(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: -)
إثبات صفة العلو - ابن قدامة القسم: كتب السنة
الكتاب : إثبات صفة العلو
المؤلف : أبو محمد موفق الدين عبد الله بن أحمد بن محمد ، الشهير بابن قدامة المقدسي (المتوفى : 620هـ)
المحقق : أحمد بن عطية بن علي الغامدي
الناشر : مكتبة العلوم والحكم، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة : الأولى، 1409هـ / 1988م
عدد الأجزاء : 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
উচ্চতার গুণাবলি সাব্যস্তকরণ - ইবনে কুদামা বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব : উচ্চতার গুণাবলি সাব্যস্তকরণ
লেখক : আবু মুহাম্মদ মুওয়াফফাকুদ্দীন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ ، যিনি ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু : ৬২০ হিজরী)
সম্পাদক : আহমাদ বিন আতিয়্যাহ বিন আলী আল-গামদি
প্রকাশক : মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম، মদীনা মুনাওয়ারা، সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ : প্রথম، ১৪০৯ হিজরী / ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা : ১
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[إثبات صفة العلو]ـ
المؤلف: عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة
المحقق: أحمد بن عطية بن علي الغامدي
الناشر: مكتبة العلوم والحكم، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1409هـ / 1988م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[উচ্চতার বৈশিষ্ট্য সাব্যস্তকরণ]
লেখক: আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন কুদামাহ
গবেষক: আহমাদ বিন আতিয়্যাহ বিন আলী আল-গামিদী
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৯ হিজরি / ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
المقدمة (رب يسر وأعن بمنك ورحمتك) (1)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي علا في سمائه، وجلا باليقين قلوب أوليائه، وخار لهم في قدره وبارك لهم في قضائه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة مؤمن بلقائه، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله وخاتم أنبيائه. أما بعد:
فإن الله تعالى وصف نفسه بالعلو في السماء، ووصفه بذلك محمد خاتم الأنبياء، وأجمع على ذلك جميع العلماء من الصحابة الأتقياء والأئمة من الفقهاء، وتوارترت الأخبار بذلك على وجه حصل به اليقين، وجمع الله تعالى عليه قلوب المسلمين، وجعله مغروزا في طباع الخلق أجمعين، فتراهم عند نزول الكرب بهم يلحظون السماء بأعينهم، ويرفعون نحوها للدعاء أيديهم (2) ، وينتظرون مجيء الفرج من ربهم، وينطقون بذلك بألسنتهم لا ينكر ذلك إلا مبتدع غال في بدعته، أم مفتون (بتقليده) (3) واتباعه على ضلالته، وأنا ذاكر في الجزء بعض بلغني من الأخبار في ذلك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وصحابته والأئمة (المقتدين) (4) بسنته على وجه يحصل القطع واليقين بصحة ذلك عنهم، ويعلم تواتر الرواية بوجوده منهم، ليزداد من وقف عليه (5) من المؤمنين إيمانا وينتبه من خفي عليه ذلك، حتى يصير كالمشاهد له عيانا، ويصير للمتمسك بالسنة حجة وبرهانا.
واعلم -رحمك الله- أنه ليس من شرط صحة التواتر الذي يحصل به اليقين
--------------------------------------------
ভূমিকা (হে রব, আপনার অনুগ্রহ ও রহমতে সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন) (১)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর আসমানে সমুন্নত এবং যিনি তাঁর ওলীগণের অন্তরসমূহকে দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমে উজ্জ্বল করেছেন; তিনি তাঁর তকদিরে তাদের জন্য কল্যাণ রেখেছেন এবং তাঁর ফয়সালায় তাদের জন্য বরকত দিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এটি তাঁর সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে বিশ্বাসী ব্যক্তির সাক্ষ্য। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল এবং সর্বশেষ নবী। অতঃপর:
নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা নিজেকে আসমানে সমুন্নত হওয়ার গুণে গুণান্বিত করেছেন এবং সর্বশেষ নবী মুহাম্মদও তাঁকে এই গুণে গুণান্বিত করেছেন। আর এ বিষয়ে পরহেজগার সাহাবীগণ ও ফকীহ ইমামগণের মধ্য থেকে সকল আলেম ঐক্যমত পোষণ করেছেন। এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার মাধ্যমে দৃঢ় বিশ্বাস অর্জিত হয়। আল্লাহ তাআলা এই বিষয়ের ওপর সকল মুসলিমের অন্তরকে একত্রিত করেছেন এবং একে সমস্ত সৃষ্টির স্বভাবজাত প্রকৃতিতে গেঁথে দিয়েছেন। ফলে আপনি তাদের দেখবেন যে, যখন তাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হয়, তখন তারা তাদের চোখ দিয়ে আকাশের দিকে তাকায় এবং দোয়ার জন্য সেই দিকেই হাত উত্তোলন করে (২)। তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে বিপদ মুক্তির প্রতীক্ষায় থাকে এবং তাদের জিহ্বা দিয়ে তা উচ্চারণ করে। চরমপন্থী বিদআতী অথবা যে ব্যক্তি অন্ধ অনুসরণ (৩) ও গোমরাহীর পেছনে চলে ফিতনায় পতিত হয়েছে সে ছাড়া আর কেউ তা অস্বীকার করে না। আর আমি এই পুস্তিকায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং তাঁর সুন্নাহর অনুসারী (৪) ইমামগণের কাছ থেকে এ বিষয়ে আমার নিকট পৌঁছানো সংবাদগুলোর কিছু অংশ উল্লেখ করব এমনভাবে, যা তাঁদের থেকে এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে অকাট্য ও দৃঢ় বিশ্বাস তৈরি করবে। এর মাধ্যমে তাঁদের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত বর্ণনার মুতাওয়াতির হওয়া জানা যাবে; যাতে মুমিনদের মধ্যে যারা এটি পড়বে (৫) তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং যার কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল সে যেন সচেতন হয়, এমনকি সে যেন বিষয়টি সরাসরি প্রত্যক্ষকারীর মতো হয়ে যায় এবং সুন্নাহর অনুসারীর জন্য এটি দলিল ও প্রমাণে পরিণত হয়।
জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন—দৃঢ় বিশ্বাস অর্জিত হওয়ার জন্য মুতাওয়াতির বিশুদ্ধ হওয়ার শর্ত এটি নয় যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
أن يوجد عدد التواتر في خبر واحد، بل متى نقلت أخبار كثيرة في معنى واحد من طرق يصدق بعضها بعضا، ولم يأت ما يكذبها ويقدح فيها، حتى استقر ذلك في القلوب (واستيقنته) (1) ، فقد حصل التواتر، وثبت القطع واليقين، (فإننا) (2) نتيقن جود حاتم، وإن كان لم يرد بذلك خبر واحد مرضي الإسناد، لوجود ما ذكرنا، وكذلك عدل عمر، وشجاعة علي وعلمه، وعلم عائشة وأنها زوج رسول الله صلى الله عليه وسلم وابنة أبي بكر، وأشباه هذا، لا يشك في شيء من ذلك، ولا يكاد يوجد تواتر إلا على هذا الوجه، فحصول التواتر واليقين في مسألتنا مع صحة الأسانيد، ونقل العدول المرضيين، وكثرة الأخبار وتخريجها (فيما) (3) لا يحصى عدده، ولا يمكن حصره من دواوين الأئمة والحفاظ، وتلقي الأمة لها بالقبول (وروايتهم لها) (4) من غير معارض يعارضها، ولا منكر (ممن يسمع) (5) منه لشيء منها أولى، سيما وقد جاءت على وفق ما جاء في القرآن العزيز الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، تنزيل من حكيم حميد.
