(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: -)
المنهج المسلوك في سياسة الملوك القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: المنهج المسلوك في سياسة الملوك
المؤلف: عبد الرحمن بن نصر بن عبد الله، أبو النجيب، جلال الدين العدوي الشيزري الشافعي (ت نحو 590هـ)
المحقق: علي عبد الله الموسى
الناشر: مكتبة المنار - الزرقاء
سنة النشر:
عدد الصفحات: 748
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মানহাজ আল-মাসলুক ফি সিয়াসাত আল-মুলুক বিভাগ: শরয়ি রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থা
গ্রন্থ: আল-মানহাজ আল-মাসলুক ফি সিয়াসাত আল-মুলুক
লেখক: আবদুর রহমান বিন নাসর বিন আবদুল্লাহ, আবু নাজিব, জালালুদ্দিন আল-আদাওয়ি আল-শাইযারি আল-শাফেয়ি (মৃত্যু আনুমানিক ৫৯০ হিজরি)
সম্পাদক: আলী আবদুল্লাহ আল-মুসা
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মানার - যারকা
প্রকাশকাল:
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৪৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
الْمنْهَج المسلوك فِي سياسة الْمُلُوك
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه أَثِق وَعَلِيهِ أتوكل
مُقَدّمَة الْكتاب وتراجم أبوابه الحمدلله الَّذِي عجزت الْعُقُول عَن معرفَة ذَاته وَقصرت الأفكار عَن الْإِحَاطَة بكنه صِفَاته وتحيرت الْأَبْصَار فِي بَدَائِع مصنوعاته وَشهِدت لَهُ بالوحدانية عجائب أرضه وسماواته أَحْمَده على مِنْهُ الْعِظَام وأياديه الحسان حمد معترف بسوابغ الإنعام وَأشْهد ان لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ الها لم يزل منعوتا بالجلال مَوْصُوفا
বাদশাহদের রাজনীতি বিষয়ক অনুসৃত পদ্ধতি
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি), তাঁরই ওপর আমি আস্থা রাখি এবং তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি
গ্রন্থের ভূমিকা এবং এর অধ্যায়সমূহের শিরোনাম সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর সত্তার প্রকৃত পরিচয় লাভে জ্ঞানসমূহ অক্ষম হয়েছে এবং যাঁর গুণাবলির নিগূঢ় রহস্য পরিবেষ্টন করতে চিন্তাসমূহ ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর সৃষ্টির নিপুণ কারুকার্যে দৃষ্টিসমূহ বিস্ময়াভিভূত হয়েছে এবং তাঁর পৃথিবী ও আসমানসমূহের বিস্ময়কর নিদর্শনসমূহ তাঁর একত্ববাদের সাক্ষ্য প্রদান করেছে। আমি তাঁর মহান অনুগ্রহ ও উত্তম দানসমূহের জন্য তাঁর প্রশংসা করছি—এমন এক প্রশংসাকারীর ন্যায় যে তাঁর পরিপূর্ণ নিয়ামতসমূহের স্বীকৃতি দেয়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি এমন এক ইলাহ যিনি সর্বদা মহিমায় ভূষিত ও বিশেষিত।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৫৪)
بالكمال منزها عَن الْحَرَكَة والسكون والإنتقال مقدسا عَن الْجِسْم والشبح والخيال وَأشْهد أَن سيدنَا مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله أرْسلهُ ببرهان لامع الْمنَار وَقُرْآن سَاطِع الْأَنْوَار قَاطع بإعجازه حجج الْكفَّار والطغاة المعاندين أولي الْإِنْكَار
وَصلى الله وَسلم عَلَيْهِ وعَلى آله وَأَصْحَابه الْأَبْرَار صَلَاة دائمة بالْعَشي وَالْإِبْكَار
قَالَ عبد الرَّحْمَن بن نصر بن عبد الله لما كَانَ الْمولى الْملك النَّاصِر
(তিনি) পূর্ণতায় ভূষিত এবং গতি, স্থিতি ও স্থানান্তর থেকে মুক্ত; দেহ, অবয়ব ও কল্পনা থেকে পবিত্র। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল; যাকে তিনি উজ্জ্বল আলোকবর্তিকাসম অকাট্য প্রমাণ এবং প্রদীপ্ত জ্যোতির কুরআনের সাথে প্রেরণ করেছেন, যা তার অলৌকিকত্বের দ্বারা কাফিরদের যুক্তি এবং হঠকারী ও অস্বীকারকারী অবাধ্যদের দম্ভকে চূর্ণকারী।
এবং আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পুণ্যবান পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন; এমন রহমত যা সকাল ও সন্ধ্যায় সর্বদা বহমান থাকে।
আব্দুর রহমান বিন নসর বিন আব্দুল্লাহ বলেন: যখন অধিপতি সুলতান আন-নাসির...
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৫৬)
صَلَاح الدُّنْيَا وَالدّين سُلْطَان الْإِسْلَام وَالْمُسْلِمين أَبُو المظفر
দুনিয়া ও দীনের সংশোধনকারী, ইসলাম ও মুসলিমদের সুলতান আবু আল-মুজাফফর।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৫৭)
يُوسُف بن أَيُّوب بن شادي محيي
ইউসুফ বিন আইয়ুব বিন শাদী মুহয়ী
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৫৮)
دولة أَمِير الْمُؤمنِينَ أدام الله دولته وحرس على الْإِسْلَام مهجته مِمَّن أَتَاهُ الله ملكه الْعَظِيم وهداه صراطه الْمُسْتَقيم وأورثه مَشَارِق الأَرْض وَمَغَارِبهَا وأوطأه من الْمُلُوك رقابها ومناكبها وَكَانَ مِمَّن يرى الْأَدَب وفضله ويؤثر الْعلم واهله جمعت لخزانة علومه هَذَا الْكتاب وَهُوَ يحتوي على ظرائف من الْحِكْمَة وجواهر من الْأَدَب وأصول
আমীরুল মুমিনীনের রাষ্ট্র—আল্লাহ তাঁর রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী করুন এবং ইসলামের তরে তাঁর প্রাণ রক্ষা করুন। তিনি সেই ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত যাঁকে আল্লাহ মহান রাজত্ব দান করেছেন এবং তাঁর সরল পথে পরিচালিত করেছেন। আল্লাহ তাঁকে পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমের রাজত্বের উত্তরাধিকারী করেছেন এবং রাজন্যবর্গের ঘাড় ও স্কন্ধসমূহকে তাঁর পদানত করেছেন। তিনি ছিলেন এমন একজন, যিনি শিষ্টাচার (أدب) ও এর শ্রেষ্ঠত্বকে অনুধাবন করতেন এবং জ্ঞান ও জ্ঞানের ধারকদের অগ্রাধিকার দিতেন। আমি তাঁর জ্ঞানভাণ্ডারের জন্য এই গ্রন্থটি সংকলন করেছি; এটি প্রজ্ঞার চমৎকার বিষয়াবলী, সাহিত্যের মণিমুক্তা এবং মূলনীতি (أصول) সম্বলিত।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৫৯)
فِي السياسة وتدبير الرّعية وَمَعْرِفَة أَرْكَان المملكة وقواعد التَّدْبِير وَقِسْمَة الْفَيْء وَالْغنيمَة على الأجناد وَمَا يلْزم اهل الْجَيْش من حُقُوق الْجِهَاد ونبهت فِيهِ على الشيم الْكَرِيمَة والأخلاق الذميمة وأشرت فِيهِ إِلَى فضل المشورة والحث عَلَيْهَا وَكَيْفِيَّة مصابرة الْأَعْدَاء وسياسة الْجَيْش وأودعته من الْأَمْثَال مَا يسْبق إِلَى الذِّهْن شَوَاهِد صِحَّتهَا ومعالم أدلتها مَعَ نَوَادِر من الْأَخْبَار وشواهد من الْأَشْعَار وفصلته أبوابا تَتَضَمَّن حكايات لائقة ومواعظ شافية وَحكما بَالِغَة وسلكت فِي ذَلِك كُله طَرِيق الإختصار وَمذهب الإيجاز لِئَلَّا تمجه الخواطر وترفضه الأسماع وسميته الْمنْهَج المسلوك فِي سياسة الْمُلُوك.
রাজনীতি, প্রজাসাধারণের ব্যবস্থাপনা, রাষ্ট্রের স্তম্ভসমূহ ও পরিচালনার নিয়মাবলি এবং সৈন্যদের মধ্যে ‘ফায়’ ও ‘গণিমত’ বণ্টন এবং জিহাদের বিধান অনুযায়ী সেনাবাহিনীর সদস্যদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে (এই গ্রন্থটি)। এতে আমি মহৎ চরিত্র ও নিন্দনীয় স্বভাবের বিষয়ে আলোকপাত করেছি এবং পরামর্শের শ্রেষ্ঠত্ব ও তার প্রতি উৎসাহ প্রদান, শত্রুদের মোকাবিলায় ধৈর্য ধারণের পদ্ধতি ও সামরিক নীতি সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছি। আমি এতে এমন কিছু প্রবাদ বাক্য অন্তর্ভুক্ত করেছি যার বিশুদ্ধতার (صحة) প্রমাণ ও দলিলের চিহ্নসমূহ সহজেই বোধগম্য হয়, সেই সঙ্গে কিছু দুর্লভ সংবাদ (أخبار) এবং কবিতার উদ্ধৃতিও যুক্ত করেছি। আমি গ্রন্থটিকে এমন কিছু পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি যা উপযুক্ত কাহিনী, ফলপ্রসূ উপদেশ এবং গভীর প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীবদ্ধ। এই সবকিছুর ক্ষেত্রে আমি সংক্ষেপণ ও সংক্ষিপ্তসার পদ্ধতি অবলম্বন করেছি, যাতে তা মনের কাছে ভারাক্রান্ত না হয় এবং শ্রবণশক্তি তা প্রত্যাখ্যান না করে। আমি এর নামকরণ করেছি ‘আল-মানহাজ আল-মাসলুক ফি সিয়াসাত আল-মুলুক’।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৬০)
وَكنت فِي أيداعه خزانَة علومه كمهدي التَّمْر إِلَى هجر أَو الكافور إِلَى قيصور وَلَكِنِّي قصدت بذلك إِيصَال الْحِكْمَة أَهلهَا وَأَن أضعها محلهَا وَبِاللَّهِ اعْتصمَ وَعَلِيهِ أتوكل وَهُوَ عشرُون بَابا وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق وَهُوَ حسبي وَنعم الْوَكِيل.
الْبَاب الأول فِي بَيَان افتقار الرّعية إِلَى ملك عَادل
الْبَاب الثَّانِي فِي بَيَان فضل الْأَدَب وافتقار الْملك إِلَيْهِ
তাঁর জ্ঞানের ভাণ্ডারে এটি সোপর্দ করার ক্ষেত্রে আমার অবস্থা হলো হাজর-এ খেজুর কিংবা কায়সুর-এ কর্পূর উপহার দেওয়ার মতো। কিন্তু এর মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য হলো প্রজ্ঞাকে তার উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিকট পৌঁছে দেওয়া এবং তাকে সঠিক স্থানে স্থাপন করা। আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই ওপর ভরসা করছি। এটি বিশটি অধ্যায় সম্বলিত। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা, তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রজাসাধারণের একজন ন্যায়পরায়ণ বাদশাহর মুখাপেক্ষী হওয়ার বর্ণনায়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিষ্টাচারের শ্রেষ্ঠত্ব এবং বাদশাহর তার প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়ার বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৬১)
الْبَاب الثَّالِث فِي معرفَة قَوَاعِد الْأَدَب
الْبَاب الرَّابِع فِي معرفَة أَرْكَان المملكة
الْبَاب الْخَامِس فِي معرفَة أَوْصَاف الْكَرِيمَة والحث عَلَيْهَا
الْبَاب السَّادِس فِي معرفَة الْأَوْصَاف الذميمة وَالنَّهْي عَنْهَا
الْبَاب السَّابِع فِي كَيْفيَّة رُتْبَة الْملك مَعَ اوليائه فِي حَال جُلُوسه وركوبه
الْبَاب الثَّامِن فِي بَيَان فضل المشورة والحث عَلَيْهَا
الْبَاب التَّاسِع فِي بَيَان أَوْصَاف أهل المشورة وحكايات لائقة
الْبَاب الْعَاشِر فِي معرفَة أصُول السياسة وَالتَّدْبِير
الْبَاب الْحَادِي عشر فِي الْجُلُوس لكشف الْمَظَالِم
الْبَاب الثَّانِي عشر فِي ذكر أدب صُحْبَة الْمُلُوك
الْبَاب الثَّالِث عشر فِي معرفَة مَا تكَاد بِهِ الْمُلُوك فِي غَالب الْأَحْوَال
الْبَاب الرَّابِع عشر فِيمَا يَنْبَغِي للْملك من سياسة الْجَيْش وتدبير الْجنُود
الْبَاب الْخَامِس عشر فِيمَا يلْزم أهل الْجَيْش من حُقُوق الْجِهَاد
الْبَاب السَّادِس عشر فِي مصابرة الْمُشْركين
الْبَاب السَّابِع عشر فِي معرفَة قتال قطاع الطَّرِيق واهل الرِّدَّة وَالْبَغي
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শিষ্টাচারের নিয়মাবলি পরিচিতি প্রসঙ্গে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: রাষ্ট্রের স্তম্ভসমূহ পরিচিতি প্রসঙ্গে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: উত্তম গুণাবলি এবং সেগুলোর প্রতি উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মন্দ গুণাবলি এবং সেগুলো থেকে নিষেধ করা প্রসঙ্গে।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: উপবেশন ও আরোহণ অবস্থায় হিতাকাঙ্ক্ষীদের সাথে বাদশাহর মর্যাদাগত বিন্যাস প্রসঙ্গে।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: পরামর্শের ফজিলত এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে।
নবম পরিচ্ছেদ: পরামর্শদাতাদের বৈশিষ্ট্য এবং এ সংক্রান্ত উপযুক্ত ঘটনাবলি প্রসঙ্গে।
দশম পরিচ্ছেদ: রাজনীতি ও ব্যবস্থাপনার মূলনীতি প্রসঙ্গে।
একাদশ পরিচ্ছেদ: জুলুম-অবিচার (مظالم) নিরসনের নিমিত্তে মজলিসে বসা প্রসঙ্গে।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: সম্রাটদের সাহচর্য গ্রহণের শিষ্টাচার বর্ণনা প্রসঙ্গে।
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: সাধারণত যেসব উপায়ে সম্রাটদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয় সে সম্পর্কে।
চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: সৈন্যবাহিনী পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাদশাহর জন্য যা শোভনীয় সে প্রসঙ্গে।
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: জিহাদের (جهاد) হকের ক্ষেত্রে সৈন্যবাহিনীর ওপর যা আবশ্যক।
ষোড়শ পরিচ্ছেদ: মুশরিকদের বিরুদ্ধে ধৈর্য ও দৃঢ়তা অবলম্বন প্রসঙ্গে।
সপ্তদশ পরিচ্ছেদ: ডাকাত, ধর্মত্যাগী (أهل الردة) এবং বিদ্রোহী (البغي) সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৬২)
الْبَاب الثَّامِن عشر فِي معرفَة قسْمَة الْغَنِيمَة والفيء
الْبَاب التَّاسِع عشر فِيمَا يَنْبَغِي للْملك فعله عِنْد قفوله بالجيش
الْبَاب الْعشْرُونَ فِي الْحَث على اسْتِمَاع المواعظ وقبولها من النساك
الْبَاب الخاتمة
অষ্টাদশ অধ্যায়: গনিমত (الغنيمة) ও ফায় (الفيء) বণ্টন পদ্ধতি অবগত হওয়া প্রসঙ্গে
ঊনবিংশ অধ্যায়: সৈন্যবাহিনীসহ প্রত্যাবর্তনের সময় বাদশাহর জন্য যা করা সমীচীন সেই প্রসঙ্গে
বিংশ অধ্যায়: উপদেশ শ্রবণ এবং আবিদগণের (النساك) নিকট থেকে তা গ্রহণ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে
সমাপ্তি অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৬৩)
الْبَاب الأول فِي بَيَان إفتقار الرّعية إِلَى ملك عَادل
قَالَ عبد الرَّحْمَن لما كَانَت الرّعية ضروبا مُخْتَلفَة وشعوبا مُخْتَلفَة متباينة الْأَغْرَاض والمقاصد مفترقة الْأَوْصَاف والطبائع افْتَقَرت ضَرُورَة إِلَى ملك عَادل يقوم
প্রথম অধ্যায়: প্রজাসাধারণের একজন ন্যায়পরায়ণ (عادل) বাদশাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতার বিবরণে।
আব্দুর রহমান বলেন, যেহেতু প্রজাসাধারণ নানাবিধ প্রকার ও বিভিন্ন জাতির সমষ্টি, যাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতি ভিন্নতর; তাই তারা অপরিহার্যভাবেই একজন ন্যায়পরায়ণ (عادل) বাদশাহর মুখাপেক্ষী, যিনি দায়িত্ব পালন করবেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৬৫)
أودها وَيُقِيم عمدها وَيمْنَع ضررها وَيَأْخُذ حَقّهَا ويذب عَنْهَا مَا أشقها وَمَتى خلت من سياسة تَدْبِير الْملك كَانَت كسفينة فِي الْبَحْر اكتنفتها الرِّيَاح المتواترة والأمواج المتظاهرة قد أسلمها الملاحون واستسلم أَهلهَا إِلَى الْمنون.
وَاعْلَم أَن الرّعية تستظمىء إِلَى عدل الْملك وتدبيره استظماء أهل الجدب إِلَى الْغَيْث الوابل وينتعشون بطلعته عَلَيْهِم كانتعاش النبت بِمَا يَنَالهُ من ذَلِك الْقطر بل الرّعية بِالْملكِ أعظم انتفاعا مِنْهَا.
তিনি এর বক্রতাকে সোজা করেন, এর স্তম্ভসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন, এর অনিষ্ট প্রতিহত করেন, এর প্রাপ্য হক গ্রহণ করেন এবং যা কিছু একে কষ্ট দেয় তা দূর করেন। আর যখনই এটি রাজকীয় ব্যবস্থাপনার রাজনীতি থেকে শূন্য হয়, তখন এটি সমুদ্রের সেই নৌকার ন্যায় হয়ে পড়ে যাকে নিরবচ্ছিন্ন (متواترة) বায়ু এবং একের পর এক ধেয়ে আসা তরঙ্গমালা চারপাশ থেকে ঘিরে ধরেছে, নাবিকরা যাকে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়েছে এবং তার আরোহীরা মৃত্যুর নিকট আত্মসমর্পণ করেছে।
জেনে রেখো যে, প্রজাসাধারণ বাদশাহর ইনসাফ ও সুশাসনের প্রতি ঠিক তেমনি তৃষ্ণার্ত থাকে যেমন খরাকবলিত মানুষ মুষলধারে বৃষ্টির জন্য তৃষ্ণার্ত থাকে। তাঁর উপস্থিতিতে তারা এমনভাবে সজীবতা লাভ করে যেমন উদ্ভিদ বৃষ্টির পরশ পেয়ে সজীব হয়ে ওঠে; বরং বাদশাহর মাধ্যমে প্রজাসাধারণের উপকার প্রাপ্তি তার চেয়েও বহুগুণ বেশি।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৬৬)
بالغيث لِأَن للغيث وقتا مَعْلُوما وسياسة الْملك دائمة لَا حد لَهَا وَلَا وَقت
والرعية فِي تبَاين أوصافها كنبت الأَرْض فَمِنْهُ الطّيب المثمر وَمِنْه الْخَبيث الْقَاتِل فَمن كَانَ مِنْهُ طيبا فَإِنَّهُ لَا تزكي أُصُوله فِي أرضه وَلَا تنمى فروعه إِذا جاوره الْخَبيث فِيهَا لَان الْخَبيث يسْبق إِلَى مَا دونه فِي الْقَرار فَيَشْرَبهَا ويكثف فروعه فِي الفضاء فَلَا يصل إِلَيْهِ حَظه من النسيم فَإِذا أصلحت الأَرْض فأسدها وَأخرج مَا فِيهَا من النبت الْخَبيث انْتَعش نبتها الطّيب وقوى أَصله ونما فَرعه وطاب ثمره وَكَذَلِكَ الرّعية لما جاور الْخَبيث طيبها افْتَقَرت ضَرُورَة إِلَى ملك يصلح فاسدها ويقمع صائلها وَيكسر شَوْكَة أهل التَّعَدِّي عَلَيْهَا لتنتعش أحوالها وتزكي أموالها وَيكثر خَيرهَا وَتصْلح
বৃষ্টির মাধ্যমে; কারণ বৃষ্টির একটি সুনির্দিষ্ট সময় রয়েছে, পক্ষান্তরে রাজকীয় শাসনব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন, যার কোনো পরিসীমা বা নির্দিষ্ট সময়কাল নেই।
প্রজাসাধারণ তাদের চারিত্রিক বৈচিত্র্যের দিক থেকে ভূমির উদ্ভিদের সদৃশ; তাদের মধ্যে কিছু হলো উৎকৃষ্ট (طيب) ও ফলদায়ক, আবার কিছু হলো নিকৃষ্ট (خبيث) ও প্রাণঘাতী। সুতরাং যারা উৎকৃষ্ট (طيب), তাদের মূলসমূহ নিজ ভূমিতে বিকশিত (تزكي) হয় না এবং তাদের শাখা-প্রশাখাও বৃদ্ধি পায় না যখন তাদের সন্নিকটে নিকৃষ্টের (خبيث) অবস্থান থাকে। কারণ নিকৃষ্ট (خبيث) উদ্ভিদটি গভীর স্তরের পানির দিকে দ্রুত ধাবিত হয়ে তা শোষণ করে নেয় এবং শূন্যে নিজের ডালপালা ঘন করে বিস্তৃত করে, ফলে উৎকৃষ্টটি নির্মল বাতাসের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়। অতঃপর যখন ভূমির সংস্কার করা হয় এবং এর মধ্য থেকে নিকৃষ্ট (خبيث) উদ্ভিদসমূহ উপড়ে ফেলে বিচ্যুতি (فاسد) সংশোধন করা হয়, তখন উৎকৃষ্ট (طيب) উদ্ভিদসমূহ সজীবতা ফিরে পায়, তার শিকড় শক্তিশালী হয়, শাখা পল্লবিত হয় এবং ফল সুমিষ্ট হয়। একইভাবে প্রজাসাধারণের মধ্যে যখন মন্দের অবস্থান ভালোর সন্নিকটে হয়, তখন অনিবার্যভাবে এমন একজন শাসকের প্রয়োজন পড়ে যিনি তাদের কলুষতা (فاسد) সংশোধন করবেন, উদ্ধতকে দমন করবেন এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের প্রতাপ চূর্ণ করবেন; যাতে তাদের অবস্থার উন্নতি ঘটে, তাদের সম্পদ পরিশুদ্ধ (تزكي) হয় এবং তাদের কল্যাণ বৃদ্ধি পায় ও অবস্থা সংশোধিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৬৭)
أمورها وَقد قيل الرّعية بِلَا وَال كالأنعام بِلَا رَاع فَانْظُر سَائِمَة الانعام فِي مراعيها إِذا خلت من راعيها مَا أَشد اختلال حَالهَا وَاخْتِلَاف افعالها بل الرّعية أَشد اختلالا وَأكْثر اخْتِلَافا فَلَا بُد من زعيم يمنعهُم من الْمَظَالِم ويفضل بَينهم فِي التَّنَازُع والتخاصم ولولاه لكانوا فوضى مهملين وهمجا مضاعين
قَالَ الأفوه الأودي
...তার বিষয়াবলি। আর বলা হয়ে থাকে যে, অভিভাবকহীন প্রজাসাধারণ রাখালবিহীন গবাদিপশুর ন্যায়। সুতরাং চারণভূমিতে বিচরণকারী গবাদিপশুর প্রতি লক্ষ্য করুন যখন তারা রাখালশূন্য থাকে; তাদের অবস্থার বিশৃঙ্খলা এবং কর্মকাণ্ডের অনৈক্য কতই না প্রকট হয়! বরং প্রজাসাধারণের বিশৃঙ্খলা আরও ভয়াবহ এবং তাদের অনৈক্য আরও তীব্র। অতএব এমন একজন নেতার উপস্থিতি অপরিহার্য যিনি তাদেরকে জুলুম-অবিচার থেকে প্রতিরোধ করবেন এবং তাদের পারস্পরিক বিরোধ ও বিবাদের মীমাংসা করবেন। যদি তিনি না থাকতেন, তবে তারা বিশৃঙ্খল, লক্ষ্যহীন এবং এক ধ্বংসোন্মুখ জনসমষ্টিতে পরিণত হতো।
আফওয়াহ আল-আওদী বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৬৮)
(لَا يصلح النَّاس فوضى لَا سراة لَهُم
… وَلَا سراة إِذا جهالهم سادوا)
(وَالْبَيْت لَا يبتنى إِلَّا باعمدة
… وَلَا عماد إِذا لم ترس أوتاد)
(فَإِن تجمع أوتاد واعمدة
… وَسَاكن بلغُوا الْأَمر الَّذِي رادوا)
(মানুষ বিশৃঙ্খলার মধ্যে সুসংহত থাকতে পারে না যদি তাদের কোনো নেতৃত্ব না থাকে
… আর কোনো নেতৃত্বের অস্তিত্ব থাকে না যখন তাদের মূর্খরা আধিপত্য বিস্তার করে)
(কোনো গৃহ স্তম্ভ ব্যতীত নির্মিত হতে পারে না
… আর স্তম্ভের কোনো স্থায়িত্ব থাকে না যদি তার খুঁটিগুলো মজবুতভাবে প্রোথিত না হয়)
(অতঃপর যদি খুঁটি, স্তম্ভ এবং অধিবাসী—সবকিছুর সমন্বয় ঘটে
… তবেই তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়)
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৬৯)
فِي فضل الْأَدَب وافتقار الْملك إِلَيْهِ
قَالَ عبد الرَّحْمَن لما افْتَقَرت الرّعية فِي أمورها إِلَى تَدْبِير الْملك وَكَانَ الْأَدَب مَجْمُوع خلال حميدة وخصال جميلَة افْتقر إِلَيْهِ الْملك ضَرُورَة لتصدر عَنهُ تصاريف التَّدْبِير فِي الرّعية على قانون الْعدْل الَّذِي بِهِ دوَام المملكة فقد قيل من حسنت سياسته دَامَت رياسته
وَاعْلَم أَن الْأَدَب أحد الْأَوْصَاف الْأَرْبَعَة الَّتِي يشْتَرط قِيَامهَا بِالْملكِ فِي تَدْبِير المملكة على مَا سنوضحه فَإِذا عرى الْملك 170
عَنهُ اختلت سياسة وتدبيره وَقد قيل الْأَدَب صُورَة الْعقل فَمن لَا أدب لَهُ لَا عقل لَهُ وَمن لَا عقل لَهُ لَا سياسة لَهُ وَمن لَا سياسة لَا ملك لَهُ
وَقَالَ بَعضهم قَرَأت فِي التورة إِن أحسن الْحِلْية الْحسب وَلَا حسب لمن لَا مُرُوءَة لَهُ وَمن لَا مُرُوءَة لمن لَا عقل لَهُ وَلَا عقل لمن لَا أدب لَهُ.
وَقَالَ بعض الْحُكَمَاء الْأَدَب عصمَة الْمُلُوك لِأَنَّهُ يمنعهُم من الظُّلم ويردهم إِلَى الْحلم ويصدهم عَن الأذية ويعطفهم على الرّعية فَمن حَقهم أَن يعرفوا فَضله ويعظموا أَهله.
শিষ্টাচারের শ্রেষ্ঠত্ব এবং বাদশাহর এর প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া প্রসঙ্গে
আব্দুর রহমান বলেন, যেহেতু প্রজাসাধারণ তাদের বিষয়াবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে বাদশাহর সুপরিচালনার মুখাপেক্ষী, আর শিষ্টাচার হলো প্রশংসনীয় স্বভাব ও সুন্দর বৈশিষ্ট্যের সমষ্টি, তাই প্রজাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের নিয়ম অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনার জন্য বাদশাহর শিষ্টাচার অবলম্বন করা অপরিহার্য; যার মাধ্যমে রাজত্ব স্থায়ী হয়। কেননা বলা হয়ে থাকে: যার শাসননীতি সুন্দর হয়, তার নেতৃত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়।
জেনে রাখুন যে, শিষ্টাচার হলো সেই চারটি গুণের অন্যতম, যা রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে বাদশাহর মধ্যে বিদ্যমান থাকা শর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে—যেমনটি আমরা অচিরেই স্পষ্ট করব। সুতরাং বাদশাহ যদি ১৭০
তা থেকে রিক্ত হন, তবে তার শাসননীতি ও ব্যবস্থাপনা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বলা হয়ে থাকে, শিষ্টাচার হলো বিবেকের প্রতিচ্ছবি; সুতরাং যার শিষ্টাচার নেই তার কোনো বিবেক নেই, যার বিবেক নেই তার কোনো শাসননীতি নেই, আর যার শাসননীতি নেই তার কোনো রাজত্ব নেই।
কেউ কেউ বলেছেন, আমি তাওরাতে পড়েছি যে, সর্বোত্তম অলঙ্কার হলো আভিজাত্য; আর যার পৌরুষত্ব নেই তার কোনো আভিজাত্য নেই, যার বিবেক নেই তার কোনো পৌরুষত্ব নেই, আর যার শিষ্টাচার নেই তার কোনো বিবেক নেই।
জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন, শিষ্টাচার হলো বাদশাহদের রক্ষাকবচ; কারণ এটি তাদের জুলুম থেকে বিরত রাখে, সহনশীলতার দিকে ফিরিয়ে আনে, অনিষ্ট সাধন থেকে বাধা দেয় এবং প্রজাদের প্রতি দয়াশীল করে তোলে। সুতরাং বাদশাহদের কর্তব্য হলো এর মর্যাদা অনুধাবন করা এবং শিষ্টাচারসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্মান করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৭০)
عَنهُ اختلت سياسته وتدبيره وَقد قيل الْأَدَب صُورَة الْعقل فَمن لَا أدب لَهُ لَا عقل لَهُ وَمن لَا عقل لَهُ لَا سياسة لَهُ وَمن لَا سياسة لَا ملك لَهُ
وَقَالَ بَعضهم قَرَأت فِي التَّوْرَاة إِن أحسن الْحِلْية الْحسب وَلَا حسب لمن لَا مُرُوءَة لَهُ وَلَا مُرُوءَة لمن لَا عقل لَهُ وَلَا عقل لمن لَا أدب لَهُ.
وَقَالَ بعض الْحُكَمَاء الْأَدَب عصمَة الْمُلُوك لِأَنَّهُ يمنعهُم من الظُّلم ويردهم إِلَى الْحلم ويصدهم عَن الأذية ويعطفهم على الرّعية فَمن حَقهم أَن يعرفوا فَضله ويعظموا أَهله.
...তার কারণে তার প্রশাসনিক নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। বলা হয়ে থাকে, শিষ্টাচার (أدب) হলো বিবেকের প্রতিচ্ছবি; সুতরাং যার শিষ্টাচার (أدب) নেই তার বিবেক নেই, যার বিবেক নেই তার প্রশাসনিক দক্ষতা নেই এবং যার প্রশাসনিক দক্ষতা নেই তার কোনো রাজত্ব নেই।
তাদের কেউ কেউ বলেছেন, আমি তাওরাতে পড়েছি যে, সর্বোত্তম অলঙ্কার হলো আভিজাত্য; তবে যার পৌরুষ বা নৈতিকতা (مروءة) নেই তার কোনো আভিজাত্য নেই, যার বিবেক নেই তার পৌরুষ বা নৈতিকতা (مروءة) নেই এবং যার শিষ্টাচার (أدب) নেই তার বিবেক নেই।
জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন, শিষ্টাচার (أدب) হলো রাজন্যবর্গের রক্ষাকবচ; কারণ তা তাদেরকে জুলুম থেকে বিরত রাখে, সহিষ্ণুতার দিকে ফিরিয়ে আনে, কষ্ট দেওয়া থেকে নিবৃত্ত রাখে এবং প্রজাসাধারণের প্রতি সদয় করে। সুতরাং তাদের কর্তব্য হলো শিষ্টাচারের মর্যাদা অনুধাবন করা এবং এর ধারক-বাহকদের সম্মান করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৭১)
وَقَالَ بعض الْعلمَاء لَيْسَ للمرء أَن يتبجح بِحَالَة جليلة نالها بِغَيْر عقل أَو منزلَة رفيعة نالها بِغَيْر أدب فَإِن الْجَهْل ينزله مِنْهَا ويزيله عَنْهَا ويحطه إِلَى رتبته وَيَردهُ إِلَى قِيمَته بعد أَن تظهر عيوبه وتكثر ذنُوبه وَيصير مادحه هاجيا ووليه معاديا.
وَكَانَ يُقَال عقل الأديب أبدا فِي إرشاد ورأيه أبدا فِي سداد فَقَوله سديد وَفعله حميد.
وَقَالَ رجل من قيس لسَيِّد من قُرَيْش يَا أَخا قُرَيْش أطلب الْأَدَب
কিছু আলিম বলেছেন, কোনো ব্যক্তির জন্য এমন কোনো মহৎ অবস্থা নিয়ে গর্ব করা সমীচীন নয় যা সে বুদ্ধি ছাড়াই অর্জন করেছে, অথবা এমন কোনো উচ্চ মর্যাদা যা সে শিষ্টাচার ব্যতীত লাভ করেছে। কেননা মূর্খতা তাকে সেই মর্যাদা থেকে নামিয়ে দেয়, তাকে তা থেকে বিচ্যুত করে এবং তাকে তার প্রকৃত স্তরে অবনমিত করে। তার দোষত্রুটি প্রকাশ পাওয়ার এবং পাপাচার বৃদ্ধি পাওয়ার পর তাকে তার প্রকৃত মূল্যে ফিরিয়ে নেয়; ফলে তার প্রশংসাকারী ব্যক্তি নিন্দুক হয়ে যায় এবং তার বন্ধু শত্রুতে পরিণত হয়।
বলা হতো, শিষ্টাচারসম্পন্ন ব্যক্তির বুদ্ধি সর্বদা সঠিক নির্দেশনায় থাকে এবং তার মতামত সর্বদা সঠিক পথে পরিচালিত হয়; ফলে তার কথা হয় সুদৃঢ় এবং তার কাজ হয় প্রশংসনীয়।
কায়স গোত্রের এক ব্যক্তি কুরাইশ বংশীয় এক নেতাকে বললেন, হে কুরাইশ ভ্রাতা! আপনি শিষ্টাচার অন্বেষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৭২)
فَإِنَّهُ زِيَادَة فِي الْعقل وَكَمَال فِي المنصب وَدَلِيل على الْمُرُوءَة وَصَاحب فِي الغربة وصلَة فِي الْمجَالِس وَمَا أحسن قَول الَّذِي يَقُول
(أدب الْمَرْء كلحم وَدم
… مَا حواه أحد إِلَّا صلح
(لَو وزنا رجلا ذَا أدب
… بألوف من ذَوي الْجَهْل رجح
وَكَانَ يُقَال الْأَدَب مَال واستعماله كَمَال وَأوصى ملك وَلَده فَقَالَ يَا بني خصلتان يسود بهما الْمَرْء وَإِن كَانَ غير ذِي مَال الْعلم وَالْأَدب يَا بني جَالس الكبراء وناطق الْعلمَاء فَإِن مؤاخاتهم كَرِيمَة ومجالستهم غنيمَة وصحبتهم سليمَة
وَأوصى رجل وَلَده فَقَالَ يَا بني عَلَيْك بالأدب فَإنَّك إِن كنت غَنِيا
কেননা তা বুদ্ধিবৃত্তির (العقل) প্রবৃদ্ধি, পদমর্যাদার (المنصب) পূর্ণতা, পৌরুষের (المروءة) প্রমাণ, প্রবাসের (الغربة) সঙ্গী এবং মজলিসসমূহের (المجالس) যোগসূত্র। আর সেই ব্যক্তির উক্তি কতই না চমৎকার, যিনি বলেন:
(ব্যক্তির শিষ্টাচার (أدب) তার রক্ত ও মাংসের ন্যায়
… যা কেউ অর্জন করলে সে যোগ্য (صلح) হয়ে ওঠে।
(যদি আমরা একজন শিষ্টাচারসম্পন্ন (أدب) ব্যক্তিকে ওজন করি
… তবে সে হাজারো মূর্খদের (الجهل) চেয়েও শ্রেষ্ঠ (رجح) প্রমাণিত হবে।
বলা হতো: শিষ্টাচার (الأدب) হলো সম্পদ এবং এর ব্যবহার হলো পূর্ণতা (كمال)। জনৈক বাদশাহ তার সন্তানকে অসিয়ত করে বলেন: হে বৎস! এমন দুটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার দ্বারা ব্যক্তি নেতৃত্ব (يسود) লাভ করে, যদিও সে সম্পদহীন হয়; তা হলো জ্ঞান (العلم) ও শিষ্টাচার (الأدب)। হে বৎস! বড়দের (الكبراء) সাথে ওঠাবসা করো এবং আলেমদের (العلماء) সাথে কথোপকথন করো। কেননা তাদের সাথে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করা মহিমান্বিত, তাদের সাথে উপবেশন করা গনিমত (غنيمة) এবং তাদের সাহচর্য নিরাপদ।
জনৈক ব্যক্তি তার সন্তানকে অসিয়ত করে বললেন: হে বৎস! তুমি শিষ্টাচার (الأدب) আঁকড়ে ধরো; কারণ তুমি যদি ধনী হও...
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৭৩)
كنت شرِيف قَوْمك وَإِن كنت مكتفيا كنت سري قَوْمك وَإِن كنت مُحْتَاجا لم يسْتَغْن عَنْك ويحتاجك رُؤَسَاء الْبِلَاد وأشرافهم
وَقيل من قعد بِهِ نسبه نَهَضَ بِهِ أدبه وَقَالَ بزر جمهر مَا أورثت الْآبَاء أبناءها أفضل من الْأَدَب لِأَنَّهَا إِذا أورثتها الْأَدَب اكْتسبت بِهِ الْأَمْوَال ونالت بِهِ أَعلَى الْمَرَاتِب وَإِذا أورثتها الْأَمْوَال أضاعتها وَبقيت عدما من الْأَدَب وَكَانَ يُقَال الْأَدَب خير مِيرَاث وَحسن
আপনি আপনার সম্প্রদায়ের সম্মানিত (شريف) ব্যক্তি ছিলেন; আর যদি আপনি সচ্ছল হতেন তবে আপনি আপনার সম্প্রদায়ের মহৎ (سري) ব্যক্তি হতেন। আর আপনি অভাবী হলেও কেউ আপনার থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারত না এবং দেশের নেতৃবৃন্দ ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ আপনার মুখাপেক্ষী হতো।
বলা হয়ে থাকে, যার বংশমর্যাদা (نسب) তাকে পিছিয়ে দেয়, তার শিষ্টাচার (أدب) তাকে অগ্রসর করে। বুযুরজমিহির বলেছেন, পিতারা সন্তানদের জন্য শিষ্টাচারের (أدب) চেয়ে শ্রেষ্ঠ কিছু রেখে যাননি; কারণ যখন তারা সন্তানদের জন্য শিষ্টাচার (أدب) রেখে যান, তখন সন্তানরা এর মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করে এবং সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করে। আর যদি তারা সন্তানদের জন্য সম্পদ রেখে যায়, তবে তারা তা অপচয় করে ফেলে এবং শিষ্টাচার (أدب) বিবর্জিত অবস্থায় থেকে যায়। বলা হতো, শিষ্টাচার (أدب) হলো সর্বোত্তম উত্তরাধিকার (ميراث) ও সৌন্দর্য।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৭৪)
الْخلق خير قرين والتوفيق خير قَائِد وَالِاجْتِهَاد أربح تِجَارَة وَلَا مَال أَعُود من الْعقل وَلَا عقل أوثق من المشورة وَلَا فقر أَشد من الْجَهْل
وَقيل الْأَدَب ثوب جَدِيد لَا يبْلى / وَالْعلم كنز عَظِيم لَا يفنى وَقيل من أدب ابْنه أرْغم عدوه وَقيل ثَلَاثَة لَيْسَ مَعَهُنَّ غربَة حسن الْأَدَب ومجانبة الريب وكف الأذية وَقَالَ نصر بن سيار كل شَيْء
চরিত্র সর্বোত্তম সঙ্গী, আল্লাহর তাওফিক সর্বোত্তম পথপ্রদর্শক এবং পরিশ্রম সর্বাধিক লাভজনক ব্যবসা। বুদ্ধিবৃত্তির চেয়ে অধিক ফলদায়ক কোনো সম্পদ নেই, পরামর্শের চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য কোনো প্রজ্ঞা নেই এবং অজ্ঞতার চেয়ে চরম কোনো দারিদ্র্য নেই।
বলা হয়ে থাকে, শিষ্টাচার হলো এক নতুন পোশাক যা কখনও জীর্ণ হয় না এবং জ্ঞান হলো এক সুমহান ভাণ্ডার যা কখনও নিঃশেষ হয় না। আরও বলা হয়, যে ব্যক্তি তার সন্তানকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়, সে তার শত্রুকে লাঞ্ছিত করে। বলা হয়, তিনটি বিষয় এমন রয়েছে যার উপস্থিতিতে প্রবাসেও কেউ পরবাসী বা নিঃসঙ্গতা বোধ করে না: সুন্দর শিষ্টাচার, সন্দেহজনক বিষয় পরিহার করা এবং কষ্ট প্রদান থেকে বিরত থাকা। নাসর ইবনে সাইয়্যার বলেন, প্রতিটি বস্তু...
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৭৫)
يَبْدُو صَغِيرا ثمَّ يكبر إِلَّا الْمُصِيبَة فَإِنَّهَا تبدو كَبِيرَة ثمَّ تصغر وكل شَيْء يرخص إِذا كثر إِلَّا الْأَدَب فَإِنَّهُ إِذا كثر غلا وَاعْلَم أَن فضل الْأَدَب أشهر من أَن يسطر وَفِي النَّفس الأبية باعث عَلَيْهِ إِذا كَانَت تأبى ضِدّه وَتكره مُخَالفَته وَله قَوَاعِد تبتنى عَلَيْهِ أَرْكَانه سنذكرها إِن شَاءَ الله تَعَالَى
সবকিছুই প্রথমে ছোট হিসেবে প্রকাশ পায় এবং পরে বৃদ্ধি পায়, কেবল বিপদ ব্যতীত; কারণ তা বড় আকারে শুরু হয় এবং পরবর্তীতে ক্ষুদ্র হয়ে আসে। প্রতিটি জিনিসের প্রাচুর্য ঘটলে তার মূল্য হ্রাস পায়, কিন্তু শিষ্টাচারের বিষয়টি ভিন্ন; কারণ এর প্রাচুর্য বৃদ্ধি পেলে তার মূল্যও বৃদ্ধি পায়। জেনে রাখুন যে, শিষ্টাচারের শ্রেষ্ঠত্ব এতই সুপ্রসিদ্ধ যে তা লিখে বর্ণনা করার অপেক্ষা রাখে না। আর আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির অন্তরে এর প্রতি এক প্রকার প্রেরণা বিদ্যমান থাকে, যখন সে এর পরিপন্থী বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করে এবং এর বিরুদ্ধাচরণকে ঘৃণা করে। এর কিছু মূলনীতি রয়েছে যার ওপর এর স্তম্ভসমূহ প্রতিষ্ঠিত; মহান আল্লাহ চাইলে আমরা অচিরেই তা উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৭৬)
الْبَاب الثَّالِث فِي معرفَة قَوَاعِد الْأَدَب
لما كَانَ الْأَدَب وَصفا مَشْرُوطًا للْملك فِي تَدْبِير المملكة افْتقر فِي ذَلِك إِلَى معرفَة قَوَاعِده الَّتِي لَا يتَحَقَّق بِدُونِهَا وَلَا يبتنى إِلَّا عَلَيْهَا وهما قاعدتان لَا يسع الْملك تَركهمَا إِذْ هما أصلان فِي السياسة وَالتَّدْبِير
الْقَاعِدَة الأولى الْعلم إعلم أَن الْعلم بِأَحْكَام الدّين وَضبط أصُول الشَّرِيعَة وَاجِب على كل مُسلم وعَلى الْمُلُوك أَشد وجوبا لافتقارهم إِلَى إِقَامَة الْحُدُود
তৃতীয় অধ্যায়: শিষ্টাচারের নীতিমালা (قواعد) অনুধাবন প্রসঙ্গে
যেহেতু রাজত্ব পরিচালনার ক্ষেত্রে শিষ্টাচার (أدب) একজন শাসকের জন্য একটি শর্তযুক্ত গুণ, তাই তিনি এর নীতিমালা (قواعد) জানার মুখাপেক্ষী, যা ব্যতিরেকে এটি বাস্তবায়িত হয় না এবং যার ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত। এগুলি হলো দুটি মূল নীতি (قاعدتان), যা পরিহার করা শাসকের পক্ষে সম্ভব নয়; যেহেতু এই দুটি রাজনীতি ও শাসন পরিচালনার মূল ভিত্তি (أصلان)।
প্রথম নীতি (القاعدة الأولى): জ্ঞান (العلم) জেনে রাখুন যে, দ্বীনের বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং শরীয়তের (الشريعة) মূলনীতিসমূহ (أصول) আয়ত্ত করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর আবশ্যক (واجب); আর শাসকদের জন্য এটি আরও অধিক আবশ্যক (واجب), কারণ নির্ধারিত দণ্ডবিধি (الحدود) কার্যকর করার ক্ষেত্রে তারা এর মুখাপেক্ষী।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৭৭)
الشَّرْعِيَّة بِمَا يسْتَحق كل جَان مِنْهُم على الْوَجْه الشَّرْعِيّ وَأخذ الْحُقُوق من وجوهها وصرفها فِي أَرْبَابهَا وجهاتها ليتَحَقَّق مِنْهُم الْعدْل الَّذِي قَامَت بِهِ السَّمَوَات وَالْأَرْض وَمَتى كَانَ الْملك جَاهِلا كَانَ تَدْبيره هدما لقواعد
শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে, যাতে তাদের মধ্য হতে প্রত্যেক অপরাধী শরীয়তসম্মত পন্থায় তার প্রাপ্য শাস্তি লাভ করে এবং যথাযথ উৎস থেকে অধিকারসমূহ আদায় করে তা এর হকদার ও সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করা হয়; যাতে তাদের মাধ্যমে সেই ন্যায়বিচার (عدل) বাস্তবায়িত হয় যার ওপর আসমান ও জমিন দণ্ডায়মান। আর যখনই কোনো শাসক অজ্ঞ হবে, তখন তার শাসন পরিচালনা হবে মূলনীতিসমূহের (قواعد) ধ্বংসসাধনের শামিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৭৮)
المملكة قَالَ عمر بن عبد الْعَزِيز رضي الله عنه من عمل بِغَيْر علم كَانَ مَا يهدم أَكثر مِمَّا يَبْنِي
قَالَ عبد الرَّحْمَن وَلَا محَالة أَن الْملك إِذا كَانَ خَالِيا من الْعلم ركب هَوَاهُ وتخبط مَا يَلِيهِ إِذْ لَا تحجبه فكرة سليمَة وَلَا تَمنعهُ حجَّة صَحِيحَة وَيكون كالفيل الهائج فِي الْبَلَد القفر لَا يمر بِشَيْء إِلَّا تخبطه وَإِذا كَانَ الْملك عَالما كَانَ لَهُ من علمه وازع يقمع هَوَاهُ ويميل بِهِ إِلَى سنَن الْحق كالفيل الهائج إِذا خرج من الْبَلَد القفر إِلَى الأنيس ذللته السلسلة وقهره الكلوب حَتَّى يحمل عَلَيْهِ الأثقال
রাজত্ব প্রসঙ্গে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জ্ঞান ব্যতীত আমল করে, সে সংশোধনের চেয়ে নষ্টই বেশি করে।"
আব্দুর রহমান বলেন, "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, শাসক যদি জ্ঞানশূন্য হন, তবে তিনি প্রবৃত্তির বশবর্তী হন এবং তার অধীনস্থদের বিষয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। কেননা কোনো সুস্থ চিন্তা তাকে বাধা প্রদান করে না এবং কোনো সহিহ (صحيحة) দলিল তাকে নিবৃত্ত করতে পারে না। তখন তিনি জনমানবহীন প্রান্তরে এক উন্মত্ত হাতির ন্যায় হয়ে পড়েন, যার সামনে যা আসে তাকেই সে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়। পক্ষান্তরে শাসক যদি আলেম (জ্ঞানী) হন, তবে তাঁর ইলম (জ্ঞান) তাঁর জন্য এমন এক নিয়ন্ত্রক হয় যা তাঁর প্রবৃত্তিকে দমন করে এবং তাঁকে সত্যের পথে পরিচালিত করে। এটি সেই উন্মত্ত হাতির মতো, যা যখন নির্জন প্রান্তর থেকে লোকালয়ে আসে, তখন শিকল তাকে অনুগত করে এবং অঙ্কুশ তাকে বশ করে ফেলে, শেষ পর্যন্ত সে ভারী বোঝা বহনের উপযোগী হয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৭৯)
وَقَالَ بعض الْحُكَمَاء الْملك إِذا لم يوطده علم كَانَ مذلة اجلة وَالْعلم إِذا لم يُؤَيّدهُ عقل كَانَ مضلة عاجلة
وَكَانَ يُقَال إِذا أَرَادَ الله بِالنَّاسِ خيرا جعل الْعلم فِي مُلُوكهمْ وَالْملك فِي عُلَمَائهمْ وَقَالَ بعض الْحُكَمَاء الْعلم عصمَة الْمُلُوك لِأَنَّهُ يمنعهُم من الظُّلم ويردهم إِلَى الْحلم ويصدهم عَن الأذية ويعطفهم على الرّعية
وَقَالَ ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما إِن سُلَيْمَان بن دَاوُد عليهما السلام خَيره الله تَعَالَى بَين الْعلم وَالْملك فَاخْتَارَ الْعلم فَأعْطَاهُ الله
জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন, রাজত্ব যদি জ্ঞান দ্বারা সুদৃঢ় করা না হয় তবে তা পরিণামে লাঞ্ছনার কারণ হয়; আর জ্ঞান যদি বিবেক দ্বারা সমর্থিত না হয় তবে তা তাৎক্ষণিক পথভ্রষ্টতার কারণ হয়।
বলা হয়ে থাকে, আল্লাহ যখন মানুষের কল্যাণ চান, তখন তিনি তাদের রাজন্যবর্গের মধ্যে জ্ঞান এবং তাদের আলেমদের মধ্যে রাজত্ব দান করেন। জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন, জ্ঞান হলো রাজন্যবর্গের জন্য রক্ষাকবচ; কেননা তা তাঁদেরকে জুলুম থেকে বিরত রাখে, সহিষ্ণুতার দিকে ফিরিয়ে আনে, কাউকে কষ্ট দেওয়া থেকে প্রতিহত করে এবং প্রজাসাধারণের প্রতি দয়াশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে।
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তাআলা সুলাইমান ইবনে দাউদ (আলাইহিমাস সালাম)-কে জ্ঞান ও রাজত্বের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। তিনি জ্ঞানকেই বেছে নিয়েছিলেন, ফলে আল্লাহ তাঁকে (জ্ঞানের পাশাপাশি) রাজত্বও দান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৮০)
تَعَالَى الْعلم وَالْملك جَمِيعًا
وَأوصى ملك من مُلُوك الْيمن ولي عَهده فَقَالَ اتَّقِ من فَوْقك يتقيك من تَحْتك وكما تحب أَن يفعل بك فافعل برعيتك وَانْظُر كل حسن فافعله واستكثر من مثله وكل قَبِيح فارفضه وبالنصحاء يستبين لَك ذَلِك وَخَيرهمْ أهل الدّين وَأهل النّظر فِي العواقب واستكثر من الْعلم فَإِنَّهُ أساس التَّدْبِير وَمَا لَيْسَ لَهُ أساس فمهدوم وَإِنَّمَا رَأَيْت الْمُلُوك تولي من ثَلَاثَة أُمُور فاحسم عَنْك وَاحِدًا وَأحكم اثْنَيْنِ وَهِي اتِّبَاع الْهوى وتولية من يسْتَحق وكشف أُمُور الرّعية فَإنَّك إِن ملكت هَوَاك
জ্ঞান ও রাজত্ব উভয়ই সুউচ্চ।
ইয়েমেনের রাজন্যবর্গের মধ্য থেকে একজন রাজা তাঁর উত্তরাধিকারীকে ওসিয়ত প্রদান করে বললেন: তুমি তোমার ঊর্ধ্বে যিনি আছেন তাঁর ব্যাপারে তাকওয়া অবলম্বন করো, তবেই তোমার অধীনস্থরা তোমার প্রতি অনুগত থাকবে। তুমি নিজের জন্য যা পছন্দ করো, তোমার প্রজাদের প্রতিও ঠিক তেমন আচরণ করো। প্রতিটি উত্তম বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখো এবং তা সম্পাদন করো ও তার প্রসার ঘটাও; আর প্রতিটি মন্দ বিষয় বর্জন করো। একনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের মাধ্যমেই তোমার কাছে সঠিক পথ স্পষ্ট হবে, আর তাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন দ্বীনদার এবং পরিণামদর্শী ব্যক্তিবর্গ। তুমি অধিক পরিমাণে জ্ঞান অর্জন করো, কারণ জ্ঞানই হলো সুষ্ঠু পরিচালনার মূল ভিত্তি; আর যার কোনো ভিত্তি নেই তা ধ্বংসপ্রাপ্ত। আমি রাজাদের শাসন ক্ষমতাকে তিনটি বিষয়ের ওপর আবর্তিত হতে দেখেছি; সুতরাং তুমি এর মধ্য থেকে একটিকে বর্জন করো এবং অন্য দুটিকে সুসংহত করো। আর সেগুলো হলো: প্রবৃত্তির অনুসরণ, যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান এবং প্রজাসাধারণের অবস্থাদি পর্যবেক্ষণ। কারণ, তুমি যদি নিজের প্রবৃত্তিকে জয় করতে পারো...
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৮১)
لم تستأثر وَلم تعْمل إِلَّا بِالْحَقِّ وَإِن وليت الْمُسْتَحق كَانَ عونا لَك على مَا تحب وَلم تضع على يَدَيْهِ الْأُمُور وَإِذا تناهت إِلَيْك أُمُور رعيتك عَاشَ الوضيع وحذر الرفيع وَأمْسك الظَّالِم وَأمن الْمَظْلُوم وَالسَّلَام
وَحكي أَن عبد الله بن صَالح بن
আপনি ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেননি এবং সত্য ব্যতিরেকে কোনো আমল করেননি। আর আপনি যদি যোগ্য ব্যক্তিকে কোনো দায়িত্বে নিযুক্ত করেন, তবে তিনি আপনার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে আপনার জন্য সহায়ক হবেন এবং তার হাতে কার্যাবলি বিনষ্ট হবে না। যখন আপনার নিকট আপনার প্রজাসাধারণের বিষয়াদি চূড়ান্তভাবে পৌঁছাবে, তখন সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করবে, উচ্চপদস্থরা সতর্ক থাকবে, অত্যাচারীকে নিবৃত্ত করা হবে এবং মজলুম নিরাপদ থাকবে। ওয়াস-সালাম।
এবং বর্ণিত হয়েছে (حكي) যে, আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ ইবনে
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৮২)
عَليّ دخل بَغْدَاد على بعض شُبَّان بني الْعَبَّاس فحادثه فَوَجَدَهُ على خلاف مَا عهد عَلَيْهِ أسلافه فساءه ذَلِك فَلَمَّا خرج من عِنْده قَالَ إِن الْجَهْل يحط أولى الْمَرَاتِب ويصغر ذَوي المناصب ثمَّ أنْشد متمثلا
(تعلم فَلَيْسَ الْمَرْء يُولد عَالما
… وَلَيْسَ أَخُو علم كمن هُوَ جَاهِل)
(وَإِن كَبِير الْقَوْم لَا علم عِنْده
… صَغِير إِذا الْتفت عَلَيْهِ المحافل)
وَقَالَ بعض الْعلمَاء الْجَهْل مَطِيَّة من ركبهَا زل وَمن صحبها ضل
আলী বাগদাদে বনু আব্বাসের জনৈক যুবকের নিকট উপস্থিত হলেন এবং তার সাথে কথোপকথন করলেন। তিনি তাকে তার পূর্বসূরিদের নিকট থেকে জ্ঞাত রীতির বিপরীত অবস্থায় পেলেন, যা তাকে ব্যথিত করল। অতঃপর তিনি যখন তার নিকট থেকে প্রস্থান করলেন, তখন বললেন, "নিশ্চয়ই অজ্ঞতা সর্বোচ্চ মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করে এবং পদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের হীন করে দেয়।" এরপর তিনি দৃষ্টান্তস্বরূপ আবৃত্তি করলেন:
(জ্ঞান অর্জন করো, কেননা কেউ আলেম হয়ে জন্মলাভ করে না
… আর কোনো জ্ঞানবান ব্যক্তি অজ্ঞ ব্যক্তির সমান নয়।)
(আর সম্প্রদায়ের নেতা হওয়া সত্ত্বেও যার নিকট কোনো জ্ঞান নেই
… জনসমাবেশে সে এক অতি ক্ষুদ্র ব্যক্তিতে পরিণত হয়।)
জনৈক আলেম বলেছেন, "অজ্ঞতা হলো এমন এক বাহন, যে ব্যক্তি তাতে আরোহণ করে সে পদস্খলিত হয় এবং যে ব্যক্তি এর সাহচর্য গ্রহণ করে সে পথভ্রষ্ট হয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুল মাসলূকু ফী সিয়াসাতিল মুলূক
(পৃষ্ঠা: ১৮৩)
وأنشدني بعض أهل الْعلم
(احفظ الْعلم مَا اسْتَطَعْت
… فَإنَّك إِن كنت خاملا رفعك)
(واترك الْجَهْل مَا اسْتَطَعْت
… فَإنَّك إِن كنت عَالِيا وضعك)
وَقَالَ بعض الْعلمَاء من غرس الْعلم اجتنى النباهة وَمن غرس الزّهْد اجتنى الْعِزَّة وَمن غرس الْإِحْسَان اجتنى الْمحبَّة وَمن غرس الفكرة اجتنى الْحِكْمَة وَمن غرس الْوَقار اجتنى المهابة وَمن غرس المداراة اجتنى السَّلامَة وَمن غرس الْكبر اجتنى المقت وَمن غرس الْحِرْص اجتنى الذلة وَمن غرس الطمع اجتنى الخزي وَمن غرس الْحَسَد اجتنى الكمد
একাধিক জ্ঞানতাপস আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন
(সাধ্যমতো জ্ঞান সংরক্ষণ করো
… কেননা তুমি যদি অখ্যাত (خامل) হও, তবে তা তোমাকে উচ্চাসীন করবে)
(সাধ্যমতো মূর্খতা বর্জন করো
… কেননা তুমি যদি উচ্চমর্যাদাবানও হও, তবে তা তোমাকে পদাবনমিত করবে)
জনৈক আলেম বলেছেন: যে ব্যক্তি জ্ঞানের চারা রোপণ করে সে সুখ্যাতি আহরণ করে, যে ব্যক্তি দুনিয়াবিমুখতার চারা রোপণ করে সে সম্মান আহরণ করে, যে ব্যক্তি সদাচরণের চারা রোপণ করে সে ভালোবাসা আহরণ করে, যে ব্যক্তি গভীর চিন্তার চারা রোপণ করে সে প্রজ্ঞা আহরণ করে, যে ব্যক্তি গাম্ভীর্যের চারা রোপণ করে সে প্রভাব-প্রতিপত্তি আহরণ করে, যে ব্যক্তি সহনশীল আচরণের চারা রোপণ করে সে নিরাপত্তা আহরণ করে, যে ব্যক্তি অহংকারের চারা রোপণ করে সে ঘৃণা আহরণ করে, যে ব্যক্তি লালসার চারা রোপণ করে সে লাঞ্ছনা আহরণ করে, যে ব্যক্তি লোভের চারা রোপণ করে সে অপমান আহরণ করে এবং যে ব্যক্তি হিংসার চারা রোপণ করে সে মর্মপীড়া আহরণ করে।