على ما في شذرات الذهب لابن العماد.
এবং ষাট বছর। মিশরের বায়তুল মালের দীর্ঘজীবী প্রতিনিধি ও মুফতি মাজদুদ্দীন হারামী বিন কাসিম আল-ফাকুসী মৃত্যুবরণ করেন, যিনি কুব্বাতুশ শাফিঈ-এর শিক্ষক ছিলেন। তিনি নব্বই-এর দশকে মৃত্যুবরণ করেন। আর সাহিব শামসুদ্দীন আদনান আস-সালমানী মিশরে আশি-র দশকে মৃত্যুবরণ করেন। বলা হয়: তিনি সরকারি তহবিলে বিশ লক্ষ দিরহাম প্রদান করেছিলেন।

আল-বারযালী: শায়খ, ইমাম, হাফিজ, নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ, শামের মুহাদ্দিস, ইতিহাসবিদ ও জ্ঞানদানকারী আলামুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-বারযালী। তিনি মূলে ইশবিলী (সেভিল), বাসগৃহে দামেস্কী এবং মাযহাবে শাফিঈ।

তিনি ৬৬৫ হিজরীর জমাদিউল আখির মাসে জন্মগ্রহণ করেন। ৬৬৭ হিজরীতে হাদীস শ্রবণ শুরু করেন এবং এভাবে চলতে থাকে যতক্ষণ না তিনি ৭৩৯ হিজরীর ৪ঠা যিলহজ খালীস নামক স্থানে ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি হাদীস শ্রবণ করেছেন তাঁর পিতা, আহমাদ বিন আবিল খায়ের, শায়খ শামসুদ্দীন, ইবনুল বুখারী, ইবনে আল্লান, আল-কাসিম আল-আরবালী, আল-ইয আল-হাররানী এবং ইবনে আদ-দারাজীর নিকট থেকে। তিনি তাঁদের থেকে এবং ইবনে তাবারযাদ, আল-কিন্দি, হাম্বল ও ইবনে আল-হারাস্তানী-এর একদল ছাত্রের নিকট থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। অতঃপর ইবনে মালায়েব, ইবনুল বান্ন, ইবনে আবী লুকমা প্রমুখের একদল ছাত্রের নিকট থেকে; এরপর ইবনে আস-সাব্বাহ, ইবনে আয-যুবাইদী, ইবনে আল-লাতী ও ইবনে বাকা-এর একদল ছাত্রের নিকট থেকে; অতঃপর আস-সিলাফী ও ইবনে আসাকিরের ছাত্রদের ছাত্রদের এক বিরাট দলের নিকট থেকে; এরপর আল-বূসীরী, ইবনে কুলাইব, আল-খাশুঈ এবং তাঁর সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ ও দুই হারামাইন ও মিশরের তৎকালীন গুণীজনদের ছাত্রদের ছাত্রদের এক বিশাল সংখ্যা থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।

--------------------------------------------

১. আদ-দুরারুল কামিনাহ-তে "হারামী বিন হাশিম" রয়েছে এবং সেখানে তাঁর জীবনী রয়েছে। আত-তাহতাবী।

২. সাখাবীর বর্ণনা অনুযায়ী শারকিয়ার ফাকুস অঞ্চলের দিকে সম্পৃক্ত।

৩. আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/১৪৩, নং ৩২৪২। বারযালী হলো বারযালাহ-এর দিকে নিসবত—যাইনী আয-যুবাইদীর শারহুল কামূস-এ যেমনটি এসেছে—এটি বারবার জাতির একটি শাখা।

৪. খালীস হলো মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী একটি দুর্গ—মুজামুল বুলদান।

৫. ইবনে আবী উমর আল-মাকদিসী।

৬. আব্দুল আযীয বিন আব্দুল মুনইম বিন আস-সাইকাল, যিনি ৬৮৬ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

৭. দাল ও রা বর্ণের যবর সহকারে, যেমনটি দামইয়াতী তাঁর মাশইয়াখাতে উল্লেখ করেছেন। তিনি হলেন ইবরাহীম বিন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম বিন ইয়াহইয়া আদ-দিমাশকী, যাঁর এবং তাঁর পিতার জীবনী তাবাকাতুল কুরাশী-তে বর্ণিত হয়েছে। হাফিজ দামইয়াতী তাঁর ও তাঁর পিতার নিকট থেকে বর্ণনা নিয়েছেন। আল-বারযালী তাঁর পিতাকে পাননি, তবে তাঁর ছেলের জন্য মাশইয়াখাত সংকলন করেছেন।

৮. তিনি হলেন দীর্ঘজীবী মুসনিদ, মুহাদ্দিস, মুকরি, সাহিত্যগ্রন্থের বর্ণনাকারী, আল্লামা তাজউদ্দীন আবু ইয়ামন যায়েদ বিন আল-হাসান আল-কিন্দি আল-হানাফী। তিনি ৬১৩ হিজরীতে ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি রিওয়ায়াত (বর্ণনা) ও দিরায়াত (তত্ত্বজ্ঞান) উভয়কে একত্রিত করেছিলেন এবং বিশ্বকে তাঁর উচ্চমানের সনদের বর্ণনায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন। হাফিজ আবু শামা বলেন: তাঁর নিবাস ছিল দামেস্কের জাইরুন এলাকার দারবুল আজমীতে। সেই গলিতে কত বড় বড় আলেম, ইলম অন্বেষী, রাজপুত্র ও তাঁর সেবকদের ভিড় হতো! কেউ যদি এর গুরুত্ব বুঝতে চায়, তবে সে যেন সেই কিতাবগুলো দেখে যার ওপর তাঁর কাছে শ্রবণ করার স্তরবিন্যাস (তাবাকাতুস সামা) লিপিবদ্ধ আছে, যাতে সে বুঝতে পারে তাঁর কাছে যাতায়াতকারীদের মর্যাদা কেমন ছিল। তিনি ব্যাপক বর্ণনার অধিকারী এবং গভীর প্রজ্ঞাসম্পন্ন ছিলেন। সমাপ্ত। রওযাতাইন-এর পরিশিষ্টে এবং শামসুদ্দীন ইবনুল জাযারী তাঁর তাবাকাতুল কুররা-তে একইভাবে তাঁর প্রশংসা করেছেন।

৯. তিনি হলেন দীর্ঘজীবী মুসনিদ আবু মাহাসিন মুহাম্মদ বিন আস-সাইয়্যেদ বিন ফারিস আল-আনসারী আদ-দিমাশকী আস-সাফফার, যিনি ইবনে আবী লুকমা নামে পরিচিত। ইবনুল ইমাদের শাযারাতুয যাহাব-এর বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ৬৩২ হিজরীতে ৯৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ১১)
ودمشق والقدس وحلب وحماة وإسكندرية وعدة مداين، وأجاز له ابن عبد الدائم والنجيب عبد اللطيف وابن أبي اليسر وابن عزّون، وابن علاق1 وخلق كثير بمعجمه بالسماع وبالإجازة نحو ثلاثة آلاف شيخ، وكتب الكثير من الكتب المطولة والأجزاء العالية المفيدة، وخرج لخلق من شيوخه وأقرانه، وسمع منه طوائف وحدث عنه خلق في حياته وبعد وفاته، وحج مرات حتى مات، ووقف كتبه وأجزاءه -أحسن الله جزاءه.

أخبرنا الحافظ أبو محمد البرزالي وأبو الحجاج المزي بقراءتي على كل واحد منهما في شوال سنة ثمان وثلاثين وسبعمائة قالا: أخبرنا المسلم بن علان وأبو الحسن بن البخاري قال: أخبرنا حنبل الرصافي قال: أخبرنا أبو القسم بن الحصين قال: أخبرنا أبو علي بن المذهب2 قال: أخبرنا أبو بكر القطيعي قال: حدثنا عبد الله ابن الإمام أحمد بن حنبل قال: حدثني أبي قال: قال: حدثنا الشافعي قال: حدثنا مالك عن داود بن الحصين عن أبي سفيان3 مولى ابن أحمد بن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: "إن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم نهى عن المزابنة والمحاقلة، والمزابنة اشتراء التمر بالتمر في رؤوس النخل، والمحاقلة استكراء الأرض بالحنطة".

رواه البخاري عن عبد الله بن يوسف ورواه مسلم عن أبي الطاهر بن السرح عن ابن وهب كلاهما عن مالك.

وقد مات عام وفاة شيخنا هذا عالم بغداد صفي الدين المؤمن بن الخطيب عبد الحق بن شمائل4 البغدادي الحنبلي مدرس البشيرية5 عن إحدى وثمانين سنة طلب الحديث وعمل مجمعًا وشرح المحرر في ستة أسفار، وحدث عن عبد الله بن أبي الحسن والشرف بن عساكر، وله نظم جيد، ومات بمصر قاضي حلب فخر الدين

--------------------------------------------

1 هو عبد الله بن عبد الواحد المتوفى سنة 672.

2 بضم الميم وسكون الذال المعجمة وكسر الهاء عرف به بعض أجداده على ما قاله ابن السمعاني في الأنساب.

3 قيل اسمه وهب وقيل قزمان ثقة - تقريب.

4 وهو صفي الدين أبو الفضائل عبد المؤمن بن الخطيب كمال الدين أبي محمد عبد الحق بن عبد الله بن علي بن مسعود البغدادي الحنبلي ولد ببغداد في جمادى الآخرة من سنة 658 وتوفي بها في صفر من سنة 739. وكان مدرسا بالمدرس البشيرية، وهي مدرسة للحنابلة ببغداد وكان والدهم خطيبا بجامع ابن عبد المطلب ببغداد احتسابا. وكان جده يعرف بابن شمائل. وللشيخ صفي الدين مؤلفات منها مختصر تاريخ الطبري ومختصر معجم البلدان الذي سماه مراصد الاطلاع على أسماء الأمكنة والبقاع. "والطهطاوي".

5 والمدرسة البشيرية غربي بغداد، ذكره ابن رجب.

6 والذي في الدرر الكامنة عن عبد الصمد بن أبي الحسن. وفي طبقات الحافظ ابن رجب وشذرات الذهب عن عبد الصمد بن أبي الجيش، وكلا هذين صحيح؛ فإنه مجد الدين أبو الخير عبد الصمد بن أحمد بن عبد القادر بن أبي الجيش بن أبي الحسن بن عبد الله البغدادي "المتوفى بها 676 عن 83 سنة" ولكنه يعرف بالثاني أعنى ابن أبي الجيش بالجيم والشين المعجمة. وقد ذكره صفي الدين عبد المؤمن المذكور في مشيخته وقال: هو شيخ بغداد كلها إليه انتهت رياسة القراءات والحديث بها، وكذا الحافظ الدمياطي في معجمة كذا يلتقط من طبقات الحافظ ابن رجب وغيرها. "الطهطاوي".
দামেস্ক, কুদস (জেরুজালেম), আলেপ্পো, হামাহ, আলেকজান্দ্রিয়া এবং আরও বেশ কিছু শহর (তিনি ভ্রমণ করেছেন)। ইবন আবদুদ দাইম, নাজিব আবদুল লতিফ, ইবন আবিল ইউসর, ইবন আযযুন, ইবন আলাক এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তি তাকে ইজাযাহ প্রদান করেছেন। তার সংকলিত উস্তাদদের তালিকায় (মু'জাম) শ্রবণের মাধ্যমে এবং ইজাযাহর ভিত্তিতে প্রায় তিন হাজার শাইখ রয়েছেন। তিনি অনেক বড় বড় কিতাব এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী ছোট ছোট অংশ (জুয) রচনা করেছেন। তিনি তার অনেক শাইখ ও সমসাময়িকদের জন্য হাদিস সংগ্রহ করেছেন। তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর অসংখ্য লোক তার নিকট হাদিস শুনেছেন এবং বর্ণনা করেছেন। তিনি মৃত্যু পর্যন্ত একাধিকবার হজ করেছেন এবং তার কিতাবসমূহ ও পাণ্ডুলিপিগুলো ওয়াকফ করে দিয়েছেন—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

হাফেয আবু মুহাম্মদ আল-বারযালী এবং আবু হাজ্জাজ আল-মিযযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের নিকট সাতশ আটত্রিশ হিজরীর শাওয়াল মাসে আমার পাঠের মাধ্যমে; তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসলিম বিন আল্লান এবং আবুল হাসান বিন আল-বুখারী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্বল আর-রুসাফী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম বিন আল-হুসাইন; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী বিন আল-মুযহিব; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-ক্বাতীঈ; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের পুত্র আবদুল্লাহ; তিনি বলেন: আমার নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট আশ-শাফিঈ বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট মালিক বর্ণনা করেছেন দাউদ বিন আল-হুসাইন থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুক্তদাস আবু সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম 'মুযাবানাহ' এবং 'মুহাক্বালাহ' থেকে নিষেধ করেছেন। মুযাবানাহ হলো গাছের মাথায় থাকা খেজুরের বিনিময়ে শুকনা খেজুর ক্রয় করা, আর মুহাক্বালাহ হলো গমের বিনিময়ে জমি ইজারা দেওয়া।"

এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ থেকে এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন আবুল তাহির বিন আস-সারহ থেকে ইবন ওয়াহবের সূত্রে; তারা উভয়েই মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন।

আমাদের এই শাইখের ইন্তেকালের বছরই বাগদাদের আলেম সফীউদ্দীন আল-মু'মিন বিন আল-খতিব আবদুল হক বিন শামাইল আল-বাগদাদী আল-হাম্বলী ইন্তেকাল করেন। তিনি বশিরিয়্যাহ মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন এবং একাশি বছর বয়সে মারা যান। তিনি হাদিস অন্বেষণ করেছেন, একটি সংকলন তৈরি করেছেন এবং 'আল-মুহাররার' কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ছয় খণ্ডে রচনা করেছেন। তিনি আবদুল্লাহ বিন আবুল হাসান এবং আশ-শারাফ বিন আসাকির থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার কাব্য প্রতিভা চমৎকার ছিল। মিশরে আলেপ্পোর বিচারক ফখরুদ্দীন ইন্তেকাল করেন...

--------------------------------------------

১. তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন আবদুল ওয়াহিদ, যিনি ৬৭২ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

২. মিম বর্ণে পেশ, যাল বর্ণে সাকিন এবং হা বর্ণে যের যোগে (আল-মুযহিব)। সামআনী 'আল-আনসাব' কিতাবে যেমনটি বলেছেন, তার কোনো এক পূর্বপুরুষ এই নামে পরিচিত ছিলেন।

৩. বলা হয় তার নাম ওয়াহাব, আবার বলা হয় কুযমান; তিনি নির্ভরযোগ্য—তাকরীব।

৪. তিনি হলেন সফীউদ্দীন আবুল ফাযায়েল আবদুল মু'মিন বিন খতিব কামালুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল হক বিন আবদুল্লাহ বিন আলী বিন মাসউদ আল-বাগদাদী আল-হাম্বলী। তিনি ৬৫৮ হিজরীর জমাদিউল আখিরা মাসে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৩৯ হিজরীর সফর মাসে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বশিরিয়্যাহ মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন, যা বাগদাদের হাম্বলীদের একটি মাদরাসা। তাদের পিতা বাগদাদে ইবন আবদুল মুত্তালিব জামে মসজিদে সওয়াবের আশায় খুতবা দিতেন। তার দাদা ইবন শামাইল নামে পরিচিত ছিলেন। শাইখ সফীউদ্দীনের রচনার মধ্যে রয়েছে 'তারীখে তাবারী'র সংক্ষিপ্তসার এবং 'মু'জামুল বুলদান'-এর সংক্ষিপ্তসার যার নাম তিনি দিয়েছেন 'মারাসিদুল ইত্তিলা আলা আসমাইল আমকিনা ওয়াল বিক্বা'। "আত-তহতাবী"।

৫. বশিরিয়্যাহ মাদরাসা বাগদাদের পশ্চিমে অবস্থিত, ইবন রজব এটি উল্লেখ করেছেন।

৬. যা 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' কিতাবে রয়েছে তা হলো আবদুস সামাদ বিন আবুল হাসান থেকে। হাফেয ইবন রজবের 'তাবাক্বাত' এবং 'শাযারাতুয যাহাব' কিতাবে আবদুস সামাদ বিন আবিল জাইশ থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর এ দুটিই সঠিক। কারণ তিনি হলেন মাজদুদ্দীন আবুল খায়ের আবদুস সামাদ বিন আহমদ বিন আবদুল কাদির বিন আবিল জাইশ বিন আবুল হাসান বিন আবদুল্লাহ আল-বাগদাদী (যিনি সেখানে ৬৭৬ হিজরীতে ৮৩ বছর বয়সে মারা যান)। তবে তিনি দ্বিতীয় নাম অর্থাৎ ইবন আবিল জাইশ (জীম এবং শীন যোগে) নামেই পরিচিত। উল্লিখিত সফীউদ্দীন আবদুল মু'মিন তার 'মাশইয়াখাহ' গ্রন্থে তাকে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি সমগ্র বাগদাদের শাইখ ছিলেন, কিরাত ও হাদিসের নেতৃত্ব তার কাছেই শেষ হয়েছিল। হাফেয দিময়াতীও তার 'মু'জাম'-এ অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। হাফেয ইবন রজবের 'তাবাক্বাত' এবং অন্যান্য গ্রন্থ থেকে এভাবেই চয়ন করা হয়েছে। "আত-তহতাবী"।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ১২)
عثمان بن الخطيب حسين بن علي بن عثمان1 الشافعي عن سبع وسبعين سنة، ومات بدمشق قاضي قضاة الإقليمين2 جلال الدين محمد بن عبد الرحمن القزويني الشافعي في نصف جمادى الأولى وله ثلاث وتسعون سنة3 ولد بالموصل وتفقه وأفتى ودرس وناظر وتخرج به خلق، ناب في القضاء لأخيه أمام الدين ولابن صصري ثم ولي خطابة دمشق ثم قضاءها ثم قضاء الديار المصرية إحدى عشرة سنة ثم نقل إلى قضاء دمشق، حدث عن الفاروثي وغيره، ومات القاضي الإمام الزاهد بدر الدين أبو اليسر محمد بن قاضي القضاة عز الدين محمد بن عبد القادر الأنصاري ابن الصائغ عن ثلاث وستين سنة حدث عن ابن شيبان والفخر وطائفة، خطب بالمسجد الأقصى ثم تركه، وكان عرض عليه قضاء دمشق وجاءه التقليد فامتنع، ومات بمصر المعمر موفق الدين أحمد بن أحمد بن محمد الشارعي من أبناء التسعين وهو آخر من حدث عن جد أبيه4 محمد بن عثمان بن مكي، ومات

--------------------------------------------

1 يقول الطهطاوي: وفيه تحريف من قلم ناسخ والأصل "عثمان بن خطيب جبرين علي بن عثمان" ففي طبقات التاج السبكي فقيه حلب وحاكمها ولد سنة 662 وتوفي بالقاهرة سنة 739 ا. هـ. وفي الدرر الكامنة للحافظ ابن حجر عثمان بن علي بن عثمان بن إبراهيم بن إسماعيل الطائي الحلبي فخر الدين بن خطيب جبرين الفقيه الشافعي … إلى آخر كلامه، وفي تاريخ القاضي زين الدين عمر بن الوردي ما ملخصه: في سنة تسع وثلاثين وسبعمائة في المحرم توفي بمصر شيخنا قاضي حلب فخر الدين عثمان بن زين الدين علي بن عثمان المعروف بابن خطيب جبرين … إلى آخر كلامه. وفي موضعين من شذرات الذهب ما ملخصه: قاضي حلب فخر الدين أبو عمرو عثمان بن علي بن عثمان بن إبراهيم بن إسماعيل بن يوسف بن يعقوب الطائي الحلبي الشافعي المعروف بابن خطيب جبرين ولد في ربيع الأول من سنة 662 وتوفي بالقاهرة في المحرم من سنة 739 كما جزم به الإسنوي وابن قاضي وشهبة وغيرهما ا. هـ. فانظر كيف صنع قلم الناسخ من التحريف ما صنع! والله سبحانه وتعالى أعلم. وجبرين بكسر الجيم وسكون الباء الموحدة وكسر الراء قرية من قرى حلب.

2 يعني القطرين مصر والشام.

3 يقول الطهطاوي: والصواب "ثلاث وسبعون سنة" كما عبر الحافظ الذهبي في دول الإسلام والعفيف اليافعي في مرآة الجنان؛ لأنه ولد سنة ست وستين وستمائة كما في الدرر الكامنة وطبقات الشافعية للتقي أبي بكر بن قاضي شهبة وغيرهما. وقد كثر بين النساخ تحريف السبع بالتسع والسبعين بالتسعين والعكس، والحسن بالحسين والعكس وأمثال ذلك.

4 سماعًا.
উসমান বিন আল-খতিব হুসাইন বিন আলি বিন উসমান১ আশ-শাফিয়ি সাতাত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। দামেস্কে দুই অঞ্চলের২ প্রধান বিচারপতি জালালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-কাহজবিনী আশ-শাফিয়ি জুমাদাল উলার মাঝামাঝি সময়ে বিরানব্বই বছর৩ বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি মসুলে জন্মগ্রহণ করেন এবং ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, ফতোয়া প্রদান করেন, দরস দান করেন ও বিতর্ক পরিচালনা করেন। তাঁর নিকট থেকে অসংখ্য লোক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি তাঁর ভাই ইমামুদ্দিন এবং ইবনু সাসরির অধীনে বিচার বিভাগে নায়েব (প্রতিনিধি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর তিনি দামেস্কের খতিব এবং পরবর্তীতে সেখানকার প্রধান বিচারপতি হন। এরপর এগারো বছর মিশরের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর পুনরায় দামেস্কের বিচার বিভাগে স্থানান্তরিত হন। তিনি আল-ফারুসি ও অন্যদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইন্তেকাল করেছেন ইমাম যাহেদ বিচারপতি বদরুদ্দিন আবুল ইউসর মুহাম্মদ বিন প্রধান বিচারপতি ইযযুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কাদির আল-আনসারি ইবনুস সাইগ। তেষট্টি বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি ইবনু শায়বান, আল-ফখর ও একদল বর্ণনাকারীর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি মাসজিদুল আকসায় খুতবা প্রদান করেছেন, পরে তা ত্যাগ করেন। তাঁর নিকট দামেস্কের প্রধান বিচারপতির পদ গ্রহণের প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিল এবং নিয়োগপত্রও এসেছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এবং মিশরে ইন্তেকাল করেছেন দীর্ঘজীবী মুওয়াফফাকুদ্দিন আহমদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আশ-শারি'য়ি, যাঁর বয়স নব্বইয়ের কোঠায় ছিল। তিনি তাঁর পরপিতামহ৪ মুহাম্মদ বিন উসমান বিন মক্কির নিকট থেকে হাদিস বর্ণনাকারী সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন। এবং মারা যান...

--------------------------------------------

১ আত-তাহতাবি বলেন: এতে অনুলিপিকারীর কলমের মাধ্যমে বিকৃতি ঘটেছে। মূল পাঠ হলো "উসমান বিন খতিবে জিবরিন আলি বিন উসমান"। তাজ সুবকির 'তাবাকাত' গ্রন্থে আছে: তিনি হালবের ফকিহ ও শাসক ছিলেন, ৬৬২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৩৯ হিজরিতে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন— সমাপ্ত। হাফেজ ইবনে হাজার রচিত 'আদ-দুরার আল-কামিনাহ' গ্রন্থে রয়েছে: উসমান বিন আলি বিন উসমান বিন ইব্রাহিম বিন ইসমাইল আত-তায়ি আল-হালাবি ফাখরুদ্দিন বিন খতিবে জিবরিন ফকিহ আশ-শাফিয়ি … তাঁর আলোচনার শেষ পর্যন্ত। বিচারপতি জয়নুদ্দিন উমর ইবনুল ওয়ার্দির ইতিহাসে যার সারমর্ম হলো: ৭৩৯ হিজরির মহররম মাসে মিশরে আমাদের শায়খ হালবের বিচারপতি ফাখরুদ্দিন উসমান বিন জয়নুদ্দিন আলি বিন উসমান ইন্তেকাল করেন, যিনি ইবনু খতিবে জিবরিন নামে পরিচিত … তাঁর আলোচনার শেষ পর্যন্ত। 'শাযারাতুয যাহাব'-এর দুটি স্থানে যার সারমর্ম হলো: হালবের বিচারপতি ফাখরুদ্দিন আবু আমর উসমান বিন আলি বিন উসমান বিন ইব্রাহিম বিন ইসমাইল বিন ইউসুফ বিন ইয়াকুব আত-তায়ি আল-হালাবি আশ-শাফিয়ি, যিনি ইবনু খতিবে জিবরিন নামে পরিচিত, ৬৬২ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৩৯ হিজরির মহররম মাসে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন, যেমনটি আল-ইসনাভি, ইবনু কাজি শাহবাহ ও অন্যরা নিশ্চিত করেছেন— সমাপ্ত। অতএব দেখুন, অনুলিপিকারীর কলম কীভাবে বিকৃতি ঘটিয়েছে! আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সবচেয়ে ভালো জানেন। আর 'জিবরিন' শব্দটি জিম বর্ণে কাসরা (জের), বা বর্ণে সুকুন এবং র বর্ণে কাসরা (জের) সহযোগে হালবের একটি গ্রামের নাম।

২ অর্থাৎ দুই অঞ্চল: মিশর ও শাম।

৩ আত-তাহতাবি বলেন: সঠিক হলো "তিয়াত্তর বছর", যেমনটি হাফেজ যাহাবি 'দুওয়ালুল ইসলাম' গ্রন্থে এবং আফিফ আল-ইয়াফি 'মিরআতুল জিনান' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন; কারণ তিনি ৬৬৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, যেমনটি 'আদ-দুরার আল-কামিনাহ' এবং তাকি আবু বকর বিন কাজি শাহবাহ-এর 'তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ' ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। অনুলিপিকারীদের মাঝে সাত-এর বদলে নয় এবং সত্তর-এর বদলে নব্বই এবং এর উল্টোটা হওয়ার বিকৃতি প্রচুর ঘটে। তদ্রূপ হাসান-এর স্থলে হুসাইন বা এর উল্টোটা হওয়াও এ জাতীয় বিকৃতির অন্তর্ভুক্ত।

৪ শ্রবণ করার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ১৩)
بدمشق المفتي زين الدين عباد1 الحنبلي عن ثمان وستين سنة حدث بالصحيح عن القاسم الإربلي وولي العقود والفسوخ، ومات شيخ بلاد الجزيرة القدوة شمس الدين محمد بن محمد بن عبد العزيز2 ابن الشيخ عبد القادر الجبلي ببلاد سنجار عن تسع وثمانين سنة، حدث عن الفخر وغيره، ومات العدل شمس الدين محمد بن إبراهيم الجزري3 الدمشقي صاحب التاريخ الكبير4 في وسط السنة وله إحدى وثمانون سنة، روى عن إبراهيم بن أحمد والفخر بن البخاري وكان به صمم -رحمه الله تعالى.

أبو حيان التوحيدي الأندلسي 5 محمد بن يوسف بن علي بن يوسف بن حيان النفزي 6 الجباني الأندلسي، ثم المصري الشيخ الإمام العلامة المحدث البارع ترجمان العرب ولسان أهل الأدب أثير الدين الغرناطي المولد والمنشأ، المصري الدار والوفاة، الظاهري المذهب 7:

--------------------------------------------

1 يقول الطهطاوي: وصوابه "عبادة" وهو الفقيه المفتي زين الدين أبو سعد وأبو محمد عبادة بن جمال الدين عبد الغني بن منصور بن عبادة الحراني ثم الدمشقي الحنبلي الشروطي. ولد في رجب من سنة 671 وتوفي في شوال من سنة 739 سمع من القاسم الإربلي وأبي الفضل ابن عساكر وجماعة، وكان يلي العقود والفسوخ ويكثر الكتابة في الفتاوى، كذا يستفاد من معجم الحافظ الذهبي وطبقات الحافظ ابن رجب.

2 وقد سقط منه اسم جده فإنه شمس الدين أبو الكرم محمد المعروف بالأكحل بن حسام الدين أبي الفضل محمد الملقب بشرشيق بن الجمال أبي عبد الله محمد بن الشمس أبي بكر عبد العزيز بن القطب محي الدين عبد القادر الجبلي -رضي الله تعالى عنه- وقد ولد شمس الدين أبو الكرم محمد المذكور في بلدة الحيال في شهر رمضان من سنة 651 وتوفي بها في ذي الحجة من سنة 739. وقد سمع بدمشق من الفخر بن البخاري وبغيرها من غيره، كما ذكره الحافظ الذهبي في ذيل تاريخ الإسلام. والحيال بالحاء المهملة المكسورة والمثناة التحتية الخفيفة، واللام بلدة من بلاد سنجار وبها قبر والده وجده وجد والده. وقد نزلها جد والده عبد العزيز في حدود سنة ثمانين وخمسمائة. "الطهطاوي"

3 "الجزري الدمشقي … إلخ" هو شمس الدين محمد بن إبراهيم بن أبي بكر بن إبراهيم بن عبد العزيز الجزري الدمشقي صاحب التاريخ المشهور. سمع من الفخر بن البخاري وإبراهيم بن أحمد بن كامل المقدسي والتقي الواسطي والحافظ الدمياطي والتقي بن دقيق العيد وغيرهم "الطهطاوي".

4 وسمي تاريخه الكبير بحوادث الزمان وأنبائه ووفيات الأكابر والأعيان من أبنائه على ما يقوله الحافظ الشمس ابن طولون؛ حيث ينقل عنه في المجلد الأول من الفهرست الأوسط له، وقال ابن حجر: جمع تاريخًا مشهورًا، وله شعر وسط وخرج له البرزالي مشيخة. قال الذهبي: كان حسن المذاكرة سليم الباطن صدوقًا في نفسه لكن في تاريخه عجائب وغرائب ا. هـ. والقطب اليونيني كثير النقل عن تاريخه في ذيله على مرآة الزمان لبسط ابن الجوزي.

5 الدرر الكامنة 4/ 185 (4812) .

6 نسبة إلى نفزة بكسر النون وسكون الفاء قبيلة من البربر قاله ابن العماد في شذرات الذهب.

7 قال ابن حجر: حضر مجلس الشمس الأصبهاني وكان ظاهريًّا وانتمي إلى الشافعية واختصر المنهاج، وكان أبو البقاء يقول: إنه لم يزل ظاهريًّا. قلت: كان أبو حيان يقول: محال أن يرجع عن مذهب الظاهر من علق بذهنه، وكان سالمًا في العقيدة من البدع: الفلسفة والاعتزال والتجسيم ا. هـ.
দামেস্কে মুফতি জাইন উদ্দিন আব্বাদ১ আল-হানবালি আটষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি আল-কাসিম আল-ইরবিলি থেকে সহীহ বর্ণনা করেছেন এবং বিবাহ ও বিচ্ছেদ সংক্রান্ত চুক্তির দায়িত্ব পালন করেছেন। এবং জাজিরা অঞ্চলের শায়খ ও আদর্শ ব্যক্তিত্ব শামস উদ্দিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ২ ইবনে শায়খ আব্দুল কাদির আল-জাবালি সিনজার অঞ্চলে উননব্বই বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি আল-ফখর এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি শামস উদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল-জাজারি৩ আদ-দিমাশকি, যিনি 'আত-তারিখ আল-কাবির'৪ এর লেখক, বছরের মাঝামাঝি সময়ে একাশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি ইবরাহীম বিন আহমদ এবং ফখর বিন বুখারি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি শ্রবণ প্রতিবন্ধী ছিলেন—আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন।

আবু হাইয়ান আত-তাওহিদি আল-আন্দালুসি ৫ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন আলী বিন ইউসুফ বিন হাইয়ান আন-নাফজি ৬ আল-জাব্বানি আল-আন্দালুসি, এরপর আল-মিসরি। তিনি শায়খ, ইমাম, আল্লামা, দক্ষ মুহাদ্দিস, আরবদের মুখপাত্র এবং সাহিত্যিকদের কণ্ঠস্বর। তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা গ্রানাডায় (আসির উদ্দিন), বসবাস ও মৃত্যু মিশরে এবং তাঁর মাযহাব ছিল জাহিরি ৭:

--------------------------------------------

১ তাহতাবি বলেন: এর সঠিক রূপ হলো "আবাদা" (عبادة)। তিনি হলেন ফকিহ, মুফতি জাইন উদ্দিন আবু সা’দ এবং আবু মুহাম্মদ আবাদা বিন জামাল উদ্দিন আব্দুল গনি বিন মনসুর বিন আবাদা আল-হাররানি, এরপর আদ-দিমাশকি আল-হানবালি আশ-শুরুতি। তিনি ৬৭১ হিজরির রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৩৯ হিজরির শাওয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন। তিনি আল-কাসিম আল-ইরবিলি, আবুল ফজল ইবনে আসাকির এবং এক জামাত থেকে শুনেছেন। তিনি বিবাহ ও বিচ্ছেদ সংক্রান্ত চুক্তির দায়িত্ব পালন করতেন এবং ফতোয়া লেখায় অত্যন্ত তৎপর ছিলেন। হাফেজ জাহাবির 'মুজাম' এবং হাফেজ ইবনে রজবের 'তাবাকাত' থেকে এমনটিই জানা যায়।

২ এবং তাঁর দাদার নাম বাদ পড়েছে, তিনি হলেন শামস উদ্দিন আবুল করম মুহাম্মদ, যিনি আল-আকহাল বিন হুসাম উদ্দিন আবুল ফজল মুহাম্মদ (শারশিক উপাধিতে পরিচিত) বিন জামাল উদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন শামস উদ্দিন আবু বকর আব্দুল আজিজ বিন কুতুব মহিউদ্দিন আব্দুল কাদির আল-জাবালি—আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এর বংশধর। উল্লিখিত শামস উদ্দিন আবুল করম মুহাম্মদ ৬৫১ হিজরির রমজান মাসে হিয়াল নামক শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই ৭৩৯ হিজরির জিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেন। তিনি দামেস্কে ফখর বিন বুখারি থেকে এবং অন্যত্র অন্যদের থেকে শুনেছেন, যেমনটি হাফেজ জাহাবি 'জাইলু তারিখিল ইসলাম'-এ উল্লেখ করেছেন। হিয়াল (الحيال) শব্দটি 'হা' বর্ণে কাসরা এবং 'ইয়া' বর্ণে তাশদিদ ছাড়া, এরপর 'লাম'। এটি সিনজার অঞ্চলের একটি শহর, যেখানে তাঁর পিতা, দাদা এবং তাঁর পিতার দাদার কবর রয়েছে। তাঁর পিতার দাদা আব্দুল আজিজ ৫৮০ হিজরি নাগাদ সেখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন। "তাহতাবি"

৩ "আল-জাজারি আদ-দিমাশকি... ইত্যাদি" হলেন শামস উদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আবু বকর বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল আজিজ আল-জাজারি আদ-দিমাশকি, যিনি বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থের লেখক। তিনি ফখর বিন বুখারি, ইবরাহীম বিন আহমদ বিন কামিল আল-মাকদিসি, তাকি আল-ওয়াসিতি, হাফেজ আদ-দুমইয়াতি, তাকি ইবনে দাকীক আল-ঈদ এবং অন্যদের থেকে শুনেছেন। "তাহতাবি"।

৪ তাঁর বড় ইতিহাস গ্রন্থের নাম হলো 'হাওয়াদিসুজ জামান ওয়া আনবাউহু ওয়া ওয়াফায়াতুল আকাবির ওয়াল আইয়ান মিন আবনাউহু', যেমনটি হাফেজ শামস ইবনে তুলুন বলেছেন; যেখানে তিনি তাঁর 'আল-ফিহরিস্ট আল-আওসাত'-এর প্রথম খণ্ডে তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। ইবনে হাজার বলেছেন: তিনি একটি বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ সংকলন করেছেন এবং তাঁর কবিতাগুলো মাঝারি মানের ছিল, আল-বারজালি তাঁর জন্য একটি 'মাশয়াখা' বের করেছেন। জাহাবি বলেন: তিনি চমৎকার আলোচনা করতেন, অন্তরের দিক থেকে স্বচ্ছ এবং ব্যক্তিগতভাবে সত্যবাদী ছিলেন, তবে তাঁর ইতিহাসে কিছু অদ্ভুত ও বিস্ময়কর বিষয় রয়েছে। কুতুব আল-ইউনিনি ইবনে জাওজির 'মিরআতুজ জামান'-এর পরিশিষ্টাংশে তাঁর ইতিহাস থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

৫ আদ-দুরারুল কামিনাহ ৪/১৮৫ (৪৮১২)।

৬ নাফজাহ (نفزة) এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, নুন বর্ণে কাসরা এবং ফা বর্ণে সুকুনসহ। এটি বার্বারদের একটি গোত্র, যেমনটি ইবনে আল-ইমাদ 'শাজারাতুজ জাহাব'-এ বলেছেন।

৭ ইবনে হাজার বলেন: তিনি শামস আল-আসফাহানির মজলিসে উপস্থিত হতেন এবং তিনি জাহিরি মতাদলম্বী ছিলেন, তবে শাফেয়ী মাযহাবের দিকেও তাঁর ঝোঁক ছিল এবং তিনি 'আল-মিনহাজ' সংক্ষেপ করেছিলেন। আবু বাকা বলতেন: তিনি সর্বদা জাহিরিই ছিলেন। আমি (ইবনে হাজার) বলি: আবু হাইয়ান বলতেন: যে মাযহাব কারো মনে গেঁথে গেছে, জাহিরি মাযহাব থেকে তার ফিরে আসা অসম্ভব। তিনি আকিদার ক্ষেত্রে বিদআতসমূহ যেমন: দর্শন, মুতাজিলাবাদ এবং আল্লাহর দেহায়ন (তাজসিম) থেকে মুক্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ১৪)
ولد سنة أربع وخمسن وستمائة في أواخر شوال بمطخشارش، وهي مدينة مسورة من أعمال غرناطة، ونشأ بغرناطة وقرأ بها القراءات والنحو واللغة وسمع كثيرًا، ونظم وأقرأ بها العربية من سنة أربع وسبعين وما بعدها، وسمع أيضًا بالمالقة والمرية والجزيرة الخضراء وجبل الفتح وغيرها، ثم ارتحل عن الأندلس في أول سنة سبع وسبعين وسمع بسبتة وبجاية وتونس والإسكندرية وقرأ بها القراآت أيضًا، وحج في هذه السنة فسمع بمكة ومنًى ورجع على جدة فسمع بها وبعيذاب1 وقوص، ثم قدم مصر في سنة ثمانين وستمائة فسمع بها الكثير من مشيخة وقته، وقرأ بها أيضًا القراآت العربية، وتصدر بها لإقراء العربية بالجامع الحاكمي والجامع الأقمر، ودرس التفسير بالجامع الطولوني والقبة المنصورية، ثم أضيف إليه مشيخة الحديث بها أيضًا فباشر هذه الوظائف كلها حتى مات، وأمضي أكثر عمره على الإقراء والتصنيف وقرأ عليه الأئمة الكبار وتتلمذوا له وأكثروا من كتبت تصانيفه في حياته والأخذ عنه، وممن سمع عليه الحديث بغزناطة الأستاذ أبو جعفر أحمد بن الزبير وأبو جعفر بن بشير2 وابن الطباخ3 أبو علي بن أبي الأحمر4 وأبو الحسن بن الصائغ5 وغيرهم، وبمالفة أبوعبد الله محمد بن عباس القرطبي، وببجاية أبو عبد الله محمد بن صالح الكناني، وبتونس أبو محمد عبد الله بن هارون وأبو يعقوب يوسف بن إبراهيم بن عتاب، وبالإسكندرية عبد الوهاب بن حسن بن الفرات روى له بالإجازة عن الصيدلاني وابن

--------------------------------------------

1 عيذاب بالفتح فالسكون ثم ذال معجمة وآخره باء موحدة بليدة على ضفة بحر القلزم هي مرسي المراكب التي تقدم من عدن إلى الصعيد.

2 يقول الطهطاوي: هو أبو جعفر أحمد بن سعيد بن أحمد بن بشير الأنصاري المقرئ كما ذكره أبو حيان في الإجازة التي كتبها للصلاح الصفدي المذكور بكمالها في تاريخه أعيان العصر وأعوان النصر.

3 "وابن الطباخ" بالخاء المعجمة وصوابه "وابن الطباع" بالعين المهملة كما في طبقت التاج السبكي وتاريخ الصلاح الصفدي والدرر الكامنة وبغية الوعاة وغيرها. وهو الأستاذ المقرئ الحافظ الخطيب أبو جعفر أحمد بن علي بن محمد المعروف بابن الطباع الغزناطي "المتوفى سنة ثمانين وستمائة" وقد قرأ حيان عليه الموطأ. "الطهطاوي".

4 وصوابه "ابن أبي الأحوص" كما في الإجازة المذكورة وطبقات التاج السبكي وتاريخ الصلاح الصفدي والدر الكامنة وبغية الوعاة وغيرها. هو الحافظ أبو علي الحسين بن عبد العزيز بن محمد بن عبيد العزيز بن محمد بن المعروف بابن أبي الأحوص الجياني ثم الغرناطي "المتوفى بها سنة تسع وسبعين وستمائة" وهو شيخ أبي حيان في الحديث والتفسير وغيرهما. "الطهطاوي"

5 وصوابه "أبو الحسن بن الضائع" بالضاد المعجمة والعين المهملة فإن هذا هو شيخ أبي حيان وهو أبو الحسن علي بن محمد بن علي بن يوسف الكتامي الإشبيلي المعروف بابن الضائع شارح كتاب سيبويه "المتوفى سنة ثمانين وستمائة" وأما ابن الصائغ بالصاد المهملة والغين المعجمة فهو تلميذ أبي حيان وهو شمس الدين محمد بن عبد الرحمن بن علي الزمرذي المصري شارح ألفية ابن مالك "المتوفى سنة ست وسبعين وسبعمائة" "الطهطاوي".
তিনি ৬৬৪ হিজরির শাওয়াল মাসের শেষ দিকে মাখশাখারশ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন, যা গ্রানাডার অন্তর্ভুক্ত একটি প্রাচীরবেষ্টিত শহর। তিনি গ্রানাডায় বেড়ে ওঠেন এবং সেখানে ক্বিরাত, নাহু (ব্যাকরণ) ও ভাষা শিক্ষা করেন এবং প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি কাব্য রচনা করেন এবং ৬৭৪ হিজরি থেকে সেখানে আরবি ভাষা অধ্যাপনা করেন। তিনি মালাগা, আলমেরিয়া, আল-জাজিরা আল-খাদরা, জাবাল আল-ফাতহ এবং অন্যান্য স্থানেও হাদিস শ্রবণ করেছেন। এরপর ৬৭৭ হিজরির শুরুতে তিনি আন্দালুস ত্যাগ করেন এবং সেউতা, বিজায়া, তিউনিস ও আলেকজান্দ্রিয়ায় হাদিস শ্রবণ করেন এবং সেখানে ক্বিরাতও পাঠ করেন। এই বছরই তিনি হজ সম্পন্ন করেন এবং মক্কা ও মিনায় হাদিস শ্রবণ করেন। অতঃপর তিনি জেদ্দা হয়ে ফিরে আসার সময় সেখানে এবং আইজাব ও কুসে হাদিস শ্রবণ করেন। এরপর ৬৮০ হিজরিতে তিনি মিসরে আগমন করেন এবং সেখানে সমসাময়িক বহু শায়খের নিকট থেকে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন। সেখানে তিনি আরবি ক্বিরাতসমূহও পাঠ করেন। তিনি জামে আল-হাকিমি ও জামে আল-আকওয়ারে আরবি পড়ানোর দায়িত্ব পালন করেন এবং জামে আল-তুলুনি ও আল-কুব্বাহ আল-মানসুরিয়্যাহ-তে তাফসিরের পাঠ দান করেন। অতঃপর সেখানে তার ওপর হাদিসের শায়খ হওয়ার দায়িত্বও অর্পিত হয়। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই সবকটি দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তিনি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় অধ্যাপনা ও গ্রন্থ রচনায় অতিবাহিত করেছেন। বড় বড় ইমামগণ তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর জীবদ্দশাতেই তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি প্রচুর পরিমাণে অনুলিপি করা হয়েছে এবং লোকে তা সংগ্রহ করেছে। গ্রানাডায় তাঁর নিকট যারা হাদিস শ্রবণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন উস্তাদ আবু জাফর আহমদ বিন আল-জুবাইর, আবু জাফর বিন বশির, ইবনুত তাব্বাখ, আবু আলী বিন আবি আল-আহমার, আবু হাসান বিন আস-সাইগ এবং অন্যান্যরা। মালাগাতে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্বাস আল-কুরতুবি, বিজায়ায় আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-কিনানি, তিউনিসে আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন হারুন ও আবু ইয়াকুব ইউসুফ বিন ইবরাহিম বিন আত্তাব এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় আব্দুল ওয়াহাব বিন হাসান বিন আল-ফুরাত—যিনি তাঁর নিকট আস-সাইদালানি ও ইবনে...

--------------------------------------------

১. আইজাব: আইন বর্ণে ফাতহা ও ইয়া বর্ণে সুকুন, এরপর যাল এবং শেষে বা। এটি লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত একটি ছোট শহর, যা এডেন থেকে আপার ইজিপ্টে আসা জাহাজগুলোর নোঙর করার স্থান ছিল।

২. তহতাভি বলেন: তিনি হলেন আবু জাফর আহমদ বিন সাঈদ বিন আহমদ বিন বশির আল-আনসারি আল-মুকরি, যেমনটি আবু হাইয়ান সেই ইজাজতনামায় উল্লেখ করেছেন যা তিনি সালাহ আস-সাফাদির জন্য লিখেছিলেন এবং যা সাফাদির ইতিহাস গ্রন্থ 'আয়ানুল আসর ওয়া আওয়ানুন নাসর'-এ পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণিত হয়েছে।

৩. "ইবনুত তাব্বাখ" (খ বর্ণ দিয়ে) শব্দটি ভুল, সঠিক হলো "ইবনুত তাব্বা" (আইন বর্ণ দিয়ে), যেমনটি তাজ আস-সুবকির তাবাকাত, সালাহ আস-সাফাদির ইতিহাস গ্রন্থ, আল-দুরার আল-কামিনাহ এবং বুগয়াতুল উয়াত ও অন্যান্য কিতাবে পাওয়া যায়। তিনি হলেন হাফেজ, খতিব ও ক্বারি আবু জাফর আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ, যিনি ইবনুত তাব্বা আল-গারনাতি (মৃত্যু ৬৮০ হিজরি) নামে পরিচিত। আবু হাইয়ান তাঁর নিকট মুয়াত্তা পাঠ করেছেন। (তহতাভি)।

৪. এর সঠিক রূপ হলো "ইবনে আবি আল-আহওয়াস", যেমনটি উক্ত ইজাজতনামা, তাজ আস-সুবকির তাবাকাত, সালাহ আস-সাফাদির ইতিহাস, আল-দুরার আল-কামিনাহ, বুগয়াতুল উয়াত ও অন্যান্য কিতাবে রয়েছে। তিনি হলেন হাফেজ আবু আলী আল-হুসাইন বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদুল আজিজ বিন মুহাম্মদ, যিনি ইবনে আবি আল-আহওয়াস আল-জিয়ানি ও পরবর্তীতে আল-গারনাতি (মৃত্যু ৬৭৯ হিজরি) নামে পরিচিত। তিনি হাদিস ও তাফসিরসহ অন্যান্য বিষয়ে আবু হাইয়ানের শায়খ ছিলেন। (তহতাভি)।

৫. এর সঠিক রূপ হলো "আবু হাসান বিন আদ-দাই" (দোয়াদ ও আইন বর্ণ দিয়ে), কারণ তিনিই আবু হাইয়ানের শায়খ। তিনি হলেন আবু হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন ইউসুফ আল-কুতামি আল-ইশবিলি, যিনি ইবনে আদ-দাই নামে পরিচিত এবং কিতাব সিবওয়াইহ-এর ব্যাখ্যাকার (মৃত্যু ৬৮০ হিজরি)। পক্ষান্তরে ইবনুস সাইগ (সোয়াদ ও গাইন বর্ণ দিয়ে) হলেন আবু হাইয়ানের ছাত্র। তিনি হলেন শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন আলী আজ-জুমুররুদি আল-মিসরি, যিনি ইবনে মালিকের আলফিয়ার ব্যাখ্যাকার (মৃত্যু ৭৭৬ হিজরি)। (তহতাভি)।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ১৫)
ياسين والارتاحي1 وأبو بكر عبد الله بن أحمد بن إسماعيل بن فارس حدثه عن الكندي، وبمكة ومنى وأبو الحسن علي بن صالح الحسيني ويوسف بن إسحاق الطبري نبأه عن ابن البنا، وشيوخه بالقاهرة ومصر كثيرون منهم عبد العزيز ابن الصيقل الحراني ومحمد بن إسماعيل بن الأنماطي وعبد الرحمن بن خطيب المزة2 وغازي الحلاوي محمد بن إبراهيم بن ترجم3 وشامية بنت البكري والحافظ شرف الدين الدمياطي فأكثر عنه وعن خلق، ومن عيون تصانيفه "البحر المحيط" في التفسير و"شرح التسهيل" وهما كبيران جدًّا و"ارتشاف الضرب من لسان العرب"و "التجريد لأحكام سيبويه" وكتاب التذكرة نحو ثلاثة مجلدات، ومن الكتب الصغار ما ينيف على أربيعن تصنيفًا وغالبها في القراءات والعربية، قال الذهبي: هو الإمام العلامة ذو الفنون حجة العرب عالم الديار المصرية صاحب التصانيف البديعة، وله عمل جيد في هذا الشأن وكثرة طلب، وقال العلائي: كان علامة كثير النقل والاطلاع جدًّا إلى ما لا يوصف لكنه ظاهري التصرف جامد في البحث وكان لسانه مسترسلًا في الوقيعة في الناس جدًّا إلى آخر عمره لا يتورع عن ذكر أحد سواء كان من أئمة الإسلام المتقدمين أو المتأخرين، فالله تعالى يسامحه ولم يقلع عن ذلك إلى آخر وفاته قال: وسمعت منه أشياء من ذلك بشعة وكانت وفاته4 في ثاني عشر صفر سنة خمس وأربعين وسبعمائة ودفن بمقابر الصوفية.

قلت: أجاز لي مروياته بخطه في آخر سنة أربع وأربعين وسبعمائة وهو ضرير البصر.

أنبأنا الحافظ أثير الدين أبو حيان النفزي وحدثني عنه الحافظ صلاح الدين خليل العلائي قال: أخبرنا الأديب الكاتب أبو محمد عبد الله بن محمد بن هارون الطائي قراءة مني عليه بمدينة تونس ضحى يوم الجمعة السادس عشر لجمادى الأولى سنة تسع وسبعين وستمائة.

--------------------------------------------

1 نسبة إلى "ارتاح البصر" من أعمال قيسارية بساحل الشام بها رد على يعقوب عليه السلام بصره نقله الداودي عن المقريزي كما في ذيل لب اللبان لأبي العباس أحمد بن العجمي، وإليها ينسب أبو عبد الله محمد بن أحمد المتوفى سنة 601، وحفيد أخيه أبو الكرم لاحق بن عبد المنعم المتوفى سنة 658، وسبط أبي عبد الله أحمد بن حامد المتوفى 659، وارتاح بفتح الهمزة وسكون الراء قلعة بحلب ينسب إليها جماعة من القدماءإلى ما في المعجم والمراصد، والظاهر أن ضبطهما واحد، ولم يعدهما الذهبي من المشتبه مع كثرة من نسب إليهما من الرواة.

2 يقول الطهطاوي: وصوابه "عبد الرحيم" كما في كلام غير واحد. وهو شهاب الدين أبو الفضل عبد الرحيم بن يوسف بن يحيى بن أحمد بن سليم المعروف بابن خطيب المزة الموصلي الأصل الدمشقي نزيل القاهرة "المتوفى سنة سبع وثمانين وستمائة عن تسع وثمانين سنة" وسيأتي ذكره على الصواب في ذيل الحافظ تقي الدين بن فهد في الصفحة "53" والصفحة "58" والصفحة "57" والصفحة "118".

3 المتوفى سنة 692 وفي مشتبه الذهبي: ترجم بمثناة وجيم مشكولتين بالفتح المعمر محمد بن ترجم راوي الترمذي بالقاهرة عن ابن البناء ا. هـ.

