(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: -)
أساليب الغزو الفكري للعالم الإسلامي   (علي جريشة)

القسم: كتب عامة


الكتاب: أساليب الغزو الفكري للعالم الإسلامي

المؤلف: علي محمد جريشه - محمد شريف الزيبق

الناشر: دار الوفاء

الطبعة: الثالثة 1399هـ-1979م

عدد الصفحات: 256

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের পদ্ধতিসমূহ   (আলী জুরইশাহ)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


গ্রন্থ: মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের পদ্ধতিসমূহ

লেখক: আলী মুহাম্মদ জুরইশাহ - মুহাম্মদ শরীফ আল-যাইবাকি

প্রকাশক: দারুল ওয়াফা

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৩৯৯ হিজরি-১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ২৫৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة:

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين، وعلى آله وصحبه ومن دعا بدعوته إلى يوم الدين …

أما بعد:

فهذه الكلمات.. نسطرها في المذاهب الفكرية المعاصرة.. لتكون زادًا لطلاب الشريعة والدعوة.. بل زادًا لكل صاحب دعوة.

وليس الحديث عن المذاهب الفكرية المعاصرة سهلًا.. إن العصر يموج بنظريات ومبادئ تتنازع وتتصارع، وإنَّ حروب السلاح إِنْ هدأ أوارها، أو وضعت أوزارها، فلقد حلَّت محلها حروب الأفكار والعقائد..

- فالغرب يرفع راية العلمانية التي حبست الدين بين جدران الكنائس، وأبت عليه أن يكون له خارجها سلطان.

يرفع في مجال الاقتصاد مبادئ الرأسمالية.

ويرف في مجال السياسة مبادئ الديمقراطية.

ويغزو المجتمع الإسلاميّ بقيمه الجديدة؛ ليبتعد به عن قيم الإسلام ومُثُلِه، وفيها عزته وسعادته.

- والشرق الشيوعي يرفع راية الاشتراكية "العلمية" أوالشيوعية، يضلل بها الطبقات الساذجة، ويمنيها بأن الحكم "للصعاليك" أوطبقة البروليتاريا -كما يسمونها- ويمارس ضلاله وتضليله في الشرق الإسلاميّ..

ويصطدم بعقيدته.. فيطور أسلوب دعوته، أو "تكتيكها".. ليخدع جماهير المسلمين.

- ووسط قيم الغرب الفاسدة، وتضليل الشرق الكافر.. تعيش جماهير المسلمين بعد ما أصابها من تَخَلُّفٍ.. وبعدٍ عن منهج
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা:

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার, তাঁর পরিবারবর্গ, সহচরবৃন্দ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর দাওয়াতের দিকে আহ্বান করবেন তাদের ওপর …

অতঃপর:

এই কথাগুলো.. আমরা সমকালীন চিন্তাধারার বিষয়ে লিপিবদ্ধ করছি.. যাতে এটি শরীয়াহ ও দাওয়াহর শিক্ষার্থীদের জন্য পাথেয় হয়.. বরং প্রতিটি দ্বীনি দাওয়াত প্রদানকারীর জন্য পাথেয় হয়।

আর সমকালীন চিন্তাধারা নিয়ে আলোচনা করা সহজ নয়.. বর্তমান যুগ এমন সব তত্ত্ব ও মূলনীতির জোয়ারে ভাসছে যা পরস্পর বিরোধী ও সংঘাতময়। যদিও সশস্ত্র যুদ্ধের লেলিহান শিখা স্তিমিত হয়েছে বা তার পরিসমাপ্তি ঘটেছে, কিন্তু তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে চিন্তা ও আকিদার যুদ্ধ..

- পশ্চিমা বিশ্ব ধর্মনিরপেক্ষতার ঝাণ্ডা উত্তোলন করছে, যা ধর্মকে গির্জার দেয়ালের মাঝে বন্দী করে ফেলেছে এবং এর বাইরে ধর্মের কোনো কর্তৃত্ব থাকতে অস্বীকার করেছে।

অর্থনীতির ক্ষেত্রে তারা পুঁজিবাদের মূলনীতিসমূহ তুলে ধরছে।

রাজনীতির ক্ষেত্রে তুলে ধরছে গণতন্ত্রের মূলনীতিসমূহ।

তারা মুসলিম সমাজকে তাদের নতুন মূল্যবোধ দিয়ে আক্রমণ করছে; যাতে মুসলিম সমাজকে ইসলামের মূল্যবোধ ও আদর্শ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া যায়, অথচ তাতেই নিহিত রয়েছে তাদের সম্মান ও সৌভাগ্য।

- অন্যদিকে কমিউনিস্ট প্রাচ্য "বৈজ্ঞানিক" সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজমের ঝাণ্ডা উত্তোলন করছে, যার মাধ্যমে তারা সরলমনা শ্রেণীগুলোকে বিভ্রান্ত করছে এবং তাদের এই আশা দেখাচ্ছে যে শাসন ক্ষমতা হবে "নিঃস্বদের" বা প্রলেতারিয়েট শ্রেণীর—যেমনটি তারা বলে থাকে। তারা মুসলিম প্রাচ্যে তাদের পথভ্রষ্টতা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে..

এটি মুসলিমদের আকিদার সাথে সাংঘর্ষিক.. তাই তারা তাদের দাওয়াতের পদ্ধতি বা "কৌশল" পরিবর্তন করে.. যাতে মুসলিম জনতাকে প্রতারিত করা যায়।

- পশ্চিমের কলুষিত মূল্যবোধ এবং কাফির প্রাচ্যের বিভ্রান্তির মাঝে.. মুসলিম জনতা আজ অনগ্রসরতা এবং মানহাজ (منهج) থেকে দূরে ছিটকে পড়ার শিকার হয়ে বসবাস করছে..
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৪)
الله … تعيش أكثرها بين التمزق والضياع وافتقاد القيادة الراشدة، تتلمس النور وسط السراب، وتتحسس الطريق وسط الظلام، وماهي ببالغته حتى تعرف ما هو النور.. وما هو الطريق فتهتدي وتسلك.. وتسير على الدرب حتى النجاة.

وفي بابٍ تمهيديّ: نتحدث -بمشيئة الله- عن الواقع الأليم الذي تعيشه أمة الإسلام بين التخلف والتمزق وأسباب ذلك..

وفي الباب الأول: نتحدث عما يجمع الغرب والشرق، ثم عمّا يمارسه الغرب المسيحيّ في الشرق الإسلاميّ.. قديمه وحديثه.

وفي الباب الثاني: نتحدث عن الغزو الماركسيّ لبلاد الإسلام.. أساسه من المبادئ وزيف هذه المبادئ، ثم مايفعلونه بالمسلمين في بلادهم، وما يحاولونه خارجها، كاشفين عن أسلوبهم وتكتيكهم الجديد.

وفي الباب الثالث: نتحدث عن الصهيونية أو "اليهودية العالمية" ومخططاتها، وجميعاتها السرية لتخريب العالم..

وفي الباب الرابع: نشير إلى رد الفعل لغزو الشرق والغرب لبلاد المسلمين، والحركات الإسلامية التي قامت مناهضةً لذلك للغزو، وما فيها من قصور، ثم نحاول أن نتبين النور والطريق …

والله المستعان وعليه التكلان.

ولا حول ولا قوة إلّا بالله العليِّ العظيم.
আল্লাহ … এর অধিকাংশ অংশই এখন বিভক্তি, বিনাশ এবং সঠিক নেতৃত্বের অভাবের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে; তারা মরীচিকার মাঝে আলোর সন্ধান করছে এবং অন্ধকারের মাঝে পথ হাতড়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত তারা প্রকৃত আলো ও সঠিক পথ কী তা চিনতে না পারবে, ততক্ষণ তারা তাতে পৌঁছাতে পারবে না। আর যখন চিনবে, তখনই তারা হিদায়াত লাভ করবে এবং সেই পথে চলবে... আর মুক্তির পথে অগ্রসর হবে।

একটি উপক্রমণিকা অধ্যায়ে: আমরা—আল্লাহর ইচ্ছায়—ইসলামি উম্মাহ অনগ্রসরতা ও বিভক্তির যে বেদনাদায়ক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে এবং এর কারণসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করব...

প্রথম অধ্যায়ে: আমরা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যকে যা একীভূত করে তা নিয়ে আলোচনা করব, এরপর খ্রিস্টান পাশ্চাত্য ইসলামি প্রাচ্যে অতীতে ও বর্তমানে যা করছে তা নিয়ে আলোচনা করব...

দ্বিতীয় অধ্যায়ে: আমরা মুসলিম দেশগুলোতে মার্ক্সবাদী আগ্রাসন—এর মূলনীতিসমূহ ও সেই মূলনীতিগুলোর অসারতা, তারপর তারা তাদের নিজ দেশগুলোতে মুসলিমদের সাথে যা করছে এবং দেশের বাইরে যা করার চেষ্টা করছে সে সম্পর্কে আলোচনা করব, যেখানে তাদের নতুন কর্মপদ্ধতি ও কৌশল উন্মোচিত হবে।

তৃতীয় অধ্যায়ে: আমরা জায়নবাদ বা "বিশ্ব ইহুদিবাদ" ও তাদের নীল নকশা এবং বিশ্ব ধ্বংসের লক্ষ্যে তাদের গোপন সংগঠনগুলো সম্পর্কে আলোচনা করব...

চতুর্থ অধ্যায়ে: আমরা মুসলিম দেশগুলোতে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া এবং এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ইসলামি আন্দোলনসমূহ ও সেগুলোর সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আলোকপাত করব। এরপর আমরা আলো ও সঠিক পথ স্পষ্টভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করব …

আল্লাহই সাহায্যস্থল এবং তাঁর ওপরই ভরসা।

সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌باب تمهيدي:

واقعٌ أليم:

الواقع أليمٌ ينطق بتخلُّفِ الأمة الإسلامية، ولم تكن كذلك:

لقد عاشت أكثر من ألف سنة في مقدمة الأمم، بل لقد عاشت فترةً طويلةً هي الأمة الأولى في العالم كله، يعمل لها ألف حساب، ويطلب ودها، ويسعى أمثال إمبراطور ألمانيا للتقرب من خليفتها؛ فيرسل له الهدايا..

وحملت في خلال هذه الفترة حضارة الإسلام للدنيا كلها، حملتها بالعلم والخلق قبل أن تحمل السيف في وجه أعداء الإسلام، ولم تكره على عقيدتها أحدًا، فإن القرآن علمها أن {لا إِكْرَاهَ فِي الدِّين} 1، وإنما دخل الناس في دين الله أفواجًا لمًّا رأوا صفاء العقيدة وسموها، ولما شاهدوا جمال الخلق ورفعته، فأحسوا أن هذا الدين ينشء نشأً جديدًا، يخرجهم من "عبادة العباد إلى عبادة رب العباد، ومن جور الأديان إلى عدل الإسلام، ومن ضيق الدنيا إلى سعة الدنيا والأخرة".

وما عرفه الغرب من تقدمٍ، كان نتيجة احتكاكه بالشرق الإسلاميّ.

إن نقطة البدء في ذلك التقدم كانت حركة الإصلاح الدينيّ؛ حيث ثار الناس على ظلم الكنيسة واضطهادها، وثاروا على كثير من مفاهيمها المعقدة، بعدما رأوا صفاء العقيدة الإسلامية ويسرها، وسماحة الإسلام وسمو خلقه.. ثم كانت بذور النهضة الأوروبية العلمية أخذًا عن علماء المسلمين الذين تعلم الغربيون على أيديهم في جزر البحر الأبيض، وفي الأندلس، ومن قبل ذلك احتكوا بهم إبان الحروب الصليبية.

وإذا بدأ الغرب في نهضته.. بدأ الشرق الإسلاميّ في كبوته.

وكان لذلك أسباب عديدة، بعضها من أنفسنا، وبعضها خارجٌ عن إرادتنا.

أسباب من أنفسنا:

{وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ} 2 تلك

--------------------------------------------

1 البقرة 256.

2 الشورى 30.
প্রারম্ভিক অধ্যায়:

একটি বেদনাদায়ক বাস্তবতা:

বর্তমান বাস্তবতা অত্যন্ত বেদনাদায়ক যা মুসলিম উম্মাহর পশ্চাৎপদতার সাক্ষ্য দেয়, অথচ তারা ইতিপূর্বে এমন ছিল না:

তারা এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতিসমূহের অগ্রভাগে অবস্থান করেছে, বরং দীর্ঘকাল তারা সমগ্র বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল; যাদের অত্যন্ত সমীহ করা হতো, যাদের সখ্যতা কামনা করা হতো এবং জার্মানির সম্রাটের মতো ব্যক্তিরা তাদের খলিফার নৈকট্য লাভের অন্বেষণ করতেন; ফলে তিনি খলিফাকে উপহার পাঠাতেন...

এবং এই সময়ের মধ্যে তারা সমগ্র পৃথিবীর কাছে ইসলামের সভ্যতা বহন করে নিয়ে গিয়েছিল। ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে তলোয়ার ধারণ করার আগে তারা জ্ঞান ও উন্নত চরিত্রের মাধ্যমে তা পৌঁছে দিয়েছিল। তারা কাউকে তাদের আকিদাহ বা বিশ্বাসের ওপর জবরদস্তি করেনি, কারণ কুরআন তাদের শিক্ষা দিয়েছে যে, {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই} ১। মূলত মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করেছিল যখন তারা আকিদাহর স্বচ্ছতা ও মাহাত্ম্য দেখেছিল এবং চরিত্রের সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রত্যক্ষ করেছিল। তখন তারা অনুভব করেছিল যে, এই দ্বীন এক নতুন জীবনের সূচনা করে, যা তাদের "বান্দার ইবাদত থেকে বের করে বান্দার রবের ইবাদতের দিকে, প্রচলিত ধর্মগুলোর জুলুম থেকে ইসলামের ইনসাফের দিকে এবং দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে দুনিয়া ও আখেরাতের প্রশস্ততার দিকে" নিয়ে যায়।

পাশ্চাত্য যে উন্নতির দেখা পেয়েছে, তা ছিল মুসলিম প্রাচ্যের সাথে তাদের সংস্পর্শের ফল।

সেই উন্নতির সূচনাবিন্দু ছিল ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন; যেখানে মানুষ চার্চের জুলুম ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এবং তাদের অনেক জটিল ও দুর্বোধ্য ধারণার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল—যখন তারা ইসলামী আকিদাহর স্বচ্ছতা ও সহজতা এবং ইসলামের উদারতা ও উন্নত চরিত্রের মহানুভবতা প্রত্যক্ষ করেছিল... অতঃপর ইউরোপীয় বৈজ্ঞানিক নবজাগরণের বীজ বপন হয়েছিল মুসলিম মনীষীদের থেকে জ্ঞান আহরণের মাধ্যমে, যাঁদের কাছে পশ্চিমারা ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ও আন্দালুসিয়ায় শিক্ষা গ্রহণ করেছিল। আর তারও আগে ক্রুসেড যুদ্ধের সময় তারা তাদের সংস্পর্শে এসেছিল।

আর যখন পাশ্চাত্য তাদের নবজাগরণ শুরু করল... তখন মুসলিম প্রাচ্য তার পতনের কবলে নিমজ্জিত হতে শুরু করল।

এর পেছনে অনেক কারণ ছিল; যার কিছু আমাদের নিজেদের কারণে এবং কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।

আমাদের নিজেদের মধ্যকার কারণসমূহ:

{তোমাদের ওপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদেরই হাতের কামাই এবং তিনি অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন} ২ সেই...

--------------------------------------------

১ আল-বাকারাহ ২৫৬।

২ আশ-শূরা ৩০।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৬)
سنة الله في أرضه، وحكمه بين خلقه، لا يخفض قومًا بعد إذ رفعهم إلّا بما كسبت أيديهم، ولا يغيِّرُ بعد ذلك ما بهم حتى يغيروا ما بأنفسهم.

وهو ما حدث بالأمة الإسلامية حين داخلها شيء من الغرور أن الله اختارها ولن يستبدل بها، ونسيت أن الاختيار مؤسس على أسبابه.

{تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} 1 وتحت هذه الشعب الثلاث يندرج الإسلام كله.

أ- إن أول ما أصاب الأمة الإسلامية بُعْدُهَا عن كتاب ربها وسنة رسولها، ومحاولة الأخذ من غير هذين النبعين الصافيين الأصليين، خاصةً بعد ما أوتي الغرب شيئًا من التفوق الحضاريّ على أساس ماديّ.

ب- وصحب ذلك انهزام داخليّ، أصاب شعور الأمة أو بعضها، فعدلت ما عند الناس بما عند الله، إن لم يداخلها الوسواس أنه أفضل.

ج- وصحب ذلك التقليدُ والمحاكاةُ.. ولم تكن تلك صفة الأمة الإسلامية، بل ليست هذه صفة الأمم الأصيلة.

إنها صفة القردة.. أن كانوا حيوانات.. أو كانوا ممن غضب الله عليهم ولعنهم، وجعل منهم القردة وعبدة الطاغوت.

د- ولازم ذلك كله الفرقة.

تفككت الدولة الواحدة وأصبحت دويلات2، وتصارع الحكام على الدنيا، وأحلوا قومهم دار البوار..

والفرقة دائمًا فرصة العدو للنفاذ.. إن الصف المتلاحم المتلاصق لا يستطيع عدوٌّ أن يخترقه، أما الصف المضطرب المختلف الممزق فاختراقه سهل ويسير، والحزمة الواحدة قوية قد تستعصي على الكسر، أما العيدان المتفرقة فكسرها سهل يسير.

هـ- وأعقب ذلك كله تخلف عن مواكبة العصر فيما وصل إليه من أبحاث علمية تجريبية، وما فرض من إغلاق باب الاجتهاد، فينقلوا الغثَّ مع السمين، بل ينقلون الغثَّ أكثر مما ينقلون السمين، وهكذا رأينا ثمار البعثات الخارجية، أخذًا بقشور المدنية الغربية وفسادها، دون أخذ بلبابها.

--------------------------------------------

1 آل عمران 110.

2 انظر كيف تفككت الأمة الإسلامية الواحدة إلى دولة المغول الإسلامية في الهند، ودولة فارس، والدولة العثمانية، ودولة المماليك في مصر.

وانظر كيف هي الآن أشد تفككًا، وكيف تقوم فيها دول هي بالنسبة للأخرى بمثابة أحياء في مدينة.
পৃথিবীতে আল্লাহর নীতি এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে তাঁর বিধান এই যে, তিনি কোনো জাতিকে উচ্চাসীন করার পর অবনমিত করেন না যতক্ষণ না তারা নিজ হাতে উপার্জিত কর্মের (পাপের) ফল ভোগ করে। এবং তিনি তাদের অবস্থার পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের মধ্যে বিদ্যমান অবস্থার পরিবর্তন করে।

মুসলিম উম্মাহর ক্ষেত্রেও ঠিক তা-ই ঘটেছে যখন তাদের মনে এক প্রকার অহংকার প্রবেশ করেছিল যে, আল্লাহ তাদের নির্বাচন করেছেন এবং তাদের পরিবর্তে অন্য কাউকে আনবেন না; অথচ তারা ভুলে গিয়েছিল যে, এই নির্বাচন সুনির্দিষ্ট কারণ ও যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে হয়।

“তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজ (منكر) থেকে বিরত রাখো এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করো।” ১ ইসলামের সামগ্রিক শিক্ষা এই তিনটি শাখার অধীনেই বিন্যস্ত।

ক- মুসলিম উম্মাহর ওপর আপতিত প্রথম মুসিবত হলো তাদের রবের কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ থেকে দূরত্ব তৈরি হওয়া এবং এই দুটি স্বচ্ছ ও মূল উৎস ছাড়া অন্য উৎস থেকে গ্রহণ করার প্রচেষ্টা চালানো; বিশেষ করে যখন পাশ্চাত্য বস্তুবাদী ভিত্তির ওপর সভ্যতাগত শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করল।

খ- এর সাথে যুক্ত হয়েছিল অভ্যন্তরীণ পরাজয়বোধ, যা উম্মাহর বা এর একাংশের চেতনাকে গ্রাস করেছিল। ফলে তারা মানুষের উদ্ভাবিত বিষয়কে আল্লাহর দেওয়া বিধানের সমতুল্য মনে করতে শুরু করল, যদি না তাদের মনে এমন কুমন্ত্রণা ঢুকে থাকে যে মানুষের তৈরি নিয়মই শ্রেষ্ঠ।

গ- এর অনুগামী হয়েছিল অন্ধ অনুকরণ ও অনুসরণ... আর এটি মুসলিম উম্মাহর বৈশিষ্ট্য ছিল না, এমনকি এটি কোনো মৌলিক জাতির বৈশিষ্ট্যও নয়।

এটি বানরের স্বভাব... হোক তারা প্রাণী অথবা তারা যাদের ওপর আল্লাহ ক্রোধান্বিত হয়েছেন ও লানত দিয়েছেন এবং যাদের মধ্য থেকে তিনি বানর ও তাগুতের উপাসক বানিয়েছেন।

ঘ- এসবের অনিবার্য ফলাফল ছিল অনৈক্য ও বিভাজন।

একক রাষ্ট্রটি ভেঙে অনেকগুলো ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে ২ পরিণত হলো, শাসকরা দুনিয়ার লোভে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলো এবং তারা তাদের জাতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেল।

আর অনৈক্য সর্বদা শত্রুর অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দেয়। সীসাঢালা সুদৃঢ় প্রাচীরের মতো কাতারকে কোনো শত্রু ভেদ করতে পারে না, কিন্তু বিশৃঙ্খল ও বিচ্ছিন্ন কাতারকে ভেদ করা অতি সহজ। একগুচ্ছ লাঠি শক্তিশালী হয় যা ভাঙা কঠিন হতে পারে, কিন্তু বিচ্ছিন্ন লাঠিগুলো ভাঙা খুবই সহজ ও সাধারণ বিষয়।

ঙ- এরপর আধুনিক যুগের বৈজ্ঞানিক ও গবেষণামূলক অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারার ব্যর্থতা দেখা দিল। পাশাপাশি ইজতিহাদের দ্বার রুদ্ধ করার ফলে তারা অসার ও সারবান—উভয়টিই গ্রহণ করতে থাকল। বরং সারবানের চেয়ে অসার বিষয়ই তারা বেশি গ্রহণ করল। এভাবেই আমরা বৈদেশিক শিক্ষা সফরের ফল দেখলাম—পাশ্চাত্য সভ্যতার সারবস্তু গ্রহণ না করে কেবল তার বাহ্যিক চাকচিক্য ও পঙ্কিলতা গ্রহণ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

১ আল ইমরান ১১০।

২ লক্ষ্য করুন কীভাবে একক মুসলিম উম্মাহ ভেঙে ভারতে মুসলিম মুঘল সাম্রাজ্য, পারস্য সাম্রাজ্য, উসমানীয় সাম্রাজ্য এবং মিশরে মামলুক সাম্রাজ্যে পরিণত হলো।

আর বর্তমানে এটি যে আরও কত বেশি খণ্ডিত তা লক্ষ্য করুন, যেখানে এক একটি রাষ্ট্র অন্যটির তুলনায় একটি শহরের পাড়ার মতো।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৭)
أما الأسباب الخارجة عن أنفسنا:

فهي التي فرضها أعداء الإسلام على المسلمين، وكانت نتيجةً لتخطيط أثيمٍ بدأ منذ الحروب الصليبية، وانتهى إلى الحرب الضارية التي تمارس الآن على العالم الإسلاميّ، ولكن بأسلوب جديد، وهو موضوع هذه الدراسة بإذن الله.

وقبل أن نغادر هذا الباب للحديث عن غزوة المسلمين، نشير إلى أنه رغم الضراوة الشديدة التي يمارسها أعداء الإسلام، فلا يزال الحلُّ بأيدينا..لا يزال بأيدينا النور..ولا يزال أمامنا الطريق..وبعد ذلك، فلقد خص الله هذه الأمة فجعلها قلب العالم كلِّه من كل ناحية.

- من ناحية المكان: هي مركز الدائرة بالنسبة للعالم كله، وهو ما يجعل لها مركزًا استراتيجيًّا خطيرًا لا يتوفر لأية أمة أخرى1.

- من ناحية الثروات: فلقد جمع الله فيها أنواع الثروات الأرضية بما يحقق اكتفاءً ذاتيًّا، وبما يحقق حاجة العالم كله إليها.

وليس الأمر قاصرًا على البترول، وتكفي هذه الإشارة.

- من ناحية الخامة البشرية: فإن الدراسة المنصفة للطبيعة البشرية وخصائصها، تجعل لهذه الأمة من الخصائص البشرية ما ليس لأمة أخرى، وبذلك تتحقق الوسطية لهذه الأمة على اختلاف وجوهها.

وصدق الله العظيم:

{وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطاً لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيداً} 2.

وقبل ذلك، وبعد ذلك، ما قلناه من نور، ومن طريق، وهو ما نشير إليه -بمشيئة الله- في نهاية البحث كله.

--------------------------------------------

1 سجَّل الدكتور حسين كمال الدين، الأستاذ بكلية الهندسة بجامعة الرياض، في بحث علميٍّ هامٍّ أن الكعبة المشرفة هي المركز لدائرة العالم كله؛ بحيث لو أردنا رسم دائرةٍ للعالم لكان لزامًا وضع السن على الكعبة المشرفة؛ ليمكن رسم هذه الدائرة.

"البحث قُدِّمَ لمؤتمر الفقه الإسلاميّ المنعقد بالرياض في ذي القعدة 1396".

2 البقرة 143.
আমাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বাহ্যিক কারণগুলোর ক্ষেত্রে:

সেগুলো হচ্ছে এমন বিষয় যা ইসলামের শত্রুরা মুসলিমদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে এবং এটি একটি হীন ষড়যন্ত্রের ফল যা ক্রুসেড থেকে শুরু হয়েছিল এবং বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের ওপর পরিচালিত ভয়াবহ যুদ্ধে গিয়ে পর্যবসিত হয়েছে, তবে এক নতুন আঙ্গিকে; আর এটিই আল্লাহর ইচ্ছায় এই গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

মুসলিমদের ওপর পরিচালিত সেই আক্রমণ সম্পর্কে আলোচনা করতে এই অধ্যায়টি শেষ করার আগে আমরা এই দিকে ইঙ্গিত করতে চাই যে, ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে পরিচালিত তীব্র নিষ্ঠুরতা সত্ত্বেও সমাধান এখনও আমাদের হাতেই রয়েছে.. নূর বা আলো এখনও আমাদের হাতেই রয়েছে.. এবং পথ এখনও আমাদের সামনে প্রশস্ত। এরপর কথা হলো, মহান আল্লাহ এই উম্মতকে বিশেষভাবে ধন্য করেছেন এবং একে সকল দিক থেকে সমগ্র বিশ্বের হৃৎপিণ্ড বানিয়ে দিয়েছেন।

- অবস্থানের দিক থেকে: এটি সমগ্র বিশ্বের সাপেক্ষে একটি বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু, যা একে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে আসীন করে যা অন্য কোনো জাতির ক্ষেত্রে সম্ভব নয় ১।

- সম্পদের দিক থেকে: আল্লাহ এতে বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক সম্পদ পুঞ্জীভূত করেছেন যা একদিকে যেমন স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিশ্চিত করে, তেমনি সমগ্র বিশ্বের জন্য এর প্রয়োজনীয়তাকেও অনিবার্য করে তোলে।

বিষয়টি কেবল খনিজ তেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, আর এই ইঙ্গিতটুকুই যথেষ্ট।

- মানবিক উপাদানের দিক থেকে: মানব প্রকৃতি ও এর বৈশিষ্ট্যাবলি নিয়ে নিরপেক্ষ অধ্যয়ন করলে দেখা যায় যে, এই উম্মতের এমন কিছু মানবিক গুণাবলি রয়েছে যা অন্য কোনো জাতির নেই। এর মাধ্যমেই এই উম্মতের বহুমুখী মধ্যপন্থা অর্জিত হয়।

মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন:

{এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মত হিসেবে গড়ে তুলেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন} ২।

এর আগে ও পরে নূর এবং পথ সম্পর্কে আমরা যা বলেছি, আল্লাহর ইচ্ছায় পুরো গবেষণার শেষে আমরা সেদিকে পুনরায় ইঙ্গিত করব।

--------------------------------------------

১ রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অধ্যাপক ড. হুসাইন কামাল উদ্দিন একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উল্লেখ করেছেন যে, পবিত্র কাবা হচ্ছে সমগ্র বিশ্ব-বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু; ফলে আমরা যদি বিশ্বের জন্য একটি বৃত্ত আঁকতে চাই, তবে সেই বৃত্তটি আঁকার জন্য কম্পাসের কাঁটাটি পবিত্র কাবার ওপর স্থাপন করা আবশ্যক হবে।

"গবেষণাটি ১৩৯৬ হিজরির যিলকদ মাসে রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামী ফিকহ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছিল।"

২ আল-বাকারাহ ১৪৩।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৮)
توطئة:

تقوم الحضارة الغربية الحديثة على أساسٍ من فكر فلسفيٍّ أرسى قواعده أمثال: ديكارت، صاحب منهج البحث الاستنباطي، وفرنسيس بيكون، صاحب المنهج التجريبيّ، وكومت، مؤسس المذهب الوضعي، وهو في جملته فكر ماديّ، نتج عنه بعد ذلك في أمريكا مذهب البراجماتزم أو المذهب العلمي، وهو الذي ساد الفكر الأميريكيّ منذ القرن الماضي.

وتقوم الماركسية كذلك على أساسٍ من فكرٍ ماديٍّ يعطي المادة كل شيء، ويفسر التاريخ على أساس منها، وقد أخذ كارل ماركس عن غيره من فلاسفة الغرب -كما سنشير بتفصيل في موضعه بإذن الله.

ولئن بقي في الغرب أثارة من دين وسط التيار الماديّ العارم، فإنها "غلالة" رقيقة لا نحسب أنها ستصمد طويلًا، ودليل ذلك إحصائيات كثيرة، ودليلة كذلك لجوء رجال الدين في الولايات المتحدة من أجل ترويج بضاعتهم إلى وسائل لا تتفق أبدًا مع الدين، وهو ما يحدث من دعوتهم الشباب من الجنسين عقب الصلوات إلى حفلات راقصة، تخفت فيها الأنوار، وتتلاصق الأجساد، وتنطلق الأنغام خافتة حالمة، توقظ الرغبة وتشعل الشهوة.

وبقايا الحمية الدينية عندهم لم تعد تظهر إزاء الانحرافات الخطيرة الواقعة في مجتمعاتهم، والتي تهدد مجتمعهم نفسه بالتصدع والسقوط، وإنما تظهر فقط إزاء الأديان الأخرى، وبالتحديد إزاء كل تجمع إسلاميٍّ يبغي إعادة مجد الإسلام -كما سنبينه من خلال هذا البحث.

وقيام الشرق والغرب رغم اختلافهما الظاهر على أساسٍ فكريٍّ واحد1 أمر يستلفت النظر، ويوحي بالتساؤل، تمامًا كما تشهد في طريقك بناءين مقامين على تصميمٍ هندسيٍّ واحد؛ فتشهد أن المصمم واحد، أو أنهما خريجا مدرسة واحدة، وكما نشهد خلق الله، فنجد من كل زوجين اثنين؛ الإنسان فيه الذكر والأنثى.

--------------------------------------------

1 التفكير الماديّ العلميّ ينقسم إلى اتجاهين:

- الاتجاه الميكانيكي Mechanistie Materialisme وهو اتجاه ماديّ لا يرى وجودًا للروح أو العقل، فضلًا عن أن ينسب إليهما تدبير الجسم.

- الاتجاه الماديّ الديالكتيكي Dialecae Maerialisme ويرى أن وجود الروح والعقل نابع لوجود المادة، والاتجاهان بذلك ينكران الغيب أو يستبعدانه. للدكتور البهيّ، ص86، الفكر الإسلاميّ الحديث وصلته بالاستعمار الغربيّ.
ভূমিকা:

আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতা এমন এক দার্শনিক চিন্তাধারার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যার মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন ডেসকার্টস—যিনি অবরোহী গবেষণা পদ্ধতির প্রবর্তক, ফ্রান্সিস বেকন—যিনি পরীক্ষামূলক পদ্ধতির প্রবর্তক এবং কোঁত—যিনি দৃষ্টবাদের প্রতিষ্ঠাতা। এটি মূলত একটি বস্তুবাদী চিন্তাধারা, যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে আমেরিকায় প্র্যাগম্যাটিজম বা বৈজ্ঞানিক মতবাদের উদ্ভব ঘটে এবং যা গত শতাব্দী থেকে মার্কিন চিন্তাধারায় আধিপত্য বিস্তার করে আছে।

অনুরূপভাবে মার্ক্সবাদও একটি বস্তুবাদী চিন্তার ওপর প্রতিষ্ঠিত যা বস্তুকে সর্বস্ব মনে করে এবং এর আলোকেই ইতিহাসের ব্যাখ্যা প্রদান করে। কার্ল মার্ক্স অন্যান্য পাশ্চাত্য দার্শনিকদের কাছ থেকে এসব গ্রহণ করেছেন—যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করব।

প্রবল বস্তুবাদী স্রোতের মাঝেও যদি পশ্চিমে ধর্মের কোনো সামান্য ছিটেফোঁটা অবশিষ্ট থেকে থাকে, তবে তা এক অতি পাতলা "আস্তরণ" মাত্র যা দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আমরা মনে করি না। এর প্রমাণ হিসেবে অসংখ্য পরিসংখ্যান রয়েছে এবং আরও প্রমাণ পাওয়া যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গের নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এমন সব উপায়ের আশ্রয় গ্রহণে যা ধর্মের সাথে মোটেও সংগতিপূর্ণ নয়। যেমন—নামাজের পর তরুণ-তরুণীদের নাচের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো, যেখানে আলো কমিয়ে দেওয়া হয়, দেহগুলো একে অপরের সংস্পর্শে আসে এবং স্বপ্নাতুর মৃদু সুর লহরী বাজতে থাকে, যা কুপ্রবৃত্তি জাগ্রত করে এবং লালসাকে প্রজ্বলিত করে।

তাদের মাঝে অবশিষ্ট ধর্মীয় আবেগ আর নিজ সমাজে বিদ্যমান ভয়াবহ বিচ্যুতিগুলোর বিরুদ্ধে প্রকাশ পায় না—যা তাদের সমাজকেই ফাটল ও পতনের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বরং তা প্রকাশ পায় কেবল অন্য ধর্মের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে প্রতিটি সেই ইসলামি জাগরণের বিরুদ্ধে যা ইসলামের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে চায়—যেমনটি আমরা এই গবেষণার মাধ্যমে স্পষ্ট করব।

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য বাহ্যিকভাবে পৃথক হওয়া সত্ত্বেও একই বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তির ওপর ১ দাঁড়িয়ে থাকা একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় এবং যা প্রশ্নের উদ্রেক করে। ঠিক যেমনটি আপনি পথে চলতে গিয়ে যদি একই স্থাপত্য নকশায় নির্মিত দুটি ভবন দেখেন, তবে আপনি সাক্ষ্য দেবেন যে স্থপতি একজনই অথবা তারা একই ঘরানার। আবার আমরা আল্লাহর সৃষ্টির দিকে তাকালে দেখতে পাই যে তিনি সবকিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন; যেমন মানুষের মাঝে রয়েছে পুরুষ ও নারী।

--------------------------------------------

১. বস্তুবাদী বৈজ্ঞানিক চিন্তা দুটি ধারায় বিভক্ত:

- যান্ত্রিক ধারা (Mechanistic Materialism): এটি এমন এক বস্তুবাদী ধারা যা আত্মা বা বুদ্ধিবৃত্তির অস্তিত্বই স্বীকার করে না, শরীরের পরিচালনা তো দূরের কথা।

- দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদী ধারা (Dialectical Materialism): এটি মনে করে যে আত্মা ও বুদ্ধিবৃত্তির অস্তিত্ব বস্তুর অস্তিত্বের অনুগামী। ফলে উভয় ধারাই অদৃশ্য জগতকে অস্বীকার করে অথবা একে গুরুত্বহীন মনে করে। (ড. আল-বাহী, পৃষ্ঠা ৮৬, আধুনিক ইসলামি চিন্তা ও পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদের সাথে এর সম্পর্ক)।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৯)
الحيوان فيه الذكر والأنثى.

النبات فيه الذكر والانثى.

الجماد فيه الموجب والسالب، كما في الكهرباء، والمغناطيس، والذرة.

فنخرج من هذا، أن الخالق الصانع، واحد سبحانه وتعالى.

قيام المعسكرين المتنازعين على أساس فكريٍّ واحد، أمر يستلفت نفس النظر، ويوحي نفس التساؤل،

وننظر فنجد كارل ماركس من أصل يهوديّ1، ونجد الثورة البلشفية قد مُولَت بأموال يهودية2.

ونجد كثيرًا من القيادات الشيوعية يهودية الأصل3.

ونجد الشعار الشيوعيّ هو الأفعى الرمزية، وهي رمز للأمة اليهودية، وبداخلها النجمة السداسية، وهي شعار اليهود كذلك4.

وننظر إلى الغرب، فنجد فكرة فصل الدين عن الدولة من عمل اليهود5، ونجد الحروب الصليبية6 وبعض الحروب العالمية من عملهم كذلك7.

وتجد بصماتهم في وعد بلفور، وفي الإعداد لدولة إسرائيل، وفي الاعتراف بدولة إسرائيل، والتدخل لمساعدتها.

كما نجد هذه البصمات في مثل: جون كنيدي، وفي عزل نيكسون -وهما من رؤساء الولايات المتحدة السبابقين، وفي بعض الأحداث في المنطقة الإسلامية والعربية.

ونعود إلى الأساس الذي بُنِيَ عليه الفكر الغربيّ والماركسيّ "المادة" فنجد التشابه بينه وبين ما يؤمن به اليهود، وكل إناء بما فيه ينضح، إن القرآن وصفهم {وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ النَّاسِ عَلَى حَيَاةٍ} 8 أي: حياة ولوكانت رخيصة؛ لأن للمادة ثقلها في نفوسهم وقلوبهم.

وانتشار الأساس الماديّ يؤدي إلى الصراع على المادة، ثم يؤدي إلى الانزلاق في الشهوات، وكلًّا من الأمرين من سياسة اليهود {كُلَّمَا أَوْقَدُوا نَاراً لِلْحَرْبِ أَطْفَأَهَا اللَّهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَاداً وَاللَّهُ لا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ} 9.

--------------------------------------------

1 الشيوعية والإنسانية في شريعة الإسلام، للأستاذ عباس محمود العقاد ص33، 43.

2، 3 محمد خليفة التونسي "الخطر اليهودي" الطبعة الرابعة ص68، ص110.

4 سرجي نيلوس "ترجمة البروتوكولات" المرجع السابق ص4، 24، 213 وما بعدها.

5، 6 وليام غاي كار "أحجار على رقعة الشطرنج" 13 تشرين 1958م

7 محمد خليفة التونسي، المرجع السابق.

8 البقرة 96.

9 سورة المائدة 64.
প্রাণিজগতে পুরুষ ও স্ত্রী রয়েছে।

উদ্ভিদরাজ্যেও পুরুষ ও স্ত্রী রয়েছে।

জড় পদার্থের মাঝে রয়েছে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক দিক, যেমনটি দেখা যায় বিদ্যুৎ, চৌম্বক ও পরমাণুর ক্ষেত্রে।

এর থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, সৃজনকারী স্রষ্টা একমাত্র সত্তা, তিনি পবিত্র ও মহান।

পরস্পর বিবাদমান দুটি শিবিরের একই তাত্ত্বিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া এমন একটি বিষয় যা গভীরভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং একই প্রশ্নের উদ্রেক করে।

আমরা লক্ষ্য করলে দেখতে পাই যে, কার্ল মার্ক্স ইহুদি বংশোদ্ভূত ১ এবং বলশেভিক বিপ্লবে ইহুদি অর্থায়ন করা হয়েছিল ২।

আমরা আরও দেখতে পাই যে, কমিউনিস্ট নেতৃত্বের অনেকেই ইহুদি বংশোদ্ভূত ৩।

আমরা দেখি যে, কমিউনিস্ট প্রতীক হলো রূপক সর্প, যা ইহুদি জাতির প্রতীক; আর এর ভেতরে রয়েছে ষষ্ঠভুজ তারকা, যা একইভাবে ইহুদিদেরও প্রতীক ৪।

আমরা যদি পশ্চিমের দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাই যে রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে পৃথক করার চিন্তাটি ইহুদিদেরই কাজ ৫; এবং আমরা ক্রুসেড ৬ ও কিছু বিশ্বযুদ্ধকেও তাদেরই কর্মতৎপরতা হিসেবে পাই ৭।

বেলফোর ঘোষণা, ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তুতি, ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি প্রদান এবং তাকে সাহায্যের জন্য হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রেও তাদের হাতের ছাপ পাওয়া যায়।

একইভাবে এই ছাপগুলো জন এফ কেনেডি এবং নিক্সনের অপসারণের মতো ঘটনায় লক্ষ্য করা যায়—যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন—এবং ইসলামি ও আরব অঞ্চলের কিছু ঘটনাপ্রবাহেও তা দৃশ্যমান।

আমরা যদি সেই ভিত্তির দিকে ফিরে যাই যার ওপর পাশ্চাত্য ও মার্ক্সবাদী চিন্তা গড়ে উঠেছে অর্থাৎ "বস্তুবাদ", তবে আমরা এর সাথে ইহুদিদের বিশ্বাসের সাদৃশ্য দেখতে পাই। আর প্রতিটি পাত্র থেকে তা-ই চুইয়ে পড়ে যা তার ভেতরে থাকে। কুরআন তাদের বর্ণনা দিয়েছে এভাবে: {এবং আপনি অবশ্যই তাদেরকে জীবনের প্রতি মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি লোভী হিসেবে পাবেন} ৮ অর্থাৎ জীবন যদি তুচ্ছও হয় (তবুও তারা তার প্রতি লালায়িত); কারণ তাদের নফস ও অন্তরে বস্তুবাদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

বস্তুগত ভিত্তির প্রসার বস্তু নিয়ে সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়, অতঃপর তা প্রবৃত্তির লালসায় নিমজ্জিত হওয়ার পথে পরিচালিত করে। আর এই উভয় বিষয়ই ইহুদিদের রাজনীতির অংশ: {যখনই তারা যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত করে, আল্লাহ তা নিভিয়ে দেন এবং তারা জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টিতে লিপ্ত থাকে, আর আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের ভালোবাসেন না} ৯।

--------------------------------------------

১ ইসলামি শরিয়তে কমিউনিজম ও মানবতা, উস্তাদ আব্বাস মাহমুদ আল-আক্কাদ, পৃষ্ঠা ৩৩, ৪৩।

২, ৩ মুহাম্মদ খলিফা আত-তুনুসি, "আল-খাতারুল ইয়াহুদি" (ইহুদি বিপদ), চতুর্থ সংস্করণ, পৃষ্ঠা ৬৮, ১১০।

৪ সার্জি নিলাস, "প্রটোকলসমূহের অনুবাদ", পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৪, ২৪, ২১৩ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো।

৫, ৬ উইলিয়াম গাই কার, "দাবা খেলার ঘুঁটি", ১৩ অক্টোবর ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দ।

৭ মুহাম্মদ খলিফা আত-তুনুসি, পূর্বোক্ত উৎস।

৮ আল-বাকারাহ ৯৬।

৯ সূরা আল-মায়িদাহ ৬৪।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১০)
وما نود بعد ذلك أن نخوض في مدى سلامة البروتوكولات التي نشرها سرجي نيلوس لأول مرة في سنة 1902، بعد أن وصلت إليه -كما ذكر- في سنة 1901، فإنها من ناحية السند ضعيفة؛ إذ لم يعرف مصدرها الحقيقيّ حتى الآن1.

ولكن الأحداث التي جرت، والتي تجري، قد تؤكد صحتها وسلامة نسبتها، مما يشعر معه الإنسان أنه أمام ما قد يسمى بالحقائق المسلمة.

ووقوع الأحداث التي توقعها ناشرها بعد نشرها بفترات، أقلها خمسة عشر عامًا، وأطولها ما يقرب من الخمسين، يلقي ظلالًا على صحة هذه الوثائق، فقد تنبأ نيلوس أن يحاول اليهود الاستيلاء على السلطة في روسيا، وتَمَّ لهم ذلك بعدها بحوالي خمسة عشر عامًا، وتنبأ نيلوس أن تحاول الأفعى اقتحام الأستانة قبل أن تقوم دولة لليهود2.

وألغيت الخلافة الإسلامية في سنة 1343هـ، وكانت اليد الخفية تعمل في الظلام على تحطيمها.

وقامت دولة إسرائيل سنة1367هـ، واعترفت بها أمريكا، وأعقبتها روسيا في يوم واحد.

ومع ذلك كله، فيبقى احتمال وجود اليهود وراء الفكرين الغربيّ والشرقيّ من الناحية العلمية، مجرد احتمال، وإن كان احتمالًا راجحًا -لكنا نأخذه بحذر حتى لا نقع في "التهويل" كما لا ينبغي أن نقع في "التهوين" فكلاهما تطرف غير سليم، كلاهما إفراط وتفريط، وتبقى الاحتمالات الأخرى قائمة، وأن كانت مرجوحة، ومن بينها أن يكون الانتكاس قد أصاب الفطرة الإنسانية في الشرق والغرب في وقت واحد، فقامت فلسفتهما وفكرهما على أساس أن: "لا موجود إلّا المادة"3.

وهذا الأساس بغير إغراقٍ في الجانب الفلسفيّ ليس صحيحًا على إطلاقه؛ إذ لا شك بوجود أشياء غير المادة؛ فالفكر والفهم ليس أمرًا ماديًّا، وهو موجود، والمشاعر والعواطف ليست أمرًا ماديًّا، وهي موجودة.

والله سبحانه وتعالى ليس شيئًا ماديًّا، وهو سبحانه وتعالى موجود.

