(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: -)
إبطال التأويلات - ط غراس القسم: العقيدة
الكتاب: إبطال التأويلات لأخبار الصفات
المؤلف: القاضي أبو يعلى محمد بن الحسين بن الفراء (ت 458 هـ)
تحقيق ودراسة: أبي عبد الله محمد بن حمد الحمود النجدي
الناشر: غراس للنشر والتوزيع - الكويت
الطبعة: الأولى، 1434 هـ - 2013 م
عدد الصفحات: 706
تنبيه: أرقام الأحاديث من 277 إلى 327 تكررت مرة أخرى مِن بعد الحديث 575 لذا يُراعَى رقم الصفحة عند العزو
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 شعبان 1443
ইবতালুত তাবিলাত - গুরাস প্রকাশনী বিভাগ: আকীদা
কিতাব: ইবতালুত তাবিলাত লি আখবারিস সিফাত (সিফাত সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহের ব্যাখ্যার অসারতা)
লেখক: আল-কাযী আবু ইয়ালা মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আল-ফারা (মৃত্যু: ৪৫৮ হিজরি)
তাহকীক ও গবেষণা: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন হামাদ আল-হামুদ আন-নাজদী
প্রকাশক: গুরাস পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭০৬
সতর্কবার্তা: হাদিস নম্বর ২৭৭ থেকে ৩২৭ পর্যন্ত হাদিস ৫৭৫-এর পর আবারও পুনরাবৃত্ত হয়েছে, তাই উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে পৃষ্ঠা নম্বর লক্ষ্য রাখা আবশ্যক
[বইটির সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ শাবান ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ৫)
مُقَدِّمة
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله [الذى] جعل في كل زمان بقايا من أهل العلم، يدعون من ضلَّ إلى الهدى، وينهونه عن الردى، يُحيون بكتاب الله تعالى الموتى، وبسنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم أهل الجهالة والردى، فكم من قتيلٍ لإبليس قد أحيوه، وكم من ضالٍّ تائه قد هدوه، فما أحسن آثارهم على الناس، ينفون عن دين الله عز وجل تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الضالين، الذين عقدوا ألوية البدع، وأطلقوا عنان الفتنة، يقولون على الله، وفي الله -تعالى الله عما يقول الظالمون عُلوًّا كبيرًا- وفي كتابه بغير علم، فنعوذ بالله من كل فتنة
(1).
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وسلم وعلى آله وأصحابه، ومن سار على هديه وتمسك بسنته إلى يوم الدين.
وبعد: فإن كتاب "إبطال التأويلات لأخبار الصفات" للقاضي أبي يعلى الفرَّاء كان يعد إلى زمن قريب من الكتب المفقودة
(2).
وهو كتاب فريد في بابه: إذ تضمن الرد على تأويلات الأشاعرة والمعتزلة لأحاديث الصفات، وبيان مذهب السلف فيها، وهو إثباتها والإيمان بها، ونفي التكييف عنها والتمثيل لها، فهذا هو التوحيد الذي بيّنه الله تعالى في كتابه، وكان عليه رسوله صلى الله عليه وسلم وصحابته الكرام، والتابعين لهم بإحسان.
--------------------------------------------
ভূমিকা
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য [যিনি] প্রত্যেক যুগে একদল ইলম অর্জনকারীকে অবশিষ্ট রেখেছেন, যারা পথভ্রষ্টদের হিদায়াতের দিকে আহ্বান করেন এবং তাদের ধ্বংস থেকে রক্ষা করেন। তারা আল্লাহ তাআলার কিতাবের মাধ্যমে মৃত অন্তরকে জীবিত করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর মাধ্যমে অজ্ঞ ও পথভ্রষ্টদের আলো দান করেন। ইবলিসের হাতে কত নিহতকেই না তারা পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং কত দিশেহারা পথভ্রষ্টকে তারা সুপথ প্রদর্শন করেছেন। মানুষের ওপর তাদের অবদান কতই না চমৎকার! তারা আল্লাহর দ্বীন থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং পথভ্রষ্টদের অপব্যাখ্যা দূর করেন; যারা বিদআতের ঝাণ্ডা উড্ডীন করেছে এবং ফিতনার লাগাম ছেড়ে দিয়েছে। তারা আল্লাহ সম্পর্কে এবং তাঁর কিতাব সম্পর্কে জ্ঞান ছাড়াই কথা বলে - জালিমরা যা বলে আল্লাহ তা থেকে অনেক সুউচ্চ ও মহান। আমরা প্রত্যেক ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।
(১)আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর দেখানো পথে চলবে ও তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে, তাদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর: নিশ্চয়ই কাযী আবু ইয়ালা আল-ফাররা রচিত "ইবতালুত তাবীলাত লি আখবারিস সিফাত" গ্রন্থটি সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত নিখোঁজ বইগুলোর অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হতো।
(২)এটি তার নিজ বিষয়ে একটি অনন্য গ্রন্থ: কেননা এতে সিফাত বা গুণাবলী সংক্রান্ত হাদীসগুলোর ব্যাপারে আশআরি ও মুতাজিলিদের অপব্যাখ্যার খণ্ডন এবং এ বিষয়ে সালাফদের মাযহাব বর্ণনা করা হয়েছে। আর তাদের মাযহাব হলো সেই গুণাবলীগুলো আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা ও সেগুলোর ওপর ঈমান আনা এবং সেগুলোর কোনো ধরন নির্ধারণ করা কিংবা কোনো কিছুর সাথে সাদৃশ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা। এটাই হলো সেই তাওহীদ যা আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন এবং যার ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণকারী তাবেয়ীগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ৬)
وليس التوحيد هو ما يدعيه أولئك المبتدعة، من وجوب تأويل الصفات وتفسيرها بما يليق بالله تعالى!!
وأن إثبات حقائقها ومعانيها يقتضي تشبيه الله بخلقه! زعموا!!
وسموا أهل السنة والجماعه الذين وصفوا الله تعالى بما وصف به نفسه، وبما وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم سموهم مجسمة حشوية!
ولا يضر أهل السنة تسمية أهل البدع لهم بما ينفر الناس عنهم فلهم في رسول الله صلى الله عليه وسلم أسوة حسنة، فقد سماه المشركون بالساحر والكاهن والمجنون والشاعر.
ورحم الله تعالى من قال:
فإن كان تجسيمًا ثبوت استوائه
… على عرشه إني إذا لمجسمُ
وإنْ كان تشبيهًا ثبوت صفاته
… فمن ذلك التشبيه لا أتكتمُ
وإن كان تنزيهًا جُحود استوائهِ
… وأوصافه أو كونه لا يتكلمُ
فعن ذلك التنزيه نزَّهت ربَّنا
… بتوفيقه والله أعلم وأعظمُ
فنحن ننزه ربنا عن ذلك الشرك الذي وقعوا فيه، وهو شرك التعطيل لصفات ربنا تبارك وتعالى، بل والتشبيه أيضًا!! فمن عطل صفات الخالق فقد شبهه بالجمادات والمعدومات والممتنعات! فكان كالمستجير من الرمضاء بالنار! فإن التشبيه بالمعدوم والممتنع، أفظع من التشبيه بالموجود.
وما من معطل، عطل صفة لله تعالى إلا ووقع في شر مما يزعم أنه فرَّ منه، كحال الذين تأولوا نصوص العلو والفوقية والاستواء، فرارًا من التحيز والحصر -بزعمهم- ثم قالوا: هو في كل مكان بذاته؟! فنزهوه عن استواءه الذي أثبته لنفسه ومباينته لخلقه، وجعلوه في أجواف البيوت
আর তাওহীদ তা নয় যা ঐ বিদআতিরা দাবি করে, অর্থাৎ গুণাবলিকে তাবিল করা এবং আল্লাহ তাআলার জন্য যা উপযুক্ত সেই মর্মে সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করাকে আবশ্যক মনে করা!!
এবং (তারা দাবি করে যে) সেগুলোর হাকীকত ও অর্থসমূহ সাব্যস্ত করা আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে সদৃশ করাকে আবশ্যক করে! তারা এমনটিই ধারণা করেছে!!
আর তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতকে—যারা আল্লাহ তাআলার ঐসব গুণাবলি বর্ণনা করেন যা তিনি স্বয়ং নিজের জন্য বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য বর্ণনা করেছেন—তাদেরকে দেহবাদী ও হাশুবিয়্যাহ নামে অভিহিত করেছে!
আর বিদআতিরা আহলে সুন্নাতকে এমন নামে অভিহিত করা যা মানুষকে তাদের থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তাতে আহলে সুন্নাতের কোনো ক্ষতি হয় না। কেননা তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে উত্তম আদর্শ রয়েছে; যেহেতু মুশরিকরা তাঁকে জাদুকর, গণক, পাগল ও কবি বলে আখ্যায়িত করেছিল।
আর আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন যিনি বলেছেন:
যদি তাঁর আরশের উপর উঠা সাব্যস্ত করা দেহবাদ হয়
… তবে আমি অবশ্যই একজন দেহবাদী।
আর যদি তাঁর গুণাবলি সাব্যস্ত করা সাদৃশ্যদান হয়
… তবে আমি সেই সাদৃশ্যদান থেকে নিজেকে গোপন রাখব না।
আর যদি তাঁর উঠা এবং তাঁর গুণাবলিকে অস্বীকার করা অথবা তিনি কথা বলেন না—এমন বিশ্বাস পোষণ করা পবিত্রতা বর্ণনা হয়,
… তবে সেই পবিত্রতা বর্ণনা থেকে আমি আল্লাহর তাওফীকে আমাদের রবকে পবিত্র রাখছি; আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ ও সর্বমহান।
অতএব আমরা আমাদের রবকে সেই শিরক থেকে পবিত্র ঘোষণা করছি যাতে তারা লিপ্ত হয়েছে, আর তা হলো আমাদের বরকতময় ও সুমহান রবের গুণাবলিকে অস্বীকার করার শিরক, বরং তা সাদৃশ্যদানও বটে!! কেননা যে ব্যক্তি স্রষ্টার গুণাবলিকে অস্বীকার করল, সে মূলত তাঁকে জড়বস্তু, অস্তিত্বহীন এবং অসম্ভব বিষয়াবলির সাথে সদৃশ করল! ফলে সে যেন তপ্ত বালু থেকে বাঁচার জন্য আগুনের আশ্রয় গ্রহণ করল! কারণ অস্তিত্বহীন ও অসম্ভব বস্তুর সাথে সাদৃশ্য করা বিদ্যমান বস্তুর সাথে সাদৃশ্য করার চেয়েও ভয়াবহ।
এমন কোনো অস্বীকারকারী নেই, যে আল্লাহ তাআলার কোনো গুণকে অস্বীকার করেছে অথচ সে তার চেয়েও বড় মন্দের মধ্যে পতিত হয়নি যা থেকে সে পলায়ন করতে চেয়েছিল। যেমন তাদের অবস্থা যারা উচ্চতা, উপরে থাকা এবং উঠার দলীলগুলোকে তাবিল করেছে—তাদের দাবি অনুযায়ী সীমাবদ্ধতা ও পরিবেষ্টন থেকে বাঁচার জন্য—অতঃপর তারা বলল: তিনি স্বীয় সত্তাসহ সব জায়গায় আছেন?! ফলে তারা তাঁকে তাঁর সেই উঠা থেকে বঞ্চিত করল যা তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক থাকাকে অস্বীকার করল, আর তাঁকে ঘরের অভ্যন্তরে সাব্যস্ত করল।
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ৭)
والناس والآبار والأواني والأماكن التي يُرغب عن ذكرها لقذارتها!! ثم إنَّ التأويل يتضمن القدح في علم الله تعالى، وبيانه لعباده الحق والهدى؛ لأنهم يزعمون أن الحق هو التأويل الذي يذهبون إليه، وهو يخالف ظواهر النصوص، فإما أن يكون الله تعالى عالمًا أن الحق في تأويلات النفاة المعطلين، أو لا يعلم ذلك!! فإن لم يعلم ذلك كان ذلك قدحًا في علمه!
وإن كان عالمًا أن الحق فيها، فلا يخلو أن يكون قادرًا على التعبير بعباراتهم التي هي تنزيه الله -بزعمهم- عن التشبيه والتمثيل والتجسيم، فتركها إلى غيرها من العبارات التي توهم التشبيه! أو لا يكون قادرًا على تلك العبارات التي زعموا أن فيها التنزيه!! وكلا الأمرين يعلم بطلانه بالضرورة! ويتعالى عنهما ربنا علوًّا كبيرًا.
ثم إذا تأوَّل أحدٌ ظاهر آية أو خبر، ثم جاء غيره وتأول الآية أو الخبر على غير تأويله، وزعم أنه الصواب، ثم جاء ثالث وهكذا، فكيف يمكن للمسلم أن يعرف الحق، وهل يُحسم هذا الشر إلا بسدِّ بابه؟
ثم لو تكلم الواحد مِنَّا بكلامٍ، هل يرضى أن يقال له: إنك لا تريد ظاهر ما تقول، وإنما تريد كذا وكذا، لأمرٍ لم يذكره في ظاهر كلامه؟!
فكيف بعد ذلك يكون مذهب المؤوله النفاة المعطلة للصفات أصحاب التحريف هو الصواب، ومذهب أهل الإثبات والإتباع لنصوص الكتاب والسنة والإمرار لها على ظاهرها، هو الباطل!!
سبحانك هذا بهتان عظيم!
وبعد: فإن هذا الكتاب يعالج هذه القضية العقدية، والذي حاول فيه مؤلفه
মানুষ, কূপ, পাত্র এবং এমন সব স্থান যা নোংরা হওয়ার কারণে উল্লেখ করতে অপছন্দ করা হয়!! অতঃপর, অপব্যাখ্যা মহান আল্লাহর জ্ঞান এবং তাঁর বান্দাদের নিকট সত্য ও সঠিক পথ বর্ণনার ক্ষেত্রে ত্রুটি আরোপ করাকে অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ তারা দাবি করে যে সত্য হলো সেই অপব্যাখ্যা যা তারা গ্রহণ করে, অথচ তা মূলপাঠের প্রকাশ্য অর্থের পরিপন্থী। সুতরাং হয় আল্লাহ তাআলা জানতেন যে সত্য ঐসব অস্বীকারকারী ও গুণাবলী বাতিলকারীদের অপব্যাখ্যার মাঝে নিহিত, অথবা তিনি তা জানতেন না!! যদি তিনি তা না জানতেন, তবে তা তাঁর জ্ঞানের ওপর ত্রুটি আরোপ করার শামিল!
আর যদি তিনি জানতেন যে সত্য এর মধ্যেই নিহিত, তবে হয় তিনি তাদের পরিভাষাগুলোর মাধ্যমে তা প্রকাশ করতে সক্ষম ছিলেন—যে পরিভাষাগুলো তাদের দাবি মতে আল্লাহকে সাদৃশ্য প্রদান, উপমা প্রদান ও দেহত্ব আরোপ থেকে পবিত্র ঘোষণা করে—কিন্তু তিনি তা পরিহার করে এমন সব শব্দ ব্যবহার করেছেন যা সাদৃশ্যের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে! অথবা তিনি ঐসব পরিভাষা ব্যবহারে সক্ষম ছিলেন না যেগুলোর মধ্যে তাদের দাবি অনুযায়ী পবিত্রতা রয়েছে!! আর এ উভয়টিই বাতিল হওয়া অনস্বীকার্যভাবে প্রমাণিত! আমাদের পালনকর্তা এই উভয় প্রকার দোষ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে এবং সুউচ্চ।
এরপর, যদি কেউ কোনো আয়াতের বা সংবাদের প্রকাশ্য অর্থের অপব্যাখ্যা করে, আবার অন্য কেউ এসে সেই আয়াত বা সংবাদের ভিন্ন কোনো অপব্যাখ্যা করে এবং দাবি করে যে সেটিই সঠিক, পুনরায় তৃতীয় কেউ আসে এবং এভাবেই চলতে থাকে, তবে একজন মুসলিমের পক্ষে সত্য জানা কীভাবে সম্ভব হবে? আর এই অনিষ্ট কি এর দ্বার রুদ্ধ করা ব্যতীত দূর করা সম্ভব?
