(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: -)
السياسة للفارابي القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: رسالة ضمن «مجموع في السياسة»
المؤلف: محمد بن محمد بن طرخان بن أوزلغ، أبو نصر الفارابي، ويعرف بالمعلم الثاني (ت 339هـ)
المحقق: د. فؤاد عبد المنعم أحمد
الناشر: مؤسسة شباب الجامعة - الإسكندرية
الطبعة: الأولى
عدد الصفحات: 34
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ফারাবীর আস-সিয়াসা বিভাগ: সিয়াসা শারইয়্যাহ (শরয়ী রাজনীতি) ও বিচারব্যবস্থা
গ্রন্থ: «মাজমু ফি আস-সিয়াসা» (রাজনীতি বিষয়ক সংকলন)-এর অন্তর্ভুক্ত একটি রিসালাহ
লেখক: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন তর্খান বিন আউযলাগ, আবু নসর আল-ফারাবী, এবং তিনি ‘দ্বিতীয় শিক্ষক’ হিসেবে পরিচিত (মৃত্যু ৩৩৯ হিজরী)
সম্পাদক (محقق): ড. ফুয়াদ আব্দুল মুনইম আহমদ
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতু শাবাবিল জামিয়া - আলেকজান্দ্রিয়া
সংস্করণ: প্রথম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
আশ-শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
وَمَا توفيقي إِلَّا بِاللَّه
الْغَرَض من الرسَالَة قصدنا فِي هَذَا القَوْل ذكر قوانين سياسة يعم نَفعهَا جَمِيع من استعملها من طَبَقَات النَّاس فِي متصرفاته مَعَ كل طَائِفَة من أهل طبقته وَمن فَوْقه وَمن دونه على سَبِيل الإيجاز والاختصار على أَنه لَا يَخْلُو قَوْلنَا هَذَا من ذكر مَا تخْتَص بِاسْتِعْمَالِهِ طَائِفَة دون طَائِفَة وَوَاحِد دون وَاحِد مِنْهُم فِي وَقت دون وَقت وَمَعَ قوم دون قوم إِذْ الْوَاحِد من النَّاس لَا يُمكنهُ أَن يسْتَعْمل فِي كل وَقت مَعَ كل أحد كل ضرب من ضروب السياسات ونقدم لذَلِك مُقَدمَات مِنْهَا أَن نقُول
مكانة الْإِنْسَان بَين غَيره من النَّاس إِن كل وَاحِد من النَّاس مَتى مَا رَجَعَ إِلَى نَفسه وَتَأمل أحوالها وأحوال غَيره من أَبنَاء النَّاس وجد نَفسه فِي رُتْبَة يشركهُ فِيهَا طَائِفَة مِنْهُم وَوجد فَوق رتبته طَائِفَة مِنْهُم أَعلَى منزلَة مِنْهُ بِجِهَة أَو بجهات وَوجد دونهَا طَائِفَة هم أوضع مِنْهُ بِجِهَة أَو جِهَات لِأَن الْملك الْأَعْظَم وَأَن وجد نَفسه فِي مَحل لَا يرى لأحد من النَّاس فِي زَمَانه منزلَة أَعلَى من مَنْزِلَته فَإِنَّهُ مَتى تَأمل حَالَة نعما وجد فيهم من يفضل عَلَيْهِ بِنَوْع من الْفَضِيلَة إِذْ لَيْسَ فِي أَجزَاء
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই।
পুস্তিকার উদ্দেশ্য এই আলোচনার মাধ্যমে আমাদের উদ্দেশ্য হলো পরিচালনার এমন কিছু নিয়মাবলি উল্লেখ করা, যা সকল স্তরের (طبقات) মানুষের জন্য সাধারণভাবে উপকারী হবে; যারা এগুলোকে তাদের পারস্পরিক কর্মকাণ্ডে নিজ স্তরের (طبقة), উচ্চপদস্থ কিংবা নিম্নপদস্থ ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে সংক্ষেপে ও সারসংক্ষেপে প্রয়োগ করবেন। তবে আমাদের এই বক্তব্য এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করা থেকে মুক্ত থাকবে না, যা বিশেষ কোনো গোষ্ঠী বা বিশেষ ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়ে বা বিশেষ কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেননা কোনো ব্যক্তির পক্ষেই সব সময় সকল মানুষের সাথে সব ধরনের নীতি ও কৌশল প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে আমরা কিছু ভূমিকা পেশ করছি, যার মধ্যে আমরা বলব:
অন্যান্য মানুষের মধ্যে ব্যক্তির অবস্থান প্রত্যেক মানুষ যখন নিজের সত্তার দিকে ফিরে তাকায় এবং নিজের ও অন্যান্য মানুষের অবস্থা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে, তখন সে নিজেকে এমন এক অবস্থানে খুঁজে পায় যেখানে তার সমগোত্রীয় একদল লোকও তার সাথে শরিক রয়েছে। আবার সে নিজের অবস্থানের ঊর্ধ্বে এমন একদলকে পায় যারা এক বা একাধিক দিক থেকে তার চেয়ে উচ্চতর মর্যাদার অধিকারী। একইভাবে নিজের অবস্থানের নিচে সে এমন একদলকে পায় যারা এক বা একাধিক দিক থেকে তার চেয়ে নিম্নতর অবস্থানে রয়েছে। এমনকি একজন মহান সম্রাটও যদি নিজেকে এমন এক স্থানে দেখতে পান যেখানে তিনি তার সমসাময়িক অন্য কারো মর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ বলে মনে করেন না, তিনিও যদি তাদের অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে তাদের মধ্যে এমন কাউকে অবশ্যই পাবেন যিনি কোনো না কোনো বিশেষ গুণের কারণে তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব রাখেন। কারণ মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা গুণাবলির মধ্যে
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ৮)
الْعَالم مَا هُوَ كَامِل من جَمِيع الْجِهَات وَكَذَلِكَ الوضيع الخامل الذّكر يجد من هُوَ دونه بِنَوْع من الضعة فقد صَحَّ مَا وصفناه
وَينْتَفع الْمَرْء بِاسْتِعْمَال السياسات مَعَ هَؤُلَاءِ الطَّبَقَات الثَّلَاث
أما مَعَ الأرفعين فلينال مرتبتهم
وَأما مَعَ الْأَكفاء فليفضل عَلَيْهِم
وَأما مَعَ الأوضعين فلئلا ينحط إِلَى رتبتهم
تَأمل أَحْوَال النَّاس ونقول أَيْضا إِن أَنْفَع الْأُمُور الَّتِي يسلكها الْمَرْء فِي استجلاب علم السياسة وَغَيره من الْعُلُوم أَن يتَأَمَّل أَحْوَال النَّاس وأعمالهم ومتصرفاتهم مَا شَهِدَهَا وَمَا غَابَ عَنْهَا مِمَّا سَمعه وتناهى إِلَيْهِ مِنْهَا وَأَن يمعن النّظر فِيهَا ويميز بَين محاسنها ومساوئها وَبَين النافع والضار لَهُم مِنْهَا ثمَّ ليجتهد فِي التَّمَسُّك بمحاسنها لينال من مَنَافِعهَا مثل مَا نالوا وَفِي التَّحَرُّز والاجتناب من مساوئها ليأمن من مضارها وَيسلم من غوائلها مثل مَا سلمُوا
قوتان فِي الْإِنْسَان ونقول أَيْضا إِن لكل شخص من أشخاص النَّاس قوتين
أَحدهمَا ناطقة
وَالْأُخْرَى بهيمية
وَلكُل وَاحِدَة مِنْهُمَا إِرَادَة وَاخْتِيَار وَهُوَ كالواقف فِيمَا بَينهمَا وَلكُل مِنْهُمَا
একজন আলেম সকল দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ নন, অনুরূপভাবে স্বল্প পরিচিত নিচুতলার ব্যক্তিটিও তার চেয়েও নিম্নতর স্তরের কাউকে না কাউকে দেখতে পায়। সুতরাং আমরা যা বর্ণনা করেছি তা সঠিক (صحيح) বলে প্রমাণিত হয়েছে।
আর এই তিন স্তরের (طبقات) মানুষের সাথে কর্মপন্থা ব্যবহারের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি উপকৃত হতে পারে।
উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তাদের মর্যাদা (مرتبة) লাভের উদ্দেশ্যে।
আর সমকক্ষদের ক্ষেত্রে তাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য।
আর নিম্নস্তরের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যেন তাদের স্তরে (رتبة) পর্যবসিত হতে না হয়।
মানুষের অবস্থা পর্যবেক্ষণ আমরা আরও বলি যে, রাষ্ট্রনীতি বা প্রশাসনিক জ্ঞান এবং অন্যান্য জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি যে পথ অবলম্বন করতে পারে, তার মধ্যে সবচেয়ে উপকারী হলো মানুষের অবস্থা, তাদের কার্যাবলী এবং তাদের আচার-আচরণ পর্যবেক্ষণ করা—তা সে নিজে প্রত্যক্ষ করুক কিংবা যা সে শুনেছে এবং তার কাছে পৌঁছেছে। সেগুলোতে গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করা এবং তাদের উত্তম ও অধম কার্যাবলীর মধ্যে এবং তাদের জন্য উপকারী ও ক্ষতিকারকের মধ্যে পার্থক্য করা। এরপর তাদের উত্তম বিষয়গুলো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করা, যাতে তারা যেভাবে উপকৃত হয়েছে সেভাবে সেও লাভবান হতে পারে; আর তাদের মন্দ কাজগুলো থেকে বেঁচে থাকা এবং তা পরিহার করা, যাতে সে তাদের ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকে এবং তারা যেভাবে বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে সেভাবে সেও মুক্তি পায়।
মানুষের মাঝে বিদ্যমান দুটি শক্তি আমরা আরও বলি যে, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে দুটি শক্তি রয়েছে।
একটি হলো বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন শক্তি (ناطقة)।
এবং অপরটি হলো পাশবিক শক্তি (بهيمية)।
এবং এগুলোর প্রত্যেকটিরই নিজস্ব ইচ্ছা ও নির্বাচন করার ক্ষমতা রয়েছে, আর মানুষ এ দুয়ের মধ্যবর্তী অবস্থানে দণ্ডায়মান এবং এগুলোর প্রত্যেকটিরই...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ৯)
نزاع غَالب فنزاع الْقُوَّة البهيمية نَحْو مصادفة اللَّذَّات العاجلة الشهوانية مثل أَنْوَاع الْغذَاء وأنواع الاستفراغات وأنواع الاستراحات
ونزاع الْقُوَّة النطقية نَحْو الْأُمُور المحمودة العواقب مثل أَنْوَاع الْعُلُوم وأنواع الْأَفْعَال الَّتِي تَجِد العواقب المحمودة
فَأول مَا ينشأ الْإِنْسَان فِي حيّز الْبَهَائِم إِلَى أَن يتَوَلَّد فِيهِ الْعقل أَولا فأولا وتقوى فِيهِ الْقُوَّة الناطقة فالقوة البهيمية إِذن أغلب عَلَيْهِ وكل مَا كَانَ أقوى وأغلب فالحاجة إِلَى إخماده وتوهينه وَأخذ الأهبة والاستعداد لَهُ أَشد وألزم
فَوَاجِب على كل من يروم نيل الْفَاضِل أَن لَا يتغافل عَن تيقيظ نَفسه فِي كل وَقت وتحريضها على مَا هُوَ أصلح لَهُ وَأَن لَا يهملها سَاعَة فَإِنَّهُ مَتى مَا أهملها وَهِي حَيَّة والحي متحرك لَا بُد من أَن تتحرك نَحْو الطّرف الآخر الَّذِي هُوَ البهيمي وَإِذا تحركت نَحوه تشبثت بِبَعْض مِنْهُ حَتَّى إِذا أَرَادَ ردهَا عَمَّا تحركت إِلَيْهِ لحقه من النصب أَضْعَاف مَا كَانَ يلْحقهُ لَو لم يهملها ويعطل وقته الَّذِي كَانَ يَنْبَغِي أَن يحصل فِيهِ فَضِيلَة لاشتغاله بالاحتيال لردها عَمَّا تحركت نَحوه وفاتته تِلْكَ الْفَضِيلَة
الْمَرْء بَين حَالين ونقول أَيْضا إِن الْمَرْء لَا يَخْلُو فِي جَمِيع تَصَرُّفَاته من أَن يلقى أمرا مَحْمُودًا أَو أمرا مذموما وَله فِي كل وَاحِد من الْأَمريْنِ فَائِدَة إِن استفادها ويجد
প্রবল দ্বন্দ্ব পাশবিক শক্তির দ্বন্দ্ব হলো তাৎক্ষণিক কামজ স্বাদসমূহের মুখোমুখি হওয়া, যেমন বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ, নানাবিধ শারীরিক নিঃসরণ এবং বিভিন্ন প্রকার বিশ্রাম।
আর বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির দ্বন্দ্ব হলো সেই সব বিষয়ের দিকে যেগুলোর পরিণাম প্রশংসনীয়, যেমন বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান এবং সেই সব কর্ম যা উত্তম ফলাফল নিশ্চিত করে।
মানুষ যখন প্রথম ধাপে বেড়ে ওঠে, তখন সে পশুত্বের গণ্ডিতেই অবস্থান করে; এরপর ক্রমান্বয়ে তার মাঝে বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটে এবং তার বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি শক্তিশালী হতে থাকে। সুতরাং প্রাথমিক অবস্থায় পাশবিক শক্তিই তার ওপর অধিক প্রভাবশালী থাকে। আর যা কিছু অধিক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী হয়, তাকে দমন করা, হীনবল করা এবং তার মোকাবিলায় পূর্ণ প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করা অধিক জরুরি ও আবশ্যক।
অতএব, যে ব্যক্তি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে চায়, তার জন্য আবশ্যক হলো সে যেন কোনো অবস্থাতেই নিজের আত্মাকে জাগ্রত রাখার ব্যাপারে উদাসীন না হয় এবং সর্বদা তাকে অধিকতর কল্যাণকর বিষয়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। সে যেন এক মুহূর্তের জন্যও আত্মাকে অবহেলা না করে। কারণ যখনই সে একে অবহেলা করবে—এমতাবস্থায় যে তা জীবন্ত, আর প্রতিটি জীবন্ত সত্তাই গতিশীল—তখন তা অনিবার্যভাবেই অপর প্রান্তের অর্থাৎ পশুত্বের দিকে ধাবিত হবে। আর যখন তা সেদিকে ধাবিত হয়ে কোনো কিছুর সাথে আটকে যাবে, তখন তাকে সেই বিচ্যুতি থেকে ফিরিয়ে আনতে এমন বহুগুণ বেশি শ্রম ও কষ্টের সম্মুখীন হতে হবে, যা তাকে করতে হতো না যদি সে অবহেলা না করত। তখন সে আত্মাকে ফিরিয়ে আনার কৌশলী প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকার কারণে সেই সময়টুকু নষ্ট করে ফেলে যা মূলত কোনো বিশেষ গুণ বা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে ব্যয় হওয়া উচিত ছিল এবং এভাবে সে সেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে বঞ্চিত হয়।
মানুষ দুই অবস্থার মাঝে আমরা আরও বলি যে, মানুষ তার যাবতীয় কর্মতৎপরতায় হয় কোনো প্রশংসনীয় বিষয় অথবা কোনো নিন্দনীয় বিষয়ের সম্মুখীন হওয়া থেকে মুক্ত নয়। এই উভয় বিষয়ের প্রত্যেকটিতেই তার জন্য উপকারিতা রয়েছে যদি সে তা গ্রহণ করতে পারে এবং সে খুঁজে পায়...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ১০)
فِي كل وَاحِد مِنْهُمَا نفعا يُمكنهُ جذبه إِلَى نَفسه ويصادف فِي كل وَاحِد مِنْهُمَا مَوضِع رياضة لنَفسِهِ وَهُوَ إِنَّه يحتال للتمسك بذلك الْأَمر الْمَحْمُود الَّذِي يلقاه إِن وجد السَّبِيل إِلَى التَّمَسُّك بِهِ أَو يتشبه بالتمسك بِهِ بِقدر طاقته إِن أعوزه ذَلِك أَو يحسن ذَلِك الْأَمر عِنْد نَفسه وينبهها على فضيلته وَيُوجب عَلَيْهَا التَّمَسُّك بِهِ مَتى مَا وجد الفرصة لذَلِك وَهُوَ لَا شكّ وَاجِد السَّبِيل إِلَى هَذِه الثَّلَاث
