(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: -)
القواعد والضوابط الفقهية المتضمنة للتيسير القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: القواعد والضوابط الفقهية المتضمنة للتيسير
المؤلف: د عبد الرحمن بن صالح العبد اللطيف
الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2003 م
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সহজীকরণ সংবলিত ফিকহী কায়দা ও মূলনীতিসমূহ বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী কায়দা
বই: সহজীকরণ সংবলিত ফিকহী কায়দা ও মূলনীতিসমূহ
লেখক: ড. আব্দুর রহমান বিন সালিহ আল-আব্দুল লতিফ
প্রকাশক: ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডিনশিপ، মদীনা মুনাওয়ারা، সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৩ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ক্রমিক সংখ্যা অনুসারে)
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ৮)
المجلد الأول
مقدمة…رابط ظاهر سوى كونها من أصول الفقه1 فيكون في جمع ما يتغلق منها بموضوع معين سد لبعض الفراغ في هذا الجانب وتيسير على من يبحث في موضوع محدد منها.
ثم إن أبرز سمات هذا الشرع المطهر هو اليسر الذي نص الله تعالى عليه في غير ما موضع في كتابه العزيز، وصرح به رسوله صلى الله عليه وسلم.
فوقع في نفسي أن أجمع الضوابط والقواعد المعبرة عنه والدالة عليه والمتضمنة له لتكون موضوعا لهذه الرسالة.
فتكونت لدي بذلك - الفكرة - الأولى بأن يكون موضوع الرسالة: (القواعد والضوابط الفقهية المتضمنة للتيسير) ، ثم عرضت الأمر على أساتذتي الكرام فوجد منهم قبولا، ولله الحمد، فعزز ذلك منهم
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ডভূমিকা…এটি উসুলুল ফিকহের১ অন্তর্ভুক্ত হওয়া ছাড়া অন্য কোনো প্রকাশ্য যোগসূত্র নেই; তাই এর মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে একত্রিত করার ফলে এই ক্ষেত্রে বিদ্যমান কিছু শূন্যতা পূরণ হবে এবং যারা এর মধ্য থেকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধান করেন তাদের জন্য তা সহজতর হবে।
অতঃপর, এই পবিত্র শরীয়তের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সহজসাধ্যতা, যা মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবের একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
তাই আমার মনে এই সংকল্প জাগ্রত হলো যে, আমি এই সহজসাধ্যতার বহিঃপ্রকাশকারী, নির্দেশক এবং একে অন্তর্ভুক্তকারী মূলনীতি ও বিধিবিধানসমূহ সংগ্রহ করব, যাতে তা এই গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তু হতে পারে।
এর মাধ্যমেই আমার মাঝে প্রাথমিক ধারণাটি সৃষ্টি হয় যে, গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তু হবে: (সহজসাধ্যতা সম্বলিত ফিকহি কাওয়ায়িদ ও দাউয়াবিত)। এরপর আমি বিষয়টি আমার সম্মানিত শিক্ষকদের কাছে উপস্থাপন করলে তারা তা সাদরে গ্রহণ করেন, আল্লাহর শুকরিয়া, যা তাদের পক্ষ থেকে আমাকে আরও উৎসাহিত করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ৯)
الرغبة لدي وشجعني على الإقدام على الكتابة فيه فعزمت على جعل عنوان هذه الرسالة [قواعد وضوابط التيسير في الشريعة] ثم بدأت الكتابة فيها مستعينا بربي تبارك وتعالى.
ثم بدا لي - عند إعداد هذه الرسالة للطبع - أن أجعل العنوان [القواعد والضوابط الفقهية المتضمنة للتيسير] ؛ لأنه أوضح دلالة على مضمون الكتاب.
المطلب الثاني: مضمون الكتاب إجمالا:
يتضمن هذا الكتاب ذكر جملة من القواعد والضوابط الفقهية التي صاغها الفقهاء بناء على استقراء وتتبع الفروع الفقهية مما مما يتضمن معنى التيسير على المكلفين بوجه من الوجوه في العبادات والمعاملات ودراستها وفق منهج محدد1.
ودفعا لما قد يرد من أن الشرع كله يسر، وأن تحديد قواعد التيسير قد يؤخذ منه مفهوم مخالفة بأن في الشرع قواعد، أو أحكاما لا تتضمن التيسير أقول:
إن الأصل في التكليف من حيث هو تكليف أن لا يخلو عن قدر من المشقة كما قال عز وجل: {إِنَّا عَرَضْنَا الأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ
--------------------------------------------
আমার মাঝে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হলো এবং এটি আমাকে এই বিষয়ে লিখতে উৎসাহিত করল। ফলে আমি এই গবেষণাপত্রের শিরোনাম [শরীয়তে সহজিকরণের নীতিমালা ও মানদণ্ড] রাখার সংকল্প করলাম। অতঃপর আমি আমার বরকতময় ও সুউচ্চ রবের সাহায্য নিয়ে এতে লেখা শুরু করলাম।
অতঃপর এই গবেষণাপত্রটি মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করার সময় আমার কাছে মনে হলো যে, শিরোনামটি [সহজিকরণ সংবলিত ফিকহী নীতিমালা ও মানদণ্ড] রাখা উচিত; কারণ এটি গ্রন্থের বিষয়বস্তুর ওপর অধিকতর স্পষ্ট অর্থ নির্দেশ করে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের সারসংক্ষেপ:
এই গ্রন্থটি ফকীহগণ কর্তৃক প্রণীত এমন একগুচ্ছ ফিকহী নীতিমালা ও মানদণ্ড ধারণ করে, যা তারা ফিকহী শাখা-প্রশাখাগুলোর গভীর পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তৈরি করেছেন। এগুলো ইবাদত ও লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো না কোনোভাবে শরীয়তের বিধান পালনে আদিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য সহজিকরণের অর্থ বহন করে এবং একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুযায়ী এগুলোর অধ্যয়ন করা হয়েছে১।
এই আপত্তির নিরসনকল্পে—যে শরীয়ত তো পুরোটাই সহজ, আর সহজিকরণের নীতিমালা নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে এর বিপরীত কোনো অর্থ বোঝা যেতে পারে যে, শরীয়তে এমন কিছু নীতিমালা বা বিধান রয়েছে যা সহজিকরণকে অন্তর্ভুক্ত করে না—আমি বলব:
মূলত অর্পিত দায়িত্ব বা তাকলীফ হওয়ার দিক থেকে তা কিছু মাত্রায় শ্রম বা কষ্ট থেকে মুক্ত নয়, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আসমানসমূহের নিকট আমানত পেশ করেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ১০)
وَالأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَنْ يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا
… } 1، وكما قال صلى الله عليه وسلم: "حفت الجنة بالمكاره
… "2، وقد عرف علماء اللغة التكليف، بأنه الأمر بما يشق3، وعرفه علماء الأصول بأنه إلزام مقتضى خطاب الشرع4؛ ولأن هذا هو محك الامتحان والابتلاء والتمحيص.
لكن الله عز وجل بلطفه ومنه وحكمته وعلمه بضعف عباده جعل هذا التكليف في حدود ما يستطيعه الإنسان من غير حرج أو عسر.
والمراد من بحث هذا الموضوع عرض القواعد والضوابط التي تتضمن معنى التيسير في الأصل والابتداء وتفيد بأن الله تعالى وإن كان قد كلف عباده بأمور فقد جعلها في حدود ما يستطيعونه،
--------------------------------------------
...এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা, তারা তা বহন করতে অস্বীকার করল এবং তা থেকে ভীত হলো
… } ১, এবং যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জান্নাতকে কষ্টসাধ্য বিষয়সমূহ দ্বারা বেষ্টন করা হয়েছে
… "২, আর ভাষাবিদগণ 'তাকলীফ' (দায়িত্বারোপ)-এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এমন আদেশ হিসেবে যা কষ্টসাধ্য৩, এবং উসুলশাস্ত্রবিদগণ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন শরয়ী সম্বোধনের দাবিকে বাধ্যতামূলক করা হিসেবে৪; কেননা এটিই হলো পরীক্ষা, বিপত্তি এবং যাচাইয়ের কষ্টিপাথর।
কিন্তু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর অনুগ্রহ, দান, হিকমত এবং বান্দাদের দুর্বলতা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের কারণে এই তাকলীফকে মানুষের সামর্থ্যের সীমার মধ্যে রেখেছেন, কোনো সংকীর্ণতা বা কাঠিন্য ছাড়াই।
এই বিষয়টি আলোচনার উদ্দেশ্য হলো এমন কিছু মূলনীতি ও মানদণ্ড উপস্থাপন করা যা মৌলিক ও প্রারম্ভিকভাবেই সহজীকরণের অর্থ বহন করে এবং এটি প্রকাশ করে যে, আল্লাহ তাআলা যদিও তাঁর বান্দাদের ওপর বিভিন্ন বিষয়ের দায়িত্বারোপ করেছেন, তবুও তিনি সেগুলোকে তাদের সামর্থ্যের সীমার মধ্যেই রেখেছেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ১২)
المقدمة
الحمد لله رب العالمين، خلق فقدر، وشرع فيسر، ولم يجعل على الناس في الدين من حرج، والصلاة والسلام على رسوله الأمين ما خير بين أمرين إلا اختار أيسرهما مالم يكن مأثما، وعلى آله وأصحابه وأتباعه إلى يوم الدين.
وبعد: فهذه مقدمة بين يدي هذا الكتاب أوضح فيها ما تجدر الإشارة إليه قبل الخلوص إلى الموضوع وتشمل هذه المقدمة المطالب التالية:
1) سبب اختيار الموضوع.
2) مضمون الكتاب إجمالا.
3) منهج جمع مادته.
4) منهج عرض مادته.
5) تقسيمه وبيان ما يتضمنه.
6) الإشارة إلى أبرز ما واجهني من صعوبات في هذا البحث.
ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি সৃষ্টি করেছেন অতঃপর পরিমিত করেছেন, এবং বিধান দিয়েছেন অতঃপর তা সহজ করেছেন, আর তিনি দ্বীনের ব্যাপারে মানুষের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর আমানতদার রাসূলের ওপর, যাকে যখনই দুটি বিষয়ের মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তখনই তিনি তাদের মধ্যে সহজতরটি গ্রহণ করেছেন, যতক্ষণ না তা গুনাহর কাজ হতো; এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের অনুসারীদের ওপর।
অতঃপর: এটি এই কিতাবের একটি ভূমিকা, যেখানে আমি মূল বিষয়ে প্রবেশের পূর্বে প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ স্পষ্ট করছি। এই ভূমিকাটি নিম্নোক্ত বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে:
১) বিষয়টি নির্বাচনের কারণ।
২) কিতাবের বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ।
৩) এর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পদ্ধতি।
৪) এর তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের পদ্ধতি।
৫) এর বিন্যাস ও এতে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তার বিবরণ।
৬) এই গবেষণায় আমি যে সকল প্রধান প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المطلب الأول: سبب اختيار الموضوع:
أصل هذا الكتاب رسالة علمية1 ذلك أني لما رغبت في مواصلة دراستي العليا لمرحلة الدكتوراه في شعبة أصول الفقه كان علي أن أختار موضوعا للرسالة التي أعدها لهذا الغرض.
ولقد وجدت أن أكثر موضوعات أصول الفقه قد طرق بالبحث، وكانت مادة القواعد الفقهية قد أنيطت بقسم أصول الفقه وأسند تدريسها إلى أعضائه ومنسوبيه وهي مادة حديثة العهد في الجامعة الإسلاميةفرأيت أن من المناسب أن يكون موضوع رسالتي في نطاق هذا النوع من علوم الشريعة الغراء.
ولما أن توجهت هذا التوجه من حيث الإجمال بدأت البحث التفصيلي عن موضوع مناسب من موضوعات القواعد الفقهية، فرأيت أن جمع متفرقها مما يكون متعلقا بموضوع واحد هو من الأمور التي تصلح لتكون موضوعا للرسالة؛ لأن كتب القواعد الفقهية، وكتب الأشباه والنظائر قد انتظمت كثيرا من قواعد الفقه وضوابطه في موضوعات شتى - وفي كثير من الأحيان - لا يربط بين تلك القواعد
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: বিষয় নির্বাচনের কারণ:
এই বইটির মূল উৎস হলো একটি গবেষণাপত্র১। মূলত যখন আমি উসূলুল ফিকহ বিভাগে পিএইচডি পর্যায়ের উচ্চতর শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলাম, তখন এই উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত গবেষণাপত্রের জন্য আমাকে একটি বিষয় নির্বাচন করতে হয়েছিল।
আমি দেখতে পেলাম যে, উসূলুল ফিকহের অধিকাংশ বিষয়ই গবেষণার মাধ্যমে আলোচিত হয়েছে। অন্যদিকে 'ফিকহি মূলনীতি' (আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ) বিষয়টি উসূলুল ফিকহ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এর পাঠদানের দায়িত্ব উক্ত বিভাগের সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের ওপর অর্পণ করা হয়েছে; আর এটি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নবীন বিষয়। তাই আমি সমীচীন মনে করলাম যে, আমার গবেষণাপত্রের বিষয়টি এই মহান শরয়ি বিজ্ঞানের পরিমণ্ডলে হওয়া উচিত।
যখন আমি সামগ্রিকভাবে এই দিকে মনোনিবেশ করলাম, তখন ফিকহি মূলনীতিসমূহের মধ্য থেকে একটি উপযুক্ত বিষয়ের জন্য বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করলাম। আমি দেখলাম যে, একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করা এমন একটি কাজ যা গবেষণাপত্রের বিষয় হওয়ার যোগ্য। কারণ ফিকহি মূলনীতির কিতাবসমূহ এবং 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির' গ্রন্থসমূহ বিভিন্ন বিষয়ের অধীনে ফিকহের অনেক মূলনীতি ও নিয়মকে সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত করেছে—তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেই মূলনীতিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কোনো সংযোগ রক্ষা করা হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والقواعد والضوابط التي تتضمن زيادة تيسير بخروجها عن الأصل العام في بعض الأحوال التي يكون تطبيقه فيها مؤديا إلى المشقة والحرج.
ومن المعلوم أن القواعد الفقهية ليست جميعها على هذه الشاكلة، فهناك من القواعد ماهو موضوع لبيان الحقوق وضبطها فهذه لا تدخل في قواعد التيسير إلا من باب أنها من الشرع والشرع كله يسر.
المطلب الثالث: منهج جمع مادة الكتاب:
لقد سلكت في جمع مادة هذا الكتاب سبيل الاستعراض لأشهر كتب القواعد الفقهية فاستعرضت جملة منها وحرصت على أن تكون هذه الكتب شاملة للمذاهب الأربعة.
وسأعرض فيما يلي أسماء أهم الكتب التي استعرضتها لجمع هذه القواعد والضوابط مصنفة حسب المذاهب الأربعة ومرتبة حسب وفيات مؤلفيها.
أ) المذهب الحنفي:
1) الأصول التي مدار كتب الحنفية للكرخي1.
--------------------------------------------
এবং ঐ সকল নীতি ও বিধান যা সহজীকরণের মাত্রাকে বৃদ্ধি করে; কেননা এগুলো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ মূলনীতি থেকে বের হয়ে আসে, যেখানে উক্ত মূলনীতি প্রয়োগ করা কষ্ট ও সংকীর্ণতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এটি সুবিদিত যে, সকল ফিকহী মূলনীতি এই প্রকারের নয়। বরং এমন কিছু নীতিও রয়েছে যা অধিকারসমূহ বর্ণনা ও বিন্যস্ত করার জন্য প্রণীত হয়েছে; সুতরাং এগুলো সহজীকরণের নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে এ দৃষ্টিকোণ থেকে অন্তর্ভুক্ত যে এগুলো শরীয়তের অংশ এবং শরীয়ত সম্পূর্ণই সহজ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের বিষয়বস্তু সংগ্রহের পদ্ধতি:
আমি এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু সংগ্রহের ক্ষেত্রে ফিকহী মূলনীতি বিষয়ক সর্বাধিক প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনার পথ অনুসরণ করেছি। আমি সেগুলোর মধ্য থেকে এক বড় অংশ পর্যালোচনা করেছি এবং এই গ্রন্থগুলো যাতে চার মাযহাবকে অন্তর্ভুক্ত করে সে বিষয়ে সচেষ্ট থেকেছি।
নিম্নে আমি ঐ সকল গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের নামসমূহ তুলে ধরছি যা এই নীতি ও বিধানসমূহ সংগ্রহের জন্য আমি পর্যালোচনা করেছি; এগুলো চার মাযহাব অনুযায়ী বিন্যস্ত এবং গ্রন্থকারদের মৃত্যুসন অনুযায়ী ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে।
ক) হানাফী মাযহাব:
১) আল-কারখী রচিত 'আল-উসুলুল্লাতি মাদারি কুতুবিল হানাফিয়্যাহ' (হানাফী মাযহাবের গ্রন্থসমূহ যে মূলনীতিগুলোর ওপর আবর্তিত)।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
2) القواعد والضوابط المستخلصة من كتاب التحرير للحصيري استخلصها على أحمد الندوي.
3) الأشباه والنظائر لابن النجيم.
4) شرح القواعد الفقهية (شرح لقواعد مجلة الأحكام العدلية) تأليف الشيخ أحمد الزرقاء.
ب) المذهب المالكي:
1) الفروق للقرافي.
2) القواعد للمقري (القسم المطبوع منه) .
3) إيضاح المسالك إلى قواعد الإمام مالك للونشريسي.
ج) المذهب الشافعي:
1) قواعد الأحكام في مصالح الأنام. للعز بن عبد السلام.
2) المجموع المذهب في قواعد المذهب للعلائي (القسم المحقق منه)
3) الأشباه والنظائر السبكي.
4) المنثور للزركشي.
--------------------------------------------
২) হাসিরী-র কিতাবুত তাহরীর থেকে সংকলিত মূলনীতি ও নিয়মাবলি, সংকলন করেছেন আলী আহমদ নদভী।
৩) ইবনুন নুজাইমের আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের।
৪) শারহুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ (মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ-র মূলনীতিসমূহের ব্যাখ্যা), লেখক: শায়খ আহমদ আয-যারকা।
খ) মালিকী মাযহাব:
১) আল-কারাফীর আল-ফুরুক।
২) আল-মাক্বরীর আল-কাওয়ায়িদ (এর মুদ্রিত অংশ)।
৩) আল-ওয়ানশারিসীর ইজাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদি ইমাম মালিক।
গ) শাফেয়ী মাযহাব:
১) ইজ্জুদ্দিন ইবনে আবদুস সালামের কাওয়ায়িদুল আহকাম ফি মাসালিহিল আনাম।
২) আল-আলায়ীর আল-মাজমুউল মুযাহ্হাব ফি কাওয়ায়িদিল মাযহাব (এর সম্পাদিত অংশ)
৩) আস-সুবকীর আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের।
৪) আয-যারকাশীর আল-মানসুর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
5) مختصر من قواعد العلائي وكلام الأسنوي لإبن خطيب الدهشه.
6) الأشباه والنظائر السيوطي.
د) : في المذهب الحنبلي:
1) القواعد النورانية الفقهية لشيخ الإسلام ابن تيمية.
2) القواعد لابن رجب
3) خاتمة مغني ذوي الأفهام عن الكتب الكثيرة في الأحكام لابن عبد الهادي
4) القواعد والأصول الجامعة لابن سعدي
لإضافة على مراجعة عدد آخر من كتب القواعد الفقهية الأخرى واكتفيت - في جمع القواعد والضوابط - باستقراء هذه المجموعة من كتب القواعد عن غيرها مماهو اختصار لها، أو شرح، أو تنقيح أو نحو ذلك مع الاستفادة من تلك الشروح، أو المختصرات، أو التنقيحات.
