(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: -)
تأويل مختلف الحديث   (ابن قتيبة)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: تأويل مختلف الحديث

المؤلف: أبو محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة الدينوري (ت 276هـ)

الناشر: المكتب الاسلامي - مؤسسة الإشراق

الطبعة: الطبعة الثانية- مزيده ومنقحة 1419هـ - 1999م

عدد الصفحات: 528

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হাদিসের বাহ্যিক বৈপরীত্যের ব্যাখ্যা   (ইবনে কুতাইবা)

বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ


কিতাব: হাদিসের বাহ্যিক বৈপরীত্যের ব্যাখ্যা

গ্রন্থকার: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতাইবা আদ-দিনাওয়ারি (মৃত্যু ২৭৬ হি.)

প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামি - মুয়াসসাসাতুল ইশরাক

সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ - পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত ১৪১৯ হি. - ১৯৯৯ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الْمُقدمَات

‌‌مُقَدّمَة الطبعة الثَّانِيَة

 

الْحَمد لله رب الْعَالمين الَّذِي بنعمته تتمّ الصَّالِحَات وتعظم الْخيرَات وتعم البركات، وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على من أرْسلهُ الله تَعَالَى رَحْمَة للْعَالمين وَأنزل عَلَيْهِ الْحِكْمَة وَفصل الْخطاب، وَبعد،

فَإِنَّهُ من تواصل النعم من الْمولى جل جلاله على عَبده الضَّعِيف مُحَقّق هَذَا السّفر النفيس أَن وَفقه لخدمة السّنة الشَّرِيفَة فِي تجلية مَنَاقِب هَذَا الْكتاب، وَالتَّعْلِيق على مَا ورد فِيهِ من أفكار ومعلومات، وَعرضه بالصورة اللائقة بِهِ، وفْق مَا ورد فِي الْمُقدمَة الطَّوِيلَة للطبعة الأولى، فلقي الْكتاب بذلك -وَللَّه الْحَمد- الْقبُول وَالِاسْتِحْسَان، حَتَّى جعله بعض مدرسي مَادَّة الحَدِيث الشريف فِي الجامعات بَين المراجع الْمُعْتَبرَة لطلابهم فِي كليات الشَّرِيعَة، وَطلبت مِنْهُ إِحْدَى الجامعات كميات مِنْهُ لتوزيعه على الطّلبَة.

وَذَلِكَ لما يتضمنه الْكتاب من حوار علمي موضوعي لتجلية الصَّوَاب، وَلما يلقيه من أضواء على رؤى الْمدَارِس الفكرية الإسلامية فِي وَقت مبكر واجتهاداتها فِي تقييم الْأَحَادِيث الشَّرِيفَة من نَاحيَة الْمَوْضُوع؛ لَا من نَاحيَة السَّنَد فَقَط؛ كَمَا اعتاده عُلَمَاء الحَدِيث، وفْق الْقَوَاعِد الَّتِي وضعوها فِي علم مصطلح الحَدِيث.

وَلَقَد رَأَيْت أَن أشرك معي فِي إِعَادَة النّظر مرّة أُخْرَى بالتحقيق والتقييم تمهيدًا لإعادة طباعة الْكتاب طبعة ثَانِيَة الْأَخ الشَّيْخ مُحَمَّد بدير الَّذِي جمعتني بِهِ زمالة الْعَمَل والاهتمام بِخِدْمَة الْعُلُوم الشَّرْعِيَّة فِي مكتب الدراسات الشَّرْعِيَّة بصندوق الزَّكَاة فِي قطر، وَذَلِكَ لما خبرته فِيهِ من غيرَة
উপক্রমণিকা

‌‌দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

 

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক আমল সম্পন্ন হয়, কল্যাণ বৃদ্ধি পায় এবং বরকত পরিব্যাপ্ত হয়। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁকে মহান আল্লাহ বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন এবং যাঁর ওপর হিকমত ও ফয়সালাকারী বাণী অবতীর্ণ করেছেন। অতপর,

মহান রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে এই মূল্যবান গ্রন্থের মুহাক্কিক তাঁর এই দুর্বল বান্দার প্রতি এটি একটি অবিরত অনুগ্রহ যে, তিনি তাকে এই কিতাবের মাহাত্ম্য উন্মোচনে সুন্নাহর খিদমত করার তাওফীক দিয়েছেন। এছাড়া এতে বর্ণিত চিন্তাধারা ও তথ্যাবলীর ওপর টীকা প্রদান এবং প্রথম সংস্করণের দীর্ঘ ভূমিকায় বর্ণিত বিষয় অনুযায়ী একে যথাযোগ্যরূপে উপস্থাপন করার সুযোগ দান করেছেন। ফলশ্রুতিতে—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর—কিতাবটি গ্রহণযোগ্যতা ও সমাদর লাভ করেছে। এমনকি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীস শাস্ত্রের কতিপয় শিক্ষক শরিয়াহ অনুষদের ছাত্রদের জন্য একে অন্যতম নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের জন্য এর অনেকগুলো কপি চেয়ে পাঠিয়েছে।

এটি এই কিতাবে বিদ্যমান সত্য উন্মোচনের লক্ষ্যে বস্তুনিষ্ঠ ও বৈজ্ঞানিক আলোচনার কারণে এবং প্রাথমিক যুগের ইসলামি চিন্তাধারার বিভিন্ন মতাদর্শ ও তাদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর আলোকপাত করার কারণে হয়েছে। বিশেষ করে হাদীসের বিষয়বস্তুর আলোকে তা মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে তাদের যে ইজতিহাদ ছিল, কেবল সনদের ভিত্তিতে নয়—যেমনটি হাদীস বিশারদগণ তাদের প্রণীত উসুলে হাদীসের নিয়ম অনুযায়ী করে থাকেন।

আমি এই কিতাবটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশের প্রস্তুতি হিসেবে এর পুনঃনিরীক্ষণ, সম্পাদনা ও মূল্যায়নের কাজে ভাই শায়খ মুহাম্মদ বদীরকে আমার সাথে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কাতারের জাকাত ফান্ডের শরিয়াহ গবেষণা বিভাগে শরিয়াহ বিজ্ঞানের খিদমতের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে আমার সহকর্মী হিসেবে কাজ করার সুবাদে এবং দ্বীনি ইলমের প্রতি তাঁর যে গভীর অনুরাগ আমি লক্ষ্য করেছি, তার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৬)
علمية، وحرص على بَيَان الْحَقِيقَة بِالدَّلِيلِ الشَّرْعِيّ، والمنافحة عَن دين الله تَعَالَى والالتزام بالمنهج العلمي فِي التأصيل والتدوين.

وَقد رحب بذلك مشكورًا، فَقَرَأَ الْكتاب من أَلفه إِلَى يائه، وَكَانَت لَهُ ملاحظات مُخْتَلفَة، بَعْضهَا فِي تقييم بعض الْأَحَادِيث وَبَيَان دَرَجَة صِحَّتهَا، وَبَعضهَا فِي تَعْلِيق وَشرح ابْن قُتَيْبَة رَحمَه الله تَعَالَى وَقد أدرجت هَذِه الملاحظات، وميزتها عَن عَمَلي بِذكر اسْمه فِي نهايتها؛ عقب سردها فِي الْحَاشِيَة، فجزاه الله خيرا على ذَلِك.

وَهَكَذَا فقد تميزت هَذِه الطبعة بمزيد من التَّنْقِيح والتصحيح، وتعدد النّظر والرؤى، وأسأل الله تَعَالَى أَن ينفع بِهَذَا الْكتاب طلبة الْعلم والباحثين والدراسين؛ وَأَن يغْفر الله تَعَالَى لنا الزلات والأخطاء إِذا وجدت، وَأَن يَجْعَل هَذَا الْعَمَل مبرورًا، ويتقبله برحمة مِنْهُ وَفضل، وَأَن يعمنا بثوابه ومغفرته مَعَ الْمُؤلف رَحمَه الله تَعَالَى، وَكَذَا من قَرَأَهُ ودرسه واستفاد مِنْهُ.

وَللَّه الْحَمد فِي الأولى وَالْآخِرَة.

الدوحة فِي 15/ ذُو الْقعدَة 1418هـ

14/ 3/ 1998م

مُحَمَّد محيي الدَّين الْأَصْفَر
পাণ্ডিত্যপূর্ণ, শরয়ী দলিলের মাধ্যমে সত্য উন্মোচনে আগ্রহী, মহান আল্লাহর দ্বীন রক্ষায় সচেষ্ট এবং মূলনীতি নির্ধারণ ও সংকলনের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে এটি গ্রহণ করেছেন এবং বইটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করেছেন। তাঁর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ছিল, যার কিছু ছিল কিছু হাদিসের মূল্যায়ন এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতার মান বর্ণনার ক্ষেত্রে, আর কিছু ছিল ইবনে কুতায়বাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)-এর মন্তব্য ও ব্যাখ্যার বিষয়ে। আমি এই পর্যবেক্ষণগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং টীকায় সেগুলো বর্ণনার শেষে তাঁর নাম উল্লেখ করে আমার কাজ থেকে পৃথক করেছি। আল্লাহ তাকে এর জন্য উত্তম প্রতিদান দান করুন।

এভাবে এই সংস্করণটি অধিকতর পরিমার্জন ও সংশোধন এবং বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামতের সমন্বয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কিতাব দ্বারা ইলম অন্বেষণকারী, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উপকৃত করেন; এবং আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের বিচ্যুতি ও ভুলগুলো (যদি থাকে) ক্ষমা করে দেন। তিনি যেন এই আমলটিকে কবুল করেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রহমত ও অনুগ্রহে এটি গ্রহণ করেন; আর লেখক (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)-এর সাথে আমাদেরকেও তাঁর সওয়াব ও ক্ষমার অন্তর্ভুক্ত করেন, এবং সেই সাথে যারা এটি পাঠ করবেন, অধ্যয়ন করবেন এবং তা থেকে উপকৃত হবেন তাদেরও।

দুনিয়া ও আখিরাতে সমস্ত প্রশংসা কেবল আল্লাহরই।

দোহা, ১৫ই যুল-কাদা ১৪১৮ হিজরি

১৪/ ৩/ ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আল-আসফার
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مُقَدِّمَةُ الْمُحَقق للطبعة الأولى:

إِن الْحَمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه وَنَسْتَغْفِرهُ، ونعوذ بِاللَّه من شرور أَنْفُسنَا وسيئات أَعمالنَا، من يهده الله فَلَا مضل لَهُ، وَمن يضلل فَلَا هادي لَهُ، وَأشْهد أَلا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ بلغ الرسَالَة وَأدّى الْأَمَانَة ونصح الْأمة وجاهد فِي الله حق جهاده صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَسلم تَسْلِيمًا كثيرا، وَبعد،

فَإِن الْوَحْي الَّذِي تنزل على الرَّسُول الْخَاتم لم يقْتَصر على النَّص المعجز المتعبد بتلاوته "الْقُرْآن الْكَرِيم" بل شَمل كَذَلِك مَا رُوِيَ عَن الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم فِي السّنة من قَول أَو عمل أَو تَقْرِير أَو صفة.

وَقد شهد الْقُرْآن الْكَرِيم بشمول الْوَحْي لمصدري التشريع كليهمَا -الْقُرْآن الْكَرِيم وَالسّنة الشَّرِيفَة- بقوله تَعَالَى:

{وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} 1.

{قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} 2.

{مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} 3.

كَمَا أكد الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم هَذَا الْمَعْنى بقوله: "إِنِّي أُوتيت الْكتاب وَمثله مَعَه" 4.

--------------------------------------------

1 سُورَة النَّجْم: الْآيَة 3: 4.

2 سُورَة آل عمرَان: الْآيَة 31.

3 سُورَة النِّسَاء: الْآيَة: 80.

4 أخرجه أَبُو دَاوُد: كتاب السّنة6، وَأحمد4/ 4/ 131.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌প্রথম সংস্করণের সম্পাদকের ভূমিকা:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই, তাঁরই কাছে হেদায়েত প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন। তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সাথীদের ওপর আল্লাহর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর,

শেষ রাসূলের ওপর যে ওহি নাজিল হয়েছে তা কেবল তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত করা হয় এমন মুজিজাসম্পন্ন পাঠ "আল-কুরআনুল কারিম"-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সুন্নাহর মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁর কথা, কাজ, সমর্থন বা গুণাবলিকেও তা অন্তর্ভুক্ত করে।

আর আল-কুরআনুল কারিম শরীয়তের উভয় উৎস—আল-কুরআনুল কারিম এবং সুন্নাহ—ওহিভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে সাক্ষ্য প্রদান করেছে:

{আর তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহি, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।} ১।

{বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।} ২।

{যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।} ৩।

তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে এই বিষয়টি সুনিশ্চিত করেছেন: "নিশ্চয়ই আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে।" ৪।

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নাজম: আয়াত ৩-৪।

২. সূরা আলে ইমরান: আয়াত ৩১।

৩. সূরা আন-নিসা: আয়াত ৮০।

৪. এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ: কিতাবুস সুন্নাহ ৬; এবং আহমাদ ৪/৪/১৩১।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৮)
فبالإضافة إِلَى أَن السّنة صنو الْقُرْآن الْكَرِيم من حَيْثُ الدّلَالَة، فَهِيَ كَذَلِك شارحة لقواعده الْعَامَّة ومفصلة لمجمله، ومبينة لمعانيه، قَالَ تَعَالَى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} . فَهِيَ جُزْء لَا يتَجَزَّأ من كَمَال الرسَالَة وتمامها.

وَلم تكن هَذِه الْحَقِيقَة مَوضِع خلاف بَين الصَّحَابَة رضي الله عنهم، بل كَانَت من البدهيات الْمُسلم بهَا وَالْمجْمَع عَلَيْهَا نصا وَعَملا.

تدوين السّنة فِي عهد النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم:

وَلَكِن السّنة لم تدون فِي حَيَاة النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خشيَة اختلاطها بِالْقُرْآنِ الْكَرِيم كَمَا هُوَ مَعْرُوف من نهي الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم، وَكَذَلِكَ بَقِي الْأَمر على هَذَا الْحَال فِي عهد الصَّحَابَة رضي الله عنهم إِلَّا من استثناءت خَاصَّة لبَعض الصَّحَابَة المعروفين بعلمهم وضبطهم، فَكَانَت لبَعْضهِم مدوناته فِي السّنة، بِالْإِضَافَة إِلَى أَن مَنْهَج الاستيثاق وضعت معالمه فِي وَقت مبكر حِين جمع كتاب الله تَعَالَى فِي عهد الْخَلِيفَة أبي بكر الصّديق رضي الله عنه ثمَّ فِي عهد عُثْمَان رَضِي عَنهُ، وَكَانَ لَا بُد من شَهَادَة اثْنَيْنِ من الصَّحَابَة على الْأَقَل حَتَّى يتم تدوين الْآيَة فِي موضعهَا من الْقُرْآن الْكَرِيم، وَقد انسحب هَذَا الشَّرْط على قبُول الحَدِيث أَيْضا، فَلم يُقبل حديثٌ من راوٍ مَا لم يتوفر لَهُ شَاهد أَو أَكثر، وَقد تورع كثير من الصَّحَابَة عَن رِوَايَة الحَدِيث مَا لم يَكُونُوا على يَقِين تَامّ مِمَّا ينقلون، حَيْثُ أَن أَمر حفظ السّنة وتناقل رِوَايَات الحَدِيث لم يكن مُشكلا طالما أَن جيل الصَّحَابَة كَانَ مَوْجُودا.

تدوين السّنة بعد جيل الصَّحَابَة:

وَلما بَدَأَ جيل الصَّحَابَة يتناقص وامتد الْإِسْلَام إِلَى شعوب وأمم أُخْرَى، وَكَانَت الْأَحَادِيث تتناقل شفاهة بشروطها التوثيقية، شعر الْمُسلمُونَ بضرورة تدوين السّنة كَامِلَة، وبذل عُلَمَاء السّنة جزاهم الله خيرا جهودًا محمودة فِي تدوينها، وَوضعت عُلُوم مُتعَدِّدَة لتنقية السّنة من الشوائب الَّتِي ابتدعها أَصْحَاب الْأَهْوَاء والنحل الْبَاطِلَة، وَكَانَ الأساس فِي تدوين السّنة
দলিলের দিক থেকে সুন্নাহ যেমন পবিত্র কুরআনের সমতুল্য, তেমনি এটি কুরআনের সাধারণ মূলনীতিগুলোর ব্যাখ্যাকারী, সারসংক্ষেপগুলোর বিস্তারিত বর্ণনাকারী এবং এর অর্থসমূহ সুস্পষ্টকারী। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি আপনার প্রতি যিকির (কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।" সুতরাং সুন্নাহ হলো রিসালাতের পূর্ণতা ও সমাপ্তির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এই সত্যটি সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মধ্যে কোনো মতভেদের বিষয় ছিল না; বরং এটি ছিল স্বতঃসিদ্ধ ও স্বীকৃত ধ্রুব সত্য এবং যা উদ্ধৃতি ও আমলের ক্ষেত্রে সর্বসম্মত ছিল।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে সুন্নাহ সংকলন:

কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবদ্দশায় সুন্নাহ সংকলিত হয়নি পবিত্র কুরআনের সাথে মিশে যাওয়ার ভয়ে, যেমনটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিষেধাজ্ঞা থেকে জানা যায়। একইভাবে সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যুগেও বিষয়টি এমন ছিল, তবে জ্ঞান ও প্রখর স্মৃতির জন্য সুপরিচিত কিছু সাহাবীর ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যতিক্রম ছিল; তাঁদের কয়েকজনের নিজস্ব সুন্নাহর পাণ্ডুলিপি ছিল। অধিকন্তু, তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পদ্ধতির রূপরেখা অনেক আগেই নির্ধারিত হয়েছিল যখন খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং পরবর্তীতে উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে আল্লাহর কিতাব সংগৃহীত হয়েছিল। পবিত্র কুরআনের কোনো আয়াতকে তার নির্দিষ্ট স্থানে লিপিবদ্ধ করার জন্য অন্তত দুইজন সাহাবীর সাক্ষ্য থাকা আবশ্যক ছিল। এই শর্তটি হাদীস গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রযুক্ত হয়েছিল; ফলে কোনো বর্ণনাকারীর কাছ থেকে ততক্ষণ হাদীস গ্রহণ করা হতো না যতক্ষণ না তার অনুকূলে এক বা একাধিক সাক্ষী পাওয়া যেত। অনেক সাহাবী হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা ও পরহেজগারী অবলম্বন করতেন যদি না তাঁরা যা বর্ণনা করছেন সে বিষয়ে পূর্ণ নিশ্চিত হতেন। কেননা সুন্নাহ সংরক্ষণ এবং হাদীসের বর্ণনা আদান-প্রদানের বিষয়টি ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো সমস্যা ছিল না যতক্ষণ সাহাবীগণের প্রজন্ম বিদ্যমান ছিল।

সাহাবীগণের প্রজন্মের পর সুন্নাহ সংকলন:

যখন সাহাবীগণের সংখ্যা কমতে শুরু করল এবং ইসলাম অন্যান্য জাতি ও গোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল, আর হাদীসসমূহ যখন তার প্রামাণ্য শর্তাবলি বজায় রেখে মৌখিকভাবে আদান-প্রদান হচ্ছিল, তখন মুসলমানরা পূর্ণাঙ্গভাবে সুন্নাহ সংকলনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন। সুন্নাহর বিশেষজ্ঞ আলিমগণ (আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন) এটি সংকলনের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। প্রবৃত্তি পূজারী ও বাতিল মতাবলম্বীদের উদ্ভাবিত আবর্জনা থেকে সুন্নাহকে পবিত্র করার জন্য বহুবিধ শাস্ত্র প্রবর্তন করা হয়েছে। আর সুন্নাহ সংকলনের মূল ভিত্তি ছিল...
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৯)
مَنْهَج الاستيثاق الَّذِي اعْتَمدهُ الصَّحَابَة رضي الله عنهم فِي وَقت مبكر بعد أَن طوروه إِلَى الصُّورَة الَّتِي جعلت مِنْهُ خير مَنْهَج علمي موضوعي يُمكن أَن يتوافر عَلَيْهِ بشر، حَتَّى أننا لَا نعهد فِي التَّارِيخ العالمي نبيًّا أَو عَظِيما بُذِلَ فِي سَبِيل تَحْقِيق مَنْطُوق كَلَامه وَمَا رُوِيَ عَن أَحْوَاله وَسيرَته بشكل عَام مَا توفر للرسول الْخَاتم عليه الصلاة والسلام. وَلَا غرابة فِي ذَلِك فَإِن من لَوَازِم الرسَالَة الخاتمة وصولها نصًّا سليما وبيانًا صَحِيحا كثمرة للْحِفْظ الرباني لهَذَا الدَّين: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} . فقيض الله لَهُ من يدْفع عَنهُ الشّبَه ويجلي الْحَقِيقَة، وينقله بِسَنَد مُتَّصِل على هَذَا النَّحْو من السَّلامَة والدقة.

وَلَا شكّ أَن من نعم الله تَعَالَى على هَذِه الْأمة أَن كَانَ ظُهُور الْفِتْنَة فِيهَا مترافقًا مَعَ وجود جيل الْأَصْحَاب -حفظَة الحَدِيث- الْمَشْهُود لَهُم من رَسُول الله، الْأَمر الَّذِي أدّى إِلَى تدوين وتوثيق السّنة بِحَيْثُ تحققت دَرَجَة صِحَة الحَدِيث وحجيته بِمَا لَا يدع مجالًا لشُبْهَة.

وَهَكَذَا لم يخْتَلف جُمْهُور عُلَمَاء الْأمة على وجوب الْأَخْذ بِالسنةِ وَالِاسْتِدْلَال بهَا عملا بقوله تَعَالَى {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} . وَلَا يعْتد بِرَأْي بَعضهم مِمَّن جنحت بِهِ الْأَهْوَاء وأضلته الْفِتَن.

اتجاه عُلَمَاء السّنة فِي عملية التدوين وَدفع الشّبَه:

وَقد اتجه عُلَمَاء السّنة فِي بنائهم لصرحها اتجاهين واضحين لَا يُغني أَحدهمَا عَن الآخر: الأول فِي تدوين السّنة الصَّحِيحَة بإسنادها، وَالثَّانِي دفع الشّبَه والأهواء الْبَاطِلَة وَبَيَان وَجه الْحَقِيقَة فِي ذَلِك.

وَيُمكن أَن يصنف هَذَا الْكتاب "تَأَول مُخْتَلف الحَدِيث" ضمن الْمَجْمُوعَة الثَّانِيَة فِي الدفاع عَن السّنة، ويتميز بِأَنَّهُ عرض الشّبَه الَّتِي أثيرت حول تنَاقض بعض الْأَحَادِيث فِيمَا بَينهَا، أَو معارضتها لآيَات فِي كتاب الله تَعَالَى، أَو خُرُوجهَا عَن منطق الْعقل ومبادئ الْفِكر الْمُتَعَارف عَلَيْهَا، أَو مخالفتها لمألوف النَّاس ومعروفهم، أَو لسنن الطبيعة وقوانينها العلمية. تِلْكَ
নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের যে পদ্ধতি সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) প্রাথমিক যুগে অবলম্বন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে একে এমন একটি রূপ দান করেছিলেন যা মানুষের পক্ষে সম্ভব এমন শ্রেষ্ঠ বস্তুনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে। এমনকি বিশ্ব ইতিহাসে আমরা এমন কোনো নবী বা মহাপুরুষের কথা জানি না, যাঁর বাণীর শব্দাবলি এবং তাঁর অবস্থা ও সীরাত সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সেই পরিমাণ শ্রম ব্যয় করা হয়েছে যা সর্বশেষ রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ক্ষেত্রে করা হয়েছে। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ নবুয়তের পরিসমাপ্তির দাবি হলো এই দ্বীনের মূল পাঠ সঠিক থাকা এবং এর সঠিক বর্ণনা বিদ্যমান থাকা, যা মূলত এই দ্বীন সংরক্ষণের ঐশী প্রতিশ্রুতিরই ফল: “নিশ্চয় আমিই যিকর নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।” তাই আল্লাহ তাআলা এমন একদল মানুষকে মনোনীত করেছেন যারা তাঁর পক্ষ থেকে সংশয়সমূহ নিরসন করেন, সত্যকে উন্মোচিত করেন এবং অবিচ্ছিন্ন সনদের মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুল ও সূক্ষ্মভাবে তা বর্ণনা করেন।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই উম্মতের প্রতি আল্লাহ তাআলার অন্যতম নেয়ামত হলো, ফিতনার আবির্ভাব এমন সময়ে হয়েছিল যখন হাদীসের হাফেজ তথা সাহাবায়ে কেরামের প্রজন্ম বিদ্যমান ছিলেন, যাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য স্বয়ং রাসূলুল্লাহ প্রদান করেছেন। এর ফলে সুন্নাহ সংকলন ও এর নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের কাজটি এমনভাবে সম্পন্ন হয়েছে যে, হাদীসের বিশুদ্ধতা ও প্রামাণিকতার স্তর এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা কোনো সংশয়ের অবকাশ রাখে না।

এভাবেই উম্মতের জুমহুর উলামায়ে কেরাম সুন্নাহ গ্রহণ ও তা থেকে দলিল গ্রহণের আবশ্যিকতার বিষয়ে একমত হয়েছেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।” আর ঐসব ব্যক্তির মতামতের কোনো গুরুত্ব নেই যাদেরকে কুপ্রবৃত্তি বিপথগামী করেছে এবং ফিতনা বিভ্রান্ত করেছে।

সুন্নাহ সংকলন ও সংশয় নিরসন প্রক্রিয়ায় সুন্নাহর আলেমদের কর্মপন্থা:

সুন্নাহর ভিত্তি মজবুত করার ক্ষেত্রে সুন্নাহর আলেমগণ দুটি সুস্পষ্ট কর্মপন্থা অবলম্বন করেছেন যা একে অপরের পরিপূরক: প্রথমটি হলো সনদসহ সহীহ সুন্নাহ সংকলন করা, আর দ্বিতীয়টি হলো সংশয় ও বাতিল প্রবৃত্তিগুলোর নিরসন করা এবং এক্ষেত্রে সত্যের স্বরূপ উন্মোচন করা।

এই “তাউইলু মুখতালিফিল হাদীস” কিতাবটিকে সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় দ্বিতীয় ধারার অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এর বিশেষত্ব হলো, এটি সেই সকল সংশয় উপস্থাপন করেছে যা হাদীসসমূহের মধ্যকার পারস্পরিক বৈপরীত্য, অথবা আল্লাহ তাআলার কিতাবের আয়াতের সাথে সেগুলোর আপাত বিরোধ, কিংবা প্রচলিত বুদ্ধি ও চিন্তার মূলনীতির পরিপন্থী হওয়া, অথবা মানুষের পরিচিত প্রথা এবং প্রকৃতির নিয়ম ও বৈজ্ঞানিক নিয়মের পরিপন্থী হওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে উত্থাপন করা হয়েছিল। এই...
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১০)
الشّبَه الَّتِي أثارها المخالفون، الْأَمر الَّذِي حملهمْ على إِسْقَاط بعض الْأَحَادِيث وتعطيلها.

وَلَقَد كَانَ عمل الْمُؤلف رحمه الله بَيَان الْحَقِيقَة بالأدلة العلمية، وتفنيد المزاعم وكشف قُصُور الْفَهم بالملابسات المرافقة لوُرُود النَّص..

وَيعْتَبر هَذَا الْكتاب -إِضَافَة إِلَى كتب أُخْرَى فِي الْمَوْضُوع نَفسه- نَافِذَة نطل مِنْهَا على التيارات الفكرية والمذهبية الَّتِي كَانَت مَوْجُودَة فِي الْقرن الثَّالِث، مِمَّا يعْتَبر سجلًا حيًّا وَشَاهدا وَاضحا على مَا دَار فِي عصر الْمُؤلف من مناظرات ومنازعات وحوار رسخت فِيهَا أَقْدَام، وزلت بهَا عَن الْحق أفهام. وَهِي على كل حَال سجل تاريخي يُغني ويثري الْفِكر الإسلامي، ويعين على التَّمَسُّك بالنافع الصَّالح، كَمَا يبصر بالمزالق والأهواء.

وسنفصل فِيمَا يَلِي أَسبَاب الِاخْتِلَاف فِي اعْتِبَار السّنة الْمصدر التشريعي الثَّانِي؛ ليَكُون ذَلِك مدخلًا نفهم من خلاله بوضوح موقع هَذَا الْكتاب، ثمَّ نعطي فكرة منهجية عَنهُ وعملنا فِيهِ، وننهي الْمُقدمَة بِالْحَدِيثِ عَن الْمُؤلف ومكانته العلمية ومساهماته فِي الاهتمامات العلمية والثقافية والمذهبية السائدة فِي عصره.

ونسأل الله تَعَالَى أَن يَجْزِي الْمُؤلف خير مَا يَجْزِي الْعلمَاء العاملين، وَأَن يَجْعَل عَملنَا خَالِصا لوجهه الْكَرِيم يثيبنا عَلَيْهِ بفضله وَرَحمته إِنَّه البَرُّ الرَّحِيم.
বিরোধীপক্ষ কর্তৃক উত্থাপিত সংশয়সমূহ, যা তাদেরকে কিছু হাদিস বর্জন ও অকার্যকর করতে প্ররোচিত করেছিল।

নিশ্চয়ই লেখক (রহিমাহুল্লাহ)-এর কাজ ছিল তাত্ত্বিক প্রমাণের মাধ্যমে সত্য স্পষ্ট করা, ভিত্তিহীন দাবিগুলো খণ্ডন করা এবং মূল পাঠ (নাস) অবতীর্ণ হওয়ার সময়কার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বুঝের সীমাবদ্ধতা উন্মোচন করা।

এই গ্রন্থটি—একই বিষয়ের ওপর রচিত অন্যান্য গ্রন্থের পাশাপাশি—একটি বাতায়ন হিসেবে গণ্য, যার মাধ্যমে আমরা তৃতীয় হিজরি শতাব্দীতে বিদ্যমান বুদ্ধিবৃত্তিক ও মাযহাবী ধারাগুলোর ওপর দৃষ্টিপাত করতে পারি। এটি লেখকের যুগে সংঘটিত মুনাজারা, বিবাদ ও সংলাপের একটি জীবন্ত দলিল এবং স্পষ্ট সাক্ষী হিসেবে বিবেচিত, যাতে অনেকের পা সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং অনেকের বুঝ সত্য থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। যা হোক, এটি একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড যা ইসলামি চিন্তাধারাকে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করে এবং উপকারী ও সঠিক বিষয় আঁকড়ে ধরতে সাহায্য করে, সেই সাথে বিচ্যুতি ও কুপ্রবৃত্তি সম্পর্কে সচেতন করে।

সুন্নাহকে দ্বিতীয় শরয়ী উৎস হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে মতভেদের কারণসমূহ আমরা নিম্নে বিস্তারিত বর্ণনা করব; যাতে এটি একটি প্রবেশদ্বার হয় যার মাধ্যমে আমরা এই বইটির অবস্থান স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি। এরপর আমরা গ্রন্থটির পদ্ধতি এবং এতে আমাদের কাজ সম্পর্কে একটি পদ্ধতিগত ধারণা দেব এবং লেখকের জীবনী, তাঁর ইলমি মর্যাদা এবং তৎকালীন প্রচলিত ইলমি, সাংস্কৃতিক ও মাযহাবী ক্ষেত্রে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ভূমিকাটি শেষ করব।

আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন লেখককে আমলকারী আলেমদের জন্য নির্ধারিত সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং আমাদের এই কাজকে কেবল তাঁর মহান মুখমণ্ডলের সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় আমাদের সওয়াব দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও দয়ালু।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌أَسبَاب الِاخْتِلَاف فِي اعْتِبَار السّنة الْمصدر التشريعي الثَّانِي:

لَعَلَّ معرفَة أَسبَاب الِاخْتِلَاف فِي اعْتِبَار السّنة الْمصدر التشريعي الثَّانِي عِنْد عُلَمَاء الْمُسلمين وَالْأَئِمَّة الْمُجْتَهدين يلقِي ظلالًا موضوعية على قَضِيَّة هَذَا الْكتاب الَّذِي بَين أَيْدِينَا.

فَلَا خلاف فِي إِجْمَاع الْعلمَاء على اعْتِبَار السّنة الْمصدر التشريعي الثَّانِي بعد كتاب الله تَعَالَى "الْقُرْآن الْكَرِيم" لَكِن السّنة لم تدون كلهَا فِي الْقرن الأول الهجري كَمَا أسلفنا، فقد فكر الْخَلِيفَة الثَّانِي عمر بن الْخطاب فِي تدوينها، وَلكنه بعد التروي والتشاور لم يقدم على ذَلِك لسببين فِيمَا نعتقد: لِأَنَّهُ كَانَ حَرِيصًا على اتِّبَاع مَنْهَج صَاحِبيهِ السالفين، فَأَبُو بكر لم يَفْعَله وَلَا أذن بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؛ وَلِأَن الْحَاجة لم تكن قَائِمَة فِي ذَلِك الْوَقْت إِلَى التدوين؛ فالجيل الَّذِي كَانَ يحفظ السّنة شفاهة ويجسدها بسلوكه عملا لَا يزَال مَوْجُودا.

وَهَكَذَا لم ينفذ عمر رضي الله عنه مَا فكر فِيهِ، وانقضى الْقرن الأول الهجري من غير أَن تدون السّنة عدا مَا رُوِيَ من أَن عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ كَانَت لَهُ صحيفَة اسْمهَا "الصادقة" دون فِيهَا الْأَحَادِيث الَّتِي سَمعهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِنَفسِهِ، وَلَعَلَّ ذَلِك كَانَ بِإِذن خَاص مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فقد رُوِيَ عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ: "كنت أَكثر الصَّحَابَة حفظا لحَدِيث رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ فقد كَانَ يكْتب وَلَا أكتب"1.

--------------------------------------------

1 الحَدِيث رَوَاهُ البُخَارِيّ رقم113/ كتاب الْعلم.
সুন্নাহকে দ্বিতীয় বিধানগত উৎস হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে মতপার্থক্যের কারণসমূহ:

সম্ভবত মুসলিম আলিম ও মুজতাহিদ ইমামগণের নিকট সুন্নাহকে দ্বিতীয় বিধানগত উৎস হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে মতপার্থক্যের কারণগুলো জানা আমাদের সামনে বিদ্যমান এই কিতাবটির বিষয়ের ওপর বস্তুনিষ্ঠ আলোকপাত করবে।

মহান আল্লাহর কিতাব "আল-কুরআনুল কারীম"-এর পর সুন্নাহকে দ্বিতীয় বিধানগত উৎস হিসেবে বিবেচনার ব্যাপারে আলিমগণের ঐকমত্যের (ইজমা) ক্ষেত্রে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু আমরা আগে যেমন উল্লেখ করেছি, হিজরি প্রথম শতাব্দীতে সুন্নাহ সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ করা হয়নি। দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তা লিপিবদ্ধ করার কথা ভেবেছিলেন, তবে চিন্তা-ভাবনা ও পরামর্শের পর তিনি আমাদের মতে দুটি কারণে সেই পদক্ষেপ নেননি: প্রথমত, তিনি তাঁর পূর্ববর্তী দুই সাথীর পদ্ধতি অনুসরণে আগ্রহী ছিলেন; আবু বকর (রা.) এটি করেননি এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অনুমতি দেননি। দ্বিতীয়ত, সেই সময়ে লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়নি; কেননা যে প্রজন্ম মৌখিকভাবে সুন্নাহ মুখস্থ রাখত এবং আচরণের মাধ্যমে তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাত, তারা তখনও বিদ্যমান ছিলেন।

এভাবেই উমর (রা.) যা ভেবেছিলেন তা বাস্তবায়ন করেননি এবং সুন্নাহ সংকলিত হওয়া ছাড়াই প্রথম হিজরি শতাব্দী অতিবাহিত হয়; তবে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.)-এর কথা বর্ণিত আছে যে, তাঁর "আস-সাদিকা" নামে একটি সহিফা ছিল যাতে তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে সরাসরি শোনা হাদিসগুলো লিপিবদ্ধ করতেন। সম্ভবত এটি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুমতিক্রমে ছিল। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আমি সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অগ্রসর ছিলাম, তবে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস ব্যতীত; কারণ সে লিখত কিন্তু আমি লিখতাম না"১।

--------------------------------------------

১. হাদিসটি বুখারি বর্ণনা করেছেন, নং ১১৩/ কিতাবুল ইলম।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১২)
تَوْثِيق الحَدِيث:

وعَلى الرغم من عدم التدوين إِلَّا أَن الصَّحَابَة مَعَ ذَلِك اتَّخذُوا بعض الاحتياطات الَّتِي لَا بُد مِنْهَا للوثوق بِرِوَايَة الحَدِيث، وتحروا الدقة فِي نَقله، فقد كَانَ أَبُو بكر الصّديق لَا يقبل الحَدِيث إِلَّا من راوٍ يُؤَيّدهُ شَاهد، وَعمر بن الْخطاب كَانَ يطْلب من الرَّاوِي أَن يَأْتِي بِالْبَيِّنَةِ على رِوَايَته، وَعلي بن أبي طَالب كَانَ يسْتَحْلف الرَّاوِي. وَلَكِن هَذِه الاحتياطات -وَإِن حققت الْغَرَض مِنْهَا فِي عهد الصَّحَابَة- إِلَّا أَن الْحَاجة أَصبَحت ماسة فِيمَا بعد إِلَى التدوين؛ نظرا لتفرق الصَّحَابَة وانقراضهم تدريجيًا، وَدخُول الْإِسْلَام إِلَى بِلَاد جَدِيدَة وانسياح الْمُسلمين فِي الأَرْض، وتناقل حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَن الْأَصْحَاب شفاهة بالروايات ذَات السَّنَد الصَّحِيح أَو غَيره.

وَقد كَانَ لعدم تدوين السّنة أثران:

"أَحدهمَا": أَنه دفع عُلَمَاء الْمُسلمين إِلَى بذل جهود خَاصَّة فِي دراسة حَال رُوَاة الحَدِيث ودرجة الثِّقَة بهم، وانقسمت الأحادث بِاعْتِبَار رواتها إِلَى قَطْعِيَّة الثُّبُوت وظنية الثُّبُوت، كَمَا انقسمت دَرَجَات الحَدِيث من حَيْثُ الْقبُول وَالرَّدّ إِلَى صَحِيح وَحسن وَضَعِيف، وَأسسَ فن الرِّوَايَة وَوضعت فِيهِ مؤلفات.

"وَثَانِيهمَا" أَن عدم التدوين ترك فرْصَة للتحريف وَالزِّيَادَة وَالنَّقْص خطأ أَو عمدا، لذَلِك لم يجمع الْمُسلمُونَ على السّنة كلهَا كَمَا أَجمعُوا على الْقُرْآن كُله، مِمَّا أدّى إِلَى اخْتلَافهمْ فِي الِاحْتِجَاج بهَا حسب دَرَجَة اعْتِبَار الصِّحَّة لديهم.

التحزب السياسي والانقسام المذهبي:

إِن الانحياز والتحزب السياسي الَّذِي نَشأ بِسَبَب مَفْهُوم الْخلَافَة وَاخْتِيَار شخصية الْخَلِيفَة أَخذ شكلًا دينيًّا ذَا أثر خطير فِي اعْتِمَاد بعض الْأَحَادِيث ورفض بَعْضهَا الآخر، وَذَلِكَ أَنه بعد مقتل عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رضي الله عنه بُويِعَ بالخلافة عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، ونازعه الْخلَافَة مُعَاوِيَة بن
হাদিস প্রামাণিকরণ:

লিপিবদ্ধকরণের অভাব থাকা সত্ত্বেও সাহাবীগণ হাদিস বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য কিছু আবশ্যকীয় সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন এবং এর বর্ণনায় সূক্ষ্মতা অনুসন্ধান করেছিলেন। যেমন আবু বকর আল-সিদ্দিক এমন কোনো হাদিস গ্রহণ করতেন না যার বর্ণনাকারীর পক্ষে কোনো সাক্ষী না থাকত, উমর ইবনুল খাত্তাব বর্ণনাকারীর কাছে তার বর্ণনার সপক্ষে প্রমাণ দাবি করতেন এবং আলী ইবনে আবি তালিব বর্ণনাকারীর কাছ থেকে শপথ গ্রহণ করাতেন। কিন্তু এই সতর্কতাগুলো—যদিও সাহাবীগণের যুগে তা লক্ষ্য পূরণ করেছিল—পরবর্তীতে লিপিবদ্ধকরণের প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়ে ওঠে; কারণ সাহাবীগণ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং ধীরে ধীরে তাঁদের তিরোধান ঘটছিল, নতুন নতুন দেশে ইসলামের প্রবেশ এবং পৃথিবীতে মুসলিমদের বিস্তার ঘটছিল এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস সাহাবীগণ থেকে মৌখিকভাবে সহীহ সনদ বা অন্য কোনো সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়ে আসছিল।

সুন্নাহ লিপিবদ্ধ না থাকার দুটি প্রভাব ছিল:

"প্রথমত": এটি মুসলিম আলেমদের হাদিস বর্ণনাকারীদের অবস্থা এবং তাঁদের নির্ভরযোগ্যতার মাত্রা পর্যালোচনায় বিশেষ প্রচেষ্টা ব্যয় করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। বর্ণনাকারীদের বিবেচনায় হাদিসগুলো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত এবং ধারণাপ্রসূতভাবে প্রমাণিত—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। একইভাবে গ্রহণ ও বর্জনের দিক থেকে হাদিসের পর্যায়গুলো সহীহ, হাসান এবং যয়ীফ-এ বিভক্ত হয়েছে এবং বর্ণনাশাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে ও এতে বিভিন্ন গ্রন্থ রচিত হয়েছে।

"দ্বিতীয়ত": লিপিবদ্ধ না থাকা ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃতি, সংযোজন ও বিয়োজনের একটি সুযোগ তৈরি করেছিল। এ কারণে মুসলিমরা সম্পূর্ণ সুন্নাহর ওপর সেভাবে ঐকমত্য পোষণ করতে পারেনি যেভাবে তারা পুরো কুরআনের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছিল; যার ফলে তাঁদের কাছে নির্ভরযোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে মতভেদের সৃষ্টি হয়।

রাজনৈতিক দলাদলি এবং মাযহাবী বিভাজন:

খিলাফতের ধারণা এবং খলীফার ব্যক্তিত্ব নির্বাচনের কারণে সৃষ্ট রাজনৈতিক পক্ষপাত ও দলাদলি একটি ধর্মীয় রূপ ধারণ করে, যা কিছু হাদিস গ্রহণ এবং অন্য কিছু হাদিস প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। বিষয়টি এমন ছিল যে, উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাতের পর আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে খিলাফতের বায়াত গ্রহণ করা হয় এবং মুয়াবিয়া ইবনে...
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৩)
أبي سُفْيَان رضي الله عنهما لأسباب ومسوغات لَا مجَال لذكرها هُنَا، واشتدت الْفِتْنَة بَين الْفَرِيقَيْنِ وانتهت إِلَى التَّحْكِيم، ونتج عَن ذَلِك انقسام الْمُسلمين إِلَى طوائف ثَلَاثَة: الْخَوَارِج، والشيعة، وَأهل السّنة وَالْجَمَاعَة، وهم جُمْهُور الْأمة.

1- أما الْخَوَارِج فهم جمَاعَة من الْمُسلمين نقموا من عُثْمَان سياسته فِي خِلَافَته، ونقموا من عَليّ قبُول التَّحْكِيم، ونقموا من مُعَاوِيَة توليه الْخلَافَة بِالْقُوَّةِ والسياسة، فَخَرجُوا على جَمِيع الْأَطْرَاف، وَكَانَ مبدؤهم أَن خَليفَة الْمُسلمين يَنْبَغِي أَن ينتخب انتخابًا من الْمُسلمين مِمَّن توفرت فِيهِ الْكَفَاءَة لَهَا، سَوَاء أَكَانَ قرشيًّا أم غير قرشي حَتَّى وَلَو كَانَ عبدا حبشيًّا، وَأَنه لَا تجب طَاعَته إِلَّا إِذا كَانَ مُلْتَزما الْقُرْآن وَالسّنة، فَإِن تجاوزهما وَجب الْخُرُوج عَلَيْهِ وسلكوا فِي تأييد مبدئهم ومجاهدة خصومهم وَسَائِل العنف والشدة فِي حروبهم.

2- وَأما الشِّيعَة فهم جمَاعَة من الْمُسلمين رَأَوْا تَفْضِيل عَليّ بن أبي طَالب وَذريته وأحقيتهم بالخلافة وأفرطوا فِي ذَلِك؛ لأَنهم يرَوْنَ أَنه الَّذِي أوصى لَهُ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم بالخلافة من بعده، ثمَّ انقسموا فِيمَا بَينهم بشأن توارث هَذِه الْخلَافَة إِلَى كيسانية وزيدية وإسماعيلية وجعفرية، وكل فرقة تجْعَل الْخلَافَة فِي فرع خَاص من ذُرِّيَّة عليّ.

3- وَأما جمهرة الْمُسلمين فَلم يذهبوا مَذْهَب الْخَوَارِج وَلَا الشِّيعَة وَلم يرَوا أَن الْخلَافَة وَصِيَّة لأحد، وَرَأَوا أَن الْخَلِيفَة ينتخب من أكفاء قُرَيْش إِن وجد، ويؤولون مَا كَانَ بَينهم من خصومات بِأَنَّهَا كَانَت اجتهادية.

هَذَا الانقسام السياسي كَانَ لَهُ أثر فِي أَن الْخَوَارِج رفضوا الْأَحَادِيث الَّتِي رَوَاهَا عُثْمَان أَو عَليّ أَو مُعَاوِيَة أَو رَوَاهَا صَحَابِيّ مِمَّن ناصروا وَاحِدًا مِنْهُم، وردوا كل أَحَادِيثهم وآرائهم وفتاويهم، واقتصروا على مَا رُوِيَ عَمَّن يرضونهم وَرِوَايَات عُلَمَائهمْ وفتاويهم.

وَكَذَلِكَ الشِّيعَة اشترطوا فِي قبُول الحَدِيث أَن يكون من رِوَايَة آل
আবু সুফিয়ান (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর জন্য এমন কিছু কারণ ও যুক্তির ভিত্তিতে যা এখানে উল্লেখ করার অবকাশ নেই; এবং উভয় দলের মধ্যে ফিতনা তীব্রতর হয় এবং তা সালিশি (তাহকিম) পর্যন্ত গড়ায়। এর ফলে মুসলিমদের মধ্যে তিনটি দলে বিভাজন তৈরি হয়: খারিজি, শিয়া এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত, আর তারাই উম্মতের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ।

১- খারিজিরা হলো মুসলিমদের এমন একটি দল যারা উসমানের খিলাফতকালীন তাঁর শাসননীতির সমালোচনা করেছিল, আলীর সালিশি গ্রহণ করার নিন্দা করেছিল এবং মুয়াবিয়ার শক্তি ও কৌশলের মাধ্যমে খিলাফত লাভের বিরোধিতা করেছিল। ফলে তারা সকল পক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। তাদের মূলনীতি ছিল এই যে, মুসলিমদের খলিফাকে অবশ্যই মুসলিমদের মধ্য থেকে এমন একজনকে নির্বাচিত হতে হবে যার মধ্যে এর যোগ্যতা রয়েছে, চাই তিনি কুরাইশ বংশীয় হোন বা না হোন, এমনকি তিনি যদি একজন হাবশি ক্রীতদাসও হন। তারা আরও মনে করত যে, খলিফার আনুগত্য করা ওয়াজিব নয় যতক্ষণ না তিনি কুরআন ও সুন্নাহর অনুসারী হন; যদি তিনি এই দুইয়ের সীমা লঙ্ঘন করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে। তারা তাদের মতবাদ সমর্থন ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে যুদ্ধের ময়দানে চরমপন্থা ও কঠোরতার পথ অবলম্বন করত।

২- আর শিয়ারা হলো মুসলিমদের এমন একটি দল যারা আলী ইবনে আবি তালিব এবং তাঁর বংশধরদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং খিলাফতের অধিকতর হকদার মনে করত এবং এ ক্ষেত্রে তারা বাড়াবাড়ি করে ফেলেছিল; কারণ তারা মনে করত যে রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) তাঁর পরবর্তী খিলাফতের জন্য আলীর প্রতি অসিয়ত করে গেছেন। অতঃপর তারা এই খিলাফতের উত্তরাধিকারের প্রশ্নে নিজেদের মধ্যে কায়সানিয়া, যায়দিয়া, ইসমাইলিয়া এবং জাফরিয়া দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং প্রতিটি দল খিলাফতকে আলীর বংশধরদের একটি নির্দিষ্ট শাখার জন্য নির্ধারিত করে দেয়।

৩- আর মুসলিমদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ খারিজি বা শিয়াদের মতাদর্শ গ্রহণ করেনি এবং তারা খিলাফতকে কারো জন্য পূর্বনির্ধারিত অসিয়ত মনে করেনি। তারা মনে করত যে, খলিফাকে কুরাইশদের যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হবে যদি পাওয়া যায়। আর তাঁদের মধ্যে যে বিবাদ হয়েছিল সেগুলোকে তারা ইজতিহাদগত বিষয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

এই রাজনৈতিক বিভাজনের একটি প্রভাব ছিল এই যে, খারিজিরা উসমান, আলী বা মুয়াবিয়া কর্তৃক বর্ণিত হাদীসগুলো কিংবা তাঁদের একজনকে সমর্থন করেছেন এমন কোনো সাহাবী বর্ণিত হাদীসগুলো প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারা তাঁদের সকল হাদীস, মতামত ও ফতোয়া বর্জন করে এবং কেবলমাত্র তাদের পছন্দনীয় ব্যক্তিদের বর্ণিত হাদীস এবং তাদের আলেমদের বর্ণনা ও ফতোয়ার ওপর সীমাবদ্ধ থাকে।

অনুরূপভাবে শিয়ারা হাদীস কবুল করার ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করেছিল যে, সেটি অবশ্যই নবী পরিবারের কারো বর্ণনা হতে হবে।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৪)
الْبَيْت والفتاوى الَّتِي صدرت عَنْهُم، وَبِهَذَا كَانَ لَهُم أَيْضا فقه خَاص.

وَأما جُمْهُور الْمُسلمين فَكَانُوا يحتجون بِكُل حَدِيث توافرت لراويه الشُّرُوط الْمَطْلُوبَة بِلَا تَفْرِيق بَين صَحَابِيّ وَآخر، وَيَأْخُذُونَ بفتاوى الصَّحَابَة وآرائهم جَمِيعًا، وعَلى الرغم من اتِّفَاق جُمْهُور عُلَمَاء الْمُسلمين على هَذِه الخطة الموضوعية فِي قبُول الحَدِيث -بِاعْتِبَار الصَّحَابَة جَمِيعًا عُدُولًا موثوقين- دون النّظر إِلَى مواقفهم السياسية من قَضِيَّة الْفِتْنَة الْكُبْرَى.

لكِنهمْ بِالْإِضَافَة إِلَى ذَلِك اخْتلفُوا فِي الخطة التشريعية الَّتِي تبناها كل مِنْهُم، وَقد نَشأ ذَلِك بِنَاء على اخْتلَافهمْ فِي تَقْدِير بعض مصَادر التشريع، وَقد تجلى ذَلِك على وَجه الْإِجْمَال فِيمَا يَأْتِي:

أَسبَاب الِاخْتِلَاف بَين الْأَئِمَّة الْمُجْتَهدين:

1- أولًَا: من حَيْثُ دَرَجَة ثُبُوت الحَدِيث وَالْمِيزَان الَّذِي ترجح بِهِ رِوَايَة على أُخْرَى، وَذَلِكَ أَن قبُول السّنة كمصدر للْأَحْكَام مَبْنِيّ على الوثوق برواتها، وطرق رِوَايَتهَا، كَمَا اخْتلف الْأَئِمَّة فِي مقاييس الْقبُول: فمجتهدو الْعرَاق: أَبُو حنيفَة وَأَصْحَابه يحتجون بِالْحَدِيثِ الْمُتَوَاتر وَالْمَشْهُور، وَمَا يُقَاس عَلَيْهِمَا من رَأْي اجتهادي يقدمونه على حَدِيث خبر الْآحَاد حَال مُخَالفَته، قَالَ أَبُو يُوسُف رحمه الله: "وَعَلَيْك بِمَا عَلَيْهِ الْجَمَاعَة من الحَدِيث، وَمَا يعرفهُ الْفُقَهَاء".

ومجتهدو الْمَدِينَة: مَالك وَأَصْحَابه يرجحون إِجْمَاع أهل الْمَدِينَة ويقدمونه فِي الِاسْتِدْلَال على خبر الْآحَاد.

وَأما بَاقِي الْأَئِمَّة: فيحتجون بِمَا رَوَاهُ الْعُدُول الثِّقَات سَوَاء وَافق عمل أهل الْمَدِينَة أَو خَالفه. وترتب على هَذَا أَن مجتهدي أهل الْعرَاق جعلُوا الْمَشْهُور فِي حكم الْمُتَوَاتر، وخصصوا بِهِ الْعَام فِي الْقُرْآن الْكَرِيم، وقيدوا بِهِ الْمُطلق، وترتب أَيْضا أَن مَرَاسِيل الصَّحَابَة من الحَدِيث وَهِي الَّتِي رَوَاهَا صَحَابِيّ بقوله: أَمر رَسُول الله بِكَذَا أَو نهى عَن كَذَا أَو قضى بِكَذَا -من غير أَن يُصَرح بِأَنَّهُ سمع ذَلِك بِنَفسِهِ أَو شافهه أَو شَاهده- يحْتَج بهَا بعض
আহলে বাইত এবং তাদের পক্ষ থেকে জারিকৃত ফতোয়াসমূহ, এর মাধ্যমেই তাদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ফিকহ গড়ে উঠেছিল।

পক্ষান্তরে সাধারণ মুসলিমগণ (জমহুর) এমন প্রতিটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করতেন যার বর্ণনাকারীর মধ্যে কাঙ্ক্ষিত শর্তাবলি বিদ্যমান থাকত, এক্ষেত্রে তারা এক সাহাবী ও অন্য সাহাবীর মাঝে কোনো পার্থক্য করতেন না। তারা সকল সাহাবীর ফতোয়া ও মতামত গ্রহণ করতেন। হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে এই বস্তুনিষ্ঠ কর্মপদ্ধতির ওপর জমহুর মুসলিম ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও—যেহেতু সকল সাহাবীই নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ—'মহা ফিতনা' (ফিতনায়ে কুবরা) সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের দিকে তারা লক্ষ্য করতেন না।

কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা প্রত্যেকে যে আইনি কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন, তাতে মতভেদ করেছেন। শরিয়তের কতিপয় উৎসের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাদের পার্থক্যের কারণেই এই মতভেদের সৃষ্টি হয়েছে। এটি সাধারণভাবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে:

মুজতাহিদ ইমামগণের মধ্যে মতভেদের কারণসমূহ:

১- প্রথমত: হাদিস সাব্যস্ত হওয়ার পর্যায় এবং এক বর্ণনাকে অন্য বর্ণনার ওপর প্রাধান্য দেওয়ার মানদণ্ডের দিক থেকে। কেননা বিধানের উৎস হিসেবে সুন্নাহ গ্রহণ করা এর বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা এবং বর্ণনার পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তদ্রূপ ইমামগণ হাদিস গ্রহণের মাপকাঠি নিয়ে মতভেদ করেছেন। ইরাকের মুজতাহিদগণ: আবু হানিফা ও তাঁর সাথীবৃন্দ মুতাওয়াতির ও মশহুর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন এবং এগুলোর ওপর কিয়াসকৃত ইজতিহাদি মতামতকে খবর-এ-ওয়াহেদ হাদিসের বিপরীতে অগ্রাধিকার দেন যদি তা পরিপন্থী হয়। আবু ইউসুফ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: "তুমি ওই হাদিস আঁকড়ে ধরো যার ওপর জামাত রয়েছে এবং ফকিহগণ যা চেনেন।"

মদিনার মুজতাহিদগণ: মালিক ও তাঁর সাথীবৃন্দ মদিনাবাসীদের ঐকমত্যকে প্রাধান্য দেন এবং দলিল হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে খবর-এ-ওয়াহেদের ওপর সেটিকে অগ্রাধিকার প্রদান করেন।

আর অন্যান্য ইমামগণ: তারা নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীদের বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন, চাই তা মদিনাবাসীদের আমলের অনুকূলে হোক বা প্রতিকূলে। এর ফলে ইরাকের মুজতাহিদগণ মশহুর হাদিসকে মুতাওয়াতির হাদিসের হুকুমে গণ্য করেছেন এবং এর মাধ্যমে তারা পবিত্র কুরআনের সাধারণ বিধানকে বিশেষিত করেছেন এবং নিরঙ্কুশ বিধানকে শর্তযুক্ত করেছেন। এর ফলে সাহাবীদের বর্ণিত মুরাসাল হাদিসসমূহ—যা কোনো সাহাবী এভাবে বর্ণনা করেন যে: রাসূলুল্লাহ এই নির্দেশ দিয়েছেন বা এই নিষেধ করেছেন অথবা এই ফয়সালা দিয়েছেন—নিজে সরাসরি শোনার বা দেখার কথা স্পষ্ট উল্লেখ না করেই—সেগুলো দ্বারা কেউ কেউ দলিল পেশ করেন।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৫)
الْمُجْتَهدين وَلَا يحْتَج بهَا بَعضهم الآخر، وَهَذَا الِاخْتِلَاف فِي طَرِيق قبُول بعض الْأَحَادِيث أدّى إِلَى قبُول بعض الْأَحَادِيث من قبل جمَاعَة من الْفُقَهَاء وردهَا من قبل آخَرين، وَرُبمَا رجح بَعضهم حكما بِحَدِيث هُوَ مَرْجُوح عِنْد الآخر، وَنَشَأ عَن هَذَا اخْتِلَاف الْأَحْكَام1.

2- وَثَانِيا: اخْتلَافهمْ فِي فَتَاوَى الصَّحَابَة وتقديرها، فَإِن الْأَئِمَّة اخْتلفُوا فِي الْفَتَاوَى الاجتهادية الَّتِي صدرت عَن أَفْرَاد الصَّحَابَة، فَأَبُو حنيفَة وَمن تَابعه لم يتقيدوا بفتوى مُعينَة لصحابي شريطة أَن لَا يخرجُوا عَن فتاويهم جَمِيعًا.

بَيْنَمَا كَانَ يرى الشَّافِعِي وَمن تَابعه أَن فَتَاوَى الصَّحَابَة رضي الله عنهم فَتَاوَى اجتهادية من أَفْرَاد غير معصومين، فَلهم إِذن أَن يَأْخُذُوا بأية فَتْوَى مِنْهَا، كَمَا أَن لَهُم أَن يفتوا بِخِلَافِهَا كلهَا. وَعَن هَذَا نَشأ اخْتِلَاف فِي الْأَحْكَام.

3- ثَالِثا: فِي الْقيَاس؛ فَإِن بعض الْمُجْتَهدين من الشِّيعَة والظاهرية أَنْكَرُوا الِاحْتِجَاج بِالْقِيَاسِ وَنَفَوْا أَن يكون مصدرا للتشريع وَلِهَذَا سموا: نفاة الْقيَاس، وَجُمْهُور الْأَئِمَّة احْتَجُّوا بِالْقِيَاسِ وعدوه الْمصدر التشريعي الرَّابِع بعد الْقُرْآن الْكَرِيم وَالسّنة الشَّرِيفَة وَالْإِجْمَاع، وَلَكنهُمْ مَعَ اتِّفَاقهم على أَنه حجَّة اخْتلفُوا فِيمَا يصلح أَن يكون عِلّة للْحكم ويبنى عَلَيْهِ الْقيَاس، حَيْثُ يشْتَرط بَعضهم أَن يكون مَنْصُوصا على عِلّة الحكم، وَنَشَأ عَن هَذَا أَيْضا اخْتِلَاف فِي الْأَحْكَام.

4- رَابِعا: وَأما اخْتلَافهمْ فِي النزعة التشريعية، فقد ظهر فِي انقسامهم إِلَى فريق أهل الحَدِيث وَمِنْهُم أَكثر مجتهدي أهل الْحجاز، وفريق أهل الرَّأْي وَمِنْهُم أَكثر مجتهدي أهل الْعرَاق.

وَلَيْسَ معنى هَذَا الانقسام أَن فُقَهَاء الْعرَاق يصدرون فِي تشريعهم عَن

--------------------------------------------

1 قَالَ الزَّرْكَشِيّ: "يجوز تَخْصِيص عُمُوم الْكتاب بِخَبَر الْوَاحِد عِنْد الْجُمْهُور، وَهُوَ الْمَنْقُول عِنْد الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة "الْبَحْر الْمُحِيط فِي أصُول الْفِقْه 3/ 364" -مُحَمَّد بدير-.
মুজতাহিদগণের নিকট এবং তাদের কেউ কেউ অন্যের উপস্থাপিত দলীলের মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করেন না। কিছু হাদিস গ্রহণের পদ্ধতির এই মতভেদ একদল ফকিহর নিকট কিছু হাদিস গ্রহণযোগ্য হওয়া এবং অন্যদের নিকট তা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্ভবত তাদের কেউ এমন হাদিসের ভিত্তিতে কোনো হুকুমকে প্রাধান্য দিয়েছেন যা অন্যের নিকট গুরুত্বহীন, আর এ থেকেই বিধানের মতভেদ তৈরি হয়েছে১।

২- দ্বিতীয়ত: সাহাবীগণের ফতোয়া এবং সেগুলোর মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাদের মতভেদ। ইমামগণ সাহাবীগণের ব্যক্তিগত ইজতিহাদি ফতোয়াগুলোর ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। আবু হানিফা এবং যারা তাঁর অনুসরণ করেছেন, তাঁরা কোনো নির্দিষ্ট সাহাবীর ফতোয়ার সাথে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, তবে শর্ত হলো তাঁরা যেন তাঁদের সামগ্রিক ফতোয়ার বাইরে না যান।

পক্ষান্তরে শাফেঈ এবং তাঁর অনুসারীরা মনে করতেন যে, সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) ফতোয়াগুলো হলো এমন ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত ইজতিহাদি ফতোয়া যারা নিষ্পাপ নন। সুতরাং তাদের অধিকার আছে সেগুলোর মধ্য থেকে যেকোনো ফতোয়া গ্রহণ করার, আবার তাদের অধিকার আছে সেগুলোর সবকিছুর বিপরীতে ফতোয়া দেওয়ার। আর এ থেকেই বিধানের মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে।

৩- তৃতীয়ত: কিয়াসের ক্ষেত্রে; শিয়া ও জাহেরি সম্প্রদায়ের কিছু মুজতাহিদ কিয়াসের মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করাকে অস্বীকার করেছেন এবং একে শরীয়তের উৎস হিসেবে মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ কারণেই তাদের বলা হয়: কিয়াস অস্বীকারকারী। জমহুর ইমামগণ কিয়াসের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন এবং একে পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমার পর শরীয়তের চতুর্থ উৎস হিসেবে গণ্য করেছেন। তবে এটি দলিল হওয়ার ব্যাপারে একমত হওয়া সত্ত্বেও তারা বিধানের কারণ (ইল্লত) হওয়ার উপযুক্ত বিষয় এবং যার ওপর ভিত্তি করে কিয়াস করা হয় সেটির ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। যেখানে তাদের কেউ কেউ বিধানের কারণটি সরাসরি ভাষ্যে (মানসুস) থাকার শর্তারোপ করেন। এ থেকেও বিধানের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে।

৪- চতুর্থত: তাদের আইনগত দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে মতভেদ। এটি মূলত তাদের আহলে হাদিস দল—যাদের মধ্যে হিজাজের অধিকাংশ মুজতাহিদ অন্তর্ভুক্ত—এবং আহলে রায় দল—যাদের মধ্যে ইরাকের অধিকাংশ মুজতাহিদ অন্তর্ভুক্ত—এই দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

এই বিভক্তির অর্থ এমন নয় যে, ইরাকের ফকিহগণ তাদের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এমন কোনো উৎস থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যা...

--------------------------------------------

১ যারকাশী বলেন: "জমহুর বা সংখ্যাধিক্য আলিমের নিকট খবরে ওয়াহেদ দ্বারা কিতাবের সাধারণ বিধানকে সুনির্দিষ্ট করা জায়েজ। এটিই চার ইমামের নিকট থেকে বর্ণিত।" (আল-বাহরুল মুহিত ফী উসুলিল ফিকহ ৩/৩৬৪) -মুহাম্মাদ বদীর-।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৬)
الِاجْتِهَاد بِالرَّأْيِ فَقَط، لأَنهم جَمِيعًا متفقون على أَن الحَدِيث حجَّة شَرْعِيَّة ملزمة، وَأَن الِاجْتِهَاد بِالرَّأْيِ أَي بِالْقِيَاسِ حجَّة شَرْعِيَّة فِيمَا لَا نَص فِيهِ.

بَين أهل الرَّأْي وَأهل الحَدِيث:

وَمعنى هَذَا الانقسام وَسبب هَذِه التَّسْمِيَة أَن فُقَهَاء الْعرَاق أَمْعَنُوا النّظر فِي مَقَاصِد الشَّرْع وَفِي الأسس الَّتِي بني عَلَيْهَا التشريع، فاقتنعوا بِأَن الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة مَعْقُول مَعْنَاهَا ومقصود بهَا تَحْقِيق مصَالح النَّاس، وبأنها تعتمد على مبادئ وَاحِدَة ترمي إِلَى غَايَة وَاحِدَة، وَهِي لهَذَا لَا بُد أَن تكون متسقة، لَا تعَارض وَلَا تبَاين بَين نصوصها وأحكامها، وعَلى هَذَا الأساس يفهمون النُّصُوص، ويرجحون نصًّا على نَص، ويستنبطون فِيمَا لَا نَص فِيهِ، وَلَو أدّى استنباطهم على هَذَا الأساس إِلَى صرف نَص عَن ظَاهره أَو ترك نَص إِلَى آخر؛ وهم من أجل هَذَا لَا يتحرجون من التَّوَسُّع فِي الِاجْتِهَاد بِالرَّأْيِ، ويجعلون لَهُ مجالًا فِي أَكثر بحوثهم التشريعية.

وَهُنَاكَ فُقَهَاء عنوا بِحِفْظ الحَدِيث وفتاوى الصَّحَابَة، واجتمعوا فِي تشريعهم إِلَى فهم هَذِه الْآثَار حَسْبَمَا تدل عَلَيْهِ عبارتها، وَكَانُوا من أجل هَذَا يتحرجون من الِاجْتِهَاد بِالرَّأْيِ، وَلَا يلجئون إِلَيْهِ إِلَّا عِنْد الضَّرُورَة القصوى، وأغلب هَؤُلَاءِ الْفُقَهَاء كَانُوا من أهل الْحجاز. وَرُبمَا كَانَ سَبَب ذَلِك أَن أهل الْحجاز لم يشعروا بضرورة الاستزادة من فقه الرَّأْي، لِأَن مشكلات مجتمعهم الَّتِي يواجهونها لم تتبدل بِالْقدرِ نَفسه الَّذِي واجهه أهل الْعرَاق مِمَّا دفعهم إِلَى الاستزادة من الِاجْتِهَاد بِالرَّأْيِ.

وَلَقَد اتهمهم مخالفوهم بِأَنَّهُم لَا ينظرُونَ فِي علل الْأَحْكَام، فَإِذا وجدوا مَا فَهموا من النَّص لَا يتَّفق مَعَ مَا يَقْتَضِيهِ الْعقل لم يبالوا بِهَذَا، وَقَالُوا: هُوَ النَّص، واتهموهم بالجمود والسطحية وَعدم فهم روح الشَّرِيعَة ومقاصدها الْعَامَّة، حَتَّى غلبوا أَحَادِيث ضَعِيفَة أَو مرجوحة على النُّصُوص القرآنية الْعَامَّة الَّتِي أكدت على مصَالح الْعباد، وَكَانَت أهدافها تسْعَى للمحافظة على الكليات الْخمس: الدَّين وَالنَّفس وَالْعقل والنسل وَالْمَال، بل
শুধুমাত্র রায় ভিত্তিক ইজতিহাদ নয়, কারণ তাঁরা সকলেই একমত যে হাদিস একটি বাধ্যতামূলক শরয়ি দলিল, এবং রায় ভিত্তিক ইজতিহাদ তথা কিয়াস ওই সকল বিষয়ে শরয়ি দলিল হিসেবে গণ্য যেখানে কোনো নস নেই।

আহলুর রায় এবং আহলুল হাদিসের মধ্যে:

এই বিভক্তির অর্থ এবং নামকরণের কারণ হলো, ইরাকের ফকিহগণ শরিয়তের উদ্দেশ্য এবং যে ভিত্তির ওপর শরিয়ত প্রতিষ্ঠিত তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তাঁরা এই বিষয়ে একমত হন যে, শরিয়তের বিধানসমূহের অর্থ যুক্তিগ্রাহ্য এবং এগুলোর মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ সাধন করা উদ্দেশ্য। তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, শরিয়ত এমন কতগুলো অভিন্ন মূলনীতির ওপর নির্ভর করে যা একটি লক্ষ্য অভিমুখে ধাবিত হয়। তাই এই বিধানগুলোকে অবশ্যই সুসংগত হতে হবে; এদের নস ও বিধানগুলোর মধ্যে কোনো বিরোধ বা বৈপরীত্য থাকা চলবে না। এই ভিত্তির ওপরই তাঁরা নসসমূহ অনুধাবন করতেন, এক বর্ণনার ওপর অন্যটিকে প্রাধান্য দিতেন এবং যেখানে কোনো নস নেই সেখানে বিধান উদ্ভাবন করতেন। যদি এই ভিত্তির ওপর বিধান উদ্ভাবন করতে গিয়ে কোনো নসের বাহ্যিক অর্থ পরিবর্তন করতে হয় কিংবা একটি নস ত্যাগ করে অন্যটি গ্রহণ করতে হয়, তবে তাঁরা তা করতেন। এই কারণেই তাঁরা রায় ভিত্তিক ইজতিহাদে প্রশস্ততা গ্রহণে দ্বিধাবোধ করতেন না এবং তাঁদের অধিকাংশ আইনি গবেষণায় এর সুযোগ রাখতেন।

অন্যদিকে এমন কিছু ফকিহ ছিলেন যাঁরা হাদিস এবং সাহাবায়ে কিরামের ফতোয়া সংরক্ষণে মনোযোগী ছিলেন। তাঁরা তাঁদের শরিয়ত প্রণয়নে এই সকল আছারের বাহ্যিক শব্দ যা নির্দেশ করে তার ওপর ভিত্তি করেই তা অনুধাবন করতে একতাবদ্ধ হয়েছিলেন। একারণে তাঁরা রায় ভিত্তিক ইজতিহাদ করতে দ্বিধাবোধ করতেন এবং চরম প্রয়োজন ছাড়া এর আশ্রয় নিতেন না। এই ফকিহদের অধিকাংশই হিজাজের অধিবাসী ছিলেন। সম্ভবত এর কারণ ছিল এই যে, হিজাজবাসীরা রায় ভিত্তিক ফিকহ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি; কারণ তাঁদের সমাজে যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো তা ইরাকবাসীর মতো তেমন পরিবর্তিত হয়নি, যা তাঁদের রায় ভিত্তিক ইজতিহাদ বৃদ্ধিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারত।

তাঁদের বিরোধীরা তাঁদের প্রতি অভিযোগ এনেছিলেন যে, তাঁরা বিধানের কারণসমূহ বিবেচনা করেন না। ফলে নস থেকে তাঁরা যা বুঝতেন তা যদি যুক্তির চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না-ও হতো, তবে তাঁরা তার পরোয়া করতেন না; বরং তাঁরা বলতেন: এটিই নস। বিরোধীরা তাঁদের স্থবিরতা, অগভীরতা এবং শরিয়তের প্রাণসত্তা ও এর সাধারণ উদ্দেশ্যসমূহ বুঝতে না পারার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এমনকি তাঁরা এমনও অভিযোগ করেন যে, তাঁরা সাধারণ কুরআনি নসসমূহের ওপর দুর্বল বা কম গ্রহণযোগ্য হাদিসগুলোকে প্রাধান্য দিয়েছেন, অথচ কুরআনি নসসমূহ বান্দার স্বার্থ নিশ্চিত করে এবং যার লক্ষ্য ছিল পাঁচটি মৌলিক বিষয়: ধর্ম, জীবন, বুদ্ধি, বংশ এবং সম্পদ রক্ষা করা। বরং
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৭)
رُبمَا تَعَارَضَت بعض أَحَادِيث الْآحَاد وَالْأَحَادِيث الضعيفة مَعَ بدهيات الْعقل ومسلمات الْمنطق وحقائق الْعلم مِمَّا يُؤَكد بُطْلَانهَا، وَمَعَ ذَلِك فقد استمسكوا بهَا وجمدوا عَلَيْهَا، فعطلوا الْمصَالح وخالفوا الْمَقَاصِد لروايات ظهر بُطْلَانهَا بِالْحجَّةِ وَالْعقل ومقاصد الشَّرْع … إِلَخ.

ودافع أهل الحَدِيث عَن موقفهم، واتهموا مخالفيهم بتغليب الرَّأْي على النَّص، ومتابعة الْهوى، وَأَن طعنهم بالأحاديث المروية الَّتِي تخَالف آراءهم لَيْسَ مبنيًّا على الْأُصُول الَّتِي وَضعهَا المحدثون فِي تحري سَلامَة الرِّوَايَة بالتأكد من سَلامَة السَّنَد، بل نصبوا أنفسهم محكمين فَمَا وَافق عُقُولهمْ الكليلة المحدودة قبلوه وَإِلَّا طعنوا فِيهِ، وَلَيْسَ هَذَا من شَأْن مُسلم يفترض أَن يحمل نَفسه على اتِّبَاع النَّص والإذعان لَهُ. واحتدم الْأَمر أَكثر بِظُهُور فِئَة "الْمُعْتَزلَة" الَّتِي أَعْطَتْ لِلْعَقْلِ مكانة خَاصَّة، إِذْ لَا يعقل فِي نظرهم أَن يتعارض نَص مَعَ الْعقل الَّذِي احتكمت إِلَيْهِ النُّصُوص أَحْيَانًا فِي النّظر وَالِاسْتِدْلَال؛ وَلذَلِك ردوا كل رِوَايَة يتناقض نَصهَا مَعَ منطق الْعقل.

وتفاقم الصراع بَين هَذِه الْمدَارِس، وَكَانَ لكل مِنْهَا عُلَمَاء وحجج ونظرات، وألفت فِي ذَلِك كتب دَافع بهَا كل أَصْحَاب مَذْهَب عَن مَذْهَبهم.

وَالْكتاب الَّذِي بَين أَيْدِينَا "تَأْوِيل مُخْتَلف الحَدِيث" ينتصر فِيهِ ابْن قُتَيْبَة -وَهُوَ من أَعْلَام مدرسة الحَدِيث- لمدرسة أهل الحَدِيث، وَيدْفَع حجج الْمدَارِس الْمُخَالفَة إِلَى دَرَجَة قد يُبَالغ فِيهَا بِنَقْد وتجريح أعلامها، لَا سِيمَا فِي تنَاوله لأئمة أهل الرَّأْي حَتَّى اتهمَ أَبَا حنيفَة -بِمَا سَوف يرد فِي الْكتاب- من اتِّبَاع للأهواء وسفه فِي الْأَحْكَام، وَهَذَا بِلَا شكّ تطرف غير مَقْبُول، بل هُوَ التعصب الَّذِي يحمل الْإِنْسَان على الغلو فِي نقد الْخُصُوم.

وَيبقى الْكتاب بعد ذَلِك من خيرة مَا ألف فِي بَابه؛ دفاعًا عَن الحَدِيث وبيانًا لوجه الْحق فِيهِ، وتوضيحًا لما توهمه الزارين من اضْطِرَاب وَشك.
কখনো কখনো কিছু একক সূত্রে বর্ণিত (আহাদ) হাদিস এবং দুর্বল হাদিস বুদ্ধিবৃত্তিক স্বতঃসিদ্ধ বিষয়, যুক্তির স্বীকৃত সত্য এবং বিজ্ঞানের ধ্রুব সত্যের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে, যা সেগুলোর অসারতাকে নিশ্চিত করে। তা সত্ত্বেও, তারা এগুলোর ওপর দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকে এবং এ বিষয়ে অনড় থাকে; ফলে তারা এমন কিছু বর্ণনার কারণে জনকল্যাণকে অকেজো করে দেয় এবং শরিয়তের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বিরোধিতা করে, যেগুলোর অসারতা দলিল, বুদ্ধি এবং শরিয়তের উদ্দেশ্যের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ... ইত্যাদি।

পক্ষান্তরে আহলে হাদিসগণ তাদের অবস্থানের সপক্ষে প্রতিরক্ষা করেছেন এবং তাদের বিরোধীদের অভিযুক্ত করেছেন নসের (মূল পাঠের) ওপর রায়কে প্রাধান্য দেওয়া এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করার দায়ে। তারা দাবি করেন যে, তাদের মতের বিপরীত বর্ণিত হাদিসগুলোর প্রতি বিরোধীদের এই সমালোচনা মুহাদ্দিসগণ কর্তৃক নির্ধারিত সেই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে নয়—যা সনদের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বর্ণনার সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। বরং তারা নিজেদের বিচারক হিসেবে আসীন করেছে; ফলে যা তাদের সংকীর্ণ ও সীমাবদ্ধ বুদ্ধির অনুকূলে হয়েছে তারা তা গ্রহণ করেছে, অন্যথায় তাতে দোষারোপ করেছে। এটি কোনো মুসলিমের কাজ নয়, যার কাছে প্রত্যাশা করা হয় যে সে নিজেকে নসের অনুসরণ এবং এর প্রতি আনুগত্যের পথে পরিচালিত করবে। "মুতাযিলা" নামক ফেরকার আবির্ভাবে বিষয়টি আরও ঘনীভূত হয়, যারা বুদ্ধিবৃত্তিকে একটি বিশেষ মর্যাদা প্রদান করেছিল। কারণ তাদের দৃষ্টিতে এটি ভাবাই যায় না যে, কোনো নস বুদ্ধির সাথে সাংঘর্ষিক হবে, যা অনেক সময় নসসমূহ পর্যালোচনার এবং দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। এই কারণেই তারা প্রতিটি এমন বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করেছে যার মূল পাঠ বুদ্ধির যুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক।

এই ঘরানাগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও চরম আকার ধারণ করে। তাদের প্রত্যেকেরই ছিল নিজস্ব আলেম, দলিল এবং দৃষ্টিভঙ্গি। এ বিষয়ে অনেক কিতাব রচিত হয়েছে যার মাধ্যমে প্রতিটি মতাদর্শের অনুসারীরা নিজ নিজ মতের পক্ষে লড়াই করেছেন।

আমাদের সামনে থাকা এই কিতাব "তাউয়ীলু মুখতালিফিল হাদিস"-এ ইবনে কুতাইবা—যিনি আহলে হাদিস ঘরানার একজন অন্যতম ইমাম—আহলে হাদিসদের পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তিনি বিরোধী ঘরানাগুলোর যুক্তিসমূহকে এমন পর্যায়ে গিয়ে খণ্ডন করেছেন যেখানে তিনি কখনো কখনো তাদের বরেণ্য ব্যক্তিদের সমালোচনা ও চরিত্রহননে বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন। বিশেষ করে যখন তিনি আহলে রায়ের ইমামদের আলোচনা করেছেন, এমনকি তিনি আবু হানিফাকে—কিতাবে যা সামনে আসবে—প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং ফতোয়া প্রদানে নির্বুদ্ধিতার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। নিঃসন্দেহে এটি একটি অগ্রহণযোগ্য চরমপন্থা, বরং এটি সেই গোঁড়ামি যা মানুষকে বিরোধীদের সমালোচনায় সীমালঙ্ঘনের দিকে ঠেলে দেয়।

তা সত্ত্বেও, হাদিসের সপক্ষে প্রতিরক্ষা, এর সত্যের দিকটি উন্মোচন এবং নিন্দুকদের ধারণাপ্রসূত বিশৃঙ্খলা ও সন্দেহ দূর করার ক্ষেত্রে কিতাবটি এই বিষয়ের ওপর রচিত শ্রেষ্ঠ রচনাগুলোর একটি হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌هَذَا الْكتاب:

وجدت هَذَا الْكتاب مطبوعًا بتصحيح وَضبط الشَّيْخ مُحَمَّد زهدي النجار من عُلَمَاء الْأَزْهَر الشريف الَّذِي أَشَارَ إِلَى عمله فِي بِالْكتاب؛ فَقَالَ: إِنَّه عمد إِلَى تَقْسِيم الْكتاب على نظام الفقرات، ثمَّ ضبط الْآيَات القرآنية والأبيات الشعرية، وَأَنه حَافظ على تعليقات الْمُصَحح الأول الشَّيْخ إِسْمَاعِيل الأسعردي رحمه الله؛ الَّذِي بذل جهده من قبل فِي إِخْرَاج الْكتاب فِي أواسط شهر جُمَادَى الأولى سنة 1326هـ، ثمَّ ذكر الشَّيْخ النجار أَنه فرغ من طباعته للمرة الثَّانِيَة سنة 1386 هـ. وَإِذا كَانَ لِلشَّيْخَيْنِ فضل السَّبق فِي إِخْرَاج الْكتاب إِلَى حيّز النُّور، وبذلا وسعهما فِي مُقَابلَته على الأَصْل المخطوط وَشرح بعض الْكَلِمَات فِيهِ جزاهما الله خيرا، لَا سِيمَا الشَّيْخ الأسعردي رحمه الله الَّذِي عقب على مَا رَآهُ ضروريًّا، مِمَّا أبقيت بعضه. فقد رَأَيْت أَن الْكتاب يفْتَقر إِلَى مزِيد من الضَّبْط والإتقان؛ فَلَا تزَال فِيهِ أخطاء فِي الطباعة وَبَعض التصحيفات.

كَمَا أَن الْكتاب يحْتَاج إِلَى مُقَدّمَة مختصرة تضع الْقَارئ فِي الظروف الَّتِي ألف فِيهَا هَذَا الْكتاب؛ ليمكن فهم الآراء الَّتِي يقف عَلَيْهَا، ويستفيد من سَعَة اطلَاع الْمُؤلف رحمه الله على السّنة، وَحسن تَأْوِيله لما يَبْدُو من تعَارض وتناقض فِي النُّصُوص، دون أَن يتأثر بوجهة نظر الْمُؤلف غفر الله لَهُ فِي حَملته الشَّدِيدَة على أَصْحَاب الرَّأْي، ومساواته إيَّاهُم فِي التهجم مَعَ أَرْبَاب الضلال والزيغ من الْمُخَالفين فِي الْأُصُول، وَبَين الْمُجْتَهدين فِي تَقْدِيم بعض مصَادر التشريع من أهل السّنة.

وَكَذَلِكَ فَإِن نُصُوص الْأَحَادِيث -الَّتِي هِيَ مَادَّة الْكتاب الأساسية-
এই কিতাব:

আমি এই কিতাবটি আল-আযহার আশ-শরীফের আলেমদের অন্যতম শায়খ মুহাম্মাদ যুহদি আন-নাজ্জারের সম্পাদনা ও বিন্যাসে মুদ্রিত অবস্থায় পেয়েছি, যিনি কিতাবটিতে তাঁর কাজের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন; তিনি বলেছেন: তিনি কিতাবটিকে অনুচ্ছেদ পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছেন, অতঃপর কুরআনের আয়াতসমূহ এবং কাব্যিক পঙ্ক্তিগুলো বিন্যাস করেছেন, আর তিনি প্রথম সম্পাদক শায়খ ইসমাঈল আল-আসআরদি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর টীকাগুলো সংরক্ষণ করেছেন; যিনি এর আগে ১৩২৬ হিজরীর জুমাদাল উলা মাসের মাঝামাঝিতে কিতাবটি প্রকাশের জন্য তাঁর প্রচেষ্টা ব্যয় করেছিলেন। অতঃপর শায়খ নাজ্জার উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ১৩৮৬ হিজরীতে দ্বিতীয়বারের মতো এর মুদ্রণ কাজ সম্পন্ন করেছেন। যদিও কিতাবটি আলোর মুখ দেখানোর ক্ষেত্রে এই দুই শায়খের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে এবং তাঁরা পাণ্ডুলিপির সাথে এটি মিলিয়ে দেখা ও এর কিছু শব্দের ব্যাখ্যায় যথাসাধ্য শ্রম ব্যয় করেছেন—আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন—বিশেষ করে শায়খ আসআরদি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন), যিনি প্রয়োজনীয় মনে করে কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যার কিছু অংশ আমি বহাল রেখেছি। তথাপি আমি দেখেছি যে কিতাবটি আরও বিন্যাস ও নিখুঁতকরণের মুখাপেক্ষী; কারণ এতে এখনো কিছু মুদ্রণজনিত ভুল এবং শব্দের বিকৃতি রয়ে গেছে।

পাশাপাশি কিতাবটির একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা প্রয়োজন যা পাঠককে সেই পরিস্থিতির সাথে পরিচিত করবে যার মধ্যে কিতাবটি রচিত হয়েছিল; যাতে কিতাবে উপস্থাপিত মতামতগুলো বোঝা সম্ভব হয় এবং সুন্নাহর প্রতি লেখকের (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) ব্যাপক জানাশোনা থেকে উপকৃত হওয়া যায়, আর নসগুলোর (দলিল) মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান বিরোধ ও বৈপরীত্যের ক্ষেত্রে তাঁর সুন্দর ব্যাখ্যা থেকে ফায়দা হাসিল করা যায়, তবে আসহাবে রায়ের প্রতি লেখকের (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন) তীব্র আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে—যেখানে তিনি আক্রমণের ক্ষেত্রে তাঁদেরকে আকিদার বিষয়ে বিরোধিতাকারী বিভ্রান্ত ও বিচ্যুতদের সমপর্যায়ভুক্ত করেছেন এবং আহলে সুন্নাহর সেই সকল মুজতাহিদদের মাঝেও (আক্রমণ করেছেন) যারা শরয়ী উৎসের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে ভিন্ন মত পোষণ করেন।

অনুরূপভাবে হাদীসের নসসমূহ—যা এই কিতাবের মূল বিষয়বস্তু—
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ১৯)
لَيست مخرجة وَلَا منقحة مِمَّا قد يُوقع كثيرا من الْقُرَّاء بوهم كَون هَذِه النُّصُوص من السّنة بِدَرَجَة وَاحِدَة من الصِّحَّة وَقُوَّة الْحجَّة، كَمَا أَن الْآيَات القرآنية لم تخرج.

لهَذَا كُله عَمَدت إِلَى بذل جهدي الكليل وفهمي الضَّعِيف لاستكمال بعض مَا رَأَيْت من نقص آملًا أَن يتاح لي، أَو لغيري من الباحثين أَن يضيفوا أَو يزِيدُوا فِي تَنْقِيح مَا يجدونه من خطأ أَو تَقْصِير، سَائِلًا الله تَعَالَى أَن يتَقَبَّل أَعمالنَا ويجعلها خَالِصَة لوجهه الْكَرِيم، وراجيًا مِمَّن يجد فِيهِ خطأ أَن ينصحني باستدراكه، أَو يتكرم مشكورًا بِتَصْحِيحِهِ أَو ينبهني إِلَيْهِ.

عَمَلي بِالْكتاب:

وَقد وجدت مصورًا عَن النُّسْخَة المخطوطة لهَذَا الْكتاب فِي دَار الْكتب القطرية برقم "ميك: 31". أما المخطوطة الْأَصْلِيَّة فَهِيَ مَحْفُوظَة بمكتبة رَئِيس الْكتاب مصطفى أَفَنْدِي الملحقة بالمكتبة السليمانية بإستانبول تَحت رقم 107 باسم: "اخْتِلَاف الحَدِيث وَالسّنَن" تأليف ابْن قُتَيْبَة الدينَوَرِي: عبد الله بن مُسلم الْمُتَوفَّى سنة 276هـ.

والمخطوطة كَامِلَة تقع فِي 164 ورقة تبدأ بقوله: "قَالَ الْإِمَامُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ قُتَيْبَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى: "الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ خَاتَمِ النَّبِيِّينَ وعَلى آله أَجْمَعِينَ. أَمَّا بَعْدُ أَسْعَدَكَ اللَّهُ تَعَالَى بِطَاعَتِهِ … إِلَخ … ".

وَقد وضعت صورًا من صفحات الْكتاب بجانبه ليطلع الْقَارئ عَلَيْهَا، انْظُر الصفحات 38-43.

1- عَمَدت إِلَى مُقَابلَة المطبوع على المخطوط كُله، وصححت الأخطاء الَّتِي وَجدتهَا سَوَاء مَا كَانَ مِنْهَا بِسَبَب الطباعة أَو التَّصْحِيف أَو اللُّغَة، وأشرت إِلَى النَّوْعَيْنِ الْأَخيرينِ بالهامش، وصححت الأخطاء المطبعية دون الْإِشَارَة إِلَيْهَا.

2- خرجت الْأَحَادِيث الشَّرِيفَة كلهَا سَوَاء مَا وَقع الِاخْتِلَاف فِي
এগুলোর তাখরীজ (উৎস নির্ণয়) বা পরিমার্জন করা হয়নি, যা অনেক পাঠককে এই ভ্রান্তিতে ফেলতে পারে যে সুন্নাহর এই পাঠগুলো বিশুদ্ধতা ও প্রমাণের শক্তির দিক থেকে একই স্তরের; ঠিক যেমনটি কুরআনের আয়াতগুলোরও তাখরীজ করা হয়নি।

এই সব কারণেই আমি আমার নগণ্য প্রচেষ্টা এবং দুর্বল উপলব্ধির মাধ্যমে আমার দেখা কিছু অপূর্ণতা সম্পন্ন করতে সচেষ্ট হয়েছি, এই আশায় যে আমার জন্য অথবা অন্য গবেষকদের জন্য এটি সম্ভব হবে যে তারা যা কিছু ভুল বা ত্রুটি পাবেন তা পরিমার্জন করে নতুন কিছু সংযোজন বা বৃদ্ধি করবেন। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের কর্মসমূহ কবুল করেন এবং সেগুলোকে কেবলমাত্র তাঁর সম্মানিত চেহারার (সন্তুষ্টির) জন্য একনিষ্ঠ করেন। আর যারা এতে কোনো ভুল পাবেন তাদের প্রতি আমার অনুরোধ যে, তারা যেন আমাকে তা সংশোধনের পরামর্শ দেন, অথবা অনুগ্রহপূর্বক তা সংশোধন করে দেন কিংবা আমাকে সে বিষয়ে সতর্ক করেন।

গ্রন্থটির ওপর আমার কর্মপদ্ধতি:

আমি কাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে এই গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপির একটি ছায়াচিত্র পেয়েছি যার নম্বর "মিক: ৩১"। আর মূল পাণ্ডুলিপিটি ইস্তাম্বুলের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরি সংলগ্ন রইসুল কুতুব মুস্তফা এফেন্দি লাইব্রেরিতে ১০৭ নম্বরের অধীনে "ইখতিলাফুল হাদিস ওয়াস সুনান" নামে সংরক্ষিত আছে; যার রচয়িতা ইবনে কুতাইবা আদ-দিনাওয়ারী: আবদুল্লাহ বিন মুসলিম, মৃত্যু ২৭৬ হিজরি।

সম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপিটি ১৬৪ পৃষ্ঠার এবং তা তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয়েছে: "ইমাম আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতাইবা (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: 'সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। আর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর। অতঃপর, আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে সৌভাগ্যবান করুন … ইত্যাদি … '।"

পাঠক যেন তা প্রত্যক্ষ করতে পারেন সেজন্য আমি গ্রন্থের পাতাগুলোর কিছু আলোকচিত্র এর পাশে যুক্ত করেছি, দেখুন ৩৮-৪৩ পৃষ্ঠা।

১- আমি পুরো পাণ্ডুলিপির সাথে মুদ্রিত কপির তুলনা করেছি এবং যে সমস্ত ভুল পেয়েছি তা সংশোধন করেছি; চাই তা মুদ্রণজনিত হোক কিংবা লিপির বিকৃতি অথবা ভাষাগত। শেষোক্ত দুই ধরনের ভুলের ক্ষেত্রে আমি টীকায় ইঙ্গিত করেছি, আর মুদ্রণজনিত ভুলগুলো কোনো ইঙ্গিত ছাড়াই সংশোধন করেছি।

২- আমি সমস্ত হাদিস শরীফের তাখরীজ করেছি, চাই সেগুলোতে যে মতভেদই থাকুক...
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২০)
تَأْوِيله، أَو مَا أوردهُ الْمُؤلف على سَبِيل الِاحْتِجَاج أَو الِاسْتِدْلَال فِي تدعيم وجهة نظره لإِزَالَة وهم التَّعَارُض أَو التَّنَاقُض، وعقبت على بَعْضهَا بِمَا رَأَيْته مناسبًا للتوضيح أَو للتصحيح.

3- خرجت الْآيَات القرآنية وضبطتها، وأشرت بالهامش إِلَى رقم الْآيَة من السُّور.

4- شرحت بعض الْكَلِمَات الغامضة، تسهيلًا للقارئ فِي اسْتِيعَاب الْمَعْنى، ورجحت الْمَقْصُود مِمَّا أوردهُ الْقَامُوس من مَعَاني ليُوَافق سِيَاق الْكَلَام.

5- عرفت بِبَعْض الْأَعْلَام -مِمَّن شَعرت بضرورة التَّعْرِيف بِهِ وتوفرت لدي المصادر عَنهُ- بنبذة مختصرة جدًّا فِي الْهَامِش؛ اقتصرت فِيهَا على ذكر الِاسْم كَامِلا والمولد إِن عرف، وأبرز الصِّفَات، ثمَّ تَارِيخ الْوَفَاة.

6- وضعت عناوين جانبية لتوضيح انْتِقَال الْمُؤلف من فكرة إِلَى أُخْرَى، بِحَيْثُ يسهل على الْقَارئ مُتَابَعَته فِي استطراداته، والاستفادة مِنْهَا، والربط بَين أبرز مضامينها.

7- وضعت فهرسًا للأحاديث الشَّرِيفَة، ورتبتها حسب الْحَرْف الأول فِي الحَدِيث وفقًا للأحرف الهجائية وَذكرت رقم الصفحة الَّتِي ورد فِيهَا.

8- وضعت فهرسًا للأعلام الَّذين ورد ذكرهم فِي الْكتاب، وأشرت إِلَى الْمَوَاضِع الَّتِي جرى التَّعْرِيف بهم فِيهَا بِإِشَارَة " ".

9- أعدت النّظر فِي عَلَامَات الترقيم، ووزعتها -كَمَا أَحسب- توزيعًا أَكثر مُنَاسبَة فِي توضيح الْمَعْنى، وتسهيل الْفَهم على الْقَارئ، فأضفت بَعْضهَا فِي الْمَوَاضِع الَّتِي يستدعيها الْمَعْنى، وحذفت مَا لَا دَاعِي لَهُ.

10- عقبت فِي قَلِيل من الْمَوَاضِع على مَا رَأَيْت ضَرُورَة للتعقيب عَلَيْهِ، مِمَّا تَقْتَضِيه الْأَمَانَة العلمية، وتجنبت الْإِكْثَار من ذَلِك خشيَة التدخل فِي مسار الْكتاب، وَالْخُرُوج بِهِ عَن أهدافه من كَثْرَة النَّقْد أَو التزيد.

مزايا الْكتاب:

وسيجد الْقَارئ فِي هَذَا الْكتاب إِلَى جَانب دفاع ابْن قُتَيْبَة البارع عَن
এর ব্যাখ্যা, অথবা লেখক তার দৃষ্টিভঙ্গিকে শক্তিশালী করার জন্য এবং স্ববিরোধিতা বা বৈপরীত্যের বিভ্রান্তি দূর করার লক্ষ্যে প্রমাণ বা দলিল হিসেবে যা উপস্থাপন করেছেন। আমি সেগুলোর কোনো কোনোটির ওপর স্পষ্টীকরণ বা সংশোধনের জন্য যা উপযুক্ত মনে করেছি তা সংযোজন করেছি।

৩- আমি কুরআনের আয়াতগুলোর উৎস নির্দেশ করেছি এবং সেগুলোর পাঠ বিন্যাস যথাযথ করেছি। টীকায় সূরার নাম ও আয়াতের নম্বর উল্লেখ করেছি।

৪- পাঠকের জন্য অর্থ উপলব্ধি করা সহজ করার লক্ষ্যে আমি কিছু জটিল শব্দের ব্যাখ্যা করেছি। অভিধানে উল্লিখিত একাধিক অর্থের মধ্য থেকে প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থটি আমি অগ্রাধিকার দিয়েছি।

৫- আমি কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় দিয়েছি—যাদের পরিচয় দেওয়া জরুরি মনে করেছি এবং যাদের সম্পর্কে আমার কাছে পর্যাপ্ত তথ্যসূত্র ছিল—টীকায় অত্যন্ত সংক্ষিপ্তাকারে এই পরিচয় দেওয়া হয়েছে; যেখানে পূর্ণ নাম, জন্ম (যদি জানা থাকে), প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং মৃত্যুসন উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।

৬- লেখকের এক চিন্তা থেকে অন্য চিন্তায় গমনের বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য আমি পার্শ্ব-শিরোনাম দিয়েছি, যাতে পাঠকের জন্য লেখকের প্রসঙ্গের ধারা অনুসরণ করা, তা থেকে উপকৃত হওয়া এবং প্রধান বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা সহজ হয়।

৭- আমি হাদিস শরিফের একটি নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি এবং তা বর্ণানুক্রমিকভাবে হাদিসের প্রথম অক্ষর অনুযায়ী সাজিয়েছি। পাশাপাশি যে পৃষ্ঠায় হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে তার নম্বর উল্লেখ করেছি।

৮- আমি বইটিতে উল্লিখিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একটি নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি এবং যেখানে তাদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে সেই স্থানগুলোকে " " চিহ্ন দ্বারা নির্দেশ করেছি।

৯- আমি বিরামচিহ্নগুলো পুনর্বিবেচনা করেছি এবং সেগুলোকে—আমার ধারণা মতে—অর্থ স্পষ্ট করার ও পাঠকের জন্য অনুধাবন সহজ করার ক্ষেত্রে অধিকতর উপযুক্তভাবে বিন্যস্ত করেছি। ফলে যেখানে অর্থের খাতিরে প্রয়োজন মনে হয়েছে সেখানে কিছু চিহ্ন যুক্ত করেছি এবং অপ্রয়োজনীয়গুলো বর্জন করেছি।

১০- অল্প কিছু স্থানে আমি এমন বিষয়ের ওপর মন্তব্য করেছি যার ওপর আলোকপাত করা আমি জরুরি মনে করেছি, যা তাত্ত্বিক আমানতদারিতার দাবি রাখে। তবে বইটির মূল গতিধারায় হস্তক্ষেপ করার এবং অতিরিক্ত সমালোচনা বা বাহুল্যের মাধ্যমে একে এর লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করার ভয়ে আমি অধিক মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছি।

গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যসমূহ:

পাঠক এই গ্রন্থে ইবনে কুতায়বাহ-এর সুদক্ষ প্রতিরক্ষার পাশাপাশি আরও যা পাবেন তা হলো...
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২১)
السّنة، ونصرته لَهَا من الاستطرادات العلمية واللغوية والشعرية والفقهية والفلسفية، والاستشهاد بِالْآيَاتِ القرآنية وَتَفْسِير بَعْضهَا، وَالِاسْتِدْلَال بِبَعْض مَا ورد فِي الْكتب السماوية الْأُخْرَى والأحداث التاريخية والطرف والنوادر والحكايات؛ مِمَّا يمتع وينفع، وَيدل على سَعَة معرفَة الْمُؤلف رحمه الله وإحاطته بعلوم ومعارف عصره. يَسُوق ذَلِك كُله ليزيل الالتباس الْحَاصِل فِي فهم الحَدِيث، أَو إِزَالَة شُبْهَة التَّعَارُض والتناقض.

وَإِذا كَانَ لأحد أَن يسْتَدرك على الْمُؤلف شَيْئا فَهُوَ دفاعه عَن بعض الْأَحَادِيث الضعيفة أَو الْمَوْضُوعَة وَالَّتِي كَانَ يُغْنِيه فِيهَا أَن يذكر ضعفها وَعدم ضَرُورَة الِاحْتِجَاج بهَا.

بِالْإِضَافَة إِلَى أَنه كَانَ يعتمده فِي موطن الِاسْتِدْلَال على صِحَة مَا ورد فِي الحَدِيث من معنى بِمَا ورد فِي الْكتب السماوية الْأُخْرَى، وَلَا يخفى أَن هَذِه الْكتب لَا يحْتَج بهَا لما نعتقده فِيهَا من تَحْرِيف، فَكيف يُمكن أَن تقبل دَلِيلا على الصَّوَاب؟!..

ثمَّ انتقاصه لبَعض الْأَعْلَام بِسَبَب مخالفتهم بِالِاجْتِهَادِ، ومبالغته فِي ذَلِك إِلَى حد التشكيك بصدقهم وتقواهم وَدينهمْ، وَذَلِكَ مِمَّن تَوَاتر الثَّنَاء عَلَيْهِم غفر الله لَهُ.

لَكِن الْكتاب بمجمله يعْتَبر من أفضل مَا كتب فِي بَابه، وَيدل على علو كَعْب الْمُؤلف رحمه الله وأجزل ثَوَابه- بَين عُلَمَاء عصره فِي عدد من الْعُلُوم والمعارف، وَلَإِنْ وجدت فِيهِ هَنَات مَعْدُودَة -رُبمَا دَفعه إِلَيْهَا حماسه لما يرَاهُ حقًّا، وغيرته على حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِن الْكَمَال لله وَحده، وكل إِنْسَان يُؤْخَذ مِنْهُ وَيرد إِلَّا صَاحب هَذَا الْقَبْر؛ كَمَا قَالَ الإِمَام مَالك رحمه الله، فَلَا يجوزك انتقاصه حَقه وَقد قدم الْكثير الْجيد الَّذِي يعْتَبر بِحَق زِيَادَة فِي بَابه وَعَملا أصيلًا غزيرًا تقبل الله مِنْهُ وَمنا وَغفر لَهُ وَلنَا وَأَعْلَى مقَامه وَجَعَلنَا وإياه فِي زمرة أحبابه وأوليائه وخاصته من خلقه. اللَّهُمَّ آمين.

الدوحة فِي 8/ 8/ 1408 هـ

26/ 3/ 1988م

مُحَمَّد محيي الدَّين الْأَصْفَر
সুন্নাহ এবং তার পক্ষাবলম্বন করতে গিয়ে তিনি যে বৈজ্ঞানিক, ভাষাগত, কাব্যিক, ফিকহী ও দার্শনিক প্রাসঙ্গিক বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, কুরআনের আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান ও তার কয়েকটির ব্যাখ্যা করেছেন এবং অন্যান্য আসমানী কিতাবসমূহে বর্ণিত বিষয়াদি, ঐতিহাসিক ঘটনাবলি, সূক্ষ্ম কৌতুক, দুর্লভ বিষয় ও কিচ্ছা-কাহিনীর মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন; যা আনন্দদায়ক ও উপকারী এবং লেখকের (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) জ্ঞানের বিশালতা ও তাঁর সমসাময়িক যুগের বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাঁর গভীর ব্যুৎপত্তির প্রমাণ দেয়। তিনি এই সমস্ত কিছু উপস্থাপন করেছেন হাদিস বোঝার ক্ষেত্রে সৃষ্ট অস্পষ্টতা দূর করতে অথবা বৈপরীত্য ও বিরোধের সংশয় নিরসনে।

যদি কারো লেখকের ওপর কোনো সমালোচনা বা আপত্তির অবকাশ থাকে, তবে তা হলো কিছু দুর্বল বা বানোয়াট হাদিসের স্বপক্ষে তাঁর প্রতিরক্ষা, যে ক্ষেত্রে সেগুলোর দুর্বলতা উল্লেখ করা এবং দলিল হিসেবে তা পেশ করার অসারতা বর্ণনা করাই তাঁর জন্য যথেষ্ট হতো।

এর পাশাপাশি, হাদিসে বর্ণিত কোনো অর্থের বিশুদ্ধতার সপক্ষে দলিল হিসেবে তিনি অন্যান্য আসমানী কিতাবের উদ্ধৃতির ওপর নির্ভর করতেন। এটি অস্পষ্ট নয় যে, এই কিতাবসমূহ দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে সেগুলোতে বিকৃতি সাধিত হয়েছে; সুতরাং কীভাবে এগুলোকে সত্যের সপক্ষে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব?!..

অতঃপর ইজতিহাদী মতপার্থক্যের কারণে কিছু প্রথিতযশা ইমামের মানহানি করা এবং এ ক্ষেত্রে তাঁর অতিশয়োক্তি যা তাঁদের সত্যবাদিতা, তাকওয়া ও দ্বীনদারির বিষয়ে সংশয় প্রকাশের পর্যায়ে পৌঁছেছে; অথচ ঐ সমস্ত ব্যক্তিত্বগণের প্রশংসা ও সুখ্যাতি সর্বজনবিদিত। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।

তবে সামগ্রিকভাবে গ্রন্থটি তার বিষয়ের ওপর রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচিত এবং এটি বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মধ্যে লেখকের (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন এবং তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন) উচ্চ মর্যাদার প্রমাণ বহন করে। যদি এতে হাতেগোনা কিছু বিচ্যুতি পাওয়া যায়ও—যা সম্ভবত সত্য মনে করা বিষয়ের প্রতি তাঁর প্রবল উৎসাহ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের প্রতি তাঁর সুতীব্র মমত্ববোধের কারণে হয়েছে—তবে মনে রাখতে হবে যে পূর্ণতা কেবল আল্লাহর জন্যই। প্রত্যেক ব্যক্তির কথাই গ্রহণ করা যেতে পারে আবার বর্জনও করা যেতে পারে, কেবল এই কবরের অধিবাসী (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতিরেকে; যেমনটি ইমাম মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেছেন। সুতরাং তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা সমীচীন নয়, কেননা তিনি অনেক উত্তম ও উৎকৃষ্ট বিষয় উপহার দিয়েছেন যা প্রকৃতপক্ষে এই জ্ঞানশাখাভুক্ত বিষয়ের একটি সমৃদ্ধি এবং একটি মৌলিক ও গভীর কাজ। আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে এবং আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন, তাঁকে ও আমাদের ক্ষমা করুন, তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন এবং আমাদের ও তাঁকে তাঁর প্রিয়ভাজন, ওলী এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে খাস বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। হে আল্লাহ, কবুল করুন।

দোহা, ৮/ ৮/ ১৪০৮ হিজরি

২৬/ ৩/ ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

মুহাম্মাদ মুহিউদ্দিন আল-আসফার
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌ابْن قُتَيْبَة:

أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُسلم بن قُتَيْبَة الْكُوفِي، وتسميه دَائِرَة المعارف الإسلامية: أَبَا عبد الله مُحَمَّد بن مُسلم بن قُتَيْبَة الْمروزِي مُخَالفَة بذلك مُعظم المراجع.

أما أَبوهُ "مُسلم" فقد كَانَ من أهل الْعلم والْحَدِيث إِلَّا أَنه لم يبلغ مستوى ابْنه عبد الله، وَيَقُول الْبَغْدَادِيّ: إِن أَبَاهُ كَانَ مروزيًّا أَي من أهل مرو.

وَأما جده "قُتَيْبَة" فقد اخْتلف فِي اشتقاق اسْمه؛ فَقيل: هُوَ تَصْغِير "قتبة" وَاحِدَة الأقتاب أَي الأمعاء، وَقيل: قُتَيْبَة مَأْخُوذ من القتب وَهُوَ الرحل الصَّغِير على قدر سَنَام الْبَعِير.

مولده ووفاته:

ولد سنة 213هـ دون خلاف بَين من ترْجم لَهُ، وَإِن كَانَ بَعضهم سكت عَن ذَلِك كالبغدادي، وَلم يذكرُوا مَعهَا شهرا كَمَا فعلوا حِين التأريخ لوفاته، وَذَلِكَ لأَنهم عرفوه حِين ذاع صيته وَعلا شَأْنه، وَلم يكن قبل ذَلِك مَعْرُوفا.

وَقد اخْتلفُوا فِي ذكر الْبَلَد الَّتِي ولد فِيهَا؛ فَقَالَ بَعضهم: ولد فِي الْكُوفَة كَابْن النديم وَابْن الْأَثِير وَابْن الْأَنْبَارِي، وَهُنَاكَ غَيرهم من المؤرخين قبل الْبَغْدَادِيّ والسمعاني، وَمن بعدهمَا القفطي يذكرُونَ: أَن مولده كَانَ بِبَغْدَاد، وَلَا يناقشون رِوَايَة غَيرهم، وَقد يكون مرد ذَلِك إِلَى أَنه أَقَامَ فِي بَغْدَاد فظنوا أَنه ولد فِيهَا، مَعَ أَن وَالِده لَيْسَ بغداديًّا وأسرته كَانَت غَرِيبَة عَن بَغْدَاد، وَذَلِكَ قد يرجح أَن يكون من مواليد الْكُوفَة وَالله أعلم.
ইবনে কুতায়বাহ:

আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতায়বাহ আল-কুফি। তবে এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ইসলাম তাকে আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতায়বাহ আল-মারওয়াজি নামে অভিহিত করেছে, যা অধিকাংশ সূত্রের পরিপন্থী।

তাঁর পিতা 'মুসলিম' ইলম ও হাদিসের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তবে তিনি তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর স্তরে পৌঁছাতে পারেননি। আল-বাগদাদি বলেন: তাঁর পিতা মারওয়াজি ছিলেন, অর্থাৎ মার্ভ অঞ্চলের অধিবাসী।

আর তাঁর দাদা 'কুতায়বাহ'-এর নামের ব্যুৎপত্তি নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়: এটি 'কুতবাহ' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ, যার বহুবচন 'আকতাব' অর্থাৎ অন্ত্র। আবার কেউ বলেন: 'কুতায়বাহ' শব্দটি 'কাতাব' থেকে নেওয়া হয়েছে, যা উটের কুঁজের পরিমাপ অনুযায়ী ছোট পালানকে বোঝায়।

তাঁর জন্ম ও মৃত্যু:

তাঁর জীবনীকারদের মধ্যে কোনো মতভেদ ছাড়াই তিনি ২১৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, যদিও আল-বাগদাদির মতো কেউ কেউ এ বিষয়ে নীরব থেকেছেন। তাঁর মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করার সময় যেমন মাস উল্লেখ করা হয়েছে, জন্মের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি; কারণ তাঁরা তাঁকে তখনই চিনেছিলেন যখন তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছিল, এর আগে তিনি পরিচিত ছিলেন না।

তাঁর জন্মস্থান নিয়েও ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; ইবনে নাদিম, ইবনুল আসির এবং ইবনুল আনবারির মতো কেউ কেউ বলেছেন: তিনি কুফায় জন্মগ্রহণ করেছেন। আবার আল-বাগদাদি ও সামআনি-এর পূর্ববর্তী এবং আল-কিফতির পরবর্তী অনেক ঐতিহাসিক উল্লেখ করেন যে: তাঁর জন্ম বাগদাদে হয়েছিল, এবং তাঁরা অন্যদের বর্ণনা নিয়ে আলোচনা করেননি। এর কারণ সম্ভবত এই যে, তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন বলে তাঁরা ধারণা করেছিলেন তিনি সেখানেই জন্মগ্রহণ করেছেন, অথচ তাঁর পিতা বাগদাদি ছিলেন না এবং তাঁর পরিবার বাগদাদের জন্য অপরিচিত ছিল। এটি সম্ভবত এই মতকেই জোরালো করে যে তিনি কুফায় জন্মগ্রহণ করেছেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৩)
وكما اخْتلف على مَكَان وِلَادَته اخْتلف على سنة وَفَاته، فقد ذكر ابْن الْأَنْبَارِي أَنه أكل هريسة، فاحتر جِسْمه، ثمَّ أُغمي عَلَيْهِ ثمَّ أَفَاق فَمَا زَالَ يذكر الله ويتشهد حَتَّى مَاتَ فِي أول لَيْلَة من رَجَب سنة 276هـ، وَيَقُول بذلك نفر من المؤرخين.

أما ابْن خلكان فَيَقُول: توفّي فِي ذِي الْقعدَة سنة 270هـ، وَقيل سنة 271هـ، وَالرِّوَايَة الأولى أصح كَمَا رجح بعض المؤرخين، وَالله أعلم.

نسبته إِلَى الدينور:

ولي قَضَاء دينور وَهِي مَدِينَة قرب قرميسين، تبعد عشْرين فرسخًا عَن همذان، وَقد أَقَامَ بهَا مُدَّة فنسب إِلَيْهَا.

وَكَانَ شَدِيد الصِّلَة بالخاقاني أبي الْحسن عبيد الله بن يحيى الَّذِي كَانَ وزيرًا للمتوكل إِلَى سنة "247هـ"، فولاه الْقَضَاء فِي دينور، وَبَقِي فِيهَا من "232هـ" إِلَى "247هـ" زمن خلَافَة المتَوَكل، ثمَّ عَاد ابْن قُتَيْبَة بعْدهَا إِلَى بَغْدَاد فنسب ابْن قُتَيْبَة إِلَى دينور، ودعي: بالدينوري.

نشأته وشيوخه:

نَشأ ابْن قُتَيْبَة فِي بَغْدَاد وَبهَا تلقى علومه وَأخذ عَن شيوخها، وَلم يذكر لَهُ شُيُوخ أَخذ الحَدِيث عَنْهُم بِغَيْر بَغْدَاد، وأهم شُيُوخه:

1- وَالِده: مُسلم بن قُتَيْبَة، وَقد حدث عَنهُ فِي كِتَابيه: عُيُون الْأَخْبَار والمعارف.

2- أَحْمد بن سعيد اللحياني، وَقَرَأَ عَلَيْهِ: كتاب الْأَمْوَال، وَكتاب غَرِيب الحَدِيث لأبي عبيد.

3- أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن سَلام الجُمَحِي صَاحب طَبَقَات الشُّعَرَاء "ت231هـ".

4- يحيى بن أَكْثَم القَاضِي؛ أَخذ عَنهُ بِمَكَّة وَرُبمَا كَانَ ذَلِك أثْنَاء حجَّة لَهُ "ت242هـ".
তার জন্মস্থান নিয়ে যেমন মতপার্থক্য রয়েছে, তেমনি তার মৃত্যু সাল নিয়েও মতপার্থক্য বিদ্যমান। ইবনুল আনবারী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হারিসা খেয়েছিলেন, ফলে তার শরীরে জ্বালাপোড়া শুরু হয়, এরপর তিনি মূর্ছা যান। অতঃপর তিনি সজাগ হন এবং আল্লাহর যিকির ও কালিমা শাহাদাত পাঠ করতে থাকেন, অবশেষে ২৭৬ হিজরি সনের রজব মাসের প্রথম রাতে মৃত্যুবরণ করেন। একদল ঐতিহাসিক এই মত পোষণ করেন।

পক্ষান্তরে ইবনে খাল্লিকান বলেন: তিনি ২৭০ হিজরি সনের যিলকদ মাসে মৃত্যুবরণ করেন। আবার কেউ কেউ ২৭১ হিজরি সনের কথা বলেছেন। তবে প্রথম বর্ণনাটিই অধিক বিশুদ্ধ বলে কিছু ঐতিহাসিক মত ব্যক্ত করেছেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

দীনাওয়ারের সাথে তার সম্পৃক্ততা:

তিনি দীনাওয়ারের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন, যা করমিসিনের নিকটবর্তী একটি শহর; এটি হামাদান থেকে বিশ ফারসাখ দূরে অবস্থিত। তিনি সেখানে দীর্ঘকাল অবস্থান করেন, যার ফলে তার নাম এই শহরের সাথে সম্পৃক্ত হয়।

খাকানী আবুল হাসান উবাইদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়ার সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, যিনি ২৪৭ হিজরি পর্যন্ত খলিফা মুতাওয়াক্কিলের উজির ছিলেন। তিনি তাকে দীনাওয়ারের বিচারপতির দায়িত্ব অর্পণ করেন। তিনি সেখানে ২৩২ হিজরি থেকে ২৪৭ হিজরি পর্যন্ত খলিফা মুতাওয়াক্কিলের শাসনামলে অবস্থান করেন। এরপর ইবনে কুতায়বাহ বাগদাদে ফিরে আসেন। ফলে ইবনে কুতায়বাকে দীনাওয়ারের দিকে সম্বন্ধ করা হয় এবং তাকে 'আদ-দীনাওয়ারী' বলে ডাকা হয়।

তার বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষকবৃন্দ:

ইবনে কুতায়বাহ বাগদাদে বড় হন এবং সেখানেই শিক্ষা লাভ করেন ও সেখানকার শিক্ষকদের নিকট থেকে জ্ঞান আহরণ করেন। বাগদাদ ব্যতীত অন্য কোনো শহরের শিক্ষকদের নিকট থেকে তার হাদিস গ্রহণের কথা উল্লেখ পাওয়া যায় না। তার উল্লেখযোগ্য শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন:

১- তার পিতা: মুসলিম বিন কুতায়বাহ; তিনি তার 'উয়ুনুল আখবার' ও 'আল-মাআরিফ' নামক কিতাবদ্বয়ে তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

২- আহমদ বিন সাঈদ আল-লিহয়ানী; তিনি তার কাছে আবু উবাইদের 'কিতাবুল আমওয়াল' ও 'কিতাবু গারীবিল হাদিস' পাঠ করেছেন।

৩- আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাল্লাম আল-জুমাহী; যিনি 'তাবাকাতুশ শুয়ারা' এর রচয়িতা (মৃত্যু: ২৩১ হিজরি)।

৪- ইয়াহইয়া বিন আকসাম আল-কাজী; তিনি মক্কায় তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন, সম্ভবত এটি ছিল তার হজ পালনের সময় (মৃত্যু: ২৪২ হিজরি)।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৪)
5- ابْن رَاهْوَيْةِ أَبُو يَعْقُوب، إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم، وَهُوَ من عُلَمَاء الْفِقْه والْحَدِيث، وروى عَنهُ أَئِمَّة الحَدِيث مثل: البُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ. "ت238هـ".

6- حَرْمَلَة بن يحيى التجِيبِي "ت243هـ".

7- الزيَادي أَبُو إِسْحَاق إِبْرَاهِيم بن سُفْيَان تلميذ سِيبَوَيْهٍ والأصمعي "ت249هـ".

8- دعبل بن عَليّ الْخُزَاعِيّ الشَّاعِر "ت246هـ".

9- أَبُو عبد الله الْحسن بن الْحُسَيْن بن حَرْب السّلمِيّ "ت246هـ".

10- أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن مَرْزُوق بن بكير بن البهلول الْبَاهِلِيّ الْمصْرِيّ "ت248هـ".

11- شَبابَة بن سوار "ت254هـ".

12- زِيَاد بن يحيى بن زِيَاد المساني الْبَصْرِيّ "ت254هـ".

13- مُحَمَّد بن يحيى بن أبي حزم الْقطعِي الْبَصْرِيّ "ت253هـ".

14- إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد الصَّواف "ت253هـ".

15- مُحَمَّد بن زِيَاد بن عبيد الله بن زِيَاد بن الرّبيع الزيَادي الْبَصْرِيّ "ت252هـ".

16- الجاحظ أَبُو عُثْمَان "ت254هـ".

17- عبد الرَّحْمَن بن بشر بن الحكم بن حبيب "ت260هـ".

18- عَبده بن عبد الله الْخُزَاعِيّ "ت258هـ".

19- الْعَبَّاس بن الْفرج الرياشي "ت257هـ".

20- زيد بن أخزم الطَّائِي "ت257هـ".

21- إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حَبِيبِ بن الشَّهِيد الْبَصْرِيّ "ت257هـ".

22- مُحَمَّد بن خَالِد بن خرَاش بن عجلَان المهلبي.

23- أَحْمد بن خَالِد الضَّرِير.

24- عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بن قريب.

25- مُحَمَّد بن عبيد بن عبد الْملك الْأَسدي.
৫- ইবনে রাহওয়াইহি আবু ইয়াকুব, ইসহাক ইবনে ইবরাহিম; তিনি ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর থেকে হাদিসের ইমামগণ বর্ণনা করেছেন, যেমন: বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি এবং নাসায়ি। "মৃত্যু ২৩৮ হিজরি"।

৬- হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া আত-তুজিবি "মৃত্যু ২৪৩ হিজরি"।

৭- আজ-জিয়াদি আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে সুফিয়ান, যিনি সিবওয়াইহি ও আল-আসমাঈর ছাত্র ছিলেন "মৃত্যু ২৪৯ হিজরি"।

৮- দি’বিল ইবনে আলী আল-খুজায়ি কবি "মৃত্যু ২৪৬ হিজরি"।

৯- আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান ইবনে আল-হুসাইন ইবনে হারব আস-সুলামি "মৃত্যু ২৪৬ হিজরি"।

১০- আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মারজুক ইবনে বুকাইর ইবনে আল-বাহলুল আল-বাহিলি আল-মিসরি "মৃত্যু ২৪৮ হিজরি"।

১১- শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার "মৃত্যু ২৫৪ হিজরি"।

১২- জিয়াদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জিয়াদ আল-মাসানি আল-বাসরি "মৃত্যু ২৫৪ হিজরি"।

১৩- মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবি হাযম আল-কাতয়ি আল-বাসরি "মৃত্যু ২৫৩ হিজরি"।

১৪- ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ আস-সাউওয়াফ "মৃত্যু ২৫৩ হিজরি"।

১৫- মুহাম্মদ ইবনে জিয়াদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে জিয়াদ ইবনে আর-রাবি আজ-জিয়াদি আল-বাসরি "মৃত্যু ২৫২ হিজরি"।

১৬- আল-জাহিজ আবু উসমান "মৃত্যু ২৫৪ হিজরি"।

১৭- আবদুর রহমান ইবনে বিশর ইবনে আল-হাকাম ইবনে হাবিব "মৃত্যু ২৬০ হিজরি"।

১৮- আবদাহ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খুজায়ি "মৃত্যু ২৫৮ হিজরি"।

১৯- আল-আব্বাস ইবনে আল-ফারাজ আর-রিয়াশি "মৃত্যু ২৫৭ হিজরি"।

২০- জাইদ ইবনে আখযাম আত-তয়ি "মৃত্যু ২৫৭ হিজরি"।

২১- ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে হাবিব ইবনে আশ-শাহিদ আল-বাসরি "মৃত্যু ২৫৭ হিজরি"।

২২- মুহাম্মদ ইবনে খালিদ ইবনে খিরাশ ইবনে আজলান আল-মুহাল্লাবি।

২৩- আহমদ ইবনে খালিদ আদ-দারির।

২৪- আবদুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুরাইব।

২৫- মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে আব্দুল মালিক আল-আসাদি।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৫)
تلاميذه:

1- ابْنه أَحْمد بن عبد الله بن مُسلم الدينَوَرِي كَانَ يحفظ كتب أَبِيه حفظا كَامِلا. "ت322هـ" ولي الْقَضَاء سنة 321هـ.

2- أَحْمد بن مَرْوَان الْمَالِكِي "ت298هـ" وَقد روى عَن ابْن قُتَيْبَة هَذَا الْكتاب "تَأْوِيل مُخْتَلف الحَدِيث". وَقد انْتهى إِلَيْنَا بروايته.

3- مُحَمَّد بن خلف بن الْمَرْزُبَان "ت309هـ".

4- إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد بن أَيُّوب بن بشير الصَّائِغ "ت313هـ" روى مصنفات ابْن قُتَيْبَة كلهَا.

5- عبيد الله بن عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد بن عِيسَى السكرِي "ت323هـ".

6- عبيد الله بن أَحْمد بن عبد الله بن بكير التَّمِيمِي "ت334هـ".

7- الْهَيْثَم بن كُلَيْب الشَّاشِي "ت335هـ" وَقد أَخذ عَنهُ الْأَدَب خَاصَّة.

8- قَاسم بن أصبغ الأندلسي "ت340"هـ قَرَأَ عَلَيْهِ "المعارف" و"شرح غَرِيب الحَدِيث".

9- إِبْرَاهِيم بن أَحْمد الشَّيْبَانِيّ الْبَغْدَادِيّ "ت298هـ".

10- أَحْمد بن الْحُسَيْن بن إِبْرَاهِيم الدينَوَرِي، وَقَرَأَ عَلَيْهِ "تَأْوِيل مُخْتَلف الحَدِيث".

11- عبد الله بن جَعْفَر بن درسْتوَيْه الْفَسَوِي "ت335هـ".

12- أَبُو عبد الله بن أبي الْأسود "343هـ".

مؤلفاته:

1- مُشكل الْقُرْآن: وَقد جمع بَين هَذَا الْكتاب وغريب الْقُرْآن أَحْمد بن مطرف الْكِنَانِي "ت354" فِي كتاب أسماه: "القرطين" ينقص مِنْهُمَا وَيزِيد "مطبوع، نشر بِالْقَاهِرَةِ 1935".

2- مَعَاني الْقُرْآن: ذكره السُّيُوطِيّ والداودي وعياض.

3- الْقرَاءَات: ذكره ابْن النديم فِي "الفهرست".

4- إِعْرَاب الْقرَاءَات: هَكَذَا سَمَّاهُ ابْن خلكان والقفطي.
তাঁর ছাত্রগণ:

১- তাঁর পুত্র আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম আদ-দিনাওয়ারী। তিনি তাঁর পিতার কিতাবগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে মুখস্থ রাখতেন। (মৃত্যু: ৩২২ হি.) তিনি ৩২১ হিজরিতে বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২- আহমদ বিন মারওয়ান আল-মালিকি (মৃত্যু: ২৯৮ হি.)। তিনি ইবনে কুতায়বাহ থেকে এই কিতাব 'তাউয়ীলু মুখতালিফিল হাদীস' বর্ণনা করেছেন। এটি তাঁর বর্ণনার মাধ্যমেই আমাদের কাছে পৌঁছেছে।

৩- মুহাম্মদ বিন খালাফ বিন আল-মারযুবান (মৃত্যু: ৩০৯ হি.)।

৪- ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বিন বাশির আস-সায়িগ (মৃত্যু: ৩১৩ হি.)। তিনি ইবনে কুতায়বাহর সমস্ত গ্রন্থ বর্ণনা করেছেন।

৫- উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা আস-সুক্কারি (মৃত্যু: ৩২৩ হি.)।

৬- উবাইদুল্লাহ বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বুকাইর আত-তামিমি (মৃত্যু: ৩৩৪ হি.)।

৭- আল-হাইসাম বিন কুলাইব আশ-শাশী (মৃত্যু: ৩৩৫ হি.)। তিনি তাঁর কাছ থেকে বিশেষভাবে আদব (সাহিত্য) শিক্ষা করেছেন।

৮- কাসিম বিন আসবাগ আল-আন্দালুসি (মৃত্যু: ৩৪০ হি.)। তিনি তাঁর কাছে 'আল-মাআরিফ' এবং 'শারহু গারিবিল হাদীস' পাঠ করেছেন।

৯- ইব্রাহিম বিন আহমদ আশ-শায়বানি আল-বাগদাদি (মৃত্যু: ২৯৮ হি.)।

১০- আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন ইব্রাহিম আদ-দিনাওয়ারী। তিনি তাঁর কাছে 'তাউয়ীলু মুখতালিফিল হাদীস' পাঠ করেছেন।

১১- আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন দারাস্তাওয়াইহ আল-ফাসাওয়ি (মৃত্যু: ৩৩৫ হি.)।

১২- আবু আব্দুল্লাহ বিন আবিল আসওয়াদ (মৃত্যু: ৩৪৩ হি.)।

তাঁর রচনাবলী:

১- মুশকিলুল কুরআন: আহমদ বিন মুতাররিফ আল-কিনানি (মৃত্যু: ৩৫৪ হি.) এই কিতাব এবং 'গারিবুল কুরআন'-কে একত্রিত করে 'আল-কুরতাইন' নামক একটি কিতাব সংকলন করেছেন, যেখানে তিনি কিছু অংশ হ্রাস ও বৃদ্ধি করেছেন (মুদ্রিত, কায়রো থেকে ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত)।

২- মাআনিল কুরআন: সুয়ূতী, দাউদী এবং ইয়ায এটি উল্লেখ করেছেন।

৩- আল-কিরাআত: ইবনে নাদীম তাঁর 'আল-ফিহরিস্ত' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

৪- ই'রাবুল কিরাআত: ইবনে খাল্লিকান এবং কিফতি এটিকে এই নামে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৬)
5- الرَّد على الْقَائِل بِخلق الْقُرْآن: ذكره السُّيُوطِيّ فِي "البغية". والداودي فِي: "طَبَقَات الْمُفَسّرين".

6- آدَاب الْقِرَاءَة: ذكره صَاحب كشف الظنون.

7- غَرِيب الحَدِيث: ذكره ابْن النديم وَابْن خلكان والخطيب والداودي وَغَيرهم، وَقد أحسن فِيهِ "مطبوع نشره عبد الله الجبوري فِي 3 أَجزَاء بِبَغْدَاد -وزارة الْأَوْقَاف 1977-1978م".

8- إصْلَاح غلط أبي عبيد: وَقد استدرك فِيهِ ابْن قُتَيْبَة على أبي عُبَيْدَة فِي نَيف وَخمسين موضعا فِي غَرِيب الحَدِيث "مخطوط أيا صوفيا 457".

9- الْمسَائِل والأجوبة: ذكره الدَّاودِيّ والسيوطي بِهَذَا الِاسْم، وَذكره غَيرهم باسم: الْمسَائِل والجوابات "مخطوط، عَاشر أَفَنْدِي 1979" وَقد طبع بِمصْر.

10- دَلَائِل النُّبُوَّة: ذكره ابْن النديم والداودي والسيوطي وحاجي خَليفَة بِهَذَا الِاسْم، وَذكره ابْن الْأَنْبَارِي باسم: دَلَائِل النُّبُوَّة من الْكتب الْمنزلَة على الْأَنْبِيَاء عليهم السلام.

11- جَامع الْفِقْه: ذكره ابْن النديم فِي "الفهرست" وَذكره القفطي باسم: كتاب الْفِقْه.

12- كتاب الْأَشْرِبَة: ذكره ابْن النديم وَابْن خلكان والقفطي "وطبع الْكتاب بتحقيق مُحَمَّد كرد عَليّ بِدِمَشْق 1366هـ-1947م".

13- الرَّد على المشبهة: ذكره ابْن النديم والداودي والسيوطي والقفطي "مطبوع، نشر بِالْقَاهِرَةِ 1349هـ-1930م".

14- أدب الْكَاتِب: ذكره ابْن النديم وَابْن خلكان والسمعاني وَالطّيب فِي: "قلادة النَّحْر" وَابْن كثير والقفطي وَابْن الْعِمَاد، وَقد طبع الْكتاب مَرَّات "نشره جرونرت grunert ليدن 1900 وَنشر فِي الْقَاهِرَة 1300، 1310، 1328، 1355هـ -1936م".

15- عُيُون الشّعْر: ذكره ابْن النديم ثمَّ ذكر كتابا آخر لِابْنِ قُتَيْبَة
৫- কুরআন সৃষ্টির প্রবক্তাদের খণ্ডন: সুয়ূতী এটি "আল-বুগইয়াহ" গ্রন্থে এবং দাউদী "তাবাকাতুল মুফাসসিরীন" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

৬- কিরাআতের আদবসমূহ: কাশফুয যুনূনের লেখক এটি উল্লেখ করেছেন।

৭- গারীবুল হাদীস: ইবনুন নাদীম, ইবনু খাল্লিকান, খাতীব, দাউদী এবং অন্যরা এটি উল্লেখ করেছেন, আর তিনি এতে অত্যন্ত নিপুণতা দেখিয়েছেন। এটি তিন খণ্ডে বাগদাদে (ধর্ম মন্ত্রণালয়, ১৯৭৭-১৯৭৮ খ্রি.) আবদুল্লাহ আল-জুবুরী কর্তৃক প্রকাশিত ও মুদ্রিত।

৮- ইসলাহু গালাতি আবি উবায়েদ: এতে ইবনু কুতাইবাহ "গারীবুল হাদীস" গ্রন্থে আবু উবায়েদাহর ওপর পঞ্চাশের অধিক স্থানে সংশোধনী দিয়েছেন। (আয়া সোফিয়া পাণ্ডুলিপি নং ৪৫৭)।

৯- আল-মাসায়িল ওয়াল-আজউবাহ: দাউদী এবং সুয়ূতী এই নামেই এটি উল্লেখ করেছেন। অন্যরা এটিকে "আল-মাসায়িল ওয়াল-জওয়াবাত" নামে উল্লেখ করেছেন। (পাণ্ডুলিপি, আশির আফেন্দি ১৯৭৯), এটি মিশরে মুদ্রিত হয়েছে।

১০- দালাইলুন নুবুওয়াহ: ইবনুন নাদীম, দাউদী, সুয়ূতী এবং হাজি খলিফা এই নামেই এটি উল্লেখ করেছেন। ইবনুল আনবারী এটিকে "দালাইলুন নুবুওয়াহ মিনাল কুতুবিল মুনযালাতি আলাল আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম" নামে উল্লেখ করেছেন।

১১- জামিউল ফিকহ: ইবনুন নাদীম এটি "আল-ফিহরিস্ত" গ্রন্থে এবং কিফতী এটি "কিতাবুল ফিকহ" নামে উল্লেখ করেছেন।

১২- কিতাবুল আশরিবাহ: ইবনুন নাদীম, ইবনু খাল্লিকান এবং কিফতী এটি উল্লেখ করেছেন। বইটি দামেস্কে মুহাম্মদ কুর্দ আলীর সম্পাদনায় ১৩৬৬ হিজরী - ১৯৪৭ সালে মুদ্রিত হয়েছে।

১৩- মুসাব্বিহাদের খণ্ডন: ইবনুন নাদীম, দাউদী, সুয়ূতী এবং কিফতী এটি উল্লেখ করেছেন। এটি কায়রোতে ১৩৪৯ হিজরী - ১৯৩০ সালে প্রকাশিত ও মুদ্রিত।

১৪- আদাবুল কাতিব: ইবনুন নাদীম, ইবনু খাল্লিকান, সামআনী, এবং তাইয়্যেব তার "কিলাদাতুন নাহর" গ্রন্থে, ইবনু কাসীর, কিফতী এবং ইবনুল ইমাদ এটি উল্লেখ করেছেন। বইটি বহুবার মুদ্রিত হয়েছে। গ্রুনার্ট এটি ১৯০০ সালে লাইডেন থেকে এবং কায়রোতে ১৩০০, ১৩১০, ১৩২৮ এবং ১৩৫৫ হিজরী - ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।

১৫- উয়ুনুশ শি'র: ইবনুন নাদীম এটি উল্লেখ করেছেন, এরপর তিনি ইবনু কুতাইবাহর আরেকটি বইয়ের কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৭)
أسماه: الْمَرَاتِب والمناقب من عُيُون الشّعْر ويحتوي على عشرَة كتب هِيَ: "الْجَوَاهِر، الشواهد، القلائد، المحاسن، المدائح، الْمَرَاتِب، المراكب، الْمشَاهد، الْمعَانِي، المناقب".

16- كتاب الْمعَانِي الْكَبِير: ذكره ابْن النديم باسم: مَعَاني الشّعْر الْكَبِير، وَقد أَشَارَ إِلَيْهِ ابْن قُتَيْبَة فِي كِتَابه "عُيُون الْأَخْبَار" حَيْثُ يَقُول: وَقد فسرت هَذَا الشّعْر فِي كتابي الْمُؤلف فِي أَبْيَات الْمعَانِي فِي خلق الْفرس "مخطوط، يُوجد الْقسم الأول مِنْهُ وَهُوَ أَبْيَات الْمعَانِي فِي الْخَيل، ومخطوط فِي أيا صوفيا 4050، وتوجد تتمته "الْقسم الثَّانِي" فِي الْمكتب الْهِنْدِيّ أول 1137".

ويحتوي هَذَا الْكتاب على اثْنَي عشر كتابا هِيَ: "الْإِبِل: 16 بَابا، الْإِيمَان والدواهي: 7 أَبْوَاب، تَصْحِيف الْعلمَاء: بَاب وَاحِد، الْحر: 10 أَبْوَاب، الديار: 10 أَبْوَاب، الرِّيَاح: 31 بَابا، السبَاع والوحوش: 17 بَابا، الشيب وَالْكبر 8 أَبْوَاب، الضَّرُورَة: 20 بَابا، الْفرس: 46 بَابا، النِّسَاء والغزل: بَاب وَاحِد، الْهَوَام: 24 بَابا".

17- ديوَان الكتّاب: ذكره ابْن النديم، والسيوطي، وحاجي خَليفَة.

18- تَقْوِيم اللِّسَان: ذكره حاجي خَليفَة.

19- خلق الْإِنْسَان: ذكره ابْن النديم والداودي، والسيوطي، وحاجي خَليفَة.

20- كتاب الْخَيل: ذكره ابْن النديم وَابْن خلكان، والداودي، والسيوطي والقفطي.

21- كتاب الْأَنْوَار: ذكره ابْن النديم وَابْن خلكان، والداودي، والسيوطي والقفطي والسمعاني، "وَهُوَ مطبوع نشره بِلَال وَمُحَمّد حميد الله. حيدر آباد، مطبوعات دَائِرَة المعارف العثمانية 1956م".

22- جَامع النَّحْو الْكَبِير: ذكره ابْن النديم والداودي والسيوطي والقفطي وحاجي حليفة.
তিনি এটির নামকরণ করেছেন: 'আল-মারাতীব ওয়াল-মানাকিাব মিন উয়ুনুশ শি’র'। এটি দশটি গ্রন্থ অন্তর্ভুক্ত করে, সেগুলো হলো: "আল-জাওয়াহির, আশ-শাওয়াহিদ, আল-কালাইদ, আল-মাহাসিন, আল-মাদাইহ, আল-মারাতীব, আল-মারাকিব, আল-মাশাহেদ, আল-মাআনি, আল-মানাকিাব"

১৬- কিতাবুল মাআনি আল-কাবীর: ইবনে নাদীম এটিকে 'মাআনিল শি’র আল-কাবীর' নামে উল্লেখ করেছেন। ইবনে কুতাইবা তাঁর 'উয়ুনুল আখবার' গ্রন্থে এটির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যেখানে তিনি বলেন: "আমি এই কবিতার ব্যাখ্যা আমার রচিত গ্রন্থ 'আবইয়াতুল মাআনি ফী খালকিল ফরাস'-এ করেছি।" এটি পাণ্ডুলিপি আকারে আছে, যার প্রথম অংশ 'আবইয়াতুল মাআনি ফীল খাইল' নামে আয়া সোফিয়া ৪০৫০-এ সংরক্ষিত আছে এবং এর অবশিষ্টাংশ (দ্বিতীয় অংশ) 'ইন্ডিয়া অফিস' গ্রন্থাগারের ১১৩৭-এর শুরুতে পাওয়া যায়।

এই গ্রন্থটি বারোটি বই নিয়ে গঠিত, সেগুলো হলো: "আল-ইবিল (উট): ১৬টি অধ্যায়, আল-ঈমান ওয়াদ-দাওয়াহি: ৭টি অধ্যায়, তাশহিফুল উলামা: ১টি অধ্যায়, আল-হার: ১০টি অধ্যায়, আদ-দিয়ার: ১০টি অধ্যায়, আর-রিয়াহ (বাতাস): ৩১টি অধ্যায়, আস-সিবা ওয়াল উহুশ (হিংস্র ও বন্য প্রাণী): ১৭টি অধ্যায়, আশ-শায়ব ওয়াল কিবার (বার্ধক্য ও বৃদ্ধকাল): ৮টি অধ্যায়, আদ-দারুরা: ২০টি অধ্যায়, আল-ফরাস (ঘোড়া): ৪৬টি অধ্যায়, আন-নিসা ওয়াল গাযাল (নারী ও প্রেমকাব্য): ১টি অধ্যায়, আল-হাওয়াম (কীটপতঙ্গ): ২৪টি অধ্যায়।"

১৭- দিওয়ানুল কিতাব: ইবনে নাদীম, সুয়ূতী এবং হাজি খলিফা এটি উল্লেখ করেছেন।

১৮- তাকউয়ীমুল লিসান: হাজি খলিফা এটি উল্লেখ করেছেন।

১৯- খালকুল ইনসান: ইবনে নাদীম, দাউদী, সুয়ূতী এবং হাজি খলিফা এটি উল্লেখ করেছেন।

২০- কিতাবুল খাইল: ইবনে নাদীম, ইবনে খাল্লিকান, দাউদী, সুয়ূতী এবং কিফতী এটি উল্লেখ করেছেন।

২১- কিতাবুল আনওয়ার: ইবনে নাদীম, ইবনে খাল্লিকান, দাউদী, সুয়ূতী, কিফতী এবং সামআনী এটি উল্লেখ করেছেন। "এটি মুদ্রিত এবং বেলাল ও মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ এটি প্রকাশ করেছেন। হায়দ্রাবাদ, দায়িরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়া ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে মুদ্রিত।"

২২- জামিউন নাহু আল-কাবীর: ইবনে নাদীম, দাউদী, সুয়ূতী, কিফতী এবং হাজি খলিফা এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৮)
23- جَامع النَّحْو الصَّغِير: ذكره ابْن النديم والداودي والسيوطي والقفطي وحاجي خَليفَة.

24- الميسر والقداح: ذكره ابْن النديم وَابْن خلكان والقفطي وَصَاحب طَبَقَات فُقَهَاء السَّادة الْحَنَفِيَّة "مطبوع نشره محب الدَّين الْخَطِيب، الْقَاهِرَة 1343هـ - 1924م".

25- فضل الْعَرَب على الْعَجم: ذكره ابْن قُتَيْبَة فِي كِتَابه: "عُيُون الْأَخْبَار" وَلَا يبعد أَن يكون كتاب: "التَّسْوِيَة بَين الْعَرَب والعجم" الَّذِي ذكره ابْن النديم والقفطي على أَنه كتاب آخر، هُوَ هَذَا الْكتاب باسم جَدِيد.

26- عُيُون الْأَخْبَار: ذكره ابْن النديم، وَابْن خلكان، والخطيب الْبَغْدَادِيّ، والسمعاني، وَابْن كثير، وَابْن الْأَنْبَارِي والقفطي "مطبوع، دَار الْكتاب، الْقَاهِرَة 4 أَجزَاء 1925-1930م".

27- طَبَقَات الشُّعَرَاء: ذكره ابْن خلكان، والداودي، والسيوطي، والقفطي، وَابْن الْعِمَاد. "مطبوع، نشره ritter shausen "ليدن 1875م، ونشره أَيْضا دي خويه degeje ونشره جود فرواري موبيس باريس 1947 وطبع ببيروت، دَار الثقافة 1964م".

28- الْحِكَايَة والمحكي: ذكره ابْن النديم.

29- فرائد الدُّرَر: ذكره ابْن النديم.

30- حكم الْأَمْثَال: ذكره ابْن النديم.

31- آدَاب الْعشْرَة: ذكره ابْن النديم.

32- كتاب الْعلم: ذكره ابْن النديم والقفطي بِهَذَا الِاسْم، ثمَّ ذكره الدَّاودِيّ والسيوطي باسم كتاب الْقَلَم.

33- تَعْبِير الرُّؤْيَا: ذكره ابْن النديم وَأَبُو الطّيب اللّغَوِيّ بِهَذَا الِاسْم، وَذكر ابْن قُتَيْبَة باسم "تَأْوِيل الرُّؤْيَا".

34- الجراثيم: يشك فِي نسبته لِابْنِ قُتَيْبَة.
২৩- জামিউন নাহবিস সাগির: ইবনুন নাদিম, আদ-দাউদি, আস-সুয়ুতি, আল-কিফতি এবং হাজি খলিফা এটি উল্লেখ করেছেন।

২৪- আল-মায়সির ওয়াল কিদাহ: এটি ইবনুন নাদিম, ইবনে খাল্লিকান, আল-কিফতি এবং 'তাবাকাতু ফুকাহাউস সাদাতিল হানাফিয়্যাহ' গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন। "এটি মুদ্রিত, মুহিব্বুদ্দীন আল-খাতিব এটি প্রকাশ করেছেন, কায়রো ১৩৪৩ হি. - ১৯২৪ খ্রি."।

২৫- ফাদলুল আরব আলাল আজম: ইবনে কুতায়বা এটি তার "উয়ুনুল আখবার" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এটি অসম্ভব নয় যে, ইবনুন নাদিম ও আল-কিফতি যে "আত-তাসবিয়াতু বাইনাল আরবি ওয়াল আজম" বইটিকে ভিন্ন একটি বই হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তা আসলে এই বইটিই, যা নতুন নামে পরিচিত হয়েছে।

২৬- উয়ুনুল আখবার: এটি ইবনুন নাদিম, ইবনে খাল্লিকান, খতিব বাগদাদি, সামআনি, ইবনে কাসির, ইবনুল আনবারি এবং আল-কিফতি উল্লেখ করেছেন। "মুদ্রিত, দারুল কিতাব, কায়রো, ৪ খণ্ড, ১৯২৫-১৯৩০ খ্রি."।

২৭- তাবাকাতুশ শুয়ারা: এটি ইবনে খাল্লিকান, আদ-দাউদি, আস-সুয়ুতি, আল-কিফতি এবং ইবনুল ইমাদ উল্লেখ করেছেন। "মুদ্রিত, এটি রিটারশাউসেন (Rittershausen) লাইডেন থেকে ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশ করেছেন, এবং ডি গোয়ে (De Goeje)-ও এটি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া গুদফ্রোয়ারি মোবিস ১৯৪৭ সালে প্যারিস থেকে এটি প্রকাশ করেছেন এবং বৈরুতের দারুস সাকাফাহ থেকে ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে এটি মুদ্রিত হয়েছে"।

২৮- আল-হিকায়াতু ওয়াল মাহকি: এটি ইবনুন নাদিম উল্লেখ করেছেন।

২৯- ফরাইদুদ দুরার: এটি ইবনুন নাদিম উল্লেখ করেছেন।

৩০- হিকামুল আমসাল: এটি ইবনুন নাদিম উল্লেখ করেছেন।

৩১- আদাবুল ইশরাহ: এটি ইবনুন নাদিম উল্লেখ করেছেন।

৩২- কিতাবুল ইলম: ইবনুন নাদিম এবং আল-কিফতি এই নামে এটি উল্লেখ করেছেন, অতঃপর আদ-দাউদি এবং আস-সুয়ুতি এটি 'কিতাবুল কালাম' নামে উল্লেখ করেছেন।

৩৩- তাবিরুর রুয়া: ইবনুন নাদিম এবং আবু তাইয়িব আল-লুগাবি এই নামে এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে কুতায়বা এটি 'তাউয়িলুর রুয়া' নামে উল্লেখ করেছেন।

৩৪- আল-জারাছিম: ইবনে কুতায়বার প্রতি এর সম্পৃক্ততার বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ২৯)
35- الجوابات الْحَاضِرَة: ذكره الدَّاودِيّ والسيوطي، وحاجي خَليفَة.

26- مُشكل الحَدِيث: ذكره ابْن خلكان، والخطيب، والسمعاني، وَابْن الْأَنْبَارِي، والقفطي، وَصَاحب طَبَقَات فُقَهَاء السَّادة الْحَنَفِيَّة وَابْن الْعِمَاد.

37- كتاب المعارف: "مطبوع، نشره فستنفلد فِي جوتنجن: 185 وَنشر أَيْضا بِالْقَاهِرَةِ 1300هـ، 1352هـ -1939م".

38- اخْتِلَاف تَأْوِيل الحَدِيث: "مطبوع بِمصْر عَام 1326هـ - 1908م" وَهُوَ الْكتاب الَّذِي نَحن بصدده.

كتاب "مُخْتَلف تَأْوِيل الحَدِيث":

ذكره ابْن خلكان، والخطيب والسمعاني وَابْن الْأَنْبَارِي والقفطي وَصَاحب طَبَقَات فُقَهَاء السَّادة الْحَنَفِيَّة وَابْن الْعِمَاد.

وَيذكر ابْن النديم كتابا لِابْنِ قُتَيْبَة باسم "الْمُشكل" وَلَا نَدْرِي أهوَ: مُشكل الحَدِيث هَذَا، أم هُوَ مُشكل الْقُرْآن؟ وأغلب الظَّن أَن ابْن قُتَيْبَة إِذا ذكر "الْمُشكل" وَلم يضف إِلَيْهِ أَرَادَ: مُشكل الْقُرْآن.

ثمَّ يستطرد ابْن النديم، وَيذكر كتابين آخَرين فِي هَذَا الْغَرَض وهما:

1- مُخْتَلف الحَدِيث.

2- اخْتِلَاف تَأْوِيل الحَدِيث.

ويذكره الدَّاودِيّ والسيوطي باسم: مُخْتَلف الحَدِيث، ويورده حاجي خَليفَة باسم: اخْتِلَاف الحَدِيث، وباسم: كتاب المناقضة، وبدار الْكتب المصرية نُسْخَة مِنْهُ باسم: الرَّد على من قَالَ بتناقض الحَدِيث، ويسميها مفهرس دَار الْكتب باسم: "المشتبه من الحَدِيث وَالْقُرْآن وَذكر الْأَحَادِيث الَّتِي قيل بتناقضها". ويذكره جورجي زَيْدَانَ فِي تَارِيخ الْآدَاب الْعَرَبيَّة باسم: المشتبه من الحَدِيث وَالْقُرْآن، وَقد ظهر هَذَا الْكتاب مطبوعًا بِالْقَاهِرَةِ "1326هـ" باسم: تَأْوِيل مُخْتَلف الحَدِيث.
৩৫- আল-জাওয়াবাতুল হাদিরা: এটি দাওুদি, সুয়ূতি এবং হাজি খলিফা উল্লেখ করেছেন।

২৬- মুশকিলুল হাদিস: এটি ইবনে খাল্লিকান, খাতিব, সামআনি, ইবনুল আনবারি, কিফতি, তাবাকাতু ফুকাহাইস সাদাতিল হানাফিয়্যাহ-এর লেখক এবং ইবনুল ইমাদ উল্লেখ করেছেন।

৩৭- কিতাবুল মাআরিফ: "এটি মুদ্রিত, উয়েস্টেনফেল্ড এটি গোটিঞ্জেনে ১৮৫০ সালে প্রকাশ করেন; এটি কায়রোতেও ১৩০০ হিজরি এবং ১৩৫২ হিজরি - ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।"

৩৮- ইখতিলাফু তাওয়ীলিল হাদিস: "এটি ১৩২৬ হিজরি - ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে মিশরে মুদ্রিত হয়েছে" এবং এটিই সেই গ্রন্থ যা নিয়ে আমরা বর্তমানে আলোচনা করছি।

কিতাব "মুখতালিফু তাওয়ীলিল হাদিস":

এটি ইবনে খাল্লিকান, খাতিব, সামআনি, ইবনুল আনবারি, কিফতি, তাবাকাতু ফুকাহাইস সাদাতিল হানাফিয়্যাহ-এর লেখক এবং ইবনুল ইমাদ উল্লেখ করেছেন।

ইবনু নাদিম ইবনে কুতায়বার একটি গ্রন্থের নাম "আল-মুশকিল" হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আমরা জানি না এটি কি এই "মুশকিলুল হাদিস", নাকি এটি "মুশকিলুল কুরআন"? তবে প্রবল ধারণা এই যে, ইবনে কুতায়বা যখন কোনো বিশেষণ ছাড়াই শুধু "আল-মুশকিল" উল্লেখ করেন, তখন তিনি "মুশকিলুল কুরআন"ই উদ্দেশ্য করেন।

এরপর ইবনু নাদিম আলোচনা দীর্ঘ করে এই উদ্দেশ্যে আরও দুটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো:

১- মুখতালিফুল হাদিস।

২- ইখতিলাফু তাওয়ীলিল হাদিস।

দাওুদি এবং সুয়ূতি এটিকে "মুখতালিফুল হাদিস" নামে উল্লেখ করেছেন। হাজি খলিফা এটিকে "ইখতিলাফুল হাদিস" এবং "কিতাবুল মুনাকাদাহ" নামে উল্লেখ করেছেন। মিশরের দারুল কুতুব-এ এটির একটি পাণ্ডুলিপি "আর-রাদ্দু আলা মান কালা বিতানাকুদিল হাদিস" নামে রয়েছে। দারুল কুতুবের সূচিপত্র রচয়িতা এর নামকরণ করেছেন: "আল-মুশতাবিহু মিনাল হাদিসি ওয়াল কুরআনি ওয়া জিকরুল আহাদিসিল্লাতি কিলা বিতানাকুদিহা"। জর্জি জায়দান তার 'তারিখু আদাবিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ' গ্রন্থে এটিকে "আল-মুশতাবিহু মিনাল হাদিসি ওয়াল কুরআন" নামে উল্লেখ করেছেন। এই গ্রন্থটি ১৩২৬ হিজরি সালে কায়রোতে "তাওয়ীলু মুখতালিফিল হাদিস" নামে মুদ্রিত আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩০)
مردُّ الالتباس فِي أَسمَاء كتبه:

يَقُول الدكتور ثروت عكاشة فِي الْكتاب الَّذِي حَقَّقَهُ لِابْنِ قُتَيْبَة: "المعارف" فِي تَوْضِيحه للِاخْتِلَاف فِي عدد الْكتب وأسمائها مِمَّا نسب لِابْنِ قُتَيْبَة مَا يَلِي:

وَإِنَّهُم ليعدون لِابْنِ قُتَيْبَة أَسمَاء لكتب أُخْرَى، وَأكْثر الظَّن أَنَّهَا لَيست كتبا مُسْتَقلَّة بل إِنَّهَا أَبْوَاب من نَحْو هَذَا الَّذِي يذكرُونَ لَهُ من أَنه لَهُ كتاب اسْمه: "اسْتِمَاع الْغناء بالألحان" معتمدين على مَا ذكره حاجي خَليفَة فِي حرف السِّين حَيْثُ يَقُول: "وَالْعُلَمَاء اخْتلفُوا فِي اسْتِمَاع الْغناء بالألحان، وَهِي مَسْأَلَة طَوِيلَة الذيل، خصها كثير من الْمُتَقَدِّمين بالتصنيف كَالْقَاضِي أبي الطّيب، والعلامة أبي مُحَمَّد ابْن قُتَيْبَة".

فَمَا نشك فِي أَن ابْن قُتَيْبَة كتب فِي هَذَا الْمَوْضُوع، وَلَكِن الَّذِي نشك فِيهِ أَن يكون لَهُ كتاب بِهَذَا الِاسْم. وَلَعَلَّ الدَّافِع الَّذِي دفع هَؤُلَاءِ إِلَى التَّوَسُّع فِي الْجمع شَيْء من الْجَهْل بمحتويات كتب ابْن قُتَيْبَة، وَذَلِكَ لأَنهم عرفُوا أَكْثَرهَا بِالسَّمَاعِ.

وَشَيْء آخر هُوَ مَا قرءوه وسمعوه من بعض المؤرخين، مثل صَاحب "التحديث بمناقب أهل الحَدِيث" حَيْثُ يذكر أَن كتب ابْن قُتَيْبَة زهاء ثَلَاثمِائَة كتاب، فيدفعهم هَذَا إِلَى التصيد والتحايل. وَمَا أَشك فِي أَن الَّذِي قصد إِلَيْهِ صَاحب "التحديث" هُوَ هَذِه الْأَبْوَاب الَّتِي احتوت عَلَيْهَا كتب ابْن قُتَيْبَة، بِعَدِّ كل بَاب كتابا، وَإِلَّا اتهمناه بِمَا نبرئ مِنْهُ كل مُتَّصِل بِالْعلمِ والتأليف. وَمَا أملينا إِلَى أَن نَأْخُذ بِمَا سبق فِيهَا "المدارك" حَيْثُ تحدث عَن أبي جَعْفَر أَحْمد، وَأَنه كَانَ يحفظ مصنفات أَبِيه، وعدتها وَاحِد وَعِشْرُونَ مصنفًا، وَمَا هَذَا الْعدَد بِقَلِيل على عَالم من الْعلمَاء، عمر مثل مَا عمر ابْن قُتَيْبَة، لَا سِيمَا والمؤلفات من المؤلفات ذَات الْأَجْزَاء.

غير أَن الَّذِي يعنينا هُوَ أَن ندلل على أَن البيئة الَّتِي عَاشَ فِيهَا ابْن قُتَيْبَة شغلت ابْن قُتَيْبَة بهَا وَلم يكد يفلته ركن لم يُشَارك فِيهِ.
তাঁর গ্রন্থসমূহের নাম সংক্রান্ত বিভ্রান্তি নিরসন:

ডক্টর সারওয়াত উকাশা ইবনে কুতায়বার 'আল-মাআরিফ' নামক গ্রন্থের সম্পাদিত সংস্করণে ইবনে কুতায়বার দিকে নিসবতকৃত গ্রন্থের সংখ্যা ও নামের মতভেদের ব্যাখ্যায় নিম্নোক্ত বর্ণনা প্রদান করেছেন:

তাঁরা ইবনে কুতায়বার জন্য আরও অনেক গ্রন্থের নাম গণনা করেন, অথচ প্রবল ধারণা এই যে, সেগুলো স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থ নয়, বরং বিভিন্ন অধ্যায় মাত্র। যেমন তারা তাঁর জন্য 'ইস্তিমাউল গিনা বিল আলহান' (সুরে গান শ্রবণ) নামক একটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেন। এক্ষেত্রে তাঁরা 'সীন' বর্ণের অধীনে হাজি খলিফা যা উল্লেখ করেছেন তার ওপর নির্ভর করেন। হাজি খলিফা বলেন: "বিদ্বানগণ সুরে গান শোনার ব্যাপারে মতভেদ করেছেন; এটি একটি দীর্ঘ তর্কের বিষয়। পূর্ববর্তীদের অনেকে এটি নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন কাজী আবু তাইয়্যেব এবং আল্লামা আবু মুহাম্মদ ইবনে কুতায়বা।"

আমাদের এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে ইবনে কুতায়বা এই বিষয়ে লিখেছেন, তবে আমাদের সন্দেহ হলো এই নামে তাঁর কোনো স্বতন্ত্র গ্রন্থ থাকা নিয়ে। সম্ভবত সংকলনের ক্ষেত্রে এই অতিরঞ্জনের পেছনে কারণ হলো ইবনে কুতায়বার গ্রন্থসমূহের বিষয়বস্তু সম্পর্কে এক প্রকার অজ্ঞতা, কারণ তাঁরা এর অধিকাংশ সম্পর্কে শুনেই জেনেছেন।

অন্য আরেকটি কারণ হলো কিছু ইতিহাসবিদের নিকট তাঁদের পঠিত ও শ্রুত তথ্য, যেমন 'আত-তাহদিস বি-মানাকিবি আহলিল হাদিস' গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে কুতায়বার গ্রন্থসংখ্যা প্রায় তিনশত। এটি তাঁদেরকে বিভিন্ন কৃত্রিম অনুসন্ধানের দিকে ঠেলে দেয়। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, 'আত-তাহদিস'-এর লেখক যা বুঝাতে চেয়েছেন তা হলো ইবনে কুতায়বার গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন অধ্যায়সমূহ, যেখানে প্রতিটি অধ্যায়কে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তা না হলে আমরা তাঁকে এমন বিষয়ে অভিযুক্ত করতাম যা থেকে জ্ঞান ও রচনার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তিকে আমরা নির্দোষ মনে করি। আমরা 'আল-মাদারিক' গ্রন্থে বর্ণিত তথ্যের দিকেই ঝুঁকেছি যেখানে আবু জাফর আহমদ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি তাঁর পিতার রচনাবলি মুখস্থ রাখতেন এবং সেগুলোর সংখ্যা ছিল একুশটি। ইবনে কুতায়বার মতো দীর্ঘজীবী একজন আলেমের জন্য এই সংখ্যা মোটেও কম নয়, বিশেষত তাঁর রচনাবলির মধ্যে বহু খণ্ডের গ্রন্থও বিদ্যমান।

তবে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো এটি প্রমাণ করা যে, ইবনে কুতায়বা যে পরিবেশে বাস করতেন তা তাঁকে ব্যাপকভাবে ব্যাপৃত রেখেছিল এবং জ্ঞানের এমন কোনো শাখা নেই বললেই চলে যাতে তিনি অবদান রাখেননি।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩১)
آراء الْعلمَاء فِي ابْن قُتَيْبَة:

تباينت آراء الْعلمَاء فِي ابْن قُتَيْبَة فوثقه بَعضهم وجرحه آخَرُونَ، وَقد جعله ابْن تَيْمِية لأهل السّنة مثل الجاحظ للمعتزلة، وَكَذَلِكَ وَثَّقَهُ عُلَمَاء آخَرُونَ مِنْهُم:

- الْحَافِظ السلَفِي "ت576هـ" حَيْثُ قَالَ: "كَانَ ابْن قُتَيْبَة من الثِّقَات وَأهل السّنة".

- والخطيب الْبَغْدَادِيّ "ت463هـ" الْقَائِل: "كَانَ ثِقَة دينا فَاضلا".

- وَابْن حزم، وَأَبُو مُحَمَّد عَليّ بن أَحْمد بن سعيد "ت456": "كَانَ ابْن قُتَيْبَة ثِقَة فِي دينه وَعلمه".

- والحافظ الذَّهَبِيّ حَيْثُ يَقُول فِي -ميزَان الِاعْتِدَال: "أَبُو مُحَمَّد صَاحب التصانيف، صَدُوق قَلِيل الرِّوَايَة".

وَيَقُول فِي -تذكرة الْحفاظ: "ابْن قُتَيْبَة من أوعية الْعلم، قَلِيل الْعَمَل فِي الحَدِيث".

- وَابْن الْجَوْزِيّ "ت597هـ" يَقُول: "كَانَ عَالما فَاضلا".

- وَابْن خلكان "ت681هـ": "كاك فَاضلا ثِقَة".

- وَمُسلم بن قَاسم: "كَانَ ابْن قُتَيْبَة صَدُوقًا من أهل السّنة".

وَغير هَؤُلَاءِ من الْعلمَاء يَتَّهِمُونَهُ وَيَقُولُونَ فِيهِ غير ذَلِك:

- فالدارقطني أَبُو الْحسن عَليّ بن عمر بن أَحْمد بن مهْدي "ت385هـ" يَقُول: "كَانَ ابْن قُتَيْبَة يمِيل إِلَى التَّشْبِيه، منحرفًا عَن العترة، وَكَلَامه يدل عَلَيْهِ".

- وَالْبَيْهَقِيّ أَبُو بكر أَحْمد بن الْحُسَيْن "ت458هـ" يَقُول: "كَانَ ابْن قُتَيْبَة يرى رَأْي الكرامية وَلَيْسَ بَين المشبهة والكرامية كَبِير فرق، فالكرامية هم أَتبَاع مُحَمَّد بن كرام، وَكَانَ يذهب إِلَى التجسيم والتشبيه، وينعى على "عَليّ" صبره على مَا جرى لعُثْمَان رضي الله عنه.

وَيَقُول الدكتور ثروت عكاشة فِي تَحْقِيقه لكتاب "المعارف" لِابْنِ قُتَيْبَة فِي بَيَان سَبَب هَذِه الاتهامات: "وَلَقَد نسي هَؤُلَاءِ أَن هَذَا الْمُتَّهم بالتشبيه لَهُ
ইবনে কুতায়বা সম্পর্কে আলেমদের মতামত:

ইবনে কুতায়বা সম্পর্কে আলেমদের মতামতে ভিন্নতা রয়েছে; তাদের কেউ কেউ তাঁকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং অন্যরা তাঁর সমালোচনা করেছেন। ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁকে আহলুস সুন্নাহর জন্য তেমন মনে করতেন যেমন জাহিয মুতাজিলাদের জন্য ছিলেন। তেমনিভাবে অন্যান্য আলেমগণও তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

- হাফেজ আস-সালাফি (মৃত্যু: ৫৭৬ হিজরি), তিনি বলেন: "ইবনে কুতায়বা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গ এবং আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।"

- খতিব আল-বাগদাদি (মৃত্যু: ৪৬৩ হিজরি), যিনি বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য, ধর্মপ্রাণ এবং বিদগ্ধ ব্যক্তি ছিলেন।"

- ইবনে হাজম, আবু মুহাম্মদ আলি বিন আহমদ বিন সাঈদ (মৃত্যু: ৪৫৬ হিজরি): "ইবনে কুতায়বা তাঁর দ্বীন এবং ইলমের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ছিলেন।"

- হাফেজ আয-যাহাবি, তিনি 'মিযানুল ইতিদাল'-এ বলেন: "আবু মুহাম্মদ অনেক গ্রন্থের রচয়িতা, তিনি সত্যবাদী, তবে বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর হাদিসের সংখ্যা কম।"

এবং তিনি 'তাযকিরাতুল হুফফাজ'-এ বলেন: "ইবনে কুতায়বা জ্ঞানের আধার ছিলেন, তবে হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁর চর্চা কম ছিল।"

- ইবনে আল-জাওজি (মৃত্যু: ৫৯৭ হিজরি) বলেন: "তিনি একজন বিদগ্ধ আলেম ছিলেন।"

- ইবনে খাল্লিকান (মৃত্যু: ৬৮১ হিজরি): "তিনি বিদগ্ধ এবং নির্ভরযোগ্য ছিলেন।"

- মুসলিম বিন কাসিম: "ইবনে কুতায়বা আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত একজন সত্যবাদী ব্যক্তি ছিলেন।"

এই আলেমগণ ব্যতীত অন্যরা তাঁর প্রতি অভিযোগ এনেছেন এবং এ ব্যাপারে ভিন্ন কথা বলেছেন:

- আদ-দারা কুতনি, আবু হাসান আলি বিন উমর বিন আহমদ বিন মাহদি (মৃত্যু: ৩৮৫ হিজরি) বলেন: "ইবনে কুতায়বা তাসবিহ (সাদৃশ্য দান) এর দিকে ঝুঁকে ছিলেন, তিনি আহলে বাইত থেকে বিচ্যুত ছিলেন এবং তাঁর বক্তব্যই এর প্রমাণ দেয়।"

- বায়হাকি, আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন (মৃত্যু: ৪৫৮ হিজরি) বলেন: "ইবনে কুতায়বা কাররামিয়াদের মত পোষণ করতেন, আর মুশাব্বিহা এবং কাররামিয়াদের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। কাররামিয়া হলো মুহাম্মদ বিন কাররামের অনুসারী এবং সে তাজসিম (দেহবাদ) ও তাসবিহ (সাদৃশ্য দান) এর দিকে যেত এবং সে উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে যা ঘটেছিল সে ব্যাপারে আলীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ধৈর্যের সমালোচনা করত।"

ড. সারওয়াত উকাশা ইবনে কুতায়বার 'আল-মাআরিফ' গ্রন্থের সম্পাদনায় এই অভিযোগগুলোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন: "নিশ্চয়ই তারা ভুলে গেছেন যে, তাসবিহ-এর অভিযোগে অভিযুক্ত এই ব্যক্তির রয়েছে"
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩২)
كتاب فِي الرَّد على المشبهة، وَأَن لَهُ فِي هَذَا الْكتاب عِبَارَات تدل على ميله إِلَى "عَليّ"، ونسوا أَيْضا أَن لَهُ كتابا فِي تَفْضِيل الْعَرَب، وَلَكِن كَيفَ لهَؤُلَاء المتهمين أَن يتهموا دون دَلِيل؟

فِي الْحق إِن لِابْنِ قُتَيْبَة من الْكَلَام فِي كتبه مَا يثير شَيْئا من الرِّيبَة، اقْرَأ لَهُ قَوْله فِي كِتَابه: "مُشكل الْقُرْآن" "وَكَانَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَضي عَنْهُم، وهم مصابيح الأَرْض وقادة الْأَنَام ومنتهى الْعلم، إِنَّمَا يقْرَأ الرجل فيهم السورتين وَالثَّلَاث والأربع، وَالْبَعْض والشطر من الْقُرْآن، إِلَّا نَفرا مِنْهُم وفقهم الله لجمعه، وَسَهل عَلَيْهِم حفظه، وَقَالَ الشّعبِيّ: توفّي أَبُو بكر وَعمر وَعلي رضي الله عنهم وَلم يجمعوا الْقُرْآن، وَقَالَ: لم يختمه أحد من الْخُلَفَاء غير عُثْمَان. وَرُوِيَ عَن شريك عَن إِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد أَنه قَالَ: سَمِعت الشّعبِيّ يحلف بِاللَّه عز وجل: لقد دخل عَليّ حفرته وَمَا حفظ الْقُرْآن"1.

تظن أَن هَذَا من كَلَام ابْن قُتَيْبَة هُوَ الَّذِي أثار تِلْكَ الثائرة حوله، فانبرى لَهُ من انبرى يَتَّهِمُونَهُ. اسْمَع لأبي الْحُسَيْن أَحْمد بن فَارس "ت395هـ" يَقُول فِي كِتَابه -الصَّحَابِيّ- تعقيبًا على هَذَا الَّذِي ذكره ابْن قُتَيْبَة:

"وَابْن قُتَيْبَة يُطلق إطلاقات مُنكرَة، ويروي أَشْيَاء مشنعة، كَالَّذي رَوَاهُ عَن الشّعبِيّ أَن أَبَا بكر وَعمر وعليًّا توفوا وَلم يجمعوا الْقُرْآن، وَأَن عليًّا دخل حفرته وَمَا حفظ الْقُرْآن، وَهَذَا كَلَام شنيع جدًّا"2.

وَابْن قُتَيْبَة الَّذِي ينْقل هَذَا رَاوِيا، يذكر غَيره مدافعًا عَن أهل الْبَيْت، مِمَّا يعبر عَن رَأْيه ومعتقده، وَفرق بَين أَن يزل الْعَالم وَهُوَ يروي لينصف التَّارِيخ، وَبَين أَن يزل وَهُوَ يفصح عَمَّا يعْتَقد، فَابْن قُتَيْبَة إِن زل فَلم يزل مُعْتَقدًا.

اسْمَع إِلَيْهِ وَهُوَ يَقُول فِي كِتَابه: "الرَّد على الْجَهْمِية": "وَجعلُوا ابْنه الْحُسَيْن عليه السلام خارجيًا شاقًا لعصا الْمُسلمين حَلَال الدَّم. وسووا بَينه فِي الْفضل وَبَين أهل الشورى … فَإِن قَالَ قَائِل: أَخُو رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَليّ،

--------------------------------------------

1، 2 من كِتَابه الرَّد على الْجَهْمِية والمشبهة "ص47".
মুশাব্বিহাদের খণ্ডনে একটি গ্রন্থ, এবং এই গ্রন্থে তার এমন কিছু অভিব্যক্তি রয়েছে যা ‘আলী’-র প্রতি তার ঝোঁক নির্দেশ করে। তারা এও ভুলে গেছে যে আরবদের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে তার একটি গ্রন্থ রয়েছে। কিন্তু এই অভিযোগকারীরা কীভাবে প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করে?

প্রকৃতপক্ষে ইবনে কুতাইবাহ-এর গ্রন্থসমূহে এমন কিছু কথা রয়েছে যা কিছুটা সন্দেহের উদ্রেক করে। তার 'মুশকিলুল কুরআন' গ্রন্থে তার এই কথাটি পড়ুন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ—যারা যমিনের প্রদীপ, সৃষ্টির নেতা এবং ইলমের চূড়ান্ত শিখর—তাদের মধ্যে একেকজন ব্যক্তি দুই, তিন বা চারটি সূরা অথবা কুরআনের কিছু অংশ বা অর্ধেক তিলাওয়াত করতেন; কেবল তাদের একদল ছাড়া যাদেরকে আল্লাহ তাআলা তা সংকলন করার তাওফিক দিয়েছিলেন এবং তাদের জন্য তা হিফজ করা সহজ করে দিয়েছিলেন। আশ-শা’বী বলেছেন: আবু বকর, উমর এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুম ইন্তেকাল করেছেন অথচ তারা কুরআন সংকলন করেননি। তিনি আরও বলেছেন: উসমান ছাড়া খলিফাদের মধ্যে আর কেউ তা খতম করেননি। শারীক থেকে ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: আমি আশ-শা’বীকে মহান আল্লাহর নামে শপথ করে বলতে শুনেছি: আলী তার কবরে প্রবেশ করেছেন অথচ তিনি কুরআন হিফজ করেননি।” ১।

আপনি হয়তো মনে করছেন যে ইবনে কুতাইবাহ-এর এই কথাটিই তার বিরুদ্ধে সেই শোরগোল সৃষ্টি করেছিল, যার ফলে একদল মানুষ তাকে অভিযুক্ত করতে উদ্যত হয়েছিল। আবুল হুসাইন আহমাদ ইবনে ফারিস (মৃত্যু ৩৯৫ হিজরী) তার 'আস-সাহিবী' গ্রন্থে ইবনে কুতাইবাহ-এর উল্লিখিত বিষয়ের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে কী বলছেন তা শুনুন:

“ইবনে কুতাইবাহ আপত্তিকর কিছু সাধারণ মন্তব্য করেন এবং কিছু জঘন্য বিষয় বর্ণনা করেন, যেমনটি তিনি আশ-শা’বী থেকে বর্ণনা করেছেন যে আবু বকর, উমর এবং আলী ইন্তেকাল করেছেন অথচ তারা কুরআন সংকলন করেননি, এবং আলী তার কবরে প্রবেশ করেছেন অথচ তিনি কুরআন হিফজ করেননি; এটি অত্যন্ত জঘন্য একটি কথা।” ২।

ইবনে কুতাইবাহ যিনি এটি একজন বর্ণনাকারী হিসেবে উদ্ধৃত করছেন, তিনি আহলে বাইতের পক্ষাবলম্বন করে আরও অনেক কথা উল্লেখ করেছেন, যা তার মতামত ও আকিদাহকে প্রকাশ করে। একজন আলিমের ইতিহাস চর্চায় ইনসাফ বজায় রাখতে গিয়ে বর্ণনা করার সময় পদস্খলন হওয়া এবং নিজের আকিদাহ প্রকাশ করার সময় পদস্খলন হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ইবনে কুতাইবাহ-এর যদি পদস্খলন হয়েই থাকে, তবে তা আকিদাগত পদস্খলন ছিল না।

তার 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' গ্রন্থে তার বক্তব্যটি শুনুন: “তারা তার পুত্র হুসাইন আলাইহিস সালামকে একজন খারেজী হিসেবে গণ্য করেছে, যিনি মুসলমানদের ঐক্য বিনষ্টকারী এবং যার রক্ত বৈধ। তারা মর্যাদার ক্ষেত্রে তাকে এবং আহলে শূরাদের সমান করে ফেলেছে... যদি কোনো বক্তা বলে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভাই হলেন আলী...

--------------------------------------------

১, ২ তার ‘আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুশাব্বিহাহ’ গ্রন্থ থেকে (পৃষ্ঠা ৪৭)।
(খণ্ড: ১) তাবীউ মুখতালিফিল হাদীস (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَأَبُو سبطيه الْحسن وَالْحُسَيْن وَأَصْحَاب الكساء: عَليّ وَفَاطِمَة وَالْحسن وَالْحُسَيْن تمعرت الْوُجُوه وتنكرت الْعُيُون".

فَهَذَا القَوْل مِمَّا ينصف ابْن قُتَيْبَة لَا شكّ، وَلَيْسَ فِي الأولى عَلَيْهِ حرج.

علمه:

وَأما عَن علمه، فَلم يعْدم "ابْن قُتَيْبَة" الْمنصف والطاعن: أما عَن الَّذين أنصفوه هُنَا، فيكادون يكونُونَ هم الَّذين أنصفوه هُنَاكَ -عِنْد الحَدِيث عَن آرائه- وتكاد تكون كلماتهم هُنَاكَ هِيَ كلماتهم هُنَا.

وَأما عَن الَّذِي اتَّهَمُوهُ فِي علمه، فَإنَّا نجدهم نَفرا آخَرين، وَلَعَلَّ أقدم من أنكر على ابْن قُتَيْبَة علمه، هُوَ ابْن الْأَنْبَارِي "ت238هـ"، نجد ذَلِك على لِسَان ابْن تَيْمِية حِين يَقُول: "وَابْن الْأَنْبَارِي من أَكثر النَّاس كلَاما فِي مَعَاني الْآي المتشابهات، يذكر فِيهَا من الْأَقْوَال مَا لم ينْقل عَن أحد من السّلف ويحتج لما يَقُول فِي الْقُرْآن بالشاذ من اللُّغَة. وَقصد ابْن تَيْمِية بذلك رد إِنْكَار ابْن الْأَنْبَارِي على ابْن قُتَيْبَة.

وَمن بعد الْأَنْبَارِي: أَبُو الطّيب "ت351هـ" إِذْ يَقُول فِي كِتَابه مَرَاتِب النَّحْوِيين: "وَكَانَ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُسلم بن قُتَيْبَة الدينَوَرِي أَخذ عَن أبي حَاتِم والرياشي وَعبد الرَّحْمَن بن أخي الْأَصْمَعِي. وَقد أَخذ ابْن دُرَيْد عَن هَؤُلَاءِ كلهم وَعَن الأشنانداني إِلَّا أَن ابْن قُتَيْبَة خلط عَلَيْهِ بحكايات عَن الْكُوفِيّين لم يكن أَخذهَا عَن ثِقَات. وَكَانَ يشرع فِي أَشْيَاء لَا يقوم بهَا، نَحْو تعرضه لتأليف كِتَابه فِي النَّحْو، وَكتابه فِي تَعْبِير الرُّؤْيَا، وَكتابه فِي معجزات النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، وعيون الْأَخْبَار والمعارف وَالشعرَاء وَنَحْو ذَلِك مِمَّا أزرى بِهِ عِنْد الْعلمَاء وَإِن كَانَ نفق بهَا عِنْد الْعَامَّة وَمن لَا بَصِيرَة لَهُ".

وَغير ابْن الْأَنْبَارِي وَأبي الطّيب نجد: الْحَاكِم أَبَا عبد الله مُحَمَّد النيسابوي "ت405هـ" الَّذِي يَقُول: "أَجمعت الْأمة على أَن القتيبي كَذَّاب".

كَمَا نجد "ابْن تغريبردي" يروي "ت874هـ" "وَكَانَ ابْن قُتَيْبَة خَبِيث اللِّسَان يَقع فِي حق كبار الْعلمَاء".
এবং তিনি তাঁর দুই দৌহিত্র হাসান ও হুসাইনের পিতা এবং চাদরওয়ালাদের (আসহাবে কিসা) অন্তর্ভুক্ত: আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন। (এই কথা শুনে) মুখমণ্ডলগুলো বিবর্ণ হয়ে গেল এবং চোখগুলো রুষ্ট হয়ে উঠল।

নিঃসন্দেহে এই বক্তব্যটি ইবনে কুতায়বার প্রতি ইনসাফ প্রদর্শনকারী এবং প্রথমটির ক্ষেত্রে তাঁর ওপর কোনো দায় নেই।

তাঁর ইলম বা জ্ঞান:

আর তাঁর ইলমের বিষয়ে বলতে গেলে, ইবনে কুতায়বা ইনসাফকারী এবং সমালোচক—উভয় পক্ষ থেকেই বঞ্চিত হননি। যারা এখানে তাঁর প্রতি ইনসাফ করেছেন, তারা প্রায় তারাই যারা সেখানে—তাঁর মতামত নিয়ে আলোচনার সময়—ইনসাফ করেছিলেন এবং সেখানে তাদের কথাগুলো প্রায় এখানে তাদের কথার মতোই।

আর যারা তাঁর ইলমের ব্যাপারে অভিযোগ তুলেছেন, আমরা তাদের একদল ভিন্ন লোক হিসেবে পাই। সম্ভবত ইবনে কুতায়বার ইলমকে অস্বীকারকারীদের মধ্যে প্রাচীনতম হলেন ইবনুল আনবারী (মৃত্যু ২৩৮ হিজরী)। আমরা ইবনে তাইমিয়াহর জবানিতে এটি দেখতে পাই যখন তিনি বলেন: "ইবনুল আনবারী মুতাশাবিহ আয়াতসমূহের অর্থের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনাকারীদের একজন; তিনি সেখানে এমন সব বক্তব্য উল্লেখ করেন যা সালাফদের কারো থেকে বর্ণিত নয় এবং কুরআনে তিনি যা বলেন তার স্বপক্ষে ভাষার বিরল (শায) প্রয়োগের মাধ্যমে দলিল পেশ করেন।" ইবনে তাইমিয়াহর উদ্দেশ্য ছিল ইবনে কুতায়বার ওপর ইবনুল আনবারীর অস্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করা।

ইবনুল আনবারীর পরে রয়েছেন আবু তাইয়িব (মৃত্যু ৩৫১ হিজরী), তিনি তাঁর 'মারাতিবুন নাহুয়্যীন' গ্রন্থে বলেন: "আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতায়বা আদ-দিনাওয়ারী আবু হাতিম, রিয়াশী এবং আসমায়ীর ভ্রাতুষ্পুত্র আবদুর রহমানের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। ইবনে দুরাইদও এই সবার নিকট থেকে এবং উশনান্দানীর নিকট থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। তবে ইবনে কুতায়বা এর সাথে কুফীদের থেকে এমন কিছু কিচ্ছা-কাহিনী মিশিয়ে ফেলেছেন যা তিনি নির্ভরযোগ্যদের থেকে গ্রহণ করেননি। তিনি এমন সব বিষয়ে হাত দিতেন যা সম্পন্ন করার সক্ষমতা তাঁর ছিল না, যেমন নাহু (ব্যাকরণ) বিষয়ে তাঁর কিতাব রচনা করা, স্বপ্নের ব্যাখ্যা বিষয়ে তাঁর কিতাব, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুজিযা বিষয়ক কিতাব, উয়ুনুল আখবার, আল-মাআরিফ, আশ-শুয়ারা এবং এই জাতীয় আরও অনেক কিছু। এগুলো আলেমদের নিকট তাঁকে হেয় করেছে, যদিও সাধারণ মানুষ এবং যাদের অন্তর্দৃষ্টি নেই তাদের কাছে এগুলোর বেশ গ্রহণযোগ্যতা ছিল।"

ইবনুল আনবারী ও আবু তাইয়িব ছাড়াও আমরা পাই ইমাম হাকিম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আন-নিশাপুরীকে (মৃত্যু ৪০৫ হিজরী), যিনি বলেন: "উম্মত একমত হয়েছে যে, ইবনে কুতায়বা একজন মিথ্যাবাদী।"

তেমনি আমরা ইবনে তাগরিবার্দিকে (মৃত্যু ৮৭৪ হিজরী) বর্ণনা করতে দেখি যে: "ইবনে কুতায়বা কটুভাষী ছিলেন এবং বড় বড় আলেমদের সম্মানহানি করতেন।"