(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: -)
تهذيب الرياسة وترتيب السياسة القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: تهذيب الرياسة وترتيب السياسة
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن علي بن الحسن القَلْعي الشافعي (ت 630هـ)
المحقق: إبراهيم يوسف مصطفى عجو
الناشر: مكتبة المنار - الأردن الزرقاء
الطبعة: الأولى
عدد الصفحات: 393
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তহজীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতিবুস সিয়াসাহ বিভাগ: সিয়াসাহ শারইয়্যাহ এবং বিচার ব্যবস্থা
গ্রন্থ: তহজীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতিবুস সিয়াসাহ
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আল-হাসান আল-কাল'ঈ আশ-শাফি'ঈ (মৃত্যু ৬৩০ হিজরি)
গবেষক: ইব্রাহিম ইউসুফ মুস্তফা আজ্জু
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মানার - যারকা, জর্ডান
সংস্করণ: প্রথম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ৭১)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِاللَّهِ أَثِق وَعَلِيهِ أتوكل
وَالْحَمْد لله حمدا كثيرا دَائِما متواترا متواصلا مترادفا متكاثفا متظاهرا متظافرا حمد من اعْترف ببره وآلائه شاكرا وَسلم لقدره وقضائه صَابِرًا وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ إِلَهًا وَاحِدًا أَولا آخرا صمدا قيوما بَاطِنا ظَاهرا حَيا مرِيدا عَالما قَادِرًا سميعا بَصيرًا ناهيا وآمرا
وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله ابتعثه ليعمر من الدّين دائرا وينعش من الْحق عابرا وَيقطع من الْكفْر دابرا ويغيض من الضَّلَالَة بحرا زاخرا فَلم يزل صلى الله عليه وسلم لحسام الْإِسْلَام شاهرا وبإعلان الْحق مجاهرا ولجهاد أهل العناد مصابرا وَعَن عبَادَة الْأَصْنَام والأوثان زاجرا حَتَّى عَاد ربع الدّين عَامِرًا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমি আল্লাহর ওপর আস্থা রাখি এবং তাঁর ওপরই ভরসা করি।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—প্রচুর, স্থায়ী, অবিচ্ছিন্ন (متواتر), নিরবচ্ছিন্ন, ধারাবাহিক, নিবিড়, প্রকাশ্য ও সম্মিলিত প্রশংসা; এমন ব্যক্তির প্রশংসা যে কৃতজ্ঞতার সাথে তাঁর অনুগ্রহ ও নিআমতসমূহ স্বীকার করে এবং ধৈর্য সহকারে তাঁর তকদির ও ফয়সালার কাছে আত্মসমর্পণ করে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি অদ্বিতীয় ইলাহ, অনাদি ও অনন্ত, অমুখাপেক্ষী ও চিরস্থায়ী, গোপন ও প্রকাশ্য, চিরঞ্জীব, সর্বময় ইচ্ছার অধিকারী, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা এবং আদেশ ও নিষেধকারী।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল। আল্লাহ তাঁকে প্রেরণ করেছেন দ্বীনের বিলুপ্তপ্রায় নিদর্শনসমূহকে পুনরায় আবাদ করতে, সত্যের মিয়িয়ে যাওয়া চিহ্নসমূহকে পুনর্জীবিত করতে, কুফরের মূলোৎপাটন করতে এবং গোমরাহীর উত্তাল সমুদ্রকে শুকিয়ে দিতে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আজীবন ইসলামের তলোয়ারকে উন্মুক্ত রেখেছেন, সত্য প্রচারে সংগ্রাম করেছেন, সত্যবিমুখ হঠকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদে ধৈর্য ধারণ করেছেন এবং মূর্তিপূজা থেকে মানুষকে বিরত রেখেছেন; পরিশেষে দ্বীনের আঙিনা পুনরায় আবাদ ও সমৃদ্ধ হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ৭২)
وأضاء فلك الْيَقِين دائرا وَرجع الْكفْر والضلال إِلَى الثَّبَات والحسار داحرا صلى الله عَلَيْهِ وَآله مَا انهل النوء السماكي ماطرا وحدى العيس حاديها واردا وصادرا وَبعد
فَهَذَا الْكتاب جمعته فِي تَهْذِيب الرياسة وترتيب السياسة وَجَعَلته قسمَيْنِ الْقسم الأول مِنْهُ يشْتَمل على أَنْوَاع أَبْوَاب يحتوي على غرر من كَلَام الْحُكَمَاء ودرر الفصحاء مَا ينسبك فِي قالب الْأَمْثَال الشاردة وينتظم فِي سلك الحكم الْوَارِدَة يتَضَمَّن محَاسِن الْأَوْصَاف المحمودة من ذَوي الْأَمر وذم أضدادها وَمَا يجب اسْتِعْمَاله أَو تَركه من الْأُمُور الَّتِي يحمد متبعها عَاقِبَة إصدارها وإيرادها
وَالْقسم الثَّانِي بحكايات من الْخُلَفَاء ووزرائهم وعمالهم وأمرائهم مِمَّا يدل على نبلهم وغزارة فَضلهمْ وَحسن سيرتهم وَكَمَال مروءتهم وَمَا اشْتَمَلت عَلَيْهِ طرائقهم وحوتة خلائفهم من الْعدْل والإنصاف والبذل والإسعاف وَالْعَفو عِنْد الاقتدار وَمَعْرِفَة حُقُوق ذَوي الأقدار وَقبُول النصح
এবং ধ্রুব বিশ্বাসের কক্ষপথ প্রদীপ্ত ও আবর্তিত হলো এবং কুফর ও ভ্রষ্টতা লাঞ্ছিত হয়ে স্থবিরতা ও গ্লানির দিকে পশ্চাদপসরণ করল। মহান আল্লাহ তাঁর ও তাঁর পরিবারের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, যতক্ষণ গগণমণ্ডলের নক্ষত্র হতে বারিধারা বর্ষিত হয় এবং উষ্ট্রচালক উটকে গন্তব্যে আসা ও যাওয়ার পথে হাঁকিয়ে নিয়ে চলে। অতঃপর—
এই গ্রন্থটি আমি নেতৃত্ব সংস্কার ও প্রশাসনিক বিন্যাস বিষয়ে সংকলন করেছি এবং একে দুটি অংশে বিভক্ত করেছি। এর প্রথম অংশটি বিভিন্ন প্রকারের অধ্যায় সম্বলিত, যা প্রজ্ঞাবানদের শ্রেষ্ঠ বাণী এবং বাগ্মীদের মুক্তাতুল্য বচন ধারণ করে; যা লোকপ্রসিদ্ধ প্রবাদমালার ছাঁচে ঢালা এবং প্রচলিত হিকমতের সূত্রে গাঁথা। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে শাসনকর্তাদের প্রশংসনীয় গুণাবলির সৌন্দর্য এবং সেগুলোর বিপরীত স্বভাবের নিন্দা। সেই সাথে এমন সব বিষয় যা গ্রহণ করা বা বর্জন করা আবশ্যক, যার অনুসরণকারী এর শুরু ও পরিণামে প্রশংসিত হবে।
এবং দ্বিতীয় অংশটি খলিফাগণ, তাঁদের উজির, কর্মকর্তা ও আমিরদের এমন সব উপাখ্যান সমৃদ্ধ যা তাঁদের আভিজাত্য, অগাধ শ্রেষ্ঠত্ব, সুন্দর জীবনচর্চা ও পূর্ণাঙ্গ মনুষ্যত্বের প্রমাণ দেয়। এতে আরও সন্নিবেশিত হয়েছে তাঁদের অনুসৃত নীতি ও স্বভাবজাত ন্যায়পরায়ণতা, ইনসাফ, দানশীলতা, সহযোগিতা, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা প্রদর্শন, মর্যাদাবানদের অধিকার সচেতনতা এবং সদুপদেশ গ্রহণ করার বিষয়সমূহ।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
من الناصحين وَسَمَاع الموعظة من الصَّالِحين مَعَ مَا اتصفوا بِهِ من علم وأدب ووقار وحلم وفصاحة وبراعة وسماحة وشجاعة فَمن اتخذ ذَلِك إِمَامًا ارْتَفع وانتفع وَمن عمل بِمَا شاكله رشد وَحمد
وَقد ابتدأت ذَلِك بِذكر وجوب الْإِمَامَة وَعدم الِاسْتِغْنَاء عَن الْوُلَاة وَمَا يجب لَهُم على الكافة من الطَّاعَة والموالاة وَالله تَعَالَى الْمُوفق لانتظامه والتيامه والمعين على إِتْمَامه واختتامه
উপদেশদাতাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং নেককারদের (الصالحين) নিকট থেকে নসিহত শ্রবণ করা, তাদের সেইসব গুণাবলির সাথে যা তারা ধারণ করেছেন—যেমন ইলম, আদব, গাম্ভীর্য, সহনশীলতা, বাগ্মিতা, দক্ষতা, উদারতা ও সাহসিকতা। সুতরাং যে ব্যক্তি একে অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করবে, সে উচ্চমর্যাদা লাভ করবে এবং উপকৃত হবে; আর যে ব্যক্তি এর অনুরূপ আমল করবে সে সঠিক পথপ্রাপ্ত হবে ও প্রশংসিত হবে।
আমি এই বিষয়টি শুরু করেছি ইমামত বা নেতৃত্বের আবশ্যকতা, শাসকদের অপরিহার্যতা এবং সাধারণ জনগণের ওপর তাদের আনুগত্য ও মিত্রতা ওয়াজিব হওয়ার বর্ণনার মাধ্যমে। আর মহান আল্লাহ তাআলাই এর সুশৃঙ্খল বিন্যাস ও সামঞ্জস্য বিধানের তৌফিকদাতা এবং এটি সম্পন্ন ও সমাপ্ত করার ক্ষেত্রে সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
بَاب فِي ذكر وجوب الْإِمَامَة والاحتياج إِلَى السُّلْطَان وَعدم الِاسْتِغْنَاء عَنهُ فِي جَمِيع الْأَزْمَان
أَجمعت الْأمة قاطبة إِلَّا من لَا يعْتد بِخِلَافِهِ على وجوب نصب الإِمَام على الْإِطْلَاق وَإِن اخْتلفُوا فِي أَوْصَافه وشرائطه
ইমামত (الإمامة) বা নেতৃত্বের আবশ্যকতা (وجوب), সুলতানের প্রয়োজনীয়তা এবং সকল যুগে তাঁর অপরিহার্যতা আলোচনার পরিচ্ছেদ।
যাদের মতভেদ গ্রহণযোগ্য নয় তারা ব্যতীত সমগ্র উম্মাহ নিঃশর্তভাবে ইমাম বা নেতা নিযুক্ত করার আবশ্যকতা (وجوب)-এর ওপর ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন, যদিও তাঁরা নেতার গুণাবলী ও শর্তাবলির বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
فَأَقُول نظام أَمر الدّين وَالدُّنْيَا مَقْصُود وَلَا يحصل ذَلِك إِلَّا بِإِمَام مَوْجُود لَو نقل بِوُجُوب الْإِمَامَة لَأَدَّى ذَلِك إِلَى دوَام الِاخْتِلَاف والهرج إِلَى يَوْم الْقِيَامَة لَو لم يكن للنَّاس ق 2 إِمَام مُطَاع لانثلم شرف الْإِسْلَام وَضاع لَو لم يكن للْأمة إِمَام قاهر لتعطلت المحاريب والمناظر وانقطعت السبل للوارد والصادر لَو خلا عصر من إِمَام لتعطلت فِيهِ
আমি বলছি, দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়াবলির শৃঙ্খলা রক্ষা করাই উদ্দিষ্ট, এবং তা একজন বর্তমান ইমামের উপস্থিতি ব্যতীত অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়। যদি ইমামতের আবশ্যকতা (وجوب) কেবলমাত্র শ্রুতিনির্ভর বর্ণনার (نقل) ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে তা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত স্থায়ী মতভেদ ও বিশৃঙ্খলার (هرج) দিকে ধাবিত করত। যদি মানুষের জন্য কোনো আনুগত্যপ্রাপ্ত ইমাম না থাকতেন, তবে ইসলামের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতো এবং তা বিলীন হয়ে যেত। যদি উম্মাহর জন্য কোনো প্রভাবশালী ইমাম না থাকতেন, তবে মেহরাব ও মিম্বরসমূহ অকেজো হয়ে পড়ত এবং যাতায়াতকারীদের পথসমূহ রুদ্ধ হয়ে যেত। যদি কোনো যুগ ইমামশূন্য হতো, তবে তাতে [যাবতীয় দ্বীনি ও পার্থিব ব্যবস্থাপনা] অচল হয়ে পড়ত।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
الْأَحْكَام وضاعت الْأَيْتَام وَلم يحجّ الْبَيْت الْحَرَام لَوْلَا الْأَئِمَّة والقضاة والسلاطين والولاة لما نكحت الْأَيَامَى وَلَا كفلت الْيَتَامَى لَوْلَا السُّلْطَان لكَانَتْ النَّاس فوضى ولأكل بَعضهم بَعْضًا وَفِي الحَدِيث السُّلْطَان ظلّ الله فِي الأَرْض يأوي إِلَيْهِ كل مظلوم
وَقَالَ عُثْمَان رضي الله عنه مَا يَزع الله بالسلطان أَكثر مِمَّا يَزع بِالْقُرْآنِ وَمعنى يَزع أَي يمْنَع ويكف ويردع وَقَالَ بعض القدماء الدّين وَالسُّلْطَان توأمان وَقيل الدّين أس وَالسُّلْطَان حارس فَمَا لَا أس لَهُ فمهدوم وَمَا لَا حارس لَهُ فضائع
বিধানাবলি বিলুপ্ত হতো, এতিমগণ হারিয়ে যেত এবং পবিত্র কাবা ঘরে হজ সম্পাদিত হতো না। যদি ইমামগণ, বিচারকগণ, সুলতানগণ এবং শাসকবৃন্দ না থাকতেন, তবে অভিভাবকহীন নারীদের বিবাহ সম্পন্ন হতো না এবং এতিমদের দায়িত্ব গ্রহণ করা হতো না। যদি সুলতান না থাকতেন, তবে মানুষ বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিপতিত হতো এবং একে অপরকে গ্রাস করত। আর হাদিসে বর্ণিত আছে: "সুলতান হলেন জমিনে আল্লাহর ছায়া, যার নিকট প্রত্যেক মজলুম ব্যক্তি আশ্রয় গ্রহণ করে।"
হযরত উসমান (রা.) বলেন: "আল্লাহ সুলতানের মাধ্যমে যা দমন করেন, তা কুরআনের মাধ্যমে যা দমন করেন তার চেয়েও অধিক।" এখানে 'দমন করা' এর অর্থ হলো— বারণ করা, নিবৃত্ত করা এবং প্রতিহত করা। প্রাচীন পণ্ডিতগণের কেউ কেউ বলেছেন: "দ্বীন এবং সুলতান যমজ ভাই।" আরও বলা হয়েছে: "দ্বীন হলো ভিত্তি এবং সুলতান হলো তার রক্ষক। যে জিনিসের কোনো ভিত্তি নেই তা ধ্বংস হয়ে যায়, আর যার কোনো রক্ষক নেই তা হারিয়ে যায়।"
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
وَقَالَ عَمْرو بن الْعَاصِ إِمَام عَادل خير من مطر وابل وَأسد حطوم خير من سُلْطَان غشوم وسلطان غشوم خير من فتْنَة تدوم
وَقَالَ كَعْب الْأَحْبَار مثل الْإِسْلَام وَالسُّلْطَان مثل عَمُود وفسطاط فالفسطاط الْإِسْلَام والعمود السُّلْطَان والأوتاد النَّاس وَلَا يصلح بَعضهم إِلَّا بِبَعْض
وَقَالَ الأفوه الأودي
আমর ইবনুল আস (রা.) বলেছেন, "একজন ন্যায়পরায়ণ ইমাম (إمام عادل) মুষলধারে বৃষ্টি অপেক্ষা উত্তম; এবং একজন হিংস্র সিংহ একজন অত্যাচারী শাসক (سلطان غشوم) অপেক্ষা উত্তম; আর একজন অত্যাচারী শাসক (سلطান غشوم) দীর্ঘস্থায়ী ফিতনা (فتنة تدوم) অপেক্ষা উত্তম।"
কা’ব আল-আহবার বলেছেন, "ইসলাম এবং শাসকের দৃষ্টান্ত হলো একটি তাঁবু এবং খুঁটির মতো। তাঁবু হলো ইসলাম এবং খুঁটি হলো শাসক, আর পেরেকসমূহ হলো জনগণ। তাদের এক অংশ অন্য অংশ ব্যতীত সংশোধিত হয় না।"
আল-আফওয়াহ আল-আওদি বলেছেন—
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
(لَا يصلح النَّاس فوضى لَا سراة لَهُم
… وَلَا سراة إِذا جهالهم سادوا)
(كالبيت لَا يبتنى إِلَّا لَهُ عمد
… وَلَا عَمُود إِذا لم ترسى أوتاد)
(فَإِن تجمع أوتاد وأعمدة
… وَسَاكن بلغُوا الْأَمر الَّذِي كَادُوا)
وَقَالَ ابْن المعتز فَسَاد الرّعية بِلَا ملك كفساد الْجِسْم بِلَا روح وَقَالَ بعض البلغاء السُّلْطَان زِمَام الْملَّة ونظام الْجُمْلَة وجلاء الْغُمَّة ورباط الْبَيْضَة وعماد الْحَوْزَة وَقَالَ آخر السُّلْطَان يدافع عَن سَواد الْأمة ببياض الدعْوَة
(মানুষের অবস্থা বিশৃঙ্খল হলে তা সংশোধনযোগ্য হয় না যখন তাদের কোনো নেতা থাকে না
… আর সেই নেতারাও নেতা হতে পারে না যখন তাদের ওপর মূর্খরা প্রাধান্য বিস্তার করে)
(এটি সেই গৃহের ন্যায় যা স্তম্ভ ছাড়া নির্মিত হয় না
… আর স্তম্ভও টিকে থাকে না যদি ভিত্তি বা কীলকসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত না হয়)
(অতঃপর যখন কীলক, স্তম্ভ
… এবং অধিবাসী একত্রিত হয়, তখন তারা সেই লক্ষ্যে উপনীত হতে পারে যা তারা অর্জন করতে চেয়েছিল)
ইবনে আল-মুতাজ বলেছেন: শাসক ছাড়া প্রজাদের বিপর্যয় হলো প্রাণহীন দেহের পচনের মতো। জনৈক বাগ্মী বলেছেন: সুলতান হলেন মিল্লাতের লাগাম, সামগ্রিক ব্যবস্থার শৃঙ্খলা, সংকটের বিমোচনকারী, ভূখণ্ডের রক্ষাকবচ এবং সার্বভৌমত্বের স্তম্ভ। অন্য একজন বলেছেন: সুলতান দাওয়াতের শুভ্রতা দিয়ে উম্মাহর বিশালতাকে প্রতিরক্ষা প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
بَاب فِي ذكر الْوَالِي الْعَادِل وَمَاله من الْأجر والوالي الجائر وَمَا عَلَيْهِ من الْوزر
قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم سَبْعَة يظلهم الله عز وجل تَحت ظلّ عَرْشه يَوْم لَا ظلّ إِلَّا ظله إِمَام عَادل وشاب نَشأ فِي عبَادَة ربه وَرجل قلبه مُعَلّق فِي الْمَسَاجِد إِذا خرج مِنْهُ حَتَّى يعود إِلَيْهِ وَرجل ذكر الله خَالِيا فَفَاضَتْ عَيناهُ ورجلان تحابا فِي الله عز وجل اجْتمعَا على ذَلِك ثمَّ تفَرقا وَرجل دَعَتْهُ امْرَأَة ذَات حسن وجمال إِلَى نَفسهَا فَقَالَ إِنِّي أَخَاف الله عز وجل وَرجل تصدق بِصَدقَة فأخفاها حَتَّى لَا تعلم شِمَاله مَا تنْفق يَمِينه فَبَدَأَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِالْإِمَامِ الْعَادِل وحقيق أَن يبْدَأ بِهِ لِأَنَّهُ من الْعَالم بِمَنْزِلَة السوَاد من الْعين بل بِمَنْزِلَة السويداء من الْقلب بل هُوَ بِمَنْزِلَة الْقلب من الْجَسَد فبصلاحه يصلح الْجَسَد وبفساده يفْسد
ন্যায়পরায়ণ শাসক, তাঁর প্রতিদান এবং অত্যাচারী শাসক ও তাঁর পাপের বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, সাত ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ তাঁর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না: ন্যায়পরায়ণ ইমাম (إمام عادل), সেই যুবক যে তার রবের ইবাদতের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে, সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকে যখন সে সেখান থেকে বের হয় পুনরায় ফিরে আসা পর্যন্ত, সেই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর জিকির করে এবং তার দুই চোখ অশ্রুসিক্ত হয়, সেই দুই ব্যক্তি যারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবাসে, তারা এই মহৎ গুণের ওপরই একত্রিত হয় এবং এর ওপরই বিচ্ছিন্ন হয়, সেই ব্যক্তি যাকে কোনো আভিজাত্য ও সৌন্দর্যের অধিকারী নারী (কুকর্মের দিকে) আহ্বান করে কিন্তু সে বলে, ‘নিশ্চয়ই আমি মহান আল্লাহকে ভয় করি’ এবং সেই ব্যক্তি যে গোপনে সদকা করে, এমনকি তার বাম হাত জানতে পারে না তার ডান হাত কী ব্যয় করছে। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ন্যায়পরায়ণ ইমাম (إمام عادل)-কে দিয়ে বর্ণনা শুরু করেছেন এবং তাঁকে দিয়ে শুরু করাই সংগত, কারণ বিশ্বের কাছে তাঁর গুরুত্ব চোখের মণির মতো, বরং হৃদপিণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুর মতো, বরং দেহের হৃদপিণ্ডের মতো। কেননা তাঁর সংশোধনের মাধ্যমে পুরো দেহ সংশোধিত হয় এবং তাঁর বিপর্যয়ের মাধ্যমেই পুরো দেহ বিপর্যস্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
كَمَا قَالَ صلى الله عليه وسلم إِن فِي الْجَسَد مُضْغَة إِذا صلحت صلح الْجَسَد كُله وَإِذا فَسدتْ فسد الْجَسَد كُله وَهِي الْقلب
وَقد تقدم قَول ابْن المعتز فَسَاد الرّعية بِلَا ملك كفساد الْجَسَد بِلَا روح وَإِنَّمَا كَانَ السُّلْطَان بِهَذِهِ المثابة لِأَنَّهُ فِي نَفسه إِمَام متبوع وَفِي سيرته دين مَشْرُوع فَإِن ظلم لم يعدل ق 3 أحد فِي حكم وَإِن عدل لم يستجري أحد على ظلم
وَرُوِيَ أَن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه لما حمل إِلَيْهِ مَغَانِم الْعرَاق عِنْد افتتاحها وَمَا أصَاب من كنوز كسْرَى وَرَأى مَا فِيهَا من الْجَوَاهِر النفيسة جعل يتعجب مِنْهَا وَيَقُول إِن الَّذِي أدّى هَذَا لأمين فَقَالَ لَهُ
যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “নিশ্চয়ই শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে; যদি তা সংশোধিত হয়, তবে পুরো শরীরই সংশোধিত হয়, আর যদি তা কলুষিত হয়, তবে পুরো শরীরই কলুষিত হয়; আর তা হলো অন্তর।”
ইতিপূর্বে ইবনুল মুতায-এর উক্তি উল্লিখিত হয়েছে যে: “শাসকহীন প্রজাসাধারণের বিপর্যয় হলো আত্মাভিন শরীরের বিনাশের ন্যায়।” আর সুলতান বা শাসক এই পদমর্যাদার অধিকারী একারণে যে, তিনি স্বয়ং একজন অনুসরিত নেতা এবং তাঁর জীবনচরিত হলো একটি বিধিবদ্ধ পথ। সুতরাং তিনি যদি জুলুম করেন, তবে বিচারের ক্ষেত্রে কেউ ন্যায়বিচার করবে না; আর তিনি যদি ন্যায়বিচার করেন, তবে কেউ জুলুম করার দুঃসাহস দেখাবে না।
এবং বর্ণিত হয়েছে (روي) যে, যখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট ইরাক বিজয়ের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ এবং কিসরার ধনভাণ্ডার থেকে প্রাপ্ত দ্রব্যাদি আনা হলো এবং তিনি তাতে থাকা মূল্যবান মণি-মুক্তা দেখলেন, তখন তিনি আশ্চর্যান্বিত হয়ে বলতে লাগলেন: “নিশ্চয়ই যিনি এগুলো পৌঁছে দিয়েছেন তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ত (أمين)।” তখন তাঁকে বলা হলো—
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১০০)
عبد الرَّحْمَن بن عَوْف أَنا أخْبرك بذلك يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ أَنْت أَمِين الله وهم أمناؤك فَمَا دمت مُؤديا للأمانة أدوها وَمَتى رتعت رتعوا
وَفِي بعض الْآثَار النَّاس على دين الْملك وَهَذَا معنى قَوْله صلى الله عليه وسلم فِي كِتَابه إِلَى هِرقل عَظِيم الرّوم أسلم يؤتك الله أجرك مرَّتَيْنِ وَإِن أَبيت فَإِن عَلَيْك إِثْم الأريسيين والأريسيون الأكاريون قيل مَعْنَاهُ أَن الرّعية أَتبَاع للملوك فِي الْخَيْر وَالشَّر وَالْإِسْلَام وَالْكفْر فَمَتَى أَبيت قبُول الْإِسْلَام وَتَخَلَّفت عَنهُ وأقمت على الْكفْر كَانَ ذَلِك سَبَب تخلف رعيتك عَن الْإِسْلَام وتركهم الدُّخُول فِيهِ فَيكون عَلَيْك مثل إثمهم
وَهَذَا مثل قَوْله صلى الله عليه وسلم من سنّ سنة حَسَنَة كَانَ لَهُ أجرهَا وَأجر من عمل بهَا إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وَمن سنّ سنة سَيِّئَة كَانَ عَلَيْهِ وزرها ووزر من عمل بهَا إِلَى يَوْم الْقِيَامَة قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
আব্দুর রহমান ইবন আউফ (বললেন), "হে আমিরুল মুমিনীন, আমি আপনাকে সে বিষয়ে সংবাদ দিচ্ছি। আপনি আল্লাহর আমানতদার এবং তারা আপনার আমানতদার। যতক্ষণ আপনি আমানত রক্ষা করবেন, তারাও তা আদায় করবে; আর যখন আপনি যথেচ্ছাচারে লিপ্ত হবেন, তারাও তাতে লিপ্ত হবে।"
কিছু কিছু বর্ণনায় (أثر) এসেছে যে, মানুষ তাদের রাজাদের আদর্শের অনুসারী হয়ে থাকে। আর রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের নিকট প্রেরিত পত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর অর্থও এটাই: "ইসলাম গ্রহণ করুন, আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দান করবেন। আর যদি আপনি মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে আপনার ওপর প্রজাসাধারণের পাপ বর্তাবে।" আর 'আরিসিয়্যিন' অর্থ হলো কৃষক বা প্রজাসাধারণ। বলা হয়েছে, এর অর্থ হলো—প্রজারা কল্যাণ ও অকল্যাণ এবং ইসলাম ও কুফরের ক্ষেত্রে রাজাদের অনুসারী হয়ে থাকে। সুতরাং আপনি যখন ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাবেন, তা থেকে বিমুখ থাকবেন এবং কুফরের ওপর অটল থাকবেন, তখন তা আপনার প্রজাদের ইসলাম থেকে বিমুখ হওয়ার এবং এতে প্রবেশ না করার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ফলে তাদের পাপের সমপরিমাণ বোঝা আপনার ওপর বর্তাবে।
এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর অনুরূপ: "যে ব্যক্তি কোনো উত্তম রীতি প্রবর্তন করবে, সে তার প্রতিদান পাবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের সওয়াবও সে লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ রীতি প্রবর্তন করবে, তার ওপর সেই মন্দ কাজের পাপ বর্তাবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের পাপের বোঝাও তার ওপর বর্তাবে।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ ইরশাদ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১০১)
من دَعَا إِلَى هدى كَانَ لَهُ من مثل أجر من تبعه لَا ينقص ذَلِك من أُجُورهم وَمن دَعَا إِلَى ضَلَالَة كَانَ عَلَيْهِ من الْإِثْم مثل آثام من تبعه لَا ينقص ذَلِك من آثامهم شَيْء
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم إِن أحب النَّاس إِلَى الله تَعَالَى وأقربهم مِنْهُ إِمَام عَادل وَإِن أبْغض النَّاس إِلَى اله تَعَالَى وأبعدهم مِنْهُ وأشدهم عذَابا إِمَام جَائِر
وَفِي حَدِيث آخر إِن أفضل عباد الله منزلَة يَوْم الْقِيَامَة إِمَام عَادل رَفِيق وَإِن أشر عباد الله منزلَة يَوْم الْقِيَامَة إِمَام جَائِر
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم الإِمَام جنَّة يُقَاتل من وَرَاءه ويتقى بِهِ فَإِن أَمر بتقوى الله وَعدل كَانَ لَهُ بذلك أجر وَإِن أَمر بِغَيْرِهِ كَانَ عَلَيْهِ وزر
যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে আহ্বান করবে, তার জন্য তাকে অনুসরণকারীদের সমপরিমাণ সওয়াব থাকবে, যা তাদের সওয়াবসমূহ থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করবে না। আর যে ব্যক্তি গোমরাহির দিকে আহ্বান করবে, তার ওপর তাকে অনুসরণকারীদের সমপরিমাণ পাপ বর্তাবে, যা তাদের পাপসমূহ থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করবে না।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার নিকট মানুষের মধ্যে সর্বাধিক প্রিয় এবং তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তি হলো ন্যায়পরায়ণ ইমাম। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার নিকট মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত, তাঁর থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী এবং কঠোরতম আজাবের অধিকারী ব্যক্তি হলো অত্যাচারী ইমাম।
অন্য একটি হাদিসে এসেছে: নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আল্লাহর বান্দাদের মাঝে মর্যাদাগত দিক থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলো নম্র ও ন্যায়পরায়ণ ইমাম। আর নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আল্লাহর বান্দাদের মাঝে মর্যাদাগত দিক থেকে নিকৃষ্টতম ব্যক্তি হলো অত্যাচারী ইমাম।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ইমাম হলো ঢালস্বরূপ, যার পেছনে থেকে যুদ্ধ করা হয় এবং যার দ্বারা সুরক্ষা গ্রহণ করা হয়। সুতরাং তিনি যদি আল্লাহর তাকওয়া এবং ন্যায়বিচারের আদেশ দেন, তবে এর বিনিময়ে তাঁর জন্য সওয়াব রয়েছে। আর যদি তিনি এছাড়া অন্য কিছুর আদেশ দেন, তবে এর দায় বা পাপের বোঝা তাঁর ওপর বর্তাবে।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১০২)
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم ثَلَاثَة يبغضهم الله الإِمَام الجائر وَالشَّيْخ الزَّانِي وَالْفَقِير المختال وروت عَائِشَة رضي الله عنها قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول فِي بَيْتِي هَذَا اللَّهُمَّ من ولي من أَمر أمتِي شَيْئا فشق عَلَيْهِم فأشقق عَلَيْهِ وَمن ولي من أَمر أمتِي شَيْئا فرفق بهم فارفق بِهِ وَهَذَا عَام فِي كل وَال ولَايَته عَمت أَو خصت قلت أَو كثرت عظمت أَو صغرت
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم إِن المقسطين عِنْد الله على مَنَابِر من نور عَن يَمِين الْعَرْش الَّذين يعدلُونَ فِي حكمهم وأهليهم وَمَا ولوا
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা ঘৃণা করেন: অত্যাচারী শাসক, ব্যভিচারী বৃদ্ধ এবং অহংকারী দরিদ্র।" আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আমার এই ঘরে বলতে শুনেছি: "হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আমার উম্মতের কোনো বিষয়ের দায়িত্বশীল নিযুক্ত হয়ে তাদের কষ্টে ফেলে, আপনিও তাকে কষ্টে নিপতিত করুন। আর যে ব্যক্তি আমার উম্মতের কোনো বিষয়ের দায়িত্বশীল নিযুক্ত হয়ে তাদের প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করে, আপনিও তার প্রতি কোমল হোন।" আর এটি এমন প্রত্যেক দায়িত্বশীলের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ (عام) নির্দেশ, যার কর্তৃত্বের পরিধি ব্যাপক বা বিশেষ (خاص) হোক, অল্প হোক বা অধিক এবং মর্যাদায় বড় হোক বা ছোট।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা আল্লাহর নিকট আরশের ডানপাশে নূরের মিম্বরসমূহের ওপর অবস্থান করবেন। তারা হলেন সেই সব লোক, যারা তাদের বিচার-ফয়সালায়, তাদের পরিবার-পরিজনের বিষয়ে এবং তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার (عدل) করেন।"
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم مَا من أَمِير عشره إِلَّا جِيءَ بِهِ يَوْم الْقِيَامَة مغلولة يَدَاهُ إِلَى عُنُقه حَتَّى يكون عمله هُوَ الَّذِي يُطلقهُ أَو يوبقه أَي يهلكه وَقَالَ عليه السلام عدل سَاعَة فِي حُكُومَة خير من عبَادَة سنة وَقَالَ صلى الله عليه وسلم الْعَامِل على الصَّدَقَة بِالْحَقِّ كالغازي فِي سَبِيل الله حَتَّى يرجع إِلَى بَيته وَعَن أبي ذَر رَحمَه الله تَعَالَى يَا رَسُول الله أَلا تَسْتَعْمِلنِي قَالَ فَضرب يَده على مَنْكِبي ثمَّ قَالَ يَا أَبَا ذَر إِنَّك ضَعِيف وَإِنَّهَا أَمَانَة وَإِنَّهَا يَوْم الْقِيَامَة حسرة وندامة وندامة إِلَّا من أَخذهَا بِحَقِّهَا وَأدّى الَّذِي عَلَيْهِ فِيهَا وَفِي رِوَايَة أُخْرَى أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "দশ ব্যক্তির যেকোনো আমীর বা নেতাকে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত করা হবে যে, তার হাত দুটি তার ঘাড়ের সাথে শৃঙ্খলিত থাকবে; যতক্ষণ না তার আমল তাকে মুক্তি দেয় অথবা তাকে ধ্বংস করে দেয়।" তিনি (আলাইহিস সালাম) আরও বলেছেন, "বিচারের ক্ষেত্রে এক মুহূর্তের ন্যায়বিচার এক বছরের ইবাদতের চেয়ে উত্তম।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "সততার সাথে সদকা আদায়কারী ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর ন্যায়, যতক্ষণ না সে নিজ গৃহে ফিরে আসে।" আবু যার (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে কোনো দায়িত্বে নিয়োগ করবেন না? তিনি (রাসূল) তাঁর হাত আমার কাঁধে মারলেন এবং বললেন, "হে আবু যার! নিশ্চয়ই তুমি দুর্বল (ضعيف) এবং এটি একটি আমানত। আর কিয়ামতের দিন এটি কেবল অনুশোচনা ও অনুতাপের কারণ হবে, তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে একে এর হক অনুযায়ী গ্রহণ করেছে এবং এর হক আদায় করেছে।" অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে যে, নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)...
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
قَالَ لَهُ يَا أَبَا ذَر إِنِّي أَرَاك ق 4 ضَعِيفا وَإِنِّي أحب لَك مَا أحب لنَفْسي لَا تأمرن على اثْنَيْنِ وَلَا تولين على مَال يَتِيم
وَعَن الْمِقْدَام بن معدي كرب أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ضرب على مَنْكِبه ثمَّ قَالَ أفلحت يَا مِقْدَام إِن لم تكن أَمِيرا وَلَا كَاتبا وَلَا عريفا
وَرُوِيَ أَن رجلا قَالَ لسول الله صلى الله عليه وسلم إِن أبي شيخ كَبِير وَهُوَ عريف المَاء وَهُوَ يَسْأَلك أَن تجْعَل العرافة لي بعده قَالَ صلى الله عليه وسلم إِن العرافة حق وَلَا بُد للنَّاس من العرفاء وَلَكِن العرفاء فِي النَّار
তিনি তাকে বললেন, "হে আবু যার! আমি তোমাকে দুর্বল (ضعيف) দেখছি এবং আমি তোমার জন্য তাই পছন্দ করি যা আমি নিজের জন্য পছন্দ করি। তুমি কখনোই দুই ব্যক্তির উপর নেতৃত্ব গ্রহণ করো না এবং কোনো এতিমের সম্পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করো না।"
মিকদাম ইবনে মাদিকারিব থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার কাঁধে হাত রাখলেন এবং বললেন, "হে মিকদাম! তুমি সফল হবে যদি তুমি শাসক, লেখক বা সমাজ-তত্ত্বাবধায়ক না হও।"
বর্ণিত হয়েছে (روي) যে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন, "আমার পিতা একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি এবং তিনি পানির সুষম বণ্টনকারী তত্ত্বাবধায়ক। তিনি আপনার নিকট আবেদন করছেন যেন তার পরে আমাকে এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।" রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "তত্ত্বাবধান একটি অনস্বীকার্য অধিকার এবং মানুষের জন্য তত্ত্বাবধায়কের প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু এই তত্ত্বাবধায়করা জাহান্নামে যাবে।"
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم لَا يدْخل الْجنَّة صَاحب مكس
وَسَنذكر إِن شَاءَ الله فِيمَا بعد مَا ورد من أَلْفَاظ الْحُكَمَاء والبلغاء فِي مدح الْعدْل وذم الْجور فِي بَاب مُفْرد إِن شَاءَ الله تَعَالَى
এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "অবৈধ কর সংগ্রাহক জান্নাতে প্রবেশ করবে না।"
এবং আল্লাহ চাহেন তো আমরা পরবর্তীতে ইনসাফের প্রশংসা এবং জুলুমের নিন্দায় প্রাজ্ঞ ও বাগ্মীদের বর্ণিত বাণীসমূহ একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে উল্লেখ করব, ইনশাআল্লাহ তাআলা।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
بَاب فِي ذكر مَا يجب على الرّعية للولاة من الطَّاعَة وَمَا يكره لَهُم من الْمعْصِيَة وَالْخُرُوج عَلَيْهِم ومفارقة الْجَمَاعَة
قَالَ الله تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا أطِيعُوا الله وَأَطيعُوا الرَّسُول وأولي الْأَمر مِنْكُم}
শাসকদের প্রতি প্রজাদের আনুগত্যের আবশ্যকতা এবং তাদের অবাধ্য হওয়া, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ও জামাত (ঐক্যবদ্ধ দল) ত্যাগ করার অপছন্দনীয়তা বিষয়ক পরিচ্ছেদ।
আল্লাহ তাআলা বলেন, "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার কর্তৃত্বশীলদের।"
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
وقرنها بِطَاعَتِهِ وَطَاعَة رَسُوله وَقد فسر ذَلِك أَكثر أهل الْعلم بِأَن
এবং তিনি সেটিকে তাঁর আনুগত্য ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন এবং অধিকাংশ বিদগ্ধ আলেম এর ব্যাখ্যা এই বলে প্রদান করেছেন যে
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
المُرَاد بأولي الْأَمر أُمَرَاء الْمُسلمين وروى ذَلِك عَن أبي هُرَيْرَة وَابْن عَبَّاس رضي الله عنهما وَزيد بن أسلم رضي الله عنه وَهُوَ اخْتِيَار أَكثر الْعلمَاء
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم وَمن أَطَاعَنِي فقد أطَاع الله وَمن عَصَانِي فقد عصى الله وَمن أطَاع الْأَمِير فقد أَطَاعَنِي وَمن عصى الْأَمِير فقد عَصَانِي
'উলুল আমর' দ্বারা মুসলিমদের শাসকবর্গ উদ্দেশ্য। এটি আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং যায়েদ বিন আসলাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং এটিই অধিকাংশ আলেমের মনোনীত মত।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল; আর যে ব্যক্তি আমার অবাধ্য হলো, সে মূলত আল্লাহরই অবাধ্য হলো। এবং যে আমীরের আনুগত্য করল, সে আমারই আনুগত্য করল; আর যে আমীরের অবাধ্য হলো, সে আমারই অবাধ্য হলো।"
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم لَو اسْتعْمل عَلَيْكُم عبد حبشِي مجدع الْأَطْرَاف ويقودكم بِكِتَاب الله فَاسْمَعُوا لَهُ وَأَطيعُوا
وَعَن عبَادَة بن الصَّامِت قَالَ بَايعنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على السّمع وَالطَّاعَة فِي منشطنا ومكرهنا وعسرنا ويسرنا وأثرة
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যদি তোমাদের ওপর এমন কোনো হাবশী দাসকেও দায়িত্ব প্রদান করা হয় যার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্তিত, আর সে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী তোমাদের পরিচালনা করে, তবে তোমরা তার নির্দেশ শ্রবণ করো এবং আনুগত্য করো।"
উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট শ্রবণ ও আনুগত্যের ওপর বাইআত গ্রহণ করেছি—আমাদের পছন্দ ও অপছন্দের উভয় অবস্থায়, আমাদের সংকটে ও সচ্ছলতায় এবং আমাদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার প্রদানের মুহূর্তেও।"
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১১০)
علينا وَأَن لَا ننازع الْأَمر أَهله إِلَّا أَن تروا كفرا بواحا عنْدكُمْ من الله فِيهِ برهَان
وَعَن ابْن مَسْعُود قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِنَّهَا سَتَكُون بعدِي أَثَرَة وَأُمُور تنكرونها قَالَ يَا رَسُول الله فَمَا تَأمر من أدْرك ذَلِك قَالَ تؤدون الْحق الَّذِي عَلَيْكُم وتسألون الله الَّذِي لكم
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم للْأَنْصَار إِنَّكُم سَتَلْقَوْنَ بعدِي أَثَرَة فَاصْبِرُوا حَتَّى تَلْقَوْنِي على الْحَوْض
আমাদের ওপর (আনুগত্য করা) এবং এই যে, আমরা যেন শাসনক্ষমতার অধিকারীদের সাথে বিবাদ না করি; তবে যদি তোমরা প্রকাশ্য কুফরি দেখতে পাও যার সপক্ষে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকে।
এবং ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “নিশ্চয়ই আমার পরে স্বজনপ্রীতি ও এমন সব বিষয় দেখা দেবে যা তোমরা অপছন্দ করবে।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই সময়ের সম্মুখীন হবে, আপনি তাকে কী নির্দেশ দেন?” তিনি বললেন: “তোমাদের ওপর অর্পিত হক বা দায়িত্বসমূহ তোমরা পালন করবে এবং তোমাদের প্রাপ্য হকের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে।”
এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনসারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: “নিশ্চয়ই আমার পরে তোমরা স্বজনপ্রীতির সম্মুখীন হবে; সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, যতক্ষণ না হাউজের নিকট আমার সাথে তোমাদের সাক্ষাৎ হয়।”
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১১১)
وَعَن حُذَيْفَة بن الْيَمَانِيّ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ تكون بعدِي أَئِمَّة لَا يَهْتَدُونَ بهداي وَلَا يستنون بِسنتي وسيقوم فيهم رجال قُلُوبهم قُلُوب الشَّيَاطِين فِي جثمان إنس قَالَ قلت كَيفَ أصنع يَا رَسُول الله إِن أدْركْت قَالَ تسمع وتطيع وَإِن ضرب ظهرك وَأخذ مَالك فاسمع وأطع
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم من خرج من الطَّاعَة وَفَارق الْجَمَاعَة ثمَّ مَاتَ ميتَة جَاهِلِيَّة وَمن قَاتل تَحت راية عمية يغْضب للعصبية وَيُقَاتل للعصبية فَلبس مني وَمن خرج من أمتِي يضْرب برهَا وفاجرها وَلَا يتحاشى لمؤنها وَلَا يَفِي لذِي عهدها فَلَيْسَ مني وَقَالَ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: "আমার পরে এমন সব ইমাম বা নেতা (أئمة) আসবেন যারা আমার হেদায়েত (هدى) অনুযায়ী চলবেন না এবং আমার সুন্নাহ (سنة) অনুসরণ করবেন না। অচিরেই তাদের মাঝে এমন সব লোকের উদ্ভব ঘটবে যাদের দেহ মানুষের হলেও অন্তর হবে শয়তানের (شياطين) অন্তরের মতো।" তিনি (হুজাইফা) বলেন, আমি আরজ করলাম: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি সেই পরিস্থিতির সম্মুখীন হই তবে আমি কী করব?" তিনি বললেন: "তুমি (আমীরের) কথা শুনবে এবং আনুগত্য (طاعة) করবে; যদিও তোমার পিঠে আঘাত করা হয় এবং তোমার ধন-সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়, তবুও তুমি শুনবে এবং আনুগত্য (طاعة) করবে।"
এবং তিনি (সা.) আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি আনুগত্য (طاعة) থেকে বের হয়ে গেল এবং জামাত (جماعة) থেকে বিচ্ছিন্ন হলো, অতঃপর মৃত্যুবরণ করল, সে জাহেলিয়াতের (جاهلية) মৃত্যু বরণ করল। আর যে ব্যক্তি কোনো লক্ষ্যহীন পতাকার (راية عمية) নিচে যুদ্ধ করল, গোত্রপ্রীতির (عصبية) কারণে ক্রোধান্বিত হলো অথবা গোত্রপ্রীতির (عصبية) দিকে আহ্বান করল, সে আমার উম্মতভুক্ত নয়। আর যে ব্যক্তি আমার উম্মতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল এবং তাদের নেককার (بر) ও পাপাচারী (فاجর) নির্বিশেষে নির্বিচারে আঘাত করতে লাগল, মুমিনদের (مؤمن) প্রাণের পরোয়া করল না এবং কোনো চুক্তিবদ্ধ (عهد) ব্যক্তির অঙ্গীকার পূর্ণ করল না, তবে সে আমার উম্মতভুক্ত নয়।" এবং তিনি (সা.) আরও বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১১২)
من رأى من أميره مَا يكره فليصبر فَإِنَّهُ من فَارق الْجَمَاعَة شبْرًا فَمَاتَ فميتة جَاهِلِيَّة
وَعَن ابْن مَسْعُود رضي الله عنه أَنه قَالَ إِذا كَانَ الإِمَام عادلا فَلهُ الْأجر وَعَلَيْكُم الشُّكْر وَإِن كَانَ جائرا فَعَلَيْكُم الصَّبْر وَعَلِيهِ الْوزر ق 5
وَفِي الحَدِيث من نزع يَده من الطَّاعَة لم يكن لَهُ حجَّة يَوْم الْقِيَامَة
যে ব্যক্তি তার আমীরের পক্ষ থেকে অপছন্দনীয় কিছু দেখে, সে যেন ধৈর্য ধারণ করে। কেননা যে ব্যক্তি জামাত (الجماعة) থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হলো এবং সেই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল, সে জাহেলিয়াতের (جاهلية) মৃত্যু বরণ করল।
ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: ইমাম যখন ন্যায়পরায়ণ (عادل) হন, তখন তার জন্য রয়েছে প্রতিদান এবং তোমাদের ওপর কর্তব্য হলো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। আর যদি তিনি জালেম হন, তবে তোমাদের দায়িত্ব হলো ধৈর্য ধারণ করা এবং তার ওপর রয়েছে পাপের বোঝা। (পৃষ্ঠা ৫)
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: যে ব্যক্তি আনুগত্য (الطاعة) থেকে হাত গুটিয়ে নিল, কিয়ামতের দিন তার স্বপক্ষে কোনো দলিল (حجة) থাকবে না।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
وَفِي آخر من رافق الْجَمَاعَة واستذل الأمارة لَقِي الله عز وجل وَلَا وَجه لَهُ عِنْده
وَفِي حَدِيث آخر من أهان سُلْطَان الله أهانه الله وَمن أكْرم سُلْطَان الله أكْرمه الله
قلت لَيْسَ المُرَاد بِمَا ورد فِي هَذِه الْأَخْبَار أَن نطيعه فِي الْمعْصِيَة إِذا أَمر بهَا ونقتدي فِيهِ بهَا بل المُرَاد بِهِ أَن السُّلْطَان إِذا فسق وجار لم يخرج بذلك عَن أَن تكون طَاعَته وَاجِبَة فِي سَائِر الْأَحْكَام الَّتِي لَا مَعْصِيّة فِيهَا
এবং অন্য একটি বর্ণনায় (آخر) এসেছে, যে ব্যক্তি জামাতের (الجماعة) সাথে থাকল এবং নেতৃত্বকে (الأمارة) তুচ্ছজ্ঞান করল, সে মহান আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তাঁর নিকট তার কোনো মর্যাদা (وجه) থাকবে না।
এবং অন্য একটি হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সুলতানকে (سلطان) অপমান করল, আল্লাহ তাকে অপমানিত করবেন; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সুলতানকে (سلطান) সম্মান করল, আল্লাহ তাকে সম্মানিত করবেন।
আমি বলব, এই সকল সংবাদে (الأخبار) যা বর্ণিত হয়েছে তার উদ্দেশ্য এটি নয় যে, শাসক যদি কোনো পাপাচারের (معصية) নির্দেশ দেয় তবে আমরা তাতে তাঁর আনুগত্য করব এবং সেই পাপে তাঁর অনুসরণ করব। বরং এর উদ্দেশ্য হলো, শাসক যদি পাপাচারী (فسق) বা জালিম (جار) হন, তবে এর দ্বারা তিনি সেই অবস্থান থেকে চ্যুত হবেন না যে, পাপাচার (معصية) নেই এমন অন্যান্য সকল বিধানে তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব (واجبة) থাকবে।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১১৪)
بل تجب مُخَالفَته فِي الْمعْصِيَة وطاعته فِي الْأُمُور اللَّازِمَة
قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على الْمَرْء الْمُسلم السّمع وَالطَّاعَة فِيمَا أحب وَكره إِلَّا أَن يمر بِمَعْصِيَة فَلَا سمع وَلَا طَاعَة
বরং পাপাচারের ক্ষেত্রে তাঁর বিরোধিতা করা এবং আবশ্যকীয় বিষয়াবলিতে তাঁর আনুগত্য করা আবশ্যক।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: একজন মুসলিম ব্যক্তির জন্য পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় সকল বিষয়েই নির্দেশ শ্রবণ করা ও আনুগত্য করা কর্তব্য, যতক্ষণ না তাকে পাপাচারের নির্দেশ দেওয়া হয়। সুতরাং যখন তাকে পাপাচারের নির্দেশ দেওয়া হবে, তখন আর কোনো শ্রবণ ও আনুগত্য নেই।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم لَا طَاعَة لمخلوق فِي مَعْصِيّة الْخَالِق
وَفِي حَدِيث آخر من أَمركُم من الْوُلَاة بِغَيْر طَاعَة الله فَلَا تطيعوه
وَرُوِيَ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم بعث جَيْشًا وَأمر عَلَيْهِ رجلا وَأمرهمْ أَن يسمعوا لَهُ ويطيعوا فأغضبوه فِي شَيْء فَقَالَ اجْمَعُوا حطبا فَجمعُوا ثمَّ قَالَ أوقدوا نَارا فأوقدوا ثمَّ قَالَ ألم يَأْمُركُمْ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن تسمعوا لي وتطيعوا قَالُوا بلَى قَالَ فادخلوها فَنظر بَعضهم إِلَى بعض وَقَالُوا إِنَّمَا فَرَرْنَا إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من النَّار وَكَانُوا كَذَلِك حَتَّى سكن غَضَبه وطِئت النَّار فَلَمَّا رجعُوا إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ذكرُوا ذَلِك لَهُ فَقَالَ لَو دخلوها مَا خَرجُوا مِنْهَا إِنَّمَا الطَّاعَة فِي الْمَعْرُوف
عَن أم سَلمَة رضي الله عنها أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যতায় কোনো সৃষ্টির আনুগত্য বৈধ নয়।"
এবং অন্য একটি হাদিসে রয়েছে, "তোমাদের ওপর নিযুক্ত শাসকদের মধ্য থেকে যে আল্লাহর আনুগত্য বহির্ভূত কোনো কাজের নির্দেশ দেয়, তোমরা তার আনুগত্য করো না।"
এবং বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি সেনাদল প্রেরণ করেন এবং তাদের ওপর একজনকে সেনাপতি নিযুক্ত করেন। তিনি তাদের নির্দেশ দেন যেন তারা তার কথা শোনে ও আনুগত্য করে। পরবর্তীতে কোনো এক বিষয়ে তারা তাকে রাগান্বিত করলে তিনি বললেন, "তোমরা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করো।" তারা তা সংগ্রহ করল। এরপর তিনি বললেন, "আগুন জ্বালাও।" তারা আগুন জ্বালাল। এরপর তিনি বললেন, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি তোমাদের আমার কথা শুনতে ও আনুগত্য করতে নির্দেশ দেননি?" তারা বলল, "অবশ্যই।" তিনি বললেন, "তবে তোমরা এই আগুনে প্রবেশ করো।" তখন তারা একে অপরের দিকে তাকাতে লাগল এবং বলতে লাগল, "আমরা তো আগুন থেকেই বাঁচতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আশ্রয় নিয়েছি।" তারা এই অবস্থায় অবস্থান করছিল যতক্ষণ না তার রাগ প্রশমিত হলো এবং আগুন নিভে গেল। অতঃপর তারা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ফিরে এসে ঘটনাটি বর্ণনা করল, তখন তিনি বললেন, "যদি তারা এতে প্রবেশ করত, তবে তারা আর কখনো তা থেকে বের হতে পারত না। আনুগত্য কেবল ন্যায়সঙ্গত (المعروف) কাজের জন্যই প্রযোজ্য।"
উম্মে সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)...
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
قَالَ وتستعمل عَلَيْكُم أُمَرَاء فتعرقون وتنكرون فَمن كره فقد برىء وَمن أنكر فقد سلم لَكِن من رَضِي وتابع قَالُوا يَا رَسُول الله أَلا نقاتلهم قَالَ لَا مَا صلوا وَقَالَ عَلَيْهِ الصَّلَاة السَّلَام خِيَار أئمتكم الَّذين تحبونهم ويحبونكم وتصلون عَلَيْهِم وَيصلونَ عَلَيْكُم وشرار أمرائكم الَّذين تبغضونهم ويبغضونكم وتلعنونهم ويلكعنونكم قيل يَا رَسُول الله أَفلا ننابذهم بِالسَّيْفِ قَالَ لَا مَا أَقَامُوا فِيكُم الصَّلَاة فَإِذا رَأَيْتُمْ من ولاتكم شَيْئا تكرهونه فاكرهوا عمله وَلَا تنزعوا يدا من الطَّاعَة
তিনি বলেন: তোমাদের ওপর এমন সব শাসক নিযুক্ত করা হবে যাদের কিছু কাজ তোমরা পছন্দ করবে এবং কিছু কাজ অপছন্দ করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি (তাদের অন্যায় কাজকে) মনে-প্রাণে ঘৃণা করল সে দায়মুক্ত হলো, আর যে ব্যক্তি প্রতিবাদ করল সে নিরাপত্তা লাভ করল; কিন্তু যে ব্যক্তি তাতে সন্তুষ্ট হলো এবং তাদের অনুসরণ করল (সে পাপিষ্ঠ হলো)। সাহাবীগণ আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না? তিনি বললেন: না, যতক্ষণ তারা সালাত আদায় করবে। নবী কারীম (সা.) আরও ইরশাদ করেন: তোমাদের সর্বোত্তম নেতা তারাই যাদের তোমরা ভালোবাস এবং যারা তোমাদের ভালোবাসে, তোমরা যাদের জন্য দোয়া করো এবং তারাও তোমাদের জন্য দোয়া করে। আর তোমাদের নিকৃষ্টতম শাসক তারাই যাদের তোমরা ঘৃণা করো এবং যারা তোমাদের ঘৃণা করে, তোমরা যাদের অভিশাপ দাও এবং তারাও তোমাদের অভিশাপ দেয়। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তবে তলোয়ার দিয়ে তাদের মোকাবিলা করব না? তিনি বললেন: না, যতক্ষণ তারা তোমাদের মধ্যে সালাত কায়েম রাখবে। সুতরাং তোমরা যখন তোমাদের শাসকদের পক্ষ থেকে এমন কিছু দেখবে যা তোমরা অপছন্দ করো, তখন কেবল তাদের সেই মন্দ কাজকে অপছন্দ করো, কিন্তু আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নিয়ো না।
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
وَقَالَ عَلَيْهِ الصَّلَاة السَّلَام سَيكون بعدِي أُمَرَاء فَمن دخل عَلَيْهِم فَصَدَّقَهُمْ فِي كذبهمْ وَأَعَانَهُمْ على ظلمهم فَلَيْسَ مني وَلست مِنْهُ وَلَيْسَ بوارد على الْحَوْض وَمن لم يدْخل عَلَيْهِم وَلم يُعِنْهُمْ على ظلمهم وَلم يُصدقهُمْ على كذبهمْ فَهُوَ مني وَأَنا مِنْهُ وَهُوَ وَارِد على الْحَوْض
فَهَذِهِ الْأَحَادِيث تدلك على أَنه يجب على الْمَرْء كَرَاهَة مَا أَحْدَثُوا من بِدعَة وَترك موافقهم على مُخَالفَة السّنة والإمتناع عَن طاعتهم فِي الْمعْصِيَة مَعَ الإنكفاء عَن الْخُرُوج عَلَيْهِم وملازمة جَمَاعَتهمْ فِي الطَّاعَة وامتثال أوامرهم فِي الْمُبَاح والإنقياد لأحكامهم فِي الْمَعْرُوف فيستديم بذلك سَلامَة دينه وَصَلَاح دُنْيَاهُ وحقن دَمه وَحفظ مَاله وحياته وَعرضه
وَقَالَ بعض الْحُكَمَاء من عصى السُّلْطَان فقد أطَاع الشَّيْطَان وَقَالَ بعض الْكتاب من نابذ السُّلْطَان كَانَ فِي الأشقين مَكْتُوبًا والندم
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "আমার পরে অচিরেই এমন একদল শাসকের উদ্ভব হবে; যে ব্যক্তি তাদের নিকট গমন করবে এবং তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে সমর্থন করবে ও তাদের জুলুম-অত্যাচারে সহযোগিতা করবে, সে আমার দলভুক্ত নয় এবং আমিও তার অন্তর্ভুক্ত নই; সে হাউজের নিকট আমার কাছে পৌঁছাতে পারবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তাদের নিকট যাবে না, তাদের জুলুমে সাহায্য করবে না এবং তাদের মিথ্যাকে সমর্থন করবে না, সে আমার দলভুক্ত এবং আমি তার অন্তর্ভুক্ত; সে হাউজের নিকট আমার কাছে উপস্থিত হবে।"
এই হাদিসসমূহ আপনাকে এই দিকনির্দেশনা প্রদান করে যে, শাসকরা যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয় (بدعة) প্রবর্তন করেছে তা অপছন্দ করা, সুন্নাহ (سنة) পরিপন্থী কাজে তাদের সমর্থন না করা এবং নাফরমানি (معصية) মূলক বিষয়ে তাদের আনুগত্য (طاعة) থেকে বিরত থাকা ব্যক্তির জন্য আবশ্যক। এর পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (خروج) করা থেকে নিবৃত থাকা, আনুগত্যের ক্ষেত্রে তাদের জামাতের সাথে সংহতি বজায় রাখা, বৈধ (مباح) বিষয়ে তাদের নির্দেশ পালন করা এবং ন্যায়সঙ্গত (معروف) বিষয়ে তাদের বিধানসমূহ মেনে চলা অপরিহার্য। এর মাধ্যমেই সে তার দ্বীনের নিরাপত্তা ও পার্থিব জীবনের সংশোধন নিশ্চিত করতে পারে এবং নিজের রক্তপাত রোধসহ ধন-সম্পদ, জীবন ও সম্মানের সুরক্ষা বজায় রাখতে পারে।
কোনো কোনো প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন, "যে ব্যক্তি সুলতানের অবাধ্যতা করল, সে মূলত শয়তানেরই আনুগত্য করল।" জনৈক লেখক বলেছেন, "যে ব্যক্তি সুলতানের বিরোধিতা করবে, সে হতভাগ্যদের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং পরিণামে লজ্জিত হবে।"
(খণ্ড: ১)
তাহযীবুর রিয়াসাহ ওয়া তারতীবুস সিয়াসাহ
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
وَالْغَم مَكْتُوبًا وَقَالَ آخر من فَارق الإعتصام بحبله حالفه الخسران وعانقه الخذلان وترصدت لَهُ الْمنون ق 6 وطحنته الْحَرْب الزبون
وَمن كتاب الْمُبْهِج أخلق بِدَم المستخف بالجبابرة أَن يكون دَمه جهارا وَقَالَ بَعضهم من تعرض لمساوىء سُلْطَانه تعرض لقطع لِسَانه
এবং বিষণ্ণতা লিপিবদ্ধ থাকে। অন্য এক ব্যক্তি বলেন, যে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা বর্জন করল, ক্ষতি তার সাথী হলো এবং লাঞ্ছনা তাকে আলিঙ্গন করল; মৃত্যু তার প্রতীক্ষায় রইল এবং সংহারক যুদ্ধ তাকে চূর্ণ করে দিল।
এবং 'আল-মুবহিজ' গ্রন্থ হতে সংগৃহীত: প্রতাপশালীদের অবজ্ঞাকারীর রক্ত প্রকাশ্যে প্রবাহিত হওয়া কতই না উপযুক্ত! জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, যে ব্যক্তি তার সুলতানের মন্দ দিকগুলো উন্মোচনের চেষ্টা করে, সে মূলত তার জিহ্বা কর্তনের পথ সুগম করে।