قال الله تعالى: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْش} في مواضع من كتابه (6) ، وقال تعالى: {أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ} في موضعين (7) ، وقال تعالى: {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّب} (8) ، وقال سبحانه: {يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ
--------------------------------------------
একটি মাত্র সংবাদে তাওয়াতুর বা ধারাবাহিক বহুসূত্রতার সংখ্যা বিদ্যমান থাকা আবশ্যক নয়, বরং যখন একই অর্থের অনেকগুলো সংবাদ বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয় যেগুলোর একটি অপরটিকে সত্যায়ন করে এবং এমন কিছু পাওয়া যায় না যা সেগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে বা সেগুলোতে ত্রুটি সৃষ্টি করে, যতক্ষণ না তা অন্তরে গেঁথে যায় (এবং তা নিশ্চিত বিশ্বাসে পরিণত হয়) (১), তখনই তাওয়াতুর সাব্যস্ত হয় এবং তা অকাট্য ও নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। (নিশ্চয়ই আমরা) (২) হাতেমের দানশীলতা সম্পর্কে নিশ্চিত বিশ্বাস রাখি, যদিও সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সনদযুক্ত একটি সংবাদও বর্ণিত হয়নি; কেবল উল্লিখিত বিষয়টির উপস্থিতির কারণে। অনুরূপভাবে উমরের ন্যায়বিচার, আলীর বীরত্ব ও জ্ঞান, এবং আয়েশার জ্ঞান এবং তিনি যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী ও আবু বকরের কন্যা ছিলেন—এসব বিষয়েও কোনো সন্দেহ করা হয় না। এ ধরনের বিষয় ছাড়া প্রায় কোনো তাওয়াতুরই পাওয়া যায় না। সুতরাং আমাদের আলোচ্য বিষয়ে তাওয়াতুর ও নিশ্চিত বিশ্বাস অর্জন হওয়া—সনদসমূহের বিশুদ্ধতা, নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনা, সংবাদের আধিক্য এবং ইমাম ও হাফেজদের অগণিত কিতাবসমূহে (যা) (৩) গণনা করা সম্ভব নয় সেগুলোর সংকলন, এবং উম্মাহর পক্ষ থেকে কোনো বিরোধিতা ছাড়াই তা গ্রহণ (ও বর্ণনা করার) (৪) কারণে এবং কারো পক্ষ থেকে (যাদের কথা শোনা হয়) (৫) কোনো অস্বীকৃতি না থাকার কারণে—অধিক অগ্রগণ্য। বিশেষ করে যখন এটি মহান কুরআনে যা এসেছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠলেন} তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে (৬), এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ তাঁর থেকে যিনি আকাশে আছেন} দুই স্থানে (৭), এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তাঁরই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে} (৮), এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সকল বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর তা আরোহণ করে...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٦٥)
إِلَيْهِ} (1) ، وقال تعالى: {تَعْرُجُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْه} (2) ، وقال لعيسى: {إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَي} (3) ، وقال تعالى: {بَلْ رَفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ} (4) ، وقال تعالى: {وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ} (5) ، وقال سبحانه وتعالى: {يَخَافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ} (6) ، وأخبر عن فرعون أنه قال: {يَا هَامَانُ ابْنِ لِي صَرْحاً لَعَلِّي أَبْلُغُ الْأَسْبَابَ أَسْبَابَ السَّمَاوَاتِ فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِباً} (7) ، يعني أظن موسى كاذبا (في أن الله إلهه في السماء) (8) ، والمخالف في هذه المسألة (قد أنكر هذا) (9) يزعم أن موسى كاذب في هذا بطريق (القطع) (10) واليقين، مع مخالفته لرب العالمين، وتخطئته لنبيه الصادق الأمين، وتركه منهج الصحابة والتابعين، والأئمة السابقين، وسائر الخلق أجمعين (11) . نسأل الله تعالى أن يعصمنا من البدع برحمته، ويوفقنا لاتباع سنته.
--------------------------------------------
তাঁর দিকে} (১), এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {ফেরেশতাগণ এবং রূহ তাঁর দিকে আরোহণ করে} (২), এবং তিনি ঈসাকে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি তোমাকে গ্রহণ করব এবং তোমাকে আমার কাছে তুলে নেব} (৩), এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {বরং আল্লাহ তাকে নিজের দিকে তুলে নিয়েছেন} (৪), এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তিনি তাঁর বান্দাদের উপর প্রবল পরাক্রমশালী} (৫), এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {তারা তাদের রবকে ভয় করে, যিনি তাদের উপরে রয়েছেন} (৬), এবং তিনি ফেরাউন সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে সে বলেছিল: {হে হামান, আমার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো, যাতে আমি অবলম্বনসমূহ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি, আসমানসমূহের অবলম্বনসমূহে, অতঃপর আমি মূসার মাবুদকে দেখতে পারি; তবে আমি তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি} (৭), অর্থাৎ আমি মনে করি মূসা মিথ্যাবাদী (এ বিষয়ে যে, আল্লাহ আসমানে তাঁর মাবুদ) (৮), এবং এই মাসআলায় বিরোধিতাকারী (যে তা অস্বীকার করেছে) (৯) সে দাবি করে যে মূসা এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে (১০) এবং দৃঢ়তার সাথে মিথ্যাবাদী; অথচ এর মাধ্যমে সে রাব্বুল আলামীনের বিরোধিতা করছে, তাঁর সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত নবীকে ভুল সাব্যস্ত করছে এবং সাহাবী, তাবেয়ী, পূর্ববর্তী ইমামগণ এবং সমস্ত সৃষ্টির মানহাজ বর্জন করছে (১১)। আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর রহমতের মাধ্যমে আমাদের বিদআত থেকে রক্ষা করেন এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের তাওফীক দান করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
((ذِكْرُ الأَحَادِيثِ الصَّرِيحَةِ فِي أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى فِي السَّمَاءِ)) (1)
1- أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْمُقَرِّبِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْكَرْخِيُّ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ (يَوْمَئِذٍ) (2) [قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ جَعْفَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ السَّرَّاجُ الْقَارِيُّ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ] (3) ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَافِظُ أَبُو نَصْرٍ (عُبَيْدُ اللَّهِ) (4) بْنُ سَعِيدِ بْنِ حَاتِمٍ السِّجْزِيُّ الْوَايِلِيُّ بِمَكَّةَ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ (بْنِ مُحَمَّدٍ) (5) الْمُهَلَّبِيُّ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ بِلَالٍ الْبَزَّازُ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرِ بْنِ الْحَكَمِ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ (مِنْ سُفْيَانَ) (6) عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ (أَبِي) (7) قَابُوسٍ مَوْلًى
--------------------------------------------
((মহান আল্লাহ তাআলা আসমানে থাকার ব্যাপারে সুস্পষ্ট হাদিসসমূহের বর্ণনা)) (১)
১- শায়খ আবু বকর আহমদ বিন আল-মুকাররিব বিন আল-হুসাইন আল-কারখি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে (সেদিন) শুনেছি (২) [তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ জাফর বিন আহমদ বিন আল-হুসাইন আস-সাররাজ আল-কারি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি] (৩), তিনি বলেন: হাফেজ আবু নাসর (উবাইদুল্লাহ) বিন সাঈদ বিন হাতিম আস-সিজজি আল-ওয়াইলি মক্কায় আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: আবু ইয়ালা হামজা বিন আব্দুল আজিজ (বিন মুহাম্মদ) আল-মুহাল্লাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: আবু হামিদ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন বিলাল আল-বাজজাজ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি, আব্দুর রহমান বিন বিশর বিন আল-হাকাম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি, সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি (সুফিয়ান থেকে) শুনেছি (৬), তিনি আমর বিন দিনার থেকে, তিনি (আবু) কাবুস থেকে, যিনি একজন মুক্তদাস...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٦٧)
لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ، ارْحَمُوا (أَهْلَ الأَرْضِ) (1) يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ (2) .
--------------------------------------------
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যারা দয়া করে, দয়াময় আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তাহলে যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٦٨)
أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ غَيْرَ مُسَلْسَلٍ (1) عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ أَبِي عَمْرٍو الْعَدَنِيِّ
--------------------------------------------
ইমাম তিরমিযী এটি 'মুসালসাল' (পরম্পরাবদ্ধ) পদ্ধতি ব্যতিরেকে (১) মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন আবু আমর আল-আদানি থেকে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٦٩)
عَنْ سُفْيَانَ، وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ) (1) .
2- أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ ثَنَا (حَمَدُ) (2) بْنُ أَحْمَدَ الْحَدَّادُ، أَنْبَأَ أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ أَنْبَأَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ فَارِسٍ، ثَنَا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، ثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، ثَنَا حَرْبُ بْنُ شَدَّادٍ وَأَبَانُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ، قَالَ: كَانَتْ لِي غَنَمٌ بَيْنَ أُحُدٍ وَالْجَوَّانِيَّةِ (3) فِيهَا جَارِيَةٌ لِي، فَأَطْلَعْتُهَا ذَاتَ يَوْمٍ فَإِذَا الذِّئْبُ ذَهَبَ مِنْهَا بَشَاةٍ وَأَنَا مِنْ بَنِي آدَمَ، (آسَفُ كَمَا يَأْسَفُونَ) (4) ، فَرَفَعْتُ يَدِي فَصَكَكْتُهَا صَكَّةً، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ (لَهُ ذَلِكَ) (5) فَعَظُمَ ذَلِكَ عَلَيَّ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَفَلَا أَعْتِقُهَا؟ قَالَ: ادْعُهَا، فَدَعَوْتُهَا. قَالَ: (فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (6) أَيْنَ اللَّهُ، قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ، قَالَ: مَنْ أَنَا، قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: اعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ. (هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ) (7) ، رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ، وَمَالِكٌ فِي مُوَطَّئِهِ، وَغَيْرُهُمَا مِنَ الأَئِمَّةِ رحمهم الله عز وجل (8)
--------------------------------------------
সুফিয়ান থেকে বর্ণিত, এবং তিনি বলেন, হাদিসটি হাসান সহীহ) (১)।
২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী ইবনে আহমদ ইবনে সুলাইমান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (হামাদ) (২) ইবনে আহমদ আল-হাদ্দাদ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আহমদ ইবনে ফারিস, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে হাবিব, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হারব ইবনে শাদ্দাদ ও আবান ইবনে ইয়াজিদ, তারা ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি হিলাল ইবনে আবি মায়মুনা থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে হাকাম আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ওহুদ ও জাওয়ানীয়ার (৩) মধ্যবর্তী স্থানে আমার কিছু বকরি ছিল এবং সেখানে আমার একজন দাসী ছিল। একদিন আমি সেখানে গেলাম এবং দেখলাম যে একটি নেকড়ে সেখান থেকে একটি বকরি নিয়ে গেছে। আমি তো আদম সন্তান, (তারা যেমন ব্যথিত হয় আমিও তেমন ব্যথিত হই) (৪)। তাই আমি হাত তুলে তাকে একটি চড় মারলাম। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে (তাকে বিষয়টি) (৫) জানালাম। তিনি একে আমার জন্য গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি তাকে মুক্ত করে দেব না? তিনি বললেন: তাকে ডাকো। আমি তাকে ডাকলাম। তিনি বলেন: (অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন) (৬) আল্লাহ কোথায়? সে বলল: আকাশে। তিনি বললেন: আমি কে? সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে একজন মুমিন। (এটি একটি সহীহ হাদিস) (৭), মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে, মালিক তার মুওয়াত্তায় এবং ইমামদের মধ্যে আরও অনেকে এটি বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদের প্রতি রহম করুন (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٧٠)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٧١)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٧٢)
3 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ (1) ، أَثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ زَكَرِيَّا
--------------------------------------------
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ (১), আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে যাকারিয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٧٣)
الطُّرَيْثِيثِيُّ) (1) ، أَثَنَا (أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ الطَّبَرِيُّ) (2) أَيِ اللَّالَكَائِيُّ أَنَبَأَ أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ أَنَبَأَ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُبَشِّرٍ أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، ثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ثَنَا الْمَسْعُودِيُّ (3) ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَخِيهِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ (عُتْبَةَ) (4) (عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ) (5) أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِجَارِيَةٍ سَوْدَاءَ أَعْجَمِيَّةٍ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ عَلَيَّ (عِتْقَ) (6) رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ، فَقَالَ لَهَا رَسُولُ
--------------------------------------------
আল-তুরাইথীসি) (১), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে আল-হাসান আল-তাবারী) (২) অর্থাৎ আল-লালাকায়ী, আহমাদ ইবনে উবাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুবাশশির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে সিনান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াসিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মাসউদী (৩) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওন ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর ভাই উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে (উতবাহ) (৪) থেকে, (আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে) (৫) বর্ণিত যে, একজন লোক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট একজন অনারব কৃষ্ণাঙ্গ দাসীকে নিয়ে এলেন। এরপর তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার ওপর একজন মুমিন দাস (মুক্ত করার) (৬) দায়িত্ব রয়েছে। তখন আল্লাহর রাসূল তাকে বললেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٧٤)
اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَيْنَ اللَّهُ؟ فَأَشَارَتْ بِأُصْبُعِهَا السَّبَّابَةِ إِلَى السَّمَاءِ، فَقَالَ لَهَا: مَنْ أَنَا؟ فَأَشَارَتْ بِأُصْبُعِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِلَى السَّمَاءِ، أَيْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ. فَقَالَ: اعْتِقْهَا. أَخْرَجَهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ وَالْقَاضِي الْبَرْقِيُّ فِي مُسْنَدَيْهِمَا (1) .
4- أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُظَفَّرِ أَحْمَدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَمْدِيٍّ (بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ) (2) أَنْبَأَ الْقَاضِي أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ، أَنْبَأَ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبُ، أَنْبَأَ (الْقَاسِمُ بْنُ جَعْفَرٍ) (3) أَنْبَأَ أَبُو عَلِيٍّ اللُّؤْلُؤِيُّ، أَنْبَأَ أَبُو دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيُّ، ثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ الرَّمْلِيُّ، ثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ زِيَادَةَ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ، عَنْ فُضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "مَنِ اشْتَكَى مِنْكُمْ، أَوِ اشْتَكَى أَخٌ لَهُ فَلْيَقُلْ: رَبَّنَا الله الَّذِي فِي السَّمَاءِ، تَقَدَّسَ اسْمُكَ، أَمْرُكَ فِي السَّمَاءِ
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: আল্লাহ কোথায়? তখন তিনি তাঁর তর্জনী আঙুল দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করলেন। তিনি তাঁকে বললেন: আমি কে? তখন তিনি তাঁর আঙুল দিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে এবং আকাশের দিকে ইশারা করলেন, অর্থাৎ: আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: তাকে মুক্ত করে দাও। ইমাম আহমাদ এবং কাজী বারকী তাঁদের মুসনাদদ্বয়ে এটি বর্ণনা করেছেন।
৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মুজাফফর আহমাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হামদি (তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে), তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবুল হুসাইন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খতিব, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (আল-কাসিম বিন জাফর), তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-লুলুয়ি, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন খালিদ আর-রামলি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস বিন সা’দ, জিয়াদাহ বিন মুহাম্মাদ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন কাব আল-কুরাজি থেকে, তিনি ফুদalah বিন উবায়েদ থেকে, তিনি আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অসুস্থ হয়, অথবা তার কোনো ভাই অসুস্থ হয়, তবে সে যেন বলে: আমাদের রব আল্লাহ, যিনি আকাশে আছেন, আপনার নাম পবিত্র হোক, আপনার আদেশ আকাশে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٧٥)
وَالأَرْضِ، كَمَا رَحْمَتُكَ فِي السَّمَاءِ" (1) ، اغْفِرْ لَنَا (حَوْبَنَا) (2) وَخَطَايَانَا، أَنْتَ رَبُّ الطِّيِّبِينَ، أَنْزِلْ (3) رَحْمَةً مِنْ رَحْمَتِكَ، وَشِفَاءً مِنْ شِفَائِكَ عَلَى (4) الْوَجَعِ فَيَبْرَأَ". أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ فِي سُنَنِهِ (5) .
5- أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ (مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ) (6) أَنْبَأَ (أَبُو الْفَضْلِ) (7) أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ خَيْرُونَ، أَنْبَأَ أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ (8) ، أَنْبَأَ أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحْمُدِ زِيَادٍ الْقَطَّانُ (9) أَنْبَأَ أَبُو يَحْيَى عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ الْهَيْثَمِ (بْنِ زِيَادٍ) (10) الديرعاقولي ثَنَا رَجَاءُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَصْرِيُّ، ثَنَا عِمْرَانُ بْنُ خَالِدِ بْنِ طَلِيقٍ (11) حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ:
--------------------------------------------
এবং জমিনে, যেমন আপনার রহমত আকাশে। আমাদের (গুনাহ) ও ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমা করুন। আপনি পবিত্রদের প্রতিপালক। আপনার রহমত থেকে একটি রহমত এবং আপনার শেফা থেকে একটি শেফা এই ব্যথার উপর অবতীর্ণ করুন, যাতে তা নিরাময় হয়।" এটি আবু দাউদ তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন।
৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ (মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি ইবনে আহমাদ ইবনে সুলাইমান), তিনি সংবাদ দিয়েছেন (আবুল ফাদল) আহমাদ ইবনে হাসান ইবনে খাইরুন, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে শাযান, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু সাহল আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ যিয়াদ আল-কাত্তান, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াহইয়া আব্দুল কারিম ইবনে হাইসাম (ইবনে যিয়াদ) আদ-দাইরাকুলি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন রাজা ইবনে মুহাম্মদ আল-বসরি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইমরান ইবনে খালিদ ইবনে তালিদ, আমার নিকট আমার পিতা তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٧٦)
اخْتَلَفَتْ قُرَيْشٌ إِلَى الْحُصَيْنِ أبي عِمْرَانَ، فَقَالُوا: إِنَّ هَذَا الرَّجُلَ يَذْكُرُ آلِهَتَنَا، فَنَحْنُ نُحِبُّ أَنْ تُكَلِّمَهُ وَتَعِظَهُ، فَمَشَوْا مَعَهُ إِلَى قَرِيبٍ مِنْ بَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: فَجَلَسُوا وَدَخَلَ حُصَيْنٌ، فَلَمَّا رَآهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: أَوْسِعُوا لِلشَّيْخِ، فَأَوْسَعُوا لَهُ، وَعِمْرَانُ وَأَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُتَوَافِرُونَ، فَقَالَ حُصَيْنٌ: مَا هَذَا الَّذِي يَبْلُغُنَا عَنْكَ أَنَّكَ تَشْتِمُ آلِهَتَنَا وَتَذْكُرُهُمْ، وَقَدْ كَانَ أَبُوكَ جَفْنَةً وَخُبْزًا (1) . فَقَالَ: (إِنَّ أَبِي وَأَبَاكَ فِي النَّارِ) (2) ، يَا حُصَيْنُ كَمْ إِلَهًا تَعْبُدُ الْيَوْمَ؟ قَالَ: سَبْعَةً فِي الأَرْضِ وَإِلَهًا فِي السَّمَاءِ. قَالَ: فَإِذَا أَصَابَكَ الضِّيقُ فَمَنْ تَدْعُو؟ قَالَ: الَّذِي فِي السَّمَاءِ، قَالَ: فَإِذَا هَلَكَ الْمَالُ فَمَنْ تَدْعُو؟ قَالَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ. قَالَ: فَيَسْتَجِيبُ لَكَ وَحْدَهُ وَتُشْرِكُهُمْ مَعَهُ؟! قَالَ: أَمَا (رَضِيتَهُ) (3) أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا، أَوَ تَخَافُ أَنْ يُغْلَبَ عَلَيْكَ؟ قَالَ: لَا وَاحِدَةً مِنْ هَاتَيْنِ، وَعَرَفْتُ أَنِّي لَمْ أُكَلِّمْ مِثْلَهُ. فَقَالَ: يَا حُصَيْنُ، أَسْلِمْ تَسْلَمْ، قَالَ: إِنَّ لِي قَوْمًا (وَعَشِيرَةً) (4) فَمَاذَا أَقُولُ لَهُمْ؟ قَالَ: قُلِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَهْدِيكَ لأَرْشَدِ أَمْرِي، وَأَسْتَجِيرُكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، عَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي، وَانْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي، وَزِدْنِي عِلْمًا يَنْفَعُنِي، فَقَالَهَا، فَلَمْ يَقُمْ حَتَّى أَسْلَمَ، فَوَثَبَ عِمْرَانُ فَقَبَّلَ رَأْسَهُ وَيَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ، فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَكَى، فَقِيلَ لَهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ: مِمَّا صَنَعَ عِمْرَانُ، دَخَلَ حُصَيْنٌ وَهُوَ مُشْرِكٌ فَلَمْ يَقُمْ إِلَيْهِ وَلَمْ يَلْتَفِتْ إِلَى نَاحِيَتِهِ، فَلَمَّا أَسْلَمَ قَضَى حَقَّهُ، فَدَخَلَنِي مِنْ ذَلِكَ رِقَّةٌ، فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَنْصَرِفَ حُصَيْنٌ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: قُومُوا فَشَيِّعُوهُ إِلَى مَنْزِلِهِ، فَلَمَّا خَرَجَ مِنْ سُدَّةِ الْبَابِ (5)
--------------------------------------------
কুরাইশরা আবু ইমরান হুসাইনের নিকট যাতায়াত করতে লাগল এবং বলল: "নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি আমাদের উপাস্যদের সম্পর্কে সমালোচনা করেন, তাই আমরা চাই আপনি তাঁর সাথে কথা বলুন এবং তাঁকে উপদেশ দিন।" অতঃপর তারা তাঁর সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরজার নিকট পর্যন্ত হেঁটে গেল। তারা সেখানে বসে পড়ল এবং হুসাইন ভেতরে প্রবেশ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে দেখলেন তখন বললেন: "শায়খের জন্য জায়গা প্রশস্ত করে দাও।" তারা তাঁর জন্য জায়গা করে দিল। তখন ইমরান এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন। হুসাইন বললেন: "আপনার ব্যাপারে আমাদের নিকট কী সব সংবাদ পৌঁছাচ্ছে যে, আপনি আমাদের উপাস্যদের গালি দেন এবং তাদের সমালোচনা করেন? অথচ আপনার পিতা ছিলেন অত্যন্ত দানশীল এবং অন্নদানকারী ব্যক্তি (১)।" তিনি বললেন: "(নিশ্চয়ই আমার পিতা এবং আপনার পিতা জাহান্নামে) (২)। হে হুসাইন! আজ আপনি কতজন উপাস্যের ইবাদত করেন?" তিনি বললেন: "সাতজন জমিনে এবং একজন আসমানে।" তিনি বললেন: "তবে যখন আপনি বিপদে পড়েন তখন কাকে ডাকেন?" তিনি বললেন: "যিনি আসমানে আছেন তাঁকে।" তিনি বললেন: "যখন ধন-সম্পদ বিনষ্ট হয় তখন কাকে ডাকেন?" তিনি বললেন: "যিনি আসমানে আছেন তাঁকে।" তিনি বললেন: "তবে কি কেবল তিনিই আপনার ডাকে সাড়া দেন, আর আপনি অন্যদের তাঁর সাথে অংশীদার করেন?! আপনি কি তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন (৩) নাকি আপনার আশঙ্কা হয় যে তিনি আপনার ওপর বিজয়ী হবেন?" তিনি বললেন: "এর কোনটিই নয়। আমি বুঝতে পেরেছি যে, আমি ইতিপূর্বে তাঁর ন্যায় কারো সাথে কথা বলিনি।" তিনি বললেন: "হে হুসাইন! ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন।" তিনি বললেন: "আমার একদল লোক এবং আত্মীয়-স্বজন রয়েছে (৪), আমি তাদের গিয়ে কী বলব?" তিনি বললেন: "বলুন: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আমার সঠিক পথের দিশা চাচ্ছি, এবং আমার নফসের অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমাকে এমন জ্ঞান শিক্ষা দিন যা আমার উপকারে আসবে এবং আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা দ্বারা আমাকে উপকৃত করুন এবং আমার উপকারী জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।" অতঃপর তিনি তা পাঠ করলেন এবং ইসলাম গ্রহণ না করা পর্যন্ত উঠলেন না। তখন ইমরান লাফিয়ে উঠে তাঁর মাথা, হাত ও পা চুম্বন করলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি দেখলেন তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। তাঁকে বলা হলো: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন কাঁদছেন?" তিনি বললেন: "ইমরান যা করল তার কারণে। হুসাইন যখন মুশরিক অবস্থায় প্রবেশ করেছিলেন তখন সে তাঁর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেনি এবং তাঁর দিকে ফিরেও তাকায়নি। কিন্তু যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন তখন সে তাঁর হক আদায় করল; এই বিষয়টি আমার মনে কোমলতা সৃষ্টি করেছে।" হুসাইন যখন ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা উঠে দাঁড়াও এবং তাঁকে তাঁর বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসো।" যখন তিনি দরজার আঙিনা থেকে বের হলেন (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٧٧)
نَظَرَتْ إِلَيْهِ قُرَيْشٌ فَقَالَتْ: صَبَأَ وَتَفَرَّقُوا عَنْهُ (1) .
6- أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَنْصُورِ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ الْمَوْصِلِيِّ أَنْبَأَ أَبُو الْحُسَيْنِ الْمُبَارَكِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصَّيْرَفِيُّ، أَنْبَأَ أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ جَعْفَرٍ، أَنْبَأَ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ (إِبْرَاهِيمَ) (2) بْنِ الْحَسَنِ بْنِ شَاذَانَ، أَنْبَأَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغَلِّسِ أَنْبَأَ أَبُو عُثْمَانَ سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأُمَوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي (قَالَ: قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ) (3) خَرَجَ عَبْدٌ أَسْوَدُ لِبَعْضِ أَهْلِ خَيْبَرَ فِي غَنَمٍ لَهُ حَتَّى جَاءَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِبَعْضِ أَصْحَابِهِ: مَنْ هَذَا الرَّجُلُ؟ قَالُوا: (رَسُولُ اللَّهِ الَّذِي مِنْ عِنْدِ اللَّهِ، قَالَ: الَّذِي فِي السَّمَاءِ؟ قَالُوا: نَعَمْ. قَالَ: أَدْنُونِي مِنْهُ، قَالَ: فَذَهَبُوا بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: الَّذِي فِي السَّمَاءِ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالشَّهَادَةِ فَتَشَهَّدَ، ثُمَّ اسْتَقْبَلَ غَنَمَهُ فَرَمَى فِي وُجُوهِهَا بِالْبَطْحَاءِ، ثُمَّ قَالَ: اذْهَبِي
--------------------------------------------
কুরাইশরা তার দিকে তাকাল এবং বলল: সে ধর্মত্যাগী হয়েছে। এরপর তারা তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল (১)।
৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন মানসুর ইবন হিবাতুল্লাহ ইবন আল-মাওসিলি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আল-মুবারক ইবন আব্দুল জাব্বার আস-সাইরাফি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন জাফর, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ ইবন (ইব্রাহিম) (২) ইবন আল-হাসান ইবন শাজান, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আল-মুগাল্লিস, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উসমান সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-উমায়উয়ি, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (তিনি বলেন: ইবন ইসহাক বলেছেন) (৩): খায়বারবাসীদের একজনের এক কালো গোলাম তার কিছু ছাগল নিয়ে বের হল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলো। সে তাঁর এক সাহাবীকে জিজ্ঞাসা করল: এই লোকটি কে? তারা বললেন: (তিনি আল্লাহর রাসূল যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছেন। সে বলল: যিনি আসমানে আছেন? তারা বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে যাও। বর্ণনাকারী বলেন: তারা তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে গেলেন। সে জিজ্ঞাসা করল: আপনি কি আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে জিজ্ঞাসা করল: যিনি আসমানে আছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শাহাদাত পাঠ করার নির্দেশ দিলেন এবং সে শাহাদাত পাঠ করল। অতঃপর সে তার ছাগলগুলোর দিকে ফিরে গিয়ে সেগুলোর মুখের ওপর কঙ্কর নিক্ষেপ করল এবং বলল: যাও
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٧٨)
فَوَاللَّهِ لَا أَتَّبِعُكِ أَبَدًا، فَوَلَّتْ، فَكَانَ ذَلِكَ آخِرَ الْعَهْدِ بِهَا، قَالَ: فَقَاتَلَ الْعَبْدُ حَتَّى اسْتُشْهِدَ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّي سَجْدَةً وَاحِدَةً، فَأُتِيَ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأُلْقِيَ خَلْفَهُ (فَالْتَفَتَ) (1) إِلَيْهِ ثُمَّ أَعْرَضَ عَنْهُ، فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، الْتَفَتَّ إِلَيْهِ، ثُمَّ أَعْرَضْتَ عَنْهُ، فَقَالَ: إِنَّ مَعَهُ الآنَ لَزَوْجَتَهُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ، قَالَ: (وَاسْمُ الْعَبْدِ أَسْلَمُ) (2) . (أَخْرَجَهُ الأُمَوِيُّ فِي الْمَغَازِي) (3) .
7- أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَنْصُورٍ الْمَوْصِلِيُّ، أَنْبَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ الطُّيُورِ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ جَعْفَرٍ، أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ، أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغَلِّسِ، ثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى الأُمَوِيُّ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زِيَادٍ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الأجيرد الْكِنْدِيِّ، عَنِ الْعُرْسِ بْنِ قَيْسٍ الْكِنْدِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ عُمَيْرَةَ بْنِ فَرْوَةَ الْعَبْدِيِّ، قَالَ: كَانَ بِأَرْضِنَا حَبْرٌ مِنَ الْيَهُودِ يُقَالُ لَهُ ابْنُ شَهْلَا، فَالْتَقَيْتُ أَنَا وَهُوَ يَوْمًا فَقَالَ: يَا عَدِيُّ بْنَ عُمَيْرَةَ، فَقُلْتُ: مَا شَأْنُكَ يَا ابْنَ شَهْلَا، فَقَالَ:
--------------------------------------------
আল্লাহর শপথ, আমি কখনোই তোমার অনুসরণ করব না। অতঃপর সে চলে গেল এবং এটিই ছিল তার সাথে শেষ দেখা। তিনি বলেন: অতঃপর সেই দাসটি যুদ্ধ করলেন এমনকি তিনি একটি সিজদাহ করার পূর্বেই শহীদ হয়ে গেলেন। অতঃপর তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আনা হলো এবং তাঁর পিছনে রাখা হলো। তিনি (রাসূলুল্লাহ) তার দিকে ফিরে তাকালেন, অতঃপর তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তার দিকে তাকালেন, তারপর আবার মুখ ফিরিয়ে নিলেন? তিনি বললেন: এখন তার সাথে হুর আল-ঈন থেকে তার স্ত্রীরা রয়েছে। তিনি বলেন: (সেই দাসের নাম আসলাম)। (উমাবী এটি আল-মাগাযীতে বর্ণনা করেছেন)।
৭- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মানসুর আল-মাওসিলি, তিনি আবুল হুসাইন ইবনুত তুয়ূর থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন জাফর থেকে, তিনি আহমদ ইবন ইবরাহিম ইবন শাযান থেকে, তিনি আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবনুল মুগাল্লিস থেকে, তিনি সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া আল-উমাবী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন যিয়াদ থেকে, তিনি ইবন ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবন সিনান, তিনি সাঈদ ইবনুল আজইরাদ আল-কিন্দী থেকে, তিনি আল-উরাস ইবন কায়েস আল-কিন্দী থেকে, তিনি আদী ইবন উমাইরা ইবন ফারওয়া আল-আবদী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের এলাকায় ইহুদিদের একজন পণ্ডিত ছিল যাকে ইবন শাহলা বলা হতো। একদিন আমার সাথে তার দেখা হলে সে বলল: হে আদী ইবন উমাইরা! আমি বললাম: তোমার ব্যাপার কী হে ইবন শাহলা? সে বলল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٧٩)
إِنِّي أَجِدُ فِي كِتَابِ اللَّهِ الْمُنَزَّلِ أَنَّ أَصْحَابَ الْفِرْدَوْسِ قَوْمٌ يَعْبُدُونَ رَبَّهُمْ عَلَى وُجُوهِهِمْ، لَا وَاللَّهِ مَا أَعْلَمُ هَذِهِ الصِّفَةَ إِلَّا فِينَا مَعْشَرَ يَهُودَ، وَأَجِدُ نَبِيَّهَا يَخْرُجُ مِنَ الْيَمَنِ، فَمَنْ تَبِعَهُ كَانَ عَلَى هُدًى، لا نَرَاهُ يَخْرُجُ إِلا مِنَّا مَعْشَرَ يَهُودَ. وَأَجِدُ وَقْعَتَيْنِ تَكُونَانِ، إِحْدَاهُمَا بِمِصْرِينَ، وَالأُخْرَى (بِصِفِّينَ) (1) ، فَأَمَّا مِصْرِينُ قَدْ سَمِعْنَا بِهَا مِنْ أَرْضِ الْفَرَاعِنَةِ، وأما صِفِّينُ فَوَاللَّهِ مَا أَدْرِي أَيْنَ هِيَ. قَالَ عَدِيٌّ: فَوَاللَّهِ مَا مَكَثْنَا إِلا يَسِيرًا حَتَّى بَلَغَنَا أَنَّ رَجُلًا مِنْ بَنِي هَاشِمٍ قَدْ تَنَبَّأَ، وَسَجَدَ عَلَى وَجْهِهِ، فَذَكَرْتُ حَدِيثَ ابْنِ شَهْلَا، فَخَرَجْتُ مُهَاجِرًا إلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَإِذَا هُوَ وَمَنْ مَعَهُ يَسْجُدُونَ عَلَى وُجُوهِهِمْ وَيَزْعُمُونَ أَنَّ إِلَهَهُمْ فِي السَّمَاءِ، فَأَسْلَمْتُ وَاتَّبَعْتُهُ (2) .
8- قُرِئ عَلَى (الشَّيْخِ) (3) مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْبَاقِي وَأَنَا أَسْمَعُ أَخْبَرَكُمْ (أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ) (4) ، قَالَ: أَنْبَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ (الْحَسَنِ) (5) أَنْبَأَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ (مُحَمَّدِ) (6) بْنِ زِيَادٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ
--------------------------------------------
আমি আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবে দেখতে পাই যে, জান্নাতুল ফিরদাউসবাসী হলো এমন এক কওম যারা তাদের রবের ইবাদত করে তাদের চেহারার ওপর (সিজদাহ করে)। আল্লাহর কসম, আমি এই গুণ আমাদের ইয়াহূদী জাতি ছাড়া অন্য কারো মাঝে জানি না। আর আমি পাই যে তাদের নবী ইয়ামেন থেকে বের হবেন, সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর অনুসরণ করবে সে হিদায়াতের ওপর থাকবে; আমরা মনে করতাম তিনি আমাদের ইয়াহূদী সম্প্রদায়ের মধ্য থেকেই বের হবেন। আর আমি দুটি যুদ্ধের কথা পাই, যার একটি হবে মিসরাইনে এবং অন্যটি (সিফফিনে) (১)। মিসরাইনের কথা তো আমরা ফেরাউনদের ভূমি হিসেবে শুনেছি, কিন্তু সিফফিন সম্পর্কে আল্লাহর কসম আমি জানি না তা কোথায়। আদি বলেন: আল্লাহর কসম, আমরা অল্পকালই অবস্থান করেছি, অতঃপর আমাদের কাছে খবর পৌঁছাল যে বনী হাশিমের এক ব্যক্তি নবুওয়াতের দাবি করেছেন এবং তিনি তাঁর চেহারার ওপর সিজদাহ করেন। তখন আমার ইবনে শাহলার সেই কথা মনে পড়ে গেল। ফলে আমি হিজরত করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলাম। গিয়ে দেখলাম তিনি এবং তাঁর সাথে যারা আছেন তারা তাদের চেহারার ওপর সিজদাহ করছেন এবং তারা বিশ্বাস করেন যে তাদের ইলাহ আসমানে আছেন। ফলে আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং তাঁর অনুসরণ করলাম (২)।
৮- (শাইখ) (৩) মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকীর সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম, তিনি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন (আহমাদ বিন আলী বিন হুসাইন) (৪), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ বিন (হাসান) (৫), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবায়দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আলী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন (মুহাম্মদ) (৬) বিন যিয়াদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন গালিব
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٨٠)
الأَنْطَاكِيُّ، ثَنَا يَحْيَى بْنُ السَّكَنِ عَنْ شُعْبَةَ وَقَيْسٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ (1) عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ارْحَمْ مَنْ فِي الأَرْضِ، يَرْحَمْكَ مَنْ فِي السَّمَاءِ (2) .
9- أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الصَّالِحُ (3) أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ النَّقُورِ (الْبَزَّازِ) (4) أَنْبَأَ الأَمِينُ (أَبُو طَالِبٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْيُوسُفِيُّ) (5) أَنْبَأَ أَبُو عَلِيِّ بْنُ الْمُذْهِبِ، أَنْبَأَ أَبُو بَكْرٍ الْقَطِيعِيُّ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ (ثَنَا أَبِي) (6) ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، ثَنَا عُمَارَةُ بْنُ الْقَعْقَاعِ عَنِ ابْنِ أَبِي نُعَيْمٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: بَعَثَ عَلِيٌّ مِنَ الْيَمَنِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِذَهَبَةٍ فِي أَدِيمٍ مَقْرُوضٍ لَمْ تُحَصِّلْ مِنْ تُرَابِهَا، فَقَسَمَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَرْبَعَةٍ، بَيْنَ زَيْدٍ الْخَيِّرِ، وَالأَقْرَعِ بْنِ حَابِسٍ، وَعُيَيْنَةَ بْنِ حصن، وَعَلْقَمَةَ بْنِ عُلَاثَةَ، أَوْ عَامِرِ بْنِ الطُّفَيْلِ، شَكَّ
--------------------------------------------
আনতাকি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনুস সাকান, তিনি শু'বাহ ও কাইস থেকে, তাঁরা আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ (১) থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তাহলে আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।" (২)
৯- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নেককার শায়খ (৩) আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনুন নাক্কুর (আল-বাযযায) (৪), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আমিন (আবু তালিব আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ আল-ইউসুফি) (৫), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইবনুল মুযহিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-কাতী'ঈ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ (আমার পিতা বর্ণনা করেছেন) (৬), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ফুযাইল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমারাহ ইবনুল কা'কা, তিনি ইবনে আবু নু'আইম থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইয়ামান থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট চামড়ার থলিতে করে কিছু স্বর্ণ পাঠালেন যা মাটি থেকে তখনও পুরোপুরি পৃথক করা হয়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা চারজনের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন: যাইদ আল-খাইল, আকরা' ইবনে হাবিস, উয়াইনা ইবনে হিসন এবং আলকামা ইবনে উলাসা অথবা আমির ইবনে তুফাইল (বর্ণনাকারীর সন্দেহ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٨١)
عُمَارَةُ، فَوَجَدَ مِنْ ذَلِكَ بَعْضُ أَصْحَابِهِ وَالأَنْصَارُ وَغَيْرُهُمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَلَا تَأْمَنُونِي وَأَنَا أَمِينُ مَنْ فِي السَّمَاءِ يَأْتِينِي خَبَرُ مَنْ فِي السَّمَاءِ (صَبَاحَ مَسَاءَ) (1) ، ثُمَّ أَتَاهُ رَجُلٌ غَائِرُ الْعَيْنَيْنِ (2) مُشْرِفُ الْوَجْنَتَيْنِ (3) ، نَاشِزُ الْجَبْهَةِ (4) ، فَقَالَ: اتَّقِ اللَّهَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، (قَالَ) (5) : فَرَفَعَ رَأْسَهُ إِلَيْهِ وَقَالَ: وَيْحَكَ، أَلَيْسَ أَحَقَّ أَهْلِ الأَرْضِ أَنْ يَتَّقِ اللَّهَ أَنَا، ثُمَّ أَدْبَرَ، فَقَالَ خَالِدٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَلَا أَضْرِبُ عُنَقَهُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: فَلَعَلَّهُ (يَكُونُ) (6) يُصَلِّي، فَقَالَ: إِنَّهُ (رُبَّ مُصَلٍّ) (7) ، يَقُولُ بِلِسَانِهِ مَا لَيْسَ فِي قَلْبِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنِّي لَمْ أُوْمَرْ أَنْ أُنَقِّبَ عَنْ قُلُوبِ النَّاسِ، وَلَا أَشُقَّ بُطُونَهُمْ، ثُمَّ نَظَرَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُقَفٍّ، فَقَالَ: هَاهْ، إِنَّهُ سَيَخْرُجُ مِنْ ضِئْضِِئ هَذَا قَوْمٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ (8) . أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ، وَمُسْلِمٌ فِي صَحِيحَيْهِمَا، (مِنْ طُرُقٍ مِنْهَا: الْبُخَارِيُّ عَنْ قُتَيْبَةَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ. وَمُسْلِمٌ عَنِ ابْنِ نُمَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ
--------------------------------------------
উমারা হতে বর্ণিত; এতে তাঁর কিছু সাথী, আনসার ও অন্যান্যরা মনে কিছুটা ক্ষোভ অনুভব করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তোমরা কি আমাকে বিশ্বস্ত মনে করো না, অথচ আমি তাঁর নিকট বিশ্বস্ত যিনি আসমানে আছেন? আমার কাছে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর সংবাদ আসে যিনি আসমানে আছেন (১)। এরপর জনৈক ব্যক্তি তাঁর নিকট আসলেন যার চোখ দুটি কোটরাগত (২), গণ্ডদ্বয় ফোলা বা উঁচু (৩), ললাট বা কপাল উঁচু (৪)। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহকে ভয় করুন। বর্ণনাকারী বলেন (৫): তখন তিনি তার দিকে মাথা তুললেন এবং বললেন: তোমার পরিতাপ হোক! আমি কি যমীনবাসীদের মধ্যে আল্লাহকে ভয় করার সর্বাধিক হকদার ব্যক্তি নই? এরপর লোকটি চলে গেল। তখন খালিদ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি তার গর্দান উড়িয়ে দেব না? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: সম্ভবত সে সালাত আদায় করে (৬)। তিনি বললেন: এমন অনেক সালাত আদায়কারীই (৭) মুখে এমন কথা বলে যা তার অন্তরে নেই। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আমাকে মানুষের অন্তর খুঁড়ে দেখার কিংবা তাদের পেট চিরে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকটির দিকে তাকালেন যখন সে পিঠ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছিল, তখন তিনি বললেন: সাবধান! এই ব্যক্তির বংশমূল থেকে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনটি তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায় (৮)। ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থে এটি সংকলন করেছেন (বিভিন্ন সূত্রে, যার মধ্যে রয়েছে: কুতাইবা ইবনে সাঈদ হতে বুখারী, তিনি আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদ হতে, তিনি উমারা ইবনুল কাকা হতে। এবং ইবনে নুমাইর হতে মুসলিম, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ফুদাইল হতে, তিনি উমারা হতে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٨٢)
عَنِ ابْنِ أَبِي نعم، وَاسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ) (1) .
10- أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنْبَأَ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنْبَأَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ
--------------------------------------------
ইবনে আবি নুয়াম থেকে বর্ণিত, তার নাম আব্দুর রহমান) (১)।
১০- আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ আমাদের জানিয়েছেন, হাসান ইবনে আলী আমাদের জানিয়েছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٨٣)
أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ (ثَنَا) (1) عَبْدُ اللَّهِ (ثَنَا) (2) أَبِي ثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثَنَا ابن أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: إِنَّ الْمَيِّتَ تَحْضُرُهُ الْمَلَائِكَةُ، فَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ الصَّالِحُ، قَالُوا: اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الطَّيِّبَةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ. اخْرُجِي حَمِيدَةً وَأَبْشِرِي بِرَوْحٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ، فَلَا يَزَالُ يُقَالُ (لَهَا) (3) ذَلِكَ حَتَّى تَخْرُجَ، ثُمَّ يُعْرَجُ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ، فَيُسْتَفْتَحُ لَهَا، فَيُقَالُ: مَنْ هَذَا؟ فَيُقَالُ: فُلَانٌ، فَيَقُولُونَ: مَرْحَبًا بِالنَّفْسِ الطَّيِّبَةِ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ، ادْخُلِي حَمِيدَةً، وَأَبْشِرِي بَرَوْحٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ، فَلَا يَزَالُ يُقَالُ (لَهَا) (4) ذَلِكَ حَتَّى يُنْتَهَى بِهَا إِلَى السَّمَاءِ الَّتِي فِيهَا اللَّهُ عز وجل، وَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ السُّوءُ قَالُوا: اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيثَةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الْخَبِيثِ، اخْرُجِي ذَمِيمَةً، وَأَبْشِرِي بِحَمِيمٍ وَغَسَّاقٍ وَآخَرُ مِنْ شَكْلِهِ أَزْوَاجٌ، فَلَا يَزَالُ (يُقَالُ لَهَا ذَلِكَ) (5) حَتَّى تَخْرُجَ، ثُمَّ يُعْرَجُ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ، فَيُسْتَفْتَحُ لَهَا، فَيُقَالُ: مَنْ هَذَا؟ فَيُقَالُ: فُلَانٌ، فَيُقَالُ: لَا مَرْحَبًا بِالنَّفْسِ الْخَبِيثَةِ كَانَتْ فِي
--------------------------------------------
আহমাদ ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (১) (তিনি বলেছেন, আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন) আব্দুল্লাহ (২) (তিনি বলেছেন, আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন) আমার পিতা, তিনি বলেছেন আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ, তিনি বলেছেন আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি যিব, মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আতা থেকে বর্ণিত, তিনি সাঈদ ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তির কাছে ফেরেশতারা উপস্থিত হন। যদি সে নেককার ব্যক্তি হয়, তবে তারা বলেন: হে পবিত্র আত্মা! বের হয়ে এসো, যা একটি পবিত্র দেহে ছিলে। প্রশংসিত অবস্থায় বের হয়ে এসো এবং প্রশান্তি ও সুগন্ধি এবং এমন এক রবের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যিনি রাগান্বিত নন। তাকে (৩) এই কথা বলা হতে থাকে যতক্ষণ না সে বের হয়ে আসে। অতঃপর তাকে নিয়ে আসমানের দিকে আরোহণ করা হয় এবং তার জন্য দরজা খুলতে বলা হয়। তখন জিজ্ঞেস করা হয়: ইনি কে? বলা হয়: অমুক। তখন তারা বলেন: পবিত্র আত্মাকে স্বাগতম, যা একটি পবিত্র দেহে ছিল। প্রশংসিত অবস্থায় প্রবেশ করো এবং প্রশান্তি ও সুগন্ধি এবং এমন এক রবের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যিনি রাগান্বিত নন। তাকে (৪) এই কথা বলা হতে থাকে যতক্ষণ না তাকে সেই আসমান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা রয়েছেন। আর যদি সে মন্দ লোক হয়, তবে তারা বলেন: হে অপবিত্র আত্মা! বের হয়ে এসো, যা একটি অপবিত্র দেহে ছিলে। নিন্দিত অবস্থায় বের হয়ে এসো এবং ফুটন্ত গরম পানি ও পুঁজ এবং অনুরূপ আরও বিভিন্ন প্রকার আজাবের সুসংবাদ গ্রহণ করো। (তাকে এই কথা বলা হতে থাকে) (৫) যতক্ষণ না সে বের হয়ে আসে। অতঃপর তাকে নিয়ে আসমানের দিকে আরোহণ করা হয় এবং তার জন্য দরজা খুলতে বলা হয়। তখন জিজ্ঞেস করা হয়: ইনি কে? বলা হয়: অমুক। তখন বলা হয়: অপবিত্র আত্মার জন্য কোনো স্বাগতম নেই, যা ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٨٤)
الْجَسَدِ الْخَبِيثِ، ارْجِعِي ذَمِيمَةً فَإِنَّهُ لَا تُفْتَحُ لَكِ أَبْوَابُ السَّمَاءِ، ثُمَّ تُرْسَلُ مِنَ السَّمَاءِ ثُمَّ تَصِيرُ إِلَى الْقَبْرِ (1) .
11- أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ صَدَقَةَ الْحَرَّانِيُّ، أَنْبَأَ الْفِرَاوِيُّ، أَنْبَأَ عَبْدُ الْغَافِرِ الْفَارِسِيُّ، أَنْبَأَ أَبُو أَحْمَدَ الْجُلُودِيُّ، أَنْبَأَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُفْيَانَ، ثَنَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ، ثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، ثَنَا مَرْوَانُ ثَنَا يَزِيدُ يَعْنِي ابْنَ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مِنْ رَجُلٍ يَدْعُو امْرَأَتَهُ إِلَى (فِرَاشِهِ) (2) ، فَتَأْبَى عَلَيْهِ إِلَّا كَانَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ سَاخِطًا عَلَيْهَا حَتَّى يَرْضَى عَنْهَا". (أَخْرَجَهُ مُسْلِم) (3) .
12- أَنْبَأَ أَبُو سَعِيدٍ (الْخَلِيلُ بْنُ أَبِي الرَّجَاءِ الرَّارَانِيُّ) (4) ، قَالَ: أَنْبَأَ أَبِو عَلِيٍّ الْحَدَّادُ، أَنْبَأَ أَبُو نُعَيْمٍ، أَنْبَأَ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي خَلَّادٍ، ثَنَا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي
--------------------------------------------
সেই অপবিত্র দেহ থেকে। তুই নিন্দিত অবস্থায় ফিরে যা, কারণ তোর জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না। এরপর তাকে আসমান থেকে নিক্ষেপ করা হয় এবং সে কবরের দিকে ফিরে যায় (১)।
১১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ বিন সাদাকা আল-হাররানি, তিনি আল-ফিরাউয়ি থেকে, তিনি আব্দুল গাফির আল-ফারিসি থেকে, তিনি আবু আহমদ আল-জুলুদি থেকে, তিনি ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান থেকে, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবন আবি উমর, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মারওয়ান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াজিদ (অর্থাৎ ইবন কায়সান), তিনি আবু হাজিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে (আল্লাহর হাতে) আমার প্রাণ, যে ব্যক্তিই তার স্ত্রীকে তার (বিছানায়) (২) আহ্বান করে আর সে তাকে অস্বীকার করে, তবে আসমানের উপরে যিনি আছেন তিনি তার ওপর রাগান্বিত থাকেন যতক্ষণ না স্বামী তার ওপর সন্তুষ্ট হয়।" (এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন) (৩)।
১২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ (আল-খলিল বিন আবি আর-রাজা আর-রারানি) (৪), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি আল-হাদ্দাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন আবি খাল্লাদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-হারিস বিন মুহাম্মদ বিন আবি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٨٥)
أُسَامَةَ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، ثَنَا أَبُو الْحَارِثِ الْوَارِقُ، عَنْ (بَكْرِ) (1) بْنِ خُنَيْسٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نَسِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ اللَّهَ لَيَكْرَهُ فِي السَّمَاءِ أَنْ يخطأ أَبُو بَكْرٍ فِي الأَرْضِ" (2) .
--------------------------------------------
উসামাহ (বলেন), আহমাদ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল হারিস আল-ওয়ারিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি (বাকর) (১) ইবনে খুনায়স থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি উবাদাহ ইবনে নাসিয় থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে গানম থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমানে অপছন্দ করেন যে, আবু বকর জমিনে কোনো ভুল করবেন।" (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٨٦)
13- كَتَبَ إِلَيَّ الإِمَامُ الْفَقِيهُ نَجْمُ الدِّينِ أَبُو الْعَبَّاسِ، أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خَلَفٍ، يَقُولُ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَنَامِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أُرِيدُ أَنْ أَسَأَلَكَ عَنْ مَسَأَلَةٍ، قَالَ: فَمَا هِيَ، قُلْتُ: جَاءَ فِي الْقُرْآنِ وَالأَحَادِيثِ الصَّحِيحَةِ أَنَّ اللَّهَ فِي السَّمَاءِ، وَأَكْثَرُ النَّاسُ يُنْكِرُونَ هَذَا. وَمَنْ يُنْكِرُ هَذَا الأَمْرَ؟! كَذَلِكَ اللَّهُ فِي السَّمَاءِ (1) .
--------------------------------------------
১৩- ইমাম ফকিহ নাজমুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে খালাফ আমার নিকট লিখেছেন, তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনাকে একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাই। তিনি বললেন: তা কী? আমি বললাম: কুরআন এবং সহীহ হাদিসসমূহে এসেছে যে, আল্লাহ আকাশে আছেন, অথচ অধিকাংশ মানুষ এটি অস্বীকার করে। আর কে এই বিষয়টি অস্বীকার করে?! তদ্রূপ আল্লাহ আকাশে আছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٨٧)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٨٨)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٨٩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা
(পৃষ্ঠা: ٩٠)
((ذِكْرُ الأَخْبَارِ الْوَارِدَةُ بِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى فَوْقَ عَرْشِهِ)) (1)
14- أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي (بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ) (2) وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، (قَالَ حَدَّثَنَا) (3) أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي نَصْرٍ الْحُمَيْدِيُّ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، (قَالَ ثَنَا) (4) أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ النُّعْمَانِيُّ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، (قَالَ) (5) ثَنَا (أَبُو سَعْدٍ) (6) (أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ) (7) ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، (قال ثنا أبو الحسن أحمد بن عيسى الفرضي) (8) ، ويده على كتفي، قَالَ أَنْبَأَ أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمَكِّيُّ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، قَالَ: ثنا أَبُو عمرو هِلالُ بْنُ العلا الرُّقِيُّ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، (قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، ثَنَا زَيْدُ بْنُ أَبِي أُنَيْسَةَ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، ثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ السَّبِيعِيُّ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي) (9) ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، قَالَ: حَدَّثَنِي الْحَارِثُ الأَعْوَرُ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، (قَالَ) (10) : ثَنَا عَلِيُّ بْنُ
--------------------------------------------
((মহান আল্লাহ তাঁর আরশের উপরে আছেন—এই মর্মে বর্ণিত সংবাদসমূহের বিবরণ)) (১)
১৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী (ইবনে আহমদ ইবনে সুলাইমান) (২) এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, (তিনি বললেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) (৩) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবি নাসর আল-হুমাইদী এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, (তিনি বললেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) (৪) আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে সাঈদ ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নুমানী এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, (তিনি) (৫) বর্ণনা করেছেন (আবু সা'দ) (৬) (আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-হাফিয) (৭), এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, (তিনি বললেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আহমদ ইবনে ঈসা আল-ফারাদী) (৮), এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, তিনি বললেন, সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-মাক্কী এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, তিনি বললেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর হিলাল ইবনে আল-আলা আর-রুক্কী এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, (তিনি বললেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাইদ ইবনে আবি উনাইসাহ এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক আস-সাবিঈ এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর) (৯), তিনি বললেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিস এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, তিনি বললেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হারিস আল-আওয়ার এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, (তিনি বললেন) (১০): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে...
--------------------------------------------