(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أثر الإيمان في تحصين الأمة الإسلامية ضد الأفكار الهدامة القسم: العقيدة
الكتاب: أثر الإيمان في تحصين الأمة الإسلامية ضد الأفكار الهدامة
المؤلف: عبد الله بن عبد الرحمن الجربوع
الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1423هـ/2003م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারার বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহর সুরক্ষায় ঈমানের প্রভাব বিভাগ: আকীদা
বই: ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারার বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহর সুরক্ষায় ঈমানের প্রভাব
লেখক: আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জারবু
প্রকাশক: ডিনশিপ অফ সায়েন্টিফিক রিসার্চ, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি/২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
المجلد الأول
مقدمة…أثر الإيمان في تحصين الأمّة الإسلامية ضد الأفكار الهدّامة تأليف د. عبد الله بن عبد الرحمن الجربوع
المقدمة
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ} [آل عمران: 102] .
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاء وَاتَّقُواْ اللهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء:1] .
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا* يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70، 71] .
أما بعد: فقد يسر الله لي الالتحاق بالدراسات العليا بقسم العقيدة بالجامعة الإسلامية وعينت معيداً في كلية الدعوة عام 1407هـ. وكان عليّ أن أكتب بحثاً، للحصول على الدرجة العالمية العالية الماجستير.
প্রথম খণ্ডভূমিকা…ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারার বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহর সুরক্ষায় ঈমানের প্রভাব, রচনা করেছেন: ড. আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-জারবু
ভূমিকা
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীবর্গের ওপর সালাত ও অজস্র সালাম বর্ষণ করুন।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।
{হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন; আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করবে।} [আল-আহযাব: ৭০, ৭১]।
অতঃপর: আল্লাহ তাআলা আমার জন্য ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আকীদাহ বিভাগে উচ্চতর শিক্ষায় যোগদানের বিষয়টি সহজ করে দিয়েছেন এবং আমি ১৪০৭ হিজরি সনে দাওয়াহ অনুষদে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিযুক্ত হয়েছি। আর উচ্চতর আন্তর্জাতিক ডিগ্রি 'মাস্টার্স' অর্জনের জন্য আমাকে একটি গবেষণা প্রবন্ধ লিখতে হতো।
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وبين ذلك اتجاهات وتصورات كثيرة لا يخلو واحد منها من جهل أو خطأ أو قصور.
ولست أدعي خلو الساحة من العلماء والدعاة المتبصرين العاملين القائمين بالحق، الداعين إليه المدافعين عنه، المشفقين على الأمة، الذين يجتهدون في نصح العباد ودعوتهم إلى طريق ولاية الله، بتصحيح المعتقد ونبذ البدع، والاجتماع على كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، ونبذ الفرقة والاختلاف. إلا أن صوت هؤلاء مع ظهوره ووضوحه، لا يكاد يسمع في خضم الاتجاهات والتصورات والجماعات الكثيرة والمناهج المختلفة.
فهذا البحث إن شاء الله يسلط الضوء على أهم أسباب القوة والحصانة الفكرية، ونقطة البدء، ومحور العمل، وأنه تحقيق الإيمان بمفهومه الصحيح، ويعرّف بآثاره المباركة في هذا المجال.
فهو دعوة للعمل على استجلاب ولاية الله ليكون سعي المؤمنين بعد ذلك مؤيداً منصوراً مسدداً مباركاً فيه.
وهو باعث للأمل بإذن الله للقلوب اليائسة. فالإيمان سبب قوى مؤثر في تخليص وتحصين القلوب والمجتمعات من الشرور الجاهلية الفكرية وغيرها. وتعلمه والعمل به والدعوة إليه أمر ممكن ميسور بإذن الله إذا تظافرت الجهود وخلصت النيات.
وإذا عرف المؤمن ميدان علمه ونقطة انطلاقه زاح عن كاهله هم كبير، وخرج من دوامة الحيرة إلى العمل، وانبعث في نفسه الأمل.
এর মাঝে অনেক প্রবণতা ও ধারণা রয়েছে যার কোনোটিই মূর্খতা, ভুল বা সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত নয়।
আমি এমন দাবি করছি না যে, ময়দান সত্যের ওপর অটল থাকা, সেদিকে আহ্বানকারী ও এর প্রতিরক্ষাকারী সেই বিজ্ঞ ও আমলকারী আলেম ও দাঈদের থেকে শূন্য হয়ে গেছে, যারা উম্মতের প্রতি দয়াশীল এবং যারা বান্দাদের উপদেশ দিতে ও তাদের আল্লাহর অভিভাবকত্বের পথের দিকে ডাকতে আকিদা সংশোধন, বিদআত বর্জন, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং দলাদলি ও মতভেদ পরিহার করার মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাদের এই আওয়াজ প্রকাশিত ও স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও বহুমুখী প্রবণতা, ধারণা, অসংখ্য দল এবং বিভিন্ন মানহাজের ভিড়ে প্রায় শোনা যায় না বললেই চলে।
অতএব, এই গবেষণাটি ইনশাআল্লাহ বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি ও সুরক্ষার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণসমূহ, সূচনাবিন্দু এবং কর্মতৎপরতার মূল কেন্দ্রের ওপর আলোকপাত করবে। আর তা হলো সঠিক ধারণার ভিত্তিতে ঈমানকে বাস্তবায়ন করা; এবং এই গবেষণায় উক্ত ক্ষেত্রে এর বরকতময় প্রভাবগুলো তুলে ধরা হবে।
সুতরাং এটি হলো আল্লাহর অভিভাবকত্ব অর্জনের জন্য কাজ করার এক আহ্বান, যাতে মুমিনদের প্রচেষ্টা এরপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপুষ্ট, বিজয়ী, সঠিক লক্ষ্যমুখী ও বরকতময় হয়।
আর এটি আল্লাহর ইচ্ছায় হতাশ হৃদয়ে আশার সঞ্চারকারী। কেননা জাহেলি বুদ্ধিবৃত্তিক ও অন্যান্য অনিষ্ট থেকে অন্তর ও সমাজকে মুক্ত ও সুরক্ষিত রাখতে ঈমান একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী কারণ। আর তা শেখা, সে অনুযায়ী আমল করা এবং সেদিকে দাওয়াত দেওয়া আল্লাহর ইচ্ছায় একটি সহজ ও সম্ভবপর বিষয়, যদি সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকে এবং নিয়ত খালেস হয়।
আর যখন একজন মুমিন তার ইলমের ময়দান ও যাত্রার সূচনাবিন্দু সম্পর্কে জানতে পারে, তখন তার কাঁধ থেকে বড় এক দুশ্চিন্তার বোঝা নেমে যায়, সে বিভ্রান্তির আবর্ত থেকে বেরিয়ে কর্মতৎপরতায় লিপ্ত হয় এবং তার মনে আশার প্রদীপ জ্বলে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ولست أقصد أنه يُكتفى بتعلم الإيمان وأداء العبادات، وترك الأسباب المشروعة للنهوض بالمسلمين -معاذ الله-، وإنما قصدت أن المؤمنين إذا حققوا الإيمان علماً وعملاً رضي الله عنهم وتولاهم، ووفقهم إلى الأسباب وسهلها لهم، وبارك فيها وكمّل نقصهم، وسدد سعيهم. فيدخلون ميدان العمل ومجابهة الباطل مؤيَّدين بالله. وإذا تخلف الإيمان الصحيح فإنهم يوكَلون إلى أنفسهم.
تحرير المراد بالعنوان:
الأثر: المراد اسم جنس.
وله أكثر من معنى. منها أنه يطلق على النتيجة. أو الأمر الحاصل من الشيء. والآثار: هي اللوازم المعللة بالشيء1 أو جملة الأمور التي تنتج عن الشيء المسبب لها.
وهذا المعنى هو المعتبر في العنوان.
فالمراد بأثر الإيمان: أي الأمور التي تنتج عن تحقيق الإيمان، ويكون سبباً في حصولها، والتي لها دور في تحصين الفرد والجماعات ضد الفكر الهدام خصوصاً.
--------------------------------------------
আমি এটা বুঝাচ্ছি না যে, কেবল ঈমান শিক্ষা করা এবং ইবাদত পালন করাই যথেষ্ট এবং মুসলমানদের উন্নতির জন্য বৈধ উপায়-উপকরণগুলো ত্যাগ করা উচিত—আল্লাহর পানাহ—; বরং আমার উদ্দেশ্য হলো, মুমিনগণ যখন জ্ঞান ও কর্মের মাধ্যমে ঈমানকে বাস্তবায়িত করবে, তখন আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হবেন এবং তাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করবেন। আর তিনি তাদের উপায়-উপকরণের তৌফিক দেবেন এবং তা তাদের জন্য সহজ করে দেবেন, তাতে বরকত দান করবেন, তাদের অপূর্ণতা পূরণ করবেন এবং তাদের প্রচেষ্টাকে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন। ফলে তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে কর্মক্ষেত্রে এবং বাতিলের মোকাবিলায় অবতীর্ণ হবে। আর যদি সঠিক ঈমান অনুপস্থিত থাকে, তবে তাদেরকে তাদের নিজেদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হবে।
শিরোনামের উদ্দেশ্য স্পষ্টিকরণ:
প্রভাব (আল-আসার): এটি দ্বারা শ্রেণিবাচক বিশেষ্য উদ্দেশ্য।
এর একাধিক অর্থ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো এটি ‘ফলাফল’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। অথবা কোনো বিষয় থেকে অর্জিত বিষয়। আর প্রভাবসমূহ (আল-আসার) হলো: কোনো কারণের সাথে সম্পৃক্ত অপরিহার্য বিষয়সমূহ১ অথবা কোনো কারণ থেকে উৎপন্ন হওয়া বিষয়সমূহের সমষ্টি।
আর শিরোনামের ক্ষেত্রে এই অর্থটিই বিবেচ্য।
সুতরাং ঈমানের প্রভাব বলতে উদ্দেশ্য হলো: সেই বিষয়গুলো যা ঈমান বাস্তবায়নের ফলে অর্জিত হয় এবং ঈমান সেগুলোর অর্জনের কারণ হয়ে থাকে; বিশেষ করে যা ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারার বিরুদ্ধে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখতে ভূমিকা রাখে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الإيمان: المراد به الإيمان الشرعي الذي جرى بيانه في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وكان عليه السلف الصالح ـ وسيأتي بيان طبيعته في التمهيد.
الأفكار: جمع فكر. ومؤنثه فكرة ويطلق ويراد به معنيان1.
- الأول: الفعل الذي تقوم به النفس عند حركتها في المعقولات.
وهذه هي عملية التفكر والنظر.
- الثاني: يطلق على المعقولات نفسها.
والمراد المعنى الثاني: أي المعقولات والمعاني التي تنتج عن تفكر البشر وتأخذ شكل عقيدة أو مبدأ يؤمن به، فتتكون منه العقائد والتصورات البشرية المصدر، وتكون باعثة ومؤثرة على السلوك.
فيدخل في ذلك عقائد ومفاهيم الأديان البشرية المصدر، أو السماوية الأصل لكن دخلها التحريف بفعل الفكر البشري، وتصورات الفلاسفة وأوهام وأساطير الوثنيين التي تأخذ شكل عقائد وقناعات وتصورات معتبرة.
ولا يدخل فيه عقائد وشرائع الدين المحفوظ لأنها ليست نتائج فكر بشري بل هي وحي إلهي.
--------------------------------------------
ঈমান: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই শরয়ী ঈমান, যা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহে বর্ণিত হয়েছে এবং যার ওপর সালাফে সালেহীন প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। এর প্রকৃতির বর্ণনা অচিরেই উপক্রমণিকায় আসবে।
আফকার (চিন্তাধারা): এটি 'ফিকর'-এর বহুবচন। এর স্ত্রীবাচক রূপ হলো 'ফিকরাহ'। এটি ব্যবহার করা হয় এবং এর দ্বারা দুটি অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয় ১।
- প্রথমত: বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়াবলীতে বিচরণকালে আত্মা যে কাজ সম্পাদন করে।
আর এটাই হলো চিন্তা ও গবেষণার প্রক্রিয়া।
- দ্বিতীয়ত: এটি খোদ বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়াবলীর ওপর প্রয়োগ করা হয়।
আর এখানে দ্বিতীয় অর্থটিই উদ্দেশ্য: অর্থাৎ মানুষের চিন্তার ফলে উদ্ভূত সেই সকল বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয় ও অর্থসমূহ যা কোনো বিশ্বাস বা আদর্শের রূপ পরিগ্রহ করে যা বিশ্বাস করা হয়। ফলে তা থেকে মানবীয় উৎসজাত আকিদা ও ধ্যান-ধারণা গঠিত হয় এবং তা আচরণের ওপর প্রভাবক ও চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
সুতরাং এর অন্তর্ভুক্ত হবে সেই সকল ধর্মবিশ্বাস ও ধারণা যার উৎস মানবীয়, অথবা যার মূল উৎস আসমানী কিন্তু মানুষের চিন্তার প্রভাবে তাতে বিকৃতি প্রবেশ করেছে। আরও অন্তর্ভুক্ত হবে দার্শনিকদের কল্পনাপ্রসূত ধারণা এবং মূর্তিপূজারীদের বিভ্রান্তি ও উপকথা যা আকিদা, বিশ্বাস ও নির্ভরযোগ্য ধারণার রূপ ধারণ করে।
আর এর মধ্যে সংরক্ষিত দ্বীনের আকিদা ও শরিয়তসমূহ অন্তর্ভুক্ত হবে না, কারণ সেগুলো মানুষের চিন্তার ফসল নয়, বরং তা ইলাহী ওহী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقد رغبت إلى الله أن يحفظ وقتي وجهدي في المدة المقررة لإعداد هذا البحث في عمل أرجوه عنده، ويعالج جانباً يحتاج إليه المسلمون في هذا الوقت.
وبتوفيق الله اخترت موضوعاً هاماً بعنوان: أثر الإيمان في تحصين الأمة الإسلامية ضد الفكر الهدام ليكون موضوع البحث.
سبب اختيار الموضوع:
لقد بدأ اهتمامي في هذا الموضوع عندما درست أساليب الغزو الفكري ووسائل مقاومتها في السنة الرابعة في كلية الدعوة وأصول الدين بالجامعة الإسلامية. وأشار مدرس المادة إلى أهمية العقيدة في مجابهة الغزو الفكري كما أن الذين كتبوا في ذلك أشاروا إليه إشارات مختصرة.
فتكونت عندي رغبة في تجلية الدور الهام للعقيدة السليمة في التصدي للفكر الهدام.
كما أن من أسباب اختياري له تلك الأهمية البالغة والتي تتبين فيما يلي:
1- شدة الهجوم الفكري على الأمة الإسلامية في القديم والحديث ونجاحه في اختراق صفوفها، وتفريق المسلمين وحرف كثير منهم عن الإسلام.
এবং আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেছি যেন তিনি এই গবেষণাটি প্রস্তুত করার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমার সময় ও প্রচেষ্টাকে এমন এক আমলের মাধ্যমে হিফাজত করেন যার প্রতিদান আমি তাঁর নিকট আশা করি, এবং যা এমন এক দিক নিয়ে আলোচনা করে যার প্রয়োজনীয়তা বর্তমানে মুসলিমদের রয়েছে।
এবং আল্লাহর তাওফীকে আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্বাচন করেছি যার শিরোনাম হলো: "বিধ্বংসী চিন্তাধারার বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহর সুরক্ষায় ঈমানের প্রভাব", যাতে এটি গবেষণার বিষয়বস্তু হয়।
বিষয়টি নির্বাচনের কারণ:
এই বিষয়ের প্রতি আমার আগ্রহ তখন থেকেই শুরু হয় যখন আমি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়া ও উসুলুদ দ্বীন অনুষদে চতুর্থ বর্ষে বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের পদ্ধতিসমূহ এবং তা প্রতিরোধের উপায়সমূহ অধ্যয়ন করি। উক্ত বিষয়ের শিক্ষক বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন মোকাবিলায় আকীদার গুরুত্বের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন, যেমনভাবে যারা এ বিষয়ে লিখেছেন তারাও এ ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত ইশারা করেছেন।
ফলে বিধ্বংসী চিন্তাধারা মোকাবিলায় বিশুদ্ধ আকীদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্পষ্ট করার ব্যাপারে আমার মাঝে এক আগ্রহের সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও এটি নির্বাচনের অন্যতম কারণ হলো এর সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা স্পষ্ট হয়:
১- অতীতে ও বর্তমানে মুসলিম উম্মাহর ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক আক্রমণের তীব্রতা এবং উম্মাহর সারিতে ফাটল ধরাতে এর সফলতা, মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি এবং তাদের অনেককে ইসলাম থেকে বিচ্যুত করা।
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
2- ازدياد الصيحات التي تحذر من الأساليب الحديثة للغزو الفكري وتبين أنها أعظم تحد يواجه الإسلام اليوم وتدعو للتصدي له.1
3- أن أساليب مكافحة الغزو الفكري كثيرة، يأتي على رأسها تحقيق الإيمان الصحيح بتعليمه للناس وتربية الأجيال عليه، وتطبيق تعاليمه
--------------------------------------------
২- বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের আধুনিক পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে সতর্ককারী কণ্ঠস্বরের আধিক্য, যা স্পষ্ট করে দেয় যে এটি বর্তমানে ইসলামের মোকাবিলা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং এর প্রতিরোধের আহ্বান জানায়।১
৩- বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন প্রতিরোধের পদ্ধতি অনেক, যার শীর্ষে রয়েছে মানুষকে সঠিক ঈমান শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে তা অর্জন করা, নতুন প্রজন্মকে এর ওপর লালন-পালন করা এবং এর শিক্ষাগুলোর প্রয়োগ ঘটানো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وشرائعه في كل المجالات. لذلك فإن هذا البحث يجلي بعض الآثار المباركة للإيمان في مجال التحصين ضد الفكر الهدام.
4- أن أهل الإسلام قد ذهبوا مذاهب شتى في تصوراتهم لما ينبغي فعله في مقابلة هذه المخططات الماكرة. فمنهم من رأى أن مقارعة الأعداء لا تكون إلا بسلاحهم، فركّز على النواحي المادية والوسائل العصرية، والسيطرة على السلطة وامتلاك مراكز القوى والنفوذ والإعلام.. ونحوها، مع وجود تقصير في الدعوة والعمل على تحقيق الإيمان الصحيح. بل وحدث أن وُجدت دعوة إلى توحيد الجهود دون اعتبار للاختلافات الجوهرية في العقيدة، ووُجد من يضع ثقته بكل من زعم نصرة الإسلام ولو كان على واقع بعيد جداً عن الإيمان الذي دعا إليه النبي صلى الله عليه وسلم وجاء بيانه في نصوص الوحي.
وطائفة أخرى ظنت أن معنى أن الحياة جنة الكافر أنه لا نصيب للمؤمن فيها من العزة والتمكين، وامتلاك مصادر القوة السياسية والاقتصادية والعسكرية، فانصرفت إلى العناية بأنفسها، وتكميل إيمانها بالذكر والأعمال الصالحة، وأبعدت من برامجها ودعوتها النظر في السياسة والجهاد والعلم والمجادلة عن دين الله بالحق.
ومن المسلمين من أسلمه هول ما يرى عند الكفار من القوة المادية وأسباب التأثير والمكر ووسائل الإغواء، وما يرى من حال المسلمين وما آل إليه من الضعف والانحراف واستحكام الجهل، إلى اليأس والقنوط.
এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাঁর শরীয়তসমূহ। সুতরাং এই গবেষণাটি ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারার বিরুদ্ধে সুরক্ষার ক্ষেত্রে ঈমানের কিছু বরকতময় প্রভাবকে উন্মোচিত করে।
৪- নিশ্চয়ই ইসলাম অনুসারীরা এই ধূর্ত ষড়যন্ত্রগুলোর মোকাবিলায় কী করা উচিত, সেই ভাবনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পথে বিভক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, শত্রুদের মোকাবিলা কেবল তাদেরই অস্ত্রের মাধ্যমে হতে পারে; তাই তারা বৈষয়িক দিক, আধুনিক উপায়-উপকরণ, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তি, প্রভাব ও গণমাধ্যমের কেন্দ্রগুলো অধিকার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন—যদিও দাওয়াত এবং সঠিক ঈমান অর্জনের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে শিথিলতা রয়েছে। এমনকি আকিদাগত মৌলিক পার্থক্যগুলোকে বিবেচনা না করেই প্রচেষ্টাগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবার এমন কাউকে দেখা গেছে যে ইসলামের সহায়তার দাবিদার যে কারো ওপর আস্থা রাখছে, যদিও বাস্তবে সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে ঈমানের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং ওহীর নসসমূহে যার বর্ণনা এসেছে, তা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে।
অন্য এক দল মনে করেছে যে, ‘দুনিয়া কাফেরদের জন্য জান্নাত’—এর অর্থ হলো এতে মুমিনদের জন্য মর্যাদা, কর্তৃত্ব এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির উৎসগুলো অর্জনের কোনো সুযোগ নেই। ফলে তারা কেবল নিজেদের সংশোধনের প্রতি মনোনিবেশ করেছে এবং জিকির ও নেক আমলের মাধ্যমে তাদের ঈমান পূর্ণ করার কাজে লিপ্ত হয়েছে। তারা তাদের কর্মসূচি ও দাওয়াত থেকে রাজনীতি, জিহাদ, জ্ঞানার্জন এবং সত্যের মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীনের পক্ষাবলম্বন করে বিতর্ক করার বিষয়গুলোকে দূরে সরিয়ে রেখেছে।
আবার মুসলমানদের মধ্যে কেউ কেউ কাফেরদের পার্থিব শক্তি, প্রভাব বিস্তারের উপকরণ, ষড়যন্ত্র এবং প্রলোভনের উপায়গুলোর ভয়াবহতা দেখে এবং মুসলমানদের বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থা, দুর্বলতা, বিচ্যুতি ও মূর্খতার ব্যাপকতা দেখে হতাশা ও নিরাশার শিকারে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والوصف بالهدامة: يدل على أن المقصود هي تلك الأفكار التي تتسلط على العقائد الإيمانية بالهدم والتشكيك، وعلى التعاليم الإسلامية والأخلاق بالتعطيل والتحريف، كما يخرج بهذا الوصف الأفكار غير الهدامة فهي غير مراده.
الصعوبات:
لم أواجه ـ بفضل الله ـ صعوبة في جمع المادة العلمية ذلك أن الموضوع يتعلق بجانب من جوانب الإيمان. وكل ما يتعلق بالإيمان فقد ورد بيانه في نصوص الوحي، وأشار إليها العلماء في كتب التفسير والحديث والعقائد والفقه ونحوها.
كما أن الموضوعات المكملة للبحث قد اعتنى بها العلماء والمفكرون قديماً وحديثاً.
إلا أن البحث لم يخل من صعوبات. كان أهمها الكيفية التي ينبغي أن يُنظَّم عليها، في تقسيمه وتوزيع المسائل على أبوابه وفصوله ومباحثه ومطالبه، واختيار العناوين المناسبة لكل منها.
فهذا الموضوع ـ حسب علمي ـ لم يفرد ببحث مستقل من قبل.
وإنما هو مُفَرَّق في بطون كتب التفسير والحديث والعقائد ونحوها، كما تُذكر بعض جوانبه في الكتب التي تكلمت عن آثار الإيمان عامة.
"ধ্বংসাত্মক" বিশেষণে বিশেষিত করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেইসব চিন্তাধারা, যা ঈমানি আকিদা-বিশ্বাসকে ধ্বংস ও সংশয়ের মাধ্যমে এবং ইসলামি শিক্ষা ও চরিত্রকে অকেজো ও বিকৃতির মাধ্যমে আক্রমণ করে। এই বিশেষণের মাধ্যমে অ-ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারাগুলো বাদ পড়ে যায়, কারণ সেগুলো এখানে উদ্দেশ্য নয়।
অসুবিধাসমূহ:
আল্লাহর অনুগ্রহে আমি গবেষণার উপাদান সংগ্রহে কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হইনি, কারণ বিষয়টি ঈমানের একটি বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর ঈমান সংক্রান্ত প্রতিটি বিষয়ই ওহির ভাষ্যে বর্ণিত হয়েছে এবং উলামায়ে কেরাম তাফসির, হাদিস, আকিদা, ফিকহ ও অনুরূপ গ্রন্থসমূহে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন।
পাশাপাশি গবেষণার সম্পূরক বিষয়গুলোর প্রতি প্রাচীন ও আধুনিক কালের আলেম ও চিন্তাবিদগণ বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন।
তবে গবেষণাটি অসুবিধা থেকে মুক্ত ছিল না। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এটি বিন্যস্ত করার পদ্ধতি, অর্থাৎ এর বিভাজন এবং বিভিন্ন মাসআলা বা বিষয়গুলোকে এর অধ্যায়, পরিচ্ছেদ, অনুচ্ছেদ ও উপ-অনুচ্ছেদগুলোতে বণ্টন করা এবং প্রতিটির জন্য উপযুক্ত শিরোনাম নির্বাচন করা।
কেননা আমার জানামতে, এই বিষয়টি এর আগে স্বতন্ত্র কোনো গবেষণার বিষয়বস্তু হিসেবে এককভাবে গ্রহণ করা হয়নি।
বরং এটি তাফসির, হাদিস, আকিদা ও অনুরূপ গ্রন্থসমূহের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে; ঠিক যেমন এর কিছু দিক সেইসব কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে সাধারণভাবে ঈমানের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ومن الصعوبات صعوبة نفسية وهي إحساسي بعمق وثقل هذا البحث، وخوفي ألا أوفيه حقه، ولعلي بما تيسر أكون قد جئت ولو بأدنى مراتب الكفاية.
منهجي في البحث:
لقد استقر الأمر ـ بحمد الله ـ على أن يجري الكلام في أبواب البحث على ما يتعلق بالآثار الإيمانية المحصنة للفرد والجماعة ضد الفكر الهدام. أما القضايا التي يتطلبها البحث وليست من صلبه فقد تطرقت إليها في التمهيد.
وقسمت البحث على أساس تنوع الآثار الإيمانية من حيث تعلقها بالعبد ومواطن تجلي تلك الآثار. وهي على وجه الإجمال ثلاثة أنواع:
الأول: مظاهر ولاية الله للمؤمنين التي تحصنهم من الفكر الهدام.
الثاني: الآثار القلبية التي يحدثها الله في قلب العبد المؤمن فيحصنه بها من ضلالات الجاهلية.
الثالث: الآثار الاجتماعية. وهي آثار إقامة الشعائر الإيمانية الاجتماعية فيتحصن بها المجتمع ضد الشرور عامة والفكرية خاصة.
وأورد قدر الإمكان الأدلة التي تشير إلى كل أثر، والشعائر الإيمانية الجالبة له، مع ذكر الفكر الهدام أو أساليبه التي يتصدى لها كل أثر، مع بيان أن فقد هذا الأثر ـ نتيجة لتعطيل الشعيرة الإيمانية ـ يمثل ثغرة تسري منها الأفكار الهدامة.
আর অসুবিধাগুলোর মধ্যে একটি হলো মনস্তাত্ত্বিক অসুবিধা, তা হলো এই গবেষণার গভীরতা ও গুরুত্ব অনুভব করা এবং এটি যথাযথভাবে সম্পাদন করতে না পারার ভয়; সম্ভবত যা সহজসাধ্য হয়েছে তার মাধ্যমে আমি অন্তত পর্যাপ্ততার সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছাতে পেরেছি।
গবেষণায় আমার পদ্ধতি:
আল্লাহর প্রশংসায় বিষয়টি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, গবেষণার অধ্যায়গুলোতে ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারার বিরুদ্ধে ব্যক্তি ও সমাজকে সুরক্ষাদানকারী ঈমানি প্রভাবসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হবে। আর যে সকল বিষয় গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় কিন্তু এর মূল আলোচ্য নয়, সেগুলোকে আমি উপক্রমণিকায় আলোচনা করেছি।
বান্দার সাথে সম্পৃক্ততা এবং সেই প্রভাবসমূহ প্রকাশের ক্ষেত্রের ওপর ভিত্তি করে ঈমানি প্রভাবগুলোর বৈচিত্র্য অনুযায়ী আমি গবেষণাকে বিভক্ত করেছি। তা সংক্ষিপ্তভাবে তিন প্রকার:
প্রথমত: মুমিনদের প্রতি আল্লাহর অভিভাবকত্বের বহিঃপ্রকাশ, যা তাদেরকে ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারা থেকে সুরক্ষা দেয়।
দ্বিতীয়ত: অন্তরের সেই প্রভাবসমূহ যা আল্লাহ মুমিন বান্দার অন্তরে সৃষ্টি করেন এবং এর মাধ্যমে তাকে জাহিলিয়াতের পথভ্রষ্টতা থেকে সুরক্ষা দান করেন।
তৃতীয়ত: সামাজিক প্রভাব। এগুলো হলো সামাজিক ঈমানি নিদর্শনসমূহ প্রতিষ্ঠার প্রভাব, যার মাধ্যমে সমাজ সাধারণভাবে সকল মন্দ এবং বিশেষভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক মন্দের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত হয়।
আমি যথাসম্ভব প্রতিটি প্রভাবের নির্দেশক দলিলসমূহ এবং সেই প্রভাব আনয়নকারী ঈমানি আমলসমূহ উল্লেখ করেছি। পাশাপাশি প্রতিটি প্রভাব যে ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারা বা পদ্ধতির মোকাবিলা করে তাও উল্লেখ করেছি। সেই সাথে এটিও স্পষ্ট করেছি যে, ঈমানি আমল বর্জনের ফলে এই প্রভাবের অনুপস্থিতি একটি ছিদ্রপথের সৃষ্টি করে, যেখান দিয়ে ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারা অনুপ্রবেশ করে।
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وفي مجال التوثيق أذكر بعد الآية اسم السورة التي وردت فيها، ورقم الآية.
وقد خرجت الأحاديث من كتب السنة. فإن كان في الصحيحين أو أحدهما فإني أكتفي بالإشارة إلى موضعه ذاكراً اسم الكتاب والباب ورقم الحديث والجزء والصفحة، وإن كان في غيرهما ذكرت بعض كتب السنة التي أخرجته، ثم أتبع ذلك ببعض أقوال أهل العلم التي تبين درجة الحديث.
وقد ترجمت للرجال الذين ورد ذكرهم في المتن باختصار، ما عدا المعاصرين.
هذا وقد جرى البحث حسب الخطة الآتية:
المقدمة: وتكلمت فيها عن سبب اختيار الموضوع، وأهميته، وبينت المراد بالعنوان، وأهم الصعوبات، ولمحات في المنهج، وخطة البحث.
التمهيد، وفيه مبحثان:
المبحث الأول: طبيعة الإيمان المؤثر.
وفيه مطلبان: المطلب الأول: تعريف الإيمان.
المطلب الثاني: الأسس التي يقوم عليه الإيمان.
المبحث الثاني: الفكر الجاهلي في مجابهة الإيمان وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: الصراع بين الحق والباطل من سنن الله الجارية إلى يوم القيامة.
উদ্ধৃতি বা তথ্যসূত্রের ক্ষেত্রে আমি আয়াতের পরে সংশ্লিষ্ট সূরার নাম এবং আয়াত নম্বর উল্লেখ করেছি।
আর হাদিসগুলো সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে তাহরিজ করা হয়েছে। হাদিসটি যদি সহীহাইন অথবা এর কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি কিতাব ও অধ্যায়ের নাম, হাদিস নম্বর এবং খণ্ড ও পৃষ্ঠা উল্লেখ করে সেটির প্রতি নির্দেশ করেই ক্ষান্ত হয়েছি। আর যদি অন্য কোনো কিতাবে থাকে, তবে আমি সুন্নাহর সেই কিতাবসমূহের নাম উল্লেখ করেছি এবং এরপর হাদিসটির মান বর্ণনায় আলেমদের কিছু বক্তব্য যুক্ত করেছি।
মূল পাঠে যেসব ব্যক্তির নাম এসেছে, সমকালীন ব্যক্তিরা বাদে তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী বা পরিচয় তুলে ধরেছি।
এই গবেষণাটি নিম্নোক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে:
ভূমিকা: এতে আমি বিষয়টি নির্বাচনের কারণ ও এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি; সেই সাথে শিরোনামের উদ্দেশ্য, প্রধান প্রতিকূলতাসমূহ, গবেষণা পদ্ধতি এবং গবেষণা পরিকল্পনার রূপরেখা বর্ণনা করেছি।
উপক্রমনিকা, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রভাবশালী ঈমানের প্রকৃতি।
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে: প্রথম অনুচ্ছেদ: ঈমানের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ঈমানের ভিত্তি বা মূল উপাদানসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ঈমানের মোকাবিলায় জাহেলী চিন্তা-চেতনা এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: হক ও বাতিলের দ্বন্দ্ব কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকা আল্লাহর একটি চিরন্তন বিধান।
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المطلب الثاني: الصراع بين الحق والباطل في عصور الإسلام المتقدمة.
المطلب الثالث: الغزو الفكري للأمة الإسلامية في العصر الحديث.
الباب الأول: الإيمان سبب لتحصيل ولاية الله الأثر الخارجي.
وفيه فصلان:
الفصل الأول: صفات المستحقين للولاية.
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: مراتب أهل الإيمان. وفيه أربعة مطالب.
المطلب الأول: بيان أصل الإيمان.
المطلب الثاني: مرتبة الظالم لنفسه.
المطلب الثالث: مرتبة المقتصد.
المطلب الرابع: مرتبة السابق بالخيرات.
المبحث الثاني: أهل ولاية الله.
المبحث الثالث: العناية بأهم سبب لحصول الولاية.
الفصل الثاني: أثر ولاية الله في تخليص المؤمنين وتحصينهم من الأفكار الهدامة.
وفيه مبحثان:
المبحث الأول: مظاهر ولاية الله لعبده المؤمن. وفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: إخراج المؤمن من الظلمات إلى النور.
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইসলামের সূচনালগ্নের যুগসমূহে সত্য ও মিথ্যার মাঝে দ্বন্দ্ব।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আধুনিক যুগে মুসলিম উম্মাহর ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন।
প্রথম অধ্যায়: ঈমান—আল্লাহর বন্ধুত্ব অর্জনের মাধ্যম এবং এর বাহ্যিক প্রভাব।
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর বন্ধুত্বের যোগ্য ব্যক্তিদের গুণাবলি।
এতে তিনটি আলোচ্য বিষয় রয়েছে:
প্রথম আলোচ্য বিষয়: মুমিনদের স্তরসমূহ। এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম অনুচ্ছেদ: ঈমানের মূল ভিত্তির বর্ণনা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নিজের প্রতি অবিচারকারীর স্তর।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মধ্যমপন্থীর স্তর।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: নেক কাজে অগ্রগামীদের স্তর।
দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয়: আল্লাহর বন্ধুত্বের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ।
তৃতীয় আলোচ্য বিষয়: আল্লাহর বন্ধুত্ব অর্জনের প্রধান কারণের প্রতি গুরুত্বারোপ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুমিনদের উদ্ধার করা এবং ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারা থেকে তাদের সুরক্ষায় আল্লাহর বন্ধুত্বের প্রভাব।
এতে দুটি আলোচ্য বিষয় রয়েছে:
প্রথম আলোচ্য বিষয়: মুমিন বান্দার প্রতি আল্লাহর বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ। এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: মুমিনকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনা।
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المطلب الثاني: تثبيت المؤمن عند الشدائد.
المطلب الثالث: الحيلولة بين المؤمن وبين ما قد يقوم بقلبه من الإرادات السيئة.
المطلب الرابع: مظاهر الولاية الكاملة للكُمّل من عباد الله.
المبحث الثاني: مظاهر ولاية الله للجماعة المؤمنة.
الباب الثاني: أثر الإيمان في تحصين القلب ضد الأفكار الهدامة الأثر القلبي.
وفيه ثلاثة فصول:
الفصل الأول: وظائف القلب وأحواله. وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: الوظائف القائمة بالقلب. وفيه خمسة مطالب:
المطلب الأول: وظيفة التعقل.
المطلب الثاني: الاعتقادات.
المطلب الثالث: النيات والإرادات.
المطلب الرابع: العواطف.
المطلب الخامس: الانفعالات.
المبحث الثاني: العلاقة بين الوظائف القلبية.
المبحث الثالث: أحوال القلوب.
المبحث الرابع: أثر الإيمان في القلوب دائر بين التطهير والتزكية.
الفصل الثاني: أثر الإيمان في تطهير القلوب. وفيه ثلاثة مباحث:
দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: সংকটের সময় মুমিনকে সুদৃঢ় রাখা।
তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: মুমিন এবং তার অন্তরে উদিত হতে পারে এমন মন্দ ইচ্ছার মাঝে অন্তরায় হওয়া।
চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: আল্লাহর কামিল (পরিপূর্ণ) বান্দাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ বেলায়াতের (অভিভাবকত্বের) বহিঃপ্রকাশ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুমিন জামাতের জন্য আল্লাহর বেলায়াতের (অভিভাবকত্বের) বহিঃপ্রকাশ।
দ্বিতীয় অধ্যায়: ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারার বিরুদ্ধে অন্তরকে সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে ঈমানের প্রভাব: কালবি (আভ্যন্তরীণ) প্রভাব।
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: অন্তরের কার্যাবলি ও তার অবস্থাসমূহ। এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: অন্তরে প্রতিষ্ঠিত কার্যাবলি। এতে পাঁচটি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: বুদ্ধিবৃত্তিক বা অনুধাবনমূলক কাজ।
দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: বিশ্বাসসমূহ (আকিদাহ)।
তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: নিয়ত ও ইচ্ছাসমূহ।
চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: আবেগসমূহ।
পঞ্চম উপ-অনুচ্ছেদ: অনুভূতি বা প্রতিক্রিয়া।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অন্তরের কার্যাবলির মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: অন্তরের অবস্থাসমূহ।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: অন্তরের ওপর ঈমানের প্রভাব, যা পবিত্রকরণ ও পরিশুদ্ধিকরণের মাঝে আবর্তিত।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অন্তর পবিত্র করার ক্ষেত্রে ঈমানের প্রভাব। এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الأول: أثر الإيمان في تطهير القلب من العقائد الباطلة والظنون السيئة.
المبحث الثاني: أثر الإيمان في تطهير القلب من الران ودرن المعاصي.
المبحث الثالث: أثر الإيمان في تطهير القلب من العواطف الفاسدة.
وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: أثر الإيمان في تخليص القلب من محبة غير الله.
المطلب الثاني: أثر الإيمان في تخليص القلب من حب الشهوات المحرمة.
المطلب الثالث: أثر الإيمان في تخليص القلب من الحقد والحسد.
الفصل الثالث: أثر الإيمان في تزكية القلوب. وفيه مبحثان.
المبحث الأول: أثر التزكية في طمأنينة القلب.
المبحث الثاني: أثر التزكية في حصول النور والفرقان.
الباب الثالث: أثر الإيمان في تحصين المجتمع المسلم ضد الأفكار الهدامة.
وفيه ثلاثة فصول:
الفصل الأول: أثر الرابطة الإيمانية والأخلاق والنظم الإسلامية في صيانة المجتمع المسلم من الانحراف الفكري.
وفيه مبحثان:
المبحث الأول: أثر المحافظة على الرابطة الإيمانية في الحصانة الفكرية.
প্রথম পরিচ্ছেদ: বাতিল আকিদা ও মন্দ ধারণা থেকে অন্তরকে পবিত্র করার ক্ষেত্রে ঈমানের প্রভাব।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পাপের মরিচা ও কলুষতা থেকে অন্তরকে পবিত্র করার ক্ষেত্রে ঈমানের প্রভাব।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কলুষিত আবেগ থেকে অন্তরকে পবিত্র করার ক্ষেত্রে ঈমানের প্রভাব।
এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ভালোবাসা থেকে অন্তরকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে ঈমানের প্রভাব।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নিষিদ্ধ প্রবৃত্তির ভালোবাসা থেকে অন্তরকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে ঈমানের প্রভাব।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বিদ্বেষ ও হিংসা থেকে অন্তরকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে ঈমানের প্রভাব।
তৃতীয় অধ্যায়: কলব বা অন্তর পরিশুদ্ধ করার ক্ষেত্রে ঈমানের প্রভাব। এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: অন্তরের প্রশান্তি লাভে আত্মশুদ্ধির প্রভাব।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নূর ও ফুরকান (সত্য-মিথ্যা পার্থক্যের শক্তি) অর্জনে আত্মশুদ্ধির প্রভাব।
তৃতীয় খণ্ড: ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারার বিরুদ্ধে মুসলিম সমাজকে সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে ঈমানের প্রভাব।
এতে তিনটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: বুদ্ধিবৃত্তিক বিচ্যুতি থেকে মুসলিম সমাজকে রক্ষায় ঈমানি বন্ধন, নৈতিকতা ও ইসলামি ব্যবস্থার প্রভাব।
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: বুদ্ধিবৃত্তিক সুরক্ষায় ঈমানি বন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখার প্রভাব।
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: التزام الأخلاق الفاضلة.
المطلب الثاني: قيام المؤمنين بالحقوق المفروضة لبعضهم على بعض.
المطلب الثالث: الالتزام بالنظام الاجتماعي والاقتصادي الإسلامي.
المطلب الرابع: المحافظة على الوحدة الفكرية.
المبحث الثاني: العمل على سلامة مقومات المجتمع المسلم. وفيه مطلبان:
المطلب الأول: أهمية الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وكونه واجباً اجتماعياً.
المطلب الثاني: أثر الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر في تحصين المجتمع المسلم من الأفكار الهدامة.
الفصل الثاني: دور ولاة الأمر في حماية المجتمع من الأفكار الهدامة.
وفيه مبحثان:
المبحث الأول: ضوابط الإمامة في المجتمع المسلم.
المبحث الثاني: وظائف الإمامة ومقاصد الحكم.
الفصل الثالث: أثر وضع الدولة المتمكن في الأرض في تحصين المجتمع ضد الأفكار الهدامة.
এবং এতে চারটি আলোচ্য বিষয় রয়েছে:
প্রথম আলোচ্য বিষয়: উন্নত নৈতিকতা মেনে চলা।
দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয়: মুমিনদের একে অপরের প্রতি অর্পিত অধিকারসমূহ আদায় করা।
তৃতীয় আলোচ্য বিষয়: ইসলামী সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মেনে চলা।
চতুর্থ আলোচ্য বিষয়: চিন্তাগত ঐক্য রক্ষা করা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুসলিম সমাজের মৌলিক উপাদানসমূহের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে কাজ করা। এবং এতে দুইটি আলোচ্য বিষয় রয়েছে:
প্রথম আলোচ্য বিষয়: সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের গুরুত্ব এবং এটি একটি সামাজিক আবশ্যকতা হওয়া।
দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয়: ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারা থেকে মুসলিম সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের প্রভাব।
দ্বিতীয় অধ্যায়: ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারা থেকে সমাজ রক্ষায় শাসকবর্গের ভূমিকা।
এবং এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুসলিম সমাজে নেতৃত্বের নীতিমালা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নেতৃত্বের কার্যাবলী এবং শাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
তৃতীয় অধ্যায়: ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারার বিরুদ্ধে সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে জমিনে সুপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের অবস্থানের প্রভাব।
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وتكلمت فيه عن: أثر الجهاد في عزة الإسلام وتمكين المسلمين في الأرض وتحصين المجتمع الإسلامي ضد الأفكار الخبيثة.
الخاتمة: ولخصت فيها أهم النتائج التي توصلت إليها في هذا البحث.
الفهارس والمراجع: وتشتمل على ما يلي: فهرس الآيات، وفهرس الأحاديث، وفهرس تراجم الأعلام، وقائمة المصادر والمراجع، وفهرس المحتويات.
আর এতে আমি আলোচনা করেছি: ইসলামের মর্যাদায় জিহাদের প্রভাব, জমিনে মুসলিমদের ক্ষমতায়ন এবং মন্দ চিন্তাধারার বিরুদ্ধে মুসলিম সমাজকে সুরক্ষিত করার বিষয়ে।
উপসংহার: এতে আমি এই গবেষণায় প্রাপ্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো সারসংক্ষেপ করেছি।
নির্ঘণ্ট ও তথ্যসূত্র: এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে: আয়াতের নির্ঘণ্ট, হাদিসের নির্ঘণ্ট, ব্যক্তিবর্গের জীবনীর নির্ঘণ্ট, উৎস ও তথ্যসূত্রের তালিকা এবং সূচিপত্র।
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
تنبيه واعتذار
نظراً لطبيعة البحث الذي يتطرق بجانب النواحي العقدية، إلى الآثار التي يحدثها الإيمان على النفس البشرية والمجتمع، كما يتطرق إلى النواحي الفكرية وغيرها من الموضوعات التي تبحث غالباً في مجالات الدعوة، فقد دعت الحاجة إلى الاستفادة من بعض العلماء والدعاة والمفكرين والكتاب القدامى والمعاصرين، الذين خالفوا ببعض آرائهم أو فتاويهم أو مناهجهم أو حتى عقائدهم ما ذهب إليه السلف الصالح؛ بل قد تجاوزت ذلك إلى النقل عن غير المسلمين والمشتغلين بعلم النفس والاجتماع والطب مما يوجد فيه خليط من الحق والباطل. والقاعدة في ذلك: الحكمة ضالة المؤمن وقد حرصت أن لا أنقل عنهم إلا ما كان صواباً ليس فيه شيء من مخالفاتهم أو باطلهم، فيما أرى أنه يؤيد الحق أو يجلي بعض الجوانب التي تطرق إليه البحث.
وقد أشار شيخ الإسلام إلى هذا المنهج في النقل بقوله: "وليس كل من ذكرنا شيئاً من قوله من المتكلمين وغيرهم يقول بجميع ما نقول في هذا وغيره، ولكن الحق يُقْبَل من كل من تكلم به
… "1.
وقد بذلت جهدي وطاقتي الضعيفة القاصرة، ولم آل جهداً، وأرجو أن أكون قد وُفقت إلى الصواب. ألا وإن الله متفرد سبحانه بالكمال.
--------------------------------------------
সতর্কবার্তা ও ক্ষমা প্রার্থনা
গবেষণার প্রকৃতির কারণে যা আকিদাগত দিকগুলোর পাশাপাশি মানবাত্মা ও সমাজের ওপর ঈমানের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে, তদ্রূপ বুদ্ধিবৃত্তিক দিকসমূহ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করে যা সাধারণত দাওয়াতের ক্ষেত্রে আলোচিত হয়; তাই প্রাচীন ও সমসাময়িক এমন কিছু আলেম, দাঈ, চিন্তাবিদ ও লেখকদের থেকে উপকৃত হওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, যারা তাদের কিছু মতামত, ফতোয়া, মানহাজ বা এমনকি আকিদাতেও সালাফে সালেহীনের পন্থার বিরোধিতা করেছেন। এমনকি বিষয়টি অমুসলিম এবং মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিয়োজিত ব্যক্তিদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের সীমা পর্যন্ত গড়িয়েছে, যাদের কথার মধ্যে সত্য ও মিথ্যার সংমিশ্রণ রয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো: 'প্রজ্ঞা মুমিনের হারানো সম্পদ'। আমি এই বিষয়ে সচেষ্ট ছিলাম যেন তাদের থেকে কেবল সেটুকুই গ্রহণ করি যা সঠিক এবং যাতে তাদের কোনো বিচ্যুতি বা বাতিল বিষয় নেই; এমন ক্ষেত্রে যা আমার দৃষ্টিতে সত্যকে সমর্থন করে অথবা এই গবেষণার আওতাভুক্ত বিষয়গুলোর কোনো দিককে স্পষ্ট করে।
শায়খুল ইসলাম উদ্ধৃতি প্রদানের এই মানহাজ সম্পর্কে ইঙ্গিত করে বলেছেন: "আমরা যাদের বক্তব্যের কোনো অংশ উল্লেখ করেছি, সেই কালামশাস্ত্রবিদ বা অন্যদের প্রত্যেকেই এই বিষয়ে বা অন্য কোনো বিষয়ে আমাদের সকল কথার সাথে একমত হবেন এমনটি নয়, তবে সত্য যার মাধ্যমেই উচ্চারিত হোক না কেন তা গ্রহণযোগ্য
... " ১।
আমি আমার সাধ্য ও দুর্বল সামর্থ্য অনুযায়ী প্রচেষ্টা চালিয়েছি এবং কোনো ত্রুটি করিনি; আশা করি আমি সঠিক দিশা লাভে সক্ষম হয়েছি। জেনে রাখুন, একমাত্র মহান আল্লাহই সকল পরিপূর্ণতার অধিকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وحَكم على البشر بالعجز والقصور، فلا يسلم أحد من الخطأ إلا من عصمه الرحمن.
وحسبي ـ إن شاء الله ـ أني اجتهدت في تحري الحق ولم أتعمد الخطأ. فما كان فيه من صواب فمن الله وله الحمد، وما كان فيه من خطأ فمن نفسي والشيطان، وأستغفر الله.
তিনি মানবজাতির ওপর অক্ষমতা ও অসম্পূর্ণতার ফয়সালা করেছেন, ফলে পরম দয়াময় যাকে রক্ষা করেছেন তিনি ব্যতীত আর কেউই ভুল থেকে নিরাপদ নয়।
ইনশাআল্লাহ—আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আমি সত্য অন্বেষণে প্রচেষ্টা চালিয়েছি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল করিনি। এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং সকল প্রশংসা তাঁরই; আর যা কিছু ভুল রয়েছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
شكر وتقدير
هذا وأحمد الله وأشكره على عظيم منته وكريم فضله، حيث وفقني لسلوك طريق العلم، ويسر لي الالتحاق بالجامعة الإسلامية والتزود من علومها، وأعانني على كتابة هذا البحث الذي أرجو أن يكون على الوجه الذي يرضيه، وأن يكون خالصاً صواباً نافعاً. وله الحمد على نعمه التي لا تحصى.
ثم أتوجه بالشكر لكل من كان له فضل عليَّ في إتمام هذا البحث، وعلى رأسهم شيخي المشرف على البحث الدكتور: أحمد بن عطية الغامدي، الذي زودني بنصائحه وتوجيهاته القيمة والتي أسهمت في إنجاز هذا البحث وتخطي ما يعرض فيه من إشكال. وكانت أوقات التقائي به فرصة للاستفادة من علمه وتجاربه. فله مني جزيل الشكر والتقدير، وأسأل الله أن يجزل له المثوبة، وأن يرفع منزلته في الدنيا والآخرة.
ثم أثني بالشكر للجامعة الإسلامية ـ ممثلة بكلية الدعوة وأصول الدين وقسم العقيدة، وقسم الدراسات العليا سابقاً ـ التي هيأت لي الفرصة للنهل من علومها، وعلى ما يسّرته من المكتبات التي سهلت مهمة البحث، وما وجدته من المسئولين من التفاهم والتعاون. كما أشكر كل من ساعدني في إتمام هذا البحث من الأساتذة والزملاء بإبداء رأي أو نصيحة أو إعارة كتاب وإرشاد إلى مرجع أو غير ذلك، والحمد لله أولاً
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি
আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি তাঁর মহান অনুগ্রহ ও উদার মেহেরবানির জন্য, যেহেতু তিনি আমাকে ইলমের পথে চলার তাওফিক দিয়েছেন এবং আমার জন্য ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ও এর জ্ঞানসমূহ থেকে পাথেয় সংগ্রহ করা সহজ করেছেন। তিনি আমাকে এই গবেষণাটি লিখতে সাহায্য করেছেন, যা আমি আশা করি তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী হবে এবং তা হবে একনিষ্ঠ, সঠিক ও উপকারী। তাঁর অগণিত নেয়ামতের জন্য তাঁরই সকল প্রশংসা।
অতঃপর আমি এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যাঁদের অবদান রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাঁদের শীর্ষে রয়েছেন আমার সম্মানিত গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক ডক্টর আহমদ বিন আতিয়্যাহ আল-গামিদী, যিনি আমাকে তাঁর মূল্যবান উপদেশ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, যা এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে এবং এর মাঝে উদ্ভূত জটিলতাসমূহ কাটিয়ে উঠতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর সাথে সাক্ষাতের সময়গুলো ছিল তাঁর ইলম ও অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হওয়ার একটি সুযোগ। তাঁর প্রতি আমার পক্ষ থেকে রইল অশেষ কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে প্রচুর প্রতিদান দান করেন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ করেন।
এরপর আমি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি—যা দাওয়াহ ও উসুলুদ্দিন অনুষদ, আকীদা বিভাগ এবং সাবেক উচ্চতর শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক প্রতিনিধিত্বশীল—কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যা আমাকে ইলম আহরণের সুযোগ করে দিয়েছে। সেই সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি সেই সকল লাইব্রেরির সুব্যবস্থার জন্য যা গবেষণার কাজকে সহজতর করেছে এবং কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সমঝোতা ও সহযোগিতার জন্য। একইভাবে আমি সেই সকল শিক্ষক ও সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যারা কোনো মতামত প্রদান, নসিহত, বই ধার দেওয়া কিংবা কোনো রেফারেন্সের সন্ধান দান অথবা অন্য কোনোভাবে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে আমাকে সাহায্য করেছেন। আর সর্বাগ্রে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وآخراً. والصلاة والسلام على الرسول المصطفى وعلى آله وأصحابه السادة النجباء.
عبد الله بن عبد الرحمن المنصور الجربوع
المدينة النبوية 1/11/1412هـ
পরিশেষে। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মনোনীত রাসূলের প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও শ্রেষ্ঠতম অভিজাত সাহাবীগণের প্রতি।
আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-মানসুর আল-জারবু
মদীনা নববী ১/১১/১৪১২ হিজরী
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ال
تمهيدوفيه مبحثان:
المبحث الأول: طبيعة الإيمان المؤثر
المبحث الثاني: الفكر الجاهلي في مجابهة الإيمان
المبحث الأول: طبيعة الإيمان المؤثر
من المهم معرفة طبيعة الإيمان الذي نبحث في آثاره في مجال تحصين المؤمنين جماعات وأفرادٍ ضد الفكر الجاهلي الهدام. والمسلم مطالب بمعرفة المفهوم الصحيح للإيمان والالتزام به. وبذلك يبتعد عن المفاهيم المبتدعة المنسوبة للإسلام. كما يتحصل بالالتزام به على الآثار المباركة التي رتبها الله على ذلك، ويكرم بها من جاء به، والتي سيجري الكلام على كثير منها في هذا الكتاب.