4 بمنزله بظاهر القاهرة، وفيما ذكره العلائي بعض تحامل -سامحهما الله.
ইয়াসীন আল-আরতাহী১ এবং আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ফারিস তার কাছে আল-কিন্দী থেকে বর্ণনা করেছেন। মক্কা ও মিনার আবু আল-হাসান আলী ইবনে সালিহ আল-হুসাইনী এবং ইউসুফ ইবনে ইসহাক আত-তাবারী তাকে ইবনুল বান্না থেকে সংবাদ দিয়েছেন। কায়রো ও মিশরে তার অসংখ্য শিক্ষক রয়েছেন, তাদের মধ্যে আবদুল আজিজ ইবনুস সাইকাল আল-হাররানী, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-আনমাত্তী, আবদুর রহমান ইবনে খাতিব আল-মিযযাহ২ এবং গাযী আল-হালাবী মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে তারজাম৩, শামিয়াহ বিনতে আল-বাকরী এবং হাফিজ শরফউদ্দিন আদ-দুমইয়াতী অন্যতম; তিনি তাদের কাছ থেকে এবং অসংখ্য লোকের কাছ থেকে অনেক বর্ণনা করেছেন। তার শ্রেষ্ঠ রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে তাফসীর শাস্ত্রে "আল-বাহরুল মুহীত" এবং "শারহুত তাসসীল", এই দুটিই অত্যন্ত বিশালাকার গ্রন্থ। আরও রয়েছে "আরতিশাফুদ দারাব মিন লিসানিল আরব", সীবওয়াইহ-এর আহকাম সংক্রান্ত "আত-তাজরীদ" এবং প্রায় তিন খণ্ডের "আত-তাযকিরাহ" নামক নাহু গ্রন্থ। ছোট গ্রন্থগুলোর সংখ্যা চল্লিশের বেশি, যার অধিকাংশ কিরাআত এবং আরবি ভাষা বিষয়ক। যাহাবী বলেন: তিনি হলেন ইমাম, আল্লামা, বহু বিদ্যায় পারদর্শী, আরবদের হুজ্জত (প্রমাণ), মিসরীয় ভূখণ্ডের আলিম এবং চমৎকার সব কিতাবের রচয়িতা। এই ক্ষেত্রে তার কাজ অত্যন্ত নিপুণ এবং জ্ঞান অন্বেষণে তার ব্যাপক শ্রম ছিল। আল-আলাঈ বলেন: তিনি অত্যন্ত বড় আল্লামা ছিলেন, তার উদ্ধৃতি এবং জানাশোনা বর্ণনাতীতভাবে ব্যাপক ছিল। তবে তিনি আচরণে যাহেরী মাযহাবের অনুসারী এবং গবেষণায় অনমনীয় ছিলেন। মানুষের সমালোচনায় তার জিহ্বা জীবনের শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত সাবলীল ছিল; তিনি ইসলামের পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কোনো ইমামের সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকতেন না। আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করুন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ থেকে ফিরে আসেননি। তিনি বলেন: আমি তার কাছ থেকে এই জাতীয় কিছু জঘন্য কথা শুনেছি। তার মৃত্যু হয়েছিল৪ সাতশ পঁয়তাল্লিশ হিজরী সনের বারো সফর এবং তাকে সুফীদের গোরস্থানে দাফন করা হয়।

আমি বলছি: তিনি সাতশ চুয়াল্লিশ হিজরী সনের শেষভাগে তার নিজ হাতের লেখায় আমাকে তার বর্ণিত বিষয়াদির ইজাযত (অনুমতি) দিয়েছিলেন এবং সে সময় তিনি দৃষ্টিহীন ছিলেন।

হাফিজ আসীরুদ্দীন আবু হাইয়ান আন-নাফযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং তার সম্পর্কে হাফিজ সালাহুদ্দীন খলীল আল-আলাঈ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: সাহিত্যিক ও লেখক আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হারুন আত-তায়ী তিউনিস শহরে সাতশ উনআশি হিজরী সনের ১৬ই জুমাদাল উলা, শুক্রবার পূর্বাহ্ণে আমার পাঠের মাধ্যমে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন।

--------------------------------------------

১. সিরিয়ার উপকূলীয় কায়সারিয়ার অন্তর্ভুক্ত "আরতাহ আল-বাসার" এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যেখানে ইয়াকুব আলাইহিস সালামের দৃষ্টিশক্তি ফিরে এসেছিল; দাউদী এটি মাকরীযী থেকে উদ্ধৃত করেছেন যেমনটি আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনুল আজমীর "যাইলু লুব্বিল লাবান"-এ রয়েছে। ৬০১ হিজরীতে ইন্তেকালকারী আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ, তার ভ্রাতুষ্পুত্র আবু আল-কারাম লাহিক ইবনে আবদুল মুনইম (মৃত্যু ৬৫৮), এবং আবু আবদুল্লাহ আহমাদ ইবনে হামিদের দৌহিত্র (মৃত্যু ৬৫৯) এই স্থানের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত। আরতাহ (হামযাহ-তে ফাতহাহ এবং রা-তে সুকুন) হলো আলেপ্পোর একটি দুর্গ, যার দিকে প্রাচীনকালের একদল লোক সম্বন্ধযুক্ত, যেমনটি আল-মু'জাম ও আল-মারাসিদ গ্রন্থে এসেছে। প্রতীয়মান হয় যে, দুটির উচ্চারণ একই। যাহাবী তার "আল-মুশতাবিহ" গ্রন্থে এই স্থানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত বহু রাবী থাকা সত্ত্বেও এদেরকে সংশয়যুক্ত নামের অন্তর্ভুক্ত করেননি।

২. তাহতাভী বলেন: এর সঠিক রূপ হলো "আবদুর রহীম", যা একাধিক ব্যক্তির বক্তব্যে এসেছে। তিনি হলেন শিহাবুদ্দীন আবু আল-ফাযল আবদুর রহীম ইবনে ইউসুফ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আহমাদ ইবনে সুলাইম, যিনি ইবনে খাতিব আল-মিযযাহ আল-মাওসিলী হিসেবে পরিচিত এবং কায়রোর অধিবাসী ছিলেন। তিনি ৬৭ হিজরীতে উননব্বই বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। হাফিজ তাকিউদ্দিন বিন ফাহাদের "যাইল" এর ৫৩, ৫৮, ৫৭ এবং ১১৮ পৃষ্ঠায় তার সঠিক উল্লেখ আসবে।

৩. মৃত্যু ৬৯২ হিজরী। যাহাবীর "মুশতাবিহ" গ্রন্থে রয়েছে: তারজাম (তা এবং জীম উভয়টি ফাতহাহ যোগে) দীর্ঘজীবী মুহাম্মাদ ইবনে তারজাম, যিনি কায়রোতে ইবনুল বান্না থেকে তিরমিযীর বর্ণনাকারী।

৪. কায়রোর উপকণ্ঠে তার নিজ বাসভবনে। আল-আলাঈ যা উল্লেখ করেছেন তাতে কিছুটা পক্ষপাতিত্ব রয়েছে - আল্লাহ তাদের উভয়কে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ১৬)
ونقل لنا أنه اختلط بآخره، قال: أخبرنا قاضي الجماعة الفقيه على مذهب أهل الحديث أبو القاسم أحمد بن أبي الفضل المخلدي البقوي وهو آخر من حدث عنه السماع قال: أخبرنا أبو عبد الله بن عبد الحق الخزرجي وهو آخر من حدث عنه قال: أخبرنا أبو عبد الله محمد بن فرج مولى ابن الطلاع قال: حدثنا يونس بن مغيث قال: حدثنا أبو عيسى1 قال: حدثنا أبو مروان2 قال: حدثنا يحيى بن يحيى قال: حدثنا مالك عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "صلاة الجماعة تفضل صلاة الفذ بسبع وعشرين درجة" 3. هذا حديث جيد الإسناد رجاله كلهم علماء، وهم بين قرطبي ومدني فمن شيخنا إلى يحيى بن يحيى قرطبيون ومن مالك ألى ابن عمر مدنيون، وقد رواه مسلم عن يحيى موافقة، ورواه البخاري عن عبد الله بن يوسف وعن قتيبة كلاهما عن مالك رحمه الله.

وقد مات عام خمس وأربعين بدمشق الإمام العلامة قاضي القضاة جلال الدين أبو المفاخر أحمد بن قاضي القضاة حسام الدين أبي الفضائل الحسن بن أحمد بن الحسين4 ابن أنوشروان الرازي الحنفي عن ثلاث وتسعين سنة ولي قضاء دمشق وحدث عن ابن المجاور، ومات بطرابلس المجد السني5 محمد بن عيسى بن يحيى المصري ثم الدمشقي الصوفي عن اثنتين وسبعين سنة حدث بالترمذي عن ابن ترجم، ومات بدمشق شيخ الأدب نجم الدين علي بن داود اليحياوي6 الحنفي خطيب جامع تنكز، وماتت

--------------------------------------------

1 يحيى بن عبد الله بن يحيى القرطبي.

2 عبيد الله بن يحيى القرطبي أخو جد أبي عيسى المتقدم.

3 رواه البخاري في كتاب الآذان باب 30، ومسلم في المساجد حديث 249.

4 يقول الطهطاوي: وصوابه ابن الحسن. كما في الدرر الكامنة وعدة مواضع من الجواهر المضية وطبقات الكفوي. وما ذكره المؤلف من أن وفاة جلال الدين أبي المفاخر المذكور كانت في سنة 745هـ الصواب الموافق لما في الدرر الكامنة والجواهر المضية وغيرهما، وقد قال صاحب الدرر الكامنة في ترجمته: وكتب الخطب المنسوب على الولي الذي كان ببلاد الروم ومات 691 ثم قال في آخر ترجمته: وكانت وفاته في تاسع عشر رجب من سنة 745 ا. هـ. وبهذا يعلم ما في كلام صاحب الفوائد البهية في تراجم الحنفية من الغلط الفاحش الناشئ من اختصاره عبارة الدرر الكامنة وعدم النظر إلى ما في آخرها من تاريخ وفاة المترجم فتأمل، والله الهادي.

5 قال الطهطاوي: وصوابه "السبتي" كما في معجم الحافظ الذهبي طبقات الحفاظ له في ترجمة والده وكذا في الدرر الكامنة في ترجمته وترجمة أخته أَمة الرحيم. وهو مجد الدين أبو الخطاب محمد بن الشيخ المحدث ضياء الدين عيسى بن يحيى بن أحمد بن محمد بن مسعود الأنصاري السبتي الأصل المصري ثم الدمشقي. ولد بمصر سنة 672 وسمع من ابن ترجم جامع الترمذي وتحول إلى دمشق فسكنها وولي بها مشيخة دروس جمة، وحدث ومات في جمادى الآخرة من سنة 745. وأما والده ضياء الدين عيسى فقد توفي بالقاهرة في سنة 696 عن 83 سنة كما في معجم الحافظ الذهبي.

6 قال الطهطاوي: وصوابه "القحفازي" بالقاف والحاء المهملة والفاء والزاي كما يعلم من الجواهر المضية في باب الأنساب. وهو شيخ النحاة والأدباء بدمشق في عصره نجم الدين أبو الحسن علي بن داود بن يحيى بن كامل بن يحيى بن جبارة القرشي الزبيري القحفازي الدمشقي الحنفي وله ترجمة في الدرر الكامنة وفوات الوفيات والجواهر المضية وبغية الوعاة وشذرات الذهب ولكن ليس فيها بيان هذه النسبة ولعل أحد آبائه لقب بالقحفاز من القحفزة هي سرعة المشي فتنسب إليه، والله أعلم.
আমাদের কাছে বর্ণিত হয়েছে যে, শেষ বয়সে তার স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছিল। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহলুল হাদিস মাযহাবের ফকিহ জামাতের বিচারক আবুল কাসিম আহমাদ ইবন আবিল ফাদল আল-মুখাল্লাদী আল-বাকাবী, আর তিনিই সর্বশেষ ব্যক্তি যিনি তার কাছ থেকে সরাসরি শ্রবণ করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ ইবন আবদিল হাক আল-খাজরাজী, আর তিনিই সর্বশেষ ব্যক্তি যিনি তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুত তাল্লা-এর মুক্তদাস আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ফারাজ। তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবন মুগীস। তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু ঈসা। তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মারওয়ান। তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া। তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মালিক, নাফে’ থেকে, তিনি ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জামাতের সালাত একাকী সালাতের চেয়ে সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদা রাখে।" এই হাদিসটির সনদ বেশ উন্নত এবং এর বর্ণনাকারীদের সকলেই আলেম। তারা কর্ডোভা ও মদিনার অধিবাসী। আমাদের শায়খ থেকে ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া পর্যন্ত তারা কর্ডোভার অধিবাসী এবং মালিক থেকে ইবন উমর পর্যন্ত তারা মদিনার অধিবাসী। ইমাম মুসলিম এটি ইয়াহইয়া থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম বুখারি এটি আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ ও কুতাইবা থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়েই মালিক রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং সাতশ পঁয়তাল্লিশ হিজরি সনে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন ইমাম, আল্লামা, প্রধান বিচারপতি জালালুদ্দীন আবুল মাফাখির আহমাদ ইবন প্রধান বিচারপতি হুসামুদ্দীন আবুল ফাদায়েল হাসান ইবন আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবন আনুশারওয়ান আল-রাযী আল-হানাফি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল তিরানব্বই বছর। তিনি দামেস্কের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ইবনুল মুজাওয়ির থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর ত্রিপলিতে ইন্তেকাল করেছেন আল-মাজদ আস-সুন্নি মুহাম্মদ ইবন ঈসা ইবন ইয়াহইয়া আল-মিসরী অতঃপর আদ-দামেশকী আস-সূফি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল বাহাত্তর বছর। তিনি ইবনুর তারজাম থেকে তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। আর দামেস্কে ইন্তেকাল করেছেন সাহিত্যের শায়খ নাজমুদ্দীন আলী ইবন দাউদ আল-ইয়াহইয়াভী আল-হানাফি, যিনি তানকায জামে মসজিদের খতিব ছিলেন। এবং ইন্তেকাল করেছেন...

--------------------------------------------

১ ইয়াহইয়া ইবন আবদুল্লাহ ইবন ইয়াহইয়া আল-কুরতুবী।

২ উবায়দুল্লাহ ইবন ইয়াহইয়া আল-কুরতুবী, যিনি পূর্বোল্লিখিত আবু ঈসার দাদার ভাই।

৩ বুখারি এটি আযান অধ্যায়ের ৩০তম পরিচ্ছেদে এবং মুসলিম মাসাজিদ অধ্যায়ের ২৪৯ নম্বর হাদিসে বর্ণনা করেছেন।

৪ আত-তহতাবী বলেন: এর সঠিক রূপ হলো ইবনুল হাসান। যেমনটি আদ-দুরার আল-কামিনাহ এবং আল-জাওয়াহির আল-মুদিয়্যাহ ও তাবাকাতুল কাফভীর বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। লেখক জালালুদ্দীন আবুল মাফাখিরের মৃত্যু ৭৪৫ হিজরিতে উল্লেখ করেছেন যা সঠিক এবং আদ-দুরার আল-কামিনাহ ও আল-জাওয়াহির আল-মুদিয়্যাহ এবং অন্যান্য গ্রন্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আদ-দুরার আল-কামিনাহ এর লেখক তার জীবনীতে বলেছেন: তিনি আর-রুম দেশে অবস্থানকারী অলির জন্য খুতবা লিখেছিলেন এবং ৬৯১ সালে মারা যান। অতঃপর তিনি জীবনী শেষে বলেন: তার মৃত্যু হয়েছিল ৭৪৫ হিজরির ১৯শে রজব। এর মাধ্যমে আল-ফাওয়ায়েদ আল-বাহিয়্যাহ ফী তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ এর লেখকের বক্তব্যের মারাত্মক ভুলটি স্পষ্ট হয়, যা আদ-দুরার আল-কামিনাহ-এর ইবারত সংক্ষেপ করার ফলে এবং জীবনী শেষে উল্লিখিত মৃত্যুর তারিখের প্রতি খেয়াল না করার কারণে তৈরি হয়েছে। বিষয়টি অনুধাবনযোগ্য, আল্লাহ-ই সঠিক পথের দিশারি।

৫ আত-তহতাবী বলেন: সঠিক শব্দ হলো "আস-সাবতী", যেমনটি হাফেজ আয-যাহাবীর মুজাম গ্রন্থে, তার তাবাকাতুল হুফফাজ গ্রন্থে তার পিতার জীবনীতে এবং আদ-দুরার আল-কামিনাহ গ্রন্থে তার ও তার বোন আমাতুর রহীমের জীবনীতে এসেছে। তিনি হলেন মাজদুদ্দীন আবুল খাত্তাব মুহাম্মদ ইবন শায়খ মুহাদ্দিস যিয়াউদ্দীন ঈসা ইবন ইয়াহইয়া ইবন আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মাসউদ আল-আনসারী আস-সাবতী আল-আসলি আল-মিসরী অতঃপর আদ-দামেশকী। তিনি ৬৭২ হিজরিতে মিশরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইবনুর তারজাম থেকে জামে তিরমিযী শ্রবণ করেন। এরপর দামেস্কে স্থানান্তরিত হয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন এবং বহু দরসের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং ৭৪৫ হিজরির জমাদিউল আখিরা মাসে মৃত্যুবরণ করেন। আর তার পিতা যিয়াউদ্দীন ঈসা ৬৯৬ হিজরিতে কায়রোতে ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন, যেমনটি হাফেজ আয-যাহাবীর মুজামে উল্লিখিত হয়েছে।

৬ আত-তহতাবী বলেন: এর সঠিক রূপ হলো "আল-কাহফাযী" (ক্বফ, হা, ফা এবং যা যোগে), যা আল-জাওয়াহির আল-মুদিয়্যাহ-এর বংশ পরিচয় অধ্যায় থেকে জানা যায়। তিনি ছিলেন তার যুগের দামেস্কের নাহুবিদ ও সাহিত্যিকদের শায়খ নাজমুদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবন দাউদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন কামিল ইবন ইয়াহইয়া ইবন জাব্বারাহ আল-কুরাশী আয-যুবাইরী আল-কাহফাযী আদ-দামেশকী আল-হানাফি। আদ-দুরার আল-কামিনাহ, ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত, আল-জাওয়াহির আল-মুদিয়্যাহ, বুগইয়াতুল উয়াত এবং শাযারাতুয যাহাব গ্রন্থে তার জীবনী রয়েছে, তবে সেগুলোতে এই বংশনামের ব্যাখ্যা নেই। সম্ভবত তার পূর্বপুরুষদের কাউকে দ্রুত হাঁটার কারণে 'কাহফায' উপাধি দেওয়া হয়েছিল এবং তার দিকেই এই নিসবত করা হয়েছে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ১৭)
ببعلبك المعمرة أَمة العزيز بنت الحافظ شرف الدين أبي الحسن1 اليونيني2 عن سن عالية حدثت عن الشيخ شمس الدين وابن علان ونصر الله بن حواري3 وغيرهم، ومات بالصالحية المعمر زين الدين عبد الرحمن بن حسن بن مناع التكريتي عن نحو تسعين سنة حدث عن ابن عبد الدائم وغيره، ومات بها أيضًا المعمر عثمان بن سالم بن خلف البلدي4 وقد جاوز المائة حدث بصحيح مسلم عن ابن عبد الدائم، ومات بدمشق الإمام المفتي أبو عمرو أحمد بن أبي الوليد محمد بن أحمد المالكي عن بضع وسبعين سنة حدث عن ابن البخاري وغيره، ومات بالقاهرة كبير الأمراء وعالمهم سنجر الجاولي المنصوري حدث بمسند الشافعي5 عن دانيال قاضي الكرك، ومات بدمشق قاضي القضاة شمس الدين محمد بن أبي بكر بن النقيب الشافعي عن بضع وثمانين صاحب النواوي وحدث عن ابن البخاري وغيره، ومات ببرزة خطيبها الصدر سليمان بن أحمد بن علي اليانياسي عن إحدى وثمانين سنة حدث ابن البخاري، وماتت بالصالحية المعمرة حبيبة بنت إبراهيم بن عبد الله بن أبي عمر المقدسية عن إحدى وتسعين سنة حدثت عن ابن عبد

--------------------------------------------

1 قال الطهطاوي: وصوابه "أبي الحسين" لأن هذه كنية شرف الدين على ابن الشيخ الفقيه اليونيني كما في معجم الحافظ الذهبي وطبقات الحفاظ له والدرر الكامنة وغير ذلك سيأتي ذكرها على الصواب في ذيل التقي بن فهد في الصفحة "257" وابنته أمة العزيز المذكورة أكبر بناته ولدت سنة 657 وعمرت 88 سنة.

2 نسبة إلى يونين من قرى بعلبك، وفي المراصد والقاموس يونان بالضم قرية بها فعلى الثاني النسبة شاذة والقياس يوناني، ويونان أيضًا قرية بين بردعة وبيلقان كما في ذيل لب اللباب.

3 هو الشيخ شرف الدين نصر الله بن عبد المنعم بن حوراي التنوخي الدمشقي الحنفي المتوفى سنة 677هـ ذكره الذهبي.

4 والذي في معجم الحافظ الذهبي ومعجم التاج السبكي أبوعمر عثمان بن سالم بن خلف بن فضل البدي الصالحي الحنبلي ولد بقرية بديا من قرى الساحل ا. هـ. وبديا بفتح الباء الموحدة وكسر الدال المهملة المشددة وبعدها مثناة تحتية وألف مقصروة كما هو مضبوط بالقلم في المعجمين المذكورين.

وقال الحافظ ابن حجر في الدرر الكامنة: عثمان بن سالم بن خلف بن فضل الله بن أبي بكر البذي المقدسي الصالحي ثم قال: وهو منسوب إلى بذا بفتح الموحدة وتشديد الذال المعجمة مقصورًا قرية من الساحل ا. هـ. وبهذا يعرف أن كلمة البلدي محرفة وصوابها البدي بتشديد الدال المهملة أو الذال المعجمة، والله أعلم. وفي معجم البلدن في باب الباء والدال المهملة بدا بالفتح والقصر وادٍ قرب أيلة من ساحل البحر ا. هـ. ولم يضبط الدال بالتخفيف ولا بالتشديد. "الطهطاوي".

5 وله شرح كبير على مسند الشافعي جمع فيه بين شرحي الرافعي وابن الأثير.
বালবেকে দীর্ঘজীবী আমাতুল আজিজ বিনতে হাফিজ শরাফউদ্দিন আবু হাসান ১ আল-ইউনিনি ২ ইনতিকাল করেছেন। তিনি সুদীর্ঘ বয়স লাভ করেছিলেন এবং শেখ শামসুদ্দিন, ইবনে আল্লান, নাসরুল্লাহ বিন হাওয়ারি ৩ ও অন্যান্যদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। সালিহিয়্যাহতে দীর্ঘজীবী জয়নুদ্দিন আবদুর রহমান বিন হাসান বিন মান্না আল-তিকরিতি প্রায় নব্বই বছর বয়সে ইনতিকাল করেন; তিনি ইবনে আবদুল দায়িম ও অন্যান্যদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। সেখানে আরও ইনতিকাল করেন দীর্ঘজীবী উসমান বিন সালিম বিন খালাফ আল-বালাদি ৪, যার বয়স একশ অতিক্রম করেছিল; তিনি ইবনে আবদুল দায়িমের সূত্রে সহীহ মুসলিম বর্ণনা করেছেন। দামেস্কে ইমাম মুফতি আবু عمرو আহমদ বিন আবি ওয়ালিদ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মালিকি সত্তরোর্ধ্ব বয়সে ইনতিকাল করেন; তিনি ইবনে বুখারি ও অন্যান্যদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। কায়রোতে আমীরদের প্রধান ও তাদের মধ্যে বিজ্ঞ আলেম সানজার আল-জাওলি আল-মানসুরি ইনতিকাল করেন; তিনি কারাক-এর বিচারক দানিয়ালের সূত্রে মুসনাদে শাফিঈ ৫ বর্ণনা করেছেন। দামেস্কে প্রধান বিচারপতি শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আন-নাকীব আল-শাফিঈ আশি বছরের কিছু বেশি বয়সে ইনতিকাল করেন; তিনি ইমাম নববীর সহচর ছিলেন এবং ইবনে বুখারি ও অন্যদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। বারযাহ শহরে সেখানকার খতিব আল-সদর সুলায়মান বিন আহমদ বিন আলী আল-ইয়ানিয়াসি একাশি বছর বয়সে ইনতিকাল করেন; তিনি ইবনে বুখারির থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। সালিহিয়্যাহতে দীর্ঘজীবী হাবিবা বিনতে ইব্রাহিম বিন আবদুল্লাহ বিন আবি ওমর আল-মাকদিসিয়া ৯১ বছর বয়সে ইনতিকাল করেন; তিনি ইবনে আবদুল [দায়িম] থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১. আল-তহতাবি বলেন: এর সঠিক রূপ হবে "আবু আল-হুসাইন", কারণ হাফিজ জাহাবীর মু'জাম, তার তবাকাতুল হুফফাজ, আদ-দুরারুল কামিনাহ এবং অন্যান্য গ্রন্থে শরাফউদ্দিনের এটাই উপনাম (কুনিয়াত) উল্লেখ করা হয়েছে, যা শায়খ ফকীহ আল-ইউনিনির পুত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আল-তাকী বিন ফাহদের সংযোজনীতে ২৫৭ পৃষ্ঠায় এটি সঠিকভাবে আসবে। উল্লেখিত আমাতুল আজিজ ছিলেন তার বড় মেয়ে, যিনি ৬৫৭ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৮৮ বছর বেঁচে ছিলেন।

২. বালবেকের গ্রাম 'ইউনিন' এর সাথে সম্পর্কিত। 'আল-মরাসদ' ও 'আল-কামুস' গ্রন্থে 'ইউনান' (পেশ যোগে) বলা হয়েছে যা সেখানকার একটি গ্রামের নাম। দ্বিতীয় মতানুসারে এই নিসবতটি বিরল এবং ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী তা 'ইউনানি' হওয়া উচিত ছিল। ইউনান নামে আরেকটি গ্রামও রয়েছে যা বারদাআ ও বায়লাকানের মাঝে অবস্থিত, যেমনটি 'লুব্বুল লুবাব'-এর সংযোজনীতে এসেছে।

৩. তিনি হলেন শেখ শরাফউদ্দিন নাসরুল্লাহ বিন আবদুল মুনইম বিন হাওয়ারি আল-তানুখি আল-দিমাশকি আল-হানাফি, যিনি ৬৭৭ হিজরীতে ইনতিকাল করেন। হাফিজ জাহাবী তার উল্লেখ করেছেন।

৪. হাফিজ জাহাবীর মু'জাম এবং আল-তাজ আল-সুবকির মু'জামে যা আছে তা হলো: আবু ওমর উসমান বিন সালিম বিন খালাফ বিন ফজল আল-বুদ্দি আল-সালিহি আল-হাম্বলি। তিনি উপকূলীয় অঞ্চলসমূহের একটি গ্রাম 'বিদ্দিয়া' (Badya)-তে জন্মগ্রহণ করেন। বিদ্দিয়া শব্দটি 'বা' অক্ষরে জবর এবং 'দাল' অক্ষরে যের ও তাশদীদ সহকারে, অতঃপর 'ইয়া' এবং আলিফে মাকসূরা যোগে গঠিত, যেমনটি উল্লেখিত উভয় মু'জামে কলম দ্বারা সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত আছে।

হাফিজ ইবনে হাজার 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' গ্রন্থে বলেন: উসমান বিন সালিম বিন খালাফ বিন ফজলুল্লাহ বিন আবি বকর আল-বাযযি আল-মাকদিসি আল-সালিহি। এরপর তিনি বলেন: এটি উপকূলীয় একটি গ্রাম 'বাযা' (Baza) এর সাথে সম্পর্কিত যা 'বা' এর জবর এবং 'যাল' এর তাশদীদ সহকারে আলিফে মাকসূরা বিশিষ্ট। এর দ্বারা বোঝা গেল যে 'আল-বালাদি' শব্দটি বিকৃত এবং এর সঠিক রূপ হলো 'আল-বুদ্দি' (দাল-এর তাশদীদ সহকারে) অথবা 'আল-বাযযি' (যাল-এর তাশদীদ সহকারে)। আল্লাহু আলাম। 'মু'জামুল বুলদান' গ্রন্থে 'বা' এবং 'দাল' অধ্যায়ে 'বাদা' শব্দটিকে জবর ও কাসর সহকারে আয়লাহর নিকটবর্তী সমুদ্র উপকূলীয় একটি উপত্যকা বলা হয়েছে। সেখানে দাল-এর তাশদীদ বা তাখফীফ (হালকা উচ্চারণ) নিশ্চিত করা হয়নি। "আল-তহতাবি"

৫. মুসনাদে শাফিঈ-এর ওপর তার একটি বিশাল ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যেখানে তিনি ইমাম রাফিয়ী ও ইবনে আসীরের উভয় ব্যাখ্যাগ্রন্থকে একত্রিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ১৮)
الدائم وغيره وأجاز لها محمد بن عبد الهادي1 والحسن البكري وطائفة، وفي ربيع الأول منها قتل السلطان الملك أحمد بن الملك الناصر محمد بن قلاوون بالكرك -رحمه الله تعالى.

