(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: -)
درر السلوك في سياسة الملوك القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: درر السلوك في سياسة الملوك
المؤلف: أبو الحسن علي بن محمد بن محمد بن حبيب البصري البغدادي، الشهير بالماوردي (ت 450هـ)
المحقق: فؤاد عبد المنعم أحمد
الناشر: دار الوطن - الرياض
سنة النشر:
عدد الصفحات: 126
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দুরারুস সুলুক ফি সিয়াসাতিল মুলুক বিভাগ: সিয়াসা শরইয়্যাহ (শরয়ী রাজনীতি) ও বিচারব্যবস্থা
গ্রন্থ: দুরারুস সুলুক ফি সিয়াসাতিল মুলুক
লেখক: আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাবিব আল-বাসরি আল-বাগদাদি, আল-মাওয়ার্দি নামে সুপরিচিত (মৃত্যু ৪৫০ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: ফুয়াদ আব্দুল মুনইম আহমদ
প্রকাশক: দারুল ওয়াতান - রিয়াদ
প্রকাশের বছর:
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم الْحَمد لله الَّذِي جعل الْحق معزا لمن اعتقده وتوخاه ومعينا لمن اعْتَمدهُ وابتغاه وَجعل الْبَاطِل مذلا لمن آثره وارتضاه ومذلا لمن أظهره واقتفاه واختص ملك الْمُلُوك بهاء الدولة وضياء الْملَّة وغياث الْأمة باعتقاد الْحق وَاجْتنَاب الْبَاطِل حَتَّى تمكن من نواصي من راده وَمَانعه وَجعل لَهُ من وَلَده سندا يظاهره وعضدا يؤازره
فَالْحَمْد لله حمدا يوازي جميل نعمه ويضاهي جزيل قسمه وَصلى الله على بشير كل تَقِيّ مهتد ونذير كل مُعْتَد مُحَمَّد وَآله وصحابته هداة الصَّالِحين الأخيار وعداة الطالحين الأشرار وَسلم كثيرا
أما بعد فَإِن الله سُبْحَانَهُ ببليغ حكمته وَعدل قَضَائِهِ جعل النَّاس أصنافا مُخْتَلفين وأطوارا متباينين ليكونوا بالاختلاف مؤتلفين وبالتباين متفقين واختص مِنْهُم رَاعيا أوجب عَلَيْهِ حراسة رَعيته وَأوجب على الرّعية صدق طَاعَته وَجعله الْوَسِيط بَينه وَبَين عباده وَلم يَجْعَل بَينه وَبينهمْ أحدا سواهُ فَكَانَ ملك الْمُلُوك بهاء الدولة مِمَّن خصّه الله باسترعاء خلقه واستودعه حفاظ حَقه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সত্যকে সেই ব্যক্তির জন্য মর্যাদাপূর্ণ করেছেন যে তা বিশ্বাস করে ও অন্বেষণ করে এবং সেই ব্যক্তির জন্য সাহায্যকারী করেছেন যে তার ওপর নির্ভর করে ও তাকে অন্বেষণ করে। আর তিনি মিথ্যাকে সেই ব্যক্তির জন্য লাঞ্ছনাকর করেছেন যে তাকে প্রাধান্য দেয় ও তাতে সন্তুষ্ট থাকে এবং সেই ব্যক্তির জন্য অপমানজনক করেছেন যে তাকে প্রকাশ করে ও তার অনুসরণ করে। তিনি রাজাধিরাজ বাহাউদ দাওলা, দিয়াউল মিল্লাহ এবং গিয়াসুল উম্মাহ-কে সত্যের প্রতি বিশ্বাস এবং মিথ্যা বর্জনের মাধ্যমে বিশিষ্ট করেছেন, যাতে তিনি তাঁর বিরোধিতাকারী ও প্রতিরোধকারীদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে পারেন। আর তিনি তাঁর সন্তানকে তাঁর জন্য এক শক্তিশালী অবলম্বন (سند) ও সাহায্যকারী করেছেন, যে তাঁকে সহযোগিতা ও সমর্থন প্রদান করবে।
সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—এমন প্রশংসা যা তাঁর অনুপম নিয়ামতের সমতুল্য এবং তাঁর প্রচুর অনুগ্রহের সদৃশ। আর আল্লাহর দরুদ ও অগণিত সালাম বর্ষিত হোক প্রত্যেক মুত্তাকী ও হেদায়েতপ্রাপ্ত ব্যক্তির সুসংবাদদাতা এবং প্রত্যেক সীমালঙ্ঘনকারীর সতর্ককারী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীদের ওপর, যাঁরা পুণ্যবান সৎকর্মশীলদের পথপ্রদর্শক এবং পাপিষ্ঠ দুরাচারীদের শত্রু।
অতঃপর, মহান আল্লাহ তাঁর সুনিপুণ প্রজ্ঞা ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে মানুষকে বিভিন্ন শ্রেণি ও বিচিত্র স্তরে বিভক্ত করেছেন, যাতে তারা এই পার্থক্যের মাধ্যমেই পরস্পরের মাঝে সংহতি ও ঐকমত্য পোষণ করতে পারে। তিনি তাদের মধ্য থেকে একজন অভিভাবক বা শাসককে মনোনীত করেছেন, যার ওপর তাঁর প্রজাদের রক্ষণাবেক্ষণ করাকে অপরিহার্য করেছেন এবং প্রজাদের ওপর তাঁর একনিষ্ঠ আনুগত্যকে আবশ্যক করেছেন। আল্লাহ তাকে নিজের এবং তাঁর বান্দাদের মাঝে মাধ্যম বা মধ্যস্থতাকারী করেছেন এবং তিনি ও তাঁর বান্দাদের মাঝে অন্য কাউকে নিযুক্ত করেননি। সুতরাং রাজাধিরাজ বাহাউদ দাওলা সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাঁকে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির তত্ত্বাবধানের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং তাঁর হকের হেফাজত করার আমানত সঁপে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
وَجَعَلنَا أهل طَاعَته نتمسك بعصم الْمُوَالَاة ونمت بإخلاص المصافاة وأخلص الرّعية من كَانَ لحق الرّعية مذكرا وبحق سُلْطَانه معترفا وَقد دَعَاني صدق الطَّاعَة إِلَى إنْشَاء كتاب وجيز ضمنته من جمل السياسة مَا إِن كَانَ الْملك قد حَاز علم أضعافه بِحسن بديهته وأصيل رَأْيه فَإِنِّي لن أعدم أَن أكون قد أدّيت من لَوَازِم الطَّاعَة أم يحسن موقعه إِن شَاءَ الله عز وجل
وقسمته بَابَيْنِ
الْبَاب الأول فِي أَخْلَاق الْملك
الْبَاب الثَّانِي فِي سياسة الْملك
وترجمته بدرر السلوك فِي سياسة الْمُلُوك إِذا كَانَ مَا تضمنه دَاعيا إِلَيْهِ وحاثا عَلَيْهِ وَأَنا أسأَل الله تَعَالَى حسن المعونة والتوفيق وَإِلَيْهِ أَرغب فِي إمدادي بِالرشد والتسديد وَهُوَ حسبي وَنعم الْوَكِيل
এবং তিনি আমাদের তাঁর আনুগত্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যাতে আমরা আনুগত্যের রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করি এবং অকৃত্রিম বন্ধুত্বের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখি। প্রজাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে একনিষ্ঠ, যে প্রজাসাধারণের অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং সুলতানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকার করে। আনুগত্যের এই একাগ্রতা আমাকে একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছে, যাতে আমি রাজনীতির এমন কিছু সারসংক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করেছি যে, মালিক (রাজা) যদি তাঁর প্রখর সহজাত বুদ্ধি ও মৌলিক বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে এর চেয়ে বহুগুণ বেশি জ্ঞান অর্জন করে থাকেন, তবুও আমি আনুগত্যের আবশ্যিক দায়িত্ব পালনে কোনো ত্রুটি করিনি বলে গণ্য হব, যা মহান আল্লাহর ইচ্ছায় উত্তমরূপে সমাদৃত হবে।
এবং আমি একে দুটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি।
প্রথম অধ্যায়: মালিকের (রাজার) চারিত্রিক গুণাবলি প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: মালিকের (রাজার) রাজনীতি প্রসঙ্গে।
আমি এর শিরোনাম দিয়েছি ‘দুরারুস সুলুক ফি সিয়াসাতিল মুলুক’, যেহেতু এর বিষয়বস্তু এর প্রতি আহ্বান জানায় এবং উৎসাহ প্রদান করে। আমি মহান আল্লাহর কাছে উত্তম সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করছি এবং সঠিক পথ প্রদর্শন ও সুদৃঢ়তার জন্য তাঁরই অনুগ্রহপ্রার্থী। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
الْبَاب الأول فِي أَخْلَاق الْملك
الْأَخْلَاق بَين الْمَدْح والذم اعْلَم أَن الْإِنْسَان مطبوع على أَخْلَاق قل مَا حمد جَمِيعهَا أَو ذمّ سائرها وَإِنَّمَا الْغَالِب أَن بَعْضهَا مَحْمُود وَبَعضهَا مَذْمُوم قَالَ الشَّاعِر
(وَمَا هَذِه الْأَخْلَاق إِلَّا طبائع
… فمنهن مَحْمُود وَمِنْهَا مذمم)
إصْلَاح الْأَخْلَاق المذمومة بالتأديبوَلَيْسَ يُمكن صَلَاح مذممومها بِالتَّسْلِيمِ إِلَى الطبيعة والتفويض إِلَى النحيزة إِلَّا أَن يرتاض لَهَا رياضة تَأْدِيب وتدريج فيستقيم لَهُ
প্রথম অধ্যায়: বাদশাহর চরিত্র সম্পর্কে
চরিত্র: প্রশংসা ও নিন্দার মাঝে জেনে রাখুন যে, মানুষ এমন কিছু চরিত্রের ওপর স্বভাবজাতভাবে সৃষ্টি হয়েছে যার সবটুকুই প্রশংসিত হওয়া কিংবা তার সবটুকু নিন্দিত হওয়া বিরল। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর কিছু অংশ প্রশংসিত এবং কিছু অংশ নিন্দিত হয়ে থাকে। কবি বলেছেন:
(আর এই চরিত্রগুলো স্বভাবজাত প্রকৃতি বৈ কিছু নয়
… যার কিছু প্রশংসিত এবং কিছু নিন্দিত)
শিষ্টাচারের মাধ্যমে নিন্দনীয় চরিত্রের সংশোধনকেবল প্রকৃতির ওপর আত্মসমর্পণ করে এবং স্বভাবের ওপর ছেড়ে দিয়ে নিন্দনীয় চরিত্রের সংশোধন সম্ভব নয়, যতক্ষণ না শিষ্টাচার ও ক্রমিক অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে অভ্যস্ত করা হয়; তবেই তা সঠিক রূপ লাভ করে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
الْجَمِيع بَعْضهَا خلق مطبوع وَبَعضهَا تخلق مسموع لِأَن الْخلق طبع وتكلف
قَالَ الشَّاعِر
(يَا أيتها المتحلي غير شيمته
… وَمن سجيته الْإِكْثَار والملق)
(عَلَيْك بِالْقَصْدِ فِيمَا أَنْت فَاعله
… إِن التخلق يَأْتِي دونه الْخلق)
شرِيف الْأَخْلَاق ثَمَرَته شرِيف الْأَفْعَال وشريف الْأَفْعَال لَا يتَصَرَّف فِيهِ إِلَّا شرِيف الْأَخْلَاق سَوَاء كَانَ ذَلِك طبعا أَو تطبعا وَقد نبه الله تَعَالَى على ذَلِك فِي كِتَابه الْكَرِيم بقوله لنَبيه صلى الله عليه وسلم {وَإنَّك لعلى خلق عَظِيم} لِأَن النُّبُوَّة لما كَانَت أشرف منَازِل الْخلق ندب إِلَيْهَا من أكمل فَضَائِل الْأَخْلَاق
চরিত্রের সবটুকুই কিয়দাংশ স্বভাবজাত প্রকৃতি (خلق مطبوع) এবং কিয়দাংশ শ্রবণলব্ধ অর্জিত বিষয় (تخلق مسموع); কেননা চরিত্র হলো জন্মগত স্বভাব ও সাধনার সমষ্টি।
কবি বলেছেন
(হে নিজের স্বভাব বহির্ভূত সাজে সজ্জিত ব্যক্তি
… যার প্রকৃতি হলো বাচালতা ও চাটুকারিতা)
(তুমি যা করো তাতে পরিমিতিবোধ অবলম্বন করো