ولا يلزم للوجود أن تدركه الحواس بالبصر أو باللمس أو بالشم، كما يذهب أكثرهم، فإن الإدراك بالأثر أقوى وأشد، فأنت لا ترى

--------------------------------------------

1 تعلمنا علوم السنة علمًا جليلًا، لم يصل إليه بعد علم الغرب، وهو علم الرجال، وما يتعلق بهم من جرح وتعديل، وهو علم دقيق بالغ الدقة، وتطبيق قواعده لمعرفة سند البروتوكولات إلى أبناء صهيون قد يؤدي -حتى الآن- إلى استبعادها، لكن الأحداث تؤيد وترجح صدق ما جاء فيها، أي: صدق نسبتها.

2 سرجي نيلوس، المرجع السابق ص216، 217.

3 الزميل الكبير الدكتور جعفر إدريس في محاضرة قيمة عن الماة، غير منشورة.
وما نود بعد ذلك أن نخوض في مدى سلامة البروتوكولات التي نشرها سرجي نيلوس لأول مرة في سنة 1902، بعد أن وصلت إليه -كما ذكر- في سنة 1901، فإنها من ناحية السند ضعيفة؛ إذ لم يعرف مصدرها الحقيقيّ حتى الآن1.

এরপরে আমরা ১৯০২ সালে সের্গেই নিলাস কর্তৃক প্রথমবারের মতো প্রকাশিত প্রোটোকলগুলোর নির্ভরযোগ্যতার গভীরে প্রবেশ করতে চাই না, যা তার কাছে ১৯০১ সালে পৌঁছেছিল—যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন। কারণ এগুলো সনদ (سند)-এর দিক থেকে দুর্বল (ضعيفة); যেহেতু এখন পর্যন্ত এগুলোর প্রকৃত উৎস জানা যায়নি।

ولكن الأحداث التي جرت، والتي تجري، قد تؤكد صحتها وسلامة نسبتها، مما يشعر معه الإنسان أنه أمام ما قد يسمى بالحقائق المسلمة.

কিন্তু যে সকল ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটছে, তা এগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) এবং সম্বন্ধের সঠিকতাকে নিশ্চিত করতে পারে, যা মানুষকে এমন এক অনুভূতির সামনে দাঁড় করায় যে সে যেন কিছু স্বতঃসিদ্ধ সত্যের মুখোমুখি হয়েছে।

ووقوع الأحداث التي توقعها ناشرها بعد نشرها بفترات، أقلها خمسة عشر عامًا، وأطولها ما يقرب من الخمسين، يلقي ظلالًا على صحة هذه الوثائق، فقد تنبأ نيلوس أن يحاول اليهود الاستيلاء على السلطة في روسيا، وتَمَّ لهم ذلك بعدها بحوالي خمسة عشر عامًا، وتنبأ نيلوس أن تحاول الأفعى اقتحام الأستانة قبل أن تقوم دولة لليهود2.

এই নথিগুলো প্রকাশের পর বিভিন্ন সময়ে—কমপক্ষে পনেরো বছর এবং বড়জোর প্রায় পঞ্চাশ বছর পর—ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি এই দলিলগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة)-র ওপর আলোকপাত করে। নিলাস ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে ইহুদিরা রাশিয়ায় ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করবে, যা প্রায় পনেরো বছর পর বাস্তবায়িত হয়। তিনি আরও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে 'সর্প' আস্তানা (কনস্টান্টিনোপল) দখলের চেষ্টা করবে।

وألغيت الخلافة الإسلامية في سنة 1343هـ، وكانت اليد الخفية تعمل في الظلام على تحطيمها.

১৩৪৩ হিজরিতে ইসলামি খিলাফত বিলুপ্ত করা হয় এবং এর নেপথ্যে এক অদৃশ্য হাত অন্ধকারে কাজ করছিল একে ধ্বংস করার জন্য।

وقامت دولة إسرائيل سنة1367هـ، واعترفت بها أمريكا، وأعقبتها روسيا في يوم واحد.

১৩৬৭ হিজরিতে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আমেরিকা একে স্বীকৃতি দেয়, যার একদিন পরই রাশিয়া একে স্বীকৃতি প্রদান করে।

ومع ذلك كله، فيبقى احتمال وجود اليهود وراء الفكرين الغربيّ والشرقيّ من الناحية العلمية، مجرد احتمال، وإن كان احتمالًا راجحًا -لكنا نأخذه بحذر حتى لا نقع في "التهويل" كما لا ينبغي أن نقع في "التهوين" فكلاهما تطرف غير سليم، كلاهما إفراط وتفريط، وتبقى الاحتمالات الأخرى قائمة، وأن كانت مرجوحة، ومن بينها أن يكون الانتكاس قد أصاب الفطرة الإنسانية في الشرق والغرب في وقت واحد، فقامت فلسفتهما وفكرهما على أساس أن: "لا موجود إلّا المادة"3.

তা সত্ত্বেও, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের চিন্তাধারার পেছনে ইহুদিদের অবস্থানের সম্ভাবনা কেবল একটি সম্ভাবনা হিসেবেই থেকে যায়, যদিও এটি একটি অগ্রগণ্য (راجح) সম্ভাবনা। তবে আমরা একে সতর্কতার সাথে গ্রহণ করি যাতে আমরা 'অত্যুক্তি'র শিকার না হই, যেমনটি আমাদের 'তুচ্ছজ্ঞান' করাও উচিত নয়। কারণ উভয়ই ভারসাম্যহীন চরমপন্থা, উভয়ই বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি। আর অন্যান্য সম্ভাবনাগুলোও বিদ্যমান থাকে, যদিও সেগুলো মারজুহ বা কম সম্ভাব্য (مرجوحة); যার মধ্যে একটি হলো—একই সময়ে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের মানবীয় ফিতরাত বা সহজাত প্রবৃত্তি বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে, ফলে তাদের দর্শন ও চিন্তাধারা এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে: "পদার্থ ছাড়া আর কিছুর অস্তিত্ব নেই।"

وهذا الأساس بغير إغراقٍ في الجانب الفلسفيّ ليس صحيحًا على إطلاقه؛ إذ لا شك بوجود أشياء غير المادة؛ فالفكر والفهم ليس أمرًا ماديًّا، وهو موجود، والمشاعر والعواطف ليست أمرًا ماديًّا، وهي موجودة.

দর্শনের গভীরে না গিয়েও বলা যায়, এই ভিত্তিটি ঢালাওভাবে সঠিক নয়; কারণ পদার্থ ছাড়াও অন্য জিনিসের অস্তিত্ব থাকার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। চিন্তা ও উপলব্ধি কোনো বস্তুগত বিষয় নয়, অথচ এর অস্তিত্ব রয়েছে। আবেগ ও অনুভূতি কোনো বস্তুগত বিষয় নয়, অথচ এগুলোর অস্তিত্ব রয়েছে।

والله سبحانه وتعالى ليس شيئًا ماديًّا، وهو سبحانه وتعالى موجود.

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কোনো বস্তুগত সত্তা নন, অথচ তিনি সুবহانাহو وتعالى বিদ্যমান।

ولا يلزم للوجود أن تدركه الحواس بالبصر أو باللمس أو بالشم، كما يذهب أكثرهم، فإن الإدراك بالأثر أقوى وأشد، فأنت لا ترى

--------------------------------------------

1 تعلمنا علوم السنة علمًا جليلًا، لم يصل إليه بعد علم الغرب، وهو علم الرجال، وما يتعلق بهم من جرح وتعديل، وهو علم دقيق بالغ الدقة، وتطبيق قواعده لمعرفة سند البروتوكولات إلى أبناء صهيون قد يؤدي -حتى الآن- إلى استبعادها، لكن الأحداث تؤيد وترجح صدق ما جاء فيها، أي: صدق نسبتها.

১. আমরা সুন্নাহর জ্ঞানসমূহ থেকে এক মহান ইলম বা জ্ঞান অর্জন করেছি, যা পশ্চিমা বিজ্ঞান আজও অর্জন করতে পারেনি; আর তা হলো ইলমুর রিজাল (علم الرجال) এবং রাবীদের জারহ ও তাদিল (جرح وتعديل) সংক্রান্ত বিষয়াদি। এটি একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম শাস্ত্র। জায়নবাদীদের সাথে এই প্রোটোকলগুলোর সনদ (سند) যাচাই করার জন্য এর নীতিমালাগুলো প্রয়োগ করলে—এখন পর্যন্ত—সেগুলো প্রত্যাখ্যান করার ফলাফল আসতে পারে। কিন্তু ঘটনাবলি এতে যা বর্ণিত হয়েছে তার সত্যতা এবং সম্বন্ধের সঠিকতা (صدق)-কে সমর্থন ও অগ্রাধিকার প্রদান করে।

2 سرجي نيلوس، المرجع السابق ص216، 217.

২. সের্গেই নিলাস, পূর্বোক্ত সূত্র, পৃষ্ঠা ২১৬, ২১৭।

3 الزميل الكبير الدكتور جعفر إدريس في محاضرة قيمة عن الماة، غير منشورة.৩. শ্রদ্ধেয় সহকর্মী ডক্টর জাফর ইদ্রিস, পদার্থ সম্পর্কে একটি মূল্যবান বক্তৃতা থেকে, যা অপ্রকাশিত।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১১)
الكهرباء، ولكن تدرك أثرها وهو النور، وأنت لا ترى الروح، ولكن تدرك أثرها وهو الحياة، ثم إذا تدرجت مع الماديين وساءلتهم: من الذي أوجد المادة، فيستدرجون معك حتى يتدرج مثل: "دارون" إلى الخلية الأولى، ونقول له: من الذي أوجد الخلية الأولى؟ سيسكت بعضهم، وسيقول آخرون: المصادفة، أو الطبيعة، والساكتون أراحوا واستراحوا.

والقائلون بالمصادفة أو الطبيعة ندع فريقًا آخر يرد عليهم.

- إن القول بأن الحياة وجدت نتيجة حادث اتفاقيٍّ شبيه في مغزاه بأن نتوقع إعداد معجم ضخم نتيجة انفجار صدفي يقع في مطبعة1.

- لو جلس ستة من القرود على آلات كاتبة، وظلت تضرب على حروفها لملايين السنين، فلا يستبعد أن نجد من بعض الأوراق التي كتبوها قصيدة من قصائد شكسبير، وكذلك كان الكون الموجود الآن نتيجة عمليات عمياء ظلت تدور في المادة لبلايين السنيين2.

- ولو كان يمكن للكون أن يخلق نفسه، فإن معنى ذلك أن يتمتع بأوصاف الخالق، وفي هذه الحالة سنضطر أن نؤمن بأن الكون هو الإله، وهكذا ننتهي إلى التسليم بوجود الإله، ولكن إلهنا هذا سوف يكون عجيبًا، إلهًا غيبيًّا وماديًّا في آنٍ واحد، إنني أفضل أن أؤمن بذلك الإله الذي خلق العالم المادي وهو ليس بجزء من هذا الكون، بل هو حاكمه ومدبره، بدلًا من أن أتبنى هذه الخزعبلات3.

ويعقب القرآن على تلك القضية، ويصفها في تساؤل جميل:

- {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ، أَمْ خَلَقُوا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بَلْ لا يُوقِنُونَ} ؟ 4

وفي مكان آخر تساؤل آخر:

{أَمَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَأَنْزَلَ لَكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَنْبَتْنَا بِهِ حَدَائِقَ ذَاتَ بَهْجَةٍ مَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُنْبِتُوا شَجَرَهَا أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ يَعْدِلُونَ} ؟

{أَمَّنْ جَعَلَ الْأَرْضَ قَرَاراً وَجَعَلَ خِلالَهَا أَنْهَاراً وَجَعَلَ لَهَا رَوَاسِيَ وَجَعَلَ بَيْنَ الْبَحْرَيْنِ حَاجِزاً أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لا يَعْلَمُونَ} .

{أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الْأَرْضِ أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ قَلِيلاً مَا تَذَكَّرُونَ} .

--------------------------------------------

1 البروفسور أيدوين كويكلين.

2 هكسلي.

3 جورج أبرل ديفس اقرأ تفصيلًا وعرضًا جميلًا في كتاب الإسلام يتحدى، مدخل علمي للإيمان، تأليف وحيد الدين خان، وتقديم ومراجعة عبد الصبور شاهين، الطبعة الثالثة، المختار الإسلامي 1972م.

4 سورة الطور 35، 36.
বিদ্যুৎ, কিন্তু আপনি এর প্রভাব উপলব্ধি করেন যা হলো আলো; এবং আপনি রুহকে দেখতে পান না, কিন্তু এর প্রভাব উপলব্ধি করেন যা হলো জীবন। এরপর যদি আপনি বস্তুবাদীদের সাথে ধাপে ধাপে অগ্রসর হন এবং তাদের জিজ্ঞাসা করেন: কে পদার্থ সৃষ্টি করেছে? তবে তারা আপনার সাথে তর্কে লিপ্ত হবে যেমন 'ডারউইন' প্রথম কোষ পর্যন্ত পৌঁছান। আমরা তাকে বলি: কে প্রথম কোষটি সৃষ্টি করেছেন? তাদের কেউ কেউ চুপ থাকবে, আবার কেউ বলবে: আকস্মিকতা বা প্রকৃতি; আর যারা চুপ থাকে তারা নিজেরা শান্ত থাকে এবং অন্যদেরও শান্ত রাখে।

আর যারা আকস্মিকতা বা প্রকৃতির কথা বলে, আমরা তাদের উত্তর দেওয়ার জন্য অন্য একটি দলের ওপর ছেড়ে দিই।

- এই কথা বলা যে, জীবন একটি আকস্মিক ঘটনার ফলে সৃষ্টি হয়েছে, এর তাৎপর্য অনেকটা এমন যে, একটি ছাপাখানায় আকস্মিক বিস্ফোরণের ফলে একটি বিশাল অভিধান তৈরি হওয়ার আশা করা।১

- যদি ছয়টি বানর টাইপরাইটার নিয়ে বসে এবং লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এর অক্ষরগুলোতে আঘাত করতে থাকে, তবে এমনটা অসম্ভব নয় যে তাদের লেখা কাগজগুলোর মধ্যে শেক্সপিয়রের কোনো একটি কবিতা পাওয়া যাবে। ঠিক একইভাবে বর্তমান মহাবিশ্বও বিলিয়ন বিলিয়ন বছর ধরে পদার্থের মধ্যে চলতে থাকা অন্ধ প্রক্রিয়ার ফল।২

- আর যদি মহাবিশ্ব নিজেকে সৃষ্টি করতে সক্ষম হতো, তবে তার অর্থ হতো এটি স্রষ্টার গুণাবলীতে গুণান্বিত। এমতাবস্থায় আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে মহাবিশ্বই ঈশ্বর। আর এভাবেই আমরা ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করে নেব, কিন্তু আমাদের এই ঈশ্বর হবেন অত্যন্ত অদ্ভুত—যিনি একই সাথে অদৃশ্য এবং জড়বাদী। আমি এই রূপকথা বা ভ্রান্ত ধারণাগুলোকে গ্রহণ করার চেয়ে বরং সেই ঈশ্বরে বিশ্বাস করাকে পছন্দ করি যিনি এই জড় জগত সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি এই মহাবিশ্বের অংশ নন, বরং এর শাসক ও পরিচালক।৩

কুরআন এই বিষয়ে মন্তব্য করে এবং একটি সুন্দর জিজ্ঞাসার মাধ্যমে তা বর্ণনা করে:

- {তারা কি কোনো কিছু (স্রষ্টা) ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা? নাকি তারা আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে না।} ৪

অন্য এক স্থানে আরেকটি জিজ্ঞাসা:

{বরং কে তিনি, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন? অতঃপর আমি তা দ্বারা মনোরম উদ্যানসমূহ উৎপন্ন করেছি, যার বৃক্ষরাজি উৎপন্ন করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তারা এমন এক কওম যারা সত্য থেকে বিচ্যুত হয়।}

{বরং কে তিনি, যিনি পৃথিবীকে স্থিতিশীল করেছেন এবং তার মাঝে নদ-নদী প্রবাহিত করেছেন, আর তার জন্য সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন এবং দুই সমুদ্রের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেছেন? আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।}

{বরং কে তিনি, যিনি আর্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাকে ডাকে এবং বিপদ দূর করেন আর তোমাদেরকে পৃথিবীর প্রতিনিধি বানান? আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো।}

--------------------------------------------

১. প্রফেসর এডউইন কুইকলিন।

২. হাক্সলি।

৩. জর্জ অ্যাবেল ড্যাভিস। বিস্তারিত ও সুন্দর বর্ণনার জন্য পড়ুন ‘আল-ইসলাম ইয়াতাহাদ্দা’ (ইসলাম চ্যালেঞ্জ করে), বিশ্বাসের বৈজ্ঞানিক প্রবেশদ্বার, লেখক: ওয়াহিদ উদ্দিন খান, ভূমিকা ও পর্যালোচনা: আবদুস সবুর শাহীন, তৃতীয় সংস্করণ, আল-মুখতার আল-ইসলামি ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ।

৪. সূরা আত-তুর ৩৫, ৩৬।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১২)
{أَمَّنْ يَهْدِيكُمْ فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَنْ يُرْسِلُ الرِّيَاحَ بُشْراً بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ تَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ} .

{أَمَّنْ يَبْدأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَمَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} 1.

--------------------------------------------

1 سورة النمل 63، 64.
{অথবা কে তিনি, যিনি স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে তোমাদের পথপ্রদর্শন করেন এবং কে তাঁর রহমতের প্রাক্কালে সুসংবাদবাহী হিসেবে বায়ু প্রেরণ করেন? আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? তারা যা শরিক করে, আল্লাহ তা থেকে অতি ঊর্ধ্বে।}.

{অথবা কে তিনি, যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করবেন এবং কে তোমাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে রিজিক দান করেন? আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বলুন, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ করো।’} ১।

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নামল ৬৩, ৬৪।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الباب الأول: الإتجاه الغربي

‌‌الفصل الأول: مراحل الغزو الفكري الغربي

‌‌مدخل

…

الباب الأول: الإتجاه الغربي

الفصل الأول: مراحل الغزو الفكري الغربي

مقدمة:

وجود الغرب المسيحي هنا في شرقنا الإسلاميّ لم يكن صدفة؛ بدأ بالوجود الماديّ العسكريّ، وتبعه الاستشراق والتبشير -الوجود المعنويّ، أعقبه مرةً أخرى الوجود العسكريّ -الاستعمار وتقطيع أوصال دول الخلافة الإسلامية، ثم أعقبه بَثٌّ فكريٌّ فصل الدين عن الدولة، وفكرة القومية، ثم الإجهاز على الخلافة الإسلامية، وأخيرًا، حين رحلت جنوده، أبقى له جنودًا آخرين من جلدتنا، ويتحدثون بلساننا، وبهم أجرى التغيير السياسيّ المطلوب، وأجرى التغيير الاجتماعيّ المقصود.

ولنحاول أن نقسمها إلى ثلاث مراحل:

المرحلة الأولى:

مرحلة ما قبل إسقاط الخلافة الإسلامية، ونتحدث عنها في مبحث أول.

المرحلة الثانية: مرحلة الإجهاز على الخلافة الإسلامية، ونتحدث عنها في مبحثٍ ثانٍ.

المرحلة الثالثة: مرحلة ما بعد إسقاط دولة الخلافة، ونتحدث عنها في مبحثٍ ثالث.
প্রথম পরিচ্ছেদ: পাশ্চাত্য ধারা

প্রথম অধ্যায়: পাশ্চাত্য বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের পর্যায়সমূহ

প্রবেশিকা

…

প্রথম পরিচ্ছেদ: পাশ্চাত্য ধারা

প্রথম অধ্যায়: পাশ্চাত্য বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের পর্যায়সমূহ

উপস্থাপনা:

আমাদের এই ইসলামি প্রাচ্যে খ্রিস্টান পাশ্চাত্যের উপস্থিতি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না; এটি শুরু হয়েছিল বস্তুগত সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে, যার অনুগামী হয়েছিল প্রাচ্যতত্ত্ব ও ধর্মপ্রচারণা—অর্থাৎ অবস্তুগত উপস্থিতি। পরবর্তীতে পুনরায় সামরিক উপস্থিতি তথা উপনিবেশবাদ এবং ইসলামি খেলাফত রাষ্ট্রসমূহের অঙ্গচ্ছেদন ঘটে। এরপর ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে পৃথক করার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচারণা এবং জাতীয়তাবাদের ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া হয়, এবং সবশেষে ইসলামি খেলাফতকে সমূলে বিনাশ করা হয়। পরিশেষে, যখন তাদের সৈন্যরা এদেশ ছেড়ে চলে যায়, তখন তারা আমাদেরই স্বজাতির এবং আমাদের ভাষায় কথা বলে এমন কিছু প্রতিনিধি রেখে যায়, যাদের মাধ্যমে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনসমূহ সাধন করে।

আসুন আমরা একে তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করার চেষ্টা করি:

প্রথম পর্যায়:

ইসলামি খেলাফতের পতনের পূর্ববর্তী পর্যায়, যা আমরা প্রথম অনুচ্ছেদে আলোচনা করব।

দ্বিতীয় পর্যায়: ইসলামি খেলাফতকে চূড়ান্তভাবে উচ্ছেদের পর্যায়, যা আমরা দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে আলোচনা করব।

তৃতীয় পর্যায়: খেলাফত রাষ্ট্র পতনের পরবর্তী পর্যায়, যা আমরা তৃতীয় অনুচ্ছেদে আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المبحث الأول: مرحلة ما قبل إسقاط الخلافة الإسلامية

‌‌أولا: الحروب الصليبية

…

المبحث الأول: مرحلة ما قبل إسقاط الخلافة الإسلامية

وتبدأ بالحروب الصليبية، ثم الاستشراق، ثم التبشير.

أولًا: الحروب الصليبية

لسنا نكتب تاريخًا، ولكننا نستخلص عبرًا من الحقائق التاريخية المسلَّم بها، فمن هذه الحقائق أن الغرب جرد حملاتٍ غزت الشرق الإسلاميّ باسم الصليب وتحت رايته، وكان رجال الكنيسة في أوروبا يدفعون الملوك والشعوب إلى هذه الحروب1، فاتخذت بذلك طابعًا دينيًّا شكلًا وموضوعًا، وكان تفرق المسلمين إلى دويلاتٍ، وضعف دولتهم، مشجعًا لهم على ذلك الغزو، وليس صحيحًا ما يحاول بعض الكتاب العرب تصويره، من أنها كانت مجرد حملات استعمارية

--------------------------------------------

1 أول من دعا إلى هذه الحروب الصليبية -كما يقول صاحب كتاب "حاضر العالم الإسلاميّ" هو البابا سلفستر الثاني سنة 1002م، ولكنه لم يوفق، ثم البابا خريغوريوس سنة 1075م، لكنها تأخرت حوالي عشرين سنة حتى سنة 1097، وكان كُتَّاب النصارى ومفكروهم يحرضون عليها كذلك، نذكر منهم: هلتون ساتيتو، ومارينو، بيين ديبوا، جيلوم دي نوجاري، ريموند لول بتراك.

وفي كتاب "تاريخ البابوات" تأليف السيد: فرناند هابوارد، بيان كيف ألَّب البابوات ملوك أوربا لحرب المسلمين، وكيف حاولوا بأنفسهم قيادة هذه الحروب الصليبية.. راجع "حاضر العالم الإسلاميّ" تأليف لوثروب ستودارد، نقله إلى العربية الأستاذ عجاج نويهض، وعلق عليه تعليقات مستفيضة الأمير شكيب أرسلان، دار الفكر، الطبعة الثالثة 1391هـ 1971م ص 218، وقد كتب كارلس الثامن إلى رئيس فرنسا رودس، يكاشفه بما نواه من نشر الديانة المقدسة الكاثوليكية، وتحرير المسيحيين مما هم فيه من الخنوع للأمية الجاحدة، وواسترداد الأراضي المقدسة المغصوبة، فأجابه رئيس الفرسان متيمنًا مؤملًا هذه المرة استئصال شاقة الأمة المعلونة؛ أمة محمد، ص 59 من كتاب "مائة مشروع لتقسيم تركيا" -تأليف المسيو دجوقتارا الأمانيّ، المرجع السابق ص228".

ويشير المؤرخون إلى أن الحملة الصليبية عند دخولها بيت المقدس في 15 يوليو 1099م، الموافق 3 رمضان 493، ذبحت أكثر من سعبين ألف مسلم حتى سبحت الخيل إلى صدورها في الدماء، وفي أنطاقيا، قتلوا في الطريق أكثر من مائة ألف مسلم.

راجع "حاضر العالم الإسلامي" وراجع كذلك جوستاف لوبون في كتابه: "حضارة العرب".
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইসলামি খিলাফত পতনের পূর্ববর্তী পর্যায়

প্রথমত: ক্রুসেডসমূহ

...

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইসলামি খিলাফত পতনের পূর্ববর্তী পর্যায়

আর এটি শুরু হয় ক্রুসেড দিয়ে, এরপর প্রাচ্যতত্ত্ব (ওরিয়েন্টালিজম), তারপর খ্রিস্টধর্ম প্রচার (মিশনারি কার্যক্রম)।

প্রথমত: ক্রুসেডসমূহ

আমরা এখানে কোনো ইতিহাস লিখছি না, বরং আমরা স্বীকৃত ঐতিহাসিক সত্যসমূহ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করছি। এই সত্যগুলোর মধ্যে একটি হলো—পাশ্চাত্য ক্রুশের নামে এবং এর পতাকাতলে ইসলামি প্রাচ্য দেশগুলো আক্রমণের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করেছিল। ইউরোপের গির্জার পাদ্রিরা রাজা ও প্রজাদের এই যুদ্ধে প্ররোচিত করতেন১। ফলে এটি বাহ্যিক এবং প্রকৃতিগতভাবে একটি ধর্মীয় রূপ পরিগ্রহ করে। মুসলমানদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে যাওয়া এবং তাদের শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা তাদের এই আক্রমণের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছিল। কিছু আরব লেখক একে নিছক একটি ঔপনিবেশিক অভিযান হিসেবে চিত্রায়িত করার যে চেষ্টা করেছেন, তা সঠিক নয়।

--------------------------------------------

১ 'আধুনিক ইসলামি বিশ্ব' (হাযিরুল আলামিল ইসলামি) গ্রন্থের লেখকের মতে, ১০০২ খ্রিস্টাব্দে পোপ দ্বিতীয় সিলভেস্টার সর্বপ্রথম এই ক্রুসেডের আহ্বান জানান, কিন্তু তিনি সফল হননি। এরপর ১০৭৫ খ্রিস্টাব্দে পোপ গ্রেগরি আহ্বান জানান। তবে এটি প্রায় বিশ বছর বিলম্বিত হয়ে ১০৯৭ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়। খ্রিস্টান লেখক ও চিন্তাবিদরাও এর জন্য উস্কানি দিতেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: হিলটন স্ট্যাটুও, মারিনো, পিয়েরে ডুবইস, গুইলাম ডি নোগারেট এবং রেমন্ড লাল পেট্রার্ক।

ফের্নান্দ হেওয়ার্ড রচিত 'পোপদের ইতিহাস' গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে কীভাবে পোপগণ ইউরোপের রাজাদের মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্ররোচিত করেছিলেন এবং কীভাবে তাঁরা নিজেরা এই ক্রুসেডগুলোতে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বিস্তারিত দেখুন: লোথ্রপ স্টোডার্ড রচিত 'আধুনিক ইসলামি বিশ্ব', যা উস্তাদ আজাজ নুওয়াইহিয আরবিতে অনুবাদ করেছেন এবং আমির শাকিব আরসালান তাতে বিস্তারিত টীকা যুক্ত করেছেন, দার আল-ফিকর, তৃতীয় সংস্করণ ১৩৯১ হিজরি/১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা ২১৮। অষ্টম চার্লস রোডসের প্রধানকে চিঠি লিখেছিলেন এবং তাতে ক্যাথলিক পবিত্র ধর্ম প্রচারের সংকল্প ব্যক্ত করেছিলেন, সেই সাথে খ্রিস্টানদের সেই পরাধীনতা থেকে মুক্ত করার কথা বলেছিলেন যা তারা অবিশ্বাসী জাতির অধীনে ভোগ করছিল। সেই সঙ্গে জবরদখল করা পবিত্র ভূমি পুনরুদ্ধারের কথা লিখেছিলেন। প্রতিউত্তরে নাইটদের প্রধান তাকে শুভকামনা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, এবার সেই অভিশপ্ত জাতি তথা মুহাম্মদের উম্মতকে সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব হবে; 'তুরস্ক বিভক্তির শত পরিকল্পনা' (Monsieur Djuvara রচিত) গ্রন্থের ৫৯ পৃষ্ঠা—পূর্বোক্ত সূত্র, পৃষ্ঠা ২২৮।

ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন যে, ক্রুসেডার বাহিনী যখন ১৫ জুলাই ১০৯৯ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ৩ রমজান ৪৯৩ হিজরিতে বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করে, তখন তারা সত্তর হাজারেরও বেশি মুসলমানকে জবেহ করেছিল, এমনকি ঘোড়াগুলো রক্তের স্রোতে তাদের বক্ষ পর্যন্ত নিমজ্জিত হয়েছিল। আর আন্তাকিয়ায় তারা পথে এক লক্ষেরও বেশি মুসলমানকে হত্যা করেছিল।

দেখুন: 'আধুনিক ইসলামি বিশ্ব' এবং গুস্তাভ লে বনের 'আরব সভ্যতা' গ্রন্থটি।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৭)
باحثةً عن المصالح الاقتصادية، نعم.. قد يكون الاستعمار والاستغلال الاقتصاديّ من أهدافها، لكنه بالتأكيد ليس الهدف الأول الرئيسيّ، أنما كان هذا هدفًا دينيًّا، ولم تكن حماسة رجال الدين المسيحيّ، ولا مشاركتهم في هذه الحملات عفوًا ولا لغوًا، ولكنه كان قصدًا إلى الانتقام من غزو الإسلام لقلب أوربا، حتى صار البحر الأبيض المتوسط بحيرةً إسلامية خالصةً، وحتى بلغ المسلمون جنوب فرنسا، ثم قصدًا بعد الانتقام إلى إدخال المسلمين في المسيحية ذاتها، وهو ما ستفسره المرحلة التالية لهذه الحروب، والأمر أن يفسرهما قول الله سبحانه وتعالى: {وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ} 1 وقوله: {وَلا يَزَالُونَ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّى يَرُدُّوكُمْ عَنْ دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُوا} 2 وقد يكون صحيحًا ما أشار إليه كاتب أمريكيّ3، من أن اليهود كانوا وراء الحروب الصليبية، قصدًا إلى أضعاف العالمين المسيحيّ والإسلاميّ -كما أشار، ثم تحقيقها لمزيد من الكسب والربا أثناء تلك الحروب.

لكن لو لم يحركهم اليهود لتحركوا كذلك، فإن ما بدا منهم في تلك الحروب يَنُمُّ عن حقد دفين، وما تخفي صدورهم أكبر.

العصمة في الإسلام للأمة لا للإمام:

ولئن كانت الدولة الإسلامية في ذلك الحين مفككة الأوصال، فلقد جعل الله من معجزات دينه بعد القرآن، هذه الأمة، فلقد حوَّلها القرآن بحقٍّ خير أمة أخرجت للناس، حتى صح ماقيل من أن العصمة في الإسلام للأمة لا للإمام، أخذًا من قول الرسول صلى الله عليه وسلم: "لا تجتمع أمتي على ضلالة" ثم استمدادًا من أحداث التاريخ التي ظلت معها الأمة الإسلامية صامدة شامخة برغم ما وُجِّهَ إلى صدرها وقلبها من سهام وحراب!.

انتفضت الأمة لمَّا رأت الصليب فوق رءوس أعدائها، انتفضت تحارب أعداء الله وأعداءها بكل سبيل، واسترخصت الدم والروح في سبيل الله، وتعجلت لقاء الله وجنته، فأعطاها الله الحسنيين: النصر والجنة، وارتدت حملات الصليب على أعقابها خاسرة بعد

--------------------------------------------

1 البقرة 120.

2 البقرة 217.

3 الكاتب الأمريكي وليام غاي كار.
অর্থনৈতিক স্বার্থের সন্ধানে, হ্যাঁ.. উপনিবেশবাদ এবং অর্থনৈতিক শোষণ এর লক্ষ্য হতে পারে, তবে এটি নিশ্চিতভাবেই প্রধান বা প্রথম লক্ষ্য ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ধর্মীয় লক্ষ্য। খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের উদ্দীপনা কিংবা এই অভিযানগুলোতে তাদের অংশগ্রহণ কোনো আকস্মিক বা অহেতুক বিষয় ছিল না, বরং এটি ছিল ইউরোপের হৃদপিণ্ডে ইসলামের বিজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার একটি উদ্দেশ্য; যার ফলে ভূমধ্যসাগর একটি নিছক ইসলামি হ্রদে পরিণত হয়েছিল এবং মুসলিমরা ফ্রান্সের দক্ষিণ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। এরপর সেই প্রতিশোধের পরবর্তী উদ্দেশ্য ছিল মুসলিমদের খ্রিস্টধর্মেই দীক্ষিত করা, যা এই যুদ্ধগুলোর পরবর্তী পর্যায় ব্যাখ্যা করবে। প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এই বাণীর মাধ্যমেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব: {ইহুদি ও খ্রিস্টানরা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের আদর্শ অনুসরণ করেন} ১ এবং তাঁর বাণী: {তারা ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যতক্ষণ না তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে পারে, যদি তারা সক্ষম হয়} ২। জনৈক মার্কিন লেখকের৩ ইঙ্গিতটি সঠিক (صحيح) হতে পারে যে, ইহুদিরাই ক্রুসেডের নেপথ্যে ছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল খ্রিস্টান ও ইসলামি উভয় বিশ্বকে দুর্বল করা—যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন—এবং সেই যুদ্ধের সময় অধিক মুনাফা ও সুদ হাসিল করা।

কিন্তু ইহুদিরা যদি তাদের প্ররোচিত নাও করত, তবুও তারা অগ্রসর হতো। কারণ সেই যুদ্ধগুলোতে তাদের পক্ষ থেকে যা প্রকাশ পেয়েছিল তা ছিল এক প্রচ্ছন্ন বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ, আর তাদের অন্তরে যা গোপন রয়েছে তা আরও ভয়াবহ।

ইসলামে অভ্রান্ততা (عصمة) উম্মতের জন্য, ইমামের জন্য নয়:

যদিও সেই সময় ইসলামি রাষ্ট্রটি খণ্ড-বিখণ্ড অবস্থায় ছিল, তবুও আল্লাহ তাআলা কুরআনের পর তাঁর দ্বীনের অন্যতম মোজেজা হিসেবে এই উম্মতকে নির্ধারণ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে কুরআন এই উম্মতকে মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মতে পরিণত করেছে, এমনকি এই কথাটি সঠিক (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে যে, ইসলামে অভ্রান্ততা (عصمة) উম্মতের জন্য, ইমামের জন্য নয়। এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী থেকে গৃহীত: "আমার উম্মত কখনও ভ্রান্তি (ضلالة) এর ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না"। এছাড়া ইতিহাসের ঘটনাবলি থেকেও এটি প্রমাণিত, যার মাধ্যমে ইসলামি উম্মত তার বুক ও হৃদয় লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা তির ও বর্শা সত্ত্বেও অত্যন্ত দৃঢ়তা ও গৌরবের সাথে টিকে ছিল!

উম্মত যখন শত্রুদের মাথার ওপর ক্রুশ দেখতে পেল তখন তারা জেগে উঠল। তারা আল্লাহর শত্রু ও নিজেদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সর্বতোভাবে লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল। তারা আল্লাহর পথে রক্ত ও জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করল এবং আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁর জান্নাতের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠল। ফলে আল্লাহ তাদের উভয় কল্যাণ দান করলেন: বিজয় এবং জান্নাত। আর ক্রুসেডার বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হলো...

--------------------------------------------

১ আল-বাকারাহ ১২০।

২ আল-বাকারাহ ২১৭।

৩ মার্কিন লেখক উইলিয়াম গাই কার।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৮)
معارك طاحنة استمرت قرنين كاملين، وفي قصص التاريخ لبطولات المسلمين في هذه الحروب وتفننهم فيها، ما يحتاج إلى أن يكتب بأحرفٍ من نور.

وبرز نور الدين الشهيد محمود بن زنكي التركي، ثم برز صلاح الدين الأيوبي الكرديّ، وغيرهما ممن قادوا جماهير الأمة إلى النصر؛ لتثبت عالميّة هذه الدعوة، فلا فضل لعربيٍّ على أعجميٍّ إلا بالتقوى، وجاهد جماهير من التركستان الحبيبة -التي ترزح تحت الالحاد الشيوعيّ المجرم- وحرروا أرض الإسلام من جحافل الصليبية الحاقدة، بينما لم يجد هؤلاء من يقف إلى جوارهم يوم أعدمت روسيا منهم ثلاثة ملايين !.

وأيقن الغرب المسيحيّ أنه مهما ضعفت دولة الإسلام، فإنه لن يستطيع النَّيْلَ منها ومن أمتها حتى ينال أولّا عقيدتها وفكرها.

وكانت المرحلة الثانية: مرحلة الاستشراق والتبشير.
দুই শতাব্দীকাল ধরে প্রচণ্ড যুদ্ধ অব্যাহত ছিল। ইতিহাসে এই যুদ্ধে মুসলিমদের বীরত্ব এবং তাদের রণকৌশলগত নৈপুণ্যের যে কাহিনী বর্ণিত হয়েছে, তা স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার যোগ্য।

আবির্ভূত হলেন তুর্কি বংশোদ্ভূত শহীদ নূরুদ্দীন মাহমুদ বিন জাঙ্গি, অতঃপর আবির্ভূত হলেন কুর্দি বংশোদ্ভূত সালাহুদ্দীন আইয়ুবী। তাঁদের ন্যায় আরও অনেকে উম্মাহর আপামর জনতাকে বিজয়ের পথে পরিচালিত করেছিলেন; যেন এই দাওয়াতের বিশ্বজনীনতা প্রমাণিত হয়। কেননা তাকওয়া ব্যতীত অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। আমাদের প্রিয় তুর্কিস্তান—যা বর্তমানে পাপিষ্ঠ কমিউনিস্ট নাস্তিক্যবাদের অধীনে নিষ্পেষিত হচ্ছে—সেখানকার সাধারণ মানুষ জিহাদ করেছিলেন এবং বিদ্বেষপরায়ণ ক্রুসেডার বাহিনীর হাত থেকে ইসলামি ভূখণ্ডকে মুক্ত করেছিলেন। অথচ রাশিয়া যখন তাদের ত্রিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছিল, তখন তারা পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকে পায়নি!

খ্রিস্টান পাশ্চাত্য শক্তি উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে, ইসলামি রাষ্ট্র যতই দুর্বল হোক না কেন, তারা এর বা এই উম্মাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না—যতক্ষণ না তারা প্রথমে এর আকিদা ও আদর্শের ওপর আঘাত হানতে পারে।

আর দ্বিতীয় পর্যায়টি ছিল: প্রাচ্যতত্ত্ব ও মিশনারি তৎপরতার পর্যায়।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌ثانيًا: الاستشراق

وقبل أن يظهر التبشير كبديل عن الحروب لتحطيم عقيدة المسلمين وفكرهم، نشير إلى أن الحروب الصليبية أنتجت كذلك إنتاجًا فكريًّا، هو الاستشراق؛ إذ نفر قوم من الغربيين يدفعهم التعصب الصليبيّ إلى الكتابة عن الإسلام، فأفقدهم التعصب أمانة العلم، وعمدوا إلى تشويه الإسلام من عدة نواح:

- فرددوا أن القرآن من وضع محمد عليه الصلاة والسلام، وأن سذاجة الصحابة وإيمانهم دفعهم إلى نقله على أنه من عند الله.

- وخلطوا في مصادر الأحكام الإسلامية بين المصادر الإلهية: القرآن والسنة، وبين الاجتهاد، ونظروا إلى الجميع على أنها من صنع البشر، فسووا بينها في المنزلة!

- ودعوا إلى التصرف الإسلاميّ لما يؤدي إليه في أكثر الأحيان من صرف أصحابه عن الجهاد، وهو أكثر ما يثير الصليبيين ويفزعهم. راجع "الصوفية في الإسلام" للمستشرق نيلكسون ص7، 8.
দ্বিতীয়ত: প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق)

মুসলিমদের আকিদা ও চিন্তাধারা ধ্বংস করার লক্ষ্যে যুদ্ধের বিকল্প হিসেবে মিশনারি তৎপরতা (التبشير) আবির্ভূত হওয়ার পূর্বে আমরা উল্লেখ করছি যে, ক্রুসেড যুদ্ধসমূহ একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ধারাও তৈরি করেছিল, আর তা হলো প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق); যেহেতু একদল পশ্চিমা লোক ক্রুসেডীয় গোঁড়ামির বশবর্তী হয়ে ইসলাম সম্পর্কে লেখার জন্য উদ্দীপ্ত হয়, ফলে সেই গোঁড়ামি তাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক সততা হরণ করে এবং তারা বিভিন্ন দিক থেকে ইসলামকে বিকৃত করার অপপ্রয়াস চালায়:

- তারা দাবি করেছে যে, কুরআন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্বরচিত, আর সাহাবীদের সরলতা ও ঈমান তাঁদেরকে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হিসেবে বর্ণনা করতে প্ররোচিত করেছে।

- তারা ইসলামি বিধানের উৎসসমূহের ক্ষেত্রে ঐশী উৎসসমূহ (কুরআন ও সুন্নাহ (سنة)) এবং গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) মাঝে সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। তারা এ সবগুলোকে মানুষের তৈরি হিসেবে গণ্য করেছে, ফলে মর্যাদার স্তরে তারা এ সবগুলোকে সমান করে দিয়েছে!

- তারা ইসলামি আচার-পদ্ধতির (التصرف) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, কারণ তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনুসারীদের জিহাদ থেকে বিমুখ করে রাখে, যা ক্রুসেডারদের সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত ও বিচলিত করে। দ্রষ্টব্য: প্রাচ্যবিদ নিকলসন রচিত "ইসলামে সুফিবাদ", পৃষ্ঠা ৭, ৮।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقد بدأ الاستشراق في الأندلس -أسبانيا- في القرن السابع الهجري، حين اشتدت حملة الصليبيين الأسبان على المسلمين، فدعا "الفونس" ملك قشتالة، ميشيل سكوت؛ ليقوم بالبحث في علوم المسلمين وحضارتهم، فجمع سكوت طائفةً من الرهبان في بعض الأديرة بالقرب من مدينة طليطلة، وشرعوا يترجمون بعض الكتب من اللغة العربية إلى لغات الفرنجة، ثم قدمها سكوت لملك صقيلة الذي أمر باستنساخ نسخ منها، وبعث بها هديةً إلى جامعة باريس.

وكذلك قام رئيس أساقفة طليطلة "ريمون لول" بنشاط كبير في الترجمة، ومع الزمن، توسع الأوربيون بالنقل والترجمة في مختلف الفنون والعلوم من الهيات وطب وهندسة وفلك وغيرها، وبعد اختراع الطباعة، أنشئت في أوربا مطابع عربية لطبع عدد من الكتب التي كانت تدرس في المدارس والجامعات الأوروبية.

ولم يكن عمل المستشرقين منفصلًا عن عمل المبشرين، بل كانت مهمة كل من الطائفتين تدخل في الأخرى، وكان فشل الصليبيين في حملاتهم المتوالية على الشرق الإسلاميّ دافعًا للمزيد من الاهتمام بالثقافة الإسلامية، وقد ظهرت أخيرًا وثيقةٌ خطيرةٌ تلقي الضوء على تحوّل الصليبيين من الغزو العسكري إلى الغزو الفكريّ، وهذه الوثيقة تتضمن وصية القديس "لويس" ملك فرنسا، وقائد الحملة الصليبية الثامنة، التي انتهت بالفشل والهزيمة ووقوع "لويس" في أسر المصريين في مدينة المنصورة، وقد بذل الملك لويس فدية عظيمة للخلاص من الأسر، وبعد أن عاد إلى فرنسا، أيقن أنه لا سبيل إلى النصر والتغلب على المسلمين عن طريق القوة الحربية؛ لأن تدينهم بالإسلام يدفعهم للمقاومة والجهاد وبذل النفس في سبيل الله؛ لحماية ديار الإسلام وصون الحرمات والأعراض به، والمسلمون قادرون دومًا للانطلاق من عقيدتهم إلى الجهاد ودحر الغزاة، وأنه لابد من سبيلٍ آخر، وهو تحويل التفكير الإسلاميّ وترويض المسلمين عن طريق الغزو الفكريّ، بأن يقوم العلماء الأوربيون بدراسة الحضارة الإسلامية، وهكذا تحولت المعركة من ميدان السلاح إلى معركة في ميدان العقيدة والفكر، بهدف تزييف عقيدة المسلمين الراسخة التي تحمل طابع الجهاد، وتدفع المؤمنين إلى الاستشهاد.

