(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: -)
السياسة للوزير المغربي القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: رسالة ضمن «مجموع في السياسة»
المؤلف: الحسين بن علي بن الحسين، أبو القاسم الوزير المغربي (ت 418هـ)
المحقق: د. فؤاد عبد المنعم أحمد
الناشر: مؤسسة شباب الجامعة - الإسكندرية
الطبعة: الأولى
عدد الصفحات: 60
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-উযির আল-মাগরিবির আস-সিয়াসাহ বিভাগ: শরয়ী রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থা
বই: «মাজমু ফি আস-সিয়াসাহ» এর অন্তর্গত একটি পুস্তিকা
লেখক: আল-হুসাইন বিন আলী বিন আল-হুসাইন, আবু আল-কাসিম আল-উযির আল-মাগরিবী (মৃত্যু ৪১৮ হিজরি)
সম্পাদক: ড. ফুয়াদ আব্দুল মুনইম আহমাদ
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতু শাবাবিল জামিআহ - আলেকজান্দ্রিয়া
সংস্করণ: প্রথম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০
[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
حق على من رسم رسما فِي السياسة أَن يَجعله فِي غَايَة الِاخْتِصَار لِأَن الْمَقْصُود بفائدته العظماء وهم مخصوصون بِكَثْرَة الأشغال والتسرع إِلَى الضلال على أَن أفضل مَا فِي النَّاس عُمُوما وَفِي السُّلْطَان خُصُوصا محبَّة الْعلم والتشوق إِلَى استماعه والتقريب لجملته فَإِن ذَلِك دَلِيل على قُوَّة الإنسانية وَمن أعظم مَا يتحبب بِهِ إِلَى الرّعية ثمَّ فِيهِ مَعَ ذَلِك استعراض للتجارب والاستعداد للنوائب إِذْ كَانَت أَخْبَار الْأَوَّلين تدل على آراء تجلت لَهُم أوائلها واحتجبت عَنْهُم عواقبها وَنحن بتأملنا مَا آلت إِلَيْهِ أُمُورهم وأثمر لَهُم تدبيرهم نعلم من آرائهم الأول وَالْآخر والهوادي والصدور
أَنْوَاع السياسات والسياسات ثَلَاث سياسة السُّلْطَان لنَفسِهِ وسياسته
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
যিনি রাজনীতি বা শাসনব্যবস্থা বিষয়ে কোনো রূপরেখা প্রণয়ন করেন, তাঁর জন্য সমীচীন হলো তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা। কারণ এর দ্বারা উপকৃত হওয়া যাদের লক্ষ্য, তাঁরা হলেন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ; আর তাঁরা নানাবিধ কর্মব্যস্ততায় লিপ্ত থাকেন এবং দ্রুত বিভ্রান্তির দিকে ধাবিত হন। তবে সাধারণভাবে মানুষের মধ্যে এবং বিশেষভাবে সুলতানের জন্য সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্য হলো ইলম বা জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা, তা শ্রবণের প্রতি ব্যাকুলতা এবং এর সারসংক্ষেপের সান্নিধ্য লাভ করা। কারণ এটি মানবিক শক্তির প্রমাণ (دليل) এবং প্রজাসাধারণের প্রিয়পাত্র হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। উপরন্তু, এতে অভিজ্ঞতাসমূহের পর্যালোচনা এবং আপদ-বিপদের প্রস্তুতি নিহিত রয়েছে। কারণ পূর্ববর্তীদের সংবাদসমূহ (أخبار) এমন সব চিন্তাধারার দিকনির্দেশনা দেয় যার সূচনা তাদের নিকট প্রকাশ্য ছিল কিন্তু পরিণাম ছিল অপ্রকাশ্য। আর আমরা তাঁদের বিষয়াবলির পরিণতি এবং তাঁদের কর্মপন্থার ফলাফল পর্যালোচনার মাধ্যমে তাঁদের মতামতের শুরু ও শেষ এবং অগ্র-পশ্চাৎ সম্পর্কে অবগত হতে পারি।
শাসনব্যবস্থার প্রকারভেদ শাসনব্যবস্থা তিন প্রকার: সুলতানের নিজের প্রতি শাসন এবং তাঁর শাসন...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৪০)
لخاصته وَالثَّالِثَة لرعيته
فالسائس الْفَاضِل إِنَّمَا يصلح نَفسه أَولا ثمَّ يصلح بسياستها خاصته وَمَا يحملهَا عَلَيْهِ من الْآدَاب الصَّالِحَة لرعيته فينشأ الصّلاح على تدريج وَتسود الاسْتقَامَة على تدريج
তার ঘনিষ্ঠজনদের জন্য এবং তৃতীয়টি তার প্রজাদের জন্য।
বস্তুত গুণী পরিচালক প্রথমে নিজেকে সংশোধন করেন, অতঃপর স্বীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তার ঘনিষ্ঠজনদের এবং প্রজাদের জন্য তাদের ওপর যে উত্তম (صالح) শিষ্টাচার তিনি অর্পণ করেন তা সংশোধন করেন; এর ফলে পর্যায়ক্রমে সংশোধন (صلاح) সাধিত হয় এবং ধাপে ধাপে অবিচলতা (استقامة) প্রাধান্য লাভ করে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
بَاب إصْلَاح السايس نَفسه
فَمن إصْلَاح نَفسه إصْلَاح بدنه أَنه كالقالب لنَفسِهِ والوعاء لجنسه
وَأول مَا يلْزمه من إصْلَاح جِسْمه تمرينه على إِيذَاء القر وَالْحر فَإِن الْإِنْسَان فِي هَذِه الدُّنْيَا على جنَاح سفر وبإزاء غرر وَغير
والرئيس مَتى اتَّصل نعيمه ورق أديمه بِأَن أثر الْمَشَقَّة عَلَيْهِ وَظهر الْجور وَالْعجز مِنْهُ
الطَّعَام وَمن مصَالح الْجِسْم تجويد صَنْعَة الطَّعَام فَإِن استطابة المأكل تقَوِّي الطبيعة على الِاسْتِمْرَار والهضم وبالضد أَن لَا يتَنَاوَل مِنْهُ شَيْئا إِلَّا بعد استمراء مَا أكله قبله ونقاء الْمعدة مِنْهُ
وَقَالَ لنا صاعد اسْتعْمل الرياضة اللائقة بك وَلَا
পরিচালকের আত্মসংশোধন পরিচ্ছেদ
নিজ সংশোধনের অন্তর্ভুক্ত হলো শরীরের সংশোধন, কেননা দেহ হলো আত্মার জন্য ছাঁচস্বরূপ এবং স্বজাতির জন্য আধারস্বরূপ।
শরীর সংশোধনের ক্ষেত্রে তার ওপর সর্বপ্রথম যা আবশ্যক তা হলো, তীব্র শীত ও গ্রীষ্মের কষ্ট সহ্য করার জন্য শরীরকে অভ্যস্ত করা; কেননা এই দুনিয়ায় মানুষ সফরের অবস্থায় রয়েছে এবং সে সর্বদা অনিশ্চিত বিপদ ও পরিবর্তনের সম্মুখীন।
একজন নেতা যখন নিরবচ্ছিন্ন বিলাসিতায় মগ্ন থাকেন এবং তার দেহ কোমল হয়ে যায়, তখন পরিশ্রমের প্রভাব তার ওপর স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং তার থেকে অবিচার ও অক্ষমতা প্রকাশ পায়।
খাদ্য শরীরের কল্যাণের অন্যতম দিক হলো খাদ্য প্রস্তুত প্রণালীর উৎকর্ষ সাধন; কেননা উপাদেয় আহার মানুষের প্রকৃতিকে স্থায়িত্ব ও হজম প্রক্রিয়ায় শক্তি জোগায়। এর বিপরীতে নিয়ম হলো, পূর্বে যা খাওয়া হয়েছে তা সুচারুরূপে পরিপাক হওয়া এবং পাকস্থলী তা থেকে পরিচ্ছন্ন হওয়ার আগে নতুন কোনো কিছু গ্রহণ না করা।
সায়েদ আমাদের বলেছেন: তোমার জন্য উপযুক্ত ব্যায়াম অনুশীলন করো এবং করো না...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
تكظ الْمعدة وَقد أمنت الْأَمْرَاض كلهَا
وَمن الْحِكْمَة فِي الْغذَاء أَن يكون لونا أَو لونين متجانسين فَإِن اخْتِلَاف الألوان يُؤَدِّي إِلَى سوء الِاسْتِمْرَار وَيجب أَن يتعود الْحَكِيم على ذَلِك ويوفر غَيره مِمَّا تزين بِهِ الموائد على ندمائه وجلسائه
وَمن الْحِكْمَة فِيهِ أَن لَا يَسْتَوْفِي نهمته كلهَا مِنْهُ حَتَّى يمْلَأ الْمعدة لِأَن الطَّعَام إِذا بَدَأَ بالنضج رَبًّا وانتفخ فَإِن لم يجد فِي تجويف الْمعدة متسعا أعقب الكظة
الشّرْب وَمن الْحِكْمَة فِي الشَّرَاب أَن لَا يبلغ الْحَكِيم مِنْهُ مبلغ يزِيل الْعقل ويصدئ الذِّهْن بل مَا يكْسب هزة وأرحية
وأقبح مَا بالسلطان أَن يبلغ آخر أمد السكر فَيبقى سُلْطَانه فِي ذَلِك
পাকস্থলীকে অতিরিক্ত পূর্ণ করা থেকে বিরত থাকলে সকল ব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
খাদ্যের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা (حكمة) হলো খাবার এক বা দুই প্রকারের সমজাতীয় হওয়া; কেননা খাবারের বৈচিত্র্য হজমের বিঘ্ন ঘটায়। একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তির উচিত এই অভ্যাস করা এবং দস্তরখান সুশোভিতকারী অন্যান্য খাবারগুলো তার সঙ্গী ও সহচরদের জন্য বিলিয়ে দেওয়া।
খাদ্যের ক্ষেত্রে আরেকটি প্রজ্ঞা (حكمة) হলো নিজের ক্ষুধা পুরোপুরি মেটানোর জন্য পাকস্থলী পূর্ণ না করা; কেননা খাদ্য যখন পরিপাক হতে শুরু করে তখন তা বৃদ্ধি পায় এবং ফুলে ওঠে। এমতাবস্থায় যদি পাকস্থলীর অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত স্থান না থাকে, তবে তা অস্বস্তি ও পেট ফাঁপার সৃষ্টি করে।
পানীয় গ্রহণ পানীয় গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা (حكمة) হলো একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তি এমন পরিমাণে পান করবেন না যা বিচারবুদ্ধি (عقل) বিলুপ্ত করে এবং মেধা বা মনকে আচ্ছন্ন করে দেয়; বরং ততটুকুই পান করবেন যা স্ফূর্তি ও স্বস্তি দান করে।