এছাড়া আমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি কোনো কথা বলে, তবে সে কি এটি পছন্দ করবে যে তাকে বলা হোক: আপনি যা বলছেন তার প্রকাশ্য অর্থ উদ্দেশ্য নয়, বরং আপনি অমুক অমুক বিষয় উদ্দেশ্য করেছেন, এমন কিছুর কারণে যা সে তার প্রকাশ্য কথায় উল্লেখই করেনি?!
সুতরাং এরপর কীভাবে গুণাবলী অস্বীকারকারী, অকেজোকারী ও বিকৃতি সাধনকারী অপব্যাখ্যাকারীদের মতাদর্শ সঠিক হতে পারে, আর কিতাব ও সুন্নাহর মূলপাঠসমূহকে সাব্যস্তকারী, অনুসরণকারী এবং সেগুলোকে তাদের প্রকাশ্য অর্থের ওপর বহাল রাখা ব্যক্তিদের মতাদর্শ বাতিল হতে পারে!!
আপনি কতই না পবিত্র! এটি তো এক চরম অপবাদ!
অতঃপর: এই বইটি এই আকিদাহগত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে, যাতে এর লেখক চেষ্টা করেছেন
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ৮)
أن يرد على كل تأويلات المؤولة لأحاديث الصفات، وقد وُفّق إلى حدٍّ كبير في ردوده.
والكتاب لا يخلو من هفوات وأخطاء، كما هو شأن جميع الكتب، فقد أبى الله أن يتم إلا كتابه، كما قال الشافعي رحمه الله وسيأتي المزيد من البيان لمنهج المصنف في كتابه هذا في الكلام على عقيدته.
والآن إلى ذكر ترجمة المصنف.
* * *
সিফাত বা গুণাবলী সংক্রান্ত হাদিসসমূহের ব্যাপারে অপব্যাখ্যাকারীদের করা সকল অপব্যাখ্যার খণ্ডন করা, এবং তিনি তাঁর খণ্ডনসমূহে বহুলাংশে সফল হয়েছেন।
আর কিতাবটি ভুল-ভ্রান্তি ও বিচ্যুতি থেকে মুক্ত নয়, যেমনটি সকল কিতাবের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। কেননা আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবকে নিখুঁত বা পূর্ণাঙ্গ করতে অস্বীকার করেছেন, যেমনটি ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন। এই কিতাবে গ্রন্থকারের মানহাজ বা কর্মপন্থা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত বর্ণনা তাঁর আকিদা বিষয়ক আলোচনার সময় সামনে আসবে।
এখন গ্রন্থকারের জীবনীর আলোচনার দিকে অগ্রসর হওয়া যাক।
* * *
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ৯)
ترجمة المؤلفهو الإمام العلّامة شيخ الحنابلة، القاضي أبو يعلى، محمد بن الحسين بن محمد بن خلف بن أحمد البغدادي الحنبلي، ابنُ الفرَّاء، صاحب التَّعليقة الكبرى، والتصانيف المفيدة في المذهب.
مولده: ولد لتسعٍ وعشرين أو ثمان وعشرين ليلة خلت من المحرم، سنة ثمانين وثلاث مئة.
عائلته: نشأ في بيت علم، فقد كان والده أبو عبد الله قد درس على أبي بكر الرازي مذهب أبي حنيفة، قال عنه الذهبي: وكان أبوه من أعيان الحنفية ومن شهود الحضرة، وتوفي في سنة تسعين وثلاث مئة، وكان سن أبي يعلى في ذلك الوقت عشر سنين إلا أيام.
طلبه للعلم: بعد وفاة أبيه، كان وصيه رجل يعرف بـ "الحربي" يسكن بدار القز، فنقله من باب الطاق إلى شارع دار القز، وفيه مسجد يصلي فيه شيخ صالح يعرف بابن مفرحة المقرئ، يُقرئ القرآن، ويُلقِّن من يقرأ عليه العبادات من مختصر الخرقي، فلقنه ما جرت عادته بتلقينه من العبادات، فاستزاده فقال له ذلك الشيخ: هذا القدر الذي أحسنته، فإن أردت زيادة فعليك بالشيخ أبي عبد الله بن حامد (وهو الحسن بن حامد البغدادي الوراق الحنبلي) فإنه شيخ هذه الطائفة، فمضى إليه وصحبه إلى أن توفي ابن حامد في سنة ثلاث وأربع مئة، وتفقه عليه وبرع في ذلك، وتصدر بأمره للإفادة سنة اثنتين وأربع مئة.
ورزقه الله حفظ القرآن، والقراءة بالعشر، والعلم بالحلال والحرام،
লেখকের পরিচিতিতিনি হলেন ইমাম আল্লামা, হাম্বলিদের শাইখ, আল-কাযী আবু ইয়ালা, মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ বিন খালাফ বিন আহমাদ আল-বাগদাদি আল-হাম্বলি, যিনি ইবনুল ফাররা নামে পরিচিত। তিনি 'আত-তালিকাতুল কুবরা' এবং এই মাযহাবের বহু উপকারী গ্রন্থের রচয়িতা।
তাঁর জন্ম: তিনি ৩৮০ হিজরি সনের মুহররম মাসের উনত্রিশ বা আটাশ রাত অতিবাহিত হওয়ার পর (অর্থাৎ মাসের শেষ দিকে) জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পরিবার: তিনি একটি জ্ঞানদীপ্ত পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা আবু আব্দুল্লাহ, আবু বকর আর-রাজির নিকট হানাফি মাযহাব শিক্ষা করেছিলেন। তাঁর সম্পর্কে আয-যাহাবি বলেন: "তাঁর পিতা ছিলেন হানাফিদের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং আদালতের সাক্ষী (শুহুদুল হাদরা)।" তিনি ৩৯০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। সে সময় আবু ইয়ালার বয়স ছিল দশ বছর হতে মাত্র কয়েক দিন কম।
তাঁর জ্ঞানান্বেষণ: তাঁর পিতার মৃত্যুর পর, তাঁর অভিভাবক ছিলেন "আল-হারবি" নামে পরিচিত এক ব্যক্তি, যিনি 'দারুল কায' এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি তাঁকে 'বাবুত্তাক' এলাকা থেকে সরিয়ে 'দারুল কায' সড়কে নিয়ে আসেন। সেখানে একটি মসজিদ ছিল যেখানে ইবনে মুফরাহ আল-মুকরি নামে পরিচিত একজন সৎ শাইখ সালাত আদায় করতেন। তিনি কুরআন শিক্ষা দিতেন এবং তাঁর কাছে যারা পড়ত তাদেরকে 'মুখতাসার আল-খিরাকি' থেকে ইবাদত সংক্রান্ত বিষয়গুলো মুখস্থ করাতেন। তিনি তাঁকে ইবাদত সংক্রান্ত সেই অংশগুলোই মুখস্থ করালেন যা তিনি সাধারণত মুখস্থ করিয়ে থাকতেন। আবু ইয়ালা আরও বেশি শিখতে চাইলে সেই শাইখ তাঁকে বললেন: "আমি যতটুকু ভালো জানতাম তা এই পর্যন্তই; তুমি যদি আরও বেশি শিখতে চাও তবে শাইখ আবু আব্দুল্লাহ বিন হামিদের (যিনি হলেন আল-হাসান বিন হামিদ আল-বাগদাদি আল-ওয়াররাক আল-হাম্বলি) নিকট যাও, কারণ তিনি এই জামাতের (হাম্বলিদের) প্রধান শাইখ।" এরপর তিনি তাঁর নিকট যান এবং ৪০৩ হিজরিতে ইবন হামিদের মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সাহচর্যে থাকেন। তাঁর নিকট তিনি ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং তাতে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। ৪০২ হিজরিতে তাঁরই নির্দেশে তিনি পাঠদানের জন্য স্থলাভিষিক্ত হন।
আল্লাহ তাঁকে কুরআন হিফজ করার, দশ কিরাতে তিলাওয়াত করার এবং হালাল ও হারাম সংক্রান্ত গভীর জ্ঞান অর্জন করার তাওফিক দান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ১০)
والأحكام والفرائض، وعلم الأصول والفروع، إلى جانب ما كان يتمتع به من شرف الأخلاق، والفضل والفهم، والزهد والقناعة.
شيوخه:أول سماعه للحديث كان سنة خمس وثمانين وثلاثمائة. وسمع من أبي الحسين السكري عن أحمد بن عبد الجبار الصوفي عن يحيى بن معين وغيره.
وسمع أيضًا من جماعة عن البغوي. وقد حدث عن البغوي عن أحمد بن حنبل.
وسمع من أبي القاسم موسى بن عيسى السراج عن البغوي وغيره.
ومن أبي الحسن علي بن معروف عن البغوي، وابن صاعد، وابن أبي داود، وغيرهم.
ومن أبي القاسم بن حبابة عن البغوي عن علي بن الجعد عن شعبة وغيره.
ومن أبي الحسن علي بن معروف عن البغوي، وابن صاعد، وابن أبي داود، وغيرهم.
ومن أبي القاسم بن حبابة عن البغوي عن علي بن الجعد عن شعبة وغيره.
ومن أبي الطيب بن المنار عن البغوي، وابن صاعد وغيرهما.
ومن أبي طاهر المخلص عن البغوي وابن صاعد وغيرهم.
ومن أبي القاسم عيسى بن علي الوزير عن البغوي وغيره.
ومن أبي القاسم بن سويد عن ابن مجاهد وابن الأنباري وغيرهما.
ومن أبي القاسم الصيدلاني عن ابن صاعد وغيره.
ومن أم الفتح بنت القاضي أبي بكر أحمد بن كامل.
ومن جده لأمه أبي القاسم بن حنيفا.
এবং বিধানাবলি ও ফরজসমূহ, উসুল ও ফুরু শাস্ত্রের জ্ঞান, এর পাশাপাশি তিনি যে উন্নত চরিত্র, শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রজ্ঞা এবং দুনিয়াবিমুখতা ও অল্পেতুষ্টির অধিকারী ছিলেন।
তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:তিনি প্রথম হাদিস শ্রবণ শুরু করেন তিনশত পঁচাশি হিজরি সনে। তিনি আবুল হুসাইন আস-সুক্কারি থেকে শ্রবণ করেছেন, তিনি আহমদ বিন আব্দুল জাব্বার আস-সুফি থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন মাইন ও অন্যান্যদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
তিনি একদল রাবির মাধ্যমে আল-বাগাওয়ি থেকেও শ্রবণ করেছেন। তিনি আল-বাগাওয়ি থেকে এবং আল-বাগাওয়ি আহমদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণনা করেছেন।
তিনি আবুল কাসিম মুসা বিন ঈসা আস-সাররাজ থেকে শ্রবণ করেছেন, তিনি আল-বাগাওয়ি ও অন্যান্যদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
এবং আবুল হাসান আলী বিন মারুফ থেকে, তিনি আল-বাগাওয়ি, ইবনে সায়েদ, ইবনে আবি দাউদ ও অন্যদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
এবং আবুল কাসিম বিন হুবাবাহ থেকে, তিনি আল-বাগাওয়ি থেকে, তিনি আলী বিন আল-জাদ থেকে, তিনি শুবা ও অন্যান্যদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
এবং আবুল হাসান আলী বিন মারুফ থেকে, তিনি আল-বাগাওয়ি, ইবনে সায়েদ, ইবনে আবি দাউদ ও অন্যদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
এবং আবুল কাসিম বিন হুবাবাহ থেকে, তিনি আল-বাগাওয়ি থেকে, তিনি আলী বিন আল-জাদ থেকে, তিনি শুবা ও অন্যান্যদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
এবং আবু তৈয়ব বিন আল-মানার থেকে, তিনি আল-বাগাওয়ি, ইবনে সায়েদ ও অন্যদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
এবং আবু তাহের আল-মুখলিস থেকে, তিনি আল-বাগাওয়ি, ইবনে সায়েদ ও অন্যান্যদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
এবং আবুল কাসিম ঈসা বিন আলী আল-ওয়াজির থেকে, তিনি আল-বাগাওয়ি ও অন্যদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
এবং আবুল কাসিম বিন সুওয়াইদ থেকে, তিনি ইবনে মুজাহিদ, ইবনে আল-আনবারি ও অন্যান্যদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
এবং আবুল কাসিম আস-সাইদালানি থেকে, তিনি ইবনে সায়েদ ও অন্যান্যদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
এবং উম্মুল ফাতহ বিনতে কাজী আবু বকর আহমদ বিন কামিল থেকে।
এবং তাঁর মাতামহ আবুল কাসিম বিন হানিফা থেকে।
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ১১)
ومن أبي عبد الله عن أبي بكر محمد بن إسحاق بن عبد الرحيم السويس وغيره. ومن أبي محمد عبد الله بن أحمد بن مالك البيع بانتقاء ابن أبي الفوارس.
ومن القاضي أبي محمد الأكفاني.
ومن أبي نصر بن الشاه.
ومن أبي عبد الله النيسابوري.
ومن أبي الحسن الحمامي، ومن أبي الفتح بن أبي الفوارس.
وسمع بمكة ودمشق وحلب في آخرين.
وابتدأ بالتصنيف والتدريس بعد وفاة شيخه ابن حامد.
وحج سنة أربع عشرة وأربعمائة. وعاد إلى تدريسه وتصنيفه في الفروع والأصول والآداب، وانقطاعه عن الدنيا وما يؤول إلى الذهاب.
*
تلاميذه:فأما عدد أصحابه، الذين سمعوا منه الحديث: فالعدد الكثير، والجم الغفير منهم: أحمد بن علي بن ثابت (الخطيب البغدادي)، وعبد العزيز العاصمي النخشبي، وعمر بن أبي الحسن الدهستاني الخياط، وهبة الله ابن عبد الوارث الشيرازي، وإسحاق بن عبد الوهاب بن منده الحافظ المقرئ، ومكي بن بجير الهمداني، وعمر الغرموي، وأحمد بن الحسن ابن خيرون، وأبناء خاله: أبو طاهر، وأبو غالب، وأبو الحسين بن الطيوري، وأبو يعلي البرداني، وأبو الغنائم بن النرسي الكوفي، وأبو بكر القطان المقدسي، وأبو منصور الخياط، وأبو منصور الرميسيني، وأبو منصور بن الأنبياري، ومحمد بن عمارة العكبري، ومحمد بن أحمد بن مردين، وأبو العباس المخلطي، وأحمد بن العلثي، وأبو بكر، وأبو
এবং আবু আব্দুল্লাহর মাধ্যমে আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন আব্দুল রহিম আস-সুওয়াইস ও অন্যদের থেকে। এবং ইবনুল ফাওয়ারিসের নির্বাচনের মাধ্যমে আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মালিক আল-বাইয়ি' থেকে।
এবং কাযী আবু মুহাম্মদ আল-আকফানী থেকে।
এবং আবু নাসর বিন শাহ থেকে।
এবং আবু আব্দুল্লাহ আন-নিশাপুরী থেকে।
এবং আবু হাসান আল-হাম্মামী ও আবুল ফাতহ বিন আবুল ফাওয়ারিস থেকে।
তিনি মক্কা, দামেস্ক ও আলেপ্পোতে আরও অনেকের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন।
তিনি তাঁর শাইখ ইবনে হামিদের মৃত্যুর পর গ্রন্থ রচনা ও পাঠদান শুরু করেন।
তিনি চারশত চৌদ্দ হিজরী সনে হজ পালন করেন। এরপর তিনি তাঁর ফুরু (ফিকহ), উসুল ও আদাব বিষয়ক পাঠদান ও গ্রন্থ রচনায় ফিরে আসেন এবং দুনিয়া ও নশ্বর বিষয়াশয় থেকে নিজেকে বিমুখ করে নেন।
*
তাঁর ছাত্রগণ:তাঁর সেই সকল সঙ্গী যারা তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন তাঁদের সংখ্যা অনেক এবং তাঁদের এক বিশাল জামাত রয়েছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: আহমদ বিন আলী বিন সাবিত (আল-খতীব আল-বাগদাদী), আব্দুল আযীয আল-আসেমী আন-নাখশাবী, উমর বিন আবুল হাসান আদ-দেহিস্তানী আল-খাইয়্যাত, হিবাতুল্লাহ ইবনে আব্দুল ওয়ারিস আশ-শিরাজী, ইসহাক বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন মানদাহ আল-হাফিজ আল-মুকরি, মাক্কী বিন বুজাইর আল-হামাদানী, উমর আল-গারমাবী, আহমদ বিন হাসান ইবনে খাইرুন এবং তাঁর মামাতো ভাইগণ: আবু তাহের, আবু গালিব ও আবুল হুসাইন বিন আত-তয়ূরী; এছাড়াও আবু ইয়ালা আল-বারদানী, আবু গানাইম বিন আন-নারসী আল-কুফী, আবু বকর আল-কাত্তান আল-মাকদিসী, আবু মানসুর আল-খাইয়্যাত, আবু মানসুর আর-রুমাইসিনী, আবু মানসুর বিন আল-আনবিয়ারী, মুহাম্মদ বিন উমারা আল-উকবারী, মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মারদীন, আবুল আব্বাস আল-মাখলাতী, আহমদ বিন আল-আলসী, আবু বকর এবং আবু...
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ১২)
الحسين ابنا ابن يوسف، وابنا عمهما أبو محمد، وأبو الحسن بن رضوان، وابنا عمه: أبو نصر، وأبو الحسين، وأبو جعفر الأصفهاني، وأبو الكرم المبارك بن فاخر النحوي، وأخوه أبو عبد الله بن الدباس، وأبو طاهر، وأبو القاسم ابنا البلدي، وأبو نصر ياسر، وأبو العز العكبريان في آخرين.
فأما الذين تفقهوا عليه وسمعوا الحديث: فأبو الحسين البغدادي، والشريف أبو جعفر، وأبو الغنائم بن الغُباري، وأبو الغنائم بن زبيبا، وأبو علي بن البناء، وأبو الوفا بن القواس، والقاضي أبو علي البرديني، والقاضي أبو الفتح بن جلبة، وعلي بن عمرو الحراني، وأبو ياسر بن الحصري، وأبو عبد الله الأنماطي، والحسين بن البرداني، وأبو الحسن النهري أبو الفتح، وأبو البركات بن شبلي، وأبو محمد شافع، وأبو الوفاء بن عقيل، وطلحة العاقولي، ومحفوظ الكلوذاني وأبو الحسن بن ظفر العكبري، وأبو الفرج المقدسي، وأبو الحسن بن زفر العكبري، وأبو عبد الله البرداني، وأبو الحسن بن ركاب، وأبو عبد الله الباجسرائي، وأبو يعلى بن الكَيَّال، وجعفر الدريحاني، والأخ أبو القاسم، وغيرهم ممن يشق إحصاء أسمائهم.
جلوسه للإملاء:كانت له حلقة كبيرة بجامع "المنصور" ببغداد وصفها ابنه في طبقاته فقال:
ولقد حضر الناس مجلسه، وهو يملي حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد صلاة
الجمعة بجامع المنصور على كرسي عبد الله بن إمامنا أحمد رضي الله عنه،
وكان المبلغون عنه في حلقته، والمستملون ثلاثة. أحدهم: خالي أبو
محمد جابر، والثاني: أبو منصور بن الأنباري، والثالث: أبو علي البرداني.
وأخبرني جماعة من الفقهاء ممن حضر الإملاء: أنهم سجدوا في حلقة
ইবন ইউসুফের দুই পুত্র আল-হুসাইন, এবং তাদের দুই চাচাতো ভাই আবু মুহাম্মদ, এবং আবু আল-হাসান বিন রিদওয়ান, এবং তার দুই চাচাতো ভাই: আবু নাসর, এবং আবু আল-হুসাইন, এবং আবু জাফর আল-ইসফাহানি, এবং আবু আল-কারাম আল-মুবারক বিন ফাখির আন-নাহবি, এবং তার ভাই আবু আব্দুল্লাহ বিন আদ-দাব্বাস, এবং আবু তাহির ও আবু আল-কাসিম—আল-বালাদির দুই পুত্র, এবং আবু নাসর ইয়াসির, এবং আবু আল-ইজ্জ—দুই উকবরি এবং অন্যান্যরা।
আর যারা তার নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন এবং হাদিস শ্রবণ করেছেন তারা হলেন: আবু আল-হুসাইন আল-বাগদাদি, আশ-শরীফ আবু জাফর, আবু আল-গানাইম বিন আল-গুবারি, আবু আল-গানাইম বিন জাবিবা, আবু আলী বিন আল-বান্না, আবু আল-ওয়াফা বিন আল-কাওয়াস, কাযী আবু আলী আল-বারদিনি, কাযী আবু আল-ফাতহ বিন জুলবা, আলী বিন আমর আল-হাররানি, আবু ইয়াসির বিন আল-হুসরি, আবু আব্দুল্লাহ আল-আনমাতি, আল-হুসাইন বিন আল-বারদানি, আবু আল-হাসান আন-নাহরি আবু আল-ফাতহ, আবু আল-বারাকাত বিন শিবলি, আবু মুহাম্মদ শাফি‘, আবু আল-ওয়াফা বিন আকীল, তালহা আল-আকুলি, মাহফুজ আল-কালুযানি, আবু আল-হাসান বিন যাফর আল-উকবরি, আবু আল-ফারাজ আল-মাকদিসি, আবু আল-হাসান বিন যাফর আল-উকবরি, আবু আব্দুল্লাহ আল-বারদানি, আবু আল-হাসান বিন রিকাব, আবু আব্দুল্লাহ আল-বাজাসরাই, আবু ইয়া‘লা বিন আল-কাইয়াল, জাফর আদ-দারিহানি, ভাই আবু আল-কাসিম এবং অন্যান্যরা যাদের নাম গণনা করা দুঃসাধ্য।
ইমলা বা শ্রুতলিপি প্রদানের জন্য তার উপবেশন:বাগদাদের "মনসুর" জামে মসজিদে তার একটি বিশাল মজলিস বা হালকা ছিল, যার বর্ণনা তার পুত্র তার 'তাবাকাত' গ্রন্থে দিয়েছেন। তিনি বলেন:
লোকেরা তার মজলিসে উপস্থিত হতো যখন তিনি জুমার সালাতের পর
মনসুর জামে মসজিদে আমাদের ইমাম আহমাদ (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর পুত্র আব্দুল্লাহর চেয়ারে বসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস ইমলা বা শ্রুতলিপি প্রদান করতেন,
এবং তার মজলিসে তার পক্ষ থেকে প্রচারকারী এবং মুস্তামলি (শ্রুতলিপি গ্রহণকারী) ছিলেন তিনজন। তাদের একজন: আমার মামা আবু
মুহাম্মদ জাবির, দ্বিতীয়জন: আবু মানসুর বিন আল-আনবারি এবং তৃতীয়জন: আবু আলী আল-বারদিনি।
ইমলা বা শ্রুতলিপি প্রদানের মজলিসে উপস্থিত একদল ফকিহ আমাকে জানিয়েছেন যে: তারা মজলিসে সিজদা করেছিলেন
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الإملاء على ظهور الناس، لكثرة الزحام في صلاة الجمعة، في حلقة الإملاء.
وما رأى الناس في زمانهم مجلسًا للحديث اجتمع فيه ذلك الجم الغفير، والعدد الكثير.
وسمعت من يذكر: أنه حزر العدد بالألوف. وذلك مع نباهة من حضر من الأعيان، وأماثل هذا الزمان، من النقباء، وقاضي القضاة والشهود والفقهاء. وكان يومًا مشهودًا، والناس إذ ذاك يسمعون، والكتبة يكتبون.
وحضرت أنا أكثر أماليه بجامع "المنصور".
أخلاقه وزهده وورعه:وصفه ابنه في الطبقات فقال: ومعلوم ما خصه الله به -مع موهبة العلم والديانة- من التعفف والصيانة، والمروءة الظاهرة، والمحاسن الكثيرة الوافرة، مع هجرانه لأبواب السلاطين، وامتناعه على ممر السنين: أن يقبل لأحدٍ منهم صلة وعطية، ولم تزل ديانته ديانته ومروءته لما هذا سبيل أبِيَّة.
وكان يقسم ليله كله أقسامًا: فقسم للمنام، وقسم للقيام، وقسم لتصنيف الحلال والحرام.
ولقد نزل به ما نزل بغيره من النكبات التي استكان لها كثير من ذوي المروءات، وخرج بها عن مألوفات العادات، فلم يحفظ عليه أنه خرج عن جميل عاداته، ولا طرح المألوف من مروءاته.
ومن شاهد ما كان عليه من السكينة والوقار، وما كسا الله وجهه من الأنوار، مع السكون والسمت والصالح، والعقل الغزير الراجح، شهد له بالدين والفضل ضرورة، واستدل بذلك على محاسنه الخفية المستورة
(1).
--------------------------------------------
জুমার নামাজের অত্যধিক ভিড়ের কারণে ইমলা (শ্রুতলিপি প্রদান) মজলিসে মানুষের পিঠের ওপর রেখে ইমলা করা হচ্ছিল।
মানুষ তাদের যুগে হাদিসের এমন কোনো মজলিস দেখেনি যেখানে এতো বিশাল জনসমাবেশ এবং বিপুল লোকসংখ্যা সমবেত হয়েছিল।
আমি কাউকে বলতে শুনেছি যে, তিনি উপস্থিতির সংখ্যা হাজারে অনুমান করেছেন। আর এটি ছিল সে সময়ের বিশিষ্ট ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের উপস্থিতিসহ, যাদের মধ্যে ছিলেন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, প্রধান বিচারপতি, সাক্ষী এবং ফকিহগণ। দিনটি ছিল এক স্মরণীয় দিন; তখন মানুষ শুনছিল এবং লেখকরা লিখে নিচ্ছিল।
আমি জামে "মানসুর"-এ তাঁর অধিকাংশ ইমলা মজলিসে উপস্থিত ছিলাম।
তাঁর চরিত্র, দুনিয়াবিমুখতা ও পরহেজগারি:তাঁর পুত্র 'তাবাকাত' গ্রন্থে তাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: ইলম ও দ্বীনদারির নেয়ামতের পাশাপাশি আল্লাহ তাঁকে আত্মমর্যাদা, পবিত্রতা, প্রকাশ্য বীরত্ব ও প্রচুর উত্তম গুণাবলি দ্বারা বিশেষভাবে ধন্য করেছিলেন তা সর্বজনবিদিত। সেই সাথে সুলতানদের দ্বার পরিহার করা এবং বছরের পর বছর ধরে তাদের পক্ষ থেকে কোনো উপঢৌকন বা দান গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা—তাঁর দ্বীনদারি ও ব্যক্তিত্ব সবসময়ই এ ধরণের পথ পরিহার করত।
তিনি তাঁর পুরো রাতকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করতেন: এক ভাগ ঘুমের জন্য, এক ভাগ কিয়ামের (ইবাদতের) জন্য এবং এক ভাগ হালাল ও হারাম বিষয়ক গ্রন্থ রচনার জন্য।
তাঁর ওপর এমন কিছু বিপদ-আপদ এসেছিল যা অন্যদের ওপরও এসে থাকে, যার ফলে অনেক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষও নতি স্বীকার করে এবং তাদের স্বাভাবিক অভ্যাস থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে এমনটি পরিলক্ষিত হয়নি যে তিনি তাঁর সুন্দর অভ্যাসসমূহ ত্যাগ করেছেন অথবা তাঁর স্বভাবজাত ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়েছেন।
যে ব্যক্তি তাঁর গাম্ভীর্য ও গরিমা প্রত্যক্ষ করেছে এবং আল্লাহ তাঁর চেহারায় যে জ্যোতি দান করেছিলেন, তার সাথে তাঁর স্থিরতা, উত্তম আদর্শ এবং অগাধ ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রজ্ঞা দেখেছে, সে অবশ্যই তাঁর দ্বীনদারি ও শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছে এবং এর মাধ্যমে তাঁর অপ্রকাশ্য গুণাবলির প্রমাণ পেয়েছে
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قال: وكان ينهانا دائمًا عن مخالطة أبناء الدنيا والاجتماع بهم، ويأمرنا بالاشتغال بالعلم، ومخالطة الصالحين
(1).
وقال النهري: لما قدم الوزير ابن دراست عبرت أبصره، ففاتني درس ذلك اليوم، فلما حضرت قلت: يا سيدنا تتفضل وتعيد لي الدرس؟ فقال (أي أبو يعلى): أين كنت في أمسنا؟ فقلت: مضيت أبصرت ابن دراست. فأنكر عليَّ ذلك إنكارًا شديدًا، وقال: ويحك، تمضي وتنظر إلى الظلمة؟! وعنفني على ذلك
(2).
ومضى مرة لتهنئة الإمام القائم بالله بعد معافاته من مرض كان به، فأمر له بجائزة سنية، يقول الراوي: فوالله ما مسَّها ولا قبلها، فروجع في ذلك فأبى
(3).
ووقع نهب في الجانب الغربي من بغداد، فظلَّ يقتات على الخبز اليابس يبله بالماء، ويقول: هذه الأطعمة نُهوب وغصوب، ولا أطعم من ذلك شيئًا. فبقي يتقوت من ذلك الخبز اليابس إلى أن لحقه مرض من ذلك الخبز المبلول
(4).
ووصفه الذهبي في السير (18/ 90) بقوله: وكان ذا عبادة وتهجُّد، وملازمة للتنصيف، مع الجلالة والمهابة.
توليه القضاء:لما توفي القاضي ابن ماكولا، احتاج القائم بأمر الله إلى قاض عالم
--------------------------------------------
তিনি বলেন: তিনি আমাদেরকে সর্বদা দুনিয়াদারদের সাথে মেলামেশা ও তাদের সাথে একত্রিত হওয়া থেকে নিষেধ করতেন এবং আমাদেরকে ইলম চর্চায় মগ্ন থাকতে ও নেককারদের সাথে মেলামেশা করার আদেশ দিতেন
(১)।
নাহরি বলেন: যখন উজির ইবন দরাস্ত আসলেন, আমি তাকে দেখতে গেলাম, ফলে ঐ দিনের পাঠ (দরস) আমার থেকে ছুটে গেল। যখন আমি উপস্থিত হলাম, তখন বললাম: হে আমাদের সাইয়্যেদ, আপনি কি অনুগ্রহ করে পাঠটি আমার জন্য পুনরাবৃত্তি করবেন? তখন তিনি (অর্থাৎ আবু ইয়ালা) বললেন: গতকাল তুমি কোথায় ছিলে? আমি বললাম: আমি ইবন দরাস্তকে দেখতে গিয়েছিলাম। তখন তিনি আমার এই কাজের কঠোর প্রতিবাদ করলেন এবং বললেন: তোমার দুর্ভোগ! তুমি গিয়ে জালেমদের দর্শন করো?! এবং তিনি এই কারণে আমাকে তিরস্কার করলেন
(২)।
একবার তিনি ইমাম আল-কায়েম বিল্লাহকে তার অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়ার পর অভিনন্দন জানাতে যান। তখন খলিফা তার জন্য একটি উচ্চমানের পুরস্কারের নির্দেশ দেন। বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর কসম, তিনি তা স্পর্শও করেননি এবং গ্রহণও করেননি। এ বিষয়ে তাকে পুনরায় অনুরোধ করা হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন
(৩)।
বাগদাদের পশ্চিম অংশে একবার লুটতরাজ সংঘটিত হয়েছিল। তখন তিনি কেবল শুকনো রুটি পানিতে ভিজিয়ে খেয়ে জীবনধারণ করতেন এবং বলতেন: এই খাবারগুলো লুণ্ঠিত ও জবরদখলকৃত, আমি এ থেকে কিছুই খাব না। তিনি সেই শুকনো রুটি খেয়েই জীবনধারণ করতে থাকেন যতক্ষণ না সেই ভেজানো রুটির কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন
(৪)।
ইমাম আল-যাহাবি ‘আস-সিয়ার’ গ্রন্থে (১৮/ ৯০) তার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: তিনি ছিলেন ইবাদত ও তাহাজ্জুদ গুজার এবং সর্বদা গ্রন্থ প্রণয়নে লিপ্ত, সেই সাথে তিনি ছিলেন মহিমা ও গাম্ভীর্যের অধিকারী।
বিচারকের (কাজি) দায়িত্ব গ্রহণ:যখন কাজি ইবন মাকুলা মৃত্যুবরণ করলেন, তখন আল-কায়েম বি-আমরিল্লাহর একজন আলেম বিচারকের প্রয়োজন হলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وزاهد، فراسل رئيس الرؤساء بالشيخ أبي منصور بن يوسف وبغيره إلى الإمام أبي يعلى، وخوطب ليلي القضاء بدار الخلافة والحريم أجمع، فامتنع من ذلك، فكرر عليه السؤال، فلما لم يجد بدًّا من ذلك اشترط عليهم شرائط:
1 - أن لا يحضر أيام المواكب الشريفة.