وقد سار الأوربيون في طريق تنفيذ وصية القديس "لويس" في
সপ্তম হিজরি (هجري) শতাব্দীতে আন্দালুসে (স্পেন) প্রাচ্যতত্ত্বের সূচনা হয়, যখন মুসলমানদের ওপর স্প্যানিশ ক্রুসেডারদের আক্রমণ তীব্রতর হয়েছিল। তখন ক্যাস্টিলের রাজা "আলফনসো" মাইকেল স্কটকে মুসলমানদের বিজ্ঞান ও সভ্যতা নিয়ে গবেষণার জন্য আমন্ত্রণ জানান। স্কট টোলেডো শহরের নিকটবর্তী কিছু মঠে একদল সন্ন্যাসীকে একত্রিত করেন এবং তারা আরবি ভাষা থেকে ফ্রাঙ্কিশ ভাষায় কিছু গ্রন্থ অনুবাদ করতে শুরু করেন। এরপর স্কট সেগুলো সিসিলির রাজার কাছে পেশ করেন, যিনি এগুলোর অনুলিপি তৈরির নির্দেশ দেন এবং প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে উপহার হিসেবে পাঠান।

একইভাবে টোলেডোর আর্চবিশপ "রেমন্ড লুল" অনুবাদের ক্ষেত্রে ব্যাপক তৎপরতা চালান। সময়ের সাথে সাথে ইউরোপীয়রা ধর্মতত্ত্ব, চিকিৎসা, প্রকৌশল, জ্যোতির্বিদ্যাসহ বিভিন্ন শিল্প ও বিজ্ঞানের জ্ঞান স্থানান্তর ও অনুবাদের পরিধি বিস্তৃত করে। মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কৃত হওয়ার পর ইউরোপে আরবি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়, যাতে ইউরোপীয় স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠ্য হিসেবে ব্যবহৃত বইগুলো মুদ্রণ করা যায়।

প্রাচ্যবিদদের কাজ মিশনারিদের কাজ থেকে আলাদা ছিল না; বরং এই উভয় গোষ্ঠীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একে অপরের পরিপূরক ছিল। ইসলামি প্রাচ্যের ওপর ক্রুসেডারদের একের পর এক অভিযানে ব্যর্থতা ইসলামি সংস্কৃতির প্রতি অধিক মনোযোগী হওয়ার প্রেরণা জোগায়। সম্প্রতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল প্রকাশিত হয়েছে যা ক্রুসেডারদের সামরিক আগ্রাসন থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনে রূপান্তরের ওপর আলোকপাত করে। এই দলিলে ফ্রান্সের রাজা এবং অষ্টম ক্রুসেডের সেনাপতি সেন্ট "লুইস"-এর অসিয়ত (وصية) বা উপদেশনামা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেই অভিযানটি চরম ব্যর্থতা ও পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল এবং লুইস মানসুরা শহরে মিশরীয়দের হাতে বন্দী হয়েছিলেন। রাজা লুইস কারামুক্তি লাভের জন্য বিশাল মুক্তিপণ প্রদান করেন। ফ্রান্সে ফিরে আসার পর তিনি নিশ্চিত হন যে, সামরিক শক্তির মাধ্যমে মুসলমানদের ওপর বিজয় লাভ করা সম্ভব নয়; কারণ ইসলামের প্রতি তাদের একনিষ্ঠতা তাদের প্রতিরোধ, জিহাদ (جهاد) এবং আল্লাহর পথে জীবন উৎসর্গ করতে উদ্বুদ্ধ করে, যাতে তারা ইসলামি ভূখণ্ড রক্ষা করতে পারে এবং এর পবিত্রতা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে। মুসলমানরা সর্বদা তাদের আকিদা (عقيدة) বা বিশ্বাস থেকে জিহাদ (جهاد) শুরু করতে এবং আক্রমণকারীদের বিতাড়িত করতে সক্ষম। তাই অন্য কোনো পথ খুঁজে বের করা অপরিহার্য ছিল, আর তা হলো বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের মাধ্যমে ইসলামি চিন্তা-চেতনাকে পরিবর্তন করা এবং মুসলমানদের বশীভূত করা। এর জন্য ইউরোপীয় পণ্ডিতরা ইসলামি সভ্যতা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। এভাবেই যুদ্ধটি অস্ত্রের ময়দান থেকে আকিদা (عقيدة) ও চিন্তার ময়দানে রূপান্তরিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল মুসলমানদের সেই সুদৃঢ় আকিদা (عقيدة) বিকৃত করা যা জিহাদের (جهاد) চেতনা বহন করে এবং মুমিনদের শাহাদাত (استشهاد) বরণে উৎসাহিত করে।

ইউরোপীয়রা সেন্ট "লুইসের" অসিয়ত (وصية) বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হয়...
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২০)
تزييف العقيدة الإسلامية، وامتصاص ما فيها من قوة وجهاد وإيمان عن طريق التفرقة بين العقيدة والشريعة، وتصوير الإسلام بصورة الدين الذي يبذل غاية همه في العبادة كالمسيحية، إلى أن وصلوا إلى الفصل بين الدين والدولة، وفقد المسلمون ذلك السر الخطير الكامن في أصالة عقديتهم وجوهر دينهم1.

ويرى كثير من الباحثين أن الاستشراق تولد من الاستعمار والتبشير.

فالاستعمال: يرى في المفهوم الإسلاميّ السليم ما يعطي المجتمع الإسلاميّ قوةً تحول بينه وبين سيطرة الاستعمار، فعمل المستشرقون على تقويض العقيدة الإسلامية، وإحلال مفاهيم تحل الصداقة بين الدولة الغالبة والمغلوبة محلها، تحت اسم: الحضارة، أو العالمية، أو وحدة الثقافة والفكر البشريّ.

وأما التبشير: فإنه يستهدف الحيلولة دون توسيع الإسلام وانتشاره، وعدم منافسته للمسيحية في البلاد التي تحاول القيام بالتبشير ونشر المسيحية فيها.

والخطر الأكبر في نظر المبشرين هو في وصول مفاهيم الإسلام الصحيحة إلى عالم الغرب نفسه، ومما يذكر: أن المسلمين لما فتحوا مدينة القسطنطينية -عاصمة الدولة الرومانية الشرقية، وفيها مركز البابوية للكنائس الشرقية- هبَّ رجال الكنيسة، وقد هالهم الخطب العظيم، فأخذوا في الافتراء والتشنيع على الإسلام، وتشويه أحكامه الإلهية العادلة، وكان الدافع لهم في هذه الحملة الحيلولة بين رعاياهم الذين أقبلوا على الدخول في دين الله أفواجًا؛ ليصدوهم عن الإسلام الذي يبيح تعدد الزوجات والطلاق.

وجاءت الصهيونية فدخلت ميدان الاستشراق؛ لتحول دون اجتماع المسلمين في وحدة تقاوم اليهودية العالمية، وتواجه دولة اليهود الباغية -اسرائيل، والمستشرقون اليهود يعملون في هذا المجال.

--------------------------------------------

1 "الإسلام في وجه التغريب: مخططات الاستشراق والتبشير" للأستاذ أنور الجندي ص7، 8.
ইসলামী আকিদাকে বিকৃত করা এবং আকিদা ও শরিয়তের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে এর মধ্যকার শক্তি, জিহাদ ও ঈমানকে শুষে নেওয়া; আর ইসলামকে এমন এক ধর্মের রূপদান করা যা খ্রিস্টধর্মের ন্যায় কেবল ইবাদতের প্রতিই পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করে—অবশেষে তারা ধর্ম ও রাষ্ট্রকে পৃথক করার পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে মুসলমানরা তাদের আকিদার মৌলিকত্ব ও ধর্মের সারসত্তায় নিহিত সেই বিশেষ রহস্যটি হারিয়ে ফেলেছে ১।

অনেক গবেষক মনে করেন যে, প্রাচ্যতত্ত্বের উদ্ভব হয়েছে ঔপনিবেশিকতাবাদ ও ধর্মপ্রচারণা (মিশনারি কার্যক্রম) থেকে।

ঔপনিবেশিকতাবাদ: এটি সঠিক ইসলামী ধারণার মধ্যে এমন এক শক্তি দেখতে পায় যা মুসলিম সমাজ ও ঔপনিবেশিক শাসনের মধ্যে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রাচ্যতত্ত্ববিদরা ইসলামী আকিদাকে দুর্বল করার লক্ষ্যে কাজ করেছেন এবং 'সভ্যতা', 'বিশ্বায়ন' কিংবা 'সংস্কৃতি ও মানবচিন্তার ঐক্য'—এইসব নামে বিজয়ী ও বিজিত রাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বের ধারণা প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করেছেন।

আর ধর্মপ্রচারণা: এর লক্ষ্য হলো ইসলামের প্রসার ও বিস্তৃতিতে বাধা দেওয়া এবং যেসব দেশে খ্রিস্টধর্ম প্রচার ও প্রসারের চেষ্টা চলছে সেখানে যেন ইসলাম খ্রিস্টধর্মের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

ধর্মপ্রচারকদের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো খোদ পশ্চিমা বিশ্বে ইসলামের সঠিক (صحيح) ধারণা পৌঁছে যাওয়া। এটি উল্লেখযোগ্য যে, মুসলমানরা যখন কনস্টান্টিনোপল—যা পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী এবং যেখানে পূর্ব গির্জাগুলোর পোপীয় কেন্দ্র অবস্থিত ছিল—বিজয় করলেন, তখন গির্জার পাদ্রিরা এই মহান ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও কুৎসা রটাতে শুরু করলেন এবং এর ন্যায়নিষ্ঠ খোদায়ী বিধানসমূহকে বিকৃত করতে লাগলেন। তাদের এই প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের প্রজাদের ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রাখা, যারা দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করছিল; তারা যেন তাদের সেই ইসলাম থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে যা বহুবিবাহ ও তালাককে বৈধতা দেয়।

যায়নবাদ প্রাচ্যতত্ত্বের ময়দানে প্রবেশ করেছে যাতে মুসলমানদের এমন এক ঐক্যে সমবেত হওয়া ঠেকানো যায় যা বিশ্ব ইহুদিবাদের প্রতিরোধ করবে এবং ইহুদিদের সীমাঙ্ঘনকারী রাষ্ট্র ইসরায়েলের মোকাবিলা করবে। আর ইহুদি প্রাচ্যতত্ত্ববিদরা এই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন।

--------------------------------------------

১. উস্তাদ আনোয়ার আল-জুন্দি রচিত "আল-ইসলাম ফি ওয়াজহিত তাগরিব: মুখাত্ততাতুল ইস্তিশরাক ওয়াত তাবশির", পৃষ্ঠা ৭, ৮।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২১)
تطور الاستشراق:

وفي مطلع القرن الثالث عشر الهجري -أواخر القرن الثامن عشر الميلادي- عمد المستشرقون إلى تغيير أساليبهم، وأرادوا أن يظهروا بمظهر جديد، هوما زعموا من تحرير الاستشراق من الأغراض التبشيرية، والاتجاه به وجهة البحث العلميّ البحت، فأنشئت كليات لتدريس اللغات الشرقية في عواصم أوربا؛ مثل: لندن وباريس وليدن وبرلين وبطرسبرج وغيرها، وظهرت فيها أقسام خاصة لدراسة اللغة العربية، وبعض اللغات الإسلامية؛ كالفارسية والتركية والأردية، وكان الغرض منها تزويد السلطات الاستعمارية بخبراء في الشئون الإسلامية، ثم أخذ الطلاب المسلمون يؤمون هذه الكليات الأوربية للدراسة فيها، وبذلك تأثر الفكر الإسلاميّ بما يلقيه المستشرقون في أذهان هؤلاء المبعوثين من أبناء المسلمين، ثم تسلل المستشرقون إلى الدوائر العلمية، والجامعات في الدول الإسلامية، بل إلى المجامع العلمية في القاهرة ودمشق وبغداد، وقامت المؤسسات الدينية والسياسية والاقتصادية في الغرب بما كان يقوم به الملوك في الماضي؛ من الأغداق على المستشرقين، وتقديم المنح والمعونات لهم.

وقد أنشأت الدول الاستعمارية عدة مؤسسات في البلاد الإسلامية التي خضعت لنفوذها، لخدمة الاستشراق ظاهريًّا، وكان هدفها الحقيقيّ خدمة الاستعمار والتبشير الكاثوليكيّ والبورتستانتي، من هذه المؤسسات في مصر: المعهد الشرقي بدير الدومينيكان، والمعهد الفرنسي، وندوة الكتاب، ودار السلام، والجامعة الأمريكية، وفي لبنان: جامعة القديس يوسف -وهي جامعة بابوية كاثوليكية، وتعرف الآن بالجامعة اليسوعية، والجامعة الأمريكية ببيروت، وكانت تسمى من قبل: الكلية السورية الإنجيلية، وهي بروتستنتية، وفي سورية: مدارس اللاييك، والفرير، ودار السلام، وغيرها، وهكذا في كل الأقطار الإسلامية..

أهداف المستشرقين:

أولًا: الحيلولة بين الشعوب النصرانية وبين الإسلام، فقد عمل المستشرقون على تشويه الإسلام وحجب محاسنه؛ لاقناع قومهم بعدم صلاحيته لهم نظام حياة، ولعل هذا هو أخطر الجوانب التي قام لأجلها
প্রাচ্যতত্ত্বের বিবর্তন:

হিজরি ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে—অর্থাৎ খ্রিস্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে—প্রাচ্যবিদরা তাদের কর্মপদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। তারা এক নতুন রূপে আবির্ভূত হতে চেয়েছিলেন; যা ছিল তাদের দাবি অনুযায়ী প্রাচ্যতত্ত্বকে ধর্মপ্রচারমূলক উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত করা এবং একে বিশুদ্ধ বৈজ্ঞানিক গবেষণার দিকে ধাবিত করা। ফলশ্রুতিতে ইউরোপের রাজধানীগুলোতে প্রাচ্য ভাষা শিক্ষার জন্য কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়; যেমন: লন্ডন, প্যারিস, লাইডেন, বার্লিন, পিটার্সবার্গ এবং অন্যান্য শহর। সেখানে আরবি ভাষা এবং কিছু ইসলামি ভাষা যেমন ফারসি, তুর্কি ও উর্দু অধ্যয়নের জন্য বিশেষ বিভাগ চালু করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল ঔপনিবেশিক কর্তৃপক্ষকে ইসলামি বিষয়ে পারদর্শী বিশেষজ্ঞ সরবরাহ করা। পরবর্তীতে মুসলিম শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে এই ইউরোপীয় কলেজগুলোতে আসতে শুরু করে। এর ফলে প্রাচ্যবিদরা মুসলিম সন্তানদের মানসপটে যে চিন্তাধারা বপন করতেন, তার দ্বারা ইসলামি চিন্তা ও চেতনা প্রভাবিত হতে থাকে। অতঃপর প্রাচ্যবিদরা মুসলিম দেশগুলোর বিভিন্ন জ্ঞানতাত্ত্বিক মহল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনকি কায়রো, দামেস্ক ও বাগদাদের বিজ্ঞান একাডেমিগুলোতেও অনুপ্রবেশ করেন। অতীতে রাজন্যবর্গ প্রাচ্যবিদদের প্রতি যে অঢেল ধন-সম্পদ ও অনুদান বর্ষণ করতেন, বর্তমানে পশ্চিমের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সেই স্থান দখল করে নেয় এবং তাদের বৃত্তি ও সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখে।

ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রসমূহ তাদের প্রভাবাধীন মুসলিম দেশগুলোতে বাহ্যিকভাবে প্রাচ্যতত্ত্বের সেবার তরে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। যদিও তাদের প্রকৃত লক্ষ্য ছিল উপনিবেশবাদ এবং ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মপ্রচারের পথ সুগম করা। মিশরের এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ডোমিনিকান মঠের ওরিয়েন্টাল ইনস্টিটিউট, ফরাসি ইনস্টিটিউট, নদওয়াতুল কিতাব, দারুস সালাম এবং আমেরিকান ইউনিভার্সিটি। লেবাননে রয়েছে: সেন্ট জোসেফ ইউনিভার্সিটি—যা একটি পোপীয় ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বর্তমানে জেসুইট ইউনিভার্সিটি নামে পরিচিত, এবং বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি—যার পূর্বনাম ছিল সিরিয়ান ইভানজেলিকাল কলেজ এবং এটি একটি প্রোটেস্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান। সিরিয়ায় রয়েছে: লাইক স্কুল, ফেরার স্কুল, দারুস সালাম এবং এ জাতীয় আরও অনেক প্রতিষ্ঠান। এভাবেই প্রতিটি মুসলিম ভূখণ্ডে তারা নিজেদের জাল বিস্তার করে।

প্রাচ্যবিদদের উদ্দেশ্যসমূহ:

প্রথমত: খ্রিস্টান জাতিসমূহ এবং ইসলামের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। প্রাচ্যবিদরা ইসলামকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করতে এবং এর সৌন্দর্যকে আড়াল করতে সচেষ্ট ছিলেন; যেন তারা তাদের স্বজাতিকে এই মর্মে প্ররোচিত করতে পারে যে, ইসলাম জীবনব্যবস্থা হিসেবে তাদের জন্য কোনোভাবেই উপযুক্ত নয়। সম্ভবত এটিই ছিল তাদের সবচেয়ে ভয়ংকর লক্ষ্য, যার বাস্তবায়নে তারা কাজ করে গিয়েছে।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২২)
الاستشراق والتبشير، وذلك في أعقاب الحروب الصليبية، وعودة المحاربين إلى أوربا، يحملون صورة مشرقة لمعاملات المسلمين لهم، وسماحة الإسلام، وقد عمد رجال الكنيسة إلى إخراس الألسنة المنصفة، وحاولوا ترجمة القرآن لتزييف مفاهيمه وانتقاصها.

وقد استغل الاستشراق كراهية الأوربيين للإسلام بعد التوسع العثمانيّ في أوربا، وما صحبه من تعصب وحروب استمرت عدة قرون، فعمل المستشرقون على تعميق الكراهية والأحقاد في نفوس الأوربيين، وتغذيتها بالشبهات والأباطيل، بهدف حجب الإسلام عن أوربا، والحيلولة دون نفاذه إليها.

ثانيًا: تأييد الغزو الاستعماريّ لبلاد المسلمين، والعمل لتحطيم المقاومة الإسلامية، بتأويل الجهاد، وصرف أنظار المسلمين إلى الدعة، والقعود عن الجهاد في سبيل الله، ومدافعة الغزاة بالاشتغال بالعبادة والزهد، وتسميتها بالجهاد الأكبر، وتحطيم وحدة المسلمين، وتمزيق الدول الإسلامية، وعزل الشريعة الإسلامية عن التطبيق في المجتمع الإسلاميّ، وإحلال الأنظمة القانونية والاقتصادية والسياسية والتربوية لتحلَّ محلَّ الإسلام بالقوة.

ثالثًا: فصل المسلمين عن جذورهم الثابتة الأصيلة، بتشويه تلك الأصول، وعزلها عن مصادرها، وهدم المقوّمات الأساسية للكيان الفرديّ والاجتماعيّ والنفسيّ، أمام الاستعمار وثقافته وفكره، والتأثير في نفوس المسلمين، وزحزحة عقائدهم بما يفتح للتبشير المسيحيّ طريقًا إلى تحويل بعض ضعاف العقيدة إلى ملاحدة وأتباع1.

والخلاصة: فقد كان المستشرقون طلائع للمبشرين، يمهدون السبيل أمامهم؛ لتشكيك المسلمين في عقائدهم، ويفتحون أمام دعاة النصرانية السبيل للطعن في الإسلام ونبيه صلى الله عليه وسلم بأنواعٍ شتَّى من الشعوذة العلمية، باسم البحث والاستنتاج التحليليّ.

تلاميذ المستشرقين:

وتبدو خطورة الاستشراق في آثاره الخطيرة التي يفرضها المستشرقون على مناهج التعليم والثقافة والفكر في العالم الإسلاميّ،

--------------------------------------------

1 الإسلام في وجه التغريب ص370، 371.
প্রাচ্যতত্ত্ব ও মিশনারি কার্যক্রম, যা ক্রুসেড যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এবং যোদ্ধাদের ইউরোপে ফিরে যাওয়ার অব্যবহিত পরে শুরু হয়েছিল; তারা মুসলিমদের উন্নত আচরণ এবং ইসলামের সহনশীলতার এক উজ্জ্বল চিত্র বহন করছিলেন। এমতাবস্থায় গির্জার যাজকগণ ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিদের কণ্ঠরোধ করতে সচেষ্ট হন এবং কুরআনের ধারণাগুলোকে বিকৃত ও হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তা অনুবাদ করার অপচেষ্টা চালান।

ইউরোপে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েক শতাব্দীব্যাপী গোঁড়ামি ও যুদ্ধবিগ্রহের ফলে ইউরোপীয়দের মনে ইসলামের প্রতি যে ঘৃণার উদ্রেক হয়েছিল, প্রাচ্যতত্ত্ব তাকে পুঁজি করে। প্রাচ্যবিদরা ইউরোপীয়দের মনে ঘৃণা ও বিদ্বেষকে আরও গভীর করার জন্য কাজ করেন এবং সন্দেহ ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে সেটিকে উসকে দেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপ থেকে ইসলামকে আড়াল করে রাখা এবং সেখানে এর প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা।

দ্বিতীয়ত: মুসলিম ভূখণ্ডে ঔপনিবেশিক আগ্রাসনকে সমর্থন করা এবং জিহাদের (الجهاد) ভুল ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে ইসলামি প্রতিরোধকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা। তারা মুসলিমদের দৃষ্টি আরাম-আয়েশের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, যেন তারা আল্লাহর পথে জিহাদ (الجهاد) থেকে বিমুখ থাকে এবং ইবাদত ও বৈরাগ্যবাদের (الزهد) মধ্যে নিমগ্ন থেকে—যাকে তারা 'বড় জিহাদ' (الجهاد الأكبر) বলে অভিহিত করত—আক্রমণকারীদের প্রতিহত করা থেকে বিরত থাকে। এছাড়া মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট করা, ইসলামি রাষ্ট্রগুলোকে খণ্ড-বিখণ্ড করা, মুসলিম সমাজে ইসলামি শরিয়তের (الشريعة) প্রয়োগ বন্ধ করা এবং ইসলামের পরিবর্তে জোরপূর্বক আইনগত, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা ছিল তাদের লক্ষ্য।

তৃতীয়ত: ইসলামি মূলনীতিগুলোকে বিকৃত করা ও উৎস থেকে সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে মুসলিমদের তাদের সুদৃঢ় ও মৌলিক শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। ঔপনিবেশিক সংস্কৃতি ও চিন্তাধারার সামনে ব্যক্তিক, সামাজিক ও মানসিক কাঠামোর মৌলিক ভিত্তিগুলো ধূলিসাৎ করা এবং মুসলিমদের হৃদয়ে প্রভাব বিস্তার করে তাদের আকিদাহ বা বিশ্বাসে (عقيدة) ফাটল ধরানো। এর উদ্দেশ্য ছিল খ্রিস্টীয় মিশনারিদের জন্য পথ উন্মুক্ত করা, যাতে দুর্বল বিশ্বাসের অধিকারী ব্যক্তিদের নাস্তিক ও অনুসারীতে পরিণত করা যায়১।

সারকথা: প্রাচ্যবিদগণ ছিলেন মিশনারিদের অগ্রগামী দল, যারা তাদের জন্য পথ সুগম করে দিতেন; যেন মুসলিমদের মনে তাদের আকিদাহ বা বিশ্বাস (عقيدة) সম্পর্কে সন্দেহ সৃষ্টি করা যায়। তারা খ্রিস্টধর্ম প্রচারকদের জন্য ইসলাম ও তার নবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে গবেষণা ও বিশ্লেষণধর্মী সিদ্ধান্তের নামে বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক ভেলকিবাজির মাধ্যমে কুৎসা রটানোর পথ তৈরি করে দিতেন।

প্রাচ্যবিদদের শিষ্যগণ:

প্রাচ্যতত্ত্বের ভয়াবহতা মুসলিম বিশ্বের শিক্ষা কারিকুলাম, সংস্কৃতি এবং চিন্তাধারার ওপর প্রাচ্যবিদদের চাপিয়ে দেওয়া বিপজ্জনক প্রভাবের মাধ্যমে ফুটে ওঠে।

--------------------------------------------

১ ইসলাম ফি ওয়াজহিত তাগরিব, পৃষ্ঠা ৩৭০, ৩৭১।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد حرص المستشرقون على كسب الأنصار، واستخدام الأتباع؛ لترديد مفترياتهم على الإسلام، وافتعال معارك حول عقائده وآدابه ومختلف أحكامه؛ لتعميق المفاهيم التي يريدون فرضها وترسيخها في الأذهان، وتوسيع دائرة الانتقال بها.

