(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الدراري المضية شرح الدرر البهية   (الشوكاني)

القسم: الفقه العام


الكتاب: الدراري المضية شرح الدرر البهية

المؤلف: محمد بن علي بن محمد بن عبد الله الشوكاني اليمني (ت 1250هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية

الطبعة: الطعبة الأولى 1407هـ - 1987م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আদ-দারারি আল-মুদিয়্যাহ শারহু আদ-দুরার আল-বাহিয়্যাহ   (আশ-শাওকানী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


কিতাব: আদ-দারারি আল-মুদিয়্যাহ শারহু আদ-দুরার আল-বাহিয়্যাহ

গ্রন্থকার: মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শাওকানী আল-ইয়ামানি (মৃত্যু ১২৫০ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা প্রকাশনার তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المجلد الأول

‌‌كتاب الطهارة

‌‌باب في أحكام المياه

‌‌اقسام المياه

…

باب في أحكام المياه

والماء طاهر مطهر لا يخرجه عن الوصفين إلا ما غير ريحه أو لونه أو طعمه من النجاسات وعن الثاني ما أخرجه عن اسم الماء المطلق من المغيرات الطاهرة ولا فرق بين قليل وكثير وما فوق القلتين وما دونهما ومتحرك ساكن ومستعمل وغير مستعمل.

هذا الباب قد اشتمل على مسائل.

الأولى: كون الماء طاهرا مطهرا ولا خلاف في ذلك وقد نطق بذلك الكتاب والسنة وكما دل الدليل على كونه طاهرا مطهرا وقام على ذلك الإجماع كذلك يدل على ذلك الأصل والظاهر والبراءة فإن أصل عنصر الماء طاهر مطهر بلا نزاع وكذلك الظهور يفيد ذلك والبراءة الأصلية عن مخالطة النجاسة له مستصحبة.

قوله: لا يخرجه عن الوصفين. أي عن وصف كونه طاهرا وعن وصف كونه مطهرا.

قوله: إلا ما غير ريحه أو لونه أو طعمه1 من النجاسات. هذه المسألة الثانية من مسائل الباب وهي أنه لا يخرج الماء عن الوصفين إلا ما غير أحد أوصافه الثلاثة من النجاسات لا من غيرها وهذا المذهب هو أرجح المذاهب وأقواها

--------------------------------------------

1صورة إدراك تغير الطعم أن يذاق الماء فيوجد متغيرا فيبحث عن سبب تغيره فيعلم أنه من نجس خالطه. لا أنه يطلب ذوق الماء المعروف مخالطته النجاسة لاختبار تغيره بها.
প্রথম খণ্ড

পবিত্রতা বিষয়ক গ্রন্থ (কিতাবুত তাহারাহ)

পানির বিধানাবলি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

পানির প্রকারভেদ

…

পানির বিধানাবলি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

পানি নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী। অপবিত্র বস্তুর (নাজাসাত) মাধ্যমে এর ঘ্রাণ, বর্ণ অথবা স্বাদ পরিবর্তিত হওয়া ছাড়া অন্য কোনো কিছু একে এই উভয় বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত করে না। আর দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য (পবিত্রকারী হওয়া) থেকে সেই সকল পবিত্র পরিবর্তনকারী বস্তু একে বিচ্যুত করে দেয়, যা পানির 'সাধারণ পানি' (মা-এ মুতলাক) নামটিকে বিলুপ্ত করে দেয়। পানির পরিমাণ অল্প হোক বা বেশি, দুই কুল্লার অধিক হোক বা কম, প্রবাহমান হোক বা স্থির এবং ব্যবহৃত (মুসতামাল) হোক বা অব্যবহৃত—এতে কোনো পার্থক্য নেই।

এই পরিচ্ছেদটি কয়েকটি মাসআলা (বিষয়) অন্তর্ভুক্ত করেছে।

প্রথমত: পানি নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী হওয়া; এই বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। কুরআন ও সুন্নাহ এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা প্রদান করেছে। পানি নিজে পবিত্র ও অন্যকে পবিত্রকারী হওয়ার স্বপক্ষে যেমন দলিল বিদ্যমান এবং এর ওপর ইজমা (ঐকমত্য) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তেমনিভাবে 'আসল' (মূল ভিত্তি), 'যাহির' (প্রকাশ্য রূপ) এবং 'বারাআত' (মূল দায়মুক্তি) পানির এই গুণের ওপর প্রমাণ পেশ করে। কেননা, পানির মূল উপাদান কোনো বিতর্ক ছাড়াই পবিত্র ও অন্যকে পবিত্রকারী। অনুরূপভাবে এর প্রকাশ্য রূপও একই অর্থ প্রদান করে এবং অপবিত্রতার সংমিশ্রণ থেকে মুক্ত থাকার বিষয়টিও (মূল অবস্থার ভিত্তিতে) বহাল থাকে।

তাঁর উক্তি: "একে এই উভয় বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত করে না।" অর্থাৎ একে 'পবিত্র' হওয়ার গুণ থেকে এবং 'পবিত্রকারী' হওয়ার গুণ থেকে।

তাঁর উক্তি: "অপবিত্র বস্তুর মাধ্যমে এর ঘ্রাণ, বর্ণ অথবা স্বাদ পরিবর্তিত হওয়া ছাড়া।" এটি পরিচ্ছেদের দ্বিতীয় মাসআলা। বিষয়টি হলো, কেবল অপবিত্র বস্তুর কারণে পানির তিনটি গুণের কোনো একটি পরিবর্তিত হওয়া ছাড়া পানি তার মূল উভয় বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত হয় না, অন্য কোনো (পবিত্র) বস্তুর কারণে নয়। এই মতটিই সর্বাধিক সঠিক ও শক্তিশালী মত।

--------------------------------------------

১. স্বাদ পরিবর্তনের উপলব্ধির রূপ হলো, পানির স্বাদ গ্রহণ করার পর তা পরিবর্তিত পাওয়া গেলে এর পরিবর্তনের কারণ অনুসন্ধান করা এবং এটি নিশ্চিত হওয়া যে, এটি কোনো অপবিত্র বস্তুর সংমিশ্রণের ফলে হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, কোনো পানি অপবিত্রতার সাথে মিশ্রিত হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে জানা থাকা সত্ত্বেও তার পরিবর্তন পরীক্ষা করার জন্য তা স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
والدليل عليه ما أخرجه أحمد وصححه وأبو داود والترمذي وحسنه والنسائي وابن ماجه والدارقطني والبيهقي والحاكم وصححه.

وصححه أيضا يحيى بن معين وابن حزم من حديث أبي سعيد قال: قيل يا رسول الله أنتوضأ من بئر بضاعه1 وهي بئر يلقى فيها الحيض ولحوم الكلاب والنتن فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الماء الطهور لا ينجسه شيء" وقد أعله ابن القطان2 باختلاف في اسم الراوي له عن أبي سعيد واسم أبيه وليس ذلك بعلة فقد اختلف في أسماء كثير من الصحابة والتابعين على أقوال ولم يكن ذلك موجبا للجهالة على ابن القطان نفسه قال: بعد ذلك الإعلال وله طريق أحسن من هذه ثم ساقها عن أبي سعيد وقد قامت الحجة بتصحيح من صححه من أولئك الأئمة وله شواهد.

منها من حديث سهل بن سعد عند الدارقطني ومن حديث ابن عباس عند أحمد وابن خزيمه وابن حبان ومن حديث عائشة عند الطبراني في الأوسط وأبي يعلي والبزار وابن السكن كلها مثل حديث أبي سعيد.

وأخرجه بزيادة الاستثناء الدارقطني من حديث ثوبان بلفظ: "الماء طهور لا ينجسه شيء إلا ما غلب على ريحه أو طعمه".

--------------------------------------------

1قال أبو داود: سمعت قتيبة بن سعيد قال: سألت قيم بئر بضاعة عن عقمها قلت ما أكثر ما يكون فيها الماء؟ قال: إلى العانة. قلت، فإذا نقص؟ قال: دون العورة. قال أبو داود: قدرت بئر بضاعة بردائي فمددته عليها ثم ذرعته، فإذا عرضها ستة أذرع، وسألت الذي فتح لي باب البستان فأدخلني إليه هل غير بناؤه عما كان عليه؟ فقال: لا. ورأيت فيها ماء متغير اللون.

2 عبارة التلخيص: وأعله ابن القطان بجهالة راويه عن أبي سعيد واختلاف الرواة في اسمه واسم بعلة إنما هو حيث يكون عرف الراوي وتميز بمعرف أو كنية أو لقب أو غيرها كمن وقع في اسمه واسم أبيه اختلاف، كأبي هريرة رضي الله عنه، فإنه احتلف في اسمه على نحو من عشرين قولا، وأما هنا فإن الاختلاف فيه اضطراب في السند وهو علة بلا ريب على أن فيه الجهالة وكفى بها علة. فالصواب التعويل على تقويته بالشواهد والله أعلم. من خط محمد العمراني، وقد سلم في "النيل" اعلال ابن القطان.
আর এর দলিল হলো যা আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং সহীহ বলেছেন, এবং আবু দাউদ ও তিরমিযী (যিনি একে হাসান বলেছেন), নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, দারাকুতনী, বায়হাকী এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন।

আর ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং ইবনে হাযমও আবু সাঈদ (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে একে সহীহ বলেছেন। তিনি বলেন: জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি বুদাআহ কূপের পানি দিয়ে ওযু করব? অথচ এটি এমন এক কূপ যাতে ঋতুবতী নারীর রক্তমাখা কাপড়, কুকুরের গোশত এবং দুর্গন্ধময় বস্তু ফেলা হয়। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না।" ইবনে আল-কাত্তান আবু সাঈদের নিকট থেকে বর্ণনাকারীর নাম এবং তার পিতার নামের মতভেদের কারণে একে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন। কিন্তু এটি কোনো ত্রুটি নয়। কেননা অনেক সাহাবী এবং তাবিঈর নামের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে, যা তাদের পরিচয় অজ্ঞাত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। ইবনে আল-কাত্তান নিজেই সেই ত্রুটি বর্ণনার পর বলেছেন: এর একটি সূত্র আছে যা এই সূত্রের চেয়েও উত্তম। এরপর তিনি আবু সাঈদ থেকে সেটি বর্ণনা করেছেন। ইতিপূর্বে যেসব ইমামগণ একে সহীহ বলেছেন, তাদের মাধ্যমে এর প্রামাণ্যতা সাব্যস্ত হয়ে গেছে এবং এর আরও কিছু সমর্থক বর্ণনা রয়েছে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে দারাকুতনীতে বর্ণিত সাহল বিন সা'দ-এর হাদীস, আহমাদ, ইবনে খুযাইমাহ ও ইবনে হিব্বানে বর্ণিত ইবনে আব্বাস-এর হাদীস এবং তাবারানী (আল-আওসাত), আবু ইয়ালা, বাযযার ও ইবনে আস-সাকানে বর্ণিত আয়িশা (রাযিআল্লাহু আনহা)-এর হাদীস। এগুলোর সবই আবু সাঈদের হাদীসের অনুরূপ।

আর দারাকুতনী সাওবান-এর হাদীস থেকে একটি ব্যতিক্রমী অংশসহ এটি বর্ণনা করেছেন যার শব্দগুলো হলো: "পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না, কেবল তা ব্যতীত যা এর গন্ধ অথবা স্বাদকে পরাভূত করে।"

--------------------------------------------

১. আবু দাউদ বলেন: আমি কুতাইবা ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি বুদাআহ কূপের তত্ত্বাবধায়ককে এর গভীরতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। আমি বললাম, এতে সর্বোচ্চ কতটুকু পানি থাকে? তিনি বললেন: নাভি পর্যন্ত। আমি বললাম, যখন কমে যায়? তিনি বললেন: নাভির নিচে। আবু দাউদ বলেন: আমি আমার চাদর দিয়ে বুদাআহ কূপের পরিমাপ করেছিলাম। আমি চাদরটি এর ওপর বিছিয়ে দিয়েছিলাম, তারপর তা মেপে দেখলাম এর প্রস্থ ছয় হাত। আর যে ব্যক্তি আমার জন্য বাগানের দরজা খুলে দিয়ে আমাকে ভেতরে নিয়ে গিয়েছিল, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, এর অবকাঠামো কি পূর্বের তুলনায় পরিবর্তন করা হয়েছে? সে বলল: না। আর আমি এতে বর্ণ পরিবর্তিত পানি দেখেছি।

২. আত-তালখীস-এর ইবারত হলো: ইবনে আল-কাত্তান আবু সাঈদ থেকে হাদীসটির বর্ণনাকারী অজ্ঞাত হওয়া এবং তার নাম ও পিতার নামের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের মতভেদের কারণে একে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন। মূলত এটি তখনই ত্রুটি হিসেবে গণ্য হয় যখন বর্ণনাকারীর পরিচয় কোনো পরিচয়জ্ঞাপক বিষয়, উপনাম, উপাধি বা অন্য কিছুর মাধ্যমে নিশ্চিত না হয়। যেমনটি হয়েছে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার নাম ও পিতার নামের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, যেমন আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু), তাঁর নামের ব্যাপারে প্রায় বিশটি মত পাওয়া যায়। তবে এখানে এই মতভেদ সনদের অস্থিরতা তৈরি করে, যা নিঃসন্দেহে একটি ত্রুটি। এছাড়া এতে বর্ণনাকারী অজ্ঞাত থাকার বিষয়ও রয়েছে, যা একটি ত্রুটি হিসেবে যথেষ্ট। তাই সঠিক বিষয় হলো অন্যান্য সমর্থক বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে একে শক্তিশালী গণ্য করা। আল্লাহই ভালো জানেন। এটি মুহাম্মদ আল-উমরানীর হস্তলিপি থেকে নেওয়া। আর 'আন-নাইল' কিতাবে ইবনে আল-কাত্তানের ত্রুটি নির্দেশকে গ্রহণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وأخرجه أيضا مع الزيادة ابن ماجه والطبراني من حديث أبي أمامه بلفظ: "إن الماء طهور إلا إن تغير ريحه أو لونه أو طعمه بنجاسة تحدث فيه" وفي سندهما من لا يحتج به وقد اتفق أهل الحديث على ضعف هذه الزيادة لكنه قد وقع الإجماع على مضمونها كما نقله ابن المنذر وابن الملقن في البدر المنير والمهدي في البحر فمن كان يقول بحجية الإجماع كان الدليل عنده على ما أفادته تلك الزيادة هو الإجماع ومن كان لا يقول بحجية الإجماع كان هذا الإجماع مفيدا لصحة تلك الزيادة لكونها قد صارت مما أجمع على معناه1 وتلقى القبول فالاستدلال بها لا بالإجماع.

قوله: وعن الثاني ما أخرجه عن اسم الماء المطلق من المغيرات الطاهرة.

هذه المسألة الثالثة من مسائل الباب ووجه ذلك أن الماء الذي شرع لنا التطهر به هو الماء المطلق الذي لم يضف إلى شيء من الأمور التي تخالطه فإن خالطه شيء أوجب إضافته إليه كما يقال: ماء ورد ونحوه فليس هذا الماء المقيد بنسبته إلى الورد مثلا هو الماء المطلق الموصوف بأنه طهور في الكتاب العزيز لقوله: {مَاءً طَهُوراً} وفي السنة المطهرة بقوله: "الماء طهور" فخرج بذلك عن كونه مطهرا ولم يخرج به عن كونه طاهرا لأن الفرض أن الذي خالطه طاهر واجتماع الطاهرين لا يوجب خروجهما عن الوصف الذي كان مستحقا لكل واحد منهما قبل الاجتماع.

قوله: لا فرق بين قليل وكثير هذه المسألة الرابعة من مسائل الباب والمراد بالقلة والكثرة ما وقع من الاختلاف في ذلك بين أهل العلم بعد إجماعهم على أن ما غيرت النجاسة أحد أوصافه الثلاثة ليس بطاهر فقيل إن الكثير ما بلغ

--------------------------------------------

1 هذه الطريقة لا تعرف لتصحيح الحديث عند المحدثين، ولا يصير بذلك أيضا من الملتقى بالقبول عند الأمة ما لم ترده، ولا ضعفته، بل كانوا بين قائل به ومتأول. وهذا قد ضعفته كما ترى فأين القبول؟ والإجماع على مضمونه لا يستلزم أنه بعينه مستند الإجماع كما لا يخفي. من خط العلامة السيد الحسن بن يحيى الكبسي قدس سره العزيز.
ইবনে মাজাহ ও তাবারানী আবু উমামা হতে বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে এটি বর্ধিত অংশসহ বর্ণনা করেছেন, যার শব্দমূল হলো: "পানি পবিত্র, যতক্ষণ না এতে কোনো অপবিত্রতা মিশ্রিত হওয়ার ফলে তার ঘ্রাণ, রঙ অথবা স্বাদ পরিবর্তন হয়ে যায়।" তাদের সনদে এমন বর্ণনাকারী রয়েছে যার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। হাদিস বিশারদগণ এই বর্ধিত অংশটির দুর্বলতার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে এর অন্তর্নিহিত বিষয়ের ওপর ইজমা বা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেমনটি ইবনুল মুনযির, ইবনুল মুলাক্কিন 'আল-বাদরুল মুনীর' গ্রন্থে এবং মাহদী 'আল-বাহর' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং যারা ইজমাকে দলিল হিসেবে গণ্য করেন, তাদের কাছে এই বর্ধিত অংশটি থেকে প্রাপ্ত বিধানটির দলিল হলো ইজমা। আর যারা ইজমাকে দলিল হিসেবে গণ্য করেন না, তাদের মতে এই ইজমা উক্ত বর্ধিত অংশের বিশুদ্ধতা প্রমাণে সহায়ক। কারণ এটি এমন একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে যার অর্থের ওপর ইজমা রয়েছে এবং যা সর্বজনগৃহীত হয়েছে; ফলে এক্ষেত্রে ইজমার পরিবর্তে উক্ত হাদিসটির মাধ্যমেই দলিল পেশ করা হবে।

লেখকের উক্তি: এবং দ্বিতীয় বিষয়টি হলো যা পানিকে 'সাধারণ পানি'র সংজ্ঞার বাইরে নিয়ে যায় এমন পবিত্র পরিবর্তনকারী বস্তুসমূহ।

এটি এই অধ্যায়ের তৃতীয় মাসআলা। এর তাৎপর্য হলো, যে পানি দিয়ে আমাদের পবিত্রতা অর্জনের বিধান দেওয়া হয়েছে তা হলো 'সাধারণ পানি', যা এমন কোনো বস্তুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত নয় যা তাতে মিশ্রিত হয়। যদি এমন কিছু এতে মিশ্রিত হয় যা পানিকে উক্ত বস্তুর দিকে সম্বন্ধ করা আবশ্যক করে দেয়, যেমন বলা হয়: 'গোলাপ জল' বা এই জাতীয় কিছু, তবে এই 'সীমাবদ্ধ পানি' যা উদাহরণস্বরূপ গোলাপের সাথে সম্পৃক্ত, তাকে পবিত্র কুরআনের "পবিত্র পানি" অথবা সুন্নাহর "পানি পবিত্র" বাণীর অন্তর্ভুক্ত 'সাধারণ পানি' বলা যাবে না। ফলে এর মাধ্যমে পানি 'পবিত্রকারী' হওয়ার গুণ হারাবে, কিন্তু তা 'পবিত্র' হওয়া থেকে বিচ্যুত হবে না। কারণ ধারণা করা হয়েছে যে, যা এতে মিশ্রিত হয়েছে তা পবিত্র, আর দুটি পবিত্র বস্তুর একত্রীকরণ তাদের প্রত্যেকের এককভাবে বিদ্যমান গুণকে বিনষ্ট করে না যা মিলনের পূর্বে তাদের মাঝে বিদ্যমান ছিল।

লেখকের উক্তি: স্বল্প এবং অধিকের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এটি এই অধ্যায়ের চতুর্থ মাসআলা। স্বল্পতা ও আধিক্য বলতে এখানে আলিমদের মধ্যকার সেই মতপার্থক্যকে বোঝানো হয়েছে, যা এই বিষয়ে ইজমা হওয়ার পর দেখা দিয়েছে যে—নাপাকি যদি পানির তিনটি গুণের কোনো একটি পরিবর্তন করে দেয় তবে তা পবিত্র থাকে না। এরপর বলা হয়েছে যে, অধিক পানি বলতে যা বোঝায়...

--------------------------------------------

১. হাদিস বিশারদগণের নিকট হাদিস সহীহ করার জন্য এই পদ্ধতিটি পরিচিত নয়। উম্মতের নিকট কোনো বিষয় ততক্ষণ পর্যন্ত 'তিলক্কি বিল কবুল' (গ্রহণযোগ্যতা) লাভ করে না যতক্ষণ না তারা তা প্রত্যাখ্যান করা বা দুর্বল বলা থেকে বিরত থাকে। বরং তারা এর প্রবক্তা অথবা ব্যাখ্যাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর আপনি যেমনটি দেখছেন, এটি দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে, তাহলে গ্রহণযোগ্যতা কোথায়? কোনো বিষয়ের অর্থের ওপর ইজমা বা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া মানেই এই নয় যে, ওই নির্দিষ্ট হাদিসটিই ইজমার ভিত্তি, যেমনটি স্পষ্ট। আল্লামা সাইয়্যিদ হাসান বিন ইয়াহইয়া আল-কিবসি (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন) এর হস্তলিপি হতে।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
قلتين والقليل ما كان دونهما لما أخرجه أحمد وأهل السنن والشافعي وابن خزيمه وابن حبان والحاكم والدارقطني والبيهقي وصححه الحاكم على شرط الشيخين من حديث عبد الله بن عمر بن الخطاب قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يسأل عن الماء يكون في الفلاة من الأرض وما ينوبه من السباع والدواب فقال: "إذا كان الماء قلتين لم يحمل الخبث" وفي لفظ أحمد: "لم ينجسه شيء" وفي لفظ لأبي داود: "لم ينجس" وأخرجه بهذا اللفظ ابن حبان والحاكم وقال: ابن منده إسناد حديث القلتين على شرط مسلم انتهى ولكنه حديث قد وقع الإضطراب في إسناده ومتنه بما هو مبين في مواطنه وقد أجاب من أجاب عن دعوى الاضطراب وقد دل هذا الحديث على أن الماء إذا بلغ قلتين لم يحمل الخبث وإذا كان دون القلتين فقد يحمل الخبث ولكنه كما قيد حديث "الماء طهور لا ينجسه شيء" بتلك الزيادة التي وقع الاجماع عليها كذلك يقيد حديث القلتين بها فيقال: إنه لايحمل الخبث إذابلغ قلتين في حال من الأحوال إلا في حال تغير بعض أوصافه بالنجاسة فإنه حينئذ قد حمل الخبث بالمشاهده وضروة الحس فلامنافاة بين حديث القلتين وبين تلك الزيادة المجمع عليها وأما ما كان دون القلتين فهو مظنة لحمل الخبث.

وليس فيه أنه يحمل الخبث قطعا وبتا ولا أن يحمله من الخبث يخرجه عن الطهورية لأن الخبث المخرج عن الطهورية هو خبث خاص وهو الموجب لتغير أحد أوصافه أو كلها لا الخبث الذي لم يغير.

وحاصله أن ما دل عليه مفهوم حديث القلتين من أن ما دونهما قد يحمل الخبث لايستفاد منه إلا أن ذلك المقدار إذا وقعت فيه نجاسة قد يحملها وأما أنه يصير نجسا خارجا عن كونه طاهرا فليس في هذا المفهوم ما يفيد ذلك ولا ملازمة بين حمل الخبث والنجاسة1 المخرجة عن الطهورية لأن الشارع قد نفى

--------------------------------------------

1 فيه أن الحديث وقع جواب عن سؤال عما تنوبه السباع في الماء أيتوضأ به أم لا؟ وقد علم أن الذي يمنع من التوضؤ بالماء في الشريعة إنما هو النجاسة فتعين حينئذ الاتحاد بين حمل النجاسة =
দুই কুল্লা এবং এর চেয়ে কম পানি হলো সামান্য পানি। কারণ ইমাম আহমাদ, সুনান গ্রন্থকারগণ, শাফি'ঈ, ইবনে খুযাইমাহ, ইবনে হিব্বান, হাকিম, দারাকুতনী এবং বায়হাকী হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং হাকিম শাইখাইনের শর্তানুসারে একে সহীহ বলেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শুনেছি, যখন তাঁকে জনমানবহীন প্রান্তরের সেই পানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছিল যা হিংস্র পশু ও চতুষ্পদ জন্তু ব্যবহার করে। তখন তিনি বললেন: "যখন পানির পরিমাণ দুই কুল্লা হয়, তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না।" আর আহমাদের বর্ণনায় রয়েছে: "কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না।" আবু দাউদের এক বর্ণনায় আছে: "তা অপবিত্র হয় না।" ইবনে হিব্বান ও হাকিম এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে মানদাহ বলেছেন: দুই কুল্লার হাদীসের সনদ মুসলিমের শর্তানুসারে। সমাপ্ত। তবে এটি এমন একটি হাদীস যার সনদ এবং মতন (মূল পাঠ)-এ অস্থিরতা (ইজতিরাব) পরিলক্ষিত হয়েছে, যা স্ব-স্ব স্থানে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। আর যারা এই অস্থিরতার দাবির জবাব দিয়েছেন তারা দিয়েছেন। এই হাদীসটি প্রমাণ করে যে, পানি যখন দুই কুল্লায় পৌঁছায় তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না, আর যখন তা দুই কুল্লার কম হয় তখন তা অপবিত্রতা বহন করতে পারে। কিন্তু "পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে নাপাক করে না" হাদীসটিকে যেমন সেই অতিরিক্ত অংশ দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে যার ওপর ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তেমনি দুই কুল্লার হাদীসকেও তার দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হবে। অতঃপর বলা হবে: পানি যখন দুই কুল্লায় পৌঁছাবে তখন কোনো অবস্থাতেই তা অপবিত্রতা বহন করবে না, তবে যদি নাপাকির কারণে তার কোনো গুণের পরিবর্তন ঘটে, তবে তখন তা চাক্ষুষ দর্শন ও ইন্দ্রিয়লব্ধ নিশ্চিত জ্ঞানের ভিত্তিতে অপবিত্রতা বহন করবে। সুতরাং দুই কুল্লার হাদীস এবং সেই ইজমা-কৃত অতিরিক্ত অংশের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। আর যা দুই কুল্লার চেয়ে কম, তা অপবিত্রতা বহন করার একটি প্রবল সম্ভাবনা রাখে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, তা নিশ্চিতভাবে ও অকাট্যভাবে অপবিত্রতা বহন করবে, আর না এর অর্থ এই যে, অপবিত্রতা বহন করলেই তা পবিত্রতা (পবিত্র করার ক্ষমতা) থেকে বের হয়ে যাবে। কারণ পবিত্রতা থেকে বের করে দেয় এমন অপবিত্রতা হলো বিশেষ এক ধরনের অপবিত্রতা, যা পানির কোনো একটি গুণের বা সমস্ত গুণের পরিবর্তন ঘটায়; এমন অপবিত্রতা নয় যা কোনো পরিবর্তন ঘটায় না।

এর সারকথা হলো, দুই কুল্লার হাদীসের পরোক্ষ অর্থ যা নির্দেশ করে যে—এর চেয়ে কম পানি অপবিত্রতা বহন করতে পারে—তা থেকে কেবল এটাই বোঝা যায় যে, এই পরিমাণ পানিতে যদি নাপাকি পড়ে তবে তা অপবিত্রতা বহন করতে পারে। কিন্তু তা পবিত্র থাকার অবস্থা থেকে বের হয়ে নাপাক হয়ে যাবে, এমন কোনো অর্থ এই পরোক্ষ অর্থ থেকে পাওয়া যায় না। আর অপবিত্রতা বহন করা এবং পবিত্রতা বিনষ্টকারী নাপাকির মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই, কারণ শরীয়ত প্রণেতা তা অস্বীকার করেছেন

--------------------------------------------

১. এতে রয়েছে যে, হাদীসটি সেই প্রশ্নের উত্তরে এসেছে যেখানে হিংস্র পশুর পানি পান করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তা দিয়ে ওযু করা যাবে কি না? আর এটি জানা কথা যে, শরীয়তে পানি দিয়ে ওযু করতে যা বাধা দেয় তা হলো কেবল অপবিত্রতা। সুতরাং তখন নাপাকি বহন করা এবং... এর মধ্যে অভিন্নতা নির্ধারিত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
النجاسة عن مطلق الماء كما في حديث أبي سعيد المتقدم وما يشهد له ونفاها عن الماء المقيد بالقلتين كما في حديث عبد الله بن عمر المتقدم أيضا وكان النفي بلفظ هو أعم صيغ العام فقال: في الأول لا ينجسه شيء وقال: في الثاني أيضا كما في تلك الرواية لم ينجسه شيء فأفاد ذلك أن كل ماء يوجد على وجه الأرض طاهر إلا ما ورد فيه التصريح بما يخصص هذا العام مصرحا بأنه يصير الماء نجسا كما وقع في تلك الزيادة التي وقع الإجماع عليها فإنها وردت بصيغة الاستثناء من ذلك الحديث فكانت من المخصصات المتصلة بالنسبة إلى حديث أبي سعيد ومن المخصصات المنفصلة بالنسبة إلى حديث عبد الله بن عمر على قول الراجح في الأصول وهو أنه يبني العام على الخاص مطلقا فتقرر بهذا أنه لا منافاة بين مفهوم حديث القلتين وبين سائر الأحاديث بل يقال: فيها ما دون القلتين إن حمل الخبث حملا استلزم تغير ريح الماء أو لونه أو طعمه فهذا هو الأمر الموجب للنجاسة والخروج عن الطهورية وإن حمل حملا لا يغير أحد تلك الأوصاف فليس هذا الحمل مستلزما للنجاسة وقد ذهب إلى تقدير القليل بما دون القلتين والكثير بهما الشافعي وأصحابه ومن أهل البيت الناصر والمنصور بالله وذهب إلى تقدير القليل بما يظن استعمال النجاسة باستعماله والكثير بما لا يظن استعمال النجاسة باستعماله ابن عمر ومجاهد ومن أهل البيت الهادي والمؤيد بالله وأبو طالب وقد روى أيضا عن الشافعية والحنفية وأحمد بن

--------------------------------------------

= والخبث وإلا كان الجواب بمعزل عما فيه السؤال وهو خلف من المقال والله أعلم. من خط محمد العمراني.

وقد يقال ليس مراده أن الخبث ليس بنجس أصلا، بل مراده أنه ليس بلازم النجاسة، بل قد قد يكون نجسا وقد لا يكون نجسا، ومدار النجاسة على التغير وعدمه ولا يخفى أن هذا تعطيل لمفهوم التقييد بالقلتين، فإنه يفهم أنه إذا كان دون القلتين فهو يحمل الخبث دائما ليخالف المذكور. أعني إنه لا يحمل الخبث وإلا لم يكن مخالفا بل مسكوتا عنه كما يقوله من ينفي المفهوم ويكون المعول على هذا التقييد بالتغير وعدمه. وحينئذ فلا فرق في ذلك بين ما كان قلتين أو دونهما إذ الحكم فيهما معا النجاسة مع التغير والطهارة مع عدمه. من خط السيد العلامة الحسن بن يحيى قدس سره.
পূর্বোল্লিখিত আবু সাঈদ (রা.) বর্ণিত হাদীস এবং এর সপক্ষীয় দলীলসমূহে সাধারণ পানি থেকে অপবিত্রতাকে নাকচ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে পূর্বোল্লিখিত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর হাদীসেও দুই কুল্লা দ্বারা সীমাবদ্ধ পানির ক্ষেত্রে অপবিত্রতাকে নাকচ করা হয়েছে। এই অস্বীকৃতি বা নাকচ করা হয়েছে এমন শব্দের মাধ্যমে যা ব্যাপক অর্থবোধক শব্দগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। প্রথম বর্ণনায় বলা হয়েছে: "কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না"। দ্বিতীয় বর্ণনায় সেই রেওয়ায়ত অনুযায়ী বলা হয়েছে: "কোনো কিছুই একে অপবিত্র করেনি"। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ভূপৃষ্ঠে বিদ্যমান সকল পানিই পবিত্র, তবে সেই পানি ব্যতীত যার ব্যাপারে এই 'আম' বা ব্যাপকতাকে সুনির্দিষ্ট (খাস) করার সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে; যা পানি নাপাক হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে। যেমনটি সেই বর্ধিত অংশের ক্ষেত্রে ঘটেছে যার ওপর ইজমা বা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কারণ এটি সেই হাদীসের ব্যতিক্রমী রূপ হিসেবে এসেছে। সুতরাং আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদীসের সাপেক্ষে এটি 'মুখাসসিস মুত্তাসিল' (সংযুক্ত বিশিষ্টকারী) এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর হাদীসের সাপেক্ষে এটি উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্রের অগ্রগণ্য মতানুসারে 'মুখাসসিস মুনফাসিল' (বিযুক্ত বিশিষ্টকারী)। আর মূলনীতিটি হলো, সাধারণভাবে 'আম' বা ব্যাপক বিষয়কে 'খাস' বা সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হবে। এর মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত হলো যে, দুই কুল্লার হাদীসের মর্মার্থ এবং অন্যান্য হাদীসের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। বরং বলা যায়: দুই কুল্লার কম পানির ক্ষেত্রে যদি অপবিত্রতা বহন করার অর্থ পানির ঘ্রাণ, বর্ণ বা স্বাদ পরিবর্তিত হওয়াকে বোঝায়, তবে এটিই নাপাক হওয়া এবং পবিত্র করার গুণ থেকে বিচ্যুত হওয়ার আবশ্যকীয় কারণ। আর যদি অপবিত্রতা বহন করার দ্বারা উক্ত গুণাবলীর কোনোটি পরিবর্তিত না হয়, তবে এই বহন করা নাপাকিকে অপরিহার্য করে না। ইমাম শাফেয়ী ও তাঁর অনুসারীগণ এবং আহলে বাইতের নাসের ও মনসুর বিল্লাহ অল্প পানির পরিমাণ দুই কুল্লার কম এবং অধিক পানির পরিমাণ দুই কুল্লা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। অন্যদিকে ইবনে উমর, মুজাহিদ এবং আহলে বাইতের হাদী, মুআইয়িদ বিল্লাহ ও আবু তালিবের মতে অল্প পানি হলো যা ব্যবহার করলে অপবিত্রতা ব্যবহারের সন্দেহ তৈরি হয়, আর অধিক পানি হলো যা ব্যবহারে নাপাকি ব্যবহারের সম্ভাবনা থাকে না। শাফেয়ী, হানাফী এবং আহমদ বিন... এর পক্ষ থেকেও বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

= এবং অপবিত্রতা; অন্যথায় উত্তরটি প্রশ্নের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়বে এবং কথাটি নিরর্থক হবে। আল্লাহই ভালো জানেন। — মুহাম্মদ আল-আমরানির হস্তলিপি থেকে।

বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর উদ্দেশ্য এটি নয় যে অপবিত্রতা মূলত কোনো নাপাক বস্তু নয়, বরং তাঁর উদ্দেশ্য হলো নাপাকির উপস্থিতি মানেই পানি নাপাক হওয়া আবশ্যক নয়। বরং তা কখনও নাপাক হতে পারে আবার কখনও না হতে পারে। নাপাক হওয়ার মানদণ্ড হলো পরিবর্তন হওয়া বা না হওয়া। এটি স্পষ্ট যে, এটি দুই কুল্লার সীমাবদ্ধতার মর্মার্থকে অকার্যকর করে দেয়। কেননা এর দ্বারা বোঝা যায় যে, পানি যদি দুই কুল্লার কম হয় তবে তা সর্বদা নাপাকি বহন করবে যাতে তা উল্লিখিত প্রসঙ্গের বিপরীত হয়। অর্থাৎ এটি নাপাকি বহন করবে নতুবা এটি বিপরীত না হয়ে বরং উহ্য হয়ে থাকবে, যেমনটি তারা বলেন যারা মাফহুম বা অন্তর্নিহিত অর্থকে অস্বীকার করেন এবং এক্ষেত্রে তাদের ভিত্তি হলো পরিবর্তন হওয়া বা না হওয়ার শর্তটি। সেক্ষেত্রে দুই কুল্লা বা তার কমের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না, কারণ উভয় ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের সাথে নাপাকি এবং পরিবর্তন না হওয়ার সাথে পবিত্রতা জড়িত। — সাইয়্যেদ আল্লামা আল-হাসান ইবনে ইয়াহইয়া (রহ.)-এর হস্তলিপি থেকে।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
حنبل ولا أدري هل تصح هذه الرواية أم لا فإن مذاهب هؤلاء مدونة في كتب أتباعهم من أراد الوقوف عليها راجعها واحتج أهل هذا المذهب بمثل قوله: تعالى {وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ} [المدثر:5] وبخبر الاستيقاظ وخبر الولوغ وأحاديث النهي عن البول في الماء الدائم وهي جميعها في الصحيح ولكنها لا تدل على المطلوب ولو فرضنا أن لشيء منها دلالة بوجه ما كان ما أفادته تلك الدلالة مقيدا بما تقدم لأن التعبد إنما هو بالظنون الواقعة على الوجه المطابق للشرع على أنه لا يبعد أن يقال: إن العاقل لا يظن استعمال النجاسة باستعمال الماء إلا إذا خالطت الماء بجرمها أو بريحها أو بلونها أو بطعمها مخالطة ظاهرة توجب ذلك الظن ولاشك ولا ريب أن ما كان من الماء على هذه الصفة نجس لأن المخالطة إن كانت بالجرم فالمتوضئ مستعمل لعين النجاسة وإن كانت المخالطة بالريح أو اللون أو الطعم فلا مخالفة بين هذا المذهب وذلك المذهب الذي رجحناه.

والحاصل أنهم إن أرادوا بقولهم: إن ظن استعمال النجاسة باستعماله فهو القليل وإن لم يظن فهو الكثير ما هو أعلم من بين النجاسة وريحها ولونها وطعمها فلا مخالفة بين هذا المذهب وذلك المذهب الذي رجحناه إلا من جهة أن هؤلاء اعتبروا المظنة وأهل المذهب الأول اعتبروا المئنة ولكن لا يخفي أن المظنة إذا كانت هي الصادرة من غير أهل الوسوسة والشكوك فهي لا تكاد تخالف المئنة في مثل هذا الموضع وإن أرادوا استعمال العين فقط وعدم استعمال العين فقط فهو مذهب مستقل غير ذلك المذهب ولكن الظاهر أنهم أرادوا المعنى الأول ويدل على ذلك أنه قد وقع الإجماع على أن ما غير لون الماء أو ريحه أو طعمه من النجاسات أوجب تنجيسه كما تقدم تقريره فأهل هذا المذهب من جملة القائلين بذلك لدخولهم في الإجماع بل هو مصرح بحكاية الإجماع في البحر كما تقدم فتقرر بهذا أنهم يردون المعنى الأول أعنى الأعم من العين والريح واللون والطعم ثبوتا وانتفاء وحينئذ فلا مخالفة بين المذهبين لأن أهل المذهب الأول لا يخالفون في أن استعمال المطهر لعين النجاسة مع الماء
হাম্বল; এবং আমি জানি না এই বর্ণনাটি সহীহ কি না, কারণ তাদের মাযহাবসমূহ তাদের অনুসারীদের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে। যে ব্যক্তি এ সম্পর্কে জানতে চায়, সে যেন তা দেখে নেয়। আর এই মাযহাবের অনুসারীরা আল্লাহ তাআলার বাণী: "এবং অপবিত্রতা বর্জন করো" [আল-মুদ্দাসসির: ৫], এবং (ঘুম থেকে) জাগ্রত হওয়া সংক্রান্ত হাদিস, (কুকুরের পাত্র) চাটা সংক্রান্ত হাদিস এবং বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করার নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত হাদিসসমূহ দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। আর এ সকল হাদিসই 'সহীহ' গ্রন্থে বিদ্যমান, কিন্তু এগুলো উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর (সরাসরি) দলিল হিসেবে সাব্যস্ত হয় না। যদি আমরা ধরেও নিই যে, এগুলোর কোনো একটির মধ্যে কোনোভাবে দলিল রয়েছে, তবে সেই দালালাত বা ইঙ্গিত যা প্রদান করে তা পূর্বোক্ত বিষয় দ্বারা সীমাবদ্ধ হবে। কেননা ইবাদত পালন কেবল শরীয়তসম্মত পন্থায় অর্জিত প্রবল ধারণার (জন্ন) ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। এ কথা বলাও সুদূরপরাহত নয় যে, একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি পানি ব্যবহারের মাধ্যমে অপবিত্রতা ব্যবহারের ধারণা তখনই করবেন, যখন সেই অপবিত্রতা তার বস্তুগত সত্তা (জরম), ঘ্রাণ, বর্ণ অথবা স্বাদের মাধ্যমে পানির সাথে এমন প্রকাশ্যভাবে মিশে যায় যা সেই ধারণাকে অনিবার্য করে তোলে। আর এতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই যে, যে পানির অবস্থা এমন হবে তা নাপাক। কারণ যদি সেই মিশ্রণ বস্তুগত সত্তার (জরম) মাধ্যমে হয়, তবে ওযুকারী ব্যক্তি মূল অপবিত্রতাকেই (আইনুন নাজাছাহ) ব্যবহার করছে। আর যদি মিশ্রণটি ঘ্রাণ, বর্ণ অথবা স্বাদের মাধ্যমে হয়, তবে এই মাযহাব এবং আমরা যে মাযহাবটিকে প্রাধান্য দিয়েছি তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

সারকথা হলো, তারা যদি তাদের এই উক্তির মাধ্যমে—যে পানি ব্যবহারে অপবিত্রতা ব্যবহারের প্রবল ধারণা হয় তা অল্প পানি, আর যদি ধারণা না হয় তবে তা অধিক পানি—নাপাকির মূল সত্তা, ঘ্রাণ, বর্ণ এবং স্বাদের চেয়েও ব্যাপক কিছু উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন, তবে এই মাযহাব এবং আমরা যে মাযহাবকে প্রাধান্য দিয়েছি তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কেবল পার্থক্য এই দিক থেকে যে, তারা সম্ভাব্য স্থানকে (মাজান্নাহ) বিবেচনায় নিয়েছেন আর প্রথম মাযহাবের অনুসারীরা নিশ্চিত লক্ষণকে (মাইন্নাহ) বিবেচনায় নিয়েছেন। তবে এটি অস্পষ্ট নয় যে, যখন কোনো সংশয়বাদী বা সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও নিকট থেকে প্রবল ধারণা (মাজান্নাহ) উৎপন্ন হয়, তখন এ জাতীয় ক্ষেত্রে তা নিশ্চিত লক্ষণের (মাইন্নাহ) বিপরীত হয় না বললেই চলে। আর যদি তারা কেবল মূল নাপাকি ব্যবহার হওয়া বা না হওয়া উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে এটি একটি স্বতন্ত্র মাযহাব যা অন্য মাযহাব হতে ভিন্ন। কিন্তু বাহ্যত তারা প্রথম অর্থটিই গ্রহণ করেছেন। এর প্রমাণ হলো এই যে, এ বিষয়ে ইজমা (ঐক্যমত) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, যেসব অপবিত্রতা পানির বর্ণ, ঘ্রাণ অথবা স্বাদ পরিবর্তন করে দেয় তা পানিকে নাপাক করে দেয়, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এই মাযহাবের অনুসারীরাও সেই ইজমার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে এ মতের প্রবক্তাদের শামিল। বরং 'আল-বাহর' কিতাবে এই ইজমার বর্ণনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যেমনটি আগে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত হলো যে, তারা প্রথম অর্থটিই উদ্দেশ্য নিয়েছেন, অর্থাৎ নাপাকির অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের ক্ষেত্রে মূল সত্তা, ঘ্রাণ, বর্ণ ও স্বাদের চেয়েও ব্যাপক অর্থ। আর এমতাবস্থায় দুই মাযহাবের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, কারণ প্রথম মাযহাবের অনুসারীরাও পানির সাথে মূল অপবিত্রতা ব্যবহার করার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন না।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
موجب لخروج الماء عن الطهورية خروجا زائدا على خروجه عند استعمال ما فيه مجرد الريح أواللون أو الطعم فتأمل هذا فهو مفيد بل مجموع ما أشتمل عليه هذا البحث في الجمع بين المذاهب المختلفة في الماء وبين الأدلة1 الدالة عليها على

--------------------------------------------

1 لعل مراده بالجمعين المشار إليهما، أما الجمع بين الأدلة فلرده حديث القلتين إلى أن عموم طهارة القلتين مخصوص بما لم يتغير وإلا فنجس كما دونهما، ورده عدم جواز ملابسة ما يظن استعمال النجاسة معه رده إلى أن ظن استعمالهما لا يحصل إلا مع تغير الماء بأحد أوصافه. وأما الجمع بين المذاهب، أعني رد من اعتبره في القليل دون القلتين أو بما فيه ظن استعمال النجاسة إلى اعتبار تغير الماء فلعله بنحو ما ذكر في الأدلة.

وأقول: أما اعتبار ذلك في الجمع بين المذاهب فهو بعيد وكيف لا؟ ومن يقول بنجاسة ما دون القلتين لا يعتبر التغير، ومن يقول بالظن فهو يقول: كل موكول إلى ظنه، اللهم إلا أن يقول: يلزمه ذلك. لأنه لا يحصل الظن إلا مع التغير، وأما الجمع بين الأدلة بما ذكر فقد سبقه إليه القاضي حسين بن ناصر المهلا في الجمع بين حديث القلتين والزيادة في حديث "إلا ما غير"، والمقبلي في حمله اعتبار ظن استعمال النجاسة على التغير وتلازمهما، ولكن لم يقرر ذلك المؤلف على ما ينبغي.

وقد رأيت تقريره على ما تقرر لي فأقول في تقريره: إن حديث القلتين محمول على أنه خرج مخرج الأغلب فيما يتغير وما لا يتغير، وأن المراد به أن الغالب على النجاسة أنها إن وردت على ما هو دون القلتين من الماء غيرته إلى وصفها فيحمل الخبث وإن وردت على قدر قلتين فصاعدا لم تغيره ولم يحمل الخبث بذلك فيكون ارجاعا إلى التغير وعدمه، ولا يخفى أن هذا إن كان فيما ورد في سبب الحديث فقط وهو ماء الفلاة وما ينوبه من نجاسة السباع فهو قريب في أغلبية ذلك فيما يستنقع من ماء المطر فيها وفيما تلقى السباع فيه، ولكن فيه نظر للعموم على السبب. وفيه خلاف فيما كان جواب سؤال، وأيضا يكون كالمظنة لربط التغير بما دون القلتين.

وفي حديث القلتين من الاحتمال في المعنى ما لا يصلح أن يكون مظنة لاختلاف العلامات وغموض معنى حمل الخبث وبتردد هل بلغ الماء قلتين؟ يعني في زيادة أو نقصان مع كزن التغير إلى الوصف ظاهر لا يحتاج إلى بيان مظنة. ولهذا كان الرد إليه أرجح من تخصيص عموم قوله: "لا ينجسه شيء". بالمفهوم المذكور لضعفه واحتماله. وأما أدلة القائل بإعمال الظن في المنع مما تستعمل النجاسة باستعمال نحو قوله تعالى: {وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ} [المدثر:5] وحديثي الاستيقاظ والولوغ في المنع عما لابسته لقلته، لكونه في إناء، والنهي عن البول في الماء الدائم، فرد هذا إلى أنه حيث تغير الماء فيه بعض الخفاء، ولكن يقال أيضا ليس بلازم فيها ما ذكرتم من ظن استعمال النجاسة باستعماله، فالأظهر فيها أن النهي للتعبد ونقول: إن الظن الممنوع فيه=
পানিকে পবিত্রতা থেকে এমনভাবে বের করে দেওয়া যা শুধুমাত্র ঘ্রাণ, রঙ বা স্বাদের পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যবহারের চেয়েও বেশি। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন, এটি অত্যন্ত উপকারী। বরং এই গবেষণায় পানির বিষয়ে বিভিন্ন মাযহাবের সমন্বয় এবং সেগুলোর স্বপক্ষে দলিলসমূহের সমন্বয়ের যে নির্যাস রয়েছে তা

--------------------------------------------

১. সম্ভবত উল্লিখিত দুই প্রকার সমন্বয়ের মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য হলো: দলিলের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তিনি কুল্লাহয়াইন (দুই মটকা) সংক্রান্ত হাদিসটিকে এই অর্থে গ্রহণ করেছেন যে, দুই মটকা পানির পবিত্রতার ব্যাপকতা সেই পানির সাথে নির্দিষ্ট যা পরিবর্তিত হয়নি, অন্যথায় এর চেয়ে কম পানির মতো এটিও অপবিত্র হয়ে যাবে। আর যেখানে অপবিত্রতা ব্যবহারের প্রবল ধারণা থাকে তার সাথে সংস্পর্শে আসাকে তিনি এই দিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন যে, পানির গুণাবলির কোনো একটির পরিবর্তন ছাড়া অপবিত্রতা ব্যবহারের এই ধারণা তৈরি হয় না। আর মাযহাবসমূহের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে—অর্থাৎ যারা স্বল্প পরিমাণ পানির ক্ষেত্রে (যা দুই মটকার কম) অথবা যেখানে অপবিত্রতা ব্যবহারের ধারণা থাকে সেখানে একে ধর্তব্য মনে করেন তাদের মতকে পানির পরিবর্তনের দিকে ফিরিয়ে নেয়া—সম্ভবত তা দলিলের ক্ষেত্রে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেই রকমই।

আমি বলছি: মাযহাবসমূহের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এটিকে ধর্তব্য মনে করা অনেক দূরবর্তী বিষয়, আর তা কেন হবে না? কারণ যারা দুই মটকার কম পানিকে অপবিত্র মনে করেন তারা পরিবর্তনের শর্ত করেন না। আর যারা ধারণা বা অনুমানের কথা বলেন, তারা বলেন: সবকিছু ব্যক্তির অনুমানের ওপর নির্ভরশীল। তবে যদি তিনি বলেন: এটি তার জন্য আবশ্যক, কারণ পরিবর্তন ছাড়া তো অনুমান তৈরি হয় না। আর উল্লিখিত পন্থায় দলিলসমূহের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কাজি হুসাইন বিন নাসির আল-মুহলা তাকে ছাড়িয়ে গেছেন, যিনি দুই মটকার হাদিস এবং "যা পরিবর্তিত হয়েছে তা ছাড়া" হাদিসের বর্ধিত অংশের মধ্যে সমন্বয় করেছেন। এবং আল-মাকবিলি অপবিত্রতা ব্যবহারের অনুমানের বিষয়টিকে পরিবর্তন এবং এই দুইয়ের অবিচ্ছেদ্যতার ওপর প্রয়োগ করেছেন। তবে বর্তমান লেখক বিষয়টি সেভাবে যথাযথভাবে উপস্থাপন করেননি যেমনটি হওয়া উচিত ছিল।

আমি যেভাবে বিষয়টি উপলব্ধি করেছি সেভাবে এটি উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাই আমি এর ব্যাখ্যায় বলছি: দুই মটকার হাদিসটিকে অধিকাংশ অবস্থার প্রেক্ষাপটে ধরা হয়েছে—অর্থাৎ যা পরিবর্তিত হয় এবং যা হয় না তার ক্ষেত্রে। এর উদ্দেশ্য হলো, নাপাকির সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো এটি যদি দুই মটকার কম পানির ওপর পড়ে তবে একে নিজের গুণের দিকে পরিবর্তন করে দেয় এবং পানিটি নাপাক হয়ে যায়। আর যদি তা দুই মটকা বা তার বেশি পানির ওপর পড়ে তবে তা পানির পরিবর্তন ঘটায় না এবং এর ফলে তা নাপাকও হয় না। সুতরাং একে পরিবর্তন হওয়া বা না হওয়ার বিষয়ের দিকেই ফিরিয়ে নেওয়া হলো। এটি স্পষ্ট যে, যদি এটি কেবল হাদিসটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতো—যা হলো মরুভূমির পানি এবং সেখানে হিংস্র প্রাণীর অপবিত্রতার বিষয়টি—তবে বৃষ্টির পানি জমে থাকা গর্তে এবং হিংস্র প্রাণীদের সেখানে আসার ক্ষেত্রে অধিকাংশ অবস্থায় এটি যুক্তিসঙ্গত হতো। কিন্তু কেবল কারণের ওপর ভিত্তি করে ব্যাপকতা প্রদানের ক্ষেত্রে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। আবার যা প্রশ্নের উত্তর হিসেবে এসেছে সে ক্ষেত্রেও মতভেদ রয়েছে। এছাড়া পরিবর্তনের বিষয়টি দুই মটকার কম পানির সাথে সম্পৃক্ত করা কেবল একটি অনুমানের মতো হয়।

আর দুই মটকার হাদিসে অর্থের এমন কিছু সম্ভাবনা রয়েছে যা চিহ্নের ভিন্নতা, 'নাপাকি বহন করা'র অর্থের অস্পষ্টতা এবং পানি কি দুই মটকা পূর্ণ হয়েছে কি না (অর্থাৎ পরিমাণে কম না বেশি) সে বিষয়ে দ্বিধা থাকার কারণে একে সুনির্দিষ্ট ভিত্তি হিসেবে ধরা সঠিক নয়। অথচ গুণের পরিবর্তন হওয়া একটি প্রকাশ্য বিষয় যা প্রমাণের জন্য কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। একারণেই পরিবর্তনের বিষয়ের দিকে ফিরে যাওয়াটি "কোনো কিছুই পানিকে অপবিত্র করে না" এই ব্যাপকতা সম্পন্ন কথার ওপর উক্ত দুর্বল ও সম্ভাব্য ধারণার মাধ্যমে নির্দিষ্টতা আরোপ করার চেয়ে বেশি অগ্রাধিকারযোগ্য। আর যারা নাপাকি ব্যবহারের অনুমানের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে দলিল দেন—যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং অপবিত্রতা বর্জন করো} [আল-মুদ্দাসসির: ৫], এবং ঘুম থেকে জাগা ও কুকুরের মুখ দেওয়ার হাদিস দুটি যেখানে পানি অল্প হওয়ায় ও পাত্রে থাকায় এর সাথে যা কিছু মিশে যায় সে বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, কিংবা আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করার নিষেধাজ্ঞা—এসব বিষয়কে পানির পরিবর্তনের বিষয়ের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। তবে ইহাও বলা হয় যে, আপনাদের উল্লিখিত 'নাপাকি ব্যবহারের অনুমান' বিষয়টি এখানে আবশ্যক নয়। সুতরাং এ ক্ষেত্রে অধিক স্পষ্ট কথা হলো এই নিষেধাজ্ঞাটি নিছক ইবাদতগত। আর আমরা বলি: যে অনুমানটি এখানে নিষিদ্ধ তা হলো=
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
هذه الصورة التي لخصتها مما لم أقف عليه لأحد من أهل العلم وهذه المسألة1 هي من المضايق التي يتعثر في ساحاتها كل محقق ويتبلد عند تشعب طرائقها كل مدقق وقد حررتها في سائر مؤلفاتي تحريرات مختلفة لهذه العلة وأطلت الكلام عليها في طيب النشر.

وقد استدل بعض أهل العلم لهذا المذهب بمثل حديث: "استفت قلبك ولو أفتاك المفتون" ومثل حديث: "دع ما يريبك إلا ما لا يريبك" ولا يستفاد منها إلا أن التورع عند الظن من الإقدام أولى وأهل هذا المذهب يوجبون العمل بذلك الظن حتما وجزما وقد عرفت أن أدلة المذهب الأول على الوجه الذي لخصناه تدل على المذهب الثاني فإبعاد النجعة إلى مثل حديث: "استفت قلبك ودع ما يريبك" ليس كما ينبغي فإن قيل أنه قصد الإستدلال على مجرد العمل بالظن من غير نظر إلى هذه المسالة فيقال: أدلة العمل بالظن في الكتاب والسنة أكثر من أن تحصر وأكثر منها أدلة النهي عن العمل به وهكذا التعويل على حديث الولوغ والإستيقاظ نحو ذلك لا يفيد وقد حكى تحديد الماء الكثير أقوال منها أن الكثير من المستبحر وقيل ما إذا حرك طرفه لم يتحرك الطرف الآخر وقيل ما كان مساحة مكانه كذا وقيل غير ذلك وهذه الأقوال ليس عليها أثارة من علم بل هي خارجة عن باب الرواية المقبولة والدراية المعقولة.

--------------------------------------------

= استعمال النجاسة باستعمال، هو لازم للتغير إذ لا يحصل إلا معه سيما فيما لا يظهر فيه التغير كقطرة بول في بحر. من خط سيدي العلامة الحسن بن يحيى الكبسي روح الله روحه.

1 أما أنا فأقول، قد اضطربت أمواج محيط شيخنا في هذا البحث، فلم يصف مورده عن كدر فتفطن وارجع النظر فيه كرتين. ومن خط العمراني. فإنه لم يتقرر في كلامه معنى حمل الماء للخبث وعدمه، بل قسم حمل الخبث إلى قسمين حمل مع التغير، وحمل له مع عدمه، فلم يقع فرق بين مفهوم حديث القلتين ومنطوقه. ومن خط سيدي العلامة حسن بن يحيى قدس سره. وأقول من تأمل حق التأمل لم يجد في كلام المؤلف اضطرابا. بل هذا التقرير على أحسن الوجوه وأكملها.
এই চিত্রটি যা আমি সারসংক্ষেপ করেছি, তা ইতিপূর্বে বিজ্ঞ আলিমগণের কারো কাছ থেকে আমি পাইনি। আর এই মাসআলাটি১ এমন এক সংকীর্ণ পথ যেখানে প্রত্যেক গবেষক হোঁচট খান এবং এর বিবিধ পথের শাখা-প্রশাখার সামনে প্রত্যেক সূক্ষ্মদর্শী বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেন। এই কারণেই আমি আমার অন্যান্য সকল গ্রন্থে একে বিভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করেছি এবং ‘ত্বইয়্যিবুন নাশর’ গ্রন্থে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছি।

কতিপয় আলিম এই মাযহাবের সপক্ষে এই হাদীসের ন্যায় দলিল পেশ করেছেন: "তোমার অন্তরের কাছে ফতোয়া চাও, যদিও মুফতিগণ তোমাকে ফতোয়া প্রদান করেন।" এবং এই হাদীসের মতো: "সন্দেহযুক্ত বিষয় ত্যাগ করে তা গ্রহণ করো যাতে তোমার সন্দেহ নেই।" অথচ এ থেকে কেবল এতটুকুই অনুধাবিত হয় যে, ধারণার বশবর্তী হয়ে কোনো কাজে প্রবৃত্ত হওয়ার চেয়ে তাকওয়া বা সতর্কতা অবলম্বন করা উত্তম। কিন্তু এই মাযহাবের অনুসারীরা সেই ধারণার ওপর আমল করাকে অপরিহার্য ও অকাট্য বলে মনে করেন। আপনি ইতিপূর্বেই জেনেছেন যে, প্রথম মাযহাবের যে দলিলগুলো আমরা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি, সেগুলো দ্বিতীয় মাযহাবের দিকেই নির্দেশ করে। তাই "তোমার অন্তরের কাছে ফতোয়া চাও এবং সন্দেহযুক্ত বিষয় বর্জন করো" এর মতো হাদীসগুলোর দিকে দূরবর্তী ইঙ্গিত করা সমীচীন নয়। যদি বলা হয় যে, তিনি এই মাসআলাটি বিবেচনা না করেই কেবল ধারণার (জন্ন) ওপর আমল করার সপক্ষে দলিল দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন, তবে উত্তরে বলা হবে: কুরআন ও সুন্নাহতে ধারণার ওপর আমল করার সপক্ষে দলিলসমূহ অগণিত, কিন্তু তার চেয়েও বেশি হলো ধারণার ওপর আমল করার নিষেধাজ্ঞার দলিলসমূহ। একইভাবে (কুকুরের) পাত্রে মুখ দেওয়া কিংবা (ঘুম থেকে) জাগ্রত হওয়ার হাদীসের ওপর নির্ভর করাও এ ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ নয়। ‘প্রচুর পানি’র (মা’উল কাসীর) সীমা নির্ধারণে বিভিন্ন মত বর্ণিত হয়েছে; যেমন— কেউ বলেছেন, যা সমুদ্রের মতো বিশাল; কেউ বলেছেন, যার এক প্রান্ত নাড়া দিলে অন্য প্রান্ত নড়ে না; কেউ বলেছেন, যার ক্ষেত্রফল এত এত; এবং এর বাইরেও আরও অনেক কথা বলা হয়েছে। অথচ এই মতগুলোর স্বপক্ষে জ্ঞানের লেশমাত্র নেই, বরং এগুলো গ্রহণযোগ্য বর্ণনা (রিওয়ায়াত) এবং যুক্তিগ্রাহ্য অনুধাবনের (দিরায়াত) বহির্ভূত।

--------------------------------------------

= অপবিত্রতা ব্যবহারের সাথে ব্যবহারের যোগসূত্র রয়েছে, যা পরিবর্তনের (তাগায়্যুর) জন্য আবশ্যক; কারণ পরিবর্তন ছাড়া এটি ঘটে না, বিশেষ করে যেখানে পরিবর্তন প্রকাশ পায় না, যেমন সমুদ্রে এক ফোঁটা প্রস্রাব। এটি আমাদের সরদার আল্লামা হাসান ইবনে ইয়াহইয়া আল-কিবসি (আল্লাহ তাঁর রুহকে শান্তিতে রাখুন)-এর হস্তলিপি থেকে।

১. আমি বলি, এই গবেষণায় আমাদের শাইখের জ্ঞানের সমুদ্রের ঢেউগুলো অস্থির হয়ে উঠেছে, ফলে এর প্রস্রবণটি পঙ্কিলতামুক্ত হয়ে স্বচ্ছ হতে পারেনি; সুতরাং অভিনিবেশ সহকারে লক্ষ্য করুন এবং পুনরায় এতে দৃষ্টিপাত করুন। আর এটি আল-উমরানির হস্তলিপি থেকে: কেননা তাঁর বক্তব্যে পানি অপবিত্রতা বহন করা বা না করার অর্থটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং তিনি অপবিত্রতা বহন করাকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন—পরিবর্তনের সাথে নাপাকি বহন করা এবং পরিবর্তন ছাড়াই তা বহন করা; ফলে 'কুল্লাতাইন' হাদীসের মর্মার্থ (মাফহুম) ও শাব্দিক অর্থের (মানতুক) মাঝে কোনো পার্থক্য থাকেনি। এটি সাইয়্যিদি আল্লামা হাসান ইবনে ইয়াহইয়ার হস্তলিপি থেকে (আল্লাহ তাঁর রহস্য পবিত্র করুন)। আর আমি বলি, যে ব্যক্তি যথার্থভাবে অনুধাবন করবেন, তিনি লেখকের বক্তব্যে কোনো অসংগতি পাবেন না। বরং এই উপস্থাপনটি সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ পন্থায় সম্পন্ন হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
قوله: ومتحرك وساكن وجه ذلك أن سكونه وإن كان قد ورد النهي عن التطهر به حاله فإن ذلك لا يخرجه عن كونه طهورا لأن وصف كونه طهورا بمجرد تحركه.

وقد دلت الأحاديث على أنه لا يجوز التطهير بالماء الساكن ما دام ساكنا1 كحديث أبي هريرة عند مسلم رضي الله عنه وغيره أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لايغتسلن أحدكم في الماء الدائم وهو جنب" فقالوا: يا أبا هريرة كيف يفعل قال: يتناوله تناولا وفي لفظ لأحمد وأبى داود: "لا يبولن أحدكم في الماء الدائم ولا يغتسل فيه من الجنابه" وفي لفظ للبخاري: "لا يبولن أحدكم في الماء الدائم الذي لا يجري ثم يغتسل فيه" وفي لفظ للترمذي: "ثم يتوضأ منه" وغير هذه الروايات التي يفيد مجموعها النهي عن البول في الماء الدائم على إنفراده والنهي عن الإغتسال فيه على انفراده والنهي عن مجموعة الأمرين ولا يصح أن يقال: إن روايتي الإنفراد مقيدتان بالإجتماع لأن البول في الماء على انفراده لا يجوز فأفاد أن هذا الإغتسال أوالوضوء في الماء الدائم من دن بول فيه غير جائز فمن لا يجد إلا ماء ساكنا وأراد أن يتطهر منه فعليه أن يحتال قبل ذلك بأن يحركه حتى يخرج من وصف كونه ساكنا ثم يتوضأ منه وأما أبو هريرة فقد حمل النهي على الإنغماس في الماء الدائم ولهذا لما سئل كيف يفعل قال: يتناوله تناولا ولكنه لا يتم ذلك في الوضوء فإنه لا إنغماس فيه بل هو يتناوله تناولا من الإبتداء فالأولى تحريك الماء قبل الشروع في الطهارة ثم يتطهر به.

وقد ذهب الجمهور إلى خلاف ما دلت عليه هذه الروايات فلم يفرقوا بين المتحرك والساكن ومنهم من قال: أن هذه الروايات محمولة على الكراهة فقط ولا

--------------------------------------------

1 لا يذهب عليك أن قوله صلى الله عليه وسلم: "لا يغتسل أحدكم في الماء الدائم وهو جنب" مشروطة عامة. يعني أنه حكم فيها بالمنع من الاغتسال على الماء ما دام وصفه وهو الديمومة وهو معنى خروجه عن كونه مطهرا. والقول بعدم خروجه عنها ح. معللا بسرعة الزوال خلف من المقال وضرورة بطلان قولك المحمر وجهه ليس بخجل لسرعة زوال الحمرة المحكوم عليها بالخجل ما دامت. والله أعلم من خط العمراني.
তাঁর কথা: এবং চলমান ও স্থির। এর কারণ হলো, স্থির থাকা অবস্থায় তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করার ব্যাপারে নিষেধ আসলেও, তা একে পবিত্রকারী হওয়া থেকে বের করে দেয় না। কেননা স্রেফ নড়াচড়ার মাধ্যমেই তা পবিত্রকারী হিসেবে গণ্য হয়।

হাদিসসমূহ প্রমাণ করেছে যে, স্থির পানি যতক্ষণ স্থির থাকে ততক্ষণ তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা জায়েজ নয়।১ যেমন মুসলিম ও অন্যদের কিতাবে বর্ণিত আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস, যেখানে নবী (সা.) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন জুনুবী অবস্থায় স্থির পানিতে গোসল না করে।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আবু হুরায়রা! সে তবে কী করবে? তিনি বললেন: সে পানি তুলে নিয়ে ব্যবহার করবে। আহমাদ ও আবু দাউদের বর্ণনায় রয়েছে: "তোমাদের কেউ যেন স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে এবং তাতে জানাবাত থেকে গোসল না করে।" বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে: "তোমাদের কেউ যেন এমন স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে যা প্রবাহিত হয় না, অতঃপর তাতে গোসল করে।" তিরমিযীর বর্ণনায় রয়েছে: "অতঃপর তা থেকে ওজু করে।" এসব বর্ণনা এবং এর বাইরে আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে যার সমষ্টিগত অর্থ হলো, এককভাবে স্থির পানিতে প্রস্রাব করা নিষেধ, এককভাবে তাতে গোসল করাও নিষেধ, এবং উভয়টি একত্রে করাও নিষেধ। আর এটি বলা সঠিক হবে না যে, এককভাবে নিষেধাজ্ঞার বর্ণনা দুটি একত্রে করার বর্ণনার দ্বারা শর্তযুক্ত; কারণ পানিতে এককভাবে প্রস্রাব করাও জায়েজ নয়। সুতরাং এটি সাব্যস্ত হলো যে, প্রস্রাব করা ছাড়াই স্থির পানিতে গোসল বা ওজু করা জায়েজ নয়। অতএব যার কাছে স্থির পানি ছাড়া অন্য কিছু নেই এবং সে তা দিয়ে পবিত্র হতে চায়, তবে তাকে কোনো কৌশল অবলম্বন করতে হবে—যেমন পানিটি নাড়িয়ে দেওয়া যাতে সেটি স্থির থাকার গুণ থেকে বের হয়ে আসে—অতঃপর তা থেকে ওজু করবে। তবে আবু হুরায়রা (রা.) এই নিষেধকে স্থির পানিতে ডুব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। এই কারণেই যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো সে কী করবে, তিনি বললেন: পানি তুলে নিয়ে ব্যবহার করবে। কিন্তু ওজুর ক্ষেত্রে এটি পুরোপুরি খাটে না, কারণ ওজুতে তো ডুব দেওয়া হয় না, বরং শুরু থেকেই পানি তুলে নিয়ে ব্যবহার করা হয়। তাই পবিত্রতা শুরু করার আগে পানি নাড়িয়ে নেওয়া এবং এরপর তা দিয়ে পবিত্র হওয়া উত্তম।

জমহুর উলামাগণ এই বর্ণনাগুলোর নির্দেশনার বিপরীতে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, ফলে তাঁরা চলমান ও স্থির পানির মধ্যে পার্থক্য করেননি। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এই বর্ণনাগুলোকে কেবল মাকরূহ হওয়ার ওপর বহন করা হবে এবং...

--------------------------------------------

১ আপনার নিকট যেন এটি অস্পষ্ট না থাকে যে, নবী (সা.)-এর বাণী: "তোমাদের কেউ যেন জুনুবী অবস্থায় স্থির পানিতে গোসল না করে" একটি সাধারণ শর্তযুক্ত বিষয়। অর্থাৎ, তিনি এতে স্থিরতার গুণ বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত সেই পানি দিয়ে গোসলের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুকুম দিয়েছেন, যার অর্থ হলো পানিটি পবিত্রকারী হওয়ার অবস্থা থেকে বের হয়ে যাওয়া। আর এটি পবিত্রকারী হওয়া থেকে বের হয় না—এই বলে দ্রুত অবস্থার পরিবর্তন ঘটার দোহাই দেওয়া কথার মারপ্যাঁচ মাত্র। এটি অনেকটা এমন অসার কথা যে, কারো মুখ লাল হওয়া সত্ত্বেও বলা যে সে লজ্জিত নয়, এই যুক্তিতে যে মুখ লাল হওয়ার বিষয়টি দ্রুত চলে যায়; অথচ যতক্ষণ লাল বর্ণ থাকে ততক্ষণ তাকে লজ্জিত হিসেবেই গণ্য করা হয়। আল্লাহ ভালো জানেন। (ইমরানীর পাণ্ডুলিপি থেকে)।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وجه لذلك وقد قيل إن المستبحر مخصوص من هذا بالإجماع والراجح أن الماء الساكن1 لا يحل التطهر به مادام ساكنا فإذا تحرك عاد له وصفه الأصلي وهو كونه مطهرا وهذه هي المسألة الخامسة من مسائل الباب.

قوله: مستعمل وغير مستعمل. هذه المسأله السادسة من مسائل الباب وقد وقع الاختلاف بين أهل العلم في الماء المستعمل لعبادة من العبادات هل يخرج بذلك عن كونه مطهرا أم لا فحكى عن أكثر العترة وأحمد بن حنبل والليث والأوزاعي والشافعي ومالك في إحدى الروايتين عنهما وأبي حنيفة في رواية عنه أن الماء المستعمل غير مطهر واستدلوا بما تقدم من حديث النهي عن التطهر به ليست كون ذلك الماء مستعملا بل كونه ساكنا وعلة السكون لا ملازمة بينها وبين الإستعمال واحتجوا أيضا بما ورد من النهي عن الوضوء بفضل وضوء المرأة ولا تنحصر علة ذلك في الإستعمال كما سيأتي تحقيقه إن شاء الله فلا يتم الاستدلال بذلك لإحتماله ولو كانت العلة الاستعمال لم يختص النهي بمنع الرجل من الوضوء بفضل المرأة وبالعكس بل كان النهي سيقع من الشارع لكل أحد عن كل فضل ومن جملة ما استدلوا به أن السلف كانوا يكملون الطهارة بالتيمم عند قلة الماء لا تساقط منه وهذه حجة ساقطة لا ينبغي التعويل على مثلها في إثبات الأحكام الشرعية فعلى هذا المستدل أن يوضح هل كان هذا التكميل يفعله جميع السلف أو بعضهم والأول باطل والثاني لا ندري من هو فليبين لنا من هو على أنه لا حجة إلا الإجماع عند من يحتج بالإجماع وقد استدلوا بأدلة هي أجنبية عن محل النزاع مثل حديث غسل اليد بعد الاستيقاظ قبل إدخالها الإناء ونحوه فالحق أن المستعمل طاهر مطهر عملا بالأصل وبالأدلة الدالة على

--------------------------------------------

1ظاهر هذا أنه حمل معنى الدائم على الساكن عن الحركة. والماء جسم سيال لا يكتنفه حقيقة سكون. والأظهر أن المراد بالدائم الساكن عن الجري بدليل رواية في الماء الدائم الذي لا يجري. فلا يخرج من النهي بمجرد تحريكه. بل لا بد من جريه، وأيضا فتحركه ثم عوده بسرعة لا يخرجه عن كونه دائما بخلاف إذا جرى. من خط العلامة حسن بن يحيى قدس سره.
এর স্বপক্ষে একটি দিক রয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, বিশাল জলাশয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এর থেকে স্বতন্ত্র। তবে শক্তিশালী মত হলো, স্থির পানি ১ যতক্ষণ স্থির থাকে ততক্ষণ তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ নয়। যখন তা গতিশীল হয়, তখন তা তার মূল বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ পবিত্রকারী হওয়ার গুণে ফিরে আসে। এটি এই অধ্যায়ের মাসআলাসমূহের মধ্যে পঞ্চম মাসআলা।

লেখকের কথা: ব্যবহৃত এবং অব্যবহৃত। এটি এই অধ্যায়ের ষষ্ঠ মাসআলা। কোনো ইবাদতের কাজে ব্যবহৃত পানির পবিত্র করার গুণ কি এর মাধ্যমে চলে যায় নাকি যায় না, এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আহলে বাইতের অধিকাংশ সদস্য, আহমাদ ইবনে হাম্বল, লাইস, আওযাঈ, শাফিঈ এবং মালিকের একটি বর্ণনা ও আবু হানিফার একটি বর্ণনা অনুযায়ী বর্ণিত হয়েছে যে, ব্যবহৃত পানি অন্যকে পবিত্রকারী নয়। তারা দলিল হিসেবে পূর্বে উল্লিখিত সেই হাদিসটি পেশ করেছেন যাতে তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জনে নিষেধ করা হয়েছে; সেখানে কারণটি পানি ব্যবহৃত হওয়া নয়, বরং তা স্থির থাকা। স্থির থাকার কারণের সাথে ব্যবহারের কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই। তারা আরও দলিল দিয়েছেন নারীর ওযুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওযু করার নিষেধাজ্ঞার হাদিস দ্বারা। এই নিষেধাজ্ঞার কারণ শুধু পানির ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত আলোচিত হবে। সুতরাং এই দলিলটি অসম্পূর্ণ, কারণ এতে একাধিক সম্ভাবনা রয়েছে। যদি কারণটি কেবল পানির ব্যবহার হতো, তবে এই নিষেধাজ্ঞা কেবল পুরুষকে নারীর অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওযু করতে এবং এর বিপরীত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত না; বরং শরীয়ত প্রবর্তক প্রত্যেকের জন্য যে কোনো অবশিষ্ট পানি ব্যবহার নিষিদ্ধ করতেন। তাদের পেশকৃত দলিলের মধ্যে এটিও রয়েছে যে, সালাফগণ (পূর্বসূরিগণ) পানির স্বল্পতার সময় পানি দিয়ে পবিত্রতা পূর্ণ করার ক্ষেত্রে তায়াম্মুম করতেন, কিন্তু ঝরে পড়া পানি ব্যবহার করতেন না। এটি একটি অসার দলিল, শরয়ী বিধান প্রমাণের জন্য এমন বিষয়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। সুতরাং এই দলিল প্রদানকারীর স্পষ্ট করা উচিত যে, এই পূর্ণ করার কাজটি কি সমস্ত সালাফ করেছিলেন নাকি তাদের কেউ কেউ? প্রথমটি বাতিল এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে আমরা জানি না তারা কে। সুতরাং তিনি আমাদের নিকট স্পষ্ট করুন যে তারা কে। তাছাড়া যারা ইজমাকে দলিল মনে করেন, তাদের নিকট ইজমা ব্যতীত অন্য কিছু দলিল নয়। তারা এমন কিছু দলিল দিয়েছেন যা বিতর্কের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, যেমন ঘুম থেকে জাগার পর পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর আগে হাত ধোয়ার হাদিস এবং এই জাতীয় অন্যান্য দলিল। সুতরাং সত্য হলো, ব্যবহৃত পানি পবিত্র এবং পবিত্রকারী; মূল বিধান এবং সংশ্লিষ্ট দলিলের ওপর ভিত্তি করে...

--------------------------------------------

১. এর বাহ্যিক দিক হলো, তিনি 'দাইম' শব্দটিকে নড়াচড়া থেকে স্থির অর্থে গ্রহণ করেছেন। অথচ পানি এমন এক তরল পদার্থ যা প্রকৃত স্থিরতা দ্বারা বেষ্টিত নয়। অধিকতর স্পষ্ট হলো, 'দাইম' বলতে প্রবাহহীনতা বোঝানো হয়েছে, যার প্রমাণ হলো "স্থির পানি যা প্রবাহিত হয় না" সংবলিত হাদিসের বর্ণনাটি। সুতরাং কেবল নাড়া দিলেই তা নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয় না, বরং তাকে প্রবাহিত হতে হবে। তদুপরি, পানির নড়াচড়া এবং দ্রুত পুনরায় স্থির হওয়া তাকে 'দাইম' বা স্থির থাকা থেকে বের করে দেয় না, যা প্রবাহের ক্ষেত্রে ভিন্ন। আল্লামা হাসান বিন ইয়াহইয়া (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন)-এর পাণ্ডুলিপি থেকে।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
أن الماء طهور. وقد ذهب إلى هذا جماعة من السلف والخلف ونسبه ابن حزم إلى عطاء وسفيان الثوري وأبي ثور وجميع أهل الظاهر ونقله غيره عن الحسن البصري والزهري والنخعي ومالك والشافعي وأبي حنيفة في إحدى الروايات عن الثلاثة المتأخرين
নিশ্চয়ই পানি পবিত্রকারী। সালাফ এবং খালাফদের একটি দল এই মত পোষণ করেছেন। ইবনে হাজম একে আতা, সুফিয়ান আস-সাওরি, আবু সাওর এবং সকল জাহিরি মাযহাবের অনুসারীদের অভিমত বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যগণ এটি হাসান বসরী, জুহরি, নাখয়ি এবং শেষোক্ত তিন ইমাম—মালিক, শাফিঈ ও আবু হানিফার অন্যতম বর্ণনা হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌فصل في أحكام النجاسات

والنجاسات هي غائط الإنسان مطلقا وبوله إلا الذكر1 الرضيع ولعاب كلب وروث ودم حيض ولحم خنزير وفيما عدا ذلك خلاف والأصل الطهارة فلا ينقل عنها إلا ناقل صحيح لم يعارضه ما يساويه أو يقدم عليه.

أما نجاسة بول الآدمي وغائطه فبالأدلة الصحيحة المفيدة للقطع بذلك بل نجاستهما من باب الضرورة الدينية كما لا يخفى على من له اشتغال بالأدلة الشرعية وبما كان عليه الأمر في عصر النبوة ولا يقدح في ذلك التخفيف في تطهيرهما في بعض الأحوال.

أما الغائط فكما في حديث أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إذا وطيء الأذى بخفيه فطهورهما التراب" رواهما أبو داود وابن السكن والحاكم والبيهقي وقد اختلف فيه على الأوزاعي.

وأخرج أحمد وأبو داود والحاكم وابن حبان من حديث أبي سعيد أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إذا جاء أحدكم المسجد فليقلب نعليه ولينظر فيهما فإن رأى

--------------------------------------------

1 فيه أن جعل النضح والرش مطهرا لا يوجب إخراجه عن النجاسة، كما في جعل المسح للنعل بالتراب مطهرا للغائط، ولم يستلزم ذلك خروجه من النجاسة فلا وجه للاستثناء، كما أن اختلاف كيفية التطهير للنجس غير موجبة لخروجه عن النجاسة.! هـ محرر الأصل.
নাপাকিসমূহের বিধান সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

নাপাকিসমূহ হলো মানুষের মল সাধারণভাবে এবং তার প্রস্রাব—তবে দুগ্ধপোষ্য ছেলে শিশুর প্রস্রাব ব্যতীত—কুকুরের লালা, পশুর বিষ্ঠা, ঋতুর রক্ত এবং শূকরের মাংস। এগুলোর বাইরে অন্যান্য বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। বস্তুর মূল অবস্থা হলো পবিত্রতা; সুতরাং কোনো সহীহ দলীল ব্যতীত তা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না, যদি না সেই দলীলের বিপরীতে তার সমপর্যায়ের বা তার চেয়ে অগ্রগণ্য কোনো দলীল থাকে।

মানুষের প্রস্রাব ও মলের নাপাক হওয়ার বিষয়টি এমন সহীহ দলীল দ্বারা প্রমাণিত যা এ বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। বরং এ দুটির নাপাক হওয়া দ্বীনের অপরিহার্য বিষয়সমূহের (জরুরিয়াতে দ্বীন) অন্তর্ভুক্ত, যা শরয়ী দলীল এবং নবুওয়াতের যুগে প্রচলিত অবস্থা সম্পর্কে যার সামান্যতম ধারণা আছে তার কাছে অস্পষ্ট নয়। আর বিশেষ বিশেষ অবস্থায় এগুলোর পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতিতে কিছুটা শিথিলতা বা সহজতা প্রদান করা এদের নাপাক হওয়ার গুণকে ক্ষুণ্ণ করে না।

মলের নাপাকির বিষয়টি যেমন আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যখন কেউ তার মোজা দিয়ে কোনো অপবিত্র বস্তু মাড়ায়, তবে মাটিই তা পবিত্রকারী।" এটি আবু দাউদ, ইবনে সাকান, হাকেম এবং বায়হাকী বর্ণনা করেছেন এবং আওযায়ীর সূত্রে এর বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে।

আহমাদ, আবু দাউদ, হাকেম এবং ইবনে হিব্বান আবু সাঈদ রাযিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন মসজিদে আসে, সে যেন তার জুতা দুটি উল্টিয়ে দেখে এবং তাতে নজর দেয়। যদি সে তাতে [অপবিত্রতা] দেখে...

--------------------------------------------

১. এতে প্রমাণিত হয় যে, পানি ছিটানো বা ছিটিয়ে দেওয়াকে পবিত্রকারী নির্ধারণ করা কোনো বস্তুকে নাপাকির গণ্ডি থেকে বের করে দেওয়া আবশ্যক করে না। যেমন মলের ক্ষেত্রে মাটি দিয়ে জুতা মোছাকে পবিত্রকারী নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু এতে মল নাপাকি থেকে বের হয়ে যাওয়া আবশ্যক হয়নি। সুতরাং একে ব্যতিক্রম ধরার কোনো যুক্তি নেই। একইভাবে নাপাকি পবিত্র করার পদ্ধতির ভিন্নতা তাকে নাপাকির পর্যায় থেকে বের করে দেওয়া সাব্যস্ত করে না। - মূল গ্রন্থের সম্পাদক।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
خبثا فليمسحه بالأرض ثم ليصل فيهما" وقد اختلف في وصله وإرساله ورجح أبو حاتم في العلل الموصول.

وأخرج أهل السنن عن أم سلمة مرفوعا بلفظ: "يطهره ما بعده" وعن أنس عند البيهقي بسند ضعيف بنحوه وكذلك عن أمرأة من بني عبد الأشهل عند البيهقي أيضا فإن جعل التراب مع المسح مطهرا لذلك لا يخرجه عن كونه نجسا بالضرورة إذ اختلاف وجه التطهير لايخرج النجس عن كونه نجسا.

وأما التخفيف في تطهير البول فكما ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر بأن يراق على بول الأعرابي ذنوبا من ماء وهو في الصحيحين وغيرهما من حديث أبي هريرة وأنس وأما ما عدا غائط الآدمي وبوله من الأبوال والأزبال فلم يحصل الاتفاق على شيء في شأنها والأدلة مختلفة فورد في بعضها ما يدل على طهارته كأبوال الإبل فإنه ثبت في الصحيحين وغيرهما أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر العرنين بأن يشربوا من أبوال الإبل ومن ذلك حديث: "لا بأس ببول ما يؤكل لحمه" وهو حديث ضعيف أخرجه الدارقطني من حديث جابر والبراء وفي إسناده عمرو بن الحصين العقلي وهو ضعيف جدا وورد ما يدل على نجاسة الروث كما أخرجه البخاري وغيره أنه قال: صلى الله عليه وسلم في الروثة: "إنها ركس" والركس النجس وقد نقل التيمى أن الروث مختص بما يكون من الخيل والبغال والحمير ولكنه زاد ابن خزيمة في روايته: "إنها ركس إنها روثة حمار" ولايخفى عليك أن الأصل في كل شيء أنه طاهر لأن القول بنجاسته يستلزم تعبد العباد بحكم من الأحكام والأصل عدم ذلك والبراءة قاضية بأنه لا تكليف بالمحتمل حتى يثبت ثبوتا ينقل عن ذلك وليس من أثبت الأحكام المنسوبة إلى الشرع بدون دليل بأقل إثما ممن أبطل ما قد ثبت دليله من الأحكام فالكل إما من التقول على الله تعالى بما لم يقل أو من إبطال ما قدم شرعه لعباده بلا حجة1

--------------------------------------------

1 انظر هذا الكلام فإنه أصل عظيم في الشرع يجب الوقوف عنده، لأن كثيرا من المتفقهة يعجل بالحكم في الأمر من غير دليل شرعي واضح، بل أخذا منه باللازم المفهوم من كلام الفقهاء، =
অশুচিতা লাগে, তবে সে যেন তা মাটি দিয়ে মুছে ফেলে এবং এরপর সেগুলোতে (জুতোয়) সালাত আদায় করে।" এটি মারফু (সংযুক্ত) নাকি মুরসাল (বিচ্ছিন্ন) সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে আবু হাতিম 'আল-ইলাল' গ্রন্থে মারফু হওয়াকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

সুনান গ্রন্থকারগণ উম্মে সালামা থেকে মারফু সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তার পরবর্তী অংশ তাকে পবিত্র করে দেয়।" বায়হাকিতে আনাস থেকে একটি দুর্বল সনদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। একইভাবে বায়হাকিতে বনু আবদিল আশহাল গোত্রের এক মহিলা থেকেও বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং, মোছার সাথে মাটিকে যদি সেই অশুচিতার জন্য পবিত্রকারী হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে তা আবশ্যিকভাবেই তাকে নাপাক হওয়া থেকে বের করে দেয় না। কারণ, পবিত্র করার পদ্ধতির ভিন্নতা কোনো নাপাক বস্তুকে নাপাক হওয়া থেকে খারিজ করে দেয় না।

আর প্রস্রাব পবিত্র করার ক্ষেত্রে শিথিলতার বিষয়টি এমনভাবে সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন গ্রাম্য আরবের প্রস্রাবের ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এটি আবু হুরায়রা ও আনাস থেকে বুখারি ও মুসলিমসহ অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর মানুষের মলমূত্র ব্যতীত অন্যান্য পশুর প্রস্রাব ও গোবরের ব্যাপারে কোনো বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং এ সংক্রান্ত দলিলগুলো ভিন্ন ভিন্ন। এগুলোর কোনো কোনোটিতে সেগুলোর পবিত্রতার প্রমাণ পাওয়া যায়, যেমন উটের প্রস্রাব। কারণ বুখারি ও মুসলিমসহ অন্যান্য গ্রন্থে সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উরাইনা গোত্রের লোকদের উটের প্রস্রাব পান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর অন্তর্ভুক্ত হলো এই হাদিসটি: "যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হয়, তাদের প্রস্রাবে কোনো সমস্যা নেই।" এটি একটি দুর্বল হাদিস, যা দারা কুতনি জাবির ও বারা থেকে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে আমর ইবনুল হুসাইন আল-আকলি রয়েছেন, যিনি অত্যন্ত দুর্বল। আবার গোবর নাপাক হওয়ার সপক্ষেও বর্ণনা এসেছে, যেমন বুখারি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোবর সম্পর্কে বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি অপবিত্র (রিকস)।" আর 'রিকস' মানে হলো নাপাক। আত-তাইমি বর্ণনা করেছেন যে, 'রাওস' (গোবর) শব্দটি ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার বিষ্ঠার জন্য নির্দিষ্ট। তবে ইবনে খুজাইমা তার বর্ণনায় অতিরিক্ত যোগ করেছেন: "নিশ্চয়ই এটি অপবিত্র, এটি গাধার বিষ্ঠা।" আপনার কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, প্রতিটি বস্তুর মূল হলো তা পবিত্র। কারণ কোনো বস্তুকে নাপাক বলা মানে হলো বান্দাদেরকে একটি হুকুমের দ্বারা ইবাদতে বাধ্য করা, অথচ মূল নিয়ম হলো এমন বাধ্যবাধকতা না থাকা। আর দায়মুক্তি (বারায়াত) এটিই ফয়সালা দেয় যে, কোনো সম্ভাব্য বিষয়ের ওপর ততক্ষণ কোনো দায়িত্ব অর্পণ করা যাবে না, যতক্ষণ না সেটি পরিবর্তনের বিষয়ে অকাট্য প্রমাণ সাব্যস্ত হয়। কোনো প্রমাণ ছাড়াই শরীয়তের দিকে কোনো বিধানকে সম্বন্ধযুক্ত করা ব্যক্তির পাপ সেই ব্যক্তির চেয়ে কম নয়, যে ব্যক্তি দলিল দ্বারা সাব্যস্ত বিধানকে বাতিল করে দেয়। কারণ, উভয়টিই হয় আল্লাহর ওপর এমন কথা বলা যা তিনি বলেননি, অথবা কোনো প্রমাণ ছাড়াই বান্দাদের জন্য তাঁর প্রবর্তিত শরীয়তকে বাতিল করার অন্তর্ভুক্ত।১

--------------------------------------------

১ এই কথাটির দিকে লক্ষ্য করুন, কারণ এটি শরীয়তের একটি মহান মূলনীতি যা অনুধাবন করা আবশ্যক। কেননা অনেক ফকিহ কোনো স্পষ্ট শরয়ী দলিল ছাড়াই দ্রুত কোনো বিষয়ে হুকুম দিয়ে দেন, বরং তারা ফকিহদের বক্তব্য থেকে প্রাপ্ত অনুমিত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই এমনটি করেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وأما تقييد البول بكونه بعد أيام الرضاع فلحديث "يغسل من بول الجارية ويرش من بول الغلام" أخرجه أبو داود والنسائي وابن ماجه والبزار وابن خزيمه من حديث أبي السمح خادم رسول الله صلى الله عليه وسلم وصححه الحاكم.

وأخرج أحمد والترمذي وحسنه من حديث على أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "بول الغلام الرضيع ينضح وبول الجارية يغسل" وأخرجه أيضا ابن ماجه وأبو داود بإسناد صحيح عن على موقوفا.

وأخرج أحمد وأبو داود ابن ماجه وابن خزيمه وابن حبان والطبراني من حديث أم الفضل لبانة بنت الحارث قالت: بال الحسين ابن علي في حجر النبي صلى الله عليه وسلم فقلت يارسول الله أعطني ثوبك والبس ثوبا غيره حتى أغسله فقال: "إنما ينضح من بول الذكر ويغسل من بول الأنثى".

وثبت في الصحيحين وغيرهما من حديث أم قيس بنت محصن "أنها أتت بابن لها صغير لم يأكل الطعام إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فبال على ثوبه فدعا بماء فنضحه ولم يغسله".

--------------------------------------------

= وقد علمت أن لا مفهوم ولا مقتضى إلا لكلام المعصوم. وقد تكلم الأصوليون على ذلك عند الكلام على" المنطوق والمفهوم"، والأخذ بهما في كلام الله ورسوله لا غير. وتكلموا مع ذلك على اعتبارهما في كلام الموصي والواقف، ولم يقولوا أن المتون وعبارات الفقهاء تنزل منزلة كلام الله وكلام رسوله ويؤخذ منها باللازم ولازم اللازم وتضرب الأحكام على العباد كافة باسم الشرع من هذا الطريق، كما ترى ذلك في كثير من كتب المتأخرين من فقهاء المذاهب حيث يعرضون لمسألة جديدة لم ينص عليها بذاتها أحد من المتقدمين فيستعرضون بعض كلام الفقهاء في أششباه تلك المسألة ويأخذون من عباراتهم باللازم والمفهوم، ويصبح ذلك حكما شرعيا لله تعالى في أعناق المكلفين. وكثير من شراح المتون الفقهية هذا دأبهم وقد لا تكون تلك المتون بلسان عربي مبين. وقد يخرجون بذلك عن قواعد المذاهب، بل وعن الأصول الفقهية، ونسوا أنهم إن كانوا مجتهدي مذهب أن واجبهم أن يبذلوا هذا الجهد في استعراض كتاب الله تعالى وصحيح السنة فيما يستجد من الأحكام ويأخذوا منهما على نحو ما أخذ إمامهم وعلى أصوله التي أسسها لهم، والله أعلم.
আর প্রস্রাবকে দুগ্ধপানের দিনগুলোর পরের সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ করার কারণ হলো এই হাদিস: "বালিকার প্রস্রাব ধৌত করতে হয় এবং বালকের প্রস্রাবে পানি ছিটিয়ে দিতে হয়।" এটি আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, বাজ্জার ও ইবনে খুজাইমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম আবু সামহ-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম একে সহিহ বলেছেন।

আহমদ ও তিরমিজি আলীর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে হাসান বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দুগ্ধপোষ্য বালকের প্রস্রাবে পানি ছিটিয়ে দেওয়া হয় এবং বালিকার প্রস্রাব ধৌত করা হয়।" ইবনে মাজাহ ও আবু দাউদও সহিহ সনদে আলীর বরাতে এটি মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে খুজাইমা, ইবনে হিব্বান ও তাবারানি উম্মুল ফজল লুবানাহ বিনতে হারিস-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুসাইন ইবনে আলী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোলে প্রস্রাব করে দিলে আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার কাপড়টি আমাকে দিন এবং এটি ছাড়া অন্য একটি কাপড় পরুন যাতে আমি এটি ধুয়ে দিতে পারি। তখন তিনি বললেন: "কেবলমাত্র পুরুষের প্রস্রাবে পানি ছিটানো হয় এবং নারীর প্রস্রাব ধৌত করা হয়।"

সহিহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে উম্মে কায়েস বিনতে মিহসান-এর হাদিস থেকে প্রমাণিত যে, "তিনি তার এক ছোট সন্তানকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন যে তখনও খাবার খাওয়া শুরু করেনি। শিশুটি তাঁর কাপড়ে প্রস্রাব করে দিলে তিনি পানি চাইলেন এবং তা ছিটিয়ে দিলেন, কিন্তু ধৌত করলেন না।"

--------------------------------------------

= আর আপনি জেনেছেন যে, মাসুম (নিষ্পাপ) সত্তার বাণী ব্যতীত অন্য কারো বাণীর ক্ষেত্রে 'মাফহুম' (ইঙ্গিতার্থ) বা 'মুকতাযা' (প্রয়োজনীয় অর্থ) বিবেচনার অবকাশ নেই। উসুলবিদগণ 'মানতুক' (সুস্পষ্ট বক্তব্য) এবং 'মাফহুম' (ইঙ্গিতার্থ) নিয়ে আলোচনার সময় এ সম্পর্কে কথা বলেছেন এবং এ দুটি বিষয়কে কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন, অন্য কিছুতে নয়। এর পাশাপাশি তারা অসিয়তকারী ও ওয়াকফকারীর বক্তব্যের ক্ষেত্রেও এগুলোর বিবেচনার কথা বলেছেন। তারা বলেননি যে, ফকিহদের মূল পাঠ (মতন) ও পরিভাষাগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণীর স্থলাভিষিক্ত হবে, যেখান থেকে অনিবার্য অর্থ এবং সেই অনিবার্যতার অনুবর্তী অর্থ গ্রহণ করা হবে এবং এই পন্থায় শরিয়তের নামে সমস্ত বান্দার ওপর বিধান চাপিয়ে দেওয়া হবে—যেমনটি আপনি মাজহাবের পরবর্তী যুগের অনেক ফকিহদের কিতাবে দেখতে পান। সেখানে তারা এমন কোনো নতুন সমস্যার সম্মুখীন হলে, যা পূর্ববর্তীদের কেউ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, তখন তারা সেই বিষয়ের সদৃশ মাসআলায় ফকিহদের কিছু বক্তব্য পর্যালোচনা করেন এবং তাদের শব্দমালা থেকে অনিবার্য ও ইঙ্গিতকৃত অর্থ গ্রহণ করেন; আর তা মুকাল্লাফ (শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য) ব্যক্তিদের ঘাড়ে মহান আল্লাহর একটি শরয়ি বিধান হিসেবে চেপে বসে। ফিকহি মতনসমূহের অনেক ব্যাখ্যাকারীর এটিই দস্তুর, অথচ সেই মতনগুলো হয়তো স্পষ্ট আরবি ভাষায় রচিতও নয়। এর মাধ্যমে তারা মাজহাবের নিয়মনীতি, এমনকি ফিকহি উসুল থেকেও বিচ্যুত হয়ে পড়েন। তারা ভুলে গেছেন যে, তারা যদি কোনো মাজহাবের মুজতাহিদ হয়ে থাকেন, তবে তাদের দায়িত্ব হলো নতুন উদ্ভূত বিধানগুলোর ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাব ও সহিহ সুন্নাহ পর্যালোচনায় এই শ্রম ব্যয় করা এবং সেখান থেকে সেভাবেই বিধান গ্রহণ করা যেভাবে তাদের ইমাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে তা আহরণ করা। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وفي صحيح البخاري من حديث عائشة قالت: "أتي رسول الله صلى الله عليه وسلم بصبي يحنكه فبال عليه فأتبعه الماء".

وفي صحيح مسلم رحمه الله تعالى عنها قالت: "كان يؤتى بالصبيان فيبرك1 عليهم ويحنكهم فأتى بصبي فبال عليه فدعا بماء فأتبعه بوله ولم يغسله". فهذا تصريح بأنه لم يغسله فيكون إتباعه الماء إما مجرد النضح كما وقع في الحديثين الآخرين أو مجرد صب الماء عليه من دون غسل.

وبالجملة فالتصريح منه صلى الله عليه وسلم بالقول بما هو الواجب في ذلك هو الأولى بالاتباع لكونه كلاما مع أمته فلا يعارضه ما وقع من فعله على فرض أنه مخالف للقول وقد ذهب إلى الاكتفاء بالنضح في بول الغلام لا الجارية جماعة منهم علي وأم سلمه والثوري والأوزاعي والنخعي وداود وابن وهب وعطاء والحسن والزهري وأحمد وإسحاق ومالك في رواية وهذا هو الحق الذي لا محيص عنه.

وذهب بعض أهل العلم وقد حكي عن مالك والشافعي والأوزاعي إلى أنه يكفي النضح فيهما وهذا فيه مخالفة لما وقع في هذه الأحاديث الصحيحة من التفرقة بين الغلام والجارية.

وذهبت الحنفية وسائر الكوفيين وهو محكى عن العترة إلى أنهما سواء في وجوب الغسل وهذا المذهب كالذي قبله في مخالفة الأدلة وقد استدل أهل هذا المذهب الثالث بالأدلة الواردة في نجاسة البول على العموم ولا يخفاك أنها مخصصة بالأدلة الخاصة المصرحة بالفرق بين بول الجارية والغلام وأما ما قيل من قياس بول الغلام على بول الجارية فلا يخفاك أنه قياس في مقابلة النص وهو فاسد الاعتبار وقد شذ ابن حزم فقال: انه يرش من بول الذكر أي ذكر كان وهو إهمال للقيد المذكور سابقا بلفظ بول الغلام الرضيع ينضح والواجب حمل المطلق على المقيد.

--------------------------------------------

1 بالتشديد من التبريك.
এবং সহীহ বুখারীতে আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট একটি শিশুকে আনা হলো যাতে তিনি তাকে তাহনিক করে দেন। তখন শিশুটি তাঁর ওপর প্রস্রাব করে দিলে তিনি এর ওপর পানি প্রবাহিত করে দিলেন।"

এবং ইমাম মুসলিম (রহ.) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "তাঁর নিকট শিশুদের নিয়ে আসা হতো, তিনি তাদের জন্য বরকতের দোয়া করতেন এবং তাদের তাহনিক করাতেন। একবার একটি শিশুকে আনা হলো এবং সে তাঁর ওপর প্রস্রাব করে দিল। তখন তিনি পানি চাইলেন এবং প্রস্রাবের ওপর তা ঢেলে দিলেন, কিন্তু তা ধৌত করেননি।" সুতরাং এটি একটি স্পষ্ট বর্ণনা যে তিনি তা ধৌত করেননি। অতএব পানি প্রবাহিত করে দেওয়ার অর্থ হবে হয় কেবল ছিটিয়ে দেওয়া যেমনটি অন্য দুটি হাদিসে এসেছে, অথবা ধৌত করা ছাড়াই কেবল পানি ঢেলে দেওয়া।

সারকথা হলো, এ বিষয়ে যা ওয়াজিব সে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যে সুস্পষ্ট মৌখিক বাণী রয়েছে, তা অনুসরণ করাই অধিকতর শ্রেয়। কারণ এটি উম্মতের প্রতি তাঁর নির্দেশমূলক বক্তব্য। সুতরাং তাঁর কাজ যদি তাঁর বাণীর পরিপন্থী বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবুও তা সেই বাণীর মোকাবিলা করবে না। একদল আলিম ছেলে শিশুর প্রস্রাবের ক্ষেত্রে কেবল পানি ছিটিয়ে দেওয়াকে যথেষ্ট মনে করেছেন, মেয়ে শিশুর ক্ষেত্রে নয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আলী, উম্মে সালামা, সাওরী, আওযাঈ, নাখঈ, দাউদ, ইবনে ওয়াহাব, আতা, হাসান, যুহরী, আহমাদ, ইসহাক এবং ইমাম মালিকের এক বর্ণনা অনুযায়ী। আর এটিই হচ্ছে সেই সত্য যা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো উপায় নেই।

কিছু আলিম মনে করেন যে, উভয় শিশুর প্রস্রাবের ক্ষেত্রেই পানি ছিটিয়ে দেওয়া যথেষ্ট; যা ইমাম মালিক, শাফেয়ী এবং আওযাঈ থেকেও বর্ণিত হয়েছে। তবে এটি ওই সকল সহীহ হাদিসের পরিপন্থী যাতে ছেলে ও মেয়ে শিশুর মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে।

হানাফীগণ এবং অন্যান্য কুফাবাসীগণ মনে করেন যে, ধৌত করার ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে উভয়ই সমান; এটি নবী পরিবারের সদস্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে। এই মাযহাবটিও দলিলের বিরোধিতার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মতের অনুরূপ। এই তৃতীয় মতাবলম্বীগণ সাধারণভাবে প্রস্রাবের অপবিত্রতা সংক্রান্ত দলিলগুলো দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন। তবে আপনার নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, সেই সাধারণ দলিলগুলো ওই সব বিশেষ দলিলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট (খাস) করা হয়েছে যা ছেলে ও মেয়ে শিশুর প্রস্রাবের মধ্যে পার্থক্যের ব্যাপারে স্পষ্টভাবে এসেছে। আর ছেলে শিশুর প্রস্রাবকে মেয়ে শিশুর প্রস্রাবের ওপর কিয়াস (অনুমান) করার বিষয়টি যে নস বা অকাট্য প্রমাণের বিপরীতে কিয়াস, তা আপনার অজানা নয়; আর এ ধরণের কিয়াস অগ্রহণযোগ্য। ইবনে হাজম একটি ভিন্নমত পোষণ করে বলেছেন যে, যেকোনো পুরুষের প্রস্রাব থেকেই ছিটিয়ে দিতে হবে। এটি পূর্বে উল্লিখিত "দুধপানকারী ছেলে শিশুর প্রস্রাব ছিটিয়ে দিতে হবে" এই শর্তটির অবহেলা। অথচ নিয়ম হলো সাধারণ (মুতলাক) বক্তব্যকে শর্তযুক্ত (মুকাইয়্যাদ) বক্তব্যের আলোকে গ্রহণ করা।

--------------------------------------------

১. শব্দটিতে তাশদীদ রয়েছে যা 'তাবরীক' (বরকতের দোয়া করা) থেকে আগত।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
قوله: ولعاب الكلب. قد ثبت في الصحيحين وغيرهما من حديث أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إذا شرب الكلب في إناء أحدكم فليغسله سبعا" وثبت أيضا عندهما وغيرهما مثله من حديث عبد الله بن مغفل فدل ذلك على نجاسة لعاب الكلب وهو المطلوب هنا والكلام في الخلاف بين من عمل بظاهر هذه الأدلة ومن اكتفى بالتثليث معروف وليس ذلك مما يقدح في كونه نجسا لأن محل الدليل على النجاسة هو أيجاب الغسل وهكذا لا يتعلق بما نحن بصدده زيادة التغليظ بالترتيب كما وقع في أحاديث الباب في الصحيحين وغيرهما فإن المقصود هنا ليس إلا إثبات كون اللعاب نجسا لا بيان كيفية تطهيره فلذلك موضع آخر.

قوله: وروث. الدليل على نجاسة الروث ما تقدمت الإشارة إليه من قوله صلى الله عليه وسلم في الروث: "إنها ركس" والركس في اللغة النجس فالروثة نجس وهو المطلوب وقد قدمنا كلام التيمى في تخصيص ذلك بروث الخيل والبغال والحمير.

قوله: ودم الحيض. الدليل على ذلك ما ثبت عند أحمد وأبي داود والترمذي من حديث خولة بنت يسار قالت: يارسول الله ليس لي إلاثوب واحد وأنا حيض فيه قال: فإذا طهرت فاغسلي موضع الدم ثم صلي فيه قالت: يا رسول الله إن لم يخرج أثره قال: "يكفيك الماء ولايضرك أثره" وفي إسناده ابن لهيعة.

وأخرج أحمد وأبو داود والنسائي وابن ماجه وابن خزيمه وابن حبان من حديث أم قيس بنت محصن مرفوعا بلفظ: "حكيه بضلع واغسليه بماء وسدر" قال: ابن القطان إسناده في غاية الصحة.

وفي الصحيحين وغيرهما من حديث أسماء بنت أبي بكر قالت: جاءت امرأة إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت: إحدنا يصيب ثوبها من دم الحيض كيف تصنع قال: "تحته ثم تقرضه بالماء ثم تنضخه ثم تصلي فيه" فالأمر بغسل دم الحيض وحكه
লেখকের উক্তি: এবং কুকুরের লালা। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) ও অন্যান্য গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদীস থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কারো পাত্রে যখন কুকুর পান করে, তখন সে যেন তা সাতবার ধৌত করে।" সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে আবদুল্লাহ বিন মুগাফফাল (রা.) বর্ণিত হাদীসেও অনুরূপ প্রমাণিত হয়েছে। এটি কুকুরের লালা অপবিত্র হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে এবং এখানে এটিই উদ্দেশ্য। যারা এই দলীলসমূহের বাহ্যিক অর্থের ওপর আমল করেছেন এবং যারা তিনবার ধৌত করাকেই যথেষ্ট মনে করেছেন, তাদের মধ্যকার মতপার্থক্য সুপরিচিত। তবে এটি তার অপবিত্র হওয়ার বিষয়টিকে ক্ষুণ্ণ করে না; কারণ কোনো কিছু ধৌত করা ওয়াজিব বা আবশ্যক হওয়াই সেটি অপবিত্র হওয়ার দলীল। একইভাবে, আমরা যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি তার সাথে সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থের হাদীসসমূহে বর্ণিত ক্রমানুসারে মাটি ব্যবহারের মাধ্যমে ধৌত করার কড়াকড়ির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নয়। কেননা এখানে উদ্দেশ্য কেবল লালা অপবিত্র হওয়াকে সাব্যস্ত করা, এটি পবিত্র করার পদ্ধতি বর্ণনা করা নয়; কারণ সেটির জন্য ভিন্ন স্থান রয়েছে।

লেখকের উক্তি: এবং বিষ্ঠা বা গোবর। বিষ্ঠা অপবিত্র হওয়ার দলীল হচ্ছে যা পূর্বে ইশারা করা হয়েছে; বিষ্ঠা সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই উক্তি: "নিশ্চয়ই এটি অপবিত্র (রিকস)।" আর অভিধানে 'রিকস' মানে হলো অপবিত্র (নাজিস)। সুতরাং বিষ্ঠা অপবিত্র এবং এটাই এখানে কাম্য। আর আমরা ইতিপূর্বে ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার বিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিষয়টিকে সুনির্দিষ্ট করার ব্যাপারে তায়মীর বক্তব্য উল্লেখ করেছি।

লেখকের উক্তি: এবং ঋতুস্রাবের রক্ত। এর দলীল হলো যা ইমাম আহমদ, আবু দাউদ ও তিরমিযীতে খাওলা বিনতে ইয়াসার (রা.) বর্ণিত হাদীস থেকে প্রমাণিত। তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার কেবল একটি কাপড় রয়েছে এবং আমি এতেই ঋতুবতী হই। তিনি বললেন: "যখন তুমি পবিত্র হবে, তখন রক্তের স্থানটি ধৌত করে নেবে, অতঃপর তাতে সালাত আদায় করবে।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! যদি রক্তের চিহ্ন না যায়? তিনি বললেন: "তোমার জন্য পানিই যথেষ্ট এবং এর চিহ্ন তোমার কোনো ক্ষতি করবে না।" এর বর্ণনাসূত্রে ইবনে লাহীআহ রয়েছেন।

ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে খুযাইমা ও ইবনে হিব্বান উম্মে কায়স বিনতে মিহসান (রা.) থেকে মারফূ সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তুমি এটি কোনো কাষ্ঠখন্ড দিয়ে ঘষবে এবং পানি ও বরই পাতা দিয়ে ধৌত করবে।" ইবনুল কাত্তান বলেছেন: এর বর্ণনাসূত্র অত্যন্ত বিশুদ্ধ।

সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে আসমা বিনতে আবি বকর (রা.) বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: জনৈক নারী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: আমাদের কারো কাপড়ে ঋতুস্রাবের রক্ত লাগলে সে কী করবে? তিনি বললেন: "সে তা ঘষবে, অতঃপর পানি দিয়ে কচলে ধৌত করবে, এরপর তার ওপর পানি ছিটিয়ে দেবে এবং তারপর তাতে সালাত আদায় করবে।" সুতরাং ঋতুস্রাবের রক্ত ধৌত করার ও তা ঘষে পরিষ্কার করার আদেশ...
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
بضلع يفيد ثبوت نجاسته وإن اختلف وجه تطهيره فذلك لا يخرجه عن كونه نجسا.

وأما سائر الدماء فالأدلة فيها مختلفة مضطربة والبراءة الأصلية مستصحبة حتى يأتي الدليل الخالص عن المعارضة الراجحة أو المساوية ولو قام الدليل على رجوع الضمير في قوله تعالى: {فَإِنَّهُ رِجْسٌ} [الأنعام:145] إلى جميع ما تقدم في الآية الكريمة من الميتة والدم المسفوح ولحم الخنزير لكان ذلك مفيدا لنجاسة1 الدم المسفوح والميته ولكنه لم يرد ما يفيد ذلك بل النزاع كائن في رجوعه إلى الكل أو إلى الأقرب والظاهر رجوعه إلى الأقرب وهو لحم الخنزير لإفراد الضمير ولهذا جزمنا ههنا بنجاسة لحم الخنزير دون الميتة والدم الذي ليس بدم الحيض ولاسيما وقد ورد في الميتة ما يفيد أنه لا يحرم منها إلا أكلها كما ثبت في الصحيح بلفظ: "إنما حرم من الميتة أكلها" ومن رام تحقيق الكلام في الخلاف الواقع في مثل هذا الضمير المذكور في الآية فليرجع إلى ما ذكره أهل الأصول في الكلام على القيد بعد جملة مشتملة على أمور متعددة.

قوله: ولحم الخنزير. الدليل على نجاسته ما قدمنا قريبا من الآية الكريمة.

--------------------------------------------

1 بناء على أن معناه النجس المتعارف بين المتشرعة لغة أو حقيقة شرعية، ودون ذلك مهامه، ومع هذا تعرف ما في إثبات نجاسة الروث لكون الركس لغة في النجس، ولو قيل تقريره صلى الله عليه وسلم في شاة ميمونة على فهم نجاستها وإرشادهم إلى كيفية تطهير جلدها دليل على نجاسة الميتة لما كان مستبعدا.

وأما قوله صلى الله عليه وسلم: "إنما حرم من الميتة أكلها" فلا دلالة فيه على الطهارة إذ مفاده حصر محرم منافعها في الأكل دون سائر المنافع من نحو الاستصباح بدهنها والانتفاع بجلدها. وقد أرشدهم إلى تطهير جلدها لما كان من ضرورة الانتفاع به مباشرته. وأما دهنها فهو ممكن الانتفاع به من دون مباشرة، فلا يقال أن تسويغ الانتفاع إباحة لمباشرته وهو ينافي الحكم بنجاسته والله أعلم. من خط الفقيه محمد العمراني. وفيه غلط فاحش بذكره دهن الميتة فإنه من المحرمات قطعا كما في الصحيحين أنه سئل النبي صلى الله عليه وسلم عن شحوم الميتة للاستصباح بها ودهن السفن فقال: لا هو حرام، ثم قال: "قاتل الله اليهود إن الله لما حرم عليهم الشحوم جملوه ثم باعوه فأكلوا ثمنه".
...একটি সূত্রের মাধ্যমে যা তার অপবিত্রতা সাব্যস্ত করে, যদিও তা পবিত্র করার পদ্ধতির ভিন্নতা থাকতে পারে; তবে এটি তাকে নাপাক হওয়া থেকে বের করে দেয় না।

আর অন্যান্য রক্তের ব্যাপারে দলীলসমূহ ভিন্ন ভিন্ন এবং অসংলগ্ন। যতক্ষণ না কোনো প্রবল বা সমপর্যায়ের বিরোধিতা থেকে মুক্ত বিশুদ্ধ দলীল পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত মৌলিক দায়মুক্তির নীতিই (বারায়াতুল আসলিয়্যাহ) বহাল থাকবে। যদি মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই তা অপবিত্র" [আল-আন'আম: ১৪৫]-এর অন্তর্গত সর্বনামটি আয়াতে উল্লিখিত মৃত প্রাণী, প্রবাহিত রক্ত এবং শূকরের গোশত—এই সবগুলোর দিকে ফেরার ব্যাপারে কোনো দলীল সাব্যস্ত হতো, তবে তা প্রবাহিত রক্ত এবং মৃত প্রাণীর অপবিত্রতার সপক্ষে অর্থবহ হতো। কিন্তু এমন কিছু বর্ণিত হয়নি যা এই অর্থ প্রদান করে; বরং বিতর্ক রয়েছে যে এটি কি সবগুলোর দিকে ফিরবে নাকি কেবল নিকটবর্তী বিষয়ের দিকে। বাহ্যত এটি নিকটবর্তী বিষয়ের দিকেই ফিরবে, আর তা হলো শূকরের গোশত, কারণ সর্বনামটি একবচন। এই কারণেই আমরা এখানে শূকরের গোশতের অপবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি, মৃত প্রাণী বা ঋতুস্রাব ব্যতীত অন্য কোনো রক্তের ব্যাপারে নয়। বিশেষত মৃত প্রাণীর ব্যাপারে এমন বর্ণনা রয়েছে যা বোঝায় যে, তা থেকে কেবল ভক্ষণ করাই হারাম করা হয়েছে, যেমনটি সহীহ হাদীসে এই শব্দে প্রমাণিত হয়েছে: "মৃত প্রাণীর কেবল ভক্ষণ করাই হারাম করা হয়েছে।" আর আয়াতে উল্লিখিত এই ধরণের সর্বনামের ক্ষেত্রে বিদ্যমান মতভেদ সম্পর্কে যারা সূক্ষ্ম আলোচনা করতে চান, তারা যেন উসুলবিদগণের সেই আলোচনার দিকে ফিরে যান যেখানে একাধিক বিষয় সম্বলিত বাক্যের পরবর্তী শর্ত বা বিশেষণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

তাঁর উক্তি: এবং শূকরের গোশত। এর অপবিত্রতার দলীল হলো যা আমরা ইতিপূর্বে পবিত্র আয়াত থেকে উল্লেখ করেছি।

--------------------------------------------

১. এই ভিত্তির উপর যে, এর অর্থ হলো সেই অপবিত্রতা যা শরীয়ত পালনকারীদের নিকট আভিধানিক বা শরয়ী পরিভাষা হিসেবে পরিচিত। এর বাইরে অন্য কিছু অর্জন করা দুঃসাধ্য। তবুও গোবরের অপবিত্রতা প্রমাণের ক্ষেত্রে যা রয়েছে তা আপনি জানেন, কারণ আভিধানিকভাবে 'রিকস' মানে হলো নাপাক। আর যদি বলা হয় যে, মায়মুনাহ (রাযিআল্লাহু আনহা)-এর ছাগলের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৌনসম্মতি এবং তার চামড়া পবিত্র করার পদ্ধতির দিকে তাঁদের দিকনির্দেশনা দেওয়া মৃত প্রাণীর অপবিত্রতার দলীল, তবে তা অবাস্তব হবে না।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "মৃত প্রাণীর কেবল ভক্ষণ করাই হারাম করা হয়েছে"—এর মধ্যে তা পবিত্র হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। কেননা এর মর্মার্থ হলো এর উপযোগিতা সমূহের মধ্যে কেবল ভক্ষণ করাকেই হারামের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা, অন্যান্য উপযোগিতা যেমন এর চর্বি দিয়ে প্রদীপ জ্বালানো বা চামড়া ব্যবহার করা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি তাদের চামড়া পবিত্র করার নির্দেশ দিয়েছেন যেহেতু তা ব্যবহারের প্রয়োজনে স্পর্শ করা অনিবার্য। আর চর্বির বিষয়টি এমন যে, সরাসরি স্পর্শ করা ছাড়াও এর দ্বারা উপকৃত হওয়া সম্ভব। সুতরাং এ কথা বলা যাবে না যে, এর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া মানেই তা স্পর্শ করার বৈধতা দেওয়া, যা তার অপবিত্র হওয়ার হুকুমের পরিপন্থী। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। এটি ফকীহ মুহাম্মদ আল-উমরানীর হস্তলিপি থেকে নেওয়া। আর এতে মৃত প্রাণীর চর্বির কথা উল্লেখ করায় মারাত্বক ভুল রয়েছে; কেননা তা নিশ্চিতভাবে হারাম সমূহের অন্তর্ভুক্ত। যেমন সহীহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মৃত প্রাণীর চর্বি দিয়ে প্রদীপ জ্বালানো এবং নৌকা পালিশ করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "না, এটি হারাম।" অতঃপর তিনি বলেন: "আল্লাহ ইহুদীদের ধ্বংস করুন, আল্লাহ যখন তাদের উপর চর্বি হারাম করলেন, তারা তা গলিয়ে বিক্রি করল এবং তার মূল্য ভক্ষণ করল।"
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
قوله: وفيما عدا ذلك خلاف والأصل الطهارة فلا ينقل عنها إلا ناقل صحيح لم يعارضه ما يساويه أو يقدم عليه.

أقول: أعلم أن كون الأصل الطهارة معلوم من كليات الشريعة المطهرة وجزئياتها ولا ريب أن الحكم بنجاسة شيء يستلزم تكليف العباد بحكم والأصل البراءة من ذلك ولاسيما من الأمور التي تعم بها البلوى وقد أرشدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى السكوت1 عن الأمور التي سكت الله عنها وأنها عفو فما لم يرد فيه شيء من الأدلة الدالة على نجاسته فليس لأحد من عباد الله أن يحكم بنجاسته بمجرد رأى فاسد أو غلظ في الاستدلال كما يدعيه بعض أهل العلم من نجاسة ما حرمه الله زاعما أن النجاسة والتحريم متلازمان وهذا الزعم من أبطل الباطلات فالتحريم للشيء لا يدل على نجاسته بمطابقة ولا تضمن ولا التزام فتحريم الخمر والميتة والدم لا يدل على نجاسة ذلك وكأن الشارع قد علم وقوع مثل هذا الغلط لبعض أمته فأرشدهم إلى ما يدفعه قائلا "إنما حرم من الميتة أكلها" ولو كان مجرد تحريم شيء مستلزما لنجاسته لكان قوله تعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ} [النساء:23] إلى آخره دليلا على نجاسة النساء المذكورات في الآية والمسلم لا ينجس حيا ولا ميتا كما ثبت ذلك عنه صلى الله عليه وسلم في الصحيح وهكذا يلزم نجاسة أعيان وقع التصريح بتحريمها وهي طاهرة بالاتفاق كالأنصاب والأزلام وما يسكر من النباتات والثمرات بأصل الخلقة.

فإن قلت: إذا كان التصريح بنجاسة شيء أو رجسيته أو ركسيته يدل على

--------------------------------------------

1أخرج الطبراني في الكبير، وأبو نعيم في الحلية، والبيهقي في السنن عن ثعلبة الخشني "رضي" يرفعه: "إن الله عز وجل فرض فرائض فلا تضيعوها. وحد حدودا فلا تعتدوها وحرم أشياء فلا تقربوها وسكت عن أشياء رحمة لكم فلا تتكلفوها". قال ابن القيم في أعلام الموقعين: وقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم.

وأخرج الطبراني في الأوسط عن أبي الدرداء: "إن الله فرض فرائض فلا تضيعوها وحد حدودا فلا تعتدوها وسكت عن كثير غير نسيان رحمة لكم فاقبلوها". من خط محمد العمراني سلمه الله تعالى.
তাঁর বক্তব্য: এছাড়া অন্য ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে এবং মূল বিধান হলো পবিত্রতা; সুতরাং কোনো সহীহ দলীল ছাড়া এই মূল বিধান থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না, যা তার সমপর্যায়ের বা তার চেয়ে শক্তিশালী কোনো দলীলের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ নয়।

আমি বলি: জেনে রাখুন যে, মূল বিধান পবিত্র হওয়া বিষয়টি পবিত্র শরীয়তের সামষ্টিক এবং ব্যষ্টিক উভয় প্রকার মূলনীতি থেকেই সুপরিচিত। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো বস্তুকে নাপাক বা অপবিত্র হিসেবে রায় দেওয়া মানে হলো বান্দাদের ওপর একটি শরয়ী বিধানের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া, অথচ মূল নীতি হলো দায়মুক্তি (অর্থাৎ মূলত কোনো বিধান না থাকা)। বিশেষ করে এমন সব ক্ষেত্রে যা মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সেই সব বিষয়ে নীরব থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন যে বিষয়ে আল্লাহ নীরব থেকেছেন এবং সেগুলোকে তিনি ক্ষমার যোগ্য বা ছাড় হিসেবে গণ্য করেছেন। সুতরাং যে বিষয়ে অপবিত্রতা বা নাপাক হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, আল্লাহর কোনো বান্দার জন্য কেবল ভ্রান্ত মত বা ত্রুটিপূর্ণ যুক্তির ভিত্তিতে তাকে নাপাক বলা বৈধ নয়, যেমনটি কোনো কোনো আলিম দাবি করেছেন যে, আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা-ই নাপাক। তাদের দাবি হলো—নাপাক হওয়া এবং হারাম হওয়া একে অপরের জন্য অপরিহার্য। এই দাবিটি সম্পূর্ণ বাতিল ও ভিত্তিহীন। কোনো বস্তুর হারাম হওয়া তার নাপাক হওয়ার ওপর শাব্দিক পূর্ণ অর্থ (মুতাবাকাহ), আংশিক অর্থ (তাযামমুন) বা আবশ্যিক অর্থ (ইলতিযাম) কোনোভাবেই প্রমাণ বহন করে না। সুতরাং মদ, মৃত জন্তু এবং রক্ত হারাম হওয়া মানেই এগুলো নাপাক হওয়া নয়। যেন শরীয়ত প্রণেতা তাঁর উম্মতের কারো কারো পক্ষ থেকে এই ধরণের ভুল হওয়ার বিষয়টি জানতেন, তাই তিনি তাদের সঠিক পথ দেখিয়ে বলেছেন: "মৃত জন্তুর কেবল তা খাওয়া হারাম করা হয়েছে।" যদি কোনো কিছু হারাম হওয়া মাত্রই তা নাপাক হওয়া আবশ্যক হতো, তবে আল্লাহর বাণী: {তোমাদের জন্য তোমাদের মায়েদের হারাম করা হয়েছে} [আন-নিসা: ২৩] শেষ পর্যন্ত—এই আয়াতটি উল্লিখিত নারীদের নাপাক হওয়ার দলিল হতো। অথচ একজন মুসলিম জীবিত বা মৃত কোনো অবস্থাতেই নাপাক হয় না, যেমনটি সহীহ হাদিসে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত। একইভাবে এমন অনেক বস্তুর নাপাক হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ত যেগুলোর হারামের ব্যাপারে স্পষ্ট বর্ণনা এসেছে কিন্তু সেগুলো সর্বসম্মতভাবে পবিত্র; যেমন মূর্তিপূজার বেদী, ভাগ্য নির্ণায়ক তীর এবং প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো মাদকদ্রব্য উৎপাদনকারী উদ্ভিদ ও ফলমূল।

যদি আপনি বলেন: যখন কোনো বস্তুর নাপাক হওয়া বা অপবিত্রতা কিংবা কলুষতার সুস্পষ্ট বর্ণনা থাকে যা নির্দেশ করে যে—

--------------------------------------------

১. তাবারানি আল-কাবীর-এ, আবু নুআইম আল-হিলইয়া-তে এবং বাইহাকি আস-সুনান-এ সা'লাবা আল-খুশানি (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কিছু ফরজ নির্ধারণ করেছেন, তাই সেগুলো অবহেলা করো না। কিছু সীমা নির্ধারণ করেছেন, সেগুলো অতিক্রম করো না। কিছু বিষয় হারাম করেছেন, সেগুলোর নিকটবর্তী হয়ো না। আর তিনি কিছু বিষয় তোমাদের প্রতি রহমতস্বরূপ কোনো বিস্মৃতি ছাড়াই নীরব থেকেছেন, তাই সেগুলো নিয়ে অহেতুক অনুসন্ধান করো না।" ইবনুল কায়্যিম আলামুল মুওয়াক্কিঈন-এ বলেছেন: এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহ হিসেবে প্রমাণিত।

তাবারানি আল-আওসাত-এ আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কিছু ফরজ নির্ধারণ করেছেন, তাই সেগুলো অবহেলা করো না; কিছু সীমা নির্ধারণ করেছেন, সেগুলো অতিক্রম করো না; আর তিনি অনেক বিষয়ে কোনো বিস্মৃতি ছাড়াই তোমাদের জন্য রহমতস্বরূপ নীরব থেকেছেন, তাই তা গ্রহণ করো।" মুহাম্মাদ আল-উমরানি (আল্লাহ তাকে নিরাপদ রাখুন) এর পাণ্ডুলিপি থেকে।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
أنه نجس كما قلت في نجاسة الروث ولحم الخنزير فكيف لم تحكم بنجاسة الخمر لقوله تعالى: {إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلامُ رِجْسٌ} [المائدة:90] .

قلت: لما وقع الخمر ههنا مقترنا بالأنصاب والأزلام كان ذلك قرينه صارفه لمعنى1 الرجسية إلى غير النجاسة وهكذا قوله تعالى: {إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ} [التوبة:28] لما جاءت الأدلة الصحيحة المقتضية لعدم نجاسة ذوات المشركين كما ورد في أكل ذبائحهم وأطعمتهم والتوضؤ في آنياتهم والأكل فيها وإنزالهم المسجد كان دليلا على أن المراد بالنجاسة المذكورة في الآية غير الشرعية بل قد ورد البيان من الشارع لذلك بما لا يحتاج إلى زيادة فقال: في وفد ثقيف لما أنزلهم المسجد "ليس على الأرض من أنجاس القوم شيء إنما أنجاسهم على أنفسهم" فهذا يدل على أن تلك النجاسة حكمية لا حسية والتعبد إنما هو بالنجاسات الحسية وأما ما ورد فيه ما يدل على نجاسته ولكنه قد عورض بما هو أرجح منه فلا شك أنه يتعين العمل بالأرجح فإن عورض بما يساويه فالأصل عدم التعبد بما يتضمن ذلك الحكم حتى يرد موردا خالصا عن شوب المعارضة أو راجحا على ما عارضه.

وبالجملة فالواجب على المنصف أن يقوم مقام المنع ولا يتزحزح عن هذا المقام إلا بحجة شرعية وقد أوضحت في مصنفاتي كشرح المنتقى وحاشية الشفاء هذه المباحث المتعلقة بالنجاسة بما لا يحتاج الناظر في ذلك إلى النظر في غيره فليراجع.

--------------------------------------------

1ظاهر كلامه أن الرجس إما مشترك أو أنه لغوي شرعي، وفي ذلك نظر، ثم إنه قد يقال: إن هذه دلالة اقتران ضعيفة، لأن قوله رجس خبر عن كل من المذكورات، والخبر الواحد لا يختلف لأنه محكوم به على متعددات. وأما الاستدلال على نجاسة الكافر والخمر والميتة بما في حديث أبي ثعلبة من الأمر بغسل آنية الكفار لكونهم كانوا يشربون فيها الخمر ويطبخون فيها اللحوم فلا يدل على النجاسة لجواز أن يكون ذلك لما تقدم بها من المحرم. وذلك لعدم وجود غيرها، وكذلك لا يدل أمره صلى الله عليه وسلم في لحوم الحمر بخيبر بأن تهراق الآنية وتكسر أو تغسل لاحتمال أنه ليس لأجل النجاسة من خط العلامة حسن بن يحيى قدس سره.
নিশ্চয়ই এটি অপবিত্র যেমনটি আমি গোবর ও শুকরের মাংসের অপবিত্রতার বিষয়ে বলেছি। তাহলে আপনি কেন মদের অপবিত্রতার বিষয়ে ফয়সালা দেননি, অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ অপবিত্র" (আল-মায়িদাহ: ৯০)।

আমি বলেছি: যখন এখানে মদকে প্রতিমা এবং ভাগ্যনির্ধারক তীরের সাথে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, তখন তা ছিল 'রিজস' বা অপবিত্রতা শব্দের অর্থকে শারয়ি অপবিত্রতা (নাজাসাত) থেকে অন্য অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার একটি প্রমাণ। অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলার বাণী: "নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র" (আত-তাওবাহ: ২৮); যখন মুশরিকদের সত্তা অপবিত্র না হওয়ার সপক্ষে বিশুদ্ধ দলিলসমূহ বিদ্যমান, যেমন তাদের জবেহ করা পশুর গোশত ও খাবার ভক্ষণ করা, তাদের পাত্র ব্যবহার করে অজু করা ও তাতে আহার করা এবং তাদের মসজিদে প্রবেশ করানোর বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, আয়াতে উল্লিখিত অপবিত্রতা দ্বারা শরয়ি অপবিত্রতা উদ্দেশ্য নয়। বরং এ বিষয়ে শরয়ি বিধানদাতার পক্ষ থেকে এমন বর্ণনা এসেছে যার পর আর কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। তিনি সাকিফ গোত্রের প্রতিনিধি দলের ক্ষেত্রে বলেছিলেন, যখন তিনি তাদের মসজিদে অবস্থান করতে দিয়েছিলেন: "জমিনের ওপর এই কওমের অপবিত্রতার কিছুই নেই, তাদের অপবিত্রতা তো কেবল তাদের নিজেদের মধ্যেই।" এটি প্রমাণ করে যে, সেই অপবিত্রতা হচ্ছে বিধানগত (হুকমি), ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য (হিসসি) নয়। আর ইবাদত-বন্দেগির বিষয়টি কেবল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অপবিত্রতার সাথে সংশ্লিষ্ট। আর যে বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে অপবিত্র হওয়ার দলিল পাওয়া যায় কিন্তু তার বিপরীতে এর চেয়ে শক্তিশালী দলিল বিদ্যমান থাকে, সেক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে অধিক শক্তিশালী দলিলের ওপর আমল করা অপরিহার্য। আর যদি সমপর্যায়ের দলিল দ্বারা বিরোধ দেখা দেয়, তবে মূল নীতি হলো সেই বিধান সংশ্লিষ্ট ইবাদত আবশ্যক না হওয়া, যতক্ষণ না তা বিরোধের সংশয়মুক্ত হয়ে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় অথবা বিরোধপূর্ণ দলিলের ওপর প্রাধান্য পায়।

পরিশেষে, একজন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তির কর্তব্য হলো অসম্মতির অবস্থানে অটল থাকা এবং শরয়ি দলিল ব্যতীত সেই অবস্থান থেকে বিচ্যুত না হওয়া। আমি আমার গ্রন্থসমূহ যেমন শারহুল মুনতাকা এবং হাশিয়াতুশ শিফা-তে অপবিত্রতা সংক্রান্ত এই বিষয়গুলো এমনভাবে স্পষ্ট করেছি যে, পাঠকের জন্য অন্য কোনো কিতাব দেখার প্রয়োজন হবে না। সুতরাং তা দেখে নেওয়া উচিত।

--------------------------------------------

১. তাঁর কথার বাহ্যিক রূপ হলো 'রিজস' শব্দটি হয় একাধিক অর্থবোধক (মুশতারাক) অথবা এটি একইসাথে আভিধানিক ও শারয়ি অর্থে ব্যবহৃত। এ বিষয়ে আলোচনার অবকাশ রয়েছে। অতঃপর বলা যায়: এটি একটি দুর্বল 'দালালাতুল ইক্তিরাম' (একত্রে উল্লেখ হওয়ার কারণে অর্থগত মিল খোঁজা), কারণ 'রিজস' শব্দটি এখানে উল্লিখিত প্রত্যেকটি বিষয়ের সংবাদ (খবর) হিসেবে এসেছে, আর একই খবর যখন একাধিক বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয় তখন তার অর্থ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে না। আর কাফের, মদ ও মৃত প্রাণীর অপবিত্রতার সপক্ষে আবু সালাবার হাদিসে কাফেরদের পাত্র ধৌত করার যে নির্দেশ এসেছে—যেহেতু তারা তাতে মদ পান করত এবং মাংস রান্না করত—তা অপবিত্রতার ওপর সরাসরি প্রমাণ দেয় না। কারণ হতে পারে সেই নির্দেশটি ছিল তাতে পূর্বে হারাম বস্তু থাকার কারণে এবং বিকল্প কোনো পাত্র না থাকার কারণে। একইভাবে খায়বারের যুদ্ধে গাধার মাংসের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাত্রের বিষয়বস্তু ফেলে দেওয়া এবং পাত্রগুলো ভেঙে ফেলা অথবা ধৌত করার নির্দেশটি সম্ভবত অপবিত্রতার কারণে ছিল না। —আল্লামা হাসান ইবনে ইয়াহইয়া (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন)-এর পাণ্ডুলিপি থেকে।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌فصل تطهير النجاسات

ويطهر ما تنجس بغسله حتى لا يبقى عين ولا لون ولا ريح ولا طعم والنعل بالمسح والاستحالة مطهرة لعدم وجود الوصف المحكوم عليه وما لا يمكن غسله فبالصب عليه أو النزح منه حتى لا يبقى للنجاسة أثر والماء هو الأصل في التطهير فلا يقوم غيره مقامه إلا بأذن من الشارع.

أقول: تطهير النجاسات إن ورد فيه شيء عن الشارع كان الواجب الاقتصار في صفة التطهير على ذلك الوارد من دون مخالفة بزيادة عليه أو نقصان كما ورد في أن النعل إذا تلوث بالنجاسة طهر بمسحه وقد تقدم ما يدل على ذلك وتقدم أيضا ما ورد في كيفية تطهير ما ينجس بدم الحيض وبلعاب الكلب.

وبالجملة فكل ما علمنا الشارع كيفية تطهيره كان علينا أن نقتصر على تلك الكيفية وأما ما ورد فيه عن الشارع أنه نجس ولم يرد فيه بيان كيفية تطهيره فالواجب علينا إذهاب تلك العين حتى لا يبقى لها ريح ولا لون ولا طعم لأن الشيء الذي يجد الإنسان ريحه أو طعمه قد بقي فيه جزء من العين وإن لم يبق جرمها أو لونها إذ انفصال الرائحة لا يكون إلا عن وجود شيء من ذلك الشيء الذي له الريح وكذلك وجود الطعم لا يكون إلا عن وجود شيء عن ذلك الشيء الذي له طعم وإذا استحال الشيء إلى شيء آخر حتى كان ذلك الشيء الآخر مخالفا للشيء الأول لونا وريحا وطعما كاستحالة العذرة رمادا فقد فُقد الوصف الذي وقع الحكم من الشارع بالنجاسة عليه وهذا هو الحق والخلاف في ذلك معروف وما كان لا يمكن غسله من المتنجسات كالأرض

--------------------------------------------

= وأما التعليل في الحديث بقوله: فإنها رجس أو نجس، فقد شك فيه الراوي وقد عرفت احتمال معنى رجس ونجس. من خطه رحمه الله.
নাপাকি পবিত্রকরণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

নাপাকি লেগেছে এমন বস্তু ধোয়ার মাধ্যমে পবিত্র করতে হয়, যতক্ষণ না তার মূল উপদান (আইন), রং, গন্ধ বা স্বাদ নিঃশেষ হয়ে যায়। আর জুতো পবিত্র হয় ঘষে মুছে ফেলার মাধ্যমে। আর রূপান্তর (এস্তিহালা) পবিত্রকারক, কারণ যে বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে বিধান (হুকুম) দেওয়া হয়েছিল তা আর বিদ্যমান নেই। যা ধোয়া সম্ভব নয়, তা তার ওপর পানি ঢেলে বা তা থেকে পানি সেচে ফেলার মাধ্যমে পবিত্র করতে হয়, যতক্ষণ না নাপাকির কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট থাকে। পবিত্রকরণের ক্ষেত্রে পানিই হলো মূল ভিত্তি, তাই শারীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে অনুমতি ব্যতিরেকে অন্য কিছু পানির স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না।

আমি বলি: নাপাকি পবিত্র করার বিষয়ে যদি শারীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে কোনো পদ্ধতি বর্ণিত হয়ে থাকে, তবে পবিত্র করার সেই পদ্ধতির ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা ওয়াজিব; তাতে কোনো প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পরিমার্জন করা যাবে না। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে, জুতো যদি নাপাকিতে দূষিত হয় তবে তা মুছে ফেলার মাধ্যমেই পবিত্র হয়ে যায়। এর স্বপক্ষে যা প্রমাণ বহন করে তা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, এবং হায়েজের রক্ত ও কুকুরের লালা দ্বারা নাপাক হওয়া বস্তু পবিত্র করার পদ্ধতি সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তাও ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোটকথা হলো, শারীয়ত প্রণেতা আমাদের যে সব বস্তু পবিত্র করার পদ্ধতি শিখিয়েছেন, আমাদের জন্য সেই পদ্ধতির ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা আবশ্যক। আর যে সব বস্তুর ক্ষেত্রে শারীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে কেবল নাপাক হওয়ার কথা এসেছে কিন্তু তা পবিত্র করার পদ্ধতির কোনো বর্ণনা আসেনি, সেক্ষেত্রে আমাদের ওপর ওয়াজিব হলো সেই নাপাক বস্তুর সত্তাকে এমনভাবে দূর করা যাতে তার গন্ধ, রং বা স্বাদ অবশিষ্ট না থাকে। কেননা মানুষ যদি কোনো বস্তুর গন্ধ বা স্বাদ অনুভব করে, তবে বুঝতে হবে সেই বস্তুর কোনো অংশ সেখানে অবশিষ্ট রয়ে গেছে, যদিও তার দৃশ্যমান অবয়ব বা রং অবশিষ্ট নেই। কারণ গন্ধের বিচ্ছুরণ সেই বস্তুরই কোনো অংশের অস্তিত্ব ছাড়া সম্ভব নয় যে বস্তুটির গন্ধ রয়েছে। একইভাবে স্বাদের অস্তিত্বও সেই বস্তুর কোনো অংশের অস্তিত্ব ছাড়া সম্ভব নয় যে বস্তুর স্বাদ রয়েছে। আর যখন কোনো বস্তু অন্য কোনো বস্তুতে রূপান্তরিত হয়ে যায় এবং সেই দ্বিতীয় বস্তুটি রং, গন্ধ ও স্বাদের দিক থেকে প্রথম বস্তুর চেয়ে ভিন্নতর হয়—যেমন বিষ্ঠা রূপান্তরিত হয়ে ছাইয়ে পরিণত হওয়া—তখন সেই বৈশিষ্ট্যটি হারিয়ে যায় যার ওপর শারীয়ত প্রণেতা নাপাক হওয়ার বিধান দিয়েছিলেন। আর এটিই হলো সঠিক মত, যদিও এ বিষয়ে মতপার্থক্য প্রসিদ্ধ। আর নাপাক হওয়া এমন বস্তু যা ধোয়া সম্ভব নয়, যেমন জমিন...

--------------------------------------------

= আর হাদিসে বর্ণিত এই কারণ দর্শানো যে: "নিশ্চয়ই তা অপবিত্র বা নাপাক", এ ব্যাপারে বর্ণনাকারী সন্দেহ পোষণ করেছেন। আপনি 'রিজস' এবং 'নাজাস' শব্দের অর্থগত সম্ভাবনা সম্পর্কে জেনেছেন। তার স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে, আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
والبئر فتطهيره بالصب عليه والنزح منه حتى لا يوجد للنجاسة أثر لأنها لو كانت باقية لكان التعبد بإذهابها باقيا ولكن هذا إنما يكون في مثل النجاسة التي لها جرم ولون وأما مثل البول فقد ورد عن الشارع أن تطهيره بأن يصب عليه ذنوب من ماء فإذا وقع ذلك صارت الأرض المتنجسة بالبول طاهرة.

وأما كون الأصل في التطهير هو الماء فقد وصف بذلك الكتاب والسنة وصفا مطلقا غير مقيد بل قوله صلى الله عليه وسلم: "الماء طهور" يرشد إلى ما ذكرنا إرشاد يشهد له قواعد علم المعاني وعلم الأصول فإذا ثبت الشارع أن تطهير شيء من المتنجسات يكون بغير الماء كمسح النعل بالأرض ونحو ذلك كان الماء غير متعين في تطهير تلك النجاسة بخصوصها ويتعين فيما عداها وهذا هو الحق وقد ذهب بعض الجمهور إلى أن الماء هو المتعين في تطهير النجاسات وذهب أبو حنيفة وأبو يوسف إلى أنه يجوز التطهير بكل مائع طاهر وإليه ذهب الداعي من أهل البيت ويرد على الجمهور بما ثبت عن الشارع تطهيره بغير الماء إن كانوا يقولون إن الماء يتعين في مثل ذلك ويرد على أبي حنيفة ومن معه بأن إثبات مطهر لم يرد الشارع أو تطهير على غير الصفة الثابتة عنه مدفوع.
আর কূপ পবিত্র করার পদ্ধতি হলো তাতে পানি ঢালা এবং তা থেকে পানি সেচে ফেলা, যতক্ষণ না নাপাকির কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট থাকে। কারণ নাপাকি যদি অবশিষ্ট থাকে, তবে তা দূর করার বিধানও কার্যকর থাকে। তবে এটি কেবল সেই নাপাকির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যার দৃশ্যমান অস্তিত্ব ও বর্ণ রয়েছে। আর প্রস্রাবের মতো নাপাকির ক্ষেত্রে শরীয়ত প্রবর্তক থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তা পবিত্র করার উপায় হলো তার ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দেওয়া। যখন তা করা হবে, তখন প্রস্রাব দ্বারা অপবিত্র হওয়া যমিন পবিত্র হয়ে যাবে।

আর পবিত্রকরণের ক্ষেত্রে পানিই যে মূল উৎস, কিতাব ও সুন্নাহ তা নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা করেছে। বরং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "পানি পবিত্রকারী" আমাদের উল্লিখিত বিষয়ের দিকেই দিকনির্দেশনা প্রদান করে; এমন এক নির্দেশনা যার অনুকূলে ইলমে মা’আনী এবং ইলমে উসূলের নিয়মাবলী সাক্ষ্য দেয়। সুতরাং শরীয়ত প্রবর্তক যদি সাব্যস্ত করেন যে কোনো অপবিত্র বস্তু পানি ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে পবিত্র হয়—যেমন মাটির সাথে জুতা ঘষার মাধ্যমে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে—তবে সেই নির্দিষ্ট নাপাকি দূর করার জন্য পানিই একক মাধ্যম হিসেবে নির্ধারিত নয়, তবে তা ব্যতিরেকে অন্য সব ক্ষেত্রে পানিই নির্ধারিত থাকবে। আর এটিই সঠিক সিদ্ধান্ত। জমহুর উলামায়ে কেরামের একাংশ এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, নাপাকি দূর করার জন্য পানিই একমাত্র মাধ্যম। অন্যদিকে ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম আবু ইউসুফ এই মত ব্যক্ত করেছেন যে, প্রতিটি পবিত্র তরল পদার্থের মাধ্যমেই পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ। আহলে বাইতের দাঈ-ও এই মত গ্রহণ করেছেন। জমহুরের দাবিটি সেইসব সাব্যস্ত বিষয়ের মাধ্যমে খণ্ডন করা হয় যেখানে শরীয়ত প্রবর্তক পানি ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে পবিত্র করার বিষয়টি অনুমোদন করেছেন—যদি তারা মনে করেন যে সেই সকল ক্ষেত্রেও পানিই অপরিহার্য। আবার ইমাম আবু হানীফা ও তাঁর অনুসারীদের অভিমত এই যুক্তিতে খণ্ডন করা হয় যে, শরীয়ত প্রবর্তক যেটিকে পবিত্রকারী হিসেবে সাব্যস্ত করেননি তাকে পবিত্রকারী হিসেবে গ্রহণ করা, অথবা তাঁর থেকে প্রমাণিত পদ্ধতির বিপরীত পদ্ধতিতে পবিত্রতা অর্জন করা অগ্রাহ্য।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌باب قضاء الحاجة

على المتخلي الاستتار حتى يدنو من الأرض والبعد أو دخول الكنيف وترك الكلام والملابسة لما له حرمة وتجنب الأمكنة التي منع عن التخلي فيها شرع أو عرف وعدم الاستقبال والاستدبار للقبلة وعليه الاستجمار بثلاثة أحجار طاهرة أو ما يقوم مقامها ويندب الاستعاذة عند الشروع والاستغفار والحمد بعد الفراغ.

أقول أما مشروعية الاستتار حتى يدنو من الأرض عند قضاء الحاجة فلما ورد من الأدلة على وجوب ستر العورة عموما وخصوصا إلا عند الضرورة ومنها قضاء الحاجة فلا يكشف عورته إلا عند القعود.

وقد أخرج أحمد وأبو داود وابن ماجه وابن حبان والحاكم والبيهقي ومن حديث أبي هريرة بلفظ "من أتي الغائط فليستتر".

وأما البعد فلما أخرجه أهل السنن وصححه الترمذي من حديث جابر قال: "خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في السفر فكان لا يأتي البراز حتى يغيب فلا يرى" ولفظ أبي داود "كان إذا أراد البراز انطلق حتى لايراه أحد" ورجاله رجال الصحيح إلاإسماعيل بن عبد الملك الكوفي ففيه مقال يسير وأما إذا أراد أن يقضي الحاجة في البيان وهناك كنيف فليس عليه إلا أن يدخله وإن قرب من الناس لما سيأتي من حديث ابن عمر.

وأما ترك الكلام فلحديث: "لايخرج الرجلان يضربان الغائط كاشفين عورتهما يتحدثان فإن الله يمقت على ذلك" أخرجه أحمد أبو داود وابن ماجه
শৌচকার্য সম্পাদন পরিচ্ছেদ

শৌচকার্য সম্পাদনকারীর কর্তব্য হলো মাটির কাছাকাছি না হওয়া পর্যন্ত নিজেকে আবৃত রাখা এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে যাওয়া অথবা শৌচাগারে প্রবেশ করা; আর কথা বলা এবং সম্মানজনক কোনো বস্তু সাথে রাখা বর্জন করা। শরীয়ত বা প্রথাগতভাবে যেসব স্থানে শৌচকার্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেসব স্থান এড়িয়ে চলা এবং কিবলার দিকে মুখ বা পিঠ না দেওয়া। তিনটি পবিত্র পাথর বা তার স্থলাভিষিক্ত বস্তু দ্বারা ইস্তিজমার করা তার জন্য আবশ্যক। কাজ শুরু করার সময় আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং শেষ করার পর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও তাঁর প্রশংসা করা মুস্তাহাব।

আমি বলছি, শৌচকার্য সম্পাদনের সময় মাটির কাছাকাছি না হওয়া পর্যন্ত আবৃত থাকার বিধানের সপক্ষে যেসব দলিল রয়েছে তা মূলত সতর ঢেকে রাখা ওয়াজিব হওয়ার সাধারণ ও বিশেষ নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত, তবে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া; আর শৌচকার্যও সেই প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত, তাই বসার আগ পর্যন্ত সে সতর উন্মুক্ত করবে না।

ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকিম এবং বায়হাকি আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি মলত্যাগের স্থানে যায়, সে যেন পর্দা গ্রহণ করে।"

আর দূরত্বের বিষয়টি সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিজি জাবির বর্ণিত হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। তিনি বলেন: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সফরে বের হলাম। তিনি মলত্যাগের জন্য এতদূর যেতেন যে, তিনি অদৃশ্য হয়ে যেতেন এবং তাঁকে আর দেখা যেত না।" আবু দাউদের শব্দে রয়েছে: "তিনি যখন মলত্যাগের ইচ্ছা করতেন, তখন দূরে চলে যেতেন যতক্ষণ না তাঁকে কেউ দেখতে পেত।" এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তবে ইসমাইল বিন আব্দুল মালিক আল-কুফি ব্যতীত, যার ব্যাপারে সামান্য সমালোচনা রয়েছে। কিন্তু যদি লোকালয়ে শৌচকার্য সম্পাদন করতে চায় এবং সেখানে শৌচাগার থাকে, তবে লোকজনের কাছাকাছি হলেও তার জন্য কেবল তাতে প্রবেশ করাই যথেষ্ট, যা সামনে ইবনে উমর-এর হাদিস থেকে জানা যাবে।

আর কথা বলা বর্জন করার বিষয়টি এই হাদিসের কারণে: "দুই ব্যক্তি যেন তাদের সতর উন্মুক্ত করে কথা বলতে বলতে মলত্যাগ করতে না বের হয়; কেননা আল্লাহ তাআলা এতে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হন।" এটি আহমদ, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
من حديث أبي سعيد وأخرج نحوه ابن السكن وصححه من حديث جابر.

وأما ترك الملابسة لما له حرمة فلحديث أنس عند أهل السنن وصححه الترمذي والمنذري وابن دقيق العيد بلفظ: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا دخل الخلاء نزع خاتمه". لم يأت فيه من ضعفه بما تقوم به الحجة1 في التضعيف.

وأما تجنب الأمكنة التي منع عن التخلي فيها شرع أو عرف فقد ورد في ذلك أحاديث منها حديث أبي هريرة عند مسلم رحمه الله تعالى وأحمد وأبي داود قال: "اتقوا اللاعنين قالوا: وما اللاعنان يارسول الله؟ قال: الذي يتخلى في طريق الناس أو في ظلهم".

ومن حديث معاذ بن جبل عند أبي داود وابن ماجه والحاكم وابن السكن وصححاه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اتقوا الملاعن الثلاث البراز في الموارد وقارعة الطريق والظل" وقد أعل بأنه من رواية أبي سعيد الحميري عن معاذ ولم يسمع منه وفي الباب أحاديث فيها مقال.

ومن الأمكنة التي نهى الشارع عنها الجحر لحديث عبد الله بن سرجس قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يبال في الحجر أخرجه أحمد والنسائي وأبو داود والحاكم والبيهقي وقد أعل أنه من رواية قتادة

عنه ولم يسمع منه ولكنه قد صحح سماعه منه علي بن المديني وصحح الحديث ابن خزيمة وابن السكن.

ومنها: ما أخرجه أحمد أهل السنن من حديث عبد الله بن المغفل عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لايبولن أحدكم في مستحمه ثم يتوضأ فيه فإن عامة الوسواس منه".

--------------------------------------------

1تكلم فيه أبو داود بعد أن أخرجه بأنه حديث منكر وهم فيه همام، وإنما هو عن ابن جريج، عن زياد بن سعد، عن الزهري أن النبي صلى الله عليه وسلم اتخذ خاتما من ورق ثم ألقاه" فرواه همام عن ابن جريج كما في الكتاب فوهم فيه، انتهى بالمعنى من السنن، وهي علة ظاهرة، إلا أن الترمذي قد حسنه. من خط سيدي الحسن بن يحيى قدس سره.

قلت: وينظر في الترمذي فإن المؤلف كما ترى ذكر عنه تصحيحه.
আবু সাঈদ বর্ণিত হাদিস থেকে। এবং ইবনে আস-সাকান জাবির বর্ণিত হাদিস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন ও তাকে সহিহ বলেছেন।

আর যা সম্মানিত তার সাথে সংস্পর্শ ত্যাগ করার বিষয়টি আনাস বর্ণিত হাদিসের কারণে, যা সুনান সংকলকগণ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি, মুনজিরি ও ইবনু দাকিকিল ঈদ একে সহিহ বলেছেন। হাদিসটির শব্দ হলো: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন তাঁর আংটি খুলে রাখতেন।" যারা একে দুর্বল বলেছেন, তাদের পক্ষ থেকে এমন কোনো দলিল উপস্থাপিত হয়নি যা দুর্বল সাব্যস্ত করার জন্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য হতে পারে।১

আর শরিয়ত বা প্রথা অনুযায়ী যেসব স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করা নিষিদ্ধ, সেগুলো এড়িয়ে চলার বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে মুসলিম (রহ.), আহমাদ ও আবু দাউদে বর্ণিত আবু হুরায়রা-এর হাদিসটি অন্যতম। তিনি বলেন: "তোমরা অভিশাপ সৃষ্টিকারী দুটি কাজ থেকে বেঁচে থাকো।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: "হে আল্লাহর রাসুল, অভিশাপ সৃষ্টিকারী দুটি কাজ কী?" তিনি বললেন: "যে মানুষের চলাচলের পথে অথবা তাদের ছায়াযুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করে।"

আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, হাকিম ও ইবনে আস-সাকানের কিতাবে বর্ণিত মুয়াজ ইবনে জাবাল-এর হাদিসে রয়েছে (শেষোক্ত দুজন একে সহিহ বলেছেন), তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা অভিশাপের তিনটি স্থান থেকে বেঁচে থাকো: পানির ঘাটে, রাস্তার মাঝখানে এবং ছায়াযুক্ত স্থানে মলত্যাগ করা।" তবে এই হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত বলা হয়েছে কারণ এটি মুয়াজ থেকে আবু সাঈদ আল-হিমইয়ারির বর্ণনা, অথচ তিনি তাঁর থেকে সরাসরি শোনেননি। এই অধ্যায়ে আরও কিছু হাদিস রয়েছে যেগুলোর সনদে সমালোচনা রয়েছে।

শরিয়ত প্রণেতা যেসব স্থানে পেশাব-পায়খানা করতে নিষেধ করেছেন তার মধ্যে গর্তও অন্তর্ভুক্ত। আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস-এর হাদিস অনুযায়ী, তিনি বলেন: "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্তে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন।" এটি আহমাদ, নাসাঈ, আবু দাউদ, হাকিম ও বায়হাকি বর্ণনা করেছেন। তবে এটিকে ত্রুটিযুক্ত বলা হয়েছে কারণ এটি কাতাদার বর্ণনা

তাঁর থেকে, অথচ তিনি তাঁর থেকে সরাসরি শোনেননি। তবে আলী ইবনুল মাদিনি তাঁর থেকে শোনার বিষয়টি সহিহ বলেছেন এবং ইবনে খুজাইমা ও ইবনে আস-সাকান হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।

এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: যা আহমাদ ও সুনান সংকলকগণ আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন তার গোসলখানায় পেশাব না করে এবং পরে সেখানে অজু না করে। কারণ অধিকাংশ কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) এর থেকেই সৃষ্টি হয়।"

--------------------------------------------

১. আবু দাউদ এটি বর্ণনা করার পর মন্তব্য করেছেন যে, এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস এবং হাম্মাম এতে ভুল করেছেন। মূলত এটি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি যিয়াদ ইবনে সাদ থেকে, তিনি জুহরি থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রূপার একটি আংটি তৈরি করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তা ত্যাগ করেছিলেন। হাম্মাম কিতাবে উল্লিখিত ইবনে জুরাইজের সূত্রে এটি বর্ণনা করে ভুল করেছেন। এটি সুনান থেকে ভাবার্থসহ সমাপ্ত। এটি একটি স্পষ্ট ত্রুটি, তবে তিরমিজি একে হাসান বলেছেন। এটি আমার সাইয়্যেদ হাসান ইবনে ইয়াহইয়া (কুদ্দিসা সিররুহু)-এর পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত।

আমি বলছি: তিরমিজির ভাষ্যটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, কারণ লেখক যেমনটি উল্লেখ করেছেন যে তিনি একে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
ومنها ما أخرجه مسلم وأحمد والنسائي وابن ماجه عن جابر أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن يبال في الماء الراكد.

وأما المنع من التخلي في المواضع التي منع منها عرف الناس فوجهه أنهم يتأذون بذلك وما كان ذريعة إلى ما لا يحل فهو لا يحل.

وأما المنع من الاستقبال والاستدبار للقبلة فقد ورد في ذلك أحاديث منها ما في الصحيحين وغيرهما من حديث أبي أيوب بلفظ: "إذا أتيتم الغائط فلا تستقبلوا القبلة ولا تستبدورها ولكن شرقوا أو غربوا" وأخرج نحوه مسلم رحمه الله وغيره من حديث أبي هريرة ومن حديث سلمان أيضا وابن ماجه وابن حبان ومن حديث عبد الله ابن الحارث بن جزء وأبو داود من حديث عبد الله بن مغفل والدارمي في مسنده من حديث سهل بن حنيف وقد أختلف أهل العلم في ذلك على ثمانية أقوال استوفيناها في شرح المنتقى.

وقد استدل من لم يمنع من ذلك بما أخرجه الجماعة من حديث ابن عمر قال: "رقيت يوما في بيت حفصة فرأيت النبي صلى الله عليه وسلم على حاجته مستقبل الشام مستدبر الكعبة" وجعلوا هذا الحديث ناسخا لأحاديث النهي.

ومن جملة ما أستدلوا به حديث جابر عند أحمد وأبي داود والترمذي وحسنه وابن ماجه والبزار وابن الجارود وابن خزيمة وابن حبان والحاكم والدارقطني نقال: "نهى النبي صلى الله عليه وسلم أن نستقبل القبلة ببول" فرأيته قبل أن يقبض بعام يستقبلها وقد نقل الترمذي عن البخاري تصحيحه وصححه أيضا ابن السكن وحسنه أيضا البزار ولا يخفى أنه قد تقرر في الأصول أن فعله صلى الله عليه وسلم لا يعارض القول الخاص بالأمة فما وقع منه صلى الله عليه وسلم لا يعارض النهي عن الاستقبال والاستدبار للقبلة.

فإن قلت حديث عائشة عند أحمد وابن ماجه قالت: ذكر لرسول الله صلى الله عليه وسلم أن ناسا يكرهون أن يستقبلوا القبلة بفروجهم فقال: "أو قد فعلوها حولوا مقعدتي قبل القبلة".
এর মধ্যে একটি হলো যা মুসলিম, আহমাদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন।

আর মানুষের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী যেসব স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করা নিষিদ্ধ, সেসব স্থানে তা থেকে বিরত থাকার কারণ হলো এর মাধ্যমে তারা কষ্ট পায়; আর যা হারামের মাধ্যম হয়, তাও হারাম।

আর কিবলামুখী হয়ে বা কিবলাকে পেছনে রেখে মলমূত্র ত্যাগের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে আবু আইয়ুব (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস রয়েছে যার শব্দ হলো: "যখন তোমরা মলত্যাগ করতে যাও, তখন কিবলামুখী হয়ো না এবং কিবলাকে পেছনে রেখো না; বরং পূর্বমুখী হও অথবা পশ্চিমমুখী হও।" ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) এবং অন্যরা আবু হুরায়রা (রা.), সালমান (রা.), ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনে জুজ (রা.)-এর সূত্রেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আবু দাউদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.)-এর সূত্রে এবং দারেমি তাঁর মুসনাদে সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.)-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে আলেমগণ আটটি মতে বিভক্ত হয়েছেন, যা আমরা 'শারহুল মুনতাকা'-তে সবিস্তারে আলোচনা করেছি।

যারা এটিকে নিষিদ্ধ মনে করেন না, তারা জামাআত কর্তৃক বর্ণিত ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "একদিন আমি হাফসা (রা.)-এর ঘরে উঠলাম এবং নবী (সা.)-কে তাঁর প্রয়োজনে সিরিয়ার দিকে মুখ করে এবং কাবার দিকে পিঠ দিয়ে বসা অবস্থায় দেখলাম।" তারা এই হাদিসটিকে নিষেধাজ্ঞার হাদিসসমূহের রহিতকারী হিসেবে গণ্য করেছেন।

তারা আরও যে হাদিস দ্বারা দলিল দিয়েছেন, তা হলো জাবির (রা.)-এর হাদিস যা আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি—তিনি একে হাসান বলেছেন—ইবনে মাজাহ, বাজজার, ইবনুল জারুদ, ইবনে খুজাইমা, ইবনে হিব্বান, হাকেম এবং দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "নবী (সা.) আমাদের প্রস্রাব করার সময় কিবলামুখী হতে নিষেধ করেছিলেন।" কিন্তু আমি তাঁর ওফাতের এক বছর আগে তাঁকে কিবলামুখী হয়ে বসতে দেখেছি। তিরমিজি ইমাম বুখারি থেকে এর বিশুদ্ধতার কথা বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে সাকানও একে সহীহ বলেছেন এবং বাজজার একে হাসান বলেছেন। আর এটি স্পষ্ট যে উসুলুল ফিকহের নীতি অনুযায়ী এটি স্থিরীকৃত যে, নবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত কাজ উম্মতের জন্য নির্ধারিত নির্দেশের পরিপন্থী হয় না। সুতরাং নবী (সা.) থেকে যা প্রকাশ পেয়েছে তা কিবলামুখী হওয়া বা কিবলাকে পেছনে রাখার নিষেধাজ্ঞার সাথে সাংঘর্ষিক নয়।

যদি আপনি বলেন, আহমাদ ও ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটির কথা, যেখানে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে উল্লেখ করা হলো যে কিছু লোক তাদের লজ্জাস্থান দিয়ে কিবলামুখী হওয়াকে অপছন্দ করে। তখন তিনি বললেন: "তারা কি সত্যিই এমন করে? আমার বসার স্থানটি কিবলামুখী করে দাও।"
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
قلت: لو صح هذا لكان صالحا للنسخ لأن النبي صلى الله عليه وسلم فعله لقصد التشريع ولمخالفة من كان يكره الاستقبال ولكنه لم يصح فان إسناده خالد بن أبي الصلت قال: ابن حزم هو مجهول وقال: الذهبي في الميزان في ترجمة خالد بن أبي الصلت أن هذا الحديث منكر وقد استدل من خصص المنع من الاستقبال والاستدبار للقبلة بالفضاء بما أخرجه أبو داود والحاكم عن مروان الأصفر قال: رأيت ابن عمر أناخ راحلته مستقبل القبلة يبول إليها فقلت أبا عبد الرحمن أليس قد نهي عن ذلك فقال: بلى إنما نهي عن هذا في الفضاء فإذا كان بينك وبين القبلة شيء يسترك فلا بأس وقد حسن الحافظ في الفتح إسناده ولكنه إنما يكون هذا دليلا إذا كان قد سمع من النبي صلى الله عليه وسلم ما يفيد تخصيص ذلك النهي السابق وأما إذا مستنده إنما هو مجرد فهمه من فعله صلى الله عليه وسلم في بيت حفصة فلا يكون هذا الفهم حجة ومع هذا الاحتمال لا ينتهض للاستدلال.

وأما الاستجمار بثلاثة أحجار طاهرة فوجهه ما في صحيح مسلم رحمه الله تعالى وغيره من حديث سلمان أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن الاستجمار بأقل من ثلاث أحجار وعن الاستنجاء برجيع أوعظم. وأخرج أحمد والنسائي وأبو داود وابن ماجه والدراقطني وقال: إسناده صحيح حسن من حديث عائشة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إذا ذهب أحدكم إلى الغائط فليستطب بثلاثة أحجار فإنها تجزئ عنه" وأخرج نحوه أبوداود والنسائي من حديث أبي هريرة وأخرج أحمد وأبو داود والنسائي وابن ماجه من حديث أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يأمر بثلاثة أحجار وينهى عن الروثة والرمة وأخرج ابن خزيمة وابن حبان والدرامي وأبو عوانة في صحيحه والشافعي من حديث أبي هريرة أيضا بلفظ: "وليستنج أحدكم بثلاثة أحجار" وفي الباب أحاديث غير ما ذكرنا وإذا لم توجد الأحجار فغيرها يقوم مقامها للضروة ما لم يكن ذلك الغير مما ورد النهي عنه كالروثة والرجيع والعظم فإنه لا يجوز ولا يجزئ.
আমি বলছি: যদি এটি বিশুদ্ধ হতো তবে তা রহিতকরণের জন্য উপযুক্ত হতো, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি শরীয়ত প্রণয়নের উদ্দেশ্যে এবং যারা কিবলার দিকে মুখ করা অপছন্দ করত তাদের বিরোধিতা করার জন্য করেছিলেন। কিন্তু এটি বিশুদ্ধ নয়, কেননা এর সনদে খালিদ বিন আবুস সালত রয়েছেন। ইবনে হাযম তাকে অজ্ঞাত (মাজহুল) বলেছেন এবং আয-যাহাবী 'আল-মিযান' গ্রন্থে খালিদ বিন আবুস সালতের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, এই হাদিসটি অস্বীকৃত (মুনকার)। যারা কিবলার দিকে মুখ করা বা পিঠ করার নিষেধাজ্ঞাকে কেবল খোলা ময়দানের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, তারা আবু দাউদ ও হাকেম বর্ণিত মারওয়ান আল-আসফার থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে কিবলার দিকে মুখ করে উট বসিয়ে তার দিকে ফিরে পেশাব করতে দেখলাম। আমি বললাম, হে আবু আব্দুর রহমান! এ কাজ থেকে কি নিষেধ করা হয়নি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, এটি কেবল খোলা ময়দানের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে; কিন্তু যদি তোমার ও কিবলার মাঝে এমন কিছু থাকে যা তোমাকে আড়াল করে, তবে এতে কোনো দোষ নেই। আল-হাফিজ (ইবনে হাজার) 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে এর সনদকে 'হাসান' বলেছেন। কিন্তু এটি তখনই দলিল হিসেবে গণ্য হবে যদি তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এমন কিছু শুনে থাকেন যা পূর্ববর্তী সাধারণ নিষেধাজ্ঞাকে নির্দিষ্ট করার অর্থ প্রদান করে। পক্ষান্তরে যদি তাঁর এই মতের ভিত্তি কেবল হাফসার ঘরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আমল থেকে তাঁর নিজস্ব বুঝ বা অনুধাবন হয়, তবে এই বুঝ দলিল হিসেবে গণ্য হবে না। এই সম্ভাবনার কারণে এটি দলিল হিসেবে সুদৃঢ় নয়।

আর তিনটি পবিত্র পাথর দিয়ে কুলুখ (ইস্তিجمার) ব্যবহারের প্রমাণ হলো সহীহ মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত সালমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস, যেখানে উল্লেখ আছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনটির কম পাথর দ্বারা কুলুখ ব্যবহার করতে এবং গোবর বা হাড় দ্বারা ইস্তিনজা করতে নিষেধ করেছেন। আহমাদ, নাসায়ী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন—এবং দারা কুতনী বলেছেন: এর সনদ সহীহ ও হাসান—আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস থেকে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন শৌচকার্যে যায়, তখন সে যেন তিনটি পাথর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করে, কারণ এটিই তার জন্য যথেষ্ট হবে।" আবু দাউদ ও নাসায়ী আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আহমাদ, আবু দাউদ, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনটি পাথর ব্যবহারের নির্দেশ দিতেন এবং শুকনো গোবর ও পচা হাড় ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন। ইবনে খুযায়মাহ, ইবনে হিব্বান, দারেমী, আবু আওয়ানা তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এবং শাফেয়ীও আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই শব্দে হাদিস বর্ণনা করেছেন: "এবং তোমাদের প্রত্যেকে যেন তিনটি পাথর দ্বারা ইস্তিনজা করে।" এ বিষয়ে আমাদের বর্ণিত হাদিসগুলো ছাড়াও আরও হাদিস রয়েছে। যদি পাথর পাওয়া না যায়, তবে প্রয়োজনের খাতিরে অন্য কিছু পাথরের স্থলাভিষিক্ত হবে, যতক্ষণ না সেই বস্তুটি এমন হয় যা ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে—যেমন গোবর, বিষ্ঠা বা হাড়; কেননা এগুলো ব্যবহার করা বৈধ নয় এবং এতে পবিত্রতা অর্জিত হবে না।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
وأما مشروعية الاستعاذة عند الشروع فوجهه ما أخرجه الجماعة من حديث انس قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا دخل الخلاء قال: "اللهم إني أعوذ بك من الخبث والخبائث" وقد روى سعيد بن منصور في سننه أنه كان صلى الله عليه وسلم يقول: "بسم الله اللهم إني أعوذ بك من الخبث والخبائث" وإسناده على شرط مسلم.

وأما الحمد والاستغفار بعد الفراغ فوجه ذلك ما أخرجه ابن ماجه بإسناد صالح من حديث أنس قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا خرج من الخلاء قال: "الحمد الله الذي أذهب عني الأذى" وأخرج نحوه النسائي وابن السني من حديث أبي ذر ورمز السيوطي لصحته.

وأخرج أحمد وأبو داود والترمذي وابن ماجه من حديث عائشة قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا خرج من الخلاء قال: "غفرانك" وصححه ابن حبان وابن خزيمة والحاكم.
শুরু করার সময় আশ্রয় প্রার্থনার বৈধতার ভিত্তি হলো জামাআত (মুহাদ্দিসগণ) আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে অপবিত্র পুরুষ ও নারী শয়তানদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।" আর সাঈদ বিন মানসুর তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন: "আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে অপবিত্র পুরুষ ও নারী শয়তানদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।" এর সনদ ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী।

আর কাজ শেষ করার পর আল্লাহর প্রশংসা ও ক্ষমা প্রার্থনার ভিত্তি হলো ইবনে মাজাহ আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে একটি গ্রহণযোগ্য সনদে যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন শৌচাগার থেকে বের হতেন, বলতেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বিষয় দূর করেছেন।" নাসাঈ ও ইবনুস সুন্নি আবু যার (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং সুয়ূতী একে সহিহ হওয়ার সংকেত দিয়েছেন।

আর আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ আয়েশা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন শৌচাগার থেকে বের হতেন, বলতেন: "আমি আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি।" একে ইবনে হিব্বান, ইবনে খুজাইমা ও হাকেম সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌باب‌‌ أحكام الوضوء

أحكام الوضوء

…

باب أحكام الوضوء

يجب على كل مكلف أن يسمي إذا ذكر ويتمضمض ويستنشق ثم يغسل جميع وجهه ثم يديه مع مرفقيه ثم يمسح رأسه مع أذنيه ويجزئ مسح بعضه والمسح على العمامة ثم يغسل رجليه مع الكعبين وله المسح على الخفين ولا يكون وضوءا شرعيا إلا بالنية لاستباحة الصلاة.

أقول: أما وجوب التسمية فوجهه ما ورد من حديث أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "لا صلاة لمن لا وضوء له ولا وضوء لمن لا يذكر اسم الله عليه" أخرجه أحمد وأبو داود وابن ماجه والترمذي في العلل والدارقطني والبيهقي وابن السكن والحاكم وليس في إسناده ما يسقطه عن درجة الاعتبار وله طرق أخرى من حديثه عند الدارقطني والبيهقي وأخرج نحوه أحمد وابن ماجه من حديث سعيد بن زيد ومن حديث أبي سعيد وأخرج آخرون نحوه من حديث عائشة وسهل بن سعد وأبو سبرة وأم سبرة وعلي وانس ولا شك ولا ريب أنها جمعيا تنتهض للاحتجاج بها بل مجرد الحديث الأول ينتهض لأنه حسن فكيف إذا عضد بهذه الأحاديث الواردة في معناه ولا حاجة للتطويل في تخريجها فالكلام عليها معروف وقد صرح الحديث بنفي وضوء من لم يذكر اسم الله وذلك يفيد الشرطية التي يستلزم عدمها العدم فضلا عن الوجوب فإنه أقل ما يستفاد منه.
‌পরিচ্ছেদ‌‌ ওযুর বিধানাবলি

ওযুর বিধানাবলি

…

ওযুর বিধানাবলি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

প্রত্যেক মুকাল্লাফ (শারঈ বিধান পালনে দায়বদ্ধ) ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো স্মরণ থাকলে বিসমিল্লাহ বলা, কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া, এরপর পূর্ণ মুখমণ্ডল ধৌত করা, তারপর কনুইসহ উভয় হাত ধৌত করা, এরপর কানসহ মাথা মাসেহ করা—আর মাথার একাংশ মাসেহ করা এবং পাগড়ির ওপর মাসেহ করাও যথেষ্ট হবে—এরপর টাখনুসহ উভয় পা ধৌত করা। মোজার ওপর মাসেহ করাও তার জন্য বৈধ। সালাত বৈধ হওয়ার নিয়ত ছাড়া শারঈ ওযু সম্পন্ন হবে না।

আমি বলছি: তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ বলা) ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই হাদিস, যাতে তিনি বলেছেন: "সেই ব্যক্তির সালাত হয় না যার ওযু নেই, আর সেই ব্যক্তির ওযু হয় না যে ওযুর শুরুতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে না।" এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযি 'আল-ইলাল'-এ, দারা কুতনি, বায়হাকি, ইবনুস সাকান এবং হাকেম। এর বর্ণনাসূত্রে এমন কিছু নেই যা একে গ্রহণযোগ্যতার স্তর থেকে নিচে নামিয়ে দেয়। দারা কুতনি ও বায়হাকির বর্ণনায় এর আরও অন্যান্য সূত্র রয়েছে। আহমাদ ও ইবনে মাজাহ সাঈদ ইবনে যায়েদ এবং আবু সাঈদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আয়েশা, সাহল ইবনে সাদ, আবু সাবরা, উম্মে সাবরা, আলী এবং আনাস থেকেও অন্যান্যগণ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই সকল বর্ণনা সমষ্টিগতভাবে দলিল হিসেবে পেশ করার উপযোগী; বরং শুধু প্রথম হাদিসটিই দলিল হওয়ার জন্য যথেষ্ট, কারণ এটি 'হাসান' (উত্তম) পর্যায়ের। সুতরাং যখন একই অর্থের এই হাদিসগুলো এর স্বপক্ষে থাকবে তখন তো তা আরও জোরালো হবে। এগুলোর তাখরিজ (সূত্র বিশ্লেষণ) দীর্ঘ করার প্রয়োজন নেই, কারণ এ বিষয়ে আলোচনা সুবিদিত। হাদিসটিতে আল্লাহর নাম স্মরণ না করলে ওযু না হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে নাকচ করা হয়েছে, যা ওযুর জন্য তাসমিয়া 'শর্ত' হওয়ার অর্থ প্রদান করে—আর কোনো কিছু শর্ত হওয়ার অর্থ হলো সেই শর্তের অনুপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়টিই বাতিল হওয়া—সুতরাং এটি ওয়াজিব হওয়া তো এর মাধ্যমেই ন্যূনতমভাবে প্রমাণিত হয়।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وأما تقييد الوجوب بالذكر1 فهو للجمع2 بين هذه الأحاديث وحديث "من توضأ وذكر اسم الله عليه كان طهورا لجميع بدنه ومن توضأ ولم يذكر اسم الله عليه كان طهورا لأعضاء وضوئه" أخرجه الدراقطني والبيهقي من حديث ابن عمر وفي إسناده متروك وأخرجه الدارقطني والبيهقي من حديث ابن مسعود وفي إسناده أيضا متروك ورواه أيضا الدارقطني والبيهقي من حديث أبي هريرة وفيه ضعيفان وهذه الأحاديث لا تنتهض للاستدلال بها وليس فيها دلالة على المطلوب من أن الوجوب ليس إلا على الذاكر ولكنه يدل على ذلك أحاديث عدم المؤاخذة على السهو والنسيان وما يفيد ذلك من الكتاب العزيز فقد اندرجت تلك الأحاديث الضعيفة تحت هذه الأدلة الكلية ولا يلزم مثل ذلك في الأعضاء القطعية وبعد هذا كله ففي التقييد بالذكر إشكال3.

وأما وجوب المضمضة والاستنشاق فوجهه أنهما من جملة الوجه الذي ورد القرآن الكريم بغسله وقد بين النبي صلى الله عليه وسلم ما في القرآن بوضوئه المنقول إلينا ومن جملة ما نقل إلينا المضمضة والاستنشاق فأفاد ذلك أن الوجه المأمور بغسله من جملته المضمضة والاستنشاق وقد ورد الأمر بذلك كما أخرجه الدارقطني

--------------------------------------------

1 لا يذهب أن عدم المؤاخذة على السهو والنسيان التي تظافرت عليها أدلة الكتاب والسنة إنما هو فيما يرجع إلى نفي الإثم فقط، ولم يقل أحد أن من نسي الصلاة أو نسي ركنا من أركانها أو شرطا من شروطها كالوضوء مثلا أنه يرتفع حكمه بمعنى ركنيته أو شرطيته مثلا فتصح الصلاة، وقد نسي النبي صلى الله عليه وسلم ركعتين من صلاته، ثم لما ذكر أتاهما تحصيلا للصحة كما ثبت في الصحيح. نعم. قد ثبت في الشريعة أشياء قد ارتفع أحكامها بالنسيان وذلك أكل الصائم والكلام في الصلاة كما هو في حديث ذي اليدين بدلائل خصت مواردها. والله أعلم من خط الفاضل العمراني سلمه الله تعالى.

2 لعل وجه الجمع أن يحمل قوله: ومن توضأ ولم يذكر اسم الله إلخ على أنه لم يذكر الله ناسيا فقد أجزأه ونقصت طهوريته فقط وفيه ما سيأتي: أنه إذا جعلت شرطا فلا فرق في عدم الإجزاء بين الترك ناسيا أو ناسيا أو عامدا وإن لم يكن ناسيا، بل بمجرد الوجوب فهو مع الترك مجز عمدا أو سهو، فالحمل على إرادة الندب أو الاستحباب أرجح من خط سيدي العلامة الحسن ابن يحيى قدس الله روحه

3 إشارة إلى ما نقلناه عن العمراني قبل هذا.
আর স্মরণের সাথে ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি সীমাবদ্ধ করার কারণ হলো এই হাদিসগুলো এবং এই হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যে, "যে ব্যক্তি ওযু করল এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করল, তার পূর্ণ শরীর পবিত্র হলো; আর যে ওযু করল কিন্তু আল্লাহর নাম স্মরণ করল না, তার কেবল ওযুর অঙ্গগুলো পবিত্র হলো।" এটি দারা কুতনী ও বায়হাকী ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে একজন পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী রয়েছে। দারা কুতনী ও বায়হাকী এটি ইবনে মাসউদ থেকেও বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদেও একজন পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী রয়েছে। দারা কুতনী ও বায়হাকী এটি আবু হুরায়রা থেকেও বর্ণনা করেছেন এবং এতে দুইজন দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছেন। এই হাদিসগুলো দলিল হিসেবে উপস্থাপনের যোগ্য নয় এবং এতে কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই যে, ওয়াজিব হওয়া কেবল স্মরণকারীর জন্যই প্রযোজ্য। তবে ভুল ও বিস্মৃতির জন্য পাকড়াও না করার হাদিসগুলো এবং পবিত্র কুরআনের এ সংক্রান্ত আয়াতগুলো এই বিষয়ের প্রমাণ দেয়। ফলে এই দুর্বল হাদিসগুলো সেই সমস্ত সাধারণ দলিলসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। অকাট্য অঙ্গসমূহের ক্ষেত্রে এমনটি হওয়া আবশ্যক নয়। এসবের পরেও, স্মরণের সাথে সীমাবদ্ধ করার মধ্যে সমস্যা রয়েছে।

আর কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো, এই দুটি চেহারারই অন্তর্ভুক্ত যা ধোয়ার নির্দেশ পবিত্র কুরআনে এসেছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ওযুর মাধ্যমে কুরআনের নির্দেশ বর্ণনা করেছেন যা আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে। আমাদের নিকট যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়াও অন্তর্ভুক্ত। এতে প্রমাণিত হয় যে, যে চেহারা ধোয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার অন্তর্ভুক্ত হলো কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া। আর এ ব্যাপারে নির্দেশও বর্ণিত হয়েছে যেমনটি দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ এটা ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, ভুল ও বিস্মৃতির জন্য পাকড়াও না করার যে প্রমাণসমূহ কুরআন ও সুন্নাহ থেকে একত্রিত হয়েছে, তা কেবল গুনাহ সাব্যস্ত না হওয়ার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কেউ এমন কথা বলেননি যে, যে ব্যক্তি নামাজ পড়তে ভুলে গেল অথবা নামাজের কোনো রুকন বা শর্ত—যেমন ওযু—ভুলে গেল, তবে তার রুকন বা শর্ত হওয়ার হুকুম রহিত হয়ে যাবে অর্থাৎ নামাজ সহিহ হয়ে যাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নামাজের দুই রাকাত ভুলে গিয়েছিলেন, অতঃপর যখন তাঁর স্মরণে এলো, তখন তিনি নামাজের বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য তা আদায় করলেন যেমনটি সহিহ হাদিসে প্রমাণিত। হ্যাঁ, শরীয়তে এমন কিছু বিষয় সাব্যস্ত হয়েছে যার বিধান বিস্মৃতির কারণে রহিত হয়ে যায়, যেমন রোজাদারের পানাহার করা এবং নামাজে কথা বলা—যেমনটি যুল ইয়াদাইনের হাদিসে এসেছে—যা নির্দিষ্ট দলিলে বিশেষিত। আল্লাহই ভালো জানেন। এটি ফাজিল আল-উমরানী (আল্লাহ তাকে শান্তিতে রাখুন)-এর হস্তলিপি থেকে সংগৃহীত।

২ সম্ভবত সমন্বয়ের দিকটি হলো এই যে, তাঁর বাণী: "এবং যে ব্যক্তি ওযু করল কিন্তু আল্লাহর নাম স্মরণ করল না..."-কে এই অর্থে গ্রহণ করা যে, সে ভুলে যাওয়ার কারণে আল্লাহর নাম স্মরণ করেনি, ফলে তার ওযু যথেষ্ট হয়েছে কিন্তু তার পবিত্রতায় কেবল কমতি হয়েছে। তবে এতে পরবর্তী আলোচনার অবকাশ রয়েছে: যখন কোনো বিষয়কে শর্ত বানানো হয়, তখন ভুলে যাওয়া বা ইচ্ছাকৃত বর্জনের মধ্যে অকার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য থাকে না। আর যদি বিষয়টি ভুলে যাওয়ার কারণে না হয় বরং কেবল ওয়াজিব হওয়ার কারণে হয়, তবে বর্জন করার মাধ্যমে তা যথেষ্ট হয়ে যাবে—তা ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত। সুতরাং একে নফল বা মুস্তাহাব হওয়ার অর্থে গ্রহণ করাই অধিকতর অগ্রগণ্য। এটি আমার সরদার আল্লামা হাসান ইবনে ইয়াহইয়া (আল্লাহ তাঁর আত্মা পবিত্র করুন)-এর হস্তলিপি থেকে।

৩ এটি উমরানী থেকে ইতোপূর্বে আমরা যা বর্ণনা করেছি সেদিকেই ইঙ্গিত।
(খণ্ড: ১) আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
من حديث أبي هريرة قال: "أمر رسول صلى الله عليه وسلم بالمضمضة والاستنشاق".

وثبت في الصحيحين من حديث أبي هريرة أيضا أن النبي قال: "إذا توضأ أحدكم فليجعل في أنفه ماء ثم لينتثر". وثبت عند أهل السنن وصححه الترمذي من حديث لقيط بن صبره بلفظ "وبالغ في الاستنشاق إلا أن تكون صائما" وأخرج النسائي من حديث سلمة بن قيس "إذا توضأت فانتثر" وأخرجه الترمذي أيضا وفي رواية من حديث لقيط بن صبرة المذكور "إذا توضأت فمضض" أخرجها أبو داود بإسناد صحيح وقد صحح حديث لقيط الترمذي والنووي وغيرهما ولم يأت من أعله بما يقدح فيه وقد ذهب إلى وجوب المضمضة والاستنشاق أحمد وإسحاق ومن أهل البيت القاسم والهادي والمؤيد بالله وبه قال: ابن أبي ليلى وحماد ابن سليمان وذهب جماعة من أهل العلم إلى الاسنتشاق واجب في الغسل والوضوء والمضمضة سنة فيهما، حكى هذا المذهب النووي في شرح مسلم عن أبي ثور وأبي عبيد وداود الظاهري وابن المنذر ورواية عن أحمد وقد روي غيره مثل ذلك عن أبي حنيفة والثوري وزيد بن علي وذهب مالك والشافعي والأوزاعي والليث والحسن البصري والزهري وربيعة ويحيى ابن سعد وقتادة والحكم بن عتيبة ومحمد بن جرير الطبري ومن أهل البيت الناصر إلى أنهما غير واجبتين واستدلوا على عدم الوجوب بحديث "عشر من سنن المرسلين" وهو حديث صحيح ومن جملتها المضمضة والاستنشاق ورد بأنه لم يرد بلفظ "عشر من السنن" بل بلفظ "عشر من الفطرة" وعلى فرض وروده بذلك اللفظ1 فالمراد بالسنة الطريقة وهي تعم الواجب لا ما وقع في اصطلاح أهل الأصول وهكذا يجاب عن استدلالهم بحديث ابن عباس بلفظ "المضمضة والاستنشاق سنة" أخرجه الدارقطني وإسناده ضعيف.

--------------------------------------------

1أقول في صحيح مسلم بعد سوق العشر، قال مصعب بن شيبة، أي أحد رواة الحديث: ونسيت العاشرة إلا أن تكون المضمضة، فظهر وجه قول المؤلف سلمه الله. وعلى فرض وروده إلخ هـ لكاتبه.
আবু হুরায়রা (রাযি.) বর্ণিত হাদিস থেকে এসেছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।"

সহীহাইন-এ আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে আরও সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন ওযু করবে, সে যেন তার নাকে পানি দেয় এবং তা ঝেড়ে ফেলে।" সুনান গ্রন্থকারদের নিকট সাব্যস্ত হয়েছে এবং তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন লাকীত বিন সাবরাহ (রাযি.)-এর হাদিস থেকে এই শব্দে যে, "নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে গভীরতা অবলম্বন করো, তবে রোযা রাখা অবস্থায় ভিন্ন কথা।" নাসায়ী সালামাহ বিন কায়স (রাযি.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন: "যখন তুমি ওযু করবে, তখন নাক ঝাড়বে।" তিরমিযীও এটি বর্ণনা করেছেন। উল্লিখিত লাকীত বিন সাবরাহ (রাযি.)-এর একটি বর্ণনায় এসেছে, "যখন তুমি ওযু করবে, তখন কুলি করবে।" আবু দাউদ এটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী, নববী এবং অন্যান্যগণ লাকীতের হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন এবং এমন কোনো আপত্তি আসেনি যা একে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করে। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া ওয়াজিব হওয়ার দিকে মত দিয়েছেন। আহলে বাইতের মধ্য থেকে কাসিম, হাদি এবং মুআইয়্যিদ বিল্লাহ-ও একই মত পোষণ করেছেন। ইবনে আবি লায়লা এবং হাম্মাদ ইবনে সুলাইমানও এটিই বলেছেন। একদল আলিম এই মত দিয়েছেন যে, ওযু এবং গোসলে নাকে পানি দেওয়া ওয়াজিব, তবে কুলি করা সুন্নাহ। ইমাম নববী 'শারহু মুসলিম'-এ এই মতটি আবু সাওর, আবু উবাইদ, দাউদ যাহেরি এবং ইবনুল মুনযির থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে একটি বর্ণনা। অন্যদের পক্ষ থেকে আবু হানিফা, সাওরি এবং যায়েদ বিন আলী থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করা হয়েছে। ইমাম মালিক, শাফেয়ী, আওযায়ী, লাইস, হাসান বসরী, যুহরী, রাবীআহ, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, কাতাদাহ, হাকাম বিন উতায়বাহ, মুহাম্মদ বিন জারীর তাবারী এবং আহলে বাইতের মধ্য থেকে নাসির-এর মতে এই দুটি ওয়াজিব নয়। তারা ওয়াজিব না হওয়ার স্বপক্ষে "দশটি বিষয় রাসুলগণের সুন্নাত" হাদিসটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যা একটি সহীহ হাদিস এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি "দশটি সুন্নাত" শব্দে বর্ণিত হয়নি বরং "দশটি ফিতরাত (প্রাকৃতিক স্বভাব)" শব্দে বর্ণিত হয়েছে। আর তর্কের খাতিরে যদি ওই শব্দে বর্ণিত হয়েছে বলে ধরেও নেওয়া হয়, তবে সুন্নাত দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য হলো 'পদ্ধতি', যা ওয়াজিবকেও অন্তর্ভুক্ত করে; এটি উসুলবিদদের পরিভাষার সুন্নাত নয়। একইভাবে ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর হাদিস "কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া সুন্নাত" দ্বারা তাদের পেশকৃত দলিলেরও উত্তর দেওয়া হয়; যা দারাকুতনী বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ দুর্বল।

--------------------------------------------

১. আমি বলছি, সহীহ মুসলিমে দশটি বিষয় উল্লেখ করার পর হাদিসের অন্যতম বর্ণনাকারী মুসআব বিন শাইবাহ বলেছেন: "আমি দশম বিষয়টি ভুলে গিয়েছি, তবে সম্ভবত সেটি হলো কুলি করা।" ফলে লেখকের (আল্লাহ তাকে নিরাপদে রাখুন) বক্তব্যের কারণটি স্পষ্ট হয়ে গেল। আর যদি তর্কের খাতিরে এটি ওই শব্দেই বর্ণিত হয়... (ইত্যাদি)—গ্রন্থকারের পক্ষ থেকে।