(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: -)
بغية الملتمس في تاريخ رجال أهل الأندلس   (ابن عميرة الضبي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: بغية الملتمس في تاريخ رجال أهل الأندلس

المؤلف: أحمد بن يحيى بن أحمد بن عميرة، أبو جعفر الضبي (ت 599هـ)

الناشر: دار الكاتب العربي - القاهرة

عام النشر: 1967 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 547

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আন্দালুসবাসীদের জীবন ইতিহাসে প্রার্থীর আকাঙ্ক্ষা   (ইবনে আমিরা আদ-দাব্বি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমষ্টি


বই: আন্দালুসবাসীদের জীবন ইতিহাসে প্রার্থীর আকাঙ্ক্ষা

লেখক: আহমাদ বিন ইয়াহইয়া বিন আহমাদ বিন আমিরা, আবু জাফর আদ-দাব্বি (মৃত্যু ৫৯৯ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কাতিব আল-আরাবি - কায়রো

প্রকাশকাল: ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৪৭

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

رب يسر برحمتك، وصل وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وسلم أما بعد حمد الله تعالى الذي لا يعرف الخير إلا من عنده، وصلواته على محمد نبيه الكريم وعبده.

فإنه لما كان الناظر في الحديث وعلومه مفتقراً إلى معرفة أسماء رجاله ووفياتهم، وبلدانهم وغير ذلك، وكان المتحدث إذا جهل معرفة المحدثين وأهل المعرفة وذوي النباهة من الموضع الذي نشأ به [ونأت] عن مسقط رأسه دياره، وبعدت عنه أخباره، استخرت الله تعالى على أن [أجمع رواة] الحديث بالأندلس، وأهل الفقه والأدب وذوي النباهة والشعر، ومن له ذكر [من كل] من دخل إليها أو خرج عنها فيما يتعلق بالعلم والفضل، أو الرياسة والحرب، وأجعل [ذلك] من وقت افتتاحها، والذي تولى فتحها، ومن دخلها من التابعين رضي الله عنهم أجمعين مرتباً ذلك على حروف المعجم.

ولم أجد في كتب من تقدم كتاباً أقبل من كتاب أبي عبد الله محمد بن أبي نصر الحميدي إلا أنه انتهى فيه إلى حدود الخمسين وأربعمائة، فاعتمدت على أكثر من ذكره وزدت ما أغفله وغادره، وتممت من حيث وقف، وجعلت ما اعتمدته من ذلك تذكرة لنفسي ومطالعاً لأنسي، لم ألتمس عليه من مخلوق عوضاً، ولا طلبت به من أعراض الدنيا عرضاً، جارياً في ذلك على
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আমার প্রতিপালক, আপনার রহমতের উসিলায় সহজ করে দিন; আর আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন। আল্লাহ তাআলার প্রশংসার পর—যাঁর নিকট ব্যতীত কল্যাণ চেনা যায় না—এবং তাঁর সম্মানিত নবী ও বান্দা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালামের পর।

যেহেতু হাদিস ও এর জ্ঞান-শাখা নিয়ে গবেষণাকারীর জন্য বর্ণনাকারীদের নাম, তাঁদের মৃত্যুর সময়কাল, তাঁদের দেশ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়াবলি জানা অপরিহার্য; আর যেহেতু একজন আলোচক যখন মুহাদ্দিসগণ, বিজ্ঞজন এবং প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের সম্পর্কে অজ্ঞ থাকেন—বিশেষ করে যে স্থানে তিনি বেড়ে উঠেছেন এবং তাঁর জন্মস্থান থেকে যে অঞ্চলগুলো দূরে অবস্থিত এবং যেখানকার সংবাদ তাঁর কাছে পৌঁছায়নি—তখন আমি আল্লাহ তাআলার নিকট ইস্তিখারা করলাম এই মর্মে যে, আমি আন্দালুসের হাদিস বর্ণনাকারীগণ, ফিকহ ও সাহিত্যের পণ্ডিতগণ এবং প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি ও কবিদের জীবনী সংকলন করব। সেই সাথে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করব যাঁরা জ্ঞান ও মর্যাদা অথবা নেতৃত্ব ও যুদ্ধবিগ্রহ সংক্রান্ত বিষয়ে সেখানে প্রবেশ করেছেন অথবা সেখান থেকে বের হয়ে গেছেন। আমি এই কাজটির সূচনা করব আন্দালুস বিজয়ের সময় থেকে, এবং যিনি এই বিজয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁর কথা এবং সেখানে যে সকল তাবেয়ি (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন) প্রবেশ করেছেন তাঁদের আলোচনা দিয়ে; আর পুরো বিষয়টি আমি বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজাব।

পূর্ববর্তী লেখকদের কিতাবসমূহের মধ্যে আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবি নাসর আল-হুমাইদির কিতাবটির চেয়ে অধিক গ্রহণযোগ্য কোনো কিতাব আমি পাইনি; তবে তিনি তাতে চারশত পঞ্চাশ হিজরি পর্যন্ত আলোচনা সীমিত রেখেছেন। তাই তিনি যাদের কথা উল্লেখ করেছেন তাদের অধিকাংশের ওপর আমি নির্ভর করেছি এবং তিনি যা বাদ দিয়েছেন বা এড়িয়ে গেছেন তা আমি যোগ করেছি। তিনি যেখানে শেষ করেছেন, সেখান থেকে আমি পূর্ণতা দান করেছি। আর আমি যা সংকলন করেছি তা নিজের জন্য স্মারক এবং একাকীত্বের সঙ্গী হিসেবে তৈরি করেছি। এর বিনিময়ে কোনো সৃষ্টির কাছে আমি কোনো প্রতিদান কামনা করিনি এবং এর দ্বারা পার্থিব কোনো উদ্দেশ্যও খুঁজিনি; বরং এই কাজে আমি...
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢)
سبيل [الاختصار] ، تاركاً للتطويل والإكثار، والله سبحانه يجعل ما [أفعله خالصاً] لوجهه ومقرباً من رحمته [فما] التوفيق إلا من عنده، ولا غنى بالعبد عن معونته ورفده.

فإن أول وقت افتتاحها ففي سنة اثنتين وتسعين من الهجرة في القرن الثاني الذي أخبر النبي صلى الله عليه وآله وسلم أنه خير [بعد قرنه] ، ولو لم يكن للأندلس إلا هذا [لكفاها] فكيف وقد بشر الرسول صلى الله عليه وآله وسلم به، ووصف أسلافنا فيه بصفات الملوك على الأسرة، كما رويناه في حديث أنس بن مالك عن خالته أم حرام عن العدول حدثناه الراوية الزاهد أبو محمد عبد الله بن محمد بن عبيد الله قال: أخبرنا أبو العباس العذري قال: أخبرنا أبو العباس أحمد بن الحسن بن بندر قال: أخبرنا أبو أحمد محمد بن عيسى بن عمرويه قال: أخبرنا إبراهيم بن محمد بن سفيان قال: أخبرنا أبو الحسين مسلم بن [الحجاج قال: أخبرنا] خلف بن هشام أخبرنا: [مالك بن نجيبة] عن عمر بن يحيى بن حبان عن أنس بن مالك عن أم [حرام أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم [قال] يوماً في بيتها فاستيقظ وهو يضحك، فقالت يا رسول الله ما يضحكك؟ قال: "عجبت من قوم من أمتي يركبون البحر كالملوك على الأسرة فقالت يا رسول الله: ادع الله أن يجعلني منهم] ، قال فإنك منهم، قالت: ثم نام فاستيقظ أيضاً وهو يضحك! فسألته: فقال مثل مقالته قلت: ادع الله أن يجعلني منهم قال: أنت من الأولين".
সংক্ষেপের পথ অনুসরণ করছি, দীর্ঘতা ও বাহুল্য পরিহার করে; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমার এই আমলকে কেবল তাঁর চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করুন এবং তাঁর রহমতের নিকটবর্তী করুন। কেননা তাওফিক কেবল তাঁর পক্ষ হতেই আসে, আর কোনো বান্দাই তাঁর সাহায্য ও সহায়তা ব্যতীত অমুখাপেক্ষী হতে পারে না।

নিশ্চয়ই এর বিজয়ের সূচনালগ্ন ছিল হিজরি বিরানব্বই সনে, দ্বিতীয় শতাব্দীতে; যে শতাব্দী সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, তা তাঁর শতাব্দীর পর সর্বোত্তম শতাব্দী। আন্দালুসের জন্য যদি কেবল এই একটি বিষয় থাকতো তবে তাই তার জন্য যথেষ্ট হতো, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর সুসংবাদ দিয়েছেন এবং এতে আমাদের পূর্বসূরিদেরকে সিংহাসনে আসীন রাজাদের বৈশিষ্ট্যে বিশেষিত করেছেন। যেমনটি আমরা আনাস বিন মালিকের সূত্রে তাঁর খালা উম্মে হারাম থেকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে বর্ণনা করেছি; আমাদের নিকট হাদীসটি বর্ণনা করেছেন রাবি ও জাহেদ আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবায়দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্বাস আল-উযরি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্বাস আহমদ বিন হাসান বিন বান্দার, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন আমরওয়াইহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালাফ বিন হিশাম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মালিক বিন নাজাবাহ, তিনি উমর বিন ইয়াহইয়া বিন হাব্বান থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে এবং তিনি উম্মে হারাম থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম একদিন তাঁর ঘরে দুপুরের বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, অতঃপর তিনি হাসিমুখে জাগ্রত হলেন। উম্মে হারাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, কিসে আপনাকে হাসালো? তিনি বললেন: "আমার উম্মতের একদল লোকের ব্যাপারে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম যারা সিংহাসনে আসীন রাজাদের ন্যায় সমুদ্রের পিঠে আরোহণ করবে।" তখন তিনি (উম্মে হারাম) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল: আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বললেন, তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত। উম্মে হারাম বলেন: অতঃপর তিনি পুনরায় ঘুমালেন এবং আবারও হাসিমুখে জাগ্রত হলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি পূর্বের ন্যায় উত্তর দিলেন। আমি আরজ করলাম: আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বললেন: "তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত।"
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٣)
قال: فنزوجها عبادة بن الصامت بعد فغزا في البحر، فحملها معه فلما أن جاءت قربت له بغلة فصرعتها فاندقت عنقها.

وقد صح أيضاً أن هذا كان في زمان معاوية، وجعله بعض العلماء من مناقبه، لما كان ركوب البحر في إمارته لمن ذكرهم النبي صلى الله عليه وآله وسلم بهذه الصفة [فبالنسبة] للأندلس يكون أسلافنا الذين افتتحوها تالين في العدد لمن [يعد] من [الأولين] الذين ركبوا البحر هذا الجيش الأول المبشر به في مدته.

ولعل قائلاً يقول: إنما عنى الرسول صلى الله عليه وآله وسلم أهل صقلية أو إقريطش، فمن أين عنى الرسول صلى الله عليه وآله وسلم بذلك أهل الأندلس؟ [أقول] عنيه أن الرسول صلى الله عليه وآله وسلم قد أوتي جوامع الكلم، وذكر في هذا الحديث الذي [فيه أن قوماً] من أمته يركبون ثبج البحر غزاة واحدة بعد واحدة فسألته أم حرام أن يدعو ربه تعالى لها أن [يجعلها منهم] فأخبرها صلى الله عليه وآله وسلم - وخبره [يقين]- بأنها من الأولين فكانت من الغزاة إلى قبرص، وخرت عن بغلتها هناك فتوفت، وهذا علم من أعلام نبوته صلى الله عليه وآله وسلم ، وهو إخباره بالشيء قبل كونه فظهر ما أخبر به، وهو أول غزاة ركب فيها المسلمون البحر فثبت [منه] أن الغزاة إلى قبرص هم الأولون الذين بشر بهم النبي)
তিনি বলেন: এরপর উবাদাহ ইবনে সামিত তাকে বিবাহ করেন এবং সমুদ্র যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি তাকে নিজের সাথে নিয়ে যান। যখন তিনি ফিরে এলেন, তার জন্য একটি খচ্চর আনা হলো, কিন্তু সেটি তাকে ফেলে দিল এবং তার ঘাড় মচকে গেল।

এটিও সহীহভাবে প্রমাণিত যে, এটি মুয়াবিয়ার যুগে হয়েছিল। কিছু আলেম একে তার শ্রেষ্ঠত্বের একটি দিক হিসেবে গণ্য করেছেন, কারণ তার শাসনকালেই সমুদ্র যাত্রা তাদের জন্য সম্ভব হয়েছিল যাদের ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এই বিশেষণে উল্লেখ করেছেন। আন্দালুসের ক্ষেত্রে আমাদের পূর্বপুরুষরা যারা এটি জয় করেছিলেন, তারা সেই ‘প্রথম দলভুক্তদের’ সংখ্যার পরবর্তী স্তরে রয়েছেন যারা সমুদ্রে আরোহণ করেছিলেন—অর্থাৎ সেই প্রথম বাহিনী যাদেরকে তার সময়ে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছিল।

সম্ভবত কেউ বলতে পারেন: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) কেবল সিসিলি বা ক্রিটবাসীদের কথা বুঝিয়েছেন, তাহলে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এর দ্বারা আন্দালুসবাসীদের কীভাবে বুঝালেন? [আমি বলব] এর অর্থ হলো, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে ‘জাওয়ামিউল কালিম’ (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা) প্রদান করা হয়েছিল। তিনি এই হাদীসে উল্লেখ করেছেন যে, তার উম্মতের একদল লোক সমুদ্রের মাঝখানে একের পর এক যুদ্ধ করতে করতে আরোহণ করবে। তখন উম্মে হারাম তার কাছে অনুরোধ করেন যেন তিনি তার মহান রবের কাছে দুআ করেন যাতে তিনি তাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জানালেন—আর তার সংবাদ সুনিশ্চিত সত্য—যে তিনি প্রথম দলভুক্তদের অন্তর্ভুক্ত। ফলে তিনি সাইপ্রাস অভিযানের যোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং সেখানে তার খচ্চর থেকে পড়ে গিয়ে ইন্তেকাল করেন। এটি তার নবুওয়াতের নিদর্শনগুলোর অন্যতম একটি নিদর্শন, যা হলো কোনো বিষয় ঘটার পূর্বেই সে সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া; যা তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন তা-ই বাস্তবায়িত হয়েছে। এটিই ছিল প্রথম যুদ্ধ যেখানে মুসলমানরা সমুদ্রে আরোহণ করেছিল। ফলে এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, সাইপ্রাসের যোদ্ধারাই হলেন সেই প্রথম দল যাদের ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সুসংবাদ দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٤)
صلى الله عليه وآله وسلم (، وكانت أم حرام منهم كما أخبر.

وقد أخبرني غير واحد عن أبي الحسن شريح بن محمد الحافظ أبي محمد على ابن أحمد أنه قال: لا سبيل إلى أن [نقول] إن النبي صلى الله عليه وآله وسلم - وقد أوتي من البلاغة والبيان ما أوتي - يذكر طائفتين تسمى إحداها أولى إلى والثانية لها ثانية. فقرئ من باب الإضافة وتركيب العدد. [فلا] الأولى أولى إلا بالثانية، ولا الثانية ثانية إلا بالأولى ولا سبيل إلى ذكر [ثالثة] ضرورة إلا بعد ثان وهو صلى الله عليه وآله وسلم إنما ذكر طائفتين وبشر [بهما] وسمى إحداهما الأولين واقتضى ذلك [لضرورة] الصدق وجود آخرين. والآخر من الأولى هو الثاني، وذلك لابد منه. وأندلسنا فتحت عام اثنتين وتسعين من الهجرة، والقرن الذي افتتحها أول القرون بعد القرن الأول بشهادة الرسول صلى الله عليه وآله وسلم وأنه خر من كل [قرن] بعده.

ثم ركب البحر بعد ذلك أيام سليمان بن عبد الملك إلى القسطنطينية، وكان الأمير في ذلك [ … ] الفزاري.

وأما صقلية فإنها فتحت سنة [212هـ] 827 م. فتحها الأمير زيادة الله من بني الأغلب.