2 - أن لا يخرج في الاستقبالات.
3 - أن لا يقصد دار السلطان.
4 - أن يقصد في كل شهر نهر المعلى يومًا وباب الأزج يومًا، ويستخلف من ينوب عنه في الحريم.
فأجيب إلى ذلك، ثم أضيف إلى ولايته بالحريم: قضاء حرَّان وحُلوان، وظل على ذلك إلى أن توفي.
وما تقدم ذكره يدل على كراهية القاضي أبي يعلى لمخالطة السلطان والتردد على أبوابه، وهذا ديدن السلف رحمهم الله تعالى جميعًا، فإنهم كانوا يتجنبون مجالس الولاة إلا عند الحاجة كالنصح وغيره، بل ربما جرحوا بعض الرواة بتردده على السلطان أو قبوله القضاء، كما يتبين لمن يقرأ كتب الجرح والتعديل.
مؤلفاته:أكثر القاضي أبي يعلى من التصنيف، فقد صنف في الأصول والفروع، في السهل والمستصعب، مع قرب عبارته وسهولتها، والإجادة والإفادة، كما قال الذهبي: صاحب التعليقة الكبرى، والتصانيف المفيدة في المذهب. . . اهـ.
ولكن لم يكتب لهذا المؤلفات الكثيرة البقاء، فلم يصل إلينا منها إلا أقل القليل، وسنذكرها حسب موضوعاتها:
এবং তিনি ছিলেন একজন যাহেদ। অতঃপর রাইসুল রুআসা শায়খ আবু মনসুর বিন ইউসুফ ও অন্যদের মাধ্যমে ইমাম আবু ইয়া’লার নিকট বার্তা প্রেরণ করেন এবং তাঁকে খিলাফত আবাস ও সমগ্র হারিম অঞ্চলের বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়। তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর নিকট বারবার অনুরোধ করা হতে থাকে। অতঃপর যখন তিনি এ থেকে নিষ্কৃতির কোনো উপায় পেলেন না, তখন তিনি তাদের নিকট কিছু শর্তারোপ করলেন:
১ - তিনি রাজকীয় শোভাযাত্রার দিনগুলোতে উপস্থিত থাকবেন না।
২ - তিনি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ করতে বের হবেন না।
৩ - তিনি সুলতানের প্রাসাদে যাবেন না।
৪ - তিনি প্রতি মাসে একদিন নহরে মুআল্লা এবং একদিন বাবুয আযাজে অবস্থান করবেন, আর হারিম অঞ্চলে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাজ করার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন।
তাঁর এই শর্তগুলো মেনে নেওয়া হলো। এরপর হারিমের দায়িত্বের সাথে হাররান ও হুলওয়ানের বিচারপতির দায়িত্বও তাঁর অধীনে ন্যস্ত করা হলো এবং মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বেই বহাল ছিলেন।
উপরের আলোচনা থেকে সুলতানের সাথে মেলামেশা এবং তাঁর দ্বারে যাতায়াত করার প্রতি কাযী আবু ইয়া'লার অনীহা প্রকাশ পায়। আর এটিই ছিল সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি রহম করুন)-এর আদর্শ। তাঁরা শাসকদের মজলিস এড়িয়ে চলতেন, তবে নসিহত করা বা এ জাতীয় কোনো বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সেখানে যেতেন না। এমনকি সুলতানের দরবারে যাতায়াত করার কারণে বা বিচারপতির পদ গ্রহণ করার কারণে অনেক সময় কোনো কোনো রাবিকে (বর্ণনাকারীকে) তাঁরা ত্রুটিযুক্ত বলে গণ্য করতেন, যা 'জারহ ও তা'দিল' বিষয়ক কিতাব পাঠকারীর নিকট স্পষ্ট হয়ে যায়।
তাঁর রচনাবলি:কাযী আবু ইয়া'লা প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরু (শাখা-প্রশাখা), সহজ ও কঠিন—উভয় বিষয়েই গ্রন্থনা করেছেন। তাঁর রচনার ভাষা ছিল সাবলীল ও সহজবোধ্য এবং তা ছিল অত্যন্ত মানসম্পন্ন ও উপকারী। যেমনটি ইমাম আয-যাহাবী বলেছেন: "তিনি আত-তালিকাতুল কুবরা এবং মাযহাবের উপকারী গ্রন্থাবলির রচয়িতা..." সমাপ্ত।
কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক রচনাবলির ভাগ্যে টিকে থাকা সম্ভব হয়নি, ফলে আমাদের নিকট এর খুব সামান্য অংশই পৌঁছেছে। বিষয়বস্তু অনুযায়ী আমরা সেগুলো উল্লেখ করছি:
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أولًا: مؤلفاته في العقيدة:1 - مسائل الإيمان
(1).
2 - الرد على الأشعرية.
3 - الرد على الكرَّامية.
4 - الرد على الباطنية.
5 - الرد على السالمية والمجسمة
(2).
6 - الرد على الجهمية.
7 - إبطال التأويلات لأخبار الصفات، وهو كتابنا هذا، وسيأتي الكلام عليه.
8 - مختصر إبطال التأويلات.
9 - عيون المسائل
(3).
10 - الكلام في الاستواء.
11 - أخبار الصفات
(4).
12 - القطع على خلود الكفار في النار.
13 - أربع مقدمات في أصول الديانات.
14 - إثبات إمامة الخلفاء الأربعة.
--------------------------------------------
প্রথমত: আকিদা বিষয়ে তাঁর গ্রন্থসমূহ:১ - ঈমানের মাসআলাসমূহ
(১)।
২ - আশয়ারিয়াহদের খণ্ডন।
৩ - কাররামিয়াহদের খণ্ডন।
৪ - বাতিনিয়াহদের খণ্ডন।
৫ - সালিমিয়াহ ও মুজাসসিমাদের (দেহবাদীদের) খণ্ডন
(২)।
৬ - জাহমিয়াহদের খণ্ডন।
৭ - গুণাবলি সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর অপব্যাখ্যা বাতিলকরণ; এটিই আমাদের বর্তমান গ্রন্থ এবং সামনে এ বিষয়ে আলোচনা আসবে।
৮ - অপব্যাখ্যা বাতিলকরণ গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার।
৯ - মাসআলাসমূহের মূল উৎস
(৩)।
১০ - (আল্লাহর আরশে) উঠা সংক্রান্ত আলোচনা।
১১ - গুণাবলি সংক্রান্ত বর্ণনা
(৪)।
১২ - জাহান্নামে কাফেরদের চিরস্থায়ী হওয়ার বিষয়ে অকাট্য সিদ্ধান্ত।
১৩ - দ্বীনের মূলনীতি বিষয়ে চারটি ভূমিকা।
১৪ - চার খলিফার নেতৃত্বের প্রমাণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
15 - المعتمد
(1).
16 - مختصر المعتمد في أصول الدين
(2).
17 - تبرئة معاوية.
18 - إيضاح البيان في مسألة القرآن
(3).
ثانيًا: مؤلفاته في القرآن وعلومه:1 - أحكام القرآن.
2 - نقل القرآن.
وتجد كثيرًا من تفسير أبي يعلى للآيات، في كتاب زاد المسير لابن الجوزي
(4).
ثالثًا: مؤلفاته في أصول الفقه:1 - العدة في أصول الفقه
(5).
2 - مختصر العدة.
3 - الكفاية في أصول الفقه
(6).
4 - مختصر الكفاية.
5 - مقدمة المجرد في الأصول.
--------------------------------------------
১৫ - আল-মুতামাদ
(১).
১৬ - উসুলুদ দ্বীনের ক্ষেত্রে আল-মুতামাদের সংক্ষিপ্তসার
(২).
১৭ - মুয়াবিয়ার নির্দোষিতা প্রমাণ।
১৮ - কুরআন সংক্রান্ত মাসআলায় বিবরণের স্পষ্টীকরণ
(৩).
দ্বিতীয়ত: কুরআন এবং এর জ্ঞান-বিজ্ঞান সংক্রান্ত তাঁর রচনাবলী:১ - আহকামুল কুরআন।
২ - নাকলুল কুরআন।
আপনি ইবনুল জাওযীর 'যাদুল মাসীর' কিতাবে আয়াতসমূহের ব্যাখ্যায় আবু ইয়া'লার তাফসীরের অনেক উদ্ধৃতি পাবেন
(৪).
তৃতীয়ত: উসুলুল ফিকহ (ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি) সংক্রান্ত তাঁর রচনাবলী:১ - আল-উদ্দাহ ফী উসুলিল ফিকহ
(৫).
২ - আল-উদ্দাহর সংক্ষিপ্তসার।
৩ - আল-কিফায়াহ ফী উসুলিল ফিকহ
(৬).
৪ - আল-কিফায়াহর সংক্ষিপ্তসার।
৫ - উসুলের ক্ষেত্রে আল-মুজাররাদের ভূমিকা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
رابعًا: مؤلفاته في الفقه:1 - مختصر في الصيام.
2 - إيجاب الصيام ليلة الإغمام.
3 - كتاب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر
(1).
4 - شروط أهل الذمة.
5 - الأحكام السلطانية
(2).
6 - تكذيب الخيابرة فيما يدعونه من إسقاط الجزية.
7 - إبطال الحيل.
8 - المجرد في المذهب.
9 - شرح مختصر الخرقي
(3).
10 - كتاب الروايتين والوجهين
(4).
11 - قطعة من الجامع الكبير، فيها الطهارة وبعض الصلاة والنكاح والصداق والخلع والوليمة والطلاق.
--------------------------------------------
চতুর্থত: ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর রচনাবলি:১ - রোজা বিষয়ক সংক্ষিপ্ত সার।
২ - মেঘাচ্ছন্ন রাতে রোজা রাখা আবশ্যক হওয়া সংক্রান্ত গ্রন্থ।
৩ - সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ বিষয়ক কিতাব
(১)।
৪ - আহলে জিম্মাদের শর্তাবলি।
৫ - আল-আহকামুস সুলতানিয়া (রাষ্ট্রীয় বিধান)
(২)।
৬ - জিজিয়া কর মওকুফ বিষয়ে খায়বরবাসীদের দাবির অসারতা।
৭ - কৌশল বা হিলা বাতিলকরণ।
৮ - আল-মুজাররাদ ফিল মাজহাব।
৯ - শারহু মুখতাসারিল খিরাকি
(৩)।
১০ - কিতাবুর রেওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাইন
(৪)।
১১ - আল-জামেউল কাবীরের একটি অংশ; এতে পবিত্রতা, নামাজের কিছু অংশ, বিবাহ, মোহরানা, খোলা তালাক, ওয়ালিমা এবং তালাক সংক্রান্ত আলোচনা রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
12 - الجامع الصغير.
13 - شرح المذهب.
14 - الخلاف الكبير، ويسمى "التعليق الكبير"
(1).
ومما يدل على أهمية هذه المصنفات اعتناء العلماء بها، وتدارسها، وكثرة النقول عنها، تجد ذلك جليًّا في كتب مذهب الإمام أحمد كـ "الأنصاف في معرفة الراجح من الخلاف" للشيخ علاء الدين المرداوي، و"مطالب أولي النهي في شرح غاية المنتهى" للشيخ مصطفى السيوطي، و"المغني" لابن قدامة، وكتب شيخ الإسلام ابن تيمية وغيرها.
خامسًا: مؤلفاته في الحديث:1 - الأمالي
(2).
2 - الفوائد الصحاح العوالي والأفراد والحكايات
(3).
سادسًا: أجوبته ورسائله:1 - الرسالة إلى إمام الوقت.
--------------------------------------------
১২ - আল-জামিউস সাগির।
১৩ - শারহুল মাজহাব।
১৪ - আল-খিলাফুল কাবির, যাকে "আত-তালিকুল কাবির"ও বলা হয়
(১)।
এই গ্রন্থগুলোর গুরুত্বের একটি বড় প্রমাণ হলো আলেমদের এগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ প্রদান, এগুলোর অধ্যয়ন এবং এগুলো থেকে অধিক পরিমাণে উদ্ধৃতি গ্রহণ। আপনি ইমাম আহমদের মাজহাবের গ্রন্থসমূহে এর স্পষ্ট প্রতিফলন দেখতে পাবেন, যেমন শায়খ আলাউদ্দিন আল-মারদাভির "আল-ইনসাফ ফি মারিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ", শায়খ মুস্তফা আল-সুয়ুতির "মাতালিবু উলি আন-নুহা ফি শারহি গায়াতিল মুনতাহা", ইবনে কুদামার "আল-মুগনি", শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার রচনাবলি এবং আরও অন্যান্য গ্রন্থ।
পঞ্চম: হাদিস শাস্ত্রে তাঁর রচনাবলি:১ - আল-আমালি
(২)।
২ - আল-ফাওয়াইদ আস-সিহাহ আল-আওয়ালি ওয়াল আফ্রাদ ওয়াল হিকায়াত
(৩)।
ষষ্ঠ: তাঁর উত্তর ও পত্রাবলি:১ - তৎকালীন ইমামের প্রতি প্রেরিত পত্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ২০)
2 - جوابات مسائل وردت من الحرم.
3 - جوابات مسائل وردت من تنيس.
4 - جوابات مسائل وردت مَيَّافارقين.
5 - جوابات مسائل وردت من أصفهان.
سابعًا: مؤلفاته في الآداب والأخلاق والفضائل وغيرها (1):
1 - المقتبس.
2 - مختصر المقتبس.
3 - الانتصار لشيخنا أبي بكر.
4 - الكلام في حروف المعجم.
5 - فضائل أحمد.
6 - مقدمة في الأدب.
7 - كتاب الطب.
8 - كتاب اللباس.
9 - التوكل.
10 - ذم الغناء.
11 - الاختلاف في الذبيح.
12 - تفضيل الفقر على الغنى.
13 - فضل ليلة الجمعة على ليلة القدر.
14 - الفرق بين الآل والأهل.
--------------------------------------------
২ - হারাম শরীফ থেকে আগত মাসআলাসমূহের উত্তরসমূহ।
৩ - তিন্নীস থেকে আগত মাসআলাসমূহের উত্তরসমূহ।
৪ - মায়্যাফারিকীন থেকে আগত মাসআলাসমূহের উত্তরসমূহ।
৫ - আসফাহান থেকে আগত মাসআলাসমূহের উত্তরসমূহ।
সপ্তম: আদব, আখলাক, ফযীলত এবং অন্যান্য বিষয়ে তাঁর রচনাবলি (১):
১ - আল-মুকতাবাস।
২ - মুখতাসারুল মুকতাবাস।
৩ - আমাদের শায়খ আবু বকরের সমর্থনে আল-ইন্তিসার।
৪ - বর্ণমালার অক্ষরসমূহ প্রসঙ্গে আলোচনা।
৫ - আহমাদ-এর ফযীলত।
৬ - আদব বা শিষ্টাচার শাস্ত্রের ভূমিকা।
৭ - চিকিৎসা শাস্ত্রের কিতাব।
৮ - পোশাক-পরিচ্ছদ সংক্রান্ত কিতাব।
৯ - তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা)।
১০ - গানের নিন্দা।
১১ - যবেহকৃত ব্যক্তি সম্পর্কে মতভেদ।
১২ - ধনীর তুলনায় দরিদ্রের শ্রেষ্ঠত্ব।
১৩ - শবে কদরের ওপর জুমার রাতের শ্রেষ্ঠত্ব।
১৪ - আল (বংশ) এবং আহল (পরিবার)-এর মধ্যকার পার্থক্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ২১)
15 - الخصال والأقسام
(1).
16 - الرد على ابن اللبان
(2).
عقيدته:ألف القاضي رحمه الله كتبًا كثيرة في المعتقد، كما سبق أن أشرنا إليه في مصنفاته في العقيدة، ولكن غالبية هذه الكتب في حيز المفقود، لم يصل إلينا منها سوى شيء يسير، وهي: كتابنا هذا "إبطال التأويلات"، وكتابه "الإيمان" و"مختصر المعتمد في أصول الدين" والجزء العقدي الذي في كتابه "الروايتين والوجهين"
(3). وهي كافية في معرفة اعتقاد القاضي أبي يعلى رحمه الله، خصوصًا إذا ما أضفنا إليها كلام شيخ الإسلام ابن تيمية في كتابه النفيس "درء تعارض العقل والنقل" عن القاضي وعقيدته، في مواضع كثيرة من كتابه.