أبو محمد بن المحب 2 الشيخ الإمام العالم الزاهد المحدث المفيد الحافظ محب الدين أبو محمد عبد الله بن أحمد بن المحب عبد الله بن أحمد بن محمد بن إبراهيم المقدسي الأصل الصالحي الحنبلي:

ولد في المحرم سنة اثنتين وثمانين وستمائة وأسمعه أبوه من ابن البخاري وابن العقاب3 وبنت مكي وجماعة من الموجودين حينئذ، ثم طلب هو بنفسه في سنة ثمان وتسعين فأكثر عن عمر القواس والشرف بن عساكر والغسولي4 فمن بعدهم، وعني بهذا الشأن وجمع وخرج وأفاد وسمع أولاده وكان فصيحًا بليغًا سريع القراءة، إذا حضر مع مشيختنا المزي والبرزالي والذهبي وتلك الحلبة لا يتقدمه أحد في القراءة وكان كثير التلاوة متين الديانة مات في ربيع الأول سنة سبع وثلاثين وسبعمائة ودفن بقرب الموفق5 -رحمه الله تعالى- وكانت جنازته مشهودة، حدث عنه الذهبي في معجمه.

أخبرنا أبو الحسن علي الكاكوني6 سماعًا عليه في سنة خمس وعشرين وسبعمائة قال: أخبرنا أبو البركات عبد الله بن محمد المصري إجازة وحدثنا الحافظ محب الدين. المقدسي يومئذ قال: أخبرنا أبو محمد عبد الله بن محمد بن القزاز بقراءتي قال: أخبرنا أبو الفضل الجمال السعدي قال: حدثنا الحافظ أبو طاهر السلفي قال: حدثنا أبو مطيع محمد بن

--------------------------------------------

1 المتوفى سنة 658 كما في الشذرات وهو الكبير وأما محمد بن عبد الهادي الصغير فسيأتي وهو متأخر بكثير.

2 ولفظ ابن رجب: أسمعه والده من الفخر ابن البخاري وابن الكمال وزينب بنت مكي وجماعة.

3 الدرر الكامنة 2/ 149 (2110) .

4 نسبه إلى غَسوله بفتح الغين المعجمة قرية من قرى دمشق كما في معجم البلدان وغيره وهو المسند المعمر يوسف بن أحمد الغسولي المتوفى سنة سبعمائة وعاش ثمانيًا وثمانين سنة روى عن الموفق وغيره وهو أيضًا من مشايخ الذهبي وطبقته، كان أميًّا لا يكتب ذكره ابن العماد الحنبلي في شذرات الذهب.

5 بسفح قاسيون بصالحية دمشق.

6 يقول الطهطاوي: وصوابه "السكاكري" وهو علاء الدين أبو الحسن علي بن محمد بن علي بن أبي القاسم المعروف بابن السكاكري العدوي الدمشقي الصالحي الشروط "المتوفى في المحرم من سنة ست وعشرين وسبعمائة عن ثمانين سنة" وقد ذكره الحافظ الذهبي في معجمه والصلاح العلائي في فهرست مروياته، والحافظ ابن حجر في الدرر الكامنة وصاحب شذرات الذهب.
আদ-দায়িম ও অন্যান্যরা এবং মুহাম্মাদ বিন আব্দুল হাদী ১ ও আল-হাসান আল-বাকরী এবং একদল তাকে অনুমতি (ইজাযাহ) প্রদান করেছেন। এই বছরেরই রবিউল আউয়াল মাসে সুলতান আল-মালিক আহমাদ বিন আল-মালিক আন-নাসির মুহাম্মাদ বিন কালাউন কারাক অঞ্চলে নিহত হন - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

আবু মুহাম্মাদ বিন আল-মুহিব্ব ২: শায়খ, ইমাম, আলিম, যাহেদ (সংসারবিরাগী), মুহাদ্দিস, উপকারী ও হাফিয মুহিব্বুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আল-মুহিব্ব আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আল-মাকদিসী (মূলত), আস-সালিহী, আল-হাম্বলী:

তিনি ৬৮২ হিজরীর মুহাররাম মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা তাঁকে ইবনুল বুখারী, ইবনুল উক্বাব ৩, বিনতে মক্কী এবং তৎকালীন একদল মাশায়েখ থেকে হাদীস শ্রবণ করান। অতঃপর তিনি নিজে ৬৯৮ হিজরী সালে জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেন এবং উমর আল-কাওয়াস, আশ-শারাফ বিন আসাকির ও আল-গাসুলী ৪ এবং তাঁদের পরবর্তী অনেকের নিকট থেকে প্রচুর হাদীস সংগ্রহ করেন। তিনি এই শাস্ত্রের প্রতি অতি যত্নবান ছিলেন এবং তিনি সংকলন ও তাখরীজ করেছেন এবং মানুষের উপকার করেছেন ও তাঁর সন্তানদের হাদীস শ্রবণ করিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত বাগ্মী ও প্রাঞ্জলভাষী ছিলেন এবং দ্রুত পঠনে পারদর্শী ছিলেন। যখন তিনি আমাদের শায়খ আল-মিযযী, আল-বিরযালী ও আয-যাহাবী এবং সেই স্তরের আলিমদের মজলিসে উপস্থিত হতেন, পাঠের ক্ষেত্রে কেউ তাঁর অগ্রবর্তী হতে পারত না। তিনি প্রচুর তিলাওয়াতকারী ও দ্বীনদারিতে অত্যন্ত মজবুত ছিলেন। তিনি ৭৩৭ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন এবং মুওয়াফ্ফাক্ব ৫ এর কবরের নিকট সমাধিস্থ হন - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। তাঁর জানাজায় প্রচুর মানুষের উপস্থিতি ছিল। আয-যাহাবী তাঁর ‘মুজাম’ গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী আল-কাকুনী ৬ তাঁর নিকট ৭২৫ হিজরীতে শ্রবণের মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-মিসরী ইজাযাহর মাধ্যমে এবং হাফিয মুহিব্বুদ্দীন আল-মাকদিসী সেদিন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-কাযযায আমার পাঠের মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফযল আল-জামাল আস-সা’দী; তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাফিয আবু তাহির আস-সিলাফী; তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু মুতী’ মুহাম্মাদ বিন

--------------------------------------------

১. তিনি ৬৫৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন যেমনটি 'শাযারাত'-এ বর্ণিত হয়েছে। তিনি হলেন বড় (আল-কাবীর), আর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল হাদী ছোট (আস-সাগীর) এর কথা সামনে আসবে এবং তিনি অনেক পরের ব্যক্তি।

২. ইবনে রাজাব এর শব্দ হলো: তাঁর পিতা তাঁকে ফখর ইবনুল বুখারী, ইবনুল কামাল, যায়নাব বিনতে মক্কী এবং একদল মাশায়েখ থেকে শ্রবণ করিয়েছেন।

৩. আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/১৪৯ (২১১০)।

৪. তাঁর নিসবত (নামের শেষাংশ) হলো গাসূলাহ (গাইন অক্ষরে যবর দিয়ে), যা দামেস্কের নিকটবর্তী একটি গ্রাম, যেমনটি 'মুজামুল বুলদান' ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তিনি হলেন প্রবীণ মুসনিদ ইউসুফ বিন আহমাদ আল-গাসুলী, যিনি ৭০০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ৮৮ বছর বেঁচে ছিলেন। তিনি মুওয়াফ্ফাক্ব ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনিও আয-যাহাবীর শায়খদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর সমসাময়িক স্তরের। তিনি নিরক্ষর ছিলেন, লিখতে পারতেন না। ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী 'শাযারাতুয যাহাব' গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেছেন।

৫. দামেস্কের সালিহিয়্যাহর কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে।

৬. আত-তহতাবী বলেন: এর সঠিক রূপ হলো "আস-সাকাকীরী"। তিনি হলেন আলাউদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আবুল কাসিম, যিনি ইবনুস সাকাকীরী আল-আদাবী আদ-দিমাশকী আস-সালিহী আশ-শুরুতী নামে পরিচিত (তিনি ৭২৬ হিজরীর মুহাররাম মাসে ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন)। হাফিয আয-যাহাবী তাঁর ‘মুজাম’ গ্রন্থে, সালাহ আল-আলাঈ তাঁর বর্ণিত হাদিসের তালিকায়, হাফিয ইবনে হাজার ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ গ্রন্থে এবং ‘শাযারাতুয যাহাব’ এর লেখক তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ১৯)
عبد الواحد المصري إملاءً بأصبهان قال: أخبرنا علي بن يحيى بن عبد كويه2 قال: أخبرنا أحمد بن سهل العسكري بالبصرة قال: حدثنا مسدد وعبد الأعلى قال: حدثنا خالد قال: حدثنا سهيل عن أبيه عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "م امنكم من أحد ينجيه عمله". قالوا: "ولا أنت يا رسول الله؟ قال: "ولا أنا إلا أن يتغمدني الله منه برحمته" رواه مسلم3 في صحيحه من حديث محمد بن سيرين عن أبي هريرة رضي الله عنه بمعناه وخالد هو الحذاء رحمه الله.

ابن الفخر 4 الإمام العالم الحافظ فخر الدين أبو محمد بن عبد الرحمن ابن الإمام العلامة شمس الدين أبي عبد الله محمد بن الإمام فخر الدين أبي محمد عبد الرحمن بن يوسف البعلبكي ثم الدمشقي الحنبلي:

ولد سنة خمس وثمانين وستمائة وحضر5 في الثانية على ابن البخاري وسمع من تقي الدين الواسطي وعمر بن القواس وجماعة، ثم طلب بنفسه، فسمع أبا الفضل ابن عساكر وخلقا، قال شيخنا الحافظ أبو عبد الله الذهبي: تفقه وطلب هذا الشأن وارتحل فيه مرات وكتب العالي والنازل من سنة خمس وسبعمائة وهلم جرّا وخرج وأفاد الخاصّة والعامّة، سمع مني وسمعت منه وتوفي في ذي القعدة اثنتين وثلاثين وسبعمائة.

قلت: وفيها مات الملك المؤيد صاحب حماة وصاحب التاريخ، وقاضي الشام علم الدين الإخنائي6 الشافعي، وكبير الأمراء بكتمر الساقي.

أخبرنا الحافظ أبوعبد الله الذهبي بقراءتي، عليه أخبرنا عبد الرحمن بن محمد الحافظ قال: أخبرنا إبراهيم بن علي قال: أخبرنا داود بن ملاعب قال: أخبرنا محمد بن عمر قال: أخبرنا محمد بن علي العباسي قال: أخبرنا عمر بن أحمد الواعظ قال: حدثنا أحمد بن القسم بن نصر قال: حدثنا أبو همام قال: حدثنا إسماعيل بن عياش عن عبد الله عن نافع عن

--------------------------------------------

1 وهو الشيخ الذي انتهى إليه علو الإسناد بأصبهان أبو مطيع محمد بن عبد الواحد بن عبد العزيز بن أحمد المصري الأصل المديني ثم الأصبهاني "المتوفى سنة 497 وهو في عشر المائة" وله جزء حديثي رواه عنه الحافظ السلفي بأصبهان في ثاني شعبان من سنة 488. "الطهطاوي".

2 قال الطهطاوي: هو أبو الحسن علي بن يحيى بن جعفر بن كويه الأصبهاني إمام جامعها "المتوفى 422".

3 رواه البخاري في الرقاق باب 18. ومسلم في المنافقين حديث 71-73.

4 الدرر الكامنة 4/ 208 (2350) .

5 قال الطهطاوي: والذي في طبقات الحافظ ابن رجب "وسمع من ابن البخاري في الخامسة" ومثله في المنهج الأحمد والدرر الكامنة والرد الوافي وشذرات الذهب أي في السنة الخامسة من عمره وهي سنة وفاة البخاري والجمع بينهما ممكن

6 بكسر الهمزة وسكون الخاء المعجمة على ما في الضوء اللامع وغيره.
আব্দুল ওয়াহিদ আল-মিসরী আসবাহানে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন ইয়াহইয়া বিন আবদ কুওয়াইহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন সাহল আল-আসকারী বসরার মধ্যে, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ ও আবদ আল-আলা, তারা বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন খালিদ, তিনি সুহাইল থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কাউকেও তার আমল মুক্তি দেবে না।" তারা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! এমনকি আপনিও না?" তিনি বললেন: "আমিও না, যদি না আল্লাহ আমাকে তাঁর রহমত দ্বারা আচ্ছাদিত করে নেন।" এটি মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে মুহাম্মদ বিন সিরীন এর সূত্রে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে একই অর্থে বর্ণনা করেছেন। আর খালিদ হলেন আল-হাদ্দা (রাহিমাহুল্লাহ)।

ইবনুল ফাখর, ইমাম, আলেম, হাফেজ ফখরুদ্দীন আবু মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন ইমাম আল্লামা শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইমাম ফখরুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ আল-বালবাক্কী অতঃপর দামেস্কী আল-হানবালী:

তিনি ৬৮৫ হিজরী সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং দ্বিতীয় বছর বয়সে ইবনুল বুখারীর মজলিসে উপস্থিত হন। তিনি তাকীউদ্দীন আল-ওয়াসিতী, উমর বিন আল-কাওয়াস এবং এক জামাত থেকে শ্রবণ করেছেন। অতঃপর তিনি নিজে জ্ঞান অন্বেষণ করেন এবং আবুল ফজল ইবনে আসাকির ও এক বিশাল সৃষ্টি (জনগোষ্ঠী) থেকে শ্রবণ করেন। আমাদের শায়খ হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আয-যাহাবী বলেন: তিনি ফিকহ অর্জন করেছেন এবং এই শাস্ত্র অন্বেষণ করেছেন এবং এতে বহুবার সফর করেছেন। তিনি ৭০৫ হিজরী সাল থেকে উচ্চ ও নিম্ন (সনদ) লিখেছেন এবং এ ধারা অব্যাহত রাখেন। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং বিশেষ ও সাধারণ মানুষকে উপকৃত করেছেন। তিনি আমার নিকট থেকে শুনেছেন এবং আমিও তার নিকট থেকে শুনেছি। তিনি ৭৩২ হিজরীর যিলকদ মাসে ইন্তেকাল করেন।

আমি বলছি: এই সালেই হামার অধিপতি ও ইতিহাস গ্রন্থ প্রণেতা আল-মালিক আল-মুয়াইয়্যাদ, এবং সিরিয়ার বিচারক আলামুদ্দীন আল-ইখনায়ী আশ-শাফিয়ী এবং প্রধান আমীর বাক্তামুর আস-সাকী মৃত্যুবরণ করেন।

হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আয-যাহাবী আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ হাফেজ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহীম বিন আলী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দাউদ বিন মুলাইব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন উমর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আলী আল-আব্বাসী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর বিন আহমাদ ওয়ায়েজ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন কাসেম বিন নাসর, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু হাম্মাম, তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আইয়াশ, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি নাফে থেকে...

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন সেই শায়খ যার মাধ্যমে আসবাহানে উচ্চ সনদের পরিসমাপ্তি ঘটে; আবু মুতী মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল আজিজ বিন আহমাদ আল-মিসরী আল-আসল আল-মাদিনী অতঃপর আল-আসবাহানী (মৃত্যু ৪৯৭ হিজরী, তখন তার বয়স ছিল একশত বছরের কাছাকাছি)। তার একটি হাদীসের সংকলন রয়েছে যা হাফেজ আস-সিলাফী আসবাহানে ৪৮৮ হিজরীর ২রা শাবান তার থেকে বর্ণনা করেছেন। "আত-তহতাবী"।

২ আত-তহতাবী বলেন: তিনি হলেন আবু আল-হাসান আলী বিন ইয়াহইয়া বিন জাফর বিন কুওয়াইহ আল-আসবাহানী, সেখানকার জামে মসজিদের ইমাম (মৃত্যু ৪২২ হিজরী)।

৩ এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন আর-রিকাক অধ্যায়ে ১৮ নম্বর পরিচ্ছেদে এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন আল-মুনাফিকুন অধ্যায়ে ৭১-৭৩ নম্বর হাদীসে।

৪ আদ-দুরারুল কামিনাহ ৪/২০৮ (২৩৫০)।

৫ আত-তহতাবী বলেন: হাফেজ ইবনে রাজাবের 'তাবাকাত' গ্রন্থে যা আছে তা হলো "তিনি ইবনুল বুখারী থেকে পঞ্চম বছর বয়সে শুনেছেন"। আল-মানহাজুল আহমাদ, আদ-দুরারুল কামিনাহ, আর-রাদ্দুল ওয়াফী এবং শাযারাতুয যাহাব গ্রন্থেও অনুরূপ রয়েছে, অর্থাৎ তার বয়সের পঞ্চম বছরে, যা ইবনুল বুখারীর মৃত্যুর বছর। এই উভয় বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব।

৬ হামযাহ-র নিচে যের এবং খ-এর ওপর সাকিন সহকারে, যেমনটি আদ-দউ আল-লামি এবং অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ২০)
ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "الذي يجر ثوبه خيلا، لا ينظر الله إليه يوم القيامة" 1.

تابعه أبو أسامة وغيره وراه النسائي عن إسماعيل بن مسعود عن بشر بن الفضل عن عبد الله بن عمر بنحوه ورواه البخاري عن عروة.

ابن المظفر 2 الشيخ الإمام العالم الحافظ المتقن الحجة المفيد شهاب الدين أبو العباس أحمد بن المظفر بن محمد بن المظفر بن بدر بن الحسن بن مفرح بن بكار النابلسي الأصل المكي الدمشقي الشافعي سبط الحافظ زين الدين خالد:

ولد في رمضان سنة خمس وسبعين وستمائة وسمع زينب بنت مكي والشيخ تقي الدين بن الواسطي وعمر بن القواس والشرف بن عساكر وخلقًا كثيرًا وعني بهذا الشأن دهرًا، حدث عنه الذهبي في معجمه3، سمع منه قديمًا سنة ثلاث وتسعين وقال: له فهم ومعرفة وحفظ على شراسة أخلاقه4. قلت: ولي مشيخة العزية والنفيسية ومات في دمشق في ربيع الأول سنة ثمان وخمسين وسبعمائة وكان يحفظ ويذاكر.

أخبرنا أبو العباس بن المظفر الحافظ بقراءتي عليه في سنة أربع وأربعين وسبعمائة قال: أخبرتنا زينب بنت مكي سماعًا عليها في شوال سنة أربع وثمانين وستمائة قال: أخبرنا حنبل المكبر5 قال: أخبرنا أبو القاسم الشبياني6 قال: أخبرنا الحسن بن علي التميمي7 قال:

--------------------------------------------

1 رواه مسلم في اللباس حديث 42، 43- 46. وأبو داود في اللباس باب 25- 27.

2 الدرر الكامنة 1/ 186 (799) .

3 يقول الطهطاوي: قال الحافظ العراقي في شرح ألقيته: قد حدث شيخنا الحافظ أبو العباس أحمد بن المظفر سنة ثماني عشرة سنة سمع منه الحافظ أبو عبد الله الذهبي سنة ثلاث وتسعين وستمائة وحدث عنه في معجمه بحديث من الأفراد للدارقطني وقال عقبه: أملاه علي بن مظفر وهو أمرد.

4 وفي الدرر الكامنة قال الذهبي في حق ابن المظفر: الحافظ المحرر أكب على الطلب زمانًا وترافقنا مدة وكتب، وخرج وفي خلقه زعارة وفي طباعه نفور، ثم قال: وعليه مآخذ وله محاسن ومعرفة، وفي المعجم الكبير: له معرفة وحفظ على شراسة خلق ثم صلح حاله، قال البرزالي: محدث فاضل على ذهنه فضيلة وفوائد كثيرة تتعلق بهذا الفن ثم ترك وانقطع وكان تفرد بأجزاء وأشياء، لم يتزوج قط ا. هـ.

5 هو الشيخ المسند راوي مسند الإمام أحمد أبو علي حنبل بن عبد الله بن الفرج البغدادي الرصافي المكبر المتوفى سنة أربع وستمائة وهو ابن تسعين سنة ترجمه أبو شامة في ذيل الروضتين.

6 هو أبو القاسم هبة الله بن محمد بن عبد الواحد بن أحمد بن العباس بن الحصين الشيباني المتوفى سنة خمس وعشرين وخمسمائة وهو ابن أربع وتسعين سنة على ما بيّنه الحافظ ابن طولون الحنفي في الفهرست الأوسط.

7 هو أبو علي الحسن علي بن محمد التميمي المعروف بابن المذهب، توفي سنة أربع وأربعين وأربعمائة عن تسع وثمانين سنة ذكره الشمس ابن طولون.
ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি অহংকারবশত তার কাপড় টেনে হেঁচড়ে চলে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।" ১।

আবু উসামা ও অন্যান্যরা তার অনুসরণ করেছেন এবং নাসাঈ এটি ইসমাইল ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি বিশর ইবনুল ফাদল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর বুখারী এটি উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইবনুল মুজাফ্ফর ২ শায়খ, ইমাম, আলিম, হাফিজ, নিপুণ, হুজ্জাহ (দলিল), মুফিদ (উপকারী), শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনুল মুজাফ্ফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুজাফ্ফর ইবনে বদর ইবনুল হাসান ইবনে মুফরিহ ইবনে বাক্কার আন-নাবলুসি আল-আসলি, মক্কি, দিমাস্কি (দামেস্কের অধিবাসী), শাফিয়ি, হাফিজ যাইনুদ্দিন খালিদের দৌহিত্র:

তিনি ৬৭৫ হিজরীর রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং যাইনাব বিনতে মক্কি, শায়খ তাক্বিউদ্দিন ইবনুল ওয়াসিতি, উমর ইবনুল কাওয়াস, আশ-শারাফ ইবনে আসাকির ও আরও অনেকের থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি দীর্ঘকাল এই বিষয়ের (হাদিসের) প্রতি মনোযোগী ছিলেন। যাহাবি তার মুজাম ৩ গ্রন্থে তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রাচীনকালে ৬৯৩ হিজরীতে তার থেকে শ্রবণ করেছেন এবং বলেছেন: তার মেজাজের কঠোরতা সত্ত্বেও তার বোধশক্তি, জ্ঞান ও মুখস্থ শক্তি ছিল ৪। আমি বলছি: তিনি আল-আজিয়্যাহ ও আন-নাফিসিয়্যাহ মাদ্রাসার শায়খ পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন এবং ৭৫৮ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি হাদিস মুখস্থ রাখতেন এবং আলোচনা করতেন।

হাফিজ আবুল আব্বাস ইবনুল মুজাফ্ফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ৭৪৪ হিজরীতে আমার তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন: যাইনাব বিনতে মক্কি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ৬৮৪ হিজরীর শাওয়াল মাসে তাঁর নিকট শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বলেন: হাম্বাল আল-মুকাব্বির ৫ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবুল কাসিম আশ-শাইবেনি ৬ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনে আলী আত-তামিমি ৭ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন:

--------------------------------------------

১ মুসলিম এটি পোশাক অধ্যায়ে হাদিস ৪২, ৪৩-৪৬ এবং আবু দাউদ পোশাক অধ্যায়ের ২৫-২৭ অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।

২ আদ-দুরারুল কামিনাহ ১/১৮৬ (৭৯৯)।

৩ তাহতাউয়ি বলেন: হাফিজ আল-ইরাকি তার আলফিয়্যাহর শারহে বলেছেন: আমাদের শায়খ হাফিজ আবুল আব্বাস আহমদ ইবনুল মুজাফ্ফর আঠারো বছর হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাফিজ আবু আবদুল্লাহ আল-যাহাবি ৬৯৩ হিজরীতে তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর মুজামে দারাকুতনির 'আফরাদ' থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং শেষে বলেছেন: ইবনুল মুজাফ্ফর এটি আমার নিকট বর্ণনা করেছিলেন যখন তিনি ছিলেন দাড়ি-গোঁফ না ওঠা কিশোর।

৪ আদ-দুরারুল কামিনাহ-তে যাহাবি ইবনুল মুজাফ্ফর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি ছিলেন অতি সূক্ষ্ম হাফিজ, দীর্ঘকাল অন্বেষণে রত ছিলেন এবং আমরা দীর্ঘকাল সহযাত্রী ছিলাম। তিনি লিখেছেন, হাদিস চয়ন করেছেন। তবে তাঁর স্বভাবে উগ্রতা ও আচরণে অনাসক্তি ছিল। এরপর তিনি বলেন: তাঁর সমালোচনা করার মতো কিছু বিষয় থাকলেও তাঁর অনেক গুণ ও জ্ঞান ছিল। আল-মুজামুল কাবীর-এ আছে: মেজাজের কঠোরতা সত্ত্বেও তাঁর জ্ঞান ও মুখস্থ শক্তি ছিল, পরবর্তীতে তাঁর অবস্থা সংশোধন হয়েছিল। আল-বিরজালি বলেন: তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞ মুহাদ্দিস, তাঁর স্মৃতিতে এই বিদ্যা সংশ্লিষ্ট অনেক মর্যাদা ও ফায়দা ছিল। এরপর তিনি তা ছেড়ে দেন এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। তিনি অনেক সংকলন ও বিষয়ে অনন্য ছিলেন। তিনি কখনোই বিবাহ করেননি। সমাপ্ত।

৫ তিনি হলেন শায়খুল মুসনিদ, ইমাম আহমদের মুসনাদ গ্রন্থের বর্ণনাকারী আবু আলী হাম্বাল ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল ফারাজ আল-বাগদাদি আর-রুসাফি আল-মুকাব্বির। তিনি ৬০৪ হিজরীতে ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। আবু শামাহ 'যাইলুর রওজাতাইন' গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন।

৬ তিনি হলেন আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আহমদ ইবনুল আব্বাস ইবনুল হুসাইন আশ-শাইবেনি। তিনি ৫২৫ হিজরীতে ৯৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন, যেমনটি হাফিজ ইবনে তুলুন আল-হানাফি তাঁর 'আল-ফিহরিসতুল আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

৭ তিনি হলেন আবু আলী আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আত-তামিমি, যিনি ইবনুল মুজহিব নামে পরিচিত। তিনি ৪৪৪ হিজরীতে ৮৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। শামস ইবনে তুলুন তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ২১)
أخبرنا أبو بكر أحمد بن جعفر القطيعي1 قال: حدثنا عبد الله بن أحمد قال: حدثنا أبي قال: حدثنا سفيان قال: أخبرني عبد الله أنه سمع ابن عباس رضي الله عنهما يقول: أنا ممن قدم النبي صلى الله عليه وآله وسلم ليلة المزدلفة في ضعفاء أهله، وبه قال: حدثنا سفيان عن أبي الزبير سمعه من جابر رضي الله عنه قال: "كان ينبذ للنبي صلى الله عليه وسلم في سقاء فإذا لم يكن سقاء فَتَوْرٌ2 من حجارة" رواه مسلم عن أحمد بن يونس ويحيى بن يحيى وأبو داود عن النفيلي ثلاثتهم عن زهير ابن الزبير رضي الله عنهما.

--------------------------------------------

1 نسبة إلى قطيعة الرقيق ببغداد وهو الشيخ أبو بكر أحمد بن جعفر بن حمدان بن مالك بن شبيب بن عبد الله القطيعي توفي سنة سبع وستين وثلثمائة عن ست وتسعين سنة كما في الفهرست الأوسط.

2 التور بالتفح إناء من صفر أو حجارة كالإجانة وقد يتوضأ منه- نهاية ابن الأثير.
আবু বকর আহমাদ ইবনে জাফর আল-কাতিয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে বলতে শুনেছেন: আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম মুজদালিফার রাতে তাঁর পরিবারের দুর্বল সদস্যদের সাথে অগ্রিম পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এবং সেই একই সূত্রে তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট আবু জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে শুনেছেন, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য চামড়ার মশকে পানীয় প্রস্তুত করা হতো; আর যদি মশক না থাকত, তবে পাথরের পাত্রে (তাউর) প্রস্তুত করা হতো।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে এবং আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন নুফাইলি থেকে; তাঁরা তিনজনই যুহাইর ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১. বাগদাদের 'কাতিয়াতুর রাকিক' নামক স্থানের সাথে সম্পর্কিত। তিনি হলেন শায়খ আবু বকর আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান ইবনে মালিক ইবনে শাবিব ইবনে আবদুল্লাহ আল-কাতিয়ী। তিনি তিনশ সাতষট্টি হিজরিতে ছিয়ানব্বই বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন, যেমনটি 'আল-ফিহরিসতুল আওসাত' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

২. 'তাউর' শব্দটি ত-এ ফাতহা (যবর) যোগে; এটি পিতল বা পাথরের তৈরি পাত্র যা গামলার মতো, কখনো কখনো এটি দ্বারা ওযুও করা হয়— নিহায়া ইবনুল আসির।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الطبقة الثالثة والعشرون وعدتهم خمسة:

الذهبي 1 الشيخ الإمام العلامة شيخ المحدثين قدوة الحفاظ والقراء محدث الشام ومؤرخه ومفيده شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قايماز بن عبد الله التركماني الفارقي 2 الأصل الدمشقي الشافعي المعروف بالذهبي مصنف الأصل:

ولد سنة ثلاث وسبعين وستمائة بدمشق وسمع الحديث في سنة اثنتين وتسعين وهلم جرّا وسمع بدمشق من أبي حفص عمر بن القواس وأبي الفضل بن عساكر وخلق، وبمصر الأبرقوهي3 وبالقاهرة الدمياطي، وبالثغر الغرّافي4، وببعلبك التاج عبد الخالق، وبحلب سنقر الزيني، وينابلس العماد بن بدران وبمكة التوزري، وأجاز له خلق من أصحاب ابن طبرزد والكندي وحنبل وابن الحرستاني وغيرهم من شيوخه في معجمه الكبير أزيد من ألف ومائتي نفس بالسماع والإجازة، وخرج لجماعة من شيوخه وجرح وعدل وفرع وصحح وعلل واستدرك وأفاد وانتقى واختصر كثيرًا من تآليف المتقدمين والمتأخرين وكتب علما كثيرا، وصنف الكتب المفيدة فمن أطولها "تاريخ الإسلام" ومن أحسنها "ميزان الاعتدال في نفد الرجال" وفي كثير من تراجمه اختصار يحتاج إلى تحرير5 ومصنفاته ومختصراته وتخريجاته تقارب المائة وقد سار بجملة منها الركبان في أقطار البلدان، وكان أحد الأذكياء المعدودين والحفاظ المبرزين ولي مشيخة الظاهرية قديما ومشيخة النفيسية والفاضلية

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة 3/ 204 (3527) .

2 نسبة إلى ميافارقين.

3 بفتح الهمزة والموحدة وسكون الراء وضم القاف وبالهاء نسبة إلى أبرقوه بأصبهان وهو أحمد بن إسحاق المتوفى سنة 701 على ما في شذرات الذهب.

4 قال الذهبي في المشتبه: الغرّاف بفتح المعجمة وتشديد الراء بليدة ذات بساتين آخر البطائح وتحت واسط وإليهما ينسب شيخنا تاج الدين علي بن أحمد العلوي الغرّافي محدث الإسكندرية.

5 قال السخاوي في الإعلان بالتوبيخ لمن ذم التوريخ عند ذكر الميزان: عول عليه من جاء بعده مع أنه تبع ابن عدي في إيراد كل من تكلم فيه ولو كان ثقة ولكنه التزم أن لا يذكر أحدًا من الصحابة ولا الأئمة المتبوعين، وقد ذيل عليه الزين العراقي في مجلد والتقط شيخنا "يعني ابن حجر" منه من ليس في تهذيب الكمال وضم إليه ما فاته في الرواة وتراجم مستقلة مع انتقاد وتحقيق في كتابه لسان الميزان وقد حققته عليه ولي عليه بعض الزوائد ا. هـ..
তেইশতম স্তর এবং তাদের সংখ্যা পাঁচজন:

আয-যাহাবি ১ শাইখ, ইমাম, আল্লামা, মুহাদ্দিসগণের শাইখ, হাফিয ও ক্বারীগণের আদর্শ, শামের মুহাদ্দিস, ঐতিহাসিক ও উপকারী শিক্ষক, শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন উসমান ইবন কায়মায ইবন আব্দুল্লাহ আত-তুর্কিমানি আল-ফারিকি ২ (মূলত), দামেশকি, শাফেয়ি; যিনি আয-যাহাবি নামে পরিচিত এবং মূল কিতাবের সংকলক:

তিনি ৬৭৩ হিজরি সালে দামেশকে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৯২ হিজরি সাল থেকে হাদিস শ্রবণ শুরু করেন এবং তা অব্যাহত রাখেন। তিনি দামেশকে আবু হাফস উমর ইবনুল কাওয়াস, আবুল ফাদল ইবন আসাকির এবং আরও অনেকের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। মিশরে আল-আবরাকুহি ৩, কায়রোতে আদ-দামইয়াতি, আলেকজান্দ্রিয়ার সীমান্ত বন্দরে আল-গারাফি ৪, বালবাক্কে আত-তাজ আব্দুল খালিক, হালাবে সুনকুর আয-যাইনি, নাবলুসে আল-ইমাদ ইবন বাদরান এবং মক্কায় আত-তাওযারি-র নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। ইবন তাবারযাদ, আল-কিন্দি, হাম্বল ও ইবনুল হারাসতানি-র একদল ছাত্র এবং তাঁর অন্যান্য শাইখদের মধ্য থেকে এক হাজার দুইশ'রও বেশি ব্যক্তি তাঁর 'মুজামুল কাবীর'-এ শ্রবণ ও ইজাযতের মাধ্যমে তাঁকে অনুমতি প্রদান করেছেন। তিনি তাঁর একদল শাইখের জন্য হাদিস চয়ন করেছেন, জারাহ-তাদিল করেছেন, শাখা-প্রশাখা নির্ণয় করেছেন, সহিহ সাব্যস্ত করেছেন, ইল্লাত (ত্রুটি) বর্ণনা করেছেন, অপূর্ণতা পূরণ করেছেন, জ্ঞান দান করেছেন, বাছাই করেছেন এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের অনেক রচনা সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং প্রচুর জ্ঞান লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি অনেক উপকারী কিতাব রচনা করেছেন, যার মধ্যে দীর্ঘতম হলো "তারিখুল ইসলাম" এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো "মিযানুল ইতিদাল ফি নাকদির রিজাল"। তাঁর অনেক জীবনী আলোচনায় এমন সংক্ষিপ্ততা রয়েছে যা আরও সম্পাদনা ৫ দাবি করে। তাঁর মৌলিক রচনা, সংক্ষিপ্তসার এবং তাখরিজসমূহের সংখ্যা প্রায় একশ'র কাছাকাছি। তাঁর বহু কিতাব দেশ-বিদেশের পর্যটকদের মাধ্যমে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি সমকালীন মেধাবীদের অন্যতম এবং শীর্ষস্থানীয় হাফিযদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আগে যাহিরিয়া মাদরাসার প্রধান এবং নাফিসিয়া ও ফাদিলিয়া মাদরাসার প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

--------------------------------------------

১. আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/ ২০৪ (৩৫২৭)।

২. মিয়াফারিকিনের দিকে সম্বন্ধিত।

৩. হামযাহ ও বা-তে ফাতহা, রা-তে সুকুন, ক্বাফ-এ যম্মাহ এবং শেষে হা সহযোগে—এটি ইসফাহানের আবরাকুহ-এর দিকে সম্বন্ধিত। তিনি হলেন আহমাদ ইবন ইসহাক, যিনি ৭০১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, যেমনটি 'শাযারাতুয যাহাব'-এ বর্ণিত হয়েছে।

৪. আয-যাহাবি 'আল-মুশতাবিহ' গ্রন্থে বলেন: আল-গাররাফ হলো গাইন বর্ণে ফাতহা এবং রা-তে তাশদীদসহ, এটি একটি ছোট শহর যা বাগানমণ্ডিত এবং বাতায়িহ-এর শেষ প্রান্তে ও ওয়াসিত-এর নিচে অবস্থিত। আমাদের শাইখ আলেকজান্দ্রিয়ার মুহাদ্দিস তাজউদ্দীন আলি ইবন আহমাদ আল-আলাওয়ি আল-গাররাফি এই শহরের দিকেই সম্বন্ধিত।

৫. আস-সাখাবি 'আল-ইলান বিত-তাওবিখ লিমান যাম্মাত-তাওরিখ' গ্রন্থে 'মিযান' আলোচনার সময় বলেন: তাঁর পরবর্তীগণ এর ওপরই নির্ভর করেছেন, যদিও তিনি ইবন আদির অনুকরণে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে উল্লেখ করেছেন যার সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে—এমনকি যদি তিনি বিশ্বস্তও হন। তবে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন যে, কোনো সাহাবি বা অনুকরণীয় ইমামদের তিনি এতে উল্লেখ করবেন না। যাইনুল ইরাকি এক খণ্ডে এর ওপর একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন। আমাদের শাইখ (অর্থাৎ ইবন হাজার) এতে এমন বর্ণনাকারীদের বাছাই করেছেন যারা 'তাহযীবুল কামাল'-এ নেই এবং অন্যান্য বর্ণনাকারীদের যেসব তথ্য বাদ পড়েছিল তা যুক্ত করেছেন এবং স্বতন্ত্র জীবনী আলোচনা করেছেন, যা তিনি সমালোচনা ও গবেষণাসহ তাঁর 'লিসানুল মিযান' গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন। আমি এটি তাঁর সামনে গবেষণা করেছি এবং এতে আমার কিছু অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন রয়েছে। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ২৩)
والتنكزية وأم الملك الصالح ولم يزل يكتب وينتقي ويصنف حتى أضر في سنة إحدى وأربعين، ومات في ليلة الاثنين ثالث ذي القعدة فى سنة ثمان وأربعين وسبعمائة بدمشق ودفن بمقبرة الباب الصغيرة -رحمه الله تعالى- وكان قد جمع القراآت السبع على الشيخ أبي عبد الله بن جبريل المصري نزيل دمشق، فقرأ عليه ختمة جامعة لمذاهب القراء السبعة بما اشتمل عليه كتاب التيسير لأبي عمرو الداني وكتاب حرز الأماني لأبي القاسم الشاطبي وحمل عن الكتاب والسنة خلائق، والله تعالى يغفر له.

أخبرنا الحافظ أبو عبد الله الذهبي سماعًا عليه سنة إحدى وأربعين وسبعمائة قال: أخبرنا أبو المعالي أحمد بن إسحاق الأبرقوهي سماعًا عليه بمصر سنة خمس وتسعين وستمائة قال: أخبرنا أبو القاسم المبارك بن أبي الحسن بن أبي القاسم بن أبي الجود قال: أخبرنا أبو العباس أحمد بن أبي غالب الوراق قال: أخبرنا أبو القاسم عبد العزيز بن علي بن أحمد الأنماطي قال: أخبرنا أبو طاهر محمد بن عبد الرحمن المُخلِّص1 قال: حدثنا عبد الله بن محمد البغوي قال: حدثنا عبد الأعلى بن حماد النرسي2 قال: حدثنا حماد بن سلمة عن ثابت عن أبي رافع عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: إن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: "إن رجلًا زار أخًا له في قرية فأرصد الله عز وجل بمدرجته ملكًا فلما أتى عليه قال: أين تريد؟ قال: أردت أخًا لي فيه قرية كذا وكذا. قال: هل لك عليك من نعمة تبربها؟ قال: لا، إلا أني أحبه في الله تعالى. قال: إني رسول الله إليك أن الله قد أحبك كما أحببته فيه" رواه مسلم 3 عن عبد الأعلى، فوافقناه بعلو ولله الحمد.

وأنشد سيدنا الإمام العالم العلامة قاضي القضاة تاج الدين أبو نصر عبد الوهاب ابن شيخنا العلامة شيخ الإسلام تقي الدين أبي الحسن علي بن عبد الكافي السبكي قال: أنشدنا أبو عبد الله الذهبي الحافظ لنفسه:

تولى شبابي كأن لم يكن … وأقبل شيب علينا تولى

ومن عاين المنحني والنفي … فما بعد هذين إلا المصلي

وفي سنة ثمان وأربيعن مات بدمشق قاضي القضاة وشيخ الشيوخ شرف الدين أبو عبد الله محمد ابن القاضي معين الدين أبي بكر بن الحسام الأفرم بن عبد الوهاب

--------------------------------------------

1 بضم الميم وكسر اللام المشددة أبو طاهر الذهبي، وبالمخففة جماعة على ما في مشتبه الذهبي، ولم يذكر ابن حجر الأول في نزهة الألباب في الألقاب.

2 نسبة إلى جده نصر وكانت الفرس يقولون نرس فلا يفصحون به فغلب عليه كما في المشتبه.

3 في كتاب البر حديث 38.
এবং তানকিজিয়া ও উম্মুল মালিক আস-সালিহ। তিনি সাতাশ বছর বয়স পর্যন্ত লিখতে, চয়ন করতে এবং গ্রন্থনা করতে থাকেন, অবশেষে ৭৪১ হিজরিতে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। তিনি ৭৪৮ হিজরির ৩ জিলকদ সোমবার রাতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন এবং বাবুস সাগির কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। তিনি দামেস্কে বসবাসকারী শাইখ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে জিবরীল আল-মিসরীর কাছে সাত কিরাআত আয়ত্ত করেছিলেন। তিনি তাঁর কাছে আবু আমর আদ-দানীর 'আত-তাইসীর' এবং আবুল কাসিম আশ-শাতিবীর 'হিরজুল আমানি' কিতাবদ্বয়ের অন্তর্ভুক্ত সাত ক্বারীর মাযহাব অনুসারে একটি পূর্ণাঙ্গ খতম সম্পন্ন করেন। তিনি কিতাব ও সুন্নাহ থেকে অসংখ্য বর্ণনা গ্রহণ করেছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁকে ক্ষমা করুন।

হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আদ-যাহাবী ৭৪১ হিজরিতে আমাদের কাছে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-মাআলি আহমদ ইবনে ইসহাক আল-আবরকুহী ৬৯৫ হিজরিতে মিসরে আমাদের কাছে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসিম আল-মুবারক ইবনে আবিল হাসান ইবনে আবিল কাসিম ইবনে আবিল জাওদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আবি গালিব আল-ওয়াররাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসিম আব্দুল আজিজ ইবনে আলী ইবনে আহমদ আল-আনমাতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মুখলিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল আলা ইবনে হাম্মাদ আন-নারসি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ সাবিত থেকে, তিনি আবু রাফে থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "এক ব্যক্তি তার এক ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে অন্য একটি গ্রামে যাচ্ছিল। মহান আল্লাহ তার যাত্রাপথে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত করলেন। যখন লোকটি ফেরেশতার কাছে পৌঁছাল, ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করলেন: 'তুমি কোথায় যাচ্ছ?' সে বলল: 'এই গ্রামে আমার এক ভাই আছে, আমি তার কাছে যাচ্ছি।' ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করলেন: 'তোমার কি তার ওপর কোনো অনুগ্রহ বা পাওনা আছে যা তুমি রক্ষা করতে যাচ্ছ?' সে বলল: 'না, কেবল এটুকু যে, আমি তাকে আল্লাহ তাআলার জন্য ভালোবাসি।' ফেরেশতা বললেন: 'আমি তোমার কাছে প্রেরিত আল্লাহর রাসূল (দূত), আল্লাহ তোমাকে তেমনি ভালোবাসেন যেমন তুমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালোবেসেছ'।" এটি মুসলিম আব্দুল আলা থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে আমরা উচ্চতর সনদে এটি লাভ করেছি, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

আমাদের সরদার ইমাম, আলিম, আল্লামা, প্রধান বিচারপতি তাজউদ্দীন আবু নাসর আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে শাইখুনা আল্লামা শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল কাফি আস-সুবকী আবৃত্তি করেছেন। তিনি বলেন: হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আদ-যাহাবী নিজের রচিত কবিতা আমাদের শুনিয়েছেন:

আমার যৌবন বিদায় নিল যেন তা কখনো ছিলই না … আর বার্ধক্য আমাদের দিকে এগিয়ে এল।

যে ব্যক্তি শরীর নুয়ে পড়া এবং বার্ধক্যকে প্রত্যক্ষ করল … এই দুইয়ের পর মৃত্যুর অপেক্ষা ছাড়া আর কী আছে?

৭৪৮ হিজরিতে দামেস্কে প্রধান বিচারপতি এবং শাইখুশ শুয়ুখ শরফুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে কাযী মুইনুদ্দিন আবু বকর ইবনুল হুসাম আল-আফরাম ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইন্তেকাল করেন।

--------------------------------------------

১. মীম-এ পেশ এবং লাম-এ যের যোগে—তিনি আবু তাহের আদ-যাহাবী; আর লাম-এ তাশদীদ ছাড়া এটি একটি গোষ্ঠী, যেমনটি যাহাবীর 'মুশতাবিহ' গ্রন্থে রয়েছে। ইবনে হাজার 'নুজহাতুল আলবাব ফিল আলকাব' গ্রন্থে প্রথমটির কথা উল্লেখ করেননি।

২. তাঁর দাদা নসরের সাথে সম্পৃক্ত। পারসিকরা 'নরস' বলত এবং এটি স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করত না, ফলে এটিই তাঁর ওপর প্রভাবশালী হয়ে ওঠে যেমনটি 'মুশতাবিহ' গ্রন্থে এসেছে।

৩. কিতাবুল বিরর-এ হাদিস নং ৩৮।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ২৪)
الهمداني عن بضع وثمانين سنة ودفن بميدان الحصى، وقاضي القضاة العلامة عماد الدين أبو الحسن علي بن أحمد بن عبد الواحد بن عبد المنعم الطرسوسي الحنفي في ذي الحجة بالمزة عن سن عالية، حدث عن الفخر وغيره، وفي رمضان قتل المولي السلطان الملك المظفر حادي بن محمد بن قلاوون بمصر، ونائب دمشق سيف الدين يلبغا اليحياوي ببلد القابون، والأمير حسام الدين طرنطاي المهمندار الناصري أحد أمراء الألوف بدمشق حدث عن عيسى المُطعم1 وغيره، والمعمر عبد الرحمن بن الفقيه أحمد بن محمد بن محمود المَرْداوي2 بقاسيون حدث عن ابن عبد الدائم وابن جوشتكين3 وابنة كندي وطائفة، والتقى أحمد بن الصلاح محمد بن أحمد بن بدر بن سبع4 البعلي حدث عن الفخر والأمير نجم الدين داود بن أبي بكر بن محمد البعلي ثم الدمشقي عرف بابن الغرس5 حدث عن التاج عبد الخالق وغيره، والمعمر الزاهد عز الدين محمد بن العز إبراهيم بن عبد الله بن أبي عمر خطيب جامع قاسيون عن خمس وثمانين سنة حدث عن ابن عبد الدائم وطائفة، حدث عن6 البرزالي والذهبي والسبكي وفرج بن علي بن صالح الحسيني7 حدث عن الفخر وغيره، والصاحب تقي الدين بن هلال ناظر الدواوين بالشام شابًّا.

--------------------------------------------

1 كان يطعم الأشجار فلقب به، وقد يقال له: السمسار أيضًا؛ لأنه كان يشتغل بالسمسرة في الدور كما في الدرر الكامنة.

2 بفتح الميم وسكون الراء وفتح الدال المهملة نسبة إلى مردي مقصورًا قرية قرب نابلس على ما في ذيل لب اللباب.

3 قال الطهطاوي: وصوابه "وابن جوسلين" بضم الجيم وسكون الواو والسين المهملة وكسر اللام ومنهم من ضبط السين المهملة بالفتح. وهو الفقيه عماد الدين أبو الفداء إسماعميل بن إسماعيل بن علي بن جوسلين. البعلبكي الحنبلي "المتوفى سنة 681 عن سبع وسبعين سنة" وهو من شيوخ الجمال المزي والجمال بن العطار والشمس بن الخباز وقد ذكره الحافظ الذهبي في معجمه.

4 وصوابه "ابن تبع" كما في معجم التاج السبكي في ترجمته وكذا في معجم الحافظ الذهبي والدرر الكامنة في ترجمة أبيه الفقيه صلاح الدين أبي أحمد بن بدر بن تبع بن محمد بن إبراهيم البعلبكي ثم الدمشقي "المتوفى سنة 71 عن 68 سنة" وتُبع بضم المثناة الفوقية وفتح الموحدة المشددة. "الطهطاوي"

5 قال الطهطاوي: والذي في الدرر الكامنة "ابن الزئبق" والله أعلم.

6 قال الطهطاوي: والصواب "حدث عنه" وقد ذكره الحافظ الذهبي في معجمه.