[ولما] ذكر تاريخ افتتاحها رأينا [ذكر] معرفة أصل التاريخ، ومن أول من أرخ والسبب الموجب لذلك، إذ ريما خفت على كثير من [أهل] الأندلس معرفة ذلك ولابد من أن نورد ذلك بالإسناد فعلى الإسناد جل الاعتماد.
আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর এবং তাঁর বংশধরদের ওপর বর্ষিত হোক, এবং উম্মে হারামও তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যেমনটি তিনি সংবাদ দিয়েছিলেন।

আবু হাসান শুরাইহ ইবনে মুহাম্মদ এবং হাফেজ আবু মুহাম্মদ আলী ইবনে আহমদ থেকে একাধিক ব্যক্তি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি বলেছেন: এমন কোনো পথ নেই যে আমরা বলব নবী—যাকে এমন সাবলীলতা ও বাগ্মিতা প্রদান করা হয়েছে যা তাকে দেওয়া হয়েছে—দুটি দলের কথা উল্লেখ করবেন যাদের একটিকে প্রথম এবং দ্বিতীয়টিকে দ্বিতীয় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সুতরাং এটি সম্বন্ধ ও সংখ্যা গঠনের নিয়ম অনুযায়ী পাঠ করা হয়েছে। অতএব, প্রথমটি দ্বিতীয়টি ব্যতীত প্রথম নয়, এবং দ্বিতীয়টিও প্রথমটি ব্যতীত দ্বিতীয় নয়। আবশ্যকতা অনুযায়ী দ্বিতীয়টির পর তৃতীয় কোনো দলের উল্লেখ করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি কেবল দুটি দলের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাদের সুসংবাদ দিয়েছেন এবং তাদের একটিকে প্রথম দল বলে অভিহিত করেছেন। সত্যতার প্রয়োজনে তা অন্য একটি দলের অস্তিত্ব দাবি করে। আর প্রথমটির পর যা আসে তা-ই দ্বিতীয়, এবং এটি অনিবার্য। আমাদের আন্দালুস হিজরি বিরানব্বই সালে বিজিত হয়েছিল। আর যে শতাব্দীতে এটি বিজিত হয়েছে, তা ছিল রাসুলের সাক্ষ্য অনুযায়ী প্রথম শতাব্দীর পরের প্রথম শতাব্দী এবং তিনি এর পরবর্তী প্রতিটি শতাব্দী থেকে বেছে নেওয়া ব্যক্তি।

এরপর সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিকের শাসনামলে কনস্টান্টিনোপলের উদ্দেশ্যে সমুদ্রযাত্রা করা হয় এবং সেই অভিযানে আমির ছিলেন [ … ] আল-ফাজারি।

আর সিসিলির ব্যাপারে কথা হলো, এটি ২১২ হিজরি (৮২৭ খ্রিস্টাব্দ) সালে বিজিত হয়। বনু আগলাবের আমির জিয়াদাতুল্লাহ এটি বিজয় করেন।

যখন এর বিজয়ের ইতিহাস উল্লেখ করা হলো, তখন আমরা ইতিহাসের মূল উৎস জানা, কে প্রথম ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন এবং এর কারণ কী ছিল তা উল্লেখ করা সঙ্গত মনে করলাম। কারণ আন্দালুসের অনেক অধিবাসীর কাছে সম্ভবত বিষয়টি অস্পষ্ট রয়ে গেছে। আর আমাদের অবশ্যই এটি সনদের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে, কারণ সনদের ওপরই মূল নির্ভরতা।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٥)
حدثني القاضي العلامة أبو القاسم عبد الرحمن بن محمد، قرأت عليه قال: أخبرنا أبو الحسن يونس بن محمد بن مغيث قال: أخبرنا القاضي عبد الوارث بن سفيان، أخبرنا قاسم بن أصبغ، أخبرنا أبو بكر بن أبي خيثمة علي بن محمد عن خالد عن ابن سيرين: أن رجلاً من المسلمين قدم من أرض اليمن يقول لعمر: رأيت باليمن [شيئاً يسمونه] التاريخ يكتبونه من عام كذا، وشهر كذا.

قال عمر: إن هذا حسن فأرخوا.

فلما أجمعوا على أن [يؤرخوا] قال قوم: مولد النبي صلى الله عليه وآله وسلم وقال [قوم: مبعثه] وقال قائل: حين خرج مهاجراً من مكة، وقال قائل بالوفاة، حين توفى فقال: أرخوا بخروجه من مكة إلى المدينة.

ثم قالوا: [بأي] شهر نبدأ فنصيره [أولاً] ؟ فقالوا: رجب فإن أهل الجاهلية كانوا [يؤرخون] به، وقال آخرون: شهر رمضان، وقال بعضهم: ذو الحجة فيه الحج. وقال آخرون: الشهر الذي خرج فيه من مكة، وقال آخرون: الشهر الذي قدم فيه، فقال عثمان: أرخوا المحرم أول السنة، وهي شهر [حرام] ، وهو منصرم عن الحج فصيروا أول السنة المحرم.

قال أبو بكر: أول ما أرخ [المسلمون كان] من مهاجرة [الرسول] فقال النبي سنة إحدى أو سنة اثنين إلى يومنا هذا.

وكان [التأريخ] في سنة سبع عشرة
বিচারক আল্লামা আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, আমি তাঁর কাছে পাঠ করেছি, তিনি বলেন: আবু হাসান ইউনুস বিন মুহাম্মদ বিন মুগিস আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: বিচারক আবদুল ওয়ারিস বিন সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কাসিম বিন আসবাগ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর বিন আবি খায়সামা আলি বিন মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালিদ থেকে, তিনি ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেন: মুসলমানদের মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি ইয়ামেন ভূমি থেকে এসে উমরের নিকট বললেন: আমি ইয়ামেনে এমন একটি বিষয় দেখেছি যাকে তারা 'তারিখ' (পঞ্জিকা) বলে অভিহিত করে, তারা অমুক বছর এবং অমুক মাস থেকে তা লিখে রাখে।

উমর বললেন: এটি সুন্দর বিষয়, সুতরাং তোমরা তারিখ নির্ধারণ করো।

অতঃপর যখন তারা তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে একমত হলেন, তখন একদল বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের জন্ম থেকে। কেউ কেউ বললেন: তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তি থেকে। জনৈক ব্যক্তি বললেন: যখন তিনি মক্কা থেকে মুহাজির হিসেবে বের হলেন। আবার কেউ বললেন: তাঁর ইন্তেকালের সময় থেকে। অতঃপর উমর বললেন: মক্কা থেকে মদিনায় তাঁর হিজরতের সময় থেকে তারিখ নির্ধারণ করো।

এরপর তারা বললেন: আমরা কোন মাস দিয়ে শুরু করব যাকে প্রথম মাস হিসেবে গণ্য করা হবে? তারা বললেন: রজব মাস, কেননা জাহেলিয়াতের যুগের লোকেরা একে তারিখের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করত। অন্যরা বললেন: রমজান মাস। তাদের মধ্যে কেউ বললেন: জিলহজ মাস, কেননা তাতে হজ অনুষ্ঠিত হয়। আবার অন্যরা বললেন: সেই মাস যেটিতে তিনি মক্কা থেকে বের হয়েছিলেন। অন্যরা বললেন: যে মাসে তিনি পৌঁছেছিলেন। তখন উসমান বললেন: মহররমকে বছরের প্রথম ধরে তারিখ নির্ধারণ করো, এটি একটি সম্মানিত মাস এবং এটি হজের সফর সমাপ্তির মাস; ফলে তারা মহররমকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে ধার্য করলেন।

আবু বকর বলেন: মুসলমানরা সর্বপ্রথম রাসুলের হিজরত থেকে তারিখ গণনা শুরু করেছিলেন, সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের প্রথম বা দ্বিতীয় বছর থেকে আমাদের বর্তমান দিন পর্যন্ত এভাবেই চলে আসছে।

আর এই তারিখ প্রবর্তনের ঘটনাটি ছিল সতেরো হিজরি সনে।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٦)
ويقال في سنة ستة عشرة من ربيع الأول. قال أبو بكر: وأخبرنا: داود بن عمر: [قال: كتب أبو] موسى الأشعري إلى عمر بن الخطاب أنه تأتينا من قبلك كتب ليس لها تاريخ فأرخ [فجمع عمر الناس] فقال بعضهم: أرخ لمبعث لرسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ، وقال بعضهم: أرخ لوفاة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم .

فقال عمر: بل نؤرخ لمهاجرة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فإن مهاجرته فرقت بين الحق والباطل [فأرخوا] لمهاجرة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم .

قال أبو بكر: وأخبرنا: أحمد بن حنبل قال: أخبرنا روح قال: زكريا بن إسحاق عن عمرو بن دينار: أن أول من أرخ الكتب يعلي بن أمية وهو باليمن، وأن النبي صلى الله عليه وآله وسلم [قدم] المدينة في شهر ربيع الأول في أول الناس [ولم يؤرخوا به] وإنما أرخ الناس مقدم النبي صلى الله عليه وآله وسلم [بالمحرم] .

قال أبو بكر: [لما بعث يعلي بن أمية] إلى عمر بن الخطاب [بكتابه مؤرخاً استحسنه فشرع في التأريخ] .

وقال قائل اكتبوا على [تاريخ] الفرس فقال: إن الفرس [تاريخ غير مستند إلى مبدأ معين، بل كلما قام فيهم ملك بدأوا من لدنه وطرح] ما كان قبله فأجمع رأيهم على أن ينظروا كم أقام رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بالمدينة، فكتبوا التاريخ على هجرة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم .
বলা হয় ১৬ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের কথা। আবু বকর বলেন: দাউদ ইবনে উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: [তিনি বলেন: আবু] মুসা আল-আশআরি উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট লিখেছিলেন যে, আপনার পক্ষ থেকে আমাদের কাছে এমন সব পত্র আসে যেগুলোতে কোনো তারিখ নেই, সুতরাং আপনি তারিখ নির্ধারণ করুন। [অতঃপর উমর লোকজনকে একত্র করলেন]। তাদের কেউ কেউ বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তির সময় থেকে তারিখ নির্ধারণ করুন। আবার কেউ কেউ বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের সময় থেকে তারিখ নির্ধারণ করুন।

অতঃপর উমর বললেন: বরং আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের সময় থেকে তারিখ নির্ধারণ করব, কারণ তাঁর হিজরত সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে দিয়েছে। [অতঃপর তারা] আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের সময়কাল থেকে তারিখ নির্ধারণ করলেন।

আবু বকর বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে হাম্বল, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাউহ, তিনি বলেন: জাকারিয়া ইবনে ইসহাক আমর ইবনে দিনার থেকে বর্ণনা করেন যে: পত্রাবলীতে সর্বপ্রথম তারিখ প্রবর্তনকারী ব্যক্তি ছিলেন ইয়ালা ইবনে উমাইয়া যখন তিনি ইয়ামেনে ছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম রবিউল আউয়াল মাসে প্রথম ভাগে মদিনায় [আগমন করেন], [কিন্তু তারা তা থেকে তারিখ গণনা করেনি], বরং মানুষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের আগমনের বছরকে [মুহাররম] মাস থেকে তারিখ গণনা শুরু করে।

আবু বকর বলেন: [যখন ইয়ালা ইবনে উমাইয়া] উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট [তারিখযুক্ত পত্র পাঠালেন, তখন তিনি তা পছন্দ করলেন এবং তারিখ প্রথা প্রবর্তন করলেন]।

জনৈক ব্যক্তি বললেন, পারস্যের [তারিখের] আদলে লিখুন। তখন তিনি বললেন: পারসিকদের [তারিখ কোনো নির্দিষ্ট মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়, বরং যখনই তাদের মধ্যে কোনো রাজা আসত, তারা তার সময় থেকে গণনা শুরু করত এবং বর্জন করত] যা তার আগে ছিল। অতঃপর তাদের সকলের অভিমত এক হলো যে, তারা লক্ষ্য করবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম কতদিন মদিনায় অবস্থান করেছিলেন, অতঃপর তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের ভিত্তিতে তারিখ লিপিবদ্ধ করলেন।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٧)
وحكى الدارقطني: قال: كتب عمر التاريخ بعد ولايته بسنتين ونصف، سنة ست عشرة بمشورة علي بن أبي طالب رضي الله عنهما، وذلك أن العرب لم تكن تؤرخ التاريخ من قبل على أصل معلوم.

وإنما كانوا يؤرخون بالقحط، وبالعمل الذي يكونون عليه حتى كان زمان الفيل فأرخوا بالفيل، ثم من بعده ببنيان الكعبة، فلم تزل العرب على هذا حتى كان عمر بن الخطاب، [وفتحت] بلا الأعاجم [وكثرت أموال] الخراج، وأعطى [الأعطيات] ، قال محمد بن سيرين فقال: [إن الأموال كثرت وما قسمناه غير مؤقت فكيف التوصل إلى ما يضبط ذلك؟] .

وقال الشعبي: [كان بنو إبراهيم يؤرخون من نار إبراهيم إلى بنيان البيت] حين بناه إبراهيم وإسماعيل، ثم أرخ [بنو] إسماعيل من [بناء] البيت [حتى] تفرقت معد، فكان كلما خرج [قوم] من تهامة أرخوا [بمخرجهم حتى مات كعب بن لؤي فأرخوا من موته] إلى الفيل، فكان التأريخ من الفيل حتى أرخ عمر من الهجرة، وذلك سنة سبع عشرة أو ثمان عشرة.

قلت: فالتاريخ اليوم قبل الهجرة بشهرين واثنتي عشرة ليلة، لأنه صح أن الرسول صلى الله عليه وآله وسلم قدم المدينة يوم الاثنين عشرة ليلة خلت من ربيع الأول بعد هذا التاريخ قبل الهجرة إلى غرة المحرم.

وأما الذي تولى فتح الأندلس وكان أمير الجيش السابق إليها فطارق، قيل: [ابن زياد] وقيل ابن عمرو، وكان والياً على طنجة، مدينة من المدن المتصلة ببر القيروان في أقصى المغرب، بينها وبين الأندلس فيما يقابلها من البحر خلج يعرف
আদ-দারাকুতনী বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন: উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর খিলাফত লাভের আড়াই বছর পর হিজরি ১৬ সনে আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমার পরামর্শক্রমে ইতিহাস (পঞ্জিকা) প্রবর্তন করেন। কারণ, ইতিপূর্বে আরবদের ইতিহাস গণনার কোনো নির্দিষ্ট মূল ভিত্তি ছিল না।

বরং তারা দুর্ভিক্ষ এবং তাদের সমসাময়িক বিশেষ বিশেষ ঘটনার মাধ্যমে ইতিহাস গণনা করত। অবশেষে হাতির বছর (আমুল ফীল) আসলে তারা হাতির বছরের মাধ্যমে গণনা শুরু করে। অতঃপর তার পরবর্তী সময়ে কাবা ঘর নির্মাণের মাধ্যমে গণনা করত। আরবরা এভাবেই চলতে থাকে যতক্ষণ না উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সময় আসে এবং অনারবদের ভূখণ্ডসমূহ বিজিত হয় ও খেরাজের (ভূমি কর) অর্থ বৃদ্ধি পায় এবং তিনি ভাতা প্রদান শুরু করেন। মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত, তিনি (উমর) বললেন: "নিশ্চয়ই সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমরা যা বণ্টন করেছি তা সময় দ্বারা সুনির্দিষ্ট নয়; সুতরাং তা সুশৃঙ্খল করার পদ্ধতি কী হবে?"

আশ-শা’বী বলেন: [ইবরাহীমের সন্তানরা ইবরাহীমের অগ্নিকুণ্ড থেকে শুরু করে কাবা ঘর নির্মাণ পর্যন্ত তারিখ গণনা করত] যখন ইবরাহীম ও ইসমাইল আলাইহিমাস সালাম এটি নির্মাণ করেছিলেন। এরপর বনু ইসমাইল কাবা ঘর নির্মাণ থেকে শুরু করে মা’দ গোত্রের বিচ্ছিন্ন হওয়া পর্যন্ত গণনা করত। যখনই তিহামা থেকে কোনো সম্প্রদায় বেরিয়ে যেত, তারা তাদের বেরিয়ে যাওয়ার সময় থেকে গণনা করত। অবশেষে কা’ব বিন লুআই-এর মৃত্যু হলে তারা তার মৃত্যু থেকে হাতির বছর পর্যন্ত গণনা করতে থাকে। সুতরাং হাতির বছর থেকেই ইতিহাস গণনা চলত যতক্ষণ না উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হিজরত থেকে তারিখ গণনা শুরু করেন, আর তা ছিল হিজরি সতেরো বা আঠারো সনে।

আমি বলি: বর্তমান পঞ্জিকা অনুযায়ী ইতিহাস বা বছর গণনার শুরু মূল হিজরতের দুই মাস বারো রাত পূর্ব থেকে। কারণ এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম রবিউল আউয়াল মাসের বারো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার দিনে মদিনায় পৌঁছেছিলেন। এই তারিখের পর হিজরতের সূচনাকে মহররমের পহেলা তারিখ পর্যন্ত পিছিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর যিনি আন্দালুস বিজয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং সেখানে প্রেরিত অগ্রগামী বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন, তিনি হলেন তারিক। বলা হয়: তিনি ইবনে যিয়াদ, আবার বলা হয়: ইবনে আমর। তিনি তানজাহর গভর্নর ছিলেন, যা সুদূর মরক্কোর কাইরুয়ান ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত একটি শহর। এর এবং আন্দালুসের মাঝখানে সমুদ্রের একটি প্রণালী রয়েছে যা পরিচিত...
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٨)
بالزقاق، وبالمجاز، وثبت فيها موسى بن نصير أمير القيروان، وقيل إن مروان بن موسى بن نصير خلف طارقاً هناك على العساكر [وانصرف إلى أبيه لأمر] عرض له فركب طارق البحر إلى الأندلس من جهة مجاز الخضراء منتهزاً [لفرصة أمكنته] فدخلها وأمعن، واستظهر على العدو بها وكتب إلى موسى بن نصير بغلبته على [ما غلب عليه] من الأندلس وفتحه، وما حصل له من الغنائم، فحسده على الانفراد بذلك وكتب إلى الوليد بن عبد الملك بن مروان يعلمه بالفتح، وينسبه إلى نفسه وكتب إلى طارق يتوعده إذا دخلها بغير إذنه ويأمره ألا يتجاوز مكانه حتى يلحقه [وخرج موجهاً إلى الأندلس] واستخلف على القيروان [ولده عبد الله في رجب سنة ثلاث وتسعين] .

فقد استولى طارق على قرطبة دار المملكة وقتل لذريق ملك الروم بالأندلس، فتلقاه طارق [وترضاه، ورام] أن يستل [ما في نفسه] من الحسد له وقال له: إنما أنا مولاك ومن قبلك، وهذا الفتح لك، وحمل طارق إليه من كان غنمه من الأموال.

فلذلك نسب الفتح إلى موسى بن نصير لأن طارقاً من قبله ولأنه استزاد في الفتح ما بقي على طارق.

وذكر أبو القاسم عبد الرحمن بن عبد الله بن عبد الحكيم فيما أخبرني به أبو الطاهر إسماعيل بن قاسم الزيات وغيره بفسطاط مصر قال: أخبرنا ابن يحيى قال: أخبرنا بن الحسن علي بن منير الخلال قال: أخبرنا أبو بكر محمد بن أحمد بن الفرج القماح [قال: أخبرنا] علي بن الحسن بن خلف
যুকাক ও মাজাজে (প্রণালীতে), কায়রাওয়ানের আমির মুসা ইবনে নুসাইর সেখানে সুদৃঢ়ভাবে অবস্থান করেন। বলা হয় যে, মারওয়ান ইবনে মুসা ইবনে নুসাইর তারেককে সেখানে সেনাবাহিনীর দায়িত্বে রেখে যান [এবং একটি ঘটনার কারণে তার পিতার কাছে চলে যান]। অতঃপর তারেক একটি [সুযোগের] সদ্ব্যবহার করে গ্রিন প্যাসেজ (মাজাজ আল-খাদরা) এর দিক থেকে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আন্দালুসে গমন করেন। তিনি সেখানে প্রবেশ করে গভীরে অগ্রসর হন এবং শত্রুর ওপর বিজয়ী হন। তিনি মুসা ইবনে নুসাইরকে আন্দালুসের যে অংশ তিনি জয় করেছেন এবং তার বিজয় সম্পর্কে এবং অর্জিত গণিমত সম্পর্কে লিখে পাঠান। মুসা এককভাবে এই বিজয়ের কৃতিত্ব লাভ করার কারণে তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হন এবং ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানকে বিজয়ের সংবাদ জানিয়ে চিঠি লেখেন এবং সেই কৃতিত্ব নিজের নামে দাবি করেন। তিনি তারেককে তার অনুমতি ছাড়া সেখানে প্রবেশের কারণে হুমকি দিয়ে এবং তাকে তার স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি লেখেন যতক্ষণ না তিনি তার সাথে মিলিত হন। [অতঃপর তিনি আন্দালুসের উদ্দেশ্যে রওনা হন] এবং কায়রাওয়ানে [তার পুত্র আব্দুল্লাহকে ৯৩ হিজরি সালের রজব মাসে] স্থলাভিষিক্ত করেন।

তারেক রাজ্যের রাজধানী কর্ডোবা দখল করেন এবং আন্দালুসে রোমানদের রাজা রডারিককে হত্যা করেন। অতঃপর তারেক তার সাথে সাক্ষাৎ করেন [এবং তাকে সন্তুষ্ট করতে চাইলেন এবং] তার মন থেকে তার প্রতি যে ঈর্ষা ছিল তা দূর করার ইচ্ছা পোষণ করেন। তিনি তাকে বললেন: "আমি কেবল আপনারই একজন মুক্ত দাস এবং আপনার পক্ষ থেকেই নিয়োজিত। এই বিজয় আপনারই।" তারেক তার কাছে গণিমত হিসেবে প্রাপ্ত সমস্ত ধনসম্পদ নিয়ে আসেন।

এই কারণেই বিজয়ের কৃতিত্ব মুসা ইবনে নুসাইরের দিকেই আরোপ করা হয়, কারণ তারেক তার অধীনে ছিলেন এবং তিনি বিজয়ের সেই অংশগুলো সম্পন্ন করেছিলেন যা তারেকের পক্ষ থেকে বাকি ছিল।

আবুল কাসিম আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম সেই বিষয়ে উল্লেখ করেছেন যা আমাকে মিশরের ফুস্তাতে আবু তাহের ইসমাইল ইবনে কাসিম আল-জায়য়াত এবং অন্যান্যরা অবহিত করেছেন। তিনি বলেন: ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুল হাসান আলী ইবনে মুনির আল-খাল্লাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনুল ফারাজ আল-কাম্মাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন [তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন] আলী ইবনে হাসান ইবনে খালাফ।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٩)
بن قديد قال: أخبرنا عبد الرحمن بن عبد الله بن عبد الحكم أن [موسى كتب] إن طارق [في أمر] الفتح فلما انتهى إليه [كتاب موسى خرج] إليه طارق، ولذريق يومئذ على سرير ملكه والسرير بين بغلين يحملانه وعليه تاجه [وقفازه] وجميع ما كانت الملوك قبله [تلبسه] من الحلية.

فخرج إليه طارق وأصحابه رجالة كلهم ليس فيهم راكب، فاقتتلوا من حين بزغت الشمس إلى أن غربت فظنوا [أنه الفناء، وقتل] لذريق، ومن معه، وفتح للمسلمين، ولم تكن بالمغرب مقتلة قط أكبر منها [فلم يرفع] المسلمون السيف عنهم ثلاثة أيام، ثم ارتحل الناس إلى قرطبة.

قال: ويقال إن موسى هو الذي وجه طارقاً بعد مدخله الأندلس إلى طليطلة وهي في النصف فيما بين قرطبة وأربونة أقصى ثغر الأندلس، وكانت كتب عمر بن عبد العزيز تنتهي إلى أربونة، ثم غلب عليها أهل الشرك [فهي في أيديهم] وإن طارقاً إنما أصاب "المائدة" فيها. والله أعلم.

وكان لذريق يملك ألفي ميل من الساحل إلى ما وراء ذلك فأصاب الناس ما لم يكونوا يتخيلونه [من الغنائم الكثيرة ومن الذهب والفضة] .

وروى عبد الله بن حبيب، عن عبد الله بن وهب، عن الليث بن سعد أن موسى ابن نصير لما افتتح الأندلس مضى على وجهه يفتتح المدائن يميناً [وشمالاً] . حتى انتهى إلى مدينة طليطلة وهي مدينة الملوك فوجد فيها بيتاً يقال له بيت الملوك. [ووجد فيه] خمسة وعشرين تاجاً مكللة بالدر والياقوت وهي على الملوك الذين حكموها،
বিন কুদাইদ বলেছেন: আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, [মুসা লিখেছিলেন] তারিককে বিজয়ের [বিষয়ে]। যখন [মুসার চিঠি] তারিকের কাছে পৌঁছাল, তখন তারিক তার দিকে [রওনা হলেন]। ঐ সময় লুজাইরিক তার রাজসিংহাসনে উপবিষ্ট ছিলেন, আর সিংহাসনটি ছিল দুটি খচ্চরের ওপর যা তাকে বহন করছিল। তার মাথায় ছিল মুকুট এবং [হাতে ছিল দস্তানা] এবং তার পূর্বেকার রাজারা যেসব অলংকার [পরিধান করতেন] তার সবই তার অঙ্গে ছিল।

অতঃপর তারিক ও তাঁর সঙ্গীরা পদব্রজে তাঁর দিকে অগ্রসর হলেন, তাঁদের মধ্যে কোনো আরোহী ছিল না। তাঁরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যুদ্ধ করলেন, এমনকি তাঁরা ধারণা করলেন [যে এটিই চূড়ান্ত বিনাশ]। লুজাইরিক ও তাঁর সঙ্গীরা নিহত হলেন এবং মুসলিমদের বিজয় অর্জিত হলো। মাগরিবে এর চেয়ে বড় যুদ্ধ আর কখনো হয়নি। মুসলিমগণ তিন দিন পর্যন্ত তাদের ওপর থেকে তলোয়ার [সরিয়ে নেননি]। অতঃপর লোকজন কর্ডোভার দিকে যাত্রা করল।

তিনি বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, মুসাই তারিককে আন্দালুসে প্রবেশের পর টলেডো অভিমুখে পাঠিয়েছিলেন। এটি কর্ডোভা এবং আন্দালুসের দূরতম সীমান্ত আরবোনা-এর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। উমর ইবনে আব্দুল আজিজের চিঠিগুলো আরবোনা পর্যন্ত পৌঁছাত। পরবর্তীতে শিরকপন্থীরা এর ওপর বিজয়ী হয় [তাই সেটি এখন তাদের হাতে]। তারিক সেখানে "মায়িদাহ" (ঐতিহাসিক রাজকীয় টেবিল) লাভ করেছিলেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

লুজাইরিক উপকূল থেকে শুরু করে তার পরবর্তী দুই হাজার মাইল এলাকা শাসন করতেন। ফলে লোকজন এমন সব [প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ এবং সোনা ও রুপা] লাভ করল যা তারা কল্পনাও করতে পারেনি।

আব্দুল্লাহ ইবনে হাবিব, আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব থেকে এবং তিনি লাইস ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুসা ইবনে নুসাইর যখন আন্দালুস জয় করলেন, তখন তিনি ডানে [ও বামে] শহরসমূহ জয় করতে করতে সামনে অগ্রসর হতে থাকলেন। অবশেষে তিনি টলেডো শহরে পৌঁছালেন, যা ছিল রাজাদের শহর। সেখানে তিনি 'বায়তুল মুলুক' বা রাজাদের ঘর নামক একটি ঘর পেলেন। [সেখানে তিনি] মুক্তা ও ইয়াকুত খচিত পঁচিশটি মুকুট পেলেন, যা ঐ শহর শাসনকারী রাজাদের সংখ্যা অনুযায়ী ছিল।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٠)
كلما مات ملك جعل تاجه في ذلك البيت، وكتب على التاج اسم صاحبه، وكم أتى عليه من الدهر إلى يوم مات، وكم عدد من سبقهم من ولاة الأندلس منذ افتتحت إلى يوم ولايته [ … ] .

ثم جاء بلج بن بشر فادعي ولايتها، وشهد له بعض من كان معه، ووقعت فتن، من أجل ذلك افترق أهل الأندلس على أربعة أمراء حتى أرسل إليهم والياً؛ أبو الخطار حسام بن ضرار فحسم مواد الفتن وجمعهم على الطاعة بعد الفرقة.

وفي تقديم بعضهم على بعض اختلاف إلا أن هؤلاء المذكورين كانوا سراتها وولاة الحروب فيها أيام بني أمية قبل ذهاب دولتهم من المشرق.

وقد دخل الأندلس للجهاد من التابعين جماعة، قد قدمنا قبل ما ذكره ابن حبيب أنهم عشرون، والحاضر الآن منهم في الخاطر محمد بن أوس بن ثابت الأنصاري يروي عن أبي هريرة [وحنش] بن عبد الله الصنعاني يروي عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه وفضالة بن عبيد [وعبد الرحمن بن] عبد الله الغافقي يروى عن ابن عمر، وزيد بن قاصد السكسكي المصري يروى عن عبد [الله بن] عمرو بن العاص، وموسى بن نصير الذي ينسب إليه الفتح يروى عن تميم الداري، وسيأتي ذكرهم في الأبواب إن شاء الله.

وقد قدمنا في فضل الأندلس ما لا يشاركها غيرها فيه، وهي تشارك المغرب في الحديث الصحيح بنقل العدل عن العدل الذي خرجه مسلم، وحدثنا به عنه الزاهد أبو محمد بالسند المتقدم آنفاً وغيره قال مسلم أخبرنا بن يحيى عن هشيم بن بشير الواسطي عن داود بن أبي [هند] عن أبي عثمان الهندي عن سعد
যখনই কোনো রাজা মারা যেতেন, তাঁর মুকুটটি সেই ঘরে রাখা হতো এবং মুকুটের ওপর তাঁর নাম, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কতকাল অতিবাহিত করেছেন এবং বিজয়ের সময় থেকে তাঁর শাসনকাল পর্যন্ত আন্দালুসের কতজন গভর্নর তাঁদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছেন, তা লিখে রাখা হতো [ … ]।

এরপর বালজ ইবনে বিশর আসলেন এবং এর শাসনের দাবি করলেন, তাঁর সাথে থাকা কেউ কেউ তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিল। এরপর ফিতনা (বিশৃঙ্খলা) দেখা দিল, যার কারণে আন্দালুসের অধিবাসীরা চারজন আমিরের অধীনে বিভক্ত হয়ে পড়ল। অবশেষে তাদের কাছে আবু আল-খাত্তার হুসাম বিন দিরারকে গভর্নর হিসেবে পাঠানো হলো; তিনি ফিতনার মূল উপড়ে ফেললেন এবং বিভক্তির পর তাদেরকে আনুগত্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ করলেন।

তাঁদের একজনকে অন্যের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে, তবে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গ ছিলেন বনু উমাইয়্যার শাসনের দিনগুলোতে মাশরিক (পূর্বাঞ্চল) থেকে তাদের খেলাফত বিলুপ্ত হওয়ার পূর্বে এখানকার নেতৃবৃন্দ এবং যুদ্ধসমূহের পরিচালক।

জিহাদের উদ্দেশ্যে তাবেয়ীদের একটি দল আন্দালুসে প্রবেশ করেছিলেন। ইবনে হাবিব যা উল্লেখ করেছেন তা আমরা আগেই বর্ণনা করেছি যে, তাঁরা ছিলেন বিশজন। তাঁদের মধ্যে এখন যাদের কথা স্মরণে আসছে তাঁরা হলেন— মুহাম্মাদ ইবনে আওস ইবনে সাবিত আল-আনসারী যিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, [হানাশ] ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সানআনী যিনি আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, ফাদালা ইবনে উবাইদ, [আব্দুর রহমান ইবনে] আব্দুল্লাহ আল-গাফেকী যিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, যায়েদ ইবনে কাসিদ আস-সাকসাকি আল-মিসরি যিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন এবং মুসা ইবনে নুসাইর যাঁর সাথে বিজয়ের কৃতিত্ব সম্পৃক্ত, তিনি তামীম আদ-দারী থেকে বর্ণনা করেন। ইনশাআল্লাহ সামনে বিভিন্ন অধ্যায়ে তাঁদের কথা আলোচিত হবে।

আমরা ইতিপূর্বে আন্দালুসের এমন সব ফযিলত বর্ণনা করেছি যাতে অন্য কোনো অঞ্চল অংশীদার নয়। এটি সহিহ হাদিসের ক্ষেত্রে মাগরিবের (মরক্কো/উত্তর আফ্রিকা) সাথে অংশীদার, যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিত হয়ে মুসলিমের সংকলন পর্যন্ত পৌঁছেছে। যাহিদ আবু মুহাম্মাদ আমাদের কাছে ইতোপূর্বে উল্লিখিত সনদ এবং অন্যান্য সনদের মাধ্যমে তা বর্ণনা করেছেন। মুসলিম বলেন: ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুশাইম ইবনে বাশির আল-ওয়াসিতি থেকে, তিনি দাউদ ইবনে আবি [হিন্দ] থেকে, তিনি আবু উসমান আল-হিন্দি থেকে, তিনি সাদ থেকে...
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١١)
بن أبي وقاص أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: "لا يزال أهل الغرب ظاهرين على الحق حتى تقوم الساعة". لأن هذا [النص] وإن كان عاماً لما يقع عليه فللأندلس منه حظ وافر لدخولها في العموم، ومزية لتحققها بالغرب، وأنها آخر المعمور فيه، وبعض ساحلها الغربي على البحر المحيط، وليس بعده مسلك.

ومن فضلها أنه لم يذكر قط على منابرها أحد من السلف إلا بخير وإلى الآن، وهي ثغر من ثغور المسلمين، لمجاورتهم الروم واتصال بلادهم ببلادهم.

وإنما قيل جزيرة الأندلس لأن البحر محيط بجميع جهاتها إلا ما كان الروم فيه من جهة شمال منها فصارت كالجزيرة بين البحر والروم.

وإلا فمنها إلى القسطنطينة بر متصل من جهة بلاد الروم من شرقها.

وقد بشر النبي صلى الله عليه وآله وسلم أهل هذه البلاد في هذا الحديث الصحيح المتصل بظهور الإسلام فيها، وثباته إلى أن تقوم الساعة بها، هذا مع زيادة [أعداد الروم وبلادهم] أضعافاً مضاعفة [وقلة عدد] المسلمين بالإضافة إليهم [وصح بخبر الصادق صلى الله عليه وآله وسلم أنه ثغر منصور إلى قيام الساعة] .

 

‌‌[فصل]

[وما زالت الولاة] بالأندلس أيام بني أمية تليها من قبلهم، أو من قبل من يقيمونه بالقيروان أو بمصر.

فلما اضطر أمر بني أمية في سنة ست وعشرين ومائة، بقتل الوليد بن يزيد بن عبد الملك، واشتغلوا عن مراعاة أقاصي البلاد وقع الاضطراب بإفريقية والاختلاف [بالأندلس أيضاً بين القبائل] ثم اتفقوا بالأندلس على تقديم قرشي يجمع الكلمة إلى أن تستقر الأمور بالشام، لمن يخاطب
সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পশ্চিমের অধিবাসীরা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত।" কারণ এই [নস বা পাঠটি] যদিও ব্যাপক অর্থবোধক, তবুও আন্দালুসের জন্য এতে একটি বিশাল অংশ রয়েছে; যেহেতু এটি সেই ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত এবং পশ্চিমে অবস্থানের কারণে এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি ছিল তৎকালীন জনবসতির শেষ প্রান্ত এবং এর পশ্চিম উপকূলের কিছু অংশ মহাসাগর সংলগ্ন, যার পর আর কোনো পথ নেই।

এর অন্যতম শ্রেষ্ঠত্ব এই যে, এখন পর্যন্ত এর মিম্বরগুলোতে সালাফে সালেহীনের মধ্য থেকে কাউকে কল্যাণের সাথে স্মরণ করা ছাড়া অন্য কিছু ঘটেনি। এটি মুসলিমদের অন্যতম একটি সীমান্ত এলাকা, কারণ রোমানদের সাথে তাদের সান্নিধ্য এবং তাদের ভূখণ্ডের সাথে মুসলিম ভূখণ্ডের সংযোগ বিদ্যমান।

একে আন্দালুস উপদ্বীপ বলা হয়েছে কারণ এর উত্তর দিক বাদে চারপাশ সমুদ্র দ্বারা বেষ্টিত, যেখানে রোমানদের অবস্থান। ফলে এটি সমুদ্র এবং রোমানদের মধ্যবর্তী একটি দ্বীপ সদৃশ ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে।

অন্যথায়, এর পূর্ব দিক থেকে রোমানদের দেশ হয়ে কনস্টান্টিনোপল পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন স্থলপথ বিদ্যমান।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সহীহ ও নিরবচ্ছিন্ন হাদিসের মাধ্যমে এই অঞ্চলের অধিবাসীদের সেখানে ইসলামের বিজয় এবং কিয়ামত পর্যন্ত এর স্থায়িত্বের সুসংবাদ দিয়েছেন। অথচ রোমানদের [সংখ্যা এবং তাদের রাজ্য] মুসলিমদের তুলনায় বহুগুণ বেশি ছিল এবং তাদের তুলনায় মুসলিমদের [সংখ্যা ছিল নগণ্য]। [আর সত্যবাদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, এটি কিয়ামত পর্যন্ত একটি বিজয়ী সীমান্ত এলাকা]।

 

‌‌[পরিচ্ছেদ]

বনু উমাইয়ার শাসনামলে আন্দালুসে [গভর্নরগণ] সরাসরি তাদের পক্ষ থেকে অথবা কাইরোয়ান বা মিশরে তাদের নিযুক্ত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিযুক্ত হতেন।

অতঃপর ১২৬ হিজরিতে ওয়ালিদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে আব্দুল মালিক নিহত হওয়ার ফলে যখন বনু উমাইয়ার শাসনব্যবস্থা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় এবং তারা দূরবর্তী সীমান্তগুলোর তদারকিতে অসমর্থ হয়ে পড়ে, তখন আফ্রিকায় অস্থিরতা এবং [আন্দালুসেও গোত্রগুলোর মধ্যে] বিভেদ দেখা দেয়। এরপর তারা আন্দালুসে একজন কুরাইশী ব্যক্তিকে নেতৃত্বের জন্য মনোনীত করার বিষয়ে একমত হন, যিনি সিরিয়ার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়া পর্যন্ত সকলকে ঐক্যবদ্ধ রাখবেন এবং যার মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٢)
ففعلوا، وقدموا يوسف بن عبد الرحمن الفهري، أميراً فسكنت به الأمور، وأثبتت عليه القلوب، واتصلت إمارته إلى سنة ثمان وثلاثين، بعد ذهاب دولة بني أمية، وكان ذهاب دولتهم جملة بقتل مروان بن محمد بن مروان ابن الحكم في بعض نواحي الفيوم من أعمال مصر في آخر ذي الحجة سنة اثنتين وثلاثين ومائة، بعد بيعة أبي العباس السفاح بتسعة أشهر.

وكان ممن هرب إلى الأندلس من بني أمية: عبد الرحمن بن معاوية. وأن أذكر إن شاء الله تاريخ وصوله إليها وسبب ولايته عليها، ومن وليها بعده من أولاده، وغيرهم، إلى آخر ما وجدت، ثم أذكر ما بعد ذلك على ما شرطت. إن شاء الله ولا حول ولا قوة إلا بالله العظيم وحسبنا الله ونعم الوكيل.

 

‌‌أول أمراء بني أمية بالأندلس

‌‌عبد الرحمن بن معاوية بن هشام بن عبد الملك بن مروان يكنى أبا المطرف

مولده بالشام سنة عشرة ومائة، وأمه أم ولد اسمها [راح] هرب لها ظهرت دولة بني العباس، ولم يزل مستتراً إلى أن دخل الأندلس في ذي القعدة سنة ثمان وثلاثين ومائة في زمن أبي جعفر المنصور، فقامت معه اليمانية، وحارب يوسف بن عبد الرحمن بن حبيب بن أبي عبيدة بن عقبة بن نافع الفهري، الوالي على الأندلس، فهزمه واستولى عبد الرحمن على قرطبة يوم الأضحى من العام المذكور، فاتصلت ولايته إلى أن مات سنة اثنتين وسبعين ومائة وكان من [أهل] العلم، وعلى شهرة جميلة من العدل. ومن قضاته معاوية بن صالح الحضرمي الحمصي، وله أدب
অতঃপর তারা তা করল এবং ইউসুফ বিন আবদুর রহমান আল-ফিহরিকে আমির হিসেবে নিযুক্ত করল। এর ফলে পরিস্থিতি শান্ত হলো এবং মানুষের অন্তরসমূহ তার প্রতি আশ্বস্ত হলো। বনু উমাইয়্যা শাসনের অবসানের পর ১৩৮ হিজরি পর্যন্ত তার শাসনকাল স্থায়ী ছিল। বনু উমাইয়্যা শাসনের সামগ্রিক পতন ঘটেছিল মারওয়ান বিন মুহাম্মদ বিন মারওয়ান ইবনুল হাকামের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে, যা মিশরের ফায়্যুম অঞ্চলের কোনো এক এলাকায় ১৩২ হিজরির জিলহজ মাসের শেষের দিকে ঘটেছিল, যা ছিল আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর নিকট বায়আত গ্রহণের নয় মাস পরের ঘটনা।

বনু উমাইয়্যাদের মধ্য থেকে যারা আন্দালুসে পালিয়ে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন আবদুর রহমান বিন মুয়াবিয়া। যদি আল্লাহ চান, তবে আমি সেখানে তার পৌঁছানোর ইতিহাস, তার শাসনের কারণ এবং তার পরবর্তীকালে তার সন্তান ও অন্যদের শাসনের বিবরণ আমার প্রাপ্ত তথ্যের শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করব। এরপর আমার শর্ত অনুযায়ী পরবর্তী বিষয়গুলো উল্লেখ করব, যদি আল্লাহ চান। মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও কোনো শক্তি নেই এবং আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।

 

‌আন্দালুসে বনু উমাইয়্যার প্রথম আমিরগণ

‌আবদুর রহমান বিন মুয়াবিয়া বিন হিশাম বিন আবদুল মালিক বিন মারওয়ান, যার উপনাম ছিল আবু আল-মুতাররিফ

তিনি ১১০ হিজরিতে সিরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার মা ছিলেন একজন উম্মে ওয়ালাদ (দাসী), যার নাম ছিল রাহ। যখন বনু আব্বাসের শাসন প্রকাশ পেল, তখন তিনি পালিয়ে যান। ১৩৮ হিজরির জিলকদ মাসে আবু জাফর আল-মানসুরের শাসনামলে আন্দালুসে প্রবেশের আগ পর্যন্ত তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন। তখন ইয়ামানি গোত্রের লোকেরা তার সমর্থনে দাঁড়িয়েছিল এবং তিনি আন্দালুসের ওয়ালি ইউসুফ বিন আবদুর রহমান বিন হাবিব বিন আবি উবায়দা বিন উকবা বিন নাফে আল-ফিহরির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। তিনি তাকে পরাজিত করেন এবং আবদুর রহমান উল্লিখিত বছরের ঈদুল আজহার দিন কর্ডোভা দখল করেন। ১৭২ হিজরিতে তার মৃত্যু পর্যন্ত তার শাসনকাল অব্যাহত ছিল। তিনি ইলম অন্বেষণকারী আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং ন্যায়বিচারের জন্য তার অত্যন্ত সুখ্যাতি ছিল। মুয়াবিয়া বিন সালেহ আল-হাদরামি আল-হিমসি তার নিযুক্ত বিচারপতিদের একজন ছিলেন এবং তার সাহিত্যিক দক্ষতাও ছিল।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٣)
وشعر، ومن شعره يتشوق إلى معاهده بالشام قال:

أيها الراكب الميمم أرضى … أقر من بعضي السلام لبعضي

أن جسمي كما علمت بأرض … وفؤادي ومالكيه بأرض

[قدر البين بيننا فافترقنا … وطوى البين عن جفوني غمضي]

[قد قضى الله بالفراق علينا … فعسى باجتماعنا سوف يقضي]

 

‌‌ولاية الأمير هشام بن عبد الرحمن

ثم ولي بعد عبد الرحمن ابنه هشام: يكنى أبا الوليد، وسنة حينئذ ثلاثون سنة، فاتصلت ولايته سبعة أعوام إلى أن مات في صفر سنة ثمانين ومائة.

وكان حسن السيرة متحرياً للعدل يعود المرضى، ويشهد الجنائز، أمه حوراء.
এবং কবিতা; তাঁর কিছু কবিতা থেকে, যেগুলোতে তিনি সিরিয়ায় তাঁর পরিচিত স্থানগুলোর প্রতি ব্যাকুলতা প্রকাশ করেছেন, তিনি বলেছেন:

হে আমার ভূমির দিকে অগ্রসরমান আরোহী! … আমার একাংশের পক্ষ থেকে আমার অপরাংশকে সালাম পৌঁছে দিও

কেননা তুমি যেমনটি জানো, আমার দেহ এক ভূখণ্ডে আছে … অথচ আমার হৃদয় এবং এর মালিকরা রয়েছে অন্য এক ভূখণ্ডে

[আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ নির্ধারিত ছিল, তাই আমরা পৃথক হয়ে গেছি … আর বিচ্ছেদ আমার চোখের পাতা থেকে ঘুম কেড়ে নিয়েছে]

[আল্লাহ আমাদের জন্য বিচ্ছেদ ফয়সালা করেছেন … হতে পারে অচিরেই তিনি আমাদের মিলনের ফয়সালা করবেন]

 

‌‌আমির হিশাম বিন আব্দুল রহমানের শাসনকাল

অতঃপর আব্দুল রহমানের পর তাঁর পুত্র হিশাম শাসনভার গ্রহণ করেন: তাঁর উপনাম (কুনিয়াত) ছিল আবুল ওয়ালিদ এবং সে সময় তাঁর বয়স ছিল ত্রিশ বছর। তাঁর শাসনকাল টানা সাত বছর স্থায়ী হয়েছিল, পরিশেষে তিনি একশত আশি হিজরি সনের সফর মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকতেন। তিনি অসুস্থদের দেখতে যেতেন এবং জানাজায় শরিক হতেন। তাঁর মাতা ছিলেন হাওরা।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌ولاية الحكم بن هشام

ثم ولى بعده ابنه الحكم، وله اثنتان وعشرون سنة، يكنى أبا العاصي، أمه أم ولد: اسمها [زخرف] ، وكان طاغياً مسرفاً وله آثار سوء قبيحة، وهو الذي أوقع بأهل الربض الوقعة المشهورة فقتلهم، وهدم ديارهم ومساجدهم، وكان الربض [محلة متصلة] بقصره فاتهمهم في بعض أمره، ففعل بهم ذلك فسمى الحكم الربضي لذلك.

واتصلت ولايته إلى أن مات في آخر ذي الحجة سنة ست ومائتين.

 

‌‌ولاية عبد الرحمن بن الحكم

ثم ولي بعده ابنه عبد الرحمن بن [الحكم] يكنى أبا المطرف، وله ثلاثون سنة، وأمه أم ولد، اسمها حلاوة.

واتصلت ولايته إلى أن مات في آخر صفر سنة ثمان وثلاثين ومائتين، وكان وادعاً محمود السيرة.
আল-হাকাম ইবনে হিশামের শাসনকাল

অতঃপর তার পরে তার পুত্র আল-হাকাম শাসনভার গ্রহণ করেন; তখন তার বয়স ছিল বাইশ বছর। তার উপনাম ছিল আবুল আস। তার মা ছিলেন একজন উম্মে ওয়ালাদ, যার নাম ছিল [জুখরুফ]। তিনি ছিলেন এক স্বৈরাচারী ও সীমালঙ্ঘনকারী এবং তার অনেক মন্দ ও কদর্য কীর্তি রয়েছে। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি রাবাদবাসীদের (শহরতলিবাসী) ওপর সেই প্রসিদ্ধ আক্রমণ চালিয়েছিলেন এবং তাদের হত্যা করেছিলেন। তিনি তাদের ঘরবাড়ি ও মসজিদসমূহ ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। রাবাদ ছিল তার প্রাসাদের সাথে [সংলগ্ন একটি এলাকা]। কোনো এক বিষয়ে তিনি তাদের অভিযুক্ত করেন এবং তাদের সাথে এই আচরণ করেন; একারণেই আল-হাকামকে 'আর-রাবাদি' বলা হয়।

দুইশত ছয় হিজরি সনের জিলহজ মাসের শেষে মৃত্যু পর্যন্ত তার শাসনকাল স্থায়ী ছিল।

 

‌‌আবদুর রহমান ইবনে আল-হাকামের শাসনকাল

অতঃপর তার পরে তার পুত্র আবদুর রহমান ইবনে [আল-হাকাম] শাসনভার গ্রহণ করেন। তার উপনাম ছিল আবুল মুতাররিফ এবং তার বয়স ছিল ত্রিশ বছর। তার মা ছিলেন একজন উম্মে ওয়ালাদ, যার নাম ছিল হালাওয়াহ।

দুইশত আটত্রিশ হিজরি সনের সফর মাসের শেষে মৃত্যু পর্যন্ত তার শাসনকাল দীর্ঘায়িত হয়েছিল। তিনি ছিলেন শান্তিকামী ও প্রশংসনীয় চরিত্রের অধিকারী।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌ولاية الأمير محمد بن عبد الرحمن

ثم ولي بعده ابنه محمد بن عبد الرحمن يكنى أبا عبد الله، أمه أم ولد اسمها [تهنر] فاتصلت ولايته إلى أن مات في آخر صفر سنة ثلاث وسبعين ومائتين، وكان محباً للعلوم مؤثراً لأهل الحديث، عارفاً، حسن السيرة.

ولما دخل الأندلس أبو عبد الرحمن بقي بن مخلد بكتاب [مصنف] أبي بكر بن أبي شيبة، وقرئ عليه، أنكر جماعة من أهل الرأي ما فيه من الخلاف واستشنعوه، وبسطوا العامة عليه، ومنعوه من قراءته، إلى أن اتصل ذلك بالأمير محمد فاستحضره وإياهم، واستحضر الكتاب كله، وجعل يتصفحه جزءاً جزءاً، إلى أن أتى على آخره، وقد ظنوا أنه يوافقهم في الإنكار عليه، ثم قال لخازن الكتب: هذا كتاب لا يستغنى خزانتنا عنه، فانظر في نسخة لنا، ثم قال لبقي بن مخلد: الشر علمك، وارو ما عندك من الحديث، واجلس للناس، حتى ينتفعوا بك، أو كما قال، ونهاهم أن يتعرضوا له.
আমির মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমানের শাসনকাল

অতঃপর তাঁর পর তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমান ক্ষমতা গ্রহণ করেন, যাঁর উপনাম ছিল আবু আবদুল্লাহ। তাঁর মা ছিলেন একজন উম্মু ওয়ালাদ, যাঁর নাম ছিল [তাহনার]। তাঁর শাসনকাল দুইশত তিয়াত্তর হিজরির সফর মাসের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। তিনি ইলম বা জ্ঞানের অনুরাগী ছিলেন, আহলে হাদিসদের অগ্রাধিকার দিতেন, বিজ্ঞ ছিলেন এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।

যখন আবু আবদুর রহমান বাকি ইবন মাখলাদ আবু বকর ইবন আবি শায়বার রচিত [মুসান্নাফ] গ্রন্থটি নিয়ে আন্দালুসে প্রবেশ করেন এবং এটি তাঁর কাছে পাঠ করা হয়, তখন একদল রায়পন্থী এতে বিদ্যমান মতপার্থক্যসমূহ অস্বীকার করে এবং বিষয়টিকে জঘন্য মনে করে। তারা সাধারণ মানুষকে তাঁর বিরুদ্ধে উস্কানি দেয় এবং তাঁকে এটি পাঠ করতে বাধা প্রদান করে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আমির মুহাম্মাদের কানে পৌঁছায়। তখন তিনি তাঁকে এবং তাদের উভয় পক্ষকে তলব করেন। তিনি পুরো গ্রন্থটি উপস্থিত করান এবং এর প্রতিটি অংশ উল্টে পরীক্ষা করতে থাকেন, যতক্ষণ না তিনি শেষ পর্যন্ত পৌঁছালেন। তারা ধারণা করেছিল যে, তিনি এটি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তাদের সাথে একমত হবেন। অতঃপর তিনি গ্রন্থাগারিককে বললেন: "এটি এমন এক কিতাব যা ছাড়া আমাদের গ্রন্থাগার অসম্পূর্ণ, তাই আমাদের জন্য একটি কপির ব্যবস্থা করো।" এরপর তিনি বাকি ইবন মাখলাদকে বললেন: "তোমার ইলম ছড়িয়ে দাও এবং তোমার কাছে থাকা হাদিস বর্ণনা করো। মানুষের জন্য মজলিস কায়েম করো যেন তারা তোমার দ্বারা উপকৃত হতে পারে।" অথবা তিনি যা বলেছিলেন। আর তিনি তাদের তাঁর কোনো ক্ষতি করতে বা বাধা দিতে নিষেধ করলেন।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٦)
‌‌ولاية المنذر بن محمد

فولي بعده أخوه عبد الله بن محمد، وكان مولده سنة ثلاثين ومائتين.

يكنى أبا محمد، وأمه أم ولد اسمها [أشار] طال عمرها إلى أن ماتت قبل موته سنة وشهر وكان وادعاً لا يشرب الخمر، وفي أيامه امتلأت الأندلس بالفتن، وصار في كل [جهة] متغلب، فلم يزل كذلك طول ولايته إلى أن مات مستهل ربيع الأول سنة ثلاثمائة.
মুনযির বিন মুহাম্মাদের শাসনকাল

অতঃপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর ভাই আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ; তাঁর জন্ম ছিল দুইশ ত্রিশ হিজরি সনে।

তাঁর উপনাম ছিল আবু মুহাম্মাদ। তাঁর মাতা ছিলেন একজন উম্মে ওয়ালাদ (দাসী মাতা) যার নাম ছিল [আশার]; তিনি দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর এক বছর এক মাস পূর্বে ইন্তেকাল করেন। তিনি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং মদ্যপান করতেন না। তাঁর শাসনকালে সমগ্র আন্দালুস ফিতনা-ফ্যাসাদে ছেয়ে যায় এবং প্রতিটি [অঞ্চলে] এক একজন বিজয়ী বা প্রভাবশালী ব্যক্তির উত্থান ঘটে। তাঁর পুরো শাসনকাল এভাবেই অতিবাহিত হয় এবং পরিশেষে তিনি তিনশ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌ولاية عبد الرحمن الناصر

فولي بعده ابن ابنه عبد الرحمن بن محمد بن عبد الله، وكان والده محمد قد قتله أخوه المطرف بن عبد الله في صدر دولة أبيهما عبد الله.

[وترك ابنه عبد الرحمن هذا وهو ابن عشرين يوماً، فولي الأمر وله اثنتان وعشرون سنة] .

قال لي أبي محمد علي بن أحمد: وكانت ولايته من المستطرف لأنه كان في هذا الوقت شاباً، وبالحضرة جماعة أكابر من أعمامه وأعمام أبيه، وذوي القعدد في النسب من أهل بيته، فلم يعترض له معترض، واستمر له الأمر.

وكان شهماً صارماً، وكل من ذكرناه من الأمراء أجداده إلى عبد الرحمن بن محمد هذا، فليس منهم أحد تسم بإمرة المؤمنين، وإنما كان يسلم عليهم ويخطب لهم بالإمارة فقط، وجرى على ذلك عبد الرحمن بن محمد إلى آخر السنة السابعة عشرة من ولايته.

فلما بلغه ضعف الخلافة بالعراق في أيام المقتدر، وظهور الشيعة بالقيروان تسمى عبد الرحمن بأمير المؤمنين، وتلقب بالناصر لدين الله.

وكان يكنى: أبا المطرف، وأمه أم ولد اسمها [مزنة] ولم يزل منذ ولي يستنزل المتغلبين، حتى استكمل إنزال جميعهم في خمس وعشرين سنة من ولايته، وصار جميع أقطار الأندلس في طاعته.

ثم اتصلت ولايته إلى أن مات في صدر رمضان سنة خمسين وثلاثمائة، ولم يبلغ أحد من بني أمية مدته فيها.
আবদুর রহমান আন-নাসিরের শাসনকাল

অতঃপর তার পরে তার পৌত্র আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ ক্ষমতা লাভ করেন। তার পিতা মুহাম্মদকে তার ভাই আল-মুতাররিফ বিন আবদুল্লাহ তাদের পিতা আবদুল্লাহর শাসনের সূচনা লগ্নে হত্যা করেছিলেন।

[তিনি তার এই পুত্র আবদুর রহমানকে মাত্র বিশ দিন বয়সে রেখে যান; অতঃপর তিনি বাইশ বছর বয়সে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বভার গ্রহণ করেন]।

আমার পিতা মুহাম্মদ আলি বিন আহমদ আমাকে বলেছেন: তার শাসনভার গ্রহণ ছিল এক বিস্ময়কর ঘটনা, কারণ সে সময় তিনি ছিলেন একজন যুবক, অথচ সেখানে তার পিতৃব্যগণ ও তার পিতার পিতৃব্যদের মধ্য থেকে একদল বড় বড় মুরুব্বি এবং বংশমর্যাদায় জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তবুও কেউ তার বিরোধিতা করেনি এবং তার শাসন নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও দৃঢ়চেতা। এই আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ পর্যন্ত তার পূর্বপুরুষদের মধ্য থেকে আমরা যে সকল আমিরের কথা উল্লেখ করেছি, তাদের কেউই 'আমিরুল মুমিনিন' উপাধি ধারণ করেননি; বরং তাদের কেবল আমির হিসেবে সম্বোধন করা হতো এবং খুতবায় তাদের জন্য আমিরের পদমর্যাদাতেই দোয়া করা হতো। আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ তার শাসনের সপ্তদশ বছরের শেষ অবধি এই নিয়মেই বহাল ছিলেন।

অতঃপর যখন আল-মুকতাদিরের যুগে ইরাকের খেলাফতের দুর্বলতা এবং কায়রাওয়ানে শিয়াদের উত্থানের সংবাদ তার কাছে পৌঁছাল, তখন আবদুর রহমান নিজেকে 'আমিরুল মুমিনিন' হিসেবে ঘোষণা করলেন এবং 'আন-নাসির লি-দীনিল্লাহ' উপাধি গ্রহণ করলেন।

তার উপনাম (কুনিয়াত) ছিল আবু আল-মুতাররিফ এবং তার মাতা ছিলেন একজন উম্মে ওয়ালাদ (দাসী মাতা), যার নাম ছিল [মুজনাহ]। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তিনি অবাধ্য দখলদারদের অবনমিত করতে থাকেন, এমনকি তার শাসনের পঁচিশতম বছরে তিনি তাদের সকলের পতন ঘটাতে সক্ষম হন এবং সমগ্র আন্দালুস তার আনুগত্যের অধীনে চলে আসে।

অতঃপর ৩৫০ হিজরি সনের রমজান মাসের শুরুর দিকে তার মৃত্যু পর্যন্ত তার শাসনকাল দীর্ঘায়িত হয়। বনু উমাইয়ার অন্য কোনো শাসক সেখানে শাসনের মেয়াদের দিক থেকে তার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেননি।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٨)
‌‌ولاية الحكم المستنصر

ثم ولي بعده ابنه الحكم بن عبد الرحمن، ويلقب بالمستنصر بالله، وله إذ ولي سبع وأربعون سنة، يكنى أبا العاص، أمه أم ولد اسمها [مرجان] وكان حسن السيرة، جامعاً للعلوم، محباً لها، مكرماً لأهلها، وجمع من الكتب في أنواعها ما لم يجمعه أحد من الملوك قبله هنالك، بإرساله عنها إلى الأقطار، واشترائه لها بأغلى الأثمان، ونفق ذلك عليه، فحمل إليه، وكان قد رام قطع الخمر من الأندلس، وأمر بإراقتها، وتشدد في ذلك، وشاور في استئصال شجرة العنب من جميع أعماله فقيل له: إنهم يعملونها من التين وغيره، فتوقف عن ذلك.

وفي أمره بإراقة الخمور في سائر الجهات يقول أبو عمر يوسف بن هارون الكندي قصيدته المشهورة فيها، متوجعاً لشاربها، وإنما أوردناها تحقيقاً لما ذكرنا عنه من ذلك، وهي قوله:

بخطب الشاربين يضيق صدري … وترمضني بليتهم لعمري

وهل هم غير عشاق أصيبوا … بفقد حبائب ومنوا بهجر

أعشاق المدام لئن جزعتم … لفرقتها فليس مكان صبر

سعى طلابكم حتى أريقت … دماء فوق وجه الأرض تجري

تضوع عرفها شرقاً وغرباً … فطبق أفق قرطبة بعطر

فقل للمسفحين لها بسفح … وما سكنته من ظرف بكسر

وللأبواب إحراقاً إلى أن … تركتم أهلها سكان قفر
আল-হাকাম আল-মুস্তানসিরের শাসনকাল

এরপর তাঁর পরে তাঁর পুত্র আল-হাকাম ইবনে আবদুর রহমান ক্ষমতাসীন হন এবং তিনি ‘আল-মুস্তানসির বিল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত হন। ক্ষমতা গ্রহণের সময় তাঁর বয়স ছিল সাতচল্লিশ বছর। তাঁর উপনাম ছিল আবুল আস। তাঁর মাতা ছিলেন মারজান নাম্নী একজন উম্মে ওয়ালাদ। তিনি ছিলেন সচ্চরিত্রের অধিকারী, বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের সংগ্রাহক ও অনুরাগী এবং জ্ঞানীদের পরম সমাদরকারী। তিনি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর এমন সব কিতাব সংগ্রহ করেছিলেন যা তাঁর পূর্বেকার কোনো রাজা সেখানে করতে পারেননি। তিনি দূর-দূরান্তের জনপদগুলোতে লোক পাঠিয়ে এবং চড়া মূল্যে কিতাব ক্রয় করে তা সংগ্রহ করতেন। এ কাজে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হতো এবং কিতাবসমূহ তাঁর কাছে বয়ে আনা হতো। তিনি আন্দালুস থেকে মদ্যপান উচ্ছেদ করার সংকল্প করেছিলেন এবং মদ ঢেলে ফেলার নির্দেশ দেন ও এ বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করেন। তিনি তাঁর সমগ্র রাজ্য থেকে আঙুর গাছ সমূলে উপড়ে ফেলার বিষয়ে পরামর্শ করেন, তখন তাঁকে বলা হলো যে: তারা ডুমুর এবং অন্যান্য ফল থেকেও মদ তৈরি করে; তখন তিনি এ থেকে বিরত হন।

সকল জনপদে মদ ঢেলে ফেলার সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতে আবু ওমর ইউসুফ ইবনে হারুন আল-কিন্দি তাঁর বিখ্যাত কাসিদাটি রচনা করেন, যেখানে তিনি মদ্যপানকারীদের জন্য ব্যথিত হৃদয়ে আক্ষেপ করেছেন। আমরা এটি কেবল তাঁর সম্পর্কে উপরে যা উল্লেখ করেছি তার সত্যতা প্রমাণের জন্যই উদ্ধৃত করছি; কবিতাটি হলো:

মদ্যপানকারীদের বিপদে আমার বক্ষ সংকীর্ণ হয়ে আসে … আর আমার জীবনের কসম, তাদের এই মুসিবত আমাকে দহন করে।

তারা কি সেই প্রেমিককুল ব্যতীত অন্য কিছু, যারা তাদের প্রিয়জনদের হারিয়ে … বিপন্ন হয়েছে এবং বিরহ যাতনায় ক্লিষ্ট হয়েছে?

হে মদিরার প্রেমিকগণ! যদি তোমরা তার বিচ্ছেদে … অস্থির হয়ে পড়ো, তবে এখানে ধৈর্য ধারণের কোনো স্থান নেই।

তোমাদের অনুসন্ধানকারীরা সচেষ্ট হয়েছে, শেষ পর্যন্ত … ভূপৃষ্ঠে রক্ত (মদ) প্রবাহিত করা হয়েছে।

এর সুবাস পূর্বে ও পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়েছে … এবং কর্ডোবার আকাশ সুগন্ধে ছেয়ে গেছে।

সুতরাং যারা সমতলে তা ঢেলে দিয়েছে … এবং যারা তার আধার বা পাত্রসমূহ চূর্ণ করেছে, তাদের বলো—

আর যারা দরজাগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে, শেষ পর্যন্ত … তোমরা তো এর অধিবাসীদের মরুভূমির বাসিন্দায় পরিণত করেছ।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٩)
تحريتم بذاك العدل فيها … بزعمكمو فلم يك عن تحر

فإن أبا حنيفة وهو عدل … وقر عن القضاء مسير شهر

فقيه لا يدانيه فقيه … إذا جاء القياس أتى بدر

وكان من الصلاة طويل ليل … يقطعه بلا تغميض شفر

وكان له من الشراب جار … يواصل مغرباً فيها بفجر

وكان إذا انتشى غنى بصوت ال … مضاع بسجنه من آل عمرو

أضاعوني وأي فتى أضاعوا … ليوم كريهة وسداد ثغر

فغيب صوت ذاك الجار سجن … ولم يكن الفقيه بذاك يدري

فقال وقد مضى ليل وثان … ولم يسمعه غنى "ليت شعري"

أجاري المؤنسى ليلاً غناء … لخير قطع ذلك أم لشر

فقالوا إنه في شجن عيسى … أتاه به المحارس وهو يسرى

فنادى بالطويلة وهي مما … يكون برأسه لجليل أمر

ويمم جاره عيسى بن موسى … ولاقاه بإكرام وبر

وقال: أحاجة عرضت فإني … لقاضيها ومتبعها بشكر

فقال: سجنت لي جاراً يسمى … بعمرو قال: يطلق كل عمرو

بسجنى حين وافقه اسم جار ال … فقيه ولو سجنتهم لو تر

فأطلعهم له عيسى جميعاً … لجار لا يبيت بغير سكر

فإن أحببت قل لجوار جار … وإن أحببت قل لطلاب أجر

فإن أبا حنيفة لم يؤب من … تطلبه تخلصه بوزر

نوافعها من أجل النهى سراً … وكم نهى نواقعه بجهر
আপনারা আপনাদের ধারণা অনুযায়ী তাতে ন্যায়বিচার অনুসন্ধান করেছেন … কিন্তু তা প্রকৃত অনুসন্ধানের মাধ্যমে অর্জিত হয়নি।

কেননা আবু হানিফা—যিনি ছিলেন অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ— … বিচারকের পদ থেকে এক মাসের দূরত্বের পথ পরিমাণ দূরে অবস্থান করতেন।

তিনি এমন একজন ফকীহ যার সমকক্ষ কোনো ফকীহ নেই … যখন কিয়াস (যৌক্তিক তুলনা) আসে, তিনি উজ্জ্বল মুক্তাসম সমাধান নিয়ে আসেন।

তিনি রাতের দীর্ঘ সময় সালাতে অতিবাহিত করতেন … চোখের পাতা বন্ধ না করেই তিনি রাত পার করে দিতেন।

তাঁর এক মদ্যপ প্রতিবেশী ছিল … যে মাগরিব থেকে ফজর পর্যন্ত মদ্যপান চালিয়ে যেত।

যখন সে মাতাল হতো, তখন সে উচ্চস্বরে সেই গানটি গাইত … যা আমরের বংশধরদের কারাবন্দী হয়ে হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কে রচিত।

তারা আমাকে হারিয়েছে, আর তারা কোন যুবককে হারিয়েছে … বিপদের দিনে এবং সীমান্ত রক্ষার কঠিন সময়ে!

