(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: -)
المصباح المضي في كتاب النبي الأمي ورسله إلى ملوك الأرض من عربي وعجمي   (ابن حديدة)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: المصباح المضي في كتاب النبي الأمي ورسله إلى ملوك الأرض من عربي وعجمي

المؤلف: محمد (أو عبد الله) بن علي بن أحمد بن عبد الرحمن بن حسن الأنصاري، أبو عبد الله، جمال الدين ابن حديدة (ت 783هـ)

المحقق: محمد عظيم الدين

الناشر: عالم الكتب - بيروت

سنة النشر:

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

উম্মি নবীর পত্রাবলী এবং আরব ও অনারব ভূপতিদের নিকট প্রেরিত তাঁর দূতগণের বর্ণনায় উজ্জ্বল প্রদীপ   (ইবনে হাদিদাহ)

বিভাগ: সীরাতুন নবী (সা.)


বই: উম্মি নবীর পত্রাবলী এবং আরব ও অনারব ভূপতিদের নিকট প্রেরিত তাঁর দূতগণের বর্ণনায় উজ্জ্বল প্রদীপ

লেখক: মুহাম্মদ (বা আব্দুল্লাহ) বিন আলী বিন আহমদ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান আল-আনসারী, আবু আব্দুল্লাহ, জামালুদ্দীন ইবনে হাদিদাহ (মৃত্যু: ৭৮৩ হিজরী)

সম্পাদক: মুহাম্মদ আজিমুদ্দীন

প্রকাশক: আলমুল কুতুব - বৈরুত

প্রকাশকাল:

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা অ্যাপে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ১)
ـ[المصباح المضي في كتاب النبي الأمي ورسله إلى ملوك الأرض من عربي وعجمي]ـ

المؤلف: محمد (أو عبد الله) بن علي بن أحمد بن عبد الرحمن بن حسن الأنصاري، أبو عبد الله، جمال الدين ابن حديدة (المتوفى: 783هـ)

المحقق: محمد عظيم الدين

الناشر: عالم الكتب - بيروت

سنة النشر:

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[আরব ও অনারব ভূপতিদের নিকট উম্মী নবী ও তাঁর প্রেরিত দূতগণের পত্রাবলি বিষয়ক উজ্জ্বল প্রদীপ]

লেখক: মুহাম্মদ (অথবা আবদুল্লাহ) বিন আলী বিন আহমদ বিন আবদুর রহমান বিন হাসান আল-আনসারী, আবু আবদুল্লাহ, জামালুদ্দীন ইবনে হাদীদাহ (মৃত্যু: ৭৮৩ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ আজিমুদ্দীন

প্রকাশক: আলমুল কুতুব - বৈরুত

প্রকাশকাল:

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ৫)
خطْبَة الْكتاب

‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه نستعين

الْحَمد لله الْملك الديَّان ذِي الْعِزَّة وَالسُّلْطَان قاهر الْجَبَابِرَة ذَوي التيجان كقيصر وكسرى أنوشروان باعث سيدنَا وَنَبِينَا مُحَمَّد بأشرف الْأَدْيَان إِلَى الْأَحْمَر وَالْأسود من إنس وجان فَأَجَابَهُ وَاتبعهُ قبل مولده بِأَلف عَام تبع الأول ملك الأَرْض من ولد قحطان وطغى وتجبر أبرويز صَاحب الإيوان فَدَعَا عَلَيْهِ فمزق ملكه وَذَهَبت عبَادَة
গ্রন্থের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মালিক ও প্রতিদানদানকারী বিচারক, মর্যাদা ও কর্তৃত্বের অধিকারী, মুকুটধারী স্বৈরাচারীদের দমনকারী—যেমন কায়সার এবং কিসরা আনুশিরওয়ান। তিনি আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদকে শ্রেষ্ঠতম দ্বীনসহ মানব ও জিন জাতির লাল ও কালো বর্ণের সকল মানুষের নিকট প্রেরণ করেছেন। তাঁর জন্মের এক হাজার বছর পূর্বেই কাহতান বংশীয় পৃথিবীর বাদশাহ প্রথম তুব্বা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন এবং তাঁর অনুসরণ করেছিলেন। আর আইওয়ানের অধিপতি পারভেজ অবাধ্যতা ও অহংকার প্রদর্শন করেছিল, ফলে তিনি তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করলেন, যার ফলে তার রাজত্ব ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল এবং তাদের উপাসনা বিলুপ্ত হলো।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ৬)
النيرَان صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِ وعَلى آله وَأَصْحَابه ذَوي النجدة الشجعان الَّذين شدّ بهم أزره وَأَعْلَى بهم ذكره فشاد الدّين وَارْتَفَعت لَهُ الْأَركان وَرَضي الله عَنْهُم وَعَن التَّابِعين لَهُم بِإِحْسَان

أما بعد نور الله قُلُوبنَا بِنور مَعْرفَته وأبهج بصائرنا بلوامع رحموتيته فَإِنِّي نظرت فِيمَا وَقع لي من مكاتباته صلى الله عليه وسلم إِلَى مُلُوك الأَرْض حِين أمره الله تَعَالَى بتبليغ رسَالَته فَرَأَيْت فِيمَا رَوَاهُ الْحَافِظ أَبُو بكر الْبَزَّار رَحمَه الله تَعَالَى فِي مُسْنده من إرْسَاله صلى الله عليه وسلم دحْيَة الْكَلْبِيّ رضي الله عنه إِلَى قَيْصر وَرَوَاهَا عَنهُ فاستحسنتها لكَونهَا مروية عَن الْمُرْسل بِخِلَاف مَا وَقع فِي الصَّحِيحَيْنِ للإمامين الحافظين أبي عبد الله مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل البُخَارِيّ وَمُسلم بن الْحجَّاج الْقشيرِي رحمهمَا الله تَعَالَى فَإِنَّهُمَا رويا قصَّة الْكتاب عَن ابْن عَبَّاس عَن أبي سُفْيَان صَخْر بن حَرْب فألقي فِي روعي أَن أثْبته وأضيف إِلَيْهِ مَا وَقع فِي مصنفات الْعلمَاء رضي الله عنهم من مكاتباته صلى الله عليه وسلم وَمن كتب لَهُ من الصَّحَابَة رضوَان الله عَلَيْهِم وَمَا يتَعَلَّق بذلك من فَوَائِد كوفيات بعض من وَقع ذكره من الصَّحَابَة وَابْتِدَاء إِسْلَامه وَمَا يحْتَاج إِلَى بَيَانه من غَرِيب لُغَة أَو نادرة تتَعَلَّق بِبَعْض مراسلاته صلى الله عليه وسلم إِلَى مُلُوك الأَرْض وَغَيره مِمَّن آمن بِهِ وَمن لم يُؤمن واستخرجته من دواوين كَثِيرَة بطرق مُتعَدِّدَة
সেই নূর বা আলোকবর্তিকার ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহসী সাহায্যকারী সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক, যাঁদের মাধ্যমে তিনি নিজের শক্তি সংহত করেছেন এবং তাঁর চর্চাকে সুউচ্চ করেছেন; ফলে দীন সুদৃঢ় হয়েছে এবং এর স্তম্ভসমূহ সমুন্নত হয়েছে। আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীদের ওপর সন্তুষ্ট হোন।

অতঃপর, আল্লাহ আমাদের অন্তরসমূহকে তাঁর পরিচয়ের নূর দ্বারা আলোকিত করুন এবং তাঁর রহমতের বিচ্ছুরণ দ্বারা আমাদের অন্তর্দৃষ্টিকে প্রফুল্ল করুন। নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রিসালাত প্রচারের জন্য আদিষ্ট হয়েছিলেন, তখনকার পৃথিবীর রাজন্যবর্গের প্রতি তাঁর প্রেরিত পত্রাবলি সম্পর্কে অনুসন্ধান করেছি। আমি হাফেজ আবু বকর আল-বাযযার (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে দাহইয়া আল-কালবী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে কায়সারের নিকট পাঠানোর যে বর্ণনাটি দিয়েছেন তা লক্ষ্য করেছি। আমি এটি গ্রহণ করাকে উত্তম মনে করেছি, কারণ এটি সরাসরি সংশ্লিষ্ট দূতের (দাহইয়া আল-কালবী) পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে; যা হাফেজ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী এবং মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ আল-কুশাইরী (রাহিমাহুমাল্লাহ)-এর 'সহীহাইন'-এ বর্ণিত পদ্ধতির বিপরীত। কেননা তাঁরা পত্রের ঘটনাটি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি আবু সুফিয়ান সাখর ইবনে হারব থেকে বর্ণনা করেছেন। এমতাবস্থায় আমার মনে এই প্রেরণা জাগ্রত হলো যে, আমি এই বর্ণনাটি সাব্যস্ত করি এবং এর সাথে আলেমগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কিতাবসমূহে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যান্য পত্রাবলি এবং তাঁর পক্ষ থেকে যে সকল সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পত্র লিখতেন তাঁদের বিবরণ যুক্ত করি। এছাড়া এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন—উল্লিখিত সাহাবীগণের মৃত্যুসন, তাঁদের ইসলাম গ্রহণের সূচনা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক পৃথিবীর রাজন্যবর্গ বা অন্যদের (যারা ঈমান এনেছেন বা আনেননি) কাছে প্রেরিত পত্রাবলির ভাষাগত ব্যাখ্যা বা বিরল তথ্যাবলি যুক্ত করেছি। আমি বিভিন্ন কিতাব থেকে এবং বহুবিধ সূত্রে এটি সংকলন করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ৭)
إِذْ فِي كل طَرِيق مِنْهَا فَائِدَة لم تتضمنها الْأُخْرَى فَجمعت الطّرق وأوردتها لفائدتها وَمَا ظهر من خضوع مُلُوك الأَرْض لَهُ صلى الله عليه وسلم مَعَ عَظِيم سلطانهم وَكَثْرَة عساكرهم وأتباعهم وإقرارهم لَهُ بالرسالة وتواضعهم لَهُ وَهُوَ إِذْ ذَاك وَأَصْحَابه قَلِيل عَددهمْ يسير مددهم لَا يخطرون لأحد من الْمُلُوك ببال لما كَانُوا عَلَيْهِ من الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَقَوله صلى الله عليه وسلم إِذا ذهب كسْرَى فَلَا كسْرَى بعده وَإِذا ذهب قَيْصر فَلَا قَيْصر بعده ولتنفقن كنوزهما فِي سَبِيل الله عز وجل كَمَا سَيَأْتِي مُبينًا فِي موَاضعه من هَذَا الْكتاب إِن شَاءَ الله تَعَالَى

وعزيت كل مَا أوردته إِلَى من ذكره من الْعلمَاء أَصْحَاب المصنفات الْمَشْهُورَة بَين عُلَمَاء هَذَا الشَّأْن وحذفت أسانيدها خشيَة الإطالة إِلَّا مَا تَدْعُو الْحَاجة إِلَيْهِ من ذكر الصَّحَابِيّ وَبَعض التَّابِعين مِمَّن رُوِيَ عَنهُ وسميته ب الْمِصْبَاح الْمُضِيّ فِي كتاب النَّبِي الْأُمِّي وَرُسُله إِلَى مُلُوك الأَرْض من عَرَبِيّ وعجمي

وَجَعَلته قسمَيْنِ الْقسم الأول فِي كِتَابه وَالْقسم الثَّانِي فِي رسله ومكاتباته إِلَى الْمُلُوك صلى الله عليه وسلم

ورتبت أَسمَاء الصَّحَابَة على حُرُوف المعجم بعد ذكر الْخُلَفَاء الْأَرْبَعَة رضي الله عنهم

وابتدأت فِي صدر الْقسم الأول فِي التَّعْرِيف بنسبه الشريف صلى الله عليه وسلم وَالْكَلَام عَلَيْهِ تبركا بِهِ إِذْ هُوَ سيد الْكل وَقَائِدهمْ وإيانا إِن شَاءَ الله تَعَالَى إِلَى جنَّات النَّعيم

وَالَّذِي حداني على البدأة بنسبه الشريف هُوَ
যেহেতু এর প্রতিটি সূত্রের মধ্যে এমন কিছু শিক্ষা রয়েছে যা অন্যটিতে নেই, তাই আমি এই সকল বর্ণনাকে একত্রিত করেছি এবং এর উপযোগিতার কারণে তা উল্লেখ করেছি। এছাড়া জমিনের বাদশাহদের তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি যে আনুগত্য প্রকাশ পেয়েছে—তাঁদের বিশাল ক্ষমতা ও বিপুল সৈন্যসামন্ত থাকা সত্ত্বেও—এবং তাঁর রিসালাতের প্রতি তাঁদের স্বীকৃতি ও বিনয়ও বর্ণিত হয়েছে। অথচ সেই সময় তিনি ও তাঁর সাহাবীগণ সংখ্যায় অল্প এবং সহায়-সম্বলহীন ছিলেন; দারিদ্র্য ও অভাব-অনটনের কারণে কোনো রাজার মনেই তাঁদের কোনো গুরুত্ব ছিল না। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "যখন কিসরা ধ্বংস হবে, তখন এরপর আর কোনো কিসরা আসবে না; আর যখন কায়সার ধ্বংস হবে, তখন এরপর আর কোনো কায়সার আসবে না। অবশ্যই তোমরা আল্লাহর পথে তাদের ধনভাণ্ডার ব্যয় করবে।" যেমনটি এই কিতাবের নির্দিষ্ট স্থানসমূহে মহান আল্লাহ চাইলে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হবে।

আমি যা কিছু উল্লেখ করেছি তা এই বিষয়ের পণ্ডিতদের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের উদ্ধৃতিসহ বর্ণনা করেছি। দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমি সনদগুলো বাদ দিয়েছি, তবে প্রয়োজনবোধে বর্ণনাকারী সাহাবী ও কোনো কোনো তাবেয়ীর নাম উল্লেখ করেছি। আমি এর নামকরণ করেছি: "উম্মী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পত্রাবলি এবং আরব ও অনারব রাজাদের নিকট প্রেরিত তাঁর দূতগণ বিষয়ক উজ্জ্বল প্রদীপ"।

আমি কিতাবটিকে দুই ভাগে ভাগ করেছি: প্রথম ভাগ তাঁর পত্রাবলি সম্পর্কে এবং দ্বিতীয় ভাগ তাঁর দূতগণ এবং রাজাদের নিকট প্রেরিত চিঠিপত্র সম্পর্কে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।

চার খলিফা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর আলোচনার পর আমি সাহাবীগণের নাম বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি।

আমি প্রথম ভাগের শুরুতে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্মানিত বংশপরিচয় এবং এ সংক্রান্ত আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছি; যেহেতু তিনি সকলের সরদার এবং মহান আল্লাহ চাইলে জান্নাতুন নাঈমে আমাদের পথপ্রদর্শক।

তাঁর সম্মানিত বংশপরিচয় দিয়ে শুরু করার পেছনে আমাকে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো—
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ৮)
مَا وجدته لِابْنِ مُنِير الْحلَبِي رَحمَه الله تَعَالَى فِي شَرحه لمختصر السِّيرَة لعبد الْغَنِيّ الْمَقْدِسِي الجماعيلي قَرْيَة بَين الْقُدس ونابلس

قَالَ ذكر لي جمَاعَة من الْعلمَاء أَن سَبَب تأليف عبد الْغَنِيّ لمختصر السِّيرَة أَنه خرج وَمَعَهُ بعض أَصْحَابه إِلَى أَن قربا من دير فَقعدَ الْمُؤلف على جنب نهر وَقصد صَاحبه الدَّيْر فطرقه فَخرج إِلَيْهِ رَاهِب فَقَالَ مَا دينك فَقَالَ مُسلم فَقَالَ من تتبع فَقَالَ مُحَمَّدًا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ اذكر لي نسبه وحاله فَلم يكن عِنْده علم فَقَالَ مَا أقريك شَيْئا فَرجع صَاحب الْمُؤلف إِلَيْهِ وَقَالَ مَا قَالَ لَهُ الراهب فَقَالَ لَهُ الْمُؤلف شَيْئا من نسب النَّبِي صلى الله عليه وسلم وأحواله فَرجع إِلَى الراهب وَأخْبرهُ فَقَالَ لَهُ الراهب هَذَا مَا هُوَ مِنْك هَذَا من ذَلِك الشَّيْخ الْجَالِس على النَّهر وَكَانَ الراهب رأى الشَّيْخ فأعجبه حَاله فجَاء إِلَيْهِ فَذكر لَهُ شَيْئا كثيرا من أَحْوَال سيدنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ومعجزاته فَأسلم الراهب وَحسن إِسْلَامه فأملى الشَّيْخ عبد الْغَنِيّ رحمه الله مُخْتَصر السِّيرَة الشَّرِيفَة النَّبَوِيَّة

فتأملت هَذِه الْوَاقِعَة وَمَا فِيهَا من الْفَوَائِد من هِدَايَة الراهب وَتَعْلِيم صَاحب الشَّيْخ وتأليفه لسيره وأحواله صلى الله عليه وسلم وَالِانْتِفَاع بِهِ فِي حَيَاته وَبعد وَفَاته رحمه الله

فَبَدَأت بنسبه الشريف
আমি ইবনু মুনীর আল-হালাবি (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট আব্দুল গানি আল-মাকদিসি আল-জামাঈলি — জামাঈল হলো কুদস ও নাবলুসের মধ্যবর্তী একটি গ্রাম — রচিত 'মুখতাসার আস-সিরাহ' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে যা পেয়েছি:

তিনি বলেন, একদল আলেম আমার নিকট উল্লেখ করেছেন যে, আব্দুল গানি কর্তৃক 'মুখতাসার আস-সিরাহ' রচনার কারণ ছিল এই যে, তিনি এবং তাঁর এক সঙ্গী বের হলেন এবং একটি গির্জার নিকটে পৌঁছালেন। লেখক একটি নদীর পাড়ে বসলেন এবং তাঁর সঙ্গী গির্জার উদ্দেশ্যে গেলেন ও কড়া নাড়লেন। তখন একজন পাদ্রি বের হয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার ধর্ম কী?" তিনি বললেন, "মুসলিম।" পাদ্রি বললেন, "তুমি কার অনুসরণ করো?" তিনি বললেন, "আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের।" পাদ্রি বললেন, "আমার কাছে তাঁর বংশপরিচয় ও অবস্থা বর্ণনা করো।" কিন্তু তাঁর নিকট এ সংক্রান্ত কোনো জ্ঞান ছিল না। পাদ্রি বললেন, "আমি তোমাকে কোনো মেহমানদারি করব না।" লেখকের সঙ্গী তাঁর কাছে ফিরে এলেন এবং পাদ্রি তাঁকে যা বলেছিলেন তা জানালেন। তখন লেখক তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশপরিচয় ও অবস্থা সম্পর্কে কিছু বিষয় বলে দিলেন। তিনি পুনরায় পাদ্রির নিকট ফিরে গিয়ে তা জানালেন। পাদ্রি তাঁকে বললেন, "এটি তোমার কথা নয়; বরং এটি ওই শাইখের কথা যিনি নদীর পাড়ে বসে আছেন।" পাদ্রি শাইখকে দেখেছিলেন এবং তাঁর অবস্থা দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন। এরপর তিনি শাইখের কাছে আসলেন এবং শাইখ তাঁর নিকট আমাদের নেতা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবস্থা ও মুজিযা সম্পর্কে অনেক কিছু বর্ণনা করলেন। ফলে পাদ্রি ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তাঁর ইসলাম সুন্দর হলো। অতঃপর শাইখ আব্দুল গানি (রহিমাহুল্লাহ) নবীজির মর্যাদাপূর্ণ সংক্ষিপ্ত সীরাত গ্রন্থটি লিপিবদ্ধ করান।

আমি এই ঘটনাটি এবং এর মধ্যকার পাদ্রির হিদায়াত লাভ, শাইখের সঙ্গীকে শিক্ষা দান, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত ও অবস্থা সংকলন এবং তাঁর জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর (রহিমাহুল্লাহ) এর দ্বারা উপকৃত হওয়ার মতো নানাবিধ ফায়দা নিয়ে চিন্তা করলাম।

অতঃপর আমি তাঁর সম্মানিত বংশপরিচয় দিয়ে শুরু করছি।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ৯)
لذَلِك وَمن الله تَعَالَى أسأَل التَّوْفِيق وَالْهِدَايَة إِلَى أقوم طَرِيق وَأَن يَجعله خَالِصا لوجهه الْكَرِيم إِنَّه هُوَ السَّمِيع الْعَلِيم

وَأَنا أقدم إِلَيْك أَيهَا النَّاظر فِي كتابي هَذَا من الِاعْتِذَار مَا ختم بِهِ الشاطبي رحمه الله قصيدته الموسومة بحرز الْأَمَانِي إِذْ يَقُول

(وَلكنهَا تبغي من النَّاس كفأها … أَخا ثِقَة يعْفُو ويغضي تجملا)

(وَلَيْسَ لَهَا إِلَّا ذنُوب وَليهَا … فيا طيب الأنفاس أحسن تأولا)

(وَقل رحم الرَّحْمَن حَيا وَمَيتًا … فَتى كَانَ للانصاف والحلم معقلا)

(عَسى الله يدني سَعْيه بِجَوَازِهِ … وَإِن كَانَ زيفا غير خَافَ مزللا)

(فيا خير غفار وَيَا خير رَاحِم … وَيَا خير مأمول جدي وتفضلا)

(أقل عثرتي وانفع بهَا وبقصدها … حنانيك يَا الله يَا رَافع الْعلَا)

وَهَذَا حِين ابْتَدَأَ بحول الله وقوته وَهُوَ حسبي وَنعم الْوَكِيل
সেই কারণে আমি আল্লাহ তাআলার নিকট তাওফিক এবং সবচেয়ে সঠিক পথের দিশা প্রার্থনা করছি এবং প্রার্থনা করছি তিনি যেন একে তাঁর মহান চেহারার (সত্তার) জন্য একনিষ্ঠ করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

আর হে আমার এই কিতাব পাঠকারী, আমি আপনার সামনে সেই ওজরখাহি বা ক্ষমা প্রার্থনা পেশ করছি যার মাধ্যমে ইমাম শাতবি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'হিরজুল আমানি' নামক কাসিদাটি সমাপ্ত করেছেন, যখন তিনি বলেন:

(কিন্তু এটি মানুষের নিকট হতে তার উপযুক্ত লোক চায় … একজন বিশ্বস্ত ভাই যে সুন্দরভাবে ক্ষমা করবে এবং উপেক্ষা করবে)

(এর নিকট এর রচয়িতার গুনাহ ছাড়া আর কিছুই নেই … অতএব হে পবিত্রাত্মা ব্যক্তি, আপনি এর উত্তম ব্যাখ্যা করবেন)

(আর বলুন, রহমান যেন জীবিত ও মৃত অবস্থায় রহম করেন … এমন এক যুবকের প্রতি, যে ছিল ইনসাফ ও সহনশীলতার আশ্রয়স্থল)

(আশা করা যায় আল্লাহ তাঁর কবুলিয়তের মাধ্যমে তার প্রচেষ্টাকে নিকটবর্তী করবেন … যদিও তা ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং পদস্খলনযুক্ত যা গোপন নয়)

(হে শ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল ও হে শ্রেষ্ঠ দয়ালু … হে শ্রেষ্ঠ আশার স্থল, আপনি দান ও অনুগ্রহ করুন)

(আমার পদস্খলন মার্জনা করুন এবং এর মাধ্যমে ও এর উদ্দেশ্যের মাধ্যমে উপকার দান করুন … আপনার দয়া প্রার্থনা করি হে আল্লাহ, হে সুউচ্চ মর্যাদাদানকারী)

আর এটিই আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের সাহায্যে শুরু করার মুহূর্ত; তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ১১)
بَاب فِي التَّعْرِيف بنسبه الشريف صلى الله عليه وسلم وَالْكَلَام عَلَيْهِ

 

روينَا فِي كتاب السِّيرَة عَن ابْن هِشَام أَنه صلى الله عليه وسلم مُحَمَّد بن عبد الله فمحمد اسْم علم مَنْقُول من صفة من قَوْلهم رجل مُحَمَّد أَي كثير الْخِصَال المحمودة والمحمد فِي اللُّغَة هُوَ الَّذِي يحمد حمدا بعد حمد مرّة بعد مرّة فِيهِ معنى الْمُبَالغَة والتكرار وَهُوَ فِي معنى مَحْمُود فاسمه مُطَابق لمعناه وَالله تَعَالَى سَمَّاهُ بِهِ قبل أَن يُسمى فَهَذَا علم من أَعْلَام نبوته إِذْ كَانَ اسْمه صَادِقا عَلَيْهِ فَهُوَ عليه السلام مَحْمُود فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة فِي الدُّنْيَا بِمَا نفع بِهِ من الْعلم وَالْحكمَة وَفِي الْآخِرَة بِشَفَاعَتِهِ صلى الله عليه وسلم فقد تكَرر معنى الْحَمد

ثمَّ إِنَّه لم يكن مُحَمَّدًا حَتَّى كَانَ أَحْمد حمد ربه فنبأه وشرفه فَلذَلِك تقدم اسْم أَحْمد على مُحَمَّد فَذكره عِيسَى عليه السلام فِي قَوْله {وَمُبشرا برَسُول يَأْتِي من بعدِي اسْمه أَحْمد} فبأحمد ذكر قبل أَن يذكر بِمُحَمد لِأَن حَمده
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মানিত বংশপরিচয় এবং তাঁর সম্পর্কে আলোচনার পরিচ্ছেদ

 

সীরাত গ্রন্থে আমরা ইবনে হিশাম থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ। মুহাম্মদ একটি বিশেষ্য (ইসমে আলাম) যা গুণবাচক বিশেষণ থেকে সংকলিত, যেমনটি আরবদের উক্তিতে পাওয়া যায় ‘রাজুলুন মুহাম্মদ’ অর্থাৎ এমন ব্যক্তি যার প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্য অনেক। ভাষাগতভাবে ‘মুহাম্মদ’ তাকেই বলা হয় যার একের পর এক বারবার প্রশংসা করা হয়। এর মধ্যে আধিক্য ও পুনরাবৃত্তির অর্থ নিহিত রয়েছে। এটি ‘মাহমুদ’ (প্রশংসিত) শব্দের অর্থ প্রকাশ করে, ফলে তাঁর নাম তাঁর অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ তাঁর নাম রাখার পূর্বেই তাঁকে এই নামে অভিহিত করেছেন। এটি তাঁর নবুওয়াতের অন্যতম নিদর্শন, যেহেতু তাঁর নামটি তাঁর জন্য যথার্থ। সুতরাং তিনি আলাইহিস সালাম দুনিয়া ও আখিরাতে প্রশংসিত; দুনিয়াতে তাঁর মাধ্যমে ইলম ও হিকমতের যে উপকার সাধিত হয়েছে তার কারণে, আর আখিরাতে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাফায়াতের (সুপারিশ) কারণে। এভাবে প্রশংসার অর্থটি এখানে বারবার প্রকাশ পেয়েছে।

অতঃপর তিনি ‘মুহাম্মদ’ হওয়ার পূর্বেই ‘আহমদ’ ছিলেন, তিনি তাঁর রবের প্রশংসা করেছেন, ফলে আল্লাহ তাঁকে নবুওয়াত দান করেছেন ও সম্মানিত করেছেন। এই কারণেই ‘মুহাম্মদ’ নামের পূর্বে ‘আহমদ’ নামটির উল্লেখ এসেছে। ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেছেন: {এবং আমি এমন একজন রাসূলের সুসংবাদ দিচ্ছি যিনি আমার পরে আসবেন, যাঁর নাম আহমদ}। সুতরাং ‘মুহাম্মদ’ হিসেবে উল্লিখিত হওয়ার আগেই তাঁকে ‘আহমদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ তাঁর প্রশংসা
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ১২)
لرَبه كَانَ قبل حمد النَّاس لَهُ فَلَمَّا وجد وَبعث كَانَ مُحَمَّدًا بِالْفِعْلِ

وَكَذَلِكَ فِي الشَّفَاعَة يحمد ربه بالمحامد الَّتِي يفتحها عَلَيْهِ فَيكون أَحْمد النَّاس لرَبه ثمَّ يشفع فيحمد على شَفَاعَته

فَانْظُر كَيفَ ترَتّب هَذَا الِاسْم الآخر فِي الذّكر والوجود فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة

وروى ابْن عبد الْبر أَن جده سَمَّاهُ مُحَمَّدًا يَوْم سابعه

وروى أَن آمِنَة أمرت وَهِي حَامِل بِهِ أَن تسميه أَحْمد

وروى أَن آدم عليه السلام قَالَ إِنِّي لسَيِّد الْبشر يَوْم الْقِيَامَة إِلَّا رجلا من ذريتي نَبِي من الْأَنْبِيَاء يُقَال لَهُ مُحَمَّد فضل عَليّ بِاثْنَتَيْنِ زَوجته أعانته فَكَانَت لَهُ عونا يَعْنِي خَدِيجَة وَالله أعلم وَكَانَت زَوْجَتي عَليّ عونا وَالله أَعَانَهُ على شَيْطَانه فَأسلم وَكفر شيطاني رَوَاهُ الدولابي عَن يُونُس

ثمَّ من عجائب هَذَا الِاسْم أَنه لم يتسم بِهِ أحد قبله يَعْنِي أَحْمد

وكنيته صلى الله عليه وسلم أَبُو الْقَاسِم قيل كني بِهِ لِأَنَّهُ يقسم الْجنَّة بَين الْخلق يَوْم الْقِيَامَة وَقيل كني ببكر وَلَده من خَدِيجَة وَهُوَ الْقَاسِم وَلما ولد لَهُ إِبْرَاهِيم من مَارِيَة كناه جِبْرِيل عليه السلام بِأبي إِبْرَاهِيم وَقيل كنيته فِي التَّوْرَاة أَبُو الأرامل صلى الله عليه وسلم

ابْن عبد الله معنى عبد الله الخاضع لله وكنيته أَبُو قثم وَقيل أَبُو مُحَمَّد وَقيل أَبُو أَحْمد وَلَا عقب لعبد الله أصلا وَلم يُولد لَهُ غير رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا ذكر وَلَا أُنْثَى
তিনি তাঁর রবের জন্য মানুষের প্রশংসার পূর্বেই প্রশংসাকারী ছিলেন, অতঃপর যখন তিনি অস্তিত্ব লাভ করলেন এবং প্রেরিত হলেন, তখন তিনি বাস্তবে মুহাম্মাদ (প্রশংসিত) হলেন।

একইভাবে শাফাআতের ক্ষেত্রেও তিনি তাঁর রবের এমন সব প্রশংসার দ্বারা প্রশংসা করবেন যা তাঁর ওপর উন্মোচিত করা হবে। ফলে তিনি হবেন তাঁর রবের জন্য মানুষের মধ্যে সর্বাধিক প্রশংসাকারী (আহমাদ), এরপর তিনি শাফাআত করবেন এবং তাঁর শাফাআতের জন্য তাঁর প্রশংসা করা হবে।

সুতরাং লক্ষ্য করুন, কীভাবে এই পরবর্তী নামটি যিকির ও অস্তিত্বের ক্ষেত্রে দুনিয়া ও আখিরাতে বিন্যস্ত হয়েছে।

ইবনে আব্দুল বার বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতামহ তাঁর জন্মের সপ্তম দিনে তাঁর নাম মুহাম্মাদ রেখেছিলেন।

বর্ণিত আছে যে, আমিনা যখন গর্ভবতী ছিলেন তখন তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তিনি তাঁর নাম আহমাদ রাখেন।

বর্ণিত আছে যে, আদম আলাইহিস সালাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন আমি সকল মানুষের সরদার হবো, তবে আমার বংশধরের একজন ব্যক্তি ব্যতীত যিনি নবীগণের মধ্য হতে একজন নবী, যাকে মুহাম্মাদ বলা হয়। তিনি আমার ওপর দুটি বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন: তাঁর স্ত্রী তাঁকে সাহায্য করেছেন এবং তাঁর জন্য সহায়ক হয়েছিলেন—অর্থাৎ খাদিজা, আর আল্লাহই ভালো জানেন—অথচ আমার স্ত্রী আমার প্রতিকূলে সহায়ক হয়েছিলেন। আর আল্লাহ তাঁকে তাঁর শয়তানের ওপর সাহায্য করেছেন ফলে সে ইসলাম গ্রহণ করেছে, আর আমার শয়তান কুফরি করেছে।" এটি দুলাবি ইউনুস থেকে বর্ণনা করেছেন।

এরপর এই নামের এক আশ্চর্যজনক বৈশিষ্ট্য হলো যে, তাঁর আগে আর কেউ এই নাম (অর্থাৎ আহমাদ) ধারণ করেনি।

তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপনাম ছিল আবুল কাসিম। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁকে এই উপনাম দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি কিয়ামতের দিন সৃষ্টির মধ্যে জান্নাত বণ্টন করবেন। আবার বলা হয় যে, খাদিজার গর্ভে তাঁর প্রথম সন্তান কাসিমের নামানুসারে তাঁর এই উপনাম রাখা হয়েছিল। আর যখন মারিয়ার গর্ভে তাঁর পুত্র ইব্রাহিম জন্মগ্রহণ করেন, তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁকে আবু ইব্রাহিম উপনামে ডাকেন। আরও বর্ণিত আছে যে, তাওরাতে তাঁর উপনাম হলো আবু আরমিল (বিধবাদের অভিভাবক) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আবদুল্লাহর পুত্র; আবদুল্লাহর অর্থ হলো আল্লাহর প্রতি বিনীত। তাঁর উপনাম ছিল আবু কুসাম, আবার বলা হয় আবু মুহাম্মাদ, আবার কেউ বলেন আবু আহমাদ। আবদুল্লাহর অন্য কোনো বংশধর ছিল না এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া তাঁর আর কোনো সন্তান—পুত্র বা কন্যা—জন্মগ্রহণ করেনি।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ১৩)
وَكَذَلِكَ آمِنَة قَالَه ابْن مُنِير الْحلَبِي فِي المورد العذب الهني فِي الْكَلَام على السِّيرَة لعبد الْغَنِيّ ابْن عبد الْمطلب وَاسم عبد الْمطلب شيبَة سمى بذلك لِأَنَّهُ ولد وَفِي رَأسه شيبَة عَاشَ مائَة وَعشْرين سنة ذكرت خَبره مَعَ سيف بن ذِي يزن وبشراه لَهُ برَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِيمَا يَأْتِي من هَذَا الْكتاب ابْن هَاشم وَاسم هَاشم عَمْرو ذكر السُّهيْلي فِي اشتقاقه أقوالا مِنْهَا أَنه مَنْقُول من الْعُمر وَهُوَ اسْم لنخل يُقَال لَهُ السكر ذكره العسكري فِي أَجنَاس التَّمْر وَبِذَلِك سمى الرجل عمرا وَقَالَ كَانَ ابْن أبي ليلى يستاك بعسيب الْعُمر

ابْن عبد منَاف واسْمه الْمُغيرَة لِأَنَّهُ كَانَ يُغير على الْأَعْدَاء وَكَانَ يلقب قمر الْبَطْحَاء

ابْن قصي واسْمه زيد وَهُوَ تَصْغِير قصي أَي بعيد لِأَنَّهُ بعد عَن عشيرته فِي بِلَاد قضاعة ابْن كلاب مَنْقُول من الْمصدر فِي معنى المكالبة أَو من الْكلاب جمع كلب قيل لبَعض الْعَرَب لم تسمون أبناءكم بشر الْأَسْمَاء وعبيدكم بِأَحْسَن الْأَسْمَاء فَقَالَ نسمي أبناءنا لأعدائنا وعبيدنا لأنفسنا ابْن مرّة مَنْقُول من وصف الحنظلة والعلقمة وَكَثِيرًا مَا يسمون بهما فَيكون مَنْقُولًا
এবং অনুরূপভাবে আমিনা; ইবনে মুনীর আল-হালাবী আব্দুল গনির 'আল-মাওরিদুল আযবুল হানি ফীল কালামি আলাস সিরাহ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র; আর আব্দুল মুত্তালিবের নাম ছিল শায়বাহ। তাঁর এই নামকরণ করা হয়েছিল কারণ তিনি যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন তাঁর মাথায় পাকা চুল ছিল। তিনি একশো বিশ বছর বেঁচে ছিলেন। সাইফ ইবনে যী ইয়াযানের সাথে তাঁর ঘটনা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তাঁকে দেওয়া সুসংবাদ আমি এই বইয়ের পরবর্তী অংশে উল্লেখ করেছি। তিনি হাশিমের পুত্র; আর হাশিমের নাম ছিল আমর। সুহাইলী এর ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে কয়েকটি মত উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে একটি হলো এটি 'উমর' শব্দ থেকে গৃহীত, যা এক প্রকার খেজুর গাছের নাম যাকে 'সুক্কার' বলা হয়। আসকারী খেজুরের প্রকারভেদ বর্ণনায় এটি উল্লেখ করেছেন এবং এভাবেই লোকটির নাম আমর রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন যে, ইবনে আবি লায়লা 'উমর' নামক খেজুর গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করতেন।

আব্দ মানাফের পুত্র; তাঁর নাম ছিল মুগীরাহ, কারণ তিনি শত্রুদের ওপর আক্রমণ করতেন। তাঁকে 'কামারুল বাতহা' (বাতহার চাঁদ) উপাধি দেওয়া হতো।

কুসাই-এর পুত্র; তাঁর নাম ছিল যায়েদ। 'কুসাই' শব্দটি 'কাসি' (দূরবর্তী) শব্দের ক্ষুদ্রার্থক রূপ, কারণ তিনি কুযাআ অঞ্চলে তাঁর বংশ থেকে দূরে ছিলেন। কিলাব-এর পুত্র; এটি 'মুকালাবাহ' (পরস্পর আক্রমণ) অর্থের মাসদার থেকে গৃহীত অথবা 'কালব' (কুকুর) শব্দের বহুবচন 'কিলাব' থেকে নেওয়া হয়েছে। জনৈক আরব ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "আপনারা কেন আপনাদের সন্তানদের নিকৃষ্টতম নামে এবং দাসদের সর্বোত্তম নামে ডাকেন?" তিনি উত্তরে বললেন: "আমরা আমাদের সন্তানদের নাম রাখি আমাদের শত্রুদের জন্য, আর দাসদের নাম রাখি আমাদের নিজেদের জন্য।" মুররাহ-এর পুত্র; এটি হানযালা ও আলকামাহ-এর তিক্ততার গুণবাচক অর্থ থেকে গৃহীত, এবং প্রায়শই এই দুটি নামে নামকরণ করা হয়ে থাকে, ফলে এটি একটি উদ্ভূত নাম।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ১৪)
من وصف الرجل بالمرارة ابْن كَعْب كَعْب مَنْقُول من كَعْب الْقدَم لثُبُوته وَهُوَ أول من جمع يَوْم الْعرُوبَة وسماها الْجُمُعَة وَقيل غير ذَلِك وَكَانَت قُرَيْش تَجْتَمِع إِلَيْهِ فِي هَذَا الْيَوْم فيخطبهم وَيذكرهُمْ بمبعث النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَيُعلمهُم أَنه من وَلَده وَيَأْمُرهُمْ باتباعه وَالْإِيمَان بِهِ وينشد أبياتا مِنْهَا

(يَا لَيْتَني شَاهد فحواء دَعوته … إِذا قُرَيْش تبغي الْحق خذلانا)

ابْن لؤَي تَصْغِير اللأي وَهُوَ الثور وَقيل الْبَقَرَة وَفِي الحَدِيث من قَول أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه أحب إِلَيّ من شَاءَ وَلَاء وَهُوَ الثور قَالَ أَبُو ذَر فِي شرح السِّيرَة لِابْنِ هِشَام هُوَ الثور الوحشي ابْن غَالب بن فهر واسْمه قُرَيْش وفهر لقب وَقيل عَكسه والفهر من الْحِجَارَة الطَّوِيل قَالَ أَبُو ذَر هُوَ على مِقْدَار ملْء الْكَفّ وَقيل غير ذَلِك ابْن مَالك بن النَّضر قَالَ أَبُو ذَر هُوَ الذَّهَب الْأَحْمَر ابْن كنَانَة بن خُزَيْمَة تَصْغِير خزمة والخزم مثل الدوم يتَّخذ من سعفه
মানুষের গুণাবলী বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইবনে কা'ব; কা'ব শব্দটি পায়ের গোড়ালি থেকে উৎসারিত হয়েছে এর দৃঢ়তার কারণে। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি আরুবার দিনে সকলকে একত্রিত করেছিলেন এবং একে জুমুআহ নামে অভিহিত করেছিলেন; তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। কুরাইশরা এই দিনে তাঁর নিকট একত্রিত হতো, অতঃপর তিনি তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন। তিনি তাদের জানিয়ে দিতেন যে সেই নবী তাঁর বংশ থেকেই আসবেন এবং তিনি তাদের নির্দেশ দিতেন নবীর অনুসরণ ও তাঁর প্রতি ঈমান আনার জন্য। তিনি এ সম্পর্কে কিছু পঙক্তি আবৃত্তি করতেন, যার মধ্যে রয়েছে:

(হায়! আমি যদি তাঁর দাওয়াতের মর্মবাণীর সাক্ষী হতে পারতাম ... যখন কুরাইশরা সত্যকে লাঞ্ছিত করতে চাইবে)

ইবনে লুআই: লুআই শব্দটি ‘লায়’ এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ, যার অর্থ হলো ষাঁড়। আবার বলা হয়েছে এর অর্থ গাভী। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি হিসেবে হাদিসে বর্ণিত আছে: "আমার নিকট তা একটি ষাঁড়ের চেয়েও অধিক প্রিয়।" ইবনে হিশামের সিরাত গ্রন্থের ব্যাখ্যায় আবু যার বলেন: এটি হলো বন্য ষাঁড়। গালিব ইবনে ফিহর: তাঁর নাম ছিল কুরাইশ এবং ফিহর ছিল উপাধি, কেউ এর বিপরীতটিও বলেছেন। ফিহর হলো লম্বাটে পাথর। আবু যার বলেন: এটি হাতের তালু পূর্ণ করার মতো পাথর, তবে ভিন্ন মতও আছে। মালিক ইবনে আন-নাদর: আবু যার বলেন: তিনি হলেন লাল স্বর্ণ। কিনানাহ ইবনে খুজাইমাহ: খুজাইমাহ শব্দটি খাজমাহ এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ। খাজম হলো দৌম বৃক্ষের মতো, যার পাতা থেকে রশি বা প্রয়োজনীয় বস্তু তৈরি করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ১৫)
الحبال وَله ثَمَر تَأْكُله الْغرْبَان ابْن مدركة واسْمه عَامر ابْن الياس وَقيل إلْيَاس بِكَسْر الْهمزَة مُوَافقا لاسم إلْيَاس النَّبِي عليه السلام وَقيل سمي بضد الرَّجَاء وَاللَّام فِيهِ للتعريف والهمزة همزَة وصل يذكر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ لَا تسبوا الياس فَإِنَّهُ كَانَ مُؤمنا وَهُوَ أول من أهْدى الْبدن إِلَى الْبَيْت وَكَانَ يسمع فِي صلبه تَلْبِيَة النَّبِي صلى الله عليه وسلم ابْن مُضر وَمُضر الْأَبْيَض مُشْتَقّ من اللَّبن الماضر والمضيرة شَيْء يصنع من اللَّبن قيل هُوَ أول من سنّ للْعَرَب حداءا لإبل وَكَانَ أحسن النَّاس صَوتا

وَفِي الحَدِيث لَا تسبوا مُضر وَلَا ربيعَة فَإِنَّهُمَا كَانَا مُؤمنين وَرَبِيعَة أَخُوهُ ابْن نزار النزر الْقَلِيل كَانَ أَبوهُ حِين ولد لَهُ وَنظر إِلَى النُّور بَين عَيْنَيْهِ وَهُوَ الَّذِي كَانَ ينْتَقل فِي الأصلاب إِلَى مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فَرح فَرحا شَدِيدا وَنحر وَأطْعم وَقَالَ إِن هَذَا كُله نزر لحق هَذَا الْمَوْلُود فَسُمي نزارا ابْن معد من تمعدد إِذا اشْتَدَّ وتمعدد أبعد فِي الذّهاب قَالَه أَبُو ذَر وَقيل هُوَ من الْمعد بِسُكُون الْعين وَهُوَ الْقُوَّة وَمِنْه اشتقاق الْمعدة ابْن عدنان وَهُوَ مَأْخُوذ من عدن فِي الْمَكَان إِذا أَقَامَ فِيهِ وَمِنْه {جنَّات عدن} أَي جنَّات إِقَامَة وخلود

قَالَ السُّهيْلي وَمَا بعد عدنان من الْأَسْمَاء
আল-হিবাল এবং এর এমন ফল রয়েছে যা দাঁড়কাকেরা খায়। ইবনে মুদরিকাহ, তাঁর নাম হলো আমির ইবনে ইলিয়াস। বলা হয়েছে যে, হামজার কাসরা (ই-কার) সহ এটি ইলিয়াস, যা নবী ইলিয়াস আলাইহিস সালামের নামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আরও বলা হয়েছে যে, একে 'রাজা' (আশা)-এর বিপরীত অর্থে নামকরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আলিফ-লাম হলো 'তারিফ' (সংজ্ঞামূলক) এবং হামজাটি হলো 'হামজাতুল ওয়াসল'। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা ইলিয়াসকে গালি দিও না, কারণ তিনি মুমিন ছিলেন।" তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি বাইতুল্লাহর (পবিত্র ঘর) উদ্দেশ্যে কোরবানির উট উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর পৃষ্ঠদেশ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তালবিয়া শোনা যেত। ইবনে মুদার; আর মুদার শব্দটি ফর্সা বা সাদাটে। এটি 'লাবান মাযির' (টক দুধ) থেকে উদ্ভূত। 'মাযিরা' হলো দুধ থেকে তৈরি এক প্রকার খাদ্য। বলা হয় যে, তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি আরবদের জন্য উট চালনার গীত (হুদা) প্রবর্তন করেছিলেন এবং তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুকণ্ঠী ছিলেন।

এবং হাদিসে এসেছে: "তোমরা মুদার এবং রাবিআহকে গালি দিও না, কারণ তারা উভয়েই মুমিন ছিলেন।" রাবিআহ ছিলেন তাঁর ভাই। ইবনে নিযার; নিযার শব্দের অর্থ সামান্য বা অল্প। যখন তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর পিতা তাঁর দুই চোখের মধ্যবর্তী নূর (জ্যোতি) দেখতে পান—যা মূলত বংশপরম্পরায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত স্থানান্তরিত হচ্ছিল—তখন তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। তিনি পশু জবাই করলেন ও ভোজ দিলেন এবং বললেন: "এই নবজাতকের হকের তুলনায় এ সবই সামান্য (নিযার)।" একারণেই তাঁর নাম নিযার রাখা হয়। ইবনে মাআদ; শব্দটি 'তামাদ্দুদ' থেকে এসেছে যার অর্থ শক্তিশালী হওয়া। আবু যার বলেছেন, 'তামাদ্দুদ' অর্থ গন্তব্যে অনেক দূরে চলে যাওয়া। আরও বলা হয়েছে যে, এটি আইন বর্ণে সুকুন সহ 'মা'দ' শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ শক্তি; আর পাকস্থলী (মি'দাহ) শব্দটিও এখান থেকেই উদ্ভূত। ইবনে আদনান; এটি 'আদানা' থেকে গৃহীত হয়েছে, যার অর্থ কোনো স্থানে অবস্থান করা। এ থেকেই {জান্নাতে আদন} বা চিরস্থায়ী বসবাসের জান্নাত।

সুহাইলি বলেন, আদনানের পরবর্তী নামসমূহ হলো—
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ১৬)
مُضْطَرب فِيهِ وَالَّذِي صَحَّ عَنهُ صلى الله عليه وسلم أَنه لما بلغ عدنان قَالَ كذب النسابون

وَرُوِيَ عَن عمر رضي الله عنه أَنه قَالَ إِنَّمَا ننتسب إِلَى عدنان وَمَا فَوق ذَلِك لَا نَدْرِي مَا هُوَ وَأَصَح شَيْء رُوِيَ فِيمَا بعد مَا ذكره الدولابي عَن أم سَلمَة رضي الله عنها عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ معد ابْن عدنان بن أدد بن زند بن اليرى ابْن اعراق الثرى قَالَت أم سَلمَة رضي الله عنها فزند هُوَ الهميسع واليرى هُوَ نبت واعراق الثرى هُوَ إِسْمَاعِيل عليه السلام لِأَنَّهُ ابْن إِبْرَاهِيم عليه السلام وَإِبْرَاهِيم لم تَأْكُله النَّار كَمَا أَن النَّار لَا تَأْكُل الثرى

قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ لَا نَعْرِف زندا يَعْنِي بالنُّون إِلَّا فِي هَذَا الحَدِيث وزند بن الجون وَهُوَ أَبُو دلامة الشَّاعِر

قَالَ السُّهيْلي وَهَذَا الحَدِيث عِنْدِي لَيْسَ بمعارض لما تقدم من قَوْله كذب النسابون وَلَا لقَوْل عمر رضي الله عنه لِأَنَّهُ حَدِيث متأول يحْتَمل أَن يكون قَوْله ابْن اليرى بن اعراق الثرى كَمَا قَالَ كلكُمْ بَنو آدم وآدَم من تُرَاب لَا يُرِيد أَن الهميسع وَمن دونه ابْن لإسماعيل لصلبه وَلَا بُد من هَذَا التَّأْوِيل أَو غَيره لِأَن أَصْحَاب الْأَخْبَار لَا يَخْتَلِفُونَ فِي بعد الْمدَّة مَا بَين عدنان وَإِبْرَاهِيم ويستحيل فِي
এটি অসংলগ্ন এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে তা হলো, যখন তিনি আদনান পর্যন্ত পৌঁছাতেন তখন বলতেন, "বংশবিদগণ মিথ্যা বলেছে।"

উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন, "আমরা কেবল আদনান পর্যন্তই আমাদের বংশসূত্র নির্ণয় করি, আর এর ঊর্ধ্বে যা আছে তা আমরা জানি না।" আর আদনান পরবর্তী বংশধারা সম্পর্কে বর্ণিত সবচেয়ে বিশুদ্ধ বিষয় হলো যা আদ-দুলাবি উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: "মাআদ ইবনে আদনান ইবনে উদাদ ইবনে যান্দ ইবনে ইয়ারা ইবনে ইরাক আস-সারা।" উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'যান্দ' হলো হামায়সা, 'ইয়ারা' হলো নাবত এবং 'ইরাক আস-সারা' হলেন ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)। কারণ তিনি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র, আর আগুন ইবরাহীমকে দহন করেনি যেমনিভাবে আগুন মাটিকে গ্রাস করে না।

আদ-দারা কুতনি বলেছেন, আমরা এই হাদীস এবং যান্দ ইবনে আল-জাওন—যিনি কবি আবু দুলামা—ব্যতীত আর কোথাও 'নুন' বর্ণসহ 'যান্দ' নামটির পরিচিতি পাই না।

আস-সুহাইলি বলেন, এই হাদীসটি আমার নিকট পূর্বোল্লিখিত "বংশবিদগণ মিথ্যা বলেছে" উক্তিটির সাথে কিংবা উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তির সাথে সাংঘর্ষিক নয়; কারণ এটি একটি রূপক বা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ হাদীস। সম্ভাবনা রয়েছে যে, তাঁর বাণী "ইবনে ইয়ারা ইবনে ইরাক আস-সারা" বলাটি ঠিক তেমন যেমন বলা হয় "তোমরা সবাই আদমের সন্তান আর আদম মাটি থেকে তৈরি"। এর মাধ্যমে তিনি এটি বুঝাতে চাননি যে হামায়সা এবং তার পরবর্তীগণ ইসমাইলের সরাসরি ঔরসজাত সন্তান। এই ব্যাখ্যা বা অন্য কোনো ব্যাখ্যা গ্রহণ করা অপরিহার্য, কারণ ইতিহাসবিদগণ আদনান ও ইবরাহীমের মধ্যকার সুদীর্ঘ সময়ের ব্যবধান সম্পর্কে একমত, আর এটি অসম্ভব যে...
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ১৭)
الْعَادة أَن يكون بَينهمَا أَرْبَعَة آبَاء أَو سَبْعَة كَمَا ذكر ابْن إِسْحَاق أَو عشرَة أَو عشرُون فَإِن الْمدَّة أطول من ذَلِك كُله وَذَلِكَ أَن معد بن عدنان كَانَ فِي مُدَّة بخت نصر ابْن ثِنْتَيْ عشرَة سنة قَالَه الطَّبَرِيّ وَذكر أَن الله أوحى فِي ذَلِك الزَّمَان إِلَى إرميا بن حلقيا أَن اذْهَبْ إِلَى بخت نصر فَأعلمهُ أَنِّي قد سلطته على الْعَرَب واحمل معدا على الْبراق كي لَا تصيبه النقمَة فيهم فانى مستخرج من صلبه نَبيا كَرِيمًا أختم بِهِ الرُّسُل

فَاحْتمل معدا على الْبراق إِلَى أَرض الشَّام فَنَشَأَ مَعَ بني إِسْرَائِيل وَتزَوج هُنَاكَ امْرَأَة اسْمهَا معانة بنت جوشن من بني دب بن جرهم

وَمن ثمَّ وَقع فِي كتب الإسرائيليين نسب معد ثبته فِي كتبه رخيا وَهُوَ بورخ كَاتب إرميا وَبَينه وَبَين إِبْرَاهِيم فِي ذَلِك النّسَب نَحْو من أَرْبَعِينَ جدا وَقد ذكرهم المَسْعُودِيّ على اضْطِرَاب فِي الْأَسْمَاء وتغيير فِي الْأَلْفَاظ وَلذَلِك وَالله أعلم أعرض النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَن رفع نسب عدنان إِلَى إِسْمَاعِيل لما فِيهِ من التَّغْيِير وعواصة تِلْكَ الْأَسْمَاء

وَذكر الطَّبَرِيّ نسب عدنان إِلَى إِسْمَاعِيل من وُجُوه ذكر فِي أَكْثَرهَا نَحوا من أَرْبَعِينَ أَبَا باخْتلَاف فِي الْأَلْفَاظ لِأَنَّهَا
সাধারণত তাদের মাঝে চারজন কিংবা সাতজন পূর্বপুরুষ থাকার কথা প্রচলিত রয়েছে—যেমনটি ইবনে ইসহাক উল্লেখ করেছেন—অথবা দশজন কিংবা বিশজন। তবে প্রকৃত সময়কাল ছিল এর চেয়েও দীর্ঘ। এর কারণ হলো, আত-তবারী বলেছেন যে, বুখত নাসরের (নেবুচাদনেজার) সময়ে মা’আদ ইবনে আদনানের বয়স ছিল বারো বছর। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ সেই যুগে ইরমিয়া ইবনে হিলকিয়ার প্রতি ওহী নাযিল করেছিলেন যে, তুমি বুখত নাসরের কাছে যাও এবং তাকে জানিয়ে দাও যে, আমি তাকে আরবদের ওপর আধিপত্য দান করেছি। আর তুমি মা’আদকে বুরাকে চড়িয়ে নিয়ে যাও যাতে আরবদের ওপর আপতিত বিপদ তাকে স্পর্শ না করে। কারণ আমি তার বংশধারা থেকে এমন এক সম্মানিত নবীকে বের করব, যার মাধ্যমে আমি রাসূলগণের ধারা সমাপ্ত করব।

অতঃপর তিনি মা’আদকে বুরাকে চড়িয়ে সিরিয়া (শাম) ভূমিতে নিয়ে গেলেন। সেখানে তিনি বনী ইসরাঈলের সাথে বেড়ে ওঠেন এবং সেখানে মা’আনা বিনতে জাওশান নামক এক নারীকে বিবাহ করেন, যিনি জুরহুম গোত্রের শাখা বনু দুব-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

আর এ কারণেই ইসরাঈলী কিতাবসমূহে মা’আদের বংশলতিকা পাওয়া যায়, যা ইরমিয়ার লেখক রুখিয়া—যিনি বারুখ নামে পরিচিত—তার কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করেছেন। সেই বংশলতিকায় তার এবং ইবরাহীমের মাঝে প্রায় চল্লিশজন পূর্বপুরুষের নাম রয়েছে। আল-মাসউদী তাদের নাম উল্লেখ করেছেন, যদিও সেখানে নামের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা ও শব্দের পরিবর্তন বিদ্যমান। আর সম্ভবত এ কারণেই—আল্লাহই ভালো জানেন—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদনানের বংশলতিকাকে ইসমাইল পর্যন্ত উন্নীত করা থেকে বিরত থাকতেন, কারণ এতে তথ্যের পরিবর্তন ও নামগুলোর মাঝে জটিলতা ছিল।

আত-তবারী বিভিন্ন সূত্রে আদনান থেকে ইসমাইল পর্যন্ত বংশলতিকা বর্ণনা করেছেন, যার অধিকাংশ বর্ণনাতেই শব্দের ভিন্নতাসহ প্রায় চল্লিশজন পিতার উল্লেখ রয়েছে। কারণ সেগুলো—
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ১৮)
نقلت من كتب عبرانية وَذكر من وَجه قوي أَن نسب عدنان يرجع إِلَى قيذر بن إِسْمَاعِيل

وَكَانَ رُجُوع معد إِلَى أَرض الْحجاز بعد مَا رفع الله بأسه عَن الْعَرَب وَرجعت بقاياهم الَّتِي كَانَت فِي الشواهق إِلَى محالهم ومياههم بعد أَن دوخ بِلَادهمْ بخت نصر وَخرب الْمَعْمُور واستأصل أهل حُضُور وهم الَّذين ذكرهم الله تَعَالَى فِي قَوْله {وَكم قصمنا من قَرْيَة كَانَت ظالمة} الْآيَة

وَذَلِكَ لقتلهم شُعَيْب بن ذِي مهدم نَبيا أرسل إِلَيْهِم وقبره بصنين جبل بِالْيمن وَلَيْسَ بشعيب الأول صَاحب مَدين ذَلِك شُعَيْب بن عيفي وَيُقَال فِيهِ ابْن صيفون وَكَذَلِكَ أهل عدن قتلوا نَبيا لَهُم اسْمه حَنْظَلَة بن صَفْوَان فَكَانَت سطوة الله بالعرب لذَلِك نَعُوذ بِاللَّه من غَضَبه وأليم عِقَابه

عدنا إِلَى تَمام النّسَب الشريف قَالَ ابْن إِسْحَاق بن أدد بن مقوم بن ناحور بن تيرح ابْن يعرب بن يشجب بن نابت بن
হিব্রু কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে এবং একটি শক্তিশালী সূত্রের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে যে, আদনানের বংশধারা ইসমাইলের পুত্র কাইদারের দিকে প্রত্যাবর্তন করে।

আল্লাহ আরবদের ওপর থেকে তাঁর শাস্তি তুলে নেওয়ার পর মা'আদ হিজাজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন এবং পাহাড়ে আশ্রয় নেওয়া তাদের অবশিষ্ট লোকেরা নিজ নিজ বসতি ও জলাধারের দিকে ফিরে আসে। এটি ঘটেছিল বুখত নাসর তাদের দেশ পদানত করার, জনপদগুলো ধ্বংস করার এবং হুজুরবাসীদের নির্মূল করার পর। এরাই তারা যাদের কথা আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীতে উল্লেখ করেছেন: {আর আমি কত জনপদকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছি যা ছিল জালেম...} আয়াত।

আর এটি ছিল তাদের প্রতি প্রেরিত নবী শুআইব ইবনে যী মাহদামকে তাদের হত্যার কারণে, যাঁর কবর ইয়ামানের সিনিন পাহাড়ে অবস্থিত। তিনি মাদইয়ান অধিবাসী প্রথম শুআইব নন; তিনি ছিলেন শুআইব ইবনে আইফি, যাকে ইবনে সাইফুনও বলা হয়। অনুরূপভাবে আদনবাসীগণ তাদের একজন নবীকে হত্যা করেছিল যাঁর নাম ছিল হানজালা ইবনে সাফওয়ান। ফলে আরবদের ওপর আল্লাহর পাকড়াও আপতিত হয়েছিল। আমরা আল্লাহর ক্রোধ ও তাঁর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি।

আমরা সম্মানিত বংশধারার পূর্ণ বিবরণে ফিরে আসছি। ইবনে ইসহাক বলেন: আদাদ ইবনে মুকাওভিম ইবনে নাহুর ইবনে তায়রাহ ইবনে ইয়াহরুব ইবনে ইয়াশজুব ইবনে নাবিত ইবনে...
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ১৯)
إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم خَلِيل الرَّحْمَن بن تارح وَهُوَ آزر بن ناحور بن ساروح بن راعو ابْن فالخ بن عيبر بن شالخ بن ارفخشد بن سَام بن نوح بن لامك بن متوشلخ بن خنوخ وَهُوَ إِدْرِيس النَّبِي فِيمَا يَزْعمُونَ وَالله أعلم وَكَانَ أول نَبِي أعطي النُّبُوَّة والخط بالقلم ابْن يرد بن مهليل بن قينن بن يانش بن شِيث بن آدم صلى الله عليه وسلم هَكَذَا سَاقه ابْن إِسْحَاق وَرُوِيَ فِيهِ غير ذَلِك

قَالَ السُّهيْلي إِبْرَاهِيم مَعْنَاهُ أَب رَاحِم

قَالَ ابْن عَسَاكِر فِي تَارِيخ دمشق إِن إِبْرَاهِيم عليه السلام ولد بالغوطة بقرية لَهَا يُقَال لَهَا بَرزَة قَالَ وَالصَّحِيح أَنه ولد بكوثا من إقليم بابل من الْعرَاق كوثى بِضَم أَوله وبالثاء الْمُثَلَّثَة مَقْصُور على وزن فعلى قَالَه الْبكْرِيّ فِي مُعْجم مَا
রাহমানের বন্ধু ইবরাহীমের পুত্র ইসমাঈল, তিনি (ইবরাহীম) তারাহ-এর পুত্র—যিনি আজর নামেও পরিচিত—বিন নাহুর বিন সারুহ বিন রাউ বিন ফালিজ বিন আবির বিন শালিখ বিন আরফাখশাদ বিন সাম বিন নূহ বিন লামিক বিন মাতুশালাখ বিন খানুখ। আর মানুষের ধারণা অনুযায়ী তিনি (খানুখ) হলেন ইদ্রিস নবী, তবে আল্লাহই অধিক অবগত। তিনি ছিলেন প্রথম নবী যাকে নবুওয়াত এবং কলমের সাহায্যে লেখার সক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল। (তিনি) ইয়ারদ বিন মাহলাইল বিন কাইনান বিন ইয়ানিশ বিন শিথ বিন আদম আলাইহিস সালাম-এর বংশধর। ইবনে ইসহাক এভাবেই বংশপরম্পরা বর্ণনা করেছেন, তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বর্ণনাও রয়েছে।

সুহাইলি বলেন, ইবরাহীম শব্দের অর্থ হলো দয়ালু পিতা।

ইবনে আসাকির ‘তারিখে দিমাশক’-এ উল্লেখ করেছেন যে, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ঘুতাহ অঞ্চলের বারজাহ নামক এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিশুদ্ধ মত হলো তিনি ইরাকের বাবেল প্রদেশের কুসা নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেছেন। কুসা শব্দটি শুরুতে পেশযুক্ত এবং তিনটি নুকতাযুক্ত ‘সা’ বর্ণ দ্বারা গঠিত, যা ‘ফু’লা’ ছন্দের সংক্ষিপ্ত শব্দ। বকরী ‘মু’জাম মা’ গ্রন্থে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ২০)
استعجم ولد على رَأس ألفي سنة من خلق آدم عليه السلام وَكَانَ بَين نوح وآدَم عشرَة قُرُون وَبَين نوح وَإِبْرَاهِيم عشرَة قُرُون

وآزر قيل مَعْنَاهُ يَا أَعْوَج وَقيل هُوَ اسْم صنم وَقيل هُوَ اسْم لِأَبِيهِ كَانَ يُسمى تارح وآزر

وَأمه نونا وَيُقَال اسْمهَا ليوثي

وَمَا بعد إِبْرَاهِيم أَسمَاء سريانية فسر أَكْثَرهَا بِالْعَرَبِيَّةِ ابْن هِشَام وَذكر أَن فالغ مَعْنَاهُ القسام وشالخ مَعْنَاهُ الرَّسُول أَو الْوَكِيل

وَذكر أَن إِسْمَاعِيل تَفْسِيره مُطِيع الله

وَذكر الطَّبَرِيّ أَن بَين فالغ وعابر أَبَا اسْمه قينن أسقط اسْمه فِي التَّوْرَاة لِأَنَّهُ كَانَ ساحرا

وأرفخشد قَالَ النَّوَوِيّ بالراء الساكنة ثمَّ فَاء مَفْتُوحَة ثمَّ خاء مُعْجمَة سَاكِنة ثمَّ شين مُعْجمَة وَذكرهَا الْمصْرِيّ بِالْفَتْح وذال مُعْجمَة

أمه من بَنَات الْمُلُوك عَاشَ أرفخشد أَرْبَعمِائَة عَام وَثَلَاثَة أَعْوَام وَهُوَ وَصِيّ أَبِيه تَفْسِيره مِصْبَاح مضيء وشاد مخفف بالسُّرْيَانيَّة الضياء وَمِنْه جم شاد وَهُوَ رَابِع الْمُلُوك بعد جيومرث وَقد سميت بِهِ كتابي هَذَا تبركا بِهِ

قَالَ ابْن عبد الحكم فِي فتوح مصر إِن نوحًا عليه السلام سَأَلَ الله تَعَالَى أَن يرزقه الْإِجَابَة فِي وَلَده وَذريته فوعده ذَلِك فَنَادَى وَلَده وهم نيام عِنْد السحر فَنَادَى ساما فَأَجَابَهُ يسْعَى وَصَاح سَام فِي وَلَده فَلم يجبهُ إِلَّا أرفخشد فَانْطَلق بِهِ مَعَه حَتَّى أَتَيَاهُ فوصع نوح يَمِينه على سَام وشماله على أرفخشد بن سَام
আদমের (আলাইহিস সালাম) সৃষ্টির দুই হাজার বছরের মাথায় অনারবদের জন্ম হয়। নূহ ও আদমের মাঝে দশটি প্রজন্ম ছিল এবং নূহ ও ইবরাহীমের মাঝেও দশটি প্রজন্ম ছিল।

আর আজর—বলা হয় যে এর অর্থ হলো ‘হে বক্র’, আবার বলা হয় যে এটি একটি মূর্তির নাম, আবার বলা হয় যে এটি তার পিতার নাম; তাকে তারাহ ও আজর উভয় নামেই ডাকা হতো।

এবং তার মাতা ছিলেন নূনা, আবার বলা হয় যে তার নাম ছিল লাইউসী।

ইবরাহীমের পরবর্তী নামগুলো সুরয়ানি ভাষার; ইবনে হিশাম এগুলোর অধিকাংশের ব্যাখ্যা আরবিতে করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ফালাগ শব্দের অর্থ হলো বিভাজনকারী এবং শালাখ শব্দের অর্থ হলো রাসূল বা প্রতিনিধি।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ইসমাঈল শব্দের ব্যাখ্যা হলো আল্লাহর অনুগত।

তাবারী উল্লেখ করেছেন যে, ফালাগ ও আবিরের মাঝে কায়নান নামক জনৈক পিতা ছিলেন; তাওরাতে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে কারণ তিনি একজন জাদুকর ছিলেন।

আর আরফাখশাদ: ইমাম নববী বলেন, এটি সাকিনযুক্ত ‘রা’, এরপর ফাতহাযুক্ত ‘ফা’, এরপর সাকিনযুক্ত মুজামাহ ‘খা’ এবং এরপর মুজামাহ ‘শীন’ দিয়ে গঠিত। আল-মিসরী একে ফাতহা এবং মুজামাহ ‘যাল’ দিয়ে উল্লেখ করেছেন।

তাঁর মাতা ছিলেন রাজকন্যাদের একজন। আরফাখশাদ চারশত তিন বছর বেঁচে ছিলেন এবং তিনি ছিলেন তাঁর পিতার অসি বা স্থলাভিষিক্ত। এর ব্যাখ্যা হলো ‘উজ্জ্বল প্রদীপ’। সুরয়ানি ভাষায় ‘শাদ’ অর্থ হলো আলোকপ্রভা, আর এ থেকেই ‘জাম শাদ’ নামটির উৎপত্তি, যিনি গাইয়ুমার্থের পরবর্তী চতুর্থ রাজা ছিলেন। আমি বরকত লাভের উদ্দেশ্যে আমার এই কিতাবটির নামকরণ এর মাধ্যমেই করেছি।

ইবনে আবদিল হাকাম ‘ফুতুহু মিসর’-এ বর্ণনা করেছেন যে, নূহ আলাইহিস সালাম মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন যেন তাঁর সন্তান ও বংশধরদের দোয়া কবুল হওয়ার বৈশিষ্ট্য দান করা হয়। আল্লাহ তাঁকে সেই ওয়াদা দিলেন। তখন তিনি ভোরবেলা তাঁর সন্তানদের ডাকলেন যখন তারা ঘুমে ছিল। তিনি সামকে ডাকলেন, আর সাম দৌড়ে এসে তাঁর ডাকে সাড়া দিল। অতঃপর সাম তাঁর সন্তানদের ডাক দিলেন, কিন্তু আরফাখশাদ ছাড়া আর কেউ সাড়া দিল না। তখন সাম তাকে সাথে নিয়ে নূহের কাছে আসলেন। তখন নূহ তাঁর ডান হাত সামের উপর এবং তাঁর বাম হাত সামের পুত্র আরফাখশাদের উপর রাখলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ২১)
وَسَأَلَ الله تَعَالَى عز وجل أَن يُبَارك فِي سَام وَأَن يَجْعَل الْملك والنبوة فِي ولد أرفخشد ثمَّ نَادَى حاما فَلم يجبهُ وَلم يقم إِلَيْهِ هُوَ وَلَا أحد من وَلَده فَدَعَا الله تَعَالَى نوح أَن يَجْعَل وَلَده أذلاء وَأَن يجعلهم عبيدا لولد سَام

فَعَاشَ سَام مُبَارَكًا حَتَّى مَاتَ وعاش ابْنه أرفخشد بن سَام مُبَارَكًا حَتَّى مَاتَ وَكَانَ الْملك الَّذِي يُحِبهُ الله والنبوة وَالْبركَة فِي ولد أرفخشد بن سَام

وَقَالَ الإِمَام أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن عبد الله بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن أبي بكر بن يُوسُف بن الْعَطَّار فِي تأليفه نظم الدُّرَر فِي نسب سيد الْبشر

(لما بدا نور النَّبِي المرشد … حَيا ببهجته فَحَيَّا أرفخشد)

(أهْدى لَهُ سَام الْبَهَاء وَإِنَّمَا … أهْدى الْبَهَاء ممجد لممجد)

(وكساه من حلل السِّيَادَة حلَّة … موشية بسنا النَّبِي مُحَمَّد)

(بالمجد من بَين البرايا خصّه … وحباه أَحْمد بالثناء الأحمد)

وَآخر الأبيات

(منا السَّلَام عَلَيْهِ يحمل طيبه … ريح الصِّبَا هبت على روض شدي)
তিনি মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন যেন তিনি সামের ওপর বরকত দান করেন এবং আরফাখশাদের বংশধরদের মধ্যে রাজত্ব ও নবুওয়াত দান করেন। অতঃপর তিনি হামকে আহ্বান করলেন, কিন্তু সে তাঁর ডাকে সাড়া দিল না এবং সে বা তার সন্তানদের কেউ তাঁর সমীপে উপস্থিত হলো না। তখন নূহ মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন যেন তিনি তার সন্তানদের লাঞ্ছিত করেন এবং তাদের সামের সন্তানদের দাসে পরিণত করেন।

অতঃপর সাম বরকতময় অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করে মৃত্যুবরণ করলেন এবং তাঁর পুত্র আরফাখশাদ বিন সামও বরকতময় অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করে মৃত্যুবরণ করলেন। আর মহান আল্লাহর পছন্দনীয় রাজত্ব, নবুওয়াত ও বরকত আরফাখশাদ বিন সামের বংশধরদের মধ্যেই ছিল।

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন ইউসুফ বিন আল-আত্তার তাঁর 'নাযমুত দুরার ফি নাসাবি সাইয়্যিদিল বাশার' নামক রচনায় বলেছেন:

(যখন পথপ্রদর্শক নবীর নূর প্রকাশিত হলো … তখন তা তার দীপ্তি দ্বারা আরফাখশাদকে অভিবাদন জানাল।)

(সাম তাকে সেই সৌন্দর্য উপহার দিয়েছিলেন, আর মূলত এক মহিমান্বিত সত্তাই অন্য এক মহিমান্বিত সত্তাকে এই সৌন্দর্য অর্পণ করেছিলেন।)

(এবং তিনি তাকে নেতৃত্বের পোশাক পরিয়ে দিলেন … যা নবী মুহাম্মদের জ্যোতি দ্বারা সুশোভিত ছিল।)

(সৃষ্টিজগতের মধ্যে তাকেই তিনি আভিজাত্য দিয়ে বিশিষ্ট করলেন … এবং আহমদকে সর্বোত্তম প্রশংসার মাধ্যমে তা দান করলেন।)

কবিতার শেষাংশ:

(আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক যা তার সুগন্ধ বহন করে … পুবালি বাতাসের ন্যায় যা সুবাসিত উদ্যানের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।)
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ২২)
وَاسم نوح عليه السلام عبد الْغفار سمي نوحًا لنوحه وَأَخُوهُ صابيء وَإِلَيْهِ ينْسب دين الصابئين ولامك وَقيل لمك وَهُوَ أول من اتخذ الْعود للغناء لسَبَب يطول ذكره وَاتخذ مصانع المَاء ومتوشلخ وَقيل متوشلخ بِضَم الْمِيم وَفتح التَّاء وَالْوَاو سَاكِنة قَالَه السُّهيْلي تَفْسِيره مَاتَ الرَّسُول لِأَن أَبَاهُ كَانَ رَسُولا وَهُوَ خنوخ وَهُوَ إِدْرِيس عليه السلام وَإِدْرِيس بن يزدْ وَتَفْسِيره الضَّابِط ابْن مهلائيل يَعْنِي الممدوح وَفِي زَمَنه كَانَ بَدْء عبَادَة الْأَصْنَام ابْن قينان وَتَفْسِيره المستوي ابْن أنوش وَتَفْسِيره الصَّادِق وَهُوَ بِالْعَرَبِيَّةِ آنش وَهُوَ أول من غرس النَّخْلَة وَبَوَّبَ الْكَعْبَة وبذر الْحبَّة وشيث وَهُوَ بالسُّرْيَانيَّة شاث وَتَفْسِيره عَطِيَّة الله وآدَم عليه السلام قيل هُوَ سرياني وَقيل أفعل من الأدمة وَقيل أَخذ من لفظ الْأَدِيم لِأَنَّهُ خلق من أَدِيم الأَرْض رُوِيَ ذَلِك عَن ابْن عَبَّاس

قَالَ النَّضر بن شُمَيْل سمي آدم لبياضه من قَوْلهم ظَبْي آدم إِذا كَانَ نَاصح بَيَاض الْبَطن مسكي الظّهْر

وَذكر ثَعْلَبَة بن سَلامَة نسابة الأندلس أَنه كَانَ طول آدم عليه السلام يَوْم خلقه الله مِائَتي ذِرَاع بذراعه فَلَمَّا خلقت مِنْهُ حَوَّاء عليها السلام أنقص مِنْهُ مائَة ذِرَاع
নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর নাম ছিল আবদুল গাফফার; তাঁর বিলাপের (ক্রন্দনের) আধিক্যের কারণে তাঁকে ‘নূহ’ নামকরণ করা হয়েছে। তাঁর ভাই ছিলেন সাবী এবং তাঁর দিকেই সাবী ধর্মকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। এবং লামিক—বলা হয় লাম্মিক—যিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি গানের জন্য ‘উদ’ নামক বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করেছিলেন এমন এক কারণে যা বর্ণনা করা দীর্ঘসাধ্য, এবং তিনিই পানির আধারসমূহ নির্মাণ করেছিলেন। এবং মাতুশালাখ—বলা হয়ে থাকে মুতূশালিথ, মীম বর্ণে পেশ, তা বর্ণে জবর এবং ওয়াও বর্ণে সাকিন যোগে; এটি আস-সুহাইলি বলেছেন। এর অর্থ হলো ‘রাসূলের প্রয়াণ’, কেননা তাঁর পিতা ছিলেন একজন রাসূল। আর তিনি হলেন খানুখ, যিনি ইদ্রিস (আলাইহিস সালাম)। তিনি ইয়ারিদের পুত্র ইদ্রিস, যার অর্থ হলো ‘নিয়ন্ত্রক’; তিনি মাহলাইলের পুত্র, যার অর্থ হলো ‘প্রশংসিত’। তাঁর যুগেই মূর্তিপূজার সূচনা হয়েছিল। তিনি কায়নানের পুত্র, যার অর্থ হলো ‘সুস্থিত’। তিনি আনুশ-এর পুত্র, যার অর্থ হলো ‘সত্যবাদী’ এবং আরবিতে তাকে ‘আনিশ’ বলা হয়। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি খেজুর গাছ রোপণ করেছিলেন, কাবার দরজা নির্মাণ করেছিলেন এবং শস্যবীজ বপন করেছিলেন। এবং শীস, সুরিয়ানি ভাষায় যাকে ‘শাশ’ বলা হয় এবং এর অর্থ হলো ‘আল্লাহর দান’। এবং আদম (আলাইহিস সালাম); বলা হয়েছে যে এটি একটি সুরিয়ানি শব্দ। আবার বলা হয়েছে যে এটি ‘আল-উদমা’ (তামাটে বর্ণ) থেকে উদ্ভূত। আরও বলা হয়েছে যে এটি ‘আদীম’ শব্দ থেকে গৃহীত, কারণ তাঁকে জমিনের উপরিভাগ (আদীমুল আরদ) থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এরূপ বর্ণিত হয়েছে।

নাদর ইবনে শুমাইল বলেছেন: তাঁর শুভ্রতার কারণে তাঁকে ‘আদম’ বলা হয়েছে; যা আরবদের এই উক্তি থেকে গৃহীত যে, ‘আদম হরিণ’—যখন হরিণের পেটের দিকটি নিরেট সাদা এবং পিঠের দিকটি কস্তুরী বর্ণের হয়।

আন্দালুসের বংশবিদ ছালাবাহ ইবনে সালামাহ উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ যেদিন আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করেছিলেন, সেদিন তাঁর উচ্চতা ছিল তাঁর নিজের হাতের মাপে দুইশ হাত। অতঃপর যখন তাঁর থেকে হাওয়া (আলাইহাস সালাম)-কে সৃষ্টি করা হলো, তখন আদম (আলাইহিস সালাম)-এর উচ্চতা থেকে একশ হাত কমিয়ে দেওয়া হলো।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَكَانَ إِذا قعد فِي الأَرْض لم يخف عَلَيْهِ من أَرْكَانهَا شَيْء كَمَا لَا يخفى على أحدكُم أَرْكَان بَيته إِذا جلس فِي وَسطه

وَقَالَ ابْن عَسَاكِر فِي تَارِيخه كَانَ طول آدم سِتِّينَ ذِرَاعا وَعرضه سَبْعَة أَذْرع

وَكَانَ لَهُ لحية سَوْدَاء عرض شبر فِي شبر

وَقَالَ عبد الله بن قُتَيْبَة فِي المعارف كَانَ أَمْرَد وَإِنَّمَا نَبتَت اللحى لوَلَده بعده وَلما احْتضرَ اشْتهى قطفا من قطف الْجنَّة فَانْطَلق بنوه ليطلبوه لَهُ فلقيتهم الْمَلَائِكَة فَقَالُوا ارْجعُوا فقد كفيتموه فَانْتَهوا إِلَيْهِ فقبضوا روحه وغسلوه وحنطوه وكفنوه وَصلى عَلَيْهِ جِبْرِيل وَالْمَلَائِكَة خلف جِبْرِيل وَبَنوهُ خلف الْمَلَائِكَة ودفنوه وَقَالُوا هَكَذَا سنتكم فِي مَوْتَاكُم يَا بني آدم

قَالَ وهب وحفر لَهُ فِي مَوضِع من أبي قبيس يُقَال لَهُ غَار الْكَنْز فَلم يزل آدم فِي ذَلِك الْغَار حَتَّى كَانَ زمَان الْغَرق استخرجه نوح وَحمله فِي تَابُوت مَعَه فِي السَّفِينَة فَلَمَّا نضب المَاء
তিনি যখন পৃথিবীতে বসতেন, তখন এর কোনো প্রান্তই তাঁর কাছে অস্পষ্ট থাকত না, যেমন তোমাদের কেউ যখন তার ঘরের মাঝখানে বসে, তখন ঘরের কোনো কোণই তার কাছে অস্পষ্ট থাকে না।

ইবনে আসাকির তাঁর ইতিহাসে বলেছেন যে, আদমের উচ্চতা ছিল ষাট হাত এবং তাঁর প্রশস্ততা ছিল সাত হাত।

তাঁর একটি কালো দাড়ি ছিল যার প্রশস্ততা ছিল এক বিঘত বাই এক বিঘত।

আবদুল্লাহ ইবনে কুতায়বাহ 'আল-মাআরিফ' গ্রন্থে বলেছেন যে, তিনি ছিলেন শ্মশ্রুহীন এবং তাঁর পরবর্তী সন্তানদের মাঝেই কেবল দাড়ি গজিয়েছিল। যখন তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে এল, তিনি জান্নাতের ফলের একটি থোকা খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন। তাঁর পুত্ররা তাঁর জন্য তা খুঁজতে বের হলেন, পথিমধ্যে ফেরেশতাদের সাথে তাঁদের সাক্ষাৎ হলো। তাঁরা বললেন, "তোমরা ফিরে যাও, তাঁর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।" অতঃপর তাঁরা তাঁর কাছে পৌঁছালেন এবং তাঁর রুহ কবজ করলেন। তাঁরা তাঁকে গোসল করালেন, সুগন্ধি মাখালেন এবং কাফন পরালেন। জিবরাঈল তাঁর জানাজা পড়ালেন এবং জিবরাঈলের পেছনে ফেরেশতারা আর ফেরেশতাদের পেছনে তাঁর সন্তানরা দাঁড়ালেন। তাঁরা তাঁকে দাফন করলেন এবং বললেন, "হে আদমের সন্তানগণ! তোমাদের মৃতদের জন্য এটাই হলো তোমাদের নিয়ম।"

ওয়াহাব বলেন, আবু কুবাইস পাহাড়ের একটি স্থানে তাঁর জন্য কবর খনন করা হয়েছিল যাকে 'গাউরুল কানজ' (গুপ্তধনের গুহা) বলা হয়। আদম সেই গুহাতেই রয়ে গেলেন যতক্ষণ না মহাপ্লাবনের সময় এলো। নূহ তাঁকে সেখান থেকে বের করলেন এবং একটি সিন্দুকে করে নিজের সাথে নৌকায় বহন করলেন। অতঃপর যখন পানি শুকিয়ে গেল...
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وبدت الأَرْض لأهل السَّفِينَة رده نوح إِلَى مَكَانَهُ

قَالَ وَوجدت فِي التَّوْرَاة أَنه عَاشَ تِسْعمائَة سنة وَثَلَاثِينَ سنة

وَقَالَ وهب ألف سنة

قَالَ السُّهيْلي وَإِنَّمَا رفعنَا هَذِه الْأَنْسَاب وتكلمنا عَلَيْهَا على مَذْهَب من رأى ذَلِك وَلم يكرههُ كَابْن إِسْحَاق والطبري وَالْبُخَارِيّ والزبيريين وَغَيرهم من الْعلمَاء

وَأمه صلى الله عليه وسلم آمِنَة بنت وهب بن عبد منَاف بن زهرَة بن كلاب بن مرّة وَلم يكن لَهَا أَخ فَيكون خالا للنَّبِي صلى الله عليه وسلم وَلَكِن بَنو زهرَة يَقُولُونَ نَحن أَخْوَاله لِأَن آمِنَة مِنْهُم

ولد صلى الله عليه وسلم يَوْم الأثنين فِي شهر ربيع الأول من عَام الْفِيل قيل فِي ثَانِي عشر وَقيل غير ذَلِك

وَكَانَ قدوم الْفِيل فِي نصف الْمحرم وَهلك أَصْحَابه يَوْم الْأَحَد وَبَين الْفِيل وَبَين مولده صلى الله عليه وسلم خَمْسَة وَخَمْسُونَ يَوْمًا حملت بِهِ أمه فِي أَيَّام التَّشْرِيق عِنْد الْجَمْرَة الْوُسْطَى وَلَيْلَة ميلاده انْشَقَّ إيوَان كسْرَى حَتَّى سمع صَوته وَسَقَطت مِنْهُ أَربع عشرَة شرافة وخمدت نَار فَارس وَلم تخمد قبل ذَلِك بِأَلف عَام

توفّي أَبوهُ وَهُوَ حمل قيل وَله شَهْرَان وَمَاتَتْ أمه وَهُوَ ابْن أَربع سِنِين وكفله جده عبد الْمطلب

‌‌ذكر أَسْمَائِهِ صلى الله عليه وسلم

 

قَالَ أَنا مُحَمَّد وَأَنا أَحْمد والحاشر والمقتفي وَنَبِي الرَّحْمَة والماحي والخاتم وَالْعَاقِب وَنَبِي التَّوْبَة وَنَبِي الْمَلَاحِم وَالشَّاهِد
এবং জাহাজবাসীদের কাছে ভূমি দৃশ্যমান হল, নূহ তাকে তার স্থানে ফিরিয়ে দিলেন।

তিনি বলেন, আমি তাওরাতে পেয়েছি যে, তিনি নয়শ ত্রিশ বছর জীবিত ছিলেন।

এবং ওহাব বলেন, এক হাজার বছর।

সুহাইলি বলেন, আমরা এই বংশপরম্পরাগুলো উল্লেখ করেছি এবং সেইসব আলেমদের মতানুসারে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি যারা একে সঠিক মনে করেন এবং অপছন্দ করেন না; যেমন ইবনে ইসহাক, তাবারী, বুখারী, যুবাইরীগণ এবং অন্যান্য উলামায়ে কেরাম।

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাতা আমিনা বিনতে ওহাব ইবনে আবদে মানাফ ইবনে যুহরা ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ। তাঁর (আমিনার) কোনো ভাই ছিল না যে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মামা হতে পারত; কিন্তু বনু যুহরা বলে থাকেন, "আমরা তাঁর মামা", কারণ আমিনা তাঁদের বংশেরই একজন ছিলেন।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হস্তিবর্ষের রবিউল আউয়াল মাসে সোমবার দিনে জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয়ে থাকে ১২ তারিখে, আবার অন্য কথাও বলা হয়েছে।

হস্তিবাহিনীর আগমন ঘটেছিল মহররমের মাঝামাঝি সময়ে এবং রবিবার দিনে এর সঙ্গীরা ধ্বংস হয়েছিল। হস্তিবাহিনীর ঘটনা এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মের মধ্যবর্তী সময় ছিল পঞ্চান্ন দিন। আইয়ামে তাশরীকের দিনগুলোতে মধ্যম জামরার নিকট তাঁর মাতা তাঁকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন। তাঁর জন্মের রাতে কিসরার প্রাসাদে ফাটল দেখা দিয়েছিল এমনকি তার শব্দ শোনা গিয়েছিল এবং সেখান থেকে চৌদ্দটি গম্বুজ খসে পড়েছিল। আর পারস্যের অগ্নি নির্বাপিত হয়ে গিয়েছিল, যা ইতিপূর্বে এক হাজার বছর ধরে কখনো নির্বাপিত হয়নি।

তিনি যখন গর্ভে ছিলেন তখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন; বলা হয় তখন তাঁর গর্ভকালীন বয়স ছিল দুই মাস। আর যখন তাঁর বয়স চার বছর তখন তাঁর মা মারা যান এবং তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামসমূহের আলোচনা

 

তিনি বলেন: "আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ, হাশির, মুক্বতাফী, রহমতের নবী, মাহী, খাতাম, আক্বিব, তাওবার নবী, মালাহিম-এর নবী এবং শাহিদ।"
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ২৫)
والمبشر والنذير والضحوك والقتال والمتوكل والفاتح والأمين والمصطفى وَالرَّسُول وَالنَّبِيّ والأمي والقثم والمقفى

والضحوك صفته فِي التَّوْرَاة وَذَلِكَ أَنه كَانَ طيب النَّفس فكها وَكَانَ أَجود الْخلق وَله عدَّة أَسمَاء نطق بهَا الْكتاب الْعَزِيز فصلى الله عَلَيْهِ وَسلم

قَالَ ابْن دحْيَة فِي كتاب الْعلم الْمَشْهُور وَأغْرب مَا رَأَيْت فِيمَا قَالَه ابْن عَطاء قَالَ الْفجْر مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم لِأَن الْإِيمَان تفجر مِنْهُ

فَلَمَّا بلغ ثَمَان سِنِين وشهرين وَعشرَة أَيَّام توفّي عبد الْمطلب فَوَلِيه عَمه أَبُو طَالب

وَلما بلغ اثْنَتَيْ عشرَة سنة وشهرين وَعشرَة أَيَّام خرج مَعَ عَمه أبي طَالب إِلَى الشَّام فَرَآهُ بحيرا فَعرفهُ بِصفتِهِ فَأخذ بِيَدِهِ وَقَالَ هَذَا رَسُول رب الْعَالمين

وَتزَوج خَدِيجَة وعمره خمس وَعِشْرُونَ سنة وشهران وَعشرَة أَيَّام

وَلما بلغ خمْسا وَثَلَاثِينَ سنة شهد بُنيان الْكَعْبَة وَوضع الْحجر الْأسود بِيَدِهِ قبل موت رَسُول الله بِثمَانِيَة وَعشْرين سنة

فَلَمَّا بلغ أَرْبَعِينَ سنة وَيَوْما بَعثه الله بشيرا وَنَذِيرا وَأَتَاهُ جِبْرِيل بِغَار حراء فَنزل عَلَيْهِ
সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, হাস্যোজ্জ্বল, যোদ্ধা, তাওয়াক্কুলকারী, বিজয়ী, আমানতদার, মুস্তফা, রাসূল, নবী, উম্মি, দানশীল এবং মুকাফফা।

'আদ-দাহুক' (হাস্যোজ্জ্বল) তাঁর একটি গুণ যা তাওরাতে বর্ণিত হয়েছে। আর তা এ কারণে যে, তিনি ছিলেন সদালাপী ও প্রফুল্ল চিত্তের অধিকারী এবং সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল। পবিত্র গ্রন্থে তাঁর আরও অনেক নাম বর্ণিত হয়েছে। তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

ইবনে দিহয়া তাঁর বিখ্যাত ‘ইলমুল মাশহুর’ কিতাবে বলেন: ইবনে আতা যা বলেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক যা আমি দেখেছি তা হলো, তিনি বলেছেন, ‘আল-ফজর’ (প্রভাত) হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), কারণ তাঁর মাধ্যমেই ঈমানের বিচ্ছুরণ ঘটেছে।

যখন তাঁর বয়স আট বছর দুই মাস দশ দিন হলো, তখন আবদুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করলেন এবং তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করলেন।

তাঁর বয়স যখন বারো বছর দুই মাস দশ দিন হলো, তখন তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে সিরিয়া সফরে বের হলেন। সেখানে বুহাইরা তাঁকে দেখলেন এবং তাঁর গুণাবলী দেখে চিনে ফেললেন। তিনি তাঁর হাত ধরলেন এবং বললেন, ইনি বিশ্বজগতের রবের রাসূল।

তিনি খাদিজাকে বিবাহ করেন যখন তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর দুই মাস দশ দিন।

যখন তাঁর বয়স পঁয়ত্রিশ বছর হলো, তখন তিনি কাবার পুনর্নির্মাণ প্রত্যক্ষ করেন এবং রাসূলুল্লাহর ইন্তেকালের আঠাশ বছর পূর্বে তিনি নিজ হাতে হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করেন।

তাঁর বয়স যখন চল্লিশ বছর একদিন হলো, আল্লাহ তাঁকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করলেন এবং হেরা গুহায় জিবরাঈল তাঁর নিকট আসলেন ও তাঁর ওপর অহি অবতীর্ণ হলো।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ২৬)
{اقْرَأ باسم رَبك الَّذِي خلق}

وَكَانَ مبدأ النُّبُوَّة يَوْم الِاثْنَيْنِ ثامن شهر ربيع الأول فصدع بِأَمْر الله وَبلغ الرسَالَة ونصح الْأمة ثمَّ حاصره أهل مَكَّة فِي الشّعب فَأَقَامَ محصورا دون الثَّلَاث سِنِين هُوَ وَأهل بَيته وَخرج من الْحصار وَله تسع وَأَرْبَعُونَ سنة وَبعد ذَلِك بِثمَانِيَة أشهر وَأحد وَعشْرين يَوْمًا مَاتَ عَمه أَبُو طَالب وَمَاتَتْ خَدِيجَة بعده بِثَلَاثَة أَيَّام

وَلما بلغ خمسين سنة وَثَلَاثَة أشهر قدم عَلَيْهِ جن نَصِيبين فأسلموا

وَلما بلغ خمسين سنة وَتِسْعَة أشهر أسرِي بِهِ إِلَى السَّمَاء قبل مَوته باثنتي عشرَة سنة وشهرين

وَلما بلغ ثَلَاثًا وَخمسين سنة هَاجر من مَكَّة إِلَى الْمَدِينَة فِي يَوْم الِاثْنَيْنِ لثمان خلون من ربيع الأول وَدخل الْمَدِينَة يَوْم الِاثْنَيْنِ فَأَقَامَ بهَا عشر سِنِين

وَتُوفِّي صلى الله عليه وسلم وَهُوَ ابْن ثَلَاث وَسِتِّينَ سنة

وَفِي بعض هَذِه التواريخ خلاف بَين أهل النَّقْل مَعْرُوف لم نذكرهُ خشيَة الإطالة
{পড়ুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।}

নবুওয়াতের সূচনা হয়েছিল রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ সোমবার। অতঃপর তিনি আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী সত্য প্রচার করলেন, রিসালাতের বাণী পৌঁছে দিলেন এবং উম্মতকে নসিহত করলেন। এরপর মক্কাবাসীরা তাঁকে গিরিপথে অবরুদ্ধ করে। তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সেখানে প্রায় তিন বছর অবরুদ্ধ অবস্থায় অতিবাহিত করেন। তিনি যখন অবরোধ থেকে মুক্ত হন, তখন তাঁর বয়স ছিল উনপঞ্চাশ বছর। এর আট মাস একুশ দিন পর তাঁর চাচা আবু তালিব ইন্তেকাল করেন এবং তার তিন দিন পর খাদিজা ইন্তেকাল করেন।

যখন তাঁর বয়স পঞ্চাশ বছর তিন মাস হলো, তখন নাসিবীনের জিনরা তাঁর নিকট আসলো এবং তারা ইসলাম গ্রহণ করলো।

যখন তাঁর বয়স পঞ্চাশ বছর নয় মাস হলো, তখন তাঁর ইন্তেকালের বারো বছর দুই মাস পূর্বে তাঁকে আসমানে নিয়ে যাওয়া হলো।

যখন তাঁর বয়স তিপ্পান্ন বছর হলো, তখন তিনি রবিউল আউয়াল মাসের আট দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার দিন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। তিনি সোমবার দিন মদিনায় প্রবেশ করেন এবং সেখানে দশ বছর অবস্থান করেন।

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর।

এই তারিখগুলোর কয়েকটির ব্যাপারে বর্ণনাকারীদের মধ্যে সুপরিচিত মতভেদ রয়েছে, যা দীর্ঘায়িত হওয়ার ভয়ে আমরা উল্লেখ করিনি।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ২৭)
بَاب فِي ذكر من كتب لَهُ من الصَّحَابَة وَالْكَلَام على كِتَابه صلى الله عليه وسلم فِي صلح الْحُدَيْبِيَة

 

روينَا عَن الإِمَام أبي الْقَاسِم عبد الرَّحْمَن بن عبد الله الْخَثْعَمِي ثمَّ السُّهيْلي رحمه الله فِي الرَّوْض الْأنف وَقد تكلم على كتاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي صلح الْحُدَيْبِيَة وَأَنه صلى الله عليه وسلم محا اسْمه وَهُوَ رَسُول الله حِين قَالَ لَهُ سُهَيْل بن عمر وَلَو شهِدت أَنَّك رَسُول الله لم أقاتلك وَلَكِن اكْتُبْ اسْمك وَاسم أَبِيك فَكتب هَذَا مَا صَالح عَلَيْهِ مُحَمَّد بن عبد الله لِأَنَّهُ قَول حق كُله فَظن بعض النَّاس أَنه كتب بِيَدِهِ وَفِي البُخَارِيّ كتب وَهُوَ لَا يحسن الْكِتَابَة فَتوهم أَن الله تَعَالَى أطلق يَده بِالْكِتَابَةِ فِي تِلْكَ السَّاعَة خَاصَّة

وَقَالَ هِيَ آيَة فَيُقَال لَهُ كَانَت تكون آيَة لَا تنكر لَوْلَا أَنَّهَا مناقضة لآيَة أُخْرَى وَهُوَ كَونه أُمِّيا لَا يكْتب وبكونه أُمِّيا فِي أمة أُميَّة قَامَت الْحجَّة وأفحم الجاحد وانحسمت الشُّبْهَة فَكيف يُطلق الله عز وجل يَده فَيكْتب لتَكون آيَة وَإِنَّمَا الْآيَة أَن لَا
সেইসব সাহাবীগণের আলোচনা যারা তাঁর জন্য লিখেছিলেন এবং হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের লিখিত পত্রের ওপর আলোচনা সংক্রান্ত অধ্যায়।

 

আমরা ইমাম আবুল কাসিম আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খাশ'আমি, অতঃপর আস-সুহাইলি (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে 'আর-রওদুল উনুফ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছি। তিনি হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের লিখিত পত্রের ওপর আলোচনা করেছেন। সেখানে সুহাইল ইবনে আমর যখন তাঁকে বলেছিলেন, "যদি আমি সাক্ষ্য দিতাম যে আপনি আল্লাহর রাসুল, তবে আমি আপনার সাথে যুদ্ধ করতাম না; বরং আপনি আপনার নাম এবং আপনার পিতার নাম লিখুন," তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নাম—যা 'আল্লাহর রাসুল' হিসেবে ছিল—তা মুছে দিয়েছিলেন। অতঃপর লিখলেন, "এটি তা-ই যার ওপর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ সন্ধি করেছেন," কারণ এর পুরোটাই সত্য কথা। ফলে কিছু লোক ধারণা করল যে তিনি নিজ হাতে লিখেছেন। আর বুখারীতে এসেছে যে তিনি লিখেছেন, অথচ তিনি লিখতে জানতেন না। ফলে তারা ধারণা করল যে, আল্লাহ তা'আলা বিশেষভাবে সেই মুহূর্তে লেখার জন্য তাঁর হাতকে সচল করে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, এটি ছিল একটি নিদর্শন। এর উত্তরে বলা হবে যে, এটি অনস্বীকার্য নিদর্শন হতো যদি না তা অন্য একটি নিদর্শনের পরিপন্থী হতো; আর সেটি হলো তাঁর উম্মী হওয়া এবং লিখতে না জানা। একজন উম্মী উম্মতের মাঝে তাঁর উম্মী হওয়ার মাধ্যমেই প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, অস্বীকারকারীদের মুখ বন্ধ হয়েছে এবং সংশয় নিরসন হয়েছে। সুতরাং কীভাবে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর হাতকে সচল করবেন যাতে তিনি লিখতে পারেন এবং তা নিদর্শন হয়? অথচ প্রকৃত নিদর্শন তো হলো তিনি যেন না...
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ২৮)
يكْتب والمعجزات يَسْتَحِيل أَن يدْفع بَعْضهَا بَعْضًا وَإِنَّمَا معنى كتب أَمر أَن يكْتب وَكَانَ الْكَاتِب فِي ذَلِك الْيَوْم عَليّ ابْن أبي طَالب رضوَان الله عَلَيْهِ

وَقد كتب لَهُ عدَّة من أَصْحَابه صلى الله عليه وسلم مِنْهُم الْخُلَفَاء الْأَرْبَعَة وَعبد الله بن الأرقم ومعيقيب بن أبي فَاطِمَة وخَالِد بن سعيد وَأَخُوهُ أبان وَزيد بن ثَابت وَعبد الله بن أبي بن سلول وَأبي بن كَعْب الْقَارئ وَمُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان بعد عَام الْفَتْح وَكتب لَهُ أَيْضا الزبير بن الْعَوام والمغيرة بن شُعْبَة وشرحبيل ابْن حَسَنَة وخَالِد بن الْوَلِيد وَعَمْرو بن العَاصِي وجهيم بن الصَّلْت وَعبد الله بن رَوَاحَة وَمُحَمّد ابْن مسلمة وَعبد الله بن سعد بن أبي سرح وحَنْظَلَة بن الرّبيع الأسيدي والْعَلَاء بن الْحَضْرَمِيّ ذكرهم عمر بن شبة فِي كتاب الْكتاب لَهُ فَجَمِيعهمْ ثَلَاثَة وَعِشْرُونَ

وَقد تتبعت مَا أغفله ابْن شبة رحمه الله فبلغت بهم نَحوا من أَرْبَعَة وَأَرْبَعين كَاتبا مَعَ الَّذين ذكرهم خرجتهم من مصنفات عُلَمَاء هَذَا الشَّأْن تراهم إِن شَاءَ الله تَعَالَى مرتبَة أَسمَاؤُهُم على الْحُرُوف بعد الْخُلَفَاء الْأَرْبَعَة رَضِي الله عَنْهُم
লিখেন এবং মুজিজাসমূহ একে অপরকে খণ্ডন করা অসম্ভব। বরং ‘লিখেছেন’ এর অর্থ হলো তিনি লেখার নির্দেশ দিয়েছেন। আর সেই দিন লেখক ছিলেন আলী ইবনে আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হয়ে তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে বেশ কিছু সংখ্যক সাহাবী লিখেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন চার খলিফা, আবদুল্লাহ ইবনে আরকাম, মুআইকিব ইবনে আবি ফাতিমা, খালিদ ইবনে সাঈদ ও তাঁর ভাই আবান, যায়েদ ইবনে সাবিত, আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল, ক্বারী উবাই ইবনে কাব এবং মক্কা বিজয়ের বছরের পর মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান। এছাড়া তাঁর জন্য আরও লিখেছেন জুবায়ের ইবনুল আওয়াম, মুগিরা ইবনে শুবা, শুরাহবিল ইবনে হাসানা, খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ, আমর ইবনুল আস, জুহাইম ইবনে সালত, আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা, মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা, আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবি সারহ, হানযালা ইবনে রাবি আল-উসাইদি এবং আলা ইবনুল হাদরামি। উমর ইবনে শাব্বাহ তাঁর লেখক বিষয়ক গ্রন্থে তাঁদের উল্লেখ করেছেন এবং তাঁরা সর্বমোট তেইশ জন।

ইবনে শাব্বাহ (রহিমাহুল্লাহ) যা বাদ দিয়েছেন আমি তা অনুসন্ধান করেছি, ফলে তিনি যাদের উল্লেখ করেছেন তাঁদেরসহ মোট চুয়াল্লিশ জন লেখক পর্যন্ত আমি পৌঁছেছি। আমি তাঁদেরকে এই বিষয়ের বিজ্ঞ আলেমদের সংকলনসমূহ থেকে বের করেছি। ইনশাআল্লাহ তাআলা আপনি চার খলিফার (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পরবর্তী নামগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত দেখতে পাবেন।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ২৯)
1 - أَبُو بكر الصّديق رضي الله عنه

كَانَ اسْمه فِي الْجَاهِلِيَّة عبد الْكَعْبَة فَسَماهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عبد الله ابْن أبي قُحَافَة واسْمه عُثْمَان بن عَامر بن عَمْرو بن كَعْب بن سعد بن تيم بن مرّة قرشي تيمي وَأمه أم الْخَيْر بنت صَخْر بن عَامر بن كَعْب بن سعد بن تيم بن مرّة وَاسْمهَا سلمى

هَاجر مَعَه صلى الله عليه وسلم من مَكَّة إِلَى الْمَدِينَة وَكَانَ مؤنسه فِي الْغَار وَهُوَ أول من أسلم من الرِّجَال قَالَه ابْن عبد الْبر

وَقَالَ غَيره ولد فِي السّنة الثَّانِيَة من مولد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم

‌‌فصل فِي سَبَب إِسْلَامه رضي الله عنه

 

روى ابْن الْأَثِير فِي مُعْجم الصَّحَابَة والماليني فِي مُعْجم
১ - আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)

জাহিলিয়াত যুগে তাঁর নাম ছিল আবদুল কাবা, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নাম রাখেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি কুহাফাহ। তাঁর (আবু কুহাফাহর) নাম ছিল উসমান ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তায়িম ইবনে মুররাহ আল-কুরাশি আত-তায়িমি। তাঁর মাতা ছিলেন উম্মুল খায়ের বিনতে সাখর ইবনে আমির ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তায়িম ইবনে মুররাহ এবং তাঁর নাম ছিল সালমা।

তিনি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন এবং গুহায় তাঁর সঙ্গী ছিলেন। পুরুষদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন— এ কথা ইবনে আবদিল বারর বলেছেন।

অন্যরা বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্মের দ্বিতীয় বছরে জন্মগ্রহণ করেন।

‌‌তাঁর ইসলাম গ্রহণের কারণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)

 

ইবনুল আসির ‘মুজামুস সাহাবাহ’ গ্রন্থে এবং মালিনি তাঁর ‘মুজাম’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ৩০)
شُيُوخه من طَرِيق زيد بن وهب الْجُهَنِيّ عَن عبد الله بن مَسْعُود قَالَ قَالَ أَبُو بكر إِنَّه خرج إِلَى الْيمن قبل أَن يبْعَث النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ فَنزلت على شيخ من الأزد عَالم قد قَرَأَ الْكتب وَعلم من علم النَّاس علما كثيرا وأتى عَلَيْهِ أَرْبَعمِائَة سنة إِلَّا عشر سِنِين

فَلَمَّا رَآنِي قَالَ أحسبك حرميا قلت نعم قَالَ وأحسبك قرشيا قلت نعم قَالَ وأحسبك تيميا قلت أَنا من تيم بن مرّة أَنا عبد الله بن عُثْمَان من ولد كَعْب بن سعد بن تيم بن مرّة قَالَ بقيت لي فِيك وَاحِدَة قلت وَمَا هِيَ قَالَ تكشف عَن بَطْنك قلت لَا أفعل أَو تُخبرنِي لم ذَاك قَالَ أجد فِي الْعلم أَن نَبيا يبْعَث فِي الْحرم يعاون على أمره فَتى وكهل فَأَما الْفَتى فخواض غَمَرَات ودافع معضلات وَأما الكهل فأبيض نحيف على بَطْنه شامة وعَلى فَخذه الْيُسْرَى عَلامَة قَالَ أَبُو بكر فَكشفت عَن بَطْني فَرَأى شامة سَوْدَاء فَوق سرتي فَقَالَ أَنْت هُوَ وَرب الْكَعْبَة ثمَّ قَالَ إياك والميل عَن الْهدى وَتمسك بالطريقة الْوُسْطَى ثمَّ قَالَ احْمِلْ عني أبياتا من الشّعْر قلتهَا فِيهِ

فَلَمَّا قدمت مَكَّة جَاءَنِي صَنَادِيد قُرَيْش فَقلت نابتكم نائبة أَو ظهر فِيكُم أَمر قَالُوا يَتِيم أبي طَالب يزْعم أَنه نَبِي مُرْسل وَلَوْلَا أَنْت مَا انتظرنا بِهِ قَالَ أَبُو بكر فَسَأَلت عَنهُ فَقيل هُوَ فِي بَيت خَدِيجَة فَجئْت فقرعت الْبَاب فَخرج فَقلت يَا مُحَمَّد فقدت من منَازِل أهلك وَتركت دين آبَائِك وأجدادك قَالَ
তাঁর উস্তাদগণ যায়দ ইবন ওয়াহাব আল-জুহানী-এর সূত্রে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হওয়ার পূর্বে তিনি ইয়ামেনে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি আযদ গোত্রের একজন বিজ্ঞ প্রবীণ ব্যক্তির কাছে অবস্থান করলাম, যিনি কিতাবসমূহ পাঠ করেছিলেন এবং মানুষের বিভিন্ন জ্ঞান সম্পর্কে প্রভূত জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩৯০ বছর (দশ বছর কম চারশত বছর)।

তিনি যখন আমাকে দেখলেন, তখন বললেন: আমার মনে হয় আপনি হারাম এলাকার অধিবাসী। আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আমার মনে হয় আপনি কুরাইশ বংশীয়। আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আমার মনে হয় আপনি তায়মি। আমি বললাম: আমি তায়ম ইবন মুররাহ গোত্রের; আমি আবদুল্লাহ ইবন উসমান, কা’ব ইবন সাদ ইবন তায়ম ইবন মুররাহ-এর বংশধর। তিনি বললেন: আপনার ব্যাপারে আমার একটি বিষয় যাচাই করা বাকি আছে। আমি বললাম: সেটি কী? তিনি বললেন: আপনি আপনার পেট অনাবৃত করবেন। আমি বললাম: আমি তা করব না যতক্ষণ না আপনি আমাকে জানাবেন কেন তা করতে বলছেন। তিনি বললেন: আমি আমার অর্জিত জ্ঞানে পাচ্ছি যে, হারামে একজন নবী প্রেরিত হবেন, যাঁর কাজে একজন যুবক ও একজন প্রৌঢ় ব্যক্তি সহায়তা করবেন। যুবকটি হবেন বিপদসংকুল কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া এবং কঠিন সমস্যা নিরসনকারী। আর প্রৌঢ় ব্যক্তিটি হবেন ফর্সা ও কৃশদেহী, যাঁর পেটে একটি তিল থাকবে এবং তাঁর বাম উরুতে একটি চিহ্ন থাকবে। আবু বকর বলেন: তখন আমি আমার পেট অনাবৃত করলাম। তিনি আমার নাভির উপরে একটি কালো তিল দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন: কাবার রবের শপথ, আপনিই সেই ব্যক্তি। অতঃপর তিনি বললেন: হিদায়াত থেকে বিচ্যুত হওয়া থেকে সাবধান থাকবেন এবং মধ্যম পন্থা অবলম্বন করবেন। এরপর তিনি বললেন: আমার পক্ষ থেকে কিছু কাব্য কবিতা মুখস্থ করে নিন যা আমি তাঁর শানে বলেছি।

যখন আমি মক্কায় এলাম, কুরাইশদের নেতারা আমার কাছে এল। আমি বললাম: আপনাদের কি কোনো বিপদ আপতিত হয়েছে নাকি আপনাদের মাঝে নতুন কোনো বিষয় প্রকাশ পেয়েছে? তারা বলল: আবু তালিবের ইয়াতীম দাবি করছে যে সে প্রেরিত নবী; যদি আপনি না থাকতেন তবে আমরা তাঁর ব্যাপারে (ব্যবস্থা নিতে) বিলম্ব করতাম না। আবু বকর বলেন: আমি তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। বলা হলো, তিনি খাদিজার বাড়িতে আছেন। আমি সেখানে গিয়ে দরজায় করাঘাত করলাম। তিনি বেরিয়ে এলেন। আমি বললাম: হে মুহাম্মদ! আপনি আপনার স্বজনদের আবাসস্থল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এবং আপনার পিতৃপুরুষ ও পিতামহদের ধর্ম ত্যাগ করেছেন? তিনি বললেন—
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ৩১)
يَا أَبَا بكر إِنِّي رَسُول الله إِلَيْك وَإِلَى النَّاس كلهم فَآمن بِاللَّه فَقلت وَمَا دليلك على ذَلِك قَالَ الشَّيْخ الَّذِي لَقيته بِالْيمن قلت وَكم من شيخ لقِيت بِالْيمن قَالَ الشَّيْخ الَّذِي قَالَ لَك وأعطاك الأبيات قلت وَمن خبرك بِهَذَا يَا حَبِيبِي قَالَ الْملك الْعَظِيم الَّذِي يَأْتِي الْأَنْبِيَاء قبلي قلت مد يدك فَأَنا أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَنَّك رَسُول الله

فَانْصَرَفت وَمَا بَين لابتيها أَشد سُرُورًا من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِإِسْلَامِي

وروى ابْن إِسْحَاق أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا دَعَوْت أحدا إِلَى الْإِسْلَام إِلَّا كَانَت فِيهِ كبوة وَتردد وَنظر إِلَّا أَبَا بكر مَا تردد فِيهِ

‌‌تَفْسِير

 

قَوْله صَنَادِيد قُرَيْش قَالَ الْجَوْهَرِي الصنديد السَّيِّد الشجاع وغيث صنديد عَظِيم الْقطر والصناديد الدَّوَاهِي وَمِنْه قَول الْحسن نَعُوذ بِاللَّه من صَنَادِيد الْقدر

‌‌فصل فِي إِسْلَام أَبِيه وَأمه

 

قَالَ ابْن إِسْحَاق لما دخل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَام الْفَتْح مَكَّة وَدخل
হে আবু বকর, নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি এবং সকল মানুষের প্রতি আল্লাহর রাসূল, সুতরাং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনুন। আমি বললাম, এ বিষয়ে আপনার প্রমাণ কী? তিনি বললেন, সেই বৃদ্ধ যার সাথে ইয়ামেনে আপনার সাক্ষাৎ হয়েছিল। আমি বললাম, ইয়ামেনে তো আমি অনেক বৃদ্ধের সাক্ষাৎ পেয়েছি। তিনি বললেন, সেই বৃদ্ধ যিনি আপনাকে কিছু কথা বলেছিলেন এবং আপনাকে কবিতাগুলো দিয়েছিলেন। আমি বললাম, হে আমার প্রিয়, কে আপনাকে এই সংবাদ দিয়েছে? তিনি বললেন, সেই মহান ফেরেশতা যিনি আমার পূর্ববর্তী নবীগণের নিকট আসতেন। আমি বললাম, আপনার হাত বাড়িয়ে দিন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল।

অতঃপর আমি প্রস্থান করলাম এবং তখন সেই দুই পাহাড়বেষ্টিত অঞ্চলের (মদিনার) মধ্যে আমার ইসলাম গ্রহণের কারণে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেয়ে অধিক আনন্দিত আর কেউ ছিল না।

ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি যখনই কাউকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছি, তখনই তার মধ্যে কিছুটা জড়তা, দ্বিধা এবং চিন্তা-ভাবনা পরিলক্ষিত হয়েছে, কেবল আবু বকর ব্যতীত; সে ইসলাম গ্রহণে কোনো দ্বিধা করেনি।

‌‌ব্যাখ্যা

 

তাঁর উক্তি ‘কুরাইশের সানাদিদ’ প্রসঙ্গে আল-জাওহারী বলেন, ‘সানাদিদ’ অর্থ হলো সাহসী নেতা। আর ‘গাইসুন সানাদিদ’ অর্থ প্রবল বৃষ্টিপাত। আর ‘সানাদিদ’ দ্বারা বিপদসমূহও বোঝানো হয়; হাসান (বসরী)-র উক্তি এর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে তিনি বলেছেন, আমরা তাকদীরের কঠিন বিপদসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি।

‌‌পরিচ্ছেদ: তাঁর পিতা ও মাতার ইসলাম গ্রহণ প্রসঙ্গে

 

ইবনে ইসহাক বলেন, যখন মক্কা বিজয়ের বছর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং তিনি প্রবেশ করলেন...
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ৩২)
الْمَسْجِد أَتَى أَبُو بكر بِأَبِيهِ يَقُودهُ وَكَانَ قد كف بَصَره فَلَمَّا رَآهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ هلا تركت الشَّيْخ فِي بَيته حَتَّى أكون أَنا آتيه فِيهِ قَالَ أَبُو بكر يَا رَسُول الله هُوَ أَحَق أَن يمشي إِلَيْك من أَن تمشي إِلَيْهِ أَنْت فأجلسه بَين يَدَيْهِ ثمَّ مسح صَدره ثمَّ قَالَ لَهُ أسلم فَأسلم

قَالَ عبد الْكَرِيم وَأمه يَعْنِي أَبَا بكر أم الْخَيْر سلمى

قَالَ مُحَمَّد بن سَلام الجُمَحِي قلت لِابْنِ دَاب من أم أبي بكر فَقَالَ أم الْخَيْر هَذَا اسْمهَا وَهِي ابْنة عَم أبي بكر وَأمّهَا من خُزَاعَة

وَعَن عَائِشَة أَن أَبَا بكر قَالَ يَا رَسُول الله هَذِه أُمِّي وَأَنت مبارك فَادع الله لَهَا وادعها إِلَى الْإِسْلَام فَدَعَا لَهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَأسْلمت

وَكَانَ إسْلَامهَا قَدِيما مَعَ ابْنهَا أبي بكر وَتوفيت بعد أبي بكر وَقبل أبي قُحَافَة زَوجهَا وَكِلَاهُمَا ورثا أَبَا بكر وَمَاتَا بعده

وَعَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنه قَالَ أسلمت أم أبي بكر وَأم عُثْمَان وَأم طَلْحَة وَأم الزبير وَأم عبد الرَّحْمَن بن عَوْف قَدِيما مَعَ إِسْلَام أبي بكر رضي الله عنهم

ولي أَبُو بكر الْخلَافَة بعد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم سنتَيْن وَنصف على خلاف فِي ذَلِك عَاشَ رضي الله عنه ثَلَاثًا وَسِتِّينَ سنة سنّ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
মসজিদে আবু বকর তাঁর পিতাকে নিয়ে আসলেন, তিনি তাঁকে পরিচালনা করে আনছিলেন এবং তাঁর দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছিল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি বললেন, "কেন আপনি এই বৃদ্ধ ব্যক্তিকে তাঁর ঘরে রেখে আসলেন না যাতে আমি নিজেই তাঁর কাছে যেতাম?" আবু বকর বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনার তাঁর কাছে যাওয়ার চেয়ে তাঁর আপনার কাছে হেঁটে আসা অধিক সমীচীন।" অতঃপর তিনি তাঁকে তাঁর সামনে বসালেন, এরপর তাঁর বুকে হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তাঁকে বললেন, "ইসলাম গ্রহণ করুন।" অতঃপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন।

আব্দুল কারীম বলেন, আর তাঁর (অর্থাৎ আবু বকরের) মাতা হলেন উম্মুল খায়ের সালমা।

মুহাম্মাদ বিন সালাম আল-জুমাহি বলেন, আমি ইবনে দআব-কে জিজ্ঞেস করলাম, আবু বকরের মা কে? তিনি বললেন, উম্মুল খায়ের; এটিই তাঁর নাম। তিনি ছিলেন আবু বকরের চাচাতো বোন এবং তাঁর মা ছিলেন খুযাআ গোত্রের।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! ইনি আমার মা এবং আপনি বরকতময়। তাই তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন এবং তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দিন।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য দুআ করলেন এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন।

তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল তাঁর পুত্র আবু বকরের সাথেই ইসলামের শুরুর দিকে। তিনি আবু বকরের পরে এবং তাঁর স্বামী আবু কুহাফার পূর্বে ইন্তেকাল করেন। তাঁরা উভয়েই আবু বকরের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন এবং তাঁর পরে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকরের মা, উসমানের মা, তালহার মা, যুবাইরের মা এবং আব্দুর রহমান বিন আউফের মা—তাঁরা সকলে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে ইসলামের শুরুর দিকেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আড়াই বছর খিলাফত পরিচালনা করেন, তবে এ বিষয়ে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। তিনি তেষট্টি বছর বেঁচে ছিলেন, যা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়সের সমান।
(খণ্ড: ১) আল-মিসবাহুল মুদী ফী কিতাবিন নাবিয়্যিল উম্মি ওয়া রুসুলিহি ইলা মুলূকিল আরদি মিন আরাবিইয়িন ওয়া আজামিয়িন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
قَالَ عبد الْكَرِيم ذكر ابْن شهَاب أَن أَبَا بكر والْحَارث بن كلدة كَانَا يأكلان حريرة أهديت لأبي بكر فَقَالَت الْحَارِث وَكَانَ طَبِيبا ارْفَعْ يدك يَا خَليفَة رَسُول الله وَالله إِن فِيهَا لسم سنة وَأَنا وَأَنت نموت فِي يَوْم وَاحِد فَرفع يَده فَلم يَزَالَا عليلين حَتَّى مَاتَا فِي يَوْم وَاحِد عِنْد انْقِضَاء سنة

وَهُوَ أول خَليفَة وَرثهُ أَبَوَاهُ رضي الله عنه

وَذكر مُحَمَّد بن ظفر فِي كتاب خير الْبشر خبر الشَّيْخ الْأَزْدِيّ بِزِيَادَة فِيهِ فَقَالَ روى عبد الله بن مَسْعُود عَن أبي بكر الصّديق رضي الله عنهما أَنه قَالَ خرجت إِلَى الْيمن فِي تِجَارَة قبل مبعث النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَنزلت على شيخ من الأزد عَالم قد قَرَأَ الْكتب وحوى علما كثيرا وأتى عَلَيْهِ من السن ثَلَاثمِائَة وَتسْعُونَ سنة قَالَ فتأملني وَقَالَ أحسبك حرميا فَقلت نعم أَنا من أهل الْحرم قَالَ أحسبك تيميا قلت نعم أَنا من تيم بن مرّة أَنا عبد الله بن عُثْمَان بن عَامر بن عَمْرو بن كَعْب بن سعد بن تيم قَالَ بقيت لي فِيك وَاحِدَة قلت مَا هِيَ قَالَ اكشف لي عَن بَطْنك قلت لَا أفعل أَو تُخبرنِي
আবদুল কারীম বলেন, ইবনে শিহাব উল্লেখ করেছেন যে, আবু বকর এবং হারিস ইবন কালদাহ একটি হারিরাহ (এক প্রকার খাদ্য) খাচ্ছিলেন যা আবু বকরকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। তখন হারিস—যিনি একজন চিকিৎসক ছিলেন—বললেন, "হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা, আপনার হাত উঠিয়ে নিন। আল্লাহর কসম, এতে এমন বিষ রয়েছে যা এক বছর পর কার্যকর হয়; আমি এবং আপনি একই দিনে মৃত্যুবরণ করব।" অতঃপর তিনি তাঁর হাত উঠিয়ে নিলেন। এরপর তাঁরা উভয়েই অসুস্থ থাকলেন এবং এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর একই দিনে মৃত্যুবরণ করলেন।

আর তিনি প্রথম খলিফা, যাঁর উত্তরাধিকার তাঁর পিতা-মাতা উভয়েই লাভ করেছিলেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন।

মুহাম্মাদ ইবন জাফর ‘খাইরুল বাশার’ কিতাবে আযদি শাইখের সংবাদটি কিছুটা বর্ধিত আকারে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াত লাভের পূর্বে ব্যবসার উদ্দেশ্যে ইয়ামেনে গিয়েছিলাম। সেখানে আমি আযদ গোত্রের একজন বৃদ্ধের কাছে অবস্থান করলাম, যিনি একজন প্রাজ্ঞ আলেম ছিলেন, অনেক কিতাব পাঠ করেছিলেন এবং প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন; তাঁর বয়স তখন তিনশত নব্বই বছর হয়েছিল। তিনি বলেন, বৃদ্ধ আমার দিকে নিবিড়ভাবে তাকালেন এবং বললেন, "আমার মনে হয় আপনি হারামের (মক্কার) অধিবাসী।" আমি বললাম, "হ্যাঁ, আমি হারামের অধিবাসী।" তিনি বললেন, "আমার মনে হয় আপনি তায়িম গোত্রের।" আমি বললাম, "হ্যাঁ, আমি তায়িম ইবন মুররার বংশের; আমি আবদুল্লাহ ইবন উসমান ইবন আমির ইবন আমর ইবন কাব ইবন সাদ ইবন তায়িম।" তিনি বললেন, "আপনার ব্যাপারে একটি বিষয় আমার কাছে জানা বাকি রয়ে গেছে।" আমি বললাম, "সেটি কী?" তিনি বললেন, "আপনার পেটটি আমার সামনে উন্মুক্ত করুন।" আমি বললাম, "আমি তা করব না, যতক্ষণ না আপনি আমাকে এর কারণ জানাবেন।"