(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: -)
ـ[مجموع الفتاوى]ـ
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن تيمية الحراني (المتوفى: 728هـ)
المحقق: عبد الرحمن بن محمد بن قاسم
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف، المدينة النبوية، المملكة العربية السعودية
عام النشر: 1416هـ/1995م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
__________
الكتاب مشكول ومقابل مع إضافة:
1 - العناوين التي وضعها محققا طبعة دار الوفاء (أنور الباز وعامر الجزار) ط 3، 1426 هـ / 2005 م
2 - في الهامش أضيف كتاب صيانة مجموع الفتاوى من السقط والتصحيف، للشيخ ناصر بن حمد الفهد / نشر: دار أضواء السلف، الطبعة الأولى: 1423 هـ / 2003 م.
3 - تم تصحيح الأخطاء المطبعية والتصحيفات:
- التي استدركها محققا ط الوفاء على الطبعة القديمة. (طبعة عبد الرحمن بن قاسم رحمه الله)
- التي ذكرها الشيخ ناصر بن حمد الفهد في كتابه: صيانة مجموع الفتاوى من السقط والتصحيف.
- أخطاء أو تصحيفات أخرى.
أعده للمكتبة الشاملة: أسامة بن الزهراء، من فريق عمل الشاملة
ـ[মাজমূ‘ আল-ফাতাওয়া]ـ
গ্রন্থকার: তাক্বীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনু আব্দুল হালীম ইবনু তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (মৃত্যু: ৭২৮ হি.)
তাহক্বীক্বকারী: আব্দুল রহমান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ক্বাসিম
প্রকাশক: পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স, মদীনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব রাজ্য
প্রকাশকাল: ১৪১৬ হি./১৯৯৫ খ্রি.
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
__________
কিতাবটি হরকতযুক্ত (স্বরচিহ্নিত) এবং নিম্নলিখিত সংযোজনসহ মিলিয়ে দেখা হয়েছে:
১ - দারুল ওয়াফা সংস্করণের (আনওয়ার আল-বাজ ও আমির আল-জাযযার কর্তৃক তাহক্বীকৃত) ৩য় সংস্করণের (১৪২৬ হি. / ২০০৫ খ্রি.) তাহক্বীক্বকারীগণ কর্তৃক স্থাপিত শিরোনামসমূহ।
২ - পাদটীকায় শাইখ নাসির ইবনু হামাদ আল-ফাহদ রচিত ‘সিয়ানাতু মাজমূ‘ আল-ফাতাওয়া মিনাস-সাক্বত ওয়াত-তাসহীফ’ গ্রন্থটি যুক্ত করা হয়েছে। / প্রকাশ: দারু আদওয়া আস-সালাফ, প্রথম সংস্করণ: ১৪২৩ হি. / ২০০৩ খ্রি.।
৩ - মুদ্রণজনিত ত্রুটি ও শব্দ বিকৃতি (তাসহীফ) সংশোধন করা হয়েছে:
- যা দারুল ওয়াফা সংস্করণের তাহক্বীক্বকারীগণ পুরাতন সংস্করণের (আব্দুর রহমান ইবনু ক্বাসিম (রহ.)-এর সংস্করণ) উপর সংশোধন করেছেন।
- যা শাইখ নাসির ইবনু হামাদ আল-ফাহদ তাঁর গ্রন্থ ‘সিয়ানাতু মাজমূ‘ আল-ফাতাওয়া মিনাস-সাক্বত ওয়াত-তাসহীফ’-এ উল্লেখ করেছেন।
- অন্যান্য ত্রুটি বা শব্দ বিকৃতি।
আল-মাকতাবা আশ-শামেলাহর জন্য প্রস্তুত করেছেন: উসামা ইবনুয যাহরা, আশ-শামেলাহ কর্মদলের পক্ষ থেকে।
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: -)
فهرس الكتب والرسائل والمسائل المودعة في مجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية
- الاحتجاج بالقدر 8 / 303 - 370
- الأربعون حديثا التي يرويها ابن تيمية 18 / 76 - 120
- أقسام القرآن 13 / 329 - 375
- أقدم ما قيل في القضاء والقدر 8 / 81 - 158
- الإكليل في المتشابه والتأويل 13 / 270 - 313
- أمراض القلوب وشفاؤها 10 / 91 - 137
- الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر 28 / 121 - 178
- أهل الصفة 11 / 37 - 70
- إيضاح الدلالة على عموم الرسالة 19 / 9 - 65
- الإيمان الكبير 7 / 5 - 460
- الإيمان الأوسط 7 / 460 - 640
- البغدادية فيما يحل من الطلاق ويحرم 33 / 5 - 43
- التبيان في نزول القرآن 12 / 246 - 257
- التحفة العراقية في الأعمال القلبية 10 / 5 - 90
- تفسير سورة الأحزاب 28 / 424 - 467
- تفسير سورة الإخلاص 17 / 214 - 503
- تفسير سورة الكوثر 1 / 224 - 228
- تفسير سورة النور 15 / 280 - 427
- تفسير شيخ الإسلام ابن تيمية 13 / 14 / 15 / 16 / 17
- تفصيل الإجمال فيما يجب لله من صفات الكمال 6 / 68 - 144
- جواب أهل العلم والايمان أن قل هو الله أحد تعدل ثلث القرآن 17 / 5 - 305
- الجواب الباهر في زوار المقابر 27 / 314 - 443
- الحجج العقلية والنقلية فيما ينافي الاسلام من بدع الجهمية والصوفية 2 / 286 - 316
- الحسبة 28 / 60 - 120
- الحسنة والسيئة 14 / 229 - 425
- حقيقة مذهب الاتحاديين 2 / 134 - 285
- الحقيقة والمجاز 20 / 400 - 497
- الحموية الكبرى 5 / 5 - 120
- رأس الحسين 27 / 450 - 489
- الرد الأقوم على ما في فصوص الحكم 2 / 362 - 451
- الرد على الأخنائي 27 / 214 - 288
- رسالة الى أصحابه وهو في السجن 28 / 30 - 59
- الرسالة الأكملية 6 / 68 - 144
- رسالة الى أهل البحرين 6 / 485 - 506
- رسالة الى نصر المنبجي 2 / 452 - 479
- الرسالة التدمرية 3 / 1 - 128
- الرسالة العرشية 6 / 545 - 583
- رسالة في علم الظاهر والباطن 13 / 230 - 269
- رسالة في معنى القياس 20 / 504 - 585
- رسالة في الهلال 25 / 126 - 201
- الرسالة القبرصية 28 / 601 - 630
- الرسالة المدنية في الحقيقة والمجاز في الصفات 6 / 351 - 373
- رفع الملام عن الأئمة الأعلام 20 / 231 - 290
- السماع 11 / 587 - 602
- السماع والرقص 11 / 557 - 586
- سؤال حول حديث (لا اله إلا أنت سبحانك.. 10 / 237 - 336
- سؤال عن الحديث المروي في الأبدال 11 / 433 - 444
- السياسة الشرعية 28 / 244 - 397
- شرح حديث إنما الأعمال بانيات 18 / 244 - 284
- شرحت حديث اني حرمت الظلم 18 / 136 - 209
- شرح حديث كان الله ولم يكن شيء قبله 18 / 210 - 243
- شرح حديث النزول 5 / 321 - 582
- صحة مذهب أهل المدينة 20 / 294 - 396
- الصوفية والفقراء 11 / 5 - 24
- العبودية 10 / 149 - 236
- العقيدة الواسطية 3 / 129 - 159
- فتوى في حكم القيام والانحناء والألقاب 1 / 372، 374، 377، 26 / 311
- فتوى في النصيرية 35 / 145 - 160
- الفرقان بين أولياء الرحمن وأولياء الشيطان 11 / 156 - 310
- الفرقان بين الحق والباطل 13 / 5 - 229
- قاعدة في الأسماء والصفات.. 6 / 144 - 184
- قاعدة في توحيد الملة وتعدد الشرائع 19 / 106 - 128
- قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة 1 / 142 - 368
- قاعدة في الاسم والمسمى 6 / 185 - 212
- قاعدة في أهل السنة والجماعة 3 / 278 - 292
- قاعدة في تصويب المجتهدين وتخطئتهم وتأثيمهم 19 / 203 - 227
- قاعدة في توحيد الألوهية 1 / 20 - 36
- قاعدة في القرآن وكلام الله 12 / 5 - 36
- قاعدة في المعجزات والكرامات 11 / 311 - 362
- قاعدة في مواضع الأئمة في مجامع الأمة 35 / 36 - 46
- القاعدة المراكشية 5 / 153 - 193
- القرآن العظيم كلام الله 12 / 117 - 161
- القضاء والقدر 8 / 262 - 271
- الكيلانية 12 / 323 - 501
- مراتب الإرادة 8 / 181 - 196
- المرشدة أصلها وتأليفها 11 / 476 - 491
- مسألة الأحرف 12 / 37 - 116
- مسألة في اتباع الرسول بصريح المعقول 10 / 430 - 453
- مسألة في الفقر والتصوف 11 / 25 - 36
- مسألة القدر 8 / 245 - 255
- المسألة المصرية في القرآن 12 / 162 - 234
- مسألة وضع الجوائح 30 / 263 - 302
- المظالم المشتركة 30 / 337 - 355
- معارج الوصول 19 / 155 - 202
- مقدمة في أصول التفسير 13 /329 - 375
- مناظرة حول الواسطية 3 / 160 -193
- مناظرة في الحمد والشكر بين ابن تيمية وابن المرحل 11 / 135 - 155
منسك ابن تيمية 26 / 98 - 159
- نصيحة أهل الإيمان في الرد على منطق اليونان 9 / 82 - 254
- نقض المنطق 4 / 1 - 190
- الهجر الجميل والصفح الجميل 10 / 666 - 677
- الواسطة بين الحق والخلق 1 / 121 - 128
- الوصية الصغرى 10 / 653 - 665
- الوصية الكبرى 3 / 363 - 430
المراجع:
1 - رسالة لفضيلة الشيخ د. عبد الرحمن بن صالح المحمود في مؤلفات شيخ الإسلام
2 - الإشارات إلى أسماء الرسائل المودعة في بطون المجلدات والمجلات للشيخ مشهور بن حسن
____________
نقلاً عن:
http://arabic.islamicweb.com
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ-এর মজমু‘উল ফাতাওয়াতে সন্নিবেশিত কিতাব, রিসালাহ ও মাসআলাসমূহের সূচি

- আল-ইহতিজাজ বিল-ক্বদর (তাকদীর দ্বারা প্রমাণ পেশ করা) ৮ / ৩০৩ - ৩৭০
- আল-আরবা‘ঊন হাদীসান আল্লাতী ইয়ারবীহা ইবনু তাইমিয়্যাহ (ইবনু তাইমিয়্যাহ কর্তৃক বর্ণিত চল্লিশটি হাদীস) ১৮ / ৭৬ - ১২০
- আক্বসামুল কুরআন (কুরআনের শপথসমূহ) ১৩ / ৩২৯ - ৩৭৫
- আক্বদামু মা ক্বীলা ফিল ক্বাদা ওয়াল ক্বদর (ক্বাদা ও ক্বদর (বিধান ও তাকদীর) সম্পর্কে প্রাচীনতম যা বলা হয়েছে) ৮ / ৮১ - ১৫৮
- আল-ইকলীল ফিল মুতাশাবিহ ওয়াত-তা’বীল (মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট আয়াত) ও তা'বীল (ব্যাখ্যা) সম্পর্কিত মুকুট) ১৩ / ২৭০ - ৩১৩
- আমরাদুল ক্বুলূব ওয়া শিফাউহা (হৃদয়ের রোগসমূহ ও তার আরোগ্য) ১০ / ৯১ - ১৩৭
- আল-আমর বিল মা‘রূফ ওয়ান-নাহী ‘আনিল মুনকার (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ) ২৮ / ১২১ - ১৭৮
- আহলুস সুফ্ফাহ (সুফ্ফার অধিবাসীগণ) ১১ / ৩৭ - ৭০
- ঈদাহুদ দালালাহ ‘আলা ‘উমূমির রিসালাহ (রিসালাতের ব্যাপকতার উপর প্রমাণ স্পষ্টকরণ) ১৯ / ৯ - ৬৫
- আল-ঈমান আল-কাবীর (ঈমান সম্পর্কিত বৃহৎ গ্রন্থ) ৭ / ৫ - ৪৬০
- আল-ঈমান আল-আওসাত (ঈমান সম্পর্কিত মধ্যম গ্রন্থ) ৭ / ৪৬০ - ৬৪০
- আল-বাগদাদিয়্যাহ ফীমা ইয়াহিল্লু মিনাত ত্বালাক্ব ওয়া ইয়াহরুম (তালাকের যা হালাল ও যা হারাম, সে বিষয়ে বাগদাদী গ্রন্থ) ৩৩ / ৫ - ৪৩
- আত-তিবইয়ান ফী নুযূলিল কুরআন (কুরআন অবতরণ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা) ১২ / ২৪৬ - ২৫৭
- আত-তুহফাহ আল-‘ইরাক্বিয়্যাহ ফিল আ‘মালিল ক্বালবিয়্যাহ (ক্বালবী (হৃদয়ের) আমলসমূহ সম্পর্কিত ইরাকী উপহার) ১০ / ৫ - ৯০
- তাফসীরু সূরাতিল আহযাব (সূরা আল-আহযাবের তাফসীর) ২৮ / ৪২৪ - ৪৬৭
- তাফসীরু সূরাতিল ইখলাস (সূরা আল-ইখলাসের তাফসীর) ১৭ / ২১৪ - ৫০৩
- তাফসীরু সূরাতিল কাওসার (সূরা আল-কাওসারের তাফসীর) ১ / ২২৪ - ২২৮
- তাফসীরু সূরাতিন নূর (সূরা আন-নূরের তাফসীর) ১৫ / ২৮০ - ৪২৭
- তাফসীরু শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়্যাহ (শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ-এর তাফসীর) ১৩ / ১৪ / ১৫ / ১৬ / ১৭
- তাফসীলুল ইজমাল ফীমা ইয়াজিবু লিল্লাহে মিন সিফাতিল কামাল (আল্লাহর জন্য আবশ্যক কামালাতের (পূর্ণতার) গুণাবলী বিষয়ে সংক্ষিপ্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা) ৬ / ৬৮ - ১৪৪
- জাওয়াবু আহলিল ‘ইলম ওয়াল ঈমান আন্না ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ তা‘দিলু ছুলুছাল কুরআন (আহলে ইলম ও ঈমানের জবাব যে, ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য) ১৭ / ৫ - ৩০৫
- আল-জাওয়াব আল-বাহির ফী যুওয়ারিল মাক্বাবির (কবর যিয়ারতকারীদের বিষয়ে উজ্জ্বল জবাব) ২৭ / ৩১৪ - ৪৪৩
- আল-হুজাজুল ‘আক্বলিয়্যাহ ওয়ান-নাক্বলিয়্যাহ ফীমা ইউনাফিল ইসলাম মিন বিদা‘ইল জাহমিয়্যাহ ওয়াস-সূফিয়্যাহ (জাহমিয়্যাহ ও সূফীদের বিদআতসমূহের মধ্যে যা ইসলামের পরিপন্থী, সে বিষয়ে যুক্তিনির্ভর ও বর্ণনাভিত্তিক প্রমাণাদি) ২ / ২৮৬ - ৩১৬
- আল-হিসবাহ (জনকল্যাণমূলক তত্ত্বাবধান/নীতি) ২৮ / ৬০ - ১২০
- আল-হাসানাহ ওয়াস-সাইয়্যিআহ (নেকী ও পাপ) ১৪ / ২২৯ - ৪২৫
- হাক্বীক্বাতু মাযহাবিল ইত্তিহাদিয়্যীন (ইত্তিহাদিয়্যীনদের (সর্বেশ্বরবাদী) মাযহাবের বাস্তবতা) ২ / ১৩৪ - ২৮৫
- আল-হাক্বীক্বাহ ওয়াল মাজায (বাস্তব অর্থ ও রূপক অর্থ) ২০ / ৪০০ - ৪৯৭
- আল-হামাওয়িয়্যাহ আল-কুবরা (হামাওয়াহ সম্পর্কিত বৃহৎ গ্রন্থ) ৫ / ৫ - ১২০
- রা’সু আল-হুসাইন (হুসাইন (রাঃ)-এর মস্তক) ২৭ / ৪৫০ - ৪৮৯
- আর-রদ্দ আল-আক্বওয়াম ‘আলা মা ফী ফুসূসিল হিকাম (ফুসূসুল হিকামের (ইবন আরাবীর) বিষয়বস্তুর উপর সবচেয়ে সঠিক জবাব) ২ / ৩৬২ - ৪৫১
- আর-রদ্দু ‘আলাল আখনাঈ (আল-আখনায়ীর প্রতি জবাব) ২৭ / ২১৪ - ২৮৮
- রিসালাহ ইলা আসহাবিহি ওয়া হুওয়া ফিস-সিজন (কারাগারে থাকাকালীন তাঁর সাথীদের উদ্দেশ্যে লেখা রিসালাহ) ২৮ / ৩০ - ৫৯
- আর-রিসালাহ আল-আকমালিয়্যাহ (আল-আকমালিয়্যাহ রিসালাহ) ৬ / ৬৮ - ১৪৪
- রিসালাহ ইলা আহলিল বাহরাইন (বাহরাইনের অধিবাসীদের উদ্দেশ্যে লেখা রিসালাহ) ৬ / ৪৮৫ - ৫০৬
- রিসালাহ ইলা নাসরিল মানবিজী (নাসর আল-মানবিজীর উদ্দেশ্যে লেখা রিসালাহ) ২ / ৪৫২ - ৪৭৯
- আর-রিসালাহ আত-তাদমুরিয়্যাহ (আত-তাদমুরিয়্যাহ রিসালাহ) ৩ / ১ - ১২৮
- আর-রিসালাহ আল-‘আরশিয়্যাহ (আল-আরশিয়্যাহ রিসালাহ) ৬ / ৫৪৫ - ৫৮৩
- রিসালাহ ফী ‘ইলমিজ জাহির ওয়াল বাতিন (জাহির (প্রকাশ্য) ও বাতিন (অপ্রকাশ্য) জ্ঞান সম্পর্কিত রিসালাহ) ১৩ / ২৩০ - ২৬৯
- রিসালাহ ফী মা‘নাল ক্বিয়াস (ক্বিয়াসের (তুলনার) অর্থ সম্পর্কিত রিসালাহ) ২০ / ৫০৪ - ৫৮৫
- রিসালাহ ফিল হিলাল (নতুন চাঁদ সম্পর্কিত রিসালাহ) ২৫ / ১২৬ - ২০১
- আর-রিসালাহ আল-ক্বুবরুসিয়্যাহ (আল-ক্বুবরুসিয়্যাহ রিসালাহ) ২৮ / ৬০১ - ৬৩০
- আর-রিসালাহ আল-মাদানিয়্যাহ ফিল হাক্বীক্বাহ ওয়াল মাজায ফিস-সিফাত (সিফাতসমূহে হাক্বীক্বাহ ও মাজায সম্পর্কিত মাদানী রিসালাহ) ৬ / ৩৫১ - ৩৭৩
- রাফ‘উল মালাম ‘আনিল আইম্মাতিল আ‘লাম (প্রখ্যাত ইমামগণের উপর থেকে নিন্দার অপসারণ) ২০ / ২৩১ - ২৯০
- আস-সামা‘ (শ্রবণ/আধ্যাত্মিক সঙ্গীত) ১১ / ৫৮৭ - ৬০২
- আস-সামা‘ ওয়ার-রক্বস (শ্রবণ ও নৃত্য) ১১ / ৫৫৭ - ৫৮৬
- সুওয়াল হাওলা হাদীস (লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা...) (হাদীস (তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তুমি পবিত্র...) সম্পর্কিত প্রশ্ন) ১০ / ২৩৭ - ৩৩৬
- সুওয়াল ‘আনিল হাদীসিল মারওয়ী ফিল আবদাল (আবদাল (আল্লাহর বিশেষ বান্দা) সম্পর্কিত বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে প্রশ্ন) ১১ / ৪৩৩ - ৪৪৪
- আস-সিয়াসাহ আশ-শার‘ইয়্যাহ (শরীয়াহ ভিত্তিক রাজনীতি/শাসন) ২৮ / ২৪৪ - ৩৯৭
- শারহু হাদীস ইন্নামাল আ‘মালু বিন-নিয়্যাত (নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল—এই হাদীসের ব্যাখ্যা) ১৮ / ২৪৪ - ২৮৪
- শারহু হাদীস ইন্নী হাররামতুজ জুলম (নিশ্চয়ই আমি যুলুমকে হারাম করেছি—এই হাদীসের ব্যাখ্যা) ১৮ / ১৩৬ - ২০৯
- শারহু হাদীস কানাল্লাহু ওয়া লাম ইয়াকুন শাইউন ক্বাবলাহু (আল্লাহ ছিলেন এবং তাঁর পূর্বে কোনো কিছু ছিল না—এই হাদীসের ব্যাখ্যা) ১৮ / ২১০ - ২৪৩
- শারহু হাদীসিন নুযূল (নূযূল (অবতরণ) সম্পর্কিত হাদীসের ব্যাখ্যা) ৫ / ৩২১ - ৫৮২
- সিহহাতু মাযহাবি আহলিল মাদীনাহ (আহলে মদীনার মাযহাবের সঠিকতা) ২০ / ২৯৪ - ৩৯৬
- আস-সূফিয়্যাহ ওয়াল ফুক্বারা’ (সূফী ও ফক্বীরগণ) ১১ / ৫ - ২৪
- আল-‘উবূদিয়্যাহ (আল্লাহর দাসত্ব) ১০ / ১৪৯ - ২৩৬
- আল-‘আক্বীদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ (আল-ওয়াসিতিয়্যাহ আক্বীদাহ) ৩ / ১২৯ - ১৫৯
- ফাতওয়া ফী হুকমিল ক্বিয়াম ওয়াল ইনহিনা’ ওয়াল আলক্বাব (দাঁড়ানো, ঝুঁকে পড়া ও উপাধি ব্যবহারের হুকুম সম্পর্কিত ফতোয়া) ১ / ৩৭২, ৩৭৪, ৩৭৭, ২৬ / ৩১১
- ফাতওয়া ফিন-নুসাইরিয়্যাহ (নুসাইরিয়্যাহ সম্প্রদায় সম্পর্কিত ফতোয়া) ৩৫ / ১৪৫ - ১৬০
- আল-ফুরক্বান বাইনা আওলিয়া আর-রাহমান ওয়া আওলিয়া আশ-শাইত্বান (আল্লাহর ওলী ও শয়তানের ওলীদের মধ্যে পার্থক্যকারী) ১১ / ১৫৬ - ৩১০
- আল-ফুরক্বান বাইনাল হাক্ব ওয়াল বাতিল (সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী) ১৩ / ৫ - ২২৯
- ক্বায়েদাহ ফীল আসমা ওয়াস-সিফাত... (আসমা ও সিফাত (নাম ও গুণাবলী) সম্পর্কিত মূলনীতি...) ৬ / ১৪৪ - ১৮৪
- ক্বায়েদাহ ফী তাওহীদিল মিল্লাহ ওয়া তা‘আদ্দুদিশ শারাই‘ (ধর্মের একত্ব ও শরীয়তসমূহের বহুত্ব সম্পর্কিত মূলনীতি) ১৯ / ১০৬ - ১২৮
- ক্বায়েদাহ জালীল্লাহ ফিত-তাওয়াস্সুল ওয়াল ওয়াসীলাহ (তাওয়াস্সুল ও ওয়াসীলাহ সম্পর্কিত একটি মহান মূলনীতি) ১ / ১৪২ - ৩৬৮
- ক্বায়েদাহ ফীল ইসম ওয়াল মুসাম্মা (নাম ও নামকৃত বস্তুর মধ্যে সম্পর্ক সম্পর্কিত মূলনীতি) ৬ / ১৮৫ - ২১২
- ক্বায়েদাহ ফী আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ (আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ সম্পর্কিত মূলনীতি) ৩ / ২৭৮ - ২৯২
- ক্বায়েদাহ ফী তাসবীবিল মুজতাহিদীন ওয়া তাখত্বিআতিহিম ওয়া তা’ছীমিহিম (মুজতাহিদদের সঠিকতা, ভুল নির্ধারণ ও পাপী সাব্যস্তকরণ সম্পর্কিত মূলনীতি) ১৯ / ২০৩ - ২২৭
- ক্বায়েদাহ ফী তাওহীদিল উলূহিয়্যাহ (তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ (ইবাদতের একত্ববাদ) সম্পর্কিত মূলনীতি) ১ / ২০ - ৩৬
- ক্বায়েদাহ ফীল কুরআন ওয়া কালামিল্লাহ (কুরআন ও আল্লাহর কালাম সম্পর্কিত মূলনীতি) ১২ / ৫ - ৩৬
- ক্বায়েদাহ ফীল মু‘জিযাত ওয়াল কারামাত (মু‘জিযা ও কারামাত সম্পর্কিত মূলনীতি) ১১ / ৩১১ - ৩৬২
- ক্বায়েদাহ ফী মাওয়াযি‘ইল আইম্মাহ ফী মাজামি‘ইল উম্মাহ (উম্মাহর সমাবেশসমূহে ইমামগণের অবস্থান সম্পর্কিত মূলনীতি) ৩৫ / ৩৬ - ৪৬
- আল-ক্বায়েদাহ আল-মাররাকিশিয়্যাহ (আল-মাররাকিশিয়্যাহ মূলনীতি) ৫ / ১৫৩ - ১৯৩
- আল-কুরআনুল ‘আযীম কালামুল্লাহ (মহান কুরআন আল্লাহর কালাম) ১২ / ১১৭ - ১৬১
- আল-ক্বাদা ওয়াল ক্বদর (বিধান ও তাকদীর) ৮ / ২৬২ - ২৭১
- আল-কাইলানিয়্যাহ (কাইলানিয়্যাহ) ১২ / ৩২৩ - ৫০১
- মারাতীবুল ইরাদাহ (ইচ্ছার স্তরসমূহ) ৮ / ১৮১ - ১৯৬
- আল-মুরশিদাহ আসলুহা ওয়া তা’লীফুহা (আল-মুরশিদাহ: এর উৎস ও সংকলন) ১১ / ৪৭৬ - ৪৯১
- মাসআলাতুল আহরুফ (আহরুফ (অক্ষরসমূহ) সম্পর্কিত মাসআলা) ১২ / ৩৭ - ১১৬
- মাসআলাহ ফী ইত্তিবা‘ইর রাসূল বি-সরীহিল মা‘ক্বূল (সুস্পষ্ট যুক্তির মাধ্যমে রাসূলের অনুসরণ সম্পর্কিত মাসআলা) ১০ / ৪৩০ - ৪৫৩
- মাসআলাহ ফিল ফাক্বর ওয়াত-তাসাওউফ (দারিদ্র্য ও তাসাওউফ (সূফীবাদ) সম্পর্কিত মাসআলা) ১১ / ২৫ - ৩৬
- মাসআলাতুল ক্বদর (তাকদীর সম্পর্কিত মাসআলা) ৮ / ২৪৫ - ২৫৫
- আল-মাসআলাহ আল-মিসরিয়্যাহ ফিল কুরআন (কুরআন সম্পর্কিত মিসরীয় মাসআলা) ১২ / ১৬২ - ২৩৪
- মাসআলাতু ওয়াদ‘ইল জাওয়াইহ (ক্ষতিপূরণ মওকুফ সম্পর্কিত মাসআলা) ৩০ / ২৬৩ - ৩০২
- আল-মাযালিম আল-মুশতারাকাহ (যৌথ যুলুমসমূহ) ৩০ / ৩৩৭ - ৩৫৫
- মা‘আরিজুল উসূল (প্রাপ্তির সোপানসমূহ) ১৯ / ১৫৫ - ২০২
- মুক্বাদ্দিমাহ ফী উসূলিত তাফসীর (তাফসীরের মূলনীতিসমূহের ভূমিকা) ১৩ / ৩২৯ - ৩৭৫
- মুনাযারাহ হাওলাল ওয়াসিতিয়্যাহ (আল-ওয়াসিতিয়্যাহ আক্বীদা নিয়ে বিতর্ক) ৩ / ১৬০ - ১৯৩
- মুনাযারাহ ফিল হামদ ওয়াশ-শুকর বাইনা ইবনি তাইমিয়্যাহ ওয়াবনিল মারহাল (ইবনু তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল মারহালের মধ্যে হামদ (প্রশংসা) ও শুকর (কৃতজ্ঞতা) নিয়ে বিতর্ক) ১১ / ১৩৫ - ১৫৫
- মানাসিকু ইবনি তাইমিয়্যাহ (ইবনু তাইমিয়্যাহ-এর হজ্জের নিয়মাবলী) ২৬ / ৯৮ - ১৫৯
- নাসিহাতু আহলিল ঈমান ফীর-রদ্দি ‘আলা মানতিক্বিল ইউনান (গ্রীক যুক্তিতর্কের (মানতিক) জবাবে ঈমানদারদের জন্য উপদেশ) ৯ / ৮২ - ২৫৪
- নাক্বদুল মানতিক্ব (মানতিকের (যুক্তিতর্কের) খণ্ডন) ৪ / ১ - ১৯০
- আল-হাজরুল জামীল ওয়াস-সাফহুল জামীল (সুন্দর বর্জন ও সুন্দর ক্ষমা) ১০ / ৬৬৬ - ৬৭৭
- আল-ওয়াসিতাহ বাইনাল হাক্ব ওয়াল খালক্ব (স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে মধ্যস্থতাকারী) ১ / ১২১ - ১২৮
- আল-ওয়াসিয়্যাহ আস-সুগরা (ছোট উপদেশ) ১০ / ৬৫৩ - ৬৬৫
- আল-ওয়াসিয়্যাহ আল-কুবরা (বড় উপদেশ) ৩ / ৩৬৩ - ৪৩০

**তথ্যসূত্র (আল-মারাজি‘):**
১ - ফযীলতুশ শাইখ ড. আব্দুল রহমান বিন সালিহ আল-মাহমূদ-এর শাইখুল ইসলামের রচনাবলী সম্পর্কিত রিসালাহ।
২ - আশ-শাইখ মাশহূর বিন হাসান-এর খণ্ডসমূহ ও সাময়িকীসমূহের অভ্যন্তরে সন্নিবেশিত রিসালাহসমূহের নামের প্রতি ইঙ্গিত।

____________
উৎস থেকে অনূদিত:
http://arabic.islamicweb.com
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ১)
الْجُزْءُ الْأَوَّلُ
كِتَابُ تَوْحِيدِ الْأُلُوهِيَةِ
قَالَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ أَحْمَدُ ابْنُ تَيْمِيَّة - قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ -:
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
{الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ ثُمَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ} الْعَالِمِ بِمَا كَانَ وَمَا هُوَ كَائِنٌ وَمَا سَيَكُونُ الَّذِي: {إنَّمَا أَمْرُهُ إذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} الَّذِي {يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} {وَهُوَ اللَّهُ لَا إلَهَ إلَّا هُوَ لَهُ الْحَمْدُ فِي الْأُولَى وَالْآخِرَةِ وَلَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} الَّذِي دَلَّ عَلَى وَحْدَانِيِّتِهِ فِي إلَهِيَّتِهِ أَجْنَاسُ الْآيَاتِ وَأَبَانَ عِلْمُهُ لِخَلِيقَتِهِ مَا فِيهَا مِنْ إحْكَامِ الْمَخْلُوقَاتِ وَأَظْهَرَ قُدْرَتَهُ عَلَى بَرِيَّتِهِ مَا أَبْدَعَهُ مِنْ أَصْنَافِ الْمُحْدَثَاتِ، وَأَرْشَدَ إلَى فِعْلِهِ بِسُنَّتِهِ تَنَوُّعُ الْأَحْوَالِ الْمُخْتَلِفَاتِ وَأَهْدَى بِرَحْمَتِهِ لِعِبَادِهِ نِعَمَهُ الَّتِي لَا يُحْصِيهَا إلَّا رَبُّ السَّمَوَاتِ، وَأَعْلَمَ بِحِكْمَتِهِ الْبَالِغَةِ دَلَائِلُ حَمْدِهِ وَثَنَائِهِ الَّذِي يَسْتَحِقُّهُ مِنْ جَمِيعِ الْحَالَاتِ، لَا يُحْصِي الْعِبَادُ ثَنَاءً عَلَيْهِ بَلْ هُوَ كَمَا أَثْنَى عَلَى نَفْسِهِ لِمَا لَهُ مِنْ الْأَسْمَاءِ وَالصِّفَاتِ، وَهُوَ الْمَنْعُوتُ بِنُعُوتِ الْكَمَالِ وَصِفَاتِ الْجَلَالِ الَّتِي لَا يُمَاثِلُهُ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ الْمَوْجُودَاتِ، وَهُوَ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُتَنَزِّهُ أَنْ يُمَاثِلَهُ شَيْءٌ فِي نُعُوتِ الْكَمَالِ أَوْ يَلْحَقَهُ شَيْءٌ مِنْ الْآفَاتِ، فَسُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَقُولُ الظَّالِمُونَ عُلُوًّا كَبِيرًا الَّذِي خَلَقَ
প্রথম খণ্ড
তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ্‌ (ইবাদতে একত্ববাদ) বিষয়ক কিতাব

শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনু তাইমিয়্যাহ—আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন—বলেন:

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

{সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো সৃষ্টি করেছেন। এরপরও যারা কুফরী করে, তারা তাদের রবের সাথে (অন্যদেরকে) সমতুল্য করে।} (সূরা আল-আন’আম ৬:১)

যিনি জানেন যা ঘটে গেছে, যা বর্তমানে ঘটছে এবং যা ভবিষ্যতে ঘটবে। যিনি: {তাঁর ব্যাপার শুধু এই যে, যখন তিনি কোনো কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তিনি সেটিকে বলেন, ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়।} (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৮২)

যিনি {যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং (যা ইচ্ছা) নির্বাচন করেন। তাদের জন্য কোনো ইখতিয়ার (পছন্দ) নেই। আল্লাহ পবিত্র এবং তারা যা শরীক করে, তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।} (সূরা কাসাস ২৮:৬৮)

{আর তিনিই আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁরই জন্য সকল প্রশংসা, বিধান (হুকুম) তাঁরই এবং তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।} (সূরা কাসাস ২৮:৭০)

যিনি তাঁর ইলাহিয়্যাতের (উপাস্য হওয়ার) একত্বের উপর বিভিন্ন প্রকারের নিদর্শনাবলী (আয়াতসমূহ) দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন। এবং তাঁর জ্ঞান তাঁর সৃষ্টিকুলের কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সৃষ্ট বস্তুসমূহের মধ্যে কী নিপুণতা (ইহকাম) রয়েছে। আর তাঁর সৃষ্টিকুলের উপর তাঁর ক্ষমতা প্রকাশ করেছেন, যা তিনি বিভিন্ন প্রকারের নব-সৃষ্ট বস্তুর (মুহদাসাত) মাধ্যমে উদ্ভাবন করেছেন। এবং তাঁর সুন্নাহ (নিয়ম) অনুযায়ী বিভিন্ন অবস্থার বৈচিত্র্যের মাধ্যমে তাঁর কর্মের দিকে পথনির্দেশ করেছেন। আর তাঁর দয়ার মাধ্যমে তাঁর বান্দাদেরকে এমন নেয়ামতসমূহের দিকে পরিচালিত করেছেন, যা আসমানসমূহের রব ছাড়া অন্য কেউ গণনা করতে পারে না। এবং তাঁর পরিপূর্ণ হিকমতের (প্রজ্ঞার) মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা ও স্তুতির প্রমাণাদি জানিয়ে দিয়েছেন, যা তিনি সকল অবস্থায় প্রাপ্য।

বান্দারা তাঁর স্তুতি গণনা করে শেষ করতে পারে না; বরং তিনি তেমনই, যেমন তিনি তাঁর নিজের প্রশংসা করেছেন, তাঁর জন্য যে সকল নাম (আসমা) ও গুণাবলী (সিফাত) রয়েছে তার কারণে। আর তিনি পূর্ণতার গুণাবলী (নু‘উত আল-কামাল) এবং মহত্ত্বের বৈশিষ্ট্যসমূহে (সিফাত আল-জালাল) ভূষিত, যার মধ্যে বিদ্যমান কোনো কিছুই তাঁর সমকক্ষ হতে পারে না। আর তিনিই আল-কুদদূস (পরম পবিত্র), আস-সালাম (শান্তিদাতা), যিনি পূর্ণতার গুণাবলীতে কোনো কিছুর দ্বারা সাদৃশ্যযুক্ত হওয়া থেকে অথবা কোনো প্রকার ত্রুটি (আফাত) দ্বারা আক্রান্ত হওয়া থেকে মুক্ত।

সুতরাং তিনি পবিত্র এবং জালিমরা যা বলে, তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে, সুমহান উচ্চতায়। যিনি সৃষ্টি করেছেন...
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ২)
السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا
أَرْسَلَ الرُّسُلَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا، مُبَشِّرِينَ لِمَنْ أَطَاعَهُمْ بِغَايَةِ الْمُرَادِ مِنْ كُلِّ مَا تُحِبُّهُ النُّفُوسُ وَتَرَاهُ نَعِيمًا؛ وَمُنْذِرِينَ لِمَنْ عَصَاهُمْ بِاللَّعْنِ وَالْإِبْعَادِ وَأَنْ يُعَذَّبُوا عَذَابًا أَلِيمًا، وَأَمَرَهُمْ بِدُعَاءِ الْخَلْقِ إلَى عِبَادَتِهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ. كَمَا قَالَ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} {وَإِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ} وَجَعَلَ لِكُلِّ مِنْهُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا لِيَسْتَقِيمُوا إلَيْهِ وَلَا يَبْغُوا عَنْهُ اعْوِجَاجًا. وَخَتَمَهُمْ بِمُحَمَّدِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْضَلِ الْأَوَّلِينَ والآخرين، وَصَفْوَةِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، الشَّاهِدِ الْبَشِيرِ النَّذِيرِ الْهَادِي السِّرَاجِ الْمُنِيرِ الَّذِي أَخْرَجَ بِهِ النَّاسَ مِنْ الظُّلُمَاتِ إلَى النُّورِ وَهَدَاهُمْ إلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ. {اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَوَيْلٌ لِلْكَافِرِينَ مِنْ عَذَابٍ شَدِيدٍ} .
بَعَثَهُ بِأَفْضَلِ الْمَنَاهِجِ والشِّرَعِ، وَأَحْبَطَ بِهِ أَصْنَافَ الْكُفْرِ وَالْبِدَعِ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ أَفْضَلَ الْكُتُبِ وَالْأَنْبَاءِ، وَجَعَلَهُ مُهَيْمِنًا عَلَى مَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنْ كُتُبِ السَّمَاءِ. وَجَعَلَ أُمَّتَهُ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنْ الْمُنْكَرِ وَيُؤْمِنُونَ بِاَللَّهِ، يُوفُونَ سَبْعِينَ أُمَّةً هُمْ خَيْرُهَا وَأَكْرَمُهَا عَلَى اللَّهِ. هُوَ شَهِيدٌ عَلَيْهِمْ وَهُمْ شُهَدَاءُ عَلَى النَّاسِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ بِمَا أَسْبَغَهُ عَلَيْهِمْ مِنْ النِّعَمِ الْبَاطِنَةِ وَالظَّاهِرَةِ وَعَصَمَهُمْ أَنْ يَجْتَمِعُوا عَلَى ضَلَالَةٍ إذْ لَمْ يَبْقَ بَعْدَهُ نَبِيٌّ يُبَيِّنُ مَا بَدَّلَ مِنْ الرِّسَالَةِ وَأَكْمَلَ لَهُمْ دِينَهُمْ وَأَتَمَّ عَلَيْهِمْ نِعَمَهُ وَرَضِيَ لَهُمْ الْإِسْلَامَ دِينًا وَأَظْهَرَهُ عَلَى
আসমানসমূহ ও জমিনের (সৃষ্টিকর্তা), তিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে তাঁর কোনো শরিক নেই, এবং তিনি প্রতিটি জিনিস সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর সেটিকে যথাযথ পরিমাপে পরিমিত করেছেন।
তিনি রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে, যাতে রাসূলগণ আসার পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত (বা প্রমাণ) না থাকে। আর আল্লাহ হলেন পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (আযীয, হাকীম)। তারা (রাসূলগণ) সুসংবাদ দেন তাদের, যারা তাদের আনুগত্য করে— এমন প্রতিটি বস্তুর কাম্য বস্তুর চূড়ান্ত লক্ষ্যের, যা মন ভালোবাসে এবং যাকে তারা নিয়ামত (ভোগ) হিসেবে দেখে; আর তারা সতর্ক করেন তাদের, যারা তাদের অবাধ্যতা করে— অভিসম্পাত ও (আল্লাহর রহমত থেকে) বিতাড়নের মাধ্যমে এবং এই মর্মে যে, তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি। আর তিনি তাদেরকে (রাসূলগণকে) নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা সৃষ্টিকে আহ্বান করে একমাত্র তাঁরই ইবাদতের দিকে, যাঁর কোনো শরিক নেই; তাঁর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠভাবে খালেস (বিশুদ্ধ) করার জন্য, যদিও মুশরিকগণ তা অপছন্দ করে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} {وَإِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ} (হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তুসমূহ থেকে আহার করো এবং সৎকর্ম করো। নিশ্চয় তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে আমি সম্যক অবগত। আর নিশ্চয় তোমাদের এই উম্মত একটিই উম্মত, আর আমি তোমাদের রব। অতএব তোমরা আমাকে ভয় করো)। আর তিনি তাদের প্রত্যেকের জন্য একটি শরীয়ত (আইন) ও একটি মিনহাজ (পদ্ধতি) নির্ধারণ করেছেন, যাতে তারা তার দিকে সরল পথে থাকে এবং তা থেকে কোনো বক্রতা বা বিচ্যুতি না খোঁজে। আর তিনি তাদের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাধ্যমে, যিনি আউয়ালিন ও আখিরিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, এবং রাব্বুল আলামীনের মনোনীত নির্যাস (সাফওয়াহ), যিনি সাক্ষী, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, পথপ্রদর্শক, উজ্জ্বল প্রদীপ— যাঁর মাধ্যমে তিনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন এবং তাদেরকে পরাক্রমশালী, প্রশংসিত (আল-আযীয, আল-হামীদ)-এর পথে পরিচালিত করেছেন। {اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَوَيْلٌ لِلْكَافِرِينَ مِنْ عَذَابٍ شَدِيدٍ} (আল্লাহ, যাঁর জন্য রয়েছে যা কিছু আসমানসমূহে আছে এবং যা কিছু জমিনে আছে। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তির দুর্ভোগ)।
তিনি তাঁকে (মুহাম্মাদ সাঃ-কে) শ্রেষ্ঠ পদ্ধতিসমূহ ও শরীয়তসহ প্রেরণ করেছেন, এবং এর মাধ্যমে তিনি কুফর ও বিদআতের সকল প্রকারকে বাতিল করেছেন। তিনি তাঁর উপর শ্রেষ্ঠ কিতাব ও সংবাদসমূহ নাযিল করেছেন, এবং তাঁকে পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের উপর মহিমান্বিত রক্ষক (মুহাইমিন) বানিয়েছেন। আর তিনি তাঁর উম্মতকে মানুষের জন্য বের করা শ্রেষ্ঠ উম্মত বানিয়েছেন, যারা সৎকাজের আদেশ দেয়, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে। তারা সত্তরটি উম্মতকে পূর্ণতা দানকারী, আর তারাই তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর কাছে সর্বাধিক সম্মানিত। তিনি (নবী সাঃ) তাদের উপর সাক্ষী এবং তারা (উম্মত) দুনিয়া ও আখিরাতে মানুষের উপর সাক্ষী— এই কারণে যে, তিনি তাদের উপর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নিয়ামতসমূহ পরিপূর্ণভাবে দান করেছেন। আর তিনি তাদেরকে গোমরাহীর উপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন (ইসমাহ দান করেছেন), কারণ তাঁর (নবী সাঃ-এর) পরে এমন কোনো নবী অবশিষ্ট নেই যিনি রিসালাতের মধ্যে যা কিছু পরিবর্তিত হয়েছে, তা স্পষ্ট করে দেবেন। আর তিনি তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করেছেন, তাদের উপর তাঁর নিয়ামতকে সম্পূর্ণ করেছেন, এবং তাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন এবং এটিকে প্রকাশ করেছেন...।
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩)
الدِّينِ كُلِّهِ إظْهَارًا بِالنُّصْرَةِ وَالتَّمْكِينِ وَإِظْهَارًا بِالْحُجَّةِ وَالتَّبْيِينِ، وَجَعَلَ فِيهِمْ عُلَمَاءَهُمْ وَرَثَةَ الْأَنْبِيَاءِ يَقُومُونَ مَقَامَهُمْ فِي تَبْلِيغِ مَا أُنْزِلَ مِنْ الْكِتَابِ، وَطَائِفَةً مَنْصُورَةً لَا يَزَالُونَ ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَالَفَهُمْ وَلَا مَنْ خَذَلَهُمْ إلَى حِينِ الْحِسَابِ، وَحَفِظَ لَهُمْ الذِّكْرَ الَّذِي أَنْزَلَهُ مِنْ الْكِتَابِ الْمَكْنُونِ كَمَا قَالَ تَعَالَى: {إنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} . فَلَا يَقَعُ فِي كِتَابِهِمْ مِنْ التَّحْرِيفِ وَالتَّبْدِيلِ كَمَا وَقَعَ مِنْ أَصْحَابِ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ، وَخَصَّهُمْ بِالرِّوَايَةِ وَالْإِسْنَادِ الَّذِي يُمَيِّزُ بِهِ بَيْنَ الصِّدْقِ وَالْكَذِبِ الْجَهَابِذَةُ النُّقَّادُ وَجَعَلَ هَذَا الْمِيرَاثَ يَحْمِلُهُ مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُولُهُ أَهْلُ الْعِلْمِ وَالدِّينِ يَنْفُونَ عَنْهُ تَحْرِيفَ الْغَالِينَ وَانْتِحَالَ الْمُبْطِلِينَ وَتَأْوِيلَ الْجَاهِلِينَ لِتَدُومَ بِهِمْ النِّعْمَةُ عَلَى الْأُمَّةِ وَيَظْهَرَ بِهِمْ النُّورُ مِنْ الظُّلْمَةِ، وَيَحْيَا بِهِمْ دِينُ اللَّهِ الَّذِي بَعَثَ بِهِ رَسُولَهُ، وَبَيَّنَ اللَّهُ بِهِمْ لِلنَّاسِ سَبِيلَهُ، فَأَفْضَلُ الْخَلْقِ أَتْبَعُهُمْ لِهَذَا النَّبِيِّ الْكَرِيمِ الْمَنْعُوتِ فِي قَوْله تَعَالَى {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} .
وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ، وَإِلَهُ الْمُرْسَلِينَ، وَمَلِكُ يَوْمِ الدِّينِ. وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أَرْسَلَهُ إلَى النَّاسِ أَجْمَعِينَ أَرْسَلَهُ وَالنَّاسُ مِنْ الْكُفْرِ وَالْجَهْلِ وَالضَّلَالِ فِي أَقْبَحِ خَيْبَةٍ وَأَسْوَأِ حَالٍ. فَلَمْ يَزَلْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْتَهِدُ فِي تَبْلِيغِ الدِّينِ وَهَدْيِ الْعَالَمِينَ وَجِهَادِ الْكُفَّارِ وَالْمُنَافِقِينَ حَتَّى طَلَعَتْ شَمْسُ الْإِيمَانِ، وَأَدْبَرَ لَيْلُ الْبُهْتَانِ، وَعَزَّ جُنْدُ الرَّحْمَنِ، وَذَلَّ حِزْبُ الشَّيْطَانِ، وَظَهَرَ نُورُ الْفُرْقَانِ وَاشْتَهَرَتْ تِلَاوَةُ الْقُرْآنِ، وَأُعِلْنَ بِدَعْوَةِ الْأَذَانِ،
সমগ্র দ্বীনকে সাহায্য (নুসরাহ) ও ক্ষমতা (তামকীন) প্রদানের মাধ্যমে প্রকাশ করা এবং প্রমাণ (হুজ্জাহ) ও স্পষ্টীকরণের (তাবয়ীন) মাধ্যমে প্রকাশ করা। আর তিনি তাদের মধ্যে তাদের আলেমগণকে নবীগণের উত্তরাধিকারী (ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া) হিসেবে নিযুক্ত করেছেন, যারা কিতাব থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তা পৌঁছানোর (তাবলীগ) ক্ষেত্রে তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হন। এবং একটি সাহায্যপ্রাপ্ত দল (ত্বায়িফাহ মানসূরাহ) যারা সর্বদা সত্যের (হক্বের) উপর বিজয়ী থাকবে; যারা তাদের বিরোধিতা করে বা যারা তাদের পরিত্যাগ করে, তারা হিসাবের সময় (কিয়ামত) পর্যন্ত তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

আর তিনি তাদের জন্য সেই ‘যিকর’ (স্মারক) সংরক্ষণ করেছেন যা তিনি সংরক্ষিত কিতাব (আল-কিতাব আল-মাকনূন) থেকে নাযিল করেছেন, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [সূরা আল-হিজর: ৯]। ফলে তাদের কিতাবে কোনো বিকৃতি (তাহরীফ) বা পরিবর্তন (তাবদীল) ঘটে না, যেমনটি তাওরাত ও ইনজিলের অনুসারীদের ক্ষেত্রে ঘটেছিল।

এবং তিনি তাদের জন্য বর্ণনা (রিওয়ায়াহ) ও সনদকে (ইসনাদ) বিশেষায়িত করেছেন, যার মাধ্যমে বিচক্ষণ সমালোচক পণ্ডিতগণ (আল-জাহাবিযাহ আন-নুক্কাদ) সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন। আর তিনি এই উত্তরাধিকারকে (মীরাস) এমন করেছেন যে, প্রতিটি প্রজন্মের (খলফ) ন্যায়পরায়ণ (আদুল) জ্ঞান ও দ্বীনের অধিকারী ব্যক্তিরা তা বহন করে, যারা এর থেকে বাড়াবাড়িকারীদের (গালী) বিকৃতি (তাহরীফ), বাতিলপন্থীদের (মুবতিলীন) মিথ্যা আরোপ (ইনতিহাল) এবং অজ্ঞদের অপব্যাখ্যা (তা'বীল) দূর করে। যাতে তাদের মাধ্যমে উম্মতের উপর নিয়ামত স্থায়ী হয়, তাদের মাধ্যমে অন্ধকার থেকে আলো প্রকাশিত হয়, তাদের মাধ্যমে আল্লাহর সেই দ্বীন পুনরুজ্জীবিত হয় যা দিয়ে তিনি তাঁর রাসূলকে প্রেরণ করেছেন, এবং তাদের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষের জন্য তাঁর পথ স্পষ্ট করে দেন।

সুতরাং সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ তারাই যারা এই সম্মানিত নবীর সর্বাধিক অনুসারী, যার গুণাবলী আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} [সূরা আত-তাওবাহ: ১২৮]।

এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; তিনি সৃষ্টিকুলের রব, রাসূলগণের ইলাহ এবং বিচার দিবসের মালিক। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাকে তিনি সমগ্র মানবজাতির কাছে প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁকে এমন সময় প্রেরণ করেন যখন মানুষ কুফর, অজ্ঞতা (জাহল) ও পথভ্রষ্টতার (দলালাহ) কারণে নিকৃষ্টতম ব্যর্থতা ও জঘন্যতম অবস্থায় ছিল।

অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বদা দ্বীন পৌঁছানো (তাবলীগ), সৃষ্টিকুলকে হেদায়েত দেওয়া এবং কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা (ইজতিহাদ) করতে থাকেন। যতক্ষণ না ঈমানের সূর্য উদিত হলো, মিথ্যার (বুহতান) রাত্রি দূরীভূত হলো, দয়াময়ের (রাহমান) বাহিনী শক্তিশালী হলো, শয়তানের দল (হিযব) লাঞ্ছিত হলো, ফুরকানের (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী কিতাব) আলো প্রকাশিত হলো, কুরআনের তিলাওয়াত সুপ্রসিদ্ধ হলো এবং আযানের আহ্বান ঘোষিত হলো।
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৪)
وَاسْتَنَارَ بِنُورِ اللَّهِ أَهْلُ الْبَوَادِي وَالْبُلْدَانِ، وَقَامَتْ حُجَّةُ اللَّهِ عَلَى الْإِنْسِ وَالْجَانِّ، لَمَّا قَامَ الْمُسْتَجِيبُ مِنْ معد بْنِ عَدْنَانَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَالتَّابِعِينَ لَهُمْ بِإِحْسَانِ صَلَاةً يَرْضَى بِهَا الْمَلِكُ الدَّيَّانُ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا مَقْرُونًا بِالرِّضْوَانِ. أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّهُ لَا سَعَادَةَ لِلْعِبَادِ، وَلَا نَجَاةَ فِي الْمَعَادِ إلَّا بِاتِّبَاعِ رَسُولِهِ. {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ} فَطَاعَةُ اللَّهِ وَرَسُولِهِ قُطْبُ السَّعَادَةِ الَّتِي عَلَيْهِ تَدُورُ، وَمُسْتَقَرُّ النَّجَاةِ الَّذِي عَنْهُ لَا تَحُورُ. فَإِنَّ اللَّهَ خَلَقَ الْخَلْقَ لِعِبَادَتِهِ كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إلَّا لِيَعْبُدُونِ} . وَإِنَّمَا تَعَبَّدَهُمْ بِطَاعَتِهِ وَطَاعَةِ رَسُولِهِ فَلَا عِبَادَةَ إلَّا مَا هُوَ وَاجِبٌ أَوْ مُسْتَحَبٌّ فِي دِينِ اللَّهِ؛ وَمَا سِوَى ذَلِكَ فَضَلَالٌ عَنْ سَبِيلِهِ. وَلِهَذَا قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ {مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ} ` أَخْرَجَاهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ، وَقَالَ: صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَدِيثِ العرباض بْنِ سَارِيَةَ الَّذِي رَوَاهُ أَهْلُ السُّنَنِ وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ {أَنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ مِنْ بَعْدِي تَمَسَّكُوا بِهَا، وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ} `. وَفِي الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ الَّذِي رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَغَيْرُهُ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ {خَيْرُ الْكَلَامِ كَلَامُ اللَّهِ وَخَيْرُ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ} . وَقَدْ ذَكَرَ اللَّهُ طَاعَةَ الرَّسُولِ وَاتِّبَاعَهُ فِي نَحْوٍ مِنْ أَرْبَعِينَ مَوْضِعًا مِنْ الْقُرْآنِ كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} وَقَوْلِهِ تَعَالَى:
আর আল্লাহর নূরে আলোকিত হলো গ্রাম ও নগরবাসী, এবং মানব ও জিনের উপর আল্লাহর প্রমাণ (হুজ্জাহ) প্রতিষ্ঠিত হলো, যখন মা'দ ইবনে আদনানের বংশোদ্ভূত সেই উত্তরদাতা (রাসূলুল্লাহ ﷺ) দাঁড়ালেন— আল্লাহ তাঁর, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারীদের উপর এমন সালাত (দরূদ) বর্ষণ করুন যা দ্বারা বিচার দিনের মালিক (আল-মালিকুদ-দাইয়্যান) সন্তুষ্ট হন, এবং এমন সালাম (শান্তি) যা সন্তুষ্টির সাথে যুক্ত।

অতঃপর: নিশ্চয়ই বান্দাদের জন্য কোনো সৌভাগ্য নেই, এবং প্রত্যাবর্তনস্থলে (আখিরাতে) কোনো মুক্তি নেই— তাঁর রাসূলের অনুসরণ ব্যতীত। {আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর এটাই হলো মহা সফলতা।} [সূরা নিসা, ৪:১৩] {আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করবে এবং তাঁর সীমাসমূহ লঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন, সেখানে সে চিরকাল থাকবে। আর তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।} [সূরা নিসা, ৪:১৪]

সুতরাং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য হলো সেই সৌভাগ্যের কেন্দ্রবিন্দু যার উপর তা আবর্তিত হয়, এবং মুক্তির সেই স্থায়ী আশ্রয়স্থল যা থেকে বিচ্যুত হওয়া যায় না। কেননা আল্লাহ সৃষ্টিকে তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন, যেমন তিনি তাআলা বলেছেন: {আর আমি জিন ও মানবকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।} [সূরা যারিয়াত, ৫১:৫৬]

আর তিনি তাদেরকে তাঁর এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্যের মাধ্যমেই ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং ইবাদত কেবল সেটাই যা আল্লাহর দ্বীনে ওয়াজিব (ফরয) অথবা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়); আর এর বাইরে যা কিছু, তা তাঁর পথ থেকে বিচ্যুতি (গোমরাহী)।

আর এই কারণেই তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: {যে এমন কোনো কাজ করল যার উপর আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।} সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ তাঁরা উভয়ে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরবায ইবনে সারিয়াহর হাদীসে বলেছেন— যা সুনান গ্রন্থসমূহের রচয়িতাগণ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী এটিকে সহীহ বলেছেন— {নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে যে আমার পরে জীবিত থাকবে, সে বহু মতপার্থক্য দেখতে পাবে। সুতরাং তোমাদের উপর আমার সুন্নাত এবং আমার পরে হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাত অনুসরণ করা আবশ্যক। তোমরা তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে তা কামড়ে ধরো। আর তোমরা (দ্বীনের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ (মুহদাসাতুল উমুর) থেকে সাবধান থেকো, কেননা প্রত্যেক বিদআত (নব-উদ্ভাবন) হলো গোমরাহী।}

আর সহীহ হাদীসে— যা মুসলিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন— রয়েছে যে, তিনি তাঁর খুতবায় বলতেন: {সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কথা, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদের পথনির্দেশ। আর বিষয়সমূহের মধ্যে নিকৃষ্টতম হলো সেগুলোর নব-উদ্ভাবন, এবং প্রত্যেক বিদআত হলো গোমরাহী।}

আর আল্লাহ কুরআনের প্রায় চল্লিশটি স্থানে রাসূলের আনুগত্য ও তাঁর অনুসরণ উল্লেখ করেছেন, যেমন তাঁর বাণী: {যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল।} [সূরা নিসা, ৪:৮০] এবং তাঁর বাণী: [এখানে মূল আরবী টেক্সট শেষ হয়েছে]
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৫)
{وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ وَلَوْ أَنَّهُمْ إذْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَحِيمًا} {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} . وقَوْله تَعَالَى {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ} . وَقَالَ تَعَالَى: {قُلْ إنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ} . فَجَعَلَ مَحَبَّةَ الْعَبْدِ لِرَبِّهِ مُوجِبَةً لِاتِّبَاعِ الرَّسُولِ، وَجَعَلَ مُتَابَعَةَ الرَّسُولِ سَبَبًا لِمَحَبَّةِ اللَّهِ عَبْدَهُ. وَقَدْ قَالَ تَعَالَى: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُورًا نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا} . فَمَا أَوْحَاهُ اللَّهُ إلَيْهِ يَهْدِي اللَّهُ بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ، كَمَا أَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذَلِكَ هَدَاهُ اللَّهُ تَعَالَى كَمَا قَالَ تَعَالَى: {قُلْ إنْ ضَلَلْتُ فَإِنَّمَا أَضِلُّ عَلَى نَفْسِي وَإِنِ اهْتَدَيْتُ فَبِمَا يُوحِي إلَيَّ رَبِّي} . وَقَالَ تَعَالَى: {قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ} {يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} . فَبِمُحَمَّدِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَبَيَّنَ الْكَفْرُ مِنْ الْإِيمَانِ، وَالرِّبْحُ مِنْ الْخُسْرَانِ وَالْهُدَى مِنْ الضَّلَالِ، وَالنَّجَاةُ مِنْ الْوَبَالِ، وَالْغَيُّ مِنْ الرَّشَادِ، وَالزَّيْغُ مِنْ السَّدَادِ، وَأَهْلُ الْجَنَّةِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ، وَالْمُتَّقُونَ مِنْ الْفُجَّارِ وَإِيثَارُ سَبِيلِ مَنْ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنْ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ مِنْ سَبِيلِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَالضَّالِّينَ. فَالنُّفُوسُ أَحْوَجُ إلَى مَعْرِفَةِ مَا جَاءَ بِهِ وَاتِّبَاعِهِ مِنْهَا إلَى الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ فَإِنَّ هَذَا إذَا فَاتَ حَصَلَ الْمَوْتُ فِي الدُّنْيَا. وَذَاكَ إذَا فَاتَ حَصَلَ الْعَذَابُ. فَحَقَّ عَلَى كُلِّ أَحَدٍ بَذْلُ جُهْدِهِ وَاسْتِطَاعَتِهِ فِي مَعْرِفَةِ مَا جَاءَ بِهِ وَطَاعَتِهِ إذْ
{আর আমি কোনো রাসূলকে এই উদ্দেশ্য ছাড়া প্রেরণ করিনি যে, আল্লাহর অনুমতিক্রমে (বা নির্দেশক্রমে) তাঁর আনুগত্য করা হবে। আর যদি তারা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন আপনার কাছে আসত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইত, আর রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, তবে তারা আল্লাহকে তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু হিসেবে পেত।} {সুতরাং, আপনার রবের কসম, তারা মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যে সৃষ্ট মতবিরোধের বিষয়ে আপনাকে বিচারক (হুকুমদাতা) মানে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেন, সে বিষয়ে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধা বা সংকোচ না থাকে এবং তারা পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে (মেনে নেয়)।} আর তাঁর (আল্লাহর) বাণী: {বলুন, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদের ভালোবাসেন না।} আর তিনি (আল্লাহ) আরও বলেছেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।}

সুতরাং, তিনি (আল্লাহ) বান্দার প্রতিপালকের প্রতি ভালোবাসাকে রাসূলের অনুসরণের অপরিহার্য কারণ বানিয়েছেন, আর রাসূলের অনুসরণকে বান্দাকে আল্লাহর ভালোবাসার কারণ বানিয়েছেন। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশক্রমে রূহ (ওহী) প্রেরণ করেছি। আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী; কিন্তু আমি এটিকে (ওহীকে) আলো বানিয়েছি, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা পথ দেখাই।}

সুতরাং, আল্লাহ তাঁর (রাসূলের) প্রতি যা ওহী করেছেন, তার মাধ্যমেই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা পথ দেখান। যেমনভাবে, এর মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পথ দেখিয়েছেন, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, যদি আমি পথভ্রষ্ট হই, তবে আমি কেবল আমার নিজের ক্ষতির জন্যই পথভ্রষ্ট হব; আর যদি আমি হেদায়েত লাভ করি, তবে তা আমার রব আমার প্রতি যা ওহী করেন, তার কারণেই।} আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আলো (নূর) এবং সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে।} {এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদের শান্তির পথসমূহের দিকে হেদায়েত করেন, যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে, আর তিনি তাঁর অনুমতিক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদেরকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন।}

সুতরাং, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমেই কুফর থেকে ঈমান, ক্ষতি থেকে লাভ, পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েত, ধ্বংস (বিপদ) থেকে মুক্তি, ভ্রষ্টতা (গাইয়্যু) থেকে সঠিক পথ (রশাদ), বক্রতা (যাইগ) থেকে সঠিকতা (সাদাদ), জান্নাতবাসী থেকে জাহান্নামবাসী এবং পাপাচারী (ফুজ্জার) থেকে মুত্তাকীগণ সুস্পষ্ট হয়েছে। আর (সুস্পষ্ট হয়েছে) নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ ও সালেহীনের মধ্য থেকে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, তাদের পথকে ক্রোধপ্রাপ্ত ও পথভ্রষ্টদের পথ থেকে প্রাধান্য দেওয়া।

সুতরাং, নফস (আত্মা) রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা জানা ও অনুসরণ করার প্রতি খাদ্য ও পানীয়ের চেয়েও অধিক মুখাপেক্ষী। কারণ, এটি (খাদ্য ও পানীয়) যদি না পাওয়া যায়, তবে দুনিয়াতে মৃত্যু ঘটে। আর সেটি (ওহী/অনুসরণ) যদি না পাওয়া যায়, তবে আযাব (শাস্তি) নেমে আসে। অতএব, প্রত্যেক ব্যক্তির উপর আবশ্যক যে, তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা জানা ও তাঁর আনুগত্য করার ক্ষেত্রে তার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও সামর্থ্য ব্যয় করবে, যেহেতু...
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৬)
هَذَا طَرِيقُ النَّجَاةِ مِنْ الْعَذَابِ الْأَلِيمِ وَالسَّعَادَةِ فِي دَارِ النَّعِيمِ. وَالطَّرِيقُ إلَى ذَلِكَ الرِّوَايَةُ وَالنَّقْلُ. إذْ لَا يَكْفِي مِنْ ذَلِكَ مُجَرَّدُ الْعَقْلِ. بَلْ كَمَا أَنَّ نُورَ الْعَيْنِ لَا يُرَى إلَّا مَعَ ظُهُورِ نُورٍ قُدَّامَهُ فَكَذَلِكَ نُورُ الْعَقْلِ لَا يَهْتَدِي إلَّا إذَا طَلَعَتْ عَلَيْهِ شَمْسُ الرِّسَالَةِ. فَلِهَذَا كَانَ تَبْلِيغُ الدِّينِ مِنْ أَعْظَمِ فَرَائِضِ الْإِسْلَامِ. وَكَانَ مَعْرِفَةُ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ رَسُولَهُ وَاجِبًا عَلَى جَمِيعِ الْأَنَامِ. وَاَللَّهُ سُبْحَانَهُ بَعَثَ مُحَمَّدًا بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، وَبِهِمَا أَتَمَّ عَلَى أُمَّتِهِ الْمِنَّةَ. قَالَ تَعَالَى: {وَلِأُتِمَّ نِعْمَتِي عَلَيْكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} {كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولًا مِنْكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُمْ مَا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ} {فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ} . وَقَالَ تَعَالَى: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ} وَقَالَ تَعَالَى: {وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَا أَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِنَ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ يَعِظُكُمْ بِهِ} وَقَالَ تَعَالَى: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ} وَقَالَ تَعَالَى عَنْ الْخَلِيلِ: {رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ} وَقَالَ تَعَالَى: {وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ} . وَقَدْ قَالَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ الْعُلَمَاءِ: مِنْهُمْ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ وقتادة وَالشَّافِعِيُّ وَغَيْرُهُمْ (الْحِكْمَةُ) : هِيَ السُّنَّةُ لِأَنَّ اللَّهَ أَمَرَ أَزْوَاجَ نَبِيِّهِ أَنْ يَذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِهِنَّ مِنْ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ، وَالْكِتَابُ: الْقُرْآنُ وَمَا سِوَى ذَلِكَ مِمَّا كَانَ الرَّسُولُ يَتْلُوهُ هُوَ السُّنَّةُ.
এটিই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি (আযাব আল-আলিম) থেকে পরিত্রাণের পথ এবং নিয়ামতের আবাসে (জান্নাতে) সাফল্যের পথ। আর এর উপায় হলো বর্ণনা (রিওয়ায়াহ) ও সংক্রমণ (নাক্বল)। কারণ, কেবল বুদ্ধি (আক্বল) এর জন্য যথেষ্ট নয়। বরং, যেমন চোখের আলো তার সামনে আলোর প্রকাশ ছাড়া দেখতে পায় না, ঠিক তেমনি বুদ্ধির আলোও পথ খুঁজে পায় না যতক্ষণ না তার ওপর রিসালাতের (নবুওয়াতের) সূর্য উদিত হয়।

এই কারণেই দীনের প্রচার (তাবলীগ) ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ ফরযসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ তাঁর রাসূলকে যা আদেশ করেছেন, তা জানা সকল মানুষের ওপর ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক)।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুহাম্মাদ (সা.)-কে কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহসহ প্রেরণ করেছেন, এবং এই দুটির মাধ্যমেই তিনি তাঁর উম্মতের ওপর অনুগ্রহ (মিন্না) পূর্ণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যেন আমি তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পূর্ণ করি এবং যেন তোমরা হেদায়েত লাভ করো} [সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৫১]। {যেমন আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি, যিনি তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তোমাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন। আর তোমাদেরকে এমন কিছু শিক্ষা দেন যা তোমরা জানতে না} [সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৫১]। {সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না} [সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৫২]।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন} [সূরা আলে ইমরান: ১৬৪]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর তোমাদের ওপর আল্লাহর নিয়ামত এবং কিতাব ও হিকমত থেকে যা তোমাদের ওপর নাযিল করেছেন, তা স্মরণ করো, যার দ্বারা তিনি তোমাদের উপদেশ দেন} [সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৩১]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তিনিই উম্মীদের (নিরক্ষরদের) মাঝে তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন} [সূরা আল-জুমুআহ: ২]। আর আল্লাহ তাআলা খালীল (ইব্রাহীম আ.) সম্পর্কে বলেছেন: {হে আমাদের রব, তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবেন, তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবেন} [সূরা আল-বাক্বারাহ: ১২৯]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর তোমাদের গৃহে আল্লাহর আয়াতসমূহ ও হিকমত থেকে যা তিলাওয়াত করা হয়, তা তোমরা স্মরণ করো} [সূরা আল-আহযাব: ৩৪]।

একাধিক আলেম—যাদের মধ্যে ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাছীর, কাতাদাহ, শাফিঈ এবং অন্যান্যরা রয়েছেন—বলেছেন যে, (আল-হিকমাহ) হলো সুন্নাহ। কারণ আল্লাহ তাঁর নবীর স্ত্রীগণকে আদেশ করেছেন যে, তারা যেন তাদের গৃহে কিতাব ও হিকমত থেকে যা তিলাওয়াত করা হয়, তা স্মরণ করেন। আর কিতাব হলো কুরআন, এবং এর বাইরে রাসূল যা তিলাওয়াত করতেন, তা হলো সুন্নাহ।
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৭)
وَقَدْ جَاءَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ عِدَّةِ أَوْجُهٍ مِنْ حَدِيثِ أَبِي رَافِعٍ وَأَبِي ثَعْلَبَةَ وَغَيْرِهِمَا أَنَّهُ قَالَ: {لَا أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ يَأْتِيهِ الْأَمْرُ مِنْ أَمْرِي مِمَّا أَمَرْت بِهِ أَوْ نَهَيْت عَنْهُ فَيَقُولُ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ الْقُرْآنُ فَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَلَالٍ اسْتَحْلَلْنَاهُ وَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَرَامٍ حَرَّمْنَاهُ أَلَا وَإِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ. وفي رِوَايَةٍ أَلَا وَإِنَّهُ مِثْلُ الْكِتَابِ} . وَلَمَّا كَانَ الْقُرْآنُ مُتَمَيِّزًا بِنَفْسِهِ - لِمَا خَصَّهُ اللَّهُ بِهِ مِنْ الْإِعْجَازِ الَّذِي بَايَنَ بِهِ كَلَامَ النَّاسِ كَمَا قَالَ تَعَالَى: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا} وَكَانَ مَنْقُولًا بِالتَّوَاتُرِ - لَمْ يَطْمَعْ أَحَدٌ فِي تَغْيِيرِ شَيْءٍ مِنْ أَلْفَاظِهِ وَحُرُوفِهِ؛ وَلَكِنْ طَمِعَ الشَّيْطَانُ أَنْ يُدْخِلَ التَّحْرِيفَ وَالتَّبْدِيلَ فِي مَعَانِيهِ بِالتَّغْيِيرِ وَالتَّأْوِيلِ، وَطَمِعَ أَنْ يُدْخِلَ فِي الْأَحَادِيثِ مِنْ النَّقْصِ وَالِازْدِيَادِ مَا يُضِلُّ بِهِ بَعْضَ الْعِبَادِ. فَأَقَامَ اللَّهُ تَعَالَى الْجَهَابِذَةَ النُّقَّادَ أَهْلَ الْهُدَى وَالسَّدَادِ، فَدَحَرُوا حِزْبَ الشَّيْطَانِ، وَفَرَّقُوا بَيْنَ الْحَقِّ وَالْبُهْتَانِ وَانْتُدِبُوا لِحِفْظِ السُّنَّةِ وَمَعَانِي الْقُرْآنِ مِنْ الزِّيَادَةِ فِي ذَلِكَ وَالنُّقْصَانِ. وَقَامَ كُلٌّ مِنْ عُلَمَاءِ الدِّينِ بِمَا أَنْعَمَ بِهِ عَلَيْهِ وَعَلَى الْمُسْلِمِينَ - مَقَامَ أَهْلِ الْفِقْهِ الَّذِينَ فَقِهُوا مَعَانِيَ الْقُرْآنِ وَالْحَدِيثِ - بِدَفْعِ مَا وَقَعَ فِي ذَلِكَ مِنْ الْخَطَأِ فِي الْقَدِيمِ وَالْحَدِيثِ، وَكَانَ مِنْ ذَلِكَ الظَّاهِرُ الْجَلِيُّ: الَّذِي لَا يَسُوغُ عَنْهُ الْعُدُولُ؛ وَمِنْهُ الْخَفِيُّ: الَّذِي يَسُوغُ فِيهِ الِاجْتِهَادُ لِلْعُلَمَاءِ الْعُدُولِ. وَقَامَ عُلَمَاءُ النَّقْلِ وَالنُّقَّادُ بِعِلْمِ الرِّوَايَةِ وَالْإِسْنَادِ، فَسَافَرُوا فِي ذَلِكَ إلَى الْبِلَادِ، وَهَجَرُوا فِيهِ لَذِيذَ الرُّقَادِ، وَفَارَقُوا الْأَمْوَالَ وَالْأَوْلَادَ، وَأَنْفَقُوا فِيهِ الطَّارِفَ وَالتِّلَادَ، وَصَبَرُوا فِيهِ عَلَى النَّوَائِبِ، وَقَنَعُوا مِنْ الدُّنْيَا بِزَادِ الرَّاكِبِ،
আর নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে একাধিক সূত্রে, যেমন আবু রাফি', আবু সা'লাবা এবং অন্যান্যদের হাদীস থেকে এসেছে যে, তিনি বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে তার পালঙ্কে হেলান দিয়ে থাকা অবস্থায় না পাই, যার কাছে আমার কোনো নির্দেশ আসে—যা আমি আদেশ করেছি বা নিষেধ করেছি—তখন সে বলে: 'আমাদের ও তোমাদের মাঝে তো কুরআনই রয়েছে। সুতরাং আমরা তাতে যা হালাল পাবো, তাকে হালাল মনে করবো এবং তাতে যা হারাম পাবো, তাকে হারাম মনে করবো।' সাবধান! নিশ্চয়ই আমাকে কিতাব (কুরআন) এবং এর সাথে এর অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। আর এক বর্ণনায় এসেছে: 'সাবধান! নিশ্চয়ই তা (সুন্নাহ) কিতাবের অনুরূপ'।"

যেহেতু কুরআন নিজেই স্বকীয়ভাবে স্বতন্ত্র—আল্লাহ্‌ এটিকে যে অলৌকিকতা (ই'জায) দ্বারা বিশেষিত করেছেন, যা এটিকে মানুষের কথা থেকে পৃথক করেছে, যেমন আল্লাহ্‌ তা'আলা বলেছেন: {বলো, যদি মানুষ ও জিন এই কুরআনের অনুরূপ কিছু তৈরি করার জন্য একত্রিত হয়, তবে তারা এর অনুরূপ তৈরি করতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।} [সূরা ইসরা ১৭:৮৮]—এবং যেহেতু এটি তাওয়াতুর (অবিচ্ছিন্ন পরম্পরা) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তাই এর শব্দ ও অক্ষরসমূহের কোনো কিছু পরিবর্তন করার সাহস কেউ করেনি।

কিন্তু শয়তান এর অর্থসমূহের মধ্যে পরিবর্তন ও (ভ্রান্ত) ব্যাখ্যা (তা'বীল)-এর মাধ্যমে বিকৃতি (তাহরীফ) ও রদবদল (তাবদীল) প্রবেশ করানোর লোভ করেছে। আর সে হাদীসসমূহের মধ্যে এমন হ্রাস-বৃদ্ধি (নকস ও ইযদিয়াদ) প্রবেশ করানোর লোভ করেছে, যার দ্বারা সে কিছু বান্দাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে।

অতঃপর আল্লাহ্‌ তা'আলা হেদায়েত ও সঠিক পথের অধিকারী বিশেষজ্ঞ সমালোচকগণকে (আল-জাহাবিযাহ আন-নুক্কাদ) দাঁড় করালেন। তারা শয়তানের দলকে পরাভূত করলেন এবং সত্য ও মিথ্যা অপবাদের মধ্যে পার্থক্য করলেন। আর তারা সুন্নাহ ও কুরআনের অর্থসমূহকে এর মধ্যে কোনো প্রকার বৃদ্ধি বা হ্রাস থেকে রক্ষা করার জন্য নিয়োজিত হলেন।

আর দ্বীনের প্রতিটি আলেম, আল্লাহ্‌ তাদের ও মুসলিমদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন, সেই অনুযায়ী—যারা কুরআন ও হাদীসের অর্থসমূহ অনুধাবন করেছেন, সেই ফিকহবিদদের (আহলুল ফিকহ) অবস্থানে দাঁড়িয়ে—প্রাচীন ও আধুনিককালে এ বিষয়ে যে ভুল-ভ্রান্তি ঘটেছে, তা প্রতিহত করার দায়িত্ব পালন করেছেন। আর এর মধ্যে কিছু ছিল সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য, যা থেকে বিচ্যুত হওয়া বৈধ নয়; এবং কিছু ছিল সূক্ষ্ম, যেখানে ন্যায়পরায়ণ আলেমদের জন্য ইজতিহাদ (গবেষণামূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ) করা বৈধ।

আর বর্ণনাবিদ ও সমালোচক আলেমগণ রিওয়ায়াত (বর্ণনা) ও ইসনাদ (সনদ)-এর জ্ঞান নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। এই উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন দেশে সফর করলেন, এর জন্য সুমিষ্ট ঘুম ত্যাগ করলেন, সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি থেকে বিচ্ছিন্ন হলেন, এবং এতে নতুন অর্জিত ও উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত উভয় প্রকার সম্পদ ব্যয় করলেন। তারা এতে বিপদাপদের ওপর ধৈর্য ধারণ করলেন এবং দুনিয়া থেকে কেবল একজন পথিকের পাথেয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকলেন।
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৮)
وَلَهُمْ فِي ذَلِكَ مِنْ الْحِكَايَاتِ الْمَشْهُورَةِ، وَالْقِصَصِ الْمَأْثُورَةِ، مَا هُوَ عِنْدَ أَهْلِهِ مَعْلُومٌ، وَلِمَنْ طَلَبَ مَعْرِفَتَهُ مَعْرُوفٌ مَرْسُومٌ، بِتَوَسُّدِ أَحَدِهِمْ التُّرَابَ وَتَرْكِهِمْ لَذِيذَ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ وَتَرْكِ مُعَاشَرَةِ الْأَهْلِ وَالْأَصْحَابِ وَالتَّصَبُّرِ عَلَى مَرَارَةِ الِاغْتِرَابِ، وَمُقَاسَاةِ الْأَهْوَالِ الصِّعَابِ، أَمْرٌ حَبَّبَهُ اللَّهُ إلَيْهِمْ وَحَلَّاهُ لِيَحْفَظَ بِذَلِكَ دِينَ اللَّهِ. كَمَا جَعَلَ الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْنًا يَقْصِدُونَهُ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ، وَيَتَحَمَّلُونَ فِيهِ أُمُورًا مُؤْلِمَةً تَحْصُلُ فِي الطَّرِيقِ، وَكَمَا حُبِّبَ إلَى أَهْلِ الْقِتَالِ الْجِهَادُ بِالنَّفْسِ وَالْمَالِ حِكْمَةً مِنْ اللَّهِ يَحْفَظُ بِهَا الدِّينَ لِيَهْدِيَ الْمُهْتَدِينَ، وَيُظْهِرَ بِهِ الْهُدَى وَدِينَ الْحَقِّ، الَّذِي بَعَثَ بِهِ رَسُولَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ. فَمَنْ كَانَ مُخْلِصًا فِي أَعْمَالِ الدِّينِ يَعْمَلُهَا لِلَّهِ كَانَ مِنْ أَوْلِيَاءِ اللَّهِ الْمُتَّقِينَ أَهْلِ النَّعِيمِ الْمُقِيمِ. كَمَا قَالَ تَعَالَى: {أَلَا إنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} {الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ} {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} . وَقَدْ فَسَّرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبُشْرَى فِي الدُّنْيَا بِنَوْعَيْنِ: أَحَدُهُمَا: ثَنَاءُ الْمُثْنِينَ عَلَيْهِ. الثَّانِي: الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ يَرَاهَا الرَّجُلُ الصَّالِحُ؛ أَوْ تُرَى لَهُ. {فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، الرَّجُلُ يَعْمَلُ الْعَمَلَ لِنَفْسِهِ فَيَحْمَدُهُ النَّاسُ عَلَيْهِ؛ قَالَ: تِلْكَ عَاجِلُ بُشْرَى الْمُؤْمِنِ} . وَقَالَ الْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ: سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ قَوْلِهِ {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} فَقَالَ: {هِيَ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ يَرَاهَا الرَّجُلُ الصَّالِحُ؛ أَوْ تُرَى لَهُ} . وَالْقَائِمُونَ بِحِفْظِ الْعِلْمِ الْمَوْرُوثِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرُّبَّانُ الْحَافِظُونَ لَهُ مِنْ الزِّيَادَةِ وَالنُّقْصَانِ، هُمْ مِنْ أَعْظَمِ أَوْلِيَاءِ اللَّهِ الْمُتَّقِينَ وَحِزْبِهِ
আর এই বিষয়ে তাদের (সালাফদের) রয়েছে প্রসিদ্ধ ঘটনাবলী এবং বর্ণিত উপাখ্যানসমূহ, যা তাদের অনুসারীদের নিকট সুবিদিত, এবং যারা এর জ্ঞান অন্বেষণ করে তাদের জন্য তা সুপরিচিত ও সুনির্দিষ্ট। (তা হলো) তাদের কারো কারো মাটি বালিশ হিসেবে ব্যবহার করা, সুস্বাদু খাদ্য ও পানীয় বর্জন করা, পরিবার-পরিজন ও সঙ্গী-সাথীদের সাহচর্য ত্যাগ করা, প্রবাসের তিক্ততা সহ্য করা এবং কঠিন বিপদাপদ মোকাবিলা করা।

এটি এমন এক বিষয় যা আল্লাহ তাদের নিকট প্রিয় করে দিয়েছেন এবং সুশোভিত করেছেন, যেন এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহর দীনকে সংরক্ষণ করেন। যেমনভাবে তিনি বায়তুল্লাহকে মানুষের জন্য প্রত্যাবর্তনস্থল (মাছাবাহ) ও নিরাপত্তার স্থান বানিয়েছেন, যেখানে তারা দূর-দূরান্তের গভীর পথ অতিক্রম করে আসে এবং পথে সংঘটিত কষ্টদায়ক বিষয়াদি সহ্য করে। আর যেমনভাবে আল্লাহ তাঁর হিকমত (প্রজ্ঞা) দ্বারা জিহাদকারীদের নিকট জান ও মাল দ্বারা জিহাদকে প্রিয় করে দিয়েছেন, যার মাধ্যমে তিনি দীনকে সংরক্ষণ করেন, যেন তিনি হেদায়েতপ্রাপ্তদের হেদায়েত দান করেন এবং এর দ্বারা হেদায়েত ও সত্য দীনকে প্রকাশ করেন, যা দিয়ে তিনি তাঁর রাসূলকে প্রেরণ করেছেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।

সুতরাং যে ব্যক্তি দীনের কাজসমূহে ইখলাস অবলম্বন করে এবং তা আল্লাহর জন্য সম্পাদন করে, সে আল্লাহর মুত্তাকী আওলিয়াদের (বন্ধুদের) অন্তর্ভুক্ত, যারা স্থায়ী নেয়ামতের অধিকারী। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।} {যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করত।} {তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে দুনিয়ার জীবনে এবং আখিরাতে। আল্লাহর বাণীর কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই হলো মহাসাফল্য।} (সূরা ইউনুস: ৬২-৬৪)।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ার জীবনে সুসংবাদকে দুই প্রকারে ব্যাখ্যা করেছেন: প্রথমত: প্রশংসাকারীদের পক্ষ থেকে তার প্রশংসা। দ্বিতীয়ত: সৎ স্বপ্ন (আর-রু’ইয়া আস-সালিহা), যা সৎ ব্যক্তি নিজে দেখেন অথবা তাকে দেখানো হয়। {অতঃপর জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, কোনো ব্যক্তি নিজের জন্য (ইখলাসের সাথে) কোনো আমল করে, আর মানুষ তার জন্য তার প্রশংসা করে; তিনি বললেন: এটি হলো মুমিনের জন্য ত্বরিত সুসংবাদ (আ-জিলু বুশরা আল-মু’মিন)।} আর বারা ইবনু আযিব (রাঃ) বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহর বাণী {তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে দুনিয়ার জীবনে} সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: {তা হলো সৎ স্বপ্ন (আর-রু’ইয়া আস-সালিহা), যা সৎ ব্যক্তি নিজে দেখেন অথবা তাকে দেখানো হয়।}

আর যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ইলম (জ্ঞান) সংরক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত, যারা তাতে সংযোজন ও বিয়োজন থেকে হেফাযতকারী রুব্বান (জ্ঞানের গভীর পণ্ডিত), তারা আল্লাহর মুত্তাকী আওলিয়া ও তাঁর দলের (হিযব) মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৯)
الْمُفْلِحِينَ، بَلْ لَهُمْ مَزِيَّةٌ عَلَى غَيْرِهِمْ مِنْ أَهْلِ الْإِيمَانِ وَالْأَعْمَالِ الصَّالِحَاتِ. كَمَا قَالَ تَعَالَى: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: يَرْفَعْ اللَّهُ [الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِنَ الْمَؤْمِنِينَ عَلَى الَّذِينَ لَمْ يُؤْتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ] (1) .
وَعِلْمُ الْإِسْنَادِ وَالرِّوَايَةِ مِمَّا خَصَّ اللَّهُ بِهِ أُمَّةَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَعَلَهُ سُلَّمًا إلَى الدِّرَايَةِ. فَأَهْلُ الْكِتَابِ لَا إسْنَادَ لَهُمْ يَأْثُرُونَ بِهِ الْمَنْقُولَاتِ، وَهَكَذَا الْمُبْتَدِعُونَ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَهْلُ الضَّلَالَاتِ، وَإِنَّمَا الْإِسْنَادُ لِمَنْ أَعْظَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْمِنَّةَ ` أَهْلُ الْإِسْلَامِ وَالسُّنَّةِ، يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الصَّحِيحِ وَالسَّقِيمِ وَالْمُعْوَجِّ وَالْقَوِيمِ وَغَيْرِهِمْ مِنْ أَهْلِ الْبِدَعِ وَالْكُفَّارِ إنَّمَا عِنْدَهُمْ مَنْقُولَاتٌ يَأْثُرُونَهَا بِغَيْرِ إسْنَادٍ، وَعَلَيْهَا مِنْ دِينِهِمْ الِاعْتِمَادُ، وَهُمْ لَا يَعْرِفُونَ فِيهَا الْحَقَّ مِنْ الْبَاطِلِ، وَلَا الْحَالِي مِنْ الْعَاطِلِ. وَأَمَّا هَذِهِ الْأُمَّةُ الْمَرْحُومَةُ وَأَصْحَابُ هَذِهِ الْأُمَّةِ الْمَعْصُومَةِ: فَإِنَّ أَهْلَ الْعِلْمِ مِنْهُمْ وَالدِّينِ هُمْ مِنْ أَمْرِهِمْ عَلَى يَقِينٍ، فَظَهَرَ لَهُمْ الصِّدْقُ مِنْ الْمَيْنِ، كَمَا يَظْهَرُ الصُّبْحُ لِذِي عَيْنَيْنِ. عَصَمَهُمْ اللَّهُ أَنْ يُجْمِعُوا عَلَى خَطَأٍ فِي دِينِ اللَّهِ مَعْقُولٍ أَوْ مَنْقُولٍ، وَأَمَرَهُمْ إذَا تَنَازَعُوا فِي شَيْءٍ أَنْ يَرُدُّوهُ إلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ كَمَا قَالَ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} . فَإِذَا اجْتَمَعَ أَهْلُ الْفِقْهِ عَلَى الْقَوْلِ بِحُكْمِ لَمْ يَكُنْ إلَّا حَقًّا، وَإِذَا اجْتَمَعَ أَهْلُ
__________
Qبياض بالأصل، والزيادة من الحاكم في التفسير 2 / 481 وقال: ` هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ الإسناد ولم يُخَرِّجَاهُ ` ووافقه الذهبي
সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত। বরং ঈমান ও সৎকর্মশীল অন্যান্যদের উপর তাদের বিশেষ মর্যাদা (মাজিয়্যাহ) রয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

{يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ}

(তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় উন্নীত করবেন।)

ইবনু আব্বাস (রা.) বলেছেন: আল্লাহ [ঈমানদারদের মধ্যে যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাদেরকে যারা জ্ঞান পায়নি তাদের উপর বহু মর্যাদায়] উন্নীত করবেন (১)।

আর ইসনাদ (সনদ) ও রিওয়ায়াত (বর্ণনা)-এর জ্ঞান এমন বিষয়, যা আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মাহকে বিশেষভাবে দান করেছেন এবং এটিকে দিরায়াহ (গভীর উপলব্ধি/জ্ঞান)-এর সোপান (সিঁড়ি) বানিয়েছেন। সুতরাং আহলে কিতাবদের (কিতাবধারীদের) এমন কোনো ইসনাদ নেই যার মাধ্যমে তারা তাদের বর্ণিত বিষয়াদি (মানকূলাত) সংরক্ষণ করতে পারে। অনুরূপভাবে এই উম্মাহর পথভ্রষ্টতাকামী বিদআতী (মুহতাদিঊন) গোষ্ঠীরও (ইসনাদ নেই)। বস্তুত ইসনাদ কেবল তাদের জন্যই, যাদের উপর আল্লাহ তাঁর মহা অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ আহলুল ইসলাম ওয়াস সুন্নাহ (ইসলাম ও সুন্নাহর অনুসারীগণ)। তারা এর (ইসনাদের) মাধ্যমে সহীহ (বিশুদ্ধ) ও সাক্বীম (অসুস্থ/দুর্বল), মু'আওয়াজ্জ (বক্র) ও ক্বাওয়ীম (সরল)-এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে।

আর তাদের (আহলুস সুন্নাহর) ব্যতীত অন্যান্য বিদআতী ও কাফিরদের নিকট কেবল এমন বর্ণিত বিষয়াদি (মানকূলাত) রয়েছে যা তারা ইসনাদ ছাড়াই বর্ণনা করে থাকে, এবং তাদের দীনের ক্ষেত্রে সেগুলোর উপরই তারা নির্ভর করে। অথচ তারা সেগুলোর মধ্যে হক্ব (সত্য) থেকে বাতিল (মিথ্যা) এবং হালী (সচল/কার্যকর) থেকে আত্বিল (অকার্যকর/বাতিল)-কে চিনতে পারে না।

কিন্তু এই মারহূমাহ (অনুগ্রহপ্রাপ্ত) উম্মাহ এবং এই মা'সূমাহ (ভুল থেকে সুরক্ষিত) উম্মাহর অনুসারীগণ: তাদের মধ্যে যারা জ্ঞান ও দীনের অধিকারী, তারা তাদের বিষয়ে নিশ্চিত (ইয়াক্বীন) থাকেন। সুতরাং তাদের নিকট সত্য (সিদ্ক্ব) মিথ্যা (মাইন) থেকে এমনভাবে প্রকাশিত হয়, যেমন দুই চোখবিশিষ্ট ব্যক্তির নিকট প্রভাত প্রকাশিত হয়। আল্লাহ তাদেরকে এই সুরক্ষা দিয়েছেন যে, তারা আল্লাহর দীনের কোনো মা'কূল (যৌক্তিক) বা মানকূল (বর্ণিত) বিষয়ে ভুলের উপর ঐক্যবদ্ধ (ইজমা) হবে না।

আর যখন তারা কোনো বিষয়ে মতবিরোধ করে, তখন আল্লাহ তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেয়, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا}

(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলিল আমর (কর্তৃত্বশীল) তাদেরও। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে মতবিরোধ করো, তবে তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে তা ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখো। এটাই উত্তম এবং পরিণামের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ।) [সূরা নিসা ৪:৫৯]

সুতরাং যখন ফিক্বহ (আইনশাস্ত্র)-এর পণ্ডিতগণ কোনো হুকুম (বিধান) সম্পর্কে মত দিতে ঐক্যবদ্ধ হন, তখন তা হক্ব (সত্য) ছাড়া আর কিছু হয় না। আর যখন আহলুল...

__________
(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে ফাঁকা ছিল, অতিরিক্ত অংশটি আল-হাকিম কর্তৃক ‘আত-তাফসীর’ (২/৪৮১) থেকে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন: ‘এই হাদীসটির ইসনাদ সহীহ, কিন্তু তারা (বুখারী ও মুসলিম) এটি সংকলন করেননি।’ যাহাবীও তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ১০)
الْحَدِيثِ عَلَى تَصْحِيحِ حَدِيثٍ لَمْ يَكُنْ إلَّا صِدْقًا، وَلِكُلِّ مِنْ الطَّائِفَتَيْنِ مِنْ الِاسْتِدْلَالِ عَلَى مَطْلُوبِهِمْ بِالْجَلِيِّ وَالْخَفِيِّ مَا يُعْرَفُ بِهِ مَنْ هُوَ بِهَذَا الْأَمْرِ حَفِيٌّ، وَاَللَّهُ تَعَالَى يُلْهِمُهُمْ الصَّوَابَ فِي هَذِهِ الْقَضِيَّةِ، كَمَا دَلَّتْ عَلَى ذَلِكَ الدَّلَائِلُ الشَّرْعِيَّةُ، وَكَمَا عُرِفَ ذَلِكَ بِالتَّجْرِبَةِ الْوُجُودِيَّةِ؛ فَإِنَّ اللَّهَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمْ الْإِيمَانَ، وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحِ مِنْهُ، لَمَّا صَدَقُوا فِي مُوَالَاةِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ؛ وَمُعَادَاةِ مَنْ عَدَلَ عَنْهُ. قَالَ تَعَالَى: {لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُولَئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْإِيمَانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحٍ مِنْهُ} .
وَأَهْلُ الْعِلْمِ الْمَأْثُورِ عَنْ الرَّسُولِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْظَمُ النَّاسِ قِيَامًا بِهَذِهِ الْأُصُولِ، لَا تَأْخُذُ أَحَدَهُمْ فِي اللَّهِ لَوْمَةُ لَائِمٍ، وَلَا يَصُدُّهُمْ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ الْعَظَائِمُ؛ بَلْ يَتَكَلَّمُ أَحَدُهُمْ بِالْحَقِّ الَّذِي عَلَيْهِ، وَيَتَكَلَّمُ فِي أَحَبِّ النَّاسِ إلَيْهِ، عَمَلًا بِقَوْلِهِ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ إنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَنْ تَعْدِلُوا وَإِنْ تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا} وقَوْله تَعَالَى {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ} . وَلَهُمْ مِنْ التَّعْدِيلِ وَالتَّجْرِيحِ، وَالتَّضْعِيفِ وَالتَّصْحِيحِ مِنْ السَّعْيِ الْمَشْكُورِ وَالْعَمَلِ الْمَبْرُورِ مَا كَانَ مِنْ أَسْبَابِ حِفْظِ الدِّينِ، وَصِيَانَتِهِ عَنْ إحْدَاثِ الْمُفْتَرِينَ، وَهُمْ فِي ذَلِكَ عَلَى دَرَجَاتٍ، مِنْهُمْ الْمُقْتَصِرُ عَلَى مُجَرَّدِ النَّقْلِ وَالرِّوَايَةِ، وَمِنْهُمْ أَهْلُ الْمَعْرِفَةِ بِالْحَدِيثِ وَالدِّرَايَةِ، وَمِنْهُمْ أَهْلُ الْفِقْهِ فِيهِ وَالْمَعْرِفَةِ بِمَعَانِيهِ.
হাদীসটিকে সহীহ (বিশুদ্ধ) প্রমাণ করার ক্ষেত্রে, যা সত্য ছাড়া অন্য কিছু ছিল না। আর উভয় দলের প্রত্যেকের কাছেই তাদের কাঙ্ক্ষিত বিষয় প্রমাণের জন্য সুস্পষ্ট ও সূক্ষ্ম (গোপন) এমন প্রমাণাদি রয়েছে, যার মাধ্যমে জানা যায় কে এই বিষয়ে গভীর জ্ঞান রাখে। আল্লাহ তাআলা এই বিষয়ে তাদেরকে সঠিক পথের ইলহাম (অনুপ্রেরণা) দান করেন, যেমনটি শরয়ী প্রমাণাদি দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে এবং যেমনটি বাস্তব অভিজ্ঞতার (তাজরিবাহ আল-উজূদিয়্যাহ) মাধ্যমেও জানা গেছে। কেননা আল্লাহ তাদের অন্তরে ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ (আত্মা) দ্বারা তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন, যখন তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আনুগত্য (মুওয়ালাত) এবং যারা তা থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদের প্রতি শত্রুতা (মুআদাত) প্রদর্শনে সত্যবাদী ছিল।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُولَئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْإِيمَانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحٍ مِنْهُ} [সূরা আল-মুজাদালাহ: ২২]
(আপনি এমন কোনো সম্প্রদায় পাবেন না, যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী, অথচ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের ভালোবাসে—যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই অথবা তাদের গোত্রীয় লোক হয়। তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে রূহ দ্বারা শক্তিশালী করেছেন।)

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত জ্ঞানের (ইলম আল-মা'সূর) অধিকারীরাই এই মূলনীতিগুলো পালনে মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহর (বিধানের) ক্ষেত্রে কোনো নিন্দুকের নিন্দা তাদেরকে প্রভাবিত করে না এবং বড় বড় বিপদাপদও তাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে ফেরাতে পারে না। বরং তাদের কেউ কেউ সেই হক (সত্য) নিয়ে কথা বলেন যা তাদের উপর আবশ্যক, এমনকি তাদের নিকট সবচেয়ে প্রিয় মানুষের বিষয়েও কথা বলেন, আল্লাহ তাআলার এই বাণী অনুযায়ী:

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ إنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَنْ تَعْدِلُوا وَإِنْ تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا} [সূরা আন-নিসা: ১৩৫]
(হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকো, আল্লাহর জন্য সাক্ষী হও—যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে যায়। সে ধনী হোক বা দরিদ্র, আল্লাহ উভয়েরই অধিক নিকটবর্তী। সুতরাং তোমরা প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, যাতে তোমরা ন্যায়বিচার থেকে বিচ্যুত হও। আর যদি তোমরা পেঁচিয়ে কথা বলো বা এড়িয়ে যাও, তবে তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।)

এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ} [সূরা আল-মায়েদাহ: ৮]
(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের সাক্ষ্যদাতা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকো। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে ন্যায়বিচার না করতে প্ররোচিত না করে। তোমরা ন্যায়বিচার করো, এটিই তাকওয়ার (আল্লাহভীতির) অধিক নিকটবর্তী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমরা যা করো সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।)

আর তাদের রয়েছে তা'দীল (বর্ণনাকারীর বিশ্বস্ততা প্রমাণ) ও তাজরীহ (বর্ণনাকারীর দুর্বলতা প্রমাণ), এবং তাদ্ব'ঈফ (হাদীসকে দুর্বল ঘোষণা) ও তাসহীহ (হাদীসকে সহীহ ঘোষণা)-এর এমন প্রশংসিত প্রচেষ্টা (সা'ঈ মাশকূর) ও মাবরূর আমল (গ্রহণযোগ্য কাজ), যা দ্বীন সংরক্ষণের এবং মিথ্যাচারীদের (মুফতারীন) উদ্ভাবিত বিষয়াদি থেকে একে রক্ষা করার অন্যতম কারণ হয়েছে। আর তারা এই বিষয়ে বিভিন্ন স্তরের অধিকারী। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল বর্ণনা (নাকল) ও রেওয়ায়াতের (উদ্ধৃতির) উপর সীমাবদ্ধ থাকেন, আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাদীস ও দিরায়াহ (হাদীস শাস্ত্রের পদ্ধতিগত জ্ঞান)-এর গভীর জ্ঞান রাখেন, এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর ফিকহ (আইনগত বোধ) ও এর অর্থ সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন।
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ১১)
وَقَدْ أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأُمَّةَ أَنْ يُبَلِّغَ عَنْهُ مَنْ شَهِدَ لِمَنْ غَابَ، وَدَعَا لِلْمُبَلِّغِينَ بِالدُّعَاءِ الْمُسْتَجَابِ، فَقَالَ فِي الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ: {بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً؛ وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ؛ وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ} . وَقَالَ أَيْضًا فِي خُطْبَتِهِ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ: {أَلَا لِيُبَلِّغْ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ فَرُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ} . وَقَالَ أَيْضًا: {نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأَ سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَبَلَّغَهُ إلَى مَنْ لَمْ يَسْمَعْهُ، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرِ فَقِيهٍ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ؛ ثَلَاثٌ لَا يَغِلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ مُسْلِمٍ: إخْلَاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ وَمُنَاصَحَةُ وُلَاةِ الْأَمْرِ، وَلُزُومُ جَمَاعَةِ الْمُسْلِمِينَ؛ فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تُحِيطُ مِنْ وَرَائِهِمْ} . وَفِي هَذَا دُعَاءٌ مِنْهُ لِمَنْ بَلَّغَ حَدِيثَهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَقِيهًا وَدُعَاءٌ لِمَنْ بَلَّغَهُ وَإِنْ كَانَ الْمُسْتَمِعُ أَفْقَهَ مِنْ الْمُبَلِّغِ؛ لِمَا أُعْطِيَ الْمُبَلِّغُونَ مِنْ النَّضْرَةِ؛ وَلِهَذَا قَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَة: لَا تَجِدُ أَحَدًا مِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ إلَّا وَفِي وَجْهِهِ نَضْرَةٌ؛ لِدَعْوَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَالُ: نَضَرَ وَنَضُرَ، وَالْفَتْحُ أَفْصَحُ. وَلَمْ يَزَلْ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الْقَدِيمِ وَالْحَدِيثِ يُعَظِّمُونَ نَقَلَةَ الْحَدِيثِ حَتَّى قَالَ الشَّافِعِيُّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إذَا رَأَيْت رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ فَكَأَنِّي رَأَيْتُ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنَّمَا قَالَ الشَّافِعِيُّ هَذَا؛ لِأَنَّهُمْ فِي مَقَامِ الصَّحَابَةِ مِنْ تَبْلِيغِ حَدِيثِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَقَالَ الشَّافِعِيُّ أَيْضًا أَهْلُ الْحَدِيثِ حَفِظُوا فَلَهُمْ عَلَيْنَا الْفَضْلُ؛ لِأَنَّهُمْ حَفِظُوا لَنَا اهـ.
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মাহকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, যারা উপস্থিত আছে তারা যেন অনুপস্থিতদের কাছে তাঁর পক্ষ থেকে (বাণী) পৌঁছিয়ে দেয়। আর তিনি প্রচারকারীদের জন্য কবুল হওয়া দু'আ করেছেন। তিনি সহীহ হাদীসে বলেছেন: {আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও; আর বনী ইসরাঈল সম্পর্কে বর্ণনা করো, এতে কোনো অসুবিধা নেই; আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা আরোপ করলো, সে যেন জাহান্নামে তার স্থান বানিয়ে নেয়}। তিনি বিদায় হজ্জের খুতবায় আরও বলেছেন: {সাবধান! উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে (বাণী) পৌঁছে দেয়। কারণ, এমন অনেক প্রাপক আছে যে শ্রোতার চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী (বা ফকীহ) হতে পারে}। তিনি আরও বলেছেন: {আল্লাহ সেই ব্যক্তির চেহারা উজ্জ্বল করুন, যে আমাদের কাছ থেকে কোনো হাদীস শুনেছে, অতঃপর তা এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিয়েছে যে তা শোনেনি। কারণ, অনেক ফিকহ বহনকারী আছে যারা ফকীহ নয়, এবং অনেক ফিকহ বহনকারী আছে যারা এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়েও অধিক ফকীহ (আইনজ্ঞ); তিনটি বিষয় এমন, যার উপর কোনো মুসলিমের অন্তর বিদ্বেষ পোষণ করে না (বা কলুষিত হয় না): আল্লাহর জন্য কর্মে ইখলাস (একনিষ্ঠতা), শাসকবর্গের প্রতি আন্তরিক উপদেশ (মুনাসাহাত), এবং মুসলিমদের জামাআতকে আঁকড়ে ধরে থাকা; কেননা তাদের দু'আ তাদেরকে পেছন থেকে ঘিরে রাখে}।

আর এর মধ্যে তাঁর পক্ষ থেকে সেই ব্যক্তির জন্য দু'আ রয়েছে যে তাঁর হাদীস পৌঁছে দিয়েছে, যদিও সে ফকীহ না হয়, এবং সেই ব্যক্তির জন্যও দু'আ রয়েছে যার কাছে তা পৌঁছানো হয়েছে, যদিও শ্রোতা প্রচারকের চেয়ে অধিক ফকীহ হয়; কারণ প্রচারকদেরকে যে উজ্জ্বলতা (নদরাহ) প্রদান করা হয়েছে (তার কারণে)। এই কারণেই সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ বলেছেন: "আহলুল হাদীসের এমন কাউকে তুমি পাবে না যার চেহারায় উজ্জ্বলতা নেই; এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দু'আর ফল।" বলা হয়: 'নাদারা' (ন-দ-র, ফাতহা সহ) এবং 'নাদুরু' (ন-দ-র, দম্মা সহ), তবে ফাতহা সহ উচ্চারণটি অধিক বিশুদ্ধ।

প্রাচীনকাল ও আধুনিককাল উভয় সময়েই জ্ঞানীরা হাদীস বর্ণনাকারীদেরকে সম্মান করে এসেছেন। এমনকি ইমাম শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "যখন আমি আহলুল হাদীসের কোনো ব্যক্তিকে দেখি, তখন যেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের মধ্য থেকে কাউকে দেখলাম।" শাফিঈ এই কথাটি বলেছেন, কারণ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস পৌঁছিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাহাবীদের অবস্থানে রয়েছেন। শাফিঈ আরও বলেছেন: "আহলুল হাদীস সংরক্ষণ করেছেন, তাই তাদের উপর আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে; কারণ তারা আমাদের জন্য (দ্বীন) সংরক্ষণ করেছেন।" [সমাপ্ত]
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ১২)
وَقَالَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى -:
قَاعِدَةٌ فِي الْجَمَاعَةِ وَالْفُرْقَةِ وَسَبَبُ ذَلِكَ وَنَتِيجَتُهُ
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} . أَخْبَرَ سُبْحَانَهُ أَنَّهُ شَرَعَ لَنَا مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا، وَاَلَّذِي أَوْحَاهُ إلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا وَصَّى بِهِ الثَّلَاثَةَ الْمَذْكُورِينَ. وَهَؤُلَاءِ هُمْ أُولُو الْعَزْمِ الْمَأْخُوذُ عَلَيْهِمْ الْمِيثَاقُ فِي قَوْلِهِ: {وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُوحٍ وَإِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ} . وَقَوْلِهِ: {مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ} فَجَاءَ فِي حَقِّ مُحَمَّدٍ بَاسِمِ الَّذِي وَبِلَفْظِ الْإِيحَاءِ، وَفِي سَائِرِ الرُّسُلِ بِلَفْظِ ` الْوَصِيَّةِ `.
ثُمَّ قَالَ: {أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ} وَهَذَا تَفْسِيرُ الْوَصِيَّةِ، و (أَنْ) : الْمُفَسِّرَةُ الَّتِي تَأْتِي بَعْدَ فِعْلٍ مِنْ مَعْنَى الْقَوْلِ لَا مِنْ لَفْظِهِ. كَمَا فِي قَوْلِهِ: {ثُمَّ أَوْحَيْنَا إلَيْكَ أَنِ اتَّبِعْ} . {وَلَقَدْ وَصَّيْنَا الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُوا اللَّهَ} وَالْمَعْنَى قُلْنَا لَهُمْ: اتَّقُوا اللَّهَ. فَكَذَلِكَ قَوْلُهُ: {أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ} فِي مَعْنَى قَالَ: لَكُمْ مِنْ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ رُسُلًا قُلْنَا أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ، فَالْمَشْرُوعُ لَنَا هُوَ الْمُوصَى بِهِ، وَالْمُوحَى، وَهُوَ: {أَقِيمُوا الدِّينَ} فَأَقِيمُوا الدِّينَ مُفَسِّرٌ
শাইখুল ইসলাম – আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন – বলেছেন:

ঐক্য (আল-জামাআহ) ও বিভেদ (আল-ফুরকাহ) সংক্রান্ত একটি মূলনীতি, এবং এর কারণ ও ফলাফল।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
{তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই দিয়েছেন, যার উপদেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন, আর যা আমি তোমার প্রতি ওহী করেছি, এবং যার উপদেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে— এই বলে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি করো না।}

সুবহানাহু (আল্লাহ) খবর দিয়েছেন যে, তিনি আমাদের জন্য সেই বিধানই দিয়েছেন, যার উপদেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন, আর যা তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ওহী করেছেন, এবং যার উপদেশ উল্লিখিত তিনজনকে দিয়েছিলেন। আর এরাই হলেন উলুল আযম (সংকল্পবদ্ধ রাসূলগণ), যাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল তাঁর এই বাণীতে:
{স্মরণ করো, যখন আমি নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম, তোমার কাছ থেকেও, আর নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও মারইয়াম-পুত্র ঈসার কাছ থেকেও।} (সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৭)।

আর তাঁর বাণী: {যার উপদেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন, আর যা আমি তোমার প্রতি ওহী করেছি, এবং যার উপদেশ দিয়েছিলাম}— এখানে মুহাম্মাদ (সা.)-এর ক্ষেত্রে 'আল্লাযী' (الَّذِي) নাম এবং 'আল-ঈহা' (وحي - ওহী) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, আর অন্যান্য রাসূলগণের ক্ষেত্রে 'আল-ওয়াসিয়্যাহ' (وصية - উপদেশ) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।

এরপর তিনি বলেছেন: {তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো}। আর এটি হলো ওয়াসিয়্যাহ (উপদেশ)-এর ব্যাখ্যা। আর 'আন' (أَنْ) হলো ব্যাখ্যামূলক (আল-মুফাসসিরাহ), যা এমন ক্রিয়াপদের পরে আসে যা অর্থের দিক থেকে 'বলা' (আল-ক্বাওল) বোঝায়, শব্দের দিক থেকে নয়। যেমন তাঁর বাণী: {এরপর আমি তোমার প্রতি ওহী করলাম যে, তুমি অনুসরণ করো}। [এবং তাঁর বাণী:] {আর তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদেরকে এবং তোমাদেরকেও আমি উপদেশ দিয়েছিলাম যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো}। এর অর্থ হলো: আমরা তাদেরকে বলেছিলাম: তোমরা আল্লাহকে ভয় করো।

অনুরূপভাবে, তাঁর বাণী: {তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো}— এর অর্থ হলো: তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধান দিয়েছেন, যার উপদেশ তিনি রাসূলগণকে দিয়েছিলেন, [এবং আমরা] বলেছিলাম: তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি করো না। সুতরাং, আমাদের জন্য যা বিধান করা হয়েছে, তা-ই হলো সেই উপদেশ এবং ওহী, আর তা হলো: {তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো}। অতএব, 'তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো' (أَقِيمُوا الدِّينَ) হলো ব্যাখ্যাকারী।
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ১৩)
لِلْمَشْرُوعِ لَنَا الْمُوصَى بِهِ الرُّسُلُ، وَالْمُوحَى إلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ يُقَالُ: الضَّمِيرُ فِي أَقِيمُوا عَائِدٌ إلَيْنَا. وَيُقَالُ هُوَ عَائِدٌ إلَى الْمُرْسَلِ. وَيُقَالُ هُوَ عَائِدٌ إلَى الْجَمِيعِ. وَهَذَا أَحْسَنُ وَنَظِيرُهُ. أَمَرْتُكَ بِمَا أَمَرْتُ بِهِ زَيْدًا. أَنْ أَطِعْ اللَّهَ، وَوَصَّيْتُكُمْ بِمَا وَصَّيْتُ بَنِي فُلَانٍ: أَنْ افْعَلُوا. فَعَلَى الْأَوَّلِ: يَكُونُ بَدَلًا مِنْ (مَا) أَيْ شَرَعَ لَكُمْ أَنْ أَقِيمُوا وَعَلَى الثَّانِي: شَرَعَ (مَا خَاطَبَهُمْ. أَقِيمُوا فَهُوَ بَدَلٌ أَيْضًا، وَذَكَرَ مَا قِيلَ لِلْأَوَّلِينَ. وَعَلَى الثَّالِثِ: شَرَعَ الْمُوصَى بِهِ (أَقِيمُوا) فَلَمَّا خَاطَبَ بِهَذِهِ الْجَمَاعَةِ بَعْدَ الْإِخْبَارِ بِأَنَّهَا مَقُولَةٌ لَنَا، وَمَقُولَةٌ لَهُمْ: عَلِمَ أَنَّ الضَّمِيرَ عَائِدٌ إلَى الطَّائِفَتَيْنِ جَمِيعًا. وَهَذَا أَصَحُّ إنْ شَاءَ اللَّهُ. وَالْمَعْنَى عَلَى التَّقْدِيرَيْنِ الْأَوَّلَيْنِ يَرْجِعُ إلَى هَذَا، فَإِنَّ الَّذِي شُرِعَ لَنَا: هُوَ الَّذِي وَصَّى بِهِ الرُّسُلَ، وَهُوَ الْأَمْرُ بِإِقَامَةِ الدِّينِ وَالنَّهْيُ عَنْ التَّفَرُّقِ فِيهِ؛ وَلَكِنَّ التَّرَدُّدَ فِي أَنَّ الضَّمِيرَ تَنَاوَلَهُمْ لَفْظُهُ؛ وَقَدْ عُلِمَ أَنَّهُ قِيلَ لَنَا مِثْلُهُ؛ أَوْ بِالْعَكْسِ؛ أَوْ تَنَاوَلَنَا جَمِيعًا
وَإِذَا كَانَ اللَّهُ قَدْ أَمَرَ الْأَوَّلِينَ والآخرين بِأَنْ يُقِيمُوا الدِّينَ، وَلَا يَتَفَرَّقُوا فِيهِ، وَقَدْ أَخْبَرَ أَنَّهُ شَرَعَ لَنَا مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا، وَاَلَّذِي أَوْحَاهُ إلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَيَحْتَمِلُ شَيْئَيْنِ: أَحَدُهُمَا: أَنْ يَكُونَ مَا أَوْحَاهُ إلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُ فِيهِ شَرِيعَتُهُ الَّتِي تَخْتَصُّ بِنَا؛ فَإِنَّ جَمِيعَ مَا بُعِثَ بِهِ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَوْحَاهُ إلَيْهِ مِنْ الْأُصُولِ وَالْفُرُوعِ بِخِلَافِ نُوحٍ وَغَيْرِهِ مِنْ الرُّسُلِ؛ فَإِنَّمَا شَرَعَ لَنَا مِنْ الدِّينِ مَا وُصُّوا بِهِ؛ مِنْ إقَامَةِ الدِّينِ، وَتَرْكِ التَّفَرُّقِ فِيهِ. وَالدِّينُ الَّذِي اتَّفَقُوا عَلَيْهِ: هُوَ الْأُصُولُ. فَتَضَمَّنَ الْكَلَامُ أَشْيَاءَ:
আমাদের জন্য যা শরীয়তসম্মত করা হয়েছে, যা রাসূলগণকে ওসীয়ত করা হয়েছে, এবং যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ওহী করা হয়েছে— তখন বলা যেতে পারে: [আয়াতস্থ] 'আক্বীমু' (তোমরা কায়েম করো)-এর মধ্যে যে সর্বনাম (জমীর) রয়েছে, তা আমাদের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। আবার বলা হয়, তা রাসূলগণের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। আবার বলা হয়, তা সকলের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। আর এটিই উত্তম।

এর দৃষ্টান্ত হলো: "আমি তোমাকে সেই বিষয়ে আদেশ করলাম, যে বিষয়ে আমি যায়িদকে আদেশ করেছিলাম: যে তুমি আল্লাহর আনুগত্য করো।" এবং "আমি তোমাদেরকে সেই বিষয়ে ওসীয়ত করলাম, যে বিষয়ে আমি অমুক গোত্রকে ওসীয়ত করেছিলাম: যে তোমরা তা করো।"

প্রথম মতানুসারে: এটি (ما)-এর 'বদল' (পরিবর্তক) হবে। অর্থাৎ, তোমাদের জন্য শরীয়তসম্মত করেছেন যে তোমরা কায়েম করো। আর দ্বিতীয় মতানুসারে: তিনি শরীয়তসম্মত করেছেন (যা তিনি তাদেরকে সম্বোধন করেছেন)। [অর্থাৎ] 'আক্বীমু' (তোমরা কায়েম করো)। সুতরাং এটিও 'বদল'। এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যা পূর্ববর্তীদেরকে বলা হয়েছিল।

আর তৃতীয় মতানুসারে: তিনি ওসীয়তকৃত বিষয়টিকে শরীয়তসম্মত করেছেন (অর্থাৎ 'আক্বীমু')। যখন এই জামাআতকে সম্বোধন করা হলো— এই সংবাদ দেওয়ার পর যে এটি আমাদের জন্যও বলা হয়েছে এবং তাদের জন্যও বলা হয়েছে— তখন জানা গেল যে সর্বনামটি উভয় দলের দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। ইন শা আল্লাহ, এটিই অধিকতর বিশুদ্ধ।

আর প্রথম দুটি অনুমানের ভিত্তিতেও অর্থ এই দিকেই ফিরে আসে। কেননা আমাদের জন্য যা শরীয়তসম্মত করা হয়েছে, তা-ই হলো সেই বিষয় যা দ্বারা রাসূলগণকে ওসীয়ত করা হয়েছিল। আর তা হলো দ্বীন প্রতিষ্ঠার আদেশ এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টিতে নিষেধাজ্ঞা। তবে দ্বিধা শুধু এই বিষয়ে যে, সর্বনামটি কি কেবল তাদেরকেই শব্দগতভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে— যদিও জানা আছে যে আমাদের জন্যও অনুরূপ বলা হয়েছে; নাকি এর বিপরীত; নাকি তা আমাদের সকলকেই অন্তর্ভুক্ত করেছে।

আর যখন আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে আদেশ করেছেন যে তারা যেন দ্বীন প্রতিষ্ঠা করে এবং তাতে যেন বিভেদ সৃষ্টি না করে, এবং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আমাদের জন্য শরীয়তসম্মত করেছেন যা তিনি নূহ (আ.)-কে ওসীয়ত করেছিলেন এবং যা তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ওহী করেছিলেন।

তখন দুটি সম্ভাবনা থাকে: প্রথমত, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি যা ওহী করা হয়েছে, তার মধ্যে তাঁর সেই শরীয়তও অন্তর্ভুক্ত হবে যা আমাদের জন্য সুনির্দিষ্ট; কেননা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, তার সবই মূলনীতি (উসূল) ও শাখা-প্রশাখা (ফুরু) সহ তাঁর প্রতি ওহী করা হয়েছে। নূহ (আ.) ও অন্যান্য রাসূলগণের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন; কারণ দ্বীনের মধ্য থেকে কেবল সেই অংশই আমাদের জন্য শরীয়তসম্মত করা হয়েছে, যা দ্বারা তাঁদেরকে ওসীয়ত করা হয়েছিল; অর্থাৎ দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি পরিহার করা। আর যে দ্বীনের বিষয়ে তাঁরা একমত হয়েছেন, তা হলো মূলনীতিসমূহ (উসূল)। সুতরাং এই আলোচনা কয়েকটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ১৪)
أَحَدُهَا: أَنَّهُ شَرَعَ لَنَا الدِّينَ الْمُشْتَرَكَ وَهُوَ الْإِسْلَامُ وَالْإِيمَانُ الْعَامُّ وَالدِّينُ الْمُخْتَصُّ بِنَا؛ وَهُوَ الْإِسْلَامُ وَالْإِيمَانُ الْخَاصُّ. الثَّانِي: أَنَّهُ أَمَرَنَا بِإِقَامَةِ هَذَا الدِّينِ كُلِّهِ الْمُشْتَرَكِ وَالْمُخْتَصِّ وَنَهَانَا عَنْ التَّفَرُّقِ فِيهِ. الثَّالِثُ: أَنَّهُ أَمَرَ الْمُرْسَلِينَ بِإِقَامَةِ الدِّينِ الْمُشْتَرَكِ، وَنَهَاهُمْ عَنْ التَّفَرُّقِ فِيهِ. الرَّابِعُ: أَنَّهُ لَمَّا فَصَلَ بِقَوْلِهِ: {وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إلَيْكَ} بَيْنَ قَوْلِهِ: {مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا} وَقَوْلِهِ: {وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى} أَفَادَ ذَلِكَ.
ثُمَّ قَالَ بَعْدَ ذَلِكَ: {وَمَا تَفَرَّقُوا إلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ} فَأَخْبَرَ أَنَّ تَفَرُّقَهُمْ إنَّمَا كَانَ بَعْدَ مَجِيءِ الْعِلْمِ الَّذِي بَيَّنَ لَهُمْ مَا يَتَّقُونَ؛ فَإِنَّ اللَّهَ مَا كَانَ لِيُضِلَّ قَوْمًا بَعْدَ إذْ هَدَاهُمْ حَتَّى يُبَيِّنَ لَهُمْ مَا يَتَّقُونَ. [وَأَخْبَرَ أَنَّهُمْ مَا تَفَرَّقُوا إلَّا بَغْيًا، وَالْبَغْيُ مُجَاوَزَةُ الْحَدِّ، كَمَا قَالَ ابْنُ عُمَرَ. . . (1) : الْكِبْرُ وَالْحَسَدُ] ؛ وَهَذَا بِخِلَافِ التَّفَرُّقِ عَنْ اجْتِهَادٍ لَيْسَ فِي عِلْمٍ، وَلَا قَصَدَ بِهِ الْبَغْيَ كَتَنَازُعِ الْعُلَمَاءِ السَّائِغِ، وَالْبَغْيُ إمَّا تَضْيِيعٌ لِلْحَقِّ، وَإِمَّا تَعَدٍّ لِلْحَدِّ؛ فَهُوَ إمَّا تَرْكُ وَاجِبٍ، وَإِمَّا فِعْلُ مُحَرَّمٍ؛ فَعُلِمَ أَنَّ مُوجِبَ التَّفَرُّقِ هُوَ ذَلِكَ. وَهَذَا كَمَا قَالَ عَنْ أَهْلِ الْكِتَابِ: {وَمِنَ الَّذِينَ قَالُوا إنَّا نَصَارَى أَخَذْنَا مِيثَاقَهُمْ فَنَسُوا حَظًّا مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ فَأَغْرَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ} فَأَخْبَرَ أَنَّ نِسْيَانَهُمْ حَظًّا مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ - وَهُوَ تَرْكُ الْعَمَلِ بِبَعْضِ مَا أُمِرُوا بِهِ - كَانَ سَبَبًا لِإِغْرَاءِ الْعَدَاوَةِ وَالْبَغْضَاءِ بَيْنَهُمْ، وَهَكَذَا هُوَ الْوَاقِعُ فِي أَهْلِ مِلَّتِنَا مِثْلَمَا نَجِدُهُ بَيْنَ الطَّوَائِفِ الْمُتَنَازِعَةِ فِي أُصُولِ دِينِهَا، وَكَثِيرٍ مِنْ فُرُوعِهِ مِنْ أَهْلِ
__________
Q (1) بياض بالأصل
قال الشيخ ناصر بن حمد الفهد (ص 14) :
` والظاهر أن موضع البياض هو تفسير ابن عمر رضي الله عنهما للبغي، وقد روى ابن جرير رحمه الله في تفسيره (3 / 231) عن ابن عمر في تفسير قوله تعالى: {بَغْيًا بَيْنَهُمْ} من سورة آل عمران: ` بغيًا على الدنيا، وطلبَ ملكها وسلطانها، فقتل بعضهم بعضًا على الدنيا، من بعد ما كانوا علماءَ الناس ` `.
প্রথমত: তিনি আমাদের জন্য সাধারণ দ্বীনকে শরীয়তসম্মত করেছেন, আর তা হলো সাধারণ ইসলাম ও ঈমান; এবং আমাদের জন্য বিশেষ দ্বীনকে শরীয়তসম্মত করেছেন, আর তা হলো বিশেষ ইসলাম ও ঈমান। দ্বিতীয়ত: তিনি আমাদের এই সম্পূর্ণ দ্বীন—সাধারণ ও বিশেষ—উভয়কেই প্রতিষ্ঠা (ইক্বামাত) করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এতে বিভক্ত হতে নিষেধ করেছেন। তৃতীয়ত: তিনি রাসূলগণকে সাধারণ দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এতে বিভক্ত হতে নিষেধ করেছেন। চতুর্থত: যখন তিনি তাঁর বাণী: {وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إلَيْكَ} (আর যা আমি আপনার প্রতি ওহী করেছি) দ্বারা তাঁর বাণী: {مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا} (যা তিনি নূহকে ওসীয়ত করেছিলেন) এবং তাঁর বাণী: {وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى} (আর যা আমি ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে ওসীয়ত করেছিলাম) এর মধ্যে পার্থক্য (ফাসাল) করেছেন, তখন তা এই অর্থই প্রদান করে।

অতঃপর তিনি এর পরে বলেছেন: {وَمَا تَفَرَّقُوا إلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ} (তাদের নিকট জ্ঞান আসার পরই তারা কেবল নিজেদের মধ্যে বিদ্বেষবশত বিভক্ত হয়েছে)। সুতরাং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাদের এই বিভক্তি কেবল সেই জ্ঞান আসার পরেই হয়েছে, যা তাদের জন্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা কী থেকে বাঁচবে (পরহেয করবে); কারণ আল্লাহ এমন নন যে, কোনো জাতিকে পথ দেখানোর পর তিনি তাদের পথভ্রষ্ট করবেন, যতক্ষণ না তিনি তাদের জন্য স্পষ্ট করে দেন যে তারা কী থেকে বাঁচবে। [আর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা কেবল বিদ্বেষবশতই বিভক্ত হয়েছে। আর 'আল-বাগয়ু' (বিদ্বেষ/সীমালঙ্ঘন) হলো সীমা অতিক্রম করা, যেমনটি ইবনু উমার (রাঃ) বলেছেন: অহংকার ও হিংসা (আল-কিবরু ওয়াল-হাসাদ)]। আর এটি সেই ইজতিহাদজনিত বিভক্তির বিপরীত, যা জ্ঞানের ভিত্তিতে হয়নি এবং যার উদ্দেশ্য বিদ্বেষ ছিল না, যেমনটি উলামাদের মধ্যে অনুমোদিত মতপার্থক্য (তানাজুউল উলামা আস-সাইগ)। আর বিদ্বেষ (আল-বাগয়ু) হয় হক নষ্ট করা, নয়তো সীমা লঙ্ঘন করা। সুতরাং তা হয় ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক) ত্যাগ করা, নয়তো হারাম (নিষিদ্ধ) কাজ করা। অতএব, জানা গেল যে, বিভক্তির মূল কারণ হলো এটাই।

আর এটি তেমনই, যেমন তিনি আহলে কিতাব (কিতাবধারী) সম্পর্কে বলেছেন: {وَمِنَ الَّذِينَ قَالُوا إنَّا نَصَارَى أَخَذْنَا مِيثَاقَهُمْ فَنَسُوا حَظًّا مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ فَأَغْرَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ} (আর যারা বলে, ‘আমরা নাসারা (খ্রিস্টান)’, আমি তাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম। অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা তার একটি অংশ ভুলে গেল। ফলে আমি তাদের মধ্যে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে দিলাম)। সুতরাং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তার একটি অংশ ভুলে যাওয়া—আর তা হলো তাদেরকে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তার কিছু অংশ অনুযায়ী আমল (কাজ) করা ছেড়ে দেওয়া—তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টির কারণ ছিল। আর আমাদের মিল্লাতের (ধর্মের) অনুসারীদের ক্ষেত্রেও এমনটিই ঘটে থাকে, যেমনটি আমরা দেখতে পাই সেইসব দল-উপদলের মধ্যে, যারা তাদের দ্বীনের মৌলিক বিষয়াদি (উসূল) এবং এর বহু শাখা-প্রশাখাগত (ফুরু') বিষয়ে মতবিরোধ করে থাকে, যারা হলো আহলে— (১)

***
(১) মূল আরবী পাণ্ডুলিপিতে এখানে অসম্পূর্ণতা (بياض) রয়েছে। শায়খ নাসির বিন হামদ আল-ফাহদ (পৃ. ১৪) বলেছেন: "স্পষ্টত, এই অসম্পূর্ণ অংশটি হলো ইবনু উমার (রাঃ)-এর বাগয়ু-এর ব্যাখ্যা। ইমাম ইবনু জারীর (রহ.) তাঁর তাফসীরে (৩/২৩১) ইবনু উমার (রাঃ) থেকে সূরা আলে ইমরানের {بَغْيًا بَيْنَهُمْ} এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন: ‘দুনিয়ার প্রতি বিদ্বেষবশত, এবং এর রাজত্ব ও কর্তৃত্বের আকাঙ্ক্ষায়। তারা জ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও দুনিয়ার জন্য একে অপরকে হত্যা করেছে।’"
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ১৫)
الْأُصُولِ وَالْفُرُوعِ وَمِثْلَمَا نَجِدُهُ بَيْنَ الْعُلَمَاءِ وَبَيْنَ الْعِبَادِ؛ مِمَّنْ يَغْلِبُ عَلَيْهِ الموسوية أَوْ العيسوية حَتَّى يَبْقَى فِيهِمْ شَبَهٌ مِنْ الْأُمَّتَيْنِ اللَّتَيْنِ قَالَتْ كُلُّ وَاحِدَةٍ: لَيْسَتْ الْأُخْرَى عَلَى شَيْءٍ. كَمَا نَجِدُ الْمُتَفَقِّهَ الْمُتَمَسِّكَ مِنْ الدِّينِ بِالْأَعْمَالِ الظَّاهِرَةِ وَالْمُتَصَوِّفَ الْمُتَمَسِّكَ مِنْهُ بِأَعْمَالِ بَاطِنَةٍ كُلٌّ مِنْهُمَا يَنْفِي طَرِيقَةَ الْآخَرِ وَيَدَّعِي أَنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِ الدِّينِ، أَوْ يُعْرِضُ عَنْهُ إعْرَاضَ مَنْ لَا يَعُدُّهُ مِنْ الدِّينِ؛ فَتَقَعُ بَيْنَهُمَا الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ. وَذَلِكَ: أَنَّ اللَّهَ أَمَرَ بِطَهَارَةِ الْقَلْبِ، وَأَمَرَ بِطَهَارَةِ الْبَدَنِ، وَكِلَا الطَّهَارَتَيْنِ مِنْ الدِّينِ الَّذِي أَمَرَ اللَّهُ بِهِ وَأَوْجَبَهُ. قَالَ تَعَالَى: {مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ} وَقَالَ: {فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ} وَقَالَ: {إنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ} وَقَالَ: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا} وَقَالَ: {أُولَئِكَ الَّذِينَ لَمْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يُطَهِّرَ قُلُوبَهُمْ} وقال: {إنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ} وَقَالَ: {إنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا} . فَنَجِدُ كَثِيرًا مِنْ الْمُتَفَقِّهَةِ وَالْمُتَعَبِّدَةِ، إنَّمَا هِمَّتُهُ طَهَارَة الْبَدَنِ فَقَطْ، وَيَزِيدُ فِيهَا عَلَى الْمَشْرُوعِ اهْتِمَامًا وَعَمَلًا. وَيَتْرُكُ مِنْ طَهَارَةِ الْقَلْبِ مَا أُمِرَ بِهِ؛ إيجَابًا، أَوْ اسْتِحْبَابًا، وَلَا يَفْهَمُ مِنْ الطَّهَارَةِ إلَّا ذَلِكَ. وَنَجِدُ كَثِيرًا مِنْ الْمُتَصَوِّفَةِ وَالْمُتَفَقِّرَةِ، إنَّمَا هَمَّتْهُ طِهَارَةُ الْقَلْبِ فَقَطْ؛ حَتَّى يَزِيدَ فِيهَا عَلَى الْمَشْرُوعِ اهْتِمَامًا وَعَمَلًا؛ وَيَتْرُكُ مِنْ طَهَارَةِ الْبَدَنِ مَا أُمِرَ بِهِ إيجَابًا، أَوْ اسْتِحْبَابًا. فَالْأَوَّلُونَ يَخْرُجُونَ إلَى الْوَسْوَسَةِ الْمَذْمُومَةِ فِي كَثْرَةِ صَبِّ الْمَاءِ، وَتَنْجِيسِ مَا لَيْسَ بِنَجِسِ، وَاجْتِنَابِ مَا لَا يُشْرَعُ اجْتِنَابُهُ مَعَ اشْتِمَالِ قُلُوبِهِمْ عَلَى أَنْوَاعٍ مِنْ
মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায়। এবং যেমনটি আমরা দেখতে পাই আলিমগণ ও আবিদগণের (ইবাদতকারী) মধ্যে; যাদের উপর মুসাভিয়্যাহ (বাহ্যিক শরীয়ত) অথবা ঈসাভিয়্যাহ (আধ্যাত্মিকতা) প্রভাব বিস্তার করে, এমনকি তাদের মধ্যে সেই দুই উম্মতের সাদৃশ্য অবশিষ্ট থাকে, যাদের প্রত্যেকেই বলেছিল: অপরটি কোনো কিছুর উপর প্রতিষ্ঠিত নয়।

যেমন আমরা দেখতে পাই সেই ফকীহকে (ফিকহবিদ) যিনি দীনের বাহ্যিক আমলসমূহকে আঁকড়ে ধরেন, এবং সেই মুতাসাওয়িফকে (সুফী) যিনি দীনের অভ্যন্তরীণ আমলসমূহকে আঁকড়ে ধরেন। তাদের প্রত্যেকেই অপরের পদ্ধতিকে অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে সে দীনের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত নয়, অথবা সে তার থেকে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয় যেন সে এটিকে দীনের অংশই মনে করে না; ফলে তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়।

আর এর কারণ হলো: আল্লাহ তাআলা হৃদয়ের পবিত্রতার নির্দেশ দিয়েছেন এবং দেহের পবিত্রতারও নির্দেশ দিয়েছেন। আর এই উভয় পবিত্রতাই সেই দীনের অংশ যা আল্লাহ আদেশ করেছেন এবং ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক) করেছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ তোমাদের উপর কোনো সংকীর্ণতা চাপিয়ে দিতে চান না, বরং তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের উপর তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করতে চান} [সূরা আল-মায়েদা, ৫:৬]।

এবং তিনি বলেছেন: {সেখানে এমন লোক আছে যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে, আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন} [সূরা আত-তাওবা, ৯:১০৮]।

এবং তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন} [সূরা আল-বাকারা, ২:২২২]।

এবং তিনি বলেছেন: {তাদের সম্পদ থেকে সাদাকা গ্রহণ করুন, যা দ্বারা আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং পরিশুদ্ধ করবেন} [সূরা আত-তাওবা, ৯:১০৩]।

এবং তিনি বলেছেন: {এরা হলো তারা যাদের অন্তরকে আল্লাহ পবিত্র করতে চাননি} [সূরা আল-মায়েদা, ৫:৪১]।

এবং তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই মুশরিকরা (অংশীবাদীরা) অপবিত্র} [সূরা আত-তাওবা, ৯:২৮]।

এবং তিনি বলেছেন: {আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে, হে আহলে বাইত (নবী পরিবারের সদস্যগণ), এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে} [সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৩৩]।

সুতরাং আমরা অনেক ফিকহবিদ ও ইবাদতকারীকে দেখতে পাই, যাদের একমাত্র মনোযোগ হলো কেবল দেহের পবিত্রতা, এবং তারা মনোযোগ ও আমলের ক্ষেত্রে শরীয়ত-নির্ধারিত সীমার চেয়েও বেশি করে ফেলে। আর তারা হৃদয়ের পবিত্রতার সেই অংশটুকু ছেড়ে দেয় যা ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক) বা ইসতিহবাব (মুস্তাহাব) হিসেবে আদিষ্ট হয়েছে। আর তারা পবিত্রতা বলতে কেবল এটিই (বাহ্যিক পবিত্রতা) বোঝে।

আর আমরা অনেক মুতাসাওয়িফ (সুফী) ও মুতাফাক্কিরকে (ফকীর/দরবেশ) দেখতে পাই, যাদের একমাত্র মনোযোগ হলো কেবল হৃদয়ের পবিত্রতা; এমনকি তারা মনোযোগ ও আমলের ক্ষেত্রে শরীয়ত-নির্ধারিত সীমার চেয়েও বেশি করে ফেলে; আর তারা দেহের পবিত্রতার সেই অংশটুকু ছেড়ে দেয় যা ওয়াজিব বা ইসতিহবাব হিসেবে আদিষ্ট হয়েছে।

ফলে প্রথমোক্তরা (ফিকহবিদরা) নিন্দনীয় ওয়াসওয়াসার (শুচিবায়ু) দিকে ধাবিত হয়—যেমন অতিরিক্ত পানি ঢালা, যা নাপাক নয় তাকে নাপাক ঘোষণা করা, এবং যা পরিহার করা শরীয়তসম্মত নয় তা পরিহার করা—এর সাথে তাদের অন্তরসমূহ বিভিন্ন প্রকারের...
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ১৬)
الْحَسَدِ وَالْكِبْرِ وَالْغِلِّ لِإِخْوَانِهِمْ، وَفِي ذَلِكَ مُشَابَهَةٌ بَيِّنَةٌ لِلْيَهُودِ. وَالْآخَرُونَ يَخْرُجُونَ إلَى الْغَفْلَةِ الْمَذْمُومَةِ، فَيُبَالِغُونَ فِي سَلَامَةِ الْبَاطِنِ حَتَّى يَجْعَلُونَ الْجَهْلَ بِمَا تَجِبُ مَعْرِفَتُهُ مِنْ الشَّرِّ - الَّذِي يَجِبُ اتِّقَاؤُهُ - مِنْ سَلَامَةِ الْبَاطِنِ، وَلَا يُفَرِّقُونَ بَيْنَ سَلَامَةِ الْبَاطِنِ مِنْ إرَادَةِ الشَّرِّ الْمَنْهِيِّ عَنْهُ، وَبَيْنَ سَلَامَةِ الْقَلْبِ مِنْ مَعْرِفَةِ الشَّرِّ الْمَعْرِفَةَ الْمَأْمُورَ بِهَا ثُمَّ مَعَ هَذَا الْجَهْلِ وَالْغَفْلَةِ قَدْ لَا يَجْتَنِبُونَ النَّجَاسَاتِ، وَيُقِيمُونَ الطِّهَارَةَ الْوَاجِبَةَ مُضَاهَاةً لِلنَّصَارَى. وَتَقَعُ الْعَدَاوَةُ بَيْنَ الطَّائِفَتَيْنِ بِسَبَبِ تَرْكِ حَظٍّ مِمَّا ذُكِّرُوا بِهِ وَالْبَغْيِ الَّذِي هُوَ مُجَاوَزَةُ الْحَدِّ إمَّا تَفْرِيطًا وَتَضْيِيعًا لِلْحَقِّ، وَإِمَّا عُدْوَانًا وَفِعْلًا لِلظُّلْمِ. وَالْبَغْيُ تَارَةً يَكُونُ مِنْ بَعْضِهِمْ عَلَى بَعْضٍ وَتَارَةً يَكُونُ فِي حُقُوقِ اللَّهِ، وَهُمَا مُتَلَازِمَانِ وَلِهَذَا قَالَ: {بَغْيًا بَيْنَهُمْ} فَإِنَّ كُلَّ طَائِفَةٍ بَغَتْ عَلَى الْأُخْرَى، فَلَمْ تَعْرِفْ حَقَّهَا الَّذِي بِأَيْدِيهَا وَلَمْ تَكُفَّ عَنْ الْعُدْوَانِ عَلَيْهَا. وَقَالَ تَعَالَى: {وَمَا تَفَرَّقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَةُ} وَقَالَ تَعَالَى: {كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللَّهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ وَأَنْزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ وَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ إلَّا الَّذِينَ أُوتُوهُ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ} . وَقَالَ تَعَالَى: {وَلَقَدْ آتَيْنَا بَنِي إسْرَائِيلَ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ} الْآيَةَ وَقَالَ تَعَالَى فِي مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ مِثْلَ ذَلِكَ وَقَالَ: {وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ} وَقَالَ: {إنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ} وَقَالَ: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} {مُنِيبِينَ إلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ
হিংসা, অহংকার এবং তাদের ভাইদের প্রতি অন্তরের কালিমা (বিদ্বেষ)। আর এর মধ্যে ইয়াহুদীদের সাথে সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।

আর অন্য দলটি নিন্দিত উদাসীনতার (গাফলতি) দিকে ধাবিত হয়। ফলে তারা বাতেনের পবিত্রতার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে, এমনকি তারা সেই মন্দ বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞতাকে—যা জানা আবশ্যক এবং যা থেকে বেঁচে থাকা ফরয—বাতেনের পবিত্রতার অংশ বানিয়ে ফেলে। আর তারা নিষিদ্ধ মন্দের ইচ্ছা থেকে বাতেনের পবিত্রতা এবং আদেশকৃত জ্ঞান হিসেবে মন্দকে জানার মাধ্যমে অন্তরের সুস্থতার মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না।

এরপর এই অজ্ঞতা ও উদাসীনতার (গাফলতি) সাথে তারা নাপাকি (অপবিত্রতা) থেকে বিরত থাকে না এবং নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) সাদৃশ্য অবলম্বন করে ফরয পবিত্রতাও প্রতিষ্ঠা করে না।

আর এই দুই দলের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি হয়, কারণ তারা যে বিষয়ে উপদেশপ্রাপ্ত হয়েছে তার অংশবিশেষ ত্যাগ করে এবং সীমালঙ্ঘন (আল-বাগ্য) করে, যা হলো সীমা অতিক্রম করা—হয়তো হকের ক্ষেত্রে ত্রুটি ও অবহেলা (তাফরিত ও তাদয়ি') করার মাধ্যমে, অথবা বাড়াবাড়ি ও যুলুম (উদওয়ান ও যুলম) করার মাধ্যমে।

আর সীমালঙ্ঘন (আল-বাগ্য) কখনও কখনও তাদের একদল অন্য দলের উপর করে, আর কখনও কখনও তা আল্লাহর হকসমূহের ক্ষেত্রে হয়। আর এই দুটি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত (মুতালাযিমান)। এই কারণেই আল্লাহ বলেছেন: {بَغْيًا بَيْنَهُمْ} (তাদের পরস্পরের মধ্যে বিদ্বেষবশত)।

কারণ প্রত্যেক দলই অন্য দলের উপর সীমালঙ্ঘন করেছে। ফলে তারা তাদের হাতে থাকা হক (সত্য) সম্পর্কে অবগত হয়নি এবং তাদের উপর আক্রমণ (আল-উদওয়ান) করা থেকে বিরত থাকেনি।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {وَمَا تَفَرَّقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَةُ} (যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরই কেবল বিভক্ত হয়েছিল।)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللَّهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ وَأَنْزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ وَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ إلَّا الَّذِينَ أُوتُوهُ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ} (মানুষ ছিল একই উম্মত। অতঃপর আল্লাহ নবীগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করলেন এবং তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব নাযিল করলেন, যাতে তা মানুষের মধ্যে তারা যে বিষয়ে মতভেদ করত, সে বিষয়ে ফায়সালা করে দেয়। আর যাদেরকে তা দেওয়া হয়েছিল, তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পরও তারা কেবল পরস্পরের মধ্যে বিদ্বেষবশতই তাতে মতভেদ করেছিল।)

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {وَلَقَدْ آتَيْنَا بَنِي إسْرَائِيلَ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ} আয়াতটি। (আর অবশ্যই আমরা বনী ইসরাঈলকে কিতাব, হুকুমত ও নবুওয়াত দান করেছিলাম...)

আর আল্লাহ তাআলা মূসা ইবনে ইমরান (আলাইহিস সালাম)-এর ক্ষেত্রেও অনুরূপ বলেছেন।

আর তিনি বলেছেন: {وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ} (আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পরও বিভক্ত হয়েছে ও মতভেদ করেছে।)

আর তিনি বলেছেন: {إنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ} (নিশ্চয় যারা তাদের দ্বীনকে বিভক্ত করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কোনো কিছুর সাথেই তোমার সম্পর্ক নেই।)

আর তিনি বলেছেন: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} {مُنِيبِينَ إلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ} (সুতরাং তুমি একনিষ্ঠভাবে তোমার চেহারা দ্বীনের জন্য প্রতিষ্ঠিত করো। আল্লাহর প্রকৃতি (ফিতরাত), যার উপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। তোমরা তাঁর অভিমুখী হও এবং তাঁকে ভয় করো, আর সালাত প্রতিষ্ঠা করো এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না যারা...)
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ১৭)
الْمُشْرِكِينَ} {مِنَ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ} لِأَنَّ الْمُشْرِكِينَ كُلٌّ مِنْهُمْ يَعْبُدُ إلَهًا يَهْوَاهُ. كَمَا قَالَ فِي الْآيَةِ الْأُولَى: {كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إلَيْهِ} وَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} {وَإِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ} {فَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ زُبُرًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ} . فَظَهَرَ أَنَّ سَبَبَ الِاجْتِمَاعِ وَالْأُلْفَةِ جَمْعُ الدِّينِ وَالْعَمَلُ بِهِ كُلِّهِ، وَهُوَ عِبَادَةُ اللَّهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، كَمَا أَمَرَ بِهِ بَاطِنًا، وَظَاهِرًا. وَسَبَبُ الْفُرْقَةِ: تَرْكُ حَظٍّ مِمَّا أُمِرَ الْعَبْدُ بِهِ، وَالْبَغْيُ بَيْنَهُمْ. وَنَتِيجَةُ الْجَمَاعَةِ: رَحْمَةُ اللَّهِ، وَرِضْوَانُهُ، وَصَلَوَاتُهُ، وَسَعَادَةُ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَبَيَاضُ الْوُجُوهِ. وَنَتِيجَةُ الْفُرْقَةِ: عَذَابُ اللَّهِ، وَلَعْنَتُهُ، وَسَوَادُ الْوُجُوهِ، وَبَرَاءَةُ الرَّسُولِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْهُمْ. وَهَذَا أَحَدُ الْأَدِلَّةِ عَلَى أَنَّ الْإِجْمَاعَ حُجَّةٌ قَاطِعَةٌ، فَإِنَّهُمْ إذَا اجْتَمَعُوا كَانُوا مُطِيعِينَ لِلَّهِ بِذَلِكَ مَرْحُومِينَ، فَلَا تَكُونُ طَاعَةُ اللَّهِ وَرَحْمَتُهُ: بِفِعْلِ لَمْ يَأْمُرْ اللَّهُ بِهِ مِنْ اعْتِقَادٍ، أَوْ قَوْلٍ، أَوْ عَمَلٍ، فَلَوْ كَانَ الْقَوْلُ، أَوْ الْعَمَلُ الَّذِي اجْتَمَعُوا عَلَيْهِ لَمْ يَأْمُرْ اللَّهُ بِهِ لَمْ يَكُنْ ذَلِكَ طَاعَةً لِلَّهِ، وَلَا سَبَبًا لِرَحْمَتِهِ، وَقَدْ احْتَجَّ بِذَلِكَ أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ فِي أَوَّلِ ` التَّنْبِيهِ ` نَبَّهَ عَلَى هَذِهِ النُّكْتَةِ.
{মুশরিকদের} {যারা তাদের দ্বীনকে বিভক্ত করেছে এবং দলে দলে বিভক্ত হয়েছে, প্রত্যেক দল তাদের কাছে যা আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট}। কারণ মুশরিকদের প্রত্যেকেই এমন এক উপাস্যের ইবাদত করে যা সে কামনা করে (বা তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে)। যেমনটি তিনি প্রথম আয়াতে বলেছেন: {মুশরিকদের কাছে তা কঠিন মনে হয়েছে, যার দিকে আপনি তাদের আহ্বান করছেন}। এবং তিনি বলেছেন: {হে রাসূলগণ, আপনারা পবিত্র বস্তুসমূহ থেকে আহার করুন এবং সৎকর্ম করুন; আপনারা যা করেন সে সম্পর্কে আমি সম্যক অবগত}। {আর নিশ্চয়ই এই তোমাদের উম্মত—একই উম্মত, আর আমি তোমাদের রব; সুতরাং তোমরা আমাকে ভয় করো}। {কিন্তু তারা নিজেদের মধ্যে তাদের বিষয়টিকে খণ্ড খণ্ড করে ফেলেছে বিভিন্ন কিতাবে; প্রত্যেক দল তাদের কাছে যা আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট}।

সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, ঐক্য (আল-ইজতিমা') ও সম্প্রীতির (আল-উলফাহ) কারণ হলো দ্বীনকে একত্রিত করা এবং এর সম্পূর্ণ অংশের উপর আমল করা। আর তা হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, যার কোনো শরীক নেই—যেমনটি তিনি আদেশ করেছেন অভ্যন্তরীণভাবে (বাতিনান) ও বাহ্যিকভাবে (যাহিরান)।

আর বিভেদের (আল-ফুরকাহ) কারণ হলো: বান্দাকে যা আদেশ করা হয়েছে তার কোনো অংশ পরিত্যাগ করা এবং তাদের মাঝে সীমালঙ্ঘন (আল-বাগয়ু)।

আর ঐক্যের (আল-জামাআহ) ফলাফল হলো: আল্লাহর রহমত, তাঁর সন্তুষ্টি (রিদ্বওয়ান), তাঁর সালাত (প্রশংসা/দয়া), দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্য এবং মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হওয়া (বাইয়াযু’ল উজূহ)।

আর বিভেদের ফলাফল হলো: আল্লাহর আযাব, তাঁর অভিশাপ (লা’নত), মুখমণ্ডল কালো হওয়া (সাওয়াদু’ল উজূহ) এবং তাদের থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্পর্কহীনতা (বারাআত)।

আর এটি সেই প্রমাণগুলোর মধ্যে একটি যে, ইজমা (ঐকমত্য) একটি অকাট্য প্রমাণ (হুজজাহ ক্বাতিআহ)। কারণ, যখন তারা ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন তারা এর মাধ্যমে আল্লাহর অনুগত হয় এবং রহমতপ্রাপ্ত হয়। সুতরাং আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর রহমত এমন কোনো কাজ দ্বারা হতে পারে না যা আল্লাহ আদেশ করেননি—তা আকীদা (বিশ্বাস), কথা বা আমল (কর্ম) যাই হোক না কেন। যদি তারা যে কথা বা কাজের উপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তা আল্লাহ আদেশ না করে থাকেন, তবে তা আল্লাহর আনুগত্য হবে না এবং তাঁর রহমতের কারণও হবে না।

আর আবু বকর আব্দুল আযীয তাঁর ‘আত-তানবীহ’ গ্রন্থের শুরুতে এই সূক্ষ্ম বিষয়টি (আন-নুকতা) দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَقَالَ:
فَصْلٌ:
قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْحَدِيثِ الْمَشْهُورِ فِي السُّنَنِ مِنْ رِوَايَةِ فَقِيهَيْ الصَّحَابَةِ: عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ {ثَلَاثٌ لَا يَغِلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ مُسْلِمٍ إخْلَاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ، وَمُنَاصَحَةُ وُلَاةِ الْأَمْرِ وَلُزُومُ جَمَاعَةِ الْمُسْلِمِينَ؛ فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تُحِيطُ مِنْ وَرَائِهِمْ} وَفِي حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ الْمَحْفُوظِ: {إنَّ اللَّهَ يَرْضَى لَكُمْ ثَلَاثًا: أَنْ تَعْبُدُوهُ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَأَنْ تَعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا، وَأَنْ تَنَاصَحُوا مَنْ وَلَّاهُ اللَّهُ أَمْرَكُمْ} . فَقَدْ جَمَعَ فِي هَذِهِ الْأَحَادِيثِ بَيْنَ الْخِصَالِ الثَّلَاثِ؛ إخْلَاصِ الْعَمَلِ لِلَّهِ وَمُنَاصَحَةِ أُولِي الْأَمْرِ وَلُزُومِ جَمَاعَةِ الْمُسْلِمِينَ، وَهَذِهِ الثَّلَاثُ تَجْمَعُ أُصُولَ الدِّينِ وَقَوَاعِدَهُ وَتَجْمَعُ الْحُقُوقَ الَّتِي لِلَّهِ وَلِعِبَادِهِ، وَتَنْتَظِمُ مَصَالِحَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ. وَبَيَانُ ذَلِكَ أَنَّ الْحُقُوقَ قِسْمَانِ: حَقٌّ لِلَّهِ وَحَقٌّ لِعِبَادِهِ، فَحَقُّ اللَّهِ أَنْ نَعْبُدَهُ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا، كَمَا جَاءَ لَفْظُهُ فِي أَحَدِ الْحَدِيثَيْنِ؛ وَهَذَا مَعْنَى إخْلَاصِ الْعَمَلِ لِلَّهِ، كَمَا جَاءَ فِي الْحَدِيثِ الْآخَرِ. وَحُقُوقُ الْعِبَادِ قِسْمَانِ: خَاصٌّ وَعَامٌّ؛ أَمَّا الْخَاصُّ فَمِثْلُ بِرِّ كُلِّ إنْسَانٍ وَالِدَيْهِ، وَحَقِّ زَوْجَتِهِ وَجَارِهِ؛ فَهَذِهِ مِنْ فُرُوعِ الدِّينِ؛ لِأَنَّ الْمُكَلَّفَ قَدْ يَخْلُو عَنْ وُجُوبِهَا عَلَيْهِ؛ وَلِأَنَّ مَصْلَحَتَهَا خَاصَّةٌ فَرْدِيَّةٌ. وَأَمَّا الْحُقُوقُ الْعَامَّةُ فَالنَّاسُ نَوْعَانِ: رُعَاةٌ وَرَعِيَّةٌ؛ فَحُقُوقُ الرُّعَاةِ مُنَاصَحَتُهُمْ؛ وَحُقُوقُ الرَّعِيَّةِ لُزُومُ جَمَاعَتِهِمْ؛ فَإِنَّ مَصْلَحَتَهُمْ لَا تَتِمُّ إلَّا بِاجْتِمَاعِهِمْ، وَهُمْ لَا يَجْتَمِعُونَ
তিনি বলেন: পরিচ্ছেদ (ফাসল):

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ গ্রন্থসমূহে বর্ণিত সাহাবীগণের দুই ফকীহ—আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ ও যায়িদ ইবনে সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সূত্রে বর্ণিত প্রসিদ্ধ হাদীসে বলেছেন: "তিনটি বিষয় এমন, যার উপর কোনো মুসলিমের অন্তর বিদ্বেষ পোষণ করে না: আল্লাহর জন্য কর্মে ইখলাস (একনিষ্ঠতা), শাসকবর্গকে (উলাতুল আমর) আন্তরিক উপদেশ দেওয়া এবং মুসলিম জামাআতকে আঁকড়ে থাকা; কারণ তাদের দাওয়াত (আহ্বান) তাদের পিছন থেকে পরিবেষ্টন করে রাখে।"

আর আবূ হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সংরক্ষিত হাদীসে রয়েছে: "নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য তিনটি বিষয় পছন্দ করেন: তোমরা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না; তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে (হাবলিল্লাহ) দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে এবং বিচ্ছিন্ন হবে না; আর আল্লাহ যাদেরকে তোমাদের শাসক বানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক উপদেশ দেবে।"

এই হাদীসসমূহে তিনি তিনটি গুণের সমন্বয় ঘটিয়েছেন: আল্লাহর জন্য কর্মে ইখলাস, উলিউল আমরকে (শাসকদের) আন্তরিক উপদেশ দেওয়া এবং মুসলিম জামাআতকে আঁকড়ে থাকা। এই তিনটি বিষয় দীনের মূলনীতি ও ভিত্তিগুলোকে একত্রিত করে, আর আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের যে হকসমূহ (অধিকার) রয়েছে, সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে, এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণসমূহকে সুসংগঠিত করে।

এর ব্যাখ্যা হলো এই যে, হকসমূহ দুই প্রকার: আল্লাহর হক এবং তাঁর বান্দাদের হক। আল্লাহর হক হলো—আমরা তাঁর ইবাদত করব এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করব না, যেমনটি দুই হাদীসের একটিতে এর শব্দাবলী এসেছে; আর এটাই হলো আল্লাহর জন্য কর্মে ইখলাস (একনিষ্ঠতা)-এর অর্থ, যেমনটি অন্য হাদীসে এসেছে।

আর বান্দাদের হক দুই প্রকার: বিশেষ (খাস) ও সাধারণ (আম)। বিশেষ হক হলো—যেমন প্রত্যেক ব্যক্তির তার পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার, তার স্ত্রী ও প্রতিবেশীর হক; এগুলো দীনের শাখা-প্রশাখার (ফুরু'উদ্দীন) অন্তর্ভুক্ত; কারণ মুকাল্লাফ (শরীয়তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) এর বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত থাকতে পারে; আর কারণ এর কল্যাণ বিশেষ ও ব্যক্তিগত।

আর সাধারণ হকসমূহের ক্ষেত্রে, মানুষ দুই প্রকার: শাসকবর্গ (রু'আত) ও শাসিত জনগণ (রা'ইয়্যাহ)। সুতরাং শাসকবর্গের হক হলো তাদের প্রতি আন্তরিক উপদেশ দেওয়া; আর শাসিত জনগণের হক হলো তাদের জামাআতকে আঁকড়ে থাকা; কারণ তাদের কল্যাণ তাদের ঐক্যের মাধ্যমেই কেবল পূর্ণতা লাভ করে, আর তারা একত্রিত হয় না।
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ১৯)
عَلَى ضَلَالَةٍ؛ بَلْ مَصْلَحَةُ دِينِهِمْ وَدُنْيَاهُمْ فِي اجْتِمَاعِهِمْ وَاعْتِصَامِهِمْ بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا؛ فَهَذِهِ الْخِصَالُ تَجْمَعُ أُصُولَ الدِّينِ. وَقَدْ جَاءَتْ مُفَسَّرَةً فِي الْحَدِيثِ الَّذِي رَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ تَمِيمٍ الداري قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ {الدِّينُ النَّصِيحَةُ الدِّينُ النَّصِيحَةُ الدِّينُ النَّصِيحَةُ قَالُوا: لِمَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: لِلَّهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ} . فَالنَّصِيحَةُ لِلَّهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ تَدْخُلُ فِي حَقِّ اللَّهِ وَعِبَادَتِهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَالنَّصِيحَةُ لِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ هِيَ مُنَاصَحَةُ وُلَاةِ الْأَمْرِ وَلُزُومُ جَمَاعَتِهِمْ، فَإِنَّ لُزُومَ جَمَاعَتِهِمْ هِيَ نَصِيحَتُهُمْ الْعَامَّةُ، وَأَمَّا النَّصِيحَةُ الْخَاصَّةُ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ بِعَيْنِهِ، فَهَذِهِ يُمْكِنُ بَعْضُهَا وَيَتَعَذَّرُ اسْتِيعَابُهَا عَلَى سَبِيلِ التَّعْيِينِ.
ভ্রান্তির উপর থাকা [উচিত নয়]; বরং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ নিহিত রয়েছে তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং সম্মিলিতভাবে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করার মধ্যে। এই গুণাবলীগুলো দ্বীনের মূলনীতিসমূহকে একত্রিত করে।

আর এই বিষয়গুলো ব্যাখ্যাসহ এসেছে সেই হাদীসে, যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন তামীম আদ-দারী (রাঃ) থেকে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: {দ্বীন হলো নসীহত, দ্বীন হলো নসীহত, দ্বীন হলো নসীহত। সাহাবীগণ বললেন: কার জন্য, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিমদের ইমামদের (নেতাদের) জন্য এবং তাদের সাধারণ জনগণের জন্য।}

সুতরাং, আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য এবং তাঁর রাসূলের জন্য নসীহত (আন্তরিকতা/সততা) আল্লাহর হক্ব (অধিকার) এবং তাঁর একক ইবাদতের (উপাসনার) অন্তর্ভুক্ত, যার কোনো শরীক নেই।

আর মুসলিমদের ইমামগণ (নেতৃবৃন্দ) ও সাধারণ জনগণের জন্য নসীহত হলো উলিল আমরদের (ক্ষমতাসীনদের) প্রতি আন্তরিকতা প্রদর্শন এবং তাদের জামাআতকে (ঐক্যবদ্ধ দলকে) আঁকড়ে ধরা। কেননা তাদের জামাআতকে ধরে রাখাটাই হলো তাদের প্রতি সাধারণ নসীহত। কিন্তু তাদের প্রত্যেকের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে (ব্যক্তিগতভাবে) যে বিশেষ নসীহত, তার কিছু অংশ সম্ভব হলেও, সুনির্দিষ্টভাবে সকলের প্রতি তা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা কঠিন।
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ২০)
وَقَالَ شَيْخُ الْإِسْلَامِ - قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ -:
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا.
وَبَعْدُ: فَهَذِهِ قَاعِدَةٌ جَلِيلَةٌ فِي تَوْحِيدِ اللَّهِ، وَإِخْلَاصِ الْوَجْهِ وَالْعَمَلِ لَهُ، عِبَادَةً وَاسْتِعَانَةً قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ} الْآيَةَ. وَقَالَ تَعَالَى: {وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ ثُمَّ إذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فَإِلَيْهِ تَجْأَرُونَ} . وَقَالَ تَعَالَى: {وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إلَّا هُوَ وَإِنْ يَمْسَسْكَ بِخَيْرٍ فَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} . وَقَالَ تَعَالَى فِي الْآيَةِ الْأُخْرَى: {وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إلَّا هُوَ وَإِنْ يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَادَّ لِفَضْلِهِ} . وَقَالَ تَعَالَى: {إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} . وَقَالَ تَعَالَى: {فَاعْبُدْهُ وَتَوَكَّلْ عَلَيْهِ} . وَقَالَ تَعَالَى: {عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} . وَقَالَ تَعَالَى: {يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} . وَقَالَ تَعَالَى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ} . وَقَالَ تَعَالَى: {قُلْ أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ إنْ أَرَادَنِيَ اللَّهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِّهِ أَوْ أَرَادَنِي بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَاتُ رَحْمَتِهِ} الْآيَةَ.
শাইখুল ইসলাম—আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন—বলেন:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর পরিপূর্ণ শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন।

অতঃপর: এটি আল্লাহর তাওহীদ (একত্ববাদ), এবং ইবাদত (উপাসনা) ও ইসতি'আনাহ (সাহায্য প্রার্থনা) হিসেবে তাঁর জন্য মুখ ও আমলকে একনিষ্ঠ করার বিষয়ে একটি মহান মূলনীতি।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলো, হে আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দাও এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নাও। তুমি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করো এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত করো} আয়াতটি।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তোমাদের কাছে যে কোনো নিয়ামত আছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই। অতঃপর যখন তোমাদেরকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন তোমরা তাঁরই কাছে উচ্চস্বরে ফরিয়াদ করো}।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো কষ্ট দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার আর কেউ নেই। আর যদি তিনি তোমাকে কোনো কল্যাণ দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান}।

আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেন: {আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো কষ্ট দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার আর কেউ নেই। আর যদি তিনি তোমার কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউ নেই}।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং কেবল তোমারই সাহায্য চাই}।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {সুতরাং তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁর উপর ভরসা করো}।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাঁরই উপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি}।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই। আর তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান}।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {সুতরাং জেনে রাখো যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আর তুমি তোমার ত্রুটির জন্য এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো}।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলো, তোমরা কি ভেবে দেখেছো, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে ডাকো, আল্লাহ যদি আমার কোনো ক্ষতি করার ইচ্ছা করেন, তবে কি তারা তাঁর সেই ক্ষতি দূর করতে সক্ষম? অথবা তিনি যদি আমার প্রতি রহমত করার ইচ্ছা করেন, তবে কি তারা তাঁর সেই রহমতকে আটকে রাখতে সক্ষম?} আয়াতটি।
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ২১)
وَقَالَ تَعَالَى: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِنْ شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُمْ مِنْ ظَهِيرٍ} {وَلَا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ عِنْدَهُ إلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ} وَقَالَ تَعَالَى: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِهِ فَلَا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنْكُمْ وَلَا تَحْوِيلًا} {أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا} وَقَالَ تَعَالَى: {وَلَا تَدْعُ مَعَ اللَّهِ إلَهًا آخَرَ لَا إلَهَ إلَّا هُوَ كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إلَّا وَجْهَهُ لَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} وَقَالَ تَعَالَى: {وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ وَسَبِّحْ بِحَمْدِهِ وَكَفَى بِهِ بِذُنُوبِ عِبَادِهِ خَبِيرًا} {الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا} الْآيَةَ. وَقَالَ تَعَالَى: {وَمَا أُمِرُوا إلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ} الْآيَةَ. وَنَظَائِرُ هَذَا فِي الْقُرْآنِ كَثِيرٌ، وَكَذَلِكَ فِي الْأَحَادِيثِ، وَكَذَلِكَ فِي إجْمَاعِ الْأُمَّةِ لَا سِيَّمَا أَهْلُ الْعِلْمِ وَالْإِيمَانِ مِنْهُمْ، فَإِنَّ هَذَا عِنْدَهُمْ قُطْبُ رَحَى الدِّينِ كَمَا هُوَ الْوَاقِعُ. وَنُبَيِّنُ هَذَا بِوُجُوهِ نُقَدِّمُ قَبْلَهَا مُقَدِّمَةً. وَذَلِكَ أَنَّ الْعَبْدَ بَلْ كُلُّ حَيٍّ بَلْ وَكُلُّ مَخْلُوقٍ سِوَى اللَّهِ هُوَ فَقِيرٌ مُحْتَاجٌ إلَى جَلْبِ مَا يَنْفَعُهُ وَدَفْعِ مَا يَضُرُّهُ، وَالْمَنْفَعَةُ لِلْحَيِّ هِيَ مِنْ جِنْسِ النَّعِيمِ وَاللَّذَّةِ؛ وَالْمَضَرَّةُ هِيَ مِنْ جِنْسِ الْأَلَمِ وَالْعَذَابِ؛ فَلَا بُدَّ لَهُ مِنْ أَمْرَيْنِ: أَحَدُهُمَا: هُوَ الْمَطْلُوبُ الْمَقْصُودُ الْمَحْبُوبُ الَّذِي يُنْتَفَعُ وَيُلْتَذُّ بِهِ.
وَالثَّانِي: هُوَ الْمُعِينُ الْمُوَصِّلُ الْمُحَصِّلُ لِذَلِكَ الْمَقْصُودِ وَالْمَانِعُ مِنْ دَفْعِ الْمَكْرُوهِ. وَهَذَانِ هُمَا الشَّيْئَانِ الْمُنْفَصِلَانِ الْفَاعِلُ وَالْغَايَةُ فَهُنَا أَرْبَعَةُ أَشْيَاءَ: أَحَدُهَا: أَمْرٌ هُوَ مَحْبُوبٌ مَطْلُوبُ الْوُجُودِ.
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলো, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে (উপাস্য) মনে করতে, তাদেরকে ডাকো। তারা আসমানসমূহে বা যমীনে অণু পরিমাণ কিছুরও মালিক নয়। আর এ দু’টির মধ্যে তাদের কোনো অংশীদারিত্বও নেই এবং তাদের মধ্যে কেউ তাঁর (আল্লাহর) সাহায্যকারীও নয়।} {আর তাঁর কাছে সুপারিশও কারো জন্য ফলপ্রসূ হবে না, তবে যার জন্য তিনি অনুমতি দেবেন।} (সূরা সাবা ৩৪:২২-২৩)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {বলো, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে (উপাস্য) মনে করতে, তাদেরকে ডাকো। তারা তোমাদের থেকে কোনো কষ্ট দূর করার বা তা পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে না।} {যাদেরকে তারা ডাকে, তারা নিজেরাই তাদের রবের নৈকট্য লাভের জন্য ওসিলা (মাধ্যম) সন্ধান করে— তাদের মধ্যে কে অধিক নিকটবর্তী। আর তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয়ই তোমার রবের শাস্তি ছিল ভীতিকর।} (সূরা আল-ইসরা ১৭:৫৬-৫৭)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডেকো না। তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। তাঁর সত্তা (وجهه) ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল। বিধান (الحُكْم) তাঁরই এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।} (সূরা আল-কাসাস ২৮:৮৮)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর তুমি সেই চিরঞ্জীবের উপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) করো, যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না, আর তাঁর প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করো। তাঁর বান্দাদের পাপ সম্পর্কে তিনিই যথেষ্ট খবর রাখেন।} {যিনি আসমানসমূহ ও যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সৃষ্টি করেছেন।} (সম্পূর্ণ আয়াতটি) (সূরা আল-ফুরকান ২৫:৫৮-৫৯)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে, তাঁর জন্য দীনকে একনিষ্ঠ (ইখলাসপূর্ণ) করে, একমুখী (হুনফা) হয়ে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে।} (সম্পূর্ণ আয়াতটি) (সূরা আল-বাইয়্যিনাহ ৯৮:৫)

আর কুরআনে এর অনুরূপ বিষয়বস্তু প্রচুর রয়েছে। অনুরূপভাবে হাদীসসমূহেও রয়েছে, এবং উম্মাহর ইজমা’র (ঐক্যমতের) মধ্যেও রয়েছে— বিশেষত তাদের মধ্যে যারা ইলম ও ঈমানের অধিকারী। কেননা, এটি (তাওহীদ) তাদের নিকট দ্বীনের মূল কেন্দ্রবিন্দু (কুতুবু রাহাল-দীন), যেমনটি বাস্তবেও তাই।

আমরা এই বিষয়টিকে বিভিন্ন দিক থেকে ব্যাখ্যা করব, যার পূর্বে আমরা একটি ভূমিকা পেশ করব।

আর তা হলো এই যে, বান্দা— বরং প্রত্যেকটি জীবন্ত সত্তা, বরং আল্লাহ ব্যতীত প্রত্যেকটি সৃষ্টিই— অভাবী (ফকীর), যা তার জন্য উপকারী তা অর্জন করতে এবং যা ক্ষতিকর তা প্রতিহত করতে মুখতাজ (প্রয়োজনশীল)।

আর জীবন্ত সত্তার জন্য উপকার হলো নিয়ামত (সুখ) ও আনন্দের (লাযযাত) প্রকারভুক্ত; আর ক্ষতি হলো যন্ত্রণা (আলম) ও শাস্তির (আযাব) প্রকারভুক্ত। সুতরাং তার জন্য দুটি বিষয় অপরিহার্য:

প্রথমত: যা কাঙ্ক্ষিত (মাতলুব), উদ্দেশ্য (মাকসূদ) এবং প্রিয়— যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় ও আনন্দ লাভ করা যায়।

আর দ্বিতীয়ত: যা সেই উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়তাকারী (মুঈন), পৌঁছিয়ে দেয় (মুওয়াসসিল) এবং তা হাসিলকারী (মুহাসসিল), এবং যা অপছন্দনীয় (মাকরূহ) তা প্রতিহত করতে বাধা প্রদানকারী।

আর এই দুটি হলো পৃথক দুটি বিষয়: কর্তা (ফাইল) এবং লক্ষ্য (গায়াহ)। সুতরাং এখানে চারটি বিষয় রয়েছে: প্রথমত: একটি বিষয় যা প্রিয় এবং যার অস্তিত্ব কাম্য (মাতলুবুল-উজুদ)।
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ২২)
وَالثَّانِي: أَمْرٌ مَكْرُوهٌ مُبْغَضٌ مَطْلُوبُ الْعَدَمِ. وَالثَّالِثُ: الْوَسِيلَةُ إلَى حُصُولِ الْمَطْلُوبِ الْمَحْبُوبِ. وَالرَّابِعُ: الْوَسِيلَةُ إلَى دَفْعِ الْمَكْرُوهِ، فَهَذِهِ الْأَرْبَعَةُ الْأُمُورِ ضَرُورِيَّةٌ لِلْعَبْدِ بَلْ وَلِكُلِّ حَيٍّ لَا يَقُومُ وُجُودُهُ وَصَلَاحُهُ إلَّا بِهَا؛ وَأَمَّا مَا لَيْسَ بِحَيِّ فَالْكَلَامُ فِيهِ عَلَى وَجْهٍ آخَرَ. إذَا تَبَيَّنَ ذَلِكَ فَبَيَانُ مَا ذَكَرْتُهُ مِنْ وُجُوهٍ: - أَحَدُهَا: أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى هُوَ الَّذِي يُحِبُّ أَنْ يَكُونَ هُوَ الْمَقْصُودَ الْمَدْعُوَّ الْمَطْلُوبَ، وَهُوَ الْمُعِينُ عَلَى الْمَطْلُوبِ وَمَا سِوَاهُ هُوَ الْمَكْرُوهُ، وَهُوَ الْمُعِينُ عَلَى دَفْعِ الْمَكْرُوهِ؛ فَهُوَ سُبْحَانَهُ الْجَامِعُ لِلْأُمُورِ الْأَرْبَعَةِ دُونَ مَا سِوَاهُ، وَهَذَا مَعْنَى قَوْلِهِ: {إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} فَإِنَّ الْعُبُودِيَّةَ تَتَضَمَّنُ الْمَقْصُودَ الْمَطْلُوبَ؛ لَكِنْ عَلَى أَكْمَلِ الْوُجُوهِ، وَالْمُسْتَعَانُ هُوَ الَّذِي يُسْتَعَانُ بِهِ عَلَى الْمَطْلُوبِ؛ فَالْأَوَّلُ مِنْ مَعْنَى الْأُلُوهِيَّةِ. وَالثَّانِي مِنْ مَعْنَى الرُّبُوبِيَّةِ؛ إذْ الْإِلَهُ: هُوَ الَّذِي يُؤَلَّهُ فَيُعْبَدُ مَحَبَّةً وَإِنَابَةً وَإِجْلَالًا وَإِكْرَامًا وَالرَّبُّ: هُوَ الَّذِي يُرَبِّي عَبْدَهُ فَيُعْطِيهِ خَلْقَهُ ثُمَّ يَهْدِيهِ إلَى جَمِيعِ أَحْوَالِهِ مِنْ الْعِبَادَةِ وَغَيْرِهَا؛ وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى: {عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} . وَقَوْلُهُ: {فَاعْبُدْهُ وَتَوَكَّلْ عَلَيْهِ} . وَقَوْلُهُ: {عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ} . وقَوْله تَعَالَى {وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ وَسَبِّحْ بِحَمْدِهِ} . وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ مَتَابِ} وَقَوْلُهُ: {وَتَبَتَّلْ إلَيْهِ تَبْتِيلًا} {رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ لَا إلَهَ إلَّا هُوَ فَاتَّخِذْهُ وَكِيلًا} فَهَذِهِ سَبْعَةُ مَوَاضِعَ تَنْتَظِمُ هَذَيْنِ الْأَصْلَيْنِ الْجَامِعَيْنِ.
দ্বিতীয়টি: এমন বিষয় যা মাকরুহ (অপছন্দনীয়), ঘৃণিত এবং যার বিলুপ্তি কাম্য। তৃতীয়টি: কাঙ্ক্ষিত ও প্রিয় বস্তুটি অর্জনের মাধ্যম (ওয়াসীলা)। চতুর্থটি: মাকরুহ (অপছন্দনীয় বিষয়) দূর করার মাধ্যম (ওয়াসীলা)। এই চারটি বিষয় বান্দার জন্য, বরং প্রত্যেক জীবিত সত্তার জন্য অপরিহার্য, যার অস্তিত্ব ও কল্যাণ এগুলি ছাড়া প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। আর যা জীবিত নয়, সে সম্পর্কে আলোচনা ভিন্ন আঙ্গিকে হবে।

যখন তা স্পষ্ট হলো, তখন আমি যা উল্লেখ করেছি তার ব্যাখ্যা কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যায়:

— প্রথমত: আল্লাহ তাআলাই সেই সত্তা যিনি পছন্দ করেন যে, তিনিই হবেন উদ্দেশ্য (মাকসূদ), যাঁর কাছে আহ্বান করা হবে (মাদ‘উ) এবং যাঁর কাছে চাওয়া হবে (মাতলুব)। আর তিনিই কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে সাহায্যকারী (মু‘ঈন)। আর তাঁর ব্যতীত অন্য যা কিছু, তা-ই মাকরুহ (অপছন্দনীয়)। আর তিনিই মাকরুহ দূর করার ক্ষেত্রে সাহায্যকারী। সুতরাং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা-ই এই চারটি বিষয়ের جامع (জামে‘—সমষ্টিগত অধিকারী), অন্য কেউ নয়।

আর এটাই তাঁর বাণী: {আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং কেবল তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি} (সূরা ফাতিহা ১:৫)-এর অর্থ। কেননা ‘উবুদিয়্যাহ’ (দাসত্ব) উদ্দেশ্য ও কাঙ্ক্ষিত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে; তবে তা সর্বাপেক্ষা পূর্ণাঙ্গ রূপে। আর ‘আল-মুসতা‘আন’ (যাঁর কাছে সাহায্য চাওয়া হয়) তিনিই, যাঁর কাছে কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে সাহায্য চাওয়া হয়।

সুতরাং প্রথমটি (ইবাদত) ‘উলূহিয়্যাহ’ (ইলাহ হওয়ার অর্থ) থেকে এসেছে। আর দ্বিতীয়টি (সাহায্য চাওয়া) ‘রুবূবিয়্যাহ’ (রব হওয়ার অর্থ) থেকে এসেছে। কারণ ‘আল-ইলাহ’ (উপাস্য) তিনিই, যাঁর প্রতি উলূহিয়্যাহ করা হয়, ফলে তাঁকে ভালোবাসা, প্রত্যাবর্তন (ইনাবাহ), মহিমান্বিতকরণ (ইজলাল) ও সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে ইবাদত করা হয়। আর ‘আর-রব’ (প্রতিপালক) তিনিই, যিনি তাঁর বান্দাকে প্রতিপালন করেন (তারবিয়্যাহ দেন), ফলে তিনি তাকে তার সৃষ্টি (খলক) দান করেন, অতঃপর ইবাদত ও অন্যান্য সকল অবস্থায় তাকে পথনির্দেশ করেন।

অনুরূপভাবে তাঁর বাণী: {আমি তাঁরই উপর ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।} (সূরা হুদ ১১:৮৮)। এবং তাঁর বাণী: {সুতরাং তুমি তাঁর ইবাদত করো এবং তাঁর উপর ভরসা করো।} (সূরা হুদ ১১:১২৩)। এবং তাঁর বাণী: {আমরা তোমারই উপর ভরসা করলাম, তোমারই অভিমুখী হলাম এবং তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন।} (সূরা মুমতাহিনাহ ৬০:৪)। এবং তাঁর বাণী: {আর তুমি ভরসা করো সেই চিরঞ্জীবের উপর, যিনি মরবেন না, আর তাঁর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো।} (সূরা ফুরকান ২৫:৫৮)। এবং তাঁর বাণী: {আমি তাঁরই উপর ভরসা করি এবং তাঁরই দিকে আমার প্রত্যাবর্তন।} (সূরা রা‘দ ১৩:৩০)। এবং তাঁর বাণী: {আর তুমি একনিষ্ঠভাবে তাঁর প্রতি মনোনিবেশ করো।} (সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:৮)। {তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের রব, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; সুতরাং তাঁকেই তুমি কর্মবিধায়ক (ওয়াকীল) হিসেবে গ্রহণ করো।} (সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:৯)।

সুতরাং এই সাতটি স্থান (আয়াত) এই দুটি جامع (ব্যাপক) মূলনীতিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ২৩)
الْوَجْهُ الثَّانِي: أَنَّ اللَّهَ خَلَقَ الْخَلْقَ لِعِبَادَتِهِ الْجَامِعَةِ لِمَعْرِفَتِهِ وَالْإِنَابَةِ إلَيْهِ وَمَحَبَّتِهِ وَالْإِخْلَاصِ لَهُ فَبِذِكْرِهِ تَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُمْ؛ وَبِرُؤْيَتِهِ فِي الْآخِرَةِ تَقَرُّ عُيُونُهُمْ وَلَا شَيْءَ يُعْطِيهِمْ فِي الْآخِرَةِ أَحَبُّ إلَيْهِمْ مِنْ النَّظَرِ إلَيْهِ؛ وَلَا شَيْءَ يُعْطِيهِمْ فِي الدُّنْيَا أَعْظَمُ مِنْ الْإِيمَانِ بِهِ. وَحَاجَتُهُمْ إلَيْهِ فِي عِبَادَتِهِمْ إيَّاهُ وَتَأَلُّهِهِمْ كَحَاجَتِهِمْ وَأَعْظَمَ فِي خَلْقِهِ لَهُمْ وَرُبُوبِيَّتِهِ إيَّاهُمْ؛ فَإِنَّ ذَلِكَ هُوَ الْغَايَةُ الْمَقْصُودَةُ لَهُمْ؛ وَبِذَلِكَ يَصِيرُونَ عَامِلِينَ مُتَحَرِّكِينَ، وَلَا صَلَاحَ لَهُمْ وَلَا فَلَاحَ؛ وَلَا نَعِيمَ وَلَا لَذَّةَ؛ بِدُونِ ذَلِكَ بِحَالِ. بَلْ مَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِ رَبِّهِ فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى. وَلِهَذَا كَانَ اللَّهُ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ، وَلِهَذَا كَانَتْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ أَحْسَنَ الْحَسَنَاتِ، وَكَانَ التَّوْحِيدُ بِقَوْلِ: لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ؛ رَأْسَ الْأَمْرِ. فَأَمَّا تَوْحِيدُ الرُّبُوبِيَّةِ الَّذِي أَقَرَّ بِهِ الْخَلْقُ، وَقَرَّرَهُ أَهْلُ الْكَلَامِ؛ فَلَا يَكْفِي وَحْدَهُ، بَلْ هُوَ مِنْ الْحُجَّةِ عَلَيْهِمْ، وَهَذَا مَعْنَى مَا يُرْوَى: {يَا ابْنَ آدَمَ خَلَقْتُ كُلَّ شَيْءٍ لَكَ، وَخَلَقْتُكَ لِي، فَبِحَقِّي عَلَيْكَ أَنْ لَا تَشْتَغِلَ بِمَا خَلَقْتُهُ لَكَ، عَمَّا خَلَقْتُكَ لَهُ} . وَاعْلَمْ أَنَّ هَذَا حَقُّ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، كَمَا فِي الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ الَّذِي رَوَاهُ مُعَاذٌ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: {أَتَدْرِي مَا حَقُّ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ؟ قَالَ قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَم. قَالَ: حَقُّ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا أَتَدْرِي مَا حَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ إذَا فَعَلُوا ذَلِكَ؟ قَالَ قُلْت: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَم. قَالَ: حَقُّهُمْ أَنْ لَا يُعَذِّبَهُمْ} .
দ্বিতীয় দিক: আল্লাহ সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য, যা তাঁর মারিফাত (পরিচয়), তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন (ইনাবাহ), তাঁর প্রতি ভালোবাসা (মুহাব্বাহ) এবং তাঁর জন্য একনিষ্ঠতাকে (ইখলাস) অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং, তাঁর যিকিরের (স্মরণের) মাধ্যমেই তাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে; আর আখিরাতে তাঁর দর্শনের (রুইয়াহ) মাধ্যমে তাদের চোখ শীতল হয়। আখিরাতে এমন কোনো কিছু তাদের দেওয়া হবে না যা তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করার চেয়ে তাদের কাছে অধিক প্রিয়; আর দুনিয়াতে এমন কোনো কিছু তাদের দেওয়া হবে না যা তাঁর প্রতি ঈমানের চেয়ে অধিক মহান।

তাঁকে ইবাদত করা এবং তাঁর উপাসনা করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি তাদের যে প্রয়োজন, তা তাদের সৃষ্টি করা এবং তাদের প্রতি তাঁর রুবুবিয়্যাতের (প্রতিপালকত্ব) ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি তাদের প্রয়োজনের মতোই, বরং তার চেয়েও বেশি। কারণ এটাই তাদের জন্য উদ্দেশ্যকৃত চূড়ান্ত লক্ষ্য; আর এর মাধ্যমেই তারা কর্মশীল ও সক্রিয় হয়। তা ছাড়া কোনো অবস্থাতেই তাদের জন্য কোনো কল্যাণ (সালাহ) বা মুক্তি (ফালাহ) নেই; কোনো সুখ বা আনন্দ নেই। বরং, যে তার রবের স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়,

[فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى]

অর্থাৎ, "তার জন্য রয়েছে এক সংকুচিত জীবন এবং আমরা তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় সমবেত করব।"

আর একারণেই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করা ক্ষমা করেন না এবং এর চেয়ে নিম্নমানের পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। আর একারণেই ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ছিল সর্বোত্তম নেক আমল, এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার মাধ্যমে যে তাওহীদ প্রতিষ্ঠিত হয়, তা হলো সকল বিষয়ের মূল।

কিন্তু তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ (প্রতিপালকত্বের একত্ব), যা সৃষ্টি স্বীকার করে নিয়েছে এবং আহলুল কালাম (ধর্মতাত্ত্বিক সম্প্রদায়) যা প্রতিষ্ঠা করেছে—তা একাকী যথেষ্ট নয়। বরং তা তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ (হুজ্জাহ) হিসেবে গণ্য। আর এটাই সেই অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে যা বর্ণিত আছে: {হে আদম সন্তান, আমি সবকিছু তোমার জন্য সৃষ্টি করেছি, আর তোমাকে সৃষ্টি করেছি আমার জন্য। সুতরাং তোমার উপর আমার অধিকারের খাতিরে, আমি তোমার জন্য যা সৃষ্টি করেছি, তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যেও না, যাঁর জন্য আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি, তাঁর থেকে।}

আর জেনে রাখো, এটাই হলো বান্দাদের উপর আল্লাহর হক (অধিকার)—যে তারা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না। যেমনটি সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যা মুআয (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: {তুমি কি জানো, বান্দাদের উপর আল্লাহর হক কী? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন: বান্দাদের উপর আল্লাহর হক হলো, তারা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না। তুমি কি জানো, যখন তারা তা করবে, তখন আল্লাহর উপর বান্দাদের হক কী? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন: তাদের হক হলো, তিনি তাদের শাস্তি দেবেন না।}
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَهُوَ يُحِبُّ ذَلِكَ، وَيَرْضَى بِهِ؛ وَيَرْضَى عَنْ أَهْلِهِ، وَيَفْرَحُ بِتَوْبَةِ مَنْ عَادَ إلَيْهِ؛ كَمَا أَنَّ فِي ذَلِكَ لَذَّةَ الْعَبْدِ وَسَعَادَتَهُ وَنَعِيمَهُ؛ وَقَدْ بَيَّنْتُ بَعْضَ مَعْنَى مَحَبَّةِ اللَّهِ لِذَلِكَ وَفَرَحِهِ بِهِ فِي غَيْرِ هَذَا الْمَوْضِعِ. فَلَيْسَ فِي الْكَائِنَاتِ مَا يَسْكُنُ الْعَبْدُ إلَيْهِ وَيَطْمَئِنُّ بِهِ، وَيَتَنَعَّمُ بِالتَّوَجُّهِ إلَيْهِ؛ إلَّا اللَّهُ سُبْحَانَهُ؛ وَمَنْ عَبَدَ غَيْرَ اللَّهِ وَإِنْ أَحَبَّهُ وَحَصَلَ لَهُ بِهِ مَوَدَّةٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَنَوْعٌ مِنْ اللَّذَّةِ فَهُوَ مَفْسَدَةٌ لِصَاحِبِهِ أَعْظَمُ مِنْ مَفْسَدَةِ الْتِذَاذِ أَكْلِ طَعَامِ الْمَسْمُومِ {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ} فَإِنَّ قِوَامَهُمَا بِأَنْ تَأَلَّهَ الْإِلَهُ الْحَقُّ فَلَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ غَيْرُ اللَّهِ لَمْ يَكُنْ إلَهًا حَقًّا؛ إذْ اللَّهُ لَا سَمِيَّ لَهُ وَلَا مِثْلَ لَهُ؛ فَكَانَتْ تَفْسُدُ لِانْتِفَاءِ مَا بِهِ صَلَاحُهَا، هَذَا مِنْ جِهَةِ الْإِلَهِيَّةِ. وَأَمَّا مِنْ جِهَةِ الرُّبُوبِيَّةِ فَشَيْءٌ آخَرُ؛ كَمَا نُقَرِّرُهُ فِي مَوْضِعِهِ. وَاعْلَمْ أَنَّ فَقْرَ الْعَبْدِ إلَى اللَّهِ أَنْ يَعْبُدَ اللَّهَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، لَيْسَ لَهُ نَظِيرٌ فَيُقَاسُ بِهِ؛ لَكِنْ يُشْبِهُ مِنْ بَعْضِ الْوُجُوهِ حَاجَةَ الْجَسَدِ إلَى الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ؛ وَبَيْنَهُمَا فُرُوقٌ كَثِيرَةٌ. فَإِنَّ حَقِيقَةَ الْعَبْدِ قَلْبُهُ وَرُوحُهُ، وَهِيَ لَا صَلَاحَ لَهَا إلَّا بِإِلَهِهَا اللَّهِ الَّذِي لَا إلَهَ إلَّا هُوَ: فَلَا تَطْمَئِنُّ فِي الدُّنْيَا إلَّا بِذِكْرِهِ: وَهِيَ كَادِحَةٌ إلَيْهِ كَدْحًا فَمُلَاقِيَتُهُ وَلَا بُدَّ لَهَا مِنْ لِقَائِهِ، وَلَا صَلَاحَ لَهَا إلَّا بِلِقَائِهِ. وَلَوْ حَصَلَ لِلْعَبْدِ لَذَّاتٌ أَوْ سُرُورٌ بِغَيْرِ اللَّهِ فَلَا يَدُومُ ذَلِكَ، بَلْ يَنْتَقِلُ مِنْ نَوْعٍ إلَى نَوْعٍ، وَمِنْ شَخْصٍ إلَى شَخْصٍ، وَيَتَنَعَّمُ بِهَذَا فِي وَقْتٍ وَفِي بَعْضِ الْأَحْوَالِ، وَتَارَةً أُخْرَى يَكُونُ ذَلِكَ الَّذِي يَتَنَعَّمُ بِهِ وَالْتَذَّ غَيْرَ مُنْعِمٍ لَهُ وَلَا مُلْتَذٍّ لَهُ، بَلْ قَدْ
আর তিনি (আল্লাহ) তা পছন্দ করেন এবং তাতে সন্তুষ্ট হন; এবং তিনি তার (তাওহীদের) অনুসারীদের প্রতি সন্তুষ্ট হন, আর যে তাঁর দিকে ফিরে আসে, তার তওবায় তিনি আনন্দিত হন। যেমন, এর মধ্যে বান্দার জন্য রয়েছে স্বাদ, সৌভাগ্য ও নিয়ামত। আর আমি এই স্থান ব্যতীত অন্য স্থানে আল্লাহর সেই ভালোবাসা ও তাঁর আনন্দ-এর কিছু অর্থ ব্যাখ্যা করেছি।

সুতরাং সৃষ্টিকুলের মধ্যে এমন কিছু নেই যার প্রতি বান্দা স্থিরতা লাভ করে, যার দ্বারা প্রশান্তি পায় এবং যার দিকে মনোনিবেশ করে আনন্দ উপভোগ করে; একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ব্যতীত। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করে, যদিও সে তাকে ভালোবাসে এবং এর মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনে তার জন্য প্রেম-প্রীতি ও এক প্রকার স্বাদ অর্জিত হয়, তবুও তা তার সঙ্গীর জন্য বিষাক্ত খাবার উপভোগ করার ক্ষতির চেয়েও বড় বিপর্যয় (মাফসাদা)। {যদি আকাশ ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত বহু ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই বিপর্যস্ত হয়ে যেত। সুতরাং তারা যা আরোপ করে, আরশের প্রতিপালক আল্লাহ তা থেকে পবিত্র, মহান।} [সূরা আম্বিয়া ২১:২২]

কেননা সে দুটির (আসমান ও যমিনের) স্থায়িত্ব হলো এই কারণে যে, সত্য ইলাহ-এর ইলাহ হওয়া বিদ্যমান। সুতরাং যদি সে দুটির মধ্যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ থাকত, তবে সে সত্য ইলাহ হতো না; কারণ আল্লাহর কোনো সমকক্ষ নেই এবং তাঁর কোনো দৃষ্টান্ত নেই। ফলে, যার দ্বারা সে দুটির কল্যাণ সাধিত হয়, তার অনুপস্থিতির কারণে সে দুটি বিপর্যস্ত হয়ে যেত। এটি হলো ইলাহিয়্যাতের (উপাস্য সত্তার) দিক থেকে। আর রুবুবিয়্যাতের (প্রতিপালক সত্তার) দিক থেকে বিষয়টি ভিন্ন; যেমনটি আমরা তার নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিষ্ঠিত করব।

আর জেনে রাখো, আল্লাহর প্রতি বানিতদার মুখাপেক্ষিতা (ফাক্বর) হলো এই যে, সে আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না। এর কোনো তুলনা নেই যার সাথে একে পরিমাপ করা যায়; তবে কিছু দিক থেকে এটি দেহের খাদ্য ও পানীয়ের প্রয়োজনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ; যদিও উভয়ের মধ্যে বহু পার্থক্য বিদ্যমান। কেননা বান্দার বাস্তবতা হলো তার অন্তর ও রূহ (আত্মা), আর তার কল্যাণ সাধিত হয় না একমাত্র তার ইলাহ আল্লাহ ব্যতীত, যিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। সুতরাং দুনিয়াতে সে (রূহ) তাঁর যিকির (স্মরণ) ব্যতীত প্রশান্তি লাভ করে না। আর সে (রূহ) তাঁর দিকে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছে (কাদহান), সুতরাং সে তাঁর সাথে মিলিত হবেই। তার জন্য তাঁর সাথে সাক্ষাৎ অপরিহার্য, আর তাঁর সাথে সাক্ষাৎ ব্যতীত তার কোনো কল্যাণ নেই।

আর যদি বান্দা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা কোনো স্বাদ বা আনন্দ লাভ করে, তবে তা স্থায়ী হয় না। বরং তা এক প্রকার থেকে অন্য প্রকারে, এবং এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে স্থানান্তরিত হয়। সে হয়তো কোনো এক সময়ে এবং কোনো কোনো অবস্থায় এর দ্বারা আনন্দ উপভোগ করে, কিন্তু অন্য সময়ে সে যা দ্বারা আনন্দ উপভোগ করেছিল এবং স্বাদ গ্রহণ করেছিল, তা তার জন্য আর আনন্দদায়ক বা সুস্বাদু থাকে না, বরং কখনো কখনো...
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ২৫)
يُؤْذِيهِ اتِّصَالُهُ بِهِ وَوُجُودُهُ عِنْدَهُ، وَيَضُرُّهُ ذَلِكَ. وَأَمَّا إلَهُهُ فَلَا بُدَّ لَهُ مِنْهُ فِي كُلِّ حَالٍ وَكُلِّ وَقْتٍ، وَأَيْنَمَا كَانَ فَهُوَ مَعَهُ؛ وَلِهَذَا قَالَ إمَامُنَا (إبْرَاهِيمُ الْخَلِيلُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ {لَا أُحِبُّ الْآفِلِينَ} .وَكَانَ أَعْظَمُ آيَةٍ فِي الْقُرْآنِ الْكَرِيمِ: {اللَّهُ لَا إلَهَ إلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ} . وَقَدْ بَسَطْتُ الْكَلَامَ فِي مَعْنَى الْقَيُّومِ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ، وَبَيَّنَّا أَنَّهُ الدَّائِمُ الْبَاقِي الَّذِي لَا يَزُولُ وَلَا يَعْدَمُ، وَلَا يَفْنَى بِوَجْهِ مِنْ الْوُجُوهِ. وَاعْلَمْ أَنَّ هَذَا الْوَجْهَ مَبْنِيٌّ عَلَى أَصْلَيْنِ: أَحَدُهُمَا: عَلَى أَنَّ نَفْسَ الْإِيمَانِ بِاَللَّهِ وَعِبَادَتَهُ وَمَحَبَّتَهُ وَإِجْلَالَهُ هُوَ غِذَاءُ الْإِنْسَانِ وَقُوتُهُ وَصَلَاحُهُ وَقِوَامُهُ كَمَا عَلَيْهِ أَهْلُ الْإِيمَانِ، وَكَمَا دَلَّ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ؛ لَا كَمَا يَقُولُ مَنْ يَعْتَقِدُ مِنْ أَهْلِ الْكَلَامِ وَنَحْوِهِمْ: أَنَّ عِبَادَتَهُ تَكْلِيفٌ وَمَشَقَّةٌ. وَخِلَافُ مَقْصُودِ الْقَلْبِ لِمُجَرَّدِ الِامْتِحَانِ وَالِاخْتِبَارِ؛ أَوْ لِأَجْلِ التَّعْوِيضِ بِالْأُجْرَةِ كَمَا يَقُولُهُ الْمُعْتَزِلَةُ وَغَيْرُهُمْ؛ فَإِنَّهُ وَإِنْ كَانَ فِي الْأَعْمَالِ الصَّالِحَةِ مَا هُوَ عَلَى خِلَافِ هَوَى النَّفْسِ - وَاَللَّهُ سُبْحَانَهُ يَأْجُرُ الْعَبْدَ عَلَى الْأَعْمَالِ الْمَأْمُورِ بِهَا مَعَ الْمَشَقَّةِ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ لَا يُصِيبُهُمْ ظَمَأٌ وَلَا نَصَبٌ} الْآيَةَ، وَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَائِشَةَ: {أَجْرُكِ عَلَى قَدْرِ نَصَبِكِ} - فَلَيْسَ ذَلِكَ هُوَ الْمَقْصُودَ الْأَوَّلَ بِالْأَمْرِ الشَّرْعِيِّ، وَإِنَّمَا وَقَعَ ضِمْنًا وَتَبَعًا لِأَسْبَابِ لَيْسَ هَذَا مَوْضِعُهَا، وَهَذَا يُفَسَّرُ فِي مَوْضِعِهِ. وَلِهَذَا لَمْ يَجِئْ فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَكَلَامِ السَّلَفِ إطْلَاقُ الْقَوْلِ عَلَى الْإِيمَانِ وَالْعَمَلِ الصَّالِحِ أَنَّهُ تَكْلِيفٌ كَمَا يُطْلِقُ ذَلِكَ كَثِيرٌ مِنْ الْمُتَكَلِّمَةِ وَالْمُتَفَقِّهَةِ؛ وَإِنَّمَا جَاءَ ذِكْرُ التَّكْلِيفِ فِي مَوْضِعِ النَّفْيِ؛ كَقَوْلِهِ: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إلَّا وُسْعَهَا} .
তার সাথে তার সংযোগ এবং তার নিকট তার উপস্থিতি তাকে কষ্ট দেয় এবং তা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিন্তু তার যে ইলাহ (উপাস্য), তার থেকে কোনো অবস্থাতেই এবং কোনো সময়েই তার নিষ্কৃতি নেই। সে যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি তার সাথেই আছেন। আর এই কারণেই আমাদের ইমাম (নেতা) ইবরাহীম খলীল (সা.) বলেছিলেন: {আমি অস্তমিতদের ভালোবাসি না}। [সূরা আনআম, ৬:৭৬]

আর পবিত্র কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হলো: {আল্লাহ্, তিনি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক (আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুম)}। [সূরা বাকারা, ২:২৫৫] আমি অন্য এক স্থানে ‘আল-কাইয়্যুম’-এর অর্থ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং সেখানে স্পষ্ট করেছি যে, তিনি হলেন সেই চিরস্থায়ী, অবশিষ্ট সত্তা, যিনি কোনোভাবেই বিলীন হন না, অস্তিত্বহীন হন না এবং ধ্বংসও হন না।

আর জেনে রাখো, এই দিকটি (বা আলোচনা) দুটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত:

প্রথমটি হলো: আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর ইবাদত, তাঁর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁকে সম্মান করা—এগুলোই মানুষের খাদ্য, শক্তি, সংশোধন এবং তার ভিত্তি (ক্বিওয়াম)। যেমনটি আহলুল ঈমানের (ঈমানদারদের) মত এবং যেমনটি কুরআন দ্বারা প্রমাণিত; আহলুল কালাম (কালাম শাস্ত্রবিদ) এবং তাদের মতো যারা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহর ইবাদত কেবলই একটি ‘তাকলীফ’ (ভার বা বাধ্যবাধকতা) এবং কষ্টসাধ্য বিষয়, যা শুধুমাত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হৃদয়ের উদ্দেশ্যের বিপরীত—তাদের মতের মতো নয়; অথবা মু'তাযিলা ও অন্যান্যরা যেমন বলে যে, তা কেবলই পারিশ্রমিক (আযর) দ্বারা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য—তাও নয়।