7 والذي في الدرر الكامنة "فرج بن علي بن صالح الحنبلي الجيتي وفي معجم الحافظ الذهبي فرج بن على بن صالح أبو الفضل الصالحي الحنلبي المقرئ. الذي يظهر أن "الحسيني" هنا محرف عن الجيتي وهو بكسر الجيم وسكون المثناة التحتية بعدها مثناة فوقية نسبة إلى جيت من أعمال نابلس كما في القاموس. "الطهطاوي".
আল-হামদানী আশি বছরের কিছু বেশি বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে ময়দানুল হাসা-তে দাফন করা হয়। আর কাযিউল কুজাত আল্লামা ইমাদুদ দ্বীন আবুল হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আবদুল মুনইম আত-তারসুসী আল-হানাফী যিলহজ্জ মাসে আল-মাজ্জাহ নামক স্থানে বার্ধক্য অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তিনি আল-ফাখর এবং অন্যদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। রমজান মাসে মিশরে সুলতান আল-মালিক আল-মুজাফফর হাদী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কালাউন নিহত হন। দামেস্কের প্রতিনিধি সাইফুদ্দীন ইয়ালবুগা আল-ইয়াহইয়াভী আল-কাবুন নামক এলাকায় (নিহত হন)। আর আমীর হুসামুদ্দীন তুরুনতয় আল-মুহমানদার আন-নাসিরী, যিনি দামেস্কের হাজারী আমীরদের একজন ছিলেন, তিনি ঈসা আল-মুতয়িম১ এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। দীর্ঘজীবী আব্দুর রহমান ইবনুল ফকীহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ আল-মারদাবী২ কাসিয়ুন এলাকায় ইন্তেকাল করেন; তিনি ইবনে আবদুল দায়িম, ইবনে জুশতাকিন৩, ইবনে কান্দি এবং একদল আলিমের থেকে বর্ণনা করেছেন। আত-তাকী আহমদ ইবনুল সালাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে বদর ইবনে সাবআ৪ আল-বালি আল-ফাখর থেকে বর্ণনা করেছেন। আমীর নাজমুদ্দীন দাউদ ইবনে আবি বকর ইবনে মুহাম্মদ আল-বালি অতঃপর আদ-দামেশকী, যিনি ইবনুল ঘারস৫ নামে পরিচিত ছিলেন, তিনি আত-তাজ আবদুল খালিক এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। দীর্ঘজীবী যাহিদ ইজ্জুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনুল ইজ্জ ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমর, যিনি পঁচাশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন, তিনি কাসিয়ুন জামে মসজিদের খতিব ছিলেন। তিনি ইবনে আবদুল দায়িম এবং একদল আলিমের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে৬ আল-বারজালী, আয-যাহাবী এবং আস-সুবকী বর্ণনা করেছেন। ফরাজ ইবনে আলী ইবনে সলিহ আল-হুসাইনী৭ আল-ফাখর এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আস-সাহিব তাকীউদ্দীন ইবনে হিলাল, যিনি সিরিয়ার দিওয়ানসমূহের পরিদর্শক (নাযির) ছিলেন, যুবক অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

--------------------------------------------

১ তিনি গাছে কলম করতেন বা খাদ্য দিতেন বলে এই উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁকে আস-সিমসার (দালাল) বলেও ডাকা হতো; কারণ তিনি ঘরবাড়ির দালালি করতেন, যেমনটি আদ-দুরার আল-কামিনা গ্রন্থে এসেছে।

২ মীম-এ ফাতহা, রা-তে সুকুন এবং দাল-এ ফাতহা যোগে—এটি নাবলুসের নিকটবর্তী মারদী নামক একটি গ্রামের দিকে সম্বন্ধিত, যেমনটি যাইলুল লুব্বিল লুবাব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

৩ আত-তাহতাবী বলেন: সঠিক হলো "ইবনে জুসেলিন" (জীম-এ যম্মাহ, ওয়াও এবং সীন-এ সুকুন এবং লাম-এ কাসরা যোগে)। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সীন বর্ণে ফাতহা দিয়েছেন। তিনি হলেন ফকীহ ইমাদুদ দ্বীন আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে ইসমাইল ইবনে আলী ইবনে জুসেলিন আল-বালবাকি আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৬৮১ হিজরি, ৭৭ বছর বয়সে)। তিনি জামাল আল-মিযযী, জামাল ইবনুল আত্তার এবং শামস ইবনুল খাব্বাযের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত। হাফিজ আয-যাহাবী তাঁর মুজাম গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন।

৪ সঠিক হলো "ইবনে তুব্বা", যেমনটি তাজ আস-সুবকীর মুজামে তাঁর জীবনীতে এবং হাফিজ আয-যাহাবীর মুজাম ও আদ-দুরার আল-কামিনা গ্রন্থে তাঁর পিতা ফকীহ সালাহুদ্দীন আবি আহমদ ইবনে বদর ইবনে তুব্বা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-বালবাকী অতঃপর আদ-দামেশকী (মৃত্যু ৭১ হিজরি, ৬৮ বছর বয়সে)-র জীবনীতে এসেছে। 'তুব্বা' শব্দটি তা-তে যম্মাহ এবং বা-তে তাশদীদ ও ফাতহা যোগে। (তাহতাবী)।

৫ আত-তাহতাবী বলেন: আদ-দুরার আল-কামিনা গ্রন্থে "ইবনুল যি'বাক" রয়েছে, আল্লাহই ভালো জানেন।

৬ আত-তাহতাবী বলেন: সঠিক হলো "হাদ্দাসা আনহু" (তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে)। হাফিজ আয-যাহাবী তাঁর মুজাম গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন।

৭ আদ-দুরার আল-কামিনা গ্রন্থে "ফরাজ ইবনে আলী ইবনে সলিহ আল-হাম্বলী আল-জিতি" রয়েছে। আর হাফিজ আয-যাহাবীর মুজাম গ্রন্থে রয়েছে "ফরাজ ইবনে আলী ইবনে সলিহ আবুল ফজল আস-সলিহী আল-হাম্বলী আল-মুিকরি"। প্রতীয়মান হয় যে, এখানে "আল-হুসাইনী" শব্দটি "আল-জিতি" থেকে বিকৃত হয়েছে। এটি জীম-এ কাসরা, ইয়া-তে সুকুন এবং এরপর তা যোগে—নাবলুসের অন্তর্গত 'জীত' নামক স্থানের দিকে সম্বন্ধিত, যেমনটি আল-কামুস গ্রন্থে এসেছে। (তাহতাবী)।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ২৫)
السبكي 1 الشيخ الإمام الحافاظ العلامة قاضي القضاة تقي الدين بقية المجتهدين أبو الحسن علي بن عبد الكافي بن علي بن تمام بن يوسف بن موسى بن تمام الخزرجي الأنصاري السبكي المصري ثم الدمشقي الشافعي:

ولد سنة ثلاث وثمانين وستمائة، سمع بمصر من الحافظ شرف الدين الدمياطي وجماعة من أصحاب ابن باقا وغيرهم، وبالإسكندرية من يحيى بن الصواف وغيره، قدم دمشق عام سبع وسبعمائة2 وسمع ابن الموازيني وابن المشرف خلق، وعني بالحديث أتم عناية وكتب بخطه المليح الصحيح المتقن شيئًا كثيرًا من سائر علوم الإسلام، وهو من طبق الممالك ذكره ولم يخف على أحد، عرف الناس أمره وسارت بتصانيفه وفتاويه الركبان في أقطار البلدان وكان ممن جمع فنون العلم من الفقه والأدب والنحو واللغة والشعر والفصاحة والزهد والورع والعبادة الكثيرة والتلاوة والشجاعة والشدة في دينه ولي قضاء الشام سنة تسع وثلاثين وسبعمائة وخطب في الجامع الأموي في سنة اثنتين وأربعين وسبعمائة أيامًا، وتخرج به طائفة من العلماء وحمل عنه أمم ثم ضعف وترك القضاء لولده الإمام العلامة تاج الدين أبي نصر عبد الوهاب فحكم نيابة عن والده أشهرًا ثم حكم استقلالًا في جمادى الأولى سنة ست وخمسين وسبعمائة، ثم توجه شيخنا قاضي القضاة تقي الدين إلى وطنه ومات بالقاهرة يوم الاثنين ثالث جمادى الآخرة منها، ودفن هناك -رحمة الله تعالى- ومن تصانيفه كتاب "التحقيق في مسألة التعليق" وهو الرد الكبير على شيخنا تقي الدين ابن تيمية في مسألة الطلاق وكتاب "رفع الشقاق في مسألة الطلاق" وكتاب "شفاء السقام في زيادة خير الأنام" وهو الرد على ابن تيمية وقد يسمى شن الغارة و"السيف المسلول على من سب الرسول" وأكمل على شرح المهذب للنووي في خمسة مجلدات وكتاب "الإبهاج في شرح المنهاج للنووي.

ومات بدمشق هذ العام شيخنا المعمر خاتمة أصحاب ابن عبد السلام3 أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن الحفار4 عن تسعين سنة، وبالقاهرة قاضي القضاة المالكية الإمام

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة 3/ 38 (2781) ولقب بالسبكي نسبة إلى سبك من قرى مصر؛ ذكر السيوطي في لب الكتاب.

2 وصوابه "عام ست" ففي طبقات ابنه التاج السبكي في ترجمته أنه رحل إلى الشام في طلب الحديث في سنة ست وسبعمائة وعاد إلى القاهرة في سنة سبع وقال فيها -في ترجمة العلم البرازالي: ولما ورد الوالد إلى الشام في سنة ست وسبعمائة كان هو القائم بتسميعه على المشايخ "الطهطاوي".

3 قال الطهطاوي: وصوابه "ابن عبد الدائم" كما سترى أي خاتمة من حدث عنه.

4 قال الطهطاوي: وصوابه "ابن الخباز" وهو شمس الدين أبو عبد الله محمد بن النجم إسماعيل بن إبراهيم بن =
সুবকী ১ শায়খ, ইমাম, হাফিজ, আল্লামা, প্রধান বিচারপতি তাকীউদ্দীন বাকিয়্যাতুল মুজতাহিদীন আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল কাফী বিন আলী বিন তামাম বিন ইউসুফ বিন মূসা বিন তামাম আল-খাযরাজী আল-আনসারী আস-সুবকী আল-মিসরী অতঃপর আদ-দিমাশকী আশ-শাফেয়ী:

তিনি ৬৮৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। মিশরে হাফিজ শারফুদ্দীন আদ-দিমইয়াতী এবং ইবন বাকার একদল সঙ্গী ও অন্যান্যদের নিকট ইলম শ্রবণ করেন। আলেকজান্দ্রিয়ায় ইয়াহইয়া বিন আস-সাওয়াফ ও অন্যান্যদের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন। ৭০৭ হিজরিতে ২ তিনি দামেশকে আগমন করেন এবং ইবনুল মাওয়াযানী ও ইবনুল মুশাররিফের নিকট অনেক ইলম অর্জন করেন। তিনি হাদিস শাস্ত্রের প্রতি পূর্ণ মনোনিবেশ করেন এবং নিজের সুন্দর, সহীহ ও নিখুঁত হস্তাক্ষরে ইসলামের বিভিন্ন শাস্ত্রের প্রচুর কিতাব রচনা করেন। তিনি ছিলেন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত, যার শ্রেষ্ঠত্ব কারো কাছে গোপন ছিল না। মানুষ তার মাহাত্ম্য সম্পর্কে জানত এবং তার রচনাবলী ও ফতোয়া দেশ-বিদেশের কাফেলাগুলোর মাধ্যমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি ফিকহ, আদব, নাহু, লুগাত (ভাষা), কবিতা, বাগ্মিতা, যুহদ (সংসারবিরাগ), পরহেজগারী, অধিক ইবাদত, তিলাওয়াত, বীরত্ব এবং দ্বীনের ব্যাপারে কঠোরতার মতো বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি ৭৩৯ হিজরিতে শামের বিচারপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং ৭৪২ হিজরিতে বেশ কিছুকাল উমাইয়া জামে মসজিদে খুতবা প্রদান করেন। তার মাধ্যমে একদল আলেম তৈরি হন এবং অসংখ্য মানুষ তার থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি শারীরিকভবে দুর্বল হয়ে পড়লে বিচারপতির পদটি তার পুত্র ইমাম আল্লামা তাজউদ্দীন আবু নাসর আব্দুল ওয়াহহাবের নিকট অর্পণ করেন। তিনি কয়েক মাস পিতার প্রতিনিধি হিসেবে বিচারকার্য পরিচালনা করেন এবং অতঃপর ৭৫৬ হিজরির জুমাদাল উলা মাসে স্বতন্ত্রভাবে বিচারপতির দায়িত্ব লাভ করেন। অতঃপর আমাদের শায়খ প্রধান বিচারপতি তাকীউদ্দীন নিজ জন্মভূমির দিকে যাত্রা করেন এবং কায়রোতে একই বছরের ৩রা জুমাদাল আখিরাহ সোমবার মৃত্যুবরণ করেন। সেখানে তাকে দাফন করা হয় - আল্লাহ তাআলা তার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। তার রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে "আত-তাহকীক ফী মাসআলাতিত তালীক", যা তালাকের মাসআলায় আমাদের শায়খ তাকীউদ্দীন ইবন তাইমিয়্যাহর বিরুদ্ধে একটি বড় খণ্ডনমূলক কিতাব। এছাড়া "রাফউশ শিকাক ফী মাসআলাতিত তালাক", "শিফাউস সিকাম ফী যিয়াদাতু খয়রাল আনাম" যা ইবন তাইমিয়্যাহর খণ্ডনে লেখা এবং একে "শাননুল গারা"ও বলা হয়। আরও রয়েছে "আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল", ইমাম নববীর "শারহুল মুহাযযাব"-এর পরিশিষ্ট যা তিনি পাঁচ খণ্ডে সমাপ্ত করেছেন এবং নববীর "মিনহাজ"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আল-ইবহা"।

এই বছর দামেশকে আমাদের প্রবীণ শায়খ ইবন আব্দুল সালামের সর্বশেষ শিষ্যদের ৩ একজন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বিন আল-হাফফার ৪ নব্বই বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। এবং কায়রোতে মালিকী মাযহাবের প্রধান বিচারপতি ইমাম...

--------------------------------------------

১ আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/৩৮ (২৭৮১)। মিশরের 'সুবক' নামক গ্রামের দিকে সম্বন্ধ করে তাকে সুবকী বলা হয়; সুয়ূতী 'লুব্বুল কিতাব' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

২ সঠিক হলো "৭০৬ হিজরি", কারণ তার পুত্র তাজ সুবকীর 'তাবাকাত' গ্রন্থে তার জীবনীতে উল্লেখ আছে যে, তিনি ৭০৬ হিজরিতে হাদিস অন্বেষণে শামে সফর করেন এবং ৭০৭ হিজরিতে কায়রোতে ফিরে যান। আল-বারযালীর জীবনীতে তিনি বলেছেন: যখন আমার পিতা ৭০৬ হিজরিতে শামে আসেন, তখন তিনিই ছিলেন শায়খদের কাছে তার শ্রবণের তত্ত্বাবধায়ক - "তাহতাওয়ী"।

৩ তাহতাওয়ী বলেছেন: সঠিক হলো "ইবন আব্দুল দাইম", যেমনটি আপনি সামনে দেখতে পাবেন, অর্থাৎ যারা তার থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বশেষ।

৪ তাহতাওয়ী বলেছেন: সঠিক হলো "ইবনুল খাব্বায", আর তিনি হলেন শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আন-নাজম ইসমাঈল বিন ইব্রাহীম বিন =
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ২৬)
العلامة نور الدين علي السخاوي حكم بالقاهرة ثلاثة أشهر، ومات ببعلبك المعمر شجاع الدين عبد الرحمن خادم الشيخ الفقيه اليونيني عن نحو مائة سنة حدثنا عن ابن البخاري غيره، والعدل بدر الدين محمد بن محمد بن عبد الغني بن البطايني عن ثمان وسبعين سنة1 حدثنا عن ابن سنان2 وغيره ومقدم العساكر بدمشق.

أخبرنا قاضي القضاة تقي الدين أبو الحسن علي بن عبد الكافي السبكي قراءة عليه وأنا أسمع سنة أربعين وسبعمائة قال: أخبرنا أبو الحسن3 علي بن أحمد بن عبد العزيز بن الصواف بقراءتي عليه بالإسكندرية قال: أخبرنا أبو عبد الله محمد بن عمار الحراني قال: أخبرنا أبو محمد عبد الله بن رفاعة السعدي قال: أخبرنا القاضي أبو الحسن الخِلَعي4 قال: أخبرنا أبو محمد عبد الرحمن بن عمر البزار قال: حدثنا أبو طاهر أحمد بن عمرو المديني.

--------------------------------------------

= سالم بن ركاب الأنصاري المعروف كأبيه وجده بابن الخباز الدمشقي الحنبلي. ولد في رجب من سنة 667 وتوفي في شهر رمضان من سنة 756 وقد بكر به أبوه فأحضره على زين الدين أحمد بن عبد الدائم وغيره فتفرد في آخر عصره بالرواية عنه. وخرج له العلم البرزالي مشيخة ذكر له فيها أكثر من مائة وخمسين شيخًا وسمع عليه هو والجمال المزي والحافظ الذهبي والتقى السبكي والصلاح العلائي والعماد بن كثير والعز بن جماعة والحافظ الحسيني والحافظ ابن رجب الحافظ العراقي وأكثر عنه قال: كان مسند الآفاق في زمانه كذا يستفاد من الدرر الكامنة والمنهج الأحمد وغيرها وهو لم يدرك زمن العز عبد السلام الذي خرج من دمشق إلى الديار المصرية في حدود سنة 639 وتوفي بالقاهرة في سنة 660.

1 وصوابه "عن ثمان وثمانين سنة" لأنه ولد في شهر رمضان من سنة 668. وتوفي في رجب من سنة 756 كما في الدرر الكامنة ثم رأيت في المنهج الأحمد وشذرات الذهب أنه ولد في شهر رمضان من سنة 678 وعليه تستقيم عبارة المؤلف. "الطهطاوي".

2 قال الطهطاوي: وصوابه "عن ابن شيبان" ففي الدرر الكامنة في ترجمته سمع من أحمد بن شيبان جزء ابن الغطرف ومن الفخر مشيخته ومن الشرف ابن عساكر وغيرهم وحدث، قرأ عليه شيخنا الحافظ العراقي الحسيني وغيرهما ا. هـ. وابن شيبان هو بدر الدين أبو العباس أحمد بن تغلب بن حيدرة الشيباني الصالحي العطار "المتوفى سنة 685 عن 89 سنة" كما في شذرات الذهب وغيرها.

3 وصوابه "أبو الحسين يحيى بن أحمد بن عبد العزيز" كما يعلم من معجم الحافظ الذهبي ومعجم التقي السبكي الذي خرجه له الحافظ شهاب أبو الحسين يحيى بن أحمد بن أيبك الحسامي وغيرهما. وهو الإمام المقرئ مسند الإسكندرية شرف الدين أبو الحسن يحيى بن أحمد بن عبد العزيز بن عبد الله بن علي بن عبد الباقي المعروف بابن الصواف الجذامي الإسكندري المالكي "المتوفى سنة 705 عن 96 سنة" كما في معجم الحافظ الذهبي وطبقات الحافظ له وغيرهما. وقد قرأ التقي السبكي عليه بالإسكندرية في سنة وفاته. وهو الذي ذكره المؤلف في أول الترجمة بقوله بالإسكندرية من يحيى بن الصواف. وقد وقع في النسخة التي بيدي من حسن المحاضرة في باب من كان بمصر من أئمة القراآت تحريف في سنتي ولادته يجب إصلاحه. "الطهطاوي".

4 نسبة إلى بيع الخلع؛ لأنه كان يبيعها لملوك مصر وهو أبو الحسن علي بن الحسين الموصلي المتوفى بمصر سنة 492 وخرج له أبو نصر الشيرازي الخلعيات في عشرين جزءًا على ما ذكره السيوطي في حسن المحاضرة، والخلعي بكسر الخاء المعجمة وفتح اللام كما ضبطه ابن خلكان.
আল্লামা নূরুদ্দীন আলী আস-সাখাভী কায়রোতে তিন মাস বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আর বালবক্কে দীর্ঘায়ু ব্যক্তি শুজাউদ্দীন আবদুর রহমান মৃত্যুবরণ করেছেন, যিনি ফকীহ শায়খ আল-ইউনীনীর খাদেম ছিলেন। তিনি প্রায় একশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি আমাদের কাছে ইবনুল বুখারী ও অন্যদের সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আরও (ইন্তেকাল করেছেন) ন্যায়নিষ্ঠ বদরুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল গনী ইবনুল বাতাইনী, আটাত্তর বছর বয়সে।১ তিনি আমাদের কাছে ইবনে সিনান২ ও অন্যদের সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি দামেস্কের সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাযিউল কুযাত তাকীউদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে আবদিল কাফী আস-সুবকী, ৭৪০ হিজরী সনে তাঁর সামনে পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি শুনছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান৩ আলী ইবনে আহমদ ইবনে আবদিল আযীয ইবনুল সাওয়াফ, আলেকজান্দ্রিয়ায় তাঁর সামনে আমার পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আম্মার আল-হাররানী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে রিফাআ আস-সা'দী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাযী আবুল হাসান আল-খিলায়ী৪। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে উমর আল-বায্যার। তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু তাহের আহমদ ইবনে আমর আল-মাদীনী।

--------------------------------------------

= সালেম ইবনে রিকাব আল-আনসারী, যিনি তাঁর পিতা ও পিতামহের মতো ইবনুল খাব্বায আদ-দামেশকী আল-হানবালী নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ৬৬৭ হিজরীর রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৫৬ হিজরীর রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পিতা তাঁকে শৈশবেই যয়নুদ্দীন আহমদ ইবনে আবদুল দায়িম ও অন্যদের কাছে নিয়ে যেতেন, ফলে পরবর্তী যুগে তিনি তাঁদের সূত্রে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে একক মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ইলম আল-বারযালী তাঁর জন্য একটি 'মাশইয়াসাহ' (শিক্ষক তালিকা) সংকলন করেন যাতে দেড়শতেরও বেশি শায়খের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। জামাল আল-মিযযী, হাফেজ আয-যাহাবী, তাকী আস-সুবকী, সালাহ আল-আলাঈ, ইমাদ ইবনে কাসীর, ইয ইবনে জামাআহ, হাফেজ আল-হুসাইনী, হাফেজ ইবনে রজব এবং হাফেজ আল-ইরাকী তাঁর থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর সূত্রে প্রচুর বর্ণনা করেছেন। বলা হয়েছে: তিনি তাঁর সময়ের দিগন্তজোড়া নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী (মুসনিদুল আ ফাক) ছিলেন। এ তথ্য আদ-দুরার আল-কামিনাহ, আল-মানহাজ আল-আহমদ এবং অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি ইয ইবনে আবদুস সালামের সময়কাল পাননি, যিনি ৬৩৯ হিজরীর দিকে দামেস্ক থেকে মিশরে চলে গিয়েছিলেন এবং ৬৬০ হিজরীতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন।

১. এর সঠিক তথ্য হলো "আটাশি বছর বয়সে", কারণ তিনি ৬৬৮ হিজরীর রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ৭৫৬ হিজরীর রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন, যেমনটি আদ-দুরার আল-কামিনাহ গ্রন্থে রয়েছে। এরপর আমি আল-মানহাজ আল-আহমদ এবং শাযারاتুয যাহাব গ্রন্থে দেখেছি যে, তিনি ৬৭৮ হিজরীর রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন, আর সেই হিসেবে লেখকের বক্তব্য সঠিক থাকে। - "আত-তাহতাবী"।

২. আত-তাহতাবী বলেন: এর সঠিক রূপ হলো "ইবনে শায়বান থেকে"। আদ-দুরার আল-কামিনাহ গ্রন্থে তাঁর জীবনীর আলোচনায় রয়েছে যে, তিনি আহমদ ইবনে শায়বানের কাছ থেকে জুয ইবনে গাতিরাফ, আল-ফাখরের কাছ থেকে তাঁর মাশইয়াসাহ এবং আশ-শারাফ ইবনে আসাকির ও অন্যদের কাছ থেকে হাদীস শুনেছেন এবং বর্ণনা করেছেন। আমাদের শায়খ হাফেজ আল-ইরাকী, হাফেজ আল-হুসাইনী এবং অন্যান্যেরা তাঁর কাছে পাঠ করেছেন। আর ইবনে শায়বান হলেন বদরুদ্দীন আবু আব্বাস আহমদ ইবনে তাগলিব ইবনে হায়দারাহ আশ-শায়বানী আস-সালিহী আল-আত্তার (ইন্তেকাল ৬৮৫ হিজরী, ৮৯ বছর বয়সে), যেমনটি শাযারাতুয যাহাব ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

৩. এর সঠিক নাম হলো "আবু হুসাইন ইয়াহইয়া ইবনে আহমদ ইবনে আবদিল আযীয", যা হাফেজ আয-যাহাবীর মু'জাম এবং তাকী আস-সুবকীর মু'জাম থেকে জানা যায়, যা তাঁর জন্য হাফেজ শিহাব আবু হুসাইন ইয়াহইয়া ইবনে আহমদ ইবনে আইবাক আল-হুসামী ও অন্যরা সংকলন করেছেন। তিনি হলেন ইমাম, ক্বারী, আলেকজান্দ্রিয়ার মুসনিদ, শরফুদ্দীন আবুল হাসান ইয়াহইয়া ইবনে আহমদ ইবনে আবদিল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে আবদিল বাকী, যিনি ইবনুল সাওয়াফ আল-জুযামী আল-ইস্কান্দারী আল-মালিকী নামে পরিচিত (ইন্তেকাল ৭০৫ হিজরী, ৯৬ বছর বয়সে), যা হাফেজ আয-যাহাবীর মু'জাম এবং তাঁর তাবাকাত ও অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে। তাকী আস-সুবকী তাঁর ইন্তেকালের বছর আলেকজান্দ্রিয়ায় তাঁর কাছে পাঠ করেছেন। লেখক জীবনীর শুরুতে আলেকজান্দ্রিয়ার বর্ণনাকারী হিসেবে ইয়াহইয়া ইবনে আস-সাওয়াফের কথা উল্লেখ করেছেন। আমার হাতে থাকা 'হুসনুল মুহাদারা'র পাণ্ডুলিপিতে মিশরের ক্বারী ইমামদের অধ্যায়ে তাঁর জন্মসালের ক্ষেত্রে কিছু বিকৃতি ঘটেছে যা সংশোধন করা আবশ্যক। - "আত-তাহতাবী"।

৪. 'আল-খিলায়ী' উপাধিটি রাজকীয় পোশাক (খিলা'ত) বিক্রির সাথে সম্পর্কিত; কারণ তিনি মিশরের রাজাদের কাছে তা বিক্রি করতেন। তিনি হলেন আবুল হাসান আলী ইবনে হুসাইন আল-মাওসিলী, যিনি ৪৯২ হিজরীতে মিশরে ইন্তেকাল করেন। আবু নাসর আশ-শীরাযী তাঁর সূত্রে 'আল-খিলায়িয়াত' ২০ খণ্ডে সংকলন করেছেন, যেমনটি সুয়ূতী 'হুসনুল মুহাদারা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। 'আল-খিলায়ী' শব্দটি খ'-এ কাসরা (জের) এবং ল'-এ ফাতহা (যবর) দিয়ে পড়তে হয়, যেমনটি ইবনে খাল্লিকান নিশ্চিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ২৭)
قال: حدثنا أبو موسى يونس بن عبد الأعلى الصدفي قال: حدثنا عبد الله بن وهب قال: أخبرني يونس بن يزيد وقرة بن عبد الرحمن ومالك بن أنس عن ابن شهاب عن أنس رضي الله عنه "أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أتي بلبن قد شيب بماء وعن يمينه أعرابي وعن يساره أبو بكر فشرب ثم أعطى الأعرابي فضله وقال: "الأيمن فالأيمن" رواه البخاري عن إسماعيل ومسلم عن يحيى بن يحيى وأبو داود عن القعنبي والترمذي عن قتيبة والنسائي عن هشام بن عمار خمستهم عن مالك -رحمه الله تعالى.

العز بن جماعة 1 الشيخ الإمام العالم العلامة الحافظ قاضي القضاة عز الدين أبو عمر عبد العزيز ابن الشيخ الإمام العلامة شيخ الإسلام قاضي القضاة بدر الدين أبي عبد الله محمد بن إبراهيم بن سعد الله بن محمد بن إبراهيم بن جماعة الكناني الشافعي المصري:

ولد سنة أربع وتسعين وستمائة فحضر على عمر بن القواس والأبرقوهي وأبي الفضل بن عساكر والحافظ شرف الدين الدمياطي وجماعة، ثم طلب بنفسه فسمع بدمشق والحرمين والقاهرة وأسمع أولاده وعني بهذا الشأن أتم عناية حتى ولي قضاء الديار المصرية سنة ثمان أو تسع وثلاثين وسبعمائة واستقضي مرارًا ودرس وأفتى، وصنف التصانيف المفيدة منها المنسك الكبير على المذاهب الأربعة وغيره، وتنقل في الولايات الرفعية، حج وجاور بالحجاز غير مرة آخرها في موسم سنة ست وستين وسبعمائة ومات بمكة بعد المولد2 في التي تليها يوم الاثنين حادي عشر جمادى الآخرة سنة سبع وستين ودفن بالمعلاق بجانب الفضيل بن عياض رحمه الله.

أخبرنا الحافظ عز الدين أبو عمر بن جمعة بقراءتي عليه بالقاهرة في سنة سبع وخمسين وسبعمائة قال: أخبرنا أبو حفص عمر بن القواس قراءة عليه وأنا حاضر قال: أخبرنا قاضي القضاة أبو القاسم بن الحرستاني قال: أخبرنا أبو الحسن السلمي قال: أخبرنا أبو نصر بن طلاب3 قال: أخبرنا أبو الحسين بن جميع قال: حدثنا محمد بن الحسن بالرملة قال: حدثنا محمد بن حسان الأزرق قال: حدثنا وكيع بن الجراح قال: حدثنا هشام بن عروة عن عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال: النبي صلى الله عليه وآله وسلم "نعم إلادام الخل" 4 رواه

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة 2/ 230 (2445) .

2 قال الطهطاوي: ولعله "بعد الموسم" ويظهر لي أن قوله: "آخره في موسم سنة ست وستين وسبعمائة" وما بعده من "أنه توفي في جمادى الآخرة من سنة سبع وستين" ملحقان بكلام المؤلف وليسا منه فإن مؤلف هذا الذيل وهو الحافظ شمس الدين الحسيني توفي قبل ذلك فإنه توفي سنة خمس وستين كما جاء في ترجمته المذكورة في ذيل التقي بن فهد في الصفحة "105" وذيل الجلال السيوطي في الصفحة "364" وفي الدرر الكامنة وكتاب تنبيه الطالب وإرشاد الدارس وغير ذلك على أنه قد ألف هذا الذيل في سنة "753".

3 هو مسند دمشق وخطيبها أبو نصر الحسين بن محمد بن طلاب القرشي المتوفى سنة سبعين وأربعمائة.

4 رواه أبو داود في الأطعمة باب 39. والنسائي في الإيمان باب 21.
তিনি বলেন: আবু মুসা ইউনুস ইবনে আবদিল আলা আস-সাদাফি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ, কুররাহ ইবনে আবদুর রহমান এবং মালিক ইবনে আনাস ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পানি মিশ্রিত দুধ আনা হলো। তাঁর ডান দিকে ছিল একজন বেদুইন এবং বাম দিকে ছিলেন আবু বকর। তিনি পান করলেন, তারপর অবশিষ্টটুকু বেদুইনকে দিলেন এবং বললেন: 'ডান দিকের জন আগে, তারপর তার পরের ডান দিকের জন'।" এটি বুখারি ইসমাইল থেকে, মুসলিম ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, আবু দাউদ আল-কা'নাবি থেকে, তিরমিজি কুতাইবাহ থেকে এবং নাসাঈ হিশাম ইবনে আম্মার থেকে বর্ণনা করেছেন; তারা পাঁচজনই মালিক (রহিমাহুল্লাহু তায়ালা) থেকে বর্ণনা করেছেন।

আল-ইজ্জ বিন জামাআহ ১: শায়খ, ইমাম, আলিম, আল্লামা, হাফিজ, প্রধান বিচারপতি ইজ্জুদ্দিন আবু উমর আবদুল আজিজ ইবনে শায়খ ইমাম আল্লামা শায়খুল ইসলাম প্রধান বিচারপতি বদরুদ্দিন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সা’দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে জামাআহ আল-কিনানি আল-শাফিঈ আল-মিসরি:

তিনি ছয়শত চুরানব্বই হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি উমর ইবনুল কাওয়াস, আল-আবরকুহি, আবুল ফজল ইবনে আসাকির, হাফিজ শরফুদ্দিন আদ-দামইয়াতি এবং একদল আলিমের নিকট উপস্থিত হয়েছেন। এরপর তিনি নিজেই ইলম তলব করেন এবং দামেস্ক, হারামাইন ও কায়রোতে হাদীস শ্রবণ করেন এবং তাঁর সন্তানদেরও শ্রবণ করান। তিনি এই শাস্ত্রের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন, এমনকি তিনি সাতশত আটত্রিশ বা উনচল্লিশ হিজরি সনে মিশরীয় অঞ্চলের বিচারক নিযুক্ত হন। তিনি বারবার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন, পাঠদান করেছেন এবং ফতোয়া দিয়েছেন। তিনি বেশ কিছু উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে চার মাযহাবের ওপর ভিত্তি করে 'আল-মানাসাক আল-কাবীর' অন্যতম এবং অন্যান্য। তিনি উচ্চপদস্থ বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি একাধিকবার হজ্জ করেছেন এবং হিজাজে অবস্থান করেছেন, যার সর্বশেষটি ছিল সাতশত ৬৬ হিজরির মৌসুমে। তিনি পরবর্তী বছরের রবীউল আউয়াল মাসের পরে সোমবার, এগারোই জুমাদাল আখিরা সাতশত সাতষট্টি হিজরি সনে মক্কায় ইন্তেকাল করেন এবং আল-মালাক নামক স্থানে ফুদাইল ইবনে আইয়াজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর পাশে দাফন করা হয়।

হাফিজ ইজ্জুদ্দীন আবু উমর বিন জামাআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি কায়রোতে সাতশত সাতান্ন হিজরি সনে তাঁর নিকট পাঠ করেছি। তিনি বলেন: আবু হাফস উমর ইবনুল কাওয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বলেন: প্রধান বিচারপতি আবুল কাসিম ইবনুল হুরস্তানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবুল হাসান আস-সুলামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু নাসর ইবনে তুল্লাব ৩ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু আল-হুসাইন ইবনে জামি’ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল হাসান রামলাহতে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-আজরাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ওয়াকি’ ইবনুল জাররাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: হিশাম ইবনে উরওয়াহ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "সিরকা কতই না উত্তম তরকারি।" ৪ এটি বর্ণনা করেছেন

--------------------------------------------

১ আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/ ২৩০ (২৪৪৫)।

২ আত-তহতাবি বলেন: সম্ভবত এটি "মৌসুমের পরে" হবে। আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর এই কথা: "এর শেষটি ছিল সাতশত ৬৬ হিজরির মৌসুমে" এবং এর পরবর্তী অংশ "তিনি সাতশত সাতষট্টি হিজরির জুমাদাল আখিরায় মৃত্যুবরণ করেন" - এগুলো লেখকের কথার সাথে সংযোজন করা হয়েছে, যা মূলত লেখকের নিজস্ব কথা নয়। কারণ এই পরিশিষ্টের (যাইল) লেখক হাফিজ শামসুদ্দীন আল-হুসাইনি এর আগেই মারা গেছেন। তিনি সাতশত পঁয়ষট্টি হিজরি সনে মারা যান, যেমনটি তাকি ইবনে ফাহদ-এর 'যাইল'-এর ১০৫ পৃষ্ঠায়, জালাল আল-সুয়ুতি-এর 'যাইল'-এর ৩৬৪ পৃষ্ঠায়, আদ-দুরারুল কামিনাহ, কিতাব তানবিহুত তালিব ওয়া ইরশাদুদ্ দারিস এবং অন্যান্য গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে এসেছে। তাছাড়া তিনি এই পরিশিষ্টটি সাতশত তিপ্পান্ন হিজরি সনে রচনা করেছিলেন।

৩ তিনি হলেন দামেস্কের মুসনিদ ও খতিব আবু নাসর আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তুল্লাব আল-কুরাশি, যিনি চারশত সত্তর হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

৪ আবু দাউদ এটি খাবারের অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ ৩৯-এ এবং নাসাঈ ঈমান অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ ২১-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ২৮)
مسلم والترمذي عن الدارمي عن يحيى بن حسان عن سليمان بن بلال عن هشام به.

العلائي 1 هو الشيخ الإمام العلامة الحافظ العمدة الحجة الأوحد البارع صلاح الدين أبو سعيد خليل بن كيكلدي بن عبد الله العلائي الدمشقي الشافعي سبط البرهان الذهبي 2:

ولد سنة أربع وتسعين وستمائة وحفظ القرآن تعلم الفقه والنحو والأصول، وبرع في الحديث ومعرفة الرجال والمتون والعلل وخرج وصنف وأفاد، قال: الذهبي: حفظ كتبا وطلب وقرأ وأفاد وانتقى ونظر في الرجال والعلل، وتقدم في هذا الشأن مع صحة الذهن وسرعة الفهم، سمع ابن مشرف3 وست الوزراء والقاضي4 وأبا بكر الدشتي5 والرضي الطبري وطبقتهم وحدثنا في درسه عن جماعة. قلت شيوخه بالسماع نحو السبعمائة أقدمهم وفاة الخطيب شريف الدين الفزاري6 وصحب الإمام العلامة كمال الدين بن الزملكاني دهرًا طويلًا، وحضر وأخذ عنه علمًا كثيرًا وهو الذي ألبسه زي الفقهاء وكان يلبس زي الجند حتى بلغ خمس عشرة سنة، وأخذ صناعة الأدب والترسل عن الإمام شهاب الدين محمود الحلبي وغيره، ولبس خرقة التصوف من العلامة المحدث المعمرصدر الدين أبي المجامع بن حموية الجويني وأجاز له خلق أقدمهم أبو جعفر محمد بن علي بن الموازيني وأبي7 الحسن علي بن القيم8 وفاطمة بنت سليمان الأنصاري.

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة2/ 51 (1667) .

2 إبراهيم بن عبد الكريم بن راشد المحدث أبو إسحاق القرشي الذهبي القطاع أخذ عن ابن عبد الدائم والزين خالد ولد سنة 630 ومات سنة 718.

3 قال الطهطاوي: "سمع ابن مشرف" بصيغة اسم المفعول من التشريف وهو شهاب الدين أبو عبد الله محمد بن أبي العز بن مشرف بن بيان الأنصاري الدمشقي الصالحي البزاز "المتوفى سنة 707 عن 87 سنة" وقد سمع الصلاح العلائي عليه صحيح البخاري في سنة 704.

4 وهو تقي الدين سليمان المقدسي.

5 نسبه إلى دشت محلة بأصبهان على ما ذكره ابن العماد في الشذرات وهو أبو بكر بن محمد بن أبي القسم الدشتي المتوفى سنة 713 عن ثمانين سنة وهو من مشايخ الذهبي وطبقته أخذ عن أبي الحجاج يوسف بن خليل وطبقته في رواياته عجائب وغرائب كعمِّه.

6 هو أحمد بن إبراهيم بن سباع شرف الدين خطيب دمشق ومحدثها ونحويها المتوفى سنة خمس وسبعمائة عن خمس وسبعين سنة.

7 يقول الطهطاوي: وصوابه "وأبو الحسن" وهو القاضي بها الدين أبو الحسن علي بن عيسى بن سليمان بن رمضان بن أبي الكرم المعروف بابن القيم المصري الشافعي ناظر الأوقاف بمصر. ولد سنة 613 وتوفي في ذي القعدة من سنة 710 كما ذكره الحافظ الذهبي ففي معجمه قال: وكان والده قيم قبة الإمام الشافعي رضي الله عنه وما في التعليقات التي بأسفل الصفحة المذكورة من أنه توفي سنة 690 سهو كيف وقد ذكر المؤلف أنه ممن أجاز للصلاح العلائي وذكر قبل ذلك أن الصلاح العلائي ولد سنة 694؟! وجلَّ من لا يسهو.

8 هو علي بن عيسى بن سليمان المعروف بابن القيم ولي نظر الأحباس في عهد الظاهر بيبرس، أخذ عن سبط السلفي وغيره. توفي سنة 690.
মুসলিম ও তিরমিযী আদ-দারিমী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে বিলাল থেকে, তিনি হিশাম থেকে একই সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।

আল-আলাঈ ১ তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, আল্লামা, হাফিজ, স্তম্ভ, প্রমাণ, অনন্য ও দক্ষ সালাহউদ্দীন আবু সাঈদ খলীল ইবনে কাইকালদী ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আলাঈ আদ-দিমাশকী আশ-শাফিঈ; যিনি বুরহান আয-যাহাবীর দৌহিত্র ২:

তিনি ছয়শত চুরানব্বই হিজরী সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং কুরআন হিফয করেন। তিনি ফিকহ, নাহু (ব্যাকরণ) ও উসূল শিক্ষা করেন এবং হাদীস, রিজাল (বর্ণনাকারী), মাতন (মূলপাঠ) ও ইলাল (সূক্ষ্ম ত্রুটি) শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি হাদীস সংকলন ও গ্রন্থ রচনা করেন এবং জ্ঞান দান করেন। আয-যাহাবী বলেন: তিনি কিতাবসমূহ মুখস্থ করেছেন, অন্বেষণ করেছেন, পাঠ করেছেন, জ্ঞান বিতরণ করেছেন, (হাদীস) নির্বাচন করেছেন এবং রিজাল ও ইলাল শাস্ত্রের প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করেছেন। প্রখর মেধা ও দ্রুত বুঝার ক্ষমতার সাথে তিনি এই শাস্ত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। তিনি ইবনে মুশরিফ ৩, সিত্তুল উযারা, কাযী ৪, আবু বকর আদ-দাশতী ৫, আর-রাযী আত-তাবারী ও তাঁদের সমসাময়িকদের থেকে হাদীস শুনেছেন এবং নিজের দর্সে আমাদের কাছে একদল থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি বলি, শ্রবণের মাধ্যমে তাঁর উস্তাদদের সংখ্যা প্রায় সাতশ জনের মতো; তাঁদের মধ্যে সবার আগে মৃত্যুবরণ করেছেন খতীব শরফুদ্দীন আল-ফাযারী ৬। তিনি দীর্ঘকাল ইমাম আল্লামা কামালউদ্দীন ইবনুল যামলকানী-র সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে প্রচুর ইলম অর্জন করেছেন। তিনিই তাকে ফকীহদের পোশাক পরিধান করিয়েছিলেন, অথচ পনের বছর বয়স পর্যন্ত তিনি সৈনিকদের পোশাক পরিধান করতেন। তিনি ইমাম শিহাবুদ্দীন মাহমুদ আল-হালাবী ও অন্যদের কাছ থেকে সাহিত্য ও পত্ররচনা শিল্প গ্রহণ করেন এবং আল্লামা মুহাদ্দিস মুআম্মার সদরুদ্দীন আবুল মাজামি ইবনে হামূইয়াহ আল-জুওয়াইনী-র কাছ থেকে তাসাউফের খিরকা লাভ করেন। তাকে একদল আলিম ইজাযত দিয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রাচীনতম হলেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল মাওয়াযিনী এবং আবু ৭ হাসান আলী ইবনুল কায়্যিম ৮ ও ফাতিমা বিনতে সুলাইমান আল-আনসারী।

--------------------------------------------

১ আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/৫১ (১৬৬৭)।

২ ইবরাহীম ইবনে আব্দুল কারীম ইবনে রাশিদ আল-মুহাদ্দিস আবু ইসহাক আল-কুরাশী আয-যাহাবী আল-কাত্তা'; তিনি ইবনে আব্দুল দায়িম ও যাইন খালিদ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি ৬৩০ হিজরী সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

৩ আত-তহতাবী বলেন: "ইবনে মুশরিফ থেকে শুনেছেন" এখানে 'মুশরিফ' শব্দটি তাশরীফ থেকে ইসমে মাফউল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি হলেন শিহাবুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবিল ইয ইবনে মুশরিফ ইবনে বায়ান আল-আনসারী আদ-দিমাশকী আস-সালিহী আল-বায্যায (যিনি ৭০৭ হিজরী সালে ৮৭ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন)। সালাহ আল-আলাঈ ৭০৪ হিজরী সালে তাঁর কাছে সহীহ আল-বুখারী শুনেছেন।

৪ তিনি হলেন তাকীউদ্দীন সুলাইমান আল-মাকদিসী।

৫ ইবনুল ইমাদ 'আশ-শাযারাত' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন সে অনুযায়ী তাঁকে আসফাহানের দাশত মহল্লার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। তিনি হলেন আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিল কাসিম আদ-দাশতী, যিনি ৭১৩ হিজরী সালে আশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আয-যাহাবীর উস্তাদ ও তাঁর স্তরের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে খলীল ও তাঁর সমসাময়িকদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাঁর বর্ণনাসমূহে তাঁর চাচার মতো অনেক বিস্ময়কর ও বিরল বিষয় রয়েছে।

৬ তিনি হলেন আহমদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে সিবা শরফুদ্দীন; দামেস্কের খতীব, মুহাদ্দিস ও নাহুবিদ, যিনি ৭০৫ হিজরী সালে পঁচাত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

৭ আত-তহতাবী বলেন: সঠিক হলো "ওয়া আবু হাসান" (আবু হাসান)। তিনি হলেন কাযী বাহাউদ্দীন আবু হাসান আলী ইবনে ঈসা ইবনে সুলাইমান ইবনে রমাদান ইবনে আবিল কারম, যিনি ইবনুল কায়্যিম আল-মিসরী আশ-শাফিঈ নামে পরিচিত এবং মিশরের ওয়াকফ তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। তিনি ৬১৩ হিজরী সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭১০ হিজরীর যিলকদ মাসে ইন্তেকাল করেন, যেমনটি হাফিজ আয-যাহাবী উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর মু'জাম গ্রন্থে বলেছেন: তাঁর পিতা ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর গম্বুজের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। আর উল্লেখিত পৃষ্ঠার নিচের টিকায় যে বলা হয়েছে তিনি ৬৯০ সালে ইন্তেকাল করেছেন, তা একটি ভুল; কারণ লেখক উল্লেখ করেছেন যে তিনি সালাহ আল-আলাঈ-কে ইজাযত দানকারীদের একজন, অথচ এর আগে উল্লেখ করা হয়েছে যে সালাহ আল-আলাঈ ৬৯৪ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন! একমাত্র মহান আল্লাহই ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে।

৮ তিনি হলেন আলী ইবনে ঈসা ইবনে সুলাইমান, যিনি ইবনুল কায়্যিম নামে পরিচিত; তিনি যাহির বাইবার্সের শাসনামলে ওয়াকফ সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। তিনি সিবত আল-সালাফী ও অন্যদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি ৬৯০ হিজরী সালে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ২৯)
ومحمد بن يوسف الإربلي وسبط زيادة، ومما خرجه من الحديث لنفسه متكلمًا على أسانيده ومتونه كتاب "الأربعين في أعمال المتقين" في ستة وأربعين جزءًا وكتاب "الأربعين المعنعنة1 بفنون فنونها عن المعين" في اثني عشر جزءًا أو كتاب "الوشي المعلم في ذكر من روى عن أبي عن جده النبي صلى الله عليه وآله وسلم" ستة عشر جزءًا وكتاب "الأربعين الإلهية" ثلاثة أجزاء و"عوالي مالك السباعيات" ستة أجزاء2 و" المجالس المبتكرة" عشرة أجزاء والمسلسلات ثلاثة أجزاء وغير ذلك من الأجزاء المفردة في معانٍ متعددة، ومن الكتب العلمية "النفحات القدسية" أربعون مجلدًا ومقدمة كتاب نهاية الإحكام في دراية الأحكام خمسة عشر جزءًا وكتاب "تحفه الرائض بعلوم آيات الفرائض" وكتاب "رهان التيسير في عنوان التفسير" وكتاب "المباحث المختارة في تفسير آية الدية والكفارة" وكتاب "جامع التحصيل لأحكام المراسيل" وكتاب "تحقيق منصب الرتبة لمن ثبت له شريف الصحبة" وكتاب "تيسير حصول السعادة في تقرير شمول الإرادة" وكتاب "تلقيح المفهوم في تنقيح صيغ العموم" وكتاب "شفاء المسترشدين في حكم اختلاف المجتهدين" وكتاب "تفصيل الإكمال في تعارض بعض الأقوال والأفعال" وكتاب "تحقيق الكلام في نية الصيام" وكتاب "فصل القضاء في أحكام الأداء والقضاء" و"رفع الاشتباه عن أحكام الإكراه" و" رفع الالتباس عن مسائل البناء والغراس" وكتاب "إتمام الفرائد المحصولة في الأدوات الموصولة" وكتاب "الفصول المفيدة في الواو المزيدة" و"المعاني العارضة عن الخافضة"، وله غير ذلك من التآليف المفردة في علوم متعددة3 ولي مشيخة الحديث بالمدرسة الناصرية بدمشق قديمًا ونزل بيت المقدرس وولي التدريس بالصلاحية والتنكزية وغيرهما ودام على الأشغال والاشتغال بالتصنيف والإفادة وجاور بالحجاز غير مرة ومات يوم الاثنين ثالث المحرم سنة إحدى وستين وسبعمائة بالقدس الشريف ووقف أجزاءه بالخانقاه السميساطية -والله يغفر له.

أخبرنا الحافظ الإمام صلاح الدين العلائي سماعًا عليه بالمسجد الأقصي قال: أخبرنا شيخنا أبو الفضل سليمان بن حمزة بقراءتي قال: أخبرتنا كريمة بنت أحمد سماعًا قالت: أنبأنا محمد بن أحمد العباسي قال: أخبرنا محمد بن محمد الزينبي قال: أخبرنا محمد بن عمر بن زنبور قال: حدثنا عبد الله البغوي قال: حدثنا أحمد بن حنبل وجدي وزهير بن حرب

--------------------------------------------

1 يقول الطهطاوي: ولعله "المغنية" من الإغناء أو "المستغنية" من الاستغناء، ويظهر أن الصلاح العلائي أخذ اسم كتابه هذا من اسم كتاب الأربيعن البلداينة للحافظ السلفي وهو كتاب الأربعين المستغني بتعيين ما فيه من المعين، والله أعلم.

2 وهي "البغية والملتمس في عوالي الإمام مالك بن أنس".

3 كإثارة الفوائد المجموعة في الإشارة إلى الفرائد المسموعة بين فيها شيوخه ومسموعاته منهم، وله جزء تصحيح حديث القلتين و "سلوان التعزي بالحافظ أبي الحجاج المزي" و "المجموع المذهب في قواعد المذهب" وغير ذلك، وله مع مغلطاي ما يكون بين المتعاصرين. وكان بينه وبين الحنابلة خصومات كثيرة وكان أشعريًّا متصلبًا.
এবং মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ইরবিলি ও সিবত জিয়াদাহ; এবং তিনি নিজের জন্য সনদ ও মতন (মূল পাঠ) নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে যেসকল হাদিস গ্রন্থ সংকলন করেছেন তার মধ্যে রয়েছে ছেচল্লিশ খণ্ডে সমাপ্ত "আল-আরবাউন ফি আমালিল মুত্তাকিন" (মুত্তাকিদের আমল বিষয়ক চল্লিশ হাদিস) কিতাবটি, এবং বারো খণ্ডে সমাপ্ত "আল-আরবাউন আল-মুয়ানআনা বিফুনুনি ফুনুনিহা আনিল মাইন" কিতাবটি, অথবা ১৬ খণ্ডে সমাপ্ত "আল-ওয়াশি আল-মুআল্লাম ফি জিকরি মান রাওয়া আন আবিহি আন জাদ্দিহি আন-নাবিয্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম" (নবী করীম—তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এর মাধ্যমে তাঁর পিতা ও দাদা থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের স্মরণে অঙ্কিত বস্ত্র) কিতাবটি, এবং তিন খণ্ডে সমাপ্ত "আল-আরবাউন আল-ইলাহিয়্যাহ" (চল্লিশটি ইলাহি হাদিস) কিতাবটি, এবং ছয় খণ্ডে সমাপ্ত "আওয়ালি মালিক আস-সুবাইয়্যাত", এবং দশ খণ্ডে সমাপ্ত "আল-মাজালিস আল-মুবতাকারাহ", এবং তিন খণ্ডে সমাপ্ত "আল-মুসালসালাত" এবং এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আরও অনেক একক খণ্ড। আর ইলমি কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে চল্লিশ খণ্ডে সমাপ্ত "আন-নাফাহাত আল-কুদসিয়্যাহ", এবং পনেরো খণ্ডে সমাপ্ত "নিহায়াতুল ইহকাম ফি দিরায়াতিল আহকাম" কিতাবের মুকাদ্দিমা বা ভূমিকা, এবং "তুহফাতুর রাইদ বি-উলুমি আয়াতিল ফারাইদ" কিতাবটি, এবং "রিহানুত তায়সির ফি উনওয়ানিত তাফসির" কিতাবটি, এবং "আল-মাবাহিছ আল-মুখতারাহ ফি তাফসিরি আয়াতিল দিয়াহ ওয়াল কাফফারাহ" কিতাবটি, এবং "জামিউত তাহসিল লি-আহকামিল মারাসিল" কিতাবটি, এবং "তাহকিকু মানসাবির রুতবাহ লি-মান ছাবাতা লাহু শারিফুস সুহবাহ" কিতাবটি, এবং "তায়সিরু হুসুলিস সাআদাহ ফি তাকরিরি শুমুলিল ইরাদাহ" কিতাবটি, এবং "তালকিহুল মাফহুম ফি তানকিহি সিয়াগিল উমুম" কিতাবটি, এবং "শিফাউল মুস্তারশিদিন ফি হুকমি ইখতিলাফিল মুজতাহিদিন" কিতাবটি, এবং "তাফসিলুল ইকমাল ফি তাআরিদি বাদিল আকওয়ালি ওয়াল আফআল" কিতাবটি, এবং "তাহকিকুল কালাম ফি নিয়্যাতিস সিয়াম" কিতাবটি, এবং "ফাসলুল কাদা ফি আহকামিল আদাই ওয়াল কাদা" কিতাবটি, এবং "রাফুল ইশতিবাহ আন আহকামিল ইকরাহ" কিতাবটি, এবং "রাফুল ইলতিবাস আন মাসাইলিল বিনাই ওয়াল গিরাস" কিতাবটি, এবং "ইতমামুল ফারাইদিল মাহসুলাহ ফিল আদাওয়াতিল মাউসুলাহ" কিতাবটি, এবং "আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউ আল-মাযিদাহ" কিতাবটি, এবং "আল-মাআনিল আরিদা আনিল খাফিদাহ" কিতাবটি। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর আরও একক রচনা রয়েছে। তিনি দীর্ঘকাল দামেস্কের মাদরাসায়ে নাসিরিয়ায় হাদিসের প্রধান শায়খের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে (জেরুজালেম) অবস্থান করেন এবং সালাহিয়্যাহ ও তানকিজিয়্যাহসহ অন্যান্য মাদরাসায় অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জ্ঞানচর্চা, গ্রন্থ রচনা এবং জ্ঞান বিতরণে সর্বদা নিয়োজিত ছিলেন। তিনি একাধিকবার হিজাজে অবস্থান করেছেন এবং ৭৬১ হিজরির ৩রা মহরম সোমবার পবিত্র কুদস (জেরুজালেম) শহরে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তাঁর গ্রন্থসমূহ সামিসাতিয়্যাহ খানকায় ওয়াকফ করে গিয়েছেন—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।

হাফিজ ইমাম সালাহউদ্দিন আল-আলাই আমাদের নিকট মসজিদে আকসায় তাঁর থেকে শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের শায়খ আবুল ফজল সুলাইমান বিন হামজাহ আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: কারিমা বিনতে আহমদ আমাদের শ্রবণের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আব্বাসি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-যায়নাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন উমর বিন যানবুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আল-বাগাউয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন হাম্বল, আমার দাদা এবং যুহাইর বিন হারব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ আত-তাহতাবি বলেন: সম্ভবত এটি "আল-মুগনিয়াহ" (অভাবমুক্তকারী) অথবা "আল-মুস্তাগনিয়াহ" শব্দ থেকে এসেছে। প্রতীয়মান হয় যে, সালাহউদ্দিন আল-আলাই তাঁর এই কিতাবের নামটি হাফিজ সালাফির "আল-আরবাউন আল-বুলদানিয়াহ" কিতাবের নাম থেকে নিয়েছেন, যা হলো "কিতাবুল আরবাউন আল-মুস্তাগনি বিতায়িন মা ফিহি মিনাল মাইন"। আল্লাহই ভালো জানেন।

২ আর এটি হলো "আল-বুগইয়াহ ওয়াল মুলতামিস ফি আওয়ালি আল-ইমাম মালিক বিন আনাস"।

৩ যেমন "ইছারাতুল ফাওয়াইদিল মাজমুআহ ফিল ইশারাহ ইলাল ফারাইদিল মাসমুআহ", যেখানে তিনি তাঁর শায়খদের এবং তাঁদের থেকে যা শুনেছেন তা বর্ণনা করেছেন। এছাড়া দুই কুল্লা বিশিষ্ট পানির হাদিস বিশুদ্ধকরণ বিষয়ে তাঁর একটি স্বতন্ত্র অংশ (জুয) রয়েছে, এবং "সিলওয়ানুত তাআযযি বিল-হাফিজ আবিল হাজ্জাজ আল-মিযযি" ও "আল-মাজমু আল-মুজাহহাব ফি কাওয়াইদিল মাজহাব" ইত্যাদি গ্রন্থ রয়েছে। মুগলতাইয়ের সাথে তাঁর সেই দ্বন্দ্ব ছিল যা সমসাময়িকদের মধ্যে হয়ে থাকে। তাঁর এবং হাম্বলিদের মধ্যে অনেক বিরোধ ছিল এবং তিনি ছিলেন একজন কট্টর আশআরি।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ৩০)
وسريح بن يونس وابن المقري قالوا: حدثنا سفيان بن عيينة عن الزهري عن سالم عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: مر رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم برجل وهو يعظ أخاه في الحياء فقال: النبي صلى الله عليه وآله وسلم: "الحياء من الإيمان" 1 هذا حديث حسن صحيح فرد عزيز لاجتماع هؤلاء الأئمة فيه رواه مسلم عن زهير بن حرب ورواه الترمذي عن أحمد بن منيع جد البغوي ورواه2 عن ابن المقري فوقع لنا موافقة عاليه لهم مع اختلاف الشيوخ.

أنشدنا الإمام صلاح الدين قال: أنشدنا المعمر شهاب الدين محمد بن محمد بن دمرداش لنفسه قوله:

أقول لمسواك الحبين لك الهنا … بلثم فم ما ناله ثغر عاشق

فقال وفي أحشائه حرقة الجوي … مقالة صبٍّ للديار مفارق

تذكرت أوطاني فقلبي كما تري … أعلله بين العذيب وبارق

ابن خليل 3 الشيخ الإمام العالم الحافظ القدوة البارع الرباني بهاء الدين أبو محمد عبد الله بن محمد بن أبي بكر 4 بن خليل العسقلاني ثم المكي المقري المالكي 5 نزيل القاهرة:

ولد سنة أربع وتسعين وستمائة بمكة وتفقه، وعني بالحديث ورحل فيه وأخذ عن بيبرس العديمي بحلب، وعن القاضي تقي الدين وست الوزراء وطائفة بدمشق، وعن التوزري6 والرضي الطبري بمكة، وعن طائفة بمصر وقرأ في المنطق، قال الذهبي: كان حسن القراءة جيد المعرفة قوي المذاكرة في الرجال كثير العلم متين الديانة كبير الورع مؤثر الانقطاع والمخمول، كبير القدر انقطع بزاوية بظاهر الإسكندرية على البحر مرابطًا قلت: ثم استوطن القاهرة وساءت أخلاقه، والله تعالى يغفر له.

--------------------------------------------

1 رواه البخاري في الإيمان باب 16 ومسلم في الإيمان حديث 57-59.

2 هنا بياض ولعل الأصل "ورواه ابن ماجه عن ابن المقري" وفي سنن ابن ماجه: حدثنا سهل بن أبي سهل ومحمد بن عبد الله بن يزيد قال: ثنا سفيان عن الزهري الحديث. ومحمد بن عبد الله بن يزيد هو ابن المقري.

3 الدرر الكامنة 2/ 177 "2212".

4 وسيأتي في ذيل الجلال السيوطي "عبد الله بن محمد بن عبد الله بن أبي بكر بن خليل" ومثله في حسن المحاضرة له وفي الدرر الكامنة بزيادة عبد الله بين محمد وأبي بكر. ورأيت في معجم الحافظ الذهبي وشذرات الذهب ما يوافق ما هنا في ترجمته وفي ترجمة أبيه شيخ الحرم وفقيهه رضي الدين أبي عبد الله محمد بن أبي بكر بن خليل بن إبراهيم القرشي العثماني المكي الشافعي "المتوفى سنة 696" وكذا في أواخر طبقات الحافظ عند ذكره، والله أعلم. "الطهطاوي".

5 وسيأتي في ذيل السيوطي أنه شافعي المذهب.

6 نسبه إلى توزر بالفتح ثم السكون وفتح الزاي وراء مدينة في أقصى إفريقية من نواحي الزاب الكبير من أعمال الجريد- معجم البلدان.
সারিহ ইবনে ইউনুস এবং ইবনুল মুকরি বলেছেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি তার ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "লজ্জা ঈমানের অঙ্গ।" ১ এটি একটি হাসান সহিহ ফারদ আজিজ হাদিস, কারণ এতে এসকল ইমামদের সমাবেশ ঘটেছে। এটি মুসলিম যুহাইর ইবনে হারব থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি এটি বাগাউয়ির দাদা আহমদ ইবনে মানি' থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ২... এটি ইবনুল মুকরি থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে শাইখদের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তাদের সাথে আমাদের এক উচ্চপর্যায়ের মিল (মুওয়াফাকাত আলিইয়াহ) সৃষ্টি হয়েছে।

ইমাম সালাহউদ্দিন আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: প্রবীণ শিহাবউদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে দিমারদাশ আমাদের নিকট তার নিজের রচিত এই কবিতাটি পাঠ করেছেন:

আমি প্রেমাস্পদের মেসওয়াককে বললাম, তোমার জন্য সুসংবাদ … এমন মুখমণ্ডল চুম্বন করার যা কোনো প্রেমিকের ঠোঁট পায়নি।

সে বলল, আর তার অন্তরে ছিল বিরহ-বেদনার দহন … স্বদেশের বিচ্ছেদকাতর এক প্রেমিকের উক্তি।

আমি আমার স্বদেশের কথা স্মরণ করলাম, ফলে আমার হৃদয় যেমনটি দেখছো … আমি একে উজাইয়িব ও বারেক এর মধ্যবর্তী স্থানে সান্ত্বনা দিচ্ছি।

ইবনে খলিল ৩ শাইখ, ইমাম, আলিম, হাফিজ, অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব, সুদক্ষ, রব্বানি বাহাউদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ৪ ইবনে খলিল আল-আসকালানি, অতঃপর আল-মাক্কি আল-মুকরি আল-মালিকি ৫ কায়রোর বাসিন্দা:

তিনি ছয়শত চুরানব্বই হিজরিতে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ফিকহ অর্জন করেন। তিনি হাদিসশাস্ত্রে মনোনিবেশ করেন এবং এর জন্য সফর করেন। তিনি আলেপ্পোতে বাইবার্স আল-আদিমি থেকে, দামেস্কে কাজী তাকিউদ্দিন, সিত্তুল উজারা ও একদল আলিম থেকে এবং মক্কায় তাওজারি ৬ ও রযি আল-তবারী থেকে এবং মিশরে একদল আলিম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং যুক্তিবিদ্যা (মানতিক) পাঠ করেন। যাহাবি বলেন: তিনি উত্তম কিরাআত ও উত্তম জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, রাবিদের (বর্ণনাকারীদের) বিষয়ে গভীর পর্যালোচনাকারী ছিলেন, প্রভূত জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, দ্বীনদারিতে সুদৃঢ় ছিলেন এবং অত্যন্ত পরহেজগার ছিলেন। তিনি নির্জনতা ও লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকাকে পছন্দ করতেন। তিনি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন এবং আলেকজান্দ্রিয়ার উপকূলে সমুদ্রতীরে এক নির্জন খানকায় পাহারারত অবস্থায় দিনাতিপাত করতেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এরপর তিনি কায়রোতে বসতি স্থাপন করেন এবং তার মেজাজ রুক্ষ হয়ে গিয়েছিল, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করুন।

--------------------------------------------

১ এটি বুখারি ইমান অধ্যায়ের ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে এবং মুসলিম ইমান অধ্যায়ের ৫৭-৫৯ নম্বর হাদিসে বর্ণনা করেছেন।

২ এখানে পান্ডুলিপিতে শূন্যস্থান রয়েছে, সম্ভবত মূল পাঠ হবে "এবং ইবনে মাজাহ এটি ইবনুল মুকরি থেকে বর্ণনা করেছেন"। সুনানে ইবনে মাজাহ-তে রয়েছে: সাহল ইবনে আবি সাহল এবং মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট যুহরি থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদই হলেন ইবনুল মুকরি।

৩ আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/১৭৭ "২২১২"।

৪ জালালুদ্দিন সুয়ুতির জাইলের (পরিশিষ্ট) মধ্যে আসবে "আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর ইবনে খলিল"। তার হুসনুল মুহাযারাহ গ্রন্থে এবং আদ-দুরারুল কামিনাহ-তেও মুহাম্মদ ও আবু বকরের মাঝে আবদুল্লাহ নামটির আধিক্যসহ অনুরূপ পাওয়া যায়। আমি হাফিজ যাহাবির মু'জাম এবং শাযারাতুয যাহাব গ্রন্থে তার জীবনীতে এবং তার পিতার জীবনীতে যা এখানে রয়েছে তার অনুরূপ দেখেছি। তার পিতা ছিলেন হারামের শাইখ ও ফকিহ রযি উদ্দিন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনে খলিল ইবনে ইব্রাহিম আল-কুরাশি আল-উসমানি আল-মাক্কি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ৬৯৬ হিজরি)। হাফিজ ইবনে হাজারের তাবাকাত এর শেষ দিকেও তার উল্লেখকালে এমনটিই পাওয়া যায়। আল্লাহই ভালো জানেন। "তহতাবি"।

৫ সুয়ুতির জাইলে আসবে যে তিনি শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন।

৬ তাকে তাওজারের (তা-তে ফাতহা, ওয়াও-তে সুকুন, যা-তে ফাতহা এবং শেষে রা) দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, যা জারীদ অঞ্চলের অন্তর্গত কাবির জাবের পার্শ্ববর্তী সুদূর আফ্রিকার একটি শহর - মু'জামুল বুলদান।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ৩১)
أخبرنا الحافظ الزاهد بهاء الدين بن خليل المكي قراءة عليه وأنا أسمع بالقاهرة قال: أخبرنا بيبرس العديمي بقراءتي عليه بحلب قال: أخبرنا أبو إسحاق إبراهيم بن عثمان بن يوسف الكشغري قال: أخبرنا أبو الحسن تاج القراء وأبو الفتح بن البطي قالا: أخبرنا أبو عبد الله البانياسي قال: أخبرنا أبو الحسن بن الصلت قال: أخبرنا إبراهيم بن عبد الصمد الهاشمي قال: حدثنا أبو سعيد الأشج قال: حدثنا محمد بن فضيل عن عطاء بن السائب عن محارب بن دثار عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "الكوثر نهر في الجنة حافتاه الذهب مجراه الدر والياقوت تربته أطيب من المسك وأشد بياضًا من الثلج" رواه … 1 عن الأشج موافقة.

--------------------------------------------

1 هنا بياض في النسخة ولعل الأصل "رواه ابن ماجه عن الأشج" لأنه أخرجه في سننه عن واصل بن عبد الأعلى وعبد الله بن سعيد وعلي بن المنذر قالوا: ثنا محمد بن فضيل الحديث، وعبد الله بن سعيد هو أبو سعيد الأشج.
হাফিজ, যাহিদ বাহাউদ্দীন বিন খলীল আল-মাক্কী কায়রোতে তাঁর নিকট পাঠকালে এবং আমি শ্রবণরত থাকাকালে আমাদের সংবাদ দিয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বাইবার্স আল-আদিমী, হালাব (আলেপ্পো) শহরে তাঁর নিকট আমার পাঠকালে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহীম বিন উসমান বিন ইউসুফ আল-কাশগরী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান তাজুল কুররা এবং আবুল ফাতহ বিন আল-বাত্তী; তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-বানিয়াসী; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান বিন আস-সালত; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহীম বিন আব্দুস সামাদ আল-হাশিমী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ফুদাইল, আতা বিন আস-সাইব থেকে, তিনি মুহারিব বিন দিসার থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কাওসার জান্নাতের একটি নদী, যার উভয় তীর স্বর্ণের, এর প্রবাহপথ মুক্তা ও ইয়াকুত পাথরের, এর মাটি মিশকের চেয়েও অধিক সুগন্ধিযুক্ত এবং বরফের চেয়েও অধিক সাদা।" এটি বর্ণনা করেছেন ... ১ আল-আশাজ্জ থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে।

--------------------------------------------

১ পাণ্ডুলিপিতে এখানে শূন্যস্থান রয়েছে, সম্ভবত মূল পাঠ ছিল "ইবনে মাজাহ এটি আল-আশাজ্জ থেকে বর্ণনা করেছেন"; কারণ তিনি এটি তাঁর সুনান গ্রন্থে ওয়াসিল বিন আব্দুল আ'লা, আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ এবং আলী বিন আল-মুনজির থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ফুদাইল হাদিসটি বর্ণনা করেছেন; আর আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ হলেন আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ।
(খণ্ড: ১) যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ লিল হুসাইনি (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌الطبقة الرابعة والعشرون وعدتهم عشرة:

ابن عبد الهادي 1 الإمام العلامة شمس الدين عبد الله محمد ابن شيخنا الزاهد عماد الدين أبي العباس أحمد بن عبد الهادي بن عبد الحميد بن عبد الهادي بن محمد بن يوسف 2 بن قدامة المقدسي الجماعيلي الأصل الدمشقي الصالحي الحنبلي:

ولد سنة خمس3 وسبعمائة، وسمعه أبو القاضي تقي الدين سليمان وأبا بكر بن عبد الدائم وعيسى المطعم وخلق من هذه الطبقة، وبعد هذا أكثر عن شيخنا أبي الحجاج المزي ولازمه نحو عشر سنين واعتنى بالرجال والعلل وبرع وجمع وصنف وتصدر للإفادة والاشتغال في القراآت والحديث والفقه والأصلين والنحو واللغة وولي مشيخة الحديث بالضيائية والغيائية ودرس بالمدرسة المنصورية وغيرها، وسمع من طائفة وروى شيخنا الذهبي عن المزي عن السروجي عنه، ومات يوم الأربعاء عاشر جمادى الأولى سنة أربع وأربعين وسبعمائة، ودفن بقاسيون وتأسف الناس عليه، وسمعت شيخنا الذهبي يقول يومئذ وهو يبكي: ما اجتمعت به قد إلا واستفدت منه -رحمه الله تعالى.

ومات في عامه القاضي الإمام بالديار المصرية برهان الدين إبراهيم بن علي بن أحمد بن علي بن يوسف الحنفي4 بن سبط عبد الحق بدمشق حدث عن الفخر وغيره، والمعمر أبو العباس أحمد بن عمر بن عفان5 الموشي6 أخو حيدر عن ثلاث وتسعين سنة.

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة 3/ 201 "3521".

2 يقول الطهطاوي: والصواب تقديم يوسف علي محمد كما في كلام غير واحد من مؤرخي الحنابلة وغيرهم وسيأتي ذكره على الصواب في ذيل الجلال السيوطي في الصفحة "351".

3 أو ست، وكان عمره حين توفي دون أربعين سنة إما ثمانيًا وثلاثين سنه أو تسعًا وثلاثين سنة، قال الصفدي: لو عاش لكان آيةً ا. هـ. أقول: ولكان أنضج وأهدأ في العلم، وكان أحسن علومه معرفة أحاديث الأحكام وعللها، وسيأتي ذكر مؤلفاته في ذيل السيوطي.

4 المعروف بابن عبد الحق نسبة إلى جد أبيه لأمه عبد الحق بن خلف الواسطي الحنبلي كما في الدرر الكامنة.

5 وصوابه "ابن عفاف" كما في معجم الحافظ الذهبي ومعجم التاج السبكي والدرر الكامنة بعين مهملة مفتوحة وفاءين بينهما ألف وهو شهاب الدين أبو العباس أحمد بن عمر بن عفاف بن عمر الموشي ثم الدمشقي العطار المعروف بأخي حيدر "المتوفى بدمشق في رجب أو شعبان من سنة 744 عن 93 سنة" وفي كتاب المشتبه للحافظ الذهبي أحمد بن عمر بن عفاف الموشي العطار حدثنا عن ابن عبد الدائم ا. هـ. وفيه ضبط عفاف بالقلم بتشديد الفاء الأولى، والله أعلم. "الطهطاوي".

6 بضم الميم وسكون الواو بعدها معجمة قاله الحافظ ابن حجر.
চব্বিশতম স্তর এবং তাদের সংখ্যা দশজন:

ইবনুল হাদি ১ ইমাম আল্লামা শামসুদ্দীন আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আমাদের শায়খ জাহিদ ইমাদুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল হাদি ইবনে আব্দুল হামিদ ইবনে আব্দুল হাদি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ২ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি আল-জামাঈলি আল-আসল আদ-দিমাশকি আস-সালিহি আল-হানবালি:

তিনি সাতশত পাঁচ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আবুল কাজি তাকিউদ্দীন সুলায়মান, আবু বকর ইবনে আব্দুল দায়িম, ঈসা আল-মুতয়িম এবং এই স্তরের বহু লোকের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন। এরপর তিনি আমাদের শায়খ আবুল হাজ্জাজ আল-মিজ্জির নিকট অনেক সময় কাটিয়েছেন এবং প্রায় দশ বছর তার সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি রিজাল (বর্ণনাকারী) এবং ইলাল (দোষত্রুটি) বিষয়ে মনোযোগী হন এবং পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি সংকলন ও রচনা করেছেন এবং কিরাত, হাদীস, ফিকহ, উসুল এবং আরবী ব্যাকরণ ও ভাষায় শিক্ষা প্রদানের জন্য নিয়োজিত ছিলেন। তিনি দিয়াইয়্যাহ ও গিয়াইয়্যাহর হাদিস বিষয়ক প্রধান (শায়খুল হাদিস) নিযুক্ত হন এবং মানসুরিয়্যাহ মাদ্রাসা ও অন্যান্য স্থানে পাঠদান করেন। তিনি একদল উলামার নিকট হাদীস শুনেছেন এবং আমাদের শায়খ আয-যাহাবি আল-মিজ্জির সূত্রে আস-সারুজি থেকে তার বরাতে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাতশত চুয়াল্লিশ হিজরি সনের দশই জুমাদাল উলা রোজ বুধবার ইন্তেকাল করেন এবং কাসিউনে সমাহিত হন। লোকজন তার জন্য অত্যন্ত শোক প্রকাশ করেন। আমি আমাদের শায়খ আয-যাহাবিকে সেদিন কাঁদতে কাঁদতে বলতে শুনেছি: "আমি যতবারই তার সাথে সাক্ষাৎ করেছি, ততবারই তার থেকে উপকৃত হয়েছি - আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি রহম করুন।"

এবং সেই বছরেই দিয়ারে মিসরের কাজী ইমাম বুরহানুদ্দীন ইবরাহিম ইবনে আলি ইবনে আহমাদ ইবনে আলি ইবনে ইউসুফ আল-হানাফি ৪ ইবনে সিবত আব্দুল হক দামেস্কে ইন্তেকাল করেন, তিনি আল-ফাখর ও অন্যান্যদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। এবং দীর্ঘায়ু ব্যক্তি আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে উমর ইবনে আফফান ৫ আল-মুশি ৬ যিনি হায়দারের ভাই ছিলেন, তিরানব্বই বছর বয়সে (ইন্তেকাল করেন)।

--------------------------------------------

১ আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/২০১ "৩৫২১"।

২ আত-তাহতাউই বলেন: সঠিক হলো মুহাম্মদ এর পূর্বে ইউসুফকে উল্লেখ করা, যেমনটি হানবালি ইতিহাসবিদগণ এবং অন্যরা করেছেন, এবং জালাল আস-সুয়ুতির সংযোজনী (যায়ল) এর ৩৫১ পৃষ্ঠায় এটি সঠিকভাবে আসবে।

৩ অথবা ছয়, এবং যখন তিনি মারা যান তখন তার বয়স চল্লিশ বছরের কম ছিল, হয়তো আটত্রিশ বছর অথবা ঊনচল্লিশ বছর। আস-সাফাদি বলেন: তিনি যদি বেঁচে থাকতেন তবে একটি নিদর্শন হতেন। আমি (লেখক) বলছি: তিনি আরও পরিপক্ক ও জ্ঞানে ধীরস্থির হতেন, আর তার শ্রেষ্ঠ জ্ঞান ছিল আহকামের হাদিস ও সেগুলোর ইলাল (সূক্ষ্ম ত্রুটি) সম্পর্কে। সুয়ুতির যায়ল-এ তার রচনার কথা সামনে আসবে।

৪ তিনি ইবনে আব্দুল হক নামে পরিচিত, তার মাতামহের পিতা আব্দুল হক ইবনে খালাফ আল-ওয়াসিতি আল-হানবালির সাথে সম্পর্কযুক্ত, যেমনটি আদ-দুরারুল কামিনাহ-তে রয়েছে।

৫ এবং এর সঠিক রূপ হলো "ইবনে আফাফ", যেমনটি হাফেজ আয-যাহাবির মুজাম, তাজ আস-সুবকির মুজাম এবং আদ-দুরারুল কামিনাহ-তে রয়েছে; এখানে 'আইন' বর্ণে ফাতহাহ এবং দুটি 'ফা' এর মাঝে আলিফ রয়েছে। তিনি হলেন শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে উমর ইবনে আফাফ ইবনে উমর আল-মুশি এরপর আদ-দিমাশকি আল-আত্তার, যিনি হায়দারের ভাই হিসেবে পরিচিত (দামেস্কে সাতশত চুয়াল্লিশ হিজরি সনের রজব বা শাবান মাসে ৯৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন)। হাফেজ আয-যাহাবির 'আল-মুশতাবিহ' কিতাবে রয়েছে: আহমাদ ইবনে উমর ইবনে আফাফ আল-মুশি আল-আত্তার আমাদের নিকট ইবনে আব্দুল দায়িম থেকে বর্ণনা করেছেন। আর সেখানে আফাফ শব্দের প্রথম ফায় তাশদিদ দিয়ে কলম দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। (আত-তাহতাউই)।

৬ মীম বর্ণে পেশ এবং ওয়াও বর্ণে সুকুন, এরপর শীন বর্ণ; এটি হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন।