(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: -)
حسن السلوك الحافظ دولة الملوك   (ابن الموصلي)

القسم: السياسة الشرعية والقضاء


الكتاب: حسن السلوك الحافظ دولة الملوك

المؤلف: محمد بن محمد بن عبد الكريم بن رضوان بن عبد العزيز البعلي شمس الدين، ابن الموصلي (ت 774هـ)

المحقق: فؤاد عبد المنعم أحمد

الناشر: دار الوطن - الرياض

سنة النشر:

عدد الصفحات: 198

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হুসনুল সুলুক আল-হাফিজ দাওলাত আল-মুলুক   (ইবনুল মাওসিলি)

বিভাগ: সিয়াসাহ শরইয়্যাহ ও বিচার ব্যবস্থা


গ্রন্থ: হুসনুল সুলুক আল-হাফিজ দাওলাত আল-মুলুক

লেখক: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম বিন রিদওয়ান বিন আব্দুল আজিজ আল-বালি শামস উদ্দিন, ইবনুল মাওসিলি (মৃত ৭৭৪ হিজরি)

সম্পাদক: ফুয়াদ আব্দুল মুনঈম আহমদ

প্রকাশক: দারুল ওয়াতান - রিয়াদ

প্রকাশকাল:

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌مُقَدّمَة الْمُؤلف

 

قَالَ العَبْد الْفَقِير إِلَى الله تَعَالَى مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن عبد الْكَرِيم الْموصِلِي الشَّافِعِي غفر الله لَهُ ولوالديه وَلِجَمِيعِ الْمُسلمين

1 - الْحَمد لله الْآمِر بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَان وإيتاء ذِي الْقُرْبَى الناهي عَن الْفَحْشَاء وَالْمُنكر وَالْبَغي موعظة للألباء الدَّاعِي إِلَى مغْفرَة مِنْهُ ورضوان يَقُول (هَل من دَاع فيلبى هَل من مُسْتَغْفِر فَيغْفر لَهُ هَل من سَائل فنجيبه)

البادي بالنوال قبل السُّؤَال فكم ستر عَيْبا وَغفر ذَنبا وكشف كربا
লেখকের ভূমিকা

 

আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী বান্দা মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কারিম আল-মাওসিলি আশ-শাফিঈ—আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন—বলেন:

১ - সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ন্যায়বিচার, ইহসান ও নিকটাত্মীয়দের দান করার আদেশ দিয়েছেন; এবং যিনি অশ্লীলতা, মন্দ (মুনকার/منكر) ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেছেন জ্ঞানীদের উপদেশের জন্য। তিনি তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আছে কি কোনো আহ্বানকারী যাকে সাড়া দেওয়া হবে? আছে কি কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী যাকে ক্ষমা করা হবে? আছে কি কোনো যাচনাকারী যাকে আমরা উত্তর দেব?”

যিনি চাওয়ার পূর্বেই দানে ধন্য করেন। তিনি কতই না ত্রুটি গোপন করেছেন, কতই না গুনাহ ক্ষমা করেছেন এবং কতই না বিপদ দূর করেছেন!
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৫২)
أَحْمَده على نعمه وأنعم بِحَمْدِهِ وأقصد كرمه ونكرم بِقَصْدِهِ

وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ شَهَادَة لَا تنبغي لأحد من بعده

وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله أرْسلهُ وشرك الشّرك قد نصب على مُرَاد المُرَاد وعماد التَّوْحِيد من عناد أهل التَّثْلِيث قد وهى أوكاد وسوق شجر الطغيان فِي بسوق وسوق حبر الْإِيمَان فِي كساد فَلم يزل يَدْعُو إِلَى الله بجد واجتهاد حَتَّى انتشرت كلمة الْحق فِي أقطار الْبِلَاد وسطعت أنوار الْهِدَايَة فِي أفكار الْعباد

صلى الله عَلَيْهِ وعَلى آله وَصَحبه الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار صَلَاة دائمة آنَاء اللَّيْل وأطراف النَّهَار أما بعد

2 - فقد ندبني من وَجب إِجَابَة سُؤَاله وتعينت تَلْبِيَة مقاله لما لَهُ عَليّ من الْإِحْسَان الوافر وَالْبر الْمُتَوَاتر أَن أكتب لَهُ من الْعلم مَا يَلِيق بِحَالهِ ويبلغه من خيري الدُّنْيَا وَالْآخِرَة نِهَايَة آماله وَكَانَ ذَلِك إِحْسَان ظن مِنْهُ بالفقير وإحسان الظَّن سَبَب للخير الْكثير فَرَأَيْت أَن أكتب لَهُ مَا ورد فِي فضل الْعدْل وَالْإِحْسَان فَإِنَّهُ متصف بهما مَعَ مَا فِيهِ من الْفَضَائِل الحسان وأقص فِي ضمن ذَلِك
আমি তাঁর নেয়ামতের জন্য তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর প্রশংসার মাধ্যমে ধন্য হই, আমি তাঁর মহত্ত্বের সংকল্প করি এবং তাঁর অভিমুখে আমরা সম্মানিত হই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই; এমন এক সাক্ষ্য যা তাঁর পরে আর কারো জন্য প্রযোজ্য নয়।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি তাঁকে এমন সময় প্রেরণ করেছেন যখন শিরকের জাল মানুষের অভীষ্ট লক্ষ্যের ওপর বিস্তার লাভ করেছিল এবং ত্রিত্ববাদীদের হঠকারিতায় তাওহীদের স্তম্ভ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। অবাধ্যতার বৃক্ষের বাজার তখন জমজমাট ছিল এবং ঈমানের পণ্ডিতদের বাজার ছিল মন্দাগ্রস্ত। অতঃপর তিনি নিরলস প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমের সাথে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতে থাকলেন, এমনকি দেশ-বিদেশের প্রতিটি প্রান্তে সত্যের বাণী ছড়িয়ে পড়ল এবং বান্দাদের চিন্তাধারায় হিদায়াতের আলো উদ্ভাসিত হলো।

আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণের ওপর রাত ও দিনের প্রতিটি প্রহরে চিরস্থায়ী রহমত বর্ষণ করুন। অতঃপর:

2 - এমন এক ব্যক্তি আমাকে আহ্বান জানিয়েছেন—যার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমার জন্য আবশ্যক এবং যার কথা মেনে নেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে তাঁর পক্ষ থেকে আমার প্রতি অফুরন্ত অনুগ্রহ এবং অবিচ্ছিন্ন (متواتر) সদাচরণের কারণে—যাতে আমি তাঁর জন্য ইলমের এমন কিছু অংশ লিপিবদ্ধ করি যা তাঁর মর্যাদার অনুকূল হয় এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণে তাঁকে তাঁর সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষায় পৌঁছে দেয়। এটি ছিল এই অধমের প্রতি তাঁর সুধারণা পোষণ মাত্র, আর সুধারণা হলো প্রভূত কল্যাণের কারণ। তাই আমি তাঁর জন্য ন্যায়বিচার ও সদাচরণের ফযিলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা লিখে দেওয়ার মনস্থির করেছি; কেননা তিনি এই উভয় গুণে গুণান্বিত, সাথে সাথে তাঁর মধ্যে আরও অনেক সুন্দর গুণাবলি বিদ্যমান রয়েছে। এবং আমি এর পরিক্রমায় বর্ণনা করব...
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৫৩)
السياسة الشَّرْعِيَّة مِمَّا فِيهِ مصلحَة الرَّاعِي والرعية منبها على أَن من لزم مَا أوردهُ فِيهِ من السياسة كَانَت دولته مَحْفُوظَة وَهِي بِعَين الْعِنَايَة من الله الْكَرِيم ملحوظة رَجَاء أَن تنْتَفع الدولة الزاهرة بِهَذَا التَّأْلِيف وَأَن يقوم لَهُم بِالنَّصِيحَةِ الجالبة لكل خلق شرِيف فَإِنَّهُ الْأمين الْمَأْمُون والثقة الْعَفِيف يسره الله لليسرى وَجعله من الَّذين لَهُم فِي هَذِه الْحَيَاة الدُّنْيَا الْبُشْرَى وَفِي الْأُخْرَى
শরয়ি রাজনীতি এমন একটি বিষয় যাতে শাসক ও প্রজাদের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তিনি এই মর্মে সতর্ক করেছেন যে, যে ব্যক্তি এতে বর্ণিত রাজনৈতিক নীতিমালা দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করবে, তার রাষ্ট্র সংরক্ষিত থাকবে এবং তা মহান আল্লাহর বিশেষ করুণা ও অনুগ্রহের দৃষ্টিতে থাকবে। এই আশায় যে, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র এই সংকলনটি দ্বারা উপকৃত হবে এবং এটি তাদের জন্য এমন এক নসিহত হিসেবে কার্যকর হবে যা সকল মহৎ চরিত্রের গুণাবলিকে বয়ে আনে। কেননা তিনি ছিলেন আমানতদার (أمين), বিশ্বস্ত (مأمون), নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং পবিত্র চরিত্রের অধিকারী। আল্লাহ যেন তার জন্য কল্যাণের পথ সহজ করে দেন এবং তাকে ঐ সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেন যাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে সুসংবাদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৫৫)
‌‌الْفَصْل الأول الْعدْل

 

‌‌تَعْرِيفه

 

3 - الْعدْل هُوَ الحكم بِمَا أنزل الله تَعَالَى

‌‌دَلِيله فِي الْكتاب وَالسّنة

 

4 - قَالَ الله تَعَالَى {وَمن لم يحكم بِمَا أنزل الله فَأُولَئِك هم الظَّالِمُونَ}

وَقَالَ تَعَالَى {وَمن لم يحكم بِمَا أنزل الله فَأُولَئِك هم الْكَافِرُونَ}

وَقَالَ تَعَالَى {وَمن لم يحكم بِمَا أنزل الله فَأُولَئِك هم الْفَاسِقُونَ}
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: ন্যায়পরায়ণতা (العدل)

 

‌‌এর সংজ্ঞা

 

3 - ন্যায়পরায়ণতা (العدل) হলো আল্লাহ তাআলা যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুযায়ী ফয়সালা করা।

‌‌কুরআন ও সুন্নাহ হতে এর দলিল

 

4 - আল্লাহ তাআলা বলেন, "আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুযায়ী যারা বিধান দেয় না, তারাই জালেম (الظالمون)।"

এবং তিনি আরও বলেন, "আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুযায়ী যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফের (الكافرون)।"

এবং তিনি আরও বলেন, "আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুযায়ী যারা বিধান দেয় না, তারাই ফাসেক (الفاسقون)।"
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৫৬)
فَمن لم يحكم بِمَا أنزل الله تَعَالَى وَصَحَّ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فقد اجْتمعت فِيهِ هَذِه الْأَوْصَاف الثَّلَاثَة الظُّلم وَالْكفْر والفسوق

5 - وَثَبت فِي الصَّحِيحَيْنِ من حَدِيث أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ (سَبْعَة يظلهم الله فِي ظله يَوْم لَا ظلّ إِلَّا ظله إِمَام عَادل وشاب نَشأ فِي عبَادَة الله وَرجل قلبه مُعَلّق بالمساجد ورجلان تحابا فِي الله اجْتمعَا عَلَيْهِ وتفرقا عَلَيْهِ وَرجل دَعَتْهُ امْرَأَة ذَات منصب وجمال فَقَالَ إِنِّي أَخَاف الله وَرجل تصدق بِصَدقَة فأخفاها حَتَّى لَا تعلم شِمَاله مَا تنْفق يَمِينه وَرجل ذكر الله خَالِيا فَفَاضَتْ عَيناهُ)

6 - وَعَن عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (إِن المقسطين عِنْد الله على مَنَابِر من نور عَن يَمِين الرَّحْمَن وكلتا يَدَيْهِ يَمِين الَّذين يعدلُونَ فِي حكمهم وأهليهم وَمَا ولوا) رَوَاهُ مُسلم
সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা যা অবতীর্ণ করেছেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বিশুদ্ধ (صحيح) প্রমাণিত হয়েছে সে অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করে না, তবে তার মধ্যে এই তিনটি বৈশিষ্ট্য—জুলুম, কুফর ও পাপাচার একত্রিত হয়েছে।

5 - এবং সহীহাইনে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না: ন্যায়পরায়ণ শাসক; সেই যুবক যে আল্লাহর ইবাদতের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে; সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে; সেই দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবাসে, তারা সেই মহব্বতেই একত্রিত হয় এবং তার ওপরই তারা বিচ্ছিন্ন হয়; সেই ব্যক্তি যাকে কোনো উচ্চবংশীয় রূপসী নারী আহ্বান জানায় আর সে বলে: ‘আমি নিশ্চয়ই আল্লাহকে ভয় করি’; সেই ব্যক্তি যে দান করে এবং তা গোপন রাখে, এমনকি তার বাম হাত জানতে পারে না তার ডান হাত কী ব্যয় করছে; এবং সেই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে ফলে তার দুচোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়।)

6 - এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নিশ্চয়ই ন্যায়বিচারকগণ আল্লাহর নিকট নূরের মিম্বরসমূহের ওপর রহমানের ডান পাশে অবস্থান করবেন—আর তাঁর উভয় হাতই ডান—যারা তাদের বিচারকার্যে, পরিবার-পরিজন এবং তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার করে।) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৫৭)
وَعَن عَوْف بن مَالك قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول (خِيَار ائمتكم الَّذين تحبونهم ويحبونكم وتصلون عَلَيْهِم وَيصلونَ عَلَيْكُم وشرار أئمتكم الَّذين يبغضونكم وتبغضونهم وتلعنونهم ويلعنونكم) قُلْنَا يَا رَسُول الله أَفلا ننابذهم بِالسَّيْفِ قَالَ (لَا مَا أَقَامُوا فِيكُم الصَّلَاة) رَوَاهُ مُسلم وَمعنى تصلونَ عَلَيْهِم تدعون لَهُم

7 - وَفِي صَحِيح مُسلم عَن عِيَاض بن حمَار قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول (أهل الْجنَّة ثَلَاثَة ذُو سُلْطَان مقسط متصدق موفق وَرجل رَحِيم رَقِيق الْقلب لكل ذِي قربى وَمُسلم وعفيف متعفف ذُو عِيَال)

8 - وَعَن عبد الله بن أبي أوفى قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (إِن الله تَعَالَى مَعَ القَاضِي مَا لم يجر فَإِذا جَار تخلى عَنهُ وَلَزِمَه الشَّيْطَان) أخرجه التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه وَقَالَ (فَإِذا
আউফ ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: "তোমাদের ইমামগণের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যাদের তোমরা ভালোবাসো এবং তারাও তোমাদের ভালোবাসে, তোমরা তাদের জন্য দোয়া করো এবং তারাও তোমাদের জন্য দোয়া করে। আর তোমাদের ইমামগণের মধ্যে নিকৃষ্টতম তারা, যাদের তোমরা ঘৃণা করো এবং তারাও তোমাদের ঘৃণা করে, তোমরা তাদের অভিশাপ দাও এবং তারাও তোমাদের অভিশাপ দেয়।" আমরা আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি তরবারি দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করব না? তিনি বললেন: "না, যতক্ষণ তারা তোমাদের মাঝে সালাত কায়েম রাখবে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং 'তোমরা তাদের ওপর সালাত আদায় করো' এর অর্থ হলো তোমরা তাদের জন্য দোয়া করো।

7 - এবং সহিহ মুসলিমে ইয়াদ ইবনে হিমার (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: "জান্নাতবাসী তিন প্রকার: ন্যায়পরায়ণ, দানশীল ও তাওফিকপ্রাপ্ত শাসক; এবং সেই ব্যক্তি যে দয়ালু ও প্রত্যেক আত্মীয় ও মুসলিমের প্রতি কোমল হৃদয়ের অধিকারী; এবং সেই পবিত্র ও সচ্চরিত্র ব্যক্তি যে অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও পবিত্রতা বজায় রাখে এবং সে পরিবার-পরিজনের অধিকারী।"

8 - এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বিচারকের সাথে থাকেন যতক্ষণ না সে অবিচার করে। অতঃপর যখন সে জুলুম করে, তখন আল্লাহ তাকে বর্জন করেন এবং শয়তান তার সঙ্গী হয়ে যায়।" এটি তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ উদ্ধৃত করেছেন এবং তিনি বলেছেন: "অতঃপর যখন...
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৫৮)
جَار وَكله إِلَى نَفسه)

9 - وَعَن أبي سعيد قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (إِن أحب النَّاس إِلَى الله يَوْم الْقِيَامَة وأقربهم مِنْهُ مَجْلِسا إِمَام عَادل وَإِن أبْغض النَّاس إِلَى الله يَوْم الْقِيَامَة وأشدهم عذَابا إِمَام جَائِر) أخرجه التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب

10 - وَعَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (يَوْم من إِمَام عَادل أفضل من عبَادَة سِتِّينَ سنة وحد يُقَام فِي الأَرْض أزكى فِيهَا من مطر أَرْبَعِينَ خَرِيفًا) يَعْنِي سنة أخرجه محب الدّين الطَّبَرِيّ فِي أَحْكَامه
অত্যাচার করল, (আল্লাহ) তাকে তার নিজের ওপর সোপর্দ করে দেন।)

৯ - আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় এবং তাঁর সবচেয়ে নিকটতম আসনে উপবিষ্ট ব্যক্তি হবেন ন্যায়পরায়ণ শাসক। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত এবং সবচেয়ে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন ব্যক্তি হবেন যালিম শাসক।) এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন এটি একটি বিরল (غريب) হাদিস।

১০ - ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (ন্যায়পরায়ণ শাসকের একটি দিন ষাট বছরের ইবাদতের চেয়ে উত্তম। আর জমিনে কায়েমকৃত একটি দণ্ডবিধি (حد) সেখানে চল্লিশ বছরের বৃষ্টিপাতের চেয়েও অধিক বরকতময়।) অর্থাৎ বছর। এটি মুহিব্বুদ্দীন আত-তাবারী তাঁর আহকাম গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৫৯)
11 - وَعَن أبي هُرَيْرَة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ (أَرْبَعَة يبغضهم الله البياع الحلاف وَالْفَقِير المختال وَالشَّيْخ الزَّانِي وَالْإِمَام الجائر) أخرجه أَبُو حَاتِم

12 - وَعَن ابْن عمر قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول (كلكُمْ رَاع وكلكم مسؤول عَن رَعيته وَالْإِمَام رَاع ومسؤول عَن رَعيته وَالرجل رَاع فِي أَهله ومسؤول عَن رَعيته وَالْمَرْأَة فِي بَيت زَوجهَا راعية وَهِي مسؤولة عَن رعيتها وَالْخَادِم فِي بَيت سَيّده رَاع وَهُوَ مسؤول عَن رَعيته) قَالَ سَمِعت هَؤُلَاءِ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وأحسب النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ (وَالرجل فِي مَال أَبِيه رَاع وَهُوَ مسؤول عَن رَعيته فكلكم رَاع وكل مسؤول عَن رَعيته) أَخْرجَاهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ
১১ - আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: (চার শ্রেণীর ব্যক্তিকে আল্লাহ ঘৃণা করেন: অধিক কসমকারী বিক্রেতা, অহংকারী দরিদ্র, ব্যভিচারী বৃদ্ধ এবং অত্যাচারী শাসক) এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন আবু হাতিম।

১২ - ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করছিলেন: (তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে। ইমাম বা শাসক একজন দায়িত্বশীল এবং তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। পুরুষ তার পরিবারের জন্য দায়িত্বশীল এবং তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। নারী তার স্বামীর গৃহের দায়িত্বশীল এবং তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। ভৃত্য তার মনিবের সম্পদের জন্য দায়িত্বশীল এবং তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।) তিনি বলেন: আমি নবী (সা.) হতে এগুলো শুনেছি এবং আমার ধারণা নবী (সা.) আরও বলেছেন: (এবং সন্তান তার পিতার মালের জন্য দায়িত্বশীল এবং তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।) তাঁরা উভয়ই এটি সহীহায়নে বর্ণনা (أخرجاه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৬০)
13 - وَعَن عبَادَة بن الصَّامِت قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (مَا من أَمِير عشرَة إِلَّا يُؤْتى بِهِ يَوْم الْقِيَامَة مغلولا لَا يفكه إِلَّا عدله وَمَا من رجل تعلم الْقُرْآن ثمَّ نَسيَه إِلَّا لَقِي الله يَوْم الْقِيَامَة أَجْذم)

وَفِي رِوَايَة (إِلَّا جِيءَ بِهِ يَوْم الْقِيَامَة مغلولة يَدَاهُ إِلَى عُنُقه حَتَّى يُطلقهُ الْحق أَو يوبقه) أخرجه أَحْمد

14 - وَعَن الْحسن الْبَصْرِيّ أَن عَائِذ بن عَمْرو وَكَانَ من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم دخل على عبيد الله بن زِيَاد فَقَالَ أَي بني إِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول (إِن شَرّ الرعاء الحطمة
১৩ - উবাদাহ ইবনুস সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “দশজন ব্যক্তির আমীর বা নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এমন কোনো ব্যক্তি নেই, যাকে কিয়ামতের দিন শিকলবদ্ধ অবস্থায় উপস্থিত করা হবে না; তার ন্যায়বিচার ছাড়া আর কিছুই তাকে মুক্ত করবে না। আর এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে কুরআন শিক্ষা করার পর তা ভুলে গেল, তবে সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে বিকলাঙ্গ বা কুষ্ঠরোগী (أجذم) অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে।”

অন্য একটি বর্ণনায় (رواية): “তাকে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় আনা হবে যে, তার হাত দুটি ঘাড়ের সাথে শিকলবদ্ধ থাকবে; শেষ পর্যন্ত সত্য তাকে মুক্ত করবে অথবা তার পাপাচার তাকে ধ্বংস করে দিবে।” এটি আহমদ বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

১৪ - হাসান বসরী (রহ.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্যতম সাহাবী (صحابي) আয়িয ইবনে আমর (রা.) উবায়দুল্লাহ ইবনে যিয়াদের নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন, “হে বৎস! নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, ‘নিশ্চয়ই নিকৃষ্টতম রাখাল বা শাসক হলো কঠোর ও জুলুমকারী (الحطمة)...’”
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৬১)
فإياك أَن تكون مِنْهُم) فَقَالَ لَهُ اجْلِسْ فَإِنَّمَا أَنْت من نخالة أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ وَهل كَانَت لَهُم نخالة إِنَّمَا النخالة بعدهمْ وَفِي غَيرهم) أخرجه أَحْمد وَمُسلم

15 - وَعَن ابْن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ (لَا يسترعي الله عبدا رعية قلت أَو كثرت إِلَّا سَأَلَهُ الله عَنْهَا يَوْم الْقِيَامَة هَل أَقَامَ فيهم أَمر الله أم أضاعه حَتَّى يسْأَله عَن أهل بَيته خَاصَّة) أخرجه أَحْمد

16 - وَعَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (من طلب قَضَاء الْمُسلمين حَتَّى يَنَالهُ ثمَّ غلب عدله جوره فَلهُ الْجنَّة وَمن غلب جوره عدله فَلهُ النَّار) رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

17 - وَعَن بُرَيْدَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ (الْقُضَاة ثَلَاثَة وَاحِد فِي الْجنَّة وَاثْنَانِ فِي النَّار فَأَما الَّذِي فِي الْجنَّة فَرجل عرف الْحق فَقضى بِهِ وَرجل عرف الْحق فجار فِي الحكم فَهُوَ فِي النَّار وَرجل قضى للنَّاس على جهل فَهُوَ فِي النَّار) رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن
(সেজন্য তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকো।) অতঃপর তিনি তাঁকে বললেন, "বসো, কারণ তুমি তো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্যে তুচ্ছ অংশের (نخالة) অন্তর্ভুক্ত।" তখন তিনি বললেন, "তাঁদের মধ্যে কি কোনো তুচ্ছ অংশ ছিল? তুচ্ছ অংশ তো হয়েছে তাঁদের পরবর্তী সময়ে এবং অন্যদের মধ্যে।" এটি আহমদ ও মুসলিম উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه)।

15 - ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আল্লাহ কোনো বান্দাকে কোনো প্রজাসাধারণের দায়িত্ব অর্পণ করেন না—তা সামান্য হোক বা বেশি—কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সে সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করবেন যে, সে তাদের মাঝে আল্লাহর বিধান কায়েম করেছে নাকি তা বিনষ্ট করেছে; এমনকি তাকে বিশেষভাবে তার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করা হবে।" এটি আহমদ উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه)।

16 - আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি মুসলিমদের বিচারকের পদ লাভের চেষ্টা করে এবং তা লাভ করে, অতঃপর তার ন্যায়বিচার যদি অন্যায়ের ওপর প্রবল হয়, তবে তার জন্য জান্নাত। আর যার অন্যায় ন্যায়বিচারের ওপর প্রবল হয়, তার জন্য জাহান্নাম।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (رواه)।

17 - বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, "বিচারকগণ তিন প্রকার; এক প্রকার জান্নাতি এবং দুই প্রকার জাহান্নামি। যিনি জান্নাতে যাবেন, তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যিনি সত্যকে জেনেছেন এবং সে অনুযায়ী ফয়সালা করেছেন। আর যে ব্যক্তি সত্য জানা সত্ত্বেও বিচারে জুলুম করেছে, সে জাহান্নামে যাবে। আর যে ব্যক্তি অজ্ঞতা সত্ত্বেও মানুষের মাঝে বিচারকার্য সম্পাদন করেছে, সেও জাহান্নামে যাবে।" এটি আবু দাউদ ও ইবনে বর্ণনা করেছেন (رواه)।
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৬২)
مَاجَه

‌‌نَبِي الله دَاوُد عليه السلام وَالْعدْل

 

18 - وَقد قَالَ الله تَعَالَى {يَا دَاوُد إِنَّا جعلناك خَليفَة فِي الأَرْض فاحكم بَين النَّاس بِالْحَقِّ وَلَا تتبع الْهوى} الْآيَة

قيل معنى ذَلِك إِذا حضر بَين يَديك خصمان فَلَا تتمنى أَن يكون الْحق مَعَ الَّذِي ميلك إِلَيْهِ خَاصَّة وبهذه الْخصْلَة سلب سُلَيْمَان من دَاوُد ملكه

قَالَ ابْن عَبَّاس كَانَ الَّذِي أصَاب سُلَيْمَان بن دَاوُد أَن نَاسا من أهل جَرَادَة امْرَأَته وَكَانَت من أكْرم نِسَائِهِ عَلَيْهِ تحاكموا إِلَيْهِ مَعَ غَيرهم فَأحب أَن يكون الْحق لأهل جَرَادَة فَيَقْضِي لَهُم فَعُوقِبَ حَيْثُ لم يكن هَوَاهُ فيهم وَاحِدًا

‌‌آثَار الْعدْل

 

19 - وَقد ضمن الله النَّصْر لمن نصر الله وَرَسُوله بِالْغَيْبِ وَهُوَ
মাজা

‌‌আল্লাহর নবী দাউদ (আলাইহিস সালাম) ও ন্যায়বিচার

 

18 - এবং মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {হে দাউদ, আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলিফা নিযুক্ত করেছি; অতএব তুমি মানুষের মাঝে সত্যের সাথে ফয়সালা করো এবং খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না}—আয়াত।

বলা হয়েছে এর অর্থ হলো, যখন আপনার সম্মুখে দুই বিবাদী উপস্থিত হয়, তখন আপনার ব্যক্তিগত ঝোঁক যার প্রতি রয়েছে বিশেষত সত্য যেন তার সাথেই থাকে—এমনটি কামনা করবেন না। আর এই গুণের (বিচ্যুতির) কারণেই দাউদ-এর থেকে প্রাপ্ত সুলাইমানের রাজত্ব ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, সুলাইমান ইবনে দাউদ যে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন তা হলো—তাঁর স্ত্রী জারাদাহ (যে তাঁর নিকট অত্যন্ত প্রিয় ছিল) এর গোত্রের কিছু লোক অন্য এক পক্ষের সাথে তাঁর নিকট বিচার নিয়ে এসেছিল। তখন তিনি মনে মনে চাইলেন যেন সত্য জারাদাহ-এর বংশধরদের পক্ষে থাকে যাতে তিনি তাদের অনুকূলে রায় দিতে পারেন। ফলে তাঁকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হলো, যেহেতু বিবাদী উভয় পক্ষের ব্যাপারে তাঁর ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা অভিন্ন ছিল না।

‌‌ন্যায়বিচারের নিদর্শন বা বর্ণনা (آثار)

 

19 - আর আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য সাহায্যের নিশ্চয়তা দিয়েছেন, যে অদৃশ্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে এবং তিনি...
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৬৩)
الْقيام بِالْعَدْلِ قَالَ الله تَعَالَى {ولينصرن الله من ينصره} الْآيَة ثمَّ إِنَّه تَعَالَى أوضح شَرَائِط لنصر الْمُلُوك وَشرط عَلَيْهِم شَرَائِط كَمَا ترى فَمَا تضعضعت قواعدهم أَو ظهر عَلَيْهِم عَدو أَو اضْطَرَبَتْ عَلَيْهِم الْأُمُور إِلَّا لإخلالهم بالشرائط الْمَأْخُوذَة عَلَيْهِم أَو بَعْضهَا وصلاحهم وفلاحهم بِإِقَامَة الْمِيزَان بِالْقِسْطِ الَّذِي شَرعه الله تَعَالَى لِعِبَادِهِ وركوب سَبِيل الْحق وَالْعدْل الَّذِي قَامَت بِهِ السَّمَوَات وَالْأَرْض وَنصر الْمَظْلُوم وَالْأَخْذ على يَد الظَّالِم

‌‌عُقُوبَة الإِمَام الجائر

 

20 - وَقَالَ طَاوُوس لِسُلَيْمَان بن عبد الْملك هَل تَدْرِي يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ من أَشد النَّاس عذَابا يَوْم الْقِيَامَة فَقَالَ سُلَيْمَان قل فَقَالَ طَاوُوس أَشد النَّاس عذَابا يَوْم الْقِيَامَة من أشركه الله فِي ملكه فجار فِي حكمه فاستلقى سُلَيْمَان على سَرِيره وَهُوَ يبكي فَمَا زَالَ يبكي حَتَّى قَامَ عَنهُ جُلَسَاؤُهُ
ন্যায়ের সাথে দণ্ডায়মান হওয়া। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন যে তাঁকে সাহায্য করে} — আয়াতটি। অতঃপর তিনি মহান আল্লাহ রাজাদের সাহায্যের জন্য কিছু শর্তাবলী সুস্পষ্ট করেছেন এবং তাদের ওপর কিছু শর্তারোপ করেছেন যেমনটি আপনি দেখছেন। সুতরাং তাদের শাসনের ভিত্তি কখনও দুর্বল হয়নি, অথবা তাদের ওপর কোনো শত্রু প্রবল হয়নি, কিংবা তাদের বিষয়াবলীতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়নি; তবে তা হয়েছে তাদের ওপর অর্পিত শর্তাবলী বা তার অংশবিশেষ লঙ্ঘনের কারণে। আর তাদের সংশোধন ও সফলতা নিহিত রয়েছে ইনসাফের সেই মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার মাঝে যা আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন এবং সত্য ও ন্যায়ের সেই পথ অবলম্বনের মাঝে যার ওপর আসমান ও জমিন প্রতিষ্ঠিত; আর মজলুমকে সাহায্য করা এবং জালেমের হাতকে প্রতিহত করা।

‌‌অত্যাচারী (جائر) ইমামের শাস্তি

 

২০ - এবং তাউস সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিককে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি কি জানেন কিয়ামতের দিন মানুষের মাঝে কার আজাব সবচেয়ে কঠিন হবে? সুলাইমান বললেন: বলুন। তখন তাউস বললেন: কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন আজাব হবে ঐ ব্যক্তির, যাকে আল্লাহ তাঁর রাজত্বে অংশীদার করেছেন, অতঃপর সে তার বিচারে জুলুম করেছে। সুলাইমান তখন তাঁর খাটের ওপর শুয়ে পড়লেন এবং কাঁদতে লাগলেন। তিনি অনবরত কাঁদতে থাকলেন যতক্ষণ না তাঁর মজলিসের সাথীরা তাঁর নিকট থেকে উঠে গেলেন।
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৬৪)
‌‌نصب السُّلْطَان لدفع الظُّلم

 

21 - وَقد امتن الله على عباده بنصبه السُّلْطَان فِي الأَرْض ليدفع الظُّلم عَن الْمَظْلُوم قَالَ الله تَعَالَى {وَلَوْلَا دفع الله النَّاس بَعضهم بِبَعْض لفسدت الأَرْض} يَعْنِي لَوْلَا أَن الله أَقَامَ السُّلْطَان فِي الأَرْض يدْفع الْقوي عَن الضَّعِيف وينصف الْمَظْلُوم من الظَّالِم لأهْلك الْقوي الضَّعِيف وتواثب الْخلق بَعضهم على بعض فَلَا يَنْتَظِم لَهُم حَال فتفسد الأَرْض وَمن عَلَيْهَا فَإِذا كَانَ السُّلْطَان جائرا زَاد الْفساد فَسَادًا

‌‌فضل الْقَضَاء بِالْحَقِّ

 

22 - قَالَ مَسْرُوق لِأَن أَقْْضِي يَوْمًا بِالْحَقِّ أحب إِلَيّ من أَن أغزو سنة فِي سَبِيل الله

‌‌تصلح الْبِلَاد والعباد بالسلطان الْعَادِل

 

23 - وكما أَنه لَيْسَ فَوق رُتْبَة السُّلْطَان الْعَادِل رُتْبَة كَذَلِك لَيْسَ فَوق رُتْبَة السُّلْطَان الشرير رُتْبَة لشره لِأَن شَره يعم وكما أَن بالسلطان الْعَادِل تصلح الْبِلَاد والعباد كَذَلِك بالسلطان الجائر تفْسد الْبِلَاد والعباد وتقترف الْمعاصِي والآثام وَكَذَلِكَ
জুলুম প্রতিরোধের লক্ষ্যে শাসক নিযুক্ত করা

 

21 - আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন জমিনে শাসক নিযুক্ত করার মাধ্যমে, যাতে মজলুমের ওপর থেকে জুলুম প্রতিরোধ করা যায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আল্লাহ যদি মানবজাতির একদলকে অন্যদলের মাধ্যমে প্রতিহত না করতেন, তবে পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে যেত}। অর্থাৎ, আল্লাহ যদি পৃথিবীতে শাসক প্রতিষ্ঠিত না করতেন, যিনি সবলের হাত থেকে দুর্বলকে রক্ষা করবেন এবং জালিমের থেকে মজলুমকে ইনসাফ পাইয়ে দেবেন, তবে সবলরা দুর্বলদের ধ্বংস করে ফেলত এবং সৃষ্টিজগত একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত; ফলে তাদের জীবনযাত্রা সুশৃঙ্খল হতো না এবং পৃথিবী ও এর অধিবাসীরা ধ্বংস হয়ে যেত। আর যখন শাসক জালিম হয়, তখন বিপর্যয় আরও বেড়ে যায়।

‌ন্যায়সংগত ফয়সালার ফযিলত

 

22 - মাসরুক (রহ.) বলেছেন: "আল্লাহর পথে এক বছর জিহাদ করার চেয়ে একদিন ন্যায়সংগত ফয়সালা করা আমার কাছে অধিক প্রিয়।"

‌ন্যায়পরায়ণ শাসকের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের সংশোধন

 

23 - ন্যায়পরায়ণ শাসকের মর্যাদার উপরে যেমন আর কোনো মর্যাদা নেই, তেমনি পাপাচারী শাসকের অনিষ্টের উপরেও তার মন্দের কারণে আর কোনো মন্দ নেই; কারণ তার মন্দ বা অনিষ্ট ব্যাপক হয়ে থাকে। আর যেমন ন্যায়পরায়ণ শাসকের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের কল্যাণ সাধিত হয়, তেমনি জালিম শাসকের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের বিপর্যয় ঘটে এবং পাপাচার ও অপরাধ সংঘটিত হয়। এবং এভাবেই...
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৬৫)
السُّلْطَان إِذا عدل انْتَشَر الْعدْل فِي الرّعية فأقاموا الْوَزْن بِالْقِسْطِ وتعاطوا الْحق فِيمَا بَينهم ولزموا قوانين الْعدْل فَمَاتَ الْبَاطِل وَذَهَبت رسوم الْجور فَأرْسلت السَّمَاء غيثها وأخرجت الأَرْض بركاتها ونمت تجاراتهم وزكت زُرُوعهمْ وتناسلت أنعامهم وَدرت أَرْزَاقهم ورخصت أسعارهم فواسى الْبَخِيل وَأفضل الْكَرِيم وقضيت الْحُقُوق وأعيرت المواعين وتهادوا فضول الْأَطْعِمَة والتحف فهان كل الحطام لكثرته وذل بعد عزته فتماسكت على النَّاس مروءاتهم وحفظت عَلَيْهِم أديانهم وَبِهَذَا يتَبَيَّن لَك أَن الْوَالِي مأجور على مَا يتعاطاه من إِقَامَة الْعدْل وعَلى مَا يتعاطاه النَّاس بِسَبَبِهِ

‌‌فَسَاد الْبِلَاد والعباد بالسلطان الجائر

 

24 - وَإِذا جَار السُّلْطَان انْتَشَر الْجور فِي الْبِلَاد وَعم الْعباد فرقت أديانهم واضمحلت مروءاتهم وقست قُلُوبهم وفشت فيهم الْمعاصِي وَذَهَبت أماناتهم فضعفت النُّفُوس وقنطت الْقُلُوب فضعفوا عَن إِقَامَة الْحق فتعاطوا الْبَاطِل وبخسوا الْكَيْل وَالْمِيزَان وروجوا البهرج فَرفعت مِنْهُم الْبركَة وَأَمْسَكت السَّمَاء غيثها وَلم تخرج الأَرْض زَرعهَا ونباتها فَقل فِي أَيْديهم الحطام فقنطوا وأمسكوا الْفضل الْمَوْجُود وتناجزوا على الْمَفْقُود فمنعوا الزكوات الْمَفْرُوضَة وبخلوا بالمواساة المسنونة
শাসক যখন ন্যায়বিচার (عدل) করেন, তখন প্রজাদের মধ্যে ন্যায়বিচার ছড়িয়ে পড়ে; ফলে তারা ইনসাফের সাথে পরিমাপ কায়েম করে, নিজেদের মধ্যে সত্য (حق) লেনদেন করে এবং ন্যায়বিচারের নিয়মাবলি মেনে চলে। এর ফলে অসত্য (باطل) বিলুপ্ত হয় এবং জুলুমের চিহ্নসমূহ মিটে যায়। তখন আকাশ তার বৃষ্টি বর্ষণ করে, জমিন তার বরকত (بركة) বের করে দেয়, তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়, ফসল পরিশুদ্ধ হয়, গবাদি পশু বংশবৃদ্ধি করে, রিজিক উপচে পড়ে এবং দ্রব্যমূল্য হ্রাস পায়। তখন কৃপণ ব্যক্তিও সহমর্মিতা দেখায়, দানশীল ব্যক্তি অধিক দান করে, পাওনা অধিকারসমূহ আদায় করা হয়, নিত্যব্যবহার্য বস্তু একে অপরকে ধার দেয় এবং তারা অতিরিক্ত খাবার ও উপঢৌকন আদান-প্রদান করে। প্রাচুর্যের কারণে পার্থিব সম্পদ তুচ্ছ হয়ে যায় এবং এক সময়ের দুষ্প্রাপ্য বস্তু সহজলভ্য হয়। এতে মানুষের মানবতাবোধ (مروءة) অটুট থাকে এবং তাদের দ্বীন সংরক্ষিত হয়। এর মাধ্যমেই আপনার নিকট স্পষ্ট হবে যে, শাসক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য এবং তার কারণে মানুষ যেসব নেক আমল করে, তার বিনিময়ে সওয়াবপ্রাপ্ত হন।

‌‌অত্যাচারী শাসকের কারণে দেশ ও জনগণের বিপর্যয়

 

24 - আর যখন শাসক অবিচার (جور) করেন, তখন দেশে জুলুম ছড়িয়ে পড়ে এবং জনগণের মধ্যে তা সামগ্রিকভাবে বিস্তার লাভ করে। ফলে তাদের দ্বীন হালকা হয়ে যায়, তাদের মানবতাবোধ (مروءة) বিলীন হয়, অন্তরসমূহ কঠিন হয়ে যায়, তাদের মাঝে পাপাচার ছড়িয়ে পড়ে এবং তাদের আমানতদারী বিদায় নেয়। ফলে মানুষের নফস দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অন্তরসমূহ হতাশ হয়ে যায়। তারা সত্য (حق) প্রতিষ্ঠায় অক্ষম হয়ে পড়ে এবং অসত্যে (باطل) লিপ্ত হয়। তারা মাপে ও ওজনে কম দেয় এবং অচল বা ভেজাল (بهرج) মুদ্রার প্রচলন ঘটায়। ফলে তাদের থেকে বরকত (بركة) তুলে নেওয়া হয়, আকাশ বৃষ্টি বন্ধ করে দেয় এবং জমিন তার শস্য ও উদ্ভিদ উৎপন্ন করে না। ফলে তাদের হাতের সম্পদ কমে যায়, তারা হতাশ হয়ে পড়ে এবং বিদ্যমান অতিরিক্ত সম্পদ আটকে রাখে এবং যা নেই তা নিয়ে হানাহানিতে লিপ্ত হয়। ফলে তারা ফরজ (مفروضة) জাকাত প্রদানে বিরত থাকে এবং সুন্নাত (مسنونة) সম্মত সহমর্মিতার ক্ষেত্রে কৃপণতা করে।
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৬৬)
وقبضوا أَيْديهم عَن المكارم وفشت فِيهِ الْأَيْمَان الكاذبة والختل فِي البيع وَالشِّرَاء وَالْمَكْر والحيل فِي الْقَضَاء والاقتضاء فيظل أحدهم عَارِيا من محَاسِن دينه متجردا من جِلْبَاب مروءته وَمن عَاشَ كَذَلِك فبطن الأَرْض خير لَهُ من ظهرهَا

25 - قَالَ وهب بن مُنَبّه إِذا عمل الْوَالِي بالجور أَو هم بِهِ أَدخل الله النَّقْص فِي أهل مَمْلَكَته من الزَّرْع والضرع وكل شَيْء وَكَذَلِكَ إِذا هم بِالْعَدْلِ أَو عمل بِهِ أَدخل الله الْبركَة فِي أهل مَمْلَكَته

26 - قَالَ عمر بن عبد الْعَزِيز تهْلك الْعَامَّة بذنب الْخَاصَّة وَلَا تهْلك الْخَاصَّة بِعَمَل الْعَامَّة والخاصة هم الْوُلَاة وَفِي هَذَا الْمَعْنى قَالَ الله تَعَالَى {وَاتَّقوا فتْنَة لَا تصيبن الَّذين ظلمُوا مِنْكُم خَاصَّة}

‌‌صَلَاح الْحَاكِم صَلَاح الْأمة

 

27 - وَقَالَ سُفْيَان الثَّوْريّ لأبي جَعْفَر الْمَنْصُور إِنِّي لأعْلم رجلا إِن صلح صلحت الْأمة قَالَ وَمن هُوَ قَالَ أَنْت

28 - قَالَ ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما إِن ملكا من الْمُلُوك خرج يسير فِي مَمْلَكَته مستخفيا فَنزل على رجل لَهُ بقرة فراحت فحلبت لَهُ
তারা মহানুভবতা থেকে নিজ হাত গুটিয়ে নিয়েছে এবং তাদের মধ্যে মিথ্যা শপথ ও ক্রয়-বিক্রয়ে প্রতারণা এবং বিচারিক ফয়সালা ও পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে চক্রান্ত ও কূটচাল ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে তাদের কেউ তার দ্বীনের সৌন্দর্য থেকে রিক্ত এবং নিজ মনুষ্যত্বের পোশাক থেকে মুক্ত হয়ে পড়ে। আর যে ব্যক্তি এভাবে জীবন অতিবাহিত করে, তার জন্য পৃথিবীর উপরিভাগের চেয়ে তার অভ্যন্তরভাগ (মৃত্যু) শ্রেয়।

25 - ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ বলেন, যখন শাসক অবিচার করেন অথবা তার সংকল্প করেন, আল্লাহ তাআলা তার রাজ্যের প্রজাদের ফসল, গবাদি পশু এবং প্রতিটি বিষয়ে ঘাটতি সৃষ্টি করেন। অনুরূপভাবে, যখন তিনি ন্যায়বিচারের সংকল্প করেন অথবা তা বাস্তবায়ন করেন, আল্লাহ তাআলা তার রাজ্যের প্রজাদের মাঝে বরকত দান করেন।

26 - ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ বলেন, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাপের কারণে সাধারণ মানুষ ধ্বংস হয়ে যায়, কিন্তু সাধারণ মানুষের কর্মের কারণে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ধ্বংস হয় না। আর এখানে বিশিষ্ট ব্যক্তি বলতে শাসকবর্গকে বোঝানো হয়েছে। এই অর্থেই আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {এবং তোমরা সেই ফিতনাকে ভয় করো, যা বিশেষ করে তোমাদের মধ্যকার কেবল জালিমদেরই আক্রান্ত করবে না}।

‌‌শাসকের সংশোধনই জাতির সংশোধন

 

27 - সুফিয়ান সাওরি আবু জাফর আল-মানসুরকে বললেন, আমি নিশ্চয়ই এমন এক ব্যক্তিকে জানি, সে যদি সংশোধিত হয় তবে পুরো জাতি সংশোধিত হবে। তিনি (মানসুর) জিজ্ঞেস করলেন, সে কে? তিনি (সাওরি) বললেন, আপনি।

28 - ইবনে আব্বাস (রাদিআল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাজাদের মধ্য থেকে এক রাজা ছদ্মবেশে নিজ রাজ্য পরিভ্রমণে বের হলেন। তিনি জনৈক ব্যক্তির বাড়িতে অবস্থান নিলেন যার একটি গাভী ছিল। সন্ধ্যাবেলা গাভীটি ফিরে এলে সেটি তাকে দুধ দিল।
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৬৭)
وزن ثَلَاثِينَ بقرة فَعجب الْملك من ذَلِك وَحدث نَفسه بأخذها فَلَمَّا راحت عَلَيْهِ من الْغَد حلبت على النّصْف فَقَالَ الْملك مَا بَال حلابها انْتقصَ أرعيت فِي غير مرعاها بالْأَمْس فَقَالَ لَا وَلَكِن أَظن أَن ملكنا هم بأخذها فنقص لَبنهَا فَإِن الْملك إِذا ظلم أَو هم بظُلْم ذهبت الْبركَة فعاهد الله سُبْحَانَهُ فِي نَفسه أَلا يَأْخُذهَا وراحت من الْغَد فحلبت حلاب ثَلَاثِينَ بقرة فَتَابَ الْملك وَعَاهد ربه ليعدلن مَا بَقِي

29 - وَمن الْمَشْهُور بِأَرْض الْمغرب أَن السُّلْطَان بلغه أَن امْرَأَة لَهَا حديقة فِيهَا الْقصب الحلو وَأَن القصبة الْوَاحِدَة مِنْهَا تعصر قدحا فعزم على أَخذهَا مِنْهَا ثمَّ أَتَاهَا وسألها عَن ذَلِك فَقَالَت نعم ثمَّ إِنَّهَا عصرت قَصَبَة فَلم تعصر نصف قدح فَقَالَ لَهَا أَيْن الَّذِي كَانَ يُقَال فَقَالَت هُوَ الَّذِي بلغك إِلَّا أَن يكون السُّلْطَان عزم على أَخذهَا مني فارتفعت الْبركَة مِنْهَا فَتَابَ السُّلْطَان وأخلص نِيَّته لله تَعَالَى أَلا يَأْخُذهَا أبدا ثمَّ أمرهَا فعصرت قَصَبَة فَجَاءَت ملْء قدح

30 - قَالَ صَاحب سراج الْمُلُوك وَشهِدت أَنا بالإسكندرية وَالصَّيْد بالخليج مُطلق للرعية والسمك فِيهِ يغلب المَاء كَثْرَة ويصيده الْأَطْفَال بالخرق ثمَّ حجره الْوَالِي وَمنع النَّاس من صَيْده فَذهب السّمك حَتَّى لَا تكَاد تُوجد مِنْهُ إِلَّا الْوَاحِدَة بعد الْوَاحِدَة إِلَى يَوْمنَا هَذَا
[দুধের] ওজন ছিল ত্রিশটি গরুর সমান। এতে রাজা অত্যন্ত বিস্মিত হলেন এবং তা নিজে নিয়ে নেওয়ার কুমন্ত্রণা তাঁর মনে উদয় হলো। পরদিন যখন পশুটি তাঁর সামনে আনা হলো, তখন তা মাত্র অর্ধেক পরিমাণ দুধ দিল। রাজা বললেন, "এর দুধ দোহনের পরিমাণ কেন কমে গেল? এটি কি গতকাল অন্য কোনো চারণভূমিতে চরেছিল?" মালিক উত্তর দিল, "না, বরং আমার মনে হয় আমাদের রাজা এটি কেড়ে নেওয়ার সংকল্প করেছেন, যার ফলে এর দুধ কমে গেছে। কেননা রাজা যখন জুলুম করেন কিংবা জুলুমের ইচ্ছা পোষণ করেন, তখন বরকত উঠে যায়।" তখন রাজা মনে মনে মহান আল্লাহর নিকট অঙ্গীকার করলেন যে, তিনি এটি গ্রহণ করবেন না। পরদিন পশুটি পুনরায় ত্রিশটি গরুর সমান দুধ দিল। রাজা তওবা করলেন এবং তাঁর রবের নিকট অঙ্গীকার করলেন যে, অবশিষ্ট জীবনে তিনি ইনসাফ কায়েম করবেন।

29 - মাগরিব অঞ্চলে এটি প্রসিদ্ধ (مشهور) যে, সুলতানের নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে এক মহিলার একটি মিষ্টি আখের বাগান রয়েছে এবং প্রতিটি আখ থেকে এক পেয়ালা পরিমাণ রস পাওয়া যায়। তিনি সেটি তার থেকে কেড়ে নেওয়ার সংকল্প করলেন। অতঃপর তিনি তার নিকট এসে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলল, "হ্যাঁ।" এরপর সে একটি আখ মাড়াই করল, কিন্তু তা থেকে অর্ধেক পেয়ালা রসও বের হলো না। সুলতান তাকে বললেন, "লোকেরা যা বলত তা কোথায় গেল?" সে বলল, "আপনি যা শুনেছেন তা-ই ঠিক ছিল; তবে হতে পারে সুলতান এটি আমার থেকে কেড়ে নেওয়ার সংকল্প করেছেন, যার ফলে তা থেকে বরকত উঠে গেছে।" তখন সুলতান তওবা করলেন এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁর নিয়ত খাঁটি করলেন যে তিনি এটি কখনোই কেড়ে নেবেন না। অতঃপর তিনি তাকে আদেশ দিলেন এবং সে একটি আখ মাড়াই করলে তা থেকে পূর্ণ এক পেয়ালা রস বের হলো।

30 - সিরাজুল মুলুক গ্রন্থের লেখক বলেন: আমি আলেকজান্ট্রিয়ায় প্রত্যক্ষ করেছি যে, তখন জনসাধারণের জন্য উপসাগরে মাছ ধরা উন্মুক্ত ছিল এবং মাছের আধিক্য সেখানে পানির পরিমাণকেও ছাড়িয়ে যেত। এমনকি ছোট বাচ্চারা সাধারণ কাপড় দিয়েই মাছ শিকার করত। অতঃপর গভর্নর এলাকাটি সংরক্ষিত করলেন এবং জনগণকে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখলেন। এতে মাছ সেখান থেকে এমনভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেল যে, আমাদের বর্তমান কাল পর্যন্ত সেখানে একটি-দুটি মাছও কদাচিৎ দেখা যায়।
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৬৮)
قَالَ وَهَكَذَا تتعدى سرائر الْمُلُوك وعزائمهم ومكنون ضمائرهم إِلَى الرّعية إِن خيرا فَخير وَإِن شرا فشر

‌‌النَّاس تبع لملوكهم

 

31 - قَالَ وروى أَصْحَاب التواريخ فِي كتبهمْ أَن النَّاس كَانُوا إِذا أَصْبحُوا فِي أَيَّام الْحجَّاج يتسألون من قتل البارحة وَمن صلب وَمن جلد وَمن قطع وَفِي أَمْثَال ذَلِك

32 - وَكَانَ الْوَلِيد صَاحب ضيَاع وَاتخذ مصانع فَكَانَ النَّاس يتسألون فِي زَمَانه عَن الْبُنيان والمصانع والضياع وشق الْأَنْهَار وغرس الْأَشْجَار

33 - وَلما ولي سُلَيْمَان بن عبد الْملك وَكَانَ صَاحب نِكَاح وَطَعَام فَكَانَ النَّاس يتحدثون فِي الْأَطْعِمَة الرفيعة ويتخذونها ويتوسعون فِي الْأَنْكِحَة والسراري ويعمرون مجَالِسهمْ بِذكر ذَلِك

34 - وَلما ولي عمر بن عبد الْعَزِيز كَانَ النَّاس يتسألون فِي زَمَانه كم تحفظ من الْقُرْآن وَكم وردك وَكم يحفظ فلَان وَكم يَصُوم وأمثال ذَلِك

‌‌الْعدْل قوام الْملك ودوام الدول

 

35 - وَاعْلَم أَن الْعدْل قوام الْملك ودوام الدول وأس كل مملكة
তিনি বলেন, এভাবেই রাজাদের গোপন অভিসন্ধি, সংকল্প এবং হৃদয়ের নিগূঢ় রহস্য প্রজাসাধারণের মাঝে সংক্রমিত হয়; যদি তা ভালো হয় তবে ফলাফল ভালো হয়, আর যদি মন্দ হয় তবে মন্দ হয়।

‌‌মানুষ তাদের রাজাদের অনুসারী

 

31 - তিনি বলেন, ইতিহাসবেত্তাগণ তাঁদের গ্রন্থসমূহে বর্ণনা করেছেন যে, হাজ্জাজের শাসনামলে মানুষ যখন ভোরে উপনীত হতো, তখন তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করত যে গত রাতে কাকে হত্যা করা হয়েছে? কাকে শূলে চড়ানো হয়েছে? কাকে বেত্রাঘাত করা হয়েছে? কার অঙ্গচ্ছেদ করা হয়েছে? এবং এই জাতীয় বিষয়াবলী সম্পর্কে।

32 - ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক ছিলেন কৃষি খামার ও ভূ-সম্পত্তির অনুরাগী এবং তিনি শিল্প-কারখানা নির্মাণ করতেন; ফলে তাঁর সময়ে মানুষ একে অপরকে ইমারত নির্মাণ, কল-কারখানা, কৃষি খামার, খাল খনন এবং বৃক্ষরোপণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত।

33 - অতঃপর যখন সুলাইমান বিন আব্দুল মালিক রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেন—যিনি বিবাহ এবং উন্নত ভোজের অনুরাগী ছিলেন—তখন মানুষ চমৎকার সব খাদ্যদ্রব্য নিয়ে আলোচনা করত এবং তা প্রস্তুত করত; তারা বিবাহ এবং দাসী গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রসারতা লাভ করেছিল এবং তাদের মজলিসগুলো এই আলোচনার মাধ্যমেই প্রাণবন্ত রাখত।

34 - আর যখন উমর বিন আব্দুল আজিজ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেন, তখন তাঁর যুগে মানুষ একে অপরকে জিজ্ঞাসা করত, আপনি কতটুকু কুরআন মুখস্থ করেছেন? আপনার দৈনিক অজিফা বা আমল কতটুকু? অমুক কতটুকু মুখস্থ করেছে? সে কত দিন রোজা রাখে? এবং এই জাতীয় বিষয়াবলী সম্পর্কে।

‌‌ইনসাফই রাজত্বের ভিত্তি এবং রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব

 

35 - জেনে রেখো যে, ইনসাফই হলো রাজত্বের মূল ভিত্তি, রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের চাবিকাঠি এবং প্রতিটি সাম্রাজ্যের অবকাঠামো।
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৬৯)
سَوَاء كَانَت نبوية أَو اصطلاحية

‌‌الْإِحْسَان

 

36 - وَقد أَمر الله تَعَالَى بِالْعَدْلِ ثمَّ علم سُبْحَانَهُ أَنه لَيْسَ كل النُّفُوس تصلح على الْعدْل بل تطلب الْإِحْسَان وَهُوَ فَوق الْعدْل فَقَالَ {إِن الله يَأْمر بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَان}

فَلَو وسع الْخلق الْعدْل لما قرن الله بِهِ الْإِحْسَان فَمن لم يصلح حَتَّى يُزَاد على الْعدْل كَيفَ يصلح إِذا لم يبلغ بِهِ الْعدْل

37 - وَحكى ابْن عَطِيَّة فِي تَفْسِيره حِكَايَة مَعْنَاهَا أَنه شكي على بعض الْعمَّال عِنْد خَليفَة زَمَانه فكشف عَن سيرته فَلم يُوجد عَلَيْهِ شَيْء من الْجور فَقَالَ الْخَلِيفَة لَا أعزله عَنْكُم وَهُوَ عَادل فَقَالَ لَهُ بعض النَّاس صدق أَمِير الْمُؤمنِينَ هُوَ عَادل وَلَكِن لم يحسن وَقد أَمر الله بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَان فَعَزله عَنْهُم
চাই তা নবিসূলভ হোক অথবা পারিভাষিক (اصطلاحية)

‌‌ইহসান (الإحسان)

 

36 - আর আল্লাহ তাআলা ন্যায়বিচারের (عدل) আদেশ দিয়েছেন, অতঃপর সুবহানাহু ওয়া তাআলা অবগত হয়েছেন যে, সকল আত্মা কেবল ন্যায়বিচারের (عدل) মাধ্যমে সংশোধিত হয় না; বরং তারা ইহসান (إحسان) অন্বেষণ করে, আর তা হলো ন্যায়বিচারের (عدل) ঊর্ধ্বে। তাই তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার (عدل) ও ইহসানের (إحسان) নির্দেশ দিচ্ছেন।}

যদি সৃষ্টির জন্য কেবল ন্যায়বিচার (عدل) যথেষ্ট হতো, তবে আল্লাহ এর সাথে ইহসানকে (إحسان) যুক্ত করতেন না। সুতরাং যার সংশোধন ন্যায়বিচারের (عدل) অতিরিক্ত কিছু ছাড়া সম্ভব হয় না, সে কীভাবে সংশোধন লাভ করবে যখন সে ন্যায়বিচার (عدل) পর্যন্তই পৌঁছাতে পারে না?

37 - ইবনে আতিয়্যাহ তাঁর তাফসিরে একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যার মর্মার্থ হলো: তৎকালীন খলিফার নিকট জনৈক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল। খলিফা তার জীবন চরিত অনুসন্ধান করলেন এবং তার মধ্যে কোনো অন্যায়ের প্রমাণ পেলেন না। তখন খলিফা বললেন: ‘সে যখন ন্যায়পরায়ণ (عادل), তখন আমি তাকে তোমাদের থেকে অপসারিত করব না।’ তখন জনৈক ব্যক্তি তাকে বললেন: ‘আমিরুল মুমিনীন সত্য বলেছেন, সে ন্যায়পরায়ণ (عادل) বটে কিন্তু সে ইহসান (إحسان) করেনি; অথচ আল্লাহ ন্যায়বিচার (عدل) ও ইহসানের (إحسان) আদেশ দিয়েছেন।’ অতঃপর খলিফা তাকে তাদের দায়িত্ব থেকে অপসারিত করলেন।
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৭০)
قَالَ عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه إِمَام عَادل خير من مطر وابل وَأسد حطوم خير من سُلْطَان ظلوم وسلطان ظلوم خير من فتْنَة تدوم

38 - وَقَالَ سُلَيْمَان بن دَاوُد صلى الله عَلَيْهِمَا وعَلى جَمِيع الْأَنْبِيَاء الْعدْل وَالرَّحْمَة يحرزان الْملك

‌‌الْعدْل أساس لسَائِر الأساسات

 

39 - وَاتفقَ حكماء الْعَرَب والعجم على هَذِه الْكَلِمَات فَقَالُوا الْملك بِنَاء والجند أساسه فَإِذا قوي الأساس دَامَ الْبناء وَإِذا ضعف الأساس انهار الْبناء فَلَا سُلْطَان إِلَّا بالجند وَلَا جند إِلَّا بِمَال وَلَا مَال إِلَّا بجباية وَلَا جباية إِلَّا بعمارة وَلَا عمَارَة إِلَّا بِعدْل فَصَارَ الْعدْل أساسا لسَائِر الأساسات
আলী ইবনে আবি তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, "একজন ন্যায়পরায়ণ (عادل) ইমাম মুষলধারে বৃষ্টির চেয়েও উত্তম; আর এক হিংস্র সিংহ একজন অত্যাচারী সুলতানের চেয়েও উত্তম, তবে একজন অত্যাচারী সুলতান দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলার (فتنة) চেয়েও উত্তম।"

38 - সুলাইমান ইবনে দাউদ (আ.)—তাঁদের উভয়ের ওপর এবং সকল নবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—বলেন, "ন্যায়বিচার (العدل) ও করুণা রাজত্বকে হেফাযত করে।"

‌‌ন্যায়বিচার (العدل) হলো সকল প্রকার ভিত্তির মূল ভিত্তি

 

39 - আরব ও অনারব বিজ্ঞজনগণ এই কথাগুলোর ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, তাঁরা বলেন: "রাজত্ব একটি ইমারত এবং সেনাবাহিনী তার ভিত্তি। যখন ভিত্তি শক্তিশালী হয়, ইমারত স্থায়ী হয়; আর যখন ভিত্তি দুর্বল হয়, ইমারত ধসে পড়ে। সেনাবাহিনী ছাড়া কোনো রাজত্ব নেই, অর্থ ছাড়া কোনো সেনাবাহিনী নেই, কর সংগ্রহ ছাড়া কোনো অর্থ নেই, জনপদ আবাদ করা ছাড়া কোনো কর সংগ্রহ নেই এবং ন্যায়বিচার (عدل) ছাড়া জনপদ আবাদ করা সম্ভব নয়। ফলে ন্যায়বিচারই (العدل) সকল ভিত্তির মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৭১)
‌‌الْفَصْل الثَّانِي

 

‌‌الطّرق إِلَى الْعدْل

 

40 - وَمن أَرَادَ من وُلَاة الْأُمُور الْعدْل الَّذِي أَمر الله بِهِ والتوصل إِلَيْهِ فليسلك مَا نأمره بِهِ من الطّرق يحفظ عَلَيْهِ ملكه فِي الدُّنْيَا وَيكون سَببا إِلَى الْملك الْحق فِي الدَّار الْأُخْرَى

‌‌حَملَة الْعلم

 

41 - وَجُمْلَة القَوْل فِيهِ أَن يجمع السُّلْطَان إِلَى نَفسه حَملَة الْعلم الَّذين هم حفاظه ورعاته وفقهاؤه فهم الأدلاء على الله والقائمون بِأَمْر الله والحافظون لحدود الله والناصحون لعباد الله

42 - وَقد ثَبت فِي الصَّحِيح أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ الدّين النَّصِيحَة قُلْنَا لمن قَالَ لله وَلِرَسُولِهِ ولكتابه ولأئمة الْمُسلمين وعامتهم

43 - فيتخذ الْعلمَاء شعارا وَالصَّالِحِينَ دثارا فتدور المملكة على نصائح الْعلمَاء ودعوات الصلحاء فياسعد ملك يَدُور
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

 

ন্যায়বিচার (العدل) অর্জনের পথসমূহ

 

40 - দায়িত্বশীলদের মধ্য থেকে যারা আল্লাহ নির্দেশিত ন্যায়বিচার (العدل) এবং তা লাভ করতে চান, তারা যেন আমাদের নির্দেশিত এই পথসমূহ অনুসরণ করেন। এটি দুনিয়াতে তাদের রাজত্বকে হেফাযত করবে এবং পরকালে প্রকৃত রাজত্ব লাভের মাধ্যম হবে।

ইলমের বাহকগণ

 

41 - এ বিষয়ে সারকথা হলো, সুলতান যেন ইলমের বাহকদের (حملة العلم) নিজের সান্নিধ্যে রাখেন, যারা ইলমের সংরক্ষণকারী, তত্ত্বাবধায়ক এবং ফকিহ (فقهاء)। তাঁরাই আল্লাহর পথের দিশারী, আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠাকারী, আল্লাহর সীমানাসমূহের রক্ষক এবং তাঁর বান্দাদের কল্যাণকামী।

42 - সহিহ (صحيح) বর্ণনায় সাব্যস্ত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "দীন হলো কল্যাণকামিতা (النصيحة)।" আমরা জিজ্ঞেস করলাম, "কার জন্য?" তিনি বললেন, "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিমদের নেতৃবৃন্দের জন্য এবং সাধারণ জনগণের জন্য।"

43 - সুতরাং শাসক যেন আলেমদের অন্তরঙ্গ পোশাক (অন্তরঙ্গ সঙ্গী) এবং নেককারদের বহিরাবরণ (ঘনিষ্ঠ সহচর) হিসেবে গ্রহণ করেন। ফলে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে আলেমদের নসিহত এবং পুণ্যবানদের দোয়ার ওপর। কতই না সৌভাগ্যবান সেই রাজত্ব, যা এভাবে পরিচালিত হয়।
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৭১)
بَين هَاتين الخصلتين لقد قَامَ عوده وأورق عموده وَكَيف لَا وَقد قرنهم الله حِين الشَّهَادَة بالوحدانية بِالْمَلَائِكَةِ المقربين فَقَالَ تَعَالَى {شهد الله أَنه لَا إِلَه إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَة وأولو الْعلم قَائِما بِالْقِسْطِ} فَبَدَأَ سُبْحَانَهُ بِنَفسِهِ ثمَّ ثنى بملائكته ثمَّ ثلث بالعلماء الَّذين هم وَرَثَة الْأَنْبِيَاء فَفِي تعظيمهم وتوقيرهم وتقريبهم امْتِثَال لأمر الله وتعظيم لمن أثنى الله تَعَالَى عَلَيْهِ واستمالة لقلوب الرّعية فَلَا يقطع أمرا دونهم وَلَا يفصل أمرا وَلَا حكما إِلَّا بمشاورتهم لِأَنَّهُ فِي ملك الله يحكم وَفِي رَعيته يتَصَرَّف وَفِي شَرِيعَته يقطع

‌‌ينزل نَفسه مَعَ الله تَعَالَى منزلَة ولاته مَعَه

 

44 - وَأَقل الْوَاجِبَات على السُّلْطَان أَن ينزل نَفسه مَعَ الله تَعَالَى منزلَة ولاته مَعَه

أَلَيْسَ إِذا خَالف واليه أمره ومارسم بِهِ لَهُ من الْأَحْكَام عَزله وعاقبه وَلم يَأْمَن سطوته وَإِذا امتثل أوامره وانْتهى عَن مناهيه حل عِنْده مَحل الرِّضَا فواعجبا مِمَّن يغْضب على واليه إِذا خَالفه ثمَّ لَا يخَاف سطوة ربه عَلَيْهِ إِذا خَالفه

‌‌خِصَال ورد الشَّرْع بهَا فِيهَا نظام الْملك والدول

 

45 - وَقد ورد الشَّرْع بِبَيَان خِصَال فِيهَا نظام الْملك والدول وَهِي
এই দুই বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে তাঁর ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে এবং প্রতিপত্তি পল্লবিত হয়েছে। আর কেনই বা হবে না, অথচ আল্লাহ তাআলা একত্ববাদের সাক্ষ্য প্রদানের সময় আলেমদেরকে নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই; এবং ফেরেশতাগণ ও জ্ঞানীগণও (এই সাক্ষ্য দিয়েছেন); তিনি ন্যায়বিচারে সুপ্রতিষ্ঠিত।" আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রথমে নিজের কথা উল্লেখ করেছেন, এরপর ফেরেশতাদের এবং তৃতীয় পর্যায়ে আলেমদের কথা বলেছেন, যাঁরা হলেন নবীদের উত্তরাধিকারী। অতএব, তাঁদের সম্মান করা, শ্রদ্ধা করা এবং তাঁদের সান্নিধ্য প্রদান করা মূলত আল্লাহর নির্দেশেরই আনুগত্য এবং স্বয়ং আল্লাহ তাআলা যাঁদের প্রশংসা করেছেন তাঁদেরই সম্মান প্রদর্শন। এটি প্রজাসাধারণের হৃদয় জয় করারও একটি মাধ্যম। সুতরাং সুলতান তাঁদের বাদ দিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না এবং তাঁদের সাথে পরামর্শ ব্যতীত কোনো বিষয় বা বিধান মীমাংসা করবেন না। কারণ তিনি আল্লাহর রাজত্বে শাসন করছেন, আল্লাহর প্রজাদের ওপর কর্তৃত্ব করছেন এবং আল্লাহর শরয়ি বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করছেন।

‌‌আল্লাহর দরবারে নিজেকে সেই অবস্থানে রাখা, যে অবস্থানে সুলতানের নিকট তাঁর গভর্নরগণ থাকেন

 

৪৪ - সুলতানের ওপর নূন্যতম কর্তব্য হলো আল্লাহর দরবারে নিজেকে সেই অবস্থানে রাখা, যে অবস্থানে সুলতানের নিকট তাঁর গভর্নরগণ থাকেন।

সুলতানের কোনো গভর্নর যখন তাঁর নির্দেশের অবাধ্য হয় এবং তাঁর নির্ধারিত বিধানসমূহ লঙ্ঘন করে, তখন কি তিনি তাকে বরখাস্ত ও শাস্তি প্রদান করেন না? আর সেই গভর্নর কি সুলতানের পাকড়াও থেকে নিরাপদ থাকতে পারে? পক্ষান্তরে, গভর্নর যখন তাঁর নির্দেশ পালন করে এবং নিষেধসমূহ থেকে বিরত থাকে, তখন সে সুলতানের সন্তুষ্টির পাত্র হয়। সুতরাং সেই ব্যক্তির জন্য পরম বিস্ময়, যে নিজের অবাধ্য হওয়ার কারণে স্বীয় গভর্নরের ওপর রাগান্বিত হয়, অথচ সে নিজে যখন তার রবের অবাধ্য হয়, তখন রবের কঠোর পাকড়াওকে ভয় পায় না!

‌‌শরয়ি বর্ণনায় বিদ্যমান এমন কিছু বৈশিষ্ট্য যাতে রাজত্ব ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা নিহিত

 

৪৫ - শরিয়তে এমন কিছু গুণের বর্ণনা এসেছে যাতে রাজত্ব ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা নিহিত রয়েছে, আর সেগুলো হলো:
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৭৩)
ثَلَاثَة‌‌ اللين وَترك الفظاظة والمشاورة وَألا يسْتَعْمل على الْأَعْمَال والولايات رَاغِب فِيهَا وَلَا طَالب لَهَا فاثنتان مِنْهَا نزلتا من السَّمَاء وَوَاحِدَة قَالَهَا الرَّسُول صلى الله عليه وسلم

اللين وَترك الفظاظة

 

46 - أما الإلهية قَالَ الله تَعَالَى {فبمَا رَحْمَة من الله لنت لَهُم وَلَو كنت فظا غليظ الْقلب لانفضوا من حولك فَاعْفُ عَنْهُم واستغفر لَهُم وشاورهم فِي الْأَمر}

47 - وَفِي الْآيَة إشارتان إِحْدَاهمَا أَن الفظاظة تنفر الْأَصْحَاب والجلساء وتفرق الجموع وَإِنَّمَا الْملك ملك بجلسائه وَأَصْحَابه وجنده وأخلق بخصلة تنفر الْأَوْلِيَاء وَأَن يطْمع فِيهَا الْأَعْدَاء فَيَنْبَغِي لكل سُلْطَان رفضها والاحتراز من سوء مغبتها فَإِنَّهَا مفرقة للجموع ومنفرة للتابع عَن الْمَتْبُوع

48 - وَليكن كَمَا قَالَ الله تَعَالَى لنَبيه {واخفض جناحك لمن اتبعك من الْمُؤمنِينَ}

49 - وَقد ثَبت فِي الصَّحِيح أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ جَالِسا مَعَ أَصْحَابه فجَاء رجل فَقَالَ أَيّكُم ابْن عبد الْمطلب فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
তিনটি বিষয়: কোমলতা ও রূঢ়তা বর্জন , পরামর্শ করা এবং প্রশাসনিক কাজ ও দায়িত্বসমূহে এমন ব্যক্তিকে নিযুক্ত না করা যে পদের প্রতি লালায়িত কিংবা এর অন্বেষণকারী। এই তিনটির মধ্যে দুটি আসমান থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং একটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।

কোমলতা ও রূঢ়তা বর্জন

 

৪৬ - ঐশী বিষয়ের বর্ণনায় আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের কারণেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন; যদি আপনি রূঢ় ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত। সুতরাং আপনি তাদের ক্ষমা করুন, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ করুন।}

৪৭ - আর এই আয়াতে দুটি ইঙ্গিত রয়েছে। তার একটি হলো, রূঢ়তা সঙ্গী ও সহচরদের মনে ঘৃণা সৃষ্টি করে এবং জনসমষ্টিকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। মূলত একজন শাসক তার সঙ্গী, সহচর ও সৈন্যবাহিনীর মাধ্যমেই শাসক হিসেবে গণ্য হন। আর এমন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যা বন্ধুদের দূরে সরিয়ে দেয় এবং যার ফলে শত্রুরা প্রলুব্ধ হয়, তা অত্যন্ত জঘন্য। সুতরাং প্রত্যেক সুলতানের উচিত তা বর্জন করা এবং এর মন্দ পরিণতি থেকে সতর্ক থাকা; কেননা এটি জনসমষ্টির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং অনুসারীকে নেতার থেকে দূরে ঠেলে দেয়।

৪৮ - আর তিনি যেন তেমন হন যেমন আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে বলেছেন: {আর মুমিনদের মধ্যে যারা আপনার অনুসরণ করে, তাদের প্রতি আপনার বিনয়ের ডানা অবনমিত করুন।}

৪৯ - আর সহিহ কিতাবে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের সাথে উপবিষ্ট ছিলেন, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করল, "আপনাদের মধ্যে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র কে?" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন...
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৭৪)
قد أحببتك فَفِيهِ دَلِيل على أَنه صلى الله عليه وسلم لم يكن يستأثر على أَصْحَابه وجلسائه بشرف الْمجْلس وَلَا يباينهم بزِي وَلَا مقْعد نعم لما كثرت الْوُفُود عَلَيْهِ وَكَانَ الْغَرِيب يَأْتِي فَلَا يعرفهُ من بَين أَصْحَابه أَشَارَ عَلَيْهِ أَصْحَابه أَن يتَّخذ لَهُ دكانا يجلس عَلَيْهَا ليعرفه الْوُفُود فَفعل

50 - وَقد يبلغ باللين مَا لَا يبلغ بالغلظة وَقد ثَبت فِي الصَّحِيح أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ (مَا كَانَ الرِّفْق فِي شَيْء قطّ إِلَّا زانه)

‌‌الشورى

 

51 - وَالْإِشَارَة الثَّانِيَة فِي الْآيَة قَوْله تَعَالَى {وشاورهم فِي الْأَمر} كَيفَ يشاورهم وَهُوَ نَبِيّهم وإمامهم وواجب عَلَيْهِم مشاورته وَألا يفصلوا أمرا دونه فَالْجَوَاب إِن هَذَا أدب أدب الله بِهِ نبيه صلى الله عليه وسلم وَجعله الله أدبا لسَائِر الْمُلُوك والأمراء لما علم الله تَعَالَى فِي الْمُشَاورَة من حسن الْأَدَب مَعَ الجليس ومساهمته فِي الْأُمُور فَإِن نفوس الجلساء والنصحاء والوزراء تصلح عَلَيْهِ

52 - وَعَن أبي هُرَيْرَة قَالَ مَا رَأَيْت أحدا قطّ أَكثر مشورة من
'আমি তোমাকে ভালোবাসি', এতে প্রমাণ রয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মজলিসের বিশেষ মর্যাদা নিয়ে তাঁর সাহাবী ও সহচরদের ওপর নিজেকে বিশেষিত করতেন না এবং তিনি পোশাক কিংবা বসার জায়গার মাধ্যমে তাদের থেকে স্বতন্ত্র হতেন না। হ্যাঁ, যখন তাঁর নিকট প্রতিনিধিদলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং কোনো অপরিচিত ব্যক্তি আসত ও তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে তাঁকে শনাক্ত করতে পারত না, তখন তাঁর সাহাবীগণ তাঁকে একটি উঁচু মঞ্চ তৈরির পরামর্শ দিলেন যেন প্রতিনিধিদল তাঁকে চিনতে পারে, অতঃপর তিনি তা-ই করলেন।

৫০ - কঠোরতার মাধ্যমে যা অর্জিত হয় না, নম্রতার মাধ্যমে তা অর্জিত হতে পারে। সহিহ-তে এটি প্রমাণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'কোমলতা যে কোনো বিষয়েই থাকুক না কেন, তা কেবল তাকে সুশোভিতই করে'।

‌‌শুরা

 

৫১ - আয়াতের দ্বিতীয় ইঙ্গিতটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং কাজে তাদের সাথে পরামর্শ করুন}। তিনি কীভাবে তাদের সাথে পরামর্শ করবেন যেখানে তিনি তাদের নবী ও ইমাম, এবং তাঁদের ওপর তাঁর সাথে পরামর্শ করা এবং তাঁকে ছাড়া কোনো বিষয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা না করা অপরিহার্য? এর উত্তর হলো, এটি একটি শিষ্টাচার যা দ্বারা আল্লাহ তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুশোভিত করেছেন এবং আল্লাহ এটিকে সমস্ত রাজা ও আমীরদের জন্য একটি আদর্শ শিষ্টাচার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। কারণ মহান আল্লাহ জানতেন যে, পরামর্শের মধ্যে মজলিসের সাথীদের সাথে উত্তম সদাচার এবং বিভিন্ন কাজে তাঁদের অংশীদারিত্ব নিহিত রয়েছে; কেননা এর মাধ্যমে সহচর, হিতাকাঙ্ক্ষী এবং মন্ত্রীদের মনস্তাত্ত্বিক সংশোধন ও প্রফুল্লতা অর্জিত হয়।

৫২ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'আমি কাউকেও দেখিনি যিনি অধিক পরামর্শকারী ছিলেন...'
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৭৫)
رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أخرجه الشَّافِعِي فِي مُسْنده وَأَبُو حَاتِم وَالْبَيْهَقِيّ

53 - وَقَالَ الْحسن إِن كَانَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم لغنيا عَن مشاورتهم وَلَكِن أَرَادَ أَن يستن بذلك الْحُكَّام بعده

54 - قَالَ مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل والمشاورة قبل الْعَزْم والتبين

55 - قَالَ الله تَعَالَى {فَإِذا عزمت فتوكل على الله}

56 - وشاور النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَصْحَابه يَوْم أحد فِي الْمقَام أَو الْخُرُوج فَرَأَوْا لَهُ الْخُرُوج فَلَمَّا لبس لأمته وعزم قَالُوا أقِم فَلم يجنح إِلَيْهِم بعد الْعَزْم قَالَ (مَا يَنْبَغِي لنَبِيّ إِذا لبس لأمته أَن يَضَعهَا حَتَّى يحكم الله)
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। ইমাম শাফেয়ী তাঁর মুসনাদে এবং আবু হাতিম ও বায়হাকী এটি উদ্ধৃত (أخرجه) করেছেন।

53 - হাসান (রহ.) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের সাথে পরামর্শ করার প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত ছিলেন, তবে তিনি চেয়েছিলেন এর মাধ্যমে তাঁর পরবর্তী শাসকরা যেন সুন্নাত অনুসরণ করে।

54 - মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বলেন, পরামর্শ হতে হবে সংকল্প গ্রহণ ও বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পূর্বে।

55 - আল্লাহ তায়ালা বলেন, {অতঃপর যখন তুমি সংকল্পবদ্ধ হবে, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করো।}

56 - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওহুদ যুদ্ধের দিন (মদিনায়) অবস্থান বা বের হওয়া সম্পর্কে তাঁর সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। তারা বের হওয়ার পক্ষেই মত দিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি যখন তাঁর যুদ্ধের পোশাক পরিধান করলেন এবং সংকল্প করলেন, তখন তারা বললেন, ‘আপনি অবস্থান করুন’। কিন্তু সংকল্প করার পর তিনি তাদের দিকে আর ঝুঁকলেন না। তিনি বললেন, (কোনো নবীর জন্য এটি সংগত নয় যে, যখন তিনি যুদ্ধের পোশাক পরিধান করেন, আল্লাহ ফয়সালা না করা পর্যন্ত তা খুলে ফেলবেন।)
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৭৬)
وَقَالَ الزُّهْرِيّ كَانَ مجْلِس عمر مغتصا من الْقُرَّاء شبانا كَانُوا أَو كهولا وَرُبمَا اسشارهم فَيَقُول لَا يمْنَع أحدكُم أَن يُشِير بِرَأْيهِ فَإِن الْعلم لَيْسَ على قدر السن وَلَكِن الله يَضَعهُ حَيْثُ شَاءَ

58 - وَقَالَ مُزَاحم بن زفر قَالَ عمر بن عبد الْعَزِيز خمس إِذا أَخطَأ القَاضِي خصْلَة مِنْهُم كَانَت فِيهِ وصمة أَن يكون حَلِيمًا عفيفا صليبا عَالما سؤولا عَن الْعلم

‌‌عمر بن الْخطاب رضي الله عنه وبطانة الْخَيْر

 

59 - وَالَّذِي فعل عمر رضي الله عنه من جمع الْقُرَّاء من كَمَال فقهه وَعلمه فَإِنَّهُ أَرَادَ تَكْبِير بطانة الْخَيْر على بطانة الشَّرّ

60 - وَقد ثَبت فِي صَحِيح البُخَارِيّ عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ عَن
ইমাম যুহরী (রাহ.) বলেন, উমর (রা.)-এর মজলিস কারী (قراء) বা কুরআন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পূর্ণ থাকত, তাঁরা যুবক হোন বা প্রৌঢ়। অনেক সময় তিনি তাঁদের সাথে পরামর্শ করতেন এবং বলতেন, “তোমাদের কাউকেই যেন নিজ মতামত ব্যক্ত করতে কোনো কিছু বাধা না দেয়; কেননা জ্ঞান বয়সের মাপকাঠিতে নির্ধারিত হয় না, বরং আল্লাহ তা যেখানে ইচ্ছা সেখানে দান করেন।”

58 - মুজাহিম ইবনে জুফার (রাহ.) বলেন, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাহ.) বলেছেন, পাঁচটি গুণ এমন রয়েছে যে, যদি বিচারকের (قاضي) মাঝে তার কোনো একটির অভাব দেখা দেয়, তবে তা তাঁর জন্য একটি কলঙ্ক। তা হলো: তাঁকে ধৈর্যশীল (حليم), চারিত্রিক পবিত্রতার অধিকারী (عفيف), ন্যায়ের ওপর অটল (صليب), জ্ঞানী (عالم) এবং জ্ঞান অন্বেষণে অধিক জিজ্ঞাসু (سؤول) হতে হবে।

‌‌উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এবং কল্যাণকামী পারিষদবর্গ

 

59 - উমর (রা.) কারীগণকে (قراء) একত্রিত করার যে কাজ করেছেন, তা তাঁর ফিকহ (فقه) ও জ্ঞানের পূর্ণতার পরিচায়ক; কেননা তিনি মন্দ পারিষদবর্গের বিপরীতে কল্যাণকামী পারিষদবর্গের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে চেয়েছিলেন।

60 - আর সহীহ বুখারীতে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত হওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৭৭)
رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ (مَا بعث الله من نَبِي وَلَا اسْتخْلف من خَليفَة إِلَّا كَانَت لَهُ بطانتان بطانة تَأمره بِالْخَيرِ وتحضه عَلَيْهِ وبطانة تَأمره بِالشَّرِّ وتحضه عَلَيْهِ والمعصوم من عصم الله) والبطانة هم الْأَوْلِيَاء والأصفياء

61 - وَعَن عَائِشَة قَالَت قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (إِذا أَرَادَ الله بالأمير خيرا جعل لَهُ وَزِير صدق إِن نسي ذكره وَإِن ذكر أَعَانَهُ وَإِذا أَرَادَ الله بِهِ غير ذَلِك جعل لَهُ وَزِير سوء إِن نسي لم يذكرهُ وَإِن ذكر لم يعنه) اخرجه أَبُو دَاوُد وَأَبُو حَاتِم

‌‌طَالب الْولَايَة لَا يُولى

 

62 - وَأما الْخصْلَة الثَّالِثَة الَّتِي وَردت بهَا السّنة فألا يسْتَعْمل السُّلْطَان على الْقَضَاء وَالْحكم بَين النَّاس والولايات من سَأَلَهَا أَو حرص عَلَيْهَا

63 - لما فِي الصَّحِيحَيْنِ عَن أبي مُوسَى الْأَشْعَرِيّ قَالَ دخلت على النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنا ورجلان من بني عمي فَقَالَ أَحدهمَا يَا رَسُول الله أمرنَا على بعض مَا ولاك الله وَقَالَ الآخر مثل ذَلِك فَقَالَ (أما وَالله إِنَّا لَا نولي هَذَا الْعَمَل أحدا سَأَلَهُ أَو أحدا حرص عَلَيْهِ)

64 - وَقَالَ الْمُهلب فِيهِ دَلِيل على أَن من تعاطى أمرا وسولت لَهُ نَفسه أَن يقوم بذلك أَن يخذل فِيهِ فِي أغلب أَحْوَاله لِأَن من سَأَلَ الْإِمَارَة لَا يسْأَلهَا إِلَّا وَهُوَ يرى نَفسه أَهلا لَهَا

65 - وَقَالَ صلى الله عليه وسلم (من سَأَلَهَا وكل إِلَيْهَا) بِمَعْنى أَنه لم يعن عَلَيْهَا والتعاطي أبدا مقرون بالخذلان وَأَن من دعِي إِلَى عمل فَرَأى نَفسه تقصر عَنهُ وهاب أَمر الله رزقه الله المعونة وَهَذَا من بَاب من تواضع لله رَفعه الله

‌‌مَتى يجوز طلب الْولَايَة

 

66 - قَالَ الشَّيْخ محب الدّين الطَّبَرِيّ وَهَذَا كُله فِي حق من طلب الْولَايَة لَا لغَرَض سواهَا أما من طلبَهَا لرزق يرزقه عَلَيْهَا أَو خشيَة حُصُولهَا فِي غير محلهَا فَذَلِك جَائِز إِن شَاءَ الله تَعَالَى

67 - قَالَ مُؤَلفه رحمه الله وَفِي الحَدِيث دَلِيل على منع من
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ কোনো নবীকে প্রেরণ করেননি কিংবা কোনো খলিফাকে স্থলাভিষিক্ত করেননি, যার দু’টি অন্তরঙ্গ পক্ষ (بطانة) ছিল না; এক পক্ষ তাকে কল্যাণের আদেশ দেয় এবং তার প্রতি উৎসাহিত করে, আর অন্য পক্ষ তাকে মন্দের আদেশ দেয় এবং তার প্রতি প্ররোচিত করে। আর সুরক্ষিত (المعصوم) সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ রক্ষা করেছেন।" আর 'বিত্বানাহ' (بطانة) হলো বন্ধু ও অন্তরঙ্গ সজ্জনগণ।

61 - এবং আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যখন কোনো আমীরের কল্যাণ চান, তখন তাকে একজন সত্যবাদী (صدق) উজির দান করেন; সে ভুলে গেলে তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং সে স্মরণ করলে তাকে সাহায্য করে। আর আল্লাহ যখন তার জন্য ভিন্ন কিছু চান, তখন তাকে একজন মন্দ উজির প্রদান করেন; সে ভুলে গেলে তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় না এবং সে স্মরণ করলে তাকে সাহায্য করে না।" এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ ও আবু হাতেম।

‌‌পদের প্রত্যাশীকে দায়িত্ব প্রদান করা হবে না

 

62 - আর তৃতীয় বৈশিষ্ট্য যা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে তা হলো—সুলতান বিচারকার্য পরিচালনা, মানুষের মধ্যে ফয়সালা প্রদান এবং শাসনের দায়িত্বে এমন কাউকে নিযুক্ত করবেন না যে তা প্রার্থনা করে বা সেটির প্রতি লালায়িত থাকে।

63 - যেহেতু সহীহাইন গ্রন্থে আবু মুসা আল-াশআরি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি এবং আমার চাচাতো ভাইদের দুইজন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলাম। তাদের একজন বলল: 'হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনাকে যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তার কিছু অংশের ওপর আমাদের আমীর নিযুক্ত করুন।' অন্যজনও অনুরূপ প্রার্থনা করল। তখন তিনি বললেন: "আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই আমরা এই কাজের দায়িত্ব এমন কাউকে দেব না যে তা প্রার্থনা করে অথবা এর প্রতি লালায়িত থাকে।"

64 - মুহাল্লাব বলেন: এতে প্রমাণ রয়েছে যে, যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ের দায়িত্ব নেওয়ার অপচেষ্টা করে এবং তার প্রবৃত্তি তাকে তা পালন করতে প্রলুব্ধ করে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাকে সেই বিষয়ে লাঞ্ছিত করা হয়। কারণ, যে ব্যক্তি নেতৃত্বের প্রার্থনা করে, সে নিজেকে তার যোগ্য মনে করেই তা প্রার্থনা করে।

65 - এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি তা প্রার্থনা করে, তাকে সেটির প্রতিই সোপর্দ করা হয়।" এর অর্থ হলো—তাকে সে কাজে সাহায্য করা হয় না। আর অপচেষ্টা সর্বদা লাঞ্ছনার সাথে সম্পৃক্ত। অন্যদিকে যাকে কোনো কাজের জন্য আহ্বান জানানো হয় আর সে নিজেকে তার জন্য ত্রুটিপূর্ণ মনে করে এবং আল্লাহর নির্দেশের প্রতি শঙ্কা বোধ করে, আল্লাহ তাকে সাহায্য দান করেন। আর এটি 'যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করেন'—এই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত।

‌‌কখন পদপ্রার্থনা করা বৈধ

 

66 - শায়খ মুহিব্বুদ্দীন আত-তাবারী বলেন: এই সবকিছুই সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে কেবল পদের উদ্দেশ্যেই তা প্রার্থনা করে। তবে যে ব্যক্তি জীবিকা অর্জনের প্রয়োজনে অথবা অযোগ্য পাত্রে পদটি চলে যাওয়ার আশঙ্কায় তা প্রার্থনা করে, তবে ইনশাআল্লাহ তা বৈধ।

67 - এর লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: হাদিসটির মধ্যে এমন ব্যক্তিকে বিরত রাখার প্রমাণ রয়েছে যে...
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৭৯)
طلب الْقَضَاء من ولَايَته يقسم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه لَا يُولى هَذَا الْأَمر أحدا طلبه وَلِأَن من طلبَهَا لم يكن مَعَه من الله تَعَالَى عون وَكَانَ مخذولا فِي ولَايَته كَمَا قدمْنَاهُ وَإِذا لم يكن معانا من الله عَلَيْهَا كَانَ عَاجِزا عَنْهَا غير كفؤ لَهَا لَا محَالة وَلَا يجوز توليه غير الكفؤ وَلِأَن السَّائِل لَهَا الْحَرِيص عَلَيْهَا مُتَّهم

68 - ثَبت فِي الصَّحِيحَيْنِ عَن عبد الرَّحْمَن بن سَمُرَة قَالَ قَالَ قَالَ لي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (يَا عبد الرَّحْمَن لَا تسْأَل الْإِمَارَة فَإنَّك إِن أعطيتهَا عَن غير مَسْأَلَة أعنت عَلَيْهَا وَإِن أعطيتهَا عَن مَسْأَلَة وكلت إِلَيْهَا

وَقَوله (وكلت إِلَيْهَا) أَي أسلمت إِلَيْهَا فضعفت عَنْهَا

‌‌طلب ولَايَة الْقَضَاء

 

69 - وَعَن أنس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم (من سَأَلَ الْقَضَاء وكل إِلَى نَفسه وَمن أكره عَلَيْهِ نزل ملك يسدده) أخرجه أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ // حَدِيث حسن //
বিচারকের পদ প্রার্থনা করা; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শপথ করেছেন যে, তিনি এমন কাউকে এই দায়িত্ব প্রদান করবেন না যে তা প্রার্থনা করে। কারণ যে ব্যক্তি তা প্রার্থনা করে, তার সাথে মহান আল্লাহর সাহায্য থাকে না এবং সে তার শাসনামলে সাহায্যহীন হয়ে পড়ে, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। আর যখন তার ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য থাকে না, তখন সে অনিবার্যভাবে এর জন্য অক্ষম ও অযোগ্য হয়ে পড়ে। আর অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান করা বৈধ নয়। অধিকন্তু, যে ব্যক্তি পদের যাঞ্চাকারী ও এর প্রতি লালায়িত থাকে, সে সন্দেহভাজন।

৬৮ - সহীহাইন-এ আবদুর রহমান বিন সামুরা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছেন, "হে আবদুর রহমান! তুমি নেতৃত্ব প্রার্থনা করো না। কেননা, যদি তোমাকে যাঞ্চা করা ব্যতীত তা প্রদান করা হয়, তবে তোমাকে তাতে সাহায্য করা হবে। আর যদি যাঞ্চা করার কারণে তোমাকে তা প্রদান করা হয়, তবে তোমাকে তার ওপরই সোপর্দ করা হবে।"

তাঁর উক্তি (তোমাকে তার ওপর সোপর্দ করা হবে) এর অর্থ হলো তোমাকে সেটির হাতেই সঁপে দেওয়া হবে, ফলে তুমি তা পালনে অক্ষম হয়ে পড়বে।

‌‌বিচারকের পদ প্রার্থনা করা

 

৬৯ - আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "যে ব্যক্তি বিচারকের পদ প্রার্থনা করে, তাকে তার নিজের ওপরই সোপর্দ করা হয়। আর যাকে এর জন্য বাধ্য করা হয়, তার জন্য একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হন যিনি তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।" এটি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস।
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৮০)
70 - فَلَا يَنْبَغِي تَوْلِيَة من طلب الْقَضَاء لِأَن الولايات أمانات وَتصرف فِي أَرْوَاح الْخَلَائق وَأَمْوَالهمْ فالتسرع إِلَى الْأَمَانَة دَلِيل على الْخِيَانَة وَإِنَّمَا يخطبها من يُرِيد أكلهَا وَمن ائْتمن خائنا على مَوَاضِع الْأَمَانَات كَانَ كمن استرعى الذِّئْب على الْغنم

وَمن هَذِه الْخصْلَة تفْسد قُلُوب الرعايا على مُلُوكهَا لِأَنَّهُ إِذا اهتضمت حُقُوقهم وأكلت أَمْوَالهم فَسدتْ نياتهم أطْلقُوا ألسنتهم بِالدُّعَاءِ والتشكي

71 - وَفِي أَخْبَار الْقُضَاة أَن قَاضِيا قدم إِلَى بلد فَجَاءَهُ رجل لَهُ عقل وَدين فَقَالَ أَيهَا القَاضِي أبلغك قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم (من قدم للْقَضَاء فقد ذبح بِغَيْر سكين) فَقَالَ نعم قَالَ فبلغك أَن أُمُور النَّاس ضائعة فِي بلدنا فَجئْت بخبرها قَالَ لَا قَالَ فاشهد أَنِّي لَا أَطَأ لَك مَجْلِسا وَلَا أؤدي عنْدك شَهَادَة
70 - সুতরাং বিচারকার্যের (القضاء) পদপ্রার্থনাকারীকে নিয়োগ দেওয়া সমীচীন নয়। কেননা শাসনভার হলো আমানত (أمانات) এবং তা সৃষ্টির জান ও মালের ওপর কর্তৃত্ব করার নামান্তর। অতএব আমানত গ্রহণের প্রতি দ্রুত ধাবিত হওয়া খিয়ানতের (الخيانة) প্রমাণ। আর কেবল সেই ব্যক্তিই এর প্রত্যাশা করে, যে তা আত্মসাৎ করতে চায়। যে ব্যক্তি কোনো খিয়ানতকারীকে আমানতের বিশ্বস্ত স্থানে নিযুক্ত করল, সে যেন মেষপালের পাহারাদার হিসেবে নেকড়ে বাঘকে দায়িত্ব প্রদান করল।

আর এই স্বভাবের কারণেই প্রজাদের অন্তর তাদের শাসকদের প্রতি বিষিয়ে ওঠে। কারণ যখন তাদের অধিকার খর্ব করা হয় এবং তাদের সম্পদ গ্রাস করা হয়, তখন তাদের মানসিকতা ও আনুগত্য নষ্ট হয়ে যায় এবং তারা দুয়া ও অভিযোগের মাধ্যমে তাদের জিহ্বা উন্মুক্ত করে দেয়।

71 - 'আখবারুল কুদাত' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক বিচারক (قاضي) একটি শহরে আগমন করলে তার নিকট প্রজ্ঞা ও দ্বীনদারিসম্পন্ন এক ব্যক্তি আসলেন। তিনি বললেন, "হে বিচারক (القاضي)! আপনার নিকট কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী পৌঁছেছে যে— 'যাকে বিচারকার্যের (القضاء) দায়িত্ব দেওয়া হলো, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবেহ করা হলো'?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" লোকটি বললেন, "আপনার নিকট কি এই খবর পৌঁছেছে যে আমাদের শহরে মানুষের বিষয়াবলি বিনষ্ট হচ্ছে, যার সংবাদ দিতে আমি আপনার কাছে এসেছি?" তিনি বললেন, "না।" তখন লোকটি বললেন, "তবে সাক্ষী থাকুন যে, আমি আপনার কোনো মজলিসে (مجلس) পদার্পণ করব না এবং আপনার নিকট কোনো সাক্ষ্য (شهادة) প্রদান করব না।"
(খণ্ড: ১) হুসনুল সুলুক আল-হাফিয দাওলাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ৮১)
‌‌الْفَصْل الثَّالِث الولايات

 

‌‌مشروعيتها

 

72 - قَالَ الله تَعَالَى {إِن الله يَأْمُركُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَات إِلَى أَهلهَا وَإِذا حكمتم بَين النَّاس أَن تحكموا بِالْعَدْلِ}

‌‌الْولَايَة الْعَامَّة

 

73 - فالولاية أَمَانَة وَكَانَ سَبَب نزُول هَذِه الْآيَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لما فتح مَكَّة وتسلم مَفَاتِيح الْكَعْبَة من بني شيبَة طلبَهَا مِنْهُ
‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব বা কর্তৃত্বসমূহ (الولايات)

 

‌এর বৈধতা (مشروعية)

 

72 - মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যেন আমানতসমূহ (الأمانات) তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার বা ফয়সালা করবে, তখন ন্যায়ের (عدل) সাথে ফয়সালা করবে।}

‌সাধারণ নেতৃত্ব বা কর্তৃত্ব (الولاية العامة)

 

73 - সুতরাং নেতৃত্ব বা কর্তৃত্ব (ولاية) হলো একটি আমানত (أمانة)। আর এই আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট ছিল এই যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মক্কা বিজয় করলেন এবং বনু শায়বা গোত্রের নিকট থেকে কাবার চাবি গ্রহণ করলেন, তখন তা তাঁর নিকট চাওয়া হলো...