(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: -)
تسهيل النظر وتعجيل الظفر في أخلاق الملك القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: تسهيل النظر وتعجيل الظفر، في أخلاق المَلِك وسياسة المُلْك
المؤلف: أبو الحسن، علي بن محمد بن محمد الماوردي [ت 450 هـ]
تحقيق: د. محي هلال السرحان [ت 1446 هـ]
مراجعة وتقديم: د. حسن الساعاتي [ت 1418 هـ]
الناشر: دار النهضة العربية - بيروت
سنة النشر: 1401 هـ = 1981 م
عدد الصفحات: 290
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাসহিলুন নাজার ওয়া তা'জিলুজ জাফার ফি আখলাকিল মালিক বিভাগ: শরয়ি রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থা
গ্রন্থ: তাসহিলুন নাজার ওয়া তা'জিলুজ জাফার, ফি আখলাকিল মালিক ওয়া সিয়াসাতিল মুলক
লেখক: আবুল হাসান, আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-মাওয়ারদী [মৃ. ৪৫০ হি.]
সম্পাদনা: ড. মহি হিলাল আল-সারহান [মৃ. ১৪৪৬ হি.]
পর্যালোচনা ও উপস্থাপনা: ড. হাসান আল-সাআতি [মৃ. ১৪১৮ হি.]
প্রকাশক: দারুন নাহদাহ আল-আরাবিয়্যাহ - বৈরুত
প্রকাশকাল: ১৪০১ হি. = ১৯৮১ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ৩)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم
مُقَدّمَة الْحَمد لله الَّذِي جعل الْحق معزا لمن اعتقده وتوخاه ومعينا لمن اعْتَمدهُ وابتغاه وَجعل الْبَاطِل مذلا لمن آثره وارتضاه ومذيلا لمن أظهره واقتفاه حمدا يوازن جميل نعمه ويضاهي جزيل قسمه وَصلى الله عَلَيْهِ وَسلم مُحَمَّد النَّبِي وَآله وَأَصْحَابه
أما بعد فَإِن الله جلّ اسْمه ببليغ حكمته وَعدل قَضَائِهِ جعل النَّاس أصنافا مُخْتَلفين وأطوارا متباينين ليكونوا بالاختلاف مؤتلفين وبالتباين متفقين فيتعاطفوا بالإيثار تَابعا ومتبوعا ويتساعدوا على التعاون آمرا ومأمورا كَمَا قَالَ الشَّاعِر
(وبالناس عَاشَ النَّاس قدما وَلم يزل
… من النَّاس مَرْغُوب إِلَيْهِ وراغب) // من الطَّوِيل //
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। ভূমিকা সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সত্যকে এমন ব্যক্তির জন্য সম্মানের উৎস করেছেন যে তা বিশ্বাস করে ও অন্বেষণ করে এবং সহায়তাকারী করেছেন তার জন্য যে তার ওপর নির্ভর করে ও তাকে কামনা করে। আর তিনি বাতিলকে লাঞ্ছনার কারণ করেছেন তার জন্য যে তাকে পছন্দ ও গ্রহণ করে এবং অপমানজনক করেছেন তার জন্য যে তাকে প্রকাশ ও অনুসরণ করে। এমন প্রশংসা যা তাঁর সুন্দর নেয়ামতসমূহের সমতুল্য এবং তাঁর মহান দানসমূহের সদৃশ। আল্লাহ তাআলা নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর, আল্লাহ তাআলা—যার নাম অত্যন্ত মহিমান্বিত—তাঁর সূক্ষ্ম হিকমত এবং ইনসাফপূর্ণ ফয়সালার মাধ্যমে মানুষকে বিভিন্ন শ্রেণী ও বৈচিত্র্যময় অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন, যাতে তারা এই ভিন্নতার মাধ্যমে সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং বৈচিত্র্যের মাধ্যমে একতাবদ্ধ হতে পারে; ফলে তারা নিঃস্বার্থ ত্যাগের ভিত্তিতে অনুসারী ও অনুসৃত হিসেবে একে অপরের প্রতি সহমর্মী হতে পারে এবং আদেশদাতা ও আদিষ্ট হিসেবে একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে। যেমন কবি বলেছেন:
(মানুষের মাধ্যমেই মানুষ অনাদিকাল ধরে বেঁচে আছে এবং সবসময় মানুষের মধ্যে এমন কেউ থেকেছে যার নিকট অন্যের প্রয়োজন পূরণের প্রত্যাশা করা হয় এবং এমন কেউ যে অন্যের মুখাপেক্ষী হয়) // তবিল ছন্দ থেকে //
...
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ৪)
فَوَجَبَ التَّفْوِيض إِلَى إمرة سُلْطَان مسترعى ينقاد النَّاس لطاعته ويتدبرون بسياسته ليَكُون بِالطَّاعَةِ قاهرا وبالسياسة مُدبرا
وَكَانَ أولى النَّاس بالعناية مَا سيست بِهِ الممالك ودبرت بِهِ الرعايا والمصالح لِأَنَّهُ زِمَام يَقُود إِلَى الْحق ويستقيم بِهِ أود الْخلق
وَقد أوجزت بِهَذَا الْكتاب من سياسة الْملك مَا أحكم المتقدمون قَوَاعِده فَإِن لكل مِلَّة سيرة وَلكُل زمَان سريرة فَلم يغن مَا سلف عَن مؤتلف من الشَّرِيعَة عهودها وَمن السياسة معهودها ليَكُون للدّين مُوَافقا وللدنيا مطابقا
وَجعلت مَا تضمنه بَابَيْنِ
فالباب الأول فِي أَخْلَاق الْملك
وَالْبَاب الثَّانِي فِي سياسة الْملك
ليَكُون مُشْتَمِلًا على مُعْتَقد ومفعول ومصلحا لعامل ومعمول وترجمته بتسهيل النّظر وتعجيل الظفر إِذْ كَانَ مَا تضمنه دَاعيا إِلَيْهِ وباعثا 2 آعليه
وَأَنا أسأَل الله الْكَرِيم حسن المعونة والتوفيق وأرغب إِلَيْهِ فِي إمدادي بِالرشد والتسديد وَهُوَ حسبي وَنعم الْوَكِيل
সুতরাং একজন নিযুক্ত সুলতানের নেতৃত্বের প্রতি কর্তৃত্ব অর্পণ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে, যাঁর আনুগত্যের প্রতি মানুষ অনুগত হবে এবং যাঁর শাসননীতির মাধ্যমে তারা পরিচালিত হবে; যাতে তিনি আনুগত্যের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারকারী এবং শাসননীতির মাধ্যমে সুপরিচালক হতে পারেন।
আর মানুষের জন্য সেই বিষয়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া সবচেয়ে বেশি সমীচীন, যার মাধ্যমে রাজ্যসমূহ শাসিত হয় এবং প্রজা ও জনস্বার্থ পরিচালিত হয়। কারণ এটিই সেই লাগাম যা সত্যের দিকে পরিচালিত করে এবং যার মাধ্যমে সৃষ্টির বক্রতা ঋজুতা লাভ করে।
আমি এই গ্রন্থে রাজকীয় শাসননীতির সেই বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরেছি, যার মূলনীতিসমূহ পূর্বসূরিগণ সুদৃঢ় করেছেন। কেননা প্রতিটি আদর্শের একটি কর্মপন্থা থাকে এবং প্রতিটি সময়ের একটি নিগূঢ় রহস্য থাকে। তাই পূর্ববর্তীদের কাজ পরবর্তী শরিয়তের প্রতিশ্রুতি এবং রাজনীতির প্রচলিত রীতির সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাকে ফুরিয়ে দেয়নি; যাতে তা দ্বীনের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং পার্থিব বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
আমি এই গ্রন্থের বিষয়বস্তুকে দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি।
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুলতানের চরিত্র ও নৈতিকতা সম্পর্কে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাজকীয় শাসননীতি সম্পর্কে।
যাতে এটি বিশ্বাস ও কর্ম উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে এবং নির্দেশ প্রদানকারী ও নির্দেশ পালনকারী উভয়ের সংশোধনকারী হয়। আমি এই গ্রন্থের নামকরণ করেছি ‘তাসহিলুন নাযার ওয়া তা’জিলুয যাফার’ (পর্যবেক্ষণ সহজীকরণ ও বিজয় ত্বরান্বিতকরণ); যেহেতু এর বিষয়বস্তু এই লক্ষ্যের দিকেই আহ্বান করে এবং এর প্রতিই উদ্বুদ্ধ করে।
আমি মহান আল্লাহর নিকট উত্তম সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট সঠিক পথপ্রদর্শন ও সুদৃঢ়তার জন্য আরজি জানাচ্ছি। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ৫)
الْبَاب الأول فِي أَخْلَاق الْملك
تمهيد
الْأَخْلَاق غرائز كامنة تظهر بِالِاخْتِيَارِ وتقهر بالاضطرار
وللنفس أَخْلَاق تحدث عَنْهَا بالطبع وَلها أَفعَال تصدر عَنْهَا بالإرادة فهما ضَرْبَان لَا تنفك النَّفس مِنْهُمَا
أَخْلَاق الذَّات
وأفعال الْإِرَادَة
প্রথম অধ্যায়: বাদশাহর চরিত্র প্রসঙ্গে
ভূমিকা
চরিত্র হলো সুপ্ত সহজাত প্রবৃত্তি, যা ইচ্ছাধীন অবস্থায় প্রকাশ পায় এবং বাধ্যগত অবস্থায় অবদমিত হয়।