وقد بيَّن ابنه في طبقاته (2/ 207 - 212) معتقد أبيه، ننقله مختصرًا حتى لا نطيل على القارئ، فقد قال: فلنذكر الآن البيان عن اعتقاد الوالد السعيد ومن قبله من السلف الحميد في أخبار الصفات.
فاعلم -زادنا الله وإياك علمًا ينفعنا الله به، وجعلنا ممن آثر الآيات
--------------------------------------------
১৫ - আল-খিসাল ওয়াল-আকসাম
(১)।
১৬ - আর-রাদ্দু আলা ইবনিল লাব্বান
(২)।
তাঁর আকিদাহ:আল-কাজি রাহিমাহুল্লাহ আকিদাহ বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে তাঁর আকিদাহ বিষয়ক গ্রন্থাবলির আলোচনায় ইঙ্গিত করেছি। তবে এ সব গ্রন্থের অধিকাংশই বর্তমানে নিখোঁজ, আমাদের নিকট সেগুলোর সামান্য কিছু অংশই পৌঁছেছে, আর সেগুলো হলো: আমাদের এই গ্রন্থ "ইবতালুত তাউয়ীলাত", তাঁর গ্রন্থ "আল-ইমান", "মুখতাসারুল মুতামাদ ফি উসুলিদ দ্বীন" এবং তাঁর "আর-রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাইন" গ্রন্থের আকিদাহ সংশ্লিষ্ট অংশ
(৩)। আর কাজি আবু ইয়ালা রাহিমাহুল্লাহ-এর আকিদাহ জানার জন্য এগুলোই যথেষ্ট, বিশেষ করে যদি আমরা এর সাথে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ "দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি"-তে কাজি এবং তাঁর আকিদাহ সম্পর্কে বিভিন্ন স্থানে যা বলেছেন তা যুক্ত করি।
তাঁর পুত্র তাঁর তাবাকাত গ্রন্থে (২/ ২০৭ - ২১২) তাঁর পিতার আকিদাহ বর্ণনা করেছেন। আমরা তা সংক্ষেপে এখানে তুলে ধরছি যাতে পাঠকের জন্য দীর্ঘ না হয়। তিনি বলেছেন: আসুন এখন আমরা সৌভাগ্যবান পিতা এবং তাঁর পূর্ববর্তী প্রশংসিত সালাফদের সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর বিষয়ে আকিদাহ বর্ণনা করি।
সুতরাং জেনে রাখুন—আল্লাহ আমাদের ও আপনার ইলম বাড়িয়ে দিন যার দ্বারা আল্লাহ আমাদের উপকৃত করবেন এবং আমাদের এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা আয়াতসমূহকে অগ্রাধিকার দেয়—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ২২)
الصريحة، والأحاديث الصحيحة على آراء المتكلمين، وأهواء المتكلفين:
أن الذي درج عليه صالحوا السلف، وانتهجه بعدهم خيار الخلف هو: التمسك بكتاب الله عز وجل، واتباع نبيه صلى الله عليه وسلم، ثم ما روى عن الصحابة رضوان الله عليهم، ثم عن التابعين والخالفين لهم من علماء المسلمين.
والإيمان والتصديق بما وصف الله تعالى به نفسه، أو وصفه به رسوله، مع ترك البحث والتنقير، والتسليم لذلك، من غير تعطيل، ولا تشبيه ولا تفسير ولا تأويل. وهي الفرقة الناجية، والجماعة العادلة، والطائفة المنصورة إلى يوم القيامة فهم أصحاب الحديث والأثر -والوالد السعيد تابعهم- هم خلفاء الرسول، وورثة علمه وسفرته بينه وبين أمته.
بهم يلحق التالي، وإليهم يرجع الغالين وهم الذين نبزهم أهل البدع والضلال، وقائلو الزور والمحال: أنهم مشبهةٌ جهال، ونسبوهم إلى الحشو والطغام، وأساءوا فيهم الكلام.
فاعتقد الوالد السعيد وسلفه -قدس الله أرواحهم، وجعل ذكرنا لهم بركة تعود علينا- في جميع ما وصف الله تعالى به نفسه، أو وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم أن جميع ذلك صفات الله عز وجل تُمَرُّ كما جاءت، من غير زيادة ولا نقصان، وأقروا بالعجز عن إدراك معرفة حقيقة هذا الشأن.
اعتقد الوالد السعيد ومن قبله ممن سبقه من الأئمة: أن إثبات صفات الباري سبحانه: إنما هو إثبات وجود، لا إثبات تحديد، لها حقيقة في علمه، لم يُطلع الباري سبحانه على كُنْه معرفتها أحدًا من إنس ولا جان.
واعتقدوا: أن الكلام في الصفات فرع الكلام في الذات، ويحتذي حذوه ومثاله، وكما جاء.
সুস্পষ্ট প্রমাণাদি এবং সহীহ হাদিসসমূহকে মুতাকাল্লিমদের মতামত এবং কৃত্রিমতাকারীদের খেয়াল-খুশির ওপর প্রাধান্য দেওয়া:
নিশ্চয়ই সৎকর্মশীল সালাফগণ যে পথের ওপর চলেছেন এবং তাঁদের পরে শ্রেষ্ঠ খালাফগণ যে পথ অনুসরণ করেছেন তা হলো: মহান আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরা, তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করা, অতঃপর সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বর্ণিত আছার অনুসরণ করা এবং তারপর তাবেয়ীগণ ও তাঁদের পরবর্তী মুসলিম উলামায়ে কেরামের পথ অনুসরণ করা।
এবং আল্লাহ তায়ালা নিজের সম্পর্কে যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁর রাসূল তাঁর সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন তার প্রতি ঈমান আনা ও তা সত্য বলে বিশ্বাস করা; এর সাথে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও গভীর অনুসন্ধান বর্জন করা এবং কোনো প্রকার অস্বীকার (তাতীল), সাদৃশ্য প্রদান (তাশবিহ), ব্যাখ্যা (তাফসির) ও অপব্যাখ্যা (তাউয়িল) ছাড়াই এর প্রতি আত্মসমর্পণ করা। তাঁরাই হলো মুক্তিপ্রাপ্ত দল, ইনসাফকারী জামাত এবং কিয়ামত পর্যন্ত সাহায্যপ্রাপ্ত দল। তাঁরা হলেন আসহাবুল হাদিস ও আছার—এবং সৌভাগ্যবান পিতা তাঁদেরই অনুসারী ছিলেন—তাঁরাই রাসূলের খলিফা, তাঁর ইলমের উত্তরাধিকারী এবং তাঁর ও তাঁর উম্মতের মধ্যবর্তী দূত।
তাঁদের মাধ্যমেই পরবর্তীগণ তাঁদের সাথে যুক্ত হয় এবং তাঁদের কাছেই অতিরঞ্জনকারীরা ফিরে আসে। তাঁরাই সেই লোক যাদেরকে বিদআত ও গোমরাহীর অনুসারীরা এবং মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা রটনাকারীরা মন্দ উপাধিতে ভূষিত করেছে যে: তারা হলো মূর্খ মুশাব্বিহা, আর তারা তাঁদেরকে হাশউয়ি ও ইতর শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং তাঁদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে।
অতএব, সৌভাগ্যবান পিতা এবং তাঁর পূর্বসূরিগণ—আল্লাহ তাঁদের আত্মাকে পবিত্র করুন এবং তাঁদের আলোচনাকে আমাদের জন্য বরকতস্বরূপ করুন—আল্লাহ তায়ালা নিজের সম্পর্কে যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন, তার সবকিছুর ক্ষেত্রেই এই আকিদা পোষণ করতেন যে, এ সবই মহান আল্লাহর গুণাবলি; এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়াই অতিবাহিত করা হবে। আর তাঁরা এই বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবনে নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করেছেন।
সৌভাগ্যবান পিতা এবং তাঁর পূর্ববর্তী ইমামগণ বিশ্বাস করতেন যে: স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তায়ালার গুণাবলি সাব্যস্ত করা কেবল তাঁর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করার জন্যই, তাঁর কোনো সীমা নির্ধারণের জন্য নয়। তাঁর ইলমে এগুলোর প্রকৃত বাস্তবতা রয়েছে, যে সম্পর্কে স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষ কিংবা জিনদের মধ্য থেকে কাউকে অবগত করেননি।
এবং তাঁরা বিশ্বাস করতেন: গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা করা আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে আলোচনারই একটি শাখা, যা তাঁর সত্তার পথ ও পদ্ধতিই অনুসরণ করে এবং ঠিক যেভাবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد أجمع أهل القبلة: أن إثبات الباري سبحانه: إنما هو إثبات وجود، لا إثبات تحديد وكيفية، هكذا اعتقد الوالد السعيد وكمن قبله ممن سلفه من الأئمة: أن إثبات الصفات للباري سبحانه إنما هو إثبات وجود لا إثبات تحديد وكيفية، وأنها صفات لا تشبه صفات البرية، ولا تدرك حقيقة علمها بالفكر والروية.
والأصل الذي اعتمدوه في هذا الباب: اتباع قوله تعالى {وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ} [آل عمران: 7]، {يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا (110) وَعَنَتِ الْوُجُوهُ لِلْحَيِّ الْقَيُّومِ وَقَدْ خَابَ مَنْ حَمَلَ ظُلْمًا} [طه: 110، 111].
فاعتقدوا: أن الباري سبحانه وتعالى فرد الذات، متعدد الصفات. لا شبيه له في ذاته، ولا في صفاته، ولا نظير ولا ثاني. وسمعوا قوله عز وجل {الم (1) ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ (2) الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ} فآمنوا بما وصف الله به نفسه، وبما وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم، تسليمًا للقدرة، وتصديقًا للرسل، وإيمانًا بالغيب.
واعتقدوا: أن صفات الباري سبحانه معلومة من حيث أعلم هو، غيب من حيث انفرد واستأثر، كما أن البارئ سبحانه معلوم من حيث هو، مجهول ما هو.
واعتقدوا: أن الباري سبحانه استأثر بعلم حقائق صفاته ومعانيها عن العالمين، وفارق بها سائر الموصوفين، فهم بها مؤمنون، وبحقائقها موقنون، وبمعرفة كيفيتها جاهلون، لا يجوز عندهم ردها، كرد الجهمية، ولا حملها على التشبيه، كما حملته المشبهة، الذين أثبتوا الكيفية، ولا تأولوها على اللغات والمجازات، كما تأولتها الأشعرية.
আহলে কিবলা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে: মহান আল্লাহকে সাব্যস্ত করা কেবল তাঁর অস্তিত্বের স্বীকৃতি, কোনো সীমা নির্ধারণ বা ধরন সাব্যস্ত করা নয়। সৌভাগ্যবান পিতা এবং তাঁর পূর্ববর্তী সালাফ ইমামগণ এমনই বিশ্বাস পোষণ করতেন যে: মহান আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করা মূলত তাঁর অস্তিত্বেরই স্বীকৃতি, কোনো সীমা নির্ধারণ বা ধরন সাব্যস্ত করা নয়। আর এগুলো এমন গুণাবলি যা সৃষ্টিজগতের গুণাবলির সদৃশ নয় এবং চিন্তা বা গবেষণার মাধ্যমে এগুলোর প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়।
এই ক্ষেত্রে তারা যে মূলনীতির ওপর নির্ভর করেছেন তা হলো মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুসরণ: "আর আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে: 'আমরা এর ওপর ঈমান এনেছি, এ সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে'; আর বুদ্ধিমানগণ ব্যতীত অন্য কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না।" [আল ইমরান: ৭], "তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন, কিন্তু তারা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে বেষ্টন করতে পারে না। (১১০) আর চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারকের সামনে সকল মুখমণ্ডল অবনত হবে এবং সে-ই ব্যর্থ হবে যে জুলুম বহন করবে।" [ত্বহা: ১১০, ১১১]।
তারা বিশ্বাস করতেন যে: মহান আল্লাহ সত্তাগতভাবে একক এবং বহু গুণাবলির অধিকারী। তাঁর সত্তায় যেমন কোনো সদৃশ নেই, তেমনি তাঁর গুণাবলিতেও কোনো সদৃশ, উপমা বা দ্বিতীয় কেউ নেই। তারা মহান আল্লাহর এই বাণী শুনেছেন: "আলিফ-লাম-মীম। এই সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত। যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে।" অতঃপর আল্লাহ নিজের যে বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর যে বর্ণনা দিয়েছেন, সার্বভৌম ক্ষমতার কাছে আত্মসমর্পণ করে, রাসূলদের সত্যয়ন করে এবং অদৃশ্যের ওপর ঈমান এনে তারা তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছেন।
তারা বিশ্বাস করতেন যে: মহান আল্লাহর গুণাবলি সেই দিক থেকে পরিজ্ঞাত যে দিক থেকে তিনি তা জানিয়েছেন, আর সেই দিক থেকে অদৃশ্য যে দিক থেকে তিনি তা নিজের জন্য নির্দিষ্ট রেখেছেন। যেমন মহান আল্লাহ স্বয়ং পরিজ্ঞাত, কিন্তু তাঁর স্বরূপ অজ্ঞাত।
তারা বিশ্বাস করতেন যে: মহান আল্লাহ তাঁর গুণাবলির প্রকৃত অবস্থা ও অর্থের জ্ঞান সৃষ্টিজগত থেকে গোপন রেখে কেবল নিজের জন্যই নির্দিষ্ট করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি অন্য সকল গুণান্বিত সত্তা থেকে পৃথক। তাই তারা এই গুণাবলির ওপর বিশ্বাসী এবং এগুলোর হাকিকতের ওপর সুনিশ্চিত, কিন্তু এগুলোর ধরন (কাইফিয়াত) সম্পর্কে তারা অজ্ঞাত। তাদের নিকট এই গুণাবলিকে প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয় যেমনটি জাহমিয়্যাহরা প্রত্যাখ্যান করে, আবার এগুলোকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করাও বৈধ নয় যেমনটি মুশাব্বিহাহরা করে থাকে—যারা এর ধরন সাব্যস্ত করে। তদ্রূপ তারা এগুলোকে আভিধানিক বা রূপক অর্থে ব্যাখ্যা করেন না, যেমনটি আশআরিয়্যাহরা ব্যাখ্যা করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فالحنبلية لا يقولون في أخبار الصفات بتعطيل المعطلين، ولا بتشبيه المشبهين، ولا تأويل المتأولين. مذهبهم: حقٌّ بين باطلين، وهدى بين ضلالتين: إثبات الأسماء والصفات، مع نفي التشبيه والأدوات، إذْ لا مثل للخالق سبحانه مشبه، ولا نظير له فيجنس منه. فنقول كما سمعنا، ونشهد بما علمنا، من غير تشبيه ولا تجنيس، على أنه {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11].
وفي رد أخبار الصفات، وتكذيب النقلة: إبطال شرائع الدين، من قبل أن الناقلين إلينا علم الصلاة والزكاة والحج وسائر أحكام الشريعة: هم ناقلوا هذه الأخبار، والعدل مقبول القول فيما قاله. ولو تطرق إليهم -والعياذ بالله- التخرص بشيء منها، لأدى ذلك إلى إبطال جميع ما نقوله، وقد حفظ الله سبحانه الشرع عن مثل هذا اهـ.