وَإِذا تلقها الْأَمر المذموم فليجتهد فِي التَّحَرُّز مِنْهُ والاجتناب عَنهُ وَإِن لم يجد إِلَى ذَلِك سَبِيلا وَهُوَ وَاقع فِيهِ فليبالغ فِي نَفْيه عَن نَفسه بغاية مَا أمكنه وَإِن لم يُمكنهُ التبرؤ مِنْهُ فليعزم على نَفسه إِذا تيَسّر لَهُ الْخَلَاص مِنْهُ لَا يعود إِلَى أشباهة وليقبح إِلَى نَفسه دواعي ذَلِك الْأَمر ولينتبهها على الِاعْتِبَار بِمن نالهم مضار مثلهَا فقد ظهر إِن الْمَرْء يُصَادف فِي جَمِيع أَحْوَاله دقها وجلها خَيرهَا وشرها مَوضِع الرياضة لنَفسِهِ
এই দুটির প্রত্যেকটির মধ্যেই এমন কল্যাণ নিহিত আছে যা সে নিজের অনুকূলে নিয়ে আসতে পারে এবং এই দুটির প্রত্যেকটিতেই সে নিজ আত্মার জন্য আত্মিক অনুশীলনের (رياضة) ক্ষেত্র খুঁজে পায়। আর তা হলো, সে যখনই কোনো প্রশংসনীয় (محمود) বিষয়ের সম্মুখীন হয়, তখন তা আঁকড়ে ধরার কোনো পথ পেলে সে তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করার কৌশল অবলম্বন করে; অথবা যদি সে তা করতে অক্ষম হয়, তবে নিজ সাধ্য অনুযায়ী তা অনুসরণের অনুকরণ করে; অথবা নিজের নিকট সেই বিষয়টি উত্তম হিসেবে উপস্থাপন করে এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে নিজ আত্মাকে সচেতন করে। আর যখনই সুযোগ পায় তখন তা আঁকড়ে ধরাকে নিজের ওপর আবশ্যক করে নেয়। নিঃসন্দেহে সে এই তিনটির কোনো একটির পথ পেয়ে যায়।
আর যখন সে কোনো নিন্দনীয় (مذموم) বিষয়ের সম্মুখীন হয়, তখন তা থেকে সতর্ক থাকতে ও তা পরিহার করতে যেন সচেষ্ট হয়। আর যদি সে তা থেকে বেঁচে থাকার কোনো পথ না পায় এবং তাতে নিপতিত হয়, তবে সে যেন সাধ্যমতো নিজের ভেতর থেকে তা দূর করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। আর যদি তা থেকে সম্পূর্ণ দায়মুক্ত হওয়া সম্ভব না হয়, তবে সে যেন মনে মনে এই সংকল্প করে যে, যখনই তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া সহজ হবে, সে আর অনুরূপ বিষয়ে লিপ্ত হবে না। সে যেন সেই বিষয়ের প্ররোচনাগুলোকে নিজের কাছে ঘৃণ্য করে তোলে এবং যারা অনুরূপ ক্ষতির শিকার হয়েছে তাদের অবস্থা থেকে শিক্ষা গ্রহণের (اعتبار) মাধ্যমে নিজ আত্মাকে জাগ্রত করে। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, মানুষ তার জীবনের সকল অবস্থায়—তা সামান্য হোক বা গুরুতর, কল্যাণকর হোক বা অকল্যাণকর—সর্বদাই নিজ আত্মার জন্য আত্মিক অনুশীলনের (رياضة) সুযোগ পায়।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ১১)
فصل 1 معرفَة الْخَالِق وَمَا يجب لعزته
الله مُنْفَرد بِذَاتِهِ ونقول أَيْضا إِن أول مَا يَنْبَغِي أَن يَبْتَدِئ بِهِ الْمَرْء هُوَ أَن يعلم إِن لهَذَا الْعَالم وأجزائه صانعا بِأَن يتَأَمَّل الموجودات كلهَا هَل يجد لكل وَاحِد مِنْهَا سَببا وَعلة أم لَا
فَإِنَّهُ يجد عِنْد الاستقراء لكل وَاحِد مِنْهَا سَببا عَنهُ وجد
ثمَّ ينظر إِلَى تِلْكَ الْأَسْبَاب الْقَرِيبَة من الموجودات هَل لَهَا أَسبَاب أَيْضا أم لَيست لَهَا أَسبَاب فَإِنَّهُ يجد لَهَا أَيْضا أسبابا ثمَّ يتَأَمَّل وَينظر هَل الْأَسْبَاب ذَاهِبَة إِلَى مَا لَا نِهَايَة لَهُ أم هِيَ واقفة عِنْد نِهَايَة بعض الموجودات أَسبَاب للْبَعْض على سبل الدّور فَإِنَّهُ يجد القَوْل بِأَنَّهَا ذَاهِبَة إِلَى غير نِهَايَة محالا ومضطربا لِأَنَّهُ لَا يُحِيط الْعلم بِمَا لَا نِهَايَة لَهُ ويجد القَوْل بِأَن بَعْضهَا سَبَب للْبَعْض على التَّعَاقُب محالا أَيْضا لِأَنَّهُ يلْزم من ذَلِك أَن يكون الشَّيْء سَببا لنَفسِهِ كَمَا أَنه لَو كَانَ الْألف سَببا للباء وَالْبَاء سَببا للجيم وَالْجِيم سَببا للدال لَكَانَ الْألف سَببا لنَفسِهِ وَهَذَا محَال فَبَقيَ أَن تكون الْأَسْبَاب متناهية وَأَقل مَا يتناهى إِلَيْهِ الْكثير هُوَ الْوَاحِد فسبب الْأَسْبَاب مَوْجُود وَهُوَ وَاحِد
وَلَا يجوز أَن يكون ذَات السَّبَب وَذَات الْمُسَبّب وَاحِدًا فسبب أَسبَاب الْعَالم مُنْفَرد بِذَاتِهِ عَمَّا دونه
পরিচ্ছেদ ১: স্রষ্টাকে চেনা এবং তাঁর মহিমার জন্য যা আবশ্যক
আল্লাহ তাঁর সত্তায় একক আমরা আরও বলি যে, কোনো ব্যক্তির জন্য সর্বপ্রথম যা দিয়ে আরম্ভ করা সমীচীন তা হলো—এই বিশ্বজগত এবং এর প্রতিটি অংশের একজন নির্মাতা রয়েছেন তা জানা। আর তা হবে সমস্ত বিদ্যমান বস্তু নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করার মাধ্যমে; সে কি এগুলোর প্রত্যেকটির জন্য কোনো কারণ (سبب) এবং কারণ (علة) খুঁজে পায় কি না?
কেননা অনুসন্ধানের সময় সে এগুলোর প্রত্যেকটির জন্য এমন একটি কারণ খুঁজে পাবে যার মাধ্যমে সেটি অস্তিত্ব লাভ করেছে।
এরপর সে বিদ্যমান বস্তুসমূহের সেই নিকটবর্তী কারণগুলোর দিকে তাকাবে যে, সেগুলোরও কি কোনো কারণ আছে নাকি নেই? তখন সে সেগুলোর জন্যও কারণ খুঁজে পাবে। অতঃপর সে গভীরভাবে চিন্তা ও পর্যবেক্ষণ করবে যে, এই কারণগুলো কি অসীমের দিকে ধাবিত হচ্ছে, নাকি কিছু বিদ্যমান বস্তুর প্রান্তসীমায় গিয়ে থেমে যাচ্ছে, অথবা এগুলো কি চক্রাকারে একে অপরের কারণ হিসেবে কাজ করছে? কারণ সে দেখতে পাবে যে, এগুলো অসীম পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার দাবি করা অসম্ভব এবং বিশৃঙ্খল (مضطرب); কেননা যা অসীম, জ্ঞান তাকে আয়ত্ত করতে পারে না। এবং সে এটিও দেখতে পাবে যে, পর্যায়ক্রমিকভাবে একে অপরের কারণ হওয়ার দাবি করাও অসম্ভব; কারণ এর দ্বারা কোনো বস্তু নিজেরই কারণ হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। যেমন 'আলিফ' যদি 'বা'-এর কারণ হয়, 'বা' যদি 'জীম'-এর কারণ হয় এবং 'জীম' যদি 'দাল'-এর কারণ হয়, তবে 'আলিফ' নিজেরই কারণ হিসেবে গণ্য হবে, যা অসম্ভব। সুতরাং কারণগুলো সসীম হওয়াই সাব্যস্ত হলো। আর বহুত্ব যেখানে সমাপ্ত হয় তার সর্বনিম্ন পর্যায় হলো 'এক'। অতএব, সকল কারণের মূল কারণ বিদ্যমান এবং তিনি এক।
আর কারণের সত্তা এবং যা থেকে কারণ উদ্ভূত হয়েছে তার সত্তা এক হওয়া বৈধ নয়; সুতরাং এই জগতের সকল কারণের মূল কারণ তাঁর সত্তার দিক থেকে তাঁর নিম্নস্থ সকল কিছু থেকে স্বতন্ত্র।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ১২)
صِفَات الله وَلما لم يقدر الْإِنْسَان على معرفَة شَيْء سوى مَا شَاهده بحواسه وفهمه بعقله مِمَّا شَاهده لم يجد بدا من وصف البارئ الَّذِي هُوَ سَبَب الْأَسْبَاب والعبارة عَنهُ بِمَا وجد السَّبِيل إِلَيْهِ من الْأَلْفَاظ والأوصاف
فَلَمَّا أَرَادَ الْعبارَة عَنهُ وَالْوَصْف لَهُ وَعلم انه لَا يلْحقهُ شَيْء من جَمِيع الْأَوْصَاف الَّتِي شَاهدهَا وَعلمهَا لِتَفَرُّدِهِ بِذَاتِهِ وَلِأَنَّهُ منزه عَن كل مَا أحسه وعرفه لم يجد طَرِيقا أحسن من أَن ينظر فِي الموجودات الَّتِي لَدَيْهِ فَإِذا تأملها وجدهَا صنفين فَاضلا وخسيسا وَوجد الْأَلْيَق والأجدر بِسَبَب الْأَسْبَاب الْوَاحِد الْحق أَن يُطلق عَلَيْهِ من كل الصِّنْفَيْنِ أفضلهما
مثل أَنه رأى الْمَوْجُود والمعدوم وَعلم أَن الْمَوْجُود أفضل من الْمَعْدُوم فَأطلق القَوْل عَلَيْهِ وَقَالَ إِنَّه مَوْجُود
وَرَأى الْحَيّ وَغير الْحَيّ وَعلم أَن الْحَيّ أفضل من غير الْحَيّ فَأطلق القَوْل عَلَيْهِ وَقَالَ إِنَّه حَيّ
وَرَأى الْعَلِيم وَغير الْعَلِيم فأضاف إِلَيْهِ الْعلم
وَكَذَلِكَ جَمِيع الْأَوْصَاف
على أَن الْوَاجِب على كل من يصف البارئ بِصفة مَا أَن يخْطر بِبَالِهِ مَعَ تِلْكَ الصّفة أَنه بِذَاتِهِ منزه عَن أَن يشبه تِلْكَ الصّفة بل هُوَ أفضل وأشرف وَأَعْلَى وَإنَّهُ لَا يتهيأ لأحد إحاطة الْعلم بِهِ كَمَا هُوَ مُسْتَحقّ لَهُ
ثمَّ إِنَّه إِذا علم هَذَا الَّذِي وصفناه فَيَنْبَغِي أَن يتَأَمَّل أَجزَاء الْعَالم كلهَا
আল্লাহর গুণাবলি যেহেতু মানুষ তার পঞ্চেন্দ্রিয়ের দ্বারা প্রত্যক্ষ করা এবং স্বীয় বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে যা কিছু উপলব্ধি হয়, তা ব্যতীত অন্য কোনো কিছু সম্পর্কে জ্ঞান লাভে অক্ষম, তাই সে মহান স্রষ্টা—যিনি সকল কার্যকারণের মূল কারণ—তাঁর বর্ণনা প্রদান এবং তাঁকে শব্দ ও বিশেষণের মাধ্যমে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে তার আয়ত্তে থাকা শব্দমালা ও গুণাবলির সাহায্য নিতে বাধ্য হয়েছে।
অতঃপর যখন সে তাঁর বর্ণনা ও গুণাবলি প্রকাশ করতে চাইল এবং এটি অনুধাবন করল যে, আল্লাহ তাঁর সত্তাগত অনন্যতার কারণে এবং সকল প্রকার ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও পরিচিত বিষয় থেকে বিমুক্ত হওয়ার দরুন তাঁর প্রত্যক্ষ করা কোনো গুণাবলির সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ নন, তখন সে তার নিকটস্থ বিদ্যমান বিষয়াবলির প্রতি দৃষ্টিপাত করা অপেক্ষা উত্তম কোনো পথ খুঁজে পেল না। সে যখন এগুলো নিয়ে চিন্তা করল, তখন সেগুলোকে দুই শ্রেণিতে বিভক্ত পেল: শ্রেষ্ঠ ও নিকৃষ্ট। সে দেখতে পেল যে, সকল কারণের মূল কারণ, সেই পরম সত্য সত্তার ক্ষেত্রে এই দুই শ্রেণির মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠটি ব্যবহার করাই সর্বাধিক উপযুক্ত ও যথাযোগ্য।
উদাহরণস্বরূপ, সে বিদ্যমান ও অবিদ্যমান বিষয়াবলি দেখল এবং অনুধাবন করল যে, অবিদ্যমানের চেয়ে বিদ্যমান হওয়া অধিকতর শ্রেষ্ঠ। ফলে সে তাঁর ক্ষেত্রে এ কথাটি প্রয়োগ করল এবং বলল যে, তিনি বিদ্যমান।
সে জীবিত ও প্রাণহীন বিষয় দেখল এবং বুঝতে পারল যে, প্রাণহীনের চেয়ে জীবিত হওয়া অধিকতর শ্রেষ্ঠ। ফলে সে তাঁর ক্ষেত্রে এই শব্দ প্রয়োগ করল এবং বলল যে, তিনি চিরঞ্জীব।
সে মহাজ্ঞানী ও জ্ঞানহীন দেখল, অতঃপর তাঁর প্রতি জ্ঞান গুণটি সম্বন্ধযুক্ত করল।
একইভাবে অন্যান্য সকল গুণাবলির ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য।
তবে স্রষ্টাকে কোনো গুণে গুণান্বিত করার সময় প্রত্যেকের জন্য এটি অপরিহার্য যে, সে যেন সেই গুণের সাথে সাথে মনে এই চিন্তা পোষণ করে যে, মহান আল্লাহ স্বীয় সত্তাগতভাবে সেই গুণের সাথে সাদৃশ্য রাখা থেকে পবিত্র; বরং তিনি অধিকতর শ্রেষ্ঠ, অধিকতর সম্মানিত ও সুউচ্চ। আর কোনো ব্যক্তির পক্ষেই তাঁকে সেই উচ্চতায় বেষ্টন করা সম্ভব নয়, যেটির তিনি প্রকৃত হকদার।
অতঃপর যখন সে আমাদের বর্ণিত এই বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবে, তখন তার উচিত হবে সমগ্র জগতের প্রতিটি অংশ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فَإِنَّهُ يجد أفضلهَا مَا هُوَ ذُو نفس ويجد أفضل ذوى الْأَنْفس الَّذِي لَهُ الِاخْتِيَار والإرادة وَالْحَرَكَة الَّتِي عَن روية وَأفضل ذوى الْإِرَادَة وَالْحَرَكَة عَن الروية الَّذِي لَهُ التَّمْيِيز والفكر وَالنَّظَر البليغ فِي العواقب وَهُوَ الْإِنْسَان الْفَاضِل وَأَن يعلم مَعَ ذَلِك أَن الطبيعة لَا تفعل شَيْئا بَاطِلا فَكيف مبدع الطبيعة والبارئ تَعَالَى حَيْثُ هُوَ وهب الِاخْتِيَار والفكر والروية المبرية لم يكن يَنْبَغِي أَن يهمل أمرهَا وَكَانَ من الْوَاجِب فِي عدله وصنعه المتقن أَن ينهج لَهَا منهجا يسلكونه
النبوات وَلما كَانَ ذَلِك وَاجِبا لم يكن يَنْبَغِي أَن يُرْسل إِلَيْهَا من لَيْسَ من طبعها لأَنهم لم يَكُونُوا يقدرُونَ على الِاسْتِفْهَام مِمَّن هُوَ من غير طبعهم فَظَاهر أَن فِي النَّاس وَفِي عُقُولهمْ وقوى نفسهم تفاضلا بَيْننَا حَتَّى أَن الْوَاحِد مِنْهُم يفوق بالفن الْوَاحِد جَمِيع ذوى جنسه ويعجز البَاقِينَ عَنهُ فممكن إِذن أَن يكون من النَّاس من يقوى على أَن يُوحى إِلَى قلبه بِمَا يعجز ذَوُو جنسه عَن مثله حَتَّى يقوم ذَلِك الْوَاحِد بتبليغ مَا يلقى إِلَيْهِ وَيقدر بِتِلْكَ الْقُوَّة وَذَلِكَ الإفهام على تشريع الْأَحْكَام ونهج السبل الداعية إِلَى صَلَاح الْخلق
التميز والاتباع ثمَّ يَنْبَغِي أَن تعلم إِنَّه إِذا ظهر مثل هَذَا الْوَجْه وَتبين أمره فَالْوَاجِب على كل ذِي تَمْيِيز اتِّبَاعه وَأَن تعلم إِن لكل وَاحِد من النَّاس تمييزا وَمَعْرِفَة فَمَتَى عرف الأفهام الْكَثِيرَة والآراء الْمُخْتَلفَة مجتمعة على كلمة وَاحِدَة وَلم يجد مَا هُوَ أظهر مِنْهُ وأكشف وَأقوى فَليتبعْ الْكثير
কারণ তিনি দেখতে পাবেন যে, তাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সেই সত্তা যা প্রাণসম্পন্ন; আর প্রাণীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো তারা যাদের ইখতিয়ার (স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা), ইচ্ছা এবং সুচিন্তিত চিন্তা-প্রসূত গতি রয়েছে। আর ইচ্ছা ও সুচিন্তিত গতিসম্পন্নদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো তারা যাদের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা, চিন্তা ও পরিণাম সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি রয়েছে; আর তিনি হলেন গুণী মানুষ। এর পাশাপাশি এটিও জানা উচিত যে, প্রকৃতি নিরর্থক কিছু করে না; তবে প্রকৃতির উদ্ভাবক এবং মহান স্রষ্টা সম্পর্কে কী ধারণা হতে পারে? যেহেতু তিনি ইখতিয়ার, চিন্তা ও সুনিপুণ বিচারবুদ্ধি দান করেছেন, তাই তাদের বিষয়াদি উপেক্ষা করা সমীচীন ছিল না। বরং তাঁর ইনসাফ ও নিখুঁত কারুকার্যের দাবি ছিল তাদের জন্য এমন একটি পথ নির্ধারণ করা, যা তারা অনুসরণ করবে।
নবুওয়াত (النبوات) যখন এটি আবশ্যক ছিল, তখন তাদের কাছে এমন কাউকে পাঠানো সমীচীন ছিল না যিনি তাদের প্রকৃতির বহির্ভূত; কারণ তারা ভিন্ন প্রকৃতির কারো কাছ থেকে বিষয়াদি বুঝে নিতে সক্ষম হতো না। এটি স্পষ্ট যে, মানুষের মাঝে এবং তাদের বুদ্ধি ও মানসিক শক্তির ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য রয়েছে; এমনকি তাদের মধ্য থেকে কোনো একজন কোনো বিশেষ বিদ্যায় তার সমগোত্রীয় সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে এবং বাকিরা তা অর্জনে অক্ষম হয়। অতএব, এটি সম্ভব যে মানুষের মধ্যে এমন কেউ থাকবেন যার অন্তরে এমন বিষয় ওহি (وحي) করার মতো শক্তি থাকবে যা তার সমগোত্রীয়রা করতে অক্ষম। ফলে সেই ব্যক্তি তার কাছে প্রেরিত বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবেন এবং সেই শক্তি ও বোধশক্তির মাধ্যমে বিধিবিধান প্রণয়ন এবং সৃষ্টির কল্যাণের দিকে আহ্বানকারী পথসমূহ উন্মোচন করতে সক্ষম হবেন।
স্বাতন্ত্র্য ও অনুসরণ এরপর আপনার জানা উচিত যে, যখন এই ধরনের কোনো পথ প্রকাশিত হয় এবং তার স্বরূপ স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন প্রত্যেক বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য তার অনুসরণ করা আবশ্যক। আপনার জানা উচিত যে, প্রত্যেক মানুষেরই বিচারবুদ্ধি ও জ্ঞান রয়েছে। সুতরাং যখন সে দেখবে যে বহুবিধ বোধশক্তি ও ভিন্ন ভিন্ন মত একটি অভিন্ন কথার ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং এর চেয়ে স্পষ্টতর, প্রাঞ্জল ও শক্তিশালী আর কিছু সে না পায়, তবে সে যেন সেই সংখ্যাধিক্যের অনুসরণ করে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فَإِن الْحق مَعَهم والسلامة أبدا مَعَ الْكثير
وَيَنْبَغِي أَن لَا تغره الْوَاقِعَات فِي الندرة وَفِي الآراء المزخرفة فَإِن أَكْثَرهَا أباطيل إِذا تأملنا نعما
الْجَزَاء ثمَّ يَنْبَغِي أَن يعلم إِن الْمُكَافَأَة وَاجِبَة فِي الطبيعة وَإِنَّهَا إِنَّمَا تجب فِي الْأَعْمَال المقرونة بِالنِّيَّاتِ
وَالدَّلِيل على ذَلِك أَن الْمَرْء لَا يجازى على مَا يعمله فِي نَومه وَلَا على مَا لبس من إِرَادَته واختياره مثل سعاله وعطاسه وحياته وَمَوته وتنفسه واغتذائه واستفراغه وَإِن كَانَ فِيهَا بعض الْإِرَادَة
وَلَا يجازى أَيْضا على نياته الْمُجَرَّدَة
وَأول مَا يَنْبَغِي أَن يسْتَدلّ بِهِ الْمَرْء على وجوب الْمُكَافَأَة هُوَ أَنه مَتى مَا أعتقد مَا تقدم ذكره من معرفَة البارئ ووحدانيته وتنزهه عَن صِفَات المخلوقين وَمَعْرِفَة رَسُوله فِي أَي زمَان كَانَ وانتهج النهج الْمُسْتَقيم وجد فِي صَدره سَعَة وَفِي أَحْوَاله استقامة وَعَن الأشرار سَلامَة وَعند الِاخْتِيَار خطْوَة وَفِي معاشه سدادا مِقْدَار مَا يَفْعَله وينويه مِنْهُ
وَإِذا تَيَقّن ذَلِك فَيَنْبَغِي أَن يقدم على سياسة الْأَحْوَال بقلب قوي وَنِيَّة صَادِقَة وَصدر وَاسع وثقة بِأَن مَا يَأْتِيهِ من ذَلِك وَإِن قل يجدي عَلَيْهِ نفعا يجل
কেননা সত্য তাদের সাথেই থাকে এবং নিরাপত্তা সর্বদা সংখ্যাধিক্যের সাথেই থাকে।
আর বিরল ঘটনা এবং চাকচিক্যময় মতামত যেন তাকে প্রতারিত না করে, কেননা আমরা যদি ভালোভাবে লক্ষ্য করি তবে দেখব যে সেগুলোর অধিকাংশ বিষয়ই অসার।
প্রতিদান অতঃপর এটি জানা প্রয়োজন যে, প্রকৃতিগতভাবেই প্রতিদান অবধারিত এবং এটি কেবল নিয়ত বা সংকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মসমূহের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়।
এর প্রমাণ হলো, মানুষ ঘুমের ঘোরে যা করে তার জন্য তাকে কোনো প্রতিদান দেওয়া হয় না এবং তার ইচ্ছা ও পছন্দের বাইরে যা ঘটে তার জন্যেও নয়—যেমন তার কাশি, হাঁচি, জীবন, মৃত্যু, শ্বাস-প্রশ্বাস, আহার গ্রহণ এবং রেচন, যদিও এগুলোর মধ্যে সামান্য ইচ্ছা বিদ্যমান থাকে।
আর কেবল সংকল্পের ওপর ভিত্তি করেও তাকে কোনো প্রতিদান দেওয়া হয় না।
প্রতিদান অবধারিত হওয়ার বিষয়ে মানুষের জন্য প্রথম যে প্রমাণটি গ্রহণ করা উচিত তা হলো—যখনই সে ইতিপূর্বে উল্লিখিত স্রষ্টার পরিচয়, তাঁর একত্ববাদ এবং সৃষ্টির গুণাবলি থেকে তাঁর পবিত্র হওয়া সম্পর্কে বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং যেকোনো যুগের রাসুলের পরিচয় জানবে ও সরল পথ অনুসরণ করবে, তখন সে নিজ অন্তরে এক প্রশস্ততা, নিজ অবস্থায় দৃঢ়তা, অনিষ্টকারীদের থেকে নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতি এবং জীবনযাত্রায় সঠিকতা খুঁজে পাবে—ঠিক ততটুকুই যতটুকু সে আমল করবে এবং নিয়ত করবে।
আর যখন সে এ বিষয়ে নিশ্চিত হবে, তখন তার উচিত হবে সুদৃঢ় হৃদয়, সত্যনিষ্ঠ সংকল্প এবং প্রশস্ত চিত্ত নিয়ে বিষয়াবলি পরিচালনার দিকে অগ্রসর হওয়া এবং এই আস্থা রাখা যে, এ থেকে সে যা অর্জন করবে তা সামান্য হলেও তার জন্য মহান কল্যাণ বয়ে আনবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فصل 2 مَا يَنْبَغِي أَن يَسْتَعْمِلهُ الْمَرْء مَعَ رؤسائه
نبدأ بتعهد الرؤساء لما سنصفه فَنَقُول
إِن الْمَرْء مَعَ من هُوَ فَوْقه من الرؤساء لَا يَخْلُو من أَن يكون متصديا لخدمته أَو يكون بَينه وَبَين من هُوَ فَوْقه حَال يلقاه فِي بعض الْأَوْقَات أَو يكون بالبعد لَا يلقاه إِلَّا بِالذكر
الِاجْتِهَاد فِيمَا فوض إِلَيْهِ فَوَاجِب على الْمَرْء أَن يسْتَعْمل مَعَ من هُوَ متصد لخدمته مَا نقُوله
وَهُوَ أَن يكون ملازما لما هُوَ بصدده مواظبا على مَا فوض إِلَيْهِ ويجتهد أَن يكون نصب عينه إِذا ذكره وَلَا يخْشَى الملال وخصوصا من الْمُلُوك لِأَن مَوضِع الملال إِنَّمَا يكون عِنْد كَثْرَة غشيان النَّاس الْمَوَاضِع الَّتِي لَيْسَ لَهُم فِيهَا عمل
بَيَان محَاسِن الرئيس وَأَن يكون مازجا لَهُ مقرظا لجَمِيع مَا يَأْتِيهِ الرئيس من دق أَو جلّ مُجْتَهدا فِي طلب وُجُوه حسان لكل مَا يَفْعَله ويقوله وَهُوَ وَاجِد ذَلِك إِذْ لَيْسَ شَيْء من الْأُمُور فِي الْعَالم إِلَّا وَله وَجْهَان أَحدهمَا جميل وَالْآخر قَبِيح
পরিচ্ছেদ ২: ঊর্ধ্বতনদের সাথে একজন ব্যক্তির যা আচরণ করা উচিত
আমরা ঊর্ধ্বতনদের প্রতি পালনীয় সেই সব বিষয়ের বিবরণ দিয়ে শুরু করছি যা আমরা বর্ণনা করতে যাচ্ছি এবং আমরা বলছি:
একজন ব্যক্তি তার চেয়ে উচ্চপদস্থ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিন অবস্থার বাইরে নয়: হয় সে তাঁর সরাসরি সেবায় নিয়োজিত থাকে, অথবা তাঁর ও সেই ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির মাঝে এমন কোনো অবস্থা বিদ্যমান থাকে যাতে নির্দিষ্ট সময়ে সে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে, অথবা সে দূরবর্তী কোনো অবস্থানে থাকে যেখানে কেবল স্মরণের মাধ্যমেই তাঁর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে।
অর্পিত বিষয়ে কঠোর পরিশ্রম (الاجتهاد) সুতরাং যে ব্যক্তি সরাসরি সেবায় নিয়োজিত, তাঁর জন্য আমাদের বর্ণিত বিষয়গুলো অনুসরণ করা আবশ্যক।
আর তা হলো, সে যে কার্যে নিয়োজিত তাতে অবিচল থাকা এবং তার ওপর অর্পিত বিষয়ে নিয়মিত হওয়া। সে যেন সচেষ্ট থাকে যাতে তাঁকে স্মরণের সময় তিনি তার দৃষ্টিপটে থাকেন এবং সে যেন বিরক্তির আশঙ্কা না করে, বিশেষ করে রাজন্যবর্গের ক্ষেত্রে; কারণ বিরক্তির উদ্রেক মূলত তখনই হয় যখন মানুষ এমন সব স্থানে অধিক ভিড় জমায় যেখানে তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট কাজ নেই।
কর্তৃপক্ষের গুণাবলি বর্ণনা করা আর সে যেন তাঁর সাথে একাত্ম হয় এবং ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির ছোট-বড় সকল কর্মের প্রশংসা ও স্তুতিগান করে। তাঁর প্রতিটি কথা ও কাজের জন্য সুন্দর দিকগুলো খুঁজে বের করার বিষয়ে কঠোর পরিশ্রম (اجتهاد) করা উচিত। আর সে সেটি খুঁজে পাবে, কারণ জগতের কোনো বিষয়ই এমন নেই যার দুটি দিক বিদ্যমান নয়—একটি সুন্দর এবং অন্যটি কদর্য।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فليطلب لكل أَمر من أُمُوره وَجها جميلا يعرفهُ إِلَيْهِ ويتكلف بِذكرِهِ بِحَضْرَتِهِ وغيبته
بَيَان وَجه الصّلاح للرئيس بالحيلة وَإِن كَانَ الْمَرْء مِمَّن فوض إِلَيْهِ تَدْبِير ذَلِك الرئيس مثل أَن يكون وزيرا أَو مُشِيرا أَو معلما وَلَا بُد من تعريفة وَجه الصّلاح فِي الْأَعْمَال فَليعلم أَن الرئيس كالسيل المنحدر من الربوة إِن أَرَادَ الْمَرْء أَن يصرفهُ إِلَى نَاحيَة من النواحي وواجهه أهلك نَفسه وأتى عَلَيْهِ السَّيْل فأغرقه
وَإِن سعي مَعَه وعَلى جانبيه وتلطف ليصرفه إِلَى النَّاحِيَة الَّتِي يريدها بِأَن يطْرَح فِي بعض جوانبه مِقْدَارًا من السدد ويطرق لَهُ من الْجَانِب الآخر لَا ينشب أَن يصرفهُ إِلَى حَيْثُ شَاءَ
ويبغي لَهُ أَيْضا أَن يسْتَعْمل مَعَ الرئيس فِي صرف وَجهه عَمَّا يُرِيد صرفه من أَمر يُرِيد أَن يجرى مَعَه فِي مَا هُوَ جَار نَحوه وَلَا يواجهه بِأَمْر وَلَا نهي بل يرِيه وَجه الصّلاح فِي خلاف مَا يَأْتِيهِ ويقبح عِنْده فِي الْوَقْت بعد الْوَقْت على سَبِيل الحكايات عَن غَيره والحيل اللطيفة بعض مَا يعرض بِمَا هُوَ فِيهِ فَإِنَّهُ إِذا اسْتعْمل مَعَه هَذِه الطَّرِيقَة لَا يلبث أَن يعود الْحَال بمراده
حفظ أسرار الرئيس وأحواله الظَّاهِرَة وَأَن يكون كَاتِما لأسراره وَالْحِيلَة فِي ذَلِك أَن يكتم جَمِيع أَحْوَاله الظَّاهِرَة بِمَا يقدر عَلَيْهِ فَإِن كَانَ كَاتِما للأحوال الظَّاهِرَة فَهُوَ بالحرى أَن لَا يعثر على إفشاء سر بَاطِن وَلَا يُؤمن على السِّرّ المكتوم أَن يظْهر بِبَعْض الْأَحْوَال الظَّاهِرَة لِأَن الْأُمُور وَالْأَحْوَال مُتَّصِلَة مُتَعَلقَة بَعْضهَا بِبَعْض
সুতরাং তার উচিত তার প্রতিটি কাজের জন্য একটি সুন্দর ব্যাখ্যা খুঁজে বের করা, যা সে তার নিকট উপস্থাপন করবে এবং তার উপস্থিতিতে ও অনুপস্থিতিতে তা বর্ণনা করার প্রয়াস পাবে।
কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে প্রধানের সংশোধনের পদ্ধতি বর্ণনা আর যদি ব্যক্তি এমন কেউ হয় যার ওপর সেই প্রধানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে—যেমন তিনি যদি মন্ত্রী, উপদেষ্টা বা শিক্ষক হন এবং তাকে অবশ্যই কাজের সঠিক বা কল্যাণকর দিকটি অবহিত করতে হয়—তবে তার জেনে রাখা উচিত যে, প্রধান হচ্ছেন পাহাড়ের টিলা থেকে নেমে আসা প্রবল ঢলের মতো। যদি কোনো ব্যক্তি তাকে কোনো এক দিকে ঘুরিয়ে দিতে চায় এবং সরাসরি তার মুখোমুখি হয়, তবে সে নিজেকে ধ্বংস করবে এবং সেই ঢল তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তাকে ডুবিয়ে দেবে।
কিন্তু যদি সে তার সাথে এবং তার পার্শ্বদেশ দিয়ে অগ্রসর হয় এবং তাকে তার কাঙ্ক্ষিত দিকে ফিরিয়ে নিতে বুদ্ধিমত্তা ও নম্রতা অবলম্বন করে—এভাবে যে, সে ঢলের একপাশে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে এবং অন্য পাশ দিয়ে পথ করে দেবে—তবে অচিরেই সে তাকে যেখানে ইচ্ছে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হবে।
নেতার মনোযোগ কোনো বিষয় থেকে সরিয়ে নিতে চাইলে তার উচিত এমন কিছু করা যা নেতার বর্তমান গতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়; সে যেন তাকে সরাসরি কোনো আদেশ বা নিষেধের সম্মুখীন না করে। বরং সে তাকে তার বর্তমান কর্মকাণ্ডের বিপরীতে কল্যাণকর দিকটি দেখাবে এবং অন্যের কাহিনী ও সূক্ষ্ম কৌশলের মাধ্যমে সময়ের ব্যবধানে তার কর্মকাণ্ডের মন্দ দিকগুলো ফুটিয়ে তুলবে। যদি সে এই পদ্ধতি অনুসরণ করে, তবে অচিরেই পরিস্থিতি তার কামনানুযায়ী পরিবর্তিত হবে।
প্রধানের গোপনীয়তা ও বাহ্যিক অবস্থাসমূহ রক্ষা করা তাকে অবশ্যই তার রহস্যসমূহ গোপন রাখতে হবে। আর এর কৌশল হলো, সাধ্যমতো তার সকল বাহ্যিক অবস্থা গোপন রাখা। কেননা, সে যদি বাহ্যিক বিষয়সমূহ গোপন রাখতে পারে, তবে তার দ্বারা অভ্যন্তরীণ গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। আর বাহ্যিক কিছু অবস্থার মাধ্যমে গোপন রহস্য প্রকাশ হয়ে পড়ার বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যায় না, কারণ বিষয় ও অবস্থাসমূহ একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ও সম্পর্কযুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
اعْتِقَاد الرؤساء الْإِصَابَة وسببها وَأَن يعلم إِن للرؤساء همما ينفردون بهَا عَمَّن سواهُم من النَّاس وَهِي أَنهم يَعْتَقِدُونَ فِي جَمِيع من دونهم الِاسْتِخْدَام والاستعباد وَفِي أنفسهم الْإِصَابَة فِي جَمِيع مَا يأتونه وَإِنَّمَا تحدث هَذِه الهمة فيهم لِكَثْرَة مدح النَّاس لَهُم وإطرائهم أَعْمَالهم وتصويبهم آرائهم وَذَلِكَ فِي طباع كل النَّاس
الِاحْتِرَاز بالأخبار عَن النَّفس بِحَضْرَة الرئيس وَأَن يحْتَرز كل الِاحْتِرَاز بِأَن يخبر عَن نَفسه بِحَضْرَة الرئيس شَيْئا يُمكن أَن يتَّخذ ذَلِك بِوَجْه من الْوُجُوه جرما عَلَيْهِ وَإِن كَانَ فِي غَايَة الانبساط مَعَه وَلَا يقر بِمَا يلقى مِنْهُ إِلَى الرئيس مِمَّا يستقبح نِسْيَان بَين الْخَبَر وَالْإِقْرَار وَلَيْسَ يُؤمن تغير الْأَحْوَال
صرف الْقَبِيح عَن الرئيس وَأما إِذا اعْترض بَينه وَبَين الرئيس حَال لَا يُمكن صرف الْقَبِيح مِنْهُ أَلا إِلَيْهِ أَو إِلَى الرئيس فَقَط فليجتهد فِي صرف ذَلِك الْقَبِيح إِلَى نَفسه وليجعل لذَلِك أوجها فَإِذا اتجه الْقَبِيح نَحوه تبرأت ساحة الرئيس مِنْهُ أَو كَاد أَن يتَّجه فَليَحْتَلْ لِأَن يطْلب لذَلِك الْأَمر سَببا يكون بدؤه من غَيره لترجع اللائمة لعيه وَإِن كَانَ بِالْقَصْدِ الثَّانِي على غَيره لِئَلَّا يلْتَزم باللائمة
ترك الْمَرْء حَظّ نَفسه لعلمه وَمَا من شَيْء أبلغ وأعم نفعا فِي بَاب الْعُبُودِيَّة من ترك الْمَرْء حَظّ نَفسه فِي جَمِيع مَا يُبَاشر من الْأَعْمَال الرئيسية فَإِنَّهُ مَا من أَمر يتعاطاه الْمَرْء مِمَّا هُوَ بَينه وَبَين الرئيس أَلا ويجد لنَفسِهِ فِيهِ مَوضِع حَظّ فَيَنْبَغِي أَن يتْركهُ ويتجنبه ويستخلص لما هُوَ حَظّ الرئيس فَإِنَّهُ مهما فعل ذَلِك اجتنى ثمره
নেতৃবৃন্দের নিজেদের নির্ভুল মনে করার ধারণা এবং এর কারণ এবং এটি জানা উচিত যে, নেতৃবৃন্দের এমন কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকে যা তাদের অন্য সাধারণ মানুষের থেকে স্বতন্ত্র করে তোলে; আর তা হলো—তারা তাদের অধীনস্থ সকলের ক্ষেত্রে নিজেদের সেবক ও দাসের মতো ব্যবহার করার মানসিকতা পোষণ করে এবং নিজেদের প্রতিটি কাজে নিজেদের নির্ভুল মনে করে। তাদের মধ্যে এই মানসিকতা তৈরি হয় মূলত মানুষের অত্যধিক প্রশংসা, চাটুকারিতা এবং তাদের প্রতিটি কাজ ও মতামতের প্রতি জনৈক ব্যক্তিদের সমর্থনের আধিক্যের কারণে। আর এটি সকল মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত।
নেতার উপস্থিতিতে নিজের সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা নেতার উপস্থিতিতে নিজের সম্পর্কে এমন কোনো সংবাদ (خبر) দেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, যা কোনো না কোনোভাবে নিজের বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ার অবকাশ রাখে; যদিও তার সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও সাবলীল সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে। নেতার নিকট নিজের এমন কোনো বিষয় স্বীকার (إقرار) করা উচিত নয় যা কুৎসিত বলে গণ্য হয়, কারণ সংবাদ (خبر) এবং স্বীকৃতির (إقرار) মাঝে পার্থক্যের বিষয়টি বিস্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে যেতে পারে এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়াও অসম্ভব নয়।
নেতার ওপর থেকে অপ্রীতিকর বিষয় সরিয়ে নেওয়া পক্ষান্তরে, যদি নেতা এবং তার মাঝে এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যেখানে কোনো একটি অপ্রীতিকর বিষয় হয় তার নিজের ওপর অথবা শুধুমাত্র নেতার ওপর বর্তানো ছাড়া কোনো উপায় না থাকে, তবে সেই মন্দটি নিজের দিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত এবং এর জন্য নানাবিধ যুক্তি খুঁজে বের করা কর্তব্য। যখন সেই দোষটি নিজের দিকে ধাবিত হবে, তখন নেতার মর্যাদা নিষ্কলঙ্ক থাকবে। আর যদি তা নেতার দিকে ধাবিত হওয়ার উপক্রম হয়, তবে এমন কোনো কৌশল অবলম্বন করা উচিত যাতে সেই বিষয়টির সূত্রপাত অন্য কারো মাধ্যমে হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়, ফলে নিন্দা তার ওপরই ফিরে যায়; যদিও পরোক্ষভাবে তা অন্যের ওপর বর্তানো হয় যাতে নেতার ওপর কোনো নিন্দা না আসে।
জ্ঞানের কারণে ব্যক্তির নিজ স্বার্থ ত্যাগ করা আনুগত্য ও সেবার ক্ষেত্রে ব্যক্তির জন্য নিজের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়ার চেয়ে অধিক ফলপ্রসূ ও ব্যাপক কল্যাণকর আর কিছুই নেই, বিশেষ করে নেতৃত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট কার্যাবলীর ক্ষেত্রে। কেননা, নেতার সাথে ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট এমন কোনো কাজ নেই যাতে তার নিজস্ব কোনো স্বার্থের জায়গা নেই; সুতরাং তা বর্জন করা এবং তা থেকে দূরে থাকা উচিত এবং যা নেতার স্বার্থের অনুকূল, তা একনিষ্ঠভাবে সম্পাদন করা উচিত। কেননা, যখনই সে এরূপ করবে, তখনই সে এর সুফল ভোগ করবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
خَيره وَمهما اشْتغل بِاسْتِيفَاء حَظه لَا يَأْتِي الْأَمر على وَجهه وَوَقع فِيهِ خلل وَترك الْأَمر خير من إفساده
طلب أَسبَاب الْمَنَافِع وَيَنْبَغِي أَن يتلطف كل التطلف فِي نيل الْمَنَافِع من جِهَة الرؤساء بِأَن لَا يلح فِي السُّؤَال وَلَا يديمه وَلَا يظْهر الطمع والشره من نَفسه ويجتهد فِي أَن يطْلب من الرؤساء أَسبَاب الْمَنَافِع لَا الْمَنَافِع أَنْفسهَا مثل إِطْلَاق الْيَد فِي وُجُوه يجلب مِنْهَا الْأَمْوَال وَالْمَنَافِع ليقل السُّؤَال وَيكثر النَّفْع ويجتهد فَأن ينْتَفع بالرئيس لَا مِنْهُ من انْتفع بهم أعزوه وَمن انْتفع مِنْهُم ملوه
يضع لمرءوس مَاله وَنَفسه فِي خدمَة الرئيس وليضع نَفسه عِنْدهم فِي صُورَة من يتخلع عَن ملكه وقنيته لَهُم بِأَهْوَن كلمة وأدون سعى وليحذر كل الحذر من أَن يتَصَوَّر عِنْدهم مِنْهُ أَنه يضن بِمَالِه أَو يحب أَن يستأثر بِشَيْء من مفتنياته فَإِنَّهُ يصير حِينَئِذٍ بِعرْض من الِاسْتِقْصَاء والممنوع محروص عَلَيْهِ والمبذول مملول مِنْهُ وليجتهد أَن يظْهر فِي كل مَا يَقْتَضِيهِ إِنَّمَا يَفْعَله ليَكُون زِينَة وجمالا للرئيس لَا لنَفسِهِ فَأَنَّهُ ملاك للإبقاء
الابتعاد عَمَّا ينْفَرد بِهِ الرؤساء وليحذر أَن يتَّخذ لنَفسِهِ شَيْئا مِمَّا يتفرد بِهِ الرئيس أَو مِمَّا يَلِيق بالرؤساء الَّذين فَوْقه فَإِنَّهُ كلما اتخذ شَيْئا من ذَلِك عرض نَفسه للهلاك وَعرض ذَلِك الشَّيْء للذهاب
তার কল্যাণ; আর যখনই সে নিজের স্বার্থ উদ্ধারে মশগুল হবে, তখন বিষয়টি যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে না এবং তাতে ত্রুটি (خلل) দেখা দেবে। আর কোনো বিষয়কে নষ্ট করার চেয়ে তা বর্জন করাই শ্রেয়।
উপকারের মাধ্যমসমূহ অন্বেষণ করা নেতৃবর্গের পক্ষ থেকে উপকার লাভের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নম্রতা অবলম্বন করা উচিত; আর তা এভাবে যে, আবেদনের ক্ষেত্রে পীড়াপীড়ি করবে না এবং তা দীর্ঘায়িত করবে না। নিজের পক্ষ থেকে লোভ ও লালসা প্রকাশ করবে না। সে আপ্রাণ চেষ্টা করবে নেতৃবর্গের কাছে উপকারের উপায়-উপকরণ প্রার্থনা করতে, সরাসরি উপকার নয়। যেমন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ গ্রহণ করা, যেখান থেকে অর্থ-সম্পদ ও সুবিধা অর্জন করা যায়, যাতে যাঞ্চা কমে যায় এবং উপকার বৃদ্ধি পায়। সে চেষ্টা করবে নেতার মাধ্যমে উপকৃত হতে, সরাসরি নেতার থেকে নয়। যারা তাদের (নেতৃবর্গের) মাধ্যমে উপকৃত হয় তারা তাদের কাছে সম্মানিত হয়, আর যারা সরাসরি তাদের থেকে ফায়দা হাসিল করে তারা তাদের কাছে বিরক্তিকর হয়ে ওঠে।
অধীনস্থ ব্যক্তি নেতার সেবায় নিজের সম্পদ ও জীবন উৎসর্গ করবে সে তাদের নিকট নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করবে যে, সে তার সামান্যতম কথায় এবং অতি সামান্য প্রচেষ্টায় নিজের মালিকানা ও অর্জিত সম্পদ তাদের জন্য বিসর্জন দিতে প্রস্তুত। সে এ ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকবে যেন তাদের মনে এমন ধারণার উদ্রেক না হয় যে, সে তার সম্পদের ব্যাপারে কৃপণতা করছে অথবা নিজের কোনো প্রিয় বস্তুকে একচ্ছত্রভাবে ভোগ করতে পছন্দ করছে। কারণ এমতাবস্থায় সে সূক্ষ্ম তদন্ত ও হিসাবের সম্মুখীন হবে। কেননা যা নিষিদ্ধ তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা হয়, আর যা অবারিত তার প্রতি অনীহা তৈরি হয়। সে যা কিছু করবে তাতে যেন এই বিষয়টি প্রকাশ পায় যে, সে কেবল নেতার সৌন্দর্য ও শোভাবর্ধনের জন্যই তা করছে, নিজের জন্য নয়; কারণ এটিই সন্তুষ্টি বজায় রাখার মূল ভিত্তি।
নেতৃবর্গের জন্য নির্দিষ্ট বিষয়াদি থেকে দূরে থাকা নেতার জন্য বিশেষ কোনো বস্তু বা তার ঊর্ধ্বতন নেতৃবর্গের জন্য শোভনীয় কোনো বিষয় নিজের জন্য গ্রহণ করার ব্যাপারে সে অত্যন্ত সতর্ক থাকবে। কেননা যখনই সে এর মধ্য থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করবে, সে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে এবং সেই বস্তুকেও বিলুপ্তির দিকে নিয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إِظْهَار حَاجته للرؤساء فِي كل الْأَحْوَال وَيَنْبَغِي أَن لَا يظْهر من نَفسه إِلَّا الِاسْتِغْنَاء عَن الرؤساء وَلَا فِيمَا يقل مِقْدَاره وَأَن يكون مظْهرا أبدا قناعة ورضى بِكُل مَا يتَصَرَّف فِيهِ من الْأُمُور وَالْأَحْوَال
ترك الشكاية والعداوة من مسخطة الرئيس وَمَتى مَا لحقته سخطه من الرئيس أَو ملال وَمَا أشبهه فليجتهد فِي ترك الشكاية مِنْهُ وليحظر من إِظْهَار الْعَدَاوَة والحقد وليصرف وَجه الذَّنب مِنْهُ إِلَى نَفسه ثمَّ ليجتهد ويتطلف لتجديد حَال يزِيل تِلْكَ السخطة بِأَهْوَن مَا يقدر عَلَيْهِ
فَهَذِهِ قوانين ينْتَفع باستعمالها فِي معاشرة الرؤساء
সকল অবস্থায় নেতৃবৃন্দের নিকট নিজের প্রয়োজন প্রকাশ করা ব্যক্তির উচিত নেতৃবৃন্দের নিকট অমুখাপেক্ষিতা ব্যতীত অন্য কিছু প্রকাশ না করা, এমনকি তা অতি সামান্য বিষয়েও হোক না কেন। তার উচিত যাবতীয় বিষয় ও অবস্থায় সর্বদা অল্পেতুষ্টি এবং সন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ ঘটানো।
নেতৃবৃন্দের অসন্তুষ্টির মুখে অভিযোগ ও শত্রুতা পরিহার করা যখনই কোনো নেতার পক্ষ থেকে ব্যক্তির প্রতি অসন্তুষ্টি, বিরক্তি বা এই জাতীয় কিছু পরিলক্ষিত হয়, তখন সে যেন তার ব্যাপারে অভিযোগ করা বর্জনের আপ্রাণ চেষ্টা করে। শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করা থেকে বিরত থাকা তার জন্য আবশ্যক এবং সে যেন ত্রুটির দায় নিজের দিকেই ফিরিয়ে নেয়। অতঃপর সে যেন অত্যন্ত নম্রতা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিস্থিতি সংশোধন করার চেষ্টা করে, যাতে সেই অসন্তুষ্টি সম্ভাব্য সহজতম উপায়ে দূরীভূত হয়।
এগুলো হলো কতিপয় মূলনীতি, যা নেতৃবৃন্দের সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ২০)
فصل 3 مَا يَنْبَغِي للمرء أَن يَسْتَعْمِلهُ مَعَ أكفائه
أما مَا يَنْبَغِي للمرء أَن يَسْتَعْمِلهُ مَعَ الْأَكفاء فسنذكر مِنْهُ جملا ونقول إِن الْأَكفاء لَا يخلون من أَن يَكُونُوا أصدقاء أَو أَعدَاء أَو لَيْسُوا بأصدقاء وَلَا أَعدَاء
أَصْنَاف الأصدقاء وأحوالهم والأصدقاء صنفان
أَحدهمَا الأصفياء المخلصون فِي الصداقة فَيَنْبَغِي للمرء أَن يديم ملاطفتهم وتعهد أَحْوَالهم وأسبابهم وإهداء مَا يستحسنه وَمَا تيَسّر لَهُ إِلَيْهِم فِي كل وَقت وَيخْفى الْحَال فِيمَا بَينه وَبينهمْ بِغَيْر أَن يظْهر مِنْهُ ملال أَو تَقْصِير
ويجتهد فِي الأكثار مِنْهُم غَايَة الْجهد فَإِن الصّديق زين الْمَرْء وعضده وعونه وناصره ومذيع فضائلة وكاتم هفواته وَمَا حَيّ زلاته وَمهما كَانَ هَؤُلَاءِ أَكثر كَانَت أَحْوَال الْمَرْء فِيمَا بَينهم أحسن وأقوم
والصنف الآخر الأصدقاء فِي الظَّاهِر عَن غير صدق فِيمَا يظهرونه بل بتشبه وتصنع فَيَنْبَغِي للمرء أَن يجاملهم وَيحسن إِلَيْهِم وَلَا يطلعهم عَن شَيْء من أسراره وخصوصا من عيونه وَلَا يلقى إِلَيْهِم من خَواص أَحَادِيثه وأفعاله وأحواله وَلَا يحثهم عَن نعْمَة وَلَا عَن أَسبَاب مَنَافِعه
وليجتهد فِي استمالتهم وَالصَّبْر مَعَهم بِحَسب الظَّاهِر دون أَخذهم بِالْبَاطِلِ وَلَا يَأْخُذهُمْ بالتقصير وَلَا يقطع عتابهم فِيمَا يَقع مِنْهُم من التَّقْصِير وَلَا يجازهم
৩য় পরিচ্ছেদ: সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের সাথে একজন ব্যক্তির যেমন আচরণ করা উচিত
সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের সাথে একজন মানুষের কীরূপ আচরণ করা উচিত সে বিষয়ে আমরা কিছু সারসংক্ষেপ উল্লেখ করব। আমরা বলব যে, সমপর্যায়ের ব্যক্তিরা বন্ধু, শত্রু অথবা বন্ধুও নয় শত্রুও নয়—এই তিন অবস্থার (أحوال) বাইরে হতে পারে না।
বন্ধুদের শ্রেণিবিভাগ ও তাদের অবস্থা (أحوال) বন্ধুরা দুই প্রকারের:
প্রথম প্রকার হলো সেই সব অকৃত্রিম বন্ধু যারা বন্ধুত্বে একনিষ্ঠ (مخلص)। ব্যক্তির উচিত তাদের সাথে সদা কোমল আচরণ করা, নিয়মিত তাদের অবস্থা (أحوال) ও বিষয়াদির খোঁজখবর রাখা এবং সব সময় তার কাছে যা উত্তম ও সহজলভ্য মনে হয় তা তাদের উপহার দেওয়া। তাদের মধ্যকার নিভৃত অবস্থা (أحوال) গোপন রাখা উচিত এবং তার পক্ষ থেকে কোনো প্রকার বিরক্তি বা অবহেলা (تقصير) প্রকাশ পাওয়া উচিত নয়।
সে যেন তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করে। কারণ বন্ধু হলো মানুষের অলঙ্কার, তার বাহুবল, তার সাহায্যকারী, তার গুণাবলির প্রচারক এবং তার পদস্খলন ও ত্রুটিসমূহ গোপনকারী। তাদের সংখ্যা যত বেশি হবে, তাদের মাঝে ব্যক্তির অবস্থা (أحوال) তত সুন্দর ও সুদৃঢ় হবে।
দ্বিতীয় প্রকার হলো সেই সব বন্ধু যারা কেবল বাহ্যিকভাবে বন্ধুত্ব প্রকাশ করে কিন্তু তাদের অন্তরে কোনো সত্যতা নেই; বরং তারা সাদৃশ্য গ্রহণ ও কৃত্রিমতা প্রদর্শন করে। ব্যক্তির উচিত তাদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করা এবং সদাচার বজায় রাখা, কিন্তু সে যেন তাদের কাছে নিজের কোনো গোপন বিষয় বিশেষ করে নিজের ত্রুটিসমূহ (عيوب) প্রকাশ না করে। সে তার বিশেষ হাদিস, কাজ ও অবস্থার (أحوال) কোনো কিছুই তাদের সামনে তুলে ধরবে না এবং তার নেয়ামত বা উপকারের উপায়সমূহ সম্পর্কে তাদের অবহিত করবে না।
সে যেন তাদের মন জয়ের চেষ্টা করে এবং বাহ্যিকভাবে তাদের সাথে ধৈর্য ধারণ করে, তবে কোনো অসার বা বাতিল (باطل) কাজে তাদের ছাড় না দেয়। তাদের কোনো অবহেলার (تقصير) জন্য সে যেন পাকড়াও না করে এবং তাদের পক্ষ থেকে সংঘটিত অবহেলার (تقصير) জন্য ভর্ৎসনা করাও একেবারে বন্ধ না করে, আবার যেন তাদের প্রতিশোধও না নেয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ২১)
على ذَلِك فَإِنَّهُ مهما فعل ذَلِك ترجى صَلَاحهمْ ورجوعهم إِلَى مُرَاده ولعلهم يصيرون فِي رُتْبَة الأصفياء لَهُ وَلَيْسَ شَيْء أدل على صدق الإخاء وَإِظْهَار الْوَفَاء وَلَا أَشد استجلابا للمحبة وَوُجُوب الْحق من تعهد أَحْوَال أصدقاء الأصدقاء فَإِن الْمَرْء إِذا رأى صديقه وَهُوَ يتعهد أَحْوَال أخلانه والمتصلين بِهِ يسْتَدلّ بذلك على صدق محبته لَهُ ويثق بوداده ويقوى أمله ورجاؤه فِيهِ وَأفضل مَا يَسْتَعْمِلهُ الْمَرْء مَعَ أصدقائه هُوَ أَن يتعهد أَحْوَالهم عِنْد الْحَاجة والفاقة ويؤاسيهم بِمَا يُمكنهُ من غير أَن يحوجهم إِلَى المسئلة ويتعاهد أقاربهم وعائلاتهم إِذا مَاتُوا فَإِنَّهُ مَتى شهر بذلك رغب صداقته كل أحد وَبِذَلِك يكثر أصدقاؤه
أَصْنَاف والأعداء وأحوالهم والأعداء أَيْضا صنفان
أَحدهمَا ذَوُو الأحقاد والضغائن وَيَنْبَغِي للمرء أَن يحترس مِنْهُم كل الاحتراس ويستطلع عَن أَحْوَالهم بِكُل مَا أمكنه وَمهما اطلع مِنْهُم على مكر أَو خديعة أَو تَدْبِير يدبرونه فليقابلهم بِمَا يُنَاقض تدبيرهم وَيكثر الشكاية مِنْهُم إِلَى الرؤساء وإفناء النَّاس ليعرفوا بعداوتهم حَتَّى لَا ينجح فِي أحد قَوْلهم عَلَيْهِ وليصيروا متهمين عِنْد النَّاس فِي أَقْوَالهم وأفعالهم بِمَا ظهر عِنْدهم من معاداتهم إِيَّاه
وكل من آيس الْمَرْء من صَلَاحه وتيقن سوء طبعه وَتمكن الضغينة من قلبه فلينتهز الفرصة فِي إهلاكه وَمهما وجدهَا فلينتهزها وَلَا يتغافل عَمَّا
এর ওপর ভিত্তি করে, সে যাই করুক না কেন, তাদের সংশোধন এবং তার অভিপ্রায় অনুযায়ী ফিরে আসার আশা করা যায়। সম্ভবত তারা তার নিকট খাঁটি বন্ধুদের স্তরে উন্নীত হবে। ভ্রাতৃত্বের সত্যতা (صدق) প্রকাশ এবং আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য এর চেয়ে বড় কোনো প্রমাণ নেই। আর ভালোবাসা আকর্ষণ এবং অন্যের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে বন্ধুদের বন্ধুদের খোঁজ-খবর রাখার চেয়ে অধিক কার্যকর কিছু নেই। কেননা কোনো ব্যক্তি যখন দেখে যে তার বন্ধু তার অন্যান্য সুহৃদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তদারকি করছে, তখন সে তার প্রতি বন্ধুর ভালোবাসার সত্যতা (صدق) সম্পর্কে প্রমাণ পায়, তার বন্ধুত্বের ওপর আস্থা (يثق) স্থাপন করে এবং তার প্রতি আশা ও প্রত্যাশা বৃদ্ধি পায়। বন্ধুদের সাথে কোনো ব্যক্তির সর্বোত্তম আচরণ হলো অভাব ও দারিদ্র্যের সময় তাদের দেখাশোনা করা এবং তাদের সাহায্য প্রার্থনায় বাধ্য না করে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা। আর তাদের মৃত্যুর পর তাদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের তদারকি করা। কেননা যখন কেউ এই গুণের মাধ্যমে প্রসিদ্ধি লাভ করে, তখন প্রত্যেকেই তার বন্ধুত্ব কামনা করে এবং এর ফলে তার বন্ধুর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
শত্রুদের প্রকারভেদ ও তাদের অবস্থাসমূহ
শত্রুরাও দুই প্রকার।
তাদের এক প্রকার হলো বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণকারী। মানুষের উচিত তাদের থেকে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং সাধ্যমতো তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা। যখনই তাদের পক্ষ থেকে কোনো চক্রান্ত, প্রতারণা বা ষড়যন্ত্রের খবর পাওয়া যায়, তখন তার বিপরীতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আর দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের নিকট তাদের সম্পর্কে অভিযোগ বৃদ্ধি করা উচিত যাতে তারা তাদের শত্রুতা সম্পর্কে জানতে পারে; ফলে তার বিরুদ্ধে তাদের কোনো কথা ফলপ্রসূ না হয় এবং তাদের শত্রুতা প্রকাশ পাওয়ার কারণে মানুষের নিকট তারা তাদের কথা ও কাজে অভিযুক্ত (متهمين) হিসেবে গণ্য হয়।
যে ব্যক্তির সংশোধন থেকে মানুষ নিরাশ হয়, যার স্বভাবের মন্দ হওয়া নিশ্চিত হয়ে যায় এবং যার অন্তরে শত্রুতা গেঁথে যায়, তার ক্ষেত্রে তাকে দমন করার সুযোগ অন্বেষণ করা উচিত। যখনই সেই সুযোগ আসবে, তা গ্রহণ করা উচিত এবং এ ব্যাপারে মোটেও গাফিলতি করা উচিত নয়...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ২২)
يُمكنهُ إِذا يتقن بقدرته على إهلاكه
وَأَن علم إِنَّه رُبمَا لَا يقدر على إتْمَام أمره والنجاة مِنْهُ فَلَا يسْرع فِي شَيْء مِنْهُ لِئَلَّا يجد الْعَدو عَلَيْك مِمَّا يتَعَلَّق بِهِ عِنْد النَّاس مِمَّا يمهد لنَفسِهِ عِنْدهم فِي عداوته عذرا
والصنف الآخر من الْأَعْدَاء الحساد وَيَنْبَغِي للمرء أَن يظْهر لَهُم ملا يغيظهم ويؤذيهم بِأَن يلقى إِلَيْهِم ذكر النعم الَّتِي يخْتَص بهَا لتذوب لَهَا نُفُوسهم ويحترز مَعَ ذَلِك من دسيستهم ويحتال لظُهُور حسدهم فِيهِ وَفِي غَيره من النَّاس ليعرفوا بذلك
مَا لَيْسَ بأصدقاء وَلَا أَعدَاء وأحوالهم فَأَما سَائِر النَّاس الَّذين لَيْسُوا بصديق وَلَا عَدو وَلَا متصنع فهم طَبَقَات سنذكر جلها وَجل مَا يَنْبَغِي للمرء أَن يَسْتَعْمِلهُ مَعَ كل طَائِفَة مِنْهَا
أ - النصحاء
فَمنهمْ النصحاء الَّذين يتبرعون بِالنَّصِيحَةِ فَالْوَاجِب على الْمَرْء أَن يتفرغ بالخلوة مَعَ كل من أدعى أَنه نَاصح لَهُ وَيسمع إِلَى قَوْله ويعزم على قلبه أَولا بِأَن لَا يغتر بِكُل قَول يسمعهُ وَأَن لَا يعجل إِلَى قبُوله وَلَا يعْمل بِكُل مَا يُنْهِي إِلَيْهِ بل يتَأَمَّل أقاويلهم ويتعرف أغراضهم غَايَة التعرف ليقف مَعَ معرفَة أغراضهم على حَقِيقَة أقاويلهم فَإِذا لَاحَ لَهُ وَجه الصَّوَاب وَحَقِيقَة الْأَمر فِي شَيْء مِمَّا ألقوه إِلَيْهِ بَادر إِلَى إِنْفَاذ الْأَمر فِيهِ وَليكن تلقيه لكل وَاحِد مِنْهُم بهشاشة وَإِظْهَار حرص على مَا يلقيه إِلَيْهِ
যদি শত্রু নিধনে নিজের সামর্থ্যের ব্যাপারে সে পূর্ণ নিশ্চিত থাকে, তবেই সে তা করতে পারে।
আর যদি সে বুঝতে পারে যে, সম্ভবত সে তার উদ্দেশ্য পূর্ণ করতে এবং তার কবল থেকে মুক্তি পেতে সক্ষম হবে না, তবে যেন সে এসবের কোনো কিছুতেই তাড়াহুড়ো না করে। যাতে মানুষের সামনে শত্রু তার বিরুদ্ধে এমন কোনো অযুহাত না পায়, যা সে নিজের শত্রুতাকে ন্যায়সঙ্গত করার জন্য মানুষের কাছে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
শত্রুদের অন্য একটি শ্রেণী হলো ঈর্ষাপরায়ণ ব্যক্তি (حساد)। একজন ব্যক্তির উচিত তাদের সামনে এমন কিছু প্রকাশ করা যা তাদের ক্রোধান্বিত ও ব্যথিত করে; যেমন—তার প্রতি বিশেষ নেয়ামতসমূহের কথা তাদের কাছে তুলে ধরা, যাতে তাদের অন্তর তাতে দগ্ধ হয়। এর পাশাপাশি তাদের গোপন ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক থাকতে হবে এবং তাদের সেই হিংসা যেন তার ও অন্য মানুষের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়ে সেই কৌশল অবলম্বন করতে হবে, যাতে মানুষ তাদের চিনতে পারে।
যারা বন্ধু বা শত্রু কোনোটিই নয় এবং তাদের অবস্থা বাকি সব মানুষ যারা বন্ধু, শত্রু বা কৃত্রিম আচরণকারী নয়, তারা বিভিন্ন স্তরের। আমরা তাদের অধিকাংশের কথা এবং প্রত্যেক দলের সাথে কী ধরনের আচরণ করা উচিত তার প্রধান দিকগুলো উল্লেখ করব।
অ - কল্যাণকামী (نصحاء)
তাদের মধ্যে একদল হলো সেই কল্যাণকামী (نصحاء) যারা স্বপ্রণোদিত হয়ে উপদেশ প্রদান করে। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি নিজেকে তার হিতাকাঙ্ক্ষী বলে দাবি করে, তবে তার কর্তব্য হলো তার সাথে একান্তে বসার জন্য সময় বের করা এবং তার কথা শোনা। তবে মনে মনে এই সংকল্প আগে থেকেই রাখতে হবে যে, শোনা প্রতিটি কথায় সে প্রতারিত হবে না, তা গ্রহণে তাড়াহুড়ো করবে না এবং তাকে যা বলা হলো তার সবটুকুর ওপর আমল করবে না। বরং তাদের কথাগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে এবং তাদের উদ্দেশ্যগুলো সূক্ষ্মভাবে জানার চেষ্টা করবে, যাতে তাদের উদ্দেশ্য চেনার মাধ্যমে তাদের কথার বাস্তবতা অনুধাবন করা যায়। অতঃপর তাদের উপস্থাপিত বিষয়ের মধ্যে যখন সঠিক পথ ও প্রকৃত সত্য পরিস্ফুট হবে, তখন সে তা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আর তাদের প্রত্যেকের সাথে প্রফুল্ল চিত্তে সাক্ষাৎ করবে এবং তারা যা বলছে তার প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ب - الصلحاء وَمِنْهُم الصلحاء وهم إناس يتبرعون لإِصْلَاح مَا بَين النَّاس فَيجب على الْمَرْء أَن يمدحهم أبدا على مَا يَفْعَلُونَهُ وَإِن يتشبه بهم فِي جَمِيع أَحْوَاله فَإِن مذاهبهم مرضية عِنْد جَمِيع النَّاس وَمهما تشبه الْمَرْء بهم عرف بِالْخَيرِ وَحسن النِّيَّة
ج - السُّفَهَاء وَمِنْهُم السُّفَهَاء فَيجب على الْمَرْء اسْتِعْمَال الْحلم مَعَهم وَأَن لَا يؤاتيهم وَلَا يقابلهم بِمَا هُوَ فِيهِ من السفاهة بل يتلقاهم أبدا بحلم رزين وَسُكُون بليغ ليعرفوا قلَّة مبالاته بِمَا هم فِيهِ وَلَا يؤذوه بعد ذَلِك مَتى تلقوهُ بالمشاتمة والسفه فَيجب إِن يتلقاهم بالمحقرة وَقلة الاكتراث
د - أهل الْكبر والمنافة وَمِنْهُم أهل الْكبر والمنافة فَيجب على الْمَرْء أَن يقابلهم بِمثلِهِ لِأَنَّهُ إِن تواضع أحسوا مِنْهُ بِضعْف وتوهموا أَن فِيهِ لينًا وَأَن فعلهم ذَلِك صَوَاب وَأَنه لَا بُد للنَّاس من التَّوَاضُع لَهُم وَمَتى تكبر الْمَرْء عَلَيْهِم وكابرهم فِي الْأَحْوَال وتأذوا بِهِ علمُوا أَن الذَّنب فِي ذَلِك مِنْهُم وَرَجَعُوا إِلَى التَّوَاضُع وَحسن المعاشرة
খ - পুণ্যবান (الصلحاء) তাদের মধ্যে রয়েছেন পুণ্যবান (الصلحاء) ব্যক্তিগণ। তাঁরা হলেন এমন একদল মানুষ যারা মানুষের মাঝে বিবাদ নিরসনে স্বেচ্ছায় আত্মনিয়োগ করেন। সুতরাং মানুষের উচিত সর্বদা তাঁদের সৎকর্মের জন্য তাঁদের প্রশংসা করা এবং নিজের যাবতীয় অবস্থায় তাঁদের অনুকরণ করা। কেননা তাঁদের অনুসৃত পন্থা সকল মানুষের নিকট পছন্দনীয়। আর মানুষ যখনই তাঁদের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, তখনই সে কল্যাণ ও সদিচ্ছার অধিকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।
গ - নির্বোধ (السُّفَهَاء) তাদের মধ্যে রয়েছেন নির্বোধ (السُّفَهَاء) শ্রেণি। তাদের ক্ষেত্রে সহনশীলতা অবলম্বন করা এবং তাদের বোকামির সাথে তাল না মেলানো কিংবা অনুরূপ বোকামির মাধ্যমে তাদের মোকাবিলা না করা ব্যক্তির জন্য কর্তব্য। বরং সর্বদা গাম্ভীর্যপূর্ণ ধৈর্য ও গভীর প্রশান্তির সাথে তাদের মোকাবিলা করা উচিত, যাতে তারা তাদের আচরণের প্রতি ব্যক্তির ভ্রুক্ষেপহীনতা সম্পর্কে অবগত হতে পারে। আর তারা যখন গালিগালাজ ও নির্বুদ্ধিতা নিয়ে উপস্থিত হবে, তখন যেন সে তা তুচ্ছজ্ঞান ও গুরুত্বহীনতার সাথে মোকাবিলা করে; তবে এর পর তারা তাকে আর কষ্ট দেবে না।
ঘ - অহংকারী ও দাম্ভিক (أهل الْكبر والمنافة) তাদের মধ্যে রয়েছেন অহংকারী ও দাম্ভিক (أهل الْكبر والمنافة) ব্যক্তিগণ। ব্যক্তির উচিত তাদের সাথে অনুরূপ গাম্ভীর্যের সাথে মোকাবিলা করা। কারণ সে যদি তাদের প্রতি বিনয় প্রদর্শন করে, তবে তারা তার মাঝে দুর্বলতা অনুভব করবে এবং ধারণা করে নেবে যে তার চরিত্রে নমনীয়তা রয়েছে এবং তাদের ঐ রূপ আচরণই সঠিক এবং মানুষের উচিত তাদের সামনে বিনত হওয়া। পক্ষান্তরে ব্যক্তি যখন তাদের প্রতি অহংবোধ প্রকাশ করবে এবং বিভিন্ন অবস্থায় তাদের সাথে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই করবে আর তারা এতে ব্যথিত হবে, তখন তারা বুঝতে পারবে যে এর মূল ত্রুটি তাদেরই মাঝে বিদ্যমান এবং তারা পুনরায় বিনয় ও উত্তম সামাজিক আচরণের দিকে ফিরে আসবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فصل 4 مَا يَنْبَغِي أَن يَسْتَعْمِلهُ الْمَرْء مَعَ من دونه
وَأما الَّذِي يَنْبَغِي للمرء أَن يَسْتَعْمِلهُ مَعَ من دونه من النَّاس فَإنَّا نصف مِنْهُم مَا تيَسّر ونقول
أَصْنَاف الضُّعَفَاء وأحوالهم إِن مِنْهُم الضُّعَفَاء وهم صنفان
أ - المحاويج ذَوُو الْفَاقَة وصنوفهم
أَحدهمَا المحاويج ذَوُو الْفَاقَة وهم صنوف مِنْهُم الملحفون فَيَنْبَغِي أَن لَا يعطيهم وَلَا يبْذل لَهُم على إلحاحهم شَيْئا لينزجروا عَن ذَلِك إِلَّا إِذا علم أَنهم صادقو الْحَاجة إِلَى الشَّيْء الضَّرُورِيّ
وَمِنْهُم الْكَاذِبُونَ فِيمَا يَدعُونَهُ من الْفَاقَة فَيَنْبَغِي أَن يُمَيّز بَينهم فَإِن كَانَ تعمدهم للكذب لضرب من التَّدْبِير فلتكن مُعَامَلَته مَعَهم فِي المؤاساة وسطا من غير منع وَلَا بذل تَامّ
وَمِنْهُم الضُّعَفَاء الصادقون فِيمَا يبدونه من الْحَاجة فَيَنْبَغِي أَن يتعهدهم المؤاساة بغاية مَا أمكنه من غير أَن يخل بأحوال نَفسه
ب - المتعلمون ذَوُو الْحَاجة وطبائعهم والصنف الآخر هم المتعلمون وذوو الْحَاجة إِلَى الْعلم فَمنهمْ أولو الطبائع الردئية يقصدون تعلم الْعُلُوم ليستعملوها فِي الشرور فَيَنْبَغِي للمرء أَن يحملهم
পরিচ্ছেদ ৪: একজনের তার অধস্তনদের সাথে কেমন আচরণ করা উচিত
আর মানুষের মধ্যে যারা নিজের অধস্তন, তাদের সাথে যা করা উচিত, আমরা সে সম্পর্কে যা সহজসাধ্য তা বর্ণনা করছি এবং বলছি:
দুর্বলদের (الضعفاء) শ্রেণিবিভাগ এবং তাদের অবস্থা নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে দুর্বলরা (الضعفاء) রয়েছেন এবং তারা দুই প্রকার:
ক - অভাবগ্রস্ত এবং নিঃস্ব ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের প্রকারভেদ
প্রথম প্রকার হলো অভাবগ্রস্ত ও নিঃস্ব লোক। তারা বিভিন্ন শ্রেণির; তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা পীড়াপীড়ি করে যাঞ্ঝাকারী। তাদের এই নাছোড়বান্দা আচরণের কারণে তাদের কিছু দেওয়া বা প্রদান করা উচিত নয়, যাতে তারা এ থেকে বিরত থাকে; তবে যদি জানা যায় যে তারা সত্যিই কোনো অত্যাবশ্যকীয় জিনিসের প্রয়োজনে সত্যবাদী।
আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ অভাবের দাবিতে মিথ্যাবাদী (الكاذبون)। সুতরাং তাদের মধ্যে পার্থক্য করা উচিত। যদি তাদের এই মিথ্যাচারের উদ্দেশ্য কোনো বিশেষ কৌশল হয়ে থাকে, তবে সহমর্মিতার ক্ষেত্রে তাদের সাথে আচরণ হতে হবে মধ্যম পন্থার—একেবারে বঞ্চিত করাও নয়, আবার সব উজাড় করে দেওয়াও নয়।
আর তাদের মধ্যে যারা নিজেদের প্রয়োজনের বিষয়ে সত্যবাদী, এমন দুর্বলদের (الضعفاء) ক্ষেত্রে যথাসম্ভব সহমর্মিতার সাথে তত্ত্বাবধান করা উচিত, যেন তা নিজের অবস্থার কোনো ক্ষতি না করে।
খ - জ্ঞান অন্বেষী অভাবী ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের স্বভাব দ্বিতীয় প্রকার হলো শিক্ষার্থী এবং ইলমের মুখাপেক্ষী। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মন্দ স্বভাবের অধিকারী, তারা জ্ঞান অর্জনের সংকল্প করে তা মন্দ কাজে ব্যবহারের জন্য। সুতরাং একজন ব্যক্তির উচিত তাদের...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
على تَهْذِيب الْأَخْلَاق وَلَا يعلمهُمْ شَيْئا من الْعُلُوم الَّتِي إِذا عرفوها استعملوها فِيمَا لَا يجب وليجتهد فِي كشف مَا هم عَلَيْهِ من رداءة الطَّبْع ليحذروا
وَمِنْهُم البلداء الَّذين لَا يُرْجَى ذكاؤهم وبراعتهم فَيَنْبَغِي أَن يحثهم على مَا هُوَ أَعُود عَلَيْهِم
وَمِنْهُم المتعلمون ذَوُو الْأَخْلَاق الطاهرة والطبائع الجيدة فَيجب أَن لَا يدّخر عَنْهُم شَيْئا مِمَّا عِنْده من الْعُلُوم
চরিত্র সংশোধনের (تهذيب الأخلاق) ওপর গুরুত্ব প্রদান করা এবং তাদের এমন কোনো জ্ঞান শিক্ষা না দেওয়া যা তারা অর্জন করলে অনুচিত কাজে ব্যবহার করবে; আর তাদের স্বভাবগত মন্দ দিকগুলো উন্মোচনে সচেষ্ট হওয়া উচিত যাতে তারা সতর্ক হতে পারে।
তাদের মধ্যে কিছু রয়েছে স্থূলবুদ্ধিসম্পন্ন (البلداء), যাদের বুদ্ধি ও পারদর্শিতার কোনো আশা করা যায় না; সুতরাং তাদের জন্য যা অধিকতর কল্যাণকর সে বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করা উচিত।
আর তাদের মধ্যে এমন কিছু শিক্ষার্থী রয়েছে যারা পবিত্র চরিত্র ও উত্তম স্বভাবের অধিকারী; সুতরাং তার নিকট যে জ্ঞান বা ইলম রয়েছে তা থেকে কোনো কিছুই তাদের নিকট গোপন রাখা বা সঞ্চয় করে রাখা উচিত নয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فصل 5 فِي سياسة الْمَرْء لنَفسِهِ
ثمَّ يَنْبَغِي للمرء أَن يرجع إِلَى خَاص أَحْوَاله فيميزها وَيسْتَعْمل فِي كل حَال من أَحْوَاله مَا يعود بصلاحها
المَال فَمن ذَلِك خلل الْقنية وَالْمَال فَالْوَاجِب عَلَيْهِ فِي ذَلِك أَن يتَأَمَّل وُجُوه الدخل ووجوه الخرج ويستقصى النّظر فِي أَسبَاب الدخل وَالْوُجُوه الَّتِي يُمكنهُ استجلاب المَال مِنْهَا إِلَى ملكه فيبالغ فِي استجلابه من حَيْثُ لَا يضر بِشَيْء مِمَّا تقدم ذكرنَا لَهُ من الْأُصُول اعني بِهِ لَا يخل بِدِينِهِ ومروءته وَلَا بعرضه فَإِنَّهُ لَيْسَ كل وَجه تكون فِيهِ مَنْفَعَة يحسن بِكُل أحد أَن يتَعَرَّض لَهُ مِثَال ذَلِك الدباغة والكناسة والتجارات الخسيسة والقمار وَالْوُجُوه الَّتِي لَا يحسن بِذِي الْمُرُوءَة أَن يجتلب المَال مِنْهَا فَإِذا تجنب هَذِه الْوُجُوه واكتسب المَال من وَجهه فَيجب أَن يُخرجهُ بِحَسبِهِ أَعنِي أَن يكون خرجه بِحَسب دخله ويجتهد أَن يعرف بالسخاء وَلَيْسَ السخاء بذل الْأَمْوَال حَيْثُ اتّفق لَكِن بذلها فِيمَا يَنْبَغِي وَحَيْثُ يَنْبَغِي وبالمقدار الَّذِي يَنْبَغِي على سَبِيل الِاعْتِدَال اللَّائِق بِحَال طبقَة من النَّاس
الجاه وَمن ذَلِك الجاه فَيَنْبَغِي للمرء أَن يجْتَهد كل الْجهد فِي إِحْرَاز الجاه لنَفسِهِ وَمَتى مَا استقبله أَمْرَانِ يكون فِي تنَاول أَحدهمَا زِيَادَة الْمَنَافِع وَفِي الآخر زِيَادَة الجاه فليبادر إِلَى الْأَمر الَّذِي هُوَ أَعُود عَلَيْهِ فِي زِيَادَة الجاه إِذْ الجاه
৫ম পরিচ্ছেদ: ব্যক্তির আত্ম-পরিচালনা প্রসঙ্গে
অতঃপর ব্যক্তির উচিত তার নিজের বিশেষ অবস্থাগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করা, সেগুলো বিশ্লেষণ করা এবং তার প্রতিটি অবস্থার ক্ষেত্রে এমন বিষয় প্রয়োগ করা যা তার সংশোধনের সহায়ক হয়।
সম্পদ এর অন্তর্ভুক্ত হলো সম্পদ ও মালিকানা অর্জনের ক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি। এমতাবস্থায় ব্যক্তির কর্তব্য হলো আয়ের উৎস এবং ব্যয়ের খাতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করা। আয়ের কারণসমূহ এবং যেসব পন্থায় সে নিজের মালিকানায় সম্পদ নিয়ে আসতে পারে, সে বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করা। অতঃপর সে সম্পদ অর্জনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, তবে শর্ত হলো তা যেন আমাদের ইতিপূর্বে উল্লেখিত মূলনীতিগুলোর (أصول) কোনোটির ক্ষতি না করে—অর্থাৎ তা যেন তার দ্বীন, মুরুওয়াত (مروءة) এবং সম্মানের কোনো হানি না ঘটায়। কারণ, যে পথে বৈষয়িক লাভ বিদ্যমান এমন প্রতিটি পথই প্রত্যেকের জন্য অবলম্বন করা শোভনীয় নয়। উদাহরণস্বরূপ: চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ, আবর্জনা পরিষ্কার করা, তুচ্ছ ব্যবসা, জুয়া এবং এমন সব পথ যা একজন মুরুওয়াত (مروءة) সম্পন্ন মানুষের জন্য সম্পদ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে শোভন নয়। সুতরাং যখন সে এই সব পথ পরিহার করবে এবং সঠিক পন্থায় সম্পদ উপার্জন করবে, তখন তার উচিত সেই অনুযায়ী তা ব্যয় করা। অর্থাৎ তার ব্যয় যেন তার আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। সে দানশীল হিসেবে পরিচিতি লাভের চেষ্টা করবে; তবে দানশীলতা মানে যেখানে-সেখানে সম্পদ বিলিয়ে দেওয়া নয়, বরং তা হলো যেখানে প্রয়োজন, যখন প্রয়োজন এবং যতটুকু প্রয়োজন—সেই অনুযায়ী ব্যয় করা; যা মানুষের সামাজিক স্তর অনুযায়ী মধ্যমপন্থা অবলম্বনের অন্তর্ভুক্ত।
পদমর্যাদা এর অন্তর্ভুক্ত হলো পদমর্যাদা। ব্যক্তির উচিত নিজের জন্য সামাজিক মর্যাদা অর্জনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো। যখন তার সামনে দুটি বিষয় উপস্থিত হবে, যার একটিতে বৈষয়িক উপযোগ বৃদ্ধি পায় এবং অন্যটিতে পদমর্যাদা বৃদ্ধি পায়, তখন তার উচিত সেই বিষয়টি দ্রুত গ্রহণ করা যা তার মর্যাদা বৃদ্ধিতে অধিক সহায়ক। কেননা পদমর্যাদা...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
العريض يكْسب المَال بِالضَّرُورَةِ وَلَيْسَ المَال يكْسب الجاه ضَرُورَة
استجلاب اللَّذَّات غير الْمُحرمَة بَين المَال والجاه وَمن النَّفْع مَا يَسْتَعْمِلهُ الْمَرْء فِي معاشه مَا نذكرهُ
وَهُوَ أَنه يجب أَن يستجلب الذَّات والشهوات كلهَا إِلَى نَفسه بجاهه لَا بِمَالِه بِكُل مَا أمكنه فَإِن من استجلب اللَّذَّات بِمَالِه دون جاهه لَا يصل إِلَى لذته كَمَا يشتهيه وَلَا ينشب أَن يذهب مَاله وَيصير سخرية بَين النَّاس وَيصير كل من انْتفع بِهِ عدوا لَهُ
وَمن استجلب بجاهه قَضَاء حوائج النَّاس وصل إِلَيْهَا كَمَا يشتهيه وَفَوق مَا يشتهيه
وكل من جلب إِلَيْهِ لَذَّة لطعمه فِي جاهه كَانَ صديقا لَهُ أبدا محبا لخيراته ومواليا
ولسنا نومئ إِلَى أَنه لَا يَنْبَغِي أَن ينْفق من مَاله شَيْئا فِي اجتلاب لذاته وَلَكِن إِلَى أَن يكون معوله فِي ذَلِك على الجاه لَا على المَال
تحصين الْأَسْرَار ونقول الْآن فِي تحصين الْأَسْرَار وَفِي استخراجها عَن المناوئين وَإِذا عرف الْمَرْء أحد هذَيْن الْبَابَيْنِ حصلت لَهُ الْمعرفَة بِالثَّانِي وَلكُل طَائِفَة من أهل الطَّبَقَات الثَّلَاث نوع من التحصين وَنَوع من الاستخراج وَمَا نذكرهُ من الْأُصُول فِيهَا يصلح لكل طَائِفَة مِنْهُم على مِقْدَاره ومرتبته
أصاله لرأي فَأول مَنَافِع تحصين الْأَسْرَار وكتمانها هُوَ أَن يكون الْمَرْء قَادِرًا على
বিস্তৃত (প্রভাব-প্রতিপত্তি) আবশ্যিকভাবেই সম্পদ অর্জন করে, কিন্তু সম্পদ আবশ্যিকভাবে প্রভাব-প্রতিপত্তি অর্জন করে না।
সম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তির মাধ্যমে অননুমোদিত নয় এমন আনন্দ আহরণ করা মানুষ তার জীবনযাত্রায় যে সকল উপকার গ্রহণ করে, আমরা তা উল্লেখ করছি।
আর তা হলো এই যে, একজন ব্যক্তির উচিত তার প্রভাব-প্রতিপত্তির মাধ্যমে নিজের জন্য সকল প্রকার স্বাদ ও কামনা আহরণ করা, সম্পদের মাধ্যমে নয়, যতটা তার পক্ষে সম্ভব। কেননা, যে ব্যক্তি প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যতিরেকে কেবল সম্পদের মাধ্যমে আনন্দ লাভ করতে চায়, সে তার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পূর্ণ তৃপ্তি পায় না। শীঘ্রই তার সম্পদ শেষ হয়ে যায়, সে মানুষের মাঝে উপহাসের পাত্রে পরিণত হয় এবং যে ব্যক্তি তার দ্বারা উপকৃত হয়েছিল, সে-ই তার শত্রুতে রূপান্তরিত হয়।
আর যে ব্যক্তি তার প্রভাব-প্রতিপত্তির দ্বারা মানুষের প্রয়োজন পূরণ করে দেয়, সে তার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এবং তার চেয়েও বেশি প্রাপ্তি লাভ করে।
আর যে কেউ তার প্রভাব-প্রতিপত্তির মোহে তার নিকট আনন্দ নিয়ে আসে, সে চিরকাল তার অকৃত্রিম বন্ধু, তার কল্যাণের প্রতি অনুরাগী এবং অনুগত হয়ে থাকে।
আমরা এই ইঙ্গিত দিচ্ছি না যে, আনন্দ লাভের জন্য সম্পদ থেকে কিছুই ব্যয় করা উচিত নয়; বরং আমরা বলতে চাচ্ছি যে, এক্ষেত্রে তার প্রধান নির্ভরতা যেন হয় প্রভাব-প্রতিপত্তির ওপর, সম্পদের ওপর নয়।
গোপনীয়তা রক্ষা করা এখন আমরা গোপনীয়তা রক্ষা এবং বিরোধীদের নিকট থেকে তা বের করে আনা সম্পর্কে আলোচনা করব। যখন কোনো ব্যক্তি এই দুটি বিষয়ের একটি জানবে, তখন তার জন্য দ্বিতীয়টি জানাও সহজ হয়ে যাবে। তিন স্তরের (طبقات) মানুষের প্রত্যেকের জন্য গোপনীয়তা রক্ষার একটি ধরণ এবং তথ্য বের করে আনার একটি ধরণ রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা যে সকল মূলনীতি (أصول) উল্লেখ করছি, তা তাদের প্রত্যেকের স্তর ও মর্যাদা অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।
সুদৃঢ় বিচারবুদ্ধি গোপনীয়তা রক্ষা ও তা গোপন রাখার প্রথম উপকারিতা হলো এই যে, এর ফলে ব্যক্তি সক্ষম হয়...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
إجالة الرَّأْي فِي تَدْبيره وعَلى إِنْفَاذه والإمساك عَنهُ إِلَى أَن يتَّجه لَهُ وَجه الصَّوَاب فِيهِ فَإِنَّهُ مَا دَامَ الْأَمر مكتوما كَانَ قَادِرًا عَلَيْهِ فَإِذا ظهر خرج الْأَمر عَن مقدرته
وَفِي كتمان الآراء والتدابير سَلامَة من الْآفَات وَمن آفاتها الْأَعْرَاض الَّتِي تعرض من إذاعتها فَتَصِير مَوَانِع عَن إنفاذها ويعيا ذُو الرَّأْي عَن رَأْيه بِتِلْكَ الْأَعْرَاض وَمِنْهَا ذهَاب جدته وَثَمَرَة رَأْيه ونفاذه فِي جدته وطراته وَمِنْهَا أَن الرَّأْي إِذا ظهر قصد بالمناقضة وَإِذا كَانَ مُحصنا سلم من المناقضة وَلكُل أَمر نقيض
وَمِنْهَا إِن الْمَرْء الَّذِي فِيهِ التَّدْبِير والرأي لَا يفْطن لَهُ حَتَّى يَقع فيبهته وَيرد عَلَيْهِ مَا لَا يحْتَسب وَإِذا ظهر قبل الْوُقُوع قوبل بالتحفظ والتحرز وَبَطل الرَّأْي وَالتَّدْبِير وتعطل الْوَقْت الَّذِي أفنى فِي أَحْكَامه
الْمُشَاورَة وَلَا بُد للمرء من الْمُشَاورَة مَعَ غَيره فِي آراء وتدبيره فَيَنْبَغِي أَن يستودعها ذَوي النبل وكبير الهمة وَعزة النَّفس وَذَوي الْعُقُول والألباب فَإِن أمثالهم لَا يذيعونها وَإِن يُبَاشر فِي وَقت إفشاء الرَّأْي الْأُمُور الَّتِي يستعان بِمِثْلِهَا على إحكام ذَلِك الرَّأْي من الاستشارة وَالنَّظَر فِي أَخْبَار الْمُتَقَدِّمين وَالِاسْتِمَاع إِلَى الْأَحَادِيث فِي السياسات اللائقة بذلك التَّدْبِير وَأَن يستر وجهده الْأُمُور الظَّاهِرَة المتعلقه بذلك التَّدْبِير الَّذِي يظْهر مَعَ ظُهُورهَا السِّرّ وَيسْتَعْمل مَا يضاد ذَلِك الرَّأْي من غير أَن يظْهر فِي نَفسه حرصا على اسْتِعْمَال الأضداد
পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করা এবং সঠিক দিকটি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। কেননা যতক্ষণ বিষয়টি গোপন থাকে, ততক্ষণ ব্যক্তি তার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হয়; কিন্তু যখনই তা প্রকাশ পায়, তখন বিষয়টি তার সামর্থ্যের বাইরে চলে যায়।
মতামত ও পরিকল্পনা গোপন রাখার মধ্যে বিভিন্ন আপদ থেকে সুরক্ষা রয়েছে। এর আপদসমূহের অন্যতম হলো সেগুলো প্রচার করার ফলে উদ্ভূত প্রতিকূলতা, যা তা বাস্তবায়নের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে দূরদর্শী ব্যক্তি সেই প্রতিকূলতার কারণে স্বীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অক্ষম হয়ে পড়ে। আরেকটি আপদ হলো এর সতেজতা ও সার্থকতা বিলীন হয়ে যাওয়া; কেননা সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা ও প্রয়োগক্ষমতা তার নতুনত্বের ওপরই নির্ভর করে। এছাড়া একটি আপদ এই যে, যখন কোনো মত প্রকাশ পায়, তখন তা বিরোধিতার সম্মুখীন হয়; আর যতক্ষণ তা সংরক্ষিত থাকে, ততক্ষণ বিরোধিতার হাত থেকে নিরাপদ থাকে। বস্তুত প্রতিটি বিষয়েরই কোনো না কোনো প্রতিপক্ষ থাকে।
তদুপরি, যে ব্যক্তির ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা করা হয়, সে তা ঘটার আগ পর্যন্ত টের পায় না, ফলে তা তাকে স্তম্ভিত করে দেয় এবং তার ওপর এমন কিছু আপতিত হয় যা সে কল্পনাও করেনি। কিন্তু যদি তা ঘটার আগেই প্রকাশ পায়, তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষ সতর্ক ও সাবধান হয়ে যায়। ফলে সেই পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা ব্যর্থ হয় এবং তা সুসংহত করার পেছনে ব্যয়কৃত সময়ও পণ্ড হয়।
পরামর্শ মানুষের জন্য তার চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অন্যের সাথে পরামর্শ করা অপরিহার্য। তবে এই পরিকল্পনা কেবল তাদের কাছেই গচ্ছিত রাখা উচিত যারা মহত্ত্ব, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, আত্মমর্যাদা এবং প্রজ্ঞার অধিকারী। কারণ তাদের মতো ব্যক্তিরা গোপনীয়তা ফাঁস করেন না। আর যখন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় উপস্থিত হয়, তখন সেই পরিকল্পনাকে সুদৃঢ় করার জন্য সহায়ক মাধ্যমগুলো গ্রহণ করা উচিত, যেমন—পরামর্শ গ্রহণ, পূর্ববর্তীদের ইতিহাস পর্যালোচনা এবং উক্ত ব্যবস্থাপনার সাথে সংগতিপূর্ণ পরিচালনা সংক্রান্ত হাদিসসমূহ শ্রবণ করা। এছাড়া সেই পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট বাহ্যিক বিষয়গুলোকে যথাসম্ভব গোপন রাখা উচিত, যেগুলোর মাধ্যমে গোপন রহস্য উন্মোচিত হয়ে যায়। এমনকি মূল পরিকল্পনার বিপরীত পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত যেন নিজের মধ্যে সেই বিপরীত কাজ করার কোনো আগ্রহ প্রকাশ না পায়।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فَإِنَّهَا أَيْضا إِذا كَانَت مَعَ حرص مفرط تدل على نفس الْأَمر وتوقع التُّهْمَة وتطلب معرفَة الْأَسْرَار من الْأُمُور الظَّاهِرَة والباطنة جَمِيعًا
أما الْأُمُور الظَّاهِرَة فِيمَا يَبْدُو من الرئيس من أَخذ الْعَزْم وأعداد الْعدَد وَأخذ الأهبة للأمور الَّتِي كَانَت فِيمَا قبل على التَّقْصِير وَمن جمع المتفرقات وتفريق المجتمعات وَبِالْجُمْلَةِ تَغْيِير الْأَحْوَال الظَّاهِرَة وَأَيْضًا من الْإِمْسَاك عَن أُمُور كَانَ يُبَاشِرهَا الْمَرْء قبل ذَلِك وَمن إدناء من كَانَ قاصيا وإقصاء من كَانَ دانيا وَشدَّة التطلع للْأَخْبَار وحرص زَائِد للوقوف على الْأَحَادِيث المختلطة وَمن التيقظ الزَّائِد على كل مَا كَانَ قبل ذَلِك
وَأما من الْأُمُور الْبَاطِنَة فَمن استطلاع أَحْوَال البطانة والحزم وإمساكهم عَمَّا كَانُوا غير ممسكين لَهُ واستعمالهم لما كَانُوا ممسكين عَنهُ فَإِن البطانة والخواص إِذا لم يَكُونُوا حزمة ظهر من مصَادر أُمُورهم ومواردها مَا يسره الرئيس ويستطلع من أَفْوَاه الْعَجم وَالصبيان والجهال وَالنِّسَاء وَالَّذين هم قليلو التَّمْيِيز والعقول فَإِنَّهُ لَيْسَ مَعَ هَؤُلَاءِ حصافة وَلَا عِنْدهم من الرزانة مَا يُمكنهُم التَّحَرُّز بِهِ من الإفشاء للأسرار
وأجودها مَا تستخرج بِهِ الْأَسْرَار كَثْرَة المحادثة فَإِن لكل وَاحِد من النَّاس من يسْتَأْنس بِهِ ويلقي إِلَيْهِ بِجَمِيعِ أَحَادِيثه وجلها وَإِذا أَكثر الْكَلَام والمحادثة فَإِنَّهُ لَا بُد من أَن يَأْتِي ذَلِك على جلّ مَا فِي الضمائر
وَأَيْضًا فَإِنَّهُ لَيْسَ كل أَمر وتدبير يكون بموافقة الْجَمِيع مِمَّن بِحَضْرَة الرئيس أَو صَاحب التَّدْبِير وملاك أَسبَاب الظفر بالأعداء هُوَ مَا نذكرهُ فَنَقُول
কেননা এটিও, যখন অত্যধিক আগ্রহের সাথে মিলিত হয়, তখন খোদ বিষয়টির প্রকৃত অবস্থার দিকেই নির্দেশ করে এবং সন্দেহের (التهمة) উদ্রেক ঘটায়। এটি বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় দিক থেকেই নিগূঢ় রহস্য উদঘাটন করতে চায়।
প্রকাশ্য বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে যা নেতার পক্ষ থেকে দৃশ্যমান হয়, তা হলো—দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ, সরঞ্জামাদি প্রস্তুত করা এবং ইতিপূর্বে যে সকল বিষয়ে গাফিলতি ছিল সেগুলোর জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করা; বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো একত্রিত করা এবং সংবদ্ধ বিষয়গুলো বিচ্ছিন্ন করা, আর সামগ্রিকভাবে বাহ্যিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধন করা। এছাড়া ইতিপূর্বে ব্যক্তি যেসব কাজে সরাসরি লিপ্ত থাকত তা থেকে নিবৃত্ত হওয়া, দূরবর্তীদের নিকটবর্তী করা এবং নিকটবর্তীদের দূরে সরিয়ে দেওয়া; সংবাদের প্রতি প্রখর দৃষ্টি রাখা এবং বিমিশ্রিত (المختلطة) হাদিসসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়ার অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা এবং পূর্বের তুলনায় অত্যধিক সতর্কতা অবলম্বন করা।
আর অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে তা হলো—পারিষদবর্গের অবস্থা ও সংকল্প পর্যবেক্ষণ করা এবং ইতিপূর্বে তারা যে সকল বিষয় থেকে নিবৃত্ত থাকত না তা থেকে তাদের নিবৃত্ত রাখা, আর যেগুলোতে তারা নিবৃত্ত থাকত তাতে তাদের নিয়োজিত করা। কেননা ঘনিষ্ঠ সহচর ও বিশেষ ব্যক্তিবর্গ যদি বিচক্ষণ না হয়, তবে তাদের কাজের উত্থান-পতন থেকে এমন বিষয় প্রকাশ পেয়ে যায় যা নেতা গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। আর এ বিষয়গুলো অনারব, শিশু, অজ্ঞ, নারী এবং যাদের বিচারবুদ্ধি (التمييز) ও প্রজ্ঞা সামান্য, তাদের মুখ থেকে অনুসন্ধান করা যায়। কারণ তাদের মধ্যে এমন প্রখরতা নেই এবং তাদের এমন গাম্ভীর্য নেই যা দ্বারা তারা রহস্য ফাঁস হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
গোপন রহস্য উদঘাটনের সর্বোত্তম উপায় হলো অধিক কথোপকথন। কেননা প্রত্যেক মানুষেরই এমন কেউ থাকে যার সাথে সে আন্তরিকতা অনুভব করে এবং তার কাছে নিজের সকল বা অধিকাংশ হাদিস ব্যক্ত করে। যখন কথা ও আলোচনা বৃদ্ধি পায়, তখন অন্তরে যা লুকায়িত থাকে তার অধিকাংশ অনিবার্যভাবে প্রকাশ পেয়ে যায়।
এছাড়া প্রতিটি বিষয় বা পরিকল্পনা নেতার সামনে উপস্থিত সকলের বা পরিকল্পনাকারীর ঐকমত্যে সম্পন্ন হয় না। শত্রুদের ওপর বিজয় লাভের মূল ভিত্তি হলো তা-ই যা আমরা এখন উল্লেখ করছি, সুতরাং আমরা বলছি:
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
طلب الْعُلُوّ على الْعَدو أَن أول مَا يجب أَن يَسْتَعْمِلهُ الْمَرْء هُوَ أَن يطْلب الْعُلُوّ على عدوه فِي كل فَضِيلَة يذكر بهَا إِن كَانَ من أهل الْفضل ويتحرى أَن يقف الْعَدو على ذَلِك ويعلمه مِنْهُ فَإِن ذَلِك مَا يُضعفهُ ويخمد ثائرته وَأَن يحصي عَلَيْهِ معايبه حَتَّى لَا يبْقى صَغِيرا وَلَا كَبِيرا لَا ظَاهرا وَلَا بَاطِنا من عيوبه إِلَّا جمعه ونشره فِي النَّاس وليتوخ فِي ذَلِك الصدْق لِئَلَّا يذهب حَدثهُ وليجتنب الْكَذِب على الْعَدو فَإِن الْكَذِب عَلَيْهِ قُوَّة لَهُ وَأَن يتَصَرَّف أَخْلَاق الْعَدو وشيمة وسجاياه وعاداته ليقابل كل وَاحِد مِنْهَا بِمَا يضاده ويناقضه
وليجتهد فِي معرفَة مَا يقلقه ويضجره فيوكل كل وَاحِد وَبِكُل سَبَب من أَسبَاب ضجره وقلقله مَا يهيجه فَإِن ذَلِك ملاك الظفر وَمن أبلغ أَسبَاب الفضيحة وأصل ذَلِك كُله والمرجع هُوَ طلب السَّلامَة مِنْهُ وَمن مكايده بِكُل مَا أمكن زِيَادَة على طلب النكاية فِيهِ
الْأَدَب وَمِمَّا ينْتَفع الْمَرْء بِهِ غَايَة الْمَنْفَعَة هُوَ الْأَدَب وأصل الْأَدَب مزايلة الْأَدَب فِي الظَّاهِر
من ذَلِك معرفَة العورات وافتراص العثرات
وعمدة الْأَدَب شدَّة التطلع لما عِنْد النَّاس والحرص على التباعد من أَن يعرف النَّاس مَا عِنْد الْمَرْء
وَمِنْه أَيْضا أَن يقْصد الْإِنْسَان لغير الْمَقْصُود ثمَّ الْمَقْصُود
শত্রুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অন্বেষণ একজন ব্যক্তির জন্য সর্বপ্রথম যা আবশ্যক তা হলো, সে যদি ফযিলতপূর্ণ গুণের অধিকারী হয়ে থাকে তবে যেসকল সদ্গুণের কারণে তার প্রশংসা করা হয়, সেগুলোর মাধ্যমে সে যেন তার শত্রুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অন্বেষণ করে। সে লক্ষ্য রাখবে যেন শত্রু বিষয়টি জানতে পারে এবং এ সম্পর্কে অবগত হয়; কেননা এটি শত্রুকে দুর্বল করে দেয় এবং তার ক্রোধের আগুনকে নির্বাপিত করে। আর সে যেন শত্রুর দোষত্রুটিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গণনা করে, যাতে ছোট-বড়, প্রকাশ্য-গোপন কোনো দোষই বাদ না থাকে—বরং সে যেন তা সংগ্রহ করে মানুষের মধ্যে প্রচার করে। এ ক্ষেত্রে সে যেন সত্যনিষ্ঠা (صدق) বজায় রাখে যাতে তার বর্ণনা (حدیث) গুরুত্ব না হারায়। শত্রুর বিরুদ্ধে মিথ্যা বলা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে; কারণ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলা প্রকারান্তরে তাকে শক্তিশালী করা। শত্রুর আখলাক, স্বভাব-চরিত্র, মজ্জাগত বৈশিষ্ট্য ও অভ্যাসগুলো পর্যবেক্ষণ করতে হবে, যাতে সেগুলোর প্রত্যেকটির বিপরীতে তার বিপরীতমুখী বৈশিষ্ট্য দ্বারা মোকাবিলা করা যায়।
সে যেন শত্রুকে অস্থির ও বিচলিত করে এমন বিষয়গুলো জানার আপ্রাণ চেষ্টা করে এবং তার অস্থিরতা ও বিচলনের প্রতিটি কারণকে তাকে উত্তেজিত করার হাতিয়ার হিসেবে প্রয়োগ করে। কেননা এটিই হলো বিজয়ের মূল চাবিকাঠি এবং তাকে অপদস্থ করার অন্যতম কার্যকর উপায়। এই সবকিছুর মূল লক্ষ্য ও আধার হলো শত্রুর অনিষ্ট ও চক্রান্ত থেকে যথাসম্ভব নিরাপদ থাকা, যা তাকে ঘায়েল করার প্রচেষ্টার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
আদব মানুষ যা দ্বারা চূড়ান্তভাবে উপকৃত হয় তার অন্যতম হলো আদব। আর আদবের মূল ভিত্তি হলো বাহ্যিক আচরণে শিষ্টাচার বজায় রাখা।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো অন্যের গোপনীয়তা বা দুর্বল দিকগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং ত্রুটি-বিচ্যুতির সুযোগ গ্রহণ করা।
আদবের প্রধান স্তম্ভ হলো মানুষের নিকট যা আছে বা যা ঘটে সে বিষয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখা এবং নিজের অবস্থা বা বিষয়াবলী মানুষ যেন জানতে না পারে সে ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ থাকা।
এর অন্তর্ভুক্ত আরও একটি বিষয় হলো, মানুষ প্রথমে অপ্রধান কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করবে, অতঃপর তার আসল উদ্দেশ্যের দিকে ধাবিত হবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَمِنْه أَن يَبْتَدِئ بالاعتلاء من الْأَدْنَى فالأدنى إِلَى الْأَعْلَى فالأعلى فَإِن الرِّضَا مَعَ هَذَا الِاسْتِعْمَال وَفِي خلَافَة السخط
وَمِنْه أَن يحصل الأصعب ثمَّ الأخف
وَمِنْه أَن لَا يظْهر الْغَضَب وَلَا الرِّضَا بإفراط
وَمِنْه أَيْضا المطل فِي بعض الْأَحْوَال إِذا تعقبها الإنجاح
وَمِنْه الصَّبْر على أَن يظفر بالفرصة
وَمن ذَلِك أَن يقدم للأمور مُقَدمَات تصير تواطئه لَهَا
وَمِنْه أَن يلقِي الْأَمر بِلِسَان غَيره
এর অন্তর্ভুক্ত হলো নিম্নতম পর্যায় থেকে ক্রমান্বয়ে উচ্চতর স্তরে আরোহণ শুরু করা; কারণ এই কর্মপদ্ধতির মধ্যেই সন্তুষ্টি নিহিত, আর এর বিপরীতে রয়েছে অসন্তুষ্টি।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো প্রথমে কঠিনতর বিষয়টি সম্পন্ন করা, অতঃপর সহজতর বিষয়।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো ক্রোধ কিংবা সন্তুষ্টি প্রকাশে আতিশয্য পরিহার করা।
এর অন্তর্ভুক্ত আরও হলো বিশেষ কিছু অবস্থায় বিলম্ব করা, যদি তার অনুগামী হিসেবে সফলতা আসে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো সুযোগ হস্তগত হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করা।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো বিষয়ের পূর্বে এমন কিছু ভূমিকা পেশ করা যা সেই বিষয়ের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেয়।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো বিষয় অন্যের ভাষায় (অন্যের মাধ্যমে) উপস্থাপন করা।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
خَاتِمَة وَنحن الْآن ذاكرون من أقاويل القدماء وَأهل الْفضل صَدرا يكون خَاتِمَة لقولنا هَذَا فَإِن للحكايات والنوادر والأمثال فِي مثل هَذَا الْفَنّ غناء عَظِيما فَنَقُول
قَالَ أفلاطون الشَّيْء الَّذِي لَا يَنْبَغِي أَن تَفْعَلهُ فَلَا تهواه
وَقَالَ من اسْتحق مِنْك الْخَيْر فَلَا تنْتَظر ابتداءه بِالْمَسْأَلَة ليَكُون أكمل التذاذا وَقَالَ وأهنأ توقعا
وَقيل خساسة الْمَرْء تعرف بشيئين بقوله فِيمَا لَا ينفع وإخباره عَمَّا لَا يسْأَل عَنهُ
وَقيل لَا تحكم من قبل أَن تسمع قَول الْخَصْمَيْنِ
وَسُئِلَ لم كلما علمْتُم أَكثر كَانَت عنايتكم بِالْعلمِ أَشد
قَالَ لأَنا كلما ازددنا علما ازددنا معرفَة بِمَنْفَعَة الْعلم
وَسُئِلَ أَي الْأَشْيَاء أَهْون قَالَ الْأَئِمَّة الْجُهَّال
وَسُئِلَ أَي شَيْء يقدر إِنْسَان أَن يجود بِهِ
قَالَ حبه الْخَيْر للنَّاس
وَسُئِلَ مَا أفضل مَا يتعزى بِهِ عَن المصائب قَالَ أما الْعلمَاء فعلمهم بِأَنَّهَا ضَرُورَة وَأما سَائِر النَّاس فالتأسي
وَسُئِلَ أَي حَسَنَة لَا يحْسد عَلَيْهَا وَأي عيب لَا يقبله أحد
قَالَ التَّوَاضُع حَسَنَة لَا يحْسد عَلَيْهَا وَالْكبر عيب يرذله كل أحد
وَسُئِلَ مَا الشَّيْء الَّذِي إِذا فَقده الْمَرْء كَانَ دَائِم الْبلَاء
فَقيل الْعقل
উপসংহার আমরা এখন প্রাচীন মনীষী ও গুণীজনদের কিছু বাণী উল্লেখ করছি যা আমাদের এই আলোচনার সমাপ্তি হিসেবে গণ্য হবে। কারণ এই শাস্ত্রের কাহিনী, বিরল ঘটনাবলি ও প্রবাদ-প্রবচনের প্রভূত উপকারিতা রয়েছে। আমরা বলছি:
আফলাতুন বলেছেন, যে কাজটি তোমার করা অনুচিত, তার আকাঙ্ক্ষাও তুমি পোষণ করো না।
তিনি আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি তোমার নিকট থেকে কোনো কল্যাণের হকদার, তার আবেদনের অপেক্ষা করো না; যাতে তার আনন্দ পূর্ণতা পায় এবং প্রাপ্তির প্রত্যাশা অধিক সুখকর হয়।
বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির হীনতা দুটি বিষয়ের দ্বারা চেনা যায়: নিরর্থক বিষয়ে কথা বলা এবং যা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়নি তা নিয়ে সংবাদ দেওয়া।
বলা হয়েছে, বিবাদমান উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পূর্বে কোনো ফয়সালা করো না।
তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, আপনারা যতই জ্ঞান অর্জন করছেন, ইলমের প্রতি আপনাদের একাগ্রতা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন?
তিনি বললেন, কারণ আমরা যতই ইলম বৃদ্ধি করি, ইলমের উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের পরিচয় ততই বৃদ্ধি পায়।
তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, সবচেয়ে নিকৃষ্ট কারা? তিনি বললেন, মূর্খ নেতৃবৃন্দ।
তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, মানুষ কোন জিনিসটি সবচেয়ে উদারভাবে দান করতে সক্ষম?
তিনি বললেন, মানুষের প্রতি তার কল্যাণকামিতা।
তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, বিপদ-আপদে সান্ত্বনা লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম কী? তিনি বললেন, আলেমদের ক্ষেত্রে তা হলো বিপদকে একটি অনিবার্য নিয়তি হিসেবে জ্ঞান করা, আর সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে তা হলো অন্যের দৃষ্টান্ত দেখে সান্ত্বনা লাভ করা।
তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, কোন পুণ্য এমন যাতে কেউ ঈর্ষা করে না এবং কোন দোষ এমন যা কেউ গ্রহণ করে না?
তিনি বললেন, বিনয় হলো এমন এক পুণ্য যাতে কেউ ঈর্ষা করে না এবং অহংকার হলো এমন এক দোষ যা প্রত্যেকেই ঘৃণা করে।
তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, কোন বস্তু হারিয়ে ফেললে মানুষ সর্বদা বিপদে নিমজ্জিত থাকে?
বলা হলো, তা হলো বিবেক।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَقيل من طمع أَن يذهب على النَّاس مذْهبه فقد جهل
قَالَ إِذا تقدم ضَمَان الْمَرْء للشَّيْء لم يقف بِهِ صَار كالمنام الْحسن
وَقيل لَا تأمن من كذب أَن يكذب عَلَيْك
وَقيل طَالب الْحَاجة على شرف أَمريْن إِن قضيت حَاجته صَار كالأمير وَإِن لم تقض صَار كَالْكَلْبِ الْعَقُور
وَقيل شتم من لَا يحْتَمل شتمك استدعاء مِنْك للشتم وَشتم من يحْتَمل شتمك لؤم
وَقيل إِن استقضيت قضي عَلَيْك
وَقَالَ الْأَدَب يزين غنى الْغَنِيّ وَيسْتر فقر الْفَقِير
وَقيل يجب على من اصْطنع مَعْرُوفا أَن يتناساه من سَاعَته وَيجب على من أسدى إِلَيْهِ أَن يكون ذكره نصب عينه
وَقيل إِن الَّذين يضمنُون مَالا تفوز بِهِ يشبهون الأحلام المخلية
وَسُئِلَ أَيّمَا أَحْمد الْحيَاء أم الْخَوْف قَالَ الْحيَاء لِأَنَّهُ يدل على الْعقل وَالْخَوْف يدل على الْجُبْن
وَقيل دعوا المزاح فَإِنَّهُ لقاح الضغائن
وَقيل إِذا أَحْبَبْت أَن لَا تفوتك شهوتك فاشته مَا يمكنك
وَقيل أفضل الْمُلُوك من ملك شهواته وَلم يستعبده هَوَاهُ
وَقيل أحسن مَا عوشر بِهِ الْمُلُوك اثْنَان البشاشة وَتَخْفِيف المؤونة
وَقيل أفضل مَا يقتنيه الْمَرْء الصّديق المخلص
وَقيل ثَلَاثَة أَشْيَاء من يرى مِنْهُنَّ نَالَ ثَلَاثَة أَشْيَاء
বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি মানুষের ওপর নিজের মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে, সে মূর্খতায় নিপতিত হয়েছে।
তিনি বলেছেন, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো বিষয়ে অগ্রিম নিশ্চয়তা প্রদান করে কিন্তু তা রক্ষা করতে না পারে, তবে তা এক সুন্দর স্বপ্নের মতো হয়ে যায়।
বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি মিথ্যা (كذب) বলে, সে তোমার বিরুদ্ধেও মিথ্যা বলবে না—এ বিষয়ে নিশ্চিত থেকো না।
বলা হয়েছে, প্রয়োজনপ্রার্থী ব্যক্তি দুটি পরিণতির দ্বারপ্রান্তে থাকে; যদি তার প্রয়োজন পূরণ হয় তবে সে আমীরের ন্যায় হয়ে যায়, আর যদি পূরণ না হয় তবে সে দংশনকারী কুকুরের ন্যায় হয়ে যায়।
বলা হয়েছে, যে তোমার গালি সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না তাকে গালি দেওয়া মানে নিজেকেই গালি দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো, আর যে তোমার গালি সহ্য করে নেয় তাকে গালি দেওয়া নীচতা।
বলা হয়েছে, তুমি যদি বিচার প্রার্থনা করো, তবে তোমার বিরুদ্ধেও ফয়সালা হতে পারে।
তিনি বলেছেন, শিষ্টাচার ধনীর সম্পদকে সুশোভিত করে এবং দরিদ্রের দারিদ্র্যকে ঢেকে রাখে।
বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণকর কাজ করে, তার উচিত তা তৎক্ষণাৎ ভুলে যাওয়া; আর যার প্রতি কল্যাণ করা হয়েছে, তার উচিত তা সদা স্মরণে রাখা।
বলা হয়েছে, যারা এমন কিছুর নিশ্চয়তা দেয় যা তুমি লাভ করবে না, তারা অলীক স্বপ্নের মতো।
জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, লজ্জা ও ভয়ের মধ্যে কোনটি অধিক প্রশংসনীয়? তিনি বললেন, লজ্জা; কারণ তা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়, আর ভয় ভীরুতার পরিচয় দেয়।
বলা হয়েছে, ঠাট্টা-বিদ্রূপ বর্জন করো, কারণ তা বিদ্বেষের বীজ বপন করে।
বলা হয়েছে, তুমি যদি চাও যে তোমার আকাঙ্ক্ষা বিফল না হোক, তবে তাই আকাঙ্ক্ষা করো যা তোমার সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে।
বলা হয়েছে, শ্রেষ্ঠ শাসক সেই যে নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং নিজের খেয়ালখুশির দাসে পরিণত হয় না।
বলা হয়েছে, শাসকদের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখার সর্বোত্তম উপায় দুটি: প্রফুল্লতা এবং তাদের ওপর বোঝা লাঘব করা।
বলা হয়েছে, একজন মানুষের উপার্জিত শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো একজন একনিষ্ঠ বন্ধু।
বলা হয়েছে, তিনটি বিষয় এমন যে, যার মধ্যে তা দেখা যাবে সে তিনটি বিষয় লাভ করবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লিল ফারাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
من برِئ من الشره نَالَ الْعِزّ
وَمن برِئ من الْبُخْل نَالَ الشّرف
وَمن برِئ من الْكبر نَالَ الْكَرَامَة
وَقيل ثَلَاثَة يَنْبَغِي للملوك أَن لَا يفرطوا فِيهِنَّ
حفظ الثغور وتفقد الْمَظَالِم وَاخْتِيَار الصَّالِحين لأعمالهم
وَقيل ثَلَاثَة لَا يتم الْمَعْرُوف إِلَّا بِهن
تَعْجِيله وتقليله وَترك الامتنان بِهِ
وَقيل من تشاغل بالأدب فَأَقل مَا يربح من ذَلِك أَن لَا يتفرغ للخطل
وَقيل لَا يَنْبَغِي للمرء أَن يبلغ من مرَارَة النَّفس إِلَى حد مَعَه يظنّ أَنه شرير وَلَا يبلغ من لين الْجَانِب إِلَى حد يظنّ بِهِ أَنه ملاق
وَقيل لَا تَطْلُبُوا من الْأَشْيَاء مَا أحببتموه وَلَكِن أَحبُّوا مَا هِيَ محبوبة فِي أَنْفسهَا
وَسُئِلَ بِمَاذَا ينْتَقم الْإِنْسَان من عدوه فَقيل بِأَن يتزيد فِي نَفسه فضلا
فَهَذِهِ أصُول وقوانين استعملها الْمَرْء فِي معاشه وقاس عَلَيْهَا فِي متصرفات أُمُوره وأسبابه استقامت بِهِ أَحْوَاله وَطَابَتْ لَهُ أَيَّامه وَسلم من كثير الْآفَات ونال الْحَظ الجزيل من السعادات
وَعند هَذَا القَوْل خَاتِمَة قَوْلنَا هَذَا وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين حمد الشَّاكِرِينَ وَالصَّلَاة على رَسُوله مُحَمَّد وَآله الطيبين الطاهرين
যে ব্যক্তি লালসা থেকে মুক্ত হয়েছে সে সম্মান লাভ করেছে।
আর যে ব্যক্তি কৃপণতা থেকে মুক্ত হয়েছে সে উচ্চমর্যাদা লাভ করেছে।
আর যে ব্যক্তি অহংকার থেকে মুক্ত হয়েছে সে মর্যাদা ও সম্মান লাভ করেছে।
বলা হয়ে থাকে: তিনটি বিষয় এমন রয়েছে যা রাজন্যবর্গের অবহেলা করা সমীচীন নয়—
সীমান্ত রক্ষা করা, প্রজাদের ওপর হওয়া অন্যায়ের তদন্ত করা এবং রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীর জন্য সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচন করা।
বলা হয়ে থাকে: তিনটি বিষয় ব্যতীত সদাচরণ পূর্ণতা পায় না—
তা দ্রুত সম্পন্ন করা, তাকে সামান্য জ্ঞান করা এবং তা করার পর অনুগ্রহ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা।
বলা হয়ে থাকে: যে ব্যক্তি আদব বা শিষ্টাচার চর্চায় নিবিষ্ট থাকে, তার ন্যূনতম লাভ হলো এই যে, সে পাপাচার বা মন্দ কাজে লিপ্ত হওয়ার অবকাশ পায় না।
বলা হয়ে থাকে: কোনো ব্যক্তির স্বভাবের তিক্ততা এমন পর্যায়ে পৌঁছানো উচিত নয় যাতে লোকে তাকে অনিষ্টকারী বলে মনে করে, আবার বিনয় ও নম্রতাও এমন পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয় যাতে তাকে চাটুকার বলে ধারণা করা হয়।
বলা হয়ে থাকে: তোমরা কেবল নিজেদের পছন্দমতো বস্তু অন্বেষণ করো না, বরং সে সব বস্তুকেই পছন্দ করো যা প্রকৃতপক্ষে পছন্দনীয়।
জিজ্ঞাসা করা হলো: মানুষ তার শত্রুর ওপর কীভাবে প্রতিশোধ নিতে পারে? উত্তরে বলা হলো: নিজের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণের বিকাশ ঘটানোর মাধ্যমে।
এগুলো হলো এমন কিছু মূলনীতি ও নিয়মাবলি, যা মানুষ যদি তার জীবনযাত্রায় প্রয়োগ করে এবং আপন কাজকর্ম ও উপায়-উপকরণের ক্ষেত্রে এগুলোর নিরিখে বিচার করে, তবে তার অবস্থা সুসংহত হবে, তার দিনগুলো সুখময় হবে, সে বহুবিধ আপদ থেকে নিরাপদ থাকবে এবং পরম সৌভাগ্যের এক বিশাল অংশ লাভ করবে।
এই বাণীর মাধ্যমেই আমাদের আলোচনার ইতি ঘটছে। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য—কৃতজ্ঞদের ন্যায় প্রশংসা। আর তাঁর রাসূল মুহাম্মদ এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবার-পরিজনের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।