ولقد كان طه حسين في مقدمة الذين أعلنوا الاعجاب والتقدير لمناهج المستشرقين، ويعتبر حامل لواء الدفاع عنهم وعن أهوائهم، وكثيرًا ما يقول: "أن هذه الحقيقة، أو تلك في تاريخ المسلمين، أو فكرهم، مما لا يرضى بها الاستشراق" وهذا أسلوب لا يقوم عليه إلّا واحدٌ من أهل التبعية، حتى قال بعضهم: أن طه حسين ليس إلّا مستشرقًا من أصل عربيٍّ، وقد كانت أمانته للفكر الغربيّ ولمذاهب الاستشراق تفوق أمانة المستشرقين أنفسهم، وهكذا كان متابعًا لهم، مقتنعًا بها يقولون إلى أبعد حدود الاقتناع، حتى في تلك المسائل الخطيرة، كقولهم ببشرية الرسول، وبشرية القرآن، وكانت كتاباته توحي بذلك، وإن لم يعلنه جهارًا، بعد أن صودر كتابه "في الشعر الجاهلي".

وأعجب ما في طه حسين ولاؤه الشديد لانطواء المسلمين تحت لواء الغرب، وانصهار الإسلام في بوتقة الأممية، والمسيحية واليهودية والغرب جميعًا، فهو لا يرى للعرب والمسلمين سبيلًا للنهضة إلّا في هذا الأنصهار، وهذا الاحتواء والذوبان، وقد صرّح بذلك في كتبه، وخاصَّةً ما أورده في كتاب "مستقبل الثقافة في مصر" فهو يرى أن العرب قومٌ مستعمرين؛ كالرومان والفرس.

ويظهر اتجاه طه حسين في حرصه على نشر الكتب التي تثير الشبهات، وفي مقدمتها "رسائل إخوان الصفاء" وتجديد طبع "ألف ليلة وليلة"، وعنايته بدراسة سير المجان من الشعراء في كتابه "حديث الأربعاء" وهو ثلاثة مجلدات، وقد خرج من دراستهم بشبهة مسمومة هي قوله: "إن القرن الثاني للهجرة كان عصر شكٍّ ومجون"، وقد اعتمد في بحثه على مصادر أساتذته من المستشرقين اليهود، وعلى "أنساب الأشراف" الذي طبع في الجامعة العبرية في القدس -التي تحتلها إسرائيل- وجارى مستشرقي اليهود في إنكار شخصية عبد الله بن سبأ -ابن السوداء، وفي الشك بوجود

প্রাচ্যবিদগণ ইসলাম সম্পর্কে তাদের উদ্ভাবিত মিথ্যাচারগুলো প্রচার করার জন্য এবং ইসলামের আকিদা, আদব ও বিভিন্ন বিধানাবলি নিয়ে কৃত্রিম বিতর্ক সৃষ্টি করার লক্ষ্যে অনুসারী সংগ্রহ ও অনুগামীদের ব্যবহারে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন; যাতে তারা যে ধারণাগুলো চাপিয়ে দিতে ও জনমনে বদ্ধমূল করতে চান তা আরও গভীর করা যায় এবং সেগুলোর প্রচারের পরিধি বিস্তৃত করা যায়।

ত্বহা হোসেন ছিলেন সেই ব্যক্তিদের অগ্রভাগে যারা প্রাচ্যবিদদের কর্মপদ্ধতির প্রতি মুগ্ধতা ও কদর প্রকাশ করেছিলেন। তাকে প্রাচ্যবিদদের এবং তাদের প্রবৃত্তির সপক্ষে লড়াইয়ের একনিষ্ঠ পতাকাবাহী হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি প্রায়শই বলতেন: "মুসলিমদের ইতিহাস বা তাদের চিন্তাধারার অমুক বা তমুক সত্যটি এমন যা প্রাচ্যবাদ মেনে নেয় না।" এটি এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি যা কেবল চরম অনুগামীদের পক্ষেই পোষণ করা সম্ভব। এমনকি কেউ কেউ তো এও বলেছেন যে, ত্বহা হোসেন আরব বংশোদ্ভূত একজন প্রাচ্যবিদ ছাড়া আর কিছুই নন। পাশ্চাত্য চিন্তাধারা এবং প্রাচ্যবিদদের মতাদর্শের প্রতি তার আনুগত্য খোদ প্রাচ্যবিদদের চেয়েও প্রবল ছিল। এভাবেই তিনি তাদের একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন এবং তাদের বক্তব্যের প্রতি চরমভাবে আস্থাশীল ছিলেন, এমনকি রাসূলের মানবীয় সত্তা এবং কোরআনের মানবীয় উৎস হওয়ার মতো মারাত্মক বিষয়গুলোতেও। তার লেখনিগুলো সেদিকেই ইঙ্গিত করত, যদিও তার "ফি আল-শি'র আল-জাহিলি" বইটি বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর তিনি তা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেননি।

ত্বহা হোসেনের ব্যাপারে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো পশ্চিমের পতাকাতলে মুসলিমদের সমর্পিত হওয়ার প্রতি তার প্রবল আনুগত্য এবং আন্তর্জাতিকতা, খ্রিস্টধর্ম, ইহুদিবাদ ও সামগ্রিকভাবে পাশ্চাত্যের ছাঁচে ইসলামের বিলীন হয়ে যাওয়া। তিনি আরব ও মুসলিমদের পুনর্জাগরণের জন্য এই বিলীন হওয়া, এই আত্মীকরণ এবং একীভূত হওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ দেখেননি। তিনি তার বইগুলোতে স্পষ্টভাবে এটি উল্লেখ করেছেন, বিশেষ করে "মুস্তাকবাল আল-থাকাফাহ ফি মিসর" গ্রন্থে যা তিনি বর্ণনা করেছেন। সেখানে তিনি আরবদের রোমান ও পারস্যদের মতো একটি সাম্রাজ্যবাদী জাতি হিসেবে মনে করেন।

ত্বহা হোসেনের এই প্রবণতা বিশেষভাবে ফুটে ওঠে সংশয় উদ্রেককারী বইগুলো প্রকাশের ব্যাপারে তার আগ্রহের মাধ্যমে, যার শীর্ষে রয়েছে "রাসায়িল ইখওয়ান আস-সাফা" এবং "আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা"-এর পুনঃমুদ্রণ। এছাড়াও তার তিন খণ্ডের গ্রন্থ "হাদিসুল আরবাআ"-তে বেপরোয়া কবিদের জীবনচরিত পর্যালোচনার প্রতি তার বিশেষ গুরুত্ব প্রদান এটিই প্রমাণ করে। তাদের পর্যালোচনার মাধ্যমে তিনি এক বিষাক্ত সংশয় উপস্থাপন করেছেন যা হলো তার এই দাবি: "হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দী ছিল সন্দেহ ও লম্পটতার যুগ।" তিনি তার গবেষণায় ইহুদি প্রাচ্যবিদ শিক্ষকদের উৎস এবং জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটি—যা ইসরায়েল কর্তৃক দখলকৃত—থেকে প্রকাশিত "আনসাবুল আশরাফ"-এর ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি ইহুদি প্রাচ্যবিদদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আবদুল্লাহ ইবনে সাবা—ইবনে সাওদা—এর অস্তিত্ব অস্বীকার করতে এবং তার অস্তিত্বের বিষয়ে সংশয় প্রকাশে লিপ্ত ছিলেন...

(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৪)
إبراهيم وإسماعيل، وأعلن أنه يشك في وجودهما بالرغم من الإشارة إليهما في التوراة والقرآن1.

ومثل طه حسين في هذه التبعية للمستشرقين: سلامه موسى، وحسين فوزي، وزكي نجيب محمود، ومحمود عزمي، وعلى عبد الرازق، وغيرهم.

وقد لقحت مناهج المستشرقين في البحث والنقد العلميِّ قرائح كثير من تلاميذ المستشرقين؛ فنهجوا نهجهم، وأخذوا طريقهم فيما حاولوا من دراسات، وخاصةً في مجال الجامعة والثقافة والصحافة، وحملوا نفس الروح التي يحملها أساتذتهم في خصومة الإسلام، وكانوا أشد قسوةً على أهليهم من الغربيين2.

آثار الاستشراق:

1- كان الاستشراق وراء كل شبهة أو دعوة خطيرة أحدثت تحولًا في المجتمع الإسلاميّ في العصر الحديث، فقد كان المستشرقون يلقون الشبهة أو الدعوة، ثم يتبعهم الكتاب والمفكرون الذين يكتبون باللغة العربية من أهل التبعية والتغريب والشعوبية، هذا واضح في الدعوة إلى العامية التي بدأها ولكوكس وويلمور وغيرهما، ثم تابعهما سلامة موسى، وأحمد لطفي السيد، في الدعوة إلى الإقليميات والقوميات الضيقة؛ كالفينيقية والفرعونية، بدأها فمبري وكرومر، وتابعهما طه حيسن ولطفي السيد وغيرهما.

2- يعمل المستشرقون على إخضاع النصوص للفكرة التي يفرضونها حسب أهوائهم، والتحكم فيما يرفضونه أو يقبلونه من النصوص، وكثيرًا ما يحرفون النَّصَّ تحريفًا مقصودًا، ويقعون في سوء الفهم -وعن عمدٍ أحيانًا- في معنى النَّصِّ، حين لا يجدون مجالًا للتحريف.

3- يتحكم المستشرقون في المصادر التي يختارونها، فهم ينقلون من كتب الأدب ما يحكمون به في تاريخ الحديث النبويّ، ومن كتب

--------------------------------------------

1 الإسلام في وجه التغريب ص363، وقد كان هذا الإنكار، وأمور أخرى سببًا في طرد طه حسين من الجامعة المصرية، ومصادرة كتابه "في الشعر الجاهلي" ولكن نفوذ الاحتلال الإنجليزي، سرعان ما أعاده إلى الجامعة، ومضى به صعدًا لأعلى المناصب.

2 المرجع السابق ص363.
ইব্রাহিম ও ইসমাইল, এবং তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে তাওরাত ও কুরআনে তাঁদের উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁদের অস্তিত্বের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেন।১

প্রাচ্যবিদদের প্রতি এই আনুগত্যের ক্ষেত্রে ত্বহা হোসেনের মতো আরও ছিলেন: সালামা মুসা, হোসেন ফৌজি, জাকি নাজিব মাহমুদ, মাহমুদ আজমি, আলী আবদ আল-রাজিক এবং অন্যান্যরা।

গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার (نقد) ক্ষেত্রে প্রাচ্যবিদদের পদ্ধতিসমূহ তাদের বহু শিষ্যের মেধাকে শাণিত করেছিল; ফলে তারা তাদেরই পথ অনুসরণ করেছে এবং বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তাদের গবেষণায় তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। তারা ইসলামের বিরোধিতার ক্ষেত্রে তাদের শিক্ষকদের মতো একই মনোভাব পোষণ করত এবং নিজ জাতির প্রতি তারা পশ্চিমাদের চেয়েও অধিক কঠোর ছিল।২

প্রাচ্যবাদের প্রভাবসমূহ:

১- আধুনিক যুগে ইসলামি সমাজে রূপান্তর সৃষ্টিকারী প্রতিটি সন্দেহ (شبهة) বা বিপজ্জনক আহ্বানের পেছনে প্রাচ্যবাদের হাত ছিল। প্রাচ্যবিদরা কোনো সন্দেহ (شبهة) বা মতবাদ উত্থাপন করতেন, আর এরপর তাদের অনুসারী সেই সব লেখক ও চিন্তাবিদগণ তা অনুসরণ করতেন যারা আনুগত্য, পাশ্চাত্যকরণ ও শুউবিয়্যাহর (الشعوبية) প্রভাবে আরবি ভাষায় লিখতেন। এটি কথ্য ভাষার (العامية) দাবির ক্ষেত্রে স্পষ্ট যা উইলকক্স, উইলমোর এবং অন্যরা শুরু করেছিলেন; এরপর সালামা মুসা ও আহমদ লুৎফি আল-সায়েদ তাদের অনুসরণ করেন। এছাড়া সংকীর্ণ আঞ্চলিকতা ও জাতীয়তাবাদের দাওয়াতের ক্ষেত্রেও এটি দেখা যায়, যেমন ফিনিশীয়বাদ ও ফেরাউনবাদ; যা ভ্যাম্বেরি ও ক্রোমার শুরু করেছিলেন এবং ত্বহা হোসেন ও লুৎফি আল-সায়েদসহ অন্যরা তাদের অনুসরণ করেছিলেন।

২- প্রাচ্যবিদরা মূল পাঠ্যসমূহকে (نصوص) তাদের প্রবৃত্তি অনুযায়ী চাপিয়ে দেওয়া মতাদর্শের বশবর্তী করার জন্য কাজ করেন। তারা কোন পাঠ্য (نصوص) গ্রহণ করবেন বা বর্জন করবেন তা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো নিয়ন্ত্রণ করেন। অনেক সময় তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পাঠ্যের বিকৃতি ঘটান এবং যখন বিকৃতির কোনো সুযোগ পান না, তখন তারা পাঠ্যের অর্থের ক্ষেত্রে—কখনো কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে—ভুল ব্যাখ্যার আশ্রয় নেন।

৩- প্রাচ্যবিদরা তাদের নির্বাচিত উৎসসমূহকে নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যবহার করেন। তারা সাহিত্যের কিতাবসমূহ থেকে এমন সব তথ্য উদ্ধৃত করেন যার মাধ্যমে তারা নববী হাদিসের ইতিহাসের ওপর সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। এবং সেই সব কিতাব থেকে...

--------------------------------------------

১ আল-ইসলাম ফি ওয়াজহিল তাগরিব, পৃষ্ঠা ৩৬৩। এই অস্বীকার এবং অন্যান্য বিষয়গুলো ত্বহা হোসেনকে মিশরীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার এবং তার "ফিল শি’র আল-জাহিলি" বইটি বাজেয়াপ্ত করার কারণ ছিল। কিন্তু ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির প্রভাবে শীঘ্রই তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তিনি সর্বোচ্চ পদমর্যাদায় আসীন হন।

২ পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৩৬৩।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৫)
التاريخ ما يحكمون به في تاريخ الفقه، ويصححون ما ينقهل الدميري في كتابه "الحيوان" ويكذبون ما يرويه الإمام مالك في "الموطأ"..

4- يجمع المستشرقون الشبهات المختلفة، ويؤلفون بينها؛ لاعطائها صورةً كاملة، مثال ذلك: ما قام به المستشرق الألمانيّ ولهلم هور نباخ -الأستاذ في جامعة بون بألمانيا- من جمع قطع ونتف وشذرات من كتاب "الإصابة" للحافظ ابن حجر، ثم ينشرها على أنها كتاب "الردة" لابن حجر، الذي ألفه أبو زيد بن الفرات، المتوفى عام 237هـ، وهو فارسيّ الأصل، وقد ضاع هذا الكتاب، فأشار ابن حجر إليه في بعض المواضع، فما كان من المستشرق ولهلم إلّا أن جمع هذه القطع على أنها تراجم لأشخاصٍ ارتدوا عن الإسلام، ولا يقوم بمثل هذا العمل إلّا مغرضٌ صاحب هوًى؛ لأنه يخالف البحث العلميّ السليم.

وشبيه بهذا ما أورده المستشرقون من الزعم بأن العرب كانوا قبل البعثة النبوية على حضارة ونهضة، وأن دور النبيّ صلى الله عليه وسلم لم يزد على أنه نهض بهم فنهضوا، مع أن الحقيقة الواضحة أن العرب في جاهليتهم كانوا قبائل متفرقة متصارعة، وأن الإسلام هو الذي وحَّدَهم في أمة واحدة، ودفعهم إلى آفاق النهوض والتوسع: {لَوْ أَنْفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَلَّفَ بَيْنَهُم} 1، {وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَاناً وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْهَا} 2.

5- وقد حرص المستشرقون على التنويه بشأن "القرامطة" وإظهارهم بمظهر طلاب العدل والإصلاح، وهم الذين عجزوا عن أن يحققوا أيّ منهج يمكن أن يوصفوا به على أنهم دعاة حقٍّ حين أمتلكوا زمام الحكم في القرن الرابع الهجري، بل انكشف باطلهم وزيفهم، وظهرت حقيقتهم، صنائع لليهود انقضوا على الدولة الإسلامية بالتآمر والتعاون مع أعداء المسلمين وخصومهم.

6- وعمل المستشرقون على إحياء التراث الباطنيّ المجوسيّ

--------------------------------------------

1 الانفال 63.

2 آل عمران 103.
তারা ইতিহাসের মাধ্যমে ফিকহের ইতিহাস সম্পর্কে বিচার-ফয়সালা করে; তারা দামীরি তাঁর ‘আল-হায়াওয়ান’ গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন তাকে সঠিক সাব্যস্ত করেন (يصححون) এবং ইমাম মালিক ‘মুয়াত্তা’ গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেন (يكذبون)...

4- প্রাচ্যবিদরা বিভিন্ন সংশয় (شبهات) সংগ্রহ করেন এবং সেগুলোর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেন যাতে সেগুলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ: জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জার্মান প্রাচ্যবিদ উইলহেম হোয়েনারবাখ হাফিজ ইবনে হাজারের ‘আল-ইসাবা’ গ্রন্থ থেকে বিভিন্ন খণ্ডাংশ ও বিচ্ছিন্ন উদ্ধৃতি সংগ্রহ করেন। অতঃপর তিনি সেগুলোকে ইবনে হাজারের ‘আর-রিদ্দাহ’ গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশ করেন, যা মূলত ২৩۷ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী পারস্য বংশোদ্ভূত আবু যাইদ ইবনুল ফুরাত রচনা করেছিলেন। এই বইটি হারিয়ে গিয়েছিল, ফলে ইবনে হাজার কিছু স্থানে এর উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন। প্রাচ্যবিদ উইলহেম কেবল এই অংশগুলোকে সংকলন করে সেগুলোকে ইসলাম ত্যাগকারী ব্যক্তিদের জীবনী (تراجم) হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কুপ্রবৃত্তির অনুসারী ব্যক্তি ব্যতীত কেউ এ ধরনের কাজ করতে পারে না; কারণ এটি সঠিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার পরিপন্থী।

অনুরূপভাবে প্রাচ্যবিদদের সেই দাবিও বিভ্রান্তিকর যেখানে তারা মনে করে যে, নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে আরবরা সভ্যতা ও জাগরণের শিখরে ছিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভূমিকা তাদের কেবল জাগ্রত করা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। অথচ স্পষ্ট বাস্তবতা হলো, জাহেলি যুগে আরবরা ছিল বিচ্ছিন্ন ও বিবদমান বিভিন্ন গোত্র। ইসলামই তাদের একটি জাতিতে ঐক্যবদ্ধ করেছে এবং তাদেরকে জাগরণ ও বিস্তৃতির দিগন্তে ধাবিত করেছে: {তুমি যদি জমিনের সব কিছুও ব্যয় করতে, তবুও তাদের হৃদয়ে প্রীতি স্থাপন করতে পারতে না; কিন্তু আল্লাহ তাদের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করেছেন} ১, {তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর সেই নিআমতের কথা স্মরণ করো যখন তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতি স্থাপন করলেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা ছিলে আগুনের গর্তের কিনারে, অতঃপর তিনি তোমাদের সেখান থেকে রক্ষা করলেন} ২।

5- প্রাচ্যবিদরা ‘কারামাতিয়া’দের গুরুত্ব প্রদান এবং তাদেরকে ন্যায়বিচার ও সংস্কারকামী হিসেবে তুলে ধরতে সচেষ্ট হয়েছে। অথচ চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে যখন তারা শাসনক্ষমতা লাভ করে, তখন তারা এমন কোনো আদর্শ বা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয় যার ভিত্তিতে তাদেরকে সত্যের দাওয়াতদানকারী হিসেবে অভিহিত করা যায়। বরং তাদের বাতিল (باطل) ও অসারতা উম্মোচিত হয়েছে এবং তাদের প্রকৃত রূপ প্রকাশ পেয়েছে; তারা ছিল ইহুদিদের ক্রীড়নক যারা মুসলিমদের শত্রু ও বিরোধীদের সাথে ষড়যন্ত্র ও সহযোগিতার মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্রের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

6- আর প্রাচ্যবিদরা বাতেনি (باطني) ও অগ্নিউপাসক (مجوسي) ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবনে কাজ করেছে।

--------------------------------------------

১ আনফাল ৬৩।

২ আলে ইমরান ১০৩।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৬)
والغنوص القديم، مستهدفين تحطيم أصالة الفكر الإسلاميّ، ويبدو هذا واضحًا في تركيزهم على إحياء كل المخطوطات التي تحمل هذه السموم، وخاصةً ما يتصل بالإلحاد والإباحية، وما يتصل بوحدة الوجود، والحلول والاتحاد، والمجون، أمثال: شعر بشار بن برد، وأبي نواس، وكتب الحلّاج وابن عربي، وابن سبعين، وكتب غلاة الرافضة والإسماعلية والفاطميين.

7- ولا ريب أن أخطر آثار الاستشراق هو اعتبار كتب المستشرقين وبحوثهم مراجع أساسية في التاريخ واللغة والسيرة والفقه والعقائد وغير ذلك، وخاصةً في الجامعات والمعاهد العالية، أو في دراسات المبعوثين إلى الجامعات الغربية في أوربا وأمريكا، الذين يقعون دائمًا تحت سيطرة الاستشراق والأساتذة اليهود والنصارى المتعصبين، ثم يعودون إلى بلادهم فيحتلون مناصب التوجيه الثقافيّ والتعليميّ، ويفرضون ما تلقوه من الغرب من سموم باسم التجديد وحرية البحث.

وقد عملوا على نشر الموسوعات -دوائر المعارف- والقواميس؛ لتكون مراجع سهلة للباحثين، وملؤوها بالسموم والشبهات مثل:

دائرة المعارف الإسلامية.

المنجد في اللغة والعلوم والآداب.

الموسوعة العربية الميسرة.

لهذا ينبغي على من يود الرجوع إلى هذه المصادر، أن يكون على حذرٍ تامٍّ، وأن يتنبه لما بين سطورها من مغالطات، أو تشويه، أو تحريف في النقل، على أن روح مؤلفيها في الحقد على الإسلام لا يخفى على المطالع الحصيف.
এবং প্রাচীন আধ্যাত্মিকতাবাদ (الغنوص), যা ইসলামী চিন্তাধারার মৌলিকত্ব বিনষ্ট করার লক্ষ্য রাখে। এটি তাদের এই বিষাক্ত বিষয় সম্বলিত সকল পাণ্ডুলিপি পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টায় স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, বিশেষ করে যা নাস্তিকতা (الإلحاد) ও অবাধ যৌনাচার (الإباحية), এবং সর্বেশ্বরবাদ (وحدة الوجود), অবতারবাদ (الحلول) ও একীভূতবাদ (الاتحاد) এবং অনৈতিকতার সাথে সম্পর্কিত; যেমন: বাশার ইবন বুরদ ও আবু নুওয়াসের কবিতা এবং আল-হাল্লাজ, ইবন আরাবি ও ইবন সাব'ঈনের কিতাবসমূহ এবং চরমপন্থী (غلاة) রাফেজি (الرافضة), ইসমাইলি ও ফাতিমিদের কিতাবসমূহ।

৭- নিঃসন্দেহে প্রাচ্যবিদ্যার (الاستشراق) সবচাইতে বিপজ্জনক প্রভাব হলো ইতিহাস, ভাষা, সিরাত, ফিকহ ও আকিদাহ এবং অন্যান্য বিষয়ে প্রাচ্যবিদদের কিতাব ও গবেষণাসমূহকে মৌলিক উৎস হিসেবে গণ্য করা; বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কিংবা ইউরোপ ও আমেরিকার পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রেরিত সেই সব গবেষকদের গবেষণায়, যারা সবসময় প্রাচ্যবিদ্যা (الاستشراق) এবং কট্টর ইহুদি ও খ্রিস্টান অধ্যাপকদের নিয়ন্ত্রণে থাকেন। অতঃপর তারা নিজ দেশে ফিরে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক দিকনির্দেশনার উচ্চপদে আসীন হন এবং নবায়ন ও গবেষণার স্বাধীনতার নামে পশ্চিমা জগত থেকে গ্রহণ করা বিষাক্ত বিষয়গুলো চাপিয়ে দেন।

তারা এনসাইক্লোপিডিয়া বা বিশ্বকোষ (دوائر المعارف) এবং অভিধানসমূহ প্রচার করার কাজ করেছে; যাতে সেগুলো গবেষকদের কাছে সহজ উৎস হিসেবে গণ্য হয় এবং তারা এগুলোকে বিষ ও সংশয় দ্বারা পূর্ণ করেছে, যেমন:

দায়েরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ (ইসলামী বিশ্বকোষ)।

আল-মুনজিদ ফিল লুগাহ ওয়াল উলুম ওয়াল আদাব।

আল-মাওসুআহ আল-আরাবিয়্যাহ আল-মুয়াসসারাহ।

এ কারণে যারা এই উৎসগুলোর শরণাপন্ন হতে চান, তাদের পূর্ণ সতর্ক থাকা উচিত এবং এর পঙক্তিগুলোর অন্তরালে থাকা বিভ্রান্তি, বিকৃতি অথবা বর্ণনার বিকৃতি (تحريف) সম্পর্কে সজাগ থাকা প্রয়োজন। অধিকন্তু ইসলামের প্রতি লেখকদের বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব কোনো বিচক্ষণ পাঠকের কাছে গোপন থাকে না।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৭)
نماذج من أبحاث المستشرقين:

1- يتابع يوسف شاخت أستاذه جولد تسيهر -وهما مستشرقان يهوديان- في الغض من شأن الشريعة الإسلامية، ويحاول الادعاء بأن الشريعة الإسلامية لا تختلف عن أعراف الجاهلية، وهو ادعاءٌ باطلٌ تصدى له كثيرٌ من الباحثين.

ومن أكاذيب شخت وأضاليله: الادعاء بأن للفكر الإغريقيّ فضلًا على الفكر الإسلاميّ، وقد أثبت علماء الغرب أنفسهم مثل: سيديو، درابر، وسارطون، وغيرهم، أن الإسلام هو الذي أدخل إلى الغرب المنهج العلميّ التجريبيّ، وأن الحضارة العالمية المعاصرة مدينةٌ للمسلمين بهذا النهج الذي هو أساس الحضارة الإسلامية.

2- أنكر برتلو أن تكون الكتب الكيمالية اللاتينية التي تحمل اسم جابر بن حيان، هي كتب عربية الأصل، كتبها عالم مسلم؛ لمجرد أن أصولها العربية فقدت، وقد تصدّى لبرتلو علماء راسخون ردوا عليه خطأه، بل اتهمه بعضهعم بالجهل والتحيز، وقال سارطون: إن أي شخص يعرف العربية لا يخطئ مطلقًا في اكتشاف أن هذه الكتب اللاتينية ترجمات لكتب عربية؛ إذ تبدو الأساليب العربية واضحةً من الترجمة اللاتينية، سواءً كانت لجابر أو لغيره.

3- ويزعم سدرسكي أن جانبًا مما ورد في القرآن أو التفاسير، والسير من الأخبار، يرجع إلى الإجادة اليهودية والتوراة والأناجيل، وقد بيّن الدكتور بشر فارس، فساد هذا الرأي، وقال: إن بين النصوص الاسلامية والنصوص اليهودية والمسيحية مسافات، وإن اتفق بعضها أو تقارب.

4- وحاول نلينو أن ينفي حقيقة أن قريشًا كانت أفصح العرب، وله في ذلك مغالطات واسعةٌ ترمي إلى التشكيك في هذه الحقيقة، ويقول: إن تفضيل لغة قريش لم يكن مصدره سوى حب العرب للرسول.

5- وزعم لويس شيخو اليسوعي، أن معظم شعراء الجاهلية وصدر الإسلام، كانوا نصارى، وأن الغسانيين كانوا نصارى، وهو قولٌ لا يُسَلِّمُ به المطلعون على أخبار العرب في عهد الجاهلية؛ لأن من الغساسنة مَنْ كان على الوثنية، ومنهم من دان باليهودية، وطائفة كانت
প্রাচ্যবিদদের গবেষণার কিছু নমুনা:

১- ইউসুফ শাখত তার শিক্ষক গোল্ডজিহারকে—যারা উভয়ই ইহুদি প্রাচ্যবিদ—ইসলামি শরীয়তের গুরুত্ব হ্রাসের ক্ষেত্রে অনুসরণ করেন এবং তিনি দাবি করার চেষ্টা করেন যে, ইসলামি শরীয়ত জাহেলি যুগের রীতিনীতি থেকে ভিন্ন কিছু নয়। এটি একটি অসার (باطل) দাবি, যা অনেক গবেষকই প্রতিহত করেছেন।

শাখতের মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো: এই দাবি করা যে, ইসলামি চিন্তাধারার ওপর গ্রিক চিন্তাধারার অবদান রয়েছে। অথচ সিডিও, ড্রাপার এবং সার্টন প্রমুখ পশ্চিমা পণ্ডিতরাই প্রমাণ করেছেন যে, ইসলামই পাশ্চাত্যে পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রবর্তন করেছে এবং আধুনিক বিশ্বসভ্যতা এই পদ্ধতির জন্য মুসলমানদের কাছে ঋণী, যা ইসলামি সভ্যতার মূল ভিত্তি।

২- বার্থেলো অস্বীকার করেছেন যে, জাবির ইবনে হাইয়ানের নাম বহনকারী লাতিন রসায়ন গ্রন্থগুলো মূলত আরবি ছিল এবং একজন মুসলিম বিজ্ঞানীর লেখা ছিল; কেবল একারণে যে সেগুলোর মূল আরবি পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গেছে। বার্থেলোর এই ভুলকে একদল প্রাজ্ঞ আলেম প্রতিহত করেছেন এবং তার প্রতিবাদ করেছেন, এমনকি তাদের কেউ কেউ তাকে অজ্ঞতা ও পক্ষপাতের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। সার্টন বলেছেন: যে ব্যক্তি আরবি জানে সে এই লাতিন গ্রন্থগুলো যে আরবি গ্রন্থের অনুবাদ তা শনাক্ত করতে কখনোই ভুল করবে না; কারণ লাতিন অনুবাদে আরবির প্রকাশভঙ্গি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, তা জাবির ইবনে হাইয়ানের হোক বা অন্য কারো।

৩- সিডারস্কি দাবি করেন যে, কুরআন, তাফসির এবং সিরাত এর সংবাদ বা বর্ণনার (أخبار) একটি অংশ ইহুদি ঐতিহ্য, তাওরাত ও ইঞ্জিল থেকে এসেছে। ডক্টর বিশর ফারিস এই মতের অসারতা স্পষ্ট করেছেন এবং বলেছেন: ইসলামি পাঠ্য এবং ইহুদি ও খ্রিস্টান পাঠ্যের মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান বিদ্যমান, যদিও সেগুলোর কিছু অংশ অভিন্ন বা কাছাকাছি হতে পারে।

৪- নালিনো এই সত্যকে অস্বীকার করার চেষ্টা করেছেন যে, কুরাইশরা আরবদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শুদ্ধভাষী ছিল। এই ক্ষেত্রে তার অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে যার লক্ষ্য হলো এই ধ্রুব সত্যের ওপর সন্দেহ পোষণ করা। তিনি বলেন: কুরাইশদের ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়ার পেছনে আরবদের রাসূলের প্রতি ভালোবাসা ছাড়া অন্য কোনো কারণ ছিল না।

৫- জেসুইট লুইস শাইখু দাবি করেছেন যে, জাহেলি যুগ এবং ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের অধিকাংশ কবিই খ্রিস্টান ছিলেন এবং গাসসানিরা খ্রিস্টান ছিল। জাহেলি যুগের আরবদের সংবাদ বা বর্ণনার (أخبار) ব্যাপারে যারা অবগত তারা এই বক্তব্য গ্রহণ করেন না; কারণ গাসসানিদের মধ্যে কেউ মূর্তিপূজারী ছিল, কেউ ইহুদি ধর্মাবলম্বী ছিল এবং একটি দল ছিল...
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৮)
تدين بالنصرانية، وممن عدّهم نصارى من الشعراء، الأخنس بن شهاب، وامرؤ القيس، وأمية بن أبي الصلت، والسموأل.

وهكذا جرت بحوث المستشرقين وراء بثِّ الشبهات حول القرآن الكريم ولغته، والحديث الشريف والتشريع الإسلاميّ، ولا يتسع المقام للتوسع في ضرب الإمثال1.

المستشرقون المعتدلون:

لا نكران أن طائفةً من المستشرقين اتسموا بالاعتدال والإنصاف، على تفاوتٍ فيما بينهم، فمنهم من أخطأ وأصاب، ومنهم من انتهى به البحث الحرِّ النزيه إلى الإيمان والإسلام، ويعتبر من الفريق الأول: "رينان" الذي انتهى به بحثه عن المسيح عليه السلام إلى إثبات أنه لم يكن إلهًا، ولا ابن إله، وإنما هو إنسانٌ يمتاز بالخلق السامي والروح الكريمة، وأن السير العربية للنبيّ محمد صلى الله عليه وسلم كسيرة ابن هشام، لها ميزةٌ تاريخيةٌ أكبر من الأناجيل المتداولة بين النصارى.

ومنهم: "كارلايل" الذي عَدَّ محمدًا صلى الله عليه وسلم في الأبطال، وخَصَّهُ بصفحات كثيرة من كتابه "الأبطال" يقول فيه: "من العار أن يصغي أيّ إنسان متمدين من أبناء هذا الجيل إلى وهم القائلين: أن دين الإسلام كذب، وأن محمدًا لم يكن على حقٍّ، فالرسالة التي دعا إليها هذا النبيّ ظلت سراجًا منيرًا أربعة عشر قرنًا من الزمان، لملايين كثيرة من الناس، وما الرسالة التي أداها محمد صلى الله عليه وسلم إلّا الصدق والحق، وما كلمته إلّا صوت حقٍّ صادقٍ صادرٍ من العالم المجهول، وما هو إلّا شبهات أضاء العالم أجمع، ذلك أمر الله، وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء.

ومنهم: "تولستون" أكبر كتاب روسيا، فإنه لما رأى الحملة الظالمة على الإسلام ورسوله، كتب رأيه معربًا عن الإعجاب بالإسلام، وتحدَّث عن المسيحية، فأنكر على المسيحيين اعتقادهم بألوهية المسيح، وخلص إلى أن بولس لم يفهم تعليم المسيح، بل طمسها، والكنيسة زادت تعاليم المسيح في العقيدة غموضًا، ويقول: أن المسيحيين

--------------------------------------------

1 راجع: "دفاع عن العقيدة" للشيخ محمد الغزالي، "الإسلام في وجه التغريب: مخططات الاستشراق والتبشير" للأستاذ أنور مجدي.
তারা খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত ছিল। কবিদের মধ্যে যাদের তিনি খ্রিস্টান হিসেবে গণ্য করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আখনেস বিন শিহাব, ইমরুল কায়স, উমাইয়া বিন আবিস সালত এবং সামাওয়াল।

এভাবেই কুরআন মাজিদ ও এর ভাষা, হাদিস শরিফ এবং ইসলামি বিধান সম্পর্কে সংশয়সমূহ (شبهات) ছড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রাচ্যবিদদের গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। তবে উদাহরণ প্রদানের মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনার জন্য এই স্থানটি পর্যাপ্ত নয়।১

মধ্যপন্থী প্রাচ্যবিদগণ:

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, প্রাচ্যবিদদের একটি দল পরিমিতিবোধ ও ইনসাফের গুণে গুণান্বিত ছিলেন, যদিও তাদের মধ্যে পারস্পরিক পার্থক্য ছিল। তাদের কেউ ভুল করেছেন আবার কেউ সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মুক্ত ও নিরপেক্ষ গবেষণার মাধ্যমে ঈমান ও ইসলামের পথে পরিচালিত হয়েছেন। প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত বিবেচনা করা হয় "রেনান"-কে, যাঁর ঈসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কিত গবেষণা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল যে, তিনি ইলাহ বা ইলাহ-এর পুত্র ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন উন্নত চরিত্র ও মহৎ প্রাণের অধিকারী মানুষ। আর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আরবি জীবনীসমূহ (সীরাত), যেমন ইবনে হিশামের সীরাত, খ্রিস্টানদের মধ্যে প্রচলিত ইঞ্জিলসমূহের তুলনায় অধিকতর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।

তাদের মধ্যে রয়েছেন: "কার্লাইল", যিনি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বীরদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাঁর "হিরোস" (বীরগণ) বইটির অনেকগুলো পাতা তাঁর জন্য বরাদ্দ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন: "বর্তমান প্রজন্মের কোনো সভ্য মানুষের জন্য তাদের অলীক ধারণায় (وهم) কান দেওয়া লজ্জাজনক যারা বলে যে: ইসলাম ধর্ম মিথ্যা এবং মুহাম্মদ সত্যের ওপর ছিলেন না। কারণ এই নবী যে বাণীর দিকে আহ্বান করেছেন, তা চৌদ্দশ বছর ধরে কোটি কোটি মানুষের জন্য এক উজ্জ্বল প্রদীপ হয়ে আছে। মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে রিসালাত (رسالة) পৌঁছে দিয়েছেন তা সত্য ও যথার্থ বৈ কিছু নয়। তাঁর বাণী ছিল অদৃশ্যের জগত থেকে আগত এক সত্য ও অকৃত্রিম আওয়াজ। সেটি ছিল এক আলোকবর্তিকা যা সমগ্র বিশ্বকে আলোকিত করেছে। সেটিই আল্লাহর নির্দেশ এবং সেটিই আল্লাহর অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন।"

তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রাশিয়ার শ্রেষ্ঠ লেখক "টলস্টয়"। তিনি যখন ইসলাম ও এর রাসুলের ওপর অন্যায় আক্রমণ প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তিনি ইসলামের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে নিজের মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে খ্রিস্টানদের ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ঈশ্বরত্বে বিশ্বাসের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, পল ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর শিক্ষা বুঝতে পারেননি, বরং তা বিকৃত করেছেন। গির্জা মাসিহ-এর শিক্ষায় আকিদাহর (عقيدة) ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা বৃদ্ধি করেছে। তিনি বলেন: খ্রিস্টানরা

--------------------------------------------

১. দেখুন: শায়খ মুহাম্মদ আল-গাজালির "দিফাউ আনিল আকিদাহ", উস্তাদ আনোয়ার মাজদির "আল-ইসলামু ফি ওয়াজহিত তাগরিব: মুখত্তাতুত তিশরাক ওয়াত তাবশির"।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৯)
واليهودية والمسلمين يعتقد جميعهم بالوحي الإلهيّ، فالمسلمون يعتقدون نبوة موسى وعيسى، ولكنهم يعتقدون كما اعتقد بأنه دخل التحريف والتشويه على كتب الديانتين، وهم يعتقدون بأن محمدًا خاتم الأنبياء، وأنه أوضح في القرآن تعاليم موسى وعيسى، كما قالاها دون زيادة ولا نقص، وينتهي بالحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حديث الإكبار والتعظيم، وكان مما قاله تولستوي: "لا ريب أن هذا النبيّ من كبار الرجال المصلحين، الذين خدموا الهيئة الاجتماعية خدمةً جليلةً، ويكفيه فخرًا أنه هدى أمة برمتها إلى نور الحق، وجعلها تجنح للسلام، وتكف عن سفك الدماء، وتقديم الضحايا، ويكفيه فخرًا أنه فتح طريق الرقيّ والتقدم، وهذا عملٌ عظيمٌ لا يفوز به إلّا شخص أولي قوة وحكمة وعلمًا، ورجل مثله جدير بالاحترام والإجلال"، وقد كان جزاؤه على كلمة الحق التي قالها أن حرمه البابا من الرحمة1.

ومن المستشرقين الذين انتهى بهم البحث عن الحقِّ إلى الإسلام: اللورد هيدلي، واتيين دينيه -ناصر الدين- والشاعر الألماني الكبير: جوتيه، والدكتور جرينييه، الذي كان عضوًا في مجلس النواب الفرنسيّ، وقد سئل عن سبب إسلامه فقال: "إني تتبعت كل الآيات القرآنية التي لها ارتباط بالعلوم الطبية والصحية والطبيعية، والتي درستها من صغري، وأعلمها جيدًا، فوجدت هذه الآيات منطبقة كل الانطباق على معارفنا الحديثة، فأسلمت لأني تيقنت أن محمدًا صلى الله عليه وسلم أتى بالحق الصراح، من قبل ألف سنة، من قبل أن يكون له معلم، أو مدرس من البشر، ولو أن كل صاحب فن من الفنون، أو علم من العلوم قارن كل الآيات القرآنية المرتبطة بما تعلم جيدًا، كما قارنت أيضًا، لأسلم بلا شكٍّ، إن كان عاقلًا خاليًا من الأغراض"2.

وصدق الله العظيم {سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَق} 3.

--------------------------------------------

1 التبشير والاستشراق: أحقاد وحملات" للمستشار محمد عزت إسماعيل الطهطاوي ص59-62.

2 المرجع السابق ص 67 و"أوربا والإسلام" للدكتور عبد الحليم محمود.

3 فصلت 53.
ইহুদি ধর্ম ও মুসলিমগণ সকলে ঐশ্বরিক ওহিতে (الوحي) বিশ্বাসী। মুসলিমরা মুসা ও ঈসার নবুওয়াত (نبوة) বিশ্বাস করে, তবে তারা এটাও বিশ্বাস করে—যেমনটি তিনি (তলস্তয়) বিশ্বাস করতেন—যে উভয় ধর্মের কিতাবসমূহে বিকৃতি (التحريف) ও বিকলাঙ্গতা (التشويه) প্রবেশ করেছে। তারা বিশ্বাস করে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন শেষ নবী (خاتم الأنبياء), এবং তিনি মুসা ও ঈসার শিক্ষাগুলো কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়াই কুরআনে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে শ্রদ্ধা ও মহত্ত্বের আলোচনার মাধ্যমে বক্তব্যটি শেষ হয়। তলস্তয় যা বলেছিলেন তার মধ্যে ছিল: "নিঃসন্দেহে এই নবী সেই মহান সংস্কারকদের (المصلحين) অন্তর্ভুক্ত, যারা সমাজকাঠামোকে এক মহান সেবা প্রদান করেছেন। তাঁর জন্য এই গৌরবই যথেষ্ট যে, তিনি একটি গোটা জাতিকে সত্যের আলোর দিকে পরিচালিত করেছেন এবং তাদের শান্তির দিকে ধাবিত করেছেন এবং রক্তপাত ও বলিদান থেকে বিরত রেখেছেন। তাঁর জন্য এই গৌরবই যথেষ্ট যে, তিনি উন্নতি ও অগ্রগতির পথ উন্মোচন করেছেন। এটি এক মহান কাজ যা কেবল শক্তি, প্রজ্ঞা (حكمة) ও জ্ঞান (علماً) সম্পন্ন ব্যক্তিই অর্জন করতে পারেন। তাঁর মতো ব্যক্তি শ্রদ্ধা ও সম্মানের যোগ্য।" সত্য কথা বলার কারণে তাঁর পুরস্কার ছিল এই যে, পোপ তাকে করুণা থেকে বঞ্চিত করেছিলেন ১।

প্রাচ্যবিদদের (المستشرقين) মধ্যে যারা সত্যের অনুসন্ধানের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: লর্ড হেডলি, ইতিয়েন দিনিয়ে (নাসিরুদ্দিন) এবং মহান জার্মান কবি গ্যেটে ও ডক্টর গ্রিনিয়ে, যিনি ফরাসি পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন। তাঁকে তাঁর ইসলাম গ্রহণের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আমি কুরআনের সেই সমস্ত আয়াতে (الآيات) অনুসন্ধান চালিয়েছি যেগুলোর সাথে চিকিৎসাবিজ্ঞান, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সম্পর্ক রয়েছে, যা আমি শৈশব থেকে অধ্যয়ন করেছি এবং খুব ভালোভাবে জানি। আমি এই আয়াতগুলোকে (الآيات) আমাদের আধুনিক জ্ঞানের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ পেয়েছি। তাই আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি কারণ আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাজার বছর আগে কোনো মানব শিক্ষক বা প্রশিক্ষক ছাড়াই বিশুদ্ধ সত্য নিয়ে এসেছেন। যদি প্রতিটি শিল্পের অধিকারী বা বিজ্ঞানের জ্ঞানী ব্যক্তি তাঁর জানা বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত কুরআনের আয়াতগুলোকে (الآيات) এমনভাবে তুলনা করতেন যেমনটি আমি করেছি, তবে তিনি যদি বুদ্ধিমান ও সংকীর্ণতা মুক্ত হতেন তবে নিঃসন্দেহে ইসলাম গ্রহণ করতেন" ২।

মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন: {অচিরেই আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ (آياتنا) দিগন্তবলয়ে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে দেখাব, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে এটিই সত্য} ৩।

--------------------------------------------

১. উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইজ্জত ইসমাইল আল-তহতাবি রচিত "তাবশির ওয়া আল-ইস্তিশরাক: আহকাদ ওয়া হামালাত", পৃষ্ঠা ৫৯-৬২।

২. পূর্বোক্ত সূত্র, পৃষ্ঠা ৬৭ এবং ডক্টর আব্দুল হালিম মাহমুদের "ইউরোপ ওয়া আল-ইসলাম"।

৩. ফুসসিলাত ৫৩।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌ثالثًا: التبشير

أيقن أعداء الإسلام أنه لا سبيل إليه وعقيدته حيَّةً في قلوب المسلمين، فكان بداية التبشير مع نهاية الحروب الصليبية فشلًا في مهمتها، وهو ما يصرح به "ملخص تاريخ التبشير"1.

ويقول القسيس المبشر زويمر: "أن جزيرة العرب التي هي مهد الإسلام، لم تزل نذير خطر للمسيحية2" ويكمل وليم جيفورد بالكراف المعنى فيقول: متى توارى القرآن ومدينة مكة عن بلاد العرب، يمكننا حينئذ أن نرى العربيّ يتدرج في سبيل الحضارة التي لم يبعده عنها إلّا محمد وكتابه3.

واتخذ التبشير لدعوة المسلمين أساليب عديدة، أظهرها لنا:

أ- المدارس المختلفة فتحت في أرجاء العالم الإسلاميّ، ولم تنج منها حتى عاصمة الخلافة الإسلامية نفسها4 وباشرت تلك المدارس التأثير على الطفولة البريئة والشبيبة الغضة من أبناء المسلمين، وكانت لها نتائج إيجابية محدودة، لكنها أن لم تمح في

--------------------------------------------

1 كتاب "ملخص التبشير" لادوين بلس، أشار إليه، أ. ل شاتليه.

نقلها إلى العربية محب الدين الخطيب، وساعد اليافي تحت عنوانه: الغارة على العالم الإسلامي.

2 قالها زويمر في مؤتمر لكنو بالهند سنة 1329هـ -1911م، وكان هو رئيس المؤتمر لماله في التبشير من سجلٍّ حافلٍ، المرجع السابق ص102.

3 قالها وليم جيفورد في مؤتمر القاهرة للتبشير، المنعقد سنة 1324هـ 1906م، في منزل أحمد عرابي الذي صادره الإنجليز بعد ثورته.

4 في مؤتمر لكنو للتبشير، الذي تقدمت الإشارة إليه، قدَّم القسيس ترد بريد ج تقريرًا عن نشاط التبشير، وخص فيه دولة الخلافة العثمانية بنصيب أوفر، فقال: عن الإعمال المدرسية أن في استطاعة المسلمين التردد على مدارس وكليات التبشير، وبين جدران الكلية الإنجليزية في بيروت -الجامعة الأمريكية، وكانت تسمى الكلية السورية الانجيلية- 104 من المسلمين، وفي كلية الأستانة -واحسرتاه- 50، وفي كلية المبشرين في كدك باشا في الأستانة أيضًا 80، ومنذ بضع سنين صدر أذن خفي!! بجواز التردد على الكلية الأولى والثانية.

وعن التاليف قال:

كان طبع كتب التبشير مباحًا في تركيا منذ مدة طويلة "!! " ثم أشار إلى صعوبات التوزيع..

وعن الأعمال الطبية والخيرية قال: إنها منتشرة جدًّا في البلاد العثمانية.

وعن الأعمال النسائية قال: إن الحكومة سمحت ". . ." عقب إعلان القانون الأساسيّ لخمس فتيات مسلمات أن يتعلمون في كلية البنات الأمريكية؛ ليتهيأن لإدارة الأمور في مدارس الحكومة للبنات أن عددًا قليلًا من الفتيات المسلمات يتردد على مدارس إرساليات التبشير.
‌‌তৃতীয়ত: খ্রিস্টীয় ধর্মপ্রচার (تبشير)

ইসলামের শত্রুরা নিশ্চিত হয়েছিল যে, যতক্ষণ মুসলিমদের হৃদয়ে তাদের আকিদা (عقيدة) জাগ্রত থাকবে, ততক্ষণ ইসলামের ওপর আধিপত্য বিস্তারের কোনো পথ নেই। ফলে ক্রুসেড বা ক্রুশীয় যুদ্ধের ব্যর্থ সমাপ্তির পরপরই শুরু হয় খ্রিস্টীয় ধর্মপ্রচারের (تبشير) তৎপরতা, যা মূলত তার উদ্দেশ্য সাধনে ব্যর্থ হয়েছিল; আর এই সত্যটিই "খ্রিস্টীয় ধর্মপ্রচারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস"১ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয়েছে।

মিশনারি যাজক জুইমার বলেন: "আরব উপদ্বীপ, যা ইসলামের চারণভূমি, তা খ্রিস্টধর্মের জন্য এক চিরস্থায়ী বিপদের সংকেত।"২ উইলিয়াম গিফোর্ড পালগ্রেভ এই ধারণাকে পূর্ণতা দিয়ে বলেন: "যখন আরব ভূখণ্ড থেকে কুরআন ও মক্কা নগরী অদৃশ্য হয়ে যাবে, তখনই আমরা দেখতে পাব যে আরবরা সভ্যতার পথে অগ্রসর হচ্ছে, যা থেকে কেবল মুহাম্মদ ও তাঁর কিতাবই তাদের দূরে সরিয়ে রেখেছে।"৩

মুসলিমদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে খ্রিস্টীয় ধর্মপ্রচার (تبشير) বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল, যার মধ্যে প্রধান হলো:

ক- মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নানাবিধ বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল, এমনকি খিলাফতের (خلافة) খোদ রাজধানীও এর হাত থেকে রক্ষা পায়নি।৪ সেই বিদ্যালয়গুলো মুসলিম সন্তানদের নিষ্পাপ শৈশব ও কোমলমতি তরুণদের প্রভাবিত করার কাজ শুরু করে। এর ফলাফল ছিল ইতিবাচক কিন্তু সীমিত, তবে তা যদি পুরোপুরি বিলুপ্ত না হতো...

--------------------------------------------

১ এডউইন ব্লিস রচিত "খ্রিস্টীয় ধর্মপ্রচারের সংক্ষিপ্তসার" গ্রন্থ, যার দিকে এ. এল. চ্যাটলিয়ার ইঙ্গিত করেছেন।

মুহিব্বুদ্দীন আল-খতীব ও সাআদ আল-ইয়াফি এটি "আল-গারা আলাল আলামিল ইসলামি" (ইসলামি বিশ্বের ওপর আক্রমণ) শিরোনামে আরবিতে অনুবাদ করেছেন।

২ জুইমার ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৯ হিজরি) ভারতের লক্ষ্ণৌ সম্মেলনে এই কথা বলেছিলেন। খ্রিস্টীয় ধর্মপ্রচারে (تبشير) তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতার কারণে তিনি সেই সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন। পূর্বোক্ত সূত্র, পৃষ্ঠা ১০২।

৩ উইলিয়াম গিফোর্ড ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৪ হিজরি) কায়রো মিশনারি সম্মেলনে এ কথা বলেন, যা আহমদ উরাবির বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা তাঁর বিপ্লবের পর ইংরেজরা বাজেয়াপ্ত করেছিল।

৪ পূর্বে উল্লিখিত লক্ষ্ণৌ মিশনারি সম্মেলনে পাদ্রি ট্রেড ব্রিড জে. খ্রিস্টীয় ধর্মপ্রচারের (تبشير) কার্যক্রম সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন পেশ করেন এবং এতে তিনি উসমানীয় খিলাফত (خلافة) রাষ্ট্রকে অধিক গুরুত্ব প্রদান করেন। তিনি শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন: "মুসলিমরা মিশনারি স্কুল ও কলেজগুলোতে যাতায়াত করতে সক্ষম। বৈরুতের ইংলিশ কলেজ—যা আমেরিকান ইউনিভার্সিটি নামে পরিচিত এবং আগে 'সিরিয়ান ইভানজেলিকাল কলেজ' বলা হতো—তার দেয়ালগুলোর অভ্যন্তরে ১০৪ জন মুসলিম শিক্ষার্থী রয়েছে। আস্তানা (ইস্তাম্বুল) এর কলেজে—হায় আফসোস!—৫০ জন এবং আস্তানার কাদিক পাশায় অবস্থিত মিশনারি কলেজেও ৮০ জন রয়েছে। কয়েক বছর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় কলেজটিতে যাতায়াতের জন্য একটি গোপন অনুমতি!! জারি করা হয়েছিল।"

রচনা ও প্রকাশনা সম্পর্কে তিনি বলেন:

"তুরস্কে দীর্ঘকাল ধরে মিশনারি বই ছাপানোর অনুমতি ছিল!!" এরপর তিনি তা বিতরণের অসুবিধার কথা উল্লেখ করেন...

চিকিৎসা ও সেবামূলক কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন: "উসমানীয় দেশগুলোতে এগুলো অত্যন্ত বিস্তৃত।"

নারী বিষয়ক কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন: "সরকার অনুমতি দিয়েছে '...' সংবিধান ঘোষণার পর পাঁচজন মুসলিম মেয়েকে আমেরিকান গার্লস কলেজে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে; যাতে তারা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। তবে খুব কম সংখ্যক মুসলিম মেয়েই মিশনারি স্কুলগুলোতে যাতায়াত করে।"
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৩১)
المجموع عقائد التلاميذ، فيكفي أنها بذرت فيها بذور الشك أو الانحراف1 ولا تزال من آثار تلك المدارس الجامعة الأمريكية في مصر، والجامعة الأمريكية في بيروت، الأمر الذ ي لا ينكره رجالات الغرب أنفسهم.

ويلحق بهذه الوسيلة تغريب التعليم، أو علمانيته، وهو ما فعلته انجلترا في مصر والهند، وما سوف نعرض له -بمشيئة الله- عند الكلام عن وسائل التبشير الحديثة.

ب- ومن أخطر هذه الوسائل البعثات إلى الدول المسيحية الغربية، وأول مثل لأثر البعثات ما حدث لرفاعة الطهطاوي الذي أقام في باريس من سنة 1242هـ -1826م، إلى سنة 1247هـ- 1831م، فقد عاد ذلك الشيخ بغير العقل الذي ذهب به.

- اختلت موازين الشيخ، فعاد يتحدث عن الرقص الذي رآه في باريس، بأنه نوع من العياقة والشلبنة، أي: الأناقة والفتوة، لا الفسق، الرقص وتلاصق الأجساد ليس فسقًا.

ورسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "لكل بني آدم حظٌّ من الزنا: فالعينان تزنيان، وزناهما النظر، واليدان تزنيان، وزناهما البطش، والرجلان تزنيان، وزناهما المشي، والفم يزني وزناه القبل، والقلب يهوى ويتمنى، والفرج يصدق ذلك أو يكذبه" 2.. صدق رسول الله عليه الصلاة والسلام وكذب الشيخ الطهطاوي.

- وتحدَّث عن المشاعر الوطنية ليحلها محل المشاعر الدينية، وراح يثير الجاهلية القديمة؛ فيتحدث عن مصر الفرعونية، وينسى مصر الإسلامية، وأعجب الطهطاوي بالحرية، لكنه لم يفهمها الفهم الإسلاميّ الذي تحقق به عبودية المسلم لله وحده، ويتحقق تحرره من كل عبودية لسوى الله، لكنه فهمها الفهم الغربيّ الذي قد يؤدي إلى التحرر من الأخلاق ومن الدين نفسه..!

--------------------------------------------

1 في نفس المؤتمر قال استررد كروفورد: أن المسلمين يقتبسون من حيث لا يشعرون شطرًا من المدنية النصرانية، ويدخلونه في ارتقائهم الاجتماعيّ، وما دامت الشعوب الإسلامية تتدرج إلى غايات ونزعات ذات علاقة بالإنجيل، فإن الاستعداد لاقتباس النصرانية يتولد فيها عن غير قصد منها، ثم ختم تقريره بقوله: لقد أزف الوقت لارتقاء العالم الإسلاميّ، وسيدخل الإسلام في شكل جديد من الحياة والعقيدة، ولكن هذا الإسلام الجديد سينزوي ويتلاشى بالنصرانية "ص72، 73 من المرجع السابق".

2 مسند أحمد ج2 ص343 صحيح، وله روايات أخرى كثيرة بألفاظ مختلفة، والمعنى واحد.
শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক আকিদাহর ক্ষেত্রে এটিই যথেষ্ট যে, এর মাধ্যমে তাদের অন্তরে সন্দেহ বা বিচ্যুতির বীজ বপন করা হয়েছে। মিশরের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি এবং বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরই অবশিষ্টাংশ, যা স্বয়ং পশ্চিমা ব্যক্তিত্বরাও অস্বীকার করেন না।

এই মাধ্যমের সাথে শিক্ষার পশ্চিমাভিমুখীকরণ বা এর ধর্মনিরপেক্ষতাও অন্তর্ভুক্ত, যা ইংল্যান্ড মিশর এবং ভারতে করেছিল। ইনশাআল্লাহ, আধুনিক মিশনারি কার্যক্রমের মাধ্যমগুলো নিয়ে আলোচনার সময় আমরা এ বিষয়ে আলোকপাত করব।

খ- এই মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম বিপজ্জনক হলো পশ্চিমা খ্রিস্টান দেশগুলোতে প্রেরিত প্রতিনিধি দল বা শিক্ষা সফর। এ ধরণের সফরের প্রভাবের প্রথম উদাহরণ হলো রিফাত আল-তহতাবি, যিনি ১২৪২ হিজরি (১৮২৬ খ্রিস্টাব্দ) থেকে ১২৪৭ হিজরি (১৮৩১ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত প্যারিসে অবস্থান করেছিলেন। সেই শাইখ যে চিন্তা-চেতনা নিয়ে গিয়েছিলেন, ফিরে আসার সময় তা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিল।

- শাইখের মানদণ্ড ও বিচারবুদ্ধি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল। তিনি প্যারিসে দেখা নাচকে আভিজাত্য ও আধুনিকতা হিসেবে বর্ণনা করতে শুরু করলেন; অর্থাৎ এটি সুরুচি ও সাহসিকতা, পাপাচার নয়। নাচ এবং দেহের স্পর্শ কোনো পাপাচার নয়!

অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আদম সন্তানের প্রত্যেকেরই জেনার একটি অংশ নির্ধারিত রয়েছে: দুই চোখ জেনা করে আর চোখের জেনা হলো দৃষ্টিপাত করা, দুই হাত জেনা করে আর হাতের জেনা হলো শক্ত করে ধরা, দুই পা জেনা করে আর পায়ের জেনা হলো হেঁটে যাওয়া, মুখ জেনা করে আর মুখের জেনা হলো চুম্বন করা, হৃদয় কামনা ও আকাঙ্ক্ষা করে, আর যৌনাঙ্গ একে সত্য বা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।" রাসুলুল্লাহ (সা.) সত্য বলেছেন এবং শাইখ তহতাবি মিথ্যা বলেছেন।

- তিনি ধর্মীয় অনুভূতির পরিবর্তে জাতীয়তাবাদী অনুভূতিকে স্থলাভিষিক্ত করার কথা বলেন এবং প্রাচীন জাহিলিয়াতকে জাগ্রত করতে থাকেন। তিনি ফারাওনিক মিশর নিয়ে আলোচনা করেন অথচ ইসলামি মিশরকে ভুলে যান। তহতাবি স্বাধীনতার প্রতি মুগ্ধ হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে তা বোঝেননি—যেখানে একজন মুসলিম কেবল আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে প্রকৃত স্বাধীনতা লাভ করে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সব দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়। বরং তিনি স্বাধীনতাকে পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গিতে বুঝেছিলেন, যা নৈতিকতা এবং খোদ ধর্ম থেকেই বিমুক্ত হওয়ার দিকে নিয়ে যেতে পারে..!

--------------------------------------------

১ একই সম্মেলনে স্টারার্ড ক্রফোর্ড বলেন: মুসলিমরা অবচেতনভাবেই খ্রিস্টীয় সভ্যতার একটি অংশ গ্রহণ করছে এবং তা তাদের সামাজিক উন্নয়নে অন্তর্ভুক্ত করছে। যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলিম জাতিগুলো ইঞ্জিলের সাথে সম্পর্কিত লক্ষ্য ও প্রবণতার দিকে ধাবিত হবে, ততক্ষণ তাদের মধ্যে অজান্তেই খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের প্রস্তুতি তৈরি হতে থাকবে। এরপর তিনি তার প্রতিবেদনের সমাপ্তিতে বলেন: মুসলিম বিশ্বের উন্নতির সময় ঘনিয়ে এসেছে এবং ইসলাম জীবন ও বিশ্বাসের একটি নতুন রূপে প্রবেশ করবে, কিন্তু এই নব্য ইসলাম সংকুচিত হয়ে খ্রিস্টধর্মের মাঝে বিলীন হয়ে যাবে। (পূর্বোক্ত সূত্রের পৃষ্ঠা ৭২, ৭৩)।

২ মুসনাদ আহমাদ, ২য় খণ্ড, ৩৪৩ পৃষ্ঠা। এটি সহিহ (صحيح), এর আরও অনেক বর্ণনা বিভিন্ন শব্দে রয়েছে, তবে মর্মার্থ একই।
(খণ্ড: ১) আসালিবুল গাযওয়িল ফিকরি লিল আলামিল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৩২)
وقس على الشيخ رفاعة1 مَنْ ذهبوا بعده.

ج- ثم تأتي سائر وسائل التبشير؛ فتح المستشفيات، وبعث الإرساليات الطبية التي يقرر كثير من المبشرين في مؤتمراتهم وكتاباتهم أنها أدت إلى نتائج أسرع وأفضل من عمل القسس التبشيرية2.

د- ثم المحاضرات والندوات، والكتب والمجلات، والصحف والنشرات.. إلخ.

مؤتمرات التبشير:

أما مؤتمرات التبشير فقد تعددت.. نذكر منها:

1- مؤتمر القاهرة سنة 1324هـ-1906م، المنعقد في منزل زعيم الثورة العرابية المسلم، في باب اللوق، تحت سمع الحكومة وبصرها!

2- مؤتمر ادنبرج سنة 1328هـ-1910م، في انجلترا.

3- مؤتمر لكنؤ سنة 1329هـ-1911م، بالهند.

4- مؤتمر القدس سنة 1343هـ-1924م.

5- مؤتمر القدس سنة 1354هـ-1935م.

6- مؤتمر القدس سنة 1380هـ-1961م.

وما بلغنا عنها إلّا القليل، واشهره ما نشرته مجلة "العالم الإسلاميّ".

--------------------------------------------

1 راجع تحليلًا رائعًا للأستاذ الدكتور محمد محمد حسين -أستاذ الأدب الحديث بجامعة الاسكندرية- في كتابه "الإسلام والحضارة الغربية" نشر دار الفتح، ط2، 1393هـ، والكتيب عبارة عن محاضرتين ألقاهما بالكويت سنة 1385هـ، وهو يتناول اثر التغريب، وله في نفس الخط مؤلَّفٌ آخر تحت عنوان: "حصوننا مهددة من الداخل" -مجموعة مقالات نشرها في مجلة الأزهر..

2 يقول الطبيب بول هاريسون في كتابه: "الطبيب في بلاد العرب" لقد وجدنا نحن في بلاد العرب لنجعل رجالها ونساءها نصارى -إبراهيم خليل أحمد- المستشرقون والمبشرون في العالم العربيّ والإسلاميّ، من مكتبة الوعي العربيّ بالقاهرة 1384هـ، ويذكر الأستاذ أبو الحسن الندوي في كتابه "الصراع بين الفكرة الإسلامية والفكرة الغربية": أن الأفغانيين الذين خلعوا ملكهم: أمان الله خان؛ لأنه سمح لزوجته أن تخرج سافرة، قبلوا بعد ذلك أن يلغوا الحجاب، وتَمَّ ذلك عن طريق المقابلات ودور الولادة الطبية التي أنشأها المبشرون.
আর শেখ রিফাআর১ ওপর তুলনা করুন তাদের ক্ষেত্রে যারা তাঁর পরে এসেছেন।

গ- এরপর ধর্মপ্রচারের অন্যান্য মাধ্যমগুলো আসে; যেমন হাসপাতাল খোলা এবং চিকিৎসা মিশন পাঠানো, যেগুলোর ব্যাপারে অনেক ধর্মপ্রচারক তাদের সম্মেলন ও লেখায় সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, এগুলো ধর্মপ্রচারক যাজকদের কাজের চেয়ে দ্রুত ও উন্নত ফল বয়ে এনেছে২।

ঘ- এরপর বক্তৃতা ও সেমিনার, বই ও সাময়িকী, এবং সংবাদপত্র ও প্রচারপত্র... ইত্যাদি।

ধর্মপ্রচার সম্মেলনসমূহ:

ধর্মপ্রচার সংক্রান্ত সম্মেলনগুলো ছিল বহুবিধ... আমরা সেগুলোর মধ্য থেকে কিছু উল্লেখ করছি:

1- কায়রো সম্মেলন ১৩২৪ হিজরি-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ, যা বাবলুল লুকে জনৈক মুসলিম উরাবি বিপ্লব নেতার বাড়িতে সরকারের প্রত্যক্ষ নজরদারিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল!

2- এডিনবরা সম্মেলন ১৩২৮ হিজরি-১৯১০ খ্রিস্টাব্দ, ইংল্যান্ডে।

3- লখনউ সম্মেলন ১৩২৯ হিজরি-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ, ভারতে।

4- কুদ্স (জেরুজালেম) সম্মেলন ১৩৪৩ হিজরি-১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ।

5- কুদ্স (জেরুজালেম) সম্মেলন ১৩৫৪ হিজরি-১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দ।

6- কুদ্স (জেরুজালেম) সম্মেলন ১৩৮০ হিজরি-১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ।

এসব সম্মেলন সম্পর্কে খুব সামান্যই তথ্য আমাদের কাছে পৌঁছেছে, আর সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো যা "আল-আলাম আল-ইসলামি" সাময়িকী প্রকাশ করেছে।

--------------------------------------------

১ আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক সাহিত্যের অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ মুহাম্মদ হুসাইনের একটি চমৎকার বিশ্লেষণ দেখুন তাঁর "ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতা" গ্রন্থে, যা দারুল ফাতহ থেকে প্রকাশিত, ২য় সংস্করণ, ১৩৯৩ হিজরি। পুস্তিকাটি মূলত ১৩৮৫ হিজরিতে কুয়েতে তাঁর দেওয়া দুটি বক্তৃতার সংকলন, যেখানে তিনি পাশ্চাত্যকরণের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। একই ধারায় তাঁর আরও একটি গ্রন্থ রয়েছে যার শিরোনাম: "হুসুনুনা মুহদ্দাদাহ মিনাদ দাখিল" (আমাদের দুর্গগুলো ভেতর থেকেই হুমকির মুখে) - যা আল-আযহার সাময়িকীতে প্রকাশিত তাঁর প্রবন্ধের সংকলন।

২ চিকিৎসক পল হ্যারিসন তাঁর "আরবে একজন চিকিৎসক" গ্রন্থে বলেছেন: "আমরা আরব ভূমিতে এসেছি তাদের নারী ও পুরুষদের খ্রিস্টান বানাতে" - ইবরাহিম খলিল আহমদ - "আরব ও মুসলিম বিশ্বে প্রাচ্যবিদ ও ধর্মপ্রচারকগণ", মাকতাবাতুল ওয়ায়ি আল-আরাবি, কায়রো ১৩৮৪ হিজরি। উস্তাদ আবুল হাসান আল-নাদভী তাঁর "ইসলামি ও পাশ্চাত্য চিন্তাধারার মধ্যকার দ্বন্দ্ব" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: আফগানরা যারা তাদের রাজা আমানুল্লাহ খানকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল কারণ তিনি তাঁর স্ত্রীকে পর্দা ছাড়া বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন, তারাই পরবর্তীতে পর্দা প্রথা বাতিলের বিষয়টি মেনে নিয়েছিল; আর এটি সম্পন্ন হয়েছিল ধর্মপ্রচারকদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন সাক্ষাতকার কেন্দ্র ও চিকিৎসা প্রসূতি সদনগুলোর মাধ্যমে।