মানবসত্তার এমন কিছু চারিত্রিক গুণাবলি রয়েছে যা স্বভাবজাতভাবে প্রকাশ পায় এবং তার এমন কিছু কর্ম রয়েছে যা ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। এ দুটি এমন প্রকার যা থেকে মানবসত্তা কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না।
সত্তাগত চরিত্র
এবং ইচ্ছাধীন কর্মসমূহ
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ৬)
الْفَصْل الأول أَخْلَاق الذَّات فَأَما أَخْلَاق الذَّات فَهِيَ من نفائج الْفطْرَة وَسميت أَخْلَاقًا لِأَنَّهَا تصير كالخلقة
وَالْإِنْسَان مطبوع على أَخْلَاق قل مَا حمد جَمِيعهَا أَو ذمّ سائرها وَإِنَّمَا الْغَالِب أَن بَعْضهَا مَحْمُود وَبَعضهَا مَذْمُوم لاخْتِلَاف مَا امتزج من غرائزه ومضادة مَا تنافر من نحائزه فَتعذر لهَذَا التَّعْلِيل أَن يستكمل فَضَائِل الْأَخْلَاق طبعا وغريزة وَلزِمَ لأَجله أَن تتخللها رذائل الْأَخْلَاق طبعا وغريزة فَصَارَت الْأَخْلَاق غير منفكة فِي جبلة الطَّبْع وغريزة الْفطْرَة من فَضَائِل محمودة ورذائل مذمومة كَمَا قَالَ الشَّاعِر
(وَمَا هَذِه الْأَخْلَاق إِلَّا طبائع
… فمنهن مَحْمُود وَمِنْهَا مذمم) // من الطَّوِيل //
قَالَ بعض الْحُكَمَاء
প্রথম পরিচ্ছেদ: সহজাত চরিত্র (أخلاق الذات) সহজাত চরিত্র (أخلاق الذات) হলো ফিতরাতের (স্বভাবজাত প্রকৃতি) বহিঃপ্রকাশ এবং একে ‘আখলাক’ (চরিত্র) নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এটি মানুষের সৃষ্টিগত কাঠামোর (الخلقة) ন্যায় একটি স্থায়ী রূপ ধারণ করে।
মানুষ এমন কিছু স্বভাবজাত চরিত্রের ওপর সৃজিত হয়েছে যার সবটুকুই প্রশংসিত (محمود) হওয়া কিংবা সবটুকুই নিন্দিত (مذموم) হওয়া বিরল। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর কিছু অংশ প্রশংসিত (محمود) এবং কিছু অংশ নিন্দিত (مذমوم) হয়ে থাকে। এর কারণ হলো মানুষের প্রবৃত্তির সংমিশ্রণে ভিন্নতা এবং তার স্বভাবজাত প্রবণতাগুলোর পারস্পরিক বৈপরীত্য। এই যৌক্তিক কারণেই প্রকৃতিগত ও সহজাতভাবে সমস্ত চারিত্রিক গুণাবলি পূর্ণতা পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং অনিবার্যভাবে এতে প্রকৃতিগত ও সহজাতভাবেই কিছু চারিত্রিক হীনতা অনুপ্রবেশ করে। ফলে মানুষের সৃষ্টিগত স্বভাব ও ফিতরাতের প্রকৃতিতে প্রশংসিত (محمود) গুণাবলি এবং নিন্দিত (مذموم) দোষগুলো অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে থাকে, যেমনটি কবি বলেছেন:
(এই চরিত্রগুলো তো কেবলই কিছু স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য
… যার কোনটি প্রশংসিত (محمود) আবার কোনটি নিন্দিত (مذموم)) // আত-তওয়ীল ছন্দ //
জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ৭)
لكل خلق من الْفضل رَقِيب من الدناءة لَا يمْتَنع مِنْهُ إِلَّا مُؤثر للفضل على مَا سواهُ
من هُوَ الْفَاضِل وَإِذا اسْتَقَرَّتْ هَذِه الْأَخْلَاق على هَذِه الْقَاعِدَة فالفاضل من غلبت فضائله رذائله فَقدر بوفور الْفَضَائِل على قهر الرذائل فَسلم من شين النَّقْص وَسعد بفضيلة التَّخْصِيص وَلذَلِك قَالَ عَليّ عليه السلام أول مَا تبتدئون بِهِ من جهادكم جِهَاد أَنفسكُم
وَهَذَا وَاضح لِأَن صَلَاح النَّفس يصلح مَا عَداهَا فَكَانَت أَحَق بالتقديم 2 ب وَأولى بالتقويم
إِلَى أَي شَيْء تعود الْأَخْلَاق وَاخْتلف فِي الْأَخْلَاق هَل هِيَ عَائِدَة إِلَى الْفَضَائِل والرذائل أَو إِلَى النَّفس الَّتِي تصدر عَنْهَا الْفَضَائِل والرذائل لظُهُور الْأَخْلَاق بهما
وَذهب بَعضهم إِلَى أَنَّهَا عَائِدَة إِلَى الذَّات الَّتِي حُدُوث النَّفس عَنْهَا
প্রত্যেকটি সদ্গুণ বা শ্রেষ্ঠত্বের জন্য নীচতার একটি পর্যবেক্ষক রয়েছে, যা থেকে কেবল সেই ব্যক্তিই রক্ষা পায় যে অন্য সবকিছুর ওপর শ্রেষ্ঠত্বকে প্রাধান্য দেয়।
কে সেই গুণবান ব্যক্তি যখন এই চরিত্রসমূহ উক্ত মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন গুণবান (فاضل) সেই ব্যক্তি যার গুণাবলি তার দোষ-ত্রুটির ওপর প্রাধান্য পায়। ফলে সে সদ্গুণের প্রাচুর্যের মাধ্যমে মন্দ প্রবৃত্তিকে দমন করতে সক্ষম হয় এবং ত্রুটির গ্লানি থেকে মুক্তি পায় ও বিশেষ মর্যাদার গুণে ধন্য হয়। এই কারণেই আলী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "তোমাদের জিহাদের মধ্যে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি দিয়ে তোমরা শুরু করবে, তা হলো তোমাদের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ।"
এটি সুস্পষ্ট, কারণ নফসের সংশোধন অন্য সবকিছুকে সংশোধন করে দেয়; তাই এটি অগ্রাধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে অধিক হকদার এবং সংস্কারের ক্ষেত্রে অধিক যোগ্য।
চরিত্র কিসের দিকে প্রত্যাবর্তন করে চরিত্রের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে যে, তা কি সদ্গুণ ও মন্দ স্বভাবের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, নাকি সেই নফসের দিকে যা থেকে সদ্গুণ ও মন্দ স্বভাব প্রকাশ পায়? কারণ চরিত্রের প্রকাশ ঘটে এই দুয়ের মাধ্যমেই।
কেউ কেউ এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি সেই সত্তার (ذات) দিকে প্রত্যাবর্তন করে যেখান থেকে নফসের উৎপত্তি ঘটে।
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ৮)
لأي شَيْء ترَاد فَضَائِل الذَّات وَاخْتلفُوا فِي فَضَائِل الذَّات هَل ترَاد لذواتها أَو للسعادة الْحَادِثَة عَنْهَا
فَذهب بعض الْحُكَمَاء إِلَى أَن المُرَاد بالفضائل ذواتها لِأَنَّهَا المكسبة للسعادة
وَذهب بَعضهم إِلَى أَن المُرَاد بهَا السَّعَادَة الْحَادِثَة عَنْهَا لِأَنَّهَا الْغَايَة الْمَقْصُودَة بهَا
إِلَى أَي شَيْء تتَوَجَّه السَّعَادَة وَاخْتلفُوا فِي السَّعَادَة هَل تتَوَجَّه إِلَى الْفَضَائِل المحمودة أَو إِلَى مَا يحدث عَن الْفَضَائِل من الْحَمد
فَذهب بعض الْحُكَمَاء إِلَى توجه السَّعَادَة إِلَى الْفَضَائِل المحمودة لِأَنَّهَا نتيجة أَفعاله
وَذهب بَعضهم إِلَى توجه السَّعَادَة إِلَى مَا يحدث عَن الْفَضَائِل من الْحَمد لِأَنَّهَا ثَمَرَة فضائله
وجوب اهتمام ذِي الإمرة بمراعاة أخلاقه فَحق على ذِي الأمرة وَالسُّلْطَان أَن يهتم بمراعاة أخلاقه وَإِصْلَاح شيمه لِأَنَّهَا آلَة سُلْطَانه وأس إمرته وَلَيْسَ يُمكن صَلَاح جَمِيعهَا بِالتَّسْلِيمِ إِلَى الطبيعة والتفويض إِلَى النحيزة إِلَّا أَن يرتاض لَهَا بالتقويم والتهذيب رياضة تَهْذِيب وتدريج وتأديب فيستقيم لَهُ الْجَمِيع بَعْضهَا خلق مطبوع وَبَعضهَا خلق مَصْنُوع لِأَن الْخلق طبع وغريزة والتخلق تطبع وتكلف كَمَا قَالَ الشَّاعِر
(يَا أَيهَا المتحلي غير شيمته
… وَمن سجيته الْإِكْثَار والملق)
সত্তাগত গুণাবলি কী উদ্দেশ্যে অন্বেষণ করা হয় সত্তাগত গুণাবলি সম্পর্কে তাঁরা মতভেদ করেছেন যে, এগুলো কি তার নিজস্ব সত্তার কারণে কাঙ্ক্ষিত, নাকি তা থেকে উদ্ভূত সৌভাগ্যের কারণে কাঙ্ক্ষিত?
কতিপয় প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি মনে করেন যে, গুণাবলি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার নিজস্ব সত্তা, কারণ তা সৌভাগ্য আনয়নকারী।
আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তা থেকে উদ্ভূত সৌভাগ্য, কারণ তা-ই এর মাধ্যমে অভীষ্ট লক্ষ্য।
সৌভাগ্য কিসের অভিমুখে ধাবিত হয় সৌভাগ্যের বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন যে, তা কি প্রশংসিত গুণাবলির দিকে ধাবিত হয়, নাকি গুণাবলি থেকে উৎপন্ন প্রশংসার দিকে ধাবিত হয়?
কতিপয় প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি মনে করেন যে, সৌভাগ্য প্রশংসিত গুণাবলির অভিমুখে ধাবিত হয়, কারণ এগুলো ব্যক্তির কর্মেরই ফলাফল।
আবার অন্যেরা মনে করেন যে, সৌভাগ্য গুণাবলি থেকে উদ্ভূত প্রশংসার অভিমুখে ধাবিত হয়, কারণ তা ব্যক্তির গুণাবলিরই ফল।
কর্তৃত্বশীল ব্যক্তির নৈতিকতা বজায় রাখার আবশ্যকতা শাসক ও সুলতানের পক্ষে স্বীয় চরিত্র রক্ষা ও স্বভাব সংস্কারের প্রতি যত্নশীল হওয়া অপরিহার্য, কারণ তা-ই তাঁর শাসনের হাতিয়ার ও নেতৃত্বের মূল ভিত্তি। নিছক প্রাকৃতিক প্রবণতা বা জন্মগত স্বভাবের ওপর ছেড়ে দিয়ে এর পূর্ণ সংশোধন সম্ভব নয়, যতক্ষণ না পরিমার্জন, পর্যায়ক্রমিক অনুশীলন ও শিষ্টাচারের মাধ্যমে একে সুসংগঠিত করা হয়। ফলে তাঁর জন্য সবকিছু সুসংগত রূপ লাভ করে—যার কিছু জন্মগত স্বভাব এবং কিছু অর্জিত স্বভাব। কারণ ‘খুলক’ (চরিত্র) হলো প্রকৃতি ও মজ্জাগত বিষয়, আর ‘তাখল্লুক’ (স্বভাব গঠন) হলো কৃত্রিম প্রচেষ্টা ও সাধনা। যেমন কবি বলেছেন:
(হে ওই ব্যক্তি, যে নিজ স্বভাব বহির্ভূত গুণে ভূষিত হতে সচেষ্ট
… অথচ বাগাড়ম্বর ও তোষামোদ যার প্রকৃতি)
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ৯)
(عَلَيْك بِالْقَصْدِ فِيمَا أَنْت فَاعله
… إِن التخلق يَأْتِي دونه الْخلق)
قَالَ بعض الْحُكَمَاء لَيْسَ شَيْء عولج إِلَّا نفع وَإِن كَانَ ضارا وَلَا شَيْء أهمل إِلَّا ضرّ وَإِن كَانَ نَافِعًا
أَنْوَاع الْأَخْلَاق فَتَصِير الْأَخْلَاق نَوْعَيْنِ
(তোমার প্রতিটি কাজে পরিমিতিবোধ (القصد) অবলম্বন করা তোমার কর্তব্য
… নিশ্চয়ই কৃত্রিম আচরণ প্রকৃত স্বভাবের পশ্চাতেই অবস্থান করে)
জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন, "এমন কোনো বিষয় নেই যা সংশোধন করা হলে তা ফলপ্রসূ হয় না, যদিও তা ক্ষতিকর ছিল; এবং এমন কোনো বিষয় নেই যা উপেক্ষা করা হলে তা অপকার করে না, যদিও তা উপকারী ছিল।"
চরিত্রের প্রকারভেদ (أنواع الأخلاق) সুতরাং চরিত্র দুই প্রকারে (نوعين) বিভক্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ১০)
غريزية طبع عَلَيْهَا
ومكتسبة تطبع لَهَا
والملوك 3 آبالفضائل الغريزية أخص بهَا من الْعَامَّة لِأَنَّهَا فيهم أوفر وَعَلَيْهِم أظهر لما خصوا بِهِ من كرم المنشأ وعلو الهمة
والعامة بالفضائل المكتسبة أخص من الْمُلُوك لأَنهم إِلَى التماسها أسْرع ولكلالها أطوع لِكَثْرَة فراغهم لَهَا وتوفرهم عَلَيْهَا إِمَّا لرغبة فِي جدواها وَإِمَّا لرغبة فِي عدواها
وَهَذَانِ المعنيان فِي الْمُلُوك معدومان إِلَّا من شرفت نَفسه فَمَال إِلَيْهَا لعلو همته وتوفر عَلَيْهَا لكرم طبعه لِأَنَّهُ لَا يعرى من فضل مكتسب وَلَا يَخْلُو من فعل مستصوب ليتفرد بفضائل النَّفس كَمَا تفرد بعز السُّلْطَان وَالْأَمر فَيصير بتدبير سُلْطَانه أخبر وعَلى سياسة رَعيته أقدر وَالْحَمْد يسْتَحق على الْفَضَائِل المكتسبة لِأَنَّهَا مستفادة بِفِعْلِهِ وَلَا يسْتَحق على الْفَضَائِل المطبوعة فِيهِ وَإِن حمدت لجودها بِغَيْر فعله
تفاضل الْأَخْلَاق وَاخْتلف فِي أفضلهما ذاتا
ففضل بعض الْحُكَمَاء أَخْلَاق الطَّبْع الغريزي على أَخْلَاق التطبع المكتسب لقُوَّة الغريزي وَضعف المكتسب
সহজাত গুণাবলি, যার ওপর ভিত্তি করে মানুষের স্বভাব গঠিত হয়েছে।
এবং অর্জিত গুণাবলি, যা অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জন করা হয়।
রাজন্যবর্গ সাধারণ মানুষের তুলনায় সহজাত সদ্গুণাবলির সাথে অধিক বিশিষ্ট; কারণ তাঁদের মাঝে এগুলো অধিক পরিমাণে বিদ্যমান এবং তাঁদের ওপর অধিকতর প্রকাশমান, যেহেতু তাঁরা উচ্চবংশীয় মর্যাদা ও সুউচ্চ সংকল্পের অধিকারী।
অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ রাজন্যবর্গের চেয়ে অর্জিত সদ্গুণাবলির সাথে অধিক বিশিষ্ট; কারণ তারা এগুলো অন্বেষণে অধিক তৎপর এবং এর পরিশ্রমে অধিক অনুগত, যেহেতু তাদের পর্যাপ্ত অবসর রয়েছে এবং তারা এ কাজে নিবিষ্ট থাকতে পারে—হয় এর সুফল লাভের আশায়, অথবা এর প্রভাব বিস্তারের আকাঙ্ক্ষায়।
আর এই দুটি উদ্দেশ্য রাজন্যবর্গের মধ্যে অনুপস্থিত থাকে, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যার আত্মা অতিশয় সম্মানিত। ফলে সে তার সুউচ্চ সংকল্পের কারণে সদ্গুণাবলির দিকে ধাবিত হয় এবং আপন স্বভাবজাত মহানুভবতার কারণে তাতে আত্মনিয়োগ করে; কারণ সে কোনো অর্জিত সদ্গুণ থেকে বঞ্চিত থাকতে চায় না এবং কোনো প্রশংসনীয় কর্ম থেকে বিচ্যুত হওয়া পছন্দ করে না, যাতে সে রাজকীয় প্রতাপ ও কর্তৃত্বের ন্যায় আত্মার সদ্গুণাবলিতেও অনন্য হতে পারে। এর ফলে সে তার রাজকার্য পরিচালনায় অধিক অভিজ্ঞ এবং প্রজাপালনে অধিকতর সক্ষম হয়ে ওঠে। আর প্রশংসা কেবল অর্জিত সদ্গুণাবলির জন্যই প্রাপ্য, কারণ তা ব্যক্তির নিজস্ব প্রচেষ্টায় লব্ধ। কিন্তু সহজাত সদ্গুণাবলির জন্য প্রশংসা প্রাপ্য নয়, যদিও সেই গুণটি তার প্রচেষ্টা ব্যতিরেকেই স্বভাবজাত ঔদার্যের কারণে প্রশংসিত হয়ে থাকে।
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব এদের মধ্যে কোনটি সত্তাগতভাবে শ্রেষ্ঠ, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
জনৈক প্রাজ্ঞ ব্যক্তি সহজাত স্বভাবজাত চরিত্রকে অর্জিত চারিত্রিক অভ্যাসের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন; কারণ সহজাত বিষয়টি শক্তিশালী এবং অর্জিত বিষয়টি দুর্বল (ضعيف)।
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ১১)
وَفضل آخَرُونَ أَخْلَاق التطبع المكتسب على أَخْلَاق الطَّبْع الغريزي لِأَنَّهَا قاهرة لأضدادها بالانتقال إِلَى مَا ضادها
وَقَالَ آخَرُونَ كل وَاحِد مِنْهُمَا مُحْتَاج إِلَى الآخر لِأَن الْأَخْلَاق لَا تنفك مِنْهُمَا بِمَنْزِلَة الرّوح والجسد
وكما لَا يظْهر أَعمال الرّوح إِلَّا الْجَسَد وَلَا ينْهض الْجَسَد إِلَّا بحركة الرّوح كَذَلِك الغريزة والاكتساب متقابلان فِي الْفِعْل ومتشاركان فِي الْفضل فتساويا فِي الطَّبْع والغريزة كَمَا قَالَ البحتري
(وَلست أَعْتَد للفتى حسبا
… حَتَّى يرى فِي فعاله حَسبه) // من المنسرح //
وَفرق بعض أهل اللُّغَة بَينهمَا فِي الِاسْم فَقَالَ
الطَّبْع هُوَ الْخَتْم والتطبع هُوَ الْخلق
3 - ب
অন্যান্য আলিমগণ প্রবৃত্তিগত স্বভাবজাত চরিত্রের (أخلاق الطبع الغريزي) তুলনায় অর্জিত অনুশীলিত চরিত্রকে (أخلاق التطبع المكتسب) শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন; কেননা এটি এর বিপরীত গুণাবলির দিকে ধাবিত হয়ে সেগুলোকে পরাভূত করতে সক্ষম।
আবার কেউ কেউ বলেছেন, এদের প্রতিটিই একে অপরের মুখাপেক্ষী; কেননা চরিত্র এই দুইয়ের থেকে অবিচ্ছেদ্য—যেমনটি রুহ ও দেহের অবস্থা।
আর যেভাবে দেহের মাধ্যম ছাড়া রুহের কর্মসমূহ প্রকাশিত হয় না এবং রুহের স্পন্দন ছাড়া দেহ সক্রিয় হয় না, ঠিক তেমনি প্রবৃত্তি (غريزة) ও অর্জন (اكتساب) কর্মের ক্ষেত্রে একে অপরের পরিপূরক এবং শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে পরস্পরের অংশীদার; ফলে তারা স্বভাব ও প্রবৃত্তির বিচারে সমতূল্য, যেমনটি আল-বুহতুূরী বলেছেন:
(আমি যুবকের জন্য কোনো আভিজাত্যই গণ্য করি না
... যতক্ষণ না তার কর্মের মধ্যে সেই আভিজাত্যের প্রতিফলন দেখা যায়) // মুনসারিহ ছন্দ থেকে //
ভাষাবিদগণের কেউ কেউ এই দুইয়ের মধ্যে পারিভাষিক পার্থক্য করে বলেছেন:
প্রকৃতি (طبع) হলো মোহর বা ছাপ (ختم) এবং অর্জিত স্বভাব (تطبع) হলো চরিত্র (خلق)।
৩ - খ
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ১২)
الْفَصْل الثَّانِي أَوَائِل الْفَضَائِل وأواخرها مبادئ الْفَضَائِل
وللفضائل مبادئ هِيَ أَوَائِل وأواخر
وَأول الْفَضَائِل الْعقل
وَآخِرهَا الْعدْل
لِأَن الْعقل أصل الْفَضَائِل بحدوثها عَنهُ وتدبيرها بِهِ فَلذَلِك كَانَ أَولهَا
وَالْعدْل نتيجة الْفَضَائِل لِأَنَّهَا مقدرَة بِهِ فَلذَلِك صَار آخرهَا
وهما قرينان مؤتلفان وَمَا ائتلف أَمْرَانِ إِلَّا كَانَ أَحدهمَا مُحْتَاجا إِلَى الآخر اضطرارا وَمَا سواهُمَا من الْفَضَائِل وَاسِطَة بَين الْعقل وَالْعدْل يخْتَص الْعقل بتدبيرها وَالْعدْل بتقديرها فَيكون الْعقل مُدبرا وَالْعدْل مُقَدرا وَلَيْسَ تنفك الْفَضَائِل بِوَاحِد مِنْهُمَا وَإِنَّمَا تنفك بِالنَّفسِ المطيقة لَهما فَإِن كَانَت النَّفس زكية صَافِيَة تهيأت للفضائل فَعمِلت بهَا
وَإِن كَانَت خبيثة تهيأت
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গুণাবলির শুরু ও শেষ গুণাবলির মূলনীতিসমূহ
গুণাবলির কতগুলো মূলনীতি রয়েছে, যা শুরু এবং শেষ।
আর গুণাবলির শুরু হলো বুদ্ধি (العقل)।
এবং সেগুলোর শেষ হলো ন্যায়পরায়ণতা (العدل)।
কেননা বুদ্ধি (العقل) হলো গুণাবলির মূল, যেহেতু এগুলো বুদ্ধি থেকে উদ্ভূত হয় এবং এর দ্বারাই পরিচালিত হয়; তাই তা হলো এগুলোর শুরু।
আর ন্যায়পরায়ণতা (العدل) হলো গুণাবলির ফলাফল, কারণ সেগুলো এর দ্বারা পরিমিত হয়; তাই তা শেষে পরিণত হয়েছে।
এই দুটি হলো পরস্পর ঘনিষ্ঠ ও মিলেমিশে থাকা দুটি বিষয়; আর যখনই দুটি বিষয় পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়, তখন একটি অন্যটির প্রতি অনিবার্যভাবে মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে। এ দুটি ছাড়া অন্যান্য গুণাবলি হলো বুদ্ধি (العقل) এবং ন্যায়পরায়ণতার (العدل) মধ্যবর্তী মাধ্যম; বুদ্ধি (العقل) সেগুলোকে পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে আর ন্যায়পরায়ণতা (العدل) সেগুলোকে পরিমিত করার দায়িত্ব পালন করে। ফলে বুদ্ধি (العقل) হলো পরিচালক এবং ন্যায়পরায়ণতা (العدل) হলো পরিমাপক। গুণাবলি এই দুটির কোনটি থেকেই বিচ্ছিন্ন হয় না, বরং এগুলো সেই আত্মার মাধ্যমে প্রকাশিত হয় যা এই দুটিকে ধারণ করতে সক্ষম। সুতরাং আত্মা যদি পবিত্র ও স্বচ্ছ হয়, তবে তা গুণাবলি অর্জনের জন্য প্রস্তুত হয় এবং সে অনুযায়ী আমল করে।
আর যদি তা কলুষিত হয়, তবে তা প্রস্তুত হয়...