وقد بيَّن القاضي أبو يعلى نفسه معتقده في الصفات، فقال في كتابه "أخبار الصفات" -كما نقله عنه ابنه في الطبقات (2/ 210) -:
وقد قال الوالد السعيد رضي الله عنه في أخبار الصفات:
المذهب في ذلك: قبول هذه الأحاديث على ما جاءت به، من غير عدول عنه إلى تأويل يخالف ظاهرها، مع الاعتقاد بأن الله سبحانه بخلاف كل شيء سواه، وكل ما يقع في الخواطر من حد أو تشبيه، أو تكييف: فالله سبحانه وتعالى عن ذلك. والله ليس كمثله شيء، ولا يوصف بصفات المخلوقين، الدالة على حَدَثهم، ولا يجوز عليه ما يجوز عليهم من التغير من حال إلى حال، ليس بجسم، ولا جوهر، ولا عرض، وأنه لم يزل، ولا يزال وأنه الذي لا يتصور في الأوهام، وصفاته لا تشبه صفات المخلوقين (ليس كمثله
হাম্বলিগণ সিফাত বা গুণাবলী সংক্রান্ত বর্ণনার ক্ষেত্রে অস্বীকারকারীদের মতো অস্বীকার করেন না, সাদৃশ্য প্রদানকারীদের মতো সাদৃশ্য প্রদান করেন না এবং অপব্যাখ্যাকারীদের মতো অপব্যাখ্যা করেন না। তাদের মাযহাব বা মতাদর্শ হলো দুটি বাতিলের মাঝে একটি সত্য এবং দুটি গোমরাহীর মাঝে একটি হেদায়েত: আর তা হলো আল্লাহর নাম ও সিফাতসমূহকে সাব্যস্ত করা এবং সেই সাথে সাদৃশ্য প্রদান ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সাব্যস্ত করাকে অস্বীকার করা। কারণ সৃষ্টিকর্তা সুবহানাহু ওয়া তাআলার কোনো উপমা নেই যে তাঁর সাথে সাদৃশ্য দেওয়া যাবে, আর তাঁর কোনো সমতুল্য নেই যে তাঁকে কোনো শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। সুতরাং আমরা যা শুনেছি ঠিক তেমনই বলি, এবং যা আমরা জেনেছি তার সাক্ষ্য দেই; কোনো প্রকার সাদৃশ্য প্রদান বা শ্রেণিভুক্ত করা ব্যতিরেকেই। আর তা এই ভিত্তির ওপর যে, "তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" [আশ-শুরা: ১১]
আর সিফাত সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোকে প্রত্যাখ্যান করা এবং বর্ণনাকারীদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করার অর্থ হলো দ্বীনের বিধানসমূহকে বাতিল করে দেওয়া। কারণ যারা আমাদের কাছে সালাত, জাকাত, হজ এবং শরীয়তের অন্যান্য বিধান বর্ণনা করেছেন, তারাই এই বর্ণনাগুলোও বর্ণনা করেছেন। আর একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির কথা তাঁর বর্ণনার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। যদি তাদের ক্ষেত্রে—আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—কোনো একটি বিষয়েও মিথ্যাচারের সম্ভাবনা থাকত, তবে তা আমাদের বলা সবকিছুর অসারতাকেই অনিবার্য করে তুলত। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা শরীয়তকে এই জাতীয় বিষয় থেকে রক্ষা করেছেন। (সমাপ্ত)
স্বয়ং কাযী আবু ইয়ালা সিফাত সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর আকিদা স্পষ্ট করেছেন। তিনি তাঁর ‘আখবারুস সিফাত’ গ্রন্থে বলেছেন—যেমনটি তাঁর থেকে তাঁর পুত্র ‘তাবাকাত’ (২/২১০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন:
সম্মানিত পিতা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সিফাত সংক্রান্ত বর্ণনা সম্পর্কে বলেছেন:
এই বিষয়ে মাযহাব বা পদ্ধতি হলো: এই হাদিসগুলোকে ঠিক সেভাবেই গ্রহণ করা যেভাবে সেগুলো এসেছে, এর প্রকাশ্য অর্থের বিরোধী কোনো প্রকার অপব্যাখ্যার দিকে না গিয়ে। এই বিশ্বাসের সাথে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগতের সবকিছু থেকে ভিন্ন। আর কল্পনা ও চিন্তায় কোনো প্রকার সীমা, সাদৃশ্য বা ধরন-প্রকৃতি যা কিছুই আসুক না কেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। আল্লাহর সদৃশ কোনো কিছুই নেই। তাঁকে সৃষ্টির গুণাবলীতে গুণান্বিত করা যায় না যা তাদের নতুন হওয়াকে প্রমাণ করে। সৃষ্টিজগতের ক্ষেত্রে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত হওয়া যেমন বৈধ, তাঁর ক্ষেত্রে তেমনটি হওয়া অসম্ভব। তিনি শরীর নন, মৌলিক পদার্থ নন এবং কোনো আকস্মিক গুণও নন। তিনি অনাদি ও অনন্তকাল ধরে আছেন এবং থাকবেন। তিনি এমন এক সত্তা যা কল্পনায় ধারণা করা সম্ভব নয়, এবং তাঁর সিফাতসমূহ সৃষ্টির সিফাতসমূহের সদৃশ নয় (তাঁর সদৃশ কিছুই নেই...
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
شيء. وهو السميع البصير).
وأما كتابه -قدس الله روحه- في إبطال التأويلات لأخبار الصفات: فمبني على هذه المقدمات، وأن إطلاق ما ورد به السمع من الصفات: لا يقتضي تشبيه الباري سبحانه بالمخلوقات. اهـ
قلت: وأما قوله "إن الباري سبحانه استأثر بعلم حقائق صفاته ومعانيها. . ." أما المعاني فمعلومة وليس من مذهب أهل السنة تفويضها، وسيأتي الرد عليه.
وأما قوله: ولا يجوز عليه ما يجوز عليهم من التغير من حال إلى حال، ليس بجسم ولا جوهر ولا عرض، فكلام لم يأت ذكره في الكتاب والسنة المنقولة عن النبي صلى الله عليه وسلم، إنما هو من إحداث أهل الكلام، الذين أكثروا من نفي صفات لم تذكر لا في الكتاب ولا في السنة، مثل قولهم: إنه ليس فوق ولا تحت، ولا يمين ولا شمال، ولا أمام ولا خلف، وليس داخل العالم ولا خارجه، وليس عرض، ولا بذي لون ولا رائحة ولا طعم ولا مجسَّه، ولا بذي حرارة ولا برودة ولا رطوبة ولا يبوسة، ولا طول ولا عرض ولا عمق ولا اجتماع ولا افتراق، ولا يتحرك ولا يسكن ولا يتبعض، وليس بذي أبعاض وأجزاء وجوارح وأعضاء، إلى آخر ما نقله أبو الحسن الأشعري عن المعتزلة؟!
أما إذا أثبتوا أثبتوا إجمالًا.
قال شارح الطحاوية بعد ذكره نحو ما سبق: وفي هذه الجملة حقٌّ وباطل، ويظهر ذلك لمن يعرف الكتاب والسنة، وهذا النفي المجرَّد مع كونه لا مدح فيه، فيه إساءة أدب، فإنك لو قلت للسلطان: أنت لست بزبال ولا كساح ولا حجام ولا حائك-! لأدَّبك على هذا الوصف وإن كنت صادقًا، وإنما تكون
কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
আর তাঁর কিতাব—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন—যা গুণাবলির বর্ণনাসমূহের অপব্যাখ্যা বাতিলের বিষয়ে রচিত: তা এই ভূমিকাগুলোর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত যে, শ্রুতির মাধ্যমে সাব্যস্ত গুণাবলির নিরঙ্কুশ প্রয়োগ মহান সৃষ্টিকর্তাকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য প্রদানের দাবি রাখে না। (সমাপ্ত)
আমি বলছি: আর তাঁর এই উক্তি যে, "মহান আল্লাহ তাঁর গুণাবলির হাকীকত ও অর্থসমূহের জ্ঞান কেবল নিজের জন্যই নির্ধারিত রেখেছেন..." তবে অর্থের বিষয়টি তো পরিজ্ঞাত, আর সেগুলোর অর্থ সোপর্দ করা আহলে সুন্নাতের মাযহাব নয়, আর শীঘ্রই এর উত্তর আসবে।
আর তাঁর কথা: "সৃষ্টির ক্ষেত্রে যেমন এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন হওয়া সম্ভব, আল্লাহর ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়; তিনি দেহ নন, কোনো মূল উপাদান (জাওহার) নন এবং কোনো আপতিক গুণ (আরায) নন।"—এই কথাগুলো এমন যা আল্লাহর কিতাব এবং নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণিত সুন্নাহয় উল্লেখ করা হয়নি। বরং এটি কালামশাস্ত্রবিদদের নব উদ্ভাবিত বিষয়, যারা এমন অনেক গুণাবলি অস্বীকার করার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছে যা কিতাব বা সুন্নাহর কোথাও উল্লেখ নেই। যেমন তাদের কথা: তিনি উপরে নন, নিচে নন, ডানে নন, বামে নন, সামনে নন, পেছনে নন, জগতের ভেতরেও নন এবং জগতের বাইরেও নন; তিনি আপতিক গুণ নন, তাঁর কোনো রঙ, ঘ্রাণ, স্বাদ বা স্পর্শযোগ্যতা নেই; তাঁর উষ্ণতা, শীতলতা, আর্দ্রতা বা শুষ্কতা নেই; তাঁর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা গভীরতা নেই; তাঁর মিলন বা বিচ্ছেদ নেই; তিনি নড়াচড়া করেন না, স্থির থাকেন না এবং খণ্ডিত হন না; এবং তিনি কোনো অংশ, খণ্ড বা হাত-পা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশিষ্ট নন—এভাবে শেষ পর্যন্ত যা আবুল হাসান আল-আশআরী মুতাযিলাদের পক্ষ থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
পক্ষান্তরে তারা যখন কোনো কিছু সাব্যস্ত করে, তখন তা কেবল সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্টভাবে করে।
তাহাবিয়ার ব্যাখ্যাকারী পূর্বোক্ত বিষয়ের অনুরূপ আলোচনার পর বলেন: "এই বাক্যগুলোতে সত্য ও মিথ্যা উভয়ই রয়েছে। আর এটি তার কাছেই স্পষ্ট হয় যে আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহ সম্পর্কে অবগত। এই কেবল নেতিবাচক বর্ণনা বা অস্বীকার করার মধ্যে কোনো প্রশংসা না থাকার পাশাপাশি এতে শিষ্টাচারের অভাব রয়েছে। কেননা আপনি যদি কোনো সুলতানকে বলেন: আপনি ঝাড়ুদার নন, মেথর নন, শিঙা লাগানো ব্যক্তি নন এবং তাঁতি নন—তবে আপনি সত্যবাদী হওয়া সত্ত্বেও এই ধরণের বিশেষণের কারণে তিনি আপনাকে শাস্তি দেবেন। বরং প্রশংসা তো কেবল তখনই হয়..."
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مادحًا إذا أجملت النفي فقلت: أنت لست مثل أحد من رعيتك، أنت أعلى منهم وأشرف وأجل، فإذا أجملت في النفي أجملت في الأدب.
والتعبير عن الحق بالألفاظ الشرعية النبوية الإلهية، هو سبيل أهل السنة والجماعة، والمعطلة يعرضون عما قاله الشارع من الأسماء والصفات، ولا يتدبرون معانيها، ويجعلون ما ابتدعوه من المعاني والألفاظ هو المحكم الذي يجب اعتقاده، وأما أهل الحق والسنة والإيمان، فيجعلون ما قاله الله ورسوله هو الحق الذي يجب اعتقاده واعتماده.
والذي قاله هؤلاء إما أن يعرضوا عنه إعراضًا جمليًّا، أو يبينوا حاله تفصيلًا، ويُحكم عليه بالكتاب والسنة اهـ
(1).
فالحاصل أن هؤلاء النفاة سلكوا طريقًا غير شرعي، فوقعوا فيما وقعوا فيه، وأكثر نفيهم المذكور ليس متلقي عن الكتاب والسنة بل هو من وضع أهل الكلام.
وقد ظن بعض أهل السنة، صحة بعض الأصول العقلية للنفاة الجهمية، فشاركوهم فيها، وذكروها في كتبهم، مع تعظيمهم لمذهب السلف.
ولشيخ الإسلام ابن تيمية كلام نفيس في هذا فهو يقول:
فإن قيل: قلتَ إن أكثر أئمة النفاة من الجهمية والمعتزلة كانوا قليلي المعرفة بما جاء عن الرسول، وأقوال السلف في تفسير القرآن وأصول الدين، وما بلَّغوه عن الرسول، ففي النفاة كثيرٌ ممن له معرفة بذلك.
قيل: هؤلاء أنواع: نوع ليس لهم خبرة بالعقليات، بل هم يأخذون ما قاله النفاة عن الحكم والدليل، ويعتقدونها براهين قطعية، وليس لهم قوة على
--------------------------------------------
প্রশংসা করতে গিয়ে যখন আপনি সাধারণভাবে কোনো কিছুর নেতিবাচকতা বা অভাব (নফি) অস্বীকার করবেন, তখন আপনি বলবেন: আপনি আপনার প্রজাদের কারোর মতো নন, আপনি তাদের চেয়ে উচ্চতর, অধিক সম্মানিত এবং মহান। সুতরাং যখন আপনি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে সংক্ষেপে বলবেন, তখন আপনি আদবের সাথেই বলবেন।
সত্যকে শরয়ী, নববী ও ইলাহী শব্দাবলির মাধ্যমে প্রকাশ করা হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পথ। পক্ষান্তরে মুআত্তিলাগণ (গুণাবলি অস্বীকারকারী) নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে শরীয়ত প্রদাতা যা বলেছেন তা থেকে বিমুখ থাকে এবং সেগুলোর অর্থ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না। তারা তাদের উদ্ভাবিত অর্থ ও শব্দাবলিকে 'মুহকাম' (সুস্পষ্ট বিধান) সাব্যস্ত করে যা বিশ্বাস করা ওয়াজিব বলে মনে করে। কিন্তু হকপন্থী, সুন্নাত ও ঈমানের অনুসারীগণ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা বলেছেন তাকেই ধ্রুব সত্য মনে করেন, যা বিশ্বাস করা এবং যার ওপর নির্ভর করা ওয়াজিব।
আর তারা যা বলেছে, হয় তা থেকে পুরোপুরি বিমুখ থাকতে হবে, অথবা বিস্তারিতভাবে তার স্বরূপ বর্ণনা করতে হবে এবং কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে তার ওপর বিচার করতে হবে। (সমাপ্ত)
(১)।
সারকথা হলো, এই অস্বীকারকারীরা একটি অ-শরয়ী পথ অবলম্বন করেছে, ফলে তারা যা হওয়ার তাতেই পতিত হয়েছে। তাদের উল্লেখিত অধিকাংশ অস্বীকার বা নফি কিতাব ও সুন্নাহ থেকে গৃহীত নয়, বরং তা ইলমুল কালামপন্থীদের উদ্ভাবিত।
আহলুস সুন্নাহর কেউ কেউ অস্বীকারকারী জাহমিয়াদের কিছু আকলী (যৌক্তিক) মূলনীতির যথার্থতা সম্পর্কে ধারণা পোষণ করেছেন এবং তাদের সাথে তাতে শরিক হয়েছেন, আর সালাফদের মাযহাবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন সত্ত্বেও তারা তাদের কিতাবসমূহে সেসব উল্লেখ করেছেন।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর এ বিষয়ে একটি মূল্যবান বক্তব্য রয়েছে, তিনি বলেন:
যদি বলা হয়: আপনি বলেছেন যে জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের অস্বীকারকারী ইমামদের অধিকাংশই রাসূলের আনীত বিষয়াদি, কুরআনের তাফসীর ও দ্বীনের মূলনীতি সম্পর্কে সালাফদের উক্তি এবং রাসূলের কাছ থেকে তারা যা পৌঁছে দিয়েছেন সে সম্পর্কে খুব কম জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন; অথচ অস্বীকারকারীদের মধ্যে এমন অনেক আছেন যাদের এ বিষয়ে জ্ঞান রয়েছে।
উত্তরে বলা হবে: তারা বিভিন্ন প্রকারের: একদল এমন যাদের আকলী (যৌক্তিক) বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই, বরং অস্বীকারকারীরা হুকুম ও দলীল সম্পর্কে যা বলেছে তারা তা গ্রহণ করে এবং সেগুলোকে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে বিশ্বাস করে, আর তাদের সামর্থ্য নেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الاستقلال بها، بل هم في الحقيقة مقلِّدون فيها، وقد اعتقد أقوال أولئك، فجميع ما يسمعونه من القرآن والحديث وأقوال السلف لا يحملونه على ما يخالف ذلك، بل إما أن يظنّوه موافقًا لهم، وإما أن يعرضوا عنه مفوِّضين لمعناه.
وهذه حال مثل أبي حاتم البُستي، وأبي سَعْد السمَّان المعتزلي، ومثل أبي ذر الهروي، وأبي بكر البيهقي، والقاضي عياض، وأبي الفرج بن الجوزي، وأبي الحسن علي بن المفضِّل المقدسي، وأمثالهم.
والثاني: من يسلك في العقليات مسلك الاجتهاد ويغلط فيها، كما غلط غيره، فيشارك الجهمية في بعض أصولها الفاسدة، مع أنه لا يكون له من الخبرة بكلام السلف والأئمة في هذا الباب ما كان لأئمة السنة، وإن كان يعرف متون الصحيحين وغيرهما.
وهذه حال أبي محمد بن حزم، وأبي الوليد الباجي، والقاضي أبي بكر بن العربي، وأمثالهم.
ومن هذا النوع بشر المريسي ومحمد بن شجاع الثلجي، وأمثالهما.
ونوع ثالث سمعوا الأحاديث والآثار، وعظَّموا مذهب السلف، شاركوا المتكلمين الجهمية في بعض أصولهم الباقية، ولم يكن لهم من الخبرة بالقرآن والحديث والآثار، ما لأئمة السنة والحديث، لا من جهة المعرفة والتمييز بين صحيحها وضعيفها، ولا من جهة الفهم لمعانيها. وقد ظنوا صحة بعض الأصول العقلية للنفاة الجهمية، ورأوا ما بينهما من التعارض.
وهذا حال أبي بكر بن فُورَك، والقاضي أبي يعلى، وابن عقيل، وأمثالهم.
ولهذا كان هؤلاء تارة يختارون طريقة أهل التأويل، كما فعله ابن فورك وأمثاله في الكلام على مشكل الآثار.
এতে তাদের কোনো স্বকীয়তা নেই, বরং তারা প্রকৃতপক্ষে এ বিষয়ে মুকাল্লিদ (অনুসারী); তারা তাদের (পূর্বসূরিদের) বক্তব্যসমূহকেই বিশ্বাস করে নিয়েছেন। ফলে কুরআন, হাদীস ও সালাফদের বাণীর মধ্য থেকে তারা যা কিছু শোনেন, সেগুলোকে তারা ওই বিশ্বাসের পরিপন্থী কোনো অর্থে গ্রহণ করেন না। বরং হয় তারা সেগুলোকে তাদের অনুকূল মনে করেন, অথবা সেগুলোর অর্থ আল্লাহর ওপর সোপর্দ করে তা থেকে বিমুখ থাকেন।
আবু হাতিম আল-বুসতি, আবু সা’দ আস-সাম্মান আল-মু’তাযিলি, আবু যার আল-হারাউই, আবু বকর আল-বায়হাকি, কাযি ইয়াদ, আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযি, আবুল হাসান আলী ইবনুল মুফায্যাল আল-মাকদিসি এবং তাদের মতো ব্যক্তিদের অবস্থা এমনই।
দ্বিতীয়ত: যারা বুদ্ধিভিত্তিক বিষয়ে ইজতিহাদের পথ অবলম্বন করেন এবং তাতে ভুল করেন, যেমন অন্যরাও ভুল করেছেন। ফলে তারা জাহমিয়াহদের কিছু ভ্রান্ত মূলনীতির সাথে একাত্ম হয়ে যান; যদিও এই বিষয়ে সালাফ ও ইমামগণের বক্তব্যের ওপর তাদের সেই গভীর পাণ্ডিত্য নেই যা সুন্নাহর ইমামগণের ছিল, যদিও তারা সহীহাইন ও অন্যান্য কিতাবের মূল পাঠ সম্পর্কে অবগত।
এটি আবু মুহাম্মদ ইবনে হাযম, আবুল ওয়ালিদ আল-বাজি, কাযি আবু বকর ইবনুল আরাবি এবং তাদের মতো ব্যক্তিদের অবস্থা।
বিশর আল-মারিসি এবং মুহাম্মদ ইবনে শুজা আস-সালজি ও তাদের সদৃশ ব্যক্তিগণ এই পর্যায়ভুক্ত।
তৃতীয় এক প্রকারের লোক রয়েছেন যারা হাদীস ও আসার শ্রবণ করেছেন এবং সালাফদের মাযহাবকে সম্মান করেছেন, কিন্তু তারা জাহমিয়া মুতাকাল্লিমদের কিছু অবশিষ্ট মূলনীতির সাথে একাত্ম হয়ে গেছেন। কুরআন, হাদীস ও আসারের ওপর তাদের সেই পাণ্ডিত্য ছিল না যা সুন্নাহ ও হাদীসের ইমামগণের ছিল—না সহীহ ও যয়ীফের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ ও পরিচিতির ক্ষেত্রে, আর না সেগুলোর অর্থ উপলব্ধির ক্ষেত্রে। তারা জাহমিয়া অস্বীকারকারীদের কিছু বুদ্ধিভিত্তিক মূলনীতিকে সঠিক বলে মনে করেছিলেন এবং এই দুইয়ের মাঝে বৈপরীত্য লক্ষ্য করেছিলেন।
এটি আবু বকর ইবনে ফুরাক, কাযি আবু ইয়ালা, ইবনে আকীল এবং তাদের মতো ব্যক্তিদের অবস্থা।
এই কারণেই তারা কখনো কখনো তাবীলপন্থীদের পথ অবলম্বন করতেন, যেমনটি ইবনে ফুরাক ও তার সদৃশ ব্যক্তিগণ ‘মুশকিলুল আসার’ সংক্রান্ত আলোচনায় করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وتارة يفوِّضون معانيها، ويقولون: تجري على ظواهرها، كما فعله القاضي أبو يعلي وأمثاله في ذلك.
وتارة يختلف اجتهادهم، فيرجّحون هذا تارة وهذا تارة، كحال ابن عقيل وأمثاله.
وهؤلاء قد يُدخلون في الأحاديث المشكلة ما هو كذبٌ موضوع، ولا يعرفون أنه موضوع، وما له لفظ يدفع الإشكال، مثل أن يكون رؤيا منام، فيظنونه كان في اليقظة ليلة المعراج.
ومن الناس من له خبرة بالعقليات المأخوذة عن الجهمية وغيرهم، وقد شاركهم في بعض أصولها، ورأى ما في قولهم من مخالفة الأمور المشهورة عند أهل السنة، كمسألة القرآن والرؤية، فإنه قد اشتهر عند العامة والخاصة أن مذهب السلف وأهل السنة والحديث: أن القرآن كلام الله غير مخلوق، وأن الله يُرى في الآخرة، فأراد هؤلاء أن يجمعوا بين نصر ما اشتهر عند أهل السنة والحديث، وبين موافقة الجهمية في تلك الأصول العقلية، التي ظنها صحيحة؟! ولم يكن لهم من الخبرة المفصَّلة بالقرآن ومعانيه، والحديث وأقوال الصحابة، ما لأئمة السنة الحديث، فذهب مذهبًا مركَّبًا من هذا وهذا، وكلا الطائفتين ينسبه إلى التناقض.
وهذه طريقة الأشعري وأئمة اتباعه، كالقاضي أبي بكر، وأبي إسحاق الإسفراييني وأمثالهما. ولهذا تجد أفضل هؤلاء، كالأشعري، يذكر مذهب أهل السنة والحديث على وجه الإجمال، ويحكيه بحسب ما يظنه لازمًا، ويقول: إنه يقول بكل ما قالوه، وإذا ذكر مقالات أهل الكلام، من المعتزلة وغيرهم، حكاها حكاية خبير بها، عالم بتفصيلها.
আর কখনো কখনো তারা এর অর্থগুলোর দায়িত্ব সোপর্দ করেন এবং বলেন যে, এগুলো তাদের বাহ্যিক অর্থের ওপরই প্রযোজ্য হবে, যেমনটি কাজী আবু ইয়ালা এবং তাঁর মতো অন্যরা এ বিষয়ে করেছেন।
আবার কখনো তাদের ইজতিহাদ ভিন্ন ভিন্ন হয়, ফলে তারা কখনো এটাকে আবার কখনো ওটাকে প্রাধান্য দেন, যেমন ইবনুল আকীল এবং তাঁর মতো অন্যদের অবস্থা।
আর তারা কখনো জটিল হাদিসগুলোর মধ্যে এমন সব বানোয়াট মিথ্যা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেন যা মওজু এবং তারা নিজেরাও জানেন না যে তা মওজু। আবার এমন কিছু বিষয়ও রয়েছে যার শব্দ জটিলতা দূর করে দেয়, যেমন সেটি স্বপ্নে দেখা হওয়া সত্ত্বেও তারা মনে করেন যে সেটি মেরাজের রাতে জাগ্রত অবস্থায় ছিল।
আর মানুষের মধ্যে এমন একদল রয়েছে যাদের জহমিয়্যাহ এবং অন্যদের নিকট থেকে গৃহীত বুদ্ধিভিত্তিক বিষয়গুলোতে অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তারা তাদের কিছু মূলনীতির সাথেও অংশীদার হয়েছেন। তারা দেখেছেন যে, তাদের কথাগুলোর মধ্যে আহলে সুন্নাহর নিকট প্রসিদ্ধ বিষয়গুলোর যেমন কুরআন এবং আল্লাহর দর্শনের বিষয়ের বিরোধিতা রয়েছে। কেননা সাধারণ ও বিশিষ্ট সবার নিকট এটি সুপরিচিত যে, সালাফ, আহলে সুন্নাহ এবং আহলে হাদিসের মাযহাব হলো—কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তা সৃষ্টি নয়, আর পরকালে আল্লাহকে দেখা যাবে। তাই তারা আহলে সুন্নাহ ও আহলে হাদিসের নিকট প্রসিদ্ধ বিষয়ের সমর্থন এবং জহমিয়্যাহদের ঐসব বুদ্ধিভিত্তিক মূলনীতির—যাকে তারা সঠিক মনে করেছিলেন—সমন্বয় করতে চেয়েছিলেন। অথচ কুরআন ও তার অর্থাবলি এবং হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্য সম্পর্কে তাদের সেই বিস্তারিত অভিজ্ঞতা ছিল না যা আহলে সুন্নাহ ও আহলে হাদিসের ইমামদের ছিল। ফলে তারা এমন একটি মাযহাব গ্রহণ করলেন যা এর এবং ওর সমন্বয়ে গঠিত, আর উভয় পক্ষই তাদের দিকে বৈপরীত্যের সম্পর্ক আরোপ করে।
আর এটিই হলো আশআরী এবং তাঁর অনুসারী ইমামদের পদ্ধতি, যেমন কাজী আবু বকর, আবু ইসহাক আল-ইসফরাইনি এবং তাঁদের মতো অন্যরা। এ কারণেই আপনি তাদের মধ্যে যারা শ্রেষ্ঠ, যেমন আশআরী, তাঁকে দেখবেন যে তিনি আহলে সুন্নাহ ও আহলে হাদিসের মাযহাবকে সংক্ষিপ্তাকারে উল্লেখ করেন এবং এটিকে তাঁর ধারণানুযায়ী যা অপরিহার্য সেভাবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, তারা যা কিছু বলেছেন তিনি তার সবটুকুই বলেন। আর যখন তিনি মুতাযিলা এবং অন্যান্য ইলমুল কালামপন্থীদের বক্তব্য উল্লেখ করেন, তখন তিনি তা এমনভাবে বর্ণনা করেন যেন তিনি এ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ এবং এর বিস্তারিত সম্পর্কে অবগত।
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وهؤلاء كلامهم نافع في معرفة تناقض المعتزلة وغيرهم، ومعرفة فساد أقوالهم. وأما في معرفة ما جاء به الرسول، وما كان عليه الصحابة والتابعون، فمعرفتهم بذلك قاصرة، وإلا فمن كان عالمًا بالآثار، وما جاء عن الرسول، وعن الصحابة والتابعين، من غير حسن ظنٍّ بما يناقض ذلك، لم يدخل مع هؤلاء: إما لأنه علم من حيث الجملة أن أهل البدع المخالفين لذلك مخالفون للرسول قطعًا، وقد علم أنه من خالف الرسول فهو ضال، كأكثر أهل الحديث، أو علم مع ذلك فساد أقوال أولئك وتناقضها، كما علم أئمة السنة من ذلك ما لا يعلمه غيرهم، كمالك، وعبد العزيز الماجشون، وحماد بن زيد، وحمَّاد بن سلمة، وسفيان بن عيينة، وابن المبارك، ووكيع بن الجرَّاح، وعبد الله بن إدريس، وعبد الرحمن بن مهدي، ومعاذ بن معاذ، ويزيد بن هارون الواسطي، ويحيى بن سعيد القطان، وسعيد بن عامر، والشافعي، وأحمد بن حنبل، وإسحاق بن إبراهيم، وأبي عبد الرحمن القاسم بن سلَّام ومحمد بن إسماعيل البخاري، ومسلم بن الحجَّاج النيسابوري، والدارمِيَّيْن: أبي محمد عبد الله ابن عبد الرحمن، وعثمان بن سعيد، وأبي حاتم وأبي زرعة الرازيين، وأبي داود السجستاني، وأبي بكر الأثرم، وحرب الكرماني، ومن لا يحصى عدده إلا الله من أئمة الإسلام، وورثة الأنبياء، وخلفاء الرسل.
فهؤلاء كلهم متفقون على نقيض قول النفاة، كما تواترت الآثار عنهم، وعن غيرهم من أئمة السلف بذلك، من غير خلاف بينهم في ذلك اهـ
(1).
--------------------------------------------
এই ব্যক্তিদের বক্তব্য মুতাযিলা ও অন্যদের স্ববিরোধিতা এবং তাদের মতবাদের অসারতা উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ। কিন্তু রাসূল (সা.) যা নিয়ে এসেছেন এবং সাহাবী ও তাবেয়ীগণ যে বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, তা জানার ক্ষেত্রে তাদের জ্ঞান অসম্পূর্ণ। বস্তুত যারা আষার (পূর্বসূরীদের বর্ণনা) এবং রাসূল (সা.), সাহাবী ও তাবেয়ীদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে সে বিষয়ে বিজ্ঞ, আর যারা এগুলোর বিরোধী বিষয়ের প্রতি সুধারণা পোষণ করে না, তারা এই ব্যক্তিদের দলে অন্তর্ভুক্ত হয়নি; হয় এর কারণ এই যে, তারা সামগ্রিকভাবে এটা জানেন যে, এগুলোর বিরুদ্ধাচরণকারী বিদআতীরা নিশ্চিতভাবেই রাসূলের (সা.) পরিপন্থী, আর তারা জানেন যে রাসূলের (সা.) বিরুদ্ধাচরণকারী ব্যক্তি পথভ্রষ্ট, যেমন অধিকাংশ আহলে হাদিসের অবস্থা। অথবা তারা এর সাথে সাথে ঐ সকল লোকের বক্তব্যের অসারতা ও স্ববিরোধিতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন, যেমনটি সুন্নাহর ইমামগণ সে সম্পর্কে জানতেন যা অন্য কেউ জানত না। যেমন: মালিক, আবদুল আযীয আল-মাজিশুন, হাম্মাদ বিন যায়েদ, হাম্মাদ বিন সালামাহ, সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ, ইবনুল মুবারক, ওয়াকী বিন আল-জাররাহ, আবদুল্লাহ বিন ইদ্রিস, আবদুর রহমান বিন মাহদী, মুয়ায বিন মুয়ায, ইয়াযীদ বিন হারুন আল-ওয়াসিতী, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান, সাঈদ বিন আমির, শাফেয়ী, আহমাদ বিন হাম্বল, ইসহাক বিন ইব্রাহিম, আবু আবদুর রহমান আল-কাসিম বিন সাল্লাম, মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারী, মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আন-নিশাপুরী, দুই দারেমী: আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান এবং উসমান বিন সাঈদ, আবু হাতিম ও আবু যুরআ আর-রাযীদ্বয়, আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী, আবু বকর আল-আছরাম, হারব আল-কিরমানী এবং ইসলামের এমন অসংখ্য ইমাম যাদের সংখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না, যারা ছিলেন নবীদের উত্তরাধিকারী এবং রাসূলগণের প্রতিনিধি।
তারা সকলে (সিফাত) অস্বীকারকারীদের বক্তব্যের বিপরীত বিষয়ের ওপর ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, যেমনটি তাদের এবং সালাফদের অন্যান্য ইমামদের থেকে এ সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, এ বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। সমাপ্ত।
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فالحاصل من كلام شيخ الإسلام:
أنه مما يؤخذ على القاضي أنه يظن في بعض الأحيان صحة بعض الأصول العقلية لنفاة الصفات، ويقول في بعض نصوص الصفات: إنها تُجري على ظاهرها، وتُحمل على ظاهرها، ومع هذا فلا يعلم تأويلها إلا الله أي يفوض علم معناها إلى الله، فيتناقض حيث يثبت لها تأويلا يخالف ظاهرها، ويقول -مع هذا- أنها تحمل على ظاهرها. وتفويض علم المعنى ليس هو طريقة السلف، وإنما طريقتهم تفويض الكيفية فقط. وهذا ما أنكره ابن عقيل على القاضي في كتابه هذا
(1).
خلاصة القول:
أن الرجل شيخ من شيوخ الحنابلة، المتبعين لإمام أهل السنة والجماعة أحمد بن حنبل رحمه الله تعالى، وهو (أي القاضي) من أهل الإثبات للصفات، والتسليم للنصوص من غير تعطيل ولا تشبيه، ولا تحريف ولا تأويل، بل كتابه هذا مؤلف للرد على نفاة الصفات والمأولين لها، المحرفين لمعانيها، من الجهمية والمعتزلة والأشاعرة ومن تابعهم.
أما القليل الذي وافق فيه المتكلمين -من نفي أو إثبات أو تفويض- مما يخالف كتاب الله أو سنة رسوله صلى الله عليه وسلم، أو نهج أصحابه ومن تابعهم بإحسان، فنحن لا نقرُّه عليه، بل نردُّه ولا نقبله، والاعتبار من كلامه وكلام غيره بما يوافق الدليل، والله تعالى أعلم.
وفاته:توفي ليلة الاثنين بين العشائين، تاسعة عشر رمضان من سنة ثمان وخمسين وأربع مئة، وصلى عليه ابنه أبو القاسم يوم الاثنين بجامع المنصور.
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলামের বক্তব্য থেকে সারকথা হলো:
কাযীর ব্যাপারে যা সমালোচনা করা হয় তা হলো, তিনি কখনো কখনো গুণাবলি অস্বীকারকারীদের কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক মূলনীতির বিশুদ্ধতার ধারণা পোষণ করেন এবং গুণাবলি বিষয়ক কিছু দলিলের ক্ষেত্রে বলেন যে, এগুলো এর প্রকাশ্য অর্থের ওপর চলবে এবং প্রকাশ্য অর্থের ওপরই ন্যস্ত হবে। অথচ এর সাথে তিনি এও বলেন যে, এর ব্যাখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না অর্থাৎ তিনি এর অর্থের জ্ঞান আল্লাহর কাছে সোপর্দ করেন। ফলে তিনি স্ববিরোধিতায় লিপ্ত হন যখন তিনি এমন এক ব্যাখ্যা সাব্যস্ত করেন যা এর প্রকাশ্য রূপের বিপরীত, আবার এর সাথে বলেন যে এগুলো প্রকাশ্য অর্থের ওপর ন্যস্ত হবে। আর অর্থের জ্ঞান সোপর্দ করা (তাফউইজ) সালাফদের পদ্ধতি নয়; বরং তাদের পদ্ধতি হলো কেবল প্রকৃতির (কাইফিয়াত) জ্ঞান সোপর্দ করা। আর ইবনুল আকীল তাঁর এই কিতাবে কাযীর এই বিষয়টিই খণ্ডন করেছেন
(১)।
সারকথা:
এই ব্যক্তি হাম্বলি মাযহাবের শাইখদের একজন, যিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর অনুসারী। তিনি (অর্থাৎ কাযী) আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্তকারী এবং দলিলের সামনে আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত—কোনোরূপ অকেজো করা, সাদৃশ্য প্রদান, বিকৃতি কিংবা অপব্যাখ্যা ছাড়াই। বরং তাঁর এই কিতাবটি গুণাবলি অস্বীকারকারী ও সেগুলোর অপব্যাখ্যাকারী এবং তাদের অর্থের বিকৃতিকারী জাহমিয়্যাহ, মুতাজিলা, আশারিয়া এবং তাদের অনুসারীদের খণ্ডন করার উদ্দেশ্যেই রচিত।
তবে সামান্য যে সকল বিষয়ে তিনি ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের সাথে একমত হয়েছেন—হোক তা অস্বীকার, সাব্যস্তকরণ কিংবা সোপর্দকরণের ক্ষেত্রে—যা আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ কিংবা সাহাবী ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের পথের পরিপন্থী, তা আমরা সমর্থন করি না। বরং আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি এবং গ্রহণ করি না। তাঁর এবং অন্যদের বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে দলিলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার ওপর। আর আল্লাহ তাআলাই সম্যক অবগত।
তাঁর মৃত্যু:তিনি ৪৫৮ হিজরির ১৯শে রমজান সোমবার রাতে মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণ করেন। সোমবার জামে মানসুরে তাঁর ছেলে আবুল কাসেম তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قال ابنه في الطبقات (2/ 216): وقيل أنه لم يُر في جنازة -بعد جنازة أبي الحسن القزويني الزاهد- الجمع الذي حضر جنازته، فلما أصحر المشيعون لجنازته إلى حفرته بمقبرة إمامنا أحمد لحقهم الحر الشديد، فأفطر جماعة لم يسمحوا بالرجوع، وكان قد حضره عالم كثير جدًّا يفوت الإحصاء.
ما رؤي له من المرائي:
يقول ابنه أبو الحسين في طبقاته (2/ 220): وسمعت محمد بن مواهب يقول: سمعت أبا الحسن بن جدًا يقول: كنت نائمًا في داري ليلة مات القاضي أبو يعلى، فهتف لي هاتف وقال:
ما العيش بعدك مستطاب
… هيهات أن يغشى لمثلك باب
فانتبهت، فلما أسفر الفجر، سمعت مناديًا ينادي: من أراد الصلاة على القاضي الإمام أبي يعلى، فعلمت أن الهاتف وبيت الشعر لأجله.
فرحم الله القاضي أبي يعلى رحمة واسعة، وغفر له ذنبه، آمين.
مصادر ترجمته:1 - تاريخ بغداد (2/ 256).
2 - طبقات الحنابلة (2/ 193 - 230).
3 - الأنساب (9/ 246).
4 - مناقب الإمام أحمد لابن الجوزي (520 - 521).
5 - المنتظم له أيضًا (8/ 243 - 244).
6 - الكامل لابن الأثير (10/ 52).
7 - اللباب له أيضًا (2/ 413 - 414).
8 - العبر للذهبي (3/ 243 - 244).
তাঁর পুত্র 'তাবাকাত'-এ (২/ ২১৬) বলেন: বলা হয়েছে যে, যাহিদ আবুল হাসান আল-কাযউইনী-এর জানাজার পর আর কারও জানাজায় এত বিশাল জনসমাগম দেখা যায়নি যা তাঁর জানাজায় উপস্থিত হয়েছিল। এরপর যখন জানাজায় অংশগ্রহণকারীরা আমাদের ইমাম আহমাদ-এর কবরস্থানে তাঁর কবরের উদ্দেশ্যে খোলা ময়দানে বের হলেন, তখন প্রচণ্ড গরম তাঁদের গ্রাস করল; ফলে একদল লোক রোজা ভেঙে ফেললেন, তবুও তাঁরা ফিরে যেতে রাজি হননি। সেখানে এত বিপুল সংখ্যক লোক উপস্থিত হয়েছিল যা গণনা করা অসম্ভব।
তাঁর সম্পর্কে যেসব স্বপ্ন দেখা হয়েছে:
তাঁর পুত্র আবুল হুসাইন তাঁর 'তাবাকাত'-এ (২/ ২২০) বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনুল মাওয়াহিবকে বলতে শুনেছি: আমি আবুল হাসান ইবনে জিদ্দানকে বলতে শুনেছি: যে রাতে কাজী আবু ইয়ালা মারা যান, সে রাতে আমি আমার ঘরে ঘুমাচ্ছিলাম, তখন এক অদৃশ্য আহ্বানকারী আমাকে উচ্চস্বরে ডেকে বললেন:
আপনার পর জীবন আর সুখকর নয়
… সুদূরপরাহত যে আপনার মতো কারো দ্বারে আর আসা হবে
আমি জেগে উঠলাম। যখন ভোর হলো, তখন এক ঘোষণাকারীকে ঘোষণা করতে শুনলাম: যে ব্যক্তি ইমাম কাজী আবু ইয়ালার জানাজায় শরিক হতে চায় (সে আসুক)। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে সেই অদৃশ্য আহ্বান এবং কবিতার পংক্তিটি তাঁর উদ্দেশ্যেই ছিল।
আল্লাহ তাআলা কাজী আবু ইয়ালাকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন এবং তাঁর গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন। আমীন।
তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ:১ - তারিখ বাগদাদ (২/ ২৫৬)।
২ - তাবাকাতুল হানাবিলাহ (২/ ১৯৩ - ২৩০)।
৩ - আল-আনসাব (৯/ ২৪৬)।
৪ - মানাকিবুল ইমাম আহমাদ - ইবনুল জাওযী (৫২০ - ৫২১)।
৫ - আল-মুনতাযাম - লেখক একই (৮/ ২৪৩ - ২৪৪)।
৬ - আল-কামিল - ইবনুল আসির (১০/ ৫২)।
৭ - আল-লুবাব - লেখক একই (২/ ৪১৩ - ৪১৪)।
৮ - আল-ইবার - আয-যাহাবী (৩/ ২৪৩ - ২৪৪)।
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ৩২)
9 - سير أعلام النبلاء له أيضًا (18/ 89 - 91).
10 - الوافي بالوفيات (3/ 7 - 8).
11 - البداية والنهاية (12/ 94 - 95).
12 - شذرات الذهب (3/ 306 - 307).
13 - كشف الظنون (1/ 3) (2/ 1732).
14 - هدية العارفين (1/ 3) (2/ 1732).
15 - القاضي أبو يعلى الفراء وكتابه الأحكام السلطانية - تأليف الشيخ محمد عبد القادر أبو فارس - ط الثانية 1403 هـ - مؤسسة الرسالة.
16 - مقدمة أبو يعلى الفراء وكتابه الأحكام السلطانية - تأليف الشيخ محمد عبد القادر أبو فارس - ط الثانية 1403 هـ - مؤسسة الرسالة.
* * *
৯ - সিয়ারু আলামিন নুবালা, এটিও তাঁরই রচিত (১৮/ ৮৯ - ৯১)।
১০ - আল-ওয়াফি বিল-ওয়াফায়াত (৩/ ৭ - ৮)।
১১ - আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১২/ ৯৪ - ৯৫)।
১২ - শাযারাতুয যাহাব (৩/ ৩০৬ - ৩০৭)।
১৩ - কাশফুয যুনুন (১/ ৩) (২/ ১৭৩২)।
১৪ - হাদিয়াতুল আরিফীন (১/ ৩) (২/ ১৭৩২)।
১৫ - আল-কাজি আবু ইয়ালা আল-ফাররা এবং তাঁর গ্রন্থ আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ - রচনায়: শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল কাদির আবু ফারিস - ২য় সংস্করণ ১৪০৩ হিজরি - মুআসসাসাতুর রিসালাহ।
১৬ - আবু ইয়ালা আল-ফাররা এবং তাঁর গ্রন্থ আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ-এর ভূমিকা - রচনায়: শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল কাদির আবু ফারিস - ২য় সংস্করণ ১৪০৩ হিজরি - মুআসসাসাতুর রিসালাহ।
* * *
(খণ্ড: ১)
ইবত্বালুত তাওয়ীলাত - ত্বা গিরাাস
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
التعريف بكتاب "إبطال التأويلات"
اسم الكتاب: اسمه كما هو مثبت على الورقة الأولى "إبطال التأويلات لأخبار الصفات"، وكذا سماه ابنه في طبقاته. وذكره شيخ الإسلام ابن تيمية في "درء التعارض" (5/ 237) (6/ 207) باسم: "إبطال التأويل" وذكره في (1/ 16) باسم "ذم التأويل"، وذكره الذهبي في السير (18/ 9) باسم: "إبطال تأويل الصفات" ولعل ذلك وقع منهما على جهة الاختصار.
نسبة الكتاب للمؤلف:أولًا: الكتاب منسوب للمؤلف في الورقة الأولى من الكتاب، فقد كتب ناسخه:
الحمد لله وحده، وجد على ظهر أول ورقة من نسخة كتاب إبطال التأويلات التي نسخنا منها هذه النسخة، بخط القاضي أبي الحسين بن القاضي أبي يعلى مؤلف الكتاب ما لفظه: قرأ عليَّ صاحبه الفقيه إسماعيل بن الحسن.
وكتب ناسخه أيضًا: ووجد أيضًا هذا الكتاب مؤلفه القاضي أبو يعلى محمد بن الحسين بن محمد بن خلف، القاضي أبو يعلى الفراء البغدادي شيخ الحنابلة وصاحب التصانيف ولد سنة 380، أخذ عنه أبو الوفاء علي ابن عقيل توفي في رمضان سنة 458 هـ.
وكتب أيضًا: دخل في ملك الفقير إلى الله تعالى محمد بن أمين الحسني الشنقيطي سنة 1337 هـ.
ثانيًا: ذكر العلماء له في ضمن مصنفات أبي يعلى، كما تقدم.
نسخة الكتاب: نسخة جيدة بقلم نسخي، وهي من مخطوطات مكتبة عباس العزاوي - العراق، وجاء وصفها في مجلة "المورد" المجلد السابع عشر - العدد الثاني (1408 هـ) (ص 182): "نسخة جيدة كتبها بقلم النسخ
"ইবতালুত তাউয়ীলাত" গ্রন্থের পরিচিতিগ্রন্থের নাম: এর নাম যেমনটি প্রথম পৃষ্ঠায় সাব্যস্ত হয়েছে, "ইবতালুত তাউয়ীলাত লি আখবারিস সিফাত" (আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহের অপব্যাখ্যা বাতিলকরণ), এবং তার পুত্রও তার 'তাবাকাত' গ্রন্থে এই নামেই একে অভিহিত করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ 'দারউত তায়ারুদ' (৫/২৩৭) (৬/২০৭) গ্রন্থে একে "ইবতালুত তাউয়ীল" নামে উল্লেখ করেছেন এবং (১/১৬) পৃষ্ঠায় একে "যাম্মুত তাউয়ীল" নামে উল্লেখ করেছেন। আয-যাহাবী 'আস-সিয়ার' (১৮/৯) গ্রন্থে একে "ইবতালু তাউয়ীলিস সিফাত" নামে উল্লেখ করেছেন; সম্ভবত তারা এটি সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে এমনটি করেছেন।
লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্পৃক্ততা:প্রথমত: গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এটি লেখকের প্রতি সম্পৃক্ত করা হয়েছে, কেননা এর অনুলিপিকার লিখেছেন:
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর। 'ইবতালুত তাউয়ীলাত' গ্রন্থের যে পাণ্ডুলিপি থেকে আমরা এই অনুলিপিটি তৈরি করেছি, তার প্রথম পৃষ্ঠার উল্টো পিঠে এই গ্রন্থের লেখক কাজী আবু ইয়া'লার পুত্র কাজী আবুল হোসেনের হস্তাক্ষরে যা লিখিত ছিল তা হলো: "এর মালিক ফকিহ ইসমাইল বিন হাসান এটি আমার নিকট পাঠ করেছেন।"
অনুলিপিকার আরও লিখেছেন: আরও পাওয়া গেছে যে, এই গ্রন্থের লেখক হলেন কাজী আবু ইয়া'লা মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন খালাফ, কাজী আবু ইয়া'লা আল-ফাররা আল-বাগদাদি; তিনি হাম্বলিদের শাইখ এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি ৩৮০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। আবু আল-ওয়াফা আলী ইবনে আকিল তার নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি ৪৫৮ হিজরির রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি আরও লিখেছেন: ১৩৩৭ হিজরিতে এটি আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী মুহাম্মদ বিন আমিন আল-হাসানি আশ-শিনকিতি-র মালিকানাধীন হয়।
দ্বিতীয়ত: আলেমগণ আবু ইয়া'লার রচিত গ্রন্থাবলির তালিকায় এটি উল্লেখ করেছেন, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি: নাসখ লিপিতে লিখিত একটি উন্নত মানের পাণ্ডুলিপি, যা ইরাকের আব্বাস আল-আযযাভি লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপিসমূহের অন্তর্ভুক্ত। 'আল-মাওয়ারিদ' সাময়িকীর সপ্তদশ খণ্ড, দ্বিতীয় সংখ্যায় (১৪০৮ হিজরি, পৃষ্ঠা ১৮২) এর বর্ণনা এভাবে এসেছে: "নাসখ লিপিতে লিখিত একটি উন্নত মানের পাণ্ডুলিপি..."