(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث الواردة في البيوع المنهي عنها القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الأحاديث الواردة في البيوع المنهي عنها
المؤلف: سليمان بن صالح الثنيان
الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1423/2002م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত বর্ণিত হাদিসসমূহ বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
কিতাব: নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত বর্ণিত হাদিসসমূহ
লেখক: সুলাইমান বিন সলিহ আস-সুনিয়্যান
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডিনশিপ, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩/২০০২ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
المجلد الأول
مقدمة…المقدمة
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه أجمعين: أما بعد.
فإن الله عز وجل بعث محمدًا صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق ليخرج الناس من الظلمات إلى النور في جميع شؤون الحياة، فليس ديناً محصوراً في المساجد والزوايا، وإنما دين شامل لكل شيء، كما قال تعالى: {قُلْ إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} 1.
فما توفي نبينا محمد صلى الله عليه وسلم ولحق بالرفيق الأعلى إلا وأكمل الله به الدين، وأتم به النعمة، وما من خير إلا ودلّ الأمة عليه. وما من شر إلا حذرها منه. ومن هذا معاملات الناس في بيعهم وشرائهم. فقد بيّن الله عز وجل في كتابه، والرسول صلى الله عليه وسلم في سنته أصول جميع ما يحتاج الناس إليه في معاملاتهم وما يباح منها وما يحرم، فما من معاملة في أي زمان ومكان إلا ولله عز وجل فيها حكم؛ عرفه من عرفه وجهله من جهله.
ومن ظنّ أن اقتصاد الناس في هذا الزمان يحتاج إلى قانون وتشريع غير تشريع الله عز وجل، فقد ضلّ ضلالاً مبيناً. ومن زعم أن التشريع الإسلامي في الاقتصاد لا يصلح للتطبيق في البنوك والمصارف والأسواق الحديثة،
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ডভূমিকা…ভূমিকা
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল; আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি জীবনের সকল ক্ষেত্রে মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। সুতরাং এই দ্বীন কেবল মসজিদ ও নির্দিষ্ট কোণে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সবকিছুর জন্য এক ব্যাপক দ্বীন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই জন্য} ১।
আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ততক্ষণ পর্যন্ত ইন্তেকাল করেননি এবং মহান বন্ধুর (রাফিক আল-আলা) সান্নিধ্যে গমন করেননি, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন। এমন কোনো কল্যাণ নেই যার দিকে তিনি উম্মতকে পথপ্রদর্শন করেননি এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি তাদের সতর্ক করেননি। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মানুষের ক্রয়-বিক্রয়ের লেনদেনসমূহ। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাহতে মানুষের লেনদেনে প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের মূলনীতি এবং এর মধ্যে কোনটি বৈধ ও কোনটি হারাম তা বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যেকোনো সময় ও স্থানে এমন কোনো লেনদেন নেই যার ব্যাপারে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার কোনো বিধান নেই; কেউ তা জানে আর কেউ তা জানে না।
আর যে ব্যক্তি মনে করে যে, এই যুগে মানুষের অর্থনীতির জন্য আল্লাহর বিধান ব্যতীত অন্য কোনো আইন ও বিধিব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে, সে সুষ্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে, অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়ত আধুনিক ব্যাংক ও বাজারগুলোতে প্রয়োগের উপযোগী নয়,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
الباب الثالث: الأحاديث الواردة في النهي عن بيوع الغرر، وفيه فصول:
الفصل الأول: ما ورد في النهي عن بيع الغرر.
الفصل الثاني: ما ورد في النهي عن بيع حبل الحبلة، والمضامين والملاقيح.
الفصل الثالث: ما ورد في النهي عن بيع الملامسة والمنابذة.
الفصل الرابع: ما ورد في النهي عن بيع الحصاة.
الفصل الخامس: ما ورد في النهي عن بيع اللبن في الضرع، والصوف على الظهر، والسمن في اللبن.
الفصل السادس: ما ورد في النهي عن الثنيا في البيع إلا أن تعلم.
الفصل السابع: ما ورد في النهي عن بيع المعاومة والسنين.
الفصل الثامن: ما ورد في النهي عن البيع بضربة الغائص، وبيع العبد الآبق.
الفصل التاسع: ما ورد في النهي عن بيع عسب الفحل.
الفصل العاشر: ما ورد في النهي عن بيع السمك في الماء.
الفصل الحادي عشر: ما ورد في النهي عن بيع ما لم يتبين صلاحه.
الباب الرابع: الأحاديث الواردة في النهي عن الشروط في البيع، وفيه فصول:
الفصل الأول: ما ورد في النهي عن الشروط في البيع، وعن بيع وسلف.
الفصل الثاني: ما ورد في النهي عن بيع العربان.
الفصل الثالث: ما ورد في النهي عن بيعتين في بيعة.
তৃতীয় অধ্যায়: গারার (অনিশ্চয়তাযুক্ত) ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ, আর এতে বেশ কিছু অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: গারার বা অনিশ্চয়তাযুক্ত বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ‘হাবালুল হাবালা’ (গর্ভস্থ পশুর ভ্রূণ), ‘মাদামীন’ (পুরুষ পশুর বীর্য) এবং ‘মালাকীহ’ (মাদী পশুর গর্ভস্থ ভ্রূণ) বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ‘মুলামাসা’ (স্পর্শের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়) এবং ‘মুনাবাযা’ (পণ্য নিক্ষেপের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়) নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ‘হাসাত’ (পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়) নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: পশুর ওলানে থাকা দুধ, পিঠের পশম এবং দুধের ভেতরে থাকা মাখন (পৃথক করার আগে) বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ‘সুনিয়া’ (ব্যতিক্রম রাখা) নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, যদি না তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা থাকে।
সপ্তম অনুচ্ছেদ: ‘মুআওয়ামা’ বা কয়েক বছরের জন্য অগ্রিম ফল বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
অষ্টম অনুচ্ছেদ: ডুবুরির শিকারের ওপর ভিত্তি করে বিক্রয় এবং পলাতক দাস বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
নবম অনুচ্ছেদ: প্রজননের জন্য পশুর বীর্যের বিনিময় বা পারিশ্রমিক গ্রহণ নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
দশম অনুচ্ছেদ: পানিতে থাকা মাছ বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
একাদশ অনুচ্ছেদ: যে জিনিসের উপযোগিতা বা পরিপক্কতা স্পষ্ট হয়নি তা বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
চতুর্থ অধ্যায়: ক্রয়-বিক্রয়ে শর্তারোপ নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ, আর এতে বেশ কিছু অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ক্রয়-বিক্রয়ে শর্তারোপ এবং একইসাথে বিক্রয় ও ঋণ প্রদান নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ‘আরবান’ (বায়না দিয়ে চুক্তি বাতিল করলে তা বাজেয়াপ্ত করা) পদ্ধতিতে বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এক বিক্রয়ের ভেতরে দুই বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
الباب الخامس: الأحاديث الواردة في النهي عن البيوع الربوية، وفيه فصول:
الفصل الأول: ما ورد في النهي عن الربا والتحذير منه.
الفصل الثاني: ما ورد في الربا في الذهب والفضة والبر والشعير والتمر والملح، وما يقاس عليها.
الفصل الثالث: ما ورد في النهي عن المزابنة والمحاقلة.
الفصل الرابع: ما ورد في النهي عن بيع الحيوان بالحيوان نسيئة.
الفصل الخامس: ما ورد في النهي عن بيع اللحم بالحيوان.
الفصل السادس: ما ورد في النهي عن بيع العينة.
الباب السادس: الأحاديث الواردة في النهي عما يلحق الضرر والغبن بأحد المتبايعين، أو كان النهي لأمر آخر مما هو خارج عقد البيع، وفيه فصول:
الفصل الأول: ما ورد في النهي عن النجش.
الفصل الثاني: ما ورد في النهي عن بيع الرجل على بيع أخيه، وسوم الرجل على سوم أخيه.
الفصل الثالث: ما ورد في النهي عن الغش في البيع.
الفصل الرابع: ما ورد في النهي عن اليمين الكاذبة في البيع.
الفصل الخامس: ما ورد في النهي عن التصرية.
الفصل السادس: ما ورد في النهي عن بيع الحاضر للباد، وعن تلقي الركبان.
الفصل السابع: ما ورد في النهي عن بيع المضطر.
الفصل الثامن: ما ورد في النهي عن تفريق الأقارب في البيع.
الفصل التاسع: ما ورد في النهي عن البيع في المسجد
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সুদযুক্ত ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ, এবং এতে বেশ কয়েকটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: সুদ নিষিদ্ধ হওয়া এবং এ ব্যাপারে সতর্কবাণী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: সোনা, রূপা, গম, যব, খেজুর ও লবণ এবং এগুলোর ওপর যা কিয়াস করা হয়, সেগুলোতে সুদের বিধান সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
তৃতীয় অধ্যায়: মুজাবানাহ ও মুহাক্বালাহ (এক প্রকার সুদী ক্রয়-বিক্রয়) নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
চতুর্থ অধ্যায়: বাকিতে পশুর বিনিময়ে পশু বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
পঞ্চম অধ্যায়: পশুর বিনিময়ে গোশত বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
ষষ্ঠ অধ্যায়: আল-ঈনাহ (এক প্রকার সুদী কারবার) পদ্ধতিতে বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এমন বিষয়সমূহ নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ যা ক্রেতা বা বিক্রেতার কোনো একজনের ক্ষতি বা ঠকানোর কারণ হয়, অথবা ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির বাইরের অন্য কোনো বিষয়ের কারণে যা নিষিদ্ধ হয়েছে, এবং এতে বেশ কয়েকটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: নাজাাশ (ক্রেতাকে প্রতারিত করার জন্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে বলা) নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: কোনো ব্যক্তির তার ভাইয়ের বিক্রয়ের ওপর বিক্রয় করা এবং ভাইয়ের দামাদামির ওপর দামাদামি করা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
তৃতীয় অধ্যায়: বিক্রয়ে প্রতারণা করা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
চতুর্থ অধ্যায়: বিক্রয়ে মিথ্যা শপথ করা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
পঞ্চম অধ্যায়: তাসরিয়াহ (পশুর ওলানে দুধ জমিয়ে রেখে ক্রেতাকে ধোঁকা দেওয়া) নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
ষষ্ঠ অধ্যায়: শহুরে ব্যক্তি কর্তৃক গ্রাম্য ব্যক্তির পণ্য বিক্রয় করা এবং (পণ্য নিয়ে বাজারে আসার পথে) কাফেলা থেকে পণ্য ক্রয় করা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
সপ্তম অধ্যায়: নিরুপায় বা দায়বদ্ধ ব্যক্তির ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
অষ্টম অধ্যায়: বিক্রয়ের সময় নিকটাত্মীয়দের পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
নবম অধ্যায়: মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
وهذا الباب هو آخر أبواب الرسالة في موضوع الأحاديث الواردة في البيوع المنهي عنها، وقد اجتهدت في حصر هذا الموضوع تحت ستة أبواب، والكمال لله، فإن فاتني شيء فأرجو ممن يطلع على هذه الرسالة أن ينبهني عليه، وجزاه الله خيراً.
أذكر بعد هذه الأبواب خاتمة أذكر فيها أهم النتائج التي توصلت إليها في هذا البحث. ثم يلي ذلك الفهارس المساعدة.
ثانياً: منهجي في جمع وترتيب الأحاديث.
قمت بجمع الأحاديث المرفوعة إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقط، ولم أدخل في الرسالة الآثار الموقوفة والمقطوعة، وربما ذكرت أثراً موقوفاً جاء مرفوعاً عند بعض الرواة لأنبه على أنه موقوف وليس مرفوعاً.
وأما الكتب التي اعتمدتها في جمع أحاديث الرسالة، فقد التزمت بذكر جميع ما جاء في الكتب الستة، وأما غيرها من دواوين الحديث فإني قد بذلت الجهد في الوقوف عليها من مظانها، وجعلت المتن الواحد إذا كان وارداً عن صحابيين حديثين أخرّج كلاً منهما على حدة، وأضع له رقماً خاصاً في الرسالة.
وجعلت لكل حديثٍ رقمين، الرقم الأول هو الرقم العام للحديث في الرسالة، والرقم الثاني بين القوسين هو الرقم الخاص في الفصل الوارد فيه. وفائدة الترقيم الأول معرفة عدد الأحاديث الواردة في الرسالة، وفائدة الترقيم الثاني معرفة عدد الأحاديث الواردة في الفصل. وقد وجدت بعض الأحاديث تشتمل على أكثر من بيع منهي عنه، فذكرت
এই অধ্যায়টি নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত বর্ণিত হাদিসসমূহের আলোচনার ক্ষেত্রে এই গবেষণাপত্রের সর্বশেষ অধ্যায়। আমি এই বিষয়টিকে ছয়টি অধ্যায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, আর পূর্ণতা কেবল আল্লাহরই জন্য; তাই আমার যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে যে ব্যক্তি এই গবেষণাপত্রটি পাঠ করবেন তাঁর কাছে আমার অনুরোধ তিনি যেন আমাকে সে বিষয়ে অবগত করেন, আর আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
এই অধ্যায়গুলোর পরে আমি একটি উপসংহার উল্লেখ করব যাতে এই গবেষণায় প্রাপ্ত প্রধান ফলাফলগুলো তুলে ধরব। এরপর সহায়ক নির্ঘণ্টসমূহ প্রদান করা হবে।
দ্বিতীয়ত: হাদিস সংগ্রহ ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতি।
আমি শুধুমাত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সরাসরি সম্পৃক্ত মারফু হাদিসসমূহ সংগ্রহ করেছি। আমি এই গবেষণাপত্রে মাওকুফ এবং মাকতু আছারসমূহ (সাহাবী ও তাবিঈদের উক্তি) অন্তর্ভুক্ত করিনি। তবে কখনো কখনো এমন কোনো মাওকুফ আছার উল্লেখ করেছি যা কিছু বর্ণনাকারীর নিকট মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, যাতে আমি সতর্ক করতে পারি যে এটি মাওকুফ, মারফু নয়।
এই গবেষণাপত্রের হাদিসগুলো সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমি যেসব কিতাবের ওপর নির্ভর করেছি, তাতে আমি 'কুতুবুস সিত্তাহ' বা ছয়টি হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত সকল হাদিস উল্লেখ করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি। আর হাদিসের অন্যান্য সংকলনগুলোর ক্ষেত্রে আমি সেগুলোর মূল উৎস থেকে খুঁজে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। যদি একই মতন (মূল পাঠ) দুজন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়ে থাকে, তবে আমি তাদের প্রত্যেকটিকে আলাদা হাদিস হিসেবে তাখরিজ করেছি এবং গবেষণাপত্রে সেটির জন্য একটি স্বতন্ত্র নম্বর প্রদান করেছি।
আমি প্রতিটি হাদিসের জন্য দুটি নম্বর নির্ধারণ করেছি; প্রথম নম্বরটি হলো গবেষণাপত্রে হাদিসটির সাধারণ ক্রমিক নম্বর এবং দ্বিতীয় নম্বরটি হলো বন্ধনীভুক্ত নম্বর যা সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদে হাদিসটির বিশেষ নম্বর। প্রথম নম্বরের উপকারিতা হলো গবেষণাপত্রে মোট কতটি হাদিস রয়েছে তা জানা, আর দ্বিতীয় নম্বরের উপকারিতা হলো নির্দিষ্ট পরিচ্ছেদে কতটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে তা জানা। আমি কিছু হাদিস এমন পেয়েছি যা একাধিক নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, তাই আমি উল্লেখ করেছি...
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
فقد أعظم على الله الفِرْيَة؛ لأنه قد نسب الله عز وجل إلى الجهل بما يؤول إليه حال الناس - والعياذ بالله -.
وهذا الدين لا يقوم بنشره إلا العلماء وطلبة العلم الذين يبينون للناس أحكام دينهم، وينصحون لهم في توجيههم ودعوتهم، ومن ذلك بيان أحكام المعاملات بين الناس في البيع والشراء، وقد ذمّ الله عز وجل الربانيين والأحبار من أهل الكتاب الذين لم ينهوا قومهم عن أكل المال الحرام من الربا والسحت. قال تعالى: {وَتَرَى كَثِيراً مِنْهُمْ يُسَارِعُونَ فِي الْأِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ لَوْلا يَنْهَاهُمُ الرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ عَنْ قَوْلِهِمُ الْأِثْمَ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَصْنَعُونَ} 1 ومن المعلوم أن معرفة أحكام البيوع من فروض الكفايات على المسلمين. فأما من كان يشتغل بالبيع والشراء، فيتعين عليه أن يعلم ما يحتاج إليه في معاملاته حتى لا يقع في الحرام وهو لا يشعر. وإن المتأمل في أسواق المسلمين اليوم ومعاملاتهم يرى كثرة ما يقع فيه الناس من المعاملات المحرّمة، وكثير من هؤلاء يقع فيما يقع فيه نتيجة للجهل بأحكام المعاملات.
وقد تقدم أن ما من معاملة إلا وللشرع فيها حكم؛ وبيان ذلك أن الأصل في المعاملات الحلّ إلا ما جاء في الشرع تحريمه - كما سيأتي إن شاء الله -، فعلى ذلك لا تخرج أي معاملة عن أن تكون داخلة في البيوع المنهي عنها، أو تكون مما جاء الدليل بإباحتها، أو مسكوت عنها، فهي مما أباح الله تعالى أيضاً؛ لأنه الأصل في البيوع.
--------------------------------------------
তিনি আল্লাহর ওপর এক বিরাট অপবাদ আরোপ করেছেন; কারণ তিনি মহান আল্লাহকে মানুষের পরিণাম সম্পর্কে অজ্ঞতার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন - আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই।
আর এই দ্বীন প্রচারের কাজ কেবল সেই সকল আলিম এবং ইলম অন্বেষণকারীগণই আঞ্জাম দেন যারা মানুষের নিকট তাদের দ্বীনের বিধানসমূহ বর্ণনা করেন এবং তাদের দিকনির্দেশনা ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে নসিহত প্রদান করেন। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মানুষের মাঝে ক্রয়-বিক্রয়ের লেনদেন সংক্রান্ত বিধানাবলি বর্ণনা করা। মহান আল্লাহ আহলে কিতাবদের রব্বানি ও আহবারদের (আলেম ও পণ্ডিতদের) নিন্দা করেছেন, যারা তাদের কওমকে সুদ ও হারাম ভক্ষণ তথা অবৈধ সম্পদ উপার্জনে লিপ্ত হওয়া থেকে বারণ করেনি। মহান আল্লাহ বলেন: “আর আপনি তাদের অনেককে দেখবেন পাপে, সীমালঙ্ঘনে এবং হারাম ভক্ষণে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে; তারা যা করছে তা অত্যন্ত মন্দ। রব্বানি ও আহবারগণ কেন তাদেরকে পাপের কথা বলা এবং হারাম ভক্ষণ থেকে বারণ করে না? তারা যা করছে তা অতি মন্দ।” ১ এটি সুবিদিত যে, ক্রয়-বিক্রয়ের বিধিবিধান জানা মুসলিমদের ওপর ফরযে কিফায়া। তবে যে ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে যুক্ত, তার জন্য লেনদেনের প্রয়োজনীয় মাসআলাগুলো জানা তার ওপর ব্যক্তিগতভাবে অপরিহার্য, যাতে সে নিজের অজান্তেই হারামে লিপ্ত না হয়। বর্তমানে মুসলিমদের বাজার ও লেনদেনের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, মানুষ প্রচুর পরিমাণে হারাম লেনদেনে লিপ্ত হচ্ছে; আর এদের মধ্যে অনেকেই লেনদেনের বিধান সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে এসবে জড়িয়ে পড়ছে।
পূর্বে এটি আলোচিত হয়েছে যে, এমন কোনো লেনদেন নেই যার ব্যাপারে শরিয়তের বিধান নেই। এর ব্যাখ্যা হলো— লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো বৈধতা, যতক্ষণ না শরিয়তে তা নিষিদ্ধ হওয়ার কোনো দলিল আসে— যা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে। সুতরাং কোনো লেনদেনই নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, অথবা যার বৈধতার দলিল রয়েছে তার অন্তর্ভুক্ত হওয়া, কিংবা যার ব্যাপারে শরিয়ত নীরব রয়েছে তার বাইরে নয়। আর যার ব্যাপারে শরিয়ত নীরব, সেটিও মহান আল্লাহ বৈধ করেছেন; কারণ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো বৈধতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومما تقدم يتبين أن من أراد أن تكون معاملاته مما أباح الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، فعليه أن يتجنب ما جاء في الشرع تحريمه منها. وهذا يكون بالرجوع إلى النصوص الواردة في هذا الموضوع.
فانطلاقاً من ذلك كله، ونصحاً للمسلمين استعنت بالله تعالى في جمع الأحاديث الواردة في البيوع المنهي عنها والقيام بدراستها دراسة حديثية فقهية، وتقدمت بهذا الموضوع إلى قسم (فقه السنة ومصادرها) في رسالة التخصص الأولى (الماجستير) ، وقد سميتها:
(الأَحادِيثُ الوَارِدَةِ في البُيُوعِ المنْهِيِّ عَنْها)
جمع وتخريج ودراسة
أسأل الله عز وجل أن ينفعني بها وإخواني المسلمين.
أولاً: خطة البحث:
جعلت البحث في مقدمة، وتوطئة، وستة أبواب، وخاتمة، ثم الفهارس المساعدة.
- أما المقدمة: فأذكر فيها أهمية الموضوع، وسبب اختياره، وخطة البحث.
- أما التوطئة: فأذكر فيها تعريف البيع لغة واصطلاحاً، وحكمه في الشرع، والأصل فيه.
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, যে ব্যক্তি তার লেনদেনসমূহ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক অনুমোদিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করতে চায়, তার উচিত শরিয়তে যে সমস্ত লেনদেন হারাম করা হয়েছে তা পরিহার করা। আর এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বর্ণিত দলিলসমূহের শরণাপন্ন হওয়ার মাধ্যমেই অর্জিত হবে।
সে সমস্ত কিছুর আলোকেই এবং মুসলিমদের প্রতি শুভকামনার উদ্দেশ্যে আমি নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত হাদিসসমূহ সংগ্রহ এবং হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে সেগুলো গবেষণার কাজে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি। আমি এই বিষয়টি প্রথম বিশেষায়িত গবেষণাপত্র (মাস্টার্স) হিসেবে ‘সুন্নাহর ফিকহ ও এর উৎসসমূহ’ বিভাগে পেশ করেছি। আর আমি এর নামকরণ করেছি:
(নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত হাদিসসমূহ)
সংগ্রহ, উৎস নির্ণয় ও গবেষণা
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে আমাকে এবং আমার মুসলিম ভাইদের উপকৃত করেন।
প্রথমত: গবেষণা পরিকল্পনা:
আমি এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, ছয়টি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার, অতঃপর সহায়ক নির্ঘণ্টসমূহের সমন্বয়ে বিন্যস্ত করেছি।
- ভূমিকা প্রসঙ্গে: এতে আমি বিষয়ের গুরুত্ব, এটি নির্বাচনের কারণ এবং গবেষণা পরিকল্পনা উল্লেখ করেছি।
- উপক্রমণিকা প্রসঙ্গে: এতে আমি আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ক্রয়-বিক্রয়ের সংজ্ঞা, শরিয়তে এর বিধান এবং এর মূল ভিত্তি আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
- أما أبواب الرسالة الستة فهي:
الباب الأول: الأحاديث الواردة في الأعيان المنهي عن بيعها، وفيه فصول:
الفصل الأول: ما ورد في النهي عن بيع الميتة والخنزير والأصنام.
الفصل الثاني: ما ورد في النهي عن بيع الخمر.
الفصل الثالث: ما ورد في النهي عن بيع الدم.
الفصل الرابع: ما ورد في النهي عن بيع ما حرم أكله وشربه.
الفصل الخامس: ما ورد في النهي عن بيع ما يعلم أن المشتري يستعمل المبيع في الحرام.
الفصل السادس: ما ورد في النهي عن بيع الكلب والسنور.
الفصل السابع: ما ورد في النهي عن بيع الحر.
الفصل الثامن: ما ورد في النهي عن بيع أمهات الأولاد.
الفصل التاسع: ما ورد في النهي عن بيع المدبر.
الفصل العاشر: ما ورد في النهي عن بيع الولاء.
الفصل الحادي عشر: ما ورد في النهي عن بيع القينات.
الفصل الثاني عشر: ما ورد في النهي عن بيع رباع مكة.
الفصل الثالث عشر: ما ورد في النهي عن إضاعة المال.
الباب الثاني: الأحاديث الواردة في النهي عن بيع ما ليس مملوكاً للبائع وقت العقد أو لم يقبضه بعد، وفيه فصول:
الفصل الأول: ما ورد في النهي عن بيع ما لم يملك أو لم يقبض.
الفصل الثاني: ما ورد في النهي عن بيع الماء والكلأ والنار.
الفصل الثالث: ما ورد في النهي عن بيع المغانم قبل أن تقسم، أو بيع الصدقات قبل أن تقبض.
الفصل الرابع: ما ورد في النهي عن بيع الكالئ بالكالئ.
আর এই রিসালার ছয়টি অধ্যায় হলো নিম্নরূপ:
প্রথম অধ্যায়: যে সকল বস্তু বিক্রয় করা নিষিদ্ধ সেই সম্পর্কিত হাদীসসমূহ, এবং এতে বেশ কিছু পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মৃত জীব, শূকর এবং মূর্তি বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মদ বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রক্ত বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: যা পানাহার করা হারাম তা বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ক্রেতা বিক্রয়কৃত পণ্যটি হারামে ব্যবহার করবে তা জানা থাকলে তা বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কুকুর ও বিড়াল বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: স্বাধীন মানুষ বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: উম্মাহাতুল আওলাদ (সন্তানবতী দাসী) বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
নবম পরিচ্ছেদ: মুদাব্বার (মালিকের মৃত্যুর পর মুক্ত হওয়ার ওয়াদাপ্রাপ্ত দাস) বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
দশম পরিচ্ছেদ: ওয়ালা (দাসমুক্ত করার কারণে সৃষ্ট উত্তরাধিকারী হওয়ার অধিকার) বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
একাদশ পরিচ্ছেদ: গায়িকা দাসী বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: মক্কার বাড়িঘর বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: সম্পদ অপচয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
দ্বিতীয় অধ্যায়: চুক্তির সময় বিক্রেতার মালিকানাধীন নয় এমন কিছু অথবা যা এখনও হস্তগত করা হয়নি তা বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত হাদীসসমূহ, এবং এতে বেশ কিছু পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মালিকানাধীন নয় বা যা হস্তগত হয়নি এমন বস্তু বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পানি, ঘাস ও আগুন বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বণ্টনের পূর্বে গনীমতের মাল বিক্রয় অথবা হস্তগত করার পূর্বে সদকা বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ঋণের বিনিময়ে ঋণ বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الحديث في موضع، وأُشير في نهاية أحاديث فصل الموضع الآخر للحديث باختصار، تحت عنوان: (ومما ورد في هذا الفصل أيضاً) ، ثم أذكر الأحاديث التي تقدمت أو ستأتي مما لها تعلق بهذا الفصل.
ونظراً لأن هذه الأحاديث ستذكر أو ذكرت في موضع آخر، فإني وضعت الرقم العام لهذه الأحاديث نقطاً إشارة إلى أن هذه أحاديث مكرره، وأشرت في الحاشية إلى رقم الحديث في الرسالة، ولم أعط له رقماً عاماً.
ثالثاً: منهجي في تخريج الأحاديث.
قمت بتخريج الأحاديث على قواعد المحدثين، وقد راعيت في التخريج أموراً منها:
أ - إذا كان الحديث في الصحيحين، فأخرّج الحديث أيضاً من غيرهما، ولا أكتفي بتخريج الحديث من الصحيحين، كما هو معمول به عند بعض الباحثين، وذلك لأسباب:
1 - إن تخريج الحديث من الصحيحين فقط لا يستفاد منه كون الحديث متواتراً أو مشهوراً أو مستفيضاً، فإن هذه الأمور تحصل بجمع طرق وشواهد الحديث من الصحيحين وخارج الصحيحين. وكذلك فإن الالتقاء القريب في الإسناد أولى من الالتقاء البعيد؛ لأن الالتقاء القريب يعني شهرة الحديث في الآفاق، ولا يحصل هذا إن خرجنا الحديث من الصحيحين فقط.
2 - قد توجد فوائد إسنادية ولفظية في غير الصحيحين، فالاقتصار عليهما تفويت لهذه الفوائد.
হাদিসটি একটি স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে, আর অন্য স্থানের পরিচ্ছেদের হাদিসসমূহের শেষে 'এই পরিচ্ছেদে আরও যা বর্ণিত হয়েছে' শিরোনামের অধীনে সংক্ষেপে সেই হাদিসটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। অতঃপর আমি এমন হাদিসসমূহ উল্লেখ করি যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে অথবা সামনে আসবে এবং এই পরিচ্ছেদের সাথে সংশ্লিষ্ট।
যেহেতু এই হাদিসগুলো অন্য স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে বা হবে, তাই আমি এই হাদিসগুলোর সাধারণ নম্বরের স্থানে ডট বা বিন্দু চিহ্ন দিয়েছি যা নির্দেশ করে যে এগুলো পুনরাবৃত্ত হাদিস। আর আমি টীকায় মূল অভিসন্দর্ভে হাদিসটির নম্বরের প্রতি ইঙ্গিত করেছি এবং একে কোনো সাধারণ নম্বর প্রদান করিনি।
তৃতীয়ত: হাদিস তাখরিজের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি।
আমি মুহাদ্দিসগণের মূলনীতি অনুযায়ী হাদিসসমূহের তাখরিজ সম্পন্ন করেছি এবং তাখরিজের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করেছি, যার মধ্যে রয়েছে:
ক - যদি হাদিসটি সহীহায়নের (বুখারি ও মুসলিম) অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে আমি সেগুলো ছাড়াও অন্যান্য উৎস থেকে হাদিসটির তাখরিজ করেছি। আমি কেবল সহীহায়ন থেকে তাখরিজ করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকিনি, যা কোনো কোনো গবেষকের নিকট অনুসৃত পদ্ধতি। এর কারণসমূহ হলো:
১ - শুধুমাত্র সহীহায়ন থেকে হাদিসের তাখরিজ করলে হাদিসটি মুতাওয়াতির, মাশহুর নাকি মুস্তাফিয—তা জানা যায় না। কারণ সহীহায়ন এবং সহীহায়নের বাইরের হাদিসের সূত্র (তুরুক) ও সাক্ষী (শাওয়াহিদ) একত্রিত করার মাধ্যমেই এই বিষয়গুলো অর্জিত হয়। অনুরূপভাবে, সনদের ক্ষেত্রে নিকটবর্তী মিলন (ইলতিক্বা) দূরবর্তী মিলনের চেয়ে উত্তম; কেননা নিকটবর্তী মিলন দিগন্তজুড়ে হাদিসের প্রসিদ্ধি নির্দেশ করে, যা কেবল সহীহায়ন থেকে হাদিসের তাখরিজ করলে অর্জিত হয় না।
২ - সহীহায়ন ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থেও সনদ ও শব্দগত নানাবিধ উপকারিতা থাকতে পারে। সুতরাং কেবল এই দুই গ্রন্থের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা মানে সেই উপকারিতাগুলো থেকে বঞ্চিত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
3 - وقد رأيت بعض المخرجين القدامى الذين هم قدوة لنا في هذا الباب لم يقتصروا في تخريج الحديث على الصحيحين إن كان في غيرهما؛ ومنهم الحافظ ابن حجر في كثيرٍ من كتبه، كالتلخيص الحبير، ومن المعاصرين الشيخ ناصر الدين الألباني في كتبه؛ كإرواء الغليل وغيره، على أن هناك من المخرجين من اكتفى بالعزو إلى الصحيحين إن كان فيهما أو في أحدهما، ومنهم الحافظ ابن كثير في كتابه تحفة الطالب (انظر: ص100 منه) ، والعراقي في كتابه: طرح التثريب شرح التقريب (انظر: ص18 منه) ، وهؤلاء كلهم قدوة لنا، إلا أني اخترت الطريق الأولى لأسباب ذكرتها.
ب - إذا كان الحديث في الكتب الستة، فإني لا ألتزم ذكر من رواه غيرهم إذا لم يكن ثمّت فائدة إسنادية أو متنية.
جـ - إن كان مدار إسناد الحديث على راوٍ ما ولو إلى الصحابي، فأبيّن هذا بقولي: رواه فلان وفلان وفلان، كلهم من طرقٍ عن فلان.
ولا أقوم بالتخريج عن طريق الطرق إلا إذا كان هناك اختلاف في طرق الحديث في الإسناد أو المتن.
د - بعد تحديد مدار الحديث يكون النظر فيمن عليه مدار الحديث ومن فوقه، وأغفل من قبلهم؛ لأنه وإن كان الضعف في أحدهم فالآخرون يقوونه كما هو المعروف في المتابعات، هذا إذا لم تكن جميع المتابعات ضعيفة جداً، وإلا فيكون التخريج عن طريق الطرق كما تقدم.
৩ - আমি দেখেছি যে পূর্ববর্তী হাদিস বিশারদগণের (তাখরিজকারী) কেউ কেউ, যারা এই ক্ষেত্রে আমাদের আদর্শ, তারা হাদিসের তাখরিজের ক্ষেত্রে কেবল সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকেননি যদি তা অন্য কিতাবেও থাকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ ইবনে হাজার তার অনেক কিতাবে, যেমন 'আত-তালখীসুল হাবীর', এবং সমকালীনদের মধ্যে শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী তার কিতাবসমূহে; যেমন 'ইরওয়াউল গালীল' ও অন্যান্য। যদিও এমন কিছু মুহাদ্দিস রয়েছেন যারা কেবল সহীহাইন বা তার কোনো একটির প্রতি সূত্র উল্লেখ করাকেই যথেষ্ট মনে করেছেন যদি হাদিসটি তাতে থাকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ ইবনে কাসীর তার 'তুহফাতুত তালিব' কিতাবে (দেখুন: এর ১০০ পৃষ্ঠা), এবং ইরাকী তার 'তারহুত তাসরীব শারহুত তাকরীব' কিতাবে (দেখুন: এর ১৮ পৃষ্ঠা)। তারা সকলেই আমাদের জন্য আদর্শ, তবে আমি ইতিপূর্বে উল্লেখিত কিছু কারণে প্রথম পদ্ধতিটিই বেছে নিয়েছি।
খ - হাদিসটি যদি কুতুবে সিত্তা (ছয়টি প্রসিদ্ধ কিতাব)-এর মধ্যে থাকে, তবে আমি তা বর্ণনা করেছেন এমন অন্য কারো কথা উল্লেখ করা আবশ্যক মনে করিনি, যদি না সেখানে সনদ বা পাঠের (মতন) কোনো বিশেষ তাত্ত্বিক ফায়দা থাকে।
গ - যদি হাদিসের সনদের মূল আবর্তিত রাবী (মাদার) কেউ হন, এমনকি তা সাহাবী পর্যন্তও হয়, তবে আমি তা এভাবে স্পষ্ট করি: "অমুক, অমুক ও অমুক এটি বর্ণনা করেছেন, তারা সকলেই অমুক রাবীর বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন।"
এবং আমি বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে তাখরিজ করি না যতক্ষণ না হাদিসের সূত্রগুলোর সনদ বা মতনে কোনো ভিন্নতা থাকে।
ঘ - হাদিসের মূল আবর্তিত রাবী (মাদার) নির্ধারণের পর, যার ওপর হাদিসটি আবর্তিত হয়েছে এবং তার উপরের স্তরের রাবীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করা হয় এবং তাদের পূর্ববর্তীদের (নিচের স্তরের রাবীদের) উপেক্ষা করা হয়। কারণ তাদের একজনের মধ্যে দুর্বলতা থাকলেও অন্য সূত্রগুলো তাকে শক্তিশালী করে দেয়, যেমনটি 'মুতাবায়াত'-এর ক্ষেত্রে সুপরিচিত। এটি তখনই প্রযোজ্য যখন সকল মুতাবায়াত অত্যন্ত দুর্বল না হয়; অন্যথায় পূর্বোক্ত নিয়মানুযায়ী সকল সূত্রের মাধ্যমেই তাখরিজ সম্পন্ন করতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
هـ - تقدم في النقطة السابقة أن النظر يكون فيمن عليهم مدار الحديث، فإن كان فيهم من تكلم فيه أئمة الجرح والتعديل بالضعف أو التدليس أو الاختلاط أو نحو ذلك، ذكرت ذلك بالرجوع إلى أقوال الأئمة المتقدمين في ذلك، وأعقبه بذكر حكم الحافظ ابن حجر، وإن رأيت فيه مخالفة لأقوالهم بينت ذلك.
وأما الرواة الثقات ولا سيما الأثبات المشهورين، فإني لا أترجم لهم إلا نادراً وأكتفي بالكلام فيمن يحتاج إلى كلام، أو يكون ذكر في الإسناد بكنية أو لقب، فأذكر اسمه كاملاً للتعريف به.
و اجتهدت في الوقوف على كلام المتقدمين على الحديث المراد تخريجه، فإن كان موافقاً للحكم الذي توصلت إليه فيكون مقوياً له، وإن كان مخالفاً ناقشته.
ز - فيما يتعلق بكلام العلماء في الراوي جرحاً أو تعديلاً، أعتمد في ذلك على تهذيب التهذيب إن كان من رجاله، وإذا كان هناك حاجة للرجوع إلى المصادر المتقدمة التي نقل منها صاحب التهذيب فعلت ذلك، وإلا اكتفيت بالتهذيب.
ح - في تخريجي للأحاديث والحكم عليها استفدت من مناهج العلماء المعاصرين في تخريج الأحاديث، وهذا في نظري أولى وأفضل من نقل أقوالهم تصحيحاً وتضعيفاً، فإن هذا يحصل بالرجوع إلى أقوال العلماء المتقدمين ودراسة أقوالهم على ضوء قواعد الجرح والتعديل، وعدم نقلي لأقوال العلماء المعاصرين في الحكم على الحديث لا يعني أني لا أعتبر بأقوالهم ولا أستفيد من علمهم، ولكن الأمر هو ما ذكرت.
ঙ - পূর্ববর্তী পয়েন্টে আলোচনা করা হয়েছে যে, অনুসন্ধান হবে তাদের ব্যাপারে যাদের ওপর হাদিস আবর্তিত হয়। সুতরাং তাদের মধ্যে এমন কেউ যদি থেকে থাকেন যার ব্যাপারে জারাহ ও তাদিলের ইমামগণ দুর্বলতা, তাদলিস, ইখতিলাত কিংবা এই জাতীয় কোনো বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন, তবে আমি পূর্ববর্তী ইমামদের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তা উল্লেখ করেছি। এরপর হাফেজ ইবনে হাজার-এর হুকুম তার অনুগামী করেছি। আর যদি আমি তাঁর বক্তব্যে তাঁদের (পূর্ববর্তী ইমামদের) বক্তব্যের পরিপন্থী কিছু লক্ষ্য করি, তবে তা স্পষ্ট করেছি।
আর নির্ভরযোগ্য রাবিদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যারা সুপ্রসিদ্ধ ও অত্যন্ত সুদৃঢ়, তাদের জীবনী আমি কদাচিৎ উল্লেখ করেছি এবং যাদের ক্ষেত্রে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে তাদের আলোচনার ওপরই ক্ষান্ত হয়েছি। অথবা সনদে যদি কারো নাম উপনাম বা উপাধি দিয়ে উল্লেখ করা হয়, তবে তাকে পরিচিত করানোর লক্ষ্যে তার পূর্ণ নাম উল্লেখ করেছি।
আর যে হাদিসটির তাখরিজ করা উদ্দেশ্য, তার ব্যাপারে পূর্ববর্তীগণের বক্তব্যের ওপর অবহিত হতে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। যদি তা আমার প্রাপ্ত হুকুমের অনুকূলে হয়, তবে তা সেটিকে শক্তিশালী করে, আর যদি তা প্রতিকূলে হয়, তবে আমি তা নিয়ে আলোচনা করেছি।
চ - রাবিদের জারাহ বা তাদিল সংক্রান্ত ওলামায়ে কেরামের বক্তব্যের ক্ষেত্রে, রাবি যদি 'তাহজিবুত তাহজিব' কিতাবের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকেন তবে আমি সেটির ওপর নির্ভর করেছি। আর 'তাহজিব'-এর লেখক যে সকল প্রাচীন উৎস থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন, সেই উৎসগুলোর দিকে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকলে আমি তা করেছি; নতুবা 'তাহজিব'-এর ওপরই নির্ভর করেছি।
ছ - হাদিসের তাখরিজ ও হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে আমি সমকালীন আলেমদের হাদিস তাখরিজের পদ্ধতিসমূহ থেকে উপকৃত হয়েছি। আমার দৃষ্টিতে তাঁদের 'সহিহ' বা 'জইফ' বলার উক্তিগুলো হুবহু নকল করার চেয়ে এটিই বেশি উত্তম ও অগ্রগণ্য। কারণ, পূর্ববর্তী আলেমদের বক্তব্য এবং জারাহ ও তাদিলের মূলনীতির আলোকে তাঁদের বক্তব্যসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমেই মূলত এই বিষয়টি অর্জিত হয়। হাদিসের হুকুম বর্ণনায় সমকালীন আলেমদের উক্তিগুলো আমার উদ্ধৃত না করার অর্থ এই নয় যে, আমি তাঁদের বক্তব্যকে গণ্য করি না বা তাঁদের জ্ঞান থেকে উপকৃত হই না; বরং বিষয়টি হচ্ছে তা-ই যা আমি উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
رابعاً: منهجي في الدراسة الفقهية.
في آخر كل فصلٍ من فصول الدراسة وبعد تخريج الأحاديث الواردة فيه، أذكر الدراسة الفقهية لأحاديث هذا الفصل، وقد راعيت في هذه الدراسة ما يلي:
1 - قمت بكتابة الدراسة الفقهية على طريقة المحدثين، وذلك أني أذكر ما يستفاد من أحاديث الفصل فيما يتعلق بموضوع الباب، ومن قال بذلك، ومن خالفه، فأذكر بعض أدلته مع مناقشتها باختصار.
ولم أعتمد على طريقة الفقهاء والتي تهتم بذكر التفريعات الكثيرة للمسألة الواحدة.
2 - أقوم في الدراسة الفقهية بالتعريف بصورة البيع المنهي عنه، وذكر أقوال العلماء في ذلك.
3 - إذا كان هناك خلاف في مسألة من المسائل الواردة في الدراسة الفقهية، فإني أذكر هذا الخلاف باختصار، وأذكر أشهر الأقوال الواردة فيه، مع ذكر الأدلة لكل قول باختصار أيضاً، ثم الترجيح بالدليل.
4 - أشرت أحياناً إلى بعض البيوع المعاصرة والتي تلتحق بالبيوع المنهي عنها.
5 - اعتنيت في الدراسة الفقهية بذكر الحكمة في النهي عن البيع الوارد في الفصل.
6 - حاولت نقل أقوال الفقهاء من أصولهم في كل مذهب، ولم أنقل من الكتب الفرعية إلا الفوائد العلمية.
চতুর্থ: ফিকহী অধ্যয়নে আমার পদ্ধতি।
অধ্যয়নের প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে এবং তাতে বর্ণিত হাদিসসমূহের তাখরীজের পর, আমি উক্ত অধ্যায়ের হাদিসসমূহের ফিকহী পর্যালোচনা উল্লেখ করেছি। এই অধ্যয়নে আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অনুসরণ করেছি:
১ - আমি মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতিতে ফিকহী পর্যালোচনাটি সম্পন্ন করেছি; আর তা হলো, অধ্যায়ের হাদিসসমূহ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অধীনে কী কী মাসআলা বা উপকারিতা অর্জিত হয় তা উল্লেখ করা, কে এই মত পোষণ করেছেন এবং কে তার বিরোধিতা করেছেন—তা বর্ণনা করা। অতঃপর সংক্ষেপে তাদের কতিপয় দলীল ও তার পর্যালোচনা উল্লেখ করা।
আমি ফকীহগণের পদ্ধতির ওপর নির্ভর করিনি, যা একটি মাসআলার বহু শাখা-প্রশাখা বর্ণনার প্রতি গুরুত্বারোপ করে।
২ - ফিকহী অধ্যয়নে আমি নিষিদ্ধ কেনা-বেচার রূপটি সংজ্ঞায়িত করেছি এবং এ বিষয়ে আলেমগণের মতামত উল্লেখ করেছি।
৩ - ফিকহী অধ্যয়নে বর্ণিত কোনো মাসআলায় যদি মতভেদ থাকে, তবে আমি সেই মতভেদ সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি এবং তাতে বর্ণিত প্রসিদ্ধ মতামতসমূহ আলোচনা করেছি। সাথে প্রতিটি মতের দলীলও সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি; অতঃপর দলীলের ভিত্তিতে প্রাধান্যযোগ্য মতটি (তারজীহ) উল্লেখ করেছি।
৪ - আমি মাঝে মাঝে এমন কিছু সমকালীন কেনা-বেচার প্রতি ইঙ্গিত করেছি, যা নিষিদ্ধ কেনা-বেচার অন্তর্ভুক্ত।
৫ - ফিকহী অধ্যয়নে আমি অধ্যায়ে বর্ণিত কেনা-বেচা নিষিদ্ধ হওয়ার হিকমত বা রহস্য বর্ণনার প্রতি যত্নবান ছিলাম।
৬ - আমি প্রতিটি মাযহাবের মূল উৎসগ্রন্থগুলো থেকে ফকীহদের উক্তি উদ্ধৃত করার চেষ্টা করেছি এবং বিশেষ কোনো জ্ঞানগর্ভ তাত্ত্বিক উপকারিতা ব্যতীত কোনো মাধ্যমিক বা শাখা গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করিনি।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وفي آخر الرسالة ذكرت خاتمة بينت فيها أهم النتائج التي توصلت إليها في بحثي هذا، ثم أردفت ذلك بالفهارس المساعدة، وقد عملت فهرساً للآيات، وفهرساً للأحاديث، وفهرساً للرواة الذين لهم ترجمة داخل الرسالة، وفهرساً للألفاظ الغريبة المعرف بها داخل الرسالة، ثم فهرساً للمراجع والمصادر، وفي النهاية فهرساً للموضوعات.
هذا وفي الختام أسأل الله عز وجل أن يجعل هذا العمل خالصاً لوجهه، وأن يتقبله مني بقبول حسن، وينفعني به وإخواني المسلمين.
وأسأل الله جل وعلا أن يغفر لوالدي الكريمين، ويرحمهما، إنه هو الغفور الرحيم، وأسأله جل وعلى أن يعلي درجتهما، ويجعلهما من أهل الفردوس الأعلى، وأن يحرم وجوهما على النار، وجميع المسلمين، الأحياء منهم والميتين.
وأتقدم بالشكر والعرفان لمشرفي وشيخي، فضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور / محمد ضياء الرحمن الأعظمي، الذي كان له الفضل بعد الله عز وجل في توجيهي وإفادتي وإرشادي طيلة إشرافه على هذه الرسالة، وكان لمتابعته المتواصلة لي والملاحظات والتوجيهات السديدة في هذه الرسالة ولا سيما في تخريج الأحاديث والمنهجية الصحيحة فيه أعظم الأثر عليّ. فأسأل الله تعالى أن يجزي الشيخ خير الجزاء وأن يوفقه لما وفق له عباده المقربين، إنه سميع مجيب.
كما أشكر هذه الجامعة المباركة والتي كان لها الفضل بعد الله تعالى عليّ وعلى إخواني من طلبة العلم في هذه الجامعة في الأخذ بأيدينا إلى طريق العلم الصحيح والسبيل القويم.
এই অভিসন্দর্ভের শেষে আমি একটি উপসংহার উল্লেখ করেছি, যেখানে আমার এই গবেষণায় প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো স্পষ্ট করেছি। এরপর আমি সহায়ক সূচিপত্র যুক্ত করেছি। আমি আয়াতসমূহের সূচি, হাদিসসমূহের সূচি, এবং এই অভিসন্দর্ভের অভ্যন্তরে যাদের জীবনী আলোচিত হয়েছে সেই বর্ণনাকারীদের সূচি তৈরি করেছি। আরও তৈরি করেছি অভিসন্দর্ভের মধ্যে সংজ্ঞায়িত অপরিচিত শব্দাবলির সূচি, অতঃপর তথ্যসূত্র ও মূল উৎসের সূচি এবং পরিশেষে বিষয়সূচি।
পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে তিনি যেন এই কাজটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন, এবং আমার পক্ষ থেকে একে উত্তমভাবে গ্রহণ করেন, আর আমাকে ও আমার মুসলিম ভাইদের এর মাধ্যমে উপকৃত করেন।
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতাকে ক্ষমা করেন এবং তাঁদের ওপর দয়া করেন; নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আমি তাঁর কাছে আরও প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁদের মর্যাদা উচ্চতর করেন, তাঁদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসী করেন, এবং তাঁদের মুখমণ্ডল ও সকল জীবিত ও মৃত মুসলিমের মুখমণ্ডল জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেন।
আমি আমার তত্ত্বাবধায়ক এবং শায়খ, ফজিলাতুশ শায়খ প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান আজমি-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি জ্ঞাপন করছি। মহান আল্লাহর পর এই অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধানের পুরো সময় জুড়ে তাঁর দিকনির্দেশনা, শিক্ষা ও উপদেশ প্রদানের অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে। তাঁর নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ এবং এই অভিসন্দর্ভে বিশেষ করে হাদিসের তাখরিজ (সূত্রায়ন) ও এর সঠিক পদ্ধতির ক্ষেত্রে তাঁর সঠিক মন্তব্য ও দিকনির্দেশনা আমার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন শায়খকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তাঁকে সেই তাওফিক দান করেন যা তিনি তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের দান করেছেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।
আমি এই বরকতময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যার অবদান মহান আল্লাহর পরে আমার ওপর এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার ইলম অন্বেষণকারী ভাইদের ওপর অনস্বীকার্য; যা আমাদের হাত ধরে ইলমের সঠিক পথ ও সরল পথের দিশা দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأشكر مشايخي الأفاضل الذين تلقيت عنهم العلم في هذه الجامعة المباركة.
كما أشكر كل من قدم لي معروفاً في هذه الرسالة من إعارة كتاب، أو إسداء نصيحة، أو مشورة، أو غير ذلك.
والله أسأل أن يجعلنا من أنصار دينه الذابّين عن سنته الداعين إليه
إنه سميع مجيب، وصلى الله على نبينا محمد
وعلى آله وصحبه أجمعين
আমি আমার সেই সম্মানিত শায়খদের শুকরিয়া আদায় করছি, যাঁদের নিকট থেকে আমি এই বরকতময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলম অর্জন করেছি।
সেই সাথে আমি তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, যাঁরা এই গবেষণাপত্রে কিতাব ধার দিয়ে, নসিহত করে, পরামর্শ প্রদান করে বা অন্য কোনোভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছেন।
আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের তাঁর দ্বীনের এমন সাহায্যকারী হিসেবে কবুল করেন যারা তাঁর সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করে এবং তাঁর দিকে আহ্বান জানায়।
নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী। আর আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন
এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
الباب الأول: الأحاديث الواردة في الأعيان المنهي عن بيعها
الفصل الأول: ما ورد في النهي عن بيع الميتة والخنزير والأصنام…توطئة
البيع لغة: مصدر بعتُ. وهو ضد الشراء. وقد يأتي بمعنى الشراء، فيكون من الأضداد1.
وفي الشرع: مبادلة المال المتقوم بالمال المتقوم تمليكاً وتملّكاً2.
والبيع جائز بالكتاب والسنة والإجماع:
- أما الكتاب، فقوله تعالى: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْع} 3.
- وأما من السنة، فإن النبي صلى الله عليه وسلم باع واشترى، وأقرّ المسلمين على بياعاتهم، إلا بيوعاً نهاهم عنها.
- وقد أجمع المسلمون على جواز البيع في الجملة4.
- والحكمة تقتضيه؛ لأن حاجة الإنسان تتعلق بما في يد صاحبه، وصاحبه لا يبذله بغير عوض. ففي شرع البيع وتجويزه شرع طريقٍ إلى وصول كل واحدٍ منهما إلى غرضه ودفع حاجته5.
وأما الأصل في البيع فهو الحل، لقول الله عز وجل: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبا} 6.قال الشافعي رحمه الله: " أصل البيوع كلها مباح إذا كانت برضا المتبايعين الجائزي الأمر فيما تبايعا، إلا ما نهى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم منها، وما كان في معنى ما نهى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم محرم بإذنه داخل في المنهي عنه، وما فارق ذلك أبحناه "1.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: ঐ সকল বস্তু সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ যা বিক্রয় করা নিষিদ্ধপ্রথম পরিচ্ছেদ: মৃত প্রাণী, শূকর এবং মূর্তি বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে...ভূমিকা
আভিধানিক অর্থে 'বায়' (ক্রয়-বিক্রয়): এটি ‘বা’তু’ (আমি বিক্রি করেছি) এর মাসদার বা ক্রিয়ামূল। এটি ‘শিরা’ (ক্রয়) এর বিপরীত শব্দ। কখনো কখনো এটি ‘ক্রয়’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়, সেক্ষেত্রে এটি বিপরীতার্থক শব্দাবলির (আল-আদদাদ) অন্তর্ভুক্ত।১
শরীয়তের পরিভাষায়: মালিকানা প্রদান ও মালিকানা অর্জনের উদ্দেশ্যে একটি মূল্যবান সম্পদের বিনিময়ে অপর একটি মূল্যবান সম্পদের আদান-প্রদান করা।২
কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমার আলোকে ক্রয়-বিক্রয় বৈধ:
- কুরআনের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন} ৩।
- সুন্নাহর দলিল হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং ক্রয় ও বিক্রয় করেছেন এবং মুসলিমদের প্রচলিত ব্যবসায়িক লেনদেনগুলোকে অনুমোদন দিয়েছেন, কেবল ঐ সকল ব্যবসা ছাড়া যা থেকে তিনি তাদের নিষেধ করেছেন।
- মুসলিমগণ সাধারণভাবে ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হওয়ার ব্যাপারে একমত (ইজমা) পোষণ করেছেন।৪
- প্রজ্ঞার দাবিও এটাই; কেননা মানুষের প্রয়োজন অন্যের হাতে থাকা জিনিসের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে, আর সেই মালিক প্রতিদান ছাড়া তা ছেড়ে দেয় না। তাই ক্রয়-বিক্রয়কে শরীয়তসম্মত ও বৈধ করার মাধ্যমে উভয়ের নিজ নিজ উদ্দেশ্য পূরণ এবং প্রয়োজন মেটানোর পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে।৫
ক্রয়-বিক্রয়ের মূল বিধান হলো তা হালাল হওয়া, কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন} ৬। ইমাম শাফিঈ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: “সকল ক্রয়-বিক্রয়ের মূল বিধান হলো তা বৈধ হওয়া, যদি তা লেনদেনে সক্ষম এমন দুই পক্ষের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে হয়। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিষেধ করেছেন তা ব্যতীত। আর যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয়ের সমার্থবোধক, তাও তাঁর নির্দেশানুসারে হারামের অন্তর্ভুক্ত ও নিষিদ্ধ হবে। এর বাইরে যা কিছু আছে, আমরা সেগুলোকে বৈধ মনে করি।”১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الفصل الأول ما ورد في النهي عن بيع الميتة والخنزير والأصنام
1 - (1) عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول بمكة عام الفتح: " إن الله ورسوله حرم بيع الخمر والميتة والخنزير والأصنام". فقيل: يا رسول الله؛ أرأيت شحوم الميتة؛ فإنه يطلى بها السفن، ويدهن بها الجلود، ويستصبح بها الناس؟ فقال: " لا، هو حرام". ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عند ذلك: " قاتل الله اليهود؛ إن الله لما حرم شحومها جملوه ثم باعوه فأكلوا ثمنه".
أخرجه البخاري1 واللفظ له، ومسلم2، وأبو داود3، والترمذي4، والنسائي5، وابن ماجه6، وأحمد7، كلهم من طرق عن يزيد بن أبي حبيب المصري عن عطاء بن أبي رباح عنه به. قال الترمذي: حسن صحيح.
وجاء في رواية لمسلم وأبي داود وأحمد8: يزيد بن أبي حبيب أن عطاء كتب يذكر أنه سمع جابر بن عبد الله
… الحديث.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: মৃত প্রাণী, শুকর এবং মূর্তির বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে
১ - (১) জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন যে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল মদ, মৃত প্রাণী, শুকর এবং মূর্তির বিক্রয় হারাম করেছেন।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল; আপনি কি মৃত প্রাণীর চর্বি সম্পর্কে বলবেন? কারণ এটি দিয়ে জাহাজে প্রলেপ দেওয়া হয়, চামড়ায় মালিশ করা হয় এবং মানুষ প্রদীপ জ্বালাতে এটি ব্যবহার করে। তিনি বললেন: "না, এটি হারাম।" এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখনই বললেন: "আল্লাহ ইহুদিদের ধ্বংস করুন; নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন তাদের জন্য চর্বি হারাম করলেন, তখন তারা তা গলিয়ে ফেলল এবং এরপর তা বিক্রি করল ও তার মূল্য ভক্ষণ করল।"
এটি বুখারী১ বর্ণনা করেছেন এবং শব্দবিন্যাস তাঁর, আরও বর্ণনা করেছেন মুসলিম২, আবু দাউদ৩, তিরমিযী৪, নাসাঈ৫, ইবনে মাজাহ৬ এবং আহমাদ৭; তাঁরা সকলে ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব আল-মিসরি সূত্রে আতা বিন আবি রাবাহ থেকে তাঁর (জাবির) মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন: হাদিসটি হাসান সহীহ।
মুসলিম, আবু দাউদ এবং আহমাদের৮ একটি বর্ণনায় এসেছে: ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে বর্ণিত যে, আতা লিখে জানিয়েছেন যে তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ থেকে শুনেছেন... (বাকি হাদিস)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وهذه الرواية أخرجها أيضًا البخاري تعليقًا1. وجاء في رواية أخرى لأحمد2، وهي رواية ابن ماجه: يزيد بن أبي حبيب قال: قال عطاء بن أبي رباح.
فهذه الروايات فيها أن يزيد لم يسمع هذا الحديث من عطاء، والرواية الثانية لأحمد وابن ماجه محتملة. وقد صرح بعدم السماع أبو حاتم الرازي عندما سئل عن هذا الحديث فقال: يزيد بن أبي حبيب عن عطاء هو من حديث محمد بن إسحاق عن عطاء عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم، ولا أعلم يزيد بن أبي حبيب سمع من عطاء شيئًا3.
إلا أن الروايات التي جاء التصريح فيها بأن عطاء قد كتب بهذا الحديث إلى يزيد تنفي الواسطة بينهما، فهو وإن لم يثبت أنه سمع منه هذا الحديث، إلا أنه قد كتب به إليه، والكتابة من طرق التحمل الصحيحة عند جمهور المحدثين، وعليها العمل عندهم بشروطها4، ومن هؤلاء المحدثين الإمام البخاري، وتخريجه لهذا الحديث يدل على ذلك، وقد بوب في صحيحه بابًا في الاحتجاج بالكتابة، فقال: باب ما يذكر في المناولة وكتاب أهل العلم بالعلم إلى البلدان5.
وللحديث طريق أخرى أخرجها أحمد6، والطبراني في الأوسط7 عن ابن لهيعة: ثنا جعفر بن ربيعة عن عطاء بن أبي رباح عن جابر بن
--------------------------------------------
এই বর্ণনাটি ইমাম বুখারিও মুআল্লাক হিসেবে সংকলন করেছেন ১। আহমদের অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে ২, যা ইবনে মাজাহরও বর্ণনা: ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব বলেন: আতা ইবনে আবি রাবাহ বলেছেন।
এই বর্ণনাগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইয়াজিদ এই হাদিসটি আতা থেকে সরাসরি শোনেননি। আহমদ ও ইবনে মাজাহর দ্বিতীয় বর্ণনাটির ক্ষেত্রে (সরাসরি শোনার) সম্ভাবনা রয়েছে। আবু হাতিম আল-রাজি সরাসরি না শোনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যখন তাঁকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি বলেন: আতা থেকে ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিবের বর্ণনাটি মূলত আতা থেকে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের বর্ণনা, যা আতা জাবির থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আমি জানি না যে ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব আতা থেকে কোনো কিছু শুনেছেন কি না ৩।
তবে যেসব বর্ণনায় স্পষ্টভাবে এসেছে যে, আতা এই হাদিসটি ইয়াজিদের কাছে লিখে পাঠিয়েছিলেন, তা তাঁদের মধ্যবর্তী কোনো মাধ্যম বা মধ্যস্থতার সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়। সুতরাং, যদিও সরাসরি শোনার বিষয়টি প্রমাণিত নয়, তবুও তিনি তাঁর কাছে এটি লিখে পাঠিয়েছিলেন। আর জমহুর মুহাদ্দিসদের মতে 'কিতাবত' (লিখে পাঠানো) হাদিস গ্রহণের একটি সহিহ পদ্ধতি এবং নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে তাঁদের নিকট এটি আমলযোগ্য ৪। ইমাম বুখারিও এই মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত এবং এই হাদিসটি তাঁর সংকলন করা এর প্রমাণ বহন করে। তিনি তাঁর সহিহ গ্রন্থে কিতাবতের মাধ্যমে দলিল গ্রহণের ওপর একটি অধ্যায় রচনা করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: 'মুনাতলাহ এবং আলেমদের জ্ঞান সম্বলিত চিঠি বিভিন্ন শহরে পাঠানো সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে' শীর্ষক অধ্যায় ৫।
এই হাদিসের আরও একটি সূত্র রয়েছে যা আহমদ ৬ এবং তাবারানি আল-আওসাতে ৭ ইবনে লাহিআহ থেকে বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট জাফর ইবনে রাবিআহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি জাবির ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عبد الله قال: " لما كان يوم فتح مكة اهراق رسول الله صلى الله عليه وسلم الخمر وكسر جراره، ونهى عن بيعه وبيع الأصنام".
وفي إسناده ابن لهيعة، وهو عبد الله بن لهيعة بن عقبة الحضرمي المصري.
كان يحيى بن سعيد لا يراه شيئًا.
وقال ابن مهدي: لا أحمل عنه قليلاً ولا كثيرًا.
وقال أيضًا: لا أعتد بشيء سمعته من حديث ابن لهيعة إلا سماع ابن المبارك ونحوه.
وقال أحمد: ما حديث ابن لهيعة بحجة، وإني لأكتب كثيرًا مما أكتب أعتبر به، وهو يقوي بعضه ببعض. وقال أيضًا: من كان مثل ابن لهيعة بمصر في كثرة حديثه وضبطه وإتقانه.
وأثنى عليه أيضًا ابن وهب، وأحمد بن صالح وغيرهما.
وقد بين أحمد بن صالح أن الضعف في حديثه ليس من قبله، وإنما من قبل الرواة عنه.
وقال عبد الغني بن سعيد الأزدي: إذا روى العبادلة عن ابن لهيعة فهو صحيح، ابن المبارك، وابن وهب، والمقري.
وقال ابن معين: كان ضعيفًا لا يحتج بحديثه؛ كان من شاء يقول له: " حدثنا".
وضعفه أيضًا أبو حاتم وأبو زرعة، وقالا: أمره مضطرب، يكتب الحديث على الاعتبار.
قال ابن أبي حاتم: قلت لأبي: إذا كان من يروي عن ابن لهيعة مثل ابن المبارك، فابن لهيعة يحتج به؟ قال: لا.
আব্দুল্লাহ বলেন: "মক্কা বিজয়ের দিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদ ঢেলে ফেলে দেন এবং এর পাত্রগুলো ভেঙে ফেলেন, আর তিনি মদ ও মূর্তির কেনা-বেচা নিষিদ্ধ করেন।"
এর বর্ণনাসূত্রে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন, তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া ইবনে উকবা আল-হাদরামি আল-মিসরি।
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ তাঁকে কোনো ধর্তব্যের মধ্যে মনে করতেন না।
ইবনে মাহদী বলেন: আমি তাঁর থেকে কম বা বেশি কোনো হাদিস গ্রহণ করি না।
তিনি আরও বলেন: ইবনুল মুবারক ও তাঁর সমমর্যাদার ব্যক্তিদের শোনা হাদিস ব্যতীত ইবনে লাহিয়ার হাদিস থেকে যা শুনেছি, তার কোনো কিছুই আমি গণ্য করি না।
আহমাদ বলেন: ইবনে লাহিয়ার হাদিস দলিলযোগ্য নয়; তবে আমি তাঁর বর্ণিত অনেক হাদিস লিখে রাখি যা আমি পর্যালোচনা বা সমর্থক প্রমাণ (ইতিবার) হিসেবে ব্যবহার করি এবং এর একটি অন্যটিকে শক্তিশালী করে। তিনি আরও বলেন: হাদিসের আধিক্য, স্মৃতিশক্তি ও পারদর্শিতার ক্ষেত্রে মিসরে ইবনে লাহিয়ার মতো আর কে ছিল?
ইবনে ওয়াহাব, আহমাদ ইবনে সালেহ এবং অন্যান্যরাও তাঁর প্রশংসা করেছেন।
আহমাদ ইবনে সালেহ স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর হাদিসের দুর্বলতা তাঁর নিজের পক্ষ থেকে নয়, বরং তাঁর থেকে যারা বর্ণনা করেছেন সেই রাবি বা বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে।
আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ আল-আজদি বলেন: যখন আবাদিলা (আব্দুল্লাহ নামীয় প্রখ্যাত বর্ণনাকারিগণ) ইবনে লাহিয়ার থেকে বর্ণনা করেন, তখন তা সহিহ; তাঁরা হলেন ইবনুল মুবারক, ইবনে ওয়াহাব এবং আল-মুকরি।
ইবনে মাঈন বলেন: তিনি দুর্বল ছিলেন, তাঁর হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যায় না; যে কেউ চাইলেই তাঁকে বলতে পারত: "আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করুন"।
আবু হাতিম এবং আবু জুরআও তাঁকে দুর্বল বলেছেন এবং তাঁরা বলেছেন: তাঁর বিষয়টি গোলমেলে (মুততারিব), তাঁর হাদিস কেবল পর্যালোচনার (ইতিবার) জন্য লেখা যায়।
ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম: যখন ইবনে লাহিয়ার থেকে ইবনুল মুবারকের মতো ব্যক্তি বর্ণনা করেন, তখন কি ইবনে লাহিয়া দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হন? তিনি বললেন: না।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وضعفه أيضًا ابن سعد، وأبو أحمد الحاكم، ووصفه ابن حبان بالتدليس، وذكر أنه هو السبب في وقوع المناكير في حديثه.
وقد عزى قوم ضعفه إلى احتراق كتبه، ومن هؤلاء: إسحاق بن عيسى، ويحيى بن بكير، والحاكم وغيرهم.
وأنكره ابن أبي مريم وغيره1.
وقد خلص فيه الذهبي إلى أنه ضعيف؛ لاختلاطه بعد احتراق كتبه2.
وخلص فيه ابن حجر إلى أنه " صدوق خلط بعد احتراق كتبه، ورواية ابن المبارك وابن وهب عنه أعدل من غيرهما"3.
والذي يظهر لي مما سبق من أقوال العلماء أنه ضعيف يعتبر به. ورواية العبادلة عنه أقوى من غيرها، ولكنها مع ذلك فيها ضعف. والله أعلم.
وقد تفرد عبد الله بن لهيعة بالرواية عن جعفر بن ربيعة لهذا الحديث كما قال الطبراني4، إلا أنه مع ذلك تصلح هذه الطريق للمتابعة. والله أعلم.
- قوله: " إن الله ورسوله حرم" أسند الفعل إلى ضمير الواحد، وهو هنا جائز، ووجهه الإشارة إلى أمر النبي صلى الله عليه وسلم ناشئ من أمر الله، قاله ابن حجر رحمه الله.
قال: وهو نحو قوله: {وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَقُّ أَنْ يُرْضُوهُ إِنْ كَانُوا مُؤْمِنِينَ} ، وقد جاء في بعض طرق الحديث في الصحيح " إن الله حرم"، وفي رواية لابن مردويه " إن الله ورسوله حرما"5.
--------------------------------------------
ইবনে সাদ এবং আবু আহমদ আল-হাকিমও তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনে হিব্বান তাকে 'তাদলিস' (বর্ণনাসূত্র গোপন করা) এর দোষে অভিযুক্ত করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, এটিই তার বর্ণিত হাদিসে 'মুনকার' (অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা) অনুপ্রবেশের কারণ।
একদল আলেম তার দুর্বল হওয়ার কারণ হিসেবে তার কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়াকে চিহ্নিত করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইসহাক ইবনে ঈসা, ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর, আল-হাকিম এবং আরও অনেকে।
ইবনে আবি মারইয়াম এবং অন্যরাও তাকে অস্বীকার করেছেন।
ইমাম যাহাবী তার ব্যাপারে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, তিনি দুর্বল; কারণ তার কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়ার পর তার স্মৃতিতে বিভ্রান্তি ঘটেছিল।
হাফেজ ইবনে হাজার তার বিষয়ে সারসংক্ষেপ করেছেন যে, তিনি "সত্যবাদী, তবে কিতাব পুড়ে যাওয়ার পর তার স্মৃতিতে বিভ্রান্তি ঘটেছিল; আর ইবনুল মুবারক ও ইবনে ওয়াহাব তার থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা অন্যদের বর্ণনার চেয়ে অধিকতর সঠিক"।
ওলামায়ে কেরামের পূর্বোক্ত বক্তব্যসমূহ থেকে আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তিনি একজন দুর্বল বর্ণনাকারী যাকে সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করা যায়। তার থেকে 'আবাদিলা' (আবদুল্লাহ নামীয় ছাত্রগণ)-দের বর্ণনা অন্যদের চেয়ে শক্তিশালী, তবে তা সত্ত্বেও তাতে দুর্বলতা রয়েছে। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।
ইমাম তাবারানি যেমনটি বলেছেন, এই হাদিসটি জাফর ইবনে রাবিয়াহ থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়াহ একক হয়ে গেছেন। তবে তা সত্ত্বেও এই সূত্রটি 'মুতাবিআত' (সমর্থনমূলক বর্ণনা) হিসেবে যোগ্য। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।
- তাঁর উক্তি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হারাম করেছেন" - এখানে ক্রিয়াটিকে একবচন সর্বনামের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, যা এখানে জায়েজ। এর কারণ হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ আল্লাহর নির্দেশ থেকেই উদ্ভূত, যা ইবনে হাজার রহিমাহুল্লাহ উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেছেন: এটি আল্লাহর বাণীর অনুরূপ: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিকতর হকদার যে, তারা তাঁকে সন্তুষ্ট করবে যদি তারা মুমিন হয়ে থাকে}। সহিহ গ্রন্থের হাদিসের কিছু সূত্রে এসেছে "নিশ্চয়ই আল্লাহ হারাম করেছেন", আর ইবনে মারদুওয়াইহ-এর এক বর্ণনায় এসেছে "নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হারাম করেছেন"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
- قوله: " فإنه يطلى بها السفن" الطلي هو لطخ الشيء بالشيء1.
- قوله: " ويستصبح بها الناس" أي يشعلون بها سرجهم2.
- قوله: " لا، هو حرام" اختلف في هذا التحريم؛ هل هو للبيع فقط، أم للانتفاع مطلقًا.
ورجح الحافظ ابن حجر3 رحمه الله أن يكون عائدًا إلى البيع.
قال الحافظ: " هكذا فسره العلماء؛ كالشافعي ومن اتبعه"، وقال: " ويؤيد أن التحريم يعود إلى البيع ما جاء في رواية لأحمد لهذا الحديث فيها أن رجلاً قال: يا رسول الله؛ فما ترى في بيع شحوم الميتة؟ ".
ويؤيده أيضًا ما أخرجه أبو داود من وجه آخر عن ابن عباس أنه صلى الله عليه وسلم قال وهو عند الركن: " قاتل الله اليهود؛ إن الله حرم عليهم الشحوم، فباعوها وأكلوا أثمانها، وإن الله إذا حرم على قوم أكل شيء حرم عليهم ثمنه"4.
والمعنى أن الصحابة رضي الله عنه سألوا النبي صلى الله عليه وسلم عن شحوم الميتة، - وقد كان مقررًا عندهم أنه يحرم أكل الميتة وأجزائها - إلا أنهم سألوا عن حكم بيعها أو بعضها، لا ما فيه من المنافع؛ ظنًا منهم أن الميتة إنما يحرم أكلها، وأما بيعها أو أجزاء منها فلا يحرم، فنهاهم النبي صلى الله عليه وسلم عن ذلك، وذكر لهم أن هذا من جنس احتيال
--------------------------------------------
তাঁর উক্তি: "কেননা তা দিয়ে নৌকা লেপন করা হয়" - 'তলি' হলো এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে লেপন করা।১
- তাঁর উক্তি: "এবং মানুষ তা দ্বারা প্রদীপ জ্বালায়" অর্থাৎ তারা তা দিয়ে তাদের প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করে।২
- তাঁর উক্তি: "না, তা হারাম" - এই হারামের (নিষেধাজ্ঞার) ব্যাপারে মতভেদ হয়েছে; এটি কি শুধু বিক্রির জন্য, নাকি সামগ্রিকভাবে ব্যবহারের জন্য।
হাফেজ ইবনে হাজার৩ (রহিমাহুল্লাহ) প্রাধান্য দিয়েছেন যে, এটি বিক্রির দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।
হাফেজ বলেন: "উলামায়ে কেরাম যেমন শাফেয়ী ও তাঁর অনুসারীগণ এভাবেই এর ব্যাখ্যা করেছেন", এবং তিনি বলেন: "হারাম হওয়ার বিষয়টি যে বিক্রির দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তার সমর্থন ইমাম আহমাদ বর্ণিত এই হাদিসের একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, যেখানে জনৈক ব্যক্তি বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসুল! মৃত পশুর চর্বি বিক্রির বিষয়ে আপনার অভিমত কী?"
আবু দাউদ কর্তৃক ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত অন্য একটি সূত্রও একে সমর্থন করে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকনের নিকট থাকাকালীন বলেছিলেন: "আল্লাহ ইহুদিদের ধ্বংস করুন; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের ওপর চর্বি হারাম করেছিলেন, কিন্তু তারা তা বিক্রি করেছে এবং তার মূল্য ভোগ করেছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন কোনো জাতির ওপর কোনো কিছু খাওয়া হারাম করেন, তখন তাদের ওপর তার মূল্যও হারাম করে দেন।"৪
এর অর্থ হলো যে, সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মৃত পশুর চর্বি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন - এবং তাদের নিকট এটি নির্ধারিতই ছিল যে মৃত পশু এবং তার অংশবিশেষ খাওয়া হারাম - তবে তারা এর বিক্রি বা এর অংশবিশেষের বিক্রি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এর উপযোগিতা সম্পর্কে নয়; তাদের ধারণা ছিল যে মৃত পশু কেবল খাওয়াই হারাম, কিন্তু এর বিক্রি বা এর অংশবিশেষ বিক্রি করা হারাম নয়। ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের তা থেকে নিষেধ করেন এবং তাদের নিকট উল্লেখ করেন যে এটি এক প্রকার প্রতারণামূলক কৌশলের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
اليهود لما حرم الله عليهم الشحوم أذابوها ثم باعوها، والله سبحانه إذا حرم أكل شيء حرم ثمنه.
- قوله: " إن الله لما حرم شحومها" يشير قوله تعالى: {وَعَلَى الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا كُلَّ ذِي ظُفُرٍ وَمِنَ الْبَقَرِ وَالْغَنَمِ حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ شُحُومَهُمَا إِلَّا مَا حَمَلَتْ ظُهُورُهُمَا أَوِ الْحَوَايَا أَوْ مَا اخْتَلَطَ بِعَظْمٍ ذَلِكَ جَزَيْنَاهُمْ بِبَغْيِهِمْ وَإِنَّا لَصَادِقُونَ
…} الآية1.
- قوله: " جملوه" جاء في بعض الروايات " أجملوه".
قال ابن الأثير: جملت الشحم وأجملته: إذا أذبته واستخرجت دهنه، وجملت أفصح من أجملت2.
قال البغوي: فيه دليل على بطلان كل حيلة يحتال بها للتوصل إلى المحرم، وإنه لا يتغير حكمه بتغيير هيئته وتبديل اسمه3.
2 - (2) عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " إن الله حرم الخمر وثمنها، وحرم الميتة وثمنها، وحرم الخنزير وثمنه".
أخرجه أبو داود4، وهذا لفظه، ومن طريقه الدارقطني5، والبيهقي6.
وأخرجه الطبراني في الأوسط7، ومن طريقه أبو نعيم في الحلية8.
--------------------------------------------
ইহুদীদের ওপর যখন আল্লাহ চর্বি হারাম করলেন তখন তারা তা গলিয়ে ফেলল এবং তারপর তা বিক্রি করল। মহান আল্লাহ যখন কোনো কিছুর ভক্ষণ হারাম করেন, তখন তার মূল্যও হারাম করে দেন।
- তাঁর বক্তব্য: "নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন তাদের চর্বি হারাম করেছেন" এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর দিকে ইঙ্গিত করে: {আর যারা ইহুদী হয়েছে তাদের জন্য আমি প্রত্যেক নখরবিশিষ্ট প্রাণী হারাম করেছিলাম এবং গরু ও ছাগল থেকে তাদের জন্য সেগুলোর চর্বি হারাম করেছিলাম; তবে যা তাদের পিঠ অথবা নাড়িভুঁড়িতে লেগে থাকে কিংবা যা হাড়ের সাথে মিশে থাকে তা ছাড়া। তাদের অবাধ্যতার কারণে আমি তাদের এই প্রতিফল দিয়েছিলাম। আর আমি অবশ্যই সত্যবাদী...} আয়াত ১।
- তাঁর বক্তব্য: "জামালাহু" (তারা তা গলিয়েছে); এটি কোনো কোনো বর্ণনায় "আজমালাহু" শব্দে এসেছে।
ইবনুল আসির বলেন: আমি চর্বি গলিয়েছি (জামালতু ও আজমালতু): যখন আপনি তা গলিয়েছেন এবং তা থেকে তেল বের করেছেন। আর 'জামালতু' শব্দটি 'আজমালতু' অপেক্ষা অধিক শুদ্ধ।২
বাগাভী বলেন: এতে হারাম বস্তুর নিকট পৌঁছানোর জন্য অবলম্বনকৃত সকল হিলা বা চাতুর্যের অসারতার প্রমাণ রয়েছে। আর এর আকৃতি পরিবর্তন বা নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে এর বিধান পরিবর্তিত হয় না।৩
২ - (২) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মদ ও তার মূল্য হারাম করেছেন, মৃত প্রাণী ও তার মূল্য হারাম করেছেন এবং শুকর ও তার মূল্য হারাম করেছেন।"
এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন ৪, এবং এটি তাঁরই শব্দ। তাঁর মাধ্যমেই দারা কুতনী ৫ এবং বায়হাকী ৬ এটি বর্ণনা করেছেন।
তাবারানী তাঁর আল-মুজামুল আওসাত গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন ৭, এবং তাঁর সূত্র ধরে আবু নুআইম আল-হিলইয়াহ গ্রন্থে ৮ বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وأخرجه ابن عدي في الكامل1 عند ترجمة معاوية بن صالح.
كلهم من طرق عن ابن وهب عن معاوية بن صالح، عن عبد الوهاب بن بخت، عن أبي الزناد، عن الأعرج عنه به.
وقال الطبراني: لم يروه عن أبي الزناد إلا عبد الوهاب بن بخت، ولا عن عبد الوهاب إلا معاوية بن صالح. تفرد به ابن وهب.
وابن وهب: هو الإمام المشهور الثبت عبد الله بن وهب المصري، وأما معاوية بن صالح فهو ابن حُدَير الحضرمي، وهو مختلف فيه، فوثقه ابن مهدي، وأحمد وأبو زرعة وغيرهم.
وتكلم فيه يحيى القطان، وابن معين في رواية، وغيرهما2.
وقد احتج به مسلم في صحيح3.
وقال الحافظ الذهبي: صدوق إمام4. ورمز له في الميزان بـ (صح) 5، وهو يرمز بهذا الرمز لمن كان العمل على توثيقه6.
وقال الحافظ ابن حجر: صدوق له أوهام7.
وعند النظر إلى أقوال أئمة الجرح والتعديل نجد أن قول الحافظ الذهبي أقرب من قول الحافظ ابن حجر؛ لكون أكثر الأئمة على توثيقه.
--------------------------------------------
আর ইবনে আদী একে আল-কামিলে ১ মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ এর জীবনীর আলোচনায় উদ্ধৃত করেছেন।
তাঁরা সকলেই ইবনে ওয়াহাব থেকে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে বাখত থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি তাঁর (মূল বর্ণনাকারী) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
আর তাবারানী বলেন: আবুয যিনাদ থেকে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে বাখত ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি, আর আব্দুল ওয়াহহাব থেকে মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ ছাড়া কেউ করেননি। আর ইবনে ওয়াহাব এতে একক হয়ে গেছেন।
আর ইবনে ওয়াহাব হলেন: প্রখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আল-মিসরী। আর মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ হলেন ইবনে হুদায়ের আল-হাদরামী, যাঁর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। ইবনে মাহদী, আহমাদ, আবু যুরআ এবং অন্যান্যরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন।
আর ইয়াহইয়া আল-কাত্তান এবং এক বর্ণনামতে ইবনে মাঈন ও অন্যান্যরা তাঁর সমালোচনা করেছেন ২।
আর ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে তাঁকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন ৩।
আর হাফিয আয-যাহাবী বলেন: তিনি সত্যবাদী ইমাম ৪। আর আল-মিযানে তিনি তাঁর জন্য (সহ) চিহ্ন ব্যবহার করেছেন ৫, আর তিনি এই চিহ্ন তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন যাঁদের নির্ভরযোগ্যতার উপর আমল করা হয় ৬।
আর হাফিয ইবনে হাজার বলেন: তিনি সত্যবাদী, তবে তাঁর কিছু ভুলভ্রান্তি রয়েছে ৭।
আর জারহ ও তা’দীলের ইমামগণের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে আমরা দেখতে পাই যে, হাফিয আয-যাহাবীর বক্তব্য হাফিয ইবনে হাজরের বক্তব্যের চেয়ে অধিক নিকটতর; যেহেতু অধিকাংশ ইমাম তাঁকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وأما عبد الوهاب بن بُخت فقال فيه الحافظ ابن حجر: ثقة1.
فعلى هذا، فهذا الإسناد حسن ، وله شواهد؛ كحديث جابر رضي الله عنه
المتقدم وغيره تجعل الحديث صحيحًا لغيره. والله أعلم.
3 - (3) عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم عام الفتح وهو بمكة يقول: " إن الله ورسوله حرم بيع الخمر والميتة والخنزير"، فقيل: يا رسول الله؛ أرأيت شحوم الميتة؛ فإنه يدهن بها السفن، ويدهن بها الجلود، ويستصبح بها الناس؟ فقال: " لا، هو حرام". ثم قال: " قاتل الله اليهود؛ إن الله لما حرم عليهم الشحوم جملوها، ثم باعوها وأكلوا أثمانها".
رواه أحمد2، وهذا لفظه، والبيهقي3. كلاهما من طرق عن أسامة بن زيد الليثي عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده به. وزاد البيهقي " والأصنام" عند قوله " إن الله ورسوله حرم بيع الخمر والميتة والخنزير".
وأسامة بن زيد مختلف فيه؛ فوثقه ابن معين، والعجلي، وابن عدي وغيرهم.
وضعفه القطان، وأحمد، والنسائي وغيرهم4.
قال الحافظان الذهبي5 وابن حجر6: صدوق يهم.
--------------------------------------------
আর আবদুল ওয়াহহাব ইবনে বুখত সম্পর্কে হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন: নির্ভরযোগ্য।
সে অনুযায়ী এই সনদটি হাসান এবং এর একাধিক সমর্থনকারী বর্ণনা রয়েছে; যেমন জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর পূর্বে বর্ণিত হাদীস ও অন্যান্য বর্ণনা যা হাদীসটিকে 'সহীহ লি-গাইরিহি'র স্তরে উন্নীত করে। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
৩ - (৩) আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় অবস্থানকালে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মদ, মৃত প্রাণী এবং শূকর কেনাবেচা হারাম করেছেন।" তখন জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, মৃত প্রাণীর চর্বি সম্পর্কে আপনি কী বলেন? কেননা তা দিয়ে জাহাজে প্রলেপ দেওয়া হয়, চামড়ায় মাখা হয় এবং মানুষ তা দিয়ে প্রদীপ জ্বালায়। তিনি বললেন: "না, এটি হারাম।" এরপর তিনি বললেন: "আল্লাহ ইহুদিদের ধ্বংস করুন; আল্লাহ যখন তাদের ওপর চর্বি হারাম করলেন, তখন তারা তা গলাল এবং তা বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করল।"
আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি তাঁর শব্দে বর্ণিত, আর বায়হাকীও বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ই উসামা ইবনে যায়েদ আল-লাইসী সূত্রে আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী "নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মদ, মৃত প্রাণী এবং শূকর কেনাবেচা হারাম করেছেন" কথাটির সাথে "এবং প্রতিমা" শব্দটি বৃদ্ধি করেছেন।
আর উসামা ইবনে যায়েদ সম্পর্কে মতপার্থক্য রয়েছে; ইবনে মাঈন, আজলী, ইবনে আদী এবং অন্যান্যরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।
আর কাত্তান, আহমদ, নাসাঈ এবং অন্যান্যরা তাঁকে দুর্বল বলেছেন।
দুই হাফেজ—যাহাবী ও ইবনে হাজার বলেছেন: সত্যবাদী কিন্তু মাঝে মাঝে সংশয়ে ভুগতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وحديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده الخلاف فيه مشهور، وقد رجح الحافظ الذهبي أنه من باب الحديث الحسن1؛ لأن عمرو صدوق2، فيبقى أن في الإسناد أسامة بن زيد، وهو متكلم فيه كما سبق، ولكن للحديث شاهد من حديث جابر بن عبد الله3 رضي الله عنهما فيكون به حسنًا لغيره. والله أعلم.
4 - (4) عن عاصم بن ضمرة قال: أتي علي بدابة عليها سرج عليه خز، فقال: "نهانا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ركوب عليها، وعن جلوس عليها، وعن جلود النمور عن ركوب عليها، وعن جلوس عليها، وعن الغنائم أن تباع حتى تخمس، وعن حبالى سبايا العدو أن يوطين، وعن الحمر الأهلية، وعن أكل ذي ناب من السباع، وأكل ذي مخلب من الطير، وعن ثمن الخمر، وعن ثمن الميتة، وعن عسب الفحل، وعن ثمن الكلب".
جاء هذا الحديث من ثلاث طرق:
الطريق الأولى: أخرجها عبد الرزاق قال: أخبرنا عباد بن كثير البصري عن رجل أحسبه خالد عن حبيب بن أبي ثابت عن عاصم بن ضمرة به باللفظ السابق4.
وعباد بن كثير البصري كان من العباد، إلا أنه متروك الحديث كما قاله البخاري، والعجلي، والنسائي وغيرهم5.
--------------------------------------------
আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে যে বর্ণনা করেছেন, সে ব্যাপারে মতভেদ প্রসিদ্ধ। হাফেজ আয-যাহাবি একে 'হাসান' হাদিস হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়েছেন; কারণ আমর সত্যবাদী। তবে সনদে উসামা ইবনে যায়েদ রয়েছেন, যার ব্যাপারে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে যে তাকে নিয়ে আপত্তি রয়েছে। কিন্তু জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস থেকে এর একটি 'শাহিদ' (সমর্থক বর্ণনা) রয়েছে, ফলে এটি 'হাসান লি-গাইরিহি' হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।
৪ - (৪) আসেম ইবনে দামরাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এমন একটি পশু আনা হলো যার পিঠে রেশমি গদিযুক্ত জিন ছিল। তখন তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এর ওপর আরোহণ করতে এবং এর ওপর বসতে নিষেধ করেছেন। আর চিতার চামড়ার ওপর আরোহণ করতে ও এর ওপর বসতে নিষেধ করেছেন। গনিমতের মাল বণ্টন (খুমুস) করার পূর্বে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। শত্রুপক্ষের অন্তঃসত্ত্বা যুদ্ধবন্দিনী নারীদের সাথে সহবাস করতে নিষেধ করেছেন। গৃহপালিত গাধার গোশত, শিকারি দাঁতবিশিষ্ট হিংস্র পশু এবং নখরবিশিষ্ট শিকারি পাখি ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন। এছাড়া মদের মূল্য, মৃত পশুর মূল্য, পশুর প্রজননের বিনিময় এবং কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।"
এই হাদিসটি তিনটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে:
প্রথম সূত্র: এটি আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্বাদ ইবনে কাসির আল-বাসরি, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে—যাকে আমি খালিদ বলে মনে করি—তিনি হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি আসেম ইবনে দামরাহ থেকে পূর্বোক্ত শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন।
আব্বাদ ইবনে কাসির আল-বাসরি অনেক বড় ইবাদতগুজার ছিলেন, তবে হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি 'মাতরুক' (পরিত্যক্ত), যেমনটি ইমাম বুখারি, আজলি, নাসায়ি এবং অন্যান্যরা বলেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وجعله ابن حجر في مرتبة: متروك1.
وقوله " أحسبه خالد" لعل الصواب أنه عمرو بن خالد كما سيأتي، فإن عباد بن كثير معروف بالرواية عنه2.
وعمرو بن خالد هذا هو القرشي مولاهم الواسطي.
قال فيه ابن معين، وأحمد، وأبو داود: كذاب.
وقال وكيع، وإسحاق، وأبو زرعة: يضع الحديث3.
وأما حبيب بن أبي ثابت فقد قال فيه الحافظ ابن حجر: ثقة فقيه جليل، وكان كثير الإرسال والتدليس4.
وأما عاصم بن ضمرة، فوثقه ابن المديني، والعجلي. وقال فيه النسائي: ليس به بأس.
وضعفه الجوزجاني، وابن عدي، وابن حبان5.
وجعله ابن حجر في مرتبة: صدوق6.
فعلى هذا فإن الحديث من هذه الطريق ضعيف جدًا؛ لحال عباد بن كثير.
وإن صح احتمال وجود عمرو بن خالد في إسناده فيكون موضوعًا.
--------------------------------------------
এবং ইবনে হাজার তাকে ‘মাতরুক’ (পরিত্যক্ত) স্তরে রেখেছেন১।
এবং তাঁর উক্তি "আমি তাকে খালিদ মনে করি", সম্ভবত সঠিকটি হলো তিনি আমর বিন খালিদ, যেমনটি সামনে আসবে। কারণ আব্বাদ বিন কাসির তাঁর থেকে বর্ণনা করার জন্য পরিচিত২।
আর এই আমর বিন খালিদ হলেন কুরাশি, তাদের মুক্তদাস, ওয়াসিতি।
তাঁর সম্পর্কে ইবনে মাঈন, আহমাদ এবং আবু দাউদ বলেছেন: মিথ্যাবাদী।
এবং ওয়াকি, ইসহাক ও আবু জুরআ বলেছেন: তিনি হাদিস জাল করতেন৩।
আর হাবিব বিন আবি সাবিত সম্পর্কে হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন: নির্ভরযোগ্য ফকিহ ও মহান ব্যক্তি; তিনি অধিক মাত্রায় ইরসাল এবং তাদলিস করতেন৪।
আর আসিম বিন দামরাহ সম্পর্কে ইবনুল মাদিনি এবং আজলি তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। নাসাঈ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।
জাওযাজানি, ইবনে আদি এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে দুর্বল বলেছেন৫।
এবং ইবনে হাজার তাঁকে ‘সদুক’ (সত্যবাদী) স্তরে রেখেছেন৬।
সুতরাং এই ভিত্তিতে, আব্বাদ বিন কাসিরের অবস্থার কারণে এই সূত্রের হাদিসটি অত্যন্ত দুর্বল।
আর যদি এর সনদে আমর বিন খালিদ থাকার সম্ভাবনাটি সঠিক হয়, তবে তা জাল (মাওজু) হিসেবে গণ্য হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الطريق الثانية: أخرجها عبد الرزاق1، والطحاوي2 عن ابن جريج قال: أخبرت عن حبيب بن أبي ثابت، عن عاصم بن ضمرة مثله.
والطحاوي أخرجه مختصرًا، وليس فيه محل الشاهد، والإسناد عنده: ابن جريج، عن حبيب بن أبي ثابت به.
والإسناد كما هو ظاهر فيه انقطاع بين ابن جريج، وحبيب بن أبي ثابت.
وقد قال الإمام أحمد: إذا قال ابن جريج: قال فلان، وقال فلان، وأخبرت جاء بمناكير3.
وقال أبو داود: ليس لحبيب عن عاصم شيءٌ يصح4.
وقد تقدم، وسيأتي أيضًا أن المعروف برواية هذا الحديث عن حبيب بن أبي ثابت هو عمرو بن خالد الواسطي، وقد تقدم بيان حاله.
فعلى هذا فإن هذه الطريق لا يعتبر بها؛ لتدليس ابن جريج.
الطريق الثالثة: أخرجها أبو يعلى الموصلي5، وعبد الله بن أحمد في زوائده على المسند6، وابن عدي7، والعقيلي8، والحاكم في
--------------------------------------------
দ্বিতীয় সূত্র: এটি আবদুর রাজ্জাক১ এবং তাহাবি২ ইবন জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (ইবন জুরাইজ) বলেন: আমাকে হাবিব বিন আবু সাবিত থেকে, আসিম বিন দামরাহ থেকে অনুরূপ সংবাদ দেওয়া হয়েছে।
তাহাবি এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং এতে মূল সাক্ষ্য (শাহেদ) অংশটি নেই। তার নিকট সনদটি হলো: ইবন জুরাইজ, হাবিব বিন আবু সাবিত থেকে।
আর সনদটি যেমন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, এতে ইবন জুরাইজ এবং হাবিব বিন আবু সাবিতের মাঝে বিচ্ছেদ (ইনকিতা) রয়েছে।
ইমাম আহমাদ বলেছেন: ইবন জুরাইজ যখন বলেন: 'অমুক বলেছেন', 'অমুক বলেছেন' এবং 'আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে', তখন তিনি মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) বর্ণনা নিয়ে আসেন।৩
আবু দাউদ বলেছেন: আসিম থেকে হাবিবের কোনো বর্ণনাই সহিহ নয়।৪
ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে এবং সামনেও আসবে যে, হাবিব বিন আবু সাবিত থেকে এই হাদিসটি বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ব্যক্তি হলেন আমর বিন খালিদ আল-ওয়াসিতি, এবং ইতিপূর্বে তার অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে।
সুতরাং এই ভিত্তিতে ইবন জুরাইজের তাদলিসের (তথ্য গোপন করার) কারণে এই সূত্রটি গ্রহণযোগ্য নয়।
তৃতীয় সূত্র: এটি আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি৫, মুসনাদের উপর আব্দুল্লাহ বিন আহমাদের জাওয়াইদ অংশে৬, ইবন আদি৭, উকাইলি৮ এবং আল-হাকিম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
معرفة علوم الحديث1. ومن طرق عن عبد الصمد بن عبد الوارث حدثني أبي، حدثنا الحسن بن ذكوان، عن حبيب بن أبي ثابت، عن عاصم بن ضمرة به. ولفظ أبي يعلى: " أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن أكل كل ذي ناب من السباع، وكل ذي مخلب من الطير، وعن ثمن الميتة، وعن ثمن الخمر، والحمر الأهلية، وكسب البغي، وعن عسب كل ذي فحل ". وهو عند عبد الله بن أحمد مختصر، فليس فيه النهي عن بيع الخمر.
قال ابن عدي: هذا الحديث يرويه الحسن بن ذكوان عن عمرو بن خالد، وعمرو متروك الحديث، ويسقطه الحسن بن ذكوان من الإسناد لضعفه.
وقال الحاكم بعد أن روى الحديث: " قال أبو عبد الله محمد بن نصر: وهذا حديث لم يسمعه الحسن بن ذكوان من حبيب بن أبي ثابت، وذلك أن محمد بن يحيى حدثنا قال: ثنا أبو معمر قال: حدثني عبد الوارث، عن الحسن بن ذكوان، عن عمرو بن خالد، عن حبيب بن أبي ثابت. وعمرو هذا منكر الحديث، فدلسه الحسن عنه".
وقد جعل الحافظ ابن حجر الحسن بن ذكوان في المرتبة الثالثة من المدلسين2.
وقد صرح الأئمة كما سبق أن الساقط هو عمرو بن خالد الواسطي.
--------------------------------------------
হাদিসের ইলম সংক্রান্ত জ্ঞান১। আবদুস সামাদ ইবনে আবদিল ওয়ারিস থেকে বর্ণিত এক সূত্রে আমার পিতা বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে জাকওয়ান, হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি আসিম ইবনে দামরাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর আবু ইয়া'লার শব্দ হলো: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক শিকারি পশু এবং শিকারি পাখির মাংস খাওয়া থেকে নিষেধ করেছেন, মৃত পশুর মূল্য, মদের মূল্য, গৃহপালিত গাধা, ব্যভিচারিণীর উপার্জন এবং প্রজননের জন্য ব্যবহৃত পুরুষ পশুর পারিশ্রমিক থেকে নিষেধ করেছেন।" এটি আবদুল্লাহ ইবনে আহমদের কাছে সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে মদ বিক্রির নিষেধাজ্ঞা নেই।
ইবনে আদি বলেন: এই হাদিসটি হাসান ইবনে জাকওয়ান আমর ইবনে খালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, আর আমর হলেন পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী, এবং তার দুর্বলতার কারণে হাসান ইবনে জাকওয়ান তাকে সনদ থেকে বাদ দিয়েছেন।
হাদিসটি বর্ণনা করার পর আল-হাকিম বলেন: "আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে নাসর বলেছেন: এটি এমন একটি হাদিস যা হাসান ইবনে জাকওয়ান হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে শোনেননি। কারণ, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবু মা'মার বলেছেন: আমার কাছে আবদিল ওয়ারিস বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে জাকওয়ান থেকে, তিনি আমর ইবনে খালিদ থেকে, তিনি হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে। এই আমর অগ্রহণযোগ্য হাদিস বর্ণনাকারী, তাই হাসান তার নাম গোপন করে এটি বর্ণনা করেছেন।"
হাফেজ ইবনে হাজার হাসান ইবনে জাকওয়ানকে হাদিসের বর্ণনাকারীদের নাম গোপনকারীদের (তাদলিসকারী) মধ্যে তৃতীয় স্তরে অন্তর্ভুক্ত করেছেন২।
ইমামগণ ইতিপূর্বে যেমনটি স্পষ্ট করেছেন যে, যে বর্ণনাকারীকে বাদ দেওয়া হয়েছে তিনি হলেন আমর ইবনে খালিদ আল-ওয়াসিতি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
قال الأثرم: قلت لأبي عبد الله: ما تقول في الحسن بن ذكوان، فقال: أحاديثه بواطيل؛ يروي عن حبيب بن أبي ثابت، ولم يسمع من حبيب، إنما هذه أحاديث عمرو بن خالد الواسطي1. ونحوه قال ابن معين وأبو داود2.
وقد سبق ذكر أقوال أئمة الجرح والتعديل في عمرو بن خالد الواسطي. وقد حكم أبو حاتم رحمه الله على هذا الإسناد بالوضع، فقال: روى عمرو بن خالد، عن حبيب بن أبي ثابت، عن عاصم بن ضمرة، عن علي، عن النبي صلى الله عليه وسلم أحاديث موضوعة؛ خمسة أو ستة3.
قال الهيثمي عقب إيراده للحديث: رجاله ثقات4.
وهذا الحكم منه بناء على ظاهر الإسناد، وقد تقدم أن الإسناد فيه عله، وهي التدليس.
فمما سبق يتبين أن هذا الحديث لا يصح عن علي رضي الله عنه، بل هو موضوع. والله أعلم.
--------------------------------------------
আসরাম বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহকে বললাম: হাসান ইবনে যাকওয়ান সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: তার হাদিসগুলো ভিত্তিহীন; সে হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে বর্ণনা করে, অথচ সে হাবিব থেকে শোনেনি, এগুলো মূলত আমর ইবনে খালিদ আল-ওয়াসিতির হাদিস। ইবনে মাঈন এবং আবু দাউদও অনুরূপ কথা বলেছেন।
আমর ইবনে খালিদ আল-ওয়াসিতি সম্পর্কে জারহ ও তা'দিলের ইমামগণের বক্তব্য ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আবু হাতিম (রহিমাহুল্লাহ) এই সনদটিকে বানোয়াট বলে হুকুম দিয়েছেন; তিনি বলেন: আমর ইবনে খালিদ হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি আসিম ইবনে যামরা থেকে, তিনি আলি থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে পাঁচটি বা ছয়টি বানোয়াট হাদিস বর্ণনা করেছেন।
হাইসামি হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য।
তাঁর এই হুকুমটি সনদের বাহ্যিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে ছিল, অথচ আগে উল্লেখ করা হয়েছে যে সনদে একটি ত্রুটি রয়েছে, আর তা হলো 'তাদলিস'।
অতএব, উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, এই হাদিসটি আলি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সহিহ নয়, বরং এটি বানোয়াট। আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
5 - (5) عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: لما فتح رسول الله صلى الله عليه وسلم مكة قال: " إن الله ورسوله حرم عليكم شرب الخمر وثمنها، وحرم عليكم أكل الميتة وثمنها، وحرم عليكم الخنازير وأكلها وثمنها، وقال: قصوا الشوارب وأعفوا اللحى، ولا تمشوا في الأسواق إلا وعليكم الأزر، إنه ليس منا من عمل سنة غيرنا".
أخرجه الطبراني في الأوسط1، والكبير2. من طريق الحسن بن حماد، ثنا أبو يحيى الحماني، عن يوسف بن ميمون، عن عطاء عنه به. قال الطبراني في الأوسط - وقد ذكر حديثًا بعد هذا الحديث بهذا الإسناد - قال: لم يرو هذين الحديثين عن عطاء إلا يوسف بن ميمون، ولا عن يوسف إلا أبو يحيى الحماني، تفرد به الحسن بن حماد الوراق.
وقال الهيثمي: فيه يوسف بن ميمون؛ وثقه ابن حبان، وضعفه الأئمة أحمد وغيره3.
ويوسف بن ميمون هو الصباغ، قال فيه أحمد: ضعيف ليس بشيء. وقال أبو زرعة: واهي الحديث.
وقال البخاري وأبو حاتم: منكر الحديث جدًا. وقال ابن عدي: ما به بأس4.
--------------------------------------------
৫ - (৫) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা বিজয় করলেন, তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমাদের জন্য মদ পান করা এবং এর মূল্য হারাম করেছেন; আর তোমাদের জন্য মৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া ও এর মূল্য হারাম করেছেন; এবং তোমাদের জন্য শূকর, তা খাওয়া ও এর মূল্য হারাম করেছেন। এবং তিনি বলেছেন: তোমরা গোঁফ ছাঁটো এবং দাড়ি লম্বা করো। আর তোমরা লুঙ্গি পরিহিত অবস্থা ছাড়া বাজারে চলাফেরা করো না; কেননা যে ব্যক্তি আমাদের ব্যতীত অন্যদের সুন্নাত অনুযায়ী আমল করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।"
তাবারানি এটি 'আল-আওসাত' এবং 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এটি হাসান ইবনে হাম্মাদ-এর সূত্রে বর্ণিত; তিনি বলেন: আবু ইয়াহইয়া আল-হিমমানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে মাইমুন থেকে, তিনি আতা থেকে এবং আতা ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে—এই সনদে এই হাদিসের পরে আরেকটি হাদিস উল্লেখ করার পর—বলেন: আতা থেকে এই হাদিস দুটি ইউসুফ ইবনে মাইমুন ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি, আর ইউসুফ থেকে আবু ইয়াহইয়া আল-হিমমানি ছাড়া কেউ বর্ণনা করেননি; হাসান ইবনে হাম্মাদ আল-ওয়াররাক এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন।
হাইসামি বলেন: এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইউসুফ ইবনে মাইমুন রয়েছেন; ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, তবে ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য ইমামগণ তাকে দুর্বল বলেছেন।
ইউসুফ ইবনে মাইমুন হলেন আস-সাব্বাগ; তার ব্যাপারে ইমাম আহমাদ বলেন: তিনি দুর্বল, তার কোনো গুরুত্ব নেই। আবু যুরআ বলেন: তিনি অত্যন্ত দুর্বল হাদিস বর্ণনাকারী।
বুখারি ও আবু হাতিম বলেন: তিনি চরম পর্যায়ের মুনকারুল হাদিস (প্রত্যাখ্যাত বর্ণনাকারী)। ইবনে আদি বলেন: তার বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাতু ফিল বুয়ূয়িল মানহিয়্যি আনহা
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وقد شذ ابن عدي في توثيقه له. وأما قول الهيثمي: وثقه ابن حبان. وكذلك قول الذهبي: ضعفوه. فلا عبرة بذكر ابن حبان له في الثقات1، فإن قولهما - أي الهيثمي والذهبي - فيه نظر؛ لأن ابن حبان إنما ذكر في الثقات يوسف بن ميمون القرشي2، وأما يوسف بن ميمون الصباغ، فذكره في المجروحين، وقال: فاحش الخطأ كثير الوهم، يروي عن الثقات ما لا يشبه حديث الأثبات، فلما فحش ذلك منه في روايته بطل الاحتجاج به3. فهذا قوله فيه، وهو موافق لرأي أكثر الأئمة الذين سبق ذكر أقوالهم.
وممن فرق بين يوسف بن ميمون القرشي والصباغ؛ البخاري4 وابن أبي حاتم5. وقد جعل الحافظ يوسف بن ميمون الصباغ في مرتبة " ضعيف"6.
فمما سبق يتبين أن هذا الطريق ضعيف جدًا؛ لشدة ضعف يوسف بن ميمون الصباغ.
وفي هذا الإسناد علة أخرى، وهي النكارة. وذلك أن يوسف بن ميمون قد خالف يزيد بن أبي حبيب. فقد رواه يزيد عن عطاء، عن جابر بن عبد الله كما سبق في الحديث الأول، وهو المعروف. والله أعلم.
--------------------------------------------
ইবনে আদি তাকে নির্ভরযোগ্য বলার ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন মত পোষণ করেছেন। আর হাইসামীর বক্তব্য: "ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন", এবং তেমনিভাবে জাহাবীর বক্তব্য: "তারা তাকে দুর্বল বলেছেন", এ ক্ষেত্রে ইবনে হিব্বান কর্তৃক তাকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করার কোনো গুরুত্ব নেই। কেননা তাদের দুজনের—অর্থাৎ হাইসামী ও জাহাবীর—বক্তব্য পর্যালোচনার অবকাশ রাখে; কারণ ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত' গ্রন্থে মূলত ইউসুফ বিন মাইমুন আল-কুরাশীকে উল্লেখ করেছেন। পক্ষান্তরে ইউসুফ বিন মাইমুন আস-সাব্বাগকে তিনি 'আল-মাজরুহীন' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "সে মারাত্মক ভুলকারী ও অধিক বিভ্রমগ্রস্ত; সে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সূত্রে এমন সব বর্ণনা প্রদান করে যা সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সুতরাং যখন তার বর্ণনায় এই ত্রুটি চরম আকার ধারণ করেছে, তখন তার বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করা বাতিল হয়ে গেছে।" সুতরাং তার সম্পর্কে এটিই হলো তার (ইবনে হিব্বানের) উক্তি, যা ইতিপূর্বে বর্ণিত অধিকাংশ ইমামগণের মতামতের সাথে সংগতিপূর্ণ।
আর যারা ইউসুফ বিন মাইমুন আল-কুরাশী এবং আস-সাব্বাগের মধ্যে পার্থক্য করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন বুখারী এবং ইবনে আবি হাতিম। আর হাফেজ (ইবনে হাজার) ইউসুফ বিন মাইমুন আস-সাব্বাগকে "দুর্বল" স্তরে রেখেছেন।
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইউসুফ বিন মাইমুন আস-সাব্বাগের চরম দুর্বলতার কারণে এই সূত্রটি অত্যন্ত দুর্বল।
আর এই সনদে অন্য একটি ত্রুটি রয়েছে, আর তা হলো এটি 'মুনকার' (অপরিচিত বা অগ্রহণযোগ্য)। তা এই কারণে যে, ইউসুফ বিন মাইমুন এখানে ইয়াযিদ বিন আবি হাবিবের বিরোধিতা করেছেন। অথচ ইয়াযিদ এটি আতা থেকে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন—যেমনটি প্রথম হাদিসে অতিক্রান্ত হয়েছে—এবং সেটিই পরিচিত (মা'রুফ) বর্ণনা। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------