… কেননা কৃত্রিম আচরণের (تخلق) চেয়ে স্বভাবজাত প্রকৃতিই (خلق) বেশি প্রভাবশালী)
উন্নত চরিত্রের ফসল হলো মহৎ কর্ম আর মহৎ কার্যাবলি কেবল উন্নত চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি দ্বারাই সম্পাদিত হয়, তা স্বভাবজাত (طبعا) হোক কিংবা অভ্যাসজাত (تطبعا) হোক। আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র কিতাবে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে {নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত} বলার মাধ্যমে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। কারণ নবুওয়াত যেহেতু সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মর্যাদা, তাই এর জন্য সর্বাপেক্ষা পূর্ণাঙ্গ চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তিকে মনোনীত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
سياسة الْإِنْسَان لنَفسِهِ فَإِذا بَدَأَ الْإِنْسَان بسياسة نَفسه كَانَ على سياسة غَيره أقدر وَإِذا أهمل مُرَاعَاة نَفسه كَانَ بإهمال غَيره أَجْدَر
وَقد قَالَ بعض الْحُكَمَاء الْمُتَقَدِّمين من بَدَأَ بسياسة نَفسه أدْرك سياسة النَّاس
وَقد قيل فِي منثور الحكم لَا يَنْبَغِي للعاقل أَن يطْلب طَاعَة غَيره وَطَاعَة نَفسه ممتنعة عَلَيْهِ
قَالَ الشَّاعِر
(أتطمع أَن يطيعك قلب سعدى
… تزْعم أَن قَلْبك قد عصاكا) وَرُبمَا حسن ظن الْإِنْسَان بِنَفسِهِ فأغفل مُرَاعَاة أخلاقه
মানুষের আত্ম-নিয়ন্ত্রণ যখন মানুষ নিজের আত্ম-নিয়ন্ত্রণ শুরু করে, তখন সে অন্যদের পরিচালনার ক্ষেত্রে অধিকতর সক্ষম হয়; আর যখন সে নিজের প্রতি যত্নশীল হতে অবহেলা করে, তখন অন্যদের প্রতি অবহেলার ক্ষেত্রেই সে অধিকতর উপযুক্ত হয়ে পড়ে।
পূর্ববর্তী (المتقدمين) প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের কেউ কেউ বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের আত্ম-নিয়ন্ত্রণ শুরু করে, সে মানুষের পরিচালনার বিষয়টি আয়ত্ত করতে পারে।
প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীতে বলা হয়েছে: বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য এটি সমীচীন নয় যে সে অন্যের আনুগত্য কামনা করবে, অথচ তার নিজের সত্তাই তার অবাধ্য।
কবি বলেছেন:
(তুমি কি সা’দার হৃদয়ের আনুগত্য কামনা করো
… অথচ তুমি দাবি করছ যে তোমার নিজের হৃদয়ই তোমার অবাধ্য হয়েছে!) অনেক সময় মানুষ নিজের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করে, ফলে সে নিজের চরিত্র সংশোধনের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
فَدَعَاهُ حسن الظَّن بهَا إِلَى الرِّضَا عَنْهَا دَاعيا إِلَى الانقياد لَهَا ففسد مِنْهُ مَا كَانَ صَالحا وَلم يصلح مِنْهَا مَا كَانَ فَاسِدا لِأَن الْهوى أغلب من الآراء وَالنَّفس أجور من الْأَعْدَاء لِأَنَّهَا بالسوء أَمارَة وَإِلَى الشَّهَوَات مائلة وَكَذَلِكَ قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم الشَّديد من ملك نَفسه
قَالَ بعض الْحُكَمَاء من رَضِي عَن نَفسه أَسخط عَلَيْهِ النَّاس ولحسن الظَّن بهَا أَسبَاب فَمن أقوى أَسبَابه الْكبر والإعجاب وَهُوَ بِكُل أحد قَبِيح وبالملوك أقبح لِأَنَّهُ دَال على صغر الهمة مخبر بعلو الْمنزلَة وَكفى بِالْمَرْءِ ذما أَن تكون همته دون مَنْزِلَته وَقد قَالَ بعض أَشْرَاف السّلف لَا يَنْبَغِي أَن يرى شَيْئا من الدُّنْيَا لنَفسِهِ خطرا فَيكون بِهِ تائها والملوك أَعلَى النَّاس همما وأبسطهم أملا فَلذَلِك كَانَ الْكبر
নফসের প্রতি সুধারণা তাকে তার প্রতি সন্তুষ্ট হতে প্ররোচিত করেছে এবং তার বশ্যতা স্বীকারের দিকে আহ্বান জানিয়েছে; ফলে তার যা কিছু সংশোধনযোগ্য ছিল তা কলুষিত হয়েছে এবং তার মন্দ দিকগুলো সংশোধিত হয়নি। কারণ কুপ্রবৃত্তি বিচার-বুদ্ধির ওপর প্রবল হয়ে থাকে এবং নফস শত্রুর চেয়েও অধিক অবিচারকারী; কারণ তা মন্দ কাজের নির্দেশক এবং কামনা-বাসনার প্রতি আসক্ত। অনুরূপভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "প্রকৃত শক্তিশালী সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।"
কোনো কোনো প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে, সে মানুষের মাঝে নিজের প্রতি অসন্তুষ্টি উদ্রেক করে।" নফসের প্রতি সুধারণা পোষণের নানাবিধ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ হলো অহংকার ও আত্মমুগ্ধতা। এটি যেকোনো ব্যক্তির পক্ষেই কদর্য, তবে রাজন্যবর্গের জন্য তা আরও বেশি কদর্য; কেননা তা হীন সংকল্পের পরিচায়ক এবং উচ্চ মর্যাদার জানান দেয়। কোনো ব্যক্তির নিন্দার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তার সংকল্প তার মর্যাদার চেয়েও নিম্নতর হওয়া। পূর্বসূরিদের মধ্য থেকে কোনো এক সম্মানিত ব্যক্তি বলেছেন: "দুনিয়ার কোনো কিছুকেই নিজের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ মনে করা উচিত নয়, অন্যথায় সে তাতে দিশেহারা হয়ে পড়বে।" আর রাজারা হলেন মানুষের মধ্যে সুউচ্চ সংকল্পের অধিকারী এবং সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী আশাবাদী; তাই অহংকার...
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৬০)
والإعجاب بهم أقبح وَكَانَ عبد الله بن الْعَبَّاس رضوَان الله عَلَيْهِ يَقُول سَمِعت أَبَا بكر الصّديق رضوَان الله عَلَيْهِ يَقُول
(إِذا أردْت شرِيف النَّاس كلهم
… فَانْظُر إِلَى ملك فِي زِيّ مِسْكين)
(ذَاك الَّذِي حسنت فِي النَّاس رأفته
… وَذَاكَ يصلح للدنيا وَالدّين)
السكينَة وَالْوَقار أَحْمد من الْكبر والإعجاب لَكِن السكينَة وَالْوَقار أَحْمد وَأولى بِهِ من الْكبر والإعجاب وَمن النَّاس من لَا يفرق بَين الْكبر وَالْوَقار وَهَذَا جهل بمعناهما
الْفرق بَين الْكبر والإعجاب فإمَّا الْكبر والإعجاب فقد يَجْتَمِعَانِ فِي الذَّم ويفترقان فِي الْمَعْنى فالإعجاب يكون فِي النَّفس وَمَا تظنه من فضائلها وَالْكبر يكون بالمنزلة وَمَا تظنه من علوها
أَسبَاب الْكبر وللكبر أَسبَاب فَمن أقوى أَسبَابه علو الْيَد ونفوذ الْأَمر
এবং তাদের প্রতি আত্মমুগ্ধতা আরও জঘন্য। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন, আমি আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি:
(যদি তুমি সমস্ত মানুষের মধ্যে সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে অন্বেষণ করতে চাও
… তবে এমন এক বাদশাহর দিকে তাকাও যে মিসকিনের বেশে থাকে)
(সেই ব্যক্তি, মানুষের প্রতি যার করুণা অতি সুন্দর
… আর সেই ব্যক্তিই দুনিয়া ও দ্বীনের জন্য উপযুক্ত)
প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য অহংকার ও আত্মমুগ্ধতা অপেক্ষা অধিক প্রশংসনীয় কিন্তু প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য হলো অহংকার ও আত্মমুগ্ধতার চেয়ে অধিক প্রশংসনীয় এবং একজন ব্যক্তির জন্য তা অধিক কাম্য। মানুষের মধ্যে এমন অনেকে আছে যারা অহংকার ও গাম্ভীর্যের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না; আর এটি মূলত এই দুইয়ের অর্থ সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা।
অহংকার ও আত্মমুগ্ধতার মধ্যে পার্থক্য অহংকার ও আত্মমুগ্ধতা—উভয়ই নিন্দনীয় হওয়ার ক্ষেত্রে একীভূত হতে পারে, কিন্তু অর্থগত দিক থেকে তারা ভিন্ন। আত্মমুগ্ধতা হলো নিজের সত্তা এবং নিজের ধারণামতে তার গুণাবলি নিয়ে মগ্ন থাকা, আর অহংকার হলো নিজের পদমর্যাদা এবং তার উচ্চতা সম্পর্কে নিজের ধারণা পোষণ করা।
অহংকারের কারণসমূহ অহংকারের বিভিন্ন কারণ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী কারণ হলো ক্ষমতার দাপট এবং কর্তৃত্বের প্রভাব।
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৬১)
وَقلة مُخَالطَة الْأَكفاء وللإعجاب أَسبَاب فَمن أقوى أَسبَابه كَثْرَة مديح المقربين وإطراء المتملقين الَّذين استبضعوا الْكَذِب والنفاق واستصحبوا الْمَكْر وَالْخداع فَإِذا وجدوا لنفاقهم سوقا ولكذبهم تَصْدِيقًا جَعَلُوهُ فِي ذمم النوكي فاعتاضوا بِهِ رتبا وعوضوا مِنْهُ نشبا وحسبوه زينا فَصَارَ شينا وَحكم الممدوح بكذب قَوْلهم على صدق علمه وَجعل لَهُم طَرِيقا إِلَى الِاسْتِهْزَاء بِهِ وَمن أجل ذَلِك قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم احثوا فِي وُجُوه المداحين التُّرَاب
وَقيل لأنوشروان لم تتهاونون بالمدح إِذا مدحتم قَالَ لأننا رَأينَا ممدوحا هُوَ بالذم أَحَق
সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশার স্বল্পতা এবং আত্মমুগ্ধতার নানাবিধ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী কারণগুলোর একটি হলো নিকটজনদের অতিমাত্রায় প্রশংসা এবং সেই চাটুকারদের স্তুতিবাক্য যারা মিথ্যা (كذب) ও নিফাক (نفاق)-কে নিজেদের ব্যবসায়িক পুঁজিতে পরিণত করেছে এবং ধূর্ততা ও প্রতারণাকে সঙ্গী করেছে। যখন তারা তাদের নিফাকের (نفاق) বাজার এবং তাদের মিথ্যার (كذب) প্রতি সমর্থন খুঁজে পায়, তখন তারা তা নির্বোধদের জিম্মায় সোপর্দ করে; এর বিনিময়ে তারা পদমর্যাদা লাভ করে এবং সম্পদ অর্জন করে। তারা একে অলঙ্কার মনে করে অথচ তা কলঙ্কে পরিণত হয়। প্রশংসিত ব্যক্তি তার নিজের নিশ্চিত জ্ঞানের বিপরীতে তাদের মিথ্যা (كذب) উক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হন এবং তাদের জন্য নিজেকে উপহাস করার পথ প্রশস্ত করে দেন। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা স্তুতিবাদকদের মুখে ধুলো নিক্ষেপ করো।"
আনুশিরওয়ানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "আপনাদের যখন প্রশংসা করা হয়, তখন আপনারা প্রশংসার প্রতি কেন অবজ্ঞা প্রদর্শন করেন?" তিনি বললেন: "কারণ আমরা এমন প্রশংসিত ব্যক্তিকে দেখেছি যে নিন্দারই অধিক যোগ্য।"
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৬২)
بَين التملق وَصدق النَّصِيحَة وَهَذَا أَمر يَنْبَغِي لكل وَاحِد أَن يراعيه من نَفسه وَيفرق بَين متملقه احتيالا وَبَين مخلص لَهُ النَّصِيحَة من أهل الصدْق وَالْوَفَاء الَّذين هم مرايا محاسنه وعيونه فَإِنَّهُ إِن أغفل ذَلِك داهن نَفسه ونافق عقله واستفسد أهل الْوَفَاء والصدق ومار مأكله النِّفَاق والملق فأعقبه ذَلِك ضَرَرا وأورثه تهجينا وذما وَالْملك أولى من حذر ذَلِك وتوقاه لِأَن حَضْرَة الْمُلُوك كالسوق الَّتِي يجلب إِلَيْهَا مَا ينْفق فِيهَا وكل دَاخل عَلَيْهِ فَإِنَّمَا يُرِيد التَّقَرُّب إِلَيْهِ بقوله وَفعله فَإِذا علمُوا مِنْهُ إِيثَار الْمُوَافقَة على الْهوى وَحب الْمَدْح والإطراء جعلُوا ذَلِك أربح بضائعهم لَدَيْهِ وَمن أجل مَا يتَقرَّب بِهِ إِلَيْهِ فيتصور ذمه حمدا وَقد كسب بِهِ ذما وَيتَصَوَّر قبحه حسنا وَقد كسب بِهِ قبحا فَهَذَا مِمَّا يجب أَن يتوقاه الْملك ويحذره
دَلَائِل الْوَقاروَإِذا كَانَ الْوَقار مَحْمُودًا وَكَانَ الْإِنْسَان بِهِ مَأْمُورا فَوَاجِب أَن نصف مِنْهُ فصولا دَالَّة يتبع بَعْضهَا بَعْضًا
فَمن ذَلِك قلَّة التسرع إِلَى الشَّهَوَات والتثبت عِنْد الشُّبُهَات
চাটুকারিতা ও অকৃত্রিম উপদেশের মধ্যকার পার্থক্য এটি এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেকের নিজের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখা উচিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চাটুকার ও সেই সব অকৃত্রিম উপদেশ দানকারী সত্যবাদী (الصدق) ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য করা উচিত, যারা তার গুণাবলীর দর্পণ এবং তার স্বরূপ দেখার চক্ষুস্বরূপ। কেননা সে যদি এ বিষয়ে উদাসীন থাকে, তবে সে নিজের সাথে তোষামোদি করবে এবং নিজের বিবেকের সাথে কপটতা (النفاق) করবে; এতে সে বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী (الصدق) ব্যক্তিদের কলুষিত করে ফেলবে এবং মুনাফেকি (النفاق) ও চাটুকারিতাই তার প্রধান উপজীব্য হয়ে দাঁড়াবে। ফলে এটি তার জন্য ক্ষতি বয়ে আনবে এবং তার জন্য বিদ্রূপ ও নিন্দা বয়ে আনবে। আর একজন রাজার জন্য এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া এবং বেঁচে থাকা অধিক জরুরি, কারণ রাজদরবার হলো একটি বাজারের মতো যেখানে কেবল তাই নিয়ে আসা হয় যার সেখানে চাহিদা আছে। রাজদরবারে প্রবেশকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই তার কথা ও কাজের মাধ্যমে রাজার নৈকট্য লাভ করতে চায়। যখন তারা তার মাঝে প্রবৃত্তি অনুযায়ী সমর্থন পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং প্রশংসা ও অতিশয়োক্তির প্রতি ভালোবাসা লক্ষ্য করে, তখন তারা সেটাকেই তার কাছে তাদের সবচেয়ে লাভজনক পণ্য এবং নৈকট্য লাভের প্রধান মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে (রাজার দৃষ্টিতে) তার নিন্দা প্রশংসার রূপ পরিগ্রহ করে যদিও তার মাধ্যমে সে নিন্দাই অর্জন করেছে, আর তার কুশ্রীতা সৌন্দর্যের রূপ ধরে যদিও তার মাধ্যমে সে কুশ্রীতাই অর্জন করেছে। এটি এমন বিষয় যা থেকে রাজার বেঁচে থাকা এবং সতর্ক থাকা আবশ্যক।
গাম্ভীর্যের নিদর্শনসমূহযেহেতু গাম্ভীর্য প্রশংসনীয় এবং মানুষকে তা অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাই আমাদের উচিত এর কিছু নিদর্শন ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা।
এর মধ্যে রয়েছে প্রবৃত্তির লালসায় তাড়াহুড়ো না করা এবং সন্দেহযুক্ত (الشبهات) বিষয়ে স্থিরতা বজায় রাখা।
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
وَاجْتنَاب سرعَة الحركات وخفة الإشارات ثمَّ إطراق الطّرف وَلُزُوم الصمت فَإِنَّهُ أبلغ فِي الْوَقار وَأسلم من هَذَا الْكَلَام مَعَ أَن الْملك ملحوظ الأنفاس مَنْقُول اللَّفْظ
وَقد قَالَ بعض الْحُكَمَاء الْحصْر خير من الهذر لِأَن الْحصْر يضعف الْحجَّة والهذر يتْلف المهجة
وَقَالَ بعض البلغاء الزم الصمت فَإِنَّهُ يكسبك صفو الْمحبَّة ويؤمنك سوء المغبة ويلبسك ثوب الْوَقار وَيَكْفِيك مُؤنَة الِاعْتِذَار وَتكلم أَرْبَعَة من حكماء الْمُلُوك بأَرْبعَة كَلِمَات كَأَنَّهَا رميت عَن قَوس
فَقَالَ ملك الرّوم أفضل علم الْعلمَاء السُّكُوت
وَقَالَ ملك الْفرس إِذا تَكَلَّمت بِالْكَلِمَةِ ملكتني وَلم أملكهَا
وَقَالَ ملك الْهِنْد أَنا على رد مَا لم أقل أقدر مني على رد مَا قلت
وَقَالَ ملك الصين نَدِمت على الْكَلَام وَلم أندم على السُّكُوت
দ্রুত অঙ্গভঙ্গি ও চপল সংকেত বর্জন করা, অতঃপর দৃষ্টি অবনত রাখা এবং নীরবতা বজায় রাখা; কারণ এটি গাম্ভীর্য রক্ষায় অধিক কার্যকর এবং বাক্যালাপের চেয়ে অধিক নিরাপদ। বিশেষত যখন বাদশাহর সামনে প্রতিটি নিঃশ্বাস পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রতিটি শব্দ উদ্ধৃত করা হয়।
জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন, 'বাকরুদ্ধ হওয়া প্রলাপ বকার চেয়ে উত্তম; কারণ বাকরুদ্ধ হওয়া প্রমাণ (حجة) কে দুর্বল করে দেয়, আর প্রলাপ বকা প্রাণ সংহার করে।'
জনৈক বাগ্মী ব্যক্তি বলেছেন, 'তুমি নীরবতা অবলম্বন করো; কারণ এটি তোমাকে অকৃত্রিম ভালোবাসা দান করবে, অশুভ পরিণাম থেকে নিরাপদ রাখবে, তোমাকে গাম্ভীর্যের পোশাক পরিধান করাবে এবং তোমাকে ক্ষমা প্রার্থনার কষ্ট থেকে রেহাই দেবে।' চারজন প্রজ্ঞাবান সম্রাট এমন চারটি কথা বলেছেন, যা যেন ধনুক থেকে নিক্ষিপ্ত তীরের মতো অব্যর্থ।
রোম সম্রাট বললেন, 'বিদ্বানদের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান হলো নীরবতা।'
পারস্য সম্রাট বললেন, 'যখন আমি কোনো কথা বলি, তখন সেটি আমার ওপর কর্তৃত্ব বিস্তার করে, আমি তার ওপর কর্তৃত্ব করতে পারি না।'
ভারত সম্রাট বললেন, 'যা আমি বলিনি তা প্রত্যাহার করার ব্যাপারে আমি অধিক সক্ষম, যা আমি বলে ফেলেছি তা প্রত্যাহার করার চেয়ে।'
চীন সম্রাট বললেন, 'আমি কথা বলার কারণে লজ্জিত হয়েছি, কিন্তু নীরব থাকার কারণে কখনও লজ্জিত হইনি।'
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
وليعلم أَن الْحَاجة إِلَى الصمت أَكثر من الْحَاجة إِلَى الْكَلَام لِأَن الْحَاجة إِلَى الصمت عَامَّة وَالْحَاجة إِلَى الْكَلَام عارضة فَلذَلِك مَا وَجب أَن يكون صمت الْعَاقِل فِي الْأَحْوَال أَكثر من كَلَامه فِي كل حَال
حُكيَ أَن بعض الْحُكَمَاء رأى رجلا يكثر الْكَلَام ويقل السُّكُوت فَقَالَ لَهُ إِن الله تَعَالَى إِنَّمَا جعل لَك أذنين وَلِسَانًا وَاحِدًا ليَكُون مَا تسمعه ضعف مَا تَتَكَلَّم بِهِ فَإِذا دَعَتْهُ الْحَاجة إِلَى الْكَلَام سبره وَقيل اللِّسَان وَزِير الْإِنْسَان فَإِذا تكلم تحذر من الْإِكْثَار فَقل من كثر كَلَامه إِلَّا وَكثر ندمه
وَقد قيل من كثر كَلَامه كثرت آثامه وَلَا يَنْبَغِي أَن يعجب بجيد كَلَامه وَلَا بصواب مَنْطِقه فان الْإِعْجَاب بِهِ سَبَب الْإِكْثَار مِنْهُ وَقد قيل من أعجب بقوله أُصِيب بعقله
اعْتِمَاد الصدْق والحذر من الْكَذِب ويعتمد الصدْق فِي مقاله وَاجْتنَاب الْكَذِب من مقاله
فقد
এবং জেনে রাখা উচিত যে, কথা বলার প্রয়োজনীয়তার তুলনায় নীরব থাকার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। কারণ নীরবতার প্রয়োজনীয়তা হলো সর্বজনীন এবং কথা বলার প্রয়োজনীয়তা হলো সাময়িক; এই কারণেই বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য কর্তব্য হলো সকল অবস্থায় তার নীরবতা যেন তার কথা বলার চেয়ে অধিক হয়।
বর্ণিত আছে যে, জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি এমন এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে অধিক কথা বলত এবং খুব কম নীরব থাকত। তিনি তাকে বললেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তোমার জন্য দুটি কান এবং একটি জিহ্বা দিয়েছেন যাতে তোমার শোনার পরিমাণ তোমার কথা বলার পরিমাণের দ্বিগুণ হয়।" সুতরাং যখন কথা বলার প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন তা যথাযথভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত। বলা হয়ে থাকে যে, জিহ্বা হলো মানুষের উজির। তাই কথা বলার সময় বাহুল্য বর্জন করা উচিত; কারণ খুব কমই এমন দেখা যায় যে কারো কথা বৃদ্ধি পেয়েছে অথচ তার অনুশোচনা বৃদ্ধি পায়নি।
বলা হয়ে থাকে, যার কথা বৃদ্ধি পায় তার পাপও বৃদ্ধি পায়। নিজের চমৎকার কথা বা বাচনভঙ্গির সঠিকতায় আত্মমুগ্ধ হওয়া উচিত নয়, কারণ আত্মমুগ্ধতা অধিক কথা বলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আরও বলা হয়ে থাকে যে, যে ব্যক্তি নিজের কথায় আত্মমুগ্ধ হয়, সে তার বুদ্ধিবৃত্তিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।
সত্যবাদিতা (الصدق) অবলম্বন এবং মিথ্যা (الكذب) থেকে সতর্কতা আর নিজের বক্তব্যে সত্যবাদিতা (الصدق) অবলম্বন করা এবং কথাবার্তায় মিথ্যা (الكذب) পরিহার করা আবশ্যক।
কেননা
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم انه قَالَ رحم الله امْرَءًا أصلح من لِسَانه واقصر من عنانه وألزم طَرِيق الْحق مقوله وَلم يعود الخطل مفصله
فيحذر الْكَذِب وَلَا يرخص لنَفسِهِ فِيهِ إِلَّا على وَجه التورية فِي خداع الحروب فَإِن الْحَرْب خدعة