একজন সুলতানের জন্য সবচাইতে কদর্য বিষয় হলো নেশার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছানো, ফলে সেই মত্ত অবস্থায় তার শাসন ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব কলঙ্কিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
الْوَقْت مهلا بل يَجْعَل لنَفسِهِ وَظِيفَة يتعلل بشربها وَلَا يتعداها ويتناول مِنْهَا فِي أول مجلسة كؤوسا وافرة توقد نَار الطبيعة وتذكيها ثمَّ يتعلل بعْدهَا بِمَا يستديم المؤانسة إِلَى أَن يَنْقَضِي وَقت الشَّرَاب وَهُوَ ثمل طيب النَّفس غير زائل الْعقل وليحذر النهض من مَجْلِسه وَقد انهتك السّتْر بَينه وَبَين خدمه وحاشيته
وَمن الْحِكْمَة فِي الشّرْب إعباءه وإفراد يَوْم لَهُ ليتناول لَهُ على حمام لَهُ ونشاط إِلَيْهِ فتتوفر لذته وَيكون أَكثر زَمَانه لما يهمه
وَمن الْحِكْمَة فِيهِ إخلاء الْمجْلس لَهُ إِلَّا من أخص الندماء وَقد أطرحت الحشمة مَعَه وَأَن لَا يحضر خدمته إِلَّا الْعدَد الْيَسِير الَّذِي لَا يسْتَغْنى عَن خدمتهم
السهر وَالصَّبْر على السهر من أشرف صِفَات الْمُلُوك وَغَلَبَة النّوم من أدونها
সময়ের ব্যাপারে ধীরতা অবলম্বন করা উচিত; বরং তিনি নিজের জন্য একটি রুটিন বা কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করবেন যার মাধ্যমে তিনি ব্যাপৃত থাকবেন এবং তা অতিক্রম করবেন না। মজলিসের প্রারম্ভে তিনি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানীয় গ্রহণ করবেন যা তার স্বভাবজাত তেজকে প্রজ্বলিত ও উদ্দীপ্ত করবে। অতঃপর তিনি এমন বিষয়ে মগ্ন থাকবেন যা সখ্যতা দীর্ঘস্থায়ী করে, যতক্ষণ না পানাহারের সময় অতিক্রান্ত হয়; আর তিনি তখন প্রফুল্ল চিত্তে থাকবেন অথচ তার বুদ্ধি লোপ পাবে না। তিনি যেন এমন অবস্থায় মজলিস ত্যাগ করা থেকে সতর্ক থাকেন যখন তার এবং তার খাদেম ও অনুসারীদের মধ্যকার শিষ্টাচারের পর্দা ছিন্ন হয়ে যায়।
পানাহারের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা হলো একে সুশৃঙ্খল করা এবং এর জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট করা, যাতে গোসলের পর এবং পূর্ণ উদ্যমের সাথে তা গ্রহণ করা যায়। এতে তার আনন্দ পূর্ণতা পায় এবং তার সময়ের অধিকাংশ ভাগ গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীর জন্য ব্যয় করা সম্ভব হয়।
এর অন্তর্ভুক্ত প্রজ্ঞা হলো, একান্ত ঘনিষ্ঠ সহচর—যাদের সাথে লৌকিকতা বর্জন করা হয়েছে—তাদের ব্যতীত মজলিস জনশূন্য রাখা এবং একান্ত প্রয়োজন হয় এমন অল্প সংখ্যক খাদেম ব্যতীত অন্য কাউকে সেখানে উপস্থিত না রাখা।
রাত্রি জাগরণ রাত্রি জাগরণে ধৈর্য ধারণ করা রাজন্যবর্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ এবং ঘুমের নিকট পরাভূত হওয়া তাদের নিকৃষ্টতম বৈশিষ্ট্য।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَيجب أَن يسهر ربع اللَّيْل الأول وَيَسْتَيْقِظ وَقد بقيت مِنْهُ بَقِيَّة صَالِحَة وَأَن يَسْتَعِين بنوم النَّهَار لِأَنَّهُ لَا يخَاف من طروق حوادثه وفوت تلافيها مِمَّا يخَاف من حوادث اللَّيْل جلب الْحَوَادِث الهائلة وَلذَلِك وجد فِي الْحَيَوَان الْمَخْلُوق للحراسة كالكلاب والإوز طبيعة السهر
الْحمام وَمن حفظ الصِّحَّة الْحمام وَمِنْهَا استفراغ فضول الْأَطْعِمَة والأشربة والملوك إِلَى ذَلِك أحْوج من الرّعية لِأَن الرّعية تَنْفِي ذَلِك عَنْهَا بالحركات والصنائع الشاقة
وَمن احْتَاجَ إِلَى تنقية بدنه من الفضول بالحمام فَلْيدْخلْ الْبَيْت الثَّالِث بِمِقْدَار مَا تحتمله طَبِيعَته ثمَّ يصب على جسده بعده ماءا فاترا ليجفف المسام وَيرد الْحَرَارَة إِلَى مقرّ الْبدن وَيمْنَع من كَثْرَة التَّحَلُّل
وَإِذا خرج مِنْهُ فليحذر كل الحذر مبادرة الْأكل وَالشرب إِلَّا بعد استراحة ونومة يسكن بهَا مَا عرض فِي بدنه من التموج وَالِاضْطِرَاب فَإِن ذَلِك خطر وجالب لكثير من الْعِلَل
الرياضة والرياضة من أعون الْأُمُور على حفظ الصِّحَّة فلتكن أمرا قصدا وبحسب الْعَادة وَالِاحْتِمَال وَمن أصلحها للملوك اللّعب بالصولجان لِأَنَّهُ مَعَ الرياضة تَخْفيف للحركات وتعود للمناقشات
রাতের প্রথম এক-চতুর্থাংশ জাগ্রত থাকা এবং রাতের একটি উপযুক্ত অংশ বাকি থাকতেই ঘুম থেকে জেগে ওঠা আবশ্যক। দিনের বেলায় ঘুমের মাধ্যমে সাহায্য গ্রহণ করা উচিত, কারণ দিনের বেলার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং তা সংশোধনের সুযোগ হারানোর ভয় রাতের বেলার ঘটনার মতো নয়, যা ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এই কারণেই পাহারাদারির কাজে নিয়োজিত প্রাণী, যেমন কুকুর ও রাজহাঁসের মধ্যে রাত জাগার স্বভাব লক্ষ্য করা যায়।
গোসলখানা স্বাস্থ্য রক্ষার অন্যতম উপায় হলো গোসলখানা ব্যবহার করা। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শরীর থেকে খাদ্য ও পানীয়ের অতিরিক্ত বর্জ্য নির্গত করা। সাধারণ প্রজাদের তুলনায় রাজাদের জন্য এটি অধিক আবশ্যক, কারণ প্রজারা শারীরিক নড়াচড়া ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে শরীর থেকে সেই বর্জ্য দূর করতে পারে।
যিনি গোসলখানার মাধ্যমে শরীর থেকে বর্জ্য পরিষ্কার করতে চান, তিনি যেন তার শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী তৃতীয় প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করেন। অতঃপর তিনি যেন শরীরে ঈষদুষ্ণ পানি ঢালেন যাতে রোমকূপগুলো সংকুচিত হয় এবং শরীরের তাপ স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসে এবং শরীরের অতিরিক্ত ক্ষয় রোধ হয়।
গোসলখানা থেকে বের হওয়ার পর বিশ্রাম এবং সামান্য সময় নিদ্রার মাধ্যমে শরীরের চাঞ্চল্য ও অস্থিরতা শান্ত করার পূর্বে তড়িঘড়ি করে পানাহার করা থেকে পূর্ণরূপে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যথায় তা শরীরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে এবং নানাবিধ ব্যাধির (علل) কারণ হতে পারে।
ব্যায়াম ব্যায়াম স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত সহায়ক বিষয়। ব্যায়াম যেন পরিমিত এবং ব্যক্তিগত অভ্যাস ও সহনক্ষমতা অনুযায়ী হয়। রাজাদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ব্যায়াম হলো পোলো খেলা, কারণ এটি শরীরচর্চার পাশাপাশি ক্ষিপ্রতা বৃদ্ধি করে এবং রণকৌশলে অভ্যস্ত করে তোলে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
تقوى الله فَأول سياسة الْملك لنَفسِهِ اسْتِعْمَال تقوى الله تَعَالَى وَأَن لَا يخلى وقته من ذخيرة يدخرها بَينه وَبَين ربه ثمَّ الْإِكْثَار من تذكر نعْمَة الله عَلَيْهِ فِي أَن رَفعه وخفضهم وَملكه تدبيرهم وفضله عَلَيْهِم
الْعدْل وَالْإِحْسَان فيواصل حمد الله تَعَالَى عَلَيْهِ وَيجْعَل من مجازاة نعْمَة الله عَلَيْهِ الْعدْل فِيمَا ولاه وَالْإِحْسَان إِلَى من استرعاه والسهر لنومهم والتعب لحراستهم وَأَن لَا يظنّ أَن غَرَض الْوَالِي تَحْصِيل الرَّاحَة والدعة بل هُوَ أَحَق النَّاس بالتعب وأولاهم بِالنّصب
اللَّذَّة للْحَاكِم جميل الذّكر وَاللَّذَّات إِمَّا مُبَاشرَة للأعمال بِبدنِهِ أَو نفكر فِيهَا بِقَلْبِه
والسائس الْفَاضِل لَا رَاحَة لَهُ بِالْحَقِيقَةِ وَلَا طَرِيق لَهُ إِلَى اللَّذَّة إِلَّا بِمِقْدَار مَا يحمي نَفسه فِي أَوْقَات يسرقها من زمَان شغله فَيجب أَن يوازن بهَا مَا يتعوضه عَنهُ من جميل الذّكر وجليل الذخر ثمَّ رضَا سُلْطَان لَهُ إِن كَانَ فَوْقه وَلَا رُتْبَة أبهى من رُتْبَة الْعِزّ وَلَا زِينَة أجل من زِينَة المقتدر النَّافِذ الْأَمر وَلَا حِيلَة أحسن من حلية الثَّنَاء وَالشُّكْر
فَهَذِهِ لذات الساسة الْحُكَمَاء وأعواضهم من الكد والعناء هم حفظوا الْأُصُول فقد ينالون الْفُرُوع الَّتِي هِيَ اللَّذَّات فِي أَوْقَات لَا تخل بِأَشْغَالِهِمْ فَيجمع لَهُم الْأَمْرَانِ
আল্লাহভীতি (تقوى) শাসকের জন্য নিজের প্রতি প্রথম শাসননীতি হলো আল্লাহ তাআলার তাকওয়া (تقوى) অবলম্বন করা এবং তার কোনো মুহূর্ত যেন এমন কোনো পাথেয় সঞ্চয় করা ব্যতীত অতিবাহিত না হয় যা তার এবং তার রবের মাঝে সংরক্ষিত থাকবে। অতঃপর তার ওপর আল্লাহ তাআলার নেয়ামতের কথা অধিক পরিমাণে স্মরণ করা যে, তিনি তাকে উচ্চাসীন করেছেন এবং অন্যদের অবনত করেছেন, আর তাকে তাদের বিষয়াবলি পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন এবং অন্যদের ওপর তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
ন্যায়বিচার (عدل) ও সদাচরণ সুতরাং সে যেন তার ওপর আল্লাহর প্রশংসার ধারা অব্যাহত রাখে এবং তার ওপর আল্লাহর নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ অর্পিত দায়িত্বে ন্যায়পরায়ণতা (عدل) কায়েম করে এবং যাদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে তাদের প্রতি সদাচরণ করে। তাদের ঘুমের (নিরাপত্তার) জন্য নিজে জেগে থাকা এবং তাদের পাহারাদারির জন্য ক্লান্তি স্বীকার করা তার কর্তব্য। সে যেন কখনো মনে না করে যে, শাসকের উদ্দেশ্য হলো আরাম ও বিলাসিতা অর্জন করা; বরং সে ক্লান্ত হওয়ার জন্য মানুষের মধ্যে সর্বাধিক যোগ্য এবং কষ্ট সহ্য করার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য ব্যক্তি।
শাসকের আনন্দ হলো সুখ্যাতি আনন্দসমূহ হয় স্বশরীরে কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে অথবা অন্তরে সে সম্পর্কে চিন্তার মাধ্যমে।
বস্তুত একজন যোগ্য শাসকের জন্য বাস্তবে কোনো বিশ্রাম নেই এবং আনন্দেরও কোনো পথ নেই, কেবল তার কর্মব্যস্ত সময়ের মধ্য থেকে চুরি করা সামান্য মুহূর্ত ছাড়া যা দিয়ে সে নিজেকে চাঙ্গা রাখে। সুতরাং তার উচিত সেই সময়ের আনন্দের বিপরীতে তিনি যা লাভ করবেন—অর্থাৎ উত্তম সুখ্যাতি এবং মহৎ সঞ্চয়—তার ভারসাম্য রক্ষা করা। অতঃপর তার ঊর্ধ্বে যদি কোনো সুলতান থাকে তবে তার সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখা। সম্মানের মর্যাদার চেয়ে উজ্জ্বল কোনো মর্যাদা নেই, আর আদেশ কার্যকরকারী ক্ষমতাশালীর অলঙ্কারের চেয়ে মহান কোনো অলঙ্কার নেই এবং প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার ভূষণের চেয়ে সুন্দর কোনো ভূষণ নেই।
এগুলোই হলো বিজ্ঞ শাসকমণ্ডলীর প্রকৃত আনন্দ এবং তাদের হাড়ভাঙা খাটুনি ও কষ্টের প্রতিদান। যেহেতু তারা মূলনীতি (أصول) সমূহ সংরক্ষণ করেছেন, তাই তারা আনুষঙ্গিক বিষয় (فروع) বা শাখাগুলো—অর্থাৎ আনন্দসমূহ—এমন সময়ে লাভ করতে পারেন যা তাদের মূল কাজে ব্যাঘাত ঘটায় না। ফলে তাদের জন্য উভয় কল্যাণই একত্রিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
أَدَاء الْأَعْمَال فِي وَقتهَا ثمَّ ليحذر كل الحذر من تَأَخّر عمل يَوْم إِلَى غَد فَإِن لكل وَقت شغلا وَهَذَا الْخلق من المدافعات بالمهمات أدهى الدَّوَاهِي الَّتِي تتَابع لَهَا الْخلَل وانهدمت لَهَا الدول
طَاعَة محبَّة لَا طَاعَة رهبة ثمَّ ليجتهد أَن يَجْعَل طَاعَة الْخَاصَّة والعامة لَهُ طَاعَة محبَّة لَا طَاعَة رهبة فَإِذا أطاعوه محبَّة حرسوه وَإِذا أطاعوه رهبة احْتَاجَ إِلَى الِاحْتِرَاز مِنْهُم
وشتان بَين حَالين
إِحْدَاهمَا تجْعَل النَّاس حراسا
وَالْأُخْرَى تحوجه إِلَى الاحتراس مِنْهُم
ولسنا نعني بِزَوَال الرهبة خلو قُلُوب الرّعية مِنْهَا بالمواحدة وَإِنَّمَا نعني أَن يَكُونُوا فِي حَال رهبتهم لَهُ واثقين بعدله آمِنين من تعسفه وظلمه فَتكون الرهبة حِينَئِذٍ كمخافة الْوَلَد لوالده بِرِفْق أَو أدب وَيعلم أَنه لَا يُرِيد إِلَّا خيرا لَهُ
إنجاز الْوَعْد والوعيد وَرَأس السياسة إنجاز الْوَعْد والوعيد ومكافأة المحسن والمسيء وَالْوَفَاء
যথাসময়ে কার্যাবলী সম্পাদন অতঃপর তিনি যেন একদিনের কাজ আগামীকালের জন্য বিলম্বিত করার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেন। কেননা প্রতিটি সময়েরই নির্দিষ্ট ব্যস্ততা রয়েছে। আর গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীতে টালবাহানা করার এই স্বভাব হলো চরমতম বিপর্যয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, যার ফলে নিরবচ্ছিন্ন ত্রুটি দেখা দেয় এবং রাষ্ট্রসমূহ ধ্বংস হয়ে যায়।
ভালবাসা প্রসূত আনুগত্য, ভীতি প্রসূত আনুগত্য নয় অতঃপর তিনি যেন এই প্রচেষ্টা চালান যাতে বিশিষ্ট ও সাধারণ সকল শ্রেণীর মানুষের আনুগত্য তার প্রতি ভালবাসা প্রসূত হয়, ভীতি প্রসূত আনুগত্য নয়। কেননা যখন তারা তাকে ভালবাসার কারণে আনুগত্য করবে, তখন তারা নিজেরাই তাকে রক্ষা করবে। আর যখন তারা ভীতির কারণে আনুগত্য করবে, তখন তাদের পক্ষ থেকে আত্মরক্ষার প্রয়োজন দেখা দেবে।
আর এই দুই অবস্থার মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে।
এর একটি মানুষকে প্রহরীতে পরিণত করে।
আর অন্যটি মানুষের থেকে আত্মরক্ষার মুখাপেক্ষী করে তোলে।
ভীতি দূর হওয়া বলতে আমরা প্রজাদের অন্তর থেকে তা পুরোপুরি মুছে যাওয়া বোঝাচ্ছি না; বরং আমরা বোঝাতে চাচ্ছি যে, তারা তাকে ভয় পাওয়ার সাথে সাথে তার ন্যায়বিচারের (عدل) প্রতি আস্থাশীল থাকবে এবং তার কঠোরতা ও যুলুম থেকে নিরাপদ বোধ করবে। এমতাবস্থায় এই ভীতি হবে কোমল ও শিষ্টাচারী পিতার প্রতি সন্তানের ভয়ের মতো, যে জানে যে তিনি তার কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই চান না।
প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণী বাস্তবায়ন আর রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণী বাস্তবায়ন করা, সদাচারীকে পুরস্কৃত করা ও পাপাচারীকে দণ্ড প্রদান করা এবং অঙ্গীকার পূর্ণ করা।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
فِي الْجد والهزل والاستخدام بالكفاية لَا بالغاية والتيقظ للْأَخْبَار فِي الْقرب والبعد فَمن أحرز هَذَا الْفضل وأحاط بمعانيه أحَاط بالسياسة كلهَا
وَبِاللَّهِ تَعَالَى الثِّقَة
إِحْرَاز فَضَائِل النَّفس وليجتهد فِي إِحْرَاز الْحَظ الجزيل من فَضَائِل النَّفس وَهِي
الْعلم والعفة والحلم والسخاء والشجاعة
فَمن الْعلم مَعْرفَته بِمَا يَأْتِي ويذر وَشدَّة بَحثه عَن كل مَا جلّ ودق
وَمن الْعِفَّة تنزهه عَن المكاسب الَّتِي فضلتها الرّعية ويجتهد أَن تكون وُجُوه دخله مُنَاسبَة لجلالة قدره وعلو مَنْزِلَته لَا يهتك فِيهَا للدّين وَلَا للمروءة سترا وَلَا يبْعَث بهَا على أحد الرّعية انتقاصا وظلما
وَمن الْحلم تَأْخِير عِقَاب المقصر إِلَّا بعد تَكْرِير تنبيهه والإغضاء عَن أول وثان من جرمه فَإِذا انْقَطع الْعذر أوقع الْعقُوبَة بموقع السياسة لَا التشفي وَالْعدْل لَا التَّعَدِّي
وَأما السخاء فَإِن لَا يمطل حق وَلَا يخيب أملا وَلَا يؤيس قَاصِدا فَإِنَّهُ يستعيض بعز الْولَايَة وَجه الْقُدْرَة خلقا من كل مَا يُنْفِقهُ وليعلم كل وَال أَنه وَكيل الله على مَاله وَأَن عَلَيْهِ حَقًا وَاجِبا لكل ابْن سَبِيل ومنقطع بِهِ
فَليخْرجْ إِلَى مُوكله مِمَّا يلْزمه لَهُ وَألا يَأْمَن من استبداله بِهِ وحفظة عَلَيْهِ
গাম্ভীর্য ও কৌতুকবোধ, প্রয়োজনের নিরিখে কাজ নেওয়া—কেবল লক্ষ্যপূরণের জন্য নয়, এবং নিকট ও দূরের সংবাদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা। যে ব্যক্তি এই ফযিলত অর্জন করল এবং এর মর্মার্থসমূহ আয়ত্ত করল, সে যেন সমগ্র রাজনীতিই আয়ত্ত করল।
আর মহান আল্লাহর ওপরই রয়েছে সকল নির্ভরযোগ্যতা (الثقة)
আত্মিক গুণাবলি অর্জন আর সে যেন আত্মিক গুণাবলির এক বিশাল অংশ অর্জনে সচেষ্ট হয়, আর তা হলো—
জ্ঞান, পবিত্রতা, সহনশীলতা, বদান্যতা এবং সাহসিকতা।
জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হলো—সে কী গ্রহণ করবে আর কী বর্জন করবে তা জানা এবং গুরুত্বপূর্ণ ও সূক্ষ্ম প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে নিবিড় অনুসন্ধান করা।