ولا شك أن عرض هذه المجموعة من القواعد والضوابط لا يعد استقصاء لكل القواعد والضوابط الفقهية المتضمنة لمبدأ للتيسير بحيث لا يكون غيرها معدودا من قواعد التيسير وذلك لسببين رئيسين:
৫) ইবন খাতীব আদ-দাহশাহ কর্তৃক আল-আলায়ীর কাওয়াইদ ও আল-আসনাবীর আলোচনার সংক্ষিপ্তসার।
৬) সুয়ূতী রচিত আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর।
ঘ) : হাম্বলী মাযহাবের ক্ষেত্রে:
১) শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রচিত আল-কাওয়াইদ আন-নূরানিয়্যাহ আল-ফিকহিয়্যাহ।
২) ইবন রাজাব রচিত আল-কাওয়াইদ।
৩) ইবন আব্দুল হাদী রচিত 'মুগনী যাউইল আফহাম আনিল কুতুবিল কাসীরা ফিল আহকাম' এর উপসংহার।
৪) ইবন সা'দী রচিত আল-কাওয়াইদ ওয়াল উসূল আল-জামিআহ।
অন্যান্য ফিকহী কাওয়াইদ (মূলনীতি) বিষয়ক আরও বেশ কিছু গ্রন্থ পর্যালোচনার পাশাপাশি আমি—কাওয়াইদ ও যাওয়াবিত (উপ-নীতিমালা) সংকলনের ক্ষেত্রে—এই নির্দিষ্ট গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছি এবং সেগুলোর কোনো সংক্ষিপ্তসার, ব্যাখ্যা বা পরিমার্জিত সংস্করণ সরাসরি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত করা থেকে বিরত থেকেছি; যদিও সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থ, সংক্ষিপ্তসার বা পরিমার্জিত সংস্করণগুলো থেকে উপকৃত হওয়া হয়েছে।
নিঃসন্দেহে এই একগুচ্ছ কাওয়াইদ ও যাওয়াবিত উপস্থাপনকে সহজীকরণ (তয়সীর) এর নীতি সম্বলিত সকল ফিকহী মূলনীতি ও উপ-নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান হিসেবে বিবেচনা করা যায় না, যেন এগুলো ব্যতীত অন্যগুলোকে সহজীকরণের মূলনীতি হিসেবে গণ্য করার সুযোগ না থাকে। আর এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أحدهما: أن هذه هي طبيعة البحوث المبنية على استعراض مؤلفات العلماء، فإنه لا يمكن الاستقصاء إلا بقراءة واستعراض كل ما كتب. وفي هذا من الصعوبة ما لا يخفى.
الثاني: أن الحكم على قاعدة معينة بأنها من قواعد التيسير أة على ضابط بمثل هذا الحكم أمر قد تختلف فيه وجهات النظر، فإن القاعدة الواحدة قد تعتبر من بعض الوجوه داخلة ضمن موضوع هذا العنوان ومن وجه آخر غير داخلة.
المطلب الرابع منهج عرض المادة العلمية:
نهجت في عرض مادة الكتاب الطريقة التالية:
أولا: أذكر نص القاعدة، أو الضابط باللفظ الذي ذكره الفقهاء، وقد أتصرف في صياغتها إذا اقتضى الأمر شيئا من ذلك، وأنبه عليه، بأن أجعل كلمة ((صياغة)) بعدها، وذلك لأن بعض العلماء قد يذكر القاعدة مفصلة فأتصرف في استخلاص ما يدخل تحت موضوع الرسالة منها، كما أن بعض القواعد والضوابط قد تمر عرضا في ثنايا كلام بعض الفقهاء دون النص على كونها قاعدة أو ضابطا.
ثانيا: أذكر من أورد القاعدة أو الضابط ممن اطلعت على إيرادهم
এর একটি হলো: এটি আলেমদের রচনাবলি পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে করা গবেষণার প্রকৃতি; কেননা যা কিছু লেখা হয়েছে তার সবকিছু পাঠ এবং পর্যালোচনা করা ছাড়া পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান সম্ভব নয়। আর এর মধ্যে যে জটিলতা রয়েছে তা অস্পষ্ট নয়।
দ্বিতীয়টি হলো: কোনো বিশেষ মূলনীতিকে সহজীকরণের মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত বলা অথবা কোনো বিধানের ওপর অনুরূপ হুকুম লাগানো এমন একটি বিষয় যাতে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা থাকতে পারে। কারণ একটি মূলনীতি নির্দিষ্ট কোনো দিক থেকে এই শিরোনামের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত বিবেচিত হতে পারে, আবার অন্য দিক থেকে বহির্ভূত হতে পারে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তু উপস্থাপনের পদ্ধতি:
আমি গ্রন্থের বিষয়বস্তু উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
প্রথমত: আমি মূলনীতি বা বিধানের পাঠ ফকিহগণ যেভাবে উল্লেখ করেছেন ঠিক সেই শব্দেই উল্লেখ করি। তবে প্রয়োজনবোধে আমি এর শব্দবিন্যাসে কিছুটা পরিবর্তন করি এবং তার পরে "শব্দবিন্যাস" শব্দটি যুক্ত করে সে বিষয়ে সতর্ক করে দিই। এর কারণ হলো, কোনো কোনো আলেম মূলনীতিটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেন, ফলে আমি সেখান থেকে গবেষণার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অংশটুকু চয়ন করার ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন পরিমার্জন করি। তদ্রূপ কিছু মূলনীতি ও বিধান কোনো কোনো ফকিহর আলোচনার মাঝে প্রসংগক্রমে চলে আসে, যেখানে সেটিকে মূলনীতি বা বিধান হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় না।
দ্বিতীয়ত: যারা এই মূলনীতি বা বিধানটি উল্লেখ করেছেন এবং যাদের বর্ণনার ব্যাপারে আমি অবগত হয়েছি, আমি তাদের নাম উল্লেখ করি।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
لها فأبدأ بمن صرح بذكر القاعدة أو الضابط، وأعقبه بمن ألمح إليها ممن كتب في القواعد الفقهية، ثم أذكر من علل بها من الفقهاء، ثم من ذكرها أو أشار إليها من الأصوايين - إن وجد -.
ثالثا: أبين معاني مفردات القاعدة أو الضابط، إن كان من مفردات ما يحتاج إلى بيان.
رابعا: أشرح القاعدة أو الضابط شرحا إجماليا.
خامسا: أعرض الأدلة الدالة على صحة القاعد أو الضابط مقدما الدليل الصريح في دلالته على غيره، وأبين وجه الاستدلال منها حيث يلزم ذلك. وأقرن ذلك بأقوال العلماء في الاستدلال به على حكم القاعدة. وإذا كانت القاعدة أو الضابط محل خلاف فإني أعرض أدلة المخالفين الذين لا يرون صحة القاعدة أة الضابط حينما يكون الخلاف في ذلك ظاهرا ومشهورا.
وقد سلكت في لإيراد الأدلة مسلك ذكر نماذج من الأدلة التي يكون وجه الدلالة منها على القاعدة أو الضابط متفقا دون استقصاء تلك الأدلة حيث رأيت أن أذكر وجه الدلالة من تلك النماذج يغني عن سرد الأدلة المتفقة معها في وجه الدلالة.
এগুলোর ক্ষেত্রে আমি সেই ব্যক্তিকে দিয়ে শুরু করব যিনি নিয়ম (কায়েদা) বা মূলনীতি (দাবিত) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, এবং তার পরে সেই ব্যক্তিকে নিয়ে আসব যিনি ফিকহী কায়দা বিষয়ক লেখকদের মধ্য থেকে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। এরপর আমি সেই ফকীহদের কথা উল্লেখ করব যারা একে কারণ হিসেবে দর্শিয়েছেন, অতঃপর উসুলবিদদের মধ্য থেকে যারা এটি উল্লেখ করেছেন বা এর প্রতি ইশারা করেছেন—যদি পাওয়া যায়—তাদের কথা বলব।
তৃতীয়ত: আমি নিয়ম (কায়েদা) বা মূলনীতির শব্দাবলির অর্থ ব্যাখ্যা করব, যদি এমন কোনো শব্দ থাকে যার ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে।
চতুর্থত: আমি নিয়ম (কায়েদা) বা মূলনীতিটি সামগ্রিকভাবে ব্যাখ্যা করব।
পঞ্চমত: আমি নিয়ম (কায়েদা) বা মূলনীতির সঠিকতার ওপর প্রমাণাদি উপস্থাপন করব, এক্ষেত্রে যে দলিলের বর্ণনা অধিকতর স্পষ্ট সেটিকে অন্যদের তুলনায় প্রাধান্য দেব এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে এর মাধ্যমে দলিল প্রদানের ধরণ (ওয়াজহু ইস্তিদলাল) বর্ণনা করব। এর সাথে আমি নিয়মের বিধানের ক্ষেত্রে দলিল প্রদানের বিষয়ে আলেমগণের বক্তব্যসমূহ যুক্ত করব। আর যদি নিয়ম (কায়েদা) বা মূলনীতিটি মতভেদের বিষয় হয়, তবে আমি সেই বিরোধিতাকারীদের দলিলসমূহও উপস্থাপন করব যারা এই নিয়ম বা মূলনীতিটিকে সঠিক মনে করেন না, যখন সেই মতভেদটি স্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ হয়।
আমি দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এমন কিছু দলিলের নমুনা উল্লেখ করার পথ অনুসরণ করেছি যেগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম (কায়েদা) বা মূলনীতির ওপর নির্দেশনার ধরণ সর্বসম্মত, সেই সকল দলিলের পূর্ণ অনুসন্ধান ছাড়াই; কারণ আমি মনে করি যে, এই নমুনাগুলোর নির্দেশনার ধরণ উল্লেখ করা সেই সব দলিল ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করার প্রয়োজনীয়তা দূর করবে যেগুলোর নির্দেশনার ধরণ অভিন্ন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
سادسا: أبين من يعمل بتلك القاعدة، أو ذلك الضابط من الفقهاء ومن يخالف ويكون ذلك - في الغالب - مبنيا على أقوالهم في المسائل الفقهية المندرجة تحت تلك القاعدة، وأنقل - في الغالب - شيئا من تلك الأقوال لإثبات العمل بالقاعدة أو الضابط، أو العكس.
سابعا: أمثل للقاعدة الفقهية أو الضابط بعدد من الفروع الفقهية وأراعي في صياغة الفرع الفقهي موافقته لمقتضى القاعدة - وإن كانت المسألة خلافية - وقد أذكر الفرع الفقهي ببيان صورته دون الحكم أو أذكره على صيغة الاستفهام إذا كان في الحكم تفصيل يطول وأحيل في تفصيل ذلك على كتب الفقه، وقد أحيل على بعض شروح الحديث أو كتب القواعد الفقهية.
ثامنا: أبين وجه التيسير في القاعدة أو الضابط.
وقد راعيت - أثناء ذلك - ما تستلزمه المنهجية في البحث:
1) فعزوت الآيات إلى مواضعها من سور القرآن الكريم
2) وعزوت1 الأحاديث النبوية، وآثار الصحابة - رضوان الله
--------------------------------------------
ষষ্ঠত: আমি ফকীহগণের মধ্যে কে সেই নীতি বা নিয়মানুযায়ী আমল করেন এবং কে এর বিরোধিতা করেন তা স্পষ্ট করব। এটি সাধারণত সেই নীতির অন্তর্ভুক্ত ফিকহী মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে তাদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে করা হবে। আমি সেই নীতি বা নিয়মানুযায়ী আমল প্রমাণ করার জন্য অথবা এর বিপরীত প্রমাণের জন্য সাধারণত সেই সকল মতামতের কিছু অংশ উদ্ধৃত করব।
সপ্তমত: আমি ফিকহী নীতি বা নিয়মের জন্য বেশ কিছু ফিকহী উপ-শাখার মাধ্যমে উদাহরণ পেশ করব এবং উপ-শাখাগুলো বর্ণনা করার সময় নীতির চাহিদার সাথে সেগুলোর সামঞ্জস্য রক্ষার প্রতি লক্ষ্য রাখব—যদিও বিষয়টি মতভেদপূর্ণ হয়ে থাকে। কখনও আমি ফিকহী উপ-শাখার হুকুম (বিধান) উল্লেখ না করে কেবল তার স্বরূপ বর্ণনা করব, অথবা যদি হুকুমের বিস্তারিত বর্ণনা দীর্ঘ হয় তবে তা প্রশ্নবোধক বাক্যে উল্লেখ করব এবং বিস্তারিত জানার জন্য ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি দেব। আবার কখনও হাদীসের কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ বা ফিকহী মূলনীতির কিতাবসমূহেরও উদ্ধৃতি দেব।
অষ্টমত: আমি সেই নীতি বা নিয়মের মধ্যে সহজকরণের দিকটি স্পষ্ট করব।
আর আমি এই কাজের সময় গবেষণার পদ্ধতির জন্য যা যা প্রয়োজন তা অনুসরণ করেছি:
১) আমি আয়াতসমূহকে পবিত্র কুরআনের সূরাসমূহে তাদের নিজ নিজ স্থানে সম্বন্ধিত করেছি।
২) এবং আমি নবীজির হাদীসসমূহ এবং সাহাবীগণের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আসারসমূহকে সম্বন্ধিত করেছি১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ২০)
عليهم- إلى مواضعها من الدواوين؛ وكتب الآثار على النحو التالي:
أعزو الحديث إلى الصحيحين، أو أحدهما إن كان فيهما أو في أحدهما، فإن لم يكن فيهما أو في أحدهما عزوت إلى كتب السنن الأربعة، فإن لم يكن فيها عزوت إلى موطأ الإمام مالك، ومسند الإمام أحمد، وهكذا إلى ما اقتضى الأمر فيه مخالفة هذا المنهج وإذا تكرر الحديث في شيء من كتب السنة فإني لا ألتزم بيان تلك المواضع بل أكتفي بذكر موضع واحد من ذلك الكتاب، ثم أثبت حكم علماء الفن على الحديث - موجزا - إذا لم يكن الحديث في الصحيحين أو أحدهما.
أما الآثار فاكتفيت بعزوها إلى مواضعها من كتب السنة، أو كتب الآثار ولم ألتزم بيان الحكم عليها من حيث الصحة أو عدمه، لعدم تيسر ذلك؛ لأن الآثار لم تحظ - بعد - بما حظيت به السنة من خدمة وعناية.
3) وبينت معاني الألفاظ الغريبة الت تحتاج - في رأيي - إلى بيان، وكذلك ما كان من المصطلحات العلمية محتاجا إلى ذلك.
4) وترجمت للأعلام - ما عدا الأنبياء والملائكة عليهم السلام،
তাদের প্রতি—মূল গ্রন্থসমূহে তাদের নিজ নিজ স্থানে; এবং আসার সংক্রান্ত কিতাবসমূহের বিন্যাস নিম্নরূপ:
আমি হাদিসটিকে সহীহায়েন বা তাদের যে কোনো একটির দিকে নিসবত করব যদি তা সে দুটিতে বা তাদের কোনো একটিতে বিদ্যমান থাকে। যদি সে দুটিতে না থাকে, তবে আমি সুনান চতুষ্টয়ের উদ্ধৃতি প্রদান করব। আর যদি সেগুলোতেও না থাকে, তবে আমি ইমাম মালিকের মুওয়াত্তা এবং ইমাম আহমদের মুসনাদ থেকে উদ্ধৃতি দেব। এভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী এই পদ্ধতির ব্যতিক্রমও হতে পারে। আর হাদিসটি যদি সুন্নাহর কিতাবসমূহের কোনোটিতে একাধিকবার বর্ণিত হয়, তবে আমি সেই সকল স্থান উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রাখিনি, বরং উক্ত কিতাব থেকে কেবল একটি স্থান উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি। অতঃপর হাদিসটি যদি সহীহায়েন বা তাদের কোনো একটিতে না থাকে, তবে আমি সংক্ষেপে হাদিসটির ওপর এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের রায় বা হুকুম উল্লেখ করেছি।
আর আসারের ক্ষেত্রে আমি সুন্নাহর কিতাবসমূহ বা আসারের কিতাবসমূহ থেকে সেগুলোর মূল স্থানের উদ্ধৃতি প্রদান করেই ক্ষান্ত হয়েছি। এগুলোর শুদ্ধতা বা অশুদ্ধতার ব্যাপারে কোনো হুকুম প্রদানের বাধ্যবাধকতা আমি রাখিনি, কারণ তা সহজসাধ্য ছিল না; কেননা সুন্নাহর ক্ষেত্রে যে পরিমাণ খিদমত ও যত্ন নেয়া হয়েছে, আসারের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তেমনটি ঘটেনি।
৩) আমি সেই সব অপরিচিত শব্দের অর্থ স্পষ্ট করেছি যেগুলোর ক্ষেত্রে আমি মনে করেছি যে ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে। অনুরূপভাবে যে সব ইলমি পরিভাষার ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল তাও উল্লেখ করেছি।
৪) আমি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের পরিচিতি প্রদান করেছি—তবে নবীগণ ও ফেরেশতাগণ (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) ব্যতীত।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ২১)
والخلفاء الراشدين، والأئمة الأربعة - ترجمة موجزة ضمنتها ذكر اسم المترجم له، وتاريخ ولادته - إن وقفت عليه - وتاريخ وفاته، وذكر بعض مؤلفاته، وأحرص على أن تكون من كتب الفقه، أو الأصول، أو القواعد الفقهية، كما أراعي أن تكون الكتب المذكورة غير ما أحيل إليه من كتب العلَمَ المترجم زيادة للفائدة.
5) عند ورود الفروع الفقهية فإن كانت معرفة آراء الفقهاء فيها مقصودة بينت ذلك وأحلت إلى كتب الفقهاء، أو أكتفي بالإحالة إلى المراجع إذا كان التفصيل فيها كثيرا. وإن كان ورود الفرع الفقهي عرضا لم ألتزم ذلك.
وأعقبت ذلك بخاتمة مختصرة ضمنتها شكر الله تعالى على ما منَّ به من إكمال هذا البحث، وأهمَّ ما ظهر لي من نتائج خلاله، ثم ختمت الرسالة بوضع قائمة بمراجع البحث، وعدد من الفهارس التي تسهل على الباحث الوصول إلى غايته وهذه الفهارس هي كما يلي:
1) فهرس الآيات القرآنية مرتبة حسب السور
2) فهرس الأحاديث النبوية مرتبة حسب حروف المعجم مراعيا في ذلك الحرف الأول من نص الحديث، أو من الجزء المستدل به
এবং খোলাফায়ে রাশেদীন ও চার ইমামের সংক্ষিপ্ত জীবনী—যাতে আমি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম, তাঁর জন্মতারিখ (যদি আমি তা পেয়ে থাকি) এবং তাঁর মৃত্যু তারিখ অন্তর্ভুক্ত করেছি; আরও উল্লেখ করেছি তাঁর কিছু গ্রন্থাবলি। আমি সচেষ্ট ছিলাম যেন সেগুলো ফিকহ, উসুল অথবা ফিকহি মূলনীতি সংক্রান্ত কিতাব হয়। পাশাপাশি আমি লক্ষ্য রেখেছি যেন উল্লেখিত কিতাবগুলো সেই কিতাবগুলো ছাড়া অন্য কিছু হয় যার উদ্ধৃতি উক্ত আলেম সম্পর্কে ইতিপূর্বে প্রদান করা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত ফায়দা লাভ হয়।
৫) ফিকহি উপ-শাখার আলোচনার ক্ষেত্রে যদি ফকিহগণের মতামত জানা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তবে আমি তা স্পষ্ট করেছি এবং ফকিহগণের কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি দিয়েছি; অথবা যদি বিস্তারিত আলোচনা অনেক বেশি হয় তবে কেবল মূল উৎসের উদ্ধৃতি দেওয়ার ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি। আর যদি ফিকহি উপ-শাখাটি কেবল প্রসঙ্গক্রমে এসে থাকে তবে আমি সেটির ক্ষেত্রে এই নিয়ম অনুসরণ করিনি।
এরপর আমি একটি সংক্ষিপ্ত উপসংহার প্রদান করেছি যাতে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার তাওফিক প্রদানের জন্য মহান আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছি এবং গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ উল্লেখ করেছি। অতঃপর আমি গবেষণার সহায়ক গ্রন্থাবলির তালিকা এবং গবেষকদের প্রয়োজন মেটানোর সুবিধার্থে বেশ কিছু সূচিপত্র প্রদানের মাধ্যমে এই অভিসন্দর্ভটি সমাপ্ত করেছি। সূচিপত্রগুলো নিম্নরূপ:
১) সুরা অনুযায়ী বিন্যস্ত কুরআনের আয়াতসমূহের সূচিপত্র
২) বর্ণানুক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত হাদিসসমূহের সূচিপত্র, যেখানে হাদিসের মূল পাঠ অথবা দলিল হিসেবে ব্যবহৃত অংশের প্রথম বর্ণের প্রতি লক্ষ রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ২২)
الوارد في الكتاب إذا لم أورد الحديث كاملا.