وَقد جَاءَت السّنة بإرخاص الْكَذِب فِيهَا على وَجه التورية دون التَّصْرِيح فان أرخص لنَفسِهِ فِيهِ على غير هَذَا الْوَجْه صَار بِهِ موسوما لِأَن الْإِنْسَان بِقدر مَا يسْبق إِلَيْهِ يعرف وَبِمَا يظْهر من أخلاقه يُوصف وَبِذَلِك جرت عَادَة الْخلق أَنهم يعدلُونَ الْعَادِل بالغالب من أَفعاله وَرُبمَا أَسَاءَ ويفسقون الْفَاسِق بالغالب من أَفعاله وَرُبمَا أحسن فَإِذا وسم بِالصّدقِ وَقصر كَلَامه على المهم كَانَ تبشيره وإنذاره على حسب خطر الْأُمُور الَّتِي يجْرِي فِيهَا وعده أَو وعيده كَانَت أَلْفَاظه ألقابا وَكَانَ ذمه عذَابا وَاسْتغْنى عَن كثير من الإرغاب والإرهاب
وَقد اختير للملوك عذوبة
নবী (সা.) থেকে বর্ণিত (رُوِيَ) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যে নিজের জিহ্বাকে সংশোধন করেছে, নিজের প্রবৃত্তিকে সংবরণ করেছে, সত্যের পথে নিজের বক্তব্যকে অবিচল রেখেছে এবং নিজের কথাবার্তায় ভুলভ্রান্তিকে প্রশ্রয় দেয়নি।"
অতএব সে যেন মিথ্যা পরিহার করে এবং যুদ্ধের কৌশলে দ্ব্যর্থবোধক কথা (تورية) ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে নিজের জন্য মিথ্যার অনুমতি না দেয়; কারণ যুদ্ধ হলো একটি কৌশল।
সুন্নাহতে যুদ্ধের ক্ষেত্রে দ্ব্যর্থবোধক কথার (تورية) মাধ্যমে মিথ্যার অনুমতি এসেছে, সরাসরি স্পষ্ট বিবৃতির (تصريح) মাধ্যমে নয়। যদি সে এ পদ্ধতি ব্যতীত অন্য কোনোভাবে নিজেকে মিথ্যার অনুমতি দেয়, তবে সে এর মাধ্যমেই চিহ্নিত (موسوم) হয়ে যায়; কারণ মানুষের মজ্জাগত স্বভাবের যা প্রকাশ পায় তা দিয়েই সে পরিচিত হয় এবং যা তার থেকে পূর্বে প্রকাশ পায় তা দিয়েই সে বিশেষিত হয়। আর মানুষের রীতি হলো এই যে, তারা কোনো ব্যক্তিকে তার অধিকাংশ কর্মের ভিত্তিতেই ন্যায়পরায়ণ (عادل) সাব্যস্ত করে যদিও সে কখনও ভুল করে থাকে; আবার তারা কোনো পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তিকে তার অধিকাংশ কর্মের ভিত্তিতেই পাপাচারী সাব্যস্ত করে যদিও সে কখনও ভালো কাজ করে থাকে। সুতরাং যখন সে সত্যবাদিতায় চিহ্নিত হবে এবং তার কথা কেবল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে, তখন তার সুসংবাদ প্রদান ও সতর্কবাণী প্রদান সেই বিষয়ের গুরুত্ব অনুযায়ী হবে যাতে তার প্রতিশ্রুতি বা হুমকি আবর্তিত হয়। তখন তার শব্দগুলো হবে বিশেষ উপাধি স্বরূপ এবং তার নিন্দা হবে যন্ত্রণাদায়ক, ফলে সে অতিরিক্ত উৎসাহ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারবে।
আর রাজন্যবর্গের জন্য মিষ্টভাষিতা পছন্দ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
الْكَلَام وجهارة الصَّوْت لِأَنَّهُ أرعب وأرهب
وَحكي أَن أَبَا بكر الصّديق رضي الله عنه كتب إِلَى عِكْرِمَة ابْن أبي جهل وَهُوَ عَامله بعمان إياك أَن توعد على مَعْصِيّة بِأَكْثَرَ من عقوبتها فَإنَّك إِن فعلت أثمت وَإِن تركت كذبت
الحذر من الْغَضَب ويحذر الْغَضَب ويتجنبه فَإِنَّهُ شَرّ قاهر وأضر معاند وَلَيْسَ يفْسد الْأُمُور وينتقص التَّدْبِير إِلَّا عِنْد غلبته وَشدَّة فورته فَإِن مني بِهِ فَلَا يمْضِي فعلا وَلَا ينفذ حكما حَتَّى يَزُول
কথা এবং উচ্চকণ্ঠ (ব্যবহার করা উচিত), কেননা এটি অধিকতর ভীতিপ্রদ এবং প্রভাববিস্তারী।
বর্ণিত আছে (حكي) যে, আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ওমানে তাঁর গভর্নর ইকরিমা ইবনে আবি জাহলের নিকট লিখেছিলেন: "সাবধান! কোনো পাপাচারের জন্য তার নির্ধারিত শাস্তির চেয়ে কঠোর শাস্তির ভয় দেখাবে না; কেননা তুমি যদি তা কার্যকর করো তবে তুমি গুনাহগার হবে, আর যদি তা বর্জন করো তবে তুমি মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হবে।"
ক্রোধ থেকে সতর্ক থাকা আর সে যেন ক্রোধ থেকে সতর্ক থাকে এবং তা পরিহার করে; কেননা এটি একটি পরাক্রমশালী অনিষ্ট এবং অত্যন্ত ক্ষতিকর এক শত্রু। যখন ক্রোধ প্রবল হয় এবং এর তীব্রতা বৃদ্ধি পায়, তখন তা বিষয়াদিকে কলুষিত করে এবং সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনাকে ত্রুটিপূর্ণ করে তোলে। সুতরাং যদি কেউ ক্রোধ দ্বারা আক্রান্ত হয়, তবে সে যেন ক্রোধ প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো কাজ সম্পাদন না করে এবং কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর না করে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
وروى عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ إِذا استشاط السُّلْطَان تسلط الشَّيْطَان
وَحكي أَن بعض مُلُوك الْفرس كتب كتابا فَدفعهُ إِلَى وزيره وَقَالَ إِذا غضِبت فناولنيه وَكَانَ فِيهِ مَكْتُوب مَالك وَالْغَضَب إِنَّك لست بإله إِنَّمَا أَنْت بشر ارْحَمْ من فِي الأَرْض يَرْحَمك من فِي السَّمَاء
وَإِنَّمَا كَانَ يفعل هَذَا ليزول عَنهُ الْغَضَب خوفًا من قبح آثاره وَشدَّة إضراره
الحذر من الْمحل واللجاج وَكَذَلِكَ الْمحل واللجاج يجب أَن يحذرهُ فَهُوَ أليف الْغَضَب وحليف العطب والانقياد للرأي أَحْمد والرفق فِي الْأُمُور أوفق
وَرُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ إِن الرِّفْق لم يكن فِي شَيْء قطّ إِلَّا
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করা হয়েছে (روى) যে তিনি বলেছেন: “যখন শাসক প্রচণ্ড রাগান্বিত হন, তখন শয়তান তার ওপর কর্তৃত্ব লাভ করে।”
বর্ণিত (حكي) আছে যে, পারস্যের জনৈক রাজা একটি পত্র লিখেছিলেন এবং সেটি তার মন্ত্রীর নিকট অর্পণ করে বলেছিলেন: “যখন আমি রাগান্বিত হব, তখন এটি আমাকে দিও।” তাতে লেখা ছিল: “আপনার সাথে রাগের কী সম্পর্ক? আপনি তো উপাস্য নন, বরং আপনি একজন মানুষ মাত্র। জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করুন, তবে আসমানে যিনি আছেন তিনি আপনার প্রতি দয়া করবেন।”
রাগের কুপ্রভাব এবং এর তীব্র ক্ষয়ক্ষতির ভয়ে তা যাতে দূরীভূত হয়, মূলত সেজন্যই তিনি এটি করতেন।
তর্কবিতর্ক ও হঠকারিতা থেকে সতর্কতা অনুরূপভাবে তর্কবিতর্ক ও হঠকারিতা থেকেও সতর্ক থাকা আবশ্যক (يجب); কেননা তা রাগের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ধ্বংসের বন্ধু। সুচিন্তিত মতামতের অনুসারী হওয়া অধিক প্রশংসনীয় এবং কার্যাবলিতে নম্রতা অবলম্বন করা অধিক উপযোগী।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই নম্রতা কোনো জিনিসের মধ্যেই থাকে না, তবে তা কেবল...”
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
زانه وَلَا نزع مِنْهُ إِلَّا شانه
وليعلم أَن فِي الْأُمُور الَّتِي تدبرها مَا لَا يمْضِي إِلَّا بفرط الصرامة والهيبة وَأَن ذَلِك لَا يكون إِلَّا لمن خيف غَضَبه وخشيت سطوته فليجعل من الْغَضَب تغضبا لَا غَضبا لِأَن التغاضب فعله يُمكنهُ أَن يقف مِنْهُ على الْحَد الْمَطْلُوب وَالْغَضَب انفعال فِيهِ اضْطر إِلَيْهِ لَا يُمكنهُ أَن يقف مِنْهُ على حد وَلَقَد أصَاب من كَانَت عُقُوبَته للأدب وَأَخْطَأ من كَانَت عُقُوبَته للغضب وَهَذَا مِمَّا ذكرنَا فِي معنى الطَّبْع والتطبع
وعَلى هَذَا الْقيَاس فَلَا يَنْبَغِي أَن يستفزه السرُور فتملأ البشائر قلبه وتخلب الأفراح لبه فينسبه الْعَدو إِلَى ضعف الْعَزِيمَة ولين الهمة بل يصور فِي نَفسه وَيقدر فِي فكره أَن البشائر وَإِن جلت محتقرة إِذا قيست بكبر همته وأضيفت إِلَى عظم مَنْزِلَته
الصَّبْر وأقسامه وَكَذَلِكَ الْحَوَادِث إِذا طرقت والنوازل إِذا ألمت كَانَت سهلة الْوَطْأَة فِي جنب صبره وشهامته قَليلَة الْأَثر لسعة صَدره
...তা সৌন্দর্যমণ্ডিত করে এবং কোনো বস্তু থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়া হলে তা তাকে কলঙ্কিত করে।
আর জেনে রাখা উচিত যে, আপনি যেসব বিষয় পরিচালনা করেন তার মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা চরম কঠোরতা ও গাম্ভীর্য ছাড়া সম্পন্ন হয় না। আর এটি কেবল তখনই সম্ভব হয় যখন কারও ক্রোধকে ভয় করা হয় এবং তার প্রতাপকে আশঙ্কা করা হয়। সুতরাং সে যেন ক্রোধের কৃত্রিমতা (تغضب) অবলম্বন করে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে রাগান্বিত (غضب) না হয়। কারণ কৃত্রিমভাবে ক্রোধ প্রকাশ করা একটি স্বেচ্ছাধীন কাজ, যার মাধ্যমে তার পক্ষে কাঙ্ক্ষিত সীমারেখায় স্থির থাকা সম্ভব। পক্ষান্তরে ক্রোধ (غضب) হলো একটি আবেগপ্রসূত অবস্থা যা তাকে করতে বাধ্য করে এবং সেখানে সে কোনো সীমারেখায় স্থির থাকতে পারে না। যে ব্যক্তি আদব বা শিষ্টাচারের (أدب) জন্য শাস্তি প্রদান করে সে সঠিক কাজ করেছে, আর যে রাগের বশবর্তী হয়ে শাস্তি প্রদান করে সে ভুল করেছে। এটি আমরা প্রকৃতি (طبع) এবং স্বভাব গঠনের (تطبع) যে অর্থ বর্ণনা করেছি তারই অন্তর্ভুক্ত।
আর এই অনুমান বা নীতির (قياس) ভিত্তিতে, কোনো আনন্দের সংবাদে তার বিচলিত হওয়া উচিত নয় যাতে সুসংবাদ তার হৃদয়কে পূর্ণ করে ফেলে এবং অতিরিক্ত আহ্লাদ তার বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে; যার ফলে শত্রু তাকে দুর্বল সংকল্প (عزيمة) এবং নিস্তেজ উদ্যমের (همة) অধিকারী মনে করতে পারে। বরং তার মনে এমন চিত্র অঙ্কন করা উচিত এবং চিন্তায় এটি রাখা উচিত যে, সুসংবাদসমূহ যতই মহৎ হোক না কেন, তার উচ্চাশা ও সুউচ্চ মর্যাদার তুলনায় তা অত্যন্ত নগণ্য।
ধৈর্য (صبر) ও এর প্রকারভেদ অনুরূপভাবে যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে বা বিপদ আপতিত হয়, তখন তার ধৈর্য (صبر) ও বীরত্বের (شهامة) সামনে যেন তা অতি লঘু প্রতীয়মান হয় এবং তার হৃদয়ের প্রশস্ততার কারণে তার প্রভাব যেন সামান্য হয়।
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
وَبعد همته فَإِن طَرَأَ عَلَيْهِ مِنْهَا طَارِئ بَان فَضله على سواهُ بِالصبرِ والمسكة عِنْد جزعهم وَالْوَقار والأناة عِنْد استفزازهم فَيكون بصبره ممتثلا لأمر الله عز وجل فِيمَا أَتَاهُ راجيا للظفر فِيمَا يَقْصِدهُ ويتوخاه وَقد قَالَت الْحُكَمَاء بِالصبرِ على مواقع الكره تدْرك الحظوة
وَقد قَالَ الشَّاعِر
(إِذا الْمَرْء لم يَأْخُذ من الصَّبْر حَظه
… تقطع من أَسبَابه كل مبرم)
وليعلم أَن الصَّبْر قد يَنْقَسِم ثَلَاثَة أَقسَام وَهُوَ فِي كل قسم مِنْهَا مَحْمُود
فَأول أقسامه الصَّبْر على مَا فَاتَ إِدْرَاكه من نيل الرغائب أَو نقضت أوقاته من نزُول المصائب وبالصبر فِي هَذَا تستفاد رَاحَة الْقلب وهدوء الْحَواس وفقد الصَّبْر فِيهِ مَنْسُوب إِلَى شدَّة الأسى وإفراط الْحزن فَإِن صَبر طَائِعا وَإِلَّا احْتمل كَارِهًا هما لَازِما وَصَارَ إِثْمًا لعمله راغما
وَثَانِي أقسامه الصَّبْر على مَا نزل من مَكْرُوه أَو حل من أَمر مخوف وَالصَّبْر فِي هَذَا يفتح وُجُوه الآراء ويتوقى مكايد الْأَعْدَاء وَفِي مثله قَالَ الله سبحانه وتعالى {واصبر على مَا أَصَابَك إِن ذَلِك من عزم الْأُمُور}
وَقَالَت الْحُكَمَاء مِفْتَاح عَزِيمَة الصَّبْر يعالج مغاليق
তার উচ্চাকাঙ্ক্ষার পর, যদি তার ওপর কোনো আকস্মিক পরিস্থিতি আপতিত হয়, তবে অন্যদের অস্থিরতার সময় ধৈর্য ও আত্মসংযম এবং তাদের উত্তেজনার সময় গাম্ভীর্য ও ধীরস্থিরতার মাধ্যমে অন্যদের ওপর তার শ্রেষ্ঠত্ব ফুটে ওঠে। ফলে সে তার ধৈর্যের মাধ্যমে তার নিকট যা আপতিত হয়েছে সে বিষয়ে মহান আল্লাহর নির্দেশের অনুগত হয় এবং তার অভীষ্ট ও লক্ষ্য অর্জনে সফলতার প্রত্যাশী থাকে। প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ বলেছেন: "অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণের মাধ্যমেই সৌভাগ্য লাভ করা যায়।"
আর কবি বলেছেন:
(যদি কোনো ব্যক্তি ধৈর্য থেকে তার প্রাপ্য অংশ গ্রহণ না করে... তবে তার সমস্ত মজবুত উপায়-উপকরণ ছিন্ন হয়ে যায়।)
আর জেনে রাখা উচিত যে, ধৈর্য তিন ভাগে বিভক্ত এবং এর প্রতিটি বিভাগই প্রশংসনীয়।
তার প্রথমটি হলো—কাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভে ব্যর্থ হওয়ার ওপর অথবা বিপদাপদ আসার কারণে সময় অতিবাহিত হওয়ার ওপর ধৈর্য ধারণ করা। এক্ষেত্রে ধৈর্যের মাধ্যমে অন্তরের প্রশান্তি ও ইন্দ্রিয়সমূহের স্থিরতা অর্জিত হয়, আর এতে ধৈর্যের অভাব তীব্র মনঃকষ্ট ও অত্যধিক শোকের কারণ হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং সে যদি স্বেচ্ছায় ধৈর্য ধারণ করে তবে উত্তম, অন্যথায় সে অনিচ্ছাসত্ত্বেও এক নিরবচ্ছিন্ন উদ্বেগ বয়ে বেড়াবে এবং তার এ কর্মের কারণে সে বাধ্য হয়েই গুনাহগার হবে।
দ্বিতীয় বিভাগটি হলো—আপতিত অপ্রীতিকর বিষয় বা কোনো ভয়ংকর পরিস্থিতির ওপর ধৈর্য ধারণ করা। এক্ষেত্রে ধৈর্য প্রজ্ঞাপূর্ণ চিন্তার পথ খুলে দেয় এবং শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করে। এই প্রেক্ষাপটেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর তোমার ওপর যা আপতিত হয় তাতে ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চয়ই তা দৃঢ়সংকল্পের কাজ।}
প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ বলেছেন: ধৈর্যের দৃঢ় সংকল্পের চাবিকাঠি রুদ্ধ দ্বারসমূহ উন্মোচন করে।
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৭০)
الْأُمُور وفقد الصَّبْر فِي هَذَا مَنْسُوب إِلَى الْخرق
وثالث أقسامه الصَّبْر فِي مَا ينْتَظر وُرُوده من رَغْبَة يرجوها أَو يخْشَى حُدُوثه من رهبة يخافها وبالصبر والتلطف فِي هَذَا يدْفع عَادِية مَا يخافه من الشَّرّ
وينال نفع مَا يرجوه من الْخَيْر وَفِي مثله قَالَت الْحُكَمَاء من اسْتَعَانَ بِالصبرِ نَالَ جسيمات الْأُمُور وفقد الصَّبْر فِيهِ مَنْسُوب إِلَى الطيش
كتمان السِّرّ وَلَيْسَ يَصح الصَّبْر فِي الْأُمُور بترك التسرع إِلَيْهَا دون كتمان السِّرّ فِيهَا فَإِن كتمان السِّرّ من أقوى أَسبَاب الظفر وأبلغ فِي كيد الْعَدو وَقد رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ اسْتَعِينُوا على الْحَاجَات بِالْكِتْمَانِ
বিষয়সমূহ এবং এক্ষেত্রে ধৈর্যের অভাব অদক্ষতা বা নির্বুদ্ধিতার অন্তর্ভুক্ত।
এর তৃতীয় প্রকার হলো এমন বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করা যার আগমনের প্রতীক্ষা করা হয়—তা কোনো আকাঙ্ক্ষিত বিষয় লাভের প্রত্যাশায় হোক কিংবা কোনো ভীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় হোক। ধৈর্য এবং কোমলতার মাধ্যমে এক্ষেত্রে ব্যক্তি তার আশঙ্কাকৃত অনিষ্ট প্রতিহত করতে পারে।
এবং সে তার প্রত্যাশিত কল্যাণের সুফল লাভ করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটেই প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিগণ বলেছেন: যে ব্যক্তি ধৈর্যের সাহায্য গ্রহণ করে, সে সুমহান বিষয়সমূহ অর্জন করে; আর এক্ষেত্রে ধৈর্যের অভাব চপলতা বা অস্থিরতার অন্তর্ভুক্ত।
গোপনীয়তা রক্ষা করা কোনো বিষয়ে তাড়াহুড়ো বর্জন করার মাধ্যমে ধৈর্য ধারণ করা তখনই সার্থক হয় যখন তাতে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়। কেননা গোপনীয়তা রক্ষা করা বিজয়ের অন্যতম শক্তিশালী কারণ এবং শত্রুর ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে (رُوِيَ) যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা গোপনীয়তা রক্ষার মাধ্যমে প্রয়োজন পূরণে সাহায্য প্রার্থনা করো।"
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৭১)
وَقَالَ أَمِير الْمُؤمنِينَ عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه سرك أسيرك فَإِذا تَكَلَّمت بِهِ صرت أسيره وَقَالَ أنوشران من حصن سره فَلهُ بتحصينه خصلتان الظفر بحاجته والسلامة من السطوات وليعلم أَن من الْأَسْرَار مَالا يسْتَغْنى فِيهَا عَن مطالعة ولي مخلص واستشارة نَاصح فليتحفظ فِيهَا وليختر لَهَا أمناءها فَإِن الركون إِلَى حسن الظَّن ذَرِيعَة إِلَى إفشاء السِّرّ فَلَيْسَ كل من كَانَ على الْأَمْوَال أَمينا يجب أَن يكون على الْأَسْرَار مؤتمنا والعفة على الْأَمْوَال أيسر من الْعِفَّة عَن إذاعة الْأَسْرَار لِأَن الْإِنْسَان قد يذيع سر نَفسه لمبادرة لِسَانه وَسقط كَلَامه ويشح على الْيَسِير من مَاله ضنا بِهِ وحفاظا عَلَيْهِ وَلَا يرى مَا أذاع من سره كَبِيرا فِي جنب مَا حفظه من يسير مَاله مَعَ عظم الضَّرَر الدَّاخِل عَلَيْهِ فَمن أجل ذَلِك كَانَ أُمَنَاء الْأَسْرَار أَشد تعذرا وَأَقل وجودا من أُمَنَاء الْأَمْوَال فَإِذا ظفر بِهَذَا الْأمين المعوز أودعهُ إِيدَاع متحفظ فَإِن وجده مؤثرا للوقوف عَلَيْهِ حذره وتوقاه فَإِن طَالب الْوَدِيعَة خائن
আমিরুল মুমিনীন আলী বিন আবি তালিব (রা.) বলেছেন, "তোমার গোপন কথা তোমার নিকট বন্দী; কিন্তু যখনই তুমি তা প্রকাশ করে ফেলো, তখন তুমি তার নিকট বন্দী হয়ে যাও।" আনুশিরওয়ান বলেছেন, "যে ব্যক্তি তার গোপন কথাকে সুরক্ষিত রাখল, তা সুরক্ষিত রাখার মাধ্যমে সে দুটি সুফল লাভ করল: উদ্দেশ্য অর্জনে সফলতা এবং বিপদাপদ থেকে নিরাপত্তা।" এবং জেনে রাখা উচিত যে, এমন কিছু গোপন বিষয় থাকে যেখানে কোনো নিষ্ঠাবান বন্ধুর পরামর্শ এবং কোনো হিতাকাঙ্ক্ষীর সাথে আলোচনা না করে উপায় থাকে না। অতএব সে যেন এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করে এবং এর জন্য বিশ্বস্ত (أُمَنَاء) ব্যক্তিদের নির্বাচন করে। কেননা কেবল সুধারণার ওপর নির্ভর করা গোপন কথা ফাঁস হয়ে যাওয়ার একটি মাধ্যম। সুতরাং সম্পদের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি বিশ্বস্ত (أَمِينا), সে ব্যক্তি গোপন বিষয়ের ক্ষেত্রেও নির্ভরযোগ্য (مؤتمنا) হবে—এমনটি হওয়া আবশ্যক নয়। আর সম্পদের ব্যাপারে পবিত্রতা বজায় রাখা গোপন কথা প্রচার না করার চেয়ে অধিকতর সহজ। কেননা মানুষ জিহ্বার চপলতা ও অসতর্কতার কারণে নিজের গোপন কথা নিজেই প্রকাশ করে দেয়, অথচ সামান্য সম্পদের ব্যাপারে কৃপণতা করে তা রক্ষার জন্য সচেষ্ট থাকে। সে যে তার গোপন কথা প্রকাশ করে দিল, সেটাকে সে তার সামান্য সম্পদ রক্ষার তুলনায় বড় কিছু মনে করে না, যদিও এতে তার অনেক বড় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণেই গোপন কথা রক্ষার জন্য বিশ্বস্ত (أُمَنَاء) লোক পাওয়া সম্পদ রক্ষার জন্য বিশ্বস্ত (أُمَنَاء) লোক পাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন এবং দুর্লভ। সুতরাং যখন কোনো ব্যক্তি এই দুর্লভ আমানতদারকে খুঁজে পায়, সে যেন তার কাছে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিষয়টি আমানত রাখে। কিন্তু সে যদি দেখে যে ওই ব্যক্তি নিজেই রহস্য উদ্ঘাটনে অতি আগ্রহী, তবে সে যেন তাকে সতর্কভাবে এড়িয়ে চলে; কেননা গচ্ছিত আমানত যাচ্ঞাকারী ব্যক্তি মূলত বিশ্বাসঘাতক (خائن)।
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৭২)
وَقد قَالَ الشَّاعِر
(لَا تذع سرا إِلَى طَالبه
… إِن الطَّالِب للسر مذيع)
وَأولى الْأُمُور فِي الْأَسْرَار كتمها لتؤمن مخاوف الإذاعة والإستطالة بالإدلال
وَقد قَالَ بعض الْحُكَمَاء من أفشى سره كثر عَلَيْهِ المتآمرون
وَقد قَالَ الشَّاعِر
(ألم تَرَ أَن وشَاة الرِّجَال
… لَا يتركون أديما صَحِيحا)
(فَلَا تفش سرك إِلَّا إِلَيْك
… فَإِن لكل نصيح نصيحا)
জনৈক কবি বলেছেন
(যে তোমার রহস্যের অনুসন্ধান করে তার নিকট তা প্রকাশ করো না
… কারণ রহস্যের অন্বেষণকারী মূলত তা প্রচারকারী)
গোপন বিষয়ের ক্ষেত্রে সর্বাধিক অগ্রগণ্য বিষয় হলো তা গোপন রাখা, যেন তা প্রকাশিত হওয়ার ভীতি এবং দম্ভের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা থেকে সুরক্ষিত থাকা যায়।
জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের গোপন কথা ফাঁস করে দেয়, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
জনৈক কবি বলেছেন
(তুমি কি দেখনি যে মানুষের মাঝে বিদ্যমান চোগলখোরেরা
… কোনো চামড়াকেই অক্ষত (صحيح) ছাড়ে না?)
(সুতরাং তোমার গোপন কথা কেবল নিজের কাছেই রাখো
… কারণ প্রত্যেক শুভাকাঙ্ক্ষীরই একজন শুভাকাঙ্ক্ষী থাকে)
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
وَقَالَ بعض الْحُكَمَاء إِذا وقفت الرّعية على سرائر الْمُلُوك هان عَلَيْهَا أمرهَا
المشورة وَيَنْبَغِي للْملك أَن لَا يمْضِي الْأُمُور بهاجس رَأْيه ونتائج فكره تَحَرُّزًا من إفشاء سره والاستعانة بِرَأْي غَيره حَتَّى يشاور ذَوي الأحلام والنهى وَأهل الْأَمَانَة والتقى مِمَّن قد حنكتهم التجارب فارتضوا بهَا وَعرفُوا عِنْد موارد الْأُمُور حقائق مصادرها فَإِنَّهُ رُبمَا كَانَ استبداده بِرَأْيهِ أضرّ عَلَيْهِ من إذاعة سره وَلَيْسَ كل الْأُمُور المبرمة أسرارا مكتومة وَلَا الْأَسْرَار المكتومة بمشاورة النصحاء فَاشِية مَعْلُومَة
وَقد قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم مَا سعد أحد بِرَأْيهِ وَلَا شقي عَن مشورة
কোনো কোনো প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন, "যখন প্রজাসাধারণ রাজন্যবর্গের অভ্যন্তরীণ গোপন রহস্য সম্পর্কে অবগত হয়, তখন তাদের নিকট রাজকীয় আদেশের গুরুত্ব লঘু হয়ে যায়।"
পরামর্শ রাজার জন্য বাঞ্ছনীয় যে, তিনি যেন কেবল স্বীয় খেয়ালি চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কার্যাদি পরিচালনা না করেন—নিজস্ব গোপনীয়তা প্রকাশ হওয়ার আশঙ্কায় কিংবা অন্যের পরামর্শ গ্রহণে বিমুখ থেকে—যতক্ষণ না তিনি এমন সব বিচক্ষণ, বিবেকবান, বিশ্বস্ত ও ধর্মভীরু ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করেন, যাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ঋদ্ধ করেছে এবং যারা বিভিন্ন বিষয়ের সূত্রপাত ও পরিণতির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত। কেননা অনেক সময় স্বীয় মতামতের ওপর একগুঁয়েমি করা রাজার জন্য তথ্য ফাঁসের চেয়েও অধিক ক্ষতিকর হতে পারে। বস্তুত সকল সুদৃঢ় সিদ্ধান্তই যেমন কেবল গোপন রাখার মতো বিষয় নয়, তেমনি হিতাকাঙ্ক্ষীদের সাথে পরামর্শ করলেই গোপন বিষয়সমূহ জনসমক্ষে প্রকাশ বা প্রচারিত হয়ে যায় না।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, "কেউ কেবল নিজের বিচারবুদ্ধির কারণে সৌভাগ্যবান হয়নি, আর কেউ পরামর্শ করে দুর্ভাগা হয়নি।"
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
قَالَ بعض الْحُكَمَاء الاستشارة عين الْهِدَايَة وَقد خاطر من اسْتغنى بِرَأْيهِ
وَقَالَ بعض البلغاء من حق الْعَاقِل أَن يضيف إِلَى رَأْيه آراء الْعلمَاء وَيجمع إِلَى عقله عقول الْحُكَمَاء فَالرَّأْي الْفَذ رُبمَا زل وَالْعقل الْفَرد رُبمَا ضل ويعتمد على استشارة من صَلَاحه مَوْصُول بصلاحه إِذا كَانَ عريا من الْهوى فِي المشورة فَإِن الْهوى يصد عَن الرَّأْي وَيمْنَع من الرُّؤْيَة
وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم حبك للشَّيْء يعمي ويصم أَي يعمي عَن الرشد ويصم عَن الموعظة
জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন, "পরামর্শ গ্রহণই হলো সঠিক নির্দেশনার মূল উৎস, আর যে ব্যক্তি নিজের মতামতের ওপর নির্ভর করে তুষ্ট থাকে, সে নিজেকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।"
জনৈক সুবক্তা বলেছেন, "বিচক্ষণ ব্যক্তির কর্তব্য হলো নিজের মতামতের সাথে আলেমদের মতামতকে যুক্ত করা এবং নিজের বিচারবুদ্ধির সাথে প্রজ্ঞাবানদের বিচারবুদ্ধিকে সমন্বিত করা। কারণ, একক অভিমত অনেক সময় পদস্খলিত হয় এবং একাকী বুদ্ধি অনেক সময় পথভ্রষ্ট হয়। আর তার পরামর্শের ওপরই নির্ভর করা উচিত, যার কল্যাণ নিজের কল্যাণের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত; যদি সে পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রবৃত্তি (الهوى) থেকে মুক্ত থাকে। কেননা প্রবৃত্তি সঠিক মতামত গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে এবং অন্তর্দৃষ্টি অর্জনে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।"
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "কোনো বিষয়ের প্রতি তোমার আসক্তি তোমাকে অন্ধ ও বধির করে দেয়।" অর্থাৎ তা সঠিক পথ দেখা থেকে অন্ধ করে দেয় এবং উপদেশ শ্রবণ থেকে বধির করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
وَلَا يصور فِي نَفسه قبح الْحَاجة إِلَى رَأْي غَيره فَإِنَّهُ لَيْسَ يُرِيد الرَّأْي للإفتخار بِهِ وَإِنَّمَا يُريدهُ للِانْتِفَاع
وَقد قَالَت الْحُكَمَاء من كَمَال عقلك استظهارك على عقلك
وَقَالَ بعض البلغاء إِذا أشكلت عَلَيْك الْأُمُور وَتغَير لَك الْجُمْهُور فَارْجِع إِلَى رَأْي الْعُقَلَاء وافزع إِلَى استشارة الْعلمَاء وَلَا تأنف من الاسترشاد وَلَا تستنكف من الاستمداد فَلِأَن تسْأَل وتسلم خير من أَن تستبد وتندم
وتكثر من استشارة ذَوي الْأَلْبَاب لاسيما فِي الْأَمر الْجَلِيل فَإِن لكل عقل ذخيرة من الصَّوَاب ومسكنا من التَّدْبِير ولقلما يضل عَن الْجَمَاعَة رَأْي أَو يذهب عَنْهُم الصَّوَاب
وَلَا يجمعهُمْ على المشورة فَيكون الرَّأْي وَاحِدًا أَو يُوقع بَينهم إحنا وَلَا يطلع بَعضهم على استشارة بعض ليحيل كل وَاحِد مِنْهُم فكره فِي الرَّأْي طَمَعا فِي الحظوة بِالصَّوَابِ
وَليكن مَعَ ذَلِك غير وان فِي الفكرة وَلَا مقصرا فِي الارتياء اتكالا على الِاسْتِعَانَة بآرائهم فَيكون فِي الرَّأْي مفوضا وَفِي الْأَمر
আর অন্যের মতামতের মুখাপেক্ষী হওয়াকে সে মনে মনে অশোভন বা মন্দ কল্পনা করবে না; কারণ সে লোক দেখানোর জন্য কোনো মতামত চায় না, বরং সে তা চায় তা থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য।
প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ বলেছেন: তোমার নিজের বুদ্ধিবৃত্তির ওপর (অন্যের বুদ্ধির) সাহায্য গ্রহণ করাই হলো তোমার বুদ্ধিবৃত্তির পূর্ণতা।
কিছু আলংকারিক ব্যক্তি বলেছেন: যখন তোমার নিকট বিষয়াবলি জটিল হয়ে পড়বে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور)-এর অবস্থা তোমার নিকট পরিবর্তিত হয়ে যাবে, তখন তুমি বুদ্ধিমানদের মতামতের দিকে ফিরে যাও এবং আলেমদের পরামর্শ গ্রহণে সচেষ্ট হও। সঠিক পথের নির্দেশনা গ্রহণে তুমি অহংকার করো না এবং সাহায্য প্রার্থনা করতে কুণ্ঠাবোধ করো না। কেননা, জিজ্ঞাসা করা এবং নিরাপদে থাকা, একগুঁয়েমি করে লজ্জিত হওয়ার চেয়ে বহুগুণ উত্তম।
আর তুমি বুদ্ধিমানদের সাথে বেশি বেশি পরামর্শ করবে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। কারণ প্রতিটি বিবেকের মাঝেই সঠিকতার (صواب) ভাণ্ডার এবং ব্যবস্থাপনার নিপুণতা থাকে। আর সম্মিলিত মতামত থেকে সিদ্ধান্ত বিচ্যুত হওয়ার বা তাদের থেকে সঠিকতা (صواب) হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
তিনি পরামর্শের জন্য তাদের সবাইকে একত্রে সমবেত করবেন না, পাছে তাদের মতামত এক হয়ে যায় অথবা তাদের মধ্যে পারস্পরিক বিদ্বেষের সৃষ্টি হয়। আবার একজনের সাথে করা পরামর্শ সম্পর্কে অন্যজনকে অবগত করবেন না, যাতে তাদের প্রত্যেকেই সঠিকতা (صواب) লাভের আশায় নিজের চিন্তাশক্তিকে স্বাধীনভাবে পরিচালনা করতে পারে।
এর পাশাপাশি তাকে হতে হবে চিন্তায় অবিচল, অন্যের মতামতের ওপর অতি-নির্ভরশীল হয়ে বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগে অলসতা করা যাবে না; যাতে সে মতামতের ক্ষেত্রে অন্যের ওপর দায়িত্ব অর্পণকারী এবং বিষয়ের ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
مُقَلدًا
وَقَالَ بعض الْحُكَمَاء الاستسلام لرأي المشير هُوَ الْعَزْل الْخَفي فَإِذا أظهروه من مَكْنُون آرائهم سبرها بِرَأْيهِ واختبرها بعقله وسألهم عَن أُصُولهَا وفروعها وباحثهم عَن أَسبَابهَا ونتائجها وَلم يبد لَهُم رَأْيه فَإِنَّهُ يَسْتَفِيد بذلك ثَلَاث خِصَال
إِحْدَاهُنَّ معرفَة عقله وَصِحَّة رُؤْيَته
وَالثَّانيَِة معرفَة عقل صَاحبه وصواب رَأْيه
وَالثَّالِثَة وضوح مَا انغلق من الصَّوَاب
فَإِذا تقرر لَهُ الرَّأْي أَمْضَاهُ وَلم يَأْخُذهُمْ بعواقب الإكداء فِيهِ فَإِنَّمَا على الناصح الِاجْتِهَاد وَلَيْسَ عَلَيْهِ ضَمَان النجاح
وَقد قيل فِي الْمثل الطَّالِب للنجاح كالضارب للقداح سهم لَهُ وَسَهْم عَلَيْهِ
الْأَخْلَاق المتقابلة فِي الْمُلُوك وليعلم أَن أَرْبَعَة أَخْلَاق مُقَابلَة لَيْسَ يعرى مِنْهَا أَو من أبدالها ملك فَإِن اسْتعْملت فِي غير موضعهَا أَو أخرجت عَن حَدهَا
অনুসারী (مقلدا)
জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন, "পরামর্শদাতার মতামতের নিকট আত্মসমর্পণ করা হলো একটি প্রচ্ছন্ন পদচ্যুতি।" সুতরাং তারা যখন তাদের অন্তরে নিহিত মতামতগুলো প্রকাশ করবে, তখন সে (শাসক) তা নিজের বিচারবুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ করবে এবং নিজের প্রজ্ঞা দিয়ে তা পরীক্ষা করবে। সে তাদের নিকট সেই মতামতের মূলনীতি (أصول) ও শাখাপ্রশাখা (فروع) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে এবং এর কারণ ও ফলাফল নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করবে, অথচ নিজের অভিমত তাদের নিকট প্রকাশ করবে না। এর ফলে সে তিনটি উপকার লাভ করবে:
প্রথমটি হলো: নিজের বুদ্ধি ও দৃষ্টিভঙ্গির সঠিকতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
দ্বিতীয়টি হলো: তার সঙ্গীর (পরামর্শদাতার) বুদ্ধি এবং তার মতামতের নির্ভুলতা সম্পর্কে অবগত হওয়া।
তৃতীয়টি হলো: সত্যের যে বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল তা সুস্পষ্ট হওয়া।
যখন তার নিকট কোনো সিদ্ধান্ত সুনির্ধারিত হবে, তখন সে তা বাস্তবায়ন করবে এবং ব্যর্থতার পরিণামের জন্য তাদের দায়ী করবে না। কারণ, একজন হিতাকাঙ্ক্ষীর দায়িত্ব হলো কেবল প্রচেষ্টা (اجتهاد) করা, সাফল্যের নিশ্চয়তা প্রদান করা তার কাজ নয়।
প্রবাদে বলা হয়ে থাকে, "সাফল্যের প্রত্যাশী ব্যক্তি ভাগ্যনির্ধারক তীর নিক্ষেপকারীর ন্যায়; কখনো তীর তার অনুকূলে যায়, আবার কখনো প্রতিকূলে।"
রাজন্যবর্গের পরস্পর বিপরীতধর্মী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ জেনে রাখা উচিত যে, চারটি পরস্পর বিপরীতধর্মী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা থেকে কোনো রাজা বা শাসক মুক্ত নন, অথবা এগুলোর বিকল্প থেকে তিনি মুক্ত নন। তবে যদি সেগুলো ভুল স্থানে প্রয়োগ করা হয় কিংবা তাদের সীমা অতিক্রম করা হয়...
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
إِلَى زِيَادَة أَو نُقْصَان ذمت وَإِن اسْتعْملت فِي موضعهَا ووقف مِنْهَا على حَدهَا حمدت
1 -
الرقة وَالرَّحْمَة فأحدها الرقة وَالرَّحْمَة تحمد عِنْد اعتدالها وَفِي موضعهَا وتذم عِنْد غلبتها وميلها لِأَنَّهَا إِذا غلبت أفضت بِهِ إِي ترك الْحُدُود وإضاعة الْحُقُوق فيدعو ذَلِك إِلَى هياج طبائع المفسدين وتحريك آمال المتغلبين وانحل من عرى السياسة مَا كَانَ بالرهبة ملتئما وبخوف الْعقُوبَة منتظما
وَمن نسب إِلَى رَحْمَة تبطل حدا أَو تضيع حَقًا كَانَ كَمَا قَالَ المقدمون كالطبيب الَّذِي يرحم العليل من ألم الْحَدِيد ومرارة الْأَدْوِيَة فتؤديه رَحمته إِيَّاه إِلَى هَلَكته وتورده حِيَاض منيته فَتَصِير رَحمته لَهُ أبلى من قسوته ورفقه بِهِ أضرّ من غلظته
2 -
الْقَسْوَة والغلظة ثمَّ الْخلق الثَّانِي الْمُقَابل لهَذَا الْخلق هُوَ الْقَسْوَة والغلظة فَإِنَّهَا إِذا غلبت أفضت إِلَى مُجَاوزَة الْحُدُود فِي الجناة وعقوبة الأتقياء البراة فيدعو ذَلِك إِلَى إيحاش المستأنسين وتفرق المتآلفين وإساءة ظنون المناصحين وَيصير كل ولي لَهُ خصيما وكل امْرِئ عَلَيْهِ حنقا وَرُبمَا
বৃদ্ধি অথবা হ্রাসের দিকে ধাবিত হলে তা নিন্দিত হয়, আর যদি তা যথাস্থানে ব্যবহৃত হয় এবং নিজ সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা প্রশংসিত হয়।
১ -
কোমলতা ও দয়া এর একটি হলো কোমলতা ও দয়া, যা পরিমিত অবস্থায় এবং যথাস্থানে থাকলে প্রশংসিত হয়; আর যখন তা প্রবল হয়ে ওঠে এবং সীমার বাইরে চলে যায়, তখন তা নিন্দিত হয়। কারণ, যখন এটি প্রবল হয়, তখন তা দণ্ডবিধি (حدود) বর্জন এবং অধিকার বিনষ্ট করার দিকে ধাবিত করে। ফলে তা ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের স্বভাবকে উত্তেজিত করে এবং আধিপত্যকামীদের আকাঙ্ক্ষাকে জাগিয়ে তোলে। এতে রাজনীতির সেই বন্ধনগুলো শিথিল হয়ে যায়, যা ভীতির মাধ্যমে সুসংহত ছিল এবং শাস্তির ভয়ের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল ছিল।
আর যার মধ্যে এমন দয়া প্রকাশ পায় যা কোনো দণ্ডবিধি (حد) বাতিল করে দেয় অথবা কোনো অধিকার নষ্ট করে, সে তেমনই হয় যেমনটি পূর্বসূরিগণ বলেছেন—সেই চিকিৎসকের মতো, যে রোগীকে অস্ত্রোপচারের ব্যথা এবং ওষুধের তিক্ততা থেকে বাঁচাতে দয়া প্রদর্শন করে; কিন্তু তার সেই দয়া রোগীকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় এবং মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। ফলে তার প্রতি সেই দয়া কঠোরতার চেয়েও মন্দ হয়ে দাঁড়ায় এবং তার প্রতি কোমলতা রুক্ষতার চেয়েও ক্ষতিকর সাব্যস্ত হয়।
২ -
কঠোরতা ও রুক্ষতা অতঃপর দ্বিতীয় চরিত্রটি যা এর বিপরীত, তা হলো কঠোরতা ও রুক্ষতা। এটি যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা অপরাধীদের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির (حدود) সীমা লঙ্ঘন এবং নিরপরাধ খোদাভীরু লোকদের শাস্তি প্রদানের দিকে পরিচালিত করে। ফলে তা অন্তরঙ্গ ব্যক্তিদের মনে ভীতির সঞ্চার করে, সুসম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিদের বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং কল্যাণকামীদের মনে কুধারণার জন্ম দেয়। এতে করে তার প্রতিটি বন্ধু শত্রুতে পরিণত হয় এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার ওপর ক্রোধান্বিত হয়ে ওঠে; আর কখনও...
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
ظن بعض النَّاس القساوة صرامة فَيذْهب فِي ذَلِك بَعيدا لِأَن الصرامة قلَّة الْغَفْلَة عَن الجرائر وَمَعْرِفَة الْأُمُور على الْحَقَائِق حَتَّى لَا يتدلس عَلَيْهِ السقيم بالسليم وَلَا يتَصَوَّر الخالع بِصُورَة الطائع والقساوة تهور فِي الْحُدُود وتعد فِي الْحُقُوق يقفه عَلَيْهِ أَتبَاع أهوائه وتحكيم فَاسد رَأْيه
3 -
السماحة وَالعطَاء ثمَّ الْخلق الثَّالِث وَهُوَ السماحة وَالعطَاء فَإِن وقف على حَده وَهُوَ بذل مَا يحْتَاج إِلَيْهِ عِنْد الْحَاجة وإيصاله إِلَى مُسْتَحقّه بِقدر الطَّاقَة كَانَ مَحْمُودًا
وَإِن تجَاوز هَذَا الْحَد صَار مَنْسُوبا إِلَى التبذير والإضاعة وَصَارَ بِإِزَاءِ تبذيره حُقُوق مضاعة وَإِذا انْتَشَر فِي النَّاس أَن أَمْوَاله تنَال بِغَيْر اسْتِحْقَاق وتدرك بِغَيْر سعي أثار ذَلِك مطامع المحتذين وتوجهت إِلَيْهِ وُفُود السَّائِلين قد ألقوا كلف الاحتراف واستبدلوا بِهِ دني الاقتراف فَإِن رام إرضاء جَمِيعهم لم يطق لاتساع آمالهم وَقُوَّة
কিছু লোক কঠোরতাকে দৃঢ়তা বলে মনে করে এবং এই ভ্রান্ত ধারণায় তারা অনেক দূর অগ্রসর হয়। মূলত দৃঢ়তা হলো অপরাধ সম্পর্কে অসতর্ক না হওয়া এবং বিষয়াবলিকে তাদের প্রকৃত বাস্তবতার নিরিখে অনুধাবন করা, যাতে ত্রুটিপূর্ণ (السقيم) বিষয় নিখুঁত (السليم) বিষয়ের সাথে মিশ্রিত করে তাকে বিভ্রান্ত (يتدلس) করতে না পারে এবং কোনো অবাধ্য ব্যক্তি যেন আনুগত্যকারীর বেশ ধারণ করতে না পারে। পক্ষান্তরে, রূঢ়তা হলো দণ্ডবিধিতে হঠকারিতা এবং অন্যের অধিকার খর্ব করা, যা প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং ভ্রান্ত বিচার-বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল।
৩ -
সহনশীলতা ও দানশীলতা অতঃপর তৃতীয় স্বভাবটি হলো সহনশীলতা ও দানশীলতা। যদি এটি তার সীমার মধ্যে থাকে—আর তা হলো প্রয়োজনের সময় প্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যয় করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তা উপযুক্ত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেওয়া—তবে তা প্রশংসনীয়।
আর যদি তা এই সীমা অতিক্রম করে যায়, তবে তা অপচয় ও অপব্যয় হিসেবে গণ্য হবে এবং তার এই অপচয়ের কারণে অনেক পাওনাদারের অধিকার নষ্ট হবে। যখন মানুষের মাঝে এটি ছড়িয়ে পড়ে যে, তার ধন-সম্পদ কোনো যোগ্যতা ছাড়াই পাওয়া যায় এবং কোনো শ্রম ছাড়াই তা লাভ করা সম্ভব, তখন তা সুযোগসন্ধানীদের লালসাকে উসকে দেয়। ফলে যাঞ্চাকারীদের দল তার দিকে ধাবিত হয়, যারা জীবিকা অর্জনের কষ্ট বর্জন করেছে এবং তার পরিবর্তে হীন ভিক্ষাবৃত্তিকে গ্রহণ করেছে। এমতাবস্থায় সে যদি তাদের সকলকে সন্তুষ্ট করতে চায়, তবে তাদের সুদূরপ্রসারী আশা ও আকাঙ্ক্ষার তীব্রতার কারণে সে তা করতে সক্ষম হবে না।
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
أطماعهم وَلَو أطَاق لأفسد سعي أَتْبَاعه وخبثت نيات أشياعه إِذْ سوى بَينهم فِي الْعَطاء بَين من لم يسع سَعْيهمْ وَلَا سد مسدهم
وَقَالَ بعض الْحُكَمَاء لَا خير فِي السَّرف وَلَا سرف فِي الْخَيْر
وَإِن خص بالعطاء قوما وَحرم قوما لحقه من ذمّ من حرمه أَضْعَاف مَا لحقه من حمد من وَصله
4 -
الْبُخْل والإمساك ثمَّ الْخلق الرَّابِع الْمُقَابل لهَذَا الْخلق وَهُوَ الْبُخْل والإمساك الْمُؤَدِّي إِلَى تفرق الْكِرَام وذم الْخَاص وَالْعَام وانصراف قُلُوب الْأَوْلِيَاء واستطالة أَلْسِنَة الْأَعْدَاء فَيصير ذَلِك مفضيا إِلَى إِيثَار الْخِيَانَة على الْأَمَانَة والغش على النَّصِيحَة لِأَنَّهُ إِذا حرم الناصح الْأمين كحرمان الخائن الظنين وَلم ير الناصح مؤثرا كَانَ للخيانة مؤثرا ثمَّ يفتح للحاشية أَبْوَاب الريب فِي قَبِيح المكاسب وخبيث المطالب وَقبُول الرشا فَهَذِهِ
...তাদের লোভ-লালসা। তিনি যদি সক্ষম হতেন তবে তাঁর অনুসারীদের প্রচেষ্টাকে বিনষ্ট করে দিতেন এবং তাঁর সমর্থকদের নিয়তকে কলুষিত করতেন; যেহেতু তিনি দানে তাদের মধ্যে সমতা বজায় রেখেছেন—তাদের মাঝে যারা তাদের মতো পরিশ্রম করেনি এবং তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়নি।
জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন, "অপচয়ে কোনো কল্যাণ নেই, আর কল্যাণের কাজে কোনো অপচয় নেই।"
আর তিনি যদি নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীকে দান করেন এবং অন্য দলকে বঞ্চিত করেন, তবে বঞ্চিতদের পক্ষ থেকে যে নিন্দা আসবে তা উপকারভোগীদের পক্ষ থেকে পাওয়া প্রশংসার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হবে।
৪ -
কার্পণ্য ও কৃপণতা অতঃপর এই চারিত্রিক গুণের বিপরীত চতুর্থ বিষয়টি হলো কার্পণ্য ও কৃপণতা; যা মহান ব্যক্তিদের মাঝে অনৈক্য সৃষ্টি করে এবং বিশিষ্ট ও সাধারণ মানুষের নিন্দার উদ্রেক করে। এটি বন্ধুদের হৃদয়কে বিমুখ করে দেয় এবং শত্রুদের জিহ্বাকে প্রসারিত করে। ফলে এটি আমানতদারিতার বিপরীতে খেয়ানতকে এবং সদুপদেশের পরিবর্তে প্রতারণাকে প্রাধান্য দেওয়ার দিকে নিয়ে যায়। কারণ, যখন একজন বিশ্বস্ত উপদেশদাতাকে একজন বিশ্বাসঘাতক সন্দেহভাজন (الظنين)-এর মতো বঞ্চিত করা হয় এবং সেই উপদেশদাতা নিজেকে গুরুত্ব পেতে দেখেন না, তখন তিনি খেয়ানতের দিকেই ঝুঁকে পড়েন। অতঃপর এটি অনুচরদের জন্য মন্দ উপার্জন, নিকৃষ্ট উদ্দেশ্য এবং ঘুষ গ্রহণের মতো সংশয়পূর্ণ বিষয়গুলোর দ্বার উন্মোচন করে দেয়। এই হলো...
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৮০)
الْأَخْلَاق إِذا أَخذ الْملك نَفسه بتعديلها اتسق نظام مَمْلَكَته واستقام أَمر دولته
تجنب الْحَسَد ثمَّ يحفظ نَفسه من حسد غَيره فَإِن قدره يجل عَن مذمته وَظَاهر الْحَسَد أقبح من بَاطِنه وباطنه أضرّ من ظَاهره لِأَنَّهُ فِي الظَّاهِر شدَّة الأسى على الْخَيْر أَن يكون للنَّاس الأفاضل وَهَذَا قَبِيح فِي الظَّاهِر وخاصة بالملوك الَّذين هم أس الْفَضَائِل ومعدن الْخيرَات وباطنه أَنه مغم للنَّفس كدود للحسد غير جالب لنفع وَلَا دَافع لضَرَر وَلَا مُؤثر فِي عَدو
المنافسة فَأَما المنافسة فَهِيَ غير الْحَسَد فَلَا بَأْس أَن يتنافس الْأَكفاء فِي فضائلهم وَرُبمَا غلط قوم فظنوا أَن المنافسة فِي الْخَيْر هِيَ الْحَسَد وَلَيْسَ الْأَمر كَمَا ظنُّوا لِأَن المنافسة طلب التَّشَبُّه بالأفاضل من غير إِدْخَال ضَرَر على الْفَاضِل والحسد مَصْرُوف إِلَى الضَّرَر لِأَن غَايَته أَن يعْدم الْفَاضِل فَضله فَهَذَا هُوَ الْفرق بَين المنافسة والحسد
চরিত্র: যখন একজন শাসক নিজেকে সংশোধন ও ন্যায়পরায়ণতা (تعديل) করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তাঁর রাজ্যের শৃঙ্খলা সুসংহত হয় এবং তাঁর রাষ্ট্রের বিষয়াদি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
হিংসা পরিহার করা অতঃপর তিনি নিজেকে অন্যের প্রতি হিংসা করা থেকে রক্ষা করবেন; কারণ তাঁর মর্যাদা এহেন নিন্দনীয় বিষয় থেকে অনেক উর্ধ্বে। হিংসার প্রকাশ্য রূপ এর গোপন রূপের চেয়ে অধিক কদর্য এবং এর গোপন রূপ প্রকাশ্য রূপের চেয়ে অধিক ক্ষতিকারক। কারণ বাহ্যিকভাবে এটি হলো গুণীজনদের কল্যাণপ্রাপ্তিতে চরম মনঃকষ্ট অনুভব করা, যা বাহ্যত অত্যন্ত কুৎসিত; বিশেষত সেই সকল শাসকদের জন্য যারা সকল সদ্গুণের মূল এবং কল্যাণের আধার। আর এর অভ্যন্তরীণ দিকটি হলো এটি মনের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ এবং হিংসুক ব্যক্তির জন্য যন্ত্রণাদায়ক, যা কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না, কোনো অপকার দূর করে না এবং শত্রুর ওপর কোনো প্রভাবও ফেলে না।
প্রতিযোগিতা পক্ষান্তরে, প্রতিযোগিতা হিংসা অপেক্ষা ভিন্নতর বিষয়। সুতরাং সমমর্যাদাবান ব্যক্তিদের নিজ নিজ গুণাবলিতে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করায় কোনো দোষ নেই। কখনো কখনো একদল লোক ভুলবশত মনে করে যে, কল্যাণের পথে প্রতিযোগিতাই হলো হিংসা। অথচ বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি তারা ভেবে থাকে। কেননা প্রতিযোগিতা হলো শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের কোনো ক্ষতি না করেই তাঁদের অনুকরণ বা সদৃশ হওয়ার চেষ্টা করা। আর হিংসার ঝোঁক থাকে ক্ষতির দিকে; কেননা এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো গুণী ব্যক্তির গুণাবলি বিলুপ্ত করে দেওয়া। এটিই হলো প্রতিযোগিতা এবং হিংসার মধ্যে পার্থক্য।
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৮১)
الامتنان ويجتنب الامتنان فِي الْإِحْسَان والبذخ بالجميل فَإِنَّهُ من ضيق النَّفس وتابع لفساد الْأَخْلَاق إِلَّا أَن يرى قوما كفرُوا إحسانه وقاربوا عصيانه فَيخرج ذَلِك مخرج التهديد جَزَاء لقلَّة شكرهم وَكفر إحسانه إِلَيْهِم وَيكون ذَلِك مِنْهُ إحسانا آنِفا يسْتَوْجب بِهِ الشُّكْر
تصفح الْأَعْمَال وَليكن من رَأْيه أَن يتصفح فِي ليلته مَا فعله فِي نَهَاره فَإِن اللَّيْل أجمع للفكر وأحضر للخاطر فَإِن كَانَ صَوَابا أحكمه وأمضاه وَإِن كَانَ قد مَال فِيهِ عَن الصَّوَاب بَادر إِلَى استدراكه إِن أمكن وانْتهى عَن مثله فِي الْمُسْتَقْبل وليعلم إِنَّمَا صدر من أَفعاله فَلَيْسَ يَخْلُو فِيهِ ثَلَاثَة أَحْوَال
إِمَّا أَن يكون قد اقتصد فِي فعلهَا ووقف مِنْهَا على حَدهَا وَهُوَ الْعدْل فِي كل الْأُمُور
أَو يكون قد أفرط فِيهَا أَو قصر عَنْهَا وَكِلَاهُمَا ميل عَن الْقَصْد وَخُرُوج عَن الْحق فليعرف ذَلِك بصبره وتحريه وليفكر فِيهِ قبل نُفُوذه وتقصيه
وَليكن مَعَ ذَلِك متصفحا لأفعال غَيره فَمَا أعجبه من جميلها وَاسْتَحْسنهُ من فضائلها بَادر إِلَى فعله وزين نَفسه بِالْعَمَلِ بِهِ فَإِن
অনুগ্রহ প্রদর্শন উপকারের বিনিময়ে অনুগ্রহ প্রকাশ করা (খোঁটা দেওয়া) এবং দয়া দেখিয়ে দম্ভ করা পরিহার করা কর্তব্য। কেননা, এটি সংকীর্ণমনা মানসিকতার পরিচায়ক এবং দুশ্চরিত্রের অনুগামী। তবে যদি দেখা যায় কোনো সম্প্রদায় তার অনুগ্রহকে অস্বীকার করছে এবং তার অবাধ্যতার নিকটবর্তী হচ্ছে, তবে সে ক্ষেত্রে তাদের অকৃতজ্ঞতা ও উপকারের অস্বীকৃতির বিনিময় হিসেবে সতর্কবাণী স্বরূপ তা প্রকাশ করা যেতে পারে। এমন অবস্থায় তার পক্ষ থেকে এটি একটি নতুন অনুগ্রহ হিসেবে গণ্য হবে, যা কৃতজ্ঞতা লাভের দাবি রাখে।
কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা ব্যক্তির সংকল্প এমন হওয়া উচিত যে, সে রাতে তার দিনে সম্পাদিত কাজগুলো পর্যালোচনা করবে। কারণ, রাত চিন্তা-ভাবনাকে সংহত করার জন্য এবং একাগ্রতা লাভের জন্য অধিকতর উপযুক্ত সময়। যদি কাজগুলো সঠিক হয়ে থাকে, তবে সে তা সুদৃঢ় করবে এবং অব্যাহত রাখবে। আর যদি সে ক্ষেত্রে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি ঘটে থাকে, তবে সম্ভব হলে দ্রুত তা সংশোধনে সচেষ্ট হবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ কাজ থেকে বিরত থাকবে। তার জেনে রাখা উচিত যে, তার সম্পাদিত কার্যাবলি তিনটি অবস্থার বাইরে নয়:
হয় সে তা পালনে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছে এবং তার যথাযথ সীমায় অবস্থান করেছে; আর এটিই হলো সকল বিষয়ে ন্যায়পরায়ণতা (عدل)।
এর পাশাপাশি সে যেন অন্যের কার্যাবলিও পর্যবেক্ষণ করে। অতঃপর অন্যের কাজের যা কিছু সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করে এবং গুণাবলির মধ্য থেকে যা সে উত্তম বলে মনে করে, তা পালনে সে যেন দ্রুত সচেষ্ট হয় এবং সে অনুযায়ী আমল করে নিজেকে অলঙ্কৃত করে। কেননা...
(খণ্ড: ১)
দুরারুস সুলুক ফী সিয়াসাতিল মুলুক
(পৃষ্ঠা: ৮২)
السعيد من تصفح أَفعَال غَيره فَانْتهى عَن سيئها واقتدى بأحسنها فنال هنيء الْمَنَافِع وَأمن خطر التجارب
وَقد رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ السعيد من وعظ بِغَيْرِهِ
وَقَالَ الشَّاعِر
(إِن السعيد لَهُ من غَيره عظة
… وَفِي التجاريب تحكيم ومعتبر)
الحذر والاحتراس وَلَا يغْفل عَن الحذر والاحتراس وَيجْعَل التَّوَكُّل على الأقدار
সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে অন্যের কার্যাবলি পর্যবেক্ষণ করে, অতঃপর তাদের মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে এবং তাদের উত্তম কাজগুলো অনুসরণ করে; ফলে সে অনায়াসে সুফল লাভ করে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকে।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে অন্যের (অবস্থা) থেকে উপদেশ গ্রহণ করে।"
জনৈক কবি বলেছেন:
(নিশ্চয়ই সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যার জন্য অন্যের মধ্যে উপদেশ নিহিত রয়েছে... আর অভিজ্ঞতাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রজ্ঞা ও শিক্ষণীয় উপকরণ।)
সতর্কতা ও সাবধানতা সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করা থেকে উদাসীন হওয়া উচিত নয় এবং তাকদিরের ওপর নির্ভরতা রাখা বাঞ্ছনীয়।