(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
قواعد وفوائد في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من كلام شيخ الإسلام ابن تيمية القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: قواعد وفوائد في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من كلام شيخ الإسلام ابن تيمية
المؤلف: د. عبد المجيد بن محمد الوعلان
عدد الصفحات: 59
[الكتاب غير مطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 25 صفر 1442
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর বক্তব্য থেকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ সম্পর্কিত নীতিমালা ও উপকারিতা বিভাগ: সিয়াসা শারইয়্যাহ (শরয়ি রাজনীতি) ও বিচার ব্যবস্থা
গ্রন্থ: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর বক্তব্য থেকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ সম্পর্কিত নীতিমালা ও উপকারিতা
লেখক: ড. আব্দুল মাজিদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়ালান
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯
[গ্রন্থটি অমুদ্রিত]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৫ সফর ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
قواعد وفوائد في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر
من كلام شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله
د. عبدالمجيد بن محمد الوعلان
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ সংক্রান্ত কতিপয় মূলনীতি ও ফায়দা
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বাণী থেকে
ড. আব্দুল মাজীদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়ায়লান
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةالحمد لله الذي أرسل رسله بالبينات، وأنزل معهم الكتاب والميزان ليقوم الناس بالقسط، وأنزل الحديد فيه بأس شديد ومنافع للناس، {وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيز}، وختمهم بمحمد صلى الله عليه وسلم، الذي أرسله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، وأيده بالسلطان النصير الجامع معنى العلم والقلم للهداية والحجة، ومعنى القدرة والسيف للنصرة والتعزيز، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده ولا شريك له، شهادة خالصة خلاص الذهب الإبريز، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم، وعلى آله وصحبه وسلم تسليما كثيرا، شهادة يكون صاحبها في حرز حريز
(1)، أما بعد:
فإن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر عبادة مهمة لها شأنها في الإسلام، وهي مثل سائر العبادات لها شروطها وآدابها وضوابطها.
قال الشيخ عبد الله بن عبد العزيز بن عقيل رحمه الله: " فلا يخفى أن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من أهم دعائم الدين، وبه قوائم شؤون المسلمين، فهو واجب باليد واللسان والجنان، حسب الاستطاعة والإمكان، وإن له شروطًا وآدابًا ومكملات، ذكرها أهل العلم وأوضحوها في مصنفاتهم.
ونظرًا لأن الناس في هذه الأزمان تشتت آراؤهم، وتباعدت أنظارهم، وتغيرت عاداتهم؛ فكل فئة تتصرف في شؤون حياتها حسبما يتهيأ لها، سواء وافق الشرع أو خالفه! .
وكلما أحدث الناس أمورًا هيّأ الله من طلبة العلم من يوضح لهم طرق الخروج منها وإنكارها على اختلاف أعراف الناس وعوائدهم، وقد قال شيخ الإسلام ابن تيمية: " إن الأمر بالمعروف يحتاج إلى ثلاث دعائم: إحداها: قَبله، والثانية: معه، والثالثة: بعده، وهي العلم والرفق والحلم، فالعلم أولًا قبل العمل، والرفق حال العمل، والحلم بعد العمل"
(2).
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছেন এবং তাদের সাথে কিতাব ও তুলাদণ্ড অবতীর্ণ করেছেন যাতে মানুষ ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তিনি লোহাও অবতীর্ণ করেছেন, যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি এবং মানুষের জন্য বহু কল্যাণ, {যাতে আল্লাহ জেনে নেন কে না দেখে তাঁকে ও তাঁর রসূলগণকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাশক্তিধর, মহাপরাক্রমশালী}। তিনি নবীগণের সিলসিলা সমাপ্ত করেছেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে, যাকে তিনি হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে একে অন্য সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। আর তাঁকে এমন এক সাহায্যকারী শক্তি দিয়ে শক্তিশালী করেছেন যা হিদায়াত ও প্রমাণের জন্য ইলম ও কলমের তাৎপর্য এবং সাহায্য ও শক্তিশালীকরণের জন্য ক্ষমতা ও তলোয়ারের তাৎপর্যকে একত্রিত করে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন একনিষ্ঠ সাক্ষ্য যা খাঁটি স্বর্ণের ন্যায় বিশুদ্ধ। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রসূল, আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন; এমন সাক্ষ্য যা তার প্রদানকারীকে সুরক্ষিত আশ্রয়ে রাখে
(১)। অতঃপর:
নিশ্চয়ই সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, ইসলামে যার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। অন্যান্য ইবাদতের মতো এরও কিছু শর্ত, আদব ও নীতিমালা রয়েছে।
শাইখ আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আকীল (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এটি অস্পষ্ট নয় যে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ দ্বীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং এর মাধ্যমেই মুসলিমদের বিষয়াদি সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে। সুতরাং সামর্থ্য ও সম্ভাবনা অনুযায়ী হাত, জবান ও অন্তরের মাধ্যমে এটি পালন করা ওয়াজিব। এর কিছু শর্ত, আদব ও পরিপূরক বিষয় রয়েছে যা আলিমগণ তাঁদের রচনাবলিতে উল্লেখ করেছেন ও ব্যাখ্যা করেছেন।
বর্তমান যুগে মানুষের মতামতে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে, দৃষ্টিভঙ্গি দূরে সরে গেছে এবং অভ্যাস পরিবর্তিত হয়েছে; ফলে প্রতিটি গোষ্ঠী তাদের জীবন যাপনের বিষয়াবলিতে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো আচরণ করছে, চাই তা শরয়ি বিধানের অনুকূলে হোক বা প্রতিকূলে!
যখনই মানুষ নতুন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করে, আল্লাহ ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্য থেকে এমন কাউকে মনোনীত করেন যারা মানুষের প্রথা ও অভ্যাসের বৈচিত্র্য সত্ত্বেও সেসব থেকে বেরিয়ে আসার পথ এবং সেগুলো প্রত্যাখ্যান করার পদ্ধতি স্পষ্ট করে দেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই সৎকাজের আদেশের জন্য তিনটি স্তম্ভ প্রয়োজন: একটি কাজের আগে, দ্বিতীয়টি কাজের সাথে এবং তৃতীয়টি কাজের পরে; আর সেগুলো হলো— ইলম (জ্ঞান), রিফক (নম্রতা) এবং হিলম (সহনশীলতা)। সুতরাং আমলের আগে ইলম, আমল চলাকালীন রিফক এবং আমল পরবর্তী সময়ে হিলম প্রয়োজন"
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
ولما كان شيخ الإسلام ابن تيمية -رحمه الله تعالى- قد ذكرا كثيرا من تلك القواعد والفوائد وخصوصا - فيما يتعلق بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر-، في كتبه ورسائله ومنها:
- السياسة
(1) الشرعية في إصلاح الراعي والرعية
(2).
- مسألة الحسبة أو قاعدة في الحسبة
(3).
- فصل في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من كتاب الاستقامة
(4).
قمت باستخراج بعض هذه القواعد والفوائد، أسأل الله عز وجل أن ينفع بها، وأن يجعلها خالصة لوجه الكريم، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى أله وصحبه أجمعين.
د. عبد المجيد بن محمد الوعلان
Awalaan@gmail.com
--------------------------------------------
যহেতু শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর গ্রন্থ ও পত্রাবলীতে এই মূলনীতি (قاعدة) ও শিক্ষাগুলোর অনেকগুলো উল্লেখ করেছেন—বিশেষ করে যা ‘সতকাজের আদেশ ও অসতকাজের নিষেধ’ সংক্রান্ত—তাঁর সেই গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- আস-সিয়াসা
(১) আশ-শারঈয়াহ ফী ইসলাহির রা’য়ী ওয়ার রা’ইয়্যাহ
(২)।
- মাসআলাতুল হিসবাহ বা কায়িদাতুন ফিল হিসবাহ
(৩)।
- আল-ইস্তিকামাহ কিতাব থেকে ‘সতকাজের আদেশ ও অসতকাজের নিষেধ’ বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(৪)।
আমি এই মূলনীতি (قاعدة) ও শিক্ষাগুলোর কিছু অংশ চয়ন করেছি। আমি মহান আল্লাহর (যিনি মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত) নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর দ্বারা উপকৃত করেন এবং একে শুধুমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর।
ড. আব্দুল মাজীদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়ালান
Awalaan@gmail.com
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
أهمية الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر-
الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من الدين:قال شيخ الإسلام رحمه الله: " الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر هو الذي أنزل الله به كتبه، وأرسل به رسله، وهو من الدين"
(1).
-
الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر هو من أوجب الأعمال وأفضلها وأحسنها:قال رحمه الله: " وتحقيق ذلك أن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر هو من أوجب الأعمال وأفضلها وأحسنها وقد قال تعالى: {لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً}، وهو كما قال الفضيل بن عياض رحمه الله: أخلصه وأصوبه؛ فإن العمل إذا كان خالصا ولم يكن صوابا لم يقبل، وإذا كان صوابا ولم يكن خالصا لم يقبل، حتى يكون خالصا صوابا، والخالص أن يكون لله، والصواب أن يكون على السنة"
(2).
-
جماع الدين وجميع الولايات هو أمر ونهي:قال رحمه الله: " وإذا كان جماع الدين وجميع الولايات هو أمر ونهي، فالأمر الذي بعث الله به رسوله هو الأمر بالمعروف، والنهي الذي بعثه به هو النهي عن المنكر، وهذا نعت النبي والمؤمنين، كما قال تعالى: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ}.
وهذا واجب على كل مسلم قادر، وهو فرض على الكفاية ويصير فرض عين على القادر الذي لم يقم به غيره، والقدرة هي السلطان والولاية، فذوو السلطان أقدر من غيرهم، وعليهم من الوجوب ما ليس على غيرهم، فإن مناط الوجوب هو القدرة؛ فيجب على كل إنسان بحسب قدرته، قال تعالى: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ}.
وجميع الولايات الإسلامية إنما مقصودها الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، سواء في ذلك ولاية الحرب الكبرى، مثل: نيابة السلطنة، والصغرى مثل: ولاية الشرطة، وولاية الحكم، أو ولاية المال وهي ولاية الدواوين المالية وولاية الحسبة"
(3).
--------------------------------------------
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীর ওপর। অতঃপর:
সৎ কাজের আদেশ (امر بالمعروف) ও অসৎ কাজের নিষেধ (نهي عن المنكر)-এর গুরুত্ব-
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত:শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ হচ্ছে সেই বিষয়, যার কারণে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন এবং তাঁর রসূলগণকে প্রেরণ করেছেন; আর এটি দ্বীনেরই অন্তর্ভুক্ত"
(১).
-
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ হচ্ছে আবশ্যিকতম, শ্রেষ্ঠতম এবং সর্বোত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এর বাস্তবতা হলো এই যে, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ হচ্ছে আবশ্যিকতম (أوجب), শ্রেষ্ঠতম এবং সর্বোত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলে কে শ্রেষ্ঠ}। আর এটি তেমনই যেমনটি ফুদাইল ইবনে ইয়াদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: '(শ্রেষ্ঠ আমল হলো) যা অধিকতর নিষ্ঠাপূর্ণ এবং অধিকতর সঠিক'; কেননা কোনো আমল যদি নিষ্ঠাপূর্ণ (خالص) হয় কিন্তু সঠিক (صواب) না হয়, তবে তা কবুল করা হয় না। আবার যদি আমলটি সঠিক হয় কিন্তু নিষ্ঠাপূর্ণ না হয়, তবে তাও কবুল করা হয় না—যতক্ষণ না তা নিষ্ঠাপূর্ণ ও সঠিক উভয়ই হয়। নিষ্ঠাপূর্ণ হওয়ার অর্থ হলো তা কেবল আল্লাহর জন্য হওয়া, আর সঠিক হওয়ার অর্থ হলো তা সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী হওয়া"
(২).
-
দ্বীনের নির্যাস এবং সকল প্রশাসনিক কর্তৃত্ব হলো আদেশ ও নিষেধের সমষ্টি:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যেহেতু দ্বীনের নির্যাস এবং সকল প্রশাসনিক দায়িত্ব বা কর্তৃত্ব (ولايات) হলো আদেশ ও নিষেধের সমষ্টি, তাই আল্লাহ তাআলা যে আদেশসহ তাঁর রসূলকে পাঠিয়েছেন তা হলো সৎ কাজের আদেশ (امر بالمعروف), আর যে নিষেধসহ তাঁকে পাঠিয়েছেন তা হলো অসৎ কাজের নিষেধ (نهي عن المنكر)। এটিই নবী এবং মুমিনদের গুণাবলি, যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজের নিষেধ করে}।
আর এটি সক্ষম প্রত্যেক মুসলিমের ওপর আবশ্যিক (واجب)। এটি একটি সমষ্টিগত আবশ্যিক দায়িত্ব (فرض كفاية), তবে এমন সক্ষম ব্যক্তির জন্য তা ব্যক্তিগত আবশ্যিক দায়িত্বে (فرض عين) পরিণত হয় যার পক্ষ হতে অন্য কেউ তা সম্পাদন করেনি। আর সক্ষমতা বলতে এখানে শক্তি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে বোঝানো হয়েছে। অতএব, সাধারণ মানুষের তুলনায় ক্ষমতাসীনরা অধিক সক্ষম এবং তাদের ওপর এমন পর্যায়ের আবশ্যিকতা বর্তায় যা অন্যদের ওপর বর্তায় না; কারণ আবশ্যিকতা বা ওয়াজিব হওয়ার ভিত্তি হলো সক্ষমতা। সুতরাং প্রত্যেক মানুষের ওপর তার সক্ষমতা অনুযায়ী তা পালন করা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো}।
আর সকল ইসলামি প্রশাসনিক নেতৃত্বের মূল লক্ষ্যই হলো সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা। এক্ষেত্রে যুদ্ধের বড় কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব—যেমন সুলতানের প্রতিনিধিত্ব, কিংবা ছোট কোনো দায়িত্ব—যেমন পুলিশি বিভাগের দায়িত্ব, বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব কিংবা আর্থিক ব্যবস্থাপনা তথা অর্থ বিভাগ ও হিসবাহ (حسبة) বা বাজার নিয়ন্ত্রণ ও জনশৃঙ্খলার দায়িত্ব—সবই এর অন্তর্ভুক্ত"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
-
كمال الرسالة بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر:قال رحمه الله: " وقوله سبحانه في صفة نبينا صلى الله عليه وسلم: {يَأْمُرُهُم بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَآئِثَ} هو لبيان كمال رسالته؛ فإنه صلى الله عليه وسلم هو الذي أمر الله على لسانه بكل معروف، ونهى عن كل منكر، وأحل كل طيب، وحرم كل خبيث، ولهذا روي عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إنما بعثت لأتمم مكارم الأخلاق»، وقال في الحديث المتفق عليه: «إنما مثلى ومثل الأنبياء كمثل رجل بنى دارا فأتمها وأكملها إلا موضع لبنة، فكان الناس يطيفون بها ويعجبون من حسنها ويقولون: لولا موضع اللبنة، فأنا تلك اللبنة»، فبه أكمل الله الدين المتضمن للأمر بكل معروف، والنهي عن كل منكر، وإحلال كل طيب، وتحريم كل خبيث"
(1).
-
هذه الأمة أكمل الأمم:قال رحمه الله: " هذه الأمة خير الأمم للناس، فهم أنفعهم لهم وأعظمهم أحسانا إليهم؛ لأنهم كملوا أمر الناس بالمعروف ونهيهم عن المنكر من جهة الصفة والقدر، حيث أمروا بكل معروف ونهوا عن كل منكر لكل أحد، وأقاموا ذلك بالجهاد في سبيل الله بأنفسهم وأموالهم، وهذا كمال النفع للخلق وسائر الأمم، لم يأمروا كل أحد بكل معروف ولا نهوا كل أحد عن كل منكر ولا جاهدوا على ذلك"
(2).
من يقوم بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر-
كل أحد لا بد له من أمر ونهي، ولا بد أن يأمر وينهى:قال رحمه الله: " وكل بشر على وجه الأرض فلا بد له من أمر ونهي، ولا بد أن يأمر وينهى؛ حتى لو أنه وحده لكأن يأمر نفسه وينهاها: إما بمعروف، وإما بمنكر، كما قال الله تعالى: {إِنَّ النَّفْسَ لأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ} "
(3).
--------------------------------------------
-
সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধের মাধ্যমে রিসালাতের পূর্ণতা:তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: "আমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গুণাবলি বর্ণনায় মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি তাদের সৎ কাজের আদেশ দেন ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করেন এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন}—এটি তাঁর রিসালাতের পূর্ণতা প্রকাশের জন্য; কেননা আল্লাহ তাঁর রসনার মাধ্যমে প্রতিটি সৎ কাজের আদেশ দিয়েছেন এবং প্রতিটি অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করেছেন, প্রতিটি পবিত্র বস্তুকে হালাল করেছেন এবং প্রতিটি অপবিত্র বস্তুকে হারাম করেছেন। এজন্যই তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি তো কেবল উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি», এবং তিনি সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিসে বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার ও নবীদের দৃষ্টান্ত হলো এমন এক ব্যক্তির ন্যায়, যে একটি ঘর তৈরি করল এবং তাকে পূর্ণাঙ্গ ও সুশোভিত করল, কেবল একটি ইটের স্থান ছাড়া। মানুষ এর চারপাশ দিয়ে ঘুরতে লাগল এবং তার সৌন্দর্যে বিস্ময় প্রকাশ করে বলতে লাগল: যদি এই ইটের জায়গাটি পূর্ণ করা হতো! আমিই হলাম সেই ইট»; সুতরাং তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন, যা প্রতিটি সৎ কাজের আদেশ, প্রতিটি অসৎ কাজের নিষেধ, সকল পবিত্র বিষয়কে হালাল করা এবং সকল অপবিত্র বিষয়কে হারাম করার অন্তর্ভুক্ত"
(1).
-
এই উম্মত সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত:তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: "এই উম্মত মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মত, তারা মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহের ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ; কারণ তারা গুণগত মান ও পরিমাণের দিক থেকে মানুষের জন্য সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধকে পূর্ণতা দান করেছে। তারা প্রত্যেককে প্রতিটি সৎ কাজের আদেশ দিয়েছে এবং প্রত্যেককে প্রতিটি অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করেছে। তারা তাদের জান ও মালের মাধ্যমে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের দ্বারা তা প্রতিষ্ঠিত করেছে। এটিই সৃষ্টিজগত ও অন্যান্য সকল উম্মতের জন্য চরম পর্যায়ের উপকার; তারা প্রত্যেককে প্রতিটি সৎ কাজের আদেশ দেয়নি, প্রতিটি অসৎ কাজ থেকে নিষেধও করেনি এবং এর ওপর জিহাদও করেনি"
(2).
যারা সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করেন-
প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আদেশ ও নিষেধ অনিবার্য এবং তাকে অবশ্যই আদেশ ও নিষেধ করতে হবে:তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: "পৃথিবীর বুকে প্রত্যেক মানুষের জন্যই আদেশ ও নিষেধ অনিবার্য, এবং তাকে অবশ্যই আদেশ ও নিষেধ করতে হবে; এমনকি সে যদি একাকীও থাকে, তবে সে নিজেকেই আদেশ করে ও নিষেধ করে: হয় সৎ কাজের, নয়তো অসৎ কাজের। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই মানুষের মন মন্দ কর্মপ্রবণ}"
(3).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
-
كل بني آدم لا تتم مصلحتهم لا في الدنيا ولا في الآخرة إلا بالاجتماع والتعاون والتناصرقال رحمه الله: " وكل بني آدم لا تتم مصلحتهم لا في الدنيا ولا في الآخرة إلا بالاجتماع والتعاون والتناصر، فالتعاون على جلب منافعهم، والتناصر لدفع مضارهم، ولهذا يقال: الإنسان مدني بالطبع، فإذا اجتمعوا فلا بد لهم من أمور يفعلونها يجتلبون بها المصلحة، وأمور يجتنبونها لما فيها من المفسدة، ويكونون مطيعين للآمر بتلك المقاصد، والناهي عن تلك المفاسد، فجميع بني آدم لا بد لهم من طاعة آمر وناه"
(1).
-
إذا كان لا بد من طاعة آمر وناه فطاعة الله ورسوله خير:قال رحمه الله: " وإذا كان لا بد من طاعة آمر وناه فمعلوم أن دخول المرء في طاعة الله ورسوله خير له"
(2).
-
قيام ولي الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر:قال رحمه الله: " ويجب على أولى الأمر - وهم علماء كل طائفة وأمراؤها ومشايخها- أن يقوموا على عامتهم ويأمروهم بالمعروف وينهوهم عن المنكر، فيأمرونهم بما أمر الله به ورسوله، مثل شرائع الإسلام، وهي الصلوات الخمس في مواقيتها، وكذلك الصدقات المشروعة، والصوم المشروع، وحج البيت الحرام، ومثل الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر والإيمان بالقدر خيره وشره، ومثل الإحسان: وهو أن تبعد الله كأنك تراه فإن لم تكن تراه فإنه يراك، ومثل ما أمر الله به ورسوله من الأمور الباطنة والظاهرة، ومثل إخلاص الدين لله، والتوكل على الله، وأن يكون الله ورسوله أحب إليه مما سواهما، والرجاء لرحمة الله، والخشية من عذابه، والصبر لحكم الله، والتسليم لأمر الله، ومثل صدق الحديث والوفاء بالعهود وأداء الأمانات إلى أهلها، وبر الوالدين وصلة الأرحام، والتعاون على البر والتقوى، والإحسان إلى الجار واليتيم والمسكين وابن السبيل والصاحب والزوجة والمملوك، والعدل في المقال والفعال، ثم الندب إلى مكارم الأخلاق، مثل: أن تصل من قطعك، وتعطى من حرمك، وتعفو عن ظلمك.
--------------------------------------------
-
সমস্ত বনী আদমের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ কেবল সামাজিক সম্মিলন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং একে অপরকে সাহায্য করার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সমস্ত বনী আদমের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ কেবল সামাজিক সম্মিলন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং একে অপরকে সাহায্য করার মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়। সুতরাং তাদের উপকার অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অপকার প্রতিহত করতে একে অপরকে সাহায্য করা অপরিহার্য। এজন্যই বলা হয়: মানুষ স্বভাবগতভাবেই সামাজিক জীব। অতএব, যখন তারা একত্রিত হয়, তখন তাদের জন্য এমন কিছু কাজ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে যার মাধ্যমে তারা কল্যাণ অর্জন করে, এবং এমন কিছু বিষয় বর্জন করা আবশ্যক হয় যাতে অনিষ্ট নিহিত রয়েছে। আর তারা সেই লক্ষ্যসমূহ অর্জনে আদেশদাতার এবং অনিষ্টসমূহ থেকে নিষেধকারীর অনুগত হয়। ফলে সমস্ত বনী আদমের জন্যই একজন আদেশদাতা ও নিষেধকারীর আনুগত্য করা অপরিহার্য।"
(১) -
যখন আদেশদাতা ও নিষেধকারীর আনুগত্য করা অপরিহার্য, তখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যই সর্বোত্তম:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যেহেতু একজন আদেশদাতা ও নিষেধকারীর আনুগত্য করা অপরিহার্য, তাই এটি সুনিশ্চিত যে, কোনো ব্যক্তির জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যে প্রবেশ করাই তার জন্য সর্বোত্তম।"
(২) -
উলিল আমর (কর্তৃপক্ষ) কর্তৃক সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ প্রতিষ্ঠা করা:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আর উলিল আমর বা দায়িত্বশীলদের—যারা প্রতিটি দলের আলিম সমাজ, নেতৃবৃন্দ ও শায়খগণ—তাদের ওপর ওয়াজিব হলো সাধারণ জনগণের তদারকি করা এবং তাদেরকে সৎকাজের আদেশ দেওয়া ও অসৎকাজে নিষেধ করা। ফলে তারা তাদেরকে সেই সব বিষয়ের আদেশ দেবেন যার আদেশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল দিয়েছেন; যেমন ইসলামের বিধানসমূহ, আর তা হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাত তার নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা, তেমনিভাবে শরয়ি সদকা, শরয়ি সিয়াম, বায়তুল্লাহর হজ এবং আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমানের মতো বিষয়সমূহ। আর ইহসানের মতো বিষয়: যা হলো তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে তিনি নিশ্চয়ই তোমাকে দেখছেন। আরও আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যেসব প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য বিষয়ের আদেশ দিয়েছেন, যেমন দ্বীনকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করা, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যেন অন্য সবকিছুর চেয়ে তার কাছে অধিক প্রিয় হন, আল্লাহর রহমতের আশা করা, তাঁর শাস্তির ভয় করা, আল্লাহর ফয়সালায় ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহর আদেশের কাছে আত্মসমর্পণ করা, এবং কথার সত্যবাদিতা, অঙ্গীকার পূরণ করা, আমানত তার প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেওয়া, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, নেক কাজ ও তাকওয়ার ওপর পরস্পর সহযোগিতা করা, প্রতিবেশী, এতিম, মিসকিন, মুসাফির, সাথী, স্ত্রী ও দাস-দাসীর প্রতি ইহসান করা এবং কথা ও কাজে ন্যায়বিচার করা। অতঃপর উত্তম চরিত্রের প্রতি উৎসাহিত করা, যেমন: যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তার সাথে সম্পর্ক যুক্ত করা, যে তোমাকে বঞ্চিত করে তাকে দান করা এবং যে তোমার ওপর জুলুম করে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ومن الأمر بالمعروف كذلك الأمر بالائتلاف والاجتماع، والنهي عن الاختلاف والفرقة وغير ذلك، وأما المنكر الذي نهى الله عنه ورسوله فأعظمه الشرك بالله، وهو أن يدعو مع الله إلها آخر كالشمس والقمر والكواكب أو كملك من الملائكة أو نبي من الأنبياء أو رجل من الصالحين أو أحد من الجن أو تماثيل هؤلاء أو قبورهم أو غير ذلك مما يدعى من دون الله تعالى، أو يستغاث به، أو يسجد له، فكل هذا وأشباهه من الشرك الذي حرمه الله على لسان جميع رسله، ومن المنكر كل ما حرمه الله، كقتل النفس بغير الحق، وأكل أموال الناس بالباطل بالغصب أو بالربا أو الميسر والبيوع والمعاملات التي نهى عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكذلك قطيعة الرحم، وعقوق الوالدين، وتطفيف المكيال، والميزان والإثم والبغي، وكذلك العبادات المبتدعة التي لم يشرعها الله ورسوله صلى الله عليه وسلم وغير ذلك"
(1).
ضوابط الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر-
التعلل بترك الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بطلب السلامة من الفتنة:قال رحمه الله: " وقال: {وَمَن يَتَوَلَّ اللهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللهِ هُمُ الْغَالِبُون}، ولما كان في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والجهاد في سبيل الله من الابتلاء والمحن ما يتعرض به المرء للفتنة صار في الناس من يتعلل لترك ما وجب عليه من ذلك بأنه يطلب السلامة من الفتنة، كما قال تعالى عن المنافقين: {وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ ائْذَن لِّي وَلا تَفْتِنِّي أَلا فِي الْفِتْنَةِ سَقَطُوا}، وقد ذكروا في التفسير أنها نزلت في الجد بن قيس لما أمره النبي صلى الله عليه وسلم بالتجهز لغزو الروم، وأظن أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال له: «هل لك في نساء بني الأصفر؟ فقال يا رسول الله: إني رجل لا أصبر على النساء، وإني أخاف الفتنة بنساء بني الأصفر فأذن لي ولا تفتني»، وهذا الجد هو الذي تخلف عن بيعة الرضوان تحت الشجرة، واستتر بجمل أحمر، وجاء فيه الحديث: «أن كلهم مغفور له إلا صاحب الجمل الأحمر»، فأنزل الله تعالى فيه: {وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ ائْذَن لِّي وَلا تَفْتِنِّي أَلا فِي الْفِتْنَةِ سَقَطُوا}، يقول: إنه طلب القعود ليسلم من فتنة النساء فلا يفتتن بهن فيحتاج إلى الاحتراز من المحظور ومجاهدة نفسه عنه فيتعذب بذلك أو يواقعه فيأثم؛ فإن من رأى الصور الجميلة وأحبها فإن لم يتمكن منها إما لتحريم الشارع وإما للعجز عنها تعذب قلبه، وإن قدر عليها وفعل المحظور هلك، وفي الحلال من ذلك من معالجة النساء ما فيه بلاء، فهذا وجه قوله: {وَلا تَفْتِنِّي}، قال الله تعالى: {أَلا فِي الْفِتْنَةِ سَقَطُوا}، يقول: إن نفس إعراضه عن الجهاد الواجب، ونكوله عنه، وضعف إيمانه، ومرض قلبه الذي زين له ترك الجهاد فتنة عظيمة قد سقط فيها؛ فكيف يطلب التخلص من فتنة صغيرة لم تصبه بوقوعه في فتنة عظيمة قد أصابته! والله تعالى يقول: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلّه}، فمن ترك القتال الذي أمر الله به لئلا تكون فتنة فهو في الفتنة ساقط بما وقع فيه من ريب قلبه ومرض فؤاده وتركه ما أمر الله به من الجهاد، فتدبر هذا! فإن هذا مقام خطر، والناس فيه على قسمين: قسم يأمرون وينهون ويقاتلون طلبا لإزالة الفتنة زعموا، ويكون فعلهم ذلك أعظم فتنة كالمقتتلين في الفتن الواقعة بين الأمة مثل الخوارج، وأقوام ينكلون عن الأمر والنهي والقتال الذي يكون به الدين كله لله وتكون كلمة الله هي العليا لئلا يفتنوا وهم قد سقطوا في الفتنة"
(2).
--------------------------------------------
আর সৎকাজের আদেশের অনুরূপ হলো ঐক্য ও সংহতির আদেশ প্রদান এবং মতভেদ ও বিচ্ছিন্নতা থেকে নিষেধ করা ইত্যাদি। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যে মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো আল্লাহর সাথে অংশীদারিত্ব স্থাপন করা (শিরক); আর তা হলো আল্লাহর পাশাপাশি অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকা, যেমন সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্ররাজি, কিংবা কোনো ফেরেশতা, কোনো নবী, কোনো নেককার ব্যক্তি, কোনো জিন, অথবা এদের প্রতিকৃতি, তাদের কবর কিংবা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুকে ডাকা, অথবা কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা, কিংবা কাউকে সিজদা করা। এই সবই এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ সেই শিরকের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ তাঁর সকল রাসূলের জবানে হারাম করেছেন। আর মন্দ কাজের অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ যা কিছু হারাম করেছেন তার সবই; যেমন অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা এবং মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা—তা জবরদখল, সুদ, জুয়া কিংবা এমন ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেনের মাধ্যমেই হোক যা থেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। অনুরূপভাবে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, মাপে ও ওজনে কম দেওয়া, পাপাচার ও সীমালঙ্ঘন এবং সেই সব নব উদ্ভাবিত ইবাদত যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবর্তন করেননি ইত্যাদি।
(১).
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের নীতিমালা-
ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকার অযুহাতে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ বর্জন করা:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে, তবে আল্লাহর দলই বিজয়ী হবে}। যেহেতু সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ এবং আল্লাহর পথে জিহাদের ক্ষেত্রে এমন কিছু পরীক্ষা ও বিপদ-আপদ থাকে যার মাধ্যমে মানুষ ফিতনার সম্মুখীন হয়, তাই মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা তাদের ওপর অর্পিত এই ওয়াজিব দায়িত্ব ত্যাগের অযুহাত হিসেবে ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকার দাবি করে। যেমন আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেছেন: {আর তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে বলে, আমাকে অনুমতি দিন এবং আমাকে ফিতনায় ফেলবেন না। জেনে রেখো, তারা তো ফিতনার মধ্যেই নিপতিত হয়েছে}। মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেছেন যে, এই আয়াতটি জাদ বিন কায়েস সম্পর্কে নাজিল হয়েছে, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমার ধারণা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: «তোমার কি বনু আসফারের নারীদের প্রতি কোনো আগ্রহ আছে?» সে বলেছিল: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি এমন এক ব্যক্তি যে নারীদের ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করতে পারি না। আমি আশঙ্কা করছি যে বনু আসফারের নারীদের দ্বারা আমি ফিতনায় পড়ে যাব। সুতরাং আমাকে অনুমতি দিন এবং আমাকে ফিতনায় ফেলবেন না।’ এই জাদ-ই সেই ব্যক্তি যে গাছের নিচে বাইয়াতে রিদওয়ান-এ অংশগ্রহণ না করে পিছিয়ে ছিল এবং একটি লাল উটের আড়ালে আত্মগোপন করেছিল। তার সম্পর্কে হাদিসে এসেছে: «লাল উটের মালিক ব্যতীত তাদের সকলের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে»। তখন আল্লাহ তাআলা তার সম্পর্কে নাজিল করেন: {আর তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে বলে, আমাকে অনুমতি দিন এবং আমাকে ফিতনায় ফেলবেন না। জেনে রেখো, তারা তো ফিতনার মধ্যেই নিপতিত হয়েছে}। সে মূলত পিছনে থাকার প্রার্থনা করেছিল যাতে নারীদের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকতে পারে এবং তাদের দ্বারা মোহাচ্ছন্ন না হয়, যার ফলে তাকে নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা ও নফসের সাথে মুজাহাদা করার কষ্টে ভুগতে না হয়, যা তাকে যন্ত্রণাক্লিষ্ট করত কিংবা সে তাতে লিপ্ত হয়ে পাপে নিমজ্জিত হতো। কেননা যে ব্যক্তি কোনো সুন্দর রূপ দেখে এবং তাতে আসক্ত হয়, অতঃপর শরিয়তের নিষেধাজ্ঞার কারণে বা তা লাভে অক্ষমতার কারণে যদি সে তা না পায়, তবে তার অন্তর যন্ত্রণায় ভোগে। আর যদি সে তাতে সামর্থ্য লাভ করে নিষিদ্ধ কাজ করে ফেলে, তবে সে ধ্বংস হয়ে যায়। আর বৈধ পন্থায় নারীদের সাথে ঘর-সংসার করার মধ্যেও পরীক্ষা রয়েছে। এটিই ছিল তার ‘আমাকে ফিতনায় ফেলবেন না’ উক্তির প্রেক্ষাপট। আল্লাহ তাআলা বলেন: {জেনে রেখো, তারা তো ফিতনার মধ্যেই নিপতিত হয়েছে}। অর্থাৎ: তার ওয়াজিব জিহাদ থেকে বিমুখ হওয়া, তা থেকে পিছিয়ে পড়া, ইমানের দুর্বলতা এবং অন্তরের ব্যাধি যা তার কাছে জিহাদ বর্জনকে সুশোভিত করেছে—এগুলোই হলো এক মহা ফিতনা যাতে সে নিপতিত হয়েছে। তাহলে সে কীভাবে একটি ছোট ফিতনা যা তাকে এখনো আক্রান্ত করেনি, তা থেকে বাঁচার জন্য এমন এক মহা ফিতনায় নিপতিত হওয়ার মাধ্যমে নিষ্কৃতি খুঁজছে যা তাকে ইতিপূর্বেই গ্রাস করেছে! আল্লাহ তাআলা বলছেন: {আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং দ্বীন পূর্ণাঙ্গভাবে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়}। সুতরাং যে ব্যক্তি ফিতনা হবে—এই ভয়ে আল্লাহর নির্দেশিত লড়াই বর্জন করল, সে তো তার অন্তরের সন্দেহ, হৃদয়ের ব্যাধি এবং আল্লাহর নির্দেশিত জিহাদ ত্যাগের কারণে ফিতনাতেই নিপতিত হলো। অতএব এটি নিয়ে চিন্তা করুন! কারণ এটি একটি বিপজ্জনক স্থান। এ বিষয়ে মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত: একদল লোক ফিতনা দূর করার দাবিতে আদেশ দেয়, নিষেধ করে এবং লড়াই করে, অথচ তাদের এই কাজই হয় আরও বড় ফিতনা—যেমন উম্মাহর মধ্যে ঘটা ফিতনাগুলোতে লিপ্ত যুদ্ধরত খারিজিরা। আর অন্য একদল লোক সেই আদেশ, নিষেধ ও লড়াই থেকে পিছিয়ে থাকে যার মাধ্যমে দ্বীন পূর্ণাঙ্গভাবে আল্লাহর জন্য হতো এবং আল্লাহর বাণী সমুন্নত হতো, এই ভয়ে যে পাছে তারা ফিতনায় পড়ে যায়; অথচ তারা ইতিমধ্যেই ফিতনায় নিপতিত হয়েছে।"
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
-
صلاح العباد بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر:قال رحمه الله: " صلاح العباد بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر؛ فإن صلاح المعاش والعباد في طاعة الله ورسوله، ولا يتم ذلك إلا بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وبه صارت هذه الأمة خير أمة أخرجت للناس، قال الله تعالى: {كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ}، وقال تعالى: {وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ}، وقال تعالى: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ}، وقال تعالى عن بني إسرائيل: {كَانُوا لا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُون}، وقال تعالى: {فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ أَنجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُوا بِعَذَابٍ بَئِيسٍ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُون} "
(1).
-
الأصل في هذه القواعد الكتاب والسنة:قال رحمه الله في بيان الأصل الذي بنيت عليه هذه الرسالة - السياسة الشرعية: " وهذه رسالة مبنية على آية الأمراء في كتاب الله وهي قوله تعالى: {إِنَّ اللهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤدُّوا الأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ النَّاسِ أَن تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ إِنَّ اللهَ نِعِمَّا يَعِظُكُم بِهِ إِنَّ اللهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا * يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلا} "
(2).
وقال أيضا رحمه الله في بيان الأصول الثلاثة التي تستمد منه هذه الأصول: " كتاب الله، وسنه رسوله صلى الله عليه وسلم وحبله المتين"
(3).
--------------------------------------------
-
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের মাধ্যমে বান্দাদের সংশোধন:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের মাধ্যমেই বান্দাদের সংশোধন সাধিত হয়; কেননা জীবনযাত্রা ও বান্দাদের সংশোধন নিহিত রয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের মধ্যে। আর সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ ব্যতীত এটি পূর্ণতা পায় না। এর মাধ্যমেই এই উম্মত মানুষের জন্য বের করা শ্রেষ্ঠ উম্মতে পরিণত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো}, মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎ কাজের আদেশ দেবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে}, মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর মুমিন নর ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু; তারা সৎ কাজের আদেশ দেয় ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে}, মহান আল্লাহ বনী ইসরাঈল সম্পর্কে বলেন: {তারা একে অন্যকে সেসব মন্দ কাজ হতে নিষেধ করত না যা তারা করত; তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট!} এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তারা যখন তা ভুলে গেল, তখন আমি তাদেরকে মুক্তি দিলাম যারা মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করত এবং যারা জুলুম করেছিল তাদেরকে তাদের পাপাচারের কারণে কঠোর শাস্তির মাধ্যমে পাকড়াও করলাম।}"
(১).
-
এই সকল মূলনীতির ভিত্তি হলো কিতাব ও সুন্নাহ:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ‘আস-সিয়াসাহ আশ-শারইয়্যাহ’ নামক এই প্রবন্ধটি যে ভিত্তির ওপর রচিত হয়েছে তার বর্ণনায় বলেন: "এই প্রবন্ধটি আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত শাসকদের সংক্রান্ত আয়াতের ওপর ভিত্তি করে রচিত, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ইনসাফের সাথে বিচার করো। আল্লাহ তোমাদেরকে যে উপদেশ দিচ্ছেন তা কতই না চমৎকার! নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের)। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণামে অতি উত্তম।}"
(২).
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন সেই তিনটি মূল উৎসের বর্ণনায় যা থেকে এই মূলনীতিসমূহ গৃহীত হয়েছে: "আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ এবং তাঁর মজবুত রশি।"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
-
الأصل في المعاملات والعبادات:قال رحمه الله: " والأصل في هذا أنه لا يحرم على الناس من المعاملات التي يحتاجون إليها إلا ما دل الكتاب والسنة على تحريمه، كما لا يشرع لهم من العبادات التي يتقربون بها إلى الله، إلا ما دل الكتاب والسنة على شرعه؛ إذ الدين ما شرعه الله، والحرام ما حرمه الله؛ بخلاف الذين ذمهم الله، حيث حرموا من دين الله ما لم يحرمه الله، وأشركوا به ما لم ينزل به سلطانا، وشرعوا لهم من الدين ما لم يأذن به الله، اللهم وفقنا لأن نجعل الحلال ما حللته، والحرام ما حرمته، والدين ما شرعته"
(1).
-
الإجماع حجة، ومن أدلته قوله تعالى: {كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ}:قال رحمه الله: " ولهذا كان إجماع هذه الأمة حجة لأن الله قد أخبر انهم يأمرون بكل معروف وينهون عن كل منكر فلو اتفقوا على إباحة محرم أو إسقاط واجب أو تحريم حلال أو إخبار عن الله أو خلقه بباطل لكانوا متصفين بالأمر بمنكر والنهي عن معروف، والأمر بالمنكر والنهي عن المعروف ليس من الكلم الطيب والعمل الصالح؛ بل الآية
(2) تقتضي أن ما لم تأمر به الأمة فليس من المعروف، وما لم تنه عنه فليس من المنكر، وإذا كانت آمرة بكل معروف ناهية عن كل منكر؛ فكيف يجوز أن تأمر كلها بمنكر، أو تنهي كلها عن معروف، والله سبحانه وتعالى كما أخبر بأنها تأمر بالمعروف وتنهى عن المنكر فقد أوجب ذلك على الكفاية منها بقوله: {وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُون} "
(3).
-
--------------------------------------------
-
লেনদেন ও ইবাদতের মূলনীতি:তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: "এ ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, মানুষের প্রয়োজনীয় লেনদেনের মধ্য থেকে কোনো কিছুই তাদের জন্য হারাম করা হবে না, যতক্ষণ না কিতাব ও সুন্নাহ তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে প্রমাণ পেশ করে। একইভাবে, আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে তাদের জন্য এমন কোনো ইবাদত প্রবর্তন করা হবে না, যতক্ষণ না কিতাব ও সুন্নাহ তা বিধিবদ্ধ হওয়ার প্রমাণ দেয়। কেননা দ্বীন হলো তা-ই যা আল্লাহ প্রবর্তন করেছেন, আর হারাম হলো তা-ই যা আল্লাহ হারাম করেছেন। এর বিপরীতে আল্লাহ তাদের নিন্দা করেছেন, যারা আল্লাহর দ্বীনের এমন কিছু হারাম করেছে যা আল্লাহ হারাম করেননি এবং আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরিক করেছে যার পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি, আর দ্বীনের নামে এমন কিছু প্রবর্তন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি। হে আল্লাহ! আপনি যা হালাল করেছেন তাকেই হালাল মানার, আপনি যা হারাম করেছেন তাকেই হারাম মানার এবং আপনি যা প্রবর্তন করেছেন তাকেই দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করার তাওফিক আমাদের দান করুন।"
(১).
-
ঐক্যমত (إجماع) একটি অকাট্য দলিল (حجة), আর এর অন্যতম প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদের মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করো}:তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: "এই কারণেই এই উম্মতের ঐক্যমত (إجماع) একটি অকাট্য দলিল (حجة); কারণ আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা প্রতিটি সৎকাজের আদেশ দেবে এবং প্রতিটি অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। সুতরাং তারা যদি কোনো হারামকে বৈধ করার ব্যাপারে, কিংবা কোনো আবশ্যক (واجب) দায়িত্ব বর্জন করার ব্যাপারে, কিংবা কোনো হালালকে হারাম করার ব্যাপারে, অথবা আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে কোনো মিথ্যা সংবাদ দেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়, তবে তারা অসৎকাজের আদেশদাতা এবং সৎকাজে নিষেধকারী হিসেবে গণ্য হবে। অথচ অসৎকাজের আদেশ এবং সৎকাজে নিষেধ করা উত্তম কথা ও নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এই আয়াত
(২) দাবি করে যে, এই উম্মত যে কাজের আদেশ দেয়নি তা সৎকাজ (মারুফ) নয়, আর যা থেকে তারা নিষেধ করেনি তা অসৎকাজ (মুনকার) নয়। আর যখন তারা প্রতিটি সৎকাজের আদেশদানকারী এবং প্রতিটি অসৎকাজের নিষেধকারী হবে, তখন কীভাবে এটা সম্ভব যে তারা সবাই মিলে কোনো অসৎকাজের আদেশ দেবে অথবা কোনো সৎকাজ থেকে নিষেধ করবে? মহান আল্লাহ যেমন সংবাদ দিয়েছেন যে তারা সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে, তেমনি তিনি তাদের মধ্য থেকে একটি দলের ওপর তা পর্যাপ্ততার ভিত্তিতে আবশ্যক (فرض كفاية) হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {তোমাদের মধ্যে এমন একদল যেন থাকে যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান জানাবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই হলো সফলকাম।}"
(৩).
-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
المحمود ما حمده الله ورسوله:قال رحمه الله: " والفرقان أن يحمد من ذلك ما حمده الله ورسوله؛ فإن الله تعالى هو الذى حمده زين وذمه شين دون غيره من الشعراء والخطباء وغيرهم، ولهذا لما قال القائل من بني تميم للنبي صلى الله عليه وسلم: "إن حمدي زين، وذمي شين، قال له: «ذاك الله»، والله سبحانه حمد الشجاعة والسماحة في سبيله، كما في الصحيح عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: قيل يا رسول الله: الرجل يقاتل شجاعة، ويقاتل حمية، ويقاتل رياء، فأي ذلك في سبيل الله؟ فقال: «من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا فهو في سبيل الله»، وقال: قال سبحانه: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلّه}، وذلك أن هذا هو المقصود الذي خلق الله الخلق له، كما قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنسَ إِلَاّ لِيَعْبُدُون}، فكل ما كان لأجل الغاية التي خلق له الخلق كان محمودا عند الله، وهو الذي يبقى لصاحبه وينفعه الله به، وهذه الأعمال هي الباقيات الصالحات"
(1).
-
موافقة الشرع في الحب والبغض:قال رحمه الله: " وأصل هذا أن تكون محبة الإنسان للمعروف وبغضه للمنكر، وإرادته لهذا وكراهته لهذا موافقا لحب الله وبغضه وإرادته وكراهته الشرعيتين "
(2).
-
الإخلاص لله والمتابعة للرسول صلى الله عليه وسلم:قال رحمه الله في بيان أهمية الإخلاص في الأعمال: " النية للعمل كالروح للجسد"
(3).
وقال أيضا- رحمه الله: " فالمؤمن إذا كانت له نية، أثيب على عامة أفعاله، وكانت المباحات من صالح أعماله لصلاح قلبه ونيته، والمنافق -لفساد قلبه ونيته- يعاقب على ما يظهره من العبادات رياء، فإن في الصحيح أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ألا إن في الجسد مضغة إذا صلحت صلح لها سائر الجسد، وإذا فسدت فسد لها سائر الجسد، ألا وهي القلب» "
(4).
--------------------------------------------
প্রশংসিত হলো তা-ই, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যা প্রশংসা করেছেন:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আর মানদণ্ড হলো তা-ই যার প্রশংসা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল করেছেন; কেননা মহান আল্লাহই হলেন তিনি, যাঁর প্রশংসা হলো সৌন্দর্য এবং যাঁর নিন্দা হলো কলঙ্ক—অন্য কোনো কবি, বাগ্মী বা অন্য কারো ক্ষেত্রে এমনটি নয়। এ কারণেই বনু তামিম গোত্রের এক ব্যক্তি যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছিল: 'নিশ্চয়ই আমার প্রশংসা সৌন্দর্য এবং আমার নিন্দা কলঙ্ক', তখন তিনি তাকে বলেছিলেন: 'তা তো আল্লাহ'। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর পথে বীরত্ব এবং দানশীলতার প্রশংসা করেছেন, যেমন আবু মুসা আল-আশআরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সহিহ (صحيح) হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! কোনো ব্যক্তি বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে, কোনো ব্যক্তি আত্মমর্যাদাবোধ থেকে যুদ্ধ করে, আবার কোনো ব্যক্তি লোকদেখানোর (رياء) জন্য যুদ্ধ করে; এর মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে? তিনি বললেন: 'যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য যুদ্ধ করে, সেই আল্লাহর পথে'। আর তিনি বলেছেন: মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং দ্বীন পুরোপুরি আল্লাহর জন্য হয়ে যায়}। আর এটিই সেই উদ্দেশ্য যার জন্য আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি}। অতএব, যা কিছু সেই লক্ষ্যের জন্য হবে যার জন্য সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তা আল্লাহর নিকট প্রশংসিত। আর এটিই সেই বিষয় যা তার কর্তার জন্য অবশিষ্ট থাকে এবং আল্লাহ এর মাধ্যমে তাকে উপকৃত করেন। আর এই আমলগুলোই হলো চিরস্থায়ী নেক আমল"
(১).
-
ভালোবাসা ও ঘৃণার ক্ষেত্রে শরিয়তের অনুসরণ:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এর মূল ভিত্তি হলো যে, সৎকাজের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এবং অসৎকাজের প্রতি ঘৃণা, আর কোনো কিছুর প্রতি তার ইচ্ছা বা অনীহা যেন আল্লাহর ভালোবাসা, ঘৃণা, ইচ্ছা ও অপছন্দের শরয়ি বিধানের অনুকূলে হয়"
(২).
-
আল্লাহর প্রতি ইখলাস এবং রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আমলের ক্ষেত্রে ইখলাসের গুরুত্ব বর্ণনায় বলেছেন: "আমলের জন্য নিয়ত হলো দেহের জন্য প্রাণের মতো"
(৩).
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: "মুমিন যখন কোনো নিয়ত পোষণ করে, তখন সে তার সকল সাধারণ কাজের জন্যও সওয়াব লাভ করে এবং তার অন্তরের বিশুদ্ধতা ও নিয়তের কারণে তার বৈধ কাজগুলোও নেক আমলে পরিণত হয়। আর মুনাফিক—তার অন্তরের কলুষতা ও কুনিয়তের কারণে—তার প্রকাশ্য ইবাদতে লোকদেখানোর (رياء) কারণে শাস্তিযোগ্য হয়। কেননা সহিহ (صحيح) হাদিসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «জেনে রেখো, শরীরের ভেতরে একটি মাংসপিণ্ড আছে; যদি তা সংশোধিত হয় তবে পুরো শরীরই সংশোধিত হয়, আর যদি তা কলুষিত হয় তবে পুরো শরীরই কলুষিত হয়; জেনে রেখো, সেটি হলো কলব (অন্তর)»"
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقال أيضا- رحمه الله: " فصل وإذا كانت جميع الحسنات لا بد فيها من شيئين: أن يراد بها وجه الله، وأن تكون موافقة للشريعة؛ فهذا في الأقوال والأفعال في الكلم الطيب والعمل الصالح، في الأمور العلمية والأمور العملية العبادية"
(1).
وقال أيضا- رحمه الله: " ففي هذه الأمور العلمية الكلامية يحتاج المخبر بها أن يكون ما يخبر به عن الله واليوم الآخر، وما كان وما يكون حقا وصوابا، وما يأمر به وما ينهي عنه، كما جاءت به الرسل عن الله فهذا هو الصواب الموافق للسنة والشريعة المتبع لكتاب الله وسنة رسوله، كما أن العبادات التي يتعبد العباد بها إذا كانت مما شرعة الله وأمر الله به ورسوله كانت حقا صوابا موافقا لما بعث الله به رسله، وما لم يكن كذلك من القسمين كان من الباطل والبدع المضلة والجهل؛ وإن كان يسميه من يسميه علوما ومعقولات وعبادات ومجاهدات وأذواقا ومقامات، ويحتاج أيضا أن يؤمر بذلك لأمر الله به، وينهى عنه لنهي الله عنه، ويخبر بما أخبر الله به؛ لأنه حق وإيمان وهدى كما أخبرت به الرسول، كما تحتاج العبادة إلى أن يقصد بها وجه الله، فإذا قيل ذلك لاتباع الهوى والحمية أو لإظهار العلم والفضيلة أو لطلب السمعة والرياء كان بمنزلة المقاتل شجاعة وحمية ورياء"
(2).
وقال أيضا- رحمه الله: " ثم كل من الأقسام الثلاثة: المأمور به، والمحظور، والمشتمل على الأمرين قد يكون لصاحبه نية حسنة، وقد يكون متبعا لهواه، وقد يجتمع له هذا وهذا، فهذه تسعة أقسام في هذه الأمور: في الأموال المنفقة عليها من الأموال السلطانية الفيء وغيره، والأموال الموقوفة، والأموال الموصى بها، والأموال المنذورة، وأنواع العطايا والصدقات والصلات، وهذا كله من لبس الحق بالباطل، وخلط عمل صالح وآخر سيء، والسيء من ذلك قد يكون صاحبه مخطئا، أو ناسيا مغفورا له كالمجتهد المخطئ الذي له أجر وخطؤه مغفور له، وقد يكون صغيرا مكفرا باجتناب الكبائر، وقد يكون مغفورا بتوبة أو بحسنات تمحو السيئات أو مكفرا بمصائب الدنيا ونحو ذلك؛ إلا أن دين الله الذي أنزل به كتبه وبعث به رسله ما تقدم من إرادة الله وحده بالعمل الصالح"
(3).
--------------------------------------------
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: "পরিচ্ছেদ: যেহেতু সকল নেক আমলের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় থাকা অপরিহার্য: একটি হলো এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য থাকা, আর দ্বিতীয়টি হলো তা শরীয়ত (شريعة) সম্মত হওয়া; এই নীতি কথা ও কাজ, উত্তম বাক্য ও সৎকর্ম এবং ইলমি বিষয় ও আমল বা ইবাদত সংক্রান্ত ব্যবহারিক বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য"
(১).
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: "এই ইলমি ও কালাম শাস্ত্রীয় বিষয়গুলোতে সংবাদ প্রদানকারীর জন্য প্রয়োজন যে, তিনি আল্লাহ ও পরকাল এবং অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যা সংবাদ দিচ্ছেন তা যেন সত্য ও সঠিক হয়। তিনি যে বিষয়ের নির্দেশ দেন এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা যেন তেমন হয় যেমনটি রাসূলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছেন। এটিই হলো সুন্নাহ ও শরীয়ত (شريعة) সম্মত সঠিক পথ এবং যা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর অনুসারী। একইভাবে বান্দাগণ যে ইবাদতের মাধ্যমে উপাসনা করে, তা যদি আল্লাহ কর্তৃক প্রবর্তিত এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত হয়, তবে তা সত্য, সঠিক এবং রাসূলগণকে যে বিষয়ের ওপর পাঠানো হয়েছে তার সাথে সংগতিপূর্ণ। আর উভয় প্রকারের মধ্যে যা এর বিপরীত হবে, তা বাতিল, ভ্রষ্ট বিদআত (بدع) এবং অজ্ঞতা হিসেবে গণ্য হবে; যদিও কোনো নামদানকারী একে জ্ঞান, যুক্তি, ইবাদত, মুজাহাদা, আধ্যাত্মিক স্বাদ বা মাকামাত হিসেবে নামকরণ করুক না কেন। আরও প্রয়োজন হলো, নির্দেশটি যেন আল্লাহর নির্দেশের কারণে দেওয়া হয়, নিষেধটি যেন আল্লাহর নিষেধের কারণে করা হয় এবং সংবাদটি যেন আল্লাহর সংবাদ অনুযায়ী প্রদান করা হয়; কারণ তা সত্য, ঈমান ও হেদায়েত যেমনটি রাসূল সংবাদ দিয়েছেন। ঠিক যেমন ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন, তেমনি যদি কোনো কিছু প্রবৃত্তির অনুসরণ, পক্ষপাতিত্ব, ইলম ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন অথবা খ্যাতি ও লোক দেখানোর জন্য বলা হয়, তবে তা সেই ব্যক্তির মতো হবে যে সাহসিকতা, পক্ষপাতিত্ব এবং লোক দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে"
(২).
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: "অতঃপর তিনটি প্রকারের প্রত্যেকটি—অর্থাৎ যা নির্দেশিত, যা নিষিদ্ধ এবং যা এই দুইয়েরই অন্তর্ভুক্ত—সেগুলোর কর্তার নিয়ত কখনো ভালো হতে পারে, কখনো সে প্রবৃত্তির অনুসারী হতে পারে, আবার কখনো এই দুইয়ের সমন্বয়ও হতে পারে। এই বিষয়গুলোতে নয়টি বিভাগ রয়েছে: যেমন রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ব্যয়কৃত অর্থ—ফাই (فيء) ও অন্যান্য—ওয়াকফকৃত সম্পদ, অসিয়তকৃত সম্পদ, মানত করা সম্পদ এবং বিভিন্ন প্রকার অনুদান, সদকা ও উপঢৌকন। এ সবই সত্যের সাথে মিথ্যার মিশ্রণ এবং নেক আমলের সাথে মন্দ আমলের সংমিশ্রণ। মন্দ কাজের ক্ষেত্রে কর্তা কখনো ভুলকারী হতে পারে অথবা বিস্মৃতিপরায়ণ হতে পারে যার অপরাধ ক্ষমাযোগ্য, যেমন ভুলকারী মুজতাহিদ (مجتهد) যার জন্য সওয়াব রয়েছে এবং তার ভুল ক্ষমাযোগ্য। আবার সেটি কবিরা গুনাহ বর্জনের মাধ্যমে মোচনযোগ্য সগিরা গুনাহও হতে পারে, কিংবা তওবা অথবা মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয় এমন নেক আমলের মাধ্যমে ক্ষমাযোগ্য হতে পারে, অথবা দুনিয়াবি বিপদ-আপদ ইত্যাদির মাধ্যমেও মোচন হতে পারে। তবে আল্লাহর সেই দ্বীন যার মাধ্যমে তিনি কিতাবসমূহ নাজিল করেছেন এবং রাসূলদের পাঠিয়েছেন, তা ইতিপূর্বে আলোচিত নেক আমলের মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির সংকল্প করার ওপরই প্রতিষ্ঠিত"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
-
معرفة حقوق الله:قال رحمه الله في تعريف حقوق الله: " اسم جامع لكل ما فيه منفعة عامة لا تختص بمعين، أو دفع مضرة عامة بما يتعلق بالدين أو الدنيا"
(1).
-
العلم والرفق والصبر في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر:قال رحمه الله: " فلا بد من هذه الثلاثة: العلم والرفق والصبر، العلم قبل الأمر، والنهي والرفق معه، والصبر بعده، وإن كان كل من الثلاثة لا بد أن يكون مستصحبا في هذه الأحوال، وهذا كما جاء في الأثر عن بعض السلف ورووه مرفوعا ذكره القاضي أبو يعلى في المعتمد: لا يأمر بالمعروف وينهى عن المنكر إلا من كان فقيها فيما يأمر به فقيها فما ينهي عنه، رفيقا فيما يأمر به رفيقا فيما ينهى عنه، حليما فيما يأمر به حليما فيما ينهى عنه"
(2).
-
طلب العلم الشرعي فرض على الكفاية إلا فيما يتعين:قال رحمه الله: " وطلب العلم الشرعي فرض على الكفاية إلا فيما يتعين، مثل طلب كل واحد علم ما أمره الله به وما نهاه عنه، فإنه فرض على الأعيان كما أخرجاه في الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من يرد الله به خيرًا يفقهه في الدين».
وكل من أراد الله به خيرًا، لا بد أن يفقهه في الدين، فمن لم يفقهه في الدين لم يرد الله به خيرًا.
والدين: ما بعث الله به رسوله، وهو ما يجب على المرء التصديق به والعمل به، وعلى كل أحد أن يصدق محمدًا صلى الله عليه وسلم فيما أخبر به، ويطيعه فيما أمر تصديقًا عامًا وطاعة عامة، ثم إذا ثبت عنه خبر كان عليه أن يصدق به مفصلًا، وإذا كان مأمورًا من جهة بأمر معين كان عليه أن يطيعه طاعة مفصلة"
(3).
--------------------------------------------
-
আল্লাহর অধিকার (حقوق الله) সম্পর্কে জ্ঞান:তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আল্লাহর অধিকারের (حقوق الله) সংজ্ঞায় বলেছেন: "এটি এমন একটি সমন্বিত নাম যা এমন সব সাধারণ কল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত করে যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য সীমাবদ্ধ নয়, অথবা দ্বীন বা দুনিয়া সংক্রান্ত কোনো সাধারণ ক্ষতি প্রতিরোধ করাকে বুঝায়"
(1).
-
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের ক্ষেত্রে জ্ঞান, নম্রতা ও ধৈর্য:তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: "এই তিনটি গুণ থাকা আবশ্যিক: জ্ঞান, নম্রতা ও ধৈর্য। আদেশের পূর্বে জ্ঞান, আদেশ ও নিষেধের সময় নম্রতা এবং এরপর ধৈর্য। যদিও এই তিনটির প্রত্যেকটিই সকল অবস্থায় থাকা প্রয়োজন। যেমনটি সালাফদের কোনো কোনো বর্ণনা (آثار) থেকে পাওয়া যায় এবং তাঁরা তা রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা কাজী আবু ইয়ালা 'আল-মুতামাদ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: 'সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ কেবল সেই ব্যক্তিই করবে, যে বিষয়ে সে আদেশ করছে সে বিষয়ে সে প্রাজ্ঞ/ফকিহ (فقيه), যে বিষয়ে সে নিষেধ করছে সে বিষয়ে সে প্রাজ্ঞ/ফকিহ (فقيه), যে বিষয়ে সে আদেশ করছে সে বিষয়ে নম্র এবং যে বিষয়ে সে নিষেধ করছে সে বিষয়ে নম্র, এবং যে বিষয়ে সে আদেশ করছে সে বিষয়ে সহনশীল এবং যে বিষয়ে সে নিষেধ করছে সে বিষয়ে সহনশীল'"
(2).
-
শরয়ী জ্ঞান অর্জন করা ফরজে কিফায়া (فرض على الكفاية), তবে যা প্রত্যেকের জন্য আবশ্যিক তা ব্যতীত:তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: "শরয়ী জ্ঞান অন্বেষণ করা ফরজে কিফায়া (فرض على الكفاية), তবে সেই পরিমাণ ব্যতীত যা অর্জন করা নির্দিষ্টভাবে আবশ্যক। যেমন প্রতিটি ব্যক্তির জন্য সেই জ্ঞান অর্জন করা যা আল্লাহ তাকে আদেশ করেছেন এবং যা থেকে তাকে নিষেধ করেছেন; কেননা এটি প্রত্যেকের ওপর ব্যক্তিগতভাবে ফরজ (فرض على الأعيان)। যেমনটি তাঁরা উভয়ে (বুখারি ও মুসলিম) সহিহ গ্রন্থে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: «আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন»।
আর আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে অবশ্যই দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করবেন। সুতরাং যাকে তিনি দ্বীনের জ্ঞান দান করেননি, আল্লাহ তার কল্যাণ চাননি।
আর দ্বীন হলো তা-ই, যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে পাঠিয়েছেন; আর এটি তা-ই যা মানুষের জন্য বিশ্বাস করা এবং আমল করা ওয়াজিব। প্রত্যেকের ওপর ওয়াজিব হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা সংবাদ দিয়েছেন সে বিষয়ে তাঁকে সাধারণভাবে সত্যায়ন করা এবং তিনি যা আদেশ করেছেন তাতে সাধারণভাবে আনুগত্য করা। অতঃপর তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সংবাদ প্রমাণিত হলে, বিস্তারিতভাবে তা বিশ্বাস করা তার ওপর আবশ্যক হয়। আর যদি কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে কোনো নির্দেশ প্রদান করা হয়, তবে বিস্তারিতভাবে তাঁর আনুগত্য করা তার ওপর আবশ্যক হয়"
(3).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
-
أهمية العلم في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر:قال رحمه الله: " وإذا كان هذا حد كل عمل صالح فالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر يجب أن يكون كذلك هذا في حق الأمر الناهي بنفسه ولا يكون عمله صالحا إن لم يكن بعلم وفقه، كما قال عمر بن عبد العزيز: "من عبدالله بغير علم كان ما يفسد اكثر مما يصلح"، وكما في حديث معاذ بن جبل رضي الله عنه: "العلم إمام العمل، والعمل تابعه"، وهذا ظاهر؛ فإن القصد والعمل إن لم يكن بعلم كان جهلا وضلالا واتباعا للهوى"
(1).
وقال أيضا رحمه الله: " فلا بد من العلم بالمعروف والمنكر والتمييز بينهما، ولا بد من العلم بحال المأمور وحال المنهي، ومن الصلاح أن يأتي بالأمر والنهي على الصراط المستقيم، وهو أقرب الطرق إلى حصول المقصود"
(2).
-
مراعاة الشريعة والعلم في الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر:قال رحمه الله: " وهنا يغلط فريقان من الناس، فريق يترك ما يجب من الأمر والنهي تأويلا لهذه الآية كما قال أبو بكر الصديق رضي الله عنه في خطبته: أيها الناس إنكم تقرؤون هذه الآية: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنفُسَكُمْ لا يَضُرُّكُم مَّن ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ}، وإنكم تضعونها في غير موضعها، وإني سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «إن الناس إذا رأوا المنكر فلم يغيروه أو شك أن يعمهم الله بعقاب منه».
والفريق الثاني: من يريد أن يأمر وينهي إما بلسانه وإما بيده مطلقا من غير فقه ولا حكم، ولا صبر ولا نظر في ما يصلح من ذلك وما لا يصلح، وما يقدر عليه وما لا يقدر، كما في حديث أبي ثعلبه الخشني سألت عنها أي الآية رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «بل ائتمروا بالعروف، وتناهوا عن المنكر، حتى إذا رأيت شحا مطاعا وهوى متبعا ودينا مؤثرة وإعجاب كل ذي رأى برأيه، ورأيت امرأ لا يدان لك به فعليك بنفسك ودع عنك أمر العوام، فإن من ورائك أيام الصبر، الصبر فيهن مثل قبض على الجمر، للعامل فيهن كأجر خمسين رجلا يعملون مثل عمله»، فيأتي بالأمر والنهي معتقدا أنه مطيع في ذلك لله ورسوله وهو معتد في حدوده"
(3).
--------------------------------------------
-
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ (منكر) নিষেধের ক্ষেত্রে ইলমের গুরুত্ব:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আর যদি এটিই প্রতিটি নেক আমলের মানদণ্ড হয়, তবে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ (منكر) নিষেধের বিষয়টিও অনুরূপ হওয়া আবশ্যক। এটি স্বয়ং আদেশদানকারী ও নিষেধকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; তার কাজ ততক্ষণ পর্যন্ত সৎকর্ম হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না তা ইলম ও ফিকহ (গভীর প্রজ্ঞা) অনুযায়ী হয়। যেমনটি উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বলেছেন: 'যে ব্যক্তি ইলম ছাড়া আল্লাহর ইবাদত করে, সে সংশোধনের চেয়ে বিপর্যয়ই বেশি ঘটায়।' আর যেমনটি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এসেছে: 'ইলম হলো আমলের ইমাম, আর আমল তার অনুগামী।' এটি সুষ্পষ্ট; কারণ উদ্দেশ্য এবং আমল যদি ইলম অনুযায়ী না হয়, তবে তা মূর্খতা, পথভ্রষ্টতা এবং প্রবৃত্তির অনুসরণে পরিণত হয়"
(১).
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: "সুতরাং মারুফ (সৎকাজ) ও মুনকার (অসৎকাজ (منكر)) সম্পর্কে জ্ঞান থাকা এবং এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করতে পারা অপরিহার্য। তেমনিভাবে যাকে আদেশ করা হচ্ছে এবং যাকে নিষেধ করা হচ্ছে, তাদের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান থাকাও আবশ্যক। আর সংশোধনের একটি দিক হলো আদেশ ও নিষেধের কাজকে সিরাতুল মুস্তাকিম (সরল পথ) অনুযায়ী পরিচালনা করা, যা লক্ষ্য অর্জনের নিকটতম পথ"
(২).
-
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ (منكر) নিষেধের ক্ষেত্রে শরিয়ত ও ইলমের অনুসরণ:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এখানে মানুষের মধ্যে দুটি দল ভুল করে। একদল এই আয়াতের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে আবশ্যক আদেশ ও নিষেধ বর্জন করে, যেমনটি আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর খুতবায় বলেছিলেন: 'হে লোকসকল! তোমরা এই আয়াতটি পাঠ করো: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর তোমাদের নিজেদের দায়িত্ব। তোমরা যখন হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছ, তখন যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না}। অথচ তোমরা একে ভুল স্থানে প্রয়োগ করো। আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই মানুষ যখন কোনো অসৎকাজ (منكر) দেখেও তা পরিবর্তন করে না, তখন অচিরেই আল্লাহ তাদের সকলকে তাঁর আজাব দিয়ে বেষ্টন করবেন»।
আর দ্বিতীয় দল হলো: যারা ফিকহ, হিকমত (প্রজ্ঞা), ধৈর্য এবং কোনটি উপযুক্ত আর কোনটি নয়, কিংবা কোনটি করার সামর্থ্য আছে আর কোনটি নেই—এসব বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই ঢালাওভাবে কেবল মুখ বা হাত দিয়ে আদেশ ও নিষেধ করতে চায়। যেমনটি আবু সা'লাবা আল-খুশানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আমি এই আয়াত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: «বরং তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎকাজ (منكر) থেকে নিষেধ করো। পরিশেষে যখন দেখবে লোভের আনুগত্য করা হচ্ছে, প্রবৃত্তির অনুসরণ করা হচ্ছে, পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি নিজ মতে মুগ্ধ, আর তুমি এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছ যা মোকাবিলার শক্তি তোমার নেই, তখন তুমি নিজের চিন্তায় মনোযোগী হও এবং সাধারণ মানুষের বিষয় ত্যাগ করো। কারণ তোমাদের পেছনে ধৈর্যের দিনগুলো আসছে; সেই সময়ে ধৈর্য ধারণ করা জ্বলন্ত অঙ্গার হাতের মুঠোয় রাখার মতো। তখন যে ব্যক্তি (সৎ) আমল করবে, সে তোমাদের মতো আমলকারী পঞ্চাশ জন লোকের সমান সওয়াব পাবে»। ফলে সে আদেশ ও নিষেধের কাজ করে এবং মনে করে যে সে এতে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করছে, অথচ বাস্তবে সে আল্লাহর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘনকারী"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
-
من لم يتبع العلم فقد اتبع هواه:قال رحمه الله: " كل من لم يتبع العلم فقد اتبع هواه، والعلم بالدين لا يكون إلا بهدي الله الذي بعث به رسوله صلى الله عليه وسلم، ولهذا قال الله تعالى في موضع: {وَإِنَّ كَثِيرًا لَّيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِم بِغَيْرِ عِلْمٍ}، وقال في موضع أخر: {وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِّنَ اللَّهِ}، فالواجب على العبد أن ينظر في نفس حبه وبغضه ومقدار حبه وبغضه هل هو موافق لأمر الله ورسوله وهو هدى الله الذي أنزله على رسوله صلى الله عليه وسلم، بحيث يكون مأمورا بذلك الحب والبغض لا يكون متقدما فيه بين يدي الله ورسوله؛ فإنه قد قال تعالى: {لا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ}، ومن أحب أو ابغض قبل أن يأمره الله ورسوله ففيه نوع من التقدم بين يدي الله ورسوله، ومجرد الحب والبغض هو هوى؛ لكن المحرم منه اتباع حبه وبغضه بغير هدى من الله، ولهذا قال الله لنبيه داود: {وَلا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ}، فأخبر أن من اتبع هواه أضله ذلك عن سبيل الله وهو هداه الذي بعث به رسوله وهو السبيل إليه"
(1).
واجبات الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر-
الناس ثلاثة أقسام في إنكار المنكر:قال رحمه الله: " والناس هنا ثلاثة أقسام: قوم لا يقومون إلا في أهواء نفوسهم؛ فلا يرضون إلا بما يعطونه ولا يغضبون إلا لما يحرمونه، فإذا أعطى أحدهم ما يشتهيه من الشهوات الحلال أو الحرام زال غضبه وحصل رضاه، وصار الأمر الذي كان عنده منكرا ينهى عنه ويعاقب عليه ويذم صاحبه ويغضب عليه مرضيا عنه، وصار فاعلا له، وشريكا فيه، ومعاونا عليه، ومعاديا لمن ينهى عنه وينكر عليه، وهذا غالب في بني آدم، يرى الإنسان ويسمع من ذلك ما لا يحصيه إلا الله؛ وسببه أن الإنسان ظلوم جهول؛ فلذلك لا يعدل بل ربما كان ظالما في الحالين، يرى قوما ينكرون على المتولي ظلمه لرعيته واعتداءه عليهم فيرضي أولئك المنكرين ببعض الشيء من منصب أو مال فينقلبون أعوانا له، وأحسن أحوالهم أن يسكنوا عن الإنكار عليه، وكذلك تراهم ينكرون على من يشرب الخمر ويزني ويسمع الملاهي حتى يدخلوا أحدهم معهم في ذلك أو يرضوه ببعض ذلك، فتراه حينئذ قد صار عونا لهم، وهؤلاء قد يعودون بإنكارهم إلى أقبح من الحال التي كانوا عليها، وقد يعودون إلى ما هو دون ذلك أو نظيره.
--------------------------------------------
-
যে ইলম অনুসরণ করে না, সে মূলত নিজ প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যে ব্যক্তিই ইলম অনুসরণ করে না, সে মূলত নিজ প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। আর দ্বীনি ইলম কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সেই হিদায়াত দ্বারাই অর্জিত হতে পারে, যা দিয়ে তিনি তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রেরণ করেছেন। এজন্যই আল্লাহ তাআলা এক স্থানে বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই অনেকে না জেনে নিজেদের খেয়াল-খুশি দ্বারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে}, এবং অন্য স্থানে বলেছেন: {যে আল্লাহর হিদায়াত অগ্রাহ্য করে নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে?}। সুতরাং বান্দার কর্তব্য হলো তার ভালোবাসা ও ঘৃণা এবং এর মাত্রার দিকে লক্ষ্য করা—তা কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত পথের অনুকূলে কি না? যা মূলত সেই হিদায়াত যা আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি নাযিল করেছেন। যেন তার এই ভালোবাসা ও ঘৃণা আদিষ্ট বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আগে বেড়ে কিছু না করে। কারণ তিনি বলেছেন: {তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আগে বেড়ে কিছু করো না}। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশের পূর্বেই কাউকে ভালোবাসল বা ঘৃণা করল, তার মধ্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আগে বেড়ে চলার এক প্রকার বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। নিছক ভালোবাসা বা ঘৃণা হলো প্রবৃত্তি; তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা হিদায়াত ব্যতিরেকে এই ভালোবাসা ও ঘৃণার অনুসরণ করা হারাম। একারণেই আল্লাহ তাঁর নবী দাউদ (আলাইহিস সালাম)-কে বলেছেন: {তুমি প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, কেননা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি}। সুতরাং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করবে, তা তাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে; আর সেই পথই হলো তাঁর হিদায়াত যা দিয়ে তিনি তাঁর রাসূলকে প্রেরণ করেছেন এবং তা-ই তাঁর নিকট পৌঁছানোর একমাত্র পথ"
(1)।
সৎ কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের (منكر) নিষেধের আবশ্যকতা-
মন্দ কাজ (منكر) প্রতিরোধের ক্ষেত্রে মানুষ তিন ভাগে বিভক্ত:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এ ক্ষেত্রে মানুষ তিন প্রকার: একদল লোক যারা কেবল তাদের নফসের প্রবৃত্তির কারণেই কোনো কাজে লিপ্ত হয়; তারা যা পায় তাতেই সন্তুষ্ট হয় এবং যা থেকে বঞ্চিত হয় কেবল তাতেই ক্রুদ্ধ হয়। যদি তাদের কাউকে তাদের কাঙ্ক্ষিত হালাল বা হারাম প্রবৃত্তি প্রদান করা হয়, তবে তার ক্রোধ চলে যায় এবং সে সন্তুষ্ট হয়। এমতাবস্থায় যে বিষয়টি তার কাছে আগে মন্দ কাজ (منكر) হিসেবে গণ্য ছিল, যা থেকে সে নিষেধ করত, যার জন্য শাস্তি দিত, যার কর্তাকে নিন্দা করত এবং যার ওপর সে রাগান্বিত ছিল—এখন তা-ই তার কাছে সন্তোষজনক হয়ে যায়। এমনকি সে নিজেও তা করতে শুরু করে, তাতে শরিক হয়, তাতে সহযোগিতা করে এবং যে ব্যক্তি তা থেকে নিষেধ করে ও প্রতিবাদ করে তার সাথে শত্রুতা শুরু করে। বনী আদমের মধ্যে এটাই অধিক দেখা যায়। মানুষ এর এত উদাহরণ দেখে ও শোনে যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ গণনা করতে পারবে না। এর কারণ হলো মানুষ অত্যন্ত যালিম ও অজ্ঞ; একারণেই সে ইনসাফ করে না, বরং উভয় ক্ষেত্রেই সে যালিম হয়। সে দেখে একদল লোক শাসকের প্রজাদের ওপর যুলুম ও সীমালঙ্ঘনের প্রতিবাদ করছে, অতঃপর শাসক তাদের কোনো পদমর্যাদা বা অর্থ-সম্পদ দিয়ে সন্তুষ্ট করে দেয়, ফলে তারা তার সহযোগীতে পরিণত হয়। তাদের সর্বোত্তম অবস্থা হলো তারা প্রতিবাদ করা থেকে বিরত থাকে। অনুরূপভাবে আপনি তাদের দেখবেন যে, তারা মদ পানকারী, ব্যভিচারী বা বাদ্যযন্ত্র শ্রবণকারীর প্রতিবাদ করছে; যতক্ষণ না তারা নিজেরা তাদের সাথে তাতে লিপ্ত হয় অথবা তারা তাকে কোনো কিছুর মাধ্যমে সন্তুষ্ট করে দেয়। তখন আপনি দেখবেন সে তাদের সহযোগীতে পরিণত হয়েছে। এই শ্রেণির লোকেরা অনেক সময় তাদের প্রতিবাদের পর পূর্বের অবস্থার চেয়েও জঘন্য অবস্থায় ফিরে যায়, অথবা তার চেয়ে কিছুটা লঘু বা সমপর্যায়ের মন্দ কাজে লিপ্ত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقوم يقومون قومه ديانة صحيحة، يكونون في ذلك مخلصين لله، مصلحين فيما عملوه ويستقيم لهم ذلك حتى يصبروا على ما أوذوا، فهؤلاء هم الذين آمنوا وعملوا الصالحات، وهم من خير أمة أخرجت للناس، يأمرون بالمعروف، وينهون عن المنكر، ويؤمنون بالله.
وقوم يجتمع فيهم هذا وهذا، وهم غالب المؤمنين، فمن فيه دين وله شهوة تجتمع في قلوبهم إرادة الطاعة وإرادة المعصية، وربما غلب هذا تارة وهذا تارة.
وهذه القسمة الثلاثية كما قيل: الأنفس ثلاث: أمارة ومطمئنة ولوامة، فالأولون هم أهل الأنفس الأمارة التي تأمرهم بالسوء، والأوسطون: هم أهل النفوس المطمئنة التي قيل فيها: يا أيتها النفس المطمئنة ارجعي إلى ربك راضية مرضية فادخلي في عبادي وادخلي جنتي، والآخرون: هم أهل النفوس اللوامة التي تفعل الذنب ثم تلوم عليه، وتتلوم تارة كذا وتارة كذا، أو تخلط عملا صالحا وأخر سيئا، وهؤلاء يرجى أن يتوب عليهم إذا اعترفوا بذنوبهم، كما قال الله تعالى: {وَآخَرُونَ اعْتَرَفُوا بِذُنُوبِهِمْ خَلَطُوا عَمَلاً صَالِحًا وَآخَرَ سَيِّئًا عَسَى اللهُ أَن يَتُوبَ عَلَيْهِمْ إِنَّ اللهَ غَفُورٌ رَّحِيم} "
(1).
-
أصل وسبب الفرقة والفتن ترك الإنكار بالطريقة الشرعية:قال رحمه الله: " وإذا كان الكفر والفسوق والعصيان سبب الشر والعدوان، فقد يذنب الرجل أو الطائفة، ويسكت أخرون عن الأمر والنهي فيكون ذلك من ذنوبهم، وينكر عليهم آخرون إنكارا منهيا عنه فيكون ذلك من ذنوبهم فيحصل التفرق والاختلاف والشر، وهذا من أعظم الفتن والشرور قديما وحديثا، إذ الإنسان ظلوم جهول، والظلم والجهل أنواع، فيكون ظلم الأول وجهله من نوع، وظلم كل من الثاني والثالث وجهلهما من نوع أخر وأخر، ومن تدبر الفتن الواقعة رأى سببها ذلك، ورأى أن ما وقع بين أمراء الأمة وعلمائها ومن دخل في ذلك من ملوكها ومشايخها ومن تبعهم من العامة من الفتن هذا أصلها"
(2).
--------------------------------------------
আর একদল লোক যারা সঠিক ধর্মপরায়ণতা (ديانة صحيحة) নিয়ে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে, তারা সে বিষয়ে আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ থাকে এবং তাদের কৃতকর্মে সংশোধনকারী হয়। তারা এই পথে অবিচল থাকে, এমনকি তাদের ওপর আসা কষ্ট ও নির্যাতনে তারা ধৈর্য ধারণ করে। এরাই তারা, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে এবং তারা সেই শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের মানুষের (কল্যাণের) জন্য বের করা হয়েছে; তারা সৎকাজের আদেশ দেয়, অসৎকাজে নিষেধ করে এবং আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে।
আর একদল এমন যাদের মধ্যে এই উভয় বিষয়ই বিদ্যমান থাকে, আর তারাই অধিকাংশ মুমিন। যার মাঝে দ্বীনদারিও আছে আবার প্রবৃত্তিও রয়েছে; তাদের অন্তরে আনুগত্যের ইচ্ছা এবং পাপাচারের ইচ্ছা একত্রে জমা হয়। কখনও এটি প্রবল হয়, আবার কখনও অন্যটি।
এই ত্রিবিধ বিভাজনটি হলো যেমনটি বলা হয়েছে: নফস বা আত্মা তিন প্রকার: আম্মারা (প্ররোচনাকারী), মুতমায়িন্না (প্রশান্ত) এবং লাউয়ামা (তিরস্কারকারী)। প্রথম দলটি হলো কুপ্রবৃত্তিতে প্ররোচনাকারী (أمارة) আত্মার অধিকারী, যা তাদের মন্দের আদেশ দেয়। মধ্যম দলটি হলো প্রশান্ত (مطمئنة) আত্মার অধিকারী, যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে: 'হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার রবের কাছে ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।' আর শেষোক্ত দলটি হলো তিরস্কারকারী (لوامة) আত্মার অধিকারী, যারা পাপ করে এবং পরে তার জন্য নিজেকে তিরস্কার করে। কখনও সে এমন হয়, কখনও তেমন; অথবা তারা সৎকর্ম ও মন্দকর্ম মিশ্রিত করে ফেলে। আশা করা যায় আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন যখন তারা তাদের পাপ স্বীকার করবে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর অন্য কিছু লোক আছে যারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে, তারা সৎকর্ম ও মন্দকর্ম মিশ্রিত করেছে; শীঘ্রই আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
(1)।
-
বিভেদ ও ফিতনার মূল উৎস ও কারণ হলো শরয়ি পদ্ধতিতে প্রতিবাদ বর্জন করা:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যখন কুফরি (كفر), পাপাচার (فسوق) ও অবাধ্যতা (عصيان) মন্দ ও শত্রুতার কারণ হয়, তখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী হয়তো পাপে লিপ্ত হয়, আর অন্যরা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা থেকে বিরত থাকে; ফলে এটি তাদেরও পাপে পরিণত হয়। আবার অন্য একদল হয়তো এমনভাবে প্রতিবাদ করে যা নিষিদ্ধ বা শরয়ি নীতি বহির্ভূত, ফলে সেটিও তাদের পাপে পরিণত হয়। এর মাধ্যমে বিভেদ, অনৈক্য ও অনিষ্টের সৃষ্টি হয়। এটি প্রাচীন ও বর্তমান কালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফিতনা ও অনিষ্ট। কারণ মানুষ অতিশয় জালিম ও জাহিল (অজ্ঞ); আর জুলুম ও জাহেলিয়াত (অজ্ঞতা) বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। প্রথম দলের জুলুম ও জাহেলিয়াত এক প্রকারের, আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দলের জুলুম ও জাহেলিয়াত ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের। যে ব্যক্তি সংঘটিত ফিতনাগুলো নিয়ে চিন্তা করবে, সে এর কারণ হিসেবে এটিকেই দেখতে পাবে। সে আরও দেখতে পাবে যে, উম্মতের আমির ও উলামাদের মাঝে এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট রাজা-বাদশাহ ও মাশায়েখদের মাঝে এবং তাদের অনুসারী সাধারণ মানুষের মাঝে যেসব ফিতনা সংঘটিত হয়েছে, তার মূল উৎস এটাই।"
(2)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
-
أهمية الخبرة بالشر وأسبابه وعلاماته، والتغافل في العقوبة عن الذنوب التي لا تضر إلا صاحبها:قال رحمه الله: " ينبغي للوالي والعالم أن يكون خبيرا بالشر وأسبابه وعلاماته، مثل الخبرة بالكفر والفسوق وأحوال العدو في دينهم ودنياهم؛ ليحترس من شر ذلك
… وهذا لأن من لا يعرف الأمراض وأسبابها قد يغتر بالعافية ولا يحترز من أسباب المرض أو ذاته، وعرف سببه وعلامته فإنه يصلح للطبيب
…لكن لا بد للوالي من التغافل عن العقوبة على ما يعمله الناس من الذنوب التي لا تضر إلا صاحبها، كما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم: «أن الوالي إذا ابتغى الريبة في الناس إلا كاد يفسدهم».
قال الحسن: كلمة سمعها معاوية من النبي صلى الله عليه وسلم نفعه الله بها"
(1).
-
فعل المستطاع:قال رحمه الله: " لأنه - أي عمر بن الخطاب- كان إمام عدل يقسم بالسوية، فلما تغير الإمام والرعية كان الواجب على كل إنسان أن يفعل من الواجب ما يقدر عليه، ويترك ما حرم عليه، ولا يحرم عليه ما أباح الله له"
(2).
-
الواجب من العلم والعمل حسب الاجتهاد والقدرة:قال رحمه الله: " وأولو الأمر صنفان: الأمراء والعلماء، وهم الذين إذا صلحوا صلح الناس
…فعلى كل منهما أن يتحرى بما يقوله ويفعله طاعة الله ورسوله، واتباع كتاب الله. ومتى أمكن في الحوادث المشكلة معرفة ما دل عليه الكتاب والسنة كان هو الواجب، وإن لم يمكن ذلك لضيق الوقت أو عجز الطالب، أو تكافؤ الأدلة عنده أو غير ذلك، فله أن يقلد من يرتضي علمه ودينه.
--------------------------------------------
-
মন্দের স্বরূপ, এর কারণ ও লক্ষণসমূহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ হওয়ার গুরুত্ব এবং এমন পাপাচার যার দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে উপেক্ষা করা যার ক্ষতি কেবল সম্পাদনকারীর মাঝেই সীমাবদ্ধ:তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: "শাসক ও আলেমের জন্য মন্দের স্বরূপ, এর কারণ ও লক্ষণসমূহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ হওয়া উচিত; যেমন কুফর, পাপাচার এবং শত্রুর দ্বীনি ও দুনিয়াবি অবস্থার ব্যাপারে অভিজ্ঞতা থাকা। যাতে করে এর অনিষ্ট থেকে সতর্ক থাকা যায়
… এটি এ কারণে যে, যে ব্যক্তি রোগ ও এর কারণসমূহ সম্পর্কে অবগত নয়, সে সুস্থতা দেখে বিভ্রান্ত হতে পারে এবং রোগের কারণ বা স্বয়ং রোগ থেকে সতর্ক থাকে না। আর যে ব্যক্তি এর কারণ ও লক্ষণ সম্পর্কে জানে, সে-ই চিকিৎসকের কাজের জন্য উপযুক্ত হয়
…কিন্তু শাসককে মানুষের এমন সব পাপাচারের দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই উপেক্ষা প্রদর্শন করতে হবে যা মানুষ করে থাকে এবং যার ক্ষতি কেবল তার নিজের মাঝেই সীমাবদ্ধ। যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে: «শাসক যখন মানুষের মাঝে খুঁত বা সন্দেহ অনুসন্ধান করে, তখন সে তাদেরকে প্রায় ধ্বংস করে দেয়»।
হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এটি এমন একটি বাণী যা মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছেন এবং আল্লাহ এর মাধ্যমে তাঁকে উপকৃত করেছেন"
(১)।
-
সাধ্যানুযায়ী আমল করা:তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: "কেননা তিনি—অর্থাৎ উমর ইবনুল খাত্তাব—ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ ইমাম যিনি সমতার ভিত্তিতে বণ্টন করতেন। যখন ইমাম (শাসক) এবং প্রজা উভয়ের মাঝেই পরিবর্তন এলো, তখন প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর আবশ্যক (الواجب) ছিল তার সাধ্যানুযায়ী সেই আবশ্যক (الواجب) কাজটুকু করা যা করতে সে সক্ষম, এবং যা তার ওপর হারাম করা হয়েছে তা বর্জন করা; আর আল্লাহ যা তার জন্য বৈধ করেছেন তা যেন সে নিজের জন্য হারাম না করে"
(২)।
-
ইজতিহাদ ও সক্ষমতা অনুযায়ী জ্ঞান ও আমলের বাধ্যবাধকতা:তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: "আর উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল ব্যক্তিবর্গ) দুই প্রকার: শাসকবর্গ ও ওলামায়ে কেরাম। তাঁরা হলেন সেই সত্তা যাঁদের সংশোধনের মাধ্যমে মানুষ সংশোধিত হয়
…সুতরাং তাঁদের প্রত্যেকের ওপর আবশ্যক হলো তাঁদের কথা ও কাজে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য এবং আল্লাহর কিতাবের অনুসরণের অনুসন্ধান করা। যখনই কোনো জটিল সমস্যার ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহর নির্দেশিত সমাধান জানা সম্ভব হয়, তখন সেটিই পালন করা আবশ্যক (الواجب) হয়। আর যদি সময়ের সংকীর্ণতা বা জ্ঞান অন্বেষণকারীর অক্ষমতা অথবা তার নিকট দলীলাদির সমপর্যায়ের হওয়া (تكافؤ الأدلة) কিংবা অন্য কোনো কারণে তা সম্ভব না হয়, তবে তিনি এমন ব্যক্তির অনুসরণ বা তাকলীদ করতে পারেন যার ইলম ও দ্বীনদারির ওপর তিনি আস্থাশীল।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
هذا أقوى الأقوال، وقد قيل: ليس له التقليد بكل حال، وقيل: له التقليد بكل حال، والأقوال الثلاثة في مذهب أحمد وغيره.
وكذلك ما يشترط في القضاة والولاة من الشروط يجب فعله بحسب الإمكان، بل وسائر العبادات من الصلاة والجهاد وغير ذلك، كل ذلك واجب مع القدرة، فأما مع العجز فإن الله لا يكلف نفسا إلا وسعها"
(1).
-
لم يوجب ما لا يستطاع، ولم يحرم ما يضطر إليه:قال رحمه الله: " وذلك كله في قوله تعالى: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ}، وفي قول النبي صلى الله عليه وسلم: «إذا أمرتكم بأمر فأتوا منه ما استطعتم».
كما أن الله تعالى لما حرم المطاعم الخبيثة قال: {فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلا عَادٍ فَلا إِثْمَ عَلَيْهِ}، وقال تعالى: {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ}، وقال تعالى: {مَا يُرِيدُ اللهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ}، فلم يوجب ما لا يستطاع، ولم يحرم ما يضطر إليه، إذا كانت الضرورة بغير معصية من العبد"
(2).
-
الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر حسب القدرة:قال رحمه الله: " وعليهم من الوجوب ما ليس على غيرهم، فإن مناط الوجوب هو القدرة؛ فيجب على كل إنسان بحسب قدرته، قال تعالى: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} "
(3).
--------------------------------------------
এটি অধিক শক্তিশালী অভিমত, এবং বলা হয়েছে: কোনো অবস্থাতেই তার জন্য তাকলিদ করা বৈধ নয়, আবার বলা হয়েছে: তার জন্য সব অবস্থাতেই তাকলিদ করা বৈধ। এই তিনটি মত ইমাম আহমাদ এবং অন্যদের মাজহাবে বিদ্যমান।
একইভাবে বিচারক ও শাসকদের ক্ষেত্রে যেসব শর্তারোপ করা হয়, সাধ্যানুযায়ী সেগুলো পালন করা আবশ্যক। বরং সালাত, জিহাদ এবং অন্যান্য সকল ইবাদতের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; সামর্থ্য থাকলে এই সবই ওয়াজিব। তবে অক্ষমতার ক্ষেত্রে আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না"
(১)।
-
যা সাধ্যের অতীত তা তিনি আবশ্যক করেননি এবং যা করতে মানুষ বাধ্য হয় তা তিনি হারাম করেননি:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এসবই মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: {তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তোমাদের সাধ্যমতো}, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: «যখন আমি তোমাদের কোনো কাজের নির্দেশ দিই, তখন তোমরা তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী তা পালন করো»।
যেমন আল্লাহ তাআলা যখন অপবিত্র খাবার হারাম করেছেন তখন বলেছেন: {তবে যে ব্যক্তি অবাধ্য না হয়ে এবং সীমা লঙ্ঘন না করে (তা খেতে) বাধ্য হয়, তার ওপর কোনো পাপ নেই}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {দ্বীনের ব্যাপারে তিনি তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি} এবং তিনি আরও বলেছেন: {আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা তৈরি করতে চান না}। সুতরাং যা সাধ্যের বাইরে তা তিনি আবশ্যক করেননি এবং বান্দার পক্ষ থেকে কোনো অবাধ্যতা ছাড়া যদি কেবল নিরুপায় অবস্থার সৃষ্টি হয়, তবে তিনি সে বিষয়কে হারাম করেননি"
(২)।
-
সামর্থ্য অনুযায়ী সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজের (المنكر) নিষেধ:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তাদের ওপর এমন আবশ্যকতা রয়েছে যা অন্যদের ওপর নেই, কারণ আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়ার ভিত্তি হলো সামর্থ্য; সুতরাং প্রত্যেক মানুষের ওপর তার সামর্থ্য অনুযায়ী তা ওয়াজিব। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তোমাদের সাধ্যমতো} "
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
-
ما الصراط المستقيم في الولايات؟ :
قال رحمه الله: " وهاتان السبيلان الفاسدتان -سبيل من انتسب إلى الدين ولم يكمله بما يحتاج إليه من السلطان والجهاد والمال، وسبيل من أقبل على السلطان والمال والحرب ولم يقصد بذلك إقامة الدين- هما سبيل المغضوب عليهم والضالين.
الأولى: للضالين النصارى، والثانية: للمغضوب عليهم اليهود. وإنما الصراط المستقيم - صراط الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين- هي سبيل نبينا محمد صلى الله عليه وسلم وسبيل خلفائه وأصحابه ومن سلك سبيلهم، وهم الذين قال الله فيهم: {وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيم}.
فالواجب على المسلم أن يجتهد في ذلك بحسب وسعه؛ فمن ولي ولاية يقصد بها طاعة الله، وإقامة ما يمكنه من دينه، ومصالح المسلمين، وأقام فيها ما يمكنه من الواجبات واجتنب ما يمكنه من المحرمات: لم يؤاخذ بما يعجز عنه؛ فإن تولية الأبرار خير للأمة من تولية الفجار.
ومن كان عاجزا عن إقامة الدين بالسلطان والجهاد، ففعل ما يقدر عليه، من النصيحة بقلبه، والدعاء للأمة، ومحبة الخير، وفعل ما يقدر عليه من الخير: لم يكلف ما يعجز عنه؛ فإن قوام الدين بالكتاب الهادي، والحديد الناصر، كما ذكره الله تعالى.
فعلى كل أحد الاجتهاد في اتفاق القرآن والحديد لله تعالى، ولطلب ما عنده، مستعينا بالله في ذلك؛ ثم الدنيا تخدم الدين، "
(1).
-
وجوب تولية ولي أمر:قال رحمه الله: " ولهذا أمر النبي صلى الله عليه وسلم أمته بتولية ولاة أمور عليهم، وأمر ولاة الأمور أن يردوا الأمانات إلى أهلها، وإذا حكموا بين الناس أن يحكموا بالعدل، وأمرهم بطاعة ولاة الأمور في طاعة الله تعالى، ففي سنن أبي داود عن أبي سعيد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إذا خرج ثلاثة في سفر فليؤمر أحدهم»، وفي سننه أيضا عن أبي هريرة مثله، وفي مسند الإمام أحمد عن عبد الله بن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا يحل لثلاثة يكونون بفلاة من الأرض إلا أمروا أحدهم».
--------------------------------------------
-
শাসনব্যবস্থায় সঠিক পথ কোনটি? :
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এই দুটি কলুষিত পথ—একদল যারা নিজেদেরকে দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত করে অথচ শাসনক্ষমতা, জিহাদ ও অর্থ-সম্পদের মতো প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর মাধ্যমে একে পূর্ণতা দান করে না এবং অন্যদল যারা কেবল শাসনক্ষমতা, অর্থ-সম্পদ ও যুদ্ধের দিকে ঝুঁকে পড়ে কিন্তু এর মাধ্যমে দ্বীন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য রাখে না—এই উভয়টিই তাদের পথ যারা আল্লাহর ক্রোধের শিকার এবং যারা পথভ্রষ্ট।
প্রথমটি: পথভ্রষ্ট নাসারাদের জন্য এবং দ্বিতীয়টি: আল্লাহর ক্রোধের শিকার ইহুদিদের জন্য। পক্ষান্তরে সরল সঠিক পথ—যা সেই সমস্ত ব্যক্তিদের পথ যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠ (صديقين), শহীদ ও পুণ্যবানগণের পথ—তা হলো আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথ এবং তাঁর খলিফাগণ ও সাহাবীগণের পথ এবং যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন। তাঁরা হলেন সেই সব লোক যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি তাঁদের জন্য প্রস্তুত করেছেন এমন জান্নাত যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা চিরকাল থাকবেন। এটাই মহা সাফল্য।}
অতএব একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো তার সাধ্য অনুযায়ী এ বিষয়ে প্রচেষ্টা চালানো। যাকে কোনো শাসনভার বা দায়িত্ব প্রদান করা হয় আর সে যদি তার মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য, সাধ্যানুযায়ী দ্বীন প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিমদের জনকল্যাণ সাধনের নিয়ত করে এবং সাধ্যমতো ওয়াজিবসমূহ পালন করে ও হারাম বিষয়গুলো বর্জন করে, তবে সে যা করতে অক্ষম তার জন্য তাকে পাকড়াও করা হবে না। কারণ পাপাচারীদের শাসনের চেয়ে নেককারদের শাসন উম্মাহর জন্য অধিক কল্যাণকর।
আর যে ব্যক্তি শাসনক্ষমতা ও জিহাদের মাধ্যমে দ্বীন প্রতিষ্ঠায় অক্ষম, সে তার সাধ্য অনুযায়ী কাজ করবে; যেমন অন্তর থেকে নসিহত করা, উম্মাহর জন্য দোয়া করা, কল্যাণ কামনা করা এবং সাধ্যমতো ভালো কাজ করা। তাকে সেই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হবে না যা করতে সে অক্ষম। কেননা দ্বীনের ভিত্তি হলো হেদায়েতকারী কিতাব এবং সাহায্যকারী লোহা (অস্ত্র), যেমনটি আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং প্রত্যেকের উচিত আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য এবং তাঁর নিকট যা রয়েছে তা লাভের আশায় কুরআন ও লোহার (শক্তির) সমন্বয়ে প্রচেষ্টা চালানো এবং এ বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা; ফলে পার্থিব জগত দ্বীনের খাদেমে পরিণত হবে।"
(1).
-
শাসক নিয়োগের আবশ্যকতা:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতকে শাসক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন এবং শাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট ফিরিয়ে দিতে এবং যখন তারা মানুষের মাঝে ফয়সালা করবে তখন যেন ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করে। আর তিনি (নবী) জনগণকে নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহর আনুগত্যের পরিধির মধ্যে থেকে শাসকদের আনুগত্য করতে। সুনান আবি দাউদে আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যখন তিন ব্যক্তি সফরে বের হবে, তখন তারা যেন তাদের মধ্য থেকে একজনকে আমির নিযুক্ত করে।» সুনান আবি দাউদে আবু হুরায়রা (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আর মুসনাদে আহমাদে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «পৃথিবীর কোনো নির্জন প্রান্তরে তিন ব্যক্তির জন্য অবস্থান করা বৈধ নয় যতক্ষণ না তারা তাদের একজনকে আমির নিযুক্ত করে।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فإذا كان قد أوجب في أقل الجماعات وأقصر الاجتماعات أن يولى أحدهم: كان هذا تنبيهًا على وجوب ذلك فيما هو أكثر من ذلك، ولهذا كانت الولاية لمن يتخذها دينًا يتقرب به إلى الله ويفعل فيها الواجب بحسب الإمكان من أفضل الأعمال الصالحة، حتى قد روى الإمام أحمد في مسنده عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «أن أحب الخلق إلى الله إمام عادل، وأبغض الخلق إلى الله إمام جائر» "
(1).
-
لا بد عند الاجتماع من رأس:قال رحمه الله: " ولاية أمر الناس من أعظم واجبات الدين بل لا تمام للدين ولا للدنيا إلا بها؛ فإن بني آدم لا تتم مصلحتهم إلا بالاجتماع لحاجة بعضهم إلى بعض تعاونا وتناصرا؛ يتعاونون على جلب المنفعة، ويتناصرون لدفع المضرة، إذ الواحد منهم لا يقدر وحده على جلب جميع منافعه، ودفع جميع مضاره.
ولا بد لهم عند الاجتماع من رأس حتى قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إذا خرج ثلاثة في سفر فليؤمروا أحدهم»، رواه أبو داود، من حديث أبي سعيد، وأبي هريرة
…فأوجب صلى الله عليه وسلم تأمير الواحد في الاجتماع القليل العارض في السفر، تنبيها بذلك على سائر أنواع الاجتماع التي هي أكثر وأدوم؛ ولأن الله تعالى أوجب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، ولا يتم ذلك إلا بقوة وإمارة.
وكذلك سائر ما أوجبه من الجهاد والعدل وإقامة الحج والجمع والأعياد ونصر المظلوم، وإقامة الحدود لا تتم إلا بالقوة والإمارة؛ ولهذا روي: «أن السلطان ظل الله في الأرض»، ويقال: «ستون سنة من إمام جائر أصلح من ليلة واحدة بلا سلطان»، والتجربة تبين ذلك"
(2).
-
من هم أولو الأمر، وما أثرهم؟
قال رحمه الله: " وأولو الأمر صنفان: الأمراء والعلماء، وهم الذين إذا صلحوا صلح الناس"
(3).
--------------------------------------------
সুতরাং যখন তিনি ক্ষুদ্রতম দল এবং সংক্ষিপ্ততম সমাবেশেও তাদের একজনকে নেতা নিযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করেছেন: তখন এটি এর চেয়ে বড় সমাবেশের ক্ষেত্রে সেই আবশ্যকতাকেই নির্দেশ করে। এই কারণেই নেতৃত্ব (الولاية) যে ব্যক্তি দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় এবং এতে সামর্থ্য অনুযায়ী ওয়াজিব দায়িত্ব পালন করে, তা সর্বোত্তম নেক আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এমনকি ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে প্রিয় হলো ন্যায়পরায়ণ নেতা (إمام عادل), আর আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত হলো অত্যাচারী নেতা (إمام جائر)»
(১).
-
সমাবেশের ক্ষেত্রে একজন নেতা থাকা অনিবার্য:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "জনগণের বিষয়ের অভিভাবকত্ব (ولاية) গ্রহণ করা দ্বীনের অন্যতম মহান ওয়াজিব দায়িত্ব, বরং এটি ছাড়া দ্বীন ও দুনিয়া কোনোটিই পরিপূর্ণ হয় না। কেননা আদম সন্তানের স্বার্থ পারস্পরিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য একে অপরের সাহায্য ও সহযোগিতা ছাড়া পূর্ণ হয় না। তারা উপকার লাভের জন্য একে অপরকে সহযোগিতা করে এবং ক্ষতি রোধের জন্য একে অপরকে সাহায্য করে। কারণ তাদের কেউ একাকী নিজের সমস্ত কল্যাণ লাভ এবং সকল ক্ষতি প্রতিহত করতে সক্ষম নয়।
আর সমাবেশের ক্ষেত্রে তাদের জন্য একজন নেতা থাকা অনিবার্য, এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন তিনজন সফরে বের হয়, তখন তারা যেন তাদের একজনকে নেতা নিযুক্ত করে», এটি আবু দাউদ আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা (রাযি.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন…
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরের মতো সংক্ষিপ্ত ও সাময়িক সমাবেশেও একজনকে নেতা নিযুক্ত করা আবশ্যক করেছেন, যাতে এর মাধ্যমে অন্যান্য সকল প্রকার সমাবেশের গুরুত্ব নির্দেশ করা হয় যা এর চেয়ে অধিক ও স্থায়ী। কারণ মহান আল্লাহ সৎকাজের (المعروف) আদেশ ও অসৎকাজের (المنكر) নিষেধ বাধ্যতামূলক করেছেন, আর শক্তি ও নেতৃত্ব (إمارة) ছাড়া তা সম্পন্ন হয় না।
অনুরূপভাবে জিহাদ, ন্যায়বিচার, হজ, জুমা, ঈদ প্রতিষ্ঠা, মজলুমকে সাহায্য করা এবং দণ্ডবিধি (الحدود) কার্যকর করার মতো অন্যান্য যেসব বিষয় তিনি বাধ্যতামূলক করেছেন, তাও শক্তি ও নেতৃত্ব (إمارة) ছাড়া পূর্ণ হয় না। এই কারণেই বর্ণিত হয়েছে: «শাসক (السلطان) হলো জমিনে আল্লাহর ছায়া», এবং বলা হয়: «অত্যাচারী নেতার (إمام جائر) অধীনে ষাট বছর থাকা শাসকহীন (سلطان) এক রাতের চেয়েও উত্তম», আর বাস্তব অভিজ্ঞতাও এটিই প্রমাণ করে"
(২).
-
উলুল আমর (أولو الأمر) কারা এবং তাদের প্রভাব কী?তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আর উলুল আমর (أولو الأمر) দুই প্রকার: শাসকবর্গ এবং উলামায়ে কেরাম। তাঁরা যখন সংশোধন হন, তখন মানুষও সংশোধন হয়ে যায়"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقال أيضا- رحمه الله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلا}، وأولوا الأمر أصحاب الأمر وذووه، وهم الذين يأمرون الناس وينهونهم، وذلك يشترك فيه أهل اليد والقدرة وأهل العلم والكلام؛ فلهذا كان أولوا الأمر صنفين: العلماء والأمراء، فإذا صلحوا؛ صلح الناس، وإذا فسدوا؛ فسد الناس، كما قال أبو بكر الصديق رضي الله عنه للأحمسية لما سألته: "ما بقاؤنا على هذا الأمر الصالح؟ "، قال: "ما استقامت لكم أئمتكم"، ويدخل فيهم الملوك والمشايخ وأهل الديوان، وكل من كان متبوعا فإنه من أولي الأمر، وعلى كل واحد من هؤلاء أن يأمر بما أمر الله به، وينهى عن ما نهى الله عنه، وعلى كل واحد ممن عليه طاعته أن يطيعه في طاعة الله ولا يطيعه في معصية الله"
(1).
-
التعاون مع ولاة الأمر؛ وإن كان فيهم ظلم وجور:قال رحمه الله: " وكذلك يوسف كان نائبًا لفرعون مصر وهو وقومه مشركون، وفعل من العدل والخير ما قدر عليه، ودعاهم إلى الإيمان بحسب الإمكان"
(2).
وقال أيضا- رحمه الله: " والمعين على الإثم والعدوان من أعان الظالم على ظلمه أما من أعان المظلوم على تخفيف الظلم عنه أو على المظلمة فهو وكيل المظلوم لا وكيل الظالم؛ بمنزلة الذي يقرضه أو الذي يتوكل في حمل المال له إلى الظالم، مثال ذلك: ولي اليتيم والوقف إذا طلب ظالم منه مالا فاجتهد في دفع ذلك - بمال أقل منه إليه - أو إلى غيره بعد الاجتهاد التام في الدفع فهو محسن، وما على المحسنين من سبيل"
(3).
وقال أيضا- رحمه الله في التعاون مع ولاة الأمر، وأنه نوعان: " الأول: تعاون على البر والتقوى من الجهاد وإقامة الحدود واستيفاء الحقوق وإعطاء المستحقين، فهذا مما أمر الله به ورسوله، ومن أمسك عنه خشية أن يكون من أعوان الظلمة فقد ترك فرضا على الأعيان أو على الكفاية؛ متوهما أنه متورع، وما أكثر ما يشتبه الجبن والفشل بالورع إذ كل منهما كف وإمساك.
والثاني: تعاون على الإثم والعدوان كالإعانة على دم معصوم أو أخذ مال معصوم أو ضرب من لا يستحق الضرب ونحو ذلك فهذا الذي حرمه لله ورسوله"
(4).
--------------------------------------------
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আরও বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্য করো। অতঃপর কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই উত্তম এবং পরিণামের দিক থেকে অতি চমৎকার}। আর উলুল আমর হলেন কর্তৃত্বের অধিকারী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টগণ। তারা হলেন এমন লোক যারা মানুষকে আদেশ দেন এবং নিষেধ করেন। এতে প্রশাসনিক ক্ষমতা ও শক্তিধর ব্যক্তি এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার (ইলম ও কালাম) অধিকারী ব্যক্তিগণ উভয়েই অংশীদার। এ কারণেই উলুল আমর দুই প্রকার: ওলামা ও উমারা (শাসক)। সুতরাং যখন তারা সংশোধন হন, তখন মানুষও সংশোধন হয়ে যায়; আর যখন তারা কলুষিত হন, তখন মানুষও কলুষিত হয়ে যায়। যেমনটি আবু বকর সিদ্দিক (রা.) আহামসিয়া গোত্রের জনৈক মহিলাকে বলেছিলেন যখন সে তাঁকে প্রশ্ন করেছিল: "আমাদের এই সৎ ব্যবস্থার (ইসলামের) ওপর স্থায়িত্ব কিসের ওপর নির্ভরশীল?", তিনি বললেন: "যতক্ষণ তোমাদের ইমামগণ (নেতৃবৃন্দ) তোমাদের সাথে সঠিক পথে অটল থাকবেন।" রাজন্যবর্গ, মাশায়েখ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং প্রত্যেক অনুসরণীয় ব্যক্তিই উলুল আমরের অন্তর্ভুক্ত। এদের প্রত্যেকের ওপর কর্তব্য হলো আল্লাহ যা আদেশ দিয়েছেন তার নির্দেশ দেওয়া এবং আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বারণ করা। আর যাদের ওপর আনুগত্য আবশ্যক তাদের কর্তব্য হলো আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রে তাদের মেনে চলা এবং আল্লাহর অবাধ্যতার ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য না করা।
(১) -
উলুল আমরের সাথে সহযোগিতা; যদিও তাদের মধ্যে জুলুম ও অন্যায় থাকে:তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: "তেমনিভাবে ইউসুফ (আ.) মিশরের ফেরাউনের প্রতিনিধি ছিলেন অথচ সে এবং তার কওম ছিল মুশরিক। তিনি সামর্থ্য অনুযায়ী ন্যায়বিচার ও কল্যাণমূলক কাজ সম্পাদন করেছেন এবং সাধ্যানুযায়ী তাদের ঈমানের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন।"
(২) তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আরও বলেছেন: "পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহায়তাকারী হলো সে, যে জালিমকে তার জুলুমে সাহায্য করে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মাজলুমের জুলুম লাঘব করার জন্য বা তার হক উদ্ধারের জন্য সাহায্য করে, সে মাজলুমের প্রতিনিধি, জালিমের প্রতিনিধি নয়। তার উদাহরণ হলো এমন ব্যক্তির মতো যে তাকে করজ দেয় অথবা জালিমের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হয়। এর দৃষ্টান্ত হলো: এতিম বা ওয়াকফ সম্পত্তির অভিভাবকের কাছ থেকে যদি কোনো জালিম অর্থ দাবি করে, আর তিনি পূর্ণ প্রচেষ্টার পর অল্প কিছু অর্থ দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন, তবে তিনি ইহসানকারী হিসেবে গণ্য হবেন। আর ইহসানকারীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের সুযোগ নেই।"
(৩) তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) উলুল আমরের সাথে সহযোগিতার বিষয়ে আরও বলেছেন যে, এটি দুই প্রকার: "প্রথমটি: নেকি ও তাকওয়ার কাজে সহযোগিতা করা, যেমন— জিহাদ, দণ্ডবিধি (حدود) কার্যকর করা, পাওনাদারদের অধিকার আদায় করা এবং হকদারদের প্রাপ্য প্রদান করা। এটি এমন কাজ যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আদেশ করেছেন। আর যে ব্যক্তি জালিমদের সহযোগী হওয়ার ভয়ে এসব থেকে বিরত থাকে, সে মূলত ব্যক্তিগত ফরজ (فرض على الأعيان) বা সামষ্টিক ফরজ (على الكفاية) ত্যাগ করল; যদিও সে মনে করছে যে সে তাকওয়া (ورع) অবলম্বন করছে। অথচ কত সময়ই না ভীরুতা ও ব্যর্থতা তাকওয়ার (ورع) সাথে মিশে যায়, কারণ উভয় ক্ষেত্রেই কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়।
দ্বিতীয়টি: পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করা, যেমন— কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির রক্তপাত, সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া কিংবা প্রহারের যোগ্য নয় এমন কাউকে প্রহার করা ইত্যাদি। এটিই সেই কাজ যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হারাম করেছেন।"
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقال أيضا- رحمه الله: " وإن لم تفعل ولاة الأمر ذلك
(1) أطيعوا فيما يأمرون به من طاعة الله؛ لأن ذلك من طاعة الله ورسوله، وأديت حقوقهم إليهم كما أمر الله ورسوله: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبرِّ وَالتَّقْوَى وَلا تَعَاوَنُوا عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ} "
(2).
-
مناصحة ولي الأمر والدعاء له:قال رحمه الله: " ولهذا كان السلف، كالفضيل بن عياض وأحمد بن حنبل وسهل بن عبدالله التستري وغيرهم، يعظمون قدر نعمة الله به، ويرون الدعاء له ومناصحته من أعظم ما يتقربون به إلى الله تعالى، مع عدم الطمع في ماله ورئاسته، ولا لخشية منه، ولا لمعاونته على الإثم والعدوان.
وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله يرضى لكم ثلاثا: أن تعبدوه ولا تشركوا به شيئا، وأن تعتصموا بحبل الله جميعا ولا تفرقوا، وأن تناصحوا من ولاه الله أمركم»، رواه مسلم، وقال: «ثلاث لا يغل عليهن قلب مسلم: إخلاص العمل لله، ومناصحة ولاة الأمور، ولزوم جماعة المسلمين، فإن دعوتهم تحيط من ورائهم»، وهذان حديثان حسنان.
وفي الصحيح عنه أنه قال: «الدين النصيحة، الدين النصيحة، الدين النصيحة. قالوا: لمن يا رسول الله؟ قال: لله ولكتابه ولرسوله ولأئمة المسلمين وعامتهم»
…وإن كان أكثر من يدخل فيها لا يقصد العبادة .. والتقرب، بل لما في النفوس من حب الشرف والعلو.
فالواجب اتخاذ الإمارة دينا وقربة يتقرب بها إلى الله؛ فإن التقرب إليه فيها بطاعته وطاعة رسوله من أفضل القربات، وإنما فسد فيها حال أكثر الناس لابتغاء الرياسة أو المال بها"
(3).
--------------------------------------------
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) আরও বলেছেন: "যদি শাসকবর্গ তা
(১) না-ও করেন, তবুও তারা আল্লাহর আনুগত্যের যেসব নির্দেশ দেন তাতে তাদের আনুগত্য করো; কারণ তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যেরই অন্তর্ভুক্ত। আর তাদের প্রাপ্য অধিকারসমূহ তাদের প্রদান করো যেমনটি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল নির্দেশ দিয়েছেন: {তোমরা নেক কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো এবং গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না।}"
(২).
-
শাসককে সদুপদেশ প্রদান ও তাঁর জন্য দোয়া করা:তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: "এই কারণেই পূর্বসূরিগণ (সালাফ), যেমন ফুযাইল ইবন ইয়ায, আহমাদ ইবন হাম্বল, সাহল ইবন আবদুল্লাহ তুসতারি এবং অন্যান্যগণ, তাঁর (শাসকের) মাধ্যমে প্রাপ্ত আল্লাহর নেয়ামতের গুরুত্বকে বড় করে দেখতেন। তাঁরা তাঁর জন্য দোয়া করা ও তাঁকে সদুপদেশ প্রদান করাকে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম মনে করতেন—তাঁদের মনে শাসকের ধন-সম্পদ বা নেতৃত্বের প্রতি কোনো লোভ না থাকা সত্ত্বেও, এবং তাঁর ভয়ে নয়, আর গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে তাঁকে সাহায্য করার জন্যও নয়।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য তিনটি বিষয় পছন্দ করেন: তোমরা একমাত্র তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে ও বিচ্ছিন্ন হবে না, এবং আল্লাহ যাঁকে তোমাদের দায়িত্বশীল বানিয়েছেন তাকে সদুপদেশ দেবে।», এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেছেন: «তিনটি বিষয়ে কোনো মুসলিমের অন্তর খিয়ানত করে না: আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা, শাসকবর্গকে সদুপদেশ প্রদান করা এবং মুসলিম জামাআতকে আঁকড়ে থাকা; কেননা তাদের দোয়া তাদের চারপাশ থেকে পরিবেষ্টন করে রাখে।», আর এই দুটি হাসান (حسن) পর্যায়ের হাদিস।
সহিহ গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «দীন হলো নসিহত (সদুপদেশ/শুভানুধ্যায়), দীন হলো নসিহত, দীন হলো নসিহত। তাঁরা বললেন: কার জন্য হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বললেন: আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসুলের জন্য, মুসলিমদের শাসকবর্গের জন্য এবং তাদের সাধারণ জনগণের জন্য।»
…যদিও এর (ক্ষমতার) মধ্যে যারা প্রবেশ করে তাদের অধিকাংশেরই উদ্দেশ্য ইবাদত ও নৈকট্য অর্জন নয়, বরং অন্তরে মর্যাদা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতি যে আসক্তি থাকে তার কারণে।
সুতরাং শাসন ক্ষমতাকে দীন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা ওয়াজিব; কেননা এতে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অন্বেষণ করা শ্রেষ্ঠতম ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর এতে অধিকাংশ মানুষের অবস্থা কেবল নেতৃত্ব বা সম্পদ অন্বেষণ করার কারণে কলুষিত হয়েছে।"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
-
سبب صلاح الدين والدنيا للولاة والرعية:قال رحمه الله: " ومتى اهتمت الولاة بإصلاح دين الناس: صلح للطائفتين دينهم ودنياهم؛ وإلا اضطربت الأمور عليهم، وملاك ذلك كله صلاح النية للرعية، وإخلاص الدين كله لله، والتوكل عليه؛ فإن الإخلاص والتوكل جماع صلاح الخاصة والعامة، كما أمرنا أن نقول في صلاتنا: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وإِيَّاكَ نَسْتَعِين}؛ فإن هاتين الكلمتين قد قيل: إنهما يجمعان معاني الكتب المنزلة من السماء.
وقد روي «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان مرة في بعض مغازيه، فقال: يا مالك يوم الدين، إياك نعبد، وإياك نستعين، فجعلت الرؤوس تندر عن كواهلها». وقد ذكر ذلك في غير موضع من كتابه كقوله: {فَاعْبُدْهُ وَتَوَكَّلْ عَلَيْهِ}، وقوله تعالى: {عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيب}، «وكان صلى الله عليه وسلم إذا ذبح أضحيته -يقول: " اللهم منك ولك»
(1).
-
أعظم عون لولي الأمر وللرعية في صلاح الدين والدنيا:قال رحمه الله: " وأعظم عون لولي الأمر خاصة، ولغيره عامة، ثلاثة أمور: أحدها: الإخلاص لله، والتوكل عليه بالدعاء وغيره، وأصل ذلك المحافظة على الصلوات بالقلب والبدن.
الثاني: الإحسان إلى الخلق، بالنفع والمال الذي هو الزكاة.
الثالث: الصبر على أذى الخلق وغيره من النوائب
…وأما قرنه بين الصلاة والزكاة في القرآن فكثير جدا. فبالقيام بالصلاة والزكاة والصبر يصلح حال الراعي والرعية"
(2).
الولاية الشرعية-
تحديد الولاية الشرعية:قال رحمه الله: " وأي شيء من الولايات عمل فيها بطاعة الله ورسوله كانت ولاية شرعية، وأي شيء عمل فيها بخلاف ذلك، أو ترك فيها ما يجب لم تكن شرعية، لكن لما كان القاضي أقرب إلى العلم وأهله وأكثر معرفة بالشريعة صار كثير من الناس يظن أنه ليس من الولايات ما يجب أن يقع فيها حكم الشرع إلا هي، وصاروا يفهمون أن الشرع ما حكم به القاضي، وربما فروا من هذا الشرع؛ إما
--------------------------------------------
-
শাসক ও প্রজাসাধারণের দ্বীন ও দুনিয়া সংশোধনের কারণ:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যখনই শাসকরা মানুষের দ্বীন সংশোধনের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করে, তখন উভয় শ্রেণির দ্বীন ও দুনিয়া সংশোধিত হয়; অন্যথায় তাদের যাবতীয় বিষয় বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। আর এই সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো প্রজাসাধারণের প্রতি সদুদ্দেশ্য পোষণ করা, সমস্ত দ্বীনকে একমাত্র আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করা এবং তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করা। কেননা ইখলাস ও তাওয়াক্কুল হলো বিশেষ ও সাধারণ সর্বস্তরের মানুষের সংশোধনের মূল ভিত্তি, যেমনটি আমাদের নামাজে বলতে আদেশ করা হয়েছে: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি}; এই দুটি বাক্য সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এগুলো আসমান থেকে অবতীর্ণ সমস্ত কিতাবের মর্মার্থকে ধারণ করে।
বর্ণিত হয়েছে (روي) যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার তাঁর কোনো এক যুদ্ধে ছিলেন, তখন তিনি বললেন: হে বিচার দিবসের মালিক, আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি। তখন (শত্রুদের) মস্তকগুলো তাদের ঘাড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে লাগল। তিনি তাঁর কিতাবের একাধিক স্থানে এর উল্লেখ করেছেন, যেমন আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁরই ওপর ভরসা করো}, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই অভিমুখী হই}। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাঁর কোরবানির পশু জবাই করতেন, তখন বলতেন: 'হে আল্লাহ, এটি আপনার পক্ষ থেকে এবং আপনারই উদ্দেশ্যে'
(1)।
-
দ্বীন ও দুনিয়ার সংশোধনে শাসক ও শাসিতের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্য:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "বিশেষভাবে শাসকের জন্য এবং সাধারণভাবে অন্যদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্য হলো তিনটি বিষয়: প্রথমটি: আল্লাহর প্রতি ইখলাস এবং দোয়া ও অন্যান্য বিষয়ের মাধ্যমে তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করা। আর এর মূল হলো অন্তর ও দেহ দ্বারা নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়া।
দ্বিতীয়টি: সৃষ্টির প্রতি ইহসান বা অনুগ্রহ করা, উপকার ও সম্পদের মাধ্যমে—যা হলো জাকাত।
তৃতীয়টি: মানুষের পক্ষ থেকে আসা কষ্ট ও অন্যান্য বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করা
…আর কুরআনে নামাজ ও জাকাতকে একত্রে উল্লেখ করার বিষয়টি অত্যন্ত বেশি। সুতরাং নামাজ, জাকাত এবং সবরের মাধ্যমেই শাসক ও শাসিতের অবস্থা সংশোধিত হয়"
(2)।
শরয়ি শাসন-
শরয়ি শাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যেকোনো ধরনের শাসন কার্যে যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য অনুযায়ী আমল করা হয়, তবে তা শরয়ি শাসন হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তাতে এর পরিপন্থী কিছু করা হয় অথবা কোনো ওয়াজিব বা আবশ্যক বিষয় পরিত্যাগ করা হয়, তবে তা শরয়ি হবে না। কিন্তু যেহেতু কাজি (বিচারক) ইলম ও আহলে ইলমদের নিকটবর্তী এবং শরিয়ত সম্পর্কে অধিক অবগত হন, তাই অনেক মানুষ মনে করে যে, কাজির বিচারকার্য ছাড়া অন্য কোনো শাসন কার্যে শরিয়তের হুকুম প্রযোজ্য হওয়া আবশ্যক নয়। তারা বুঝতে শুরু করেছে যে, শরিয়ত কেবল তা-ই যা কাজি ফয়সালা করেন। ফলে অনেক সময় তারা এই শরিয়ত থেকে পলায়ন করে; হয়তো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
خروجا منهم عن الحق، أو لتقصير يقع من بعض القضاة، وليس الأمر كذلك، بل الشرع اسم لما بعث الله تعالى به رسوله محمدا صلى الله عليه وسلم من الكتاب والحكمة، وحكمه لازم جميع الخلق"
(1).
-
الحد الضابط للولاية:قال رحمه الله: " عموم الولايات وخصوصها وما يستفيده المتولي بالولاية يتلقى من الألفاظ والأحوال والعرف، وليس لذلك حد في الشرع، فقد يدخل في ولاية القضاة في بعض الأمكنة والأزمنة ما يدخل في ولاية الحرب في مكان وزمان آخر، وبالعكس، وكذلك الحسبة وولاية المال"
(2).
-
المقصود من الولايات:قال رحمه الله: " والولايات كلها: الدينية مثل إمرة المؤمنين، وما دونها: من ملك، ووزارة، وديوانية، سواء كانت كتابة خطاب، أو كتابة حساب لمستخرج أو مصروف في أرزاق المقاتلة أو غيرهم، ومثل إمارة حرب، وقضاء وحسبة، وفروع هذه الولايات إنما شرعت للأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم في مدينته النبوية يتولى جميع ما يتعلق بولاة الأمور، ويولي في الأماكن البعيدة عنه"
(3).
وقال أيضا- رحمه الله: " أصل ذلك أن تعلم أن جميع الولايات في الإسلام مقصودها أن يكون الدين كله لله، وأن تكون كلمة الله هي العليا، فإن الله سبحانه وتعالى إنما خلق الخلق لذلك، وبه أنزل الكتب، وبه أرسل الرسل، وعليه جاهد الرسول والمؤمنون، قال الله تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنسَ إِلَاّ لِيَعْبُدُون}، وقال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَاّ نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ أَنَا فَاعْبُدُون}، وقال: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ}.
--------------------------------------------
তারা সত্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণে অথবা কোনো কোনো বিচারকের পক্ষ থেকে অবহেলার কারণে; বিষয়টি আসলে তেমন নয়। বরং শরয়ি বিধান (الشرع) হলো সেই বিষয়ের নাম যা আল্লাহ তাআলা তাঁর রসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যমে কিতাব ও হিকমতসহ প্রেরণ করেছেন এবং এর বিধান সকল সৃষ্টির জন্য অপরিহার্য"
(1).
-
প্রশাসনিক ক্ষমতার (ولاية) সংজ্ঞায়িত সীমা:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "প্রশাসনিক ক্ষমতার (ولاية) সাধারণ ও বিশেষ হওয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রশাসনিক ক্ষমতার (ولاية) মাধ্যমে যা অর্জন করেন, তা শব্দাবলী, প্রেক্ষাপট ও প্রথা থেকে গ্রহণ করা হয়। শরয়ি বিধানে এর কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা নেই। কোনো সময় বা স্থানে বিচারকদের প্রশাসনিক ক্ষমতার (ولاية) অন্তর্ভুক্ত বিষয় অন্য কোনো সময় বা স্থানে যুদ্ধ বিষয়ক প্রশাসনিক ক্ষমতার (ولاية) অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, আবার এর বিপরীতও হতে পারে। তদ্রূপ হিসবাহ (حسبة) ও অর্থ সংক্রান্ত প্রশাসনিক ক্ষমতার (ولاية) ক্ষেত্রেও একই কথা"
(2).
-
প্রশাসনিক ক্ষমতার (ولاية) উদ্দেশ্য:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "সমস্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা (ولاية), চাই তা দ্বীনি হোক যেমন আমিরুল মুমিনিন বা এর নিম্নতর স্তর: যেমন রাজপদ, উজির বা মন্ত্রিত্ব ও দিওয়ানি (প্রশাসনিক দপ্তর), চাই তা পত্র লিখন হোক অথবা যোদ্ধাদের ভাতা বা অন্যদের জন্য ব্যয় করা ও উসুল করা অর্থের হিসাব রক্ষা হোক; কিংবা যুদ্ধের সেনাপতিত্ব, বিচার ব্যবস্থা ও হিসবাহ (حسبة) হোক—প্রশাসনিক ক্ষমতার (ولاية) এই সকল শাখা মূলত 'আমর বিল মারুফ' (সতকাজের আদেশ) ও 'নাহি আনিল মুনকার' (অসতকাজের নিষেধ)-এর জন্যই প্রবর্তিত হয়েছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মদিনায় শাসনকর্তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় দায়িত্ব নিজে পালন করতেন এবং তাঁর থেকে দূরবর্তী স্থানগুলোতে প্রতিনিধি নিয়োগ করতেন"
(3).
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: "এর মূলনীতি হলো এটি জানা যে, ইসলামের সকল প্রশাসনিক ক্ষমতার (ولاية) মূল উদ্দেশ্য হলো দ্বীন যেন পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর জন্য হয় এবং আল্লাহর বাণী যেন সুউচ্চ হয়। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কেবল এই উদ্দেশ্যেই সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন, এ কারণেই কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন এবং রসূলদের প্রেরণ করেছেন। এর ওপরই রসূল ও মুমিনগণ জিহাদ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি জিন ও মানবকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি}, তিনি আরও বলেন: {আমি আপনার পূর্বে এমন কোনো রসূল প্রেরণ করিনি যার প্রতি এই ওহি নাজিল করিনি যে, আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো}, এবং তিনি বলেন: {আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে এই মর্মে রসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد أخبر عن جميع المرسلين أن كلا منهم يقول لقومه: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ}، وعبادته تكون بطاعته وطاعة رسوله، وذلك هو الخير والبر والتقوى والحسنات، والقربات والباقيات الصالحات والعمل الصالح"
(1).
وقال أيضا- رحمه الله: " الواجب بالولايات: إصلاح دين الخلق الذي متى فاتهم خسروا خسرانا مبينا؛ ولم ينفعهم ما نعموا به في الدنيا، وإصلاح ما لا يقوم الدين إلا به من أمر دنياهم، وهو نوعان: قسم المال بين مستحقيه وعقوبات المعتدين"
(2).
وقال أيضا- رحمه الله: " وجميع الولايات الإسلامية إنما مقصودها الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، سواء في ذلك ولاية الحرب الكبرى، مثل: نيابة السلطنة، والصغرى مثل: ولاية الشرطة، وولاية الحكم، أو ولاية المال وهي ولاية الدواوين المالية وولاية الحسبة"
(3).
وقال أيضا- رحمه الله: " المقصود هو أمانة الدين في جميع الأشياء، ولا يتم ذلك إلا بالاجتماع والسلطان، فإذا جعل سلطان يقام به الدين على الوجه المشروع، كان ذلك مقصود الولاية"
(4).
-
الولاية أمانة يجب أداؤها:قال رحمه الله: " وقد دلت سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم على أن الولاية أمانة يجب أداؤها
… مثل قوله لأبي ذر رضي الله عنه في الإمارة: «إنها أمانة، وإنها يوم القيامة خزي وندامة إلا من أخذها بحقها وأدى الذي عليه فيها»، رواه مسلم"
(5).
--------------------------------------------
এবং তিনি সকল রাসূল সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ কওমকে বলেছিলেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই}। আর তাঁর ইবাদত সম্পন্ন হয় তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্যের মাধ্যমে; আর সেটিই হলো কল্যাণ, পুণ্য, তাকওয়া, নেক আমলসমূহ, নৈকট্য দানকারী আমলসমূহ, অবিনশ্বর সৎকর্মসমূহ এবং সৎ আমল।
(১) তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: "প্রশাসনিক দায়িত্বসমূহের ক্ষেত্রে আবশ্যিক কর্তব্য হলো সৃষ্টির দীনের সংশোধন করা; কারণ যখন তা তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়, তখন তারা সুস্পষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং দুনিয়াতে তারা যা ভোগ করেছে তা তাদের কোনো উপকারে আসে না। আর দুনিয়াবি বিষয়াদির মধ্যে যা ব্যতীত দীন প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয় তারও সংস্কার করা; আর এটি দুই প্রকার: হকদারদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের শাস্তি প্রদান।"
(২) তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: "ইসলামী প্রশাসনের সকল পদের মূল লক্ষ্যই হলো সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ। এর অন্তর্ভুক্ত যেমন বড় ধরনের যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব তথা সালতানাতের প্রতিনিধিত্ব, তেমনি ছোট ধরনের নেতৃত্ব যেমন পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব, বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব, কিংবা আর্থিক বিষয়ের দায়িত্ব তথা অর্থ দপ্তর ও হিসবাহ বিভাগের দায়িত্ব।"
(৩) তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: "মূল উদ্দেশ্য হলো সকল বিষয়ে দীনের আমানত রক্ষা করা। আর এটি সামাজিক ঐক্য ও শাসন ক্ষমতা ব্যতীত পূর্ণতা পায় না। সুতরাং যখন এমন শাসন ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয় যার মাধ্যমে শরয়ি পন্থায় দীন কায়েম হয়, তখন সেটিই হয় প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।"
(৪) -
নেতৃত্ব একটি আমানত যা আদায় করা আবশ্যক:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ একথার প্রমাণ দেয় যে, নেতৃত্ব হলো একটি আমানত যা অবশ্যই আদায় করতে হবে … যেমন নেতৃত্ব সম্পর্কে আবু যর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে উদ্দেশ্য করে তাঁর বাণী: «নিশ্চয়ই এটি একটি আমানত, আর কিয়ামতের দিন এটি হবে লাঞ্ছনা ও অনুশোচনার কারণ, তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে একে হকের সাথে গ্রহণ করেছে এবং এর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে», এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।"
(৫)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
-
ما ينبغي أن يكون عليه والي الولايات:قال رحمه الله في ما ينبغي أن يكون عليه ولي الولايات: " أن يكون قويا من غير عنف، لينا من غير ضعف، بمنزلة كف الإنسان اجتمعت فيه القوة واللين، ليس يابسا في قوته كالعظم والحجر، ولا ضعيفا في لينه كالدم والماء"
(1).
-
القوة في الولايات:قال رحمه الله: " القوة في الولايات تجمع قوة المرء في نفسه، وقوته على غيره، فقوته على نفسه بالحلم والصبر
… وأما قوته على غيره؛ فالشجاعة في نفسه، والخبرة وسائر القوى من الرجال والأموال"
(2).
الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بين الناس-
الأمانات نوعان:قال رحمه الله: " القسم الأول: الولايات، والقسم الثاني: الأموال"
(3).
-
جماع السياسة العادلة:قال رحمه الله: " أداء الأمانات إلى أهلها والحكم بالعدل، فهذان جماع السياسة العادلة والولاية الصالحة"
(4).
-
السياسة بالرأي والخبرة أعظم من السياسة بالشجاعة والقوة وأنفع:قال رحمه الله: " السياسة بالرأي والخبرة أعظم من السياسة بالشجاعة والقوة وأنفع. وبذلك يرفع الله الدرجات كما قال في خبر يوسف عليه السلام: {نَرْفَعُ دَرَجَاتٍ مِّن نَّشَاء وَفَوْقَ كُلِّ ذِي عِلْمٍ عَلِيم}، وقال في ذي القرنين: {وَآتَيْنَاهُ مِن كُلِّ شَيْءٍ سَبَبًا}.
--------------------------------------------
-
বিভিন্ন প্রদেশের প্রশাসকদের যেমন হওয়া উচিত:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বিভিন্ন প্রদেশের দায়িত্বশীলদের যেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কে বলেছেন: "তাকে কঠোরতা ব্যতিরেকে শক্তিশালী হতে হবে এবং দুর্বলতা ব্যতিরেকে নম্র হতে হবে; যা মানুষের হাতের তালুর মতো যাতে শক্তি ও কোমলতা একত্রিত হয়েছে। সে তার শক্তির ক্ষেত্রে হাড় বা পাথরের মতো শক্ত হবে না, আবার তার কোমলতার ক্ষেত্রে রক্ত বা পানির মতো দুর্বল (ضعيف) হবে না"
(১).
-
প্রশাসনিক ক্ষেত্রে শক্তি:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "প্রশাসনিক ক্ষেত্রে শক্তি বলতে ব্যক্তির নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যের ওপর তার প্রভাব—উভয়ের সমষ্টিকে বোঝায়। নিজের ওপর তার শক্তি প্রকাশ পায় ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে... আর অন্যের ওপর তার শক্তি হলো তার অন্তরের সাহস, অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য জনবল ও অর্থবল"
(২).
মানুষের মধ্যে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ-
আমানত দুই প্রকার:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "প্রথম প্রকার: শাসনক্ষমতা বা রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা, এবং দ্বিতীয় প্রকার: ধন-সম্পদ"
(৩).
-
ন্যায়নিষ্ঠ রাজনীতির মূলকথা:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দেওয়া এবং ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করা; এই দুটি বিষয়ই হলো ন্যায়নিষ্ঠ রাজনীতি এবং সঠিক শাসনকর্তৃত্বের মূলকথা"
(৪).
-
প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পরিচালিত রাজনীতি বীরত্ব ও শক্তির রাজনীতির চেয়ে মহত্তর ও অধিক উপকারী:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পরিচালিত রাজনীতি বীরত্ব ও শক্তির রাজনীতির চেয়ে মহত্তর ও অধিক উপকারী। এর মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা মর্যাদা সুউচ্চ করেন, যেমনটি তিনি ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর বিবরণ (خبر) প্রসঙ্গে বলেছেন: {আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত করি এবং প্রত্যেক জ্ঞানীর উপর আছেন সর্বজ্ঞানী}, এবং যুল-কারনাইন সম্পর্কে বলেছেন: {আর আমি তাকে প্রত্যেক বিষয়ের উপায়-উপকরণ দান করেছিলাম}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «الحرب خدعة».
ومن حكمة الشعر عن أبي الطيب:
الرأي قبل شجاعة الشجعان هو أول وهي المحل الثاني
فإذا هما اجتمعا لنفس مرة بلغت من العلياء كل مكان"
(1).
-
سياسة الناس بالجود والشجاعة:قال رحمه الله: " فلا تتم رعاية الخلق وسياستهم إلا بالجود: الذي هو العطاء؛ والنجدة: التي هي الشجاعة؛ بل لا يصلح الدين والدنيا إلا بذلك. ولهذا كان من لا يقوم بهما سلبه الأمر، ونقله إلى غيره"
(2).
وقال أيضا- رحمه الله: " فلهذا تجدهم يمدحون جنس الشجاعة وجنس السماحة إذ كان عدم هذين مذموما على الإطلاق، وأما وجودهما ففيه تحصيل مقاصد النفوس على الإطلاق؛ لكن العاقبة في ذلك للمتقين، وأما غير المتقين فلهم عاجلة لا عاقبة، والعاقبة وإن كانت في الآخرة فتكون في الدنيا أيضا"
(3).
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যুদ্ধ হলো কৌশল।"
আবু তাইয়্যেবের প্রজ্ঞাপূর্ণ কবিতা থেকে:
বীরদের বীরত্বের পূর্বে হলো সঠিক বিচারবুদ্ধি; এটি হলো প্রথম আর বীরত্ব হলো দ্বিতীয় স্থান
যদি এ দুটি গুণ কোনো ব্যক্তির মাঝে একবার একত্রিত হয়, তবে সে মর্যাদার সুউচ্চ শিখরে পৌঁছে যায়"
(১).
-
দানশীলতা ও বীরত্বের মাধ্যমে জনগণের পরিচালনা:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সৃষ্টির লালন-পালন ও শাসন কেবল বদান্যতা (যা মূলত দান করা) এবং সাহসিকতা (যা মূলত বীরত্ব) দ্বারাই পূর্ণতা পায়; বরং ধর্ম ও পার্থিব জীবন এ দুটি ব্যতীত সংশোধিত হতে পারে না। এই কারণেই যে ব্যক্তি এ দুটি গুণ ধারণ করে না, তার থেকে কর্তৃত্ব ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তা অন্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়"
(২).
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: "এ কারণেই আপনি তাদের দেখবেন যে তারা সাধারণত বীরত্ব ও বদান্যতার প্রশংসা করে, যেহেতু এ দুটির অনুপস্থিতি সর্বাবস্থায় নিন্দনীয়। আর এ দুটির উপস্থিতিতে আত্মার উদ্দেশ্যসমূহ সামগ্রিকভাবে অর্জিত হয়; তবে শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকিদের (আল্লাহভীরু) জন্য। আর যারা মুত্তাকি নয়, তাদের জন্য কেবল নগদ পার্থিব প্রাপ্তি রয়েছে, কোনো শুভ পরিণাম নেই। আর শুভ পরিণাম যদিও পরকালে নির্ধারিত, তবুও তা দুনিয়াতেও প্রকাশ পেয়ে থাকে"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
-
صلاح بني آدم لا يتم في دينهم ودنياهم إلا بالشجاعة والكرم ومن تولى عن ذلك أبدله الله بغيره:قال رحمه الله: " ولما كان صلاح بني آدم لا يتم في دينهم ودنياهم إلا بالشجاعة والكرم بين الله سبحانه أنه من تولى عنه بترك الجهاد بنفسه أبدل الله به من يقوم بذلك، ومن تولى عنه بإنفاق ماله أبدل الله به من يقوم بذلك، فقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انفِرُوا فِي سَبِيلِ اللهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الأَرْضِ أَرَضِيتُم بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الآخِرَةِ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الآخِرَةِ إِلَاّ قَلِيل * إِلَاّ تَنفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلا تَضُرُّوهُ شَيْئًا وَاللهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِير}، وقال تعالى: {هَا أَنتُمْ هَؤُلاء تُدْعَوْنَ لِتُنفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَمِنكُم مَّن يَبْخَلُ وَمَن يَبْخَلْ فَإِنَّمَا يَبْخَلُ عَن نَّفْسِهِ وَاللَّهُ الْغَنِيُّ وَأَنتُمُ الْفُقَرَاء وَإِن تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لا يَكُونُوا أَمْثَالَكُم}، وبالشجاعة والكرم في سبيل الله فضل الله السابقين فقال: {لا يَسْتَوِي مِنكُم مَّنْ أَنفَقَ مِن قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِّنَ الَّذِينَ أَنفَقُوا مِن بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلاًّ وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى}، وقد ذكر الجهاد بالنفس والمال في سبيله ومدحه في غير آية من كتابه وذلك هو الشجاعة والسماحة في طاعته سبحانه وطاعة رسوله، وملاك الشجاعة الصبر الذي يتضمن قوة القلب وثباته، ولهذا قال تعالى: {كَم مِّن فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللهِ وَاللهُ مَعَ الصَّابِرِين}، وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلَحُون * وَأَطِيعُوا اللهَ وَرَسُولَهُ وَلا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللهَ مَعَ الصَّابِرِين}، والشجاعة ليست هي قوة البدن فقد يكون الرجل قوي البدن ضعيف القلب وإنما هي قوة القلب وثباته؛ فإن القتال مداره على قوة البدن وصنعته للقتال وعلى قوة القلب وخبرته به، والمحمود منهما ما كان بعلم ومعرفة دون التهور الذي لا يفكر صاحبه ولا يميز بين المحمود والمذموم، ولهذا كان القوي الشديد هو الذي يملك نفسه عند الغضب حتى يفعل ما يصلح دون ما لا يصلح، فأما المغلوب حين غضبه فليس هو بشجاع ولا شديد، وقد تقدم أن جماع ذلك هو الصبر؛ فإنه لا بد منه، والصبر صبران: صبر عند الغضب، وصبر عند المصيبة كما قال الحسن رحمه"
(1).
--------------------------------------------
-
বনী আদমের সংশোধন তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার ক্ষেত্রে বীরত্ব ও বদান্যতা ব্যতীত সম্পন্ন হয় না; আর যে ব্যক্তি এ থেকে বিমুখ হবে, আল্লাহ তার পরিবর্তে অন্য কাউকে নিয়ে আসবেন:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যেহেতু বনী আদমের দ্বীন ও দুনিয়ার সংশোধন বীরত্ব ও বদান্যতা ব্যতীত সম্পন্ন হয় না, তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি সশরীরে জিহাদ পরিত্যাগ করার মাধ্যমে তা থেকে বিমুখ হবে, আল্লাহ তার পরিবর্তে এমন কাউকে নিয়ে আসবেন যে তা সম্পাদন করবে। আর যে ব্যক্তি সম্পদ ব্যয় করার ক্ষেত্র থেকে বিমুখ হবে, আল্লাহ তার পরিবর্তে এমন কাউকে নিয়ে আসবেন যে তা সম্পাদন করবে। তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমাদের কী হলো যে, যখন তোমাদের আল্লাহর পথে অভিযানে বের হতে বলা হয়, তখন তোমরা ভারাক্রান্ত হয়ে মাটির দিকে ঝুঁকে পড়ো? তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে সন্তুষ্ট হয়েছ? আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের ভোগসামগ্রী অতি সামান্য। যদি তোমরা অভিযানে বের না হও, তবে তিনি তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে নিয়ে আসবেন। আর তোমরা তাঁর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তোমরা তো তারাই যাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে, অথচ তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ কৃপণতা করছে। আর যে কৃপণতা করে সে তো নিজের প্রতিই কৃপণতা করে। আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবগ্রস্ত। আর যদি তোমরা বিমুখ হও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে নিয়ে আসবেন এবং তারা তোমাদের মতো হবে না}। আর আল্লাহর পথে বীরত্ব ও বদান্যতার কারণেই আল্লাহ অগ্রগামীদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তিনি বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং লড়াই করেছে তারা (পরবর্তীদের) সমান নয়। তারা মর্যাদায় তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যারা পরবর্তীকালে ব্যয় করেছে ও লড়াই করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেকের কাছে কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন}। তিনি তাঁর কিতাবের অনেক আয়াতে আল্লাহর পথে জান ও মাল দিয়ে জিহাদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর প্রশংসা করেছেন। আর তা-ই হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের ক্ষেত্রে বীরত্ব ও উদারতা। বীরত্বের মূল হলো ধৈর্য, যা হৃদয়ের শক্তি ও দৃঢ়তাকে শামিল করে। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহর ইচ্ছায় কত ক্ষুদ্র দল বিশাল দলের ওপর বিজয়ী হয়েছে! আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা কোনো বাহিনীর মোকাবিলা করো, তখন দৃঢ় থাকো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, তাহলে তোমরা সাহস হারাবে এবং তোমাদের প্রভাব বিলুপ্ত হবে। আর ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন}। বীরত্ব কেবল দৈহিক শক্তি নয়; কারণ কোনো ব্যক্তি দৈহিক শক্তিশালী হলেও তার হৃদয় দুর্বল হতে পারে। বরং বীরত্ব হলো হৃদয়ের শক্তি ও দৃঢ়তা। কেননা যুদ্ধের ভিত্তি হলো দেহের শক্তি ও যুদ্ধকৌশল এবং হৃদয়ের শক্তি ও এ বিষয়ক অভিজ্ঞতা। এর মধ্যে প্রশংসনীয় হলো তা-ই যা জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সাথে হয়, সেই হঠকারিতা নয় যেখানে ব্যক্তি চিন্তাভাবনা করে না এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে পারে না। এই কারণেই প্রকৃত শক্তিশালী সেই ব্যক্তি যে ক্রোধের সময় নিজেকে সংবরণ করতে পারে, যাতে সে কেবল তা-ই করে যা কল্যাণকর, যা অকল্যাণকর তা নয়। পক্ষান্তরে ক্রোধের কাছে পরাজিত ব্যক্তি বীর বা শক্তিশালী নয়। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসবের সারকথা হলো ধৈর্য; যা একান্ত আবশ্যক। আর ধৈর্য দুই প্রকার: ক্রোধের সময় ধৈর্য এবং বিপদের সময় ধৈর্য, যেমনটি হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন।"
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
-
المساواة والمعادلة في تطبيق الحكام الشرعية:قال رحمه الله: " فكتب الله علينا القصاص -وهو المساواة والمعادلة في القتلى- وأخبر أن فيه حياة؛ فإنه يحقن دم غير القاتل من أولياء الرجلين
… عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «المؤمنون تتكافأ دماؤهم، وهم يد على من سواهم، ويسعى بذمتهم أدناهم، ألا لا يقتل مسلم بكافر، ولا ذو عهد في عهده»، رواه أحمد وأبو داود وغيرهما من أهل السنن، فقضى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن المسلمين تتكافأ دماؤهم -أي تتساوى وتتعادل- فلا يفضل عربي على عجمي، ولا قرشي أو هاشمي على غيره من المسلمين، ولا حر أصلي على مولى عتيق، ولا عالم أو أمير، على أمي أو مأمور. كما قضى أنه يتساوون في الأموال في مثل المواريث؛ فإن البنين في إرثهم من أمهم وإن تفاضلوا في الدين والدنيا.
وهذا الذي قضاه رسول الله صلى الله عليه وسلم من العدل بين المسلمين في النفوس والأموال متفق عليه بين المسلمين"
(1).
-
الأصل في التعامل بالمعاملات تحقيق العدل والنهي عن الظلم:قال رحمه الله: " جمهور ما نهى عنه الكتاب والسنة من المعاملات تعود إلى تحقيق العدل، والنهي عن الظلم: دقه وجله"
(2).
-
استقامة الدنيا مع العدل وإن كان فيه اشتراك في بعض أنواع الإثم أكثر مما تستقيم مع الظلم وإن لم يشترك في إثم:قال رحمه الله: " وأمور الناس إنما تستقيم في الدنيا مع العدل الذي قد يكون فيه الاشتراك في بعض أنواع الإثم أكثر مما تستقيم مع الظلم في الحقوق وإن لم يشترك في إثم، ولهذا قيل: إن الله يقيم الدولة العادلة وإن كانت كافرة، ولا يقيم الظالمة وإن كانت مسلمة، ويقال: الدنيا تدوم مع العدل والكفر ولا تدوم مع الظلم والإسلام .... وذلك أن العدل نظام كل شيء فإذا أقيم أمر الدنيا بالعدل قامت وإن لم يكن لصاحبها في الآخرة من خلاق، ومتى لم تقم بالعدل لم تقم وإن كان لصاحبها من الإيمان ما يجزي به في الآخرة؛ فالنفس فيها داعي الظلم لغيرها بالعلو عليه والحسد له والتعدي عليه في حقه، وفيها داعي الظلم لنفسها بتناول الشهوات القبيحة كالزنا وأكل الخبائث، فهي قد تظلم من لا يظلمها، وتؤثر هذه الشهوات وإن لم يفعلها غيرها؛ فإذا رأت نظراءها قد ظلموا أو تناولوا هذه الشهوات صار داعي هذه الشهوات أو الظلم فيها أعظم بكثير، وقد تصبر ويهيج ذلك لها من بغض ذلك الغير وحسده وطلب عقابه وزوال الخير عنه ما لم يكن فيها قبل ذلك، ولها حجة عند نفسها من جهة العقل والدين؛ بكون ذلك الغير قد ظلم نفسه والمسلمين، وأن أمره بالمعروف ونهيه عن المنكر واجب، والجهاد على ذلك من الدين"
(3).
--------------------------------------------
-
শরীয়তের বিধান প্রয়োগে সমতা ও ভারসাম্য:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "অতঃপর আল্লাহ আমাদের ওপর কিসাস —যা হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে সমতা ও ভারসাম্য রক্ষা করা— বিধিবদ্ধ করেছেন এবং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে এতেই জীবন নিহিত রয়েছে; কারণ এটি নিহত ব্যক্তির অভিভাবকদের মধ্য থেকে হত্যাকারী ব্যতীত অন্য ব্যক্তিদের রক্তপাত বন্ধ করে
… নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: «মুমিনদের রক্ত সমমর্যাদার, তারা অন্যদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ, তাদের সাধারণ স্তরের ব্যক্তিও তাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদানের অধিকার রাখে। সাবধান! কোনো মুসলিমকে কোনো কাফিরের বিনিময়ে হত্যা করা যাবে না এবং কোনো চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে তার চুক্তিকালীন অবস্থায় হত্যা করা যাবে না», এটি আহমাদ, আবু দাউদ এবং অন্যান্য সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফয়সালা করেছেন যে মুসলিমদের রক্ত সমমর্যাদার —অর্থাৎ সমান ও ভারসাম্যপূর্ণ— তাই কোনো আরবের ওপর অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কোনো কুরাইশি বা হাশেমির ওপর অন্য কোনো মুসলিমের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কোনো বংশগত স্বাধীন ব্যক্তির ওপর মুক্ত দাসের শ্রেষ্ঠত্ব নেই এবং কোনো আলেম বা আমিরের ওপর কোনো সাধারণ ব্যক্তি বা আদিষ্ট ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তদ্রূপ তিনি ফয়সালা করেছেন যে, সম্পদের ক্ষেত্রেও তারা সমান, যেমন উত্তরাধিকার; কেননা সন্তানরা তাদের মায়ের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সমান অংশ পায়, যদিও তাদের দ্বীনদারি বা দুনিয়াবি মানে পার্থক্য থাকে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান ও মালের ক্ষেত্রে মুসলিমদের মধ্যে ইনসাফের যে ফয়সালা করেছেন, তা মুসলিমদের মধ্যে সর্বসম্মত"
(১)।
-
লেনদেনের মূল ভিত্তি হলো ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা এবং জুলুম থেকে বারণ করা:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "কুরআন ও সুন্নাহ লেনদেনের ক্ষেত্রে যা কিছু নিষেধ করেছে তার অধিকাংশের উদ্দেশ্য হলো ইনসাফ নিশ্চিত করা এবং জুলুম—তা সামান্য হোক বা গুরুতর—তা থেকে বারণ করা"
(২)।
-
ইনসাফের সাথে দুনিয়ার শৃঙ্খলা অটুট থাকা, যদিও তাতে কিছু গুনাহের সংশ্লিষ্টতা থাকে, তা জুলুমের সাথে দুনিয়া অটুট থাকার চেয়ে বেশি কার্যকর যদিও তাতে কোনো গুনাহের সংশ্লিষ্টতা না থাকে:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মানুষের দুনিয়াবি কার্যাবলি কেবল ইনসাফের মাধ্যমেই সুশৃঙ্খল হয় যাতে অনেক সময় কোনো কোনো প্রকার গুনাহের মিশ্রণ থাকতে পারে। এটি অধিকার হরণের ক্ষেত্রে জুলুমের মাধ্যমে দুনিয়া চলার চেয়েও বেশি কার্যকর যদিও তাতে (বাহ্যিক) কোনো গুনাহের মিশ্রণ না থাকে। এই কারণেই বলা হয়: নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠিত রাখেন যদিও তা কাফির রাষ্ট্র হয়, কিন্তু জালিম রাষ্ট্রকে তিনি স্থায়িত্ব দেন না যদিও তা মুসলিম রাষ্ট্র হয়। আরো বলা হয়: ইনসাফ ও কুফরের সাথে দুনিয়া টিকে থাকে, কিন্তু জুলুম ও ইসলামের সাথে দুনিয়া টিকে থাকে না... এর কারণ হলো ইনসাফ প্রতিটি বিষয়ের মূল শৃঙ্খলা। যখন দুনিয়ার কার্যাবলি ইনসাফের মাধ্যমে পরিচালিত হয় তখন তা সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে যদিও পরকালে তার অধিকারীর কোনো পাওনা না থাকে। আর যখন তা ইনসাফের মাধ্যমে পরিচালিত হয় না, তখন তা প্রতিষ্ঠিত থাকে না যদিও তার অধিকারীর নিকট এমন ঈমান থাকে যার প্রতিদান পরকালে পাওয়া যাবে। মানুষের অন্তরে অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন, হিংসা এবং অন্যের অধিকার হরণ করার মাধ্যমে জুলুম করার প্রবৃত্তি বিদ্যমান। আবার নিজের নফসের ওপর কুরুচিপূর্ণ প্রবৃত্তি যেমন ব্যভিচার বা অপবিত্র বস্তু ভক্ষণের মাধ্যমেও জুলুম করার প্রবৃত্তি থাকে। ফলে সে এমন ব্যক্তির ওপরও জুলুম করে বসে যে তার ওপর জুলুম করেনি। সে কুপ্রবৃত্তিকে প্রাধান্য দেয় যদিও অন্য কেউ তা না করে। যখন সে দেখে যে তার সমপর্যায়ের ব্যক্তিরা জুলুম করছে বা এসব কুপ্রবৃত্তিতে লিপ্ত হচ্ছে, তখন তার ভেতর এসব কাজ বা জুলুমের প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে যায়। কখনো সে ধৈর্য ধারণ করে, কিন্তু তা তার ভেতর ওই ব্যক্তির প্রতি ঘৃণা, হিংসা এবং তার শাস্তি বা নেয়ামত বিলুপ্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করে যা আগে ছিল না। আর তার নফস তখন যুক্তি দেয় যে, ওই ব্যক্তি নিজের ওপর এবং মুসলিমদের ওপর জুলুম করেছে, তাই তাকে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা ওয়াজিব এবং এর ওপর জিহাদ করা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত"
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়ায়িদু ওয়া ফাওয়ায়িদু ফিল আমরি বিল মারুফি ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকারি মিন কালামি শায়খিল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
-
العادل والظالم في الولايات:قال رحمه الله: " وجميع هذه الولايات هي في الأصل ولاية شرعية ومناصب دينية، فأي من عدل في ولاية من هذه الولايات فساسها بعلم وعدل وأطاع الله ورسوله بحسب الإمكان فهو من الأبرار الصالحين، وأي من ظلم وعمل فيها بجهل فهو من الفجار الظالمين، إنما الضابط قوله تعالى: {إِنَّ الأَبْرَارَ لَفِي نَعِيم}، {وَإِنَّ الْفُجَّارَ لَفِي جَحِيم} "
(1).
-
لا غنى لولي الأمر عن المشاورة، وكيفية العمل بها:قال رحمه الله: " لا غنى لولي الأمر عن المشاورة؛ فإن الله تعالى أمر بها نبيه صلى الله عليه وسلم فقال تعالى: {فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِين}، وقد روي عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: «لم يكن أحد أكثر مشاورة لأصحابه من رسول الله صلى الله عليه وسلم». وقد قيل: إن الله أمر بها نبيه لتأليف قلوب أصحابه، وليقتدي به من بعده، وليستخرج بها منهم الرأي فيما لم ينزل فيه وحي من أمر الحروب، والأمور الحربية، وغير ذلك، فغيره صلى الله عليه وسلم أولى بالمشورة.
وقد أثنى الله على المؤمنين بذلك في قوله: {وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُون}، وإذا استشارهم، فإن بين له بعضهم ما يجب اتباعه من كتاب الله أو سنة رسوله أو إجماع المسلمين، فعليه اتباع ذلك، ولا طاعة لأحد في خلاف ذلك، وإن كان عظيما في الدين والدنيا، قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ}.
وإن كان أمرا قد تنازع فيه المسلمون، فينبغي أن يستخرج من كل منهم رأيه ووجه رأيه، فأي الآراء كان أشبه بكتاب الله وسنة رسوله عمل به، كما قال تعالى: {فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ} "
(2).
--------------------------------------------
-
রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ন্যায়পরায়ণ ও জালেম ব্যক্তি:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এই সকল রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব মূলত শরিয়তসম্মত দায়িত্ব এবং ধর্মীয় পদমর্যাদা। সুতরাং এই দায়িত্বগুলোর মধ্যে যে ব্যক্তি ন্যায়বিচার করবে এবং সাধ্যমতো ইলম ও ইনসাফের সাথে তা পরিচালনা করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে পুণ্যবান নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি জুলুম করবে এবং মূর্খতার সাথে সেখানে কাজ করবে, সে পাপাচারী জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবে। এর মূলনীতি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই পুণ্যবানরা থাকবে পরম সুখে}, {এবং নিশ্চয়ই পাপাচারীরা থাকবে জাহান্নামে}।"
(1).
-
রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য পরামর্শের অপরিহার্যতা এবং তা কার্যকর করার পদ্ধতি:তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য পরামর্শ গ্রহণ করা অপরিহার্য; কেননা মহান আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এর নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সুতরাং আপনি তাদের ক্ষমা করুন, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং কাজের ব্যাপারে তাদের সাথে পরামর্শ করুন। অতঃপর আপনি যখন কোনো সংকল্প করবেন, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ (তাঁর ওপর) ভরসাকারীদের ভালোবাসেন}। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেয়ে নিজের সাথীদের সাথে বেশি পরামর্শকারী আর কেউ ছিল না»। বলা হয়ে থাকে যে: আল্লাহ তাঁর নবীকে পরামর্শের নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর সাথীদের অন্তর জয় করার জন্য, তাঁর পরবর্তী অনুসারীরা যাতে তাঁর অনুসরণ করে সেজন্য এবং যুদ্ধ বিগ্রহ ও সমর-সংক্রান্ত এমন সব বিষয়ে তাদের মতামত গ্রহণ করার জন্য যেসব বিষয়ে কোনো ওহি (وحي) নাজিল হয়নি। সুতরাং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত অন্য ব্যক্তিরা পরামর্শের অধিক মুখাপেক্ষী।
মহান আল্লাহ মুমিনদের প্রশংসা করে বলেছেন: {এবং তাদের কাজ তাদের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয় এবং আমি তাদের যা দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে}। আর তিনি যখন তাদের সাথে পরামর্শ করবেন, তখন তাদের কেউ যদি আল্লাহর কিতাব বা রাসূলের সুন্নাহ (سنة) বা মুসলমানদের ঐকমত্য (إجماع) থেকে তার কাছে এমন কিছু স্পষ্ট করে যা অনুসরণ করা ওয়াজিব, তবে তা অনুসরণ করা তার জন্য আবশ্যক। এর বিপরীতে অন্য কারও আনুগত্য করা যাবে না, সে দ্বীন বা দুনিয়ার ক্ষেত্রে যতই বড় হোক না কেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের অন্তর্ভুক্ত উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল)-দের}।
আর যদি এমন কোনো বিষয় হয় যাতে মুসলমানরা মতভেদ করেছে, তবে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে মতামত এবং মতামতের কারণ জেনে নেওয়া উচিত। অতঃপর যে মতামতটি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة) এর সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ হবে, সে অনুযায়ী আমল করা হবে। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো}।"
(2).
--------------------------------------------