কারণ, যদিও সৎকর্মসমূহের মধ্যে এমন কিছু কাজ আছে যা নফসের (প্রবৃত্তির) ইচ্ছার পরিপন্থী—এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা কষ্ট সত্ত্বেও বান্দাকে নির্দেশিত আমলের জন্য পুরস্কৃত করেন, যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: {এটা এজন্য যে, তাদের কোনো পিপাসা, ক্লান্তি স্পর্শ করে না...} [সূরা তাওবা, ৯:১২০] আয়াতটি। এবং নবী (সা.) আয়েশা (রা.)-কে বলেছিলেন: {তোমার প্রতিদান তোমার কষ্টের পরিমাণ অনুযায়ী হবে}—তবুও শরীয়তের নির্দেশের মাধ্যমে এটি (কষ্ট) প্রথম উদ্দেশ্য নয়। বরং এটি আনুষঙ্গিকভাবে এবং কিছু কারণের ফলস্বরূপ ঘটে, যার আলোচনার স্থান এটি নয়। আর এর ব্যাখ্যা যথাস্থানে করা হবে।

আর এই কারণেই কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং সালাফদের (পূর্বসূরিদের) বক্তব্যে ঈমান ও সৎকর্মকে সাধারণভাবে ‘তাকলীফ’ (ভার) হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি, যেমনটি অনেক মুতাকাল্লিমীন (কালাম শাস্ত্রবিদ) ও মুতাফাক্কিহা (ফিকহ নিয়ে অতি-গবেষণাকারী) তা ব্যবহার করে থাকেন; বরং ‘তাকলীফ’-এর উল্লেখ এসেছে কেবল নেতিবাচক প্রসঙ্গে; যেমন আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ্ কোনো ব্যক্তিকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত ভার দেন না}। [সূরা বাকারা, ২:২৮৬]
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ২৬)
{لَا تُكَلَّفُ إلَّا نَفْسَكَ} {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إلَّا مَا آتَاهَا} أَيْ وَإِنْ وَقَعَ فِي الْأَمْرِ تَكْلِيفٌ؛ فَلَا يُكَلَّفُ إلَّا قَدْرَ الْوُسْعِ، لَا أَنَّهُ يُسَمِّي جَمِيعَ الشَّرِيعَةِ تَكْلِيفًا، مَعَ أَنَّ غَالِبَهَا قُرَّةُ الْعُيُونِ وَسُرُورُ الْقُلُوبِ؛ وَلَذَّاتُ الْأَرْوَاحِ وَكَمَالُ النَّعِيمِ، وَذَلِكَ لِإِرَادَةِ وَجْهِ اللَّهِ وَالْإِنَابَةِ إلَيْهِ، وَذِكْرِهِ وَتَوَجُّهِ الْوَجْهِ إلَيْهِ، فَهُوَ الْإِلَهُ الْحَقُّ الَّذِي تَطْمَئِنُّ إلَيْهِ الْقُلُوبُ، وَلَا يَقُومُ غَيْرُهُ مَقَامَهُ فِي ذَلِكَ أَبَدًا. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا} فَهَذَا أَصْلٌ. (الْأَصْلُ الثَّانِي: النَّعِيمُ فِي الدَّارِ الْآخِرَةِ أَيْضًا مِثْلُ النَّظَرِ إلَيْهِ لَا كَمَا يَزْعُمُ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْكَلَامِ وَنَحْوِهِمْ أَنَّهُ لَا نَعِيمَ وَلَا لَذَّةَ إلَّا بِالْمَخْلُوقِ: مِنْ الْمَأْكُولِ وَالْمَشْرُوبِ وَالْمَنْكُوحِ وَنَحْوِ ذَلِكَ، بَلْ اللَّذَّةُ وَالنَّعِيمُ التَّامُّ فِي حَظِّهِمْ مِنْ الْخَالِقِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى، كَمَا فِي الدُّعَاءِ الْمَأْثُورِ: {اللَّهُمَّ إنِّي أَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظَرِ إلَى وَجْهِكَ، وَالشَّوْقَ إلَى لِقَائِكَ فِي غَيْرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ، وَلَا فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ} . رَوَاهُ النَّسَائِي وَغَيْرُهُ وَفِي صَحِيحِ ` مُسْلِمٍ ` وَغَيْرِهِ عَنْ ` صهيب ` عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ {: إذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ نَادَى مُنَادٍ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ؛ إنَّ لَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ مَوْعِدًا يُرِيدُ أَنْ ينجزكموه. فَيَقُولُونَ: مَا هُوَ أَلَمْ يُبَيِّضْ وُجُوهَنَا، وَيُدْخِلْنَا الْجَنَّةَ، وَيُجِرْنَا مِنْ النَّارِ قَالَ: فَيُكْشَفُ الْحِجَابُ؛ فَيَنْظُرُونَ إلَيْهِ - سُبْحَانَهُ. فَمَا أَعْطَاهُمْ شَيْئًا أَحَبَّ إلَيْهِمْ مِنْ النَّظَرِ إلَيْهِ، وَهُوَ الزِّيَادَةُ} . فَبَيَّنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُمْ مَعَ كَمَالِ تَنَعُّمِهِمْ بِمَا أَعْطَاهُمْ اللَّهُ فِي الْجَنَّةِ لَمْ يُعْطِهِمْ شَيْئًا أَحَبَّ إلَيْهِمْ مِنْ النَّظَرِ إلَيْهِ؛ وَإِنَّمَا يَكُونُ أَحَبَّ إلَيْهِمْ لِأَنَّ تَنَعُّمَهُمْ وَتَلَذُّذَهُمْ بِهِ أَعْظَمُ مِنْ التَّنَعُّمِ وَالتَّلَذُّذِ بِغَيْرِهِ. فَإِنَّ اللَّذَّةَ تَتْبَعُ الشُّعُورَ بِالْمَحْبُوبِ، فَكُلَّمَا كَانَ الشَّيْءُ أَحَبَّ إلَى الْإِنْسَانِ كَانَ حُصُولُهُ أَلَذَّ لَهُ، وَتَنَعُّمُهُ بِهِ أَعْظَمَ.
"{لَا تُكَلَّفُ إلَّا نَفْسَكَ} {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إلَّا مَا آتَاهَا} অর্থাৎ, যদি এই বিষয়ে কোনো দায়িত্বারোপ (তাকলীফ) থাকেও, তবে তা কেবল সামর্থ্যের সীমা পর্যন্তই আরোপিত হয়। এর অর্থ এই নয় যে তিনি (আল্লাহ) সমগ্র শরীয়াহকেই ‘তাকলীফ’ (ভার) নাম দিয়েছেন, যদিও এর অধিকাংশই হলো চোখের শীতলতা, হৃদয়ের আনন্দ, আত্মার পরম তৃপ্তি এবং নিআমতের পূর্ণতা। আর তা (এই নিআমত) হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য, তাঁর দিকে মনোনিবেশ, তাঁর যিকির এবং তাঁর দিকে মুখ ফেরানোর কারণে। তিনিই সেই প্রকৃত উপাস্য, যার দ্বারা অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে, এবং এই ক্ষেত্রে অন্য কেউ কখনোই তাঁর স্থান দখল করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সুতরাং আপনি তাঁর ইবাদত করুন এবং তাঁর ইবাদতে দৃঢ় থাকুন। আপনি কি তাঁর সমকক্ষ কাউকে জানেন?} এটি একটি মূলনীতি (আসল)।

(দ্বিতীয় মূলনীতি: পরকালেও নিআমত (ভোগবিলাস) বিদ্যমান, যেমন তাঁর (আল্লাহর) দিকে দৃষ্টিপাত করা। এটি এমন নয় যেমনটা আহলুল কালাম (কালাম শাস্ত্রবিদগণ) এবং তাদের মতো একদল লোক দাবি করে যে, সৃষ্ট বস্তু—যেমন খাদ্য, পানীয়, বিবাহিত সঙ্গী ইত্যাদি—ব্যতীত অন্য কোনো নিআমত বা স্বাদ (লায্যাহ) নেই। বরং পূর্ণাঙ্গ স্বাদ ও নিআমত হলো সৃষ্টিকর্তা সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে তাদের প্রাপ্য অংশে। যেমনটি বর্ণিত দু'আতে এসেছে: {হে আল্লাহ! আমি আপনার চেহারার দিকে দৃষ্টিপাতের স্বাদ, এবং কোনো ক্ষতিকর কষ্ট বা পথভ্রষ্টকারী ফিতনা ব্যতীত আপনার সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা প্রার্থনা করি।} এটি নাসাঈ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

আর সহীহ ` মুসলিম ` এবং অন্যান্য গ্রন্থে ` সুহাইব ` (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: {জান্নাতবাসীরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দেবে, ‘হে জান্নাতবাসীগণ! আল্লাহর নিকট তোমাদের জন্য একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যা তিনি তোমাদের জন্য পূর্ণ করতে চান।’ তারা বলবে: ‘তা কী? তিনি কি আমাদের চেহারা উজ্জ্বল করেননি? আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাননি? এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি?’ তিনি (নবী সা.) বললেন: তখন পর্দা উন্মোচন করা হবে; ফলে তারা তাঁর—সুবহানাহু—দিকে দৃষ্টিপাত করবে। আল্লাহ তাদেরকে এর চেয়ে প্রিয় আর কিছুই দেননি, আর এটিই হলো ‘যিয়াদাহ’ (অতিরিক্ত)।}

সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট করে দিলেন যে, জান্নাতে আল্লাহ তাদেরকে যা কিছু দিয়েছেন, তার দ্বারা তাদের নিআমত ভোগের পূর্ণতা সত্ত্বেও, আল্লাহর দিকে দৃষ্টিপাত করার চেয়ে প্রিয় আর কিছুই তিনি তাদেরকে দেননি। আর এটি তাদের নিকট অধিক প্রিয় হওয়ার কারণ হলো, এর মাধ্যমে তাদের নিআমত ভোগ ও স্বাদ গ্রহণ অন্য কিছুর মাধ্যমে নিআমত ভোগ ও স্বাদ গ্রহণের চেয়ে অনেক বেশি মহান। কেননা স্বাদ প্রিয়জনের অনুভূতির অনুসরণ করে। সুতরাং কোনো কিছু মানুষের নিকট যত বেশি প্রিয় হয়, তা লাভ করা তার জন্য তত বেশি সুস্বাদু হয় এবং এর মাধ্যমে তার নিআমত ভোগ তত বেশি মহান হয়।
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَرُوِيَ أَنَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ يَوْمُ الْمَزِيدِ، وَهُوَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ مِنْ أَيَّامِ الْآخِرَةِ، وَفِي الْأَحَادِيثِ وَالْآثَارِ مَا يُصَدِّقُ هَذَا، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي حَقِّ الْكُفَّارِ: {كَلَّا إنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَمَحْجُوبُونَ} {ثُمَّ إنَّهُمْ لَصَالُو الْجَحِيمِ} . فَعَذَابُ الْحِجَابِ أَعْظَمُ أَنْوَاعِ الْعَذَابِ. وَلَذَّةُ النَّظَرِ إلَى وَجْهِهِ أَعْلَى اللَّذَّاتِ؛ وَلَا تَقُومُ حُظُوظُهُمْ مِنْ سَائِرِ الْمَخْلُوقَاتِ مَقَامَ حَظِّهِمْ مِنْهُ تَعَالَى. وَهَذَانِ الْأَصْلَانِ ثَابِتَانِ فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ؛ وَعَلَيْهِمَا أَهْلُ الْعِلْمِ وَالْإِيمَانِ وَيَتَكَلَّمُ فِيهِمَا مَشَايِخُ الصُّوفِيَّةِ الْعَارِفُونَ؛ وَعَلَيْهِمَا أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ؛ وَعَوَامُّ الْأُمَّةِ؛ وَذَلِكَ مِنْ فِطْرَةِ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا. وَقَدْ يَحْتَجُّونَ عَلَى مَنْ يُنْكِرُهَا بِالنُّصُوصِ وَالْآثَارِ تَارَةً؛ وَبِالذَّوْقِ وَالْوَجْدِ أُخْرَى - إذَا أَنْكَرَ اللَّذَّةَ - فَإِنَّ ذَوْقَهَا وَوَجْدَهَا يَنْفِي إنْكَارَهَا. وَقَدْ يَحْتَجُّونَ بِالْقِيَاسِ فِي الْأَمْثَالِ تَارَةً؛ وَهِيَ الْأَقْيِسَةُ الْعَقْلِيَّةُ. الْوَجْهُ الثَّالِثُ: أَنَّ الْمَخْلُوقَ لَيْسَ عِنْدَهُ لِلْعَبْدِ نَفْعٌ وَلَا ضَرَرٌ؛ وَلَا عَطَاءٌ وَلَا مَنْعٌ؛ وَلَا هُدًى وَلَا ضَلَالٌ؛ وَلَا نَصْرٌ وَلَا خِذْلَانٌ؛ وَلَا خَفْضٌ وَلَا رَفْعٌ؛ وَلَا عِزٌّ وَلَا ذُلٌّ؛ بَلْ رَبُّهُ هُوَ الَّذِي خَلَقَهُ وَرَزَقَهُ؛ وَبَصَّرَهُ وَهَدَاهُ وَأَسْبَغَ عَلَيْهِ نِعَمَهُ؛ فَإِذَا مَسَّهُ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا يَكْشِفُهُ عَنْهُ غَيْرُهُ؛ وَإِذَا أَصَابَهُ بِنِعْمَةٍ لَمْ يَرْفَعْهَا عَنْهُ سِوَاهُ؛ وَأَمَّا الْعَبْدُ فَلَا يَنْفَعُهُ وَلَا يَضُرُّهُ إلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ؛ وَهَذَا الْوَجْهُ أَظْهَرُ لِلْعَامَّةِ مِنْ الْأَوَّلِ؛ وَلِهَذَا خُوطِبُوا بِهِ فِي الْقُرْآنِ أَكْثَرَ مِنْ الْأَوَّلِ؛ لَكِنْ إذَا تَدَبَّرَ اللَّبِيبُ طَرِيقَةَ الْقُرْآنِ؛ وَجَدَ أَنَّ اللَّهَ يَدْعُو عِبَادَهُ بِهَذَا الْوَجْهِ إلَى الْأَوَّلِ. فَهَذَا الْوَجْهُ يَقْتَضِي؛ التَّوَكُّلَ عَلَى اللَّهِ وَالِاسْتِعَانَةَ بِهِ. وَدُعَاءَهُ. وَمَسْأَلَتَهُ، دُونَ مَا سِوَاهُ. وَيَقْتَضِي أَيْضًا مَحَبَّةَ اللَّهِ وَعِبَادَتَهُ لِإِحْسَانِهِ إلَى عَبْدِهِ، وَإِسْبَاغِ
বর্ণিত আছে যে জুমুআর দিন হলো ‘ইয়াওমুল মাযীদ’ (বৃদ্ধির দিন), আর এটি হলো আখিরাতের দিনগুলোর মধ্যে জুমুআর দিন। হাদীস ও আছারসমূহে এমন কিছু রয়েছে যা এটিকে সমর্থন করে। আল্লাহ তাআলা কাফিরদের প্রসঙ্গে বলেছেন: {কখনোই না! নিশ্চয় তারা সেদিন তাদের প্রতিপালক থেকে আবৃত থাকবে (বঞ্চিত হবে)।} {অতঃপর নিশ্চয় তারা জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করবে (দগ্ধ হবে)।} (সূরা মুতাফফিফীন: ১৫-১৬)।

সুতরাং, হিজাবের (আড়াল হওয়ার) শাস্তি হলো শাস্তির প্রকারগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। আর তাঁর (আল্লাহর) চেহারার দিকে তাকানোর আনন্দ হলো সর্বোচ্চ আনন্দ। আর অন্যান্য সৃষ্টিকুলের কাছ থেকে তাদের প্রাপ্ত অংশসমূহ আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে তাদের প্রাপ্ত অংশের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না।

এই দুটি মূলনীতি কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহতে সুপ্রতিষ্ঠিত। এর ওপরই আহলুল ইলম ওয়াল ঈমান (জ্ঞান ও ঈমানের অধিকারীগণ) প্রতিষ্ঠিত, এবং এ বিষয়েই আরিফীন (আল্লাহর পরিচয় লাভকারী) সুফী মাশায়েখগণ আলোচনা করেন। এর ওপরই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ এবং উম্মাহর সাধারণ মানুষ (আওয়াম) প্রতিষ্ঠিত। আর এটি আল্লাহর সেই ফিতরাত (স্বভাবজাত প্রকৃতি) যা দিয়ে তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।

যারা এগুলো অস্বীকার করে, তাদের বিরুদ্ধে তারা কখনও নুসূস (স্পষ্ট দলীল) ও আছার (সালাফদের বর্ণনা) দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন; আবার কখনও (যদি কেউ এই আনন্দকে অস্বীকার করে) তখন ‘যাওক’ (আধ্যাত্মিক আস্বাদন) ও ‘ওয়াজদ’ (অনুভূতি/উপলব্ধি) দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন—কারণ এর আস্বাদন ও উপলব্ধি এর অস্বীকারকে নাকচ করে দেয়। আর কখনও কখনও তারা উপমাগুলোর ক্ষেত্রে কিয়াস (তুলনা) দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন; আর এগুলো হলো আকলী কিয়াসসমূহ (যৌক্তিক সাদৃশ্য)।

তৃতীয় দিকটি হলো: নিশ্চয় সৃষ্টিকুলের কাছে বান্দার জন্য কোনো উপকার বা ক্ষতি নেই; কোনো দান বা বারণ নেই; কোনো হিদায়াত বা পথভ্রষ্টতা নেই; কোনো সাহায্য বা বর্জন (অসহায় করে দেওয়া) নেই; কোনো অবনতি বা উন্নতি নেই; কোনো সম্মান বা লাঞ্ছনা নেই। বরং তার রবই হলেন সেই সত্তা যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন ও রিযিক দিয়েছেন; তাকে দৃষ্টি দিয়েছেন ও হিদায়াত করেছেন এবং তার ওপর তাঁর নিআমতসমূহ (অনুগ্রহ) পূর্ণ করেছেন। সুতরাং, আল্লাহ যদি তাকে কোনো কষ্ট দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা দূর করতে পারে না; আর যদি তিনি তাকে কোনো নিআমত দান করেন, তবে তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা উঠিয়ে নিতে পারে না। আর বান্দা তো আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না।

আর এই দিকটি সাধারণ মানুষের (আওয়াম) জন্য প্রথমটির চেয়ে অধিক স্পষ্ট। এ কারণেই কুরআনে প্রথমটির চেয়ে এই দিকটি দ্বারা তাদেরকে বেশি সম্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু যখন কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি কুরআনের পদ্ধতি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে, তখন সে দেখতে পায় যে আল্লাহ এই দিকটির মাধ্যমে তাঁর বান্দাদেরকে প্রথম দিকটির দিকে আহ্বান করেন।

সুতরাং, এই দিকটি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা) এবং তাঁর কাছেই ইসতিআনাত (সাহায্য প্রার্থনা) দাবি করে। আর তা হলো—তিনি ছাড়া অন্য কাউকে বাদ দিয়ে কেবল তাঁকেই ডাকা এবং তাঁর কাছেই চাওয়া। এটি আরও দাবি করে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর ইবাদত করা—তাঁর বান্দার প্রতি তাঁর ইহসান (অনুগ্রহ) এবং পরিপূর্ণ করার কারণে...। (অসমাপ্ত)
(খণ্ড: ১) মাজমুউল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ২৮)
نِعَمِهِ عَلَيْهِ؛ وَحَاجَةِ الْعَبْدِ إلَيْهِ فِي هَذِهِ النِّعَمِ، وَلَكِنْ إذَا عَبَدُوهُ وَأَحَبُّوهُ؛ وَتَوَكَّلُوا عَلَيْهِ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ؛ دَخَلُوا فِي الْوَجْهِ الْأَوَّلِ؛ وَنَظِيرُهُ فِي الدُّنْيَا مَنْ نَزَلَ بِهِ بَلَاءٌ عَظِيمٌ أَوْ فَاقَةٌ شَدِيدَةٌ أَوْ خَوْفٌ مُقْلِقٌ؛ فَجَعَلَ يَدْعُو اللَّهَ وَيَتَضَرَّعُ إلَيْهِ حَتَّى فَتَحَ لَهُ مِنْ لَذَّةِ مُنَاجَاتِهِ مَا كَانَ أَحَبَّ إلَيْهِ مِنْ تِلْكَ الْحَاجَةِ الَّتِي قَصَدَهَا أَوَّلًا؛ وَلَكِنَّهُ لَمْ يَكُنْ يَعْرِفُ ذَلِكَ أَوَّلًا حَتَّى يَطْلُبَهُ وَيَشْتَاقَ إلَيْهِ. وَالْقُرْآنُ مَمْلُوءٌ مِنْ ذِكْرِ حَاجَةِ الْعِبَادِ إلَى اللَّهِ دُونَ مَا سِوَاهُ، وَمِنْ ذِكْرِ نَعْمَائِهِ عَلَيْهِمْ؛ وَمِنْ ذِكْرِ مَا وَعَدَهُمْ فِي الْآخِرَةِ مِنْ صُنُوفِ النَّعِيمِ وَاللَّذَّاتِ، وَلَيْسَ عِنْدَ الْمَخْلُوقِ شَيْءٌ مِنْ هَذَا؛ فَهَذَا الْوَجْهُ يُحَقِّقُ التَّوَكُّلَ عَلَى اللَّهِ وَالشُّكْرَ لَهُ وَمَحَبَّتَهُ عَلَى إحْسَانِهِ. الْوَجْهُ الرَّابِعُ: إنَّ تَعَلُّقَ الْعَبْدِ بِمَا سِوَى اللَّهِ مَضَرَّةٌ عَلَيْهِ؛ إذَا أَخَذَ مِنْهُ الْقَدْرَ الزَّائِدَ عَلَى حَاجَتِهِ فِي عِبَادَةِ اللَّهِ؛ فَإِنَّهُ إنْ نَالَ مِنْ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ فَوْقَ حَاجَتِهِ؛ ضَرَّهُ وَأَهْلَكَهُ؛ وَكَذَلِكَ مِنْ النِّكَاحِ وَاللِّبَاسِ؛ وَإِنْ أَحَبَّ شَيْئًا حُبًّا تَامًّا بِحَيْثُ يخالله فَلَا بُدَّ أَنْ يَسْأَمَهُ؛ أَوْ يُفَارِقَهُ. وَفِي الْأَثَرِ الْمَأْثُورِ: {أَحْبِبْ مَا شِئْتَ فَإِنَّكَ مُفَارِقُهُ. وَاعْمَلْ مَا شِئْتَ فَإِنَّكَ مُلَاقِيهِ. وَكُنْ كَمَا شِئْتَ فَكَمَا تَدِينُ تُدَانُ} . وَاعْلَمْ أَنَّ كُلَّ مَنْ أَحَبَّ شَيْئًا لِغَيْرِ اللَّهِ فَلَا بُدَّ أَنْ يَضُرَّهُ مَحْبُوبُهُ؛ وَيَكُونَ ذَلِكَ سَبَبًا لِعَذَابِهِ؛ وَلِهَذَا كَانَ الَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ؛ يُمَثَّلُ لِأَحَدِهِمْ كَنْزُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ يَأْخُذُ بِلِهْزِمَتِهِ. يَقُولُ: أَنَا كَنْزُكَ. أَنَا مَالُك. وَكَذَلِكَ نَظَائِرُ هَذَا فِي الْحَدِيثِ: يَقُولُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: {يَا ابْنَ آدَمَ؛ أَلَيْسَ عَدْلًا مِنِّي أَنْ أُوَلِّيَ كُلَّ رَجُلٍ مِنْكُمْ مَا كَانَ يَتَوَلَّاهُ فِي الدُّنْيَا؟} وَأَصْلُ التَّوَلِّي
তাঁর (আল্লাহর) পক্ষ থেকে বান্দার উপর প্রদত্ত নিয়ামতসমূহ; এবং এই নিয়ামতসমূহের ক্ষেত্রে বান্দার তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষিতা। কিন্তু যখন তারা তাঁর ইবাদত করে এবং তাঁকে ভালোবাসে; এবং এই দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করে; তখন তারা প্রথম দৃষ্টিকোণটির মধ্যে প্রবেশ করে। আর দুনিয়াতে এর দৃষ্টান্ত হলো— যার উপর কোনো বিরাট বিপদ (বালা), অথবা তীব্র অভাব (ফাকাহ), অথবা উদ্বেগজনক ভয় (খাওফুন মুক্লিক) আপতিত হয়; ফলে সে আল্লাহর কাছে দু'আ করতে শুরু করে এবং তাঁর কাছে বিনয় প্রকাশ করতে থাকে, যতক্ষণ না আল্লাহ তার জন্য তাঁর সাথে একান্ত আলাপের (মুনাজাত) এমন স্বাদ উন্মুক্ত করে দেন, যা তার কাছে প্রথমত উদ্দেশ্যকৃত সেই প্রয়োজনটির চেয়েও অধিক প্রিয় ছিল। কিন্তু সে প্রথমে তা জানত না, ফলে সে তা চাইতও না এবং এর জন্য ব্যাকুলও হতো না। আর কুরআন আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুর বিপরীতে বান্দাদের আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতার উল্লেখ দ্বারা পরিপূর্ণ, এবং তাদের উপর তাঁর নিয়ামতসমূহের উল্লেখ দ্বারা; আর আখিরাতে তিনি তাদের জন্য বিভিন্ন প্রকারের নিয়ামত (নাঈম) ও স্বাদ-আহ্লাদের (লাযযাত) যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার উল্লেখ দ্বারাও পরিপূর্ণ। আর সৃষ্টির কাছে এর কিছুই নেই। সুতরাং এই দৃষ্টিকোণটি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা), তাঁর প্রতি শুকর (কৃতজ্ঞতা) এবং তাঁর ইহসান (অনুগ্রহ)-এর কারণে তাঁকে ভালোবাসা (মুহাব্বাত) নিশ্চিত করে।

চতুর্থ দৃষ্টিকোণ (আল-ওয়াজহুর রাবি'): নিশ্চয়ই আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর (মা সিওয়া আল্লাহ) প্রতি বান্দার আসক্তি তার জন্য ক্ষতিকর; যদি সে আল্লাহর ইবাদতের জন্য তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরিমাণ গ্রহণ করে। কেননা, যদি সে খাদ্য ও পানীয় তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাভ করে; তবে তা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ধ্বংস করে দেয়; অনুরূপভাবে বিবাহ (নিকাহ) এবং পোশাকের (লিবাস) ক্ষেত্রেও। আর যদি সে কোনো কিছুকে এমন পূর্ণাঙ্গ ভালোবাসা দেয় যে তা তার অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে যায় (ইউখাল্লিলুহু); তবে অনিবার্যভাবে সে হয় তাতে বিরক্ত হয়ে যাবে (ইয়াসআমাহু); অথবা তাকে ছেড়ে চলে যেতে হবে (ইউফারিকুহু)। আর মা'সূর (বর্ণিত) আছারে (উক্তি) এসেছে: {তুমি যা ইচ্ছা ভালোবাসো, কেননা তুমি অবশ্যই তাকে ছেড়ে যাবে। আর তুমি যা ইচ্ছা আমল করো, কেননা তুমি অবশ্যই তার সম্মুখীন হবে। আর তুমি যেমন ইচ্ছা হও, কেননা তুমি যেমন প্রতিদান দেবে, তেমনই প্রতিদান পাবে (ফাকামা তাদীনূ তুদান)।} আর জেনে রাখো, যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর জন্য কোনো কিছুকে ভালোবাসে, তার সেই প্রিয় বস্তুটি অবশ্যই তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে; এবং তা তার আযাবের কারণ হবে। আর এই কারণেই যারা সোনা ও রূপা সঞ্চয় করে এবং আল্লাহর পথে তা ব্যয় করে না; কিয়ামতের দিন তাদের সঞ্চিত সম্পদ তাদের একজনের সামনে টাকমাথা বিষধর সাপের (শুজাআন আকরা') রূপে উপস্থিত হবে, যা তার চোয়াল ধরে বলবে: আমি তোমার সঞ্চিত সম্পদ। আমি তোমার মাল। অনুরূপভাবে হাদীসে এর সাদৃশ্য রয়েছে: আল্লাহ কিয়ামতের দিন বলবেন: {হে আদম সন্তান! এটা কি আমার পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার নয় যে, তোমাদের প্রত্যেকের উপর আমি তাকেই কর্তৃত্ব দেব, যাকে সে দুনিয়াতে অভিভাবক (বা বন্ধু/প্রভু) হিসেবে গ্রহণ করত (ইয়াতাওয়াল্লাহু)?} আর এই অভিভাবকত্ব (তাওয়াল্লী)-এর মূল...