والإيمان الذي أراده الله من الناس، وكلفهم به، ورد البيان الواضح لجميع معالمه في آيات القرآن الكريم وأحاديث النبي صلى الله عليه وسلم. فالله لا يرضى ولا يقبل من الناس إلا إيمانهم على الكيفية التي بيَّن لهم. وما عدا ذلك من معتقدات أو شعائر أو مناهج اصطلحوا عليها واستحسنوها ثم عكفوا على ممارستها ونسبوها إلى الإيمان وهو منها براء، فإن الله سبحانه لا يرضاها ولا يتولى من جاء بها. ولا تثمر لصاحبها البركات والكرامات التي يكرم بها من سار على صراطه المستقيم، ولا يتحصن بها من كيد الشياطين. كما أن حسن النية، وصدق التوجه لله لا يغني شيئاً إذا لم يتقيد المسلم بالإيمان الصحيح والسنة المستقيمة. وسيجري الكلام في هذا المبحث على مطلبين هامين:
উপক্রমণিকাএতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রভাবশালী ঈমানের স্বরূপ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ঈমানের মোকাবেলায় জাহিলি চিন্তাধারা
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রভাবশালী ঈমানের স্বরূপ
ধ্বংসাত্মক জাহিলি চিন্তাধারার বিরুদ্ধে মুমিনদের দলগত ও ব্যক্তিগতভাবে সুরক্ষার ক্ষেত্রে যে ঈমানের প্রভাব নিয়ে আমরা আলোচনা করছি, তার স্বরূপ জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈমানের সঠিক ধারণা জানা এবং তার প্রতি অবিচল থাকা একজন মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। এর মাধ্যমে সে ইসলামের নামে প্রচলিত বিদআতি ধারণাগুলো থেকে দূরে থাকতে পারবে। তেমনিভাবে এর ওপর অবিচল থাকার মাধ্যমে সে ঐ সকল বরকতময় প্রভাব অর্জন করতে পারবে যা আল্লাহ এর ওপর নির্ধারণ করেছেন এবং যা দিয়ে তিনি ঈমান আনয়নকারীকে সম্মানিত করেন। এগুলোর অনেকগুলো নিয়েই এই কিতাবে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
আল্লাহ মানুষের কাছে যে ঈমান চেয়েছেন এবং যার দায়িত্ব তাদের ওপর অর্পণ করেছেন, তার সকল বৈশিষ্ট্যের সুস্পষ্ট বর্ণনা পবিত্র কুরআনের আয়াত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং আল্লাহ মানুষের পক্ষ থেকে কেবল সেই ঈমানই পছন্দ ও কবুল করেন, যা তিনি তাদের জন্য বর্ণনা করেছেন। এর বাইরে মানুষের উদ্ভাবিত এবং পছন্দকৃত যেসকল আকিদা, ইবাদত বা কর্মপন্থা রয়েছে, যা তারা চর্চা করে এবং ঈমানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে—অথচ ঈমানের সাথে সেগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই—নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তা পছন্দ করেন না এবং এর অনুসারীদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন না। আর এগুলো পালনকারীর জন্য সেই বরকত ও সম্মান বয়ে আনে না, যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর সিরাতুল মুস্তাকিমের পথচারীদের সম্মানিত করেন। এমনকি এর মাধ্যমে শয়তানের চক্রান্ত থেকেও সুরক্ষা পাওয়া যায় না। তদ্রূপ, একজন মুসলিম যদি সঠিক ঈমান এবং সুন্নাহর অনুসারী না হয়, তবে কেবল নিয়তের বিশুদ্ধতা এবং আল্লাহর প্রতি একাগ্রতা কোনো কাজে আসবে না। এই পরিচ্ছেদে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে:
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الأول: تعريف الإيمان بالله كما دلت عليه نصوص الكتاب والسنة وبينه السلف الصالح رضوان الله عليهم أجمعين.
الثاني: الأسس التي يقوم عليها الإيمان بالله.
وسوف أفرد لكل منهما مطلباً مستقلاً.
প্রথমত: আল্লাহর প্রতি ঈমানের সংজ্ঞা, যেমনটি কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ নির্দেশ করেছে এবং সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয়ত: সেই ভিত্তিগুলো যার ওপর আল্লাহর প্রতি ঈমান প্রতিষ্ঠিত।
আমি এ দুটির প্রত্যেকটির জন্য একটি করে স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করব।
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المطلب الأول: تعريف الإيمان الشرعي
للإيمان مفهوم شرعي دلت عليه نصوص كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم. هذا المفهوم أجمله السلف رضوان الله عليهم في تعريفهم للإيمان بأنه اعتقاد بالقلب، وقول باللسان، وعمل بالجوارح، يزيد بالطاعة، وينقص بالمعصية. وفيما يلي عرض لبعض النصوص التي تدل على ذلك:
أولاً: الأدلة على أن الإيمان يكون بالقلب.
قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا آمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِنْ قُلُوبُهُمْ} [المائدة:41] .
وقال: {مَنْ كفر بالله مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَاّ مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنّ} [النحل:106] .
وقال: {قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ الْأِيمَانُ فِي قُلُوبِكُمْ} [الحجرات:14] .
প্রথম পরিচ্ছেদ: শরয়ী ঈমানের সংজ্ঞা
ঈমানের একটি শরয়ী ধারণা রয়েছে যা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ দ্বারা প্রমাণিত। সালাফগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) ঈমানের এই ধারণাকে সংক্ষেপে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এটি অন্তরের বিশ্বাস, জিহ্বার স্বীকৃতি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলের সমষ্টি; যা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং পাপাচারের মাধ্যমে হ্রাস পায়। নিচে এর সপক্ষে কিছু দলীল উপস্থাপন করা হলো:
প্রথমত: ঈমান যে অন্তরের বিষয় তার দলীলসমূহ।
মহান আল্লাহ বলেন: {হে রাসূল! যারা কুফরির দিকে দ্রুত ধাবিত হয় তারা যেন আপনাকে ব্যথিত না করে; যারা মুখে বলে আমরা ঈমান এনেছি অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনেনি} [আল-মায়িদাহ: ৪১] ।
তিনি বলেন: {ঈমান আনার পর কেউ আল্লাহর সাথে কুফরি করলে (সে আল্লাহর গযবে পতিত হবে), তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যাকে বাধ্য করা হয়েছে অথচ তার অন্তর ঈমানে অটল} [আন-নাহল: ১০৬] ।
তিনি বলেন: {মরুবাসীরা বলে: ‘আমরা ঈমান এনেছি’। আপনি বলুন: ‘তোমরা ঈমান আনোনি, বরং তোমরা বলো: আমরা ইসলাম কবুল করেছি; কারণ ঈমান এখনও তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি’} [আল-হুজুরাত: ১৪] ।
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "
… ألا وأن في الجسد مضغة إذا صلحت صلح الجسد كله، وإذا فسدت فسد الجسد كله، ألا وهي القلب "1.
وصلاح القلب إنما يكون بعمرانه بالعقائد الحق. فإذا أُشْرب القلب الحقائق الإيمانية وانبعثت منها أعماله القلبية كان قلباً سليماً.
وفي حديث جبريل عليه السلام: "قال: فأخبرني عن الإيمان؟ قال: أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره وشره
… " 2.
وهذه الأمور الستة يكون الإيمان بها بالعلم والتصديق والقبول الذي يكون في القلب.
فدلت هذه النصوص على أن الإيمان يدخل القلب ويطمئن به، وأن إيمان القلب هو الأصل وأنه شرط في صحة الإيمان، ولا عبرة لغيره بدونه، وأن أساس الإيمان هي الاعتقادات التي تقوم بالقلب.
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "
… জেনে রেখো, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরো রয়েছে; যখন তা ঠিক থাকে তখন পুরো শরীর ঠিক থাকে, আর যখন তা নষ্ট হয়ে যায় তখন পুরো শরীর নষ্ট হয়ে যায়। জেনে রেখো, তা হলো অন্তর "১।
আর অন্তরের সংশোধন কেবল সত্য আকিদার আবাদ দ্বারা সম্ভব। সুতরাং যখন অন্তর ইমানি হাকিকতসমূহকে গ্রহণ করবে এবং তা থেকে তার অন্তরের আমলসমূহ বিচ্ছুরিত হবে, তখন তা একটি সুস্থ অন্তর হবে।
জিবরাইল (আলাইহিস সালাম)-এর হাদিসে রয়েছে: "তিনি বললেন: আমাকে ইমান সম্পর্কে সংবাদ দিন। তিনি বললেন: তা হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি
… " ২।
আর এই ছয়টি বিষয়ের প্রতি ইমান আনা হয় এমন জ্ঞান, সত্যায়ন এবং গ্রহণের মাধ্যমে যা অন্তরে সংঘটিত হয়।
অতএব, এই নসগুলো প্রমাণ করে যে, ইমান অন্তরে প্রবেশ করে এবং তার দ্বারা প্রশান্ত হয়, আর অন্তরের ইমানই হলো মূল এবং এটি ইমান সহিহ হওয়ার জন্য শর্ত; একে ছাড়া অন্য কিছুর কোনো ধর্তব্য নেই। আর ইমানের মূল ভিত্তি হলো সেই বিশ্বাসসমূহ যা অন্তরে প্রতিষ্ঠিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ثانياً: النصوص الدالة على أن الإيمان يكون باللسان.
قال صلى الله عليه وسلم: " أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا: لا إله إلا الله
… "1.
وقال عليه الصلاة والسلام: " يخرج من النار من قال: لا إله إلا الله وفي قلبه وزن شعرة من إيمان، ويخرج من النار من قال: لا إله إلا الله وفي قلبه وزن برة من إيمان، ويخرج من النار من قال: لا إله إلا الله وفي قلبه وزن ذرة من إيمان "2.
ففي هذين الحديثين دلالة واضحة على اشتراط النطق بالشهادتين لصحة الإيمان.
وأن الإيمان الذي يدخل في الإسلام والذي يُنجي من الخلود مكوّن من قول اللسان مع عقد القلب.
وقوله صلى الله عليه وسلم في حديث شعب الإيمان: " الإيمان بضع وسبعون أو بضع وستون، فأفضلها قول لا إله إلا الله، وأدناها إماطة الأذى عن الطريق، والحياء شعبة من الإيمان " 3.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: ঈমান যে যবানের (জিহ্বার) মাধ্যমে হয়, তার দলীলসমূহ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে ততক্ষণ পর্যন্ত লড়াই করার নির্দেশ প্রাপ্ত হয়েছি, যতক্ষণ না তারা বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই
… " ১।
এবং তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: "জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে বলেছে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই' এবং তার অন্তরে বার্লি পরিমাণ ঈমান রয়েছে। জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে বলেছে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই' এবং তার অন্তরে গম পরিমাণ ঈমান রয়েছে। আর জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে বলেছে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই' এবং তার অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে" ২।
এই হাদিসদ্বয়ের মধ্যে ঈমান সহীহ হওয়ার জন্য শাহাদাতাইন উচ্চারণের শর্ত হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
এবং যে ঈমান ইসলামে প্রবেশ করায় এবং যা চিরস্থায়ী জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়, তা যবানের স্বীকৃতি ও অন্তরের বিশ্বাসের সমন্বয়ে গঠিত।
এবং ঈমানের শাখা-প্রশাখা বিষয়ক হাদিসে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "ঈমানের সত্তরটিরও বেশি বা ষাটটিরও বেশি শাখা রয়েছে; এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো 'আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই' বলা, আর সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা" ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
فيه دليل على أن التلفظ بلا إله إلا الله أفضل شعب الإيمان سواء قالها عقداً أو ذكراً.
ثالثاً: النصوص الدالة على أن الإيمان يكون بالأعمال الظاهرة:
كل النصوص المتقدمة في المجموعة الثانية داخلة في هذا النوع، وذلك أن النطق باللسان عمل ظاهر. ويضاف إلى ذلك: قوله تعالى: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ} [البقرة:143] . أي صلاتكم، فسمى الصلاة إيماناً.
قال البخاري1 رحمه الله في الصحيح: وقول الله تعالى: {وَمَا كَانَ اللهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ} يعني صلاتكم عند البيت، ثم أورد بسنده إلى البراء2 أنه مات على القبلة قبل أن تحول رجال وقتلوا فلم ندر ما نقول فيهم، فأنزل الله تعالى: {وَمَا كَانَ اللهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ} 3.
--------------------------------------------
এতে দলীল রয়েছে যে, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' উচ্চারণ করা ঈমানের সর্বোত্তম শাখা, চাই তা বিশ্বাসগতভাবে বলা হোক কিংবা যিকির হিসেবে।
তৃতীয়ত: ঈমান যে প্রকাশ্য আমলের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়, তার ওপর প্রমাণাদি:
দ্বিতীয় গ্রুপে বর্ণিত সকল পাঠ এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, কারণ জিহ্বা দ্বারা উচ্চারণ করা একটি প্রকাশ্য আমল। এর সাথে আরও যোগ করা হয় মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন না} [আল-বাকারা: ১৪৩]। অর্থাৎ তোমাদের সালাত; এখানে তিনি সালাতকে ঈমান হিসেবে নামকরণ করেছেন।
ইমাম বুখারী১ (রহিমাহুল্লাহ) তার 'সহীহ' গ্রন্থে বলেছেন: আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আল্লাহ তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন না} অর্থাৎ বাইতুল্লাহর দিকে মুখ করে তোমাদের সালাত। অতঃপর তিনি তার সনদে বারা২ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, কিবলা পরিবর্তনের পূর্বে কিছু লোক পূর্বের কিবলার ওপর ইন্তেকাল করেছিলেন এবং কিছু লোক শহীদ হয়েছিলেন, তাই আমরা তাদের সম্পর্কে কী বলব তা জানতাম না। তখন মহান আল্লাহ নাযিল করেন: {আর আল্লাহ তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন না}৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ومن أقوى الأدلة وأصرحها في القرآن على أن الأعمال من الإيمان قوله تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَاناً وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ أُوْلَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَّهُمْ دَرَجَاتٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ} [الأنفال: 2-4] .
حيث جعل سبحانه إقام الصلاة والإنفاق من صفات المؤمنين حقاً.
أما من الأحاديث، فقد تقدم في حديث شعب الإيمان أن إماطة الأذى عن الطريق من شعب الإيمان وهو عمل ظاهر.
ومن ذلك حديث وفد عبد القيس1، وفيه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ".. هل تدرون ما الإيمان بالله؟ قالوا الله ورسوله أعلم. قال: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان وأن تؤدوا خُمْساً من المغنم
… "2.
--------------------------------------------
আমল যে ইমানের অন্তর্ভুক্ত, সে বিষয়ে কুরআনের অন্যতম শক্তিশালী ও সুস্পষ্ট দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {মুমিন তো তারাই, যাদের সামনে যখন আল্লাহর জিকির করা হয়, তখন তাদের অন্তর প্রকম্পিত হয়। আর যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ইমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে। যারা সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দান করেছি, তা থেকে ব্যয় করে। তারাই হলো প্রকৃত মুমিন। তাদের রবের কাছে তাদের জন্য রয়েছে উচ্চ মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক।} [আল-আনফাল: ২-৪]।
যেখানে মহান আল্লাহ সালাত কায়েম করা এবং দান-সদকা করাকে প্রকৃত মুমিনদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করেছেন।
আর হাদিসের মধ্য থেকে, ইমানের শাখা-প্রশাখা বিষয়ক হাদিসে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা ইমানের একটি শাখা, যা একটি বাহ্যিক আমল।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো আবদুল কায়েস প্রতিনিধি দলের হাদিস১, যাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ".. তোমরা কি জানো আল্লাহর ওপর ইমান আনা কী? তারা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, আর সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং গনীমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করা
… "২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
فهذا الحديث من أقوى الأدلة وأصرحها على أن الأعمال من الإيمان وذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم فسر الإيمان بالنطق بالشهادتين، وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وأداء خمس المغنم، وهذه أعمال ظاهرة.
সুতরাং আমল যে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, তার স্বপক্ষে এই হাদিসটি অন্যতম শক্তিশালী ও সুস্পষ্ট দলিল। এর কারণ হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শাহাদাতাইন উচ্চারণ করা, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ আদায় করার মাধ্যমে ঈমানের ব্যাখ্যা করেছেন; আর এগুলো হলো বাহ্যিক আমল।
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
رابعاً: النصوص الدالة على زيادة الإيمان ونقصانه:
قال تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ} [الأنفال:2] .
قال ابن كثير1–رحمه الله في تفسيره لهذه الآية:"وقد استدل البخاري وغيره بهذه الآية وأشباهها على زيادة
الإيمان وتفاضله في القلوب كما هو مذهب جمهور الأمة، بل قد حكى الإجماع عليه غير واحد من الأئمة كالشافعي2 وأحمد بن حنبل3 وأبي
--------------------------------------------
চতুর্থত: ইমানের বৃদ্ধি ও হ্রাসের প্রমাণাদি:
আল্লাহ তাআলা বলেন: {প্রকৃত মুমিন তো তারাই, যাদের সামনে যখন আল্লাহর নাম নেওয়া হয় তখন তাদের অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হয়, আর যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তা তাদের ইমান বৃদ্ধি করে দেয় এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে।} [আল-আনফাল: ২]।
ইবনে কাসির ১—রাহিমাহুল্লাহ—এই আয়াতের তাফসিরে বলেন: "ইমাম বুখারি এবং অন্যান্যরা এই আয়াত ও এর সদৃশ আয়াতগুলো দ্বারা ইমানের
বৃদ্ধি ও অন্তরে এর তারতম্যের ওপর দলিল পেশ করেছেন, যেমনটি উম্মতের সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমদের মাযহাব। বরং ইমাম শাফেঈ ২, আহমদ বিন হাম্বল ৩ এবং আবু... এর মতো একাধিক ইমাম এ বিষয়ে ইজমা (ঐকমত্য) বর্ণনা করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারুল ঈমান ফী তাহসীনিল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ দিদ্দাল আফকারিল হাদামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
عبيد1
… "2.
وأشباه هذه الآية التي أشار إليها كثيرة منها:
قوله تعالى: {وَإِذَا مَا أُنزِلَتْ سُورَةٌ فَمِنْهُم مَّن يَقُولُ أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إِيمَانًا فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُواْ فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَهُمْ يَسْتَبْشِرُونَ* وَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَتْهُمْ رِجْسًا إِلَى رِجْسِهِمْ وَمَاتُواْ وَهُمْ كَافِرُونَ} [التوبة:124-125] .
وقول الله تعالى: {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ السَّكِينَةَ فِي قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ لِيَزْدَادُوا إِيمَاناً مَعَ إِيمَانِهِمْ وَلِلَّهِ جُنُودُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيماً حَكِيماً} [الفتح:4] . ونحوها.
أما الأحاديث فمنها قوله صلى الله عليه وسلم: " من رأى منكم منكراً فليغيره بيده فإن لم يستطع فبلسانه، فإن لم يستطع فبقلبه، وذلك أضعف الإيمان " 3.
--------------------------------------------
উবাইদ ১
… "২.
আর এই আয়াতের অনুরূপ আয়াত, যেদিকে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, তা অনেক। তার মধ্যে রয়েছে:
মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখনই কোনো সূরা অবতীর্ণ করা হয়, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, ‘এটি তোমাদের কার ঈমান বৃদ্ধি করল?’ সুতরাং যারা ঈমান এনেছে, এটি তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়। পক্ষান্তরে যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, এটি তাদের কলুষতার সাথে আরও কলুষতা বৃদ্ধি করেছে এবং তারা কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল।} [আত-তাওবাহ: ১২৪-১২৫]।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাজিল করেছেন যাতে তারা তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বাড়িয়ে নিতে পারে। আর আসমানসমূহ ও জমিনের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।} [আল-ফাতহ: ৪]। এবং এর সদৃশ অন্যান্য আয়াত।
আর হাদিসসমূহের মধ্যে রয়েছে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অন্যায় কাজ দেখে, তবে সে যেন তা নিজের হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়; যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তবে যেন নিজের জিহ্বা দিয়ে; আর যদি সে তাতেও সক্ষম না হয়, তবে যেন নিজের অন্তর দিয়ে; আর এটি হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর।" ৩।
--------------------------------------------