পবিত্রতা হলো—প্রজাদের অতিরিক্ত আয়-উপার্জন থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। সে সচেষ্ট থাকবে যেন তার আয়ের উৎসসমূহ তার সুমহান মর্যাদা ও উচ্চতর অবস্থানের উপযোগী হয়; যেখানে সে দ্বীন কিংবা নৈতিকতার কোনো পর্দা ছিন্ন করবে না এবং এর মাধ্যমে কোনো প্রজার প্রতি অবমাননা ও জুলুমের পথ উন্মুক্ত করবে না।
সহনশীলতা হলো—অবহেলনাকারীর শাস্তি বিলম্বিত করা যতক্ষণ না তাকে বারবার সতর্ক করা হয়, এবং তার অপরাধের প্রথম ও দ্বিতীয়বার ক্ষমা করা। অতঃপর যখন কোনো ওজর অবশিষ্ট থাকবে না, তখন শাসনের খাতিরে শাস্তি কার্যকর করবে—প্রতিশোধস্পৃহা থেকে নয়, বরং ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের জন্য—সীমালঙ্ঘনের জন্য নয়।
আর বদান্যতা হলো—কারো প্রাপ্য আদায়ে গড়িমসি না করা, কারো আশা ভঙ্গ না করা এবং কোনো অভিপ্রায়ীকে নিরাশ না করা। কেননা সে তার শাসনের মর্যাদার বিনিময়ে ব্যয়কৃত প্রতিটি বিষয়ের উত্তম প্রতিদান লাভ করবে। প্রত্যেক শাসকের জেনে রাখা উচিত যে, সে তার সম্পদের ব্যাপারে আল্লাহর প্রতিনিধি; আর মুসাফির ও নিঃস্বদের জন্য সেই সম্পদের ওপর তার ওপর ওয়াজিব হক রয়েছে।
অতএব, সে যেন তার ওপর যা কিছু আবশ্যক হয়েছে তা যথাযথভাবে সম্পাদন করে, এবং সে যেন এ ব্যাপারে আশ্বস্ত না হয়ে যায় যে তাকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে কিংবা তার ওপর পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করা হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
وَمن الشجَاعَة أَن يشْعر قلبه أَنه لَا يجوز أَن يكون الجبان ضابطا لأَمره وَلَا حارسا لرعيته وَأَنا إِذا استشعر أعداؤه وأولياؤه ذَلِك طعموا فِي عطفه وتدرجوا إِلَى إطراح مراقبته
وَأَن يَجْعَل وكده كُله جمع الرِّجَال والأسلحة وَالْخَيْل والعدو
الْوُقُوف على أَخْبَار الماضيين وَأَن وقف السائس بتحصيله فليدرس أَخْبَار الماضين ليتجنب أقبحها ويعتمد أصلحها فَإِنَّهُ بَاب عَظِيم من أَبْوَاب السياسة
সাহসিকতার অন্যতম দিক হলো হৃদয়ে এটি অনুভব করা যে, কোনো ভীরু ব্যক্তির পক্ষে আপন বিষয়াবলির নিয়ন্ত্রণকারী (ضابطا) হওয়া কিংবা আপন প্রজাকুলের রক্ষক হওয়া সমীচীন নয়। কেননা যখন তার শত্রু ও মিত্ররা তা টের পাবে, তখন তারা তার করুণা ও নমনীয়তা লাভের লালসা করবে এবং পর্যায়ক্রমে তার নজরদারি উপেক্ষা করতে শুরু করবে।
আর সে যেন তার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সৈন্য, অস্ত্রশস্ত্র, ঘোড়া এবং সমরসম্ভার সংগ্রহে নিবদ্ধ করে।
পূর্বসূরিদের সংবাদসমূহ (أخبار) সম্পর্কে অবগতি আর যদি রাষ্ট্রপরিচালক এটি অর্জনে সচেষ্ট হন, তবে তার উচিত পূর্বসূরিদের সংবাদসমূহ (أخبار) অধ্যয়ন করা, যাতে তিনি তাদের নিকৃষ্টতম কাজগুলো বর্জন করতে পারেন এবং সর্বাধিক কল্যাণকর বিষয়গুলো গ্রহণ করতে পারেন। কেননা এটি রাষ্ট্রপরিচালনার অন্যতম এক মহান অধ্যায়।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
بَاب سياسة الْخَاصَّة
إصْلَاح أَخْلَاق الْخَاصَّة اعْلَم أَن سياسة الْخَاصَّة لَيست كسياسة الْعَامَّة لِأَن سياسة الْعَامَّة استحفاظ طاعتها وَإِقَامَة الرَّغْبَة والرهبة فهيا وإفاضة المعدلة عَلَيْهَا من غير أَن يحدث نَفسه إلزامها الْآدَاب الصَّالِحَة فَإِن ذَلِك عسير لَا يرام
لَكِن الْخَاصَّة يجب أَن يعتني بإصلاح أخلاقها وتهذيب آدابها لتقوى على حُقُوق الْخدمَة الَّتِي تلزمها
وَإِذا كَانَ للرئيس فَهِيَ كالأعضاء للبدن فَمَتَى لم تكن الْأَعْضَاء على الْهَيْئَة الفاضلة أَو عرض لَهَا أَمر يثني كلهَا أَو بَعْضهَا عَن فعله الْأَصْلِيّ الموظف لَهُ وَقع الِاضْطِرَاب فِي جملَة الْبدن
تفقد أَحْوَال الْخَاصَّة وَأول مَا يجب اعْتِقَاده فِي هَذَا الْبَاب أَن السائس لَا يَسْتَغْنِي عَن تعقيف خاصته وتفقد أَحْوَالهم وتقويم زيفهم وَإِن كَانُوا حصفاء أسداد مثله فِي ذَلِك كالصانع الَّذِي يحْتَاج فِي صنعه إِلَى آلَات وَتلك الْآلَات
বিশেষ ব্যক্তিদের পরিচালনা সংক্রান্ত অধ্যায়
বিশেষ ব্যক্তিদের চরিত্রের সংশোধন জেনে রাখুন যে, বিশেষ ব্যক্তিদের পরিচালনা পদ্ধতি সাধারণ জনগণের পরিচালনার মতো নয়। কারণ সাধারণ জনগণের পরিচালনার উদ্দেশ্য হলো তাদের আনুগত্য সুরক্ষিত রাখা, তাদের মধ্যে আশা ও ভীতি সঞ্চার করা এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করা; তাদের ওপর বাধ্যতামূলকভাবে উত্তম শিষ্টাচার আরোপের সঙ্কল্প ব্যতিরেকেই, কেননা তা অত্যন্ত দুরূহ এবং সাধ্যাতীত।
কিন্তু বিশেষ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তাদের চরিত্রের সংশোধন এবং শিষ্টাচার পরিমার্জনের প্রতি যত্নশীল হওয়া আবশ্যক, যাতে তারা তাদের ওপর অর্পিত সেবামূলক দায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে পালনে সক্ষম হয়।
নেতার ক্ষেত্রে তারা দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বরূপ। সুতরাং যখন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ কোনো শ্রেষ্ঠ অবস্থায় থাকে না অথবা তাদের মধ্যে এমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে যা তাদের পূর্ণাঙ্গরূপে বা আংশিকভাবে স্বকীয় নির্ধারিত কাজ থেকে বিমুখ করে দেয়, তখন সমগ্র দেহে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
বিশেষ ব্যক্তিদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এই অধ্যায়ে সর্বপ্রথম যা বিশ্বাস করা আবশ্যক তা হলো, একজন পরিচালক তার বিশেষ ব্যক্তিদের তদারকি করা, তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং তাদের বিচ্যুতি সংশোধন করা থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারেন না; যদিও তারা প্রাজ্ঞ এবং তাঁর মতোই সঠিক পথচারী হয়ে থাকেন। এই ক্ষেত্রে তাঁর দৃষ্টান্ত হলো সেই কারিগরের মতো, যে তার কারুকার্যের জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মুখাপেক্ষী হয় এবং সেই যন্ত্রপাতিগুলো...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৫০)
لَا يجوز أَن تبقى على حَالهَا مُسْتَقِيمَة بل مِنْهَا مَا يكل فيشحذه ويعوج فيقومه وَيفْسد فَيُصْلِحهُ
وَكَذَلِكَ السائس يجب أَن تكون لَهُ عين راعية تتفقد أَصْحَابه ليتلطف فِي تثبيت صَلَاحهمْ وَنفي فسادهم بِمَا يتهيأ
وَمَا يحْتَاج إِلَيْهِ فِي هَذَا الْمَعْنى أَن لَا يعْتَقد أَنه اسْتغنى أَو استكفى كَافِيا أمرا يهمه فقد اسْتغنى عَن تفقده وتعهده
بل يجب أَن يتَصَوَّر أَنه مُضْطَر إِلَى مراعاته وملاحظته بِنَفسِهِ كالأستاذ فِي الصَّنْعَة الَّذِي يكل إِلَى تلاميذه مَا يصنعونه إِلَّا أَنه يراعيهم ليأمن خللا يجْرِي فِيهِ
وَهَذَا أصل عَظِيم يَنْبَغِي أَن يُوقف الْفِكر عَلَيْهِ والاهتمام بِهِ
خِصَال الْحَاكِم مَعَ الْخَاصَّة وَيجب أَن يستخدم خواصة على المخالصة والمحبة الصّرْف بِلَا مزاح وَطَرِيقه أَن يسْتَعْمل مَعَهم أَربع خِصَال
أَولهَا الْإِحْسَان إِلَيْهِم فقد جبلت الْقُلُوب على حب من أحسن إِلَيْهَا
وَأَن يتفقد أَحْوَالهم فيرم شعثها ابْتِدَاء قبل الْمَسْأَلَة ليدل على خلوص الاهتمام ولطف الْعِنَايَة فَإِن قَلِيل الِابْتِدَاء أهنأ وَأحسن موقعا من كثير
এটি সংগত নয় যে, কোনো বিষয় সর্বদা একই অবস্থায় সুশৃঙ্খল থাকবে; বরং এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা ভোঁতা হয়ে যায় ফলে তাকে ধার দিতে হয়, কিছু বক্র হয়ে যায় ফলে তাকে সোজা করতে হয় এবং কিছু নষ্ট হয়ে যায় ফলে তাকে সংশোধন করতে হয়।
অনুরূপভাবে একজন ব্যবস্থাপকের এমন এক দূরদর্শী দৃষ্টি থাকা আবশ্যক যা তার সহচরদের তদারকি করবে, যাতে সে বিচক্ষণতার সাথে তাদের কর্মদক্ষতা সুদৃঢ় করতে পারে এবং সাধ্যমতো তাদের ত্রুটিসমূহ দূর করতে পারে।
এই প্রসঙ্গে যা প্রয়োজন তা হলো, সে যেন এমনটি মনে না করে যে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের ভার কারো ওপর অর্পণ করে সে অভাবমুক্ত বা নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে এবং তার তদারকি ও দেখাশোনার আর প্রয়োজন নেই।
বরং তাকে এটি অনুধাবন করতে হবে যে, সে নিজেই তা পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করতে দায়বদ্ধ। ঠিক যেমন শিল্পের কোনো ওস্তাদ, যিনি তার কারিগরি কাজ ছাত্রদের ওপর অর্পণ করলেও স্বয়ং তাদের পর্যবেক্ষণ করেন যাতে কোনো বিচ্যুতি না ঘটে সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত থাকতে পারেন।
এটি একটি সুমহান মূলনীতি (أصل), যার প্রতি গভীর চিন্তা ও মনোযোগ নিবদ্ধ করা বাঞ্ছনীয়।
বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে শাসকের আচরণের বৈশিষ্ট্যসমূহ আর শাসককে তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সাথে কোনো প্রকার লঘুতা ছাড়াই একনিষ্ঠতা ও অকৃত্রিম ভালোবাসার ভিত্তিতে আচরণ করতে হবে; আর এর পন্থা হলো তাদের সাথে চারটি বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা।
প্রথমটি হলো তাদের প্রতি অনুগ্রহ (إحسان) করা; কেননা অন্তরসমূহ স্বভাবগতভাবেই তার প্রতি অনুরাগী হয় যে তার প্রতি অনুগ্রহ করে।
আর তাদের অবস্থার খোঁজখবর নেওয়া এবং যাঞ্চা করার পূর্বেই নিজ উদ্যোগে তাদের অভাব বা বিশৃঙ্খলা দূর করা, যাতে তা পূর্ণ মনোযোগ ও নিবিড় যত্নের প্রমাণ দেয়। কেননা চাওয়ার আগে সামান্য দানও (চাওয়ার পর) অধিক দান অপেক্ষা অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক ও ফলপ্রসূ।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৫১)
الْعَطاء بعد السُّؤَال
وَثَانِيها بسط آمالهم بِالْعَفو عَن الزلل
وَالثَّالِث أَن لَا يستقصي عَلَيْهِم فِي أزمنة خدمتهم حَتَّى لَا يحدد ترحة لراحة نُفُوسهم ولذاتهم وَلكُل إِنْسَان وطر يجب أَن يَقْضِيه ويتنغص عيشهم بمناقشته فِيهِ ويلحقهم بالاستقصاء ضجر وملال يفْسد الْخدمَة فَإِذا ساهلهم الرئيس بعض المساهلة كَانُوا فِي خدمَة أنشط ومحبتة أبدا فِي قُلُوبهم تنمى وتتجدد
وَالرَّابِع أَن يؤمنهم إسراعه إِلَى قبُول كثير من ثقل الْأَصْحَاب وَأَقل مَا يُوجد فِي النَّاس الْكَافِي الْأمين فَإِذا اجْتمعَا فَهُوَ الْجَوْهَر الثمين
فَأَما كَاتب الرسائل فَمن يوثق بكتمانه بليغ فِي بَيَانه فَإِن الْعبارَة الْحَسَنَة تُؤثر آثَار عَجِيبَة فِي الْقُلُوب وَيكون متفننا فِي الْعُلُوم
وَأَن يُطَالب فيوجد عِنْده علم كل مَا ورد إِلَيْهِ وَصدر عَنهُ فِي أوقاته
وَأما لحاجب فَطلق الْوَجْه مَقْبُول الشَّمَائِل محبب ليوصل من يصل بإكرام وَيصرف من لَا يُؤذن لَهُ بِرِفْق ولطف كَلَام
যাচনা করার পর দান করা।
এবং দ্বিতীয়টি হলো, তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করার মাধ্যমে তাদের আশাকে প্রশস্ত করা।
এবং তৃতীয়ত, তাদের সেবার সময়গুলোতে তাদের ওপর অতি-সূক্ষ্ম অনুসন্ধান না করা, যাতে তাদের আত্মার প্রশান্তি ও আনন্দের জন্য কোনো সংকীর্ণতা তৈরি না হয়। প্রত্যেক মানুষেরই কিছু প্রয়োজন থাকে যা পূরণ করা আবশ্যক; এ বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ তাদের জীবনকে তিক্ত করে তোলে। এই অতি-সূক্ষ্মতা তাদের মধ্যে বিরক্তি ও অবসাদ সৃষ্টি করে যা সেবাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সুতরাং যখন নেতা তাদের সাথে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করেন, তখন তারা সেবায় অধিকতর উদ্যমী হয় এবং তার প্রতি ভালোবাসা তাদের হৃদয়ে সর্বদা বৃদ্ধি পায় ও নবায়িত হয়।
এবং চতুর্থত, তাদের এই নিশ্চয়তা দেওয়া যে, সঙ্গীদের পক্ষ থেকে আসা বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ গ্রহণে তিনি তাড়াহুড়ো করবেন না। মানুষের মধ্যে যোগ্য ও বিশ্বস্ত (أمين) ব্যক্তি খুব অল্পই পাওয়া যায়; যখন এই দুটি গুণের সমাবেশ ঘটে, তখন তা এক মহামূল্যবান রত্ন।
আর পত্রলেখকের ক্ষেত্রে বৈশিষ্ট্য হলো, যার গোপনীয়তা রক্ষার ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য (ثقة) হওয়া যায় এবং যিনি প্রকাশভঙ্গিতে অত্যন্ত প্রাঞ্জল। কারণ উত্তম শব্দশৈলী হৃদয়ে বিস্ময়কর প্রভাব ফেলে। তাকে বিভিন্ন জ্ঞানে পারদর্শী হতে হবে।
এবং তাকে যখনই জিজ্ঞাসা করা হয়, তার কাছে যেন তার নিকট আগত এবং তার পক্ষ থেকে নির্গত সকল বিষয়ের যথাসময়ে জ্ঞান পাওয়া যায়।
আর প্রহরীর ক্ষেত্রে বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি হবেন হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডল বিশিষ্ট, গ্রহণযোগ্য (مقبول) চরিত্রের অধিকারী ও প্রিয়ভাজন; যাতে তিনি আগন্তুকদের সম্মানের সাথে প্রবেশ করান এবং যাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি তাদের নম্রতা ও কোমল বাক্যের মাধ্যমে বিদায় দান করেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৫২)
وَيجب أَن يعرف طَبَقَات النَّاس كلهَا لينزلهم منازلها وَيُطَالب بإنهاء كل من يحضر فِي وقته
وَأما جابي الْأَمْوَال فَحسن الْمُعَامَلَة للرعية منصف منتصف مَعَ طلق نفس وطبيعة فِي التمشية والرفق وَأَن يعْتَبر فِي كل وَقت بمسألته عَن دخله وخرجه
وَأما قَائِد الْجَيْش فَيكون شجاعا فَارِسًا عَارِفًا بآلات الجندية ذَا حفظ من الرَّأْي وَيُطَالب بِمَعْرِِفَة أَحْوَال الْجند المضمومين إِلَيْهِ ليعرف الْحَاضِر من الْغَائِب ويلزمهم الْبَاب فِي أَكثر الْأَوْقَات بِالْعدَدِ التَّامَّة ليرهب بذلك رسل الْمُلُوك وجواسيس الْأَعْدَاء
وَصَاحب الشرطة مهيب المنظر عبوس جليل فِي الْعُيُون غير ذِي دعابة مَعْرُوفَة يَأْخُذ بالاشتداد على أهل الريب ويتبعهم فِي مكانهم صَاحب ثِقَة مَعْرُوف بِالصّدقِ نَاصح أَمِين معتدل الطبائع قَلِيل العلق فِي الْمُعَامَلَات وَلَا يقيل عَثْرَة من كذب بنهية فَإِن التَّدْبِير كُله على قَوْله
وَالْحَاكِم يجب أَن يكون عَالما عَاقِلا مَأْمُون الْبَاطِن غَنِي النَّفس
والمحتسب أَمِين ثِقَة حميد السِّيرَة عَارِف بِوُجُوه المكاسب
মানুষের সকল স্তর (طبقات) সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক যাতে তাদেরকে নিজ নিজ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা যায় এবং তাঁর সময়ে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যক্তির কাজের বিবরণ পেশ করার দাবি করা যায়।
আর অর্থ আদায়কারীর (রাজস্ব সংগ্রাহক) ক্ষেত্রে শর্ত হলো, তিনি প্রজাদের সাথে সদাচরণকারী, ইনসাফকারী ও ন্যায়পরায়ণ হবেন, সেই সাথে তাঁর স্বভাব ও প্রকৃতিতে প্রসন্নতা এবং শিষ্টাচার থাকবে। প্রতিটি সময়ে তাঁর আয় ও ব্যয়ের হিসাব জিজ্ঞাসার মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে হবে।
আর সেনাপতিকে হতে হবে সাহসী, দক্ষ অশ্বারোহী এবং সমরবিদ্যায় পারদর্শী। তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারঙ্গম হবেন। তাঁর অধীনে ন্যস্ত সৈন্যদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকার বিষয়ে তাঁকে দায়বদ্ধ করতে হবে, যাতে তিনি উপস্থিত ও অনুপস্থিতদের শনাক্ত করতে পারেন। অধিকাংশ সময়ে পূর্ণ রণসজ্জায় তাঁদের দপ্তরে উপস্থিত থাকা আবশ্যক, যাতে এর মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যের দূত ও শত্রুপক্ষের গুপ্তচরদের মনে ভীতি সঞ্চার করা যায়।
আর পুলিশ প্রধান হবেন প্রভাববিস্তারী ও গাম্ভীর্যপূর্ণ চেহারার অধিকারী, যা মানুষের চোখে শ্রদ্ধামিশ্রিত ভীতি জাগাবে। তিনি অধিক কৌতুকপ্রিয় হবেন না। তিনি সন্দেহভাজনদের প্রতি কঠোর হবেন এবং তাদের গোপন আস্তানায় তাদের অনুসরণ করবেন। তিনি হবেন নির্ভরযোগ্য (ثقة), সত্যবাদিতায় প্রসিদ্ধ, হিতাকাঙ্ক্ষী, বিশ্বস্ত এবং ভারসাম্যপূর্ণ স্বভাবের অধিকারী। লেনদেনের ক্ষেত্রে পার্থিব আসক্তি তাঁর কম থাকবে। তিনি কোনো মিথ্যাবাদীর বিচ্যুতি বা অপরাধ ক্ষমা করবেন না, কেননা শাসনকার্যের সমস্ত ব্যবস্থাপনা তাঁর বিবৃতির ওপরই নির্ভরশীল।
আর বিচারকের জন্য আবশ্যক হলো যে, তিনি বিজ্ঞ আলেম, বুদ্ধিমান, অন্তরে বিশ্বস্ত ও অমায়িক স্বভাবের হবেন।
আর বাজার পরিদর্শক (মুহতাসিব) হবেন বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য (ثقة), উত্তম চরিত্রের অধিকারী এবং উপার্জনের নানাবিধ পন্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
والغشوش ومصالح الرّعية
مظالم النَّاس ومظالم النَّاس صنفان
صنف ظَاهر كالفسق المجاهر بِهِ وَنَحْوه وَصَاحب الشرطة يَتَوَلَّاهُ
وصنف مَكْتُوم والمحتسب يَتَوَلَّاهُ وَرُبمَا كَانَت مظالم هَذَا النَّوْع أعظم ضَرَرا من النَّوْع الآخر لِأَنَّهَا خافية لَا يَهْتَدِي إِلَيْهَا
وَالْمُخْتَار المتوجه فِي الرسائل حسن الرواء مَقْبُول ناصع اللِّسَان حَافظ لما يَقُوله وَلما يُقَال لَهُ يُؤمن فِي التَّعْرِيف والتمويه
এবং প্রতারণা ও প্রজাসাধারণের জনস্বার্থ
মানুষের ওপর হওয়া জুলুমসমূহ মানুষের প্রতি হওয়া জুলুমসমূহ দুই প্রকার
এক প্রকার হলো প্রকাশ্য, যেমন প্রকাশ্য পাপাচার (فسق) ও তদ্রূপ বিষয়সমূহ; পুলিশ প্রধান এর দায়িত্ব পালন করেন।
আর অন্য প্রকারটি হলো গোপন, যা মুহতাসিব (محتسب) পরিচালনা করেন। সম্ভবত এই প্রকারের জুলুমগুলো অন্য প্রকারের চেয়ে অধিক ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এগুলো প্রচ্ছন্ন এবং সহজে শনাক্ত করা যায় না।
বার্তাপ্রেরণে মনোনীত ও নিয়োজিত ব্যক্তি হবেন সুশ্রী, গ্রহণযোগ্য (مقبول), বিশুদ্ধভাষী এবং নিজের কথা ও তাকে যা বলা হয় তার প্রখর সংরক্ষক (حافظ); যেন তথ্য উপস্থাপন ও সত্য গোপন (تمويه) করার ক্ষেত্রে তাকে নির্ভরযোগ্য মনে করা যায়।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
بَاب سياسة الْعَامَّة
الْعَامَّة فِي الْمَوْضُوع الَّذِي بكثرته يَتَّسِع الْملك وَكلما كَثُرُوا كَانَ الْملك أوسع وَإِصْلَاح الْعَامَّة عسير لكثرتهم وَقلة التَّمَكُّن من مداواة الْفساد الْعَارِض فيهم فَإِن الْملك عِنْد اضطرابهم إِن رام شِفَاء غيظه مِنْهُم لم يتم لَهُ ذَلِك إِلَّا بخراب بعض الْعِمَارَة ولبلوغ مَا زعزع من أَرْكَان السياسة
فليجتهد فِي حفظ نظامهم وَأَن لَا يحوجوا إِلَى بُلُوغ هَذِه الْغَايَة فيهم
حزم الْملك بِحسن سياسة الرّعية ويستدل على حزم الْملك يحسن سياسة الرّعية وَجمع كلمتهم على طَاعَته للتباين الْمَوْجُود فِي أهوائهم وَإِن الشدَّة والعنف لَا تصلحهم واللين والمساهلة لَا تجوز فِي معاملتهم فَمنهمْ من تفسده الْكَرَامَة وَمِنْهُم من تفسده الإهانة
التعرف على طَبَقَات الْعَامَّة وعراتهم وَأول مَا يجب فِي سياستهم معرفَة طبقاتهم وتمييز سرواتهم
সাধারণ জনতা শাসন সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
সাধারণ জনতা এমন এক বিষয় যার আধিক্যে সাম্রাজ্য বিস্তৃত হয় এবং তারা যত বৃদ্ধি পায় সাম্রাজ্য তত প্রশস্ত হয়। সাধারণ জনতার সংশোধন তাদের আধিক্য এবং তাদের মধ্যে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা নিরসনের সক্ষমতা কম হওয়ার কারণে অত্যন্ত কঠিন। কেননা তাদের অস্থিতিশীলতার সময় শাসক যদি তাদের প্রতি স্বীয় ক্রোধের উপশম ঘটাতে চান, তবে তা জনপদের কিয়দাংশ ধ্বংস করা এবং রাজনীতির স্তম্ভসমূহকে বিপর্যস্ত করা ব্যতীত সম্ভব হয় না।
অতএব শাসক যেন তাদের শৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট হন এবং তাদের এমন চরম অবস্থায় উপনীত হতে বাধ্য না করেন।
প্রজাদের উত্তম শাসনের মাধ্যমে শাসকের দৃঢ়তা প্রজাদের সুন্দর শাসন এবং তাদের বিচিত্র প্রবৃত্তি থাকা সত্ত্বেও আনুগত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে শাসকের দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতা প্রমাণিত হয়। কঠোরতা ও রূঢ়তা তাদের সংশোধন করে না, আবার তাদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে অতি কোমলতা ও শিথিলতাও সমীচীন নয়। কারণ তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যাকে সম্মান দিলে সে বখে যায়, আবার কেউ আছে যাকে অবজ্ঞা করলে সে বিভ্রান্ত হয়।
সাধারণ জনতার স্তরসমূহ (طبقات) এবং তাদের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে অবগতি তাদের শাসনের ক্ষেত্রে প্রথম যে বিষয়টি আবশ্যক, তা হলো তাদের স্তরসমূহ (طبقات) সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং তাদের মধ্য থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্বতন্ত্রভাবে চেনা।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
فيطالبهم بِالْخدمَةِ لَهُ وَالسَّعْي إِلَى بَابه إِلَّا من ظهر عذره وَبَان عَجزه وَلَا يجوز للزهاد وَالْعُلَمَاء الِانْقِطَاع عَنهُ إِلَّا من وَقعت الْيَمين الْخَالِصَة بانقطاعه إِلَى الله تَعَالَى بِالْكُلِّيَّةِ واعتزال الكافة
وَيتْرك مَا يخْتَلط بِهِ الرّعية كَأبي عَليّ بن أبي الهيش على شَأْنهمْ والتبرك بدعائهم والحذر من الْإِثْم فيهم
وَأما من دونهم من المتشبه بهم فليوسعوا عدلا واستخداما وَلَا يَكُونُوا من التصون عَن مجَالِس الْمُلُوك وَالسَّعْي إِلَى أَبْوَابهم فَإِن فِي فَسَادًا قد شَرحه أزدشير فِي عَهده يغنينا عَن ذكره
وَهَؤُلَاء الَّذين يطالبهم الْملك بِقصد بَابه فَلهم عَلَيْهِ حق يَقْتَضِي تعرف أخبارهم وصيانة جاهم وترتيبهم فِي مَرَاتِبهمْ واختصاص كل وَاحِد مِنْهُم من ذَلِك بِمَا يَقْتَضِيهِ طبعه فِي الْخَيْر وَالشَّر والنفع بِهِ والضر
সুতরাং তিনি তাদের নিকট তাঁর সেবা এবং তাঁর দরবারে যাতায়াতের দাবি রাখেন, কেবল তারা ব্যতীত যাদের ওজর স্পষ্ট এবং অক্ষমতা প্রকাশ্য। যারা দুনিয়াবিমুখ (زهاد) এবং আলেম (علماء), তাদের পক্ষে তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা বৈধ নয়, যদি না তারা আল্লাহ তাআলার প্রতি পূর্ণাঙ্গভাবে একাগ্র হওয়ার এবং সাধারণ মানুষ থেকে নির্জনতা অবলম্বনের জন্য বিশুদ্ধ শপথ গ্রহণ করে থাকে।
এবং প্রজাসাধারণ যাদের সাথে মেলামেশা করে, যেমন আবু আলী বিন আবি আল-হাইশ, তাদেরকে তাদের নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া উচিত এবং তাদের দোয়ার মাধ্যমে বরকত অন্বেষণ করা ও তাদের ব্যাপারে কোনো অন্যায়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।
আর যারা তাদের নিম্নস্তরের এবং তাদের অনুকরণকারী, তাদের প্রতি ন্যায়বিচার ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে উদারতা প্রদর্শন করা উচিত। তারা যেন রাজদরবার এবং রাজন্যবর্গের মজলিস থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা না করে; কারণ এতে এমন বিপর্যয় রয়েছে যা আরদাশির তাঁর নীতিমালায় ব্যাখ্যা করেছেন, যা এখানে পুনরায় উল্লেখ করা থেকে আমাদের অমুখাপেক্ষী করে।
বাদশাহ যাদেরকে তাঁর দরবারে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন, বাদশাহর ওপর তাদের এমন অধিকার রয়েছে যা তাদের খবরাখবর রাখা, তাদের মর্যাদা রক্ষা করা এবং তাদের পদমর্যাদা অনুযায়ী বিন্যস্ত করার দাবি রাখে। এছাড়া তাদের প্রত্যেকের প্রকৃতি অনুযায়ী কল্যাণ-অকল্যাণ এবং উপকার ও অপকারের নিরিখে তাদের বিশেষায়িত করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
إكرام الْأَخْبَار ثمَّ يُبَالغ فِي إكرام الأخيار من الطَّبَقَات الَّتِي دون ذَلِك وقمع الأشرار وَقصد من يتَحَقَّق بِطَاعَتِهِ بمجازاة تزيد فِي بصيرته والإنحاء على من ينحرف عَن موالاته بِمَا ينكله وينكل غَيره عَن مثل طَرِيقَته ثمَّ إفَاضَة الْعدْل التَّام الَّذِي ينَال كل مِنْهُم نصِيبه الموفور مِنْهُ
ثمَّ تسهيل الْإِذْن بقلع الظُّلم من أُصُوله وغرس محبَّة الْوَالِي فِي قُلُوب الرّعية
ثمَّ حفظ أَطْرَافهم وأمان سبيلهم لتتوفر مَعَايشهمْ وتدر متاجرهم وَاسْتِعْمَال الْعقُوبَة الناهكة بِأَهْل الدعارة واللصوص من الْقَتْل المبير وَالْحَبْس الطَّوِيل فهم كالشوك بَين الزَّرْع لَا ينمي وَلَا يصلح إِلَّا بتنقيته مِنْهُ
ثمَّ التعطف على الضُّعَفَاء وترفيههم عَن الكلف السُّلْطَانِيَّة من تسخير لَهُم أَو استعانة بهم
وليعلم أَن كثيرا من الْفِتَن تهيج بشكاية الضُّعَفَاء وحقد الْأَغْنِيَاء وَيجب أَن يتَنَاوَل مَا بعد مِنْهُم من السياسة وَالْعدْل بِمثل مَا يتَنَاوَل بِهِ الْقَرِيب أَو
