(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: -)
السياسة لابن سينا القسم: علوم أخرى
الكتاب: رسالة ضمن «مجموع في السياسة»
المؤلف: الحسين بن عبد الله بن سينا، أبو علي، شرف الملك: الفيلسوف الرئيس (ت 428هـ)
المحقق: د. فؤاد عبد المنعم أحمد
الناشر: مؤسسة شباب الجامعة - الإسكندرية
الطبعة: الأولى
عدد الصفحات: 111
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে সিনার আস-সিয়াসা বিভাগ: অন্যান্য বিজ্ঞান
গ্রন্থ: «মাজমুউ ফিস সিয়াসা»-এর অন্তর্ভুক্ত একটি পুস্তিকা
লেখক: আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন সিনা, আবু আলী, শরাফুল মুলক: প্রধান দার্শনিক (মৃত্যু ৪২৮ হিজরি)
সম্পাদক: ড. ফুয়াদ আব্দুল মুনঈম আহমদ
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতু শাবাবিল জামিআ - আলেকজান্দ্রিয়া
সংস্করণ: প্রথম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৮১)
بسم الله الرحمن الرحيم
وَمَا توفيقي إِلَّا بِاللَّه عَلَيْهِ توكلت وَهُوَ حسبي
الْحَمد لله الَّذِي نهج لِعِبَادِهِ بِمَا دلهم عَلَيْهِ من حَمده وسبيل شكره وأشرع لَهُم بِمَا هيأهم لَهُ من شكره أَبْوَاب مزيدة وَمن عَلَيْهِم بِالْعقلِ الَّذِي جعله لدينهم عصمَة ولدنياهم عمادا وقائمة وحباهم بالنطق الَّذِي جعله فرقا بَينهم وَبَين الْبَهَائِم الْعَجم والأنعام الْبكم
فَالْحَمْد لله حمدا كثيرا على مَا عَم من حسن تَدْبيره وَشَمل من لطف تَقْدِيره حَتَّى حَاز كل صنف من أَصْنَاف خلقه حَظه من الْمصلحَة وَاسْتوْفى كل نوع سَهْمه من الْمرْفق وَالْمَنْفَعَة فَلم يفت جميل صنعه صَغِيرا وَلَا كَبِيرا بل أَفَاضَ عَلَيْهِم جَمِيعًا من سوابغ نعمه وشوامل مواهبه مَا صلحت بِهِ أَحْوَالهم وَتمّ بمكانه نقصهم وَقَوي من أَجله عجزهم ثمَّ خص بني آدم بخصائص من نعمه فَضلهمْ بهَا على كثير من خلقه فجعلهم أحسن الْخلق وطبائعهم أكمل الطبائع وتركيبهم أعدل التَّرْكِيب ومعيشتهم أنعم المعاش وسعيهم فِي منقلبهم أرد السَّعْي إِلَى الْعُقُول الرضية الَّتِي أمدهم بهَا والأحلام الراجحة الَّتِي أَيّدهُم بفضلها والآداب الْحَسَنَة الَّتِي ألبسهم جمَالهَا والأخلاق الْكَرِيمَة الَّتِي زينهم بِشَرَفِهَا مَعَ التَّمْيِيز الَّذِي أَرَاهُم بِهِ فرق مَا بَين الْخَيْر وَالشَّر وَخلاف مَا بَين الغي والرشد وَفضل مَا بَين الصَّانِع والمصنوع وَالْمَالِك والمملوك والسائس والمسوس حَتَّى صَار ذَلِك طَرِيقا لَهُم إِلَى الْمعرفَة مَا بَين الْخَالِق والمخلوق وسبيلا وَاضحا إِلَى تثبيت الصَّانِع الْقَدِيم إِلَّا جحود عناد أَو مُكَابَرَة عيان
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমার তাওফীক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে; তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের জন্য তাঁর প্রশংসার প্রতি নির্দেশনার মাধ্যমে এবং শুকরিয়ার পথ বাতলে দিয়ে একটি পথ উন্মুক্ত করেছেন, এবং তাঁর শুকরিয়া আদায়ের জন্য যা তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন তার মাধ্যমে তাদের জন্য নেয়ামত বৃদ্ধির দরজাগুলো উন্মুক্ত করেছেন। আর তিনি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন বিবেক-বুদ্ধি প্রদানের মাধ্যমে, যাকে তিনি তাদের দ্বীনের জন্য সুরক্ষা এবং তাদের দুনিয়ার জন্য অবলম্বন ও স্তম্ভ করেছেন; এবং তিনি তাদের বাকশক্তি দান করেছেন, যাকে তিনি তাদের এবং নির্বাক জন্তু ও অবুঝ গবাদি পশুর মধ্যে পার্থক্যকারী করেছেন।
সুতরাং আল্লাহর জন্য অগণিত প্রশংসা তাঁর উত্তম পরিচালনার ব্যাপকতার ওপর এবং তাঁর করুণাপূর্ণ তকদীরের অন্তর্ভুক্তির ওপর, যার ফলে তাঁর সৃষ্টির প্রতিটি শ্রেণি কল্যাণের মধ্য থেকে নিজ নিজ অংশ লাভ করেছে এবং প্রতিটি প্রজাতি উপযোগিতা ও উপকারিতার মধ্য থেকে নিজ নিজ প্রাপ্য পূর্ণরূপে পেয়েছে। তাঁর সুন্দর সৃষ্টিতত্ত্ব ক্ষুদ্র বা বৃহৎ কাউকেই বাদ দেয়নি, বরং তিনি তাদের সকলের ওপর তাঁর পরিপূর্ণ নেয়ামত এবং ব্যাপক দানসমূহ বর্ষণ করেছেন, যার মাধ্যমে তাদের অবস্থার সংশোধন হয়েছে, তাদের অপূর্ণতা দূর হয়েছে এবং তাদের অক্ষমতা সবলতায় রূপান্তরিত হয়েছে। অতঃপর তিনি আদম সন্তানকে তাঁর নেয়ামতসমূহের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তাদের তাঁর অনেক সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তিনি তাদের করেছেন সর্বোত্তম সৃষ্টি, তাদের স্বভাবকে করেছেন পূর্ণাঙ্গতম স্বভাব, তাদের শারীরিক গঠনকে করেছেন সুষম গঠন এবং তাদের জীবনযাত্রাকে করেছেন সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যময়। আর তাদের পরকালীন জীবনের প্রচেষ্টাকে সেই সন্তোষজনক বিবেক-বুদ্ধির অনুগামী করেছেন যা দিয়ে তিনি তাদের সাহায্য করেছেন, সেই সুচিন্তিত বিচারবুদ্ধির অনুগামী করেছেন যা দিয়ে তিনি তাঁর অনুগ্রহে তাদের শক্তিশালী করেছেন, সেই উত্তম আদব-শিষ্টাচারের অনুগামী করেছেন যার সৌন্দর্য তিনি তাদের পরিধান করিয়েছেন এবং সেই মহৎ চরিত্রের অনুগামী করেছেন যার মর্যাদা দিয়ে তিনি তাদের সুশোভিত করেছেন। সেই সাথে সেই বিচারক্ষমতাও দিয়েছেন যার মাধ্যমে তিনি তাদের ভালো ও মন্দের পার্থক্য, বিভ্রান্তি ও সঠিক পথের বৈপরীত্য এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে, মালিক ও দাসের মধ্যে এবং পরিচালক ও পরিচালিতের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা দেখিয়েছেন। পরিশেষে এটি তাদের জন্য স্রষ্টা ও সৃষ্টির পরিচয়ের একটি পথ এবং অনাদি স্রষ্টাকে সাব্যস্ত করার এক সুস্পষ্ট পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে; কেবল হঠকারিতা বা প্রত্যক্ষ সত্যকে অস্বীকার করা ছাড়া কেউ এর থেকে বিচ্যুত হয় না।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৮২)
اخْتِلَاف أقدار النَّاس وتفاوت أَحْوَالهم سَبَب بقائهم ثمَّ من عَلَيْهِم بِفضل رأفته منا مستأنفا بِأَن جعلهم فِي عُقُولهمْ وآرائهم متفاضلين كَمَا جعلهم فِي أملاكهم ومنازلهم ورتبهم متفاوتين لما فِي اسْتِوَاء أَحْوَالهم وتقارب أقدارهم من الْفساد الدَّاعِي إِلَى فنائهم لما يلقِي بَينهم من التنافس والتحاسد ويثير من التباغي والتظالم فقد علم ذَوُو الْعُقُول أَن النَّاس لَو كَانُوا جمعيا ملوكا لتفانوا عَن آخِرهم وَلَو كَانُوا كلهم سوقة لهلكوا عيَانًا بأسرهم كَمَا أَنهم لَو اسْتَووا فِي الْغنى لما مهن أحد لأحد وَلَا رفد حميم حميما وَلَو اسْتَووا فِي الْفقر لماتوا ضرا وهلكوا بؤسا فَلَمَّا كَانَ التحاسد من أطباعهم والتباهي من سوسهم وَفِي أصل جوهرهم كَانَ اخْتِلَاف أقدارهم وتفاوت أَحْوَالهم سَبَب بقائهم وَعلة لقناعتهم فذو المَال الغفل من الْعقل العطل من الْأَدَب الْمدْرك حَظه من الدُّنْيَا بِأَهْوَن سعي إِذا تَأمل حَال الْعَاقِل المحروم وأكدار الْحول الْقلب ظن بل أَيقَن أَن المَال الَّذِي وجده مغير من الْعقل الَّذِي عَدمه وَذُو الْأَدَب المعدم إِذا تفقد حَال المثري الْجَاهِل لم يشك فِي أَنه فضل عَلَيْهِ وَقدم دونه وَذُو الصِّنَاعَة الَّتِي تعود عَلَيْهِ بِمَا يمسك رمقه لَا يغبط ذَا السُّلْطَان العريض وَلَا ذَا الْملك المديد وكل ذَلِك من دَلَائِل الْحِكْمَة وشواهد لطف التَّدْبِير وأمارات الرَّحْمَة والرأفة
মানুষের মর্যাদার ভিন্নতা এবং তাদের অবস্থার বৈচিত্র্য তাদের টিকে থাকার কারণ অতঃপর তিনি তাঁর অনুকম্পা ও দয়ার অনুগ্রহে নতুনভাবে তাদের ওপর করুণা করেছেন এই যে, তিনি তাদের বুদ্ধি ও মতামতে পরস্পরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, যেভাবে তিনি তাদের সম্পদ, আবাসন ও পদমর্যাদায় বৈচিত্র্য দান করেছেন। কেননা তাদের অবস্থার সমতা এবং মর্যাদার নৈকট্যের মধ্যে এমন বিশৃঙ্খলা নিহিত থাকত যা তাদের ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেত; কারণ তা তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও হিংসা ছড়িয়ে দিত এবং বিদ্রোহ ও পারস্পরিক জুলুমকে উস্কে দিত। নিশ্চয়ই জ্ঞানীরা জানেন যে, মানুষ যদি সবাই রাজা হতো তবে তারা সবাই একে অপরকে ধ্বংস করে শেষ হয়ে যেত, আর তারা সবাই যদি সাধারণ প্রজা হতো তবে তারা নিশ্চিতভাবে সমূলে বিনাশ হয়ে যেত। ঠিক তেমনি তারা যদি সচ্ছলতায় সমান হতো তবে কেউ কারো সেবা করত না এবং কোনো বন্ধু কোনো বন্ধুকে সাহায্য করত না। আর যদি তারা দারিদ্র্যে সমান হতো তবে তারা চরম কষ্টে মারা যেত এবং চরম দুর্দশায় ধ্বংস হয়ে যেত। যেহেতু হিংসা করা তাদের স্বভাবজাত এবং অহংকার করা তাদের মজ্জাগত ও তাদের সত্তার মূলে বিদ্যমান, তাই তাদের মর্যাদার ভিন্নতা এবং অবস্থার বৈচিত্র্যই হলো তাদের টিকে থাকার কারণ এবং তাদের তুষ্টির হেতু। সুতরাং জ্ঞানহীন ও শিষ্টাচারবর্জিত যে সম্পদশালী ব্যক্তি অতি সামান্য প্রচেষ্টায় দুনিয়ার সুযোগ-সুবিধা লাভ করেছে, সে যখন বঞ্চিত বুদ্ধিমান ব্যক্তির অবস্থা এবং অস্থির হৃদয়ের ক্লেশ নিয়ে চিন্তা করে, তখন সে মনে করে বরং দৃঢ় বিশ্বাস করে যে, সে যে সম্পদ লাভ করেছে তা তার সেই বিবেকের পরিপূরক যা তার কাছে নেই। আর কপর্দকহীন শিষ্টাচারসম্পন্ন ব্যক্তি যখন কোনো মূর্খ ধনীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে, তখন সে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করে না যে, তাকে সেই ধনীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আর যে কারিগর তার কাজের মাধ্যমে কেবল জীবন ধারণের মতো আয় করে, সে বিশাল ক্ষমতার অধিকারী কিংবা দীর্ঘস্থায়ী রাজত্বের অধিকারীকে ঈর্ষা করে না। আর এ সব কিছুই প্রজ্ঞার নিদর্শন, সুনিপুণ ব্যবস্থাপনার প্রমাণ এবং রহমত ও দয়ার চিহ্ন।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
وجوب السياسة وأحق النَّاس وأولاهم بأمل مَا يجْرِي عَلَيْهِ تَدْبِير الْعَالم من الْحِكْمَة وَحسن واتقان السياسة وَأَحْكَام التَّدْبِير الْمُلُوك الَّذين جعل الله تَعَالَى ذكره بِأَيْدِيهِم أزمة الْعباد وملكهم تَدْبِير الْبِلَاد واسترعاهم أَمر الْبَريَّة وفوض إِلَيْهِم سياسة الرّعية ثمَّ الأمثل فالأمثل من الْوُلَاة الَّذين أعْطوا قياد الْأُمَم واستكفوا تَدْبِير الْأَمْصَار والكور ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ من أَرْبَاب النعم وسواس البطانة والخدم ثمَّ الَّذين يَلُونَهُمْ من أَرْبَاب الْمنَازل ورواض الْأَهْل والولدان فَإِن كل وَاحِد من هَؤُلَاءِ رَاع لما يجوزه كنفه ويضمه رَحْله ويصرفه أمره وَنَهْيه وَمن تَحت يَده رَعيته
وَيحْتَاج أَصْغَرهم شَأْنًا وأخفهم ظهرا وأرقهم حَالا وأضيقهم عطنا وَأَقلهمْ عددا من حسن السياسة وَالتَّدْبِير وَمن كَثْرَة التفكير وَالتَّقْدِير وَمن قلَّة الإغفال والإهمال وَمن الْإِنْكَار والتأنيب والتعنيف والتأديب وَالتَّعْدِيل والتقويم إِلَى جَمِيع مَا يحْتَاج إِلَيْهِ الْملك الْأَعْظَم
بل لَو قَالَ قَائِل الَّذِي يحْتَاج إِلَيْهِ هَذَا من التيقظ والتنبيه وَمن التعرف والتجسس والبحث والتنقير والفحص والكشيف أَو من استشعار الْخَوْف والوجل ومجانبة الركون والطمأنينة والإشقاق من انفتاق
শাসনের আবশ্যকতা বিশ্বের ব্যবস্থাপনা যে প্রজ্ঞা, উত্তম ও সুনিপুণ রাজনীতি এবং সুদৃঢ় পরিকল্পনার ওপর পরিচালিত হয়, মানুষের মধ্যে সেই প্রত্যাশা করার সবচেয়ে বেশি হকদার ও উপযুক্ত হলেন সেই সকল রাজন্যবর্গ, যাদের হাতে মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের পরিচালনার লাগাম অর্পণ করেছেন, যাদেরকে রাজ্য পরিচালনার কর্তৃত্ব দান করেছেন, সৃষ্টির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছেন এবং প্রজাদের শাসনের ভার তাদের ওপর ন্যস্ত করেছেন। অতঃপর তাদের পরবর্তী স্তরে যোগ্যতার ক্রমানুসারে সেই সকল শাসকবৃন্দ, যাদেরকে জাতিসমূহের নেতৃত্ব প্রদান করা হয়েছে এবং শহর ও জনপদসমূহ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এরপর তাদের পরবর্তী স্তরের বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ এবং অভ্যন্তরীণ পারিষদ ও খাদেমদের পরিচালকগণ। এরপর তাদের পরবর্তী স্তরের গৃহকর্তাগণ এবং পরিবার-পরিজন ও সন্তানদের পরিচালকগণ। কেননা তাদের প্রত্যেকেই তার আশ্রয়ভুক্ত এবং তার কর্তৃত্বে থাকা বিষয়াদির ক্ষেত্রে একজন দায়িত্বশীল (রাখাল), এবং তার আদেশ-নিষেধ ও তার নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যক্তিরা তার প্রজা।
মর্যাদায় তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সবচেয়ে ক্ষুদ্র, দায়দায়িত্বে সবচেয়ে হালকা, অবস্থায় সবচেয়ে নাজুক, জীবনযাত্রায় সবচেয়ে সংকীর্ণ এবং সংখ্যায় সবচেয়ে কম, তার জন্যও উত্তম রাজনীতি ও ব্যবস্থাপনা, গভীর চিন্তা ও পরিকল্পনা, গাফলতি ও অবহেলা বর্জন, এবং শাসন, তিরস্কার, কঠোরতা, শিষ্টাচার শিক্ষা, সংশোধন ও সুবিন্যস্তকরণের ক্ষেত্রে সেই সবকিছুর প্রয়োজন হয় যা একজন মহান সম্রাটের প্রয়োজন হয়।
বরং যদি কেউ বলে যে, এই ব্যক্তির জন্য সতর্কতা ও সজাগ থাকা, সংবাদ সংগ্রহ ও অনুসন্ধান, চুলচেরা বিশ্লেষণ, তদন্ত ও উদ্ঘাটন, অথবা ভয় ও শঙ্কা অনুভব করা এবং নিশ্চিন্ত থাকা ও অলসতা পরিহার করা এবং বিশৃঙ্খলার ফাটল সম্পর্কে ভীত থাকা প্রয়োজন...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
الربق واختلال السد أَكثر لأصاب مقَالا لِأَن الْفَذ الَّذِي لَا ظهير لَهُ والفرد الَّذِي لَا معاضد لَهُ أحْوج إِلَى حسن الْعِنَايَة وأحق بِشدَّة الِاحْتِرَاز من المستظهر بكفاية الكفاة ورفد الوزراء والأعوان وَلِأَن المعدم الَّذِي لَا مَال لَهُ يحْتَاج من ترقح الْعَيْش وَمَرَمَّة الْحَال إِلَى أَكثر مَا يحْتَاج إِلَيْهِ الْغَنِيّ الْمُوسر وَلَعَلَّ مُنكر يُنكر تمثيلنا أَحْوَال السوقة بأحوال الْمُلُوك أَو عائبا يعيب موازنتنا بَين الْحَالين أَو قادحا يقْدَح فِي مساواتنا بَين الْأَمريْنِ فَليعلم الْمُتَكَلف فِي النّظر فِي ذَلِك أَن تكلمنا فِي تقَارب النَّاس فِي الْأَخْلَاق والخلق وَفِي حاجات الْأَنْفس وَفِي دواعي الأجساد والمنازل دون الْمَرَاتِب والأحظار والأقدار
الْحَاجة إِلَى السياسة ثمَّ ليعلم إِن كل إِنْسَان ملك وسوقة يحْتَاج إِلَى وَقت تقوم بِهِ حَيَاته وَيبقى شخصه ثمَّ يحْتَاج إِلَى إعداد فضل قوته لما يسْتَأْنف من وَقت حَاجته وَأَنه لَيْسَ سَبِيل الْإِنْسَان فِي اقتناء الأقوات سَبِيل سَائِر الْحَيَوَان الَّذِي ينبعث فِي طلب الرَّعْي وَالْمَاء عِنْد هيجان الْجُوع وحدوث الْعَطش وينصرف عَنْهُمَا بعد الشِّبَع والري غير معبئ بِمَا أفضله وَلَا حَافظ لما احتازه وَلَا عَالم بِعُود حَاجته إِلَيْهِمَا بل يحْتَاج الْإِنْسَان إِلَى مَكَان يخزن فِيهِ مَا يقتنيه
বন্ধন এবং বাঁধের বিপর্যয় সম্পর্কে অনেক কথা বলা যেতে পারে; কেননা যে একাকী যার কোনো সাহায্যকারী নেই এবং যে নিঃসঙ্গ যার কোনো সমর্থক নেই, সে সুযোগ্য তত্ত্বাবধানের অধিক মুখাপেক্ষী এবং সেই ব্যক্তির তুলনায় অধিক সতর্কতা অবলম্বনের যোগ্য, যে পর্যাপ্ত দক্ষ লোকবল এবং উজির ও সহযোগীদের সাহায্যপুষ্ট। আর যেহেতু সম্পদহীন নিঃস্ব ব্যক্তি, যার কোনো অর্থকড়ি নেই, জীবন নির্বাহের প্রচেষ্টায় এবং অবস্থার সংশোধনে সেই বিত্তবান ও সচ্ছল ব্যক্তির চেয়ে অনেক বেশি মুখাপেক্ষী। সম্ভবত কোনো অস্বীকৃতিজ্ঞাপনকারী সাধারণ মানুষের অবস্থার সাথে রাজন্যবর্গের অবস্থার তুলনা করাকে অস্বীকার করতে পারে, অথবা কোনো দোষান্বেষী এই দুই অবস্থার মধ্যে আমাদের ভারসাম্য রক্ষা করাকে ত্রুটিযুক্ত মনে করতে পারে, অথবা কোনো নিন্দুক এই উভয় বিষয়কে আমাদের সমান করে দেখানোর সমালোচনা করতে পারে। অতএব, এই বিষয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণকারী যেন জেনে রাখেন যে, আমাদের এই আলোচনা হচ্ছে মানুষের চরিত্র ও সৃষ্টিগত সাদৃশ্য, আত্মার প্রয়োজনীয়তা এবং দেহের ও বাসস্থানের চাহিদার ক্ষেত্রে তাদের পারস্পরিক নৈকট্য নিয়ে; তাদের পদমর্যাদা, সীমাবদ্ধতা বা সম্মান-মর্যাদার নিরিখে নয়।
রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা অতঃপর জেনে রাখা উচিত যে, রাজা হোক বা প্রজা—প্রত্যেক মানুষেরই এমন কিছুর প্রয়োজন হয় যা দিয়ে তার জীবন অতিবাহিত হয় এবং তার অস্তিত্ব টিকে থাকে। অতঃপর তার প্রয়োজনের সময় পুনরায় ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত খাদ্য বা শক্তি সঞ্চয় করে রাখা প্রয়োজন। আর জীবনোপকরণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে মানুষের পদ্ধতি অন্যান্য পশুর মতো নয়, যারা ক্ষুধা ও তৃষ্ণার তাড়নায় চারণভূমি ও পানির সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে এবং তৃপ্ত হওয়ার পর সেদিক থেকে ফিরে আসে—যা অবশিষ্ট রইল তা নিয়ে তারা ভ্রুক্ষেপ করে না, যা অর্জন করেছিল তা সংরক্ষণ করে না এবং পুনরায় সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে সে সম্পর্কেও তারা অবগত নয়। বরং মানুষের এমন একটি স্থানের প্রয়োজন হয় যেখানে সে তার অর্জিত বস্তুসমূহ সঞ্চয় করে রাখতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
ويحرسه لوقت حَاجته فَكَانَ هَذَا سَبَب الْحَاجة إِلَى اتِّخَاذ المساكن والمنازل فَلَمَّا اتخذ الْمنزل واحرز الْقنية احْتَاجَ إِلَى حفظهَا فِيهِ مِمَّن يريدها ومنعها عَمَّن يرومها فَلَو أَنه أَقَامَ على الْقنية حَافِظًا لَهَا راصدا لطلابها إِذن أفناها قبل أَن يزِيد فِيهَا فَإِذا أفتنى ثَانِيَة عَادَتْ حَاجته إِلَى حفظهَا فَلَا يزَال ذَلِك دأبه حَتَّى يصير فِي مثل حيّز الْبَهِيمَة الَّتِي تسْعَى إِلَى مرعاها مَعَ حُدُوث حاجاتها فَاحْتَاجَ عِنْد ذَلِك إِلَى اسْتِخْلَاف غَيره على حفظ قنيته فَلم يصلح لخلافته فِي ذَلِك أَلا من تسكن نَفسه إِلَيْهِ وَلم تسكن نَفسه إِلَّا إِلَى الزَّوْج الَّتِي جعلهَا الله تَعَالَى ذكره للرجل سكنا وَكَانَ ذَلِك سَبَب اتِّخَاذ الْأَهْل وَلما يغشى الْأَهْل بِالْأَمر الَّذِي جعله الله سَببا لحدوث الذُّرِّيَّة وَعلة الْبَقَاء والنسل حدث الْوَلَد وَكثر الْعدَد وزادت الْحَاجة إِلَى الأقوات وإعداد فضلاتها لأوقات الْحَاجة احْتَاجَ عِنْد ذَلِك إِلَى الأعوان والقوام وَإِلَى الكفاة والخدام فَإِذا بِهِ صَار رَاعيا وَصَارَ من تَحت يَده لَهُ رعية
فَهَذِهِ أُمُور قد اسْتَوَى فِي الْحَاجة إِلَيْهَا الْملك والسوقة والراعي والمرعي والسائس والمسوس وَالْخَادِم والمخدوم لِأَن كل إِنْسَان مُحْتَاج فِي دُنْيَاهُ إِلَى قوت يمسك روحه وَيُقِيم جسده وَإِلَى منزل يحرز فِيهِ ذَات يَده ويأوى إِلَيْهِ إِذا انْصَرف عَن سَعْيه وَإِلَى زوج تحفظ عَلَيْهِ منزلَة وتحرز لَهُ كَسبه وَإِلَى ولد يسْعَى لَهُ عِنْد عَجزه ويمونه فِي حَال كبره ويصل نَسْله وَيحيى ذكره من بعده وَإِلَى قوام وكفاة يعينونه ويحملون ثقله وَإِذا اجْتمع هَؤُلَاءِ كَانَ رَاعيا ومسيما وَكَانَ لَهُ رعايا وسواما وكما إِن المسيم يلْزمه أَن يرتاد
এবং সে তা প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করে; আর এটাই ছিল বাসস্থান ও ঘরবাড়ি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কারণ। যখন সে ঘরবাড়ি গ্রহণ করল এবং সম্পদ অর্জন করল, তখন তা যাদের লালসা আছে তাদের থেকে রক্ষা করার এবং যারা তা হস্তগত করতে চায় তাদের থেকে প্রতিহত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। সে যদি নিজেই সেই সম্পদের উপর রক্ষক হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকত এবং অন্বেষণকারীদের জন্য ওঁত পেতে থাকত, তবে তাতে বৃদ্ধি ঘটানোর পূর্বেই সে নিজেকে নিঃশেষ করে ফেলত। যদি সে পুনরায় নিঃশেষ হয়ে যায়, তবে তা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আবার ফিরে আসবে; আর তার অভ্যাস এমনই হতে থাকবে যতক্ষণ না সে পশুর স্তরে পৌঁছে যাবে, যে তার প্রয়োজনের সাথে সাথে চারণভূমির সন্ধানে ছোটে। সেই মুহূর্তে সে তার সম্পদ রক্ষার জন্য অন্য কাউকে স্থলাভিষিক্ত করার প্রয়োজন অনুভব করল। আর এই স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য সেই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ উপযুক্ত ছিল না যার কাছে তার অন্তর প্রশান্তি পায়; আর তার অন্তর কেবল সেই স্ত্রীর কাছেই প্রশান্তি পায় যাকে আল্লাহ তাআলা (তাঁর স্মরণ সুউচ্চ হোক) পুরুষের জন্য প্রশান্তি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। আর এটাই ছিল পরিবার গ্রহণের কারণ। যখন সে আল্লাহর নির্ধারিত পন্থায় পরিবারের সাথে মিলিত হল—যা বংশবিস্তার এবং অস্তিত্ব ও বংশধারা রক্ষার কারণ—তখন সন্তান জন্ম নিল, সংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা ও প্রয়োজনের সময়ের জন্য অতিরিক্ত খাদ্য মজুত করার প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেল; সেই মুহূর্তে সে সাহায্যকারী, ব্যবস্থাপক, দক্ষ ব্যক্তি এবং সেবকদের প্রয়োজন অনুভব করল। তখন সে একজন অভিভাবক হয়ে গেল এবং যারা তার হাতের নিচে ছিল তারা তার অধীনস্থ হয়ে গেল।
সুতরাং এই বিষয়গুলোর প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে রাজা ও সাধারণ প্রজা, অভিভাবক ও পালিত, শাসক ও শাসিত এবং সেবক ও মনিব—সবাই সমান; কারণ প্রতিটি মানুষ তার ইহকালে এমন খাদ্যের মুখাপেক্ষী যা তার প্রাণ রক্ষা করবে এবং শরীরকে টিকিয়ে রাখবে, এবং এমন একটি গৃহের মুখাপেক্ষী যেখানে সে তার হাতের সম্পদ সংরক্ষণ করবে এবং যখন সে তার কাজ থেকে ফিরবে তখন সেখানে আশ্রয় নেবে, এবং এমন একজন স্ত্রীর মুখাপেক্ষী যে তার গৃহ সংরক্ষণ করবে এবং তার উপার্জনকে হেফাযত করবে, এবং এমন সন্তানের মুখাপেক্ষী যে তার অক্ষমতার সময় তার জন্য প্রচেষ্টা করবে, তার বার্ধক্যে তার ভরণপোষণ করবে, তার বংশধারা বজায় রাখবে এবং তার মৃত্যুর পর তার স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখবে, এবং এমন ব্যবস্থাপক ও দক্ষ ব্যক্তিদের মুখাপেক্ষী যারা তাকে সাহায্য করবে এবং তার বোঝা বহন করবে। আর যখন এই সব একত্রিত হয়, তখন সে একজন অভিভাবক ও পশুপালক হয়ে যায় এবং তার অধীনে প্রজা ও গবাদি পশু থাকে। আর যেমন পশুপালকের জন্য আবশ্যক হলো চারণভূমি অনুসন্ধান করা...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
مصَالح سائمته من الْكلأ وَالْمَاء نَهَارا وَمن الحظائر والزراب لَيْلًا وَإِن يذكي عيونه فِي كلائها ويبث كلابه فِي أقطارها ليحرسها من السبَاع العادية وَمن الْآفَات الطارقة وَمن السرق والغارة والنهب وَإِن يخْتَار لَهَا المشتى الدفئ والمصيف الرّيح ويرود لَهَا فِي طلب الْكلأ والنطف الْعَذَاب وَإِن يتحين وَقت عَملهَا وَإِن يترقب حيت نتاجها وَيلْزمهُ بعد ذَلِك أَن يَسُوقهَا إِلَى مصالحها ويصرفها عَن متالفها بنعيقه وصفيره وبزجره ووعيده فَإِن كَفاهُ ذَلِك فِي حسن انقيادها واستقامة ضلعها وَإِلَّا أقدم عَلَيْهَا بعصاه كَذَلِك يلْزم ذَا الْأَهْل وَالْولد والخدم والتبع مِمَّا يحِق عَلَيْهِ من حفظهم وحياطتهم وَمن تحمل مؤنهم وإدرار أَرْزَاقهم وإحسان سياستهم وتقويمهم بالترغيب والترهيب وبالوعد الْوَعيد وبالتقريب والتبعيد وبالإعطاء والحرمان حَتَّى تستقيم لَهُ قناتهم
فهذة أقاويل مجملة فِي وجوب السياسة وَالْحَاجة إِلَيْهَا وسنتبعها بأمثلة مفسرة فِي أَبْوَاب مفصلة بعد أَن نقدم قبلهَا بَابا فِي سياسة الرجل نَفسه فَإِن ذَلِك أحسن فِي النّظم وأبلغ فِي النَّفْع إِن شَاءَ الله تَعَالَى
তার চতুষ্পদ গবাদি পশুর দিবাভাগে চারণভূমি ও পানির এবং রাত্রিকালে খোয়াড় ও আস্তাবলের কল্যাণ সাধন করা; তাদের চারণভূমিতে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা এবং তাদের চতুর্দিকে কুকুর ছড়িয়ে দেওয়া যাতে সেগুলোকে হিংস্র পশু, আকস্মিক আপদ, চুরি, লুণ্ঠন ও আক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায়। আরও আবশ্যক হলো তাদের জন্য উষ্ণ শীতকালীন আবাস ও নাতিশীতোষ্ণ গ্রীষ্মকালীন আবাস নির্বাচন করা এবং তাদের জন্য ঘাস ও সুমিষ্ট পানির অনুসন্ধান করা। আর তাদের কাজের সময় নির্ধারণ করা এবং প্রজননের সময়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা। এরপর তার কর্তব্য হলো সেগুলোকে ডাক দিয়ে, শিস দিয়ে এবং ধমক ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কল্যাণের দিকে পরিচালিত করা এবং ধ্বংসের পথ থেকে নিবৃত্ত রাখা। যদি তাদের আনুগত্য ও সংশোধনের জন্য এটিই যথেষ্ট হয় তবে ভালো, অন্যথায় লাঠি হাতে অগ্রসর হওয়া। একইভাবে পরিবার, সন্তান, ভৃত্য ও অনুসারীদের অধিপতি ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো তাদের হেফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা, তাদের ব্যয়ভার বহন করা, জীবিকা নিশ্চিত করা এবং উত্তমরূপে তাদের পরিচালনা করা। আর উৎসাহ ও ভীতি প্রদর্শন, প্রতিশ্রুতি ও ধমক, নৈকট্য ও দূরত্ব এবং দান ও বঞ্চিত করার মাধ্যমে তাদের সংশোধন করা, যতক্ষণ না তারা সঠিক পথে সুদৃঢ় হয়।