3) فهرس الآثار المروية عن الصحابة رضي الله عنهم على نهج فهرس الأحاديث.
4) فهرس الألفاظ المفسرة والمصطلحات سواء كان ذلك من مفردات القاعدة أم غيرها ورتبت تلك الألفاظ والمصطلحات على حروف المعجم مكتفيا في ذلك بالموضع الذي ورد فيه بيان معنى اللفظ، أو تعريف المصطلح.
5) فهرس القواعد والضوابط الواردة في الكتاب مرتبة على حروف المعجم.
6) فهرس المسائل الفقهية مرتبة على أبواب الفقه وحددت مواضع ورود تلك المسائل (برقم القاعدة أو الضابط) ، وعدلت عن الإشارة إلى رقم الصفحة تفاديا للتكرار؛ لأن المسألة الواحدة قد ترلد فب القاعدة الواحدة عدة مرات فترد مجملة، ثم ترد مفصلة وقد تتكرر بذكر قيودها وكل ذلك إيراد لمسألة واحدة.
7) فهرس الأعلام الذين ورد ذكرهم في الكتاب وقد رتبتهم على حسب شهرة كل منهم وأتبعت الشهرة بذكر الاسم، وميزت رقم الصفحة التي ترجم فيها للعلم بجعله بين قوسين، وإذا كان للعلم أكثر من شهرة أوردته في كل شهرة له وأحلت إلى الموضع
কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, যদি আমি হাদিসটি পূর্ণরূপে উল্লেখ না করে থাকি।
৩) সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত আসার (আছার) সমূহের সূচিপত্র, যা হাদিসের সূচিপত্রের পদ্ধতিতে বিন্যস্ত।
৪) ব্যাখ্যায়িত শব্দ ও পরিভাষাসমূহের সূচিপত্র, চাই তা কোনো মূলনীতির শব্দ হোক বা অন্য কিছু। আমি সেই শব্দ ও পরিভাষাসমূহকে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি এবং যে স্থানে শব্দের অর্থ বা পরিভাষার সংজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে কেবল সেই স্থানের উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি।
৫) কিতাবে উল্লেখিত মূলনীতি (কাওয়াইদ) ও নিয়মাবলির (দাওয়াবিত) সূচিপত্র, যা বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত।
৬) ফিকহি মাসআলাসমূহের সূচিপত্র যা ফিকহের অধ্যায়সমূহ অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। আমি এই মাসআলাগুলোর প্রাপ্তিস্থান (মূলনীতি বা নিয়মের নম্বর দ্বারা) নির্দিষ্ট করেছি এবং পুনরাবৃত্তি এড়ানোর জন্য পৃষ্ঠাসংখ্যা উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি; কারণ একটি মাসআলা একটি মূলনীতির অধীনে কয়েকবার আসতে পারে—কখনও সংক্ষেপে, আবার কখনও বিস্তারিতভাবে, এবং কখনও শর্তাবলি উল্লেখের মাধ্যমে এর পুনরাবৃত্তি হতে পারে, অথচ এ সবই একটি মাত্র মাসআলার বর্ণনা।
৭) কিতাবে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গের (আ’লাম) সূচিপত্র। আমি তাদের প্রত্যেকের প্রসিদ্ধি অনুযায়ী ক্রমানুসারে সাজিয়েছি এবং প্রসিদ্ধির সাথে নামও উল্লেখ করেছি। যে পৃষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জীবনী বর্ণিত হয়েছে, সেই পৃষ্ঠাসংখ্যাটিকে আমি বন্ধনীর ভেতরে রাখার মাধ্যমে স্বতন্ত্র করেছি। যদি কোনো ব্যক্তির একাধিক প্রসিদ্ধ নাম থাকে, তবে আমি প্রতিটি প্রসিদ্ধ নামেই তাকে উল্লেখ করেছি এবং মূল স্থানের প্রতি নির্দেশ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
رالأول مع عدم اعتبار ((أل)) التعريف، أو كلمة ((أبو)) ، أو ((أم)) ، أو ((ابن)) ، أو نحوها في الترتيب. وأشير في كل ما تقدم إلى ما يكون من ذلك في الحاشية بحرف (ح) ما عدا الأعلام فإني لا أذكر من ورد منهم في الحاشية؛ لأنه تكرار - غالبا - وإذا تكرر شيء من ذلك في صفحة واحدة أشرت إلى ذلك بحرف (ك) ما عدا المسائل الفقهية على ما تقدم إيضاحه.
8) فهرس الموضوعات.
المطلب الخامس: تقسيم الكتاب، وترتيبه، وعملي فيه:
بعد جمع مادة الموضوع وجدت أن المناسب لتقسيم الكتاب أن يكون في مقدمة، وتمهيد، وقسمين، وخاتمة. إضافة إلى ما يلزم من إعداد قائمة بمراجع البحث، وفهارس.
فأما المقدمة فقد بيان ما تضمنته.
وأما التمهيد: فقد قسمته إلى ثلاث مباحث
المبحث الأول: في تعريف القاعدة الفقهية، والضابط الفقهي والفرق بينهما.
والمبحث الثاني: في عرض موجز لبعض ما كتب في موضوع التيسير، ومقارنة مضمونه بمضمون هذا الكتاب.
প্রথমটির ক্ষেত্রে বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক অব্যয় (আল), অথবা ‘আবু’, ‘উম্মু’, ‘ইবনে’ বা অনুরূপ শব্দগুলোকে গণ্য করা হয়নি। আর পূর্বোক্ত সবকিছুর মধ্যে যা কিছু পাদটীকায় এসেছে, সেগুলোকে ‘হা’ (ح) অক্ষর দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছে; তবে ব্যক্তিনামসমূহের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি, কারণ পাদটীকায় তাদের নাম উল্লেখ করা সাধারণত পুনরাবৃত্তি মাত্র। আর যদি একই পৃষ্ঠায় কোনো বিষয় পুনরাবৃত্ত হয়, তবে তা ‘কাফ’ (ك) অক্ষর দিয়ে নির্দেশ করেছি—ফুকহি মাসআলাসমূহ ব্যতীত, যেগুলোর ব্যাপারে পূর্বে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।
৮) বিষয়সূচি।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: কিতাবটির বিন্যাস, এর ক্রমধারা এবং এতে আমার কর্মপদ্ধতি:
বিষয়ের উপকরণসমূহ সংগ্রহের পর আমি কিতাবটিকে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, দুটি খণ্ড এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করা উপযুক্ত মনে করেছি। এর সাথে প্রয়োজনীয় গবেষণার তথ্যসূত্র ও নির্ঘণ্ট তালিকাও যুক্ত করা হয়েছে।
আর ভূমিকার কথা বললে, তাতে কী কী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তা ইতোমধ্যেই বর্ণনা করা হয়েছে।
আর উপক্রমণিকাটিকে আমি তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফুকহি মূলনীতি (আল-কায়েদাতুল ফিকহিয়্যাহ) ও ফুকহি বিধিনিষেধ (আদ-দাবিতুল ফিকহি)-এর সংজ্ঞা এবং এ দুটির মধ্যকার পার্থক্য প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সহজীকরণ (আত-তায়সির) বিষয়ে রচিত কিছু রচনার সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর সাথে এই কিতাবের বিষয়বস্তুর তুলনামূলক আলোচনা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وأما القسمان الأول والثاني فهما صلب الموضوع.
أفردت الأول منهما لعرض القواعد، وأفردت الثاني لعرض الضوابط على النحو الذي تقدم بيانه. وسلكت في ترتيب تلك القواعد والضوابط الترتيب الهجائي؛ لأنه كان من المعتذر ترتيبها - خاصة القواعد - على حسب الموضوعات الفقهية - مثلا - لدخول القاعدة في أبواب الفقهه1؛ ولأن هذا المنهج قد سبقت إليه2.
المطلب السادس: أبرز الصعوبات التي واجهتني في إعداد هذه الرسالة:
إذا كان من طبيعة كل بحث أو تأليف أن لا يخلو من قدر من الصعوبة وحاجة إلى بذل المجهود، فإن لكل موضوع سماته التي
--------------------------------------------
আর প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ দুটি হলো এ বিষয়ের মূল বিষয়বস্তু।
আমি এ দুটির প্রথমটিকে মূলনীতিসমূহ (কাওয়াইদ) বর্ণনার জন্য এবং দ্বিতীয়টিকে বিধিনিষেধসমূহ (দাওয়াবিত) বর্ণনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি, যে পদ্ধতি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এই মূলনীতি ও বিধিনিষেধগুলো বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে আমি বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি; কেননা এগুলোকে—বিশেষ করে মূলনীতিগুলোকে—উদাহরণস্বরূপ ফিকহি বিষয়বস্তু অনুযায়ী সাজানো কঠিন ছিল, কারণ একটি মূলনীতি ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে১; এবং যেহেতু ইতিপূর্বে অন্যরা এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করেছেন২।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এই গবেষণা গ্রন্থটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমি যে সকল প্রধান সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি:
যেহেতু প্রতিটি গবেষণা বা রচনার প্রকৃতিই হলো তা কোনো না কোনো ধরনের কাঠিন্য এবং প্রচেষ্টা ব্যয় করার প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত নয়, তাই প্রতিটি বিষয়েরই এমন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يتميز بها وعوارصه الخاصة التي يمكن أن تتعرض الباحث فيه.
وأشير هنا إلى أبرز ما واجهني من صعوبات مما يتميز به هذا الموضوع بيانا للواقع، والتماسا للعذر عما عساه أن يقع من نقص، فمن ذلك:
1) تحيح القاعدة التي تعد من قواعد التيسير، وكذلك الضوابط، إذ أن هذا من الأمور التي تختلف فيها وجهات النظر.
2) الوصول إلى حكم عام بكون القاعدة أو الضابط معمولا بهما في هذا المذهب أو ذلاك إذا لم ينص على العمل بتلك القاعدة في مذهب معين؛ لأن استقراء الفروع قد لا يوصل إلى حكم قاطع بذلك، لاختلاف الأحكام فيها باختلاف الملابسات والقرائن ومثال ذلك قاعدة ((المتولد من مأذون فيه لا أثر له)) .
