القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: الديارات
المؤلف: علي بن الحسين بن محمد بن أحمد بن الهيثم المرواني الأموي القرشي، أبو الفرج الأصبهاني (ت 356هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 30
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণকাহিনী
কিতাব: আদ-দিয়ারাত
লেখক: আলী বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-হাইসাম আল-মারওয়ানি আল-উমাবি আল-কুরাশি, আবুল ফারাজ আল-আসফাহানি (মৃত্যু ৩৫৬ হিজরি)
[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত এবং মূল মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
আমি যখন ঘুমাচ্ছিলাম, তখন সেই মুসলিম ব্যক্তিটি আমার কাছে প্রবেশ করলেন এবং আমার হাত ধরলেন। তিনি আমাকে নিয়ে জান্নাতের দিকে চললেন। যখন আমি জান্নাতের দরজায় পৌঁছালাম, তখন এর রক্ষী আমাকে ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দিলেন এবং বললেন যে, কাফিরদের জন্য জান্নাত হারাম। তখন আমি তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করলাম এবং তাঁর সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করলাম। সেখানে আমি এমন সব প্রাসাদ ও গাছপালা দেখলাম যা বর্ণনা করার ক্ষমতা আমার নেই। এরপর তিনি আমাকে একটি মণি-মুক্তার তৈরি প্রাসাদে নিয়ে গেলেন এবং বললেন: "এই প্রাসাদটি আমার ও তোমার জন্য; তোমাকে ছাড়া আমি এতে প্রবেশ করব না। ইনশাআল্লাহ তাআলা, আগামী পাঁচ রাতের মধ্যে তুমি এখানে আমার কাছে থাকবে।" এরপর তিনি প্রাসাদের দরজার কাছে একটি গাছের দিকে হাত বাড়ালেন এবং সেখান থেকে দুটি আপেল ছিঁড়লেন। তিনি বললেন: "এই একটি তুমি খাও, আর অন্যটি লুকিয়ে রাখ যাতে সন্ন্যাসীরা তা দেখতে পায়।" আমি আপেলটি খেলাম এবং এর চেয়ে সুস্বাদু আর কিছু আমি কখনও দেখিনি। এরপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে বের করে নিয়ে এলেন, অবশেষে আমি আমার বাড়িতে পৌঁছে গেলাম। এরপর সেই নারী তাঁর পকেট থেকে আপেলটি বের করলেন, ফলে রাতের অন্ধকারে তা উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করতে লাগল। তারা নারীটিকে আমাদের কাছে গির্জায় নিয়ে এল এবং তার কাছে সেই আপেলটি ছিল। জান্নাতের ফলের মতো এমন কিছু আমরা কখনও দেখিনি। আমি একটি ছুরি নিয়ে আমাদের সাথীদের সংখ্যা অনুযায়ী তা টুকরো করলাম। আমরা এর স্বাদের চেয়ে সুস্বাদু এবং এর ঘ্রাণের চেয়ে উত্তম আর কিছু দেখিনি। আমরা বললাম: "হয়তো কোনো শয়তান তাকে ধর্ম থেকে বিচ্যুত করার জন্য রূপ ধারণ করে তার কাছে এসেছে।" এরপর তার পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে চলে গেল। এরপর সে পানাহার থেকে বিরত থাকল। যখন পঞ্চম রাত এল, সে তার বিছানা থেকে উঠল এবং বাড়ি থেকে বের হয়ে সেই কবরের কাছে গেল। সে নিজেকে কবরের ওপর সঁপে দিল এবং মৃত্যুবরণ করল। তার পরিবারের কেউ এ খবর জানতে পারল না। যখন সকাল হলো, গ্রামে দুজন মুসলিম বৃদ্ধ এলেন, যাঁদের পরনে ছিল পশমি কাপড়, আর তাঁদের সঙ্গে তেমনি দুজন নারীও ছিলেন। তাঁরা বললেন: "তোমাদের এখানে আল্লাহর এক ওলী রয়েছেন যিনি মুসলিম হয়ে মারা গেছেন, তোমাদের পরিবর্তে আমরাই তাঁর দায়িত্ব পালন করব।" গ্রামের লোকেরা সেই নারীটিকে খুঁজতে লাগল এবং তাঁকে কবরের ওপর মৃত অবস্থায় পেল। তারা বলল: "এ তো আমাদের সঙ্গিনী, সে আমাদের ধর্মেই মারা গেছে এবং আমরাই তাঁর সৎকার করব।" ফলে তাদের মধ্যে প্রচণ্ড বিবাদ ও কলহ শুরু হলো। তখন দুই বৃদ্ধের একজন বললেন: "তাঁর ইসলাম গ্রহণের নিদর্শন হলো এই যে, গির্জার 'চল্লিশজন' সন্ন্যাসী একত্রিত হয়ে তাঁকে কবর থেকে টেনে সরাবে; যদি সে তাদের সাথে চলে আসে তবে সে খ্রিস্টান। আর আমাদের পক্ষ থেকে একজন এগিয়ে আসবে এবং তাঁকে টানবে; যদি সে তাঁর সাথে চলে আসে তবে সে মুসলিম।" গ্রামের লোকেরা এতে রাজি হলো। গির্জার চল্লিশজন সন্ন্যাসী একত্রিত হলো এবং আমরা তাঁকে বহন করার জন্য আসলাম, কিন্তু আমরা তাঁকে নড়াতে পারলাম না। আমরা তাঁর কোমরে একটি মোটা দড়ি বাঁধলাম এবং 'চল্লিশজন সন্ন্যাসী' মিলে তাঁকে টানলাম, কিন্তু দড়ি ছিঁড়ে গেল তবুও তিনি নড়লেন না। এরপর গ্রামের লোকেরা এগিয়ে এল এবং তারাও একই কাজ করল, কিন্তু তিনি নিজ স্থান থেকে বিন্দুমাত্র নড়লেন না। যখন আমরা সব কৌশল অবলম্বন করেও তাঁকে বহন করতে অক্ষম হলাম, তখন আমরা সেই দুই বৃদ্ধের একজনকে বললাম, "আপনি এগিয়ে আসুন এবং তাঁকে বহন করুন।" তিনি এগিয়ে গিয়ে তাঁর চাদর দিয়ে তাঁকে টানলেন এবং বললেন: "পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিল্লাতের ওপর।" এরপর তিনি তাঁকে নিজের কোলে তুলে নিলেন এবং সেখানকার একটি গুহার দিকে নিয়ে গেলেন। সেখানে তাঁকে রাখলেন। এরপর সেই দুই নারী এসে তাঁকে গোসল করালেন এবং কাফন পরালেন। তারপর দুই বৃদ্ধ তাঁকে বহন করলেন এবং তাঁর জানাজা পড়লেন। তাঁরা সেই যাহিদ (তপস্বী) ব্যক্তির কবরের পাশেই তাঁকে দাফন করলেন। আমরা এসব চাক্ষুষ দেখে ফিরে আসলাম। যখন আমরা নিজেরা একান্তে বসলাম, তখন বললাম: "সত্যই অনুসরণের অধিক যোগ্য। চাক্ষুষ দেখা ও প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে সত্য আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। ইসলাম ধর্মের সত্যতার ওপর আমরা যা দেখেছি তার চেয়ে স্পষ্ট কোনো প্রমাণ আর নেই।" এরপর আমি এবং গির্জার সেই 'চল্লিশজন' সন্ন্যাসীসহ গ্রামের সকল লোক ইসলাম গ্রহণ করলাম। এরপর আমরা 'জাজিরা' অঞ্চলে খবর পাঠালাম একজন আলেম ফকীহকে ডাকার জন্য, যিনি আমাদের ইসলামের শরীয়ত ও দ্বীনের বিধান শিক্ষা দেবেন। তখন আমাদের কাছে একজন নেককার ফকীহ ব্যক্তি এলেন এবং আমাদের ইবাদতের নিয়ম ও ইসলামের বিধান শিক্ষা দিলেন। আজ আমরা অনেক কল্যাণের ওপর রয়েছি। এর জন্য আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ প্রাপ্য।
বুলস মঠরামলার বুলস মঠ। আবু আল-ফারাজ বলেন: এটি রামলা অঞ্চলের একটি স্থান।আল-হালাবি আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে বলেছেন: আমি ফজল ইবনে ইসমাইল ইবনে সালিহ ইবনে আলি ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের সঙ্গে বুলস মঠে যাত্রাবিরতি করলাম, তখন আমরা রামলার দিকে যাচ্ছিলাম। সেখানে তিনি এক রূপবতী তরুণীকে দেখলেন, যে সেখানকার এক পাদ্রীর কন্যা ছিল। সে তিন দিন তাঁর সেবা করল এবং তাঁকে পুরাতন সুরা পান করাল। যখন তিনি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন তাকে দশ দিনার দান করলেন এবং পথে চলতে চলতে বললেন:তোমার ওপর আল্লাহর সালাম বর্ষিত হোক হে মঠ! এমন এক যুবকের পক্ষ থেকে ... যার প্রাণে তোমার জন্য সুদীর্ঘ তৃষ্ণা রয়েছে।সিমাকাইন নক্ষত্রের বৃষ্টি যেন সর্বদা তোমার ওপর বর্ষিত হয় ... যা তোমার মাটিকে সিক্ত করবে অবিরাম ধারায়।মেঘ যেন সময়ের ব্যবধানে বারবার তোমাকে সিক্ত করে ... যা বাগানসমূহকে সজীব করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।যখন সেই মেঘের অশ্রু জমিনকে সিক্ত করে, তখন এক এমন দৃশ্যের উদয় হয় ... যা দর্শকদের চোখের জন্য অত্যন্ত নয়নাভিরাম।কত অন্ধকার রাত আমি বিদীর্ণ করেছি ... অথচ আমার সাথে তলোয়ার ছাড়া অন্য কোনো বন্ধু ছিল না।আমি আমার সঙ্গীদের জন্য এক শীতল সুরা প্রজ্বলিত করেছি ... যার প্রদীপ কখনও নিভে যায় না।এক লাবণ্যময়ী তন্বী আমাকে সুরা পান করিয়ে আপ্যায়ন করে ... যাকে হৃদয়ের অভিভাবক বলে মনে হয়।যখন তার চোখের পলক হৃদয়ের মাঝে বিচরণ করে ... তখন তার মাঝে যেন মৃত্যুর দূতরা ঘুরে বেড়ায়।হে মঠের পাদ্রীর কন্যা! আমার হৃদয় তোমার জন্য ব্যাকুল ... আর তুমি দূরে যাওয়ার পর থেকে আমার শরীর রুগ্ন হয়ে পড়েছে।এই মঠ সম্পর্কে আবু শআস বলেন: