(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: -)
رسل الملوك ومن يصلح للرسالة والسفارة   (القاضي أبو يعلى ابن الفراء)

القسم: السياسة الشرعية والقضاء


الكتاب: رسل الملوك ومن يصلح للرسالة والسفارة

المؤلف: القاضي أبو يعلى، محمد بن الحسين بن محمد بن خلف المعروف بـ ابن الفراء (ت 458هـ)

المحقق: د. صلاح الدين المنجد

الناشر: دار الكتاب الجديد - بيروت

الطبعة: الثانية، 1392 هـ، 1972 م

عدد الصفحات: 96

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রাজন্যবর্গের দূত এবং যারা দূতিয়ালি ও কূটনৈতিক বার্তার উপযুক্ত   (আল-কাদি আবু ইয়ালা ইবনুল ফারা)

বিভাগ: শরিয়া রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থা


গ্রন্থ: রাজন্যবর্গের দূত এবং যারা দূতিয়ালি ও কূটনৈতিক বার্তার উপযুক্ত

লেখক: আল-কাদি আবু ইয়ালা, মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন খালাফ, যিনি ইবনুল ফারা নামে পরিচিত (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরি)

সম্পাদক: ড. সালাহউদ্দিন আল-মুনাজ্জিদ

প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-জাদিদ - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৯২ হিজরি, ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
الْحَمد لله الَّذِي اتخذ الْحَمد لنَفسِهِ لينيل بِهِ ثَوابًا عباده فَفتح بِهِ كِتَابه وَختم بِهِ دُعَاء اهل جنته فَقَالَ فِي كِتَابه {أَن الْحَمد لله رب الْعَالمين} وَصلى الله على اكرم رَسُول جَاءَ بالحكمة وَالْمَوْعِظَة الْحَسَنَة هاديا لَهُم الى طَاعَته وذائدا لَهُم عَن مَعَاصيه مُحَمَّد النَّبِي وَآله الطاهرين وَسلم تَسْلِيمًا

سَأَلتنِي ايدك الله ان ابين لَك فضل الرُّسُل وَمن يصلح للرسالة والسفارة وَمن امْر من الْمُلُوك والاوائل والحكماء الافاضل بإرسال رَسُول وَمن نهى عَن ذَلِك وَكَيف تكون صفة الرُّسُل وَمَا يَنْبَغِي لمن ارسل لملك اذا كَانَ منازلا لملك ان يعْمل فِي الِاحْتِيَاط لنَفسِهِ وَلمن ارسله وَمن حمد على قديم الْوَقْت من الرل وَمن ذمّ وَمَا قَالَت الْحُكَمَاء والبلغاء وَالشعرَاء فِي ذَلِك وَمَا ورد من ذكر الرَّسُول فِي كتاب الله الْعَظِيم الَّذِي لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِل من بَين يَدَيْهِ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রশংসাকে স্বীয় সত্তার জন্য গ্রহণ করেছেন যেন এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের প্রতিদান প্রদান করতে পারেন। তিনি তাঁর কিতাব এর মাধ্যমেই আরম্ভ করেছেন এবং জান্নাতবাসীদের দোয়ার সমাপ্তিও এর দ্বারা রেখেছেন। তিনি তাঁর কিতাবে বলেছেন, {নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য}। আর দরুদ ও অজস্র সালাম বর্ষিত হোক সেই মহান রাসূলের প্রতি, যিনি হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে পথপ্রদর্শক এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বাধাদানকারী হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন; তিনি হলেন নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পবিত্র বংশধরগণ।

আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন; আপনি আমার কাছে রাসূলগণের শ্রেষ্ঠত্ব এবং বার্তা বহন ও দূতিয়ালির জন্য কারা যোগ্য, সে সম্পর্কে বর্ণনা করার অনুরোধ করেছেন। সেইসাথে প্রাচীন রাজা-বাদশাহ ও শ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞাবানদের মধ্য থেকে কারা দূত প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং কারা এ থেকে নিষেধ করেছেন, দূতগণের বৈশিষ্ট্য কেমন হওয়া উচিত এবং কোনো বাদশাহর কাছে প্রেরিত দূত যখন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বাদশাহর সম্মুখীন হন, তখন নিজের ও প্রেরকের সুরক্ষায় তাঁর সতর্কতা (احتياط) অবলম্বনের পদ্ধতি কী হওয়া উচিত—তাও জানতে চেয়েছেন। এছাড়া অতীতকালে দূতদের মধ্যে কারা প্রশংসিত এবং কারা নিন্দিত হয়েছেন, এ বিষয়ে প্রজ্ঞাবান, বাগ্মী ও কবিগণ কী বলেছেন এবং আল্লাহর মহান কিতাবে—যাকে কোনো মিথ্যা (باطل) অগ্র বা পশ্চাৎ থেকে স্পর্শ করতে পারে না—তাতে দূত প্রেরণের বিষয়ে কী বর্ণিত হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন।
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وَلَا من خَلفه تَنْزِيل من حَكِيم حميد وَمن خَان ملكه لمتعجل بر اَوْ فَائِدَة وَمَا جازاه بِهِ مرسله على ذميم فعله وَمن رسل برسالة غَلِيظَة فأداها وَالْوَجْه الَّذِي بِهِ احتال الى ان نجا من شَرّ مَا حمله وَمن نصح من الرُّسُل لملكه وزانه برسالته وَرفع من ملكه ببيانه وَعبارَته فأدبتك الى سؤالك اعْتِمَادًا مني لمسرتك وعلما انك غَنِي عَن يسير مَا اعْلَم بِكَثِير مَا تعلم آخِذا بالادب فِي مسارعتي الى الامر والى الله ارغب فِي الْهِدَايَة والتوفيق برحمته

...এবং তার পশ্চাৎ থেকেও নয়; (এটি) প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আর যে ব্যক্তি কোনো ক্ষণস্থায়ী পুণ্য বা উপকারের লোভে তার বাদশাহর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল এবং তার প্রেরক (مرسل) তার সেই নিন্দনীয় কাজের জন্য তাকে যে প্রতিফল প্রদান করল; আর যাকে কোনো কঠোর বার্তা দিয়ে পাঠানো হয়েছিল এবং সে তা যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছে; এবং সে যে কৌশলে তার বহনকৃত বার্তার অনিষ্ট থেকে মুক্তি পেল; আর বার্তাবাহকদের মধ্যে যারা তাদের বাদশাহর প্রতি একনিষ্ঠ ছিল এবং নিজের বার্তার মাধ্যমে তাকে সুশোভিত করেছিল এবং নিজের প্রাঞ্জল বর্ণনা ও অভিব্যক্তির মাধ্যমে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিল—আমি আপনার সন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রবৃত্ত হয়েছি। আমি জানি যে, আপনার বিপুল জ্ঞানের তুলনায় আমার এই সামান্য জ্ঞান নিতান্তই নগণ্য; তথাপি নির্দেশ পালনে ক্ষিপ্রতা প্রদর্শনের মাধ্যমে আমি শিষ্টাচারই অবলম্বন করেছি। আর আল্লাহর নিকট আমি তাঁর রহমতে হেদায়েত ও তাওফিক কামনা করি।

(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
الْبَاب الأول

 

‌‌أذكر فِيهِ مَا جَاءَ فِي كتاب الله عز وجل من ذكر الرُّسُل

 

‌‌وَوُجُوب حق تعظيمهم والانقياد إِلَيْهِم

 

قَالَ الله تَعَالَى {كَمَا أرسلنَا فِيكُم رَسُولا مِنْكُم يَتْلُو عَلَيْكُم آيَاتنَا ويزكيكم ويعلمكم الْكتاب وَالْحكمَة ويعلمكم مَا لم تَكُونُوا تعلمُونَ}

وَقَالَ تبَارك اسْمه {رسلًا مبشرين ومنذرين لِئَلَّا يكون للنَّاس على الله حجَّة بعد الرُّسُل}

وَقَالَ عز من قَائِل يَا أَيهَا النَّاس قد جَاءَكُم رَسُولنَا يبين لكم على فَتْرَة من الرُّسُل أَن تَقولُوا مَا جَاءَنَا من بشيرٍ وَلَا نذيرٍ فقد جَاءَكُم بشيرٌ ونذيرٌ وَالله على كل شيءٍ قدير

وَقَالَ تَعَالَى إِنَّا أَرْسَلْنَاك بِالْحَقِّ بشيرا وَنَذِيرا وَلَا تسْأَل عَن أَصْحَاب الْجَحِيم
প্রথম অধ্যায়

 

‌‌এতে আমি মহান আল্লাহর কিতাবে রাসুলগণের আলোচনা সংক্রান্ত যা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করব

 

‌‌এবং তাঁদের সম্মান ও মর্যাদার আবশ্যকতা ও তাঁদের আনুগত্য করার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে

 

মহান আল্লাহ বলেন, {যেমন আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের নিকট একজন রাসুল পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তোমাদেরকে পবিত্র করেন এবং তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; আর তোমাদেরকে এমন বিষয় শিক্ষা দেন যা তোমরা জানতে না।}

মহান আল্লাহ আরও বলেন, {আমি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসুলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রাসুলদের আগমনের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত অবশিষ্ট না থাকে।}

মহান সত্তা আরও বলেন, হে লোকসকল! তোমাদের নিকট আমার রাসুল এসেছেন, যিনি রাসুলদের আগমনের দীর্ঘ বিরতির পর তোমাদের নিকট (দ্বীনের বিষয়সমূহ) বর্ণনা করছেন, যাতে তোমরা এ কথা বলতে না পার যে, আমাদের নিকট কোনো সুসংবাদদাতা কিংবা সতর্ককারী আসেনি। এখন তো তোমাদের নিকট সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এসেছেন; আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি; আর জাহান্নামীদের সম্পর্কে তোমাকে কোনো প্রশ্ন করা হবে না।
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَقَالَ تَعَالَى {وَمَا أَرْسَلْنَاك إِلَّا رَحْمَة للْعَالمين}

وَقَالَ تَعَالَى فِي أَنه لَا يجوز أَن يُرْسل إِلَى أمة إِلَّا مِنْهُم من يفهم لغتهم وَمن هُوَ دربٌ بهَا فَهُوَ أحج عَلَيْهِم {وَمَا أرسلنَا من رسولٍ إِلَّا بِلِسَان قومه ليبين لَهُم}

وَقَالَ تَعَالَى {إِنَّا أرسلنَا إِلَيْكُم رَسُولا شَاهدا عَلَيْكُم كَمَا أرسلنَا إِلَى فِرْعَوْن رَسُولا فعصى فِرْعَوْن الرَّسُول فأخذناه أخذا وبيلاً}

وَقَالَ تَعَالَى {فعصوا رَسُول رَبهم فَأَخذهُم أَخْذَة رابية}

وَقَالَ تَعَالَى {إِنَّا أَرْسَلْنَاك شَاهدا وَمُبشرا وَنَذِيرا وداعياً إِلَى الله بِإِذْنِهِ وسراجاً منيراً}

‌‌أَسمَاء رسل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم

 

ارسل جرير بن عبد الله إِلَى ذِي الكلاع وَأرْسل إِلَى جبلة بن الْأَيْهَم شُجَاع بن وهب الْأَسدي قَالَ الْوَاقِدِيّ بل إِلَى شمر بن الْحَارِث بن أبي شمر وَأرْسل إِلَى الْمُقَوْقس صَاحب مصر
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, {আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।}

মহান আল্লাহ এ প্রসঙ্গে আরও ইরশাদ করেন যে, কোনো জাতির নিকট তাদের মধ্য হতে এমন কাউকে ব্যতিরেকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করা সমীচীন নয়, যিনি তাদের ভাষা বোঝেন এবং তাতে পারদর্শী; যাতে তাদের বিরুদ্ধে দলিল সুপ্রতিষ্ঠিত হয়: {আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর নিজ জাতির ভাষাভাষী করে প্রেরণ করেছি, যাতে তিনি তাদের নিকট সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন।}

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, {আমি তোমাদের নিকট একজন রাসূলকে তোমাদের জন্য সাক্ষী হিসেবে প্রেরণ করেছি, যেমন আমি ফেরাউনের নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর ফেরাউন সেই রাসূলকে অমান্য করল, ফলে আমি তাকে অত্যন্ত কঠোরভাবে পাকড়াও করলাম।}

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, {অতঃপর তারা তাদের রবের রাসূলকে অমান্য করল, ফলে তিনি তাদেরকে অত্যন্ত কঠোরভাবে পাকড়াও করলেন।}

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, {আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে।}

‌‌আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দূতগণের (رسل) নামসমূহ

 