كما أنه قد يروى عن الإمام في مسألة واحدة عدة روايات ومن هنا يصعب الحكم من خلال ذلك بكون تلك القاعدة معمولا بها في هذا المذهب، أو لا. والمقارنة والترجيح بين تلك الروايات
যার দ্বারা এটি বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং এর বিশেষ আপতিত বিষয়সমূহ যা একজন গবেষক এতে সম্মুখীন হতে পারেন।
বাস্তব অবস্থা সুস্পষ্ট করতে এবং সম্ভাব্য কোনো ত্রুটির জন্য মার্জনা কামনায় এই বিষয়ের বৈশিষ্ট্যগত যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো আমি এখানে উল্লেখ করছি। তার মধ্যে রয়েছে:
১) এমন কায়দা (মূলনীতি) যা সহজীকরণের মূলনীতি হিসেবে গণ্য হয়, সেটির সঠিকতা নিরূপণ করা এবং একইভাবে দ্বাবিত (উপ-নীতিসমূহ) নির্ধারণ করা; যেহেতু এটি এমন একটি বিষয় যাতে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা থাকতে পারে।
২) কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবে যদি সেই কায়দা অনুযায়ী আমল করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত না থাকে, তবে কোনো কায়দা বা দ্বাবিত সেই মাযহাবে বা অন্য মাযহাবে অনুসৃত হওয়ার ব্যাপারে একটি সাধারণ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া; কারণ শাখা মাসআলাসমূহের (ফুরু) পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ এ বিষয়ে কোনো অকাট্য সিদ্ধান্তে না-ও পৌঁছাতে পারে, কেননা পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও আলামতের ভিন্নতার কারণে সেগুলোর বিধানে ভিন্নতা দেখা দেয়। উদাহরণস্বরূপ এই কায়দাটি: ((অনুমোদিত বিষয় হতে যা উৎপন্ন হয় তার কোনো প্রভাব নেই))।
তদুপরি কোনো একটি মাসআলায় ইমাম থেকে একাধিক বর্ণনা বর্ণিত হতে পারে এবং এর ফলে উক্ত মাযহাবে সেই কায়দাটি অনুসৃত কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আর সেই সকল বর্ণনার মধ্যে তুলনা করা এবং একটিকে প্রাধান্য দেওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أو الأقوال في المذهب يطيل البحث وينحى به إلى المنحى الفقهي مما قد يخرجه عن المقصود الأصلي له من بيان القواعد والضوابط.
3) تداخل بعض القواعد مع بعضها وتعدد صيغها - مما لا يكاد يسلم منه من كتب في فنّ القواعد - بحيث كان التخلّص من هذا التكرار أشبه ما يكون بالمتعذر؛ فإن بعض العلماء قد أرجع الفقه كلّه إلى خمس قواعد بل منهم من أرجعه إلى قاعدة واحدة هي جلب المصالح ودفع المفاسد1.
4) أن بعض القواعد تشتمل على تفاصيل كثيرة والباحث - هنا - يحتاج إلى أن يكتب خلاصة لهذه التفاصيل بما لا يخرج بالبحث عن مقصوده الأصلي وهو عرض القواعد وذلك يكلف جهدا ذهبيا غير يسير وربمالم يسلم الباحث فيه من التقصير، ومثال ذلك قاعدة: ((الإكراه يسقط أثر التصرف)) 2.
5) إيراد الفقهاء لكثير من القواعد مجردة عن الدليل وذلك
--------------------------------------------
অথবা মাযহাবের মতামতগুলো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করা এবং বিষয়টিকে ফিকহি ধারার দিকে ধাবিত করা, যা একে মূল লক্ষ্য অর্থাৎ মূলনীতি ও নিয়মাবলি বর্ণনা থেকে বিচ্যুত করতে পারে।
৩) কিছু মূলনীতির একে অপরের সাথে সংমিশ্রণ এবং এগুলোর একাধিক রূপ—যা কাওয়াইদ বা মূলনীতি শাস্ত্র নিয়ে লেখকদের ক্ষেত্রে প্রায় অনিবার্য—যার ফলে এই পুনরাবৃত্তি থেকে মুক্ত থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কেননা কোনো কোনো আলেম পুরো ফিকহকে পাঁচটি মূলনীতির দিকে ফিরিয়ে নিয়েছেন, এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে মাত্র একটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আর তা হলো—কল্যাণ অর্জন এবং অকল্যাণ দূর করা ১।
৪) কোনো কোনো মূলনীতি অনেক বিস্তারিত বিবরণ সম্বলিত, যেখানে গবেষককে এই বিস্তারিত আলোচনার এমন একটি সারসংক্ষেপ লিখতে হয় যাতে মূল লক্ষ্য অর্থাৎ মূলনীতি উপস্থাপন ব্যাহত না হয়। এটি অনেক মেধা ও শ্রমের দাবি রাখে এবং এতে গবেষকের পক্ষে ত্রুটিমুক্ত থাকা হয়তো সম্ভব হয় না। এর উদাহরণ হলো এই মূলনীতিটি: ((জবরদস্তি বা বাধ্যবাধকতা কাজের প্রভাবকে বাতিল করে দেয়)) ২।
৫) ফকিহগণ কর্তৃক অনেক মূলনীতিকে দলিল ছাড়া কেবল উপস্থাপন করা, আর তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بسبب الاعتماد في استنباطها على الاستقراء والتتبع للمسائل الفقهية الجزئية1، فكان البحث عن دليل القاعدة أمرا عسيرا وكثيرا ما اعتمدت فيه على الأدلة التفصيلية في القضايا المتشابهة.
ثم إن من الواجب الاعتراف لأهل الفضل بفضلهم فقد كان وراء هذا العمل جهود مشكورة من قبل المشرف على الرسالة صاحب الفضيلة الدكتور: [أحمد بن محمود عبد الوهاب] فجزاه الله عني وعن كل من اكتسب منه علما أو خلقا خير الجزاء، وأسأل الله تعالى لكل من أعانني على إنجاز هذا العمل التوفيق والسداد.
وأسأله سبحانه أن يحسن لنا النية وأن يجعل عملنا في رضاه وأن يجعل ما تعلمناه عونا على طاعته خالصا لوجهه سبحانه إنه على كل شيء قدير.
--------------------------------------------
যেহেতু এটি আহরণের ক্ষেত্রে আংশিক ফিকহী মাসআলাসমূহের আরোহন ও পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করা হয়েছে১, তাই এই মূলনীতির দলিল অনুসন্ধান করা ছিল একটি কঠিন কাজ; এবং এক্ষেত্রে প্রায়শই সদৃশ বিষয়াবলির বিস্তারিত দলিলসমূহের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
অতঃপর, গুণীজনদের গুণের স্বীকৃতি দেওয়া আবশ্যক। এই কাজের পেছনে এই গবেষণাপত্রটির তত্ত্বাবধায়ক, সম্মানিত ডক্টর: [আহমাদ বিন মাহমুদ আব্দুল ওয়াহাব]-এর প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে আমার পক্ষ থেকে এবং যারা তাঁর কাছ থেকে জ্ঞান বা শিষ্টাচার অর্জন করেছেন তাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আর যারা এই কাজ সম্পন্ন করতে আমাকে সাহায্য করেছেন, আমি আল্লাহ তাআলার কাছে তাদের সবার জন্য তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি।
এবং আমি তাঁর পবিত্র সত্তার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের নিয়তকে সুন্দর করেন, আমাদের কাজকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমরা যা শিখেছি তাকে তাঁর আনুগত্যের জন্য সহায়ক এবং একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন। নিশ্চয়ই তিনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ال
تمهيد:لقد دأب غالب المحدثين الذين حققوا كتبا في القواعد الفقهية على أن يقدموا بين يدي تحقيقاتهم دراسات عن تعريف القاعدة الفقهية، وبيان الفرق بينها وبين ما يشترك معها في بعض مدلولها كالضابط الفقهي، والنظرية الفقهية، وعن نشأة هذا العلم وتطوره، والمراحل التي مرّ بها، ومصنفات العلماء في هذا الفن، وأهمية هذه القواعد ونحو ذلك1.
كما قدم بعض المؤلفين المتقدمين لكتبهم بشيء من هذا2، فنتج من ذلك دراسات وافية شاملة لهذا الموضوع.
هذا بالإضافة إلى الدراسة المستفيضة التي قدمها الدكتور علي بن أحمد الندوي3 في هذا الباب بعنوان [القواعد الفقهية.
--------------------------------------------
ভূমিকা:অধিকাংশ আধুনিক গবেষক যারা ফিকহি মূলনীতি (আল-কাওয়ায়িদুল ফিকহিয়্যাহ) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ সম্পাদনা করেছেন, তাঁদের এটি নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, তাঁরা তাঁদের সম্পাদিত কর্মের শুরুতে ফিকহি মূলনীতির সংজ্ঞা, এর এবং এর সমার্থক বিষয়সমূহ যেমন ফিকহি নীতিমালা (আদ-দাবিতুল ফিকহি) ও ফিকহি তত্ত্বের (আন-নাজারিয়্যাতুল ফিকহিয়্যাহ) মধ্যকার পার্থক্য, এই ইলমের উদ্ভব ও বিকাশ, এটি যেসব স্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে, এই শিল্পে আলেমদের রচিত গ্রন্থাবলী এবং এই মূলনীতিসমূহের গুরুত্ব ও এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে গবেষণামূলক আলোচনার অবতারণা করেন১।
তেমনিভাবে পূর্ববর্তী লেখকদের কেউ কেউ তাঁদের কিতাবসমূহের শুরুতে এ জাতীয় কিছু বিষয়ের অবতারণা করেছেন২, যার ফলে এই বিষয়ের ওপর পর্যাপ্ত ও ব্যাপক গবেষণামূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এর পাশাপাশি এই পরিচ্ছেদে ডক্টর আলী বিন আহমদ আন-নাদভী৩ কর্তৃক ‘আল-কাওয়ায়িদুল ফিকহিয়্যাহ’ শিরোনামে উপস্থাপিত বিস্তারিত গবেষণাও রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ৩২)
مفهومها، نشأتها، تطورها، دراسة مؤلفاتها، أدلتها، مهمتها، تطبيقاتها] .
لهذا رأيت أن الكتابة في هذا الموضوع قد تكون من باب التكرار، وتحصيل الحاصل وأني قد كُفيت الكتابة فيه.
إلا أنني رأيت أن لا أخلي هذا الكتاب وعنوانه [القواعد والضوابط الفقهية المتضمنة للتيسير]- عن تعريف القاعدة الفقهية، والضابط الفقهي وبيان لما فرق به العلماء بينهما، وعن بيان للمراد بالتيسير.
كما رأيت أنه من المناسب أن أقدم -بين يدي الموضوع - موجزا لبعض ما كتب في موضوع التيسير لأخلص من ذلك إلى بيان الفرق بين مضمون تلك الكتب، ومضمون هذا الكتاب.
فضمنت هذا التمهيد ثلاث مباحث:
المبحث الأول: في تعريف القاعدة الفقهية، والضابط الفقهي وبيان الفرق بينهما.
এর ধারণা, উদ্ভব, ক্রমবিকাশ, এর রচনারাজি সম্পর্কিত অধ্যয়ন, এর প্রমাণাদি, এর গুরুত্ব এবং এর প্রয়োগসমূহ] ।
এই কারণে আমি মনে করেছি যে, এই বিষয়ে লেখাটি পুনরাবৃত্তি এবং বিদ্যমান বিষয়েরই পুনরুক্তির নামান্তর হতে পারে, এবং এ বিষয়ে লেখার প্রয়োজনীয়তা আমার ক্ষেত্রে ফুরিয়ে গেছে।
তবে আমি মনে করেছি যে, এই কিতাব এবং এর শিরোনাম -[সহজীকরণ সংবলিত ফিকহী কাওয়াইদ ও যাওয়াবিত]- কে ফিকহী কায়েদা ও ফিকহী জাবিত এর সংজ্ঞা, এই দুয়ের মধ্যে আলেমগণ যে পার্থক্য করেছেন তার বর্ণনা এবং সহজীকরণ দ্বারা কী উদ্দেশ্য তার ব্যাখ্যা থেকে খালি রাখা ঠিক হবে না।
তেমনি আমি এটাও সমীচীন মনে করেছি যে, মূল আলোচনার প্রারম্ভে সহজীকরণের বিষয়ে লিখিত কিছু রচনার সংক্ষিপ্ত সার পেশ করি, যাতে করে ঐ সকল কিতাবের বিষয়বস্তু এবং এই কিতাবের বিষয়বস্তুর মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তাই আমি এই ভূমিকায় তিনটি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফিকহী কায়েদা ও ফিকহী জাবিত এর সংজ্ঞা এবং এই দুয়ের মধ্যকার পার্থক্যের বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
والمبحث الثاني: في بيان معنى التيسير والمراد به في الشريعة.
والمبحث الثالث: في عرض موجز لبعض ما كتب في موضوع التيسير ومقارنة مضمونها بمضمون هذا الكتاب.
المبحث الأول: أولا: تعريف القاعدة الفقهية:
القاعدة الفقهية مصطلح مركب - تركيبا وصفيا -- من كلمتين ((القواعد)) ، و ((الفقهية)) ، وتعريف القاعدة الفقهية ينبني على تعريف كل من جزأي المركب على حده.
فالقاعدة لغة: وزن فاعله من قعد، والقعود يضاهي الجلوس وهو نقيض القيام. على أن بعض أهل اللغة يفرقون بين الجلوس، والقعود من حيث أن القعود يكون من القيام، والجلوس من الضجعة، ومن السجود.
وذكر بعض أهل اللغة أن القعود من ألفاظ الأضداد. يقال: قعد
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরীয়াহর পরিভাষায় সহজীকরণ (তাকসীর) এবং এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে তার বর্ণনায়।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সহজীকরণ বিষয়ে রচিত কিছু গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর সাথে এই গ্রন্থের বিষয়বস্তুর তুলনা।
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রথমত: ফিকহী মূলনীতির সংজ্ঞা:
ফিকহী মূলনীতি (আল-কায়েদাহ আল-ফিকহিয়্যাহ) একটি বর্ণনামূলক যৌগিক পরিভাষা যা দুটি শব্দ— 'কাওয়াইদ' ও 'ফিকহিয়্যাহ' এর সমন্বয়ে গঠিত। ফিকহী মূলনীতির সংজ্ঞাটি এই যৌগিক শব্দদ্বয়ের প্রতিটি অংশের পৃথক সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
আভিধানিকভাবে 'কায়েদাহ' শব্দটি 'কাআদা' (বসা) থেকে 'ফায়েলাহ' ওজনে এসেছে। 'কুউদ' (বসা) শব্দটি 'জুলুস' (বসা) এর সমার্থক এবং এটি 'কিয়াম' (দাঁড়ানো) এর বিপরীত শব্দ। তবে কিছু ভাষাবিদ 'জুলুস' ও 'কুউদ' এর মধ্যে এই মর্মে পার্থক্য করেন যে, দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থা থেকে বসাকে 'কুউদ' বলা হয় এবং শুয়ে থাকা বা সিজদা থেকে বসাকে 'জুলুস' বলা হয়।
কিছু ভাষাবিদ উল্লেখ করেছেন যে, 'কুউদ' শব্দটি বিপরীতার্থক (আদদাদ) শব্দগুলোর অন্তর্ভুক্ত। বলা হয়: সে বসেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
إذا قام، ويقال: قعد إذا جلس.
والقاعدة أصل الأسّ، وقواعد البيت أساسه، وتجمع القاعدة على قواعد، وتطلق على القواعد الحسية كما في قوله تعلى: {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ
… } 1، وقوله عز وجل: {فَأَتَى اللَّهُ بُنْيَانَهُمْ مِنَ الْقَوَاعِدِ فَخَرَّ عَلَيْهِمُ السَّقْفُ
… } 2، وتطلق القاعدة - مجازا - على غير الحسية كقولك: قواعد الشرع ونحوه3.
وأما في الاصطلاح فالقاعدة: ((قضية كلية من حيث اشتمالها بالقوة على أحكام جزئيات موضوعها)) . وتسمى جزئياتها فروعا4.
والفقهية: نسبة إلى الفقه. والفقه لغة: فهم الشيء والعلم به5.
--------------------------------------------
যখন কেউ দাঁড়ায় তখন তাকে 'কামা' বলা হয়, আর বলা হয়: 'কাআদা' যখন সে বসে।
'কায়েদাহ' হলো মূল বা ভিত, আর ঘরের 'কাওয়ায়েদ' হলো তার ভিত্তি। 'কায়েদাহ'-এর বহুবচন হলো 'কাওয়ায়েদ'। এটি দৃশ্যমান বা বস্তুগত ভিত্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {স্মরণ করো যখন ইবরাহিম ও ইসমাঈল গৃহের ভিত্তিগুলো উত্তোলন করছিল
… } ১, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর আল্লাহ তাদের দালানকোঠার ভিত্তিগুলোতে আঘাত করলেন, ফলে ছাদ তাদের ওপর উপর থেকে ধসে পড়ল
… } ২। 'কায়েদাহ' শব্দটি রূপকভাবে অবস্তুগত বিষয়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমন তোমার কথা: শরিয়তের মূলনীতিসমূহ এবং অনুরূপ ৩।
আর পারিভাষিক অর্থে 'কায়েদাহ' (মূলনীতি) হলো: ((এমন একটি সামগ্রিক বিষয় যা এর আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত শাখা-প্রশাখাগুলোর বিধানসমূহকে সম্ভাব্যভাবে শামিল করে))। আর এর শাখা-প্রশাখাগুলোকে 'ফুরু' (শাখা) বলা হয় ৪।
'ফিকহিয়্যাহ' শব্দটি 'ফিকহ'-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আর আভিধানিক অর্থে 'ফিকহ' হলো: কোনো কিছু অনুধাবন করা এবং তা জানা ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وفي الاصطلاح هو: "العلم بالأحكام الشرعية العلمية المكتسب من أدلتها التفصيلية"1، وعرّف بتعريفات أخرى2.
أما تعريف القاعدة الفقهية باعتبارها علما على هذا النوع من القواعد فقد اختلفت عبارات العلماء في التعبير عنها، وإن المتأمل لتعريفات الفقهاء ليجد أن الغالب أنهم يعرفون القاعدة من حيث هي قاعدة لا من حيث اختصاصها بهذا الوصف - أعني الفقهية - فقد قال السبكي3: "فالقاعدة: الأمر الكلي4 الذي ينطبق
--------------------------------------------
পরিভাষায় এটি হলো: "বিস্তারিত দলীলসমূহ থেকে অর্জিত ব্যবহারিক শরয়ী বিধানাবলি বিষয়ক জ্ঞান"১, এবং এর আরও অন্যান্য সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে২।
আর ফিকহী মূলনীতি বা 'কায়েদাহ ফিকহিয়্যাহ'র সংজ্ঞা—এই বিশেষ প্রকারের মূলনীতিসমূহের পারিভাষিক নাম হিসেবে—এর অভিব্যক্তির ক্ষেত্রে আলিমগণের বর্ণনায় ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে ফকীহগণের সংজ্ঞাসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁরা 'কায়েদাহ' বা মূলনীতিকে সাধারণভাবে মূলনীতি হিসেবেই সংজ্ঞায়িত করেছেন, এই বিশেষ গুণের (অর্থাৎ ফিকহী হওয়ার) দিক থেকে নয়—যেমন সুবকী৩ বলেছেন: "মূলনীতি হলো: এমন একটি সামগ্রিক বিষয়৪ যা প্রযোজ্য হয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
عليه جزئيات1 كثيرة يفهم أحكامها منها"2
وقال ابن خطيب الدهشة3: "القاعدة حكم كليّ ينطبق على جميع جزيئاته لتعرف أحكامها منه"4.
--------------------------------------------
এর ওপর অনেকগুলো আংশিক বিষয়১ নির্ভরশীল, যেগুলোর বিধান এর থেকেই বোঝা যায়২
এবং ইবনে খতিব আদ-দাহশাহ৩ বলেন: "কায়িদাহ (মূলনীতি) হলো এমন একটি সামগ্রিক বিধান যা এর সকল আংশিক বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয় যাতে সেগুলোর বিধান এর থেকে জানা যায়"৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وقال الخامدي1: "القاعدة في اصطلاح: حكم كلي ينطبق على جميع جزيئاته ليُتَعرَّف به أحكام الجزئيات والتي تندرج تحتها من الحكم الكلي"2.
وقد اعتبر بعض الباحثين هذه التعريفات للقاعدة الفقهية فاعترضوا عليها من جهتين:
الأولى: أن القاعدة الفقهية أغلبية وليست كلية، لأن القاعدة الفقهية كثيرا ما يند عنها بعض فروعها وتستثنى منها.
والثانية: أن هذه التعريفات ليست فيها ما يحدد نوع الجزئيات الداخلة تحتها، فهي تعريفات للقاعدة عموما لا للقاعدة الفقهية خاصة3.
--------------------------------------------
এবং আল-খামিদি১ বলেছেন: "পরিভাষায় কায়েদা (মূলনীতি) হলো: একটি সামগ্রিক বিধান যা তার সকল আংশিক বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়, যাতে এর মাধ্যমে ঐ আংশিক বিষয়গুলোর বিধান জানা যায় যা এই সামগ্রিক বিধানের অন্তর্ভুক্ত।"২।
কিছু গবেষক ফিকহী কায়েদার এই সংজ্ঞাগুলো বিবেচনা করেছেন এবং এর ওপর দুটি দিক থেকে আপত্তি জানিয়েছেন:
প্রথমত: ফিকহী কায়েদা অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (আগলাবিয়্যাহ), সামগ্রিক (কুল্লিয়্যাহ) নয়। কারণ ফিকহী কায়েদা থেকে প্রায়ই এর কিছু শাখা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সেগুলো এর থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হয়।
দ্বিতীয়ত: এই সংজ্ঞাগুলোতে এমন কিছু নেই যা এর অন্তর্ভুক্ত আংশিক বিষয়গুলোর ধরন নির্ধারণ করে। সুতরাং এগুলো সাধারণভাবে কায়েদার সংজ্ঞা, বিশেষভাবে ফিকহী কায়েদার সংজ্ঞা নয়৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
والذي يظهر لي أن من عرَّف القاعدة بما تقدم من تعريفات لم يرد تعريف القاعدة الفقهية خاصة، وإنما أراد تعريف القاعدة بعمومها، ثم يتعين المراد منها بما تضاف إليه أو توصف به.
ويدل على هذا تمثيل الخادمي للقاعدة - بعد ذكره التعريف السابق - بقاعدة ((الأمر للوجوب)) وهي قاعدة أصولية، وقوله - بعد ذلك -:"قيل: هذا غير الفقهاء، وأما عندهم فحكم أكثري ينطبق على أكثر جزئياته. لكن المختار كون القواعد أعم من أن تكون كلية أو أكثرية"1.
وحينئذ فإنه لا اعتراض على تلك التعريفات من جهة عدم انطباقها على القاعدة الفقهية. وإنما يكون الاعتراض من جهة عدم تعريفهم للقاعدة الفقهية.
كما أنه يمكن - من جهة أخرى - أن يقال: إنه لا يمتنع أن يطلق على القاعدة الفقهية وصف الكلية2 وإن كانت في واقعها أغلبية من حيث أنها كلية بالقوة. أي أنها من حيث الصيغة صالحة لشمول
--------------------------------------------
আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, যারা পূর্বোক্ত সংজ্ঞাগুলোর মাধ্যমে মূলনীতিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন, তারা বিশেষভাবে ফিকহি মূলনীতিকে সংজ্ঞায়িত করতে চাননি; বরং তারা সাধারণভাবে মূলনীতিকে সংজ্ঞায়িত করতে চেয়েছেন। এরপর এর সাথে যা যুক্ত করা হয় বা যার মাধ্যমে এটি বিশেষিত হয়, তার মাধ্যমেই এর উদ্দেশ্য নির্ধারিত হয়।
আল-খাদেমী কর্তৃক পূর্বোক্ত সংজ্ঞাটি উল্লেখ করার পর মূলনীতির উদাহরণ হিসেবে "আদেশ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে"—এই মূলনীতিটি পেশ করা এর প্রমাণ বহন করে, অথচ এটি একটি উসূলি বা মৌলিক নীতিগত মূলনীতি। এবং এরপর তার উক্তি: "বলা হয়েছে: এটি ফকীহগণ ব্যতীত অন্যদের অভিমত। আর ফকীহগণের নিকট এটি এমন এক সংখ্যাগুরু বিধান যা তার অধিকাংশ শাখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। তবে পছন্দনীয় মত হলো, মূলনীতিসমূহ সামগ্রিক বা সংখ্যাগুরু হওয়ার চেয়েও ব্যাপকতর" ১।
এমতাবস্থায়, ফিকহি মূলনীতির ওপর প্রয়োগ না হওয়ার দিক থেকে ওই সংজ্ঞাগুলোর বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি থাকে না। বরং আপত্তি হতে পারে এই দিক থেকে যে, তারা ফিকহি মূলনীতির স্বতন্ত্র কোনো সংজ্ঞা প্রদান করেননি।
তেমনিভাবে অন্যদিক থেকে এটিও বলা সম্ভব যে: ফিকহি মূলনীতির ওপর 'সামগ্রিক' বিশেষণটি প্রয়োগ করতে কোনো বাধা নেই, যদিও বাস্তবে এটি অধিকাংশত্বের দিক থেকে এবং সুপ্তভাবে সামগ্রিক হওয়ার বিবেচনায় সংখ্যাগুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ, এটি শব্দগত গঠনের দিক থেকে অন্তর্ভুক্ত করার যোগ্যতা রাখে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
جميع جزئياتها، وإنما يستثنى منها ما دل الدليل على خروجه عن حكمها ليدخل في قاعدة أخرى غالبا1.
وعلى كل فقد عرف بعض المعاصرين القاعدة ببعض التعريفات التي حاولوا بها تفادي تلك الاعتراضات ومن ذلك:
تعريف الدكتور أحمد بن حميد2 لها بأنها: "حكم أغلبي يتعرف منه حكم الجزيئات الفقهية مباشرة"3
وتعريف الدكتور الندوي لها بأنها: "أصل فقهي كلي يتضمن أحكاما تشريعية عامة من أبواب متعددة في القضايا التي تدخل
--------------------------------------------
এর সকল উপ-বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে এর থেকে কেবল সেই বিষয়গুলোই ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে যেগুলোর ক্ষেত্রে দলিল প্রমাণ করে যে তা এই বিধানের বহির্ভূত, যাতে করে তা সাধারণত অন্য কোনো মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।১
যাই হোক, কিছু সমসাময়িক আলেম মূলনীতি বা কায়দাকে এমন কিছু সংজ্ঞার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করেছেন যার মাধ্যমে তারা ওই সকল আপত্তিগুলো এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো:
ডক্টর আহমদ বিন হুমাইদ২ কর্তৃক প্রদত্ত সংজ্ঞা: "এটি এমন এক অধিকাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান, যার মাধ্যমে সরাসরি ফিকহী উপ-বিষয়সমূহের বিধান সম্পর্কে সরাসরি জানা যায়।"৩
এবং ডক্টর নদভী কর্তৃক প্রদত্ত সংজ্ঞা: "এটি একটি সামগ্রিক ফিকহী মূলনীতি যা বিভিন্ন অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহে সাধারণ শরয়ী বিধানসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে যা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু ওয়াদ দাওয়া বিতুল ফিকহিয়্যাতুল মুতাদাম্মিনাতু লিত-তায়সীর
(পৃষ্ঠা: ৪০)
تحت موضوعه"1.
وهذا التعريف الأخير - كماهو ظاهر - لم يتحاش وصف القاعدة الفقهية بالكلية؛ لأنه يرى أن الكلية نسبية لا شمولية2.
ثانيا: تعريف الضابط الفقهي:
الضابط لغة: اسم فاعل من ضَبَطَ، والضبط لزوم الشيء وحسبه، وضَبْطُ الشيء حفظه بالحزم، والرجل ضابط أي حازم3.
وأما في الاصطلاح: فيمكن تعريفه بأنه حكم أغلبي يتعرف منه أحكام الجزئيان الفقهية المتعلقة بباب واحد من أبواب الفقه مباشرة4، فهو يشترك - في معناه الصطلاحي - مع القاعدة الفقهية في أن كلا منهما يجمع جزئيات متعددة يربط بينها رابط فقهي5.
--------------------------------------------
তার প্রসঙ্গের অধীনে "১.
এবং এই সর্বশেষ সংজ্ঞাটি—যেমনটি স্পষ্ট—ফকিহী মূলনীতিকে সামষ্টিক (কুল্লিয়া) হিসেবে বর্ণনা করতে দ্বিধা করেনি; কারণ এটি মনে করে যে সামষ্টিকতা আপেক্ষিক, সার্বজনীন নয়।২.
দ্বিতীয়ত: ফকিহী নিয়ন্ত্রকের (দাবিত ফিকহী) সংজ্ঞা:
আভিধানিক অর্থে ‘দাবিত’: এটি ‘দাবাতা’ থেকে আগত ইসমে ফায়েল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য)। আর ‘দাবাত’ অর্থ কোনো বিষয়কে আঁকড়ে ধরা ও আয়ত্ত করা; কোনো বিষয় ‘দাবাত’ করা মানে হলো দৃঢ়তার সাথে তা সংরক্ষণ করা। আর ‘দাবিত’ ব্যক্তি মানে হলো দৃঢ়সংকল্প ব্যক্তি।৩.
আর পারিভাষিক অর্থে: একে এমন একটি সংখ্যাধিক্যভিত্তিক বিধান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে, যার মাধ্যমে ফিকহের কোনো একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ফকিহী খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর বিধান জানা যায়।৪ সুতরাং এটি—তার পারিভাষিক অর্থে—ফকিহী মূলনীতির সাথে এই বিষয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ যে, তারা উভয়ই একাধিক খুঁটিনাটি বিষয়কে একত্রিত করে যেগুলোর মধ্যে একটি ফকিহী বন্ধন বিদ্যমান থাকে।৫.
--------------------------------------------