এগুলো হলো শাসনের আবশ্যকতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য। আমরা এরপর বিস্তারিত পরিচ্ছেদসমূহে ব্যাখ্যামূলক উদাহরণ পেশ করব, তবে তার আগে ব্যক্তির আত্ম-পরিচালনা বা নফস শাসনের ওপর একটি পরিচ্ছেদ উপস্থাপন করব। কেননা ইনশাআল্লাহ তাআলা, এটিই বিন্যাসের দিক থেকে অধিকতর সুন্দর এবং উপকারের দিক থেকে অধিকতর ফলপ্রসূ হবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
بَاب فِي سياسة الرجل نَفسه
إِن أول مَا يَنْبَغِي أَن يبْدَأ بِهِ الْإِنْسَان من أَصْنَاف السياسة سياسة نَفسه إِذْ كَانَت نَفسه أقرب الْأَشْيَاء إِلَيْهِ وَأَكْرمهَا عَلَيْهِ وأولاها بعنايته وَلِأَنَّهُ مَتى أحسن سياسة نَفسه لم يعي بِمَا فَوْقهَا من سياسة الْمصر
الْعقل أساس الْإِصْلَاح وَمن أَوَائِل مَا يلْزم من رام سياسة نَفسه أَن يعلم إِن لَهُ عقلا هُوَ السائس ونفسا أَمارَة بالسوء كَثِيرَة المعايب جمة المساوئ فِي طبعها وأصل خلقهَا هِيَ المسوسة
معرفَة أوجه الْفساد وعلاجها وَإِن يعلم إِن كل رام إصْلَاح فَاسد لزمَه أَن يعرف جَمِيع فَسَاد ذَلِك الْفساد معرفَة مستقصاه حَتَّى لَا يُغَادر مِنْهُ شَيْئا ثمَّ يَأْخُذ فِي إِصْلَاحه وَإِلَّا كَانَ مَا يصلحه غير حريز وَلَا وثيق
كَذَلِك من رام سياسة نَفسه ورياضتها وَإِصْلَاح فاسدها لم يحز لَهُ أَن يَبْتَدِئ فِي ذَلِك حَتَّى يعرف جَمِيع مساوئ نَفسه معرفَة مُحِيطَة فَإِنَّهُ إِن أغفل بعض تِلْكَ المساوئ وَهُوَ يرى أَنه قد عَمها بالإصلاح كَانَ كمن يدمل ظَاهر الْكَلم وباطنه مُشْتَمل على الدَّاء وكما أَن الدَّاء إِذا قوى على الإهمال وَطول
অধ্যায়: ব্যক্তির আত্ম-ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে
ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে মানুষের জন্য যা দিয়ে আরম্ভ করা সর্বপ্রথম উচিত তা হলো নিজ সত্তার ব্যবস্থাপনা। কারণ তার সত্তা তার সবচেয়ে নিকটবর্তী বিষয় এবং তার নিকট সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও তার বিশেষ মনোযোগের সবচেয়ে যোগ্য। উপরন্তু, যখন সে সুন্দরভাবে নিজ সত্তার ব্যবস্থাপনা করতে পারবে, তখন সে এর ঊর্ধ্বের বিষয় অর্থাৎ নগর-ব্যবস্থাপনায় ক্লান্ত বা অক্ষম হবে না।
বুদ্ধিবৃত্তি হলো সংশোধনের ভিত্তি যে ব্যক্তি নিজের আত্ম-ব্যবস্থাপনার সংকল্প করে, তার জন্য প্রাথমিক আবশ্যিক বিষয়সমূহের একটি হলো এটি জানা যে, তার একটি আকল (বুদ্ধিবৃত্তি) রয়েছে যা ব্যবস্থাপক, আর তার একটি মন্দ-প্রবণ আত্মা (নফস আম্মারা) রয়েছে যা অসংখ্য দোষ-ত্রুটি ও মন্দের আধার এবং স্বভাবে ও সৃষ্টিগতভাবে সেটিই হলো ব্যবস্থাপিত বা নিয়ন্ত্রিত বিষয়।
অনিষ্টের স্বরূপ চেনা এবং তার প্রতিকার এবং তাকে জানতে হবে যে, যে ব্যক্তি কোনো নষ্ট হওয়া বিষয় সংশোধনের ইচ্ছা করে, তার জন্য সেই অনিষ্টের যাবতীয় রূপ সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ জ্ঞান রাখা জরুরি, যাতে কোনো কিছুই বাদ না পড়ে; এরপর সে তা সংশোধনে প্রবৃত্ত হবে। অন্যথায় সে যা সংশোধন করবে তা টেকসই বা মজবুত হবে না।
অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি নিজের নফসের ব্যবস্থাপনা, তার সাধনা এবং তার বিশৃঙ্খলা সংশোধনের সংকল্প করে, তার জন্য এ কাজ শুরু করা সমীচীন নয় যতক্ষণ না সে তার নফসের সমস্ত মন্দ দিকগুলো সম্পর্কে পরিবেষ্টনকারী জ্ঞান অর্জন করে। কেননা সে যদি নফসের কিছু মন্দ স্বভাবের ব্যাপারে উদাসীন থাকে অথচ মনে করে যে সে তার সামগ্রিক সংশোধন করেছে, তবে সে ওই ব্যক্তির ন্যায় যে ক্ষতের উপরিভাগ তো শুকিয়ে ফেলেছে কিন্তু তার ভেতরটা রোগে পূর্ণ। আর রোগ যখন অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্রবল হয়ে যায়...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
التّرْك نقض الِانْدِمَال وَقذف الْجلد حَتَّى يَبْدُو لعين النَّاظر كَذَلِك الْعَيْب من معايب النَّفس إِذا أغفل عَنهُ كامنا حَتَّى إِذا لَاحَ لَهُ وَجه ظُهُور طلع مكتمنه آمن مَا كَانَ الْإِنْسَان لَهُ
ضَرُورَة الصّديق لكشف عُيُوب النَّفس وَلما كَانَت معرفَة الْإِنْسَان نَفسه غير موثوق بهَا لما فِي طباع الْإِنْسَان من الغباوة عَن مساوئه وَكَثْرَة مسامحته نَفسه عِنْد محاسبتها وَلِأَن عقله غير سَلام عَن ممازجة الْهوى إِيَّاه عِنْد نظره فِي أَحْوَال نَفسه كَانَ غير مستغن فِي الْبَحْث عَن أَحْوَاله والفحص عَن مساوئه ومحاسنه من مَعُونَة الْأَخ اللبيب الواد الَّذِي يكون مِنْهُ بِمَنْزِلَة الْمرْآة فيريه حسن أَحْوَاله حسنا وسيئها سَيِّئًا
ضَرُورَة من يكْشف للرؤساء عيوبهم وأحق النَّاس بذلك وأحوجهم إِلَيْهِ الرؤساء فَإِن هَؤُلَاءِ لما خَرجُوا عَن سُلْطَان التثبت وَعَن ملكة التصنع تركُوا الاكتراث للسقطات وَتعقب الهفوات بالندمات فاستمرت عَادَتهم على كَثْرَة الاسترسال وَقلة الاحتشام إِلَّا قَلِيلا مِنْهُم برعت عُقُولهمْ ورجحت أحلامهم ونفذت فِي ضبط أنفسهم بصائرهم فحسنت سيرتهم واستقامت طريقتهم وَمِمَّا زَاد فِي عظم بلائهم باكتتام عيوبهم أَنهم هيبوا عَن التَّعْبِير بالمعايب مُوَاجهَة وَعَن النَّقْص والذم مشافهة وخيفوا فِي إعلان الثلب والعضب والشنع
অবহেলা হলো ক্ষতের উপশম নষ্ট হওয়া এবং চামড়া খসে পড়া, যতক্ষণ না তা প্রত্যক্ষকারীর চোখে দৃশ্যমান হয়। তেমনিভাবে, আত্মার ত্রুটিসমূহ যখন সুপ্ত থাকা অবস্থায় সেগুলোকে উপেক্ষা করা হয়, তখন তা সুপ্তই থাকে; কিন্তু যখনই এর আত্মপ্রকাশের কোনো সুযোগ তৈরি হয়, তখন মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ মনে করার সময়েই সেই গোপন ত্রুটিটি প্রকাশ পেয়ে যায়।
আত্মার ত্রুটিসমূহ উন্মোচনের জন্য বন্ধুর প্রয়োজনীয়তা যেহেতু নিজের সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান নির্ভরযোগ্য নয়—মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা অনুযায়ী নিজের মন্দ দিকগুলো সম্পর্কে অসচেতনতা এবং আত্ম-হিসাব নিকাশের সময় নিজের প্রতি অতিমাত্রায় শিথিলতা প্রদর্শনের কারণে; এবং যেহেতু নিজের অবস্থা পর্যবেক্ষণের সময় মানুষের বুদ্ধি প্রবৃত্তি বা খেয়াল-খুশির মিশ্রণ থেকে মুক্ত থাকে না, তাই নিজের অবস্থা অনুসন্ধান এবং দোষ-গুণ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সে একজন বুদ্ধিমান ও হিতাকাঙ্ক্ষী ভাইয়ের সাহায্য বিমুখ হতে পারে না। সেই ভাই তার জন্য আয়না স্বরূপ হবে, যে তার ভালো দিকগুলোকে ভালো হিসেবে এবং মন্দ দিকগুলোকে মন্দ হিসেবে তাকে দেখাবে।
নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের ত্রুটিসমূহ উন্মোচন করে দেওয়ার মতো ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তা এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত এবং এর প্রতি সর্বাধিক মুখাপেক্ষী হলেন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ। কেননা, তারা যখন যাচাই-বাছাইয়ের নিয়ন্ত্রণ এবং লৌকিকতার কৃত্রিমতা থেকে বেরিয়ে যান, তখন তারা নিজেদের পতন বা বিচ্যুতিগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা এবং ভুলত্রুটির জন্য অনুতপ্ত হওয়া ছেড়ে দেন। ফলে তাদের স্বভাব হয়ে দাঁড়ায় লাগামহীনতা এবং সংকোচহীনতা; তবে তাদের মধ্যে অতি অল্পসংখ্যক ব্যক্তি ব্যতীত—যাদের বুদ্ধি শাণিত, সহনশীলতা প্রবল এবং আত্মনিয়ন্ত্রণে যাদের অন্তর্দৃষ্টি অত্যন্ত কার্যকর। ফলে তাদের জীবনচরিত সুন্দর হয়েছে এবং তাদের পথ সুদৃঢ় হয়েছে। তাদের ত্রুটিগুলো গোপন থেকে যাওয়ার মাধ্যমে তাদের বিপদ আরও ঘনীভূত হওয়ার একটি কারণ হলো যে, মানুষের মনে তাদের এমন এক প্রভাব বা ভয় কাজ করে যা সরাসরি তাদের দোষত্রুটি উল্লেখ করতে বাধা দেয় এবং সামনাসামনি তাদের খুঁত বা নিন্দা প্রকাশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। অধিকন্তু, তাদের কুৎসা রটনা বা তাদের রোষানল ও ঘৃণার শিকার হওয়ার ভয়ও মানুষকে নিরস্ত রাখে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
والجذب والهمز واللمز بِظهْر الْعَيْب فَلَمَّا انْقَطع علم ذَلِك عَنْهُم ظنُّوا أَن المعايب تخطتهم والمثالب جاوزتهم فَلم تعرج بخططهم وَلم تعرس بأفنيتهم
وَلَيْسَ كَذَلِك حَال من دونهم من الرعاع والسوقة فَإِن أحدهم لَو رام أَن يخفى عَنهُ عيوبه يبدهه محبَّة بهَا ويتدارك عَلَيْهِ بأقبحها مَا اسْتَطَاعَ ذَلِك فَإِنَّهُ يخالط النَّاس ويلابسهم ضَرُورَة والمخالطة تحدث المجادلة والمدافعة وَذَلِكَ من أَسبَاب الْمُخَاصمَة والمخاصمة تُؤدِّي إِلَى التعايب بالمثالب والترامي بالعار وَعند ذَلِك يكَاد كل وَاحِد من الْفَرِيقَيْنِ لَا يرضى بِذكر حقائق عُيُوب صَاحبه بل يتهمه بِالْبَاطِلِ ويفتعل عَلَيْهِ الزُّور فَهَؤُلَاءِ قد كفوا استرشاد جلسائهم وَبث الجواسيس فِي تعرف عيوبهم من قبل أعدائهم فَإِنَّهَا قد جلبت إِلَيْهِم من غير هَذَا الطَّرِيق فَأَما من يسالم من السوقة النَّاس فَلَا يساورهم ويواتيهم وَلَا يلاحيهم فَإِنَّهُ لَا يعْدم من ينبهه على عَيبه وينصحه فِي نَفسه من حميم وَقَرِيب وخليط وجليس وأكيل
قرناء السوء وأثرهم وَمِمَّا زَاد فِي فَسَاد حَال الْمُلُوك والرؤساء مِمَّا أتيح لَهُم من قرناء السوء وقيض لَهُم من جلساء الشَّرّ الَّذين لما خاسوا بعهدهم وراغوا فِي صحبتهم وغشوهم فِي عشرتهم بتركهم صدقهم عَن أنفسهم وتنبيههم عَن عَوْرَاتهمْ لم
এবং অগোচরে দোষারোপ, টিটকারি ও নিন্দা। অতঃপর যখন এসবের সংবাদ তাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, তখন তারা মনে করল যে দোষত্রুটি তাদের অতিক্রম করে চলে গেছে এবং মন্দ বিষয়গুলো তাদের ছাড়িয়ে গেছে; ফলে তা তাদের সীমানায় পদার্পণ করেনি এবং তাদের আঙিনায় অবস্থান নেয়নি।
কিন্তু তাদের নিম্নস্তরের সাধারণ জনগণ ও সাধারণ শ্রেণির অবস্থা এমন নয়। কেননা তাদের কেউ যদি তার দোষত্রুটি গোপন রাখতেও চায়, তবে তাকে ভালোবাসে এমন কেউ তা তার সামনে প্রকাশ করে দেয় এবং সবচেয়ে কুৎসিত দোষটি দিয়ে তাকে পাকড়াও করে; সে তা গোপন করতে সক্ষম হয় না। কারণ সে অপরিহার্যভাবেই মানুষের সাথে মেলামেশা ও সামাজিকতা রক্ষা করে চলে। আর মেলামেশা থেকে বিতর্ক ও বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়, যা বিবাদের অন্যতম কারণ। আর বিবাদ একে অপরের দোষারোপ এবং কলঙ্ক লেপনের দিকে ধাবিত করে। এমতাবস্থায় উভয় পক্ষের প্রত্যেকেই কেবল তার সঙ্গীর প্রকৃত দোষ বর্ণনায় সন্তুষ্ট থাকে না, বরং সে তার ওপর মিথ্যা অপবাদ দেয় এবং জালিয়াতি করে। সুতরাং এরা তাদের মজলিসের সঙ্গীদের থেকে পথনির্দেশনা গ্রহণ এবং শত্রুদের পক্ষ থেকে তাদের দোষত্রুটি জানার জন্য গোয়েন্দা নিযুক্ত করার কষ্ট থেকে রেহাই পেয়েছে; কারণ এসব তো অন্য পথেই তাদের কাছে চলে আসে। আর সাধারণ মানুষের মধ্যে যারা মানুষের সাথে শান্তিতে বসবাস করে, তাদের ওপর আক্রমণ করে না, তাদের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখে এবং ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয় না, তারাও এমন কাউকে পেতে ব্যর্থ হয় না যে তাকে তার দোষত্রুটি সম্পর্কে সচেতন করবে এবং তাকে উপদেশ দেবে—সে হতে পারে কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু, নিকটাত্মীয়, অংশীদার, সহচর কিংবা সহভোজী।
অসৎ সঙ্গ এবং তাদের প্রভাব রাজা-বাদশাহ ও প্রধানদের অবস্থার অবনতি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো তাদের জন্য জুটে যাওয়া অসৎ সঙ্গ এবং তাদের জন্য নির্ধারিত হওয়া মন্দ সহচরবৃন্দ। যারা যখন তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করল, তাদের সাহচর্যে প্রতারণা করল এবং তাদের সাথে মেলামেশায় শঠতা করল—নিজেদের সম্পর্কে সত্য বলা এবং তাদের দুর্বলতাগুলো সম্পর্কে সচেতন করা বর্জন করার মাধ্যমে, তখন তারা...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৯০)
يغشوهم بالثناء الْكَاذِب وَلم يغروهم بالتقريظ الْبَاطِل وَلم يستدروجهم باستصابة خطأهم لكانوا أخف ذنوبا وَإِن كَانُوا غير خَارِجين على لؤم الْعشْرَة ودناءة الصُّحْبَة وَلَعَلَّ أحدهم إِذا تنوع فِي إِقَامَة عذره وتنطع فِي تَخْفيف حُرْمَة قَالَ إِنَّمَا نَدع نصحهمْ فِي أنفسهم وصرفهم عَن أَحْوَالهم اشفاقا من حميتهم وحذرا من أنفتهم وخوفا من استثقالهم النَّصِيحَة فَإِن للنصح لدعا كلذع النَّار وحرا كحر السنان فَنحْن نَخَاف إِن فعلنَا ذَلِك بهم أَن لَا نربح إِلَّا استيحاشهم لنا ونفارهم منا وأزورارهم عَنَّا وَعَن عشرتنا فلَان نظفر بهم مَعَ زللهم خير لنا وَلَهُم من أَن نخرق عَلَيْهِم فَلَا هم يبقون لنا وَلَا نَحن نبقى لَهُم
هَذَا إِذا كَانَ الصاحب رَفِيقًا متثبتا
فإمَّا إِذا كَانَ أخرق متهورا فَإِنَّهُ يَقُول لَا نَأْمَن من سُقُوط منزلتنا وَانْقِطَاع خلظتنا مَعَ سُورَة غَضَبه وبادرة سطوته
أساس الصُّحْبَة فَيُقَال لَهُ إِنَّك إِذا بنيت أَمرك فِي صُحْبَة من تصْحَب على الدّين والمروءة لم يلزمك أَن تراعي غَيرهمَا فِيمَا يَأْتِي وَتَذَر وَإِذا اقتديت بهما وعشوت إِلَى نورهما لم تضل فِي طَرِيق صُحْبَة من صَحِبت
وَقد قضيت فِيك بِأَن صَاحبك أحد رجلَيْنِ إِمَّا حَازِم رَفِيق متثبت وَإِمَّا أخرق متهور
তারা যদি তাদেরকে মিথ্যা প্রশংসায় আচ্ছন্ন না করত, ভিত্তিহীন স্তুতি দিয়ে প্রলুব্ধ না করত এবং তাদের ভুলগুলোকে সঠিক বলে প্রলুব্ধ না করত, তবে তাদের পাপ হালকা হতো; যদিও তারা মেলামেশার হীনতা এবং বন্ধুত্বের নীচতা থেকে মুক্ত থাকত না। সম্ভবত তাদের কেউ যখন নিজের অজুহাত পেশ করতে নানা পথ খুঁজে নেয় এবং নিজের মর্যাদাহানি লাঘব করতে বাড়াবাড়ি করে, তখন সে বলে: "আমরা কেবল তাদের আত্মিক সংশোধন এবং তাদের মন্দ অবস্থা থেকে ফিরিয়ে রাখার উপদেশ দেওয়া ছেড়ে দেই তাদের ক্রোধের প্রতি দয়া করে, তাদের অহমিকা থেকে সতর্ক থেকে এবং নসিহতকে তারা ভারী মনে করবে সেই ভয়ে।" কারণ নসিহতের জ্বালা আগুনের দহনের মতো এবং এর তীক্ষ্ণতা বর্শার ফলার উত্তাপের মতো। তাই আমরা ভয় পাই যে, যদি আমরা তাদের সাথে এমনটি করি তবে আমাদের পাওনা হবে কেবল তাদের বিরাগভাজন হওয়া, আমাদের থেকে তাদের দূরে সরে যাওয়া এবং আমাদের সাহচর্য ও মেলামেশা থেকে তাদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। সুতরাং তাদের ভুলত্রুটি থাকা সত্ত্বেও তাদের সঙ্গ পাওয়া আমাদের এবং তাদের জন্য অধিকতর শ্রেয় এই অপেক্ষা যে, আমরা তাদের সাথে রূঢ় আচরণ করি এবং ফলস্বরূপ না তারা আমাদের জন্য অবশিষ্ট থাকে, আর না আমরা তাদের জন্য।
এটি তখন, যখন বন্ধু হয় সহনশীল ও স্থিরচিত্ত।
আর যদি সে হয় নির্বোধ ও হঠকারী, তবে সে (উপদেশদানকারী) বলে: "আমরা তার ক্রোধের তীব্রতা ও আকস্মিক আক্রমণের মুখে আমাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়া এবং আমাদের হৃদ্যতা বিচ্ছিন্ন হওয়ার ব্যাপারে নিরাপদ নই।"
বন্ধুত্বের ভিত্তি তাকে বলা হয়: তুমি যদি তোমার বন্ধুত্বের ভিত্তি দ্বীন ও মনুষ্যত্বের (মুরওয়াত) ওপর স্থাপন করো, তবে তোমার যা কিছু গ্রহণ বা বর্জন করতে হবে তাতে এই দুটি ছাড়া অন্য কিছুর পরোয়া করা আবশ্যক হবে না। আর যখন তুমি এই দুটির অনুসরণ করবে এবং তাদের আলোর দিকে অগ্রসর হবে, তখন তুমি যার সঙ্গ গ্রহণ করেছ তার বন্ধুত্বের পথে বিভ্রান্ত হবে না।
আর আমি তোমার বিষয়ে ফয়সালা করেছি যে, তোমার বন্ধু দুই ধরনের ব্যক্তির একজন হবে: হয় সে হবে দূরদর্শী, সহনশীল ও স্থিরচিত্ত, অথবা সে হবে নির্বোধ ও হঠকারী।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৯১)
موقف الرؤساء من النصح فالرفيق المتثبت لأحوز عَلَيْهِ فضل مَا يسديه نصحك وَإِن هُوَ ارتاع ووجم وَحمى أَنفه وثنى عطفه فِي أول مَا يرد عَلَيْهِ مِنْك فَإِذا تثبت وفكر وَقدر عرف الْخَيْر الَّذِي قصدته وَالصَّلَاح الَّذِي أممته فَرجع إِلَيْك أحسن الرُّجُوع
وَأما الأخرق المتهور فَأَنت غر آمن من خرقه فِي أَي حَال شايعته أَو خالفته وَلَيْسَ من الرَّأْي لَك أَن تصْحَب من هَذِه صفته فتحتاج إِلَى هدايته
لكَي تَأتي الشورة ثمارها وَاعْلَم أَنه لَيْسَ لَك وَإِن كَانَ طَرِيق إرشاد الْعَاقِل عَن رعنة أَن تركبه هائما وتسلكه خابطا وَلَكِن يَنْبَغِي لَك أَن تمس الْعَاقِل بالمشورة عَلَيْهِ مسك الشَّوْكَة الشائكة بجسدك والقرحة الدامية من بدنك على الين مَا تمس وأرفق القَوْل وأخفض الصَّوْت وَفِي أخلى المواطن واستر الْأَحْوَال والتعريض فِيهَا أبلغ من التَّصْرِيح وَضرب الْأَمْثَال أحسن من التكشيف فَإِن رَأَيْت صَاحبك يشرئب لِقَوْلِك إِذا بدر مِنْك ويهش لَهُ ويصغى إِلَيْهِ فأسبغ القَوْل فِي غير إفراط وَلَا إسهاب وَلَا إملال وَلَا تزد على الْوَجْه الْوَاحِد من الرَّأْي ودعه يختمر فِي قلبه ويتردد فِي جوانحه فَيعلم بتخلي مغبته
وَإِن رَأَيْت صَاحبك لَا يكترث لكلامك إِذا ورد عَلَيْهِ فاقطعه وَأحل مَعْنَاهُ إِلَى غير مَا أردته وأخره إِلَى وَقت نشاطه وفراغ باله
উপদেশ গ্রহণের ক্ষেত্রে নেতৃবৃন্দের অবস্থান সুদৃঢ় ও ধৈর্যশীল সঙ্গী আপনার উপদেশের মাধ্যমে আপনি যে কল্যাণ পৌঁছে দিতে চান তার শ্রেষ্ঠত্ব লাভে অধিক সক্ষম, যদিও প্রথম অবস্থায় আপনার কথা শুনে তিনি আতঙ্কিত বা বিষণ্ণ হতে পারেন এবং রাগান্বিত হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু যখন তিনি স্থির হয়ে চিন্তা ও বিচার-বিশ্লেষণ করবেন, তখন তিনি আপনার অভীষ্ট কল্যাণ ও উদ্দেশ্য অনুধাবন করবেন এবং আপনার প্রতি অত্যন্ত চমৎকারভাবে প্রত্যাবর্তন করবেন।
পক্ষান্তরে অবিবেচক ও হঠকারী ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি কখনোই নিরাপদ নন; চাই আপনি তার অনুসরণ করুন কিংবা বিরোধিতা। এমন ব্যক্তির সাহচর্য গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, যার সঠিক পথনির্দেশের জন্য আপনার শ্রম ব্যয় করতে হয়।
পরামর্শকে ফলপ্রসূ করার উপায় জেনে রাখুন, কোনো জ্ঞানবান ব্যক্তিকে তার অসতর্কতা সম্পর্কে সতর্ক করার পদ্ধতিটি এমন নয় যে, আপনি লক্ষ্যহীনভাবে তাতে ঝাঁপিয়ে পড়বেন বা এলোমেলোভাবে পথ চলবেন। বরং আপনার উচিত তাকে পরামর্শের মাধ্যমে অত্যন্ত নম্রভাবে স্পর্শ করা, ঠিক যেভাবে আপনি নিজ শরীরের কোনো বিঁধে থাকা কাঁটা বা রক্তক্ষরণ হওয়া ক্ষতকে অত্যন্ত কোমলভাবে স্পর্শ করেন। আপনার কথা হতে হবে অত্যন্ত বিনম্র, কণ্ঠস্বর হতে হবে নিচু, নির্জন স্থানে এবং অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে। এক্ষেত্রে স্পষ্ট বলার চেয়ে ইঙ্গিতে বলা অধিক কার্যকর এবং সরাসরি প্রকাশ করার চেয়ে উদাহরণ পেশ করা অধিক উত্তম। যদি আপনি দেখেন যে আপনার সঙ্গী আপনার কথার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং তা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন, তবে আপনি বাড়াবাড়ি, দীর্ঘসূত্রিতা বা বিরক্তি সৃষ্টি না করে পূর্ণাঙ্গভাবে কথাটি বলুন। তবে একটি বিষয়ের ওপর একটির বেশি মত দেবেন না; বরং তা তার হৃদয়ে পরিপক্ব হতে দিন এবং তার অন্তরে আলোড়িত হতে দিন, যাতে তিনি নিজেই এর শেষ ফলাফল অনুধাবন করতে পারেন।
আর যদি দেখেন যে আপনার কথা তার নিকট পৌঁছানোর পর তিনি ভ্রুক্ষেপ করছেন না, তবে তৎক্ষণাৎ কথা বন্ধ করুন এবং এর অর্থকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করুন। অতঃপর তার প্রফুল্লতা ও মানসিক অবসরের সময় পর্যন্ত তা স্থগিত রাখুন।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৯২)
أَخْلَاق الرئيس من أَخْلَاق النَّاس وَيَنْبَغِي لمن عَنى بتعرف مناقبه ومثاله أَن يفحص عَن أَخْلَاق النَّاس ويتفقد شيمهم وخلائقهم ويتبصر مناقبهم ومثالبهم فيقيسها بِمَا عِنْده مِنْهَا وَيعلم أَنه مثلهم وَأَنَّهُمْ أَمْثَاله فَإِن النَّاس أشباه بل هم سَوَاء كأسنان الْمشْط
فَإِذا رأى المنقبة الْحَسَنَة فَليعلم أَن فِيهِ مثلهَا إِمَّا ظَاهِرَة وَإِمَّا مغمورة فَإِن كَانَت ظَاهِرَة فليراعها وليواظب عَلَيْهَا حَتَّى لَا تبيد وَلَا تضمحل وَإِن كَانَت مغمورة فليثرها وليحيها وليحافظ على استدعائها فَإِنَّهَا تجيب بِأَهْوَن سعي وأسرع وَقت وَإِذا رأى المثلبة وَالْعَادَة السَّيئَة والخلق اللَّئِيم فَليعلم أَن ميلها رَاهن لَدَيْهِ إِمَّا باد وَإِمَّا كامن فَإِن كَانَ باديا فليقمعه وليقهره وليمته بقلة اسْتِعْمَاله وَشدَّة نسيانه وَإِن كَانَ كامنا فليحرمه لِئَلَّا يظْهر
الثَّوَاب وَالْعِقَاب للنَّفس وَيَنْبَغِي للْإنْسَان أَن يعد لنَفسِهِ ثَوابًا وعقابا يسهوسها بِهِ فَإِذا أَحْسَنت طاعتها وسلس انقيادها لما يسومها من قبُول الْفَضَائِل وَترك الرذائل إِذا أَنْت بِخلق كريم أَو منقبة شريفة أثابها بأكثار حمدها وجلب السرُور لَهَا وتمكينها من بعض لذاتها وَإِذا ساءت طاعتها وَامْتنع انقيادها وجمحت فَلم يسلس عنانها وآثرت الرذائل على الْفَضَائِل وَأَنت بِخلق لئيم أَو فعل ذميم عاقبها بأكثار ذمها ولومها وجلب عَلَيْهَا شدَّة الندامة ومنعها لذتها حَتَّى تلين لَهُ
নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির চরিত্র মানুষের চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত যে ব্যক্তি নিজের গুণাবলী ও আদর্শ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তার উচিত মানুষের চরিত্র পরীক্ষা করা, তাদের স্বভাব ও প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা এবং তাদের গুণ ও দোষগুলো গভীরভাবে দেখা। অতঃপর সে যেন এগুলোকে নিজের মধ্যে বিদ্যমান গুণ ও দোষের সাথে তুলনা করে এবং এটা জানে যে, সে তাদের মতোই এবং তারাও তার মতো। কারণ মানুষ একে অপরের সদৃশ, বরং তারা চিরুনির দাঁতের মতো সমান।
সুতরাং যখন সে কোনো উত্তম গুণ দেখে, তখন সে যেন জেনে রাখে যে, তার মধ্যেও অনুরূপ গুণ রয়েছে—হয় তা প্রকাশ্য, নয়তো প্রচ্ছন্ন। যদি তা প্রকাশ্য হয়, তবে সে যেন তার যত্ন নেয় এবং তাতে অভ্যস্ত থাকে যাতে তা বিনষ্ট বা বিলীন না হয়ে যায়। আর যদি তা প্রচ্ছন্ন হয়, তবে সে যেন তাকে জাগ্রত করে, জীবিত করে এবং তাকে আবাহন করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকে। কেননা তা সামান্য প্রচেষ্টায় এবং দ্রুততম সময়ে সাড়া দেয়। আর যখন সে কোনো ত্রুটি, মন্দ অভ্যাস বা নীচ স্বভাব দেখে, তখন সে যেন জেনে রাখে যে, সেদিকে তার ঝোঁকও বিদ্যমান—হয় তা প্রকাশিত, না হয় সুপ্ত। যদি তা প্রকাশিত হয়, তবে সে যেন তাকে দমন করে, পরাভূত করে এবং তার চর্চা কমিয়ে দিয়ে ও তা বিস্মৃত হয়ে তাকে নিঃশেষ করে দেয়। আর যদি তা সুপ্ত থাকে, তবে সে যেন তাকে সুযোগ না দেয় যাতে তা প্রকাশ পেতে না পারে।
আত্মার জন্য পুরস্কার ও তিরস্কার মানুষের উচিত নিজের আত্মার জন্য পুরস্কার ও তিরস্কারের ব্যবস্থা রাখা, যার মাধ্যমে সে তাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। যখন আত্মা সুন্দরভাবে আনুগত্য করে এবং সদ্গুণ গ্রহণ ও অসদ্গুণ বর্জনের ক্ষেত্রে সহজেই বশীভূত হয়—অর্থাৎ যখন আত্মা কোনো মহৎ চরিত্র বা শ্রেষ্ঠ গুণের পরিচয় দেয়—তখন সে যেন আত্মার প্রশংসা বৃদ্ধি করে, তাকে আনন্দ প্রদান করে এবং তাকে কিছু স্বাদ গ্রহণের সুযোগ দিয়ে পুরস্কৃত করে। আর যখন আত্মা অবাধ্য হয়, অনুগত হতে অস্বীকার করে এবং উদ্দাম হয়ে ওঠে যার লাগাম নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, আর মহৎ গুণের পরিবর্তে নিকৃষ্ট গুণকে প্রাধান্য দেয় এবং কোনো নীচ স্বভাব বা নিন্দনীয় কাজ করে বসে, তবে সে যেন আত্মাকে অধিক মাত্রায় তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করে এবং তার মধ্যে গভীর অনুশোচনা জাগ্রত করে ও তাকে স্বাদ গ্রহণ থেকে বঞ্চিত করে শাস্তি দেয়, যতক্ষণ না সে তার প্রতি নমনীয় হয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
بَاب فِي سياسة الرجل دخله وخرجه
الْحَاجة إِلَى الأقوات إِن حَاجَة النَّاس إِلَى الأقوات دعت كل وَاحِد مِنْهُم إِلَى السَّعْي فِي اقتناء قوته من الْوَجْه الَّذِي ألهمه الله قَصده وَسبب رزقه من وُجُوه للطَّالِب وسبل المكاسب
أَصْنَاف النَّاس فِي الْكسْب وَلما كَانَ النَّاس فِي بَاب الْمَعيشَة صنفين
صنفا مكفيا سَعْيه برزق مهنأ سَبَب لَهُ من وراثة أَو جناه
وَصِنْفًا محوجا فِيهِ إِلَى الْكسْب ألهم هَذَا الصِّنْف التَّسَبُّب إِلَى الأقوات بالتجارات والصناعات وَكَانَت الصناعات أوثق وَأبقى من التِّجَارَات لِأَن التِّجَارَة تكون بِالْمَالِ وَالْمَال وشيك الفناء وعتيد الْآفَات كثير الجوائح
أَنْوَاع صناعات ذَوي الْمُرُوءَة وصناعات ذَوي الْمُرُوءَة ثَلَاثَة أَنْوَاع
نوع من خير الْعقل وَهُوَ صِحَة الرَّأْي وصواب المشورة وَحسن التَّدْبِير وَهُوَ صناعَة الوزراء والمدبرين وأرباب السياسة والملوك
وَنَوع من حيّز الْأَدَب وَهُوَ الْكِتَابَة والبلاغة وَعلم النُّجُوم وَعلم الطِّبّ وَهُوَ صناعَة الأدباء
ব্যক্তির আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অধ্যায়
জীবনোপকরণের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চয়ই জীবনোপকরণের প্রতি মানুষের মুখাপেক্ষিতা তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ আহার্য অন্বেষণে সচেষ্ট হতে উদ্বুদ্ধ করেছে সেই পন্থায়, যার প্রতি আল্লাহ তাকে প্রেরণা দিয়েছেন এবং অন্বেষণকারীর জন্য রিযিকের উপায় ও উপার্জনের পথসমূহ নির্ধারিত করেছেন।
উপার্জনের ক্ষেত্রে মানুষের শ্রেণিবিভাগ যেহেতু জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে মানুষ দুই প্রকারের হয়ে থাকে:
এক শ্রেণি হলো এমন যাদের প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয় না, বরং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বা অর্জিত সহজলভ্য রিযিকের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন পূরণ করা হয়েছে।
আর অন্য শ্রেণিটি হলো যারা উপার্জনের মুখাপেক্ষী। এই শ্রেণিকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কারিগরি পেশার মাধ্যমে জীবনোপকরণ সংগ্রহের প্রেরণা দেওয়া হয়েছে। আর ব্যবসা-বাণিজ্যের তুলনায় কারিগরি পেশা অধিকতর নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী; কারণ ব্যবসা মূলধনের ওপর নির্ভরশীল, আর মূলধন দ্রুত বিনাশশীল এবং আপদ ও নানাবিধ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার প্রবল ঝুঁকিতে থাকে।
মর্যাদাবান ব্যক্তিদের পেশার প্রকারভেদ মর্যাদাবান ব্যক্তিদের পেশা তিন প্রকার:
এক প্রকার হলো বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষজাত; যা হলো সঠিক অভিমত, নির্ভুল পরামর্শ এবং উত্তম ব্যবস্থাপনা। এটি উজির, প্রশাসক, রাষ্ট্রনীতিবিদ ও রাজন্যবর্গের পেশা।
অন্য প্রকারটি হলো জ্ঞান ও শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত; যা হলো লিখনশৈলী, অলঙ্কারশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা ও চিকিৎসাশাস্ত্র। এটি সাহিত্যিক ও পণ্ডিতবর্গের পেশা।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
وَنَوع من حيّز الْأَبَد والشجاعة وَهُوَ صناعَة الفرسان والأساورة
فَمن رام إِحْدَى هَذِه الصناعات فليفز بأحكامها والتقدم فِيهَا حَتَّى يكون من أَصْحَابهَا مَوْصُوفا بالفصاحة غير مرذول وَلَا مُؤخر
وليعلم أَنه لَيْسَ شَيْء أزين بِالرجلِ من رزق وَاسع وَافق مِنْهُ استحقاقا
ثمَّ ليطلب معيشته بصناعة على أعف الْوُجُوه وأرفقها وأعفاها وأبعدها من الشره والحرص وأناها من الطمع الْفَاحِش والمأكل الْخَبيث
وليعلم أَن كل فضل نيل بالمغالبة والمكابرة وبالاستكراه والمجاهدة وكل ربح حيّز بالإثم والعار وَمَعَ سوء القالة وقبح الأحدوثة أَو يبْذل الْوَجْه ونزف الْحيَاء أَو بثلم الْمُرُوءَة وتدنيس الْعرض زهيد وَأَن عظم قدره نزر وَإِن غزرت مادته وبيل وَإِن ظَهرت هناءته وخيم وَإِن كَانَ فِي مرْآة الْعين مريا وَإِن الصفو الَّذِي لَا كدر فِيهِ وَالْعَفو الَّذِي
এবং এক প্রকারের অবিনশ্বরতা ও বীরত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, যা হলো অশ্বারোহী বীর এবং শ্রেষ্ঠ যোদ্ধাদের পেশা।
সুতরাং যে ব্যক্তি এই সকল পেশার কোনো একটি অর্জনের ইচ্ছা পোষণ করে, সে যেন এর বিধানসমূহ অর্জন করে এবং তাতে উৎকর্ষ লাভ করে; যাতে সে এর পারদর্শী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রাঞ্জলতা দ্বারা বিশেষিত হয় এবং তুচ্ছ বা অবহেলিত না হয়।
আর তার জেনে রাখা উচিত যে, একজন পুরুষের জন্য প্রশস্ত রিযিকের চেয়ে বেশি সৌন্দর্যমণ্ডিত আর কিছুই নেই, যা তার যোগ্যতার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।
অতঃপর সে যেন সর্বাধিক পবিত্র, কোমল এবং নির্মল উপায়ে কোনো পেশার মাধ্যমে তার জীবিকা অন্বেষণ করে; যা হবে লালসা ও লোভ থেকে সবচেয়ে দূরে এবং অশ্লীল লিপ্সা ও অপবিত্র উপার্জন থেকে সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন।
আর সে যেন জেনে রাখে যে, দম্ভ ও অহংকার এবং জবরদস্তি ও সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত প্রতিটি শ্রেষ্ঠত্ব, এবং পাপ ও কলঙ্কসহ লব্ধ প্রতিটি মুনাফা—যা দুর্নাম ও কুৎসিত আলোচনার সাথে জড়িত থাকে অথবা যাতে আত্মসম্মান বিসর্জন দিতে হয় ও লজ্জা নিঃশেষ হয়ে যায় কিংবা যা মনুষ্যত্ব বিনষ্ট করে ও সম্মানকে কলুষিত করে—তা অত্যন্ত তুচ্ছ, যদিও তার মান দৃশ্যত অনেক বেশি হয়; তা নগণ্য, যদিও তার প্রাচুর্য অনেক বেশি হয়; তা ধ্বংসাত্মক, যদিও বাহ্যিকভাবে তাতে সুখ পরিলক্ষিত হয়; এবং তা অত্যন্ত ক্ষতিকর, যদিও চোখের দৃষ্টিতে তা তৃপ্তিদায়ক মনে হয়। আর প্রকৃতপক্ষে যে স্বচ্ছতায় কোনো পঙ্কিলতা নেই এবং যে মার্জনা...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
لَا كدح مَعَه وَأَن قل مِقْدَاره وخف وَزنه أطيب مذاقا وأسلس مساغا وأنمى بركَة وأزكى ريعا
السِّيرَة العادلة فَإِذا حَاز الْإِنْسَان مَا اكْتَسبهُ فَإِن من السِّيرَة العادلة فِي ذَلِك أَن يكون بعضه مصروفا فِي الصَّدقَات و
الزكوات وأرباب الْمَعْرُوف وَبَعضه مستبقي مدخرا لنوائب الدَّهْر وأحداث الزَّمَان
الزكوات
فَأَما الزكوات وَالصَّدقَات فَيَنْبَغِي أَن يكون إخْرَاجهَا بِطيب النَّفس وَحسن النِّيَّة وإنشراح الصَّدْر والثقة بِأَنَّهَا الْعدة ليَوْم الْفَاقَة وَأَن يوضع معظمها فِي أهل الْخلَّة مِمَّن يساتر النَّاس بفقره وَلَا يهتك ستر الله تَعَالَى عَن حَاله ويتوخى بباقيها من تلْحقهُ الرقة مِمَّن ظَهرت عيلته وبدت مسكنته وَإِن يَجْعَل ذَلِك خَاصّا لوجه الله ذِي الْجلَال وَالْإِكْرَام فَلَا يستثمر لَهُ شكرا وَلَا يترصد لَهُ جَزَاء
شُرُوط الْمَعْرُوف وللمعروف شَرَائِط
أَحدهمَا تَعْجِيله فَإِن تَعْجِيله أهنأ لَهُ
وَالثَّانيَِة كِتْمَانه فَإِن كِتْمَانه أظهر لَهُ
وَالثَّالِثَة تصغيره فَإِن تصغيره أكبر لَهُ
وَالرَّابِعَة ربه ومواصلته فَإِن قطعه ينسى أَوله ويمحو أَثَره
পরিশ্রমহীন সম্পদ, তার পরিমাণ কম ও ওজন হালকা হলেও তা স্বাদে অধিক সুস্বাদু, গলধকরণে অধিক সহজ, বরকতে অধিক বর্ধনশীল এবং প্রবৃদ্ধিতে অধিক পবিত্র।
ন্যায়নিষ্ঠ জীবনধারা মানুষ যখন তার উপার্জনকে হস্তগত করে, তখন এ ক্ষেত্রে ন্যায়নিষ্ঠ জীবনধারার দাবি হলো, তার একাংশ সদকা,
যাকাত ও সৎকর্মশীলদের জন্য ব্যয় করা এবং অপরাংশ কালের দুর্যোগ ও সময়ের অভাব-অনটনের জন্য সঞ্চিত রাখা।
যাকাতসমূহ
যাকাত ও সদকার ক্ষেত্রে করণীয় হলো, তা প্রফুল্ল চিত্তে, উত্তম নিয়তে ও প্রশস্ত হৃদয়ে প্রদান করা এবং এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যে, এটি চরম অভাবের দিনের পাথেয়। এর সিংহভাগ এমন অভাবী লোকদের প্রদান করা উচিত যারা নিজেদের দারিদ্র্য মানুষের কাছে গোপন রাখে এবং নিজের অবস্থার ওপর আল্লাহর দেওয়া আবরণ ছিন্ন করে না। আর অবশিষ্ট অংশ তাদের জন্য নির্দিষ্ট করা উচিত যাদের দারিদ্র্য ও নিঃস্বতা প্রকাশ পেয়ে যাওয়ায় তারা দয়ার পাত্র হয়েছে। এই দানকে একনিষ্ঠভাবে মহিমাময় ও দয়াময় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করতে হবে; এর মাধ্যমে কোনো কৃতজ্ঞতা প্রাপ্তির আশা করা যাবে না এবং কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশাও রাখা যাবে না।
সৎকর্মের শর্তাবলী সৎকর্মের কিছু শর্ত রয়েছে:
প্রথমটি হলো তা দ্রুত সম্পাদন করা; কেননা দ্রুত সম্পাদন করা গ্রহীতার জন্য অধিক আনন্দদায়ক।
দ্বিতীয়টি হলো তা গোপন রাখা; কেননা গোপন রাখাই এর মাহাত্ম্যকে অধিক ফুটিয়ে তোলে।
তৃতীয়টি হলো তাকে তুচ্ছ মনে করা; কেননা নিজের কাজকে ছোট মনে করাই আল্লাহর কাছে তাকে বড় করে তোলে।
চতুর্থটি হলো তার যত্ন নেওয়া এবং তা অব্যাহত রাখা; কেননা দান বন্ধ করে দিলে এর শুরুর কথা বিস্মৃত হয়ে যায় এবং এর প্রভাব মিটে যায়।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
وَالْخَامِسَة اخْتِيَار مَوْضِعه فَإِن الصنيعة إِذا لم تُوضَع عِنْد من يحسن احتمالها وَيُؤَدِّي شكرها وينشر محاسنها ويقابلها بالود والمولاة كَانَت كالبذر الْوَاقِع فِي الأَرْض السبخة الَّتِي لَا تحفظ الْحبّ وَلَا تنْبت الزَّرْع
النَّفَقَات فَأَما النَّفَقَات فَإِن سدادها وَإِصْلَاح أمرهَا بَين السَّرف وَالشح ومتردد بَين التصنيع وَالتَّقْدِير خلا إِن بِإِزَاءِ ذَلِك أمرا يُوجب حسن التثبت وَهُوَ أَنه مَتى استوفى الْإِنْسَان حُقُوق التَّقْدِير كلهَا واستعرف شَرَائِط الاقتصاد أجمع لم يسلم فِي ذَلِك على غميرة الغامز وَذَلِكَ النصفة وَعُمُوم الْجوَار فِي العضيهة وشمول الْبغضَاء الموكلة بِكُل مُرُوءَة تَامَّة والحسد المغرى بِكُل مجد باذخ وَشرف شامخ
فَلهَذَا يَنْبَغِي للعاقل أَن ببنى بعض أمره فِي الإتفان على عقول عوام النَّاس وَإِن يسْتَعْمل كثير من التَّجَوُّز والأغضاء فِي الْمَوَاضِع الَّتِي يخْشَى فِيهَا شبه السَّرف وعار التصنيع فَإِن من يمدح السَّرف من الْعَوام أَكثر مِمَّن يمدح الاقتصاد ويؤثر التَّقْدِير كَمَا أَن من يمدح الاقتصاد ويؤثر التَّقْدِير أخص وَأتم عقلا وأحزم رَأيا
الادخار فَأَما الذَّخِيرَة فَلَا يَنْبَغِي للعاقل أَن يغفلها مَتى أمكنته فَإِن الْإِنْسَان مَتى
পঞ্চমটি হলো তার সঠিক স্থান নির্বাচন করা। কারণ কোনো অনুগ্রহ যদি এমন কারো নিকট অর্পণ করা না হয় যে তা গ্রহণ করার যোগ্যতা রাখে, তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তার গুণাবলি প্রচার করে এবং ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের মাধ্যমে তার প্রতিদান দেয়, তবে তা লোনা জমিতে নিক্ষিপ্ত বীজের মতো যা বীজকেও রক্ষা করে না এবং কোনো ফসলও উৎপন্ন করে না।
ব্যয় নির্বাহ ব্যয় নির্বাহের বিষয়টি হলো, এর সঠিকতা ও সংশোধন হচ্ছে অপচয় এবং কার্পণ্যের মধ্যবর্তী অবস্থা, যা কৃত্রিম প্রদর্শন ও পরিমিতিবোধের মাঝে দোলায়মান। তবে এর বিপরীতে এমন একটি বিষয় রয়েছে যা দৃঢ়ভাবে যাচাই করা আবশ্যক। আর তা হলো, মানুষ যখন পরিমিতিবোধের সকল হক পূর্ণরূপে আদায় করে এবং মিতব্যয়িতার সমস্ত শর্তাবলি রপ্ত করে, তখনো সে ছিদ্রান্বেষীর কুৎসা থেকে মুক্তি পায় না। এটি মূলত ইনসাফের অভাব, কুৎসা রটনাকারীদের সাধারণ আধিক্য এবং পূর্ণাঙ্গ মনুষ্যত্বের প্রতি শত্রুতা ও সুউচ্চ মর্যাদা ও সুমহান সম্মানের প্রতি প্ররোচিত হিংসার ব্যাপকতার কারণে হয়ে থাকে।
এই কারণে বুদ্ধিমান ব্যক্তির উচিত তার কার্যাবলীর সুচারু সম্পাদনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক স্তরের ভিত্তিতে কিছু বিষয় গড়ে তোলা এবং যেখানে অপচয়ের সন্দেহ বা কৃত্রিমতার কলঙ্ক রটার আশঙ্কা থাকে, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে উদারতা ও উপেক্ষা প্রদর্শন করা। কেননা সাধারণ মানুষের মধ্যে মিতব্যয়িতার প্রশংসা ও পরিমিতিবোধকে প্রাধান্য দানকারীর তুলনায় অপচয়ের প্রশংসাকারীর সংখ্যাই বেশি; যদিও যারা মিতব্যয়িতার প্রশংসা করে এবং পরিমিতিবোধকে প্রাধান্য দেয় তারা অধিক বিশিষ্ট, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পূর্ণাঙ্গ এবং মতামতের ক্ষেত্রে অধিকতর দূরদর্শী।
সঞ্চয় আর সঞ্চয়ের ব্যাপারে বলতে গেলে, বুদ্ধিমান ব্যক্তির উচিত নয় যখনই সম্ভব হয় তা থেকে গাফেল হওয়া। কারণ মানুষ যখনই...
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
بدهه صرف الزَّمَان بحاجة لم يكن مستظهر الْحَال فَوق حَاله واضطر إِلَى الِاسْتِعَانَة بِالْحَال الْحَاضِرَة فيفصمها عُرْوَة عُرْوَة حَتَّى يبْقى معدما وَالله ولي الْكِفَايَة وَحسن الدفاع
সময়ের বিবর্তন তাকে হঠাৎ এমন অভাবের সম্মুখীন করল যার জন্য সে প্রস্তুত ছিল না। তার বর্তমান অবস্থার অতিরিক্ত কোনো সামর্থ্য তার ছিল না। ফলে সে তার বিদ্যমান অবস্থার সাহায্য নিতে বাধ্য হলো এবং তা একে একে নিঃশেষ করতে থাকল, যতক্ষণ না সে নিঃস্ব হয়ে পড়ল। আর আল্লাহই পর্যাপ্ততার অভিভাবক এবং উত্তম হিফাযতকারী।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
بَاب فِي سياسة الرجل أَهله
الْمَرْأَة الصَّالِحَة وصفاتها إِن الْمَرْأَة الصَّالِحَة شريكة الرجل فِي ملكه وَقِيمَته فِي مَاله وخليفته فِي رَحْله
وَخير النِّسَاء الْعَاقِلَة الدينة الحيية الفطنة الْوَدُود الْوَلُود القصيرة اللِّسَان المطاوعة الْعَنَان الناصحة الجيب الأمينة الْغَيْب الرزان فِي مجْلِس الوقور فِي هيبتها المهيبة فِي قامتها الْخَفِيفَة المبتذلة فِي خدمتها لزَوجهَا تحسن تدبيرها وتكثر قَلِيله بتقديرها وتجلو أحزانه بجميل أخلاقها وتسلى همومه بلطيف مداراتها
أسس سياسة الرجل لأَهله وجماع سياسة الرجل أَهله بحسم وسط ثَلَاثَة أُمُور لَا تَدعه وَهِي
الهيبة الشَّدِيدَة والكرامة التَّامَّة وشغل خاطرها بالمهم
الهيبة
أما الهيبة فَهِيَ إِذا لم تهب زَوجهَا هان عَلَيْهَا وَإِذا هان عَلَيْهَا لم تسمع
স্ত্রীর সাথে পুরুষের আচরণ বা পরিচালনা বিষয়ক অধ্যায়
নেককার নারী ও তার গুণাবলী নিশ্চয়ই নেককার নারী পুরুষের রাজত্বের অংশীদার, তার সম্পদের মূল্যবান আমানত এবং তার অনুপস্থিতিতে সংসারের প্রতিনিধি বা অভিভাবক।
আর নারীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সে, যে বুদ্ধিমতী, ধর্মপ্রাণ, লজ্জাশীলা, বিচক্ষণ, প্রেমময়ী, অধিক সন্তানপ্রসূ, অল্পভাষী, অনুগত, আন্তরিক হিতাকাঙ্ক্ষী, স্বামীর অগোচরে আমানতদার, মজলিসে ধীরস্থির, গাম্ভীর্যপূর্ণ মর্যাদাবান, উন্নত দেহসৌষ্ঠব সম্পন্ন এবং স্বামীর সেবায় তৎপর ও বিনয়ী। সে উত্তমরূপে গৃহস্থালি পরিচালনা করে এবং মিতব্যয়িতার মাধ্যমে অল্প সম্পদকেও বৃদ্ধি করে। সে তার সুন্দর চরিত্রের মাধ্যমে স্বামীর দুঃখ মোচন করে এবং কোমল ব্যবহারের মাধ্যমে তার দুশ্চিন্তা লাঘব করে।
স্ত্রীর প্রতি পুরুষের আচরণের মূলনীতি পরিমিত ও দৃঢ়ভাবে স্ত্রীর সাথে পুরুষের আচরণের সারকথা তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল, যা তার বর্জন করা উচিত নয়। সেগুলো হলো:
গাম্ভীর্য বা প্রভাব তীব্র গাম্ভীর্য বা প্রভাব, পূর্ণ সম্মান এবং তার মনকে গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রাখা।
গাম্ভীর্য বা প্রভাব
গাম্ভীর্য বা প্রভাবের বিষয়টি হলো—স্ত্রী যদি স্বামীকে ভয় বা ভক্তি না করে, তবে স্বামী তার নিকট তুচ্ছ হয়ে যায়; আর স্বামী যখন তার নিকট তুচ্ছ হয়ে যায়, তখন সে তার কথা শোনে না।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
لأَمره وَلم تضع لنَهْيه ثمَّ لم تقنع بذلك حَتَّى تقهره على طاعتها فتعود آمرة وَيعود مَأْمُورا وَتصير ناهية وَيصير مَنْهِيّا وَترجع مُدبرَة وَيرجع مُدبرا وَذَلِكَ الانتكاس والانقلاب والوبل حِينَئِذٍ للرجل مَاذَا يجلب لَهُ تمردها وطغيانها ويجنيه عَلَيْهِ قصر رأيها سوء تدبيرها ويسوق إِلَيْهِ غيها وركوبها هَواهَا من الْعَار والشنار والهلاك والدمار
فالهيبة رَأس سياسة الرجل أَهله وعمادها وَهِي الْأَمر الَّذِي ينسد بِهِ كل خلة وَيتم تَمَامه كل نقص وَيَتُوب عَن كل غَائِب ويغنى عَن كل فَائت وَلَا يَتُوب عَنهُ شَيْء وَلَا يتم دونه أَمر فِيمَا بَين الرجل وَأَهله
وَلَيْسَت هَيْبَة الْمَرْأَة بَعْلهَا شَيْئا غير إكرام الرجل نَفسه وصيانة دينه ومرؤته وتصديقه وعده ووعيده
الْكَرَامَة التَّامَّة وَأما كَرَامَة الرجل أَهله فَمن مَنَافِعهَا أَن الْحرَّة الْكَرِيمَة إِذا استجلت كَرَامَة زَوجهَا دَعَاهَا حسن استدامتها لَهَا ومحاماتها عَلَيْهَا واشفاقها من زَوَالهَا إِلَى أُمُور كَثِيرَة جميلَة لم يكد الرجل يقدر على إصارتها إِلَيْهِ من غير هَذَا الْبَاب بالتكلف الشَّديد والموؤنة الثَّقِيلَة
তার আদেশের অনুগত হয় না এবং তার নিষেধ মান্য করে না; এরপর সে এতেই ক্ষান্ত হয় না যতক্ষণ না তাকে নিজের আনুগত্যে পরাভূত করে। ফলে সে আদেশদাত্রী হয়ে যায় আর সে আদিষ্ট হয়ে পড়ে; সে হয় নিষেধকারিণী আর সে হয় নিষিদ্ধ; সে হয়ে যায় পরিচালিকা আর সে হয়ে পড়ে পরিচালিত। আর এটাই হলো বিপর্যয় ও ওলটপালট। তখন সেই ব্যক্তির জন্য দুর্ভোগ! তার অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন তার জন্য কী বয়ে আনে এবং তার সংকীর্ণ চিন্তা ও কুপরিচালনা তার ওপর কী বিপদ ডেকে আনে! আর তার গোঁড়ামি ও প্রবৃত্তিপূজা তাকে লজ্জা, অপমান, ধ্বংস ও বিনাশের দিকে পরিচালিত করে।
সুতরাং গাম্ভীর্য ও সম্ভ্রম হলো পরিবারের প্রতি পুরুষের শাসনের মূল ভিত্তি ও স্তম্ভ। এটি এমন এক বিষয় যার মাধ্যমে সকল ছিদ্রপথ রুদ্ধ হয় এবং সকল অপূর্ণতা পূর্ণতা পায়। এটি অনুপস্থিত সবকিছুর স্থলাভিষিক্ত হয় এবং হারানো সবকিছুর অভাব পূরণ করে। কোনো কিছুই এর বিকল্প হতে পারে না এবং পুরুষ ও তার পরিবারের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি ছাড়া কোনো বিষয়ই সুসম্পন্ন হয় না।
স্বামীর প্রতি স্ত্রীর সম্ভ্রমবোধ আর কিছুই নয় বরং তা হলো পুরুষের নিজের ব্যক্তিত্বের সম্মান রক্ষা করা এবং নিজের দ্বীন ও পৌরুষত্ব সংরক্ষণ করা এবং তার প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণীকে সত্য প্রতিপন্ন করা।
পূর্ণাঙ্গ সম্মান আর স্ত্রীর প্রতি পুরুষের সম্মান প্রদর্শনের উপকারিতা হলো এই যে, কোনো মহৎপ্রাণ স্বাধীন নারী যখন তার স্বামীর পক্ষ থেকে সম্মান ও মর্যাদা প্রত্যক্ষ করে, তখন সেই সম্মান স্থায়ী করার সদিচ্ছা, তা রক্ষা করার প্রয়াস এবং তা হারানোর ভয় তাকে এমন অনেক উত্তম কার্যাবলীর দিকে ধাবিত করে, যা স্বামী এই পথ (সম্মান প্রদর্শন) ছাড়া অন্য কোনো পন্থায় অনেক কঠোর পরিশ্রম ও ভারী বোঝা বহন করেও অর্জন করতে সক্ষম হতো না।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ১০০)
على أَن الْمَرْأَة كلما كَانَت أعظم شَأْنًا وأفخم أمرا كَانَ ذَلِك أدل على نبل زَوجهَا وشرفه وعَلى جلالته وَعظم خطره وكرامة الرجل أَهله على ثَلَاثَة أَشْيَاء فِي تَحْسِين شارتها وَشدَّة حجابها وَترك إغارتها
شغل الخاطر بالمهم وَأما شغل الخاطر بالمهم فَهُوَ أَن يتَّصل شغل الْمَرْأَة بسياسة أَوْلَادهَا وتدبير خدمها وتفقد مَا يضمه خدرها من أَعمالهَا فَإِن الْمَرْأَة إِذا كَانَت سَاقِطَة الشّغل خَالِيَة البال لم يكن لَهَا لَهُم إِلَّا التصدي للرِّجَال بزينتها والتبرج بهيأتها وَلم يكن لَهَا تفكير إِلَّا فِي استزادتها فيدعوها ذَلِك إِلَى استصغار كرامته واستقصار زمَان زِيَادَته وتسخط جملَة إحسانه
অধিকন্তু, নারী যখনই অধিক উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও মহৎ গুণের অধিকারী হন, তা তার স্বামীর আভিজাত্য, সম্মান, গরিমা এবং গুরুত্বের একটি বড় প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়। আর স্ত্রীর প্রতি পুরুষের সম্মান বা সৌজন্যবোধ তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে প্রকাশ পায়: তার বেশভূষার উন্নতি সাধন করা, পর্দার বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করা এবং তাকে ঈর্ষান্বিত হওয়া থেকে বিরত রাখা।
গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনকে ব্যাপৃত রাখা আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনকে নিবিষ্ট রাখার বিষয়টি হলো, নারীর কর্মকাণ্ড যেন তার সন্তানদের প্রতিপালন, ভৃত্যদের পরিচালনা এবং তার অন্দরমহলের বিবিধ কাজের তদারকির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে। কেননা, নারী যখন কর্মহীন ও ভাবনাহীন অলস সময় অতিবাহিত করে, তখন পরপুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সাজসজ্জা করা এবং রূপ প্রদর্শনী ছাড়া তার আর কোনো উদ্দেশ্য থাকে না; আর বিলাসসামগ্রীর লালসা ছাড়া তার মনে কোনো চিন্তাই থাকে না। এমতাবস্থায় এই বিষয়টি তাকে তার স্বামীর সম্মানকে তুচ্ছজ্ঞান করতে, তার উপকারের স্থায়িত্বকে তুচ্ছ মনে করতে এবং তার যাবতীয় অনুগ্রহের প্রতি অসন্তুষ্ট হতে উদ্বুদ্ধ করে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ১০১)
بَاب فِي سياسة الرجل وَلَده
حق الْوَلَد على وَالِديهِ إِن من حق الْوَلَد على وَالِديهِ إِحْسَان تَسْمِيَته ثمَّ اخْتِيَار ظئره كي لَا تكون حمقا وَلَا ورهاء وَلَا ذَات عاهة فَإِن اللَّبن بعدِي كَمَا قيل
بداية تربية الطِّفْل بعد الفطم فَإِذا فطم الصَّبِي عَن الرَّضَاع بُدِئَ بتأديبه ورياضة أخلاقه قبل أَن تهجم عَلَيْهِ الْأَخْلَاق اللئيمة وتفاجئه الشيم الذميمة فَإِن الصَّبِي تتبادر إِلَيْهِ مساوئ الْأَخْلَاق وتنثال عَلَيْهِ الضرائب الخبيثة فَمَا تمكن مِنْهُ من ذَلِك غلب عَلَيْهِ فَلم يسْتَطع لَهُ مُفَارقَة وَلَا عَنهُ نزوعا فَيَنْبَغِي لغنم الصَّبِي أَن يجنبه مقابح الْأَخْلَاق وينكب عَنهُ معايب الْعَادَات بالترهيب وَالتَّرْغِيب والإيناس والإيحاش وبالإعراض والإقبال وبالحمد مرّة وبالتوبيخ أُخْرَى مَا كَانَ كَافِيا فَإِن احْتَاجَ إِلَى الِاسْتِعَانَة بِالْيَدِ لم يحجم عَنهُ وَليكن أول الضَّرْب قَلِيلا موجعا كَمَا أَشَارَ بِهِ الْحُكَمَاء قبل بعد الإرهاب الشَّديد وَبعد إعداد الشفعاء فَإِن الضَّرْبَة الأولى إِذا كَانَت موجعة سَاءَ ظن الصَّبِي بِمَا بعْدهَا وَاشْتَدَّ مِنْهَا خَوفه وَإِذا كَانَت الأولى خَفِيفَة غير مؤلمة حسن ظَنّه بِالْبَاقِي فَلم يحفل بِهِ
সন্তানের প্রতি পিতার পরিচালনা বিষয়ক অধ্যায়
পিতা-মাতার ওপর সন্তানের অধিকার নিশ্চয়ই পিতা-মাতার ওপর সন্তানের অধিকারসমূহের একটি হলো তার সুন্দর নামকরণ করা, এরপর তার জন্য ধাত্রী নির্বাচন করা, যাতে সে নির্বোধ, স্থূলবুদ্ধি বা কোনো শারীরিক ত্রুটিসম্পন্ন না হয়; কারণ প্রচলিত আছে যে, দুগ্ধ (চরিত্র) পরিবর্তন করে থাকে।
দুগ্ধপান ছাড়ানোর পর শিশুর লালন-পালনের সূচনা যখন শিশুকে দুগ্ধপান থেকে বিরত করা হয়, তখন তার শিষ্টাচার শিক্ষা ও নৈতিক প্রশিক্ষণের সূচনা করতে হবে—তার ওপর নীচ স্বভাবের আক্রমণ ঘটার এবং মন্দ চরিত্র তাকে আকস্মিকভাবে গ্রাস করার পূর্বেই। কেননা শিশুর দিকে মন্দ স্বভাব দ্রুত ধাবিত হয় এবং তার ওপর নিকৃষ্ট প্রকৃতিসমূহ উপচে পড়ে। ফলে এগুলোর মধ্য থেকে যা তার মধ্যে বদ্ধমূল হয়ে যায়, তা তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে ফেলে; ফলে সে তা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না এবং তা ত্যাগ করতে সক্ষম হয় না। সুতরাং শিশুর অভিভাবকের উচিত তাকে মন্দ স্বভাব থেকে দূরে রাখা এবং ভয় প্রদর্শন ও উৎসাহ প্রদান, মমতা ও কঠোরতা প্রদর্শন, বিমুখতা ও মনোযোগ প্রদান এবং কখনো প্রশংসা আবার কখনো তিরস্কারের মাধ্যমে মন্দ অভ্যাস থেকে তাকে ফিরিয়ে রাখা, যতক্ষণ তা যথেষ্ট হয়। যদি হাতের সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তবে তা থেকে বিরত হওয়া যাবে না। প্রহারের শুরুর দিকটা যেন পরিমাণে অল্প কিন্তু বেদনাদায়ক হয়, যেমনটি প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ কঠোর ভীতি প্রদর্শনের পর এবং সুপারিশকারীদের প্রস্তুতির পর নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ প্রথম আঘাত যদি বেদনাদায়ক হয়, তবে পরবর্তী আঘাতগুলো সম্পর্কে শিশুর ধারণা খারাপ হয়ে যাবে এবং তার ভয় তীব্র হবে। আর যদি প্রথম আঘাতটি মৃদু ও বেদনাহীন হয়, তবে অবশিষ্টাংশ সম্পর্কে তার ধারণা ভালো হয়ে যাবে এবং সে তার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করবে না।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ১০২)
فِي دور التَّمْيِيز فَإِذا اشتدت مفاصل الصَّبِي واستوى لِسَانه وتهيأ التَّلْقِين ووعى سَمعه أَخذ فِي تعلم الْقُرْآن وصور لَهُ حُرُوف الهجاء ولقن معالم الدّين
وَيَنْبَغِي أَن يروي الصَّبِي الرجز ثمَّ القصيدة فَإِن رِوَايَة الرجز أسهل وَحفظه أمكن لِأَن بيوته اقصر ووزنه أخف
وَيبدأ من الشّعْر بِمَا قيل فِي فضل الْأَدَب ومدح الْعلم وذم الْجَهْل وعيب السخف وَمَا حث فِيهِ على بر الْوَالِدين واصطناع الْمَعْرُوف وقرى الضَّيْف وَغير ذَلِك من مَكَارِم الْأَخْلَاق
مؤدب الصَّبِي وَيَنْبَغِي أَن يكون مؤدب الصَّبِي عَاقِلا ذَا دين بَصيرًا برياضة الْأَخْلَاق حاذقا بتخريج الصّبيان وقورا رزينا بَعيدا من الخفة والسخف قَلِيل التبذل والاسترسال بِحَضْرَة الصَّبِي غير كز وَلَا جامد بل حلوا لبيبا ذَا مروؤة ونظافة ونزاهة قد خدم سراة النَّاس وَعرف مَا يتباهون بِهِ من
বিচারবুদ্ধি উন্মেষের পর্যায়ে যখন শিশুর শরীরের জোড়াগুলো শক্ত হয়, তার জিহ্বা সাবলীল হয়, সে শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয় এবং তার শ্রবণশক্তি প্রখর হয়, তখন সে কুরআন শিক্ষা শুরু করবে। তার সামনে বর্ণমালার রূপ চিত্রিত করা হবে এবং তাকে দ্বীনের মৌলিক নিশানাসমূহ শিক্ষা দেওয়া হবে।
শিশুর জন্য উচিত হলো প্রথমে 'রাজায' (এক প্রকার কাব্যছন্দ) এবং এরপর 'কাসিদা' (কবিতা) পাঠ করা। কেননা রাজায পাঠ করা অধিকতর সহজ এবং তা মুখস্থ রাখা অধিকতর সম্ভবপর; কারণ এর পঙ্ক্তিগুলো ছোট এবং এর ছন্দ হালকা।
কবিতার মধ্য থেকে সেই অংশ দিয়ে শুরু করা উচিত যা শিষ্টাচারের শ্রেষ্ঠত্ব, জ্ঞানের প্রশংসা, মূর্খতার নিন্দা ও নির্বুদ্ধিতার দোষ বর্ণনা করে। আর যাতে পিতামাতার প্রতি সদাচরণ, সৎকাজ সম্পাদন, মেহমানদারি এবং অন্যান্য মহৎ চরিত্রের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।
শিশুর শিক্ষক শিশুর শিক্ষকের উচিত হবে বুদ্ধিমান, ধর্মপ্রাণ, নৈতিক চরিত্র গঠনে দূরদর্শী এবং শিশুদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দক্ষ হওয়া। তিনি হবেন গম্ভীর ও ধীরস্থির, চপলতা ও নির্বুদ্ধিতা থেকে বহু দূরে। শিশুর উপস্থিতিতে তিনি অতি-অপ্রাসঙ্গিকতা ও শিথিলতা পরিহার করবেন। তিনি রুক্ষ কিংবা জড়তাসম্পন্ন হবেন না, বরং হবেন মিষ্টভাষী ও প্রজ্ঞাবান। তিনি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র স্বভাবের হবেন; যিনি সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন এবং তারা কোন বিষয়ে গর্ববোধ করেন সে সম্পর্কে অবগত।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
أَخْلَاق الْمُلُوك ويتعايرون بِهِ من أَخْلَاق السفلة وَعرف آدَاب المجالسة وآداب المؤاكلة والمحادثة والمعاشرة
رَفِيق الصَّبِي وَيَنْبَغِي أَن يكون مَعَ الصَّبِي فِي مكتبه صبية من أَوْلَاد الجلة حَسَنَة أدابهم مرضية عاداتهم فَإِن الصَّبِي عَن الصَّبِي ألقن وَهُوَ عَنهُ آخذ وَبِه آنس
وَانْفَرَدَ الصَّبِي الْوَاحِد بالمؤدب أجلب الْأَشْيَاء لضجرهما فَإِذا راوح الْمُؤَدب بَين الصَّبِي وَالصَّبِيّ كَانَ ذَلِك أنفى للسآمة وَأبقى للنشاط وأحرص للصَّبِيّ على التَّعَلُّم والتخرج فَإِنَّهُ يباهي الصّبيان مرّة ويغبطهم مرّة ويأنف من الْقُصُور عَن شأوهم مرّة
ثمَّ يحادث الصّبيان والمحادثة تفِيد انْشِرَاح الْعقل وَتحل مُنْعَقد الْفَهم لِأَن كل وَاحِد من أُولَئِكَ إِنَّمَا يتحدث بأعذب مَا رأى وَأغْرب مَا سمع فَتكون غرابة الحَدِيث سَببا للتعجب مِنْهُ والتعجب مِنْهُ سَببا لحفظه وداعيا إِلَى التحدث بِهِ
ثمَّ أَنهم يترافقون ويتعارضون الزِّيَارَة ويتكارمون ويتعاوضون الْحُقُوق وكل ذَلِك من أَسبَاب المباراة والمباهاة والمساجلة والمحاكاة
রাজকীয় চরিত্র এবং সে সকল মন্দ স্বভাব যা থেকে তারা বিরত থাকে যা নীচ প্রকৃতির লোকদের স্বভাব; আর তিনি জানতেন মজলিসে বসার শিষ্টাচার, আহারের শিষ্টাচার, কথোপকথন এবং মেলামেশার আদব।
শিশুর সঙ্গী আর উচিত হলো যে, মক্তবে শিশুর সাথে উচ্চবংশীয় ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের সন্তানরা থাকবে, যাদের শিষ্টাচার হবে সুন্দর এবং অভ্যাস হবে সন্তোষজনক। কেননা শিশু অন্য শিশুর কাছ থেকে দ্রুত শিখতে পারে, তার থেকে গ্রহণ করে এবং তার সঙ্গেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
আর একজন শিশুর শিক্ষকের সাথে একা থাকা তাদের উভয়ের জন্য বিরক্তি বয়ে আনার অন্যতম বড় কারণ। পক্ষান্তরে শিক্ষক যখন একাধিক শিশুর মধ্যে পালাক্রমে সময় দেন, তখন তা একঘেয়েমি দূর করতে অধিক সহায়ক হয়, প্রাণচাঞ্চল্য ধরে রাখে এবং শিশুকে শিক্ষা ও বুৎপত্তি অর্জনে অধিক আগ্রহী করে তোলে। কারণ সে কখনো অন্য শিশুদের সাথে গর্ব করে, কখনো তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়, আবার কখনো তাদের থেকে পিছিয়ে পড়াকে অপছন্দ করে।
অতঃপর সে অন্য শিশুদের সাথে কথোপকথন করে, আর এই কথোপকথন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রসারে উপকার দেয় এবং বোধশক্তির জট খুলে দেয়। কারণ তাদের প্রত্যেকেই যা কিছু সুন্দর দেখেছে এবং অদ্ভুত যা শুনেছে তা নিয়ে আলোচনা করে। ফলে কথার সেই বিস্ময়কর দিকটি আশ্চর্যের উদ্রেক করে, আর এই বিস্ময় তা মনে রাখার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং তা নিয়ে পুনরায় আলোচনা করার স্পৃহা জাগায়।
এরপর তারা একে অপরের বন্ধু হয়ে যায়, পরস্পরের বাড়ি যাতায়াত করে, একে অপরকে সম্মান করে এবং পারস্পরিক অধিকার আদায় করে। আর এই সবকিছুই হলো প্রতিযোগিতা, শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন, সমকক্ষতা লাভ এবং একে অপরকে অনুসরণের অন্যতম কারণ।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
وَفِي ذَلِك تَهْذِيب لأخلاقهم وتحريك لهممهم وتمرين لعاداتهم
إعداد الصَّبِي للمهنة وفقا لطبعه وَإِذا فرغ الصَّبِي من تعلم الْقُرْآن وَحفظ أصُول اللُّغَة نظر عِنْد ذَلِك إِلَى مَا يُرَاد أَن تكون صناعته فَوجه لطريقه فَإِن أَرَادَ بِهِ الْكِتَابَة أضَاف إِلَى دراسة اللُّغَة دراسة الرسائل والخطب ومناقلات النَّاس ومحاوراتهم وَمَا أشبه ذَلِك وطورح الْحساب وَدخل بِهِ الدِّيوَان وعنى بِخَطِّهِ
وَإِن أُرِيد أُخْرَى أَخذ بِهِ فِيهَا بعد أَن يعلم مُدبر الصَّبِي أَن لَيْسَ كل صناعَة يرومها الصَّبِي مُمكنَة لَهُ مؤاتية لَكِن مَا شاكل طبعه وناسبه وَأَنه لَو كَانَت الْآدَاب والصناعات تجيب وتنقاد بِالطَّلَبِ والمرام دون المشاكلة والملاءمة إِذن مَا كَانَ أحد غفلا من الْأَدَب وعاريا من صناعَة وَإِذن لأجمع النَّاس كلهم على اخْتِيَار أشرف الْآدَاب وَأَرْفَع الصناعات وَمن الدَّلِيل على مَا قُلْنَا سهولة بعض الْأَدَب على قوم وصعوبته على آخَرين وَلذَلِك نرى وَاحِدًا من النَّاس تؤاتيه البلاغة وَأخر يؤاتيه النَّحْو وَآخر يؤاتيه الشّعْر وَآخر يؤاتيه الْخطب وَآخر يؤاتيه النّسَب وَلِهَذَا يُقَال بلاغة الْقَلَم وبلاغة الشّعْر فَإِذا خرجت عَن هَذِه الطَّبَقَة إِلَى طبقَة أُخْرَى وجدت وَاحِدًا يخْتَار علم الْحساب وَآخر يخْتَار علم الهندسة وَآخر يخْتَار علم الطِّبّ وَهَكَذَا تَجِد سَائِر الطَّبَقَات إِذا افتليتها طبقَة طبقَة حَتَّى تَدور عَلَيْهَا جَمِيعًا
ولهذه الاختيارات وَهَذِه المناسبات والمشاكلات أَسبَاب غامضة
আর এতে রয়েছে তাদের চরিত্রের সংশোধন, তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত করা এবং তাদের অভ্যাসসমূহের অনুশীলন।
শিশুর প্রকৃতি অনুযায়ী তাকে পেশার জন্য প্রস্তুত করা যখন শিশু কুরআন শিক্ষা এবং ভাষার মূলনীতিসমূহ মুখস্থ করা থেকে অবসর হবে, তখন তার জন্য কোন পেশাটি উদ্দেশ্য সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে এবং তাকে সেই পথেই পরিচালিত করতে হবে। যদি তার মাধ্যমে করণিক কাজ বা লেখালেখি উদ্দেশ্য হয়, তবে ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি চিঠিপত্র, ভাষণ, মানুষের পারস্পরিক লেনদেন ও কথোপকথন এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো তার অধ্যয়নে যুক্ত করতে হবে। এছাড়া তাকে গণিত শিখতে হবে এবং তাকে দাপ্তরিক কাজে (দিওয়ান) প্রবেশ করাতে হবে এবং তার হস্তাক্ষরের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে।
আর যদি অন্য কোনো পেশা উদ্দেশ্য হয়, তবে তাকে সেই দিকেই নিয়ে যেতে হবে। তবে শিশুর অভিভাবককে এটি জানতে হবে যে, শিশু যে কোনো পেশা কামনা করলেই তা তার জন্য সম্ভব বা অনুকূল হয় না; বরং যা তার প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মানানসই সেটিই সম্ভব হয়। আর যদি জ্ঞান ও পেশা কেবল ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমেই অর্জিত হতো—সামঞ্জস্যতা ও উপযুক্ততা ব্যতিরেকেই—তবে কেউ জ্ঞানহীন থাকতো না এবং কোনো পেশা থেকে বঞ্চিত হতো না। তখন সকল মানুষই সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান ও সর্বোচ্চ পেশাটি বেছে নেওয়ার ব্যাপারে একমত হতো। আমাদের এই কথার সপক্ষে দলিল হলো কোনো কোনো জ্ঞান একদলের নিকট সহজ হওয়া এবং অন্যদের নিকট তা কঠিন হওয়া। এজন্যই আমরা দেখি কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে অলঙ্কারশাস্ত্র অনুকূল হয়, কারো ক্ষেত্রে ব্যাকরণ, কারো ক্ষেত্রে কবিতা, কারো ক্ষেত্রে ভাষণ এবং কারো ক্ষেত্রে বংশপরম্পরা বিদ্যা অনুকূল হয়। এই কারণেই বলা হয় লেখনীর অলঙ্কার এবং কবিতার অলঙ্কার। আপনি যখন এই স্তর থেকে অন্য স্তরে যাবেন, তখন দেখবেন কেউ গণিতশাস্ত্র বেছে নিচ্ছে, কেউ জ্যামিতি শাস্ত্র এবং কেউ চিকিৎসা শাস্ত্র বেছে নিচ্ছে। এভাবেই আপনি অন্যান্য সকল স্তর খুঁজে পাবেন যদি আপনি একটি একটি করে স্তর পর্যবেক্ষণ করেন, যতক্ষণ না আপনি এর সবগুলোর ওপর বিচরণ করবেন।
আর এই সব পছন্দ, সামঞ্জস্যতা এবং অনুকূল হওয়ার পেছনে গূঢ় রহস্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
وَعلل خُفْيَة تدق عَن أفهام للبشر وتلطف عَن الْقيَاس وَالنَّظَر لَا يعلمهَا إِلَّا الله جلّ ذكره
مُرَاعَاة ميل الصَّبِي للصناعة وَرُبمَا نافر طباع إِنْسَان جَمِيع الْآدَاب والصنائع فَلم يعلق مِنْهَا بِشَيْء وَمن الدَّلِيل على ذَلِك أَن أُنَاسًا من أهل الْعقل راموا تَأْدِيب أَوْلَادهم واجتهدوا فِي ذَلِك وأنفقوا فِيهِ الْأَمْوَال فَلم يدركوا من ذَلِك مَا حاولوا فَلذَلِك يَنْبَغِي لمدير الصَّبِي إِذا رام اخْتِيَار الصِّنَاعَة أَن يزن أَولا طبع الصَّبِي ويسير قريحته ويخبر ذكاءه فيختار لَهُ الصناعات بِحَسب ذَلِك فَإِذا اخْتَار لَهُ إِحْدَى الصناعات تعرف قدر ميله إِلَيْهَا ورغبته فِيهَا وَنظر هَل جرت مِنْهُ على عرفان أم لَا وَهل أدواته وآلاته مساعدة لَهُ عَلَيْهَا أم خاذلة ثمَّ يبت الْعَزْم فَإِن ذَلِك احزم فِي التَّدْبِير وَأبْعد من أَن تذْهب أَيَّام الصَّبِي فِيمَا لَا يؤاتيه ضيَاعًا
كسب الصَّبِي من الصِّنَاعَة وفوائده فَإِذا وغل الصَّبِي فِي صناعته بعض الوغول فَمن التَّدْبِير أَن يعرض للكسب وَيحمل على التعيش مِنْهَا فَإِنَّهُ يحصل فِي ذَلِك لَهُ منفعتان
إِحْدَاهمَا إِذا ذاق حلاوة الْكسْب بصناعته وَعرف غناها وجداها عظيمين لم يضجع فِي إحكامها وبلوغ أقصاها
এবং কিছু নিগূঢ় কারণ রয়েছে যা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির অগম্য এবং যা অনুমান ও চিন্তাশক্তির ঊর্ধ্বে; মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ তা জানেন না।
পেশার প্রতি শিশুর ঝোঁকের প্রতি লক্ষ্য রাখা কখনও কখনও কোনো মানুষের স্বভাব সমস্ত শিষ্টাচার ও পেশার প্রতি বিমুখ হতে পারে, ফলে সে কোনো কিছুর সাথেই সম্পৃক্ত হতে পারে না। এর প্রমাণ হলো, অনেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি তাদের সন্তানদের সুশিক্ষিত করার সংকল্প করেছেন এবং সে লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম ও প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছেন, কিন্তু তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেননি। এই কারণে শিশুর অভিভাবকের উচিত যখন তিনি কোনো পেশা নির্বাচন করতে চান, তখন যেন প্রথমেই শিশুর স্বভাব নিরূপণ করেন, তার মেধা পরীক্ষা করেন এবং তার বুদ্ধিমত্তা যাচাই করেন; অতঃপর সেই অনুযায়ী তার জন্য পেশা নির্ধারণ করেন। যখন তিনি তার জন্য কোনো একটি পেশা পছন্দ করবেন, তখন দেখবেন সেটির প্রতি শিশুর কতটা ঝোঁক ও আগ্রহ রয়েছে এবং লক্ষ্য করবেন যে সেটি তার সহজাত বোধগম্যতায় আসছে কি না এবং তার শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্য তাকে এই কাজে সহায়তা করছে নাকি বাধাগ্রস্ত করছে। এরপর তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। কেননা এটিই হলো ব্যবস্থাপনায় অধিকতর বিচক্ষণতা এবং শিশুর দিনগুলোকে তার অনুপযুক্ত কাজে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষার কার্যকর উপায়।
পেশা থেকে শিশুর উপার্জন এবং এর উপকারিতা যখন শিশু তার পেশায় কিছুটা গভীরে প্রবেশ করবে, তখন বিচক্ষণতা হলো তাকে উপার্জনের সুযোগ করে দেওয়া এবং তার মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহে উদ্বুদ্ধ করা। কারণ এতে তার দুটি উপকার সাধিত হবে—
প্রথমটি হলো, যখন সে নিজ পেশার মাধ্যমে উপার্জনের মিষ্টতা আস্বাদন করবে এবং এর সার্থকতা ও মহান সুফল উপলব্ধি করবে, তখন সে তা পূর্ণাঙ্গভাবে আয়ত্ত করতে এবং এর চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাতে অলসতা করবে না।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
وَالثَّانيَِة أَنه يعْتَاد طلب الْمَعيشَة قبل أَن يستوطئ حَال الْكِفَايَة فَإنَّا قل مَا رَأينَا من أَبنَاء المياسير من سلم من الركون إِلَى مَال أَبِيه وَمَا أعد لَهُ من الْكِفَايَة فَلَمَّا عول ذَلِك قطعه عَن طلب الْمَعيشَة بالصناعة وَعَن التحلي بلباس الْأَدَب فَإِذا كسب الصَّبِي بصناعته فَمن التَّدْبِير أَن يُزَوّج ويفرد رَحْله
দ্বিতীয়টি হলো, সে সচ্ছল অবস্থার ওপর নির্ভর করার আগেই জীবিকা অন্বেষণে অভ্যস্ত হবে। কেননা আমরা বিত্তবানদের সন্তানদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যককেই দেখেছি যারা তাদের পিতার সম্পদ ও তাদের জন্য প্রস্তুতকৃত সচ্ছলতার ওপর নির্ভর করা থেকে মুক্ত থাকতে পেরেছে। আর যখন সে এর ওপর ভরসা করে, তখন তা তাকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা অন্বেষণ এবং আদবের পোশাকে সজ্জিত হওয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সুতরাং বালক যখন তার পেশার মাধ্যমে উপার্জন করতে শুরু করবে, তখন উত্তম ব্যবস্থাপনা হলো তাকে বিবাহ দেওয়া এবং তার জন্য পৃথক বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
بَاب فِي سياسة الرجل خدمه
الْحَاجة إِلَى الخدم إِن سَبِيل سياسة الخدم والقوام من الْإِنْسَان سَبِيل الْجَوَارِح من الْجَسَد
وكما أَن قوما قَالُوا حَاجِب الرجل وَجهه وكاتبه قلمه وَرَسُوله لِسَانه كَذَلِك نقُول إِن حفدة الرجل يَده وَرجله لِأَن من كَفاك التعاطي بِيَدِك فقد قَامَ عنْدك مقَامهَا وَمن كَفاك السَّعْي برجلك فقد نَاب عَنْك منابها وَمن حفظ لَك مَا تحفظه عَيْنك فقد كَفاك كفايتها
فغناء الخدم عَنْك أَيهَا الْإِنْسَان كثير ونفع القوام إياك جزيل ولولاهم لأرتج دُونك بَاب من الرَّاحَة كَبِير ولأنسد عَنْك طَرِيق من النِّعْمَة مهيع ولاضطررت إِلَى مُوَاصلَة الْقيام وَالْقعُود وَإِلَى مواترة الأقبال والأدبار وَفِي ذَلِك اتعاب الْجَسَد وَهُوَ يعد من إمارات الخفة وَدَلَائِل النزق وسبل المهانة والضعة وَفِيه سُقُوط الهيبه وَذَهَاب الرزانة والركانة وَبطلَان الأبهة وَطرح السمت وَالْوَقار وبثبات هَذِه الْخِصَال
মানুষের তার ভৃত্যদের পরিচালনার পরিচ্ছেদ
ভৃত্যদের প্রয়োজনীয়তা মানুষের জন্য ভৃত্য ও তত্ত্বাবধায়কদের পরিচালনার পদ্ধতি শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরিচালনার পদ্ধতির মতোই।
যেমন কেউ কেউ বলেছেন, মানুষের দ্বাররক্ষক হলো তার মুখমণ্ডল, তার লেখক হলো তার কলম এবং তার বার্তাবাহক হলো তার জিহ্বা; তেমনই আমরা বলি যে মানুষের ভৃত্যরা হলো তার হাত ও তার পা। কারণ যে ব্যক্তি আপনাকে নিজের হাতে কাজ করার কষ্ট থেকে মুক্তি দিল, সে মূলত আপনার নিকট সেই হাতের স্থলাভিষিক্ত হলো। আর যে ব্যক্তি আপনার হয়ে পায়ে হেঁটে প্রচেষ্টার কষ্ট লাঘব করল, সে আপনার নিকট সেই পায়ের প্রতিনিধিত্ব করল। আর যে আপনার হয়ে এমন কিছু রক্ষণাবেক্ষণ করল যা আপনার চোখ রক্ষা করত, সে আপনার জন্য সেই চোখের প্রয়োজনীয়তা পূর্ণ করল।
হে মানুষ! আপনার জন্য ভৃত্যদের কর্মতৎপরতা অনেক এবং তত্ত্বাবধায়কদের উপকারিতা অপরিসীম। তারা না থাকলে আপনার জন্য প্রশান্তির একটি বড় দরজা রুদ্ধ হয়ে যেত এবং নেয়ামতের একটি প্রশস্ত পথ বন্ধ হয়ে যেত। আর আপনি নিরবচ্ছিন্নভাবে উঠা-বসা করতে এবং ক্রমাগত আসা-যাওয়া করতে বাধ্য হতেন। আর এর মধ্যে শরীরের ক্লান্তি রয়েছে, যা চপলতার লক্ষণ, অস্থিরতার প্রমাণ এবং লাঞ্ছনা ও হীনতার পথ হিসেবে গণ্য হয়। এতে গাম্ভীর্যের পতন ঘটে, স্থিরতা ও ধীরতা বিলুপ্ত হয়, প্রভাব-প্রতিপত্তি নষ্ট হয় এবং গাম্ভীর্য ও গরিমা বিসর্জিত হয়। আর এই বৈশিষ্ট্যগুলোর স্থায়িত্বের মাধ্যমেই (ব্যক্তিত্ব সুসংহত থাকে)।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
يباين المخدوم وَالْخَادِم والرئيس والمرؤوس
وَاجِب السَّيِّد نَحْو الخدم فَيَنْبَغِي لَك أَن تحمد الله عز وجل على مَا سخر لَك مِنْهُم وَمَا كَفاك وَأَن تحوطهم وَلَا تقصيهم وتتفقدهم وَلَا تهملهم وترفق بهم وَلَا تحرجهم فَإِنَّهُم بشر يمسهم من الكلال واللغوب وَمن السَّآمَة والفتور مَا يمس الْبشر وَتَدْعُوهُمْ دواعي حاجاتهم وإرادات أجسامهم إِلَى مَا فِي طباع الْبشر إِرَادَته وَالْحَاجة إِلَيْهِ
طَرِيق اتِّخَاذ الخدم وَطَرِيق اتِّخَاذ الخدم أَن لَا يتَّخذ الْإِنْسَان خَادِمًا إِلَّا بعد الْمعرفَة والاختبار لَهُ وَإِلَّا بعد سبره وامتحانه فَإِن لم تستطع ذَلِك فَيَنْبَغِي أَن تعْمل فِيهِ التَّقْدِير والفراسة والحدس والتوسم وَأَن تضرب عَن الصُّور المتفاوتة والخلق المضطربة فَإِن الْأَخْلَاق تَابِعَة لِلْخلقِ وَمن أَمْثَال الْفرس أحسن مَا فِي الذميم وَجهه وَإِن تجانب ذَوي العاهات كالعوران والعرجان والبرصان وَنَحْوهم
وَأَن لَا تثق مِنْهُم بِذِي الْكيس الْكثير والدهاء الْبَين فَإِنَّهُ لَا يعرى من الخب وَلَا يسلم من الْمَكْر ويؤثر الْيَسِير من الْعقل وَالْحيَاء على كثير من الشهامة والخفة
মনিব ও ভৃত্য এবং নেতা ও অনুসারী পরস্পরের থেকে পৃথক।
ভৃত্যদের প্রতি মনিবের কর্তব্য সুতরাং আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্য থেকে যাদেরকে আপনার অধীনস্থ করে দিয়েছেন এবং আপনার জন্য যথেষ্ট করেছেন, সেজন্য তাঁর প্রশংসা করা আপনার জন্য বাঞ্ছনীয়। আপনি তাদের রক্ষণাবেক্ষণ করবেন, তাদের দূরে ঠেলে দেবেন না। তাদের খবরাখবর রাখবেন এবং তাদের অবহেলা করবেন না। তাদের প্রতি কোমল হবেন এবং তাদের কষ্টে ফেলবেন না; কেননা তারা মানুষ, অন্যান্য মানুষের মতো ক্লান্তি, অবসাদ, বিরক্তি ও স্থবিরতা তাদেরও স্পর্শ করে। তাদের অভাব ও শারীরিক চাহিদাগুলো তাদের সেদিকেই আহ্বান করে যার প্রতি মানুষের স্বভাবজাত আকাঙ্ক্ষা ও প্রয়োজন বিদ্যমান থাকে।
ভৃত্য নিয়োগের পদ্ধতি ভৃত্য নিয়োগের পদ্ধতি হলো, জানাশোনা ও পরীক্ষা ছাড়া কাউকে ভৃত্য হিসেবে গ্রহণ না করা এবং যাচাই-বাছাই ও পরখ করা ছাড়া নিয়োগ না দেওয়া। যদি আপনি তা করতে সক্ষম না হন, তবে সেক্ষেত্রে আপনার অনুমানশক্তি, অন্তর্দৃষ্টি, ধারণা ও লক্ষণ বিচার করা উচিত। অস্বাভাবিক অবয়ব ও বিশৃঙ্খল শারীরিক গঠন এড়িয়ে চলা উচিত; কারণ চরিত্র সাধারণত শারীরিক গঠনের অনুগামী হয়। পারসিকদের প্রবাদের মধ্যে রয়েছে: "কুৎসিত ব্যক্তির মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর অংশ হলো তার চেহারা।" আর শারীরিক ত্রুটিযুক্ত ব্যক্তি যেমন—একচক্ষুহীন, খোঁড়া, কুষ্ঠরোগী ও এই জাতীয় ব্যক্তিদের পরিহার করা উচিত।
আর তাদের মধ্যে যারা অত্যধিক চতুর ও স্পষ্ট ধূর্ত, তাদের বিশ্বাস করবেন না; কেননা তারা ছলনা থেকে মুক্ত থাকে না এবং চক্রান্ত থেকে নিরাপদ হয় না। আর অধিক সাহসিকতা ও চপলতার চেয়ে সামান্য বুদ্ধি ও লজ্জাশীলতাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
(খণ্ড: ১)
আস-সিয়াসাতু লি-ইবনি সিনা
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
اخْتِيَار مَا يصلح الْخَادِم فَإِذا فرغ من ذَلِك فَلْينْظر لأي أَمر يصلح الْخَادِم الَّذِي يَتَّخِذهُ وَأي صناعَة ينتحل وَمَا الَّذِي يظْهر رجحانه فِيهِ من الْأَعْمَال فليسنده إِلَيْهِ وليستكفه إِيَّاه وَلَا ينقلن الْخَادِم من عمل إِلَى عمل وَلَا يحولنه من صناعَة إِلَى صناعَة فَإِن ذَلِك من أمتن أَسبَاب الدمار وَأقوى دواعي الْفساد وَمَا يشبه من يفعل ذَلِك إِلَّا بِمن يُكَلف الْخَيل الكراب وَالْبَقر الأحضار لِأَن لكل إِنْسَان بَابا من المعارف وفنا من الصناعات قد سمح لَهُ بِهِ طباعه وإفادته إِيَّاه غريزته فَصَارَ لَدَيْهِ كالسجية الَّتِي لَا حِيلَة فِي تَركهَا والضريبة الَّتِي لَا سَبِيل إِلَى مفارقتها فَمَتَى نقل الْإِنْسَان الْخَادِم مِمَّا قد أحْسنه وأتقنه ومارسه ولابسة وألفة واعتاده إِلَى مَا يختاره لَهُ بِرَأْيهِ وينتخبه لَهُ بإرادته مِمَّا ينافر طباعه ويضاد جوهره أفسد عَلَيْهِ نظام خدمته وجبره فِي طَرِيق مهنته فَعَاد كالريض ثمَّ لَا يفِيدهُ مِمَّا نَقله إِلَيْهِ بَابا إِلَّا بنسيان أَبْوَاب مِمَّا نَقله عَنهُ وَمَتى عَاد بِهِ إِلَى الْأَمر الأول وجده فِيهِ أَسْوَأ حَالا مِنْهُ فِيمَا نَقله إِلَيْهِ
الْخَادِم شريك سَيّده فِي النِّعْمَة وَلَا يَنْبَغِي أَن يكون نَكِير الْإِنْسَان على الْخَادِم إِذا أَرَادَ الْإِنْكَار عَلَيْهِ صرفه عَنهُ فَإِن ذَلِك من دَلَائِل ضيق الصَّدْر وَقلة الصَّبْر وخفة الْحلم وَلِأَنَّهُ إِذا
ভৃত্য যে কাজের যোগ্য তা নির্বাচন করা যখন তিনি তা থেকে অবসর হবেন, তখন তিনি লক্ষ্য করবেন যে তিনি যে ভৃত্য গ্রহণ করছেন সে কোন কাজের জন্য যোগ্য, কোন পেশায় সে অভিজ্ঞ এবং কোন কাজে তার পারদর্শিতা প্রকাশ পায়। অতঃপর তিনি সেই কাজটিই তার ওপর ন্যস্ত করবেন এবং তার মাধ্যমেই তা সম্পন্ন করাবেন। তিনি যেন ভৃত্যকে এক কাজ থেকে অন্য কাজে স্থানান্তর না করেন এবং এক পেশা থেকে অন্য পেশায় পরিবর্তন না করেন। কেননা এটি ধ্বংসের অন্যতম সুদৃঢ় কারণ এবং বিশৃঙ্খলার শক্তিশালী উৎস। যে ব্যক্তি এরূপ করে তার উদাহরণ সেই ব্যক্তির ন্যায় যে ঘোড়াকে লাঙল টানার কাজে এবং গরুকে দ্রুত দৌড়ানোর কাজে নিযুক্ত করে। কারণ প্রত্যেক মানুষের জন্য জ্ঞানের একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র এবং শিল্পের একটি বিশেষ শাখা রয়েছে যা তার স্বভাব তাকে অনুমোদন করেছে এবং তার প্রকৃতি তাকে দান করেছে। ফলে তা তার কাছে এমন এক মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে যা ত্যাগ করার কোনো উপায় নেই এবং এমন এক স্বভাবে রূপ নিয়েছে যা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কোনো পথ নেই। সুতরাং যখন কোনো ব্যক্তি ভৃত্যকে এমন কাজ থেকে সরিয়ে নেয় যা সে সুন্দরভাবে ও নিপুণভাবে শিখেছে, চর্চা করেছে, যার সাথে সে সংশ্লিষ্ট ছিল এবং যা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল—অতঃপর তাকে তার নিজস্ব মত ও ইচ্ছানুসারে এমন কোনো কাজের দিকে নিয়ে যায় যা ভৃত্যের স্বভাবের পরিপন্থী ও তার সত্তার বিরোধী, তখন সে তার সেবার শৃঙ্খলা নষ্ট করে দেয় এবং তাকে তার পেশার পথে বাধ্য করে ফেলে। ফলে সে একজন নতুন প্রশিক্ষণার্থীর মতো হয়ে যায়। অতঃপর যে কাজের দিকে তাকে স্থানান্তর করা হয়েছে, সেখানে সে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো দক্ষতা অর্জন করতে পারে না যতক্ষণ না সে পূর্বের কাজগুলো বিস্মৃত হয়। আর যখন সে তাকে পুনরায় প্রথম কাজে ফিরিয়ে আনে, তখন সে তাকে সেই কাজের চেয়েও খারাপ অবস্থায় পায় যে কাজের দিকে তাকে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
ভৃত্য তার মুনিবের নেয়ামতে অংশীদার ভৃত্যের প্রতি কোনো বিষয়ে আপত্তি করার ইচ্ছা হলে কেবল তাকে সরিয়ে দেওয়াই মানুষের জন্য উচিত নয়। কেননা এটি সংকীর্ণচিত্ততা, ধৈর্যের স্বল্পতা এবং সহনশীলতার অভাবের নিদর্শন। কারণ যখন সে...