অতঃপর কারাগার সেই প্রতিবেশীর কণ্ঠস্বরকে বিলীন করে দিল … অথচ ফকীহ সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

এক এবং দ্বিতীয় রাত অতিবাহিত হওয়ার পর যখন তিনি তার গান শুনতে পেলেন না … তখন তিনি আক্ষেপ করে বললেন, "আফসোস! যদি আমি জানতে পারতাম!"

আমার সেই প্রতিবেশী, যে রাতে গান গেয়ে আমার একাকীত্ব দূর করত … সে কি কোনো কল্যাণের কারণে নাকি অকল্যাণের কারণে গান গাওয়া বন্ধ করেছে?

লোকেরা বলল, সে ঈসা (ইবনে মুসা)-এর কারাগারে দুঃখ-কষ্টে আছে … প্রহরীরা রাতের টহলের সময় তাকে ধরে নিয়ে গেছে।

তখন তিনি তাঁর সেই দীর্ঘ টুপিটি (তবিলাহ) চাইলেন … যা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সময় তাঁর মাথায় শোভা পেত।

তিনি তাঁর প্রতিবেশী ঈসা ইবনে মুসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন … এবং ঈসা তাঁর সাথে অত্যন্ত সম্মান ও সৌজন্যের সাথে সাক্ষাৎ করলেন।

সে বলল: আপনার কি কোনো প্রয়োজন দেখা দিয়েছে? কেননা আমি … তা পূরণ করতে এবং কৃতজ্ঞতার সাথে তা অনুসরণ করতে প্রস্তুত।

তিনি বললেন: আপনি আমার এক প্রতিবেশীকে বন্দী করেছেন যার নাম … আমর; সে বলল: আমর নামের সবাইকে মুক্তি দেওয়া হোক।

আমার কারাগারে থাকাকালীন যখন ফকীহর প্রতিবেশীর নামের সাথে তার নাম মিলে গেছে … আপনি যদি তাদের কারাবন্দী অবস্থা দেখতেন।

অতঃপর ঈসা সেই প্রতিবেশীর খাতিরে তাদের সবাইকে বের করে আনলেন … যে মদ্যপান ছাড়া রাত অতিবাহিত করত না।

আপনি চাইলে একে প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ বলতে পারেন … অথবা চাইলে সওয়াব অন্বেষণকারীদের কাজ বলতে পারেন।

কেননা আবু হানিফা তাঁর সেই প্রচেষ্টা থেকে বিফল হয়ে ফিরে আসেননি … যা তিনি তাকে পাপের পঙ্কিলতা থেকে উদ্ধারের জন্য করেছিলেন।

বিচক্ষণতার কারণে এর সুফলগুলো গোপনে অর্জিত হয় … অথচ কত নিষিদ্ধ কাজই না প্রকাশ্যে সঙ্ঘটিত হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٠)
وقد وقع لنا معنى هذا الخير الذي نظمه يوسف بن هارون عن أبي حنيفة بإسناد حدثنا الخطيب أبو بكر بن علي بن ثابت البغدادي الحافظ قراءة علينا بدمشق من كتابه قال: أخبرني علي بن أحمد الرزاز قال: أخبرنا أبو الليث نصر بن محمد الزاهد النجاري، قدم علينا قال: أخبرنا محمد بن محمد بن سهل النيسابوري قال: أخبرنا أبو أحمد محمد بن أحمد الشعبي قال: أخبرنا أسد بن نوح قال: أخبرنا محمد بن عباد قال: أخبرنا القاسم بن غسان قال: أخبرنا عبد الله بن رجاء الغداني قال:

كان لأبي حنيفة جار بالكوفة إسكافي يعمل نهاره أجمع، حتى إذا جنه الليل رجع إلى منزله، وقد حمل لحم فطبخه أو سمكة فشواها، ثم لا يزال يشرب حتى إذا دب الشراب فيه تغزل بصوت وهو يقول:

أضاعوني وأي فتى أضاعوا … ليوم كريهة وسداد ثغر

فلا يزال يشرب ويردد هذا البيت حتى يأخذه النوم.

وكان أبو حنيفة يسمع جلبته كل يوم، وأبو حنيفة كان يصلي الليل كله، ففقد أبو حنيفة صوته فسأل عنه، فقيل أخذه العسس منذ ليال وهو محبوس.

فصلى أبو حنيفة صلاة الفجر من غد وركب بغلة واستأذن على الأمير، فقال الأمير: انزلوا له وأقبلوا به راكباً، ولا تدعوه ينزل حتى يطأ البساط ففعلوا، فلم يزل الأمير يوسع له في محله وقال: ما حاجتك؟ قال: لي جار إسكاف أخذه العسس منذ ليال، يأمر الأمير بتخليته فقال: نعم وكل من أخذ في تلك الليلة إلى يومنا هذا، فأمر بتخليتهم أجمعين، فركب أبو حنيفة والإسكاف يمشي وراءه، فلما نزل أبو حنيفة مضى إليه فقال: يا فتى،
আবু হানিফা থেকে ইউসুফ ইবনে হারুন কর্তৃক সংকলিত এই কল্যাণকর ঘটনার মর্মার্থ আমরা একটি সনদের মাধ্যমে পেয়েছি। হাফেজ আল-খতিব আবু বকর বিন আলী বিন সাবিত আল-বাগদাদি দামেস্কে তাঁর কিতাব থেকে আমাদের সামনে পাঠ করে শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন: আলী বিন আহমদ আর-রাজজাজ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবু আল-লাইস নাসর বিন মুহাম্মদ আজ-জাহিদ আন-নাজ্জারি আমাদের কাছে এসে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সাহল আন-নিশাপুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন আহমদ আশ-শা’বি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আসাদ বিন নুহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ বিন আব্বাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আল-কাসিম বিন গাসসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ বিন রাজা আল-গাদানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন:

কুফায় আবু হানিফার এক মুচি প্রতিবেশী ছিল যে সারাদিন কাজ করত। যখন রাত নামত, সে বাড়ি ফিরত। সে সাথে করে গোশত নিয়ে আসত এবং তা রান্না করত অথবা মাছ নিয়ে আসত এবং তা পুড়ত। তারপর সে মদ্যপান করতে থাকত, যতক্ষণ না নেশা তার ওপর জেঁকে বসত। তখন সে উচ্চস্বরে কাব্য আবৃত্তি করত এই বলে:

তারা আমাকে হারিয়েছে, আর তারা কেমন এক যুবককে হারিয়েছে … কোনো এক কঠিন দিনে এবং সীমান্তের সুরক্ষার প্রয়োজনে।

সে মদ্যপান করতে থাকত এবং এই পংক্তিটি বারবার আওড়াত যতক্ষণ না সে ঘুমিয়ে পড়ত।

আবু হানিফা প্রতিদিন তার শোরগোল শুনতে পেতেন, আর আবু হানিফা সারা রাত নামাজ পড়তেন। একদা আবু হানিফা তার কণ্ঠস্বর আর শুনতে পেলেন না, তাই তিনি তার সম্পর্কে খোঁজ নিলেন। তখন বলা হলো যে, কয়েক রাত আগে নৈশপ্রহরী তাকে ধরে নিয়ে গেছে এবং সে এখন বন্দি।

পরদিন আবু হানিফা ফজরের নামাজ আদায় করলেন এবং একটি খচ্চরের পিঠে চড়ে আমিরের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চাইলেন। আমির বললেন: তাকে সসম্মানে ভেতরে নিয়ে এসো, তাকে সওয়ারি অবস্থায় নিয়ে এসো এবং কার্পেট না ছোঁয়া পর্যন্ত তাকে নামতে দিও না। তারা তাই করল। আমির তার মজলিসে তাকে জায়গা করে দিলেন এবং বললেন: আপনার প্রয়োজন কী? তিনি বললেন: আমার একজন মুচি প্রতিবেশী আছে যাকে কয়েক রাত আগে নৈশপ্রহরী ধরে নিয়ে গেছে। আমির যেন তাকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন। তিনি বললেন: হ্যাঁ, এবং সেই রাত থেকে আজ পর্যন্ত যাদেরকে ধরা হয়েছে তাদের সবাইকে মুক্তি দেওয়া হোক। তিনি তাদের সবাইকে মুক্ত করার আদেশ দিলেন। আবু হানিফা সওয়ার হলেন আর সেই মুচি তার পেছনে হাঁটছিল। আবু হানিফা যখন সওয়ারি থেকে নামলেন, তিনি তার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং বললেন: হে যুবক,
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢١)
أضعناك؟ فقال: لا بل حفظت ورعيت جزاك الله خيراً عن حرمة الجوار ورعاية الحق، وتاب الرجل ولم يعد إلى ما كان.

وكان الحكم المستنصر مواصلاً لغزو الروم، ومن خالفه من المحاربين فاتصلت ولايته إلى أن مات في صفر سنة ست وستين وثلاثمائة، وقد انقرض عقبه] .

 

‌‌ولاية هشام المؤيد

ثم ولي بعده ابنه هشام، يكنى أبا الوليد، وأمه أم ولد تسمى [صبح] وكان له إذ ولي عشرة أعوام وأشهر، فلم يزل متغلباً عليه، لا يظهر، ولا ينفذ له أمر، وتغلب عليه أبو عامر محمد بن أبي عامر الملقب بالمنصور فكان يتولى جميع الأمور إلى أن مات، فصار مكانه ابنه عبد الملك بن محمد الملقب بالمظفر، فجرى على ذلك أيضاً إلى أن مات، فصار مكانه أخوه عبد الرحمن بن محمد الملقب بالناصر، فخلط وتسمى ولي العهد، وبقي كذلك أربعة أشهر إلى أن قام عليه محمد بن هشام بن عبد الجبار يوم الثلاثة لثمان عشرة ليلة خلت من جمادى الآخرة سنة تسع وتسعين وثلاثمائة، فخلع هشام بن الحكم، وأسلمت الجيوش عبد الرحمن بن محمد بن أبي عامر فقتل وصلب، وبقي كذلك إلى أن قتل محمد بن هشام بن عبد الجبار وصرف هشام المؤيد إلى الأمر، وذلك يوم الأحد السابع من ذي الحجة سنة أربعمائة، فبقي كذلك وجيوش البربر تحاصره مع سليمان بن الحكم بن سليمان واتصل ذلك إلى خمس خلون من شوال سنة ثلاث وأربعمائة، فدخل البربر مع سليمان قرطبة وأخلوها من أهلها، حاشا المدينة وبعض الربض الشرقي، وقتل هشام وكان في طول مدته متغلباً عليه لا ينفذ له أمر وتغلب عليه في هذا الحصار غير واحد من العبيد ولم يولد له قط.
আমরা কি আপনাকে অবজ্ঞা করেছি? তিনি বললেন: না, বরং আপনি রক্ষা করেছেন এবং যত্ন নিয়েছেন। প্রতিবেশীর মর্যাদা রক্ষা এবং হক আদায়ের জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন। সেই ব্যক্তি তওবা করল এবং সে যা করত তাতে আর ফিরে গেল না।

আল-হাকাম আল-মুস্তানসির রোমানদের বিরুদ্ধে এবং তার বিরুদ্ধাচরণকারী যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছিলেন। ৩৬৬ হিজরির সফর মাসে তার মৃত্যু পর্যন্ত তার শাসনকাল স্থায়ী হয়েছিল এবং তার বংশধারা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।

 

‌‌হিশাম আল-মুআইয়াদের শাসনকাল

অতঃপর তার পরে তার পুত্র হিশাম শাসনভার গ্রহণ করেন, যার উপনাম ছিল আবুল ওয়ালিদ এবং তার মাতা ছিলেন সুবহ নামক একজন উম্মু ওয়ালাদ। ক্ষমতা লাভের সময় তার বয়স ছিল দশ বছর কয়েক মাস। তিনি সর্বদা অন্যের প্রভাবাধীন ছিলেন, জনসমক্ষে আসতেন না এবং তার কোনো নির্দেশ কার্যকর হতো না। আল-মানসুর উপাধিধারী আবু আমির মুহাম্মদ ইবনে আবি আমির তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তিনিই সমস্ত বিষয় পরিচালনা করতেন। অতঃপর তার স্থলাভিষিক্ত হন তার পুত্র আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ, যার উপাধি ছিল আল-মুজাফফর; তিনিও আমৃত্যু একইভাবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তার স্থলাভিষিক্ত হন তার ভাই আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ, যার উপাধি ছিল আন-নাসির। তিনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং নিজেকে যুবরাজ হিসেবে ঘোষণা করেন। ৩৯৯ হিজরির জুমাদাল আখিরা মাসের আঠারো তারিখ মঙ্গলবার মুহাম্মদ ইবনে হিশাম ইবনে আব্দুল জব্বার তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার আগ পর্যন্ত চার মাস তিনি এই অবস্থায় ছিলেন। তখন হিশাম ইবনে আল-হাকামকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং সেনাবাহিনী আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি আমিরকে সমর্পণ করে, ফলে তাকে হত্যা ও ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। মুহাম্মদ ইবনে হিশাম ইবনে আব্দুল জব্বার নিহত হওয়া এবং হিশাম আল-মুআইয়াদকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা পর্যন্ত অবস্থা এমনই ছিল, আর এটি ঘটেছিল ৪০০ হিজরির যিলহজ মাসের সাত তারিখ রবিবার। এরপর সোলাইমান ইবনে আল-হাকাম ইবনে সোলাইমানের সাথে বারবার বাহিনী তাকে অবরোধ করে রাখে এবং ৪০৩ হিজরির শাওয়াল মাসের পাঁচ তারিখ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি চলতে থাকে। অতঃপর সোলাইমানের সাথে বারবাররা কর্ডোভায় প্রবেশ করে এবং মূল শহর ও পূর্বদিকের কিছু উপশহর ছাড়া বাকি এলাকা জনশূন্য করে দেয়। হিশাম নিহত হন; তিনি তার পুরো শাসনকাল জুড়েই অন্যের প্রভাবাধীন ছিলেন, তার কোনো নির্দেশ কার্যকর হতো না এবং এই অবরোধের সময় অনেক গোলাম তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল। তার কখনো কোনো সন্তান জন্ম নেয়নি।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌ولاية محمد بن هشام المهدي

قام محمد بن هشام بن عبد الجبار بن عبد الرحمن الناصر على هشام بن الحكم في جمادى الآخرة سنة تسع وتسعين وثلاثمائة فخلعه وتسمى بالمهدي.

وبقي كذلك إلى أن قام عليه يوم الخميس لخمس خلون من شوال سنة تسع وتسعين هشام بن سليمان بن الناصر مع البربر فحاربه بقية يومه، والليلة المقبلة وصبيحة اليوم الثاني، وقام عليه أهل قرطبة مع محمد بن [هشام بن عبد الجبار إلى أن انهزم البربر وأسر] هشام بن سليمان فأتى به إلى المهدي فضرب عنقه، واجتمع البربر عند ذلك فقدموا على أنفسهم سليمان بن الحكم بن سليمان بن الناصر ابن أخي هشام القائم المذكور، على أنفسهم فنهض بهم إلى الثغر، فاستجاش بالنصارى، وأتى بهم إلى قرطبة وبرز إليه جماعة من أهل قرطبة فلم تكن إلا ساعة حتى قتل من أهل قرطبة نيف على عشرين ألف رجل في جبل هناك يعرف بجبل قنطش وهي الوقعة المشهورة، وذهب فيها من الخيار وأئمة المساجد والمؤذنين خلق عظيم، واستقر محمد بن هشام المهدي أياماً ثم لحق بطليطلة [وكانت الثغور كلها] من طرطوشة [وأشبونة باقية على طاعته ودعوته فاستجاش بالإفرنج وأتى بهم إلى قرطبة، فبرز إليها سليمان بن الحكم] مع البربر إلى موضع بقرب قرطبة على نحو بضعة عشر ميلاً يدعى عقبة البقر فانهزم سليمان والبربر.

واستولى المهدي على قرطبة ثم خرج بعد أيام إلى قتال جمهور البربر، وكانوا قد
মুহাম্মাদ ইবনে হিশাম আল-মাহদীর শাসনকাল

মুহাম্মাদ ইবনে হিশাম ইবনে আব্দুল জব্বার ইবনে আব্দুর রহমান আন-নাসির ৩৯৯ হিজরি সনের জমাদিউল আখের মাসে হিশাম ইবনে আল-হাকামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। অতঃপর তিনি তাকে পদচ্যুত করেন এবং নিজে 'আল-মাহদী' উপাধি গ্রহণ করেন।

৩৯৯ হিজরি সনের ৫ই শাওয়াল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনি এই অবস্থায় বহাল ছিলেন। সেই দিন হিশাম ইবনে সুলাইমান ইবনে আন-নাসির বার্বারদের সাথে নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। তিনি সেদিনের অবশিষ্টাংশ, পরবর্তী রাত এবং দ্বিতীয় দিন সকাল পর্যন্ত তার সাথে যুদ্ধ করেন। কর্ডোবাবাসী মুহাম্মাদ ইবনে [হিশাম ইবনে আব্দুল জব্বারের সাথে একাত্ম হয়ে বিদ্রোহ করে, শেষ পর্যন্ত বার্বাররা পরাজিত হয় এবং] হিশাম ইবনে সুলাইমান [বন্দি হন]। তাকে আল-মাহদীর নিকট আনা হলে তিনি তার শিরচ্ছেদ করেন। এরপর বার্বাররা একত্রিত হয়ে উল্লিখিত হিশামের ভ্রাতুষ্পুত্র সুলাইমান ইবনে আল-হাকাম ইবনে সুলাইমান ইবনে আন-নাসিরকে নিজেদের নেতা নিযুক্ত করে। তিনি তাদের নিয়ে সীমান্তের দিকে যাত্রা করেন এবং খ্রিষ্টানদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন। তিনি তাদের সাথে নিয়ে কর্ডোবায় উপস্থিত হন। কর্ডোবার একদল লোক তার মোকাবিলায় অগ্রসর হয়, কিন্তু এক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে কানতাশ নামক পাহাড়ে কর্ডোবার বিশ হাজারের অধিক লোক নিহত হয়; এটি একটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ যুদ্ধ ছিল। এই যুদ্ধে অসংখ্য নেককার লোক, মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন প্রাণ হারান। মুহাম্মাদ ইবনে হিশাম আল-মাহদী কয়েকদিন অবস্থান করার পর তোলেদোতে চলে যান। [এবং তারতুশা থেকে সকল সীমান্ত অঞ্চলই] [ও ইশবুনাহ তার আনুগত্য ও আহ্বানের ওপর অবিচল ছিল। অতঃপর তিনি ফ্রাঙ্কদের নিকট সাহায্য চাইলেন এবং তাদের নিয়ে কর্ডোবায় আসলেন। তখন সুলাইমান ইবনে আল-হাকাম] বার্বারদের সাথে নিয়ে কর্ডোবা থেকে প্রায় দশ মাইল দূরে আকাবাতুল বাকার নামক স্থানে সম্মুখযুদ্ধে লিপ্ত হন। সেখানে সুলাইমান ও বার্বাররা পরাজিত হয়।

মাহদী কর্ডোবা পুনরুদ্ধার করেন এবং কয়েকদিন পর বার্বারদের মূল বাহিনীর সাথে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হন, যারা ইতিপূর্বে...
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٣)
صاروا بالجزيرة فالتفوا بوادي "آره" فكانت الهزيمة على محمد بن هشام وانصرف إلى قرطبة، فوثب عليه العبيد مع واضح الصقلبي فقتلوه.

وصرفوا هشاماً المؤيد كما ذكرنا قبل.

فكانت ولاية محمد المهدي منذ قام إلى أن قتل ستة عشر شهراً من جملتها الستة أشهر التي كان فيها سليمان بقرطبة، وكان هو بالثغر. وكان يكنى أبا الوليد، أمه أم ولد اسمها [مزنة] وكان له ولد اسمه عبد الله، انقرض ولا عقب للمهدي.

وكان مولد المهدي في سنة ست وستين وثلاثمائة.
তারা উপদ্বীপে পৌঁছালেন এবং "আরা" উপত্যকায় একত্রিত হলেন। ফলে মুহাম্মদ বিন হিশাম পরাজিত হলেন এবং কুরতুবাতে ফিরে গেলেন। অতঃপর ওয়াদিহ আস-সাকলাবির সাথে দাসরা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাঁকে হত্যা করল।

আর তারা হিশাম আল-মুয়াইয়াদকে ফিরিয়ে আনল যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।

মুহাম্মদ আল-মাহদির শাসনকাল তাঁর ক্ষমতা গ্রহণ থেকে শুরু করে নিহত হওয়া পর্যন্ত ছিল মোট ষোলো মাস। এর মধ্যে সেই ছয় মাসও অন্তর্ভুক্ত ছিল যখন সুলাইমান কুরতুবাতে ছিলেন এবং তিনি (মাহদি) সীমান্তে অবস্থান করছিলেন। তাঁর উপনাম ছিল আবুল ওয়ালিদ, তাঁর মাতা ছিলেন একজন উম্মু ওয়ালাদ যাঁর নাম ছিল [মুজনা]। তাঁর আব্দুল্লাহ নামে এক পুত্র ছিল; তবে তাঁর বংশধারা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং মাহদির কোনো উত্তরসূরি অবশিষ্ট ছিল না।

মাহদির জন্ম হয়েছিল তিনশত ছেষট্টি হিজরি সালে।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌ولاية سليمان بن الحكم المستعين

قام سليما بن الحكم كما ذكرنا يوم الجمعة لست خلون من شوال سنة تسع وثلائمائة، وتلقب بالمستعين بالله.

ثم دخل قرطبة كما ذكرنا في ربيع الآخر سنة أربعمائة، وتلقب حينئذ بالظافر بحول الله مضافاً إلى المستعين.

ثم خرج عنها في شوال سنة أربعمائة، ولم يزل يجول بعساكر البربر في بلاد الأندلس يفسد وينهب، ويفقر المدائن والقرى، بالسيف والغارة، لا تبقى البربر معه على صغر ولا كبير، ولا امرأة إلى أن دخل قرطبة في صدر شوال سنة ثلاث وأربعمائة، وكان من جملة جنده رجلان من ولد الحسن بن علي بن أبي طالب يسميان القاسم، وعلياً ابني حمود بن ميمون بن أحمد بن علي بن عبيد الله بن عمر بن إدريس [بن إدريس] بن عبد الله بن الحسن بن الحسن بن علي بن أبي طالب رضي الله عنه. فقودهما على المغاربة.

ثم ولي أحدهما سبتة وطنجة، وهو على الأصغر منهما، وولي القاسم الجزيرة الخضراء وبين الموضعين المجاز المعروف بالزقاق وسعة البحر هنالك، نحو اثني عشر ميلاً، وافترق العبيد إذ دخل البربر مع سليمان قرطبة فملكوا مدناً عظيمة، وتحصنوا فيها فراسلهم علي بن حمود المذكور، وقد حدث له طمع في ولاية الأندلس وكتب إليهم يذكر لهم أن هشام بن الحكم إذ كان محاصراً بقرطبة كتب إليه يوليه عهده فاستجابوا له وبايعوه فزحف من سبتة إلى مالقة، وفيها عامر بن فتوح الفائقي مولى فائق مولى الحكم المستنصر فطاع له، ودخل مالقة فتملكها علي بن حمود وأخرج عنها عامر بن فتوح.

ثم زحف [مع خيران الفتى، وجماعة العبيد] إلى قرطبة فخرج إليه محمد بن سليمان
সুলাইমান ইবন আল-হাকাম আল-মুসতাইনের শাসনকাল

সুলাইমান ইবন আল-হাকাম, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি, তিনশ নয় হিজরির শাওয়াল মাসের ছয় দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জুমুআর দিনে ক্ষমতাসীন হন এবং তিনি 'আল-মুসতাইন বিল্লাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।

অতঃপর আমরা যেমন উল্লেখ করেছি, চারশ হিজরির রবিউল আখের মাসে তিনি কর্ডোভায় প্রবেশ করেন এবং তখন তিনি 'আল-মুসতাইন'-এর সাথে 'আল-জাফির বি-হাওলিল্লাহ' উপাধিও লাভ করেন।

এরপর তিনি চারশ হিজরির শাওয়াল মাসে সেখান থেকে বেরিয়ে যান এবং বারবার (বার্বার) সৈন্যদের নিয়ে আন্দালুস ভূখণ্ডে বিচরণ করতে থাকেন। সেখানে তিনি তরবারি ও অতর্কিত হামলার মাধ্যমে শহর ও গ্রামগুলোকে বিধ্বস্ত, লুণ্ঠিত ও নিঃস্ব করে দেন। তাঁর সাথে থাকাকালীন বারবাররা ছোট-বড় কিংবা নারী কাউকেই রেহাই দেয়নি। অবশেষে তিনি চারশ তিন হিজরির শাওয়াল মাসের শুরুতে কর্ডোভায় প্রবেশ করেন। তাঁর বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন হাসান ইবন আলী ইবন আবী তালিবের বংশধর দুই ব্যক্তি, যাঁদের নাম ছিল আল-কাসিম এবং আলী। তাঁরা ছিলেন হামমুদ ইবন মায়মুন ইবন আহমাদ ইবন আলী ইবন উবায়দুল্লাহ ইবন উমর ইবন ইদ্রিস [ইবন ইদ্রিস] ইবন আবদুল্লাহ ইবন হাসান ইবন হাসান ইবন আলী ইবন আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর দুই পুত্র। তিনি তাঁদেরকে মাগরেবীদের (মরক্কোবাসীদের) ওপর সেনাপতি নিযুক্ত করেন।

অতঃপর তাঁদের মধ্যে কনিষ্ঠজনকে সেউতা ও তানজিয়ারের দায়িত্ব দেওয়া হয়, আর আল-কাসিম আল-জাজিরাতুল খাদরার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এই দুই স্থানের মাঝে 'আয-যুকাক' নামে পরিচিত একটি প্রণালী ও সমুদ্রের বিস্তৃতি রয়েছে, যার প্রশস্ততা প্রায় বারো মাইল। সুলাইমানের সাথে বারবাররা যখন কর্ডোভায় প্রবেশ করল, তখন ক্রীতদাসরা (গোলামরা) বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বড় বড় শহরগুলো দখল করে সেখানে সুরক্ষিত অবস্থান নেয়। তখন উল্লিখিত আলী ইবন হামমুদ তাঁদের সাথে যোগাযোগ করেন; তাঁর মনে আন্দালুসের শাসনক্ষমতা লাভের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়েছিল। তিনি তাঁদের নিকট লিখে জানান যে, হিশাম ইবন আল-হাকাম যখন কর্ডোভায় অবরুদ্ধ ছিলেন, তখন তিনি তাঁর অনুকূলে উত্তরাধিকারের অঙ্গীকারনামা লিখে দিয়েছিলেন। তাঁরা তাঁর ডাকে সাড়া দেয় এবং তাঁর আনুগত্যের বাইআত গ্রহণ করে। ফলে তিনি সেউতা থেকে মালাগ অভিমুখে অগ্রসর হন। সেখানে আল-হাকাম আল-মুসতানসিরের আযাদকৃত গোলাম ফাইকের আযাদকৃত দাস আমির ইবন ফুতুহ আল-ফাইকি নিযুক্ত ছিলেন। তিনি আলীর বশ্যতা স্বীকার করেন। এভাবে আলী ইবন হামমুদ মালাগে প্রবেশ করে তা দখল করেন এবং সেখান থেকে আমির ইবন ফুতুহকে বহিষ্কার করেন।

এরপর তিনি [খায়রান আল-ফাতা এবং ক্রীতদাসদের এক জামাতসহ] কর্ডোভা অভিমুখে অগ্রসর হন এবং মুহাম্মদ ইবন সুলাইমান তাঁর মোকাবিলার জন্য বেরিয়ে আসেন।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٥)
في عساكر البربر، وانهزم بن سليمان ودخل علي بن حمود قرطبة، وقتل سليمان بن الحكم صبرا، ضرب عنقه بيده يوم الأحد لسبع بقين من المحرم سنة سبع وأربعمائة وقتل أباه الحكم بن سليمان بن الناصر أيضاً في ذلك اليوم، وهو شيخ كبير له اثنتان وسبعون سنة، فكانت مدة سليمان منذ دخل قرطبة إلى أن قتل ثلاثة أعوام، وثلاثة أشهر وأياماً، وكان قد ملكها قبل ذلك ستة أشهر كما ذكرنا، وكانت مدته منذ قام مع البربر إلى أن قتل سبعة أعوام وثلاثة أشهر وأياماً، وانقطعت دولة بين أمية في هذا الوقت وانقطع ذكرهم على المنابر في جميع أقطار الأندلس، إلى أن عاد بعد ذلك في الوقت الذي نذكره إن شاء الله.

وكانت أمه أم ولد اسمها [ظبية] ومولده سنة أربع وخمسين وثلاثمائة، وترك من الولد ولي عهده محمداً لم يعقب، والوليد، ومسلمة، وكان سليمان أديباً شاعراً. أنشدني أبو محمد علي بن أحمد قال: أنشدني فتى من ولد إسماعيل بن إسحاق المنادى الشاعر كان يكتب لأبي جعفر أحمد بن سعيد بن الدب قال: أنشدني أبو جعفر قال: أنشدني أمير المؤمنين سليمان الظافر لنفسه قال أبو محمد: وأنشدنيها قاسم بن محمد الروائي قال: أنشدنيها وليد بن محمد الكاتب لسليمان الظافر:

عجباً يهاب الليث حد سنان … وأهاب لحظ فواتز الأجنان

وأقارع الأهوال لا متهيباً … منها سوى الإعراض والهجران

وتملكت نفسي ثلاث كالدمى … زهر الوجوه نواعم الأبدان
বার্বার বাহিনীর মধ্যে সুলায়মান ইবনে আল-হাকাম পরাজিত হলেন এবং আলি ইবনে হাম্মুদ কর্ডোভায় প্রবেশ করলেন। তিনি সুলায়মান ইবনে আল-হাকামকে বন্দি অবস্থায় হত্যা করলেন; তিনি চারশ সাত হিজরি সনের মহরম মাসের সাত দিন বাকি থাকতে এক রবিবারে নিজ হাতে তার শিরশ্ছেদ করেন। তিনি ওই একই দিনে তার পিতা আল-হাকাম ইবনে সুলায়মান ইবনে আল-নাসিরকেও হত্যা করেন, যিনি ছিলেন বাহাত্তর বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। কর্ডোভায় প্রবেশের পর থেকে নিহত হওয়া পর্যন্ত সুলায়মানের শাসনকাল ছিল তিন বছর তিন মাস এবং কয়েক দিন। এর পূর্বেও তিনি ছয় মাস রাজত্ব করেছিলেন যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। বার্বারদের সাথে উত্থান থেকে শুরু করে নিহত হওয়া পর্যন্ত তার মোট সময়কাল ছিল সাত বছর তিন মাস এবং কয়েক দিন। এই সময়ে উমাইয়া রাজবংশের শাসনের অবসান ঘটে এবং আন্দালুসের সমস্ত অঞ্চলের মিম্বরগুলোতে তাদের নাম উচ্চারণ বন্ধ হয়ে যায়, যতক্ষণ না পরবর্তীতে তা পুনরায় ফিরে আসে যা আমরা ইনশাআল্লাহ যথাসময়ে উল্লেখ করব।

তার মা ছিলেন একজন উম্মুল ওয়ালাদ যার নাম ছিল [জাবিয়া], এবং তার জন্ম তিনশ চুয়ান্ন হিজরি সনে। সন্তানদের মধ্যে তিনি তার উত্তরসূরি মুহাম্মদকে রেখে যান যার কোনো বংশধর ছিল না, এবং আল-ওয়ালিদ ও মাসলামাহকে। সুলায়মান ছিলেন একজন সাহিত্যিক ও কবি। আবু মুহাম্মদ আলি ইবনে আহমদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে ইসহাক আল-মুনাদি কবির বংশধর এক যুবক আমাকে শুনিয়েছেন—যিনি আবু জাফর আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনুল দাব্ব-এর লেখক ছিলেন—তিনি বলেন: আবু জাফর আমাকে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমিরুল মুমিনিন সুলায়মান আল-জাফির আমাকে তার নিজের রচিত কবিতা শুনিয়েছেন। আবু মুহাম্মদ বলেন: কাসিম ইবনে মুহাম্মদ আল-রুওয়ায়ি আমাকে এটি শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সুলায়মান আল-জাফিরের লেখক ওয়ালিদ ইবনে মুহাম্মদ আমাকে এটি শুনিয়েছেন:

বিস্ময়কর যে, সিংহ বর্শার ফলার তীক্ষ্ণতায় ভীত হয় … অথচ আমি সেই আঁখিপল্লবের চাহনিতে ভীত হই যা অন্তরকে বিদ্ধ করে

আমি ভীষণ সব বিভীষিকার মোকাবিলা করি শঙ্কাহীন চিত্তে … সেখানে উপেক্ষা ও বিচ্ছেদ ব্যতীত অন্য কিছুতে আমি ভীত নই

তিনজন পুত্তলিকার ন্যায় রূপবতী নারী আমার সত্তাকে অধিকার করে নিয়েছে … যাদের মুখমণ্ডল জ্যোতির্ময় এবং তনু অতিশয় সুকোমল
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٦)
ككواكب الظلماء لحن لناظر … من فوق أغصان على كثبان

هذي الهلال وتلك بنت المشتري … حسنا وهذي أخت غصن البان

حكمت فيهن السلو إلى الصبا … فقضى بسلطان على سلطان

فأبحن من قلبي الحمى وثنيننى … في عز ملكي كالأسير العاني

لا تعذلوا ملكاً تذلل للهوى … ذل الهوى عز وملك ثاني

ما ضر أني عبدهن صبابة … وبنو الزمان وهن من عبداني

إن لم أطع فيهن سلطان الهوى … كلفا بهن فلست من مروان

وإذا الكريم أحب أمن إلفه … خطب القلى وحوادث السلوان

وإذا تجارى في الهوى أهل الهوى … عاش الهوى في غبطة وأمان

وهذه الأبيات معارضة للأبيات التي تنسب إلى هارون الرشيد، وأنشدنيها له أبو محمد عبد الله بن عثمان بن مروان العمري وهي:

ملك الثلاث الآنسات عناني … وحللن من قلبي بكل مكان

ما لي تطاوعني البرية كلها … وأطيعهن وهن في عصياني

ما ذاك إلا أن سلطان الهوى … وبه قوين أعز من سلطاني
অন্ধকারের নক্ষত্ররাজির মতো তারা দর্শকের সামনে প্রতিভাত হলো … বালিয়াড়ির ওপর ডালপালার ওপর থেকে।

এটি হলো হেলাল (বাঁকা চাঁদ) এবং ওটি সৌন্দর্যে বৃহস্পতির কন্যা … আর এটি হলো বান গাছের শাখার বোন।

আমি তাদের ক্ষেত্রে যৌবনের প্রতি ধৈর্যের ফয়সালা করেছিলাম … অতঃপর এক কর্তৃত্ব অন্য কর্তৃত্বের ওপর আদেশ জারি করল।

তারা আমার হৃদয়ের সংরক্ষিত চারণভূমিকে উন্মুক্ত করে দিল এবং আমাকে ফিরিয়ে নিল … আমার রাজত্বের গৌরবের মাঝে একজন ক্লিষ্ট বন্দীর মতো।

তোমরা এমন এক রাজাকে তিরস্কার করো না যে ভালোবাসার কাছে বশ্যতা স্বীকার করেছে … ভালোবাসার এই লাঞ্ছনাই হলো সম্মান এবং এক দ্বিতীয় রাজত্ব।

এতে কী ক্ষতি যদি আমি অনুরাগের কারণে তাদের দাস হই … অথচ মহাকালের সন্তানরা এবং তারা নিজেরাও আমার দাসদের অন্তর্ভুক্ত?

তাদের প্রতি গভীর আসক্তির কারণে যদি আমি তাদের ক্ষেত্রে প্রেমের শাসন মেনে না চলি … তবে আমি মারওয়ানের বংশধর নই।

যখন কোনো মহৎ ব্যক্তি ভালোবাসেন, তখন তিনি তার প্রিয়জনের কাছ থেকে … বিচ্ছেদের আশঙ্কা এবং বিস্মৃতির আপদ থেকে নিরাপদ থাকেন।

যখন প্রেমাসক্তরা প্রেমে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে … তখন প্রেম আনন্দ ও নিরাপত্তার মধ্যে বেঁচে থাকে।

আর এই কবিতাগুলো সেই পঙক্তিগুলোর সমকক্ষ (মুআরাযা) যা হারুনুর রশীদের দিকে নিসবত করা হয়; আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে মারওয়ান আল-উমারি আমাকে তাঁর সেই কবিতাগুলো আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, যা হলো:

তিনটি রূপসী তরুণী আমার লাগাম দখল করে নিয়েছে … এবং তারা আমার হৃদয়ের প্রতিটি স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।

আমার কী হলো যে সমগ্র সৃষ্টি আমার আনুগত্য করে … অথচ আমি তাদের আনুগত্য করি যদিও তারা আমার অবাধ্য?

এটি কেবল এ কারণে যে প্রেমের যে প্রতাপ … এবং যার মাধ্যমে তারা শক্তিশালী হয়েছে, তা আমার কর্তৃত্বের চেয়েও অধিক শক্তিশালী।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌ولاية علي بن حمود الناصر

تسمى بالخلافة، وتلقب بالناصر، ثم خالف عليه العديد الذي كانوا بايعوه وقدموا عبد الرحمن بن محمد بن عبد الملك بن عبد الرحمن الناصر، وسموه المرتضى، وزحفوا إلى غرناطة من البلاد التي تغلب عليها البربر، ثم ندموا على إقامته لما رأوا من صرامته وخافوا عواقب تمكنه وقدرته، فانهزموا عنه، ودسوا عليه من قتله غيلة، وخفى أمره، وبقي على بن حمود بقرطبة مستمر الأمر، عامين غير شهرين إلى أن قتله صقالبة له في الحمام سنة ثمان وأربعمائة، وكان له من الولد يحيى وإدريس.
আলী ইবনে হাম্মুদ আন-নাসিরের শাসনকাল

একে খিলাফত বলা হতো এবং তিনি 'আন-নাসির' উপাধিতে ভূষিত ছিলেন। এরপর যারা তাঁর আনুগত্যের শপথ নিয়েছিল, তাদের অনেকে তাঁর বিরোধিতা শুরু করল এবং তারা আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল মালিক ইবনে আবদুর রহমান আন-নাসিরকে সামনে নিয়ে এল এবং তাঁকে 'আল-মুরতাদা' নামে অভিহিত করল। তারা বার্বারদের দ্বারা বিজিত অঞ্চলগুলো থেকে গ্রানাডার অভিমুখে অগ্রসর হলো। এরপর তারা তাঁকে ক্ষমতায় বসানোর বিষয়ে অনুতপ্ত হলো, কারণ তারা তাঁর কঠোরতা প্রত্যক্ষ করেছিল এবং তাঁর ক্ষমতা ও সামর্থ্যের পরিণাম সম্পর্কে ভীত হয়ে পড়েছিল। ফলে তারা তাঁর থেকে বিমুখ হয়ে পলায়ন করল এবং গোপনে তাঁকে গুপ্তহত্যা করার জন্য লোক নিয়োগ করল, অতঃপর তাঁর বিষয়টি গোপন হয়ে রইল। আর আলী ইবনে হাম্মুদ কর্ডোভায় দুই মাস কম দুই বছর পর্যন্ত তাঁর শাসনকার্য অব্যাহত রাখলেন, অবশেষে চারশত আট হিজরি সালে তাঁর একদল সাকালিবা ভৃত্য গোসলখানায় তাঁকে হত্যা করে। তাঁর ইয়াহইয়া ও ইদরিস নামে দুই পুত্র ছিল।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌ولاية القاسم بن حمود المأمون

فولي بعده أخوه القاسم بن حمود، وكان أسن منه بعشرة أعوام، وتلقب بالمأمون، وكان وادعاً أمن الناس معه، وكان يذكر عنه أن يتشيع ولكنه لم يظهر ذلك، ولا غير الناس عادة ولا مذهباً، وكذلك سائر من ولي منهم بالأندلس فبقي القاسم كذلك إلى شهر ربيع الأول سنة اثنتي عشرة وأربعمائة، فقام عليه ابن أخيه يحيى بن علي بن حمود بمالقة، فهرب القاسم عن قرطبة بلا قتال، وصار بإشبيلية وزحف ابن أخيه المذكور من مالقة بالعساكر. فدخل قرطبة دون مانع وتسمى بالخلافة وتلقب بالمعتلي، فبقي كذلك إلى أن اجتمع للقاسم أمره واستمال البربر، وزحف بهم إلى قرطبة، فدخلها في سنة ثلاث عشرة وأربعمائة، وهرب يحيى بن علي إلى مالقة، فبقي القاسم بقرطبة شهوراً اضطرب أمره، وغلب ابن أخيه على الجزيرة المعروفة بالجزيرة الخضراء، وهي كانت معقل القاسم وبها كانت امرأته وذخائره، وغلب ابن أخيه الثاني إدريس بن علي صاحب سبتة على طنجة، وهي كانت عدة القاسم ليلجأ إليها إن رأى ما يخاف بالأندلس، وقام عليه جماعة أهل قرطبة في المدينة وأغلقوا أبوابها دونه، فحاصرهم نيفاً وخمسين يوماً، وأقام الجمعة في مسجد ابن أبي عثمان، كلها في شعبان سنة أربع عشرة وأربعمائة ولحقت كل طائفة من البربر ببلد غلبت عليه، وقصد القاسم إشبيلية وبها كان ابناه محمد والحسن فلما عرف أهل إشبيلية
কাসিম ইবনে হাম্মুদ আল-মামুনের শাসনকাল

এরপর তাঁর ভাই কাসিম ইবনে হাম্মুদ শাসনভার গ্রহণ করেন, যিনি তাঁর চেয়ে দশ বছরের বড় ছিলেন এবং 'আল-মামুন' উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত শান্ত ও ধীরস্থির প্রকৃতির মানুষ ছিলেন এবং তাঁর শাসনামলে প্রজারা নিরাপদ ছিল। তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি শিয়া মতাদর্শের প্রতি অনুরাগী ছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রকাশ করেননি এবং জনগণের প্রথা বা মাযহাবে কোনো পরিবর্তন আনেননি। আন্দালুসে তাদের বংশের অন্যান্য শাসকদের ক্ষেত্রেও একই নীতি বজায় ছিল। কাসিম চারশ বারো হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাস পর্যন্ত এভাবেই রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। এরপর মালাগাতে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনে হাম্মুদ তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন, ফলে কাসিম কোনো যুদ্ধ ছাড়াই কর্ডোভা থেকে পালিয়ে সেভিলে চলে যান। তাঁর উক্ত ভ্রাতুষ্পুত্র সৈন্যবাহিনী নিয়ে মালাগা থেকে অগ্রসর হন এবং কোনো বাধা ছাড়াই কর্ডোভায় প্রবেশ করেন। তিনি খিলাফতের দাবি করেন এবং 'আল-মু'তালি' উপাধি ধারণ করেন। পরিস্থিতি এভাবেই চলতে থাকে যতক্ষণ না কাসিম পুনরায় নিজের শক্তি সুসংহত করেন এবং বার্বারদের সমর্থন লাভে সক্ষম হন। অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে কর্ডোভা অভিমুখে অভিযান চালান এবং চারশ তেরো হিজরি সনে সেখানে প্রবেশ করেন। ইয়াহইয়া ইবনে আলী পালিয়ে মালাগাতে চলে যান। কাসিম কয়েক মাস কর্ডোভায় অবস্থান করেন, তবে তাঁর শাসন ব্যবস্থা অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আল-জাজিরাতুল খাদরা নামে পরিচিত দ্বীপটি দখল করে নেন, যা ছিল কাসিমের প্রধান দুর্গ এবং সেখানেই তাঁর স্ত্রী ও ধন-ভাণ্ডার সংরক্ষিত ছিল। তাঁর দ্বিতীয় ভ্রাতুষ্পুত্র সাবতাহর শাসক ইদ্রিস ইবনে আলী তাঞ্জিয়ার দখল করেন, যা ছিল আন্দালুসে কোনো বিপদের সম্মুখীন হলে কাসিমের আশ্রয় নেওয়ার প্রধান কেন্দ্র। এদিকে কর্ডোভার একদল অধিবাসী শহরে তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায় এবং তাঁর জন্য শহরের প্রবেশদ্বারগুলো বন্ধ করে দেয়। তিনি তাদের পঞ্চাশ দিনেরও বেশি সময় ধরে অবরোধ করে রাখেন এবং ইবনে আবি উসমান মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এই সমস্ত ঘটনা চারশ চৌদ্দ হিজরি সনের শাবান মাসে সংঘটিত হয়েছিল। বার্বারদের প্রতিটি দল তাদের বিজিত অঞ্চলের সাথে যুক্ত হয়ে যায় এবং কাসিম সেভিলের দিকে যাত্রা করেন, যেখানে তাঁর দুই পুত্র মুহাম্মদ ও হাসান অবস্থান করছিলেন। যখন সেভিলের অধিবাসীরা জানতে পারল...
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুল মুলতামিস ফী তারীখি রিজালি আহলিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٩)
خروجه عن قرطبة ومجيئه إليهم طردوا ابنيه ومن كان معهما من البربر، وضبطوا البلد، وقدموا على أنفسهم ثلاثة رجال من شيوخ البلد وأكابرهم وأهم العناصر أبو القاسم محمد بن إسماعيل بن عباد اللخمي ومحمد بن بريم الإلهامي ومحمد بن محمد ابن الحسن الزبيدي، ومكثوا كذلك أياماً مشتركين في سياسة البلد وتدبيره، ثم انفرد القاضي أبو القاسم بن عباد بالأمر واستبد بالتدبير وصار الآخران في جملة الناس، ولحق القاسم بشريش واجتمع البربر على تقدير ابن أخيه يحيى، زحفوا إلى القاسم فحاصروه حتى صار في قبضة ابن أخيه يحيى وانفرد ابن أخيه يحيى بولاية البربر وبقي القاسم أسيراً عنده وعند أخيه إدريس بعده إلى أن مات إدريس فقتل القاسم خنقاً سنة إحدى وثلاثين وأربعمائة، وحمل إلى ابنه محمد بن القاسم بالجزيرة فدفنه هنالك فكانت ولاية القاسم مذ تسمى بالخلافة بقرطبة إلى أسره ابن أخيه ستة أعوام، ثم كان مقبوضاً عليه ست عشرة سنة عند ابن أخيه إلى أن قتل كما ذكرنا في أول سنة إحدى وثلاثين، ومات وله ثمانون سنة، وله من الولد محمد والحسن، أمهما أميرة بنت الحسن بن قنون بن إبراهيم بن محمد بن القاسم بن إدريس بن إدريس بن عبد الله بن الحسن بن علي بن أبي طالب.

কর্ডোবা থেকে তার প্রস্থান এবং তাদের নিকট আগমনের পর তারা তার দুই পুত্র এবং তাদের সাথে থাকা বার্বারদের বহিষ্কার করে এবং শহরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। তারা শহরের শায়খ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্য থেকে তিনজনকে নিজেদের নেতা হিসেবে নিযুক্ত করে। তাদের মধ্যে প্রধান ছিলেন আবু আল-কাসিম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আব্বাদ আল-লাখমি, মুহাম্মদ বিন বুরাইম আল-ইলহামি এবং মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আজ-জুবাইদি। তারা কিছুদিন শহরের রাজনীতি ও ব্যবস্থাপনায় অংশীদার হিসেবে অবস্থান করেন, অতঃপর কাজী আবু আল-কাসিম বিন আব্বাদ এককভাবে শাসনক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং প্রশাসনিক বিষয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন, আর বাকি দুই ব্যক্তি সাধারণ জনগণের কাতারে শামিল হয়ে যান। কাসিম শেরিশে গমন করেন এবং বার্বাররা তার ভ্রাতুষ্পুত্র ইয়াহইয়াকে নেতৃত্বের জন্য মনোনীত করার ব্যাপারে একমত হয়। তারা কাসিমের অভিমুখে অগ্রসর হয়ে তাকে অবরোধ করে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি তার ভ্রাতুষ্পুত্র ইয়াহইয়ার হস্তগত হন। ইয়াহইয়া এককভাবে বার্বারদের কর্তৃত্ব লাভ করেন এবং কাসিম তার কাছে এবং তার পরবর্তীতে তার ভাই ইদ্রিসের কাছে বন্দী হিসেবে থাকেন। ইদ্রিসের মৃত্যুর পর চারশ একত্রিশ হিজরি সালে কাসিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তাকে আল-জাজিরায় তার পুত্র মুহাম্মদ বিন কাসিমের নিকট নিয়ে যাওয়া হয় এবং তিনি তাকে সেখানেই দাফন করেন। কর্ডোবায় খিলাফতের নাম গ্রহণ করা থেকে শুরু করে তার ভ্রাতুষ্পুত্রের হাতে বন্দী হওয়া পর্যন্ত কাসিমের শাসনকাল ছিল ছয় বছর। এরপর তিনি তার ভ্রাতুষ্পুত্রের নিকট ষোলো বছর বন্দী অবস্থায় ছিলেন, অবশেষে চারশ একত্রিশ হিজরি সালের শুরুতে তাকে হত্যা করা হয়—যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল আশি বছর। তার সন্তানদের মধ্যে ছিলেন মুহাম্মদ ও হাসান; তাদের মাতা ছিলেন আমিরা বিনতুল হাসান বিন কানুন বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম বিন ইদ্রিস বিন ইদ্রিস বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন আলী বিন আবি তালিব।