সজ্জনদের সম্মান প্রদান অতঃপর তিনি তার নিম্নস্থ স্তর (طبقات)-এর সজ্জনদের সম্মান প্রদর্শনে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন এবং দুরাচারদের দমন করবেন। যারা আনুগত্যে অবিচল থাকে, তাদের এমন পুরস্কারের মাধ্যমে মূল্যায়ন করবেন যা তাদের দূরদর্শিতাকে বৃদ্ধি করে। আর যারা তার আনুগত্য থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করবেন—এমন শাস্তির মাধ্যমে যা তাকে এবং তার মতো অন্যদের এই পথ অবলম্বন থেকে বিরত রাখে। অতঃপর পূর্ণ ইনসাফ কায়েম করবেন, যাতে তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ প্রাপ্য অংশ পরিপূর্ণভাবে লাভ করে।
অতঃপর জুলুমকে তার শিকড় থেকে উপড়ে ফেলার পথ সুগম করবেন এবং প্রজাদের হৃদয়ে শাসকের প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করবেন।
এরপর তাদের সীমান্ত রক্ষা এবং চলাচলের পথ নিরাপদ করবেন, যাতে তাদের জীবনযাত্রা সচল থাকে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে বরকত হয়। আর দুশ্চরিত্র ও চোর-ডাকাতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করবেন—যেমন প্রাণদণ্ড ও দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড। কারণ তারা ফসলের মধ্যে কাঁটার মতো, যা উপড়ে ফেলা ছাড়া ফসল বৃদ্ধি পায় না এবং যথাযথ হয় না।
অতঃপর দুর্বলদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবেন এবং তাদের সুলতানি বোঝা যেমন—বেগার খাটানো বা তাদের থেকে জোরপূর্বক সাহায্য নেওয়া থেকে রেহাই দেবেন।
জেনে রাখা উচিত যে, অধিকাংশ ফিতনা (فتنة) দুর্বলদের অভিযোগ এবং ধনীদের বিদ্বেষের কারণে সৃষ্টি হয়। আর এটি আবশ্যক যে, দূরবর্তী প্রজাদের ক্ষেত্রেও রাজনীতি ও ইনসাফ সেভাবেই প্রয়োগ করতে হবে, যেভাবে নিকটবর্তীদের ক্ষেত্রে করা হয় অথবা
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
أَكثر وَلَيْسَ بسائس من خص بحزمه بعض ملكه وَمثل الْعَارِض الْبعيد إِذا لم يسْتَدرك عَاجلا كَمثل الْعُضْو يسقم من الْبدن فَإِن تلوفي وَإِلَّا سرى فَسَاده فِي الْجَسَد
الرشا أس الْجور وَالْفساد وَلَا يكونن الْملك لشَيْء أنكر مِنْهُ لرشا الْعمَّال وَالْأَصْحَاب فَإِنَّهَا أس الْجور وَالْفساد وَصَلَاح الْأَطْرَاف الْبَعِيدَة لشئيين رفع الْحجاب للمتظلمين وَبَعثه فِي كل وَقت الْأُمَنَاء الثِّقَات المتعرفين
وَمِمَّا يحْتَاج إِلَيْهِ وَقد مر نبذ مِنْهُ تعهد ذَوي الأخطار وَالْعُلَمَاء وَأهل الْأَبْوَاب بالتقريب واختصاص الْوَاحِد مِنْهُم بعد الْوَاحِد بالتأنيس وَالْإِكْرَام والمؤاكلة والمنادمة وَلَا يَجْعَل أنسه كُله مَقْصُورا على خاصته وَليكن مَا يَفْعَله من أَمر هَؤُلَاءِ الأماثل بددا غير مَحْصُور وَالْغَرَض فِيهِ الإيناس وَإِزَالَة النفور
ثمَّ إِحْسَان مجاورة جِيرَانه فِي الممالك الَّتِي تلِي مَمْلَكَته فحاله مَعَهم كَحال الْوَاحِد من السوقة مَعَ جِيرَانه لما أسست عَلَيْهِ الدُّنْيَا من الْحَاجة إِلَى التعاضد
وَأَن يُبَالغ فِي بر الواردين عَلَيْهِ من رسلهم وَأَن يتصنع لَهُم بتفخيم مَجْلِسه وَإِظْهَار جماله وزينته ومظاهرة بره لَهُم وتكرمته
وَالله الله وَأَن يُطِيل حَبسهم عِنْده فَفِي ذَلِك من الْفساد مَا يطول شَرحه والمدة
সে ব্যক্তি সুশাসক নয় যে কেবল তার রাজ্যের কিছু অংশেই নিজের দৃঢ়তা সীমাবদ্ধ রাখে। দূরবর্তী কোনো বিশৃঙ্খলা যদি দ্রুত সংশোধন করা না হয়, তবে তা শরীরের কোনো অসুস্থ অঙ্গের মতো; যদি তার চিকিৎসা করা হয় তবে তা রক্ষা পায়, অন্যথায় তার সংক্রমণ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘুষ হলো অবিচার ও বিশৃঙ্খলার মূল ভিত্তি একজন বাদশাহর কাছে কর্মচারীদের এবং পারিষদবর্গের ঘুষ গ্রহণের চেয়ে অধিক ঘৃণ্য আর কিছুই হওয়া উচিত নয়; কেননা এটিই হলো অবিচার ও বিপর্যয়ের মূল ভিত্তি। দূরবর্তী সীমান্ত অঞ্চলসমূহের সংশোধন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল: নিপীড়িত ও অভিযোগকারীদের অভিযোগ পেশ করার পথে সকল প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা এবং নিয়মিত বিরতিতে খবরাখবর গ্রহণের জন্য এমন আমানতদার ও নির্ভরযোগ্য (ثقات) ব্যক্তিদের সেখানে পাঠানো।
বাদশাহর জন্য আরও যা প্রয়োজন—যার কিছু অংশ ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে—তা হলো প্রভাবশালী ব্যক্তি, আলেম সমাজ এবং রাজদরবারের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে রেখে তাঁদের খোঁজখবর নেওয়া। তাঁদের মধ্য থেকে একে একে প্রত্যেককে আলাদাভাবে ঘনিষ্ঠতা, সম্মান প্রদর্শন, একত্রে ভোজন এবং আলাপচারিতার জন্য বিশেষ মর্যাদা দান করা। তিনি যেন তাঁর এই হৃদ্যতা কেবল নিজের ঘনিষ্ঠ পারিষদদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রাখেন। বরং এই সকল গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রতি তাঁর সৌজন্য প্রদর্শন যেন নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বিস্তৃত হয়, যার মূল উদ্দেশ্য হবে তাঁদের মনে আস্থা সৃষ্টি করা এবং দূরত্ব বা বিরাগ দূর করা।
অতঃপর, তাঁর সংলগ্ন প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর সাথে সদাচরণ করা। তাদের সাথে তাঁর অবস্থা হবে বাজারের একজন সাধারণ মানুষের সাথে তার প্রতিবেশীর আচরণের মতো; কারণ এই পৃথিবী একে অপরের সহযোগিতার প্রয়োজনের ওপরই প্রতিষ্ঠিত।
তাঁদের পক্ষ থেকে আগত দূতদের আপ্যায়নে যেন তিনি সর্বোচ্চ সচেষ্ট হন। তিনি যেন নিজের মজলিসের গাম্ভীর্য বাড়িয়ে, নিজের সৌন্দর্য ও অলঙ্কার প্রদর্শন করে এবং তাঁদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ ও সম্মান স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে তাঁদের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করেন।
আল্লাহর দোহাই! তিনি যেন তাঁদের (দূতদের) নিজ দরবারে দীর্ঘ সময় আটকে না রাখেন; কারণ এর ফলে এমন সব বিশৃঙ্খলা ও অনিষ্ট সৃষ্টি হয় যার বর্ণনা ও স্থায়িত্ব অত্যন্ত দীর্ঘ।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
الَّتِي يقيمونها فليكونوا محروسين ملحوظين من مُخَالطَة أحد من الْخَاصَّة والعامة إِلَّا من عرفه الْملك
ثمَّ يتفقد مدينته بل مدنه كلهَا بضبط طرقها وَمَعْرِفَة من يدخلهَا وَيخرج مِنْهَا وَالْوُقُوف على الْكتب الْمُخْتَلفَة إِلَى أَهلهَا من التُّجَّار وَغَيرهم وليضبط مدينته ضبط الرجل من الرّعية دَاره وَلَا يخرج عَنْهَا أحد إِلَّا بحواز وَلَا يدخلهَا إِلَّا بِإِذن
المخابرات ثمَّ يُوكل بالأخبار والبحث عَن الْأَسْرَار فِيمَا قرب مِنْهُ وَبعد عَنهُ وجاوره من ولي وعدو ومبلغ مَا عِنْدهم من عدَّة وَمَا يَتَجَدَّد لَهُم من عَزِيمَة
وَهَذَا أَمر يجب أَن يسمح بِهِ بِكُل نَفِيس وَلَا يضن عَنهُ بِمَال وَلَو كثر فَرُبمَا دهمه من مجاوريه إِلَى غَفلَة مَا يود لَو سبق بِهِ علمه لَو أنْفق الْأَمْوَال الجزيلة عَلَيْهِ
وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق
তারা যেখানে অবস্থান করে, সেখানে তারা যেন সুরক্ষিত ও পর্যবেক্ষণে থাকে, যাতে রাজা যাকে চেনেন তিনি ব্যতীত অন্য কোনো বিশেষ বা সাধারণ ব্যক্তি তাদের সাথে মিশতে না পারে।
অতঃপর তিনি তাঁর শহর, বরং তাঁর সকল শহর তদারকি করবেন; রাস্তাঘাট নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং কারা সেখানে প্রবেশ করছে বা বের হচ্ছে তা জানবেন। বণিক ও অন্যদের কাছে আসা বিভিন্ন চিঠিপত্র সম্পর্কে অবগত হবেন। তিনি তাঁর শহরকে সেভাবেই নিয়ন্ত্রণ করবেন যেভাবে একজন সাধারণ নাগরিক তার ঘর নিয়ন্ত্রণ করে। অনুমতিপত্র ছাড়া কেউ যেন সেখান থেকে বের হতে না পারে এবং অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে না পারে।
গোয়েন্দা বিভাগ এরপর তিনি নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সংবাদ সংগ্রহের এবং গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধানের জন্য দায়িত্ব অর্পণ করবেন; চাই সে বন্ধু হোক কিংবা প্রতিবেশী শত্রু। তাদের কাছে কী পরিমাণ সরঞ্জাম রয়েছে এবং তাদের সংকল্পে কী নতুন পরিবর্তন আসছে তা জানার চেষ্টা করবেন।
