(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: -)
السير الصغير - من الأصل لمحمد بن الحسن - ت خدوري   (محمد بن الحسن الشيباني)

القسم: الفقه الحنفي


الكتاب: السير

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن الحسن بن فرقد الشيباني (ت 189هـ)

المحقق: مجيد خدوري

الناشر: الدار المتحدة للنشر - بيروت

الطبعة: الأولى، 1975

عدد الصفحات: 283

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আস-সিয়ারুস সাগির - মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের আল-আসল থেকে - সম্পাদনায় খাদ্দুরি   (মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী)

বিভাগ: হানাফী ফিকহ


বই: আস-সিয়ার

লেখক: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে ফারকাদ আশ-শায়বানী (মৃত্যু ১৮৯ হিজরি)

সম্পাদক: মজিদ খাদ্দুরি

প্রকাশক: আদ-দারুল মুত্তাহিদা লিন-নাশর - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম، ১৯৭৫

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৩

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ৯৩)
‌‌بَاب مَا رُوِيَ عَن آدَاب الْغَزْو

 

1 - أَبُو سُلَيْمَان الْجوزجَاني عَن مُحَمَّد بن الْحسن الشَّيْبَانِيّ عَن أبي حنيفَة عَن عَلْقَمَة بن مرْثَد عَن عبد الله بن بُرَيْدَة عَن أَبِيه قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اذا بعث جَيْشًا أَو سَرِيَّة أوصى صَاحبهمْ بتقوى الله فِي خَاصَّة نَفسه وَأوصى من مَعَه من الْمُسلمين خيرا ثمَّ قَالَ اغزوا باسم الله وَفِي سَبِيل الله قَاتلُوا من كفر بِاللَّه لَا تغلوا وَلَا تغدروا وَلَا تمثلوا وَلَا تقتلُوا وليدا واذا لَقِيتُم عَدوكُمْ من الْمُشْركين فادعوهم الى الْإِسْلَام فَإِن أَسْلمُوا فاقبلوا مِنْهُم وَكفوا عَنْهُم ثمَّ ادعوهُمْ الى التَّحَوُّل من دَارهم الى دَار الْمُهَاجِرين فَإِن فعلوا فاقبلوا مِنْهُم وَكفوا عَنْهُم وَإِلَّا فَأَخْبرُوهُمْ أَنهم كأعراب الْمُسلمين يجْرِي عَلَيْهِم حكم الله تَعَالَى الَّذِي يجْرِي على الْمُسلمين وَلَيْسَ لَهُم من الْفَيْء وَلَا فِي الْغَنِيمَة نصيب فان أَبَوا ذَلِك فادعوهم الى اعطاء الْجِزْيَة فَإِن فعلوا ذَلِك فاقبلوا مِنْهُم وَكفوا عَنْهُم واذا حاصرتم أهل حصن أَو مَدِينَة فأرادوكم على أَن تنزلوهم على حكم الله تَعَالَى فَلَا تنزلوهم فأنكم لَا تَدْرُونَ مَا حكم الله تَعَالَى وَلَكِن أنزلوهم على حكمكم ثمَّ احكموا فيهم بِمَا رَأَيْتُمْ واذا حاصرتم أهل حصن أَو مَدِينَة فأرادوكم على أَن تعطوهم ذمَّة الله تَعَالَى وَذمَّة رَسُوله صلى الله عليه وسلم فَلَا تعطوهم ذمَّة الله تَعَالَى وَلَا ذمَّة رَسُوله وَلَكِن اعطوهم ذممكم وذمم ابائكم فانكم إِن تخفروا ذممكم وذمم ابائكم أَهْون من أَن تخفروا ذمَّة الله وَذمَّة رَسُوله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
যুদ্ধাভিযানের শিষ্টাচার সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়

 

১ - আবু সুলাইমান আল-জুজজানি, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানি থেকে, তিনি আবু হানিফা থেকে, তিনি আলকামা ইবনে মারসাদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো সেনাবাহিনী বা ক্ষুদ্র সেনাদল প্রেরণ করতেন, তখন তাদের আমীর বা নেতাকে বিশেষভাবে নিজের নফসের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করার এবং তাঁর সাথে থাকা মুসলিমদের সাথে কল্যাণকর আচরণের উপদেশ দিতেন। এরপর তিনি বলতেন: "তোমরা আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো। যারা আল্লাহর সাথে কুফরি করেছে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। তোমরা খিয়ানত করো না, বিশ্বাসঘাতকতা করো না, মৃতদেহ বিকৃত করো না এবং কোনো শিশুকে হত্যা করো না। যখন তোমরা তোমাদের মুশরিক শত্রুদের মুখোমুখি হবে, তখন তাদের ইসলামের দিকে আহ্বান জানাও। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে তবে তা তাদের থেকে কবুল করো এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকো। অতঃপর তাদের নিজেদের ভূখণ্ড থেকে মুহাজিরদের ভূখণ্ডের (হিজরতের দার) দিকে স্থানান্তরিত হওয়ার আহ্বান জানাও। যদি তারা তা করে, তবে তাদের থেকে তা কবুল করো এবং তাদের থেকে বিরত থাকো। অন্যথায় তাদের জানিয়ে দাও যে, তারা বেদুঈন মুসলিমদের মতো গণ্য হবে; তাদের উপর মহান আল্লাহর সেই বিধানই জারি হবে যা সাধারণ মুসলিমদের উপর জারি হয়, কিন্তু তারা ফায় (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) বা গনীমতের (যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) কোনো অংশ পাবে না। যদি তারা ইসলাম গ্রহণে অস্বীকার করে, তবে তাদের কাছে জিজিয়া প্রদানের আহ্বান জানাও। যদি তারা তা কবুল করে, তবে তাদের থেকে তা গ্রহণ করো এবং তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও। আর যদি তোমরা কোনো দুর্গের অধিবাসী বা শহরের লোকদের অবরুদ্ধ করো এবং তারা যদি মহান আল্লাহর বিধান অনুযায়ী আত্মসমর্পণ করতে চায়, তবে তোমরা তাদের আল্লাহর বিধানের ওপর নামিয়ে এনো না; কেননা তোমরা জানো না যে তাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহর বিধান কী। বরং তোমরা তাদের তোমাদের নিজেদের ফয়সালার ভিত্তিতে নামিয়ে আনো এবং এরপর তাদের ব্যাপারে তোমাদের রায় অনুযায়ী ফয়সালা করো। আর যদি তোমরা কোনো দুর্গের অধিবাসী বা শহরের লোকদের অবরুদ্ধ করো এবং তারা যদি তোমাদের কাছে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি (জিম্মাহ) চায়, তবে তোমরা তাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জিম্মাহ দিও না। বরং তোমরা তাদের তোমাদের নিজেদের এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদের জিম্মাহ দাও। কেননা, তোমাদের নিজেদের এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদের জিম্মাহ বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জিম্মাহ ভঙ্গ করার চেয়ে অনেক বেশি সহজ।"
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ৯৪)
2 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن الْكَلْبِيّ عَن أبي صَالح عَن ابْن عَبَّاس أَن الْخمس كَانَ يقسم على عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على خَمْسَة اسهم لله وَلِلرَّسُولِ سهم وَلِذِي الْقُرْبَى سهم وللمساكين سهم ولليتامى سهم وَابْن السَّبِيل سهم قَالَ ثمَّ قسمه أَبُو بكر وَعمر وَعُثْمَان وَعلي رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ على ثَلَاثَة أسْهم لِلْيَتَامَى وَالْمَسَاكِين وَابْن السَّبِيل

3 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن مُحَمَّد بن اسحق عَن أبي جَعْفَر قَالَ قلت لِابْنِ عَبَّاس مَا كَانَ رَأْي على بن ابي طَالب فِي الْخمس قَالَ كَانَ رَأْيه مثل رَأْي أهل بَيته وَلكنه كره ان يُخَالف أَبَا بكر وَعمر

4 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن أبي اسحق عَن اسماعيل بن أبي أُميَّة عَن عَطاء ابْن أبي رَبَاح عَن ابْن عَبَّاس قَالَ عرض علينا عمر أَن نزوج من الْخمس ايمنا وَأَن نقضي مِنْهُ عَن مغرمنا فأبينا إِلَّا أَن يُسلمهُ لنا فَأبى عمر ذَلِك علينا

5 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن أبي يُوسُف عَن مُحَمَّد بن اسحق عَن مُحَمَّد بن شهَاب الزُّهْرِيّ عَن سعيد بن الْمسيب قَالَ قسم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْخمس يَوْم خَيْبَر فقسم سهم ذَوي القربي بَين بني هَاشم وَبَين بني الْمطلب فَكلم عُثْمَان بن عَفَّان وَجبير بن مطعم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَا نَحن وَبَنُو الْمطلب فِي الْجَاهِلِيَّة وَالْإِسْلَام مَعًا

6 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن الاشعث بن سوار عَن أبي الزبير مُحَمَّد بن مُسلم عَن جَابر بن عبد الله أَنه قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَجْعَل الْخمس فِي سَبِيل الله تَعَالَى وَيُعْطِي مِنْهُ نابه الْقَوْم فَلَمَّا كثر المَال جعل فِي غير ذَلِك

7 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن الْحسن بن عمَارَة عَن عبد الْملك بن ميسرَة عَن طَاوُوس بن كيسَان عَن ابْن عَبَّاس ان رجلا وجد بَعِيرًا لَهُ فِي الْمغنم قد كَانَ الْمُشْركُونَ أَصَابُوهُ قبل ذَلِك فَسَأَلَ عَنهُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِن وجدته قبل الْقِسْمَة فَهُوَ لَك وَإِن وجدته بعد الْقِسْمَة أَخَذته بِالثّمن إِن شِئْت
2 - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি কালবী থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে খুমুস (গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ) পাঁচ ভাগে বিভক্ত হতো: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য এক ভাগ, নিকটাত্মীয়দের জন্য এক ভাগ, এতিমদের জন্য এক ভাগ, মিসকিনদের জন্য এক ভাগ এবং মুসাফিরদের জন্য এক ভাগ। তিনি বলেন, অতঃপর আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সকলে একে তিন ভাগে ভাগ করেন: এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য।

3 - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আবু জাফর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, খুমুসের ব্যাপারে আলী ইবনে আবি তালিবের মত কী ছিল? তিনি বললেন: তাঁর মত ছিল তাঁর পরিবারের সদস্যদের মতই, কিন্তু তিনি আবু বকর ও উমরের বিরোধিতা করা অপছন্দ করতেন।

4 - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে আবি উমাইয়া থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যেন আমরা খুমুসের অর্থ দিয়ে আমাদের পরিবারের অবিবাহিতদের বিবাহ দেই এবং আমাদের ঋণ পরিশোধ করি। কিন্তু আমরা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করলাম যতক্ষণ না তিনি সেই অর্থ আমাদের হাতে সরাসরি অর্পণ করেন; ফলে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের সেটি প্রদান করতে অস্বীকার করলেন।

5 - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে শিহাব আয-যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের যুদ্ধের দিন খুমুস বণ্টন করেছিলেন। তিনি নিকটাত্মীয়দের অংশ বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের মধ্যে বণ্টন করেন। তখন উসমান ইবনে আফফান এবং জুবাইর ইবনে মুতয়িম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কথা বললেন এবং বললেন, আমরা এবং বনু মুত্তালিব জাহেলিয়াত ও ইসলাম উভয় যুগেই সবসময় একসাথে ছিলাম।

6 - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আশআদ ইবনে সাওয়ার থেকে, তিনি আবু যুবায়ের মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুমুস আল্লাহর পথে ব্যয় করতেন এবং তা থেকে মানুষের প্রয়োজন মেটাতেন। অতঃপর যখন সম্পদের প্রাচুর্য হলো, তখন তিনি তা অন্যভাবে বণ্টন করতে লাগলেন।

7 - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি হাসান ইবনে আমারা থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে মাইসারা থেকে, তিনি তাউস ইবনে কাইসান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি গনিমতের মালের মধ্যে তার একটি উট খুঁজে পেল যা ইতিপূর্বে মুশরিকরা হস্তগত করেছিল। সে এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: যদি তুমি এটি বণ্টনের আগে খুঁজে পাও তবে এটি তোমার, আর যদি বণ্টনের পরে খুঁজে পাও তবে চাইলে তুমি তা মূল্যের বিনিময়ে গ্রহণ করতে পারো।
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ৯৫)
8 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن عبد الله بن عمر عَن نَافِع عَن عبد الله بن عمر أَن عبدا لَهُ أبق فلحق بالعدو وانفلت لَهُ فرس فَأَخذه الْعَدو فَظهر عَلَيْهِم خَالِد ابْن الْوَلِيد فَرد العَبْد وَالْفرس على ابْن عمر فِي عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم

9 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن عبد الله بن عمر أَن عبدا لِابْنِ عمر اخذه الرّوم فافتداه خَالِد بن الْوَلِيد بروميين ثمَّ رده على ابْن عمر

10 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن المجالد بن سعيد عَن الشّعبِيّ أَن عمر بن الْخطاب جعل أهل السوَاد الذِّمَّة

11 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن هِشَام بن سعيد عَن مُحَمَّد بن زيد عَن المُهَاجر عَن عُمَيْر مولى أبي اللَّحْم قَالَ أتيت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَة خَيْبَر وَهُوَ يقسم الْغَنِيمَة وَأَنا مَمْلُوك فَسَأَلته أَن يعطيني فَقَالَ تقلد هَذَا السَّيْف فتقلدته فجررته على الأَرْض فَأَعْطَانِي حرثي من خرثي الْمَتَاع

12 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن مُحَمَّد بن اسحاق عَن اسماعيل بن أُميَّة عَن عَطاء بن أبي رَبَاح عَن عبد الله بن عَبَّاس رضي الله عنهما أَنه قَالَ كتب اليه نجدة ابْن عَامر نَحن نَسْأَلهُ هَل للْعَبد فِي الْمغنم سهم وَهل كن النِّسَاء حضرن الْحَرْب مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَمَتى يجب للصَّبِيّ سهم فِي الْمغنم وَعَن سهم ذَوي الْقُرْبَى قَالَ فَكتب اليه ابْن عَبَّاس أَنه لَا حق للْعَبد فِي الْمغنم وَلَكِن يرْضخ لَهُ وَكتب اليه أَن النِّسَاء كن يخْرجن مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يداوين الْجَرْحى وَأَنه يرْضخ لَهُنَّ وَأَنه لَا حق للصَّبِيّ فِي الْمغنم حَتَّى يَحْتَلِم وَكتب اليه فِي سهم ذَوي الْقُرْبَى أَن عمر عرض علينا أَن نزوج مِنْهُ أيمنا وَأَن نقضي مِنْهُ عَن مغرمنا فأبينا إِلَّا أَن يُسلمهُ لنا وأبى ذَلِك علينا

13 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن مُحَمَّد بن السَّائِب الْكَلْبِيّ وَمُحَمّد بن اسحق ان رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أعْطى إمرأة من قَبيلَة أسلم يَوْم خَيْبَر قلادة من الْمغنم

14 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن الْحجَّاج بن ارطأة عَن عَمْرو بن شُعَيْب عَن سعيد بن الْمسيب قَالَ قَالَ عمر بن الْخطاب لَا حق للْعَبد فِي الْمغنم

15 - وَقَالَ مُحَمَّد أما قسْمَة الْغَنِيمَة فِي أَرض الْحَرْب قَالَ أَبُو يُوسُف فَإِن مُحَمَّد
8 - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর এক গোলাম পালিয়ে শত্রুপক্ষের সাথে যোগ দিয়েছিল এবং তাঁর একটি ঘোড়াও ছুটে গিয়েছিল যা শত্রুরা ধরে নিয়েছিল। এরপর খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ তাদের ওপর বিজয়ী হলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সেই গোলাম ও ঘোড়াটি ইবনে উমরের কাছে ফিরিয়ে দিলেন।

9 - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে উমরের এক গোলামকে রোমানরা বন্দি করেছিল। অতঃপর খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ দুইজন রোমান বন্দির বিনিময়ে তাকে মুক্ত করেন এবং এরপর তাকে ইবনে উমরের কাছে ফিরিয়ে দেন।

10 - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি মুজালিদ বিন সাঈদ থেকে, তিনি শাবি থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব সওয়াদবাসীদের জিম্মি হিসেবে গণ্য করেছিলেন।

11 - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি হিশাম বিন সাঈদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন যায়েদ থেকে, তিনি মুহাজির থেকে, তিনি আবু লাহমের মুক্তদাস উমাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি খায়বার যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম যখন তিনি গনিমতের মাল বণ্টন করছিলেন, আর আমি তখন একজন দাস ছিলাম। আমি তাঁর কাছে কিছু দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করলে তিনি বললেন: "এই তলোয়ারটি ধারণ কর।" আমি সেটি ধারণ করলাম কিন্তু তা (লম্বা হওয়ার কারণে) মাটিতে হেঁচড়ে যাচ্ছিল। ফলে তিনি আমাকে আসবাবপত্রের কিছু অংশ প্রদান করলেন।

12 - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি ইসমাইল বিন উমাইয়া থেকে, তিনি আতা বিন আবি রাবাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন যে, নাজদাহ ইবনে আমির তাঁর কাছে পত্র লিখেছিলেন— আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করছি যে, গনিমতের মালে গোলামের কোনো অংশ আছে কি না, মহিলারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন কি না, কখন একজন বালকের জন্য গনিমতের মালে অংশ আবশ্যক হয় এবং নিকটাত্মীয়দের অংশ সম্পর্কে। ইবনে আব্বাস তাকে লিখে পাঠালেন যে, গনিমতের মালে গোলামের কোনো নির্ধারিত অংশ নেই, তবে তাকে সামান্য কিছু দান করা হবে। তিনি তাকে আরও লিখলেন যে, মহিলারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বের হতেন এবং আহতদের চিকিৎসা করতেন, আর তাদেরকেও সামান্য কিছু প্রদান করা হতো। তিনি আরও লিখলেন যে, স্বপ্নদোষ হওয়া (প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া) পর্যন্ত বালকের জন্য গনিমতের মালে কোনো অধিকার নেই। আর নিকটাত্মীয়দের অংশের ব্যাপারে তিনি তাকে লিখেছিলেন যে, উমর আমাদের সামনে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, এর মাধ্যমে তিনি আমাদের বিধবাদের বিবাহ দেবেন এবং আমাদের ঋণ পরিশোধ করবেন, কিন্তু আমরা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করলাম যতক্ষণ না তিনি সেটি আমাদের হাতে পুরোপুরি সোপর্দ করেন, আর তিনি আমাদের জন্য তা করতে অস্বীকার করলেন।

13 - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন সাইব আল-কালবি এবং মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের দিন আসলাম গোত্রের একজন মহিলাকে গনিমতের মাল থেকে একটি হার প্রদান করেছিলেন।

14 - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি হাজ্জাজ বিন আরতাহ থেকে, তিনি আমর বিন শুয়াইব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: গনিমতের মালে গোলামের কোনো নির্ধারিত অংশ নেই।

15 - মুহাম্মদ বলেন: যুদ্ধক্ষেত্রে গনিমত বণ্টনের ক্ষেত্রে— আবু ইউসুফ বলেন: নিশ্চয়ই মুহাম্মদ...
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ৯৬)
ابْن السَّائِب الْكَلْبِيّ وَمُحَمّد بن اسحق حَدثنَا أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قسم غَنَائِم بدر بَعْدَمَا قدم الْمَدِينَة فَسَأَلَهُ عُثْمَان أَن يضْرب لَهُ بِسَهْم مِنْهَا فَقَالَ نعم قَالَ وَأجْرِي قَالَ وأجرك فَسَأَلَهُ طَلْحَة بن عبد الله مثل ذَلِك فَأَعْطَاهُمَا ذَلِك وَلم يكن عُثْمَان وَطَلْحَة شَهدا بَدْرًا أما عُثْمَان فَكَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يخلفه على ابْنَته رقية الَّتِي تَحْتَهُ وَكَانَت مَرِيضَة وَأما طَلْحَة فَكَانَ بِالشَّام وَتوفيت بنت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قبل أَن يقدم من بدر

16 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن السَّائِب الْكَلْبِيّ وَمُحَمّد بن اسحق حَدثنَا عَن أُسَامَة بن زيد قَالَ قدم علينا زيد بن حَارِثَة بشيرا بِفَتْح بدر حِين سوينا اللَّبن على رقية بنت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ زيد قتل عتبَة بن ربيعَة وَشَيْبَة بن ربيعَة وَأَبُو جهل بن هِشَام وَأُميَّة بن خلف قَالَ أُسَامَة أَحَق هَذَا يَا أَبَت قَالَ زيد أَي وَالله يَا بني

17 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن الْحسن بن عمَارَة عَن الحكم بن عتيبة عَن مقسم بن بجرة عَن ابْن عَبَّاس أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قسم الْغَنَائِم بعد مَا انْصَرف من الطَّائِف بالجعرانة بَين مَكَّة وَالْمَدينَة فَأَما خَيْبَر فَأَنَّهُ افْتتح الأَرْض وَجرى حكمه عَلَيْهَا فَكَانَت الْقِسْمَة فِي الْمَدِينَة فقسم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِيهَا قبل أَن يخرج مِنْهَا وَقسم غَنَائِم بني المصطلق فِي بِلَادهمْ وَكَانَ قد افتتحها

18 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن الْحسن بن عمَارَة عَن الحكم عَن مقسم عَن ابْن عَبَّاس أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قسم الْغَنَائِم للفارس سَهْمَان وللراجل سهم يَوْم بدر

19 - قَالَ مُحَمَّد قَالَ أَبُو يُوسُف حَدثنَا بذلك بِمَا سبق مُحَمَّد بن اسحق وَمُحَمّد ابْن السَّائِب الْكَلْبِيّ

20 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن الجويبر عَن الضَّحَّاك بن مُزَاحم أَن أَبَا بكر الصّديق اسْتَشَارَ الْمُسلمين فِي سهم ذَوي الْقُرْبَى فَرَأَوْا أَن يَجْعَلُوهُ فِي الْخَيل وَالسِّلَاح

21 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن أبي اسحاق عَن الْحسن بن عمَارَة عَن الحكم بن
ইবনে আস-সাইব আল-কালবি এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনায় প্রত্যাবর্তনের পর বদরের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (গনীমত) বণ্টন করেন। উসমান (রা.) তাঁর নিকট আবেদন করেন যেন তাঁর জন্য একটি অংশ নির্ধারণ করা হয়। তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। তিনি (উসমান) বললেন, ‘আর আমার সাওয়াব?’ তিনি বললেন, ‘তোমার সাওয়াবও (সাব্যস্ত হলো)’। তালহা ইবনে আব্দুল্লাহও অনুরূপ আবেদন করলে তিনি তাদের উভয়কে অংশ প্রদান করেন। অথচ উসমান এবং তালহা বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন না। উসমানের অপারগতা ছিল এই যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে নিজের কন্যা রুকাইয়ার তত্ত্বাবধানের জন্য রেখে গিয়েছিলেন, যিনি তাঁর স্ত্রী ছিলেন এবং তখন অসুস্থ ছিলেন। আর তালহা ছিলেন সিরিয়ায়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বদর থেকে ফিরে আসার আগেই তাঁর কন্যা ইন্তেকাল করেন।

১৬ - মুহাম্মাদ, আবু ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আস-সাইব আল-কালবি এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট উসামা ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যায়েদ ইবনে হারিসা আমাদের নিকট বদরের বিজয়ের সুসংবাদ নিয়ে তখন উপস্থিত হলেন, যখন আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কন্যা রুকাইয়ার কবরের ওপর মাটি সমান করছিলাম। যায়েদ বললেন: উতবাহ ইবনে রাবিয়াহ, শায়বাহ ইবনে রাবিয়াহ, আবু জাহল ইবনে হিশাম এবং উমাইয়াহ ইবনে খালাফ নিহত হয়েছে। উসামা বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে পিতা, এটি কি সত্য? যায়েদ বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, হে বৎস!

১৭ - মুহাম্মাদ, আবু ইউসুফ থেকে, তিনি হাসান ইবনে উমারা থেকে, তিনি হাকাম ইবনে উতাইবা থেকে, তিনি মিকসাম ইবনে বাজরাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তায়েফ থেকে ফেরার পর মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী জিয়ারানাহ নামক স্থানে গনীমত বণ্টন করেন। তবে খায়বারের ক্ষেত্রে তিনি ভূখণ্ডটি বিজয় করেন এবং সেখানে তাঁর শাসন বলবৎ করেন; ফলে সেটির বণ্টন হয়েছিল মদীনায়। মদীনা থেকে বের হওয়ার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে তা বণ্টন করেন। আর বনু মুস্তালিকের গনীমত তিনি তাদের এলাকাতেই বণ্টন করেন, যা তিনি ইতিপূর্বে বিজয় করেছিলেন।

১৮ - মুহাম্মাদ, আবু ইউসুফ থেকে, তিনি হাসান ইবনে উমারা থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি মিকসাম থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বদরের দিন অশ্বারোহীর জন্য দুই অংশ এবং পদাতিকের জন্য এক অংশ হিসেবে গনীমত বণ্টন করেছিলেন।

১৯ - মুহাম্মাদ বলেন, আবু ইউসুফ আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন যা ইতিপূর্বে মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক এবং মুহাম্মাদ ইবনে আস-সাইব আল-কালবি বর্ণনা করেছেন।

২০ - মুহাম্মাদ, আবু ইউসুফ থেকে, তিনি জুওয়াইবার থেকে, তিনি দাহহাক ইবনে মুজাহিম থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু বকর আস-সিদ্দিক (রা.) নিকটাত্মীয়দের অংশের (যিল-কুরবা) ব্যাপারে মুসলমানদের সাথে পরামর্শ করেন। তারা মত দেন যে, এই অংশটি ঘোড়া এবং অস্ত্রশস্ত্রের খাতে ব্যয় করা হোক।

২১ - মুহাম্মাদ, আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি হাসান ইবনে উমারা থেকে, তিনি হাকাম ইবনে...
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ৯৭)
عتيبة عَن ابراهيم بن يزِيد النَّخعِيّ أَنه كَانَ فِي مسلحة فَضرب عَلَيْهِم الْبَعْث فَجعل ابراهيم وقعته

22 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن صَالح عَن شيخ عَن أبي اسحق السبيعِي عَن من حَدثهُ عَن ابْن عَبَّاس أَن رجلا سَأَلَهُ فَقَالَ تضرب علينا الْبعُوث فَضرب على الْعشْرَة خَمْسَة أَو سِتَّة أَو سَبْعَة وَيجْعَل الْقَاعِد للشاخص قَالَ فِي أَي شَيْء يَجْعَل للشاخص ذَلِك الْجعل قَالَ مِنْهُم من يَجعله فِي الكراع وَالسِّلَاح وَمِنْهُم من يَجعله فِي مَتَاع بَيته وَفِي خَادِم فَقَالَ ابْن عَبَّاس مَا جعل من ذَلِك فِي الكراع وَالسِّلَاح فَلَا بَأْس بِهِ وَمَا صنع من ذَلِك فِي مَتَاع الْبَيْت فَلَا خير فِيهِ

23 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن من حدث عَن حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان عَن ابراهيم بن يزِيد النَّخعِيّ أَنه قَالَ لَا بَأْس بالتجاعل

24 - مُحَمَّد عَن ابي يُوسُف عَن عَاصِم بن سُلَيْمَان الْأَحول عَن أبي عُثْمَان النَّهْدِيّ أَن عمر بن الْخطاب كَانَ يغزي الأعزب عَن ذِي الحليلة وَيُعْطِي الْغَازِي فرس الْقَاعِد

25 - مُحَمَّد عَن ابي يُوسُف عَن شيخ عَن مَيْمُون بن مهْرَان أَنه قَالَ لَا بَأْس بالتجاعل وأكرهه أَن يَأْخُذ جعلا وَيجْعَل أقل من ذَلِك ويستفضل

26 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن عبد الرَّحْمَن بن عبد الله عَن من حدث عَن جرير بن عبد الله البَجلِيّ أَن مُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان ضرب بعثا على أهل الْكُوفَة فَرفع عَن جرير وَعَن وَلَده فَقَالَ جرير لَا نقبل ذَلِك وَلَكنَّا نجْعَل من أَمْوَالنَا للغازي

27 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن مُحَمَّد بن اسحق عَن يزِيد بن أبي حبيب عَن أبي مَرْزُوق مولى تجيب عَن رجل من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه فتح قَرْيَة فِي الْمغرب يُقَال لَهَا جربة فَقَامَ وخطب فِي أَصْحَابه فَقَالَ لَا أحدثكُم إِلَّا مَا سَمِعت من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَوْم خَيْبَر سمعته يَقُول من كَانَ يُؤمن بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر فَلَا يسْقِي مَاءَهُ زرع غَيره وَلَا يحل لامرئ أَن يُصِيب امْرَأَة من السَّبي حَتَّى يَسْتَبْرِئهَا وَلَا يَبِيع الْمغنم حَتَّى يقسم وَلَا يركب دَابَّة من فَيْء الْمُسلمين حَتَّى إِذا عجفها ردهَا فِيهِ وَلَا يلبس ثوبا من فَيْء الْمُسلمين حَتَّى إِذا أخلقه رده فِيهِ

28 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن الْحجَّاج بن أَرْطَأَة عَن أبي الزبير مُحَمَّد بن مُسلم
উতাইবা বর্ণনা করেন ইবরাহীম ইবনে ইয়াযীদ আন-নাখায়ী থেকে যে, তিনি একটি সীমান্ত চৌকিতে দায়িত্বরত ছিলেন। অতঃপর তাদের ওপর যুদ্ধাভিযান ধার্য করা হলো, তখন ইবরাহীম তার পরিবর্তে কাউকে পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন।

২২ - মুহাম্মাদ বর্ণনা করেন আবু ইউসুফ থেকে, তিনি সালিহ থেকে, তিনি একজন শায়খ থেকে, তিনি আবু ইসহাক আস-সাবিঈ থেকে, তিনি এমন এক ব্যক্তি থেকে যিনি তাকে বর্ণনা করেছেন ইবনে আব্বাস (রাযি.) সম্পর্কে যে, এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করে বলল: আমাদের ওপর যুদ্ধাভিযান অবধারিত করা হয়, ফলে দশ জনের মধ্যে পাঁচ, ছয় বা সাত জনকে অভিযানের জন্য নির্ধারিত করা হয় এবং যারা পেছনে অবস্থান করে তারা যারা অভিযানে যায় তাদের জন্য বিনিময় (জু'ল) প্রদান করে। তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন: অভিযানে গমনকারীর জন্য সেই বিনিময় কিসের মাধ্যমে দেওয়া হয়? তিনি বললেন: তাদের কেউ তা ঘোড়া এবং অস্ত্রের মাধ্যমে দেয়, আবার কেউ ঘরের আসবাবপত্র এবং খাদেমের মাধ্যমে দেয়। তখন ইবনে আব্বাস (রাযি.) বললেন: এর মধ্যে যা ঘোড়া এবং অস্ত্রের মাধ্যমে দেওয়া হয় তাতে কোনো অসুবিধা নেই, কিন্তু যা ঘরের আসবাবপত্রের মাধ্যমে করা হয় তাতে কোনো কল্যাণ নেই।

২৩ - মুহাম্মাদ বর্ণনা করেন আবু ইউসুফ থেকে, তিনি এমন এক ব্যক্তি থেকে যিনি বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান থেকে, তিনি ইবরাহীম ইবনে ইয়াযীদ আন-নাখায়ী থেকে যে, তিনি বলেছেন: যুদ্ধের বিনিময়ের (তাজাউল) ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা নেই।

২৪ - মুহাম্মাদ বর্ণনা করেন আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আসিম ইবনে সুলাইমান আল-আহওয়াল থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদী থেকে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) বিবাহিত ব্যক্তির পরিবর্তে অবিবাহিত ব্যক্তিকে যুদ্ধে পাঠাতেন এবং যুদ্ধে গমনকারীকে ঘরে অবস্থানকারীর ঘোড়া প্রদান করতেন।

২৫ - মুহাম্মাদ বর্ণনা করেন আবু ইউসুফ থেকে, তিনি একজন শায়খ থেকে, তিনি মায়মুন ইবনে মিহরান থেকে যে, তিনি বলেছেন: যুদ্ধের বিনিময়ের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা নেই; তবে আমি এটি অপছন্দ করি যে, কেউ একটি বিনিময় গ্রহণ করবে এবং এরপর তার চেয়ে কম বিনিময়ে অন্য কাউকে পাঠাবে আর অতিরিক্ত অংশ নিজে রেখে দিবে।

২৬ - মুহাম্মাদ বর্ণনা করেন আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি এমন এক ব্যক্তি থেকে যিনি জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান কূফাবাসীদের ওপর একটি বাহিনী প্রেরণের নির্দেশ দিলেন। তবে জারীর এবং তার সন্তানদের সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেন। তখন জারীর বললেন: আমরা এটি গ্রহণ করব না, বরং আমরা আমাদের সম্পদ থেকে যুদ্ধে গমনকারীদের জন্য বিনিময়ের ব্যবস্থা করব।

২৭ - মুহাম্মাদ বর্ণনা করেন আবু ইউসুফ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে আবু হাবীব থেকে, তিনি তুজীবের মুক্তদাস আবু মারযূক থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মাগরিবে (পশ্চিমে) জারবাহ নামক একটি জনপদ জয় করেছিলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর সঙ্গীদের মাঝে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: আমি তোমাদের কাছে কেবল তা-ই বর্ণনা করব যা আমি খায়বারের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে শুনেছি। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন অন্যের ফসলে নিজের পানি না সেচে। কোনো ব্যক্তির জন্য যুদ্ধবন্দী নারীর সাথে সহবাস করা বৈধ নয় যতক্ষণ না তার গর্ভাশয় পবিত্র হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় (ইস্তিবরা)। গনীমতের মাল বণ্টিত হওয়ার আগে তা বিক্রি করা যাবে না। মুসলমানদের 'ফায়' (অর্জিত সম্পদ) থেকে কোনো পশুতে আরোহণ করা যাবে না যা সেটিকে দুর্বল করে ফেরত দেবে এবং মুসলমানদের 'ফায়' থেকে কোনো পোশাক পরিধান করা যাবে না যা সেটিকে জীর্ণ করে ফেরত দেবে।"

২৮ - মুহাম্মাদ বর্ণনা করেন আবু ইউসুফ থেকে, তিনি হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ থেকে, তিনি আবু যুবাইর মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম থেকে—
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ৯৮)
عَن من شهد المشهد قَالَ شهِدت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَوْم بني قُرَيْظَة قَالَ من كَانَت لَهُ عانة فَاقْتُلُوهُ وَمن لم تكن لَهُ عانة فَخلوا سَبيله فَقَالَ الَّذِي حدث أَبَا الزبير فَكنت مِمَّن لَا عانة لَهُ فخلي عني

29 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن عَاصِم بن سُلَيْمَان الْأَحول عَن الْحسن قَالَ نهى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن قتل النِّسَاء

30 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن الْحجَّاج بن أَرْطَأَة عَن قَتَادَة بن دعامة السدُوسِي عَن الْحسن قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اقْتُلُوا الْمُشْركين إِذا اسروا واستحيوا شرخهم يَعْنِي بِهِ الصّبيان

31 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن يحي بن أبي أنيسَة عَن عَلْقَمَة بن مرْثَد عَن عبد الله بن بُرَيْدَة عَن أَبِيه بُرَيْدَة بن الحسيب الْأَسْلَمِيّ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مثل حَدِيث أبي حنيفَة عَن قتل النِّسَاء

32 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن أَشْعَث بن سوار عَن مُحَمَّد بن سِيرِين قَالَ كَانَ لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم صفي يصطفيه قبل الْقِسْمَة سيف أَو فرس أَو درع أَو غير ذَلِك

33 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن مُحَمَّد بن اسحق وَمُحَمّد بن السَّائِب الْكَلْبِيّ أَن سهم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ يَوْم خَيْبَر مَعَ سهم عَاصِم بن عدي

34 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن مُحَمَّد بن السَّائِب الْكَلْبِيّ وَأبي اسحق انهما قَالَا قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَالله لَا يصلح لي من فيئهم وَلَا مثل هَذِه الْوَبرَة الْوَبرَة اخذها من سَنَام بعير إِلَّا الْخمس وَالْخمس مَرْدُود فِيكُم فأدوا الْخَيط والمخيط فَإِن الْغلُول يكون على أَهله عَار وشنار يَوْم الْقِيَامَة فجَاء رجل من الْأَنْصَار بكبة من خيوط شعر فَقَالَ أخذت هَذِه الكبة لأخيط بردعة بعير لي فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أما نَصِيبي مِنْهَا فَهُوَ لَك فَقَالَ الرجل أما إِذا بلغ هَذَا فَلَا حَاجَة لي بهَا

35 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن بن أبي ليلى عَن الحكم عتيبة عَن مقسم بن بجرة عَن أبن عَبَّاس أَن رجلا من الْمُشْركين وَقع فِي الخَنْدَق وَمَات فَأعْطِي الْمُسلمُونَ لجيفته مَالا فسألوا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ
সেই যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত থাকা এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বনু কুরাইজার দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "যার নাভির নিচে লোম গজিয়েছে তাকে হত্যা করো, আর যার নাভির নিচে লোম গজায়নি তাকে ছেড়ে দাও।" আবু যুবাইরকে যিনি এই বর্ণনা দিয়েছেন তিনি বলেন: "আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যাদের নাভির নিচে লোম গজায়নি, তাই আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।"

২৯ - মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আসিম ইবনে সুলাইমান আল-আহওয়াল থেকে, তিনি হাসান (বসরি) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।

৩০ - মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ইউসুফ থেকে, তিনি হাজ্জাজ ইবনে আরতাত থেকে, তিনি কাতাদা ইবনে দিআমাহ আস-সাদুসি থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুশরিকদের যখন বন্দি করবে তখন (যুদ্ধযোগ্যদের) হত্যা করো এবং তাদের কিশোরদের জীবিত ছেড়ে দাও।" অর্থাৎ এর মাধ্যমে শিশুদের বোঝানো হয়েছে।

৩১ - মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ইউসুফ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি আনিসা থেকে, he আলকামা ইবনে মারসাদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদা থেকে, তিনি তার পিতা বুরাইদা ইবনে আল-হুসাইব আল-আসলামি থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবু হানিফার হাদিসের অনুরূপ নারীদের হত্যা করা (নিষেধ) সংক্রান্ত বর্ণনা করেছেন।

৩২ - মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আশআদ ইবনে সাওয়ার থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: বণ্টনের আগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য একটি বিশেষ অংশ (সাফি) থাকত যা তিনি নির্বাচন করতেন; হোক সেটি তলোয়ার, ঘোড়া, বর্ম কিংবা অন্য কিছু।

৩৩ - মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ইউসুফ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক এবং মুহাম্মদ ইবনে সাইব আল-কালবি থেকে বর্ণনা করেন যে, খাইবারের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অংশ আসিম ইবনে আদি-র অংশের সাথেই ছিল।

৩৪ - মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ইউসুফ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সাইব আল-কালবি এবং আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন যে, তারা উভয়ই বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর কসম! তাদের গণিমত থেকে একটি পশম পরিমাণও আমার জন্য বৈধ নয়—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের কুঁজ থেকে একটি পশম তুলে নিয়ে বললেন—পঞ্চমাংশ (খুমুস) ব্যতীত; আর সেই পঞ্চমাংশও তোমাদের মাঝেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সুতরাং তোমরা সুঁই এবং সুতাও ফেরত দাও। কেননা খেয়ানত কিয়ামতের দিন খেয়ানতকারীর জন্য লজ্জা ও অপমানের কারণ হবে।" তখন আনসারদের একজন লোক পশমের সুতার একটি গোলক নিয়ে এসে বলল: "আমি এই গোলকটি নিয়েছিলাম আমার উটের জিনের গদি সেলাই করার জন্য।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এতে আমার যে অংশ রয়েছে তা আমি তোমাকে দিয়ে দিলাম।" তখন লোকটি বলল: "যদি বিষয়টি এই পর্যন্ত গড়ায়, তবে এটিতে আমার আর কোনো প্রয়োজন নেই।"

৩৫ - মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু ইউসুফ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি হাকাম ইবনে উতাইবা থেকে, তিনি মিকসাম ইবনে বাজরাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, মুশরিকদের এক ব্যক্তি খন্দকের যুদ্ধে পরিখার ভেতরে পড়ে মারা যায়। এরপর তার লাশের বিনিময়ে মুসলমানদের অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন—
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ৯৯)
وَسلم عَن ذَلِك فنهاهم

36 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن عبد الله عَن عبد الله بن أبي حميد عَن أبي مليح عَن أُسَامَة أَن رَسُول الله قَالَ فِي حجَّة الْوَدَاع كل رَبًّا كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّة مَوْضُوع وَأول مَا يوضع رَبًّا عَبَّاس بن عبد الْمطلب

37 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن مُحَمَّد بن عبد الله عَن الحكم بن عتيبة عَن مقسم عَن ابْن عَبَّاس مثله

38 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن مجَالد بن سعيد عَن الشّعبِيّ وَزِيَاد بن علاقَة أَن عمر ابْن الْخطاب كتب إِلَى سعد بن أبي وَقاص أَنِّي أمددتك بِقوم من أهل الشَّام فَمن أَتَاك مِنْهُم قبل أَن يتفقأ الْقَتْلَى فأشركه فِي الْغَنِيمَة

39 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن مُحَمَّد بن اسحق عَن يزِيد بن عبد الله بن قسيط قَالَ بعث أَبُو بكر الصّديق عِكْرِمَة بن أبي جهل فِي خمس مئة رجل مدَدا لزياد بن أَسد البياضي وَالْمُهَاجِر بن أُميَّة المَخْزُومِي إِلَى الْيمن حَتَّى افتتحوا النُّجَيْر قَالَ فَأَشْركهُمْ فِي الْغَنِيمَة وَنفل فِي الْبدَاءَة الرّبع وَفِي الرّجْعَة الثُّلُث

40 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن الْحسن بن عمَارَة عَن الحكم بن عتيبة بن مقسم بن بجرة عَن ابْن عَبَّاس أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اسْتَعَانَ بيهود قينقاع على بني قُرَيْظَة فَلم يعطهم من الْغَنِيمَة شَيْئا

41 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن جُوَيْبِر عَن الضَّحَّاك أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم خرج يَوْم أحد فَإِذا كَتِيبَة حسناء فَقَالَ مَا هَؤُلَاءِ قَالُوا إِنَّهُم كَذَا وَكَذَا فَقَالَ لَا نستعين بالكفار

42 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن مُحَمَّد بن السَّائِب الْكَلْبِيّ أَن رجلَيْنِ مُشْرِكين خرجا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلَى بدر فَقَالَ لَهما رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه لَا يَغْزُو مَعنا إِلَّا من كَانَ على ديننَا فَأَسْلمَا

43 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن الْحجَّاج بن أَرْطَأَة عَن الحكم بن عتيبة أَن أَبَا بكر كتب اليه فِي أَسِير من الرّوم وَكتب أَن لَا تفادوه وَإِن أعطيتم بِهِ مَدين من ذهب وَلَكِن اقْتُلُوهُ اَوْ يسلم

44 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن الْأَشْعَث بن سوار عَن الْحسن وَعَطَاء بن أبي رَبَاح أَنَّهُمَا قَالَا فِي الْأَسير لَا يقتل وَلكنه يفادى اَوْ يمن عَلَيْهِ
এবং তার থেকে তিনি তাদের নিষেধ করেন

৩৬ - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আবু হুমাইদ থেকে, তিনি আবু মালিহ থেকে, তিনি উসামা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে বলেছেন: জাহেলি যুগের সকল সুদ রহিত করা হলো, এবং সর্বপ্রথম যে সুদ রহিত করা হচ্ছে তা হলো আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিবের সুদ।

৩৭ - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি হাকাম বিন উতাইবা থেকে, তিনি মিকসাম থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৩৮ - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি মুজালিদ বিন সাঈদ থেকে, তিনি শাবি ও জিয়াদ বিন ইলাকা থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাসকে লিখেছিলেন: আমি সিরিয়াবাসীদের মধ্য থেকে একদল সৈন্য পাঠিয়ে তোমার শক্তি বৃদ্ধি করছি; তাদের মধ্যে যারা নিহতদের দেহ ফুলে ওঠার আগে তোমার কাছে পৌঁছাবে, তাদের গনিমতের অংশে শরিক করো।

৩৯ - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন আবদুল্লাহ বিন কুসাইত থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু বকর সিদ্দিক জিয়াদ বিন আসাদ আল-বায়াদি এবং মুহাজির বিন উমাইয়া আল-মাখজুমির সহায়তায় ইয়েমেনে ইকরিমা বিন আবু জাহলকে পাঁচশ জন সৈন্যসহ প্রেরণ করেন, এমনকি তারা নুজাইর জয় করেন। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি তাদের গনিমতে অংশীদার করেন এবং যাত্রাকালে এক-চতুর্থাংশ ও ফেরার পথে এক-তৃতীয়াংশ অতিরিক্ত পুরস্কার প্রদান করেন।

৪০ - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি হাসান বিন আম্মারা থেকে, তিনি হাকাম বিন উতাইবা বিন মিকসাম বিন বাজরা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু কুরাইজার বিরুদ্ধে বনু কাইনুকার ইহুদিদের সাহায্য নিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের গনিমতের কোনো অংশ দেননি।

৪১ - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি জুওয়াইবির থেকে, তিনি দাহহাক থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের দিন বের হলেন, তখন তিনি একটি সুসজ্জিত বাহিনী দেখতে পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এরা কারা? তারা বলল: তারা অমুক অমুক। তিনি বললেন: আমরা কাফেরদের সাহায্য গ্রহণ করি না।

৪২ - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন সায়িব আল-কালবি থেকে বর্ণনা করেন যে, দুইজন মুশরিক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বদরের দিকে বের হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: আমাদের দ্বীনের অনুসারী ব্যতীত কেউ আমাদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। তখন তারা ইসলাম গ্রহণ করল।

৪৩ - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি হাজ্জাজ বিন আরতাহ থেকে, তিনি হাকাম বিন উতাইবা থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু বকর রোমের একজন বন্দি সম্পর্কে তাঁর কাছে লিখেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন যে, তোমরা তাকে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দিও না, যদিও তোমাদেরকে তার বিনিময়ে এক শহর পূর্ণ স্বর্ণ দেওয়া হয়; বরং তাকে হত্যা করো অথবা সে ইসলাম গ্রহণ করুক।

৪৪ - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আশআদ বিন সাওয়ার থেকে, তিনি হাসান ও আতা বিন আবু রাবাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁরা উভয়ই বন্দি সম্পর্কে বলেছেন: তাকে হত্যা করা হবে না, বরং মুক্তিপণ নেওয়া হবে অথবা অনুগ্রহ করে মুক্তি দেওয়া হবে।
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১০০)
وَقَالَ أَبُو يُوسُف لَيْسَ قَول الْحسن وَعَطَاء هَاهُنَا بِشَيْء

45 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن أبي بكر بن عبد الله عَن مُحَمَّد بن شهَاب الزُّهْرِيّ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا تعقروا الْخَيل فِي أَرض الْعَدو

46 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن أَشْعَث بن سوار عَن مُحَمَّد بن مجَالد قَالَ سَأَلت عبد الله بن أبي أوفى هَل خمس طَعَام خَيْبَر قَالَ لم يُخَمّس وَكَانَ قَلِيلا وَكَانَ أَحَدنَا إِذا احْتَاجَ الى شَيْء اخذ قدر حَاجته

47 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن جُوَيْبِر عَن الضَّحَّاك بن مُزَاحم قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا بعث سَرِيَّة قَالَ لَا تغلوا وَلَا تغدروا وَلَا تمثلوا وَلَا تقتلُوا وليدا وَلَا النِّسَاء وَلَا الشَّيْخ الْكَبِير

48 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن نَافِع عَن ابْن عمر أَنه نهى أَن يدْخل الْمُصحف أَرض الْعَدو

49 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن مُحَمَّد عَن بن اسحق عَن أبي جَعْفَر وَالزهْرِيّ واسماعيل ابْن أُميَّة عَن يزِيد بن هُرْمُز أَنه قَالَ أَنا كتبت كتاب ابْن عَبَّاس الى نجدة وَهُوَ كتبت تَسْأَلنِي عَن قتل الْولدَان فَإِن عَالم مُوسَى قتل وليدا وَقد نهى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن قتل الْولدَان فَلَو كنت تعلم فِي الْولدَان مَا كَانَ يعلم عَالم مُوسَى كَانَ لَك ذَلِك وكتبت الي فِي النِّسَاء هَل كن يحضرن الْحَرْب مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهل كَانَ يضْرب لَهُنَّ بِسَهْم من الْفَيْء وَقد كن يحضرن الْحَرْب مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَكَانَ يرْضخ لَهُنَّ بِسَهْم وَزَاد اسماعيل بن أُميَّة فِي الحَدِيث وكتبت الي تَسْأَلنِي فِي العبيد هَل كَانُوا يحْضرُون الْحَرْب مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهل كَانَ يضْرب لَهُم بِسَهْم فَكتب اليه فِي العبيد كَمَا كتب اليه فِي النِّسَاء وكتبت تَسْأَلنِي عَن الْيَتِيم مَتى يخرج من الْيُتْم إِذا إحتلم خرج من الْيُتْم وَيضْرب لَهُ بِسَهْم

50 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن الْحجَّاج بن أَرْطَأَة عَن عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمُسلمُونَ تَتَكَافَأ دِمَاؤُهُمْ وَيسْعَى بِذِمَّتِهِمْ ادناهم أَوَّلهمْ ورد عَلَيْهِ اقصاهم
আবু ইউসুফ বলেন, এখানে হাসান এবং আতার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

৪৫ - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন শিহাব আল-জুহরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমরা শত্রুর ভূমিতে ঘোড়াগুলোকে পঙ্গু করো না।

৪৬ - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি আশআছ বিন সাওয়ার থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন মুজালিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন আবু আওফাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, খায়বারের খাবারের কি এক-পঞ্চমাংশ করা হয়েছিল? তিনি বললেন, এক-পঞ্চমাংশ করা হয়নি; কারণ তা পরিমাণে অল্প ছিল। আমাদের মধ্যে যখন কারো কোনো কিছুর প্রয়োজন হতো, সে তার প্রয়োজন অনুযায়ী তা গ্রহণ করত।

৪৭ - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি জুয়াইবির থেকে, তিনি দাহহাক বিন মুজাহিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কোনো ক্ষুদ্র সেনাদল পাঠাতেন, তখন বলতেন, তোমরা গণিমতের মালে আত্মসাৎ করো না, বিশ্বাসঘাতকতা করো না, অঙ্গচ্ছেদ করো না এবং কোনো শিশু, নারী ও বৃদ্ধকে হত্যা করো না।

৪৮ - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি শত্রুর ভূমিতে কুরআন নিয়ে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন।

৪৯ - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি মুহাম্মদ থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আবু জাফর, জুহরি এবং ইসমাইল ইবনে উমাইয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন হুরমুজ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি নজদার কাছে ইবনে আব্বাসের চিঠি লিখেছিলাম। (চিঠিতে ছিল—) তুমি আমাকে শিশুদের হত্যা করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলে; অথচ মুসার (আ.) সাথী একটি শিশুকে হত্যা করেছিলেন, কিন্তু আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং তুমি যদি শিশুদের সম্পর্কে তেমন কিছু জানতে যা মুসার সাথী জানতেন, তবে তোমার জন্য তা (হত্যা করা) বৈধ হতো। তুমি মহিলাদের সম্পর্কে আমার কাছে লিখেছিলে যে, তারা কি আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে যুদ্ধে উপস্থিত থাকত এবং তাদের জন্য কি গণিমত থেকে কোনো নির্দিষ্ট অংশ বরাদ্দ করা হতো? তারা আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে যুদ্ধে উপস্থিত থাকত এবং তাদের সামান্য উপঢৌকন দেওয়া হতো। ইসমাইল ইবনে উমাইয়া হাদিসে আরও যোগ করেছেন যে, তুমি দাসদের সম্পর্কে আমার কাছে জিজ্ঞাসা করেছিলে যে, তারা কি আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে যুদ্ধে উপস্থিত থাকত এবং তাদের জন্য কি কোনো অংশ বরাদ্দ করা হতো? তিনি তাকে দাসদের ব্যাপারে তেমন উত্তরই লিখেছিলেন যেমনটি মহিলাদের ব্যাপারে লিখেছিলেন। আর তুমি আমাকে এতিম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলে যে, কখন সে এতিম অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে? যখন সে স্বপ্নদোষের বয়সে পৌঁছায়, তখন সে এতিম অবস্থা থেকে বেরিয়ে যায় এবং তার জন্য অংশ নির্ধারণ করা হয়।

৫০ - মুহাম্মদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি হাজ্জাজ বিন আরতাহ থেকে, তিনি আমর বিন শুয়াইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: মুসলমানদের রক্ত সমান; তাদের সাধারণ স্তরের ব্যক্তিরাও তাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার অঙ্গীকার দিতে পারে এবং তাদের দূরবর্তী ব্যক্তিরাও তা রক্ষা করতে বাধ্য।
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১০১)
51 - الرِّوَايَة هُنَا هِيَ ذَاتهَا الَّتِي وَردت فِي الْفَقْرَة 7

52 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن الْحسن بن عمَارَة عَن الحكم عَن مقسم عَن ابْن عَبَّاس قَالَ غزا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي الْمحرم فِي مستهل الشَّهْر وَأقَام عَلَيْهَا أَرْبَعِينَ يَوْمًا وَفتحهَا فِي صفر يَعْنِي الطَّائِف

53 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن الْحسن بن عمَارَة عَن ابْن أبي نجيح عَن مُجَاهِد قَالَ النَّهْي عَن الْقِتَال فِي الشَّهْر الْحَرَام مَنْسُوخ نسخه قَول الله تَعَالَى {فَاقْتُلُوا الْمُشْركين حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ} سُورَة 94 وَقَالَ أَبُو يُوسُف وَكَذَلِكَ قَالَ أَبُو حنيفَة قَالَ أَبُو يُوسُف أما مُحَمَّد بن السَّائِب الْكَلْبِيّ فَكَانَ يَقُول لَيْسَ بمنسوخ مُحَمَّد بن الْحسن قَالَ أَبُو يُوسُف وَلَيْسَ يُؤْخَذ بقول الْكَلْبِيّ

54 - مُحَمَّد عَن أبي يُوسُف عَن الْحجَّاج بن أَرْطَأَة عَن مَكْحُول أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قسم يَوْم خَيْبَر للفارس سَهْمَيْنِ وللراجل سَهْما وَالله أعلم
৫১ - এখানকার বর্ণনাটি সেই একই যা অনুচ্ছেদ ৭-এ বর্ণিত হয়েছে।

৫২ - মুহাম্মাদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি হাসান ইবনে উমারা থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি মিকসাম থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহরম মাসের শুরুতে যুদ্ধাভিযান করেন এবং সেখানে চল্লিশ দিন অবস্থান করেন এবং সফর মাসে তা জয় করেন; অর্থাৎ তায়েফ।

৫৩ - মুহাম্মাদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি হাসান ইবনে উমারা থেকে, তিনি ইবনে আবু নাজিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিষিদ্ধ মাসে যুদ্ধ করার নিষেধাজ্ঞা রহিত হয়ে গেছে; মহান আল্লাহর এই বাণী তা রহিত করেছে: {অতঃপর মুশরিকদের যেখানেই পাও হত্যা করো} সূরা ৯৪। আবু ইউসুফ বলেন, আবু হানিফাও অনুরূপ বলেছেন। আবু ইউসুফ বলেন: তবে মুহাম্মাদ ইবনে সাইব আল-কালবি বলতেন যে এটি রহিত হয়নি। মুহাম্মাদ ইবনে হাসান বলেন, আবু ইউসুফ বলেছেন: আল-কালবির কথা গ্রহণ করা হবে না।

৫৪ - মুহাম্মাদ আবু ইউসুফ থেকে, তিনি হাজ্জাজ ইবনে আরতাত থেকে, তিনি মাকহুল থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খায়বারের দিন অশ্বারোহীর জন্য দুই অংশ এবং পদাতিকের জন্য এক অংশ বণ্টন করেছিলেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১০৮)
‌‌بَاب الْجَيْش إِذا غزا أَرض الْحَرْب

 

55 - إِذا غزا الْجَيْش أَرض الْحَرْب فَإِن كَانَت أَرضًا قد بلغتهم الدعْوَة فَإِن هم دعوهم أَيْضا فَحسن وَإِن تركُوا ذَلِك فَحسن وَلَا بَأْس بِأَن يُغيرُوا عَلَيْهِم لَيْلًا وَنَهَارًا بِغَيْر دَعْوَة وَلَا بَأْس بِأَن يحرقوا حصونهم بالنَّار أَو يغرقوها بِالْمَاءِ فَإِذا غنموا غنيمَة فَلَا يقسموها فِي أَرض الْحَرْب حَتَّى يحرزوها

56 - قَالَ أَبُو يُوسُف سَأَلت أَبَا حنيفَة عَمَّا كَانَ فِي الْغَنِيمَة من طَعَام أَو علف فَاحْتَاجَ رجل فَأكل من ذَلِك الطَّعَام وأعلف دَابَّته من ذَلِك الْعلف قَالَ لَا بَأْس بذلك

57 - قلت وَإِن كَانَ فِيهَا سلَاح فَاحْتَاجَ رجل من الْمُسلمين الى أَن يَأْخُذ مِنْهُ شَيْئا فَيُقَاتل بِهِ بِغَيْر إِذن الإِمَام قَالَ لَا بَأْس بذلك وَلَكِن ليَرُدهُ فِي الْغَنِيمَة إِذا انْقَطَعت الْحَرْب

58 - قلت لم رخصت لَهُ فِي الطَّعَام والعلف قَالَ لِأَنَّهُ قد بلغنَا فِي ذَلِك أثرا عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن الْقَوْم أَصَابُوا يَوْم خَيْبَر طَعَاما فَأَكَلُوا مِنْهُ قبل أَن يقسم فالعلف عندنَا بِمَنْزِلَة الطَّعَام وَالطَّعَام والعلف قُوَّة يتقوى بهَا الرجل وَلَا بُد لَهُ من ذَلِك

59 - قلت فَلم رخصت لَهُ فِي السِّلَاح بِأَن يُقَاتل بِهِ قَالَ أَرَأَيْت رجلا من الْمُسلمين لَو رَمَاه الْمُشْركُونَ بِسَهْم فَأَخذه فَرَمَاهُمْ بِهِ أَو ضربه رجل بِسيف فانتزعه مِنْهُ فَضَربهُ بِهِ هَل تكره ذَلِك
অধ্যায়: সেনাবাহিনী যখন শত্রু ভূখণ্ডে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করে

 

৫৫ - যখন সেনাবাহিনী কোনো শত্রু ভূখণ্ডে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করে, আর যদি তা এমন ভূখণ্ড হয় যেখানে তাদের নিকট ইতিপূর্বেই দাওয়াত পৌঁছেছে, তবে তারা যদি পুনরায় তাদের দাওয়াত দেয় তবে তা উত্তম। আর যদি তারা তা বর্জন করে তবে তাও ভালো। তাদের ওপর দিনে বা রাতে নতুন করে দাওয়াত প্রদান ছাড়াই আক্রমণ করায় কোনো দোষ নেই। তাদের দুর্গসমূহ আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে বা পানি দিয়ে ডুবিয়ে দিতে কোনো বাধা নেই। অতঃপর তারা যখন গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) লাভ করবে, তখন তা শত্রু ভূখণ্ডে বণ্টন করবে না যতক্ষণ না তা নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়।

৫৬ - আবু ইউসুফ বলেন, আমি আবু হানিফাকে গনিমতের অন্তর্ভুক্ত খাদ্যদ্রব্য বা পশুখাদ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম—যদি কোনো ব্যক্তির প্রয়োজন হয় এবং সে সেই খাদ্য থেকে আহার করে অথবা তার পশুকে সেই পশুখাদ্য খাওয়ায়? তিনি বললেন: এতে কোনো অসুবিধা নেই।

৫৭ - আমি বললাম, যদি তাতে অস্ত্রশস্ত্র থাকে এবং কোনো মুসলিমের তা থেকে কিছু নেওয়ার প্রয়োজন হয় যাতে সে তা দিয়ে ইমামের অনুমতি ছাড়াই যুদ্ধ করতে পারে? তিনি বললেন: এতে কোনো অসুবিধা নেই, তবে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে সে যেন তা গনিমতের মালে ফিরিয়ে দেয়।

৫৮ - আমি বললাম, আপনি কেন তার জন্য খাদ্য ও পশুখাদ্যের অনুমতি দিলেন? তিনি বললেন: কারণ এ বিষয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা পৌঁছেছে যে, খয়বরের দিন সাহাবীগণ কিছু খাদ্য পেয়েছিলেন এবং তা বণ্টনের পূর্বেই তারা তা থেকে আহার করেছিলেন। আর পশুখাদ্য আমাদের নিকট খাদ্যের সমপর্যায়ভুক্ত। খাদ্য ও পশুখাদ্য হলো এমন শক্তি যা দ্বারা মানুষ সামর্থ্য লাভ করে এবং মানুষের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা অনিবার্য।

৫৯ - আমি বললাম, তবে কেন আপনি তাকে অস্ত্র ব্যবহার করে যুদ্ধ করার অনুমতি দিলেন? তিনি বললেন: তোমার কী মনে হয়, যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে মুশরিকরা তীর নিক্ষেপ করে, আর সে তা ধরে তাদের দিকে পুনরায় নিক্ষেপ করে, অথবা কোনো ব্যক্তি তাকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে আর সে তার থেকে তলোয়ারটি কেড়ে নিয়ে তাকে পাল্টা আঘাত করে, তবে কি তুমি তা অপছন্দ করবে?
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১০৯)
قلت لَا قَالَ فَهَذَا وَذَلِكَ سَوَاء لَا بَأْس بِهِ

60 - قلت أَرَأَيْت الثِّيَاب وَالْمَتَاع هَل تكره للرجل ان ينْتَفع مِنْهُ بِشَيْء قبل أَن تقسم الْغَنَائِم قَالَ أكره ذَلِك

61 - قلت فَإِن احْتَاجَ النَّاس الى الثِّيَاب وَالدَّوَاب وَالْمَتَاع هَل يَنْبَغِي للْإِمَام أَن يقسمهُ بَينهم قبل أَن يخرجُوا الى دَار الْإِسْلَام قَالَ إِن احتاجوا الى ذَلِك فَلَا بَأْس بقسمته بَينهم وَإِن لم يحتاجوا إِلَيْهِ فَأَنِّي أكره لَهُم قسمته

62 - قلت لم قَالَ لانهم لم يحرزوه مَا داموا فِي دَار الْحَرْب أَلا ترى لَو أَن جَيْشًا آخر دخلُوا دَار الْحَرْب شاركوهم فِي تِلْكَ الْغَنِيمَة

63 - قلت أَرَأَيْت السَّبي هَل يقسمهم الإِمَام قبل أَن يخرجُوا الى دَار الاسلام إِن احْتَاجَ النَّاس اليهم قَالَ لَا قلت فَكيف يصنع الإِمَام بِالسَّبْيِ وَالنَّاس عَن ذَلِك أَغْنِيَاء أيبيع ذَلِك كُله قَالَ لَو رخصت فِي بيعهَا لرخصت لَهُ أَن يقسمهُ بَينهم قلت فَكيف يصنع فِي حملهمْ قَالَ إِن كَانَ مَعَه فضل حمولة حمل ذَلِك عَلَيْهَا وَإِن لم يكن فضل نظر هَل يجد مَعَ الْمُسلمين فضل ظهر فَإِن وجد مَعَهم فضل حمله مَعَهم بِطيبَة انفسهم قلت فَإِن لم يكن مَعَ الإِمَام فضل حمولة وَلم يكن مَعَ الْمُسلمين وَكَانَ مَعَ خَواص مِنْهُم أيحملهم على دَوَاب اولئك الْخَواص قَالَ نعم إِن طابت أنفسهم حمل على دوابهم وَإِلَّا لم يكرههم واستأجر لَهَا من يحملهَا وَأما السَّبي فَإِنَّهُ يُمشيهمْ إِن كَانُوا يُطِيقُونَ ذَلِك قلت فَإِن لم يطيقوا ذَلِك قَالَ يقتل الرِّجَال وَيتْرك النِّسَاء وَالصبيان واستأجر لَهَا من يحملهَا

64 - وَقَالَ مُحَمَّد وَإِن قسموها فِي دَار الْحَرْب فَهُوَ جَائِز لِأَن الْفُقَهَاء قد اخْتلفُوا فِيهِ
আমি বললাম, ‘না’। তিনি বললেন, ‘এটি এবং সেটি সমান, এতে কোনো অসুবিধা নেই।’

60 - আমি বললাম, ‘কাপড়-চোপড় এবং আসবাবপত্র সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? গনীমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) বণ্টনের পূর্বে কোনো ব্যক্তির জন্য কি তা থেকে কোনো কিছু ব্যবহার করা আপনি অপছন্দ করেন?’ তিনি বললেন, ‘আমি তা অপছন্দ করি।’

61 - আমি বললাম, ‘যদি লোকদের কাপড়-চোপড়, পশু এবং আসবাবপত্রের প্রয়োজন হয়, তবে তারা দারুল ইসলামে (ইসলামী ভূখণ্ডে) পৌঁছানোর পূর্বেই কি ইমামের পক্ষে তা তাদের মাঝে বণ্টন করা সংগত হবে?’ তিনি বললেন, ‘যদি তাদের প্রয়োজন থাকে, তবে তাদের মাঝে তা বণ্টন করতে কোনো অসুবিধা নেই। আর যদি তাদের প্রয়োজন না থাকে, তবে আমি তাদের মাঝে তা বণ্টন করা অপছন্দ করি।’

62 - আমি বললাম, ‘কেন?’ তিনি বললেন, ‘কারণ যতক্ষণ তারা দারুল হারবে (যুদ্ধরত অমুসলিম ভূখণ্ডে) অবস্থান করছে, তারা তা পূর্ণ হস্তগত (হিফাজত) করতে পারেনি। আপনি কি দেখছেন না যে, যদি অন্য কোনো বাহিনী দারুল হারবে প্রবেশ করে, তবে তারা এই গনীমতে অংশীদার হবে?’

63 - আমি বললাম, ‘যুদ্ধবন্দীদের সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? লোকদের প্রয়োজন হলে তারা দারুল ইসলামে পৌঁছানোর পূর্বেই কি ইমাম তাদের বণ্টন করে দেবেন?’ তিনি বললেন, ‘না’। আমি বললাম, ‘তবে ইমাম বন্দীদের ব্যাপারে কী করবেন যখন লোকেরা তাদের দিক থেকে অভাবমুক্ত? তিনি কি সেসব বিক্রি করে দেবেন?’ তিনি বললেন, ‘আমি যদি সেগুলো বিক্রির অনুমতি দিতাম, তবে তাদের মাঝে সেগুলো বণ্টন করারও অনুমতি দিতাম।’ আমি বললাম, ‘তবে তাদের বহন করার ব্যাপারে তিনি কী করবেন?’ তিনি বললেন, ‘যদি তাঁর কাছে অতিরিক্ত বাহন থাকে, তবে তাতে তাদের বহন করবেন। আর যদি অতিরিক্ত বাহন না থাকে, তবে তিনি দেখবেন মুসলমানদের কাছে কোনো অতিরিক্ত বাহন আছে কি না। যদি পাওয়া যায়, তবে তাদের মনের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে তিনি তাদের সাথে বহন করবেন।’ আমি বললাম, ‘যদি ইমামের কাছে কোনো অতিরিক্ত বাহন না থাকে এবং সাধারণ মুসলমানদের কাছেও না থাকে, বরং কেবল বিশেষ কিছু ব্যক্তির কাছে থাকে, তবে কি তিনি তাদের সেই বিশেষ ব্যক্তিদের বাহনে বহন করবেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, যদি তারা সন্তুষ্টচিত্তে রাজি হয় তবে তাদের বাহনে বহন করবেন। অন্যথায় তিনি তাদের বাধ্য করবেন না এবং তাদের জন্য বাহন ভাড়া করবেন। আর বন্দীদের ক্ষেত্রে বিধান হলো, যদি তারা সক্ষম হয় তবে তিনি তাদের পায়ে হাঁটিয়ে নেবেন।’ আমি বললাম, ‘যদি তারা সক্ষম না হয়?’ তিনি বললেন, ‘পুরুষদের হত্যা করা হবে এবং নারী ও শিশুদের রেখে দেওয়া হবে এবং তাদের বহন করার জন্য বাহন ভাড়া করা হবে।’

64 - ইমাম মুহাম্মদ বলেন, ‘যদি তারা দারুল হারবে তা বণ্টন করে দেয়, তবে তা বৈধ; কারণ ফকীহগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন।’
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১১০)
65 - قلت أَرَأَيْت الْمُسلمين إِذا أَصَابُوا غَنَائِم فِيهَا غنم أَو دَوَاب أَو بقر فَقَامَتْ عَلَيْهِم فَلم يطيقوا اخراجها الى دَار الاسلام أَو سِلَاحا لم يستطيعوا حمله كَيفَ يصنعون وهم فِي دَار الْحَرْب قَالَ أما مَا كَانَ من سلَاح أَو مَتَاع فليحرقوه بالنَّار وَأما مَا كَانَ من دَابَّة أَو شَاة فليذبحوا ذَلِك ذبحا ثمَّ يحرقوه بالنَّار قلت وَلم لَا يعقرونه قَالَ لَان ذَلِك مثلَة وَلَا يَنْبَغِي لَهُم أَن يمثلوا وَقد نهى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن الْمثلَة وَلَا يَنْبَغِي لَهُم أَن يتْركُوا شَيْئا من ذَلِك ينْتَفع بِهِ أهل الْحَرْب

66 - قلت وَكَذَلِكَ يصنعون بِمَا قَامَ عَلَيْهِم من دوابهم وَمَا ثقل عَلَيْهِم من سِلَاحهمْ ومتاعهم قَالَ نعم

67 - قلت فَهَل تكره للْمُسلمين أَن يخربوا مَا مروا بِهِ من قرى أهل الْحَرْب قَالَ لَا بل أرى ذَلِك حسنا أَلا ترى قَول الله تَعَالَى فِي كِتَابه الْعَزِيز {مَا قطعْتُمْ من لينَة أَو تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَة على أُصُولهَا فبإذن الله وليخزي الْفَاسِقين} سُورَة 595 فَأَنا أحب مَا صَنَعُوا من ذَلِك وَكَانَ فِيهِ كيد وغيظ لِلْعَدو

68 - قلت أَرَأَيْت الإِمَام إِذا ظهر على أَرض من أَرض الْعَدو فاستأجرها أيقسم الإِمَام الأَرْض كَمَا يقسم الْغَنِيمَة قَالَ الإِمَام فِي الأَرْض بِالْخِيَارِ إِن شَاءَ خمسها وَقسم أَرْبَعَة أخماسها بَين الْجند الَّذين افتتحوها وَإِن شَاءَ تَركهَا كَمَا ترك عمر بن الْخطاب رضي الله عنه أَرض السوَاد قلت افيتركها وَأَهْلهَا فِيهَا يؤدون الْخراج قَالَ نعم بلغنَا أَن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه فعل ذَلِك وَالله أعلم
65 - আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন যদি মুসলিমরা গনিমত হিসেবে ভেড়া, পশু বা গরু লাভ করে এবং সেগুলো তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায় ফলে তারা সেগুলো ইসলামের ভূখণ্ডে নিয়ে আসতে সক্ষম না হয়, অথবা এমন কোনো অস্ত্র যা তারা বহন করতে অপারগ হয়, তবে তারা যুদ্ধভূমিতে (দারুল হারব) থাকা অবস্থায় কী করবে? তিনি বললেন, অস্ত্র বা আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে তা আগুনে পুড়িয়ে দেবে। আর পশু বা ভেড়ার ক্ষেত্রে তা জবেহ করবে এবং এরপর আগুনে পুড়িয়ে দেবে। আমি বললাম, তারা কেন সেগুলোকে পঙ্গু করে দেবে না? তিনি বললেন, কারণ তা হলো অঙ্গহানি বা বিকৃতি (মুসলা), আর তাদের জন্য অঙ্গহানি করা সমীচীন নয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অঙ্গহানি করতে নিষেধ করেছেন। আর তাদের জন্য এমন কিছু ফেলে রেখে আসা উচিত নয় যা থেকে শত্রুরা উপকৃত হতে পারে।

66 - আমি বললাম, তাদের নিজেদের যে সব পশু তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায় এবং তাদের যে সব অস্ত্র ও আসবাবপত্র ভারী হয়ে যায়, সেগুলোর ক্ষেত্রেও কি তারা অনুরূপ করবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

67 - আমি বললাম, মুসলিমরা শত্রুপক্ষের যে সব গ্রামের পাশ দিয়ে যাবে সেগুলো কি ধ্বংস করা আপনি অপছন্দ করেন? তিনি বললেন, না; বরং আমি একে উত্তম মনে করি। আপনি কি মহান আল্লাহর সুমহান কিতাবের এই বাণী দেখেননি: {তোমরা যে সব খর্জুর বৃক্ষ কর্তন করেছ অথবা যেগুলোকে তাদের কাণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই অনুমতিতে; এবং এই জন্য যে, তিনি পাপাচারীদের লাঞ্ছিত করবেন} (সূরা হাশর: ৫)। তারা যা করেছে আমি তা পছন্দ করি, কারণ এতে শত্রুর বিরুদ্ধে কৌশল ও তাদের মর্মপীড়ার কারণ রয়েছে।

68 - আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন ইমাম যদি শত্রুর কোনো ভূখণ্ডের ওপর বিজয় লাভ করেন, তবে ইমাম কি সেই জমি গনিমতের ন্যায় বণ্টন করবেন? তিনি বললেন, জমির ব্যাপারে ইমামের ইখতিয়ার রয়েছে; তিনি চাইলে এর এক-পঞ্চমাংশ গ্রহণ করবেন এবং বাকি চার-পঞ্চমাংশ সেই সব সৈন্যদের মাঝে বণ্টন করে দেবেন যারা তা জয় করেছে। আর যদি তিনি চান তবে তা সেভাবেই রেখে দেবেন যেভাবে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাওয়াদ ভূমি রেখে দিয়েছিলেন। আমি বললাম, তিনি কি তা এর অধিবাসীদের নিকট রেখে দেবেন যাতে তারা ভূমি কর (খারাজ) প্রদান করে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমাদের নিকট পৌঁছেছে যে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এরূপ করেছিলেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১১২)
‌‌بَاب قسْمَة الْخمس والسهام وَمن لَا سهم لَهُ

 

69 - قلت أَرَأَيْت الْخمس كَيفَ يقسمهُ الإِمَام وفيمن يقسمهُ قَالَ يقسمهُ فِيمَن سمى الله فِي كِتَابه الْعَزِيز وَقد بلغنَا أَن أَبَا بكر الصّديق وَعمر وَعلي رضي الله عنهم أَنهم كَانُوا يقسمون الْخمس على ثَلَاثَة أسْهم لِلْيَتَامَى وَالْمَسَاكِين وَابْن السَّبِيل

70 - قلت أرايت الْغَنِيمَة إِذا قسمت بكم يضْرب للفارس وبكم يضْرب للراجل قَالَ يضْرب للفارس بسهمين وللراجل بِسَهْم قلت فالبغال عنْدك والراجل سَوَاء قَالَ نعم قلت فَصَاحب البرذون وَالْفرس سَوَاء قَالَ نعم يضْرب لصَاحب الْفرس بسهمين وَلِصَاحِب البرذون بسهمين قلت وَلم ضربت للفارس بسهمين وللراجل بِسَهْم قَالَ لِأَنَّهُ بلغنَا ذَلِك عَن عمر بن الْخطاب وَهَذَا قَول أبي حنيفَة وَقَالَ أَبُو يُوسُف وَمُحَمّد بن الْحسن يضْرب للفارس ثَلَاثَة أسْهم سَهْمَان لفرسه وَسَهْم لَهُ وَيضْرب للراجل بِسَهْم

71 - قلت أَرَأَيْت الرجل إِذا دخل دَار الْحَرْب غازيا مَعَ الْجَيْش وَهُوَ فَارس فنفق فرسه أَو عقر فأحرزت الْغَنِيمَة حِين أحرزت وَهُوَ راجل وَقد كَانَ عَلَيْهِ فرس مَكْتُوب فِي الدِّيوَان اَوْ اشْترى فرسا قبل أَن يدْخل دَار الْحَرْب ثمَّ نفق فِي الدَّار أيضرب لَهُ بِسَهْم فَارس قَالَ نعم
খুমুস বণ্টন, অংশসমূহ এবং যাদের কোনো অংশ নেই তাদের অধ্যায়

 

৬৯ - আমি বললাম, আমাকে বলুন ইমাম কীভাবে খুমুস বণ্টন করবেন এবং কাদের মধ্যে তা বণ্টন করবেন? তিনি বললেন, তিনি তা তাদের মধ্যে বণ্টন করবেন যাদের কথা আল্লাহ তাঁর মহান কিতাবে উল্লেখ করেছেন। আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আবু বকর সিদ্দিক, উমর এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) খুমুসকে তিনটি অংশে বণ্টন করতেন—এতিম, মিসকিন এবং মুসাফিরদের জন্য।

৭০ - আমি বললাম, আমাকে বলুন গনিমতের মাল যখন বণ্টন করা হয়, তখন অশ্বারোহীর জন্য কত অংশ এবং পদাতিকের জন্য কত অংশ নির্ধারণ করা হয়? তিনি বললেন, অশ্বারোহীর জন্য দুই অংশ এবং পদাতিকের জন্য এক অংশ নির্ধারণ করা হয়। আমি বললাম, তবে কি আপনার নিকট খচ্চর আরোহী এবং পদাতিক সমান? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, তবে সাধারণ অশ্ব এবং উন্নত আরবী ঘোড়ার মালিক কি সমান? তিনি বললেন, হ্যাঁ। উন্নত আরবী ঘোড়ার মালিকের জন্য দুই অংশ এবং সাধারণ অশ্বের মালিকের জন্য দুই অংশ নির্ধারণ করা হবে। আমি বললাম, আপনি কেন অশ্বারোহীর জন্য দুই অংশ এবং পদাতিকের জন্য এক অংশ নির্ধারণ করলেন? তিনি বললেন, কারণ আমাদের নিকট উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে এই মর্মে সংবাদ পৌঁছেছে। আর এটিই ইমাম আবু হানিফার মত। ইমাম আবু ইউসুফ এবং ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান বলেন, অশ্বারোহীর জন্য তিন অংশ নির্ধারণ করা হবে—দুই অংশ তার ঘোড়ার জন্য এবং এক অংশ তার নিজের জন্য; আর পদাতিকের জন্য এক অংশ নির্ধারণ করা হবে।

৭১ - আমি বললাম, আমাকে বলুন যদি কোনো ব্যক্তি অশ্বারোহী অবস্থায় সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে শত্রু ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, অতঃপর তার ঘোড়াটি মারা যায় বা জখম হয়ে অকেজো হয়ে যায় এবং গনিমতের মাল হস্তগত করার সময় সে পদাতিক অবস্থায় থাকে; অথচ দিওয়ানে (সামরিক দপ্তরে) তার একটি ঘোড়া নিবন্ধিত ছিল অথবা শত্রু ভূখণ্ডে প্রবেশের পূর্বে সে একটি ঘোড়া ক্রয় করেছিল যা পরবর্তীতে সেখানে মারা গেছে—তবে কি তার জন্য অশ্বারোহীর অংশ নির্ধারণ করা হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১১৩)
72 - قلت أَرَأَيْت إِن كَانَ فِي الدِّيوَان رَاجِلا وَدخل أَرض الْحَرْب غازيا كَذَلِك ثمَّ ابْتَاعَ فرسا فقاتل عَلَيْهِ فأحرزت الْغَنِيمَة حِين احرزت وَهُوَ فَارس قَالَ لَا اضْرِب لَهُ إِلَّا بِسَهْم راجل

73 - قلت أَرَأَيْت الْقَوْم يغزون فِي السفن فيحملون مَعَهم الْخَيل وَفِيهِمْ الْفَارِس والراجل فيصيبون الْغَنِيمَة بكم يضْرب للفارس وبكم يضْرب للراجل قَالَ يضْرب للفارس بسهمين وللراجل بِسَهْم قلت لم والراجل والفارس فِي الْبَحْر سَوَاء قَالَ أَرَأَيْت لَو كَانُوا مقيمين فِي عَسْكَر من أَرض الْحَرْب فَخرج رِجَاله فَأَصَابُوا غَنَائِم أما كنت تضرب للفارس بسهمين وللراجل بِسَهْم قلت بلَى قَالَ فَهَذَا وَذَاكَ سَوَاء

74 - قلت أَرَأَيْت الرجل يَمُوت فِي دَار الْحَرْب أَو يقتل بَعْدَمَا غنموا الْغَنِيمَة قبل أَن يحرزوها أَو يخرجُوا الى دَار الْإِسْلَام هَل يكون نصِيبه مِنْهَا مِيرَاثا قَالَ لَا قلت لم قَالَ لِأَنَّهُ مَاتَ قبل أَن يخرجُوا الْغَنِيمَة الى دَار الْإِسْلَام قلت فَإِن مَاتَ بَعْدَمَا يخرج الى دَار الْإِسْلَام هَل يكون نصِيبه مِنْهَا مِيرَاثا قَالَ نعم

75 - قلت أَرَأَيْت الْجَيْش إِذا غزا أَرض الْحَرْب فغنموا غنيمَة ثمَّ لحقهم جَيش آخر قبل أَن يخرجوها الى دَار الْإِسْلَام وَلم يلْقوا عدوا حَتَّى أخرجوها الى دَار الْإِسْلَام هَل يشاركونهم فِيهَا قَالَ نعم

76 - قلت أرايت العَبْد إِذا قَاتل مَوْلَاهُ عدوه هَل يضْرب لَهُ فِي الْغَنِيمَة بِسَهْم قَالَ لَا وَلَكِن يرْضخ لَهُ وَكَذَلِكَ الْمكَاتب

77 - قلت أَرَأَيْت الرجل من أهل الذِّمَّة اسْتَعَانَ بِهِ الْمُسلمُونَ فقاتل مَعَهم أيضرب لَهُ فِي الْغَنِيمَة بِسَهْم قَالَ لَا وَلَكِن يرْضخ لَهُ
72 - আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন যদি কেউ সামরিক দপ্তরে পদাতিক হিসেবে নিবন্ধিত থাকে এবং যুদ্ধরত অবস্থায় শত্রুভূমিতে পদাতিক হিসেবেই প্রবেশ করে, তারপর সে একটি ঘোড়া ক্রয় করে এবং তার ওপর আরোহণ করে যুদ্ধ করে, আর গনীমত যখন সংগ্রহ করা হয় তখন সে অশ্বারোহী ছিল; তবে তার হুকুম কী? তিনি বললেন, আমি তার জন্য একজন পদাতিকের অংশ ছাড়া অন্য কিছু ধার্য করব না।

73 - আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন যদি একদল লোক জাহাজে করে যুদ্ধ যাত্রা করে এবং তারা তাদের সাথে ঘোড়া বহন করে নিয়ে যায়, আর তাদের মধ্যে অশ্বারোহী ও পদাতিক উভয়ই থাকে, এবং তারা গনীমত লাভ করে; তবে অশ্বারোহীর জন্য কত অংশ এবং পদাতিকের জন্য কত অংশ ধার্য করা হবে? তিনি বললেন, অশ্বারোহীর জন্য দুই অংশ এবং পদাতিকের জন্য এক অংশ ধার্য করা হবে। আমি বললাম, কেন? অথচ সমুদ্রে তো পদাতিক ও অশ্বারোহী উভয়ই সমান। তিনি বললেন, আপনি কি মনে করেন যদি তারা শত্রুভূমির কোনো এক সেনাশিবিরে অবস্থানরত থাকে এবং তাদের পদাতিকরা বের হয়ে গনীমত লাভ করে, তবে কি আপনি অশ্বারোহীর জন্য দুই অংশ এবং পদাতিকের জন্য এক অংশ ধার্য করতেন না? আমি বললাম, অবশ্যই করতাম। তিনি বললেন, তবে এটি এবং সেটি উভয়ই সমান।

74 - আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন কোনো ব্যক্তি যদি শত্রুভূমিতে মারা যায় অথবা গনীমত লাভ করার পর কিন্তু তা নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার আগে কিংবা ইসলামী ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়ার আগে নিহত হয়, তবে তার অংশ কি মিরাস (উত্তরাধিকার) হিসেবে গণ্য হবে? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, কেন? তিনি বললেন, কারণ সে গনীমত ইসলামী ভূখণ্ডে নিয়ে আসার আগেই মারা গিয়েছে। আমি বললাম, তবে যদি সে ইসলামী ভূখণ্ডে পৌঁছানোর পর মারা যায়, তবে কি তার অংশ মিরাস হিসেবে গণ্য হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

75 - আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন যদি কোনো বাহিনী শত্রুভূমিতে যুদ্ধ করে গনীমত লাভ করে, অতঃপর তা ইসলামী ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়ার আগে অন্য একটি বাহিনী তাদের সাথে এসে মিলিত হয় এবং তারা ইসলামী ভূখণ্ডে পৌঁছানো পর্যন্ত কোনো শত্রুর মোকাবিলা না করে; তবে তারা কি এই গনীমতে তাদের অংশীদার হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

76 - আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন দাস যখন তার মুনিবের শত্রুর সাথে যুদ্ধ করে, তবে কি গনীমতে তার জন্য কোনো অংশ ধার্য করা হবে? তিনি বললেন, না, তবে তাকে 'রাদখ' (সামান্য কিছু) দেওয়া হবে। আর মুকাতাব দাসের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।

77 - আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন জিম্মিদের মধ্য হতে কোনো ব্যক্তি যার সাহায্য মুসলমানরা গ্রহণ করেছে এবং সে তাদের সাথে যুদ্ধ করেছে, তার জন্য কি গনীমতে কোনো অংশ ধার্য করা হবে? তিনি বললেন, না, তবে তাকে 'রাদখ' দেওয়া হবে।
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১১৪)
78 - قلت أَرَأَيْت الْمَرْأَة تداوي الْجَرْحى وَتقوم على المرضى وَتَنْفَع النَّاس هَل يضْرب لَهَا فِي الْغَنِيمَة بِسَهْم قَالَ لَا وَلَكِن يرْضخ لَهَا