তিনি জারির বিন আবদুল্লাহকে যুল কিলা-এর নিকট প্রেরণ করেন; এবং জাবালা বিন আয়হামের নিকট শুজা বিন ওয়াহাব আল-আসাদিকে প্রেরণ করেন। আল-ওয়াকিদি বলেন, বরং তিনি শামির বিন আল-হারিস বিন আবি শামিরের নিকট পাঠিয়েছিলেন; এবং তিনি মিশরের অধিপতি মুকাউকিসের নিকট প্রেরণ করেন।
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
حَاطِب بن أبي بلتعة حَلِيف بني أَسد فَأكْرمه وَوَصله وَبعث إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بمارية أم إِبْرَاهِيم صلى الله عليه وسلم وَمَعَهَا خصيٌ وَأُخْتهَا أم عبد الرَّحْمَن بن حسان بن ثَابت وببغلته دُلْدُل وَحِمَاره يَعْفُور وَأرْسل عَمْرو بن الْعَاصِ إِلَى جَيْفَر وَعبد ابْني الجلندي بن المستكبر الأزديين بعمان فَأَسْلمَا وغلبا

হাতেব বিন আবি বালতাআ, যিনি বনি আসাদের মিত্র (حليف) ছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে সম্মানিত করলেন এবং উপঢৌকন প্রদান করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ইব্রাহিম-এর মাতা মারিয়া-কে প্রেরণ করলেন। তাঁর সাথে একজন নপুংসক (خصي) এবং তাঁর বোন ছিলেন, যিনি হাসসান বিন সাবিতের পুত্র আব্দুর রহমানের মাতা। এছাড়াও তিনি তাঁর খচ্চর দুলদুল এবং গাধা ইয়াফুর প্রেরণ করেছিলেন। আর তিনি আমর ইবনুল আস-কে ওমানের আযদি গোত্রীয় আল-জুলান্দা বিন আল-মুসতাকবিরের দুই পুত্র জায়ফার ও আব্দ-এর নিকট প্রেরণ করলেন। অতঃপর তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং প্রাধান্য লাভ করলেন।

(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
على عمان وارسل دحْيَة بن خَليفَة الْكَلْبِيّ إِلَى قَيْصر ملك الرّوم فَأخذ كتاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَوَضعه على خاصرته وَوصل دحْيَة وَقَالَ لَو كَانَ فِي بلادي لأتبعته ونصرته وَأرْسل عَمْرو بن أُميَّة الضمرِي إِلَى النَّجَاشِيّ وَأرْسل سليط بن عَمْرو أَخا عَامر بن لؤَي إِلَى أهل الْيَمَامَة قَالَ الْوَاقِدِيّ وَأرْسل إِلَى هَوْذَة بن عَليّ الْحَنَفِيّ وَأرْسل الْعَلَاء بن الْحَضْرَمِيّ حَلِيف بني أَسد إِلَى الْمُنْذر بن سَاوَى الْعَبْدي وَأهل الْبَحْرين وَكتب إِلَى الْمُنْذر كتابا فأسلموا وبعثوا بخراجهم

وَكَانَ أول مَا ورد الْمَدِينَة خراج الْبَحْرين وَهُوَ سَبْعُونَ الف دِرْهَم وَبعث الْمُهَاجِرين بن أبي أُميَّة المَخْزُومِي إِلَى الْحَارِث بن عبد
...ওমান অভিমুখে এবং দাহ্ইয়া ইবনে খলিফা আল-কালবি-কে রোম সম্রাট কায়সারের নিকট প্রেরণ করলেন। অতঃপর তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্রখানি গ্রহণ করলেন এবং তা নিজের পার্শ্বদেশে রাখলেন। তিনি দাহ্ইয়াকে উপঢৌকন প্রদান করলেন এবং বললেন, "যদি তিনি আমার দেশে থাকতেন, তবে আমি অবশ্যই তাঁর অনুসরণ করতাম এবং তাঁকে সাহায্য করতাম।" তিনি আমর ইবনে উমাইয়া আদ-দামরি-কে নাজ্জাশির নিকট এবং আমির ইবনে লুয়াই-এর ভ্রাতা সালিত ইবনে আমর-কে ইয়ামামাবাসীদের নিকট প্রেরণ করলেন। ওয়াকিদি বলেন, তিনি হাওজাহ ইবনে আলি আল-হানাফির নিকটও দূত প্রেরণ করেছিলেন। আর বনু আসাদের মিত্র আল-আলা ইবনুল হাজরামি-কে আল-মুনজির ইবনে সাওয়া আল-আবদি ও বাহরাইনবাসীদের নিকট প্রেরণ করলেন। তিনি মুনজিরের নিকট একখানা পত্র লিখলেন, ফলে তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তাঁদের ভূমি-কর প্রেরণ করলেন।

মদিনায় সর্বপ্রথম যে ভূমি-কর পৌঁছেছিল তা ছিল বাহরাইনের ভূমি-কর, যার পরিমাণ ছিল সত্তর হাজার দিরহাম। তিনি মুহাজির ইবনে আবি উমাইয়া আল-মাখজুমি-কে হারিস ইবনে আবদ...-এর নিকট প্রেরণ করলেন।
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
كلال الْحِمْيَرِي ملك وَأرْسل عبد الله بن حذافة السَّهْمِي إِلَى كسْرَى بن هُرْمُز فَلَمَّا قَرَأَ كتاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ بَدَأَ باسمه قبلي وَقد كِتَابه سيوراً فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اللَّهُمَّ مزق فَارس كل ممزق فَمَا أفلحوا بعد دَعْوَة رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
কালাল আল-হিময়ারি ছিলেন একজন রাজা। আর (আল্লাহর রাসূল) আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা আস-সাহমিকে কিসরা ইবনে হুরমুজের নিকট প্রেরণ করলেন। যখন সে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পত্রটি পাঠ করল, তখন সে বলল, "সে আমার পূর্বে নিজের নাম দিয়ে শুরু করেছে" এবং সে তাঁর পত্রটিকে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "হে আল্লাহ! আপনি পারস্যকে সম্পূর্ণরূপে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিন।" আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই বদদোয়ার পর তারা আর কখনোই সফল হতে পারেনি।
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الْبَاب الثَّانِي

 

‌‌أذكر فِيهِ لم أرسل الله تَعَالَى الْبشر إِلَى الْبشر دون أَن يَجْعَل رسله

 

‌‌مَلَائِكَة أَو غَيرهم من خلقه وَوجه الْفَائِدَة فِي ذَلِك

 

قد كَانَ فِي قدرَة الله جلّ وَعلا أَن يلقِي فِي قُلُوب الْأُمَم الْإِيمَان ويوفقهم لما يرضاه من الشَّرَائِع والأديان من غير أَن يبْعَث فيهم الرُّسُل ويعرفهم الْآيَات وَالنّذر وَلكنه تبَارك اسْمه الْعَظِيم لرأفته بهم وإحسانه إِلَيْهِم بعث فيهم من أنفسهم من يخاطبهم بألسنتهم ويهديهم لمراشدهم عاطفاً عَلَيْهِم بالمجانسة ورؤوفاً بهم لِلْقَرَابَةِ قَالَ الله تَعَالَى جده {لقد جَاءَكُم رسولٌ من أَنفسكُم عَزِيز عَلَيْهِ مَا عنتم حريصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رؤوف رَحِيم}

الْبَاب الثَّالِث

 

‌‌أذكر فِيهِ مَا أوجبه الله تَعَالَى على مخالفي الرُّسُل من الْعَذَاب

 

قَالَ سُبْحَانَهُ {وَمَا كُنَّا معذبين حَتَّى نبعث رَسُولا}

وَقَالَ جلّ اسْمه {وَمَا كَانَ رَبك مهلك الْقرى حَتَّى يبْعَث فِي أمهَا رَسُولا}

وَأوجب سُبْحَانَهُ الْعَذَاب عِنْد عصيان الرَّسُول فَقَالَ تبَارك اسْمه {كَمَا أرسلنَا إِلَى فِرْعَوْن رَسُولا فعصى فِرْعَوْن الرَّسُول فأخذناه أخذا وبيلاً}

وَقد فضل الله سُبْحَانَهُ الْمُرْسلين من أنبيائه على غير الْمُرْسلين لتبليغ الرسَالَة وَتحمل ثقل الْأَمَانَة وَالصَّبْر على أَذَى الْكَافرين وَتَكْذيب الجاحدين

وَمن أخص الْمنَازل عِنْد الْمُلُوك وألطفها وَأقرب الْأَسْبَاب مِنْهَا وأوصلها منزلَة المترسل بَينهَا وَبَين أضدادها
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

 

‌‌এতে আমি উল্লেখ করব কেন আল্লাহ তাআলা মানুষের কাছে মানুষের মধ্য থেকেই রাসূল পাঠালেন, তাঁর বার্তাবাহকদের

 

‌‌ফেরেশতা বা তাঁর অন্য কোনো সৃষ্টির মধ্য থেকে নির্ধারণ না করে, এবং এর পেছনের কল্যাণকর রহস্যসমূহ

 

আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার অসীম কুদরতের মধ্যে এটি অবশ্যই ছিল যে, তিনি রাসূলদের না পাঠিয়ে এবং নিদর্শনসমূহ ও সতর্কবাণী সম্পর্কে অবহিত না করেই জাতিসমূহের অন্তরে ঈমান ঢেলে দিতে পারতেন এবং তাঁর সন্তোষজনক শরিয়ত ও দ্বীনের ওপর চলার তাওফিক দান করতে পারতেন। কিন্তু তাঁর মহান নাম বরকতময় হোক, তিনি বান্দাদের প্রতি তাঁর মমতা ও অনুগ্রহের কারণে তাদের মধ্য থেকেই এমন রাসূল পাঠিয়েছেন যিনি তাদের ভাষায় তাদের সাথে সম্বোধন করেন এবং তাদেরকে সঠিক পথের দিশা দেন; তাদের সমজাতীয় হওয়ার কারণে তিনি তাদের প্রতি মমতাশীল এবং নিকটাত্মীয় হওয়ার কারণে দয়াশীল। আল্লাহ তাআলা (যাঁর মহিমা সুউচ্চ) ইরশাদ করেছেন: “তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের কষ্ট হওয়া যাঁর কাছে দুঃসহ, যিনি তোমাদের কল্যাণকামী এবং মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত দয়াশীল ও পরম করুণাময়।”

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

 

‌‌এতে আমি উল্লেখ করব রাসূলদের বিরোধিতাকারীদের ওপর আল্লাহ তাআলা যে আজাব অবধারিত করেছেন

 

তিনি সুবহানাহু ইরশাদ করেছেন: “আর আমি ততক্ষণ পর্যন্ত শাস্তি প্রদান করি না, যতক্ষণ না কোনো রাসূল প্রেরণ করি।”

তাঁর মহান সত্তা ইরশাদ করেছেন: “আপনার প্রতিপালক জনপদসমূহ ধ্বংস করেন না, যতক্ষণ না তার প্রধান কেন্দ্রে কোনো রাসূল প্রেরণ করেন।”

আর তিনি সুবহানাহু রাসূলের অবাধ্যতার ক্ষেত্রে আজাব অবধারিত করেছেন, তাই তাঁর নাম বরকতময় হোক, তিনি ইরশাদ করেছেন: “যেমন আমি ফেরাউনের নিকট রাসূল পাঠিয়েছিলাম। অতঃপর ফেরাউন সেই রাসূলের অবাধ্য হলো, ফলে আমি তাকে অত্যন্ত কঠোরভাবে পাকড়াও করলাম।”

আর আল্লাহ সুবহানাহু তাঁর নবীদের মধ্য থেকে যারা প্রেরিত (مرسل), তাদেরকে যারা প্রেরিত (مرسل) নন তাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন রিসালাতের বাণী পৌঁছে দেওয়া, আমানতের গুরুভার বহন করা এবং কাফেরদের পক্ষ থেকে আসা কষ্ট ও অস্বীকারকারীদের মিথ্যারোপের ওপর ধৈর্য ধারণ করার কারণে।

আর রাজন্যবর্গের নিকট সবচেয়ে বিশেষ ও সূক্ষ্ম মর্যাদা এবং সবচেয়ে নিকটতম ও শক্তিশালী মাধ্যম হলো সেই ব্যক্তির মর্যাদা, যে তাদের ও তাদের প্রতিপক্ষের মাঝে দূতিয়ালী (مترسل) করে।
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الْبَاب الرَّابِع

 

‌‌أذكر فِيهِ أَن الْكتاب مَقْصُور على مَعْنَاهُ الَّذِي يتضمنه لَا يتعداه إِلَى

 

‌‌غَيره وَأَن الرَّسُول يتَصَرَّف فِي مَذَاهِب الْحجَّة وأبرهن أَن الْكتاب

 

‌‌يَد وَالرَّسُول لِسَان وَأَن الْوَاجِب على الْمُلُوك أَن يقرنوا كتبهمْ

 

‌‌بالرسل لما فِي ذَلِك من كَمَال الْفَائِدَة وَوُجُوب الْحجَّة ولقطع الرَّسُول

 

‌‌الْأَمر إِذا كَانَ مَأْمُورا من غير مُرَاجعَة وَلَا يحْتَاج إِلَى اسْتِئْذَان مرسله

 

قَالَ الْحَكِيم الْكتاب يدٌ وَالرَّسُول لِسَان

وَقَالَ غَيره الْكتاب مقصورٌ على مَعْنَاهُ الَّذِي يتضمنه لَا يتعداه إِلَى غَيره وَلِلرَّسُولِ أَن يتَصَرَّف فِي أنحاء الْحجَّة ويتأتى لنظم الألفة ويحرص على دَرك البغية ويجتهد فِي نجح الطّلبَة اجْتِهَاد من يرى أَن فِي تَمام الْأَمر على يَده وانتظامه بسعيه وسفارته دَلِيلا على موقعه وتيمناً بطائره وَرُبمَا حكم الرَّسُول فِي الْأُمُور وَخير فِي التَّدْبِير على حسب مَا توجبه الْمُشَاهدَة ويستصاب فِي البدء وَالْعَاقبَة
চতুর্থ পরিচ্ছেদ (الباب)

 

‌আমি এতে উল্লেখ করছি যে, পত্র বা লিখিত বার্তা কেবল তার অন্তর্ভুক্ত অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তা অন্য কিছুতে

 

‌অতিক্রম করে না। আর বার্তাবাহক (الرسول) প্রমাণের (حجة) বিভিন্ন পন্থায় বিচরণ করেন। আমি প্রমাণ করব যে, পত্র

 

‌হলো হস্তস্বরূপ এবং বার্তাবাহক (الرسول) হলেন জিহ্বাস্বরূপ। আর রাজন্যবর্গের জন্য আবশ্যক হলো তাদের পত্রের সাথে

 

‌বার্তাবাহক (الرسول) যুক্ত করা; কারণ এতে পূর্ণ ফায়দা এবং প্রমাণের (حجة) আবশ্যকতা বিদ্যমান। তদুপরি বার্তাবাহক (الرسول)

 

‌যদি আদিষ্ট হন, তবে প্রেরকের (مرسل) কাছে পুনরায় ফিরে না গিয়ে বা অনুমতি প্রার্থনা না করেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারেন।

 

হাকীম (প্রজ্ঞাবান) বলেছেন: পত্র হলো হস্ত এবং বার্তাবাহক (الرسول) হলো জিহ্বা।

অন্যরা বলেছেন: পত্র কেবল তার অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তা অন্য কিছুতে প্রসারিত হয় না। পক্ষান্তরে বার্তাবাহকের (الرسول) অধিকার রয়েছে প্রমাণের (حجة) নানাবিধ দিক নিয়ে কাজ করার, সম্প্রীতি স্থাপনের পথ প্রশস্ত করার, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হওয়ার এবং উদ্দেশ্য সফল করার জন্য এমনভাবে প্রচেষ্টা (اجتهاد) চালানো, যেমনটি সেই ব্যক্তি করে যে মনে করে—তার হাতে কাজের পূর্ণতা লাভ এবং তার দৌত্য ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে শৃঙ্খলা বিধানই তার মর্যাদার দলিল এবং সৌভাগ্যের লক্ষণ। অনেক সময় বার্তাবাহক (الرسول) পরিস্থিতির চাক্ষুষ দাবি অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন এবং শুরু ও পরিণতির কল্যাণ বিবেচনা করে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে উত্তম পন্থা বেছে নেন।
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
قَالَ بعض الادباء من الْحُكَمَاء

(لَيْسَ الْكتب ببالغٍ لَك مبلغا … حَتَّى يكون مَعَ الْكتاب رَسُول)

(مَا فِي كتابك غير مَا حَملته … لَكِن رَسُولك كَيفَ شَاءَ يَقُول)

(فَإِذا دمعتهما وَلم تفردهما … بلغ التجاح وَأدْركَ المأمول)

وَقَالَ غَيره مِمَّن يجْرِي فِي الْحِكْمَة مجْرَاه

(اقرن كتابك بالرسول فَإِنَّهُ … أقضى لما حاولت فِيهِ وأعذر)

(وَإِذا اقتصرت على الْكتاب فَإِن من … كاتبت فِي رد الْجَواب مُخَيّر)

ان آثر التَّقَدُّم فَهُوَ مقدم … أَو آثر التَّأْخِير فَهُوَ مُؤخر)

وَقَالَ حكمي الْعَرَب فِي التَّفْوِيض إِلَى الرَّسُول

(إِذا كنت فِي حَاجَة مُرْسلا … فَأرْسل حكيماً وَلَا توصه)

على أَن هَذَا الْمَذْهَب مرذول عِنْد الحزمة الألباء والمجربين الْعُقَلَاء الَّذين خبروا الْأُمُور بفطر عُقُولهمْ وأضافوا إِلَيْهِ مَا استفادوا من تجارب ايامهم
প্রাজ্ঞ সাহিত্যিকদের কেউ কেউ বলেছেন

(পত্র তোমার জন্য চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে না … যতক্ষণ না সেই পত্রের সাথে একজন বার্তাবাহক থাকে)

(তোমার পত্রে কেবল তা-ই আছে যা তুমি তাতে অর্পণ করেছ … কিন্তু তোমার বার্তাবাহক নিজের ইচ্ছেমতো কথা বলতে পারে)

(যদি তুমি এই উভয়কে একত্রিত করো এবং তাদের বিচ্ছিন্ন না করো … তবেই সাফল্য অর্জিত হবে এবং প্রত্যাশা পূরণ হবে)

প্রজ্ঞার ক্ষেত্রে অনুরূপ পথ অবলম্বনকারী অন্য একজন বলেছেন

(তোমার পত্রকে বার্তাবাহকের সাথে যুক্ত করো, কারণ তা... তোমার অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণে অধিক সক্ষম এবং অধিক যুক্তিযুক্ত)

(আর যদি তুমি কেবল পত্রের ওপর সীমাবদ্ধ থাকো, তবে তুমি যাকে... পত্র লিখেছ সে উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে ইচ্ছাধীন থাকবে)

(যদি সে দ্রুত সাড়া দিতে চায় তবে সে অগ্রগণ্য... আর যদি সে বিলম্ব করতে চায় তবে সে বিলম্বকারী)

বার্তাবাহকের ওপর দায়িত্ব অর্পণের বিষয়ে আরবের প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা বলেছেন

(যদি তুমি কোনো প্রয়োজনে কাউকে প্রেরণকারী (مرسل) হও … তবে একজন বিজ্ঞ ব্যক্তিকে প্রেরণ করো এবং তাকে কোনো বিশেষ উপদেশ দিয়ো না)

তবে এই মতাদর্শটি সেই সকল বিচক্ষণ মেধাবী এবং অভিজ্ঞ বুদ্ধিমানদের নিকট বর্জনীয়, যারা তাদের সহজাত বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমে বিষয়সমূহ অনুধাবন করেছেন এবং তার সাথে জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ শিক্ষাকে যুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
الْبَاب الْخَامِس

 

‌‌فِي نهي الرَّسُول عَن تعدِي مَا ارسل بِهِ وان يخطيء بِرَأْي الْمُرْسل

 

‌‌وَلَا يُصِيب بِرَأْيهِ وَنَهْيه عَن الْوَهم بالرسالة أَو التحريف لَهَا وَإِلَّا أحْوج

 

‌‌إِلَى رَسُول ثَان

 

أمروا بأَدَاء الرسَالَة على وَجههَا ونهوا عَن الشَّك والتحريف خيفة احتياجٍ مَا إِلَى رَسُول ثَان فَأخذ هَذَا الْمَعْنى بعض الشُّعَرَاء المجيدين والحكماء المطبوعين فَقَالَ

(إِنِّي انتدبتك للرسالة بعد مَا … دبرت أَمْرِي مبدئاً ومعاودا)

(اعْلَم بأنك إِن أضعت وصيتي … فَأَصَبْت لم أك للإصابة حامدا)

(وَإِذا أَجدت بهَا فعاقك عائق … عَمَّا أردْت بسطت عذرك جاهدا)

(إِن الرَّسُول إِذا استبد بِرَأْيهِ … وَعصى ولي الْأَمر كَانَ معاندا)

وَقَالَ بعض الشُّعَرَاء فِي سرول وهم فأحوج مرسله إِلَى رَسُول ثَان

(شَرّ الرسولين من يحْتَاج مرسله … مِنْهُ إِلَى الْعود والأمران سيان)

(لذاك مَا قَالَ أهل الْعلم فِي مثلٍ طَرِيق كل أخي جهل طَرِيقَانِ)
পঞ্চম পরিচ্ছেদ

 

‌‌দূতের প্রতি প্রেরিত বার্তার সীমা অতিক্রম করা এবং প্রেরকের মতামতের বিপরীতে ভুল করার নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে

 

‌‌এবং তার নিজস্ব অভিমত অনুযায়ী কাজ না করা এবং বার্তার ক্ষেত্রে বিভ্রম (وهم) বা তাতে বিকৃতি (تحريف) ঘটানো থেকে বারণ করা প্রসঙ্গে, অন্যথায় তা মুখাপেক্ষী করে তুলবে

 

‌‌দ্বিতীয় কোনো দূতের প্রতি

 

তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা বার্তাকে যথাযথভাবে পৌঁছে দেন এবং সংশয় ও বিকৃতি (تحريف) থেকে নিষেধ করা হয়েছে এই ভয়ে যে, পাছে দ্বিতীয় কোনো দূতের প্রয়োজন না পড়ে। কতিপয় দক্ষ কবি এবং স্বভাবজাত প্রাজ্ঞ ব্যক্তি এই বিষয়টি গ্রহণ করে বলেছেন:

(আমি তোমাকে বার্তার জন্য নিযুক্ত করেছি আমার সকল কাজ আদ্যোপান্ত সুচারুরূপে সম্পন্ন করার পর। … )

(জেনে রেখো, তুমি যদি আমার উপদেশ নষ্ট করো, তবে তুমি লক্ষ্যভেদে সঠিক হলেও আমি সে সাফল্যের প্রশংসা করব না। … )

(আর যদি তুমি তা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করো কিন্তু কোনো বাধা তোমাকে লক্ষ্যচ্যুত করে, তবে আমি তোমার ওজর গ্রহণে সাধ্যমতো সচেষ্ট থাকব। … )

(নিশ্চয়ই দূত যখন তার নিজস্ব মতামতে অটল থাকে এবং আদেশদাতার অবাধ্য হয়, তখন সে একগুঁয়ে (معاند) হিসেবে গণ্য হয়। … )

জনৈক কবি জনৈক দূতের করা বিভ্রম (وهم) প্রসঙ্গে বলেন, যার ফলে তার প্রেরককে দ্বিতীয় একজন দূতের মুখাপেক্ষী হতে হয়েছিল:

(দুই দূতের মধ্যে সেই নিকৃষ্টতম, যার কারণে প্রেরককে পুনরায় পাঠানোর প্রয়োজন হয়; আর উভয় বিষয়ই সমান। … )

(এ কারণেই জ্ঞানীরা প্রবাদে বলেছেন: প্রত্যেক মূর্খের পথ হলো দুটি পথ।)
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الْبَاب السَّادِس

 

‌‌اذكر فِيهِ كَيفَ كَيفَ يَنْبَغِي للرسول أَن يغْفل إِذا سفر بَين ملكَيْنِ وَكَانَ

 

‌‌أَحدهمَا يرعد ويبرق ويعد ويستعد ليصغر إِلَيْهِ نَفسه وَمَا أجَاب

 

‌‌بِهِ بعض الرُّسُل وَقد عوتب على أَنه لم يعر شَيْئا مِمَّا رَآهُ طرفه مِمَّا عظم

 

‌‌بِهِ فِي عين من أرسل إِلَيْهِ وَملكه

 

قَالَ الْحَكِيم

اختر لرسالتك فِي هدنتك وصلحك ومهماتك ومناظرتك والنيابة عَنْك رجلا حصيفاً بليغاً حولا قلباً قَلِيل الْغَفْلَة منتهز الفرصة ذَا رَأْي جزل وَقَول فصل ولسان لسليط وقلبٍ حَدِيد فطناً للطائف التَّدْبِير ومستقلاً لما ترجو أَو تحاول بالحزامة وإصابة الرَّأْي ومتعقباً لَهُ بالحذر والتمييز سامياً إِلَى مَا يستدعيه إِلَيْك ويستدفعه عَنْك إِن حاول جر أمرٍ احسن اتعلاقه وَإِن رام دَفعه أحسن رده حَاضر الفصاحة مبتدر الْعبارَة ظَاهر الظلاقة وثاباً على الْحجَج مبرماً لما نقض خصمك ناقضا لما
ষষ্ঠ অধ্যায়

 

‌‌এতে বর্ণিত হয়েছে যে, একজন দূতের জন্য কেমন হওয়া উচিত যখন তিনি দুইজন বাদশাহর মাঝে দূতিয়ালি করেন এবং ভ্রুক্ষেপহীনতা (غفلة) প্রদর্শন করেন; অথচ তাদের

 

‌‌একজন তর্জন-গর্জন করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে যাতে দূতের কাছে নিজেকে তুচ্ছ মনে হয়; এবং এতে আরও বর্ণিত হয়েছে

 

‌‌কিছু দূতের সেই প্রত্যুত্তর, যাদেরকে তিরস্কার করা হয়েছিল যে, তারা সেই জাঁকজমকের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি যা মূলত প্রেরিত ব্যক্তির দৃষ্টিতে তাকে ও তার রাজ্যকে মহান করে তোলার জন্য প্রদর্শিত হয়েছিল।

 

‌‌

 

বিজ্ঞজন বলেন:

আপনার দূতিয়ালি, যুদ্ধবিরতি, সন্ধি, গুরুত্বপূর্ণ কার্যাদি, বিতর্ক এবং আপনার প্রতিনিধিত্বের জন্য এমন এক ব্যক্তিকে নির্বাচন করুন যিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান, সাবলীলভাষী, তুখোড় বিচক্ষণ, যার মধ্যে উদাসীনতা (غفلة) অতি সামান্য, সুযোগসন্ধানী, সুদৃঢ় মতামতের অধিকারী, চূড়ান্ত কথা বলতে সক্ষম, প্রখর জিহ্বা ও সাহসী হৃদয়ের অধিকারী। তিনি সূক্ষ্ম ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় পটু এবং আপনার প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়তা ও সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম। তিনি সতর্কতা ও সূক্ষ্ম বিচারের (تمييز) সাথে বিষয়াদি অনুধাবন করবেন এবং যা আপনার জন্য কাম্য তা আকর্ষণ করবেন ও যা আপনার জন্য অকল্যাণকর তা প্রতিহত করবেন। যদি তিনি কোনো বিষয় এগিয়ে নিতে চান তবে তার যোগসূত্র সুন্দরভাবে স্থাপন করবেন, আর যদি কোনো বিষয় খণ্ডন করতে চান তবে তার প্রত্যাখ্যান হবে যথাযথ। তিনি উপস্থিত বাগ্মিতার অধিকারী, দ্রুত ভাবপ্রকাশে সক্ষম, সুস্পষ্ট সদালাপী এবং যুক্তির ক্ষেত্রে ক্ষিপ্র; আপনার প্রতিপক্ষ যা খণ্ডন করে তিনি তা সুসংহত করেন এবং প্রতিপক্ষ যা (সুসংহত করে তা) খণ্ডন করেন।
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
أبرم يجيل الْبَاطِل فِي شخص الْحق وَالْحق فِي شخص الْبَاطِل مَتى رام احتجاجاً عَنْك أَلد على أهل اللدد فِي مواقفه ومشاهده محتالاً فِي محاورته ومكائده جَامعا مَعَ هَذَا الْعلم الْفَرَائِض وَالسّنَن وَالْأَحْكَام وَالسير ليحتذي مِثَال من سلف فِيمَا يُورِدهُ ويصدره عَالما بأحوال الْخراج والحسابات وَسَائِر الْأَعْمَال ليناظر كلا بِحَسب مَا يرَاهُ من صَوَابه وخطائه وَليكن من أهل الشّرف والبيوتات ذَا همةٍ عالية فَإِنَّهُ لَا بُد مقتفٍ آثَار أوليته محبٌ لمناقبها مساوٍ لأَهله فِيهَا فَمَتَى اجْتمعت لَك فِيهِ هَذِه الْخِصَال فاجعله من بطانتك وأطلعه طلع أَمرك خطيره وحقيره واستشره فِي بداتك لطيفها وجليلها وَمَتى أخلت بِهِ هَذِه الْخلال كَانَت جِنَايَته عَلَيْك أعظم وَكَانَ كالسالك طَرِيقا لَا يدْرِي أَيْن يؤم مِنْهُ

وَقَالَ أَبُو زيد فِي السياسة المختصرة وَأَن يكون الَّذِي تختاره للتوجه فِي الرسائل جهر الصَّوْت حسن الرواء والمنظر مَقْبُول الشَّمَائِل حسن الْبَيَان جيد الْعبارَة حَافِظًا لما يتبلغ لؤديه على وَجهه وَلَا يمنعهُ الصدْق عَن سُلْطَانه رغبةٌ يقدمهَا فِيمَن يتَوَجَّه

তিনি একজন দৃঢ়চেতা ব্যক্তি, যিনি আপনার পক্ষ থেকে বিতর্ক করতে চাইলে বাতিলের অবয়বে সত্যকে এবং সত্যের অবয়বে বাতিলকে উপস্থাপন করার ক্ষমতা রাখেন। তিনি বিরোধীদের মোকাবিলায় অত্যন্ত কঠোর এবং তাঁর কথোপকথন ও কৌশলে অত্যন্ত নিপুণ। এই ইলমের পাশাপাশি তাঁর উত্তরাধিকার বিধি (الفرائض), সুনান, বিধানসমূহ (الأحكام) এবং সীরাত (السير) বিষয়ে গভীর জ্ঞান থাকতে হবে, যাতে তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারেন। তাঁকে ভূমিরাজস্ব (الخراج), হিসাবরক্ষণ এবং অন্যান্য দাপ্তরিক কার্যাবলীতে পারদর্শী হতে হবে, যাতে তিনি সঠিক ও ভুলের নিরিখে প্রত্যেকের সাথে বিতর্ক করতে পারেন। তাঁকে অবশ্যই উচ্চবংশীয় ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে হবে; কারণ তিনি অনিবার্যভাবে তাঁর পূর্বপুরুষদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন, তাঁদের গুণাবলীকে ভালোবাসবেন এবং নিজ বংশের মর্যাদার সমকক্ষ হবেন। যখন আপনি কারো মাঝে এই গুণাবলি পাবেন, তখন তাঁকে আপনার অন্তরঙ্গ পরামর্শদাতা হিসেবে গ্রহণ করুন এবং আপনার ছোট-বড় সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁকে অবগত করুন। প্রতিটি সূক্ষ্ম ও বৃহৎ পদক্ষেপে তাঁর পরামর্শ নিন। আর যখন কেউ এই গুণাবলি থেকে বঞ্চিত হবে, তখন আপনার প্রতি তার কৃত অপরাধ হবে ভয়াবহ এবং সে হবে এমন এক পথিকের ন্যায় যে জানে না সে কোন দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

আবু জাইদ ‘আল-সিয়াসা আল-মুখতাসারা’ গ্রন্থে বলেছেন, পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে দূত হিসেবে পাঠানোর জন্য আপনি যাকে নির্বাচন করবেন, তাঁর কণ্ঠস্বর হতে হবে জোরালো, অবয়ব ও চেহারা হতে হবে সুন্দর, চরিত্র হতে হবে গ্রহণযোগ্য (مقبول), বর্ণনাভঙ্গি হতে হবে সাবলীল এবং বাক্য হতে হবে চমৎকার। প্রেরিত বার্তা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি তা উত্তমরূপে মুখস্থকারী (حافظاً) হবেন। কোনো প্রকার লোভ যেন তাঁকে তাঁর সুলতানের প্রতি সত্যবাদিতা (الصدق) বজায় রাখা থেকে বিরত না রাখে, যা তিনি যাঁর কাছে প্রেরিত হয়েছেন তাঁর কাছে পেশ করবেন।

(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
إِلَيْهِ وَلَا مهانة يستشعرها فِي نَفسه وَتَقْدِيم النَّصِيحَة لرئيسه فَإِنَّهُ مَتى لم يكن المستكفى لهَذَا الْعلم وَاسْتعْمل بَابا من التحريف والتمويه فِيمَا يخْتَلف فِيهِ بَين السُّلْطَان وَبَين من يراسله ويشافهه على لِسَانه بِمَا يحْتَاج إِلَيْهِ فَإِن عدا هَذِه الصّفة وَقع فِي أَعمال السُّلْطَان بذلك أظهر خلل وَأعظم ضَرَر وَلذَلِك يجب على السائس أَن يجْتَهد فِي تخيره لهَذَا الْعَمَل من يصلح لَهُ ويستقل بِهِ ويجريه على وَجهه وَلَا يحْتَمل متوليه على تَقْصِير يَقع مِنْهُ فَيعرض أَمر السُّلْطَان لوُقُوع الْخلَل والانتشار فِيهِ

وَقَالَ غير الْبَلْخِي يكون الرَّسُول مَذْكُورا وسيماً قسيماً لَا تَقْتَحِمُهُ الْعين وَلَا يزدرى بالخبرة عفيفاً جيد اللِّسَان حسن الْبَيَان حاد الْبَصَر ذكي الْقلب يفهم الْإِيمَاء ويناظر الْمُلُوك على السوَاء فَإِنَّهُ إِنَّمَا ينْطق بِلِسَان مرسله فَإِذا ذَكرُوهُ عرف واذا نظر اليه لم يحتقر وَيجب أَن يجمل بِكُل مَا أمكن الْوَافِد والعامة ترمق الزي أَكثر مِمَّا ترمق الْكِفَايَة والسداد وَيجب أَن تزاح علله فِيمَا يحْتَاج إِلَيْهِ حَتَّى لَا تشره نَفسه إِلَى مَا يبْذل لَهُ وَيدْفَع إِلَيْهِ فَإِن الطمع يقطع الْحجَّة وَالرَّسُول أَمِين لَا أَمِين عَلَيْهِ فَيجب أَن يرتهن بِالْإِحْسَانِ إِلَيْهِ والإفضال عَلَيْهِ

وَاعْلَم أَن للرسالة حدوداً لَا يَتَّسِع تعديها وحقوقاً يلْزم الْقيام بهَا اولها إِيثَار الصدْق وتعمد النصح وَأَن يصدع بالرسالة وَله

তাঁর মনে যেন কোনো হীনম্মন্যতা বোধ না হয় এবং তিনি যেন তাঁর প্রধানকে পরামর্শ প্রদান করেন। কারণ, যাকে এই বিষয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সে যদি এর উপযুক্ত না হয় এবং সুলতান ও তাঁর সাথে পত্রবিনিময়কারী বা সরাসরি আলাপকারী ব্যক্তিদের মধ্যকার মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়গুলোতে বিকৃতি (تحريف) ও প্রতারণার (تمويه) আশ্রয় গ্রহণ করে, তবে সুলতানের কার্যাবলীতে চরম বিশৃঙ্খলা ও বড় ধরনের ক্ষতি সাধিত হবে। এজন্য শাসনকর্তার কর্তব্য হলো, এই কাজের জন্য এমন ব্যক্তিকে নির্বাচন করতে সচেষ্ট হওয়া যিনি এর যোগ্য, স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং বিষয়টিকে তার সঠিক পদ্ধতিতে পরিচালনা করতে সক্ষম। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো অবহেলার কারণে সুলতানের বিষয়াদি যেন বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতার মুখে না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

আল-বালখি ব্যতীত অন্যরা বলেছেন, দূতকে হতে হবে সুপরিচিত, সুশ্রী ও সুঠাম দেহের অধিকারী; যাতে তার দিকে তাকালে অবজ্ঞার উদ্রেক না হয় এবং অভিজ্ঞতার বিচারে তাকে তুচ্ছজ্ঞান না করা হয়। তাকে হতে হবে চারিত্রিক পবিত্রতাসম্পন্ন, সুবক্তা, প্রাঞ্জল বর্ণনাকারী, তীক্ষ্ণদৃষ্টি সম্পন্ন এবং প্রখর মেধার অধিকারী। তিনি যেন ইশারা-ইঙ্গিত বুঝতে পারেন এবং রাজাদের সাথে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বিতর্ক করতে পারেন। কারণ, তিনি মূলত তাঁর প্রেরণকারীর পক্ষ হয়ে কথা বলেন। সুতরাং যখনই তাঁর কথা আলোচনা করা হবে তিনি যেন পরিচিতি পান এবং যখনই তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করা হবে তিনি যেন অবজ্ঞার শিকার না হন। দূতের জন্য যতটা সম্ভব সৌন্দর্য ও আভিজাত্য বজায় রাখা আবশ্যক; কেননা সাধারণ মানুষ কার্যকারিতা ও সঠিকতার চেয়ে বেশভূষার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়। তাঁর প্রয়োজনীয় অভাবসমূহ দূর করা উচিত যাতে তাঁর মনে অন্যের দেওয়া সুযোগ-সুবিধার প্রতি লোভ জন্ম না নেয়। কারণ লোভ যুক্তি বা প্রমাণকে বাধাগ্রস্ত করে। আর দূত হলেন একজন বিশ্বস্ত (أمين) প্রতিনিধি, যার উপরে কোনো তদারককারী নেই; তাই তাঁর প্রতি ইহসান ও অনুগ্রহ প্রদর্শনের মাধ্যমে তাঁকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করা কর্তব্য।

জেনে রাখুন যে, দূতিয়ালির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে যা অতিক্রম করা বৈধ নয় এবং কিছু অধিকার রয়েছে যা পালন করা আবশ্যক। এর মধ্যে প্রথম হলো সত্যবাদিতা (صدق) অগ্রাধিকার দেওয়া, সুপরামর্শ প্রদানের সংকল্প করা এবং দূতিয়ালির দায়িত্ব স্পষ্টভাবে পালন করা।

(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
ان يدمج الْمَعْنى الغليظ مِنْهَا ي الْأَلْفَاظ اللينة وَأَن يتأدب بأدب الله تَعَالَى فِيمَا أدب رسله الْكِرَام حَيْثُ يَقُول {فقولا لَهُ قولا لينًا لَعَلَّه يتَذَكَّر أَو يخْشَى}

وَقَالَ شَاعِر الْعَرَب

(لينوا لنا فِي القَوْل إِنَّا معشر … نأبى مقادتنا على الإغلاظ)

(وَالله قد أَمر النَّبِي وصنوه … فِي وحيه بإلانة الْأَلْفَاظ)

وَالرَّسُول مَعَ هَذِه الْأُمُور مُحْتَاج من الْإِقْدَام والجرأة إِلَى مثل مَا يحْتَاج إِلَيْهِ من الْوَقار والركانة لِأَنَّهُ لَيْسَ على كل الطَّبَقَات يشْتَد وَلَا لكلها يلين وَرُبمَا لم يَسعهُ إِلَّا أَن يصدع بالرسالة على مَا فِيهَا فَمن لم يكن جريئاً حرفها وأخل بهَا وأفسد مَعَانِيهَا

وَحكى أَصْحَاب السّير فِيمَا نقلوه من أَخْبَار عبد الْملك ابْن مَرْوَان أَنه أرسل بعض أَصْحَابه إِلَى الْحجَّاج بن يُوسُف برسالةٍ غَلِيظَة وحذره من تعديها أَو إلانة ألفاظها فأداها وَعَاد إِلَيْهِ فَقَالَ لَهُ أدّيت مَا حَملتك قَالَ نعم يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ فَقَالَ أما لَو لم تفعل لضَرَبْت عُنُقك قَالَ الرَّسُول هَذَا عِقَاب الْمعْصِيَة فَمَا ثَوَاب الطَّاعَة فَأمر لَهُ بجائزة وحملان
কঠোর বিষয়বস্তুকে নরম শব্দের আবরণে উপস্থাপন করা এবং মহান আল্লাহর শিষ্টাচার দ্বারা সুশোভিত হওয়া, যা তিনি তাঁর সম্মানিত রাসুলদের শিক্ষা দিয়েছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: {তোমরা তার সাথে নরম কথা বলো, সম্ভবত সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় পাবে।}

আরবের এক কবি বলেছেন:

(আমাদের সাথে কথা বলার সময় নরম হও, কারণ আমরা এমন এক সম্প্রদায় … যারা কঠোরতার মাধ্যমে বশীভূত হতে অস্বীকার করি।)

(নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর ওহিতে নবি এবং তাঁর সহচরকে … শব্দ কোমল করার আদেশ দিয়েছেন।)

এই বিষয়গুলোর পাশাপাশি একজন দূতের জন্য যেমন ধৈর্য ও গাম্ভীর্যের প্রয়োজন, ঠিক তেমনি সাহস ও বীরত্বেরও প্রয়োজন। কারণ তাকে সব স্তরের (طبقات) মানুষের সাথে কঠোর হতে হয় না, আবার সবার সাথে নরমও হতে হয় না। কখনো কখনো তাকে অর্পিত বার্তাটি হুবহু স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে হয়। যে ব্যক্তি সাহসী নয়, সে বার্তার বিকৃতি ঘটায়, তাতে ত্রুটি রাখে এবং এর অর্থকে নষ্ট করে দেয়।

সীরাত রচয়িতাগণ আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের সংবাদসমূহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর এক সঙ্গীকে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের নিকট একটি কড়া বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছিলেন এবং তাকে সেই বার্তার সীমা লঙ্ঘন করতে বা শব্দ নরম করতে সতর্ক করেছিলেন। দূত সেটি পৌঁছে দিয়ে ফিরে আসলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "আমি তোমাকে যা বহন করতে দিয়েছিলাম, তা কি তুমি আদায় করেছ?" সে বলল: "হ্যাঁ, হে আমিরুল মুমিনিন।" তিনি বললেন: "শোন, যদি তুমি তা না করতে, তবে আমি তোমার শিরশ্ছেদ করতাম।" দূত বলল: "এটি তো অবাধ্যতার শাস্তি, তাহলে আনুগত্যের পুরস্কার কী?" তখন তিনি তাকে পুরস্কার ও বাহন প্রদানের আদেশ দিলেন।
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
الْبَاب السَّابِع

 

‌‌أذكر فِيهِ إِذا لم يكن الرَّسُول وقوراً ثَابت الْعقل وَورد من الْأَعْدَاء

 

‌‌على من يرعد ويبرق عَلَيْهِ وَيجمع لَهُ عدده وعدده فَأكْثر

 

‌‌الرَّسُول التلفت أهان مرسله

 

قَالَ الْمُؤلف وَمَتى لم يكن الرَّسُول وقوراً ثَابت الْعقل شجاعا وَورد من الْأَعْدَاء على من يرعد ويبرق عَلَيْهِ وَيجمع لَهُ عدده وعدده فَأكْثر الرَّسُول التلفت إِلَى ذَلِك ضعف مرسله ووهنه وأوهم الْمُرْسل إِلَيْهِ أَن صَاحبه دون قوته ومنعته

وَأورد أَصْحَاب السّير أَن رَسُولا لبَعض مُلُوك الْفرس ورد على هِشَام بن عبد الْملك وَقد كن أعد لَهُ وحشد فَلم يزدْ الرَّسُول على الإطراق وَترك التلفت وَالنَّظَر أَمَامه وَلم يعر شَيْئا مِمَّا اعد لَهُ فَقيل لَهُ ف ذَلِك فَقَالَ إِن عَيْني وقلبي مملوءان مِمَّا خلفته ورائي يشغلهما عَظِيم مَا عندنَا عَن صَغِير مَا عنْدكُمْ فَوَقع قَوْله إِلَى هِشَام فَقَالَ قَاتل الله العلج إِن صَاحبه كَانَ اعْلَم بِهِ اذا توخاه لرسالته
সপ্তম অধ্যায়

 

‌‌এতে আমি উল্লেখ করছি যে, যখন দূত গাম্ভীর্যপূর্ণ ও স্থির মস্তিষ্কের অধিকারী না হয়ে শত্রুদের এমন কারো নিকট উপস্থিত হয়

 

‌‌যে তার বিরুদ্ধে আস্ফালন ও ভয় প্রদর্শন করে এবং তার জন্য সৈন্য ও যুদ্ধ সরঞ্জাম সংগ্রহ করে, এমতাবস্থায়

 

‌‌দূতের অত্যধিক এদিক-ওদিক তাকানো তার প্রেরণকারীকে অপদস্থ করে

 

লেখক বলেন, যখনই কোনো দূত গাম্ভীর্যপূর্ণ, স্থির বুদ্ধিমান ও সাহসী না হয়ে শত্রুদের এমন কারো নিকট উপস্থিত হয় যে তার প্রতি আস্ফালন ও ভয় প্রদর্শন করে এবং তার বিরুদ্ধে সৈন্য ও যুদ্ধ সরঞ্জাম সংগ্রহ করে, এমতাবস্থায় যদি দূত অত্যধিক এদিক-ওদিক তাকায়, তবে তা তার প্রেরণকারীকে দুর্বল ও হীন প্রতিপন্ন করে এবং যার নিকট দূত পাঠানো হয়েছে তার মনে এই ধারণার উদ্রেক করে যে, দূতের অধিপতি শক্তি ও সামর্থ্যের দিক থেকে নিম্নতর।

সীরাত লেখকগণ বর্ণনা করেছেন যে, পারস্য সম্রাটদের কোনো এক সম্রাটের পক্ষ থেকে জনৈক দূত হিশাম বিন আব্দুল মালিকের দরবারে উপস্থিত হলো। হিশাম তার জন্য বিশেষ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও সৈন্য সমাবেশ করেছিলেন। কিন্তু সেই দূত মস্তক অবনত রাখা এবং এদিক-ওদিক তাকানো বর্জন করে কেবল সামনের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা ব্যতীত অতিরিক্ত কিছুই করেনি। তার জন্য যা কিছু আয়োজন করা হয়েছিল, তার প্রতি সে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করল না। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলল, "নিশ্চয়ই আমার চক্ষু ও অন্তর আমি যা পিছনে রেখে এসেছি তার (মহত্ত্বের) স্মরণে পূর্ণ হয়ে আছে; আমাদের নিকট যা আছে তার বিশালতা আপনাদের কাছে থাকা তুচ্ছ বস্তুসমূহ থেকে আমাকে বিমুখ করে রেখেছে।" তার এই উক্তি হিশামের নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন, "আল্লাহ এই আজমি লোকটিকে ধ্বংস (বিস্ময়সূচক) করুন! তার অধিপতি তাকে তার বার্তার জন্য মনোনীত করার সময় তার সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন।"
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَجَاء فِي الْخَبَر عَن سيدنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ إِذا أبردتم إِلَيّ بريداً فَلْيَكُن حسن الْوَجْه حسن الِاسْم

وَقَالَت الْحُكَمَاء ثَلَاثَة تدل على ثَلَاثَة الْهَدِيَّة على الْمهْدي وَالْكتاب على الْكَاتِب وَالرَّسُول على الْمُرْسل

وَقَالُوا رَسُول الرجل مَكَان رَأْيه وَكتابه مَكَان عقله

وَقَالَ الشَّاعِر

(تخير رَسُولك إِن الرَّسُول … يدل على عقل من أرْسلهُ)

(ترَاهُ إِذا كَانَ ذَا حِكْمَة … يبلغ أحسن مَا حمله)

(فيبرم منتقضات الْأُمُور … وَيفتح أَبْوَابهَا المقفله)

(وَيرجع إِن كَانَ ذَا غرَّة … عَلَيْهِ الامور الَّتِي هن لَهُ)
আমাদের নেতা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি বর্ণনা (خبر) বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন, "যখন তোমরা আমার নিকট কোনো সংবাদবাহক প্রেরণ করবে, তখন সে যেন সুশ্রী এবং সুন্দর নামের অধিকারী হয়।"

প্রাজ্ঞজনগণ বলেছেন: তিনটি বিষয় তিনটি জিনিসের পরিচয় বহন করে; উপহার দাতার রুচি বা অবস্থানের পরিচয় দেয়, পত্র লেখকের যোগ্যতার পরিচয় দেয় এবং বার্তাবাহক তার প্রেরণকারীর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়।

তারা আরও বলেছেন: একজন ব্যক্তির বার্তাবাহক তার বিচারবুদ্ধির প্রতিফলন ঘটায় এবং তার লিখিত পত্র তার বুদ্ধিমত্তার মানদণ্ড।

জনৈক কবি বলেন:

(তোমার বার্তাবাহককে সতর্কতার সাথে নির্বাচন করো, কেননা বার্তাবাহক … তাকে প্রেরণকারীর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়।)

(তুমি দেখতে পাবে সে যদি প্রজ্ঞাবান হয় … তবে সে তার অর্পিত বার্তা সর্বোত্তমভাবে পৌঁছে দেয়।)

(সে জটিল ও অমিমাংসিত বিষয়গুলোকে সুচারুভাবে সমাধান করে … এবং সেগুলোর রুদ্ধ দ্বারসমূহ উন্মোচন করে।)

(আর সে যদি অনভিজ্ঞ ও অসতর্ক হয় … তবে যে বিষয়গুলো তার অনুকূলে ছিল, সেগুলোই তার প্রতিকূলে পর্যবসিত হয়।)
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَقيل لعبد الله بن الْعَبَّاس رضوَان الله عَلَيْهِ مَا منع عليا رضي الله عنه أَن يرسلك يَوْم الْحكمَيْنِ فَقَالَ مَنعه وَالله حاجز الْقدر ومحنة الِابْتِلَاء وَوَاللَّه لَو وجهني لجلست فِي مدارج انفاسه ناقضا لما ابرم ومبرما لمن نقض أَسف إِذا طَار وأطير إِذا أَسف وَلَكِن مضى قدر وَبَقِي اسف والاخرة خيرٌ لأمير الْمُؤمنِينَ

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "দুজন বিচারকের (তাহকিম) দিনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আপনাকে পাঠাতে কী কারণে বিরত থাকলেন?" তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম! তাঁকে তাকদীরের প্রতিবন্ধকতা এবং পরীক্ষার ক্লেশ বিরত রেখেছিল। আল্লাহর কসম! তিনি যদি আমাকে প্রেরণ করতেন, তবে আমি তার (প্রতিপক্ষের) প্রতিটি নিশ্বাসের স্তরে স্তরে এমনভাবে ওৎ পেতে থাকতাম যে, সে যা সুদৃঢ় করত আমি তা ছিন্ন করতাম এবং সে যা ছিন্ন করত আমি তা সুদৃঢ় করতাম। সে যখন দ্রুতবেগে উড়ত আমি তখন নিচু হতাম, আর সে যখন নিচু হতো তখন আমি উড়তাম। কিন্তু তাকদীর কার্যকর হয়েছে এবং আফসোস রয়ে গেছে। আর আমীরুল মুমিনীনের জন্য পরকালই শ্রেষ্ঠ।"

(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
الْبَاب الثَّامِن

 

‌‌فِي أَن الرَّسُول إِذا لم يكن متأنياً صبوراً سالما من العلق وَكَانَ

 

‌‌متلفتاً إِلَى مَا خَلفه من أَهله وَمَاله كَانَ سَعْيه فِيمَا على مرسله لَا لَهُ

 

‌‌أَو عَاد على يَدَيْهِ بِأَمْر لم يفصله ورأي لم يبرمه

 

وَيحْتَاج الرَّسُول من الْحلم وكظم الغيظ مَا يحْتَاج إِلَيْهِ من الصَّبْر على طول الْمكْث وتراخي الْمقَام فَإِن الرَّسُول رُبمَا وَجه إِلَى سخيف وَدفع إِلَى طائش فبدرت إِلَيْهِ مِنْهُ الْكَلِمَة البذية فيلحقه من سُورَة الْغَضَب ويتملك عَلَيْهِ من سُلْطَان الغيظ مَا يتخون عزمه ورأيه ويقطعه عَن اسْتِيفَاء حججه ويفاء كل مَا فِي رسَالَته

وَهُوَ مَعَ الْحلم والكظم أخلق بالنجاح وبلوغ المُرَاد وَإِذا لم يكن متأنياً صبوراً مكيناً من عقله فمني بِالْملكِ الحازم المخمر لرأيه المراجع لنَفسِهِ الَّذِي لَا يمْضِي إِلَّا الرَّأْي المتعقب المنقح لم يخل الرَّسُول من أَن يهجم بِهِ الغلق والعجلة على إِحْدَى خلتين
অষ্টম পরিচ্ছেদ

 

‌‌এ বিষয়ে যে, দূত যদি ধীরস্থির, ধৈর্যশীল এবং যাবতীয় সংশ্রব হতে মুক্ত না হন এবং

 

‌‌নিজের পরিবার ও ধন-সম্পদ যা পিছনে ফেলে এসেছেন তার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেন, তবে তার প্রচেষ্টা তার প্রেরণকারীর বিপক্ষেই যাবে, অনুকূলে নয়।

 

‌‌অথবা তিনি এমন এক বিষয় নিয়ে ফিরবেন যা তিনি মীমাংসা করেননি এবং এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে যা তিনি সুসংহত করেননি।

 

একজন দূতের জন্য সহনশীলতা ও ক্রোধ সংবরণ ততটাই প্রয়োজন, যতটা প্রয়োজন দীর্ঘ প্রবাস ও বিলম্বিত অবস্থানের ক্ষেত্রে ধৈর্যের। কেননা দূতকে কখনো স্থূলবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তির নিকট পাঠানো হয় কিংবা হঠকারীর মুখোমুখি হতে হয়। ফলে তার প্রতি কটু বাক্য নিক্ষিপ্ত হতে পারে, যা তাকে ক্রোধের প্রচণ্ডতায় আক্রান্ত করবে এবং তার ওপর রাগের এমন আধিপত্য বিস্তার করবে যা তার সংকল্প ও বিচারবুদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আর এটি তাকে তার প্রমাণাদি পরিপূর্ণভাবে উপস্থাপন এবং বার্তার সবটুকু পৌঁছে দেওয়া থেকে বিরত রাখবে।

অথচ সহনশীলতা ও ক্রোধ সংবরণের মাধ্যমে তিনি সাফল্যের এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর অধিক যোগ্য হন। আর তিনি যদি ধীরস্থির, ধৈর্যশীল ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী না হন এবং কোনো দৃঢ়চেতা রাজার সম্মুখীন হন—যিনি নিজের পরিকল্পনা গোপন রাখেন, আত্মসমালোচনা করেন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচিত ও পরিমার্জিত সিদ্ধান্ত ব্যতীত কোনো কিছু কার্যকর করেন না—তবে সেই দূত অস্থিরতা ও তাড়াহুড়ার কারণে দুটি মন্দ স্বভাবের যেকোনো একটির শিকার হওয়া থেকে নিস্তার পাবেন না।
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
لَا ثَالِث لَهما انا أَن ينقاد إِلَى مؤآتاة من أرسل إِلَيْهِ على مأتى لَهُ فِيهِ الْحَظ وعَلى مسرله الْغبن حرصاً على سرعَة الكرة وتعجل الأوبة وَإِمَّا أَن يعود بِأَمْر لم ينْفَصل ورأي لم ينبرم فَيرجع كَمَا بَدَأَ

وَمن أمثالهم رب عجلة تهب ريثاً على أَن الأول قد قَالَ وللريث فِي بعض الْأَحَايِين أسْرع

وَقَالَ بعض الشُّعَرَاء

(وَأول مَا يكون الْغَيْث طلاً … وَيكثر ودقه فَيصير غيثاً)

وَقَالَ الآخر

(وَمَا رَاح محرومٌ وَلَا راث منجح … )
তাদের জন্য তৃতীয় কোনো পথ নেই; হয় তাকে প্রেরকের অনুকূলে এমনভাবে সম্মত হতে হবে যাতে তার নিজের জন্য সুযোগ এবং প্রেরণকারীর জন্য লোকসান থাকে—আর এটি দ্রুত প্রত্যাবর্তনের এবং ফিরে আসায় তাড়াহুড়ো করার লিপ্সার কারণে। অথবা তাকে এমন এক অমীমাংসিত বিষয় এবং অনিষ্পন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিরে আসতে হবে, যার ফলে সে যেভাবে যাত্রা শুরু করেছিল ঠিক সেভাবেই ফিরে আসবে।

তাদের প্রবাদসমূহের মধ্যে রয়েছে: ‘অনেক সময় ত্বরপ্রবণতা বিলম্বের জন্ম দেয়’, যদিও পূর্বসূরিরা বলেছেন: ‘কখনও কখনও মন্থরতা অধিক দ্রুততর হয়’।

জনৈক কবি বলেছেন:

(বৃষ্টির সূচনা হয় সামান্য শিশিরপাত দিয়ে … অতঃপর তার বারিধারা বৃদ্ধি পায় এবং তা মুষলধারে বৃষ্টিতে পরিণত হয়)

অন্যজন বলেছেন:

(বঞ্চিত ব্যক্তি সফল হয়ে ফিরে আসেনি, আর সফলকাম ব্যক্তি বিলম্বিত হয়নি … )
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
الْبَاب التَّاسِع

 

‌‌فِي من دفع من رسل الْمُلُوك إِلَى أَن حمله ملكه إِلَى ملك آخر

 

‌‌رِسَالَة غَلِيظَة وَأمره أَن يُؤَدِّيهَا على وَجههَا وحظر عَلَيْهِ أَن يغيرها

 

‌‌عَن هيئتها أَو تَحْرِيف شيءٍ من مَعْنَاهَا ولفظها وَالْوَجْه الَّذِي بِهِ

 

‌‌احتال حَتَّى أدّى الرسَالَة وَسلم من معرة الْملك الْمُرْسل إِلَيْهِ

 

‌‌وَعَاد بِحَمْد مِنْهُ وَقد نصح لمن أرْسلهُ وَأدّى مقَالَته

 

ورد فِي سيرة الْفرس أَن أحد مُلُوكهمْ أنفذ إِلَى بعض الْمُلُوك المجاورين لَهُ رِسَالَة مَعَ بعض من اختبر ثقته وَعرف صدق لهجته وأمانته وَكَانَت غَلِيظَة وحظر عَلَيْهِ أَن يغيرها عَن هيئتها اَوْ يحرف شَيْئا من مَعْنَاهَا ولفظها وحذره من تجَاوز مَا رسم لَهُ من ذَلِك فَأدى إِلَى الْملك الْمُرْسل إِلَيْهِ مِنْهَا مَا أحفظه وأغاظه فَقَالَ الْملك للرسول إِن صَاحبك لم يجبهني بِهَذِهِ الْمقَالة وَأَنت المجتريء بهَا عَليّ والماليء مِنْهَا سَمْعِي وقلبي وَمَا شِفَاء غيظي وَمَا تسكين حفيظتي إِلَّا الْمُبَالغَة فِي عقابك فَقَالَ لَهُ الرَّسُول هون عَلَيْك أَيهَا الْملك فَإِن لكل مقالٍ جَوَابا وَإِن قبح أديته على حَاله
নবম অধ্যায়

 

‌‌রাজাদের সেই সকল দূতের বর্ণনায়, যাদেরকে তাদের রাজা অন্য কোনো রাজার নিকট পাঠিয়েছেন

 

‌‌একটি কঠোর বার্তা দিয়ে এবং তাকে নির্দেশ দিয়েছেন তা যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে এবং এর ধরণ পরিবর্তন করতে

 

‌‌অথবা এর অর্থ ও শব্দের কোনো বিকৃতি ঘটাতে নিষেধ করেছেন; আর যে কৌশল অবলম্বন করে

 

‌‌তিনি বার্তাটি পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং প্রেরিত রাজার অনিষ্ট হতে রক্ষা পেয়েছিলেন

 

‌‌এবং প্রেরকের প্রতি নিষ্ঠাবান থেকে ও তার বক্তব্য পৌঁছে দিয়ে প্রশংসা নিয়ে ফিরেছিলেন

 

পারস্যের ইতিহাসে বর্ণিত আছে যে, তাদের এক রাজা তার প্রতিবেশী এক রাজার নিকট এমন এক ব্যক্তির মাধ্যমে একটি বার্তা প্রেরণ করলেন, যার নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) তিনি পরীক্ষা করেছিলেন এবং যার সত্যবাদিতা ও আমানতদারি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন। সেই বার্তাটি ছিল অত্যন্ত কঠোর। রাজা তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, বার্তার ধরণ পরিবর্তন করা যাবে না অথবা এর শব্দ বা অর্থের কোনো বিকৃতি ঘটানো যাবে না এবং তাকে নির্ধারিত সীমার বাইরে যেতে কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি প্রেরিত রাজার নিকট সেই বার্তার এমন কিছু অংশ উপস্থাপন করলেন যা তাকে ক্রুদ্ধ ও উত্তেজিত করে তুলল। তখন রাজা সেই দূতকে বললেন, "নিশ্চয়ই তোমার অধিপতি আমার সম্মুখে এই কথাগুলো বলার সাহস করেননি; বরং তুমিই আমার সামনে এই ধৃষ্টতা দেখাচ্ছ এবং আমার কর্ণ ও হৃদয়কে তা দিয়ে পূর্ণ করছ। আমার ক্রোধের উপশম এবং চিত্তের প্রশান্তি কেবল তোমাকে কঠোর শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমেই সম্ভব।" তখন সেই দূত তাকে বললেন, "হে রাজন! শান্ত হোন; কেননা প্রত্যেক কথারই একটি উত্তর রয়েছে। কথাটি কুরুচিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আমি তা হুবহু পৌঁছে দিয়েছি।"
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
قَالَ لَهُ الْملك هَيْهَات إِنَّك تتَوَجَّه إِلَى من تجله عَن سَماع مَا يسوؤه وتلقيه بِمَا يحفظه فَقَالَ الرَّسُول إِن من الْعجب أَن أَلْقَاك بمقالته وآمن بادرتك ونيتي عَلَيْك ثمَّ أَلْقَاهُ بكلامك فَلَا أَثِق بحلمه ونيتي مَعَه فَأذْهب بِهَذَا القَوْل حفيظته وسل سخيمته وَقَالَ مثلك من يُرْسل بَين الْمُلُوك فالرسول مبلغ غير ملوم

রাজা তাকে বললেন, "হায়! তুমি এমন একজনের অভিমুখে যাত্রা করছ যাকে তুমি এতটাই মহীয়ান জ্ঞান করো যে তাকে অপ্রীতিকর কিছু শোনাতে সংকুচিত হও এবং তার মর্যাদা রক্ষিত হয় এমন বার্তার মাধ্যমেই তার সাথে সাক্ষাৎ করো।" দূত উত্তর দিলেন, "এটি অত্যন্ত বিস্ময়ের বিষয় যে, আমি আপনার নিকট তার বক্তব্য নিয়ে উপস্থিত হই এবং আপনার রোষানল থেকে নিরাপদ থাকি অথচ আপনার প্রতি আমার মনোভাব প্রতিকূল, আবার তার নিকট আপনার বার্তা নিয়ে যাই অথচ তার সহনশীলতার ওপর আমি আস্থা রাখি না, যদিও আমার সদিচ্ছা তার সাথেই থাকে।" এই কথাটি রাজার ক্রোধ নিবারণ করল এবং তার অন্তরের বিদ্বেষ দূর করল। তিনি বললেন, "তোমার ন্যায় ব্যক্তিই রাজাদের মাঝে দূত হিসেবে প্রেরিত হওয়ার যোগ্য; কেননা দূত কেবল একজন বার্তাবাহক মাত্র, তিনি নিন্দিত নন।"

(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
الْبَاب الْعَاشِر

 

‌‌فِي أَن وَهن الرَّسُول عَائِد علؤ من أرْسلهُ وَكَذَلِكَ اختلاله

 

‌‌وَضَعفه وَأَن الرَّسُول إِذا كَانَ تَاما ذَا بَيَان ورواء فَمَا فِيهِ من فضل

 

‌‌عَائِد على من أرْسلهُ ومنسوب إِلَيْهِ

 

وَمَتى كَانَ الرَّسُول دون مرسله فِي رَأْي وعقل ورواء ونبل ظن بمرسله أَكثر من اختلاله وَمَتى كَانَ أتم مِنْهُ وزايد فِي هَذِه الْأَحْوَال ظن بمرسله فَوق ذَلِك من التَّمام فعوار الرَّسُول يعر الْمُرْسل وَإِن كَانَ فَاضلا واختلال الْمُرْسل لَا يعر الرَّسُول إِذا كَانَ كَامِلا وَيحْتَاج الرَّسُول من التصون والنزاهة إِلَى مَا يحْتَاج إِلَيْهِ من ترك الإفراط فِي الانقباض والحشمة حَتَّى لَا يكون غَرَضه فِيمَا يعرض عَلَيْهِ من عَظِيم الْبر بيع دينه وَلَا خِيَانَة مرسله وَلَا بيع أَمَانَته وَلَا يَأْبَى من يسيره ولطيفه مَا يُوجب قبُوله الْأنس ويوقع الِامْتِنَاع مِنْهُ النفار والوحشة
দশম অধ্যায়

 

‌‌বার্তাবাহকের দুর্বলতা এবং তার অসংলগ্নতা তার প্রেরণকারী (مرسل) এর ওপর বর্তানোর বিবরণ

 

‌‌এবং তার অক্ষমতা; আর বার্তাবাহক যখন পূর্ণাঙ্গ, সুস্পষ্ট বর্ণনাকারী ও সুশ্রী হন, তখন তার মাঝে বিদ্যমান শ্রেষ্ঠত্ব

 

‌‌তার প্রেরণকারী (مرسل) এর দিকেই ফিরে যায় এবং তার প্রতিই সম্বন্ধযুক্ত হয়

 

যখন কোনো বার্তাবাহক বিচারবুদ্ধি, প্রজ্ঞা, রূপলাবণ্য ও আভিজাত্যের দিক থেকে তার প্রেরণকারী (مرسل) এর চেয়ে হীনতর হয়, তখন তার প্রেরণকারী (مرسل) সম্পর্কে তার অসংলগ্নতার চেয়েও বড় ত্রুটির ধারণা করা হয়। আর যখন সে এই সব অবস্থায় তার চেয়েও অধিক পূর্ণাঙ্গ ও শ্রেষ্ঠ হয়, তখন প্রেরণকারী সম্পর্কে সেই উচ্চ পর্যায়ের পূর্ণতারই ধারণা করা হয়। কেননা বার্তাবাহকের ত্রুটি প্রেরণকারী (مرسل) কে কলঙ্কিত করে, যদিও তিনি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন হন; পক্ষান্তরে প্রেরণকারীর অসংলগ্নতা বার্তাবাহককে কলঙ্কিত করে না যদি সে নিজে পূর্ণাঙ্গ হয়। বার্তাবাহকের জন্য এমন আত্মসংযম ও শুচিতা প্রয়োজন যা তাকে মাত্রাতিরিক্ত আড়ষ্টতা ও জড়তা বর্জন করতে সহায়তা করে, যাতে তার সামনে পেশকৃত বড় কোনো অনুগ্রহের বিনিময়ে তার উদ্দেশ্য নিজের দ্বীন বিক্রয় করা, তার প্রেরণকারী (مرسل) এর সাথে খিয়ানত করা কিংবা আমানত বিক্রয় করা না হয়। এবং সে যেন সামান্য ও সৌজন্যমূলক কোনো উপহার গ্রহণে অস্বীকৃতি না জানায়, যা গ্রহণ করলে হৃদ্যতা বৃদ্ধি পায় এবং যা বর্জন করলে ঘৃণা ও বিরাগ সৃষ্টি হয়।
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
الْبَاب الْحَادِي عشر

 

‌‌فِي الرَّسُول المحروم وَمَا ورد فِيهِ من آيَات كتاب الله عز وجل

 

‌‌وَكَلَام البلغاء وَالشعرَاء والحكماء

 

وَقد ذمّ الله سُبْحَانَهُ الرَّسُول المحروم الَّذِي لَا تنجح على يَدَيْهِ الْأُمُور وَإِن كَانَ الْعسر واليسر جاريين مقاديره جلّ وَعلا فقد قَالَ عز وجل وَضرب الله مثلا ردجلين أَحدهمَا أبكم لَا يقدر على شَيْء وَهُوَ كلٌ على مَوْلَاهُ أَيْنَمَا يوجهه لَا يَأْتِ بِخَير

وَيسْتَحب من الرَّسُول أَن يشْعر نَفسه النجاح وَيُمكن فِي قلبه الظفر فيتلقى الْأُمُور بنشاط الْقُدْرَة ويبائرها بعلو الهمة لَا كالمضعوف الَّذِي يبعد على نَفسه الْأُمُور ويشعرها الْيَأْس ليضع عَنْهَا مؤونة السَّعْي ويكفيها الاعمال والاحتيال والدأب فِي بُلُوغ الآمال كَمَا قَالَ بعض الشُّعَرَاء

(قل مَا يجح الرسو … ل إِذا استشعر الخور)
একাদশ অধ্যায়

 

‌‌ব্যর্থ বার্তাবাহক এবং এই বিষয়ে মহান আল্লাহর কিতাবের আয়াতসমূহ

 

‌‌এবং বাকপটু, কবি ও প্রজ্ঞাবানদের বক্তব্য

 

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সেই ব্যর্থ বার্তাবাহকের নিন্দা করেছেন যার হাতে কোনো বিষয় সফল হয় না, যদিও স্বচ্ছলতা ও কাঠিন্য মহান আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালা অনুযায়ীই আবর্তিত হয়। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহ একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন: দুই ব্যক্তির, যাদের একজন বোবা, সে কোনো কিছুর ওপর ক্ষমতা রাখে না এবং সে তার অভিভাবকের ওপর এক বোঝা। তাকে যেখানেই পাঠানো হোক না কেন, সে কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না।"

বার্তাবাহকের জন্য বাঞ্ছনীয় হলো নিজের মধ্যে সফলতার অনুভূতি জাগ্রত করা এবং হৃদয়ে বিজয়ের আশা সুদৃঢ় করা, যাতে সে সক্ষমতার উদ্দীপনা নিয়ে কার্যাবলি গ্রহণ করতে পারে এবং উচ্চ সংকল্পের সাথে তা সম্পাদন করতে পারে। সে যেন সেই দুর্বল (المضعوف) ব্যক্তির মতো না হয়, যে কাজগুলোকে নিজের জন্য অসম্ভব মনে করে এবং অন্তরে নিরাশা পোষণ করে, যাতে শ্রমের কষ্ট লাঘব করা যায় এবং লক্ষ্য অর্জনে কর্মতৎপরতা, কৌশল ও নিরন্তর প্রচেষ্টা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়; যেমনটি জনৈক কবি বলেছেন:

(বার্তাবাহক কদাচিৎ সফল হ … য় যখন সে দুর্বলতা অনুভব করে)
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
(وَأرى الْيَأْس نَفسه … قبل أَن يبلو الْخَبَر)

(انما المنجح الممك … ن فِي نسفه الظفر)

(الَّذِي يركب الْعس … ير على أَنه يسر)

وَقَالَ بعض الشُّعَرَاء

(وَكنت إِذا بعثت بِهِ رَسُولا … بداني قبل أَن يمْضِي بياس)

(وأنساني وَمَا وجهت فِيهِ … على أَنِّي ذكورٌ غير نَاس)

(وَيرجع لَا رعاني الله فِيهِ … إِلَيّ بخيبة بعد احتباس)

(يرد بِرَأْسِهِ أبدا جوابي … أرانيه الْإِلَه بغيرِ راس)
(আমি নিজের মাঝে নৈরাশ্য প্রত্যক্ষ করি … সংবাদ যাচাই করার পূর্বেই)

(প্রকৃতপক্ষে সফল সেই সক্ষম ব্যক্তি … যার প্রচেষ্টায় বিজয় নিহিত)

(যে ব্যক্তি কঠিন … পথে আরোহণ করে এই বিশ্বাসে যে তা সহজ)

জনৈক কবি বলেছেন

(আমি যখন তাকে বার্তাবাহক হিসেবে প্রেরণ করতাম … সে গমনের পূর্বেই আমাকে নৈরাশ্য প্রদর্শন করত)

(সে আমাকে ভুলিয়ে দিত আমি তাকে কী উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেছি … যদিও আমি অত্যন্ত প্রখর স্মৃতির অধিকারী এবং বিস্মৃতিপ্রবণ নই)

(সে ফিরে আসত—আল্লাহ তার বিষয়ে আমার প্রতি সদয় না হোন—দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ব্যর্থতা নিয়ে)

(সে সর্বদা মস্তক নেড়ে আমাকে উত্তর প্রদান করত … আল্লাহ যেন তাকে মস্তকহীন অবস্থায় আমাকে দেখান)
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
الْبَاب الثَّانِي عشر

 

‌‌أذكر فِيهِ لم اسْتحبَّ فِي الرَّسُول إِسْرَاف الْقد وعبالة الْجِسْم

 

‌‌وَمَا احْتج بِهِ من كَانَ قمياً من الرُّسُل وَمن كَانَ عبلاً

 

وَيسْتَحب فِي الرَّسُول تَمام الْقد وعبالة الْجِسْم حَتَّى لَا يكون قميئاً وَلَا ضيئلا وَإِن كَانَ الْمَرْء بأصغريه ومخبوءاً تَحت لِسَانه وَلَكِن الصُّور تسبق اللِّسَان والجثمان يستر الْجنان وَلذَلِك مَا قَالَ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه يُؤذن لكم فَيقدم أحسنكم اسْما فَإِذا دَخَلْتُم قدمنَا أحسنكم وَجها فَإِذا نطقتم ميزتكم أَلْسِنَتكُم وَكَانَت أعين الْمُلُوك تسبق إِلَى ذَوي الرواء من الرُّسُل وَإِنَّمَا توجب ذَلِك فِي رسلها لِئَلَّا ينقص اخْتِيَارهَا حظاً من حظوظ الْكَمَال ولانها تنفذ واحجدا إِلَى أمة وفذاً إِلَى جمَاعَة وشخصاً إِلَى شخوص كَثِيرَة فاجتهدوا فِي أَن يكون ذَلِك الْوَاحِد وسيما جسيما يملا الْعُيُون المتشوقة إِلَيْهِ فَلَا تَقْتَحِمُهُ ويشرف على تِلْكَ الْخلق المتصدية لَهُ فَلَا تستصغره
দ্বাদশ অধ্যায়

 

‌‌এখানে আমি উল্লেখ করব কেন দূতের ক্ষেত্রে দীর্ঘ দেহ এবং শারীরিক সুঠাম গঠন বাঞ্ছনীয়

 

‌‌এবং যে সকল দূত ক্ষুদ্রাকৃতির ছিলেন ও যারা স্থূলকায় ছিলেন, তাদের বিষয়ে উপস্থাপিত যুক্তি

 

একজন দূতের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ অবয়ব এবং শরীরের বলিষ্ঠতা বাঞ্ছনীয়, যাতে সে ক্ষুদ্রাকৃতির কিংবা অতিশয় দুর্বল না হয়। যদিও মানুষ তার ক্ষুদ্রতম দুটি অঙ্গের (অন্তর ও জিহ্বা) ধারক এবং সে তার জিহ্বার নিচে লুকায়িত থাকে, তথাপি বাহ্যিক অবয়ব জিহ্বার পূর্বেই প্রভাব বিস্তার করে এবং শরীরী কাঠামো হৃদয়কে আবৃত করে রাখে। এ কারণেই উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বলেছিলেন: "তোমাদের আসার অনুমতি দেওয়া হবে; সুতরাং তোমাদের মধ্যে যার নাম সবচেয়ে সুন্দর সে অগ্রগামী হবে। অতঃপর যখন তোমরা প্রবেশ করবে, তখন আমরা তোমাদের মধ্যে যার চেহারা সবচেয়ে সুন্দর তাকে সামনে রাখব। এরপর যখন তোমরা কথা বলবে, তখন তোমাদের জিহ্বা তোমাদের বিশেষত্ব স্পষ্ট করে দেবে।" রাজাদের দৃষ্টি সাধারণত প্রতিনিধিদের শ্রী ও লাবণ্যের প্রতি আগে নিপতিত হয়। তারা তাদের প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে এই গুণাবলি নিশ্চিত করা অপরিহার্য মনে করেন যাতে তাদের নির্বাচনে পূর্ণতার কোনো বৈশিষ্ট্যের ঘাটতি না থাকে। যেহেতু তারা একজন ব্যক্তিকে একটি জাতির কাছে, একক একজনকে একটি জনসমষ্টির কাছে এবং এক ব্যক্তিকে বহু মানুষের কাছে প্রেরণ করেন, তাই তারা সচেষ্ট থাকেন যাতে সেই ব্যক্তিটি সুশ্রী ও সুঠামদেহী হয়, যা তাকে দেখার জন্য উন্মুখ জনতাকে মুগ্ধ করে এবং তারা তাকে তুচ্ছজ্ঞান না করে। সে যেন তার সামনে উপস্থিত লোকজনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং তারা তাকে ছোট করে না দেখে।
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
وَجَاء فِي التَّارِيخ ان الشّعبِيّ لم ادخل على عبد الْملك بن مَرْوَان برسالة الْحجَّاج اقتحمه ناظره واستصغره قبل أَن يمْتَحن مَا وَرَاء ذَلِك من عقله وَبَيَانه وفضله وحكمته فَقَالَ إِنَّك لدميمٌ يَا شعبي فَاحْتَاجَ الشّعبِيّ إِلَى تمحل الْعذر وإلطاف الْجَواب فَقَالَ زوحمت فِي الرَّحِم يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ

وَلما أوفد بعض الْمُلُوك رَسُوله إِلَى مُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان وَكَانَ وسيماً جسيماً يمْلَأ الْعين فَأحب مُعَاوِيَة عَيبه فَقَالَ مَا هَذِه الفدامة فِيكُم فَقَالَ الرَّسُول عنوان نعم الله عندنَا فَكَانَ هَذَا الْجَواب غَايَة فِي الْإِحْسَان والسداد لِأَنَّهُ اعْتد العبالة موهبة وَكَانَ جَوَاب الشّعبِيّ تمحلاً لِأَنَّهُ علم أَن الدمامة عيبٌ ونقيصة

وَقد قَالَ شَاعِر الْعَرَب

(تبين لي أَن القماءة ذلةٌ … وَأَن أشداء الرِّجَال طوالها)

فَكَأَن الْمُلُوك أَرَادَت أَن تستجمع هَذِه الْفَضَائِل على مراتبها فِي رسلها فَيكون الرَّسُول حسن الِاسْم والخلق وَالْبَيَان
ইতিহাসে বর্ণিত আছে যে, যখন শাবি হাজ্জাজের বার্তা নিয়ে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের নিকট প্রবেশ করলেন, তখন খলিফার দৃষ্টি তাকে তুচ্ছজ্ঞান করল এবং তার মেধা, বাগ্মিতা, শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রজ্ঞার গভীরতা পরখ করার আগেই তাকে অবজ্ঞা করল। তিনি বললেন, "হে শাবি! তুমি তো অত্যন্ত কুৎসিত।" তখন শাবির একটি অজুহাত ও মার্জিত উত্তরের প্রয়োজন হলো। তিনি বললেন, "হে আমিরুল মুমিনীন! গর্ভাশয়ে আমি সংকীর্ণতার শিকার হয়েছিলাম।"

আর যখন কোনো এক রাজা মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের নিকট তার দূত পাঠালেন, যে ছিল সুদর্শন ও সুঠাম দেহের অধিকারী যা দৃষ্টি জুড়িয়ে দিত, তখন মুয়াবিয়া তার কোনো খুঁত অন্বেষণ করতে চাইলেন। তিনি বললেন, "তোমাদের মধ্যে এই স্থূলতা ও জড়তা কেন?" দূত উত্তর দিলেন, "এটি আমাদের নিকট আল্লাহর নেয়ামতের নিদর্শন।" এই উত্তরটি ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও সঠিক, কারণ তিনি শারীরিক বিশালতাকে একটি দান হিসেবে গণ্য করেছেন। অন্যদিকে শাবির উত্তরটি ছিল একটি অজুহাত পেশ করা, কারণ তিনি জানতেন যে কুশ্রীতা একটি ত্রুটি ও অপূর্ণতা।

আরব কবি বলেছেন:

(আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে খর্বতা হীনতাস্বরূপ … আর শক্তিশালী পুরুষ তারাই যারা দীর্ঘদেহী।)

যেন রাজাগণ তাদের প্রেরিত দূতদের মধ্যে এই গুণাবলিগুলোর পর্যায়ানুসারে সমাবেশ ঘটাতে চেয়েছেন; যাতে দূত সুন্দর নাম, সুন্দর গঠন ও সুন্দর বাগ্মিতার অধিকারী হয়।
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَتقول الروَاة مَا نَعْرِف رَسُولا ألطف وَلَا كتابا اوجز من هدهد سُلَيْمَان وكتاه وَهُوَ قَوْله عز وجل {إِنَّه من سُلَيْمَان وَإنَّهُ بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم أَلا تعلوا عَليّ وأتوني مُسلمين}

وعيب بعض الرُّسُل بِالْقصرِ والدمامة وَكَانَ أديباً فطناً فَأَنْشد بديهاً

(عقل الرَّسُول وبسطةٌ فِي رَأْيه … خيرٌ لَهُ من نبله وبهائه)

(فَإِذا أخل بِذِي الترسل رَأْيه … لم يغنه عَنهُ جميل رُوَائِهِ)

(مَا ضرّ هدهد آل دَاوُد مَعَ ال … م إنْجَاح ظَاهر قبحه وقمائه)

(فَمضى وَعَاد إِلَى النَّبِي مبشراً … بالنصح فِي إيداعه وأدائه)
বর্ণনাকারীগণ (الرواة) বলেন যে, আমরা সুলাইমান (আ.)-এর হুদহুদ অপেক্ষা অধিক নম্র কোনো বার্তাবাহক এবং তার পত্র অপেক্ষা অধিক সংক্ষিপ্ত কোনো পত্র সম্পর্কে জানি না। আর সেটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় এটি সুলাইমানের পক্ষ থেকে এবং এটি পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু। আমার প্রতি উদ্ধত হয়ো না এবং আত্মসমর্পণকারী হিসেবে আমার নিকট উপস্থিত হও।}

আর কিছু বার্তাবাহককে তাদের খর্বকায় গঠন ও শ্রীহীনতার কারণে ত্রুটিযুক্ত মনে করা হয়েছে, অথচ তিনি ছিলেন সুসাহিত্যিক ও বিচক্ষণ। অতঃপর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আবৃত্তি করলেন:

(বার্তাবাহকের প্রজ্ঞা ও তার মতামতের প্রশস্ততা … তার আভিজাত্য ও বাহ্যিক সৌন্দর্য অপেক্ষা তার জন্য অধিক কল্যাণকর)

(যদি পত্রবাহকের বিচারবুদ্ধিতে ত্রুটি থাকে … তবে তার সুন্দর অবয়ব তার কোনো উপকারে আসবে না)

(দাউদ পরিবারের হুদহুদ পাখির বাহ্যিক কুশ্রীতা ও ক্ষুদ্রতা সত্ত্বেও তার সুস্পষ্ট সাফল্য কোনো ক্ষতি করেনি)

(সে চলে গেল এবং আমানত অর্পণ ও বর্ণনার (أداء) ক্ষেত্রে একনিষ্ঠতার সুসংবাদ নিয়ে নবীর নিকট ফিরে এলো)
(খণ্ড: ১) রুসুলুল মুলুক ওয়া মান ইয়াসলুহু লির রিসালাতি ওয়াস সিফারাহ (পৃষ্ঠা: ৫০)
الْبَاب الثَّالِث عشر

 

‌‌اذكر فِيهِ مَا كنت تعْمل عَلَيْهِ الْفرس إِذا آثرت أَن تتَّخذ من رعاياها

 

‌‌من تندبه للرسالة والسفارة والمحنة الَّتِي تمتحنه بهَا فَإِذا صَحَّ على

 

‌‌الِابْتِلَاء والخبرة حينئذٍ تتخذه رَسُولا

 

قَالَ الْحَكِيم رَسُولك ترجمان عقلك

من كتاب أَخْلَاق الْمُلُوك

وَليكن الرَّسُول صَحِيح الْفطْرَة والمزاج ذَا بَيَان وَعبارَة بَصيرًا بمخارج الْكَلَام ووجوهه مُؤديا لألفاظ الْملك ومعانيها صَدُوق اللهجة لَا يمِيل إِلَى طمع حَافِظًا لما حمل وعَلى الْملك أَن يمْتَحن رَسُوله محنة طَوِيلَة قبل أَن يَجعله رَسُولا

مَا كَانَت تعْمل عَلَيْهِ مُلُوك الْفرس فِي المحنة

إِذا آثرت أَن تتَّخذ من رعاياها من تَجْعَلهُ رَسُولا إِلَى بعض
ত্রয়োদশ অধ্যায়

 

‌‌পারস্যবাসীরা তাদের প্রজাদের মধ্য থেকে যাকে দূত ও কূটনৈতিক পদের জন্য মনোনীত করার ইচ্ছা করত, তারা যে কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করত আমি এখানে তা উল্লেখ করছি

 

‌‌যাকে তারা বার্তা প্রেরণ ও দূতাবাসের জন্য নিযুক্ত করত এবং তাকে যে পরীক্ষার (محنة) সম্মুখীন করত; অতঃপর যখন পরীক্ষা (ابتلاء) ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সে সঠিক (صح) সাব্যস্ত হতো

 

‌‌তখন তারা তাকে দূত হিসেবে গ্রহণ করত

 

প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন: তোমার দূত তোমার বিবেকের দোভাষী

আখলাকুল মুলুক গ্রন্থ থেকে

দূতকে হতে হবে বিশুদ্ধ (صحيح) স্বভাব ও মেজাজের অধিকারী, প্রাঞ্জল ও সুস্পষ্ট ভাষী, বাক্যের প্রয়োগ ও তার বিবিধ দিক সম্পর্কে প্রাজ্ঞ এবং সে রাজার শব্দাবলি ও তার অর্থ যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে; সে হবে সত্যবাদী (صدوق) স্বভাবের, লোভের প্রতি অনুরাগী হবে না এবং অর্পিত দায়িত্ব হিফাযতকারী হবে। আর রাজার কর্তব্য হলো দূতকে নিয়োগ দেওয়ার আগে তাকে দীর্ঘকাল পরীক্ষা (محنة) করা

পরীক্ষার (محنة) ক্ষেত্রে পারস্যের রাজারা যা করতেন

যখন তারা তাদের প্রজাদের মধ্য থেকে কাউকে কোনো বিশেষ স্থানে দূত হিসেবে পাঠাতে পছন্দ করতেন...