এটি এমন একটি বিষয় যাতে যেকোনো মূল্যবান বস্তু ব্যয় করা আবশ্যক এবং সম্পদের পরিমাণ অধিক হলেও তাতে কার্পণ্য করা উচিত নয়। কারণ অনেক সময় অসতর্ক অবস্থায় প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকে এমন বিপদ ধেয়ে আসে, যা প্রতিরোধ করার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে হলেও পূর্বেই তা জেনে নেওয়া উত্তম হতো।
আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক কামনা করছি।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
ختام وَقد رَأينَا أَن نختم هَذَا التَّعْلِيق بِكَلِمَات لأبي بكر الصّديق رضوَان الله عَلَيْهِ مِمَّا وصّى بِهِ يزِيد بن أبي سُفْيَان لما أنفذه على العساكر إِلَى الشَّام فَإِنَّهَا من البلاغة البديعة والوصايا العجيبة
وَهِي قَوْله
ابدأ جندك بِالْخَيرِ وعدهم مَا بعده وَإِذا وعظت فأوجز فَإِن الْكَلَام إِذا كثر نسى الأول بِالْآخرِ واصلح نَفسك يصلح لَك النَّاس فَإِن الْأَمِير إِنَّمَا يتَقرَّب إِلَيْهِ بِمثل فعله وَلَا تغفل عَن الصَّلَاة إِذا دخل وَقتهَا وليؤذن الْمُؤَذّن فِي عسكرك ثمَّ أبرز فصل بِمن أحب الصَّلَاة خَلفك
وَإِذا قدمت عَلَيْك رسل الْعَدو فَأكْرم منزلهم وأقلل مقامهم لِيخْرجُوا من عسكرك وهم جاهلون بِهِ غير عارفين بخلل إِن كَانَ فِيهِ وأنزلهم فِي جُمْهُور كثير من عسكرك وامنع كل وَاحِد من محادثتهم وَكن أَنْت الْمُتَوَلِي لكلامهم
وَلَا تجْعَل سرك مثل علانيتك فيختلط أَمرك وَإِذا استشرت فحقق الحَدِيث وَلَا تكْتم بعض ليتَحَقَّق الرَّأْي فَإِذا علمت لِلْعَدو عَورَة فاكتمها حَتَّى تأتيها واسهر بِاللَّيْلِ فِي مجْلِس تَتَحَدَّث فِيهِ مَعَ أَصْحَابك فَإِن ذَلِك يَأْتِيك بالأخبار وبدد حرسك وَأكْثر مفاجأتهم فِي ممارسهم بِغَيْر علم مِنْهُم بك
فَمن وجدته قد غفل عَن محرسه فعاقبه وَاجعَل حراسة اللَّيْل بَينهم نوبا والنوبة الأولى أطول فَإِنَّهَا أيسر لاتصال النَّهَار بهَا وَلَا تخف من عقوبتهم فيضعن النَّاس بِأَن يروك قد عممت بالحدود ثمَّ خصصت بِالْعَفو بعض الْجنُود وَلَا تلجن فِي الْعقُوبَة فَإِن أدناها وجيع وَلَا تسرع إِلَيْهَا وَأَنت تكتفي بغَيْرهَا وَلَا تغفل عَن عسكرك فتفسده المتاركة وَلَا تجسسه فتفضحه
উপসংহার আমরা এই টীকাটি আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কিছু বাণীর মাধ্যমে সমাপ্ত করা সমীচীন মনে করেছি, যা তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ানকে উপদেশ দিয়েছিলেন যখন তাকে শাম অভিমুখে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই তা অপূর্ব সাবলীলতা ও চমৎকার উপদেশের অন্তর্ভুক্ত।
তা হলো তাঁর এই উক্তি:
তোমার সৈন্যদের সাথে কল্যাণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করো এবং তাদের পরবর্তী বিষয়ের সুসংবাদ দাও। যখন তুমি উপদেশ দেবে তখন তা সংক্ষেপ করো; কারণ কথা যখন দীর্ঘ হয়, তখন শেষের অংশ আগের অংশকে ভুলিয়ে দেয়। নিজেকে সংশোধন করো, তাহলে মানুষ তোমার জন্য সংশোধিত হয়ে যাবে। কেননা আমিরের নৈকট্য লাভ করা হয় তার কর্মের অনুরূপ কাজের মাধ্যমেই। নামাজের সময় উপস্থিত হলে সে বিষয়ে গাফেল হয়ো না। তোমার বাহিনীতে মুয়াজ্জিন আজান দেবে, অতঃপর তুমি সামনে এসে তাদের নিয়ে নামাজ আদায় করবে যারা তোমার পেছনে নামাজ পড়তে আগ্রহী।
যখন তোমার নিকট শত্রুর দূত আসবে, তখন তাদের মেহমানদারি সম্মানজনক করো এবং তাদের অবস্থানের সময় সংক্ষিপ্ত করো, যাতে তারা তোমার বাহিনী থেকে এমন অবস্থায় বের হয়ে যায় যে তারা সে সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে এবং সেখানে যদি কোনো ত্রুটি থাকে তবে তা তারা জানতে না পারে। তাদেরকে তোমার বাহিনীর বিশাল জনসমাবেশের মাঝে থাকার ব্যবস্থা করো। তাদের সাথে কাউকে কথা বলতে নিষেধ করো এবং তুমি নিজেই তাদের সাথে কথা বলার দায়িত্ব গ্রহণ করো।
তোমার গোপন বিষয়কে প্রকাশ্য বিষয়ের মতো করো না, অন্যথায় তোমার শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে। যখন তুমি পরামর্শ করবে, তখন সংবাদ (হাদিস) যথাযথভাবে বর্ণনা করবে এবং কোনো অংশ গোপন করবে না, যাতে পরামর্শের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়। যখন তুমি শত্রুর কোনো দুর্বলতা জানতে পারবে, তখন তা গোপন রাখো যতক্ষণ না তুমি সেখানে আঘাত হানছ। রাতের বেলা তোমার সাথীদের সাথে আলোচনার মজলিসে জাগ্রত থাকো, কারণ তা তোমাকে অনেক সংবাদ সরবরাহ করবে। তোমার প্রহরীদের বিভিন্ন স্থানে বিন্যস্ত করো এবং তাদের সম্পর্কে কোনো পূর্বজ্ঞান ছাড়াই অতর্কিতভাবে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করো।
যাকেই তুমি তার প্রহরার কাজে গাফেল পাবে, তাকে শাস্তি প্রদান করো। রাতের পাহারা তাদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নির্ধারণ করো এবং প্রথম পাহারাটি দীর্ঘ করো; কারণ দিনের বেলার সাথে যুক্ত থাকার কারণে তা পালন করা সহজ। তাদের শাস্তি দিতে ভয় পেয়ো না, অন্যথায় মানুষ ধারণা করবে যে তুমি দণ্ডবিধির প্রয়োগে সবার ওপর কঠোরতা করলেও কিছু সৈন্যকে ক্ষমার মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছ। শাস্তির ক্ষেত্রে অনমনীয় হয়ো না, কারণ এর সামান্যতম অংশও যন্ত্রণাদায়ক। অন্য কোনো উপায়ে কাজ চললে শাস্তির দিকে দ্রুত অগ্রসর হয়ো না। তোমার বাহিনী সম্পর্কে উদাসীন হয়ো না, কারণ উপেক্ষা তাদের কলুষিত করে ফেলবে। আবার তাদের গোপন দোষ-ত্রুটি খুঁজতে যেয়ো না, যা তাদের অপদস্থ করবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ওয়াযীরিল মাগরিবী
(পৃষ্ঠা: ৬০)
المناقشة وَلَا تجَالس العيابين وجالس أهل الْوَفَاء والصدق وأصدق الْفُقَهَاء إِذا لاقيت وَلَا تجبن فيجبن النَّاس وَلَا تقم بِالْمُسْلِمين فِي مَوضِع هلكة وَلَا تغرر بهم لرجاء فرْصَة وَلَا تعجلوا إِلَى اللِّقَاء أَن تَأَخّر عَنْكُم وَلَا تتأخروا عَنهُ إِذا حل بكم وتعاهدوا ضعيفكم وَذَا الْخلَّة مِنْكُم وكلوا ظَاهرا وَلَا تَأْكُلُوا فِي بُيُوتكُمْ وَإِيَّاكُم والغدر بِمن عاهدتم وَلَا تأمنوا عَدوكُمْ وَإِن كَانَ بَعيدا
فَهَذِهِ مَعَانِيه وَبَعض أَلْفَاظه وَقد أخرجنَا بَعْضهَا من الغموض إِلَى أَلْفَاظ يفهمها من قصد بِهَذِهِ الرسَالَة من ولاه زَمَاننَا
وَالسَّلَام
ثمَّ الْمُخْتَصر الْمَوْضُوع فِي السياسة
للوزير الْكَامِل أَبُو الْقَاسِم الْحُسَيْن بن عَليّ رَحمَه الله
আলোচনা; তুমি দোষ অন্বেষণকারীদের সাথে উপবেশন করো না, বরং আনুগত্য ও সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণ করো। ফকিহদের সাথে সাক্ষাতের সময় সত্যনিষ্ঠ থেকো। ভীরুতা প্রদর্শন করো না, কারণ তাতে সাধারণ মানুষও ভীরু হয়ে পড়বে। মুসলমানদের কোনো ধ্বংসাত্মক স্থানে দাঁড় করিও না এবং কোনো সুযোগ লাভের আশায় তাদেরকে ঝুঁকির মুখে ফেলো না। শত্রু মোকাবিলা বিলম্বিত হলে তোমরা তাড়াহুড়ো করো না, আর তা তোমাদের নিকট উপস্থিত হলে তা থেকে পিছিয়ে যেয়ো না। তোমাদের মধ্যকার দুর্বল (ضعيف) এবং অভাবীদের খোঁজখবর নিও। প্রকাশ্যে আহার করো এবং নিজ ঘরে বসে আহার করো না। যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকার করেছ তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা থেকে সাবধান থেকো। তোমাদের শত্রুর ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থেকো না, যদিও সে দূরে অবস্থান করে।
এই হলো এর মর্মার্থ এবং কিছু শব্দাবলি। আমি এর কিছু অস্পষ্ট অংশকে এমন শব্দে রূপান্তর করেছি যা এই পত্রের লক্ষ্যভুক্ত আমাদের সময়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বুঝতে পারেন।
ওয়াসসালাম
অতঃপর রাজনীতি বিষয়ে রচিত (الموضوع) সংক্ষিপ্তসার
কামিল উজির আবুল কাসিম আল-হুসাইন ইবনে আলী (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক।