(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: -)
إثبات صفة العلو - ابن قدامة   (ابن قدامة)

القسم: كتب السنة


الكتاب : إثبات صفة العلو

المؤلف : أبو محمد موفق الدين عبد الله بن أحمد بن محمد ، الشهير بابن قدامة المقدسي (المتوفى : 620هـ)

المحقق : أحمد بن عطية بن علي الغامدي

الناشر : مكتبة العلوم والحكم، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية

الطبعة : الأولى، 1409هـ / 1988م

عدد الأجزاء : 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

উচ্চতার গুণাবলি সাব্যস্তকরণ - ইবনে কুদামা   (ইবনে কুদামা)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব : উচ্চতার গুণাবলি সাব্যস্তকরণ

লেখক : আবু মুহাম্মদ মুওয়াফফাকুদ্দীন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ ، যিনি ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু : ৬২০ হিজরী)

সম্পাদক : আহমাদ বিন আতিয়্যাহ বিন আলী আল-গামদি

প্রকাশক : মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম، মদীনা মুনাওয়ারা، সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ : প্রথম، ১৪০৯ হিজরী / ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা : ১

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: -)
ـ[إثبات صفة العلو]ـ

المؤلف: عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة

المحقق: أحمد بن عطية بن علي الغامدي

الناشر: مكتبة العلوم والحكم، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1409هـ / 1988م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[উচ্চতার বৈশিষ্ট্য সাব্যস্তকরণ]

লেখক: আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন কুদামাহ

গবেষক: আহমাদ বিন আতিয়্যাহ বিন আলী আল-গামিদী

প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৯ হিজরি / ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٦٣)
‌‌المقدمة

 

(رب يسر وأعن بمنك ورحمتك) (1)

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي علا في سمائه، وجلا باليقين قلوب أوليائه، وخار لهم في قدره وبارك لهم في قضائه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة مؤمن بلقائه، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله وخاتم أنبيائه. أما بعد:

فإن الله تعالى وصف نفسه بالعلو في السماء، ووصفه بذلك محمد خاتم الأنبياء، وأجمع على ذلك جميع العلماء من الصحابة الأتقياء والأئمة من الفقهاء، وتوارترت الأخبار بذلك على وجه حصل به اليقين، وجمع الله تعالى عليه قلوب المسلمين، وجعله مغروزا في طباع الخلق أجمعين، فتراهم عند نزول الكرب بهم يلحظون السماء بأعينهم، ويرفعون نحوها للدعاء أيديهم (2) ، وينتظرون مجيء الفرج من ربهم، وينطقون بذلك بألسنتهم لا ينكر ذلك إلا مبتدع غال في بدعته، أم مفتون (بتقليده) (3) واتباعه على ضلالته، وأنا ذاكر في الجزء بعض بلغني من الأخبار في ذلك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وصحابته والأئمة (المقتدين) (4) بسنته على وجه يحصل القطع واليقين بصحة ذلك عنهم، ويعلم تواتر الرواية بوجوده منهم، ليزداد من وقف عليه (5) من المؤمنين إيمانا وينتبه من خفي عليه ذلك، حتى يصير كالمشاهد له عيانا، ويصير للمتمسك بالسنة حجة وبرهانا.

واعلم -رحمك الله- أنه ليس من شرط صحة التواتر الذي يحصل به اليقين

--------------------------------------------

(1) من (هـ) و (ر) .

(2) وهو دليل الفطرة التي سبق إيضاحه.

(3) في (هـ) و (ر) بتقليد، وأضفت الهاء من (م) .

(4) في (م) (المتقدمين) .

(5) من أول الكلام إلى هنا لا يوجد في الأصل.
ভূমিকা

 

(হে রব, আপনার অনুগ্রহ ও রহমতে সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন) (১)

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর আসমানে সমুন্নত এবং যিনি তাঁর ওলীগণের অন্তরসমূহকে দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমে উজ্জ্বল করেছেন; তিনি তাঁর তকদিরে তাদের জন্য কল্যাণ রেখেছেন এবং তাঁর ফয়সালায় তাদের জন্য বরকত দিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এটি তাঁর সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে বিশ্বাসী ব্যক্তির সাক্ষ্য। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল এবং সর্বশেষ নবী। অতঃপর:

নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা নিজেকে আসমানে সমুন্নত হওয়ার গুণে গুণান্বিত করেছেন এবং সর্বশেষ নবী মুহাম্মদও তাঁকে এই গুণে গুণান্বিত করেছেন। আর এ বিষয়ে পরহেজগার সাহাবীগণ ও ফকীহ ইমামগণের মধ্য থেকে সকল আলেম ঐক্যমত পোষণ করেছেন। এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার মাধ্যমে দৃঢ় বিশ্বাস অর্জিত হয়। আল্লাহ তাআলা এই বিষয়ের ওপর সকল মুসলিমের অন্তরকে একত্রিত করেছেন এবং একে সমস্ত সৃষ্টির স্বভাবজাত প্রকৃতিতে গেঁথে দিয়েছেন। ফলে আপনি তাদের দেখবেন যে, যখন তাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হয়, তখন তারা তাদের চোখ দিয়ে আকাশের দিকে তাকায় এবং দোয়ার জন্য সেই দিকেই হাত উত্তোলন করে (২)। তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে বিপদ মুক্তির প্রতীক্ষায় থাকে এবং তাদের জিহ্বা দিয়ে তা উচ্চারণ করে। চরমপন্থী বিদআতী অথবা যে ব্যক্তি অন্ধ অনুসরণ (৩) ও গোমরাহীর পেছনে চলে ফিতনায় পতিত হয়েছে সে ছাড়া আর কেউ তা অস্বীকার করে না। আর আমি এই পুস্তিকায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং তাঁর সুন্নাহর অনুসারী (৪) ইমামগণের কাছ থেকে এ বিষয়ে আমার নিকট পৌঁছানো সংবাদগুলোর কিছু অংশ উল্লেখ করব এমনভাবে, যা তাঁদের থেকে এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে অকাট্য ও দৃঢ় বিশ্বাস তৈরি করবে। এর মাধ্যমে তাঁদের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত বর্ণনার মুতাওয়াতির হওয়া জানা যাবে; যাতে মুমিনদের মধ্যে যারা এটি পড়বে (৫) তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং যার কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল সে যেন সচেতন হয়, এমনকি সে যেন বিষয়টি সরাসরি প্রত্যক্ষকারীর মতো হয়ে যায় এবং সুন্নাহর অনুসারীর জন্য এটি দলিল ও প্রমাণে পরিণত হয়।

জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন—দৃঢ় বিশ্বাস অর্জিত হওয়ার জন্য মুতাওয়াতির বিশুদ্ধ হওয়ার শর্ত এটি নয় যে...

--------------------------------------------

(১) (হ) ও (র) পাণ্ডুলিপি থেকে।

(২) এটি স্বভাবজাত প্রকৃতির (ফিতরাত) দলিল যা ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

(৩) (হ) ও (র) পাণ্ডুলিপিতে "তাকলিদ" শব্দে এসেছে, এবং আমি (ম) থেকে সর্বনাম যুক্ত করেছি।

(৪) (ম) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "পূর্ববর্তীগণ"।

(৫) আলোচনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٦٤)
أن يوجد عدد التواتر في خبر واحد، بل متى نقلت أخبار كثيرة في معنى واحد من طرق يصدق بعضها بعضا، ولم يأت ما يكذبها ويقدح فيها، حتى استقر ذلك في القلوب (واستيقنته) (1) ، فقد حصل التواتر، وثبت القطع واليقين، (فإننا) (2) نتيقن جود حاتم، وإن كان لم يرد بذلك خبر واحد مرضي الإسناد، لوجود ما ذكرنا، وكذلك عدل عمر، وشجاعة علي وعلمه، وعلم عائشة وأنها زوج رسول الله صلى الله عليه وسلم وابنة أبي بكر، وأشباه هذا، لا يشك في شيء من ذلك، ولا يكاد يوجد تواتر إلا على هذا الوجه، فحصول التواتر واليقين في مسألتنا مع صحة الأسانيد، ونقل العدول المرضيين، وكثرة الأخبار وتخريجها (فيما) (3) لا يحصى عدده، ولا يمكن حصره من دواوين الأئمة والحفاظ، وتلقي الأمة لها بالقبول (وروايتهم لها) (4) من غير معارض يعارضها، ولا منكر (ممن يسمع) (5) منه لشيء منها أولى، سيما وقد جاءت على وفق ما جاء في القرآن العزيز الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، تنزيل من حكيم حميد.

قال الله تعالى: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْش} في مواضع من كتابه (6) ، وقال تعالى: {أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ} في موضعين (7) ، وقال تعالى: {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّب} (8) ، وقال سبحانه: {يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ

--------------------------------------------

(1) في (م) (واستيقنت) .

(2) هكذا في الأصل، وفي بقية النسخ (فإنا) .

(3) في الأصل (ما) .

(4) ما بين القوسين ساقط من النسخ الأخرى.

(5) في (ر) و (هـ) (لمن يسمع) .

(6) هذه المواضع خمسة في سورة الأعراف آية (54) ، وفي سورة يونس آية (3) ، وفي سورة الرعد آية (2) ، وفي سورة الفرقان آية (59) ، وفي سورة السجدة آية (4) .

(7) سورة الملك آية (16-17) .

(8) سورة فاطر آية/ 10.
একটি মাত্র সংবাদে তাওয়াতুর বা ধারাবাহিক বহুসূত্রতার সংখ্যা বিদ্যমান থাকা আবশ্যক নয়, বরং যখন একই অর্থের অনেকগুলো সংবাদ বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয় যেগুলোর একটি অপরটিকে সত্যায়ন করে এবং এমন কিছু পাওয়া যায় না যা সেগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে বা সেগুলোতে ত্রুটি সৃষ্টি করে, যতক্ষণ না তা অন্তরে গেঁথে যায় (এবং তা নিশ্চিত বিশ্বাসে পরিণত হয়) (১), তখনই তাওয়াতুর সাব্যস্ত হয় এবং তা অকাট্য ও নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। (নিশ্চয়ই আমরা) (২) হাতেমের দানশীলতা সম্পর্কে নিশ্চিত বিশ্বাস রাখি, যদিও সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সনদযুক্ত একটি সংবাদও বর্ণিত হয়নি; কেবল উল্লিখিত বিষয়টির উপস্থিতির কারণে। অনুরূপভাবে উমরের ন্যায়বিচার, আলীর বীরত্ব ও জ্ঞান, এবং আয়েশার জ্ঞান এবং তিনি যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রী ও আবু বকরের কন্যা ছিলেন—এসব বিষয়েও কোনো সন্দেহ করা হয় না। এ ধরনের বিষয় ছাড়া প্রায় কোনো তাওয়াতুরই পাওয়া যায় না। সুতরাং আমাদের আলোচ্য বিষয়ে তাওয়াতুর ও নিশ্চিত বিশ্বাস অর্জন হওয়া—সনদসমূহের বিশুদ্ধতা, নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনা, সংবাদের আধিক্য এবং ইমাম ও হাফেজদের অগণিত কিতাবসমূহে (যা) (৩) গণনা করা সম্ভব নয় সেগুলোর সংকলন, এবং উম্মাহর পক্ষ থেকে কোনো বিরোধিতা ছাড়াই তা গ্রহণ (ও বর্ণনা করার) (৪) কারণে এবং কারো পক্ষ থেকে (যাদের কথা শোনা হয়) (৫) কোনো অস্বীকৃতি না থাকার কারণে—অধিক অগ্রগণ্য। বিশেষ করে যখন এটি মহান কুরআনে যা এসেছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না; এটি প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠলেন} তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে (৬), এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ তাঁর থেকে যিনি আকাশে আছেন} দুই স্থানে (৭), এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তাঁরই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে} (৮), এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সকল বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর তা আরোহণ করে...}

--------------------------------------------

(১) (ম) পাণ্ডুলিপিতে (নিশ্চিত হয়েছে)।

(২) মূল কপিতে এভাবেই আছে, বাকি কপিগুলোতে (নিশ্চয়ই আমরা)।

(৩) মূল কপিতে (যা)।

(৪) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু অন্য কপিগুলোতে নেই।

(৫) (র) এবং (হ) পাণ্ডুলিপিতে (তাদের জন্য যারা শোনে)।

(৬) এই স্থানগুলো পাঁচটি: সূরা আল-আরাফ আয়াত (৫৪), সূরা ইউনুস আয়াত (৩), সূরা আর-রাদ আয়াত (২), সূরা আল-ফুরকান আয়াত (৫৯), এবং সূরা আস-সাজদাহ আয়াত (৪)।

(৭) সূরা আল-মুলক আয়াত (১৬-১৭)।

(৮) সূরা ফাতির আয়াত ১০।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٦٥)
إِلَيْهِ} (1) ، وقال تعالى: {تَعْرُجُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْه} (2) ، وقال لعيسى: {إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَي} (3) ، وقال تعالى: {بَلْ رَفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ} (4) ، وقال تعالى: {وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ} (5) ، وقال سبحانه وتعالى: {يَخَافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ} (6) ، وأخبر عن فرعون أنه قال: {يَا هَامَانُ ابْنِ لِي صَرْحاً لَعَلِّي أَبْلُغُ الْأَسْبَابَ أَسْبَابَ السَّمَاوَاتِ فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِباً} (7) ، يعني أظن موسى كاذبا (في أن الله إلهه في السماء) (8) ، والمخالف في هذه المسألة (قد أنكر هذا) (9) يزعم أن موسى كاذب في هذا بطريق (القطع) (10) واليقين، مع مخالفته لرب العالمين، وتخطئته لنبيه الصادق الأمين، وتركه منهج الصحابة والتابعين، والأئمة السابقين، وسائر الخلق أجمعين (11) . نسأل الله تعالى أن يعصمنا من البدع برحمته، ويوفقنا لاتباع سنته.

--------------------------------------------

(1) سورة السجدة آية/ 5.

(2) سورة المعارج آية/ 4.

(3) سورة آل عمران آية/ 55.

(4) سورة النساء آية/ 158.

(5) سورة الأنعام آية/ 18.

(6) سورة النحل آية/ 50.

(7) سورة غافر آية/ 36-37.

(8) هكذا في الأصل، وفي بقية النسخ (في أنه له إلها في السماء) .

(9) ما بين القوسين لا وجود له في غير الأصل.

(10) كلمة (القطع) لا توجد في الأصل.

(11) يريد الإمام ابن قدامة أن التكذيب بأن الله في السماء سبق إليه فرعون حين كذب موسى عليه السلام حين دعاه إلى الإيمان بالله تعالى، وأن الله في السماء، ومن قال بقول فرعون من هذه الأمة، فقد كذب موسى عليه السلام قطعا، فضلا عن تكذيبه لرب العالمين، الذي أخبر عن نفسه بأنه في السماء بشتى الدلالات، وفيه تكذيب لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وهجر لمنهج الصحابة والتابعين والأئمة السابقين، وسائر الخلق أجمعين، وهو بهذا يشير إلى ما قرره العلماء من أن الإيمان بأن الله في السماء أمر فطري، جبل عليه الخلق جميعا. وقد تقدم إيضاح دليل الفطرة الذي أشار إليه.

وقد نسب الإمام ابن القيم من حرف نصوص العلو، من أجل أن يوافق هواه في النفي إلى فرعون، لأنه من حزبه، وهو إمامه في ذلك، وإمام كل مكابر جاحد.

انظر: الصواعق المنزلة 1/107، ويقول الإمام ابن تيمية: ( … وفرعون هو إمام النفاة، ولهذا صرح محققوا النفاة بأنهم على قوله، كما يصرح به الاتحادية من الجهمية النفاة، إذ هو أنكر العلو، وكذب موسى فيه، وأنكر تكليم الله لموسى) . مجموع الفتاوى 5/172. وتأويلات المؤولين تحريف صريح، حقيقته النفي المحض، لمخالفته النقل والعقل معا، لأن لازم قولهم أن القرآن والسنة لم يخبرا إلا بما يفيد الضلال، وأن عقولهم أهدى لهم من وحي الله. كبرت كلمة تخرج من أفواههم.
তাঁর দিকে} (১), এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {ফেরেশতাগণ এবং রূহ তাঁর দিকে আরোহণ করে} (২), এবং তিনি ঈসাকে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি তোমাকে গ্রহণ করব এবং তোমাকে আমার কাছে তুলে নেব} (৩), এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {বরং আল্লাহ তাকে নিজের দিকে তুলে নিয়েছেন} (৪), এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তিনি তাঁর বান্দাদের উপর প্রবল পরাক্রমশালী} (৫), এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {তারা তাদের রবকে ভয় করে, যিনি তাদের উপরে রয়েছেন} (৬), এবং তিনি ফেরাউন সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে সে বলেছিল: {হে হামান, আমার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো, যাতে আমি অবলম্বনসমূহ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি, আসমানসমূহের অবলম্বনসমূহে, অতঃপর আমি মূসার মাবুদকে দেখতে পারি; তবে আমি তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি} (৭), অর্থাৎ আমি মনে করি মূসা মিথ্যাবাদী (এ বিষয়ে যে, আল্লাহ আসমানে তাঁর মাবুদ) (৮), এবং এই মাসআলায় বিরোধিতাকারী (যে তা অস্বীকার করেছে) (৯) সে দাবি করে যে মূসা এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে (১০) এবং দৃঢ়তার সাথে মিথ্যাবাদী; অথচ এর মাধ্যমে সে রাব্বুল আলামীনের বিরোধিতা করছে, তাঁর সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত নবীকে ভুল সাব্যস্ত করছে এবং সাহাবী, তাবেয়ী, পূর্ববর্তী ইমামগণ এবং সমস্ত সৃষ্টির মানহাজ বর্জন করছে (১১)। আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর রহমতের মাধ্যমে আমাদের বিদআত থেকে রক্ষা করেন এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের তাওফীক দান করেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আস-সাজদাহ আয়াত/ ৫।

(২) সূরা আল-মাআরিজ আয়াত/ ৪।

(৩) সূরা আল-ইমরান আয়াত/ ৫৫।

(৪) সূরা আন-নিসা আয়াত/ ১৫৮।

(৫) সূরা আল-আনআম আয়াত/ ১৮।

(৬) সূরা আন-নাহল আয়াত/ ৫০।

(৭) সূরা গাফির আয়াত/ ৩৬-৩৭।

(৮) মূল নুসখায় এমনটিই রয়েছে, আর অন্যান্য নুসখায় রয়েছে (এ বিষয়ে যে তাঁর জন্য আসমানে একজন মাবুদ রয়েছে)।

(৯) বন্ধনীভুক্ত অংশটি মূল নুসখা ছাড়া অন্য কোথাও নেই।

(১০) (নিশ্চিতভাবে) শব্দটি মূল নুসখায় নেই।

(১১) ইমাম ইবনে কুদামা বুঝাতে চেয়েছেন যে, আল্লাহ আসমানে আছেন—এ কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ক্ষেত্রে ফেরাউন অগ্রগামী ছিল যখন সে মূসা আলাইহিস সালামকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, যখন তিনি তাকে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার এবং আল্লাহ আসমানে আছেন এ কথার দিকে আহ্বান করেছিলেন। আর এই উম্মতের মধ্যে যারা ফেরাউনের ন্যায় কথা বলে, তারা নিশ্চিতভাবে মূসা আলাইহিস সালামকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করল। এর পাশাপাশি তারা রাব্বুল আলামীনকেও মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করল, যিনি বিভিন্ন দলীলের মাধ্যমে নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আসমানে আছেন। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেও মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা হয় এবং সাহাবী, তাবেয়ী, পূর্ববর্তী ইমামগণ ও সমস্ত সৃষ্টির মানহাজ বর্জন করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি উলামায়ে কেরাম যা সাব্যস্ত করেছেন সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, আল্লাহ আসমানে আছেন—এ ঈমানটি একটি ফিতরী বা সহজাত বিষয়, যার ওপর সমস্ত সৃষ্টিকে সৃষ্টি করা হয়েছে। ফিতরতের যে দলীলের দিকে তিনি ইঙ্গিত করেছেন তা ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম তাকে ফেরাউনের সাথে সম্বন্ধ করেছেন যে আল্লাহর ঊর্ধ্বে থাকার দলীলগুলোকে তার কুপ্রবৃত্তির অনুসরণে অস্বীকার করার জন্য বিকৃত করেছে; কারণ সে তার দলের অন্তর্ভুক্ত এবং সে এ বিষয়ে তার ইমাম, যেমনটি সে প্রত্যেক অহংকারী অস্বীকারকারীর ইমাম।

দেখুন: আস-সওয়ায়েকুল মুরসালাহ ১/১০৭। ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: ( ...ফেরাউন হলো অস্বীকারকারীদের ইমাম, এজন্যই মুহাক্কিক অস্বীকারকারীরা স্পষ্ট করেছে যে তারা তার মতাদর্শের ওপর রয়েছে, যেমনটি অস্বীকারকারী জাহমিয়্যাদের অন্তর্ভুক্ত ইত্তিহাদিয়্যারা স্পষ্ট করে থাকে। কেননা সে আল্লাহর উচ্চতাকে অস্বীকার করেছিল এবং এ বিষয়ে মূসাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল এবং আল্লাহর মূসার সাথে কথা বলাকেও অস্বীকার করেছিল)। মাজমুউল ফাতাওয়া ৫/১৭২। অপব্যাখ্যাকারীদের ব্যাখ্যা হলো প্রকাশ্য বিকৃতি, যার হাকীকত হলো নিছক অস্বীকার করা। কারণ তা একই সাথে বর্ণনা এবং বিবেক উভয়ের বিরোধী। কারণ তাদের কথার অপরিহার্য অর্থ হলো কুরআন ও সুন্নাহ গুমরাহি ছাড়া অন্য কোনো সংবাদ দেয়নি এবং তাদের বিবেক আল্লাহর ওহীর চেয়েও অধিক হিদায়াতপ্রাপ্ত। তাদের মুখ থেকে কত বড় মারাত্মক কথা বের হচ্ছে!
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٦٦)
‌‌((ذِكْرُ الأَحَادِيثِ الصَّرِيحَةِ فِي أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى فِي السَّمَاءِ)) (1)

1- أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْمُقَرِّبِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْكَرْخِيُّ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ (يَوْمَئِذٍ) (2) [قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ جَعْفَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ السَّرَّاجُ الْقَارِيُّ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ] (3) ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَافِظُ أَبُو نَصْرٍ (عُبَيْدُ اللَّهِ) (4) بْنُ سَعِيدِ بْنِ حَاتِمٍ السِّجْزِيُّ الْوَايِلِيُّ بِمَكَّةَ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ (بْنِ مُحَمَّدٍ) (5) الْمُهَلَّبِيُّ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ بِلَالٍ الْبَزَّازُ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرِ بْنِ الْحَكَمِ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ (مِنْ سُفْيَانَ) (6) عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ (أَبِي) (7) قَابُوسٍ مَوْلًى

--------------------------------------------

(1) هذا العنوان لا يوجد في الأصل.

(2) كلمة (يومئذ) لا توجد في النسخ الأخرى.

(3) ما بين القوسين لا يوجد في (هـ) .

(4) في (م) و (ر) (عبد الله) ، وهو خطأ.

(5) (بن محمد) لا يوجد إلا في الأصل.

(6) كذا في الأصل وفي (م) ، وفي بقية النسخ (منه) .

(7) في (م) (ابن) .
‌((মহান আল্লাহ তাআলা আসমানে থাকার ব্যাপারে সুস্পষ্ট হাদিসসমূহের বর্ণনা)) (১)

১- শায়খ আবু বকর আহমদ বিন আল-মুকাররিব বিন আল-হুসাইন আল-কারখি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে (সেদিন) শুনেছি (২) [তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ জাফর বিন আহমদ বিন আল-হুসাইন আস-সাররাজ আল-কারি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি] (৩), তিনি বলেন: হাফেজ আবু নাসর (উবাইদুল্লাহ) বিন সাঈদ বিন হাতিম আস-সিজজি আল-ওয়াইলি মক্কায় আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: আবু ইয়ালা হামজা বিন আব্দুল আজিজ (বিন মুহাম্মদ) আল-মুহাল্লাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: আবু হামিদ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন বিলাল আল-বাজজাজ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি, আব্দুর রহমান বিন বিশর বিন আল-হাকাম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছি, সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আর এটিই প্রথম হাদিস যা আমি (সুফিয়ান থেকে) শুনেছি (৬), তিনি আমর বিন দিনার থেকে, তিনি (আবু) কাবুস থেকে, যিনি একজন মুক্তদাস...

--------------------------------------------

(১) এই শিরোনামটি মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(২) (সেদিন) শব্দটি অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৩) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু (হ) পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৪) (ম) এবং (র) পাণ্ডুলিপিতে (আবদুল্লাহ) রয়েছে, যা ভুল।

(৫) (বিন মুহাম্মদ) অংশটুকু কেবল মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে।

(৬) মূল পাণ্ডুলিপিতে এবং (ম) পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে অবশিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলোতে রয়েছে (তাঁর থেকে)।

(৭) (ম) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে (ইবন)।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٦٧)
لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ، ارْحَمُوا (أَهْلَ الأَرْضِ) (1) يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ (2) .

--------------------------------------------

(1) في (ر) و (هـ) (من في الأرض) ، وهو لفظ الترمذي.

(2) أخرجه أبو داود في كتاب الأدب، باب في الرحمة، ح (4941) ، 5/231، والذهبي في العلو ص 20، وأحمد في المسند 2/160، والترمذي في كتاب البر والصلة، باب ما جاء في رحمة المسلمين، ح (1904) ، 4/323، وهو عندهما أتم. والحاكم في المستدرك، وصححه 4/159، والدارمي في الرد على الجهمية ص 20.

وهذا الحديث من الأدلة الصريحة الواضحة التي تدل على علو الله تبارك وتعالى بذاته، وأنه في السماء. ومن أجل ذلك أورده المصنف.

كما يدل على إثبات صفة الرحمة لله تبارك وتعالى، وهي من الصفات الثابتة له سبحانه بالكتاب، كما ثبتت بالسنة، قال تعالى: {رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْماً} (غافر: من الآية7) ، وقوله سبحانه: {وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيماً} (الأحزاب: من الآية43) ، وقوله: {كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ} (الأنعام: من الآية54) ، وقوله: {فَاللَّهُ خَيْرٌ حَافِظاً وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِين} (يوسف: من الآية64) . ومن السنة هذا الحديث، وحديث أسامة في البخاري: " … إنما يرحم الله من عباده الرحماء" فتح الباري 13/434.

وحديث أبي هريرة المتفق عليه في اختصام الجنة والنار وفيه: " … فقال الله تعالى للجنة: أنت رحمتي، وقال للنار: أنت عذابي … " الحديث، وغيرهما من الأحاديث.

إلا أن المتكلمين من الجهمية وأضرابهم أنكروا صفة الرحمة، وأرجعوها إلى معنى الإرادة، بحجة أن في إثباتها تشبيها للخالق بالمخلوق، لأنها في الإنسان ضعف وخور وتألم على المرحوم، وإثبات الرحمة لله يقتضي إضافة هذا المعنى بما فيه من ذم. إلا أن هذا القول باطل، لأن مذهب السلف -رضوان الله عليهم- التفريق بين محبته وغضبه ورضاه وبين إرادته، وما أوردوه غير وارد للأمور الآتية:

1- أن وصف الرحمة في الآدميين من الأمور الممدوحة، أما وصف الخور والضعف فهو من الأمور المذموم. قال تعالى: {وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ وَتَوَاصَوْا بِالْمَرْحَمَة} (البلد: من الآية17) ، ونهى عباده عن الوهن والحزن، فقال: {وَلا تَهِنُوا وَلا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} (آل عمران:139) ، وندبهم إلى الرحمة. وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا تنزع الرحمة إلا من شقي". وقال: "من لا يرحم لا يرحم". ومحال مع هذا أن يكون المراد لا ينزع الضعف والخور إلا من شقي. ولكن لما كانت الرحمة تقارن في حق كثير من الناس الضعف والخور -كما في رحمة النساء، ونحو ذلك- ظن الغالط أنها كذلك مطلقا.

2- لو قدر أنه في حق المخلوقين مستلزمة لذلك، لم يجب أن تكون في خق الخالق مستلزمة له، كما أن جميع صفاتنا من العلم والقدرة والسمع والبصر والكلام وغير ذلك، تستلزم فينا نقصا وحاجة، يجب تنزيه الله تعالى عنها، لأن صفات الله كاملة لا نقص فيها، لأنه سبحانه بذاته وصفاته منزه عن النقائص. فصفاته لا تشبه صفات المخلوقين.

3- وكذلك الوجود والقيام بالنفس فينا يستلزم احتياجا إلى خالق يجعلنا موجودين، والله منزه في وجوده عما يحتاج إليه وجودنا، فنحن وصفاتنا وأفعالنا مقرونون بالحاجة إلى الغير، والحاجة لنا أمر ذاتي لا يمكن أن نخلو عنه، فهو بنفسه حي قيوم، واجب الوجود، ونحن بأنفسنا محتاجون فقراء، فإذا كانت ذاتنا وصفاتنا وأفعالنا وما اتصفنا به من الكمال من العلم، والقدرة، وغير ذلك هو مقرون بالحاجة والحدوث والإمكان، لم يجب أن يكون لله ذات ولا صفات ولا أفعال، ولا يقدر ولا يعلم، لكون ذلك ملازما للحاجة والضعف فينا. فكذلك الرحمة وغيرها إذا قدر أنها في حقنا ملازمة للحاجة والضعف لم يجب أن يكون في حق الله ملازمة لذلك.

4- إننا نعلم بالاضطرار أنا إذا فرضنا موجودين أحدهما يرحم غيره، فيجلب له المنفعة، ويدفع عنه المضرة، والآخر قد استوى عنده هذا وهذا، وليس عنده ما يقتضي جلب منفعة ولا دفع مضرة، كان الأول أكمل.

انظر: مجموع فتاوى ابن تيمية 6/117-118.

وبهذا تبين أن شبهة القوم واهية، وأن صفة الرحمة ثابتة بالعقل، كما ثبتت بالنص، وقوله صلى الله عليه وسلم في هذا الحديث: "في الأرض وفي السماء" أي من على الأرض، ومن على السماء، لأن "في" هنا بمعنى "على"، كما في قوله تعالى: {فَسِيحُوا فِي الْأَرْض} (التوبة: من الآية: 2) ، أي على الأرض. وقوله: {وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ} (طه: من الآية: 71) ، أي عليها.
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যারা দয়া করে, দয়াময় আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তাহলে যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।

--------------------------------------------

(১) (র) এবং (হ) পাণ্ডুলিপিতে 'জমিনে যারা আছে' শব্দগুচ্ছ রয়েছে, যা তিরমিযীর শব্দ।

(২) এটি আবু দাউদ 'কিতাবুল আদাব', পরিচ্ছেদ: দয়া প্রসঙ্গে, হাদিস (৪৯৪১), ৫/২৩১; আয-যাহাবী 'আল-উলুউ' পৃষ্ঠা ২০; আহমাদ 'আল-মুসনাদ' ২/১৬০; তিরমিযী 'কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ', পরিচ্ছেদ: মুসলিমদের প্রতি দয়া করা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে, হাদিস (১৯০৪), ৪/৩২৩-এ বর্ণনা করেছেন; হাদিসটি তাঁদের নিকট পূর্ণাঙ্গ। আল-হাকিম 'আল-মুসতাদরাক' ৪/১৫৯-এ বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন; আদ-দারিমি 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' পৃষ্ঠা ২০।

এই হাদিসটি সেই সকল সুস্পষ্ট ও প্রামাণিক দলিলের অন্তর্ভুক্ত যা মহান আল্লাহর সত্তাগত উচ্চতা এবং তিনি আকাশে থাকার বিষয়টি প্রমাণ করে। এই কারণেই লেখক এটি উল্লেখ করেছেন।

অনুরূপভাবে এটি মহান আল্লাহর জন্য দয়ার গুণ সাব্যস্ত করার প্রমাণ বহন করে। এটি কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে সাব্যস্ত তাঁর অন্যতম একটি সুদৃঢ় গুণ। মহান আল্লাহ বলেন: "হে আমাদের রব! আপনার রহমত ও জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে" (সূরা গাফির: ৭), এবং তাঁর বাণী: "তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু" (সূরা আহযাব: ৪৩), এবং তাঁর বাণী: "তোমাদের রব নিজের ওপর রহমত লিখে নিয়েছেন" (সূরা আনআম: ৫৪), এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু" (সূরা ইউসুফ: ৬৪)। সুন্নাহ থেকে এই হাদিসটি এবং বুখারীতে বর্ণিত উসামার হাদিস: "...নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে কেবল দয়াশীলদের প্রতিই দয়া করেন" ফাতহুল বারী ১৩/৪৩৪।

জান্নাত ও জাহান্নামের বিতর্ক সংক্রান্ত আবু হুরায়রা বর্ণিত মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদিস, যাতে রয়েছে: "...অতঃপর আল্লাহ জান্নাতকে বললেন: তুমি হলে আমার রহমত, আর জাহান্নামকে বললেন: তুমি হলে আমার আজাব..." এবং এই জাতীয় অন্যান্য হাদিস।

তবে জাহমিয়্যাহ ও তাদের অনুসারী কালাম শাস্ত্রবিদগণ আল্লাহর দয়ার গুণকে অস্বীকার করেছেন এবং একে 'ইচ্ছার' অর্থে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের যুক্তি হলো, দয়ার গুণ সাব্যস্ত করলে স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য দেওয়া হয়। কারণ মানুষের ক্ষেত্রে দয়া হলো দুর্বলতা, নমনীয়তা এবং যার প্রতি দয়া করা হচ্ছে তার কষ্টে ব্যথিত হওয়া; আর আল্লাহর জন্য দয়া সাব্যস্ত করা মানে দোষণীয় এই অর্থগুলো তাঁর সাথে যুক্ত করা। তবে তাদের এই দাবি অসার, কারণ সালাফদের—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—মাযহাব হলো আল্লাহর ভালোবাসা, রাগ ও সন্তুষ্টির সাথে তাঁর ইচ্ছার পার্থক্য করা। তারা যা পেশ করেছে তা নিম্নোক্ত কারণে গ্রহণযোগ্য নয়:

১- মানুষের ক্ষেত্রে দয়ার গুণটি প্রশংসনীয় বিষয়, পক্ষান্তরে হীনতা ও দুর্বলতা নিন্দনীয় বিষয়। মহান আল্লাহ বলেন: "এবং একে অপরকে ধৈর্য ও দয়ার উপদেশ দেয়" (সূরা বালাদ: ১৭)। তিনি তাঁর বান্দাদের হীনবল ও চিন্তিত হতে নিষেধ করে বলেছেন: "তোমরা হীনবল হয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও" (সূরা আল-ইমরান: ১৩৯)। তিনি তাদের দয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হতভাগ্য ব্যক্তি ছাড়া কারো অন্তর থেকে দয়া ছিনিয়ে নেওয়া হয় না।" তিনি আরও বলেন: "যে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হয় না।" এমতাবস্থায় দয়া বলতে 'দুর্বলতা' বা 'হীনতা' বুঝানো অসম্ভব। কিন্তু যেহেতু অনেক মানুষের ক্ষেত্রে দয়ার সাথে দুর্বলতা ও হীনতা যুক্ত থাকে—যেমন মহিলাদের দয়া ইত্যাদির ক্ষেত্রে—তাই বিভ্রান্তরা মনে করেছে এটি সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

২- যদি ধরে নেওয়া হয় যে সৃষ্টির ক্ষেত্রে এটি (দুর্বলতা) অপরিহার্য, তবুও স্রষ্টার ক্ষেত্রে তা অপরিহার্য হওয়া জরুরি নয়। যেমন আমাদের জ্ঞান, ক্ষমতা, শ্রবণ, দর্শন ও কথা বলা ইত্যাদি সকল গুণাবলী আমাদের মাঝে অপূর্ণতা ও মুখাপেক্ষিতার দাবি রাখে, যা থেকে আল্লাহকে পবিত্র রাখা আবশ্যক। কারণ আল্লাহর গুণাবলী পূর্ণাঙ্গ, তাতে কোনো অপূর্ণতা নেই। কেননা তিনি স্বীয় সত্তা ও গুণাবলীতে সকল দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র। সুতরাং তাঁর গুণাবলী সৃষ্টির গুণাবলীর সদৃশ নয়।

৩- একইভাবে আমাদের অস্তিত্ব ও আত্মনির্ভরশীলতা একজন স্রষ্টার মুখাপেক্ষী যিনি আমাদের অস্তিত্ব দান করবেন। কিন্তু আল্লাহ তাঁর অস্তিত্বে তেমন কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী নন যার মুখাপেক্ষী আমাদের অস্তিত্ব। আমরা, আমাদের গুণাবলী ও কার্যাবলী অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। এই মুখাপেক্ষিতা আমাদের একটি সত্তাগত বিষয় যা থেকে আমরা মুক্ত হতে পারি না। পক্ষান্তরে তিনি স্বয়ং চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক, তাঁর অস্তিত্ব অনিবার্য। আর আমরা সত্তাগতভাবে অভাবী ও মুখাপেক্ষী। সুতরাং যদি আমাদের সত্তা, গুণাবলী, কার্যাবলী এবং জ্ঞান ও ক্ষমতার মতো যে সকল পূর্ণতা আমাদের আছে তা যদি মুখাপেক্ষিতা, নশ্বরতা ও সম্ভাব্যতার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে তার মানে এই নয় যে আল্লাহর কোনো সত্তা, গুণ বা কাজ থাকবে না, অথবা তিনি ক্ষমতা রাখবেন না বা জানবেন না—এই যুক্তিতে যে এগুলো আমাদের ক্ষেত্রে মুখাপেক্ষিতা ও দুর্বলতার সাথে সংশ্লিষ্ট। একইভাবে দয়া ও অন্যান্য গুণাবলী যদি আমাদের ক্ষেত্রে অভাব ও দুর্বলতার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে আল্লাহর ক্ষেত্রে তা তেমন হওয়া জরুরি নয়।

৪- আমরা সৃষ্টিগতভাবেই জানি যে, যদি আমরা দুইজন সত্তার কল্পনা করি যার একজন অন্যের প্রতি দয়া করে, ফলে তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে এবং তার ক্ষতি দূর করে, আর অন্যজনের কাছে কল্যাণ লাভ বা ক্ষতি দূর করা সমান এবং তার মধ্যে এমন কোনো গুণ নেই যা অন্যের উপকার বা ক্ষতি দূর করার দাবি রাখে, তবে প্রথমজনই অধিকতর পূর্ণাঙ্গ।

দেখুন: মাজমু ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ ৬/১১৭-১১৮।

এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, ওই সম্প্রদায়ের সংশয় অত্যন্ত দুর্বল এবং দয়ার গুণটি যেমন দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত, তেমনি বুদ্ধি বা বিবেকের মাধ্যমেও সাব্যস্ত। আর এই হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "জমিনে এবং আকাশে" এর অর্থ হলো—যারা জমিনের উপরে আছে এবং যিনি আকাশের উপরে আছেন। কারণ এখানে "ফি" (মধ্যে) শব্দটি "আলা" (উপরে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "সুতরাং তোমরা জমিনে পরিভ্রমণ করো" (সূরা তাওবা: ২), অর্থাৎ জমিনের উপরে। এবং তাঁর বাণী: "আমি তোমাদের অবশ্যই খেজুর গাছের কাণ্ডে ক্রুশবিদ্ধ করব" (সূরা ত্বহা: ৭১), অর্থাৎ তার উপরে।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٦٨)
أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ غَيْرَ مُسَلْسَلٍ (1) عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ أَبِي عَمْرٍو الْعَدَنِيِّ

--------------------------------------------

(1) التسلسل: من نعوت الأسانيد، وهو عبارة عن تتابع رجال الإسناد، وتواردهم فيه واحدا بعد واحد على صفة أو حالة واحدة. كما في إسناد هذا الحديث.

انظر: مقدمة ابن الصلاح ص 248.
ইমাম তিরমিযী এটি 'মুসালসাল' (পরম্পরাবদ্ধ) পদ্ধতি ব্যতিরেকে (১) মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন আবু আমর আল-আদানি থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তাসালসুল: এটি সনদের বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সনদের বর্ণনাকারীদের এমন অনুক্রম এবং ধারাবাহিকভাবে একের পর এক এমনভাবে আসা যা কোনো একটি নির্দিষ্ট গুণ বা অবস্থার ওপর ভিত্তি করে হয়; যেমনটি এই হাদিসের সনদে পরিলক্ষিত হয়।

দ্রষ্টব্য: মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ, পৃষ্ঠা ২৪৮।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٦٩)
عَنْ سُفْيَانَ، وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ) (1) .

2- أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ ثَنَا (حَمَدُ) (2) بْنُ أَحْمَدَ الْحَدَّادُ، أَنْبَأَ أَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ أَنْبَأَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ فَارِسٍ، ثَنَا يُونُسُ بْنُ حَبِيبٍ، ثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، ثَنَا حَرْبُ بْنُ شَدَّادٍ وَأَبَانُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ، قَالَ: كَانَتْ لِي غَنَمٌ بَيْنَ أُحُدٍ وَالْجَوَّانِيَّةِ (3) فِيهَا جَارِيَةٌ لِي، فَأَطْلَعْتُهَا ذَاتَ يَوْمٍ فَإِذَا الذِّئْبُ ذَهَبَ مِنْهَا بَشَاةٍ وَأَنَا مِنْ بَنِي آدَمَ، (آسَفُ كَمَا يَأْسَفُونَ) (4) ، فَرَفَعْتُ يَدِي فَصَكَكْتُهَا صَكَّةً، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ (لَهُ ذَلِكَ) (5) فَعَظُمَ ذَلِكَ عَلَيَّ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَفَلَا أَعْتِقُهَا؟ قَالَ: ادْعُهَا، فَدَعَوْتُهَا. قَالَ: (فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (6) أَيْنَ اللَّهُ، قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ، قَالَ: مَنْ أَنَا، قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: اعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ. (هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ) (7) ، رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ، وَمَالِكٌ فِي مُوَطَّئِهِ، وَغَيْرُهُمَا مِنَ الأَئِمَّةِ رحمهم الله عز وجل (8)

--------------------------------------------

(1) في (م) و (ر) (وقال حديث صحيح) .

(2) في جميع النسخ عدا الأصل (أحمد) وهو خطأ، وإنما هو كما في الأصل، وهو حمد بن أحمد بن الحسن بن أحمد بن محمد بن مهران، أبو الفضل الأصبهاني الحداد. انظر: السير 19/20.

(3) الجوانية: بفتح الجيم وتشديد الواو، وكسر النون، وياء مشددة: موضع أو قرية قرب المدينة. معجم البلدان 2/175.

(4) (آسف كما يأسفون) معناه: أغضب كما يغضبون، ومن هذا قوله سبحانه: {فَلَمَّا آسَفُونَا انْتَقَمْنَا مِنْهُمْ} (الزخرف: من الآية: 55) . معالم السنن للخطابي مع المتن 1/572.

(5) في النسخ الأخرى (ذلك له) .

(6) ما بين القوسين لا يوجد في الأصل، وهو موجود في النسخ الأخرى.

(7) ما بين القوسين لا يوجد في الأصل.

(8) مسلم، كتاب المساجد، ح (537) ، 1/382.
সুফিয়ান থেকে বর্ণিত, এবং তিনি বলেন, হাদিসটি হাসান সহীহ) (১)।

২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী ইবনে আহমদ ইবনে সুলাইমান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (হামাদ) (২) ইবনে আহমদ আল-হাদ্দাদ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আহমদ ইবনে ফারিস, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবনে হাবিব, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হারব ইবনে শাদ্দাদ ও আবান ইবনে ইয়াজিদ, তারা ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি হিলাল ইবনে আবি মায়মুনা থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে হাকাম আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ওহুদ ও জাওয়ানীয়ার (৩) মধ্যবর্তী স্থানে আমার কিছু বকরি ছিল এবং সেখানে আমার একজন দাসী ছিল। একদিন আমি সেখানে গেলাম এবং দেখলাম যে একটি নেকড়ে সেখান থেকে একটি বকরি নিয়ে গেছে। আমি তো আদম সন্তান, (তারা যেমন ব্যথিত হয় আমিও তেমন ব্যথিত হই) (৪)। তাই আমি হাত তুলে তাকে একটি চড় মারলাম। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে (তাকে বিষয়টি) (৫) জানালাম। তিনি একে আমার জন্য গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি তাকে মুক্ত করে দেব না? তিনি বললেন: তাকে ডাকো। আমি তাকে ডাকলাম। তিনি বলেন: (অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন) (৬) আল্লাহ কোথায়? সে বলল: আকাশে। তিনি বললেন: আমি কে? সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে একজন মুমিন। (এটি একটি সহীহ হাদিস) (৭), মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে, মালিক তার মুওয়াত্তায় এবং ইমামদের মধ্যে আরও অনেকে এটি বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদের প্রতি রহম করুন (৮)।

--------------------------------------------

(১) (ম) এবং (র) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে (এবং তিনি বলেন হাদিসটি সহীহ)।

(২) মূল পাণ্ডুলিপি ব্যতীত সকল কপিতে (আহমদ) রয়েছে যা ভুল, বরং এটি মূল পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তা-ই হবে। তিনি হলেন হামাদ ইবনে আহমদ ইবনে হাসান ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাকরান, আবুল ফজল আল-আসফাহানি আল-হাদ্দাদ। দেখুন: আস-সিয়ার ১৯/২০।

(৩) জাওয়ানিয়্যাহ: জীমে ফাতহা, ওয়াওয়ে তাশদীদ, নূনে কাসরা এবং ইয়াতে তাশদীদ সহকারে: এটি মদিনার নিকটবর্তী একটি স্থান বা গ্রাম। মু'জামুল বুলদান ২/১৭৫।

(৪) (তারা যেমন ব্যথিত হয় আমিও তেমন ব্যথিত হই) এর অর্থ হলো: তারা যেমন রাগান্বিত হয় আমিও তেমন রাগান্বিত হই। এরই প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহর বাণী: {যখন তারা আমাকে রাগান্বিত করল, তখন আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম} (আয-যুখরুফ: আয়াত ৫৫-এর অংশ)। খাত্তাবীর মাআলিমুস সুনান মূল পাঠসহ ১/৫৭২।

(৫) অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে (তা তাকে)।

(৬) ব্র্যাকেটের ভেতরের অংশটি মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই, তবে অন্যান্য কপিতে বিদ্যমান।

(৭) ব্র্যাকেটের ভেতরের অংশটি মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৮) মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ, হা (৫৩৭), ১/৩৮২।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٧٠)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

وأبو داود في كتاب الصلاة، ح (930) ، 1/570، وابن أبي عاصم في كتاب السنة بتحقيق الألباني، ح (489) ، 1/215، والنسائي، كتاب السهو، 3/13، ومالك في الموطأ، كتاب العتق والولاء، باب ما يجوز من العتق في الرقاب الواجبة، 2/776، إلا أن مالكا قال: عن عمر بن الحكم، صوابه: معاوية، وقد وهم فيه مالك، كما قال الحافظ. انظر: التقريب 2/53. وذكره الزرقاني في شرح الموطأ 4/84. ورواه ابن أبي زمنين المالكي في أصول السنة، انظر: ح (47) ، 1/353، بتحقيق محمد هارون، وتابع مالكا في هذا الوهم أيضا. وأخرجه البيهقي في الأسماء والصفات ص 422، إلا أنه وهم، فقال: إن مسلما أخرج الحديث دون قصة الجارية.

وأحمد في المسند 5/447، وأبو داود الطيالسي ح (1105) ، وابن خزيمة في كتاب التوحيد ص 121.

التعليق:

وهكذا نرى أن الجارية بادرت فأجابت النبي صلى الله عليه وسلم بمحض الفطرة بأن الله في السماء - حين سألها أين الله؟

وكل صاحب فطرة مستقيمة لا يمكن أن يجيب على مثل هذا السؤال إلا بما أجابت به الجارية، ففي الخبر مسألتان -كما يقول الإمام الذهبي- رحمه الله: إحداهما: شرعية قول المسلم: "أين الله". وثانيهما: قول المسؤول: "في السماء" فمن أنكر هاتين المسألتين، فإنما ينكر على المصطفى صلى الله عليه وسلم. العلو ص 26.

وقال عثمان بن سعيد الدارمي: ففي حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا دليل على أن الرجل إذا لم يعلم أن الله عز وجل في السماء دون الأرض فليس بمؤمن، ولو كان عبدا فأعتق لم يجز في رقبة مؤمنة، إذ لا يعلم أن الله في السماء، ألا ترى أن رسول الله صلى الله عليه وسلم جعل أمارة إيمانها معرفتها أن الله في السماء، وفي قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أين الله؟ " تكذيب لقول من يقول: هو في كل مكان، لا يوصف بأين، لأن شيئا لا يخلو منه مكان يستحيل أن يقال: أين هو؟ ولا يقال أين؟ إلا لمن هو في مكان، يخلو منه مكان، ولو كان الأمر كما يدعي هؤلاء الزائفة لأنكر عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم قولها وعلمها، ولكنها علمت به فصدقها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وشهد لها بالإيمان بذلك، ولو كان في الأرض كما هو في السماء لم يتم إيمانها حتى تعرفه في الأرض كما عرفته في السماء. فالله تبارك وتعالى فوق عرشه فوق سماواته، بائن من خلقه، فمن لم يعرفه بذلك لم يعرف إلهه الذي يعبد، وعلمه من فوق العرش بأقصى
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

এবং আবু দাউদ 'কিতাবুস সালাত'-এ, হা (৯৩০), ১/৫৭০; এবং ইবনে আবি আসিম 'কিতাবুস সুন্নাহ'-তে আলবানীর তাহকীকসহ, হা (৪৮৯), ১/২১৫; এবং নাসায়ী 'কিতাবুস সাহু', ৩/১৩; এবং মালিক 'মুয়াত্তা'-তে 'কিতাবুল ইতক ওয়াল ওয়ালা', অনুচ্ছেদ: ওয়াজিব দাসমুক্তির ক্ষেত্রে যা জায়েয, ২/৭৭৬; তবে মালিক বলেছেন: উমর ইবনুল হাকাম থেকে, যার সঠিক রূপ হলো: মুয়াবিয়া; হাফিয যেমনটি বলেছেন, মালিক এতে ভুল করেছেন। দেখুন: আত-তাকরীব ২/৫৩। জুরকানী এটি 'শারহুল মুয়াত্তা' ৪/৮৪-এ উল্লেখ করেছেন। ইবনে আবি যামানীন আল-মালিকী এটি 'উসুলুস সুন্নাহ'-তে বর্ণনা করেছেন, দেখুন: হা (৪৭), ১/৩৫৩, মুহাম্মদ হারুনের তাহকীকসহ; এবং তিনিও এই ভুলের ক্ষেত্রে মালিকের অনুসরণ করেছেন। আল-বায়হাকী এটি 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত' পৃষ্ঠা ৪২২-এ বের করেছেন, তবে তিনি ভুল করেছেন এবং বলেছেন যে, মুসলিম হাদীসটি দাসীর ঘটনা ছাড়াই বর্ণনা করেছেন।

এবং আহমাদ 'মুসনাদ'-এ ৫/৪৪৭; আবু দাউদ আত-তায়ালিসী হা (১১০৫); এবং ইবনে খুযাইমা 'কিতাবুত তাওহীদ' পৃষ্ঠা ১২১-এ।

মন্তব্য:

এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, দাসীটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিছক ফিতরাত বা সহজাত প্রবৃত্তির ভিত্তিতেই উত্তর দিয়েছিল যে আল্লাহ আসমানে আছেন—যখন তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "আল্লাহ কোথায়?"

প্রত্যেক সঠিক ফিতরাতের অধিকারী ব্যক্তি এ জাতীয় প্রশ্নের উত্তরে দাসী যা উত্তর দিয়েছিল তা ছাড়া অন্য কিছু দেওয়া সম্ভব নয়। ইমাম যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) যেমনটি বলেছেন, এই খবরে দুটি বিষয় রয়েছে: প্রথমটি হলো: একজন মুসলিমের "আল্লাহ কোথায়?" বলা শরীয়তসম্মত হওয়া। দ্বিতীয়টি হলো: উত্তরদাতার "আসমানে" বলা। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দুটি বিষয় অস্বীকার করবে, সে মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেই অস্বীকার করবে। (আল-উলুউ, পৃষ্ঠা ২৬)।

উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীসে প্রমাণ রয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি এটি না জানে যে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যমীনে নয় বরং আসমানে আছেন, তবে সে মুমিন নয়; আর যদি সে দাস হয় এবং তাকে মুক্ত করে দেওয়া হয়, তবে মুমিন দাস হিসেবে তার মুক্তি বৈধ হবে না, যেহেতু সে জানে না যে আল্লাহ আসমানে আছেন। আপনি কি দেখছেন না যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আল্লাহকে আসমানে জানার বিষয়টিকে তার ঈমানের আলামত বা চিহ্ন সাব্যস্ত করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আল্লাহ কোথায়?" তাদের কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে যারা বলে: "তিনি সব জায়গায় আছেন, তাঁকে 'কোথায়' দিয়ে বিশেষায়িত করা যায় না।" কারণ যে সত্তা থেকে কোনো জায়গা খালি নেই, তাকে "তিনি কোথায়?" বলা অসম্ভব। "কোথায়?" কেবল তাকেই বলা যায় যিনি কোনো এক জায়গায় আছেন এবং অন্য জায়গা তাঁর থেকে খালি। বিষয়টি যদি সেই বিভ্রান্তদের দাবি অনুযায়ী হতো, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কথা ও জ্ঞানের প্রতিবাদ করতেন; কিন্তু সে তা জানত বিধায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সত্যয়ন করেছেন এবং এর মাধ্যমে তার ঈমানের সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি যদি আসমানের মতো যমীনেও থাকতেন, তবে যমীনে তাঁকে না জানা পর্যন্ত তার ঈমান পূর্ণ হতো না যেভাবে সে তাঁকে আসমানে জেনেছে। সুতরাং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁর আরশের উপর, তাঁর আসমানসমূহের উপরে, তাঁর সৃষ্টি থেকে আলাদা। যে ব্যক্তি তাঁকে সেভাবে জানল না, সে তার সেই ইলাহকে চিনল না যাঁর সে ইবাদত করে; এবং তাঁর জ্ঞান আরশের উপর থেকে দূরবর্তী...
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٧١)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

خلقه وأدناهم واحد لا يبعد عنه شيء. انتهى/ الرد على الجهمية ص 17-18.

ويقول أستاذنا الفاضل الدكتور/ محمد خليل هراس رحمه الله: هذا الحديث يتألق نصاعة ووضوحا، وهو صاعقة على رؤوس أهل التعطيل، فهذا رجل أخطأ في حق جاريته بضربها، فأراد أن يكفر عن خطيئته بعتقها، فاستمهله الرسول صلى الله عليه وسلم حتى يمتحن إيمانها، فكان السؤال الذي اختاره لهذا الامتحان هو (أين الله؟) ولما أجابت بأنه في السماء، رضي جوابها وشهد لها بالإيمان. ولو أنك قلت لمعطل: أين الله؟ لحكم عليك بالكفران. انظر: حاشية التوحيد لابن خزيمة ص 121.

ومن أنكر من المبتدعة صحة السؤال عن الله (بأين) فإنه إنما ينكر على رسول الله صلى الله عليه وسلم ويتهمه بارتكاب خطأ كبير، وهذا -كما ترى- في غاية الضلال، وهو قدح صريح واضح في عصمة رسول الله صلى الله عليه وسلم ورسالته.

وقد أعل بعض المبتدعة هذا الحديث بالاضطراب، كما فعل الكوثري حين علق على هذا الحديث في كتاب الأسماء والصفات للبيهقي، إلا أن هذا القدح غير وارد، لأنه تعسف واضح وتجن بين. وردا على هذا الزعم الباطل قال الشيخ محمد ناصر الدين الألباني: "وهذا الحديث صحيح بلا ريب، لا يشك في ذلك إلا جاهل أو مغرض من ذوي الأهواء الذين كلما جاءهم نص من رسول الله صلى الله عليه وسلم يخالف ما هم عليه من الضلال، حاولوا الخلاص منه بتأويله، بل بتعطيله، فإن لم يمكنهم ذلك حاولوا الطعن في ثبوته كهذا الحديث، فإنه مع صحة إسناده وتصحيح أئمة الحديث إياه دون خلاف بينهم أعلمه، منهم الإمام مسلم حيث أخرجه في صحيحه، وكذا أبو عوانة في مستخرجه عليه، والبيهقي في الأسماء، حيث عقبه (ص 422) وهذا صحيح قد أخرجه مسلم. ومع ذلك نرى الكوثري الهالك في تعصبه يحاول التشكيك في صحته بادعاء الاضطراب فيه، فقد علق على هذا الحديث فيما سوده على كتاب الأسماء بقوله (ص 441-442) : "انفرد عطاء بن يسار برواية حديث القوم عن معاوية بن الحكم، وقد وقع في لفظ له كما في "كتاب العلو للذهبي" ما يدل على أن حديث الرسول صلى الله عليه وسلم مع الجارية لم يكن إلا بالإشارة، وسبك الراوي ما فهم من الإشارة في لفظ اختاره (!) فلفظ عطاء الذي يدل على ما قلنا هو: (حدثني صاحب الجارية نفسه الحديث) وفيه: فمد النبي صلى الله عليه وسلم يده مستفهما: من في السماء؟ قالت: الله. قال: فمن أنا، فقالت: رسول الله، قال: اعتقها فإنها مسلمة، وهذا من الدليل على أن (أين الله) لم يكن لفظ الرسول صلى الله عليه وسلم (!) وقد فعلت الرواية بالمعنى
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

তাঁর সৃষ্টি এবং তাদের মধ্যে যারা সবচেয়ে নিকটতম, তাদের সবার ক্ষেত্রে তিনি একই রকম, কোনো কিছুই তাঁর থেকে দূরে নয়। সমাপ্ত/ আর-রদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৭-১৮।

আমাদের সম্মানিত উস্তাদ ডক্টর মুহাম্মদ খলীল হাররাস (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এই হাদীসটি অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতার সাথে উজ্জ্বল হয়ে আছে, যা আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকারকারীদের (আহলুত তা'তীল) মাথার ওপর এক বজ্রপাত স্বরূপ। এখানে একজন ব্যক্তি তাঁর দাসীকে প্রহার করে ভুল করেছিলেন, তাই তিনি তাঁর সেই ভুলের কাফফারা হিসেবে তাকে মুক্ত করে দিতে চেয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে থামিয়ে দেন যতক্ষণ না তিনি তার ঈমান পরীক্ষা করেন। এই পরীক্ষার জন্য তিনি যে প্রশ্নটি বেছে নিয়েছিলেন তা হলো: (আল্লাহ কোথায়?)। যখন সে উত্তর দিল যে তিনি আকাশে আছেন, তখন তিনি তার উত্তরে সন্তুষ্ট হলেন এবং তার ঈমানের সাক্ষ্য দিলেন। যদি আপনি একজন গুণাবলী অস্বীকারকারীকে (মুয়াত্তিল) জিজ্ঞাসা করেন যে: আল্লাহ কোথায়? তবে সে আপনার ওপর কুফরির হুকুম লাগিয়ে দেবে। দেখুন: ইবনে খুজায়মাহ-র কিতাবুত তাওহীদের টীকা, পৃষ্ঠা ১২১।

বিদআতীদের মধ্যে যারা 'কোথায়' শব্দ দিয়ে আল্লাহ সম্পর্কে প্রশ্ন করাকে অস্বীকার করে, তারা মূলত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কেই অস্বীকার করছে এবং তাঁর ওপর বড় ধরণের ভুল করার অভিযোগ তুলছে। এটি—যেমনটি আপনি দেখছেন—চরম বিভ্রান্তি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাসূম (নিষ্পাপ) হওয়া ও তাঁর রিসালাতের ওপর এক প্রকাশ্য অপবাদ।

কিছু বিদআতী এই হাদীসটিকে 'ইদতিরাব' বা গোলযোগের দোষে দুষ্ট সাব্যস্ত করার চেষ্টা করেছে, যেমনটি কাওসারী বাইহাকীর আল-আসমা ওয়াস-সিফাত গ্রন্থের ওপর তাঁর টীকায় করেছেন। তবে এই অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ এটি একটি স্পষ্ট হঠকারিতা এবং অন্যায় অপবাদ। এই বাতিল দাবির জবাবে শেখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী বলেছেন: "এই হাদীসটি নিঃসন্দেহে সহীহ; এ ব্যাপারে কেবল সেই জাহিল বা প্রবৃত্তি পূজারীই সন্দেহ করতে পারে, যাদের কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে এমন কোনো দলিল আসে যা তাদের বিভ্রান্তির বিপরীত, তখন তারা তা থেকে বাঁচার জন্য ব্যাখ্যা বা তা অকেজো করার চেষ্টা করে। যদি তারা সেটি করতে না পারে, তবে তারা হাদীসের বিশুদ্ধতার ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করে, যেমনটি এই হাদীসের ক্ষেত্রে করা হয়েছে। অথচ এর সনদ সহীহ এবং হাদীস বিশারদ ইমামগণ এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে একমত ছিলেন বলেই আমি জানি। তাঁদের মধ্যে ইমাম মুসলিম এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন, আবু আওয়ানা তাঁর মুস্তাখরাজে এবং বাইহাকী তাঁর আল-আসমা গ্রন্থে তা উল্লেখ করেছেন। বাইহাকী (পৃষ্ঠা ৪২২) এর শেষে বলেছেন: এটি সহীহ এবং মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। তা সত্ত্বেও আমরা দেখি যে, কাওসারী তার গোঁড়ামিতে অন্ধ হয়ে এতে গোলযোগের দাবি করে এর বিশুদ্ধতা নিয়ে সন্দেহ তৈরির চেষ্টা করছেন। তিনি আল-আসমা কিতাবের ওপর লিখিত তাঁর টীকায় (পৃষ্ঠা ৪৪১-৪৪২) বলেছেন: "আতা ইবন ইয়াসার একাই মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। যাহাবীর কিতাবুল উলু-তে এর শব্দে এমন কিছু পাওয়া যায় যা প্রমাণ করে যে, দাসীর সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথোপকথন কেবল ইশারার মাধ্যমেই ছিল এবং বর্ণনাকারী ইশারা থেকে যা বুঝেছেন তা নিজের শব্দে বর্ণনা করেছেন (!) আতা-র যে বক্তব্য আমাদের এই কথার প্রমাণ দেয় তা হলো: (দাসীর মালিক নিজে আমার কাছে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন), তাতে আছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রশ্নসূচকভাবে তাঁর আল্লাহর হাত প্রসারিত করলেন: আকাশে কে আছে? সে বলল: আল্লাহ। তিনি বললেন: আমি কে? সে বলল: আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: একে মুক্ত করে দাও, কারণ সে মুমিন। এটি প্রমাণ করে যে, 'আল্লাহ কোথায়' শব্দটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুখের শব্দ ছিল না (!) এবং এখানে অর্থগত বর্ণনা করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٧٢)
3 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ (1) ، أَثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ زَكَرِيَّا

--------------------------------------------

في الحديث ما نراه من الاضطراب".

كذا قال، وأنت إذا تذكرت ما بيناه لك من صحة الحديث، وإذا علمت أن حديث عطاء عن صاحب الجارية نفسه لا يصح من قبل إسناده، لأنه من رواية سعيد بن زيد، فهو وإن كان في نفسه صدوقا، فليس قوي الحفظ، ولذلك ضعفه جمع، بل كان يحيى بن سعيد يضعفه جدا، وقد أشار الحافظ في "التقريب" إلى هذا فقال: "صدوق له أوهام" زد على هذا أن ما جاء في روايته من ذكر اليد والاستفهام هو مما تفرد به دون كل من روى هذا الحديث من الرواة الحفاظ ومن دونهم، فتفرده بذلك يعده أهل العلم بالحديث منكرا بلا ريب. فتأمل عصمني الله وإياك من الهوى، كيف اعتمد هذا الرجل (الكوثري) على هذه الرواية المنكرة، وليس هذا فقط، بل ضرب بها الرواية الثابتة المتفق على صحتها بين المحدثين. واعتبر الرواية المنكرة دليلا على ضعف واضطراب الرواية الصحيحة، فماذا يقول المؤمن عن هذا الرجل الذي يستغل علمه واطلاعه لتشكيك المسلمين في أحاديث نبيهم صلى الله عليه وسلم؟ عامله الله بما يستحق، ثم إنه لم يكتف بهذا بل أخذ ينسب إلى الراوي (وهو ثقة أيا كان هذا الراوي لأن كل رواة الحديث ثقات) أخذ ينسب إليه الكذب على رسول الله (وهو يعلم، لأن معنى كلامه السابق أن الراوي اختار أن ينسب إلى النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال للجارية: "أين الله" والواقع عند الكوثري أنه صلى الله عليه وسلم لم يقل ذلك، وإنما الراوي وضعه من عنده مكان رواية سعيد بن زيد "فمد النبي صلى الله عليه وسلم يده إليها مستفهما": من في السماء؟ انتهى كلام الألباني. مختصر العلو ص 82.

أقول: لقد تجرأ الكوثري كثيرا وأطلق لنفسه العنان في شتم أئمة أهل السنة وكتبهم، ورواة الحديث، والطعن عليهم، وتجريحهم حتى لكأنه لا يستريح له بال، ولا يقر له قرار إلا إذا نال منهم بالافتراءات الظالمة، والاتهامات الملفقة. وإذا أردت -أخي القارئ- مزيدا من الأدلة والإيضاح فعليك بمراجعة الدراسة التي قمت بوضعها -بالاشتراك- لكتاب الصواعق المنزلة لابن القيم، فسترى أن الكوثري قد أفرط في هذا الاتجاه الخطير حتى أصبح يعرف بأنه من أكثر المبتدعة عداء لأئمة الإسلام وعقيدة المسلمين. وسترى أن نعته بالإمامة -الذي منحه إياه أتباعه- إنما هو من باب إعطاء من لا يملك لمن لا يستحق. والله المستعان.

(1) في النسخ الأخرى "أبو بكر بن النقور". وهو أبو بكر بن النقور عبد الله بن محمد بن أبي =
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ (১), আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে যাকারিয়া।

--------------------------------------------

"হাদীসটিতে আমরা যা দেখছি তা হলো ইজতিরাব (অসংলগ্নতা)।"

তিনি এরূপই বলেছেন। আর আপনি যদি আমাদের বর্ণিত হাদীসের বিশুদ্ধতার বিষয়টি স্মরণ করেন এবং যদি জানেন যে, দাসীর মালিকের পক্ষ থেকে আতার বর্ণিত হাদীসটি তার সনদের দিক থেকে সহীহ নয়; কারণ এটি সাঈদ ইবনে যায়েদের বর্ণনা। তিনি নিজে সত্যবাদী হলেও তার মুখস্থ শক্তি প্রখর ছিল না। এ কারণেই একদল (মুহাদ্দিস) তাকে দুর্বল বলেছেন, এমনকি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ তাকে অত্যন্ত দুর্বল বলতেন। হাফেজ (ইবনে হাজার) 'তাকরীব' গ্রন্থে এ দিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেন: "সত্যবাদী, তবে তার ভ্রম হয়।" এর সাথে আরও যোগ করুন যে, তার বর্ণনায় হাতের উল্লেখ এবং প্রশ্ন করার বিষয়টি এমন একটি বিষয় যা তিনি একাই বর্ণনা করেছেন, যা এই হাদীসের অন্য সকল হাফেজ রাবী বা অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। সুতরাং তার এই একক বর্ণনাকে হাদীস বিশারদগণ নিঃসন্দেহে মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) গণ্য করেন। সুতরাং চিন্তা করুন—আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে কুপ্রবৃত্তি থেকে রক্ষা করুন—কীভাবে এই ব্যক্তি (কাওসারী) এই মুনকার বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছেন! শুধু তাই নয়, বরং তিনি এর মাধ্যমে মুহাদ্দিসগণের নিকট সর্বসম্মতভাবে সহীহ ও প্রমাণিত বর্ণনাকে আঘাত করেছেন। তিনি এই মুনকার বর্ণনাটিকে সহীহ বর্ণনার দুর্বলতা ও অসংলগ্নতার দলিল হিসেবে গণ্য করেছেন। সেই ব্যক্তি সম্পর্কে একজন মুমিন কী বলতে পারে, যে তার জ্ঞান ও জানাশোনাকে মুসলমানদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসসমূহের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করতে ব্যবহার করে? আল্লাহ তার সাথে সেরূপ আচরণ করুন যার সে যোগ্য। অতঃপর সে এতেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং সে রাবীর প্রতি (যিনি নির্ভরযোগ্য, কারণ এই হাদীসের সকল রাবীই নির্ভরযোগ্য) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর মিথ্যারোপের অপবাদ দিতে শুরু করেছে (অথচ সে জানে, কারণ তার পূর্বোক্ত কথার অর্থ হলো রাবী নিজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে এ কথা সম্বন্ধ করার জন্য বেছে নিয়েছেন যে তিনি দাসীকে জিজ্ঞেস করেছেন: "আল্লাহ কোথায়?", অথচ কাওসারীর নিকট বাস্তবতা হলো তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা বলেননি। বরং রাবী সাঈদ ইবনে যায়েদের বর্ণনার স্থলে নিজের পক্ষ থেকে তা ঢুকিয়ে দিয়েছেন: "অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসু হয়ে তাঁর হাত তাঁর দিকে প্রসারিত করলেন: আকাশে কে আছে?")। আলবানীর বক্তব্য সমাপ্ত। মুখতাসারুল উলু, পৃষ্ঠা ৮২।

আমি (লেখক) বলছি: কাওসারী অত্যন্ত দুঃসাহস দেখিয়েছেন এবং আহলে সুন্নাতের ইমামগণ, তাঁদের কিতাবসমূহ এবং হাদীসের রাবীদের গালিগালাজ, তাঁদের ওপর আক্রমণ ও দোষারোপ করার ক্ষেত্রে নিজের লাগাম ছেড়ে দিয়েছেন। মনে হয় যেন তিনি ততক্ষণ শান্তি পান না বা স্থির হতে পারেন না, যতক্ষণ না তাঁদের বিরুদ্ধে যুলুমপূর্ণ অপবাদ ও সাজানো অভিযোগ উত্থাপন করেন। হে পাঠক ভাই, আপনি যদি এ বিষয়ে আরও প্রমাণ ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান, তবে ইবনুল কায়্যিমের 'আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ' কিতাবের ওপর আমার (যৌথভাবে) করা গবেষণাটি দেখে নিন। সেখানে আপনি দেখতে পাবেন যে, কাওসারী এই বিপজ্জনক পথে এতটাই বাড়াবাড়ি করেছেন যে তিনি ইসলামের ইমামগণ এবং মুসলমানদের আকিদার ঘোরতর শত্রুদের একজন বিদআতী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। আপনি আরও দেখতে পাবেন যে, তাকে 'ইমাম' উপাধি দেওয়া—যা তার অনুসারীরা তাকে দিয়েছে—তা হলো এমন ব্যক্তিকে কিছু দেওয়া যে তার যোগ্য নয়। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

(১) অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে "আবু বকর ইবনুন নাক্কুর" রয়েছে। তিনি হলেন আবু বকর ইবনুন নাক্কুর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি...
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٧٣)
الطُّرَيْثِيثِيُّ) (1) ، أَثَنَا (أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ الطَّبَرِيُّ) (2) أَيِ اللَّالَكَائِيُّ أَنَبَأَ أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ أَنَبَأَ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُبَشِّرٍ أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، ثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ثَنَا الْمَسْعُودِيُّ (3) ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَخِيهِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ (عُتْبَةَ) (4) (عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ) (5) أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِجَارِيَةٍ سَوْدَاءَ أَعْجَمِيَّةٍ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ عَلَيَّ (عِتْقَ) (6) رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ، فَقَالَ لَهَا رَسُولُ

--------------------------------------------

= الحسين أحمد بن محمد البغدادي البزاز ثقة محدث توفي سنة (565) انظر شذرات الذهب 4 / 215

(1) في النسخ الأخرى (أبو بكر الطريثيثي) .

وهو أحمد بن علي بن زكريا الطريثيثي، شيخ الصوفية بخرسان، توفي سنة (497) . طبقات الشافعية للسبكي 4/39.

قال ابن الأثير: الطريثيثي، بضم الطاء وفتح الراء وسكون الياء المثناة هذه النسبة إلى "طريثيث" وهي ناحية كبيرة من نواحي نيسابور. انظر: اللباب 2/281.

(2) في بقية النسخ (أبو القاسم الطبري) .

(3) المسعودي: هو عبد الرحمن بن عبد الله بن عتبة بن عبد الله بن مسعود، الكوفي الهذلي، المسعودي. قال أحمد بن حنبل ويحيى بن معين: "ثقة"، وقال علي بن المديني: ثقة وقد كان يغلط فيما روى عن عاصم بن بهدلة وعن سلمة. وقال محمد بن عبد الله بن نمير: المسعودي ثقة اختلط بآخره، توفي سنة (160) .

سير أعلام النبلاء 7/93، والتهذيب 6/210.

(4) في بقية النسخ (عبيد) وهو خطأ.

(5) (عن أبي هريرة) لا يوجد في غير الأصل.

وما في النسخ الأخرى من إرسال موافق لما عند الإمام مالك في الموطأ، وعلق عليه محمد فؤاد عبد الباقي بقوله: قال ابن عبد البر: ظاهره الإرسال، لكنه محمول على الاتصال، للقاء عبيد الله جماعة من الصحابة. قال الزرقاني: وفيه نظر. إذ لو كان كذلك ما وجد مرسل قط. فلعله أراد للقاء عبيد الله جماعة من الصحابة الذين رووا الحديث. قلت: وقد ذكر الحافظ المزي ثلاثة عشر حديثا مما رواه عبيد الله عن أبي هريرة، وبعضها في الصحيح. انظر: تحفة الأشراف 10/241-244.

(6) (عتق) لا توجد في النسخ الأخرى.
আল-তুরাইথীসি) (১), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে আল-হাসান আল-তাবারী) (২) অর্থাৎ আল-লালাকায়ী, আহমাদ ইবনে উবাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুবাশশির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে সিনান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াসিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মাসউদী (৩) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আওন ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর ভাই উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে (উতবাহ) (৪) থেকে, (আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে) (৫) বর্ণিত যে, একজন লোক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট একজন অনারব কৃষ্ণাঙ্গ দাসীকে নিয়ে এলেন। এরপর তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার ওপর একজন মুমিন দাস (মুক্ত করার) (৬) দায়িত্ব রয়েছে। তখন আল্লাহর রাসূল তাকে বললেন

--------------------------------------------

= আল-হুসাইন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগদাদী আল-বাযযায; তিনি নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস, তিনি (৫৬৫) হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: শাযারাতুয যাহাব ৪/২১৫।

(১) অন্যান্য কপিতে আছে (আবু বকর আল-তুরাইথীসি)।

তিনি হলেন আহমাদ ইবনে আলী ইবনে যাকারিয়া আল-তুরাইথীসি, খোরাসানের সূফী শাইখ, তিনি (৪৯৭) হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। আল-সুবকী কৃত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ৪/৩৯।

ইবনুল আসীর বলেন: আল-তুরাইথীসি (ত্ব-তে পেশ, রা-তে যবর এবং ইয়া-তে সুকুন যোগে), এটি 'তুরাইথীস'-এর সাথে সম্পর্কিত একটি নিসবত, যা নিশাপুরের একটি বড় অঞ্চল। দেখুন: আল-লুবাব ২/২৮১।

(২) বাকি কপিগুলোতে আছে (আবু কাসিম আল-তাবারী)।

(৩) আল-মাসউদী: তিনি হলেন আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আল-কুফী আল-হুযালী, আল-মাসউদী। আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য", এবং আলী ইবনুল মাদীনী বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য তবে আসিম ইবনে বাহদালাহ এবং সালামাহ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি ভুল করতেন। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর বলেছেন: আল-মাসউদী নির্ভরযোগ্য ছিলেন তবে শেষ বয়সে তাঁর স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছিল; তিনি (১৬০) হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

সিয়ারু আলামিন নুবালা ৭/৯৩ এবং আত-তাহযীব ৬/২১০।

(৪) বাকি কপিগুলোতে আছে (উবাইদ), যা একটি ভুল।

(৫) (আবু হুরাইরা থেকে) অংশটি মূল পাণ্ডুলিপি ছাড়া অন্যগুলোতে নেই।

অন্যান্য কপিতে মুরসাল হিসেবে থাকা বর্ণনাটি ইমাম মালিকের মুওয়াত্তার বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: এর বাহ্যিক রূপ মুরসাল, তবে এটি মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হিসেবে গণ্য হবে, কারণ উবাইদুল্লাহ একদল সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন। যুরকানী বলেছেন: এতে আপত্তির সুযোগ আছে, কেননা যদি বিষয়টি এমনই হতো তবে কোনো হাদিসই কখনো মুরসাল হতো না। সম্ভবত তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, উবাইদুল্লাহ একদল সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছেন যারা এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আমি (সম্পাদক) বলছি: হাফেজ আল-মিযযী তেরোটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যা উবাইদুল্লাহ আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার কিছু সহীহ গ্রন্থেও রয়েছে। দেখুন: তুহফাতুল আশরাফ ১০/২৪১-২৪৪।

(৬) (মুক্ত করা) শব্দটি অন্যান্য কপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٧٤)
اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَيْنَ اللَّهُ؟ فَأَشَارَتْ بِأُصْبُعِهَا السَّبَّابَةِ إِلَى السَّمَاءِ، فَقَالَ لَهَا: مَنْ أَنَا؟ فَأَشَارَتْ بِأُصْبُعِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِلَى السَّمَاءِ، أَيْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ. فَقَالَ: اعْتِقْهَا. أَخْرَجَهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ وَالْقَاضِي الْبَرْقِيُّ فِي مُسْنَدَيْهِمَا (1) .

4- أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُظَفَّرِ أَحْمَدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَمْدِيٍّ (بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ) (2) أَنْبَأَ الْقَاضِي أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ، أَنْبَأَ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبُ، أَنْبَأَ (الْقَاسِمُ بْنُ جَعْفَرٍ) (3) أَنْبَأَ أَبُو عَلِيٍّ اللُّؤْلُؤِيُّ، أَنْبَأَ أَبُو دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيُّ، ثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ الرَّمْلِيُّ، ثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ زِيَادَةَ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ، عَنْ فُضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "مَنِ اشْتَكَى مِنْكُمْ، أَوِ اشْتَكَى أَخٌ لَهُ فَلْيَقُلْ: رَبَّنَا الله الَّذِي فِي السَّمَاءِ، تَقَدَّسَ اسْمُكَ، أَمْرُكَ فِي السَّمَاءِ

--------------------------------------------

(1) رواه مالك في الموطأ، كتاب العتق والولاء 2/777.

وأحمد في المسند 3/450، وابن خزيمة في كتاب التوحيد ص 123. والذهبي في العلو ص 17، وقال: حديث حسن، وتعقبه الشيخ الألباني قائلا: في إسناده المسعودي واسمه عبد الرحمن بن عبد الله بن عتبة بن مسعود الكوفي، وكان اختلط، وهذا رواه في الاختلاط، لأنه من رواية يزيد بن هارون عنه، فقد قال ابن نمير: كان ثقة واختلط بآخره، سمع منه ابن مهدي ويزيد بن هارون أحاديث مختلطة. فقول الذهبي في (الأصل) إسناده حسن، غير حسن. انظر: مختصر العلو ص81.

قلت: على فرض صحة هذه الرواية فإنها غير حديث معاوية بن الحكم السلمي السابق. وهي وأمثالها شواهد لا بأس بها. وثبوت حديث معاوية أمر واضح وجلي، وفي كل هذه الأحاديث، يمتحن النبي صلى الله عليه وسلم إيمان هؤلاء الجواري بسؤاله لهن: "أين الله؟ ". أفلا يستحي هؤلاء المعطلة من مخالفة الرسول صلى الله عليه وسلم في ذلك، فهم لا يصفون الله تعالى إلا بما يدل على عدمه لا على وجوده حين ينفون عنه العلو والاستواء.

(2) لا توجد في الأصل.

(3) في (م) (أبو القاسم) وهو خطأ، وإنما هو أبو عمر القاسم بن جعفر بن عبد الواحد الهامشي، توفي سنة 414هـ. انظر: تذكرة الحفاظ 3/1135.
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: আল্লাহ কোথায়? তখন তিনি তাঁর তর্জনী আঙুল দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করলেন। তিনি তাঁকে বললেন: আমি কে? তখন তিনি তাঁর আঙুল দিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে এবং আকাশের দিকে ইশারা করলেন, অর্থাৎ: আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: তাকে মুক্ত করে দাও। ইমাম আহমাদ এবং কাজী বারকী তাঁদের মুসনাদদ্বয়ে এটি বর্ণনা করেছেন।

৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মুজাফফর আহমাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হামদি (তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে), তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবুল হুসাইন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খতিব, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (আল-কাসিম বিন জাফর), তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-লুলুয়ি, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন খালিদ আর-রামলি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস বিন সা’দ, জিয়াদাহ বিন মুহাম্মাদ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন কাব আল-কুরাজি থেকে, তিনি ফুদalah বিন উবায়েদ থেকে, তিনি আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অসুস্থ হয়, অথবা তার কোনো ভাই অসুস্থ হয়, তবে সে যেন বলে: আমাদের রব আল্লাহ, যিনি আকাশে আছেন, আপনার নাম পবিত্র হোক, আপনার আদেশ আকাশে...

--------------------------------------------

(১) মালিক এটি মুয়াত্তায় বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল ইতক ওয়াল ওয়ালা ২/৭৭৭।

এবং আহমাদ মুসনাদে ৩/৪৫০, এবং ইবনে খুজাইমা কিতাবুত তাওহীদে পৃ. ১২৩। যাহাবি আল-উলুউ গ্রন্থে পৃ. ১৭-তে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদিসটি হাসান। তবে শাইখ আলবানি এর সমালোচনা করে বলেছেন: এর সনদে মাসউদি রয়েছেন, যার নাম আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা বিন মাসউদ আল-কুফি, তিনি শেষ জীবনে বিভ্রান্ত (স্মৃতিভ্রম) হয়ে পড়েছিলেন। আর এটি তাঁর বিভ্রান্তিকালীন বর্ণনা, কারণ এটি ইয়াজিদ বিন হারুন তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে নুমাইর বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন কিন্তু শেষ দিকে বিভ্রান্ত হয়ে যান; ইবনে মাহদি ও ইয়াজিদ বিন হারুন তাঁর থেকে বিভ্রান্তিকর হাদিস শুনেছেন। সুতরাং (মূল গ্রন্থে) যাহাবির 'সনদ হাসান' বলাটি সঠিক নয়। দেখুন: মুখতাসারুল উলুউ পৃ. ৮১।

আমি বলি: এই বর্ণনাটি সঠিক ধরে নিলেও এটি মুয়াবিয়া বিন হাকাম আস-সুলামির পূর্ববর্তী হাদিস থেকে ভিন্ন। তবে এটি ও এর সদৃশ বর্ণনাগুলো উত্তম সমর্থনকারী দলিল। মুয়াবিয়ার হাদিসটি প্রমাণিত হওয়া একটি অত্যন্ত স্পষ্ট বিষয়। এই সকল হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দাসীদের ঈমান পরীক্ষা করেছেন তাদের এই প্রশ্ন করার মাধ্যমে যে: "আল্লাহ কোথায়?"। এই মুয়াত্তিলাগণ (আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকারকারী) কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরোধিতা করতে লজ্জা পায় না? তারা আল্লাহ তাআলার এমন বর্ণনা দেয় যা তাঁর অনস্তিত্ব নির্দেশ করে, তাঁর অস্তিত্ব নয়; যখন তারা আল্লাহর উচ্চমর্যাদা (উলুউ) এবং আরশের উপর উঠে আসা (ইস্তিওয়া) অস্বীকার করে।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৩) (ম) পাণ্ডুলিপিতে (আবু আল-কাসিম) রয়েছে যা ভুল, মূলত তিনি হলেন আবু উমর আল-কাসিম বিন জাফর বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাশেমি, মৃত্যু ৪১৪ হিজরি। দেখুন: তাজকিরাতুল হুফফাজ ৩/১১৩৫।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٧٥)
وَالأَرْضِ، كَمَا رَحْمَتُكَ فِي السَّمَاءِ" (1) ، اغْفِرْ لَنَا (حَوْبَنَا) (2) وَخَطَايَانَا، أَنْتَ رَبُّ الطِّيِّبِينَ، أَنْزِلْ (3) رَحْمَةً مِنْ رَحْمَتِكَ، وَشِفَاءً مِنْ شِفَائِكَ عَلَى (4) الْوَجَعِ فَيَبْرَأَ". أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ فِي سُنَنِهِ (5) .

5- أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ (مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ) (6) أَنْبَأَ (أَبُو الْفَضْلِ) (7) أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ خَيْرُونَ، أَنْبَأَ أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ (8) ، أَنْبَأَ أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحْمُدِ زِيَادٍ الْقَطَّانُ (9) أَنْبَأَ أَبُو يَحْيَى عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ الْهَيْثَمِ (بْنِ زِيَادٍ) (10) الديرعاقولي ثَنَا رَجَاءُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَصْرِيُّ، ثَنَا عِمْرَانُ بْنُ خَالِدِ بْنِ طَلِيقٍ (11) حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ:

--------------------------------------------

(1) في (هـ) و (ر) زيادة (والأرض) .

(2) قال الخطابي: الحوب: الإثم، ومنه قوله تعالى: {إِنَّهُ كَانَ حُوباً كَبِيراً} (النساء: من الآية: 2) . والحوبة أيضا مفتوحة الحاء مع إدخال الهاء.

انظر: معالم السنن بحاشية سنن أبي داود 4/218.

(3) في (هـ) و (ر) (أنزل علينا) .

(4) في (هـ) و (ر) (على هذا) .

(5) انظر: سنن أبي داود، كتاب الطب، باب كيف الرقى، ح (3892) ، 4/218، وأخرجه أيضا أحمد في المسند 6/21، والدارمي في الرد على الجهمية ص 18، والبيهقي في الأسماء والصفات ص 533، والذهبي في العلو ص 27، واللالكائي في شرح أصول اعتقاد أهل السنة، ح (648) ، 2/389، وفي إسناده زياد بن محمد الأنصاري، قال الذهبي في العلو: لين الحديث. وقال البخاري والنسائي وأبو حاتم: منكر الحديث. وقال ابن حبان: منكر الحديث جدا، يروي المناكير عن المشاهير فاستحق الترك. انظر: التهذيب لابن حجر 3/393.

(6) هكذا ورد الاسم كاملا في الأصل، وفي بقية النسخ (محمد بن عبد الباقي) فقط.

(7) (أبو الفضل) لا يوجد في النسخ الأخرى.

(8) في النسخ الأخرى (أبو علي بن شاذان) فقط.

(9) ورد الاسم كاملا في الأصل. وفي بقية (أبو سهل بن زيا) فقط.

(10) (بن زياد) لا يوجد في غير الأصل.

(11) هو عمران بن خالد بن طليق بن محمد بن عمران بن حصين.
এবং জমিনে, যেমন আপনার রহমত আকাশে। আমাদের (গুনাহ) ও ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমা করুন। আপনি পবিত্রদের প্রতিপালক। আপনার রহমত থেকে একটি রহমত এবং আপনার শেফা থেকে একটি শেফা এই ব্যথার উপর অবতীর্ণ করুন, যাতে তা নিরাময় হয়।" এটি আবু দাউদ তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন।

৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ (মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি ইবনে আহমাদ ইবনে সুলাইমান), তিনি সংবাদ দিয়েছেন (আবুল ফাদল) আহমাদ ইবনে হাসান ইবনে খাইরুন, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী হাসান ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে শাযান, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু সাহল আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ যিয়াদ আল-কাত্তান, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াহইয়া আব্দুল কারিম ইবনে হাইসাম (ইবনে যিয়াদ) আদ-দাইরাকুলি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন রাজা ইবনে মুহাম্মদ আল-বসরি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইমরান ইবনে খালিদ ইবনে তালিদ, আমার নিকট আমার পিতা তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) (হ) এবং (র) পাণ্ডুলিপিতে (এবং জমিন) অতিরিক্ত রয়েছে।

(২) খাত্তাবি বলেন: আল-হুব অর্থ পাপ। এর থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় এটি ছিল বড় পাপ} (আন-নিসা: ২ আয়াতের অংশ)। আল-হুবাহ শব্দটিও হা-বর্ণের যবর যোগে এবং শেষে গোল-তা যুক্ত করে ব্যবহৃত হয়।

দেখুন: মাআলিমুস সুনান, যা সুনানে আবু দাউদের পাদটীকায় রয়েছে ৪/২১৮।

(৩) (হ) এবং (র) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে (আমাদের ওপর অবতীর্ণ করুন)।

(৪) (হ) এবং (র) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে (এর ওপর)।

(৫) দেখুন: সুনানে আবু দাউদ, চিকিৎসা অধ্যায়, ঝাড়ফুঁক করার নিয়ম পরিচ্ছেদ, হা (৩৮৯২), ৪/২১৮। এছাড়া এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ মুসনাদে ৬/২১, দারেমি 'আল-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' গ্রন্থে পৃষ্ঠা ১৮, বায়হাকি 'আল-আসমা ওয়াস সিফাত' গ্রন্থে পৃষ্ঠা ৫৩৩, জাহাবি 'আল-উলু' গ্রন্থে পৃষ্ঠা ২৭, লালকায়ি 'শারহু উসুল ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ' গ্রন্থে হা (৬৪৮), ২/৩৮৯। এর সনদে জিয়াদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারি রয়েছে। জাহাবি 'আল-উলু' গ্রন্থে বলেছেন: হাদীস বর্ণনায় দুর্বল। বুখারি, নাসাঈ এবং আবু হাতেম বলেছেন: তিনি মুনকারুল হাদীস। ইবনে হিব্বান বলেছেন: চরম মুনকারুল হাদীস, তিনি প্রসিদ্ধদের বরাতে মুনকার বিষয়াদি বর্ণনা করেন, তাই তিনি পরিত্যাজ্য হওয়ার যোগ্য। দেখুন: ইবনে হাজারের 'আত-তাহজিব' ৩/৩৯৩।

(৬) মূলে এভাবে নামটি পূর্ণাঙ্গভাবে এসেছে, অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে কেবল (মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি) রয়েছে।

(৭) (আবুল ফাদল) অংশটুকু অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৮) অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে কেবল (আবু আলী ইবনে শাযান) রয়েছে।

(৯) মূলে নামটি পূর্ণাঙ্গভাবে এসেছে। অন্যান্য কপিতে কেবল (আবু সাহল ইবনে যিয়া) রয়েছে।

(১০) (ইবনে যিয়াদ) অংশটুকু মূল পাণ্ডুলিপি ছাড়া অন্য কোথাও নেই।

(১১) তিনি হলেন ইমরান ইবনে খালিদ ইবনে তালিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইমরান ইবনে হুসাইন।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٧٦)
اخْتَلَفَتْ قُرَيْشٌ إِلَى الْحُصَيْنِ أبي عِمْرَانَ، فَقَالُوا: إِنَّ هَذَا الرَّجُلَ يَذْكُرُ آلِهَتَنَا، فَنَحْنُ نُحِبُّ أَنْ تُكَلِّمَهُ وَتَعِظَهُ، فَمَشَوْا مَعَهُ إِلَى قَرِيبٍ مِنْ بَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: فَجَلَسُوا وَدَخَلَ حُصَيْنٌ، فَلَمَّا رَآهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: أَوْسِعُوا لِلشَّيْخِ، فَأَوْسَعُوا لَهُ، وَعِمْرَانُ وَأَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُتَوَافِرُونَ، فَقَالَ حُصَيْنٌ: مَا هَذَا الَّذِي يَبْلُغُنَا عَنْكَ أَنَّكَ تَشْتِمُ آلِهَتَنَا وَتَذْكُرُهُمْ، وَقَدْ كَانَ أَبُوكَ جَفْنَةً وَخُبْزًا (1) . فَقَالَ: (إِنَّ أَبِي وَأَبَاكَ فِي النَّارِ) (2) ، يَا حُصَيْنُ كَمْ إِلَهًا تَعْبُدُ الْيَوْمَ؟ قَالَ: سَبْعَةً فِي الأَرْضِ وَإِلَهًا فِي السَّمَاءِ. قَالَ: فَإِذَا أَصَابَكَ الضِّيقُ فَمَنْ تَدْعُو؟ قَالَ: الَّذِي فِي السَّمَاءِ، قَالَ: فَإِذَا هَلَكَ الْمَالُ فَمَنْ تَدْعُو؟ قَالَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ. قَالَ: فَيَسْتَجِيبُ لَكَ وَحْدَهُ وَتُشْرِكُهُمْ مَعَهُ؟! قَالَ: أَمَا (رَضِيتَهُ) (3) أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا، أَوَ تَخَافُ أَنْ يُغْلَبَ عَلَيْكَ؟ قَالَ: لَا وَاحِدَةً مِنْ هَاتَيْنِ، وَعَرَفْتُ أَنِّي لَمْ أُكَلِّمْ مِثْلَهُ. فَقَالَ: يَا حُصَيْنُ، أَسْلِمْ تَسْلَمْ، قَالَ: إِنَّ لِي قَوْمًا (وَعَشِيرَةً) (4) فَمَاذَا أَقُولُ لَهُمْ؟ قَالَ: قُلِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَهْدِيكَ لأَرْشَدِ أَمْرِي، وَأَسْتَجِيرُكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، عَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي، وَانْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي، وَزِدْنِي عِلْمًا يَنْفَعُنِي، فَقَالَهَا، فَلَمْ يَقُمْ حَتَّى أَسْلَمَ، فَوَثَبَ عِمْرَانُ فَقَبَّلَ رَأْسَهُ وَيَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ، فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَكَى، فَقِيلَ لَهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ: مِمَّا صَنَعَ عِمْرَانُ، دَخَلَ حُصَيْنٌ وَهُوَ مُشْرِكٌ فَلَمْ يَقُمْ إِلَيْهِ وَلَمْ يَلْتَفِتْ إِلَى نَاحِيَتِهِ، فَلَمَّا أَسْلَمَ قَضَى حَقَّهُ، فَدَخَلَنِي مِنْ ذَلِكَ رِقَّةٌ، فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَنْصَرِفَ حُصَيْنٌ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: قُومُوا فَشَيِّعُوهُ إِلَى مَنْزِلِهِ، فَلَمَّا خَرَجَ مِنْ سُدَّةِ الْبَابِ (5)

--------------------------------------------

(1) الجفنة: الرجل الكريم، كانت العرب تدعو السيد المطعام "جفنة" لأنه يضعها -أي يضع الجفنة، وهي القصعة العظيمة- ويطعم الناس فيها، فسمي باسمها. انظر: لسان العرب، مادة "جفن".

(2) ما بين القوسين لا يوجد في النسخ الأخرى.

(3) في (م) (رضيت) .

(4) كلمة (وعشيرة) لا توجد في (م) .

(5) سدة الباب، بضم السين فناؤه. انظر: لسان العرب، مادة "سدد".
কুরাইশরা আবু ইমরান হুসাইনের নিকট যাতায়াত করতে লাগল এবং বলল: "নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি আমাদের উপাস্যদের সম্পর্কে সমালোচনা করেন, তাই আমরা চাই আপনি তাঁর সাথে কথা বলুন এবং তাঁকে উপদেশ দিন।" অতঃপর তারা তাঁর সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরজার নিকট পর্যন্ত হেঁটে গেল। তারা সেখানে বসে পড়ল এবং হুসাইন ভেতরে প্রবেশ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে দেখলেন তখন বললেন: "শায়খের জন্য জায়গা প্রশস্ত করে দাও।" তারা তাঁর জন্য জায়গা করে দিল। তখন ইমরান এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন। হুসাইন বললেন: "আপনার ব্যাপারে আমাদের নিকট কী সব সংবাদ পৌঁছাচ্ছে যে, আপনি আমাদের উপাস্যদের গালি দেন এবং তাদের সমালোচনা করেন? অথচ আপনার পিতা ছিলেন অত্যন্ত দানশীল এবং অন্নদানকারী ব্যক্তি (১)।" তিনি বললেন: "(নিশ্চয়ই আমার পিতা এবং আপনার পিতা জাহান্নামে) (২)। হে হুসাইন! আজ আপনি কতজন উপাস্যের ইবাদত করেন?" তিনি বললেন: "সাতজন জমিনে এবং একজন আসমানে।" তিনি বললেন: "তবে যখন আপনি বিপদে পড়েন তখন কাকে ডাকেন?" তিনি বললেন: "যিনি আসমানে আছেন তাঁকে।" তিনি বললেন: "যখন ধন-সম্পদ বিনষ্ট হয় তখন কাকে ডাকেন?" তিনি বললেন: "যিনি আসমানে আছেন তাঁকে।" তিনি বললেন: "তবে কি কেবল তিনিই আপনার ডাকে সাড়া দেন, আর আপনি অন্যদের তাঁর সাথে অংশীদার করেন?! আপনি কি তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন (৩) নাকি আপনার আশঙ্কা হয় যে তিনি আপনার ওপর বিজয়ী হবেন?" তিনি বললেন: "এর কোনটিই নয়। আমি বুঝতে পেরেছি যে, আমি ইতিপূর্বে তাঁর ন্যায় কারো সাথে কথা বলিনি।" তিনি বললেন: "হে হুসাইন! ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন।" তিনি বললেন: "আমার একদল লোক এবং আত্মীয়-স্বজন রয়েছে (৪), আমি তাদের গিয়ে কী বলব?" তিনি বললেন: "বলুন: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আমার সঠিক পথের দিশা চাচ্ছি, এবং আমার নফসের অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমাকে এমন জ্ঞান শিক্ষা দিন যা আমার উপকারে আসবে এবং আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা দ্বারা আমাকে উপকৃত করুন এবং আমার উপকারী জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।" অতঃপর তিনি তা পাঠ করলেন এবং ইসলাম গ্রহণ না করা পর্যন্ত উঠলেন না। তখন ইমরান লাফিয়ে উঠে তাঁর মাথা, হাত ও পা চুম্বন করলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি দেখলেন তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। তাঁকে বলা হলো: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন কাঁদছেন?" তিনি বললেন: "ইমরান যা করল তার কারণে। হুসাইন যখন মুশরিক অবস্থায় প্রবেশ করেছিলেন তখন সে তাঁর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেনি এবং তাঁর দিকে ফিরেও তাকায়নি। কিন্তু যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন তখন সে তাঁর হক আদায় করল; এই বিষয়টি আমার মনে কোমলতা সৃষ্টি করেছে।" হুসাইন যখন ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা উঠে দাঁড়াও এবং তাঁকে তাঁর বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসো।" যখন তিনি দরজার আঙিনা থেকে বের হলেন (৫)

--------------------------------------------

(১) জাফনাহ: দানশীল ব্যক্তি। আরবরা অন্নদানকারী নেতাকে 'জাফনাহ' বলে ডাকত কারণ তিনি সেটি—অর্থাৎ জাফনাহ বা বড় পাত্রটি—রাখতেন এবং তাতে মানুষকে খাবার খাওয়াতেন, তাই তাঁর নামকরণ এর নামেই করা হয়েছে। দেখুন: লিসানুল আরব, শব্দমূল 'জাফন'।

(২) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু অন্য পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৩) (মীম) পাণ্ডুলিপিতে 'আপনি সন্তুষ্ট হয়েছেন' কথাটি রয়েছে।

(৪) 'এবং আত্মীয়-স্বজন' শব্দদ্বয় (মীম) পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৫) দরজার 'সুদ্দাহ' (সীন বর্ণে পেশ যোগে) বলতে এর আঙিনাকে বোঝায়। দেখুন: লিসানুল আরব, শব্দমূল 'সাদাদ'।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٧٧)
نَظَرَتْ إِلَيْهِ قُرَيْشٌ فَقَالَتْ: صَبَأَ وَتَفَرَّقُوا عَنْهُ (1) .

6- أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَنْصُورِ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ الْمَوْصِلِيِّ أَنْبَأَ أَبُو الْحُسَيْنِ الْمُبَارَكِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصَّيْرَفِيُّ، أَنْبَأَ أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ جَعْفَرٍ، أَنْبَأَ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ (إِبْرَاهِيمَ) (2) بْنِ الْحَسَنِ بْنِ شَاذَانَ، أَنْبَأَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغَلِّسِ أَنْبَأَ أَبُو عُثْمَانَ سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأُمَوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي (قَالَ: قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ) (3) خَرَجَ عَبْدٌ أَسْوَدُ لِبَعْضِ أَهْلِ خَيْبَرَ فِي غَنَمٍ لَهُ حَتَّى جَاءَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِبَعْضِ أَصْحَابِهِ: مَنْ هَذَا الرَّجُلُ؟ قَالُوا: (رَسُولُ اللَّهِ الَّذِي مِنْ عِنْدِ اللَّهِ، قَالَ: الَّذِي فِي السَّمَاءِ؟ قَالُوا: نَعَمْ. قَالَ: أَدْنُونِي مِنْهُ، قَالَ: فَذَهَبُوا بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: الَّذِي فِي السَّمَاءِ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالشَّهَادَةِ فَتَشَهَّدَ، ثُمَّ اسْتَقْبَلَ غَنَمَهُ فَرَمَى فِي وُجُوهِهَا بِالْبَطْحَاءِ، ثُمَّ قَالَ: اذْهَبِي

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن خزيمة في كتاب التوحيد ص 120، والبيهقي في الأسماء والصفات ص 534، والذهبي في العلو ص 24، وقال: (عمران) ضعيف. وقد عجبت للمغالطة المكشوفة التي سطرها الكوثري في تعليقه على هذا الحديث في هامش الأسماء والصفات للبيهقي ص 534 حين زعم أن من عد هذا إقرارا من النبي صلى الله عليه وسلم لحصين على كون الله في السماء، فإنه يلزم عليه أن يعده أقره على الستة في الأرض. وهذا الإلزام واضح الفساد، ولا يحتاج إلى أدنى جهد لإبطاله، لأن النبي صلى الله عليه وسلم في حواره مع حصين ألزمه بالإيمان بالله وحده لا شريك له، والإقرار بأن الآلهة الأخرى التي كان يعبدها حين لا تملك له نفعا ولا تدفع عنه ضرا، بل الذي يملك له النفع ويدفع عنه الضر هو الله الذي أقر به في السماء وحده لا شريك له. ولا نستغرب هذه المغالطة من الكوثري لأنه وأمثاله من المعطلة يصدمون بصراحة الأدلة ووضوحها فلا يملكون إلا الكذب والافتراء، فيحرفون الكلم عن مواضعه، ويتشبثون بخيط العنكبوت، بل بما هو أوهى وأهن من الشبه العقلية الباطلة.

(2) (إبراهيم) لا يوجد في النسخ الأخرى.

(3) في النسخ الأخرى (ثنا ابن إسحاق) .
কুরাইশরা তার দিকে তাকাল এবং বলল: সে ধর্মত্যাগী হয়েছে। এরপর তারা তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল (১)।

৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন মানসুর ইবন হিবাতুল্লাহ ইবন আল-মাওসিলি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আল-মুবারক ইবন আব্দুল জাব্বার আস-সাইরাফি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন জাফর, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ ইবন (ইব্রাহিম) (২) ইবন আল-হাসান ইবন শাজান, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আল-মুগাল্লিস, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উসমান সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-উমায়উয়ি, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (তিনি বলেন: ইবন ইসহাক বলেছেন) (৩): খায়বারবাসীদের একজনের এক কালো গোলাম তার কিছু ছাগল নিয়ে বের হল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলো। সে তাঁর এক সাহাবীকে জিজ্ঞাসা করল: এই লোকটি কে? তারা বললেন: (তিনি আল্লাহর রাসূল যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছেন। সে বলল: যিনি আসমানে আছেন? তারা বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে যাও। বর্ণনাকারী বলেন: তারা তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে গেলেন। সে জিজ্ঞাসা করল: আপনি কি আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে জিজ্ঞাসা করল: যিনি আসমানে আছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শাহাদাত পাঠ করার নির্দেশ দিলেন এবং সে শাহাদাত পাঠ করল। অতঃপর সে তার ছাগলগুলোর দিকে ফিরে গিয়ে সেগুলোর মুখের ওপর কঙ্কর নিক্ষেপ করল এবং বলল: যাও

--------------------------------------------

(১) এটি ইবন খুজাইমাহ 'কিতাবুত তাওহীদ' ১২০ পৃষ্ঠায়, বাইহাকী 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত' ৫৩৪ পৃষ্ঠায় এবং যাহাবী 'আল-উলুউ' ২৪ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: (ইমরান) দুর্বল। আল-আসমা ওয়াস-সিফাত-এর ৫৩৪ পৃষ্ঠায় বাইহাকীর এই হাদিসের ওপর টীকায় কাওসারি যে সুস্পষ্ট প্রতারণা করেছেন তাতে আমি আশ্চর্যান্বিত হয়েছি। তিনি দাবি করেছেন যে, যারা এটিকে আল্লাহর আসমানে থাকার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে হুসাইনের প্রতি স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করেন, তবে তাদের জন্য আবশ্যক যে তারা এটাকে জমিনে থাকা ছয়জন মাবুদের ব্যাপারেও তাঁর স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করবে। এই বাধ্যবাধকতা স্পষ্টতই ভিত্তিহীন এবং এটি খণ্ডন করতে সামান্য প্রচেষ্টারও প্রয়োজন নেই। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুসাইনের সাথে তাঁর কথোপকথনে তাকে এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে বাধ্য করেছিলেন এবং এই স্বীকৃতি আদায় করেছিলেন যে, অন্য যেসব উপাস্যের সে ইবাদত করত তারা তার কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখে না, বরং উপকার ও অপকারের মালিক কেবল সেই আল্লাহ যার কথা সে স্বীকার করেছে যে তিনি আসমানে আছেন, তিনি এক ও তাঁর কোনো শরিক নেই। কাওসারির কাছ থেকে আমরা এই প্রতারণায় বিস্মিত নই, কারণ সে এবং তার মতো 'মুয়াত্তিলা'রা (গুণাবলি অস্বীকারকারী) যখন দলিলের স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতার মুখোমুখি হয়, তখন তাদের মিথ্যাচার ও অপবাদ দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না। তাই তারা শব্দগুলোকে তার সঠিক স্থান থেকে পরিবর্তন করে এবং মাকড়সার সুতোর মতো দুর্বল যুক্তি আঁকড়ে ধরে, বরং তা বাতিল আকলি সংশয়ের চেয়েও অধিক দুর্বল।

(২) (ইব্রাহিম) অন্য পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৩) অন্য পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন ইসহাক)।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٧٨)
فَوَاللَّهِ لَا أَتَّبِعُكِ أَبَدًا، فَوَلَّتْ، فَكَانَ ذَلِكَ آخِرَ الْعَهْدِ بِهَا، قَالَ: فَقَاتَلَ الْعَبْدُ حَتَّى اسْتُشْهِدَ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّي سَجْدَةً وَاحِدَةً، فَأُتِيَ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأُلْقِيَ خَلْفَهُ (فَالْتَفَتَ) (1) إِلَيْهِ ثُمَّ أَعْرَضَ عَنْهُ، فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، الْتَفَتَّ إِلَيْهِ، ثُمَّ أَعْرَضْتَ عَنْهُ، فَقَالَ: إِنَّ مَعَهُ الآنَ لَزَوْجَتَهُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ، قَالَ: (وَاسْمُ الْعَبْدِ أَسْلَمُ) (2) . (أَخْرَجَهُ الأُمَوِيُّ فِي الْمَغَازِي) (3) .

7- أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَنْصُورٍ الْمَوْصِلِيُّ، أَنْبَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ الطُّيُورِ، أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ جَعْفَرٍ، أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ، أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُغَلِّسِ، ثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى الأُمَوِيُّ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زِيَادٍ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ سِنَانٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الأجيرد الْكِنْدِيِّ، عَنِ الْعُرْسِ بْنِ قَيْسٍ الْكِنْدِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ عُمَيْرَةَ بْنِ فَرْوَةَ الْعَبْدِيِّ، قَالَ: كَانَ بِأَرْضِنَا حَبْرٌ مِنَ الْيَهُودِ يُقَالُ لَهُ ابْنُ شَهْلَا، فَالْتَقَيْتُ أَنَا وَهُوَ يَوْمًا فَقَالَ: يَا عَدِيُّ بْنَ عُمَيْرَةَ، فَقُلْتُ: مَا شَأْنُكَ يَا ابْنَ شَهْلَا، فَقَالَ:

--------------------------------------------

(1) في (ر) و (هـ) ثم التفت.

(2) اختلف في اسمه، وقد اشتهر عند أكثر من ذكر قصته بالأسود الراعي. وقد ذكر ابن حجر أن اسمه أسلم، وأورد اعتراض ابن الأثير بأنه ليس في شيء من السياقات أن اسمه أسلم، وقال ابن حجر: وهو اعتراض متجه، وقد سماه أبو نعيم يسارا. وقال الرشاطي في الأنساب: أسلم الحبشي، أسلم يوم خيبر. انظر: الإصابة لابن حجر ص 63.

(3) ما بين القوسين لا يوجد في الأصل. وأثبته من (ر) و (هـ) .

هذا الحديث أخرجه الحاكم بسنده عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه بلفظ نحوه. وقال: هذا حديث صحيح الإسناد، ولم يخرجاه.

وتعقبه الذهبي بقوله: قلت: كان شرحبيل -راوي الحديث عن جابر - متهما.

وقال فيه ابن حجر: "صدوق اختلط بآخره". انظر: التقريب 1/348.

وأورد هذه القصة أيضا ابن هشام في السيرة 3/459-460، وابن القيم في زاد المعاد 3/323، والبيهقي في دلائل النبوة 4/219، وابن كثير في البداية والنهاية 4/191. بزيادة عند بعضهم ونقصان عند بعضهم الآخر، إلا أن موضع الشاهد من القصة وهو قوله: (الذي في السماء) لا يوجد عند منهم.
আল্লাহর শপথ, আমি কখনোই তোমার অনুসরণ করব না। অতঃপর সে চলে গেল এবং এটিই ছিল তার সাথে শেষ দেখা। তিনি বলেন: অতঃপর সেই দাসটি যুদ্ধ করলেন এমনকি তিনি একটি সিজদাহ করার পূর্বেই শহীদ হয়ে গেলেন। অতঃপর তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আনা হলো এবং তাঁর পিছনে রাখা হলো। তিনি (রাসূলুল্লাহ) তার দিকে ফিরে তাকালেন, অতঃপর তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তার দিকে তাকালেন, তারপর আবার মুখ ফিরিয়ে নিলেন? তিনি বললেন: এখন তার সাথে হুর আল-ঈন থেকে তার স্ত্রীরা রয়েছে। তিনি বলেন: (সেই দাসের নাম আসলাম)। (উমাবী এটি আল-মাগাযীতে বর্ণনা করেছেন)।

৭- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মানসুর আল-মাওসিলি, তিনি আবুল হুসাইন ইবনুত তুয়ূর থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন জাফর থেকে, তিনি আহমদ ইবন ইবরাহিম ইবন শাযান থেকে, তিনি আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবনুল মুগাল্লিস থেকে, তিনি সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া আল-উমাবী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন যিয়াদ থেকে, তিনি ইবন ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবন সিনান, তিনি সাঈদ ইবনুল আজইরাদ আল-কিন্দী থেকে, তিনি আল-উরাস ইবন কায়েস আল-কিন্দী থেকে, তিনি আদী ইবন উমাইরা ইবন ফারওয়া আল-আবদী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের এলাকায় ইহুদিদের একজন পণ্ডিত ছিল যাকে ইবন শাহলা বলা হতো। একদিন আমার সাথে তার দেখা হলে সে বলল: হে আদী ইবন উমাইরা! আমি বললাম: তোমার ব্যাপার কী হে ইবন শাহলা? সে বলল:

--------------------------------------------

(১) (রা) ও (হা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে ‘অতঃপর তিনি ফিরে তাকালেন’।

(২) তার নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তার ঘটনা যারা বর্ণনা করেছেন তাদের অধিকাংশের কাছে তিনি ‘আসওয়াদ আর-রাঈ’ হিসেবে প্রসিদ্ধ। ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে তার নাম ‘আসলাম’, এবং তিনি ইবনুল আসীরের আপত্তি উল্লেখ করেছেন যে কোনো বর্ণনায় তার নাম আসলাম আসেনি। ইবনে হাজার বলেন: এটি একটি যৌক্তিক আপত্তি; আবু নুআইম তাকে ‘ইয়াসার’ নামে অভিহিত করেছেন। আর রুশাতী ‘আল-আনসাব’ গ্রন্থে বলেছেন: আসলাম আল-হাবাশি, তিনি খায়বারের যুদ্ধে ইসলাম কবুল করেন। দেখুন: আল-ইসাবাহ, ইবনে হাজার, পৃষ্ঠা ৬৩।

(৩) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু মূলে নেই। আমি (রা) ও (হা) পাণ্ডুলিপি থেকে এটি সংযোজন করেছি।

হাকিম তাঁর সনদে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযি.) থেকে অনুরুপ শব্দে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: এই হাদিসটির সনদ সহিহ, যদিও তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি।

জাহাবী এর সমালোচনা করে বলেছেন: আমি বলি, শুরাহবিল—যিনি জাবির থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন—তিনি অভিযুক্ত ছিলেন।

ইবনে হাজার তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি সত্যবাদী ছিলেন তবে শেষ জীবনে তাঁর স্মৃতি ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল"। দেখুন: আত-তাকরীব ১/৩৪৮।

ইবনে হিশাম তার সীরাতে (৩/৪৫৯-৪৬০), ইবনুল কায়্যিম যাদুল মা'আদে (৩/৩২৩), বায়হাকী দালায়েলুন নুবুওয়াহতে (৪/২১৯) এবং ইবনে কাসীর আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে (৪/১৯১) এই কাহিনীটি উল্লেখ করেছেন। তাদের কারো বর্ণনায় কিছু শব্দ বেশি আছে আবার কারো বর্ণনায় কম, তবে এই কাহিনীর মূল অংশ অর্থাৎ তার কথা: (যিনি আসমানে আছেন) তা তাদের কারো বর্ণনায় নেই।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٧٩)
إِنِّي أَجِدُ فِي كِتَابِ اللَّهِ الْمُنَزَّلِ أَنَّ أَصْحَابَ الْفِرْدَوْسِ قَوْمٌ يَعْبُدُونَ رَبَّهُمْ عَلَى وُجُوهِهِمْ، لَا وَاللَّهِ مَا أَعْلَمُ هَذِهِ الصِّفَةَ إِلَّا فِينَا مَعْشَرَ يَهُودَ، وَأَجِدُ نَبِيَّهَا يَخْرُجُ مِنَ الْيَمَنِ، فَمَنْ تَبِعَهُ كَانَ عَلَى هُدًى، لا نَرَاهُ يَخْرُجُ إِلا مِنَّا مَعْشَرَ يَهُودَ. وَأَجِدُ وَقْعَتَيْنِ تَكُونَانِ، إِحْدَاهُمَا بِمِصْرِينَ، وَالأُخْرَى (بِصِفِّينَ) (1) ، فَأَمَّا مِصْرِينُ قَدْ سَمِعْنَا بِهَا مِنْ أَرْضِ الْفَرَاعِنَةِ، وأما صِفِّينُ فَوَاللَّهِ مَا أَدْرِي أَيْنَ هِيَ. قَالَ عَدِيٌّ: فَوَاللَّهِ مَا مَكَثْنَا إِلا يَسِيرًا حَتَّى بَلَغَنَا أَنَّ رَجُلًا مِنْ بَنِي هَاشِمٍ قَدْ تَنَبَّأَ، وَسَجَدَ عَلَى وَجْهِهِ، فَذَكَرْتُ حَدِيثَ ابْنِ شَهْلَا، فَخَرَجْتُ مُهَاجِرًا إلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَإِذَا هُوَ وَمَنْ مَعَهُ يَسْجُدُونَ عَلَى وُجُوهِهِمْ وَيَزْعُمُونَ أَنَّ إِلَهَهُمْ فِي السَّمَاءِ، فَأَسْلَمْتُ وَاتَّبَعْتُهُ (2) .

8- قُرِئ عَلَى (الشَّيْخِ) (3) مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْبَاقِي وَأَنَا أَسْمَعُ أَخْبَرَكُمْ (أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ) (4) ، قَالَ: أَنْبَا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ (الْحَسَنِ) (5) أَنْبَأَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيٍّ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ (مُحَمَّدِ) (6) بْنِ زِيَادٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ

--------------------------------------------

(1) صفين موضع قرب الرقة، على شاطئ الفرات من الجانب الغربي، بين الرقة وبالس، فيه كانت وقعة صفين بين علي ومعاوية رضي الله عنهما سنة (37هـ) . معجم البلدان 3/414.

(2) هذا الخبر يوجد في النسخ الأخرى بعد حديث الراعي الأسود المتقدم، رقم (6) . وورد إسناده فيها مختصرا، حيث اكتفى بإسناد الحديث الذي قبله لتطابقهما فيما قبل سعيد بن يحيى ففيها: وبهذا الإسناد قال سعيد بن يحيى إلخ … ولعل هذا تصرفا من النساخ.

وقد أورد هذا الخبر ابن حجر عند ترجمة عدي بن عميرة، عن ابن إسحاق. الإصابة 4/474، والذهبي في العلو ص 25، وقال: هذا حديث غريب.

(3) كلمة (الشيخ) لا توجد في النسخ الأخرى.

(4) في النسخ الأخرى (أبو بكر الطريثيثي) وهو كنيته ونسبته. وقد تقدم.

(5) في (ر) و (م) (الحسين) وهو خطأ، وإنما هو هبة الله بن الحسن اللالكائي، وسيأتي ذكر إخراجه لهذا الحديث.

(6) في (هـ) و (ر) (أحمد) وهو خطأ، وهو أبو بكر عبد الله بن محمد بن زياد بن واصل. الفقيه الشافعي، توفي سنة (
আমি আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবে দেখতে পাই যে, জান্নাতুল ফিরদাউসবাসী হলো এমন এক কওম যারা তাদের রবের ইবাদত করে তাদের চেহারার ওপর (সিজদাহ করে)। আল্লাহর কসম, আমি এই গুণ আমাদের ইয়াহূদী জাতি ছাড়া অন্য কারো মাঝে জানি না। আর আমি পাই যে তাদের নবী ইয়ামেন থেকে বের হবেন, সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর অনুসরণ করবে সে হিদায়াতের ওপর থাকবে; আমরা মনে করতাম তিনি আমাদের ইয়াহূদী সম্প্রদায়ের মধ্য থেকেই বের হবেন। আর আমি দুটি যুদ্ধের কথা পাই, যার একটি হবে মিসরাইনে এবং অন্যটি (সিফফিনে) (১)। মিসরাইনের কথা তো আমরা ফেরাউনদের ভূমি হিসেবে শুনেছি, কিন্তু সিফফিন সম্পর্কে আল্লাহর কসম আমি জানি না তা কোথায়। আদি বলেন: আল্লাহর কসম, আমরা অল্পকালই অবস্থান করেছি, অতঃপর আমাদের কাছে খবর পৌঁছাল যে বনী হাশিমের এক ব্যক্তি নবুওয়াতের দাবি করেছেন এবং তিনি তাঁর চেহারার ওপর সিজদাহ করেন। তখন আমার ইবনে শাহলার সেই কথা মনে পড়ে গেল। ফলে আমি হিজরত করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলাম। গিয়ে দেখলাম তিনি এবং তাঁর সাথে যারা আছেন তারা তাদের চেহারার ওপর সিজদাহ করছেন এবং তারা বিশ্বাস করেন যে তাদের ইলাহ আসমানে আছেন। ফলে আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং তাঁর অনুসরণ করলাম (২)।

৮- (শাইখ) (৩) মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকীর সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম, তিনি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন (আহমাদ বিন আলী বিন হুসাইন) (৪), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ বিন (হাসান) (৫), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবায়দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আলী, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন (মুহাম্মদ) (৬) বিন যিয়াদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন গালিব

--------------------------------------------

(১) সিফফিন হলো রাক্কার নিকটবর্তী একটি স্থান, যা ফোরাত নদীর পশ্চিম তীরে রাক্কা ও বালিসের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এতে আলী ও মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহুমার মধ্যে হিজরী ৩৭ সনে সিফফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। মুজামুল বুলদান ৩/৪১৪।

(২) এই সংবাদটি অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে পূর্বে বর্ণিত কালো রাখালের ৬ নম্বর হাদীসের পরে রয়েছে। সেখানে এর সনদ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ সাঈদ বিন ইয়াহইয়ার পূর্ব পর্যন্ত সনদটি একই। সেখানে আছে: "এই সনদেই সাঈদ বিন ইয়াহইয়া বলেছেন..." এবং সম্ভবত এটি পাণ্ডুলিপিকারদের নিজস্ব রীতি। ইবনে হাজার 'আল-ইসাবাহ' ৪/৪৭৪-এ আদি বিন আমিরাহ এর জীবনীতে ইবনে ইসহাক থেকে এই বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন। আয-যাহাবী 'আল-উলুউ' পৃষ্ঠা ২৫-এ এটি উল্লেখ করে বলেছেন: এটি একটি গরীব হাদীস।

(৩) (শাইখ) শব্দটি অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৪) অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে (আবু বকর আত-তরাইসীসী) রয়েছে, যা তাঁর কুনিয়াত ও নিসবত। এটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

(৫) (র) এবং (ম) পাণ্ডুলিপিতে (হুসাইন) রয়েছে যা একটি ভুল, মূলত তিনি হলেন হিবাতুল্লাহ বিন হাসান আল-লালকাঈ। সামনে এই হাদীসটি তাঁর উদ্ধৃত করার কথা আসবে।

(৬) (হ) এবং (র) পাণ্ডুলিপিতে (আহমাদ) রয়েছে যা একটি ভুল, তিনি হলেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন যিয়াদ বিন ওয়াসিল। শাফেয়ী ফকীহ, মৃত্যু বছর (
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٨٠)
الأَنْطَاكِيُّ، ثَنَا يَحْيَى بْنُ السَّكَنِ عَنْ شُعْبَةَ وَقَيْسٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ (1) عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ارْحَمْ مَنْ فِي الأَرْضِ، يَرْحَمْكَ مَنْ فِي السَّمَاءِ (2) .

9- أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الصَّالِحُ (3) أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ النَّقُورِ (الْبَزَّازِ) (4) أَنْبَأَ الأَمِينُ (أَبُو طَالِبٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْيُوسُفِيُّ) (5) أَنْبَأَ أَبُو عَلِيِّ بْنُ الْمُذْهِبِ، أَنْبَأَ أَبُو بَكْرٍ الْقَطِيعِيُّ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ (ثَنَا أَبِي) (6) ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، ثَنَا عُمَارَةُ بْنُ الْقَعْقَاعِ عَنِ ابْنِ أَبِي نُعَيْمٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: بَعَثَ عَلِيٌّ مِنَ الْيَمَنِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِذَهَبَةٍ فِي أَدِيمٍ مَقْرُوضٍ لَمْ تُحَصِّلْ مِنْ تُرَابِهَا، فَقَسَمَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَرْبَعَةٍ، بَيْنَ زَيْدٍ الْخَيِّرِ، وَالأَقْرَعِ بْنِ حَابِسٍ، وَعُيَيْنَةَ بْنِ حصن، وَعَلْقَمَةَ بْنِ عُلَاثَةَ، أَوْ عَامِرِ بْنِ الطُّفَيْلِ، شَكَّ

--------------------------------------------

(1) هو أبو عبيدة بن عبد الله بن مسعود، مشهور بكنيته، والأشهر أن لا اسم له غيرها. يقال: اسمه عامر، كوفي ثقة من كبار الثالثة، مات سنة ثمانين. التقريب 2/448.

(2) هذا الحديث مرسل، لأن أبا عبيدة لم يسمع من أبيه، ذكر ذلك ابن حجر في التهذيب 5/75. أخرجه اللالكائي في شرح أصول اعتقاد أهل السنة، ح (655) ، وأورده موقوفا على عبد الله بن مسعود، رقم: (657) ، تحقيق الدكتور أحمد سعد حمدان، وسيأتي في هذا الكتاب تحت رقم: (61) . وأخرجه الدارمي في الرد على الجهمية ص 20، والحاكم في المستدرك 4/248، وقال: صحيح الإسناد. وأورده الذهبي في العلو ص 20، وقال: وراه عمار بن زريق عن أبي إسحاق مرفوعا، والواقف أصح، مع أن رواية أبي عبيدة عن والده فيها إرسال. اهـ.

وهذا الحديث كما أنه من الأدلة على إثبات صفة العلو، فهو من الأدلة التي يستدل بها السلف أيضا على إثبات صفة الرحمة، كما تقدم عند الكلام على الحديث رقم: (1) .

(3) في (هـ) زيادة (العالم) .

(4) (البزاز) لا توجد إلا في الأصل.

(5) في النسخ الأخرى (أبو طالب اليوسفي) فقط.

(6) في (هـ) "قال حدثني أبي" وفي (م) "ثني أبي" بالاختصار وبدون "قال"، وفي (ر) "حدثني أبي" بدون "قال".
আনতাকি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনুস সাকান, তিনি শু'বাহ ও কাইস থেকে, তাঁরা আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ (১) থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তাহলে আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।" (২)

৯- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নেককার শায়খ (৩) আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনুন নাক্কুর (আল-বাযযায) (৪), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আমিন (আবু তালিব আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ আল-ইউসুফি) (৫), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইবনুল মুযহিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-কাতী'ঈ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ (আমার পিতা বর্ণনা করেছেন) (৬), আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ফুযাইল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমারাহ ইবনুল কা'কা, তিনি ইবনে আবু নু'আইম থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইয়ামান থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট চামড়ার থলিতে করে কিছু স্বর্ণ পাঠালেন যা মাটি থেকে তখনও পুরোপুরি পৃথক করা হয়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা চারজনের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন: যাইদ আল-খাইল, আকরা' ইবনে হাবিস, উয়াইনা ইবনে হিসন এবং আলকামা ইবনে উলাসা অথবা আমির ইবনে তুফাইল (বর্ণনাকারীর সন্দেহ)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবু উবাইদাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, তিনি তাঁর উপনামেই সমধিক পরিচিত এবং প্রসিদ্ধ মতে এটিই তাঁর নাম। বলা হয়: তাঁর নাম আমির, তিনি কুফী, নির্ভরযোগ্য এবং তৃতীয় স্তরের বড় তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত, ইন্তেকাল করেছেন আশি হিজরিতে। আত-তাকরীব ২/৪৪৮।

(২) এই হাদিসটি মুরসাল, কারণ আবু উবাইদাহ তাঁর পিতা থেকে সরাসরি শোনেননি, ইবনে হাজার 'আত-তাহযীব' গ্রন্থে (৫/৭৫) এটি উল্লেখ করেছেন। লালাকায়ী এটি 'শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাহ' (হাদিস নং ৬৫৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের উক্তি (মাওকুফ) হিসেবেও বর্ণনা করেছেন, নং: ৬৫৭, ড. আহমাদ সাদ হামদানের তাহকীক, এবং অত্র কিতাবে এটি সামনে ৬১ নম্বরে আসবে। দারেমী এটি 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' (পৃ. ২০) এবং হাকিম 'আল-মুস্তাদরাক' (৪/২৪৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এর সনদ সহীহ। যাহাবী এটি 'আল-উলু' (পৃ. ২০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আম্মার ইবনে ঝুরাইক এটি আবু ইসহাক থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে মাওকুফ হওয়াই অধিক বিশুদ্ধ, তাছাড়া পিতার থেকে আবু উবাইদাহর বর্ণনায় ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা) রয়েছে। [যাহাবীর কথা শেষ]।

এই হাদিসটি যেমনভাবে 'উলু' (আল্লাহর সুউচ্চ হওয়া) এর সিফাত সাব্যস্ত করার দলিল, তেমনি এটি সালাফদের নিকট 'রাহমাহ' (দয়া) এর সিফাত সাব্যস্ত করারও দলিল, যেমনটি ১ নং হাদিসের আলোচনায় অতিবাহিত হয়েছে।

(৩) (হা) পান্ডুলিপিতে (আল-আলিম) শব্দটি অতিরিক্ত আছে।

(৪) (আল-বাযযায) শব্দটি কেবল মূল কপিতে আছে।

(৫) অন্যান্য কপিতে কেবল (আবু তালিব আল-ইউসুফি) আছে।

(৬) (হা) পান্ডুলিপিতে "তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন", (মিম) পান্ডুলিপিতে সংক্ষিপ্ত আকারে "আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন" (قال ছাড়া) এবং (রা) পান্ডুলিপিতে "আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন" (قال ছাড়া) আছে।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٨١)
عُمَارَةُ، فَوَجَدَ مِنْ ذَلِكَ بَعْضُ أَصْحَابِهِ وَالأَنْصَارُ وَغَيْرُهُمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَلَا تَأْمَنُونِي وَأَنَا أَمِينُ مَنْ فِي السَّمَاءِ يَأْتِينِي خَبَرُ مَنْ فِي السَّمَاءِ (صَبَاحَ مَسَاءَ) (1) ، ثُمَّ أَتَاهُ رَجُلٌ غَائِرُ الْعَيْنَيْنِ (2) مُشْرِفُ الْوَجْنَتَيْنِ (3) ، نَاشِزُ الْجَبْهَةِ (4) ، فَقَالَ: اتَّقِ اللَّهَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، (قَالَ) (5) : فَرَفَعَ رَأْسَهُ إِلَيْهِ وَقَالَ: وَيْحَكَ، أَلَيْسَ أَحَقَّ أَهْلِ الأَرْضِ أَنْ يَتَّقِ اللَّهَ أَنَا، ثُمَّ أَدْبَرَ، فَقَالَ خَالِدٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَلَا أَضْرِبُ عُنَقَهُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: فَلَعَلَّهُ (يَكُونُ) (6) يُصَلِّي، فَقَالَ: إِنَّهُ (رُبَّ مُصَلٍّ) (7) ، يَقُولُ بِلِسَانِهِ مَا لَيْسَ فِي قَلْبِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنِّي لَمْ أُوْمَرْ أَنْ أُنَقِّبَ عَنْ قُلُوبِ النَّاسِ، وَلَا أَشُقَّ بُطُونَهُمْ، ثُمَّ نَظَرَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُقَفٍّ، فَقَالَ: هَاهْ، إِنَّهُ سَيَخْرُجُ مِنْ ضِئْضِِئ هَذَا قَوْمٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ (8) . أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ، وَمُسْلِمٌ فِي صَحِيحَيْهِمَا، (مِنْ طُرُقٍ مِنْهَا: الْبُخَارِيُّ عَنْ قُتَيْبَةَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ. وَمُسْلِمٌ عَنِ ابْنِ نُمَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ

--------------------------------------------

(1) في النسخ الأخرى (صباحا ومساءا) .

(2) غائر العينين: أي أن عينيه داخلتان في محاجرهما لاصقتان بقعر الحدقة.

(3) مشرف الوجنتين: أي غليظهما، والوجنتان تثنية وجنة، والوجنة من الإنسان ما ارتفع من لحم خده.

(4) ناشز الجبهة: أي مرتفع الجبهة.

(5) "قال" لا توجد في النسخ الأخرى.

(6) "يكون" لا توجد في بقية النسخ.

(7) في (هـ) "رب رجل يصلي".

(8) قال الخطابي: الضئضئ: الأصل، يريد أنه يخرج من نسله الذي هو أصلهم، أو يخرج من أصحابه وأتباعه الذين يقتدون به، ويبنون رأيهم ومذهبهم على أصل قومه. والمروق الخروج من الشيء والنفوذ إلى الطرف الأقصى منه. والرمية: الطريدة التي يرميها الرامي.

معالم السنن بحاشية أبي داود (5/122) .
উমারা হতে বর্ণিত; এতে তাঁর কিছু সাথী, আনসার ও অন্যান্যরা মনে কিছুটা ক্ষোভ অনুভব করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তোমরা কি আমাকে বিশ্বস্ত মনে করো না, অথচ আমি তাঁর নিকট বিশ্বস্ত যিনি আসমানে আছেন? আমার কাছে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর সংবাদ আসে যিনি আসমানে আছেন (১)। এরপর জনৈক ব্যক্তি তাঁর নিকট আসলেন যার চোখ দুটি কোটরাগত (২), গণ্ডদ্বয় ফোলা বা উঁচু (৩), ললাট বা কপাল উঁচু (৪)। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহকে ভয় করুন। বর্ণনাকারী বলেন (৫): তখন তিনি তার দিকে মাথা তুললেন এবং বললেন: তোমার পরিতাপ হোক! আমি কি যমীনবাসীদের মধ্যে আল্লাহকে ভয় করার সর্বাধিক হকদার ব্যক্তি নই? এরপর লোকটি চলে গেল। তখন খালিদ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি তার গর্দান উড়িয়ে দেব না? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: সম্ভবত সে সালাত আদায় করে (৬)। তিনি বললেন: এমন অনেক সালাত আদায়কারীই (৭) মুখে এমন কথা বলে যা তার অন্তরে নেই। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আমাকে মানুষের অন্তর খুঁড়ে দেখার কিংবা তাদের পেট চিরে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকটির দিকে তাকালেন যখন সে পিঠ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছিল, তখন তিনি বললেন: সাবধান! এই ব্যক্তির বংশমূল থেকে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনটি তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায় (৮)। ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থে এটি সংকলন করেছেন (বিভিন্ন সূত্রে, যার মধ্যে রয়েছে: কুতাইবা ইবনে সাঈদ হতে বুখারী, তিনি আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদ হতে, তিনি উমারা ইবনুল কাকা হতে। এবং ইবনে নুমাইর হতে মুসলিম, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ফুদাইল হতে, তিনি উমারা হতে...

--------------------------------------------

(১) অন্য পাণ্ডুলিপিগুলোতে রয়েছে (সকালে ও সন্ধ্যায়)।

(২) চোখ দুটি কোটরাগত: অর্থাৎ তার চোখ দুটি অক্ষিকোটরের ভেতরে ঢুকে গেছে এবং অক্ষিগোলকের শেষ প্রান্তের সাথে লেগে আছে।

(৩) গণ্ডদ্বয় ফোলা বা উঁচু: অর্থাৎ তার গাল দুটি মাংসল ও মোটা। 'ওয়াজনাতাইন' হলো 'ওয়াজনা' শব্দের দ্বিবচন। মানুষের গালের মাংসল অংশের যে অংশটি উঁচু হয়ে থাকে তাকে ওয়াজনা বলা হয়।

(৪) ললাট উঁচু: অর্থাৎ তার কপালটি উঁচু ও স্ফীত।

(৫) "তিনি বললেন" শব্দ দুটি অন্য পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৬) "হয়তো বা হবে" শব্দটি বাকি পাণ্ডুলিপিগুলোতে নেই।

(৭) (হ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "অনেক ব্যক্তি আছে যে সালাত আদায় করে"।

(৮) আল-খাত্তাবী বলেন: 'দ্বি'দ্বি' (ضئضئ) অর্থ হলো মূল। তিনি বুঝিয়েছেন যে, তার সেই বংশধারা থেকে তাদের উদ্ভব হবে যারা তার মূল, অথবা তার সাথী ও অনুসারীদের মধ্য থেকে যারা তাকে অনুসরণ করবে এবং তাদের মতবাদ ও মাযহাবকে তার কওমের মূল নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত করবে। আর 'আল-মুরুক' অর্থ হলো কোনো কিছু থেকে বের হয়ে যাওয়া এবং তার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া। 'আর-রামিয়্যাহ' হলো সেই শিকার যা শিকারি তীর দ্বারা বিদ্ধ করে।

মাআলিমুস সুনান, আবু দাউদের টীকা সহ (৫/১২২)।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٨٢)
عَنِ ابْنِ أَبِي نعم، وَاسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ) (1) .

10- أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنْبَأَ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنْبَأَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ

--------------------------------------------

(1) ما بين القوسين في الأصل فقط.

وانظر الحديث في البخاري من الطريق المذكورة، كتاب المغازي، باب بعد علي بن أبي طالب وخالد بن الوليد إلى اليمن، ح (4351) ، فتح الباري (8/67) ، وأورده البخاري من طرق أخرى في كتاب المناقب، باب علامات النبوة في الإسلام، ح (3610) ، 6/617. وكتاب الأنبياء، باب قول الله تعالى: {وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُوداً} ، ح (3344) ، 6/376، وكتاب التوحيد، باب قول الله تعالى: {تَعْرُجُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ} ، ح (7432) ، 13/415. وأخرجه مسلم من عدة طرق منها الطريق المذكورة هنا. انظر: صحيح مسلم، كتاب الزكاة، باب ذكر الخوارج، ح (1064) ، 2/741.

وأبو داود في كتاب السنة، باب في قتال الخوارج، ح (4764) ، 5/121.

التعليق: هذا الحديث أورده المصنف للاستدلال به على علو الله تعالى. ودلالته في غاية الصراحة والوضوح، والحديث من أصح الأحاديث كما رأيت. والرجل المذكور فيه -صاحب الموقف مع رسول الله صلى الله عليه وسلم هو ذو الخويصرة التميمي رئيس الخوارج، كما جاء في أحد روايات الحديث عند البخاري، ح (3610) ، وهذا الحديث من دلائل نبوته صلى الله عليه وسلم، لأنه أخبر فيه بما لم يحدث بعد. وقد تحقق هذا الخبر فظهرت هذه الطائفة في زمن أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه، حين خرجوا عليه في موقعة صفين التي دارت بينه وبين معاوية، رضي الله عنهما. وقد ذكر الشهرستاني أن أول الخارجين عليه كان من جنده في صفين، وأشدهم خروجا عليه ومروقا من الدين: الأشعث بن قيس الكندي، ومسعر بن فدكي التميمي، وزيد بن حصين الطائي، فقد حملوا علي بن أبي طالب رضي الله عنه على قبول التحكيم، بعد أن أوشك جند معاوية على الانهزام، وقالوا لعلي: القوم يدعوننا إلى كتاب الله، وأنت تدعونا إلى السيف، وأصروا على موقفهم وهددوا بأنه إن لم يستجب لهم فسيفعلون به ما فعلوا بعثمان رضي الله عنه، فقبل رضي الله عنه التحكيم. وكان من الأمر ما كان، فلم يرض الخوارج بما آل إليه الموقف. فما كان منهم إلا أن خرجوا على علي، وقالوا له: لم حكمت الرجال؟ لا حكم إلا لله، وهم المارقة الذين اجتمعوا بالنهروان.

وهم فرق شتى، أكبرها المحكمة، والأزرقة، والنجدات، والبيهسية، والعجاردة، والثعالبة، والأباضية، والصفرية، والباقون فروعهم.

انظر: الملل والنحل للشهرستاني 1/114-115.

ويجمعهم تكفير علي، وعثمان، والتبري منهما، ويكفرون أصحاب الكبائر، ويرون الخروج على الإمام الجائر.

وكانت هذه الطائفة من أعبد الناس، ولكنهم مع شدة عبادتهم اعتمدوا على التأويل لنصوص الوحي بما يتفق مع عقولهم، ويسند مذاهبهم وأهوائهم فجانبوا الإسلام الصحيح، ولذلك صدق عليهم ما وصفهم به الرسول صلى الله عليه وسلم في هذا الحديث: "يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية". وهذه الفئة من أخطر الفرق الإسلامية.

وللخوارج ألقاب، فبالإضفة إلى وصفهم بأنهم خوارج يلقبون بالحرورية، والشراة، والمارقة، والمحكمة، والنواصب. انظر: مقالات الإسلاميين للأشعري 1/206.
ইবনে আবি নুয়াম থেকে বর্ণিত, তার নাম আব্দুর রহমান) (১)।

১০- আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ আমাদের জানিয়েছেন, হাসান ইবনে আলী আমাদের জানিয়েছেন

--------------------------------------------

(১) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু শুধুমাত্র মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে।

উক্ত সূত্রে বুখারি শরিফের হাদিসটি দেখুন: কিতাবুল মাগাজি, অধ্যায়: আলী ইবনে আবি তালিব ও খালিদ ইবনে ওয়ালিদকে ইয়ামেনে পাঠানোর বিবরণ, হাদিস নং (৪৩৫১), ফাতহুল বারি (৮/৬৭)। ইমাম বুখারি এটি অন্যান্য সূত্রেও কিতাবুল মানাকিব, অধ্যায়: ইসলামে নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ, হাদিস নং (৩৬১০), ৬/৬১৭; এবং কিতাবুল আম্বিয়া, অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণী: {আর আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হুদকে প্রেরণ করেছি}, হাদিস নং (৩৩৪৪), ৬/৩৭৬; এবং কিতাবুত তাওহিদ, অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণী: {ফেরেশতা ও রুহ তাঁর দিকে আরোহণ করে}, হাদিস নং (৭৪৩২), ১৩/৪১৫-এ বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিমও এখানে উল্লিখিত সূত্রসহ একাধিক সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। দেখুন: সহিহ মুসলিম, কিতাবুজ জাকাত, অধ্যায়: খারেজিদের বিবরণ, হাদিস নং (১০৬৪), ২/৭৪১।

এবং আবু দাউদ, কিতাবু সুনান, অধ্যায়: খারেজিদের সাথে যুদ্ধ প্রসঙ্গে, হাদিস নং (৪৭৬৪), ৫/১২১।

মন্তব্য: লেখক এই হাদিসটি আল্লাহ তাআলার উচ্চতার (উলুউ) স্বপক্ষে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। এর প্রমাণ অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল। হাদিসটি অন্যতম সহিহ হাদিস, যেমনটি আপনি দেখছেন। এতে উল্লিখিত ব্যক্তি—যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে উদ্ধত অবস্থান নিয়েছিলেন—তিনি হলেন খারেজিদের নেতা যুল খুওয়াইসিরা আত-তামিমি, যেমনটি বুখারির (৩৬১০) একটি বর্ণনায় এসেছে। এই হাদিসটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াতের অন্যতম নিদর্শন, কারণ তিনি এখানে এমন ভবিষ্যৎ ঘটনার সংবাদ দিয়েছেন যা তখনো ঘটেনি। এই সংবাদটি পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হয়েছিল এবং আমিরুল মুমিনিন আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে সিফফিনের যুদ্ধের সময় এই দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল, যা তাঁর ও মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। শাহরাস্তানি উল্লেখ করেছেন যে, আলীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী প্রথম দলটি সিফফিনে তাঁরই সৈন্যবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাদের মধ্যে বিদ্রোহে সবচেয়ে কঠোর এবং দ্বীন থেকে বিচ্যুত ছিল: আশআস বিন কায়স আল-কিন্দি, মুসয়ির বিন ফাদাকি আত-তামিমি এবং জাইদ বিন হুসাইন আত-তাঈ। মুয়াবির সৈন্যরা যখন পরাজয়ের কাছাকাছি ছিল, তখন এই ব্যক্তিরা আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সালিশি (তাহকিম) মেনে নিতে বাধ্য করেছিল। তারা আলীকে বলেছিল: "এই লোকেরা আমাদের আল্লাহর কিতাবের দিকে ডাকছে, আর আপনি আমাদের তরবারির দিকে ডাকছেন।" তারা তাদের অবস্থানে অনড় ছিল এবং হুমকি দিয়েছিল যে, তিনি যদি তাদের কথা না মানেন, তবে তারা তাঁর সাথে তেমন আচরণ করবে যা তারা উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে করেছিল। ফলে তিনি সালিশি মেনে নেন। এরপর যা ঘটার তা-ই ঘটল, কিন্তু সালিশির ফলাফলে খারেজিরা সন্তুষ্ট হলো না। এরপর তারা আলীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসল এবং বলল: "আপনি কেন মানুষকে ফয়সালাকারী নিযুক্ত করলেন? আল্লাহর বিধান ছাড়া আর কোনো বিধান নেই।" এরাই সেই বিচ্যুত দল (মারিকাহ) যারা নাহরাওয়ানে একত্রিত হয়েছিল।

তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত ছিল, যার মধ্যে বড়গুলো হলো: মুহাক্কিমা, আজারিকা, নাজদাত, বাইহাসিয়া, আজারিদা, সালিবা, ইবাদিয়া, সুফরিয়া এবং বাকিরা এদেরই উপশাখা।

দেখুন: শাহরাস্তানি রচিত আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/১১৪-১১৫।

তাদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো আলী ও উসমান (রা.)-কে কাফের বলা এবং তাঁদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা। তারা কবিরা গুনাহকারীকে কাফের মনে করে এবং জালেম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা বৈধ মনে করে।

এই সম্প্রদায়টি ইবাদতের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে অগ্রগামী ছিল, কিন্তু কঠোর ইবাদত সত্ত্বেও তারা ওহির বর্ণনাগুলোকে নিজেদের বিবেক-বুদ্ধি, মতবাদ এবং প্রবৃত্তির সাথে মিল রাখার জন্য অপব্যাখ্যা (তাবিল) করত। ফলে তারা সঠিক ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছিল। একারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই হাদিসে তাদের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা হুবহু মিলে গেছে: "তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনভাবে শিকার ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়।" এই দলটি ইসলামি দলগুলোর মধ্যে অন্যতম বিপদজনক একটি দল।

খারেজিদের আরও কিছু উপাধি রয়েছে; তাদেরকে খারেজি বলা ছাড়াও হারুরিয়াহ, শুরাত, মারিকাহ, মুহাক্কিমা এবং নাওয়াসিব বলা হয়। দেখুন: আশআরির মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন ১/২০৬।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٨٣)
أَنْبَأَ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ (ثَنَا) (1) عَبْدُ اللَّهِ (ثَنَا) (2) أَبِي ثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثَنَا ابن أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: إِنَّ الْمَيِّتَ تَحْضُرُهُ الْمَلَائِكَةُ، فَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ الصَّالِحُ، قَالُوا: اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الطَّيِّبَةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ. اخْرُجِي حَمِيدَةً وَأَبْشِرِي بِرَوْحٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ، فَلَا يَزَالُ يُقَالُ (لَهَا) (3) ذَلِكَ حَتَّى تَخْرُجَ، ثُمَّ يُعْرَجُ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ، فَيُسْتَفْتَحُ لَهَا، فَيُقَالُ: مَنْ هَذَا؟ فَيُقَالُ: فُلَانٌ، فَيَقُولُونَ: مَرْحَبًا بِالنَّفْسِ الطَّيِّبَةِ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ، ادْخُلِي حَمِيدَةً، وَأَبْشِرِي بَرَوْحٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ، فَلَا يَزَالُ يُقَالُ (لَهَا) (4) ذَلِكَ حَتَّى يُنْتَهَى بِهَا إِلَى السَّمَاءِ الَّتِي فِيهَا اللَّهُ عز وجل، وَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ السُّوءُ قَالُوا: اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيثَةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الْخَبِيثِ، اخْرُجِي ذَمِيمَةً، وَأَبْشِرِي بِحَمِيمٍ وَغَسَّاقٍ وَآخَرُ مِنْ شَكْلِهِ أَزْوَاجٌ، فَلَا يَزَالُ (يُقَالُ لَهَا ذَلِكَ) (5) حَتَّى تَخْرُجَ، ثُمَّ يُعْرَجُ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ، فَيُسْتَفْتَحُ لَهَا، فَيُقَالُ: مَنْ هَذَا؟ فَيُقَالُ: فُلَانٌ، فَيُقَالُ: لَا مَرْحَبًا بِالنَّفْسِ الْخَبِيثَةِ كَانَتْ فِي

--------------------------------------------

(1) في (هـ) "قال ثنا".

(2) في النسخ الأخرى "حدثني".

(3) "لها" ليست في الأصل وأضفتها من النسخ الأخرى.

(4) ما بين القوسين لا يوجد في الأصل، وأصفته من النسخ الأخرى.

(5) ما بين القوسين لا يوجد في الأصل، وأصفته من النسخ الأخرى.
আহমাদ ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (১) (তিনি বলেছেন, আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন) আব্দুল্লাহ (২) (তিনি বলেছেন, আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন) আমার পিতা, তিনি বলেছেন আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ, তিনি বলেছেন আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি যিব, মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আতা থেকে বর্ণিত, তিনি সাঈদ ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তির কাছে ফেরেশতারা উপস্থিত হন। যদি সে নেককার ব্যক্তি হয়, তবে তারা বলেন: হে পবিত্র আত্মা! বের হয়ে এসো, যা একটি পবিত্র দেহে ছিলে। প্রশংসিত অবস্থায় বের হয়ে এসো এবং প্রশান্তি ও সুগন্ধি এবং এমন এক রবের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যিনি রাগান্বিত নন। তাকে (৩) এই কথা বলা হতে থাকে যতক্ষণ না সে বের হয়ে আসে। অতঃপর তাকে নিয়ে আসমানের দিকে আরোহণ করা হয় এবং তার জন্য দরজা খুলতে বলা হয়। তখন জিজ্ঞেস করা হয়: ইনি কে? বলা হয়: অমুক। তখন তারা বলেন: পবিত্র আত্মাকে স্বাগতম, যা একটি পবিত্র দেহে ছিল। প্রশংসিত অবস্থায় প্রবেশ করো এবং প্রশান্তি ও সুগন্ধি এবং এমন এক রবের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যিনি রাগান্বিত নন। তাকে (৪) এই কথা বলা হতে থাকে যতক্ষণ না তাকে সেই আসমান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা রয়েছেন। আর যদি সে মন্দ লোক হয়, তবে তারা বলেন: হে অপবিত্র আত্মা! বের হয়ে এসো, যা একটি অপবিত্র দেহে ছিলে। নিন্দিত অবস্থায় বের হয়ে এসো এবং ফুটন্ত গরম পানি ও পুঁজ এবং অনুরূপ আরও বিভিন্ন প্রকার আজাবের সুসংবাদ গ্রহণ করো। (তাকে এই কথা বলা হতে থাকে) (৫) যতক্ষণ না সে বের হয়ে আসে। অতঃপর তাকে নিয়ে আসমানের দিকে আরোহণ করা হয় এবং তার জন্য দরজা খুলতে বলা হয়। তখন জিজ্ঞেস করা হয়: ইনি কে? বলা হয়: অমুক। তখন বলা হয়: অপবিত্র আত্মার জন্য কোনো স্বাগতম নেই, যা ছিল...

--------------------------------------------

(১) 'হা' (هـ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "তিনি বলেছেন, আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন"।

(২) অন্যান্য কপিতে রয়েছে "তিনি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন"।

(৩) "তাকে" শব্দটি মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই, আমি এটি অন্যান্য কপি থেকে যোগ করেছি।

(৪) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই, আমি এটি অন্যান্য কপি থেকে যোগ করেছি।

(৫) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই, আমি এটি অন্যান্য কপি থেকে যোগ করেছি।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٨٤)
الْجَسَدِ الْخَبِيثِ، ارْجِعِي ذَمِيمَةً فَإِنَّهُ لَا تُفْتَحُ لَكِ أَبْوَابُ السَّمَاءِ، ثُمَّ تُرْسَلُ مِنَ السَّمَاءِ ثُمَّ تَصِيرُ إِلَى الْقَبْرِ (1) .

11- أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ صَدَقَةَ الْحَرَّانِيُّ، أَنْبَأَ الْفِرَاوِيُّ، أَنْبَأَ عَبْدُ الْغَافِرِ الْفَارِسِيُّ، أَنْبَأَ أَبُو أَحْمَدَ الْجُلُودِيُّ، أَنْبَأَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُفْيَانَ، ثَنَا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ، ثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، ثَنَا مَرْوَانُ ثَنَا يَزِيدُ يَعْنِي ابْنَ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مِنْ رَجُلٍ يَدْعُو امْرَأَتَهُ إِلَى (فِرَاشِهِ) (2) ، فَتَأْبَى عَلَيْهِ إِلَّا كَانَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ سَاخِطًا عَلَيْهَا حَتَّى يَرْضَى عَنْهَا". (أَخْرَجَهُ مُسْلِم) (3) .

12- أَنْبَأَ أَبُو سَعِيدٍ (الْخَلِيلُ بْنُ أَبِي الرَّجَاءِ الرَّارَانِيُّ) (4) ، قَالَ: أَنْبَأَ أَبِو عَلِيٍّ الْحَدَّادُ، أَنْبَأَ أَبُو نُعَيْمٍ، أَنْبَأَ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي خَلَّادٍ، ثَنَا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي

--------------------------------------------

(1) في هامش (ر) قال الحافظ أبو نعيم: هذا حديث متفق على عدالة ناقله، اتفق الإمامان محمد بن إسماعيل البخاري، ومسلم بن الحجاج على ابن أبي ذئب، ومحمد بن عمرو بن عطاء، وهما من شرطهما، وراه المتقدمون الكبار عن ابن أبي ذئب مثل ابن أبي فديك، وعبد الرحيم بن إبراهيم. انتهى.

أخرجه ابن ماجه في كتاب الزهد، باب ذكر الموت والاستعداد له، ح (4262) ، 2/1423. وأحمد في المسند 2/364، وأورده الذهبي في العلو ص 22، وقال: رواه أحمد في مسنده، والحاكم في مستدركه، وقال: هو على شرط البخاري ومسلم.

(2) في (هـ) و (ر) "فراشها".

(3) في النسخ الأخرى (أخرجه البخاري ومسلم) . والحديث في مسلم، كتاب النكاح، باب تحريم امتناعها من فراش زوجها، ح (1436) ، 2/1060، وفي البخاري، كتاب النكاح أيضا، باب إذا باتت المرأة مهاجرة فراش زوجها، ح (5193-5194) ، إلا أنه أورده بلفظ آخر ليس فيه الشاهد، وهو "إذا دعا الرجل امرأته إلى فراشه فأبت أن تجئ لعنتها الملائكة حتى تصبح"، ولفظ آخر: "إذا باتت المرأة مهاجرة فراش زوجها لعنتها الملائكة حتى ترجع". انظر: فتح الباري 9/294.

(4) في النسخ الأخرى "الخليل أبو الرجاء الرازاني" وإنما هو كما في الأصل. وهو الشيخ الجليل المسند أبو سعيد خليل بن أبي الرجاء بدر بن أبي الفتح، ثابت بن روح، الأصبهاني، الراراني -براءين مهملتين- الصوفي، مات سنة (596هـ) . انظر: سير أعلام النبلاء 21/269.
সেই অপবিত্র দেহ থেকে। তুই নিন্দিত অবস্থায় ফিরে যা, কারণ তোর জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না। এরপর তাকে আসমান থেকে নিক্ষেপ করা হয় এবং সে কবরের দিকে ফিরে যায় (১)।

১১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ বিন সাদাকা আল-হাররানি, তিনি আল-ফিরাউয়ি থেকে, তিনি আব্দুল গাফির আল-ফারিসি থেকে, তিনি আবু আহমদ আল-জুলুদি থেকে, তিনি ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান থেকে, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবন আবি উমর, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মারওয়ান, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াজিদ (অর্থাৎ ইবন কায়সান), তিনি আবু হাজিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে (আল্লাহর হাতে) আমার প্রাণ, যে ব্যক্তিই তার স্ত্রীকে তার (বিছানায়) (২) আহ্বান করে আর সে তাকে অস্বীকার করে, তবে আসমানের উপরে যিনি আছেন তিনি তার ওপর রাগান্বিত থাকেন যতক্ষণ না স্বামী তার ওপর সন্তুষ্ট হয়।" (এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন) (৩)।

১২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ (আল-খলিল বিন আবি আর-রাজা আর-রারানি) (৪), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি আল-হাদ্দাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন আবি খাল্লাদ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-হারিস বিন মুহাম্মদ বিন আবি

--------------------------------------------

(১) (র) পাণ্ডুলিপির টীকায় হাফেজ আবু নুআইম বলেন: এটি এমন একটি হাদিস যার বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতার ব্যাপারে সকলে একমত। দুই ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি এবং মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ ইবন আবি যিব এবং মুহাম্মদ বিন আমর বিন আতার ওপর একমত হয়েছেন এবং তাঁরা উভয়েই তাঁদের শর্তানুযায়ী। প্রাচীন বড় ইমামগণ ইবন আবি যিব থেকে এটি বর্ণনা করেছেন যেমন ইবন আবি ফুদাইক এবং আব্দুর রহিম বিন ইবরাহিম। সমাপ্ত। এটি ইবন মাজাহ কিতাবুয যুহদ-এ বর্ণনা করেছেন, মৃত্যু ও তার প্রস্তুতির আলোচনা পরিচ্ছেদ, হাদিস (৪২৬২), ২/১৪২৩। আহমদ এটি মুসনাদ-এ বর্ণনা করেছেন ২/৩৬৪। আয-যাহাবি এটি আল-উলু গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ২২) উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আহমদ তাঁর মুসনাদ-এ এবং হাকেম তাঁর মুসতাদরাক-এ এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী।

(২) (হ) ও (র) পাণ্ডুলিপিতে "তার বিছানা" (স্ত্রীলিঙ্গ অর্থে) রয়েছে।

(৩) অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে (এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন)। হাদিসটি মুসলিমে রয়েছে, বিবাহ অধ্যায়, স্বামীর বিছানায় আসতে স্ত্রীর অস্বীকৃতি জানানোর হারামের আলোচনা পরিচ্ছেদ, হাদিস (১৪৩৬), ২/১০৬০। বুখারিতেও বিবাহ অধ্যায়, যখন কোনো নারী তার স্বামীর বিছানা বর্জন করে রাত কাটায় পরিচ্ছেদ, হাদিস (৫১৯৩-৫১৯৪) এ রয়েছে; তবে তিনি এটি অন্য শব্দে উল্লেখ করেছেন যাতে মূল আলোচ্য বিষয়টি নেই, আর তা হলো "যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তার বিছানায় ডাকে আর সে আসতে অস্বীকার করে, তবে ফেরেশতারা তাকে সকাল পর্যন্ত অভিশাপ দিতে থাকে", এবং অন্য শব্দে: "যখন কোনো নারী তার স্বামীর বিছানা বর্জন করে রাত কাটায়, তবে ফেরেশতারা তাকে ফিরে আসা পর্যন্ত অভিশাপ দিতে থাকে"। দেখুন: ফাতহুল বারি ৯/২৯৪।

(৪) অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে "খলিল আবু আর-রাজা আর-রাজানি" রয়েছে, তবে এটি মূল পাণ্ডুলিপিতে যেমন আছে সেটিই সঠিক। তিনি হলেন মহান শায়খ মুসনিদ আবু সাঈদ খলিল বিন আবি আর-রাজা বদর বিন আবিল ফাতহ, সাবিত বিন রুহ আল-আসবাহানি আর-রারানি —দুটি নুক্তাবিহীন ‘রা’ বর্ণসহ— সুফি, তিনি (৫৯৬ হিজরি) সনে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২১/২৬৯।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٨٥)
أُسَامَةَ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، ثَنَا أَبُو الْحَارِثِ الْوَارِقُ، عَنْ (بَكْرِ) (1) بْنِ خُنَيْسٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نَسِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ اللَّهَ لَيَكْرَهُ فِي السَّمَاءِ أَنْ يخطأ أَبُو بَكْرٍ فِي الأَرْضِ" (2) .

--------------------------------------------

(1) في (م) "بكير"، وهو خطأ. انظر ترجمته في: التهذيب 1/481.

(2) موضوع، أورده ابن الجوزي في الموضوعات 1/319، وقال: هذا حديث موضوع على رسول الله صلى الله عليه وسلم، لا يرويه عن بكر بن خنيس إلا أبو الحارث واسمه نصر بن حماد. قال يحيى: هو كذاب، وقال مسلم بن الحجاج: ذاهب الحديث، وقال النسائي ليس بثقة. أهـ. وانظر: ميزان الاعتدال (4/250/ 251) ، وقال العقيلي: نصر بن حماد كذاب. الضعفاء (4/301) ، وأورده الدارقطني في الضعفاء والمتروكين ص 380.

أما بكر بن خنيس الكوفي فقال الدارقطني: متروك، وقال النسائي وآخرون: ضعيف. وقال أبو داود، وابن معين: ليس بشيء. انظر: التهذيب (1/481-482) ، والميزان 1/344. وأورده الذهبي في العلو ص 55، وقال أبو الحارث: مجهول، وبكر واه، وشيخه المصلوب تالف، والخبر غير صحيح، وعلى باغض الصديق اللعنة. اهـ. وقوله: أبو الحارث مجهول فيه نظر، لأنه -أي الذهبي ترجم له في الميزان- كما تقدم- وذكر آراء العلماء فيه.

وأما المصلوب: فهو محمد بن سعيد راوي الحديث عن ابن نسى، فهو شامي من أهل دمشق. قال الذهبي في الميزان: هالك اتهم بالزندقة فصلب، وقال النسائي: غير ثقة، ولا مأمون، وقال الثوري، وأحمد بن حنبل: كذاب. وقال أبو داود عن أحمد بن حنبل: عمدا كان يضع الحديث. وقال النسائي: "الكذابون المعروفون بوضع الحديث أربعة: إبراهيم بن أبي يحيى بالمدينة، والواقدي ببغداد، ومقاتل بن سليمان بخرسان، ومحمد بن سعيد بالشام". وقال الدارقطني، وغيره: متروك.

انظر: ميزان الاعتدال 3/561-562، والتهذيب 9/184-185.

ورواه الطبراني في الكبير (20/67-68) بطريق لا تقل تهالكا عن هذه، لأن فيها أبو العطوف، جراح بن المنهال الجزري، منكر الحديث كما قال عنه البخاري ومسلم، وقال النسائي والدارقطني: متروك، وقال ابن حبان: كان يكذب في الحديث، ويشرب الخمر. انظر: الميزان 1/390، وفيها الوضين بن عطاء، قال ابن سعد: ضعيف، وقال أبو حاتم: يعرف وينكر، وقال الجوزجاني: واهي الحديث. الميزان 4/334.

وأبو بكر الصديق رضي الله عنه له من المناقب والفضائل العظيمة ما ليس لغير من الصحابة، وقد وردت إلينا من طرق في غاية الصحة، كما في فضائله عند البخاري، ومسلم وغيرهما من أئمة المحدثين.
উসামাহ (বলেন), আহমাদ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল হারিস আল-ওয়ারিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি (বাকর) (১) ইবনে খুনায়স থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি উবাদাহ ইবনে নাসিয় থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে গানম থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমানে অপছন্দ করেন যে, আবু বকর জমিনে কোনো ভুল করবেন।" (২) ।

--------------------------------------------

(১) (ম) পাণ্ডুলিপিতে "বুকাইর" আছে, যা ভুল। তার জীবনী দেখুন: আত-তাহজিব ১/৪৮১।

(২) জাল (মাওজু), ইবনুল জাওজি এটি আল-মাওজুআত ১/৩১৯-এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আরোপিত একটি জাল হাদীস। বাকর ইবনে খুনায়স থেকে আবুল হারিস ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেনি, যার নাম নাসর ইবনে হাম্মাদ। ইয়াহইয়া বলেন: সে চরম মিথ্যাবাদী। মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ বলেন: তার হাদীস পরিত্যক্ত। আন-নাসায়ী বলেন: সে নির্ভরযোগ্য নয়। সমাপ্ত। আরও দেখুন: মিজানুল ইতিদাল (৪/২৫০/২৫১), এবং আল-উকায়লী বলেন: নাসর ইবনে হাম্মাদ মিথ্যাবাদী। আদ-দুয়াফা (৪/৩০১), এবং আদ-দারাকুতনী এটি আদ-দুয়াফা ওয়াল মাতرুকীন পৃষ্ঠা ৩৮০-এ উল্লেখ করেছেন।

আর বাকর ইবনে খুনায়স আল-কুফী সম্পর্কে আদ-দারাকুতনী বলেন: পরিত্যক্ত (মাতরুক), আন-নাসায়ী এবং অন্যান্যরা বলেন: দুর্বল। আবু দাউদ ও ইবনে মাঈন বলেন: সে কিছুই নয় (অর্থাৎ অতি দুর্বল)। দেখুন: আত-তাহজিব (১/৪৮১-৪৮২), এবং আল-মিজান ১/৩৪৪। আজ-জাহাবী এটি আল-উলু পৃষ্ঠা ৫৫-এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আবুল হারিস অজ্ঞাত (মাজহুল), বাকর অত্যন্ত দুর্বল, এবং তার শায়খ আল-মাসলুব ধ্বংসপ্রাপ্ত (তালিফ), আর এই সংবাদটি সহীহ নয়; আর সিদ্দীকের (আবু বকর) প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীর ওপর অভিশাপ। সমাপ্ত। আর তার (আজ-জাহাবীর) কথা: "আবুল হারিস অজ্ঞাত" - এতে আপত্তি আছে, কারণ তিনি স্বয়ং অর্থাৎ আজ-জাহাবী তার জীবনী মিজানে উল্লেখ করেছেন - যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে - এবং তার সম্পর্কে ওলামাদের মতামত উল্লেখ করেছেন।

আর আল-মাসলুব: তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ, যিনি ইবনে নাসিয় থেকে হাদীস বর্ণনাকারী। তিনি সিরিয়ার দামেশকবাসী ছিলেন। আজ-জাহাবী মিজানে বলেন: সে ধ্বংসপ্রাপ্ত, তার ওপর যিন্দিক হওয়ার অপবাদ দেওয়া হয়েছিল, তাই তাকে শূলে চড়ানো হয়েছিল। আন-নাসায়ী বলেন: সে নির্ভরযোগ্য নয় এবং বিশ্বস্তও নয়। আস-সাওরী এবং আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: চরম মিথ্যাবাদী। আবু দাউদ আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণনা করেন: সে ইচ্ছাকৃতভাবে হাদীস জাল করত। আন-নাসায়ী বলেন: "হাদীস জালের জন্য প্রসিদ্ধ মিথ্যাবাদী চারজন: মদিনায় ইব্রাহিম ইবনে আবি ইয়াহইয়া, বাগদাদে আল-ওয়াকিদী, খোরাসানে মুকাতিল ইবনে সুলাইমান এবং সিরিয়ায় মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ।" আদ-দারাকুতনী এবং অন্যরা বলেন: সে পরিত্যক্ত (মাতরুক)।

দেখুন: মিজানুল ইতিদাল ৩/৫৬১-৫Group৬২, এবং আত-তাহজিব ৯/১৮৪-১৮৫।

আত-তাবারানী এটি আল-কাবীর (২০/৬৭-৬৮)-এ এমন সূত্রে বর্ণনা করেছেন যা এই সূত্রের চেয়ে কম ধ্বংসাত্মক নয়, কারণ এতে আবুল আতূফ জাররাহ ইবনুল মিনহাল আল-জাজারী রয়েছে, সে মুনকারুল হাদীস (অগ্রহণযোগ্য হাদীস বর্ণনাকারী) যেমনটি তার সম্পর্কে আল-বুখারী ও মুসলিম বলেছেন। আন-নাসায়ী ও আদ-দারাকুতনী বলেন: পরিত্যক্ত (মাতরুক)। ইবনে হিব্বান বলেন: সে হাদীসের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলত এবং মদ পান করত। দেখুন: আল-মিজান ১/৩৯০। আর এই সূত্রে ওয়াদীন ইবনে আতা রয়েছে, ইবনে সা'দ বলেন: সে দুর্বল। আবু হাতিম বলেন: সে কখনো পরিচিত আবার কখনো অপরিচিত (অগ্রহণযোগ্য) হাদীস বর্ণনা করে। আল-জাওযজানী বলেন: তার হাদীস অত্যন্ত দুর্বল। আল-মিজান ৪/৩৩৪।

আর আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর এমন অনেক সুমহান মর্যাদা ও গুণাবলী রয়েছে যা অন্য কোনো সাহাবীর নেই। আর তা আমাদের নিকট অত্যন্ত সহীহ ও বিশুদ্ধ সূত্রে পৌঁছেছে, যেমনটি আল-বুখারী, মুসলিম এবং অন্যান্য ইমামগণের বর্ণিত তাঁর ফজিলতসমূহের মধ্যে পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٨٦)
13- كَتَبَ إِلَيَّ الإِمَامُ الْفَقِيهُ نَجْمُ الدِّينِ أَبُو الْعَبَّاسِ، أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ خَلَفٍ، يَقُولُ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَنَامِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أُرِيدُ أَنْ أَسَأَلَكَ عَنْ مَسَأَلَةٍ، قَالَ: فَمَا هِيَ، قُلْتُ: جَاءَ فِي الْقُرْآنِ وَالأَحَادِيثِ الصَّحِيحَةِ أَنَّ اللَّهَ فِي السَّمَاءِ، وَأَكْثَرُ النَّاسُ يُنْكِرُونَ هَذَا. وَمَنْ يُنْكِرُ هَذَا الأَمْرَ؟! كَذَلِكَ اللَّهُ فِي السَّمَاءِ (1) .

--------------------------------------------

(1) هذا الخبر لا يوجد في الأصل.

وهكذا نرى أن هذه الأحاديث وما سبقها من الآيات تدل بغاية الصراحة والوضوح على علو الله تبارك وتعالى بذاته، وأنه سبحانه في جهة العلو دون غيرها من الجهات، ورغم وضوح الأدلة وصراحتها بذلك فقد أنكر المبتدعة علو الله تعالى بذاته، وحكموا بعقولهم -المريضة- على نصوص الوحي، فقالوا: لو كان الله تعالى كذلك -أي في جهة العلو بذاته- لأشبه المخلوقات، لأن ذلك يعني أن يكون الله في مكان، والمكان يقتضي التحيز والتجسيم، وهذه من خصائص المخلوقين، لأن ما أحاطت به الأمكنة واحتوته فهو مخلوق مجسم. إلا أن هذا لا يلزم أهل الحق في شيء.

يقول الإمام ابن القيم رحمه الله: ولا معنى لهذا الإلزام، لأنه تعالى {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} من خلقه، ولا يقاس بشيء من بريته، ولا يدرك بقياس، ولا يقاس بالناس، لأنه سبحانه كان قبل الأمكنة، ثم يكون بعدها، لا إله إلا هو خالق كل شيء لا شريك له. وقد اتفق المسلمون وكل ذي لب أنه لا يعقل كائن إلا في مكان، وما ليس في مكان فهو عدم. وقد صح في العقول، وثبت بالدلائل أنه كان في الأزل لا في مكان، وليس بمعدوم، فكيف يقاس على شيء من خلقه، أو يجري بينه وبينهم تمثيل أو تشبيه، تعالى الله عما يقول الظالمون علوا كبيرا.
১৩- ইমাম ফকিহ নাজমুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে খালাফ আমার নিকট লিখেছেন, তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনাকে একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাই। তিনি বললেন: তা কী? আমি বললাম: কুরআন এবং সহীহ হাদিসসমূহে এসেছে যে, আল্লাহ আকাশে আছেন, অথচ অধিকাংশ মানুষ এটি অস্বীকার করে। আর কে এই বিষয়টি অস্বীকার করে?! তদ্রূপ আল্লাহ আকাশে আছেন (১)।

--------------------------------------------

(১) এই বর্ণনাটি মূল পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায় না।

এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, এই হাদিসগুলো এবং এর পূর্ববর্তী আয়াতসমূহ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার স্বীয় সত্তায় সুউচ্চ হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা অন্যান্য দিকের পরিবর্তে কেবল উচ্চতার দিকেই রয়েছেন। দলিলের স্পষ্টতা সত্ত্বেও বিদআতিরা আল্লাহ তাআলার স্বীয় সত্তায় সুউচ্চ হওয়াকে অস্বীকার করেছে এবং তারা তাদের অসুস্থ বিবেক দ্বারা ওহীর ভাষ্যের ওপর ফয়সালা দিয়েছে। তারা বলে: আল্লাহ তাআলা যদি এমন হন—অর্থাৎ স্বীয় সত্তায় উচ্চতার দিকে থাকেন—তবে তিনি সৃষ্টির সদৃশ হয়ে যাবেন। কারণ এর অর্থ দাঁড়ায় আল্লাহ কোনো স্থানে অবস্থান করছেন, আর স্থান গ্রহণ করা সীমাবদ্ধতা এবং দেহবিশিষ্ট হওয়ার দাবি রাখে, আর এগুলো সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য। কেননা যা স্থান দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং যা কিছুর কোনো আধার রয়েছে, তা সৃষ্টি এবং দেহবিশিষ্ট। তবে এই দাবি সত্যপন্থীদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন: এই আপত্তির কোনো অর্থ নেই, কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর মতো নন, কোনো সৃষ্টির সাথে তাঁর তুলনা করা যায় না, কোনো যুক্তির মাধ্যমে তাঁকে উপলব্ধি করা যায় না এবং মানুষের সাথে তাঁর তুলনা করা চলে না। কারণ তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্থান সৃষ্টির পূর্বে ছিলেন এবং স্থানসমূহের বিলুপ্তির পরেও থাকবেন। তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি সবকিছুর স্রষ্টা, তাঁর কোনো শরিক নেই। সকল মুসলিম এবং বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা একমত হয়েছেন যে, কোনো বিদ্যমান সত্তাকে স্থান ছাড়া কল্পনা করা যায় না, আর যা কোনো স্থানে নেই তা অস্তিত্বহীন। বিবেকের বিচারে সঠিক এবং দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত যে, তিনি অনাদি কাল থেকেই ছিলেন অথচ কোনো স্থান ছিল না, তবুও তিনি অস্তিত্বহীন ছিলেন না। তাহলে কীভাবে তাঁর সৃষ্টির কোনো বিষয়ের সাথে তাঁর তুলনা করা হতে পারে, অথবা তাঁর এবং সৃষ্টির মাঝে কোনো সাদৃশ্য বা তুলনা হতে পারে? জালিমরা যা বলে তা থেকে আল্লাহ তাআলা অনেক ঊর্ধ্বে এবং সুমহান।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٨٧)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

فإن قال قائل: إذا وصفنا ربنا أنه كان في الأزل لا في مكان، ثم خلق الأماكن فصار في مكان، ففي ذلك إقرار منافيه بالتغيير والانتقال إذا زال عن صفته في الأزل، وصار في مكان دون مكان، قيل له كذلك زعمت أنت أنه كان لا في مكان ثم صار في كل مكان، فقد تغير عندك معبودك، وانتقل من لا مكان إلى كل مكان، فإن قال إنه كان في الأزل في كل مكان، وكما هو الآن فقد أوجب الأماكن والأشياء معه وهذا فاسد … "اجتماع الجيوش الإسلامية" ص 97. فالله سبحانه في السماء على العرش كما أخبر عن نفسه، وكما أخبر عنه نبيه صلى الله عليه وسلم، والعلو مما تقتضيه الضرورة والفطرة، وبدائة العقول، إلا أن ذلك لا يعني أنه سبحانه حالا في مخلوقاته، لأن الجهة التي أثبتناها لله تعالى إنما هي جهة عدمية لا وجودية، فالجهة إنما هي ثابتة لله تعالى بهذا المعنى، ويوضح الإمام ابن تيمية المعنى الصحيح للجهة الذي يجب إثباته لله تعالى، فيقول: "أما من يعتقد الجهة، فإن كان يعتقد أن الله تعالى في داخل المخلوقات، وتحويه المصنوعات، وتحصره السماوات، أو يكون بعض المخلوقات فوقه وبعضها تحته، فهذا مبتدع ضال، وكذلك أيضا إن كان يعتقد أن الله يفتقر إلى شيء يحمله، إلى العرش، أو غيره، فهو أيضا مبتدع ضال، وكذلك إن جعل صفات الله مثل صفات المخلوقين … فهو مبتدع ضال. فإن الكتاب والسنة مع العقل دلت على أن الله لا تماثله المخلوقات في شيء من الأشياء، ودلت على أن الله غني عن كل شيء، ودلت على أن الله مباين لمخلوقاته عال عليها. وإن كان يعتقد أن الخالق تعالى بائن عن المخلوقات، وأنه فوق سماواته على عرشه بائن من مخلوقاته، فإنه ليس في مخلوقاته شيء من ذاته، ولا في ذاته شيء من مخلوقاته، وأن الله غني عن العرش وعن كل ما سواه، لا يفتقر إلى شيء من المخلوقات، بل هو مع استوائه على عرشه، يحمل العرش وحمله العرش بقدرته، ولا يمثل استواء الله باستواء المخلوقين، بل يثبت لله ما أثبته لنفسه من الأسماء والصفات، وينفي عنه مماثلة المخلوقات، ويعلم أن الله {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} ، لا في ذاته، ولا في صفاته، ولا في أفعاله، فهذا مصيب في اعتقاده، موافق لسلف الأمة وأئمتها. انظر: مقدمة درء تعارض العقل والنقل 1/38-39.

وهكذا نرى أن الحق في مسألة الجهة والمكان هو اعتقاد أن الله عال على مخلوقاته بائن منها منفصل عنها، وهذا يعني الجهة العدمية لا الوجودية، لأنه لا شيء من المخلوقات فوق العرش حتى يكون الله تعالى حالا فيها. وقد سبق الفيلسوف المعروف أبو اليد ابن

رشد -سبق ابن تيمية على هذا التفصيل في الجهة، وهو ما ارتضاه شيخ الإسلام لموافقته الحق
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

যদি কোনো প্রশ্নকারী বলে: যদি আমরা আমাদের রবকে এমনভাবে বর্ণনা করি যে তিনি অনাদিকালে কোনো স্থানে ছিলেন না, অতঃপর তিনি স্থানসমূহ সৃষ্টি করলেন এবং একটি স্থানে অবস্থান নিলেন, তবে এর মাধ্যমে আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর মধ্যে পরিবর্তন ও স্থানান্তরের স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যেহেতু তিনি তাঁর অনাদি বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত হলেন এবং এক স্থানের পরিবর্তে অন্য স্থানে হলেন; তবে তাকে বলা হবে, একইভাবে আপনিও তো দাবি করেছেন যে তিনি কোনো স্থানে ছিলেন না, অতঃপর তিনি সব স্থানে হয়ে গেলেন। ফলে আপনার কাছে আপনার উপাস্য পরিবর্তিত হয়ে গেলেন এবং স্থানহীনতা থেকে সব স্থানে স্থানান্তরিত হলেন। আর যদি সে বলে যে, তিনি অনাদিকালে সব স্থানে ছিলেন যেমনটি তিনি এখন আছেন, তবে সে আল্লাহর সাথে স্থান ও বস্তুসমূহের অনাদিত্ব সাব্যস্ত করল, আর এটি বাতিল ... "ইজতিমাউল জুইউশ আল-ইসলামিয়্যাহ" পৃষ্ঠা ৯৭। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আসমানে আরশের উপর আছেন যেমনটি তিনি নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। আর উচ্চতা বা সমুন্নত হওয়া এমন একটি বিষয় যা অপরিহার্যতা, ফিতরাত (প্রবৃত্তি) এবং সুস্থ বিবেক দাবি করে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, তিনি তাঁর সৃষ্টির ভেতরে মিশে আছেন। কারণ আমরা আল্লাহর জন্য যে দিক সাব্যস্ত করেছি তা একটি অনস্তিত্বশীল দিক, অস্তিত্বশীল দিক নয়। আল্লাহর জন্য দিক মূলত এই অর্থেই সাব্যস্ত। ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল্লাহর জন্য সাব্যস্তযোগ্য দিকের সঠিক অর্থ ব্যাখ্যা করে বলেন: "পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি দিকের আকিদা পোষণ করে, সে যদি বিশ্বাস করে যে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টির অভ্যন্তরে আছেন, সৃষ্টিরাজি তাঁকে পরিবেষ্টন করে আছে, আসমানসমূহ তাঁকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে, অথবা কিছু সৃষ্টি তাঁর উপরে আর কিছু সৃষ্টি তাঁর নিচে—তবে সে একজন বিভ্রান্ত বিদআতি। অনুরূপভাবে সে যদি বিশ্বাস করে যে আল্লাহ কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী যা তাঁকে বহন করবে, যেমন আরশ বা অন্য কিছু, তবে সেও একজন বিভ্রান্ত বিদআতি। তেমনিভাবে সে যদি আল্লাহর গুণাবলিকে সৃষ্টির গুণাবলির মতো সাব্যস্ত করে ... তবে সে একজন বিভ্রান্ত বিদআতি। কেননা কিতাব ও সুন্নাহর পাশাপাশি বিবেকও এ কথার প্রমাণ দেয় যে, কোনো সৃষ্টিই কোনো দিক থেকে আল্লাহর সদৃশ নয়। এগুলো আরও প্রমাণ দেয় যে আল্লাহ সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী এবং তিনি তাঁর মাখলুকাত থেকে পৃথক ও তাদের উপরে সমুন্নত। আর যদি সে বিশ্বাস করে যে স্রষ্টা তায়ালা মাখলুকাত থেকে পৃথক, তিনি তাঁর আসমানসমূহের উপরে আরশের উপর অবস্থান করছেন এবং তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে আলাদা; তাঁর সত্তার মাঝে সৃষ্টির কোনো অংশ নেই এবং সৃষ্টির মাঝে তাঁর সত্তার কোনো অংশ নেই; আল্লাহ আরশ ও অন্য সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী এবং তিনি সৃষ্টির কোনো কিছুরই মুখাপেক্ষী নন; বরং তিনি আরশের উপর উঠা সত্ত্বেও আরশকে বহন করেন এবং তাঁর কুদরতই আরশকে ধারণ করে আছে; আল্লাহর উঠাকে সৃষ্টির উঠার সাথে তুলনা করা যাবে না, বরং আল্লাহর জন্য সেই সব নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করতে হবে যা তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন এবং সৃষ্টির সাথে তাঁর সাদৃশ্যকে অস্বীকার করতে হবে; আর এটা জানতে হবে যে আল্লাহ এমন যাঁর {সদৃশ কিছুই নেই}, তাঁর সত্তায় নয়, তাঁর গুণাবলিতে নয় এবং তাঁর কার্যাবলিতেও নয়; তবে এই ব্যক্তি তার আকিদায় সঠিক এবং উম্মাহর সালাফ ও ইমামদের অনুসারী।" দেখুন: মুকাদ্দিমা দারউ তাআরুদিল আকল ওয়ান নাকল ১/৩৮-৩৯।

এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, দিক ও স্থানের মাসআলায় সত্য হলো এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির উপরে সমুন্নত এবং সৃষ্টি থেকে পৃথক ও বিচ্ছিন্ন। এর অর্থ হলো অনস্তিত্বশীল দিক, অস্তিত্বশীল দিক নয়। কারণ আরশের উপরে এমন কোনো সৃষ্টি নেই যার ভেতরে আল্লাহ তায়ালা মিশে থাকতে পারেন। প্রখ্যাত দার্শনিক আবুল ওয়ালিদ ইবনে

রুশদ দিকের এই বিস্তারিত বর্ণনায় ইবনে তাইমিয়্যার অগ্রগামী ছিলেন, যা শাইখুল ইসলাম গ্রহণ করেছেন কারণ তা সত্যের অনুকূল।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٨٨)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

الذي تدل عليه الأدلة من الكتاب والسنة والعقل والفطرة جميعا، والمتكلمون ينفون الجهة بإطلاق، وهو نفي باطل، لأنهم يثبتون وجود الله تعالى، ويزعمون أنهم ينزهونه عن مشابهة المخلوقات بنفي أن يكون في جهة من الجهات، وهذا إثبات وهمي حقيقته نفي وجود الله تعالى. وهو خطأ جسيم كابروا به العقل والفطرة فضلا عن نصوص الوحي الصريحة القاطعة، والذي فصل أهل الحق فيه هذا التفصيل فنزهوه عن الحلول بإثبات علوه ومباينته وانفصاله عن جميع مخلوقاته سبحانه.

وإنني لأعجب من أولئك المبتدعة الذين يلغون عقولهم، ويروجون لمذهبهم، ويصرون على صحته، وأنه لا حق سواه، مع أن مخالفته للوحي المعصوم لا تحتاج إلى كد ذهن، ولا إمعان روية، لأنها في غاية الجلاء وفي منتهى الوضوح. فالله تعالى يقول عن نفسه إنه في السماء وإنه فوق. ويخبر عنه رسوله بذلك فيما لا يحصى كثرة من الأحاديث، والفطرة والعقل شاهدان على ذلك. وهم يقولون موجود، ولكنه ليس في مكان. أو أنه في كل مكان، فهل هذا إلا تعطيل لنصوص الوحي، وإلغاء للعقل، ومكابرة الفطرة؟! وذلك كانت سفسطتهم وبالا عليهم، فأوقعهم في حيرة وشك، وكانت نهاية أمرهم الإفلاس، والاعتراف بالتخبط وعدم الاهتداء، كما سبق أن أوضحنا من مقالات أئمتهم في الدراسة التي قدمنا بها لهذا الكتاب. ولا ريب أن القوم سيكون لهم موقف مما خالف مذهبهم من نصوص الوحي، من أجل محاولة المحافظة على ماء وجوههم المهراقة، فعمدوا إلى النصوص المثبتة لهذه الصفة، التي هي من أعظم الصفات وأجلها، فأولوها بما يبعدها عن الوقوف في وجه باطلهم، يقول الإمام ابن القيم رحمه الله واصفا موقفهم وحقيقته ومؤداه: " … التاسع: التأويل الذي يوجب تعطيل المعنى الذي هو في غاية العلو والشرف، ويحطه إلى معنى دونه بمراتب كثيرة، وهو شبيه بعزل السلطان عن ملكه، وتوليته مرتبة دون الملك بكثير، مثاله: تأويل الجهمية قوله تعالى: {وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ} (الأنعام: من الآية: 18) ، وقوله: {يَخَافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ} (النحل: من الآية: 50) ، ونظائره بأنها فوقية الشرف. كقولهم: الدرهم فوق الفلس، والدنيار فوق الدرهم، فتأمل تعطيل المتأولين حقيقة الفوقية المطلقة التي هي من خصائص الربوبية، وهي المستلزمة لعظمة الرب جل جلاله، وحطها إلى كون قدره فوق قدر بني آدم، وأنه أشرف منهم، وكذلك تأويلهم علوه بهذا المعنى، وأنه كعلو الذهب على الفضة". الصواعق المنزلة 1/92-93.

ومن اطلع على تأويلات القوم وجدهم لم يستفيدوا منها إلا تعطيل حقائق النصوص والانحراف بها عن دلالتها، إذ وجهوها إلى معان أخرى لا تستقيم لهم، ولزمهم فيها نظير
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

কিতাব, সুন্নাহ, আকল (বিবেক) এবং ফিতরাত—এই সবকটি দলীল যা নির্দেশ করে; আর মুতাকাল্লিমগণ ঢালাওভাবে 'দিক' (জিহা) অস্বীকার করেন, যা একটি বাতিল ও অসার অস্বীকৃতি। কারণ তারা মহান আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করেন, আবার দাবি করেন যে তারা কোনো দিকে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করার মাধ্যমে তাঁকে সৃষ্টিজগতের সদৃশ হওয়া থেকে পবিত্র করছেন। মূলত এটি এমন এক কাল্পনিক সাব্যস্তকরণ যার প্রকৃত রূপ হলো আল্লাহর অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা। এটি একটি গুরুতর ভুল যার মাধ্যমে তারা সুস্পষ্ট ও অকাট্য ওহীর ভাষ্য ছাড়াও আকল ও ফিতরাতের সাথে হঠকারিতা করেছে। এ বিষয়ে সত্যপন্থীরা (আহলে হক) বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে বলেন যে, তারা তাঁর উচ্চতা (উলুউ) এবং সমস্ত সৃষ্টিজগত থেকে তাঁর পৃথক ও বিচ্ছিন্ন হওয়া সাব্যস্ত করার মাধ্যমে তাঁকে সৃষ্টিজগতে অনুপ্রবেশ (হুলুল) করা থেকে পবিত্র করেছেন।

আমি ঐসব বিদআতিদের দেখে বিস্ময় বোধ করি যারা তাদের আকলকে বিলুপ্ত করে দেয়, তাদের মতাদর্শের প্রচার করে এবং এর সঠিক হওয়ার ওপর জেদ ধরে—এই দাবি করে যে সত্য কেবল এটিই; অথচ নিষ্পাপ ওহীর সাথে এর বৈপরীত্য বোঝার জন্য কোনো গভীর চিন্তা বা বুদ্ধিবৃত্তিক পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না, কারণ এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার। মহান আল্লাহ নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আসমানে এবং তিনি উপরে। তাঁর রাসূল (সা.) অগণিত হাদীসে এ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং ফিতরাত ও আকল এর ওপর সাক্ষী। অথচ তারা বলে তিনি বিদ্যমান, কিন্তু কোনো স্থানে নেই; অথবা তিনি সব জায়গায় আছেন। এটি কি ওহীর ভাষ্যগুলোকে অকেজো করা, আকলকে বিলুপ্ত করা এবং ফিতরাতের সাথে হঠকারিতা করা নয়?! এ কারণেই তাদের এই কূটতর্ক তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তাদেরকে বিভ্রান্তি ও সন্দেহের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তাদের শেষ পরিণতি ছিল দেউলিয়াত্ব এবং তাদের অস্থিরতা ও সঠিক পথ না পাওয়ার স্বীকৃতি, যেমনটি আমরা এই গ্রন্থের ভূমিকায় তাদের ইমামদের উক্তি থেকে স্পষ্ট করেছি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই গোষ্ঠী তাদের মতাদর্শের পরিপন্থী ওহীর ভাষ্যগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে যাতে তারা তাদের সম্মান রক্ষার চেষ্টা করতে পারে। তাই তারা এই সিফাত (গুণ) সাব্যস্তকারী ভাষ্যগুলোর দিকে মনোনিবেশ করেছে—যা অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মহান সিফাত—এবং সেগুলোর এমন তাবিল (ব্যাখ্যা) করেছে যা সেগুলোকে তাদের বাতিলের সামনে দাঁড়ানো থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাদের এই অবস্থান, এর প্রকৃত রূপ ও ফলাফল বর্ণনা করে বলেন: "… নবম: এমন তাবিল যা সেই অর্থকে নিষ্ক্রিয় (তাতিল) করে দেয় যা অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাপূর্ণ এবং তাকে অনেক স্তর নিচে নামিয়ে দেয়। এটি কোনো সুলতানকে তার রাজত্ব থেকে অপসারিত করে তাকে রাজপদের চেয়ে অনেক নিচের কোনো পদে নিয়োগ দেওয়ার মতো। উদাহরণস্বরূপ: জাহমিয়াহদের আল্লাহর এই বাণীর তাবিল করা: {তিনিই তাঁর বান্দাদের উপরে প্রবল} (সূরা আল-আনআম: ১৮) এবং {তারা তাদের রবকে ভয় করে যিনি তাদের উপরে} (সূরা আন-নাহল: ৫০) এবং এই জাতীয় আয়াতগুলোর অর্থ 'মর্যাদাগত উচ্চতা' করা। যেমন তাদের কথা: দিরহামের উপরে দিনার বা দিনারের উপরে দিরহাম (মূল্যমানের দিক থেকে)। সুতরাং তাবিলে লিপ্ত ব্যক্তিদের সেই নিরঙ্কুশ উচ্চতার (ফাওকিয়্যাহ) হাকিকতকে নিষ্ক্রিয় করার বিষয়টি লক্ষ্য করুন, যা রুবুবিয়্যাহর (প্রভুত্বের) অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং যা রবের মহান মর্যাদাকে আবশ্যক করে; তারা একে মানুষের মর্যাদার উপরে তাঁর মর্যাদা হওয়ার স্তরে নামিয়ে এনেছে। একইভাবে তারা তাঁর উচ্চতা (উলুউ) এর তাবিলও এমনভাবে করেছে যেন এটি রূপার উপরে সোনার উচ্চতা।" আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ ১/৯২-৯৩।

যারা এই গোষ্ঠীর তাবিলসমূহ পর্যালোচনা করেছে, তারা দেখেছে যে তারা এগুলো থেকে ওহীর ভাষ্যগুলোর হাকিকতকে অকেজো করা এবং সেগুলোকে তাদের সঠিক অর্থ থেকে বিচ্যুত করা ছাড়া আর কোনো ফায়দা পায়নি। কারণ তারা সেগুলোকে এমন অন্য অর্থের দিকে প্রবাহিত করেছে যা তাদের জন্য সংগতিপূর্ণ নয় এবং এতে তারা একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٨٩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

ما فروا من أجله، فوقعوا في حبائل شراكهم التي نصبوها، ورضوا من الغنيمة بالتناقض والاضطراب، ويوضح الإمام ابن القيم هذا الأمر فيقول: " … إن المتأولين لم يستفيدوا بتأويلهم إلا تعطيل النصوص، والتلاعب بها، وانتهاك حرمتها، ولم يتخلصوا مما ظنوه محذورا، بل هو لازم لهم فيما فروا إليه، كلزومه فيما فروا منه، بل قد يقعون في ما هو أعظم محذورا، كحال الذين تأولوا نصوص العلو والفوقية والاستواء فرارا من التحيز والحصر، ثم قالوا هو في كل مكان بذاته، فنزهوه عن استوائه على عرشه ومباينته لخلقه، وجعلوه في أجواف البيوت والآبار والأواني والأمكنة التي يرغب عن ذكرها، فهؤلاء قدماء الجهمية، فلما علم متأخروهم فساد ذلك قالوا: ليس وراء العالم، ولا فوق العرش إلا العدم المحض، وليس هناك رب يعبد، ولا إله يصلى له ويسجد، ولا هو أيضا في العالم، فجعلوا نسبته إلى العرش كنسبته إلى أخس مكان، تعالى الله عن قولهم علوا كبيرا. انظر: الصواعق المنزلة 1/121.

وهذه هي نتيجة الزيغ والضلال، مصداقا لقوله تعالى: {فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُم} (الصف: من الآية: 5) ، فاللهم يا مقلب القلوب والأبصار ثبت قلوبنا على دينك
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

যা থেকে তারা পলায়ন করেছিল, তারা তাদেরই পেতে রাখা জালের ফাঁদে আটকা পড়ল এবং তারা লব্ধ সম্পদ হিসেবে কেবল বৈপরীত্য ও অস্থিরতা নিয়েই সন্তুষ্ট রইল। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম এই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন: " … নিশ্চয়ই রূপক ব্যাখ্যাকারীরা তাদের ব্যাখ্যার মাধ্যমে মূল পাঠ (নস) সমূহকে অর্থহীন করা, সেগুলো নিয়ে খেলা করা এবং তাদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করা ছাড়া আর কিছুই অর্জন করতে পারেনি। তারা যে বিষয়টিকে আশঙ্কাজনক মনে করেছিল তা থেকে তারা নিষ্কৃতি পায়নি, বরং তারা যেদিকে পলায়ন করেছে সেখানেও তা একইভাবে অবধারিত, যেমনটি ছিল তা থেকে যা থেকে তারা পলায়ন করেছিল। বরং কখনো কখনো তারা আরও বড় আশঙ্কাজনক বিষয়ে নিপতিত হয়, যেমন সেই ব্যক্তিদের অবস্থা যারা স্থানিক সীমাবদ্ধতা ও বেষ্টনী থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর উচ্চতা, উপরে হওয়া এবং আরশের উপর উঠার মূল পাঠগুলোর রূপক ব্যাখ্যা করেছিল। এরপর তারা বলেছিল যে, তিনি স্বীয় সত্তাসহ সব জায়গায় বিদ্যমান। ফলে তারা তাঁকে তাঁর আরশের উপর উঠা এবং সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক হওয়া থেকে বিমুক্ত করল, অথচ তাঁকে ঘরবাড়ি, কূপ, পাত্র ও এমন সব নিকৃষ্ট স্থানের ভেতরে সাব্যস্ত করল যা উল্লেখ করতেও অনীহা বোধ হয়। এরা ছিল প্রাচীন জাহমিয়া সম্প্রদায়। যখন তাদের পরবর্তী অনুসারীরা এই মতবাদের অসারতা বুঝতে পারল, তখন তারা বলল: জগতের বাইরে কিছু নেই, আরশের উপরেও নিরেট শূন্যতা ছাড়া কিছু নেই। সেখানে এমন কোনো রব নেই যার ইবাদত করা হবে, আর এমন কোনো ইলাহ নেই যার উদ্দেশ্যে সালাত আদায় ও সিজদা করা হবে। আবার তিনি জগতেও নেই। ফলে তারা আরশের সাথে তাঁর সম্বন্ধকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্থানের সাথে তাঁর সম্বন্ধের মতোই সাব্যস্ত করল। তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি মহান ও উচ্চ। দেখুন: আস-সাওয়ায়েকুল মুনযালা ১/১২১।

আর এটিই হলো বক্রতা ও পথভ্রষ্টতার পরিণাম, যা মহান আল্লাহর এই বাণীর সত্যতা প্রমাণ করে: {অতঃপর যখন তারা বক্রতা অবলম্বন করল, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহকে বক্র করে দিলেন} (আস-সাফ: ৫ নং আয়াতের অংশ)। অতএব, হে আল্লাহ! হে অন্তর ও দৃষ্টিসমূহের পরিবর্তনকারী! আমাদের অন্তরসমূহকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন।
(খণ্ড: ১) ইসবাতু সিফাতিল উলুউ - ইবনে কুদামা (পৃষ্ঠা: ٩٠)
‌‌((ذِكْرُ الأَخْبَارِ الْوَارِدَةُ بِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى فَوْقَ عَرْشِهِ)) (1)

14- أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي (بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ) (2) وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، (قَالَ حَدَّثَنَا) (3) أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي نَصْرٍ الْحُمَيْدِيُّ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، (قَالَ ثَنَا) (4) أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ النُّعْمَانِيُّ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، (قَالَ) (5) ثَنَا (أَبُو سَعْدٍ) (6) (أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ) (7) ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، (قال ثنا أبو الحسن أحمد بن عيسى الفرضي) (8) ، ويده على كتفي، قَالَ أَنْبَأَ أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمَكِّيُّ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، قَالَ: ثنا أَبُو عمرو هِلالُ بْنُ العلا الرُّقِيُّ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، (قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، ثَنَا زَيْدُ بْنُ أَبِي أُنَيْسَةَ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، ثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ السَّبِيعِيُّ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي) (9) ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، قَالَ: حَدَّثَنِي الْحَارِثُ الأَعْوَرُ، وَيَدُهُ عَلَى كَتِفِي، (قَالَ) (10) : ثَنَا عَلِيُّ بْنُ

--------------------------------------------

(1) هذا العنوان لا يوجد في الأصل.

(2) ما بين القوسين لا يوجد في النسخ الأخرى.

(3) في (م) و (ر) "ثنا" بالاختصار، وبدون "قال".

(4) في النسخ الأخرى "قال حدثني".

(5) "قال" لا توجد في النسخ الأخرى.

(6) في النسخ الأخرى "أبو سعيد" وكذا وردت كنيته عند الذهبي في العلو، وذكره بهذه الكنية ابن تغري بردي في النجوم الزاهرة، وابن الأثير في الكامل، ولعل الصواب ما أثبتناه موافقا لما في الأصل، ولما عند الذهبي في السير.

(7) في (هـ) و (ر) "محمد بن أحمد" وهو خطأ. وإنما هو الإمام المسند محدث أصبهان أبو سعد أحمد بن محمد بن أحمد بن الحسن بن علي بن أحمد البغدادي الأصل الأصبهاني، المتوفى سنة (540هـ) . انظر: سير أعلام النبلاء 20/119-122.

(8) لا يوجد في النسخ الأخرى، وهو عند الذهبي موافقا للأصل.

(9) ما بين القوسين لا يوجد في النسخ الأخرى. وهو في العلو للذهبي موافقا لما في الأصل.

(10) لا يوجد في النسخ الأخرى.
‌((মহান আল্লাহ তাঁর আরশের উপরে আছেন—এই মর্মে বর্ণিত সংবাদসমূহের বিবরণ)) (১)

১৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী (ইবনে আহমদ ইবনে সুলাইমান) (২) এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, (তিনি বললেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) (৩) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবি নাসর আল-হুমাইদী এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, (তিনি বললেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) (৪) আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে সাঈদ ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নুমানী এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, (তিনি) (৫) বর্ণনা করেছেন (আবু সা'দ) (৬) (আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-হাফিয) (৭), এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, (তিনি বললেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আহমদ ইবনে ঈসা আল-ফারাদী) (৮), এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, তিনি বললেন, সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-মাক্কী এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, তিনি বললেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আমর হিলাল ইবনে আল-আলা আর-রুক্কী এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, (তিনি বললেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাইদ ইবনে আবি উনাইসাহ এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক আস-সাবিঈ এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর) (৯), তিনি বললেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিস এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, তিনি বললেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হারিস আল-আওয়ার এবং তাঁর হাত ছিল আমার কাঁধের উপর, (তিনি বললেন) (১০): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে...

--------------------------------------------

(১) এই শিরোনামটি মূলে বিদ্যমান নেই।

(২) বন্ধনীভুক্ত অংশটি অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৩) (ম) এবং (র) পাণ্ডুলিপিতে সংক্ষেপে "ছানা" (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) এবং "বললেন" শব্দটি ছাড়াই রয়েছে।

(৪) অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "তিনি বললেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন"।

(৫) "বললেন" শব্দটি অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৬) অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে "আবু সাঈদ" রয়েছে এবং আয-যাহাবীর আল-উলু গ্রন্থেও তাঁর উপনাম এভাবেই এসেছে। ইবনে তাগরি বারদি আন-নুজুম আয-যাহিরা এবং ইবনে আসীর আল-কামিল গ্রন্থেও তাঁর এই উপনাম উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত আমরা যা সাব্যস্ত করেছি সেটিই সঠিক, যা মূলে রয়েছে এবং আয-যাহাবীর সিয়ার গ্রন্থে যা আছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

(৭) (হ) এবং (র) পাণ্ডুলিপিতে "মুহাম্মদ ইবনে আহমদ" রয়েছে, যা ভুল। বরং তিনি হলেন ইমাম, মুসনিদ, আসবাহানের মুহাদ্দিস আবু সা'দ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে আহমদ আল-বাগদাদী আল-আসবাহানী, যিনি ৫৪০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেছেন। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২০/১১৯-১২২।

(৮) এটি অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে নেই, তবে আয-যাহাবীর নিকট মূলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে রয়েছে।

(৯) বন্ধনীভুক্ত অংশটি অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে নেই। এটি আয-যাহাবীর আল-উলু গ্রন্থে মূলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে রয়েছে।

(১০) এটি অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে নেই।