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ১৩)
للرذائل فعدلت إِلَيْهَا وَصَارَ مَا وافقها مِنْهُمَا سهلا عَلَيْهَا فِي سرعَة انفعاله بِحكم الْمُنَاسبَة وَمَا خالفها صعبا عَلَيْهَا فِي تَأَخّر انفعاله بِحكم المنافرة
لِأَن مُوَافقَة الأشكال مركوزة فِي الطباع كَمَا قيل
الْمَوَدَّة مشاكلة طبيعية فِي أَنْوَاع شخصية يماثل بَعْضهَا بَعْضًا من حَيْثُ يعلم وَمن حَيْثُ لَا يعلم
قَالَ بعض الْحُكَمَاء الْمُتَقَدِّمين
إِن قَوَاعِد الْأَخْلَاق الفاضلة أَربع يتَفَرَّع عَنْهَا مَا عَداهَا من الْفَضَائِل وَهِي التَّمْيِيز والنجدة والعفة وَالْعدْل وَيتَفَرَّع عَن أضدادها الْكثير من الرذائل
أَوَائِل الرذائل وأواخرها وللرذائل مبادئ هِيَ أَوَائِل وغايات هِيَ أَوَاخِر
অনৈতিকতার (رذائل) দিকে এটি ঝুঁকে পড়ে এবং এই দুটির মধ্যে যা এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা স্বাভাবিক মিলের কারণে দ্রুত প্রভাবিত হওয়ার ক্ষেত্রে সহজ হয়ে যায়; আর যা এর পরিপন্থী হয়, তা বিমুখতার কারণে প্রভাবিত হতে বিলম্ব হওয়ার ফলে কঠিন হয়ে যায়।
কারণ সমজাতীয় বিষয়ের প্রতি আগ্রহ মানুষের স্বভাবজাত, যেমনটি বলা হয়ে থাকে:
ভালোবাসা হলো ব্যক্তিগত প্রকারভেদের মাঝে এক স্বভাবজাত সামঞ্জস্য, যেখানে জ্ঞাতসারে ও অজ্ঞাতসারে একে অপরের সাদৃশ্য বজায় থাকে।
পূর্ববর্তী প্রাজ্ঞজনদের কেউ কেউ বলেছেন:
নিশ্চয়ই উত্তম চরিত্রের মূল ভিত্তি চারটি, যেখান থেকে অন্যান্য গুণাবলি শাখা-প্রশাখা হিসেবে বিস্তার লাভ করে। সেগুলো হলো: বিবেচনাবোধ (تمييز), সাহসিকতা (نجدة), আত্মসংযম (عفة) এবং ন্যায়পরায়ণতা (عدل); আর এগুলোর বিপরীত দিকগুলো থেকে অসংখ্য মন্দ স্বভাবের (رذائل) উদ্ভব ঘটে।
অনৈতিকতার (رذائل) শুরু ও শেষ অনৈতিক আচরণের (رذائل) কিছু মূলনীতি রয়েছে যা প্রারম্ভিক এবং কিছু লক্ষ্য রয়েছে যা অন্তিম।
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فَأول الرذائل الْحمق
وَآخِرهَا الْجَهْل
وَفِي الْفرق بَينهمَا وَجْهَان
أَحدهمَا أَن الأحمق هُوَ الَّذِي يتَصَوَّر الْمُمْتَنع بِصُورَة الْمُمكن وَالْجَاهِل هُوَ الَّذِي لَا يعرف الْمُمْتَنع من الْمُمكن
وَالْوَجْه الثَّانِي أَن الأحمق هُوَ الَّذِي يعرف الصَّوَاب وَلَا يعْمل بِهِ وَالْجَاهِل هُوَ الَّذِي 4 آلا يعرف الصَّوَاب وَلَو عرفه لعمل بِهِ
وَقد رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ
(الأحمق أبْغض خلق الله إِلَيْهِ إِذْ حرمه أعز الْأَشْيَاء إِلَيْهِ وَهُوَ الْعقل)
وَالْعرب تَقول الأحمق مَأْخُوذ من حمقة السُّوق إِذا نقصت وَكَأَنَّهُ إِشَارَة إِلَى ذهَاب عقله
وللجاهل حالتان
প্রথম মন্দ স্বভাব হলো নির্বুদ্ধিতা (الحمق)
এবং তার শেষটি হলো মূর্খতা (الجهل)
এই দুটির পার্থক্যের ক্ষেত্রে দুটি দিক রয়েছে
তার একটি হলো, নির্বোধ (الأحمق) সেই ব্যক্তি যে অসম্ভবকে সম্ভব হিসেবে কল্পনা করে, আর মূর্খ (الجاهل) সেই ব্যক্তি যে অসম্ভব ও সম্ভবের মধ্যে পার্থক্য করতে জানে না
দ্বিতীয় দিকটি হলো, নির্বোধ (الأحمق) সেই ব্যক্তি যে সঠিক বিষয়টি জানে কিন্তু সে অনুযায়ী আমল করে না, আর মূর্খ (الجاهل) সেই ব্যক্তি যে সঠিক বিষয়টি জানে না, যদি সে জানত তবে অবশ্যই সে অনুযায়ী আমল করত
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে (روي) যে তিনি বলেছেন
(নির্বোধ (الأحمق) আল্লাহর নিকট তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে অপ্রিয়, যেহেতু তিনি তাকে তাঁর নিকট সবচেয়ে প্রিয় বস্তু অর্থাৎ বুদ্ধি থেকে বঞ্চিত করেছেন)
আরবরা বলে থাকে, নির্বোধ (الأحمق) শব্দটি বাজারের মন্দাভাব থেকে গৃহীত যখন তা হ্রাস পায়; যেন এটি তার বুদ্ধি লোপ পাওয়ারই একটি ইঙ্গিত
মূর্খের (للجاهل) জন্য দুটি অবস্থা রয়েছে
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الْحَال الأولى أَن يجهل وَيعلم أَنه يجهل
وَهَذَا يجوز أَن يسترشد فَيعلم مَا جهل إِن أمد بحمية باعثة وأعين بِنَفس قَابِلَة كَمَا قيل
لَوْلَا الْخَطَأ مَا أشرق نور الصَّوَاب
قَالَ الشَّاعِر
(إِذا صَحَّ حس الْمَرْء صَحَّ قِيَاسه
… وَلَيْسَ يَصح الْعقل من فَاسد الْحس) // من الطَّوِيل //
وَالْحَال الثَّانِيَة أَن يجهل ويجهل أَنه يجهل
فَهُوَ أسوأهما حَالا وأقبحهما خِصَالًا لِأَنَّهُ إِذا جهل جَهله صَار جهلين متشاكلين فِي الصُّور مُخْتَلفين فِي الْأَثر
أَحدهمَا سالب لهدايته
وَالْآخر جالب لغوايته
فطاح بِالْأولِ فِي سكراته
ومرح بِالْآخرِ فِي هفواته
فَلم يخْتَر لَهُ فاقه
وَلم ترج لَهُ إفاقة
وَقد قَالَ جالينوس
الْجَهْل بِالْجَهْلِ جهل مركب
প্রথম অবস্থা হলো এই যে, ব্যক্তি অজ্ঞ এবং সে জানে যে সে অজ্ঞ।
এরূপ ব্যক্তির পক্ষে সঠিক পথনির্দেশ গ্রহণ করা সম্ভব, ফলে সে যা জানে না তা শিখতে পারে; যদি তাকে কোনো উদ্বুদ্ধকারী উদ্দীপনা প্রদান করা হয় এবং তাকে গ্রহণক্ষম মনের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়, যেমনটি বলা হয়েছে:
ভুল না থাকলে সঠিকের আলো বিচ্ছুরিত হতো না।
কবি বলেছেন:
(যদি কোনো ব্যক্তির অনুভূতি সঠিক (صحيح) হয়, তবে তার অনুমান বা কিয়াস (قياس) সঠিক (صحيح) হয়... আর বিকৃত অনুভূতির অধিকারীর বিবেক কখনো সঠিক (صحيح) হতে পারে না) // আত-তওয়ীল ছন্দ //
দ্বিতীয় অবস্থা হলো এই যে, ব্যক্তি অজ্ঞ এবং সে এ বিষয়েও অজ্ঞ যে সে অজ্ঞ।
সে অবস্থার দিক থেকে এই দুইয়ের মধ্যে অধিকতর মন্দ এবং বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে অধিকতর জঘন্য; কারণ যখন সে নিজের অজ্ঞতা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে, তখন তা দু’টি সদৃশ অজ্ঞতায় পরিণত হয় যা বাহ্যিক রূপে এক হলেও প্রভাবে ভিন্ন।
এর একটি তার হিদায়াত বা সঠিক পথকে ছিনিয়ে নেয়,
এবং অন্যটি তাকে বিভ্রান্তির দিকে টেনে আনে।
ফলে প্রথমটির মোহাচ্ছন্নতায় সে বিনাশপ্রাপ্ত হয়,
এবং দ্বিতীয়টির স্খলনে সে দম্ভ প্রকাশ করে।
তার এই রিক্ততা থেকে নিষ্কৃতির কোনো পথ পাওয়া যায় না,
এবং তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরারও কোনো আশা করা যায় না।
আর জালিনুস বলেছেন:
অজ্ঞতা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকাই হলো যৌগিক অজ্ঞতা (جهل مركب)।
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لِأَن أَجْهَل وَأعلم أنني أَجْهَل أحب إِلَيّ من أَن أَجْهَل وأجهل أنني أَجْهَل
قَالَ سُلَيْمَان بن دَاوُد عليه السلام
النائحة على الْمَيِّت سَبْعَة أَيَّام وعَلى الْجَاهِل كل أَيَّام حَيَاته وَالْمَوْت خير من الْحَيَاة الردية
وَقيل فِي منثور الحكم
الْجَاهِل وَإِن توفرت عَلَيْهِ الْأَيَّام فَكَأَنَّهُ ابْن يَوْمه وتلاد سَاعَته
وَقَالَ بعض الْعَرَب
لَو صور الْعقل لاظلمت مَعَه الشَّمْس وَلَو صور الْجَهْل لأضاء مَعَه اللَّيْل
قَالَ الشَّاعِر
(لِلْعَقْلِ مَا خلق الْإِنْسَان فالتمسن
… بِالْعقلِ حظك لَا بِالْجَهْلِ والرتب)
কেননা আমার অজ্ঞ (جاهل) হওয়া এবং আমি যে অজ্ঞ (جاهل) তা জানা আমার কাছে অধিক প্রিয় এর চেয়ে যে, আমি অজ্ঞ (جاهل) থাকব অথচ আমি যে অজ্ঞ (جاهل) সে বিষয়েও আমি অজ্ঞ (جاهل) থাকব।
সুলাইমান ইবনে দাউদ (আলাইহিস সালাম) বলেছেন:
মৃতের জন্য বিলাপকারিনী সাত দিন বিলাপ করে, কিন্তু অজ্ঞ (جاهل) ব্যক্তির জন্য তার জীবনের প্রতিটি দিন বিলাপ করতে হয়। আর নিকৃষ্ট জীবনের চেয়ে মৃত্যুই উত্তম।
এবং বিভিন্ন প্রবাদবাক্যে বলা হয়েছে:
অজ্ঞ (جاهل) ব্যক্তির আয়ু দীর্ঘ হলেও সে যেন কেবল এক দিনের শিশু এবং মুহূর্তের নবজাতক।
কোনো কোনো আরব পণ্ডিত বলেছেন:
যদি বিবেককে দৃশ্যমান রূপ দান করা হতো তবে তার পাশে সূর্যও অন্ধকার হয়ে যেত, আর যদি অজ্ঞতাকে (جهل) রূপ দান করা হতো তবে তার অন্ধকারে রাত্রিও আলোকিত হয়ে যেত।
কবি বলেছেন:
(বিবেকের জন্যই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে, সুতরাং তুমি বিবেকের মাধ্যমেই তোমার সৌভাগ্য অন্বেষণ করো;
… অজ্ঞতা (جهل) বা পদমর্যাদার মাধ্যমে নয়।)
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ১৭)
(4 ب لَا يلبث الْجَهْل أَن يجني لصَاحبه
… ذما وَيذْهب عَنهُ بهجة الْحسب) // من الْبَسِيط //
مَا هِيَ الْفَضَائِل والفضائل توَسط مَحْمُود بَين رذيلتين مذمومتين من نُقْصَان يكون تقصيرا أَو زِيَادَة تكون سَرفًا فَيكون فَسَاد كل فَضِيلَة من طرفيها
فالعقل وَاسِطَة بَين الدهاء والغباء
وَالْحكمَة وَاسِطَة بَين الشَّرّ والجهالة
والسخاء وَاسِطَة بَين التقتير والتبذير
والشجاعة وَاسِطَة بَين الْجُبْن والتهور
(৪ ব: মূর্খতা শীঘ্রই তার অধিকারীর জন্য বয়ে আনে
… নিন্দা এবং তার থেকে আভিজাত্যের জৌলুস বিলীন করে দেয়) // বাসিত ছন্দ থেকে //
সদগুণাবলী কী? সদগুণাবলী হলো দুটি নিন্দনীয় মন্দ অভ্যাসের মধ্যবর্তী এক প্রশংসনীয় ভারসাম্য; যা হয় সংকীর্ণতাজনিত ত্রুটি অথবা আধিক্যজনিত সীমালঙ্ঘন। অতএব, প্রতিটি সদগুণের বিনাশ ঘটে এর দুই প্রান্তিক সীমার কারণে।
বুদ্ধিবৃত্তি হলো ধূর্ততা ও স্থূলবুদ্ধিতার মধ্যবর্তী অবস্থা।
প্রজ্ঞা হলো মন্দ কাজ ও অজ্ঞতার (جهالة) মধ্যবর্তী অবস্থা।
দানশীলতা হলো কার্পণ্য ও অপব্যয়ের মধ্যবর্তী অবস্থা।
বীরত্ব হলো ভীরুতা ও হঠকারিতার মধ্যবর্তী অবস্থা।
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وَالْحيَاء وَاسِطَة بَين القحة والحصر
وَالْوَقار وَاسِطَة بَين الهزء والسخافة
والسكينة وَاسِطَة بَين السخط وَضعف الْغَضَب
والحلم وَاسِطَة بَين إفراط الْغَضَب ومهانة النَّفس
والعفة وَاسِطَة بَين الشره وَضعف الشَّهْوَة
والغيرة وَاسِطَة بَين الْحَسَد وَسُوء الْعَادة
والظرف وَاسِطَة بَين الخلاعة والفدامة
والمودة وَاسِطَة بَين الخلابة وَحسن الْخلق
والتواضع وَاسِطَة بَين الْكبر ودناءة النَّفس
تركيب الْفَضَائِل مَعَ غَيرهَا وَقد يحدث من تركيب فَضَائِل مَعَ غَيرهَا من الْفَضَائِل فَضَائِل أخر
فَيحدث من تركيب الْعقل مَعَ الشجَاعَة الصَّبْر فِي الملمات وَالْوَفَاء بالإيعاد
লজ্জাশীলতা হলো নির্লজ্জতা এবং কুণ্ঠাবোধের মধ্যবর্তী অবস্থা
গাম্ভীর্য হলো উপহাস এবং লঘুচাপল্যের মধ্যবর্তী অবস্থা
প্রশান্তি হলো অসন্তোষ এবং ক্রোধের দুর্বলতার মধ্যবর্তী অবস্থা
সহিষ্ণুতা হলো ক্রোধের আতিশয্য এবং আত্ম-অবমাননার মধ্যবর্তী অবস্থা
সংযম হলো অতি-লোভ এবং কামনার দুর্বলতার মধ্যবর্তী অবস্থা
আত্মমর্যাদাবোধ হলো হিংসা এবং কু-অভ্যাসের মধ্যবর্তী অবস্থা
বাকচাতুর্য হলো অশ্লীলতা এবং স্থূলবুদ্ধিতার মধ্যবর্তী অবস্থা
হৃদ্যতা হলো চাটুকারিতা এবং সচ্চরিত্রের মধ্যবর্তী অবস্থা
বিনয় হলো অহংকার এবং হীনম্মন্যতার মধ্যবর্তী অবস্থা
সদ্গুণের সাথে অন্যান্য গুণের সমন্বয় সদ্গুণের সাথে অন্যান্য সদ্গুণের সমন্বয়ের ফলে কখনো কখনো ভিন্ন প্রকারের গুণের উদ্ভব ঘটে
যেমন বুদ্ধিমত্তার সাথে সাহসিকতার সমন্বয়ে বিপদকালীন ধৈর্য এবং হুমকির মুখেও প্রতিশ্রুতি রক্ষার ন্যায় গুণাবলি সৃষ্টি হয়
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَعَن تركيب الْعقل مَعَ السخاء إنجاز المواعيد والإسعاد بالجاه
وَعَن تركيب الْعقل مَعَ الْعِفَّة النزاهة وَالرَّغْبَة عَن الْمَسْأَلَة
وَعَن تركيب الشجَاعَة مَعَ السخاء الإملاق والأخلاق
وَعَن تركيب الشجَاعَة مَعَ الْقُوَّة إِنْكَار الْفَوَاحِش والغيرة على الْحرم
وَعَن تركيب السخاء مَعَ الْعِفَّة الْإِسْعَاف بالقوت والإيثار على النَّفس
نتائج كثير من الْأَخْلَاق تؤول إِلَى رذائل ولكثير من الْأَخْلَاق نتائج تؤول إِلَى رذائل
حُكيَ عَن عَليّ عليه السلام أَنه قَالَ
أعجب مَا فِي الْإِنْسَان نَفسه وَمَا فِيهَا من التضاد مَا أذكرهُ
إِن سنح لَهَا الرَّجَاء أذلها الطمع
وَإِن أهاجها الطمع أهلكها الْحِرْص
وَإِن ملكهَا الْيَأْس قَتلهَا الأسف
وَإِن عرض لَهَا الْغَضَب اشْتَدَّ بهَا الغيظ
বুদ্ধিবৃত্তি ও দানশীলতার সমন্বয়ে অঙ্গীকার পূরণ এবং প্রভাব-প্রতিপত্তি দিয়ে অন্যের উপকার করার গুণ সৃষ্টি হয়।
বুদ্ধিবৃত্তি ও আত্মসংযমের সমন্বয়ে চারিত্রিক পবিত্রতা এবং অন্যের নিকট যাচনা করা থেকে বিমুখতা সৃষ্টি হয়।
সাহসিকতা ও দানশীলতার সমন্বয়ে অভাবের মাঝেও দান এবং উন্নত চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
সাহসিকতা ও শক্তির সমন্বয়ে অশ্লীলতাকে প্রত্যাখ্যান এবং পবিত্র বিষয়াদির প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ তৈরি হয়।
দানশীলতা ও আত্মসংযমের সমন্বয়ে নিজের অন্ন দিয়ে অন্যের অভাব পূরণ এবং আত্মত্যাগের মানসিকতা সৃষ্টি হয়।
অনেক উন্নত চরিত্রের পরিণাম শেষ পর্যন্ত মন্দ অভ্যাসে পর্যবসিত হয় অনেক উন্নত চরিত্রের এমন সব পরিণাম রয়েছে যা শেষ পর্যন্ত মন্দ অভ্যাসে রূপ নেয়।
আলী (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন—
মানুষের মাঝে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো তার নিজ সত্তা এবং এতে বিদ্যমান বৈপরিত্যসমূহ, যা আমি বর্ণনা করছি—
যদি তার মধ্যে আশার উদয় হয়, তবে লোভ তাকে লাঞ্ছিত করে।
যদি লোভ তাকে প্ররোচিত করে, তবে লালসা তাকে ধ্বংস করে।
যদি নৈরাশ্য তাকে গ্রাস করে, তবে আক্ষেপ তাকে সংহার করে।
যদি তার মাঝে ক্রোধের উদয় হয়, তবে চরম ক্ষোভ তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَإِن أسعدها الرِّضَا أنسيت التحفظ
وَإِن نالها خوف شغلها الحذر
وَإِن اتَّسع لَهَا الْأَمْن استلبتها الْعِزَّة
وَإِن جددت لَهَا نعْمَة أحدثت لَهَا مرحا
وَإِن أصابتها مُصِيبَة فضحها الْجزع
وَإِن نَالَتْ مَالا أطغاها الغي
وَإِن أفرط عَلَيْهَا الشِّبَع كظتها البطنة
فَكل تَقْصِير بهَا مُضر
وكل إفراط لَهَا مفْسدَة وَقَالَ غَيره
আর যদি সন্তুষ্টি তাকে আনন্দিত করে, তবে সে সতর্কতা ভুলে যায়
আর যদি ভয় তাকে স্পর্শ করে, তবে সাবধানতা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে
আর যদি তার জন্য নিরাপত্তা প্রশস্ত হয়, তবে দম্ভ তাকে গ্রাস করে
আর যদি তার জন্য কোনো নেয়ামত নবায়ন করা হয়, তবে তা তার মধ্যে উগ্র উল্লাস সৃষ্টি করে
আর যদি সে কোনো বিপদে পতিত হয়, তবে অস্থিরতা তাকে উন্মোচিত করে দেয়
আর যদি সে সম্পদ লাভ করে, তবে পথভ্রষ্টতা তাকে উদ্ধত করে তোলে
আর যদি অতিভোজন তার ওপর প্রবল হয়, তবে উদরপূর্তি তাকে যন্ত্রণাক্লিষ্ট করে
সুতরাং তার প্রতিটি শিথিলতাই ক্ষতিকর
এবং প্রতিটি বাড়াবাড়িই তার জন্য অনিষ্টকর; আর অন্য কেউ বলেছেন
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ২১)
الإفراط فِي التَّوَاضُع مذلة
والإفراط فِي التكبر يستحر البغضة
والإفراط فِي الحذر يَدْعُو إِلَى إِيهَام الْخلق
والإفراط فِي الْأنس يكْسب قرناء السوء
والإفراط فِي الإنقاص يوحش ذَوي النَّصِيحَة
قَالَ ابْن المعتز
لَو ميزت الْأَشْيَاء لَكَانَ الْكَذِب مَعَ الْجُبْن والصدق مَعَ الشجَاعَة والراحة مَعَ الْيَأْس والذل مَعَ الطمع والحرمان مَعَ الْحِرْص
أَقسَام الْخلق الذاتي وَقد يَنْقَسِم قسمَيْنِ
أَحدهمَا مَا أوجب ثَنَاء المخلوقين. .
বিনয় প্রকাশে অতিশয়তা লাঞ্ছনা বয়ে আনে
অহংকারে অতিশয়তা তীব্র বিদ্বেষের জন্ম দেয়
সতর্কতায় অতিশয়তা মানুষের মনে সংশয় ও ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করে
অত্যধিক সখ্যতা মন্দ সঙ্গী জুটিয়ে দেয়
তুচ্ছজ্ঞান করায় অতিশয়তা হিতাকাঙ্ক্ষীদের বিমুখ করে
ইবনুল মুতাজ বলেন
যদি বস্তুসমূহকে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পৃথক করা হতো, তবে মিথ্যা হতো ভীরুতার সাথে, সত্য হতো সাহসিকতার সাথে, প্রশান্তি হতো পার্থিব নিরাশার সাথে, লাঞ্ছনা হতো লোভের সাথে এবং বঞ্চনা হতো লালসার সাথে
স্বভাবজাত চরিত্রের প্রকারভেদ (أقسام) আর এটি দুই প্রকারে (قسمين) বিভক্ত হতে পারে
তন্মধ্যে একটি হলো যা সৃষ্টির প্রশংসা অর্জনকে অনিবার্য করে তোলে। .
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَهُوَ مَا عدا نَفعه عَلَيْهِم
وَالثَّانِي مَا اقْتضى ثَنَاء الْخَالِق
وَهُوَ مَا قصد بِهِ وَجه الله تَعَالَى
روى جَعْفَر بن مُحَمَّد قَالَ
ناجى الله بعض أنبيائه فَقَالَ يَا رب أَي خلقك أحب إِلَيْك
قَالَ أَكْثَرهم لي ذكرا
قَالَ يَا رب فَأَي خلقك أَصْبِر
قَالَ أكظمهم للغيظ
قَالَ يَا رب فَأَي خلقك أعدل
قَالَ من أدان نَفسه
قَالَ يَا رب فَأَي خلقك أغْنى
قَالَ أقنعهم برزقه
قَالَ يَا رب فَأَي خلقك أسعد
قَالَ من آثر أَمْرِي على هَوَاهُ
قَالَ يَا رب فَأَي خلقك أَشْقَى
قَالَ من لم تَنْفَعهُ الموعظة 5 ب
فَهَذَا مَا تعلق بأخلاق الذَّات
আর তা হলো যার উপকার তাদের মাঝে পরিব্যপ্ত হয়
এবং দ্বিতীয়টি হলো যা স্রষ্টার প্রশংসাকে ত্বরান্বিত করে
আর এটি হলো সেটি যার দ্বারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির সংকল্প করা হয়
জাফর ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন (روى), তিনি বলেন:
আল্লাহ তাঁর জনৈক নবীর সাথে একান্তে কথা বললেন এবং তিনি আরজ করলেন, হে প্রতিপালক! আপনার সৃষ্টির মাঝে আপনার নিকট সবচাইতে প্রিয় কে?
তিনি বললেন: তাদের মধ্যে যে আমাকে সর্বাধিক স্মরণ করে
তিনি বললেন: হে প্রতিপালক! তবে আপনার সৃষ্টির মাঝে সবচাইতে ধৈর্যশীল কে?
তিনি বললেন: যে তাদের মধ্যে ক্রোধ দমনে সবচাইতে বেশি সক্ষম
তিনি বললেন: হে প্রতিপালক! তবে আপনার সৃষ্টির মাঝে সবচাইতে ন্যায়পরায়ণ (أعدل) কে?
তিনি বললেন: যে নিজের আত্মার হিসাব গ্রহণ করে
তিনি বললেন: হে প্রতিপালক! তবে আপনার সৃষ্টির মাঝে সবচাইতে সমৃদ্ধ কে?
তিনি বললেন: যে তার রিজিকে সবচাইতে বেশি তুষ্ট
তিনি বললেন: হে প্রতিপালক! তবে আপনার সৃষ্টির মাঝে সবচাইতে সৌভাগ্যবান কে?
তিনি বললেন: যে আমার নির্দেশকে তার নফসের চাহিদার ওপর প্রাধান্য দেয়
তিনি বললেন: হে প্রতিপালক! তবে আপনার সৃষ্টির মাঝে সবচাইতে হতভাগ্য কে?
তিনি বললেন: যাকে সদুপদেশ কোনো প্রকার উপকার করে না [৫ খ]
এই হলো সেই বিষয়াবলি যা স্বকীয় চরিত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الْفَصْل الثَّالِث أَفعَال الْإِرَادَة أَسبَابهَا
وَأما أَفعَال الْإِرَادَة فتصدر عَن أَسبَاب باعثة عَلَيْهَا دَاعِيَة إِلَيْهَا وَهِي
الْعقل
والرأي
والهوى
فَأَما الارادة فَلَيْسَتْ حَادِثَة إِلَّا عَن أَحدهَا
وَأما الْعقل والرأي فمؤتلفان وهما عِلّة الْفَضَائِل
الْفرق بَين الْعقل والرأي وَفِي الْفرق بَينهمَا وَجْهَان
أَحدهمَا أَن الْعقل مَا تَيَقّن بِهِ الصَّوَاب من الْخَطَأ والرأي غَلَبَة الظَّن فِي تَرْجِيح الصَّوَاب على الْخَطَأ
وَالْوَجْه الثَّانِي أَن الْعقل هُوَ الْمُوجب لأمر لَا يجوز خِلَافه والرأي هُوَ سُكُون النَّفس إِلَى تَرْجِيح أَمر يجوز خِلَافه
ثمَّ يتفقان فِي النَّعْت وَالصّفة ويختلفان فِي الْعلَّة والنتيجة
فالعقل لَازم لمحله ومستقل بِحكمِهِ والرأي معترض يستمد الْعقل ويستضيء بنوره وَلذَلِك قيل
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইচ্ছাধীন কার্যাবলী (أفعال الإرادة) সেগুলোর কারণসমূহ
আর ইচ্ছাধীন কার্যাবলী (أفعال الإرادة) এমন সব কারণ থেকে উৎপন্ন হয় যা সেটির প্রতি উদ্বুদ্ধ ও আহ্বান করে, আর তা হলো:
বিবেক (العقل)
সুচিন্তিত অভিমত (الرأي)
এবং প্রবৃত্তি (الهوى)
বস্তুত ইচ্ছা (الإرادة) এগুলোর কোনো একটি ব্যতিরেকে সংঘটিত হয় না।
আর বিবেক (العقل) ও সুচিন্তিত অভিমত (الرأي) পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তারা হলো সদগুণাবলির মূল কারণ (علة الفضائل)।
বিবেক (العقل) ও সুচিন্তিত অভিমতের (الرأي) মধ্যকার পার্থক্য এই দুয়ের পার্থক্যের বিষয়ে দুটি দিক রয়েছে:
প্রথমটি হলো, বিবেক (العقل) হলো তা যার দ্বারা ভুল (الخطأ) থেকে সঠিকের (الصواب) ধ্রুব নিশ্চিতজ্ঞান (تيقن) লাভ করা যায়। আর সুচিন্তিত অভিমত (الرأي) হলো ভুলের (الخطأ) ওপর সঠিককে (الصواب) প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রবল ধারণা (غلبة الظن)।
দ্বিতীয় দিকটি হলো, বিবেক (العقل) হলো এমন বিষয়ের অবধারিতকারী (الموجب) যার বিপরীত হওয়া বৈধ নয়। আর সুচিন্তিত অভিমত (الرأي) হলো এমন একটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে মনের প্রশান্তি, যার বিপরীত হওয়া সম্ভব।
অতঃপর তারা গুণ (النعت) ও বৈশিষ্ট্যের (الصفة) ক্ষেত্রে একমত হয়, কিন্তু কারণ (العلة) ও ফলাফলের (النتيجة) ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়।
কেননা বিবেক (العقل) তার স্বীয় স্থানে অপরিহার্য এবং তার স্বীয় সিদ্ধান্তে স্বতন্ত্র। পক্ষান্তরে সুচিন্তিত অভিমত (الرأي) হলো একটি আপতিত বিষয় যা বিবেকের (العقل) নিকট থেকে সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তার আলোতে আলোকিত হয়। আর একারণেই বলা হয়েছে—
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ظن الْعَاقِل أصدق من يَقِين الْجَاهِل
وَقَالَ عُلَمَاء الْعَرَب
سمي الْعقل عقلا لِأَنَّهُ يعقل صَاحبه عَن القبائح
وَكَانَ الْمَأْمُون ينشد كثيرا قَول الشَّاعِر
(يعد عَظِيم النَّاس من كَانَ عَاقِلا
… وَإِن لم يكن فِي قومه بحسيب)
(وَإِن حل أَرضًا عَاشَ فِيهَا بعقله
… وَمَا عَاقل فِي بَلْدَة بغريب) // من الطَّوِيل //
বিচক্ষণ ব্যক্তির ধারণা মূর্খ ব্যক্তির সুনিশ্চিত বিশ্বাসের চেয়ে অধিক সত্য।
আরব আলেমগণ বলেছেন,
আকল (বিবেক)-কে আকল বলা হয় কারণ তা তার অধিকারীকে মন্দ কাজ থেকে নিবৃত্ত করে রাখে।
খলিফা আল-মামুন প্রায়ই কবির এই পঙক্তিটি আবৃত্তি করতেন:
(মানুষের মধ্যে সেই মহান বলে গণ্য হয় যে বুদ্ধিমান,
… যদিও সে তার জাতির মধ্যে উচ্চ বংশমর্যাদাসম্পন্ন না হয়)
(আর সে যদি কোনো ভূখণ্ডে উপস্থিত হয়, তবে সেখানে আপন বুদ্ধিবলে জীবন অতিবাহিত করে;
… আর কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি কোনো জনপদেই অপরিচিত নয়) // আত-তাবিল ছন্দ থেকে //
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَلَئِن كَانَ الْعقل مُسْتقِلّا ببصيرته فقد يزْدَاد بالتجارب تيقظا وبممارسة الْأُمُور تحفظا فَلَا يلتبس عَلَيْهِ حزم وَلَا ينتقص عَلَيْهِ عزم
وَقيل
كل شَيْء يحْتَاج إِلَى الْعقل وَالْعقل يحْتَاج إِلَى التجارب
وَقد قيل
اسْتُرْ عَورَة الحداثة بدراية كتب الْمُتَقَدِّمين
واستعن على إِدْرَاك الْأَحْوَط بِحِفْظ آثَار الماضين
قَالَ بعض الْحُكَمَاء
من لم تلقح رَأْيه التجارب عقمت همته
فنظمه بعض الشُّعَرَاء
যদিত্ত বুদ্ধি তার নিজস্ব প্রজ্ঞার মাধ্যমে স্বতন্ত্র হতে পারে, তবুও অভিজ্ঞতার দ্বারা এর সতর্কতা বৃদ্ধি পায় এবং কার্যপরিচালনার অনুশীলনের মাধ্যমে এর সাবধানতা সুদৃঢ় হয়; যার ফলে কোনো সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত তার নিকট অস্পষ্ট থাকে না এবং কোনো দৃঢ় সংকল্প তার নিকট বিফল হয় না।
বলা হয়ে থাকে:
প্রত্যেক বিষয় বুদ্ধির মুখাপেক্ষী, আর বুদ্ধি অভিজ্ঞতার মুখাপেক্ষী।
আরও বলা হয়েছে:
পূর্বসূরি (متقدمين) মনীষীদের কিতাবসমূহের প্রজ্ঞার মাধ্যমে নব্যতার ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখো।
এবং অতীতদের বর্ণনা (آثار) সংরক্ষণের মাধ্যমে সর্বাধিক সতর্কতা (أحوط) অবলম্বনে সহায়তা গ্রহণ করো।
জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন:
যার অভিমত অভিজ্ঞতার দ্বারা পরিপুষ্ট হয়নি, তার কর্মস্পৃহা নিষ্ফল হয়ে যায়।
কোনো কোনো কবি একে পদ্যরূপে সাজিয়েছেন:
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(من لم تلقحه نَوَائِب دهره
… وحوادث الْأَيَّام فَهُوَ عقيم) // من الْكَامِل //
الْهوى 6 - آوليجهدن أَن لَا يَجْعَل لنَفسِهِ فِي الْهوى نَصِيبا
وَقد قيل
من أذلّ هَوَاهُ عز
وَقَالَ بعض الْحُكَمَاء
(لنعم أَخُو التَّقْوَى فَتى طَاهِر الحجى
… خميص من الْفَحْشَاء عف المسالك)
(فَتى ملك اللَّذَّات أَن يعتبدنه
… وَمَا كل ذِي لب لَهُنَّ بِمَالك) // من الطَّوِيل //
وَقَالَ آخر
(যাকে তার যুগের বিপদ-আপদ
… এবং সময়ের ঘটনাবলি সজাগ ও পরিপক্ক করেনি, সে তো অপরিণত) // আল-কামিল ছন্দ থেকে //
প্রবৃত্তি (الهوى) 6 - তার উচিত কঠোর প্রচেষ্টা চালানো যেন সে নিজের প্রবৃত্তির (الهوى) বশবর্তী হওয়ার কোনো সুযোগ না রাখে।
বলা হয়ে থাকে:
যে ব্যক্তি তার প্রবৃত্তিকে (الهوى) অবদমিত করে, সে মর্যাদা লাভ করে।
জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন:
(তাকওয়ার (التقوى) সাথী সেই যুবক কতই না চমৎকার, যার প্রজ্ঞা নির্মল
… যে অশ্লীলতা থেকে বিমুখ এবং যার কর্মপন্থা পবিত্র)
(সে এমন এক যুবক যে ভোগবিলাসকে স্বীয় নিয়ন্ত্রণে রেখেছে পাছে তা তাকে দাসে পরিণত করে
… আর সকল বুদ্ধিমান ব্যক্তিই সেগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম হয় না) // আত-ত্ববিল ছন্দ থেকে //
অন্য একজন বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(وألتذ مَا أهواه وَالْمَوْت دونه
… كشارب سم فِي إِنَاء مفضض)
(فتوشك أمراضي تؤوب بمرضة
… تفرق مَا بيني وَبَين ممرضي) // من الطَّوِيل //
(আমি যা ভালোবাসি তাতেই আনন্দ পাই, অথচ মৃত্যু তার সন্নিকটে
… যেন রৌপ্যখচিত পাত্রে বিষ পানকারী।)
(অচিরেই আমার ব্যাধিগুলো এমন এক অসুস্থতায় রূপ নেবে
… যা আমার এবং আমার পরিচর্যাকারীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেবে।) // আল-তয়িল ছন্দ থেকে //
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الْفَصْل الرَّابِع الْكَرم والمروءة
بَين الْكَرم والمروءة فَأَما الْكَرم والمروءة فهما قرينان فِي الْفضل ومتشاكلان فِي الْعقل
وَالْفرق بَينهمَا مَعَ التشاكل من وَجْهَيْن
أَحدهمَا أَن الْكَرم مُرَاعَاة الْأَحْوَال أَن يكون على أنفعها وأفضلها
والمروءة مُرَاعَاة الْأَحْوَال أَن يكون على أحْسنهَا واجملها
وَالْوَجْه الثَّانِي أَن الْكَرم مَا تعدى نَفعه إِلَى غير فَاعله والمروءة قد تقف على فاعلها وَلَا تتعدى إِلَى غَيره
فَإِن استعملها فِي غَيره مَا زجت الْكَرم وَلم ينْفَرد بالمروءة وَصَارَ بالاجتماع أفضل وَإِن افْتَرقَا كَانَ الْكَرم أفضل لتعدي نَفعه وتعدي النَّفْع أفضل
وَلَيْسَ وَاحِد من الْكَرم والمروءة خلقا مُفردا وَلكنه يشْتَمل على أَخْلَاق يصير مجموعها كرما ومروءة
الْمُرُوءَة
رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ
(من عَامل النَّاس فَلم يظلمهم وَحَدَّثَهُمْ فَلم يكذبهم وَوَعدهمْ فَلم يخلفهم فَهُوَ مِمَّن كملت مروءته وَظَهَرت عَدَالَته وَوَجَبَت أخوته)
قَالَ بعض البلغاء 6 ب
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: উদারতা (الكرم) ও মানবিক মাহাত্ম্য (المروءة)
উদারতা ও মানবিক মাহাত্ম্যের মধ্যকার সম্পর্ক উদারতা (الكرم) ও মানবিক মাহাত্ম্য (المروءة) হলো মর্যাদার দিক থেকে একে অপরের সঙ্গী এবং বিবেকের বিচারে পরস্পর সদৃশ।
সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে পার্থক্য দুই দিক থেকে বিদ্যমান:
প্রথমত, উদারতা (الكرم) হলো পরিস্থিতির এমন পর্যবেক্ষণ যাতে তা সর্বাধিক কল্যাণকর ও সর্বোত্তম পর্যায়ে থাকে।
আর মানবিক মাহাত্ম্য (المروءة) হলো পরিস্থিতির এমন পর্যবেক্ষণ যাতে তা সর্বাধিক সুন্দর ও সুশোভন পর্যায়ে থাকে।
দ্বিতীয় দিকটি হলো, উদারতা (الكرم) হলো এমন বিষয় যার উপকারিতা সম্পাদনকারীর গণ্ডি পেরিয়ে অন্যের কাছে পৌঁছায়। পক্ষান্তরে মানবিক মাহাত্ম্য (المروءة) কখনো সম্পাদনকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং অন্যের কাছে পৌঁছায় না।
যদি কেউ একে অন্যের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে, তবে তা উদারতার (الكرم) সাথে মিশ্রিত হয়ে যায় এবং তা তখন কেবল মানবিক মাহাত্ম্য (المروءة) হিসেবে এককভাবে থাকে না; বরং উভয়ের মিলনে তা অধিকতর উত্তম হয়ে ওঠে। আর যদি তারা পৃথক থাকে, তবে উপকারিতা অন্যের কাছে পৌঁছে বলে উদারতা (الكرم)-ই অধিক উত্তম; আর উপকারিতা অন্যের কাছে পৌঁছানোই হলো শ্রেষ্ঠ।
উদারতা (الكرم) ও মানবিক মাহাত্ম্যের (المروءة) কোনটিই কোনো একক স্বভাব নয়; বরং এগুলো এমন কতগুলো চরিত্রের সমষ্টি, যা একত্রে উদারতা (الكرم) ও মানবিক মাহাত্ম্যে (المروءة) রূপান্তর লাভ করে।
মানবিক মাহাত্ম্য (المروءة)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন:
(যে ব্যক্তি মানুষের সাথে লেনদেন করার সময় তাদের প্রতি জুলুম করে না, কথা বলার সময় তাদের কাছে মিথ্যা বলে না এবং প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করে না, সে এমন এক ব্যক্তি যার মানবিক মাহাত্ম্য (المروءة) পূর্ণতা পেয়েছে, যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) প্রকাশ পেয়েছে এবং যার সাথে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন বজায় রাখা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।)
জনৈক বাকপটু ব্যক্তি বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ২৯)
من شَرَائِط الْمُرُوءَة أَن تعف عَن الْحَرَام وتتصلف عَن الآثام وتنصف فِي الحكم وتكف عَن الظُّلم وَلَا تطمع فِي مَا لَا تسْتَحقّ وَلَا تستطيل على من لَا تسْتَرق وَلَا تعين قَوِيا على ضَعِيف وَلَا تُؤثر دنيا على شرِيف وَلَا تسر مَا يعقب الْوزر وَالْإِثْم وَلَا تفعل مَا يقبح الذّكر وَالِاسْم
قَالَ سُلَيْمَان بن عبد الْملك لأبي حَازِم
أَي عباد الله أكْرم
قَالَ أولو الْمُرُوءَة وَالنَّهْي الَّذين نهوا النَّفس عَن الْهوى وَلم يَقُولُوا لَعَلَّ وَعَسَى
قَالَ أنوشروان لِابْنِهِ
মনুষ্যত্বের শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো হারাম থেকে নিবৃত্ত থাকা, পাপাচার থেকে নিজেকে পবিত্র রাখা, বিচারে ন্যায়নিষ্ঠ হওয়া, জুলুম থেকে বিরত থাকা, যার ওপর তোমার কোনো অধিকার নেই এমন কিছুর প্রতি লালসা না করা, যাকে তুমি দাসে পরিণত করোনি তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ না করা, কোনো দুর্বল (ضعيف) ব্যক্তির বিরুদ্ধে শক্তিশালীকে সহায়তা না করা, মহান কোনো বিষয়ের ওপর পার্থিব বিষয়কে প্রাধান্য না দেওয়া, এমন কিছু গোপন না করা যা গুনাহ ও পাপ বয়ে আনে এবং এমন কাজ না করা যা সুনাম ও সুখ্যাতিকে কলঙ্কিত করে।
সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক আবু হাজিমকে বললেন,
“আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কে সর্বাধিক সম্মানিত?”
তিনি বললেন, “মনুষ্যত্ব ও প্রজ্ঞার অধিকারীগণ; যারা নফসকে প্রবৃত্তি থেকে নিবৃত্ত রেখেছেন এবং ‘হয়তো’ বা ‘সম্ভবত’ (জাতীয় অলীক আশা) নিয়ে কালক্ষেপণ করেননি।”
নওশেরওয়ান তাঁর পুত্রকে বললেন:
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ৩০)
من الْكَامِل الْمُرُوءَة
قَالَ من حصن دينه وَوصل رَحمَه وَأكْرم إخوانه
وَفِي اشتقاق اسْم الْمُرُوءَة من كَلَام الْعَرَب مَا يدل على فضيلتها عِنْدهم وَعظم خطرها فِي نُفُوسهم فَفِيهِ وَجْهَان
أَحدهمَا مُشْتَقَّة من الْمُرُوءَة وَالْإِنْسَان فَكَأَنَّهَا مَأْخُوذَة من الإنسانية
وَالْوَجْه الثَّانِي أَنَّهَا مُشْتَقَّة من المريء وَهُوَ مَا استمرأه الْإِنْسَان من الطَّعَام لما فِيهِ من صَلَاح الْجَسَد فَأخذت مِنْهُ الْمُرُوءَة لما فِيهَا من صَلَاح النَّفس
انقسام الْفَضَائِل مَعَ الْكَرم والمروءة فَكل كرم ومروءة فَضِيلَة وَلَيْسَ كل فَضِيلَة كرما ومروءة بل تَنْقَسِم الْفَضَائِل مَعَ الْكَرم والمروءة إِلَى أَرْبَعَة أَقسَام
পূর্ণাঙ্গ মানবিকতা (المروءة) সম্পন্ন ব্যক্তি সম্পর্কে
তিনি বলেন: (তিনিই) যিনি নিজের দীনকে সুরক্ষিত রেখেছেন, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেছেন এবং নিজ ভাইদের সম্মানিত করেছেন।
আরবদের কথাবার্তায় ‘মানবিকতা (المروءة)’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থের মাঝে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা তাদের নিকট এর শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাদের অন্তরে এর সুউচ্চ মর্যাদার প্রমাণ দেয়। এর দুটি দিক রয়েছে:
প্রথমটি হলো, এটি পুরুষত্ব (المروءة) এবং মানুষ শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন, যেন এটি মানবতা থেকেই গৃহীত।
দ্বিতীয় দিকটি হলো, এটি ‘সুখাদ্য’ থেকে ব্যুৎপন্ন; আর তা হলো মানুষ খাবার থেকে যা স্বাচ্ছন্দ্যে ও তৃপ্তির সাথে গ্রহণ করে, যেহেতু তাতে শরীরের সুস্থতা নিহিত। তাই এ থেকেই ‘মানবিকতা (المروءة)’ শব্দটি চয়ন করা হয়েছে, কারণ এতে আত্মার সংশোধন ও সুস্থতা নিহিত রয়েছে।
মহানুভবতা ও মানবিকতার (المروءة) সাথে গুণাবলির বিভাজন সুতরাং প্রত্যেক মহানুভবতা ও মানবিকতাই (المروءة) এক একটি গুণ, কিন্তু প্রত্যেক গুণই মহানুভবতা ও মানবিকতা (المروءة) নয়। বরং মহানুভবতা ও মানবিকতার (المروءة) সাথে গুণাবলি চার ভাগে বিভক্ত।
(খণ্ড: ১)
তাসহীলুন নাযারি ওয়া তা'জীলুয যাফারি ফী আখলাকিল মুলক
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الْقسم الأول مَا يدْخل من الْفَضَائِل فِي الْكَرم والمروءة كالعفو والعفة وَالْأَمَانَة
وَالْقسم الثَّانِي مَا يدْخل فِي الْكَرم وَلَا يدْخل فِي الْمُرُوءَة كالحمد وَالرَّحْمَة وَالْحمية والبذل والمساعدة
وَالْقسم الثَّالِث مَا يدْخل فِي الْمُرُوءَة وَلَا يدْخل فِي الْكَرم كعلو الهمة وَحسن المعاشرة ومراعاة الْمنَازل والملابس 7 آ
وَالْقسم الرَّابِع مَا لَا يدْخل فِي الْكَرم وَلَا الْمُرُوءَة كالشجاعة وَالصَّبْر على الشدَّة
فَاجْتمع الْكَرم والمروءة فِي بعض الْفَضَائِل وافترقا فِي بَعْضهَا فَصَارَ الْكَرم أَعم من الْمُرُوءَة فِي بعض الْفَضَائِل والمروءة أَعم من الْكَرم فِي بعض الْفَضَائِل فَلم يتَعَيَّن عُمُوم أَحدهمَا وخصوص الآخر وَإِن تناسب مَا ميز بِهِ احدهما
প্রথম বিভাগ হলো সদ্গুণাবলির মধ্যে সেই বিষয়গুলো, যা উদারতা (الكرم) এবং মারুয়াহ (المروءة)-এর অন্তর্ভুক্ত; যেমন—ক্ষমা, চারিত্রিক পবিত্রতা এবং আমানতদারী।
দ্বিতীয় বিভাগ হলো যা উদারতার (الكرم) অন্তর্ভুক্ত হলেও মারুয়াহ (المروءة)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়; যেমন—প্রশংসা, দয়া, আত্মমর্যাদাবোধ, দান এবং সহযোগিতা।
তৃতীয় বিভাগ হলো যা মারুয়াহ (المروءة)-এর অন্তর্ভুক্ত কিন্তু উদারতার (الكرم) অন্তর্ভুক্ত নয়; যেমন—উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সুন্দর সামাজিক আচার-আচরণ এবং সামাজিক মর্যাদা ও পোশাক-পরিচ্ছদের পরিমিতি বজায় রাখা। ৭ আ
চতুর্থ বিভাগ হলো যা উদারতা (الكرم) বা মারুয়াহ (المروءة) কোনোটিরই অন্তর্ভুক্ত নয়; যেমন—বীরত্ব এবং বিপদে ধৈর্য ধারণ করা।
ফলত, কতিপয় সদ্গুণের ক্ষেত্রে উদারতা ও মারুয়াহ একত্রিত হয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা পৃথক হয়ে যায়। ফলে কতিপয় গুণের বিচারে উদারতা শব্দটি মারুয়াহ অপেক্ষা অধিক ব্যাপক (أعم) হয়ে থাকে, আবার কতিপয় গুণের বিচারে মারুয়াহ শব্দটি উদারতা অপেক্ষা অধিক ব্যাপক (أعم) হয়ে থাকে। সুতরাং কোনো একটির ব্যাপকতা (عموم) এবং অন্যটির বিশেষত্ব (خصوص) সুনিশ্চিতভাবে নির্ধারিত নয়, যদিও যে বৈশিষ্ট্য দ্বারা এদের পৃথক করা হয়েছে তাদের মধ্যে পারস্পরিক সামঞ্জস্য বিদ্যমান।