79 - قلت أَرَأَيْت أهل سوق الْعَسْكَر هَل يضْرب لَهُم فِي الْغَنِيمَة بِشَيْء أَو يرْضخ لَهُم قَالَ لَا أضْرب لَهُم بِسَهْم وَلَا أرضخ لَهُم إِلَّا أَن يقاتلوا فَنَضْرِب لمن قَاتل بِسَهْم

80 - قلت أَرَأَيْت العَبْد يكون مَعَ مَوْلَاهُ يَخْدمه هَل يرْضخ لَهُ قَالَ لَا

81 - قلت أَرَأَيْت الرجل يكون لَهُ فرسَان بكم يضْرب لَهُ قَالَ لَا أضْرب إِلَّا بِسَهْم فَارس وَاحِد لِأَنِّي إِن قسمت لفرسين قسمت لثَلَاثَة ولأكثر من ذَلِك وأكره أَن أفضل بَهِيمَة على رجل مُسلم وَهَذَا قَول أبي حنيفَة وَمُحَمّد بن الْحسن وَقَالَ أَبُو يُوسُف يضْرب لَهُ بِسَهْم فرسين لَا يُزَاد على ذَلِك

82 - قلت أَرَأَيْت الصَّبِي هَل يضْرب لَهُ بِسَهْم فِي الْغَنِيمَة قَالَ لَا

83 - قلت أَرَأَيْت الرجل الْمَجْنُون المغلوب هَل يضْرب لَهُ بِسَهْم فِي الْغَنِيمَة قَالَ لَا

84 - قلت أَرَأَيْت الرجل يشْهد الْقِتَال فَيخرج فَيكون جريحا مَرِيضا حَتَّى يفتح على النَّاس وَتخرج الْغَنِيمَة الى دَار الْإِسْلَام هَل يضْرب لَهُ بِسَهْم فِي الْغَنِيمَة قَالَ نعم

85 - قلت أَرَأَيْت السّريَّة يبعثها الإِمَام من المعسكر فيغنم أهل الْعَسْكَر بعد ذَلِك غنيمَة وتغنم السّريَّة غنيمَة هَل يُشَارك بَعضهم بَعْضًا فِيمَا أَصَابُوا قَالَ نعم يجمع ذَلِك كُله ثمَّ يُخَمّس وَمَا بَقِي بعد ذَلِك قسم بَين أهل الْعَسْكَر والسرية

86 - قلت أَرَأَيْت الرجل يؤسر فِي الْقِتَال ثمَّ يُصِيب الْمُسلمُونَ بعد ذَلِك غنيمَة ثمَّ يرجع فَيكون مَعَهم فَلَا يلقون قتالا حَتَّى يخرجُوا بِالْغَنِيمَةِ الى دَار الْإِسْلَام هَل يشاركهم فِيهَا
৭৮ - আমি বললাম, "আপনার অভিমত কী সেই মহিলার ব্যাপারে যে আহতদের চিকিৎসা করে, অসুস্থদের সেবা করে এবং মানুষের উপকার করে—তাকে কি গনিমতের মালের কোনো নির্ধারিত অংশ দেওয়া হবে?" তিনি বললেন, "না, তবে তাকে সামান্য কিছু (রদখ) প্রদান করা হবে।"

৭৯ - আমি বললাম, "আপনার অভিমত কী সেনাবাহিনীর বাজারের লোকদের ব্যাপারে—তাদের কি গনিমতের মালের কোনো অংশ দেওয়া হবে নাকি সামান্য কিছু প্রদান করা হবে?" তিনি বললেন, "আমি তাদের কোনো অংশ দেব না এবং তাদের জন্য কোনো রদখ-ও নেই, যতক্ষণ না তারা লড়াই করে। যদি তারা লড়াই করে, তবে যারা লড়াই করেছে আমরা তাদের জন্য গনিমতের অংশ নির্ধারণ করব।"

৮০ - আমি বললাম, "আপনার অভিমত কী সেই দাসের ব্যাপারে যে তার মনিবের সাথে থেকে তার সেবা করে—তাকে কি সামান্য কিছু (রদখ) দেওয়া হবে?" তিনি বললেন, "না।"

৮১ - আমি বললাম, "আপনার অভিমত কী সেই ব্যক্তির ব্যাপারে যার দুটি ঘোড়া রয়েছে—তাকে কতটুকু অংশ দেওয়া হবে?" তিনি বললেন, "আমি শুধুমাত্র একজন অশ্বারোহীর অংশই দেব। কারণ আমি যদি দুটি ঘোড়ার জন্য ভাগ করি, তবে আমাকে তিনটি বা তার অধিক ঘোড়ার জন্যও ভাগ করতে হবে। আর আমি একজন মুসলিম ব্যক্তির উপর কোনো পশুকে প্রাধান্য দেওয়া অপছন্দ করি। এটি ইমাম আবু হানিফা ও মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের অভিমত। আর ইমাম আবু ইউসুফ বলেছেন, তাকে দুটি ঘোড়ার অংশ দেওয়া হবে এবং এর বেশি বাড়ানো হবে না।"

৮২ - আমি বললাম, "আপনার অভিমত কী শিশুর ব্যাপারে—তাকে কি গনিমতের মালে কোনো অংশ দেওয়া হবে?" তিনি বললেন, "না।"

৮৩ - আমি বললাম, "আপনার অভিমত কী ভারসাম্যহীন উন্মাদ ব্যক্তির ব্যাপারে—তাকে কি গনিমতের মালে কোনো অংশ দেওয়া হবে?" তিনি বললেন, "না।"

৮৪ - আমি বললাম, "আপনার অভিমত কী সেই ব্যক্তির ব্যাপারে যে যুদ্ধে উপস্থিত ছিল, এরপর বের হয়ে সে আহত বা অসুস্থ অবস্থায় থাকে যতক্ষণ না মানুষের বিজয় অর্জিত হয় এবং গনিমতের মাল দারুল ইসলামে নিয়ে আসা হয়—তাকে কি গনিমতের মালে কোনো অংশ দেওয়া হবে?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।"

৮৫ - আমি বললাম, "আপনার অভিমত কী সেই ক্ষুদ্র সেনাদলের (সারিইয়্যাহ) ব্যাপারে যাকে ইমাম মূল সেনাবাহিনী থেকে পাঠিয়েছেন, অতঃপর মূল বাহিনী কোনো গনিমত লাভ করল এবং ওই ক্ষুদ্র সেনাদলটিও আলাদাভাবে গনিমত লাভ করল—তারা যা পেয়েছে তাতে কি একে অপরের অংশীদার হবে?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, সেসব কিছু একত্রিত করা হবে, এরপর তার এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) বের করা হবে এবং যা অবশিষ্ট থাকবে তা মূল বাহিনী ও ক্ষুদ্র সেনাদলের মধ্যে বণ্টন করা হবে।"

৮৬ - আমি বললাম, "আপনার অভিমত কী সেই ব্যক্তির ব্যাপারে যে যুদ্ধে বন্দী হলো, এরপর মুসলিমরা গনিমত লাভ করল, অতঃপর সে মুক্তি পেয়ে ফিরে এসে তাদের সাথে যোগ দিল এবং গনিমত নিয়ে দারুল ইসলামে পৌঁছানো পর্যন্ত তারা আর কোনো যুদ্ধের সম্মুখীন হলো না—সে কি তাদের সাথে এই গনিমতের অংশে শরিক হবে?"
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১১৫)
قَالَ نعم وَيضْرب لَهُ بسهمه

87 - قلت وَكَذَلِكَ رجل من الْمُشْركين أسلم وَلحق بعسكر الْمُسلمين قَالَ أما هَذَا فَلَا يضْرب لَهُ بِسَهْم إِلَّا أَن يلقى الْمُسلمُونَ بعد ذَلِك قتالا فَيُقَاتل مَعَهم

88 - قلت من أَيْن اخْتلف هَذَا وَالْأول قَالَ لِأَن الأول كَانَ مُسلما وَكَانَ يُقَاتل مَعَهم عدوهم حَتَّى أسر وَلَو أَن عبدا جنى جِنَايَة خطأ أَو أفسد مَتَاعا فَلَزِمَهُ دين ثمَّ أسره الْعَدو ثمَّ أَسْلمُوا عَلَيْهِ فَهُوَ لَهُم وَالْجِنَايَة بَاطِل وَالدّين يلْحقهُ وَلَو لم يسلمُوا عَلَيْهِ وَلَكِن اشْتَرَاهُ رجل مِنْهُم وأصابه الْمُسلمُونَ فِي غنيمَة كَانَت الْجِنَايَة بَاطِلا وَالدّين عَلَيْهِ فَإِن أَخذه مَوْلَاهُ بِالْقيمَةِ أَو بِالثّمن فَإِن الْجِنَايَة وَالدّين يلحقانه وَكَذَلِكَ لَو وهبه أهل الْحَرْب اَوْ اشْتَرَاهُ مِنْهُم ألزم ذَلِك الدّين وَبَطلَت الْجِنَايَة وَإِن كَانَت الْجِنَايَة قتل عمد لم يبطل عَنهُ فِي حَال من ذَلِك

89 - قلت أَرَأَيْت الرجل التَّاجِر يكون فِي أَرض الْحَرْب وَهُوَ مُسلم وَيكون بهَا الرجل قد أسلم فلحق هَذَا الرجل التَّاجِر وَهَذَا الَّذِي أسلم بعسكر الْمُسلمين هَل يكون لَهما سَهْمَان فِيمَا أَصَابُوا قبل ذَلِك قَالَ لَا

90 - قلت فَإِذا لَقِي الْمُسلمُونَ قتالا فَقَاتلا مَعَهم هَل يضْرب لَهما بسهمهما فِيمَا أَصَابُوا أَو فِيمَا كَانُوا أَصَابُوا قبل ذَلِك قَالَ نعم

91 - قلت وَكَذَلِكَ أهل سوق الْعَسْكَر بِمَنْزِلَة هذَيْن الرجلَيْن فِي كل مَا ذكرت لَك قَالَ نعم قلت وَكَذَلِكَ رجل يرْتَد عَن الْإِسْلَام فَيدْخل دَار الْحَرْب ثمَّ يسلم وَيَتُوب وَيلْحق بعسكر الْمُسلمين قَالَ نعم
তিনি বললেন, হ্যাঁ, এবং তার জন্য তার অংশ বরাদ্দ করা হবে।

87 - আমি বললাম, একইভাবে যদি মুশরিকদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম বাহিনীর সাথে যোগ দেয়? তিনি বললেন, এর ক্ষেত্রে কোনো অংশ বরাদ্দ করা হবে না, যতক্ষণ না এরপর মুসলিমরা কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং সে তাদের সাথে যুদ্ধ করে।

88 - আমি বললাম, এটি এবং প্রথমটির মধ্যে পার্থক্য কেন? তিনি বললেন, কারণ প্রথম ব্যক্তি মুসলিম ছিলেন এবং তিনি তাদের সাথে তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন যতক্ষণ না তিনি বন্দী হন। আর যদি কোনো দাস ভুলবশত কোনো অপরাধ করে অথবা কোনো সম্পদ নষ্ট করে যার ফলে তার ওপর ঋণ সাব্যস্ত হয়, অতঃপর শত্রু তাকে বন্দী করে এবং তারা তার ওপর মালিকানাধীন থাকা অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করে, তবে সে তাদেরই থাকবে এবং তার কৃত অপরাধ বাতিল বলে গণ্য হবে, কিন্তু ঋণ তার ওপর বহাল থাকবে। আর যদি তারা অমুসলিম থাকা অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ না করে, বরং তাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি তাকে ক্রয় করে এবং মুসলিমরা তাকে গনিমতের মাল হিসেবে লাভ করে, তবে কৃত অপরাধ বাতিল হবে এবং ঋণ তার ওপর থাকবে। অতঃপর যদি তার মালিক তাকে মূল্যের বিনিময়ে বা ক্রয়মূল্যের বিনিময়ে গ্রহণ করে, তবে অপরাধ ও ঋণ উভয়ই তার ওপর বর্তাবে। একইভাবে যদি হারবিরা (যুদ্ধরত শত্রুরা) তাকে দান করে অথবা সে তাদের কাছ থেকে তাকে ক্রয় করে, তবে সেই ঋণ তার ওপর আবশ্যক হবে এবং অপরাধ বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু অপরাধটি যদি ইচ্ছাকৃত হত্যা হয়ে থাকে, তবে কোনো অবস্থাতেই তা তার থেকে বাতিল হবে না।

89 - আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন যদি কোনো মুসলিম ব্যবসায়ী শত্রু ভূখণ্ডে অবস্থান করেন এবং সেখানে অন্য এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে, অতঃপর এই ব্যবসায়ী এবং এই নবদীক্ষিত মুসলিম ব্যক্তি মুসলিম বাহিনীর সাথে যোগ দেয়, তবে মুসলিমরা ইতিপূর্বে যা লাভ করেছে তাতে কি তাদের কোনো অংশ থাকবে? তিনি বললেন, না।

90 - আমি বললাম, যদি অতঃপর মুসলিমরা কোনো যুদ্ধের সম্মুখীন হয় এবং তারা উভয়ে তাদের সাথে যুদ্ধ করে, তবে তারা যা লাভ করেছে বা তারা ইতিপূর্বে যা লাভ করেছিল তাতে কি তাদের অংশ বরাদ্দ করা হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

91 - আমি বললাম, লস্করের বাজারের লোকেরাও কি এই দুই ব্যক্তির মতো হবে, যা কিছু আমি আপনাকে উল্লেখ করেছি তার সবক্ষেত্রে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, একইভাবে যদি কোনো ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করে শত্রু ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, অতঃপর পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করে ও তওবা করে মুসলিম বাহিনীর সাথে যোগ দেয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১১৮)
‌‌بَاب النَّفْل وَالْخُرُوج بِشَيْء من الْغَنِيمَة وفيهَا الشّركَة

 

92 - قلت أَرَأَيْت الرجل يقتل الرجل وَيَأْخُذ سلبه هَل يَنْبَغِي للْإِمَام أَن ينفلهُ إِيَّاه قَالَ لَيْسَ للْإِمَام أَن ينفل أحدا بعد مَا أَصَابَته قلت لم قَالَ لِأَنَّهَا قد صَارَت فِي الْغَنِيمَة للْمُسلمين قلت فَلَا يَنْبَغِي للْإِمَام أَن ينفل شَيْئا من الْغَنِيمَة قَالَ لَا ينفل قلت لم قَالَ لِأَنَّهَا صَارَت فَيْئا للْمُسلمين وَإِنَّمَا يكون النَّفْل قبل احراز الْغَنِيمَة

93 - قلت وَكَيف يكون النَّفْل قَالَ يكون النَّفْل أَن يَقُول الإِمَام من قتل قَتِيلا فَلهُ سلبه وَمن أصَاب شَيْئا فَهُوَ لَهُ وَكَانَ يسْتَحبّ ذَلِك لتحريضهم على الْقِتَال مُحَمَّد بن الْحسن عَن أبي حنيفَة عَن حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان عَن ابراهيم النَّخعِيّ أَنه قَالَ ذَلِك

94 - قلت أَرَأَيْت الرجل يَأْخُذ الْعلف من الْغَنِيمَة فيفضل مَعَه فضل مَا يخرج الى دَار الْإِسْلَام مَا يصنع بِهِ قَالَ إِن كَانَت الْغَنِيمَة لم تقسم اعاده فِيهَا وَإِن كَانَت قد قسمت بَاعه فَتصدق بِهِ قلت فَإِن كَانَ اقرضه رجلا من الْجند وَهُوَ فِي أَرض الْحَرْب قَالَ لَا يَنْبَغِي لَهُ أَن يَأْخُذ مِنْهُ شَيْئا
অতিরিক্ত পুরস্কার (নফল) এবং গনিমতের কোনো কিছু নিয়ে বের হওয়া এবং তাতে অংশীদারিত্ব বিষয়ক অধ্যায়

 

৯২ - আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন যে ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে এবং তার আসবাবপত্র (সালব) গ্রহণ করে, ইমামের কি তাকে তা অতিরিক্ত পুরস্কার হিসেবে দেওয়া উচিত? তিনি বললেন, ইমামের জন্য কাউকে কোনো কিছু অতিরিক্ত পুরস্কার হিসেবে দেওয়ার সুযোগ নেই যখন তা হস্তগত হয়ে যায়। আমি বললাম, কেন? তিনি বললেন, কারণ তা মুসলমানদের গনিমতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। আমি বললাম, তাহলে গনিমতের কোনো কিছুই কি ইমামের জন্য অতিরিক্ত পুরস্কার হিসেবে দেওয়া সংগত নয়? তিনি বললেন, তিনি অতিরিক্ত পুরস্কার দেবেন না। আমি বললাম, কেন? তিনি বললেন, কারণ তা মুসলমানদের সাধারণ সম্পদে (ফায়) পরিণত হয়েছে। আর অতিরিক্ত পুরস্কার (নফল) প্রদান কেবল গনিমত হস্তগত করার পূর্বেই হতে পারে।

৯৩ - আমি বললাম, অতিরিক্ত পুরস্কার (নফল) প্রদান কীভাবে হবে? তিনি বললেন, নফল প্রদান এভাবে হবে যে ইমাম বলবেন: 'যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করবে, তার আসবাবপত্র তারই হবে এবং যে যা লাভ করবে তা তারই হবে।' যুদ্ধের প্রতি উৎসাহ প্রদানের জন্য এটি মুস্তাহাব ছিল। মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আবু হানিফা থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান থেকে, তিনি ইব্রাহিম নাখঈ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি এরূপ বলেছেন।

৯৪ - আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন কোনো ব্যক্তি গনিমত থেকে পশুখাদ্য গ্রহণ করল এবং দারুল ইসলামে ফিরে আসার পর তার কাছে কিছু অতিরিক্ত থেকে গেল, সে তা নিয়ে কী করবে? তিনি বললেন, যদি গনিমত তখনো বণ্টন না হয়ে থাকে তবে সে তা তাতে ফিরিয়ে দেবে। আর যদি বণ্টন হয়ে গিয়ে থাকে, তবে সে তা বিক্রি করবে এবং সদকা করে দেবে। আমি বললাম, যদি সে যুদ্ধের ময়দানে থাকাকালীন সেনাবাহিনীর কোনো ব্যক্তিকে তা ঋণ হিসেবে দিয়ে থাকে? তিনি বললেন, তার জন্য তার থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করা সংগত হবে না।
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১২০)
‌‌بَاب السبايا يعتقن

 

95 - قلت أَرَأَيْت الجندي إِذا أعتق الْغُلَام أَو الْجَارِيَة من الْغَنِيمَة هَل يجوز عتقه قَالَ لَا قلت لم وَله فِيهَا نصيب قَالَ لِأَنَّهُ لَا يدْرِي نصِيبه حَيْثُ يَقع

96 - قلت فَلَو أَن رجلا وطئ جَارِيَة من الْغَنِيمَة فعلقت مِنْهُ فَادّعى وَلَدهَا قَالَ يدْرَأ عَنهُ الْحَد وَيُؤْخَذ مِنْهُ الْعقر وَتَكون الْجَارِيَة وَوَلدهَا فِي الْغَنِيمَة حَتَّى يقسموها بَين الْجند وَلَا يثبت نسب الْوَلَد مِنْهُ

97 - قلت أَرَأَيْت الرجل إِذا سرق من الْغَنِيمَة هَل يقطع فِيهَا قَالَ لَا قلت وَلم قَالَ لِأَن لَهُ فِيهَا نَصِيبا قلت وَكَذَلِكَ لَو سرق مِنْهَا عَبده وانما كَانَ العَبْد مَعَ مَوْلَاهُ يَخْدمه فِي الْجند قَالَ نعم لَا يقطع أَيْضا قلت وَكَذَلِكَ أَبوهُ أَو أمه أَو امْرَأَته أَو أَخُوهُ أَو ذُو رحم محرم مِنْهُ قَالَ نعم لَا قطع عَلَيْهِم

98 - قلت أَرَأَيْت الْغَنِيمَة إِذا قسمت فَوَقع السَّبي مِنْهُم بَين الْقَوْم من أهل عرافة أَو أهل راية فَأعتق أحد مِنْهُم عبدا أَو أمة هَل يجوز عتقه قَالَ نعم إِذا كَانُوا مائَة أَو أقل من ذَلِك وَلست أوقت فِي هَذَا وقتا
যুদ্ধবন্দীদের মুক্ত করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

 

৯৫ - আমি বললাম, আপনার মতামত কী—যদি একজন সৈন্য গনীমতের মাল থেকে কোনো গোলাম বা দাসীকে মুক্ত করে দেয়, তবে কি তার সেই মুক্তিদান বৈধ হবে? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, কেন? অথচ গনীমতের মালে তো তার অংশ রয়েছে। তিনি বললেন, কারণ সে জানে না তার অংশটি ঠিক কোথায় পড়বে।

৯৬ - আমি বললাম, যদি কোনো ব্যক্তি গনীমতের কোনো দাসীর সাথে সহবাস করে এবং সে গর্ভবতী হয়ে যায়, অতঃপর সে সন্তানের পিতৃত্ব দাবি করে? তিনি বললেন, তার ওপর থেকে হদ রহিত করা হবে এবং তার কাছ থেকে 'উকর' (যৌন মিলনের ক্ষতিপূরণ) গ্রহণ করা হবে। আর উক্ত দাসী ও তার সন্তান গনীমতের অন্তর্ভুক্ত থাকবে যতক্ষণ না তা সৈন্যদের মাঝে বণ্টন করা হয়, এবং ওই ব্যক্তির সাথে সন্তানের বংশপরিচয় সাব্যস্ত হবে না।

৯৭ - আমি বললাম, আপনার মতামত কী—যদি কোনো ব্যক্তি গনীমতের মাল থেকে চুরি করে, তবে কি তার হাত কাটা হবে? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, কেন? তিনি বললেন, কারণ এতে তার একটি প্রাপ্য অংশ রয়েছে। আমি বললাম, অনুরূপভাবে যদি তার গোলাম গনীমত থেকে চুরি করে, অথচ গোলামটি তার মনিবের সাথে থেকে বাহিনীতে সেবা করছিল? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তারও হাত কাটা হবে না। আমি বললাম, একইভাবে যদি তার পিতা, মাতা, স্ত্রী, ভাই অথবা কোনো নিকটাত্মীয় (মাহরাম) চুরি করে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাদের কারও হাত কাটা হবে না।

৯৮ - আমি বললাম, আপনার মতামত কী—যখন গনীমত বণ্টন করা হয় এবং কোনো নির্দিষ্ট দল বা পতাকাবাহী একদল লোকের অংশে কিছু যুদ্ধবন্দী আসে, অতঃপর তাদের মধ্য থেকে কেউ কোনো গোলাম বা দাসীকে মুক্ত করে দেয়, তবে কি তার সেই মুক্তিদান বৈধ হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যদি তাদের সংখ্যা একশত বা তার কম হয়। তবে আমি এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করছি না।
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১২১)
قلت وَيكون هَذَا بِمَنْزِلَة العَبْد يكون من الشُّرَكَاء فيعتقه بَعضهم قَالَ نعم قلت من أَيْن اخْتلف هَذَا وَالْبَاب الأول إِذا أعتق قبل الْقِسْمَة لم يجز قَالَ هما فِي الْقيَاس سَوَاء غير أَنِّي اسْتحْسنَ فِي الْبَاب الأول إِذا أعتق قبل الْقِسْمَة أَلا يجوز وَتركت الْقيَاس فِيهِ

99 - قلت أَرَأَيْت الْجند إِذا سبوا امْرَأَة ثمَّ سبوا زَوجهَا بعده بِيَوْم أَو نَحْو ذَلِك أيكونان على نِكَاحهمَا قَالَ نعم قلت فَإِن كَانَ بَين سبيهما أَكثر من ذَلِك قدر مَا تحيض فِيهِ ثَلَاث حيض أَو قد حَاضَت فِي ذَلِك ثَلَاث حيض وَأسْلمت غير أَن الْجند لم يخرجُوا من أَرض الْحَرْب حَتَّى سبوا زوجه ثمَّ أسلم أيكونان على نِكَاحهمَا قَالَ نعم قلت لم قَالَ لِأَنَّهُمَا لم يخرجَا الى دَار الْإِسْلَام بعد فهما كهيئتهما لَو سبيا جَمِيعًا قلت فَلَو سبي الزَّوْج قبلهَا وَهِي بعده كَانَا على مَا وصفت قَالَ نعم قلت فَلَو سبي أَحدهمَا الزَّوْج أَو الْمَرْأَة فَأخْرج الى دَار الْإِسْلَام ثمَّ سبي الآخر بعد ذَلِك قَالَ لَا يكون بَينهمَا نِكَاح قلت لم قَالَ إِذا أخرج أَحدهمَا الى دَار الْإِسْلَام قبل صَاحبه انْقَطَعت الْعِصْمَة فِيمَا بَينهمَا قلت وَلم كَانَ هَذَا هَكَذَا قَالَ أَرَأَيْت لَو وَقعت الْمَرْأَة فِي سهم رجل مِنْهُم فَأسْلمت أما كَانَ لَهُ أَن يَطَأهَا إِن شَاءَ أَو يُزَوّجهَا إِن شَاءَ قلت بلَى قَالَ أَولا ترى أَن عصمتها قد انْقَطَعت وَأَن زَوجهَا الَّذِي كَانَ فِي دَار الْحَرْب
আমি বললাম, এটি কি সেই দাসের মতো হবে যে অংশীদারদের মালিকানাধীন এবং তাদের কেউ তাকে মুক্ত করে দেয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, এটি এবং প্রথম অধ্যায়টি কেন ভিন্ন হলো যেখানে বলা হয়েছে যে বণ্টনের আগে মুক্ত করা হলে তা বৈধ হবে না? তিনি বললেন, কিয়াসের দিক থেকে উভয়টি সমান, তবে আমি প্রথম অধ্যায়ে বণ্টনের আগে মুক্তি প্রদান করাকে বৈধ গণ্য না করার ক্ষেত্রে ইস্তিহসান করেছি এবং সেক্ষেত্রে কিয়াস ত্যাগ করেছি।

৯৯ - আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন যদি সৈন্যরা কোনো নারীকে যুদ্ধবন্দী হিসেবে পাকড়াও করে, অতঃপর একদিন পর বা অনুরূপ সময়ের পর তার স্বামীকেও যুদ্ধবন্দী করে, তবে কি তারা তাদের বিবাহবন্ধনেই বহাল থাকবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, যদি তাদের বন্দী হওয়ার সময়ের ব্যবধান এর চেয়ে বেশি হয়, যেমন তিন হায়েজ সমপরিমাণ সময় অথবা সে এর মধ্যে তিনবার ঋতুবতী হয়েছে এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে, কিন্তু সৈন্যরা তাকে নিয়ে দারুল হারব থেকে বের হওয়ার আগেই তার স্বামীকেও বন্দী করে নেয় এবং এরপর সে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে কি তারা তাদের পূর্বের বিবাহবন্ধনেই বহাল থাকবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, কেন? তিনি বললেন, কারণ তারা এখনও দারুল ইসলামে প্রবেশ করেনি। ফলে তারা সেই অবস্থায় গণ্য হবে যেমনটি হতো যদি তাদের দুজনকেই একত্রে বন্দী করা হতো। আমি বললাম, যদি স্বামী আগে বন্দী হয় এবং স্ত্রী তার পরে হয়, তবে কি বিষয়টি তেমনই হবে যা আপনি বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, যদি তাদের একজনকে—স্বামী বা স্ত্রীকে—বন্দী করে দারুল ইসলামে নিয়ে আসা হয় এবং অন্যজনকে এর পরে বন্দী করা হয়, তবে কি হবে? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে আর বিবাহ অবশিষ্ট থাকবে না। আমি বললাম, কেন? তিনি বললেন, যখন তাদের একজনকে তার সঙ্গীর আগেই দারুল ইসলামে নিয়ে আসা হয়, তখন তাদের মধ্যবর্তী বৈবাহিক বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায়। আমি বললাম, এটি কেন এমন হলো? তিনি বললেন, আপনি কি মনে করেন যদি সেই নারী কোনো এক ব্যক্তির ভাগে পড়ে এবং সে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে কি তার জন্য বৈধ নয় যে সে চাইলে তার সাথে সহবাস করতে পারে অথবা চাইলে তাকে অন্য কারো সাথে বিয়ে দিতে পারে? আমি বললাম, অবশ্যই। তিনি বললেন, তবে কি আপনি দেখছেন না যে তার বৈবাহিক বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তার স্বামী যে দারুল হারবে রয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১২২)
لَو كَانَ على النِّكَاح وَلم تَنْقَطِع عصمتها مِنْهُ لم يصلح لهَذَا أَن يَطَأهَا وَأَن يُزَوّجهَا وَإِنَّمَا حلت لهَذَا لِأَن عصمتها قد انْقَطَعت من زَوجهَا وَقد بلغنَا أَن هَذِه الْآيَة قَوْله تَعَالَى {وَالْمُحصنَات من النِّسَاء إِلَّا مَا ملكت أَيْمَانكُم} سُورَة النِّسَاء 24 نزلت فِي الْمَرْأَة تسبى وَلها زوج فيستبرئها مَوْلَاهَا بِحَيْضَة ثمَّ يَطَؤُهَا وبلغنا عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه نهى أَن تُوطأ الحبالى من الْفَيْء حِين يَضعن وَنهى أَن يُوطأ مِنْهُنَّ غير ذَوَات الْأَحْمَال حَتَّى يستبرئن بِحَيْضَة

100 - قلت أَرَأَيْت الْغَنِيمَة إِذا أصَاب الرجل مِنْهَا مَتَاعا أَو ثيابًا أَو دَابَّة أَو سِلَاحا قد كَانَ الْمُشْركُونَ أَصَابُوهُ قبل ذَلِك مِنْهُ قَالَ إِذا أَصَابَهُ صَاحبه قبل أَن يقسم أَخذه بِغَيْر شَيْء وَإِن كَانَ قد قسم فَهُوَ أَحَق بِهِ بِالْقيمَةِ قلت فَإِن ادّعى شَيْئا من ذَلِك فَهَل يصدق قَالَ لَا إِلَّا بِبَيِّنَة قلت فَإِن كَانَ الَّذِي اصيب لَهُ دَنَانِير ودراهم وفلوسا فَقَامَتْ لَهُ عَلَيْهَا الْبَيِّنَة قَالَ إِن أَصَابَهَا قبل أَن تقسم أَخذهَا وَإِن أَصَابَهَا بعد مَا قسمت فَلَا سَبِيل لَهُ عَلَيْهَا قلت وَلم قَالَ لِأَنَّهَا دَنَانِير ودراهم وفلوس وَلَا يَأْخُذهَا حَتَّى يُعْطي مثلهَا وَالَّذِي يَأْخُذ مثل الَّذِي يُعْطي

101 - قلت فَإِن كَانَ عبدا فأبق الى الدَّار ثمَّ أَصَابَهُ الْمُسلمُونَ فأحرزوه فَوَجَدَهُ فِي الْغَنِيمَة بعد الْقِسْمَة أَو قبلهَا قَالَ إِذا كَانَ آبقا فَوَجَدَهُ مَوْلَاهُ قبل الْقِسْمَة أَو بعْدهَا أَخذه من غير شَيْء وَبِغير قيمَة قلت وَلم قَالَ لِأَن الْمُشْركين لم يحرزوه وَلَا يشبه العَبْد الْآبِق اليهم كَالَّذي يأسرونه أسرا ويحرزونه قلت فَإِذا وجد عَبده آبقا فِي يَدي رجل قد أَصَابَهُ فِي الْغَنِيمَة فَأَخذه هَل
যদি সে বৈবাহিক সম্পর্কের অধীনে থাকত এবং তার থেকে তার সুরক্ষা (বৈবাহিক বন্ধন) বিচ্ছিন্ন না হতো, তবে এই ব্যক্তির জন্য তার সাথে সহবাস করা বা তাকে বিবাহ দেওয়া বৈধ হতো না। এটি এই ব্যক্তির জন্য হালাল হয়েছে কেবল এ কারণে যে, তার স্বামীর থেকে তার সুরক্ষা (বন্ধন) বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, মহান আল্লাহর এই বাণী: {আর নারীদের মধ্যে সধবাগণ তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীগণ ছাড়া} [সূরা আন-নিসা: ২৪] এমন নারীর ক্ষেত্রে নাযিল হয়েছে যাকে যুদ্ধবন্দী করা হয়েছে অথচ তার স্বামী বর্তমান। এমতাবস্থায় তার মালিক এক ঋতু পর্যন্ত তার গর্ভমুক্ত হওয়ার অপেক্ষা (ইস্তিবরা) করবে, অতঃপর সে তার সাথে সহবাস করতে পারবে। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আমাদের নিকট পৌঁছেছে যে, তিনি যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (ফাই) থেকে প্রাপ্ত গর্ভবতী নারীদের সাথে সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত সহবাস করতে নিষেধ করেছেন। আর যারা গর্ভবতী নয় তাদের সাথে এক ঋতু পর্যন্ত গর্ভমুক্ত হওয়ার অপেক্ষা না করা পর্যন্ত সহবাস করতে নিষেধ করেছেন।

১০০ - আমি বললাম: আপনি কি মনে করেন গনীমত সম্পর্কে, যখন কোন ব্যক্তি সেখান থেকে কোন আসবাবপত্র, বা পোশাক, বা পশু, অথবা অস্ত্র পায় যা ইতিপূর্বে মুশরিকরা তার থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল? তিনি বললেন: যদি তার মালিক তা বণ্টন হওয়ার আগেই পেয়ে যায়, তবে সে তা বিনিময় ছাড়াই গ্রহণ করবে। আর যদি তা বণ্টন হয়ে গিয়ে থাকে, তবে সে মূল্যের বিনিময়ে তা পাওয়ার অধিক হকদার। আমি বললাম: সে যদি এর কোন কিছুর দাবি করে, তবে তাকে কি সত্যবাদী বলে গণ্য করা হবে? তিনি বললেন: না, প্রমাণ ছাড়া নয়। আমি বললাম: যদি প্রাপ্ত জিনিসটি স্বর্ণমুদ্রা (দীনার), রৌপ্যমুদ্রা (দিরহাম) বা খুচরা পয়সা হয় এবং তার সপক্ষে সে প্রমাণও পেশ করে? তিনি বললেন: যদি তা বণ্টনের আগে পায় তবে তা গ্রহণ করবে। আর যদি তা বণ্টনের পরে পায়, তবে তার উপর তার কোন অধিকার থাকবে না। আমি বললাম: কেন? তিনি বললেন: কারণ এগুলো স্বর্ণমুদ্রা, রৌপ্যমুদ্রা ও খুচরা পয়সা। সে এর সমপরিমাণ না দেওয়া পর্যন্ত তা নিতে পারবে না, আর সে যা নিচ্ছে তা তার দেওয়ার মতোই সমজাতীয়।

১০১ - আমি বললাম: যদি সেটি একজন দাস হয় যে পলায়ন করে শত্রু ভূখণ্ডে চলে গিয়েছিল, অতঃপর মুসলিমরা তাকে হস্তগত করে এবং সে গনীমতের অন্তর্ভুক্ত হয়, অতঃপর বণ্টন হওয়ার পরে বা আগে তাকে পাওয়া যায়? তিনি বললেন: যদি সে পলাতক দাস হয় এবং তার মালিক তাকে বণ্টনের আগে বা পরে খুঁজে পায়, তবে সে কোন বিনিময় ছাড়াই তা গ্রহণ করবে। আমি বললাম: কেন? তিনি বললেন: কারণ মুশরিকরা তাকে আয়ত্তে আনেনি। স্বেচ্ছায় পলাতক দাস তাদের কাছে তাদের হাতে বন্দী হওয়া এবং আয়ত্তে আনা ব্যক্তির মতো নয়। আমি বললাম: যদি সে তার পলাতক দাসকে এমন ব্যক্তির হাতে পায় যে তাকে গনীমত হিসেবে পেয়েছে, অতঃপর সে তাকে গ্রহণ করে, তবে কি...
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১২৩)
يعوض الَّذِي أَخذ مِنْهُ العَبْد شَيْئا قَالَ نعم يعوضه الإِمَام قيمَة ذَلِك العَبْد من بَيت المَال قلت فَإِن لم يصب الرجل عَبده الْآبِق فِي يَدي رجل أَصَابَهُ فِي الْغَنِيمَة وَلَكِن أَصَابَهُ فِي يَدي رجل اشْتَرَاهُ شِرَاء من أهل الْحَرْب قَالَ إِذا كَانَ عَبده آبقا أَخذه بِغَيْر شَيْء من المُشْتَرِي أَيْنَمَا وجده لِأَن أهل الْحَرْب لم يحرزوه والآبق لم يحرز وَلَيْسَ الْآبِق كَالْعَبْدِ يأسروه وَإِذا كَانَ عَبده أسره الْمُشْركُونَ أسرا فَوجدَ فِي يَدي رجل قد اشْتَرَاهُ من أهل الْحَرْب فَهُوَ أَحَق بِهِ بِالثّمن إِن شَاءَ وَهَذَا قَول أبي حنيفَة وَقَالَ أَبُو يُوسُف وَمُحَمّد إِذا أبق فَأَخَذُوهُ أَسِيرًا فِي دَارهم بعد الأباق فَإِنَّهُ يَأْخُذهُ بِالثّمن فِي الْوَجْهَيْنِ جَمِيعًا قلت فَإِن كَانَ أهل الْحَرْب أَسرُّوا العَبْد أسرا فوهبوا بِهِ لرجل ثمَّ وجده مَوْلَاهُ فِي يَده قَالَ يَأْخُذهُ من الْمَوْهُوب لَهُ بِقِيمَتِه قلت فَإِن كَانَ الَّذِي هُوَ فِي يَده اشْتَرَاهُ من أهل الْحَرْب بِشَيْء من الْعرُوض اَوْ بِشَيْء من الْكَيْل اَوْ الْوَزْن فَوَجَدَهُ مَوْلَاهُ فِي يَدَيْهِ بكم يَأْخُذهُ قَالَ يَأْخُذهُ بِقِيمَة تِلْكَ الْعرُوض الَّتِي اشْتَرَاهُ بهَا قلت وَإِن كَانَ اشْتَرَاهُ بِشَيْء مِمَّا يُكَال اَوْ يُوزن قَالَ يَأْخُذهُ بِمثل كيل ذَلِك ووزنه قلت فَإِن كَانَ الَّذِي هُوَ فِي يَدَيْهِ قد بَاعه من غَيره هَل يَأْخُذهُ قَالَ إِن شَاءَ أَخذه وَإِن شَاءَ تَركه قلت وَيحلف الَّذِي هُوَ فِي يَدَيْهِ لقد اشْتَرَاهُ بذلك قَالَ نعم قلت فَإِن أَقَامَ الْمولى بَيِّنَة أَنه اشْتَرَاهُ بِأَقَلّ من ذَلِك قَالَ أَخذ بِبَيِّنَة الْمولى

102 - قلت فَإِن أسر الْمُشْركُونَ عبدا فباعوه من رجل من الْمُسلمين بِأَلف دِرْهَم ثمَّ أسروه ثَانِيَة فباعوه بِخمْس مائَة دِرْهَم من رجل آخر ثمَّ أَن الموليين ظفرا بِهِ جَمِيعًا أَيهمَا يكون أَحَق بِهِ
যার কাছ থেকে দাসটি নেওয়া হয়েছে তাকে কি কোনো বিনিময় দেওয়া হবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, ইমাম বায়তুল মাল থেকে তাকে সেই দাসের মূল্য পরিশোধ করবেন। আমি বললাম: যদি কোনো ব্যক্তি তার পলায়নকৃত দাসকে কারো কব্জায় গণিমত হিসেবে না পায়, বরং এমন একজনের হাতে পায় যে তাকে দারুল হারবের অধিবাসীদের কাছ থেকে ক্রয় করেছে? তিনি বললেন: যদি তার দাস পলায়নকৃত হয়ে থাকে, তবে ক্রেতার কাছ থেকে সে কোনো বিনিময় ছাড়াই তা গ্রহণ করবে, যেখানেই সে তাকে পাক না কেন। কারণ আহলে হারব তাকে আয়ত্তে নিতে পারেনি এবং পলায়নকৃত দাস সংরক্ষিত হয় না। পলায়নকৃত দাস সেই দাসের মতো নয় যাকে তারা বন্দি করে নিয়ে যায়। আর যখন তার দাসকে মুশরিকরা বন্দি করে নিয়ে যায় এবং সে এমন ব্যক্তির হাতে পাওয়া যায় যে তাকে আহলে হারবের কাছ থেকে ক্রয় করেছে, তবে সে (পূর্বের মালিক) চাইলে মূল্যের বিনিময়ে তার অধিক হকদার হবে। এটি ইমাম আবু হানিফার অভিমত। আর ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ বলেছেন: যদি দাসটি পালিয়ে যায় এবং পলায়নের পর তারা তাদের ভূখণ্ডে তাকে বন্দি হিসেবে ধরে ফেলে, তবে উভয় অবস্থাতেই সে মূল্যের বিনিময়ে তা গ্রহণ করবে। আমি বললাম: যদি আহলে হারব দাসটিকে বন্দি করে এবং কোনো ব্যক্তিকে দান করে দেয়, এরপর তার মালিক তাকে ঐ ব্যক্তির হাতে পায়? তিনি বললেন: সে যাকে দান করা হয়েছে তার কাছ থেকে দাসের মূল্য পরিশোধ করে তা গ্রহণ করবে। আমি বললাম: যার হাতে দাসটি আছে সে যদি তাকে আহলে হারবের কাছ থেকে কোনো আসবাবপত্রের বিনিময়ে অথবা পরিমাপযোগ্য বা ওজনযোগ্য কোনো বস্তুর বিনিময়ে ক্রয় করে থাকে, আর তার মালিক তাকে তার কাছে পায়, তবে সে কত বিনিময়ে তা গ্রহণ করবে? তিনি বললেন: যে আসবাবপত্রের বিনিময়ে সে তাকে ক্রয় করেছিল, তার মূল্য পরিশোধ করে সে তাকে গ্রহণ করবে। আমি বললাম: আর যদি সে তাকে পরিমাপযোগ্য বা ওজনযোগ্য কোনো কিছুর বিনিময়ে ক্রয় করে থাকে? তিনি বললেন: সে অনুরূপ পরিমাপ বা ওজনের বস্তু দিয়ে তা গ্রহণ করবে। আমি বললাম: যদি বর্তমান দখলদার ব্যক্তি তাকে অন্য কারো কাছে বিক্রি করে দেয়, তবে কি সে তা গ্রহণ করতে পারবে? তিনি বললেন: সে চাইলে নিতে পারবে, আর চাইলে ছেড়ে দিতে পারবে। আমি বললাম: যার হাতে দাসটি আছে, সে কি শপথ করবে যে সে ঐ মূল্যেই তা ক্রয় করেছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: যদি দাসের মালিক প্রমাণ পেশ করে যে সে তার চেয়েও কম মূল্যে ক্রয় করেছে? তিনি বললেন: মালিকের প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

১০২ - আমি বললাম: যদি মুশরিকরা কোনো দাসকে বন্দি করে এবং কোনো মুসলমানের কাছে এক হাজার দিরহামে বিক্রি করে, এরপর তারা পুনরায় তাকে বন্দি করে এবং অন্য একজন ব্যক্তির কাছে পাঁচশত দিরহামে বিক্রি করে, অতপর উভয় মালিক যদি তাকে একত্রে পায়, তবে কে তার অধিক হকদার হবে?
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১২৪)
قَالَ مَوْلَاهُ الآخر الَّذِي كَانَ اشْتَرَاهُ بِأَلف أَحَق بِأَن يَأْخُذهُ بِخَمْسِمِائَة دِرْهَم فَإِذا أَخذه قيل لمَوْلَاهُ الأول إِن شِئْت أَن تَأْخُذهُ بِأَلف وَخَمْسمِائة فَخذه وَإِن شِئْت أَن تتركه فَاتْرُكْهُ قلت وَلم كَانَ هَذَا هَكَذَا وَكَانَ الآخر أَحَق بِهِ من الأول قَالَ لِأَن هَذَا الآخر قد نقد فِيهِ ألف دِرْهَم فَهُوَ أَحَق بِهِ وَلَو قضينا بِهِ لمَوْلَاهُ الأول بِخَمْسِمِائَة دِرْهَم بَطل مَال هَذَا الَّذِي نقد ألفا قلت أَرَأَيْت إِن وجده مَوْلَاهُ الأول فِي يَدي هَذَا الَّذِي اشْتَرَاهُ بِأَلف هَل عَلَيْهِ سَبِيل قَالَ لَا قلت لم قَالَ أَلا ترى أَنَّهُمَا إِذا اجْتمعَا أَخذه مَوْلَاهُ الآخر الَّذِي اشْتَرَاهُ بِأَلف دِرْهَم وجعلناه أَحَق بِأَن يَأْخُذهُ بِخَمْسِمِائَة ثمَّ يَأْخُذهُ مَوْلَاهُ الأول بعد ذَلِك بِأَلف وَخَمْسمِائة دِرْهَم إِن شَاءَ وَقَالَ أَبُو يُوسُف وَمُحَمّد لَو أَن عبدا جنى جِنَايَة خطأ أَو أفسد مَتَاعا فَلحقه دين فَأسرهُ الْعَدو فأسلموا عَلَيْهِ قَالَ الْجِنَايَة بَاطِل وَالدّين يلْحقهُ قلت وَإِن لم يسلمُوا عَلَيْهِ وَلَكِن اشْتَرَاهُ رجل وأصابه الْمُسلمُونَ فِي غنيمَة قَالَ الْجِنَايَة بَاطِل وَالدّين عَلَيْهِ قلت فَإِذا أَخذه مَوْلَاهُ بِالْقيمَةِ أَو بِالثّمن قَالَ الْجِنَايَة وَالدّين يلحقانه جَمِيعًا قلت وَإِن كَانَت الْجِنَايَة قتل عمد قَالَ لَا يبطل عَنهُ فِي شَيْء من هَذِه الْحَالَات

103 - قلت أَرَأَيْت الرجل إِذا أسر الْعَدو عَبده وَأَصَابُوا لَهُ مَتَاعا ثمَّ غنمه الْمُسلمُونَ فَوَقع فِي سهم رجل مِنْهُم فَأعتق رجل مِنْهُم العَبْد أَو دبره أَو كَانَت أمة فَوَطِئَهَا فعلقت مِنْهُ واستهلك الْمَتَاع هَل لصَاحبه عَلَيْهِ سَبِيل قَالَ لَا وَإِنَّمَا يكون أَحَق بِهِ إِذا وجده قبل أَن يستهلكه قَائِما بِعَيْنِه فَيَأْخذهُ بِقِيمَتِه إِن شَاءَ
তাঁর অপর মালিক, যিনি তাকে এক হাজার দিরহাম দিয়ে ক্রয় করেছিলেন, তিনি তাকে পাঁচশ দিরহামের বিনিময়ে গ্রহণ করার অধিক হকদার। অতঃপর তিনি যখন তাকে গ্রহণ করবেন, তখন তার প্রথম মালিককে বলা হবে, আপনি যদি তাকে এক হাজার পাঁচশ দিরহাম দিয়ে গ্রহণ করতে চান তবে গ্রহণ করুন, আর যদি তাকে ছেড়ে দিতে চান তবে ছেড়ে দিন। আমি বললাম, কেন এমন হলো এবং কেন দ্বিতীয় জন প্রথম জনের চেয়ে অধিক হকদার হলেন? তিনি বললেন, কারণ এই দ্বিতীয় ব্যক্তি তার জন্য নগদ এক হাজার দিরহাম প্রদান করেছেন, তাই তিনি অধিক হকদার। আর যদি আমরা প্রথম মালিকের পক্ষে পাঁচশ দিরহামের বিনিময়ে ফয়সালা দিতাম, তবে যে ব্যক্তি এক হাজার দিরহাম নগদ দিয়েছেন তার অর্থ বিনষ্ট হতো। আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন যদি প্রথম মালিক তাকে এই ক্রেতার কাছে পান যিনি তাকে এক হাজার দিরহাম দিয়ে ক্রয় করেছেন, তবে কি তার (প্রথম মালিকের) জন্য কোনো দাবি থাকবে? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, কেন? তিনি বললেন, আপনি কি দেখছেন না যে, যখন তারা উভয়ে একত্রিত হয়, তখন তাঁর অপর মালিক যিনি তাকে এক হাজার দিরহাম দিয়ে ক্রয় করেছিলেন আমরা তাকেই পাঁচশ দিরহামের বিনিময়ে গ্রহণ করার অধিক হকদার সাব্যস্ত করি? অতঃপর এরপর প্রথম মালিক চাইলে এক হাজার পাঁচশ দিরহামের বিনিময়ে তাকে গ্রহণ করতে পারেন। আর আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রহ.) বলেন, যদি কোনো দাস অনিচ্ছাকৃত কোনো অপরাধ করে অথবা কোনো সম্পদ বিনষ্ট করে যার ফলে তার ওপর ঋণ আপতিত হয়, অতঃপর শত্রুরা তাকে বন্দি করে এবং তারা তার ওপর ইসলাম গ্রহণ করে (অর্থাৎ দাসটি শত্রুদের মালিকানাধীন অবস্থায় তারা ইসলাম গ্রহণ করে), তবে তিনি বলেন: কৃত অপরাধটি বাতিল হয়ে যাবে কিন্তু ঋণ তার ওপর বহাল থাকবে। আমি বললাম, আর যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে, বরং কোনো ব্যক্তি তাকে ক্রয় করে এবং মুসলিমরা গনিমতের মালে তাকে লাভ করে? তিনি বললেন: অপরাধটি বাতিল হবে কিন্তু ঋণ তার জিম্মায় থাকবে। আমি বললাম, যদি তার মালিক তাকে মূল্যের বিনিময়ে বা দামের বিনিময়ে গ্রহণ করে? তিনি বললেন: অপরাধ এবং ঋণ উভয়ই তার ওপর বর্তাবে। আমি বললাম, যদি অপরাধটি ইচ্ছাকৃত হত্যা হয়? তিনি বললেন: এই সকল অবস্থার কোনোটিতেই তা তার থেকে বাতিল হবে না।

১০৩ - আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন যদি শত্রুরা কোনো ব্যক্তির দাসকে বন্দি করে এবং তার কোনো সম্পদ হস্তগত করে, অতঃপর মুসলিমরা তা গনিমত হিসেবে লাভ করে এবং তা তাদের মধ্য থেকে কোনো এক ব্যক্তির অংশে পড়ে, এরপর সেই ব্যক্তি দাসটিকে মুক্ত করে দেয় অথবা তাকে মুদাব্বার করে দেয়, অথবা সেটি যদি দাসী হয় এবং সে তার সাথে সহবাস করে যার ফলে সে গর্ভবতী হয় এবং সম্পদটি নষ্ট হয়ে যায়, তবে কি তার আদি মালিকের জন্য কোনো দাবি থাকবে? তিনি বললেন, না। বরং তিনি কেবল তখনই এর অধিক হকদার হবেন যদি তিনি তা বিনষ্ট হওয়ার পূর্বে বিদ্যমান অবস্থায় পান, তখন তিনি চাইলে তা মূল্যের বিনিময়ে গ্রহণ করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১২৫)
قلت أَرَأَيْت إِن وجد الْأمة قد زَوجهَا الَّذِي فِي يَدَيْهِ رجلا أيأخذها بِقِيمَتِهَا قَالَ نعم قلت أفتفرق بَينهَا وَبَين زَوجهَا قَالَ لَا ولكنهما على نِكَاحهمَا وَلَا سَبِيل لَهُ على الْعقر قلت أَرَأَيْت إِن كَانَت الْأمة قد ولدت من زَوجهَا أيأخذها وَيَأْخُذ مَعهَا وَلَدهَا قَالَ نعم قلت لم قَالَ لِأَنَّهُ مِنْهَا وَهُوَ شَيْء قَائِم بِعَيْنِه قلت فَإِن كَانَ الْمولى قد أعتق الْوَلَد أَو بَاعه فَأكل ثمنه فاستهلكه أَو كَانَ عبدا فَأكل غَلَّته قَالَ يُقَال لمولى الْجَارِيَة إِن شِئْت أَن تأخذها بِالثّمن فَخذهَا وَإِن شِئْت أَن تتركها فاتركها قلت فَإِن كَانَ مَوْلَاهَا قد زَوجهَا وَأخذ عقرهَا أَو لم يُزَوّجهَا وَلَكِن قطعت يَدهَا فَأخذ أرش يَدهَا هَل يَأْخُذ من عقرهَا أَو من أرش يَدهَا شَيْئا قَالَ لَا قلت لم قَالَ لِأَنَّهُ لَو كَانَ لَهُ أَن يَأْخُذ الْأَرْش وَالْمهْر لَكَانَ لَهُ أَن يَأْخُذهَا إِذا نقصت بِعَيْب ويطرح عَنهُ حِصَّة مَا نَقصهَا ذَلِك الْعَيْب وَهَذَا لَا يكون وَلَا يلقى عَنهُ مِنْهَا شَيْء قلت فَلَو أَن صَاحبهَا اشْتَرَاهَا من الْعَدو بِأَلف دِرْهَم ثمَّ عميت أَو أَصَابَهَا عيب ينقص نصف قيمتهَا ثمَّ جَاءَ مَوْلَاهَا الاول لم يكن لَهُ أَن يَأْخُذهَا إِلَّا بِجَمِيعِ الثّمن أَو يدع قَالَ نعم لَيْسَ لَهُ غير ذَلِك قلت أَرَأَيْت إِن أعْتقهَا المُشْتَرِي هَل يعْتق قَالَ نعم
আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন যদি সে দাসীটিকে এমন অবস্থায় পায় যে, যার কবজায় সে ছিল সে তাকে কোনো পুরুষের সাথে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে, তবে কি সে তাকে তার মূল্যের বিনিময়ে গ্রহণ করবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, তবে কি তাদের স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ করে দেওয়া হবে? তিনি বললেন, না, বরং তারা তাদের বিবাহের ওপরই বহাল থাকবে এবং মোহরের ব্যাপারে তার কোনো অধিকার থাকবে না। আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন যদি দাসীটি তার স্বামীর পক্ষ থেকে সন্তান জন্ম দিয়ে থাকে, তবে কি সে তাকে এবং তার সাথে তার সন্তানকেও গ্রহণ করবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, কেন? তিনি বললেন, কারণ সন্তানটি তারই অংশ এবং এটি একটি স্বতন্ত্র বিদ্যমান সত্তা। আমি বললাম, যদি (বর্তমান) মালিক সন্তানটিকে মুক্ত করে দেয় অথবা তাকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করে নিঃশেষ করে ফেলে, অথবা সে যদি দাস হয় এবং সে তার উপার্জিত লভ্যাংশ ভোগ করে থাকে? তিনি বললেন, দাসীর (আদি) মালিককে বলা হবে, যদি তুমি একে মূল্যের বিনিময়ে গ্রহণ করতে চাও তবে গ্রহণ করো, আর যদি ছেড়ে দিতে চাও তবে ছেড়ে দাও। আমি বললাম, যদি তার (বর্তমান) মালিক তাকে বিয়ে দিয়ে থাকে এবং তার মোহর গ্রহণ করে থাকে, অথবা বিয়ে দেয়নি কিন্তু তার হাত কাটা পড়েছে এবং সে হাতের ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করেছে, তবে কি সে মোহর বা হাতের ক্ষতিপূরণ থেকে কিছু পাবে? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, কেন? তিনি বললেন, কারণ যদি তার জন্য ক্ষতিপূরণ ও মোহর গ্রহণ করা বৈধ হতো, তবে তার জন্য এটিও বৈধ হতো যে, যখন ত্রুটির কারণে দাসীটির মূল্য কমে যাবে তখন তাকে গ্রহণ করবে এবং ওই ত্রুটির কারণে যতটুকু মূল্য কমেছে ততটুকু তার থেকে কমিয়ে দেওয়া হবে। অথচ এমনটি হয় না এবং তার থেকে কোনো কিছুই কমানো হবে না। আমি বললাম, যদি তার (বর্তমান) মালিক তাকে শত্রুর কাছ থেকে এক হাজার দিরহাম দিয়ে ক্রয় করে, এরপর সে অন্ধ হয়ে যায় অথবা এমন কোনো ত্রুটি দেখা দেয় যা তার মূল্যের অর্ধেক কমিয়ে দেয়, এরপর তার আদি মালিক ফিরে আসে, তবে কি তার জন্য পুরো মূল্য পরিশোধ করে গ্রহণ করা অথবা ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না? তিনি বললেন, হ্যাঁ, এছাড়া তার অন্য কোনো পথ নেই। আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন যদি ক্রেতা তাকে মুক্ত করে দেয়, তবে কি সে মুক্ত হয়ে যাবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১২৬)
قلت وَلم أجزت عتقه وَهِي لغيره قَالَ لَيست لغيره وَلكنهَا لَهُ غير أَن مَوْلَاهَا الأول إِن جَاءَ فَهُوَ أَحَق بهَا بِالثّمن قلت وَيحل للْمُشْتَرِي أَن يَطَأهَا وَهُوَ يعلم قصَّتهَا قَالَ نعم

104 - قلت فَلَو أَن جَارِيَة سباها الْعَدو ومولاها صَغِير يَتِيم فاشتراها رجل أَكَانَ لوصي الْيَتِيم أَن يَأْخُذهَا بِالثّمن قَالَ نعم قلت فَهَل للْوَصِيّ أَن يَأْخُذهَا لنَفسِهِ قَالَ لَا إِنَّمَا لَهُ أَن يَأْخُذهَا للْيَتِيم فَأَما لنَفسِهِ فَلَا قلت وَكَذَلِكَ الْوَالِد إِذا اشْترى جَارِيَة لإبنه وَهُوَ صَغِير قَالَ نعم

105 - قلت أَرَأَيْت الْجَارِيَة تكون رهنا بِأَلف دِرْهَم وَذَلِكَ قيمتهَا فيسبيها الْعَدو فيشتريها رجل بِأَلف دِرْهَم أَيكُون مَوْلَاهَا أَحَق بِالثّمن قَالَ نعم قلت فَإِذا أَخذهَا مَوْلَاهَا هَل تكون رهنا على حَالهَا الأولى قَالَ لَا أَلا ترى أَن مَوْلَاهَا إِنَّمَا افتكها بِأَلف دِرْهَم فَهَذَا بِمَنْزِلَة جِنَايَة جنتها فَأبى الْمُرْتَهن أَن يفديها وفداها الرَّاهِن وَلَكِن للْمُرْتَهن أَن يُؤَدِّي الثّمن الَّذِي افتكها بِهِ الْمولى الى الْمولى إِن كَانَ أقل من الدّين وَيَأْخُذ الْجَارِيَة فَتكون رهنا على حَالهَا عِنْد الْمُرْتَهن وَهُوَ بِالْخِيَارِ إِن شَاءَ أَخذهَا وَإِن شَاءَ تَركهَا قلت أَرَأَيْت الرجل تكون عِنْده الْجَارِيَة وَدِيعَة أَو العَبْد أَو يَكُونَا عِنْده بِأَجْر أَو عَارِية فيغلب الْعَدو على ذَلِك فيحرزوه فيشتريه مِنْهُم رجل أيأخذه الَّذِي كَانَ فِي يَدَيْهِ عَارِية أَو وَدِيعَة أَو بِأَجْر قَالَ فَلَا حق لَهُ فِيهِ
আমি বললাম, আপনি কেন তার আজাদ করা বৈধ করেছেন অথচ সে অন্যের মালিকানাধীন? তিনি বললেন, সে অন্যের মালিকানাধীন নয়, বরং সে তারই (ক্রেতার)। তবে বিষয়টি হলো, তার পূর্বতন মালিক যদি ফিরে আসে তবে সে নির্ধারিত মূল্যের বিনিময়ে তাকে পাওয়ার অধিক হকদার। আমি বললাম, ক্রেতার জন্য কি তার সাথে সহবাস করা হালাল হবে অথচ সে তার প্রকৃত ঘটনা জানে? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

১০৪ - আমি বললাম, যদি কোনো দাসীকে শত্রুরা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে নিয়ে যায় এবং তার মালিক হয় একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক এতিম, অতঃপর কোনো ব্যক্তি তাকে ক্রয় করে, তবে কি এতিমের অসির (অভিভাবক) জন্য তাকে মূল্যের বিনিময়ে গ্রহণ করার অধিকার থাকবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, অসি কি তাকে নিজের জন্য গ্রহণ করতে পারবেন? তিনি বললেন, না; বরং তিনি তাকে এতিমের জন্যই গ্রহণ করতে পারবেন, নিজের জন্য নয়। আমি বললাম, পিতা যখন তার ছোট সন্তানের জন্য কোনো দাসী ক্রয় করেন, তখনও কি একই বিধান? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

১০৫ - আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন কোনো দাসী যদি এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে বন্ধক থাকে এবং সেটিই তার মূল্য হয়, অতঃপর শত্রুরা তাকে হস্তগত করে নিয়ে যায় এবং এক ব্যক্তি তাকে এক হাজার দিরহাম দিয়ে ক্রয় করে, তবে কি তার মূল মালিক মূল্যের বিনিময়ে তাকে পাওয়ার অধিক হকদার হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, যখন তার মালিক তাকে গ্রহণ করবে, তখন কি সেটি পূর্বের ন্যায় বন্ধক হিসেবেই বহাল থাকবে? তিনি বললেন, না। আপনি কি দেখছেন না যে, তার মালিক তাকে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে মুক্ত করেছেন? এটি সেই অপরাধের (জিনায়াত) ন্যায় যা সে নিজে সংঘটিত করেছে, অতঃপর বন্ধকগ্রহীতা (মুরতাহিন) তার মুক্তিপণ দিতে অস্বীকার করল এবং বন্ধকদাতা (রাহিন) তার মুক্তিপণ দিয়ে দিলেন। তবে বন্ধকগ্রহীতার অধিকার রয়েছে যে, মালিক যে মূল্যের বিনিময়ে তাকে মুক্ত করেছেন, সেই পরিমাণ মূল্য মালিককে পরিশোধ করে দাসীটিকে গ্রহণ করবে—যদি তা ঋণের পরিমাণের চেয়ে কম হয়—তবেই দাসীটি বন্ধকগ্রহীতার নিকট পূর্বের ন্যায় বন্ধক হিসেবে গণ্য হবে। তিনি এ ক্ষেত্রে ইখতিয়ারপ্রাপ্ত; চাইলে তিনি তাকে গ্রহণ করতে পারেন, অথবা চাইলে বর্জন করতে পারেন। আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন কোনো ব্যক্তির নিকট কোনো দাসী বা দাস গচ্ছিত (ওয়াদিয়া) আছে, অথবা তারা ভাড়ায় বা ধার (আরিয়াত) হিসেবে তার নিকট আছে, অতঃপর শত্রুরা তাদের ওপর প্রবল হয়ে তাদের দখল করে নিল এবং এক ব্যক্তি তাদের থেকে তা ক্রয় করল; এমতাবস্থায় যার নিকট তা ধার, গচ্ছিত বা ভাড়ায় ছিল, সে কি তা গ্রহণ করতে পারবে? তিনি বললেন, এতে তার কোনো অধিকার নেই।
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১২৯)
‌‌بَاب الشِّرَاء وَالْبيع فِي دَار الْإِسْلَام وَالْحَرب

 

106 - قلت أَرَأَيْت جَارِيَة سباها الْعَدو وَقد كَانَ مَوْلَاهَا زَوجهَا قبل ذَلِك ثمَّ اشْتَرَاهَا رجل من الْمُسلمين فَخرج بهَا الى دَار الْإِسْلَام وَهِي على دينهَا لم تتحول عَنهُ أتكون هِيَ وَزوجهَا على نِكَاحهمَا قَالَ نعم قلت وَلَا يفْسد السَّبي أَشد من مَوْلَاهَا لَو بَاعهَا قَالَ لَا فَلَو أَن مَوْلَاهَا قد بَاعهَا من رجل كَانَا على نِكَاحهمَا

107 - قلت أَرَأَيْت الرجل التَّاجِر من الْمُسلمين يكون فِي دَار الْحَرْب فيغنم الْمُشْركُونَ فيصيبون غَنَائِم من الْمُسلمين فِيهَا الرَّقِيق وَغير ذَلِك أَيحلُّ لذَلِك التَّاجِر أَن يَشْتَرِي من اولئك الرَّقِيق جَارِيَة فيطأها اَوْ دَابَّة فَيركبهَا وَهُوَ يعلم بذلك أَو طَعَاما فيأكله وَهُوَ يعلم بذلك قَالَ نعم وَلَكِن أكره أَن يطَأ جَارِيَته حَتَّى يُخرجهَا قلت وَلم وَهَذَا الَّذِي صنع الْمُشْركُونَ لَا يحل قَالَ لأَنهم أحرزوهم فصاروا لَهُم أَلا ترى لَو أَنهم أَسْلمُوا عَلَيْهِم كَانَ لَهُم وَكَذَلِكَ لَو صَالحُوا أَو صَارُوا ذمَّة كَانَ لَهُم

108 - قلت أَرَأَيْت مَا كَانَ من إِنْسَان حر أَو أم ولد أَو مُدبر أَو مكَاتب فأحرزوه ثمَّ أَسْلمُوا عَلَيْهِ أَو صَالحُوا فصاروا ذمَّة قَالَ هَذَا يرد الى حَاله الْحر حر كَمَا كَانَ وَالْمُدبر مُدبر كَمَا كَانَ وَأم الْوَلَد أم ولد كَمَا كَانَت وَالْمكَاتب مكَاتب كَمَا كَانَ
দারুল ইসলাম ও দারুল হারবে ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়

 

১০৬ - আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন সেই দাসী সম্পর্কে যাকে শত্রু বন্দি করেছে, অথচ তার মনিব ইতিপূর্বে তার বিয়ে দিয়েছিলেন? অতঃপর একজন মুসলিম তাকে ক্রয় করে দারুল ইসলামে নিয়ে আসলেন, আর সে তার নিজের ধর্মেই অটল আছে, তা পরিবর্তন করেনি। সে ও তার স্বামী কি তাদের পূর্বের বিবাহ বন্ধনেই বহাল থাকবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, বন্দি হওয়া কি মনিবের বিক্রয় করার চেয়েও বিবাহের ক্ষেত্রে বেশি ক্ষতিকারক নয়? তিনি বললেন, না; যদি তার মনিব তাকে কোনো ব্যক্তির নিকট বিক্রয় করতেন, তবেও তারা তাদের বিবাহ বন্ধনেই বহাল থাকত।

১০৭ - আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন সেই মুসলিম ব্যবসায়ী সম্পর্কে যে দারুল হারবে অবস্থান করছে, এমতাবস্থায় মুশরিকরা গনিমত লাভ করল এবং তারা মুসলিমদের থেকে দাস-দাসী ও অন্যান্য সামগ্রী গনিমত হিসেবে লাভ করল; সেই ব্যবসায়ীর জন্য কি বৈধ হবে যে সে সেই দাসীদের মধ্য হতে কোনো দাসী ক্রয় করবে এবং তার সাথে সহবাস করবে, অথবা কোনো পশু ক্রয় করে তাতে আরোহণ করবে—অথচ সে বিষয়টি জানে—অথবা কোনো খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করে তা আহার করবে—অথচ সে বিষয়টি জানে? তিনি বললেন, হ্যাঁ; তবে সে সেই দাসীর সাথে সহবাস করাকে আমি অপছন্দ করি যতক্ষণ না সে তাকে (দারুল হারব থেকে) বের করে নিয়ে আসে। আমি বললাম, কেন? অথচ মুশরিকরা যা করেছে তা তো হালাল নয়। তিনি বললেন, কারণ তারা সেগুলো আয়ত্ত করেছে, ফলে সেগুলো তাদের মালিকানাধীন হয়ে গেছে। আপনি কি দেখেন না যে, যদি তারা সেই সম্পদসহ ইসলাম গ্রহণ করত তবে তা তাদেরই থাকত? তদ্রূপ যদি তারা সন্ধি করত অথবা জিম্মি হতো, তবেও সেগুলো তাদেরই থাকত।

১০৮ - আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন যদি কোনো স্বাধীন মানুষ, উম্মু ওয়ালাদ, মুদাব্বার কিংবা মুকাতাব হয়, অতঃপর তারা (শত্রুরা) তাদের আয়ত্ত করল এবং পরবর্তীতে তারা (শত্রুরা) ইসলাম গ্রহণ করল অথবা সন্ধি করে জিম্মি হয়ে গেল? তিনি বললেন, এদেরকে তাদের পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়া হবে; স্বাধীন ব্যক্তি পূর্বের ন্যায় স্বাধীন থাকবে, মুদাব্বার পূর্বের ন্যায় মুদাব্বার থাকবে, উম্মু ওয়ালাদ পূর্বের ন্যায় উম্মু ওয়ালাদ থাকবে এবং মুকাতাব পূর্বের ন্যায় মুকাতাব হিসেবেই গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১৩০)
قلت وَكَذَلِكَ لَو أَسْلمُوا أَو باعوه قَالَ نعم قلت وَيرد على أَهله بِغَيْر شَيْء قَالَ نعم

109 - قلت فَلَو أَن رجلا اشْترى مكَاتبا من أهل الْحَرْب قد كَانُوا أسروه أَو حرا اشْتَرَاهُ بأَمْره ثمَّ خرج بِهِ الى دَار الْإِسْلَام أَكَانَ يكون الْحر حرا كَمَا كَانَ وَالْمكَاتب مكَاتبا كَمَا كَانَ وَيذْهب مَال التَّاجِر قَالَ لَا وَلَكِن مَال التَّاجِر على الْمكَاتب وعَلى الْحر كَمَا أمراه أَن يشتريهما ويعودان الى حَالهمَا كَمَا كَانَا قلت فَإِن كَانَ اشتراهما بِغَيْر إذنهما قَالَ لَا حق لَهُ عَلَيْهِمَا

110 - قلت أَرَأَيْت أهل الْحَرْب إِذا أَسرُّوا أَسِيرًا من الْمُسلمين والأسير عبد من عبيد الْمُسلمين فَبَاعَهُ ملكهم من رجل من أهل الْحَرْب فَأعْتقهُ هَل يجوز عتقه قَالَ نعم قلت لم قَالَ أَلا ترى أَنه لَو بَاعه من مُسلم فَأعْتقهُ جَازَ عتقه وَأَنَّهُمْ لَو أَسْلمُوا عَلَيْهِم كَانَ لَهُم قلت فَلَو اشْتَرَاهُ رجل من أهل الْحَرْب ثمَّ أسلم فَخرج الينا بأَهْله وَمَاله مُسلما هَل يكون العَبْد لَهُ قَالَ نعم قلت أفيأخذه مَوْلَاهُ بِالثّمن قَالَ لَا قلت وَلم قَالَ هُوَ بِمَنْزِلَة لَو أسلم أهل الدَّار عَلَيْهِ كَانَ لَهُم مَا أَسْلمُوا عَلَيْهِ من ذَلِك قلت فَلَو خرج مَوْلَاهُ مستأمنا وَلم يسلم وَالْعَبْد مَعَه يُرِيد أَن يَبِيعهُ أَكَانَ مَوْلَاهُ أَحَق بِهِ بِالثّمن قَالَ لَا
আমি বললাম, তেমনিভাবে যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে অথবা তাকে বিক্রি করে দেয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, আর এটি তার মালিকের কাছে কোনো বিনিময় ছাড়াই ফেরত দেওয়া হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

১০৯ - আমি বললাম, যদি কোনো ব্যক্তি হারবিদের (যুদ্ধরত অমুসলিম) নিকট থেকে এমন একজন মুকাতাব দাসকে ক্রয় করে যাকে তারা বন্দি করেছিল, অথবা কোনো স্বাধীন ব্যক্তিকে তার নির্দেশে ক্রয় করে, অতঃপর তাকে নিয়ে দারুল ইসলামে চলে আসে; তবে কি সেই স্বাধীন ব্যক্তি পূর্বের ন্যায় স্বাধীন এবং মুকাতাব ব্যক্তি পূর্বের ন্যায় মুকাতাব হিসেবে গণ্য হবে, আর ব্যবসায়ীর অর্থ কি নষ্ট হয়ে যাবে? তিনি বললেন, না; বরং ব্যবসায়ীর অর্থ মুকাতাব এবং স্বাধীন ব্যক্তির জিম্মায় থাকবে, যেহেতু তারা তাকে ক্রয় করার নির্দেশ দিয়েছিল এবং তারা তাদের পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে। আমি বললাম, যদি সে তাদের অনুমতি ছাড়াই ক্রয় করে থাকে? তিনি বললেন, তাদের ওপর তার কোনো অধিকার থাকবে না।

১১০ - আমি বললাম, আপনার অভিমত কী যদি হারবিরা মুসলমানদের কোনো বন্দিকে বন্দি করে আর সেই বন্দিটি মুসলমানদের একজন দাস হয়, অতঃপর তাদের রাজা তাকে একজন হারবি ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেয় এবং সে তাকে মুক্ত করে দেয়; তবে কি তার এই মুক্তি দান বৈধ হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, কেন? তিনি বললেন, তুমি কি দেখছ না যে, সে যদি তাকে কোনো মুসলমানের কাছে বিক্রি করত আর সে তাকে মুক্ত করে দিত, তবে তার মুক্তি দান বৈধ হতো? আর তারা যদি সেগুলোর মালিক থাকাবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করত, তবে সেগুলো তাদেরই হতো। আমি বললাম, যদি কোনো হারবি ব্যক্তি তাকে ক্রয় করে, অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার পরিবার ও সম্পদসহ মুসলমান হিসেবে আমাদের নিকট চলে আসে, তবে কি দাসটি তার হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, তবে কি তার (পূর্বের) মালিক মূল্যের বিনিময়ে তাকে গ্রহণ করতে পারবে? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, কেন? তিনি বললেন, এটি সেই পর্যায়ের বিষয় যে, যদি কোনো ভূখণ্ডের অধিবাসীরা কোনো কিছুর মালিক থাকাবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করে, তবে ইসলাম গ্রহণের সময় তাদের মালিকানায় যা ছিল তা তাদেরই থাকবে। আমি বললাম, যদি তার (বর্তমান) মালিক ইসলাম গ্রহণ না করে নিরাপত্তা গ্রহণকারী (মুস্তামিন) হিসেবে বের হয়ে আসে এবং দাসটি তার সাথে থাকে আর সে তাকে বিক্রি করতে চায়, তবে কি তার (পূর্বের) মালিক মূল্যের বিনিময়ে তাকে পাওয়ার অধিক হকদার হবে? তিনি বললেন, না।
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১৩১)
قلت لم قَالَ أَرَأَيْت لَو صَالح عَلَيْهِ أهل الدَّار وَكَانُوا ذمَّة هَل يكون لَهُم مَا صَالحُوا عَلَيْهِ من ذَلِك قلت نعم والمستأمن مِنْهُم وهم سَوَاء غير أَنهم يجبرون على بيع مَا كَانَ فِي أَيْديهم من عبد أَو أمة مسلمة
আমি বললাম, "কেন?" তিনি বললেন, "আপনি কি মনে করেন যদি ভূখণ্ডের অধিবাসীগণ এর ওপর সন্ধি স্থাপন করে এবং তারা জিম্মি (সংরক্ষিত নাগরিক) হিসেবে গণ্য হয়, তবে তারা যার ওপর সন্ধি করেছে তা কি তাদের জন্য সাব্যস্ত হবে?" আমি বললাম, "হ্যাঁ।" এবং তাদের মধ্যকার মুস্তামিন (নিরাপত্তা লাভকারী) ও তারা এ বিষয়ে সমান; তবে পার্থক্য শুধু এই যে, তাদের অধিকারে থাকা কোনো মুসলিম দাস বা দাসীকে বিক্রি করে দিতে তাদের বাধ্য করা হবে।
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১৩২)
‌‌بَاب مَا يصلى عَلَيْهِ من السبايا

 

111 - قلت أَرَأَيْت الْغَنِيمَة إِذا اقتسمها أهل الْعَسْكَر بَعْدَمَا أخرجوها الى دَار الْإِسْلَام فَوَقع فِي سهم رجل مِنْهُم مُسلم صبي أَو صبية من السَّبي فَلم يصف وَاحِد مِنْهُمَا الْإِسْلَام حَتَّى مَاتَ هَل يصلى عَلَيْهِ قَالَ إِن كَانَ مَعَه أَبَوَاهُ كَافِرين أَو أَحدهمَا فَهُوَ على دينه لَا يصلى عَلَيْهِ وَإِن أسلم أَبَوَاهُ أَو أَحدهمَا فَمَاتَ الصَّبِي صلي عَلَيْهِ وَإِن أخرج الْأَب من نَاحيَة والإبن من نَاحيَة مَعًا ثمَّ مَاتَ الصَّبِي لَا يصلى عَلَيْهِ وَإِن أخرج الْأَب أَولا ثمَّ الصَّبِي فَإِنَّهُ لَا يصلى عَلَيْهِ لِأَنَّهُ إِنَّمَا أخرج الى أَب كَافِر وَلَو أخرج الصَّبِي أَولا ثمَّ أخرج الْأَب آخرا صلي عَلَيْهِ وَإِنَّمَا أنظر الى الْخُرُوج وَلَا أنظر الى غير ذَلِك وَلَو كَانَ أَبَوَاهُ فِي دَار الْحَرْب ثمَّ مَاتَ بَعْدَمَا أخرج الى دَار الْإِسْلَام قبل أَن يصف الْإِسْلَام صلي عَلَيْهِ قلت فَإِن كَانَ أَبَوَاهُ قد أخذا فصارا فِي سهم رجل مُسلم ثمَّ مَاتَ الصَّبِي وَأَبوهُ كَافِر هَل يصلى عَلَيْهِ إِذا مَاتَ لَا يصلى عَلَيْهِ قلت فَإِن مَاتَ أَبوهُ كَافِرًا ثمَّ مَاتَ الْغُلَام بعد ذَلِك هَل يصلى عَلَيْهِ قَالَ لَا قلت وَلم قَالَ لِأَنَّهُ على دين أَبِيه مَا لم يقر بِالْإِسْلَامِ أَو يصفه قلت فَإِن كَانَ أَبوهُ فِي دَار الْحَرْب ثمَّ مَاتَ قبل أَن يصف الْإِسْلَام أيصلى عَلَيْهِ قَالَ نعم قلت لم
পরিচ্ছেদ: যুদ্ধবন্দীদের মধ্য থেকে যাদের জানাজা পড়া হবে

 

১১১ - আমি বললাম, আপনার অভিমত কী, গনীমতের মাল যখন লস্কর বা বাহিনীর লোকেরা দারুল ইসলামে নিয়ে আসার পর বণ্টন করল এবং তাদের মধ্যে একজন মুসলিম ব্যক্তির অংশে যুদ্ধবন্দীদের কোনো বালক বা বালিকা পড়ল, কিন্তু তাদের কেউ মৃত্যু পর্যন্ত ইসলাম প্রকাশ করেনি; তবে কি তার ওপর জানাজা পড়া হবে? তিনি বললেন, যদি তার সাথে তার কাফের পিতামাতা থাকে অথবা তাদের একজন থাকে, তবে সে তার ধর্মের ওপর গণ্য হবে এবং তার ওপর জানাজা পড়া হবে না। আর যদি তার পিতামাতা বা তাদের কোনো একজন ইসলাম গ্রহণ করে, অতঃপর শিশুটি মারা যায়, তবে তার ওপর জানাজা পড়া হবে। আর যদি পিতাকে এক দিক থেকে এবং পুত্রকে অন্য দিক থেকে একসাথে বের করে আনা হয়, অতঃপর শিশুটি মারা যায়, তবে তার ওপর জানাজা পড়া হবে না। আর যদি পিতাকে আগে বের করা হয় এবং এরপর শিশুকে বের করা হয়, তবে তার ওপর জানাজা পড়া হবে না; কারণ তাকে কেবল তার কাফের পিতার নিকটই বের করে আনা হয়েছে। কিন্তু যদি শিশুকে আগে বের করা হয় এবং পিতাকে পরে বের করা হয়, তবে তার ওপর জানাজা পড়া হবে। আমি কেবল (দারুল ইসলামে) বের হয়ে আসার বিষয়টিই বিবেচনা করি এবং এছাড়া অন্য কিছু দেখি না। আর যদি তার পিতামাতা দারুল হারবে থাকে, অতঃপর শিশুকে দারুল ইসলামে নিয়ে আসার পর সে ইসলাম প্রকাশ করার আগেই মারা যায়, তবে তার জানাজা পড়া হবে। আমি বললাম, যদি তার পিতামাতাকে বন্দি করা হয় এবং তারা কোনো মুসলিম ব্যক্তির অংশে পড়ে, অতঃপর শিশুটি মারা যায় এমতাবস্থায় যে তার পিতা কাফের, তবে কি তার ওপর জানাজা পড়া হবে? (তিনি বললেন,) তার ওপর জানাজা পড়া হবে না। আমি বললাম, যদি তার পিতা কাফের অবস্থায় মারা যায় এবং এরপর বালকটি মারা যায়, তবে কি তার ওপর জানাজা পড়া হবে? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, কেন? তিনি বললেন, কারণ সে তার পিতার ধর্মের ওপরই গণ্য হবে যতক্ষণ না সে ইসলাম স্বীকার করে অথবা ইসলামের বর্ণনা দেয়। আমি বললাম, যদি তার পিতা দারুল হারবে থাকে, অতঃপর সে (শিশু) ইসলাম প্রকাশ করার পূর্বেই মারা যায়, তবে কি তার জানাজা পড়া হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, কেন?
(খণ্ড: ১) আস-সিয়ারুস সাগীর - মিনাল আসলি লি-মুহাম্মাদ ইবনিল হাসান - তা. খাদ্দূরী (পৃষ্ঠা: ১৩৩)
قَالَ لِأَنَّهُ قد وَقع فِي يَد الْمُسلمين وَأدْخل دَار الْإِسْلَام فَصَارَ بِمَنْزِلَة الْمُسلم فَمن ثمَّ صليت عَلَيْهِ

112 - قلت فَإِن كَانَت جَارِيَة يُوطأ مثلهَا ولمولاها أَن يَطَأهَا قَالَ نعم قلت وَلم كَانَ هَذَا هَكَذَا وَلم تقر بِالْإِسْلَامِ وَلم تصفه وَقد جَعلتهَا تُوطأ وَيصلى عَلَيْهَا قَالَ لِأَنَّهَا قد صَارَت فِي أَيدي الْمُسلمين أَلا ترى أَنِّي أكره أَن يَبِيعهَا الْمُسلم من أهل الذِّمَّة

113 - قلت فَإِن كَانَت جَارِيَة قد أدْركْت أَو غُلَام قد أدْرك وَلم يقرا بِالْإِسْلَامِ وَلم يصفاه ووصفا الْكفْر هَل يصلى عَلَيْهِمَا قَالَ لَا قلت وَلَا تُوطأ الْجَارِيَة قَالَ وَلَا تُوطأ إِذا كَانَت من غير أهل الْكتاب

114 - قلت أَرَأَيْت السَّبي إِذا كَانُوا كفَّارًا فيهم الرِّجَال وَالنِّسَاء أتكره أَن يباعوا من أهل الذِّمَّة وَقد عرض عَلَيْهِم الْإِسْلَام فَأَبَوا أَن يسلمُوا قَالَ لست أكره ذَلِك وَإِن لم يعرض عَلَيْهِم وَلَكِنِّي أحب إِلَيّ أَن لَا يفعل ذَلِك قلت أفتكره أَن يباعوا من أهل الْحَرْب قَالَ نعم قلت لم قَالَ لأَنهم دخلُوا دَار الْإِسْلَام فصاروا ذمَّة فأكره أَن يؤدوا الى دَار الْحَرْب فَيَكُونُوا قُوَّة لأهل الْحَرْب على الْمُسلمين
তিনি বললেন, "যেহেতু সে মুসলমানদের হাতে এসেছে এবং তাকে দারুল ইসলামে (ইসলামি ভূখণ্ডে) প্রবেশ করানো হয়েছে, তাই সে একজন মুসলমানের মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছে। একারণেই আমি তার জানাযার নামায পড়েছি।"

১১২ - আমি বললাম, "যদি সে এমন কোনো দাসী হয় যার সাথে সহবাস করার বয়স হয়েছে, তবে তার মালিকের জন্য কি তার সাথে সহবাস করা বৈধ?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" আমি বললাম, "এটি কেন এমন হলো? সে তো ইসলামের স্বীকৃতি দেয়নি এবং ইসলামের কোনো বর্ণনাও দেয়নি, অথচ আপনি তার সাথে সহবাস বৈধ করেছেন এবং তার জানাযা পড়ার ফয়সালা দিয়েছেন?" তিনি বললেন, "কারণ সে মুসলমানদের কর্তৃত্বে এসেছে। আপনি কি দেখছেন না যে, আমি কোনো মুসলমান কর্তৃক তাকে জিম্মিদের কাছে বিক্রি করা অপছন্দ করি?"

১১৩ - আমি বললাম, "যদি এমন কোনো দাসী বা দাস থাকে যে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে, কিন্তু তারা ইসলামের স্বীকৃতি দেয়নি এবং ইসলামের কোনো বর্ণনাও দেয়নি, বরং কুফরের পরিচয় দিয়েছে, তবে কি তাদের জানাযা পড়া হবে?" তিনি বললেন, "না।" আমি বললাম, "সেই দাসীর সাথে কি সহবাস করা যাবে?" তিনি বললেন, "সহবাস করা যাবে না, যদি সে কিতাবধারী (আহলে কিতাব) না হয়।"

১১৪ - আমি বললাম, "যুদ্ধবন্দীরা যদি কাফের হয় এবং তাদের মধ্যে পুরুষ ও নারী থাকে, তবে তাদের কি জিম্মিদের কাছে বিক্রি করা আপনি অপছন্দ করেন? অথচ তাদের কাছে ইসলাম পেশ করা হয়েছিল কিন্তু তারা ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।" তিনি বললেন, "আমি এটি অপছন্দ করি না, এমনকি যদি তাদের কাছে ইসলাম পেশ নাও করা হয়। তবে আমার কাছে পছন্দনীয় হলো এমনটি না করা।" আমি বললাম, "তবে আপনি কি তাদের হারবিদের (যুদ্ধরত কাফেরদের) কাছে বিক্রি করা অপছন্দ করেন?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" আমি বললাম, "কেন?" তিনি বললেন, "কারণ তারা দারুল ইসলামে প্রবেশ করেছে এবং তারা জিম্মি হিসেবে গণ্য হয়েছে। তাই আমি তাদের পুনরায় দারুল হারবে ফিরিয়ে দেওয়া অপছন্দ করি, পাছে তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত কাফেরদের শক্তিতে পরিণত হয়।"